(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: -)
الجوع لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الجوع

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

تحقيق: محمد خير رمضان يوسف

الناشر: دار ابن حزم، بيروت لبنان

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 188

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবন আবিদ দুনিয়া রচিত আল-জু' (ক্ষুধা)   (ইবন আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-জু' (ক্ষুধা)

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবন আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)

তাহকীক: মুহাম্মাদ খায়র রামাদান ইউসুফ

প্রকাশক: দার ইবনে হাযম, বৈরুত লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৮

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٣)
1 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ الْعَبْدِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الْقُرَشِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، وَحَبِيبِ بْنِ عُبَيْد ⦗ص: 24⦘ ٍ الرَّحَبِيِّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْمِقْدَامُ بْنُ مَعْدِ يكَرِبَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مَلَأَ ابْنُ آدَمَ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ، حَسَبُ الرَّجُلِ أَكْلَاتٌ مَا أَقَمْنَ صُلْبَهُ، إِمَّا أَبِيتَ ابْنِ آدَمَ، فَثُلُثٌ طَعَامٌ، وَثُلُثٌ شَرَابٌ، وَثُلُثٌ نَفَسٌ»
১ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর বিন আবান আল-আবদি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ আল-কুরাশি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মনসুর বিন আবি মুজাহিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন হামযাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাওব বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি খালিদ বিন মা'দান এবং হাবীব বিন উবাইদ ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ আর-রাহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মিকদাম বিন মা’দিকারিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আদম সন্তান তার পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। মানুষের মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্য সামান্য কয়েক লোকমা খাবারই যথেষ্ট। যদি তার একান্তই প্রয়োজন হয়, তবে সে যেন পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখে।"
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الْعَبَّادَانِيُّ، عَنِ الْمُحَبَّرِ بْنِ هَارُونَ، عَنْ أَبِي يَزِيدٍ الْمَدِينِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمُرَقَّعِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى لَمْ يَخْلُقْ وِعَاءً - إِذَا مُلِئَ - شَرًّا مِنْ بَطْنٍ، فَإِنْ كَانَ لَابُدَّ، فَاجْعَلُوا ثُلُثًا لِلطَّعَامِ، وَثُلُثًا لِلشَّرَابِ، وَثُلُثًا لِلرِّيحِ»
২ - আবু আলী আল-হাসান ইবন আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আসিম আল-আব্বাদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাব্বির ইবন হারুন থেকে, তিনি আবু ইয়াযীদ আল-মাদিনী থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনুল মুরাক্কাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা পেটের চেয়ে মন্দ কোনো পাত্র সৃষ্টি করেননি—যখন তা পূর্ণ করা হয়। সুতরাং যদি একান্তই প্রয়োজন হয়, তবে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়র জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ নিঃশ্বাসের জন্য রাখো।»
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٦)
3 - حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ قَالَ: أُكْرِهَ سَلْمَانُ عَلَى الطَّعَامِ لِيَأْكُلَهُ، فَقَالَ: حَسْبِي حَسْبِي، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «إِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ شِبَعًا فِي الدُّنْيَا، أَطْوَلُهُمْ جُوعًا فِي الْآخِرَةِ، يَا سَلْمَانُ، إِنَّمَا الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ»
৩ - হাসান ইবনুল সাব্বাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মূসা আল-জুহানি থেকে, তিনি যাইদ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সালমানকে আহার করার জন্য পীড়াপীড়ি করা হচ্ছিল, তখন তিনি বললেন: আমার জন্য যথেষ্ট, আমার জন্য যথেষ্ট। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই দুনিয়াতে যারা সর্বাধিক তৃপ্ত হয়ে আহারকারী, পরকালে তারাই দীর্ঘতম সময় ক্ষুধার্ত থাকবে। হে সালমান, নিশ্চয়ই দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফেরের জন্য জান্নাত স্বরূপ।»
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٧)
4 - حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ، عَمَّنْ سَمِعَ أَبَا جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، أَنَّهُ تَجَشَّأَ فِي مَجْلِسِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهُ: «أَقْصِرْ مِنْ جُشَائِكَ، فَإِنَّ أَطْوَلَ النَّاسِ جُوعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرَهُمْ شِبَعًا فِي الدُّنْيَا» ، قَالَ أَبُو جُحَيْفَةَ: فَمَا شَبِعْتُ مُنْذُ ثَلَاثِينَ سَنَةً
৪ - আল-হাসান ইবনে আবদুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু রাজা থেকে, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে যিনি আবু জুহাইফাকে বলতে শুনেছেন, আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে ঢেকুর তুলেছিলেন। অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাকে বললেন: «তোমার ঢেকুর কমাও; কেননা কিয়ামতের দিন সেই সকল মানুষ দীর্ঘতম সময় ক্ষুধার্ত থাকবে যারা দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি পেট ভরে আহার করত»। আবু জুহাইফা (রা.) বলেন: আমি গত ত্রিশ বছর যাবত পেট ভরে আহার করিনি।
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
5 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ، فَدَعَتْ لِي بِطَعَامٍ فَقَالَتْ: «كُلْ، فَلَقَلَّ مَا أَشْبَعُ مِنَ الطَّعَامِ، وَلَوْ شِئْتُ أَنْ أَبْكِي لَبَكَيْتُ» ، قَالَ: قُلْتُ: وَمِمَّ ذَاكَ؟ قَالَتْ: «أَذَكَرُ الْحَالَ الَّتِي فَارَقَ عَلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدُّنْيَا، مَا شَبِعَ فِي يَوْمٍ مَرَّتَيْنِ مِنْ خُبْزِ بُرٍّ حَتَّى لَحِقَ بِاللَّهِ»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে খিদাশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যায়িদ, মুজালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আয়িশার নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি আমার জন্য খাবার আনালেন এবং বললেন: «খাও, কারণ খুব কম সময়ই আমি পেট ভরে খাবার খাই। আমি যদি কাঁদতে চাইতাম তবে অবশ্যই কাঁদতাম।’ বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম: তা কেন? তিনি বললেন: «আমি সেই অবস্থার কথা স্মরণ করছি যে অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন; আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত তিনি কখনও একদিনে দুইবার গমের রুটি খেয়ে তৃপ্ত হননি।’
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ، قَالَ: ⦗ص: 29⦘ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «مَا شَبِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ تِبَاعًا مِنْ خُبْزٍ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ»
৬ - আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে খাযিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ আ’মাশ আমাদের নিকট ইব্রাহিম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওফাত পর্যন্ত টানা তিন দিন রুটি খেয়ে পেট ভরেননি।»
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
7 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ ⦗ص: 30⦘ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «مَا شَبِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ خُبْزِ الشَّعِيرِ يَوْمَيْنِ حَتَّى مَاتَ»
৭ - ইসহাক বিন ইবরাহীম আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সামাদ বিন আবদুল ওয়ারিস আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ আবদুর রহমান বিন ইয়াযীদ থেকে, আল-আসওয়াদ থেকে, আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত কখনো টানা দুই দিন যবের রুটি খেয়ে তৃপ্ত হননি।»
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٠)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةِ مِنْ طَعَامِ بُرٍّ ثَلَاثُ لَيَالٍ تِبَاعًا حَتَّى قُبِضَ»
৮ - আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মানসূর থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবার মদিনায় আসার পর থেকে তাঁর ওফাত হওয়া পর্যন্ত টানা তিন রাত গমের খাবার খেয়ে তৃপ্ত হননি।”
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٠)
9 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، رحمه الله، وَذَكَرَ مَا أَصَابَ النَّاسُ مِنَ ⦗ص: 31⦘ الدُّنْيَا: «لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَظَلُّ الْيَوْمَ يَلْتَوِي، مَا عِنْدَهُ مَا يَمْلَأُ بَطْنَهَ مِنَ الدَّقَلِ»
৯ - ইসহাক বিন ইসমাঈল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাওহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুবা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সিমাক বিন হারব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নুমান বিন বশীরকে বলতে শুনেছি, উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মানুষের পার্থিব সম্পদ ও প্রাচুর্য লাভের কথা উল্লেখ করে বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি, তিনি সারা দিন ক্ষুধার তীব্রতায় ছটফট করতেন; তাঁর নিকট পেট ভরার মতো সামান্য নিম্নমানের খেজুরও ছিল না।”
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣١)
10 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا. . . . . . . . . .، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: «لَمَّا كَانَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ نَظَرْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَوَجَدْتُهُ قَدْ وَضَعَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ إِزَارِهِ حُجَيْرًا يُقِيمُ بِهِ صُلْبَهُ مِنَ الْجُوعِ»
১০ - ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন . . . . . . . . . . , আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে আব্দুল মালিক বর্ণনা করেছেন আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «যখন খন্দকের দিন উপস্থিত হলো, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে তাকালাম এবং দেখলাম যে, ক্ষুধার কারণে তাঁর মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্য তিনি তাঁর দেহ ও লুঙ্গির মাঝখানে একটি ছোট পাথর স্থাপন করেছেন।»
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣١)
. . . .

 

11 - زَيْنَبَ. . . . . . . . . عَنْ حِبَّانَ بْنِ جَزْءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَشُدُّ صُلْبَهُ بِالْحَجَرِ مِنَ الْغَرَثِ»
. . . .

 

১১ - যায়নব। . . . . . . . . হিব্বান ইবনে জায্ হতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্ষুধার কারণে তাঁর কোমর পাথরের সাহায্যে শক্ত করে বেঁধে রাখতেন।»
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
12 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ. . . . . . . . قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا أَتَى عَلَى آلِ مُحَمَّدٍ ثَلَاثٌ يَشْبَعُونَ فِيهِنَّ. . . .» ⦗ص: 33⦘، قَالَ الْحَسَنُ: مَا قَالَ ذَلِكَ يَشْتَكِي إِلَى النَّاسِ، إِنَّمَا قَالَهُ يَعْتَذِرُ بِهِ
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদ... তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম, হাসান থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরিবারের উপর এমন তিনটি দিন অতিবাহিত হয়নি যাতে তারা তৃপ্ত হয়ে আহার করেছেন...» ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘, হাসান বলেন: তিনি মানুষের নিকট অভিযোগ করার জন্য তা বলেননি, বরং তিনি কেবল ওজর পেশ করার উদ্দেশ্যেই তা বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٣)
13 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ، عَنِ ابْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ: «كَانَ يَمُرُّ بِنَا هِلَالٌ وَهِلَالٌ مَا يُوقِدُ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَارٌ» ، قَالَ: قُلْتُ لِخَالَتِي: عَلَى أَيِّ شَيْءٍ كُنْتُمْ تَعِيشُونَ؟ قَالَتْ: " عَلَى الْأَسْوَدَيْنِ: الْمَاءِ وَالتَّمْرِ "
১৩ - আলী ইবনুল জা‘দ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু গাসসান আমাদের নিকট ইবনে আবি হাযিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে রুমান থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আমাদের ওপর দিয়ে একের পর এক নতুন চাঁদ অতিবাহিত হয়ে যেত, অথচ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরসমূহের কোনো ঘরেই আগুন জ্বালানো হতো না»। তিনি (উরওয়াহ) বলেন: আমি আমার খালাকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনারা কিসের ওপর জীবন ধারণ করতেন? তিনি বললেন: "দুটি কালো জিনিসের ওপর: পানি এবং খেজুর।"
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٣)
14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ الْعَتَكِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ⦗ص: 34⦘ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْمَدَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه قَالَ: فَاتَنِي الْعَشَاءُ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَرَجَعْتُ إِلَى أَهْلِي، فَقُلْتُ: أَمَا عِنْدَكُمْ عَشَاءٌ؟ قَالُوا: لَا، فَاضْطَجَعْتُ عَلَى فِرَاشِي، فَجَعَلْتُ أَتَقَلَّبُ وَلَا يَأْتِينِي النَّوْمُ مِنَ الْجُوعِ، فَقُلْتُ: لَوْ أَنِّي خَرَجْتُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَصَلَّيْتُ وَتَعَلَّلْتُ حَتَّى أُصْبِحَ، قَالَ: فَخَرَجْتُ فَصَلَّيْتُ مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ تَسَانَدْتُ فِي نَاحِيَةٍ مِنْهُ، إِذْ طَلَعَ عَلَيَّ عُمَرُ، فَقَالَ: مَا أَخْرَجَنِي إِلَّا الَّذِي أَخْرَجَكَ، فَبَيْنَا نَحْنُ، إِذْ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «مَا أَخْرَجَنِي إِلَّا الَّذِي أَخْرَجَكُمَا، فَانْطَلِقُوا بِنَا إِلَى الْوَاقِمِيِّ» ، فَانْطَلَقْنَا فِي الْقَمَرِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِامْرَأَتِهِ: «أَيْنَ زَوْجُكِ؟» ، قَالَتْ: ذَهَبَ يُسْتَعْذَبُ لَنَا مِنْ حِسْيِ بَنِي حَارِثَةَ، فَجَاءَ حَامِلًا قِرْبَتَهُ، ⦗ص: 35⦘ فَعَلَّقَهَا فِي نَخْلَةٍ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا، فَقَالَ: مَرْحَبًا وَأَهْلًا، مَا زَارَ النَّاسَ قَطُّ مِثْلَ مَا زَارَنَا اللَّيْلَةَ، ثُمَّ انْطَلَقَ إِلَى عِذْقٍ فَقَطَعَهُ، ثُمَّ أَخَذَ الشَّفْرَةَ، فَجَالَ فِي الْغَنَمِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِيَّاكَ وَالْحَلُوبَ» ، أَوْ قَالَ: «ذَاتُ الدَّرِّ» ، فَذَبَحَ وَسَلَخَ، وَأَمَرَ امْرَأَتَهُ فَعَجَنَتْ وَخَبَزَتْ، وَقَطَعَ فِي الْقُدُورِ وَأَوْقَدَ تَحْتَهَا، ثُمَّ ثَرَّدَ، وَغَرَفَ مِنَ الْمَرَقِ وَاللَّحْمِ، ثُمَّ وَضَعَهُ بَيْنَ أَيْدِينَا، فَأَكَلْنَا حَتَّى شَبِعْنَا، ثُمَّ قَامَ إِلَى الْقِرْبَةِ وَقَدْ سَفَقَتْهَا الرِّيحُ، فَبُرِّدَتْ فَأَسْقَانَا فِي إِنَاءٍ، ثُمَّ نَاوَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَشَرِبَ، ثُمَّ أَبَا بَكْرٍ، ثُمَّ عُمَرَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَخْرَجْنَا وَلَمْ يُخرِجْنَا إِلَّا الْجُوعُ، ثُمَّ لَمْ نَرْجِعْ حَتَّى أَصَبْنَا هَذَا، لَتُسْأَلُنَّ عَنْ هَذَا فِي الْقِيَامَةِ، فَإِنَّ هَذَا مِنَ النَّعِيمِ»
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে সালিহ আল-আতাকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারিবি, ইয়াহইয়া ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-মাদানি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক রাতে আমার রাতের খাবার খাওয়া হয়নি। আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে গিয়ে বললাম: তোমাদের কাছে কি রাতের খাবার আছে? তারা বলল: না। তখন আমি আমার বিছানায় শুয়ে পড়লাম এবং ছটফট করতে লাগলাম, ক্ষুধার কারণে আমার ঘুম আসছিল না। আমি ভাবলাম: যদি আমি মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করতাম এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত সেখানে সময় কাটাতাম। তিনি বলেন: আমি বের হলাম এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী সালাত আদায় করলাম। তারপর মসজিদের এক কোণে হেলান দিয়ে বসলাম, এমন সময় ওমর আমার কাছে এলেন। তিনি বললেন: আমাকে সেই কারণটিই বের করেছে যা আপনাকে বের করেছে। আমরা এভাবেই ছিলাম, হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে বের হয়ে এলেন এবং বললেন: «আমাকে সেই কারণটিই বের করেছে যা তোমাদের দুজনকে বের করেছে, সুতরাং তোমরা আমাদের সাথে আল-ওয়াকিমির কাছে চলো।» আমরা জ্যোৎস্নালোকে রওয়ানা হলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর স্ত্রীকে বললেন: «তোমার স্বামী কোথায়?» তিনি বললেন: তিনি বনু হারিসার প্রস্রবণ থেকে আমাদের জন্য সুপেয় পানি আনতে গেছেন। এমন সময় তিনি তাঁর মশক বহন করে নিয়ে এলেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ এবং সেটি একটি খেজুর গাছে ঝুলিয়ে রাখলেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে এগিয়ে এলেন এবং বললেন: স্বাগতম ও অভিনন্দন! আজ রাতে আমাদের নিকট যেমন মেহমান এসেছেন, এমন আর কারো নিকট কখনো আসেনি। এরপর তিনি একটি খেজুরের ছড়া নিয়ে এসে তা কাটলেন। অতঃপর একটি ছুরি নিয়ে বকরির পালের মধ্যে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «দুগ্ধবতী বকরি থেকে সাবধান থাকো» অথবা বললেন: «ওলান ভরা বকরি (জবাই করবে না)»। অতঃপর তিনি জবেহ করলেন এবং চামড়া ছাড়ালেন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে নির্দেশ দিলে তিনি আটা মাখলেন এবং রুটি তৈরি করলেন। তিনি হাঁড়িতে মাংস কাটলেন এবং তার নিচে আগুন জ্বালিয়ে দিলেন। এরপর তিনি সারিদ (ঝোল ও রুটির মিশ্রণ) তৈরি করলেন এবং তা থেকে ঝোল ও মাংস তুলে আমাদের সামনে রাখলেন। আমরা তৃপ্তি সহকারে পেট ভরে খেলাম। এরপর তিনি সেই মশকের কাছে গেলেন যা বাতাসে দুলছিল এবং শীতল হয়েছিল। তিনি আমাদের একটি পাত্রে পান করালেন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পান করলেন, তারপর আবু বকর, তারপর ওমর। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের বের করেছেন এমতাবস্থায় যে ক্ষুধা ছাড়া অন্য কিছু আমাদের বের করেনি, অতঃপর আমরা ফিরে যাওয়ার আগেই এটি লাভ করলাম। কিয়ামতের দিন অবশ্যই তোমাদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, নিশ্চয়ই এটি নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।»
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٦)
15 - حَدَّثَنِي غَيْرُ وَاحِدٍ، عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيِّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَارَةَ أَبُو هَاشِمٍ صَاحِبُ الزَّعْفَرَانِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، حَدَّثَهُ: أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَتْ بِكُسَيْرَةِ خُبْزٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «مَا هَذِهِ الْكُسِيرَةُ يَا فَاطِمَةُ؟» ، قَالَتْ: قُرْصٌ خَبَزْتُهُ، فَلَمْ تَطِبْ نَفْسِي حَتَّى أَتَيْتُكَ بِهَذِهِ الْكُسِيرَةِ، قَالَ: «أَمَا إِنَّهُ أَوَّلُ طَعَامٍ دَخَلَ بَطْنَ أَبِيكِ مُنْذُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ»
১৫ - আমার নিকট একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উসমান বিন উমারা আবু হাশিম সাহিবুজ যা'ফরান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, আনাস বিন মালিক তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক টুকরো রুটি নিয়ে আসলেন। তিনি বললেন: «হে ফাতিমা, এই রুটির টুকরোটি কী?» তিনি বললেন: এটি একটি রুটি যা আমি তৈরি করেছি, আর আপনার নিকট এই টুকরোটি নিয়ে না আসা পর্যন্ত আমার মন তৃপ্ত হচ্ছিল না। তিনি বললেন: «জেনে রাখো, তিন দিনের মধ্যে তোমার পিতার উদরে প্রবেশ করা এটিই প্রথম খাদ্য।»
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٧)
16 - حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَيَّارٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ، قَالَ: عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: «مَا شَبِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ خُبْزٍ وَلَحْمٍ قَطُّ إِلَّا عَلَى ضَفَفٍ» قَالَ مَالِكٌ: فَلَمْ أَدْرِ مَا الضَّفَفُ، فَلَقِيتُ أَعْرَابِيًا. . . فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ: إِلَّا تَنَاوَلَهَا عَلَى رُءُوسِ النَّاسِ
১৬ - হারুন ইবন আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবন দিনার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো রুটি এবং গোশত খেয়ে পূর্ণ তৃপ্ত হননি, কেবল যাফাফ (মানুষের আধিক্য) ব্যতীত।» মালিক বলেন: আমি জানতাম না যাফাফ কী, অতঃপর আমি এক বেদুইনের সাথে সাক্ষাৎ করলাম... এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: এর অর্থ হলো মানুষের ভিড়ের মাঝে (সবার সাথে একত্রে) তা গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٧)
17 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ⦗ص: 38⦘ قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: «جُعْتُ مَرَّةً بِالْمَدِينَةِ جُوعًا شَدِيدًا، فَخَرَجْتُ أَطْلُبُ الْعَمَلَ فِي عَوَالِي الْمَدِينَةِ، فَإِذَا أَنَا بِامْرَأَةٍ قَدْ جَمَعْتَ مَدَرًا، فَظَنَنْتُ تُرِيدُ بَلَّهُ، فَأَتَيْتُهَا، فَقَاطَعْتُهَا عَلَى كُلِّ ذَنُوبٍ تَمْرَةً، فَبَدَرَتْ سِتَّةَ عَشَرَ ذَنُوبًا، حَتَّى مَجَلَتْ يَدَايَ، ثُمَّ أَتَيْتُ الْمَاءَ، فَأَصَبْتُ مِنْهُ، ثُمَّ أَتَيْتُهَا فَقُلْتُ بِكَفِّيَّ هَكَذَا بَيْنَ يَدَيْهَا، فَعَدَّتْ لِي سِتَّ عَشْرَةَ تَمْرَةً، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَأَخْبَرْتُهُ، فَأَكَلَ مَعِيِّ مِنْهَا»
১৭ - ইসহাক বিন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল বিন ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ তিনি বলেন: আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, আলী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «একদা আমি মদীনায় অত্যন্ত ক্ষুধার্ত হলাম। তখন আমি মদীনার উচ্চভূমি অঞ্চলে (আওয়ালি) কাজের সন্ধানে বের হলাম। হঠাৎ আমি এক মহিলাকে দেখলাম যে মাটির ঢিলা স্তূপ করছে; আমি ধারণা করলাম সে সেগুলো ভেজাতে চায়। আমি তার নিকট গেলাম এবং প্রতিটি বালতি পানি সেচনের বিনিময়ে একটি করে খেজুরের চুক্তিতে আবদ্ধ হলাম। আমি ষোলো বালতি পানি সেচন করলাম, এমনকি আমার উভয় হাত ফোস্কাগ্রস্ত হয়ে পড়ল। অতঃপর আমি পানির নিকট গিয়ে তা থেকে ব্যবহার করলাম। তারপর তার কাছে এসে তার সম্মুখে আমার দুই হাতের তালু এভাবে পাতলাম। তখন সে আমাকে গুনে ষোলোটি খেজুর দিল। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে বিষয়টি জানালাম, অতঃপর তিনি আমার সাথে তা থেকে আহার করলেন।»
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٨)
18 - حَدَّثَنَي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، قَالَ: حَدَّثَنَا. . . . . . قَالَ: حَدَّثَنَا حُدَيْجُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا كِنَانَةُ، مَوْلَى صَفِيَّةَ، عَنْ ⦗ص: 39⦘ صَفِيَّةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ: جَاءَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِي فَقَالَ: «أَعِنْدَكِ يَا بِنْتَ حُيَيِّ شَيْءٌ فَإِنِّي جَائِعٌ» . فَقُلْتُ: لَا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلَّا مَدٌّ مِنْ طَحِينٍ. قَالَ: «فَأَسْخِتِيهِ» . قَالَتْ: فَجَعَلْتُهُ فِي الْقَدْرِ، وَأَنْضَجْتُهُ، فَقُلْتُ: قَدْ نَضِجَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ: «تَعْلَمِينَ فِي نَحْيِ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ شَيْءٍ» ؟ فَقُلْتُ: لَا وَاللَّهِ مَا أَدْرِي يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَتْ: فَذَهَبَ هُوَ بِنَفْسِهِ حَتَّى أَتَى بَيْتَهَا فَقَالَ: «فِي نَحْيِكِ شَيْءٌ يَا بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ» ؟ قَالَتْ: لَيْسَ فِيهِ إِلَّا قَلِيلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَتْ: فَجَاءَ هُوَ بِنَفْسِهِ، فَعَصَرَ مَا فِيهِ عَلَى الْقَدْرِ، حَتَّى رَأَيْتُ الَّذِي يَخْرُجُ مَعَ السَّمْنِ، فَوَضَعَ يَدَهُ فِيهِ وَقَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ» ثُمَّ دَعَا بِالْبَرَكَةِ وَقَالَ: «ادْعِي أَخَوَاتِكِ، فَإِنِّي أَعْلَمُ أَنَّهُنَّ يَجِدْنَ مِثْلَ مَا أَجِدُ» . ⦗ص: 40⦘ فَدَعَوْتُهُنَّ، فَأَكَلْنَا حَتَّى شَبِعْنَا. ثُمَّ جَاءَ أَبُو بَكْرٍ، فَاسْتَأْذَنَ، فَقُمْنَا، ثُمَّ جَاءَ عُمَرُ، ثُمَّ جَاءَ رَجُلٌ آخِرٌ، فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا، وَفَضَلَ مِنْهُمْ "
১৮ - ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল মালিক আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন... তিনি বলেছেন: হুদাইজ ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সাফিয়্যার মুক্তদাস কিনানাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী সাফিয়্যাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আমার কাছে আসলেন এবং বললেন: «হে হুয়াইয়ির কন্যা, তোমার কাছে কি কিছু আছে? কারণ আমি ক্ষুধার্ত।» আমি বললাম: না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! এক মুদ আটা ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি বললেন: «তবে তা রান্না করো।» তিনি (সাফিয়্যাহ) বললেন: আমি তা পাতিলে দিলাম এবং তা রান্না করলাম। এরপর আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এটি রান্না হয়ে গেছে। তখন তিনি বললেন: «তুমি কি জানো আবু বকরের কন্যার ঘিয়ের পাত্রে কিছু আছে কি না?» আমি বললাম: না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জানি না। তিনি (সাফিয়্যাহ) বললেন: এরপর তিনি নিজেই গেলেন এমনকি তাঁর (আয়েশার) ঘরে আসলেন এবং বললেন: «হে আবু বকরের কন্যা! তোমার ঘিয়ের পাত্রে কি কিছু আছে?» তিনি (আয়েশা) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এতে সামান্য পরিমাণ ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি (সাফিয়্যাহ) বললেন: এরপর তিনি নিজেই আসলেন এবং তাতে যা ছিল তা পাতিলের ওপর নিংড়ে দিলেন, এমনকি আমি ঘিয়ের সাথে যা বের হচ্ছিল তাও দেখতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর তিনি তাতে তাঁর হাত রাখলেন এবং বললেন: «বিসমিল্লাহ» (আল্লাহর নামে), এরপর তিনি বরকতের দোয়া করলেন এবং বললেন: «তোমার বোনদের ডাকো, কারণ আমি জানি যে তারা আমার মতোই ক্ষুধার্ত।» ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ এরপর আমি তাদের ডাকলাম এবং আমরা তৃপ্তিসহকারে খেলাম। অতঃপর আবু বকর আসলেন এবং অনুমতি চাইলেন, তখন আমরা উঠে দাঁড়ালাম। এরপর উমর আসলেন, এরপর অন্য এক ব্যক্তি আসলেন; তাঁরা তৃপ্তিসহকারে খেলেন এবং তাঁদের খাওয়ার পর খাবার অবশিষ্ট রয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٠)
19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ ثَابِتٍ الْجَزَرِيُّ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَاجٍ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَكَلْتُ خُبْزَ بُرٍّ بِلَحْمِ سَمْنٍ، فَأَتَيْتُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَتَشَجَّأْتُ، فَقَالَ: «اكْفُفْ جُشَاءَكَ، فَإِنَّ أَكْثَرَكُمْ شِبَعًا أَطْوَلُكُمْ جُوعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ» ⦗ص: 41⦘، قَالَ: فَمَا أَكَلَ أَبُو جُحَيْفَةَ مِلْءَ بَطْنِهِ حَتَّى فَارَقَ الدُّنْيَا
১৯ - আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন সাবিত আল-জাজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ বিন আমর বিন সাজ থেকে, তিনি আউন বিন আবি জুহাইফা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি চর্বিযুক্ত গোশত দিয়ে গমের রুটি খেয়েছিলাম, এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং ঢেকুর তুললাম। তিনি বললেন: «তোমার ঢেকুর সংবরণ করো, কারণ তোমাদের মধ্যে যারা দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি পেটভরে আহারকারী, কিয়ামতের দিন তারাই হবে দীর্ঘতম সময়ের জন্য ক্ষুধার্ত» ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘, বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আবু জুহাইফা দুনিয়া ত্যাগ করা পর্যন্ত আর কখনো পেটভরে আহার করেননি।
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤١)
20 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبَى، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: مَشَيْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِخُبْزِ شَعِيرٍ، وَإِهَالَةٍ سَنِخَةً، قَالَ: وَلَقَدْ رَهَنَ دِرْعًا عِنْدَ يَهُودِيٍّ، وَلَقَدْ سَمِعْتُهُ مِرَارًا يَقُولُ: «وَاللَّهِ مَا أَصْبَحَ فِي عِيَالِ مُحَمَّدٍ صَاعُ تَمْرٍ وَلَا صَاعُ حَبٍّ» ، وَإِنَّ عِنْدَهُ لِتِسْعُ نِسْوَةٍ يَوْمَئِذٍ
২০ - আমাদের নিকট ইসহাক ইবন ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআয ইবন হিশাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যবের রুটি এবং দুর্গন্ধযুক্ত চর্বি নিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হেঁটে গেলাম। তিনি বলেন: আর তিনি (রাসূলুল্লাহ) জনৈক ইহুদীর নিকট নিজের বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন। আমি তাঁকে বারবার বলতে শুনেছি: «আল্লাহর কসম, মুহাম্মাদের পরিবারের নিকট সকালে এক সা‘ খেজুর কিংবা এক সা‘ খাদ্যশস্যও নেই», অথচ সেদিন তাঁর ঘরে নয়জন স্ত্রী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٢)
21 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنْ مُبَارَكٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مَضْطَجَعٌ عَلَى سَرِيرٍ مَرْمُولٍ بِشَرِيطٍ لَيْسَ بَيْنَ جِلْدِهِ وَبَيْنَ الشَّرِيطِ ثَوْبٌ، وَتَحْتَ رَأْسِهِ وِسَادَةٌ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِهِ، حَتَّى دَخَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، فَانْحَرَفَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْحِرَافَةً، فَنَظَرَ، فَرَأَى الشَّرِيطَ قَدْ أَثَّرَ بِجَنْبِهِ، فَبَكَى عُمَرُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا يُبْكِيكَ يَا عُمَرُ؟» ، قَالَ: أَمَا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَبْكِي إِلَّا لِكَوْنِي أَعْلَمُ أَنَّكَ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ مِنْ كِسْرَى، وَقَيْصَرَ، فَهُمَا يَعِيشَانِ فِيمَا يَعِيشَانِ فِيهِ مِنَ الدُّنْيَا، وَأَنْتَ بِالْمَكَانِ الَّذِي أَرَى، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوَمَا تَرْضَى يَا عُمَرُ أَنْ تَكُونَ لَهُمُ الدُّنْيَا وَلَنَا الْآخِرَةُ؟» ، قَالَ: بَلَى، وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، ⦗ص: 43⦘ قَالَ: «فَإِنَّهُ كَذَاكَ»
২১ - আমাদের কাছে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন মুবারক থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি খেজুরের ছালের রশি দিয়ে বোনা একটি খাটিয়ার ওপর শুয়ে ছিলেন। তাঁর শরীর ও রশির মাঝখানে কোনো কাপড় ছিল না। তাঁর মাথার নিচে ছিল চামড়ার একটি বালিশ, যার ভেতরে ছিল খেজুরের ছাল। অতঃপর তাঁর নিকট তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে অনেকেই প্রবেশ করলেন, পরিশেষে উমর ইবনুল খাত্তাব প্রবেশ করলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দিক থেকে কিছুটা পাশ ফিরলেন। তখন উমর তাকালেন এবং দেখলেন যে, রশি তাঁর পার্শ্বদেশে দাগ ফেলে দিয়েছে। এতে উমর কেঁদে ফেললেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «হে উমর! কিসে তোমাকে কাঁদাচ্ছে?» তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কেবল এই কারণেই কাঁদছি যে, আমি জানি আপনি আল্লাহর কাছে কিসরা ও কায়সারের চেয়েও অধিক সম্মানিত। অথচ তারা পার্থিব জগতের যে বিলাসিতায় জীবন যাপন করছে তা করছে, আর আপনি এমন অবস্থায় আছেন যা আমি দেখছি। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «হে উমর! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তাদের জন্য দুনিয়া আর আমাদের জন্য আখেরাত নির্ধারিত হোক?» তিনি বললেন: অবশ্যই, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই বিষয়টি এমনই‌।»
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٣)
‌‌عَائِشَةُ رضي الله عنها
আয়েশা আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٣)
22 - حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْجُنَيْدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا غَسَّانُ بْنُ عُبَيْدٍ الْأَزْدِيُّ الْمَوْصِلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمْزَةُ الْبَصْرِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: " إِنَّ أَوَّلَ بَلَاءٍ حَدَّثَ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْدَ قَضَاءِ نَبِيِّهَا صلى الله عليه وسلم: الشِّبَعُ، فَإِنَّ الْقَوْمَ لَمَّا شَبِعَتْ بُطُونَهُمْ سَمِنَتْ أَبْدَانُهُمْ، فَتَصَعَّبَتْ قُلُوبُهُمْ، وَجَمَحَتْ شَهَوَاتُهُمْ "
২২ - আমাদের নিকট আল-হুসাইন ইবনুল জুনাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট গাসসান ইবনু উবাইদ আল-আজদি আল-মাওসিলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হামযা আল-বাসরি বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনু উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আয়িশা (রা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই উম্মতের মাঝে তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকালের পর প্রথম যে ফিতনা বা বিপদটি আবির্ভূত হয়েছে তা হলো পেট পুরে খাওয়া। কেননা মানুষের পেট যখন ভরে যায়, তখন তাদের শরীর স্থূল হয়ে যায়, ফলে তাদের অন্তরগুলো কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাদের কুপ্রবৃত্তিগুলো লাগামহীন হয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٣)
‌‌أَبُو جَعْفَرٍ
আবু জাফর
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٣)
23 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ الْأَوْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ قَيْسٍ النَّخَعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ: «إِذَا امْتَلَأَ الْبَطْنُ طَغَى الْجَسَدُ»
২৩ - আহমদ ইবনে উসমান আল-আওদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাসিম ইবনে কায়স আন-নাখায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুমাইদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন পেট পূর্ণ হয়ে যায়, তখন শরীর অবাধ্য হয়ে ওঠে।"
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٤)
‌‌عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه
আলী ইবনে আবী তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٤)
24 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ الْأَزْهَرِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ: «إِنْ أَرَدْتَ أَنْ تَلْحَقَ بِصَاحِبَيْكَ فَأَقْصِرِ الْأَمَلَ، وَكُلْ دُونَ الشِّبَعِ، وَارْقَعِ الْقَمِيصَ، وَانْكُسِ الْإِزَارَ، وَاخْصِفِ النَّعْلَ؛ تَلْحَقْ بِهِمَا»
২৪ - আমাদের নিকট আবদুর রহমান বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইউনুস বিন বুকাইর বর্ণনা করেছেন, আনবাসাহ বিন আল-আযহার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন উকাইল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী বিন আবি তালিব উমর বিন আল-খাত্তাবকে বলেছেন: «যদি আপনি আপনার দুই সঙ্গীর সাথে মিলিত হতে চান, তবে আকাঙ্ক্ষা সীমিত করুন, পেট ভরে আহার করবেন না, জামায় তালি দিন, লুঙ্গি সংকুচিত রাখুন এবং জুতা মেরামত করুন; তবেই আপনি তাঁদের সাথে মিলিত হতে পারবেন।»
(খণ্ড: ১) আল জুউ লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٤)
‌‌عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ رضي الله عنه
উবাদাহ ইবনুস সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু