(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: -)
فضائل القرآن لابن الضريس القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: فضائل القرآن وما أنزل من القرآن بمكة وما أنزل بالمدينة
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أيوب بن يحيى بن الضريس بن يسار الضريس البجلي الرازي (ت 294هـ)
تحقيق: غزوة بدير
الناشر: دار الفكر، دمشق - سورية
الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1987 م
عدد الصفحات: 129
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে আদ-দোরিসের ফাদাইলুল কুরআন বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান এবং তাফসিরের মূলনীতি
গ্রন্থ: ফাদাইলুল কুরআন এবং মক্কায় ও মদিনায় যা অবতীর্ণ হয়েছে
লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন ইয়াহইয়া বিন আদ-দোরিস বিন ইয়াসার আদ-দোরিস আল-বাজালি আর-রাজি (মৃত্যু: ২৯৪ হিজরি)
তাহকিক: গাজওয়াহ বুদাইর
প্রকাশক: দারুল ফিকর، দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৯
[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
1 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عِيسَى الرَّمْلِيُّ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ رَجُلٍ قَدْ سَمَّاهُ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: " كُنْتُ رَجُلًا فِي لِسَانِي لَكْنَةٌ، فَقِيلَ لِي: لَا تُعَلِّمِ الْقُرْآنَ حَتَّى تَعَلَّمَ الْعَرَبِيَّةَ. فَأَتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقُلْتُ: إِنَّهُمْ يَضْحَكُونَ، وَيَقُولُونَ: الْعَرَبِيَّةَ. فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «إِنَّكَ فِي زَمَانٍ تُحْفَظُ فِيهِ حُدُودُ الْقُرْآنِ، وَلَا يُبَالُونَ حِفْظَ كَثِيرٍ مِنْ حُرُوفِهِ، وَسَيَكُونُ قَوْمٌ بَعْدَكُمْ بِزَمَانٍ تَحْفَظُ فِيهِ حُرُوفَ الْقُرْآنِ، وَتُضَيِّعُ فِيهِ حُدُودَهُ»
১ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমায়র আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ঈসা আর-রামলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আল-আ'মাশ থেকে, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে যার নাম তিনি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছিলেন, তিনি আল-হারিস ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমার জিহ্বায় জড়তা ছিল। আমাকে বলা হলো: তুমি আরবি ভাষা না শেখা পর্যন্ত কুরআন শিক্ষা দিও না। অতঃপর আমি আবদুল্লাহর নিকট আসলাম এবং বিষয়টি তাঁর নিকট উল্লেখ করলাম। আমি বললাম: তারা হাসাহাসি করে এবং বলে: ‘আরবি শেখো’। তখন আবদুল্লাহ বললেন: ‘নিশ্চয়ই তুমি এমন এক যুগে আছো যখন কুরআনের বিধানসমূহ সংরক্ষণ করা হয় এবং তারা এর অনেক অক্ষর মুখস্থ করার ব্যাপারে ভ্রূক্ষেপ করে না। অচিরেই তোমাদের পরে এমন এক কাল আসবে যখন কিছু লোক কুরআনের অক্ষরসমূহ তো সংরক্ষণ করবে, কিন্তু এর বিধানসমূহ নষ্ট করে ফেলবে’।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
2 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عِيسَى، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنِ الْمِنْهَالِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: " قِيلَ لَهُ: أَرَأَيْتَ قَوْلَ اللَّهِ عز وجل: {وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} [النساء: 96] كَأَنَّهُ شَيْءٌ قَدْ مَضَى. قَالَ يَعْنِي: " أَنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا، يَعْنِي: أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ "
২ - আহমদ আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইবন নুমাইর আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবন ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আমাশ থেকে, তিনি মিনহাল থেকে, আর তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: তাকে (সাঈদ ইবন জুবাইরকে) জিজ্ঞেস করা হলো: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী- {আর আল্লাহ ছিলেন পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [আন-নিসা: ৯৬] সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? এটি তো এমন মনে হচ্ছে যেন কোনো অতীত হয়ে যাওয়া বিষয়। তিনি বললেন, এর অর্থ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ছিলেন পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু; অর্থাৎ: আল্লাহ হলেন পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
3 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: " خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ، وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ قَالَ: «لَوْ أَخْبَرْتُكُمْ بِتَفْسِيرِهَا لَكَفَرْتُمْ، وَكُفْرُكُمْ تَكْذِيبُكُمْ بِهَا»
৩ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইবনে নুমাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ওয়াকি আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে মুহাজির থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: "[আল্লাহ] সাত আসমান এবং পৃথিবীর মধ্য হতেও অনুরূপ সংখ্যক সৃষ্টি করেছেন।" তিনি বলেন: "যদি আমি তোমাদের নিকট এর ব্যাখ্যা বর্ণনা করতাম, তবে তোমরা অবশ্যই কুফরি করতে; আর তোমাদের কুফরি হলো একে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
4 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَاضِرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: " كُنْتُ رَجُلًا فِي لِسَانِي لَكْنَةٌ، وَكُنْتُ أَتَعَلَّمُ الْقُرْآنَ، فَقِيلَ لِي: أَلَا تَعَلَّمُ الْعَرَبِيَّةَ قَبْلَ أَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ؟ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَبْدِ اللَّهِ وَقُلْتُ: إِنَّهُمْ يَضْحَكُونَ مِنِّي، وَيَقُولُونَ: تَعَلَّمِ الْعَرَبِيَّةَ قَبْلَ أَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ. فَقَالَ: لَا تَفْعَلْ؛ فَإِنَّكَ فِي زَمَانٍ تُحْفَظُ فِيهِ حُدُودُ الْقُرْآنِ، وَلَا يُبَالُونَ حِفْظَ كَثِيرٍ مِنْ حُرُوفِهِ، وَإِنَّ بَعْدَكَ زَمَانًا تُحْفَظُ فِيهِ الْحُرُوفُ، وَتُضَيَّعُ فِيهِ الْحُدُودُ "
4 - আহমদ আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইবনে নুমাইর আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাদির আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমাশ থেকে (عن), তিনি মুহাম্মদ ইবনে যুবাইর থেকে (عن), তিনি হারিস ইবনে কাইস থেকে (عن) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি এমন একজন ব্যক্তি ছিলাম যার জিহ্বায় জড়তা ছিল এবং আমি কুরআন শিক্ষা করছিলাম। তখন আমাকে বলা হলো: তুমি কি কুরআন শেখার আগে আরবি ভাষা শিখবে না? আমি আবদুল্লাহর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম এবং বললাম: তারা আমাকে নিয়ে উপহাস করে এবং বলে, কুরআন শেখার আগে আরবি ভাষা শিখে নাও। তিনি বললেন: এমনটি করো না; কেননা তুমি এখন এমন এক যুগে আছ যখন কুরআনের বিধানসমূহ হিফাজত করা হয় এবং তারা এর অনেক অক্ষর মুখস্থ রাখার ব্যাপারে তেমন পরোয়া করে না। আর নিশ্চয়ই তোমার পরে এমন এক যুগ আসবে যখন অক্ষরসমূহ হিফাজত করা হবে, কিন্তু বিধানসমূহ বিনষ্ট করা হবে।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بَابُ الرَّجُلِ يَمُرُّ بِآيَةِ تَخْوِيفٍ وَرَحْمَةٍ فَيَسْأَلُ أَوْ يَتَعَوَّذُ
অনুচ্ছেদ: কোনো ব্যক্তি ভীতিপ্রদর্শন ও রহমতের আয়াত পাঠকালে প্রার্থনা করা অথবা আশ্রয় প্রার্থনা করা
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
5 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: سَأَلْتُ سُلَيْمَانَ قَالَ: قُلْتُ: أَدْعُو فِي الصَّلَاةِ إِذَا مَرَرْتُ بِآيَةِ التَّخْوِيفِ؟ فَحَدَّثَنِي عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ مُسْتَوْرِدٍ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، عَنْ حُذَيْفَةَ: " أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ» وَفِي سُجُودِهِ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى» وَمَا مَرَّ بِآيَةِ رَحْمَةٍ إِلَّا وَقَفَ عِنْدَهَا فَسَأَلَ، وَلَا بِآيَةِ عَذَابٍ إِلَّا وَقَفَ عِنْدَهَا وَتَعَوَّذَ "
৫ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: হাফস বিন উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমি সুলাইমানকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম: আমি কি সালাতে দোয়া করব যখন আমি ভীতিকর কোনো আয়াত পাঠ করি? অতঃপর তিনি আমার নিকট সাদ বিন উবায়দাহ হতে (عن), তিনি মুসতাওরিদ হতে (عن), তিনি সিলাহ বিন যুফার হতে (عن) এবং তিনি হুজাইফা হতে বর্ণিত (عن) করেন যে: "তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেছেন। তিনি তাঁর রুকুতে বলতেন: 'আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি' এবং তাঁর সিজদাহয় বলতেন: 'আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি'। তিনি যখনই রহমতের কোনো আয়াত অতিক্রম করতেন, তখনই সেখানে থামতেন এবং (রহমত) যাঞ্চা করতেন; আর যখনই আজাবের কোনো আয়াত অতিক্রম করতেন, তখনই সেখানে থামতেন এবং (তা হতে) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
6 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " صَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلَاةِ التَّطَوُّعِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ، وَيْلٌ لِأَهْلِ النَّارِ»
৬ - আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুসাদ্দাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: "আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে নফল সালাত আদায় করছিলাম, এমতাবস্থায় আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: ‘আমি আল্লাহর নিকট জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি; জাহান্নামবাসীদের জন্য দুর্ভোগ!’"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
7 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ أَيُّوبَ، يُحَدِّثُ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ نُعَيْمٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ مِخْرَاقٍ، قَالَ: قُلْتُ لِعَائِشَةَ: " إِنَّ رِجَالًا يَقْرَأُ أَحَدُهُمُ الْقُرْآنَ فِي لَيْلَةٍ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا. فَقَالَتْ: قَرَءُوا، وَلَمْ يَقْرَءُوا، كُنْتُ أَقُومُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي لَيْلَةِ التَّمَامِ، فَيَقْرَأُ بِالْبَقَرَةِ، وَآلِ عِمْرَانَ، وَالنِّسَاءِ، فَلَا يَمُرُّ بِآيَةٍ فِيهَا اسْتِبْشَارٌ إِلَّا دَعَا وَرَغَّبَ، وَلَا آيَةٍ فِيهَا تَخْوِيفٌ إِلَّا دَعَا وَاسْتَعَاذَ "
7 - আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্দুল আ’লা ইবনে হাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ওয়াহাব ইবনে জারীর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুবকে বলতে শুনেছি (سمعت), তিনি হারিস ইবনে ইয়াজিদ আল-হাদরামী হতে (عن) বর্ণনা করছিলেন, তিনি জিয়াদ ইবনে নুআয়ম আল-হাদরামী হতে (عن), তিনি মুসলিম ইবনে মিখরাক হতে (عن) বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আমি আয়েশাকে বললাম, "নিশ্চয়ই এমন কিছু ব্যক্তি আছে যারা এক রাতে দুইবার বা তিনবার কুরআন পাঠ করে।" তিনি বললেন, "তারা পাঠ করেছে, অথচ তারা (প্রকৃতপক্ষে) পাঠ করেনি। আমি এক পূর্ণ রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (সালাতে) দাঁড়িয়েছিলাম; তিনি সূরা আল-বাকারা, আল-ইমরান এবং আন-নিসা পাঠ করলেন। তিনি এমন কোনো সুসংবাদের আয়াত অতিক্রম করতেন না যাতে তিনি দুআ করতেন না এবং (তা লাভের) আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতেন না, আর এমন কোনো ভীতি প্রদর্শনের আয়াত অতিক্রম করতেন না যাতে তিনি দুআ করতেন না এবং (আল্লাহর নিকট) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন না।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
8 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شَيْبَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْبُ بْنُ سُرَيْجٍ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: " كُنَّا نُمْسِكُ عَنِ الِاسْتِغْفَارِ لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ حَتَّى سَمِعْنَا عَنْ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ ⦗ص: 29⦘ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48] وَقَالَ: «إِنِّي أَخَّرْتُ دَعْوَتِي لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ» قَالَ: فَأَمْسَكْنَا عَنْ كَثِيرٍ مِمَّا كَانَ فِي أَنْفُسِنَا وَنَطَقْنَا بِهِ وَرَجَوْنَا "
৮ - আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: শায়বান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: হারব বিন সুরাইজ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি-এর সূত্রে (عن), নাফি-এর সূত্রে (عن), ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের (أهل الكبائر) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار) করা থেকে বিরত থাকতাম, যতক্ষণ না আমরা আমাদের নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক (شرك) করাকে ক্ষমা করেন না, তবে তিনি যাকে ইচ্ছা এর চেয়ে নিম্নতর অপরাধ ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ ক্ষমা করেন} [আন-নিসা: ৪৮]। এবং তিনি (সা.) আরও বলেন: «নিশ্চয়ই আমি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের (أهل الكبائر) জন্য আমার দোয়াটি সংরক্ষিত রেখেছি»।" তিনি বলেন: "অতঃপর আমরা আমাদের অন্তরে যা আসত এবং মুখে যা উচ্চারণ করতাম তার অনেক কিছু থেকেই বিরত হলাম এবং (তাদের ক্ষমার ব্যাপারে) আশা পোষণ করলাম।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بَابُ مَا يَقْرَأُ بِهِ الْأَعْرَابِيُّ الْجَاهِلُ بِالْقُرْآنِ
কুরআন সম্পর্কে অনভিজ্ঞ মরুবাসীর পাঠ্য বিষয় সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
9 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضِيُّ، قَالَ: خَبَّرَنِي أَبِي عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي بَلْجٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَائِشَةَ،: " أَنَّهُمْ كَانُوا فِي سَفَرٍ فَصَلَّى بِهِمْ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: " أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِالْحُبْلَى، أَخْرَجَ مِنْهَا صَبِيًّا يَسْعَى بَيْنَ الصِّفَاقِ وَالْحَشَا أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى، أَلَا بَلَى أَلَا بَلَى، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: «لَا آبَ غَازِيكُمْ، وَلَا زَالَتْ نِسَاؤُكُمْ فِي رَنَّةٍ»
9 - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: নসর বিন আলী আল-জাহদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (خبرني), তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আবু বালজ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আমর বিন মাইমুন থেকে এবং তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন যে: "তাঁরা এক সফরে ছিলেন। তখন এক বেদুইন তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করল এবং সে বলল: 'তুমি কি দেখনি তোমার প্রতিপালক গর্ভবতী নারীর সাথে কী করেছেন? তিনি তার ভেতর থেকে এমন এক শিশুকে বের করে এনেছেন, যে উদরপ্রাচীর ও নাড়ীভুঁড়ির মধ্যস্থলে বিচরণ করে। সেই সত্তা কি মৃতদের পুনর্জীবিত করতে সক্ষম নন? অবশ্যই হ্যাঁ, অবশ্যই হ্যাঁ!' আয়েশা বললেন: 'তোমাদের যোদ্ধারা যেন ফিরে না আসে এবং তোমাদের নারীরা যেন সর্বদা বিলাপের মাতমেই থাকে।'"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
10 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ: " أَنَّ مُعَاذًا، لَمَّا قَدِمَ الْيَمَنَ صَلَّى بِهِمُ الصُّبْحَ فَقَرَأَ: {وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا} [النساء: 125] فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: لَقَدْ قَرَّتْ عَيْنُ أُمِّ إِبْرَاهِيمَ "
১০ - আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: সুলায়মান ইবন হারব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), হাবিব ইবন আবি সাবিত হতে (عن), তিনি সাঈদ ইবন জুবায়ের হতে (عن), তিনি আমর ইবন মাইমুন হতে (عن) বর্ণনা করেন: "মুয়াজ যখন ইয়ামেনে আসলেন, তখন তিনি তাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন এবং তিলাওয়াত করলেন: {আর আল্লাহ ইবরাহিমকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন} [আন-নিসা: ১২৫]। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলে উঠল: ইবরাহিমের জননীর চক্ষু শীতল হয়ে গেল।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
11 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ بَكَّارٍ الدَّارِمِيُّ، عَنْ أَبَانَ بْنِ يَزِيدَ الْعَطَّارِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ: " صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَعَطَسَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَقُلْتُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ، فَرَمَانِيَ الْقَوْمُ بِأَبْصَارِهِمْ قَالَ: قُلْتُ: وَاثُكْلَ أُمِّيَاهُ، مَا لَكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَيَّ فِي الصَّلَاةِ، فَضَرَبُوا بِأَيْدِيهِمْ عَلَى أَفْخَاذِهِمْ، فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ يُصْمِتُونِي لَكِنِّي سَكَتُ، فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَعَانِي فَبِأَبِي هُوَ وَأُمِّي مَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا أَحْسَنَ تَعْلِيمًا مِنْهُ، وَمَا سَبَّنِي، وَلَا كَهَرَنِي، وَلَا ضَرَبَنِي قَالَ: «إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ، إِنَّمَا هُوَ التَّكْبِيرُ وَالتَّسْبِيحُ، وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ، وَالتَّحْمِيدُ» أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) সহল ইবন বাক্কার আদ-দারিমী, তিনি আবান ইবন ইয়াযিদ আল-আত্তার থেকে (عن), তিনি ইয়াহইয়া ইবন আবি কাসীর থেকে (عن), তিনি হিলাল ইবন আবি মাইমুনাহ থেকে (عن), তিনি আতা ইবন ইয়াসার থেকে (عن), তিনি মুআবিয়াহ ইবনুল হাকাম আস-সুলামী থেকে (عن) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম, এমতাবস্থায় লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হাঁচি দিল। আমি বললাম: 'আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন' (ইয়ারহামুকাল্লাহ)। তখন লোকেরা তাদের চোখ দিয়ে আমাকে (তিরস্কারের দৃষ্টিতে) দেখতে লাগল। তিনি বললেন: আমি বললাম: 'হায় আফসোস! আমার কী হলো যে তোমরা আমার দিকে তাকাচ্ছ?' তখন তারা তাদের হাত দিয়ে নিজেদের ঊরুতে আঘাত করতে লাগল। আমি যখন দেখলাম তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে, তখন আমি নীরব হয়ে গেলাম। অতঃপর যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত শেষ করলেন—আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক—আমি তাঁর চেয়ে উত্তম শিক্ষক আর দেখিনি। তিনি আমাকে গালমন্দ করেননি, ধমক দেননি এবং প্রহারও করেননি। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই এই সালাতে মানুষের কোনো কথাবার্তা বলা সমীচীন নয়। এটি কেবল তাকবীর (تكبير), তাসবীহ (تسبيح), কুরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর প্রশংসা বা তাহমীদ (تحميد) এর জন্য।» অথবা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেমনটি বলেছেন।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
12 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ رَجُلٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ: " أَتَى مَكَّةَ، فَمَرَّ بِأَعْرَابِيٍّ وَهُوَ يُصَلِّي، وَهُوَ يَقُولُ: نَحُجُّ بَيْتَ رَبِّنَا. فَقَالَ فِي كَلَامٍ لَهُ أَحْسَبُهُ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: {مَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي الْمِلَّةِ الْآخِرَةِ إِنْ هَذَا إِلَّا اخْتِلَاقٌ} [ص: 7] "
12 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আমর ইবনে মারযুক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) শু'বাহ, আবু ইসহাক থেকে (عن), তিনি একজন ব্যক্তি (رجل) থেকে (عن) বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ মক্কায় আসলেন। এরপর তিনি একজন গ্রাম্য আরবের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন সে সালাত আদায় করছিল এবং বলছিল: "আমরা আমাদের রবের ঘরের হজ করি।" আব্দুল্লাহ তখন তার বক্তব্যে বললেন—আমার ধারণা মতে তিনি বললেন: "আমরা পূর্ববর্তী ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনিনি; এটি একটি মনগড়া (اختلاق) কথা মাত্র।" [সূরা সোয়াদ: ৭]
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
13 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: " إِذَا قَرَأْتَ: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} [الأعلى: 1] وَإِذَا قَرَأْتَ: {أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى} [القيامة: 40] فَقُلْ: سُبْحَانَكَ، وَبَلَى "
13 - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমর ইবনে মারজুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: শু’বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু ইসহাক থেকে (عن), তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনে জুবায়েরকে শুনেছি (سمعت) ইবনে আব্বাস থেকে (عن) যে, তিনি বলেছেন: "যখন তুমি পাঠ করবে: {আপনার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন} [আল-আলা: ১] এবং যখন পাঠ করবে: {তিনি কি মৃতদেরকে জীবিত করতে সক্ষম নন?} [আল-কিয়ামাহ: ৪০], তখন বলো: আপনি পবিত্র এবং অবশ্যই।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
14 - أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ،: " أَنَّ وَفْدَ بَنِي أَسَدٍ، أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «مَنْ أَنْتُمْ» . فَقَالُوا: نَحْنُ بَنُو الزِّنْيَةِ أَحْلَاسُ الْخَيْلِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَنْتُمْ بَنُو رَشدَةٍ» . فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ بْنُ عَامِرٍ: وَاللَّهِ لَا نَكُونُ كَابْنِ الْمُحَوَّلَةِ، وَهُمْ بَنُو عَبْدِ اللَّهِ بْنِ غَطَفَانَ، كَانَ يُقَالُ لَهُمْ: بَنُو عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ غَطَفَانَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْحَضْرَمِيِّ: «هَلْ تَقْرَأُ مِنَ الْقُرْآنِ شَيْئًا؟» قَالَ: نَعَمْ. فَقَالَ: «اقْرَأْهُ» . فَقَرَأَ مِنْ عَبَسَ وَتَوَلَّى مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقْرَأَ، ثُمَّ قَالَ: وَهُوَ الَّذِي مَنَّ عَلَى الْحُبْلَى، فَأَخْرَجَ مِنْهَا نَسَمَةً تَسْعَى بَيْنَ شَارَسِيفَ وَحْشًا. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَزِدْ فِيهَا فَإِنَّهَا كَافِيَةٌ»
14 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মূসা বিন ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাম্মাদ, আসিম বিন বাহদালাহ্ থেকে (عن), তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে (عن) বর্ণনা করেন: "বনু আসাদের একটি প্রতিনিধিদল নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগমন করল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: «তোমরা কারা?» তারা বলল: ‘আমরা বনুয যিনয়াহ্, পারদর্শী অশ্বারোহী।’ তখন নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তোমরা বরং বনু রাশদাহ্।’ অতঃপর হাদরামি বিন আমির বললেন: ‘আল্লাহর কসম! আমরা ইবনুল মুহাওয়ালাহ্-এর মতো হব না; তারা হলো বনু আব্দুল্লাহ বিন গাতাফান, যাদেরকে (পূর্বে) বনু আব্দুল উযযা বিন গাতাফান বলা হতো।’ এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদরামিকে বললেন: «তুমি কি কুরআন থেকে কিছু পাঠ করো?» তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: «তা পাঠ করো।’ অতঃপর তিনি ‘আবাসা ওয়া তাওয়াল্লা’ থেকে যতটুকু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল পাঠ করলেন। এরপর তিনি (নিজের পক্ষ থেকে ছন্দ মিলিয়ে) বললেন: ‘আর তিনিই সেই সত্তা যিনি গর্ভবতী নারীর প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, অতঃপর তা থেকে এক জীবন্ত প্রাণ বের করেছেন যা পাঁজরের হাড় ও নাড়িভুঁড়ির মাঝে বিচরণ করে।’ তখন নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «এর মধ্যে আর কিছু বৃদ্ধি করো না, কেননা তা-ই (আল্লাহর কালাম) যথেষ্ট।’"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
15 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، أَنَّ عَلِيًّا عليه السلام: " قَرَأَ سُورَةَ الْأَنْبِيَاءِ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ، فَتَرَكَ آيَةً، ثُمَّ ذَكَرَهَا، فَرَجَعَ إِلَيْهَا فَقَرَأَهَا، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى مَكَانِهِ الَّذِي كَانَ فِيهِ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ ذَاتَ يَوْمٍ مِنْ وَرَائِهِ: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [الزمر: 65] فَقَالَ لَهُ عَلِيُّ: {فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ} [الروم: 60] "
15 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মূসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাম্মাদ, তিনি আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী (আলাইহিস সালাম) ফজরের সালাতে সূরা আল-আম্বিয়া পাঠ করছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি একটি আয়াত ছেড়ে যান, অতঃপর সেটি তাঁর স্মরণ হয় এবং তিনি সেই আয়াতে ফিরে গিয়ে তা পাঠ করেন। এরপর তিনি (তিলাওয়াতের) যে স্থানে ছিলেন সেখানে ফিরে যান। একদিন তাঁর পিছন থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে (উদ্দেশ্য করে) পাঠ করল: {আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই এই ওহী পাঠানো হয়েছে যে, আপনি যদি শিরক করেন তবে আপনার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হবে এবং আপনি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন} [সূরা আয-যুমার: ৬৫]। তখন আলী তাকে (উত্তরে) বললেন: {অতএব ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয় তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে} [সূরা আর-রূম: ৬০]।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
16 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ: " إِذَا أَتَى الرَّجُلُ عَلَى هَذِهِ الْآيَةِ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ} [الأحزاب: 56] الْآيَةُ، أَوْ يَأْتِي عَلَى الْآيَةِ فِيهَا الرَّغْبَةُ وَالرَّهْبَةُ قَالَ: يَمْضِي كَمَا هُوَ، وَقَالَ: جَرِّدُوا الْقُرْآنَ "
16 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মূসা, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) হাম্মাদ, তিনি ইবনে আউন হতে, তিনি মুহাম্মদ (ইবনে সিরিন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন কোনো ব্যক্তি সালাতরত অবস্থায় এই আয়াতের নিকট পৌঁছে— {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন} [আল-আহজাব: ৫৬]—পুরো আয়াতটি, অথবা এমন কোনো আয়াতের নিকট পৌঁছে যাতে (জান্নাতের) আকাঙ্ক্ষা কিংবা (জাহান্নামের) ভীতি রয়েছে; তখন তিনি বলেন: সে যেভাবে আছে সেভাবেই (সালাত) চালিয়ে যাবে। আর তিনি বলেন: তোমরা কুরআনকে (অন্যান্য কথা থেকে) মুক্ত ও বিশুদ্ধ রাখো।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بَابٌ فِيمَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ بِمَكَّةَ، وَمَا نَزَلَ بِالْمَدِينَةِ
পরিচ্ছেদ: কুরআনের যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে সেই প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
17 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ هَارُونَ قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: " أَوَّلُ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ بِمَكَّةَ، وَمَا أُنْزِلَ مِنْهُ بِالْمَدِينَةِ الْأَوَّلُ فَالْأَوَّلُ، فَكَانَتْ إِذَا نَزَلَتْ فَاتِحَةُ سُورَةٍ بِمَكَّةَ فَكُتِبَتْ بِمَكَّةَ، ثُمَّ يَزِيدُ اللَّهُ فِيهَا مَا يَشَاءُ، وَكَانَ أَوَّلُ مَا أُنْزِلَ مِنَ الْقُرْآنِ: اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ثُمَّ ن وَالْقَلَمِ، ثُمَّ يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ، ثُمَّ يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ، ثُمَّ الْفَاتِحَةَ، ثُمَّ تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ ثُمَّ إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ ثُمَّ سَبَّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى ثُمَّ وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى ثُمَّ وَالْفَجْرِ وَلَيَالٍ عَشْرٍ، ثُمَّ وَالضُّحَى، ثُمَّ أَلَمْ نَشْرَحْ، ثُمَّ وَالْعَصْرِ ثُمَّ وَالْعَادِيَاتِ ثُمَّ إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ ثُمَّ أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ ثُمَّ أَرَأَيْتَ الَّذِيَ يُكَذِّبُ، ثُمَّ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ثُمَّ أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ ثُمَّ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ثُمَّ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ثُمَّ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ثُمَّ وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى ثُمَّ عَبَسَ وَتَوَلَّى ثُمَّ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ثُمَّ وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا ثُمَّ وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ ثُمَّ وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ ثُمَّ لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ ثُمَّ الْقَارِعَةُ ثُمَّ لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ ثُمَّ وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ ثُمَّ وَالْمُرْسَلَاتِ ثُمَّ ق وَالْقُرْآنِ ثُمَّ لَا أُقْسِمُ بِهَذَا الْبَلَدِ ثُمَّ وَالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ ثُمَّ اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ ثُمَّ ص وَالْقُرْآنِ ثُمَّ الْأَعْرَافَ، ثُمَّ قُلْ أُوحِيَ ثُمَّ يس وَالْقُرْآنِ ثُمَّ الْفُرْقَانَ، ثُمَّ الْمَلَائِكَةَ، ثُمَّ كهيعص ثُمَّ طه ثُمَّ
⦗ص: 34⦘ الْوَاقِعَةَ، ثُمَّ طسم الشُّعَرَاءِ، ثُمَّ طس النَّمْلِ، ثُمَّ الْقَصَصَ، ثُمَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ، ثُمَّ يُونُسَ، ثُمَّ هُودَ، ثُمَّ يُوسُفَ، ثُمَّ الْحِجْرَ، ثُمَّ الْأَنْعَامَ، ثُمَّ الصَّافَّاتِ، ثُمَّ لُقْمَانَ، ثُمَّ سَبَأَ، ثُمَّ الزُّمَرَ، ثُمَّ حم الْمُؤْمِنِ، ثُمَّ حم السَّجْدَةِ، ثُمَّ حم عسق ثُمَّ الزُّخْرُفَ، ثُمَّ الدُّخَانَ، ثُمَّ الْجَاثِيَةَ، ثُمَّ الْأَحْقَافَ، ثُمَّ الذَّارِيَاتِ، ثُمَّ هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ ثُمَّ الْكَهْفَ، ثُمَّ النَّحْلَ، ثُمَّ إِنَّا أَرْسَلْنَا نُوحًا ثُمَّ سُورَةَ إِبْرَاهِيمَ، ثُمَّ الْأَنْبِيَاءَ، ثُمَّ الْمُؤْمِنُونَ، ثُمَّ تَنْزِيلُ السَّجْدَةِ، ثُمَّ الطُّورَ، ثُمَّ تَبَارَكَ الْمُلْكِ، ثُمَّ الْحَاقَّةَ، ثُمَّ سَأَلَ سَائِلٌ ثُمَّ عَمَّ يَتَسَاءَلُونَ ثُمَّ النَّازِعَاتِ، ثُمَّ إِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ ثُمَّ إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ ثُمَّ الرُّومَ، ثُمَّ الْعَنْكَبُوتَ، ثُمَّ وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ. فَهَذَا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل بِمَكَّةَ، وَهِيَ سِتٌّ وَثَمَانُونَ سُورَةً، ثُمَّ أَنْزَلَ بِالْمَدِينَةِ سُورَةَ الْبَقَرَةِ، ثُمَّ الْأَنْفَالَ، ثُمَّ آلَ عِمْرَانَ، ثُمَّ الْأَحْزَابَ، ثُمَّ الْمُمْتَحِنَةَ، ثُمَّ النِّسَاءَ، ثُمَّ إِذَا زُلْزِلَتِ ثُمَّ الْحَدِيدَ، ثُمَّ سُورَةَ مُحَمَّدٍ، ثُمَّ الرَّعْدَ، ثُمَّ سُورَةَ الرَّحْمَنِ، ثُمَّ هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ ثُمَّ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ ثُمَّ لَمْ يَكُنْ ثُمَّ الْحَشْرَ، ثُمَّ إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ ثُمَّ النُّورَ، ثُمَّ الْحَجَّ، ثُمَّ الْمُنَافِقُونَ، ثُمَّ الْمُجَادَلَةَ، ثُمَّ الْحُجُرَاتِ، ثُمَّ لِمَ تُحَرِّمْ ثُمَّ الْجُمُعَةَ، ثُمَّ التَّغَابُنَ، ثُمَّ الْحَوَارِيُّونَ، ثُمَّ الْفَتْحَ، ثُمَّ الْمَائِدَةَ، ثُمَّ التَّوْبَةَ، فَذَلِكَ ثَمَانٌ وَعِشْرُونَ سُورَةً فَجَمِيعُ الْقُرْآنِ مِائَةُ سُورَةٍ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ سُورَةً، وَجَمِيعُ آيِ الْقُرْآنِ سِتَّةُ آلَافِ آيَةٍ وَسِتُّمِائَةِ آيَةٍ وَسِتُّ
⦗ص: 35⦘ عَشْرَةَ آيَةً، وَجَمْعُ حُرُوفِ الْقُرْآنِ: ثَلَاثُ مِائَةِ أَلْفِ حَرْفٍ، وَثَلَاثَةٌ وَعِشْرُونَ أَلْفِ حَرْفٍ وَسِتُّمِائَةَ حَرْفٍ وَوَاحِدٌ وَسَبْعُونَ حَرْفًا "
18 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ: قَالَ عَمْرٌو: حَدَّثَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَسَانِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ،: بِنَحْوِهِ، إِلَّا أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ، قَالَ: وَالضُّحَى مَكِّيُّ أَوْ مَدَنِيُّ، وَلَمْ يَذْكُرِ الْحُرُوفَ، وَلَا الْآيَ
17 - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবি জাফর আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: উমর ইবন হারুন বলেছেন: উমর ইবন আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আতা থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "কুরআনের যা কিছু মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রথম দিকের এবং যা মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে তা পরবর্তী সময়ের। মক্কায় যখন কোনো সূরার প্রারম্ভিক অংশ অবতীর্ণ হতো, তখন তা মক্কায় লিপিবদ্ধ করা হতো। অতঃপর আল্লাহ তাতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করতেন। কুরআনের প্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক’ (সূরা আলাক), অতঃপর ‘নূন ওয়াল কালাম’ (সূরা কলম), অতঃপর ‘ইয়া আইয়্যুহাল মুজ্জাম্মিল’ (সূরা মুজ্জাম্মিল), অতঃপর ‘ইয়া আইয়্যুহাল মুদ্দাসসির’ (সূরা মুদ্দাসসির), অতঃপর ‘আল-ফাতিহা’, অতঃপর ‘তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবিওঁ’ (সূরা লাহাব), অতঃপর ‘ইজাশ শামসু কুউয়িরাত’ (সূরা তাকভীর), অতঃপর ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’ (সূরা আ’লা), অতঃপর ‘ওয়াল লাইলি ইজা ইয়াগশা’ (সূরা লাইল), অতঃপর ‘ওয়াল ফাজরি ওয়া লায়ালিন আশর’ (সূরা ফাজর), অতঃপর ‘ওয়াদ দুহা’, অতঃপর ‘আলাম নাশরহ’ (সূরা ইনশিরাহ), অতঃপর ‘ওয়াল আসর’, অতঃপর ‘ওয়াল আদিয়াত’, অতঃপর ‘ইন্না আতাইনাকাল কাওসার’, অতঃপর ‘আলহাকুমুত তাকাসুর’, অতঃপর ‘আরাআয়তাল্লাজি ইউকাজ্জিবু’ (সূরা মাউন), অতঃপর ‘কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’, অতঃপর ‘আলাম তারা কাইফা ফায়ালা রাব্বুকা’ (সূরা ফীল), অতঃপর ‘আউজু বিরাব্বিল ফালাক’, অতঃপর ‘আউজু বিরাব্বিন নাস’, অতঃপর ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’, অতঃপর ‘ওয়ান নাজমি ইজা হাওয়া’, অতঃপর ‘আবাসা ওয়া তাওয়াল্লা’, অতঃপর ‘ইন্না আনজালনাহু ফী লাইলাতিল কাদর’, অতঃপর ‘ওয়াশ শামসি ওয়া দুহাহা’, অতঃপর ‘ওয়াস সামায়ি জাতিল বুরুজ’, অতঃপর ‘ওয়াত্তীনি ওয়াজ জাইতুন’, অতঃপর ‘লি-ঈলাফি কুরাইশ’, অতঃপর ‘আল-কারিয়াহ’, অতঃপর ‘লা উকসিমু বিইয়াওমিল কিয়ামাহ’, অতঃপর ‘ওয়াইলুল লিকুল্লি হুমাজাতিন’, অতঃপর ‘ওয়াল মুরসালাত’, অতঃপর ‘ক্বাফ ওয়াল কুরআন’, অতঃপর ‘লা উকসিমু বিহালাল বালাদ’, অতঃপর ‘ওয়াস সামায়ি ওয়াত তারিক’, অতঃপর ‘ইকতারাবাতিস সাআতু’ (সূরা কামার), অতঃপর ‘সোয়াদ ওয়াল কুরআন’, অতঃপর ‘আল-আরাফ’, অতঃপর ‘কুল উহিয়া’ (সূরা জিন), অতঃপর ‘ইয়াসিন ওয়াল কুরআন’, অতঃপর ‘আল-ফুরকান’, অতঃপর ‘আল-মালাইকাহ’ (সূরা ফাতির), অতঃপর ‘কাফ-হা-ইয়া-আইন-সোয়াদ’ (সূরা মারয়াম), অতঃপর ‘ত্বা-হা’, অতঃপর
⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ ‘আল-ওয়াকিআহ’, অতঃপর ‘ত্বা-সীন-মীম আশ-শুয়ারা’, অতঃপর ‘ত্বা-সীন আন-নামল’, অতঃপর ‘আল-কাসাস’, অতঃপর ‘বনী ইসরাঈল’ (সূরা ইসরা), অতঃপর ‘ইউনুস’, অতঃপর ‘হুদ’, অতঃপর ‘ইউসুফ’, অতঃপর ‘আল-হিজর’, অতঃপর ‘আল-আনয়াম’, অতঃপর ‘আস-সাফফাত’, অতঃপর ‘লুকমান’, অতঃপর ‘সাবা’, অতঃপর ‘আয-যুমার’, অতঃপর ‘হা-মীম আল-মুমিন’ (সূরা গাফির), অতঃপর ‘হা-মীম আস-সাজদাহ’ (সূরা ফুসসিলাত), অতঃপর ‘হা-মীম আইন-সীন-ক্বাফ’ (সূরা আশ-শূরা), অতঃপর ‘আয-যুখরুফ’, অতঃপর ‘আদ-দুখান’, অতঃপর ‘আল-জাসিয়াহ’, অতঃপর ‘আল-আহকাফ’, অতঃপর ‘আয-যারিয়াত’, অতঃপর ‘হাল আতাকা হাদিসুল গাশিয়াহ’, অতঃপর ‘আল-কাহফ’, অতঃপর ‘আন-নাহল’, অতঃপর ‘ইন্না আরসালনা নুহান’ (সূরা নূহ), অতঃপর সূরা ‘ইবরাহিম’, অতঃপর ‘আল-আম্বিয়া’, অতঃপর ‘আল-মুমিনুন’, অতঃপর ‘তানজীলুস সাজদাহ’ (সূরা সাজদাহ), অতঃপর ‘আত-তূর’, অতঃপর ‘তাবারাকাল মুলক’ (সূরা মুলক), অতঃপর ‘আল-হাক্কাহ’, অতঃপর ‘সাআলা সা-ইল’ (সূরা মাআরিজ), অতঃপর ‘আম্মা ইয়াতাসা-আলুন’ (সূরা নাবা), অতঃপর ‘আন-নাযিয়াত’, অতঃপর ‘ইজাস সামাউ ফাতারাত’ (সূরা ইনফিতার), অতঃপর ‘ইজাস সামাউন শাক্কাত’ (সূরা ইনশিকাক), অতঃপর ‘আর-রূম’, অতঃপর ‘আল-আনকাবুত’, অতঃপর ‘ওয়াইলুল লিল মুতাফফিফীন’। এগুলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল মক্কায় অবতীর্ণ করেছেন, যা ছিয়াশিটি সূরা। অতঃপর তিনি মদিনায় অবতীর্ণ করেছেন: সূরা ‘আল-বাকারাহ’, অতঃপর ‘আল-আনফাল’, অতঃপর ‘আলে ইমরান’, অতঃপর ‘আল-আহজাব’, অতঃপর ‘আল-মুমতাহানাহ’, অতঃপর ‘আন-নিসা’, অতঃপর ‘ইজা জুলজিলাত’ (সূরা যিলযাল), অতঃপর ‘আল-হাদীদ’, অতঃপর সূরা ‘মুহাম্মদ’, অতঃপর ‘আর-রাদ’, অতঃপর সূরা ‘আর-রহমান’, অতঃপর ‘হাল আতা আলাল ইনসান’ (সূরা ইনসান), অতঃপর ‘ইয়া আইয়্যুহান নাবিয়্যু ইজা তাল্লাকতুুমুন নিসা’ (সূরা তালাক), অতঃপর ‘লাম ইয়াকুন’ (সূরা বাইয়্যিনাহ), অতঃপর ‘আল-হাশর’, অতঃপর ‘ইজা জাআ নাসরুল্লাহি’ (সূরা নাসর), অতঃপর ‘আন-নূর’, অতঃপর ‘আল-হাজ্জ’, অতঃপর ‘আল-মুনাফিকুন’, অতঃপর ‘আল-মুজাদিলাহ’, অতঃপর ‘আল-হুজুরাত’, অতঃপর ‘লিমা তুহাররিমু’ (সূরা তাহরীম), অতঃপর ‘আল-জুমুআহ’, অতঃপর ‘আত-তাগাবুন’, অতঃপর ‘আল-হাওয়ারিয়্যুন’ (সূরা সাফফ), অতঃপর ‘আল-ফাতহ’, অতঃপর ‘আল-মায়িদাহ’, অতঃপর ‘আত-তাওবাহ’। এগুলো হলো আটাশটি সূরা। সুতরাং কুরআনের মোট সূরা সংখ্যা একশত চৌদ্দটি। আর কুরআনের সর্বমোট আয়াত সংখ্যা হলো ছয় হাজার ছয়শত ষোলোটি।
⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ আর কুরআনের সর্বমোট অক্ষরের সংখ্যা হলো: তিন লক্ষ তেইশ হাজার ছয়শত একাত্তরটি অক্ষর।"
18 - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইবন আবি জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমর বলেছেন: ইবন জুরাইজ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি আতা আল-খুরাসানি থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রা.) থেকে পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ (بنحوه) বর্ণনা করেছেন। তবে ইবন জুরাইজ বলেছেন: ‘ওয়াদ-দুহা’ মক্কী (مكي) নাকি মাদানী (مدني) [তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন], এবং তিনি অক্ষরের সংখ্যা ও আয়াত সংখ্যার কথা উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
19 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ: " آخِرُ سُورَةٍ نَزَلَتْ بَرَاءَةٌ، وَآخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ {يَسْتَفْتُونَكَ} [النساء: 176] "
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) সুলায়মান ইবনে হারব, শুবা থেকে (عن), তিনি আবু ইসহাক থেকে (عن), বারা (রা.) থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: "সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হলো বারাআত এবং সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো {তারা আপনার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়} [আন-নিসা: ১৭৬]।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
20 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، يَقُولُ: " آخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ} [النساء: 176] وَآخِرُ سُورَةٍ نَزَلَتْ بَرَاءَةٌ "
২০ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমর ইবনে মারজুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল-বারা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "সর্বশেষ যে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: {তারা আপনার নিকট ফতোয়া জানতে চায়; বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে ‘কালালাহ’ সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন} [নিসা: ১৭৬] এবং সর্বশেষ যে সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো বারাআত।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
21 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَوْفٌ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ: " قُلْتُ لِعِكْرِمَةَ: أَلَّفُوهُ كَمَا أُنْزِلَ، الْأَوَّلُ فَالْأَوَّلُ؟ فَقَالَ عِكْرِمَةُ: " لَوِ اجْتَمَعَ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يُؤَلِّفُوهُ ذَلِكَ التَّأْلِيفَ مَا اسْتَطَاعُوا. ⦗ص: 36⦘ قَالَ مُحَمَّدٌ: وَأَرَاهُ صَادِقًا
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আহমদ ইবনে মানসুর, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আন-নাদর ইবনে শুমাইল, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আওফ, ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি ইকরিমাহকে বললাম: তারা কি এটি (কুরআন) যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সেভাবে একের পর এক ক্রমানুসারে সংকলন করেছে? তখন ইকরিমাহ বললেন: যদি মানুষ এবং জিন জাতি একত্রিত হয়ে সেই বিন্যাসে এটি সংকলন করার চেষ্টা করত, তবে তারা তা করতে সক্ষম হতো না।" ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ মুহাম্মদ বলেন: আর আমি তাকে সত্যবাদী (صادقًا) মনে করি।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
22 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، فِيمَا أَحْسَبُ قَالَ: " لَمَّا كَانَ بَعْدَ بَيْعَةِ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه، قَعَدَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فِي بَيْتِهِ. فَقِيلَ لِأَبِي بَكْرٍ: قَدْ كَرِهَ بَيْعَتَكَ. فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَقَالَ: أَكَرِهْتَ بَيْعَتِي؟ فَقَالَ: لَا وَاللَّهِ قَالَ: مَا أَقْعَدَكَ عَنِّي؟ قَالَ: رَأَيْتُ كِتَابَ اللَّهِ يُزَادُ فِيهِ، فَحَدَّثْتُ نَفْسِي أَنْ لَا أَلْبَسَ رِدَائِي إِلَّا لِصَلَاةٍ حَتَّى أَجْمَعَهُ. فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَإِنَّكَ نِعْمَ مَا رَأَيْتَ. قَالَ مُحَمَّدٌ: فَقُلْتُ لَهُ: أَلَّفُوهُ كَمَا أُنْزِلَ، الْأَوَّلُ فَالْأَوَّلُ؟ قَالَ: لَوِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يُؤَلِّفُوهُ ذَلِكَ التَّأْلِيفَ مَا اسْتَطَاعُوا. قَالَ مُحَمَّدٌ: أَرَاهُ صَادِقًا
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী বিশর ইবনে মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাওযাহ ইবনে খলিফা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওফ, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, আমার ধারণা মতে তিনি বলেছেন: “যখন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বায়াত (আনুগত্যের শপথ) সম্পন্ন হলো, তখন আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। তখন আবু বকরকে বলা হলো: তিনি আপনার বায়াত অপছন্দ করেছেন। ফলে তিনি তাঁর নিকট লোক পাঠালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কি আমার বায়াত অপছন্দ করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তবে কী আপনাকে আমার নিকট আসা থেকে বিরত রাখল? তিনি বললেন: আমি দেখলাম আল্লাহর কিতাবে পরিবর্ধন করা হচ্ছে, তখন আমি মনে মনে সংকল্প করলাম যে, আমি সালাত ব্যতীত চাদর পরিধান করব না যতক্ষণ না আমি তা সংগ্রহ (সংকলন) করি। তখন আবু বকর বললেন: আপনি যা ভেবেছেন তা অত্যন্ত উত্তম। মুহাম্মদ (ইবনে সিরিন) বলেন: আমি তাঁকে (ইকরিমাহকে) জিজ্ঞেস করলাম: তাঁরা কি তা নাযিলের ক্রম অনুযায়ী একে একে সংকলন করেছিলেন? তিনি বললেন: যদি মানুষ ও জিন জাতি মিলে সেই পদ্ধতিতে তা সংকলন করতে চাইত, তবে তারা তাতে সক্ষম হতো না। মুহাম্মদ বলেন: আমি তাঁকে সত্যবাদী (صادق) বলে মনে করি।”
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
23 - 23 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عُمَرَ، رضي الله عنه قَالَ: «آخِرُ مَا أُنْزِلَ مِنَ الْقُرْآنِ آيَةُ الرِّبَا، وَأَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُبِضَ وَلَمْ يُفَسِّرْهَا فَدَعُوا الرِّبَا وَالرِّيبَةَ»
২৩ - ২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুসাদ্দাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইয়াহইয়া, ইবনে আবি আরুবাহ হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব হতে, তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «কুরআন থেকে সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো সুদের আয়াত; আর আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন যে, তিনি এর (বিস্তারিত) ব্যাখ্যা প্রদান করেননি। সুতরাং তোমরা সুদ এবং যা কিছু সন্দেহের উদ্রেক করে তা বর্জন করো।»
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
24 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا قُرَّةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو رَجَا الْعُطَارِدِيُّ، قَالَ: كَانَ أَبُو مُوسَى يَطُوفُ عَلَيْنَا فِي هَذَا الْمَسْجِدِ، فَيُقْعِدُنَا حِلَقًا حِلَقًا يُقْرِئُنَا ⦗ص: 37⦘ الْقُرْآنَ، وَعِنْدَهُ أَخَذْتُ هَذِهِ السُّورَةَ اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ وَكَانَتْ أَوَّلَ سُورَةٍ نَزَلَتْ عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم "
২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুসলিম ইবনে ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) কুররাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু রাজা আল-উতারিদি। তিনি বলেন: আবু মুসা এই মসজিদে আমাদের নিকট আসতেন এবং আমাদের বিভিন্ন হালাকায় (حلقا حلقا) বা বৃত্তাকারে বসিয়ে কুরআন শিক্ষা দিতেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘। আমি তাঁর নিকট থেকেই এই সূরা—'ইকরা বিইসম রাব্বিকাল্লাযি খালাক'—শিক্ষা করেছি। আর এটিই ছিল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হওয়া প্রথম সূরা।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
25 - أَخْبَرَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: " سَأَلْتُ أَبَا سَلَمَةَ قُلْتُ: أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ أَوَّلَ؟ قَالَ: يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ آيَتَيْنِ أَوَّلِ سُورَةٍ نَزَلَتْ؟ قَالَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} [العلق: 1] قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيَّ قُلْتُ: أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ أَوَّلَ؟ قَالَ: يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُلْتُ: أَيُّ آيَتَيْنِ أَوَّلَ سُورَةٍ نَزَلَتْ؟ قَالَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} [العلق: 1] قَالَ جَابِرٌ: قَالَ: أَلَا أُحَدِّثُكَ مَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " جَاوَرْتُ فِي حِرَاءٍ، فَلَمَّا قَضَيْتُ جَوَارِي، نَزَلْتُ فَاسْتَبْطَنْتُ الْوَادِي، فَنُودِيتُ فَنَظَرْتُ أَمَامِي، وَخَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي، فَلَمْ أَرَ شَيْئًا، قَالَ: فَنَظَرْتُ فَوْقِي، فَإِذَا أَنَا بِهِ قَاعِدٌ عَلَى عَرْشٍ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ قَالَ: فَانْطَلَقْتُ إِلَى خَدِيجَةَ، فَقُلْتُ دَثِّرُونِي، فَدَثَّرُونِي وَصَبُّوا عَلَيَّ مَاءً بَارِدًا فَنَزَلَتْ عَلَيَّ {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ} [المدثر: 2] "
২৫ - হুদবা ইবনে খালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: "আমি আবু সালামাহকে জিজ্ঞাসা করলাম: কুরআনের কোন অংশটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন: 'ইয়া আইয়্যুহাল মুদ্দাসসির' (হে বস্ত্রাবৃত)। আমি বললেন: তবে কোন দুটি আয়াত বা কোন সূরাটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন: {পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন} [আল-আলাক: ১]। আবু সালামাহ বলেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারীকে জিজ্ঞাসা করলাম: কুরআনের কোন অংশটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন: 'ইয়া আইয়্যুহাল মুদ্দাসসির'। আমি বললাম: কোন দুটি আয়াত বা কোন সূরাটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন: {পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন} [আল-আলাক: ১]। জাবির (রা.) বলেন: তিনি বললেন: আমি কি তোমাদের নিকট সেই কথা বর্ণনা করব না যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)? তিনি বলেছেন: "আমি হেরা গুহায় অবস্থান করছিলাম। যখন আমার অবস্থানের সময়কাল শেষ হলো, আমি নিচে নেমে এলাম এবং উপত্যকার সমতলে পৌঁছালাম। তখন আমাকে আহ্বান করা হলো। আমি আমার সামনে, পেছনে, ডানে এবং বামে তাকালাম কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না। তিনি বলেন: এরপর আমি ওপরের দিকে তাকালাম, হঠাৎ আমি তাকে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে একটি সিংহাসনের ওপর উপবিষ্ট অবস্থায় দেখতে পেলাম। তিনি বলেন: এরপর আমি খাদিজার নিকট ফিরে এলাম এবং বললাম: আমাকে বস্ত্রাবৃত করো। তারা আমাকে বস্ত্রাবৃত করল এবং আমার ওপর শীতল পানি ঢালল। তখন আমার ওপর অবতীর্ণ হলো: {হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন ও সতর্ক করুন, এবং আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন} [আল-মুদ্দাসসির: ১-৩]।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
26 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَصْحَابِهِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ: «كُلُّ شَيْءٍ فِي الْقُرْآنِ» يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا «أُنْزِلَ بِالْمَدِينَةِ،» وَيَا أَيُّهَا النَّاسُ «أُنْزِلَ بِمَكَّةَ»
২৬ - আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইবনে নুমাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি তাঁর সাথীদের সূত্রে, আমাশ থেকে, ইব্রাহিম থেকে, আলকামা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "কুরআনের প্রতিটি বিষয় যেখানে 'হে মুমিনগণ' সম্বোধনটি রয়েছে তা মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে, আর যেখানে 'হে লোকসকল' সম্বোধনটি রয়েছে তা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল কুরআন লিইবনিদ দারীস
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
27 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنِ الرَّبِيعِ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ: " أَنَّهُمْ جَمَعُوا الْقُرْآنَ فِي مُصْحَفٍ فِي خِلَافَةِ أَبِي بَكْرٍ، فَكَانَ رِجَالٌ يَكْتُبُونَ، وَيُمَلُّ عَلَيْهِمْ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ حَتَّى انْتَهَوْا إِلَى هَذِهِ الْآيَةِ فِي سُورَةِ بَرَاءَةٍ {ثُمَّ انْصَرَفُوا صَرَفَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ} [التوبة: 127] فَظَنُّوا أَنَّ هَذَا آخِرُ مَا أُنْزِلَ مِنَ الْقُرْآنِ. فَقَالَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَقْرَأَنِي بَعْدَ هَذَا آيَتَيْنِ {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ فَإِنْ تَوَلَوْا فَقُلْ حَسْبِي اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ} قَالَ: فَهَذَا آخِرُ مَا أُنْزِلَ مِنَ الْقُرْآنِ. قَالَ: فَخُتِمَ الْأَمْرُ بِمَا فُتِحَ بِهِ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، يَقُولُ اللَّهُ عز وجل: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] "
27 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে সাঈদের নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবু জাফরের সূত্রে (عن), তিনি রাবি'র সূত্রে (عن), তিনি আবুল আলিয়ার সূত্রে (عن) বর্ণনা করেন: "তারা আবু বকরের খিলাফতকালে কুরআনকে একটি মুসহাফে একত্রিত করেছিলেন। কিছু লোক লিখছিলেন এবং উবাই ইবনে কাব তাদের নিকট পাঠ করে লিখিয়ে দিচ্ছিলেন, যতক্ষণ না তারা সূরা বারাআতের এই আয়াত পর্যন্ত পৌঁছালেন: {অতঃপর তারা ফিরে যায়। আল্লাহ তাদের অন্তরগুলোকে বিমুখ করে দিয়েছেন, কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা উপলব্ধি করে না} [আত-তওবা: ১২৭]। তখন তারা ধারণা করলেন যে, এটিই কুরআনের অবতীর্ণ শেষ অংশ। তখন উবাই ইবনে কাব বললেন, 'নিশ্চয়ই নবী সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এর পরেও আরও দুটি আয়াত পড়িয়েছেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যা কষ্ট দেয় তা তাঁর নিকট অত্যন্ত বেদনাদায়ক; তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত দয়াপরবশ ও পরম দয়ালু। অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনি বলুন, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তিনি মহান আরশের অধিপতি}।' তিনি বললেন: 'এটিই কুরআনের অবতীর্ণ শেষ অংশ।' তিনি আরও বলেন: 'যে বাণীর মাধ্যমে এই বিষয়ের সূচনা হয়েছিল, তার মাধ্যমেই এর সমাপ্তি টানা হয়েছে, আর তা হলো—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।' মহান আল্লাহ বলেন: {আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার নিকট এই ওহী (وحي) প্রেরণ করিনি যে, আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো} [আল-আম্বিয়া: ২৫]।"