(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: -)
توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم عند المفسرين - دراسة في تفسيري الرازي والألوسي   (ريم عبد الفتاح البحيري)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم عند المفسرين - دراسة في تفسيري الرازي والألوسي

رسالة: ماجستير في الآداب تخصص الدراسات الإسلامية، قسم اللغة العربية - كلية الآداب - جامعة المنوفية

إعداد: ريم عبد الفتاح مصطفى البحيري

إشراف: أ د محمود مخلص (أستاذ التفسير وعلوم القرآن المساعد بكلية أصول الدعوة جامعة الأزهر فرع طنطا)، د خالد عبد الصمد (المدرس بقسم اللغة العربية كلية الآداب جامعة المنوفية)

عدد الصفحات: 239

[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 ذو الحجة 1443

পবিত্র কুরআনের শব্দগত সামঞ্জস্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান (توجيه): মুফাসসিরগণের (المفسرين) দৃষ্টিভঙ্গি - আল-রাজি ও আল-আলুসির তাফসিরদ্বয়ের আলোকে একটি পর্যালোচনা   (রিম আব্দুল ফাত্তাহ আল-বুহাইরি)

বিভাগ: কুরআন সংক্রান্ত জ্ঞান (علوم القرآن) ও তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)


গ্রন্থ: পবিত্র কুরআনের শব্দগত সামঞ্জস্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান (توجيه): মুফাসসিরগণের (المفسرين) দৃষ্টিভঙ্গি - আল-রাজি ও আল-আলুসির তাফসিরদ্বয়ের আলোকে একটি পর্যালোচনা

অভিসন্দর্ভ: মাস্টার্স অফ আর্টস, ইসলামি শিক্ষা বিশেষায়ন, আরবি বিভাগ - কলা অনুষদ - মিনুফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

প্রস্তুতকরণে: রিম আব্দুল ফাত্তাহ মুস্তফা আল-বুহাইরি

তত্ত্বাবধানে: প্রফেসর ড. মাহমুদ মুখলিস (সহযোগী অধ্যাপক, তাফসির (تفسير) ও কুরআন সংক্রান্ত জ্ঞান (علوم القرآن), উসুল আদ-দাওয়া অনুষদ, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, তান্তা শাখা), ড. খালিদ আব্দুল সামাদ (প্রভাষক, আরবি বিভাগ, কলা অনুষদ, মিনুফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৯

[শামেলা নাম্বারিং অনুযায়ী ই-বুক]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ জিলহজ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌إهداء

إهداء إلى أمي وأبي (رحمهما الله) فقد تعبا كثيرًا في تربيتي وتوجيهي، وصبرا عليَّ صبرًا جميلًا فجزاهما الله عني خير ما جزى والدًا عن ولده. أسأل الله أن يجعل هذا العمل في ميزان حسناتهما، وأن يرحمهما رحمةً واسعةً لا عذاب بعدها أبدًا، وأن يسكنهما الفردوس الأعلى من الجنة دون سابقة حساب ولا عذاب وجميع موتى المسلمين.

 

إلى إخوتي الذين تولوا تربيتي بعد وفاة أمي وأبي، وتعاونوا معي كثيرًا، ووفروا لي كل الوسائل حتى خرج هذا البحث، فجزاهم الله عني خير الجزاء.

 

إلى أمي الثانية (د / ناهد مصطفى الكاشف) التي علمتني وربتني وصبرت عليَّ كثيرًا فجزاها الله عني خير الجزاء.

 

إليهم جميعًا أهدي كتابي.
উৎসর্গ

উৎসর্গ করছি আমার মা ও বাবার (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) প্রতি, যাঁরা আমার লালন-পালন ও সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানে অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং আমার প্রতি অতীব সুন্দর ধৈর্য ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাঁদেরকে আমার পক্ষ থেকে সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, যা তিনি একজন সন্তানের পক্ষ থেকে তার পিতামাতাকে দান করে থাকেন। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে তাঁদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন এবং তাঁদেরকে এমন ব্যাপক রহমত দান করেন যার পর আর কখনো কোনো শাস্তি নেই। আর তিনি যেন তাঁদেরকে এবং সকল মৃত মুসলিমকে কোনো প্রকার হিসাব ও আজাব ব্যতিরেকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্তরে আসীন করেন।

 

আমার সেই সকল ভাইবোনের প্রতি, যাঁরা আমার পিতা-মাতার ইন্তেকালের পর আমার লালন-পালনের ভার গ্রহণ করেছেন, আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন এবং এই গবেষণাটি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় উপকরণের সংস্থান করে দিয়েছেন; আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

 

আমার দ্বিতীয় মাতা (ড. নাহিদ মুস্তফা আল-কাশিফ) এর প্রতি, যিনি আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, গড়ে তুলেছেন এবং আমার প্রতি অনেক ধৈর্য ধারণ করেছেন; আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

 

তাঁদের সকলের উদ্দেশ্যেই আমি আমার এই গ্রন্থটি উৎসর্গ করছি।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة:

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد: فإن من أعظم العلوم التي يفني المرء عمره في تعلمها هي علوم القرآن، وتفسيره، وتدبره، حتى يعبد الله على بصيرة، وحتى يتدبر كتاب الله، قال تعالى: {كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ}(1).

ومن أجل العلوم التى عُنيت بالقرآن وإظهار كنوزه (علم المتشابه اللفظي)، الذي اهتم علماؤه بتوضيح سبب اختلاف التعبير القرآني من موضع لآخر، وإبطال مزاعم التكرار في النص القرآني، وإبراز بلاغة التعبير القرآني في كل موضع من المواضع.

فإن القرآن نزل بألفاظ العرب ومعانيها، ومذاهبها في الإيجاز والاختصار، والإطالة والتوكيد، والإشارة إلى الشيء، ولو كان كل فن من العلوم شيئًا واحدًا: لم يكن عالم ولا متعلم، ولا خفيّ ولا جليّ؛ لأن فضائل الأشياء تعرف بأضدادها، فالخير يعرف بالشر، والنفع يعرف بالضرّ، والمحكم يعرف بالمتشابه. وإن مما يفيد في حفظ القرآن، معرفة الآيات المتشابهة الألفاظ وكيفية التمييز بينها.

وقد كُنت عند تلاوة القرآن أقف عند بعض الآيات المتشابهة الألفاظ لمعرفة أماكن ورودها في القرآن، وأتأمل في التمييز بين تلك الآيات، فتيسّر لي معرفة آيات كثيرة متشابهة الألفاظ، وذلك بالتقديم والتأخير، أو زيادة حرف أو أكثر، أو كلمة فأكثر.

وقد تصدى كثير من العلماء والمفسرين لتوجيه آيات المتشابه اللفظي في القرآن الكريم، وكان من أهم التفاسير التي تناولت آيات المتشابه اللفظي بالتوجيه تفسيرا الإمامين الرازي والألوسي، فعكفت عليهما دراسة وتطبيقًا مع استقراء توجيه آيات المتشابه اللفظي التي نص عليها الإمامان، مع بيان ما أضافه هذان العالمان الجليلان لهذا العلم.

--------------------------------------------

(1) سورة ص: الآية 29.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

‌‌ভূমিকা:

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর: মানুষ তার জীবন যেসব মহান জ্ঞান অন্বেষণে ব্যয় করে, তার মধ্যে অন্যতম হলো কুরআনের জ্ঞানসমূহ (علوم القرآن), এর তাফসির এবং এর ওপর গভীর চিন্তা ও গবেষণা (تدبر), যাতে সে প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে এবং আল্লাহর কিতাব নিয়ে চিন্তা করতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন: “এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।”(1)।

কুরআন সংশ্লিষ্ট এবং এর রত্নভাণ্ডার উন্মোচনকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইলম হলো ‘শব্দগত সাদৃশ্য বিষয়ক জ্ঞান’ (علم المتشابه اللفظي)। এই শাস্ত্রের আলিমগণ কুরআনের বাচনভঙ্গি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভিন্ন হওয়ার কারণ স্পষ্ট করা, কুরআনের বক্তব্যে পুনরাবৃত্তির অভিযোগ খণ্ডন করা এবং প্রতিটি স্থানে কুরআনিক বাচনভঙ্গির অলঙ্কারশাস্ত্রীয় মাহাত্ম্য ফুটিয়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

কারণ কুরআন নাযিল হয়েছে আরবদের শব্দ ও অর্থের ধারা অনুযায়ী এবং সংক্ষিপ্তকরণ, বিস্তারিত বর্ণনা, গুরুত্বারোপ ও কোনো বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের অনুসৃত পদ্ধতি অনুসারে। বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা যদি একই রকম হতো, তবে কোনো আলিম বা শিক্ষার্থী থাকত না; কোনো কিছু গোপন বা স্পষ্ট হতো না। কেননা বস্তুর মাহাত্ম্য তার বিপরীত বস্তুর মাধ্যমে চেনা যায়; যেমন মন্দের মাধ্যমে কল্যাণ চেনা যায়, ক্ষতির মাধ্যমে উপকার চেনা যায় এবং সুস্পষ্ট (المحكم) এর মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه) বিষয় চেনা যায়। কুরআন হিফজ করার ক্ষেত্রে শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতগুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এবং তাদের মধ্যে পার্থক্যের পদ্ধতি জানা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

কুরআন তিলাওয়াতের সময় আমি প্রায়ই শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতগুলোর সামনে থেমে যেতাম, কুরআনের কোথায় কোথায় সেগুলো এসেছে তা জানার চেষ্টা করতাম এবং আয়াতগুলোর মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে চিন্তা করতাম। এভাবে শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ অনেক আয়াত সম্পর্কে জানা আমার জন্য সহজ হয়ে যায়, যা কখনো শব্দের আগে-পিছে হওয়া, কখনো এক বা একাধিক হরফ বৃদ্ধি পাওয়া, অথবা এক বা একাধিক শব্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে হয়ে থাকে।

অনেক আলিম ও মুফাসসির পবিত্র কুরআনের শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতগুলোর রহস্য (توجيه) উন্মোচনে সচেষ্ট হয়েছেন। শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতগুলোর রহস্য বিশ্লেষণে ইমাম রাজি ও ইমাম আলূসি-র তাফসিরদ্বয় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত। আমি তাঁদের বর্ণিত শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতগুলোর ব্যাখ্যাসমূহ পর্যালোচনার পাশাপাশি এই মহান শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই দুই মহান আলিমের অবদান স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে এই দুটি তাফসির নিয়ে গভীর অধ্যয়ন ও প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনা করেছি।

--------------------------------------------

(1) সূরা সোয়াদ: আয়াত ২৯।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ৪)
والله أسأل أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، وأن يوفقني ويلهمني الرشد والصواب في كل ما أقول وأعمل، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا.

هذا الكتاب يتكون من مقدمة وأربعة فصول وخاتمة.

أما المقدمة: فتتضمن مشكلة البحث، أسباب اختيار الموضوع، أهداف البحث، الدراسات السابقة، وجه اختلاف هذه الدراسة عن الدراسات السابقة، والاسئلة الافتراضية التي يجيب عنها البحث، وخطته، ومنهجه.

الفصل الأول: التعريف بعلم المتشابه اللفظي، ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: مفهوم المتشابه لغةً واصطلاحًا.

المبحث الثاني: أهمية علم المتشابه اللفظي.

المبحث الثالث: أبرز من صنف في علم المتشابه اللفظي.

المبحث الرابع: أنواع المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

الفصل الثاني: الإمام الرازي ومنهجه في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم، ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: التعريف بالإمام الرازي ونشأته وحياته وأهم كتبه.

المبحث الثاني: التعريف بتفسير الإمام الرازي (مفاتيح الغيب).

المبحث الثالث: منهج الإمام الرازي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

المطلب الأول: أهم الملامح والسمات التي تميز بها منهج الإمام الرازي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

المطلب الثاني: مصادر الإمام الرازي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم

أولًا: العلماء الذين نقل عنهم الإمام الرازي وذكرهم في تفسيره.
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ (خالصًا) করেন এবং আমাকে আমার প্রতিটি কথা ও কাজে সঠিক পথ ও নির্ভুলতার তাওফিক দান করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

এই গ্রন্থটি একটি ভূমিকা, চারটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।

ভূমিকা প্রসঙ্গে: এতে রয়েছে গবেষণার সমস্যাবলি, বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ, গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, পূর্ববর্তী গবেষণার সাথে বর্তমান গবেষণার বৈচিত্র্য, গবেষণার মাধ্যমে উত্তর প্রদান করা হবে এমন সম্ভাব্য প্রশ্নাবলি এবং গবেষণার পরিকল্পনা ও পদ্ধতি।

প্রথম অধ্যায়: আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি (المتشابه اللفظي) বিজ্ঞানের পরিচিতি; এটি চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে মুতাশাবিহ (متشابه)-এর ধারণা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি (المتشابه اللفظي) বিজ্ঞানের গুরুত্ব।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি (المتشابه اللفظي) বিজ্ঞানে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি (المتشابه اللفظي)-এর প্রকারভেদ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ইমাম রাজি এবং পবিত্র কুরআনে আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি (المتشابه اللفظي) আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি; এটি চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম রাজির পরিচিতি, তাঁর শৈশবকাল, জীবন এবং তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম রাজির তাফসির গ্রন্থ 'মাফাতিহুল গায়ব'-এর পরিচিতি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি (المتشابه اللفظي) আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ইমাম রাজির অনুসৃত পদ্ধতি।

প্রথম অনুচ্ছেদ: আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি (المتشابه اللفظي) ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ইমাম রাজির পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি (المتشابه اللفظي) ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ইমাম রাজির উৎসসমূহ।

প্রথমত: যে সকল আলেমদের নিকট থেকে ইমাম রাজি বর্ণনা (نقل) করেছেন এবং তাঁর তাফসিরে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ৫)
ثانيًا: موقف الإمام الرازي من علماء المتشابه اللفظي.

ثالثًا: أثره في المعاصرين

المطلب الثالث: ما انفرد به الإمام الرازي عن جميع علماء المتشابه اللفظي.

المطلب الرابع: مآخذ على منهج الإمام الرازي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

المبحث الرابع: أنواع المتشابه اللفظي في تفسير الإمام الرازي مع ذكر بعض النماذج.

الفصل الثالث: الإمام الألوسي ومنهجه في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم، ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: التعريف بالإمام الألوسي ونشأته وحياته وأهم كتبه.

المبحث الثاني: التعريف بتفسير الإمام الألوسي (روح المعاني).

المبحث الثالث: منهج الإمام الألوسي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

المطلب الأول: أهم الملامح والسمات التي تميز بها منهج الإمام الألوسي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

المطلب الثاني: مصادر الإمام الآلوسي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم

أولًا: العلماء الذين نقل عنهم الإمام الألوسي وذكرهم في تفسيره.

ثانيًا: موقف الإمام الألوسي من علماء المتشابه اللفظي.

ثالثًا: أثره في المعاصرين

المطلب الثالث: ما انفرد به الإمام الألوسي عن جميع علماء المتشابه اللفظي.

المطلب الرابع: مآخذ على منهج الإمام الألوسي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

المبحث الرابع: أنواع المتشابه اللفظي في تفسير الإمام الألوسي مع ذكر بعض النماذج.

الفصل الرابع: مقارنة بين الإمامين الرازي والألوسي، ويشتمل على أربعة مباحث:
দ্বিতীয়ত: শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) আলেমদের প্রতি ইমাম রাজীর অবস্থান।

তৃতীয়ত: সমসাময়িকদের ওপর তাঁর প্রভাব

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) সকল আলেমদের থেকে ইমাম রাজী যে সকল বিষয়ে অনন্য ছিলেন।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কুরআন মাজীদে শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ইমাম রাজীর পদ্ধতির ওপর পর্যালোচনাসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইমাম রাজীর তাফসিরে শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) প্রকারভেদ এবং কিছু নমুনার উল্লেখ।

তৃতীয় অধ্যায়: ইমাম আলূসী এবং কুরআন মাজীদে শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি; এটি চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম আলূসীর পরিচিতি, তাঁর বেড়ে ওঠা, জীবন এবং তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম আলূসীর তাফসির (রূহুল মাআনী)-এর পরিচিতি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন মাজীদে শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ইমাম আলূসীর পদ্ধতি।

প্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআন মাজীদে শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ইমাম আলূসীর পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআন মাজীদে শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ইমাম আলূসীর উৎসসমূহ

প্রথমত: যে সকল আলেমদের নিকট থেকে ইমাম আলূসী উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর তাফসিরে তাঁদের উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়ত: শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) আলেমদের প্রতি ইমাম আলূসীর অবস্থান।

তৃতীয়ত: সমসাময়িকদের ওপর তাঁর প্রভাব

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) সকল আলেমদের থেকে ইমাম আলূসী যে সকল বিষয়ে অনন্য ছিলেন।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কুরআন মাজীদে শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ইমাম আলূসীর পদ্ধতির ওপর পর্যালোচনাসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইমাম আলূসীর তাফসিরে শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) প্রকারভেদ এবং কিছু নমুনার উল্লেখ।

চতুর্থ অধ্যায়: ইমাম রাজী এবং ইমাম আলূসীর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা; এটি চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الأول: مقارنة عامة بين منهج الإمامين في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

المبحث الثاني: أوجه التشابه بين الإمامين الرازي والألوسي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

المطلب الأول: مسائل المتشابه اللفظي التي اتفق الإمامان في توجيهها في الحروف.

المطلب الثاني: مسائل المتشابه اللفظي التي اتفق الإمامان في توجيهها في اللفظ والتركيب.

المبحث الثالث: أوجه الاختلاف بين الإمامين الرازي والألوسي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

المطلب الأول: مسائل المتشابه اللفظي التي اختلف الإمامان في توجيهها في الحروف.

المطلب الثاني: مسائل المتشابه اللفظي التي اختلف الإمامان في توجيهها في اللفظ والتركيب.

المبحث الرابع: ما انفرد به كل إمامٍ عن الآخر.

المطلب الأول: ما انفرد به الإمام الرازي عن الإمام الألوسي.

المطلب الثاني: ما انفرد به الإمام الألوسي عن الإمام الرازي

الخاتمة: وتشمل أهم النتائج التي توصلت إليها، مع ذكر بعض التوصيات.

الفهارس: واشتملت على فهرس الآيات القرآنية، وفهرس الحديث الشريف، وفهرس المصادر والمراجع، وفهرس الموضوعات.
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়গুলোর ব্যাখ্যাপ্রদানের ক্ষেত্রে দুই ইমামের পদ্ধতির (المنهج) সাধারণ তুলনামূলক আলোচনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়গুলোর ব্যাখ্যাপ্রদানের ক্ষেত্রে ইমাম রাযি ও ইমাম আলুসির মধ্যবর্তী সাদৃশ্যসমূহ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: বর্ণ বা অক্ষরের ক্ষেত্রে শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) সেসব মাসআলা যেগুলোর ব্যাখ্যায় দুই ইমাম একমত হয়েছেন।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শব্দ ও বাক্যগঠনের ক্ষেত্রে শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) সেসব মাসআলা যেগুলোর ব্যাখ্যায় দুই ইমাম একমত হয়েছেন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়গুলোর ব্যাখ্যাপ্রদানের ক্ষেত্রে ইমাম রাযি ও ইমাম আলুসির মধ্যবর্তী বৈসাদৃশ্যসমূহ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: বর্ণ বা অক্ষরের ক্ষেত্রে শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) সেসব মাসআলা যেগুলোর ব্যাখ্যায় দুই ইমাম ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শব্দ ও বাক্যগঠনের ক্ষেত্রে শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) সেসব মাসআলা যেগুলোর ব্যাখ্যায় দুই ইমাম ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যেসব বিষয়ে প্রত্যেক ইমাম অন্যজন থেকে একক বৈশিষ্ট্য (انفرد) প্রদর্শন করেছেন।

প্রথম অনুচ্ছেদ: যেসব বিষয়ে ইমাম রাযি, ইমাম আলুসি থেকে পৃথক বা একক বৈশিষ্ট্য (انفرد) প্রদর্শন করেছেন।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: যেসব বিষয়ে ইমাম আলুসি, ইমাম রাযি থেকে পৃথক বা একক বৈশিষ্ট্য (انفرد) প্রদর্শন করেছেন।

উপসংহার: এতে গবেষণালব্ধ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ এবং কিছু সুপারিশমালা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নির্ঘণ্ট: এতে কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট, হাদিস শরিফের নির্ঘণ্ট, উৎস ও তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট এবং বিষয়সূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفصل الأول التعريف بعلم المتشابه اللفظي

ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: مفهوم المتشابه لغةً واصطلاحًا.

المبحث الثاني: أهمية علم المتشابه اللفظي.

المبحث الثالث: أبرز من صنف في علم المتشابه اللفظي.

المبحث الرابع: أنواع المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.
প্রথম পরিচ্ছেদ: শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) ইলমের পরিচিতি

এটি চারটি আলোচনার (مباحث) ওপর বিন্যস্ত:

প্রথম আলোচনা: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه) বিষয়ের ধারণা।

দ্বিতীয় আলোচনা: শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) ইলমের গুরুত্ব।

তৃতীয় আলোচনা: শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) ইলমে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ।

চতুর্থ আলোচনা: পবিত্র কুরআনে শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়ের প্রকারভেদ।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المبحث الأول مفهوم المتشابه لغةً واصطلاحًا

تعريف المتشابه في اللغة:

الشين والباء والهاء أصل واحد يدل على تشابه الشيء وتشاكله، وصفاء ولونا، يقال: شَبه وشِبه ومشبه، والشبه من الجواهر الذي يشبه الذهب والمشبهات من الأمور: المشكلات، واشتبه الأمر إذا أُشكلا(1).

والشِّبه والشَّبَه والشبيه: المِثْلُ، والجمع: أشباه. وأشبه الشيءُ الشيءَ: ماثله(2).

وشبه: ما له شِبْه وشَبَهٌ وشبيه، وفيه شَبَه منه، وقد أشبه أباه وشابهه، وما أشبهه بأبيه، وتشابه الشيئان واشتبها، وشبّهته به وشبّهته إياه، واشتبهت الأمور وتشابهت: التبست لإشباه بعضها بعضًا(3).

وشابهه وأشبهه: ماثله، وتشابها واشتبها: أشبه كل منهما الآخر حتى التبسا(4).

ويفصل القول فيه الإمام «ابن قتيبة»(5) فيقول: «وأصل التشابه: أن يشبه اللفظ اللفظ في الظاهر، والمعنيان مختلفان، قال الله عز وجل في وصف الجنة: {وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا}(6)، أي متفق المناظر، مختلف الطعوم، وقال: {تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ}(7)، أي يشبه بعضها بعضًا في الكفر والقسوة.

--------------------------------------------

(1) «معجم مقاييس اللغة»، أحمد بن فارس بن زكرياء القزويني الرازي، المحقق: عبد السلام محمد هارون، دار الفكر، 1399 هـ - 1979 م، (3/ 243).

(2) «لسان العرب»، محمد بن مكرم بن على، أبو الفضل، جمال الدين ابن منظور الأنصاري، دار صادر - بيروت، الطبعة: الثالثة - 1414 هـ، (13/ 503).

(3) «أساس البلاغة»، أبو القاسم محمود بن عمرو بن أحمد، الزمخشري، تحقيق: محمد باسل عيون السود، الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان، الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998، ((1/ 493).

(4) «القاموس المحيط»، مجد الدين أبو طاهر محمد بن يعقوب الفيروزآبادى، دار الكتب العلمية، الطبعة الأولى، بيروت- لبنان، (4/ 299).

(5) ابن قتيبة: هو عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري، وُلد سنة (213 هـ)، نزيل بغداد، كان رأسًا في اللغة، له تصانيف كثيرة منها معاني القرآن، مختلف الحديث، دلائل النبوة، مات سنة (276 هـ)، ينظر: «سير أعلام النبلاء»، شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قَايْماز الذهبي (ت: 748 هـ)، تحقيق: مجموعة من المحققين بإشراف الشيخ شعيب الأرناؤوط، مؤسسة الرسالة، ط: 3، 1405 هـ/ 1985، ((13/ 296)، و «بغية الوعاة» (2/ 63).

(6) سورة البقرة، جزء من، الآية (25).

(7) سورة البقرة: الآية (118).
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে মুতাশাবিহ (المتشابه)-এর ধারণা

আভিধানিক সংজ্ঞায় মুতাশাবিহ (المتشابه):

শিন (ش), বা (ب) এবং হা (ه) একটি মূল ধাতু, যা কোনো জিনিসের সাদৃশ্য, সামঞ্জস্য, স্বচ্ছতা ও বর্ণের অভিন্নতাকে নির্দেশ করে। বলা হয়ে থাকে: 'শাবাহ' (شبه), 'শিবিহ' (شبه) এবং 'মুশাব্বিহ' (مشبه)। 'শাবাহ' ওই সকল রত্নকে বলা হয় যা স্বর্ণের সদৃশ। বিষয়ের ক্ষেত্রে 'মুশাব্বিহাত' হলো অস্পষ্ট বা জটিল (المشكلات) বিষয়াবলি। আর কোনো বিষয় যখন জটিল হয়ে যায়, তখন বলা হয় 'ইশতাবাহাল আমর' (اشتبه الأمر)(১)।

'শিবিহ' (الشبه), 'শাবাহ' (الشبه) এবং 'শাবিহ' (الشبيه) এর অর্থ হলো সদৃশ (المثل); এর বহুবচন হলো 'আশবাহ' (أشباه)। একটি বস্তু অন্যটির অনুরূপ হওয়া অর্থে 'আশবাহাশ শাইউ' (أشبه الشيء) ব্যবহৃত হয়(২)।

'শাবাহ' (شبه) হলো যার সাদৃশ্য, অনুরূপ বা সমতুল্য রয়েছে। বলা হয়, তার মাঝে তার (অন্যের) সাদৃশ্য রয়েছে। সে তার পিতার সদৃশ হয়েছে বা পিতার অনুরূপ হয়েছে। 'মা আশবাহাহু বি আবিহি' (তার পিতার সাথে তার কতই না মিল!)। দুটি জিনিস পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া অর্থে 'তাশাবাহা' (تشابها) ও 'ইশতাবাহা' (اشتبها) ব্যবহৃত হয়। আর আমি তাকে অন্যটির সাথে তুলনা করেছি বা সদৃশ বানিয়েছি অর্থে 'শাব্বাহতুহু' (شبّهته) ব্যবহৃত হয়। বিষয়গুলো যখন পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে অস্পষ্ট ও সংশয়যুক্ত (التبست) হয়ে যায়, তখন 'ইশতাবাহাত' (اشتبهت) ও 'তাশাবাহাত' (تشابهت) ব্যবহৃত হয়(৩)।

'শাবাহাহু' (شابهه) ও 'আশবাহাহু' (أشبهه) মানে হলো অনুরূপ হওয়া। 'তাশাবাহা' (تشابها) ও 'ইশতাবাহা' (اشتبها) হলো যখন উভয়টি একে অপরের সদৃশ হয়, এমনকি শেষ পর্যন্ত তা অস্পষ্ট হয়ে যায়(৪)।

এ বিষয়ে ইমাম ইবনে কুতাইবা(৫) বিস্তারিত বর্ণনা করে বলেন: "তাশাবুহ (التشابه)-এর মূল ভিত্তি হলো শব্দে শব্দে বাহ্যিক মিল থাকা কিন্তু অর্থ ভিন্ন হওয়া। মহান আল্লাহ জান্নাতের বর্ণনায় বলেছেন: {وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا}(৬), অর্থাৎ 'তা তাদের নিকট সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابها) অবস্থায় পেশ করা হবে', যার অর্থ হলো তারা দেখতে একই রকম কিন্তু স্বাদ ভিন্ন। তিনি আরও বলেছেন: {تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ}(৭), অর্থাৎ 'তাদের অন্তরসমূহ সদৃশ হয়ে গেছে', অর্থাৎ কুফর ও কঠোরতার দিক থেকে তাদের একটি অন্যটির অনুরূপ।"

--------------------------------------------

(১) 'মুজাম মাকায়িসুল লুগাহ', আহমাদ ইবনে ফারিস ইবনে জাকারিয়া আল-কাযউইনি আর-রাজি, গবেষক: আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুন, দারুল ফিকর, ১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ, (৩/ ২৪৩)।

(২) 'লিসানুল আরব', মুহাম্মদ ইবনে মাকরাম ইবনে আলী, আবুল ফজল, জামালুদ্দিন ইবনে মানজুর আল-আনসারি, দারু সাদির - বৈরুত, তৃতীয় সংস্করণ - ১৪১৪ হিজরি, (১৩/ ৫০৩)।

(৩) 'আসাসুল বালাগাহ', আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে আমর ইবনে আহমাদ আল-জামাকশারি, গবেষণা: মুহাম্মদ বাসিল উয়ুন আস-সুদ, প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ, (১/ ৪৯৩)।

(৪) 'আল-কামুসুল মুহিত', মাজদুদ্দিন আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-ফায়রুযাবাদি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, প্রথম সংস্করণ, বৈরুত - লেবানন, (৪/ ২৯৯)।

(৫) ইবনে কুতাইবা: তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতাইবা আদ-দিনাওয়ারী, ২১৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং ভাষাবিজ্ঞানের ইমাম ছিলেন। তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে মাআনিল কুরআন, মুখতালিফুল হাদিস (مختلف الحديث), দালাইলুন নুবুওয়াহ উল্লেখযোগ্য। তিনি ২৭৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: 'সিয়ারু আলামিন নুবালা', শামসুদ্দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে উসমান আদ-দাহাবি (ওফাত: ৭৪৮ হি.), গবেষণা: শুয়াইব আল-আরনাউতের তত্ত্বাবধানে একদল গবেষক, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, ৩য় সংস্করণ, ১৪০৫ হিজরি/ ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ, (১৩/ ২৯৬) এবং 'বুগয়াতুল উয়াহ' (২/ ৬৩)।

(৬) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াতের অংশ (২৫)।

(৭) সূরা আল-বাকারাহ: আয়াত (১১৮)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ৯)
ومنه يقال: اشتبه عليَّ الأمر، إذا أشبه غيره فلم تكد تفرق بينهما، وَشَبَّهْتَ عليَّ: أي إذا لَبَّسْتَ الحق بالباطل، ومنه قيل لأصحاب المخاريق أصحاب الشُّبه لأنهم يشَبِّهُون الباطل بالحق»(1).

كما عده بعض العلماء من المشكل فيقول «المناوي»(2): «المتشابه: المشكل الذي يحتاج إلى فكر وتأمل»(3).

من هذا يتبين لنا أن المتشابه عند أهل اللغة يطلق على ما تماثل من الأشياء، وأشبه بعضها بعضًا.

تعريف المتشابه في الاصطلاح: فينقسم إلى نوعين:

الأول: المتشابه المقابل للمحكم: قيل: المتشابه: ما يحتمل وجوهًا، والمحكم: ما يَحتمل وجهًا واحدًا(4).

وقيل: «المحكم: ما استقل بنفسه والمتشابه: ما لا يستقل بنفسه إلا برده إلى غيره»(5).

الثاني: المتشابه اللفظي:

يعد الإمام «الزركشي»(6) أول من عرَّف المتشابه اللفظي تعريفًا محددًا في كتابه: «البرهان» حيث عرفه بأنه: «هو إيراد القصة الواحدة في سور شتى وفواصل مختلفة ويكثر في إيراد

--------------------------------------------

(1) «تأويل مشكل القرآن»، عبد الله بن قتيبة، تحقيق: إبراهيم شمس الدين، دار الكتب العلمية، (ص: 68).

(2) المناوي هو محمد عبد الرؤوف بن تاج العارفين ابن علي بن زين العابدين الحدادي ثم المناوي القاهري، زين الدين. المشهور بالمناوي. ولد سنة: 952 هـ وتوفي سنة: 1031 هـ. عاش في القاهرة، وتوفي بها. ينظر: «خلاصة الأثر» (2/ 412)، و «البدر الطالع» (1/ 357).

(3) «التوقيف في مهمات التعاريف»، لمحمد المناوي، تحقيق الدكتور عبد الحميد صالح حمدان، الطبعة الأولى، عالم الكتب، (ص: 295).

(4) «البرهان في علوم القرآن»، للزركشي، تحقيق: محمد أبو الفضل إبراهيم، الطبعة الثالثة، دار التراث القاهرة (2/ 70).

(5) «الإتقان في علوم القرآن»، لجلال الدين السيوطي، تحقيق: مركز الدراسات القرآنية، مجمع الملك فهد (4/ 1336).

(6) بدر الدين الزركشي أبو عبد الله، بدر الدين، محمد بن بهادر بن عبد الله الزَّرْكَشِيِّ المصري، فقيه، أصولي، له مؤلفات في علوم كثيرة. وُلد في القاهرة سنة 745 هـ، وتُوفي سنة 794 هـ. ينظر: «طبقات الشافعية»، لابن قاضي (3/ 167)، و «الدرر الكامنة» (3/ 397).
এখান থেকেই বলা হয়: বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট বা সাদৃশ্যপূর্ণ (اشتبه) হয়ে গেছে, যখন এটি অন্য কিছুর সদৃশ হয় ফলে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর 'তুমি আমার কাছে বিষয়টিকে জটিল করেছ' (شبَّهْتَ) বলতে বোঝায়: যখন তুমি সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করেছ। এ কারণেই জাদুকর বা প্রতারকদের সংশয় সৃষ্টিকারী (أصحاب الشبه) বলা হয়, কারণ তারা মিথ্যাকে সত্যের আদলে উপস্থাপন করে।(1).

একইভাবে কোনো কোনো আলিম একে অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য (المشكل) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন। যেমন আল-মুনাওয়ী(2) বলেন: "মুতাশাবিহ (المتشابه) হলো সেই দুর্বোধ্য (المشكل) বিষয় যা চিন্তা ও গবেষণার দাবি রাখে।"(3).

এ থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, ভাষা বিশেষজ্ঞদের মতে মুতাশাবিহ (المتشাবে) শব্দটির প্রয়োগ হয় সেই সকল বস্তুর ক্ষেত্রে যা পরস্পর সদৃশ এবং একটি অন্যটির মতো হয়।

পরিভাষায় মুতাশাবিহ (المتشابه)-এর সংজ্ঞা: এটি দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথমত: মুহকাম (المحكم)-এর বিপরীত মুতাশাবিহ (المتشابه)। বলা হয়েছে: মুতাশাবিহ (المتشابه) হলো যা একাধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখে, আর মুহকাম (المحكم) হলো যা কেবল একটিই অর্থ প্রকাশ করে।(4).

আবার বলা হয়েছে: "মুহকাম (المحكم) হলো যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অর্থ প্রকাশ করে, আর মুতাশাবিহ (المتشابه) হলো যা অন্য বিষয়ের সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।"(5).

দ্বিতীয়ত: শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي):

ইমাম আয-যাররাকাশী(6) হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁর আল-বুরহান গ্রন্থে শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়ের একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তিনি এর সংজ্ঞায় বলেন: "এটি হলো একই ঘটনাকে বিভিন্ন সূরা এবং ভিন্ন ভিন্ন অন্ত্যমিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা, যা বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিক পরিমাণে দেখা যায়..."

--------------------------------------------

(1) 'তাউইল মুশকিল আল-কুরআন', আবদুল্লাহ বিন কুতায়বাহ, সম্পাদনা: ইব্রাহিম শামসুদ্দিন, দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, (পৃ: ৬৮)।

(2) আল-মুনাওয়ী হলেন মুহাম্মদ আবদুর রউফ বিন তাজুল আরিফিন বিন আলি বিন জাইনুল আবিদিন আল-হাদ্দাদি অতঃপর আল-মুনাওয়ী আল-কাহিবি, জাইনুদ্দিন। তিনি আল-মুনাওয়ী নামে প্রসিদ্ধ। জন্ম: ৯৫২ হিজরি এবং মৃত্যু: ১০৩১ হিজরি। তিনি কায়রোতে বসবাস করতেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: 'খুলাসাতুল আসার' (২/ ৪১২), এবং 'আল-বদরুত তালি' (১/ ৩৫৭)।

(3) 'আত-তাওকিফ ফি মুহিম্মাতিত তারিফাত', মুহাম্মদ আল-মুনাওয়ী কর্তৃক রচিত, ডক্টর আবদুল হামিদ সালিহ হামদান কর্তৃক সম্পাদিত, প্রথম সংস্করণ, আলামুল কুতুব, (পৃ: ২৯৫)।

(4) 'আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন', আয-যাররাকাশী রচিত, মুহাম্মদ আবু ফাদল ইব্রাহিম সম্পাদিত, তৃতীয় সংস্করণ, দার আল-তুরাস কায়রো (২/ ৭০)।

(5) 'আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন', জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী রচিত, কুরআন গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক সম্পাদিত, মাজমাউল মালিক ফাহাদ (৪/ ১৩৩৬)।

(6) বদরুদ্দিন আয-যাররাকাশী আবু আবদুল্লাহ, বদরুদ্দিন, মুহাম্মদ বিন বাহাদুর বিন আবদুল্লাহ আয-যাররাকাশী আল-মিসরি, তিনি একজন ফকিহ এবং উসুলবিদ (أصولي), অনেক শাস্ত্রে তাঁর রচনা রয়েছে। তিনি ৭৪৫ হিজরিতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: 'তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ', ইবনু কাদি (৩/ ১৬৭), এবং 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (৩/ ৩৯৭)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ১০)
القصص والأنباء، وحكمته التصرف في الكلام، وإتيانه على ضروب ليعلمهم عجزهم عن جميع ذلك مبتدأ به ومكررًا»(1).

وقد تناوله الإمام «السيوطي»(2) في الوجه السادس في كتابه: «معترك الأقران» وعرَّفه بأنه: «القصة الواحدة ترد في سورٍ شتى وفواصل مختلفة بأن يأتي في موضع واحد مقدمًا وفي آخر مؤخرًا، كقوله في سورة البقرة: {وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ}(3) وفي سورة الأعراف: {وَقُولُوا حِطَّةٌ وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا}(4)، ثم ذكر أمثلة متعددة على الآيات المتشابهات(5).

ومن الأقوال التي ذكرها ابن جرير الطبري(6) في معنى المتشابه اللفظي: «هو ما اشتبهت الألفاظ به من قصصهم عند التكرار في السور، بقصة باتفاق الألفاظ واختلاف المعاني وبقصة باختلاف الألفاظ واتفاق المعاني»(7).

وعرفه د/ محمد الصامل بأنه: «ما توارد من الآيات بنوع من التبديل والتغيير»(8).

قال د/ صالح الشثري: «المراد بالمتشابه اللفظي في القرآن: الآيات التي تكررت في القرآن الكريم في القصة الواحدة من قصص القرآن أو موضوعاته في ألفاظ متشابهة وصور متعددة، وفواصل شتى، وأساليب متنوعة، تقديمًا وتأخيرًا، وذكرًا وحذفًا، وتعريفًا وتنكيرًا، وإفرادًا وجمعًا، وإيجازًا وإطنابًا، وإبدال حرف بحرف آخر، أو كلمة بكلمة أخرى، ونحو ذلك. مع اتفاق المعنى العام،

--------------------------------------------

(1) البرهان في علوم القرآن»، للزركشي، (1/ 112).

(2) هو جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد ابن سابق الدين الخضيري السيوطي، (القاهرة 849 هـ- 911 هـ)، من كبار علماء المسلمين، نشأ يتيمًا، وحفظ القرآن صغيرًا، كان مكثرًا من التأليف جدًا. ينظر: «حسن المحاضرة» (1/ 289 - 297)، و «البدر الطالع» (1/ 229).

(3) سورة البقرة، الآية: (58).

(4) سورة الأعراف، الآية: (161).

(5) ينظر: «معترك الأقران في إعجاز القرآن»، لجلال الدين السيوطي، تحقيق: أحمد شمس الدين، دار الكتب العلمية بيروت، (1/ 68) ترجمة رقم: (73).

(6) هو أبو جعفر الطبري صاحب التفسير والتاريخ الشهير كان إماما في التفسير والقراءات والسنن والحديث والفقه والتاريخ ولد سنة 224 هـ وتوفي سنة 310 هـ. ينظر: «وفيات الأعيان» (4/ 191).

(7) «تفسير الطبري»، جامع البيان في تأويل القرآن، للطبري، دار الكتب العلمية، بيروت، لبنان (3/ 174).

(8) «من بلاغة المتشابه اللفظي في القرآن الكريم»، محمد الصامل، دار إشبليا، الطبعة الأولى (ص: 13).
কাহিনী ও সংবাদসমূহ, আর এর হিকমত হলো বাচনিক ব্যবহারের সক্ষমতা এবং এর বিভিন্ন পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা, যাতে তাদের সকল বিষয়ে অক্ষমতা সম্পর্কে অবগত করা যায়, চাই তা প্রারম্ভিক হোক বা পুনরাবৃত্ত হোক।(1).

ইমাম সুয়ূতী(2) তাঁর 'মু’তারাক আল-আকরান' গ্রন্থের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে এটি আলোচনা করেছেন এবং একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: "একই কাহিনী বিভিন্ন সূরা ও ভিন্ন ভিন্ন অন্ত্যমিলে বর্ণিত হওয়া, যেখানে এক স্থানে কোনো বিষয় আগে আসে এবং অন্য স্থানে পরে আসে, যেমন সূরা বাকারায় তাঁর বাণী: {এবং সিজদাবনত হয়ে দরজায় প্রবেশ কর ও বল: ক্ষমা চাই}(3) এবং সূরা আরাফে: {এবং বল: ক্ষমা চাই ও সিজদাবনত হয়ে দরজায় প্রবেশ কর}(4), এরপর তিনি শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابهات) আয়াতগুলোর ওপর একাধিক উদাহরণ উল্লেখ করেছেন(5).

ইবনে জারীর তাবারী(6) শাব্দিক সাদৃশ্য (المتشابه اللفظي)-এর অর্থ সম্পর্কে যেসকল উক্তি উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "এটি হলো সূরাসমূহে পুনরাবৃত্তির সময় তাদের ঘটনাবলির শব্দাবলির মধ্যে সাদৃশ্য তৈরি হওয়া, যেখানে কোনো কাহিনীতে শব্দ এক কিন্তু অর্থ ভিন্ন, আবার কোনো কাহিনীতে শব্দ ভিন্ন কিন্তু অর্থ এক"(7).

ড. মুহাম্মদ আস-সামিল একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "যেসব আয়াত এক ধরণের পরিবর্তন ও পরিমার্জনসহ বারবার এসেছে"(8).

ড. সালিহ আশ-শাসরি বলেছেন: "কুরআনে শাব্দিক সাদৃশ্য (المتشابه اللفظي) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কুরআনের কাহিনীসমূহ বা এর বিষয়বস্তুগুলোর কোনো একটি কাহিনীর এমন সব আয়াত যা পবিত্র কুরআনে সদৃশ শব্দাবলি ও বহুবিধ রূপে, বিভিন্ন অন্ত্যমিলে এবং নানাবিধ শৈলীতে পুনরাবৃত্ত হয়েছে; চাই তা আগে-পরে আসা, উল্লেখ করা বা উহ্য রাখা, নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট করা, একবচন বা বহুবচন হওয়া, সংক্ষেপণ বা সম্প্রসারণ করা, কিংবা এক অক্ষরের পরিবর্তে অন্য অক্ষর বা এক শব্দের বদলে অন্য শব্দ ব্যবহার এবং এই জাতীয় অন্য কিছুর মাধ্যমে হোক। তবে এর সাধারণ অর্থের ঐক্য বজায় থাকে,

--------------------------------------------

(1) যারকাশি রচিত 'আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন', (১/ ১১২)।

(2) তিনি হলেন জালালুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাবিকুদ্দিন আল-খুদাইরি আস-সুয়ূতী, (কায়রো ৮৪৯ হিজরি - ৯১১ হিজরি), মুসলিমদের মহান আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন এবং অল্প বয়সেই কুরআন মুখস্থ করেন। তিনি প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। দেখুন: 'হুসনুল মুহাদারা' (১/ ২৮৯ - ২৯৭) এবং 'আল-বাদরুত তালি' (১/ ২২৯)।

(3) সূরা বাকারা, আয়াত: (৫৮)।

(4) সূরা আরাফ, আয়াত: (১৬১)।

(5) দেখুন: জালালুদ্দিন সুয়ূতী রচিত 'মু’তারাক আল-আকরান ফি ই’জাজিল কুরআন', তাহকিক: আহমদ শামসুদ্দিন, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত, (১/ ৬৮) জীবনী নং: (৭৩)।

(6) তিনি হলেন আবু জাফর তাবারী, বিখ্যাত তাফসীর ও ইতিহাসের রচয়িতা। তিনি তাফসীর, কিরাত, সুনান, হাদিস, ফিকহ ও ইতিহাসে ইমাম (إمام) ছিলেন। তিনি ২২৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩১০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' (৪/ ১৯১)।

(7) তাবারী রচিত 'তাফসীর তাবারী', জামিউল বয়ান ফি তাবীলিল কুরআন, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন (৩/ ১৭৪)।

(8) মুহাম্মদ আস-সামিল রচিত 'মিন বালাগাতিল মুতাশাবিহ আল-লাফজি ফিল কুরআনিল কারীম', দারু ইশবিলিয়া, প্রথম প্রকাশ (পৃষ্ঠা: ১৩)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ১১)
لغرض بلاغي، أو لمعنى دقيق يراد تقريره لا يدركه إلا من أتاه الله علمًا وفهمًا لأسرار كتابه، وهي بحق كنز ثمين من كنوز إعجازه وسر من أسرار بيانه»(1).

وما يعنيني في بحثي هو النوع الثاني (المتشابه اللفظي).

--------------------------------------------

(1) «المتشابه اللفظي في القرآن الكريم وأسراره البلاغية»، لصالح الشثري، مجمع الملك فهد، المدينة المنورة (ص: 13).
অলঙ্কারিক (بلاغي) কোনো উদ্দেশ্যে, অথবা কোনো সূক্ষ্ম অর্থ সাব্যস্ত করার জন্য যা কেবল সেই ব্যক্তিই অনুধাবন করতে পারে যাকে আল্লাহ তাঁর কিতাবের রহস্যগুলো বুঝার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছেন। আর এটি প্রকৃতপক্ষে তাঁর অলৌকিকত্বের (إعجاز) ভাণ্ডারসমূহের মধ্যে একটি মূল্যবান সম্পদ এবং তাঁর বর্ণনাশৈলীর (بيان) রহস্যসমূহের মধ্য থেকে একটি রহস্য»(১).

আর আমার গবেষণায় যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো দ্বিতীয় প্রকার, অর্থাৎ শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي)।

--------------------------------------------

(১) ‘আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি ফিল কুরআনিল কারিম ওয়া আসরারুহু আল-বালাগিয়্যাহ’, সালিহ আশ-শাসরি, কিং ফাহদ কমপ্লেক্স, মদিনা মুনাওয়ারা (পৃষ্ঠা: ১৩)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المبحث الثاني أهمية علم المتشابه اللفظي

ترجع أهمية علم المتشابه اللفظي إلى اهتمامه بجانب دقيق من جوانب علوم القرآن والتفسير وهو توجيه الفرق بين الآيات المتشابهات والوقوف على أسرار اختيار اللفظ في هذا الموضع واختلافه في الموضع الآخر وهذا يعين القارئ على:

1 - تدبر كلام الله عز وجل وفهمه جيدًا، والوقوف على سبب اختلاف الألفاظ، وفهم الآيات جيدًا.

2 - يعين الحافظ على ضبط حفظه، ورسوخ الآيات المتشابهات في قلبه، وعدم حدوث أي لحن أو خطأ في حفظه بين مواضع المتشابه، بالإضافة إلى فهمه لهذه المواضع وتدبرها.

ولهذا الغرض تحديدًا صنف العلماء مؤلفات في المتشابه اللفظي.

وقد نبه الإمام ابن المنادى(1) رحمه الله على الأسباب التي دفعت القراء إلى جمع المتشابه اللفظي في القرآن فقال: «أما الأنواع المرجوة منافعها في تقوية حفظ الحافظ، والمجربة معاونتها لأدارب المتحفظ فقد قدمنا ذكرها، وذكر شواهدها المأثورة فيها، ولم يبق إلا النوع الذي استحدثه فريق من القراء ولقبوه (المتشابه) وإنما حملهم على وضعهم إياه للقراءة ردًا على سوء الحفظ، وحداهم كون القرآن ذا قصص، وتقديم وتأخير كثير، ترداد أنبائه ومواعظه، وتكرار أخبار من سلف من الأنبياء والمهلكين والأشقياء، يأتي بعضه بكلام متساوي الأبنية والمعاني على تفريق ذلك في آي القرآن وسوره، وقد يجئ حرف غير هذا الضرب، فيأتي بالواو مرة وبالفاء مرة، وآخر يأتي بالإدغام تارة وبالبيان تارة، وأسماء متماثلة، فاستحبوا أن يجمعوا من حروف متشابه القرآن ما إذا حفظ منع من الغلط»(2).

3 - يجعل قلب العبد ممتلئًا بقدرة الله عز وجل وعظمته خاصة مع الاجتهاد في فهم كتاب الله والوقوف على أسراره ومعانيه، وبيان وجوه الإعجاز بين المواضع المختلفة، ومعرفة دقائق الأسلوب البياني في القرآن الكريم.

--------------------------------------------

(1) هو أحمد بن جعفر بن محمد بن عبيد الله بن يزيد أبو الحسين بن المنادى، سمع جده محمدًا وأباه جعفرًا، صنف كتبًا كثيرة، وجمع علومًا جمة، توفي سنة 336 هـ. ينظر: «البداية والنهاية»، لابن كثير، تحقيق: عبد الله بن عبد المحسن التركي، الناشر: دار هجر للطباعة والنشر والتوزيع والإعلان، الطبعة: الأولى، 1418 هـ -1997، ((11/ 219)، و «طبقات الحنابلة» (2/ 3).

(2) «متشابه القرآن الكريم» لأحمد بن جعفر بن المنادي، (ص: 59) تحقيق: عبد الله الغنيمان، الجامعة الإسلامية، ط 1، 1408 هـ.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) গুরুত্ব

শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের (المتشابه اللفظي) ইলমের গুরুত্ব মূলত কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান ও তাফসিরের একটি সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি এর মনোযোগের কারণে। আর তা হলো সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতসমূহের (الآيات المتشابهات) মধ্যকার পার্থক্যের ব্যাখ্যা প্রদান এবং কোনো বিশেষ স্থানে একটি শব্দ চয়ন এবং অন্য স্থানে ভিন্ন শব্দ ব্যবহারের অন্তর্নিহিত রহস্য উদঘাটন করা। এটি পাঠককে নিম্নোক্ত বিষয়ে সাহায্য করে:

১ - মহান আল্লাহর কালাম নিয়ে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করা এবং তা উত্তমরূপে অনুধাবন করা। শব্দের পার্থক্যের কারণ এবং আয়াতসমূহ ভালোভাবে বুঝতে পারা।

২ - এটি হাফেজদের তাদের হিফজ মজবুত করতে এবং সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতসমূহ (الآيات المتشابهات) অন্তরে গেঁথে নিতে সাহায্য করে। এর ফলে সাদৃশ্যপূর্ণ স্থানসমূহের হিফজে কোনো প্রকার বিকৃতি (لحن) বা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। পাশাপাশি এই স্থানগুলো বুঝতে এবং তা নিয়ে চিন্তা করতেও সহায়ক হয়।

মূলত এই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই আলেমগণ শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয় (المتشابه اللفظي) নিয়ে গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন।

ইমাম ইবনুল মুনাদী(১) রহিমাহুল্লাহ পাঠকদের পবিত্র কুরআনের শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলো (المتشابه اللفظি) একত্রিত করার কারণসমূহ বর্ণনা করে বলেছেন: «যেসব বিষয় হাফেজের হিফজ শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উপকারে আসে এবং মুখস্থকারীদের সহায়তায় পরীক্ষিত, সেগুলো আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি এবং সে সম্পর্কিত বর্ণিত প্রমাণাদিও তুলে ধরেছি। এখন কেবল সেই বিষয়টিই অবশিষ্ট আছে যা একদল ক্বারী উদ্ভাবন করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন ‘সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়’ (المتشابه)। মূলত হিফজের দুর্বলতা দূর করার জন্যই তারা এটি প্রণয়ন করেছেন। কুরআন মাজীদের ঘটনাপ্রবাহ, অনেক ক্ষেত্রে শব্দ বা বাক্যের আগে-পিছে হওয়া (تقديم وتأخير), সংবাদ ও নসিহতসমূহের পুনরাবৃত্তি এবং পূর্ববর্তী নবী ও ধ্বংসপ্রাপ্ত পাপিষ্ঠ জাতির ঘটনাবলির পুনরাবৃত্তি তাদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে। কারণ কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও সূরায় একই শব্দবিন্যাস ও অর্থের কিছু বিষয় বিচ্ছিন্নভাবে আসে। আবার কখনো এমন হরফ আসে যা এই ধারার বাইরে—কখনো ‘ওয়াও’ (الواو) যোগে আসে, কখনো ‘ফা’ (الفاء) যোগে আসে। কোথাও ইদগাম (الإدغام) সহকারে আসে, কোথাও স্পষ্ট (البيان) উচ্চারণে আসে এবং নামগুলোও একই রকম হয়ে থাকে। তাই তারা কুরআনের শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابه القرآن) সেই হরফগুলো বা বিষয়গুলো একত্রিত করা পছন্দ করেছেন, যা মুখস্থ রাখলে ভুল থেকে বাঁচা যায়»(২)।

৩ - এটি বান্দার অন্তরকে মহান আল্লাহর কুদরত ও মহিমা দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেয়, বিশেষ করে যখন সে আল্লাহর কিতাব বোঝার চেষ্টা করে এবং এর রহস্য ও অর্থের গভীরে প্রবেশ করে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানের মধ্যে অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো স্পষ্ট হওয়া এবং পবিত্র কুরআনের আলংকারিক শৈলীর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো জানতে পারাও এর অন্যতম দিক।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আহমদ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আবুল হুসাইন ইবনুল মুনাদী। তিনি তাঁর দাদা মুহাম্মদ এবং পিতা জাফরের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি অনেক কিতাব রচনা করেছেন এবং বহুবিধ জ্ঞান আহরণ করেছেন। তিনি ৩৩৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, তাহকীক: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কী, প্রকাশক: দারু হাজার, প্রথম প্রকাশ, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭, (১১/২১৯), এবং তাবাকাতুল হানাবিলা (২/৩)।

(২) আহমদ বিন জাফর ইবনুল মুনাদী রচিত ‘মুতাশাবিহুল কুরআনিল কারীম’, (পৃষ্ঠা: ৫৯) তাহকীক: আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, জামিয়া ইসলামিয়া, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৮ হিজরি।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ১৩)
يقول الدكتور محمد الصامل: «وإن من أعظم مظاهر إعجازه البياني ذلك التشابه العجيب بين كثير من آياته. فقد تتشابه الآيتان أو الثلاث، أو أكثر من ذلك في معظم ألفاظها وتختلف في بعضها، ويكون الاختلاف على وجوه منها، تقديم بعض الألفاظ في موضع، وتأخرها في موضع آخر، أو ذكر حرف مكان آخر، أو كلمة مكان أخرى، أو مجيء كلمة في مكان وخلو المكان الآخر منها أو غير ذلك من مظاهر التشابه اللفظي»(1).

4 - الرد على الملحدين الطاعنين في كتاب الله الذين يدَّعون أن القرآن به تكرار لا هدف له فيُثبت علم المتشابه اللفظي بلاغة التكرار، ووجه الحكمة في كل موضع.

يؤكد الإمام الزركشي على فائدة التكرار وأنه من الفصاحة فيقول: «وقد غلط من أنكر كونه – التكرار – من أساليب الفصاحة ظنًا أنه لا فائدة له، وليس كذلك، بل هو من محاسنها، لا سيما إذا تعلق بعضه ببعض؛ وذلك أن عادة العرب في خطاباتها إذا أبهمت بشيء إرادة لتحقيقه وقرب وقوعه، أو قصدت الدعاء عليه، كررته توكيدا، وكأنها تقيم تكراره مقام المقسم عليه، أو الاجتهاد في الدعاء عليه، حيث تقصِد الدعاء؛ وإنما نزل القرآن بلسانهم، وكانت مخاطباته جاريةً فيما بين بعضهم وبعض، وبهذا المسلك تستحكم الحجة عليهم في عجزهم عن المعارضة. وعلى ذلك يحتمل ما ورد من تكرار المواعظ والوعد والوعيد، لأن الإنسان مجبول من الطبائع المختلفة، وكلها داعية إلى الشهوات، ولا يقمع ذلك إلا تكرار المواعظ والقوارع»(2).

5 - يدعو إلى البحث والتأمل في كتاب الله خاصة مع وعورة مسلكه، وتحير الكثير في معرفة سبب توجيه المتشابه، واختلاف المتشابه من موضع لآخر، وهذا ما حثنا عليه الله عز وجل فقال تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا}(3)، كما أن هذا يجعل المرء يجتهد أكثر وأكثر فيزيد ثوابه وأجره.

يقول الدكتور صالح الشثري: «ولعل من دواعي قلة التأليف في هذا العلم وعورة مسلكه، ودقة مباحثه وغموضها إلا لمن امتلك الأدوات، ورزق الصبر والنظر الدقيق المكرر»(4).

--------------------------------------------

(1) «من بلاغة المتشابه اللفظي في القرآن الكريم»، لمحمد الصامل (ص: 5).

(2) «البرهان في علوم القرآن»، للزركشي، (3/ 9).

(3) سورة محمد: الآية (24).

(4) «المتشابه اللفظي في القرآن الكريم وأسراره البلاغية»، لصالح الشثري، (ص: 14).
ডক্টর মুহাম্মদ আস-সামিল বলেন: "কুরআনের আলঙ্কারিক অলৌকিকত্বের (إعجاز بياني) অন্যতম শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ হলো এর বহু আয়াতের মধ্যে বিদ্যমান সেই বিস্ময়কর সাদৃশ্য। কখনো দুই বা তিন বা তার চেয়েও বেশি আয়াত তাদের অধিকাংশ শব্দে সাদৃশ্যপূর্ণ হয় এবং কিছু অংশে বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়। এই বৈচিত্র্য বা পার্থক্য বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে; যেমন—কোনো শব্দ এক স্থানে আগে আসা (تقديم) এবং অন্য স্থানে পরে যাওয়া (تأخير), অথবা এক বর্ণের স্থলে অন্য বর্ণের ব্যবহার, অথবা এক শব্দের স্থলে অন্য শব্দের প্রয়োগ, কিংবা এক স্থানে কোনো শব্দের উপস্থিতি ও অন্য স্থানে তার অনুপস্থিতি অথবা শাব্দিক সাদৃশ্যের (متشابه لفظي) অন্যান্য রূপসমূহ।"(১).

৪ - আল্লাহর কিতাবের প্রতি কটূক্তিকারী সেইসব নাস্তিকদের জবাব প্রদান, যারা দাবি করে যে কুরআনে উদ্দেশ্যহীন পুনরাবৃত্তি রয়েছে। শাব্দিক সাদৃশ্য সংক্রান্ত ইলম (علم المتشابه اللفظي) এই পুনরাবৃত্তির অলঙ্কারিক সৌন্দর্য (بلاغة) এবং প্রতিটি স্থানের হিকমত বা প্রজ্ঞার দিকটি প্রমাণ করে।

ইমাম যারকাশী পুনরাবৃত্তির উপকারিতা এবং এটি যে বাগ্মিতার (فصاحة) অন্তর্ভুক্ত তা নিশ্চিত করে বলেন: "যারা পুনরাবৃত্তিকে বাগ্মিতার (فصاحة) পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকার করেছেন তারা ভুল করেছেন এই ধারণায় যে এর কোনো উপকারিতা নেই। বিষয়টি এমন নয়, বরং এটি এর সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত, বিশেষত যখন এর একটি অংশ অন্যটির সাথে সংশ্লিষ্ট হয়। এর কারণ হলো আরবদের স্বভাব ছিল যে, যখন তারা কোনো বিষয়ে জোর দিয়ে তা নিশ্চিত করতে চাইত বা তা ঘটার নিকটবর্তিতা বুঝাতে চাইত, অথবা কারও বিরুদ্ধে বদদোয়া করার ইচ্ছা করত, তখন তারা তাকিদ (توكيد) প্রদানের জন্য তা পুনরাবৃত্তি করত। যেন তারা এই পুনরাবৃত্তিকে শপথের (مقسم عليه) স্থলাভিষিক্ত করত অথবা বদদোয়ার ক্ষেত্রে ঐকান্তিকতা প্রকাশ করত। কুরআন তাদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাদের পারস্পরিক কথোপকথনের রীতিতেই এর সম্বোধনগুলো পরিচালিত হয়েছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমেই তাদের কুরআন মোকাবিলায় অক্ষম হওয়ার বিষয়টি অকাট্য দলিলে (حجة) পরিণত হয়। উপদেশ, সুসংবাদ এবং সতর্কবার্তার ক্ষেত্রে যে পুনরাবৃত্তি এসেছে তা এভাবেই গণ্য হতে পারে; কারণ মানুষ বিভিন্ন স্বভাবের সমন্বয়ে গঠিত এবং এ সবই তাকে কুপ্রবৃত্তির দিকে আহ্বান করে। বারবার উপদেশ ও হুঁশিয়ারি (قوارع) ছাড়া এগুলোকে দমন করা সম্ভব নয়।"(২).

৫ - এটি আল্লাহর কিতাব নিয়ে গবেষণা ও গভীর চিন্তাভাবনা (تدبر) করতে উদ্বুদ্ধ করে, বিশেষ করে এর পথ অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় এবং মুতাশাবিহ বা সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোর উপস্থাপনার কারণ ও স্থানভেদে পার্থক্যের রহস্য বুঝতে অনেকের বিভ্রান্ত হওয়ার কারণে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আমাদের এ বিষয়েই উৎসাহিত করেছেন, তিনি বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা (تدبر) করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা লাগানো রয়েছে?}(৩), এছাড়া এটি মানুষকে অধিকতর পরিশ্রম (اجتهاد) করতে বাধ্য করে, যা তার সওয়াব ও প্রতিদান বাড়িয়ে দেয়।

ডক্টর সালিহ আশ-শাসরি বলেন: "সম্ভবত এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার স্বল্পতার কারণ হলো এর দুর্গম পথ এবং এর আলোচনার সূক্ষ্মতা ও অস্পষ্টতা। তবে যারা প্রয়োজনীয় উপকরণ (أدوات) অর্জন করেছেন এবং যাদের ধৈর্য ও বারবার গভীর দৃষ্টি দেওয়ার তাওফিক দান করা হয়েছে তাদের বিষয় ভিন্ন।"(৪).

--------------------------------------------

(১) 'মিন বালাগাতিল মুতাশাবিহ আল-লাফযি ফিল কুরআনিল কারিম', মুহাম্মদ আস-সামিল (পৃষ্ঠা: ৫)।

(২) 'আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন', যারকাশী (৩/৯)।

(৩) সূরা মুহাম্মদ: আয়াত (২৪)।

(৪) 'আল-মুতাশাবিহ আল-লাফযি ফিল কুরআনিল কারিম ওয়া আসরারুহু আল-বালাগিয়্যাহ', সালিহ আশ-শাসরি (পৃষ্ঠা: ১৪)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ১৪)
6 - أيضًا علم المتشابه اللفظي يعد دلالة على صدق نبوة محمد صلى الله عليه وسلم حيث تتجلى الصور البدعية والمعاني العظيمة مطوية في ثناياه، مع أنه أمي لم يقرأ ولم يكتب، قال تعالى: {وَمَا كُنْتَ تَتْلُو مِنْ قَبْلِهِ مِنْ كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذًا لَارْتَابَ الْمُبْطِلُونَ}(1).

7 - يعين علم المتشابه اللفظي على المحافظة على علوم القرآن، وذلك لأن البحث في أوجه التشابه ومحاولة توجيهها يحتاج إلى النظر في اللغة والنحو والبلاغة وأصول الفقه وغيرها، فكان المتشابه اللفظي بذلك سببًا في تحصيل علوم كثيرة(2).

8 – علم المتشابه اللفظي يجعل الباحث يتيقن أن علمه قليلٌ متدبرًا قوله تعالى: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا}(3)؛ لأن الباحث مهما حاول توجيه المتشابه لابد أن يقف عند بعض المواضع قائلًا: الله أعلم بمراده أو يقولها بعد توجيهه لبعض المواضع، فمثلًا الإمام الرازي وهو عالم بحر ذكر بعض المواضع دون أن يوجهها، وبعضها الآخر بعد توجيهها قال: الله أعلم بمراده.

--------------------------------------------

(1) سورة العنكبوت: الآية (48).

(2) «أثر دلالة السياق القرآني في توجيه معنى المتشابه اللفظي في القص/ القرآني دراسة نظرية تطبيقية على آيات قص/ نوح وهود وصالح وشعيب عليهم السلام»، للباحثة: تهاني بنت سالم باحويرث، (ص: 34، 35)، رسالة ماجستير، جامعة أم القرى.

(3) سورة الإسراء: الآية (85).
6 - একইভাবে শব্দের সাদৃশ্য বিষয়ক জ্ঞান (علم المتشابه اللفظي) মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়তের সত্যতার নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়, যেখানে এর পরতে পরতে অলৌকিক চিত্রকল্প এবং মহান অর্থসমূহ নিহিত রয়েছে; অথচ তিনি ছিলেন একজন উম্মি বা নিরক্ষর ব্যক্তি, যিনি পড়তে পারতেন না এবং লিখতেও জানতেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আপনি তো এর পূর্বে কোনো কিতাব তিলাওয়াত করতেন না এবং নিজের ডান হাত দিয়ে তা লিখতেন না, তা হলে মিথ্যাশ্রয়ীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত}(1).

7 - শব্দের সাদৃশ্য বিষয়ক জ্ঞান (علم المتشابه اللفظي) উলূমুল কুরআন সংরক্ষণে সহায়তা করে। এর কারণ হলো, সাদৃশ্যের দিকগুলো নিয়ে অনুসন্ধান এবং সেগুলোর সঠিক অর্থ ও তাৎপর্য (توجيه) নির্ণয়ের প্রচেষ্টায় ভাষাবিজ্ঞান, ব্যাকরণ (نحو), অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة), উসূলে ফিকহ (أصول الفقه) এবং অন্যান্য শাস্ত্রের পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়। ফলে শব্দের সাদৃশ্য বিষয়ক শাস্ত্রটি বহুবিধ জ্ঞান অর্জনের একটি উপায়ে পরিণত হয়েছে(2).

8 – শব্দের সাদৃশ্য বিষয়ক জ্ঞান (علم المتشابه اللفظي) একজন গবেষককে এই দৃঢ় বিশ্বাস এনে দেয় যে, তার জ্ঞান অত্যন্ত নগণ্য; এর মাধ্যমে তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর গভীর চিন্তা করেন: {তোমাদেরকে অতি সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে}(3); কারণ গবেষক সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়সমূহের (المتشابه) ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য যতই চেষ্টা করুন না কেন, তাকে অবশ্যই কোনো কোনো স্থানে থেমে গিয়ে বলতে হয়: 'আল্লাহই তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালো জানেন', অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা প্রদানের পর তিনি এ কথাটি বলেন। উদাহরণস্বরূপ, ইমাম রাজি—যিনি ছিলেন জ্ঞানের এক সুবিশাল সমুদ্র—তিনি কিছু স্থান কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই উল্লেখ করেছেন এবং অন্য কিছু ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা প্রদানের পর বলেছেন: 'আল্লাহই তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালো জানেন'।

--------------------------------------------

(1) সূরা আল-আনকাবুত: আয়াত (৪৮)।

(2) «কুরআনিক কাহিনীর ক্ষেত্রে শব্দের সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের অর্থ নির্ধারণে কুরআনিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব: নূহ, হুদ, সালিহ এবং শুআইব (আলাইহিমুস সালাম)-এর কাহিনীর আয়াতসমূহের ওপর একটি তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক গবেষণা», গবেষিকা: তাহানি বিনতে সালেম বাহাওয়াইরিস, (পৃ: ৩৪, ৩৫), মাস্টার্স থিসিস, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়।

(3) সূরা আল-ইসরা: আয়াত (৮৫)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحث الثالث: أبرز من صنف في علم المتشابه اللفظي

المتأمل في كتب المتشابه اللفظي يجد أن التصنيف فيه انقسم إلى اتجاهين:

الأول: جمع آيات المتشابه اللفظي دون توجيه:

بدأ التصنيف في علم المتشابه اللفظي بجمع الآيات المتشابهات دون التوجيه، وبيان سبب الاختلاف بين الموضعين، وكان من أوائل ما صُنف في هذا الشأن كتاب متشابه القرآن لعلي بن حمزة الكسائي(1) في القرن الثاني الهجري وقد صرح فيه بهدفه من تأليفه قائلًا: «ليكون كتابنا هذا عونًا للقارئ على قراءته وتقوية على حفظه»(2).

الثاني: توجيه آيات المتشابه اللفظي:

معنى التوجيه لغةً: الوجه: مستقبل كل شئ ومنه قوله تعالى: {فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ}(3)، وَوَجَّه فلانًا في حاجة: أرسله، والوجه في المسألة: ما ظهر لك منها، ويقال: واجَهَهُ بقول أو نقد: جَبَهَه به وراجعه(4).

وقد تحدث الإمام الكرماني(5) في مقدمة كتابه «البرهان في متشابه القرآن لما فيه من الحجة والبيان» عن معنى توجيه المتشابه اللفظي حيث قال: «ولكني أفردت هذا الكتاب لبيان المتشابه؛ فإن الأئمة - رحمهم الله تعالى - قد شرعوا في تصنيفه واقتصروا على ذكر الآية ونظيرتها، ولم يشتغلوا بذكر وجوهها وعللها والفرق بين الآية ومثلها»(6).

--------------------------------------------

(1) هو علي بن حمزة بن عبد الله بن بهمن بن فيروز، الأسدي المعروف بالكسائي النحوي أحد أئمة القراء من أهل الكوفة. ولد في الكوفة نحو (120 هـ)، وقيل: في سبب تسميته الكسائي: أنه كان يحضر مجلس حمزة بالليل ملتفًا في كساء، وقيل: أحرم في كساء، فلقب الكسائي يُنظر: «إنباه الرواة على أنباه النحاة»، القفطي (2/ 256)، و «الأعلام»، للزركلي، (4/ 283).

(2) يُنظر: «متشابه القرآن» للكسائي، تحقيق: د/ محمد محمد داود، دار المنار للنشر والتوزيع، (ص: 40).

(3) سورة البقرة، الآية: (115). ويُنظر: «تاج العروس من جواهر القاموس» للزبيدي، تحقيق: علي هلالي، ط 2، الكويت، إصدار وزارة الإعلام، سلسلة التراث العربي، 1407 هـ، (36/ 535 - 540).

(4) يُنظر: «المعجم الوسيط»، مجمع اللغة العربية، مصر، مكتبة الشروق الدولية، (2/ 1015)، و «المعجم الوجيز»، مجمع اللغة العربية، مطابع الأهرام، مكتبة دبي للتوزيع (ص: 661، 662).

(5) هو محمود بن حمزة بن نصر، أبو القاسم برهان الدين الكَرْماني، النحوي، تاج القراء، تُوفي سنة 505 هـ تقريبًا، يُنظر ترجمته في: «غاية النهاية»، لابن الجزري (2/ 291)، و «طبقات المفسرين» للداودي (2/ 312).

(6) «البرهان في توجيه متشابه القرآن لما فيه من الحجة والبيان»، للكرماني، تحقيق: السيد الجميلي، مركز الكتاب للنشر، القاهرة، (ص: 12).
‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়াবলির জ্ঞানশাস্ত্রে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থকারগণ

শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়াবলির কিতাবসমূহ গভীর পর্যালোচনাকারী দেখতে পাবেন যে, এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনার ধারাটি দুটি ধারায় বিভক্ত হয়েছে:

প্রথম: ব্যাখ্যা প্রদান ব্যতিরেকে কেবল শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) আয়াতসমূহ সংকলন করা:

শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়ের জ্ঞানশাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার সূত্রপাত হয়েছিল ব্যাখ্যা (التوجيه) প্রদান এবং দুই স্থানের মধ্যে পার্থক্যের কারণ বর্ণনা ছাড়াই কেবল সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতসমূহ সংকলনের মাধ্যমে। এ বিষয়ে রচিত প্রাথমিক গ্রন্থসমূহের মধ্যে হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে আলী ইবনে হামজা আল-কিসায়ীর(১) রচিত 'মুতাশাবিহুল কুরআন' অন্যতম। এতে তিনি তাঁর গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে বলেন: "যাতে আমাদের এই কিতাবটি পাঠকের জন্য তাঁর তিলাওয়াতে সহায়ক হয় এবং তাঁর হিফজকে সুদৃঢ় করে।"(২)।

দ্বিতীয়: শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা (التوجيه) প্রদান:

আভিধানিক অর্থে ব্যাখ্যা (التوجيه)-এর অর্থ: 'আল-ওয়াজহ' হলো কোনো বস্তুর সম্মুখভাগ, এর থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান}(৩)। আর বলা হয় অমুক ব্যক্তিকে কোনো প্রয়োজনে 'ওয়াজজাহা' অর্থাৎ প্রেরণ করা হয়েছে। কোনো মাসআলার 'ওয়াজহ' হলো যা আপনার সামনে প্রকাশ পায়। আরও বলা হয়: তিনি তাঁর সাথে কোনো কথা বা সমালোচনার মাধ্যমে 'ওয়াজাহাহু' অর্থাৎ সরাসরি মুখোমুখি হয়েছেন এবং উত্তর দিয়েছেন(৪)।

ইমাম আল-কিরমানি(৫) তাঁর 'আল-বুরহান ফি মুতাশাবিহিল কুরআন লিমা ফিহি মিনাল হুজ্জাতি ওয়াল বায়ান' গ্রন্থের ভূমিকায় শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা (توجيه)-এর অর্থ প্রসঙ্গে বলেছেন: "তবে আমি এই কিতাবটি মুতাশাবিহ বা সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের বর্ণনার জন্য স্বতন্ত্রভাবে প্রস্তুত করেছি। কেননা ইমামগণ—আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহম করুন—এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা শুরু করেছিলেন এবং কেবল একটি আয়াত ও তার সদৃশ অন্য আয়াতটি উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। তাঁরা সেগুলোর ব্যাখ্যা (وجوه), কারণসমূহ (علل) এবং একটি আয়াতের সাথে অন্যটির পার্থক্যের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেননি।"(৬)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আলী ইবনে হামজা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাহমান ইবনে ফিরোজ, আল-আসাদি; যিনি কিসায়ী নাহবী হিসেবে পরিচিত এবং কূফার অন্যতম কিরাত বিশেষজ্ঞ ইমাম। তিনি ১২০ হিজরির দিকে কূফায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম 'কিসায়ী' হওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, তিনি রাতের বেলা হামজার মজলিসে একটি চাদরে (কিসা) আবৃত হয়ে উপস্থিত হতেন। আবার কেউ কেউ বলেন, তিনি চাদর পরিহিত অবস্থায় ইহরাম বেঁধেছিলেন, তাই তাঁকে কিসায়ী উপাধি দেওয়া হয়। দেখুন: আল-কিফতি রচিত 'ইনবাহুর রুওয়াত আলা আনবাহিন নুহাত' (২/ ২৫৬) এবং আয-যিরিকলি রচিত 'আল-আলাম' (৪/ ২৮৩)।

(২) দেখুন: কিসায়ী রচিত 'মুতাশাবিহুল কুরআন', তাহকিক: ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ দাউদ, দারুল মানার পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, (পৃ. ৪০)।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (১১৫)। আরও দেখুন: আজ-জাবিদি রচিত 'তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরিল কামুস', তাহকিক: আলী হিলালি, ২য় সংস্করণ, কুয়েত, তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত, সিলসিলাতুল তুরাসিল আরবি, ১৪০৭ হিজরি, (৩৬/ ৫৩৫ - ৫৪০)।

(৪) দেখুন: 'আল-মুজামুল ওয়াসিত', মাজমাউল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ, মিশর, মাকতাবাতুশ শুরূক আদ-দুওয়ালিয়্যাহ, (২/ ১০১৫) এবং 'আল-মুজামুল ওয়াজিজ', মাজমাউল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ, মাতাবিউল আহরাম, মাকতাবাতু দুবাই লিত-তাওযি (পৃ. ৬৬১, ৬৬২)।

(৫) তিনি হলেন মাহমুদ ইবনে হামজা ইবনে নাসর, আবু কাসিম বুরহানুদ্দিন আল-কিরমানি, নাহবী, তাজুল কুরা। তিনি আনুমানিক ৫০৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: ইবনুল জাজারি রচিত 'গায়াতুন নিহায়াহ' (২/ ২৯১) এবং আদ-দাওদি রচিত 'তাবাকাতুল মুফাসসিরিন' (২/ ৩১২)।

(৬) আল-কিরমানি রচিত 'আল-বুরহান ফি তাওজিহি মুতাশাবিহিল কুরআন লিমা ফিহি মিনাল হুজ্জাতি ওয়াল বায়ান', তাহকিক: আস-সাইয়্যিদ আল-জুমায়লি, মারকাযুল কিতাব লিন-নাশ্‌র, কায়রো, (পৃ. ১২)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وظهر هذا الاتجاه مع ظهور الطاعنين والقائلين بالتكرار في النص القرآني.

فقد ذكر الإمام الإسكافي (أول من صنف كتابًا مستقلًا في توجيه المتشابه اللفظي) أن من أسباب تأليفه لدرة التنزيل: ((" ولطعن الجاحدين ردًا، ولمسلك الملحدين سدًا " وفي نهاية الكتاب يقول: " هذا آخر ما تكلمنا عليه من الآيات التي يقصد الملحدون التطرق منها إلى عيبها))(1)

وقد مر علم المتشابه اللفظي بعدة مراحل حتى وصل إلى مرحلة التوجيه ومعرفة سبب اختلاف المواضع، وقد قامت عدة محاولات اجتهادية لمعرفة المراحل المختلفة التي مر بها علم المتشابه اللفظي.

قال الدكتور محمد البركة: «إن القول في تقسيم علم من العلوم إلى مراحل متغايرة قول اجتهادي، يختلف باختلاف الباحثين، ومدى اطلاعهم وسبرهم لذلك العلم. وعلى كل فالأمر فيه واسع، وليس في ذلك قول فصل يُذعن له كل أحد»(2).

ومن هذه المحاولات الاجتهادية:

وضع آيدين محقق الدرة تصورًا لمراحل نشأة علم المتشابه اللفظي وتطورها ولخصها في أربع مراحل وها هي بإيجاز شديد:

1 – النشأة والتأليف وذكر فيها كتاب الكسائي: (متشابه القرآن)، وكتاب ابن المنادي: (متشابه القرآن العظيم).

2 – التوسع في هذا الباب والتأليف.

3 - حصر المتشابهات على أساس كل سورة سورة بحسب ترتيب المصحف.

4 - توجيه الأسباب وبيان السبب(3).

كما قام أحد الباحثين بالتوسع في تقسيم المراحل التي مر بها علم المتشابه اللفظي وخَلُص في بحثه إلى تقسيمها إلى سبع مراحل:

--------------------------------------------

(1) يُنظر: «درة التنزيل وغرة التأويل»، تحقيق ودراسة مصطفى آيدين، (1/ 138) ط 1، جامعة أم القرى، مكة المكرمة.

(2) «المتشابه اللفظي في القرآن الكريم وتوجيهه دراسة موضوعية»، لمحمد البركة، (1/ 88)، رسالة ماجستير، جامعة الإمام محمد بن سعود.

(3) يُنظر: «درة التنزيل وغرة التأويل»، تحقيق ودراسة مصطفى آيدين، (1/ 64 - 68) ط 1، جامعة أم القرى، مكة المكرمة.
কুরআনের পাঠে (Text) পুনরাবৃত্তির প্রবক্তা এবং সমালোচকদের আবির্ভাবের সাথে সাথে এই ধারার উদ্ভব ঘটে।

ইমাম ইসকাফি (যিনি শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়ের ব্যাখ্যায় প্রথম স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন) উল্লেখ করেছেন যে, তার 'দুররাতুত তানজিল' গ্রন্থটি রচনার অন্যতম কারণ হলো: "অস্বীকারকারীদের আক্রমণের জবাব দেওয়া এবং নাস্তিকদের পথ রুদ্ধ করা।" গ্রন্থের শেষে তিনি বলেন: "নাস্তিকরা যেসব আয়াতের মাধ্যমে খুঁত ধরার অপচেষ্টা চালায়, সেগুলোর বিষয়ে আমাদের আলোচনার এখানেই সমাপ্তি।"(1)

শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়ের জ্ঞান বেশ কিছু পর্যায় অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত এর কারণ ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণের স্তরে পৌঁছেছে। এই জ্ঞান যেসব বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে, তা নিরূপণে বেশ কিছু গবেষণামূলক (اجتهادي) প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

ডক্টর মুহাম্মদ আল-বারাকাহ বলেন: "কোনো জ্ঞান বা বিজ্ঞানকে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত করা একটি গবেষণামূলক (اجتهادي) বিষয়, যা গবেষকদের ভিন্নতা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের অধ্যায়ন ও পর্যালোচনার গভীরতার ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যা-ই হোক, বিষয়টি বেশ প্রশস্ত এবং এতে এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই যা সবার জন্য মানা বাধ্যতামূলক।"(2).

এ ধরনের গবেষণামূলক (اجتهادي) প্রচেষ্টাসমূহের মধ্যে রয়েছে:

'দুররাহ' গ্রন্থের গবেষক আয়দিন শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিজ্ঞানের উদ্ভব ও বিকাশের পর্যায়গুলো সম্পর্কে একটি রূপরেখা প্রদান করেছেন এবং সেগুলোকে চারটি পর্যায়ে অত্যন্ত সংক্ষেপে সারসংক্ষেপ করেছেন:

১ – উদ্ভব ও গ্রন্থায়ন; যেখানে তিনি কিসায়ীর 'মুতাশাবিহুল কুরআন' এবং ইবনুল মুনাদির 'মুতাশাবিহুল কুরআনিল আজিম' গ্রন্থদ্বয় উল্লেখ করেছেন।

২ – এই অধ্যায়ের বিস্তার ও গ্রন্থায়ন।

৩ - মুসহাফের ক্রম অনুসারে প্রতিটি সূরার ভিত্তিতে সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতগুলোকে সীমাবদ্ধ বা একত্রিত করা।

৪ - কারণসমূহ ব্যাখ্যা করা ও বিশ্লেষণ করা(3).

তেমনিভাবে একজন গবেষক শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিজ্ঞানের পর্যায়গুলোকে আরও বিস্তারিতভাবে বিভক্ত করেছেন এবং তার গবেষণায় একে সাতটি পর্যায়ে ভাগ করেছেন:

--------------------------------------------

(1) দ্রষ্টব্য: «দুররাতুুত তানজিল ওয়া গুররাতুত তাউইল», মুস্তফা আয়দিন সম্পাদিত ও গবেষণাকৃত, (১/ ১৩৮), ১ম সংস্করণ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা মুকাররমা।

(2) «আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি ফিল কুরআনিল কারিম ওয়া তাওজিহুহু: দিরাসাতুন মাউদুয়িয়্যাহ», মুহাম্মদ আল-বারাকাহ প্রণীত, (১/ ৮৮), মাস্টার্স থিসিস, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়।

(3) দ্রষ্টব্য: «দুররাতুুত তানজিল ওয়া গুররাতুত তাউইল», মুস্তফা আয়দিন সম্পাদিত ও গবেষণাকৃত, (১/ ৬৪-৬৮), ১ম সংস্করণ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা মুকাররমা।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ১৭)
الأولى: مرحلة ما قبل الجمع والتدوين، الثانية: مرحلة الجمع والتدوين، الثالثة: مرحلة التوجيه، الرابعة: مرحلة النظم، الخامسة: مرحلة الركود، السادسة: مرحلة الفهارس والمعاجم القرآنية، السابعة: مرحلة الدراسة والتجديد(1)، وقد قام الباحث بالحديث عن كل مرحلة من المراحل(2).

وعلى هذا يمكن أن نقسم المؤلفات التي اهتمت بجمع وتوجيه الآيات المتشابهة إلى قسمين:

القسم الأول: كتب ركزت على توجيه آيات المتشابه اللفظي في كتب مستقلة أُلفت في توجيه المتشابه اللفظي. ومن أشهر تلك الكتب:

- كتاب (درة التنزيل وغرة التأويل) للخطيب الإسكافي(3)، وهو أهم كتاب في هذا الباب، وأول كتاب صُنف في توجيه آيات المتشابه اللفظي.

- كتاب (البرهان في توجيه متشابه القرآن لما فيه من الحجة والبيان) لمحمود بن حمزة الكرماني.

- كتاب (ملاك التأويل القاطع بذوي الإلحاد والتعطيل) لابن الزبير الغرناطي وهو من أوسع الكتب التي تناولت الكثير من المواضع.

- كتاب (كشف المعاني في المتشابه من المثاني) لبدر الدين ابن جماعة(4).

- كتاب (فتح الرحمن بكشف ما يلتبس من القرآن)، للشيخ زكريا الأنصاري(5) وهو اختصار لكتاب (البرهان).

--------------------------------------------

(1) يُنظر: «توجيه المتشابه اللفظي بين القدامى والمحدثين»، د/ محمد رجائي أحمد الجبالي، رسالة دكتوراه، جامعة ملايا، كوالالمبور، (ص: 70 – 71).

(2) يُنظر المرجع السابق (ص: 70 - 91).

(3) هو أبو عبد الله محمد بن عبد الله الأصبهاني يُعرف بالخطيب الإسكافي (ت: 420 هـ) عالم من كبار علماء الأدب واللغة في عصره، من أهل أصفهان، كان إسكافيًا، ثم خطيبًا بالري، من أشهر كتبه درة التنزيل وغرة التأويل. يُنظر ترجمته في: «معجم الأدباء» (6/ 2549)، و «الأعلام» للزركلي (6/ 221 - 227).

(4) هو أبو عبد الله بدر الدين محمد إبراهيم بن سعد بن جماعة الكناني الحموي الشافعي، (639 هـ-733 هـ) من العلماء بالحديث وسائر علوم الدين. وُلد في حماة. وولي الحكم والخطابة بالقدس، ثم القضاء بمصر، فقضاء الشام، ثم قضاء مصر إلى أن شاخ وعمي، كان من خيار القضاة، وتوفي بمصر. يُنظر ترجمته في: «البداية والنهاية»، (4/ 163)، و «شذرات الذهب»، (6/ 105)، و «طبقات الشافعية»، (1/ 386).

(5) هو الشيخ الإمام، شيخ مشايخ الإسلام قاضي القضاة زين الدين أبو يحيى زكريا بن محمد بن زكريا الأنصاري السُنَيكي -نسبة إلى سُنَيكة من قرى محافظة الشرقية بمصر- المصري، الأزهري، الشافعي، (823 - 926 هـ) يُنظر ترجمته في: «الكواكب السائرة بأعيان المئة العاشرة» لنجم الدين الغزي (1/ 196 – 207)، و «الأعلام» للزركلي (3/ 46).
প্রথম: সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণের পূর্ববর্তী পর্যায়, দ্বিতীয়: সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণের পর্যায়, তৃতীয়: ব্যাখ্যা ও নির্দেশনার (توجيه) পর্যায়, চতুর্থ: বিন্যাস ও সুশৃঙ্খলকরণের পর্যায়, পঞ্চম: স্থবিরতার পর্যায়, ষষ্ঠ: সূচিপত্র ও কুরআনিক অভিধান প্রণয়নের পর্যায়, সপ্তম: গবেষণা ও আধুনিকায়নের পর্যায়(১)। গবেষক প্রতিটি পর্যায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন(২)।

এর ভিত্তিতে, সদৃশ আয়াতসমূহ সংকলন ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে রচিত গ্রন্থগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:

প্রথম বিভাগ: সেসব গ্রন্থ যা শাব্দিক সদৃশ আয়াতসমূহের (المتشابه اللفظي) ব্যাখ্যার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বতন্ত্রভাবে রচিত হয়েছে। এই বিষয়ের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:

- আল-খতিব আল-ইস্কাফি রচিত কিতাব (দুররাতুত তানজিল ওয়া গুররাতুত তাবিল)(৩); এটি এই বিষয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ এবং শাব্দিক সদৃশ আয়াতসমূহের ব্যাখ্যার ওপর রচিত প্রথম কিতাব।

- মাহমুদ বিন হামজা আল-কিরমানি রচিত কিতাব (আল-বুরহান ফি তাওজিহি মুতাشাবিহিল কুরআন লিমা ফিহি মিনাল হুজ্জাতি ওয়াল বায়ান)।

- ইবনুল জুবাইর আল-গারনাতি রচিত কিতাব (মিলাকুত তাবিল আল-কাতে’ বিযাউইল ইলহাদ ওয়াত তা’তিল); এটি এই বিষয়ের অত্যন্ত বিস্তৃত একটি গ্রন্থ যাতে অনেকগুলো স্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

- বদরুদ্দিন ইবনে জামাআহ রচিত কিতাব (কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাসানি)(৪)।

- শেখ জাকারিয়া আল-আনসারি রচিত কিতাব (ফাতহুর রহমান বি-কাশফি মা ইয়ালতাবিসু মিনাল কুরআন)(৫); যা (আল-বুরহান) গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত রূপ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «তওজিহুল মুতাশাবিহ আল-লাফজি বাইনাল কুদামা ওয়াল মুহাদ্দিসিন», ড. মুহাম্মদ রাজায়ি আহমদ আল-জিবালি, পিএইচডি থিসিস, ইউনিভার্সিটি অফ মালয়া, কুয়ালালামপুর, (পৃষ্ঠা: ৭০-৭১)।

(২) পূর্বোক্ত সূত্র (পৃষ্ঠা: ৭০-৯১)।

(৩) তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানি, যিনি খতিব আল-ইস্কাফি (মৃত্যু: ৪২০ হিজরি) নামে পরিচিত। তিনি তার যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য ও ভাষাবিদ ছিলেন। তিনি আসবাহানের অধিবাসী ছিলেন; প্রথমে চর্মকার (إسكافي) ছিলেন, পরবর্তীতে ‘রাই’ শহরের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘দুররাতুত তানজিল ওয়া গুররাতুত তাবিল’। তার জীবনী দেখুন: «মুজামুল উদাবা» (৬/২৫৪৯), এবং আল-জিরিকলি রচিত «আল-আলাম» (৬/২২১-২২৭)।

(৪) তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ বদরুদ্দিন মুহাম্মদ ইব্রাহিম বিন সাদ বিন জামাআহ আল-কিনানি আল-হামাউয়ি আশ-শাফেয়ি (৬৩৯ হিজরি - ৭৩৩ হিজরি)। তিনি হাদিস ও অন্যান্য ধর্মীয় শাস্ত্রে পারদর্শী পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি হামাহ-তে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জেরুজালেমে বিচারকার্য ও খুতবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন, এরপর মিশরের বিচারক, অতঃপর সিরিয়ার বিচারক এবং পুনরায় মিশরের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বার্ধক্য ও দৃষ্টিশক্তি হারানো পর্যন্ত। তিনি বিচারকদের মধ্যে অত্যন্ত সজ্জন ছিলেন এবং মিশরে মৃত্যুবরণ করেন। তার জীবনী দেখুন: «আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া» (৪/১৬৩), «শাযারাতুয যাহাব» (৬/১০৫), এবং «তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ» (১/৩৮৬)।

(৫) তিনি হলেন আল-ইমাম, শায়খুল ইসলাম, প্রধান বিচারপতি (قاضي القضاة) জয়নুদ্দিন আবু ইয়াহইয়া জাকারিয়া বিন মুহাম্মদ বিন জাকারিয়া আল-আনসারি আস-সুনাইকি—মিশরের শারকিয়া প্রদেশের সুনাইকা গ্রামের অধিবাসী—আল-মিসরি, আল-আজহারি, আশ-শাফেয়ি (৮২৩ - ৯২৬ হিজরি)। তার জীবনী দেখুন: নাজমুদ্দিন আল-গাজ্জি রচিত «আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়্যিরাহ বি-আ’য়ানিল মিয়াতিল আশিরাহ» (১/১৯৬-২০৭) এবং আল-জিরিকলি রচিত «আল-আলাম» (৩/৪৬)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد قام د/ صالح الشثري بتناول هذه الكتب، وأصحابها، ومناهجهم في رسالته (المتشابه اللفظي في القرآن الكريم وأسراره البلاغية)(1).

القسم الثاني:

توجيه آيات المتشابه اللفظي في كتب التفسير وعلوم القرآن التي اهتمت بهذا الأمر وقد تطرق محقق درة التنزيل د/ مصطفى آيدين إلى كتب التفسير التي تناولت بعض مسائل المتشابه اللفظي بالتوجيه.

يقول د/ مصطفى آيدين: "ويلحق بهذا النوع كتب تعرض أصحابها- في بعض المواضع للحديث عن توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم، أثناء تفسير القرآن الكريم، أو رد شبهات الطاعنين، ولكنهم تناولوا هذا النوع من التوجيه بمنهج آخر، غير الذي لجأ إليه أصحاب الكتب المتخصصة في هذا الفن، من طرح سؤال وجواب»(2).

ولا ننسى في هذا المقام التنبيه إلى أن هؤلاء قد يفوقون وإن كان في قليل من المواضع على تعليلات وتوجيهات أصحاب هذا الشأن، وقد أشرت إليها في هوامش الكتاب في كثير من الأحيان.

ومن تلك الكتب:

«تأويل مشكل القرآن»، لابن قتيبة ت 276 هـ، و «جامع البيان عن تأويل آي القرآن»، لابن جرير الطبري ت 310 هـ، و «معاني القرآن» لأبي جعفر النحاس ت 338 هـ، و «تنزيه القرآن عن المطاعن»، للقاضي عبد الجبار بن أحمد ت 415 هـ، و «الكشاف» للزمخشري 538 هـ، و «المحرر الوجيز»، لابن عطية ت 542 هـ، و «زاد المسير» لابن الجوزي ت 597 هـ، و «التفسير الكبير» للفخر الرازي 606 هـ، و «الجامع لأحكام القرآن» للقرطبي ت 671 هـ، و «أنموذج جليل في أسئلة وأجوبة من غرائب آي التنزيل» لمحمد بن أبي بكر الرازي صاحب مختار الصحاح توفي بعد سنة 691 هـ، و «غرائب القرآن ورغائب الفرقان» للحسين بن محمد

--------------------------------------------

(1) «المتشابه اللفظي في القرآن الكريم وأسراره البلاغية»، (من ص: 13 - 108).

(2) لا أتفق (الباحثة) مع د/ مصطفى آيدين في أن المفسرين لم يعرضوا المتشابه اللفظي في سؤال وجواب وسأوضح بالأمثلة أن الإمام الرازي مثلًا ذكر الكثير من مواضع المتشابه اللفظي في سؤال وجواب عند الحديث عن منهج الإمام الرازي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم. ينظر «تفسيره الكبير» (2/ 21)، وللمزيد يُنظر: «درة التنزيل وغرة التأويل» للإسكافي (1/ 143، 144).
ড. সালেহ আশ-শাতরি তার থিসিস (আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি ফিল কুরআনিল কারিম ওয়া আসরারুহু আল-বালাগিয়্যাহ)(১)-এ এই কিতাবসমূহ, তাদের রচয়িতাগণ এবং তাদের পদ্ধতিসমূহ (منهج) আলোচনা করেছেন।

দ্বিতীয় অংশ:

তাফসির এবং উলুমুল কুরআনের কিতাবসমূহে শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান (توجيه) যা এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে। 'দুররাতুত তানজিল'-এর মুহাক্কিক (محقق) ড. মুস্তাফা আয়দিন সেই সব তাফসির গ্রন্থের অবতারণা করেছেন যা শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) কিছু মাসআলার (مسائل) ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ (توجيه) নিয়ে আলোচনা করেছে।

ড. মুস্তাফা আয়দিন বলেন: "এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো সেইসব কিতাব যেগুলোর রচয়িতাগণ পবিত্র কুরআনের তাফসির করার সময় অথবা সমালোচকদের সংশয় নিরসনের সময় কিছু কিছু স্থানে পবিত্র কুরআনের শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়ের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে তারা এই প্রকারের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকে এমন এক ভিন্ন পদ্ধতিতে (منهج) গ্রহণ করেছেন যা এই শাস্ত্রের (فن) বিশেষজ্ঞগণের অনুসৃত প্রশ্ন ও উত্তর উপস্থাপন পদ্ধতি থেকে ভিন্ন ছিল"(২)।

এই পর্যায়ে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, তারা (সাধারণ মুফাসসিরগণ) কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণের কারণ দর্শানো এবং ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের (توجيهات) তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, যা আমি প্রায়ই এই কিতাবের টীকাগুলোতে নির্দেশ করেছি।

সেই কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে:

ইবনে কুতাইবা (মৃত্যু ২৭৬ হি.)-এর 'তাউয়িলু মুশকিলিল কুরআন', ইবনে জারির আত-তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হি.)-এর 'জামি আল-বায়ান আন তাউয়িলি আইল কুরআন', আবু জাফর আন-নাহহাস (মৃত্যু ৩৩৮ হি.)-এর 'মাআনিল কুরআন', কাজি আব্দুল জব্বার বিন আহমদ (মৃত্যু ৪১৫ হি.)-এর 'তানজিহুল কুরআন আনিল মাতাঈন', যামাখশারি (মৃত্যু ৫৩৮ হি.)-এর 'আল-কাশশাফ', ইবনে আতিয়্যাহ (মৃত্যু ৫৪২ হি.)-এর 'আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ', ইবনে জাওজি (মৃত্যু ৫৯৭ হি.)-এর 'জাদুল মাসির', ফখরুদ্দিন রাজি (মৃত্যু ৬০৬ হি.)-এর 'আত-তাফসিরুল কাবির', কুরতুবি (মৃত্যু ৬৭১ হি.)-এর 'আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন', 'মুখতারুস সিহাহ'-এর রচয়িতা মুহাম্মদ বিন আবু বকর আর-রাজি (মৃত্যু ৬৯১ হিজরির পর)-এর 'উনামুজাজুন জালিল ফি আসইলাতিন ওয়া আজউইবাতিন মিন গারায়িবি আইত তানজিল', এবং হুসাইন বিন মুহাম্মদ-এর 'গারায়িবুল কুরআন ওয়া রাগায়িবুল ফুরকান'

--------------------------------------------

(১) 'আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি ফিল কুরআনিল কারিম ওয়া আসরারুহু আল-বালাগিয়্যাহ', (পৃষ্ঠা: ১৩ - ১০৮)।

(২) আমি (গবেষিকা) ড. মুস্তাফা আয়দিনের সাথে এই বিষয়ে একমত নই যে মুফাসসিরগণ শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়গুলো প্রশ্ন ও উত্তর আকারে উপস্থাপন করেননি। আমি উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করব যে, ইমাম রাজি যেমন পবিত্র কুরআনের শব্দগত সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদানের পদ্ধতির আলোচনায় অনেক স্থানে প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমে তা উল্লেখ করেছেন। দ্রষ্টব্য: তাঁর 'তাফসিরুল কাবির' (২/ ২১), এবং অধিকতর তথ্যের জন্য দ্রষ্টব্য: ইসকাফির 'দুররাতুত তানজিল ওয়া গুররাতুত তাউয়িল' (১/ ১৪৩, ১৪৪)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ১৯)
النيسابوري ت 728 هـ، و «لباب التأويل في معاني التنزيل» للخازن ت 741 هـ، و «البحر المحيط» لأبي حيان ت 745 هـ، و «الدر المصون في علوم الكتاب المكنون» للسمين الحلبي ت 756 هـ، و «تفسير القرآن العظيم» لابن كثير ت 774 هـ، و «بصائر ذوي التمييز في لطائف الكتاب العزيز»، لمحمد بن يعقوب الفيروز آبادي ت 817 هـ، و «الفتوحات الإلهية»، المعروف بحاشية الجمل للشيخ سليمان بن عمر ت 1204 هـ، و «روح المعاني» للآلوسي ت 270 هـ، و «تفسير التحرير والتنوير» لابن عاشور ت 1393 هـ)(1).

كما قال محقق كتاب البرهان للكرماني: «لقد وجدت أن بعض المفسرين كأبي السعود وأبي حيان تعرضوا في قليل من المواضع للحديث عن المكرر، ولكنهم عالجوه بمنهج آخر غير الذي لجأ إليه الكرماني. وإن كان قليل منها تفوق على تعليلات الكرماني»(2).

- فإن كان هناك علماء اهتموا بتوجيه آيات المتشابه اللفظي في كتب مستقلة مثل الإسكافي صاحب درة التنزيل الذي كان أول من قدم كتابًا مستقلًا في توجيه الآيات المتشابهات، وابن الزبير الثقفي الأندلسي فارس هذا الميدان صاحب ملاك التأويل الذي يُعتبر أوسع الكتب التي توسعت في توجيه آيات المتشابه اللفظي، وكذلك الكرماني صاحب كتاب البرهان في متشابهات القرآن، وابن جماعة في كشف المعاني، والأنصاري في فتح الرحمن.

- فإني أجد أن هناك من المفسرين من حرص على توجيه آيات المتشابه اللفظي أثناء تفسيرهم للآيات المتشابهات أمثال: الزمخشري، والرازي، وأبي حيان، وأبي السعود، والألوسي، وابن عاشور، وبعض المفسرين قد يفوقون في تعليلاتهم وتوجيهاتهم أصحاب الكتب التي استقلت بالتأليف في المتشابه، بل نجد تأثر علماء المتشابه اللفظي بهم في كتبهم كما تأثر الإمام ابن الزبير الثقفي الأندلسي بعدد من المفسرين في ملاك التأويل، ونقل رأي الإمام الرازي في بعض المسائل كما سأوضح عند الحديث عن منهج الإمام الرازي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

- فلا يكاد يخلو كتاب من كتب التفسير إلا وقد تطرق لتوجيه بعض آيات المتشابه اللفظي بل حتى كتب التفسير بالمأثور لم تخلُ من توجيه بعض آيات المتشابه اللفظي فنجد مثلًا في تفسير ابن كثير عند تفسير قوله تعالى: {وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ

--------------------------------------------

(1) «درة التنزيل وغرة التأويل»، (1/ 82 - 85) باختصار.

(2) «البرهان في توجيه متشابه القرآن»، للكرماني، تحقيق: عبد القادر أحمد عطا، دار الكتب العلمية، الطبعة الأولى، (مقدمة/ 14).
আল-নাইসাবুরি (মৃত্যু ৭২৮ হি.), এবং আল-খাজিন-এর (মৃত্যু ৭৪১ হি.) 'লুবাবুত তাবিল ফি মাআনিত তানজিল', এবং আবু হাইয়্যান-এর (মৃত্যু ৭৪৫ হি.) 'আল-বাহরুল মুহিত', এবং সামিন আল-হালাবি-এর (মৃত্যু ৭৫৬ হি.) 'আদ-দুররুল মাসুন ফি উলূমিল কিতাবিল মাকনুন', এবং ইবনে কাসীর-এর (মৃত্যু ৭৭৪ হি.) 'তাফসিরুল কুরআনিল আজিম', এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আল-ফাইরুজাবাদি-এর (মৃত্যু ৮১৭ হি.) 'বাসায়িরু যাউয়িত তামীজ ফি লাতায়িফিল কিতাবিল আজিজ', এবং শায়খ সুলাইমান ইবনে উমর-এর (মৃত্যু ১২০৪ হি.) 'আল-ফুতুহাতুল ইলাহিয়্যাহ' যা 'হাশিয়াতুল জামাল' নামে পরিচিত, এবং আলূসি-এর (মৃত্যু ১২৭০ হি.) 'রুহুল মাআনি', এবং ইবনে আশুর-এর (মৃত্যু ১৩৯৩ হি.) 'তাফসিরুত তাহরির ওয়াত তানভির')(১).

যেমন কির্মানি রচিত 'আল-বুরহান' গ্রন্থের গবেষক (محقق) বলেছেন: «আমি দেখেছি যে, আবুস সাউদ ও আবু হাইয়্যানের মতো কিছু মুফাসসির অল্প কিছু স্থানে পুনরাবৃত্তি (المكرر) নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে তারা কির্মানি যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা থেকে ভিন্ন পদ্ধতিতে বিষয়টি পরিচালনা করেছেন। যদিও তাদের কিছু ব্যাখ্যা কির্মানির যৌক্তিক ব্যাখ্যার (تعليلات) চেয়েও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে»(২).

- যদি এমন কিছু আলেম থাকেন যারা শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) আয়াতসমূহের বিশ্লেষণ (توجيه) প্রদান করার জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনায় গুরুত্বারোপ করেছেন, যেমন: 'দুররাতুত তানজিল'-এর লেখক আল-ইস্কাফি, যিনি সর্বপ্রথম শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতসমূহের বিশ্লেষণে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ উপহার দিয়েছিলেন; এবং এই ময়দানের অশ্বারোহী ইবনুল জুবাইর আল-সাকাফি আল-আন্দালুসি, যিনি 'মিলাকুত তাবিল'-এর লেখক—যাকে শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) আয়াতসমূহের বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিস্তারিত ও বিস্তৃত গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হয়; এবং একইভাবে 'আল-বুরহান ফি মুতাশাবিহাতিল কুরআন'-এর লেখক আল-কির্মানি, 'কাশফুল মাআনি'-তে ইবনে জামাআহ এবং 'ফাতহুর রহমান'-এ আল-আনসারি।

- তবে আমি লক্ষ্য করেছি যে, এমন কিছু মুফাসসির রয়েছেন যারা তাদের তাফসির গ্রন্থে সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা করার সময় শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) আয়াতসমূহের বিশ্লেষণ (توجيه) করতে আগ্রহী ছিলেন; যেমন: যামাখশারি, রাজি, আবু হাইয়্যান, আবুস সাউদ, আলূসি এবং ইবনে আশুর। এমনকি কোনো কোনো মুফাসসির তাদের যৌক্তিক ব্যাখ্যা (تعليلات) ও বিশ্লেষণে (توجيهات) সেইসব লেখকদের ছাড়িয়ে গেছেন যারা সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। বরং আমরা লক্ষ্য করি যে, শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়ের ওপর যারা স্বতন্ত্র গ্রন্থ লিখেছেন, তারাও এই মুফাসসিরদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন; যেমন ইমাম ইবনুল জুবাইর আল-সাকাফি আল-আন্দালুসি তার 'মিলাকুত তাবিল' গ্রন্থে বহু মুফাসসির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন এবং কিছু মাসআলায় ইমাম রাজির মত উদ্ধৃত করেছেন, যা আমি পবিত্র কুরআনের শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) আয়াতসমূহের বিশ্লেষণে (توجيه) ইমাম রাজির মানহাজ বা পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনার সময় স্পষ্ট করব।

- তাফসিরের এমন কোনো কিতাব পাওয়া দুষ্কর যেখানে শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) কিছু আয়াতের বিশ্লেষণ (توجيه) করা হয়নি। এমনকি বর্ণনাভিত্তিক তাফসির (التفسير بالمأثور) গ্রন্থগুলোও শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) আয়াতের বিশ্লেষণ থেকে শূন্য নয়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা ইবনে কাসীরের তাফসিরে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় পাই: {আর যেখান থেকেই তুমি বের হও, মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও...}

--------------------------------------------

(১) «দুররাতুত তানজিল ওয়া গুররাতুত তাবিল», (১/ ৮২ - ৮৫) সংক্ষেপে।

(২) কির্মানি রচিত «আল-বুরহান ফি তাওজিহি মুতাশাবিহিল কুরআন», সম্পাদনা: আব্দুল কাদির আহমাদ আতা, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, প্রথম প্রকাশ, (ভূমিকা/ ১৪)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ২০)
وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِي وَلِأُتِمَّ نِعْمَتِي عَلَيْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ}(1).

هذا أمر ثالث من الله تعالى باستقبال المسجد الحرام من جميع أقطار الأرض، وقد اختلفوا في حكمة هذا التكرار ثلاث مرات، فقيل: تأكيد؛ لأنه أول ناسخ وقع في الإسلام على ما نص عليه ابن عباس وغيره، وقيل: بل هو منزل على أحوال، فالأمر الأول لمن هو مشاهد الكعبة، والثاني لمن هو في مكة غائبًا عنها، والثالث لمن هو في بقية البلدان، هكذا وجهه فخر الدين الرازي. وقال القرطبي: الأول لمن هو بمكة، والثاني لمن هو في بقية الأمصار، والثالث لمن خرج في الأسفار، ورجح هذا الجواب القرطبي، وقيل: إنما ذكر ذلك لتعلقه بما قبله أو بعده من السياق، فقال:

أولًا: {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا}(2) إلى قوله: {إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ}(3)، فذكر في هذا المقام إجابته إلى طلبته وأمره بالقبلة التي كان يود التوجه إليها ويرضاها.

وقال في الأمر الثاني: {وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِنَّهُ لَلْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ}(4)، فذكر أنه الحق من الله وارتقى عن المقام الأول، حيث كان موافقًا لرضا الرسول صلى الله عليه وسلم فبين أنه الحق أيضًا من الله يحبه ويرتضيه، وذكر في الأمر الثالث حكمة قطع حجة المخالف من اليهود الذين كانوا يتحججون باستقبال الرسول إلى قبلتهم، وقد كانوا يعلمون بما في كتبهم أنه سيصرف إلى قبلة إبراهيم عليه السلام إلى الكعبة، وكذلك مشركو العرب انقطعت حجتهم لما صرف الرسول صلى الله عليه وسلم عن قبلة اليهود إلى قبلة إبراهيم التي هي أشرف، وقد كانوا يعظمون وأعجبهم استقبال الرسول صلى الله عليه وسلم إليها، وقيل غير ذلك من الأجوبة عن حكمة التكرار، وقد بسطها فخر الدين الرازي وغيره، والله – سبحان الله – أعلم(5).

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: (149).

(2) سورة البقرة، الآية: (144).

(3) سورة البقرة، الآية: (144).

(4) سورة البقرة، الآية: (149).

(5) تفسير ابن كثير، (1/ 463) تحقيق: سامي محمد سلامة، دار طيبة، الطبعة الثالثة
{আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল তাঁর (মসজিদুল হারামের) দিকে ফিরাও, যাতে মানুষের জন্য তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ (حجة) না থাকে; তবে তাদের মধ্যে যারা সীমালঙ্ঘনকারী তাদের কথা ভিন্ন। অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো। আর যাতে আমি তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত পূর্ণ করতে পারি এবং যাতে তোমরা হেদায়াত প্রাপ্ত হও।}(১).

এটি পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে মসজিদুল হারাম অভিমুখী হওয়ার বিষয়ে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তৃতীয় নির্দেশ। এই নির্দেশের তিনবার পুনরাবৃত্তির হিকমত (প্রজ্ঞা) সম্পর্কে আলিমগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: এটি তাকীদ (সুদৃঢ়করণ) করার জন্য; কারণ এটি ইসলামে কার্যকর হওয়া প্রথম রহিতকারী (ناسخ) বিধান, যেমনটি ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে বর্ণনা (نص) করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন: বরং এটি বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে; প্রথম নির্দেশটি তাদের জন্য যারা সরাসরি কাবার সামনে উপস্থিত, দ্বিতীয়টি যারা মক্কায় অবস্থান করেও কাবা থেকে দূরে আছে, এবং তৃতীয়টি যারা বিশ্বের অন্যান্য জনপদে বসবাস করছে। ফখর উদ্দিন আল-রাজি এভাবেই বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছেন। আল-কুরতুবি বলেছেন: প্রথমটি যারা মক্কায় আছে তাদের জন্য, দ্বিতীয়টি যারা অন্যান্য শহরগুলোতে আছে তাদের জন্য, আর তৃতীয়টি যারা সফরে বের হয়েছে তাদের জন্য। ইমাম আল-কুরতুবি এই উত্তরটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন: পূর্ববর্তী বা পরবর্তী প্রসঙ্গের (سياق) সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে এটি উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন:

প্রথমত: {নিশ্চয়ই আমি আকাশের দিকে আপনার মুখমণ্ডলের বারবার তাকানো লক্ষ্য করছি। সুতরাং আমি আপনাকে অবশ্যই এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন}(২) থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {নিশ্চয়ই যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা জানে যে, এটি তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য। আর তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ গাফেল নন}(৩)। এখানে এই স্থানে তাঁর প্রার্থনা কবুল করা এবং তিনি যে কিবলার অভিমুখী হওয়া কামনা করতেন ও পছন্দ করতেন, সেই কিবলার দিকে ফেরার নির্দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় আদেশে তিনি বলেছেন: {আর আপনি যেখান থেকেই বের হন না কেন, আপনার মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফিরাবেন। নিশ্চয়ই এটি আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্য। আর তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন}(৪)। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ধ্রুব সত্য এবং বিষয়টিকে প্রথম পর্যায়ের চেয়েও উচ্চে তুলে ধরা হয়েছে। কারণ প্রথমটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তুষ্টির সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল, তাই এখানে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকেও সত্য যা তিনি পছন্দ করেন ও যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। আর তৃতীয় আদেশে ইহুদিদের ন্যায় বিরুদ্ধবাদীদের প্রমাণ বা বিতর্ক (حجة) খণ্ডন করার হিকমত বর্ণনা করা হয়েছে, যারা রাসূলের তাদের কিবলার দিকে মুখ করাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করত। অথচ তারা তাদের কিতাবসমূহের বর্ণনা হতে জানত যে, শীঘ্রই তিনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের কিবলা তথা কাবার দিকে ফিরে যাবেন। একইভাবে আরব মুশরিকদের বিতর্কও (حجة) শেষ হয়ে গেল যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদিদের কিবলা থেকে সরিয়ে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের কিবলার দিকে ফিরে গেলেন যা ছিল অধিক মর্যাদাপূর্ণ। তারা একে সম্মান করত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর দিকে মুখ ফেরানো তাদের মুগ্ধ করেছিল। পুনরাবৃত্তির হিকমত সম্পর্কে এছাড়াও আরও উত্তর দেওয়া হয়েছে যা ফখর উদ্দিন আল-রাজি ও অন্যরা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অধিক পরিজ্ঞাত(৫)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (১৪৯)।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (১৪৪)।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (১৪৪)।

(৪) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (১৪৯)।

(٥) তাফসিরে ইবনে কাসির, (১/ ৪৬৩) তাহকিক: সামি মুহাম্মদ সালামাহ, দার তায়্যিবাহ, তৃতীয় সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ২১)
*بل حتى نجد في التفاسير المجملة توجيه بعض مسائل المتشابه اللفظي:

فقد قال الإمام السعدي(1) عند تفسير قوله تعالى: {تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَا كَسَبْتُمْ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ}(2): «تقدم تفسيرها، وكررها؛ لقطع التعلق بالمخلوقين، وأن المعول عليه ما اتصف به الإنسان، لا عمل أسلافه وآبائه، فالنفع الحقيقي بالأعمال، لا بالانتساب المجرد للرجال»(3).

أيضًا قال عند تفسير قوله تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ}(4): «وذكر الله الظلمات بالجمع، لكثرة موادها، وتنوع طرقها. ووحد النور؛ لكون الصراط الموصلة إلى الله واحدة، لا تعدد فيها، وهي: الصراط المتضمنة للعلم بالحق، والعمل به كما قال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ}(5)»(6). فنوع المتشابه هنا بالجمع والإفراد جمع (الظلمات) وإفراد (النور).

*وفي ضوء عنايتي بالنظر في كتب التفسير ودورها في توجيه المتشابه اللفظي يمكنني القول

أن المفسرين ليسوا على درجة واحدة، فمنهم المكثر ومنهم المقل.

*فمن المكثرين:

- فخر الدين الرازي: يُعَد تفسيره " مفاتيح الغيب " من أوسع التفاسير التي تعرضت لتعليل أوجه المتشابه اللفظي، وربما أطال في بعض المواضع، وقد أخذ فريق من المفسرين بعده نص كلامه في ذلك وضمَّنوه في تفاسيرهم كالألوسي (أخذ منه الكثير من المسائل وتعقبه في بعضها) وابن كثير وابن عاشور وغيرهم، وأخذ منه بعض علماء المتشابه اللفظي كابن الزبير وابن جماعة.

--------------------------------------------

(1) هو الشيخ العلامة المفسر أبو عبد الله عبد الرحمن بن ناصر آل سعدي، من بني تميم، ولد في عنيزة في القصيم في الثاني عشر من محرم عام 1307 هـ، عُرف بالعلم وله عدة مؤلفات، يُنظر ترجمته في: «روضة الناظرين عن مآثر علماء نجد وحوداث السنين»، للشيخ محمد بن عثمان القاضي (1/ 219 (، و «علماء نجد خلال ثمان قرون»، للشيخ عبد الله البسام (3/ 218).

(2) سورة البقرة، الآية: (141).

(3) «تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان»، العلامة الشيخ: عبد الرحمن بن ناصر السعدي، دار العقيدة، الطبعة الثانية (ص: 71).

(4) سورة الأنعام، الآية: (1).

(5) سورة الأنعام، الآية: (153).

(6) «تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان» (ص: 347).
*এমনকি আমরা সংক্ষিপ্ত তাফসিরগ্রন্থগুলোতেও শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়গুলোর কিছু ব্যাখ্যামূলক দিকনির্দেশনা পাই:

ইমাম সাদী(১) আল্লাহ তাআলার এই বাণীর তাফসির করতে গিয়ে বলেছেন: {সেটি একটি উম্মত যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্য, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্য। তারা যা করত সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না।}(২): «এর তাফসির আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। এখানে আয়াতটির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে মাখলুকের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য এবং এটি বুঝাতে যে, মূল ভিত্তি হলো মানুষ যা অর্জন করেছে তা, তার পূর্বপুরুষ বা পিতৃপুরুষদের আমল নয়। সুতরাং প্রকৃত উপকার আমলের মাধ্যমেই অর্জিত হয়, কেবল মহৎ ব্যক্তিদের সাথে বংশীয় সম্পর্কের মাধ্যমে নয়»(৩)।

তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর তাফসির করতে গিয়ে আরও বলেছেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন। তবুও কাফিররা তাদের রবের সমকক্ষ নির্ধারণ করে।}(৪): «আল্লাহ তাআলা অন্ধকার শব্দটিকে বহুবচন (الجمع) হিসেবে উল্লেখ করেছেন এর উপাদানের আধিক্য ও এর পথসমূহের বৈচিত্র্যের কারণে। আর আলো শব্দটিকে একবচন (التوحيد) হিসেবে এনেছেন কারণ আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর সরল পথ একটিই, তাতে কোনো বহুত্ব নেই। আর তা হলো: সত্যের জ্ঞান ও সেই অনুযায়ী আমল সমৃদ্ধ পথ, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে।}(৫)»(৬)। এখানে শাব্দিক সাদৃশ্যের (المتشابه) ধরন হলো বহুবচন ও একবচনের ব্যবহার; অর্থাৎ 'অন্ধকার' (الظلمات) শব্দটির বহুবচন এবং 'আলো' (النور) শব্দটির একবচন ব্যবহার করা হয়েছে।

*তাফসিরগ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা এবং শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায় সেগুলোর ভূমিকার প্রতি আমার মনোযোগের আলোকে আমি বলতে পারি যে—

মুফাসসিরগণ সবাই এক পর্যায়ের নন; তাঁদের মধ্যে কেউ এই বিষয়ে অধিক আলোচনা করেছেন (المكثر), আবার কেউ কম করেছেন (المقل)।

*অধিক আলোচনাকারীদের (المكثرين) মধ্যে রয়েছেন:

- ফখর উদ্দিন আল-রাজি: তাঁর তাফসির 'মাফাতিহুল গায়ব' শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়গুলোর কারণ বর্ণনায় সবচেয়ে বিস্তৃত তাফসিরগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তাঁর পরবর্তী একদল মুফাসসির এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য হুবহু গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের তাফসিরগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যেমন—আলূসী (তিনি অনেক মাসআলা তাঁর থেকে গ্রহণ করেছেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁর সমালোচনাও করেছেন), ইবনে কাসির, ইবনে আশুর প্রমুখ। এছাড়া শাব্দিক সাদৃশ্যের (المتشابه اللفظي) বিশেষজ্ঞ আলেমদের মধ্যে ইবনে যুবায়ের এবং ইবনে জামাআও তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন শাইখ, আল্লামা, মুফাসসির আবু আব্দুল্লাহ আব্দুর রহমান ইবনে নাসির আল-সাদী। তিনি বনু তামীম গোত্রের লোক। তিনি ১৩০৭ হিজরির ১২ই মহররম কাসিমের উনাইযাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইলমের জন্য সুপরিচিত ছিলেন এবং তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে। তাঁর জীবনী দেখুন: শাইখ মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-কাদীর 'রাওদাতুন নাজিরিন আন মাসা-ইর উলামা-ই নাজদ ওয়া হাওয়াদিসিস সিনীন' (১/২১৯) এবং শাইখ আব্দুল্লাহ আল-বাসসামের 'উলামাউ নাজদ খিলালা সামানি কুরুম' (৩/২১৮)।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (১৪১)।

(৩) «তাইসীরুল কারীমিল রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান», আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান ইবনে নাসির আস-সাদী, দারুল আকীদাহ, দ্বিতীয় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ৭১)।

(৪) সূরা আল-আনআম, আয়াত: (১)।

(৫) সূরা আল-আনআম, আয়াত: (১৫৩)।

(৬) «তাইসীরুল কারীমিল রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান» (পৃষ্ঠা: ৩৪৭)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ২২)
((وممن سلكوا هذا السبيل أيضا الإمام الرازي في التفسير الكبير، إذ نلحظ حرصه الواضح على توجيه بعض المتشابهات، وخاصة ما جاء في الجزء الأول من سورة البقرة، فلا يكاد يترك موضعًا من مواضع التشابه في أول جزء إلا ويبدي فيه رأيًا، وإن لم يجد فيه رأي تجده يفوض علمه إلى الله تعالى.))(1)

- الإمام الطاهر بن عاشور: يُعد تفسيره التحرير والتنوير من أنفس تفاسير المتأخرين التي تُعنى بالدقائق اللفظية والمباحث اللغوية والنحوية والبلاغية، وفيه ما لا يوجد في غيره من التفاسير على كثرتها.

*ومن المقلين:

- الزمخشري: يُعد تفسيره " الكشّاف " من أهم التفاسير التي تعرضت لبيان المتشابه وتوجيهه، وهو من المقلين المقتصدين في التعليل، ولكن مع قلة مسائل المتشابه اللفظي التي تناولها إلا أنها اتسمت بقوة التوجيه حتى استمد منه كثير من المفسرين كالرازي والبيضاوي والنسفي وأبي السعود والألوسي وابن عاشور، وأخذ منه بعض علماء المتشابه اللفظي كابن الزبير توجيه العديد من المسائل.

وبهذا يتبين لنا أن للمفسرين جهودًا واضحةً في إثراء علم المتشابه اللفظي وتوجيهه، وسأتطرق في بحثي للحديث عن اثنين من أهم المفسرين، وهما الإمام فخر الدين الرازي، والإمام الألوسي متحدثة عن منهجيهما في تناول المتشابه اللفظي، ثم أقوم بعمل مقارنة بينهما في الفصل الأخير بإذن الله.

--------------------------------------------

(1) الاعتماد في الحروف المشكلة في القرآن الكريم، للشريف أبي إسماعيل موسى بن الحسين المعروف بالمَعدَّل، تحقيق: عبد الله عبد القادر، دار: الكتب العلمية، بيروت، ص 44، 45
((যারা এই পথ অনুসরণ করেছেন তাদের মধ্যে ইমাম রাযীও রয়েছেন তাঁর ‘তাফসীরে কবীর’-এ। সেখানে আমরা অস্পষ্ট বিষয়গুলোর (المتشابهات) ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট আগ্রহ লক্ষ্য করি, বিশেষ করে সূরা বাকারার প্রথম পারায় যা এসেছে। তিনি প্রথম পারার অস্পষ্টতার (التشابه) কোনো স্থানই প্রায় বাদ দেননি যেখানে তিনি নিজস্ব অভিমত প্রকাশ করেননি। আর যদি কোনো বিষয়ে তিনি কোনো অভিমত না পান, তবে সেটির জ্ঞান আল্লাহ তাআলার নিকট সোপর্দ (يفوض) করেন।))(১)

- ইমাম তাহির বিন আশুর: তাঁর তাফসীরগ্রন্থ ‘আত-তাহরীর ওয়াত-তানভীর’ পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرين) অত্যন্ত মূল্যবান তাফসীরগুলোর অন্যতম হিসেবে গণ্য হয়, যা শব্দের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং ভাষাগত, ব্যাকরণগত ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় আলোচনার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। এতে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা অন্য অসংখ্য তাফসীর গ্রন্থেও পাওয়া যায় না।

*আর যারা সংক্ষেপ করেছেন (المقلين):

- যামাখশারী: তাঁর তাফসীরগ্রন্থ "আল-কাশশাফ" সেই সকল গুরুত্বপূর্ণ তাফসীরগুলোর অন্যতম যা অস্পষ্ট বিষয় (المتشابه) বর্ণনা ও তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের (توجيهه) অবতারণা করেছে। তিনি কারণ দর্শানোর (التعليل) ক্ষেত্রে সংক্ষেপকারী (المقلين) ও পরিমিতিবোধ সম্পন্নদের (المقتصدين) অন্তর্ভুক্ত। তবে তিনি যে অল্প সংখ্যক শব্দগত অস্পষ্টতার (المتشابه اللفظي) মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন, তা অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যাখ্যার (توجيه) বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত। যার ফলে রাযী, বায়যাভী, নাসাফী, আবুস সাউদ, আলূসী এবং ইবনে আশুর এর মতো অনেক মুফাসসির তাঁর থেকে সাহায্য নিয়েছেন। এমনকি ইবনে যুবায়ের এর মতো শব্দগত অস্পষ্টতা (المتشابه اللفظি) বিষয়ক কোনো কোনো আলেম অনেক মাসআলার ব্যাখ্যা তাঁর থেকে গ্রহণ করেছেন।

এর মাধ্যমে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, শব্দগত অস্পষ্টতার (المتشابه اللفظي) জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করা এবং এর ব্যাখ্যা প্রদানে মুফাসসিরগণের সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা রয়েছে। আমি আমার গবেষণায় দুজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুফাসসির সম্পর্কে আলোচনার প্রয়াস পাব, তাঁরা হলেন—ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী এবং ইমাম আলূসী। আমি শব্দগত অস্পষ্টতা (المتشابه اللفظي) পর্যালোচনায় তাঁদের কর্মপদ্ধতি (منهجيهما) সম্পর্কে আলোচনা করব, অতঃপর আল্লাহ চাহেন তো শেষ অধ্যায়ে তাঁদের মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা উপস্থাপন করব।

--------------------------------------------

(১) আল-ইতিমাদ ফিল হুরুফিল মুশকিলাহ ফিল কুরআনিল কারীম, শরীফ আবু ইসমাঈল মুসা বিন আল-হুসাইন আল-মা'দাল নামে পরিচিত, সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আব্দুল কাদির, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, পৃষ্ঠা ৪৪, ৪৫।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الرابع: أنواع المتشابه اللفظي في القرآن الكريم

قامت محاولات اجتهادية لحصر أنواع المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

فقد قسم ابن الجوزي المتشابه اللفظي إلى ثلاثة أنواع: «أحدها إبدال كلمة بكلمة، أو حرف بحرف، الثاني: الزيادة والنقصان في الحروف والكلمات، والثالث: التقديم والتأخير»(1).

وهذا التقسيم ناقص؛ لأنه لم يستوعب كل الأنواع، بل وقد قام أيضًا الراغب الأصفهاني بوضع تقسيم للمتشابه في كتابه المفردات في غريب القرآن(2).

ومن أشهر من وضع تقسيم معتبر لأنواع المتشابه اللفظي بدر الدين الزركشي في كتابه البرهان فقد قسم المتشابه اللفظي إلى ثمانية أنواع وأفرد له خمسة عشر فصلًا من كتابه البرهان في علوم القرآن(3).

وقد اكتفى السيوطي بذكر أمثلة على أنواع المتشابه اللفظي في كتابه الإتقان في علوم القرآن(4).

وقد قام د/ محمد فاضل السامرائي بإضافة ثمانية أنواع أخرى على ما ذكره الزركشي(5).

وفيما يلي أفضل تقسيم لأنواع المتشابه اللفظي حسب ما قرأت في هذا الشأن:

النوع الأول: المتشابه بالتقديم والتأخير: وهو أربعة أقسام:

الأول: تقديم كلمة وتأخيرها مثاله؛ قوله سبحانه: {وَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ يَسْعَى}(6)، وقوله تعالى: {وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى}(7).

--------------------------------------------

(1) يُنظر: «فنون الأفنان في علوم القرآن»، أبو الفرج بن الجوزي، تحقيق: حسن ضياء الدين عتر، دار البشائر، ط 1، (ص: 420 - 477).

(2) يُنظر: «المفردات في غريب القرآن» للأصفهاني، تحقيق: صفوان داووي دار العلم، ط 1، (ص: 254).

(3) يُنظر: «البرهان في علوم القرآن» للزركشي (1/ 111 - 155).

(4) يُنظر: «الإتقان في علوم القرآن» للسيوطي، تحقيق مركز الدراسات القرآنية (ص: 1478).

(5) يُنظر: «دراسة المتشابه اللفظي في آي التنزيل»، د/ محمد السامرائي، دار ابن كثير، الطبعة الأولى (ص: 24، 25).

(6) سورة القصص، الآية: (20).

(7) سورة يس، الآية: (20).
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে শাব্দিক সাদৃশ্যের (المتشابه اللفظي) প্রকারভেদ

পবিত্র কুরআনে শাব্দিক সাদৃশ্যের (المتشابه اللفظي) প্রকারভেদসমূহ নির্ধারণ করার জন্য বেশ কিছু গবেষণামূলক (اجتهادي) প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

ইবনুল জাওযী শাব্দিক সাদৃশ্যকে (المتشابه اللفظي) তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: "প্রথমটি হলো এক শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ বা এক বর্ণের পরিবর্তে অন্য বর্ণের প্রতিস্থাপন; দ্বিতীয়টি: বর্ণ ও শব্দের আধিক্য (الزيادة) ও ন্যূনতা (النقصان); এবং তৃতীয়টি: আগে আনা ও পরে নেওয়া (التقديم والتأخير)"(১)।

এই বিভাজনটি অপূর্ণ; কারণ এটি সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি। এমনকি রাগিব আল-ইসফাহানিও তার মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন গ্রন্থে সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه) বিষয়ের একটি বিভাজন প্রদান করেছেন(২)।

শাব্দিক সাদৃশ্যের (المتشابه اللفظي) প্রকারভেদের ক্ষেত্রে যারা গ্রহণযোগ্য বিন্যাস প্রদান করেছেন, তাদের মধ্যে বদরুদ্দীন আল-যারকাশী সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। তিনি তার আল-বুরহান গ্রন্থে শাব্দিক সাদৃশ্যকে (المتشابه اللفظي) আটটি প্রকারে বিভক্ত করেছেন এবং তার আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন গ্রন্থে এর জন্য পনেরটি অধ্যায় পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন(৩)।

আস-সুয়ূতী তার আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন গ্রন্থে শাব্দিক সাদৃশ্যের (المتشابه اللفظي) প্রকারসমূহের উদাহরণ উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন(৪)।

ড. মুহাম্মদ ফাদিল আস-সামাররাঈ, আল-যারকাশী যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে আরও আটটি প্রকার যুক্ত করেছেন(৫)।

এই বিষয়ে আমার পঠিত তথ্য অনুযায়ী শাব্দিক সাদৃশ্যের (المتشابه اللفظي) প্রকারভেদের সর্বোত্তম বিন্যাস নিচে তুলে ধরা হলো:

প্রথম প্রকার: আগে আনা ও পরে নেওয়ার (التقديم والتأخير) মাধ্যমে সৃষ্ট সাদৃশ্য: এটি চার ভাগে বিভক্ত:

প্রথমত: কোনো শব্দকে আগে আনা ও পরে নেওয়া, যার উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর শহরের প্রান্তদেশ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল}(৬), এবং আল্লাহর বাণী: {আর শহরের প্রান্তদেশ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল}(৭)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: «ফুনুনুল আফনান ফি উলূমিল কুরআন», আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী, তাহকীক: হাসান জিয়াউদ্দীন ইতর, দারুল বাশাইর, ১ম সংস্করণ, (পৃষ্ঠা: ৪২০ - ৪৭৭)।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-ইসফাহানি রচিত «আল-মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন», তাহকীক: সাফওয়ান দাউদী, দারুল ইলম, ১ম সংস্করণ, (পৃষ্ঠা: ২৫৪)।

(৩) দ্রষ্টব্য: আল-যারকাশী রচিত «আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন» (১/ ১১১ - ১৫৫)।

(৪) দ্রষ্টব্য: আস-সুয়ূতী রচিত «আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন», তাহকীক: কুরআন গবেষণা কেন্দ্র (পৃষ্ঠা: ১৪৭৮)।

(৫) দ্রষ্টব্য: «দিরাসাতুল মুতাشাবিহ আল-লাফজি ফি আয়িত তানযীল», ড. মুহাম্মদ সামাররাঈ, দার ইবনে কাসীর, প্রথম সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ২৪, ২৫)।

(৬) সূরা আল-কাসাস, আয়াত: (২০)।

(৭) সূরা ইয়াসিন, আয়াত: (২০)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ২৪)
الثاني: تقديم جملة وتأخيرها: مثاله قوله تعالى: {ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ}(1)، وقوله سبحانه: {ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ}(2)

الثالث: الاختلاف في ترتيب المتعاطفات: مثاله قوله سبحانه: {يَوَدُّ الْمُجْرِمُ لَوْ يَفْتَدِي مِنْ عَذَابِ يَوْمِئِذٍ بِبَنِيهِ * وَصَاحِبَتِهِ وَأَخِيهِ * وَفَصِيلَتِهِ الَّتِي تُؤْوِيهِ}(3)، وقوله تعالى: {يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ * وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ * وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ}(4)

الرابع: تقديم الضمير وتأخيره: مثاله قوله تعالى: {وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ}(5)، وقوله سبحانه: {وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ}(6).

النوع الثاني: المتشابه بالإبدال: وهو ثلاثة أنواع:

الأول: إبدال حرف بآخر: مثاله قوله سبحانه: {كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى}(7)، وقوله تعالى: {كُلٌّ يَجْرِي إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى}(8)

الثاني: إبدال كلمة بكلمة: مثاله قوله تعالى: {قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا}(9)، وقوله سبحانه: {قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا}(10).

الثالث: إبدال جملة بجملة: مثاله قوله تعالى: {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَظَلُومٌ كَفَّارٌ}(11).

وقوله سبحانه: {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ اللَّهَ لَغَفُورٌ رَحِيمٌ}(12).

--------------------------------------------

(1) سورة الأنعام، الآية: (102).

(2) سورة غافر، الآية: (62).

(3) سورة المعارج، الآيات: (11 – 13).

(4) سورة عبس، الآيات: (34 - 36).

(5) سورة البقرة، الآية: (173).

(6) سورة المائدة، الآية: (3).

(7) سورة الرعد، الآية: (2).

(8) سورة لقمان، الآية: (29).

(9) سورة البقرة، الآية: (170).

(10) سورة لقمان، الآية: (21).

(11) سورة إبراهيم، الآية: (34).

(12) سورة النحل، الآية: (18).
দ্বিতীয়: একটি বাক্য আগে আনা এবং অন্যটি পরে নেওয়া: এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই আল্লাহ তোমাদের রব, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি সবকিছুর স্রষ্টা}(১), এবং তাঁর সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {তিনিই আল্লাহ তোমাদের রব, সবকিছুর স্রষ্টা, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই}(২)

তৃতীয়: সংযোজিত পদগুলোর ক্রমবিন্যাসে পার্থক্য: এর উদাহরণ হলো তাঁর সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {অপরাধী সেই দিনের শাস্তির বদলে পনস্বরূপ দিতে চাইবে তার সন্তানদেরকে, তার স্ত্রীকে ও তার ভাইকে এবং তার গোষ্ঠীকে যারা তাকে আশ্রয় দিত}(৩), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সেই দিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাই থেকে, তার মা ও তার পিতা থেকে এবং তার স্ত্রী ও তার সন্তানদের থেকে}(৪)

চতুর্থ: সর্বনাম আগে আনা এবং পরে নেওয়া: এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যার ওপর আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নাম উচ্চারিত হয়েছে}(৫), এবং তাঁর সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে যা উৎসর্গ করা হয়েছে}(৬).

দ্বিতীয় প্রকার: বিনিময়ের (الإبدال) মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه): আর এটি তিন প্রকার:

প্রথম: একটি হরফের স্থলে অন্য হরফের বিনিময় (الإبدال): এর উদাহরণ হলো তাঁর সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তিত হয়}(৭), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট সময়ের দিকে ধাবিত হয়}(৮)

দ্বিতীয়: একটি শব্দের বদলে অন্য শব্দের বিনিময় (الإبدال): এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা বলে, বরং আমরা তারই অনুসরণ করব যা আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের নিকট পেয়েছি}(৯), এবং তাঁর সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {তারা বলে, বরং আমরা তারই অনুসরণ করব যা আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যার ওপর পেয়েছি}(১০).

তৃতীয়: একটি বাক্যের বদলে অন্য বাক্যের বিনিময় (الإبدال): এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করো তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। নিশ্চয়ই মানুষ অতিশয় যালিম ও অকৃতজ্ঞ}(১১).

এবং তাঁর সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {যদি তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করো তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু}(১২).

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনআম, আয়াত: (১০২)।

(২) সূরা গাফির, আয়াত: (৬২)।

(৩) সূরা আল-মাআরিজ, আয়াতসমূহ: (১১ – ১৩)।

(৪) সূরা আবাসা, আয়াতসমূহ: (৩৪ - ৩৬)।

(৫) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: (১৭৩)।

(৬) সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: (৩)।

(৭) সূরা আর-রাদ, আয়াত: (২)।

(৮) সূরা লোকমান, আয়াত: (২৯)।

(৯) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: (১৭০)।

(১০) সূরা লোকমান, আয়াত: (২১)।

(১১) সূরা ইবরাহিম, আয়াত: (৩৪)।

(১২) সূরা আন-নাহল, আয়াত: (১৮)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ২৫)
النوع الثالث: المتشابه بالإثبات والحذف: وهو ثلاثة أنواع:

الأول: إثبات حرف وحذفه، مثاله قوله تعالى: {وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا}(1)، وقوله سبحانه: {وَلَمَّا أَنْ جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا}(2).

الثاني: إثبات كلمة وحذفها، مثاله قوله سبحانه: {وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ}(3)، وقوله تعالى: {وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ}(4).

الثالث: إثبات أكثر من كلمة وحذفها، مثاله قوله تعالى: {وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ}(5)، وقوله سبحانه: {وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ}(6).

النوع الرابع: المتشابه بالجمع والإفراد:

مثاله قوله سبحانه: {وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ}(7)، وقوله تعالى: {وَهُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ}(8).

ومن هذا القبيل قوله عز وجل: {وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً}(9)، وقوله تعالى: {قَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ}(10).

النوع الخامس: المتشابه بالتذكير والتأنيث:

--------------------------------------------

(1) سورة هود، الآية: (77).

(2) سورة العنكبوت، الآية: (33).

(3) سورة البقرة، الآية: (193).

(4) سورة الأنفال، الآية: (39).

(5) سورة آل عمران، الآية: (189).

(6) سورة المائدة، الآية: (17).

(7) سورة المؤمنون، الآية: (9).

(8) سورة الأنعام، الآية: (92).

(9) سورة البقرة، الآية: (80).

(10) سورة آل عمران، الآية: (24).
তৃতীয় প্রকার: সংযোজন ও বিলোপের মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه بالإثبات والحذف): এটি তিন প্রকার:

প্রথম: একটি বর্ণের সংযোজন ও বিলোপ, এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা লূতের নিকট আসল}(১), এবং তাঁর পবিত্র বাণী: {অতঃপর যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা লূতের নিকট আসল}(২)।

দ্বিতীয়: একটি শব্দের সংযোজন ও বিলোপ, এর উদাহরণ তাঁর পবিত্র বাণী: {আর যাতে দ্বীন আল্লাহর জন্য হয়}(৩), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যাতে দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়}(৪)।

তৃতীয়: একের অধিক শব্দের সংযোজন ও বিলোপ, এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান}(৫), এবং তাঁর পবিত্র বাণী: {আর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তার রাজত্ব আল্লাহরই; তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান}(৬)।

চতুর্থ প্রকার: বহুবচন ও একবচনের মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه بالجمع والإفراد):

এর উদাহরণ তাঁর পবিত্র বাণী: {এবং যারা তাদের সালাতসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করে}(৭), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা তাদের সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করে}(৮)।

আর এরই অন্তর্ভুক্ত মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {এবং তারা বলে, ‘গণনা করা অল্প কয়েকদিন ছাড়া আগুন আমাদের কখনোই স্পর্শ করবে না’}(৯), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা বলে, ‘গণনা করা কয়েকদিন ছাড়া আগুন আমাদের কখনোই স্পর্শ করবে না’}(১০)।

পঞ্চম প্রকার: পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه بالتذكير والتأنيث):

--------------------------------------------

(১) সূরা হুদ, আয়াত: (৭৭)।

(২) সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: (৩৩)।

(৩) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: (১৯৩)।

(৪) সূরা আল-আনফাল, আয়াত: (৩৯)।

(৫) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: (১৮৯)।

(৬) সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: (১৭)।

(৭) সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: (৯)।

(৮) সূরা আল-আনআম, আয়াত: (৯২)।

(৯) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: (৮০)।

(১০) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: (২৪)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ২৬)
مثاله قوله سبحانه: {إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرَى لِلْعَالَمِينَ}(1)، وقوله تعالى: {إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ}(2).

ومن هذا القبيل قوله عز وجل: {وَأَخَذَ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ}(3)، وقوله تعالى: {وَأَخَذَتِ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ}(4).

النوع السادس: المتشابه بالتعريف والتنكير:

مثاله قوله تعالى: {رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا} وقوله سبحانه: {رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا}(5).

ومن هذا القبيل قوله عز وجل: {وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ}(6)، وقوله تعالى: {وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٍّ}(7).

النوع السابع: المتشابه بالإظهار والإضمار: وهو نوعان:

الأول: وضع المظهر موضع المضمر، ومثاله قوله سبحانه: {وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ}(8) وقوله تعالى: {وَلَكِنَّ أَكْثَرَالنَّاسِلَا يَعْلَمُونَ}(9).

ومن هذا القبيل قوله عز وجل: {قَالَ فِرْعَوْنُ آمَنْتُمْ بِهِ}(10)، وقوله تعالى: {قَالَ آمَنْتُمْ لَهُ}(11).

--------------------------------------------

(1) سورة الأنعام، الآية: (90).

(2) سورة يوسف، الآية: (104).

(3) سورة هود، الآية: (67).

(4) سورة هود، الآية: (94).

(5) سورة إبراهيم، الآية: (35).

(6) سورة البقرة، الآية: (61).

(7) سورة آل عمران، الآية: (21).

(8) سورة الأنعام، الآية: (37).

(9) سورة الأعراف، الآية: (187).

(10) سورة الأعراف، الآية: (123).

(11) سورة طه، الآية: (71).
এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এটি তো বিশ্বজগতের জন্য কেবল উপদেশ মাত্র}(১), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এটি তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ বৈ নয়}(২)।

এবং এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {আর যারা সীমালঙ্ঘন করেছিল, এক বিকট চিৎকার তাদের পাকড়াও করল}(৩), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা যুলুম করেছিল, এক বিকট গর্জন তাদের পাকড়াও করল}(৪)।

ষষ্ঠ প্রকার: নির্দিষ্টকরণ (تعريف) এবং অনির্দিষ্টকরণের (تنكير) মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابه):

এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে আমার প্রতিপালক, আপনি একে একটি নিরাপদ শহর বানান} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে আমার প্রতিপালক, আপনি এই শহরটিকে নিরাপদ করুন}(৫)।

এবং এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {এবং তারা অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করত}(৬), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করত}(৭)।

সপ্তম প্রকার: স্পষ্টকরণ (إظهار) এবং সর্বনাম ব্যবহারের (إضمار) মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابه): এটি দুই প্রকার:

প্রথমটি: সর্বনামের (مضمر) স্থলে স্পষ্ট বিশেষ্য পদ (مظهر) ব্যবহার করা, এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু তাদের অধিকাংশ জানে না}(৮) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না}(৯)।

এবং এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {ফিরআউন বলল, তোমরা কি আমার অনুমতি দেওয়ার পূর্বেই তার প্রতি ঈমান আনলে}(১০), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সে বলল, তোমরা কি তার প্রতি ঈমান আনলে}(১১)।

--------------------------------------------

(১) সুরা আল-আনআম, আয়াত: (৯০)।

(২) সুরা ইউসুফ, আয়াত: (১০৪)।

(৩) সুরা হুদ, আয়াত: (৬৭)।

(৪) সুরা হুদ, আয়াত: (৯৪)।

(৫) সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: (৩৫)।

(৬) সুরা আল-বাকারা, আয়াত: (৬১)।

(৭) সুরা আল-ইমরান, আয়াত: (২১)।

(৮) সুরা আল-আনআম, আয়াত: (৩৭)।

(৯) সুরা আল-আরাফ, আয়াত: (১৮৭)।

(১০) সুরা আল-আরাফ, আয়াত: (১২৩)।

(১১) সুরা ত্বহা, আয়াত: (৭১)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ২৭)
الثاني: الاختلاف في الضمائر، ومثاله قوله تعالى: {بَلْ مَتَّعْنَا هَؤُلَاءِ}(1)، وقوله سبحانه: {بَلْ مَتَّعْتُ هَؤُلَاءِ}(2).

ومن هذا القبيل قوله عز وجل: {فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ}(3)، وقوله تعالى: {فَأَخَذَتْهُمُ الصَّاعِقَةُ}(4).

النوع الثامن: المتشابه باختلاف الصيغة الصرفية: وهو أنواع:

الأول: متشابه بالإدغام والفك، مثاله قوله سبحانه: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ}(5)، وقوله تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِّ اللَّهَ}(6)، ومن هذا القبيل قوله عز وجل: {لَعَلَّهُمْ يَتَضَرَّعُونَ}(7)، وقوله تعالى: {لَعَلَّهُمْ يَضَّرَّعُونَ}(8).

الثاني: متشابه بالتضعيف وعدمه، مثاله قوله تعالى: {وَإِذْ نَجَّيْنَاكُمْ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ}(9)، وقوله سبحانه: {وَإِذْ أَنْجَيْنَاكُمْ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ}(10). ومن هذا القبيل قوله عز وجل: {وَأَنْزَلْنَا عَلَيْكُمُ}(11)، وقوله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكُمُ}(12)

الثالث: متشابه بالتجريد والزيادة، مثاله قوله تعالى: {فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ}(13)، وقوله سبحانه: {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ}(14). ومن هذا القبيل قوله عز وجل: {سَاحِرٍ عَلِيمٍ} [الأعراف: 112](15)، وقوله تعالى: {سَحَّارٍ عَلِيمٍ}(16).

--------------------------------------------

(1) سورة الأنبياء، الآية: (44).

(2) سورة الزخرف، الآية: (29).

(3) سورة البقرة، الآية: (55).

(4) سورة النساء، الآية: (153).

(5) سورة النساء، الآية: (115).

(6) سورة الحشر، الآية: (4).

(7) سورة الأنعام، الآية: (42).

(8) سورة الأعراف، الآية: (94).

(9) سورة البقرة، الآية: (49).

(10) سورة الأعراف، الآية: (141).

(11) سورة البقرة، الآية: (57).

(12) سورة طه، الآية: (80).

(13) سورة البقرة، الآية: (38).

(14) سورة طه، الآية: (123).

(15) سورة الأعراف، الآية: (112).

(16) سورة الشعراء، الآية: (37).
দ্বিতীয়: সর্বনামের (الضمائر) ক্ষেত্রে পার্থক্য, এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {বরং আমি এদের ভোগবিলাসের উপকরণ দিয়েছি}(১), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বরং আমি এদের ভোগবিলাসের উপকরণ দিয়েছি}(২)।

এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তখন তোমাদেরকে বজ্রাঘাত পাকড়াও করল}(৩), এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তখন তাদেরকে বজ্রাঘাত পাকড়াও করল}(৪)।

অষ্টম প্রকার: রূপতাত্ত্বিক গঠনের (الصيغة الصرفية) পার্থক্যের কারণে সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه) বিষয়: এটি কয়েক প্রকার:

প্রথম: ইদগাম (الإدغام) এবং পৃথকীকরণ (الفك)-এর মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابه), এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করবে}(৫), এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করবে}(৬)। এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তারা বিনীত হয়}(৭), এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {যাতে তারা বিনীত হয়ে কাকুতি-মিনতি করে}(৮)।

দ্বিতীয়: দ্বিত্বকরণ (التضعيف) এবং তা না হওয়ার মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابه), এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যখন আমি তোমাদের ফেরাউনের বংশধরদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলাম}(৯), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আমি তোমাদের ফেরাউনের বংশধরদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলাম}(১০)। এবং এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি তোমাদের ওপর নাযিল করেছি}(১১), এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আমি তোমাদের ওপর নাযিল করেছি}(১২)।

তৃতীয়: মূল রূপ (التجريد) এবং অতিরিক্তের (الزيادة) মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابه), এর উদাহরণ আল্লাহ তাআলার বাণী: {সুতরাং যে আমার পথনির্দেশ অনুসরণ করবে}(১৩), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যে আমার পথনির্দেশ অনুসরণ করবে}(১৪)। এবং এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বিচক্ষণ জাদুকর} [আরাফ: ১১২](১৫), এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {দক্ষ জাদুকর}(১৬)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: (৪৪)।

(২) সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: (২৯)।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (৫৫)।

(৪) সূরা আন-নিসা, আয়াত: (১৫৩)।

(৫) সূরা আন-নিসা, আয়াত: (১১৫)।

(৬) সূরা আল-হাশর, আয়াত: (৪)।

(৭) সূরা আল-আনআম, আয়াত: (৪২)।

(৮) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: (৯৪)।

(৯) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (৪৯)।

(১০) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: (১৪১)।

(১১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (৫৭)।

(১২) সূরা তাহা, আয়াত: (৮০)।

(১৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (৩৮)।

(১৪) সূরা তাহা, আয়াত: (১২৩)।

(১৫) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: (১১২)।

(১৬) সূরা আশ-শুয়ারা, আয়াত: (৩৭)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ২৮)
الرابع: متشابه بالماضي والحاضر، مثاله قوله تعالى: {كَذَلِكَ نَسْلُكُهُ}(1)، وقوله سبحانه: {كَذَلِكَ سَلَكْنَاهُ}(2).

الخامس: متشابه بالبناء للفاعل والبناء للمفعول، مثاله قوله تعالى: {وَإِذْ قُلْنَا ادْخُلُوا}(3)، وقوله سبحانه: {وَإِذْ قِيلَ لَهُمُ اسْكُنُوا}(4).

السادس: متشابه بجمع السلامة وجمع التكسير، مثاله قوله سبحانه: {نَغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ}(5)، وقوله تعالى: {نَغْفِرْ لَكُمْ خَطِيئَاتِكُمْ}(6). ومن هذا القبيل قوله عز وجل: {وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ}(7)، وقوله تعالى: {وَيَقْتُلُونَ الْأَنْبِيَاءَ}(8).

النوع التاسع: المتشابه بالإجمال والتفصيل: مثاله قوله تعالى: {وَإِذْ وَاعَدْنَا مُوسَى أَرْبَعِينَ لَيْلَةً}(9)، وقوله سبحانه: {وَوَاعَدْنَا مُوسَى ثَلَاثِينَ لَيْلَةً وَأَتْمَمْنَاهَا بِعَشْرٍ}(10).

النوع العاشر: المتشابه بالإضافة وعدمها: مثاله قوله سبحانه: {اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ}(11)، وقوله تعالى: {وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ}(12). ومن هذا القبيل قوله عز وجل: {وَقَبْلَ غُرُوبِهَا}(13)، وقوله تعالى: {وَقَبْلَ الْغُرُوبِ}(14).

--------------------------------------------

(1) سورة الحجر: الآية (112).

(2) سورة الشعراء، الآية: (200).

(3) سورة البقرة، الآية: (58).

(4) سورة الأعراف، الآية: (161).

(5) سورة البقرة، الآية: (58).

(6) سورة الأعراف، الآية: (161).

(7) سورة البقرة، الآية: (61).

(8) سورة آل عمران، الآية: (112).

(9) سورة البقرة، الآية: (51).

(10) سورة الأعراف، الآية: (142).

(11) سورة البقرة، الآية: (40).

(12) سورة المائدة، الآية: (7).

(13) سورة طه، الآية: (130).

(14) سورة ق، الآية: (39). ويُنظر: «دلالة السياق وأثرها في توجيه المتشابه اللفظي في قصة سيدنا موسى»، فهد بن شتوي بن عبد المعين الشتوي – رسالة ماجستير – جامعة أم القرى (ص: 105 - 131) بتصرف.
চতুর্থ: অতীত কাল (الماضي) এবং বর্তমান কাল (الحاضر) সম্পর্কিত সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابه) বিষয়, এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এভাবেই আমরা তা সঞ্চারিত করি}(১), এবং মহান পবিত্র সত্তার বাণী: {এভাবেই আমরা তা সঞ্চারিত করেছি}(২)।

পঞ্চম: কর্তৃবাচ্য (البناء للفاعل) এবং কর্মবাচ্য (البناء للمفعول) সম্পর্কিত সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابه) বিষয়, এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যখন আমি বললাম, তোমরা প্রবেশ করো}(৩), এবং মহান পবিত্র সত্তার বাণী: {এবং যখন তাদের বলা হলো, তোমরা বসবাস করো}(৪)।

ষষ্ঠ: সুস্থ বহুবচন (جمع السلامة) এবং ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير) সম্পর্কিত সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابه) বিষয়, এর উদাহরণ হলো মহান পবিত্র সত্তার বাণী: {আমরা তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেব}(৫), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমরা তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেব}(৬)। অনুরূপ বিষয় হলো মহান পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর বাণী: {এবং তারা নবীগণকে হত্যা করত}(৭), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা নবীগণকে হত্যা করত}(৮)।

নবম প্রকার: সংক্ষিপ্তকরণ (الإجمাল) এবং বিস্তারিত বর্ণনা (التفصيل) সম্পর্কিত সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه) বিষয়: এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যখন আমি মুসার জন্য চল্লিশ রাতের ওয়াদা করেছিলাম}(৯), এবং মহান পবিত্র সত্তার বাণী: {এবং আমি মুসার সাথে ত্রিশ রাতের ওয়াদা করেছিলাম এবং তা আরো দশ দ্বারা পূর্ণ করেছিলাম}(১০)।

দশম প্রকার: সম্বন্ধকরণ (الإضافة) এবং তার অনুপস্থিতি সম্পর্কিত সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه) বিষয়: এর উদাহরণ হলো মহান পবিত্র সত্তার বাণী: {তোমরা আমার নেয়ামতকে স্মরণ করো}(১১), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতকে স্মরণ করো}(১২)। অনুরূপ বিষয় হলো মহান পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর বাণী: {এবং তার সূর্যাস্তের পূর্বে}(১৩), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং সূর্যাস্তের পূর্বে}(১৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হিজর: আয়াত (১১২)।

(২) সূরা আশ-শুয়ারা, আয়াত: (২০০)।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (৫৮)।

(৪) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: (১৬১)।

(৫) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (৫৮)।

(৬) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: (১৬১)।

(৭) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (৬১)।

(৮) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: (১১২)।

(৯) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (৫১)।

(১০) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: (১৪২)।

(১১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: (৪০)।

(১২) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: (৭)।

(১৩) সূরা ত্বহা, আয়াত: (১৩০)।

(১৪) সূরা ক্বফ, আয়াত: (৩৯)। আরও দেখুন: «দেলালাতুস সিয়াক ওয়া আসারুহা ফি তাওজিহিল মুতাশাবিহিল লাফজি ফি কিসসাতি সাইয়িদিনা মুসা», ফাহাদ বিন শাতভী বিন আবদুল মুঈন আল-শাতভী – মাস্টার্স থিসিস – উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় (পৃষ্ঠা: ১০৫ - ১৩১) পরিমার্জিত (بتصرف)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ২৯)
لم يذكر هذا التقسيم التكرار من أنواع المتشابه اللفظي وذكره د/ محمد فاضل السامرائي في الأنواع التي أضافها على تقسيم الزركشي(1).

وقد ذكر د/ عبد الجواد خلف محقق كتاب كشف المعاني في المتشابه من المثاني لبدر الدين بن جماعة أن التشابه قد يكون باعتبار عدد المرات التي يتكرر فيها اللفظ أو الجملة، ثم ذكر أنه ورد في القرآن الكريم على أربعة عشر ضربًا على سبيل الحصر، ثم أوردها، فلترجع إليها إذا شئت(2).

أيضًا قام د/ محمد القاضي بالحديث عن أنواع المتشابه اللفظي في القرآن الكريم حيث قسم كتابه: (المتشابه اللفظي في القرآن الكريم رؤية في التفسير من خلال اللغة والسياق) إلى فصول، ذكر في الفصل الأول: (آيات التشابه العام)، وفي الفصل الثاني: (المتشابه المختلف في إبدال كلمة)، وفي الفصل الثالث: (المتشابه المختلف في أحوال الاسم)، وفي الفصل الرابع: (المتشابه المختلف في أحوال الفعل)، وفي الفصل الخامس: (المتشابه المختلف في زيادة أو حذف)، وفي الفصل السادس: (المتشابه المختلف في تقديم أو تأخير).(3).

--------------------------------------------

(1) يُنظر: «دراسة المتشابه اللفظي في آي التنزيل»، (ص: 25).

(2) يُنظر: «كشف المعاني في المتشابه على المثاني»، لبدر الدين بن جماعة، تحقيق: د/ عبد الجواد خلف، دار الوفاء للطباعة والنشر والتوزيع، الطبعة: الأولى، (ص: 51 - 58).

(3) يُنظر: «المتشابه اللفظي في القرآن الكريم رؤية في التفسير من خلال اللغة والسياق»، د/ محمد القاضي، دار الصحوة، الطبعة الأولى، (ص: 53 – 275).
এই বিভাজনে শব্দগত সাদৃশ্য (المتشابه اللفظي)-এর প্রকারভেদগুলোর মধ্যে পুনরাবৃত্তি (التكرار)-কে উল্লেখ করা হয়নি; তবে ড. মুহাম্মদ ফাদিল আস-সামাররাঈ এটিকে সেই প্রকারগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন যা তিনি যারকাশির বিভাজনের সাথে যুক্ত করেছেন।(1).

বদরুদ্দিন ইবনে জামাআ-এর 'কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি মিনাল মাছানি' গ্রন্থের মুহাক্কিক ড. আবদুল জাওয়াদ খালাফ উল্লেখ করেছেন যে, সাদৃশ্য (التشابه) কখনো শব্দ বা বাক্য কতবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে তার সংখ্যার বিচারেও হতে পারে। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি পবিত্র কুরআনে সীমাবদ্ধভাবে চৌদ্দ প্রকারে (ضربًا) বর্ণিত হয়েছে; অতঃপর তিনি সেগুলো উল্লেখ করেছেন, সুতরাং আপনি চাইলে সেগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করতে পারেন।(2).

এছাড়াও ড. মুহাম্মদ আল-কাদি পবিত্র কুরআনের শব্দগত সাদৃশ্য (المتشابه اللفظي)-এর প্রকারভেদগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি তার গ্রন্থ—'আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি ফিল কুরআনিল কারিম: রু'ইয়াতুন ফিত তাফসির মিন খিলালিল লুগাহ ওয়াস সিয়াক' (পবিত্র কুরআনের শব্দগত সাদৃশ্য: ভাষা ও প্রসঙ্গের আলোকে তাফসির বিষয়ক একটি দৃষ্টিভঙ্গি)-কে কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন। প্রথম পরিচ্ছেদে তিনি: 'সাধারণ সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতসমূহ' (آيات التشابه العام), দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে: 'শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্ট ভিন্নধর্মী সাদৃশ্য', তৃতীয় পরিচ্ছেদে: 'বিশেষ্যের (اسم) অবস্থার প্রেক্ষিতে ভিন্নধর্মী সাদৃশ্য', চতুর্থ পরিচ্ছেদে: 'ক্রিয়ার (فعل) অবস্থার প্রেক্ষিতে ভিন্নধর্মী সাদৃশ্য', পঞ্চম পরিচ্ছেদে: 'সংযোজন বা বিয়োজন (زيادة أو حذف)-এর মাধ্যমে সৃষ্ট ভিন্নধর্মী সাদৃশ্য' এবং ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে: 'আগে-পিছে হওয়ার (تقديم أو تأخير) কারণে সৃষ্ট ভিন্নধর্মী সাদৃশ্য' সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।(3).

--------------------------------------------

(1) দ্রষ্টব্য: ‘দিরাসাতুল মুতাশাবিহ আল-লাফজি ফি আয়িত তানজিল’, (পৃষ্ঠা: ২৫)।

(2) দ্রষ্টব্য: ‘কাশফুল মাআনি ফিল মুতাশাবিহি আলাল মাছানি’, বদরুদ্দিন ইবনে জামাআ; তাহকিক: ড. আবদুল জাওয়াদ খালাফ, দারুল ওয়াফা লিট তিবায়াহ ওয়ান নাশর ওয়াত তাওজি, প্রথম সংস্করণ, (পৃষ্ঠা: ৫১-৫৮)।

(3) দ্রষ্টব্য: ‘আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি ফিল কুরআনিল কারিম: রু'ইয়াতুন ফিত তাফসির মিন খিলালিল লুগাহ ওয়াস সিয়াক’, ড. মুহাম্মদ আল-কাদি, দারুস সাহওয়াহ, প্রথম সংস্করণ, (পৃষ্ঠা: ৫৩–২৭৫)।
(খণ্ড: ১) তাওজিহুল মুতাশাবিহিল লাফযী ফিল কুরআনিল কারীম ইনদাল মুফাসসিরীন - দিরাসাতুন ফী তাফসীরায়ির রাযী ওয়াল আলূসী (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الفصل الثاني الإمام الرازي ومنهجه في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم

ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: التعريف بالإمام الرازي ونشأته وحياته وأهم كتبه.

المبحث الثاني: التعريف بتفسير الإمام الرازي (مفاتيح الغيب).

المبحث الثالث: منهج الإمام الرازي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

المطلب الأول: أهم الملامح والسمات التي تميز بها منهج الإمام الرازي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

المطلب الثاني: مصادر الإمام الرازي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم

أولًا: العلماء الذين نقل عنهم الإمام الرازي وذكرهم في تفسيره.

ثانيًا: موقف الإمام الرازي من علماء المتشابه اللفظي.

ثالثًا: أثره في المعاصرين

المطلب الثالث: ما انفرد به الإمام الرازي عن جميع علماء المتشابه اللفظي.

المطلب الرابع: مآخذ على منهج الإمام الرازي في توجيه المتشابه اللفظي في القرآن الكريم.

المبحث الرابع: أنواع المتشابه اللفظي في تفسير الإمام الرازي مع ذكر بعض النماذج.
‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়: ইমাম রাযী এবং পবিত্র কুরআনের শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়াবলির বিশ্লেষণে (توجيه) তাঁর পদ্ধতি

এটি চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম রাযীর পরিচয়, তাঁর বেড়ে ওঠা, জীবন এবং তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম রাযীর তাফসির (মাফাতিহুল গায়েব)-এর পরিচয়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়াবলির বিশ্লেষণে (توجيه) ইমাম রাযীর পদ্ধতি।

প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়াবলির বিশ্লেষণে (توجيه) ইমাম রাযীর পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়াবলির বিশ্লেষণে (توجيه) ইমাম রাযীর উৎসসমূহ

প্রথমত: ঐ সকল আলেম যাঁদের থেকে ইমাম রাযী উদ্ধৃতি (نقل) প্রদান করেছেন এবং তাঁর তাফসিরে তাঁদের উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়ত: শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের প্রতি ইমাম রাযীর অবস্থান।

তৃতীয়ত: সমসাময়িকদের ওপর তাঁর প্রভাব

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়ের সকল বিশেষজ্ঞদের তুলনায় ইমাম রাযীর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়াবলির বিশ্লেষণে (توجيه) ইমাম রাযীর পদ্ধতির ওপর পর্যালোচনা (مآخذ)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইমাম রাযীর তাফসিরে শাব্দিক সাদৃশ্যপূর্ণ (المتشابه اللفظي) বিষয়ের প্রকারভেদ এবং কিছু নমুনার উল্লেখ।