(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: -)
قصص الأنبياء من البداية والنهاية - ت عبد الواحد   (ابن كثير)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: قصص الأنبياء

المؤلف: أبو الفداء، إسماعيل بن بن كثير (701 - 774 هـ)

[مُستَلًّا مِن كتابه: البداية والنهاية]

تحقيق: د. مصطفى عبد الواحد

الناشر: مطبعة دار التأليف - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1388 هـ - 1968 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া থেকে নবীদের কাহিনী - আব্দুল ওয়াহিদ কর্তৃক সম্পাদিত   (ইবনে কাসীর)

বিভাগ: সীরাতে নববী


বই: নবীদের কাহিনী

লেখক: আবুল ফিদা، ইসমাইল বিন বিন কাসীর (৭০১ - ৭৭৪ হিজরি)

[তাঁর গ্রন্থ থেকে সংকলিত: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া]

তাহকীক: ড. মুস্তফা আব্দুল ওয়াহিদ

প্রকাশক: মাতবাআত দারুত তালিফ - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ১৩৮৮ হিজরি - ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

تَقْدِيم

الْحَمْدُ لِلَّهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أنيب.

وَبعد.

فَهَذَا كتاب " قصَص الانبياء " للامام ابْن كثير أقدمه لامتنا الاسلامية، راجيا أَن يكون فِي نشره فِي هَذِه الصُّورَة المحققة مَا ييسر النَّفْع وَمَا يقدم هَذَا الْجَانِب من ترائنا الاسلامي فِي صُورَة دانية إِلَى الْكَمَال قريبَة إِلَى الْحَقِيقَة دقيقة فِي الْعرض ممحصة الرِّوَايَات والاخبار.

وَهَذَا الْقسم هُوَ جَانب قصَص الانبياء من كتاب الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة لِابْنِ كثير، وَقد رَأَيْت من الْخَيْر نشره مُسْتقِلّا، بعد أَن نشرت لَهُ من قبل قسم السِّيرَة النَّبَوِيَّة وشمائل الرَّسُول، بعد أَن تبينت من كَلَام ابْن كثير فِي تَفْسِيره وَمن كتب التراجم أَنه كَانَ لِابْنِ كثير سيرة مُطَوَّلَة، ورجحت أَنه ضمنهَا فِي كِتَابه " الْبِدَايَة " الذى أَلفه فِي آخر عمره.

وَقد رَأَيْت أَن قصَص الانبياء مَوْضُوع جدير بِأَن يفرد بِالْعرضِ وَأَن ينَال من الْعِنَايَة مَا نالته السِّيرَة النَّبَوِيَّة، إِذْ أَن تَارِيخ النُّبُوَّة حلقات مُتَّصِلَة لابد من اكتمالها وَمن وضوح صورتهَا فِي الاذهان للتقرر الْحَقِيقَة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহরই সাহায্যে; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।

অতঃপর,

এটি ইমাম ইবনে কাসীরের "কাসাসুল আম্বিয়া" (নবীগণের কাহিনী) গ্রন্থ, যা আমি আমাদের মুসলিম উম্মাহর নিকট পেশ করছি। আমি আশা করি যে, এই সম্পাদিত রূপে এর প্রকাশনা উপকার লাভকে সহজতর করবে এবং আমাদের ইসলামী ঐতিহ্যের এই দিকটিকে পূর্ণতার নিকটবর্তী, সত্যের সমীপবর্তী, বর্ণনায় নির্ভুল এবং বর্ণনা ও সংবাদসমূহে যাচাইকৃত একটি রূপে উপস্থাপন করবে।

এই অংশটি ইবনে কাসীরের 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া' গ্রন্থের নবীগণের কাহিনী বিষয়ক অংশ। আমি এটিকে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করা কল্যাণকর মনে করেছি, যখন এর আগে আমি তাঁর সীরাতুন নবী ও শামায়েলুর রাসূল অংশটি প্রকাশ করেছিলাম। ইবনে কাসীরের তাফসীর ও জীবনী গ্রন্থসমূহ থেকে যখন আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে, ইবনে কাসীরের একটি দীর্ঘ সীরাত গ্রন্থ ছিল, এবং আমি প্রবল ধারণা পোষণ করলাম যে তিনি তা তাঁর জীবনের শেষ ভাগে রচিত 'আল-বিদায়া' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

আমি মনে করি যে, নবীগণের কাহিনী এমন একটি বিষয় যা স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপনের যোগ্য এবং সীরাতুন নবী যে পর্যায়ের গুরুত্ব লাভ করেছে, এটিও সেই পর্যায়ের গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। কারণ নবুওয়াতের ইতিহাস হলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত কতগুলো শৃঙ্খল, সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য যার পূর্ণতা এবং মানুষের মনে এর চিত্র স্পষ্ট হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ২)
الانسانية والتاريخية ولتتجلى الْحِكْمَة الَّتِى قصد إِلَيْهَا الْقُرْآن الْكَرِيم من اهتمامه بإيراد هَذَا الْقَصَص فِي مَوضِع بارز يهدف إِلَى وضوح الْعبْرَة وَضرب الْمثل وإيجاز حَرَكَة التَّارِيخ الانساني وَبَيَان سنته من خلال عرضه لقصص الانبياء.

وَقد كَانَ لِابْنِ كثير فِي قصَص الانبياء بلَاء مشكور ومنهج حَكِيم اسْتَطَاعَ بِهِ أَن يقرب الصُّورَة القرآنية لقصص الانبياء، وَأَن يعكس التَّصَوُّر الاسلامي لتاريخ النُّبُوَّة وحياة الْمُرْسلين.

وَقبل أَن نتحدث عَن الْكتاب ومنهجه نوجز القَوْل فِي مُؤَلفه ونلم بشئ من أخباره.

ابْن كثير: (1) هُوَ أَبُو الْفِدَاء عماد الدّين إِسْمَاعِيل، بن عمر، بن كثير، بن ضوء، ابْن كثير، بن زرع، القرشى الشَّافِعِي.

كَانَ أَصله من الْبَصْرَة، وَلكنه نَشأ بِدِمَشْق وتربى بهَا.

ولد بمجدل الْقرْيَة، من أَعمال مَدِينَة بصرى شَرْقي دشق سنة

سَبْعمِائة أَو إِحْدَى وَسَبْعمائة.

وَتوفى بعد أَن فقد بَصَره فِي يَوْم الْخَمِيس السَّادِس وَالْعِشْرين من شعْبَان سنة أَربع وَسبعين وَسَبْعمائة، عَن أَربع وَسبعين سنة.

--------------------------------------------

(1) تَرْجَمته فِي شذرات الذَّهَب 6 / 231، والدرر الكامنة 1 / 374 وذيل تذكرة الْحفاظ للحسيني 58 ; وذيل الطَّبَقَات للسيوطي.

(*)
মানবীয় ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং যাতে সেই প্রজ্ঞা প্রকাশিত হয় যার লক্ষ্য পবিত্র কুরআন এই কাহিনীগুলো একটি বিশিষ্ট স্থানে উপস্থাপনের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছে; যার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা স্পষ্ট করা, উদাহরণ পেশ করা, মানব ইতিহাসের গতিধারা সংক্ষেপে তুলে ধরা এবং নবীদের কাহিনী বর্ণনার মাধ্যমে এর চিরাচরিত নিয়মাবলি (সুন্নাহ) বর্ণনা করা।

আর 'কাসাসুল আম্বিয়া' (নবীদের কাহিনী) রচনায় ইবনে কাসীরের প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা এবং প্রাজ্ঞ কর্মপদ্ধতি রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি নবীদের কাহিনীর কুরআনিক রূপটি ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন এবং নবুওয়াতের ইতিহাস ও রাসূলগণের জীবন সম্পর্কে ইসলামি ভাবধারাকে প্রতিফলিত করেছেন।

গ্রন্থ এবং এর পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে আমরা এর লেখকের ব্যাপারে সংক্ষেপে কিছু বলব এবং তাঁর জীবনের কিছু সংবাদ বা তথ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করব।

ইবনে কাসীর: (১) তিনি হলেন আবুল ফিদা ইমাদ উদ্দিন ইসমাইল, বিন উমর, বিন কাসীর, বিন দাউ, বিন কাসীর, বিন যার' আল-কুরাশি আশ-শাফিঈ।

তাঁর মূল বংশধারা ছিল বসরার, তবে তিনি দামেস্কে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই লালিত-পালিত হন।

তিনি দামেস্কের পূর্বে অবস্থিত বুসরা শহরের প্রশাসনিক অঞ্চল মাজদালুল কারইয়াহ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সাতশত অথবা সাতশত এক হিজরি সনে।

তিনি দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর সাতশত চুয়াত্তর হিজরির ছাব্বিশে শাবান বৃহস্পতিবার চুয়াত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: শাজারাতুজ জাহাব ৬/২৩১; আদ-দুরারুল কামিনাহ ১/৩৭৪; আল-হুসাইনী রচিত জাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ ৫৮; এবং সুয়ুতী রচিত জাইলুত তাবাকাত-এ।

(*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৩)
نشأته: كَانَ أَبوهُ خَطِيبًا لقريته، وَبعد مولد ابْن كثير بِأَرْبَع سِنِين توفى وَالِده، فرباه أَخُوهُ الشَّيْخ عبد الْوَهَّاب.

وعَلى هَذَا الاخ تلقى ابْن كثير علومه فِي مبدأ أمره.

ثمَّ انْتقل إِلَى دمشق سنة 706 فِي الْخَامِسَة من عمره.

شُيُوخه: كَانَ ابْن كثير فِي دراسته متجها إِلَى الققه والْحَدِيث وعلوم السّنة، إِذْ كَانَت الوجهة الْغَالِبَة فِي عصره، وشيوخه فِي هَذَا الْبَاب كَثِيرُونَ.

فقد أَخذ الْفِقْه عَن الشَّيْخ برهَان الدّين إِبْرَاهِيم بن عبد الرَّحْمَن الفزارى الشهير بِابْن الفركاح الْمُتَوفَّى سنة 729.

وَسمع بِدِمَشْق من عِيسَى بن الْمطعم، وَمن أَحْمد بن أَبى طَالب المعمر الشهير بِابْن الشّحْنَة، الْمُتَوفَّى سنة 730، وَمن الْقَاسِم ابْن عَسَاكِر وَابْن الشِّيرَازِيّ وَإِسْحَق بن الْآمِدِيّ وَمُحَمّد بن زراد.

ولازم الشَّيْخ جمال يُوسُف بن المزكى المزى صَاحب تَهْذِيب الْكَمَال الْمُتَوفَّى سنة 742.

وَقد انْتفع بِهِ ابْن كثير وَتخرج بِهِ وَتزَوج بابنته.

كَمَا قَرَأَ كثيرا على شيخ الاسلام تقى الدّين ابْن تَيْمِية الْمُتَوفَّى سنة

728، ولازمه وأحبه وتأثر بِرَأْيهِ، وفى ذَلِك يَقُول ابْن الْعِمَاد: " كَانَت لَهُ خُصُوصِيَّة بِابْن تَيْمِية ومناضلة عَنهُ، وَاتِّبَاع لَهُ فِي كثير من آرائه، وَكَانَ يُفْتى بِرَأْيهِ فِي مَسْأَلَة الطَّلَاق وامتحن بِسَبَب ذَلِك وأوذى ".
তাঁর শৈশব: তাঁর পিতা তাঁর গ্রামের খতিব ছিলেন। ইবনে কাসীরের জন্মের চার বছর পর তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। এরপর তাঁর বড় ভাই শেখ আব্দুল ওয়াহহাব তাঁকে লালন-পালন করেন।

আর এই ভাইয়ের নিকট থেকেই ইবনে কাসীর তাঁর জীবনের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।

অতঃপর ৭০৬ হিজরিতে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি দামেস্কে স্থানান্তরিত হন।

তাঁর উস্তাদগণ: ইবনে কাসীর তাঁর অধ্যয়নে ফিকহ, হাদিস ও সুন্নাহর ইলমের প্রতি মনোযোগী ছিলেন, কেননা সেই যুগে এটিই ছিল প্রধান শিক্ষা ধারা। এই ক্ষেত্রে তাঁর উস্তাদগণ অনেক ছিলেন।

তিনি ৭২৯ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনুল ফিরকাহ নামে পরিচিত শেখ বুরহানউদ্দীন ইব্রাহিম ইবনে আব্দুর রহমান আল-ফাযারীর নিকট থেকে ফিকহ শিক্ষা করেন।

তিনি দামেস্কে ঈসা ইবনুল মুতইম এবং ৭৩০ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনুশ শাহনাহ নামে পরিচিত প্রবীণ আহমাদ ইবনে আবু তালিবের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। এছাড়াও কাসিম ইবনে আসাকির, ইবনে শিরাজি, ইসহাক ইবনুল আমেদি ও মুহাম্মদ ইবনে যাররাদের নিকট থেকেও তিনি ইলম অর্জন করেন।

তিনি 'তাহযীবুল কামাল' গ্রন্থের রচয়িতা এবং ৭৪২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শেখ জামাল ইউসুফ বিন আল-মিযযীর সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে ছিলেন।

ইবনে কাসীর তাঁর মাধ্যমে অনেক উপকৃত হন, তাঁর নিকট শিক্ষা সমাপন করেন এবং তাঁর কন্যাকে বিবাহ করেন।

এছাড়া তিনি ৭২৮ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর নিকট প্রচুর অধ্যয়ন করেন। তিনি তাঁর সান্নিধ্যে থাকতেন, তাঁকে ভালোবাসতেন এবং তাঁর মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। এ বিষয়ে ইবনুল ইমাদ বলেন: "ইবনে তাইমিয়্যাহর সাথে তাঁর বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল, তিনি তাঁর পক্ষ হয়ে লড়াই করতেন এবং অনেক বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করতেন। তালাক সংক্রান্ত মাসয়ালায় তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহর ফতোয়া অনুযায়ী মত প্রদান করতেন, যার কারণে তিনি পরীক্ষার সম্মুখীন হন এবং নির্যাতিত হন।"
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৪)
وَيَقُول ابْن حجر: " وَأخذ عَن ابْن تَيْمِية ففتن بحبه وامتحن بِسَبَبِهِ " كَمَا قَرَأَ على الشَّيْخ الْحَافِظ المؤرخ شمس الدّين الذَّهَبِيّ مُحَمَّد بن أَحْمد ابْن قايماز الْمُتَوفَّى سنة 748.

وَأَجَازَ لَهُ من مصر أَبُو مُوسَى القرافى والحسيني وَأَبُو الْفَتْح الدبوسي، وعَلى بن عمر الوانى ومُوسَى الختنى وَغير وَاحِد.

وَقد ولى ابْن كثير مشيخة أم الصَّالح والتنكزية بعد إِمَامه الذَّهَبِيّ، كَمَا ذكره الذَّهَبِيّ فِي مسودة طَبَقَات الْحفاظ (1) .

عصره: عَاشَ ابْن كثير فِي الْقرن الثَّامِن الهجرى من مطلعه إِلَى قرب منتهاه، فِي ظلّ دولة المماليك الَّتِى كَانَت تبسط سلطانها على مصر وَالشَّام.

وَقد شهد عصره نكبات شَدِيدَة من هجوم الافرنج والتتار، وَكَثْرَة الاوبئة والمجاعات وتقلب السلطة بَين أُمَرَاء المماليك الَّذين كَانَ بَعضهم يوالى الانتقاض على بعض.

وَلَكِن تِلْكَ الحقبة كَانَ يسودها نشاط علمي تمثل فِي كَثْرَة الْمدَارِس واتساع نطاق التَّعْلِيم والتأليف، وَلذَلِك أَسبَاب مَذْكُورَة فِي كتب التَّارِيخ من تنافس الامراء ورصد الاوقاف على الْعلمَاء وَالطَّلَاق واتصال الافطار الاسلامية بَعْضهَا بِبَعْض، وَغير ذَلِك.

وَقد كَانَ ذَلِك النشاط محصورا فِي دَائِرَة ضيقَة من الِاتِّبَاع والتقليد

--------------------------------------------

(1) ذيل تذكرة الْحفاظ للحسيني 58.

(*)
ইবনে হাজার বলেন: "তিনি ইবনে তাইমিয়ার নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করেন এবং তাঁর ভালোবাসায় মগ্ন হন এবং তাঁর কারণে পরীক্ষার সম্মুখীন হন।" যেমনটি তিনি শায়খ হাফিজ ঐতিহাসিক শামসুদ্দীন আয-যাহাবী মুহাম্মদ বিন আহমাদ ইবনে কাইমাজ (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি)-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন।

আর তাঁকে মিশর থেকে ইজাযাহ প্রদান করেছেন আবু মুসা আল-কারাফি, আল-হুসাইনি, আবু আল-ফাতহ আদ-দাবূসী, আলী বিন উমর আল-ওয়ানি, মুসা আল-খুতানি এবং আরও অনেকে।

আর ইবনে কাসীর তাঁর ইমাম আয-যাহাবীর পরে উম্মুস সালেহ ও আত-তানকুযিয়াহ মাদ্রাসার প্রধানের পদ লাভ করেন, যেমনটি যাহাবী তাঁর 'তাবাকাতুল হুফফাজ' (১)-এর পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখ করেছেন।

তাঁর যুগ: ইবনে কাসীর হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে এর শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত মামলুক রাষ্ট্রের ছায়ায় বসবাস করেছেন, যারা মিশর ও শামের ওপর তাদের কর্তৃত্ব বিস্তার করেছিল।

তাঁর যুগ ক্রুসেডার ও তাতারদের আক্রমণ, ব্যাপক মহামারি ও দুর্ভিক্ষ এবং মামলুক আমিরদের মধ্যে ক্ষমতার পালাবদলের মতো চরম বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করেছে, যাদের কেউ কেউ একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে লিপ্ত হতেন।

কিন্তু সেই যুগে একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতা বিদ্যমান ছিল যা মাদ্রাসার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও গ্রন্থ রচনার ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এর কিছু কারণ ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হয়েছে, যেমন আমিরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, ওলামা ও শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াকফ নির্ধারণ এবং বিভিন্ন মুসলিম অঞ্চলের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ইত্যাদি।

তবে সেই তৎপরতা অনুসরণ ও তাকলীদের একটি সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল

--------------------------------------------

(১) আল-হুসাইনির 'যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ' ৫৮।

(*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৫)
فاهتم الْعلمَاء بالتلخيص والاختصار أَو الشَّرْح اللفظى والتقرير.

كَذَلِك انْصَرف التَّعْلِيم فِي جملَته إِلَى الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة وَمَا يتَّصل بهَا.

ويبدو تأثر ابْن كثير باتجاهات عصره فِي انْصِرَافه إِلَى عُلُوم الْقُرْآن وَالسّنة وَالْفِقْه أَو الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة بِوَجْه عَام، ففى بعض مؤلفاته اخْتِصَار لكتب الافدمين وإدماج لبعضها فِي بعض وَتَعْلِيق عَلَيْهَا، كَمَا سيتضح ذَلِك من النّظر فِي كتبه الْبَاقِيَة.

غير أَن ابْن كثيرا كَانَ إِمَامًا مجددا فِي جَوَانِب أُخْرَى من تأليفه، فَهُوَ فِي التَّفْسِير إِمَام وَصَاحب مدرسة ينفر من الاسرائيليات والاخبار الْوَاهِيَة، ويضيق بالتفلسف وإقحام الرأى فِي كتاب الله ويؤثر مَنْهَج تَفْسِير الْقُرْآن بِالْقُرْآنِ، ثمَّ بِالْحَدِيثِ والاثر.

وَيرجع جَانب التَّجْدِيد فِيهِ إِلَى صلته بِابْن تَيْمِية، وحبه لَهُ وتأثره بآرائه، فقد كَانَ ابْن كثير كأستاذه ابْن تَيْمِية بَعيدا عَن الخرافات حَرِيصًا على الرُّجُوع إِلَى السّنة، يعْتَمد على التَّحْقِيق والتدقيق بوسيلته العلمية الَّتِى يملكهَا، وهى نقد الاسانيد وتمحيص الاخبار.

مَنْزِلَته وآراء الْعلمَاء فِيهِ: احتل ابْن كثير منزلَة عالية فِي الْفِقْه وَالتَّفْسِير والْحَدِيث وَالْفَتْوَى، يَقُول عَنهُ الذَّهَبِيّ: " الامام الْمُفْتى الْمُحدث البارع، فَقِيه ومفسر نقال وَله تصانيف مفيدة ".

وَيَقُول عَنهُ ابْن حجر: " اشْتغل بِالْحَدِيثِ مطالعة فِي متونه وَرِجَاله،
ফলে আলেমগণ সারসংক্ষেপ ও সংক্ষিপ্তকরণ অথবা আক্ষরিক ব্যাখ্যা ও বিবরণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

একইভাবে, শিক্ষা কার্যক্রম সামগ্রিকভাবে শরয়ী জ্ঞান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর দিকে ধাবিত হয়েছিল।

ইবনে কাসীরের কুরআন, সুন্নাহ, ফিকহ তথা সাধারণভাবে শরয়ী জ্ঞানসমূহের প্রতি মনোনিবেশ করার ক্ষেত্রে তাঁর সমসাময়িক যুগের প্রবণতার প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। তাঁর কিছু রচনায় পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহের সংক্ষিপ্তকরণ, সেগুলোকে একে অপরের সাথে একীভূতকরণ এবং সেগুলোর ওপর টীকা প্রদান লক্ষ্য করা যায়, যা তাঁর অবশিষ্ট গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

তবে ইবনে কাসীর তাঁর রচনার অন্যান্য দিকগুলোতে একজন সংস্কারক ইমাম ছিলেন। তিনি তাফসীরের ক্ষেত্রে একজন ইমাম এবং একটি স্বতন্ত্র ধারার প্রবর্তক, যিনি ইসরাঈলী বর্ণনা ও ভিত্তিহীন সংবাদসমূহ থেকে বিমুখ থাকতেন। তিনি আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যায় দর্শনতত্ত্ব ও নিজস্ব মতামতের অনুপ্রবেশ ঘটাতে কুণ্ঠাবোধ করতেন এবং কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসীর করার পদ্ধতিকে প্রাধান্য দিতেন, অতঃপর হাদীস ও আসারের মাধ্যমে।

তাঁর সংস্কারমূলক এই দিকটির মূলে ছিল ইবনে তাইমিয়ার সাথে তাঁর সম্পর্ক, তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর মতাদর্শের প্রভাব। ইবনে কাসীর তাঁর উস্তাদ ইবনে তাইমিয়ার মতোই কুসংস্কার থেকে দূরে ছিলেন এবং সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি তাঁর আয়ত্তাধীন বৈজ্ঞানিক মাধ্যম অর্থাৎ সনদের সমালোচনা ও সংবাদ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সূক্ষ্ম গবেষণা ও বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করতেন।

তাঁর মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের অভিমত: ইবনে কাসীর ফিকহ, তাফসীর, হাদীস ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন। আয-যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি একজন ইমাম, মুফতী, সুদক্ষ মুহাদ্দিস, ফকীহ, মুফাসসির ও বর্ণনাকারী এবং তাঁর বহু উপকারী রচনা রয়েছে।"

ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি হাদীসের মূল পাঠ ও বর্ণনাকারী পর্যালোচনায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন,
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৬)
وَكَانَ كثير الاستحضار حسن المفاكهة سَارَتْ تصانيفه فِي حَيَاته وانتفع النَّاس بهَا بعد وَفَاته ".

وَيَقُول عَنهُ ابْن تغرى بردى: " لَازم الِاشْتِغَال ودأب وَحصل وَكتب، وبرع فِي الْفِقْه وَالتَّفْسِير والْحَدِيث وَجمع وصنف، ودرس وَحدث وَألف، وَكَانَ لَهُ اطلَاع عَظِيم فِي الحَدِيث وَالتَّفْسِير وَالْفِقْه والعربية وَغير ذَلِك، وَأفْتى ودرس إِلَى أَن توفى ".

وَقد اشْتهر ابْن كثير بالضبط والتحرى وَالِاسْتِقْصَاء، وانتهت إِلَيْهِ فِي عصره الرياسة فِي التَّارِيخ والْحَدِيث وَالتَّفْسِير.

يَقُول عَنهُ ابْن حجى أحد تلامذته: " أحفظ من أدركناه لمتون الاحاديث ورجالها، وأعرفهم بجرحها وصحيحها وسقيمها، وَكَانَ أقرانه وشيوخه يعترفون لَهُ بذلك، وَمَا أعرف أَنى اجْتمعت بِهِ على كَثْرَة ترددي إِلَيْهِ إِلَّا واستفدت مِنْهُ " ويصفه ابْن الْعِمَاد الحنبلى فَيَقُول: " كَانَ كثير الاستحضار قَلِيل النسْيَان، جيد الْفَهم، يُشَارك فِي الْعَرَبيَّة وينظم نظما وسطا.

قَالَ فِيهِ ابْن حبيب: سمع وَجمع وصنف، وأطرب الاسماع بالفتوى وشنف، وَحدث وَأفَاد، وطارت أوراق فَتَاوِيهِ إِلَى الْبِلَاد، واشتهر بالضبط والتحرير " وَيَقُول عَنهُ ابْن حجر: " وَلم يكن على طَرِيق الْمُحدثين فِي تَحْصِيل العوالي وتمييز العالي من النارل، وَنَحْو ذَلِك من فنونهم، وَإِنَّمَا هُوَ من مُحدث الْفُقَهَاء ".

وَلَكِن السُّيُوطِيّ يحيب على كَلَام ابْن حجر بقوله:
তিনি অত্যন্ত স্মরণশক্তি সম্পন্ন এবং মিষ্টভাষী ছিলেন। তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর রচনাবলি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর ইন্তেকালের পর মানুষ তা থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে।

ইবনে তাগরি বারদি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্ঞানচর্চায় লিপ্ত ছিলেন, কঠোর পরিশ্রম করেছেন, জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং লিখেছেন। তিনি ফিকহ, তাফসির ও হাদিস শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি সংকলন ও রচনা করেছেন এবং আমৃত্যু দরস প্রদান ও হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাদিস, তাফসির, ফিকহ, আরবি ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি ইন্তেকাল পর্যন্ত ফতোয়া প্রদান ও পাঠদান অব্যাহত রাখেন।"

ইবনে কাসীর তাঁর নির্ভুলতা, সূক্ষ্ম অনুসন্ধান এবং যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাঁর যুগে ইতিহাস, হাদিস ও তাফসির শাস্ত্রে নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর কাছেই এসে সমাপ্ত হয়েছিল।

তাঁর অন্যতম ছাত্র ইবনে হাজ্জি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "আমাদের দেখা ব্যক্তিদের মধ্যে হাদিসের মূলপাঠ (মতন) এবং বর্ণনাকারী (রিজাল) সম্পর্কে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ হাফেজ। হাদিসের দোষ-ত্রুটি (জারহ), সহিহ এবং জয়িফ সম্পর্কে তিনি ছিলেন সর্বাধিক জ্ঞানী। তাঁর সমসাময়িক আলেমগণ এবং তাঁর শিক্ষকগণ তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্বীকার করতেন। আমি তাঁর কাছে অধিক যাতায়াত করা সত্ত্বেও এমনটি কখনো হয়নি যে, আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি অথচ তাঁর থেকে কোনো নতুন জ্ঞান আহরণ করিনি।" ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: "তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন এবং খুব কমই বিস্মৃত হতেন। তাঁর বোধশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর। তিনি আরবি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন এবং মোটামুটি মানের কবিতা রচনা করতেন।"

ইবনে হাবিব তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি ইলম শ্রবণ করেছেন, সংগ্রহ করেছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি স্বীয় ফতোয়ার মাধ্যমে মানুষের কর্ণকুহরকে বিমোহিত ও অলঙ্কৃত করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং জ্ঞান বিতরণ করেছেন। তাঁর ফতোয়ার পাণ্ডুলিপিগুলো বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তিনি নির্ভুলতা ও সুচারু লেখনীর জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।" ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেন: "উচ্চ সনদ (আওয়ালি) অর্জন এবং উচ্চ ও নিম্ন সনদের পার্থক্য নিরূপণের মতো মুহাদ্দিসদের বিশেষ فن বা শিল্পকলার ক্ষেত্রে তিনি তাঁদের প্রথাগত পদ্ধতিতে ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত একজন মুহাদ্দিস।"

তবে সুয়ূতী ইবনে হাজারের এই মন্তব্যের জবাবে বলেন:
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৭)
" الْعُمْدَة فِي علم الحَدِيث على معرفَة صَحِيح الحَدِيث وسقيمه وَعلله

وَاخْتِلَاف طرقه وَرِجَاله جرحا وتعديلا، وَأما العالي النَّازِل وَنَحْو ذَلِك فَهُوَ من الفضلات، لَا من الاصول المهمة ".

شعره وأسلوبه: كَانَ ابْن كثير مشاركا فِي الْعَرَبيَّة، وَكَانَ - كَمَا قَالَ ابْن الْعِمَاد - ينظم نظما وسطا، وَلَا يذكر لَهُ إِلَّا الْقَلِيل من النّظم مثل قَوْله: تمر بِنَا الايام تترى وَإِنَّمَا * نساق إِلَى الْآجَال وَالْعين تنظر فَلَا عَائِد ذَاك الشَّبَاب الذى مضى * وَلَا زائل هَذَا المشيب المكدر وعَلى كل فَهُوَ لم يشتعر بقول الشّعْر.

وَقد كَانَت ثقافته الادبية جَيِّدَة، بِالنّظرِ إِلَى فَقِيه مُفَسّر مُحدث مثله، وَكَانَ يسير فِي أسلوبه على مُقْتَضى عصره، من إِيثَار السجع والميل إِلَى المحسنات، وأسلوبه فِي التَّفْسِير قوى متناسب.

كتبه: اشْتغل ابْن كثير بالتأليف والتصنيف، وَأكْثر كتبه فِي الحَدِيث وعلومه، ومؤلفاته مَعْدُودَة، وأهمها: 1 - تَفْسِير الْقُرْآن الْكَرِيم.

الذى قَالَ فِيهِ السُّيُوطِيّ: " لم يؤلف على نمطه مثله " وَهُوَ يعْتَمد على التَّفْسِير بالراوية، فيفسر الْقُرْآن ثمَّ بالاحاديث المشتهرة يَسُوقهَا
"হাদিস বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো সহিহ ও দুর্বল হাদিস, এর ত্রুটিসমূহ এবং এর সূত্রের ভিন্নতা ও বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই (জারহ ও তাদিল) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। আর উচ্চ ও নিম্ন সনদ (আলি ও নাজিল) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো হলো অতিরিক্ত বিষয়, গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়।"

তাঁর কবিতা ও শৈলী: ইবনে কাসির আরবি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। ইবনুল ইমাদ যেমনটি বলেছেন, তিনি মাঝারি মানের কবিতা রচনা করতেন। তাঁর খুব অল্প কবিতাই উল্লেখ পাওয়া যায়, যেমন তাঁর এই পঙক্তিমালা: "দিনগুলো আমাদের নিকট দিয়ে ধারাবাহিকভাবে অতিবাহিত হচ্ছে, আর আমরা মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছি যখন চোখ তাকিয়ে দেখছে। অতিক্রান্ত সেই যৌবন আর ফিরে আসবে না, আর এই ঘোলাটে বার্ধক্যও দূর হবে না।" মোটের ওপর, তিনি কাব্যচর্চার মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করতে চাননি।

একজন ফকিহ, মুফাসসির ও মুহাদ্দিস হিসেবে তাঁর সাহিত্যিক জ্ঞান ছিল বেশ উন্নত। তিনি তাঁর রচনারীতিতে সমসাময়িক যুগের ধারা অনুসরণ করতেন, যা অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্যের প্রাধান্য এবং অলঙ্কার শাস্ত্রের প্রতি ঝোঁক দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। তাফসিরের ক্ষেত্রে তাঁর বর্ণনাশৈলী ছিল শক্তিশালী ও সুসংগত।

তাঁর গ্রন্থাবলি: ইবনে কাসির গ্রন্থ রচনা ও সংকলনে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থ হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রীয় বিষয়ের ওপর রচিত। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি সুপরিচিত, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: ১ - তাফসিরুল কুরআনিল কারিম।

যে গ্রন্থ সম্পর্কে সুয়ূতী বলেছেন: "তাঁর এই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এমন আর কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি।" এটি বর্ণনাভিত্তিক তাফসিরের ওপর নির্ভরশীল। এতে তিনি কুরআনের ব্যাখ্যা করেন এবং এরপর প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহ উপস্থাপন করেন।
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৮)
بأسانيدها، ثمَّ ينْقد الاسانيد وَيحكم عَلَيْهَا، ثمَّ يذكر الْآثَار المروية عَن الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ.

وَهُوَ مطبوع مَشْهُور.

2 - الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة فِي التَّارِيخ.

وَهُوَ أَيْضا مطبوع مَشْهُور، وَإِن كَانَت طبعته غير موثقة وَلَا مصححة.

وَهُوَ مرجع دَقِيق لَا يزَال عَلَيْهِ التعويل، قَالَ عَنهُ ابْن تغرى بردى: " وَهُوَ فِي غَايَة الْجَوْدَة ".

3 - اخْتِصَار عُلُوم الحَدِيث لِابْنِ الصّلاح.

وَهُوَ كتاب نَافِع أضَاف فِيهِ ابْن كثير فَوَائِد كَثِيرَة ورتبه وَاخْتَصَرَهُ وَهُوَ مطبوع من تعلقات للمرحوم الشَّيْخ أَحْمد شَاكر باسم " الْبَاعِث الحثيث ".

4 - مُخْتَصر كتاب " الْمدْخل إِلَى كتاب السّنَن " للبيهقي ذكره فِي مُقَدّمَة اخْتِصَار عُلُوم الحَدِيث.

وَهُوَ مخطوط.

5 - رِسَالَة فِي الْجِهَاد.

مطبوعة.

6 - التَّكْمِيل فِي معرفَة " الثِّقَات والضعفاء والمجاهيل " جمع فِيهِ كتابي " تَهْذِيب الْكَمَال " للمزى و " ميزَان الِاعْتِدَال " للذهبي.

وَزَاد عَلَيْهِمَا زيادات مفيدة فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل.

وَهُوَ مخطوط.

7 - " الْهدى وَالسّنَن فِي أَحَادِيث المسانيد وَالسّنَن " وَهُوَ الْمَعْرُوف بِجَامِع المسانيد، جمع فِيهِ بَين مُسْند أَحْمد وَالْبَزَّار وأبى يعلى وَابْن أبي شيبَة مَعَ الْكتب السِّتَّة: الصَّحِيحَيْنِ وَالسّنَن الاربعة، ورتبه على أَبْوَاب.

وَهُوَ مخطوط.

8 - مُسْند الشَّيْخَيْنِ أَبى بكر وَعمر.
সনদসমূহের সাথে, তারপর তিনি সনদগুলোর সমালোচনা করেন এবং সেগুলোর ব্যাপারে রায় প্রদান করেন, অতঃপর তিনি সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে বর্ণিত আসারসমূহ উল্লেখ করেন।

এটি মুদ্রিত এবং সুপরিচিত।

২ - আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ফিত তারিখ।

এটিও মুদ্রিত এবং সুপরিচিত, যদিও এর সংস্করণটি নির্ভরযোগ্য বা সংশোধিত নয়।

এটি একটি সূক্ষ্ম তথ্যসূত্র যার ওপর আজও নির্ভর করা হয়, ইবনে তাগরি বারদি এটি সম্পর্কে বলেছেন: "এটি অত্যন্ত উন্নত মানের।"

৩ - ইবনুস সালাহ-র উলূমুল হাদীসের সংক্ষিপ্তসার।

এটি একটি উপকারী গ্রন্থ যাতে ইবনে কাসীর অনেক ফায়দা যোগ করেছেন এবং এটি বিন্যস্ত ও সংক্ষেপ করেছেন। এটি মরহুম শেখ আহমাদ শাকিরের টীকা সহ "আল-বাইসুল হাসীস" নামে মুদ্রিত।

৪ - বাইহাকী রচিত "আল-মাদখাল ইলা কিতাবিস সুনান" গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার; তিনি 'ইখতিসারু উলূমিল হাদীস'-এর ভূমিকায় এটি উল্লেখ করেছেন।

এটি পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত।

৫ - জিহাদ বিষয়ক একটি রিসালা (পুস্তিকা)।

এটি মুদ্রিত।

৬ - আত-তাকমীল ফী মা’রিফাতিস "সিকাত ওয়াদ দুয়াফা ওয়াল মাজাহিল"; এতে তিনি মিযযী-র "তাহযীবুল কামাল" এবং যাহাবী-র "মিযানুল ই’তিদাল" গ্রন্থ দুটিকে একত্রিত করেছেন।

এবং তিনি এ দুটির ওপর জারহ ও তা’দীল বিষয়ে অনেক উপকারী তথ্য সংযোজন করেছেন।

এটি পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত।

৭ - "আল-হুদু ওয়াস সুনান ফী আহাদীসিল মাসানিদ ওয়াস সুনান", যা জামি’উল মাসানিদ নামে পরিচিত। এতে তিনি মুসনাদে আহমাদ, বাযযার, আবু ইয়া’লা এবং ইবনে আবি শায়বাকে কুতুবে সিত্তাহ (সহীহাইন এবং সুনানে আরবা’আ)-র সাথে একত্রিত করেছেন এবং তা অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন।

এটি পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত।

৮ - শাইখাইন আবু বকর ও উমরের মুসনাদ।
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৯)
وَفِيه - كَمَا قَالَ ابْن كثير (1) - ذكر كَيْفيَّة إِسْلَام أبي بكر وَأورد فضائله وشمائله وأتبع ذَلِك بسيرة الْفَارُوق رضى الله عَنهُ، وَأورد مَا رَوَاهُ كُلٌّ مِنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، مِنْ الْأَحَادِيثِ وَمَا رَوَى عَنهُ من الآثاو والاحكام والفتاوى، فَبلغ ذَلِك ثَلَاث مجلدات.

وَهُوَ مخطوط لَا نَدْرِي مَكَانَهُ! 9 - السِّيرَة النَّبَوِيَّة، مُطَوَّلَة ومختصرة، ذكرهَا فِي تَفْسِير سُورَة الاحزاب، فِي قصَّة غَزْوَة الخَنْدَق (2) .

10 - طَبَقَات الشَّافِعِيَّة.

مُجَلد وسط، وَمَعَهُ مَنَاقِب الشَّافِعِي.

مخطوط 11 - تَخْرِيج أَحَادِيث أَدِلَّة التَّنْبِيه فِي فقه الشَّافِعِيَّة.

12 - وَخرج أَحَادِيث مُخْتَصر ابْن الْحَاجِب.

13 - كتاب الْمُقدمَات، ذكره فِي اخْتِصَار مُقَدّمَة ابْن الصّلاح وأحال عَلَيْهِ.

14 - وَقد ذكر ابْن حجر أَن ابْن كثير شرع فِي شرح للْبُخَارِيّ وَلم يكمله.

15 - وَشرح فِي كتاب كَبِير فِي الاحكام لم يكمل وصل فِيهِ إِلَى الْحَج وفى هَذِه الْكتب الْمعرفَة لنا من تراث ابْن كثير يظْهر اتجاهه فِي اهتمامه بِالسنةِ وعلومها، وتغلب عَلَيْهِ روح عصره فِي مختصراته وشروحه وَيظْهر ابتكاره فِي تَفْسِيره لِلْقُرْآنِ الْكَرِيم وفى منهجه فِي تَارِيخه الْفَذ: " الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة ".

--------------------------------------------

(1) السِّيرَة النَّبَوِيَّة لِابْنِ كثير 1 / 433.

(2) قُمْت بنشرها فِي أَرْبَعَة مجلدات، عَن النّسخ المحفوظة من الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة مطبعة عِيسَى الْحلَبِي سنة 1966.

(*)
এবং এতে - যেমন ইবনে কাসীর বলেছেন (১) - আবু বকরের ইসলাম গ্রহণের পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাঁর মর্যাদা ও চারিত্রিক গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর তিনি ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী যুক্ত করেছেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তাঁদের উভয়ের বর্ণিত হাদিসসমূহ এবং তাঁদের থেকে বর্ণিত আসর (সাহাবীদের বাণী), বিধিবিধান ও ফতোয়াসমূহ উল্লেখ করেছেন। ফলে এটি তিন খণ্ডে গিয়ে পৌঁছেছে।

আর এটি একটি পাণ্ডুলিপি যার অবস্থান আমাদের জানা নেই! ৯ - আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (নবীর জীবনী), বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত, যা তিনি খন্দক যুদ্ধের কাহিনীর বর্ণনার সময় সূরা আল-আহজাবের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন (২)।

১০ - তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ।

একটি মাঝারি খণ্ড, এর সাথে রয়েছে ইমাম শাফিঈর মর্যাদা।

পাণ্ডুলিপি ১১ - শাফিঈ ফিকহ শাস্ত্রের 'আত-তানবিহ' গ্রন্থের দলীলস্বরূপ হাদিসসমূহের তাখরীজ।

১২ - এবং তিনি ইবনুল হাজিবের সংক্ষিপ্ত গ্রন্থের হাদিসসমূহ তাখরীজ করেছেন।

১৩ - কিতাবুল মুকাদ্দিমাত, যা তিনি ইবনুস সালাহর মুকাদ্দিমার সংক্ষেপায়নের সময় উল্লেখ করেছেন এবং সেটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

১৪ - ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে কাসীর বুখারীর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখতে শুরু করেছিলেন কিন্তু তা সম্পন্ন করতে পারেননি।

১৫ - এবং তিনি বিধিবিধান সংক্রান্ত একটি বৃহৎ কিতাবের ব্যাখ্যা শুরু করেছিলেন যা সম্পন্ন হয়নি, এতে তিনি হজ্জ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। ইবনে কাসীরের উত্তরাধিকার থেকে আমাদের কাছে পরিচিত এই বইগুলোর মাধ্যমে সুন্নাহ এবং এর জ্ঞানসমূহের প্রতি তাঁর আগ্রহের ঝোঁক প্রকাশ পায়। তাঁর সংক্ষেপায়ন ও ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে তাঁর যুগের প্রভাব প্রবল ছিল। তবে আল-কুরআনুল কারীমের তাফসীর এবং তাঁর অনন্য ইতিহাসগ্রন্থ: "আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ"-এর কর্মপদ্ধতিতে তাঁর উদ্ভাবনী ক্ষমতা প্রকাশ পায়।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীরের আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ১ / ৪৩৩।

(২) আমি এটি 'আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ'-এর সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি থেকে ১৯৬৬ সালে ঈসা আল-হালাবি প্রেস থেকে চার খণ্ডে প্রকাশ করেছি।

(*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১০)
وَقد شاع الِانْتِفَاع بِالْقدرِ الْقَلِيل الذى عرف طَرِيقه إِلَى النَّاس من كتب هَذَا الامام، وبقى مِنْهَا قدر كَبِير لَا يهتدى إِلَى مَكَانَهُ وَلَا يعرف طَرِيقه إِلَى أيدى النَّاس.

وَقد كَانَ علينا أَن نولي كتب هَذَا الامام الْعَظِيم مَا يسْتَحق من اهتمام وَأَن نيسر للنَّاس الِانْتِفَاع بهَا، لنودى واجبنا نَحْو تراثنا وتاريخنا ولنصل ماضينا بحاضرنا، وَلَا نَدع مصابيح الْهِدَايَة تنطفئ وأمتنا أحْوج مَا تكون إِلَى مَا فِيهَا من ضِيَاء.

قصَص الانبياء: وَكِتَابنَا هَذَا الذى نقدمه، هُوَ جَانب " قصَص الانبياء " من الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة لِابْنِ كثير، آثرت نشره محققا، لاستقلاله فِي مَوْضُوعه وحاجة جَمَاهِير النَّاس إِلَيْهِ، وَقد كَانَ مَوْضُوع قصَص الانبياء من الموضوعات الَّتِى أفردها الْعلمَاء بالتأليف مُنْذُ عصر التدوين، وَأول من أفرد لَهَا كتابا مُسْتقِلّا هُوَ مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن يسَار الْمُتَوفَّى سنة 150 هـ فقد ألف كِتَابه " الْمُبْتَدَأ " أَو " المبدأ " وقصص الانبياء، وَقد أهمل ابْن هِشَام هَذَا الْقسم حِين لخص السِّيرَة النَّبَوِيَّة لِابْنِ إِسْحَق، وَلم يبْق من هَذَا الْكتاب إِلَّا نقُول نقلهَا عَنهُ الطَّبَرِيّ فِي التَّارِيخ وَالتَّفْسِير والازرقي.

ثمَّ كتب أَو رِفَاعَةَ عُمَارَةُ بْنُ وَثِيمَةَ بْنِ مُوسَى بْنِ الْفُرَات الفارسى الْمُتَوفَّى سنة 289 كِتَابه " بَدْء الْخلق وقصص الانبياء " وَيُوجد الْجُزْء الاخير مِنْهُ فِي الفاتيكان ثَالِث 265 (1) .

--------------------------------------------

(1) تَارِيخ الادب الْعَرَبِيّ لبروكلمان 2 / 45.

(*)
এই ইমামের কিতাবসমূহের সামান্য অংশ যা মানুষের কাছে পৌঁছানোর পথ খুঁজে পেয়েছে, তা থেকে উপকৃত হওয়া ব্যাপকতা লাভ করেছে; আর এর একটি বড় অংশ এমন রয়ে গেছে যার অবস্থান জানা যায়নি এবং মানুষের হাতে পৌঁছানোর পথও পরিচিতি লাভ করেনি।

আমাদের কর্তব্য ছিল এই মহান ইমামের কিতাবসমূহের প্রতি যথাযথ গুরুত্বারোপ করা এবং মানুষের জন্য তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ করে দেওয়া, যাতে আমরা আমাদের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি এবং আমাদের অতীতের সাথে বর্তমানের সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারি। আর আমরা যেন হেদায়াতের প্রদীপগুলোকে নিভে যেতে না দিই, অথচ আমাদের উম্মাহ এগুলোর মধ্যকার আলোর অত্যন্ত মুখাপেক্ষী।

নবীদের কাহিনী: আমাদের উপস্থাপিত এই কিতাবটি হলো ইবনে কাসীর রচিত 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া'-এর 'কাসাসুল আম্বিয়া' (নবীদের কাহিনী) অংশ। আমি এটি তাহকীকসহ প্রকাশ করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, কারণ এর বিষয়টি স্বতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের এর প্রতি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নবীদের কাহিনীর বিষয়টি এমন এক বিষয় ছিল যার ওপর সংকলন যুগ থেকেই আলেমগণ স্বতন্ত্রভাবে গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেন তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার (মৃত্যু ১৫০ হিজরী); তিনি তাঁর 'আল-মুবতাদা' অথবা 'আল-মাবদা ওয়া কাসাসুল আম্বিয়া' কিতাবটি রচনা করেন। ইবনে হিশাম যখন ইবনে ইসহাকের সীরাতে নববী সংক্ষেপ করেন, তখন তিনি এই অংশটি বাদ দিয়ে দেন। এই কিতাবটি থেকে বর্তমানে কেবলমাত্র সেই উদ্ধৃতিগুলোই অবশিষ্ট আছে যা তাবারী তাঁর ইতিহাস ও তাফসীর গ্রন্থে এবং আজরাকী বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর আবু রিফায়া উমারা বিন ওয়াসীমা বিন মূসা বিন আল-ফুরাত আল-ফারিসী (মৃত্যু ২৮৯ হিজরী) তাঁর 'বাদউল খালক ওয়া কাসাসুল আম্বিয়া' কিতাবটি রচনা করেন। এর শেষ অংশটি ভ্যাটিকানে ২৬৫ (১) নম্বরে সংরক্ষিত আছে।

--------------------------------------------

(১) ব্রোকলম্যানের তারিখুল আদাবিল আরাবী (আরবি সাহিত্যের ইতিহাস) ২ / ৪৫।

(*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১১)
وَقد صَار افْتِتَاح كتب التَّارِيخ الْعَام بقصص الانبياء وبدء الْخلق سنة متبعة، مُنْذُ صنف أَبُو جَعْفَر مُحَمَّد بن جرير الطَّبَرِيّ الْمَوْلُود سنة 234 هـ بطبرستان، تَارِيخه الْكَامِل وَتَنَاول فِيهِ تَارِيخ الْعَالم من بَدْء الْخلق إِلَى عصره.

وَمن بعده أَبُو الْحسن على بن الْحُسَيْن المَسْعُودِيّ الْمُتَوفَّى سنة 345

فِي تَارِيخ " مروج الذَّهَب ".

وَمعنى ذَلِك أَن مَوْضُوع قصَص الانبياء كَانَ مَوضِع اهتمام كتاب السِّيرَة والتاريخ الْمُسلمين مُنْذُ عصر التدوين إِلَى عصر ابْن كثير.

وعلينا الْآن أَن نتأمل مَنْهَج ابْن كثير قى قصَص الانبياء لنرى مَا قدمه من جَدِيد وَمَا تفرد بِهِ من خَصَائِص، مِمَّا يعد تجديدا فِي هَذَا الْجَانِب من التَّارِيخ.

إِن ذَلِك يقتضينا أَن نَنْظُر فِي مصَادر ابْن كثير فِي قصَص الانبياء ونصنفها حسب تعويله عَلَيْهَا.

وَأول مَا يَتَّضِح لنا أَن ابْن كثير قد جعل الْقُرْآن الْكَرِيم مصدره الاول فِي تَارِيخ الانبياء، فعول على طَرِيقَته وَالْتزم بأخباره، وَقطع بِأَن كل مَا يُخَالِفهُ من أَقْوَال أهل الْكتاب فَهُوَ كذب وبهتان، وَذَلِكَ الْحق الذى يقطع بِهِ كل مُسلم.

وَيبدأ ابْن كثير فِي كل قصَّة من قصَص الانبياء بِجمع الْآيَات القرآنية المنعلقة بهَا باستقصاء من كل سور الْقُرْآن، حسب تَرْتِيب السُّور.

ثمَّ يجنح إِلَى جَانب التَّفْسِير فيستخرج دَلَائِل الْآيَات الْكَرِيمَة بمنهجه الْمَشْهُور، من تَفْسِير الْقُرْآن، ثمَّ بِالسنةِ والاثر.
সাধারণ ইতিহাস গ্রন্থসমূহ নবীদের কাহিনী এবং সৃষ্টির সূচনা দ্বারা শুরু করা একটি অনুসৃত পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে, যখন থেকে ২৩৪ হিজরিতে তাবারিস্তানে জন্মগ্রহণকারী আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তবারি তাঁর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থটি সংকলন করেছেন এবং তাতে সৃষ্টির সূচনা থেকে তাঁর নিজ সময় পর্যন্ত বিশ্বের ইতিহাস আলোচনা করেছেন।

এবং তাঁর পরে ৩৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবুল হাসান আলী ইবনে আল-হুসাইন আল-মাসউদী

তাঁর "মুরুজুয যাহাব" নামক ইতিহাস গ্রন্থে।

এর অর্থ হলো যে, নবীদের কাহিনীর বিষয়টি সংকলনের যুগ থেকে ইবনে কাসীরের যুগ পর্যন্ত মুসলিম সিরাত ও ইতিহাস লেখকদের নিকট বিশেষ গুরুত্বের বিষয় ছিল।

এখন আমাদের উচিত নবীদের কাহিনীর ক্ষেত্রে ইবনে কাসীরের কর্মপদ্ধতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা, যাতে আমরা দেখতে পাই তিনি নতুন কী উপস্থাপন করেছেন এবং কোন বৈশিষ্ট্যগুলোতে তিনি অনন্য ছিলেন, যা ইতিহাসের এই ক্ষেত্রে একটি সংস্কার হিসেবে গণ্য হয়।

এটি আমাদের জন্য আবশ্যক করে তোলে যে, আমরা নবীদের কাহিনীর ক্ষেত্রে ইবনে কাসীরের উৎসগুলোর প্রতি নজর দিই এবং তার ওপর তাঁর নির্ভরতার ভিত্তিতে সেগুলোকে বিন্যস্ত করি।

আমাদের কাছে প্রথমেই যা স্পষ্ট হয় তা হলো, ইবনে কাসীর পবিত্র কুরআনকে নবীদের ইতিহাসের ক্ষেত্রে তাঁর প্রথম উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন; ফলে তিনি এর পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছেন এবং এর সংবাদের প্রতি অবিচল থেকেছেন। তিনি সুনিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, আহলে কিতাবদের এমন সকল বক্তব্য যা কুরআনের পরিপন্থী, তা মিথ্যা ও অপবাদ। আর এটিই সেই সত্য যা প্রত্যেক মুসলিম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

ইবনে কাসীর নবীদের কাহিনীর প্রতিটি কাহিনীতে সূরার ক্রম অনুযায়ী কুরআনের সকল সূরা থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কুরআনিক আয়াতসমূহ একত্রিত করার মাধ্যমে শুরু করেন।

এরপর তিনি তাফসীরের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং কুরআনের তাফসীর থেকে তাঁর প্রসিদ্ধ পদ্ধতির আলোকে আয়াতসমূহের নির্দেশনাবলি আহরণ করেন, তারপর সুন্নাহ এবং আছারের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করেন।
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১২)
وَبعد ذَلِك يجمع ابْن كثير الاحاديث المروية فِي قصَص الانبياء بأسانيدها من الصِّحَاح وَالْمَسَانِيد، وَلَا يفوتهُ أَن يخرج تِلْكَ الاحاديث ويدلنا على حظها من الثُّبُوت.

ثمَّ يتَّجه ابْن كثير إِلَى رِوَايَات المؤرخين وعلماء السّير، يخْتَار مِنْهَا مَا يُسَايِر حقائق الْقُرْآن وَالسّنة وآراء الْمُفَسّرين وأبرز من ينْقل عَنْهُم ابْن

كثير: مُحَمَّد ابْن إِسْحَق فِي كتاب " الْمُبْتَدَأ " وَابْن جرير فِي تَارِيخه وَتَفْسِيره، وَابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخه، وَتلك الرِّوَايَات لَا تمثل فِي الْكتاب لحْمَة وَلَا سدى، إِنَّمَا هِيَ تأييد للاخبار الاسلامية أَو تَفْصِيل لَهَا حينما يجنح الخيال إِلَى الِاسْتِقْصَاء وَوصل الحلقات بَعْضهَا بِبَعْض، وأغلب تِلْكَ الرِّوَايَات مَنْقُول عَن عُلَمَاء أهل الْكتاب، وَكَثِيرًا مَا يعلق عَلَيْهِ ابْن كثير بِأَنَّهُ غَرِيب.

وَيبقى بعد ذَلِك من مصَادر ابْن كثير فِي قصَص الانبياء أَخْبَار أهل الْكتاب، المتلقاة من التَّوْرَاة الَّتِى بِأَيْدِيهِم.

وَقد وقف ابْن كثير من هَذَا الْمصدر موقفا عدلا، فَلم يهمله بِالْكُلِّيَّةِ مادام هُنَاكَ من يتطلع إِلَيْهِ وَمن ينْقل عَنهُ، فَأَشَارَ ابْن كثير إِلَى طرف يسير من أَخْبَار أهل الْكتاب مقترنة بِبَيَان رَأْيه فِيهَا، وَهُوَ يرى أَن التَّوْرَاة إِن خَالَفت الْحق الذى بِأَيْدِينَا من الْكتاب وَالسّنة، فهى بَاطِل يجب رده.

فعندما ذكر عَن التَّوْرَاة أَنَّ الَّذِي دَلَّ حَوَّاءَ عَلَى الْأَكْلِ مِنَ الشَّجَرَةِ هِيَ الْحَيَّةُ، وَكَانَتْ مِنْ أَحْسَنِ الْأَشْكَالِ وَأَعْظَمهَا، أعقبه بقوله: " وَهَذَا
এরপর ইবনে কাসীর সিহাহ ও মাসানিদ গ্রন্থসমূহ থেকে সনদসহ নবীগণের কাহিনীতে বর্ণিত হাদিসসমূহ একত্রিত করেন। তিনি সেই হাদিসগুলোর তাখরিজ করতে এবং সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতার মান আমাদের জানাতে ভুল করেন না।

অতঃপর ইবনে কাসীর ঐতিহাসিক ও সীরাত শাস্ত্রবিদদের বর্ণনার দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি সেখান থেকে তা-ই নির্বাচন করেন যা কুরআন ও সুন্নাহর বাস্তবতা এবং মুফাসসিরগণের মতামতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইবনে কাসীর যাদের থেকে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইবনে

কাসীর: "আল-মুবতাদা" গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, নিজের ইতিহাস ও তাফসীরে ইবনে জারীর এবং নিজের ইতিহাসে ইবনে আসাকির। আর এই বর্ণনাগুলো গ্রন্থে মূল ভিত্তি বা কাঠামো হিসেবে উপস্থাপিত হয়নি; বরং এগুলো মূলত ইসলামী সংবাদসমূহের সমর্থন অথবা সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ হিসেবে এসেছে, যখন কল্পনা অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই বর্ণনাগুলোর অধিকাংশ আহলে কিতাব আলেমদের থেকে বর্ণিত এবং ইবনে কাসীর প্রায়ই সেগুলোকে "গরীব" (অদ্ভুত) বলে মন্তব্য করেন।

এরপর নবীগণের কাহিনীর ক্ষেত্রে ইবনে কাসীরের উৎসসমূহের মধ্যে অবশিষ্ট থাকে আহলে কিতাবদের সংবাদসমূহ, যা তাদের কাছে বিদ্যমান তাওরাত থেকে গৃহীত।

ইবনে কাসীর এই উৎসের ব্যাপারে একটি ন্যায়সংগত অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি একে পুরোপুরি বর্জন করেননি যেহেতু অনেকে এর প্রতি আগ্রহী এবং অনেকে তা থেকে বর্ণনাও করে থাকেন। তাই ইবনে কাসীর আহলে কিতাবদের সংবাদ থেকে সামান্য কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন এবং সাথে সাথে সেগুলোর ব্যাপারে নিজের মতামতও ব্যক্ত করেছেন। তাঁর অভিমত হলো, তাওরাত যদি আমাদের নিকট বিদ্যমান সত্য অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহর পরিপন্থী হয়, তবে তা বাতিল এবং তা প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক।

যেমন তিনি যখন তাওরাত থেকে উল্লেখ করেছেন যে, সাপই হাওয়াকে গাছ থেকে ফল খাওয়ার প্ররোচনা দিয়েছিল এবং সেটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও বৃহৎ আকৃতির; এর পরপরই তিনি বলেন: "আর এটি
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الَّذِي فِي هَذِهِ التَّوْرَاةِ الَّتِي بِأَيْدِيهِمْ غَلَطٌ مِنْهُمْ، وَتَحْرِيفٌ وَخَطَأٌ فِي التَّعْرِيبِ فَإِنَّ نَقْلَ الْكَلَام من لُغَة إِلَى لُغَة لَا يَتَيَسَّرُ لِكُلِّ أَحَدٍ، وَلَا سِيَّمَا مِمَّنْ لَا يكَاد يَعْرِفُ كَلَامَ الْعَرَبِ جَيِّدًا، وَلَا يُحِيطُ عِلْمًا بِفَهْمِ كِتَابِهِ أَيْضًا، فَلِهَذَا وَقَعَ فِي تَعْرِيبِهِمْ لَهَا خَطَأٌ كَثِيرٌ لَفْظًا وَمَعْنَى، وَقَدْ دَلَّ الْقُرْآنُ الْعَظِيمُ عَلَى أَنَّهُ كَانَ عَلَيْهِمَا لِبَاسٌ فِي قَوْلِهِ: " يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْآتِهِمَا " فَهَذَا لَا يرد لغيره من الْكَلَام " (1) .

وَقد كَانَ ابْن كثير يقْرَأ التَّوْرَاة وَيرى مَا فِيهَا من تَحْرِيف، وَقد نبه إِلَى ذَلِك فِي مَوَاضِع من كِتَابه هَذَا، فَهُوَ يَقُول عَن قابيل: " وَالَّذِي رَأَيْتُهُ فِي الْكِتَابِ الَّذِي بِأَيْدِي أَهْلِ الْكتاب الذى يَزْعمُونَ أَنه التَّوْرَاة: أَن الله عزوجل أَجله وأنظره وَأَنه سكن فِي أَرض نور فِي شَرق عدن " وَبعد أَن يذكر تواريخ أهل الْكتاب عَن ذُرِّيَّة قابيل يَقُول: " هَذَا مَضْمُونُ مَا فِي كِتَابِهِمْ صَرِيحًا، وَفِي كَوْنِ هَذِهِ التَّوَارِيخِ مَحْفُوظَةً فِيمَا نَزَلَ مِنَ السَّمَاءِ نَظَرٌ، كَمَا ذَكَرَهُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ طَاعِنِينَ عَلَيْهِمْ فِي ذَلِكَ، وَالظَّاهِرُ أَنَّهَا مُقْحَمَةٌ فِيهَا، ذَكَرَهَا بَعْضُهُمْ عَلَى سَبِيلِ الزِّيَادَةِ وَالتَّفْسِير، وفيهَا غلط كثير (2) ".

وفى مَوضِع آخر يَقُول: " فَكَيْفَ يُتْرَكُ هَذَا وَيُذْهَلُ عَنْهُ، وَيُصَارُ إِلَى أَقْوَالِ الْكَذَبَةِ الْكَفَرَةِ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ الَّذِينَ بَدَّلُوا كُتَبَ اللَّهِ الْمُنَزَّلَةَ وَحَرَّفُوهَا وَأَوَّلُوهَا وَوَضَعُوهَا على غير موَاضعهَا (3) ".

--------------------------------------------

(1) ص 22 من هَذَا الْجُزْء.

(2) ص 62 من هَذَا الْجُزْء.

(3) ص 107 من هَذَا الْجُزْء.

(*)
তাদের হাতে থাকা এই তাওরাতে যা রয়েছে তা তাদের পক্ষ থেকে ভুল, বিকৃতি এবং অনুবাদের ত্রুটি। কেননা এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কথা স্থানান্তর করা সবার পক্ষে সহজসাধ্য নয়, বিশেষ করে তাদের পক্ষে যারা না আরবী ভাষা ভালোভাবে জানে, আর না নিজের কিতাব অনুধাবনের পূর্ণ জ্ঞান রাখে। এই কারণেই তাদের কৃত অনুবাদে শব্দতাত্ত্বিক ও অর্থগতভাবে অনেক ভুল সংঘটিত হয়েছে। মহান কুরআন প্রমাণ করেছে যে তাঁদের উভয়ের ওপর পোশাক ছিল, যেমনটি আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "তিনি তাদের থেকে তাদের পোশাক খুলে নিলেন যেন তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান প্রদর্শন করেন।" সুতরাং অন্য কোনো কথার কারণে একে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না (১)।

ইবনে কাসীর তাওরাত পাঠ করতেন এবং তাতে বিদ্যমান বিকৃতিসমূহ প্রত্যক্ষ করতেন। তিনি তাঁর এই গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি কাবিল সম্পর্কে বলেন: "আহলে কিতাবদের হাতে বিদ্যমান যে গ্রন্থটিকে তারা তাওরাত বলে দাবি করে, তাতে আমি যা দেখেছি তা হলো: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে অবকাশ দিয়েছেন ও সময় দিয়েছেন এবং সে আদনের পূর্ব দিকে নূর নামক ভূমিতে বসবাস করত।" কাবিলের বংশধরদের সম্পর্কে আহলে কিতাবদের ইতিহাস বর্ণনা করার পর তিনি বলেন: "এটি তাদের কিতাবে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান বিষয়ের সারসংক্ষেপ। তবে আকাশ থেকে অবতীর্ণ ওহীর মধ্যে এই ইতিহাসগুলো সংরক্ষিত থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ, যেমনটি একাধিক আলেম তাদের সমালোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন। প্রতীয়মান হয় যে, এগুলো এতে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে, কেউ কেউ অতিরিক্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা হিসেবে এগুলো সংযোজন করেছে এবং এতে প্রচুর ভুল রয়েছে (২)।"

অন্য এক স্থানে তিনি বলেন: "কীভাবে একে বর্জন করা হতে পারে এবং এ সম্পর্কে উদাসীন থাকা যায়, আর আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে সেই মিথ্যাবাদী ও কাফেরদের বক্তব্যের দিকে ধাবিত হওয়া যায়, যারা আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ পরিবর্তন করেছে, বিকৃত করেছে, অপব্যাখ্যা করেছে এবং সেগুলোকে স্বীয় স্থান থেকে বিচ্যুত করেছে (৩)।"

--------------------------------------------

(১) এই খণ্ডের ২২ পৃষ্ঠা।

(২) এই খণ্ডের ৬২ পৃষ্ঠা।

(৩) এই খণ্ডের ১০৭ পৃষ্ঠা।

(*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَبِذَلِك وضع ابْن كثير أَخْبَار أهل لكتاب فِي موضعهَا الصَّحِيح، يسْتَأْنس بهَا حِين تطابق الْحق الذى بِأَيْدِينَا، وينبه على تحريفها وكذبها حِين تخَالف، فَإِن لم يكن لَهَا دَلِيل فِي أخبارنا واحتملت الصدْق أوردهَا متوقفا، وَقد أمرنَا أَن لَا يصدق أهل الْكتاب وَلَا نكذبهم.

وَمن هُنَا فقد نجا ابْن كثير مِمَّا تورط فِيهِ المؤرخون من قبله من الاسراف فِي رِوَايَة الاسرائيليات والتعويل عَلَيْهَا، واحتفظ بصورته الاسلامية

المشرقة، وَجعل قارئه يطمئن إِلَى مصادره ويتبين قيمتهَا.

فَإِذا أردنَا أَن نتبين خَصَائِص ابْن كثير فِي قصَص الانبياء، فَإِن أهم مَا يستوقفنا من ذَلِك: (ا) الاحاطة بالاخبار وَالِاسْتِقْصَاء فِي رِوَايَتهَا من طرقها، مِمَّا يَجعله أوفى مرجع فِي هَذَا الْقَصَص.

وَقد أَعَانَهُ على ذَلِك عصره الْمُتَأَخر، إِذْ عَاشَ فِي الْقرن الثَّامِن، فَتمكن أَن يجيل النّظر فِيمَا سلف من تراث.

(ب) التَّحْقِيق العلمي فِي إِيرَاد الاخبار فَهُوَ لَا يذكر قولا إِلَّا وَمَعَهُ دَلِيله وَلَا رِوَايَة إِلَّا وَيبين حَالهَا من الصِّحَّة أَو الضعْف وَهُوَ وَإِن تسَامح فِي إِيرَاد بعض الاخبار الْوَاهِيَة، إِلَّا أَنه أخلى تَبعته بالحكم عَلَيْهَا وفْق أصُول الرِّوَايَة.

3 - الاهتمام بمقاصد الْقُرْآن الْكَرِيم فِي إبراز العظة وجلاء الْعبْرَة فِي هَذَا الْقَصَص وَمَا دَامَ ابْن كثير مُفَسرًا متقنا فقد اسْتَطَاعَ أَن يلفت النّظر إِلَى كثير من مَوَاطِن الْعبْرَة فِي آيَات الانبياء، وَأَن يَجْعَل من عرض قصصهم وَسِيلَة لتقرير كثير من الاحكام والآداب.
এর মাধ্যমে ইবনে কাসীর আহলে কিতাবদের সংবাদসমূহকে তাদের সঠিক স্থানে স্থাপন করেছেন। যখন তা আমাদের নিকট বিদ্যমান সত্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তখন তিনি সেগুলোকে সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করেন; আর যখন তা বিরোধিতা করে, তখন তিনি সেগুলোর বিকৃতি ও মিথ্যার ব্যাপারে সতর্ক করেন। যদি আমাদের বর্ণনাসমূহে সেগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ না থাকে এবং তা সত্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তবে তিনি তা কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান ব্যতিরেকেই উল্লেখ করেন। আর আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা আহলে কিতাবদের সংবাদকে সত্য বলেও গ্রহণ না করি আবার মিথ্যা বলেও প্রত্যাখ্যান না করি।

এখান থেকেই ইবনে কাসীর তাঁর পূর্ববর্তী ইতিহাসবিদরা ইসরাঈলী বর্ণনা প্রদানের ক্ষেত্রে যে অতিরঞ্জন ও তার ওপর নির্ভরশীলতার সংকটে নিপতিত হয়েছিলেন, তা থেকে রক্ষা পেয়েছেন এবং তিনি নিজের উজ্জ্বল ইসলামী ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রেখেছেন

এবং তিনি তাঁর পাঠককে তাঁর উৎসসমূহের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন ও সেগুলোর গুরুত্ব সুস্পষ্ট করেছেন।

আমরা যদি নবীদের কাহিনী বর্ণনায় ইবনে কাসীরের বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট করতে চাই, তবে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো: (ক) সংবাদসমূহ পরিবেষ্টন করা এবং বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে তা বর্ণনায় গভীর অনুসন্ধান চালানো, যা তাঁকে এই কাহিনীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ উৎসে পরিণত করেছে।

তাঁর পরবর্তী যুগে আগমন তাঁকে এ কাজে সহায়তা করেছে, যেহেতু তিনি অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে বসবাস করতেন। ফলে তিনি পূর্ববর্তী জ্ঞানভাণ্ডারের ওপর গভীর দৃষ্টিপাত করার সুযোগ লাভ করেছিলেন।

(খ) সংবাদ বর্ণনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাই; তিনি কোনো বক্তব্যই তার প্রমাণ ছাড়া উল্লেখ করেন না এবং কোনো বর্ণনা দিলেই তার বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার অবস্থা স্পষ্ট করে দেন। যদিও তিনি কিছু দুর্বল সংবাদ বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, তবুও তিনি বর্ণনার মূলনীতি অনুযায়ী সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদানের মাধ্যমে নিজের দায়ভারমুক্ত হয়েছেন।

৩ - এই কাহিনীর মাধ্যমে উপদেশ ফুটিয়ে তোলা এবং শিক্ষা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে কুরআনুল কারীমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করা। যেহেতু ইবনে কাসীর একজন সুদক্ষ মুফাসসির ছিলেন, তাই তিনি নবীদের আয়াতসমূহের মধ্যে শিক্ষার বহু ক্ষেত্রের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন এবং তাঁদের কাহিনী উপস্থাপনের মাধ্যমে অনেক বিধান ও শিষ্টাচার সুপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যম তৈরি করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
4 - وَقد عَنى ابْن كثير بِدفع الشّبَه الَّتِى أثارها كثير من الْمُفَسّرين والمتلقين عَن أهل للْكتاب، واستطاع بمقدرته فِي التَّفْسِير وقوته فِي الِاسْتِدْلَال أَن يُوضح جَانب الْحق وَأَن يرد كثيرا من الآراء الْفَاسِدَة الَّتِى لَا تتفق مَعَ كَرَامَة الانبياء.

فقد كَانَ موفقا فِي تَأْوِيل الْآيَات الَّتِى ثار حولهَا الْخلاف وَكَثُرت الاقاويل، كموقفه من تَأْوِيل قَوْله سُبْحَانَهُ على لِسَان لوط: " هَؤُلَاءِ بناتى هن أطهر لكم " وَقَوله عَن يُوسُف: " وَلَقَد هَمت بِهِ وهم بهَا " وَكَذَلِكَ

بَيَانه لقَوْل الْخَلِيل عليه السلام " بل فعله كَبِيرهمْ هَذَا " وَكَذَلِكَ فَصله فِي احتجاج مُوسَى وآدَم عليه السلام، وَغير ذَلِك.

وَهَذَا جَانب لم يهتم بِهِ أحد من المؤرخين من قبل، إِنَّمَا دفع ابْن كثير إِلَيْهِ إِمَامَته فِي التَّفْسِير واهتمامه بمقاصد الْهِدَايَة من قصَص الانبياء.

وَبِذَلِك يمكننا القَوْل أَن تنَاول ابْن كثير لقصص الانبياء يعْتَبر جَدِيدا فِي منهجه، إِذْ نلمح فِيهِ عناصر أُخْرَى غير التَّارِيخ، كالتفسير والْحَدِيث، والعظة والتوجيه، وفى بعض الاحيان اللُّغَة والادب، وَقد مزج ابْن كثير بَين هَذِه العناصر وَجعل الصدارة فِيهَا للتصور القرآني لقصص الانبياء، فَهُوَ بِحَق تَعْبِير صَادِق عَن النظرة الاسلامية لهَذَا الْمَوْضُوع وَقد برِئ من الحشو والتكلف والولوع بالغرائب، وساير مَنْهَج الْعقل وَالْعلم، وَنَفر من الخرافات والاباطيل.

وَذَلِكَ مَا جعلني أرى فِي نشر هَذَا الْكتاب ضَرُورَة لعصرنا وتراثنا على السوَاء.
৪ - ইবনে কাসীর সেই সকল সংশয় নিরসনের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন যা অনেক মুফাসসির এবং আহলে কিতাব থেকে গ্রহণকারীরা উত্থাপন করেছিলেন। তিনি তাঁর তাফসিরের যোগ্যতা এবং দলীল প্রদানের শক্তির মাধ্যমে সত্যের দিকটি স্পষ্ট করতে এবং নবীদের মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এমন অনেক ভ্রান্ত মতবাদ খণ্ডন করতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি সেই সব আয়াতের ব্যাখ্যায় সফল হয়েছেন যেগুলোকে কেন্দ্র করে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল এবং নানা কথা উঠেছিল; যেমন লূতের যবানে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান: "এরা আমার কন্যা, তোমাদের জন্য তারা অধিক পবিত্র।" এবং ইউসুফ সম্পর্কে তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই সে তার প্রতি সংকল্প করেছিল এবং সে-ও তার প্রতি সংকল্প করেছিল।" এবং একইভাবে

খলীল আলাইহিস সালামের এই বাণীর ব্যাখ্যা: "বরং তাদের এই বড়টিই এটি করেছে।" এবং একইভাবে মূসা ও আদম আলাইহিস সালামের বিতর্কের বিষয়ে তাঁর চূড়ান্ত মীমাংসা এবং এর বাইরেও অন্যান্য বিষয়।

এটি এমন এক দিক যা নিয়ে ইতিপূর্বে কোনো ইতিহাসবিদ গুরুত্বারোপ করেননি। মূলত তাফসির শাস্ত্রে ইবনে কাসীরের ইমামত এবং নবীদের কাহিনী থেকে হিদায়াতের উদ্দেশ্যসমূহের প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপই তাঁকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে।

এর মাধ্যমে আমরা বলতে পারি যে, নবীদের কাহিনীর ক্ষেত্রে ইবনে কাসীরের উপস্থাপনা তাঁর মানহাজের বিচারে নতুন হিসেবে গণ্য, কারণ এতে আমরা ইতিহাস ছাড়াও অন্য উপাদানগুলো দেখতে পাই, যেমন তাফসির, হাদিস, উপদেশ ও দিকনির্দেশনা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাষা ও সাহিত্য। ইবনে কাসীর এই উপাদানগুলোর মাঝে সমন্বয় ঘটিয়েছেন এবং এতে নবীদের কাহিনীর ক্ষেত্রে কুরআনী ধারণাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সুতরাং এটি প্রকৃতপক্ষে এই বিষয়ের ওপর ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির এক সত্যনিষ্ঠ প্রকাশ এবং এটি অনর্থক কথা, কৃত্রিমতা ও অদ্ভুত বিষয়ের প্রতি আসক্তি থেকে মুক্ত। তিনি বুদ্ধি ও জ্ঞানের মানহাজ অনুসরণ করেছেন এবং রূপকথা ও অসার বিষয়াবলী থেকে বিমুখ থেকেছেন।

আর এ কারণেই আমি এই বইটি প্রকাশ করাকে আমাদের বর্তমান যুগ এবং আমাদের ঐতিহ্য—উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রয়োজনীয় মনে করি।
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
مَنْهَج التَّحْقِيق: اعتمدت فِي تَحْقِيق هَذَا الْكتاب على نسختين من " الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة " 1 - النُّسْخَة المصورة عَن مكتبة ولى الدّين بالآستانة والمحفوظة بدار الْكتب المصرية برقم 1110 تَارِيخ.

وهى نُسْخَة جَيِّدَة لَوْلَا مَا يَقع فِيهَا من سقط فِي بعض الْمَوَاضِع.

وإليها الاشارة بِحرف ا.

2 - النُّسْخَة المطبوعة بمطبعة السَّعَادَة سنة 1351 هـ وَقد قوبلت على نُسْخَة مَحْفُوظَة بِالْمَدْرَسَةِ الاحمدية بحلب، وإليها الاشارة بِحرف ط.

وَقد كَانَ جهدي متجها إِلَى ضبط الاصل ومقابلة النسختين لاستخراج الصَّوَاب مِنْهُمَا.

وَقد تبينت فِي النُّسْخَة المطبوعة سقطا كثير أَشرت إِلَيْهِ فِي الهوامش، كَمَا أَن فِيهَا تَحْرِيف شَائِعا قومته بِالرُّجُوعِ إِلَى المخطوطة وَإِلَى المراجع الَّتِى نقل عَنْهَا ابْن كثير، وأشرت إِلَى بعض هَذِه الاخطاء فِي هوامش الصفحات.

وَبعد ذَلِك كَانَ لَا بُد من شرح الْمُفْردَات وَإِثْبَات فروق النّسخ والتعريف بِبَعْض الاعلام وَالتَّعْلِيق على مَا لَا يطمأن إِلَيْهِ من الرِّوَايَات وَغير ذَلِك مِمَّا يتطلبه تَقْوِيم الْكتاب وتقديمه فِي صُورَة قريبَة من الصِّحَّة دانية من الصَّوَاب.

وَأَرْجُو أَن أكون فِي نشرى لهَذَا الْكتاب من كتب ابْن كثير قد أدّيت واجبى نَحْو أمتنَا الاسلامية حِين يسرت هَذَا الْمرجع الاصيل
সম্পাদনা পদ্ধতি: এই গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি "আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া"-র দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। ১ - ইস্তাম্বুলের ওয়ালীউদ্দিন লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির ছায়ালিপি, যা মিসরের দারুল কুতুব-এ ১১১০ ইতিহাস নম্বরে সংরক্ষিত।

এটি একটি উত্তম পাণ্ডুলিপি, যদিও এতে কিছু স্থানে পাঠ বিচ্যুতি বা বাদ পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

একে 'আলিফ' অক্ষর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে।

২ - ১৩৫১ হিজরি সালে মাতবাআতুস সাআদাহ থেকে মুদ্রিত সংস্করণ, যা আলেপ্পোর মাদ্রাসা আহমদিয়ায় সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। একে 'ত্ব' অক্ষর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে।

মূল পাঠের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং উভয় সংস্করণের তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে সঠিক পাঠটি বের করার দিকেই আমার প্রচেষ্টা নিবদ্ধ ছিল।

আমি মুদ্রিত সংস্করণে প্রচুর বিচ্যুতি বা বাদ পড়া অংশ দেখতে পেয়েছি যা আমি পাদটীকায় উল্লেখ করেছি। সেই সাথে এতে অনেক প্রচলিত শব্দগত বিকৃতিও ছিল, যা আমি মূল পাণ্ডুলিপি এবং ইবনে কাসীর যেসব উৎস থেকে উদ্ধৃত করেছেন সেগুলোর সাহায্য নিয়ে সংশোধন করেছি। আমি এই ভুলগুলোর কিছু অংশ পৃষ্ঠাগুলোর পাদটীকায় নির্দেশ করেছি।

এরপর শব্দার্থ ব্যাখ্যা করা, পাণ্ডুলিপিভেদে পাঠান্তরগুলো সাব্যস্ত করা, কিছু ব্যক্তির পরিচয় প্রদান করা এবং যেসব বর্ণনা নির্ভরযোগ্য নয় সেগুলোর ওপর টীকা প্রদান করা অপরিহার্য ছিল। এছাড়া গ্রন্থটির সংস্কার এবং একে একটি সঠিক ও নির্ভুল অবয়বে উপস্থাপনের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই করা হয়েছে।

আমি আশা করি ইবনে কাসীরের এই গ্রন্থটি প্রকাশের মাধ্যমে আমি মুসলিম উম্মাহর প্রতি আমার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি, কেননা আমি এই মৌলিক উৎস-গ্রন্থটিকে সহজলভ্য করে তুলেছি।
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
لهَذَا الْجَانِب الْهَام من جَوَانِب الثقافة الاسلامية، بل الانسانية وَهُوَ قصَص الانبياء، وهم أبطال التَّضْحِيَة الْمُجَرَّدَة عَن كل شَائِبَة، وأمثلة الْكَمَال الْبُشْرَى الَّذين تستهديهم الانسانية فِي كل زمَان.

وَالله الْمَسْئُول أَن يهئ لنا من أمرنَا رشدا وَأَن يمدنا بعونه وقوته، نعم الْمولى وَنعم النصير.

مصطفى عبد الْوَاحِد الْقَاهِرَة صفر سنة 1388 هـ مايو سنة 1968 م
ইসলামী সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দিকের প্রতি, বরং মানব সংস্কৃতির প্রতি—যা হলো নবীগণের কাহিনী। তাঁরা হলেন সকল প্রকার কলুষতা মুক্ত নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের বীর এবং মানবীয় পূর্ণতার সেই অনন্য আদর্শ, প্রতিটি যুগে মানবজাতি যাঁদের থেকে পথের দিশা অন্বেষণ করে।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের সকল বিষয়ে সঠিক পথ ও প্রজ্ঞা দান করেন এবং তাঁর সাহায্য ও শক্তির মাধ্যমে আমাদের সহায়তা করেন; তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

মোস্তফা আব্দুল ওয়াহেদ, কায়রো, সফর ১৩৮৮ হিজরি, মে ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌بَابُ مَا وَرَدَ فِي خَلْقِ آدَمَ عليه السلام

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: " وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً، قَالُوا: أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ؟ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ * وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كلهَا، ثمَّ عرضهمْ على الْمَلَائِكَة، فَقَالَ أنبؤني بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ * قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْت الْعلم الْحَكِيمُ * قَالَ يَا آدَمُ أَنْبِئْهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ، فَلَمَّا أَنْبَأَهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ، قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ إِنِّي أعلم غيب السَّمَوَات وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ * وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ * وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ، وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا، وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ * فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فأخرجهما مِمَّا كَانَا فِيهِ، وَقُلْنَا هَبَطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ، وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ * فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ * قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ * وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هم فِيهَا خَالدُونَ (1) ".

وَقَالَ تَعَالَى: " مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ (2) " وَقَالَ تَعَالَى: " يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ، وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً، وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ، إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُم رقيبا (3) ".

--------------------------------------------

(1) سُورَة الْبَقَرَة 30 - 39 (2) سُورَة آل عمرَان 59 (3) سُورَة النِّسَاء 1 " م 1 - قصَص الانبياء 1 " (*)
আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়

মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। তারা বলল, আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না। আর তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও। তারা বলল, আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। তিনি বললেন, হে আদম, তাদের এগুলোর নাম বলে দাও। যখন তিনি তাদের সেগুলোর নাম বলে দিলেন, তখন আল্লাহ বললেন, আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আমি আসমান ও জমিনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জানি এবং আমি জানি যা তোমরা প্রকাশ করো আর যা তোমরা গোপন করতে? আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সিজদাহ করো, তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদাহ করল; সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল এবং সে ছিল কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমি বললাম, হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং সেখান থেকে যেখানে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করো, কিন্তু এই বৃক্ষটির নিকটবর্তী হয়ো না, অন্যথায় তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। অতঃপর শয়তান তাদের সেখান থেকে পদস্খলিত করল এবং তারা যেখানে ছিল সেখান থেকে তাদের বের করে দিল। আর আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও, তোমরা একে অপরের শত্রু; আর পৃথিবীতে তোমাদের জন্য রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবাসস্থল ও জীবনোপকরণ। তারপর আদম তার প্রতিপালকের নিকট থেকে কিছু বাক্য শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত তাওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু। আমি বললাম, তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হিদায়াত আসে, তবে যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। আর যারা কুফরি করে এবং আমার নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করে, তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। (১)"

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো; তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তাকে বললেন, হও, ফলে সে হয়ে গেল। (২)" এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি প্রাণ থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। (৩)"

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা ৩০ - ৩৯ (২) সূরা আল-ইমরান ৫৯ (৩) সূরা আন-নিসা ১ "খণ্ড ১ - কাসাসুল আম্বিয়া ১" (*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ২)
كَمَا قَالَ: " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى، وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا، إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عليم خَبِير (1) ".

وَقَالَ تَعَالَى: " هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَة وَجعل مِنْهَا زَوجهَا ليسكن إِلَيْهَا … الْآيَةَ (2) ".

وَقَالَ تَعَالَى: " وَلَقَدْ خَلَقْنَاكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنَاكُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ لَمْ يَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ * قَالَ مَا مَنعك أَلا تسْجد إِذْ أمرنك؟ قَالَ: أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ * قَالَ فَاهْبِطْ مِنْهَا، فَمَا يَكُونُ لَكَ أَنْ تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَاخْرُجْ إِنَّكَ مِنَ الصَّاغِرِينَ * قَالَ أَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ * قَالَ إِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ * قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ * ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ، وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ * قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُومًا مَدْحُورًا لَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ أَجْمَعِينَ * وَيَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ فَكُلَا مِنْ حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ * فَوَسْوَسَ لَهما الشَّيْطَان ليبدى لَهما ماوورى عَنْهُمَا من سوآتهما، وَقَالَ مانها كَمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا أَنْ تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ * وَقَاسَمَهُمَا إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ النَّاصِحِينَ * فَدَلَّاهُمَا بِغُرُورٍ، فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا، وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ، وَنَادَاهُمَا رَبُّهُمَا أَلَمْ أَنْهَكُمَا عَنْ تِلْكُمَا الشَّجَرَةِ؟ وَأَقُلْ لَكُمَا إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمَا عَدُوٌّ مُبِينٌ؟ * قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا، وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الخاسرين * قَالَ اهبطوا بَعْضكُم لبَعض

--------------------------------------------

(1) سُورَة الحجرات 13 (2) سُورَة الاعراف 189.

(*)
যেমন তিনি বলেছেন: "হে মানুষ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, আর তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত (১)"।

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে সে তার নিকট প্রশান্তি লাভ করে … আয়াত (২)"।

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তোমাদের রূপদান করেছি, তারপর আমি ফেরেশতাদের বললাম, ‘আদমকে সেজদা করো’; তখন ইবলিস ব্যতীত সবাই সেজদা করল। সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। * তিনি বললেন, ‘আমি যখন তোমাকে নির্দেশ দিয়েছি, তখন কিসে তোমাকে সেজদা করতে বাধা দিল?’ সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দিয়ে।’ * তিনি বললেন, ‘তবে তুমি এখান থেকে নেমে যাও, এখানে থেকে অহংকার করার কোনো অধিকার তোমার নেই। সুতরাং বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত।’ * সে বলল, ‘আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।’ * তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।’ * সে বলল, ‘যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সেহেতু আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে বসে থাকব।’ * এরপর আমি অবশ্যই তাদের কাছে আসব—তাদের সামনে থেকে, তাদের পেছন থেকে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকে; আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।’ * তিনি বললেন, ‘এখান থেকে বের হয়ে যাও ধিকৃত ও বিতাড়িত অবস্থায়। তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব।’ * আর হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো, অতঃপর যেখান থেকে ইচ্ছা তোমরা উভয়ে আহার করো, কিন্তু এই গাছটির নিকটবর্তী হয়ো না, অন্যথায় তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ * অতঃপর শয়তান তাদের উভয়কে কুমন্ত্রণা দিল যাতে তাদের লজ্জাস্থান—যা তাদের নিকট গোপন রাখা হয়েছিল—তাদের নিকট প্রকাশ করে দেয় এবং সে বলল, ‘তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের এই গাছটি থেকে কেবল এই জন্যই নিষেধ করেছেন যে, পাছে তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাও অথবা তোমরা চিরঞ্জীবদের অন্তর্ভুক্ত হও।’ * আর সে তাদের উভয়ের নিকট শপথ করে বলল, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষীদের একজন।’ * এভাবে সে তাদের প্রতারণার মাধ্যমে পদস্খলন ঘটাল। অতঃপর যখন তারা সেই গাছের স্বাদ গ্রহণ করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদের আবৃত করতে লাগল। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের ডেকে বললেন, ‘আমি কি তোমাদের এই গাছটি থেকে নিষেধ করিনি এবং তোমাদের বলিনি যে, নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?’ * তারা উভয়ে বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আমাদের নিজেদের ওপর জুলুম করেছি; আর আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ * তিনি বললেন, ‘তোমরা নেমে যাও, তোমরা একে অপরের শত্রু...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হুজুরাত ১৩ (২) সূরা আল-আরাফ ১৮৯।

(*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৩)
عَدُوٌّ، وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ * قَالَ فِيهَا تَحْيَوْنَ وَفِيهَا تَمُوتُونَ

وَمِنْهَا تخرجُونَ (1) ".

كَمَا قَالَ فِي الْآيَةِ الْأُخْرَى: " مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وفيهَا نعيدكم وَمِنْهَا نخرجكم تَارَة أُخْرَى (2) ".

وَقَالَ تَعَالَى: " وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ صَلْصَالٍ مِنْ حَمَإٍ مَسْنُونٍ * وَالْجَانَّ خَلَقْنَاهُ مِنْ قَبْلُ مِنْ نَارِ السَّمُومِ * وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالق بشرا من صلصال من حمأ مَسْنُونٍ * فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ * فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ * إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى أَنْ يَكُونَ مَعَ السَّاجِدِينَ * قَالَ يَا إِبْلِيس مَالك أَلَّا تَكُونَ مَعَ السَّاجِدِينَ؟ * قَالَ لَمْ أَكُنْ لاسجد لبشر خلقته ن صلصال من حمأ مسنون.

قَالَ فَاخْرُج مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ * وَإِنَّ عَلَيْكَ اللَّعْنَةَ إِلَى يَوْمِ الدِّينِ * قَالَ رَبِّ فَأَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ * قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ * إِلَى يَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُومِ * قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ * إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ * قَالَ هَذَا صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيمٌ * إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ * وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ * لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءٌ مقسوم (3) .

وَقَالَ تَعَالَى: " وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ قَالَ أَأَسْجُدُ لِمَنْ خَلَقْتَ طِينًا؟ * قَالَ أَرَأَيْتَكَ هَذَا الَّذِي كَرَّمْتَ عَلَيَّ، لَئِنْ أَخَّرْتَنِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلَّا قَلِيلًا * قَالَ اذْهَبْ فَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ جَزَاؤُكُمْ جَزَاءً مَوْفُورًا * وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْت مِنْهُم بصوتك، وأجلب

--------------------------------------------

(1) سُورَة الاعراف 21 - 25 (2) سُورَة طه 55 (3) سُورَة الْحجر 26 - 44 (*)
শত্রু; আর তোমাদের জন্য পৃথিবীতে এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বসবাস ও জীবিকা রয়েছে। তিনি বললেন: সেখানেই তোমরা জীবন অতিবাহিত করবে এবং সেখানেই তোমরা মৃত্যুবরণ করবে

এবং সেখান থেকেই তোমাদের বের করা হবে (১)।

যেমনটি তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: "মাটি থেকেই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদের ফিরিয়ে দেব এবং সেখান থেকেই পুনরায় তোমাদের বের করব (২)।"

আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি পচা কাদা হতে তৈরি শুষ্ক ঠনঠনে মাটি থেকে। আর এর আগে আমি জিনকে সৃষ্টি করেছি প্রখর অগ্নিশিখা থেকে। আর স্মরণ করুন যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন: আমি পচা কাদা হতে তৈরি শুষ্ক ঠনঠনে মাটি থেকে একজন মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সেজদাবনত হয়ে পড়ে যেও। তখন ফেরেশতারা সবাই মিলে সেজদা করল। কিন্তু ইবলিস ছাড়া; সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে অস্বীকার করল। তিনি বললেন: হে ইবলিস! তোমার কী হলো যে তুমি সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলে না? সে বলল: আমি এমন কোনো মানুষকে সেজদা করার নই যাকে আপনি পচা কাদা হতে তৈরি শুষ্ক ঠনঠনে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।

তিনি বললেন: তবে এখান থেকে বেরিয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত। আর তোমার ওপর বিচার দিবস পর্যন্ত অভিশাপ রইল। সে বলল: হে আমার প্রতিপালক! তবে আমাকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন যেদিন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত, সেই নির্ধারিত সময়ের দিন পর্যন্ত। সে বলল: হে আমার প্রতিপালক! আপনি যেহেতু আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাই আমি অবশ্যই পৃথিবীতে তাদের নিকট (পাপকে) সুশোভিত করব এবং তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব। তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ছাড়া। তিনি বললেন: এটিই আমার কাছে পৌঁছানোর সরল পথ। নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো আধিপত্য নেই, কেবল সেই পথভ্রষ্টদের ছাড়া যারা তোমার অনুসরণ করবে। আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম তাদের সবারই প্রতিশ্রুত স্থান। এর সাতটি দরজা রয়েছে; প্রতিটি দরজার জন্য তাদের মধ্য থেকে একটি করে নির্ধারিত অংশ রয়েছে (৩)।

আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর স্মরণ করুন যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম: তোমরা আদমকে সেজদা করো; তখন ইবলিস ছাড়া তারা সবাই সেজদা করল। সে বলল: আমি কি তাকে সেজদা করব যাকে আপনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন? সে আরও বলল: আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, এই সেই ব্যক্তি যাকে আপনি আমার ওপর মর্যাদা দান করেছেন? যদি আপনি আমাকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দেন, তবে আমি সামান্য কয়েকজন ছাড়া তার বংশধরদের অবশ্যই সমূলে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেব। তিনি বললেন: চলে যাও, তাদের মধ্য থেকে যে তোমার অনুসরণ করবে, তবে নিশ্চয়ই জাহান্নামই হবে তোমাদের সবার পূর্ণ প্রতিফল। আর তোমার কণ্ঠস্বর দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারো বিচলিত করো, এবং চড়াও হও

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ ২১ - ২৫ (২) সূরা ত্বহা ৫৫ (৩) সূরা আল-হিজর ২৬ - ৪৪ (*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৪)
عَلَيْهِمْ بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ، وَشَارِكْهُمْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ، وَعِدْهُمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا * إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ وَكَفَى بِرَبِّكَ وَكيلا " (1)

وَقَالَ تَعَالَى: " وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ، فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ، أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ؟ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا " (2) .

وَقَالَ تَعَالَى ": وَلَقَدْ عَهِدْنَا إِلَى آدَمَ مِنْ قَبْلُ فَنَسِيَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْمًا * وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى * فَقُلْنَا يَا آدَمُ إِنَّ هَذَا عَدُوٌّ لَكَ وَلِزَوْجِكَ، فَلَا يُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقَى * إِنَّ لَكَ أَلَّا تَجُوعَ فِيهَا وَلَا تَعْرَى * وَأَنَّكَ لَا تَظْمَأُ فِيهَا وَلَا تَضْحَى * فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ قَالَ يَا آدَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَى شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَا يَبْلَى؟ * فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا، وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا من ورق الْجنَّة، وَعصى آد رَبَّهُ فَغَوَى * ثُمَّ اجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدَى * قَالَ اهْبِطَا مِنْهَا جَمِيعًا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدو، فإمَّا يَأْتينكُمْ منى هدى فَمن ابتع هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى * وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى * قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا * قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتنَا فنسيتهما وَكَذَلِكَ الْيَوْم تنسى (3) ".

وَقَالَ تَعَالَى: " قُلْ هُوَ نَبَأٌ عَظِيمٌ * أَنْتُمْ عَنْهُ مُعْرِضُونَ * مَا كَانَ لِيَ مِنْ عِلْمٍ بِالْمَلَإِ الْأَعْلَى إِذْ يَخْتَصِمُونَ * إِنْ يُوحَى إِلَيَّ إِلَّا أَنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُبِينٌ * إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِنْ طِينٍ * فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ * فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ * إِلَّا إِبْلِيسَ اسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ * قَالَ يَا إِبْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ؟ أَسْتَكْبَرْتَ أَمْ كُنْتَ مِنَ الْعَالِينَ؟ * قَالَ أَنا خير مِنْهُ خلقتي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ * قَالَ فَاخْرُجْ مِنْهَا

--------------------------------------------

(1) سُورَة الاسراء (2) سُورَة الْكَهْف (3) سُورَة طه (*)
"তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হও, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হও এবং তাদের প্রতিশ্রুতি দাও। আর শয়তান তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। নিশ্চয় আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো আধিপত্য নেই; আর কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার রবই যথেষ্ট।" (১)

এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর স্মরণ করো, যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, 'তোমরা আদমের প্রতি সিজদা করো', তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল; সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সে তার রবের আদেশ অমান্য করল। তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করছ, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? জালিমদের জন্য এই বিনিময় কতই না নিকৃষ্ট।" (২) ।

এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি ইতিপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে কোনো দৃঢ় সংকল্প পাইনি। আর স্মরণ করো, যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, 'তোমরা আদমকে সিজদা করো', তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল; সে অস্বীকার করল। তখন আমি বললাম, 'হে আদম! নিশ্চয় এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন কিছুতেই তোমাদের জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, তাহলে তোমরা কষ্টে পড়বে। তোমার জন্য এটাই রইল যে, তুমি এখানে ক্ষুধার্ত হবে না এবং নগ্নও হবে না। আর এখানে তোমার তৃষ্ণাও হবে না এবং রোদও পোহাতে হবে না।' অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল, সে বলল, 'হে আদম! আমি কি তোমাকে অনন্তকাল জীবিত থাকার গাছ ও অক্ষয় রাজ্যের সন্ধান দেব?' অতঃপর তারা উভয়ে তা থেকে আহার করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের বৃক্ষপল্লব দ্বারা নিজেদের ঢাকতে লাগল। আদম তার রবের অবাধ্য হলো, ফলে সে পথভ্রষ্ট হলো। এরপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, তার তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে সুপথ প্রদর্শন করলেন। তিনি বললেন, ' তোমরা উভয়ে একত্রে এখান থেকে নেমে যাও, তোমরা একে অপরের শত্রু। অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়াত আসে, তবে যে আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পড়বে না। আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব।' সে বলবে, 'হে আমার রব! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম।' তিনি বলবেন, 'এভাবেই তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; আর আজ সেভাবেই তোমাকে বিস্মৃত করা হচ্ছে' (৩) "।

এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলো, এটি এক মহাসংবাদ, যেখান থেকে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ। ঊর্ধ্বলোক যখন বাদানুবাদে লিপ্ত ছিল, তখন তাদের সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান ছিল না। আমার কাছে ওহি পাঠানো হয় কেবল এজন্য যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী। স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বলেছিলেন, 'আমি মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করছি। যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো।' তখন ফেরেশতারা সবাই মিলে সিজদা করল, ইবলিস ছাড়া; সে অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো। তিনি বললেন, 'হে ইবলিস! আমি যাকে আমার হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে কিসে তোমাকে বাধা দিল? তুমি কি অহংকার করলে, না কি তুমি উচ্চমর্যাদাবানদের অন্তর্ভুক্ত?' সে বলল, 'আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।' তিনি বললেন, 'তাহলে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইসরা (২) সূরা আল-কাহফ (৩) সূরা তাহা (*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৫)
فَإِنَّكَ رَجِيمٌ * وَإِنَّ عَلَيْكَ لَعْنَتِي إِلَى يَوْمِ الدِّينِ * قَالَ رَبِّ فَأَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ * قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ * إِلَى يَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُومِ * قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ *

إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ * قَالَ فَالْحَقُّ وَالْحَقَّ أَقُولُ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكَ وَمِمَّنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ أَجْمَعِينَ * قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ * إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ * ولتعلمن نبأه بعد حِين (1) ".

* * * فَهَذَا ذِكْرُ هَذِهِ الْقِصَّةِ مِنْ مَوَاضِعَ مُتَفَرِّقَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ، وَقَدْ تَكَلَّمْنَا عَلَى ذَلِكَ كُلِّهِ فِي التَّفْسِيرِ، ولنذكرها هُنَا مَضْمُونَ مَا دَلَّتْ عَلَيْهِ هَذِهِ الْآيَاتُ الْكَرِيمَاتُ، وَمَا يَتَعَلَّقُ بِهَا مِنَ الْأَحَادِيثِ الْوَارِدَةِ فِي ذَلِكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِاللَّهِ الْمُسْتَعَانُ.

فَأَخْبَرَ تَعَالَى أَنَّهُ خَاطَبَ الْمَلَائِكَةَ قَائِلًا لَهُم: " إنى جَاعل فِي الارض خَليفَة " أَعْلَمَ بِمَا يُرِيدُ أَنْ يَخْلُقَ مِنْ آدَمَ وَذُرِّيَّتِهِ الَّذِينَ يُخْلِفُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا كَمَا قَالَ: " وَهُوَ الذى جعلكُمْ خلائف الارض " [وَقَالَ: " ويجعلكم خلفاء الارض "] (2) فَأَخْبَرَهُمْ بِذَلِكَ عَلَى سَبِيلِ التَّنْوِيهِ بِخَلْقِ آدَمَ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا يُخْبِرُ بِالْأَمْرِ الْعَظِيمِ قَبْلَ كَوْنِهِ، فَقَالَتِ الْمَلَائِكَةُ سَائِلِينَ عَلَى وَجْهِ الِاسْتِكْشَافِ وَالِاسْتِعْلَامِ عَنْ وَجْهِ الْحِكْمَةِ لَا عَلَى وَجْهِ الِاعْتِرَاضِ وَالتَّنَقُّصِ (3) لِبَنِي آدَمَ وَالْحَسَدِ لَهُمْ، كَمَا قَدْ يَتَوَهَّمُهُ بَعْضُ جَهَلَةِ الْمُفَسِّرِينَ، قَالُوا: " أَتَجْعَلُ فِيهَا من يفْسد فِيهَا ويسفك الدِّمَاء؟ ".

قِيلَ عَلِمُوا أَنَّ ذَلِكَ كَائِنٌ بِمَا رَأَوْا مِمَّن كَانَ قبل آدم من الْجِنّ والبن (4) .

قَالَه قَتَادَة.

--------------------------------------------

(1) سُورَة ص.

(2) سَقَطت من المطبوعة.

(3) ا: وَالنَّقْص.

(4) كَذَا، ولعلها الحن، وهم طَائِفَة من الْجِنّ وَقيل ضعفتهم.

(*)
নিশ্চয় তুমি বিতাড়িত। আর বিচার দিবস পর্যন্ত তোমার ওপর রইল আমার অভিশাপ। সে বলল, হে আমার রব! তবে আমাকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন যেদিন তারা পুনরুত্থিত হবে। তিনি বললেন, নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত, নির্দিষ্ট সময়ের দিন পর্যন্ত। সে বলল, আপনার ইজ্জতের শপথ! আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব, তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদের ছাড়া। তিনি বললেন, তবে এটাই সত্য, আর আমি সত্যই বলি যে, আমি তোমার দ্বারা এবং তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, তাদের সকলকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব। বল, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না এবং আমি কৃত্রিমতাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই। এটি তো বিশ্বজগতের জন্য কেবল উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়। আর তোমরা অবশ্যই কিছুকাল পর এর সংবাদ জানতে পারবে (১)।

এটি কুরআনের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত এই কাহিনীর বর্ণনা। আমরা তাফসীরে এই সবকিছুর উপরেই বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখানে আমরা এই সম্মানীত আয়াতগুলো যা নির্দেশ করে তার সারমর্ম এবং এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ উল্লেখ করব। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ফেরেশতাদের সম্বোধন করে বলেছিলেন: "নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি (খলীফা) সৃষ্টি করতে যাচ্ছি"। তিনি যা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন অর্থাৎ আদম ও তাঁর বংশধর সম্পর্কে তাঁদের অবগত করেছেন, যারা একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হবে, যেমনটি তিনি বলেছেন: "আর তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি বানিয়েছেন" [এবং বলেছেন: "এবং তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি বানান"] (২)। তিনি আদম ও তাঁর বংশধরদের সৃষ্টির মর্যাদা ঘোষণা করার জন্য এবং কোনো মহান বিষয় ঘটার আগেই সে সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার রীতি অনুযায়ী তাঁদেরকে এ কথা জানিয়েছেন। ফেরেশতাগণ রহস্য উন্মোচন ও জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেছিলেন, আদম সন্তানদের প্রতি কোনো আপত্তি বা তাঁদের হেয় প্রতিপন্ন করার (৩) কিংবা তাঁদের প্রতি হিংসা পোষণ করে নয়, যেমনটি কতিপয় অজ্ঞ মুফাসসির ধারণা করে থাকেন। তাঁরা বলেছিলেন: "আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে?"

বলা হয়ে থাকে যে, আদমের পূর্বে যারা ছিল—অর্থাৎ জিন এবং বিন (৪)—তাদের কর্মকাণ্ড দেখেই তাঁরা এটি জানতে পেরেছিলেন।

কাতাদাহ এটি বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা সদ।

(২) মুদ্রিত সংস্করণ থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) পাণ্ডুলিপি 'আলিফ'-এ রয়েছে: এবং ত্রুটি।

(৪) মূলে এভাবেই আছে, সম্ভবত এটি হবে 'হিন', তারা জিনের একটি দল, কারো মতে তারা জিনের দুর্বল শ্রেণী।

(*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৬)
وَقَالَ عبد الله بن عمر: كَانَت الْجِنّ قَبْلَ آدَمَ بِأَلْفَيْ عَامٍ فَسَفَكُوا الدِّمَاءَ فَبَعَثَ اللَّهُ إِلَيْهِمْ جُنْدًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ (1) فَطَرَدُوهُمْ إِلَى جَزَائِرِ الْبُحُورِ.

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ نَحْوَهُ.

وَعَنِ الْحَسَنِ أُلْهِمُوا ذَلِكَ.

وَقِيلَ: لِمَا اطَّلَعُوا عَلَيْهِ مِنَ اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ، فَقِيلَ أَطْلَعَهُمْ عَلَيْهِ هَارُوتُ وَمَارُوتُ عَنْ مَلَكٍ فَوْقَهُمَا يُقَالُ لَهُ السِّجِلُّ.

رَوَاهُ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْبَاقِرِ.

وَقِيلَ: لِأَنَّهُمْ عَلِمُوا أَنَّ الْأَرْضَ لَا يَخْلُقُ مِنْهَا إِلَّا مَنْ يَكُونُ بِهَذِهِ الْمَثَابَةِ غَالِبا.

" وَنحن نُسَبِّح بحَمْدك ونقدس لَك " أَيْ نَعْبُدُكَ دَائِمًا لَا يَعْصِيكَ مِنَّا أَحَدٌ، فَإِنْ كَانَ الْمُرَادُ بِخَلْقِ هَؤُلَاءِ أَنْ يَعْبُدُوكَ فَهَا نَحْنُ لَا نَفْتُرُ لَيْلًا وَلَا نَهَارًا.

" قَالَ إنى أعلم مَا لَا تعلمُونَ " أَيْ أَعْلَمُ مِنَ الْمَصْلَحَةِ الرَّاجِحَةِ فِي خَلْقِ هَؤُلَاءِ مَالا تعلمُونَ، أَيْ سَيُوجَدُ مِنْهُمُ الْأَنْبِيَاءُ وَالْمُرْسَلُونَ وَالصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ [والصالحون (2) ] .

ثُمَّ بَيَّنَ لَهُمْ شَرَفَ آدَمَ عَلَيْهِمْ فِي الْعلم فَقَالَ: " وَعلم آدم الاسماء كلهَا ".

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: هِيَ هَذِهِ الْأَسْمَاءُ الَّتِي يَتَعَارَفُ بِهَا النَّاسُ: إِنْسَانٌ، وَدَابَّةٌ، وَأَرْضٌ، وَسَهْلٌ، وَبَحْرٌ، وَجَبَلٌ، وَجَمَلٌ، وَحِمَارٌ، وَأَشْبَاهُ ذَلِكَ مِنَ الْأُمَمِ وَغَيْرِهَا.

وَفِي رِوَايَةٍ: عَلَّمَهُ اسْمَ الصَّحْفَةِ، وَالْقِدْرِ، حَتَّى الْفَسْوَةِ وَالْفُسَيَّةِ.

وَقَالَ مُجَاهِدٌ: عَلَّمَهُ اسْم كل دَابَّة، وكل طير وكل شئ.

وَكَذَا قَالَ سعيد ابْن جُبَير [وَقَتَادَة وَغير وَاحِد (3) ] .

--------------------------------------------

(1) ا: من الْمَلَائِكَة جندا (2) سَقَطت من المطبوعة.

(3) لَيست فِي ا (*)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বলেন: আদমের দুই হাজার বছর আগে জিনেরা পৃথিবীতে ছিল। তারা রক্তপাত ঘটিয়েছিল, তাই আল্লাহ তাদের কাছে ফেরেশতাদের এক সেনাদল পাঠালেন (১), যারা তাদের সমুদ্রের দ্বীপগুলোতে তাড়িয়ে দিয়েছিল।

ইবনে আব্বাস থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

হাসান থেকে বর্ণিত যে, তাদের এ বিষয়ে ইলহাম করা হয়েছিল।

বলা হয়ে থাকে: তারা লওহে মাহফুজ থেকে যা জানতে পেরেছিল সে কারণে এমন বলেছিল; আরও বলা হয় যে, হারুত ও মারুত তাদের ওপরস্থ জনৈক ফেরেশতা থেকে জেনে তাদের অবগত করেছিলেন, যাকে 'সিজিল' বলা হয়।

এটি ইবনে আবি হাতিম আবু জাফর আল-বাকির থেকে বর্ণনা করেছেন।

আরও বলা হয় যে: কারণ তারা জানত যে, পৃথিবী থেকে যা সৃষ্টি করা হয় তা সাধারণত এই পর্যায়েরই হয়ে থাকে।

"আর আমরা আপনার প্রশংসার সাথে তাসবিহ পাঠ করি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি" অর্থাৎ আমরা সর্বদা আপনার ইবাদত করি, আমাদের মধ্য থেকে কেউ আপনার অবাধ্য হয় না। সুতরাং এদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য যদি হয় আপনার ইবাদত করা, তবে আমরা তো রাত-দিন বিন্দুমাত্র ক্লান্তি ছাড়াই তা করছি।

"তিনি বললেন: নিশ্চয় আমি যা জানি তোমরা তা জানো না" অর্থাৎ এদের সৃষ্টির মধ্যে যে প্রবল কল্যাণ নিহিত রয়েছে তা আমি জানি যা তোমরা জানো না। অর্থাৎ অচিরেই তাদের মধ্য থেকে নবী, রাসূল, সিদ্দিক, শহীদ [এবং নেককার বান্দাগণ (২)] সৃষ্টি হবেন।

অতঃপর তিনি জ্ঞানের ক্ষেত্রে ফেরেশতাদের ওপর আদমের শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট করে দিলেন এবং বললেন: "আর তিনি আদমকে সবকিছুর নাম শিক্ষা দিলেন।"

ইবনে আব্বাস বলেন: এগুলো হলো সেই সব নাম যা মানুষ একে অপরের সাথে বিনিময়ে ব্যবহার করে থাকে: যেমন মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু, জমিন, সমভূমি, সমুদ্র, পাহাড়, উট, গাধা এবং এই জাতীয় অন্যান্য সৃষ্টি ও বিষয়াবলী।

অন্য এক বর্ণনায় আছে: তিনি তাকে থালা ও ডেকচির নাম পর্যন্ত শিখিয়েছেন, এমনকি সামান্য বায়ু নির্গমনের প্রকারসমূহও।

মুজাহিদ বলেন: তিনি তাকে প্রতিটি চতুষ্পদ জন্তু, প্রতিটি পাখি এবং প্রতিটি জিনিসের নাম শিখিয়েছেন।

সাঈদ ইবনে জুবায়ের [কাতাদাহ এবং আরও অনেকে (৩)] অনুরূপ বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) আলিফ (পান্ডুলিপিতে): ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এক সেনাদল। (২) এটি মুদ্রিত কপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) এটি আলিফ (পান্ডুলিপিতে) নেই (*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৭)
وَقَالَ الرَّبِيعُ: عَلَّمَهُ أَسْمَاءَ الْمَلَائِكَةِ.

وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدٍ: عَلَّمَهُ أَسْمَاءَ ذُرِّيَّتِهِ.

وَالصَّحِيحُ: أَنه علمه أَسمَاء الذورات وَأَفْعَالَهَا مُكَبَّرَهَا وَمُصَغَّرَهَا، كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما.

وَذَكَرَ الْبُخَارِيُّ هُنَا مَا رَوَاهُ هُوَ وَمُسْلِمٌ مِنْ طَرِيقِ سَعِيدٍ وَهِشَامٍ عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " يَجْتَمِعُ الْمُؤْمِنُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُولُونَ لَوِ اسْتَشْفَعْنَا إِلَى رَبِّنَا، فَيَأْتُونَ آدَمَ فَيَقُولُونَ أَنْتَ أَبُو الْبَشَرِ، خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ، وَأَسْجَدَ لَكَ مَلَائِكَتَهُ، وَعَلَّمَكَ أَسمَاء كل شئ " وَذَكَرَ تَمَامَ الْحَدِيثِ.

" ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ".

قَالَ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ: لَمَّا أَرَادَ اللَّهُ خَلْقَ آدَمَ، قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ: لَا يَخْلُقُ رَبُّنَا خَلْقًا إِلَّا كُنَّا أَعْلَمَ مِنْهُ.

فَابْتُلُوا بِهَذَا.

وَذَلِكَ قَوْله " إِن كُنْتُم صَادِقين ".

وَقِيلَ غَيْرُ ذَلِكَ كَمَا بَسَطْنَاهُ فِي التَّفْسِيرِ.

قَالُوا: " سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّك أَنْت الْعَلِيم الْحَكِيم " أَي سُبْحَانَكَ أَن يُحِيط أحد بشئ مِنْ عِلْمِكَ مِنْ غَيْرِ تَعْلِيمِكَ، كَمَا قَالَ: " وَلَا يحيطون بشئ من علمه إِلَّا بِمَا شَاءَ ".

" قَالَ يَا آدَمُ أَنْبِئْهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ، فَلَمَّا أَنْبَأَهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غيب السَّمَوَات وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ؟ " أَيْ أَعْلَمُ السِّرَّ كَمَا أَعْلَمُ الْعَلَانِيَةَ.

وَقِيلَ إِن المُرَاد بقوله: " أعلم مَا تبدون " مَا قَالُوا: أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ
এবং রাবী' বলেছেন: তিনি তাকে ফেরেশতাদের নাম শিক্ষা দিয়েছেন।

আর আবদুর রহমান ইবনে যায়দ বলেছেন: তিনি তাকে তার বংশধরদের নাম শিক্ষা দিয়েছেন।

আর সঠিক মত হলো: তিনি তাকে সকল সৃষ্টির নাম এবং তাদের কার্যাবলি—তা বড় হোক বা ছোট—সবকিছুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) ইঙ্গিত করেছেন।

ইমাম বুখারী এখানে সেই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যা তিনি এবং ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন সাঈদ ও হিশামের সূত্রে কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মুমিনরা একত্রিত হবে এবং বলবে, যদি আমরা আমাদের রবের কাছে সুপারিশ প্রার্থনা করতাম! এরপর তারা আদমের কাছে আসবে এবং বলবে, আপনি মানবজাতির পিতা, আল্লাহ আপনাকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার জন্য তাঁর ফেরেশতাদের সিজদা করিয়েছেন এবং আপনাকে সবকিছুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন।" এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

"অতঃপর তিনি সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও।"

হাসান বসরী বলেন: যখন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন, তখন ফেরেশতারা বলেছিল: আমাদের রব এমন কোনো সৃষ্টি করবেন না যার চেয়ে আমরা বেশি জ্ঞানী হব না।

তাই তারা এর মাধ্যমে পরীক্ষার সম্মুখীন হলো।

আর এটিই হলো তাঁর বাণী— "যদি তোমরা সত্যবাদী হও"।

এ ছাড়া আরও মতামত বর্ণিত হয়েছে যেমনটি আমরা তাফসীরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

তারা বলল: "আপনি পরম পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।" অর্থাৎ, আপনি পবিত্র এ থেকে যে আপনার শিক্ষা দান ছাড়া কেউ আপনার জ্ঞানের কোনো কিছু আয়ত্ত করতে পারবে, যেমনটি তিনি বলেছেন: "আর তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া।"

"তিনি বললেন, হে আদম! তুমি তাদেরকে এগুলোর নাম বলে দাও। যখন সে তাদেরকে এগুলোর নাম বলে দিল, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয়ই আমি আসমান ও জমিনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত এবং তোমরা যা প্রকাশ করো আর যা গোপন করতে তা-ও আমি জানি?" অর্থাৎ, আমি গোপন বিষয় জানি যেমনটি আমি প্রকাশ্য বিষয় জানি।

আর বলা হয়েছে যে, তাঁর বাণী "তোমরা যা প্রকাশ করো আমি তা জানি"—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদের এই উক্তি: "আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে ফাসাদ সৃষ্টি করবে?"
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৮)
فِيهَا، وَبِقَوْلِهِ " وَمَا كُنْتُم تكتمون " المُرَاد بِهَذَا الْكَلَام إِبْلِيس حِين أسر الْكبر والنفاسة (1) على آدم عليه السلام.

قَالَهُ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ وَمُجَاهِدٌ وَالسُّدِّيُّ وَالضَّحَّاكُ وَالثَّوْرِيُّ وَاخْتَارَهُ ابْنُ جَرِيرٍ.

وَقَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ وَالرَّبِيعُ وَالْحَسَنُ وَقَتَادَةُ: " وَمَا كُنْتُمْ تكتمون " قَوْلُهُمْ: لَنْ يَخْلُقَ رَبُّنَا خَلْقًا إِلَّا كُنَّا أعلم مِنْهُ وَأكْرم عَلَيْهِ مِنْهُ.

وَقَوله: " وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيس أَبى واستكبر " هَذَا إِكْرَامٌ عَظِيمٌ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى لِآدَمَ حِينَ خَلَقَهُ بِيَدِهِ، وَنَفَخَ فِيهِ مِنْ رُوحِهِ، كَمَا قَالَ: " فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ روحي فقعوا لَهُ ساجدين " فَهَذِهِ أَرْبَعُ تَشْرِيفَاتٍ: خَلْقُهُ لَهُ بِيَدِهِ الْكَرِيمَةِ، ونفخه مِنْ رُوحِهِ، وَأَمْرُهُ (2) الْمَلَائِكَةَ بِالسُّجُودِ لَهُ، وَتَعْلِيمُهُ أَسْمَاءَ الْأَشْيَاءِ.

وَلِهَذَا قَالَ لَهُ مُوسَى الْكِلِيمُ حِينَ اجْتَمَعَ هُوَ وَإِيَّاهُ فِي الْمَلَأِ الْأَعْلَى وتناظر كَمَا سَيَأْتِي: أَنْتَ آدَمُ أَبُو الْبَشَرِ الَّذِي خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ، وَنَفَخَ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ، وأسجد لَك مَلَائكَته، وعلمك أَسمَاء كل شئ.

وَهَكَذَا يَقُولُ [لَهُ (3) ] أَهْلُ الْمَحْشَرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَمَا تَقَدَّمَ، وَكَمَا سَيَأْتِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.

وَقَالَ فِي الْآيَةِ الْأُخْرَى: " وَلَقَدْ خَلَقْنَاكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنَاكُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ لَمْ يَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ * قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ قَالَ أَنا خير مِنْهُ خلقتي من نَار وخلقته من طين ".

قَالَ الْحسن الْبَصْرِيّ: قَاس إِبْلِيس وَهُوَ أول من قَاس.

وَقَالَ مُحَمَّد بن

--------------------------------------------

(1) المطبوعة: والتخيرة.

(2) ا: وَأمر.

(3) من ا (*)
এতে, এবং তাঁর বাণী "এবং তোমরা যা গোপন করতে" - এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইবলিস, যখন সে আদমের (আলাইহিস সালাম) প্রতি অহংকার ও ঈর্ষা (১) গোপন করেছিল।

সাঈদ ইবনে জুবায়ের, মুজাহিদ, সুদ্দী, দাহহাক ও সাওরী এটি বলেছেন এবং ইবনে জারীর একে মনোনীত করেছেন।

আবুল আলীয়াহ, রাবী, হাসান ও কাতাদাহ বলেছেন: "এবং তোমরা যা গোপন করতে" হলো তাদের উক্তি: "আমাদের রব এমন কোনো সৃষ্টি করবেন না যার চেয়ে আমরা অধিক জ্ঞানী এবং তাঁর কাছে অধিক সম্মানিত না হব।"

আর তাঁর বাণী: "এবং যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমের প্রতি সিজদাবনত হও, তখন ইবলিস ব্যতীত সকলে সিজদাবনত হলো; সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল।" এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আদমের জন্য এক মহান সম্মান ছিল যখন তিনি তাঁকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর মধ্যে তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: "অতঃপর যখন আমি তাঁকে সুঠাম করব এবং তাঁর মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তাঁর প্রতি সিজদাবনত হয়ে পড়ো।" এই হলো চারটি বিশেষ মর্যাদা: তাঁর সম্মানিত হাত দিয়ে তাঁকে সৃষ্টি করা, তাঁর রূহ থেকে তাতে ফুঁকে দেওয়া, ফেরেশতাদের তাঁর প্রতি সিজদার আদেশ দেওয়া এবং তাঁকে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দেওয়া।

এই কারণেই কালিমুল্লাহ মূসা যখন ঊর্ধ্বলোকে তাঁর সাথে মিলিত হয়েছিলেন এবং বিতর্ক করেছিলেন—যা সামনে আসবে—তখন তাঁকে বলেছিলেন: "আপনিই সেই আদম, মানবজাতির পিতা, যাঁকে আল্লাহ তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার মধ্যে তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা করিয়েছেন এবং আপনাকে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন।"

একইভাবে কিয়ামতের দিন হাশরবাসীগণও তাঁকে [তাঁকে (৩)] এ কথা বলবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনেও আসবে।

তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: "অবশ্যই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তোমাদের আকৃতি দান করেছি, তারপর আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমের প্রতি সিজদাবনত হও; তখন ইবলিস ব্যতীত তারা সকলে সিজদাবনত হলো, সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তিনি বললেন, আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কিসে তোমাকে সিজদা করতে বাধা দিল? সে বলল, আমি তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে কাদা থেকে সৃষ্টি করেছেন।"

হাসান বসরী বলেন: ইবলিস কিয়াস (যুক্তি প্রদর্শন) করেছিল এবং সে-ই প্রথম যে কিয়াস করেছে।

এবং মুহাম্মদ ইবনে...

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে: এবং পছন্দনীয়তা।

(২) আলিফ পাণ্ডুলিপিতে: এবং আদেশ।

(৩) আলিফ পাণ্ডুলিপি থেকে (*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ৯)
سِيرِين: أول من قَاس إِبْلِيس، وَمَا عبدت الشَّمْس و [لَا] (1) الْقَمَر إِلَّا بالمقاييس، رَوَاهُمَا ابْن جرير.

وَمعنى هَذَا أَنه نظر نَفسه بطرِيق المقايسة بَينه وَبَين آدم، فَرَأى نَفسه أشرف من آدم فَامْتنعَ من السُّجُود لَهُ، مَعَ وجود الامر لَهُ ولسائر الْمَلَائِكَة بِالسُّجُود.

وَالْقِيَاس إِذا كَانَ مُقَابلا بِالنَّصِّ كَانَ فَاسد الِاعْتِبَار.

ثمَّ هُوَ فَاسد فِي نَفسه، فَإِن الطين أَنْفَع وَخير من النَّار، لَان الطين فِيهِ الرزانة والحلم والاناة والنمو، وَالنَّار فِيهَا الطيش والخفة والسرعة والاحراق.

ثمَّ آدم شرفه الله بخلقه لَهُ بِيَدِهِ ونفخه فِيهِ من روحه، وَلِهَذَا أَمر الْمَلَائِكَة بِالسُّجُود لَهُ، كَمَا قَالَ: " وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا من صلصال من حمأ مسنون.

فَإِذا سويته وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ.

فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى أَنْ يَكُونَ مَعَ السَّاجِدِينَ.

قَالَ: يَا إِبْلِيسُ مَالك أَلَّا تَكُونَ مَعَ السَّاجِدِينَ قَالَ: لَمْ أَكُنْ لأسجد لبشر خلقته من صلصال من حمأ مَسْنُونٍ قَالَ: فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ.

وَإِنَّ عَلَيْك اللَّعْنَة إِلَى يَوْم الدّين " اسْتَحَقَّ هَذَا مِنَ اللَّهِ تَعَالَى لِأَنَّهُ اسْتَلْزَمَ تنقصه لآدَم وازدراءه بِهِ وَتَرَفُّعُهُ عَلَيْهِ مُخَالَفَةَ الْأَمْرِ الْإِلِهِيِّ، وَمُعَانَدَةَ الْحَقِّ فِي النَّصِّ عَلَى آدَمَ عَلَى التَّعْيِينِ.

وَشَرَعَ فِي الِاعْتِذَارِ بِمَا لَا يُجْدِي عَنْهُ شَيْئًا، وَكَانَ اعْتِذَارُهُ أَشَدَّ مِنْ ذَنْبِهِ كَمَا قَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ سُبْحَانَ: " وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ قَالَ أَأَسْجُدُ لِمَنْ خَلَقْتَ طِينًا؟ قَالَ أَرَأَيْتَكَ هَذَا الذى كرمت على لَئِن أحرتنى إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلَّا قَلِيلًا.

قَالَ اذْهَبْ فَمن تبعك

--------------------------------------------

(1) لَيست فِي ا.

(*)
সীরীন বলেন: সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি কিয়াস (তুলনামূলক অনুমান) করেছে সে হলো ইবলিস। আর সূর্য ও চন্দ্রের ইবাদত কিয়াসের মাধ্যমেই করা হয়েছে; ইবনে জারীর এই দুটি বর্ণনা করেছেন।

এর অর্থ হলো, সে নিজের ও আদমের মধ্যে তুলনামূলক বিচার বা কিয়াসের দৃষ্টিতে তাকিয়েছে, ফলে সে নিজেকে আদমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করেছে এবং তাকে সিজদা করতে অস্বীকার করেছে; অথচ তাকে ও সমস্ত ফেরেশতাকে সিজদা করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

আর কিয়াস বা অনুমান যখন অকাট্য দলিলের (নস) বিপরীতে হয়, তখন তা অসার বলে গণ্য হয়।

তাছাড়া এটি (তার কিয়াস) আপন সত্তার দিক থেকেও ভ্রান্ত, কারণ মাটি অগ্নির চেয়ে অধিক উপকারী ও উত্তম। কেননা মাটিতে রয়েছে গাম্ভীর্য, সহনশীলতা, ধীরস্থিরতা এবং প্রবৃদ্ধি; পক্ষান্তরে অগ্নিতে রয়েছে অস্থিরতা, চপলতা, ক্ষিপ্রতা এবং দাহন।

তদুপরি আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ হাতে সৃষ্টি করে এবং তাঁর রূহ থেকে তাতে ফুঁক দিয়ে তাকে সম্মানিত করেছেন। এই কারণেই তিনি ফেরেশতাদের তাকে সিজদা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: "স্মরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বলেছিলেন: আমি শুষ্ক ও পচা কাদা হতে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।

অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁক দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো।

অতঃপর ফেরেশতারা সবাই মিলে সিজদা করল, ইবলিস ছাড়া; সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে অস্বীকার করল।

আল্লাহ বললেন: হে ইবলিস! তোমার কী হলো যে তুমি সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলে না? সে বলল: আমি এমন এক মানুষকে সিজদা করার নই যাকে আপনি শুষ্ক ও পচা কাদা হতে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বললেন: তবে এখান থেকে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি অভিশপ্ত।

এবং বিচার দিবস পর্যন্ত তোমার উপর লানত রইল।" সে মহান আল্লাহর নিকট থেকে এই দণ্ড পাওয়ার যোগ্য হয়েছে, কারণ সে আদমকে খাটো করেছে, তাকে তুচ্ছজ্ঞান করেছে এবং তার ওপর নিজেকে বড় মনে করে আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করেছে, আর আদমের শ্রেষ্ঠত্ব সুনির্দিষ্টভাবে সাব্যস্ত হওয়ার অকাট্য দলিলের বিরুদ্ধে হঠকারিতা প্রদর্শন করেছে।

অতঃপর সে এমন সব অজুহাত পেশ করতে শুরু করল যা তার কোনো কাজেই আসল না, বরং তার অজুহাতগুলো ছিল তার পাপের চেয়েও জঘন্য; যেমনটি মহান আল্লাহ সূরা সুবহানে বলেছেন: "স্মরণ করো, যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, আদমকে সিজদা করো; তখন ইবলিস ছাড়া তারা সবাই সিজদা করল। সে বলল: আমি কি তাকে সিজদা করব যাকে আপনি কাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন? সে আরও বলল: দেখুন তো, এই সেই ব্যক্তি যাকে আপনি আমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন! আপনি যদি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত আমাকে সময় দেন, তবে আমি অল্প কয়েকজন ছাড়া তার বংশধরদের অবশ্যই বশীভূত করে ফেলব।

আল্লাহ বললেন: চলে যাও, অতঃপর তাদের মধ্যে যে কেউ তোমার অনুসরণ করবে..."

--------------------------------------------

(১) এটি পাণ্ডুলিপি 'আলিফ'-এ নেই।

(*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১০)
مِنْهُمْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ جَزَاؤُكُمْ جَزَاءً مَوْفُورًا، وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِمْ بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ وَعِدْهُمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا.

إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَك عَلَيْهِم سُلْطَان وَكفى بِرَبِّك وَكيلا ".

وَقَالَ فِي سُورَةِ الْكَهْفِ: " وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاء من دوني " أَيْ خَرَجَ عَنْ طَاعَةِ اللَّهِ عَمْدًا وَعِنَادًا وَاسْتِكْبَارًا عَنِ امْتِثَالِ أَمْرِهِ، وَمَا ذَاكَ إِلَّا لانه خانه طبعه ومادته الْخَبِيثَةُ أَحْوَجَ مَا كَانَ إِلَيْهَا، فَإِنَّهُ مَخْلُوقٌ

من ناركما قَالَ، وكما جَاءَ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ، وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ، وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ ".

قَالَ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ: لَمْ يَكُنْ إِبْلِيسُ مِنَ الْمَلَائِكَةِ طَرْفَةَ عَيْنٍ قَطُّ.

وَقَالَ شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ: كَانَ مِنَ الْجِنِّ، فَلَمَّا أَفْسَدُوا فِي الْأَرْضِ بَعَثَ اللَّهُ إِلَيْهِمْ جُنْدًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ فَقَتَلُوهُمْ وَأَجْلَوْهُمْ إِلَى جَزَائِرِ الْبِحَارِ، وَكَانَ إِبْلِيسُ مِمَّنْ أُسِرَ فَأَخَذُوهُ مَعَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فَكَانَ هُنَاكَ، فَلَمَّا أُمِرَتِ الْمَلَائِكَةُ بِالسُّجُودِ امْتَنَعَ إِبْلِيسُ مِنْهُ.

وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ وَابْنُ عَبَّاسٍ وَجَمَاعَةٌ مِنَ الصَّحَابَةِ وَسَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَآخَرُونَ: كَانَ إِبْلِيسُ رَئِيسَ الْمَلَائِكَةِ بِالسَّمَاءِ الدُّنْيَا.

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: وَكَانَ اسْمُهُ عَزَازِيلَ، وَفِي رِوَايَةٍ عَنْهُ (1) : الْحَارِثُ.

قَالَ النَّقَّاشُ: وَكُنْيَتُهُ أَبُو كُرْدُوسَ.

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: وَكَانَ مِنْ حَيٍّ مِنَ الْمَلَائِكَةِ يُقَال لَهُم الْجِنّ،

--------------------------------------------

(1) المطبوعة: عَن وَهُوَ تَحْرِيف.

(*)
তাদের মধ্য হতে যারা তোমাকে অনুসরণ করবে তাদের শাস্তি হবে জাহান্নাম, যা তোমাদের কর্মফল হিসেবে পরিপূর্ণ। আর তাদের মধ্য হতে যাকে পারো তোমার কণ্ঠস্বর দ্বারা প্ররোচিত করো, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হও, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হয়ে যাও এবং তাদের প্রতিশ্রুতি দাও। আর শয়তান তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়।

"নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো ক্ষমতা নেই এবং কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।"

তিনি সূরা আল-কাহফে বলেছেন: "স্মরণ করো, যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, 'তোমরা আদমের প্রতি সিজদা করো', তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সে তার প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল। তবে কি তোমরা আমাকে বাদ দিয়ে তাকে এবং তার বংশধরদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করছ?" অর্থাৎ, সে আল্লাহর আনুগত্য থেকে স্বেচ্ছায়, একগুঁয়েমি করে এবং তাঁর আদেশ পালনে অহংকারবশত বের হয়ে গিয়েছিল। আর তা কেবল এজন্যই যে, তার স্বভাব এবং তার নিকৃষ্ট মূল উপাদান তাকে সেই মুহূর্তেই প্রতারিত করেছিল যখন তার সেটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। কেননা সে সৃষ্টি হয়েছে

অগ্নি থেকে, যেমনটি তিনি বলেছেন। আর সহীহ মুসলিমে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নূর (আলো) থেকে, জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে অগ্নিশিখা থেকে এবং আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা থেকে যার বর্ণনা তোমাদের দেওয়া হয়েছে।"

হাসান বসরী (রহ.) বলেন: ইবলিস এক পলকের জন্যও কখনো ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

শহর বিন হাওশাব বলেন: সে জিনদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যখন তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করল, তখন আল্লাহ তাদের কাছে ফেরেশতাদের এক বাহিনী পাঠালেন। তারা তাদের হত্যা করল এবং সমুদ্রের দ্বীপসমূহে বিতাড়িত করল। ইবলিস ছিল বন্দীদের একজন, তাই তারা তাকে সাথে করে আকাশে নিয়ে গেল এবং সে সেখানেই ছিল। অতঃপর যখন ফেরেশতাদের সিজদা করার আদেশ দেওয়া হলো, তখন ইবলিস তা থেকে বিরত থাকল।

ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস ও একদল সাহাবী এবং সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ও অন্যান্যেরা বলেছেন: ইবলিস ছিল দুনিয়ার আকাশের ফেরেশতাদের প্রধান।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: তার নাম ছিল আজাজিল। আর তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় (১): আল-হারিস।

আন-নাককাশ বলেন: তার উপনাম ছিল আবু কুরদুস।

ইবনে আব্বাস বলেন: সে ফেরেশতাদের একটি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল যাদেরকে 'জিন' বলা হতো।

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে: 'আন' (থেকে), যা একটি বিকৃতি।

(*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১১)
وَكَانُوا خزان الْجنان، وَكَانَ من أَشْرَفهم و [من] (1) أَكْثَرهم عِلْمًا وَعِبَادَةً، وَكَانَ مِنْ أُولِى الْأَجْنِحَةِ الْأَرْبَعَةِ فَمَسَخَهُ اللَّهُ شَيْطَانًا رَجِيمًا.

وَقَالَ فِي سُورَةِ ص: " وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِنْ طِينٍ فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ.

فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ.

إِلَّا إِبْلِيسَ اسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ.

قَالَ: يَا إِبْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ أَسْتَكْبَرْتَ أَمْ كُنْتَ مِنَ الْعَالِينَ.

قَالَ: أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ قَالَ: فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ وَإِنَّ عَلَيْكَ لَعْنَتِي إِلَى يَوْمِ الدِّينِ.

قَالَ: رَبِّ فَأَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ.

قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ إِلَى

يَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُومِ قَالَ: فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ.

قَالَ: فَالْحَقُّ وَالْحَقَّ أَقُولُ.

لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّم مِنْك وَمِمَّنْ تبعك مِنْهُم أَجْمَعِينَ " وَقَالَ فِي سُورَةِ الْأَعْرَافِ: " قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لافعدن لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ * ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ، وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ، وَلَا تَجِد أَكْثَرهم شاكرين " أَيْ بِسَبَبِ إِغْوَائِكَ إِيَّايَ لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ، وَلِآتِيَنَّهُمْ مِنْ كُلِّ جِهَةٍ مِنْهُمْ، فَالسَّعِيدُ من خَالفه والشقى من اتبعهُ.

وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا أَبُو عقيل - هُوَ عبد الله ابْن عَقِيلٍ الثَّقَفِيُّ - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ سَبْرَةَ بْنِ أَبِي الْفَاكِهِ (2) قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ الشَّيْطَانَ قَعَدَ (3) لَا بن آدم بأَطْرُقِهِ " وَذكر الحَدِيث.

* * *

--------------------------------------------

(1) من ا.

(2) ا: فا كه.

(3) ط: يقْعد.

(*)
তারা জান্নাতের রক্ষক ছিল, আর সে (ইবলিস) ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম সম্মানিত এবং তাদের মধ্যে জ্ঞান ও ইবাদতের দিক থেকে অগ্রগণ্য। সে চার পাখাবিশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, অতঃপর আল্লাহ তাকে অভিশপ্ত শয়তানে রূপান্তরিত করেন।

এবং তিনি সূরা সোয়াদ-এ বলেছেন: "স্মরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, আমি মাটি থেকে একজন মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। যখন আমি তাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেব এবং তাতে আমার পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো।

তখন ফেরেশতারা সবাই মিলে সিজদা করল।

কিন্তু ইবলিস ব্যতীত; সে অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।

তিনি বললেন: হে ইবলিস! আমি যাকে আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদা করতে কিসে তোমাকে বাধা দিল? তুমি কি অহংকার করলে, নাকি তুমি উচ্চ মর্যাদাবানদের অন্তর্ভুক্ত?

সে বলল: আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। তিনি বললেন: তাহলে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত। আর তোমার ওপর আমার লানত থাকবে বিচার দিবস পর্যন্ত।

সে বলল: হে আমার প্রতিপালক! তাহলে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন।

তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত, নির্ধারিত সময়ের দিন

পর্যন্ত। সে বলল: আপনার ইজ্জতের কসম! আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব, তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ব্যতীত।

তিনি বললেন: তবে এটাই সত্য, আর আমি সত্যই বলি।

অবশ্যই আমি তোমাকে দিয়ে এবং তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে তাদের সবাইকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব।" এবং তিনি সূরা আল-আরাফে বলেছেন: "সে বলল, যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাই আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে বসে থাকব। তারপর আমি তাদের কাছে আসব তাদের সামনে থেকে, তাদের পেছন থেকে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকে; আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।" অর্থাৎ, আমাকে বিভ্রান্ত করার কারণে আমি তাদের প্রতিটি ঘাঁটিতে ওত পেতে থাকব এবং তাদের প্রতিটি দিক থেকে তাদের নিকট আসব। সুতরাং সৌভাগ্যবান সে-ই যে তার বিরোধিতা করবে এবং হতভাগা সে-ই যে তার অনুসরণ করবে।

ইমাম আহমাদ বলেছেন: হাশিম ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আকিল—যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আকিল আস-সাকাফী—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে মুসাইয়িব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিম ইবনে আবিল জা'দ থেকে, তিনি সাবরাহ ইবনে আবিল ফাকিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই শয়তান আদম সন্তানের পথে ওত পেতে বসে থাকে..." এবং তিনি হাদিসটি পূর্ণ উল্লেখ করেন।

* * *

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি 'আ' থেকে।

(২) আ: ফাকিহ।

(৩) ত্বা: সে বসে থাকবে।

(*)
(খণ্ড: ১) কাসাসুল আম্বিয়া মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ (পৃষ্ঠা: ১২)
وَقَدِ اخْتَلَفَ الْمُفَسِّرُونَ فِي الْمَلَائِكَةِ الْمَأْمُورِينَ بِالسُّجُودِ لِآدَمَ: أَهُمْ جَمِيعُ الْمَلَائِكَةِ كَمَا دَلَّ عَلَيْهِ عُمُومُ الْآيَاتِ؟ وَهُوَ قَوْلُ الْجُمْهُورِ.

أَوِ الْمُرَادُ بِهِمْ مَلَائِكَةُ الْأَرْضِ؟ كَمَا رَوَاهُ ابْنُ جَرِيرٍ مِنْ طَرِيقِ الضَّحَّاكِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَفِيهِ انْقِطَاعٌ وَفِي السِّيَاقِ نَكَارَةٌ، وَإِنْ كَانَ بَعْضُ الْمُتَأَخِّرِينَ قَدْ رَجَّحَهُ.

وَلَكِنَّ الْأَظْهَرَ مِنَ السِّيَاقَاتِ الْأَوَّلُ، وَيَدُلُّ عَلَيْهِ الْحَدِيثُ: " وَأَسْجَدَ لَهُ مَلَائِكَتَهُ " وَهَذَا عُمُومٌ أَيْضًا وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

وَقَوْلُهُ تَعَالَى لابليس: " اهبط مِنْهَا " و " اخْرُج مِنْهَا " دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ كَانَ فِي السَّمَاءِ فَأُمِرَ بِالْهُبُوطِ مِنْهَا، وَالْخُرُوجِ مِنَ الْمَنْزِلَةِ وَالْمَكَانَةِ الَّتِى كَانَ قد نالها

بِعِبَادَتِهِ، وتشبه بِالْمَلَائِكَةِ فِي الطَّاعَةِ وَالْعِبَادَةِ، ثُمَّ سَلَبَ ذَلِكَ بِكِبْرِهِ وَحَسَدِهِ وَمُخَالَفَتِهِ لِرَبِّهِ، فَأُهْبِطَ إِلَى الْأَرْضِ مَذْءُومًا مَدْحُورًا.

* * * وَأَمَرَ اللَّهُ آدَمَ عليه السلام أَنْ يَسْكُنَ هُوَ وَزَوْجَتُهُ الْجَنَّةَ فَقَالَ: " وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَة فتكونا من الظَّالِمين ".

وَقَالَ فِي الْأَعْرَافِ: " قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُومًا مَدْحُورًا لمن تبعك مِنْهُم لاملان جَهَنَّم مِنْك أَجْمَعِينَ * وَيَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ فَكُلَا مِنْ حَيْثُ شِئْتُمَا، وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَة فتكونا من الظَّالِمين ".

وَقَالَ تَعَالَى: " وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى *
আদমকে সেজদা করার জন্য আদিষ্ট ফেরেশতাদের ব্যাপারে মুফাসসিরগণ মতভেদ করেছেন: তারা কি সকল ফেরেশতা ছিলেন যেমনটি আয়াতের ব্যাপক অর্থ নির্দেশ করে? আর এটিই জমহুর বা সংখ্যাগুরু উলামাদের মত।

নাকি এর দ্বারা কেবল পৃথিবীর ফেরেশতাদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে? যেমনটি ইবনে জারীর দাহহাকের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে এবং বর্ণনাভঙ্গিতেও অসংগতি রয়েছে, যদিও পরবর্তীকালের কোনো কোনো আলিম একে প্রাধান্য দিয়েছেন।

কিন্তু বর্ণনাভঙ্গি অনুযায়ী প্রথম মতটিই অধিকতর স্পষ্ট। আর হাদিসও এর সপক্ষে প্রমাণ দেয়: "তিনি তাঁর সকল ফেরেশতাকে দিয়ে তাঁকে সেজদা করিয়েছেন।" এটিও ব্যাপক অর্থবোধক। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

ইবলিসের প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: "এখান থেকে নেমে যাও" এবং "এখান থেকে বের হয়ে যাও" - এটি প্রমাণ করে যে সে আসমানে ছিল। অতঃপর তাকে সেখান থেকে নেমে যাওয়ার এবং সে যে উচ্চ মর্যাদা ও অবস্থান লাভ করেছিল তা থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়

যা সে তার ইবাদতের মাধ্যমে এবং আনুগত্য ও উপাসনায় ফেরেশতাদের সাদৃশ্য অবলম্বনের মাধ্যমে অর্জন করেছিল। এরপর তার অহংকার, হিংসা এবং তার রবের অবাধ্যতার কারণে সে তা হারাল। অতঃপর তাকে ধিকৃত ও বিতাড়িত অবস্থায় পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হলো।

* * * এবং আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম)-কে আদেশ দিলেন যে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী যেন জান্নাতে বসবাস করেন। তিনি বললেন: "আর আমি বললাম, হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং যেখান থেকে ইচ্ছা স্বচ্ছন্দে আহার করো, কিন্তু এই বৃক্ষটির নিকটবর্তী হয়ো না; অন্যথায় তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"

আর সূরা আরাফে ইরশাদ হয়েছে: "তিনি বললেন, তুমি এখান থেকে ধিকৃত ও বিতাড়িত অবস্থায় বের হয়ে যাও। তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, আমি অবশ্যই তোমাদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব। আর হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো, অতঃপর যেখান থেকে ইচ্ছা উভয়ে আহার করো, কিন্তু এই বৃক্ষটির নিকটবর্তী হয়ো না, অন্যথায় তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"

আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সেজদা করো, তখন ইবলিস ব্যতীত তারা সকলেই সেজদা করল; সে অস্বীকার করল।"