(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: -)
أخبار الشيوخ وأخلاقهم   (أبو بكر المروذي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أخبار الشيوخ وأخلاقهم

المؤلف: أحمد بن محمد بن الحجاج، أبو بكر المَرُّوْذِيُّ (ت 275 هـ)

حققه وقدم له وخرج نصوصه: عامر حسن صبري

الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت

الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 199

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শায়খদের সংবাদ ও তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য   (আবু বকর আল-মাররুযী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: শায়খদের সংবাদ ও তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

লেখক: আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাজ্জাজ, আবু বকর আল-মাররুযী (মৃত্যু ২৭৫ হিজরি)

তাহকিক, ভূমিকা ও উদ্ধৃতি সূত্রায়ন: আমির হাসান সাবরি

প্রকাশক: দার আল-বাশাইর আল-ইসলামিয়া, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٤١)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْبُسْرِيِّ، قَالَ: أَجَازَ لَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ بَطَّةَ الْعُكْبَرِيُّ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ الْحُسَيْنِ الآجُرِّيَّ أَخْبَرَهُ بِقِرَاءَتِهِ عَلَيْهِ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، فِي شَهْرِ الْمُحَرَّمِ مِنْ سَنَةِ تِسْعٍ وَخَمْسِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ كُرْدِيٍّ الْقَلاسُ، فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ، مِنْ سَنَةِ سِتَّ عَشْرَةَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَجَّاجِ الْمَرُّوذِيُّ، قَالَ:

1 - سَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ حَنْبَلٍ، وَنَحْنُ بِالْعَسْكَرِ، يُنَاشِدُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، وَيَسْأَلُهُ الدُّخُولَ عَلَى الْخَلِيفَةِ لِيَأْمُرَهُ وَيَنْهَاهُ، وَقَالَ لَهُ: إِنَّهُ يَقْبَلُ مِنْكَ، هَذَا إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ يَدْخُلُ عَلَى ابْنِ طَاهِرٍ فَيَأْمُرُهُ وَيَنْهَاهُ، فَقَالَ لَهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: تَحْتَجُّ عَلَيَّ بِإِسْحَاقَ؟ ! فَأَنَا غَيْرُ رَاضٍ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আলি ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবনুল বুসরি, তিনি বলেন: আমাদের অনুমতি দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ উবায়দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হামদান ইবন বাত্তাহ আল-উতকবরি যে, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-আজ্জুরি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে মসজিদে হারামে, তিনশ উনষাট হিজরি সনের মহররম মাসে। তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু নাসর আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন কুরদি আল-কাল্লাস, তিনশ ষোলো হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে। আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জাজ আল-মাররুজি, তিনি বলেন:

১ - আমি ইসহাক ইবন হাম্বলকে বলতে শুনেছি, যখন আমরা আল-আস্কার নামক স্থানে ছিলাম, তিনি আবু আব্দুল্লাহকে অনুরোধ করছিলেন এবং তাঁর নিকট খলিফার দরবারে যাওয়ার আবেদন করছিলেন যেন তিনি তাকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে পারেন। তিনি তাঁকে বললেন: নিশ্চয়ই তিনি আপনার কথা গ্রহণ করবেন; এই যে ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ, তিনি ইবন তাহিরের কাছে যান এবং তাকে আদেশ-নিষেধ করেন। তখন আবু আব্দুল্লাহ তাঁকে বললেন: আপনি কি আমার বিরুদ্ধে ইসহাকের দলিল পেশ করছেন?! অথচ আমি (ইসহাকের সেই কাজে) সন্তুষ্ট নই।
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٤٢)
بِفَعَالِهِ، مَا لَهُ فِي رُؤْيَتِي خَيْرٌ، وَلا لِي فِي رُؤْيَتِهِ خَيْرٌ.

 

2 - وَسَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: يَجِبُ عَلَيَّ إِذَا رَأَيْتُهُ، يَعْنِي الْخَلِيفَةَ، أَنْ آمُرَهُ وَأَنْهَاهُ.

 

3 - وَسَمِعْتُ إِسْمَاعِيلَ ابْنَ أُخْتِ ابْنِ الْمُبَارَكِ يُنَاظِرُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ وَيُكَلِّمُهُ فِي الدُّخُولِ عَلَى الْخَلِيفَةِ، فَقَالَ لَهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: قَدْ قَالَ خَالُكَ، يَعْنِي ابْنَ الْمُبَارَكِ: لا تَأْتِهِمْ، فَإِنْ أَتَيْتَهُمْ فَاصْدُقْهُمْ، وَأَنَا أَخَافُ أَنْ لا أَصْدُقَهُمْ.

 

4 - وَسَمِعْتُ عَبْدَ الصَّمَدِ بْنَ يَزِيدَ يَقُولُ: قَالَ الْفُضَيْلُ: أَمَرَنَا أَنْ لا نَدْخُلَ عَلَيْهِمْ، فَإِنْ دَخَلْنَا نَقُولُ الْحَقَّ.

 

5 - وَسَمِعْتُ هَارُونَ بْنَ مَعْرُوفٍ يَقُولُ: حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، قَالَ: قَالَ ابْنُ مُحَيْرِيزٍ: مَنْ جَلَسَ عَلَى الْوَسَائِدِ
তার কর্মকাণ্ডের কারণে; আমাকে দেখার মাঝে তার কোনো কল্যাণ নেই, আর তাকে দেখার মাঝে আমার কোনো কল্যাণ নেই।

 

২ - আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি যখন তাকে দেখি—অর্থাৎ খলিফাকে—তখন তাকে সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎকাজে নিষেধ করা আমার ওপর আবশ্যক হয়ে পড়ে।

 

৩ - আমি ইবনুল মুবারকের ভাগ্নে ইসমাইলকে আবু আব্দুল্লাহর সাথে বিতর্ক করতে এবং খলিফার নিকট গমনের বিষয়ে তার সাথে কথা বলতে শুনেছি। তখন আবু আব্দুল্লাহ তাকে বললেন: তোমার মামা—অর্থাৎ ইবনুল মুবারক—বলেছেন: "তাদের নিকট যেও না; আর যদি তাদের নিকট যাও তবে তাদের সামনে সত্য বলো।" আর আমি আশঙ্কা করি যে, আমি হয়তো তাদের সামনে সত্য বলতে পারব না।

 

৪ - আমি আব্দুস সামাদ ইবনে ইয়াজিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ফুদাইল বলেছেন: আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা তাদের নিকট প্রবেশ না করি, আর যদি প্রবেশ করি তবে যেন সত্য কথা বলি।

 

৫ - আমি হারুন ইবনে মারুফকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ওকবা ইবনে আলকামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাশিম থেকে, তিনি বলেন: ইবনে মুহাইরিজ বলেছেন: যে ব্যক্তি গদির ওপর বসল...
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٤٣)
وَجَبَتْ عَلَيْهِ النَّصِيحَةُ.

 

6 - وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ مُقَاتِلٍ الْعَبَّادَانِيَّ يَقُولُ: إِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلامِ فِي وَقْتٍ، وَهُوَ يَرَى أَنَّ الْكَلامَ عَلَيْهِ فَرْضٌ.

 

7 - وَسَمِعْتُ عَبْدَ الصَّمَدِ بْنَ يَزِيدَ يَقُولُ: قَالَ فُضَيْلٌ: لَيْسَ الآمِرُ النَّاهِي الَّذِي يَدْخُلُ عَلَيْهِمْ وَيَأْمُرُهُمْ وَيَنْهَاهُمْ، ثُمَّ يَدْعُونَهُ إِلَى طَعَامِهِمْ وَشَرَابِهِمْ فَيُجِيبُهُمْ، الآمِرُ النَّاهِي الَّذِي اعْتَزَلَهُمْ وَلَمْ يَدْخُلْ عَلَيْهِمْ، فَهُوَ الآمِرُ النَّاهِي.

 

8 - وَقَالَ الْفُضَيْلُ: كَمْ مِنْ عَالِمٍ يَدْخُلُ عَلَى الْمَلِكِ وَمَعَهُ دِينُهُ، وَيَخْرُجُ وَلَيْسَ مَعَهُ مِنْهُ شَيْءٌ، فَلا جَعَلَ اللَّهُ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا.

 

9 - وَقَالَ الْفُضَيْلُ: رُبَّمَا دَخَلَ الْعَالِمُ عَلَى الْمَلِكِ وَمَعَهُ شَيْءٌ مِنْ دِينِهِ، فَيَخْرُجُ وَلَيْسَ مَعَهُ شَيْءٌ، فَقُلْنَا: وَكَيْفَ ذَاكَ؟ قَالَ: يُصَدِّقُهُ فِي كَذِبِهِ، وَيَمْدَحُهُ فِي وَجْهِهِ.

 

10 - وَسَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: الدُّنُوُّ مِنْهُمْ فِتْنَةٌ وَالْجُلُوسُ مَعَهُمْ فِتْنَةٌ، نَحْنُ مُتَبَاعِدُونَ مِنْهُمْ مَا أَرَانَا نَسْلَمُ، فَكَيْفَ لَوْ قَرُبْنَا مِنْهُمْ؟ ! .
তার ওপর উপদেশ প্রদান অনিবার্য হয়ে পড়ে।

 

৬ - আমি মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল আল-আব্বাদানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি এমন সময়ে কোনো কথা বলে যখন সে মনে করে যে, সেই কথাটি বলা তার ওপর ফরজ।

 

৭ - আমি আবদুস সামাদ ইবনে ইয়াজিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: ফুযাইল বলেছেন: সেই ব্যক্তি প্রকৃত আদেশদাতা ও নিষেধকারী নয়, যে তাদের (শাসকদের) কাছে প্রবেশ করে এবং তাদের আদেশ ও নিষেধ করে, অতঃপর তারা তাকে তাদের পানাহারের দাওয়াত দেয় আর সে তা কবুল করে। বরং আদেশদাতা ও নিষেধকারী তো সেই ব্যক্তি, যে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে এবং তাদের কাছে প্রবেশ করে না; সেই হলো প্রকৃত আদেশদাতা ও নিষেধকারী।

 

৮ - ফুযাইল আরও বলেছেন: কত আলেম বাদশাহর কাছে নিজের দ্বীন নিয়ে প্রবেশ করে, অথচ সেখান থেকে বের হওয়ার সময় তার কাছে দ্বীনের কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। অতএব আল্লাহ যেন আমাদের দ্বীনের মধ্যে কোনো বিপদ না দেন।

 

৯ - ফুযাইল বলেছেন: অনেক সময় আলেম বাদশাহর কাছে নিজের দ্বীনের কিছু অংশ নিয়ে প্রবেশ করে, কিন্তু বের হওয়ার সময় তার কাছে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। আমরা বললাম: সেটি কীভাবে হয়? তিনি বললেন: সে তার মিথ্যাকে সত্য বলে স্বীকার করে এবং তার সমুখেই তার প্রশংসা করে।

 

১০ - আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: তাদের নিকটবর্তী হওয়া একটি ফিতনা এবং তাদের সাথে বসা একটি ফিতনা। আমরা তাদের থেকে দূরে অবস্থান করছি তবুও নিজেদের নিরাপদ মনে করছি না, তাহলে যদি আমরা তাদের নিকটবর্তী হতাম তবে কী হতো?!
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٤٤)
11 - وَسَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عَبْدٍ، وَسَبِيعٍ السَّلُولِيِّ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: أَبْوَابُهُمْ مَوَاقِفُ الْفِتَنِ، يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِوَجْهٍ، وَيَخْرُجُونَ بِآخَرَ.

 

12 - وَسَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ نُبَيْطٍ، قَالَ: قُلْنَا لأَبِي: أَلا تَأْتِهِمْ؟ قَالَ: إِنِّي أَخَافُ أَنْ أَشْهَدَ مِنْهُمْ مَشْهَدًا يُدْخِلُنِي النَّارَ.

 

13 - وَحُدِّثْتُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا أَبُو الْمَلِيحِ الرَّقِّيُّ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، قَالَ: امْتَنَعْتُ مِنْ عَبْدِ الْمَلِكِ الْقَائِلَةِ، فَقَالَ لِحَاجِبِهِ وَذَلِكَ نِصْفَ النَّهَارِ: انْظُرْ هَلْ تَرَى أَحَدًا مِنْ حُدَّاثِنَا فِي الْمَسْجِدِ.

قَالَ: فَخَرَجَ الْحَاجِبُ، فَلَمْ يَجِدْ أَحَدًا أَهْيَأَ لِذَلِكَ مِنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ، ثُمَّ انْصَرَفَ الْحَاجِبُ، فَلَمَّا أَتَى الْبَابَ الْتَفَتَ فَإِذَا
11 - আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ওকী‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসরাঈল থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি উমারা ইবনে আবদ ও সাবি‘ আল-সালুলি থেকে, আর তিনি হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: তাদের দরজাগুলো হলো ফিতনার আড্ডা বা ফিতনার স্থান; তারা এক চেহারা নিয়ে প্রবেশ করে এবং অন্য চেহারা নিয়ে বের হয়।

 

12 - আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবনে মাহদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সালামা ইবনে নুবাইত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আমার পিতাকে বললাম: আপনি কি তাদের নিকট যাবেন না? তিনি বললেন: আমি আশঙ্কা করি যে, আমি তাদের এমন কোনো মজলিসে বা অবস্থায় উপস্থিত হব যা আমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে।

 

13 - আব্দুল্লাহ ইবনে নাজদাহ থেকে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-মালিহ আর-রাক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল মালিকের নিকট মধ্যাহ্নকালীন বিশ্রামের সময় উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকলাম। তখন তিনি তার দ্বাররক্ষীকে বললেন—আর তা ছিল দ্বিপ্রহরের সময়: দেখ, মসজিদে আমাদের সাথে আলাপ করার মতো কাউকে পাও কি না। তিনি বললেন: অতঃপর দ্বাররক্ষী বের হলেন এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের চেয়ে অধিক উপযুক্ত কাউকে পেলেন না। তিনি তার দিকে ইশারা করলেন, অতঃপর দ্বাররক্ষী ফিরে চললেন। যখন তিনি দরজায় পৌঁছালেন, তখন তিনি ফিরে তাকালেন এবং দেখলেন...

(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٤٥)
هُوَ جَالِسٌ، فَرَجَعَ إِلَيْهِ حَتَّى إِذَا عَرَفَ أَنَّهُ قَدْ نَظَرَ إِلَيْهِ أَوْمَأَ إِلَيْهِ، ثُمَّ انْصَرَفَ، فَلَمَّا أَتَى الْبَابَ نَظَرَ فَإِذَا هُوَ جَالِسٌ مَكَانَهُ، قَالَ: فَأَقْبَلَ إِلَيْهِ الْحَاجِبُ حَتَّى قَامَ عَلَى رَأْسِهِ، ثُمَّ قَالَ: أَجِبْ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: أَوَ إِلَيَّ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: وَمَنْ أَنَا؟ قَالَ: وَاللَّهِ مَا أَدْرِي، غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ: انْظُرْ، هَلْ تَرَى أَحَدًا مِنْ حُدَّاثِنَا، فَلَمْ أَرَ أَحَدًا أَهْيَأَ لِذَلِكَ مِنْكَ، قَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهِ فَأَخْبِرْهُ أَنِّي لَسْتُ مِنْ حُدَّاثِهِ، قَالَ: فَأَخْبَرَهُ، فَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: صَدَقَ، ذَلِكَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ.

 

14 - وَحُدِّثْتُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا مُلَيْلُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ، قَالَ: حَجَّ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ، فَمَرَّ بِالْمَدِينَةِ، فَأَقَامَ بِهَا، فَأَرْسَلَ إِلَى سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ رَسُولا، فَجَاءَ الرَّسُولُ وَهُوَ قَاعِدٌ فِي الْمَسْجِدِ مُحْتَبٍ، فَقَالَ: أَجِبْ، فَقَالَ: مَنْ؟ قَالَ: أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: وَاللَّهِ مَا لِي إِلَيْهِ مِنْ حَاجَةٍ، وَلا قَوْلُهُ عِنْدِي بِمُسْتَمَعٍ، فَرَجَعَ الرَّسُولُ، فَقَالَ لِعَبْدِ الْمَلِكِ مَا قَالَ لَهُ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الْمَلِكِ: وَيْلَكَ، اذْهَبْ إِلَيْهِ فَادْعُهُ وَارْفُقْ بِهِ، فَجَاءَ فَقَامَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: أَجِبْ، قَالَ: مَنْ؟ قَالَ: أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: وَاللَّهِ مَا لِي إِلَيْهِ مِنْ حَاجَةٍ، وَلا قَوْلُهُ عِنْدِي
তিনি বসে ছিলেন, অতঃপর তিনি তার কাছে ফিরে আসলেন এবং যখন বুঝতে পারলেন যে তিনি তার দিকে লক্ষ্য করেছেন, তখন তিনি তাকে ইশারা করলেন এবং প্রস্থান করলেন। যখন তিনি দরজায় পৌঁছালেন, দেখলেন যে তিনি স্বস্থানেই উপবিষ্ট আছেন। তিনি বললেন: অতঃপর দ্বাররক্ষী তার দিকে এগিয়ে আসলেন এবং তার মাথার কাছে দাঁড়ালেন, তারপর বললেন: আমীরুল মুমিনীনের ডাকে সাড়া দিন। তিনি বললেন: তিনি কি আমার কাছেই তোমাকে পাঠিয়েছেন? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আর আমি কে? সে বলল: আল্লাহর শপথ, আমি জানি না; তবে তিনি বলেছিলেন: ‘দেখ তো, আমাদের সাথে আলাপচারিতা করার মতো কাউকে পাও কি না?’ আর আমি এ কাজের জন্য তোমার চেয়ে অধিক উপযুক্ত কাউকে দেখিনি। তিনি বললেন: তার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে সংবাদ দাও যে আমি তার আলাপচারীদের অন্তর্ভুক্ত নই। তিনি বলেন: অতঃপর সে তাকে সংবাদ দিলে আব্দুল মালিক বললেন: সে সত্য বলেছে, ইনিই হলেন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব।

 

১৪ - এবং আমাকে সাঈদ ইবনে শাবীব থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, মুলাইল ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বসরার জনৈক ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে: আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান হজ্জ পালন করলেন এবং মদিনায় এসে সেখানে অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের নিকট একজন দূত প্রেরণ করলেন। দূত এসে দেখল যে তিনি মসজিদে হাঁটু গেড়ে কাপড় জড়িয়ে (ইহতিবা অবস্থায়) বসে আছেন। সে বলল: সাড়া দিন। তিনি বললেন: কে? সে বলল: আমীরুল মুমিনীন। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, তার প্রতি আমার কোনো প্রয়োজন নেই এবং আমার নিকট তার কথা শ্রবণযোগ্য নয়। দূত ফিরে গিয়ে আব্দুল মালিককে তার কথা জানাল। আব্দুল মালিক তাকে বললেন: তোমার ধ্বংস হোক! তার কাছে যাও, তাকে ডাকো এবং তার প্রতি নম্র হও। অতঃপর সে এসে তার মাথার কাছে দাঁড়াল এবং বলল: সাড়া দিন। তিনি বললেন: কে? সে বলল: আমীরুল মুমিনীন। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, তার নিকট আমার কোনো প্রয়োজন নেই এবং আমার নিকট তার কথা...
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٤٦)
بِمُسْتَمَعٍ، فَرَجَعَ الرَّسُولُ، فَحَدَّثَهُ بِالَّذِي قَالَ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الْمَلِكِ: وَيْلَكَ، اذْهَبْ إِلَيْهِ فَادْعُهُ وَارْفُقْ، فَجَاءَهُ فَقَالَ: أَجِبْ، قَالَ: مَنْ؟ قَالَ: أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: وَاللَّهِ مَا لِي إِلَيْهِ مِنْ حَاجَةٍ، وَلا قَوْلُهُ عِنْدِي بِمُسْتَمَعٍ.

قَالَ: يَقُولُ الرَّسُولُ: أَمَا وَاللَّهِ، عَلَيَّ ذَلِكَ، لَوْ أَمَرَنِي بِكَ لأَتَيْتُهُ بِرَأْسِكَ، قَالَ سَعِيدٌ: وَاللَّهِ، مَا كُنْتُ أَفْتَدِي مِنْكَ بِأَنْ أَحِلَّ حَبْوَتِي هَذِهِ، فَرَجَعَ الرَّسُولُ، فَقَالَ لِعَبْدِ الْمَلِكِ مَا قَالَ، فَقَالَ، يَعْنِي عَبْدَ الْمَلِكِ: أَبَى أَبُو مُحَمَّدٍ إِلا صَلابَةً، وَيْحَكَ دَعْهُ، وَيْحَكَ دَعْهُ.

 

15 - وَسَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ: مُحَمَّدَ بْنَ شَاذَانَ خَادِمَ يَحْيَى الْقَطَّانِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ يَحْيَى الْقَطَّانَ يَقُولُ: لَمَّا وَرَدَ كِتَابُ الْمَهْدِيِّ عَلَى سُفْيَانَ، كَتَبَ إِلَيْهِ الْجَوَابَ، وَبَدَأَ بِنَفْسِهِ، فَقُلْنَا لَهُ: إِنَّهُ لا يَحْتَمِلُكَ، فَقَالَ: إِنْ كُنْتُ أَنَا الَّذِي أَكْتُبُ، لا أَكْتُبُ إِلا هَكَذَا، قَالَ: فَأَخَذْنَا الْكِتَابَ، وَكَتَبْنَا نَحْنُ عَلَى لِسَانِهِ وَعَرَضْنَا عَلَيْهِ.
শ্রবণযোগ্য নয়। এরপর দূত ফিরে গেলেন এবং তিনি যা বলেছিলেন তা তাকে অবহিত করলেন। তখন আবদুল মালিক তাকে বললেন: "তোমার দুর্ভোগ! তুমি তার কাছে যাও, তাকে আহ্বান করো এবং নম্রতা প্রদর্শন করো।" অতঃপর তিনি তার কাছে এসে বললেন: "সাড়া দিন।" তিনি বললেন: "কে ডাকছেন?" তিনি বললেন: "আমীরুল মুমিনীন।" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, তার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই এবং আমার নিকট তার কথা গ্রহণযোগ্য নয়।"

দূত বললেন: "শোন, আল্লাহর কসম, আমার ওপর এই দায়িত্ব রয়েছে যে, তিনি যদি তোমার ব্যাপারে আমাকে নির্দেশ দিতেন, তবে আমি তার কাছে তোমার মস্তক নিয়ে হাজির হতাম।" সাঈদ বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি আমার এই বসার ভঙ্গি ত্যাগ করে তোমার থেকে আত্মরক্ষা করতে প্রস্তুত নই।" অতঃপর দূত ফিরে গেলেন এবং তিনি যা বলেছিলেন তা আবদুল মালিককে জানালেন। তখন আবদুল মালিক বললেন: "আবু মুহাম্মদ কঠোরতা প্রদর্শন ছাড়া অন্য কিছু করতে অস্বীকার করেছেন। তোমার দুর্ভোগ, তাকে ছেড়ে দাও! তোমার দুর্ভোগ, তাকে ছেড়ে দাও!"

 

১৫ - আমি ইয়াহইয়া আল-কাত্তানের সেবক আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে শাযানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া আল-কাত্তানকে বলতে শুনেছি: যখন সুফিয়ানের নিকট মাহদীর পত্র আসলো, তখন তিনি তার উত্তর লিখলেন এবং (পত্রের শুরুতে) নিজের নাম দিয়ে আরম্ভ করলেন। আমরা তাকে বললাম: "তিনি এটি সহ্য করবেন না।" তিনি বললেন: "যদি আমি লিখি, তবে এভাবেই লিখব।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমরা পত্রটি গ্রহণ করলাম এবং আমরাই তার পক্ষ থেকে (নতুন করে) লিখলাম ও তা তাকে দেখালাম।
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٤٧)
16 - وَسَمِعْتُ عَبَّاسًا الْعَنْبَرِيَّ يَقُولُ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ الضَّبِّيُّ، عَنْ سُعَيْرِ بْنِ الْخِمْسِ، قَالَ: رَأَيْتُ سُفْيَانَ بِمَكَّةَ مَعَهُ شَيْخٌ، فَقَالَ لِي: اذْهَبْ بِنَا إِلَى هَذَا، فَإِنَّهُ قَدْ تَعَرَّضَ لِصَاحِبِنَا هَذَا.

قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُمَّ غَفْرًا، أَنَا أَذْهَبُ إِلَيْهِ فَأُسَلِّمُ عَلَيْهِ بِالإِمْرَةِ وَأُعَزِّيهِ عَلَى ابْنِهِ مَاتَ، وَأَنْتَ لا تُسَلِّمُ عَلَيْهِ!! قَالَ: اللَّهُمَّ غَفْرًا.

فَذَهَبْتُ مَعَهُ، فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ، فَسَلَّمْتُ وَعَزَّيْتُهُ، وَلَمْ يُسَلِّمْ سُفْيَانُ وَلَمْ يُعَزِّ، إِلا أَنَّهُ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، قَدْ وُعِظْتَ بِابْنِكَ إِنِ اتَّعَظْتَ، مَا لَكَ وَمَالِ صَاحِبِنَا هَذَا، قَالَ: إِنَّمَا أَرَدْتُ أُوَلِّيهِ الْقَضَاءَ، قَالَ: لا حَاجَةَ لَهُ بِهِ، قَالَ: قَدْ أَعْفَيْنَاهُ.

 

17 - سَمِعْتُ عَبَّاسًا الْعَنْبَرِيَّ يَقُولُ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ قَالَ: حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوَفْلٍ، قَالَ: قِيلَ لِعَلْقَمَةَ: لَوْ دَخَلْتَ عَلَيْهِمْ فَيَعْرِفُونَ لَكَ شَرَفَكَ وَتَشْفَعُ؟ قَالَ: إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَنْتَقِصُوا مِنِّي أَكْثَرَ مِمَّا أَنْتَقِصُ مِنْهُمْ.
১৬ - আমি আব্বাস আল-আনবারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে জাবির আদ-দাব্বি বর্ণনা করেছেন সুআইর ইবনুল খিমস থেকে, তিনি বলেন: আমি মক্কায় সুফিয়ানকে দেখলাম, তাঁর সাথে একজন বৃদ্ধ লোক ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন: আমাদের এই ব্যক্তির কাছে নিয়ে চলো, কেননা তিনি আমাদের এই সঙ্গীর পিছু লেগেছেন বা বিরুদ্ধাচরণ করেছেন।

তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহ, ক্ষমা করুন! আমি তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে আমীর হিসেবে সালাম দেব এবং তাঁর ছেলের মৃত্যুতে সমবেদনা জানাব, অথচ আপনি তাঁকে সালাম দেবেন না! তিনি বললেন: হে আল্লাহ, ক্ষমা করুন।

অতঃপর আমি তাঁর সাথে গেলাম এবং আমরা তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। আমি সালাম দিলাম এবং সমবেদনা জানালাম, কিন্তু সুফিয়ান সালামও দিলেন না এবং সমবেদনাও জানালেন না; তবে তিনি কেবল বললেন: হে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম! তোমার ছেলের মৃত্যুর মাধ্যমে তোমাকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে যদি তুমি উপদেশ গ্রহণ করো। আমাদের এই সঙ্গীর সাথে তোমার কিসের বিরোধ? তিনি (মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম) বললেন: আমি তো কেবল তাকে বিচারকের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলাম। তিনি (সুফিয়ান) বললেন: তাঁর এর কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি (শাসক) বললেন: আমি তাঁকে অব্যাহতি দিলাম।

 

১৭ - আমি আব্বাস আল-আনবারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে রাজা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট যায়িদা বর্ণনা করেছেন সুলাইমান থেকে, তিনি মালিক ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে নাওফাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলক্বামাহকে বলা হলো: আপনি যদি তাদের (শাসকদের) কাছে যেতেন তবে তারা আপনার মর্যাদা সম্পর্কে জানত এবং আপনি সুপারিশ করতে পারতেন? তিনি বললেন: আমি ভয় পাই যে, আমি তাদের থেকে যা নেব, তারা আমার (দ্বীন) থেকে তার চেয়ে বেশি হ্রাস করে দেবে।
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٤٨)
18 - وَسَمِعْتُ عَبَّاسًا الْعَنْبَرِيَّ يَقُولُ: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ مُعَاوِيَةَ كَتَبَ إِلَى فُلانٍ، ذَهَبَ عَلَيَّ اسْمُهُ: أَنْ يُوفِدَ إِلَيْهِ نَفَرًا مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ، فَكَتَبَ عَلْقَمَةَ فِيهِمْ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ عَلْقَمَةُ رَسُولا: امْحُني امْحُنِي.

 

19 - وَحُدِّثْتُ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَانَ يَقُولُ: يَغْشَانِي عُلَمَاءُ الْمَدِينَةِ، وَيَبْلُغُنِي عِلْمُ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ.

 

20 - وَسَمِعْتُ عَبَّاسًا الْعَنْبَرِيَّ يَقُولُ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَبِي بَكْرٍ، حَدَّثَنِي الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ قَالَ: قَالَتْ عَمْرَةُ بِنْتُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ لابْنِهَا أَبِي الرِّجَالِ: يَا بُنَيَّ، إِيَّاكَ وَإِيَّاكَ وَمَجَالِسَهُمْ، فَإِنَّكَ بَيْنَ خَصْلَتَيْنِ: إِمَّا كَفَفْتَ عَنْ حَقٍّ، وَإِمَّا أَعَنْتَ عَلَى جَوْرٍ.

 

21 - وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْخَلِيلِ يَقُولُ: حَدَّثَنِي الْحَسَنُ، يَعْنِي ابْنَ عِيسَى، قَالَ: وَأَخْبَرَنِي ابْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ: دَخَلَ فُلانٌ وَقَدْ سَمَّاهُ
১৮ - আমি আব্বাস আল-আনবারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুআম্মাল ইবনে ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করেন যে, মুয়াবিয়া জনৈক ব্যক্তির কাছে লিখেছিলেন (যার নাম আমার স্মরণে নেই) যেন তিনি তাঁর কাছে কুফাবাসীদের একদল প্রতিনিধি প্রেরণ করেন। অতঃপর তিনি আলকামার নাম তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করলেন। তখন আলকামা তার কাছে একজন দূত পাঠিয়ে বললেন: আমার নাম মুছে ফেলুন, আমার নাম মুছে ফেলুন।

 

১৯ - আমাকে আহমদ ইবনে সালিহ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনুল ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলতেন: মদিনার আলিমগণ আমার নিকট আগমন করেন এবং সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের ইলম আমার কাছে পৌঁছায়।

 

২০ - আমি আব্বাস আল-আনবারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট যায়েদ ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুসা ইবনে আবি বকর বর্ণনা করেছেন, আদ-দাহহাক ইবনে উসমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান তার পুত্র আবুুর রিজালকে বলেছিলেন: হে বৎস! সাবধান, সাবধান! তাদের মজলিসগুলো থেকে বেঁচে থাকো। কারণ তখন তুমি দুটি অবস্থার মধ্যে থাকবে: হয় তুমি সত্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকবে, নতুবা তুমি জুলুমের কাজে সাহায্য করবে।

 

২১ - আমি আহমদ ইবনুল খলীলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল-হাসান অর্থাৎ ইবনে ঈসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক আমাকে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: অমুক ব্যক্তি প্রবেশ করল—এবং তিনি তার নামও উল্লেখ করেছিলেন—
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٤٩)
ابْنُ الْمُبَارَكِ فَنَسِيتُ اسْمَهُ، وَذَكَرَ أَنَّهُ كَانَ عَابِدًا مِنَ الْعُبَّادِ، لَهُ فَضْلٌ وَعِبَادَةٌ عَلَى بَعْضِ الأُمَرَاءِ يَوْمًا وَقَدْ أَمَرَ أَنْ يَعْرِضَ عَلَيْهِ أَصْحَابَ الْجِنَايَاتِ، قَالَ: فَجَعَلَ كُلَّمَا أَمَرَ بِرَجُلٍ أَنْ يُضْرَبَ، كَلَّمَهُ فِيهِ الْعَابِدُ فَخَلَّى عَنْهُ، حَتَّى خَلَّى عَنْ خَمْسَةِ أَنْفُسٍ، أَوْ سِتَّةٍ بِكَلامِهِ، ثُمَّ جِيءَ بِرَجُلٍ آخَرَ، قَالَ: فَاسْتَحْيَا أَنْ يُكَلِّمَهُ فِيهِ لَمَّا قَدْ أَجَاءَ بِهِ، فَسَكَتَ عَنْهُ، قَالَ: فَأَمَرَ بِهِ الأَمِيرُ أَنْ تُضْرَبَ عُنُقُهُ، فَضُرِبَتْ عُنُقُهُ، ثُمَّ قَالَ الأَمِيرُ لِلْعَابِدِ: تَدْرِي لِمَ ضَرَبْتُ عُنُقَهُ؟ قَالَ: لا، قَالَ: لأَنَّكَ رَأَيْتُكَ سَكَتَّ عَنْهُ، فَلَمْ تُكَلِّمْنِي فِيهِ، فَظَنَنْتُ أَنَّهُ قَدْ كَانَ أَجْرَمَ فِيمَا بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ جُرْمًا عَظِيمًا، فَلِذَلِكَ أَمَرْتُ بِضَرْبِ عُنُقِهِ.

قَالَ: فَوَضَعَ الْعَابِدُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا وَيْلِي، هَذَا أَصَابَنِي فِي سُكُوتِي عِنْدَهُمْ، فَكَيْفَ تَكُونُ حَالِي فِي كَلامِي عِنْدَهُمْ؟ ! أُعَاهِدُ اللَّهَ أَنِّي لا أَدْخُلُ عَلَيْهِمْ أَبَدًا.

 

22 - قَرَأْتُ عَلَى أَبِي عَبْدِ اللَّهِ: حُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ الأَبَحُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ، أَنَّهُ قَالَ لِرَجُلٍ: سَلْهُ شَفَاعَةً، وَيْحُكَ، إِنَّ الدُّنُوَّ مِنْهُمْ هُوَ الذَّبْحُ.
ইবনুল মুবারক হতে বর্ণিত, (বর্ণনাকারী বলেন) আমি তাঁর নাম ভুলে গিয়েছি। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবাদতকারীদের মধ্যে এমন একজন আবেদ ছিলেন, যাঁর বিশেষ মর্যাদা ও ইবাদতগুজারি ছিল। একদিন তিনি জনৈক আমিরের নিকট উপস্থিত ছিলেন, এমতাবস্থায় যে আমির নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর নিকট অপরাধীদের পেশ করার জন্য। তিনি বলেন: যখনই আমির কোনো ব্যক্তিকে প্রহার করার নির্দেশ দিচ্ছিলেন, সেই আবেদ তার ব্যাপারে সুপারিশ করছিলেন এবং আমির তাকে ছেড়ে দিচ্ছিলেন। এভাবে তাঁর সুপারিশে তিনি পাঁচ বা ছয় ব্যক্তিকে মুক্তি দিলেন। এরপর অন্য এক ব্যক্তিকে আনা হলো। বর্ণনাকারী বলেন: সে যে অপরাধ করেছিল তার কারণে আবেদ তার পক্ষে কথা বলতে লজ্জাবোধ করলেন, ফলে তিনি তার ব্যাপারে নীরব থাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আমির তার শিরশ্ছেদ করার নির্দেশ দিলেন এবং তার শিরশ্ছেদ করা হলো। এরপর আমির সেই আবেদকে বললেন: আপনি কি জানেন কেন আমি তার শিরশ্ছেদ করলাম? তিনি বললেন: না। আমির বললেন: কারণ আমি দেখলাম আপনি তার ব্যাপারে চুপ থাকলেন এবং আমার সাথে তার বিষয়ে কোনো কথা বললেন না; তাই আমি ধারণা করলাম যে আপনার ও তার মাঝে কোনো বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, আর সে কারণেই আমি তার শিরশ্ছেদ করার নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি বলেন: তখন সেই আবেদ নিজের হাত নিজের মাথার ওপর রাখলেন এবং বললেন: হায় আফসোস! তাদের নিকট আমার নীরবতার কারণেই এই বিপদ আমাকে স্পর্শ করল, তবে তাদের নিকট আমার কথা বলার অবস্থা কেমন হবে?! আমি আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করছি যে, আমি আর কখনও তাদের নিকট প্রবেশ করব না।

 

২২ - আমি আবু আব্দুল্লাহ হুসাইন বিন মুহাম্মাদের নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেছেন: হাম্মাদ আল-আবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ওয়াসি' থেকে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে বললেন: তুমি তাঁর কাছে সুপারিশ প্রার্থনা করছ? তোমার দুর্ভোগ হোক! নিশ্চয়ই তাদের নিকটবর্তী হওয়া হলো যবাই হওয়ার সমতুল্য।
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٥٠)
23 - سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ عِيسَى الْمَرْوَزِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ فَضَالَةَ بْنَ سُفْيَانَ، قَالَ: أَرَادَ السَّكَنُ أَنْ يَحُجَّ، فَقَالَ لابْنِ الْمُبَارَكِ: أُحِبُّ أَنْ تَكْتُبَ لِي إِلَى فُلانٍ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: أَكْتُبُ لَكَ إِلَى سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، فَلَمَّا خَرَجَ كَتَبَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ إِلَى سُفْيَانَ، فَقَدِمَ عَلَى سُفْيَانَ فَانْتَفَعَ بِهِ.

فَلَمَّا كَانَ فِي الْمُنْصَرَفِ أَرَادَ أَنْ يُوَدِّعَ سُفْيَانَ، قَالَ سُفْيَانُ: أَقْرِئْ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّلامَ، وَقُلْ لَهُ: احْفَظْ وَصِيَّتِي، فَلَمَّا قَدِمَ عَلَيْهِ السَّكَنُ بَلَّغَهُ رِسَالَتَهُ، فَلَمَّا مَاتَ سُفْيَانُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ لِلسَّكَنِ: أَتَدْرِي مَا كَانَتْ وَصِيَّتُهُ؟ قَالَ: السَّكَنُ: لا، قَالَ: فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: هَكَذَا، أَوْ نَقَلَ بِأُصْبُعِهِ، أَيْ لا تَقْرَبْهُمْ.

 

24 - وَسَمِعْتُ دَاوُدَ بْنَ رُشَيْدٍ يَقُولُ: قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ:

خُذْ مِنَ الْجَارُوشِ وَالأَرُزِّ … وَالْخُبْزِ الشَّعِيرِ

وَاجْعَلَنَّ ذَاكَ حَلالا … تَنْجُ مِنْ حَرِّ السَّعِيرِ

وَانْأَ مَا اسْطَعْتَ هَدَاكَ … اللَّهُ عَنْ دَارِ الأَمِيرِ

لا تَزُرْهَا وَاجْتَنِبْهَا … إِنَّهَا شَرُّ مَزُورِ

تُوهِنُ الدِّينَ وَتُدْنِيكَ … مِنَ الْحُوبِ الْكَبِيرِ

 

25 - سَمِعْتُ عَبَّاسًا الْعَنْبَرِيَّ يَقُولُ: حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي حَمَلَةَ، قَالَ: دَعَانِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ
২৩ - আমি আহমদ ইবনে ঈসা আল-মারওয়াযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ফাদালা ইবনে সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল-সাকান হজ করার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি ইবনুল মুবারককে বললেন: আমি চাই আপনি আমার জন্য অমুকের কাছে একটি পত্র লিখে দিন। তখন আবদুল্লাহ (ইবনুল মুবারক) বললেন: আমি তোমার জন্য সুফিয়ান আস-সাওরীর নিকট লিখে দিচ্ছি। অতঃপর যখন তিনি বের হলেন, আবদুল্লাহ তার জন্য সুফিয়ানের নিকট লিখে দিলেন। এরপর তিনি সুফিয়ানের নিকট উপস্থিত হলেন এবং তার দ্বারা উপকৃত হলেন।

অতঃপর যখন ফিরে আসার সময় হলো, তিনি সুফিয়ানের নিকট বিদায় নিতে চাইলেন। তখন সুফিয়ান বললেন: আবু আবদুর রহমানকে সালাম পৌঁছাবে এবং তাকে বলবে: আমার ওসীয়তটি (উপদেশটি) সংরক্ষণ করুন। যখন আল-সাকান তার নিকট ফিরে এলেন, তিনি তাকে সেই বার্তা পৌঁছে দিলেন। অতঃপর যখন সুফিয়ান ইন্তেকাল করলেন, আবদুল্লাহ আল-সাকানকে বললেন: তুমি কি জানো তার সেই ওসীয়তটি কী ছিল? আল-সাকান বললেন: না। আবদুল্লাহ তখন বললেন: এমন, অথবা তিনি তার আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন, অর্থাৎ: তাদের (শাসকদের) নিকটবর্তী হয়ো না।

 

২৪ - আমি দাউদ ইবনে রুশাইদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক বলেছেন:

জোয়ার এবং চাল গ্রহণ করো … এবং যবের রুটি

আর সেটিকে অবশ্যই হালাল করো … তবেই তুমি জ্বলন্ত আগুনের উত্তাপ থেকে নাজাত পাবে

আল্লাহ তোমাকে হিদায়েত দান করুন, সাধ্যমতো দূরে থাকো … আমীরের (শাসকের) আবাসস্থল থেকে

সেখানে যাতায়াত করো না এবং তা পরিহার করো … নিশ্চয়ই তা যাতায়াতের জন্য নিকৃষ্টতম স্থান

তা দ্বীনকে দুর্বল করে এবং তোমাকে নিকটবর্তী করে … কবীরা গুনাহের

 

২৫ - আমি আব্বাস আল-আনবারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হারুন ইবনে মারূফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যামরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবি হামালা থেকে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে...
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٥١)
عَبْدِ الْمَلِكِ إِلَى صُحْبَتِهِ، فَشَاوَرْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي زَكَرِيَّا فِي ذَلِكَ، فَقَالَ لِي: أَنْتَ حُرٌّ، تَجْعَلُ نَفْسَكَ مَمْلُوكًا! .

 

26 - سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْخَلِيلِ يَقُولُ: سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ، يَقُولُ: قِيلَ لِسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ: لِمَ لا تَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ، وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ؟ قَالَ: إِذَا انْبَثَقَ الْبَحْرُ مَنْ يَقْدِرُ أَنْ يَسْكُرَهُ.

 

27 - وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْخَلِيلِ يَقُولُ: حَدَّثَنِي الْحَسَنُ قَالَ: قُلْتُ لابْنِ الْمُبَارَكِ: إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ حَمَّادَ بْنَ زَيْدٍ قَالَ لِسُفْيَانَ لَمَّا هَرَبَ مِنْ أَبِي جَعْفَرٍ إِلَى الْبَصْرَةِ: لَوْ أَتَيْتَ هَؤُلاءِ، فَأَمَرْتَهُمْ وَنَهَيْتَهُمْ، أَلَيْسَ كَانَ أَعْظَمَ لأَجْرِكَ؟ قَالَ: إِنَّهُمْ أَرَادُوا قَهْرِي فَكَرِهْتُ أَنْ أَذِلَّ لَهُمْ.

فَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ: مَنْ أَخْبَرَكَ بِهَذَا؟ قُلْتُ: بَعْضُ أَصْحَابِنَا بِنَيْسَابُورَ.

فَقَالَ: مَا قَالَ شَيْئًا.

قُلْتُ: فَمَا مَنَعَهُ؟ قَالَ: إِنَّ سُفْيَانَ كَانَ يَقُولُ: إِنَّ هَؤُلاءِ قَدْ أُوتُوا مِنَ الدُّنْيَا مَا تَرَى
আব্দুল মালিকের সাহচর্যে যাওয়ার ব্যাপারে আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আবি যাকারিয়ার সাথে পরামর্শ করলাম। তিনি আমাকে বললেন: আপনি একজন স্বাধীন মানুষ, আপনি কি নিজেকে দাসে পরিণত করতে চান! .

 

২৬ - আমি আহমদ ইবনুল খলিলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াযিদ ইবনে হারুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরিকে বলা হলো: আপনি কেন সৎকাজের আদেশ দেন না এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন না? তিনি বললেন: যখন সমুদ্র উথলে ওঠে, তখন কে তা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে?

 

২৭ - এবং আমি আহমদ ইবনুল খলিলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হাসান আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে বললাম: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ সুফিয়ানকে বলেছিলেন—যখন তিনি আবু জাফরের কাছ থেকে পালিয়ে বসরায় চলে গিয়েছিলেন: আপনি যদি এদের কাছে আসতেন এবং তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দিতেন ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতেন, তবে কি আপনার প্রতিদান আরও মহান হতো না? তিনি বললেন: তারা আমাকে বশীভূত করতে চেয়েছিল, আর আমি তাদের কাছে লাঞ্ছিত হওয়া অপছন্দ করেছি।

তখন ইবনুল মুবারক বললেন: কে আপনাকে এই সংবাদ দিয়েছে? আমি বললাম: নিশাপুরে আমাদের কিছু সাথী।

তিনি বললেন: সে কিছুই বলেনি।

আমি বললাম: তবে কিসে তাকে বাধা দিয়েছিল? তিনি বললেন: সুফিয়ান বলতেন: নিশ্চয়ই এদেরকে দুনিয়ার যা কিছু দেওয়া হয়েছে তা তো আপনি দেখতেই পাচ্ছেন।
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٥٢)
فَإِذَا دَخَلْتَ عَلَيْهِمْ فَرَأَيْتَ بِرًّا مِنْ هَاهُنَا، وَلُطْفًا مِنْ هَاهُنَا، وَتَكْرَمَةً مِنْ هَاهُنَا، وَوِسَادَةً مِنْ هَاهُنَا، وَمِرْفَقَةً مِنْ هَاهُنَا، فَأَيُّ قَلْبٍ يَحْمِلُ هَذَا لا يَمِيلُ إِلَيْهِمْ؟

 

28 - وَسَمِعْتُ أَبَا عَلِيٍّ عَبْدَ الْجَبَّارِ الْهَرَوِيَّ يَقُولُ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ حَسَّانٍ قَالَ: لَمَّا بَلَغَ سُفْيَانَ أَنَّ ابْنَ أَبِي ذِئْبٍ قَبِلَ الأَلْفَ دِينَارٍ مِنَ الْمَهْدِيِّ الَّذِي أَمَرَ لَهُ بِهِ، قَالَ سُفْيَانُ: أَلْفَ دِينَارٍ، قَبَضَ عَلَيْهِ، أَيْنَ كَانَ قَلْبُهُ إِذْ ذَاكَ؟ ! قَالَ: وَكَانَ أَمَرَ لَهُ بِدَنَانِيرَ، فَقِيلَ لَهُ: اقْبَلْهَا، فَلَعَلَّ الْمَهْدِيَّ لا يَطْلُبُكَ وَيَدْعُوكَ، فَإِنَّا نَرَى حَالَكَ سَيِّئَةً، وَحَالَ مَنْ يَحْتَاجُ إِلَيْكَ، قَالَ: فَقَالَ سُفْيَانُ: إِنِّي أَخَافُ دَنَانِيرَهُمْ، أَيَّ شَيْءٍ أَخَافُ مِنْهُمْ!

 

29 - وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْخَلِيلِ يَقُولُ: وَحَدَّثَنِي الْحَسَنُ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْغَفَّارِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ يَقُولُ: دَخَلَ رَجُلٌ مِنَ الْعُلَمَاءِ عَلَى
সুতরাং আপনি যখন তাদের কাছে প্রবেশ করবেন এবং এখান থেকে সদাচার, এখান থেকে সদয় আচরণ, এখান থেকে সম্মান, এখান থেকে বালিশ এবং এখান থেকে ঠেস দেওয়ার বালিশ দেখবেন, তবে কোন হৃদয় এটা সহ্য করতে পারবে যে সে তাদের দিকে ঝুঁকে পড়বে না?

 

28 - আমি আবু আলী আব্দুল জব্বার আল-হারাওয়ীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুস সামাদ ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন সুফইয়ানের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, ইবনে আবি যিব আল-মাহদীর দেওয়া সেই এক হাজার দিনার গ্রহণ করেছেন যা তিনি তার জন্য বরাদ্দ করেছিলেন, তখন সুফইয়ান বললেন: এক হাজার দিনার, সে তা গ্রহণ করেছে! তখন তার অন্তর কোথায় ছিল?! তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: এবং তার (সুফইয়ানের) জন্যও কিছু দিনার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তখন তাকে বলা হলো: আপনি এগুলো গ্রহণ করুন, সম্ভবত আল-মাহদী আপনাকে খুঁজবেন না বা ডাকবেন না। কারণ আমরা আপনার অবস্থা এবং আপনার ওপর যারা নির্ভরশীল তাদের অবস্থাও খারাপ দেখছি। তিনি বলেন: তখন সুফইয়ান বললেন: আমি তাদের দিনারগুলোকে ভয় পাই, আমি তাদের পক্ষ থেকে কোন জিনিসকে ভয় পাই!

 

29 - আমি আহমদ ইবনে খলীলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার নিকট হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সাঈদ ইবনে আব্দুল গাফফার বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে ফুযাইল ইবনে আইয়াযকে বলতে শুনেছি: আলেমদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি প্রবেশ করলেন...
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٥٣)
رَجُلٍ مِنَ الأُمَرَاءِ، فَأَمَرَهُ وَنَهَاهُ فَأَمَرَ بِهِ الأَمِيرُ فَحُبِسَ فِي مَحْبَسٍ وَأَكْرَمَهُ وَوَسَّعَ عَلَيْهِ، وَلَمْ يَأْذَنْ لأَحَدٍ يَدْخُلُ عَلَيْهِ إِلا مَنْ يُثْنِي عَلَى الأَمِيرِ.

قَالَ: فَدَخَلَ عَلَيْهِ يَوْمًا رَجُلٌ فَتَنَقَّصَ الأَمِيرَ، فَجَعَلَ الْعَالِمُ الْمَحْبُوسُ يَرُدُّ عَلَيْهِ قَوْلَهُ وَيُثْنِي عَلَى الأَمِيرِ، فَأَتَى الأَمِيرَ، فَأَخْبَرَ بِذَلِكَ، وَقِيلَ: إِنَّ فُلانًا الْعَالِمَ الَّذِي حَبَسْتَهُ يُثْنِي عَلَيْكَ، وَيُنَاضِلُ عَنْكَ، فَدَعَا بِهِ، فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ لَهُ الأَمِيرُ: هَذَا أَنْتَ، بِقَلِيلِ مَا أَتَيْتُ إِلَيْكَ مِنَ الْكَرَامَةِ تَرَكْتَ حَظَّكَ مِنْ دِينِكَ، فَكَيْفَ تَأْمُرُنِي أَنْ أَدَعَ مَا أَنَا فِيهِ مِنَ النِّعْمَةِ وَالْمُلْكِ بِقَوْلِكَ؟ ! قَالَ عَلِيُّ بْنُ فُضَيْلٍ: فَأَرَى الأَمِيرَ أَحْسَنَ تُقْيَةً مِنَ الْعَالِمِ.

 

30 - سَمِعْتُ عَبْدَ الْوَهَّابِ بْنَ عَبْدِ الْحَكَمِ يَذْكُرُ عَنْ جَامِعِ خَتَنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي نُعَيْمٍ، عَنِ الْوَلِيدِ قَالَ: وَسَمِعْتُ الأَوْزَاعِيَّ يَقُولُ: مَنْ حَضَرَ سُلْطَانًا، فَأَمَرَ بِأَمْرٍ لَيْسَ بِحَقٍّ، وَلا يَتَخَوَّفُ فِيهِ الْفَوْتَ، فَلا يُكَلِّمْهُ فِيهِ عِنْدَ تِلْكَ الْحَالِ، وَلْيَخْلُ بِهِ، وَإِذَا رَأَيْتَهُ يَأْمُرُ بِأَمْرٍ يَخَافُ فِيهِ الْفَوْتَ فَلابُدَّ لَكَ مِنْ كَلامِهِ، أَصَابَكَ مِنْهُ مَا أَصَابَكَ.

 

31 - سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ يَقُولُ:
এক আমীরের নিকট (এক আলেম উপস্থিত হলেন), অতঃপর তিনি তাকে (সৎ কাজের) আদেশ ও (অসৎ কাজের) নিষেধ করলেন। ফলে আমীর তাকে বন্দি করার আদেশ দিলে তাকে কারাগারে বন্দি করা হয়। তবে আমীর তাকে সম্মান প্রদর্শন করেন ও তার সুযোগ-সুবিধা প্রশস্ত করেন এবং আমীরের প্রশংসা করে এমন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকেও তার নিকট প্রবেশের অনুমতি দিতেন না।

তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: একদিন এক ব্যক্তি তার নিকট প্রবেশ করে আমীরের সমালোচনা শুরু করল। তখন বন্দি আলেম তার প্রতিবাদ করলেন এবং আমীরের প্রশংসা করতে লাগলেন। এ সংবাদ আমীরের নিকট পৌঁছানো হলো এবং বলা হলো: ‘অমুক আলেম যাকে আপনি বন্দি করেছেন, সে আপনার প্রশংসা করছে এবং আপনার পক্ষ নিয়ে লড়ছে।’ তখন আমীর তাকে ডেকে পাঠালেন। আলেম উপস্থিত হলে আমীর তাকে বললেন: ‘এই হলো আপনার অবস্থা! সামান্য যেটুকু সম্মান আমি আপনাকে দেখিয়েছি, তাতেই আপনি আপনার দ্বীন থেকে নিজ অংশ বিসর্জন দিলেন। তবে আপনি কীভাবে আমার নিকট আশা করেন যে, আপনার কথায় আমি আমার বর্তমান নিআমত ও রাজত্ব ছেড়ে দেব?!’ আলী ইবনে ফুযাইল বলেন: ‘আমি মনে করি আমীর সেই আলেমের চেয়েও বেশি সতর্ক ছিলেন।’

 

৩০ - আমি আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল হাকামকে ইব্রাহিম ইবনে আবি নুয়াইমের জামাতা জামি-এর সূত্রে ওয়ালিদ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আওযাঈকে বলতে শুনেছি: যদি কেউ কোনো সুলতানের নিকট উপস্থিত হয় এবং তিনি (সুলতান) এমন কোনো নির্দেশ দেন যা ন্যায়সঙ্গত নয়, অথচ তা সংশোধনের সময় অতিবাহিত হওয়ার আশঙ্কা নেই, তবে সে যেন সেই মুহূর্তে তার সাথে কথা না বলে বরং তার সাথে একান্তে মিলিত হয়। আর যদি আপনি দেখেন যে তিনি এমন কোনো নির্দেশ দিচ্ছেন যাতে সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তবে আপনার জন্য তার সাথে কথা বলা অনিবার্য, চাই আপনার ওপর তার পক্ষ থেকে যাই নেমে আসুক না কেন।

 

৩১ - আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٥٤)
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: قَالَ الإِفْرِيقِيُّ لأَبِي جَعْفَرٍ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ رحمه الله كَانَ يَقُولُ: إِنَّمَا السُّلْطَانُ سُوقٌ، فَمَا نَفَقَ عِنْدَهُ ارْتُجِيَ بِهِ، أَوْ فَمَنْ نَفَقَ عِنْدَهُ أَتَاهُ، أَوْ كَمَا قَالَ.

 

32 - حُدِّثْتُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ الْفَرَّاءِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ أَسْبَاطٍ قَالَ: كَانَ سُفْيَانُ إِذَا عُوتِبَ فِي السُّلْطَانِ قَالَ: كَانَ مَلِكٌ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَكَانَ فِيهِمْ عَابِدٌ، وَكَانَ يَخْدُمُ بِبَابِهِ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ، فَأُخِذَ وَأُدْخِلَ فِي بَيْتٍ، وَطُبِقَ عَلَيْهِ الْبَابُ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الثَّالِثِ دُفِعَتْ مَائِدَةُ الْمَلِكِ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ، فَقَالَ: اذْهَبُوا بِهَا إِلَى ذَلِكَ الرَّجُلِ، قَالَ: فَفَتَحَ الْبَابَ وَوُضِعَتِ الْمَائِدَةُ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَقَالَ: أَخْبِرُونِي بِمَا صَنَعَ.

قَالَ: فَنَقَرَ مِنَ الْمَائِدَةِ، قَالَ: فَأُخْبِرَ، قَالَ: فَطَبَقَ عَلَيْهِ الْبَابَ ثَلاثًا، ثُمَّ رُفِعَتْ مَائِدَةُ الْمَلِكِ، فَقَالَ: اذْهَبُوا بِهَا إِلَيْهِ، فَوُضِعَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَأَكَلَ مِنْهَا حَتَّى شَبِعَ، قَالَ: ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَيْهِ جَارِيَةً مِنْ أَحْسَنِ جَوَارِيهِ تَخْدُمُهُ، فَهَوَى بِهَا فَوَطِئَهَا.
সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইফরিকী আবু জাফরকে বলেছেন যে, উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন: “নিশ্চয়ই সুলতান (শাসক) হলো একটি বাজারের মতো; তার কাছে যা বিক্রি হয়, তারই প্রত্যাশা করা হয়; অথবা যার পণ্য সেখানে চলে, সে-ই তার নিকট আসে।” অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন।

 

৩২ - আবু সালিহ আল-ফাররা থেকে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনে আসবাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ানকে যখন সুলতানের (সংসর্গ নিয়ে) ভর্ৎসনা করা হতো, তখন তিনি বলতেন: বনী ইসরাঈলের এক রাজা ছিল এবং তাদের মাঝে এক ইবাদতকারী ব্যক্তি ছিল যে রাজার দরজায় কাজ করত। রাজা তাকে ডেকে পাঠালেন, তাকে পাকড়াও করে একটি ঘরে প্রবেশ করানো হলো এবং তিন দিন পর্যন্ত তার ওপর দরজা বন্ধ করে রাখা হলো। অতঃপর যখন তৃতীয় দিন হলো, রাজার সামনে থেকে খাবারের দস্তরখান সরানো হলো এবং তিনি বললেন: “এটি সেই লোকটির কাছে নিয়ে যাও।” তিনি বলেন: তখন দরজা খোলা হলো এবং দস্তরখানটি তার সামনে রাখা হলো। রাজা বললেন: “সে কী করে তা আমাকে জানাবে।”

তিনি বলেন: সে দস্তরখান থেকে যৎসামান্য খুঁটে খেল। তিনি বলেন: অতঃপর রাজাকে তা জানানো হলো। তিনি বলেন: রাজা পুনরায় তিন দিনের জন্য তার ওপর দরজা বন্ধ করে দিলেন। এরপর রাজার দস্তরখান উঠিয়ে নেওয়া হলো এবং তিনি বললেন: “এটি তার কাছে নিয়ে যাও।” তা তার সামনে রাখা হলে সে পেট ভরে খেল। তিনি বলেন: এরপর রাজা তার নিকট তার দাসীদের মধ্যে সবচাইতে সুন্দরী এক দাসীকে পাঠালেন তার সেবা করার জন্য। তখন সে তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ল এবং তার সাথে সংগত হলো।
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٥٥)
قَالَ: فَأُخْبِرَ الْمَلِكُ، فَدَعَاهُ فَقَالَ: إِنَّكَ كُنْتَ تُحَرِّمُ عَلَيَّ مَالِي، وَتَزْعُمُ أَنَّ مَا فِي يَدِي سُحْتٌ، فَأُرِيدُ أَنْ تَقُومَ عَلَى رُءُوسِ النَّاسِ فَتَعْذِرُنِي عِنْدَهُمْ، فَقَامَ عَلَى رُءُوسِ النَّاسِ فَعَذَرَهُ، وَجَعَلَ يَتَكَلَّمُ بِعُذْرِهِ، فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ: أَنَا مَلِكٌ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ، أَحْكُمُ فِي شُعُورِهِمْ وَفُرُوجِهِمْ، فَأَنَا فِيمَا مَلَكْتُ أَعْدَلَ مِنْكَ، بَعَثْتُ إِلَيْكَ بِفَضْلِ مَائِدَتِي فَأَكَلْتَ مِنْهَا، وَبَعَثْتُ إِلَيْكَ بِأَحْسَنِ جَوَارِيَّ فَلَمْ تَعِفَّ أَنْ وَطِئْتَهَا، فَأَنَا فِيمَا مَلَكْتُ كُنْتُ أَعْدَلَ مِنْكَ، قَالَ: فَضَرَبَ عُنُقَهُ.

 

33 - وَسَمِعْتُ حَجَّاجَ بْنَ يُوسُفَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الْمَيْمُونِيَّ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ عَبْدِ الْحَمِيدِ قَالَ: أَخْبَرَنِي نَضْرُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، فَقَالَ: لَوْ أَتَيْتَ السُّلْطَانَ فَأَصَبْتَ مِنْ دَنَانِيرِهِمْ، فَقَالَ لَهُ: كَمَا أَنْتَ حَتَّى أُحَدِّثَكَ بِحَدِيثٍ وَاحِدٍ، ثُمَّ لا أُكَلِّمَكَ حَوْلا.

حَدَّثَنَا مُغِيرَةُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: إِنَّ الْمَرْأَةَ مِنْ حُورِ الْعِينِ لَتَتَحَوَّلُ عَنْ مَجْلِسِهَا، فَلا يَبْقَى مَوْضِعٌ إِلا أَضَاءَ مِنْ تَحْوِيلِهَا، أَفَتَأْمُرُنِي أَنْ أَبِيعَ هَذَا الْعَرَضَ مِنَ الدُّنْيَا؟ ! ثُمَّ لا أُكَلِّمُكَ حَوْلا.

 

34 - سَمِعْتُ مَحْمُودَ بْنَ غَيْلانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ:
তিনি বললেন: বাদশাহকে সংবাদ জানানো হলো। তখন তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: তুমি আমার সম্পদ আমার জন্য হারাম করতে এবং দাবি করতে যে আমার হাতে যা আছে তা অবৈধ। আমি চাই তুমি মানুষের সামনে দাঁড়াও এবং তাদের কাছে আমার ওজর পেশ করো। অতঃপর সে মানুষের সামনে দাঁড়াল এবং তার পক্ষে ওজর পেশ করল এবং তার ওজর বর্ণনা করতে লাগল। তখন বাদশাহ তাকে বললেন: আমি বনী ইসরাঈলের একজন বাদশাহ, আমি তাদের চুল এবং লজ্জাস্থানের ওপর বিচার করি। সুতরাং আমি যা মালিকানা লাভ করেছি তাতে আমি তোমার চেয়ে বেশি ন্যায়পরায়ণ। আমি আমার দস্তরখানের অবশিষ্ট খাদ্য তোমার কাছে পাঠিয়েছিলাম এবং তুমি তা খেয়েছিলে; আমি আমার সর্বোত্তম দাসীকে তোমার কাছে পাঠিয়েছিলাম এবং তুমি তার সাথে সহবাস করা থেকে বিরত থাকোনি। সুতরাং আমি যা মালিকানা লাভ করেছি তাতে আমি তোমার চেয়ে বেশি ন্যায়পরায়ণ ছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তার গর্দান উড়িয়ে দিলেন।

 

৩৩ - এবং আমি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল-মাইমুনি আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল হামিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে নযর ইবনে সাঈদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি সুফিয়ান আস-সাওরীর কাছে এসে বলল: আপনি যদি সুলতানের কাছে যেতেন তবে তাদের দিনারসমূহ থেকে কিছু প্রাপ্ত হতেন। তিনি তাকে বললেন: তুমি স্থির থাকো যতক্ষণ না আমি তোমাকে একটি হাদীস শোনাই, এরপর আমি তোমার সাথে এক বছর কথা বলব না।

মুগীরাহ ইব্রাহীম থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতের হুরদের মধ্য থেকে কোনো নারী যখন তার বসার স্থান পরিবর্তন করে, তখন তার সেই স্থান পরিবর্তনের কারণে প্রতিটি স্থান আলোকোজ্জ্বল হয়ে যায়। তবে কি তুমি আমাকে এই দুনিয়ার নগণ্য সামগ্রীর বিনিময়ে তা বিক্রি করে দেওয়ার আদেশ দিচ্ছ?! অতঃপর তিনি তার সাথে এক বছর কথা বলেননি।

 

৩৪ - আমি মাহমুদ ইবনে গায়লানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মা'মার বর্ণনা করেছেন ইবনে তাউস থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٥٦)
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ: أَلا أَقُومُ إِلَى هَذَا السُّلْطَانِ فَآمُرَهُ وَأَنْهَاهُ؟ قَالَ: لا، تَكُونُ لَكَ فِتْنَةٌ، قَالَ: أَفَرَأَيْتَ إِنْ أَمَرَنِي بِمَعْصِيَةِ اللَّهِ عز وجل؟ قَالَ: فَذَلِكَ الَّذِي تُرِيدُ، أَنْ تَكُونَ حِينَئِذٍ رَجُلا.

 

35 - وَسَمِعْتُ مَحْمُودَ بْنَ غَيْلانَ يَقُولُ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ قَالَ: قُلْتُ لأَبِي: لَوْ أَنَّ نَاسًا اجْتَمَعُوا حَتَّى يُكَلِّمُوا السُّلْطَانَ، قَالَ: فَبَيْنَا نَحْنُ فِي مَنْزِلٍ نَزَلْنَاهُ إِذْ جَاءَ الْوَالِي فَدَخَلَ فَسَلَّمَ، قَالَ: فَمَا كَلَّمَهُ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَلا رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَيْهِ، فَخَرَجَ فَاتَّبَعْتُهُ فَقُلْتُ: إِنَّ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ لَمْ يَعْرِفْكَ، فَقَالَ: بَلَى، مَعْرِفَتُهُ بِي فَعَلَتْ بِي هَذَا، قَالَ: فَلَمَّا رَجَعْتُ إِلَى أَبِي قَالَ: أَيْ لُكَعُ، أَنْتَ تَقُولُ بِالأَمْسِ مَا تَقُولُ، لَمْ تَسْتَطِعْ أَنْ تُمْسِكَ لِسَانَكَ حَتَّى كَلَّمْتَهُ بِمَا كَلَّمْتَهُ؟ !

 

36 - سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ أَبِي عَوْنٍ يَذْكُرُ عَنِ الْمُحَارِبِيِّ،
এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের নিকট এসে বলল: আমি কি এই শাসকের নিকট গিয়ে তাকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করব না? তিনি বললেন: না, এতে তোমার জন্য ফিতনা হতে পারে। সে বলল: যদি সে আমাকে মহান আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ দেয়, তবে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: তবে সেটিই তুমি যা চাচ্ছ, তখন তুমি প্রকৃত পুরুষ হিসেবে গণ্য হবে (অর্থাৎ তখন অবাধ্যতা প্রকাশ করে ঈমান রক্ষা করবে)।

 

৩৫ - আমি মাহমুদ বিন গাইলানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মা’মার ইবনে তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বললাম: যদি কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে শাসকের সাথে কথা বলত! তিনি বলেন: এমতাবস্থায় আমরা এক আবাসে অবস্থান করছিলাম, তখন ওয়ালি (প্রশাসক) আসলেন এবং প্রবেশ করে সালাম দিলেন। তিনি বলেন: কিন্তু আবু আব্দুর রহমান (তাউস) তার সাথে কোনো কথা বললেন না এবং তার দিকে মাথা তুলে তাকালেনও না। তিনি (প্রশাসক) বের হয়ে গেলে আমি তার পিছু নিলাম এবং বললাম: আবু আব্দুর রহমান আপনাকে চিনতে পারেননি। তিনি বললেন: বরং তার চেনা থাকার কারণেই তিনি আমার সাথে এমনটি করেছেন। ইবনে তাউস বলেন: এরপর আমি যখন আমার পিতার নিকট ফিরে এলাম, তিনি বললেন: হে নির্বোধ! তুমি কি গতকালই ওইসব কথা বলছিলে না? তুমি তোমার জিহ্বা সংবরণ করতে পারলে না এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ওই কথাগুলো বললে?!

 

৩৬ - আমি আবু বকর বিন আবি আউনকে মুহারিবি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি,
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٥٧)
عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مَغْرَاءَ، أَوْ عَنْ لَيْثٍ، عَنِ ابْنِ مَغْرَاءَ، أَنَا أَشُكُّ، قَالَ: لَمَّا قَدِمَ ابْنُ عَامِرٍ أَتَاهُ قَوْمٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَأْتِهِ أَبُو الدَّرْدَاءِ، قَالَ: فَقَالَ ابْنُ عَامِرٍ: أَمَا إِذْ لَمْ يَأْتِنِي فَلآتِيَنَّهُ وَلأَقْضِيَنَّ مِنْ حَقِّهِ الْوَاجِبَ، فَقَامَ فِيمَنْ مَعَهُ حَتَّى أَتَى أَبَا الدَّرْدَاءِ، فَقَالَ لَهُ: إِنَّهُ أَتَانِي قَوْمٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمْ أَرَكَ فِيهِمْ، فَرَأَيْتُ أَنْ آتِيَكَ وَأَقْضِيَ مِنْ حَقِّكَ الْوَاجِبَ.

فَرَفَعَ أَبُو الدَّرْدَاءِ رَأْسَهُ إِلَيْهِ فَقَالَ: مَا كُنْتُ قَطُّ أَهْوَنَ عَلَيَّ مِنْكَ الْيَوْمَ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُنَا إِذَا تَغَيَّرْتُمْ نَتَغَيَّرُ عَلَيْكُمْ

 

37 - وَحُدِّثْتُ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ صَالِحٍ فِيمَا قُرِئَ عَلَى ابْنِ وَهْبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، قَالَ: أَبَقَ مِنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ غُلامٌ لَهُ، فَحَضَرَ بَعْضَ مَغَازِي الرُّومِ، وَكَانَ شُجَاعًا يُقَاتِلُ قِتَالا شَدِيدًا، ثُمَّ نَكَصَ وَتَرَكَ ذَلِكَ، فَدَعَاهُ صَاحِبُ الْجَيْشِ، وَكَانَ رَجُلا مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَ: مَا شَأْنُكَ، كُنْتَ تُقَاتِلُ، ثُمَّ تَرَكْتَ ذَلِكَ؟ !
লাইস হতে বর্ণিত, তিনি মাগরা হতে, অথবা লাইস হতে, ইবন মাগরা হতে (আমার সন্দেহ আছে) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যখন ইবন আমির আসলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী তাঁর নিকট আসলেন, কিন্তু আবুদ্দারদা তাঁর নিকট আসলেন না। তিনি বলেন: তখন ইবন আমির বললেন, 'যেহেতু তিনি আমার নিকট আসেননি, তাই আমিই তাঁর নিকট যাব এবং তাঁর প্রাপ্য অধিকার আদায় করব।' অতঃপর তিনি তাঁর সাথে যারা ছিলেন তাদের নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং আবুদ্দারদার নিকট আসলেন। তিনি তাঁকে বললেন: 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী আমার নিকট এসেছিলেন, কিন্তু আমি আপনাকে তাঁদের মাঝে দেখিনি। তাই আমি আপনার নিকট আসা এবং আপনার প্রাপ্য অধিকার আদায় করা সমীচীন মনে করলাম।'

তখন আবুদ্দারদা তাঁর দিকে মাথা তুলে তাকালেন এবং বললেন: 'আমার কাছে আজকের দিনের চেয়ে আপনি আর কখনো তুচ্ছ ছিলেন না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিতেন যে, যখন তোমরা পরিবর্তিত হয়ে যাবে, আমরাও যেন তোমাদের প্রতি পরিবর্তিত হয়ে যাই।'

 

৩৭ - আর আহমদ ইবন সালিহ হতে বর্ণিত, যা ইবন ওয়াহবের নিকট পাঠ করা হয়েছে, তিনি বলেন: মালিক আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের একজন গোলাম পালিয়ে গিয়েছিল। সে রোমানদের কোনো এক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। সে অত্যন্ত সাহসী ছিল এবং বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করত। অতঃপর সে পিছু হটল এবং তা বর্জন করল। তখন সেনাপতি—যিনি কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি ছিলেন—তাকে ডেকে বললেন: 'তোমার কী হলো? তুমি তো যুদ্ধ করছিলে, অতঃপর তা কেন ছেড়ে দিলে?'
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٥٨)
قَالَ: إِنِّي غُلامٌ لابْنِ الْمُسَيِّبِ، فَخِفْتُ أَنْ أُقْتَلَ، فَقَالَ لَهُ: قَاتِلْ، فَإِنْ قُتِلْتَ فَقِيمَتُكَ عَلَيَّ بَالِغَةٌ مَا بَلَغْتَ، فَقَاتَلَ فَقُتِلَ.

فَقَدِمَ الْقُرَشِيُّ الْمَدِينَةَ، فَأَرْسَلَ إِلَى سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، فَأَبَى أَنْ يَأْتِيَهُ، ثُمَّ أَتَاهُ فَقَالَ: قَدِمْتُ وَكَانَ الْحَقُّ لِي وَأَنَا رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ فَلَمْ تَأْتِنِي، وَأَرْسَلْتُ إِلَيْكَ فَلَمْ تَأْتِنِي.

فَقَالَ ابْنُ الْمُسَيِّبِ: لَمْ يَكُنْ لِي إِلَيْكَ حَاجَةٌ فَآتِيَكَ، فَإِنْ كَانَتْ لَكَ حَاجَةٌ فَأْتِ أَنْتَ.

قَالَ الْقُرَشِيُّ: فَإِنَّ لِي حَاجَةً، غُلامٌ كَانَ لَكَ ضَمِنْتُ لَهُ أَنْ أُرْضِيَكَ مِنْ ثَمَنِهِ، فَتَمَنَّ عَلَيَّ مَا شِئْتَ، فَإِنَّهُ قَدْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، قَالَ سَعِيدٌ: لا وَاللَّهِ، لا آخُذُ لَهُ ثَمَنًا، أَجْرُهُ لِي وَهُوَ فِي النَّارِ.

 

38 - وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ الْوَرَّاقُ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الصَّفَّارِ، عَنْ هَارُونَ بْنِ مُوسَى، عَنْ مِهْرَانَ الرَّازِيِّ خَادِمِ الثَّوْرِيِّ، قَالَ: كَانَ لِسُفْيَانَ وَلِعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ بِضَاعَةٌ عِنْدَ أَبِي جَعْفَرٍ وَكَانَ أَبُو جَعْفَرٍ قَدْ حَجَّ أَرْبَعِينَ، بَيْنَ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ، قَالَ: فَاجْتَمَعَ الزَّمْنِيُّ عَلَى بَابِ أَبِي جَعْفَرٍ الرَّازِيِّ يَسْأَلُونَهُ الدُّخُولَ عَلَى
তিনি বললেন: আমি ইবনে আল-মুসাইয়িবের একজন গোলাম, আমি নিহত হওয়ার আশঙ্কা করছিলাম। তখন তিনি তাকে বললেন: যুদ্ধ করো, যদি তুমি নিহত হও তবে তোমার মূল্য পরিশোধের দায় আমার, তার পরিমাণ যাই হোক না কেন। অতঃপর সে যুদ্ধ করল এবং নিহত হলো।

অতঃপর কুরাইশী ব্যক্তিটি মদিনায় আসলেন এবং সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িবের কাছে লোক পাঠালেন, কিন্তু তিনি তার কাছে আসতে অস্বীকার করলেন। এরপর তিনি তার কাছে আসলেন এবং বললেন: আমি এসেছি, আর আমার একটি হক ছিল যেহেতু আমি কুরাইশ বংশের একজন লোক, কিন্তু আপনি আমার কাছে আসেননি। আমি আপনার কাছে লোক পাঠিয়েছিলাম, তবুও আপনি আসেননি।

ইবনে আল-মুসাইয়িব বললেন: আপনার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন ছিল না যে আমি আপনার কাছে আসব। যদি আপনার কোনো প্রয়োজন থাকে, তবে আপনিই আসুন।

কুরাইশী বললেন: আমার একটি প্রয়োজন আছে। আপনার একজন গোলাম ছিল, আমি তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে আমি আপনাকে তার মূল্যের বিনিময়ে সন্তুষ্ট করব। সুতরাং আপনি আমার কাছে যা চান তা চেয়ে নিন, কারণ সে আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে। সাঈদ বললেন: না, আল্লাহর কসম, আমি তার কোনো মূল্য গ্রহণ করব না। তার সওয়াব আমার প্রাপ্য, আর সে জাহান্নামে।

 

৩৮ - এবং আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল হাকাম আল-ওয়াররাক, আবু সাঈদ আল-সাফফার থেকে, তিনি হারুন ইবনে মুসা থেকে, তিনি সাওরির খাদেম মিহরান আল-রাজি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান এবং আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ-এর কিছু পণ্য আবু জাফরের কাছে ছিল। আর আবু জাফর হজ ও ওমরাহ মিলিয়ে চল্লিশ বার হজ করেছিলেন। তিনি বলেন: অতঃপর দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আবু জাফর আল-রাজির দরজায় একত্রিত হয়ে তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করতে লাগল...
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٥٩)
الْمَهْدِيِّ حَتَّى يَعْزِلَ عَنْهُمُ الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ عَلَى أَرْزَاقِهِمْ، فَأَبَى عَلَيْهِمْ.

قَالَ: فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ اجْتَمَعَ النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ وَالزَّمْنِيُّ عَلَى بَابِ أَبِي جَعْفَرٍ الرَّازِي، فَبَكَوْا وَسَأَلُوهُ، فَرَقَّ الشَّيْخُ فَدَخَلَ عَلَى الْمَهْدِيِّ فَكَلَّمَهُ، فَقَالَ لَهُ الْمَهْدِيُّ: مَا عَلِمْتُ، يُوَلُّون عَلَيْهِمْ أَيَّ رَجُلٍ أَرَادُوا، وَأَمَرَ بِعَزْلِ ذَلِكَ الرَّجُلِ، وَأَمَرَ لَهُمْ بِأَرْزَاقٍ، قَالَ: وَأَكْرَمَ أَبَا جَعْفَرٍ وَرَفَعَ مَجْلِسَهُ، وَأَمَرَ لَهُ بِثَلاثِينَ أَلْفًا، فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا، فَدُفِعَتْ إِلَى الْقَوْمِ الَّذِينَ مَعَهُ، فَقَالُوا لأَبِي جَعْفَرٍ: مَا نَصْنَعُ بِهَذَا الْمَالِ، فَقَالَ: لا يَمُدَنَّ أَحَدٌ يَدَهُ إِلَيْكُمْ إِلا أَعْطَيْتُمُوهُ، قَالَ: فَقَسَمَ الثَّلاثِينَ أَلْفًا.

قَالَ: ثُمَّ قَدِمَ الْكُوفَةَ، قَالَ: وَبَلَغَ سُفْيَانَ، قَالَ: وَكَانَ سُفْيَانُ يَتَلَقَّى أَبَا جَعْفَرٍ إِذَا قَدِمَ عَلَيْهِمْ بِالْقَنَاطِرِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ شَيَّعَهُ إِلَى النَّجَفِ، فَلَمَّا بَلَغَ أَبُو جَعْفَرٍ الْقَنَاطِرَ لَمْ يَرَ سُفْيَانَ، قَالَ: فَاغْتَمَّ.

قَالَ مِهْرَانُ: فَإِنِّي لَعِنْدَ سُفْيَانَ قَاعِدٌ إِذْ جَاءَ أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ فَسَلَّمَ عَلَى سُفْيَانَ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، قَالَ: وَنَكَسَ سُفْيَانُ رَأْسَهُ إِلَى الأَرْضِ وَمَا كَلَّمَهُ، قَالَ: فَقَامَ سُفْيَانُ مُغْضَبًا يَجُرُّ كِسَاءَهُ، حَتَّى دَخَلَ بَيْتَهُ.

قَالَ: وَمَضَى أَبُو جَعْفَرٍ فَكَتَبَ كِتَابًا، أَوْ قَالَ: رُقْعَةً يَعْتَذِرُ فِيهَا قَالَ مِهْرَانُ: فَدَفَعَهَا إِلَيَّ، فَأَتَيْتُ بِهَا سُفْيَانَ فَلامَنِي، وَقَالَ لِي: مَنْ أَمَرَكَ أَنْ تَأْخُذَ كِتَابَهُ؟ قَالَ فَقُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، هُوَ رَجُلٌ جَارٌ لِي وَهُوَ مِنْ أَهْلِ بَلَدِي، قَالَ: فَأَخَذَ سُفْيَانُ رحمه الله الْكِتَابَ فَقَرَأَهُ، ثُمَّ دَعَا بِدَوَاةٍ، فَكَتَبَ فِي أَسْفَلِ الْكِتَابِ جَوَابَهُ، فَإِذَا فِيهِ:
মাহদীর কাছে, যেন তিনি তাদের জন্য তাদের জীবিকার দায়িত্বে থাকা লোকটিকে অপসারণ করেন, কিন্তু তিনি তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করলেন।

তিনি বললেন: পরদিন নারী, শিশু ও পঙ্গুরা আবু জাফর আর-রাজির দরজায় সমবেত হলো, তারা কাঁদল এবং তার কাছে আরজি পেশ করল। এতে শাইখের মন নরম হলো এবং তিনি মাহদীর কাছে গিয়ে কথা বললেন। মাহদী তাকে বললেন: "আমি জানতাম না।" তারা তাদের পছন্দমতো যাকে খুশি নিয়োগ করতে পারে। তিনি সেই লোকটিকে অপসারণের নির্দেশ দিলেন এবং তাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করার আদেশ দিলেন। তিনি বললেন: তিনি আবু জাফরকে সম্মানিত করলেন, তাকে উচ্চাসনে বসালেন এবং তার জন্য ত্রিশ হাজার (দিরহাম) প্রদানের আদেশ দিলেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। ফলে তা তার সাথে থাকা লোকদের দিয়ে দেওয়া হলো। তারা আবু জাফরকে জিজ্ঞেস করল: "আমরা এই অর্থ দিয়ে কী করব?" তিনি বললেন: "কেউ তোমাদের কাছে হাত বাড়ালে তাকে তা দিয়ে দেবে।" তিনি বললেন: অতঃপর সেই ত্রিশ হাজার বন্টন করে দেওয়া হলো।

তিনি বললেন: এরপর তিনি কুফায় আসলেন। তিনি বললেন: সুফিয়ানের কাছে সংবাদ পৌঁছাল। তিনি বললেন: আবু জাফর যখন তাদের কাছে আসতেন তখন সুফিয়ান কানাতিরে গিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানাতেন এবং তিনি যখন বিদায় নিতেন তখন নাজাফ পর্যন্ত তাকে এগিয়ে দিতেন। যখন আবু জাফর কানাতিরে পৌঁছালেন, তখন তিনি সুফিয়ানকে দেখতে পেলেন না। এতে তিনি ব্যথিত হলেন।

মিহরান বললেন: আমি সুফিয়ানের কাছে বসেছিলাম, এমন সময় আবু জাফর আর-রাজি আসলেন এবং সুফিয়ানকে সালাম দিলেন, কিন্তু তিনি তার উত্তর দিলেন না। তিনি বললেন: সুফিয়ান মাথা নিচু করে মাটির দিকে তাকিয়ে রইলেন এবং তার সাথে কোনো কথা বললেন না। তিনি বললেন: এরপর সুফিয়ান রাগান্বিত হয়ে কাপড় টেনে হিঁচড়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজ ঘরে ঢুকে গেলেন।

তিনি বললেন: আবু জাফর চলে গেলেন এবং একটি চিঠি লিখলেন, অথবা বর্ণনাকারী বলেছেন: একটি চিরকুট লিখলেন যাতে তিনি ওজর পেশ করলেন। মিহরান বললেন: তিনি সেটি আমাকে দিলেন। আমি তা সুফিয়ানের কাছে নিয়ে আসলাম, কিন্তু তিনি আমাকে তিরস্কার করলেন এবং বললেন: "কে তোমাকে তার চিঠি নিতে বলেছে?" আমি বললাম: "হে আবু আব্দুল্লাহ! তিনি আমার প্রতিবেশী এবং আমার স্বদেশী লোক।" তিনি বললেন: সুফিয়ান (আল্লাহ তার ওপর দয়া করুন) চিঠিটি নিলেন এবং পড়লেন। তারপর তিনি দোয়াত চাইলেন এবং চিঠির নিচে তার উত্তর লিখলেন, তাতে ছিল:
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٦٠)
{لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ} [المائدة: 78] إلى قوله: {وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ فَاسِقُونَ} [المائدة: 81] ، وَإِذَا فِيهِ: ابْعَثْ إِلَيْنَا بِضَاعَتَنَا، وَمَا كَانَ فِيهَا مِنْ رِبْحٍ فَهُوَ لَكَ، وَرُدَّ إِلَيْنَا رَأْسَ الْمَالِ.

قَالَ: وَكَانَ فِيهَا رِبْحٌ أَرَاهُ مَالا كَثِيرًا.

قَالَ مِهْرَانُ: فَلَمَّا أَرَدْتُ الْحَجَّ، قَالَ: فَقُلْتُ: لأَحُجَنَّ فَأَنْظُرَ مَا يَقُولُ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ، فَقَدْ شَهِدْتُ سُفْيَانَ وَسَمِعْتُ مَا قَالَ لَهُ.

قَالَ: فَاسْتَأْذَنْتُ سُفْيَانَ فِي الْحَجِّ فَأَذِنَ لِي، قَالَ: فَقَدِمْتُ فَسَبَقْتُهُ إِلَى عَبْدِ الْعَزِيزِ، فَإِذَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ قَدْ دَخَلَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، قَالَ: فَلا أَدْرِي رَدَّ عَلَيْهِ رَدًّا ضَعِيفًا أَوْ لا، إِلا أَنَّهُ لَمْ يَفْعَلْ فَعَالَ سُفْيَانَ، قَالَ: فَجَلَسَ، فَقَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: أَمَا تَرَى إِلَى جَوَابِ كِتَابِهِ، يَعْنِي سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، قَالَ: ثُمَّ أَخْرَجَ الْكِتَابَ مِنْ خُفِّهِ، قَالَ: فَدَفَعَهُ إِلَى عَبْدِ الْعَزِيزِ، فَنَظَرَ إِلَيْهِ، قَالَ: فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الْعَزِيزِ: هَذَا كِتَابُ رَجُلٍ قَوِيِّ الإِيمَانِ، أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا، قَالَ: ثُمَّ قَالَ لَهُ: يَا عِيسَى، تَدْرِي مَا مَثَلُكَ، مَثَلُ الْخِنْزِيرِ كَانَ يَشْرَبُ اللَّبَنَ وَهُوَ صَغِيرٌ، فَلَمَّا كَبِرَ أَكَلَ الْعَذِرَةَ.

قَالَ: وَكَانَ اسْمُ أَبِي جَعْفَرٍ عِيسَى.

قَالَ عَبْدُ الْوَهَّابِ: أَخْبَرَنِي أَبُو سَعِيدٍ الصَّفَّارُ: ذَهَبْتُ بِهَذِهِ
{বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, দাউদ ও মারইয়াম তনয় ঈসার মুখে তাদের অভিশাপ দেওয়া হয়েছে} [আল-মায়িদাহ: ৭৮] থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {কিন্তু তাদের অনেকেই পাপাচারী} [আল-মায়িদাহ: ৮১]। আর তাতে (চিঠিতে) ছিল: আমাদের পণ্য আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন, আর এতে যে মুনাফা হয়েছে তা আপনার জন্য, এবং আমাদের মূলধন আমাদের নিকট ফেরত দিন।

তিনি বললেন: আর তাতে মুনাফা ছিল যা আমি অনেক সম্পদ হিসেবে দেখছিলাম।

মিহরান বললেন: আমি যখন হজের ইচ্ছা করলাম, তখন বললাম: আমি অবশ্যই হজ করব এবং দেখব আবদুল আজিজ বিন আবি রাওয়াদ কী বলেন; কারণ আমি সুফিয়ানকে প্রত্যক্ষ করেছি এবং তিনি তাকে যা বলেছিলেন তা শুনেছি।

তিনি বললেন: আমি হজের জন্য সুফিয়ানের অনুমতি চাইলাম এবং তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। তিনি বললেন: আমি পৌঁছালাম এবং তার আগেই আবদুল আজিজের কাছে গিয়ে উপস্থিত হলাম। তখন দেখলাম আবু জাফর আর-রাজি প্রবেশ করে তাকে সালাম দিলেন। তিনি বললেন: আমি জানি না তিনি তাকে কোনো দুর্বল উত্তর দিয়েছিলেন কি না, তবে তিনি সুফিয়ানের মতো আচরণ করেননি। তিনি বললেন: এরপর তিনি বসলেন। আবু জাফর বললেন: আপনি কি তার (অর্থাৎ সুফিয়ান আস-সাওরীর) চিঠির উত্তর দেখছেন না? তিনি বললেন: এরপর তিনি তার মোজা থেকে চিঠিটি বের করলেন। তিনি বললেন: এরপর তিনি তা আবদুল আজিজকে দিলেন এবং তিনি তা দেখলেন। তিনি বললেন: আবদুল আজিজ তাকে বললেন: এটি একজন শক্তিশালী ঈমানদার ব্যক্তির চিঠি, অথবা এই জাতীয় কোনো কথা। তিনি বললেন: এরপর তিনি তাকে বললেন: হে ঈসা, তুমি কি জানো তোমার উদাহরণ কিসের মতো? তোমার উদাহরণ হলো সেই শুকরের মতো যে ছোটবেলায় দুধ পান করত, আর বড় হয়ে বিষ্ঠা ভক্ষণ করল।

তিনি বললেন: আবু জাফরের নাম ছিল ঈসা।

আবদুল ওয়াহাব বললেন: আবু সাঈদ আস-সাফফার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: আমি এগুলো নিয়ে গেলাম...
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٦١)
الرُّقْعَةِ إِلَى بِشْرِ بْنِ الْحَارِثِ فَقَبَضَ عَلَيْهَا، وَقَالَ: أَنَا أَحَقُّ بِسُفْيَانَ وَبِفِعْلِ سُفْيَانَ.

قَالَ أَبُو بَكْرٍ، يَعْنِي الْمَرُّوذِيَّ: فَلَقِيتُ أَبَا سَعِيدٍ الصَّفَّارَ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ، فَحَدَّثَنِي عَنْ هَارُونَ بْنِ مُوسَى، قَالَ: سَمِعْتُ مِهْرَانَ الرَّازِيَّ خَادِمَ الثَّوْرِيَّ، فَذَكَرَهُ بِطُولِهِ.

 

39 - وَحُدِّثْتُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى، قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي غَنِيَّةَ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ سُفْيَانَ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَأَعْرَضَ عَنْهُ سُفْيَانُ، فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، أَمَا تَعْرِفُنِي؟ أَنَا جَلِيسُكَ، فَلَمْ يُكَلِّمْهُ، وَجَعَلَ يُعْرِضُ عَنْهُ، فَلَمَّا طَالَ بِالرَّجُلِ وَجَعَلَ لا يُكَلِّمُهُ وَيُعْرِضُ عَنْهُ انْصَرَفَ، فَقَالَ لَنَا سُفْيَانُ: تَدْرُونَ مَا قِصَّةُ هَذَا؟ هَذَا كَانَ لَنَا جَلِيسًا، وَكُنَّا نَوَدُّهُ وَنُقَرِّبُهُ، فَذَهَبَ فَدَاخَلَ السُّلْطَانَ، وَهُوَ يَرَى أَنَّا لَهُ عَلَى مَا كُنَّا لَهُ، مَا أَبْعَدَهُ مِنْ ذَلِكَ، وَنَحْوَ هَذَا.

 

40 - وَسَمِعْتُ مَحْمُودَ بْنَ غَيْلانَ يَقُولُ: سَلَّمْتُ عَلَى مُؤَمَّلِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ، وَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ مَرَّةً أُخْرَى فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ، فَقُلْتُ: مَا حَالِي؟ فَقَالَ الْفَزَارِيُّ الشَّيْخُ الْمَخْضُوبُ إِلَى جَانِبِهِ يُصَلِّي: تَدْرِي مَا قَالَ سُفْيَانُ؟
সেই চিরকুটটি বিশর ইবনুল হারিসের কাছে পৌঁছালে তিনি তা ধরলেন এবং বললেন: "আমি সুফিয়ান ও সুফিয়ানের কর্মের অধিক হকদার।"

আবু বকর অর্থাৎ আল-মাররুজি বলেন: এরপর আমি আবু সাঈদ আস-সাফফারের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে এই বর্ণনাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি হারুন ইবনে মুসা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করলেন, তিনি বলেন: আমি সওরীর খাদেম মিহরান আর-রাজীকে বলতে শুনেছি, এরপর তিনি তা বিস্তারিত বর্ণনা করেন।

 

৩৯ - মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা থেকে আমার কাছে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে আবি গানিয়্যাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা সুফিয়ানের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি এসে তাকে সালাম দিল। সুফিয়ান তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তখন লোকটি তাকে বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন না? আমি আপনার মজলিসের সাথী। কিন্তু তিনি তার সাথে কোনো কথা বললেন না এবং ক্রমাগত বিমুখতা প্রদর্শন করতে থাকলেন। যখন লোকটির নিকট এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকল এবং তিনি তার সাথে কথা বলছিলেন না ও বিমুখ থাকছিলেন, তখন সে ফিরে গেল। এরপর সুফিয়ান আমাদের বললেন: তোমরা কি জানো এর কাহিনী কী? এ ব্যক্তি আমাদের মজলিসের সাথী ছিল, আমরা তাকে পছন্দ করতাম এবং কাছে রাখতাম। কিন্তু সে গিয়ে সুলতানের সাথে মেলামেশা শুরু করল। এখন সে মনে করছে যে, আমরা তার জন্য আগের মতোই রয়েছি; অথচ সে সেই অবস্থান থেকে কত দূরে সরে গেছে! অথবা এই জাতীয় কথা তিনি বললেন।

 

৪০ - আমি মাহমুদ ইবনে গাইলানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুয়াম্মিল ইবনে ইসমাইলকে সালাম দিলাম কিন্তু তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন না। আমি তাকে পুনরায় সালাম দিলাম, এবারও তিনি উত্তর দিলেন না। আমি বললাম: আমার অবস্থা কী? তখন তার পাশে নামাজরত খিজাব লাগানো বৃদ্ধ ফাজারী বললেন: তুমি কি জানো সুফিয়ান কী বলেছিলেন?
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٦٢)
قَالَ: كَانَ إِذَا بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلا أَتَى السُّلْطَانَ، أَمَرَهُ وَنَهَاهُ، فَإِنْ قَبِلَ وَإِلا هَجَرَهُ.

 

41 - وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ: حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ: قَعَدَ عَائِذُ بْنُ عَمْرٍو مَعَ أَبِي مُسْلِمٍ عَلَى مَائِدَةٍ، فَوَعَظَ عَائِذٌ أَبَا مُسْلِمٍ، قَالَ: فَأُخْبِرَ ابْنُ الْمُبَارَكِ، فَقَالَ: فِرَارُ سُفْيَانَ أَحَبُّ إِلَيْنَا مِنْ كَلامِ إِبْرَاهِيمَ الصَّايِغِ.

 

42 - سَمِعْتُ عَبَّاسًا الْعَنْبَرِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ بِشْرَ بْنَ الْحَارِثِ يَقُولُ: قَدْ فَعَلَ سُفْيَانُ فِعْلا صَارَ فِيهِ قُدْوَةً، هَرَبَهُ مِنَ السُّلْطَانِ.

 

43 - سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الْحُسَيْنِ يَذْكُرُ عَنْ رَجُلٍ سَمَّاهُ، أَنَّ أَبَا هَاشِمٍ الْعَابِدَ رَأَى شَرِيكًا يَخْرُجُ مِنْ عِنْدِ جَعْفَرِ بْنِ يَحْيَى، فَقَالَ: نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عِلْمٍ لا يَنْفَعُ.
তিনি বললেন: যখন তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছাত যে কোনো ব্যক্তি শাসকের নিকট গিয়েছে, তখন তিনি তাকে (সৎ কাজের) আদেশ দিতেন ও (অসৎ কাজের) নিষেধ করতেন; যদি সে তা গ্রহণ করত (তবে ভালো), নতুবা তিনি তাকে বর্জন করতেন।

 

৪১ - এবং মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যাকারিয়া ইবনু আদি ইবনুল মুবারক থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আইয ইবনু আমর আবু মুসলিমের সাথে এক দস্তরখানে বসেছিলেন, অতঃপর আইয আবু মুসলিমকে উপদেশ প্রদান করেন। বর্ণনাকারী বলেন: বিষয়টি ইবনুল মুবারককে জানানো হলে তিনি বলেন: সুফিয়ানের (শাসক থেকে) পলায়ন করা আমাদের নিকট ইব্রাহিম আস-সায়িগের বাণীর চেয়েও অধিক প্রিয়।

 

৪২ - আমি আব্বাস আল-আনবারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বিশর ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: সুফিয়ান এমন এক কাজ করেছেন যার কারণে তিনি অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হয়েছেন, আর তা হলো শাসক থেকে তাঁর পলায়ন করা।

 

৪৩ - আমি মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইনকে জনৈক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি যার নাম তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, আবু হাশিম আল-আবিদ শারিককে জাফর ইবনু ইয়াহইয়ার নিকট থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেন, তখন তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর নিকট এমন ইলম (জ্ঞান) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি যা কোনো উপকারে আসে না।
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٦٣)
44 - سَمِعْتُ زُهَيْرَ بْنَ مُحَمَّدٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا الأَحْوَصِ مُحَمَّدَ بْنَ حَيَّانَ يَقُولُ: رَأَيْتُ إِسْحَاقَ الأَزْرَقَ قَدْ خَرَجَ مِنْ عِنْدِ بَعْضِ خَدَمِ أُمِّ جَعْفَرٍ، قَالَ: فَأَخَذَ بِيَدِي، وَقَالَ: اسْتُرْ عَلَيَّ، سَتَرَكَ اللَّهُ.

 

45 - سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ: لَقِيَنِي مُطَرِّفٌ، وَهُوَ عَلَى حِمَارٍ، فَقَالَ: مَا لَكَ لا تَأْتِينَا؟ قُلْتُ: وَلَيْتَ شَيْئًا مِنَ الصَّدَقَةِ، قَالَ فَبَكَى، وَقَالَ: تَغَفَّلُونِي! .

 

46 - قَرَأْتُ عَلَى أَبِي عَبْدِ اللَّهِ: أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرَّقِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ يَعْنِي أَبَا الْمَلِيحِ، عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ مَيْمُونٍ، أَنَّهُ قَالَ: وَدِدْتُ أَنَّ إِحْدَى عَيْنَيَّ ذَهَبَتْ وَإِنِّي لَمْ آلُ، فَقُلْتُ: وَلا لِعُمَرَ؟ فَقَالَ: وَلا لِعُمَرَ وَلا لِغَيْرِهِ.

 

47 - وَحُدِّثْتُ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ أَبِي الرَّبَابِ،
44 - আমি যুহায়ের বিন মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আল-আহওয়াস মুহাম্মদ বিন হাইয়ানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইসহাক আল-আযরাককে উম্মে জাফরের জনৈক সেবকের কাছ থেকে বের হতে দেখলাম। তিনি বলেন: অতপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: আমার বিষয়টি গোপন রাখুন, আল্লাহ আপনার বিষয় গোপন রাখুন।

 

45 - আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুতাররিফ আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, এমতাবস্থায় যে তিনি একটি গাধার পিঠে আরোহী ছিলেন। তিনি বললেন: আপনার কী হয়েছে যে আপনি আমাদের নিকট আসেন না? আমি বললাম: আমি সদকার কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি। তিনি বলেন: অতপর তিনি কাঁদলেন এবং বললেন: তোমরা আমাকে অবহেলা করছ!

 

46 - আমি আবু আব্দুল্লাহর নিকট পাঠ করলাম: আবু আব্দুর রহমান আর-রাক্কী বলেছেন: হাসান অর্থাৎ আবু আল-মালিহ আমাদের নিকট হাবিব থেকে, তিনি মাইমুন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি আকাঙ্ক্ষা করি যে আমার একটি চোখ চলে যেত কিন্তু আমি কোনো দায়িত্ব গ্রহণ না করতাম। আমি বললাম: ওমরের জন্যও কি নয়? তিনি বললেন: ওমরের জন্যও নয় এবং অন্য কারো জন্যও নয়।

 

47 - এবং আমার নিকট ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওমর বিন আবু আর-রাবাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন,
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٦٤)
قَالَ: أَرَادَ ابْنُ هُبَيْرَةَ أَنْ يَكْتُبَ نَاسًا فِي صَحَابَتِهِ، فَأَرَادَ الْقَاسِمَ بْنَ الْوَلِيدِ الْهَمْدَانِيَّ عَلَى أَنْ يَكْتُبَهُ فِيهِمْ، فَأَبَى، فَقِيلَ لَهُ: مَا تَكْرَهُ مِنْ ذَلِكَ؟ فَقَالَ: بَلَغَنِي أَنَّهُ يُنَادِي مُنَادٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَوْتٍ رَفِيعٍ: أَلا لِيَقُمِ الظَّلَمَةُ وَأَعْوَانُهُمْ، فَأَخَافُ أَنْ أَكُونَ فِي أَعْوَانِهِمْ.

 

48 - سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الْحُسَيْنِ قَالَ: حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ: سَأَلَ عَائِذُ بْنُ عَمْرٍو أَيُّوبَ عَنِ الزُّهْرِيِّ، فَقَالَ: هُوَ عَالِمٌ، مِنْ رَجُلٍ كَانَ يَصْحَبُ السُّلْطَانِ.

 

49 - وَسَمِعْتُ عَبْدَ الْوَهَّابِ الْوَرَّاقَ يَقُولُ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ مَسْلَمَةَ الْيَمَامِيَّ يَقُولُ: لَذُبَابٌ عَلَى عَذِرَةٍ أَحْسَنُ مِنْ قَارِئٍ عَلَى بَابِ هَؤُلاءِ

 

50 - سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ الْبَزَّازِ يَقُولُ: سَمِعْتُ مُؤَمَّلا يَقُولُ: مَرِضَ سُفْيَانُ بِمَكَّةَ، فَأَتَاهُ وَالِي مَكَّةَ يَعُودُهُ، فَسَلَّمَ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، فَقِيلَ
তিনি বললেন: ইবনে হুবায়রা তার সহচরদের তালিকায় কিছু লোকের নাম নথিভুক্ত করতে চাইলেন। তিনি আল-কাসিম ইবনুল ওয়ালিদ আল-হামদানীকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেন, কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন। তাকে বলা হলো: "আপনি এতে কী অপছন্দ করছেন?" তিনি বললেন: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, কিয়ামতের দিন একজন ঘোষণাকারী উচ্চস্বরে ঘোষণা করবেন: 'সাবধান! জালেম ও তাদের সহযোগীরা যেন দাঁড়ায়,' আর আমি ভয় পাচ্ছি যে আমি পাছে তাদের সহযোগীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাই।"

 

৪৮ - আমি মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: জাকারিয়া ইবনে আদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আয়িজ ইবনে আমর আইয়ুবকে যুহরী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি বললেন: "তিনি একজন আলেম, তবে তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি সুলতানের সাহচর্যে থাকতেন।"

 

৪৯ - এবং আমি আব্দুল ওয়াহহাব আল-ওয়াররাককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ আল-ইয়ামামীকে বলতে শুনেছি: "বিষ্ঠার উপর একটি মাছি থাকাও এই লোকদের (শাসকদের) দরজায় কোনো ক্বারীর উপস্থিত হওয়ার চেয়ে উত্তম।"

 

৫০ - আমি হাসান ইবনুল বাযযাযকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুয়াম্মালকে বলতে শুনেছি: সুফিয়ান মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তখন মক্কার গভর্নর তাকে দেখতে এলেন। তিনি সালাম দিলেন, কিন্তু তিনি (সুফিয়ান) তার সালামের উত্তর দিলেন না। তখন বলা হলো...
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٦٥)
لَهُ: أَنْتَ تُطْلَبُ، لَوْ رَدَدْتُ عَلَيْهِ؟ قَالَ: إِنَّمَا فَعَلْتُ بِهِ هَذَا لِيَدْفَعَ عَنِّي ذَلِكَ الطَّلَبَ.

 

51 - وَسَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ بِلالٍ يَذْكُرُ عَنْ مُوسَى بْنِ دَاوُدَ، أَنَّ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ لَمَّا خَرَجَ إِلَى الْيَمَنِ إِذَا قَدْ أَقْبَلَ قَرَابَةٌ لِمَعْنِ بْنِ زَائِدَةَ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، وَأَلْقَى طَرْفَ كِسَائِهِ عَلَى وَجْهِهِ، فَقَالَ لَهُ عَدِيلُهُ: لَوْ رَدَدْتَ عَلَيْهِ، فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكَ، فَقَالَ: إِنْ صَحَّ إِنْكَارِي شَيْئًا، مِمَّ تَخَافُ عَلَيَّ؟ أَوْ قَالَ: لَنَا مَا بَقِيَ - قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا أَشُكُّ -.

فَلَمَّا صَارَ إِلَى مَعْنٍ، قَالَ: هَلْ لَكَ فِي سُفْيَانَ؟ .

فَإِذَا مَعْنٌ قَدْ أَرْسَلَ بِابْنِهِ، أَوْ بِقَوْمٍ يُقْرِئُهُ السَّلامَ، وَيُؤَمِّنُهُ، وَيَعْرِضُ عَلَيْهِ حَوَائِجَهُ.

 

52 - سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: كَانَ طَاوُسُ شَدِيدًا عَلَيْهِمْ، فَوَلَّوْهُ عَلَى شَيْءٍ، فَكَانَ يَأْخُذُ مِنَ الأَغْنِيَاءِ وَيُعْطِي الْفُقَرَاءَ، قَالَ: فَسَأَلُوهُ عَنِ الْمَالِ، فَأَعْطَاهُمْ لَوْحًا، وَقَالَ: قَدْ فَرَّقْتَهُ.

 

53 - وَسَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: وَقَدِمَ طَاوُسُ مِنْ مَكَّةَ، قَالَ: فَقَدِمَ أَمِيرٌ فَقِيلَ لَهُ: إِنَّ
তাকে বলা হলো: আপনাকে তো খোঁজা হচ্ছে, আপনি যদি তাকে উত্তর দিতেন? তিনি বললেন: আমি তার সাথে এমনটি কেবল এজন্যই করেছি যেন সে আমার থেকে সেই খোঁজখবরকে প্রতিহত করে।

 

৫১ - আমি আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিলালকে মুসা ইবনে দাউদের সূত্রে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, সুফিয়ান সাওরি যখন ইয়েমেনে বের হলেন, তখন মা’ন ইবনে যায়িদাহর এক আত্মীয় এগিয়ে এসে তাঁকে সালাম দিলেন। কিন্তু তিনি সালামের উত্তর দিলেন না এবং তাঁর চাদরের এক প্রান্ত নিজের চেহারার ওপর টেনে দিলেন। তখন তাঁর সফরসঙ্গী তাঁকে বললেন: আপনি যদি সালামের উত্তর দিতেন, তবে ভালো হতো; আমি আপনার জন্য ভয় পাচ্ছি। তিনি বললেন: আমার কোনো কিছুকে অস্বীকার করা যদি সঠিক হয়, তবে তুমি আমার ব্যাপারে কিসের ভয় পাচ্ছো? অথবা তিনি বলেছিলেন: আমাদের যা অবশিষ্ট আছে — আবু বকর বলেন: আমি এ বিষয়ে সন্দিহান —।

অতঃপর যখন সে ব্যক্তি মা’নের নিকট গেল, তখন সে বলল: সুফিয়ানের ব্যাপারে আপনার কী অভিমত? ।

তখন দেখা গেল মা’ন তাঁর পুত্রকে অথবা একদল লোককে পাঠালেন তাঁকে সালাম জানাতে, অভয় দিতে এবং তাঁর প্রয়োজনসমূহ পূরণের প্রস্তাব দিতে।

 

৫২ - আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: তাউস তাঁদের প্রতি কঠোর ছিলেন। তাঁরা তাঁকে কোনো বিষয়ের দায়িত্ব প্রদান করলেন, তখন তিনি ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করতেন এবং দরিদ্রদের দান করতেন। তিনি বলেন: অতঃপর তাঁরা তাঁর নিকট সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, তখন তিনি তাঁদেরকে একটি ফলক দিলেন এবং বললেন: আমি তা বণ্টন করে দিয়েছি।

 

৫৩ - আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাউস মক্কা থেকে আসলেন। তিনি বলেন: জনৈক আমির আসলেন এবং তাঁকে বলা হলো: নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٦٦)
مِنْ فَضْلِهِ، وَمِنْ، فَلَوْ أَتَيْتَهُ، قَالَ: مَا لِي إِلَيْهِ حَاجَةٌ، قَالُوا: إِنَّا نَخَافُهُ عَلَيْكَ، قَالَ: فَمَا هُوَ إِذًا كَمَا تَقُولُونَ.

 

54 - سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الْحُسَيْنِ يَقُولُ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ سُفْيَانَ: إِنَّ سُلَيْمَانَ جَاءَ إِلَى حَلْقَةٍ فِيهَا طَاوُسٌ، قَالَ: فَمَا الْتَفَتَ إِلَيْهِ، قَالَ: فَلَمَّا قَامَ قِيلَ لَهُ: إِنَّ هَذَا أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ، فَقَالَ: عَلَى عَمْدٍ عَمِلْتُ بِهِ، لِيَعْلَمَ أَنَّ فِي الْخَلْقِ مَنْ لا يُبَالِي بِدُنْيَاهُ، أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا.

 

55 - حُدِّثْتُ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ: إِنْ دَعَاكَ الأَمِيرُ أَنْ تَقْرَأَ عَلَيْهِ الْقُرْآنَ فَلا تَأْتِهِ.

 

56 - وَحُدِّثْتُ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سَلامِ بْنِ مِسْكِينٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ قَالَ: كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ يَقُولُ: إِنْ دَعَاكَ الْوَالِي أَنْ تَقْرَأَ عَلَيْهِ سُورَةً مِنَ الْقُرْآنِ فَلا تَأْتِهِ.

 

57 - سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ مُكْرَمٍ يَقُولُ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ كَثِيرٍ قَالَ: سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ عُبَيْدٍ يَقُولُ: ثَلاثَةٌ مَا أُحِبُّ مُجَالَسَتَهُمْ: أَمِيرٌ مَا أُحِبُّ أَنْ أُجَالِسَهُ، وَإِنْ قَالَ: اقْرَأْ عَلَيَّ سُورَةً مِنَ الْقُرْآنِ، وَلا أُحِبُّ مُجَالَسَةَ امْرَأَةٍ لَيْسَتْ لِي بِمَحْرَمٍ، وَلا صَاحِبُ بِدْعَةٍ.
তাঁর অনুগ্রহ থেকে এবং [অন্য কিছু] থেকে। সুতরাং আপনি যদি তাঁর কাছে যেতেন। তিনি বললেন: তাঁর কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। তারা বলল: আমরা আপনার ব্যাপারে তাঁকে ভয় করি। তিনি বললেন: তাহলে তিনি তেমন নন যেমন তোমরা বলছো।

 

৫৪ - আমি মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু আসিম আমাদের নিকট সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন: সুলাইমান এমন এক মজলিসে আসলেন যেখানে তাউস ছিলেন। তিনি বলেন: তিনি (তাউস) তাঁর দিকে ফিরেও তাকাননি। তিনি বলেন: অতঃপর যখন তিনি (সুলাইমান) উঠে দাঁড়ালেন, তখন তাঁকে (তাউসকে) বলা হলো: ইনি তো আমিরুল মুমিনীন। তিনি বললেন: আমি ইচ্ছে করেই এটি করেছি, যাতে তিনি জানতে পারেন যে সৃষ্টির মধ্যে এমন লোক আছে যারা তাঁর দুনিয়ার কোনো তোয়াক্কা করে না, অথবা এই জাতীয় কোনো কথা।

 

৫৫ - ইয়াকুব বিন কাব থেকে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহিদ বিন সুলাইমান আমাদের নিকট ইবনে আউন থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমির যদি তোমাকে তাঁর সামনে কুরআন পাঠ করার জন্য ডাকে, তবে তুমি তাঁর কাছে যেও না।

 

৫৬ - এবং মুসলিম বিন ইব্রাহিম থেকে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি সালাম বিন মিসকিন থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন সিরিন বলতেন: শাসক যদি তোমাকে তাঁর সামনে কুরআনের কোনো সূরা পাঠ করার জন্য ডাকে, তবে তুমি তাঁর কাছে যেও না।

 

৫৭ - আমি উকবা বিন মাকরামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: নযর বিন কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইউনুস বিন উবাইদকে বলতে শুনেছি: তিন প্রকার ব্যক্তি যাদের সাথে বসতে আমি পছন্দ করি না: শাসক, যার সাথে আমি বসতে পছন্দ করি না যদিও সে বলে: 'আমার সামনে কুরআনের একটি সূরা পাঠ করো'; আর আমি এমন কোনো মহিলার সাথে বসতে পছন্দ করি না যে আমার মাহরাম নয়; এবং কোনো বিদআতী ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٦٧)
58 - سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ أَبِي عَوْنٍ يَقُولُ: حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْبَصْرِيُّ، عَنْ مُحْرِزِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: قَدِمَ عَلَيْنَا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَلَى الْقَضَاءِ فِي زَمَنِ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ: فَأَرْسَلَ إِلَى سَلامِ بْنِ أَبِي مُطِيعٍ: ائْتِنِي أُشَاوِرْكَ، فَذَهَبَ سَلامٌ إِلَى يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ: فَوَافَقَهُ قَدْ قَرَأَ وَهُوَ يَشْرَحُ الْمُصْحَفَ، قَالَ: فَقَالَ لَهُ: إِنَّ سَوَّارَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ أَرْسَلَ إِلَيَّ: ائْتِنِي أُشَاوِرْكَ، فَمَا تَرَى؟ قَالَ: فَقَالَ إِنْ سَأَلَكَ أَنْ تَقْرَأَ عَلَيْهِ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ اللَّوْحَيْنِ فَلا تُجِبْهُ.

 

59 - وَحُدِّثْتُ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو شِهَابٍ، قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ يَقُولُ لِرَجُلٍ: إِنْ دَعَاكَ لِتَقْرَأَ عَلَيْهِمْ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ {1} اللَّهُ الصَّمَدُ {2} } [الإخلاص: 1-2] فَلا تَأْتِهِمْ، قُلْتُ لأَبِي شِهَابٍ: مَنْ يَعْنِي؟ قَالَ: السُّلْطَانَ.

 

60 - وَحُدِّثْتُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ مُوسَى بْنِ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ:
৫৮ - আমি আবু বকর বিন আবি আউনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-বসরি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহরিজ বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু জাফরের শাসনামলে সাওয়ার বিন আব্দুল্লাহ বিচারক হিসেবে আমাদের নিকট আসলেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি সালাম বিন আবি মুতিয়-এর নিকট লোক পাঠালেন যে: "আমার কাছে আসুন, আমি আপনার সাথে পরামর্শ করতে চাই।" সালাম ইউনুস বিন উবাইদের কাছে গেলেন এবং তাকে কুরআন পাঠ ও তার ব্যাখ্যা করা অবস্থায় পেলেন। সালাম তাকে বললেন: সাওয়ার বিন আব্দুল্লাহ আমার নিকট লোক পাঠিয়েছেন যে: "আমার কাছে আসুন, আমি আপনার সাথে পরামর্শ করতে চাই"; এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: যদি সে আপনাকে এই দুই মলাটের মাঝে যা আছে (কুরআন) তা তার সামনে পাঠ করতে বলে, তবে তার ডাকে সাড়া দিবেন না।

 

৫৯ - আহমদ বিন ইউনুস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু শিহাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানকে এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি: যদি তারা আপনাকে তাদের সামনে {বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী।} [আল-ইখলাস: ১-২] পাঠ করার জন্য আহ্বান করে, তবে তাদের নিকট যাবেন না। আমি আবু শিহাবকে জিজ্ঞাসা করলাম: তিনি কাদের কথা বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন: সুলতান (শাসক)।

 

৬০ - আবু সালামাহ মুসা বিন ইসমাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٦٨)
قَالَ لِي حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ: إِنْ دَعَاكَ الأَمِيرُ تَقْرَأُ عَلَيْهِ الْقُرْآنَ فَلا تَأْتِهِ.

 

61 - وَحُدِّثْتُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَهْدِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنِي هِشَامٌ أَبُو هَمَّامٍ، قَالَ: لَقِيتُ سَعِيدَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ التَّنُوخِيَّ، فَذَكَرَ سُفْيَانَ، فَقَالَ: وَلا الْحَسَنَ، قَالَ: ثُمَّ قَالَ لِي سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: تَدْرِي مَا قَالَ لِي سُفْيَانُ؟ قَالَ: إِنْ دَعَاكَ هَؤُلاءِ أَنْ تَقْرَأَ فِي الْمُصْحَفِ فَلا تَأْتِهِمْ.

قَالَ أَبُو هَمَّامٍ: فَأَتَيْتُ مَكَّةَ، فَلَقِيتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، قَالَ لِي سُفْيَانُ: لا تُعَامِلْ مَنْ يُعَامِلُ السُّلْطَانَ.

 

62 - وَحُدِّثْتُ عَنِ النُّفَيْلِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، قَالَ: لا تَعْرِفِ الأَمِيرَ، وَلا تَعْرِفْ مَنْ يَعْرِفُهُ.

 

63 - وَسَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ شُعَيْبٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ ابْنَ حَرْبٍ يَقُولُ: لا تُعَامِلْهُمْ.
হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাকে বলেছেন: যদি আমির তোমাকে তাঁর কাছে কুরআন পাঠ করার জন্য ডাকেন, তবে তুমি তাঁর কাছে যেয়ো না।

 

৬১ - এবং ইব্রাহিম ইবনে মাহদি থেকে আমার কাছে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: হিশাম আবু হাম্মাম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ আত-তানুখির সাথে সাক্ষাৎ করেছি। অতঃপর তিনি সুফিয়ানের কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন: আর হাসানের কথাও। তিনি বলেন: এরপর সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাকে বললেন: তুমি কি জানো সুফিয়ান আমাকে কী বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন: যদি তারা তোমাকে মুসহাফ থেকে পাঠ করার জন্য ডাকে, তবে তুমি তাদের কাছে যেয়ো না।

আবু হাম্মাম বলেন: অতঃপর আমি মক্কায় আসলাম এবং সুফিয়ান আস-সাওরির সাথে সাক্ষাৎ করলাম। সুফিয়ান আমাকে বললেন: যে ব্যক্তি সুলতানের সাথে লেনদেন রাখে, তুমি তার সাথে লেনদেন কোরো না।

 

৬২ - এবং নুফায়লি থেকে আমার কাছে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের কাছে তালহা ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তুমি আমিরের সাথে পরিচিত হয়ো না এবং যে তাকে চেনে তার সাথেও পরিচিত হয়ো না।

 

৬৩ - এবং আমি আলি ইবনে শুআইবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে হারবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: তাদের সাথে লেনদেন করো না।
(খণ্ড: ১) আখবারুশ শুয়ুখ ওয়া আখলাকুহুম (পৃষ্ঠা: ٦٩)
64 - وَحُدِّثْتُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ تَمِيمٍ، قَالَ: قُلْتُ لِعُبَيْدِ اللَّهِ الْوَصَّافِيِّ: لَوْ دَخَلْتَ عَلَى أَبِي جَعْفَرٍ فَكَلَّمْتَهُ، لَعَلَّ اللَّهُ عز وجل يَنْفَعُ بِكَلامِكَ، فَقَالَ: إِنِّي أَكْرَهُ أَنْ أَقُولَ عَافَاكَ اللَّهُ، فَيَقُولُ لِي الْمَلَكُ، لا عَافَاكَ اللَّهُ.

 

65 - قَالَ: وَسَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ الْفَزَارِيَّ يَقُولُ: دَخَلْتُ عَلَى هَارُونَ فَمَا دَعَوْتُ لَهُ بِدَعْوَةٍ حَتَّى فَارَقْتُهُ، قُلْتُ: مَا قُلْتُ لَهُ: أَصْلَحَكَ اللَّهُ؟ قَالَ: لا.

 

66 - قُلْتُ لأَبِي عَبْدِ اللَّهِ: يَقُولُ رَجُلٌ لِمِثْلِ سَوَّارٍ الْقَاضِي: أَصْلَحَكَ اللَّهُ؟ قَالَ: فَأَيُّ شَيْءٍ عَلَيْهِ أَنْ يُصْلِحَهُ اللَّهُ

 

67 - سَمِعْتُ مَحْمُودَ بْنَ غَيْلانَ الْمَرْوَزِيَّ، يَقُولُ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى الْحَجَّاجِ فَلَمْ أُسَلِّمْ عَلَيْهِ.
৬৪ - এবং মুহাম্মাদ ইবনে আবি মানসুর থেকে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালাফ ইবনে তামীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উবায়দুল্লাহ আল-ওয়াসসাফীকে বললাম: আপনি যদি আবু জাফরের নিকট প্রবেশ করতেন এবং তার সাথে কথা বলতেন, তবে সম্ভবত মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ আপনার কথার মাধ্যমে (তার) উপকার করতেন। তিনি বললেন: আমি তাকে 'আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন' বলতে অপছন্দ করি, কারণ (তা বললে) ফেরেশতা আমাকে বলবে, 'আল্লাহ আপনাকে সুস্থ না রাখুন'।

 

৬৫ - তিনি বলেন: এবং আমি আবু ইসহাক আল-ফাযারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হারুনের নিকট প্রবেশ করলাম এবং তার থেকে পৃথক হওয়া পর্যন্ত তার জন্য কোনো দুআই করিনি। আমি বললাম: আপনি কি তাকে বলেননি যে, 'আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করুন'? তিনি বললেন: না।

 

৬৬ - আমি আবু আব্দুল্লাহকে বললাম: কোনো ব্যক্তি কি সাওয়ার কাজীর ন্যায় লোকের উদ্দেশ্যে বলতে পারে যে, 'আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করুন'? তিনি বললেন: তার মাঝে এমন কী অবশিষ্ট আছে যা আল্লাহ সংশোধন করবেন?

 

৬৭ - আমি মাহমুদ ইবনে গায়লান আল-মারওয়াযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হাজ্জাজের নিকট প্রবেশ করলাম কিন্তু তাকে সালাম প্রদান করিনি।