(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: -)
فوائد أبي محمد الفاكهي القسم: كتب السنة
الكتاب: فوائد أبي محمد الفاكهي
المؤلف: عبد الله بن محمد بن العباس الفاكهي، أبو محمد المكي (ت 353هـ)
دراسة وتحقيق: محمد بن عبد الله بن عايض الغباني
الناشر: مكتبة الرشد، الرياض - السعودية، شركة الرياض للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998 م
عدد الصفحات: 530
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু মুহাম্মদ আল-ফাকিহী-র ফাওয়ায়িদ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আবু মুহাম্মদ আল-ফাকিহী-র ফাওয়ায়িদ
লেখক: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস আল-ফাকিহী, আবু মুহাম্মদ আল-মাক্কী (মৃত্যু ৩৫৩ হিজরি)
গবেষণা ও তাহকীক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আয়িদ আল-গাব্বানি
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ - সৌদি আরব, রিয়াদ কোম্পানি ফর পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩০
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
1 - أَخْبَرَنا الشَّيْخُ الْفَقِيهُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السَّلَفِيُّ الْأَصْبَهَانِيُّ رضي الله عنه قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي مَنْزِلِهِ بِالْأَسْكَنْدَرِيَّةِ فِي جُمَادَى الْأُولَى سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ الشَّيْخُ الرَّئِيسُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ بَيَانٍ الرَّزَّازُ، وَأَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ زَكَرِيَّاءَ الطُّرَيْثِيثِيُّ، وَأَبُو يَاسِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْخَيَّاطُ، وَأَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَاقِلَّانِيُّ بِبَغْدَادَ قَالُوا: أَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدَّلُ، نَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْفَاكِهِيُّ بِمَكَّةَ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَخَمْسِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ مِنْ لَفْظِهِ حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ زَكَرِيَّاءَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي مَسَرَّةَ، فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ فِي سَنَةِ ثَمَانٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَتَيْنِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، نا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي ⦗ص: 116⦘ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «خَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ مِنْهَا عَنْ ظَهْرِ غِنًى وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ» ، ⦗ص: 117⦘ قَالَ: وَمَنْ أَعُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: " امْرَأَتُكَ تَقُولُ: أَطْعِمْنِي وَإِلَّا فَارِقْنِي، وَخَادِمُكَ يَقُولُ: أَطْعِمْنِي وَاسْتَعْمِلْنِي، وَوَلَدُكَ يَقُولُ: إِلَى مَنْ تَتْرُكُنِي؟ "
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ফকিহ, ইমাম, আলিম, হাফিজ আবু তাহির আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আস-সালাফি আল-আসবাহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু), তাঁর সম্মুখে পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম তাঁর আলেকজান্দ্রিয়ার বাসভবনে, পাঁচশ চুয়াত্তর হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসে। তাঁকে বলা হলো: আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আর-রাইস আবুল কাসিম আলি ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বায়ান আর-রাজজাজ, আবু বকর আহমাদ ইবনে আলি ইবনে আল-হুসাইন ইবনে জাকারিয়া আত-তুরাইথিসি, আবু ইয়াসির মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খাইয়াত এবং আবু গালিব মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আহমাদ আল-বাকিলানি—বাগদাদে। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল কাসিম আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান আল-মুয়াদ্দিল। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আল-ফাকিহি মক্কায়, তিনশ তিপ্পান্ন হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে তাঁর মৌখিক শব্দ থেকে। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ইয়াহইয়া আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে জাকারিয়া ইবনে আল-হারিস ইবনে আবি মাসাররাহ, দুইশ আটাত্তর হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আজলান, জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আবু ⦗পৃষ্ঠা: ১১৬⦘ সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: «উত্তম সদকা হলো যা সচ্ছলতা বজায় রেখে প্রদান করা হয়। উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। আর তাকে দিয়ে শুরু করো যার ভরণপোষণের দায়িত্ব তোমার ওপর রয়েছে।’ ⦗পৃষ্ঠা: ১১৭⦘ তিনি (আবু হুরায়রা) বলেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমার ওপর কার ভরণপোষণের দায়িত্ব? তিনি বললেন: "তোমার স্ত্রী বলবে: আমাকে আহার দাও নতুবা আমাকে ছেড়ে দাও; তোমার খাদেম বলবে: আমাকে আহার দাও এবং আমাকে কাজে নিয়োগ করো; আর তোমার সন্তান বলবে: আপনি আমাকে কার কাছে ছেড়ে যাচ্ছেন?"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، نا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا»
২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযিদ আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ বিন আবি আইয়ুব, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আজলান, তিনি আল-কাক্কা বিন হাকিম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ সেই ব্যক্তি, যে চরিত্রের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
3 - حَدَّثَنِي الْمُقْرِئُ، نا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ: أَنْصِتْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَدْ لَغَوْتَ عَلَيْكَ بِنَفْسِكَ "
৩ - আল-মুকরি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, সাঈদ বিন আবি আইয়ুব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আজলান আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "জুমার দিনে যখন তুমি তোমার সঙ্গীকে বলবে: 'চুপ থাকো', তখন তুমি নিজেই অনর্থক কাজ করলে।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১২০)
4 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، نا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ أَخَذَ مِنَ الْأَرْضِ شِبْرًا طُوِّقَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي سَبْعِ أَرَضِينَ»
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুকরি, তিনি সাঈদ বিন আবি আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে আজলান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি (অন্যায়ভাবে) এক বিঘত জমি গ্রহণ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সাত স্তর জমিন পর্যন্ত বেড়ি পরানো হবে।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১২১)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْمُقْرِئُ، نا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنِ الْعَجْلَانَ أَبِي مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «لِلْمَمْلُوكِ طَعَامُهُ وَكِسْوَتُهُ لَا يُكَلَّفُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا يُطِيقُ»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ আল-মুকরি, তিনি সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি বুকাইর থেকে, তিনি আজলান আবু মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «ক্রীতদাসের জন্য রয়েছে তার খাদ্য ও বস্ত্র এবং তাকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান করা যাবে না»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১২২)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ فِي قَوْلِهِ تبارك وتعالى: {وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ} [الكهف: 28] «إِنَّهَا الصَّلَاةُ الْمَكْتُوبَةُ»
৬ - আমাদের নিকট আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে আজলান বর্ণনা করেছেন, নাফে’ থেকে বর্ণিত, ইবনে উমর মহান ও বরকতময় আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলতেন: “{আর আপনি নিজেকে তাদের সাথে ধৈর্যশীল রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে ডাকে} [আল-কাহাফ: ২৮] ‘নিশ্চয়ই এটি হলো ফরয নামাজ’।”
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১২২)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، نا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، ⦗ص: 123⦘ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَتَتْ عَلَيْهِ سِتُّونَ سَنَةً فَقَدْ أَعْذَرَ اللَّهُ إِلَيْهِ فِي الْعُمُرِ»
৭ - আমাদের নিকট আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন আবি আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১২৩⦘ আমার নিকট মুহাম্মদ বিন আজলান বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন আবি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যার বয়স ষাট বছর পূর্ণ হয়েছে, আল্লাহ তার জীবনের ব্যাপারে ওজর বা অজুহাত পেশ করার সুযোগ নিঃশেষ করে দিয়েছেন»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، نا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: «الْوَيْلُ وَادٍ فِي جَهَنَّمَ لَوْ سُيِّرَتْ فِيهِ الْجِبَالُ لَانْمَاعَتْ مِنْ حَرِّهِ»
৮ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি, তিনি সাঈদ বিন আবি আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আজলান থেকে, তিনি যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "ওয়াইল হলো জাহান্নামের একটি উপত্যকা, যদি সেখানে পাহাড়সমূহকে চালিত করা হতো তবে তার তাপে সেগুলো গলে যেত।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
9 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، نا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «إِنَّمَا النَّاسُ كَإِبِلٍ مِائَةٍ لَا تَكَادُ تَجِدُ فِيهَا رَاحِلَةً»
৯ - আমাদের নিকট আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে আজলান বর্ণনা করেছেন, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর ইবনে আল-খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: «নিশ্চয়ই মানুষ একশত উটের ন্যায়, যার মধ্যে তুমি একটিও সওয়ারিযোগ্য উট খুঁজে পাবে না বললেই চলে»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
10 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، نا مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ⦗ص: 127⦘ أَبِي يَقُولُ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ، يَخْطُبُ النَّاسَ بِمِصْرَ يَقُولُ: «مَا أَبْعَدَ هَدْيَكُمْ مِنْ هَدْيِ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم، أَمَّا هُوَ فَكَانَ أَزْهَدَ النَّاسِ فِي الدُّنْيَا وَأَنْتُمْ أَرْغَبُ النَّاسِ فِيهَا»
১০ - আমাদের নিকট আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, মুসা বিন আলী বিন রাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ⦗পৃষ্ঠা: ১২৭⦘ আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আমি আমর ইবনুল আসকে মিসরে মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: “তোমাদের আদর্শ তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ থেকে কতই না দূরে! তিনি তো ছিলেন দুনিয়ার প্রতি মানুষের মাঝে সবচেয়ে বিমুখ, আর তোমরা হলে এর প্রতি মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।”
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
11 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، نا مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: «رَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ رَجَعَ مِنْ جِنَازَةٍ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ»
১১ - আল-মুক্বরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মূসা ইবনে আলী ইবনে রাবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «আমি আমর ইবনুল আসকে দেখেছি যে, তিনি জানাজা থেকে ফিরে আসলেন, অতঃপর ওযু করলেন এবং তাঁর মোজা দুটির ওপর মাসেহ করলেন।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
12 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، نا مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي ⦗ص: 128⦘ يُحَدِّثُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ عِنْدَ ذِكْرِ أَهْلِ النَّارِ: «كُلُّ جَعْظَرِيٍّ جَوَّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ جَمَّاعٍ»
১২ - আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মূসা ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে ⦗পৃষ্ঠা: ১২৮⦘ আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামীদের বর্ণনার সময় বলেছেন: «প্রত্যেক রূঢ় স্বভাবের, দাম্ভিক, অহংকারী এবং সম্পদ সঞ্চয়কারী ব্যক্তি»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
13 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، نا مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «شَرُّ مَا فِي الرَّجُلِ شُحٌّ هَالِعٌ، أَوْ جُبْنٌ خَالِعٌ»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আব্দুল আজিজ ইবনে মারওয়ান ইবনে আল-হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মানুষের মধ্যে থাকা সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্বভাব হলো বিচলিতকারী কৃপণতা অথবা দিশেহারা করে দেয়া ভীরুতা»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
14 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، نا مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ،: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ يَقُولُ: بَعَثَ إِلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُهُ، فَأَمَرَنِي أَنْ آخُذَ عَلَيَّ سِلَاحِي وَثِيَابِي ثُمَّ آتِيهِ، قَالَ: فَفَعَلْتُهُ ثُمَّ أَتَيْتُهُ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ، فَأَصْعَدَ فِي النَّظَرِ ثُمَّ طَأْطَأَ، ثُمَّ قَالَ: «يَا عَمْرُو، إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَبْعَثَكَ عَلَى جَيْشٍ فَيُغْنِمَكَ اللَّهُ وَيُسَلِّمَكَ، وَأَزْعَبُ لَكَ زَعْبَةً مِنَ الْمَالِ صَالِحَةً» . ⦗ص: 131⦘ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي لَمْ أُسْلِمْ رَغْبَةً فِي الْمَالِ، وَلَكِنْ أَسْلَمْتُ رَغْبَةً فِي الْإِسْلَامِ، وَأَنْ أَكُونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «يَا عَمْرُو، نِعِمَّا بِالْمَالِ الصَّالِحِ لِلْمَرْءِ الصَّالِحِ»
১৪ - আল-মুক্বরি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মূসা ইবনে আলী ইবনে রাবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমর ইবনুল আসকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট লোক পাঠালেন, ফলে আমি তাঁর নিকট আসলাম। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন যেন আমি আমার অস্ত্র ও পোশাক গ্রহণ করি এবং তারপর তাঁর নিকট আসি। তিনি (আমর) বলেন: আমি তাই করলাম, এরপর আমি তাঁর নিকট আসলাম এমতাবস্থায় যে তিনি ওযু করছিলেন। তিনি আমার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তাকালেন, এরপর মাথা নিচু করলেন। এরপর বললেন: «হে আমর, আমি তোমাকে একটি বাহিনীর প্রধান হিসেবে পাঠাতে চাই যাতে আল্লাহ তোমাকে গনীমত দান করেন এবং নিরাপদ রাখেন, আর আমি তোমাকে উত্তম কিছু মাল প্রদান করতে চাই।» ⦗পৃষ্ঠা: ১৩১⦘ আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি সম্পদের লোভে ইসলাম গ্রহণ করিনি, বরং আমি ইসলামের প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে থাকার জন্য ইসলাম গ্রহণ করেছি। তিনি বললেন: «হে আমর, সৎ ব্যক্তির জন্য নেক মাল কতই না চমৎকার!»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
15 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، نا مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، يَقُولُ: " ثَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ أَوْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا: حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ، وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ الشَّمْسُ، وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ "
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মূসা ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি উকবা ইবনে আমিরকে বলতে শুনেছি: " তিনটি সময় এমন রয়েছে যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাত আদায় করতে অথবা আমাদের মৃতদের দাফন করতে নিষেধ করতেন: যখন সূর্য উজ্জ্বলভাবে উদিত হতে থাকে যতক্ষণ না তা উঁচুতে উঠে, যখন দুপুরের সূর্য ঠিক মাথার উপরে স্থির হয় যতক্ষণ না তা পশ্চিমে ঢলে পড়ে, এবং যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে যতক্ষণ না তা পুরোপুরি অস্ত যায়।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
16 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، نا مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، يَقُولُ: خَرَجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا وَنَحْنُ فِي الصُّفَّةِ، فَقَالَ: «أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يَغْدُوَ إِلَى بُطْحَانَ، أَوْ إِلَى الْعَقِيقِ، فَيَأْتِيَ كُلَّ يَوْمٍ بِنَاقَتَيْنِ كَوْمَاوَيْنِ زَهْرَاوَيْنِ فَيَأْخُذَهُمَا فِي ⦗ص: 133⦘ غَيْرِ إِثْمٍ بِاللَّهِ وَلَا قَطْعِ رَحِمٍ؟» قَالَ: قُلْنَا: كُلُّنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ نُحِبُّ ذَلِكَ، قَالَ: «فَلَأَنْ يَغْدُوَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَسْجِدِ فَيَتَعَلَّمَ آيَتَيْنِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ نَاقَتَيْنِ، وَثَلَاثٌ خَيْرٌ مِنْ ثَلَاثٍ، وَأَرْبَعٌ خَيْرٌ مِنْ أَرْبَعٍ، وَمِنْ أَعْدَادِهِنَّ مِنَ الْإِبِلِ»
১৬ - আল-মুকরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মূসা ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি উকবাহ ইবনে আমিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: একদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন যখন আমরা সুফফায় ছিলাম, তখন তিনি বললেন: «তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করে যে, সে প্রতিদিন সকালে বুতহান অথবা আকীক উপত্যকায় যাবে এবং সেখান থেকে বড় কুঁজবিশিষ্ট ও উজ্জ্বল বর্ণের দুটি উষ্ট্রী নিয়ে আসবে, অতঃপর সে তা গ্রহণ করবে ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৩⦘ আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কোনো পাপ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা ছাড়াই?» তিনি বলেন: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সবাই তা পছন্দ করি। তিনি বললেন: «তবে তোমাদের কেউ যদি সকালে মসজিদে যায় এবং আল্লাহর কিতাব থেকে দুটি আয়াত শিখে নেয়, তবে তা তার জন্য দুটি উষ্ট্রীর চেয়ে উত্তম। তিনটি আয়াত তিনটি উষ্ট্রীর চেয়ে উত্তম, এবং চারটি আয়াত চারটি উষ্ট্রীর চেয়ে উত্তম; এভাবেই সমসংখ্যক উটের চেয়েও তা অধিক উত্তম।’»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
17 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، وَعُثْمَانُ بْنُ الْيَمَانِ قَالَا: نا مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ⦗ص: 134⦘ «إِنَّ يَوْمَ عَرَفَةَ وَيَوْمَ النَّحْرِ وَأَيَّامَ التَّشْرِيقِ عِيدُنَا أَهْلَ الْإِسْلَامِ وَهِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ»
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুকরি এবং উসমান ইবনুল ইয়ামান, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসা ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে উকবাহ ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৪⦘ «নিশ্চয়ই আরাফার দিন, কুরবানির দিন এবং তাশরিকের দিনসমূহ আমাদের ইসলাম অনুসারীদের জন্য ঈদের দিন এবং এগুলো পানাহারের দিন।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، نا مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، يَقُولُ: أَخْبَرَنِي أَبُو قَيْسٍ، مَوْلَى عَمْرٍو قَالَ: بَعَثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: سَلْهَا أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ؟ فَإِنْ قَالَتْ: لَا، فَقُلْ: إِنَّ عَائِشَةَ تُخْبِرُ النَّاسَ أَنَّهُ كَانَ يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ، قَالَ: فَأَتَيْتُ أُمَّ سَلَمَةَ فَأَبْلَغْتُهَا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قُلْتُ: أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ؟ قَالَتْ: «لَا» ، فَقُلْتُ لَهَا: إِنَّ عَائِشَةَ تُخْبِرُ النَّاسَ أَنَّهُ كَانَ يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ، فَقَالَتْ: «لَعَلَّهُ، إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ يَتَمَالَكُ عَنْهَا حُبًّا، أَمَا إِيَّايَ فَلَا»
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন আলি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে আমরের মুক্ত দাস আবু কায়স সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন আমর আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মে সালামার নিকট পাঠালেন এবং বললেন: তাঁকে জিজ্ঞাসা করো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি রোজা রাখা অবস্থায় চুম্বন করতেন? যদি তিনি বলেন: ‘না’, তবে বলো: আয়েশা লোকেদের সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি রোজা রাখা অবস্থায় চুম্বন করতেন। তিনি (আবু কায়স) বলেন: অতঃপর আমি উম্মে সালামার নিকট আসলাম এবং আবদুল্লাহ বিন আমরের পক্ষ থেকে তাঁকে বিষয়টি জানালাম। আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি রোজা রাখা অবস্থায় চুম্বন করতেন? তিনি বললেন: «না», তখন আমি তাঁকে বললাম: আয়েশা লোকেদের সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি রোজা রাখা অবস্থায় চুম্বন করতেন। তখন তিনি বললেন: «সম্ভবত তিনি, নিশ্চয়ই তিনি তাঁর (আয়েশার) প্রতি ভালোবাসার আধিক্যের কারণে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন না, তবে আমার ক্ষেত্রে এমনটি ছিল না।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
19 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، نا مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ،: كُنْتُ بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ عِنْدَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، فَذَكَرُوا مَا هُمْ فِيهِ مِنَ الْعَيْشِ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الصَّحَابَةِ: «لَقَدْ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَشْبَعْ أَهْلُهُ مِنَ الْخُبْزِ الْغَلِيثِ» قَالَ الْمُقْرِئُ: قُلْتُ لِمُوسَى: مَا الْغَلِيثُ؟ قَالَ: الشَّعِيرُ وَالسُّلْتُ إِذَا خُلِطَا
১৯ - আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় আমর বিন আল-আসের নিকট ছিলাম। তখন তারা তাদের বর্তমান জীবনযাত্রার মান নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন অথচ তাঁর পরিবার কখনও গালিস রুটি খেয়ে তৃপ্ত হননি।” আল-মুকরি বলেন: আমি মুসাকে বললাম: গালিস কী? তিনি বললেন: যব এবং সুলত যখন একত্রে মেশানো হয়।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
20 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، نا مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عِمْرَانَ ⦗ص: 137⦘ الْغَافِقِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ: «لَأَنْ يَكُنِ الرَّجُلُ رَمَادًا يُذْرَى بِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْ رَجُلٍ وَهُوَ يُصَلِّي مُتَعَمِّدًا»
২০ - আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ইমরান ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৭⦘ আল-গাফিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তির ছাই হয়ে যাওয়া যাকে বাতাসে উড়িয়ে দেওয়া হবে, তা তার জন্য সালাত আদায়রত কোনো ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে উত্তম ইচ্ছাকৃতভাবে।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
وَقَالَ: «لَأَنْ تَسْقُطَ ثَنِيَّتَا الرَّجُلِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يُرَى بَيْنَ يَدَيْهِ خَلَلًا فِي الصَّفِّ لَا يَرْتُقهُ»
এবং তিনি বললেন: «সাফের মধ্যে নিজের সামনে কোনো ফাঁক দেখা যা সে পূরণ করে না, তার চেয়ে বরং কোনো ব্যক্তির সামনের দুটি দাঁত পড়ে যাওয়া তার জন্য অধিকতর উত্তম।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
21 - حَدَّثَنَا أَبِي، أنا هِشَامُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ أَبِي سَعِيدٍ أَخْبَرَهُ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ⦗ص: 139⦘، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا انْتَهَى أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَجْلِسِ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يَجْلِسَ فَلْيَجْلِسْ، فَإِذَا قَامَ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنَّ الْأُولَى لَيْسَتْ بِأَحَقَّ مِنَ الْأَخِيرَةِ»
২১ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, মুহাম্মদ ইবনে আজলান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ তাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৯⦘, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন কোনো মজলিসে পৌঁছাবে তখন সে যেন সালাম দেয়। এরপর যদি তার বসার ইচ্ছা হয় তবে সে যেন বসে। অতঃপর যখন সে (চলে যাওয়ার জন্য) উঠে দাঁড়াবে তখনও যেন সালাম দেয়। কারণ প্রথম সালামটি শেষ সালামটির চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
22 - أَخْبَرَنِي أَبِي، أنا هِشَامُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي زِيَادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، أَنَّ أَبَا شُرَيْحٍ الْعَدَوِيَّ حَدَّثَهُ: أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ⦗ص: 141⦘ " مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَسْكُتْ، مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، وَلَهُ جَائِزَتُهُ يَوْمُهُ وَلَيْلَتُهُ يُتْحِفُهُ يَوْمًا وَلَيْلَةً بِالشَّيْءِ يَقُولُ: عَلَى قَدْرِ الضَّيْفِ وَمَا بَقِيَ مِنَ الثَّلَاثِ فَهُوَ أُسْوَةُ الْعِيَالِ " وَفِي قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا: «الضِّيَافَةُ ثَلَاثٌ وَلَا يَحِلُّ لِلضَّيْفِ أَنْ يَثْوِيَ عِنْدَهُ حَتَّى يُحْرِجَهُ وَمَا أُنْفِقَ عَلَيْهِ بَعْدَ الثَّلَاثِ فَهُوَ صَدَقَةٌ»
২২ - আমাকে আমার পিতা সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিশাম ইবনে সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেন: যিয়াদ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ আল-মাকবুরি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন যে, আবু শুরাইহ আল-আদাবী তাকে হাদিস শুনিয়েছেন যে: তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৪১⦘ " যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীর সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে। তার একদিন ও একরাত হলো বিশেষ পুরস্কারের দিন, তিনি মেহমানের সামর্থ্য অনুযায়ী একদিন ও একরাত তাকে বিশেষভাবে আপ্যায়ন করবেন। আর তিন দিনের যা অতিরিক্ত হবে তা পরিবারের সদস্যদের জন্য সাধারণ ব্যয়ের মতোই গণ্য হবে।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীতে আরও রয়েছে: "আতিথেয়তা তিন দিন পর্যন্ত। মেহমানের জন্য তার নিকট এমন দীর্ঘ সময় অবস্থান করা বৈধ নয় যা তাকে সংকটে বা কষ্টে ফেলে দেয়। আর তিন দিন পর যা কিছু তার জন্য ব্যয় করা হবে তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
23 - حَدَّثَنَا أَبِي، أنا هِشَامٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي زِيَادٌ أَيْضًا ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ ⦗ص: 143⦘ الْمَقْبُرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَاهُ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ ⦗ص: 144⦘ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يُؤْذِ جَارَهُ، مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَسْكُتْ» قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: وَسَأَلْتُ ابْنَ عَجْلَانَ، فَحَدَّثَنِي نَحْوًا مِنْ حَدِيثِ زِيَادٍ: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ»
২৩ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেন: এবং যিয়াদও আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ ⦗পৃষ্ঠা: ১৪৩⦘ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি তাঁর পিতাকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ⦗পৃষ্ঠা: ১৪৪⦘ এবং শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়; যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে; যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে» ইবনে জুরাইজ বলেন: আমি ইবনে আজলানকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি আমার নিকট যিয়াদের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
24 - حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْعَطَّارُ، نا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ، ⦗ص: 145⦘ نا عَبْدُ اللَّهِ الدَّانَاجُ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا، حَتَّى تَذُوقَا الْعُسَيْلَا»
২৪ - আল-আলা ইবনে আবদিল জাব্বার আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল আজিজ ইবনে আল-মুখতার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১৪৫⦘ আবদুল্লাহ আদ-দানাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু রাফি থেকে, আবু হুরায়রা থেকে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «না, যতক্ষণ না তোমরা (উভয়ে) মধুর স্বাদ আস্বাদন করো»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৪৭)
25 - حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، ⦗ص: 148⦘ نا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، ⦗ص: 149⦘ حَدَّثَنِي أُمُّ كُلْثُومٍ، عَنْ عَائِشَةَ،: أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَنِ الرَّجُلِ يُجَامِعُ ثُمَّ يَكْسُلُ؟، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي لَأَفْعَلُهُ ثُمَّ أَغْتَسِلُ»
২৫ - ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ আল-জুহরী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১৪৮⦘ ইবনে ওয়াহাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াদ বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ১৪৯⦘ উম্মু কুলসুম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আয়েশা থেকে: জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন এবং তাঁকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাত হয় না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই আমি এমনটি করি, অতঃপর গোসল করি»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৪৯)
26 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، نا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ⦗ص: 150⦘ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اسْتَيْقَظَ مِنَ اللَّيْلِ قَالَ: «لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَغْفِرُكَ لِذَنْبِي، وَأَسْأَلُكَ رَحْمَتَكَ، اللَّهُمَّ زِدْنِي عِلْمًا، وَلَا تُزِغْ قَلْبِي بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنِي، وَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ»
২৬ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি, তিনি সাঈদ বিন আবি আইয়ুব থেকে, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আল-ওয়ালিদ, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল ⦗পৃষ্ঠা: ১৫০⦘ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হতেন তখন বলতেন: «তুমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তুমি পরম পবিত্র। হে আল্লাহ, আমি আমার পাপের জন্য তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার নিকট তোমার রহমত প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো এবং বক্র করো না আমার অন্তরকে আমাকে হিদায়াত দান করার পর; আর তোমার পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করো, নিশ্চয়ই তুমি পরম দাতা।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৫০)
27 - حَدَّثَنَا بَدَلُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ ⦗ص: 151⦘ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: سَمِعْتُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهَا: «مُرِي أَبَا بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ» ، فَقَالَتْ: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ أَسِيفٌ، وَإِنَّهُ مَتَى يَقُومُ مَقَامَكَ رَقَّ. فَقَالَ: «مُرِي أَبَا بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ» فَقَالَتْ: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ أَسِيفٌ، وَإِنَّهُ مَتَى يَقُومُ مَقَامَكَ رَقَّ قَالَ لَهَا مِرَارًا. قَالَ شُعْبَةُ: فِي الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ: «إِنَّكُنَّ أَنْتُنَّ صَوَاحِبَاتُ يُوسُفَ، مُرُوا أَبَا بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ»
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বদল ইবনে আল-মুহাব্বার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, ⦗পৃষ্ঠা: ১৫১⦘ সাদ ইবনে ইবরাহীম থেকে, তিনি বলেন: আমি উরওয়াহ ইবনুল জুবাইরকে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: «আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে», তখন তিনি (আয়েশা) বললেন: নিশ্চয়ই আবু বকর অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ, আর তিনি যখনই আপনার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দাঁড়াবেন, তিনি ব্যথিত ও অভিভূত হয়ে পড়বেন। অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: «আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে», তখন তিনি (আয়েশা আবারো) বললেন: নিশ্চয়ই আবু বকর অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ, আর তিনি যখনই আপনার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দাঁড়াবেন, তিনি ব্যথিত হয়ে পড়বেন; এভাবে তিনি তাকে কয়েকবার বললেন। শু'বাহ বলেন: তৃতীয় বা চতুর্থবারে তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাকে বললেন: «নিশ্চয়ই তোমরা হলে ইউসুফের সঙ্গিনীদের মতো; তোমরা আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়ায়িদু আবি মুহাম্মাদ আল ফাকিহী
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
28 - حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، نا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي أَبُو الْأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: " إِنَّ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانُوا قَوْمًا عُمَّالَ أَنْفُسِهِمْ، وَكَانَ يَكُونُ لَهُمْ أَرْوَاحٌ، فَقِيلَ لَهُمْ: لَوِ اغْتَسَلْتُمْ لِلْجُمُعَةِ "
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আবু আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আসওয়াদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আয়েশা (রা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ এমন এক কওম ছিলেন যারা নিজেদের কাজ নিজেরাই সম্পাদন করতেন এবং তাঁদের দেহ থেকে ঘামের গন্ধ নির্গত হতো। তখন তাঁদের বলা হলো: তোমরা যদি জুমার দিনের জন্য গোসল করতে! "