(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: -)
السيرة النبوية من البداية والنهاية - ت عبد الواحد القسم: السيرة النبوية
الكتاب: السيرة النبوية
المؤلف: أبو الفداء، إسماعيل بن كثير (701 - 774 هـ)
[مُستَلًّا مِن كتابه: البداية والنهاية]
تحقيق: د. مصطفى عبد الواحد
الناشر: عيسى البابي الحلبي، القاهرة
عام النشر: 1395 هـ - 1976 م
عدد الأجزاء: 4
وصَوّرتْها: دار المعرفة للطباعة والنشر والتوزيع بيروت - لبنان
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া থেকে সীরাত আন-নববীয়া - সম্পাদনায় আব্দুল ওয়াহিদ বিভাগ: সীরাত আন-নববীয়া
কিতাব: সীরাত আন-নববীয়া
লেখক: আবুল ফিদা، ইসমাঈল বিন কাসীর (৭০১ - ৭৭৪ হিজরী)
[তাঁর কিতাব থেকে সংকলিত: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া]
সম্পাদনা: ড. মোস্তফা আব্দুল ওয়াহিদ
প্রকাশক: ঈসা আল-বাবী আল-হালাবী، কায়রো
প্রকাশের বছর: ১৩৯৫ হিজরী - ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
পুনর্মুদ্রণ: দারুল মা'রিফাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ বৈরুত - লেবানন
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
تَقْدِيمالْحَمد لله وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على رَسُوله، وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أنيب.
وَبعد: فَهَذَا كتاب السِّيرَة النَّبَوِيَّة للامام الْحَافِظ، أَبى الْفِدَاء إِسْمَاعِيل بن كثير، أقدمه للامة الاسلامية راجيا أَن يكون فِي نشره من الْخَيْر مَا يُحَقّق الْفَائِدَة وَمَا يقدم سيرة الرَّسُول الْكَرِيم فِي صُورَة دانية إِلَى الْكَمَال قريبَة إِلَى الْحَقِيقَة دقيقة فِي الْعرض ممحصة الرِّوَايَات والاخبار.
إِن الامام ابْن كثير وَهُوَ الْحَافِظ المتقن قد جمع كل الاخبار عَن حَيَاة الرَّسُول ودعوته وَمَا سبقها من فَتْرَة الْجَاهِلِيَّة، وَقد بذل جهدا فِي تمحيص الاخبار وَنقد أسانيدها، وَإِن كَانَ قد ترخص فِي رِوَايَة بعض الاخبار الْوَاهِيَة كَمَا سنذكر.
وَعَمله هَذَا يضع أَمَام الْقَارئ كل مَا يُمكن الالمام بِهِ فِي هَذَا المجال، ويجعله على بَصِيرَة فِي تفهم السِّيرَة النَّبَوِيَّة ووعى أحداثها.
وَقد آسفنى أَن تظل طبعة هَذِه السِّيرَة الْكَرِيمَة مليئة بالتشويه والتحريف بعيدَة عَن الدقة والضبط، فآثرت عرضهَا صَحِيحَة بريئة من التحريف والتصحيف قدر الامكان، وضبطها وَشرح الْغَرِيب فِيهَا، وَالتَّعْلِيق على مَا يستبعد من الاخبار والْآثَار.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি ফিরে যাই।
অতঃপর: এটি ইমাম হাফিজ আবু আল-ফিদা ইসমাঈল ইবনে কাসীরের রচিত 'আস-সিরাত আন-নাবাবিয়্যাহ' গ্রন্থ। আমি এটি মুসলিম উম্মাহর সামনে পেশ করছি এই আশায় যে, এর প্রকাশের মাধ্যমে এমন কল্যাণ অর্জিত হবে যা উপকার নিশ্চিত করবে এবং যা সম্মানিত রাসূলের সীরাতকে পূর্ণতার কাছাকাছি, সত্যের নিকটবর্তী, উপস্থাপনায় নির্ভুল এবং বর্ণনা ও সংবাদসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইকৃত রূপে উপস্থাপন করবে।
ইমাম ইবনে কাসীর, যিনি একজন দক্ষ হাফিজ, তিনি রাসূলের জীবন, তাঁর দাওয়াত এবং এর পূর্ববর্তী জাহিলিয়াত যুগের সমস্ত সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। তিনি সংবাদসমূহ যাচাই-বাছাই এবং সেগুলোর সনদসমূহ সমালোচনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেছেন, যদিও তিনি কিছু দুর্বল বর্ণনা পেশ করার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখিয়েছেন, যেমনটি আমরা উল্লেখ করব।
আর তাঁর এই কর্মটি পাঠকের সামনে এই ক্ষেত্রে জানা সম্ভব এমন সবকিছু উপস্থাপন করে এবং পাঠককে নববী সীরাত অনুধাবনে ও এর ঘটনাবলি হৃদয়াঙ্গম করার ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি দান করে।
আমি ব্যথিত হয়েছি যে, এই মহিমান্বিত সীরাতের সংস্করণটি বিকৃতি ও পরিবর্তনের দ্বারা পূর্ণ ছিল এবং এটি নির্ভুলতা ও সুসংবদ্ধতা থেকে দূরে ছিল। তাই আমি একে যথাসম্ভব বিকৃতি ও পাঠ্যগত ভুল থেকে মুক্ত করে বিশুদ্ধরূপে উপস্থাপন করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, এবং একে সুবিন্যস্ত করা, এর কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান ও যেসব সংবাদ ও বর্ণনা অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে সেগুলোর ওপর টীকা প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وسأعود إِلَى قصَّة هَذَا الْكتاب وعملى فِيهِ بعد الحَدِيث عَن مُؤَلفه والالمام بشئ من أخباره (1) .
ابْن كثير: هُوَ أَبُو الْفِدَاء عماد الدّين إِسْمَاعِيل، بن عمر، بن كثير، بن ضوء، ابْن كثير، ابْن زرع، القرشى، الشَّافِعِي.
كَانَ أَصله من الْبَصْرَة، وَلكنه نَشأ بِدِمَشْق وتربى بهَا.
ولد بمجدل الْقرْيَة من أَعمال مَدِينَة بصرى شَرْقي دمشق، سنة سَبْعمِائة أَو إِحْدَى وَسَبْعمائة.
وَتوفى بعد أَن فقد بَصَره، فِي يَوْم الْخَمِيس السَّادِس وَالْعِشْرين من شعْبَان سنة أَربع وَسبعين وَسَبْعمائة، عَن أَربع وَسبعين سنة.
نشأته: كَانَ أَبوهُ خَطِيبًا لقريته،، وَبعد مولد ابْن كثير بِأَرْبَع سِنِين توفى وَالِده، فرباه
أَخُوهُ الشَّيْخ عبد الْوَهَّاب.
وعَلى هَذَا الاخ تلقى ابْن كثير علومه فِي مبدأ أمره.
ثمَّ انْتقل إِلَى دمشق سنة 706 فِي الْخَامِسَة من عمره.
شُيُوخه: كَانَت دراسة ابْن كثير متجهة إِلَى الْفِقْه والْحَدِيث وعلوم السّنة، إِذْ كَانَت الوجهة الْغَالِبَة فِي عصره، وشيوخه فِي هَذَا المجال كَثِيرُونَ.
--------------------------------------------
আমি এই কিতাবের ইতিহাস এবং এতে আমার কাজ সম্পর্কে পুনরায় আলোচনা করব তার লেখকের বিষয়ে আলোচনা এবং তাঁর জীবনের কিছু সংবাদ সংক্ষেপে তুলে ধরার পর (১)।
ইবনে কাসীর: তিনি হলেন আবুল ফিদা ইমাদুদ্দিন ইসমাইল, বিন উমর, বিন কাসীর, বিন দাউ, ইবনে কাসীর, ইবনে যারআ, আল-কুরাশী, আশ-শাফেঈ।
তাঁর আদি নিবাস ছিল বসরা, তবে তিনি দামেস্কে বড় হয়েছেন এবং সেখানেই প্রতিপালিত হয়েছেন।
তিনি দামেস্কের পূর্বে অবস্থিত বুসরা শহরের অধীনস্থ মজিদাল আল-কারিয়া নামক গ্রামে সাতশ অথবা সাতশ এক হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর, সাতশ চুয়াত্তর হিজরীর ছাব্বিশে শাবান বৃহস্পতিবার, চুয়াত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
তাঁর বেড়ে ওঠা: তাঁর পিতা তাঁর নিজ গ্রামের খতীব ছিলেন। ইবনে কাসীরের জন্মের চার বছর পর তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, ফলে তাঁর বড় ভাই
শেখ আব্দুল ওয়াহাব তাঁকে লালন-পালন করেন।
এই ভাইয়ের নিকট থেকেই ইবনে কাসীর তাঁর প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন।
এরপর ৭০৬ হিজরীতে পাঁচ বছর বয়সে তিনি দামেস্কে স্থানান্তরিত হন।
তাঁর শিক্ষকগণ: ইবনে কাসীরের পড়াশোনা ছিল ফিকহ, হাদীস ও সুন্নাহর ইলম কেন্দ্রিক, কারণ তাঁর যুগে এটিই ছিল প্রধান ধারার জ্ঞান। এই ময়দানে তাঁর উস্তাদ বা শিক্ষক ছিলেন অসংখ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
فقد تفقه بالشيخ برهَان الدّين إِبْرَاهِيم بن عبد الرَّحْمَن الفزارى الشهير بِابْن الفركاح، الْمُتَوفَّى سنة 729.
وَسمع بِدِمَشْق من عِيسَى بن الْمطعم، وَمن أَحْمد بن أَبى طَالب المعمر الشهير بِابْن الشّحْنَة الْمُتَوفَّى سنة 730 ; وَمن الْقَاسِم ابْن عَسَاكِر، وَابْن الشِّيرَازِيّ، وَإِسْحَاق ابْن الْآمِدِيّ، وَمُحَمّد بن زراد.
ولازم الشَّيْخ جمال يُوسُف بن المزكى المزى، صَاحب تَهْذِيب الْكَمَال، الْمُتَوفَّى سنة 742.
وَقد انْتفع بِهِ ابْن كثير، وَتخرج بِهِ، وَتزَوج بابنته.
كَمَا قَرَأَ كثيرا على شيخ الاسلام تقى الدّين بن تَيْمِية، الْمُتَوفَّى سنة 728، ولازمه وأحبه وتأثر بآرائه.
وفى ذَلِك يَقُول ابْن الْعِمَاد: (كَانَت لَهُ خُصُوصِيَّة بِابْن تَيْمِية ومناضلة عَنهُ وَاتِّبَاع لَهُ فِي كثير من آرائه، وَكَانَ يُفْتى بِرَأْيهِ فِي مَسْأَلَة الطَّلَاق، وامتحن بِسَبَب ذَلِك وأوذى) .
وَيَقُول ابْن حجر: (وَأخذ عَن ابْن تَيْمِية ففتن بحبه وامتحن بِسَبَبِهِ) .
كَمَا قَرَأَ على الشَّيْخ الْحَافِظ المؤرخ شمس الدّين الذَّهَبِيّ مُحَمَّد بن أَحْمد بن قايماز الْمُتَوفَّى سنة 748.
وَأَجَازَ لَهُ من مصر أَبُو مُوسَى القرافى، والحسيني، وَأَبُو الْفَتْح الدبوسي، وعَلى بن عمر الوانى، ويوسى الختنى.
وَغير وَاحِد.
وَقد ولى ابْن كثير مشيخة أم الصَّالح والتنكزية بعد إِمَامه الذَّهَبِيّ.
كَمَا ذكره الذَّهَبِيّ فِي مسودة طَبَقَات الْحفاظ.
(1)--------------------------------------------
তিনি শায়খ বুরহানউদ্দিন ইবরাহিম ইবনে আবদুর রহমান আল-ফাজারী—যিনি ইবনুল ফিরকাহ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭২৯ হিজরী)—এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
তিনি দামেশকে ঈসা ইবনুল মুতয়িম, দীর্ঘজীবী আহমদ ইবনে আবি তালিব—যিনি ইবনে শুরনাহ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭৩০ হিজরী), কাসিম ইবনে আসাকির, ইবনে শিরাজি, ইসহাক ইবনুল আমিদি এবং মুহাম্মদ ইবনে যুররাদ-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেন।
তিনি 'তাহযীবুল কামাল'-এর রচয়িতা শায়খ জামাল ইউসুফ ইবনে মুযাক্কি আল-মিযযি-র (মৃত্যু ৭৪২ হিজরী) দীর্ঘ সাহচর্য লাভ করেন।
ইবনে কাসীর তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন, তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা সমাপন করেছেন এবং তাঁর কন্যাকে বিবাহ করেছেন।
তেমনি তিনি শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়াহর (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী) নিকট প্রচুর অধ্যয়ন করেছেন, তাঁর সাহচর্যে ছিলেন, তাঁকে ভালোবাসতেন এবং তাঁর মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
এ সম্পর্কে ইবনুল ইমাদ বলেন: "ইবনে তাইমিয়াহর সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক ছিল, তিনি তাঁর পক্ষ অবলম্বন করে লড়াই করতেন এবং তাঁর অনেক মত অনুসরণ করতেন। তিনি তালাকের মাসআলায় তাঁর মত অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন, আর এ কারণে তিনি পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন ও নির্যাতিত হয়েছেন।"
ইবনে হাজার বলেন: "তিনি ইবনে তাইমিয়াহর নিকট থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেছেন, ফলে তাঁর ভালোবাসায় নিমগ্ন হয়েছেন এবং তাঁর কারণে পরীক্ষার শিকার হয়েছেন।"
এছাড়া তিনি হাফেজ ও ঐতিহাসিক শায়খ শামসুদ্দিন আয-যাহাবি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে কাইমায-এর (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরী) নিকটও অধ্যয়ন করেছেন।
আর মিশর থেকে তাঁকে ইজাযত (অনুমতি) প্রদান করেছেন আবু মুসা আল-কারাফি, আল-হুসাইনি, আবুল ফাতহ আদ-দাবুসি, আলী ইবনে উমর আল-ওয়ানি এবং ইউসুফ আল-খুতানি।
এবং আরও অনেকে।
ইবনে কাসীর তাঁর ইমাম যাহাবির পরে উম্মু সালেহ এবং তানকিযিয়্যাহ মাদরাসার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন।
যেমনটি যাহাবি তাঁর 'তাবাকাতুল হুফফায'-এর পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখ করেছেন।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
عصره: عَاشَ ابْن كثير فِي الْقرن الثَّامِن الهجرى، من بداية هَذَا الْقرن إِلَى قرب منتهاه، فِي ظلّ دولة المماليك الَّتِى كَانَت تبسط سلطانها على مصر وَالشَّام.
وَكَانَت فِي عصره نكبات شَدِيدَة شَهِدَهَا الْعَالم الاسلامي، ممثلة فِي هجوم التتار، وفى كَثْرَة المجاعات والاوبئة، وفى تقلب السلطة بَين أُمَرَاء المماليك الَّذين كَانُوا يوالون الانتقاض بَعضهم على بعض
… ويكاد الانسان لَا يفتح سنة من سنوات حَيَاة ابْن كثير فِي كتب التراجم والتاريخ إِلَّا ويجد فِيهَا أنباء المجاعات والاوبئة وهجوم الافرنج والتتار ومصارع الامراء، مِمَّا لَا يُوصف بِأَنَّهُ حَيَاة سياسية مُسْتَقِرَّة.
وَلَكِن تِلْكَ الحقبة الَّتِى عاشها ابْن كثير من عصر المماليك كَانَ يسودها نشاط علمي، تمثل فِي كَثْرَة الْمدَارِس واتساع نطاق التَّعْلِيم وَكَثْرَة التَّأْلِيف، وَلذَلِك اسباب مَذْكُورَة فِي التَّارِيخ من تنافس الامراء وَكَثْرَة الاوقاف على الْعلمَاء وَبِنَاء الْمدَارِس واتصال الاقطار الاسلامية بَعْضهَا بِبَعْض، وَغير ذَلِك.
وَلَكِن ذَلِك النشاط كَانَ محصورا فِي دَائِرَة ضيقَة دَائِرَة الِاتِّبَاع والتقليد وَالتَّلْخِيص والاختصار وَالشَّرْح، كَذَلِك كَانَ هَذَا النشاط منصرفا فِي كثرته إِلَى الْعُلُوم
الشَّرْعِيَّة وَمَا يخدمها.
ويبدو طَابع ذَلِك الْعَصْر وَاضحا فِي ابْن كثير، إِذْ كَانَ انْصِرَافه إِلَى عُلُوم السّنة وَالْفِقْه، أَو الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة بِوَجْه عَام وَكَانَت مؤلفاته يغلب عَلَيْهَا طَابع التَّأْلِيف فِي عصره، وَهُوَ الْميل إِلَى اخْتِصَار كتب الاقدمين، أَو إدماج بَعْضهَا فِي بعض أَو شرحها وَالتَّعْلِيق عَلَيْهَا.
তাঁর যুগ: ইবনে কাসীর হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে, এই শতাব্দীর শুরু থেকে প্রায় এর শেষ পর্যন্ত, মামলুক সালতানাতের ছায়াতলে বসবাস করেছিলেন, যা মিসর ও শামের ওপর তাদের কর্তৃত্ব বিস্তার করেছিল।
তাঁর যুগে মুসলিম বিশ্ব চরম দুর্যোগের সাক্ষী হয়েছিল, যা তাতারদের আক্রমণ, ব্যাপক দুর্ভিক্ষ ও মহামারি এবং মামলুক আমিরদের মধ্যে ক্ষমতার রদবদল—যারা একে অপরের বিরুদ্ধে অনবরত বিদ্রোহে লিপ্ত থাকত—এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছিল
... জীবনী ও ইতিহাসের বইগুলোতে ইবনে কাসীরের জীবনের বছরগুলোর এমন কোনো পৃষ্ঠা উল্টানো প্রায় অসম্ভব, যেখানে দুর্ভিক্ষ, মহামারি, ক্রুসেডার ও তাতারদের আক্রমণ এবং আমিরদের হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়া যাবে না; যা কোনোভাবেই একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক জীবন হিসেবে বর্ণিত হওয়ার যোগ্য নয়।
তবে মামলুক যুগের সেই সময়টিতে, যেটিতে ইবনে কাসীর বসবাস করেছিলেন, একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতা বিরাজমান ছিল। যা অসংখ্য মাদ্রাসা স্থাপন, শিক্ষার পরিধি বিস্তার এবং প্রচুর গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল। ইতিহাসের কিতাবসমূহে এর পেছনে বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন আমিরদের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিযোগিতা, ওলামায়ে কেরাম ও মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য প্রচুর ওয়াকফ এবং ইসলামী ভূখণ্ডগুলোর একে অপরের সাথে যোগাযোগ ইত্যাদি।
তবে সেই তৎপরতা অনুসরণ, অনুকরণ, সারসংক্ষেপকরণ, সংক্ষেপণ এবং ব্যাখ্যার মতো একটি সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। একইভাবে, এই তৎপরতার অধিকাংশ ছিল শরয়ি
জ্ঞান এবং এর সেবায় নিয়োজিত বিষয়গুলোর প্রতি নিবেদিত।
ইবনে কাসীরের মধ্যে সেই যুগের বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়; কারণ তাঁর মনোযোগ ছিল সুন্নাহর ইলম, ফিকহ বা সাধারণভাবে শরয়ি জ্ঞানসমূহের প্রতি। তাঁর রচনাবলির ওপর তাঁর সমসাময়িক গ্রন্থ রচনার পদ্ধতির প্রাধান্য ছিল, যা হলো পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহকে সংক্ষেপ করা, অথবা একাধিক কিতাবকে একে অপরের সাথে সন্নিবেশিত করা কিংবা সেগুলোর ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদান করার প্রবণতা।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وَإِذا كَانَ لِابْنِ كثير طَابع تَجْدِيد تميز بِهِ، فَإِنَّهُ قد اكْتَسبهُ من علاقته بِابْن تَيْمِية وحبه لَهُ وتأثره بآرائه، فقد كَانَ ابْن كثير كأستاذه ابْن تَيْمِية ينفر من الخرافات ويميل إِلَى الرُّجُوع إِلَى السّنة ويعتمد على التَّحْقِيق والتدقيق بوسيلته الَّتِى يملكهَا، وهى نقد الاسانيد وتمحيص الاخبار.
كَذَلِك كَانَ ابْن كثير فِي تَفْسِيره إِمَامًا وَصَاحب مدرسة، إِذْ نفر من الاسرائيليات والاخبار الْوَاهِيَة، كَمَا نفر من التفلسف وإقحام الرأى فِي كتاب الله، وآثر مَنْهَج تَفْسِير الْقُرْآن بِالْقُرْآنِ ثمَّ بِالْحَدِيثِ والاثر.
مَنْزِلَته وآراء الْعلمَاء فِيهِ: احتل ابْن كثير منزلَة عالية فِي الْفِقْه وَالتَّفْسِير والْحَدِيث وَالْفَتْوَى..يَقُول عَنهُ الذَّهَبِيّ: (الامام الْمُفْتى الْمُحدث البارع، فَقِيه متفنن، ومفسر نقال، وَله تصانيف مفيدة.
وَيَقُول عَنهُ ابْن حجر: (اشْتغل بِالْحَدِيثِ مطالعة فِي متونه وَرِجَاله، وَكَانَ كثير الاستحضار حسن المفاكهة، سَارَتْ تصانيفه فِي حَيَاته، وانتفع النَّاس بهَا بعد وَفَاته) .
وَيَقُول عَنهُ ابْن تغرى بردى: (لَازم الِاشْتِغَال ودأب وَحصل وَكتب، وبرع فِي الْفِقْه وَالتَّفْسِير والْحَدِيث، وَجمع وصنف، ودرس وَحدث وَألف، وَكَانَ لَهُ اطلَاع عَظِيم فِي الحَدِيث وَالتَّفْسِير وَالْفِقْه والعربية، وَغير ذَلِك.
وَأفْتى ودرس إِلَى أَن توفى) .
وَقد اشْتهر ابْن كثير بالضبط والتحرى وَالِاسْتِقْصَاء، وانتهت إِلَيْهِ فِي عصره الرياسة فِي التَّارِيخ والْحَدِيث وَالتَّفْسِير.
يَقُول عَنهُ ابْن حجى، أحد تلامذته: (أحفظ من أدركناه لمتون الاحاديث ورجالها، وأعرفهم بجرحها وصحيحها وسقيمها، وَكَانَ أقرانه وشيوخه يعترفون لَهُ بذلك،
ইবনে কাসীর যদি কোনো সংস্কারমূলক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে থাকেন যার মাধ্যমে তিনি অনন্যতা লাভ করেছেন, তবে তা অর্জিত হয়েছে ইবনে তায়মিয়্যাহর সাথে তাঁর সম্পর্ক, তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার মাধ্যমে। ইবনে কাসীর তাঁর শিক্ষক ইবনে তায়মিয়্যাহর মতোই কুসংস্কার থেকে বিমুখ ছিলেন এবং সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়ার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তিনি তাঁর আয়ত্তাধীন মাধ্যম অর্থাৎ সনদের সমালোচনা এবং সংবাদ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুক্ষ্ম অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করতেন।
অনুরূপভাবে ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরের ক্ষেত্রে একজন ইমাম এবং একটি স্বতন্ত্র ধারার প্রবর্তক ছিলেন। কেননা তিনি ইসরাঈলী বর্ণনা ও দুর্বল সংবাদসমূহ পরিহার করেছিলেন, যেমনটি তিনি আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রে দর্শনচর্চা ও নিজস্ব মতামতের অনুপ্রবেশ ঘটানোকেও ঘৃণা করতেন। তিনি কুরআনের তাফসীর কুরআনের মাধ্যমে, অতঃপর হাদীস ও আছারের (সাহাবী ও তাবেয়ীদের বর্ণনা) মাধ্যমে করার পদ্ধতিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
তাঁর মর্যাদা ও তাঁর সম্পর্কে আলেমদের অভিমত: ফিকহ, তাফসীর, হাদীস ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে ইবনে কাসীর এক উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন। আয-যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেন: (তিনি ইমাম, মুফতী, দক্ষ মুহাদ্দিস, বহুমুখী প্রতিভাধর ফকীহ এবং বর্ণনাসমৃদ্ধ মুফাসসির। তাঁর বেশ কিছু উপকারী রচনা রয়েছে।
ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেন: (তিনি হাদীসের মতন ও রিজাল অধ্যয়নে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন ও সদালাপী ছিলেন। তাঁর রচনাবলী তাঁর জীবদ্দশাতেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল এবং তাঁর মৃত্যুর পর মানুষ তা দ্বারা উপকৃত হয়েছে)।
ইবনে তাগরি বারদি তাঁর সম্পর্কে বলেন: (তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্ঞানচর্চায় রত থাকতেন, কঠোর পরিশ্রম করতেন, জ্ঞান অর্জন করেছেন ও লিখেছেন। তিনি ফিকহ, তাফসীর ও হাদীসে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তিনি সংগ্রহ করেছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন, পাঠদান করেছেন, হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং কিতাব লিখেছেন। হাদীস, তাফসীর, ফিকহ, আরবী ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল।
তিনি আমৃত্যু ফতোয়া প্রদান ও পাঠদান করে গেছেন)।
ইবনে কাসীর নির্ভুলতা, সূক্ষ্ম অনুসন্ধান ও বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাঁর যুগে ইতিহাস, হাদীস ও তাফসীর শাস্ত্রে শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর মাধ্যমেই পূর্ণতা পেয়েছিল।
তাঁর অন্যতম ছাত্র ইবনে হিজ্জী তাঁর সম্পর্কে বলেন: (হাদীসের মতন ও রিজাল মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে আমাদের দেখা ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ হাফেজ ছিলেন এবং হাদীসের জরাহ (সমালোচনা), সহীহ ও দুর্বলতা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানতেন। তাঁর সমসাময়িকগণ ও শিক্ষকগণ তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতেন,
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَمَا أعرف أَنى اجْتمعت بِهِ على كَثْرَة ترددي إِلَيْهِ إِلَّا واستفدت مِنْهُ) .
ويصفه ابْن الْعِمَاد الحنبلى فَيَقُول: (كَانَ كثير الاستحضار قَلِيل النسْيَان، جيد الْفَهم يُشَارك فِي الْعَرَبيَّة وينظم نظما وسطا.
قَالَ فِيهِ ابْن حبيب: سمع وَجمع وصنف، وأطرب الاسماع بالفتوى وشنف، وَحدث وَأفَاد، وطارت أوراق فتاوية إِلَى الْبِلَاد، واشتهر بالضبط والتحرير) وَيَقُول عَنهُ ابْن حجر: (وَلم يكن على طَرِيق الْمُحدثين فِي تَحْصِيل العوالي وتمييز العالي من النَّازِل وَنَحْو ذَلِك من فنونهم، وَإِنَّمَا هُوَ من محدثي الْفُقَهَاء) .
وَلَكِن السُّيُوطِيّ يُجيب على كَلَام ابْن حجر بقوله: (الْعُمْدَة فِي علم الحَدِيث على معرفَة صَحِيح الحَدِيث وسقيمه وَعلله وَاخْتِلَاف طرقه وَرِجَاله جرحا وتعديلا، وَأما العالي والنازل وَنَحْو ذَلِك فَهُوَ من الفضلات، لَا من الاصول المهمة) .
شعره: كَانَ ابْن كثير - كَمَا قَالَ ابْن الْعِمَاد - (ينظم نظما وسطا) وَلَا يذكر لَهُ إِلَّا الْقَلِيل من النّظم، مثل قَوْله: تمر بِنَا الايام تترى وَإِنَّمَا * نساق إِلَى الْآجَال وَالْعين تنظر
فَلَا عَائِد ذَاك الشَّبَاب الذى مضى * وَلَا زائل هَذَا المشيب المكدر وعَلى كل فَهُوَ لم يشْتَهر بقول الشّعْر.
আমি জানি না যে তাঁর নিকট আমার বহু যাতায়াত সত্ত্বেও এমন কোনোবার তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে কি না যেখান থেকে আমি উপকৃত হইনি)।
ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বালী তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: (তিনি ছিলেন প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন এবং বিস্মৃতি ছিল তাঁর অতি নগণ্য, তাঁর বোধশক্তি ছিল উৎকৃষ্ট, তিনি আরবি ভাষা ও ব্যাকরণে পারদর্শী ছিলেন এবং মধ্যম মানের কবিতা রচনা করতেন।
ইবনে হাবিব তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি শ্রবণ করেছেন, সংগ্রহ করেছেন এবং গ্রন্থনা করেছেন। তিনি তাঁর ফতোয়ার মাধ্যমে শ্রোতাদের কর্ণকুহরকে আনন্দিত ও অলঙ্কৃত করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং অন্যদের উপকৃত করেছেন। তাঁর ফতোয়াসমূহ দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তিনি তাঁর নির্ভুলতা ও সূক্ষ্ম গবেষণালব্ধ লেখনীর জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন) এবং ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেন: (তিনি উচ্চপর্যায়ের সনদ সংগ্রহ এবং সনদের উচ্চ-নিম্ন পার্থক্য নিরূপণের মতো মুহাদ্দিসগণের বিশেষ পদ্ধতি ও শাখাগুলোর অনুসারী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন ফকিহ মুহাদ্দিসগণের অন্তর্ভুক্ত)।
কিন্তু ইমাম সুয়ূতী ইবনে হাজারের কথার উত্তরে বলেন: (হাদিস শাস্ত্রের মূল ভিত্তি হলো হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা, এর অভ্যন্তরীণ ত্রুটি, বিভিন্ন সূত্র এবং বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা নিরূপণ করা। আর উচ্চ বা নিম্ন সনদের বিষয়টি অতিরিক্ত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয় নয়)।
তাঁর কবিতা: ইবনে কাসীর ছিলেন—যেমনটি ইবনুল ইমাদ বলেছেন—(মধ্যম মানের কবিতা রচয়িতা)। তাঁর খুব অল্প কবিতাই উল্লেখ পাওয়া যায়, যেমন তাঁর এই উক্তি: দিনগুলো আমাদের নিকট দিয়ে ধারাবাহিকভাবে অতিবাহিত হচ্ছে, আর আমাদের চোখ তাকিয়ে থাকা অবস্থায়ই আমাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে চালিত করা হচ্ছে।
অতএব সেই গত হওয়া যৌবন আর ফিরে আসবে না, আর এই বার্ধক্যের বিষণ্ণ শুভ্রতাও বিদায় হবে না। পরিশেষে, তিনি কবি হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন না।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
أسلوبه: كَانَ ابْن كثير يُشَارك فِي الْعَرَبيَّة، وثقافته الادبية جَيِّدَة، وَلَكِن أسلوبه كَانَ على مُقْتَضى عصره من إِيثَار السجع والميل إِلَى المحسنات، ويشتمل أسلوبه فِي بعض الاحيان على أَلْفَاظ لَا تناسب مستوى ابْن كثير.
وَفِي كِتَابه الذى نقدمه نماذج لذَلِك، مثل اسْتِعْمَاله كلمة (الاذية) وَكلمَة (مشترى) وَغير ذَلِك من أساليب غير متناسقة وجمل غير متناسبة.
والحقيقة أَن ابْن كثير لم يكن مِمَّن يهتمون بالعبارة أَو يتجملون فِي الاسلوب، وَإِن كَانَ أسلوبه فِي التَّفْسِير قَوِيا متناسبا، وَإِنَّمَا هُوَ إِمَام مُفَسّر وفقيه مُحدث، وَلم يكن أديبا متفننا يحرص على جمال الْعبارَة وتناسق الاسلوب.
كتبه: اشْتغل ابْن كثير بالتأليف والتصنيف، وَأكْثر كتبه فِي الحَدِيث وعلومه، ومؤلفاته مَعْدُودَة، وأهمها: 1 - تَفْسِير الْقُرْآن الْكَرِيم الذى قَالَ فِيهِ السُّيُوطِيّ: (لم يؤلف على نمطه مثله) .
وَهُوَ يعْتَمد على التَّفْسِير بالرواية، فيفسر الْقُرْآن بِالْقُرْآنِ، ثمَّ بالاحاديث المشتهرة يَسُوقهَا بأسانيدها، ثمَّ ينْقد تِلْكَ الاسانيد وَيحكم عَلَيْهَا، ثمَّ يذكر الْآثَار المروية عَن الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ.
وَهُوَ مطبوع مَشْهُور.
2 - (الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة) فِي التَّارِيخ.
وَهُوَ موسوعة ضخمة، ابْتَدَأَ فِيهِ بِذكر قصَص الانبياء وأخبار الامم الْمَاضِيَة، وفقا
তাঁর লিখনশৈলী: ইবনে কাসীর আরবি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন এবং তাঁর সাহিত্যিক সংস্কৃতি ছিল উন্নত। তবে তাঁর লিখনশৈলী ছিল তাঁর যুগের চাহিদা অনুযায়ী গদ্যছন্দকে (সাজাউ) প্রাধান্য দেওয়া এবং অলঙ্কারশৈলীর প্রতি ঝোঁকপ্রবণ। কখনো কখনো তাঁর লিখনশৈলীতে এমন সব শব্দ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা ইবনে কাসীরের মর্যাদার সাথে মানানসই নয়।
আমরা যে কিতাবটি উপস্থাপন করছি তাতে এর কিছু নমুনা রয়েছে, যেমন ‘আল-আজিয়্যাহ’ (কষ্টদান) ও ‘মুশতারী’ (ক্রেতা) শব্দের ব্যবহার এবং এছাড়া আরও কিছু অসামঞ্জস্যপূর্ণ রচনাশৈলী ও বেমানান বাক্য।
প্রকৃতপক্ষে ইবনে কাসীর এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যারা বাক্য গঠনের প্রতি বিশেষ মনোযোগী ছিলেন কিংবা লিখনশৈলীকে অতিশয় অলঙ্কৃত করতেন, যদিও তাফসীরের ক্ষেত্রে তাঁর লিখনশৈলী ছিল শক্তিশালী ও সুসংগত। মূলত তিনি ছিলেন একজন ইমাম মুফাসসির, ফকীহ ও মুহাদ্দিস; তিনি এমন কোনো কুশলী সাহিত্যিক ছিলেন না যিনি বাক্যের সৌন্দর্য এবং লিখনশৈলীর সামঞ্জস্য রক্ষায় অতি যত্নশীল ছিলেন।
তাঁর গ্রন্থাবলি: ইবনে কাসীর গ্রন্থ রচনা ও সংকলনে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তাঁর অধিকাংশ কিতাব হাদীস ও হাদীস শাস্ত্র সম্পর্কিত। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি সুপরিচিত, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: ১. তাফসীরুল কুরআনিল কারীম, যার সম্পর্কে সুয়ূতী বলেছেন: “এর আদলে অনুরূপ কোনো কিতাব রচিত হয়নি।”
এটি বর্ণনাভিত্তিক তাফসীরের ওপর নির্ভরশীল। এতে তিনি কুরআনের ব্যাখ্যা কুরআন দিয়ে করেন, এরপর প্রসিদ্ধ হাদীসগুলো সেগুলোর সনদসহ উল্লেখ করেন। এরপর সেই সনদগুলোর বিশ্লেষণ করেন এবং সেগুলোর মান নির্ণয় করেন। অতঃপর তিনি সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে বর্ণিত আসারসমূহ (বিবরণ) উল্লেখ করেন।
এটি মুদ্রিত ও সুপ্রসিদ্ধ।
২ - ইতিহাস বিষয়ক ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’।
এটি একটি বিশাল বিশ্বকোষ, যাতে তিনি নবীদের কাহিনী এবং অতীত জাতিসমূহের সংবাদ বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছেন, যা...
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
لما ورد فِي الْقُرْآن والاحاديث الصَّحِيحَة، ويكشف زيف الاسرائيليات والغرائب والمناكير.
ثمَّ يذكر أَخْبَار الْعَرَب وأحداث الْجَاهِلِيَّة، ثمَّ سيرة الرَّسُول صلى الله عليه وسلم حَتَّى وَفَاته، ثمَّ يُتَابع أَحْدَاث التَّارِيخ الاسلامي مُنْذُ خلَافَة أَبى بكر حَتَّى عصر ابْن كثير فِي الْقرن الثَّامِن الهجرى.
ثمَّ يختمه بأشراط السَّاعَة والفتن والملاحم وأحوال الْآخِرَة.
وتاريخ ابْن كثير هَذَا مرجع دَقِيق موفق لَا يزَال عَلَيْهِ التعويل.
قَالَ عَنهُ ابْن تغرى بردى: (وَهُوَ فِي غَايَة الْجَوْدَة) .
وَهُوَ مطبوع، وَإِن كَانَت طبعة رَدِيئَة.
3 - اخْتِصَار عُلُوم الحَدِيث لِابْنِ الصّلاح.
وَهُوَ كتاب نَافِع أضَاف فِيهِ ابْن كثير فَوَائِد كَثِيرَة، ورتبه وَاخْتَصَرَهُ.
وَهُوَ مطبوع مَعَ تعليقات للمرحوم الشَّيْخ أَحْمد شَاكر باسم (الْبَاعِث الحثيث) .
4 - مُخْتَصر كتاب (الْمدْخل إِلَى كتاب السّنَن) للبيهقي ذكره فِي مُقَدّمَة اخْتِصَار عُلُوم الحَدِيث.
وَهُوَ مخطوط.
5 - رِسَالَة فِي الْجِهَاد.
مطبوعة.
6 - (التَّكْمِيل فِي معرفَة الثِّقَات والضعفاء والمجاهيل) جمع فِيهِ كتابي (تَهْذِيب الْكَمَال) للمزى و (ميزَان الِاعْتِدَال) للذهبي.
وَزَاد عَلَيْهِمَا زيادات مفيدة فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل.
وَهُوَ مخطوط.
7 - (الْهدى وَالسّنَن فِي أَحَادِيث المسانيد وَالسّنَن) وَهُوَ الْمَعْرُوف بِجَامِع المسانيد، جمع فِيهِ بَين مُسْند أَحْمد وَالْبَزَّار وابى يعلى وَابْن أَبى شيبَة، مَعَ الْكتب السِّتَّة الصَّحِيحَيْنِ وَالسّنَن الاربعة.
ورتبه على أَبْوَاب وَهُوَ مخطوط
যা কুরআন এবং সহীহ হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে, এবং এটি ইসরাঈলী বর্ণনা, অদ্ভুত ও প্রত্যাখ্যাত বিষয়সমূহের অসারতা উন্মোচন করে।
এরপর তিনি আরবদের সংবাদ এবং জাহেলিয়াতের ঘটনাবলী উল্লেখ করেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনী থেকে শুরু করে তাঁর ওফাত পর্যন্ত বর্ণনা করেন, এরপর আবূ বকরের খিলাফত থেকে শুরু করে অষ্টম হিজরী শতাব্দীতে ইবনে কাসীরের যুগ পর্যন্ত ইসলামী ইতিহাসের ঘটনাবলি অনুসরণ করেন।
এরপর তিনি কেয়ামতের আলামতসমূহ, ফিতনা-ফাসাদ, মহাযুদ্ধসমূহ এবং আখিরাতের অবস্থাদি বর্ণনার মাধ্যমে এটি সমাপ্ত করেন।
ইবনে কাসীরের এই ইতিহাস গ্রন্থটি একটি নির্ভুল ও সার্থক রেফারেন্স যার ওপর আজও নির্ভর করা হয়।
ইবনে তাগরী বারদী এর সম্পর্কে বলেন: (এটি অত্যন্ত উন্নত মানের)।
এটি মুদ্রিত, যদিও এর মুদ্রণটি নিম্নমানের।
৩ - ইবনুস সালাহ-এর উলূমুল হাদীসের সংক্ষিপ্তসার।
এটি একটি উপকারী গ্রন্থ যেখানে ইবনে কাসীর অনেক ফায়েদা (উপকারিতা) যোগ করেছেন এবং একে বিন্যস্ত ও সংক্ষিপ্ত করেছেন।
এটি মরহুম শেখ আহমাদ শাকিরের টীকা সহ (আল-বা’ইসুল হাসীস) নামে মুদ্রিত।
৪ - বায়হাকীর (আল-মাদখাল ইলা কিতাবিস সুনান) গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার; তিনি এটি ইখতিসারু উলূমিল হাদীস-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।
এটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে।
৫ - জিহাদ বিষয়ক একটি রিসালাহ (পুস্তিকা)।
মুদ্রিত।
৬ - (আত-তাকমীল ফী মা'রিফাতিস সিকাত ওয়াদ-দুয়াফা ওয়াল-মাজাহীল), এতে তিনি মিযযীর (তাহযীবুল কামাল) এবং যাহাবীর (মীযানুল ইতিদাল) গ্রন্থদ্বয়কে একত্রিত করেছেন।
এবং তিনি জারাহ ও তা’দীল (বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই) এর ক্ষেত্রে সেগুলোতে অনেক দরকারী তথ্য যোগ করেছেন।
এটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে।
৭ - (আল-হুদা ওয়াস-সুনান ফী আহাদিসিল মাসানীদ ওয়াস-সুনান) যা জামি’উল মাসানীদ নামে পরিচিত; এতে তিনি মুসনাদে আহমাদ, বাযযার, আবু ইয়া’লা এবং ইবনে আবি শায়বাকে কুতুবে সিত্তা অর্থাৎ সহীহাইন এবং সুনানে আরবা’র সাথে একত্রিত করেছেন।
এবং তিনি এটিকে অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন এবং এটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
8 - مُسْند الشَّيْخَيْنِ أَبى بكر وَعمر.
وَفِيه - كَمَا قَالَ ابْن كثير فِي سيرته الَّتِى بِأَيْدِينَا صفحة 433 - ذكر كَيْفيَّة إِسْلَام أَبى بكر وَأورد فضائله وشمائله وأتبع ذَلِك بسيرة الْفَارُوق رضى الله عَنهُ، وَأورد مَا رَوَاهُ كُلٌّ مِنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ الْأَحَادِيثِ وَمَا رَوَى عَنْهُ مِنَ الْآثَارِ وَالْأَحْكَامِ وَالْفَتَاوَى، فَبَلَغَ ذَلِكَ ثَلَاث مجلدات وَللَّه الْحَمد والْمنَّة! كَمَا قَالَ ابْن كثير.
وَهُوَ مخطوط أَيْضا لَا نَدْرِي أَيْن هُوَ.
9 - السِّيرَة النَّبَوِيَّة مُطَوَّلَة ومختصرة ذكرهَا فِي تَفْسِيره فِي سُورَة الاحزاب فِي قصَّة غَزْوَة الخَنْدَق.
وَلم تنشر قبل.
10 - طَبَقَات الشَّافِعِيَّة.
مُجَلد وسط، وَمَعَهُ مَنَاقِب الشَّافِعِي.
مخطوط.
11 - تَخْرِيج أَحَادِيث أَدِلَّة التَّنْبِيه فِي فقه الشَّافِعِيَّة.
12 - وَخرج أَحَادِيث مُخْتَصر ابْن الْحَاجِب.
13 - كتاب الْمُقدمَات.
ذكره فِي اختصاره مُقَدّمَة ابْن الصّلاح وأحال عَلَيْهِ.
14 - وَيذكر ابْن حجر أَنه شرع فِي شرح للْبُخَارِيّ وَلم يكمله.
15 - وَشرع فِي كتاب كَبِير فِي الاحكام، لم يكمل، وصل فِيهِ إِلَى الْحَج.
وَهَكَذَا نجد اتجاه ابْن كثير نَحْو السّنة وعلومها يَتَّضِح فِي كتبه، وتغلب عَلَيْهِ روح عصره فَيتَّجه إِلَى المختصرات والشروح وَنَحْوهَا، وَظهر ابتكاره فِي كِتَابَته لتاريخه الْفَذ: (الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة) وفى تَفْسِيره لِلْقُرْآنِ الْكَرِيم.
وَلم يخرج فِي تأليفه عَن النطاق الذى دارت حوله دراسته وأفنى فِيهِ عمره، وَهُوَ الحَدِيث والتاريخ وَالتَّفْسِير والاحكام.
وَقد شاع الِانْتِفَاع بِالْقدرِ الْقَلِيل الذى عرف طَرِيقه إِلَى النَّاس من كتب هَذَا الامام
৮ - দুই শাইখ আবু বকর ও উমরের মুসনাদ।
এতে রয়েছে—যেমন ইবনে কাসীর আমাদের হাতে থাকা তাঁর সীরাতগ্রন্থের ৪৩৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন—আবু বকরের ইসলাম গ্রহণের পদ্ধতি এবং তাঁর ফযীলত ও গুণাবলির বর্ণনা। এরপর তিনি আল-ফারুক (উমর) রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনী উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি তাঁদের প্রত্যেকের বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ এবং তাঁদের থেকে বর্ণিত আছার (বর্ণনা), আহকাম (বিধান) ও ফাতাওয়াও উল্লেখ করেছেন। ইবনে কাসীর যেমনটি বলেছেন, এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন খণ্ডে, আর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহর!
এটিও একটি পাণ্ডুলিপি, যা বর্তমানে কোথায় আছে তা আমরা জানি না।
৯ - সীরাতুন নবী (বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত); তিনি এটি সূরা আহযাবের খন্দক যুদ্ধের কাহিনীর তাফসীরে উল্লেখ করেছেন।
এটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়নি।
১০ - তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ।
এটি একটি মাঝারি খণ্ড, যার সাথে ইমাম শাফিঈর গুণাবলি (মানাকিব) বর্ণিত আছে।
এটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে বিদ্যমান।
১১ - শাফিঈ ফিকহ শাস্ত্রের 'আত-তানবীহ' গ্রন্থের দলীলস্বরূপ হাদিসগুলোর তাখরীজ।
১২ - এবং তিনি 'মুখতাসার ইবনুল হাজিব'-এর হাদিসসমূহের তাখরীজ করেছেন।
১৩ - কিতাবুল মুকাদ্দিমাত।
তিনি ইবনুস সালাহ-এর মুকাদ্দিমার সংক্ষিপ্তকরণে এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
১৪ - ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বুখারীর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) শুরু করেছিলেন কিন্তু তা সম্পন্ন করতে পারেননি।
১৫ - তিনি আহকাম (বিধান) বিষয়ে একটি বিশাল গ্রন্থ রচনা শুরু করেছিলেন যা সমাপ্ত হয়নি; এতে তিনি হজ্জ অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।
এভাবেই আমরা দেখতে পাই যে, ইবনে কাসীরের সুন্নাহ ও এর শাস্ত্রসমূহের প্রতি ঝোঁক তাঁর কিতাবসমূহে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁর ওপর সে যুগের প্রভাব প্রবল ছিল, ফলে তিনি সংক্ষিপ্তসার (মুখতাসার), ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) ও এই জাতীয় রচনার দিকে মনোনিবেশ করেন। তাঁর সৃজনশীলতা ফুটে উঠেছে তাঁর অনন্য ইতিহাস গ্রন্থ: (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া) এবং পবিত্র কুরআনের তাফসীর রচনায়।
তিনি তাঁর রচনায় সেই সীমানার বাইরে যাননি যার চারপাশে তাঁর জ্ঞানচর্চা আবর্তিত হয়েছে এবং যাতে তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন; আর তা হলো হাদিস, ইতিহাস, তাফসীর ও আহকাম।
এই ইমামের কিতাবসমূহের যে সামান্য অংশ মানুষের নিকট পৌঁছাতে পেরেছে, তা থেকেই ব্যাপক উপকার লাভ করা সম্ভব হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الْعَظِيم، وَلَكِن الاسى يغشانا حِين نسْأَل: أَيْن هَذِه الْكتب الَّتِى تذكر لَهُ وَلَا يهتدى إِلَى مَكَانهَا؟ ! والتى نعتقد أَنَّهَا لَو عثر عَلَيْهَا وقدمت إِلَى النَّاس لسدت فراغا وحققت نفعا.
إِن من المؤسف أَن يبدد تراث عَزِيز وَتحرم مِنْهُ أمة محتاجة.
وَنحن نَدْعُو من هُنَا كل الَّذين يعنون بِأَمْر الثراث الاسلامي، وخاصة المسئولين عَن ذَلِك فِي الدولة، أَن يبحثوا عَن آثَار هَذَا الامام الْعَظِيم، وَأَن يهيئوا لكتبه النافعة السَّبِيل كى تَأْخُذ طريقها إِلَى أيدى النَّاس، وَأَن يُعَاد تَقْدِيم كتبه المطبوعة فِي صُورَة صَحِيحَة لائقة، بعيدَة عَن التِّجَارَة والاستغلال.
هَذَا الْكتاب: ولكتابنا هَذَا الذى نقدمه الْيَوْم قصَّة.
فَلَقَد كَانَ الْخَيط الذى أمسكنا بِهِ هُوَ أَن ابْن كثير ذكر فِي تَفْسِيره فِي سُورَة الاحزاب فِي قصَّة غَزْوَة الخَنْدَق، أَنه قد كتب السِّيرَة النَّبَوِيَّة مُطَوَّلَة ومختصرة، حَيْثُ يَقُول: (وَهَذَا كُله مُقَرر مفصل بأدلته وَأَحَادِيثه وَبسطه فِي كتاب السِّيرَة الذى أفردناه موجزا وبسيطا وَللَّه الْحَمد والْمنَّة) .
وَمعنى ذَلِك أَن كِتَابَته للسيرة النَّبَوِيَّة قد عرفت طريقها إِلَى أيدى النَّاس فِي عصره، وَلَكِن الْبَحْث فِي نَاحيَة المخطوطات لم يدل على وجود تِلْكَ السِّيرَة ككتاب مُسْتَقل، ويبدو أَنه حينما ألف كِتَابه الضخم (الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة) قد أدمج تِلْكَ السِّيرَة فِيهِ، وَأَن شهرة ذَلِك الْكتاب وانتشاره فِي الانحاء، قد جعل النَّاس يقرأون تِلْكَ السِّيرَة فِيهِ، وَلم يعد لَهَا كيان مُسْتَقل ككتاب، وَإِذا كَانَ ابْن كثير قد ذكر أَنه لَهُ السِّيرَة النَّبَوِيَّة
সেই মহান ইমাম, তবে যখন আমরা প্রশ্ন করি তখন বিষণ্ণতা আমাদের আচ্ছন্ন করে: তাঁর নামে উল্লিখিত সেই গ্রন্থগুলো কোথায় যেগুলোর সন্ধান পাওয়া যায় না?! আমরা বিশ্বাস করি যে, যদি সেগুলো পাওয়া যেত এবং মানুষের সামনে পেশ করা হতো, তবে তা এক বিশাল শূন্যতা পূরণ করত এবং মহা উপকারে আসত।
এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি মূল্যবান ঐতিহ্য বিলীন হয়ে যাবে এবং একটি অভাবী জাতি তা থেকে বঞ্চিত হবে।
আমরা এখান থেকে ইসলামী ঐতিহ্যের বিষয়ে যত্নশীল সকলকে, বিশেষ করে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের আহ্বান জানাই, যেন তাঁরা এই মহান ইমামের পাণ্ডুলিপি ও নিদর্শনাদি অনুসন্ধান করেন এবং তাঁর উপকারী গ্রন্থসমূহ সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর পথ সুগম করেন। সেই সাথে তাঁর ইতিপূর্বে মুদ্রিত গ্রন্থসমূহ বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শোষণমুক্ত থেকে সঠিক ও যথাযথ রূপে পুনরায় পেশ করা হয়।
এই গ্রন্থ: আজ আমরা যে গ্রন্থটি পেশ করছি তার একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে।
আমাদের মূল সূত্রটি ছিল এই যে, ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে সূরা আল-আহযাবে খন্দকের যুদ্ধের আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত উভয় আঙ্গিকে সীরাতুন্নবী রচনা করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: (আর এই সব কিছু তার প্রমাণ ও হাদীসসহ বিস্তারিতভাবে সেই সীরাত গ্রন্থে সুনির্ধারিত ও বর্ণিত রয়েছে যা আমরা সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত উভয় আকারে পৃথকভাবে রচনা করেছি, আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ)।
এর অর্থ এই যে, তাঁর রচিত সীরাতুন্নবী তাঁর সমসাময়িককালে মানুষের হাতে পৌঁছেছিল, কিন্তু পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধানে স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে সেই সীরাতের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ মেলেনি। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি যখন তাঁর বিশাল গ্রন্থ 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' রচনা করেন, তখন সেই সীরাতকে এর অন্তর্ভুক্ত করে দেন। আর সেই গ্রন্থের খ্যাতি ও চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার ফলে মানুষ সীরাতটি সেখানেই পড়তে শুরু করে, যার ফলে স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে এর কোনো অস্তিত্ব আর থাকেনি। ইবনে কাসীর যদিও উল্লেখ করেছেন যে তাঁর একটি সীরাতুন্নবী রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مبسوطة، أَي مُطَوَّلَة، فَإِنَّهُ لَا يعقل أَن يكْتب فِيهَا أَكثر من ذَلِك الْقسم الْمَوْجُود بكتابه (الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة) .
وَمن هُنَا فقد اتجهت إِلَى نشر (السِّيرَة النَّبَوِيَّة لِابْنِ كثير) وهى ذَلِك الْقسم الذى
أفرده ابْن كثير لاخبار الْعَرَب فِي الْجَاهِلِيَّة وسيرة النَّبِي صلوَات الله وَسَلَامه عَلَيْهِ وتاريخ دَعوته حَتَّى وَفَاته.
على اعْتِبَار أَن هَذَا الْقسم هُوَ السِّيرَة النَّبَوِيَّة المطولة الَّتِى أَشَارَ إِلَيْهَا ابْن كثير فِي تَفْسِيره.
والذى دَعَاني إِلَى ذَلِك اسباب مِنْهَا: 1 - أَن تِلْكَ السِّيرَة قد شغلت نَحْو ثَلَاثَة أَجزَاء من كتاب الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة، من أَوَاخِر الْجُزْء الثَّانِي حَتَّى أَوَاخِر الجز الْخَامِس، وهى بذلك موزعة بَين أَرْبَعَة أَجزَاء.
2 - أَن هَذِه الاجزاء من الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة مُرْتَفعَة الثّمن جدا، حَتَّى لقد بلغ ثمن الْجُزْء الثَّالِث وَحده أَرْبَعَة جنيهات مصرية إِن وجد! ! تبعا لاحتكار التِّجَارَة فِي المراجع وَقلة النّسخ الْمَوْجُودَة.
3 - أَن هَذِه الطبعة الْمشَار إِلَيْهَا مليئة بالتحريف والتشويه بِصُورَة فظيعة، وَلَا أدرى كَيفَ ظلت هَذِه الطبعة تتداول فِي أيدى الْعلمَاء والطلاب مَعَ أَنَّهَا لاتكاد تَخْلُو صفحة مِنْهَا من تَحْرِيف أَو تَصْحِيف أَو سقط.
تِلْكَ الاسباب جَعَلتني أرى فِي نشر السِّيرَة النَّبَوِيَّة لِابْنِ كثير تَحْقِيقا لفوائد كَثِيرَة
… أهمها تَعْمِيم النَّفْع بهَا بعد أَن كَانَت محصورة فِي أيدى قلَّة مِمَّن يقدرُونَ على شِرَاء الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة كلهَا بِثمنِهَا الْمُرْتَفع.
বিস্তারিত বা দীর্ঘায়িত; কারণ তাঁর 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া' গ্রন্থে বিদ্যমান সেই অংশের চেয়ে বেশি কিছু এতে লেখা হয়েছে বলে কল্পনা করা যায় না।
এখান থেকেই আমি ইবনে কাসীরের 'আস-সিরাত আন-নাবাবিয়্যাহ' প্রকাশের দিকে মনোনিবেশ করেছি, আর এটি হলো সেই অংশ যা
ইবনে কাসীর জাহেলি যুগে আরবদের সংবাদ, নবীর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) জীবনী এবং তাঁর ওফাত পর্যন্ত দাওয়াতের ইতিহাসের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।
এই বিবেচনায় যে, এই অংশটিই হলো সেই দীর্ঘায়িত সীরাতে নববী যার প্রতি ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে ইঙ্গিত করেছেন।
আর আমাকে যা এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে তার কিছু কারণ হলো: ১ - এই সীরাত 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া' গ্রন্থের প্রায় তিনটি খণ্ড জুড়ে রয়েছে, দ্বিতীয় খণ্ডের শেষাংশ থেকে শুরু করে পঞ্চম খণ্ডের শেষ পর্যন্ত; আর এভাবে এটি চারটি খণ্ডের মধ্যে ছড়িয়ে আছে।
২ - 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া'র এই খণ্ডগুলোর মূল্য অত্যন্ত চড়া, এমনকি কেবল তৃতীয় খণ্ডের মূল্যই চার মিশরীয় পাউন্ডে পৌঁছেছে, যদি তা খুঁজে পাওয়া যায়! এটি মূলত রেফারেন্স গ্রন্থের ব্যবসায়িক একচেটিয়া আধিপত্য এবং বিদ্যমান কপির স্বল্পতার কারণে।
৩ - উল্লিখিত এই সংস্করণটি ভয়াবহভাবে বিকৃতি ও ত্রুটিতে পূর্ণ। আমি জানি না কীভাবে এই সংস্করণটি আলেম এবং ছাত্রদের হাতে প্রচলিত রয়ে গেল, অথচ এর প্রায় প্রতিটি পৃষ্ঠাই বিকৃতি, ভুল লিখন বা বাদ পড়া অংশ থেকে মুক্ত নয়।
এই কারণগুলোই আমাকে ইবনে কাসীরের 'আস-সিরাত আন-নাবাবিয়্যাহ' প্রকাশের মধ্যে অনেক কল্যাণ অর্জনের সুযোগ দেখিয়েছে
… যার মধ্যে প্রধান হলো এর উপকারিতাকে সর্বজনীন করা, যেখানে এটি কেবল সেই সামান্য কয়েকজনের হাতে সীমাবদ্ধ ছিল যারা উচ্চমূল্যে পুরো 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া' ক্রয় করতে সক্ষম।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَكَذَلِكَ تَحْقِيق قصد ابْن كثير حِين كتب تِلْكَ السِّيرَة المطولة وَأَرَادَ أَن تشيع وَحدهَا بَين النَّاس.
وَكَذَلِكَ إنصاف ذَلِك الْعَمَل الْجَلِيل من أَن يظل فِي صورته الشائهة المليئة بالتحريف.
سيرة ابْن كثير: ونقف هُنَا مستعرضين كِتَابَة ابْن كثير فِي سيرة الرَّسُول صلوَات الله وَسَلَامه عَلَيْهِ، متأملين فِي خَصَائِصه باحثين عَن منهجه.
1 - إِن أول مَا نلمسه فِي سيرة ابْن كثير أَنه اهتم بالرواية بالاسانيد، تمشيا مَعَ صبغته الْغَالِبَة عَلَيْهِ كإمام مُحدث، وَأكْثر مروياته عَن الامام أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ، وأبى نعيم.
فَلم يكتف بِنَقْل مَا كتبه أهل السّير أَمْثَال ابْن إِسْحَاق ومُوسَى ابْن عقبَة، وَلكنه جمع مَا رَوَاهُ أهل الحَدِيث وَبِذَلِك اكْتسب مزية يتفرد بهَا بَين من كتبُوا فِي السِّيرَة.
وَقد نقد ابْن كثير بعض الاسانيد عِنْد مَا يكون الْمَتْن غَرِيبا، ليحكم على بعض الاحاديث، وَأَحْيَانا يبين دَرَجَة الحَدِيث دون أَن ينْقد السَّنَد 2 - ثمَّ نجد ابْن كثير يمتاز بِأَنَّهُ ينْقل عَن بعض كتب السّير المفقودة مثل كتاب مُوسَى بن عقبَة، وَمثل كتاب الاموى فِي المغازى، كَمَا ينْقل عَن بعض شُرُوح السِّيرَة مثل الرَّوْض الانف لِلسُّهَيْلِي، والشفا للقاضى عِيَاض.
3 - وفى مجَال الاستشهاد بالشعر لَا يهمل ابْن كثير هَذِه النَّاحِيَة، وَلكنه لَا يُتَابع ابْن هِشَام فِي كل مروياته من الشّعْر فيختصر بَعْضهَا ويهمل الْبَعْض الآخر.
4 - وَبِالْجُمْلَةِ فَإِن ابْن كثير يحرص على جمع كل مَا كتب فِي الْمَوْضُوع الذى يتَنَاوَلهُ،
এবং একইভাবে ইবনে কাসীরের সেই উদ্দেশ্যের বাস্তবায়ন করা যখন তিনি এই দীর্ঘ সীরাত গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন এবং চেয়েছিলেন যে এটি মানুষের মাঝে স্বতন্ত্রভাবে প্রচারিত হোক।
তদ্রূপ এই মহান কর্মটির প্রতি সুবিচার করা যেন তা বিকৃতিতে ভরপুর তার সেই কদাকার রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।
সীরাতে ইবনে কাসীর: এখানে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত রচনায় ইবনে কাসীরের লেখার পর্যালোচনা করব, এর বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুধাবন করব এবং এর মানহাজ বা পদ্ধতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করব।
১ - ইবনে কাসীরের সীরাত গ্রন্থে আমরা প্রথম যে বিষয়টি উপলব্ধি করি তা হলো, তিনি সনদসহ বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, যা একজন ইমাম মুহাদ্দিস হিসেবে তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর অধিকাংশ বর্ণনা ইমাম আহমাদ, বায়হাকী এবং আবু নুআইম থেকে সংগৃহীত।
তিনি ইবনে ইসহাক এবং মূসা ইবনে উকবার মতো সীরাত বিশেষজ্ঞদের রচনার উদ্ধৃতিতেই ক্ষান্ত হননি, বরং মুহাদ্দিসগণের বর্ণিত বর্ণনাগুলোও তিনি সংগ্রহ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সীরাত রচয়িতাদের মাঝে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন।
ইবনে কাসীর কোনো কোনো মতন বা মূল পাঠ অদ্ভুত মনে হলে তার সনদ নিয়ে সমালোচনা করেছেন যেন হাদীসগুলো সম্পর্কে হুকুম দেওয়া যায়, আবার কখনও কখনও সনদের সমালোচনা না করেই হাদীসের মান বা স্তর বর্ণনা করেছেন। ২ - এরপর আমরা দেখি ইবনে কাসীরের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি সীরাতের এমন কিছু বিলুপ্তপ্রায় গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেন যা এখন আর পাওয়া যায় না, যেমন মূসা ইবনে উকবার কিতাব এবং আল-উমাবীর মাগাযী গ্রন্থ। এছাড়াও তিনি আল-সুহাইলীর 'আর-রাওদুল উনুফ' এবং কাযী ইয়াজের 'আশ-শিফা'র মতো সীরাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো থেকেও উদ্ধৃতি প্রদান করেন।
৩ - কবিতার মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ইবনে কাসীর এই দিকটিকে অবহেলা করেননি, তবে তিনি কবিতার বর্ণনায় ইবনে হিশামের পুরোপুরি অনুসরণ করেননি; বরং কিছু ক্ষেত্রে তিনি তা সংক্ষেপ করেছেন এবং অন্য কিছু বর্জন করেছেন।
৪ - মোটের উপর, ইবনে কাসীর তাঁর আলোচিত বিষয়ের ওপর লিখিত সব কিছু সংগ্রহ করার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট থাকেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَلكنه لَا يدمج الاحاديث والاخبار بَعْضهَا فِي بعض، بل يحْتَفظ لكل نقل بطابعه ومكانه، وَكَثِيرًا مَا يعوزه التَّرْتِيب فِي النَّقْل، فَلَا ينسق الاخبار الَّتِى ينقلها حَتَّى تكون وحدة منسجمة فأحيانا يبْدَأ بالْخبر المطول، ثمَّ يذكر بعده أَخْبَارًا تحتوى على جَانب من هَذَا الْخَبَر أَو تكرره 5 - فَإِذا تتبعنا نقُول ابْن كثير عَن غَيره وجدنَا فِيهَا ظَاهِرَة عَجِيبَة..هِيَ: أَنه يكَاد لَا يلْتَزم نَص أَي شئ يَنْقُلهُ..! فنقوله عَن ابْن إِسْحَاق أغلبها
بِالْمَعْنَى، وَقد تتبعت ذَلِك فِي بعض الصفحات، وَرَأَيْت أَن إِثْبَات الفروق بَين ابْن كثير وَابْن إِسْحَاق شئ يطول مداه، فَابْن كثير يقدم وَيُؤَخر وَيزِيد وَينْقص، ويغير ويبدل ويفوت بِهَذَا التَّغْيِير والتبديل كثير من جمال عبارَة ابْن إِسْحَاق وتناسقها كَذَلِك نجد رِوَايَات ابْن كثير للاحاديث تخْتَلف بعض الِاخْتِلَاف عَمَّا فِي أيدى النَّاس من الْكتب الَّتِى ينْقل ابْن كثير عَنْهَا.
فأحاديث البُخَارِيّ الَّتِى يَرْوِيهَا ابْن كثير بقوله: (وَقَالَ البُخَارِيّ) لَا تنطبق حرفيا مَعَ صَحِيح البُخَارِيّ الذى بِأَيْدِينَا.
كَذَلِك القَوْل فِي رِوَايَته عَن صَحِيح مُسلم وَعَن مُسْند أَحْمد وَعَن دَلَائِل النُّبُوَّة لابي نعيم وَعَن دَلَائِل النُّبُوَّة للبيهقي، وَعَن الشفا للقاضى عِيَاض وَعَن الرَّوْض الانف لِلسُّهَيْلِي
… تكَاد لاتجد خَبرا مطابقا بِحُرُوفِهِ لما فِي الْكتب المتداولة، فَلَا يَخْلُو الامر من تَغْيِير أَو نقص أَو اخْتِصَار.
وَحين نقف أَمَام هَذِه الظَّاهِرَة نبحث عَن أَسبَابهَا فَإِن هُنَاكَ أحد احْتِمَالَيْنِ:
কিন্তু তিনি হাদিস এবং বর্ণনাগুলোকে একে অপরের সাথে মিশিয়ে ফেলেন না, বরং প্রতিটি উদ্ধৃতিকে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্থানে সংরক্ষিত রাখেন। তবে অনেক সময় উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর বিন্যাসের অভাব পরিলক্ষিত হয়; তিনি তাঁর উদ্ধৃত সংবাদগুলোকে এমনভাবে বিন্যস্ত করেন না যাতে সেগুলো একটি সুসংগত এককে পরিণত হয়। ফলে কখনো তিনি দীর্ঘ বর্ণনা দিয়ে শুরু করেন, আবার কখনো তার পর এমন সব বর্ণনা উল্লেখ করেন যেগুলোতে এই বর্ণনার কোনো অংশ থাকে অথবা তার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ৫- যদি আমরা অন্যদের থেকে ইবনে কাসীরের উদ্ধৃতিগুলো পর্যবেক্ষণ করি, তবে আমরা সেখানে একটি আশ্চর্যজনক বিষয় লক্ষ্য করি। আর তা হলো: তিনি যা কিছু উদ্ধৃত করেন, তার পাঠ্য বা মূল শব্দের প্রতি প্রায় দায়বদ্ধ থাকেন না বললেই চলে! ইবনে ইসহাক থেকে তাঁর উদ্ধৃতিগুলোর অধিকাংশই
ভাবানুসারে বর্ণিত। আমি কিছু পৃষ্ঠায় এটি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং লক্ষ্য করেছি যে, ইবনে কাসীর ও ইবনে ইসহাকের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যগুলো চিহ্নিত করা অনেক দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। কেননা ইবনে কাসীর আগে-পিছে করেন, বৃদ্ধি বা হ্রাস করেন এবং পরিবর্তন ও পরিমার্জন করেন; আর এই পরিবর্তন ও পরিমার্জনের ফলে ইবনে ইসহাকের বাচনভঙ্গির সৌন্দর্য ও সুসামঞ্জস্যতার অনেকটাই হারিয়ে যায়। একইভাবে আমরা দেখতে পাই যে, ইবনে কাসীর কর্তৃক বর্ণিত হাদিসগুলো মানুষের হাতে থাকা সেই সব মূল কিতাবের ভাষ্য থেকে কিছুটা ভিন্ন, যেখান থেকে ইবনে কাসীর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
সুতরাং বুখারি থেকে যে সকল হাদিস ইবনে কাসীর "বুখারি বলেছেন" বলে বর্ণনা করেন, সেগুলো আমাদের হাতে থাকা সহিহ বুখারির সাথে হুবহু বা আক্ষরিকভাবে মেলে না।
সহিহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, আবু নুআইমের দালািলুন নুবুওয়াহ, বায়হাকির দালািলুন নুবুওয়াহ, কাজী ইয়াজের আশ-শিফা এবং সুহাইলির আর-রাওদুল উনুফ থেকে তাঁর বর্ণনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য
… প্রচলিত কিতাবগুলোতে যা রয়েছে, তার সাথে হুবহু বর্ণে বর্ণে মিলে যায় এমন কোনো বর্ণনা আপনি প্রায় খুঁজে পাবেন না। বিষয়টি কোনো না কোনো পরিবর্তন, হ্রাস অথবা সংক্ষেপণ থেকে মুক্ত নয়।
যখন আমরা এই বৈশিষ্ট্যের সম্মুখীন হই, তখন আমরা এর কারণ অনুসন্ধান করি। সে ক্ষেত্রে দুটি সম্ভাবনার যেকোনো একটি হতে পারে:
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
1) إِمَّا أَن يكون ابْن كثير - وَهُوَ الامام الْحَافِظ المتقن - كَانَ يعْتَمد على حفظه وَرِوَايَته وَلَا ينْقل عَن النّسخ المتداولة 2) وَإِمَّا أَنه كَانَت هُنَاكَ نسخ أُخْرَى تخْتَلف عَمَّا وصل إِلَيْنَا من هَذِه الْكتب.
وعَلى كل فَإِن مثل ابْن كثير حجَّة فِي بَاب الحَدِيث وَلكنهَا على أَي حَال ظَاهِرَة تستلفت النّظر أَن تكون رِوَايَات ابْن كثير للاحاديث ونقوله عَن الْكتب مُخَالفَة لما فِي أَيْدِينَا من هَذِه الْكتب
… وهى مُخَالفَة لفظية يسيرَة فِي بعض الاحيان.
6 - فَإِذا مَا تفحصنا مَنْهَج ابْن كثير فِي الرِّوَايَات، رَأَيْنَاهُ لَا يُبَالِي بِرِوَايَة كثير من الاخبار الْوَاهِيَة وخاصة فِي أَخْبَار الْجَاهِلِيَّة وهتاف الجان وقصصه.
وَقد كَانَ بإمكانه أَلا يلْتَفت إِلَى هَذِه الاخبار الَّتِى لَا تتمالك أَمَام النَّقْد، لكنه كَانَ يُبرئ نَفسه بأمرين: 1) ذكر السَّنَد فِي كل خبر يُثبتهُ، وَبِذَلِك يلقى التبعة على غَيره.
ب) أَنه كَانَ يعلق على بعض هَذِه الاخبار بِأَنَّهُ (غَرِيب جدا) أَو (لم يخرجوه) وَنَحْو ذَلِك مِمَّا يضعف جَانب الْخَبَر.
لكننا مَعَ ذَلِك نود أَن لَو أهمل ابْن كثير هَذِه الاخبار الَّتِى لَيْسَ لَهَا سَنَد من الْعقل أَو الْحَقِيقَة، والتى تزحم الاذهان وتشوش على الْحَقَائِق.
وخاصة فِيمَا يتَّصل بحياة الرَّسُول الْكَرِيم صلوَات الله عَلَيْهِ، فمثلا الحَدِيث الذى يرويهِ عَن البيهقى عَن الْعَبَّاس أَنه قَالَ للرسول صلى الله عليه وسلم: (رَأَيْتُكَ فِي الْمَهْدِ تُنَاغِي الْقَمَرَ وَتُشِيرُ إِلَيْهِ بإصبعك، فَحَيْثُ أَشرت إِلَيْهِ مَال) ! ثمَّ يذكر مُوَافقَة الرَّسُول على ذَلِك حَدِيث لَا يتَّفق مَعَ الْعقل أَو مَعَ حقائق الْوُجُود، وَلَا يغنينا بعد ذَلِك أَن يَقُول ابْن كثير: (تفرد بِهِ أَحْمد بن إِبْرَاهِيم الْحلَبِي وَهُوَ مَجْهُول) .
إِن مثل هَذَا الحَدِيث يفتح ثغرة أَمَام أَعدَاء الاسلام ليهجموا على السِّيرَة النَّبَوِيَّة من
1) হয় ইবনে কাসীর - যিনি একজন ইমাম, হাফেজ ও প্রাজ্ঞ পণ্ডিত - তাঁর মুখস্থ স্মৃতি ও বর্ণনার ওপর নির্ভর করতেন এবং প্রচলিত পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে উদ্ধৃতি দিতেন না 2) অথবা এমন কোনো পাণ্ডুলিপি ছিল যা আমাদের কাছে পৌঁছানো এই কিতাবগুলো থেকে ভিন্ন ছিল।
যাই হোক, হাদিসের ক্ষেত্রে ইবনে কাসীরের মতো ব্যক্তি একজন প্রামাণ্য দলিল; তবে এটি যেকোনো বিচারেই একটি লক্ষণীয় বিষয় যে, হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে ইবনে কাসীরের বর্ণনা এবং কিতাবগুলো থেকে তাঁর উদ্ধৃতিসমূহ আমাদের হাতে থাকা কিতাবগুলোর পাঠ থেকে ভিন্ন
… এবং এগুলো কখনো কখনো সামান্য শব্দগত পার্থক্য মাত্র।
৬ - যদি আমরা বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনে কাসীরের পদ্ধতি পরীক্ষা করি, তবে দেখব যে তিনি অনেক দুর্বল সংবাদ বর্ণনার ক্ষেত্রে তেমন ভ্রুক্ষেপ করেননি, বিশেষ করে জাহেলিয়াতের খবর, জিনের আওয়াজ ও তাদের গল্পের ক্ষেত্রে।
তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল এই খবরগুলোর প্রতি মনোযোগ না দেওয়া যা সমালোচনার মুখে টিকে থাকতে পারে না, কিন্তু তিনি দুটি উপায়ে নিজেকে দায়মুক্ত করেছেন: ১) প্রতিটি খবরের ক্ষেত্রে সনদ উল্লেখ করেছেন যা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি এর দায়ভার অন্যের ওপর ন্যস্ত করেছেন।
খ) তিনি এই সংবাদগুলোর কোনো কোনোটির ওপর মন্তব্য করেছেন যে তা (অত্যন্ত বিরল) অথবা (মুহাদ্দিসগণ এটি সংকলন করেননি) এবং এই জাতীয় মন্তব্য যা সংবাদটির গ্রহণযোগ্যতাকে দুর্বল করে দেয়।
তা সত্ত্বেও আমরা প্রত্যাশা করতাম যদি ইবনে কাসীর সেই সংবাদগুলোকে বর্জন করতেন যার সপক্ষে বুদ্ধি বা বাস্তবতার কোনো ভিত্তি নেই এবং যা মস্তিষ্ককে ভারাক্রান্ত করে ও প্রকৃত সত্যকে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন করে।
বিশেষ করে মহান রাসুলের জীবনী সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে, যাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বায়হাকি থেকে আব্বাসের সূত্রে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছিলেন: (আমি আপনাকে দোলনায় থাকাকালীন চাঁদের সাথে কথা বলতে দেখেছি এবং আপনি আপনার আঙুল দিয়ে সেটির দিকে ইশারা করছিলেন, আর আপনি যেদিকেই ইশারা করছিলেন সেদিকেই চাঁদ হেলে পড়ছিল)! অতঃপর তিনি এই বিষয়ে রাসুলের সম্মতি উল্লেখ করেছেন। এটি এমন একটি হাদিস যা বুদ্ধি বা জাগতিক বাস্তবতার সাথে মেলে না। আর ইবনে কাসীরের এই কথাটিও আমাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে: (আহমদ ইবনে ইব্রাহিম আল-হালাবি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি)।
এই জাতীয় হাদিস ইসলামের শত্রুদের সামনে একটি ছিদ্রপথ খুলে দেয় যাতে তারা নবীর জীবনীর ওপর আক্রমণ করতে পারে...
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بَاب أَمْثَال هَذَا الحَدِيث من الواهيات والموضوعات.
كَذَلِك خبر خَالِد بن سِنَان، وهتاف الجان وأساطيره، سَار فِيهَا ابْن كثير شوطا بَعيدا ممتلئا بالخرافات والاساطير.
لكننا مَعَ ذَلِك ننتحل الْعذر لِابْنِ كثير فِي إِثْبَات مثل هَذِه الاخبار، إِذْ كَانَ عصره يحتفل بهَا ويهتم بروايتها، وَإِذا كَانَ قَصده فِي كِتَابه الْجمع وَالِاسْتِقْصَاء وَمَا دَامَ قد أخلى تَبعته بِإِسْنَاد كل خبر إِلَى روايه واهتم بالتخريج وَالْحكم، فَإِنَّهُ بذلك يكون قد أدّى واجبه وَقَامَ بِمَا عَلَيْهِ.
7 - إِن الْمطَالع للسيرة النَّبَوِيَّة لِابْنِ كثير يحمد لهَذَا الرجل جهده الذى قَامَ بِهِ، إِذْ مزج أَخْبَار السِّيرَة بروايات الاحاديث فسن بذلك نهجا جَدِيدا لم يكن من قبله يهتمون بِهِ.
وَإِذ جمع كل مَا يُمكن فِي هَذَا المجال، فَوضع أَمَام الْمطَالع لكتابه مَادَّة وافية تمكنه من الدراسة والاحاطة والاستيفاء.
وَقد أعَان ابْن كثير على ذَلِك عصره الْمُتَأَخر وإحاطته بالاحاديث وإجادته للروايات والاخبار.
مَنْهَج التَّحْقِيق:
اعتمدت فِي إِخْرَاج السِّيرَة النَّبَوِيَّة لِابْنِ كثير على مَا يَأْتِي:
1 - نُسْخَة مصورة من الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة لِابْنِ كثير تحمل رقم 1110 تَارِيخ بدار الْكتب المصرية، وهى مصورة عَن مكتبة ولى الدّين 2347 بالآستانه.
وإليها الاشارة بالحرف (ا) .
2 - نُسْخَة مخطوطة من الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة بالمكتبة التيمورية تحمل رقم 2443 تَارِيخ وهى نَاقِصَة من أَولهَا.
অসার এবং বানোয়াট বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত এই জাতীয় হাদিসের উদাহরণ সংক্রান্ত অধ্যায়।
তেমনিভাবে খালিদ বিন সিনানের সংবাদ, জিনদের আওয়াজ এবং তাদের উপকথা সম্পর্কিত বর্ণনা; এসকল ক্ষেত্রে ইবনে কাসির অনেক দূর অগ্রসর হয়েছেন যা কুসংস্কার ও উপকথায় ভরপুর।
তা সত্ত্বেও আমরা ইবনে কাসিরের এই ধরণের সংবাদগুলো অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে একটি ওজর বা কারণ খুঁজে নিতে পারি, যেহেতু তাঁর যুগ এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিত এবং এগুলোর বর্ণনা সংকলনে আগ্রহী ছিল। আর যেহেতু তাঁর কিতাবের উদ্দেশ্য ছিল তথ্য সংগ্রহ ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রদান করা, এবং তিনি প্রতিটি সংবাদকে তার বর্ণনাকারীর দিকে ইসনাদসহ সমর্পণ করে এবং হাদিস বিশ্লেষণ ও হুকুম প্রদানের মাধ্যমে নিজের দায়ভার মুক্ত করেছেন, সেহেতু তিনি এর মাধ্যমে তাঁর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন এবং তাঁর যা করণীয় ছিল তা সম্পন্ন করেছেন।
৭ - ইবনে কাসিরের সীরাতুন নববী পাঠকারী এই ব্যক্তির প্রচেষ্টার প্রশংসা করবেন, কারণ তিনি সীরাতের সংবাদগুলোকে হাদিসের বর্ণনার সাথে একীভূত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি নতুন পদ্ধতির প্রবর্তন করেছেন যা তাঁর পূর্ববর্তীরা গুরুত্ব প্রদান করতেন না।
যেহেতু তিনি এই ক্ষেত্রে সম্ভবপর সবকিছু সংগ্রহ করেছেন, তাই তিনি তাঁর কিতাবের পাঠকের সামনে পর্যাপ্ত তথ্য-সামগ্রী উপস্থাপন করেছেন যা পাঠককে গভীর অধ্যয়ন, বিষয়টির ব্যাপ্তি অনুধাবন এবং পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জনে সক্ষম করে তোলে।
ইবনে কাসিরকে এই কাজে তাঁর পরবর্তী যুগ, হাদিস শাস্ত্রের ওপর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং বর্ণনা ও সংবাদসমূহে তাঁর পারদর্শিতা সহায়তা করেছে।
সম্পাদনা পদ্ধতি:
ইবনে কাসিরের সীরাতুন নববী সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করেছি:
১ - ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়ার একটি ফটোকপি সংস্করণ, যা দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে ইতিহাস বিভাগে ১১১০ নম্বর হিসেবে সংরক্ষিত; এটি ইস্তাম্বুলের ওলিউদ্দিন লাইব্রেরির ২৩৪৭ নম্বর পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত ফটোকপি।
একে (আলিফ) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
২ - মাকতাবা আল-তৈমুরিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়ার একটি পাণ্ডুলিপি সংস্করণ, যা ইতিহাস বিভাগে ২৪৪৩ নম্বর হিসেবে সংরক্ষিত; এটি প্রথমাংশ থেকে অসম্পূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
3 - النُّسْخَة المطبوعة من الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة سنة 1351 بمطبعة السَّعَادَة وَقد قوبلت على أصلين الاصل المصور الْمشَار إِلَيْهِ فِي هوامشها بالنسخة المصرية.
وعَلى نُسْخَة مَحْفُوظَة بِالْمَدْرَسَةِ الاحمدية بحلب وعَلى كَانَ فَإِن مخطوطات الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة الْمَذْكُورَة لَا تتسم بالدقة، إِذْ أَن فِيهَا أخطاء أَشرت إِلَى كثير مِنْهَا فِي هوامش هَذَا الْجُزْء، ويبدو أَنَّهَا كتبت فِي عصور مُتَأَخِّرَة، أَو تولى نسخهَا من لَا يعول على التَّحْقِيق.
وَقد كَانَ جهدي فِي إِخْرَاج هَذِه السِّيرَة متجها إِلَى ضَبطهَا وتنقيتها من الاخطاء الَّتِى خرجت بهَا إِلَى النَّاس فِي النُّسْخَة المطبوعة الشائعة من الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة وتشارك فِي أَكْثَرهَا النّسخ المخطوطة، فَرَجَعت إِلَى الاصول الَّتِى أَشَارَ إِلَيْهَا ابْن كثير، مثل كتب السّير وَكتب الحَدِيث، عدا بعض مَا لم يَتَيَسَّر الرُّجُوع إِلَيْهِ مثل مُعْجم الطَّبَرَانِيّ وهواتف الجان للخرائطي وَدَلَائِل النُّبُوَّة للبيهقي.
وَلم أحاول إِثْبَات الفروق بَين ابْن كثير وَبَين كل مَا ينْقل عَنهُ، إِذْ تبينت - كَمَا أَشرت إِلَى ذَلِك قَرِيبا - أَن ابْن كثير يُخَالف فِي كِتَابه النُّصُوص الَّتِى بأيدى النَّاس من الْكتب الَّتِى ينْقل عَنْهَا، فَلَا يَخْلُو الامر من زِيَادَة أَو نقص أَو تَغْيِير أَو تَبْدِيل، وَلَكِنِّي أثبت بعض الفروق على سَبِيل الْمِثَال، مثل الفروق بَينه وَبَين البُخَارِيّ وَدَلَائِل النُّبُوَّة لابي نعيم وَمَكَارِم الاخلاق للخرائطي، وَالرَّوْض الانف لِلسُّهَيْلِي، ومسند أَحْمد وسيرة ابْن هِشَام والشفاء وَنَحْو ذَلِك، وَلَو أَنى التزمت إِثْبَات كل الفروق بَينه وَبَين إِسْحَق أَو البُخَارِيّ أَو أَحْمد وَغير ذَلِك، لطال الامر واتسع المدى، وَلَيْسَ فِي ذَلِك كَبِير فَائِدَة.
كَذَلِك أثبت أهم الفروق بَين النّسخ المخطوطة والمطبوعة على ندرة ذَلِك.
وَلم أعول فِي التَّعْلِيق إِلَّا على تصويب الاخطاء وَشرح مَا يغمض من الْمُفْردَات، وَلم أتوسع فِي التَّعْرِيف بالاعلام، لَان ذَلِك لَا فَائِدَة مِنْهُ فِي مثل هَذَا الْكتاب، وَحَتَّى لَا يخرج
৩ - আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়ার মুদ্রিত কপি, যা ১৩৫১ হিজরি সালে সা'আদাহ প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এটি দুটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে; যার একটি হলো চিত্রিত মূল কপি, যা এর টীকাগুলোতে মিশরীয় পাণ্ডুলিপি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবং সিরিয়ার আলেপ্পোর আহমাদিয়া মাদরাসায় সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপির সাথে। তবে আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়ার উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলো নির্ভুলতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়, কারণ এতে অনেক ভুল রয়েছে যার অধিকাংশ আমি এই খণ্ডের টীকাগুলোতে নির্দেশ করেছি। মনে হয় এগুলো পরবর্তী কোনো যুগে অনুলিপি করা হয়েছে, অথবা এমন কেউ এগুলো অনুলিপি করেছেন যার তাহকিক বা গবেষণার ওপর নির্ভর করা যায় না।
এই সীরাত গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার প্রচেষ্টা ছিল একে নির্ভুল করা এবং সেই সব ভুল থেকে মুক্ত করা যা আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়ার প্রচলিত মুদ্রিত সংস্করণে মানুষের হাতে পৌঁছেছে, এবং যেগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রে হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিগুলোও একমত। তাই আমি ইবনে কাসীর যে মূল উৎসগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি, যেমন সীরাত ও হাদীসের গ্রন্থসমূহ। তবে এমন কিছু উৎস ব্যতীত যেগুলোর দিকে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়নি, যেমন তাবারানীর মু'জাম, খারায়েতির 'হাওয়াতিফুল জান' এবং বাইহাকীর 'দালাইলুন নুবুওয়াহ'।
আমি ইবনে কাসীর এবং তিনি যেখান থেকে উদ্ধৃত করেছেন সেই সব গ্রন্থের মধ্যবর্তী সমস্ত পার্থক্য বর্ণনা করার চেষ্টা করিনি। কারণ আমি স্পষ্ট দেখেছি—যেমনটি আমি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি—ইবনে কাসীর তাঁর কিতাবে সেই সব গ্রন্থের মূল পাঠের (Text) সাথে ভিন্নতা পোষণ করেন যা মানুষের নিকট বিদ্যমান এবং যেখান থেকে তিনি উদ্ধৃত করেন। তাই সেখানে কিছু সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন বা পরিমার্জন থাকা স্বাভাবিক। তবে আমি উদাহরণস্বরূপ কিছু পার্থক্য উল্লেখ করেছি, যেমন তাঁর এবং বুখারী, আবু নুয়াইমের 'দালাইলুন নুবুওয়াহ', খারায়েতির 'মাকারিমুল আখলাক', সুহাইলীর 'আর-রওদুল উনুফ', মুসনাদে আহমাদ, সীরাতে ইবনে হিশাম, 'আশ-শিফা' এবং এজাতীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যকার পার্থক্য। আমি যদি ইবনে ইসহাক, বুখারী বা আহমাদ ও অন্যদের সাথে তাঁর সমস্ত পার্থক্য বর্ণনা করার দায়বদ্ধতা নিতাম, তবে বিষয়টি অত্যন্ত দীর্ঘায়িত হতো এবং পরিধি অনেক বেড়ে যেত, অথচ এতে খুব বেশি উপকার নেই।
একইভাবে আমি পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপির মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো উল্লেখ করেছি, যদিও তা সংখ্যায় খুব কম।
আর আমি টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুল সংশোধন এবং দুর্বোধ্য শব্দগুলোর ব্যাখ্যা ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করিনি। আমি ব্যক্তিদের পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করিনি, কারণ এই ধরণের কিতাবে তার কোনো বিশেষ প্রয়োজনীয়তা নেই এবং যাতে এটি মূল প্রসঙ্গ থেকে বিচ্যুত না হয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بِنَا الامر إِلَى أَن يصير الْكتاب حَاشِيَة من الحواشى الْقَدِيمَة، إِذْ لَا فَائِدَة فِي التَّعْلِيق على كل مَا يُمكن التَّعْلِيق عَلَيْهِ، بل الْفَائِدَة فِي التَّعْلِيق مَا يجب التَّعْلِيق عَلَيْهِ، وَقد يلمس الْقَارئ أَن أَسَانِيد الرِّوَايَات والاحاديث لم تظفر بِمَا ينبغى لَهَا من التَّعْرِيف بهؤلاء الرِّجَال وَذكر وفياتهم، وَلَو أَنى فعلت ذَلِك لخرجنا بِكِتَاب فِي رجال الحَدِيث مَا أرى قَارِئ السِّيرَة النَّبَوِيَّة بحاجة إِلَيْهِ، وفى هَذَا الْبَاب كتب متخصصة ميسرَة لمن أرادها.
ويلحظ أَنى تدخلت بِنَقْد بعض الاخبار الَّتِى ذكرهَا ابْن كثير، وَلم أملك أمامها سوى الاستبعاد الْعقلِيّ، وَقد رَأَيْت ذَلِك وَاجِبا حَتَّى يتَنَبَّه الْقَارئ إِلَى أَنه لَيْسَ مطالبا بِتَصْدِيق كل مَا أثْبته ابْن كثير فِي كِتَابه هَذَا مادام لَيْسَ ثَابتا بِدَلِيل شرعى صَحِيح أَو لَيْسَ لَهُ سَنَد من الْعقل، وخاصة الاشعار الَّتِى تبدو عَلَيْهَا الصّفة والتكلف، والاخبار الاسطورية الَّتِى لَا تناسب يقظة البشرية وارتقاءها، وَلَيْسَ جَانب السَّنَد هُوَ الذى يهمنا فِي الْخَبَر فَحسب، بل يطْلب أَن يكون الْمَتْن أَيْضا منتسبا إِلَى الْحَقِيقَة بَعيدا عَن التزوير.
وَقد نقد ابْن خلدون، وَهُوَ الامام الْحجَّة، كثيرا من الاخبار بِهَذَا الْمنْهَج، مَنْهَج الاستبعاد الْعقلِيّ وَبَيَان مُنَافَاة الْخَبَر للسنن الكونية والظروف التاريخية، كَمَا أَشَارَ إِلَى ذَلِك فِي أول مقدمته.
وَلم أر فَائِدَة فِي تَخْرِيج الاخبار، أَي ذكر أَمَاكِن وجودهَا فِي الْكتب، إِذْ أَن أَكثر أَخْبَار السِّيرَة مُشْتَرك بَين الْكتب الَّتِى تتناولها، فَلَا يُفِيد الْقَارئ أَن نذْكر أَن هَذَا الْخَبَر مثلا مَوْجُود فِي سيرة ابْن هِشَام وتاريخ الطَّبَرِيّ وَشرح الْمَوَاهِب والشفاء وَالرَّوْض الانف وَدَلَائِل النُّبُوَّة لابي نعيم وعيون الاثر والاكتفا للكلاعي والوفا لِابْنِ الجوزى والسيرة الحلبية وَمَا إِلَى ذَلِك من كتب السِّيرَة بالاضافة إِلَى مَا يُمكن أَن يُوجد فِيهِ الْخَبَر من كتب الحَدِيث، وفى كل ذَلِك نذْكر أرقام الصفحات، إِن ذَلِك كَانَ يملا حيزا كَبِيرا لَا حَاجَة
বিষয়টি এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল যে, বইটি পুরনো টীকাগ্রন্থগুলোর মতো একটি টীকায় পরিণত হচ্ছিল। কারণ যার ওপর টীকা দেওয়া সম্ভব এমন প্রতিটি বিষয়ের ওপর টীকা দেওয়ার কোনো ফায়দা নেই, বরং ফায়দা রয়েছে সেই সব বিষয়ের ওপর টীকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যেগুলোর ওপর টীকা দেওয়া আবশ্যক। পাঠক লক্ষ্য করবেন যে, বর্ণনা ও হাদিসগুলোর সনদসমূহে সেই সব বর্ণনাকারীদের পরিচয় এবং তাদের মৃত্যুসন উল্লেখ করার ক্ষেত্রে যতটা গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ছিল তা দেওয়া হয়নি। আমি যদি তা করতাম, তবে আমরা হাদিসের বর্ণনাকারীদের বিষয়ক এমন একটি বই পেতাম যা সীরাতুন নববীর পাঠকের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আর এ বিষয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষায়িত ও সহজলভ্য অনেক কিতাব রয়েছে।
আরও লক্ষ্য করা যাবে যে, ইবনে কাসীর কর্তৃক উল্লেখিত কিছু বর্ণনাকে আমি সমালোচনার মাধ্যমে খণ্ডন করার পদক্ষেপ নিয়েছি এবং সেগুলোর ক্ষেত্রে যুক্তিনির্ভর অসম্ভাব্যতা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। আমি এটিকে আবশ্যক মনে করেছি যাতে পাঠক সচেতন হন যে, ইবনে কাসীর তাঁর এই কিতাবে যা কিছু লিপিবদ্ধ করেছেন তার সবকিছু বিশ্বাস করতে তিনি বাধ্য নন, যতক্ষণ না সেটি সঠিক শরয়ি দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় অথবা যার স্বপক্ষে যুক্তির কোনো ভিত্তি না থাকে। বিশেষ করে সেই সব কবিতা যেগুলোতে কৃত্রিমতা ও অতিরঞ্জন স্পষ্ট এবং সেই সব কিংবদন্তি বা রূপকথা যা মানবীয় সচেতনতা ও অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো বর্ণনার ক্ষেত্রে শুধু সনদের দিকটিই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং তার মূল পাঠও সত্যের অনুগামী হওয়া এবং জালিয়াতি থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি।
প্রখ্যাত ইমাম ও প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব ইবনে খালদুন এই পদ্ধতির মাধ্যমেই অনেক বর্ণনা খণ্ডন করেছেন। এটি হলো যুক্তিনির্ভর অসম্ভাব্যতা এবং প্রাকৃতিক নিয়ম ও ঐতিহাসিক পরিস্থিতির সাথে বর্ণনার বৈপরীত্য তুলে ধরার পদ্ধতি, যেমনটি তিনি তাঁর মুকাদ্দিমার শুরুতে ইঙ্গিত করেছেন।
আমি বর্ণনাসমূহের উৎস নির্দেশ বা তাখরীজ করার, অর্থাৎ কিতাবসমূহে সেগুলোর অবস্থান উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখিনি। কারণ সীরাতের অধিকাংশ বর্ণনাই সংশ্লিষ্ট কিতাবগুলোর মধ্যে অভিন্ন। তাই পাঠকের জন্য এটা উল্লেখ করা কোনো উপকারে আসবে না যে, এই বর্ণনাটি উদাহরণস্বরূপ সীরাতে ইবনে হিশাম, তারিখুত তবারি, শারহুল মাওয়াহিব, আশ-শিফা, আর-রওদুল উনুফ, আবু নুআইমের দালািলুন নুবুওয়াহ, উইয়ুনুল আসার, কালাঈর আল-ইকতিফা, ইবনুল জাওযীর আল-ওয়াফা, আস-সীরাতুল হালাবিয়াহ এবং সীরাতের এ জাতীয় অন্যান্য কিতাবের পাশাপাশি হাদিসের কিতাবসমূহেও পাওয়া যেতে পারে। আর এসবের পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করা হলে তা বিশাল জায়গা দখল করে নিত যার কোনো প্রয়োজন ছিল না...
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
إِلَيْهِ، ويكفى أَن يعلم الْقَارئ أَن أَكثر أَخْبَار السِّيرَة النَّبَوِيَّة وَمَا قبلهَا من فَتْرَة الْجَاهِلِيَّة مُشْتَرك بَين هَذِه الْكتب الَّتِى ذَكرنَاهَا وَغَيرهَا من كتب الحَدِيث والسيرة.
إِن الذى عنيت بِهِ هُوَ أَن تخرج هَذِه السِّيرَة الْكَرِيمَة مضبوطة بريئة من التحريف والتشويه الذى كَانَ يُحِيط بهَا فِي طبعة الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة، وَأَن أشرح مَا يحْتَاج إِلَى الشَّرْح من الْمُفْردَات وَأَن أُشير إِلَى مَا أصلحته من أخطاء، وَمَا عثرت عَلَيْهِ من أهم الفروق، وَأَن أنبه إِلَى مَا يستبعد من الاخبار.
وَلَا أزعم أَنى أدّيت كل مَا يجب على فِي إِخْرَاج هَذ الْكتاب، وَلَكِنِّي بذلت مَا أمكن حسب الطَّاقَة والظرف.
وإنى الْيَوْم وَأَنا أقدم الْجُزْء الاول من هَذِه السِّيرَة، أخْلص النِّيَّة فِي بذل مَا يُمكن فِي سَبِيل إِخْرَاج بقيتها فِي أقرب ثوب إِلَى الصِّحَّة والكمال.
إِن الظروف الَّتِى طبع فِيهَا هَذَا الْجُزْء، وَلم أكن فِيهَا قَرِيبا من المطبعة، بل اضطرتني ظروف الْعَمَل إِلَى أَن أكون بَعيدا عَنْهَا، قد جعلت فرْصَة لوُقُوع بعض الاخطاء الَّتِى
تداركتها فِي آخر الْكتاب، وَبَعضهَا مطبعى بحت، وَالْآخر سَهْو وَنقص، وَمِنْهَا قسم هُوَ من أخطاء أصُول الْكتاب تبينته من المراجع ونبهت إِلَيْهِ حَتَّى يكون الْقَارئ على بَصِيرَة من أمره.
وحسبي فِي هَذَا الْعَمَل نيتى وقصدي، وَلكُل امْرِئ مَا نوى
… راجيا من الله سُبْحَانَهُ أَن ينفع بِهِ وَأَن يُهَيِّئ لى إِتْمَامه بِمَا يرضيه، إِنَّه واهب الرشد ومانح التَّوْفِيق، لَهُ الْحَمد فِي الاولى وَالْآخِرَة، نعم الْمولى وَنعم النصير.
الْقَاهِرَة 23 من ذى الْحجَّة سنة 1383 5 من مايو سنة 1964 مصطفى عبد الْوَاحِد
এর দিকে; আর পাঠকের জন্য এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, নবীজির সীরাত (জীবনী) এবং তার পূর্ববর্তী জাহেলী যুগের অধিকাংশ বর্ণনা আমাদের উল্লিখিত এই কিতাবসমূহ এবং হাদীস ও সীরাতের অন্যান্য কিতাবসমূহের মধ্যে সাধারণভাবে বিদ্যমান।
আমি যা চেয়েছি তা হলো—এই মহান সীরাত গ্রন্থটি যেন নির্ভুলভাবে প্রকাশিত হয় এবং 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া'-র মুদ্রণে যেসব বিকৃতি ও বিচ্যুতি একে ঘিরে রেখেছিল তা থেকে মুক্ত থাকে। এছাড়া প্রয়োজনীয় শব্দাবলির ব্যাখ্যা করা, আমি যে ভুলগুলো সংশোধন করেছি তা নির্দেশ করা, যেসব গুরুত্বপূর্ণ পাঠভেদ খুঁজে পেয়েছি তা উল্লেখ করা এবং যেসব বর্ণনাকে দূরবর্তী বা অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে সে বিষয়ে সতর্ক করা।
আমি এমন দাবি করি না যে, এই কিতাবটি প্রকাশের ক্ষেত্রে আমার ওপর যা যা কর্তব্য ছিল তার সবটুকুই আমি আদায় করতে পেরেছি; তবে আমি আমার সামর্থ্য ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছি।
আজ যখন আমি এই সীরাতের প্রথম খণ্ডটি উপস্থাপন করছি, তখন আমি বিশুদ্ধ নিয়ত করছি যে, এর অবশিষ্ট অংশগুলোকেও যথাসম্ভব নির্ভুলতা ও পূর্ণতার নিকটবর্তী রূপে প্রকাশের পথে আমার সাধ্যানুযায়ী সবকিছু ব্যয় করব।
যে পরিস্থিতিতে এই খণ্ডটি মুদ্রিত হয়েছে এবং সে সময়ে আমি ছাপাখানার নিকটবর্তী ছিলাম না, বরং কর্মব্যস্ততার কারণে আমাকে সেখান থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল, তা কিছু ভুল হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে যা
আমি বইয়ের শেষে সংশোধন করে দিয়েছি। এর মধ্যে কিছু নিছক মুদ্রণজনিত ভুল, কিছু অসতর্কতা ও অসম্পূর্ণতা, আর কিছু অংশ মূল পাণ্ডুলিপির ভুল থেকে আসা যা আমি উৎসগ্রন্থসমূহের সহায়তায় স্পষ্ট করেছি এবং সে বিষয়ে সতর্ক করেছি, যাতে পাঠক বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন।
এই কাজের ক্ষেত্রে আমার নিয়ত ও উদ্দেশ্যই আমার জন্য যথেষ্ট, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পায় যা সে নিয়ত করে
… আমি মহান আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তিনি এর দ্বারা উপকার করবেন এবং তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী এটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করবেন। নিশ্চয়ই তিনি সঠিক পথের দিশারী এবং তাওফিক দাতা। ইহকাল ও পরকালে সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য; তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।
কায়রো, ২৩ জিলহজ, ১৩৮৩ হিজরি; ৫ মে, ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ; মোস্তফা আব্দুল ওয়াহেদ।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১)
ذكر أَخْبَار الْعَرَب(1 / 1 السِّيرَة)
আরবদের সংবাদ ও ইতিবৃত্তের বর্ণনা(১ / ১ সীরাত)
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم قِيلَ: إِنَّ جَمِيعَ الْعَرَبِ يَنْتَسِبُونَ إِلَى إِسْمَاعِيلَ بْنِ ابْرَاهِيمَ عليهما السلام وَالتَّحِيَّةُ وَالْإِكْرَامُ.
وَالصَّحِيحُ الْمَشْهُور أَن الْعَرَب العاربة قبل إِسْمَاعِيل، وَمِنْهُم عَادٌ وَثَمُودُ وَطَسْمٌ وَجَدِيسٌ وَأَمِيمٌ وَجُرْهُمٌ وَالْعَمَالِيقُ، وأمم آخَرُونَ لَا يعلمهُمْ إِلَّا الله، كَانُوا قَبْلَ الْخَلِيلِ عليه الصلاة والسلام وَفِي زَمَانِهِ أَيْضًا.
فَأَمَّا الْعَرَبُ الْمُسْتَعْرِبَةُ، وَهُمْ عَرَبُ الْحِجَازِ، فَمِنْ ذُرِّيَّةِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ ابْرَاهِيمَ عليهما السلام.
وَأَمَّا عَرَبُ الْيَمَنِ وَهُمْ حِمْيَرُ فَالْمَشْهُورُ أَنهم من قحطان، واسْمه مهزم.
قَالَهُ ابْنُ مَاكُولَا.
وَذَكَرُوا أَنَّهُمْ كَانُوا أَرْبَعَةَ إِخْوَةٍ: قَحْطَانُ وَقَاحِطٌ وَمِقْحَطٌ وَفَالِغٌ.
وَقَحْطَانُ بْنُ هُودٍ، وَقِيلَ هُوَ هُودٌ.
وَقِيلَ هُودٌ أَخُوهُ.
وَقِيلَ مِنْ ذُرِّيَّتِهِ.
وَقِيلَ إِنَّ قَحْطَانَ مِنْ سلالة إِسْمَاعِيل، حَكَاهُ ابْنُ إِسْحَاقَ وَغَيْرُهُ.
فَقَالَ بَعْضُهُمْ: هُوَ قحطان [ابْن الْهَمَيْسَعِ (1) ] بْنِ تَيْمَنَ بْنِ قَيْذَرَ [بْنِ نَبْتِ (1) ] بْنِ إِسْمَاعِيلَ.
وَقِيلَ غَيْرُ ذَلِكَ فِي نَسَبِهِ إِلَى إِسْمَاعِيلَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَقَدْ تَرْجَمَ الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحِهِ عَلَى ذَلِكَ فَقَالَ: (بَابُ نِسْبَةِ الْيَمَنِ إِلَى إِسْمَاعِيلَ عليه السلام حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، حَدثنَا سَلمَة رضى الله عَنهُ
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। বলা হয়ে থাকে যে, সকল আরব ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিমাস সালাম)-এর বংশোদ্ভূত; তাঁদের প্রতি সালাম ও সম্মান।
বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মত এই যে, আদি আরবগণ (আরবে আরেবা) ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর পূর্বেই বিদ্যমান ছিল। তাদের মধ্যে আদ, সামুদ, তাসম, জাদিস, আমীম, জুরহুম, আমালিকা এবং এমন আরও অনেক জাতি ছিল যাদের কথা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। তারা খলীল (আলাইহিস সালাম)-এর পূর্বে এবং তাঁর সময়েও বিদ্যমান ছিল।
আর যারা পরবর্তীতে আরব হয়েছে (আরবে মুসতারিবা), তারা হলো হিজাজের আরব; তারা ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিমাস সালাম)-এর বংশধর।
পক্ষান্তরে ইয়ামানের আরব, যারা হিময়ার গোত্রীয়, তাদের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ মত হলো তারা কাহতানের বংশধর, আর তার নাম মাহযাম।
ইবনে মাকূলা এ কথা বলেছেন।
তারা উল্লেখ করেছেন যে, তারা চার ভাই ছিলেন: কাহতান, কাহিদ, মিকহাত এবং ফালিগ।
আর কাহতান হলেন হুদের পুত্র, আবার বলা হয়েছে তিনিই হুদ।
আবার বলা হয়েছে হুদ তাঁর ভাই ছিলেন।
আবার বলা হয়েছে তিনি তাঁর বংশধর।
আরও বলা হয়েছে যে, কাহতান মূলত ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধারা থেকে এসেছেন; ইবনে ইসহাক ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।
তাদের কেউ কেউ বলেন: তিনি হলেন কাহতান [বিন হামাইসা (১)] বিন তায়মান বিন কাইদার [বিন নাবত (১)] বিন ইসমাঈল।
ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে তাঁর বংশীয় সম্পর্কের ব্যাপারে এর বাইরেও অন্যান্য মত রয়েছে এবং আল্লাহই ভালো জানেন।
ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এ বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন; তিনি বলেছেন: (পরিচ্ছেদ: ইয়ামানবাসীদের বংশধারা ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সম্পৃক্ত করা। আমাদের কাছে মুসাদ্দাদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আবী উবাইদ থেকে, তিনি সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى قوم من أسلم يتناضلون بِالسُّيُوفِ فَقَالَ: " ارْمُوا بَنِي إِسْمَاعِيلَ وَأَنَا مَعَ بَنِي فلَان " لَاحَدَّ الْفَرِيقَيْنِ، فأمسكوا بِأَيْدِيهِم، فَقَالَ: مالكم؟ قَالُوا: وَكَيْفَ نَرْمِي وَأَنْتَ مَعَ بَنِي فُلَانٍ، فَقَالَ: " ارموا وَأَنا مَعكُمْ كلكُمْ (1) ".
تفرد بِهِ الْبُخَارِيُّ.
وَفِي بَعْضِ أَلْفَاظِهِ: " ارْمُوا بَنِي إِسْمَاعِيلَ فَإِنَّ أَبَاكُمْ كَانَ رَامِيًا، ارْمُوا وَأَنَا مَعَ ابْنِ الْأَدْرَعِ " فَأَمْسَكَ الْقَوْمُ فَقَالَ ارْمُوا وَأَنَا مَعَكُمْ كُلِّكُمْ.
قَالَ الْبُخَارِيُّ: وَأَسْلَمُ (2) بْنُ أَفْصَى بْنِ حَارِثَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ مِنْ خُزَاعَةَ.
يَعْنِي: وَخُزَاعَةُ فِرْقَةٌ مِمَّنْ كَانَ تَمَزَّقَ مِنْ قَبَائِلِ سَبَأٍ حِينَ أَرْسَلَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ سَيْلَ الْعَرِمِ.
كَمَا سَيَأْتِي بَيَانُهُ.
وَكَانَتِ الْأَوْسُ وَالْخَزْرَجُ مِنْهُمْ، وَقَدْ قَالَ لَهُمْ عليه الصلاة والسلام: " ارْمُوا بَنِي إِسْمَاعِيلَ " فَدَلَّ عَلَى أَنَّهُمْ مِنْ سُلَالَتِهِ.
وَتَأَوَّلَهُ آخَرُونَ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِذَلِكَ جِنْسُ الْعَرَبِ، لَكِنَّهُ تَأْوِيلٌ بِعِيدٌ إِذْ هُوَ خِلَافُ الظَّاهِرِ بِلَا دَلِيلٍ.
لَكِنَّ الْجُمْهُورَ عَلَى أَنَّ الْعَرَبَ الْقَحْطَانِيَّةَ مِنْ عَرَبِ الْيَمَنِ وَغَيْرِهِمْ لَيْسُوا مِنْ
سُلَالَةِ إِسْمَاعِيلَ.
وَعِنْدَهُمْ أَنَّ جَمِيعَ الْعَرَبِ يَنْقَسِمُونَ إِلَى قِسْمَيْنِ: قَحْطَانِيَّةٍ وَعَدْنَانِيَّةٍ.
فَالْقَحْطَانِيَّةُ شَعْبَانِ: سَبَأٌ وَحَضْرَمَوْتُ.
وَالْعَدْنَانِيَّةُ شَعْبَانِ أَيْضًا: رَبِيعَةُ وَمُضَرُ، ابْنًا نِزَارِ بْنِ مَعَدِّ بْنِ عَدْنَانَ، وَالشَّعْبُ الْخَامِسُ وَهُمْ قُضَاعَةُ مُخْتَلَفٌ فِيهِمْ، فَقِيلَ إِنَّهُمْ عَدْنَانِيُّونَ قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: وَعَلَيْهِ الْأَكْثَرُونَ.
وَيُرْوَى هَذَا عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَجُبَيْرِ بْنِ مَطْعِمٍ، وَهُوَ اخْتِيَارُ الزُّبَيْرِ بْنِ بَكَّارٍ وَعَمِّهِ مُصْعَبِ الزُّبَيْرِيِّ وَابْنِ هِشَامٍ.
وَقَدْ وَرَدَ فِي حَدِيثِ: " قُضَاعَةَ بن معد " وَلكنه لَا يَصِحُّ.
قَالَهُ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ وَغَيْرُهُ.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের একদল লোকের নিকট আসলেন যারা তলোয়ার নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। তিনি বললেন: "হে বনী ইসমাইল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, আর আমি অমুক পক্ষের সাথে আছি।" এতে দুই দলের একটি দল বিরত থাকল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাদের কী হলো?" তারা বলল: "আমরা কীভাবে নিক্ষেপ করব যখন আপনি অমুক পক্ষের সাথে আছেন?" তিনি বললেন: "তোমরা নিক্ষেপ করো, আমি তোমাদের সবার সাথেই আছি।"
ইমাম বুখারী এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।
এর কোনো কোনো পাঠে রয়েছে: "হে বনী ইসমাইল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, কেননা তোমাদের পিতা একজন দক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন। তোমরা নিক্ষেপ করো, আর আমি ইবনে আদরা-এর সাথে আছি।" তখন তারা বিরত থাকল। তিনি বললেন: "তোমরা নিক্ষেপ করো, আমি তোমাদের সবার সাথেই আছি।"
ইমাম বুখারী বলেন: আসলাম ইবনে আফসা ইবনে হারিসা ইবনে আমর ইবনে আমির খুযাআ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।
অর্থাৎ: খুযাআ হলো সাবা গোত্রসমূহের সেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অংশ, যাদের ওপর আল্লাহ তাআলা আরিম বাঁধের প্লাবন পাঠিয়েছিলেন (তখন তারা পৃথক হয়ে গিয়েছিল)।
যেমনটি অচিরেই বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
আউস ও খাযরাজ তাদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশ্যেই বলেছিলেন: "হে বনী ইসমাইল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো।" এটি প্রমাণ করে যে তারা তাঁরই বংশধর।
অন্যরা এর এই ব্যাখ্যা করেছেন যে, এর দ্বারা সামগ্রিকভাবে আরব জাতিকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু এটি একটি দূরবর্তী ব্যাখ্যা; কেননা দলিল ছাড়া এটি প্রকাশ্য অর্থের পরিপন্থী।
তবে জমহুর ওলামাদের মতে, ইয়েমেন ও অন্যান্য অঞ্চলের কাহতানি আরবরা ইসমাইল আলাইহিস সালামের
বংশধর নয়।
তাদের নিকট সমস্ত আরব জাতি দুই ভাগে বিভক্ত: কাহতানি ও আদনানি।
কাহতানিরা দুটি বড় শাখা: সাবা ও হাদরামাউত।
আদনানিরাও দুটি বড় শাখা: রাবিয়াহ ও মুদার—যারা নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনানের দুই পুত্র। পঞ্চম শাখাটি হলো কুযাআহ, যাদের নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে যে তারা আদনানি। ইবনে আব্দুল বার বলেন: অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ এই মত পোষণ করেন।
এটি ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর ও জুবায়ের ইবনে মুতইম থেকে বর্ণিত হয়েছে। এটি যুবায়ের ইবনে বাক্কার, তাঁর চাচা মুসআব আয-যুবাইরী এবং ইবনে হিশামের মনোনীত মত।
একটি হাদিসে এসেছে: "কুযাআহ ইবনে মা'আদ," কিন্তু তা সহীহ নয়।
ইবনে আব্দুল বার এবং অন্যান্যরা এ কথা বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَيُقَالَ: إِنَّهُمْ لَمْ (1) يَزَالُوا فِي جَاهِلِيَّتِهِمْ وَصَدْرٍ مِنَ الْإِسْلَامِ يَنْتَسِبُونَ إِلَى عَدْنَانَ، فَلَمَّا كَانَ فِي زَمَنِ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ، وكانو أَخْوَالَهُ، انْتَسَبُوا إِلَى قَحْطَانَ، فَقَالَ فِي ذَلِكَ أَعْشَى بْنُ ثَعْلَبَةَ فِي قَصِيدَةٍ لَهُ: أَبْلِغْ قُضَاعَةَ فِي الْقِرْطَاسِ أَنَّهُمُ * لَوْلَا خَلَائِفُ آلِ الله مَا عنقوا قَالَتْ قُضَاعَةُ إِنَّا مِنْ ذَوِي يُمْنٍ * وَاللَّهُ يعلم مَا بروا وَلَا (2) صَدَقُوا قَدِ ادَّعَوْا وَالِدًا مَا نَالَ أُمَّهُمُ * قَدْ يَعْلَمُونَ وَلَكِنْ ذَلِكَ الْفَرَقُ وَقَدْ ذَكَرَ أَبُو عَمْرٍو السُّهَيْلِيُّ أَيْضًا مِنْ شِعْرِ الْعَرَبِ مَا فِيهِ إبداع فِي تعيير (3) قضاعة فِي فِي انْتِسَابِهِمْ إِلَى الْيَمَنِ.
وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَالْقَوْلُ الثَّانِي أَنَّهُمْ مِنْ قَحْطَانَ، وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ إِسْحَاقَ وَالْكَلْبِيِّ وَطَائِفَةٍ مِنْ أَهْلِ النَّسَبِ.
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: وَهُوَ قُضَاعَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ حِمْيَرَ بْنِ سَبَأِ بْنِ يَشْجُبَ بْنِ يَعْرُبَ بْنِ قَحْطَانَ.
وَقَدْ قَالَ بَعْضُ شُعَرَائِهِمْ وَهُوَ عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ، صَحَابِيٌّ لَهُ حَدِيثَانِ: - يَا أَيُّهَا الدَّاعِي ادْعُنَا وَأَبْشِرْ * وَكُنْ قُضَاعِيًّا وَلَا تُنْزِرْ
- نَحْنُ بَنُو الشَّيْخِ الْهِجَانِ الْأَزْهَرِ (4) * قُضَاعَةَ بْنِ مَالِكِ بْنِ حِمْيَرِ النَّسَبُ الْمَعْرُوفُ غَيْرُ الْمُنْكَرِ * فِي الْحَجَرِ الْمَنْقُوشِ تَحْتَ الْمِنْبَرِ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ النَّسَبِ: هُوَ قُضَاعَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ حِمْيَرَ.
وَقَالَ ابْنُ لَهِيعَةَ: عَنْ مَعْرُوفِ بْنِ سُوَيْد، عَن أَبى عشابة (5) مُحَمَّد بن مُوسَى، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَا نَحْنُ مِنْ مَعَدٍّ؟ قَالَ لَا.
قلت: فَمن نَحن؟ قَالَ: أَنْتُم من قضاعة بن مَالك بن حمير.
--------------------------------------------
আরও বলা হয়ে থাকে যে, তারা তাদের জাহিলী যুগে এবং ইসলামের প্রারম্ভিক সময়ে আদনানের বংশোদ্ভূত হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিত। অতঃপর যখন খালিদ বিন ইয়াজিদ বিন মুআবিয়ার সময়কাল এল—আর তারা ছিল তার মাতুল পক্ষ—তখন তারা কাহতান বংশের দিকে নিজেদের সম্পর্কিত করল। এই বিষয়ে আশা ইবনে ছালাবা তার একটি কবিতায় বলেছেন:
কাগজের পাতায় কুযাআহ গোত্রকে সংবাদ পৌঁছে দাও যে, যদি আল্লাহর পরিজনের খলিফাগণ না হতেন, তবে তারা ঘাড় উঁচু করত না। কুযাআহ দাবি করল যে আমরা ইয়ামানের অধিবাসী, অথচ আল্লাহ জানেন যে তারা পুণ্য করেনি এবং সত্যও বলেনি। তারা এমন এক পিতাকে (পূর্বপুরুষকে) নিজেদের বংশধর বলে দাবি করেছে যে তাদের মায়ের সান্নিধ্যও পায়নি। তারা হয়তো জানে, কিন্তু বিষয়টি হলো (বংশগত) বিচ্ছেদ।
আবু আমর আস-সুহাইলিও আরবদের এমন কিছু কবিতা উল্লেখ করেছেন যাতে কুযাআহ গোত্রকে ইয়ামানের বংশোদ্ভূত হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কারণে চমৎকারভাবে তিরস্কার করা হয়েছে।
আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
দ্বিতীয় মতটি হলো, তারা কাহতান বংশের; এটি ইবনে ইসহাক, কালবী এবং বংশতত্ত্ববিদদের একটি দলের অভিমত।
ইবনে ইসহাক বলেন: তিনি হলেন কুযাআহ বিন মালিক বিন হিময়ার বিন সাবা বিন ইয়াশজুব বিন ইয়ারুব বিন কাহতান।
তাদের মধ্য থেকে জনৈক কবি আমর বিন মুররাহ—যিনি একজন সাহাবী এবং যার থেকে দুটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে—বলেছেন:
হে আহ্বানকারী! আমাদের ডাকুন এবং আনন্দিত হোন; কুযাআহপন্থী হোন এবং নুযারপন্থী হবেন না।
আমরা সেই শুভ্র ও উজ্জ্বল বর্ণের সম্ভ্রান্ত শায়খের সন্তান, যিনি হলেন কুযাআহ বিন মালিক বিন হিময়ার। এই বংশপরিচয় সুপরিচিত এবং অনস্বীকার্য; যা মিম্বরের নিচে খোদাইকৃত পাথরে খচিত আছে। কোনো কোনো বংশতত্ত্ববিদ বলেন: তিনি হলেন কুযাআহ বিন মালিক বিন আমর বিন মুররাহ বিন যায়িদ বিন হিময়ার।
ইবনে লাহিয়া বর্ণনা করেন মা’রূফ বিন সুওয়াইদ থেকে, তিনি আবু উশাবাহ মুহাম্মদ বিন মুসা থেকে এবং তিনি উকবাহ বিন আমির থেকে বর্ণনা করেন, উকবাহ বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি মা’আদ গোত্রভুক্ত নই? তিনি বললেন, না।
আমি বললাম: তবে আমরা কার অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: তোমরা কুযাআহ বিন মালিক বিন হিময়ারের বংশধর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
قَالَ أَبُو عمر بن عَبْدِ الْبَرِّ: وَلَا يَخْتَلِفُونَ أَنَّ جُهَيْنَةَ بْنَ زيد بن أسود بْنِ أَسْلَمَ بْنِ عِمْرَانَ بْنِ الْحَافَ بْنِ قُضَاعَةَ قَبِيلَةُ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، فَعَلَى هَذَا قُضَاعَةُ فِي الْيَمَنِ فِي حِمْيَرَ بْنِ سَبَأٍ.
وَقَدْ جَمَعَ بَعْضُهُمْ بَيْنَ هَذَيْنَ الْقَوْلَيْنِ بِمَا ذَكَرَهُ الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ وَغَيْرُهُ مِنْ أَنَّ قُضَاعَةَ امْرَأَةٌ مِنْ جُرْهُمٍ تَزَوَّجَهَا مَالِكُ بْنُ حِمْيَرَ فَوَلَدَتْ لَهُ قُضَاعَةَ، ثُمَّ خَلَّفَ عَلَيْهَا مَعَدُّ بْنُ عَدْنَانَ، وَابْنُهَا صَغِيرٌ، وَزَعَمَ بَعْضُهُمْ أَنَّهُ كَانَ حَمْلًا فَنُسِبَ إِلَى زَوْجِ أُمِّهِ، كَمَا كَانَتْ عَادَةُ كَثِيرٍ مِنْهُمْ يَنْسُبُونَ الرَّجُلَ إِلَى زَوْجِ أُمِّهِ (1) وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامٍ الْبَصْرِيُّ النَّسَّابَةُ: الْعَرَبُ ثَلَاثَةُ جَرَاثِيمَ: الْعَدْنَانِيَّةُ وَالْقَحْطَانِيَّةُ وَقُضَاعَةُ.
قِيلَ لَهُ: فَأَيُّهُمَا أَكْثَرُ الْعَدْنَانِيَّةُ أَوِ الْقَحْطَانِيَّةُ؟ فَقَالَ: مَا شَاءَتْ قضاعة، إِن تيامنت فالقحطانية أَكثر وَإِن تعدننت فالعدنانية أَكثر.
وَهَذَا يدل على أَنهم يتلونون فِي نَسَبِهِمْ، فَإِنْ صَحَّ حَدِيثُ ابْنِ لَهِيعَةَ الْمُتَقَدّم فَهُوَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُمْ مِنَ الْقَحْطَانِيَّةِ وَاللَّهُ أعلم.
وَقد قَالَ الله تَعَالَى (يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ
ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُم (2) .
قَالَ عُلَمَاءُ النَّسَبِ: يُقَالَ شُعُوبٌ، ثُمَّ قَبَائِلُ، ثُمَّ عَمَائِرُ، ثُمَّ بُطُونٌ، ثُمَّ أَفْخَاذٌ، ثُمَّ فَصَائِلُ، ثُمَّ عَشَائِرُ، وَالْعَشِيرَةُ أَقْرَبُ النَّاسِ إِلَى الرجل وَلَيْسَ بعْدهَا شئ.
وَلْنَبْدَأْ أَوَّلًا بِذِكْرِ الْقَحْطَانِيَّةِ، ثُمَّ نَذْكُرُ بَعْدَهُمْ عَرَبَ الْحِجَازِ وَهُمُ الْعَدْنَانِيَّةُ وَمَا كَانَ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ، لِيَكُونَ ذَلِكَ مُتَّصِلًا بِسِيرَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنْ شَاءَ الله تَعَالَى وَبِه الثِّقَة.
--------------------------------------------
আবু ওমর বিন আব্দুল বার বলেছেন: এতে কোনো মতভেদ নেই যে, জুহাইনাহ বিন যাইদ বিন আসওয়াদ বিন আসলাম বিন ইমরান বিন হাফ বিন কুদাআহ হলো উকবাহ বিন আমির আল-জুহানির গোত্র। এই ভিত্তিতে কুদাআহ ইয়েমেনের হিমইয়ার বিন সাবার অন্তর্ভুক্ত।
জুবাইর বিন বাক্কার এবং অন্যান্যদের বর্ণিত তথ্যানুযায়ী কেউ কেউ এই দুই মতের মধ্যে এভাবে সমন্বয় করেছেন যে, কুদাআহ ছিল জুরহুম গোত্রের একজন নারী যাকে মালিক বিন হিমইয়ার বিয়ে করেছিলেন এবং তার গর্ভে কুদাআহ জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর মাআদ বিন আদনান তাকে বিয়ে করেন, তখন তার পুত্র শিশু ছিল। কেউ কেউ দাবি করেন যে তখন সে গর্ভস্থ ছিল, ফলে তাকে তার মায়ের স্বামীর বংশের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। যেমনটি অনেকের মাঝেই প্রথা ছিল যে, তারা ব্যক্তিকে তার মায়ের স্বামীর বংশের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করত (১), আল্লাহই ভালো জানেন।
বংশবিদ মুহাম্মদ বিন সালাম আল-বাসরি বলেছেন: আরবরা তিনটি প্রধান মূলে বিভক্ত: আদনানি, কাহতানি এবং কুদাআহ।
তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আদনানি এবং কাহতানিদের মধ্যে কাদের সংখ্যা বেশি? তিনি বললেন: কুদাআহ যা চায়; তারা যদি কাহতানিদের সাথে যোগ দেয় তবে কাহতানিরা সংখ্যায় বেশি হবে, আর যদি তারা আদনানিদের সাথে যোগ দেয় তবে আদনানিরাই সংখ্যায় বেশি হবে।
এটি নির্দেশ করে যে তারা তাদের বংশ পরিচয়ে পরিবর্তনশীল ছিল। ইবনে লাহীয়ার পূর্বোক্ত হাদিসটি যদি সহিহ হয়, তবে সেটি তারা কাহতানি বংশোদ্ভূত হওয়ার প্রমাণ। আল্লাহই ভালো জানেন।
মহান আল্লাহ বলেছেন: (হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকি (২))।
বংশবিদগণ বলেছেন: স্তরগুলো হলো— শুঊব (বৃহৎ জাতি), তারপর কাবিলাহ (গোত্র), তারপর আমায়ির, তারপর বুতুন, তারপর আফখায, তারপর ফাসায়িল, তারপর আশা’য়ির। আশা’য়ির হলো একজন ব্যক্তির নিকটতম আত্মীয়স্বজন এবং এর পরে আর কোনো স্তর নেই।
আমরা প্রথমে কাহতানিদের বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করব, এরপর হিজাজের আরব তথা আদনানিদের কথা এবং জাহেলি যুগের ঘটনাবলি উল্লেখ করব, যাতে করে তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাতের সাথে সংযুক্ত হতে পারে, ইনশাআল্লাহ। আর ভরসা কেবল তাঁরই ওপর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وَقَدْ قَالَ الْبُخَارِيُّ (بَابُ ذِكْرِ قَحْطَانَ) حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ ابْن بِلَالٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ رَجُلٌ مِنْ قَحْطَانَ يَسُوقُ النَّاسَ بِعَصَاهُ " (1) وَكَذَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ، عَنْ قُتَيْبَةَ عَنِ الدَّرَاوَرْدِيِّ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ بِهِ.
قَالَ السُّهَيْلِيُّ: وَقَحْطَانُ أَوَّلُ مَنْ قِيلَ لَهُ " أَبَيْتَ اللَّعْنَ " وَأَوَّلُ مَنْ قِيلَ لَهُ " أَنْعِمْ صَبَاحًا ".
وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، عَنْ جرير حَدَّثَنِي رَاشِدُ بْنُ سَعْدٍ الْمَقْرَائِيُّ عَنْ أَبِي حَيٍّ، عَن ذى فجر أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كَانَ هَذَا الْأَمْرُ فِي حِمْيَرَ فَنَزْعَهُ اللَّهُ مِنْهُمْ فَجَعَلَهُ فِي قُرَيْشٍ (وَسَ يَ ع ود إِ ل ي هـ م) قَالَ عبد الله: كَانَ هَذَا فِي كتاب أَبى وَحَيْثُ حَدَّثَنَا بِهِ تَكَلَّمَ بِهِ عَلَى الِاسْتِوَاءِ، يعْنى: " وَسَيَعُودُ إِلَيْهِم ".
--------------------------------------------
ইমাম বুখারি বলেছেন (কাহতান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ), আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবনে বিলাল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাওরি ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি আবুল গাইস থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না কাহতান গোত্র থেকে এমন এক ব্যক্তি আবির্ভূত হয় যে মানুষকে তার লাঠি দ্বারা পরিচালিত করবে।" (১) এবং অনুরূপভাবে মুসলিম এটি কুতাইবা থেকে, তিনি দারাওয়ার্দি থেকে, তিনি সাওরি ইবনে যায়েদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
সুহাইলি বলেন: কাহতান হলেন প্রথম ব্যক্তি যাঁকে "আপনি অভিশাপমুক্ত থাকুন" বলা হয়েছিল এবং প্রথম ব্যক্তি যাঁকে "আপনার সকাল আনন্দময় হোক" বলা হয়েছিল।
এবং ইমাম আহমাদ বলেছেন: আবু আল-মুগিরা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, জারির থেকে, তিনি বলেন রাশিদ ইবনে সাদ আল-মাকরানি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি আবু হাই থেকে, তিনি যু ফাজর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এই বিষয়টি (শাসন ক্ষমতা) হিমইয়ার গোত্রের নিকট ছিল, অতঃপর আল্লাহ তাদের থেকে তা ছিনিয়ে নেন এবং তা কুরাইশদের মধ্যে অর্পণ করেন (এবং এটি পুনরায় তাদের নিকট ফিরে আসবে)।" আব্দুল্লাহ বলেন: এটি আমার পিতার কিতাবে ছিল এবং যখন তিনি আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেন তখন তিনি এটি 'উঠা'র ভঙ্গিতে পাঠ করেন, অর্থাৎ: "এবং এটি পুনরায় তাদের নিকট ফিরে আসবে"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
قِصَّةُ سَبَأٍ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (لَقَدْ كَانَ لسبإ فِي مسكنهم آيَة جنتان عَن يَمِين وَشِمَالٍ كُلُوا مِنْ رِزْقِ رَبِّكُمْ وَاشْكُرُوا لَهُ بَلْدَةٌ طَيِّبَةٌ وَرَبٌّ غَفُورٌ.
فَأَعْرَضُوا فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ سَيْلَ الْعَرِمِ وَبَدَّلْنَاهُمْ بِجَنَّتَيْهِمْ جَنَّتَيْنِ ذَوَاتَيْ أُكُلٍ خمط وأثل وشئ مِنْ سِدْرٍ قَلِيلٍ.
ذَلِكَ جَزَيْنَاهُمْ بِمَا كَفَرُوا وَهَلْ نُجَازِي إِلَّا الْكَفُورَ.
وَجَعَلْنَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْقُرَى الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا قُرًى ظَاهِرَةً وَقَدَّرْنَا فِيهَا السَّيْرَ سِيرُوا فِيهَا لَيَالِيَ وَأَيَّامًا آمِنِينَ.
فَقَالُوا رَبَّنَا بَاعِدْ بَيْنَ أَسْفَارِنَا وَظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ فَجَعَلْنَاهُمْ أَحَادِيثَ وَمَزَّقْنَاهُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ) (1) .
قَالَ عُلَمَاءُ النَّسَبِ مِنْهُمْ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ: اسْمُ سَبَأٍ عَبْدُ شَمْسِ بْنُ يَشْجُبَ بْنِ يعرب ابْن قحطان.
قَالُوا: وَكَانَ أول من سبى من الْعَرَبِ فَسُمِّي سَبَأً لِذَلِكَ.
وَكَانَ يُقَالَ لَهُ الرَّائِشُ، لِأَنَّهُ كَانَ يُعْطِي النَّاسَ الْأَمْوَالَ مِنْ مَتَاعِهِ.
قَالَ السُّهَيْلِيُّ: وَيُقَالَ إِنَّهُ أَوَّلُ مَنْ تَتَوَّجَ.
وَذَكَرَ بَعْضُهُمْ أَنَّهُ كَانَ مُسْلِمًا، وَكَانَ لَهُ شِعْرٌ بَشَّرَ فِيهِ بِوُجُودِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَنْ ذَلِكَ قَوْلُهُ: سَيَمْلِكُ بَعْدَنَا مُلْكًا عَظِيمًا * نَبِيٌّ لَا يُرَخِّصُ فِي الْحَرَامِ وَيَمْلِكُ بَعْدَهُ مِنْهُمْ مُلُوكٌ * يَدِينُونَ الْعِبَادَ بِغَيْرِ ذَامِ وَيَمْلِكُ بَعْدَهُمْ مِنَّا مُلُوكٌ * يَصِيرُ الْمُلْكُ فِينَا بِاقْتِسَامِ وَيَمْلِكُ بَعْدَ قَحْطَانٍ نبى * تقى، مخبت (2) خَيْرُ الْأَنَامِ يُسَمَّى أَحْمَدًا يَا لَيْتَ أَنِّي * أعمر بعد مبعثه بعام
--------------------------------------------
সাবার কাহিনী। মহান আল্লাহ বলেন: (সাবার অধিবাসীদের জন্য তাদের আবাসস্থলে এক নিদর্শন ছিল: ডান ও বামে দুটি উদ্যান। তোমরা তোমাদের রবের রিযিক থেকে আহার করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। এক মনোরম দেশ এবং ক্ষমাশীল রব।
কিন্তু তারা মুখ ফিরিয়ে নিল, ফলে আমি তাদের ওপর বাঁধ ভাঙা প্লাবন পাঠিয়ে দিলাম এবং তাদের উদ্যান দুটিকে পরিবর্তন করে দিলাম এমন দুই উদ্যানে, যাতে উৎপন্ন হয় বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ এবং সামান্য কিছু কুল গাছ।
তাদের অকৃতজ্ঞতার কারণে আমি তাদেরকে এই প্রতিদান দিয়েছিলাম। আমি কি অকৃতজ্ঞ ছাড়া কাউকে এ রূপ শাস্তি দিই?
তাদের এবং ঐসব জনপদের মাঝখানে যেগুলোতে আমি বরকত দিয়েছিলাম, আমি অনেক দৃশ্যমান জনপদ স্থাপন করেছিলাম এবং সেগুলোতে ভ্রমণের সঠিক ব্যবস্থা নির্ধারণ করেছিলাম। তোমরা এসব জনপদে দিনে ও রাতে নিরাপদে ভ্রমণ করো।
অতঃপর তারা বলল, 'হে আমাদের রব! আমাদের সফরের দূরত্ব বাড়িয়ে দিন।' তারা নিজেদের ওপর জুলুম করল। ফলে আমি তাদেরকে কাহিনীর বিষয়ে পরিণত করলাম এবং তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ছিন্নভিন্ন করে দিলাম। নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রয়েছে।) (১)।
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকসহ বংশবিদ্যাবিশারদগণ বলেন: সাবার নাম ছিল আবদু শামস ইবনে ইয়াশজুব ইবনে ইয়ারুব ইবনে কাহতান।
তাঁরা বলেন: তিনি ছিলেন আরবদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যিনি শত্রু বাহিনীকে বন্দি (সাবি) করার প্রথা শুরু করেন, আর একারণেই তাঁর নাম 'সাবা' রাখা হয়।
তাঁকে 'রায়েশ' বলা হতো, কারণ তিনি তাঁর ধন-সম্পদ থেকে মানুষকে দান করতেন।
সুহায়লি বলেন: বলা হয় যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মুকুট পরিধান করেছিলেন।
তাদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে তিনি মুসলিম ছিলেন এবং তাঁর এমন কবিতা ছিল যাতে তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। তাঁর সেই উক্তির অন্তর্ভুক্ত হলো: আমাদের পরে এক মহান রাজত্বের অধিকারী হবেন এক নবী, যিনি হারামের অনুমতি দেবেন না। তাঁর পরে তাদের মধ্য থেকে এমন রাজারা শাসক হবেন, যারা কোনো নিন্দাযোগ্য কাজ ছাড়াই মানুষের ওপর শাসন করবেন। তাদের পরে আমাদের মধ্য থেকে এমন রাজারা শাসক হবেন, যাদের মধ্যে রাজত্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে আবর্তিত হবে। আর কাহতানের পরে আসবেন এক নবী, যিনি মুত্তাকি, বিনয়ী ও সৃষ্টির সেরা। তাঁকে আহমাদ নামে ডাকা হবে; হায়! আমি যদি তাঁর প্রেরিত হওয়ার পর একটি বছরও বেঁচে থাকতাম!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فأعضده وأحبوه بنصري * بِكُل مدجج وَبِكُل رامى مَتَى يَظْهَرْ فَكُونُوا نَاصِرِيهِ * وَمَنْ يَلْقَاهُ يُبْلِغْهُ سَلَامِي حَكَاهُ ابْنُ دِحْيَةَ فِي كِتَابِهِ " التَّنْوِيرِ فِي مَوْلِدِ الْبَشِيرِ النَّذِيرِ ".
وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا عبد الله بن لَهِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ [بْنِ هُبَيْرَةَ السَّبَائِيُّ عَن عبد الرَّحْمَن بن وَعلة قَالَ (1) ] سَمِعت عبد الله بن عَبَّاس يَقُولُ: إِنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ سَبَأٍ مَا هُوَ؟ أَرْجُلٌ أَمِ امْرَأَةٌ أَمْ أَرْضٌ؟ قَالَ: " بَلْ هُوَ رَجُلٌ وَلَدَ عَشَرَةً، فَسَكَنَ الْيَمَنَ مِنْهُمْ سِتَّةٌ، وَبِالشَّامِ مِنْهُمْ أَرْبَعَةٌ.
فَأَمَّا الْيَمَانِيُّونَ فَمَذْحِجٌ وَكِنْدَةُ والازد والاشعريون وأنمار وحمير [عربا كلهَا (2) ] وَأَمَّا الشَّامِيَّةُ فَلَخْمٌ وَجُذَامٌ وَعَامِلَةُ وَغَسَّانُ (3) ".
وَقَدْ ذَكَرْنَا فِي التَّفْسِيرِ أَنَّ فَرْوَةَ بْنَ مُسَيْكٍ الْغُطَيْفِيَّ هُوَ السَّائِلُ عَنْ ذَلِكَ، كَمَا اسْتَقْصَيْنَا طرق هَذَا الحَدِيث وَأَلْفَاظه هُنَاكَ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ سَبَأً يَجْمَعُ هَذِهِ الْقَبَائِلَ كُلَّهَا، وَقَدْ كَانَ فِيهِمُ التَّبَابِعَةُ بِأَرْضِ الْيَمَنِ وَاحِدُهُمْ تُبَّعٌ، وَكَانَ لِمُلُوكِهِمْ تِيجَانٌ يَلْبَسُونَهَا وَقْتَ الْحُكْمِ، كَمَا كَانَتِ الْأَكَاسِرَةُ مُلُوكُ الْفُرْسِ يَفْعَلُونَ ذَلِكَ، وَكَانَتِ الْعَرَبُ تُسَمِّي كُلَّ مَنْ مَلَكَ الْيَمَنَ مَعَ الشِّحْرِ وَحَضْرَمَوْتَ تُبَّعًا، كَمَا يُسَمُّونَ مَنْ مَلَكَ الشَّامَ مَعَ الْجَزِيرَةِ قَيْصَرَ، وَمَنْ مَلَكَ الْفُرْسَ كِسْرَى، وَمَنْ مَلَكَ مِصْرَ فِرْعَوْنَ، وَمَنْ مَلَكَ الْحَبَشَةَ النَّجَاشِيَّ، وَمَنْ مَلَكَ الْهِنْدَ بَطْلَيْمُوسَ، وَقَدْ كَانَ مِنْ جُمْلَةِ مُلُوك حمير بِأَرْض الْيمن بلقيس.
وَقَدْ كَانُوا فِي غِبْطَةٍ عَظِيمَةٍ وَأَرْزَاقٍ دَارَّةٍ وَثِمَارٍ وَزُرُوعٍ كَثِيرَةٍ، وَكَانُوا مَعَ ذَلِكَ عَلَى الِاسْتِقَامَةِ وَالسَّدَادِ وَطَرِيقِ الرَّشَادِ، فَلَمَّا بَدَّلُوا نِعْمَةَ الله كفرا أحلُّوا قَومهمْ دَار الْبَوَار.
--------------------------------------------
সুতরাং আমি তাকে শক্তিশালী করব এবং আমার সাহায্যের মাধ্যমে তাকে সম্মানিত করব, সকল অস্ত্রধারী এবং সকল তীরন্দাজের দ্বারা। যখন সে আবির্ভূত হবে, তোমরা তার সাহায্যকারী হইও; আর যে তার সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে যেন তাকে আমার সালাম পৌঁছে দেয়। ইবনে দিহ্ইয়াহ তার "আত-তানউইর ফি মাওলিদিল বাশিরিন নাযির" কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমাদ বলেন: আমাদের কাছে আবু আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে হুবাইরাহ আস-সাবায়ি থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ওয়ালাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সাবা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল যে, তা কী? তা কি কোনো পুরুষ, নাকি কোনো নারী, নাকি কোনো ভূখণ্ড? তিনি বললেন: "বরং সে একজন পুরুষ, যার দশটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল। তাদের মধ্যে ছয়জন ইয়ামেনে বসবাস শুরু করে এবং চারজন শামে।
ইয়ামেনবাসীরা হলো: মাযহিজ, কিনদাহ, আযদ, আশআরী, আনমার এবং হিমইয়ার (তারা সবাই আরব)। আর শামবাসীরা হলো: লাখম, জুযাম, আমিলাহ এবং গাসসান।"
আমরা তাফসীরে উল্লেখ করেছি যে, ফারওয়াহ ইবনে মুসাইক আল-গুুতাইফি ছিলেন এই প্রশ্নকারী। যেভাবে আমরা সেখানে এই হাদীসের সূত্রসমূহ এবং শব্দসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করেছি, আর সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।
উদ্দেশ্য হলো যে, সাবা এই সকল গোত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। ইয়ামেন ভূখণ্ডে তাদের মধ্যে 'তাবাবিআহ' (তুব্বা বংশীয় রাজা) ছিল, তাদের একজনকে তুব্বা বলা হতো। পারস্যের কিসরা রাজাদের মতো তাদের রাজাদেরও মুকুট ছিল যা তারা শাসনের সময় পরিধান করত। আর আরবরা ইয়ামেন, শিহর এবং হাজরামাউতের অধিকারী প্রত্যেক রাজাকে 'তুব্বা' বলত; যেভাবে তারা শাম ও জাযিরার অধিপতিকে 'কায়সার', পারস্যের অধিপতিকে 'কিসরা', মিসরের অধিপতিকে 'ফিরআউন', আবিসিনিয়ার অধিপতিকে 'নাজাশী' এবং ভারতের অধিপতিকে 'বাতলাইমুস' (টলেমি) বলত। আর ইয়ামেন ভূখণ্ডের হিমইয়ার রাজাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বিলকিস।
তারা অত্যন্ত সুখে এবং অঢেল রিযিক, ফলমূল ও প্রচুর শস্যের মধ্যে ছিল। এর পাশাপাশি তারা সরল পথ ও সঠিক নির্দেশনার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু যখন তারা আল্লাহর নেয়ামতকে কুফরির মাধ্যমে পরিবর্তন করল, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে ধ্বংসের আলয়ে নামিয়ে আনল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ: أَرْسَلَ اللَّهُ إِلَيْهِمْ ثَلَاثَةَ عَشَرَ نَبِيًّا.
وَزَعَمَ السُّدِّيُّ أَنَّهُ أَرْسَلَ إِلَيْهِمُ اثْنَيْ عَشَرَ ألف نبى! فَالله أعلم.
وَالْمَقْصُود أَنهم عَدَلُوا عَنِ الْهُدَى إِلَى الضَّلَالِ وَسَجَدُوا لِلشَّمْسِ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَكَانَ ذَلِكَ فِي زَمَانِ بِلْقِيسَ وَقَبْلَهَا أَيْضًا، وَاسْتَمَرَّ ذَلِكَ فِيهِمْ حَتَّى أَرْسَلَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ سَيْلَ الْعَرِمِ كَمَا قَالَ تَعَالَى (فَأَعْرَضُوا فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ سَيْلَ الْعَرِمِ وَبَدَّلْنَاهُمْ بجنتيهم جنتين ذواتي أكل خمط وأثل وشئ مِنْ سِدْرٍ قَلِيلٍ.
ذَلِكَ جَزَيْنَاهُمْ بِمَا كَفَرُوا وَهل نجازى إِلَّا الكفور) .
ذَكَرَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ عُلَمَاءِ السَّلَفِ وَالْخَلَفِ مِنَ الْمُفَسِّرِينَ وَغَيْرِهِمْ أَنَّ سَدَّ مَأْرِبَ كَانَ صَنْعَتَهُ أَنَّ الْمِيَاهَ تَجْرِي مِنْ بَيْنِ جَبَلَيْنِ، فَعَمَدُوا فِي قَدِيمِ الزَّمَانِ فَسَدُّوا مَا بَيْنَهُمَا بِبَنَاءٍ مُحْكَمٍ جِدًّا، حَتَّى ارْتَفَعَ الْمَاءُ فَحَكَمَ عَلَى أَعَالِي الْجَبَلَيْنِ، وَغَرَسُوا فِيهِمَا الْبَسَاتِينَ وَالْأَشْجَارَ الْمُثْمِرَةَ الْأَنِيقَةَ، وَزَرَعُوا الزُّرُوعَ الْكَثِيرَةَ، وَيُقَالَ كَانَ أَوَّلُ مَنْ بَنَاهُ سَبَأَ بْنَ يَعْرُبَ وَسَلَّطَ إِلَيْهِ سَبْعِينَ وَادِيًا يَفِدُ إِلَيْهِ وَجَعَلَ لَهُ ثَلَاثِينَ فُرْضَةً يَخْرُجُ مِنْهَا الْمَاءُ، وَمَاتَ وَلَمْ يَكْمُلْ بِنَاؤُهُ، فَكَمَّلَتْهُ حِمْيَرُ بَعْدَهُ، وَكَانَ اتِّسَاعُهُ فرسخا فِي فَرسَخ، وَكَانُوا فِي غِبْطَةٍ عَظِيمَةٍ وَعَيْشٍ رَغِيدٍ وَأَيَّامٍ طَيِّبَةٍ، حَتَّى ذَكَرَ قَتَادَةُ وَغَيْرُهُ أَنَّ الْمَرْأَةَ كَانَتْ تَمُرُّ بِالْمِكْتَلِ عَلَى رَأْسِهَا فَيَمْتَلِئُ مِنَ الثِّمَارِ مِمَّا يَتَسَاقَطُ فِيهِ مِنْ نُضْجِهِ وَكَثْرَتِهِ، وَذَكَرُوا أَنَّهُ لم يكن فِي بِلَادهمْ شئ مِنَ الْبَرَاغِيثِ وَلَا الدَّوَابِّ الْمُؤْذِيَةِ، لِصِحَّةِ هَوَائِهِمْ وَطِيبِ فِنَائِهِمْ كَمَا قَالَ تَعَالَى (لَقَدْ كَانَ لسبإ فِي مسكنهم آيَة جنتان عَن يَمِين وَشِمَالٍ كُلُوا مِنْ رِزْقِ رَبِّكُمْ، وَاشْكُرُوا لَهُ بَلْدَة طيبَة وَرب غَفُور) وَكَمَا قَالَ تَعَالَى: (وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ) .
فَلَمَّا عَبَدُوا غَيْرَ اللَّهِ وَبَطَرُوا نِعْمَتَهُ، وَسَأَلُوا بَعْدَ تَقَارُبِ مَا بَيْنَ قُرَاهُمْ وَطِيبِ مَا بَيْنَهَا مِنَ الْبَسَاتِينِ وَأَمْنِ الطُّرُقَاتِ، سَأَلُوا أَنْ يُبَاعَدَ بَيْنَ أَسْفَارِهِمْ وَأَنْ يَكُونَ سَفَرُهُمْ فِي مشاق
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহ তাদের নিকট তেরোজন নবী প্রেরণ করেছিলেন।
সুদ্দী দাবি করেছেন যে, তিনি তাদের নিকট বারো হাজার নবী প্রেরণ করেছিলেন! তবে আল্লাহই ভালো জানেন।
সারকথা এই যে, তারা হেদায়েত বিসর্জন দিয়ে গোমরাহির পথে পা বাড়িয়েছিল এবং আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সিজদা করতে শুরু করেছিল। এটি ছিল বিলকিসের সময়কালে এবং তার আগেও। তাদের এই অবস্থা চলতে থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের ওপর 'সায়লুল আরিম' (বাঁধ ভাঙা বন্যা) প্রেরণ করেন, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: (অতঃপর তারা বিমুখ হলো, ফলে আমি তাদের ওপর সায়লুল আরিম প্রেরণ করলাম এবং তাদের বাগান দুটিকে এমন দুটি বাগানে পরিবর্তন করে দিলাম যাতে ছিল বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ এবং সামান্য কিছু কুল গাছ।
এটি তাদের কুফরির কারণে আমি তাদের প্রতিদান হিসেবে দিয়েছি; আর আমি অকৃতজ্ঞ ব্যতীত কাউকে এমন শাস্তি দিই না)।
সালাফ ও খালাফ যুগের মুফাসসিরগণ এবং অন্যান্য আলেমদের অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে, মারিব বাঁধের নির্মাণশৈলী ছিল এমন যে, সেখানে দুটি পাহাড়ের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। সুপ্রাচীন কালে তারা পাহাড় দুটির মধ্যবর্তী স্থানটি অত্যন্ত মজবুতভাবে প্রাচীর দিয়ে আটকে দিয়েছিল, যার ফলে পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে তা পাহাড় দুটির উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। তারা সেখানে সুশোভিত ফলদ বৃক্ষ ও বাগান রোপণ করেছিল এবং প্রচুর ফসল উৎপাদন করত। বর্ণিত আছে যে, এটি সর্বপ্রথম সাবা ইবনে ইয়ারুব নির্মাণ শুরু করেছিলেন এবং তিনি সত্তরটি উপত্যকার পানি এর দিকে প্রবাহিত করেছিলেন। তিনি এর থেকে পানি বের হওয়ার জন্য ত্রিশটি মুখ বা নালা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু এটি সম্পন্ন করার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং পরবর্তীকালে হিমইয়ার সম্প্রদায় তা পূর্ণাঙ্গ করে। এর বিস্তৃতি ছিল এক ফরসাখ বাই এক ফরসাখ। তারা অত্যন্ত সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের মধ্যে বিলাসী জীবন অতিবাহিত করছিল। এমনকি কাতাদা ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, কোনো নারী যখন তার মাথায় ঝুড়ি নিয়ে পথ চলতেন, তখন গাছের ফলের আধিক্য ও পরিপক্বতার কারণে তা আপনাআপনি ঝরে পড়ে ঝুড়িটি ভরে যেত। তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাদের দেশের নির্মল আবহাওয়া ও পবিত্র পরিবেশের কারণে সেখানে কোনো মশা-মাছি বা কোনো ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ ছিল না। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (অবশ্যই সাবার অধিবাসীদের জন্য তাদের বাসভূমিতে এক নিদর্শন ছিল; ডানে ও বামে দুটি উদ্যান। তোমরা তোমাদের রবের দেওয়া রিযিক ভোগ করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। এক পবিত্র জনপদ এবং এক ক্ষমাশীল রব।) এবং যেমনটি মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: (আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা করলেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।) .
কিন্তু যখন তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উপাসনা শুরু করল এবং আল্লাহর নেয়ামতের অবমাননা করল, আর তাদের জনপদগুলোর নৈকট্য, তাদের মধ্যবর্তী চমৎকার উদ্যানরাজী এবং পথের নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রার্থনা করল যেন তাদের সফরের দূরত্ব বৃদ্ধি করা হয় এবং তাদের সফর যেন ক্লেশদায়ক হয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَتَعَبٍ، وَطَلَبُوا أَنْ يُبَدَّلُوا بِالْخَيْرِ شَرًّا، كَمَا سَأَلَ بَنُو إِسْرَائِيلَ بَدَلَ الْمَنِّ وَالسَّلْوَى الْبُقُولَ وَالْقِثَّاءَ وَالْفُومَ وَالْعَدَسَ وَالْبَصَلَ، فَسُلِبُوا تِلْكَ النِّعْمَةَ الْعَظِيمَةَ وَالْحَسَنَةَ الْعَمِيمَةَ بِتَخْرِيبِ الْبِلَادِ وَالشَّتَاتِ عَلَى وُجُوهِ الْعِبَادِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى (فَأَعْرَضُوا فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِم سيل العرم) .
قَالَ غَيْرُ وَاحِدٍ: أَرْسَلَ اللَّهُ عَلَى أَصْلِ السد الفأر وَهُوَ الجرذ وَيُقَال لَهُ الْخُلْدُ، فَلَمَّا فَطِنُوا لِذَلِكَ أَرْصَدُوا عِنْدَهَا السَّنَانِيرَ فَلَمْ تُغْنِ شَيْئًا، إِذْ قَدْ حُمَّ الْقَدَرُ وَلَمْ يَنْفَعِ الْحَذَرُ كَلَّا لَا وَزَرَ، فَلَمَّا تَحَكَّمَ فِي أَصْلِهِ الْفَسَادُ سَقَطَ وَانْهَارَ، فَسَلَكَ الْمَاءُ الْقَرَارَ، فَقُطِعَتْ تِلْكَ الْجَدَاوِلُ وَالْأَنْهَارُ وَانْقَطَعَتْ تِلْكَ الثِّمَارُ، وَبَادَتْ تِلْكَ الزُّرُوعُ وَالْأَشْجَارُ، وَتَبَدَّلُوا بعْدهَا بردئ الْأَشْجَارِ وَالْأَثْمَارِ، كَمَا قَالَ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ " وَبَدَّلْنَاهُمْ بجنتيهم جنتين ذواتي أكل خمط وأثل " قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَمُجَاهِدٌ وَغَيْرُ وَاحِدٍ: هُوَ الْأَرَاكُ وَثَمَرُهُ الْبَرِيرُ، وَأَثْلٍ وَهُوَ الطَّرْفَاءُ.
وَقِيلَ يُشبههُ، وَهُوَ حطب لَا ثَمَر لَهُ " وشئ من سدر قَلِيل " وَذَلِكَ لِأَنَّهُ لَمَّا كَانَ يُثْمِرُ النَّبْقُ كَانَ قَلِيلًا مَعَ أَنَّهُ ذُو شَوْكٍ كَثِيرٍ وَثَمَرُهُ بِالنِّسْبَةِ إِلَيْهِ، كَمَا يُقَالَ فِي الْمَثَلِ: لَحْمُ جَمَلٍ غَثٍّ عَلَى رَأْسِ جَبَلٍ وَعْرٍ، لَا سَهْلَ فَيُرْتَقَى وَلَا سَمِينَ فَيُنْتَقَى.
وَلِهَذَا قَالَ تَعَالَى " ذَلِكَ جَزَيْنَاهُمْ بِمَا كَفَرُوا وَهَلْ نُجَازِي إِلَّا الكفور " أَيْ إِنَّمَا نُعَاقِبُ هَذِهِ الْعُقُوبَةَ الشَّدِيدَةَ مَنْ كَفَرَ بِنَا وَكَذَّبَ رُسُلَنَا وَخَالَفَ أَمْرَنَا وَانْتَهَكَ مَحَارِمَنَا.
وَقَالَ تَعَالَى: " فَجَعَلْنَاهُمْ أَحَادِيثَ وَمَزَّقْنَاهُمْ كُلَّ ممزق " وَذَلِكَ أَنَّهُمْ لَمَّا هَلَكَتْ أَمْوَالُهُمْ وَخَرِبَتْ بِلَادُهُمُ احْتَاجُوا أَنْ يَرْتَحِلُوا مِنْهَا وَيَنْتَقِلُوا عَنْهَا، فَتَفَرَّقُوا فِي غَوْرِ الْبِلَادِ وَنَجْدِهَا أَيْدِيَ سَبَأٍ شَذَرَ مذر، فَنزلت طوائف مِنْهُم الْحجاز، وَمِنْهُم خُزَاعَةُ، نَزَلُوا ظَاهِرِ مَكَّةَ، وَكَانَ مِنْ أَمْرِهِمْ مَا سَنذكرُهُ، وَمِنْهُم الْمَدِينَة المنورة الْيَوْمَ، فَكَانُوا أَوَّلَ مَنْ سَكَنَهَا، ثُمَّ نَزَلَتْ عِنْدَهُمْ ثَلَاثُ قَبَائِلَ مِنَ الْيَهُودِ بَنُو قَيْنُقَاعَ وَبَنُو قُرَيْظَةَ وَبَنُو النَّضِيرِ، فَحَالَفُوا الْأَوْسَ وَالْخَزْرَجَ وَأَقَامُوا عِنْدَهُمْ، وَكَانَ مِنْ أَمْرِهِمْ مَا سَنَذْكُرُهُ، وَنزلت طَائِفَة
এবং ক্লান্তি; আর তারা মঙ্গলের পরিবর্তে অমঙ্গল প্রার্থনা করল, যেমন বনী ইসরাঈল মান্না ও সালওয়ার পরিবর্তে শাক-সবজি, শসা, রসুন, ডাল ও পেঁয়াজ চেয়েছিল। ফলে তাদের থেকে সেই মহান নিয়ামত ও ব্যাপক কল্যাণ ছিনিয়ে নেওয়া হলো জনপদ ধ্বংসের মাধ্যমে এবং মানুষের মাঝে ছিন্নভিন্ন হওয়ার মাধ্যমে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর তারা মুখ ফিরিয়ে নিল, ফলে আমি তাদের ওপর বাঁধভাঙ্গা বন্যা প্রেরণ করলাম।"
একাধিক আলেম বলেছেন: আল্লাহ বাঁধের মূলে ইঁদুর পাঠালেন—যা ‘জুরয’ নামে পরিচিত এবং একে ‘খুলদ’ও বলা হয়। যখন তারা বিষয়টি বুঝতে পারল, তখন তারা সেখানে বিড়াল মোতায়েন করল, কিন্তু তা কোনো কাজে আসেনি; কেননা যখন তাকদীর নির্ধারিত হয়ে যায় তখন সতর্কতা কোনো উপকারে আসে না। মোটকথা, পলায়নের কোনো পথ নেই। যখন এর মূলে ধ্বংসাত্মক অবস্থা প্রবল হলো, তখন তা ভেঙে পড়ল এবং ধসে গেল। পানি তার স্বাভাবিক প্রবাহ পথ হারিয়ে ফেলল। ফলে সেই নালা ও নদীগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, ফলমূলের ধারা বন্ধ হয়ে গেল এবং শস্য ও বৃক্ষরাজি ধ্বংস হয়ে গেল। এরপর তারা সেগুলোর পরিবর্তে নিকৃষ্ট বৃক্ষ ও ফলমূল লাভ করল, যেমন মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি তাদের বাগান দুটির পরিবর্তে এমন দুটি বাগান দিলাম যাতে রয়েছে বিস্বাদ ফল এবং ঝাউ গাছ..."। ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ এবং একাধিক আলেম বলেছেন: তা হলো পিলু গাছ এবং এর ফল হলো বারীর। আর ‘আছল’ হলো ঝাউ গাছ।
কেউ বলেছেন এটি তার সদৃশ এবং এমন কাঠ যার কোনো ফল নেই। "আর সামান্য কিছু কুল গাছ।" এর কারণ হলো, যখন এতে কুল ফল হতো তখন তা অতি সামান্য হতো, যদিও তাতে প্রচুর কাঁটা থাকত। এর ফলের অবস্থা ছিল প্রবাদে বর্ণিত সেই কথার মতো: "দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় থাকা জীর্ণ শীর্ণ উটের মাংস; যেখানে আরোহণ করা সহজ নয় এবং মাংসও পুষ্ট নয় যে তা সংগ্রহ করা হবে।"
এজন্যই মহান আল্লাহ বলেছেন: "তাদের কুফরীর কারণে আমি তাদের এই প্রতিফল দিয়েছি। আর আমি অকৃতজ্ঞ ছাড়া কাউকে এ রূপ শাস্তি দেই না।" অর্থাৎ, আমি কেবল তাকেই এই কঠিন শাস্তি দেই যে আমাদের সাথে কুফরী করে, আমাদের রাসূলগণকে অস্বীকার করে, আমাদের আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং আমাদের নিষিদ্ধ সীমানা লঙ্ঘন করে।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "অতঃপর আমি তাদেরকে উপাখ্যানে পরিণত করলাম এবং তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে ছিন্নভিন্ন করে দিলাম।" আর তা এই কারণে যে, যখন তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস হলো এবং তাদের দেশ বিরান হয়ে গেল, তখন তারা সেখান থেকে প্রস্থান করতে ও স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হলো। ফলে তারা দেশের নিচু ভূমি ও উঁচু ভূমিতে চরমভাবে ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। তাদের কিছু দল হিজাজে বসতি স্থাপন করল। তাদের মধ্যে ছিল খুযাআহ গোত্র, তারা মক্কার উপকণ্ঠে অবস্থান নিল—তাদের বিবরণ আমরা সামনে উল্লেখ করব। তাদের মধ্যে কিছু লোক বর্তমানে যা মদীনা মুনাওয়ারা সেখানে বসতি স্থাপন করল, তারাই প্রথম সেখানে বসবাস শুরু করেছিল। অতঃপর তাদের নিকট ইয়াহুদীদের তিনটি গোত্র—বনু কায়নুকা, বনু কুরাইযা ও বনু নাযীর এসে অবস্থান নিল। তারা আউস ও খাযরাজ গোত্রের সাথে মিত্রতা স্থাপন করল এবং তাদের সাথে বসবাস করতে লাগল—তাদের সংবাদও আমরা সামনে উল্লেখ করব। আর একটি দল...
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ মিনাল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ - তা: আবদুল ওয়াহিদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أُخْرَى مِنْهُمُ الشَّامَ وَهُمُ الَّذِينَ تَنَصَّرُوا فِيمَا بَعْدُ، وَهُمْ غَسَّانُ وَعَامِلَةُ وَبَهْرَاءُ وَلَخْمٌ وَجُذَامٌ وتنوخ وتغلب وَغَيرهم.
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ: حَدَّثَنِي أَبُو عُبَيْدَةَ قَالَ: قَالَ الْأَعْشَى بْنُ قَيْسِ بْنِ ثَعْلَبَةَ، وَهُوَ مَيْمُونُ بْنُ قَيْسٍ: - وَفِي ذَاكَ لِلْمُؤْتَسِي أُسْوَةٌ * وَمَأْرِبُ (1) عَفَّى عَلَيْهَا الْعَرِمْ رُخَامٌ بَنَتْهُ لَهُمْ حِمْيَرُ * إِذَا جَاءَ مَوَّارُهُ (2) لَمْ يَرِمْ فَأَرْوَى الزُّرُوعَ (3) وَأَعْنَابَهَا * عَلَى سَعَةٍ مَاؤُهُمْ إِذْ قسم فصاروا أيادى (4) لَا يقدرُونَ * على شرب طِفْل إِذا مَا فُطِمْ وَقَدْ ذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ فِي كِتَابِ السِّيرَةِ أَنَّ أَوَّلَ مَنْ خَرَجَ مِنَ الْيَمَنِ قَبْلَ سَيْلِ الْعَرِمِ عَمْرُو بْنُ عَامِرٍ اللَّخْمِيُّ، وَلَخْمٌ هُوَ ابْنُ عَدِيِّ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ أُدَدَ (5) بْنِ زَيْدِ بْنِ هَمَيْسَعِ (6) بْنِ عَمْرِو بْنِ عَرِيبِ بْنِ يَشْجُبَ بن زيد بن كهلان بن سبأ.
وَيُقَال لَخْمُ بْنُ عَدِيِّ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَبَأٍ.
قَالَهُ ابْنُ هِشَامٍ.
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: وَكَانَ سَبَبُ خُرُوجِهِ مِنَ الْيَمَنِ، فِيمَا حَدَّثَنِي أَبُو زَيْدٍ الْأَنْصَارِيُّ، أَنَّهُ رَأَى جُرَذًا يَحْفِرُ فِي سَدِّ مَأْرِبَ الَّذِي كَانَ يَحْبِسُ عَلَيْهِمُ الْمَاءَ فَيَصْرِفُونَهُ حَيْثُ شَاءُوا مِنْ أَرْضِهِمْ، فَعَلِمَ أَنَّهُ لَا بَقَاءَ لِلسَّدِّ عَلَى ذَلِكَ، فَاعْتَزَمَ عَلَى النَّقَلَةِ عَنِ الْيَمَنِ فَكَادَ قَوْمَهُ، فَأَمَرَ أَصْغَرَ وَلَدِهِ إِذَا أَغْلَظَ عَلَيْهِ وَلَطَمَهُ أَنْ يَقُومَ إِلَيْهِ فَيَلْطِمَهُ، فَفَعَلَ ابْنُهُ مَا أَمَرَهُ بِهِ، فَقَالَ عَمْرٌو: لَا أُقِيمُ بِبَلَدٍ لَطَمَ وَجْهِي فِيهِ أَصْغَرُ وَلَدِي.
وَعَرَضَ أَمْوَالَهُ.
فَقَالَ أَشْرَافٌ من
--------------------------------------------
তাদের অন্য একটি দল সিরিয়ার (শাম) দিকে চলে গেল, এরাই তারা যারা পরবর্তীতে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল; তারা হলো গাসসান, আ’মিলাহ, বাহরা, লাখম, জুযাম, তানুখ, তাগলিব এবং অন্যান্যরা।
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন: আবু উবায়দাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আ’শা ইবনে কাইস ইবনে সা’লাবাহ—যিনি মাইমুন ইবনে কাইস নামে পরিচিত—বলেছেন: - এতে ধৈর্যশীলদের জন্য শিক্ষা রয়েছে * আর মা'রিব (১), যাকে আরিমের বন্যা নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। শ্বেতপাথর দিয়ে হিমইয়ার বংশীয়রা তাদের জন্য তা নির্মাণ করেছিল; যখন এর উত্তাল তরঙ্গমালা (২) আসত, তখন তা টলত না। এরপর তা শস্যক্ষেত (৩) ও আঙুর বাগানে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করত, যখন প্রাচুর্যের সাথে তাদের মাঝে পানি বণ্টন করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে তারা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল (৪), এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশু যখন দুধ ছাড়ত, তখন তারা তাকে পান করানোর সামর্থ্যটুকুও রাখত না। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক 'কিতাবুস সিরাত'-এ উল্লেখ করেছেন যে, সায়লুল আরিমের (আরিমের বন্যা) পূর্বে ইয়ামান থেকে সর্বপ্রথম যিনি বের হয়েছিলেন তিনি হলেন আমর ইবনে আমির আল-লাখমি। আর লাখম হলেন আদী ইবনে আল-হারিস ইবনে মুররাহ ইবনে উদাদ (৫) ইবনে যাইদ ইবনে হামাইসা' (৬) ইবনে আমর ইবনে আরিব ইবনে ইয়াশজুব ইবনে যাইদ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা।
আবার বলা হয়, লাখম হলেন আদী ইবনে আমর ইবনে সাবা-এর পুত্র।
ইবনে হিশাম এ কথা বলেছেন।
ইবনে ইসহাক বলেন: আবু যাইদ আল-আনসারী আমার নিকট যা বর্ণনা করেছেন, সেই অনুযায়ী তার ইয়ামান ত্যাগ করার কারণ ছিল এই যে, তিনি একটি ইঁদুরকে মা'রিব বাঁধে গর্ত করতে দেখেছিলেন; যে বাঁধটি তাদের পানি আটকে রাখত এবং তারা তাদের জমির যেখানে খুশি তা প্রবাহিত করত। তিনি বুঝতে পারলেন যে, বাঁধটি আর টিকবে না। তাই তিনি ইয়ামান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং স্বজাতির সাথে একটি কৌশল অবলম্বন করলেন। তিনি তার কনিষ্ঠ পুত্রকে আদেশ দিলেন যে, তিনি (আমর) যখন তার প্রতি কঠোর হবেন এবং তাকে চড় মারবেন, তখন সে যেন উঠে তাকে পাল্টা চড় মারে। তার পুত্র তা-ই করল যা তাকে আদেশ করা হয়েছিল। তখন আমর বললেন: "আমি এমন দেশে থাকব না যেখানে আমার কনিষ্ঠ সন্তান আমার মুখে চড় মারে।"
অতঃপর তিনি তার ধন-সম্পদ বিক্রির জন্য পেশ করলেন। তখন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলল...
--------------------------------------------