(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: -)
فضائل عثمان بن عفان لعبد الله بن أحمد   (عبد الله بن أحمد)

القسم: كتب السنة


الكتاب: فضائل عثمان بن عفان رضي الله عنه

المؤلف: أبو عبد الرحمن عبد الله بن أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني (ت 290هـ)

دراسة وتحقيق: أبو مصعب طلعت بن فؤاد الحلواني

الناشر: دار ماجد عسيري، السعودية

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 204

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবদুল্লাহ বিন আহমাদ রচিত উসমান বিন আফফানের ফজিলত   (আবদুল্লাহ বিন আহমাদ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফজিলত

লেখক: আবু আব্দুর রহমান আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানী (মৃত্যু ২৯০ হিজরি)

গবেষণা ও তাহকিক: আবু মুসআব তালাত বিন ফুয়াদ আল-হালওয়ানি

প্রকাশক: দার মাজিদ আসিরি, সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৪

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٤٣)
1 - أَخْبَرَنَا شَيْخُنَا الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْحَافِظُ أَبُو الْحَجَّاجِ يُوسُفُ بْنُ خَلِيلِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدِّمَشْقِيُّ قِرَاءَةُ عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ خَلَفَ فِي يَوْمِ الْإِثْنَيْنِ سَادَسَ عَشَرَ مِنْ رَجَبٍ الْمُبَارَكِ مِنْ سَنَةِ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ وَسِتِّمِائَةٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ يَحْيَى بْنُ أَسْعَدَ بْنِ يُونُسَ التَّاجِرُ الْبَغْدَادِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ فِي صَفَرٍ سَنَةَ تِسْعٍ وَثَمَانِيِنَ وَخَمْسِمِائَةٍ قَالَ: أبنا أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ يُوسُفَ قَالَ: أبنا الشَّيْخُ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيم بْنُ عُمَرَ الْبَرْمَكِيُّ فِي سَنَةِ اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ قاَلَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مَالِكٍ الْقَطِيعِيُّ قِرَاءَةُ عَلَيْهِ فِي سَنَةِ ثَمَانٍ وَسِتِّينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ قَالَ: ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلِ بْنِ هِلَالِ بْنِ أَسَدٍ قَالَ: ⦗ص: 44⦘ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنِ ابْنِ حَوَالَةَ، قَالَ: أَتَيْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ دُومَةٍ وَعِنْدَهُ كَاتِبٌ يُمْلِي عَلَيْهِ، فَقَالَ: «أَنَكْتُبُكَ يَا ابْنَ حَوَالَةَ؟» قُلْتُ: فِيمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَأَعْرَضَ عَنِّي، فَأَكَبَّ عَلَى كَاتِبِهِ يُمْلِي عَلَيْهِ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا فِي الْكِتَابِ عُمَرُ. فَعَرَفْتُ أَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه لَا يُكْتَبُ إِلَّا فِي خَيْرٍ فَقَالَ: «أَنَكْتُبُكَ يَا ابْنَ حَوَالَةَ؟» قُلْتُ: نَعَمْ. فَقَالَ: «يَا ابْنَ حَوَالَةَ، كَيْفَ تَفْعَلُ فِي فِتَنٍ تَخْرُجُ فِي أَطْرَافِ الْأَرْضِ كَأَنَّهَا صَيَاصِي بَقَرٍ؟» قُلْتُ: لَا أَدْرِي، مَا خَارَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ لِي وَرَسُولُهُ. فَقَالَ: «كَيْفَ تَفْعَلُ فِي أُخْرَى بَعْدَهَا، كَأَنَّ الْأُولَى فِيهَا انْتِفَاخَةُ أَرْنَبٍ؟» قُلْتُ: لَا أَدْرِي، مَا خَارَ اللَّهُ عز وجل لِي وَرَسُولُهُ. فَقَالَ «اتَّبِعُوا هَذَا» وَرَجُلٌ مُقَفًّى حِينَئِذٍ، فَانْطَلَقْتُ فَسَعَيْتُ فَأَخَذْتُ بِمَنْكِبَيْهِ فَأَقْبَلْتُ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: أَهَذَا؟، قَالَ إِسْمَاعِيلُ مَرَّةً: هَذَا؟، قَالَ: «نَعَمْ» يَعْنِي: وَإِذَا هُوَ عُثْمَانُ رضي الله عنه "
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাদের শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, হাফেজ আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিল ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকি; তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম, সোমবার, মুবারক রজব মাসের ১৬ তারিখ, ৬৩৫ হিজরি সনে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইয়াহইয়া ইবনে আসআদ ইবনে ইউনুস আল-তাজির আল-বাগদাদি; তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আপনি শ্রবণ করছিলেন, ৫৮৯ হিজরি সনের সফর মাসে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে ইউসুফ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে উমর আল-বারমাকি, ৪৪২ হিজরি সনে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে মালিক আল-কাতিয়ি; তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে ৩৬৮ হিজরি সনে। তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল ইবনে হিলাল ইবনে আসাদ। তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ আমাকে আমার পিতা হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-জুরাইরি, আব্দুল্লাহ ইবনে শাকিক থেকে, তিনি ইবনে হাওয়ালা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি একটি কুল বৃক্ষের ছায়ায় বসা ছিলেন এবং তাঁর নিকট একজন লেখক ছিল যাকে তিনি লিখিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি বললেন: "হে ইবনে হাওয়ালা, আমরা কি তোমার নাম লিখব?" আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল, কিসের মধ্যে?" তিনি আমার থেকে বিমুখ হলেন এবং তাঁর লেখকের প্রতি মনোনিবেশ করে তাকে লিখাতে থাকলেন। আমি দৃষ্টিপাত করলাম এবং দেখলাম সেই তালিকায় উমরের নাম রয়েছে। আমি বুঝতে পারলাম যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাম কেবল কল্যাণকর কাজেই লেখা হয়। অতঃপর তিনি বললেন: "হে ইবনে হাওয়ালা, আমরা কি তোমার নাম লিখব?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "হে ইবনে হাওয়ালা, তুমি কী করবে এমন সব ফিতনার সময় যা পৃথিবীর প্রান্তসমূহ থেকে গরুর শিংয়ের মতো প্রকাশ পাবে?" আমি বললাম: "আমি জানি না, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমার জন্য যা উত্তম মনে করেন।" তিনি বললেন: "তার পরেরটি এলে তুমি কী করবে, যার তুলনায় প্রথমটিকে খরগোশের উদরস্ফীতির ন্যায় (নগণ্য) মনে হবে?" আমি বললাম: "আমি জানি না, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমার জন্য যা উত্তম মনে করেন।" তখন তিনি বললেন: "তোমরা একে অনুসরণ করো।" সে সময় এক ব্যক্তি পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছিল। আমি গিয়ে দ্রুত তার কাঁধ ধরলাম এবং তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে নিয়ে আসলাম। আমি বললাম: "এ ব্যক্তি?" ইসমাইল একবার বলেছেন: "একে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" অর্থাৎ তিনি ছিলেন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٤٥)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ:

 

2 - ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: ثنا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: ثنا هَمَّامٌ، قَالَ: ثنا قَتَادَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حُشَّانٍ مِنْ حُشَّانِ الْمَدِينَةِ فَجَاءَ رَجُلٌ فَاسْتَأْذَنَ، قَالَ: «قُمْ فَائْذَنْ لَهُ، وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ» فَقُمْتُ فَأَذِنْتُ لَهُ، فَإِذَا هُوَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه، فَبَشَّرْتُهُ بِالْجَنَّةِ، فَجَعَلَ يَحْمَدُ اللَّهَ عز وجل حَتَّى جَلَسَ. ثُمَّ جَاءَ رَجُلٌ آخَرُ فَاسْتَأْذَنَ، فَقَالَ: «قُمْ فَائْذَنْ لَهُ، وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ» فَقُمْتُ فَأَذِنْتُ لَهُ فَإِذَا هُوَ عُمَرُ رضي الله عنه ⦗ص: 46⦘ فَبَشَّرْتُهُ بِالْجَنَّةِ، فَجَعَلَ يَحْمَدُ اللَّهَ حَتَّى جَلَسَ. ثُمَّ جَاءَ رَجُلٌ آخَرُ خَفِيضُ الصَّوْتِ فَاسْتَأْذَنَ فَقَالَ: «قُمْ، فَائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ عَلَى بَلْوَى» فَقُمْتُ فَأَذِنْتُ لَهُ، فَإِذَا هُوَ عُثْمَانُ رضي الله عنه، فَبَشَّرْتُهُ بِالْجَنَّةِ عَلَى بَلْوَى. فَجَعَلَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ صَبْرًا. حَتَّى جَلَسَ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَيْنَ أَنَا؟ قَالَ: «أَنْتَ مَعَ أَبِيكَ»
আহমাদ আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন:

 

২ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুদবাহ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মদীনার বাগানসমূহের মধ্য থেকে একটি বাগানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় একজন ব্যক্তি এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন: "দাঁড়াও এবং তাকে অনুমতি দাও, আর তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।" অতঃপর আমি দাঁড়ালাম এবং তাকে অনুমতি দিলাম। দেখা গেল তিনি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। আমি তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তিনি বসে পড়া পর্যন্ত মহান আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করতে থাকলেন। এরপর অন্য একজন ব্যক্তি এসে অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন: "দাঁড়াও এবং তাকে অনুমতি দাও, আর তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।" তখন আমি দাঁড়ালাম এবং তাকে অনুমতি দিলাম। দেখা গেল তিনি ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ আমি তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তিনিও বসে পড়া পর্যন্ত আল্লাহর প্রশংসা করতে থাকলেন। এরপর নিম্ন স্বরে কথা বলা অন্য একজন ব্যক্তি এসে অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন: "দাঁড়াও, তাকে অনুমতি দাও এবং একটি বিপদের বিনিময়ে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।" অতঃপর আমি দাঁড়ালাম এবং তাকে অনুমতি দিলাম। দেখা গেল তিনি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। আমি তাকে বিপদের বিনিময়ে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করলাম। তিনি বলতে থাকলেন: "হে আল্লাহ, ধৈর্য দান করুন।" এভাবেই তিনি বসে পড়লেন। আমি আরজ করলাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আর আমার স্থান কোথায়?" তিনি বললেন: "তুমি তোমার পিতার সাথে থাকবে।"
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٤٧)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، أبنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

3 - ثنا هُدْبَةُ قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، وَعَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي حَائِطٍ بِالْمَدِينَةِ مُسْنِدًا ظَهْرَهُ إِلَى حَائِطٍ، فَجَاءَ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَحَ الْبَابَ، فَقَالَ: " قُمْ فَائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ، فَإِذَا هُوَ أَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَاسْتَفْتَحَ الْبَابَ فَقَالَ: " قُمْ فَافْتَحْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ، فَإِذَا هُوَ عُمَرُ، ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَاسْتَفْتَحَ الْبَاَبَ، فَقَالَ: «قُمْ فَافْتَحْ لَهُ وبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ عَلَى بَلْوَى تُصِيبُهُ» فَإِذَا هُوَ عُثْمَانُ. وَكَانَ الرَّجُلُ الَّذِي يَفْتَحُ لَهُمْ أَبُو مُوسَى وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ: «مُسْنِدٌ ظَهْرَهُ»
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন:

 

৩ - হুদবাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু মূসা থেকে এবং আলী ইবনুল হাকাম আল-বুনানী থেকে, তিনি আবু উসমান থেকে, তিনি আবু মূসা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার একটি বাগানে একটি দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে হেলান দিয়ে বসেছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন: "ওঠো, তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।" দেখা গেল তিনি আবু বকর। এরপর অন্য একজন এসে দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন: "ওঠো, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।" দেখা গেল তিনি উমর। এরপর অন্য আরেকজন এসে দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন: "ওঠো, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও এমন এক বিপদের ওপর যা তাকে স্পর্শ করবে।" দেখা গেল তিনি উসমান। আর যে ব্যক্তি তাদের জন্য দরজা খুলে দিচ্ছিলেন তিনি ছিলেন আবু মূসা। আলী ইবনুল হাকামের বর্ণিত হাদীসে "পিঠ ঠেকিয়ে হেলান দিয়ে বসেছিলেন" অংশটি নেই।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٤٨)
أَبَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

4 - أَنْبَأَ عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: ثنا أَبُو هِلَالٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ مُرَّةَ الْبَهْزِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَهِيجُ عَلَى الْأَرْضِ فِتَنٌ كَصَيَاصِيِّ الْبَقَرِ» فَمَرَّ رَجُلٌ مُقَنَّعٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَذَا وَأَصْحَابُهُ يَوْمَئِذٍ عَلَى الْحَقِّ» فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَكَشَفْتُ قِنَاعَهُ، وَأَقْبَلْتُ بِوَجْهِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هُوَ هَذَا؟ وَإِذَا هُوَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

৪ - আলী বিন মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুলায়মান বিন হারব আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হিলাল আমাদের বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন শাকীক থেকে, তিনি মুররাহ আল-বাহযী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «পৃথিবীর বুকে গরুর শিংয়ের ন্যায় ফিতনা বা বিপর্যয়সমূহ প্রবল বেগে ধেয়ে আসবে» তখন মস্তক আবৃত এক ব্যক্তি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «এই ব্যক্তি এবং তার সাথীরা সেদিন সত্যের ওপর থাকবে» তখন আমি উঠে তাঁর কাছে গেলাম এবং তাঁর মাথার আবরণ সরিয়ে দিলাম, আর তাঁর মুখমণ্ডল আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে ফিরিয়ে ধরলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, ইনিই কি সেই ব্যক্তি? আর তিনি ছিলেন উসমান বিন আফফান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٤٩)
أبَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

5 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ثنا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، قَالَ: أَبنَا مُغِيرَةُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ: ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِتْنَةً فَقَرَّبَهَا وَعَظَّمَهَا، قَالَ: ثُمَّ مَرَّ رَجُلٌ مُقَنَّعٌ فِي مِلْحَفَةٍ، فَقَالَ: «هَذَا يَوْمَئِذٍ عَلَى الْحَقِّ» قَالَ: فَانْطَلَقْتُ مُسْرِعًا أَوْ مُحْضِرًا، فَأَخَذْتُ بِضَبْعَيْهِ فَقُلْتُ: هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «هَذَا» فَإِذَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رضي الله عنه "
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন:

 

৫ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে সুলাইমান আর-রাযী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুগীরা ইবনে মুসলিম, মাতার আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি ইবনে সিরীন থেকে, তিনি কাব ইবনে উজরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি ফিতনার কথা উল্লেখ করলেন এবং সেটিকে খুব নিকটবর্তী ও ভয়ংকর হিসেবে বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন: অতঃপর চাদর আবৃত মস্তক বিশিষ্ট এক ব্যক্তি সেখান দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: «সেদিন এই ব্যক্তি হকের উপর থাকবে»। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি দ্রুত বেগে বা দৌড়ে গিয়ে তার দুই বাহু ধরলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এই ব্যক্তি কি? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, এই ব্যক্তি»। তখন দেখা গেল তিনি উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٥١)
أبَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

6 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: أَبَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ " كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ فِتْنَةً فَقَرَّبَهَا، ثُمَّ مَرَّ رَجُلٌ مُقَنَّعٌ، فَقَالَ: «هَذَا يَوْمَئِذٍ عَلَى الْهُدَى» قَالَ: فَاتَّبَعْتُهُ حَتَّى أَخَذْتُ بِضَبْعَيْهِ فَحَوَّلْتُ وَجْهَهُ إِلَيْهِ، وَكَشَفْتُ عَنْ رَأْسِهِ فَقُلْتُ: هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ، هَذَا» فَإِذَا هُوَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
আমাদের নিকট আহমাদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

6 - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি কাব বিন উজরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি একটি ফিতনার কথা উল্লেখ করলেন এবং তা নিকটবর্তী বলে বর্ণনা করলেন। অতঃপর মস্তক আবৃত অবস্থায় এক ব্যক্তি সেখান দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন তিনি বললেন: «সেদিন এই ব্যক্তি হিদায়াতের ওপর থাকবে»। কাব বলেন: তখন আমি তাঁর পিছু নিলাম এবং তাঁর দুই বাহু ধরলাম, অতঃপর তাঁর চেহারা তাঁর (রাসূলুল্লাহর) দিকে ঘুরালাম এবং তাঁর মাথার আবরণ সরিয়ে দিলাম। এরপর বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এ কি সেই ব্যক্তি? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, এই ব্যক্তিই»। দেখা গেল তিনি উসমান ইবন আফফান রাযিয়াল্লাহু আনহু।"
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٥٢)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

7 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ثنا عَفَّانُ، قَالَ: ثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ: ثنا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو أُمِّي أَبُو حَبِيبَةَ، أَنَّهُ دَخَلَ الدَّارَ وَعُثْمَانُ رضي الله عنه مَحْصُورٌ فِيهَا، وَأَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَسْتَأْذِنُ عُثْمَانَ رضي الله عنهما فِي الْكَلَامِ، فَأَذِنَ لَهُ فَقَامَ فَحَمِدَ اللَّهَ عز وجل وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّكُمْ تَلْقَوْنَ بَعْدِي فِتْنَةً وَاخْتِلَافًا» أَوْ قَالَ: «اخْتِلَافًا وَفِتْنَةً» فَقَالَ لَهُ قَائِلٌ مِنَ النَّاسِ: فَمَنْ لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ: «عَلَيْكُمْ بِالْأَمِينِ وَأَصْحَابِهِ» وَهُوَ يُشِيرُ إِلَى عُثْمَانَ بِذَاكَ
আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

৭ - আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আফফান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উহাইব আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা ইবনে উকবা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার মাতামহ আবু হাবিবাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (খলিফার) বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন যখন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন। এবং তিনি আবু হুরায়রাকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কথা বলার জন্য উসমানের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিকট অনুমতি চাইতে শুনলেন। তিনি (উসমান) তাকে অনুমতি দিলেন। অতঃপর তিনি (আবু হুরায়রা) দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, তারপর বললেন: নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে ফিতনা ও মতবিরোধের সম্মুখীন হবে" —অথবা তিনি বলেছিলেন: "মতবিরোধ ও ফিতনার"। তখন লোকেদের মধ্য থেকে একজন তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তবে আমাদের জন্য কে (আশ্রয়স্থল হবে)? তিনি বললেন: "তোমরা এই আমানতদার এবং তার সাথীদের আঁকড়ে ধরো।" আর এটি বলার সময় তিনি উসমানের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٥٣)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

8 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ثنا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، قَالَ: ثنا سِنَانُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ كُلَيْبِ بْنِ وَائِلٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِتْنَةً، فَمَرَّ رَجُلٌ، فَقَالَ: «يُقْتَلُ هَذَا الْمُقَنَّعُ يَوْمَئِذٍ مَظْلُومًا» قَالَ: فَنَظَرْتُ فَإِذَا هُوَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
আমাদের কাছে আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

৮ - আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আসওয়াদ ইবনে আমির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সিনান ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন, কুলাইব ইবনে ওয়াইল থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি ফিতনার কথা উল্লেখ করলেন। তখন এক ব্যক্তি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: "এই অবগুণ্ঠিত ব্যক্তিটি সেদিন মাজলুম অবস্থায় নিহত হবে।" তিনি (ইবনে উমর) বলেন: তখন আমি তাকালাম এবং দেখলাম তিনি ছিলেন উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٥٣)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

9 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، عَنْ شَيْخٍ، مِنْ بَجِيلَةَ قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي أَوْفَى، يَقُولُ: اسْتَأْذَنَ أَبُو بَكْرٍ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَجَارِيَةٌ تَضْرِبُ بِالدُّفِّ، فَدَخَلَ، ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ فَدَخَلَ، ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُثْمَانُ فَأَمْسَكَتْ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ عُثْمَانَ رَجُلٌ حَيِيٌّ» رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

৯ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে মাহদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাজীলা গোত্রের একজন শায়খ থেকে, তিনি বলেন: আমি ইবনে আবি আওফাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আবু বকর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন এমতাবস্থায় যে একটি ছোট মেয়ে দফ বাজাচ্ছিল। অতঃপর তিনি প্রবেশ করলেন। এরপর উমর অনুমতি চাইলেন এবং তিনি প্রবেশ করলেন। এরপর উসমান অনুমতি চাইলেন তখন সে (মেয়েটি বাজানো) বন্ধ করে দিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই উসমান অত্যন্ত লজ্জাশীল ব্যক্তি," আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٥٤)
أبنا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

10 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ: ثنا مِسْعَرٌ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ رِضَى اللَّهُ عَنْهَا: " اسْمَعُوا نُحَدِّثْكُمْ عَمَّا جِئْتُمُونَا لَهُ، ⦗ص: 55⦘ إِنَّكُمْ عِبْتُمْ عَلَى عُثْمَانَ ثَلَاثَ خِلَالٍ: فِي إِمَارَةِ الْفَتَى، وَمَوْضِعِ الْغَمَامَةِ، وَضَرْبِهِ السَّوْطَ وَالْعَصَا، حَتَّى إِذَا مُصْتُمُوهُ مَوْصَ الثَّوْبِ بِالصَّابُونِ عَدَوْتُمْ لِحِلِّهِ الْفُقَرَ الثَّلَاثَ: حُرْمَةَ الْبَلَدِ، وَحُرْمَةَ الْخِلَافَةِ، وَحُرْمَةَ الشَّهْرِ الْحَرَامِ، وَإِنْ كَانَ عُثْمَانُ لَأَحْصَنُهُمْ فَرْجًا، وَأَوْصَلُهُمْ لِلرَّحِمِ "
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন:

 

১০ - আমার পিতা আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বিশর, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন মিস'আর, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল মালিক ইবনে উমাইর, তিনি মূসা ইবনে তালহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: "তোমরা শোনো, তোমরা যে উদ্দেশ্যে আমাদের নিকট এসেছ আমি তোমাদের নিকট সেই বিষয়ে বর্ণনা করছি, ⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ নিশ্চয় তোমরা উসমানের তিনটি বিষয়ের সমালোচনা করতে: কোনো যুবকের নেতৃত্ব প্রদান, মেঘের ছায়ার স্থান (সংরক্ষিত চারণভূমি) এবং চাবুক ও লাঠি দ্বারা তার প্রহার করা। পরিশেষে তোমরা যখন তাকে এমনভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করলে যেমন সাবান দিয়ে কাপড় পরিষ্কার করা হয়, তখন তোমরা তিনটি পবিত্রতাকে বিনষ্ট করে তার রক্ত প্রবাহিত করাকে বৈধ করে নিলে: পবিত্র নগরীর মর্যাদা, খিলাফতের মর্যাদা এবং হারাম মাসের মর্যাদা। অথচ উসমান ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বাধিক চারিত্রিক পবিত্রতাসম্পন্ন এবং সবচেয়ে বেশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী।"
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٥٦)
أبنا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

11 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ثنا الْمُطَّلِبُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِيسَى، قَالَ: قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى: رَأَيْتُ عَلِيًّا رضي الله عنه رَافِعًا حِضْنَيْهِ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِنْ دَمِ عُثْمَانَ» رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন:

 

১১ - আমাকে আমার পিতা হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন মুত্তালিব ইবনে যিয়াদ, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ঈসা, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা বলেছেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁর উভয় বাহু উত্তোলিত অবস্থায় বলতে দেখেছি: «হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উসমানের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রক্তের দায় থেকে নির্দোষিতা ঘোষণা করছি»।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٥٧)
أبنا أَحْمَدُ، قَالَ:

 

12 - ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: ثنا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ أَبُو أَحْمَدَ، قَالَ: ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعُثْمَانَ رضي الله عنه: «إِنِ اللَّهُ عز وجل كَسَاكَ يَوْمًا قَمِيصًا، فَأَرَادَكَ الْمُنَافِقُونَ أَنْ تَخْلَعَهُ، فَلَا تَخْلَعْهُ»
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:

 

১২ - আবদুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আহমদ হায়সাম ইবনে খারিজা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাফওয়ান ইবনে আমর থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে জুবায়ের ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ একদিন তোমাকে একটি কামিজ (পোশাক) পরিধান করাবেন; অতঃপর মুনাফিকরা যদি চায় যে তুমি তা খুলে ফেলো, তবে তুমি তা খুলো না।»
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٥٩)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

13 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَتْنَا أُمُّ عُمَرَ ابْنَةُ حَسَّانَ بْنِ زَيْدٍ أَبِي الْغُصْنِ، قَالَ أَبِي: وَكَانَتْ عَجُوزَ صِدْقٍ، قَالَتْ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ الْأَكْبَرَ مَسْجِدَ الْكُوفَةِ قَالَ: وَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه قَائِمٌ عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ بِالنَّاسِ، وَهُوَ يُنَادِي بِأَعْلَى صَوْتِهِ، ثَلَاثَ مِرَارٍ: " يَا أَيُّهَا النَّاسُ، يَا أَيُّهَا النَّاسُ، يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّكُمْ تُكْثِرُونَ فِي عُثْمَانَ، وَإِنَّ مَثَلِي وَمَثَلُهُ كَمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ إِخْوَانًا عَلَى سُرَرٍ مُتَقَابِلِينَ} [الحجر: 47] "
আহমাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

১৩ - আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান বিন যায়িদ আবি আল-গুসনের কন্যা উম্মু উমর। আমার পিতা বলেন: তিনি একজন সত্যবাদিনী বৃদ্ধা ছিলেন। তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কুফার প্রধান মসজিদে প্রবেশ করলাম। তিনি বলেন: তখন আলী বিন আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মিম্বরে দাঁড়িয়ে মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি উচ্চস্বরে তিনবার ডেকে বললেন: "হে লোকসকল, হে লোকসকল, হে লোকসকল! তোমরা উসমানের ব্যাপারে অনেক বেশি সমালোচনা করছ। অথচ আমার ও তাঁর দৃষ্টান্ত ঠিক তেমনই যেমনটি আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বলেছেন: {আমরা তাদের অন্তর থেকে যাবতীয় বিদ্বেষ দূর করে দেব; তারা ভাই-ভাই হিসেবে একে অপরের মুখোমুখি সিংহাসনে অবস্থান করবে।} [আল-হিজর: ৪৭]"
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٦٠)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

14 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ،: حَدَّثَتْنَا أُمُّ عُمَرَ ابْنَةُ حَسَّانَ - قَالَ أَبِي: عَجُوزُ صِدْقٍ - قَالَتْ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ جَهَّزَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ فَلَهُ الْجَنَّةُ» قَالَ: فَقَالَ عُثْمَانُ رضي الله عنه: " عَلَيَّ مِائَةُ رَاحِلَةٍ، ثُمَّ قَالَ: أَقِلْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَأَقَالَهُ، فَقَالَ: عَلَيَّ عَدَدُهَا مِنَ الْخَيْلِ. فَسَّرَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ وَمَنَ عِنْدَهُ، ثُمَّ قَالَ لَهُ عِنْدَ ذَلِكَ كَلَامًا حَسَنًا حَفِظَهُ أَبُوهَا وَنَسِيَتْهُ أُمُّ عُمَرَ قَالَتْ: وَسَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: إِنَّ عُثْمَانَ جَهَّزَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ مَرَّتَيْنِ
আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

 

১৪ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: হাসসানের কন্যা উম্মে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আমার পিতা বলেছেন: তিনি একজন সত্যবাদী বৃদ্ধা ছিলেন—তিনি বলেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি অভাবের সময়কার সেনাবাহিনীকে (জাইশুল উসরাহ) সুসজ্জিত করবে, তার জন্য জান্নাত রয়েছে।» তিনি বলেন: তখন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আমার জিম্মায় একশত সওয়ারি উট রইল।" অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এটি পরিবর্তনের সুযোগ দিন। তখন তিনি তাঁকে সেই অনুমতি দিলেন। এরপর তিনি বললেন: "আমার জিম্মায় সমসংখ্যক ঘোড়া রইল।" এতে আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর নিকট উপস্থিত সকলে আনন্দিত হলেন। অতঃপর তিনি তখন তাঁকে অত্যন্ত সুন্দর কিছু কথা বললেন যা তাঁর (উম্মে উমরের) পিতা মুখস্থ করেছিলেন কিন্তু উম্মে উমর তা ভুলে গেছেন। তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে: নিশ্চয়ই উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দুইবার জাইশুল উসরার সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٦١)
ثنا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

15 - حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ: ثنا الْأَعْمَشُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ حِينَ اسْتُخْلِفَ عُثْمَانُ رضي الله عنه: «مَا أَلَوْنَا عَنْ أَعْلَاهَا ذَا فُوقٍ»
আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

১৫ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুআবিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আ’মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে সিনান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন খলিফা নিযুক্ত হলেন, তখন আবদুল্লাহ [ইবনে মাসউদ] বলেছিলেন: “আমরা আমাদের মধ্যকার সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে (নেতৃত্বের জন্য) বেছে নিতে কোনো ত্রুটি করিনি।”
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٦٢)
أبنا أَحْمَدُ، قَالَ:

 

16 - ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ وَهُوَ الرَّازِيُّ، قَالَ: ثنا جَرِيرٌ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَطْلُعُ عَلَيْكُمْ مِنْ هَذَا الْفَجِّ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ» فَطَلَعَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:

 

১৬ - আবদুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হুমায়দ আর-রাযী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আশআস ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি জা'ফার ইবনে আবিল মুগীরাহ আল-খুযাঈ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়র থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এই গিরিপথ দিয়ে তোমাদের সামনে জান্নাতী এক ব্যক্তি আবির্ভূত হবেন।” অতঃপর উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু আবির্ভূত হলেন।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٦٣)
أبنا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

17 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ: ثنا أَبُو مَالِكٍ الْأَشْجَعِيُّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مُحَمَّدٍ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، قَالَ: بَلَغَ عَلِيًّا رضي الله عنه أَنَّ عَائِشَةَ رضي الله عنها تَلْعَنُ قَتَلَةَ عُثْمَانَ رضي الله عنه فِي الْمِرْبَدِ، قَالَ: فَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى بَلَغَ بِهِمَا وَجْهَهُ، فَقَالَ: «وَأَنَا أَلْعَنُ قَتَلَةَ عُثْمَانَ، لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي السَّهْلِ وَالْجَبَلِ» ، قَالَ: مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثٍ
আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

১৭ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মালিক আল-আশজায়ী বর্ণনা করেছেন, সালেম ইবনে আবুল জাদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছালো যে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ‘মিরবাদ’ নামক স্থানে উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যাকারীদের ওপর লানত দিচ্ছেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন তিনি (আলী) তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করলেন এমনকি তা তাঁর চেহারা বরাবর পৌঁছাল, অতঃপর তিনি বললেন: «আর আমিও উসমানের হত্যাকারীদের ওপর লানত দিচ্ছি, আল্লাহ তাদের ওপর সমতল ভূমি ও পাহাড়ে লানত বর্ষণ করুন।» তিনি বলেন: (এ কথাটি) দুইবার বা তিনবার (বললেন)।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٦٤)
أبنا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

18 - حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: ثنا هُشَيْمٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، قَالَ: قَالُوا: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، أَخْبِرِينَا عَنْ عُثْمَانَ، قَالَ: فَاسْتَجْلَسَتِ النَّاسَ، فَحَمِدَتِ اللَّهَ عز وجل وَأَثْنَتْ عَلَيْهِ، فَقَالَتْ: " أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا نَقِمْنَا عَلَى عُثْمَانَ ثَلَاثًا: إِمْرَةَ الْفَتَى، وَالْحِمَى، وَضَرْبَةَ السَّوْطِ، ثُمَّ تَرَكْتُمُوهُ حَتَّى إِذَا مُصْتُمُوهُ مَوْصَ الثَّوْبِ عَدَوْتُمْ عَلَيْنَا الْفُقَرَ الثَّلَاثَ: حُرْمَةَ دَمِهِ الْحَرَامِ، وَحُرْمَةَ الْبَلَدِ الْحَرَامِ، لَعُثْمَانُ كَانَ أَتْقَاهُمْ لِلرَّبِّ عز وجل، وَأَحْصَنَهُمْ لِلْفَرْجِ، وَأَوْصَلَهُمْ لِلرَّحِمِ "
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন:

 

১৮ - আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুশায়ম, আব্দুল মালিক বিন উমাইর থেকে, তিনি মুসা বিন তালহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তারা বললেন: হে উম্মুল মুমিনীন, আমাদের উসমান সম্পর্কে অবগত করুন। তিনি বলেন: তখন তিনি লোকদের বসালেন, অতঃপর মহান আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেন: "হে লোকসকল, আমরা মূলত তিনটি বিষয়ের কারণে উসমানের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলাম: যুবকদের শাসনভার প্রদান, চারণভূমি সংরক্ষণ এবং চাবুকের আঘাত। অতঃপর তোমরা তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত অবকাশ দিলে যতক্ষণ না তোমরা তাকে ধুয়ে কাপড়ের মতো পরিষ্কার করে ফেললে; এরপর তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করলে: তার পবিত্র রক্তের মর্যাদা এবং পবিত্র নগরীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার মাধ্যমে। নিশ্চয়ই উসমান মহান রবের প্রতি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান ছিলেন, লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় সবচেয়ে বেশি সংযমী ছিলেন এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী ছিলেন।"
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٦٤)
أبنا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

19 - حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: ثنا هُشَيْمٌ، عَنْ يُونُسَ يَعْنِي ابْنَ عُبَيْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ جُنْدُبٍ، قَالَ: أَتَيْتُ بَابَ حُذَيْفَةَ وَاسْتَأْذَنْتُ ثَلَاثًا فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي، فَذَكَرَ هُشَيْمٌ قِصَّةً فِيهَا قَالَ: «اذْهَبُوا لِِتَقْتُلُوهُ» قُلْتُ: فَأَيْنَ عُثْمَانُ؟ قَالَ: فِي الْجَنَّةِ. قُلْتُ: فَأَيْنَ قَتَلَتُهُ؟ قَالَ: فِي النَّارِ - يَعْنِي - قَتَلَةَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

১৯ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস থেকে—অর্থাৎ ইবনে উবাইদ—তিনি ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি জুনদুব থেকে বর্ণনা করেন, জুনদুব বলেন: আমি হুযায়ফার দরজায় আসলাম এবং তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো না। অতঃপর হুশাইম একটি ঘটনা উল্লেখ করেন যাতে তিনি বলেন: «তোমরা তাকে হত্যা করতে যাও» আমি বললাম: তাহলে উসমান কোথায়? তিনি বললেন: জান্নাতে। আমি বললাম: তাহলে তার হত্যাকারীরা কোথায়? তিনি বললেন: জাহান্নামে—অর্থাৎ—উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যাকারীরা।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٦٥)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

20 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ: ثنا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: " كُنَّا نَعُدُّ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ مُتَوَافِرُونَ: أَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَعُثْمَانُ "
আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

২০ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুহাইল ইবনে আবি সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা (শ্রেষ্ঠত্বের ক্রমানুসারে) গণনা করতাম এমতাবস্থায় যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন: আবু বকর, উমর এবং উসমান।"
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٦٦)
ثنا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

21 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ثنا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أُسَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: كُنَّا نَقُولُ فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْنِي: «رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْرُ النَّاسِ، ثُمَّ أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ عُمَرُ»
আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

২১ - আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ওয়াকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম বিন সাদ থেকে, তিনি উমর বিন উসাইদ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে বলতাম, অর্থাৎ: «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তারপর আবু বকর, তারপর উমর»
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٦٧)
أبنا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

22 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: ثنا أَبُو سَلَمَةَ الْخُزَاعِيُّ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ سَلَمَةَ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: " كُنَّا فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَا نَعْدِلُ نَعُدُّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِأَبِي بَكْرٍ ثُمَّ عُمَرَ ثُمَّ عُثْمَانَ ثُمَّ نَقُولُ: فَلَا نُفَاضِلُ بَيْنَهُمْ "
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন:

 

22 - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ আল-খুযাঈ, মানসুর ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি সালামাহ, উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে (কাউকে) সমকক্ষ মনে করতাম না; আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (মর্যাদাক্রমে) আবু বকর, এরপর উমর, এরপর উসমানকে গণনা করতাম। এরপর আমরা বলতাম: অতঃপর আমরা তাঁদের মাঝে আর শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য করতাম না।"
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٦٨)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

23 - حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: ثنا بِشْرُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ: " جَاءَنِي رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ فِي خِلَافَةِ عُثْمَانَ رضي الله عنه فَكَلَّمَنِي فَإِذَا هُوَ يَأْمُرُنِي فِي كَلَامِهِ أَنْ أَعْيَبَ عَلَى عُثْمَانَ رضي الله عنه، فَتَكَلَّمَ كَلَامًا طَوِيلًا وَهُوَ امْرُؤٌ فِي لِسَانِهِ ثِقَلٌ، فَلَمْ يَكَدْ يَقْضِي كَلَامَهُ فِي سَرِيعٍ، فَلَمَّا قَضَى كَلَامَهُ، قُلْتُ لَهُ: إِنَّا كُنَّا نَقُولُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَيٌّ: " أَفْضَلُ أُمَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ عُمَرُ ثُمَّ عُثْمَانُ، وَإِنَّا وَاللَّهِ مَا نَعْلَمُ عُثْمَانَ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ حَقٍّ، وَلَا جَاءَ مِنَ الْكَبَائِرِ شَيْئًا، وَلَكِنْ هُوَ هَذَا الْمَالُ، فَإِنْ أَعْطَاكُمُوهُ رَضِيتُمْ، وَإِنْ أَعْطَاهُ أُولِي قَرَابَتِهِ سَخِطْتُمْ، وَإِنَّمَا تُرِيدُونَ أَنْ تَكُونُوا كَفَارِسَ وَالرُّومِ، لَا يَتْرُكُونَ لَهُمْ أَمِيرًا إِلَّا قَتَلُوهُ. قَالَ: فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ بِأَرْبَعٍ مِنَ الدَّمْعِ ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ لَا نُرِيدُ ذَلِكَ»
আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন:

 

২৩ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনে শুআইব ইবনে আবি হামযাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা যুহরী থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিম ইবনে আবদুল্লাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেছেন: "উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে আনসারদের এক ব্যক্তি আমার নিকট এল এবং আমার সাথে কথা বলতে লাগল। দেখা গেল সে তার কথার মাধ্যমে আমাকে উসমান (রা.)-এর সমালোচনা করতে প্ররোচিত করছে। সে দীর্ঘক্ষণ ধরে কথা বলল; লোকটির জিহ্বায় জড়তা ছিল, তাই সে দ্রুত কথা শেষ করতে পারছিল না। যখন সে তার কথা শেষ করল, আমি তাকে বললাম: 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবিত থাকাবস্থায় আমরা বলতাম: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান। আল্লাহর কসম, আমাদের জানা মতে উসমান অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করেননি এবং বড় কোনো পাপেও লিপ্ত হননি। কিন্তু মূল বিষয় হলো এই সম্পদ; তিনি যদি তা তোমাদের দেন তবে তোমরা সন্তুষ্ট হও, আর যদি তিনি তা তাঁর আত্মীয়-স্বজনকে দেন তবে তোমরা অসন্তুষ্ট হও। তোমরা তো কেবল পারস্য ও রোমকদের মতো হতে চাও, যারা তাদের কোনো নেতাকেই অবশিষ্ট রাখে না, বরং তাকে হত্যা করে।' বর্ণনাকারী বলেন: তখন লোকটির দু'চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল এবং সে বলল: 'হে আল্লাহ! আমরা এমনটি চাই না'।"
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٦٩)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، أبنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

24 - حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الْأَسَدِيُّ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «غَفَرَ اللَّهُ لَكَ يَا عُثْمَانُ مَا قَدَّمْتَ، وَمَا أَخَّرْتَ، وَمَا أَسْرَرْتَ، وَمَا أَعْلَنْتَ، وَمَا أَبْدَيْتَ، وَمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»
আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন যে:

 

২৪ - আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম আল-আসাদী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আওযাঈ থেকে, তিনি হাসান ইবনে আতিইয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «হে উসমান! আল্লাহ তোমার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী, গোপন ও প্রকাশ্য, যা তুমি প্রকাশ করেছ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে—সবই তোমার জন্য ক্ষমা করে দিয়েছেন।»
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٧٠)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

25 - حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: ثنا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ: ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ يَعْنِي شَيْبَانَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ مِصْرَ قَدْ حَجَّ الْبَيْتَ فَرَأَى قَوْمًا جُلُوسًا، فَقَالَ: مَنْ هَؤُلَاءِ؟ فَقَالُوا: هَؤُلَاءِ قُرَيْشٌ. قَالَ: فَمَنِ الشَّيْخُ فِيهِمْ؟ قَالُوا: ابْنُ عُمَرَ. فَأَتَى فَقَالَ: يَا ابْنَ عُمَرَ، إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍ تُحَدِّثْنِي؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: أَنْشُدُكَ بِحُرْمَةِ هَذَا الْبَيْتِ، أَتَعْلَمُ أَنَّ عُثْمَانَ رضي الله عنه فَرَّ يَوْمَ أُحُدٍ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: فَتَعْلَمُهُ تَغَيَّبَ عَنْ بَدْرٍ فَلَمْ يَشْهَدْهُ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: فَتَعْلَمُ أَنَّهُ، يَعْنِي: تَغَيَّبَ عَنْ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ فَلَمْ يَشْهَدْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: فَكَبَّرَ. فَقَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ: تَعَالَ حَتَّى أُخْبِرَكَ وَأُبَيِّنَ لَكَ مَا سَأَلْتَنِي عَنْهُ، أَمَّا فِرَارُهُ يَوْمَ أُحُدٍ فَأَنَا أَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ عز وجل قَدْ عَفَا ⦗ص: 71⦘ وَغَفَرَ لَهُ، وَأَمَّا تَغَيُّبُهُ عَنْ بَدْرِ فَإِنَّهُ كَانَتْ تَحْتَهُ ابْنَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَانَتْ مَرِيضَةً، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لَكَ أَجْرَ رَجُلٍ شَهِدَ بَدْرًا، وَسَهْمُهُ لَكَ» وَأَمَّا تَغَيُّبُهُ عَنْ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ، فَإِنَّهُ لَوْ كَانَ أَحَدٌ أَعَزَّ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْ عُثْمَانَ لَبَعَثَهُ، فَبَعَثَ عُثْمَانَ وَكَانَتْ بَيْعَةُ الرِّضْوَانِ بَعْدَ مَا ذَهَبَ عُثْمَانُ إِلَى مَكَّةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ الْيُمْنَى «هَذِهِ يَدُ عُثْمَانَ» فَضَرَبَ بِيَدِهِ الْأُخْرَى عَلَيْهَا فَقَالَ «هَذِهِ لِعُثْمَانَ» فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: اذْهَبْ هَذِهِ ثَلَاثٌ مَعَكَ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন:

 

২৫ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাশিম ইবনুল কাসিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া অর্থাৎ শায়বান, উসমান ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মিশর থেকে এক ব্যক্তি আসল যে বাইতুল্লাহর হজ সম্পন্ন করেছিল। সে কিছু লোককে উপবিষ্ট দেখতে পেল। সে বলল: এরা কারা? তারা বলল: এরা কুরাইশ। সে বলল: তাদের মধ্যে শায়খ (প্রবীণ ব্যক্তি) কে? তারা বলল: ইবনে উমর। সে তাঁর নিকট এসে বলল: হে ইবনে উমর, আমি যদি আপনাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করি তবে কি আপনি আমাকে উত্তর দেবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: এই ঘরের সম্মানের দোহাই দিয়ে আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করছি, আপনি কি জানেন যে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু উহুদের দিন পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনি কি জানেন তিনি বদরের যুদ্ধ থেকে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাতে অংশগ্রহণ করেননি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনি কি জানেন যে তিনি—অর্থাৎ—বায়আতে রিদওয়ানে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাতে উপস্থিত ছিলেন না? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে (তাকবির দিয়ে) আল্লাহু আকবার বলল। তখন ইবনে উমর তাকে বললেন: এসো, তুমি আমাকে যা জিজ্ঞেস করেছ আমি সে সম্পর্কে তোমাকে সংবাদ দেই এবং বিষয়টি স্পষ্ট করি; উহুদের দিন তাঁর পলায়নের ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাঁকে ক্ষমা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ এবং মার্জনা করেছেন। আর বদরের যুদ্ধে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হলো—তাঁর বিবাহাধীনে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ছিলেন এবং তিনি অসুস্থ ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই তোমার জন্য বদরে উপস্থিত ব্যক্তির ন্যায় সওয়াব রয়েছে এবং তার গনিমতের অংশও তোমার জন্য»। আর বায়আতে রিদওয়ানে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হলো—যদি মক্কা উপত্যকায় উসমানের চেয়ে অধিক সম্মানিত কেউ থাকত, তবে তিনি তাকেই পাঠাতেন। তাই তিনি উসমানকেই পাঠিয়েছিলেন। আর উসমান মক্কায় যাওয়ার পর বায়আতে রিদওয়ান সংঘটিত হয়েছিল। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত নির্দেশ করে বললেন: «এটি উসমানের হাত», অতঃপর তিনি তাঁর অপর হাত দিয়ে এর ওপর আঘাত (তালি) দিলেন এবং বললেন: «এটি উসমানের পক্ষ থেকে (বায়আত)»। এরপর ইবনে উমর বললেন: এখন যাও, এই তিনটি উত্তর সাথে নিয়ে যাও।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٧٢)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

26 - حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، قَالَ: ثنا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَوْذَبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ كَثِيرٍ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: جَاءَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رضي الله عنه إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِأَلْفِ دِينَارٍ فِي مُؤْتَةَ حِينَ جَهَّزَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جَيْشَ الْعُسْرَةِ، قَالَ: فَصَبَّهَا فِي حِجْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُقَلِّبُهَا وَهُوَ يَقُولُ: «مَا ضَرَّ ابْنَ عَفَّانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ الْيَوْمِ» يُرَدِّدُ ذَلِكَ مِرَارًا
আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

২৬ - হারুন ইবনে মারুফ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দামরা ইবনে রাবিআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে শাওযাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে কাসিম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে সামুরার আযাদকৃত গোলাম কাসীর থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আফফান (রা.) নবী (সা.)-এর নিকট এক হাজার দিনার নিয়ে আসলেন মুতার যুদ্ধের সময় যখন নবী (সা.) সংকটের বাহিনী (জাইশুল উসরাহ) প্রস্তুত করছিলেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি সেগুলো নবী (সা.)-এর কোলে ঢেলে দিলেন। তিনি বলেন: তখন নবী (সা.) সেগুলো নাড়াচাড়া করতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন: «আজকের দিনের পর ইবনে আফফান যা-ই আমল করুক না কেন, তা তার কোনো ক্ষতি করবে না» তিনি বারবার এই কথাটি বলছিলেন।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٧٤)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

27 - حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: ثنا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، قَالَ: ثنا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْعَرَّارُ بْنُ سُوَيْدٍ الْكُوفِيُّ، عَنْ عَمِيرَةَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ عَلِيٍّ رضي الله عنه عَلَى شَاطِئِ الْفُرَاتِ، فَمَرَّتْ سَفِينَةٌ مَرْفُوعٌ شِرَاعُهَا، فَقَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه: يَقُولُ اللَّهُ عز وجل {وَلَهُ الْجِوَارِ الْمُنْشَآتُ فِي الْبَحْرِ كَالْأَعْلَامِ} [الرحمن: 24] وَالَّذِي أَنْشَأَهَا فِي بَحْرٍ مِنْ بِحَارِهِ، مَا قَتَلْتُ عُثْمَانَ، وَلَا مَالَأْتُ عَلَى قَتْلِهِ "
আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

২৭ - আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: বাহয ইবনে আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ অর্থাৎ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আররার ইবনে সুওয়াইদ আল-কুফী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আমীরাহ ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে ফোরাত নদীর তীরে ছিলাম, তখন একটি পাল তোলা জাহাজ অতিক্রম করছিল। তখন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {আর সমুদ্রে বিচরণশীল পাহাড়সদৃশ জাহাজসমূহ তাঁরই} [আর-রহমান: ২৪]। এবং সেই সত্তার শপথ! যিনি তাঁর সমুদ্রসমূহের কোনো একটিতে এটি সৃষ্টি করেছেন, আমি উসমানকে হত্যা করিনি এবং তাঁর হত্যার কাজে সহযোগিতা বা সমর্থনও করিনি।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٧٥)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

28 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ زَمْعَةَ بْنَ صَالِحٍ، قَالَ: سَمِعَ طَاوُسٌ، رَجُلًا وَهُوَ يَقُولُ لِرَجُلٍ: مَا رَأَيْتُ رَجُلًا قَطُّ أَشَرَّ مِنْكَ، فَقَالَ لَهُ: «أَنْتَ لَمْ تَرَ قَاتِلَ عُثْمَانَ رضي الله عنه»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ্, তিনি বলেছেন:

 

২৮ - আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ্ বিন উমর আবু আব্দুর রহমান আল-কুরাশী, তিনি বলেছেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান, তিনি বলেছেন: আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন মাহদী, তিনি বলেছেন: আমি জামআহ্ বিন সালিহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: তাউস এক ব্যক্তিকে অপর এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন: "আমি তোমার চেয়ে মন্দ কোনো লোক কখনোই দেখিনি।" তখন তিনি তাকে বললেন: "তুমি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যাকারীকে দেখনি।"
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলু উসমান বিন আফফান লিআবদিল্লাহ বিন আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٧٦)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ:

 

29 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: ثنا مُسْهِرُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَلْعٍ، قَالَ: أبنا عِيسَى بْنُ عُمَرَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مُرَّةَ بْنِ شَرَاحِيلَ، قَالَ: «لَأَنْ أَكُونَ يَوْمَئِذٍ قُتِلْتُ مَعَ عُثْمَانَ فِي الدَّارِ أَحَبُّ إِلَى مِنْ كَذَا وَكَذَا»
আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন:

 

২৯ - আবদুল্লাহ বিন উমর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুশহির বিন আবদুল মালিক বিন সাল' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা বিন উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি মুররাহ বিন শারাহীল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "সেদিন (অবরুদ্ধ) গৃহে উসমানের সাথে আমার নিহত হওয়াটা আমার নিকট অমুক অমুক জিনিসের চেয়েও অধিক প্রিয় ছিল।"