(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الدرر البهية والروضة الندية والتعليقات الرضية القسم: الفقه العام
الكتاب: الروضة الندية (ومعها: التعليقاتُ الرَّضية على «الرَّوضة النّديَّة» )
المؤلف: أبو الطيب محمد صديق خان بن حسن بن علي ابن لطف الله الحسيني البخاري القِنَّوجي (ت 1307هـ)
التعليقات بقلم: العلامة المحدِّث الشيخ محمَّد نَاصِر الدّين الألبَاني
ضبط نصَّه، وحقَّقه، وَقَام على نشره: علي بن حسَن بن علي بن عَبد الحميد الحَلبيُّ الأثريّ
الناشر: دَارُ ابن القيِّم للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية، دَار ابن عفَّان للنشر والتوزيع، القاهرة - جمهورية مصر العربية
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2003 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ, আর-রওদাতুন নাদিয়্যাহ এবং আত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: আর-রওদাতুন নাদিয়্যাহ (এবং এর সাথে: «আর-রওদাতুন নাদিয়্যাহ»-এর ওপর আত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ )
লেখক: আবু তাইয়্যিব মুহাম্মদ সিদ্দিক খান বিন হাসান বিন আলী ইবনে লুতফুল্লাহ আল-হুসাইনী আল-বুখারী আল-কান্নওজী (মৃত্যু ১৩০৭ হিজরি)
টীকা লিখেছেন: আল্লামা মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
পাঠ্য বিন্যাস, যাচাই এবং প্রকাশনা তত্ত্বাবধানে: আলী বিন হাসান বিন আলী বিন আব্দুল হামিদ আল-হালাবী আল-আসারি
প্রকাশক: দার ইবনুল কাইয়্যিম পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজ্য; দার ইবনে আফফান পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, কায়রো - মিশর আরব প্রজাতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
التعليقاتُ الرَّضية
على
"الرَّوضة النّديَّة"
للعلامة صدِّيق حسَن خَان
رحمه الله
بقلم
العلامة المحدِّث الشيخ محمَّد نَاصِر الدّين الألبَاني
ضبط نصَّه، وحقَّقه، وَقَام على نشره
علي بن حسَن بن علي بن عَبد الحميد الحَلبيُّ الأثريّ
المجَلّد الأوّل
الطّهَارة - الخُمْسْ
دَارُ ابن القيِّم - دَار ابن عفَّان
আত-তালিকাতুর রদিয়্যাহ (সন্তোষজনক টীকা)
এর ব্যাখ্যায়
"আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ" (পুষ্পিত উদ্যান)
আল্লামা সিদ্দিক হাসান খান
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন
লেখনীতে
আল্লামা মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
পাঠ বিন্যাস, তাহকীক এবং প্রকাশনা তদারকি করেছেন
আলী বিন হাসান বিন আলী বিন আব্দুল হামিদ আল-হালাবী আল-আসারি
প্রথম খণ্ড
পবিত্রতা - খুমুস (পঞ্চমাংশ)
দার ইবনুল কাইয়্যিম - দার ইবনে আফফান
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة
الطبعة الأولى
1423 هـ - 2003 م
رقم الإيداع 15932/2001
الترقيم الدولي 4-30-6052-977
دَارُ ابن القيِّم للنشر والتوزيع
هاتف: 4315882 - فاكس: 4318891
الرياض: ص. ب: 156471
الرمز البريدى: 11778
المملكة العربية السعودية
دَار ابن عفَّان
للنشر والتوزيع
القاهرة: 11 درب الأتراك خلف الجامع الأزهر
ت: 5066420 - محمول: 0101583626
الإدارة - الجيزة برج الأطباء أول ش فيصل
ت: 5693615 - تليفاكس: 5692850 - 3255820
ص. ب 8 بين السرايات
جمهورية مصر العربية
E-mail:ebnaffan@hotmail.com
সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৩ হিজরী - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
ডিপোজিট নম্বর ১৫৯৩২/২০০১
আন্তর্জাতিক মান গ্রন্থ সংখ্যা ৪-৩০-৬০৫২-৯৭৭
দার ইবনিল কাইয়্যিম প্রকাশনী ও বিতরণ
ফোন: ৪৩১৫৮৮২ - ফ্যাক্স: ৪৩১৮৮৯১
রিয়াদ: ডাকবাক্স: ১৫৬৪৭১
পোস্টাল কোড: ১১৭৭৮
সৌদি আরব রাজ্য
দার ইবনে আফফান
প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য
কায়রো: ১১ দরবুল আতরাক, আল-আজহার মসজিদের পেছনে
ফোন: ৫০৬৬৪২০ - মোবাইল: ০১০১৫৮৩৬২৬
ব্যবস্থাপনা - গিজা, বুর্জুল অতিব্বা (ডক্টরস টাওয়ার), প্রথম ফয়সাল সড়ক
ফোন: ৫৬৯৩৬১৫ - টেলিফ্যাক্স: ৫৬৯২৮৫০ - ৩২৫৫৮২০
ডাকবাক্স ৮, বাইনাস সারাইয়াত
আরব প্রজাতন্ত্র মিশর
ই-মেইল: ebnaffan@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة العلامة المحدِّث الشيخ محمَّد نَاصِر الدّين الألبَاني (1)
الحمدُ لله ربِّ العالَمين، والصلاة والسلام على نبيِّنا محمدِ، وعلى آله وصحبه أجمعين:
أمّا بَعْدُ:
فهذا كتابي: "التعليقات الرضية على الروضة النديّة"؛ يَخْرُجُ لإخواننا القُراء -طلبة العِلْمِ- مطبوعًا بهياً؛ وذلك بعد انتهائي من تدريسهِ، والتعليق عليه: بأكثَرَ من أربعينَ سنةَ؛ على الرغم من تعاهُدي إياهُ الفَينَةَ بعد الفَيْنَةِ، على مَر هذه السنين....
وإنِّي لأحمد اللهَ -سبحانه- أنْ سهل ذلك، ويسر أسبابَه؛ فالكتابُ -الأصلُ- من الكتب الفقهية النافعةِ التي انتهج مؤلفُها -رحمه الله تعالى- طريقةَ أصحابِ الحديث؛ قيامًا بالحُجة والدليل؛ بعيدًا عن التقليد وَمحْضِ الأقاويل؛ ولكنّه -كسائر البَشَر- عُرْضَةٌ للنقْدِ، والتَخطئِة، والمراجعةِ؛ وله على ذلك كله -إن شاء اللهُ- أجرٌ
…--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লামা মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (১)-এর ভূমিকা (1)
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর:
অতঃপর:
এটি আমার কিতাব: "আত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ আলার রওদাতিন নাদিয়্যাহ"; যা আমাদের পাঠক ভাইদের—ইলম অন্বেষণকারীদের—উদ্দেশ্যে সুন্দর মুদ্রণে প্রকাশিত হচ্ছে। এটি দীর্ঘ চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমার পাঠদান ও এর ওপর টীকা প্রদানের সমাপ্তির পর সম্পন্ন হলো; যদিও এই দীর্ঘ বছরগুলোতে আমি মাঝেমধ্যেই এর পর্যালোচনা করেছি....
আর আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রশংসা করছি যে, তিনি একে সহজ করেছেন এবং এর উপায়-উপকরণসমূহ সুগম করেছেন। মূল কিতাবটি সেই সব উপকারী ফিকহী কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার লেখক—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—আসহাবুল হাদীসের পথ অবলম্বন করেছেন; যা দলিল ও প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং অন্ধ তাকলীদ ও নিছক মতামতের ঊর্ধ্বে। তবে তিনিও অন্য সব মানুষের মতো সমালোচনা, ভুল ও পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে নন; আর এই সবকিছুর জন্য—ইনশাআল্লাহ—তিনি প্রতিদান পাবেন
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ولقد كان عَرَضَ عَلَيَّ -منذ أكثرَ من سنتين- وَلَدُنا وصاحُبنا الأخُ أبو الحارث علي بن حسمن بن علي الحلبي -وفّقه الله- فِكْرَةَ طباعةِ تلك التعليقات -المشار إليها-، ونشرها؛ لما رأى فيها من نفع وفائدة -حتى لا تَظَل حبيسة فوق جدران الكتب-؛ ولينتفعَ بها الدارسون، ويستفيدَ منها المتفقهون: فوافقتُ على ذلك؛ وناولته نُسختي الخاصة -بتعليقاتي التي بخط يدي، والتي كنتُ قد سميْتُها منذُ أمَد: " التعليقات الرضيّة على الروضة الندية "-؛ ليقومَ -جزاه اللهُ خيرًا- بهذه المهمة العلمية.
وها هو الكتابُ -بتعليقاتِه- بحمد الله ومِنتهِ- مطبوعًا بين أيدي القُراء؛ يَفيدون منه، ويُفيدون به؛ والحمدُ لله الذي بنعمته تتمُّ الصالحات.
وإنّي لأسالُ الله تبارك وتعالى أنْ يجزيَ صاحبَنا أبا الحارث -زاده الله توفيقًا- على ما قامَ به من جُهدِ مشكور في تحقيقهِ لهذه "التعليقات"، وإبرازها إلى حَيز الوجود، وكذا الناشِرَ للكتاب: دار ابن عفان/القاهرة؛ داعيًا الله -جل وعلا- لهما - أن يُباركَ جهودَهما في خدمةِ -ونَشْر- الكتب العلميّة السلفية النافعة -إن شاء الله-.
كما أسألُهُ عز وجل أنْ ينفعَ بما أكتب، وأنْ يُلهِمني الحق والصواب، وأن يجعلَه خالصًا لوجهه، وأن يدخِر لي أجر ذلك عنده؛ إنه -سبحانه- خير مسؤول.
وآخِرُ دعوانا أنِ الحمدُ لله ربِ العالَمين.
19/رمضان/1419 هـ
محمد ناصر الدين الألباني
أبو عبد الرحمن
عمّان
দুই বছরেরও বেশি সময় আগে আমাদের সন্তান ও বন্ধু ভাই আবু আল-হারিস আলী বিন হাসান বিন আলী আল-হালাবি—আল্লাহ তাকে তাওফিক দিন—আমার নিকট উল্লিখিত সেই টীকাগুলো মুদ্রণ ও প্রকাশের প্রস্তাব পেশ করেছিলেন; যেহেতু তিনি এতে অনেক উপকার ও কল্যাণ দেখতে পেয়েছিলেন—যাতে সেগুলো কিতাবের তাকে বন্দি হয়ে পড়ে না থাকে—এবং যেন শিক্ষার্থীরা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে ও ফকিহগণ ফায়দা হাসিল করতে পারেন। তাই আমি তাতে সম্মত হলাম এবং তাকে আমার বিশেষ পাণ্ডুলিপিটি প্রদান করলাম—যা ছিল আমার স্বহস্তে লিখিত টীকা সম্বলিত, এবং অনেক আগে থেকেই যার নামকরণ আমি করেছিলাম: "আত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ আলার রওদাতিন নাদিয়্যাহ"—যাতে তিনি—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—এই ইলমি দায়িত্বটি পালন করতে পারেন।
আর এই যে এখন কিতাবটি—তার টীকাগুলোসহ—আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে পাঠকদের হাতে মুদ্রিত অবস্থায় রয়েছে; তারা এর থেকে উপকৃত হবেন এবং এর মাধ্যমে অন্যদের উপকৃত করবেন। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।
আমি বরকতময় ও সুমহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের বন্ধু আবু আল-হারিসকে—আল্লাহ তার তাওফিক বৃদ্ধি করুন—এই "টীকাগুলো" তাহকিক করার এবং এগুলোকে আলোর মুখ দেখানোর ক্ষেত্রে তাঁর প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার জন্য উত্তম প্রতিদান দান করেন। সেই সাথে কিতাবটির প্রকাশক: দার ইবনে আফফান/কায়রো-কেও যেন তিনি প্রতিদান দেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট তাদের উভয়ের জন্য প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন উপকারী সালাফি ইলমি কিতাবসমূহের সেবা ও প্রসারে তাদের প্রচেষ্টায় বরকত দান করেন—ইনশাআল্লাহ।
আমি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে আরও প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার লেখনীর মাধ্যমে উপকার দান করেন, আমাকে সত্য ও সঠিক পথের দিশা দান করেন, এটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন এবং এর প্রতিদান যেন তাঁর নিকট আমার জন্য সঞ্চিত রাখেন; নিশ্চয়ই তিনি—পবিত্রতা তাঁরই—সর্বোত্তম প্রার্থনাস্থল।
আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
১৯/রমজান/১৪১৯ হিজরি
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি
আবু আবদুর রহমান
আম্মান
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيقإِن الحَمْدَ للهِ؛ نَحْمَدُهُ، وَنَستعِينُهُ، وَنَستغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ باللهِ مِنْ شُرُورِ أنْفُسِنَا وَسَيئاتِ أعْمَالِنَا، مَن يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِل لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ.
وَأشْهَدُ أنْ لَا إِلهَ إِلا اللهُ وَحْدَهُ لا شَريكَ لَهُ.
وَأشْهَدُ أن مُحَمداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
أما بَعْدُ:
"فإنهُ يَنبغِي لِكُل أحَد أن يَتَخَلقَ بِأخْلَاقِ رَسُولِ صلى الله عليه وسلم، وَيَقْتَدِيَ بِأقْوَالهِ وَأفْعَالِهِ وَتَقْريرهِ؛ فِي الأحكَامِ وَالآدَابِ وَسَائِر مَعَالِمِ الإسْلَامِ، وَأنْ يَعْتَمِدَ فِي ذلِكَ مَا صَح وَيَجْتَنِبَ مَا ضَعُفَ، وَلَا يَغتر بِمُخَالِفِي السننِ الصحِيحَةِ، وَلَا يُقَلدَ مُعْتَمِدِي الأحَادِيثِ الضعِيفَةِ؛ فَإن اللهَ سبحانه وتعالى قَالَ: {وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} ، وَقَالَ- تَعَالَى-: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} ، وَقَالَ- تَعَالَى-: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} ؛ فَهذِهِ الآيَاتُ -وَمَا فِي مَعناهُن- حَث عَلَى اتباعِهِ صلى الله عليه وسلم.
وَنَهَانَا عَنِ الابْتِدَاعِ وَالاخْتِرَاعِ، وَأمَرَنَا اللهُ سبحانه وتعالى عِنْدَ التنازُعِ
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর:
"প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচিত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া এবং তাঁর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতির অনুসরণ করা; বিধানাবলি, আদব ও ইসলামের অন্যান্য নিদর্শনের ক্ষেত্রে। আর এ ব্যাপারে যা সহিহ কেবল তার ওপর নির্ভর করা এবং যা জইফ তা বর্জন করা। সহিহ সুন্নাহর বিরোধিতাকারীদের দ্বারা প্রতারিত না হওয়া এবং যারা দুর্বল হাদিসের ওপর নির্ভর করে তাদের অন্ধ অনুসরণ না করা; কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন}। এই আয়াতগুলো এবং সমজাতীয় অর্থবোধক আয়াতসমূহ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসরণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে।
তিনি আমাদের বিদআত ও নব-উদ্ভাবন থেকে নিষেধ করেছেন। আর মতভেদের সময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بِالرجُوعِ إِلَى الله وَالرسُولِ -أي: الكِتَابِ وَالسنةِ-، وَهذَا كُلُّهُ فِي سُنة صَحتْ، أما مَا لَمْ تَصح: فكيْفَ تكُونُ سُنةَ؟! وَكَيفَ يُحكَمُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أنهُ قَالَهُ أوْ فَعَلَهُ مِنْ غَيْر مُسَوغٌ لِذلِكَ؟!!
وَلَا تَغْتَرن بِكَثْرَةِ المتساهِلِينَ فِي العَمَلِ -وَالاحْتِجَاجِ فِي الأحكامِ- بِالأحَادِيثِ الضعِيفَةِ! وَإنْ كَانُوا مُصَنفِينَ وَأئِمة فِي الفِقهِ وَغَيْرهِ!!.." (1) .
وَ"الفِقْهُ فِي الدينِ: مِنْ أفْضَلِ مَا يُتَنَافَسُ فِيهِ وَيُطلَبُ، وَيُثَابَرُ عَلَى السعْي فِي تَحْصِيلِهِ وَيُرْغَبُ؛ لأن بِهِ صَلَاحَ العَبْدِ فِي مَعَاشِهِ وَمَعَادِهِ، وَبِهِ يَهتدِي مِنْ غَيهِ لِرشَادِهِ، وَعَلَيْهِ مَدَارُ الفَلَاحِ وَالسعَادَةِ، وَبِهِ يُتَمكنُ مِنَ القِيَامِ بِوَاجِبِ العِبَادَةِ، وَأهلُهُ هُمُ الوَاسِطَةُ بَينَ اللهِ وَبَينَ خَلقِهِ فِي تَبلِيغِ شَرعِهِ وَأحكَامِهِ، وَتَمْيِيز حَلَالِهِ مِن حَرَامِهِ.
وَقَدْ فَازَ بِهذِهِ الفَضِيلَةِ الصدرُ الأولُ، وَمَن عَلَى نَقْلِهِمْ وَفَهْمِهِمْ فِي النصُوص المعَولُ؛ فَاقتسَمُوا إِرثَ النبوةِ فَرْضاً وَتَعصِيباً، وَلَمْ يَترُكُوا لِسِوَاهُمْ مِنْ تِلك الفَريضَةِ حَظاً وَلا نَصِيباً، ثُم اقتدَى بِهِمْ فِي نَهْجِهِمِ القَويمِ الأسنى؛ مَنْ سَبَقَت لَهُ مِنَ اللهِ السعَادَةُ وَالحُسنى، حَتى انتهَت تِلكَ الورَاثَةُ إِلى الأئِمةِ الكِبَارِ، المقتدَى بِهِم فِي سَائِر الأعصَارِ وَالأمصَارِ، فكَانُوا وَسَائِلَ وَطرُقاً وَأدِلةَ بَيْنَ الناس وَبَيْنَ الرسُولِ، يُبَلغُونَهُمْ مَا قَالَهُ، وَيُفَهمُونَهُمْ مُرَادَهُ؛ بِحَسْبِ اجتِهَادِهِم وَاستِطَاعَتِهِمْ رضي الله عنهم" (2) .
وَمِنْ بَيْنِ هَؤُلَاءِ الأئِمةِ الفُحُول، المقتفِينَ آثَارَ الرسُول صلى الله عليه وسلم: الشيْخُ
--------------------------------------------
আল্লাহ এবং রাসূলের দিকে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে—অর্থাৎ: কিতাব ও সুন্নাহ—আর এ সবই সেই সুন্নাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা বিশুদ্ধ। পক্ষান্তরে যা বিশুদ্ধ নয়, তা কীভাবে সুন্নাহ হতে পারে?! আর কোনো সংগত কারণ ছাড়া আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো কথা বলেছেন বা কাজ করেছেন বলে কীভাবে বিচার করা যেতে পারে?!!
দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করার এবং আহকামের ক্ষেত্রে তা দিয়ে দলিল পেশ করার বিষয়ে যারা শিথিলতা প্রদর্শন করেন, তাদের আধিক্য দেখে আপনি প্রতারিত হবেন না! যদিও তারা গ্রন্থকার এবং ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্রের ইমাম হন না কেন!!.." (১)।
এবং "দীনের ফিকহ (গভীর জ্ঞান): এটি সেই সব বিষয়ের মধ্যে সর্বোত্তম, যা লাভের জন্য প্রতিযোগিতা ও অন্বেষণ করা হয় এবং যা অর্জনের প্রচেষ্টায় ধৈর্য ধারণ ও আকাঙ্ক্ষা করা হয়; কারণ এর মাধ্যমেই ইহকাল ও পরকালে বান্দার সংশোধন নিহিত। এর মাধ্যমেই সে বিভ্রান্তি থেকে সঠিক পথের দিশা পায় এবং এর ওপরই সফলতা ও সৌভাগ্য আবর্তিত হয়। এর মাধ্যমেই ইবাদতের আবশ্যিক দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়। আর ফিকহবিদগণই হলেন আল্লাহর শরয়ি বিধান ও আহকাম পৌঁছে দেওয়া এবং হালাল-হারামের পার্থক্য নিরূপণের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে মাধ্যম।
প্রথম যুগের মহান ব্যক্তিবর্গ এই ফজিলত লাভে ধন্য হয়েছেন, আর মূল পাঠের (নসুস) বর্ণনা ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে যাদের ওপরই নির্ভর করা হয়। তাঁরা নবুওয়তের উত্তরাধিকারকে (মিরাস) ফরয ও আসাবা হিসেবে বণ্টন করে নিয়েছেন এবং অন্যদের জন্য সেই উত্তরাধিকারের কোনো অংশ বা ভাগ অবশিষ্ট রাখেননি। অতঃপর তাঁদের সেই সুদৃঢ় ও শ্রেষ্ঠ পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন তাঁরাই, যাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বেই সৌভাগ্য ও কল্যাণ নির্ধারিত ছিল। পরিশেষে এই উত্তরাধিকার সেই মহান ইমামগণের নিকট পৌঁছেছে, যারা সকল যুগে ও সকল জনপদে অনুসরণীয়। তাঁরা সাধারণ মানুষ ও রাসূলের মাঝে মাধ্যম, পথ ও নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন; তাঁরা মানুষের কাছে রাসূলের বাণী পৌঁছে দিতেন এবং নিজেদের ইজতিহাদ ও সক্ষমতা অনুযায়ী তাঁর উদ্দেশ্য তাদের বুঝিয়ে দিতেন, আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন।" (২)।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণকারী এই শ্রেষ্ঠ ইমামগণের মধ্যে অন্যতম হলেন: শাইখ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
العلامة صِديق حسن خان -تغمده بِعفوهِ الرحِيم الرحمن-؛ فَقدْ ألفَ كِتَاباً فريداً، نسج فِيهِ منهجاً سدِيداً؛ سماه "الروضة الندِية" (1) ؛ مَبْنِيّاً على الدلائِل البَينةِ العِلمِية.
وَلَقَدْ "سَلَكَ فِيهِ -رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى- مَسْلَكَ الإنْصَاف، وَجَانَبَ فِي الترجِيحِ سَبِيلَ الجَورِ وَالاعْتِسَاف، وَهَذبَ مَبَانِيَه، وَحَررَ مَعَانِيَه، وَاعتنَى بِتَقْدِير الأدِلةِ وَنَصْب أَعلَامِهَا، وَتَوضِيحِ وُجُوهِ الدلالَةِ وَأحكَامِهَا، وَذَكرَ مَذَاهِبَ الأسلَاف، وَمَا وَقَعَ بَيْنَهُم مِنَ الوفَاقِ وَالخِلَاف، مَعَ تَرجِيحِ مَا عَضَدَهُ البُرهَان، مِنْ غَير نَظر فِي ذلِكَ إِلَى خُصُوصِيةِ إِنْسَان، رَائِياً أَن الحَق أَحَقُّ بِأنْ يَعَض بِالنوَاجِذِ علَيْهِ، وَأن مَا سِوَاهُ يُطرَحُ فِي زَوَايَا الإهْمَالِ وَلَا يُعَولُ عَلَيهِ" (2) .
فَجَاءَ كِتَاباً رَائِعاً، بَدِيعاً جَامِعاً، بِعِبَارَة سَهْلَةِ مُيَسرَة، وَأدِله مُنَقحَة مُحَررة، وَمَسَائِلَ مُنضَبِطَةِ مُحَبرَة.
وَلِمَا لِهذَا الكِتَابِ مِنْ أهَمييما وَمكَانَة -بِمَا حَوَاهُ مِنْ قُوة وَمَتَانَة-: فقد اعتنَى بِهِ عُلَمَاؤُنَا، وَأوْصَى بِهِ كُبَرَاؤُنَا؛ وَدَرسَهُ وَشَرَحَهُ فُضَلَاؤُنَا:
-فَهَذَا الشيخُ العَلامَةُ أحمَد مُحَمد شَاكِر- المتَوَفى سَنَةَ (1377 هـ) -رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى- يَقُومُ بِالتعْلِيق. عَلَيهِ وَخِدْمَتِهِ -كمَا فِي آخِر الطبعَةِ
--------------------------------------------
আল্লামা সিদ্দীক হাসান খান —পরম দয়ালু ও অতিশয় মেহেরবান আল্লাহ যেন তাঁকে তাঁর ক্ষমার চাদরে আবৃত করেন—; তিনি একটি অনন্য গ্রন্থ রচনা করেছেন, যাতে তিনি একটি সঠিক মানহাজ বা কর্মপন্থা সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন; তিনি এর নাম দিয়েছেন "আর-রওজাতুন নাদিয়্যাহ" (১); যা সুস্পষ্ট ইলমি দলীলসমূহের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
আর তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— এতে "ইনসাফের পথ অবলম্বন করেছেন, এবং প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে অন্যায় ও যথেচ্ছাচারিতা পরিহার করেছেন; তিনি এর বাক্যসমূহকে পরিমার্জিত করেছেন এবং অর্থসমূহকে সুসংহত করেছেন; দলীলসমূহ উপস্থাপন এবং সেগুলোর মূল প্রমাণচিহ্নসমূহ স্থাপনে যত্নবান হয়েছেন; দলীলের ধরন ও হুকুমসমূহ স্পষ্ট করেছেন; সালাফদের মাযহাবসমূহ এবং তাঁদের মধ্যে ঐক্য ও মতভেদের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন; সেই সাথে প্রমাণের ভিত্তিতে যা শক্তিশালী তাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির বিশেষত্বের দিকে তাকাননি। তিনি মনে করতেন যে, সত্যই দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখার অধিক যোগ্য, আর সত্য ছাড়া অন্য কিছু অবহেলার কোণে নিক্ষেপ করার যোগ্য এবং তার ওপর নির্ভর করা যায় না" (২)।
ফলে এটি একটি চমৎকার, অপূর্ব ও সুসংহত গ্রন্থ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা সহজ-সরল সাবলীল ভাষায় লিখিত, যার দলীলসমূহ পরিমার্জিত ও সুবিন্যস্ত এবং মাসআলাসমূহ সুনির্ধারিত ও সুশোভিত।
এই কিতাবের গুরুত্ব ও মর্যাদার কারণে—এতে বিদ্যমান শক্তি ও মজবুত গাঁথুনির দরুন—আমাদের আলেমগণ এর প্রতি যত্ন নিয়েছেন, আমাদের বড়রা এর সুপারিশ করেছেন এবং আমাদের গুণীজনরা এটি পাঠদান করেছেন ও এর ব্যাখ্যা করেছেন:
—এই যে শায়খ আল্লামা আহমাদ মুহাম্মদ শাকির —যিনি ১৩৭৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— তিনি এর ওপর টীকা প্রদান ও এর খিদমত করেছেন —যেমনটি এই সংস্করণের শেষে রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
المنِيريةِ-. (1) (2/365) بِقَلَم الشيْخ شَاكِر نَفْسِه؛ حَيْثُ قَالَ:
"بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ: عَهِدَ إِلَي الأخ الأستاذُ الشيْخُ مُحَمد مُنِير الدمَشْقِي (2) -صَاحِبُ (إِدَارَةِ الطباعَةِ المنِيريَةِ) - بِتَصحِيحِ هذَا الكِتَابِ -"الروْضَةِ الندِيةِ"-؛ فَقُمْتُ بِمُرَاجَعَةِ الأصْل الَذِي يُطبعُ مِنْهُ، وَبَذَلتُ وُسْعِي فِي مُرَاجَعَةِ مَا عَرَضَ مِنَ الشبهَاتِ فِي تَخْريجِ الأحَادِيثِ وَالكَلَامِ عَلَى رُوَاتِهَا، وَكَتَبْتُ مَا عَن لِي مِنَ التَعْلِيقاتِ؛ رَغْبَةً فِي خِدْمَةِ السنةِ الشريفَةِ.
وَنَسْألُ اللهَ أن يُعِينَنَا عَلَى القَصْدِ إِلَى الخَيْر.
أحْمَد مُحَمد شَاكِر -القَاضِي الشرْعي-".
وَهذَا شَيْخُنَا العَلامَةُ الألبَانِي -حَفِظَهُ اللهُ-، يَنْصَحُ بِهِ (3) ، وَيُدَرسَه (4) ، بَلْ وَيَضَعُ عَلَيْهِ تَعْلِيقاً مكْتُوباً، وَنَقْداً لَطِيفاً مَرْغُوباً -وَهُوَ هذَا الَذِي بَيْنَ أيْدِينَا-؛ وَقَدْ سَماهُ "التَعْلِيقَاتِ الرضية عَلَى الروْضَةِ الندِية".
مِنْ أجْل هذَا كُلهِ: رَأيْتُ لُزُومَ نَشْر الكِتَابِ، مَعَ تَعْلِيقَاتِ مَشَايِخِنَا عَلَيهِ؛ فَلَما عَرَضْتُ هذا الأمْرَ عَلَى شَيْخِنَا -نَفَعَ اللهُ بِهِ- وَافَقَ ذلك مُبَارَكَةً كَرِيمَةً مِنْه -حَفِظَهُ اللهُ تَعَالَى، وَنَفَعَ بِهِ-؛ فَدَفَعَ إِلَي نُسْخَتَهُ الخَاصَّةَ، المكْتُوبَةَ
--------------------------------------------
আল-মুনিরিয়্যাহ-। (১) (২/৩৬৫) খোদ শায়খ শাকিরের কলমে; যেখানে তিনি বলেছেন:
"পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে: ভাই উস্তাদ শায়খ মুহাম্মদ মুনীর আদ-দামেশকী (২) - 'ইদারাতুত তিবায়াতিল মুনিরিয়্যাহ'-এর স্বত্বাধিকারী - আমাকে এই কিতাব - 'আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ' - সংশোধনের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। ফলে আমি যে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এটি মুদ্রিত হচ্ছে তা পর্যালোচনা করেছি এবং হাদিসসমূহের তাখরিজ ও বর্ণনাকারীদের বিষয়ে যেসব সংশয় দেখা দিয়েছিল তা নিরসনে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। আর সুন্নাতে শরীফাহ-এর খেদমত করার আকাঙ্ক্ষায় আমি আমার মনে আসা প্রয়োজনীয় টীকাগুলো লিখেছি।
আর আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কল্যাণের সংকল্পের ওপর সাহায্য করেন।
আহমদ মুহাম্মদ শাকির -শরয়ী কাজী-।"
আর আমাদের শায়খ আল্লামা আলবানী -আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন- কিতাবটির ব্যাপারে পরামর্শ দেন (৩) এবং এটি পাঠদান করেন (৪), বরং তিনি এর ওপর লিখিত টীকা ও সূক্ষ্ম কাম্য সমালোচনাও প্রদান করেছেন - যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে; আর তিনি এর নাম দিয়েছেন "আত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ আলা আর-রাওদাতিন নাদিয়্যাহ"।
এসব কারণেই আমি আমাদের শায়খদের টীকাসহ কিতাবটি প্রকাশ করা আবশ্যক মনে করেছি। যখন আমি বিষয়টি আমাদের শায়খের কাছে উপস্থাপন করলাম -আল্লাহ তার দ্বারা উপকৃত করুন- তখন তিনি অত্যন্ত বরকতময় ও মহানুভব সম্মতি প্রদান করলেন -আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাজত করুন এবং তার দ্বারা উপকৃত করুন- এবং তিনি তাঁর নিজস্ব লিখিত কপিটি আমাকে প্রদান করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
عَلَى حَوَاشِيهَا تَعْلِيقَاتُهُ، وَنَقَدَاتُهُ -بِخَطه (1) -، لأقُومَ بِتَحْقِيقِهَا وِإظهَارِهَا إِلَى حَيز الوُجُودِ-؛ فَجَزَاهُ اللهُ خَيْراً عَلَى حُسْن ظَنهِ بِوَلَدِهِ وَتِلمِيذِهِ، وَأكْرَمَهُ فِي الدارَين بِأكْمَل الحُسْنَيَيْن.
كل ذلِكَ إِفَادَةَ لِلأمةِ، وَعِنَايَةَ بِهَا، وِإعِظاماً لأمْرهَا؛ عَسَى أنْ يَكتبَنَا اللهُ -سبْحَانَهُ- مِنْ حَمَلَةِ العِلمِ النبوي الشريف، قَائِمِينَ بِالعَمَل، وَالتَعْلِيمِ، وَالتَعْريف.
فَاللهَ أسْألُ التَوْفِيقَ وَالسدَاد، وَالهُدَى وَالرشَاد.
وختاماً، فإني أتقدّم بالشكر الجزيل لِكُل مَن كان له يَد في نَشر هذا الكتاب؛ تعليقاً (2) ، وتصحيحاً، وتنضيداً، وتدقيقاً، وضبطاً.
وشكر خاص موصول: للأخ الفاضل أبي عبد الله كمال الدين بن حُسين عُويس -وفقه الله لمراضيه-، صاحب دار ابن عفان/القاهرة-، على صَبْرهِ، واحتمالِه، وقيامِهِ بالدعم المادي والأدَبي -الدؤوب- لإخراج هذا العَمَل العلميّ مطبوعاً، مشرقاً، بهياً؛ فجزاه اللهُ خيرَ الجزاءِ، وزادَنا وإياه من فضلهِ.
وَصَلى اللهُ وَسَلمَ وَبَارَكَ عَلَى نَبِينا مُحَمدِ الأمِين، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أجْمَعِين.
وَكَتَبَ
أبُو الحَارِثِ الحَلَبِيُّ الأثَرِيُّ
23 رجب 1419 هـ
الزرقَاءَ - الأُردن
--------------------------------------------
এর পার্শ্বটীকায় রয়েছে তাঁর নিজ হাতে লেখা (১) মন্তব্য এবং সমালোচনাগুলো, যাতে আমি সেগুলো সম্পাদনা করতে পারি এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারি; আল্লাহ তাঁকে তাঁর এই সন্তান ও ছাত্রের প্রতি সুধারণা পোষণের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং ইহকাল ও পরকালে তাঁকে পূর্ণাঙ্গ কল্যাণে ভূষিত করুন।
এসবই উম্মাহর উপকারার্থে, তাদের প্রতি যত্নশীলতা স্বরূপ এবং তাদের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য; যেন মহান আল্লাহ আমাদের বরকতময় নববী জ্ঞানের বাহকদের অন্তর্ভুক্ত করেন, যারা আমল, শিক্ষাদান এবং পরিচয়ের ক্ষেত্রে সদা সচেষ্ট।
আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক, সঠিক পথ লাভ এবং হিদায়াত ও সঠিক দিকনির্দেশনা প্রার্থনা করছি।
পরিশেষে, আমি সেই প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা এই কিতাবটি প্রকাশে ভূমিকা রেখেছেন; সেটা টীকা প্রদান (২), সংশোধন, বিন্যাস, পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা অথবা মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই হোক।
বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই সম্মানিত ভাই আবু আবদুল্লাহ কামালুদ্দীন বিন হুসাইন উওয়াইসকে—আল্লাহ তাঁকে তাঁর সন্তুষ্টির কাজে তাওফিক দান করুন—যিনি কায়রোস্থ 'দারু ইবনে আফফান'-এর মালিক। এই ইলমি কাজটিকে মুদ্রিত, উজ্জ্বল ও সুন্দররূপে প্রকাশ করার জন্য তাঁর ধৈর্য, সহনশীলতা এবং নিরলস আর্থিক ও নৈতিক সহায়তার জন্য তাঁকে অসংখ্য ধন্যবাদ; আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং আমাদের ও তাঁকে তাঁর অনুগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিন।
আমাদের বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।
লিখেছেন
আবু আল-হারিস আল-হালাবি আল-আসারি
২৩ রজব ১৪১৯ হিজরি
যারকা - জর্ডান
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
تعريف بـ "التعليقاتُ الرَّضية على الرَّوضة النَّديَّة"
* هِيَ تَعْلِيقاتٌ عِلْمِيةٌ مُنَوعَةٌ؛ بَلَغَتْ نَحْواً مِنْ ألفِ تَعْلِيق.
* وَهِيَ -أَصْلاً- مُلَاحَظَات عَلَى "الروضَةِ" (1) عَرَضَتْ أثْنَاءَ تَدْرِيس الكِتَابِ، وَشَرْحِهِ لِطَلَبَةِ العِلْمِ؛ ولكنّها لم تستوعب كُل ما ينبغي التعليقُ عليه؛ فضلاً عن تغير الاجتهاد -فقهاً ونقداً- في عدد منها.
* وَعَدَدٌ كَثِيرٌ مِنْ هذِهِ التعْلِيقَاتِ -أيضاً- جَاءَتْ زِيَادَةً عَلَى تِلكَ الملَاحَظَاتِ؛ جَراءَ نَظَر الشيْخِ فِي الكِتَابِ، أوْ نَقْدِهِ، وَتَخْرِيجِهِ لِبَعْض المرْوِياتِ الوَارِدَةِ فِي كُتُبِ أخْرَى؛ فَيَضَعُ خُلَاصَةَ بَحْثِهِ فِي تَعْلِيقِ لَهُ هُنَا.
وَقَدْ جَاءَ عَدَد مِنْ تعْلِيقَاتِهِ هذِهِ -حَفِظَهُ اللهُ- عَلَى تَعْلِيقَاتِ لِلشيخ أحْمَد شَاكِر عَلَى "الروضَةِ" (2) .
--------------------------------------------
"আত-তালীকাতুর রাযিয়্যাহ আলা আর-রাওদাতিন নাদিয়্যাহ" এর পরিচিতি* এগুলো বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় ইলমি (বিদ্বতীয়) টীকা; যার সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছেছে।
* মূলত এগুলো ছিল "আর-রাওদাহ" (১) কিতাবটির ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ, যা ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট কিতাবটি পাঠদান ও ব্যাখ্যা করার সময় উপস্থাপিত হয়েছিল; তবে এতে টীকা প্রদানের প্রয়োজনীয় সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি; তদুপরি এর বেশ কিছু ক্ষেত্রে ইজতিহাদ—ফিকহ ও পর্যালোচনার বিচারে—পরিবর্তিত হয়েছে।
* এছাড়াও এই টীকাগুলোর একটি বিরাট অংশ উক্ত পর্যবেক্ষণগুলোর অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে; যা কিতাবটির প্রতি শাইখের গভীর দৃষ্টিপাত, এর পর্যালোচনা অথবা অন্যান্য কিতাবে উল্লিখিত কিছু বর্ণনার তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) করার ফলস্বরূপ এসেছে; ফলে তিনি তাঁর গবেষণার সারসংক্ষেপ এখানে নিজস্ব টীকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শাইখের (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) এই টীকাগুলোর মধ্য থেকে বেশ কিছু টীকা মূলত শাইখ আহমাদ শাকিরের "আর-রাওদাহ" (২) এর ওপর করা টীকাগুলোর ওপর লিখিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
* كَتَبَ شَيْخُنَا -بِخَطهِ- عَلَى آخِر نُسْخَتِهِ مِنَ "الروضَةِ" مَا لَفْظهُ: "فَرَغْنَا مِنْ قِرَاءَتِهِ بِمنَاسَبَةِ الاعْتِدَاءِ المثَلثِ (1) عَلَى مِصْرَ لَيْلَةَ السبْتِ (
… (2) /4/1377 هـ) .
ثُم فَرَغْنَا مِنْ قِرَاءَتِهِ كُلهِ -حَاشَا كِتَابَ الوَصِيةِ- لَيْلَةَ السبْتِ (29/8/1379 هـ) . ".
* وَهذِهِ التَعْلِيقَاتُ (الرضيةُ) مُنَوعَةٌ مُتَعَددَةٌ، مِنْهَا (3) :
أولاً: شَرْحُ الغريبِ؛ وَمِنْ أمثِلَتِهِ:
1- قَالَ فِي (1/4) شَرْحاً لِكَلِمَةِ (العِلقِ) : "بِكَسْر العَيْن: النفِيسُ مِنْ كُلٌ شَيْءِ، وَالجِرَابُ؛ وَلَعَل هذَا هُوَ المرَادُ هُنَا".
2- شَرَحَ في (1/187) (الخَلِفَات) ، وَقَالَ: " اسْمٌ لِلنوقِ الحَوَامِل، وَاحِدَتُهَا خَلِفَة، وَبِنْتُ المخَاض، وَابنُ المخَاضِ: مَا دَخَلَ فِي السنةِ الثانِيَةِ
… " إلخ.
3- وَشَرَحَ فِي (1/187) -أيْضاً- (ابْن اللبونِ) ، مُبيناً أنهُ: "مَا أتَى عَلَيْهِ سَنَتَانِ مِنَ الإِبِل
… ".
--------------------------------------------
* আমাদের শায়খ -নিজ হাতে- "আল-রওদ্বাহ" এর তাঁর পাণ্ডুলিপির শেষে যা লিখেছেন তার পাঠ হলো: "আমরা এর পাঠ সমাপ্ত করেছি মিশরের ওপর ত্রিদেশীয় আক্রমণের (১) প্রাক্কালে, শনিবার রাতে (
... (২) /৪/১৩৭৭ হিজরী) ।
অতঃপর আমরা এর পুরোটির পাঠ সমাপ্ত করেছি - অসিয়ত অধ্যায় ব্যতীত - শনিবার রাতে (২৯/৮/১৩৭৯ হিজরী)।"।
* আর এই (পছন্দনীয়) টীকাগুলো বৈচিত্র্যময় ও বহুবিধ, যার মধ্যে রয়েছে (৩):
প্রথমত: অপরিচিত শব্দাবলির ব্যাখ্যা; এর কিছু উদাহরণ:
১- তিনি (১/৪) পৃষ্ঠায় 'আল-ইলক' (العِلقِ) শব্দের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "আইন বর্ণে কাসরা (জের) যোগে: প্রতিটি জিনিসের মূল্যবান অংশ এবং থলি; সম্ভবত এখানে এটাই উদ্দেশ্য।"
২- তিনি (১/১৮৭) পৃষ্ঠায় 'আল-খলিফাত' (الخَلِفَات) শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন: "এটি গর্ভবতী উটনীদের নাম, যার একবচন হলো 'খলিফাহ'। আর 'বিন্তু মাখাদ' ও 'ইবনু মাখাদ' হলো: যা দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে..." ইত্যাদি।
৩- এবং তিনি (১/১৮৭) পৃষ্ঠায় আরও 'ইবনু লাবুন' (ابْن اللبونِ) এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে তা হলো: "উটসমূহের মধ্য থেকে যার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে..."।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
4- شَرَحَ فِي (2/12) مَعنى "العَصَبَةَ" نَاقِلاً إِياهُ عَنْ "نِهَايَةِ" ابْن الأثير.
5- بَين فِي (2/13) خَطَأ تَفْسِير "عَوَان"، مُبَيناً وَجْهَ الصوَابِ فِيهِ.
ثَانِياً: التخْريجُ، وَالنقْدُ؛ وَمِن أمثِلَتِهِ:
1- قَالَ فِي (1/12) تَعْلِيقاً عَلَى قَوْلِ المؤَلفِ: (النهْيُ عَن الوُضُوءِ بِفَضْل وَضُوءِ المَرْأةِ) : "يُشِيرُ إِلَى حَدِيثِ: نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أنْ تَغتسِلَ المَرْأةُ بِفَضْل الرجل.."، ثُم قَالَ: رَوَاهُ أبُو دَاودَ، وَالنسَائِي، بِسَنَدِ صَحِيح".
2- فَصلَ فِي (1/42) بِإِيضَاحِ الزيادَاتِ بَيْنَ الروَايَاتِ فِي العَزْوِ.
3- فَصلَ فِي (1/164) بِتَخريجِ حَدِيثِ خُرجَ إِجْمَالاً؛ مُبَيناً مُخَرجَهُ وَصَحَابِيهُ.
4- خَرج (1/196) حَدِيثَ: "الوَسْقُ سِتونَ صَاعاً"! مُبَيناً مَصَادِرَهُ، وَمُعِلاً لَهُ بِالانْقِطَاعِ..
5- خَرجَ فِي (1/222) حَدِيثاً، مُشِيراً إِلَى تَصْحِيحِ جَمَاعَةِ مِن أهْل العِلمِ لَهُ، ثُم ذَكَرَ بَعْضَ مَنْ ضَعفَهُ، مُرَجحاً تَضْعِيفِهِ..
6- أشَارَ فِي (1/272) إِلَى تَتَبُّع ألفاظِ حَدِيث فِي "الصحِيحَيْن"، ثُم بَين أنه لم يَجِد لَفْظَةَ ذَكَرَهَا المصَنفُ رحمه الله.
ثَالِثاً: المُنَاقَشَةُ وَالتَعَقب؛ وَمِن أمثَلَتِهِ:
1- نَاقَشَ فِي (1/7) صِحةَ حَدِيثِ القُلتيْن مُؤَيداً ثُبُوتَهُ، ثُم قَالَ:
4- (২/১২) পৃষ্ঠায় তিনি ইবনুল আসীরের "আন-নিহায়া" থেকে উদ্ধৃত করে "আসাবাহ" শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন।
5- (২/১৩) পৃষ্ঠায় তিনি "আওয়ান" শব্দের ব্যাখ্যার ভুল স্পষ্ট করেছেন এবং এতে সঠিক বিষয়টি বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়ত: তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) ও সমালোচনা; এবং এর উদাহরণসমূহ:
1- (১/১২) পৃষ্ঠায় লেখকের কথা: (নারীর ওযুর অতিরিক্ত পানি দিয়ে ওযু করার নিষেধাজ্ঞা) এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন: "এটি সেই হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করে যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুরুষদের বেঁচে যাওয়া পানি দিয়ে নারীদের গোসল করতে নিষেধ করেছেন...", এরপর তিনি বলেন: "আবু দাউদ ও নাসায়ি এটি সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন।"
2- (১/৪২) পৃষ্ঠায় তিনি উদ্ধৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ণনাগুলোর মধ্যকার অতিরিক্ত অংশসমূহ বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করেছেন।
3- (১/১৬৪) পৃষ্ঠায় তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত একটি হাদিসের বিস্তারিত তাখরিজ করেছেন; এর মূল বর্ণনাকারী গ্রন্থকার এবং সাহাবির নাম স্পষ্ট করেছেন।
4- (১/১৯৬) পৃষ্ঠায় তিনি "এক ওয়াসাক হলো ষাট সা'!" হাদিসটির তাখরিজ করেছেন; এর উৎসসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং একে 'ইনকিতা' (সনদ বিচ্ছিন্নতা) এর কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন।
5- (১/২২২) পৃষ্ঠায় তিনি একটি হাদিসের তাখরিজ করেছেন, একদল আলিমের পক্ষ থেকে হাদিসটি সহিহ হওয়ার বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, এরপর যারা একে যয়িফ (দুর্বল) বলেছেন তাদের কারো কারো কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর যয়িফ হওয়ার মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
6- (১/২৭২) পৃষ্ঠায় তিনি "সহিহায়ন" (বুখারি ও মুসলিম)-এ একটি হাদিসের শব্দসমূহ অনুসন্ধান করার বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন, অতঃপর স্পষ্ট করেছেন যে গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) যে শব্দটি উল্লেখ করেছেন তা তিনি খুঁজে পাননি।
তৃতীয়ত: আলোচনা ও পর্যালোচনা; এবং এর উদাহরণসমূহ:
1- (১/৭) পৃষ্ঠায় তিনি 'কুল্লাতাইন' সংক্রান্ত হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর সাব্যস্ত হওয়াকে সমর্থন করেছেন, অতঃপর তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
"فَلَا التِفَاتَ إِلَى قَوْلِ مَنْ ضَعفَهُ؛ لأنهُ وَهَمٌ نَشَأ مِنْ عَدَمِ تَتَبع طُرُقِ الحَدِيثِ".
2- ثُم قَالَ فِي (1/7) حَوْلَ الحَدِيثِ نَفْسِهِ؛ رَاداً عَلَى مَنْ أعَلهُ بِالاضْطِرَابِ، قَائِلاً: "وَخُلَاصَةُ الجَوَابِ أن الحَدِيثَ صَحيحٌ إِسْنَادُهُ، وَالاضْطِرَابُ المَزْعُومُ فِيهِ لَا يَضُر، وَأَن مَتْنَهُ بِلَفْظِ: "قُلتيْن"، وَأما مَا يُخَالِفُهُ؛ فهو إِما شَاذٌّ أوْ ضَعِيف، لا يَنْهَضُ لِمُعَارِضِةِ النص الصحِيحِ".
3- نَاقَشَ فِي (1/5) تَعْلِيلاً مِنَ المؤَلفِ لِحَدِيثِ: "المَاءُ طَهُور
… "، ثم قَالَ: "فَالعِلةُ مَا ذَكَرنا مِنْ الجَهَالَةِ، لا مَا أرَادَ أنْ يُصَورَهُ الشارحُ مِنَ الاخْتِلَافِ".
ْ4- تَعَقبَ فِي (1/13) عَزْوَ المصَنفِ حَدِيثاً لِلبَيْهَقِيٌ؛ قَائِلاً: "لَقَدْ أبْعَدَ المصَنفُ النجْعَةَ، فَالحَدِيثُ رَوَاهُ أبُو دَاوُدَ، وَابْنُ مَاجَه -أيْضاً-، وإسنادُهُ صَحِيحٌ، -كَمَا بَينْتُهُ فِي "صَحِيحِ السنن" (رَقْمِ 408) -".
5- تَعَقبَ فِي (1/14) تَعْلِيلَ المصَنفِ النهْيَ عَن الصلَاةِ فِي معَاطِن الإبِل، بِأنَهَا: "رُبمَا تُؤْذِي المصَلي"! بِقَوْلِهِ: "هذَا التعْلِيلُ لا أصلَ لَهُ فِي السنةِ..".
6- تَعَقبَ فِي (1/157) عَزْوَ المصَنفِ لحَدِيثِ عَنْ سَمُرَةَ فِي "صَحِيحِ مُسْلِم"، وَكَشَفَ مَا فِي طَيٌ ذلِكَ مِنْ وَهَم.
7- رَد عَلَى الصَنفِ فِي (1/173) اسْتِدْلَالَهُ بِحَدِيث عَلَى اتباَع الجَنَازَةِ! بَيْنَما هُوَ فِي الانْصِرَافِ مِنْهَا!
সুতরাং যারা একে দুর্বল বলেছেন তাদের কথার দিকে ভ্রুক্ষেপ করার অবকাশ নেই; কারণ এটি একটি ধারণা মাত্র যা হাদীসের সূত্রসমূহ অনুসরণে ব্যর্থতা থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
২- অতঃপর তিনি (১/৭) পৃষ্ঠায় উক্ত হাদীস সম্পর্কেই যারা একে অসংগতির (ইজতিরাব) কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন তাদের খণ্ডন করে বলেছেন: "জবাবের সারসংক্ষেপ হলো, হাদীসটির সনদ সহীহ এবং এতে দাবিকৃত অসংগতি কোনো ক্ষতি করে না। এর মূল পাঠ 'কুল্লাতাইন' শব্দে সাব্যস্ত। আর যা এর পরিপন্থী, তা হয় শায অথবা দুর্বল, যা সহীহ দলিলের বিরোধিতার জন্য যথেষ্ট নয়।"
৩- তিনি (১/৫) পৃষ্ঠায় "পানি পবিত্র ..." হাদীসটির ব্যাপারে লেখকের দেওয়া একটি কারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং পরে বলেছেন: "মূল ত্রুটি হলো সেই 'জাহালাত' (অজ্ঞাততা) যা আমরা উল্লেখ করেছি, সেটি নয় যা ব্যাখ্যাকারী মতপার্থক্য হিসেবে চিত্রায়িত করতে চেয়েছেন।"
৪- তিনি (১/১৩) পৃষ্ঠায় গ্রন্থকার কর্তৃক একটি হাদীসকে বায়হাকীর দিকে সম্বন্ধ করার সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন: "গ্রন্থকার অনেক দূরবর্তী সূত্র গ্রহণ করেছেন, অথচ হাদীসটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ-ও বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ, যেমনটি আমি 'সহীহ আল-সুনান' (নম্বর ৪০৮) এ স্পষ্ট করেছি।"
৫- তিনি (১/১৪) পৃষ্ঠায় উটের আস্তাবলে সালাত আদায়ে নিষেধ করার ব্যাপারে গ্রন্থকারের দেওয়া কারণ—"সম্ভবত এটি মুসল্লিকে কষ্ট দেয়"—এর সমালোচনা করে বলেছেন: "এই কারণ দর্শানোর কোনো ভিত্তি সুন্নাহতে নেই..."
৬- তিনি (১/১৫৭) পৃষ্ঠায় গ্রন্থকার কর্তৃক সামুরা থেকে বর্ণিত একটি হাদীসকে "সহীহ মুসলিম" এর দিকে সম্বন্ধ করার বিষয়ের সমালোচনা করেছেন এবং এর অন্তরালে থাকা ভুল উন্মোচন করেছেন।
৭- তিনি (১/১৭৩) পৃষ্ঠায় জানাজা অনুসরণের স্বপক্ষে গ্রন্থকারের একটি হাদীস দ্বারা করা দলীল উপস্থাপনের প্রতিবাদ করেছেন! অথচ হাদীসটি ছিল জানাজা থেকে ফিরে আসার ব্যাপারে!
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
8- تَعَقبَ المصَنفَ فِي (1/183) بِنَقْلِهِ عَن الشوْكَانِى نَصّاً، مَعَ تَرْكِهِ جُزْءاً مُهِماً مِنهُ!
رَابِعاً: شَرحُ مُصطَلَحَات حدِيثِية، وَذِكرُ قَوَاعِدَ اصطِلَاحِيةِ؛ وَمِنْ أمثِلَتِهِ:
1- شَرح فِي (1/5) مُصطَلَحَ (غَريب) عِنْدَ ابْن الملَقن، قَالَ: "يَعْنِي: لَا يُعْلَمُ مَنْ رَوَاهُ؛ كَمَا نَص عَلَيْهِ فِي المقَدمَةِ".
2- قَالَ فِي (1/20) : "وَمَرَاسِيلُ الحَسَن ضَعِيفَة، قَالُوا: إِنهَا كَالرٌيحِ".
3- تكلمَ فِي (1/44) عَنْ قَاعِدَةِ انْجِبَارِ الحَدِيثِ بِكَثْرَةِ طرُقِهِ، مُبَيناً شَرطهَا، وَأنْ لَا يكُونَ فِيهَا مُتهَم أو مَتْرُوك.
4- وَكذلِكَ أشَارَ فِي (2/21) إِلَى القَاعِدَةِ نَفْسِهَا.
5- أشَارَ فِي (1/161) إِلَى تسَاهُل ابْن حِبانَ فِي تَوْثِيقِهِ المجَاهِيلَ.
6- بَين فِي (1/165) أن الاستِحبابَ حكْمٌ شَرْعِي، لَا يَثْبُتُ إِلا بِدَلِيل صَحِيح.
7- بَين فِي (2/12) عَدَمَ جَوَازِ رَد الحَدِيثِ بِنِسيَانِ رَاو، مَعَ حِفْظِ آخَرَ لَهُ.
خَامِساً: تَصحِيحُ الأَخْطَاءِ المَطبَعِيةِ وَالسقطِ؛ وَمِن أَمْثِلَتِهِ:
1- قَالَ فِي (1/4) تَعْلِيقاً عَلَى قَولِ المؤَلفِ: (طَالِبُ الحَقٌ الصادِقِ) : "لَعَلهُ: لِلحَقٌ صَادِقٌ".
৮- গ্রন্থকার (১/১৮৩)-তে শাওকানী থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি নকল করার মাধ্যমে তাঁর সমালোচনা করেছেন, তবে তিনি এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দিয়েছেন!
চতুর্থত: হাদিসশাস্ত্রীয় পরিভাষাগুলোর ব্যাখ্যা এবং পারিভাষিক মূলনীতিমালার উল্লেখ; এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১- (১/৫)-তে ইবনুল মুলাক্কিনের নিকট ব্যবহৃত ‘গারিব’ পরিভাষাটি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন: "অর্থাৎ: এটি কে বর্ণনা করেছেন তা জানা যায় না; যেমনটি তিনি তাঁর ভূমিকার মধ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।"
২- (১/২০)-তে তিনি বলেছেন: "হাসানের মুরসাল বর্ণনাগুলো দুর্বল। মুহাদ্দিসগণ বলেছেন: এগুলো বাতাসের মতো।"
৩- (১/৪৪)-তে হাদিসের বহু সূত্রের মাধ্যমে এর দুর্বলতা দূর হওয়ার মূলনীতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এর শর্ত বর্ণনা করেছেন যে, তাতে কোনো অভিযুক্ত বা পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী থাকা চলবে না।
৪- অনুরূপভাবে তিনি (২/২১)-তে একই মূলনীতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
৫- (১/১৬১)-তে তিনি অজ্ঞাত পরিচয় বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য বলার ক্ষেত্রে ইবনে হিব্বানের শিথিলতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
৬- (১/১৬৫)-তে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ‘মুস্তাহাব’ হওয়া একটি শরয়ী বিধান, যা সহিহ দলিল ব্যতীত প্রমাণিত হয় না।
৭- (২/১২)-তে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, একজন বর্ণনাকারীর ভুলে যাওয়ার কারণে হাদিস প্রত্যাখ্যান করা জায়েজ নয়, যখন অন্য কোনো বর্ণনাকারী সেটি মুখস্থ রেখেছেন।
পঞ্চমত: মুদ্রণজনিত ভুল ও বাদ পড়া অংশ সংশোধন; এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১- (১/৪)-তে মূল লেখকের বক্তব্য: "(সত্যের সত্যনিষ্ঠ অন্বেষণকারী)"-এর ওপর টীকা প্রদান করে তিনি বলেছেন: "সম্ভবত পাঠটি হবে: 'সত্যের জন্য সত্যনিষ্ঠ'।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
2- قَالَ فِي (1/10) : "وَلَعَلهُ سَقَطَ مِنْهُ قَوْلُهُ: "كَوْنِهِ سَاكِناً" كَمَا يَدُل عَلَيْهِ السياقُ وَالسباقُ".
3- بَينَ فِي (1/259) خَطَأ فِي النقْل عَن الترْمِذِيٌ تَحْسِينَ حَدِيث، مُشِيراً إِلَى أن ذلِكَ تَحْريف؛ مِنَ الناسخِ، أوِ الطَابعِ!!
سَادِساً: الشرحُ، وَالبَيَانُ، وَالتَعْرِيفُ، ومِنْ أمْثِلَتِهِ:
1- قَالَ فِي (1/43) تَعقِيباً عَلَى قَوْلِ المصَنفِ -فِي شَرح حَدِيثِ "إِنَمَا الأعْمَالُ بِالنياتِ"-: "فَإنْ كَانَ المقَدرُ عَاماً" ما لفظُهُ: "أيْ: لَا عَمَلَ إِلا بِالنيةِ، وَلَما كَانَ هذَا مَتْروكَ الظاهِر -لأن الذوَاتِ غَيْر مُنْتَفِيَةِ- قَيدَهُ الشارعُ بِالعَمَل الشرْعِيٌ، وإنْ كَانَ خَاصّاً بِالأعْمَالِ -الأعْمَالِ الصالِحَةِ- كَمَا يَدُل عَلَيْهِ سِيَاقُ الحَدِيثِ".
2- نَاقَش (1/64) مَسْألَةَ صِفَةِ الحَيْض وَحَقِيقَتِهِ، رَاداً عَلَى المُصَنفِ عَدَمَ اعْتِبَارِهِ الصُّفْرَةَ وَالكُدْرَةَ.
3- قَالَ فِي (1/148) تعْلِيقاً عَلَى قَوْلِهِ "ليْلَةُ الهَرِيرِ": "بِفَتحِ الهَاءِ"، ثَم شرَحَهَا، وَذَكَرَ تَعْريفَهَا نَقْلاً عَن النَوَوِي في "تَهْذِيبِ الأسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ".
4- عَرف فِي (1/150) الفَرْسَخَ، وَالبَريدَ.
5- أفَادَ فِي (1/178) أن الأصْوَبَ فِي بِنَاءِ القَبْر تَسْنِيمُهُ، دُونَ تسطيحه.
6- فَرق فِي (1/253) بَيْنَ سَدْلِ المحرمَةِ عَلَى وَجْهِهَا -فَأجَازَهُ-،
২- তিনি (১/১০)-এ বলেছেন: "সম্ভবত তার থেকে এই কথাটি বাদ পড়েছে: 'সেটি স্থির হওয়া', যেমনটি পূর্বাপর প্রসঙ্গের মাধ্যমে নির্দেশিত হয়।"
৩- তিনি (১/২৫৯)-এ তিরমিযী থেকে কোনো হাদিসকে 'হাসান' বলার বর্ণনায় একটি ভুল স্পষ্ট করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এটি কোনো অনুলিপিকার বা মুদ্রণকারীর পক্ষ থেকে ঘটা একটি বিকৃতি!!
ষষ্ঠত: ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ এবং সংজ্ঞায়ন, আর এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১- তিনি (১/৪৩)-এ "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল" হাদিসটির ব্যাখ্যায় গ্রন্থকারের বক্তব্য—"যদি উহ্য বিষয়টি ব্যাপক হয়"—এর প্রেক্ষিতে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "অর্থাৎ: নিয়ত ব্যতীত কোনো আমল নেই। আর যেহেতু এর বাহ্যিক অর্থ পরিত্যক্ত—কারণ আমলের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায় না—তাই শরিয়ত প্রণেতা একে শরয়ি আমলের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন। আর যদি এটি আমলের ক্ষেত্রে বিশেষ হয়—অর্থাৎ নেক আমল—যেটি হাদিসের প্রসঙ্গের মাধ্যমে নির্দেশিত হয়।"
২- তিনি (১/৬৪)-এ ঋতুর বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃত অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং হলুদ ও মেটে রঙকে (ঋতু হিসেবে) গণ্য না করার বিষয়ে গ্রন্থকারের মত খণ্ডন করেছেন।
৩- তিনি (১/১৪৮)-এ 'লাইলাতুল হারির' কথাটির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "'হা' বর্ণে জবরসহ", এরপর তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং ইমাম নববীর 'তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত' থেকে এর সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন।
৪- তিনি (১/১৫০)-এ 'ফারসাখ' এবং 'বারিদ'-এর সংজ্ঞা দিয়েছেন।
৫- তিনি (১/১৭৮)-এ উল্লেখ করেছেন যে, কবর নির্মাণের ক্ষেত্রে এটি উটের কুঁজের মতো উঁচু করাই অধিক সঠিক, সমতল করা নয়।
৬- তিনি (১/২৫৩)-এ ইহরাম অবস্থায় মহিলার চেহারার ওপর কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য করেছেন—এবং তিনি একে বৈধ বলেছেন—
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَبَيْنَ تَنَقبِهَا -فَمَنَعَهُ-.
7- ثَبتَ فِي (1/254) القَوْلَ بِالإجِمَاع عَلَى إِفْسَادِ الحَجٌ بِالجِمَاع.
سَابِعاً: الاخْتِيَارُ وَالترْجِيحُ؛ وَمِنْ أمثِلَتِهِ:
1- قَالَ فِي (1/18) تَعْقِيباً عَلَى كَلَامِ المصَنفِ حَوْلَ (النجَاسَاتِ) :
"كَانَ اللائِقُ ذِكْرَ المذْي فِي النجَاسَاتِ المَنْصُوص عَلَيْهَا؛ لِوُرُودِ الأَمْر بِغَسلِهِ؛ كَمَا يُشِيرُ المؤَلفُ نَفْسُهُ إِلَى ذلِكَ".
2- نَقَدَ فِي (1/18) نَقْلَ القُرْطُبِي القَوْلَ بِالاتفَاقِ عَلَى نَجَاسَةِ الدمِ؛ مرَجحاً خِلَافَهُ.
3- أفَاضَ فِي (1/60) فِي تَرْجِيحِ عَدَمِ مَشْرُوعِيةِ المسْحِ عَلَى الجَبِيرَةِ، مُنَاقِشاً الدلَائِلَ وَالمسَائِلَ.
4- رَجحَ فِي (1/99) "أن السُّنةَ الوَضع عَلَى الصَدْرِ"، وَبَينَ أن مَا يُخَالِفُهُ: "ضَعِيف بِاتفَاقِ المحَدثِينَ؛ فَلَا يُعْتَمَدُ عَلَيْهِ".
5- رَجحَ فِي (1/156) وَجُوبَ صَلَاةِ الكسُوفِ.
6- رَد فِي (1/180) عَلَى مَنْ مَنَعَ اتباعَ النسَاءِ لِلجَنَائِز، مُبَيناً أنهُ صلى الله عليه وسلم مَنَعَهُن دُونَ عَزْم عَلَيْهِن.
… وَغَيْرُ هذَا وَذَاكَ -كَثِير- مِنْ مَبَاحِثَ شَرْعِيةِ، وَنَقَدَاتِ عِلمِيةِ؛ تُفِيدُ البَاحِثِينَ، وَتَنْفَعُ الراغِبِينَ.
এবং তার নিকাব পরার বিষয়ে - তিনি একে নিষেধ করেছেন।
৭- (১/২৫৪)-তে সহবাসের মাধ্যমে হজ নষ্ট হওয়ার বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্যের কথা সাব্যস্ত করেছেন।
সপ্তম: পছন্দ ও প্রাধান্য প্রদান (ইখতিয়ার ও তারজীহ); এর কিছু উদাহরণ হলো:
১- (১/১৮)-তে লেখক (মুসান্নিফ)-এর 'নাপাকি' (নাজাসাত) সংক্রান্ত আলোচনার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেছেন:
"সরাসরি বর্ণিত নাপাকিগুলোর মধ্যে 'মজি' উল্লেখ করাই অধিক সমীচীন ছিল; যেহেতু এটি ধৌত করার নির্দেশ এসেছে; যেমনটি খোদ লেখক নিজেই সেদিকে ইশারা করেছেন।"
২- (১/১৮)-তে রক্তের নাপাকি বিষয়ে ঐকমত্যের ব্যাপারে কুরতুবীর বর্ণনাকে তিনি সমালোচনা করেছেন এবং এর বিপরীত মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
৩- (১/৬০)-তে জাবীরাহ বা পট্টির ওপর মাসেহ করার বিধান না থাকার বিষয়টিকে তিনি বিস্তারিত দলীল ও মাসআলাসহ আলোচনা করে প্রাধান্য দিয়েছেন।
৪- (১/৯৯)-তে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন যে, "বুকের ওপর হাত রাখাই সুন্নাত", এবং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এর বিপরীত যা রয়েছে তা "মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্যে দুর্বল; সুতরাং এর ওপর নির্ভর করা যাবে না।"
৫- (১/১৫৬)-তে তিনি সূর্যগ্রহণের সালাত (সালাতুল কুসূফ) ওয়াজিব হওয়ার মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
৬- (১/১৮০)-তে তিনি তাদের প্রতিবাদ করেছেন যারা মহিলাদের জানাজার অনুসরণ করতে নিষেধ করেন এবং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কঠোরভাবে বাধ্য না করেই বারণ করেছেন।
... এর বাইরেও এরকম আরও অনেক শরয়ী আলোচনা ও ইলমী সমালোচনা রয়েছে, যা গবেষকদের উপকারে আসবে এবং জ্ঞানপ্রত্যাশীদের কল্যাণ সাধন করবে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فَجَزَى اللهُ -سُبحَانَهُ- خَيْراً: شَيْخَنَا؛ عَلَى مَا قَدمَ -وَيُقَدمُ- مِنْ أعمَال عِلمِية فِقْهِية حَدِيثِة؛ لهَا أثَرُهَا فِي الأمةِ، وَتَأصِيلِ بِنَائِهَا.
আল্লাহ —সুবহানাহু— আমাদের শায়খকে উত্তম প্রতিদান দান করুন; তিনি ইতিপূর্বে যেসকল ইলমি, ফিকহি ও হাদিস বিষয়ক গবেষণাকর্ম পেশ করেছেন —এবং পেশ করে চলেছেন— তার জন্য; উম্মাহর মাঝে যেগুলোর প্রভাব বিদ্যমান এবং যা উম্মাহর ভিত্তিকে সুদৃঢ়করণে সহায়ক।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ترجمة العلامة صدِّيق حسن خانجرى المصنف رحمه الله على أن يترجم لنفسه في خواتيم بعض كتبه الهامة، مثل: "أبجد العلوم" (3/271) ، و "التاج المكلل" (541) ، و"إتحاف النبلاء" (263) ، وفعل مثل ذلك في خاتمة كتابه "الحِطة في ذكر الصحاح الستة" المطبوع -بتحقيقي- (ص 471-485) .
وهو إذ يترجم لنفسه يتوسع في ذلك ويُفيض؛ فيذكر مولده، ونشأته، وأخذه عن العلماء، ورحلاته، وأعماله، ومؤلفاته.
بيد أنه لا مناص في هذه المقدمة من إيراد ترجمة وجيزة مختصرةِ له، تضعُ بين يدي القارىء نبذة من حياتهِ رحمه الله، فأقول:
* هو أبو الطيب، صديق حسن بن علي بن لطف الله الحسيني البخاري القِنوجي، نزيل بهوبال - الهند.
* كان مولده في التاسع عشر من شهر جمادى الأولى سنة ثمان وأربعين ومئتين وألف من الهجرة النبوية، ببلدة "بريلي" موطن جده لأمه، ثم انتقلت أسرته إلى بلدة "قِنوج" موطن آبائه، ولما بلغ السادسة من عمره انتقل والده إلى رحمة الله -تعالى-، وبقي في حِجر أمه يتيماً، ونشأ عفيفاً، طاهراً، محباً للعلم والعلماء.
* سافر إلى "دِهْلِي" ليتم تعليمه فيها، واجتهد في إتقان معارف القرآن
আল্লামা সিদ্দীক হাসান খানের জীবনীলেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের শেষে নিজের জীবনী বর্ণনা করার রীতি অনুসরণ করেছেন, যেমন: "আবজাদুল উলুম" (৩/২৭১), "আত-তাজুল মুকাল্লাল" (৫৪১) এবং "ইতহাফুন নুবালা" (২৬৩)। তিনি তাঁর রচিত "আল-হিত্তাহ ফি জিকরিস সিহাহিস সিততাহ" কিতাবের শেষেও অনুরূপ করেছেন, যা আমার সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে (পৃ. ৪৭১-৪৮৫)।
তিনি যখন নিজের জীবনী বর্ণনা করেন, তখন তাতে বেশ প্রশস্ততা ও বিস্তারিত বর্ণনা অবলম্বন করেন; ফলে তিনি তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ, তাঁর সফরসমূহ, কর্মাবলী এবং তাঁর রচনাবলী উল্লেখ করেন।
তবুও এই ভূমিকায় তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ জীবনী উপস্থাপন করা অনিবার্য, যা পাঠকের সামনে তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) জীবনের এক ঝলক তুলে ধরবে। আমি বলছি:
* তিনি হলেন আবুল তাইয়্যেব, সিদ্দীক হাসান বিন আলী বিন লুতফুল্লাহ আল-হুসাইনী আল-বুখারী আল-কান্নওজী, ভারতের ভুপালের বাসিন্দা।
* তাঁর জন্ম হিজরী ১২৪৮ সালের ১৯শে জুমাদাল উলা মাসে "বেরেলী" শহরে হয়েছিল, যা ছিল তাঁর মাতামহের জন্মস্থান। এরপর তাঁর পরিবার তাঁর পিতৃপুরুষদের আবাসস্থল "কান্নৌজ" শহরে চলে যায়। যখন তাঁর বয়স ছয় বছর হলো, তখন তাঁর পিতা আল্লাহ তাআলার রহমতের দিকে পাড়ি জমান, এবং তিনি তাঁর মায়ের তত্ত্বাবধানে ইয়াতীম হিসেবে লালিত-পালিত হন। তিনি একজন আত্মমর্যাদাশীল, পবিত্র এবং ইলম ও আলেমদের প্রতি অনুরাগী হিসেবে বেড়ে ওঠেন।
* তিনি তাঁর শিক্ষা সমাপ্ত করার জন্য "দিল্লী" সফর করেন এবং কুরআনের জ্ঞানসমূহ আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
والسنة وتدوين علومِهما، وكانت له رغبة في اقتناء الكتب، وفهم زائد في قراءتها، وتحصيل فوائدها، وبخاصّةِ كتب التفسير والحديث والأصول، ثم سافر إلى "بهوبال" طلباً للمعيشة، فتزوج ملكتها، وفاز بثروة وافرة.
* شيوخه عدة: منهم الشيخ محمد يعقوب أخو الشيخ محمد إسحاق حفيد الشيخ عبد العزيز الدهلوي المحدث، ومنهم الشيخ القاضي حسين بن محسن السبيْعي الأنصاري، والشيخ عبد الحق بن فضل الهندي (1) .
* كان له في التأليف مَلكةٌ عجيبة، بحيث يكتب عدة كراريس في يوم واحد، ويصنف الكتب الفخمة في أيام قليلة، وقد شاعت كتبه وانتشرت في أقطار العالم الإسلامي، وكتب له كثير من العلماء رسائل فيها الثناء على كتبه والدعاء له، وعُد من رجال النهضة الإسلامية المجدّدين.
* ترجمه الجمُّ الغفير من المصنفين؛ فله ترجمة في: "طبقات الأصوليين" (3/160) ، و"مشاهير علماء نجد" (541-457) ، و"حلية البشر" (2/
--------------------------------------------
এবং সুন্নাহ ও এই দুইয়ের জ্ঞান লিপিবদ্ধ করা। বই সংগ্রহের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল, এবং সেগুলো পাঠে প্রখর অনুধাবন ও সেখান থেকে উপকারিতা অর্জনে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল; বিশেষ করে তাফসির, হাদিস ও উসুলের কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে। এরপর তিনি জীবিকার অন্বেষণে "ভোপাল" সফর করেন, সেখানকার রানিকে বিবাহ করেন এবং বিপুল ধন-সম্পদ লাভ করেন।
* তার শায়খ বা উস্তাদ ছিলেন অনেক: তাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ মুহাম্মদ ইয়াকুব, যিনি মুহাদ্দিস শায়খ আব্দুল আজিজ দেহলভীর নাতি শায়খ মুহাম্মদ ইসহাকের ভাই ছিলেন। আরও রয়েছেন শায়খ কাজী হুসাইন বিন মুহসিন আস-সুবাইয়ি আল-আনসারি এবং শায়খ আব্দুল হক বিন ফাদল আল-হিন্দি (১)।
* গ্রন্থ রচনায় তার এক বিস্ময়কর প্রতিভা ছিল, যার ফলে তিনি একদিনেই অনেকগুলো পুস্তিকা লিখে ফেলতেন এবং মাত্র কয়েক দিনেই বিশালাকার কিতাবসমূহ সংকলন করতেন। তার কিতাবসমূহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক খ্যাতি ও প্রচার লাভ করেছে। অনেক আলেম তার কিতাবসমূহের প্রশংসা করে এবং তার জন্য দোয়া করে তাকে পত্র লিখেছেন। তাকে ইসলামী নবজাগরণের অন্যতম সংস্কারক (মুজাদ্দিদ) হিসেবে গণ্য করা হয়।
* বহুসংখ্যক লেখক তার জীবনী বর্ণনা করেছেন; তার জীবনী পাওয়া যাবে: "তাবাকাতুল উসুলিয়্যিন" (৩/১৬০), "মাশাহিরু উলামাই নাজদ" (৪৫৭-৫৪১) এবং "হিলইয়াতুল বাশার" (২/
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
746) ، و "أنموذج الأعمال الخيرية" (388) ، و "الأعلام" (6/167) ، و"نزهة الخواطر"، (8/187) و"جلاء العينين" (30) ، و "معجم المؤلفين " (10/90) ، و"هدية العارفين" (2/388) ، و "معجم المطبوعات" (1201) ، و"فهرس الفهارس" (2/1055) ، و"إيضاح المكنون" (1/10) ، و"تاريخ آداب اللغة العربية" (2/96) ، و"المنْجِد" (421) ، و"عثرات المنْجِد" (317) ، و "التعليقات الظراف على الإتحاف" (34) ، و"حركة التأليف باللغة العربية
… " (274) ، و "اكتفاء القنوع" (497) و"تاريخ الأدب العربي" (2/859 - الملحق) ، و"الثقافة الإسلامية في الهند" (141) ، و"كشف الظنون عن كشف الظنون" (ص 3) ، و " مجلة الحج " (11/636) ، و"مجلة الجامعة الإسلامية" (12/47) .
ولسليم فارس الشدْياق كتاب في ترجمته وذكر المثْنِين عليه، اسمه "قرة الأعيان ومسرة الأذهان".
ولابنه علي حسن في سيرته كتاب سماه "مآثر صِديقي"، وآخر سماه " الروض البسام ".
"وترجمه بعضُ العلماء بكتاب اسمه "قَطر الصَّيِّب في ترجمة الإمام أبي الطيب".
وترجم هو لِنَفْسهِ بكتاب سماه "إبقاء المِنن".
وللأستاذ أختر جمال لُقمان رسالة جامعية عن "عقيدة صديق حسن خان"، وهي مطبوعةٌ.
* توفي -رحمه الله تعالى- سنة ألف وثلاث مئة وسبع هجرية، الموافق لسنة ألف وثمان مئة وتسع وثمانين ميلادية، فتكون مدة حياته تسعاً وخمسين
৭৪৬), এবং "আনমুযাজুল আমালিল খাইরিয়্যাহ" (৩৮৮), এবং "আল-আলাম" (৬/১৬৭), এবং "নুযহাতুল খাওয়াতির" (৮/১৮৭), এবং "জালাউল আইনাইন" (৩০), এবং "মুজামুল মুয়াল্লিফীন" (১০/৯০), এবং "হাদিয়াতুল আরিফীন" (২/৩৮৮), এবং "মুজামুল মাতবুআত" (১২০১), এবং "ফিহরিসুল ফাহারিস" (২/১০৫৫), এবং "ঈযাহুল মাকনুন" (১/১০), এবং "তারিখু আদাবিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ" (২/৯৬), এবং "আল-মুনজিদ" (৪২১), এবং "আছরাতুল মুনজিদ" (৩১৭), এবং "আত-তালিকাতুজ জিরাফ আলাল ইতহাফ" (৩৪), এবং "হারাকাতুত তালিফ বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ
… " (২৭৪), এবং "ইকতিফাউল কানূ" (৪৯৭), এবং "তারিখুল আদাবিল আরাবি" (২/৮৫৯ - পরিশিষ্ট), এবং "আস-সাকাফাতুল ইসলামিয়্যাহ ফিল হিন্দ" (১৪১), এবং "কাশফুয যুনুন আন কাশফিশ যুনুন" (পৃষ্ঠা ৩), এবং "মাজাল্লাতুল হাজ্জ" (১১/৬৩৬), এবং "মাজাল্লাতুল জামিয়াতিল ইসলামিয়্যাহ" (১২/৪৭)।
এবং সালিম ফারিস আশ-শিদইয়াকের তাঁর জীবনী এবং তাঁর প্রশংসাকারীদের বর্ণনায় একটি গ্রন্থ রয়েছে, যার নাম "কুররাতুল আইয়ান ওয়া মাসাররাতুল আযহান"।
এবং তাঁর পুত্র আলী হাসানের তাঁর জীবনীর ওপর একটি গ্রন্থ রয়েছে যার নাম তিনি দিয়েছেন "মাআছিরে সিদ্দিকী", এবং অন্যটির নাম "আর-রওযুল বাসসাম"।
"এবং কোনো কোনো আলেম তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন "কাতরুস সায়্যিব ফী তারজামাতিল ইমাম আবিত তাইয়িব" নামক গ্রন্থে।
তিনি নিজের জীবনী নিজেই লিখেছেন "ইবকাউল মিনান" নামক গ্রন্থে।
এবং উস্তাদ আখতার জামাল লোকমানের "সিদ্দিক হাসান খানের আকিদা" বিষয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাপত্র রয়েছে, যা মুদ্রিত।
* তিনি মৃত্যুবরণ করেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—তেরশ সাত হিজরি সনে, যা আঠারশ ঊননব্বই খ্রিস্টাব্দের সমসাময়িক, ফলে তাঁর জীবনকাল ছিল ঊনষাট বছর।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
سنة قمرية، وسبعاً وخمسين سنة شمسية -رحمه الله تعالى رحمة واسعة-.
* بين المتَعاصِرَين:
في الفترة التي عاش فيها العلامةُ الشيخ صديق حسن خان؛ كان هناك عالم كبير لا يقل عنه علماً، ولا ينقص عنه قدراً، وهو العلامة الشيخ عبد الحي اللكنوي -رحمه الله تعالى-، وجرت -على عادة الأقران- بينهما مباحثات علمية، وردود فقهية، وألف كل واحد في الرد على صاحبه كتباً ورسائل، إما تلميحاً أو تصريحاً.
وكانت الحملة موجهة من قِبَل الشيخ اللكنوي أكثر منها من ناحية القِنوجي؛ فلقد أكثر الأول في مَثَاني تصانيفه، وتعليقاتهِ عليها من قوله: "وقال غير ملتزم الصحة من أفاضل عصرنا"! مشيراً بذلك إلى العلامة القِنوجي!!
وبلغت هذه الردود في لحظة من اللحظات أوْجَ الشدةِ، حتى قال الشيخ عبد الحي الحسني رحمه الله واصفاً تلك الردود والمباحثات -في كتابه المستطاب "نزهة الخواطر" (8/236) -: ".... وانجرَّ إلى ما تأباه الفطرة السليمة
… "!
وكان الشيخ اللكنوي حريصاً الحرص كله على متابعة هذه الردود، وَعَدم انقطاعها إلا لصالحه! بدليل ما قاله العلامة عبد الحي الحسني رحمه الله في كتابه "الثقافة الإسلامية في الهند" (ص 86) أثناء تعداده أسماء مصنفات اللكنوي، فقال: "
… و"إبراز الغيّ الواقع في شفاء العي"، و"تذكرة الراشد برد تبصرة الناقد" -كلها بالعربية- للشيخ عبد الحي بن عبد الحليم اللكنوي المذكور، أما "شفاء العي عمّا أورده الشيخ عبد الحي"؛ فهو لبعض العلماء، صنفه في الرد على تعقبات الشيخ عبد الحي المذكور في مصنفاته على السيد
চন্দ্রমাস এবং সাতান্ন সৌর বছর—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন।
* দুই সমসাময়িকের মধ্যে:
আল্লামা শাইখ সিদ্দিক হাসান খান যে সময়ে অতিবাহিত করেছেন, তখন সেখানে এমন এক মহান আলেম ছিলেন যিনি ইলম ও মর্যাদায় তাঁর চেয়ে কোনো অংশে কম ছিলেন না; তিনি হলেন আল্লামা শাইখ আব্দুল হাই লাখনভী (রাহিমাহুল্লাহ)। সমসাময়িকদের রীতি অনুযায়ী তাঁদের উভয়ের মধ্যে ইলমি আলোচনা-পর্যালোচনা ও ফিকহি খণ্ডন-প্রতিবাদ চলত। তাঁদের প্রত্যেকেই একে অপরের খণ্ডনে ইশারা-ইঙ্গিতে অথবা স্পষ্টভাবে বিভিন্ন কিতাব ও রিসালাহ রচনা করেছেন।
এবং এই খণ্ডন অভিযান কান্নুজির তুলনায় শাইখ লাখনভীর পক্ষ থেকেই অধিক পরিচালিত হয়েছিল। কেননা প্রথমোক্ত জন (লাখনভী) তাঁর বিভিন্ন রচনা ও সেগুলোর টীকাতে বারবার এই কথাটি উল্লেখ করতেন: "আমাদের যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে এমন একজন বলেছেন, যিনি সহিহ হওয়ার শর্ত মেনে চলেন না!"—এর মাধ্যমে তিনি আল্লামা কান্নুজিকে ইঙ্গিত করতেন!!
এক পর্যায়ে এই খণ্ডন-প্রতিবাদসমূহ চরম তীব্রতায় পৌঁছায়, এমনকি শাইখ আব্দুল হাই হাসানী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর বরকতময় কিতাব "নুযহাতুল খাওয়াতির" (৮/২৩৬)-এ সেই সব খণ্ডন ও আলোচনা সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: ".... এবং বিষয়টি এমন পর্যায়ে গড়িয়েছে যা সুস্থ প্রকৃতি প্রত্যাখ্যান করে
… "!
শাইখ লাখনভী এই খণ্ডন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার এবং কেবল নিজের পক্ষেই এর পরিসমাপ্তি ঘটানোর ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। এর প্রমাণ হলো আল্লামা আব্দুল হাই হাসানী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর "আস-সাকাফাতুল ইসলামিয়্যাহ ফিল হিন্দ" (পৃ. ৮৬) গ্রন্থে লাখনভীর রচনাবলির তালিকা প্রদানের সময় যা বলেছেন। তিনি বলেন: "
… এবং 'ইবরাযুল গাই আল-ওয়াকি ফি শিফাউল আই', ও 'তাযকিরাতুর রাশিদ বিরাদ্দি তাবসিরাতিন নাকিদ'—এসবই উল্লেখিত শাইখ আব্দুল হাই বিন আব্দুল হালিম লাখনভীর আরবি ভাষায় রচিত গ্রন্থ। পক্ষান্তরে 'শিফাউল আই আম্মা আওরাদাহু আশ-শাইখ আব্দুল হাই' গ্রন্থটি অন্য কোনো আলেমের রচনা, যা তিনি শাইখ আব্দুল হাই কর্তৃক সায়্যিদ (সিদ্দিক হাসান খান)-এর কিতাবসমূহের ওপর করা বিভিন্ন আপত্তির খণ্ডনে লিখেছেন।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
صديق حسن خان القِنّوجي في الوفيات، فأجاب عنه الشيخ عبد الحي في "إبراز الغي"، فرد عليه بعضهم في رسالة مستقلة سماها "تبصرة الناقد برد كيد الحاسد"، فأجاب عنه الشيخ عبد الحي في "تذكرة الراشد
… ". (1)
قلت: ولعل مرجع هذا كله إلى سببين:
الأول: اعتداد اللكنوي بنفسه، واعتقاده أنه يختلف عن علماء عصره، كما قال هو نفسه في "ظَفَر الأماني" (2) (ص 245) : "
… وإني أحمد الله حمداً متوالياً، وأشكره شكراً متتالياً على أن وفقني للتوسط في جميع المباحث الفقهية والحديثية، ورزقني نظراً وسيعاً، وفهماً رفيعاً، أقتدر به على الترجيح فيما بين أقوالهم المتفرقة، ونجاني من بلية تقليد المتشددين المتساهلين تقليداً جامداً، واختيار قول إحدى الطائفتين من دون تبصر وتفكر اختياراً كاسداً، لا أقول هذا تكبراً وفخراً! بل متحدثاً بنعمة الرب وشكراً، ولربي عَلي مِنَنْ مختصة، لا أقدر على عدها، ونِعَمٌ مُتكَثرة لا يمكن مني حصرها، فشكري هو العجز عن أداء شكرها، وأرجو من ربي دوامها وذُخرَها" (3) .
الثاني: جِبِلة القنوجي وطبيعة خِلْقته؛ فقد كان رحمه الله كما وصفه معاصروه "حلو المنطق، مُقِلاً من الكلام، غير جاف ولا عبوس، كثير الحِلم، قليل الغضب، عفيف اللسان، لا يقترح لنفسه شيئاً، مشغول الفكر بالمطالعة
--------------------------------------------
সিদ্দিক হাসান খান কান্নৌজি 'আল-ওয়াফিয়্যাত' গ্রন্থে [লিখেছেন], যার উত্তর দিয়েছেন শেখ আব্দুল হাই 'ইবরাজুল গাই' গ্রন্থে। এরপর তাদের কেউ একজন স্বতন্ত্র একটি রিসালায় এর প্রত্যুত্তর দেন যার নাম তিনি দেন 'তাবসিরাতুন নাকিদ বি-রাদ্দি কাইদিল হাসিদি'। পুনরায় শেখ আব্দুল হাই তার উত্তর দিয়েছেন 'তাযকিরাতুর রাশিদ
… ' গ্রন্থে। (১)
আমি বলছি: সম্ভবত এই সবকিছুর মূল কারণ দুটি:
প্রথম: লাখনভীর নিজের ওপর গভীর আত্মবিশ্বাস এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা যে তিনি তাঁর সমসাময়িক আলেমদের থেকে স্বতন্ত্র, যেমনটি তিনি নিজেই 'যাফারুল আমানি' (২) (পৃ. ২৪৫) গ্রন্থে বলেছেন: "
… আর নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি নিরবচ্ছিন্ন প্রশংসা এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি একের পর এক কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে এই কারণে যে, তিনি আমাকে সমস্ত ফিকহী ও হাদীস সংক্রান্ত আলোচনায় মধ্যপন্থা অবলম্বনের তাওফীক দিয়েছেন এবং আমাকে দান করেছেন এক প্রশস্ত অন্তর্দৃষ্টি ও উচ্চাঙ্গের প্রজ্ঞা, যার মাধ্যমে আমি তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন মতামতগুলোর মাঝে প্রাধান্য নির্ণয়ে সক্ষম হই। আর তিনি আমাকে কঠোরপন্থী ও শিথিলপন্থীদের অন্ধ অনুকরণের বিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং কোনো গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও চিন্তা-গবেষণা ছাড়াই কেবল কোনো এক পক্ষের মতকে গ্রহণ করার অসারতা থেকে বাঁচিয়েছেন। আমি অহংকার বা গর্বের বশবর্তী হয়ে এসব বলছি না! বরং আমার রবের নেয়ামতের বহিঃপ্রকাশ ও শুকরিয়া হিসেবে বলছি। আমার রবের পক্ষ থেকে আমার ওপর এমন কিছু বিশেষ অনুগ্রহ রয়েছে যা আমি গণনা করতে সক্ষম নই এবং এমন অজস্র নেয়ামত রয়েছে যা আমার পক্ষে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তাই আমার কৃতজ্ঞতা হলো তাঁর শোকর আদায়ে নিজের অক্ষমতা স্বীকার করা। আর আমি আমার রবের কাছে এর স্থায়িত্ব ও পারলৌকিক পাথেয় হিসেবে কবুলের আশা রাখি।" (৩)।
দ্বিতীয়: কান্নৌজির স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য ও জন্মগত প্রকৃতি; কেননা তিনি (রহ.) ছিলেন তেমন, যেমনটি তাঁর সমসাময়িকগণ বর্ণনা করেছেন: "মিষ্টভাষী, স্বল্পভাষী, রূঢ় বা বিমর্ষ নন, অত্যন্ত ধৈর্যশীল, ক্রোধহীন, মার্জিত বাক্যের অধিকারী, নিজের জন্য কোনো বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেন না এবং গবেষণামূলক অধ্যয়নে নিমগ্ন থাকতেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والتأليف
… منصفاً، يعرف لأقرانه ولكثير مِمن يخالفه فضلهم
… " (1) .
قلت: ودليل على هذا قول ولده الفاضل السيد علي حسن خان واصفاً حالة والده عند موت اللكنوي -رحمة الله عليه-: "إنه لما بلغه نَعِي العلامة عبد الحي بن عبد الحليم اللكنوي؛ وضع يده على جبهته، وأطرق رأسه برهة، ثم رفع رأسه، وعيناه تدمعان، وهو يدعو للشيخ ويترحم، وقال: اليوم غربت شمس العلم، وقال: إن اختلافنا كان مقصوراً على تحقيق بعض المسائل، ولم يأكل طعاماً في تلك الليلة
… " (2) .
والخلاصة أنّ: "كلام النظير والأقران ينبغي أن يُتأمل، ويُتأنى فيه
… "، كما قال الحافظ الذهبي (3) رحمه الله.
* المنهج التأليفي عند المصنف:
اختلفت أنظار أهل العلم وطلبته في مصنفات العلامة القِنوجي؛ فمنهم مَن قال: إنه لخصها من بعض مصنفات السابقين ولم يزد عليها شيئاً يُذكر! ومنهم من قال: إن سائره من إبداعه، وتصنيفه، وتأليفه!!
ورحم الله العلامةَ الكتاني القائل في كتابهِ "فهرس الفهارس"
(2/1057) رداً على مثل ذلك الادّعاء: "وما لبعض المسيحيين (4) في كتاب له اسمُهُ "اكتفاء القنوع بما هو مطبوع" من أن المترجم -وهو القِنوجي- كان عاميّاً
--------------------------------------------
...এবং সংকলন
… ন্যায়পরায়ণভাবে, তিনি তাঁর সমসাময়িকদের এবং যারা তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করতেন তাদের অনেকেরই শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতেন
… " (১) ।
আমি (লেখক) বলছি: এর প্রমাণ হলো তাঁর সুযোগ্য পুত্র সাইয়্যেদ আলী হাসান খানের উক্তি, যিনি লাখনবী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মৃত্যুর সময় তাঁর পিতার অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: "যখন আল্লামা আব্দুল হাই ইবনে আব্দুল হালীম লাখনবীর মৃত্যুসংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছাল; তিনি তাঁর কপালে হাত রাখলেন এবং কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন, তারপর মাথা তুললেন, তখন তাঁর চোখ দুটি অশ্রুসজল ছিল, তিনি শায়খের জন্য দোয়া করছিলেন ও তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত কামনা করছিলেন। তিনি বললেন: আজ ইলমের সূর্য অস্তমিত হলো। তিনি আরও বললেন: আমাদের মতভেদ কেবল কিছু মাসআলার তাহকীকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি সেই রাতে কোনো খাবার গ্রহণ করেননি
… " (২) ।
সারকথা হলো: "সমপর্যায়ের সমসাময়িকদের একে অপরের সম্পর্কে করা মন্তব্যের ক্ষেত্রে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা ও ধীরস্থির হওয়া উচিত
… ", যেমনটি হাফেজ যাহাবী (৩) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন।
* গ্রন্থকারের রচনা পদ্ধতি:
আল্লামা কান্নুজীর রচনাবলীর বিষয়ে আহলে ইলম ও শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তিনি পূর্বসূরীদের কিছু রচনা থেকে সেগুলো সারসংক্ষেপ করেছেন এবং তাতে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু বৃদ্ধি করেননি! আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এর পুরোটাই তাঁর নিজস্ব সৃজনশীলতা, সংকলন ও রচনা!!
আল্লাহ আল্লামা কিত্তানীর ওপর রহম করুন, যিনি তাঁর "ফিহরিসুল ফাহারিস" কিতাবে বলেছেন—
(২/১০৫৭) এ জাতীয় দাবির জবাবে: "জনৈক খ্রিষ্টানের (৪) একটি বইয়ে—যার নাম 'ইকতিফাউল কানূ বিমা হুয়া মাতবূ'—দাবি করা হয়েছে যে, আলোচ্য ব্যক্তি—অর্থাৎ কান্নুজী—একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وتزوج بملكة بَهُوبال، فعندما اعتزّ بالمال جمع إليه العلماء! وأرسل يبتاع الكتب بخط اليد! وكلّف العلماء بوضع المؤلفات ثم نسبها لنفسه! بل كان يختار الكتب القديمة العديمة الوجود (!) وينسبها لنفسه
… إلخ!! فكلام أعدائه فيه، وإلا فالتآليف تآليفه، ونَفَسُهُ فيها مُتحِدٌ
… ".
قلت: فهذه الدعوى مجازفةٌ واضحةٌ، وفِرْيةٌ عريضةٌ من فنديك المذكور، والصواب ما قاله الكتّاني -رحمه الله تعالى-، وإن كانت السمةُ البارزةُ على مصنفاته رحمه الله التلخيص والتهذيب، والزيادة والترتيب، والجمع والتبويب، وهو بذلك مشابهٌ لإمام كبير من أئمة العلم، وهو الحافظ السيوطي (1) المتوفى سنة (911 هـ) ؛ فقد عُرف عنه المنهج نفسه، وهو منهج يدل على استبحار في العلوم، ونظر في الكتب والفنون، وليس أمراً سهلاً هيناً كما يظنه بعض المنتسبين العلم!
ومِما يُنَبهُ عليه -في هذا المقام- أن الادعاءَ على أهل العلم -أو بعض منهم- بالانتحالِ! والسرقاتِ العلمية (!) شَأن قديمٌ لم يَنْجُ الأكابر -فيه- من كَيْد الأصاغر!! ثم (تجدد) هذا النمَطُ من التُّهَم -هذه الأيامَ- حتّى ألِّفت فيه مؤلفات! وَوُزعت مِن أجلهِ بيانات!! خِدْمة لأهداف مخالفة لمنهج الأسلاف!!!
وترى شيئاً من تفصيل القولِ في هذه المسألةِ (الخطيرة) في كتاب "الفارق بين المصنّف والسارق" للعلامة السيوطي -ومقدمتي عليه-؛ وهو مطبوع -منذ سنوات- بتحقيقي
…وأخيراً؛ رحم اللهُ العلامة صِديق حَسَن خان، وجَمعنا -وإيّاه- في جنتهِ، إنّه -سبحانه- وليُّ ذلك والقادرُ عليه.
--------------------------------------------
তিনি ভোপালের রানীকে বিবাহ করেন। যখন তিনি বিত্তশালী হলেন, তখন তিনি আলেমদের একত্রিত করলেন! তিনি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি ক্রয়ের জন্য লোক পাঠালেন! তিনি আলেমদেরকে গ্রন্থ রচনার দায়িত্ব দিলেন এবং পরবর্তীতে সেগুলোকে নিজের নামে চালিয়ে দিলেন! এমনকি তিনি এমন কিছু প্রাচীন ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ নির্বাচন করতেন যা অস্তিত্বহীন (!) এবং সেগুলোকে নিজের নামে চালিয়ে দিতেন... ইত্যাদি!! এটি মূলত তাঁর শত্রুদের বক্তব্য, অন্যথায় গ্রন্থগুলো তাঁরই রচনা এবং এগুলোর শৈলী অভিন্ন...।
আমি বলছি: এই দাবিটি স্পষ্টত অতিরঞ্জন এবং উল্লিখিত ফনডাইকের পক্ষ থেকে এক বিশাল অপবাদ। সঠিক কথা সেটিই যা কাত্তানী—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—বলেছেন। যদিও তাঁর রচনাবলির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সংক্ষেপণ ও সংস্কার, পরিবর্ধন ও বিন্যাস এবং সংগ্রহ ও অধ্যায় বিন্যাস। এই দিক থেকে তিনি ইলমের ইমামদের মধ্য হতে এক মহান ইমামের সদৃশ, আর তিনি হলেন হাফেজ সুয়ূতী (১), যিনি ৯১১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন; তাঁর ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি সুবিদিত ছিল। আর এই পদ্ধতিটি ইলমের গভীরতা এবং বিভিন্ন গ্রন্থ ও শাস্ত্রের ওপর গভীর দৃষ্টি থাকার প্রমাণ বহন করে। এটি এমন কোনো সহজ বা তুচ্ছ বিষয় নয় যেমনটি ইলমের দাবিদার কেউ কেউ মনে করে থাকে!
এই পর্যায়ে যে বিষয়টি সতর্ক করা প্রয়োজন তা হলো, আলেমদের বা তাঁদের কাউকে গ্রন্থচুরির অপবাদ দেওয়া এবং বুদ্ধিবৃত্তিক তছরুপের (!) অভিযোগ এক প্রাচীন বিষয়। বড় বড় মনীষীরাও ছোটদের চক্রান্ত থেকে এ ক্ষেত্রে রেহাই পাননি!! পরবর্তীতে বর্তমান সময়ে এই ধরণের অপবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, এমনকি এ বিষয়ে স্বতন্ত্র কিতাবও রচিত হয়েছে! এই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিবৃতিও প্রচার করা হয়েছে!! যা মূলত সালাফদের মানহাজ পরিপন্থী লক্ষ্য পূরণের স্বার্থে করা হয়েছে!!!
আপনি এই (বিপজ্জনক) বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার কিছু অংশ আল্লামা সুয়ূতীর গ্রন্থ 'আল-ফারকু বাইনাল মুসান্নিফি ওয়াস সারিক' এবং সেটির ওপর আমার লিখিত ভূমিকায় দেখতে পাবেন; যা আমার সম্পাদনায় কয়েক বছর আগে মুদ্রিত হয়েছে...
পরিশেষে; আল্লাহ তাআলা আল্লামা সিদ্দিক হাসান খানের প্রতি রহম করুন এবং আমাদের ও তাঁকে তাঁর জান্নাতে একত্রিত করুন। নিশ্চয়ই তিনি—সুবহানাহু—এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
"
الدُّرَرُ البهِيةُ" تَعْرِيف وبَيَانٌ* هُوَ مَتْنٌ فِقْهِي مُختصَرٌ؛ اسْمُهُ: "الدُّرَرُ البَهِية فِي المَسَائِل الفِقهِية" (1) ؛ جَمَعَ فِيهِ مُؤَلِّفُهُ -وَهُوَ الإِمَامُ مُحَمدُ بْنُ عَلَيٍّ الشوْكَانِي -رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى- عُيُونَ مَسَائِل الفِقْهِ التِي رَجَحَ دَلِيلُهَا، وَثَبَتَتْ حُجتهَا.
* وَهذَا المتْنُ -عَلَى صِغَرِهِ وَوَجَازَتِهِ- مُحتَو عَلَى أبَوَابِ الفِقْهِ جمِيعِهَا؛ بِعِبَارَة جَامِعَة، وَألفَاظِ بَدِيعَةِ رَائِعَة.
* وَقَدْ شَرَحَهُ -وَاعْتَنَى بِهِ- غَيْرُ وَاحِدِ مِنْ أهْل العِلْمِ؛ مِنْهُمْ:
1- مُؤَلفُهُ نَفْسُهُ؛ بِكِتَابِ اسْمُهُ: "الدرَارِي المضِية شَرْحُ الدررِ البَهِية"، وَهُو مَطبُوعٌ مِرَاراً.
2- وَلَدُ مُؤَلفِهِ، وَهُوَ أحمَدُ بْنُ مَحَمدِ بْن عَلَيِّ الشوْكَانِيُّ -وَقَدْ تُوُفيَ سَنَةَ (1281 هـ) -، بِكِتَاب اسْمُهُ: "السُّمُوطُ الذهَبِية الحَاوِيَةُ لِلدُّرَرِ البَهِية"، وَهُوَ مَطبُوع.
3- صِديق حَسَن خَان، فِي كِتَابِهِ: "الروضَةِ الندِيةِ" (2) -وَهُوَ كِتَابُنَا هذَا-.
--------------------------------------------
"আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ": পরিচিতি ও বর্ণনা* এটি একটি সংক্ষিপ্ত ফিকহী মূলপাঠ (মাতন); এর নাম: "আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ফিল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ" (১); এর লেখক—যিনি হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আলী আশ-শাওকানী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)—এতে ফিকহ শাস্ত্রের সেই সকল মাসআলাগুলোর নির্যাস একত্রিত করেছেন যেগুলোর দলিল অধিক শক্তিশালী এবং যার প্রমাণাদি সুপ্রতিষ্ঠিত।
* এই মাতনটি—ক্ষুদ্রাকৃতি ও সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও—ফিকহের সকল অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে; এতে অত্যন্ত সারগর্ভ অভিব্যক্তি এবং চমৎকার ও সাবলীল শব্দাবলি ব্যবহৃত হয়েছে।
* একাধিক আলিম এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১- স্বয়ং লেখক; তাঁর কিতাবের নাম: "আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ", এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।
২- লেখকের পুত্র, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আশ-শাওকানী—যিনি ১২৮১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন—তাঁর কিতাবের নাম: "আস-সুমুতুজ জাহাবিইয়্যাহ আল-হাওয়িয়াহ লিদ-দুরারিল বাহিয়্যাহ", এটি মুদ্রিত।
৩- সিদ্দিক হাসান খান, তাঁর কিতাব: "আর-রওদাতুন নাদিয়্যাহ" (২)—যা আমাদের বর্তমান এই কিতাব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
4- مُحَمد صُبْحِي حَسَن حَلاق -مُعاصر-، بِكِتَابِ اسْمُهُ: "الأدِلةُ الرضية لِمَتْن الدُّرَرِ البَهِية"، وَهُوَ مَطبُوع.
5- سَعْد الدين بن محمد الكُبي -معاصر-؛ بكتابِ اسمُهُ: "التعليقات الزهية على الدُّرر البهية"، وهو مطبوع.
6- وَهُنَاكَ نَظم لِـ "الدُّرَرِ البَهِيةِ" بقلم (عَلِي بْن مُحَمدِ بْن عَقِيل الحَازِمِيٌ) المُتَوَفى سَنَةَ (1252 هـ) ، كَمَا فِي "نَيْل الوَطَرِ" (2/160) .
7- وَنَظمٌ آخَر مَبْنِي عَلَى "الدررِ" لـ (عَلَيٌ بن عَبْدِ الله الإِرْيَانِي) المتَوَفى سَنَةَ (1323 هـ) ، كَمَا فِي كِتَابِ "هِجَر العِلْمِ وَمَعَاقِلِهِ فِي اليَمَن" (1/69) .
* وَلَيْسَتْ هذِهِ العِنَايَةُ مِنْ أهْل العِلمِ -هَؤُلَاءِ- إِلا مِنْ أجْل مكَانَتِهِ وَمَتَانَتِهِ.
فَرَحِمَ اللهُ مُؤَلفَهُ، وَأعْلَى مَقَامَهُ فِي الدارَيْن؛ بِمَنِّ اللهِ -سُبْحَانَهُ- وَكَرَمِهِ.
৪- মুহাম্মদ সুবহি হাসান হাল্লাক -সমকালীন-, "আল-আদিল্লাহ আর-রাদিয়্যাহ লি-মাতন আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ" নামক কিতাবের মাধ্যমে, এবং এটি মুদ্রিত।
৫- সাদ আদ-দ্বীন ইবনে মুহাম্মদ আল-কুবি -সমকালীন-; "আত-তালিকাত আজ-জাহিয়্যাহ আলা আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ" নামক কিতাবের মাধ্যমে, এবং এটি মুদ্রিত।
৬- আর "আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ"-এর একটি কাব্যরূপ রয়েছে যা (আলী বিন মুহাম্মদ বিন আকীল আল-হাজিমি) কর্তৃক রচিত, যিনি (১২৫২ হিজরি) সালে মৃত্যুবরণ করেছেন, যেমনটি "নাইলুল ওয়াতার" (২/১৬০) কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
৭- এবং "আদ-দুরার"-এর উপর ভিত্তি করে আরেকটি কাব্যরূপ রয়েছে যা (আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-ইরয়ানি) কর্তৃক রচিত, যিনি (১৩২৩ হিজরি) সালে মৃত্যুবরণ করেছেন, যেমনটি "হিজারুল ইলম ওয়া মাআকিলিহি ফিল ইয়ামান" (১/৬৯) কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
* আলেমগণের এই বিশেষ গুরুত্ব প্রদান কেবল এর উচ্চ মর্যাদা এবং এর সুদৃঢ় গাঁথুনির কারণেই।
সুতরাং আল্লাহ এর লেখকের ওপর রহম করুন এবং উভয় জগতে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন; আল্লাহ সুবহানাহুর অনুগ্রহ ও করুণায়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
صورة غلاف النسخة المعتمدة في التحقيق وظاهر فيها خطوط شيخنا الألباني ومن ذلك عنوان كتابه
তাহকীকে (সম্পাদনায়) নির্ভরযোগ্য হিসেবে গৃহীত সংস্করণের প্রচ্ছদচিত্র, যাতে আমাদের শায়খ আলবানীর হস্তলিপি দৃশ্যমান এবং এর মধ্যে তাঁর কিতাবের শিরোনামও রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
صورة نموذج من تعليقات شيخنا الألباني على الجزء الأول من "الروضة الندية"
“আর-রাওজাতুন নাদিয়্যাহ” গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের ওপর আমাদের শায়খ আলবানীর টীকা-সংবলিত একটি নমুনা চিত্র
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ওয়ার-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ওয়াত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
صورة نموذج من التعليقات (الكبيرة) التي أثبتها شيخنا الألباني في نسخته
আমাদের শায়খ আলবানী তাঁর পাণ্ডুলিপিতে যে (দীর্ঘ) টীকাগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন, তার একটি নমুনার চিত্র।