(খণ্ড: ১) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: -)
تدريب الراوي في شرح تقريب النواوي   (الجلال السيوطي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: تدريب الراوي في شرح تقريب النواوي

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

حققه: أبو قتيبة نظر محمد الفاريابي

الناشر: دار طيبة

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

«التقريب والتيسير» للنووي بأعلى الصفحة، يليه - مفصولا بفاصل - شرحه «تدريب الراوي» للسيوطي

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী   (জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী

লেখক: আব্দুর রহমান বিন আবু বকর، জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (ওফাত ৯১১ হিজরি)

তাহকীক: আবু কুতায়বা নজর মুহাম্মাদ আল-ফারইয়াবী

প্রকাশক: দার তাইবা

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

«আত-তাকরীব ওয়াত-তাইসীর» (নববী রচিত) পৃষ্ঠার উপরিভাগে রয়েছে, এরপর - একটি বিভাজক দ্বারা পৃথকভাবে - এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ «তাদরীবুর রাবী» (সুয়ূতী রচিত) বর্ণিত হয়েছে।

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌[مقدمة السيوطي]

بسم الله الرحمن الرحيم

مُقَدِّمَةُ الْمُؤَلِّفِ

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ أَسْبَابَ مَنِ انْقَطَعَ إِلَيْهِ مَوْصُولَةً، وَرَفَعَ مَقَامَ الْوَاقِفِ بِبَابِهِ، وَآتَاهُ مُنَاهُ وَسُؤْلَهُ، وَأَدْرَجَ فِي زُمْرَةِ أَحْبَابِهِ مَنْ لَمْ تَكُنْ نَفْسُهُ بِزَخَارِفِ الْمُبْطِلِينَ مَعْلُولَةً، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، شَهَادَةً بِرِدَاءِ الْإِخْلَاصِ مَشْمُولَةً، وَلِلْمَلَكُوتِ الْأَعْلَى صَاعِدَةً مَقْبُولَةً، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، الَّذِي بَلَغَ بِهِ مِنْ إِكْمَالِ الدِّينِ مَأْمُولَهُ، وَآتَاهُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ، فَنَطَقَ بِجَوَاهِرِ الْحِكَمِ، وَفَاحَتْ مِنْ حَدَائِقِ أَحَادِيثِهِ فِي الْخَافِقَيْنِ شَذَا أَزْهَارِهَا الْمَطْلُولَةِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ ذَوِي الْأُصُولِ الْكَرِيمَةِ وَالْأَمْجَادِ الْمَأْثُولَةِ.

أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ عِلْمَ الْحَدِيثِ رَفِيعُ الْقَدْرِ، عَظِيمُ الْفَخْرِ، شَرِيفُ الذِّكْرِ، لَا يَعْتَنِي بِهِ إِلَّا كُلُّ حَبْرٍ، وَلَا يُحْرَمُهُ إِلَّا كُلُّ غَمْرٍ، وَلَا تَفْنَى مَحَاسِنُهُ عَلَى مَمَرِّ الدَّهْرِ، وَكُنْتُ مِمَّنْ عَبَرَ إِلَى لُجَّةِ قَامُوسِهِ، حَيْثُ وَقَفَ غَيْرِي بِشَاطِئِهِ، وَلَمْ أَكْتَفِ بِوُرُودِ مَجَارِيهِ، حَتَّى بَقَرْتُ عَنْ مَنْبَعِهِ وَمَنَاشِئِهِ، وَقُلْتُ لِمَنْ عَلَى الرَّاحَةِ عَوَّلَ، مُتَمَثِّلًا بِقَوْلِ الْأَوَّلِ:

لَسْنَا وَإِنْ كُنَّا ذَوِي حَسَبٍ … يَوْمًا عَلَى الْأَحْسَابِ نَتَّكِلُ
[আস-সুয়ূতী-র ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

লেখকের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের মাধ্যমসমূহকে সংযুক্ত (موصولة) করে দিয়েছেন, এবং যিনি তাঁর দ্বারে দণ্ডায়মান ব্যক্তির মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন ও তাকে তার আকাঙ্ক্ষা ও প্রার্থনা দান করেছেন। আর যিনি তাঁর প্রিয়জনদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন তাকে, যার অন্তর বাতিলপন্থীদের অলঙ্কারের মাধ্যমে ত্রুটিযুক্ত (معلولة) হয়নি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক এবং অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য যা ইখলাসের চাদরে আবৃত এবং যা উচ্চতর ঊর্ধ্বজগতের দিকে আরোহণকারী ও গ্রহণযোগ্য (مقبولة)। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ দ্বীনের পূর্ণতার প্রত্যাশা পূরণ করেছেন এবং তাঁকে সংক্ষেপিত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী দান করেছেন। ফলে তিনি প্রজ্ঞার মণি-মুক্তা দ্বারা কথা বলেছেন এবং তাঁর হাদিসসমূহের কানন থেকে পূর্ব-পশ্চিম দিগন্ত জুড়ে শিক্ত ফুলের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর, যাঁরা সুমহান বংশমর্যাদা ও সুপ্রতিষ্ঠিত গৌরবগাথার অধিকারী।

অতপর: নিশ্চয়ই হাদিস শাস্ত্র সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, মহা গর্বের বিষয় এবং অত্যন্ত সম্মানজনক আলোচনা। কোনো প্রাজ্ঞ পণ্ডিত ব্যতীত কেউ এর প্রতি মনোনিবেশ করে না এবং কোনো অজ্ঞ অনভিজ্ঞ ব্যক্তি ব্যতীত কেউ এর থেকে বঞ্চিত হয় না। কালপরিক্রমায় এর সৌন্দর্য কখনো নিঃশেষ হয় না। আমি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যারা এর জ্ঞানের সমুদ্রের গভীরতায় অবগাহন করেছে, যেখানে অন্যরা কেবল এর তীরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমি এর প্রবাহধারায় উপস্থিত হয়েই সন্তুষ্ট হইনি, বরং এর উৎস ও উৎপত্তিস্থল পর্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করেছি। আর যারা আরাম-আয়েশের ওপর নির্ভর করেছে, তাদের উদ্দেশ্যে আমি পূর্ববর্তীদের এই কাব্য পঙক্তিটি উদাহরণ হিসেবে পেশ করছি:

যদিও আমরা উচ্চ বংশমর্যাদার অধিকারী, তবুও … আমরা কোনোদিন কেবল বংশগৌরবের ওপর নির্ভর করি না।
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
نَبْنِي كَمَا كَانَتْ أَوَائِلُنَا … تَبْنِي وَنَفْعَلُ مِثْلَ مَا فَعَلُوا

مَعَ مَا أَمَدَّنِي اللَّهُ تَعَالَى بِهِ مِنَ الْعُلُومِ، كَالتَّفْسِيرِ الَّذِي بِهِ يُطَّلَعُ عَلَى فَهْمِ الْكِتَابِ الْعَزِيزِ، وَعُلُومِهِ الَّتِي دَوَّنْتُهَا وَلَمْ أُسْبَقْ إِلَى تَحْرِيرِهَا الْوَجِيزِ، وَالْفِقْهِ الَّذِي مَنْ جَهِلَهُ فَأَنَّى لَهُ الرِّفْعَةُ وَالتَّمْيِيزُ، وَاللُّغَةِ الَّتِي عَلَيْهَا مَدَارُ فَهْمِ السُّنَّةِ وَالْقُرْآنِ، وَالنَّحْوِ الَّذِي يَفْتَضِحُ فَاقِدُهُ بِكَثْرَةِ الزَّلَلِ وَلَا يَصْلُحُ الْحَدِيثُ لِلَحَّانٍ، إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنْ عُلُومِ الْمَعَانِي وَالْبَيَانِ، الَّتِي لِبَلَاغَةِ الْكِتَابِ وَالْحَدِيثِ تِبْيَانٌ، وَقَدْ أَلَّفْتُ فِي كُلِّ ذَلِكَ مُؤَلَّفَاتٍ، وَحَرَّرْتُ فِيهَا قَوَاعِدَ وَمُهِمَّاتٍ، وَلَمْ أَكُنْ كَغَيْرِي مِمَّنْ يَدَّعِي الْحَدِيثَ بِغَيْرِ عِلْمٍ، وَقُصَارَى أَمْرِهِ كَثْرَةُ السَّمَاعِ عَلَى كُلِّ شَيْخٍ وَعَجُوزٍ، غَيْرَ مُلْتَفِتٍ إِلَى مَعْرِفَةِ مَا يَحْتَاجُ الْمُحَدِّثُ إِلَيْهِ أَنْ يَحُوزَ، وَلَا مُكْتَرِثٍ بِالْبَحْثِ عَمَّا يَمْتَنِعُ أَوْ يَجُوزُ، ثُمَّ ظَنَّ الِانْفِرَادَ بِجَمْعِ الْكُتُبِ وَالضَّنِّ بِهَا عَلَى طُلَّابِهَا، فَهُوَ كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا عَارِيًا عَنِ الِانْتِفَاعِ بِخِطَابِهَا.

إِنْ سُئِلَ عَنْ مَسْأَلَةٍ فِي الْمُصْطَلَحِ لَمْ يَهْتَدِ إِلَى جَوَابِهَا، أَوْ عَرَضَتْ لَهُ مَسْأَلَةٌ فِي دِينِهِ لَمْ يَعْرِفْ خَطَأَهَا مِنْ صَوَابِهَا، أَوْ لَوْ تَلَفَّظَ بِكَلِمَةٍ مِنَ الْحَدِيثِ لَمْ يَأْمَنْ أَنْ يَزِلَّ فِي إِعْرَابِهَا، فَصَارَ بِذَلِكَ ضُحْكَةً لِلنَّاظِرِينَ، وَهُزْأَةً لِلسَّاخِرِينَ، وَاللَّهُ تَعَالَى حَسْبِي وَهُوَ خَيْرُ النَّاصِرِينَ.

هَذَا، وَقَدْ طَالَ مَا قَيَّدْتُ فِي هَذَا الْفَنِّ فَوَائِدَ وَزَوَائِدَ، وَعَلَّقْتُ فِيهِ نَوَادِرَ وَشَوَارِدَ، وَكَانَ يَخْطُرُ بِبَالِي جَمْعُهَا فِي كِتَابٍ، وَنَظْمُهَا فِي عِقْدٍ لِيَنْتَفِعَ بِهَا الطُّلَّابُ، فَرَأَيْتُ كِتَابَ " التَّقْرِيبِ وَالتَّيْسِيرِ " لِشَيْخِ الْإِسْلَامِ الْحَافِظِ، وَلِيِّ
আমরা গড়ে তুলি যেমন আমাদের পূর্বসূরিগণ … গড়েছিলেন এবং আমরা তাই করি যা তাঁরা করেছিলেন।

সেই সাথে আল্লাহ তাআলা আমাকে যে সকল জ্ঞান দান করেছেন, যেমন তাফসির—যার মাধ্যমে মহাগ্রন্থের মর্ম উপলব্ধি করা যায়; এবং তাঁর অন্যান্য সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ যা আমি সংকলন করেছি এবং যেগুলোর সংক্ষিপ্ত ও সুনিপুণ বিন্যাসে আমার পূর্বে কেউ অগ্রণী হতে পারেনি; এবং ফিকহ—যে ব্যক্তি তা থেকে অজ্ঞ থাকে তার জন্য উচ্চমর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন সুদূরপরাহত; এবং ভাষাতত্ত্ব—যার ওপর সুন্নাহ ও কুরআনের বোধগম্যতা আবর্তিত হয়; এবং নাহু (ব্যাকরণ)—যার জ্ঞানহীন ব্যক্তি ভুল উচ্চারণের আধিক্যের কারণে লজ্জিত হয় এবং কোনো ভুল উচ্চারণকারীর জন্য হাদিস বর্ণনা করা সংগত নয়; এছাড়া আরও রয়েছে অলঙ্কারশাস্ত্র (ইলমে মাআনি ও বায়ান), যা মহাগ্রন্থ ও হাদিসের বাগ্মিতার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দান করে। আমি এই প্রতিটি বিষয়ে বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেছি এবং তাতে মূলনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ করেছি। আমি অন্যদের মতো নই যারা জ্ঞান ছাড়াই হাদিসের পাণ্ডিত্যের দাবি করে, আর যাদের দৌড় কেবল প্রতিটি শায়খ ও বৃদ্ধার নিকট অধিক শ্রবণ (سماع) করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ; তারা একজন মুহাদ্দিস (محدث)-এর যা যা আয়ত্ত করা প্রয়োজন সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করে না এবং কোনটি বর্জনীয় আর কোনটি গ্রহণীয় তা অনুসন্ধানেও কোনো গুরুত্ব দেয় না। অতঃপর তারা কিতাব সংগ্রহে নিজেকে অনন্য মনে করে এবং ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট তা বিলিয়ে দিতে কার্পণ্য করে। তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে সেই গাধার ন্যায় যে কিতাব বহন করে কিন্তু তার বিষয়বস্তু থেকে উপকৃত হতে পারে না।

যদি তাকে পরিভাষা (المصطلح) সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে সে উত্তর দিতে সক্ষম হয় না; অথবা তার দ্বীনি কোনো মাসআলা সামনে এলে সে ভুল ও সঠিকের পার্থক্য করতে পারে না; কিংবা সে যদি হাদিসের কোনো শব্দ উচ্চারণ করে, তবে তার ব্যাকরণগত কারক-বিভক্তিতে ভুল করা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না। ফলে সে দর্শকদের নিকট হাস্যাস্পদ এবং বিদ্রূপকারীদের নিকট উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়। আল্লাহ তাআলাই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।

মূল প্রসঙ্গে আসা যাক, দীর্ঘকাল ধরে আমি এই বিদ্যায় অনেক সূক্ষ্ম জ্ঞান ও বাড়তি টীকা লিপিবদ্ধ করেছি এবং এতে বহু দুর্লভ ও বিক্ষিপ্ত তথ্য যুক্ত করেছি। আমার মনে হচ্ছিল যে, এগুলো একটি কিতাবে সংকলিত করি এবং একটি মালায় গেঁথে ফেলি যাতে শিক্ষার্থীরা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে। অতঃপর আমি শাইখুল ইসলাম হাফিজ (الحافظ), ওলি-এর ‘আত-তাক্বরিব ওয়াত-তাইসির’ কিতাবটি দেখলাম...
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
اللَّهِ تَعَالَى أَبِي زَكَرِيَّا النَّوَاوِيِّ، كِتَابًا جَلَّ نَفْعُهُ، وَعَلَا قَدْرُهُ، وَكَثُرَتْ فَوَائِدُهُ، وَغَزُرَتْ لِلطَّالِبِينَ مَوَائِدُهُ، وَهُوَ مَعَ جَلَالَتِهِ وَجَلَالَةِ صَاحِبِهِ وَتَطَاوُلِ هَذِهِ الْأَزْمَانِ مِنْ حِينِ وَضْعِهِ لَمْ يَتَصَدَّ أَحَدٌ إِلَى وَضْعِ شَرْحٍ عَلَيْهِ، وَلَا الْإِنَابَةِ إِلَيْهِ.

فَقُلْتُ لَعَلَّ ذَلِكَ فَضْلٌ ادَّخَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى لِمَنْ يَشَاءُ مِنَ الْعَبِيدِ، وَلَا يَكُونُ فِي الْوُجُودِ إِلَّا مَا يُرِيدُ، فَقَوِيَ الْعَزْمُ عَلَى كِتَابَةِ شَرْحٍ عَلَيْهِ كَافِلٍ بِإِيضَاحِ مَعَانِيهِ، وَتَحْرِيرِ أَلْفَاظِهِ وَمَبَانِيهِ، مَعَ ذِكْرِ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَصْلِهِ مِنَ التَّفَاوُتِ فِي زِيَادَةٍ أَوْ نَقْصٍ، أَوْ إِيرَادٍ أَوِ اعْتِرَاضٍ، مَعَ الْجَوَابِ عَنْهُ إِنْ كَانَ مُضِيفًا إِلَيْهِ زَوَائِدَ عَلِيَّةً، وَفَوَائِدَ جَلِيَّةً، لَا تُوجَدُ مَجْمُوعَةً فِي غَيْرِهِ، وَلَا سَارَ أَحَدٌ قَبْلَهُ كَسَيْرِهِ، فَشَرَعْتُ فِي ذَلِكَ مُسْتَعِينًا بِاللَّهِ تَعَالَى، وَمُتَوَكِّلًا عَلَيْهِ، وَحَبَّذَا ذَاكَ اتِّكَالًا، وَسَمَّيْتُهُ: " تَدْرِيبَ الرَّاوِي فِي شَرْحِ تَقْرِيبِ النَّوَاوِي "، وَجَعَلْتُهُ شَرْحًا لِهَذَا الْكِتَابِ خُصُوصًا، ثُمَّ لِمُخْتَصَرِ ابْنِ الصَّلَاحِ وَلِسَائِرِ كُتُبِ الْفَنِّ عُمُومًا.

وَاللَّهَ تَعَالَى أَسْأَلُ أَنْ يَجْعَلَهُ خَالِصًا لِوَجْهِهِ، فَهُوَ بِإِجَابَةِ السَّائِلِ أَحْرَى، وَيَنْفَعَ بِهِ مُؤَلِّفَهُ وَقَارِئَهُ فِي الدُّنْيَا وَالْأُخْرَى.

 

‌‌[فوائد من المقدمة]

‌‌[الفائدة الْأُولَى فِي حَدِّ عِلْمِ الْحَدِيثِ وَمَا يَتْبَعُهُ]

وَهَذِهِ الْمُقَدِّمَةُ فِيهَا فَوَائِدُ:

الْأُولَى: فِي حَدِّ عِلْمِ الْحَدِيثِ وَمَا يَتْبَعُهُ: قَالَ ابْنُ الْأَكْفَانِيِّ فِي كِتَابِ إِرْشَادِ الْقَاصِدِ، الَّذِي تَكَلَّمَ فِيهِ عَلَى أَنْوَاعِ الْعُلُومِ: عِلْمُ الْحَدِيثِ الْخَاصُّ بِالرِّوَايَةِ: عِلْمٌ يَشْتَمِلُ عَلَى نَقْلِ أَقْوَالِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَفْعَالِهِ، وَرِوَايَتِهَا، وَضَبْطِهَا، وَتَحْرِيرِ
আল্লাহ তাআলা আবু জাকারিয়া আন-নওয়াবীকে এমন একটি কিতাব দান করেছেন যার উপকারিতা মহান, মর্যাদা অতি উচ্চ, শিক্ষা ও জ্ঞান প্রচুর এবং জ্ঞানপিপাসুদের জন্য এর জ্ঞানভাণ্ডার অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এটি এবং এর রচয়িতার মাহাত্ম্য সত্ত্বেও এবং এর রচনার পর থেকে দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও, ইতিপূর্বে কেউ এর কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার সংকল্প করেননি কিংবা সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দেননি।

আমি ভাবলাম, সম্ভবত এটি এমন এক শ্রেষ্ঠত্ব যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তার জন্য গচ্ছিত রেখেছেন; আর মহাবিশ্বে তা-ই ঘটে যা তিনি ইচ্ছা করেন। ফলে এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার সংকল্প সুদৃঢ় হলো যা এর অর্থসমূহ স্পষ্ট করবে এবং এর শব্দ ও মূল কাঠামোর বিন্যাসকে সুসংহত করবে। পাশাপাশি এতে মূল গ্রন্থের সাথে এর বর্ধিত বা বিয়োজিত বিষয়ের তফাত, কোনো বর্ণনা বা আপত্তির উল্লেখ এবং ক্ষেত্রবিশেষে তার উত্তরের সমন্বয় থাকবে। সাথে এতে যুক্ত হবে উচ্চতর কিছু সংযুক্তি (زوائد) এবং সুস্পষ্ট কিছু জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, যা অন্য কোথাও একত্রে পাওয়া যাবে না এবং ইতিপূর্বে কেউ এমন ধারায় কাজ করেননি। তাই আমি আল্লাহ তাআলার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে এর কাজ শুরু করলাম; আর ভরসা করার জন্য তিনিই শ্রেষ্ঠ। আমি এর নামকরণ করেছি: "তাদরিবুর রাবী ফি শারহি তাকরিবিন নওয়াবী"। আমি একে বিশেষভাবে এই কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে এবং সাধারণভাবে ইবনুল সালাহর সংক্ষেপিত গ্রন্থ ও এই শাস্ত্রের অন্যান্য কিতাবের ব্যাখ্যা হিসেবে প্রণয়ন করেছি।

আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন, কেননা তিনি প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দিতে অধিক যোগ্য; আর এর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে এর লেখক ও পাঠককে উপকৃত করেন।

 

‌‌[ভূমিকার কিছু শিক্ষণীয় বিষয়]

‌‌[প্রথম বিষয়: হাদিস বিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও এর আনুষঙ্গিক আলোচনা]

এই ভূমিকার অধীনে কিছু শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে:

প্রথম: হাদিস বিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও এর আনুষঙ্গিক আলোচনা: ইবনুল আকফানি তাঁর 'ইরশادুল কাসিদ' নামক গ্রন্থে—যেখানে তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞানের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছেন—বলেছেন: হাদিসের রেওয়ায়েত (رواية) সংক্রান্ত বিশেষ বিজ্ঞান হলো: এমন এক বিজ্ঞান যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ও কার্যাবলির বর্ণনা, তার রেওয়ায়েত (رواية), তার যথাযথ সংরক্ষণ (ضبط) এবং শব্দসমূহের বিশোধন (تحرير) সংক্রান্ত আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
أَلْفَاظِهَا.

وَعِلْمُ الْحَدِيثِ الْخَاصُّ بِالدِّرَايَةِ: عِلْمٌ يُعْرَفُ مِنْهُ حَقِيقَةُ الرِّوَايَةِ؛ وَشُرُوطُهَا، وَأَنْوَاعُهَا، وَأَحْكَامُهَا، وَحَالُ الرُّوَاةِ، وَشُرُوطُهُمْ، وَأَصْنَافُ الْمَرْوِيَّاتِ، وَمَا يَتَعَلَّقُ بِهَا. انْتَهَى.

فَحَقِيقَةُ الرِّوَايَةِ: نَقْلُ السُّنَّةِ وَنَحْوِهَا وَإِسْنَادُ ذَلِكَ إِلَى مَنْ عُزِيَ إِلَيْهِ بِتَحْدِيثٍ أَوْ إِخْبَارٍ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ، وَشُرُوطُهَا: تَحَمُّلُ رَاوِيهَا لِمَا يَرْوِيهِ بِنَوْعٍ مِنْ أَنْوَاعِ التَّحَمُّلِ، مِنْ سَمَاعٍ أَوْ عَرْضٍ أَوْ إِجَازَةٍ وَنَحْوِهَا. وَأَنْوَاعُهَا: الِاتِّصَالُ وَالِانْقِطَاعُ وَنَحْوُهُمَا. وَأَحْكَامُهَا: الْقَبُولُ وَالرَّدُّ. وَحَالُ الرُّوَاةِ: الْعَدَالَةُ وَالْجَرْحُ، وَشُرُوطُهُمْ فِي التَّحَمُّلِ وَفِي الْأَدَاءِ كَمَا سَيَأْتِي.

وَأَصْنَافُ الْمَرْوِيَّاتِ: الْمُصَنَّفَاتُ مِنَ الْمَسَانِيدِ وَالْمَعَاجِمِ وَالْأَجْزَاءِ وَغَيْرِهَا، أَحَادِيثَ وَآثَارًا وَغَيْرَهُمَا، وَمَا يَتَعَلَّقُ بِهَا: هُوَ مَعْرِفَةُ اصْطِلَاحِ أَهْلِهَا.

وَقَالَ الشَّيْخُ عِزُّ الدِّينِ بْنُ جَمَاعَةَ: عِلْمُ الْحَدِيثِ: عِلْمٌ بِقَوَانِينَ يُعْرَفُ بِهَا أَحْوَالُ السَّنَدِ وَالْمَتْنِ.

وَمَوْضُوعُهُ: السَّنَدُ وَالْمَتْنُ.

وَغَايَتُهُ: مَعْرِفَةُ الصَّحِيحِ مِنْ غَيْرِهِ.

وَقَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ أَبُو الْفَضْلِ بْنُ حَجَرٍ: أَوْلَى التَّعَارِيفِ لَهُ أَنْ يُقَالَ: مَعْرِفَةُ الْقَوَاعِدِ وَالْمَعْرِفَةُ بِحَالِ الرَّاوِي وَالْمَرْوِيِّ، قَالَ: وَإِنْ شِئْتَ حَذَفْتَ لَفْظَ " مَعْرِفَةُ " فَقُلْتَ الْقَوَاعِدُ إِلَى آخِرِهِ.

وَقَالَ الْكَرْمَانِيُّ فِي شَرْحِ الْبُخَارِيِّ: وَاعْلَمْ أَنَّ الْحَدِيثَ
এর শব্দাবলি।

বর্ণনা বিশ্লেষণ সংক্রান্ত হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث الخاص بالدراية) হলো এমন এক বিদ্যা, যার মাধ্যমে বর্ণনার প্রকৃতি (حقيقة الرواية), এর শর্তাবলি (شروط), এর প্রকারভেদ (أنواع), এর বিধানসমূহ (أحكام), বর্ণনাকারীদের অবস্থা (حال الرواة), তাদের শর্তাবলি (شروط), বর্ণিত বিষয়বস্তুর শ্রেণিবিন্যাস (أصناف المرويات) এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি জানা যায়। সমাপ্ত।

বর্ণনার প্রকৃতি (حقيقة الرواية) হলো: সুন্নাহ (سنة) ও তদ্রূপ বিষয়গুলো বর্ণনা করা এবং তা যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তার দিকে সনদ প্রদান (إسناد) করা; তা হাদিস বর্ণনা (تحديث), সংবাদ প্রদান (إخبار) বা অন্য কোনো মাধ্যমে হোক। আর এর শর্তাবলি (شروط) হলো: বর্ণনাকারী যা বর্ণনা করছেন তা গ্রহণের (تحمل) কোনো এক পদ্ধতিতে গ্রহণ করা; যেমন শ্রবণ (سماع), উপস্থাপন (عرض), অনুমতি (إجازة) বা অনুরূপ কিছু। এর প্রকারভেদ (أنواع) হলো: সূত্রবদ্ধতা (اتصال) ও বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) ইত্যাদি। এর বিধানসমূহ (أحكام) হলো: গ্রহণযোগ্যতা (قبول) ও প্রত্যাখ্যান (رد)। আর বর্ণনাকারীদের অবস্থা (حال الرواة) হলো: ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও ত্রুটি বর্ণনা (جرح), এবং হাদিস গ্রহণ (تحمل) ও পৌঁছানোর (أداء) ক্ষেত্রে তাদের শর্তাবলি (شروط), যা সামনে বিস্তারিত আসবে।

বর্ণিত বিষয়বস্তুর শ্রেণিবিন্যাস (أصناف المرويات) হলো: মুসনাদসমূহ, মা'জামসমূহ, আজজাসমূহ ও অন্যান্য সংকলনসমূহ (مصنفات); চাই তা হাদিস হোক বা আসার (آثار) ও অন্য কিছু। আর এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি বলতে এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের পরিভাষা (اصطلاح) জানাকে বোঝায়।

শাইখ ইযযুদ্দীন ইবনে জামাআহ বলেন: হাদিস বিজ্ঞান হলো এমন কিছু নিয়ম-কানুন (قوانين) সম্পর্কিত জ্ঞান, যার মাধ্যমে সনদ (سند) ও মতন (متن)-এর অবস্থা জানা যায়।

এর আলোচ্য বিষয় হলো: সনদ (سند) ও মতন (متن)।

এর উদ্দেশ্য হলো: সহিহ (صحيح) হাদিসকে অন্যান্য হাদিস থেকে পৃথকভাবে চেনা।

শাইখুল ইসলাম আবুল ফজল ইবনে হাজার বলেন: এর সর্বোত্তম সংজ্ঞা হলো—মূলনীতিসমূহ (قواعد) সম্পর্কে জানা এবং বর্ণনাকারী (راوي) ও বর্ণিত বিষয়ের (مروي) অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া। তিনি আরও বলেন: আপনি চাইলে ‘জানা’ শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু বলতে পারেন ‘মূলনীতিসমূহ (قواعد)’... শেষ পর্যন্ত।

আল-কিরমানি সহিহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন: জেনে রাখুন যে, হাদিস...
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
مَوْضُوعُهُ ذَاتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ حَيْثُ إِنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ.

وَحَدُّهُ: هُوَ عِلْمٌ يُعْرَفُ بِهِ أَقْوَالُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَفْعَالُهُ وَأَحْوَالُهُ.

وَغَايَتُهُ: هُوَ الْفَوْزُ بِسَعَادَةِ الدَّارَيْنِ.

وَهَذَا الْحَدُّ مَعَ شُمُولِهِ لِعِلْمِ الِاسْتِنْبَاطِ غَيْرُ مُحَرَّرٍ، وَلَمْ يَزَلْ شَيْخُنَا الْعَلَّامَةُ مُحْيِي الدِّينِ الْكَافِيجِيُّ يَتَعَجَّبُ مِنْ قَوْلِهِ: إِنَّ مَوْضُوعَ عِلْمِ الْحَدِيثِ ذَاتُ الرَّسُولِ، وَيَقُولُ: هَذَا مَوْضُوعُ الطِّبِّ لَا مَوْضُوعُ الْحَدِيثِ.

وَأَمَّا السَّنَدُ فَقَالَ الْبَدْرُ بْنُ جَمَاعَةَ وَالطِّيبِيُّ: هُوَ الْإِخْبَارُ عَنْ طَرِيقِ الْمَتْنِ.

قَالَ ابْنُ جَمَاعَةَ: وَأَخْذُهُ إِمَّا مِنَ السَّنَدِ، وَهُوَ مَا ارْتَفَعَ وَعَلَا مِنْ سَفْحِ الْجَبَلِ؛ لِأَنَّ الْمُسْنِدَ يَرْفَعُهُ إِلَى قَائِلِهِ، أَوْ مِنْ قَوْلِهِمْ: فُلَانٌ سَنَدٌ، أَيْ مُعْتَمَدٌ، فَسَمَّى الْإِخْبَارَ عَنْ طَرِيقِ الْمَتْنِ سَنَدًا لِاعْتِمَادِ الْحُفَّاظِ فِي صِحَّةِ الْحَدِيثِ وَضَعْفِهِ عَلَيْهِ.

وَأَمَّا الْإِسْنَادُ فَهُوَ رَفْعُ الْحَدِيثِ إِلَى قَائِلِهِ.
এর আলোচ্য বিষয় হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্তা, মূলত আল্লাহর রাসূল হিসেবে তাঁর অবস্থানের দিক থেকে।

এর সংজ্ঞা: এটি এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম ও অবস্থাসমূহ জানা যায়।

এর উদ্দেশ্য: উভয় জগতের সৌভাগ্য লাভ করা।

এই সংজ্ঞাটি মাসআলা উদ্ভাবন সংক্রান্ত ইলমের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও সুসংহত নয়। আমাদের শায়খ আল্লামা মুহিউদ্দিন আল-কাফিয়াজি এই বক্তব্যে সর্বদা বিস্ময় প্রকাশ করতেন যে, হাদিস শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো রাসূলের সত্তা; তিনি বলতেন: এটি তো চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়, হাদিসের নয়।

আর সনদ (السند) সম্পর্কে বদর ইবনে জামাআহ ও তুবি বলেছেন: এটি হলো মতন (المتن) পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ বা সূত্র সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা।

ইবনে জামাআহ বলেন: সনদ শব্দটি হয়তো পাহাড়ের পাদদেশ থেকে উঁচু ও উন্নত স্থান থেকে গৃহীত; কারণ মুসনিদ (المসند) হাদিসটিকে এর মূল প্রবক্তার দিকে উন্নীত করেন। অথবা এটি আরবদের প্রবাদ 'অমুক ব্যক্তি একজন সনদ' থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ হলো নির্ভরযোগ্য (معتمد)। তাই মতন (المتن) পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়াকে সনদ (السند) নামকরণ করা হয়েছে, কারণ হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) নির্ণয়ে হাফেজগণ এর ওপর নির্ভর করেন।

আর ইসনাদ (الإسناد) হলো হাদিসকে তার প্রবক্তা পর্যন্ত উন্নীত করা।
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
قَالَ الطِّيبِيُّ: وَهُمَا مُتَقَارِبَانِ فِي مَعْنَى اعْتِمَادِ الْحُفَّاظِ فِي صِحَّةِ الْحَدِيثِ وَضَعْفِهِ عَلَيْهِمَا.

وَقَالَ ابْنُ جَمَاعَةَ: الْمُحَدِّثُونَ يَسْتَعْمِلُونَ السَّنَدَ وَالْإِسْنَادَ لِشَيْءٍ وَاحِدٍ.

وَأَمَّا الْمُسْنَدُ بِفَتْحِ النُّونِ فَلَهُ اعْتِبَارَاتٌ: أَحَدُهَا: الْحَدِيثُ الْآتِي تَعْرِيفُهُ فِي النَّوْعِ الرَّابِعِ مِنْ كَلَامِ الْمُصَنِّفِ.

الثَّانِي: الْكِتَابُ الَّذِي جُمِعَ فِيهِ مَا أَسْنَدَهُ الصَّحَابَةُ، أَيْ رَوَوْهُ، فَهُوَ اسْمُ مَفْعُولٍ.

الثَّالِثُ: أَنْ يُطْلَقَ وَيُرَادَ بِهِ الْإِسْنَادُ، فَيَكُونُ مَصْدَرًا، كَمُسْنَدِ الشِّهَابِ، وَمُسْنَدِ الْفِرْدَوْسِ: أَيْ أَسَانِيدُ أَحَادِيثِهِمَا.

وَأَمَّا الْمَتْنُ فَهُوَ: أَلْفَاظُ الْحَدِيثِ الَّتِي تَتَقَوَّمُ بِهَا الْمَعَانِي، قَالَهُ الطِّيبِيُّ.

وَقَالَ ابْنُ جَمَاعَةَ: هُوَ مَا يَنْتَهِي إِلَيْهِ غَايَةُ السَّنَدِ مِنَ الْكَلَامِ، وَأَخْذُهُ إِمَّا مِنَ الْمُمَاتَنَةِ، وَهِيَ: الْمُبَاعَدَةُ فِي الْغَايَةِ؛ لِأَنَّهُ غَايَةُ السَّنَدِ، أَوْ مِنْ مَتَنْتُ الْكَبْشَ: إِذَا شَقَقْتُ جِلْدَةَ بَيْضَتِهِ وَاسْتَخْرَجْتُهَا، فَكَأَنَّ الْمُسْنِدَ اسْتَخْرَجَ الْمَتْنَ بِسَنَدِهِ؛ أَوْ مِنَ الْمَتْنِ وَهُوَ: مَا صَلُبَ وَارْتَفَعَ مِنَ الْأَرْضِ؛ لِأَنَّ الْمُسْنِدَ يُقَوِّيهِ بِالسَّنَدِ وَيَرْفَعُهُ إِلَى قَائِلِهِ؛ أَوْ مِنْ تَمَتَّنَ الْقَوْسَ أَيْ شَدَّهَا بِالْعَصَبِ؛ لِأَنَّ الْمُسْنِدَ يُقَوِّي الْحَدِيثَ بِسَنَدِهِ.
আল-তিবি বলেন: হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) নির্ণয়ে হাদিস বিশারদদের নির্ভরতার ক্ষেত্রে সানাদ (سند) ও ইসনাদ (إسناد) শব্দ দুটি পরস্পর নিকটবর্তী অর্থ প্রকাশ করে।

ইবনে জামাআহ বলেন: মুহাদ্দিসগণ সানাদ (سند) ও ইসনাদ (إسناد) শব্দ দুটিকে একই অর্থে ব্যবহার করেন।

আর 'নুন' বর্ণে ফাতহা যোগে মুসনাদ শব্দটির কতিপয় ব্যবহার রয়েছে: প্রথমত: এমন হাদিস যার সংজ্ঞা গ্রন্থকারের বক্তব্যের চতুর্থ পরিচ্ছেদে আসবে।

দ্বিতীয়ত: এমন কিতাব যাতে সাহাবিগণ যা বর্ণনা করেছেন তা সংকলিত হয়েছে; এক্ষেত্রে এটি একটি ইসমে মাফউল (اسم مفعول)।

তৃতীয়ত: এটি দ্বারা ইসনাদ (إسناد) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, তখন এটি মাসদার (مصدر) হিসেবে গণ্য হয়; যেমন—মুসনাদ আল-শিহাব এবং মুসনাদ আল-ফিরদাউস; অর্থাৎ এগুলোর হাদিসসমূহের আসানিদ (أسانيد)।

আর মাতন (متন) হলো: হাদিসের ঐ শব্দাবলি যা দ্বারা মূল অর্থসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়, আল-তিবি এমনটিই বলেছেন।

ইবনে জামাআহ বলেন: সানাদ (سند)-এর সমাপ্তি যেখানে ঘটে সেই বক্তব্যকেই মাতন (متন) বলা হয়। এর বুৎপত্তিগত উৎস সম্ভবত ‘আল-মুমাতানাহ’ থেকে গৃহীত, যার অর্থ: কোনো লক্ষ্যের দূরবর্তী প্রান্ত; যেহেতু এটি সানাদ (سند)-এর শেষ প্রান্ত। অথবা এটি ‘মাতান্তুল কাবশ’ থেকে এসেছে: যখন আমি ভেড়ার অণ্ডকোষের চামড়া বিদীর্ণ করে তা বের করে আনি; যেন মুসনিদ (مسند) তার সানাদ (سند)-এর মাধ্যমে মাতন (متন)-কে বের করে আনেন। অথবা এটি ‘আল-মাতন’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: জমিনের শক্ত ও উঁচু অংশ; কারণ মুসনিদ (مسند) সানাদ (سند) দ্বারা হাদিসকে শক্তিশালী করেন এবং মূল বক্তা পর্যন্ত উন্নীত করেন। অথবা এটি ‘তামাত্তানাল কাওসা’ থেকে এসেছে যার অর্থ: রগ দিয়ে ধনুক মজবুত করা; কারণ মুসনিদ (مسند) সানাদ (سند) দ্বারা হাদিসকে শক্তিশালী করেন।
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَأَمَّا الْحَدِيثُ فَأَصْلُهُ: ضِدُّ الْقَدِيمِ، وَقَدِ اسْتُعْمِلَ فِي قَلِيلِ الْخَبَرِ وَكَثِيرِهِ؛ لِأَنَّهُ يُحَدَّثُ شَيْئًا فَشَيْئًا.

وَقَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ ابْنُ حَجَرٍ فِي شَرْحِ الْبُخَارِيِّ: الْمُرَادُ بِالْحَدِيثِ فِي عُرْفِ الشَّرْعِ: مَا يُضَافُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. وَكَأَنَّهُ أُرِيدَ بِهِ مُقَابَلَةُ الْقُرْآنِ لِأَنَّهُ قَدِيمٌ.

وَقَالَ الطِّيبِيُّ: الْحَدِيثُ أَعَمُّ مِنْ أَنْ يَكُونَ قَوْلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالصَّحَابِيِّ وَالتَّابِعِيِّ وَفِعْلَهُمْ وَتَقْرِيرَهُمْ.

وَقَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ فِي شَرْحِ النُّخْبَةِ: الْخَبَرُ عِنْدَ عُلَمَاءِ الْفَنِّ مُرَادِفٌ لِلْحَدِيثِ، فَيُطْلَقَانِ عَلَى الْمَرْفُوعِ وَعَلَى الْمَوْقُوفِ وَالْمَقْطُوعِ.

وَقِيلَ: الْحَدِيثُ مَا جَاءَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَالْخَبَرُ مَا جَاءَ عَنْ غَيْرِهِ، وَمِنْ ثَمَّ قِيلَ لِمَنْ يَشْتَغِلُ بِالسُّنَّةِ: مُحَدِّثٌ، وَبِالتَّوَارِيخِ وَنَحْوِهَا أَخْبَارِيٌّ.

وَقِيلَ: بَيْنَهُمَا عُمُومٌ وَخُصُوصٌ مُطْلَقٌ، فَكُلُّ حَدِيثٍ خَبَرٌ وَلَا عَكْسَ.

وَقِيلَ: لَا يُطْلَقُ الْحَدِيثُ عَلَى غَيْرِ الْمَرْفُوعِ إِلَّا بِشَرْطِ التَّقْيِيدِ.

وَقَدْ ذَكَرَ الْمُصَنِّفُ فِي النَّوْعِ السَّابِعِ: أَنَّ الْمُحَدِّثِينَ يُسَمُّونَ الْمَرْفُوعَ وَالْمَوْقُوفَ بِالْأَثَرِ، وَأَنَّ فُقَهَاءَ خُرَاسَانَ يُسَمُّونَ الْمَوْقُوفَ بِالْأَثَرِ وَالْمَرْفُوعَ بِالْخَبَرِ. وَيُقَالُ: أَثَرْتُ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى رَوَيْتُهُ، وَيُسَمَّى الْمُحَدِّثُ أَثَرِيًّا نِسْبَةً لِلْأَثَرِ.

 

‌‌[الفائدة الثَّانِيَةُ فِي حَدِّ الْحَافِظِ وَالْمُحَدِّثِ وَالْمُسْنِدِ]

الثَّانِيَةُ: فِي حَدِّ الْحَافِظِ وَالْمُحَدِّثِ وَالْمُسْنِدِ.

اعْلَمْ أَنَّ أَدْنَى دَرَجَاتِ الثَّلَاثَةِ، الْمُسْنِدُ بِكَسْرِ النُّونِ، وَهُوَ مَنْ يَرْوِي
আর হাদিসের আক্ষরিক অর্থ হলো: অনাদির (قديم) বিপরীত। এটি সংবাদ (خبر) এর অল্প বা অধিক উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়; কারণ এটি পর্যায়ক্রমে বর্ণিত হয়।

শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজার শারহুল বুখারিতে বলেন: শরয়ি পরিভাষায় হাদিস বলতে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তাকে বোঝায়। আর যেন এর মাধ্যমে কুরআনের বিপরীত অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে, কারণ কুরআন অনাদি (قديم)।

আল-তিবি বলেন: হাদিস শব্দটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবি এবং তাবিঈর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি (تقرير)—এই সবকিছুর জন্য সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়।

শায়খুল ইসলাম শারহুন নুখবায় বলেন: এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট সংবাদ (خبر) হাদিসের সমার্থক; সুতরাং এ দুটি শব্দ মারফু (مرفوع), মাওকুফ (موقوف) এবং মাকতু (مقطوع) সব ধরণের বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।

বলা হয়ে থাকে: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে তা হাদিস, আর যা অন্য কারো থেকে বর্ণিত হয়েছে তা সংবাদ (خبر)। এই কারণেই যারা সুন্নাহ নিয়ে চর্চা করেন তাদের মুহাদ্দিস (محدث) বলা হয়, আর যারা ইতিহাস ও অনুরূপ বিষয় নিয়ে চর্চা করেন তাদের আখবারি (أخباري) বলা হয়।

আবার বলা হয়েছে: এই দুটির মধ্যে সাধারণ এবং বিশেষের নিরঙ্কুশ সম্পর্ক (عموم وخصوص مطلق) বিদ্যমান। সুতরাং প্রত্যেক হাদিসই সংবাদ (خبر), কিন্তু প্রত্যেক সংবাদ (خبر) হাদিস নয়।

আরও বলা হয়েছে: মারফু (مرفوع) ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণনার ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত করা (تقييد) ছাড়া হাদিস শব্দটি প্রয়োগ করা হয় না।

গ্রন্থকার সপ্তম প্রকারে উল্লেখ করেছেন যে: মুহাদ্দিসগণ মারফু (مرفوع) এবং মাওকুফ (موقوف) উভয়কেই আছার (أثر) বলে অভিহিত করেন। আর খুরাসানের ফকিহগণ মাওকুফকে (موقوف) আছার (أثر) এবং মারফুকে (مرفوع) সংবাদ (خبر) নামে অভিহিত করেন। বলা হয়: "আমি হাদিসটি বর্ণনা করেছি" (أثرت الحديث), যার অর্থ হলো "আমি তা রেওয়াত করেছি" (رويته)। আর আছার (أثر)-এর দিকে সম্বন্ধ করে মুহাদ্দিসকে আসারি (أثري) বলা হয়।

 

‌‌[হাফিজ (حافظ), মুহাদ্দিস (محدث) এবং মুসনিদ (مسند)-এর সংজ্ঞার বর্ণনায় দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ]

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাফিজ (حافظ), মুহাদ্দিস (محدث) এবং মুসনিদ (مسند)-এর সংজ্ঞার বর্ণনায়।

জেনে রাখুন, এই তিন স্তরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর হলো মুসনিদ (مسند) (নুন বর্ণে কাসরা বা জেরসহ); আর তিনি হলেন ওই ব্যক্তি যিনি বর্ণনা করেন...
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
الْحَدِيثَ بِإِسْنَادِهِ، سَوَاءٌ كَانَ عِنْدَهُ عِلْمٌ بِهِ أَوْ لَيْسَ لَهُ إِلَّا مُجَرَّدُ رِوَايَةٍ، وَأَمَّا الْمُحَدِّثُ فَهُوَ أَرْفَعُ مِنْهُ.

قَالَ الرَّافِعِيُّ وَغَيْرُهُ: إِذَا أُوصِيَ لِلْعُلَمَاءِ لَمْ يَدْخُلِ الَّذِينَ يَسْمَعُونَ الْحَدِيثَ، وَلَا عِلْمَ لَهُمْ بِطُرُقِهِ وَلَا بِأَسْمَاءِ الرُّوَاةِ وَالْمُتُونِ؛ لِأَنَّ السَّمَاعَ الْمُجَرَّدَ لَيْسَ بِعِلْمٍ.

وَقَالَ التَّاجُ بْنُ يُونُسَ فِي " شَرْحِ التَّعْجِيزِ ": إِذَا أُوصِيَ لِلْمُحَدِّثِ تَنَاوَلَ مَنْ عَلِمَ طُرُقَ إِثْبَاتِ الْحَدِيثِ وَعَدَالَةَ رِجَالِهِ؛ لِأَنَّ مَنِ اقْتَصَرَ عَلَى السَّمَاعِ فَقَطْ لَيْسَ بِعَالِمٍ.

وَكَذَا قَالَ السُّبْكِيُّ فِي " شَرْحِ الْمِنْهَاجِ ".

وَقَالَ الْقَاضِي عَبْدُ الْوَهَّابِ: ذَكَرَ عِيسَى بْنُ أَبَانٍ عَنْ مَالِكٍ أَنَّهُ قَالَ: لَا يُؤْخَذُ الْعِلْمُ عَنْ أَرْبَعَةٍ؛ وَيُؤْخَذُ عَمَّنْ سِوَاهُمْ: لَا يُؤْخَذُ عَنْ مُبْتَدِعٍ يَدْعُو إِلَى بِدْعَتِهِ، وَلَا عَنْ سَفِيهٍ يُعْلِنُ بِالسَّفَهِ، وَلَا عَمَّنْ يَكْذِبُ فِي أَحَادِيثِ النَّاسِ، وَإِنْ كَانَ يَصْدُقُ فِي أَحَادِيثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَلَا عَمَّنْ لَا يَعْرِفُ هَذَا الشَّأْنَ.

قَالَ الْقَاضِي: فَقَوْلُهُ وَلَا عَمَّنْ لَا يَعْرِفُ هَذَا الشَّأْنَ، مُرَادُهُ إِذَا لَمْ
সনদ (إسناد) সহ হাদিস, চাই তার কাছে সে বিষয়ে জ্ঞান থাকুক অথবা তার কাছে কেবল বর্ণনার (رواية) বিবরণই থাকুক; আর মুহাদ্দিস (محدث) হলেন তার চেয়েও উচ্চতর স্তরের।

রাফেয়ী ও অন্যান্যরা বলেছেন: যদি আলেমদের জন্য অসিয়ত করা হয়, তবে যারা কেবল হাদিস শ্রবণ করেন অথচ হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق), বর্ণনাকারীগণের (رواة) নাম ও মূলপাঠসমূহ (متون) সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন না, তারা এর অন্তর্ভুক্ত হবেন না; কেননা কেবল শ্রবণ (سماع) কোনো জ্ঞান নয়।

তাজ ইবনে ইউনুস 'শারহুত তা'জিজ'-এ বলেছেন: যদি মুহাদ্দিসের (محدث) জন্য অসিয়ত করা হয়, তবে তা এমন ব্যক্তিকে শামিল করবে যিনি হাদিস সাব্যস্ত করার সূত্রসমূহ (طرق) এবং তার বর্ণনাকারীগণের (رجال) সততা (عدالة) সম্পর্কে অবগত; কারণ যে ব্যক্তি কেবল শ্রবণের (سماع) ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, সে আলেম নয়।

অনুরূপ কথা সুবকী 'শারহুল মিনহাজ'-এ বলেছেন।

কাজী আব্দুল ওয়াহাব বলেন: ঈসা ইবনে আবান ইমাম মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: চার শ্রেণির ব্যক্তি থেকে ইলম গ্রহণ করা যাবে না; আর তারা ছাড়া অন্যদের থেকে গ্রহণ করা যাবে: এমন বিদআতপন্থী (مبتدع) থেকে ইলম নেওয়া যাবে না যে নিজের বিদআতের (بدعة) দিকে আহ্বান জানায়, এমন নির্বোধ থেকে নয় যে প্রকাশ্যে মূর্খতা প্রকাশ করে, এমন ব্যক্তি থেকে নয় যে মানুষের কথাবার্তায় মিথ্যা বলে যদিও সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনায় সত্যবাদী (يصدق) হয়, এবং এমন ব্যক্তি থেকে নয় যে এই শাস্ত্র সম্পর্কে অবগত নয়।

কাজী বলেন: তাঁর কথা "এবং এমন ব্যক্তি থেকে নয় যে এই শাস্ত্র সম্পর্কে অবগত নয়" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যখন সে না...
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٣١)
يَكُنْ مِمَّنْ يَعْرِفُ الرِّجَالَ مِنَ الرُّوَاةِ، وَلَا يَعْرِفُ هَلْ زِيدَ فِي الْحَدِيثِ شَيْءٌ أَوْ نَقَصَ؟

وَقَالَ الزَّرْكَشِيُّ: أَمَّا الْفُقَهَاءُ فَاسْمُ الْمُحَدِّثِ عِنْدَهُمْ لَا يُطْلَقُ إِلَّا عَلَى مَنْ حَفِظَ مَتْنَ الْحَدِيثِ، وَعَلِمَ عَدَالَةَ رِجَالِهِ وَجَرْحَهَا، دُونَ الْمُقْتَصِرِ عَلَى السَّمَاعِ.

وَأَخْرَجَ ابْنُ السَّمْعَانِيِّ فِي تَارِيخِهِ بِسَنَدِهِ عَنْ أَبِي نَصْرٍ حُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الشِّيرَازِيِّ قَالَ: الْعَالِمُ الَّذِي يَعْرِفُ الْمَتْنَ وَالْإِسْنَادَ جَمِيعًا، وَالْفَقِيهُ الَّذِي عَرَفَ الْمَتْنَ وَلَا يَعْرِفُ الْإِسْنَادَ، وَالْحَافِظُ الَّذِي يَعْرِفُ الْإِسْنَادَ وَلَا يَعْرِفُ الْمَتْنَ، وَالرَّاوِي الَّذِي لَا يَعْرِفُ الْمَتْنَ وَلَا يَعْرِفُ الْإِسْنَادَ.

وَقَالَ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو شَامَةَ: عُلُومُ الْحَدِيثِ الْآنَ ثَلَاثَةٌ:

أَشْرَفُهَا حِفْظُ مُتُونِهِ وَمَعْرِفَةُ غَرِيبِهَا وَفِقْهِهَا.

وَالثَّانِي: حِفْظُ أَسَانِيدِهَا وَمَعْرِفَةُ رِجَالِهَا وَتَمْيِيزُ صَحِيحِهَا مِنْ سَقِيمِهَا، وَهَذَا كَانَ مُهِمًّا وَقَدْ كُفِيَهُ الْمُشْتَغِلُ بِالْعِلْمِ بِمَا صُنِّفَ فِيهِ وَأُلِّفَ فِيهِ مِنَ الْكُتُبِ، فَلَا فَائِدَةَ إِلَى تَحْصِيلِ مَا هُوَ حَاصِلٌ.

وَالثَّالِثُ: جَمْعُهُ وَكِتَابَتُهُ وَسَمَاعُهُ وَتَطْرِيقُهُ وَطَلَبُ الْعُلُوِّ فِيهِ، وَالرِّحْلَةُ إِلَى الْبُلْدَانِ، وَالْمُشْتَغِلُ بِهَذَا مُشْتَغِلٌ عَمَّا هُوَ الْأَهَمُّ مِنَ الْعُلُومِ النَّافِعَةِ، فَضْلًا عَنِ الْعَمَلِ بِهِ الَّذِي هُوَ الْمَطْلُوبُ الْأَصْلِيُّ، إِلَّا أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِهِ لِأَهْلِ
তিনি বর্ণনাকারীদের (الرواة) মধ্য থেকে ব্যক্তিবর্গকে (الرجال) চেনেন না, এবং হাদিসে কোনো কিছু বাড়ানো হয়েছে নাকি কমানো হয়েছে তাও জানেন না।

যারকাশী বলেছেন: ফকিহদের মতে, মুহাদ্দিস উপাধি কেবল তাদের জন্যই প্রযোজ্য যারা হাদিসের মূল পাঠ (متن) মুখস্থ করেছেন, এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (عدالة) এবং তাদের ত্রুটিসমূহ (جرح) সম্পর্কে অবগত হয়েছেন; কেবল শ্রবণের (السماع) ওপর সীমাবদ্ধ ব্যক্তির জন্য তা প্রযোজ্য নয়।

ইবনে সাম’আনি তাঁর তারিখ গ্রন্থে নিজ সনদে (سند) আবু নাসর হুসাইন ইবন আবদিল ওয়াহিদ আশ-শিরাজি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ‘আলিম’ হচ্ছেন তিনি যিনি মূল পাঠ (المتن) এবং সনদ (الإسناد) উভয়টিই জানেন। ‘ফকিহ’ হচ্ছেন তিনি যিনি মূল পাঠ (المتن) জানেন কিন্তু সনদ (الإسناد) চেনেন না। ‘হাফিজ’ হচ্ছেন তিনি যিনি সনদ (الإسناد) চেনেন কিন্তু মূল পাঠ (المتن) জানেন না। আর ‘বর্ণনাকারী (الراوي)’ হচ্ছেন তিনি যিনি মূল পাঠ (المتن) এবং সনদ (الإسناد) কোনোটিই চেনেন না।

ইমাম হাফিজ আবু শামা বলেছেন: বর্তমান যুগে হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান (علوم الحديث) তিন প্রকার:

এর মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হলো মূল পাঠসমূহ (متون) মুখস্থ করা এবং এর বিরল শব্দাবলি (غريب) ও নিহিত ফিকহ সম্পর্কে জানা।

দ্বিতীয়ত: হাদিসের সনদসমূহ (أسانيد) মুখস্থ করা, এর বর্ণনাকারীদের (رجال) পরিচয় জানা এবং সহিহ (صحيح) হাদিসকে অসুস্থ বা দুর্বল (سقيم) হাদিস থেকে পৃথক করা। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, তবে এ ক্ষেত্রে রচিত কিতাবসমূহ জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য যথেষ্ট হয়েছে। সুতরাং যা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়ে আছে, তা পুনরায় অর্জন করার বিশেষ কোনো সার্থকতা নেই।

তৃতীয়ত: হাদিস সংগ্রহ করা, তা লিপিবদ্ধ করা, শ্রবণ (سماع) করা, এর বিভিন্ন সূত্র (تطريق) বের করা, উচ্চ সনদ (علو) অন্বেষণ করা এবং বিভিন্ন শহরে সফর করা। যে ব্যক্তি এর পেছনে মগ্ন থাকে, সে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী জ্ঞান অর্জন থেকে বিমুখ থাকে, এমনকি হাদিসের ওপর আমল করা থেকেও বঞ্চিত হয় যা মূল লক্ষ্য। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য এতে কোনো দোষ নেই...
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
الْبَطَالَةِ لِمَا فِيهِ مِنْ بَقَاءِ سِلْسِلَةِ الْإِسْنَادِ الْمُتَّصِلَةِ بِأَشْرَفِ الْبَشَرِ.

قَالَ: وَمِمَّا يُزَهِّدُ فِي ذَلِكَ أَنَّ فِيهِ يَتَشَارَكُ الْكَبِيرُ وَالصَّغِيرُ، وَالْفَدْمُ وَالْبَاهِمُ، وَالْجَاهِلُ وَالْعَالِمُ.

وَقَدْ قَالَ الْأَعْمَشُ: حَدِيثٌ يَتَدَاوَلُهُ الْفُقَهَاءُ خَيْرٌ مِنْ حَدِيثٍ يَتَدَاوَلُهُ الشُّيُوخُ.

وَلَامَ إِنْسَانٌ أَحْمَدَ فِي حُضُورِ مَجْلِسِ الشَّافِعِيِّ وَتَرْكِهِ مَجْلِسَ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، فَقَالَ لَهُ أَحْمَدُ: اسْكُتْ فَإِنْ فَاتَكَ حَدِيثٌ بِعُلُوٍّ تَجِدْهُ بِنُزُولٍ وَلَا
...অলসতা অপেক্ষা (শ্রেষ্ঠ), কারণ এতে মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম সত্তার সাথে সংযুক্ত (متصلة) বর্ণনাসূত্রের ধারা (سلسلة الإسناد) বিদ্যমান থাকে।

তিনি বলেন: এ বিষয়ের প্রতি বিমুখ হওয়ার একটি কারণ হলো যে, এতে বড় ও ছোট, স্থূলবুদ্ধি ও নির্বোধ এবং অজ্ঞ ও বিজ্ঞ—সবাই অংশ নেয়।

আর আল-আ'মাশ বলেছেন: ফকিহদের (فقهاء) মাঝে চর্চিত হাদিস ঐ হাদিসের চেয়ে উত্তম যা কেবল শায়খদের (شيوخ) মাঝে আবর্তিত হয়।

এক ব্যক্তি ইমাম আহমাদকে ইমাম শাফিঈর মজলিসে উপস্থিত থাকা এবং সুফিয়ান ইবনে উয়াইনার মজলিস বর্জন করার কারণে তিরস্কার করল। তখন আহমাদ তাকে বললেন: "চুপ করো! কেননা যদি তোমার থেকে উচ্চতর (علو) সনদের কোনো হাদিস ছুটেও যায়, তবে তুমি তা নিম্নতর (نزول) সনদে পেয়ে যাবে, কিন্তু..."
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
يَضُرُّكَ، وَإِنْ فَاتَكَ عَقْلُ هَذَا الْفَتَى أَخَافُ أَنْ لَا تَجِدَهُ. انْتَهَى.

قَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ: وَفِي بَعْضِ كَلَامِهِ نَظَرٌ؛ لِأَنَّ قَوْلَهُ: وَهَذَا قَدْ كُفِيَهُ الْمُشْتَغِلُ بِمَا صُنِّفَ فِيهِ قَدْ أَنْكَرَهُ الْعَلَّامَةُ أَبُو جَعْفَرِ بْنُ الزُّبَيْرِ وَغَيْرُهُ، وَيُقَالُ عَلَيْهِ: إِنْ كَانَ التَّصْنِيفُ فِي الْفَنِّ يُوجِبُ الِاتِّكَالَ عَلَى ذَلِكَ وَعَدَمَ الِاشْتِغَالِ بِهِ، فَالْقَوْلُ كَذَلِكَ فِي الْفَنِّ الْأَوَّلِ، فَإِنَّ فِقْهَ الْحَدِيثِ وَغَرِيبَهُ لَا يُحْصَى كَمْ صُنِّفَ فِيهِ، بَلْ لَوِ ادَّعَى مُدَّعٍ أَنَّ التَّصَانِيفَ فِيهِ أَكْثَرُ مِنَ التَّصَانِيفِ فِي تَمْيِيزِ الرِّجَالِ، وَالصَّحِيحِ مِنَ السَّقِيمِ لَمَا أَبْعَدَ، بَلْ ذَلِكَ هُوَ الْوَاقِعُ. فَإِنْ كَانَ الِاشْتِغَالُ بِالْأَوَّلِ مُهِمًّا فَالِاشْتِغَالُ بِالثَّانِي أَهَمُّ؛ لِأَنَّهُ الْمِرْقَاةُ إِلَى الْأَوَّلِ، فَمَنْ أَخَلَّ بِهِ خَلَطَ السَّقِيمَ بِالصَّحِيحِ، وَالْمُعَدَّلَ بِالْمُجَرَّحِ، وَهُوَ لَا يَشْعُرُ.

قَالَ: فَالْحَقُّ أَنَّ كُلًّا مِنْهُمَا فِي عِلْمِ الْحَدِيثِ مُهِمٌّ، وَلَا شَكَّ أَنَّ مَنْ جَمَعَهُمَا حَازَ الْقِدْحَ الْمُعَلَّى مَعَ قُصُورٍ فِيهِ إِنْ أَخَلَّ بِالثَّالِثِ، وَمَنْ أَخَلَّ بِهِمَا فَلَا حَظَّ لَهُ فِي اسْمِ الْحُفَّاظِ، وَمَنْ أَحْرَزَ الْأَوَّلَ وَأَخَلَّ بِالثَّانِي كَانَ بَعِيدًا مِنِ اسْمِ الْمُحَدِّثِ عُرْفًا، وَمَنْ أَحْرَزَ الثَّانِيَ وَأَخَلَّ بِالْأَوَّلِ لَمْ يَبْعُدْ عَنْهُ اسْمُ الْمُحَدِّثِ، وَلَكِنْ فِيهِ نَقْصٌ بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْأَوَّلِ، وَبَقِيَ الْكَلَامُ فِي الْفَنِّ الثَّالِثِ،
[তোমার কোনো] ক্ষতি করবে না, আর যদি তুমি এই যুবকের প্রজ্ঞা হারিয়ে ফেলো, তবে আমি আশঙ্কা করি যে তুমি তা আর পাবে না। সমাপ্ত।

শাইখুল ইসলাম বলেন: তাঁর কোনো কোনো বক্তব্যের ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে; কারণ তাঁর এই উক্তি— "আর এই বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য তা যথেষ্ট হয়ে গেছে"—এই কথাটি আল্লামা আবু জাফর ইবনুল জুবাইর এবং অন্যান্যরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে এই বলে যে: যদি কোনো শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করার কারণে সেই শাস্ত্রের ওপর কেবল নির্ভর করা এবং তাতে ব্যতিব্যস্ত না হওয়া আবশ্যক হয়, তবে প্রথম শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য হবে। কেননা হাদিসের ফিকহ এবং এর বিরল শব্দাবলি (غريب) নিয়ে কত গ্রন্থ রচিত হয়েছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। বরং কেউ যদি দাবি করে যে, এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থের সংখ্যা বর্ণনাকারীদের পার্থক্য নির্ণয় এবং সঠিক (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনার মান নিরূপণে রচিত গ্রন্থের চেয়েও বেশি, তবে তা সত্য থেকে দূরে হবে না, বরং বাস্তবতাই তাই। সুতরাং প্রথমটি নিয়ে ব্যস্ত থাকা যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে দ্বিতীয়টি নিয়ে ব্যস্ত থাকা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটিই প্রথমটির সোপান। ফলে যে ব্যক্তি দ্বিতীয়টি বর্জন করবে, সে অজান্তেই ত্রুটিযুক্তকে (سقيم) সঠিকের (صحيح) সাথে এবং বিশ্বস্ত হিসেবে প্রত্যায়িতকে (معدل) সমালোচিত (مجرح) রাবীর সাথে গুলিয়ে ফেলবে।

তিনি বলেন: সত্য কথা এই যে, হাদিস বিজ্ঞানে এই দুটির প্রতিটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যিনি এ দুটির সমন্বয় ঘটাবেন তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবেন, যদিও তৃতীয় বিষয়টি বর্জন করলে তাঁর মধ্যে কিছুটা অপূর্ণতা থেকে যাবে। আর যে ব্যক্তি এই উভয়টিকে বর্জন করবে, হাফেজদের (حفاظ) তালিকায় স্থান পাওয়ার কোনো সুযোগ তাঁর নেই। আর যে ব্যক্তি প্রথমটি অর্জন করল কিন্তু দ্বিতীয়টি বর্জন করল, পরিভাষাগতভাবে সে মুহাদ্দিস (محدث) উপাধি থেকে বহু দূরে থাকবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি দ্বিতীয়টি অর্জন করল এবং প্রথমটি বর্জন করল, তাঁর ক্ষেত্রে মুহাদ্দিস (محدث) নামটির প্রয়োগ অবান্তর হবে না, তবে প্রথমটির তুলনায় তাঁর মধ্যে অপূর্ণতা থেকে যাবে। আর তৃতীয় শাস্ত্রটির ব্যাপারে আলোচনা অবশিষ্ট রয়ে গেল।
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
وَلَا شَكَّ أَنَّ مَنْ جَمَعَ ذَلِكَ مِنَ الْأَوَّلِينَ كَانَ أَوْفَرَ سَهْمًا وَأَحَظَّ قَسْمًا، وَمَنِ اقْتَصَرَ عَلَيْهِ كَانَ أَخَسَّ حَظًّا وَأَبْعَدَ حِفْظًا، فَمَنْ جَمَعَ الثَّلَاثَةَ كَانَ فَقِيهًا مُحَدِّثًا كَامِلًا، وَمَنِ انْفَرَدَ بِاثْنَيْنِ مِنْهُمَا كَانَ دُونَهُ، إِلَّا أَنَّ مَنِ اقْتَصَرَ عَلَى الثَّانِي وَالثَّالِثِ فَهُوَ مُحَدِّثٌ صِرْفٌ، لَا حَظَّ لَهُ فِي اسْمِ الْفَقِيهِ، كَمَا أَنَّ مَنِ انْفَرَدَ بِالْأَوَّلِ فَلَا حَظَّ لَهُ فِي اسْمِ الْمُحَدِّثِ، وَمَنِ انْفَرَدَ بِالْأَوَّلِ وَالثَّانِي فَهَلْ يُسَمَّى مُحَدِّثًا؟ فِيهِ بَحْثٌ. انْتَهَى.

وَفِي غُضُونِ كَلَامِهِ مَا يُشْعِرُ بِاسْتِوَاءِ الْمُحَدِّثِ وَالْحَافِظِ، حَيْثُ قَالَ: فَلَا حَظَّ لَهُ فِي اسْمِ الْحَافِظِ. وَالْكَلَامُ كُلُّهُ فِي الْمُحَدِّثِ.

وَقَدْ كَانَ السَّلَفُ يُطْلِقُونَ الْمُحَدِّثَ وَالْحَافِظَ بِمَعْنًى، كَمَا رَوَى أَبُو سَعْدٍ السَّمْعَانِيُّ بِسَنَدِهِ إِلَى أَبِي زُرْعَةَ الرَّازِيِّ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ أَبِي شَيْبَةَ يَقُولُ: مَنْ لَمْ يَكْتُبْ عِشْرِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ إِمْلَاءً لَمْ يُعَدَّ صَاحِبَ حَدِيثٍ.

وَفِي الْكَامِلِ لِابْنِ عَدِيٍّ مِنْ جِهَةِ النُّفَيْلِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ هُشَيْمًا يَقُولُ: مَنْ لَمْ يَحْفَظِ الْحَدِيثَ فَلَيْسَ هُوَ مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ.

وَالْحَقُّ أَنَّ الْحَافِظَ أَخَصُّ، وَقَالَ التَّاجُ السُّبْكِيُّ فِي كِتَابِهِ مُعِيدِ النِّعَمِ: مِنَ النَّاسِ فِرْقَةٌ ادَّعَتِ الْحَدِيثَ فَكَانَ قُصَارَى أَمْرِهَا النَّظَرَ فِي مَشَارِقِ الْأَنْوَارِ لِلصَّاغَانِيِّ. فَإِنْ تَرَفَّعَتِ

[ارْتَقَتْ] إِلَى مَصَابِيحِ الْبَغَوِيِّ، وَظَنَّتْ أَنَّهَا بِهَذَا
নিঃসন্দেহে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে যারা এই বিষয়গুলো একত্রিত করেছেন, তারা অধিক অংশের অংশীদার এবং অধিকতর সৌভাগ্যের অধিকারী ছিলেন। আর যারা কেবল এর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছে, তাদের মর্যাদা ছিল অতি সামান্য এবং হিফজ (حفظ) বা মুখস্থের সামর্থ্য ছিল অনেক দূরে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই তিনটিই একত্রিত করেছেন, তিনি একজন ফকিহ (فقيه) ও পূর্ণাঙ্গ হাদিস বিশারদ (محدث)। আর যে ব্যক্তি এগুলোর মধ্য থেকে দুটিতে পারদর্শী হয়েছেন, তিনি তার চেয়ে নিম্ন স্তরের। তবে যে ব্যক্তি দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছে, সে নিছক একজন হাদিস বিশারদ (محدث), ফকিহ (فقيه) নামের ওপর তার কোনো অধিকার নেই। একইভাবে যে কেবল প্রথমটির ওপর পারদর্শী হয়েছে, হাদিস বিশারদ (محدث) নামের ওপর তার কোনো অধিকার নেই। আর যে প্রথম ও দ্বিতীয়টি একত্রিত করেছে, তাকে কি হাদিস বিশারদ (محدث) বলা হবে? এ বিষয়ে গবেষণার (بحث) অবকাশ রয়েছে। সমাপ্ত।

তার আলোচনার ফাঁকে এমন কিছু পাওয়া যায় যা হাদিস বিশারদ (محدث) ও হাফেজ (حافظ)-এর সমার্থকতা নির্দেশ করে; যেখানে তিনি বলেছেন: "হাফেজ (حافظ) নামের ওপর তার কোনো অধিকার নেই"। অথচ পুরো আলোচনাটি ছিল হাদিস বিশারদ (محدث) সম্পর্কে।

সালাফগণ হাদিস বিশারদ (محدث) ও হাফেজ (حافظ) শব্দ দুটিকে একই অর্থে ব্যবহার করতেন। যেমন আবু সা'দ আস-সামআনি তার সনদে আবু জুরআ আর-রাজি থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি আবু বকর ইবনে আবি শাইবাকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি শ্রুতিলিখন (إملاء) পদ্ধতিতে বিশ হাজার হাদিস লেখেনি, তাকে হাদিসবেত্তা (صاحب حديث) হিসেবে গণ্য করা হবে না।"

ইবনে আদির আল-কামিল গ্রন্থে নুফাইলি-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি হুশাইমকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি হাদিস মুখস্থ (حفظ) করেনি, সে হাদিসবেত্তাদের (أصحاب الحديث) অন্তর্ভুক্ত নয়।"

সঠিক কথা হলো হাফেজ (حافظ) শব্দটি অধিকতর বিশিষ্ট (أخص)। তাজউদ্দীন আস-সুবকি তার মুইদুন নিয়াম গ্রন্থে বলেছেন: মানুষের মধ্যে একদল রয়েছে যারা হাদিসের পাণ্ডিত্যের দাবি করে, কিন্তু তাদের দৌড় কেবল সাগানির মশারেকুল আনওয়ার পর্যন্ত। যদি তারা এর চেয়ে কিছুটা উন্নত স্তরে [আরোহণ করে], তবে তারা বাগাউয়ির মাসাবিহ পর্যন্ত পৌঁছে এবং মনে করে যে এর মাধ্যমেই তারা...
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
الْقَدْرِ تَصِلُ إِلَى دَرَجَةِ الْمُحَدِّثِينَ، وَمَا ذَلِكَ إِلَّا بِجَهْلِهَا بِالْحَدِيثِ، فَلَوْ حَفِظَ مَنْ ذَكَرْنَاهُ هَذَيْنِ الْكِتَابَيْنِ عَنْ ظَهْرِ قَلْبٍ وَضَمَّ إِلَيْهِمَا مِنَ الْمُتُونِ مِثْلَيْهِمَا لَمْ يَكُنْ مُحَدِّثًا، وَلَا يَصِيرُ بِذَلِكَ مُحَدِّثًا حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ، فَإِنْ رَامَتْ بُلُوغَ الْغَايَةِ فِي الْحَدِيثِ عَلَى زَعْمِهَا اشْتَغَلَتْ بِجَامِعِ الْأُصُولِ لِابْنِ الْأَثِيرِ، فَإِنْ ضَمَّتْ إِلَيْهِ " عُلُومَ الْحَدِيثِ " لِابْنِ الصَّلَاحِ أَوْ مُخْتَصَرَهُ الْمُسَمَّى " بِالتَّقْرِيبِ وَالتَّيْسِيرِ لِلنَّوَوِيِّ " وَنَحْوَ ذَلِكَ، وَحِينَئِذٍ يُنَادَى مَنِ انْتَهَى إِلَى هَذَا الْمَقَامِ: بِمُحَدِّثِ الْمُحَدِّثِينَ وَبُخَارِيِّ الْعَصْرِ، وَمَا نَاسَبَ هَذِهِ الْأَلْفَاظَ الْكَاذِبَةَ، فَإِنَّ مَنْ ذَكَرْنَاهُ لَا يُعَدُّ مُحَدِّثًا بِهَذَا الْقَدْرِ، وَإِنَّمَا الْمُحَدِّثُ مَنْ عَرَفَ الْأَسَانِيدَ وَالْعِلَلَ، وَأَسْمَاءَ الرِّجَالِ وَالْعَالِيَ وَالنَّازِلَ، وَحَفِظَ مَعَ ذَلِكَ جُمْلَةً مُسْتَكْثَرَةً مِنَ الْمُتُونِ، وَسَمِعَ الْكُتُبَ السِّتَّةَ، وَمُسْنَدَ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، وَسُنَنَ الْبَيْهَقِيِّ، وَمُعْجَمَ الطَّبَرَانِيِّ، وَضَمَّ إِلَى هَذَا الْقَدْرِ أَلْفَ جُزْءٍ مِنَ الْأَجْزَاءِ الْحَدِيثِيَّةِ. هَذَا أَقَلُّ دَرَجَاتِهِ، فَإِذَا سَمِعَ مَا ذَكَرْنَاهُ وَكَتَبَ الطِّبَاقَ وَدَارَ عَلَى الشُّيُوخِ وَتَكَلَّمَ فِي الْعِلَلِ وَالْوَفَيَاتِ وَالْمَسَانِيدِ كَانَ فِي أَوَّلِ دَرَجَاتِ الْمُحَدِّثِينَ، ثُمَّ يَزِيدُ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ مَا يَشَاءُ.

وَقَالَ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ مِنْهُ: وَمِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ طَائِفَةٌ طَلَبَتِ الْحَدِيثَ

এই পরিমাণ দ্বারা মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) স্তরে পৌঁছানো যায়, এবং তা কেবল হাদিস সম্পর্কে তার অজ্ঞতার কারণেই [মনে করা হয়]। আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি, তারা যদি এই কিতাব দুটি মুখস্থ করে এবং এগুলোর সাথে সমপরিমাণ আরও দুটি মতন (المتون) যুক্ত করে, তবুও সে মুহাদ্দিস (محدث) হবে না; এবং ততক্ষণ পর্যন্ত সে মুহাদ্দিস (محدث) হতে পারবে না যতক্ষণ না সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। যদি সে তার ধারণা অনুযায়ী হাদিসের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর ইচ্ছা পোষণ করে, তবে সে যেন ইবনুল আসিরের জামিউল উসুল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এরপর যদি সে এর সাথে ইবনুস সালাহ-এর উলূমুল হাদিস অথবা ইমাম নববী রচিত এর সংক্ষিপ্তসার আত-তাকরীব ওয়াত-তাইসীর এবং এই জাতীয় কিতাবসমূহ যুক্ত করে, তখন যে ব্যক্তি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে তাকে 'মুহাদ্দিসদের মুহাদ্দিস' এবং 'যুগের বুখারি' এবং এই জাতীয় মিথ্যা উপাধিগুলো দ্বারা ডাকা হয়। প্রকৃতপক্ষে আমরা যা উল্লেখ করেছি, শুধু এই পরিমাণ অর্জনের দ্বারা কেউ মুহাদ্দিস (محدث) বলে গণ্য হবে না। বরং মুহাদ্দিস (المحدث) তো সেই ব্যক্তি, যিনি সনদসমূহ (الأسانيد), ইল্লত বা ত্রুটিসমূহ (العلل), বর্ণনাকারীদের নাম (أسماء الرجال), আলি (العالي) তথা উচ্চ সনদ এবং নাযিল (النازل) তথা নিম্ন সনদ সম্পর্কে অবগত হন এবং এর সাথে হাদিসের মতনের (المتون) বিশাল অংশ মুখস্থ করেন। এছাড়া তিনি কুতুবে সিত্তাহ, মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল, সুনানে বায়হাকী, মু'জামে তাবারানী শ্রবণ করেছেন এবং এর সাথে আরও এক হাজার হাদিসবিষয়ক জুয (الأجزاء) সংযোজন করেছেন। এটি হলো তার সর্বনিম্ন স্তর। অতঃপর যখন সে আমাদের উল্লিখিত বিষয়গুলো শ্রবণ করবে, তিবাক (الطباق) তথা শ্রবণলিপি লিপিবদ্ধ করবে, শায়খদের নিকট যাতায়াত করবে এবং ইল্লত (العلل), ওফাত বা মৃত্যুসন (الوفيات) ও মাসানিদ (المسانيد) নিয়ে আলোচনা করবে, তখন সে মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) প্রথম স্তরে অন্তর্ভুক্ত হবে। এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা যা চান বৃদ্ধি করে দেন।

তিনি এর অন্য এক স্থানে বলেছেন: আলেমদের মধ্যে এমন একদল রয়েছে যারা হাদিস অন্বেষণ করেছে।

(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
وَجَعَلَتْ دَأْبَهَا السَّمَاعَ عَلَى الْمَشَايِخِ وَمَعْرِفَةَ الْعَالِي مِنَ الْمَسْمُوعِ وَالنَّازِلِ. وَهَؤُلَاءِ هُمُ الْمُحَدِّثُونَ عَلَى الْحَقِيقَةِ، إِلَّا أَنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ يُجْهِدُ نَفْسَهُ فِي تَهَجِّي الْأَسْمَاءِ وَالْمُتُونِ وَكَثْرَةِ السَّمَاعِ مِنْ غَيْرِ فَهْمٍ لِمَا يَقْرَؤُهُ، وَلَا تَتَعَلَّقُ فِكْرَتُهُ بِأَكْثَرَ مِنْ أَنِّي حَصَّلْتُ جُزْءَ ابْنِ عَرَفَةَ عَنْ سَبْعِينَ شَيْخًا، وَجُزْءَ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ كَذَا كَذَا شَيْخًا.

[وَجُزْءَ ابْنِ الْفِيلِ] وَجُزْءَ الْبِطَاقَةِ، وَنُسْخَةَ أَبِي مُسْهِرٍ، وَأَنْحَاءَ ذَلِكَ، وَإِنَّمَا كَانَ السَّلَفُ يَسْتَمِعُونَ فَيَقْرَءُونَ فَيَرْحَلُونَ فَيُفَسِّرُونَ، وَيَحْفَظُونَ فَيَعْمَلُونَ، وَرَأَيْتُ مِنْ كَلَامِ شَيْخِنَا الذَّهَبِيِّ فِي وَصِيَّةٍ لِبَعْضِ الْمُحَدِّثِينَ فِي هَذِهِ الطَّائِفَةِ: مَا حَظُّ وَاحِدٍ مِنْ هَؤُلَاءِ إِلَّا أَنْ يَسْمَعَ لِيَرْوِيَ فَقَطْ، فَلَيُعَاقَبَنَّ بِنَقِيضِ قَصْدِهِ وَلَيُشْهِرَنَّهُ اللَّهُ بَعْدَ سَتْرِهِ مَرَّاتٍ، وَلَيَبْقَيَنَّ مُضْغَةً فِي الْأَلْسُنِ، وَعِبْرَةً بَيْنَ الْمُحَدِّثِينَ ثُمَّ لَيَطْبَعَنَّ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ؛ ثُمَّ قَالَ: فَهَلْ يَكُونُ طَالِبٌ مِنْ طُلَّابِ السُّنَّةِ يَتَهَاوَنُ بِالصَّلَوَاتِ أَوْ يَتَعَانَى تِلْكَ الْعَادَاتِ؟ وَأَنْحَسُ مِنْهُ مُحَدِّثٌ يَكْذِبُ فِي حَدِيثِهِ وَيَخْتَلِقُ الْفُشَارَ، فَإِنْ تَرَقَّتْ هِمَّتُهُ الْمُفْتَنَةُ إِلَى الْكَذِبِ فِي النَّقْلِ وَالتَّزْوِيرِ فِي الطِّبَاقِ فَقَدِ اسْتَرَاحَ، وَإِنْ تَعَانَى سَرِقَةَ الْأَجْزَاءِ وَكَشْطَ الْأَوْقَافِ فَهَذَا لِصٌّ بِسَمْتِ مُحَدِّثٍ، فَإِنْ كَمَّلَ نَفْسَهُ بِتَلَوُّطٍ أَوْ قِيَادَةٍ، فَقَدْ تَمَّتْ لَهُ الْإِفَادَةُ، وَإِنِ اسْتُعْمِلَ فِي الْعُلُومِ فَقَدِ ازْدَادَ مَهَانَةً وَخَبْطًا، إِلَى أَنْ قَالَ: فَهَلْ فِي مِثْلِ هَذَا الضَّرْبِ خَيْرٌ؟ لَا أَكْثَرَ اللَّهُ مِنْهُمْ. اهـ.

وَلِبَعْضِهِمْ:

إِنَّ الَّذِي يَرْوِي وَلَكِنَّهُ … يَجْهَلُ مَا يَرْوِي وَمَا يَكْتُبُ

كَصَخْرَةٍ تَنْبُعُ أَمْوَاهُهَا … تَسْقِي الْأَرَاضِيَ وَهِيَ لَا تَشْرَبُ
এবং তারা শায়খদের নিকট হাদিস শ্রবণ (سماع) এবং শ্রুত হাদিসের উচ্চ সনদ (عالي) ও নিম্ন সনদ (نازل) চিনে নেওয়াকে নিজেদের অভ্যাসে পরিণত করেছে। আর এরাই প্রকৃতপক্ষে মুহাদ্দিস, তবে তাদের অনেকেই যা পাঠ করে তা না বুঝেই কেবল নাম ও মূলপাঠসমূহ (متون) বানান করে পড়া এবং অধিক শ্রবণের (سماع) পেছনে নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলে। তার চিন্তাভাবনা কেবল এই সীমানায় আবদ্ধ যে, ‘আমি ইবনে আরাফার জুয সত্তর জন শায়খের নিকট থেকে হাসিল করেছি’ এবং ‘আনসারীর জুয এত এত শায়খের নিকট থেকে লাভ করেছি’।

[ইবনুল ফীলের জুয], বিতাকাহ এর জুয, আবু মুশহিরের নুসহাহ এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি। অথচ সালাফগণ শ্রবণ করতেন, অতঃপর পাঠ করতেন, এরপর সফর করতেন, তারপর ব্যাখ্যা করতেন এবং তারা মুখস্থ করতেন ও সে অনুযায়ী আমল করতেন। আর আমি আমাদের শায়খ আয-যাহাবীর কথায় এই জামাআতের কিছু মুহাদ্দিসের প্রতি এক ওসিয়তে দেখেছি: "এদের মাঝে কারো প্রাপ্তি কেবল এইটুকুই যে, সে কেবল বর্ণনা করার (يروي) উদ্দেশ্যেই শ্রবণ করে; তাকে অবশ্যই তার উদ্দেশ্যের বিপরীত শাস্তি দেওয়া হবে এবং আল্লাহ তাকে কয়েকবার ঢেকে রাখার পর জনসমক্ষে লাঞ্ছিত করবেন; আর সে মানুষের মুখে মুখে উপহাসের পাত্র ও মুহাদ্দিসদের মাঝে শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, অতঃপর আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।" অতঃপর তিনি বললেন: "সুন্নাহর অন্বেষণকারীদের মধ্যে কি এমন কেউ হতে পারে যে নামাজের ব্যাপারে অবহেলা করে অথবা সে সকল (মন্দ) অভ্যাসে লিপ্ত হয়? আর তার চেয়েও অধম হলো সেই মুহাদ্দিস, যে তার হাদিসে মিথ্যা বলে (يكذب) এবং অসার বিষয় জালিয়াতি (اختلاق) করে। যদি তার বিভ্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা বর্ণনার (نقل) ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা (كذب) এবং শ্রবণলিপি (طباق) জালিয়াতি করার (تزوير) পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তবে তো সে (পাপের) চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেল। আর যদি সে জুযসমূহ চুরি করা এবং ওয়াকফকৃত কিতাবের লেখা মুছে ফেলার অপকর্মে লিপ্ত হয়, তবে সে মুহাদ্দিসের বেশধারী একজন চোর। যদি সে সমকামিতা বা দালালি করে নিজেকে পূর্ণ করে, তবে তার জন্য হীনতাই পূর্ণ হলো। আর যদি তাকে জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত করা হয়, তবে তার তুচ্ছতা ও বিভ্রান্তিই বৃদ্ধি পায়।" একপর্যায়ে তিনি বললেন: "এই শ্রেণির লোকদের মধ্যে কি কোনো কল্যাণ আছে? আল্লাহ যেন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি না করেন।" সমাপ্ত।

কারো কারো পঙ্ক্তি:

নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি যে বর্ণনা করে (يروي) কিন্তু যা সে বর্ণনা (يروي) করে এবং যা সে লেখে সে সম্পর্কে সে অজ্ঞ;

সে সেই পাথরের ন্যায় যেখান থেকে পানি প্রবাহিত হয়, যা জমিকে সিক্ত করে কিন্তু নিজে পান করে না।
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٣٧)
وَقَالَ بَعْضُ الظُّرَفَاءِ فِي الْوَاحِدِ مِنْ هَذِهِ الطَّائِفَةِ:

إِنَّ قَلِيلَ الْمَعْرِفَةِ وَالْمَخْبَرَةْ … يَمْشِي وَمَعَهُ أَوْرَاقٌ وَمَحْبَرَةْ

مَعَهُ أَجْزَاءُ يَدُورُ بِهَا عَلَى شَيْخٍ وَعَجُوزْ … لَا يَعْرِفُ مَا يَجُوزُ مِمَّا لَا يَجُوزْ

وَمُحَدِّثٌ قَدْ صَارَ غَايَةَ عِلْمِهِ … أَجْزَاءُ يَرْوِيهَا عَنِ الدِّمْيَاطِي

وَفُلَانَةُ تَرْوِي حَدِيثًا عَالِيًا … وَفُلَانٌ يَرْوِي ذَاكَ عَنْ أَسْبَاطِ

وَالْفَرْقُ بَيْنَ غَرِيبِهِمْ وَعَزِيزِهِمْ … وَأَفْصَحُ عَنِ الْخَيَّاطِ وَالْحَنَّاطِ

وَابْنُ فُلَانٍ مَا اسْمُهُ وَمَنِ الَّذِي … بَيْنَ الْأَنَامِ مُلَقَّبٌ بِسُنَاطِ

وَعُلُومُ دِينِ اللَّهِ نَادَتْ جَهْرَةً … هَذَا زَمَانٌ فِيهِ طَيُّ بِسَاطِي

وَقَالَ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ السُّبْكِيُّ: إِنَّهُ سَأَلَ الْحَافِظَ جَمَالَ الدِّينِ الْمِزِّيَّ عَنْ حَدِّ الْحِفْظِ الَّذِي إِذَا انْتَهَى إِلَيْهِ الرَّجُلُ جَازَ أَنْ يُطْلَقَ عَلَيْهِ الْحَافِظُ؟ قَالَ: يُرْجَعُ إِلَى أَهْلِ الْعُرْفِ، فَقُلْتُ: وَأَيْنَ أَهْلُ الْعُرْفِ؟ قَلِيلٌ جِدًّا، قَالَ: أَقَلُّ مَا يَكُونُ أَنْ يَكُونَ الرِّجَالُ الَّذِينَ يَعْرِفُهُمْ وَيَعْرِفُ تَرَاجِمَهُمْ وَأَحْوَالَهُمْ وَبُلْدَانَهُمْ أَكْثَرَ مِنَ الَّذِينَ لَا يَعْرِفُهُمْ، لِيَكُونَ الْحُكْمُ لِلْغَالِبِ، فَقُلْتُ لَهُ هَذَا عَزِيزٌ فِي هَذَا الزَّمَانِ، أَدْرَكْتَ أَنْتَ أَحَدًا كَذَلِكَ؟ فَقَالَ: مَا رَأَيْنَا مِثْلَ الشَّيْخِ شَرَفِ الدِّينِ الدِّمْيَاطِيِّ، ثُمَّ قَالَ: وَابْنُ دَقِيقِ الْعِيدِ كَانَ لَهُ فِي هَذَا مُشَارَكَةٌ جَيِّدَةٌ، وَلَكِنْ أَيْنَ الثَّرَى مِنَ الثُّرَى، فَقُلْتُ: كَانَ يَصِلُ إِلَى هَذَا الْحَدِّ؟ قَالَ: مَا هُوَ إِلَّا كَانَ يُشَارِكُ مُشَارَكَةً جَيِّدَةً فِي هَذَا، أَعْنِي فِي الْأَسَانِيدِ، وَكَانَ فِي الْمُتُونِ أَكْثَرَ لِأَجْلِ الْفِقْهِ وَالْأُصُولِ.

وَقَالَ الشَّيْخُ فَتْحُ الدِّينِ بْنُ سَيِّدِ النَّاسِ: وَأَمَّا الْمُحَدِّثُ فِي عَصْرِنَا فَهُوَ:
কিছু রসিক ব্যক্তি এই দলের অন্তর্ভুক্ত কোনো একজন সম্পর্কে বলেছেন:

নিশ্চয়ই যার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অতি সামান্য … সে সাথে কিছু কাগজ ও দোয়াত নিয়ে পথ চলে।

তার কাছে থাকে হাদিসের কিছু অংশ (أجزاء), যা নিয়ে সে বৃদ্ধ শায়খ ও বৃদ্ধা মহিলার কাছে ঘুরে বেড়ায় … অথচ সে জানে না কোনটি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি বর্জনীয়।

আর এমন এক মুহাদ্দিস (محدث), যার ইলমের দৌড় কেবল … আদ-দিমইয়াতি থেকে বর্ণিত কিছু অংশ (أجزاء) বর্ণনার ওপর।

অমুক নারী উচ্চস্তরের (عالي) হাদিস বর্ণনা করেন … আর অমুক ব্যক্তি তা আসবাত থেকে বর্ণনা করেন।

তাদের নিকট একক (غريب) এবং বিরল (عزيز) হাদিসের পার্থক্য হলো … দর্জি ও গম বিক্রেতার (নামের) পার্থক্য স্পষ্টভাবে বলতে পারা।

অমুকের ছেলের নাম কী এবং মানুষের মাঝে … কার উপাধি 'সুন্নাত' (দাড়িহীন), এটাই তাদের জ্ঞানের পরিধি।

আল্লাহর দ্বীনের ইলমসমূহ উচ্চস্বরে ঘোষণা করছে … "এটি এমন এক সময় যাতে আমার বিছানা গুটিয়ে ফেলা হচ্ছে।"

শায়খ তাকিউদ্দীন আস-সুবকি বলেন: তিনি হাফিজ (حافظ) জামালুদ্দীন আল-মিজ্জিকে 'হিফজ' বা মুখস্থের সেই সীমা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যা অর্জন করলে একজন ব্যক্তির ওপর হাফিজ (حافظ) উপাধি প্রয়োগ করা বৈধ হবে? তিনি বললেন: "এটি বিশেষজ্ঞগণের প্রচলিত প্রথার (عرف) ওপর নির্ভরশীল।" আমি বললাম: "বিশেষজ্ঞগণ কোথায়? তারা তো সংখ্যায় অতি নগণ্য।" তিনি বললেন: "ন্যূনতম পর্যায় হলো—সেই হাফিজ যে সকল বর্ণনাকারী (رجال) সম্পর্কে জানেন এবং যাদের জীবনী (تراجم), অবস্থা ও দেশ সম্পর্কে অবগত আছেন, তাদের সংখ্যা যেন তার অজানা বর্ণনাকারীদের তুলনায় বেশি হয়; যাতে অধিকাংশের ভিত্তিতেই ফয়সালা করা যায়।" আমি তাকে বললাম: "বর্তমান সময়ে এটি অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য (عزيز); আপনি কি এমন কাউকে পেয়েছেন?" তিনি বললেন: "আমরা শায়খ শারাফুদ্দীন আদ-দিময়াতির মতো কাউকে দেখিনি।" অতঃপর তিনি বললেন: "ইবনে দাকীক আল-ঈদ-এরও এই ক্ষেত্রে উত্তম অংশগ্রহণ ছিল, কিন্তু মাটির সাথে আকাশের তুলনা কোথায়!" আমি বললাম: "তিনি কি এই সীমায় পৌঁছেছিলেন?" তিনি বললেন: "না, বরং এই ক্ষেত্রে অর্থাৎ সনদসমূহ (أسانيد) সম্পর্কে তার উত্তম জানাশোনা ছিল। আর মতনসমূহ (متون) সম্পর্কে তার দখল ছিল আরও বেশি, যার কারণ ছিল ফিকহ ও উসুল আল-ফিকহ।"

শায়খ ফাতহুদ্দীন ইবনে সাইয়্যিদুন নাস বলেন: "আর আমাদের যুগের মুহাদ্দিস (محدث) হলেন তিনি, যিনি..."
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٣٨)
مَنِ اشْتَغَلَ بِالْحَدِيثِ رِوَايَةً وَدِرَايَةً، وَجَمَعَ رُوَاةً، وَاطَّلَعَ عَلَى كَثِيرٍ مِنَ الرُّوَاةِ وَالرِّوَايَاتِ فِي عَصْرِهِ، (وَتَمَيَّزَ فِي ذَلِكَ حَتَّى عُرِفَ فِيهِ حِفْظُهُ) وَاشْتُهِرَ فِيهِ ضَبْطُهُ، فَإِنْ تَوَسَّعَ فِي ذَلِكَ حَتَّى عَرَفَ شُيُوخَهُ، وَشُيُوخَ شُيُوخِهِ، طَبَقَةً بَعْدَ طَبَقَةٍ، بِحَيْثُ يَكُونُ مَا يَعْرِفُهُ مِنْ كُلِّ طَبَقَةٍ أَكْثَرَ مِمَّا يَجْهَلُهُ مِنْهَا فَهَذَا هُوَ الْحَافِظُ، وَأَمَّا مَا يُحْكَى عَنْ بَعْضِ الْمُتَقَدِّمِينَ مِنْ قَوْلِهِمْ: كُنَّا لَا نَعُدُّ صَاحِبَ حَدِيثٍ مَنْ لَمْ يَكْتُبْ عِشْرِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ فِي الْإِمْلَاءِ، فَذَلِكَ بِحَسَبِ أَزْمِنَتِهِمْ. انْتَهَى.

وَسَأَلَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ أَبُو الْفَضْلِ بْنُ حَجَرٍ شَيْخَهُ أَبَا الْفَضْلِ الْعِرَاقِيَّ فَقَالَ: مَا يَقُولُ سَيِّدِي فِي الْحَدِّ الَّذِي إِذَا بَلَغَهُ الطَّالِبُ فِي هَذَا الزَّمَانِ اسْتَحَقَّ أَنْ يُسَمَّى حَافِظًا؟ وَهَلْ يُتَسَامَحُ بِنَقْصِ بَعْضِ الْأَوْصَافِ الَّتِي ذَكَرَهَا الْمِزِّيُّ وَأَبُو الْفَتْحِ فِي ذَلِكَ لِنَقْصِ زَمَانِهِ أَمْ لَا؟

فَأَجَابَ: الِاجْتِهَادُ فِي ذَلِكَ يَخْتَلِفُ بِاخْتِلَافِ غَلَبَةِ الظَّنِّ فِي وَقْتٍ بِبُلُوغِ بَعْضِهِمْ لِلْحِفْظِ وَغَلَبَتِهِ فِي وَقْتٍ آخَرَ، وَبِاخْتِلَافِ مَنْ يَكُونُ كَثِيرَ الْمُخَالَطَةِ لِلَّذِي يَصِفُهُ بِذَلِكَ. وَكَلَامُ الْمِزِّيُّ فِيهِ ضَيِّقٌ، بِحَيْثُ لَمْ يُسَمِّ مِمَّنْ رَآهُ بِهَذَا الْوَصْفِ إِلَّا الدِّمْيَاطِيَّ، وَأَمَّا كَلَامُ أَبِي الْفَتْحِ فَهُوَ أَسْهَلُ، بِأَنْ يَنْشَطَ
যিনি রেওয়ায়েত (رواية) এবং দেরায়েত (دراية) উভয় দিক থেকে হাদিস চর্চায় নিয়োজিত থাকেন, রাবিদের (رواة) তথ্য সংগ্রহ করেন এবং নিজের সমসাময়িক বহু বর্ণনাকারী ও বর্ণনা সম্পর্কে অবগত হন, (এবং এতে এমন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হন যে তার মুখস্থ শক্তি (حفظ) স্বীকৃত হয়) এবং তার নির্ভুলতা (ضبط) প্রসিদ্ধি লাভ করে; অতঃপর তিনি যদি এই জ্ঞানকে এমনভাবে বিস্তৃত করেন যে নিজের উস্তাদ এবং উস্তাদদের উস্তাদদের স্তরানুসারে (طبقة بعد طبقة) চিনে নেন—এমনভাবে যে প্রতিটি স্তরের যাদের সম্পর্কে তিনি জানেন তাদের সংখ্যা যাদের সম্পর্কে তিনি জানেন না তাদের চেয়ে বেশি হয়—তবে তিনিই হলেন হাফেজ (الحافظ)। আর প্রাচীনদের (المتقدمين) কারো কারো থেকে বর্ণিত এই উক্তি যে: "আমরা তাকে হাদিস বিশারদ হিসেবে গণ্য করতাম না যে ইমলা (الإملاء) মজলিসে বিশ হাজার হাদিস লিপিবদ্ধ করেনি", তা ছিল তাদের সময়কাল বিবেচনায়। সমাপ্ত।

শায়খুল ইসলাম আবুল ফজল ইবনে হাজার তার উস্তাদ আবুল ফজল আল-ইরাকিকে জিজ্ঞাসা করলেন: বর্তমান জামানায় একজন শিক্ষার্থী কোন সীমায় পৌঁছালে তাকে হাফেজ (حافظ) নামে অভিহিত করা সমীচীন হবে? আর আল-মিজ্জি ও আবুল ফাতহ এ ক্ষেত্রে যে সকল গুণাবলির কথা উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সময়ের অবনতির কারণে কি সেগুলোর কিছু ঘাটতিকে শিথিল করা যাবে কি না?

তিনি উত্তর দিলেন: এ বিষয়ে ইজতিহাদ (الاجتهاد) বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিভিন্ন সময়ের প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে—কখনো কারো হিফজ (الحفظ) এর স্তরে পৌঁছানোর প্রবল ধারণার ভিত্তিতে, আবার কখনো কারো সাথে অতিশয় মেলামেশার ভিন্নতার ভিত্তিতে যিনি তাকে এই বিশেষণে বিশেষিত করছেন। আল-মিজ্জির বক্তব্য এ ক্ষেত্রে বেশ সংকীর্ণ, কারণ তিনি তার দেখা ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল আদ-দিমইয়াতি ছাড়া আর কাউকে এই বিশেষণে অভিহিত করেননি। পক্ষান্তরে আবুল ফাতহের বক্তব্য অধিক সহজতর, যাতে সক্রিয় হওয়া যায় (বা কর্মতৎপর হওয়া যায়)...
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
بَعْدَ مَعْرِفَةِ شُيُوخِهِ إِلَى شُيُوخِ شُيُوخِهِ، وَمَا فَوْقُ، وَلَا شَكَّ أَنَّ جَمَاعَةً مِنَ الْحُفَّاظِ الْمُتَقَدِّمِينَ كَانَ شُيُوخُهُمُ التَّابِعِينَ أَوْ أَتْبَاعَ التَّابِعِينَ، وَشُيُوخُ شُيُوخِهِمُ الصَّحَابَةَ أَوِ التَّابِعِينَ، فَكَانَ الْأَمْرُ فِي هَذَا الزَّمَانِ أَسْهَلَ بِاعْتِبَارِ تَأَخُّرِ الزَّمَانِ، فَإِنِ اكْتَفَى بِكَوْنِ الْحَافِظِ يَعْرِفُ شُيُوخَهُ وَشُيُوخَ شُيُوخِهِ، أَوْ طَبَقَةً أُخْرَى، فَهُوَ سَهْلٌ لِمَنْ جَعَلَ فَنَّهُ ذَلِكَ دُونَ غَيْرِهِ مِنْ حِفْظِ الْمُتُونِ وَالْأَسَانِيدِ، وَمَعْرِفَةِ أَنْوَاعِ عُلُومِ الْحَدِيثِ كُلِّهَا، وَمَعْرِفَةِ الصَّحِيحِ مِنَ السَّقِيمِ، وَالْمَعْمُولِ بِهِ مِنْ غَيْرِهِ، وَاخْتِلَافِ الْعُلَمَاءِ وَاسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ فَهُوَ أَمْرٌ مُمْكِنٌ بِخِلَافِ مَا ذُكِرَ مِنْ جَمِيعِ مَا ذُكِرَ، فَإِنَّهُ يَحْتَاجُ إِلَى فَرَاغٍ وَطُولِ عُمُرٍ، وَانْتِفَاءِ الْمَوَانِعِ. وَقَدْ رُوِيَ عَنِ الزُّهْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ: لَا يُولَدُ الْحَافِظُ إِلَّا فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ سَنَةً.

فَإِنْ صَحَّ كَانَ الْمُرَادُ رُتْبَةَ الْكَمَالِ فِي الْحِفْظِ وَالْإِتْقَانِ، وَإِنْ وُجِدَ فِي زَمَانِهِ مَنْ يُوصَفُ بِالْحِفْظِ. وَكَمْ مِنْ حَافِظٍ غَيْرُهُ أَحْفَظُ مِنْهُ. انْتَهَى.

وَمِنْ أَلْفَاظِ النَّاسِ فِي مَعْنَى الْحِفْظِ، قَالَ ابْنُ مَهْدِيٍّ: الْحِفْظُ: الْإِتْقَانُ، وَقَالَ أَبُو زُرْعَةَ: الْإِتْقَانُ أَكْثَرُ مِنْ حِفْظِ السَّرْدِ، وَقَالَ غَيْرُهُ: الْحِفْظُ: الْمَعْرِفَةُ.
তাঁর উস্তাদদের থেকে শুরু করে উস্তাদদের উস্তাদ এবং তার ঊর্ধ্বস্থ স্তরসমূহ সম্পর্কে জানার পর, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পূর্ববর্তী হাফেজদের (الحفاظ) একটি দলের উস্তাদগণ ছিলেন তাবেয়ী (التابعين) অথবা তাবে-তাবেয়ী (أتباع التابعين), আর তাঁদের উস্তাদদের উস্তাদগণ ছিলেন সাহাবী (الصحابة) অথবা তাবেয়ী (التابعين)। তাই বর্তমান সময়ে সময়ের ব্যবধানের কারণে বিষয়টি অপেক্ষাকৃত সহজ হয়েছে। যদি কোনো হাফেজ (الحافظ) কেবল নিজের উস্তাদ ও তাঁদের উস্তাদদের অথবা অন্য কোনো স্তর (طبقة) সম্পর্কে জানার ওপরই সন্তুষ্ট থাকেন, তবে এটি এমন ব্যক্তির জন্য সহজ হবে যিনি মতন (المتون) ও সনদ (الأسانيد) মুখস্থ করা এবং হাদিস বিজ্ঞানের সকল প্রকার শাখা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা, সঠিক (الصحيح) ও ত্রুটিপূর্ণের (السقيم) মধ্যে পার্থক্য করা, আমলযোগ্য ও আমল অযোগ্য হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করা, আলেমদের মতভেদ এবং বিধান উদ্ঘাটন (استنباط الأحكام) সম্পর্কে জ্ঞান রাখার পরিবর্তে কেবল এই একটি বিষয়কেই নিজের শিল্পের ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তবে এ সকল কিছু অর্জন করা একটি সম্ভবপর বিষয়, যা পূর্বে আলোচিত বিষয়ের বিপরীত; কারণ এ জন্য প্রয়োজন অবসর সময়, দীর্ঘ জীবন এবং যাবতীয় প্রতিবন্ধকতার অনুপস্থিতি। আর যুহরী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "প্রতি চল্লিশ বছরে মাত্র একজন হাফেজ (الحافظ) জন্মগ্রহণ করেন।"

যদি এটি সহিহ (صح) হয়, তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুখস্থ ও সুনিপুণ আত্মস্থকরণের (الإتقان) পূর্ণতা বা সর্বোচ্চ স্তর, যদিও তাঁর সময়েও এমন ব্যক্তি বিদ্যমান ছিলেন যাঁদেরকে হাফেজ (الحفظ) বিশেষণে বিশেষিত করা হতো। আর এমন অনেক হাফেজ (حافظ) রয়েছেন যাঁদের চেয়ে অন্য কেউ অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন। সমাপ্ত।

মুখস্থকরণের (الحفظ) অর্থ সম্পর্কে মানুষের বিভিন্ন সংজ্ঞার মধ্যে ইবনে মাহদী বলেছেন: মুখস্থকরণ (الحفظ) হলো সুনিপুণভাবে আত্মস্থকরণ (الإتقان)। আবু যুরআহ বলেছেন: সুনিপুণ আত্মস্থকরণ (الإتقান) হলো কেবল গড়গড় করে মুখস্থ পাঠের (السرد) চেয়েও উচ্চতর কিছু। অন্য অনেকে বলেছেন: মুখস্থকরণ (الحفظ) হলো গভীর জ্ঞান বা প্রজ্ঞা (المعرفة)।
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٤٠)
قَالَ عَبْدُ الْمُؤْمِنِ بْنُ خَلَفٍ النَّسَفِيُّ: سَأَلْتُ أَبَا عَلِيٍّ صَالِحَ بْنَ مُحَمَّدٍ قُلْتُ: يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ هَلْ يَحْفَظُ؟ قَالَ: لَا، إِنَّمَا كَانَ عِنْدَهُ مَعْرِفَةٌ، قَالَ: قُلْتُ: فَعَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ كَانَ يَحْفَظُ؟ قَالَ: نَعَمْ وَيَعْرِفُ. انْتَهَى.

وَمِمَّا رُوِيَ فِي قَدْرِ حِفْظِ الْحُفَّاظِ، قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: انْتَقَيْتُ الْمُسْنَدَ مِنْ سَبْعِمِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ وَخَمْسِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ.

وَقَالَ أَبُو زُرْعَةَ الرَّازِيُّ: كَانَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ يَحْفَظُ أَلْفَ أَلْفِ حَدِيثٍ، قِيلَ لَهُ: وَمَا يُدْرِيكَ؟ قَالَ: ذَاكَرْتُهُ فَأَخَذْتُ عَلَيْهِ الْأَبْوَابَ.

وَقَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: كَتَبْتُ بِيَدِي أَلْفَ أَلْفِ حَدِيثٍ.

وَقَالَ الْبُخَارِيُّ: أَحْفَظُ مِائَةَ أَلْفِ حَدِيثٍ صَحِيحٍ، وَمِائَتَيْ أَلْفِ حَدِيثٍ غَيْرِ صَحِيحٍ.

وَقَالَ مُسْلِمٌ: صَنَّفْتُ هَذَا الْمُسْنَدَ الصَّحِيحَ مِنْ ثَلَاثِمِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ مَسْمُوعَةٍ.

আব্দুল মুমিন ইবনে খালাফ আন-নাসাফি বলেন: আমি আবু আলি সালিহ ইবনে মুহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করলাম: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন কি হাদিস মুখস্থ (حفظ) রাখতেন? তিনি বললেন: না, বরং তাঁর কেবল গভীর জ্ঞান (معرفة) ছিল। তিনি বলেন: আমি বললাম: তবে কি আলি ইবনুল মাদিনি মুখস্থ (حفظ) রাখতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এবং তাঁর গভীর জ্ঞানও (معرفة) ছিল। সমাপ্ত।

হাফেজদের (الحفاظ) মুখস্থ রাখার ক্ষমতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো, আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: আমি সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার হাদিস থেকে মুসনাদ নির্বাচন করেছি।

আবু জুরআ আর-রাজি বলেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল দশ লক্ষ হাদিস মুখস্থ (حفظ) রাখতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কীভাবে জানলেন? তিনি বললেন: আমি তাঁর সাথে হাদিস পর্যালোচনা (ذاكرته) করেছি এবং বিভিন্ন অধ্যায়ের ভিত্তিতে তাঁর পরীক্ষা নিয়েছি।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: আমি নিজ হাতে দশ লক্ষ হাদিস লিখেছি।

বুখারি বলেন: আমি এক লক্ষ সহিহ (صحيح) হাদিস এবং দুই লক্ষ সহিহ নয় এমন (غير صحيح) হাদিস মুখস্থ (حفظ) রাখি।

মুসলিম বলেন: আমি এই মুসনাদে সহিহ তিন লক্ষ শ্রুত (مسموعة) হাদিস থেকে সংকলন করেছি।

(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٤١)
وَقَالَ أَبُو دَاوُدَ: كَتَبْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَمْسَمِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ، انْتَخَبْتُ مِنْهَا مَا ضَمَّنْتُهُ كِتَابَ السُّنَنِ.

وَقَالَ الْحَاكِمُ فِي الْمَدْخَلِ: كَانَ الْوَاحِدُ مِنَ الْحُفَّاظِ يَحْفَظُ خَمْسَمِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ، سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ الرَّازِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ بْنَ وَارَةَ يَقُولُ: كُنْتُ عِنْدَ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بِنَيْسَابُورَ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ: صَحَّ مِنَ الْحَدِيثِ سَبْعُمِائَةِ أَلْفٍ وَكَسْرٌ، وَهَذَا الْفَتَى، يَعْنِي أَبَا زُرْعَةَ، قَدْ حَفِظَ سَبْعَمِائَةِ أَلْفٍ، قَالَ الْبَيْهَقِيُّ: أَرَادَ مَا صَحَّ مِنَ الْأَحَادِيثِ، وَأَقَاوِيلِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ.

وَقَالَ غَيْرُهُ: سُئِلَ أَبُو زُرْعَةَ عَنْ رَجُلٍ حَلَفَ بِالطَّلَاقِ أَنَّ أَبَا زُرْعَةَ يَحْفَظُ مِائَتَيْ أَلْفِ حَدِيثٍ، هَلْ يَحْنَثُ؟ قَالَ: لَا، ثُمَّ قَالَ: أَحْفَظُ مِائَةَ أَلْفِ حَدِيثٍ كَمَا يَحْفَظُ الْإِنْسَانُ سُورَةَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ؛ وَفِي الْمُذَاكَرَةِ ثَلَاثَمِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ.

وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الرَّازِيُّ الْحَافِظُ: كَانَ أَبُو زُرْعَةَ يَحْفَظُ سَبْعَمِائَةِ
আবু দাউদ বলেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পাঁচ লক্ষ হাদিস লিপিবদ্ধ করেছি, যেখান থেকে আমি নির্বাচন করে সুনান গ্রন্থে সংকলন করেছি।

আল-হাকিম আল-মাদখাল গ্রন্থে বলেছেন: হাফেজ (الحفاظ)-গণের প্রত্যেকে পাঁচ লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন। আমি আবু জাফর আর-রাজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ বিন ওয়ারাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নিশাপুরে ইসহাক বিন ইব্রাহিমের কাছে ছিলাম। তখন ইরাকের এক ব্যক্তি বললেন: আমি আহমাদ বিন হাম্বলকে বলতে শুনেছি: হাদিসের মধ্য থেকে সাত লক্ষের কিছু বেশি সহিহ (صح) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, আর এই যুবক—অর্থাৎ আবু জুরআ—সাত লক্ষ হাদিস মুখস্থ করেছেন। আল-বাইহাকি বলেছেন: তিনি এর দ্বারা সহিহ (صح) হাদিসসমূহ এবং সাহাবী (الصحابة) ও তাবেয়ীদের (التابعين) উক্তিগুলো বুঝিয়েছেন।

অন্যজন বলেছেন: আবু জুরআকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তালাকের মাধ্যমে শপথ করেছিল যে আবু জুরআ দুই লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখেন; সে কি শপথ ভঙ্গকারী হবে? তিনি বললেন: না। এরপর তিনি বললেন: আমি এক লক্ষ হাদিস এমনভাবে মুখস্থ রাখি যেমন মানুষ সূরা ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ মুখস্থ রাখে; আর মুজাকারা বা আলোচনার (المذاكرة) ক্ষেত্রে তিন লক্ষ হাদিস।

হাফেজ (الحافظ) আবু বকর মুহাম্মদ বিন ওমর আর-রাজি বলেন: আবু জুরআ সাত লক্ষ...
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٤٢)
أَلْفِ حَدِيثٍ، وَكَانَ يَحْفَظُ مِائَةً وَأَرْبَعِينَ أَلْفًا فِي التَّفْسِيرِ وَالْقِرَاءَاتِ.

قَالَ الْحَاكِمُ: وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ أَبِي دَارِمٍ الْحَافِظَ بِالْكُوفَةِ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ يَقُولُ: أَحْفَظُ لِأَهْلِ الْبَيْتِ ثَلَاثَمِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ، قَالَ: وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ يَقُولُ: كَتَبْتُ بِأَصَابِعِي عَنْ مُطَيَّنٍ مِائَةَ أَلْفِ حَدِيثٍ.

وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الْمُزَنِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ ابْنَ خُزَيْمَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ خَشْرَمٍ يَقُولُ: كَانَ إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ يُمْلِي سَبْعِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ حِفْظًا.

وَأَسْنَدَ ابْنُ عَدِيٍّ عَنِ ابْنِ شُبْرُمَةَ عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: مَا كَتَبْتُ سَوْدَاءَ فِي بَيْضَاءَ إِلَى يَوْمِي هَذَا، وَلَا حَدَّثَنِي رَجُلٌ بِحَدِيثٍ قَطُّ إِلَّا حَفِظْتُهُ، فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ إِسْحَاقَ بْنَ رَاهَوَيْهِ فَقَالَ: تَعْجَبُ مِنْ هَذَا؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ مَا كُنْتُ لِأَسْمَعَ شَيْئًا إِلَّا حَفِظْتُهُ، وَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى سَبْعِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ، أَوْ قَالَ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ فِي كُتُبِي.

وَأَسْنَدَ عَنْ أَبِي دَاوُدَ الْخَفَّافِ قَالَ: سَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ رَاهَوَيْهِ يَقُولُ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ فِي كُتُبِي، وَثَلَاثِينَ أَلْفًا أَسْرُدُهَا.
...হাজার হাদিস, আর তিনি তাফসির এবং কিরাত বিষয়ে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার হাদিস মুখস্থ রাখতেন।

হাকিম বলেন: আমি কুফায় হাফেজ (الحافظ) আবু বকর বিন আবি দারিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি: আমি আহলে বাইত সম্পর্কে তিন লক্ষ হাদিস মুখস্থ জানি। তিনি বলেন: আমি আবু বকরকে বলতে শুনেছি: আমি মুতাইয়িন থেকে নিজ হাতে এক লক্ষ হাদিস লিখেছি।

আমি আবু বকর আল-মুজানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে খুজাইমাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলি বিন খাশরামকে বলতে শুনেছি: ইসহাক বিন রাহওয়াইহ মুখস্থ থেকে সত্তর হাজার হাদিস শ্রুতলিপি দিতেন।

ইবনে আদি ইবনে শুবরুমার সূত্রে শাবি থেকে সনদসহ বর্ণনা করেছেন (أَسْنَدَ), তিনি বলেন: আমি আজ পর্যন্ত সাদা কাগজের ওপর কালো কালি দিয়ে কিছু লিখিনি, আর কোনো ব্যক্তি যখনই আমাকে কোনো হাদিস শুনিয়েছেন, আমি তা মুখস্থ করে ফেলেছি। আমি এই কথাটি ইসহাক বিন রাহওয়াইহকে বললাম, তখন তিনি বললেন: তুমি কি এতে বিস্ময়বোধ করছ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আমি যা-ই শ্রবণ করেছি তা-ই মুখস্থ করে নিয়েছি, আর আমি যেন আমার কিতাবসমূহে থাকা সত্তর হাজার হাদিসের দিকে তাকিয়ে আছি—অথবা তিনি সত্তর হাজারেরও বেশি হাদিসের কথা বলেছিলেন।

তিনি আবু দাউদ আল-খাফফাফ থেকে সনদসহ বর্ণনা করেছেন (أَسْنَدَ), তিনি বলেন: আমি ইসহাক বিন রাহওয়াইহকে বলতে শুনেছি: আমি যেন আমার কিতাবসমূহে থাকা এক লক্ষ হাদিসের দিকে তাকিয়ে আছি, আর ত্রিশ হাজার হাদিস আমি গড়গড় করে পাঠ করতে পারি।
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٤٣)
وَأَسْنَدَ الْخَطِيبُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَالِدٍ قَالَ: سَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ رَاهَوَيْهِ يَقُولُ: أَعْرِفُ مَكَانَ مِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهَا، وَأَحْفَظُ سَبْعِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ عَنْ ظَهْرِ قَلْبِي، وَأَحْفَظُ أَرْبَعَةَ آلَافِ حَدِيثٍ مُزَوَّرَةً.

وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ: قَالَ أَبِي لِدَاوُدَ بْنِ عَمْرٍو الضَّبِّيِّ وَأَنَا أَسْمَعُ: كَانَ يُحَدِّثُكُمْ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ هَذِهِ الْأَحَادِيثَ بِحِفْظِهِ؟ قَالَ نَعَمْ، مَا رَأَيْتُ مَعَهُ كِتَابًا قَطُّ، قَالَ لَهُ لَقَدْ كَانَ حَافِظًا؟ كَمْ كَانَ يَحْفَظُ؟ قَالَ شَيْئًا كَثِيرًا، قَالَ: أَكَانَ يَحْفَظُ عَشَرَةَ آلَافٍ؟ قَالَ: عَشَرَةَ آلَافٍ وَعَشَرَةَ آلَافٍ وَعَشَرَةَ آلَافٍ، فَقَالَ أَبِي: هَذَا كَانَ مِثْلَ وَكِيعٍ.

وَقَالَ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ: أَحْفَظُ خَمْسَةً وَعِشْرِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ بِإِسْنَادِهِ وَلَا فَخْرَ، وَأَحْفَظُ لِلشَّامِيِّينَ عِشْرِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ. وَقَالَ يَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ: كَانَ عِنْدَ هُشَيْمٍ عِشْرُونَ أَلْفَ حَدِيثٍ. وَقَالَ الْآجُرِيُّ: كَانَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ يَحْفَظُ عَشَرَةَ آلَافِ حَدِيثٍ.

 

‌‌[الفائدة الثَّالثةُ أول من صنف في الاصطلاح]

الْفَائِدَةُ الثَّالِثَةُ: قَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ: مِنْ أَوَّلِ مَنْ صَنَّفَ فِي
আল-খাতিব মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ থেকে সনদসহ বর্ণনা (أَسْنَدَ) করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: "আমি এক লক্ষ হাদিসের অবস্থান এমনভাবে জানি যেন আমি সেগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি। সত্তর হাজার হাদিস আমার কণ্ঠস্থ (عَنْ ظَهْرِ قَلْبِي) রয়েছে এবং আমি চার হাজার জাল (مُزَوَّرَةً) হাদিসও মুখস্থ জানি।"

আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: আমার পিতা দাউদ ইবনে আমর আদ-দাব্বিকে বললেন এবং আমি তখন শুনছিলাম: "ইসমাইল ইবনে আইয়াশ কি তোমাদের নিকট এই হাদিসগুলো তাঁর স্মৃতি থেকে বর্ণনা করতেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমি তাঁর নিকট কখনও কোনো কিতাব দেখিনি।" তিনি তাকে বললেন: "তিনি কি হাফিজ (حَافِظًا) ছিলেন? তিনি কতটুকু মুখস্থ রাখতেন?" তিনি বললেন: "বিপুল পরিমাণ।" তিনি বললেন: "তিনি কি দশ হাজার মুখস্থ রাখতেন?" তিনি বললেন: "দশ হাজার, এবং আরও দশ হাজার, এবং আরও দশ হাজার।" অতঃপর আমার পিতা বললেন: "তিনি ওয়াকি'-এর মতো ছিলেন।"

ইয়াজিদ ইবনে হারুন বলেন: "আমি সনদসহ (بِإِسْنَادِهِ) পঁচিশ হাজার হাদিস মুখস্থ জানি এবং এতে কোনো অহংকার নেই; আর আমি শামবাসীদের বিশ হাজার হাদিস মুখস্থ জানি।" ইয়াকুব আদ-দাওরাকি বলেন: "হুশাইমের নিকট বিশ হাজার হাদিস ছিল।" আল-আজুররি বলেন: "উবায়দুল্লাহ ইবনে মুয়াজ আল-আনবারি দশ হাজার হাদিস মুখস্থ রাখতেন।"

 

‌‌[তৃতীয় উপকারিতা: হাদিসের পরিভাষা (الاصطلاح) বিষয়ে প্রথম গ্রন্থ রচনা]

তৃতীয় উপকারিতা: শায়খুল ইসলাম বলেন: যারা সর্বপ্রথম হাদিসের পরিভাষা (الاصطلاح) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা (صَنَّفَ) করেছেন তাদের মধ্যে...
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٤٤)
الِاصْطِلَاحِ الْقَاضِي أَبُو مُحَمَّدٍ الرَّامَهُرْمُزِيُّ، فَعَمِلَ كِتَابَهُ " الْمُحَدِّثَ الْفَاصِلَ " لَكِنَّهُ لَمْ يَسْتَوْعِبْ، وَالْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ النَّيْسَابُورِيُّ لَكِنَّهُ لَمْ يُهَذَّبْ وَلَمْ يُرَتَّبْ، وَتَلَاهُ أَبُو نُعَيْمٍ الْأَصْبَهَانِيُّ، فَعَمِلَ عَلَى كِتَابِهِ مُسْتَخْرَجًا، وَأَبْقَى فِيهِ أَشْيَاءَ لِلْمُتَعَقِّبِ، ثُمَّ جَاءَ بَعْدَهُمُ الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ فَعَمِلَ فِي قَوَانِينِ الرِّوَايَةِ كِتَابًا سَمَّاهُ: " الْكِفَايَةَ " وَفِي آدَابِهَا كِتَابًا سَمَّاهُ: " الْجَامِعَ لِآدَابِ الشَّيْخِ وَالسَّامِعِ "، وَقَلَّ فَنٌّ مِنْ فُنُونِ الْحَدِيثِ إِلَّا وَقَدْ صَنَّفَ فِيهِ كِتَابًا مُفْرَدًا، فَكَانَ كَمَا قَالَ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرِ بْنُ نُقْطَةَ: كُلُّ مَنْ أَنْصَفَ عَلِمَ أَنَّ الْمُحَدِّثِينَ بَعْدَهُ عِيَالٌ عَلَى كُتُبِهِ، ثُمَّ جَمَعَ مِمَّنْ تَأَخَّرَ عَنْهُ الْقَاضِي عِيَاضٌ كِتَابَهُ " الْإِلْمَاعَ "، وَأَبُو حَفْصٍ الْمَيَانَجِيُّ جُزْءَ " مَا لَا يَسَعُ الْمُحَدِّثَ جَهْلُهُ " وَغَيْرَ ذَلِكَ.

إِلَى أَنْ جَاءَ الْحَافِظُ الْإِمَامُ تَقِيُّ الدِّينِ أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ الصَّلَاحِ الشَّهْرُزُورِيُّ نَزِيلُ دِمَشْقَ فَجَمَعَ لَمَّا وَلِيَ تَدْرِيسَ الْحَدِيثِ بِالْمَدْرَسَةِ الْأَشْرَفِيَّةِ كِتَابَهُ الْمَشْهُورَ، فَهَذَّبَ فُنُونَهُ وَأَمْلَاهُ شَيْئًا فَشَيْئًا، وَاعْتَنَى بِتَصَانِيفِ الْخَطِيبِ الْمُفَرَّقَةِ فَجَمَعَ شَتَاتَ مَقَاصِدِهَا، وَضَمَّ إِلَيْهَا مِنْ غَيْرِهَا نُخَبَ فَوَائِدَ، فَاجْتَمَعَ فِي كِتَابِهِ مَا تَفَرَّقَ فِي غَيْرِهِ؛ فَلِهَذَا عَكَفَ النَّاسُ عَلَيْهِ، فَلَا يُحْصَى كَمْ نَاظِمٍ لَهُ، وَمُخْتَصِرٍ وَمُسْتَدْرِكٍ عَلَيْهِ، وَمُقْتَصِرٍ، وَمُعَارِضٍ لَهُ، وَمُنْتَصِرٍ.

قَالَ: إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يَحْصُلْ تَرْتِيبُهُ عَلَى الْوَضْعِ الْمُنَاسِبِ: بِأَنْ يَذْكُرَ مَا يَتَعَلَّقُ بِالْمَتْنِ وَحْدَهُ، وَمَا يَتَعَلَّقُ بِالسَّنَدِ وَحْدَهُ، وَمَا يَشْتَرِكَانِ فِيهِ مَعًا؛ وَمَا
পরিভাষা (اصطلاح) বিষয়ে (প্রথম কিতাব রচনা করেন) কাজী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুজি। তিনি তাঁর কিতাব "আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল" রচনা করেন, তবে এটি এই শাস্ত্রের সকল বিষয়কে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি। এরপর আসলেন হাকেম আবু আব্দুল্লাহ আন-নায়সাবুরি, কিন্তু তাঁর কিতাবটি পরিমার্জিত ও সুবিন্যস্ত ছিল না। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন আবু নুয়াইম আল-আসবাহানি; তিনি হাকেমের কিতাবের উপর একটি মুস্তাখরাজ (مستخرج) রচনা করেন এবং তাতে পরবর্তী সমালোচকদের জন্য কিছু কাজ বাকি রেখে যান। এরপর তাঁদের পরে আসলেন খতিব আল-বাগদাদি। তিনি বর্ণনার (رواية) নিয়মাবলি বিষয়ে "আল-কিফায়া" নামক একটি কিতাব এবং বর্ণনার আদব সম্পর্কে "আল-জামি লি আদাবিল শাইখ ওয়াস সামি" নামক একটি কিতাব রচনা করেন। হাদিসের এমন খুব কম শাখাই (فن) আছে যে বিষয়ে তিনি স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেননি। বিষয়টি তেমনই ছিল যেমনটি হাফেজ আবু বকর ইবন নুকতাহ বলেছেন: "যে ব্যক্তিই ইনসাফ করবে সে জানবে যে, পরবর্তী মুহাদ্দিসগণ তাঁর কিতাবসমূহের মুখাপেক্ষী।" অতঃপর তাঁর পরবর্তী সময়ের আলেমদের মধ্য থেকে কাজী আইয়াজ তাঁর কিতাব "আল-ইলমা" এবং আবু হাফস আল-মায়ানাজি তাঁর সংক্ষিপ্ত সংকলন (جزء) "মা লা ইয়াসাউল মুহাদ্দিসা জাহলুহু" সহ অন্যান্য গ্রন্থ সংকলন করেন।

পরিশেষে আসলেন হাফেজ ইমাম তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবন আস-সালাহ আশ-শাহরাজুরি, যিনি দামেশকের অধিবাসী ছিলেন। যখন তিনি আল-মাদরাসাতুল আশরাফিয়া-তে হাদিস শিক্ষাদানের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন, তখন তিনি তাঁর বিখ্যাত কিতাবটি সংকলন করলেন। তিনি এর শিল্পগুলোকে (فنون) পরিমার্জিত করেন এবং ধীরে ধীরে তা শ্রুতিলিখন (إملاء) করান। তিনি খতিব আল-বাগদাদির ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রচনাগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং সেগুলোর উদ্দেশ্যসমূহ একত্রিত করেন। অন্যান্য উৎস থেকেও তিনি বাছাইকৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্যাস তাতে সংযোজন করেন। ফলে অন্যান্য কিতাবে যা অসংলগ্ন ছিল, তা তাঁর কিতাবে একত্রিত হয়ে গেল। এই কারণেই মানুষ এই কিতাবের প্রতি মনোনিবেশ করল; এটি কতজন পদ্যে রূপান্তর করেছেন, সংক্ষেপিত (مختصر) করেছেন, পরিমার্জন বা অতিরিক্ত সংযোজন (مستدرك) করেছেন, সারসংক্ষেপ (مقتصر) করেছেন, কিতাবটির সমালোচনা করেছেন কিংবা এর পক্ষাবলম্বন করেছেন—তার ইয়ত্তা নেই।

তিনি (ইবনে হাজার) বলেন: তবে কিতাবটির বিন্যাস যথাযথ পদ্ধতি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়নি, যেখানে মূল পাঠ বা মতন (متن) সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি আলাদাভাবে, সনদ (سند) সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি আলাদাভাবে এবং উভয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি একত্রে উল্লেখ করা দরকার ছিল; এবং যা...
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٤٥)
يَخْتَصُّ بِكَيْفِيَّةِ التَّحَمُّلِ وَالْأَدَاءِ وَحْدَهُ، وَمَا يَخْتَصُّ بِصِفَاتِ الرُّوَاةِ وَحْدَهُ لِأَنَّهُ جَمَعَ مُتَفَرِّقَاتِ هَذَا الْفَنِّ مِنْ كُتُبٍ مُطَوَّلَةٍ فِي هَذَا الْحَجْمِ اللَّطِيفِ، وَرَأَى أَنَّ تَحْصِيلَهُ وَإِلْقَاءَهُ إِلَى طَالِبِيهِ أَهَمُّ مِنْ تَأْخِيرِ ذَلِكَ، إِلَى أَنْ تَحْصُلَ الْعِنَايَةُ التَّامَّةُ بِحُسْنِ تَرْتِيبِهِ.

وَقَدْ تَبِعَهُ عَلَى هَذَا التَّرْتِيبِ جَمَاعَةٌ مِنْهُمُ الْمُصَنِّفُ وَابْنُ كَثِيرٍ وَالْعِرَاقِيُّ وَالْبُلْقِينِيُّ وَغَيْرُهُ جَمَاعَةٌ، كَابْنِ جَمَاعَةَ وَالتَّبْرِيزِيِّ وَالطِّيبِيِّ وَالزَّرْكَشِيِّ.

 

‌‌[الفائدة الرَّابِعَةُ أَنْوَاعَ عُلُومِ الْحَدِيثِ كَثِيرَةٌ لَا تُعَدُّ]

الرَّابِعَةُ: اعْلَمْ أَنَّ أَنْوَاعَ عُلُومِ الْحَدِيثِ كَثِيرَةٌ لَا تُعَدُّ، قَالَ الْحَازِمِيُّ فِي كِتَابِ " الْعُجَالَةِ ": عِلْمُ الْحَدِيثِ يَشْتَمِلُ عَلَى أَنْوَاعٍ كَثِيرَةٍ تَبْلُغُ مِائَةً، كُلُّ
যা কেবল হাদিস গ্রহণ (التحمل) ও প্রদান (الأداء) পদ্ধতির সাথে এবং যা কেবল বর্ণনাকারীদের গুণাবলির (صفات الرواة) সাথে সংশ্লিষ্ট; কারণ তিনি এই শাস্ত্রের (الفن) বিক্ষিপ্ত বিষয়সমূহকে দীর্ঘ কলেবরের গ্রন্থসমূহ থেকে এই সংক্ষিপ্ত অবয়বে সংকলন করেছেন। তিনি মনে করেছেন যে, এটি অর্জন করা এবং তা অন্বেষণকারীদের নিকট পৌঁছে দেওয়া এর বিন্যাস ও সজ্জায় পূর্ণ মনোযোগ প্রদান পর্যন্ত বিলম্ব করার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

আর এই বিন্যাসের ক্ষেত্রে একদল আলেম তাঁকে অনুসরণ করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন গ্রন্থকার (المصنف), ইবনে কাসীর, ইরাকি, বুলকিনি এবং আরও অনেকে, যেমন—ইবনে জামায়াহ, তাবরিজি, তিবি এবং জারকাশি।

 

‌‌[চতুর্থ ফায়দা: হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদ (أنواع علوم الحديث) অসংখ্য যা গণনা করা যায় না]

চতুর্থ: জেনে রাখুন যে, হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদ (أنواع علوم الحديث) অনেক যা গণনা করা সম্ভব নয়। আল-হাজিমি তাঁর আল-উজাল্লাহ গ্রন্থে বলেছেন: হাদিস বিজ্ঞান এমন অনেক প্রকারের (أنواع) অন্তর্ভুক্ত যা একশ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যার প্রতিটি...
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٤٦)
نَوْعٍ مِنْهَا عِلْمٌ مُسْتَقِلٌّ لَوْ أَنْفَقَ الطَّالِبُ فِيهِ عُمُرَهُ لَمَا أَدْرَكَ نِهَايَتَهُ.

وَقَدْ ذَكَرَ ابْنُ الصَّلَاحِ مِنْهَا - وَتَبِعَهُ الْمُصَنِّفُ - خَمْسَةً وَسِتِّينَ، وَقَالَ: وَلَيْسَ ذَلِكَ بِآخِرِ الْمُمْكِنِ فِي ذَلِكَ، فَإِنَّهُ قَابِلٌ لِلتَّنْوِيعِ إِلَى مَا لَا يُحْصَى إِذْ لَا تُحْصَى أَحْوَالُ رُوَاةِ الْحَدِيثِ، وَصِفَاتُهُمْ، وَأَحْوَالُ مُتُونِ الْحَدِيثِ، وَصِفَاتُهَا، وَمَا مِنْ حَالَةٍ مِنْهَا وَلَا صِفَةٍ إِلَّا وَهِيَ بِصَدَدِ أَنَّ تُفْرَدَ بِالذِّكْرِ وَأَهْلُهَا، فَإِذَا هِيَ نَوْعٌ عَلَى حِيَالِهِ. اهـ.

قَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ: وَقَدْ أَخَلَّ بِأَنْوَاعٍ مُسْتَعْمَلَةٍ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ: مِنْهَا الْقَوِيُّ وَالْجَيِّدُ وَالْمَعْرُوفُ وَالْمَحْفُوظُ وَالْمُجَوَّدُ وَالثَّابِتُ وَالصَّالِحُ.

وَمِنْهَا فِي صِفَاتِ الرُّوَاةِ أَشْيَاءُ كَثِيرَةٌ، كَمَنِ اتَّفَقَ اسْمُ شَيْخِهِ وَالرَّاوِي عَنْهُ، وَكَمَنِ اتَّفَقَ اسْمُهُ وَاسْمُ شَيْخِهِ وَشَيْخِ شَيْخِهِ أَوِ اسْمُهُ وَاسْمُ أَبِيهِ وَجَدِّهِ، أَوِ اتَّفَقَ اسْمُهُ وَكُنْيَتُهُ، وَغَيْرُ ذَلِكَ.

وَاسْتَدْرَكَ الْبُلْقِينِيُّ فِي مَحَاسِنِ الِاصْطِلَاحِ خَمْسَةَ أَنْوَاعٍ أُخَرَ غَيْرَ مَا ذُكِرَ، وَسَيَأْتِي إِلْحَاقُ كُلِّ ذَلِكَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.

وَقَدْ ذَكَرَ ابْنُ الصَّلَاحِ أَيْضًا أَحْكَامَ أَنْوَاعٍ فِي ضِمْنِ نَوْعٍ مَعَ إِمْكَانِ إِفْرَادِهَا بِالذِّكْرِ، كَذِكْرِهِ فِي نَوْعِ الْمُعْضَلِ أَحْكَامَ الْمُعَلَّقِ وَالْمُعَنْعَنِ، وَهُمَا نَوْعَانِ مُسْتَقِلَّانِ أَفْرَدَهُمَا ابْنُ جَمَاعَةَ، وَذَكَرَ الْغَرِيبَ وَالْعَزِيزَ وَالْمَشْهُورَ وَالْمُتَوَاتِرَ فِي نَوْعٍ وَاحِدٍ،
এর প্রতিটি প্রকারই একেকটি স্বতন্ত্র জ্ঞান (علم مستقل), কোনো শিক্ষার্থী যদি এতে তার পুরো জীবন ব্যয় করে দেয়, তবুও সে এর শেষ সীমায় পৌঁছাতে পারবে না।

ইবনুস সালাহ এর মধ্য থেকে পঁয়ষট্টিটি প্রকার উল্লেখ করেছেন—এবং গ্রন্থকার তাঁর অনুসরণ করেছেন—এবং তিনি বলেছেন: "এটিই এই শাস্ত্রের শেষ সীমা নয়, বরং একে অগণিত প্রকারে বিন্যস্ত করা সম্ভব। কেননা হাদিসের বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য এবং হাদিসের মূল পাঠের (متون) অবস্থা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ গণনা করা অসম্ভব। আর এগুলোর এমন কোনো অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য নেই যা স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা এবং এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আলোচনার দাবি রাখে না; ফলে সেটি এক একটি স্বতন্ত্র প্রকারে পরিণত হয়।" সমাপ্ত।

শায়খুল ইসলাম বলেন: তিনি হাদিস বিশারদদের নিকট প্রচলিত কিছু প্রকার বাদ দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে: শক্তিশালী (القوي), উত্তম (الجيد), পরিচিত (المعروف), সংরক্ষিত (المحفوظ), পরিমার্জিত (المجود), সুপ্রতিষ্ঠিত (الثابت) এবং গ্রহণযোগ্য (الصالح)।

বর্ণনাকারীদের বৈশিষ্ট্যাবলির ক্ষেত্রেও অনেক বিষয় রয়েছে, যেমন: যার শায়খ এবং তার থেকে গ্রহণকারী বর্ণনাকারীর নাম অভিন্ন হওয়া; অথবা যার নাম, তার শায়খের নাম এবং শায়খের শায়খের নাম একই হওয়া; অথবা যার নাম এবং তার পিতা ও দাদার নাম একই হওয়া; অথবা যার নাম এবং উপনাম (الكنية) অভিন্ন হওয়া ইত্যাদি।

আল-বুলকিনী তাঁর ‘মাহাসিনুল ইস্তিলাহ’ গ্রন্থে উল্লেখিত বিষয়গুলো ছাড়াও আরও পাঁচটি প্রকার সংযোজন করেছেন এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে এগুলোর প্রত্যেকটি যথাস্থানে যুক্ত করা হবে।

ইবনুস সালাহ কোনো কোনো প্রকারের বিধানকে অন্য প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনা করেছেন, যদিও সেগুলোকে পৃথকভাবে আলোচনা করা সম্ভব ছিল। যেমন তিনি জটিলভাবে বিচ্ছিন্ন (المعضل) প্রকারের অধীনে ঝুলন্ত (المعلق) এবং ‘আন’ শব্দযুক্ত (المعنعن) বর্ণনার বিধান উল্লেখ করেছেন, অথচ এগুলো দুটি স্বতন্ত্র প্রকার যা ইবনু জামাআহ পৃথকভাবে বর্ণনা করেছেন। তদ্রূপ তিনি বিরল (الغريب), শক্তিশালী (العزيز), প্রসিদ্ধ (المشهور) এবং অবিচ্ছিন্ন (المتواتر) হাদিসগুলোকে একটি প্রকারের অধীনে উল্লেখ করেছেন,
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٤٧)
وَهِيَ أَرْبَعَةٌ، وَوَقَعَ لَهُ عَكْسُ ذَلِكَ، وَهُوَ تَعَدُّدُ أَنْوَاعٍ وَهِيَ مُتَّحِدَةٌ، وَالْمُصَنِّفُ تَابِعٌ لَهُ فِي كُلِّ ذَلِكَ، وَسَيَأْتِي بَيَانُهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.

وَهَذَا حِينَ الشُّرُوعِ فِي الْمَقْصُودِ بِعَوْنِ الْمَلِكِ الْمَعْبُودِ. فَأَقُولُ:
আর সেগুলো হলো চারটি। আর তাঁর ক্ষেত্রে এর বিপরীতটিও ঘটেছে, যা হলো বিভিন্ন প্রকারের (أنواع) আধিক্য অথচ সেগুলো মূলত অভিন্ন। গ্রন্থকার এ সব বিষয়েই তাঁর অনুসারী। ইনশাআল্লাহ তাআলা অচিরেই এর ব্যাখ্যা আসবে।

পরম উপাস্য অধিপতির সাহায্যে এটাই মূল উদ্দেশ্যে প্রবেশের মুহূর্ত। সুতরাং আমি বলছি:
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٤٨)
‌‌[مقدمة النووي] [‌‌الروايات الواردة في الابتداء بالبسملة]

بسم الله الرحمن الرحيم

ــ

‌‌[تدريب الراوي]

أَخْبَرَنِي شَيْخُنَا شَيْخُ الْإِسْلَامِ وَالْمُسْلِمِينَ قَاضِي الْقُضَاةِ عَلَمُ الدِّينِ صَالِحُ بْنُ شَيْخِ الْإِسْلَامِ سِرَاجِ الدِّينِ عُمَرَ بْنِ رَسْلَانَ الْبُلْقِينِيُّ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ إِجَازَةً مِنْهُمْ، كُلُّهُمْ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ التَّنُوخِيِّ، أَنَّ أَبَا الْحَسَنِ بْنَ الْعَطَّارِ الدِّمَشْقِيَّ أَخْبَرَهُ قَالَ: أَخْبَرَنِي شَيْخُ الْإِسْلَامِ الْحَافِظُ أَبُو زَكَرِيَّا النَّوَاوِيُّ قَالَ: (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) ، أَيْ أَبْدَأُ امْتِثَالًا لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَهُوَ أَقْطَعُ» ، رَوَاهُ الرُّهَاوِيُّ فِي الْأَرْبَعِينَ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ.

وَتَصْدِيرُ ال نَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كُتُبَهُ بِهَا مَشْهُورٌ فِي الصَّحِيحَيْنِ وَغَيْرِهِمَا.
[ইমাম নববীর ভূমিকা] [‌বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করার ব্যাপারে বর্ণিত বর্ণনাসমূহ]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

--

‌[তাদরীবুর রাবী]

আমাদের শায়খ, শায়খুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন, প্রধান বিচারপতি আলামুদ্দিন সালিহ বিন শায়খুল ইসলাম সিরাজুদ্দিন উমর বিন রাসলান আল-বুলকিনী এবং আরও একাধিক ব্যক্তি আমাকে ইজাযত বা অনুমতিসূচক সনদে (إجازة) সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা সকলেই আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আহমদ আত-তানুখী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবুল হাসান বিন আল-আত্তার আদ-দিমাশকি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শায়খুল ইসলাম আল-হাফিজ (الحافظ) আবু যাকারিয়া আন-নববী আমাকে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম), অর্থাৎ আমি শুরু করছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর আনুগত্য স্বরূপ: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অপূর্ণ বা বরকতহীন (أقطع)"। এটি আর-রুহাওয়ী তাঁর 'আল-আরবাঈন' গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পত্রাবলি বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করতেন—এই বিষয়টি সহীহাইন এবং অন্যান্য গ্রন্থে প্রসিদ্ধ (مشهور) হিসেবে বর্ণিত রয়েছে।
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٤٩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

‌‌[تدريب الراوي]

وَرَوَى الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ وَابْنُ أَبِي حَاتِمٍ فِي تَفْسِيرِهِ مِنْ طَرِيقِ جَعْفَرِ بْنِ مُسَافِرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ الْمُبَارَكِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ بِلَالِ بْنِ وَهْبٍ الْجَنَدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَقَالَ: «هُوَ اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ، وَمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ اسْمِ اللَّهِ الْأَكْبَرِ إِلَّا كَمَا بَيْنَ سَوَادِ الْعَيْنِ وَبَيَاضِهَا مِنَ الْقُرْبِ» .

قَالَ الْحَاكِمُ: صَحِيحُ الْإِسْنَادِ.

وَرَوَى ابْنُ مَرْدَوَيْهِ فِي تَفْسِيرِهِ مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ الْكَبِيرِ بْنِ الْمُعَافَى بْنِ عِمْرَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ ذَرٍّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: «لَمَّا نَزَلَتْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ هَرَبَ الْغَيْمُ إِلَى الْمَشْرِقِ، وَسَكَنَتِ الرِّيَاحُ، وَهَاجَ الْبَحْرُ، وَأَصْغَتِ الْبَهَائِمُ بِآذَانِهَا، وَرُجِمَتِ الشَّيَاطِينُ، وَحَلَفَ اللَّهُ بِعِزَّتِهِ وَجَلَالِهِ أَنْ لَا يُسَمَّى اسْمُهُ عَلَى شَيْءٍ إِلَّا بَارَكَ فِيهِ» .

وَرَوَى ابْنُ جَرِيرٍ وَابْنُ مَرْدَوَيْهِ فِي تَفْسِيرَيْهِمَا وَأَبُو نُعَيْمٍ فِي الْحِلْيَةِ مِنْ طَرِيقِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ يَحْيَى عَنْ مِسْعَرٍ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ مَرْفُوعًا: «أَنَّ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَسْلَمَتْهُ أُمُّهُ إِلَى الْكُتَّابِ لِتُعَلِّمَهُ، فَقَالَ لَهُ الْمُعَلِّمُ: اكْتُبْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، قَالَ لَهُ عِيسَى: وَمَا بِاسْمِ اللَّهِ؟ قَالَ الْمُعَلِّمُ: لَا أَدْرِي، فَقَالَ لَهُ عِيسَى: الْبَاءُ بَهَاءُ اللَّهِ، وَالسِّينُ سَنَاؤُهُ وَالْمِيمُ مَمْلَكَتُهُ، وَاللَّهُ إِلَهُ الْآلِهَةِ،
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

‌‌[তদ্বরীবুর রাবি]

আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে এবং ইবনে আবি হাতিম তাঁর তাফসির গ্রন্থে জাফর ইবনে মুসাফিরের সূত্রে, যায়েদ ইবনে মুবারক আস-সানআনি থেকে, তিনি বিলাল ইবনে ওয়াহাব আল-জানাদি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাউস থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, উসমান ইবনে আফফান (রা.) নবী কারিম (সা.)-কে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "এটি আল্লাহর নামসমূহের মধ্য হতে একটি নাম। এটি এবং আল্লাহর মহত্তম নামের মধ্যবর্তী দূরত্ব চোখের মণি ও তার সাদা অংশের মধ্যকার দূরত্বের মতোই নিকটবর্তী।"

আল-হাকিম বলেন: হাদিসটি সহিহ সনদবিশিষ্ট (صحيح الإسناد)।

ইবনে মারদাওয়াইহ তাঁর তাফসির গ্রন্থে আব্দুল কাবির ইবনুল মুআফা ইবনে ইমরান, তাঁর পিতা, উমর ইবনে যারর, আতা ইবনে আবি রাবাহ এবং জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম অবতীর্ণ হলো, তখন মেঘমালা পূর্বদিকে পলায়ন করল, বাতাস শান্ত হলো, সমুদ্র উত্তাল হলো, চতুষ্পদ প্রাণীরা কান পেতে শুনতে লাগল, শয়তানদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হলো এবং আল্লাহ তাঁর মর্যাদা ও মহিমার শপথ করে বললেন যে, যে জিনিসের ওপর তাঁর নাম নেওয়া হবে তিনি তাতে অবশ্যই বরকত দান করবেন।"

ইবনে জারির ও ইবনে মারদাওয়াইহ তাঁদের তাফসির গ্রন্থে এবং আবু নুআইম আল-হিলইয়াহ গ্রন্থে ইসমাইল ইবনে আইয়াশ, ইসমাইল ইবনে ইয়াহইয়া, মিসআর এবং আতিয়্যাহ-এর সূত্রে আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে মারফু হিসেবে (مرفوعًا) বর্ণনা করেন: "ঈসা ইবনে মারিয়াম (আ.)-কে তাঁর জননী শিক্ষালয়ে পাঠিয়েছিলেন যাতে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। তখন শিক্ষক তাঁকে বললেন: 'লেখো— বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম'। ঈসা (আ.) তাঁকে বললেন: 'বিসমিল্লাহ এর তাৎপর্য কী?' শিক্ষক বললেন: 'আমি জানি না'। তখন ঈসা (আ.) তাঁকে বললেন: 'বা' (ب) হলো আল্লাহর সৌন্দর্য, 'সিন' (س) হলো তাঁর মহিমা এবং 'মিম' (م) হলো তাঁর রাজত্ব; আর আল্লাহ হলেন সকল উপাস্যের উপাস্য...।"
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٥٠)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

‌‌[تدريب الراوي]

وَالرَّحْمَنُ رَحْمَانُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَالرَّحِيمُ رَحِيمُ الْآخِرَةِ» ، وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ جِدًّا.

قَالَ ابْنُ كَثِيرٍ: وَقَدْ يَكُونُ صَحِيحًا مَوْقُوفًا أَوْ مِنَ الْإِسْرَائِيلِيَّاتِ لَا مِنَ الْمَرْفُوعَاتِ.

وَرَوَى ابْنُ جَرِيرٍ مِنْ طَرِيقِ بِشْرِ بْنِ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي رَوْقٍ عَنِ الضَّحَّاكِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: اللَّهُ ذُو الْأُلُوهِيَّةِ وَالْعُبُودِيَّةِ عَلَى خَلْقِهِ أَجْمَعِينَ، وَالرَّحْمَنُ - الْفَعْلَانُ - مِنَ الرَّحْمَةِ، وَالرَّحِيمُ الرَّفِيقُ بِمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَرْحَمَهُ، وَالْبَعِيدُ الشَّدِيدُ عَلَى مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُضْعِفَ عَلَيْهِ الْعَذَابَ، وَبِشْرٌ ضَعِيفٌ، وَالضَّحَّاكُ لَمْ يَسْمَعْ مِنِ ابْنِ عَبَّاسٍ.

وَأَسْنَدَ ابْنُ جَرِيرٍ عَنِ الْعَرْزَمِيِّ قَالَ: الرَّحْمَنُ لِجَمِيعِ الْخَلْقِ، الرَّحِيمُ بِالْمُؤْمِنِينَ، وَأَسْنَدَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: اللَّهُ هُوَ الِاسْمُ الْأَعْظَمُ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

[তাদরিবুর রাবি]

"আর 'আর-রহমান' হলেন দুনিয়া ও আখেরাতের রহমান, এবং 'আর-রহিম' হলেন আখেরাতের রহিম।" আর এটি অত্যন্ত বিরল (غريب جداً) একটি হাদিস।

ইবনে কাসীর বলেন: এটি বিশুদ্ধ (صحيح) মওকুফ (موقوف) বর্ণনা হতে পারে অথবা ইসরাঈলি বর্ণনা (ইসরাঈলিয়্যাত) হতে পারে, মারফু (مرفوع) হাদিস নয়।

ইবনে জারীর বিশর ইবনে উমারা-এর সূত্রে আবু রওক হতে, তিনি দাহহাক হতে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ হলেন তাঁর সমগ্র সৃষ্টির ওপর উলুহিয়াত (উপাস্যত্ব) ও উবুদিয়াত (দাসত্ব)-এর অধিকারী। আর 'আর-রহমান'—যা 'ফালান' (فعلان) ওজনের—রহমত থেকে উদ্ভূত। আর 'আর-রহিম' হলেন তাঁর প্রতি দয়ালু যাঁকে তিনি রহমত করতে পছন্দ করেন, আর তিনি ঐ ব্যক্তির প্রতি কঠোর যিনি রহমত থেকে দূরে, যার ওপর তিনি শাস্তি দ্বিগুণ করতে চান। আর বিশর হলেন দুর্বল (ضعيف), এবং দাহহাক ইবনে আব্বাস থেকে শ্রবণ (لم يسمع) করেননি।

ইবনে জারীর আল-আরজামী থেকে সনদসহ বর্ণনা (أسند) করেছেন, তিনি বলেন: 'আর-রহমান' সমস্ত সৃষ্টির জন্য এবং 'আর-রহিম' মুমিনদের জন্য। ইবনে আবি হাতিম জাবির ইবনে যায়েদ থেকে সনদসহ বর্ণনা (أسند) করেছেন, তিনি বলেন: 'আল্লাহ' হলো মহান নাম (الاسم الأعظم)।
(খণ্ড: ١) তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী (পৃষ্ঠা: ٥١)
الْحَمْدُ لِلَّهِ

ــ

‌‌[تدريب الراوي]

وَرَوَى الْبَيْهَقِيُّ وَغَيْرُهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} [مريم: 65] قَالَ: لَا أَحَدَ يُسَمَّى اللَّهَ.

وَأَسْنَدَ ابْنُ جَرِيرٍ عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ قَالَ: الرَّحْمَنُ اسْمٌ مَمْنُوعٌ، أَيْ لَا يَسْتَطِيعُ أَحَدٌ أَنْ يَتَسَمَّى بِهِ.

وَأَسْنَدَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ عَنِ الْحَسَنِ أَيْضًا قَالَ: الرَّحِيمُ اسْمٌ لَا يَسْتَطِيعُ النَّاسُ أَنْ يَنْتَحِلُوهُ، تَسَمَّى بِهِ تبارك وتعالى.

وَبِهَذِهِ الْآثَارِ عَرَفْتَ مُنَاسَبَةَ جَمِيعِ هَذِهِ الْأَسْمَاءِ الثَّلَاثَةِ فِي الْبَسْمَلَةِ.

 

‌‌[الروايات الواردة في الابتداء بالحمدلة]

(الْحَمْدُ لِلَّهِ) رَوَى الْخَطَّابِيُّ فِي غَرِيبِهِ، وَالدَّيْلَمِيُّ فِي مُسْنَدِ الْفِرْدَوْسِ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي الْأَدَبِ بِسَنَدٍ رِجَالُهُ ثِقَاتٌ، لَكِنَّهُ مُنْقَطِعٌ، عَنِ ابْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْحَمْدُ رَأْسُ الشُّكْرِ، مَا شَكَرَ اللَّهَ عَبْدٌ لَا يَحْمَدُهُ» .

وَرَوَى الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ، عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ قَالَ: «سُرِقَتْ نَاقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجَدْعَاءُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَئِنْ رَدَّهَا اللَّهُ عَلَيَّ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

—

[তাদরীবুর রাবী]

ইমাম বায়হাকী ও অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: {তুমি কি তাঁর সমনামের কাউকে জানো?} [মারইয়াম: ৬৫]। তিনি বলেছেন: "আল্লাহ নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য কেউ নেই।"

ইবনে জারীর হাসান বসরী (রহ.) থেকে সনদ (سند) সহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আর-রহমান একটি সংরক্ষিত নাম, অর্থাৎ কেউই এই নাম গ্রহণ করতে সক্ষম নয়।"

ইবনে আবী হাতিম হাসান (রহ.) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আর-রাহীম এমন একটি নাম যা মানুষ নিজের জন্য দাবি করতে পারে না; আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা নিজেকে এই নামে অভিহিত করেছেন।"

এই বর্ণনাগুলোর (آثار) মাধ্যমে আপনি বিসমিল্লাহর মধ্যে এই তিনটি নামেরই উপযোগিতা সম্পর্কে জানতে পারলেন।

 

[হামদালার মাধ্যমে শুরু করা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো]

(সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য) ইমাম খাত্তাবী তাঁর গারীব গ্রন্থে, দায়লামী মুসনাদুল ফিরদাউসে এবং বায়হাকী আল-আদাব গ্রন্থে এমন একটি সনদ (سند) সহ বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع); ইবনে আমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হামদ হলো কৃতজ্ঞতার শীর্ষ; যে বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করে না, সে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।"

তাবারানী আল-আওসাত গ্রন্থে একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ (سند) সহ নাওয়াস ইবনে সামআন (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জাদআ নামক উষ্ট্রীটি চুরি হয়ে গিয়েছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'যদি আল্লাহ এটি আমাকে ফিরিয়ে দেন...'"