(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: -)
البعث والنشور للبيهقي ت حيدر القسم: كتب السنة
الكتاب: البعث والنشور للبيهقي
المؤلف: أحمد بن الحسين بن علي بن موسى الخُسْرَوْجِردي الخراساني، أبو بكر البيهقي (ت 458 هـ)
الحافظ أبي بكر أحمد بن الحسين البيهقي المتوفى سنة 458 هـ
تحقيق: الشيخ عامر أحمد حيدر
الناشر: مركز الخدمات والأبحاث الثقافية، بيروت
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 336
تنبيه: هذه الطبعة تشتمل على نصف الكتاب فقط، وله طبعة أخرى تامّة بتحقيق أبي عاصم الشوامي، وهي منشورة أيضا بالشاملة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-বা’স ওয়ান নুশূর লিল বায়হাকী (তাহকীক: হায়দার) বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-বা’স ওয়ান নুশূর লিল বায়হাকী
লেখক: আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন মুসা আল-খুসরাওজারদী আল-খুরাসানী, আবু বকর আল-বায়হাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি)
আল-হাফিয আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-বায়হাকী, মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি
তাহকীক: শায়খ আমির আহমদ হায়দার
প্রকাশক: মারকাযুল খিদমাত ওয়াল আবহাস আস-সাকাফিয়্যাহ, বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৬
সতর্কতা: এই সংস্করণটিতে কিতাবটির কেবল অর্ধাংশ রয়েছে, এবং আবু আসিম আশ-শাওয়ামীর তাহকীককৃত এর অন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ রয়েছে, যা শামিলাতেও প্রকাশিত হয়েছে
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
بَابُ قَوْلِهِ عز وجل" {وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ} [الأنبياء: 28] مَعَ سَائِرِ مَا يَحْتَجُّ بِهِ مَنْ أَنْكَرَ الشَّفَاعَةَ"
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: "এবং তারা কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত" [সূরা আল-আম্বিয়া: ২৮] এবং সুপারিশ অস্বীকারকারীরা যা কিছু দলিল হিসেবে পেশ করে থাকে সেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ الْمُزَكِّي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْعَبْدِيُّ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ كَعْبٍ الْحَلَبِيُّ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ زُهَيْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْعَنْبَرِيُّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَلَا قَوْلَ اللَّهِ عز وجل « {وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ» } [الأنبياء: 28] فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ شَفَاعَتِي لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ قَالَ الشَّيْخُ طَاهِرٌ: هَذَا يُوجِبُ أَنْ تَكُونَ الشَّفَاعَةُ لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ يَخْتَصُّ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دُونَ الْمَلَائِكَةِ، إِنَّمَا يَشْفَعُونَ فِي الصَّغَائِرِ أَوْ فِي اسْتِزَادَةِ الدَّرَجَاتِ. وَقَدْ يَكُونُ الْقَصْدُ مِنْهُ بَيَانُ كَوْنِ الْمَشْفُوعِ لَهُ مُرْتَضٍ بِإِيمَانِهِ وَإِنْ كَانَتْ لَهُ كَبَائِرُ الذُّنُوبِ دُونَ الشِّرْكِ. فَيَكُونُ الْمُرَادُ بِالْآيَةِ نَفْيَ الشَّفَاعَةِ لِلْكُفَّارِ وَأَنَّ أَحَدًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ وَلَا مِنَ الْأَنْبِيَاءِ الْمُرْسَلِينَ لَا يَجْتَرِئُ عَلَى أَنْ يَشْفَعَ لِأَحَدٍ مِنَ الْكَافِرِينَ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يَأْذَنْ بِهِ وَلَمْ يَرْتَضِ اعْتِقَادَهُ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আহমদ আল-মুযাক্কি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-আবদি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াকুব বিন কাব আল-হালাবি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ওয়ালিদ বিন মুসলিম, যুহাইর বিন মুহাম্মদ আল-আনবারি থেকে, তিনি জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করলেন: {আর তারা সুপারিশ করে না কেবল তাদের জন্য যাদের ব্যাপারে তিনি সন্তুষ্ট, এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত।} [আল-আম্বিয়া: ২৮]। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আমার সুপারিশ আমার উম্মতের কবীরা গুনাহকারীদের জন্য।" আবু আব্দুল্লাহ বলেন: এটি একটি সহীহ হাদীস। শায়খ তাহির বলেন: এটি একথাই প্রমাণ করে যে, কবীরা গুনাহকারীদের জন্য সুপারিশ করা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য সুনির্দিষ্ট, ফেরেশতাদের জন্য নয়। ফেরেশতারা কেবল সগীরা গুনাহের ক্ষেত্রে অথবা মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করবেন। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে এটি স্পষ্ট করা যে, যার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে সে তার ঈমানের কারণে আল্লাহর সন্তোষভাজন, যদিও তার শিরক ব্যতিরেকে কবীরা গুনাহ থেকে থাকে। সুতরাং আয়াতের উদ্দেশ্য হলো কাফেরদের ক্ষেত্রে সুপারিশ নাকচ করা; এবং এটি যে, নৈকট্যপ্রাপ্ত কোনো ফেরেশতা কিংবা প্রেরিত কোনো নবী কাফেরদের কারো জন্য সুপারিশ করার সাহস করবেন না। কেননা আল্লাহ তাআলা এর অনুমতি প্রদান করেননি এবং তাদের আকিদার (বিশ্বাসের) প্রতি সন্তুষ্ট নন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ الْمُزَكِّي، أَنْبَأَ أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدوسٍ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: « {وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى» } [الأنبياء: 28] يَقُولُ: «الَّذِينَ ارْتَضَاهُمْ بِشَهَادَةِ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যাকারিয়া ইবন আবু ইসহাক আল-মুযাক্কী, আমাদের অবহিত করেছেন আবুল হাসান আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবন সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন সালিহ, মুআবিয়া ইবন সালিহ থেকে, তিনি আলী ইবন আবু তালহা থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন: « {এবং তারা কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট} » [আল-আম্বিয়া: ২৮], তিনি বলেন: «যাদের প্রতি তিনি 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'—এই সাক্ষ্যের কারণে সন্তুষ্ট হয়েছেন»
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَسَنِ الْقَاضِي، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحُسَيْنِ، ثنا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسَ، ثنا وَرْقَاءُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى « {لِلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعًا» } [الزمر: 44] يَقُولُ: «لَا يَشْفَعُ أَحَدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ» وَفِي قَوْلِهِ « {وَلَا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ» } [الزخرف: 86] يَعْنِي عِيسَى وَعُزَيْرًا وَالْمَلَائِكَةَ، يَقُولُ: «لَا يَشْفَعُ عِيسَى وَعُزَيْرٌ وَالْمَلَائِكَةُ إِلَّا لِمَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ» {وَهُمْ يَعْلَمُونَ "} [البقرة: 75] أَيْ: عَلِمَ الْحَقَّ " وَفِي قَوْلِهِ: « {وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى» } [الأنبياء: 28] يَعْنِي «لِمَنْ رَضِيَ عَنْهُ» قَالَ الشَّيْخُ: وَكُلُّ هَذَا يَرْجِعُ إِلَى أَنَّهُمْ لَا يَشْفَعُونَ لِلْكُفَّارِ، وَرَضِيَ اللَّهِ تَعَالَى عَنِ الْعَبْدِ إِرَادَتُهُ مَغْفِرَتَهُ وَالْعَفْوَ عَنْهُ وَإِكْرَامَهُ بِإِدْخَالِهِ الْجَنَّةَ، فَالشُّفَعَاءُ مِنَ الْمَلَائِكَةِ وَالْأَنْبِيَاءِ دُونَ الْأَوْلِيَاءِ يَشْفَعُونَ لِمَنْ سَبَقَ فِي عِلْمِ اللَّهِ تَعَالَى الرِّضَا عَنْهُ حَتَّى يُوصَلَ إِلَيْهِ مَا يَقْتَضِيهِ رِضَاهُ عَنْهُ وَقَدْ يَكُونُ الْمُرَادُ بِالْآيَةِ « {وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى» } [الأنبياء: 28] أَنْ يَشْفَعُوا لَهُ، كَقَوْلِهِ « {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ» } [البقرة: 255] قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُلَيْمِيُّ: وَأَمَّا قَوْلُ اللَّهِ عز وجل « {يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِنَفْسٍ شَيْئًا» } [الانفطار: 19] فَإِنَّهُ لَا يَدْفَعُ الشَّفَاعَةَ؛ لِأَنَّ الْمُرَادَ بِالْمُلْكِ الدَّفْعَ بِالْقُوَّةِ كَمَا يَكُونُ فِي الدُّنْيَا أَنْ يَدْفَعَ النَّاسُ بَعْضَهُمْ عَنْ بَعْضٍ وَعَنْ أَنْفُسِهِمْ بِالْقُوَّةِ وَلَا يَكُونُ ذَلِكَ يَوْمَ الدِّينِ. وَالشَّفَاعَةُ لَيْسَتْ مِنْ هَذَا الْبَابِ لِأَنَّهَا تَذَلُّلٌ مِنَ الشَّافِعِ لِلْمَشْفُوعِ عِنْدَهُ وَإِقَامَةُ الشَّفِيعِ تَذَلُّلٌ مِنَ الْمَشْفُوعِ لَهُ فَلَا يَوْمَ هِيَ أَلْيَقُ بِهِ وَأَشْبَهُ بِأَحْوَالِهِ مِنْ يَوْمِ الدِّينِ "
৩ - আমাদের জানিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনুল হাসান আল-কাজী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহীম ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদম ইবনে আবি ইয়াস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ারকা, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন মহান আল্লাহর বাণী: “সকল সুপারিশ আল্লাহরই মালিকানাধীন” [আয-যুমার: ৪৪] সম্পর্কে, তিনি বলেন: “তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ সুপারিশ করতে পারবে না।” এবং আল্লাহর বাণী: “তিনি ছাড়া তারা যাদের আহ্বান করে, তারা সুপারিশ করার মালিক নয়; তবে তারা ছাড়া যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং তারা...” [আয-যুখরুফ: ৮৬], অর্থাৎ ঈসা, উযাইর এবং ফেরেশতাগণ। তিনি বলেন: “ঈসা, উযাইর এবং ফেরেশতাগণ কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করবেন যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয়।” “এবং তারা জানে” [আল-বাকারাহ: ৭৫], অর্থাৎ: “সত্য সম্পর্কে জেনেছে।” এবং আল্লাহর বাণী: “তারা কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট” [আল-আম্বিয়া: ২৮], অর্থাৎ: “যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন।” শাইখ বলেন: এ সবকিছুর সারকথা হলো তারা কাফেরদের জন্য সুপারিশ করবে না। আর বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির অর্থ হলো তাকে ক্ষমা করার, তাকে মার্জনা করার এবং জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যমে তাকে সম্মানিত করার ইচ্ছা পোষণ করা। সুতরাং ফেরেশতা ও নবীগণের মধ্য থেকে যারা সুপারিশকারী হবেন, এবং ওলীগণও, তাঁরা কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করবেন যাদের প্রতি আল্লাহর জ্ঞানে পূর্ব থেকেই সন্তুষ্টি সাব্যস্ত হয়েছে, যাতে তাঁর সন্তুষ্টির দাবি অনুযায়ী যা প্রাপ্য তা তাদের নিকট পৌঁছানো যায়। আর কখনো এই আয়াতের: “তারা কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট” [আল-আম্বিয়া: ২৮] অর্থ হতে পারে যে, তারা যেন তার জন্য সুপারিশ করার অনুমতি পায়, যেমন তাঁর বাণী: “কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া?” [আল-বাকারাহ: ২৫৫]। আবু আব্দুল্লাহ আল-হুলাইমী বলেন: আর মহান আল্লাহর বাণী: “যেদিন কোনো সত্তা অন্য কোনো সত্তার জন্য কোনো কিছুর ক্ষমতা রাখবে না” [আল-ইনফিতার: ১৯], এটি সুপারিশকে নাকচ করে না; কারণ এখানে ‘ক্ষমতা’ বলতে শক্তির মাধ্যমে প্রতিরোধ করাকে বোঝানো হয়েছে, যেমন দুনিয়াতে মানুষ একে অপরকে বা নিজেদেরকে শক্তির মাধ্যমে রক্ষা করে থাকে, কিন্তু শেষ বিচারের দিনে তেমনটি হবে না। আর সুপারিশ এই পর্যায়ের বিষয় নয়; কারণ সুপারিশ হলো সুপারিশকারীর পক্ষ থেকে যাঁর নিকট সুপারিশ করা হচ্ছে তাঁর সামনে বিনয় প্রকাশ করা, আর সুপারিশকারীর উপস্থিতি হলো যার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে তার পক্ষ থেকে বিনয় প্রকাশ করা। সুতরাং শেষ বিচারের দিনের চেয়ে সুপারিশের জন্য অধিক উপযোগী এবং এর অবস্থার সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ অন্য কোনো দিন হতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
4 - وَأَمَّا الْحَدِيثُ الَّذِي أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْفَقِيهُ الشِّيرَازِيُّ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى الْحَكَّانِيُّ، ثنا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ الْحِمْصِيُّ، بِسَلَمِيَةَ فِي سَنَةِ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَمِائَتَيْنٍ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ أَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل " {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [الشعراء: 214] قَالَ: «يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ، لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، يَا عَبَّاسُ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، يَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، يَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَلِينِي مَا شِئْتِ لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا» فَقَدْ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ أَبِي الْيَمَانِ، وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ وَأَخْرَجَهُ مِنْ أَوْجُهٍ أُخَرَ وَقَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُلَيْمِيُّ فِي مَعْنَاهُ: " قَدْ يَخْرُجُ عَلَى أَنْ يَكُونَ نَهَاهُمْ عَنِ التَّقْصِيرِ فِي حُقُوقِ اللَّهِ تَعَالَى اتِّكَالًا عَلَى أَنَّهُمْ عَشِيرَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَعَلَّهُمْ لَا يُسْأَلُونَ عَمَّا يَعْمَلُونَ لِأَجْلِهِ، فَأَخْبَرَهُمْ أَنَّ اتِّصَالَهُمْ بِهِ لَا يُسْقِطُ عَنْهُمْ تَبِعَاتِ أَعْمَالِهِمْ، وَأَنَّهُمْ مَسْئُولُونَ مُحَاسَبُونَ كَغَيْرِهِمْ، وَأَمْرُهُمْ بَعْدَ ذَلِكَ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ وَإِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُمْ. وَلَمْ يُرِدْ بِهِ أَنَّهُ لَا يَشْفَعُ لَهُمْ وَلَيْسَتِ الشَّفَاعَةُ أَغْنَى عَنْهُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا لِأَنَّ الشَّفَاعَةَ فِيمَا بَيْنَنَا غَيْرُ مُوجِبَةٍ، فَكَيْفَ نَتَوَهَّمُ أَنْ تَكُونَ الشَّفَاعَةُ عِنْدَ اللَّهِ مُوجِبَةٌ. وَالَّذِي يَدُلُّ عَلَى صِحَّةِ هَذَا مَا
4 - আর যে হাদীসটি সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-ফকিহ আশ-শিরাজি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুযানী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-হাক্কানী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আল-ইয়ামান আল-হাকাম ইবনে নাফি' আল-হিমসি, সালামিয়াতে দুইশত একুশ হিজরি সনে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, যুহরী থেকে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: যখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা "আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন" [আশ-শুআরা: ২১৪] আয়াতটি নাযিল করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) দাঁড়ালেন এবং বললেন: "হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদের আত্মাকে (নেক আমলের বিনিময়ে আল্লাহর শাস্তি থেকে) মুক্ত করে নাও, আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের বাঁচাতে আমি কোনো কিছুর সামর্থ্য রাখি না। হে আবদে মানাফের বংশধরেরা! আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের বাঁচাতে আমি কোনো কিছুর সামর্থ্য রাখি না। হে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব! আল্লাহর পাকড়াও থেকে আপনাকে বাঁচাতে আমি কোনো কিছুর সামর্থ্য রাখি না। হে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ফুফু সাফিয়্যাহ! আল্লাহর পাকড়াও থেকে আপনাকে বাঁচাতে আমি কোনো কিছুর সামর্থ্য রাখি না। হে মুহাম্মদের কন্যা ফাতেমা! তুমি আমার নিকট যা ইচ্ছা চেয়ে নাও, কিন্তু আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাকে বাঁচাতে আমি কোনো কিছুর সামর্থ্য রাখি না।" ইমাম বুখারী এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু আল-ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম এটি ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি যুহরী থেকে—এই সূত্রে এবং আরও অন্যান্য বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু আব্দুল্লাহ আল-হুলাইমী এর অর্থের বিষয়ে বলেছেন: "এটি এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে, তিনি তাদের আল্লাহর হকের ব্যাপারে অবহেলা করতে নিষেধ করেছেন এই ভরসায় যে তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকটাত্মীয় এবং সম্ভবত এর কারণে তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। তাই তিনি তাদের জানিয়ে দিলেন যে, তাঁর সাথে তাদের এই সম্পর্ক তাদের আমলের পরিণাম থেকে তাদের নিষ্কৃতি দেবে না, বরং অন্যদের মতো তারাও জিজ্ঞাসিত হবে ও তাদের হিসাব নেওয়া হবে। এরপর তাদের বিষয়টি মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন, তিনি চাইলে তাদের শাস্তি দেবেন এবং চাইলে তাদের ক্ষমা করবেন। তিনি এর দ্বারা এটি বোঝাতে চাননি যে তিনি তাদের জন্য সুপারিশ করবেন না। আর সুপারিশ এমন বিষয় নয় যা আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো সামর্থ্য রাখে; কারণ আমাদের নিজেদের মধ্যে যে সুপারিশ প্রচলিত আছে তাও তো কোনো কিছুকে অবধারিত করে না, তবে আমরা কীভাবে ধারণা করতে পারি যে আল্লাহর কাছে সুপারিশ কোনো কিছুকে অবধারিত করবে। আর যে বিষয়টি এর বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে তা হলো যা..."
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْغَضَائِرِيُّ بِبَغْدَادَ، أَنْبَأَ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّزَّازُ إِمْلَاءً، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ التَّمْتَامُ، ثنا أَبُو حُذَيْفَةَ ⦗ص: 58⦘ مُوسَى بْنُ مَسْعُودٍ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: جَاءَ الْعَبَّاسُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «إِنَّكَ قَدْ تَرَكْتَ فِينَا ضَغَائِنَ مُذْ صَنَعْتَ الَّذِي صَنَعْتَ» ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَبْلُغُوا الْخَيْرَ» ، أَوْ قَالَ: «الْإِيمَانَ حَتَّى يُحِبُّوكُمْ لِلَّهِ عز وجل وَلِقَرَابَتِي، أَتَرْجُو سَلْهَمٌ - حَيُّ مِنْ مُرَادٍ - شَفَاعَتِي وَلَا تَرْجُو بَنُو عَبْدِ الْمُطَّلِبِ شَفَاعَتِي؟»
৫ - বাগদাদে আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-গাদাইরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আমর আর-রাজজাজ শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন গালিব বিন হারব আত-তামতাম আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু হুজাইফা ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘ মুসা বিন মাসউদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু আদ-দুহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্বাস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: «আপনি যা করেছেন, তা করার পর থেকে আপনি আমাদের মাঝে এক ধরণের বিদ্বেষ রেখে গেছেন», তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তারা কল্যাণে পৌঁছাতে পারবে না», অথবা তিনি বললেন: «ঈমানে পৌঁছাতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং আমার আত্মীয়তার কারণে তোমাদের ভালোবাসবে। সালহাম - যারা মুরাদ গোত্রের একটি শাখা - তারা কি আমার শাফায়াতের আশা রাখবে, আর বনু আবদুল মুত্তালিব কি আমার শাফায়াতের আশা রাখবে না?»
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْهَاشِمِيُّ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّزَّازُ، ثنا أَبُو قِلَابَةَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنِ مُحَمَّدٍ الرَّقَاشِيُّ، ثنا أَبُو حُذَيْفَةَ، بِإِسْنَادِهِ هَذَا قَالَ: قَالَ الْعَبَّاسُ: مَا نَلْقَى يَا رَسُولَ اللَّهِ مِنْ قُرَيْشٍ إِذَا تَلَاقَوْا تَلَاقَوْا بِوُجُوهٍ مُشْرِقَةٍ، وَإِذَا لَقِينَاهُمْ لَقُونَا بِغَيْرِ ذَلِكَ؟ فَقَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ، حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى يُحِبُّوكُمْ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ يَرْجُو مُرَادٌ شَفَاعَتِي وَلَا تَرْجُوهَا بَنُو عَبْدِ الْمُطَّلِبِ؟» وَصَلَهُ أَبُو حُذَيْفَةَ وَرَوَاهُ أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ وَغَيْرُهُ عَنِ الثَّوْرِيِّ مُرْسَلًا، وَكَذَلِكَ رَوَاهُ حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ مُرْسَلًا
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহীম আল-হাশিমী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আমর আর-রাযযায, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু কিলাবা আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আর-রাকাশী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হুযায়ফা, তিনি এই একই সনদসহ বলেন: আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কুরাইশদের পক্ষ থেকে কীসের সম্মুখীন হচ্ছি? যখন তারা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন উজ্জ্বল ও হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাৎ করে; আর যখন আমরা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করি, তখন তারা আমাদের সাথে অন্যরকম (বিমুখ) আচরণ করে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা ঈমান আনবে, আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য তোমাদের ভালোবাসবে। মুরাদ কি আমার সুপারিশের আশা করে, আর বনু আব্দুল মুত্তালিব কি তা আশা করে না?» আবু হুযায়ফা একে মাওসুল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর আবু আহমাদ আস-যুবাইরী এবং অন্যরা সাওরী থেকে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে হাসসান ইবনে ইবরাহীমও সাঈদ ইবনে মাসরুক থেকে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ أَبِي الْمَعْرُوفِ الْفَقِيهُ، أَنْبَأَ بِشْرُ بْنُ أَحْمَدَ الْإِسْفَرَايِينِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ نَصْرٍ الْحَرُّ، أَنْبَأَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، ثنا حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْكَرْمَانِيُّ، ثنا سَعِيدُ بْنُ مَسْرُوقٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، قَالَ: أَتَى الْعَبَّاسُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: إِنَّا لَنَعْرِفُ الضَّغَائِنَ فِي أُنَاسٍ مِنْ قَوْمِنَا فِي وَقَائِعَ أَوْقَعْنَاهَا، فَقَالَ: " أَمَا إِنَّهُمْ لَمْ يَبْلُغُوا خَيْرًا حَتَّى يُحِبُّوكُمْ لِقَرَابَتِي تَرْجُو شَفَاعَتِي سَلْهَبٌ قَالَ: حَيُّ مِنَ الْيَمَنِ، وَلَا تَرْجُوهَا بَنُو عَبْدِ الْمُطَّلِبِ؟ " كَذَا قَالَ بِالْبَاءِ
৭ - আবু আল-হাসান বিন আবি আল-মা’রুফ আল-ফকীহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বিশর বিন আহমদ আল-ইসফারাঈনী আমাদের জানিয়েছেন, আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন নাসর আল-হার্র আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আল-মাদীনী আমাদের জানিয়েছেন, হাসান বিন ইবরাহীম আল-কিরমানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন মাসরূক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবূ আদ-দুহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, "নিশ্চয়ই আমরা আমাদের সম্প্রদায়ের কিছু লোকের মধ্যে এমন সব যুদ্ধের কারণে বিদ্বেষ লক্ষ্য করছি যা আমরা সংঘটিত করেছি।" তখন তিনি বললেন: "জেনে রেখো, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো কল্যাণে পৌঁছাতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা আমার সাথে তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে তোমাদের ভালোবাসবে। সালহাব কি আমার সুপারিশের আশা রাখবে —বর্ণনাকারী বলেন: তারা ইয়ামেনের একটি গোত্র— আর আবদুল মুত্তালিবের বংশধরেরা কি তা আশা করবে না?" বর্ণনাকারী বলেন: তিনি এভাবেই ‘বা’ অক্ষর যোগে কথাটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
8 - وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانٍ، أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، ثنا أَبِي، ثنا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَتِ امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ تَحْتَ رَجُلٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَكَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا شَيْءٌ، فَقَالَ لَهَا: سَتَعْلَمِينَ وَاللَّهِ أَنَّهُ لَا يَنْفَعُكِ قَرَابَتُكِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُغْضَبًا فَقَالَ: «مَا بَالُ رِجَالٍ يَزْعُمُونَ أَنَّ قَرَابَتِي لَا تَنْفَعُ، وَأَنِّي لَتَرْجُو شَفَاعَتِي صُدَيُّ وَسَلْهَبٌ» قَالَ: فَسَأَلْتُ أَبَا عُبَيْدٍ عَنْ صُدَيٍّ وَسَلْهَبٍ قَالَ: حَيَّانِ مِنَ الْيَمَنِ
8 - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আহমদ ইবনে আবদান, আমাদের জানিয়েছেন আহমদ ইবনে উবাইদ আস-সাফফার, আমাদের বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে মুহাম্মদ আজ-জাফরানি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল মাদিনি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের বর্ণনা করেছেন সুহাইল ইবনে আবি সালিহ, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বনু হাশিম গোত্রের এক মহিলা কুরাইশ বংশীয় এক ব্যক্তির অধীনে (স্ত্রী হিসেবে) ছিলেন। তাদের উভয়ের মাঝে কোনো একটি বিষয়ে বিবাদ সৃষ্টি হলো। তখন সেই ব্যক্তি তাকে বলল: আল্লাহর কসম, তুমি অচিরেই জানতে পারবে যে, আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে তোমার আত্মীয়তা তোমার কোনো উপকারে আসবে না। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগান্বিত অবস্থায় বের হয়ে এলেন এবং বললেন: "সেই সব লোকদের কী হলো যারা ধারণা করে যে, আমার আত্মীয়তা কোনো উপকারে আসবে না? অথচ সুদায়্য ও সালহাবও আমার সুপারিশের আশা রাখে।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি আবু উবাইদকে সুদায়্য ও সালহাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: তারা ইয়েমেনের দুটি গোত্র।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
9 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ، أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ، أَنْبَأَ ابْنُ مِلْحَانَ، ثنا ابْنُ بُكَيْرٍ، ثنا اللَّيْثٌ، ح أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْحَافِظُ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ شَاذَانَ، قَالَا: ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذُكِرَ عِنْدَهُ عَمُّهُ أَبُو طَالِبٍ. فَقَالَ: «لَعَلَّهُ تَنْفَعُهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُجْعَلُ فِي ضَحْضَاحٍ مِنَ النَّارِ يَبْلُغُ كَعْبَيْهِ يَغْلِي مِنْهَا دِمَاغُهُ» لَفْظُ حَدِيثِ قُتَيْبَةَ. وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ بُكَيْرٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذُكِرَ عِنْدَهُ عَمُّهُ أَبُو طَالِبٍ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ اللَّيْثِ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ قُتَيْبَةَ
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আহমাদ ইবনে আবদান, আমাদের জানিয়েছেন আহমাদ ইবনে উবাইদ আস-সাফফার, আমাদের জানিয়েছেন ইবনে মিলহান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে বুকাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস। (অন্য সূত্রে) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-হাফিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ ইবনে শাযান, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস, ইবনুল হাদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে খাব্বাব থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর চাচা আবু তালিবের কথা উল্লেখ করা হলো। তখন তিনি বললেন: «হয়তো কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ তার উপকারে আসবে, ফলে তাকে অগ্নির এক অগভীর স্তরে রাখা হবে যা তার টাখনু পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং তাতে তার মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটতে থাকবে।» এটি কুতাইবাহ-এর বর্ণিত হাদিসের শব্দ। ইবনে বুকাইরের বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যখন তাঁর নিকট তাঁর চাচা আবু তালিবের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম এটি কুতাইবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْفَرَّاءُ، ثنا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: قَالَ الْعَبَّاسُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ⦗ص: 60⦘ وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّعْبِيُّ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّغَانِيُّ، ثنا أَبُو دَاوُدَ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ. قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ح وَحَدَّثنا أَبُو سَعْدٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي عُثْمَانَ الزَّاهِدُ، أَنْبَأَ أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مَنْصُورٍ الْقَاضِي، أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ سَلَمَةَ الْبَزَّازُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ الْعَبْدِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ. وَسَأَلْتُهُ عَنْهُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ، ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالَ: قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَا أَغْنَيْتَ عَنْ عَمِّكَ فَقَدْ كَانَ يَحُوطُكَ وَيَنْصُرُكَ قَالَ: «هُوَ فِي ضَحْضَاحٍ مِنَ النَّارِ لَوْلَايَ لَكَانَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ» لَفْظُ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ. وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ فَإِنَّهُ كَانَ يَحُوطُكَ وَيَغْضَبُ لَكَ، لَوْلَا ذَلِكَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ مُسَدَّدٍ عَنْ يَحْيَى. وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنِ ابْنِ حَاتِمٍ عَنْ يَحْيَى
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-ফাররা, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কাবিছাহ বিন উকবাহ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুফিয়ান, তিনি আব্দুল মালিক বিন উমাইর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন হারিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্বাস (রাযি.) বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল— ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ আশ-শা'বী, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আস-সাগানি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুফিয়ান, তিনি আব্দুল মালিক বিন উমাইর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন হারিস থেকে, তিনি আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল— (হ) এবং আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু সা'দ আব্দুল মালিক বিন আবি উসমান আজ-জাহিদ, আমাদের অবহিত করেছেন আবু মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া বিন মানসুর আল-কাদি, আমাদের অবহিত করেছেন আহমাদ বিন সালামাহ আল-বাজ্জার, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন বাশশার আল-আবদি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ। আমি তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল মালিক বিন উমাইর, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন হারিস বিন নাওফাল, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রাযি.), তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, আপনি আপনার চাচার কী উপকারে আসলেন? অথচ তিনি আপনাকে সুরক্ষা প্রদান করতেন এবং আপনাকে সাহায্য করতেন। তিনি বললেন: «তিনি আগুনের একটি অগভীর স্তরে আছেন। আমি না হলে তিনি জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকতেন»—এটি ইয়াহইয়া বিন সাঈদের হাদিসের শব্দ। আর আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছে: «কেননা তিনি আপনাকে রক্ষা করতেন এবং আপনার পক্ষ হয়ে রাগান্বিত হতেন, যদি তা না হতো...»। ইমাম বুখারি এটি 'সহিহ' গ্রন্থে মুসাদ্দাদ-এর সূত্রে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম এটি ইবনে হাতিম-এর সূত্রে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
أَخْبَرَنَا
11 - أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُقْرِئُ، أَنْبَأَ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، ثنا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْقَاضِي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، ثنا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَفَعْتَ أَبَا طَالِبٍ فَإِنَّهُ يَحُوطُكَ وَيَغْضَبُ لَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ هُوَ فِي ضَحْضَاحٍ مِنْ نَارٍ وَلَوْلَا أَنَا لَكَانَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ»
⦗ص: 61⦘ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ، عَنْ مُوسَى، عَنْ أَبِي عَوَانَةَ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
১১ - আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আল-মুকরি, আমাদের জানিয়েছেন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কাজী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবু বকর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আওয়ানাহ, আব্দুল মালিক বিন উমাইর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন হারিস বিন নাওফাল থেকে, তিনি আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আবু তালিবের কোনো উপকার করেছেন? কেননা তিনি আপনাকে সুরক্ষা দিতেন এবং আপনার পক্ষ হয়ে রাগান্বিত হতেন। তিনি বললেন: «হ্যাঁ, তিনি আগুনের এক অগভীর স্তরে আছেন, আর আমি না থাকলে তিনি জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকতেন»
⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ ইমাম বুখারী এটি সহীহ গ্রন্থে মুসা থেকে, তিনি আবু আওয়ানাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম এটি মুহাম্মদ বিন আবু বকর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦١)
12 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنِي أَبُو الْوَلِيدِ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عُمَرَ، ثنا سُفْيَانُ هُوَ ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: سَمِعْتُ الْعَبَّاسَ، يَقُولُ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا طَالِبٍ كَانَ يَحُوطُكَ وَيَنْصُرُكَ فَهَلْ نَفَعَهُ ذَلِكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ وَجَدْتُهُ فِي غَمَرَاتٍ مِنَ النَّارِ فَأَخْرَجْتُهُ إِلَى ضَحْضَاحٍ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنِ ابْنِ أَبِي عُمَيْرٍ قَالَ الشَّيْخُ ثنا ابْنُ أَبِي طَالِبٍ هَذَا صَحِيحٌ مِنْ جِهَةِ الرِّوَايَةِ فَلَا مَعْنَى لِإِنْكَارِهِ، مَنْ أَنْكَرَ صِحَّتَهُ وَوَجْهُهُ عِنْدِي وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنَّ الشَّفَاعَةَ لِلْكُفَّارِ إِنَّمَا امْتَنَعَتْ لِوُرُودِ خَبَرِ الصَّادِقِ بِأَنَّهُ لَا يُشَفِّعُ مِنْهُمْ أَحَدًا وَقَدْ وَرَدَ الْخَبَرُ بِذَلِكَ عَامٌّ فَوَرَدَ هَذَا عَلَيْهِ مَوْرِدَ الْخَاصِّ عَلَى الْعَامِّ وَحَمَلَهُ بَعْضُ أَهْلِ النَّظَرِ عَلَى أَنَّ هَذَا الْكُفْرَ مِنَ الْعَذَابِ يَكُونُ وَاصِلًا إِلَيْهِ إِلَّا أَنَّ اللَّهَ يَضَعُ عَنْهُ أَلْوَانًا مِنَ الْعَذَابِ عَلَى جِنَايَاتٍ جَنَاهَا سِوَى الْكُفْرِ تَطْيِيبًا لِقَلْبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وثَوَابًا لَهُ فِي نَفْسِهِ لَا لِأَبِي طَالِبٍ لِأَنَّ حَسَنَاتِ أَبِي طَالِبٍ صَارَتْ بِمَوْتِهِ عَلَى كُفْرِهِ هَبَاءً مَنْثُورًا. وَقَدْ وَرَدَ الْخَبَرُ بِأَنَّ ثَوَابَ الْكَافِرِ عَلَى إِحْسَانِهِ يَكُونُ فِي الدُّنْيَا
১২ - মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-ওয়ালিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে আবি তালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি উমর থেকে, সুফিয়ান—যিনি ইবনে উয়াইনাহ—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, আবদুল্লাহ ইবনে আল-হারিস থেকে, তিনি বলেন: আমি আব্বাস (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবু তালিব আপনাকে সুরক্ষা প্রদান করতেন এবং সাহায্য করতেন, তো এটি কি তাঁর কোনো উপকারে এসেছে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, আমি তাঁকে আগুনের গভীরতায় পেয়েছি, অতঃপর আমি তাঁকে (আগুনের) অগভীর অংশে বের করে এনেছি» এটি মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইবনে আবি উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। শায়খ বলেন: ইবনে আবি তালিব আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন; বর্ণনার দিক থেকে এটি সহীহ, সুতরাং যে ব্যক্তি এর বিশুদ্ধতা অস্বীকার করে তার অস্বীকারের কোনো অর্থ নেই। আর আমার নিকট এর ব্যাখ্যা হলো—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—কাফেরদের জন্য সুপারিশ মূলত সত্যবাদী (রাসূল)-এর এই সংবাদ আসার কারণে নিষিদ্ধ যে, তিনি তাদের কারো জন্য সুপারিশ করবেন না। আর সেই সংবাদটি সাধারণভাবে এসেছে, ফলে এই ঘটনাটি সাধারণের ওপর বিশেষ (দলিল) হিসেবে প্রযোজ্য হয়েছে। আর একদল গবেষক একে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, কুফরের কারণে প্রাপ্য আযাব তাঁর নিকট পৌঁছাবেই, তবে আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরকে সন্তুষ্ট করার জন্য এবং স্বয়ং তাঁর প্রতিদান স্বরূপ আবু তালিবের থেকে কুফর ব্যতিত অন্যান্য অপরাধের কারণে নির্ধারিত বিভিন্ন ধরনের আযাব লাঘব করবেন; এটি আবু তালিবের (মর্যাদার) জন্য নয়। কারণ কুফরের ওপর মৃত্যুর কারণে আবু তালিবের নেক আমলসমূহ বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হয়েছে। আর এ মর্মে সংবাদ এসেছে যে, কাফেরের সদাচরণের প্রতিদান দুনিয়াতেই প্রদান করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦١)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْخَيْرِ جَامِعُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ المُحَمَّدِ آبَادِيُّ، أَنْبَأَ، أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْمُحَمَّدِ آبَادِيُّ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، ثنا أَبُو عُمَرَ الْحَوْضِيُّ، ثنا هَمَّامٌ، ثنا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَرْوِي عَنْ رَبِّهِ عز وجل: «إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ الْمُؤْمِنَ حَسَنَةً يُثَابُ عَلَيْهَا الرِّزْقَ فِي الدُّنْيَا وَيُجْزَى بِهَا فِي الْآخِرَةِ. وَأَمَّا الْكَافِرُ فَيُعْطَى بِحَسَنَاتِهِ فِي الدُّنْيَا حَتَّى إِذَا أَفْضَى إِلَى الْآخِرَةِ، أَوْ إِلَى رَبِّهِ تَعَالَى لَمْ يَكُنْ لَهُ حَسَنَةٌ يُعْطَى بِهَا خَيْرًا» ⦗ص: 62⦘ وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ مِنْ حَدِيثِ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ عَنْ هَمَّامٍ. وَمَنْ قَالَ بِالْأَوَّلِ زَعَمَ أَنَّ هَذَا أَيْضًا وَرَدَ عَامًّا وَخَبَرُ أَبِي طَالِبٍ خَاصٌّ أَمَّا مَا
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল খায়ের জামি' ইবনে আহমাদ ইবনুল মুহাম্মাদ আবাদি, তিনি খবর দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-মুহাম্মাদ আবাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর আল-হাওযি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম, তিনি বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, তিনি তাঁর সুমহান রব থেকে বর্ণনা করেন যে: «নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনের কোনো সৎকাজের প্রতি জুলুম করেন না, যার বিনিময়ে তাকে দুনিয়াতে রিজিক প্রদান করা হয় এবং আখিরাতে তার প্রতিদান দেওয়া হয়। আর কাফেরকে তার সৎকর্মসমূহের বিনিময়ে দুনিয়াতেই দান করা হয়, এমনকি যখন সে আখিরাতে অথবা তার সুউচ্চ রবের নিকট উপস্থিত হয়, তখন তার কাছে এমন কোনো নেকি অবশিষ্ট থাকে না যার বিনিময়ে তাকে কোনো কল্যাণ দান করা হবে।» ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইয়াজিদ ইবনে হারুনের হাদিস থেকে হাম্মামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর যারা প্রথম মতটি গ্রহণ করেছেন তারা দাবি করেন যে, এটিও সাধারণভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং আবু তালিবের সংবাদটি বিশেষ; আর যা...
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ هُوَ الشَّيْبَانِيُّ، ثنا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ، قَالَا: ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، ثنا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَ جُدْعَانَ كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ يَصِلُ الرَّحِمَ وَيُطْعِمُ الْمِسْكِينَ، فَهَلْ ذَلِكَ نَافِعُهُ؟ قَالَ: «لَا يَنْفَعُهُ، إِنَّهُ لَمْ يَقُلْ يَوْمًا رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ وَهَذَا لَا يَنْفِي تَحْقِيقَ أَبِي طَالِبٍ بِأَنَّهُ يَنْفَعُهُ مَا صَنَعَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي التَّخْفِيفِ عَنْهُ مِنْ عَذَابِهِ. وَقَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْحَدِيثُ مَا وَرَدَ مِنَ الْآيَاتِ وَالْأَخْبَارِ فِي بُطْلَانِ خَيْرَاتِ الْكَافِرِ إِذَا مَاتَ عَلَى كُفْرِهِ، وَرَدَ فِي أَنَّهُ لَا يَكُونُ لَهَا مَوْقِعُ التَّخْلِيصِ مِنَ النَّارِ وَإِدخالِ الْجَنَّةِ، لَكِنْ يُخَفَّفُ عَنْهُ مِنْ عَذَابِهِ الَّذِي يَسْتَوْجِبُهُ عَلَى جِنَايَاتٍ ارْتَكَبَهَا سِوَى الْكُفْرِ بِمَا فَعَلَ مِنَ الْخَيْرَاتِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَقَدْ وَرَدَ فِي مَعْنَاهُ خَبَرٌ فِي إِسْنَادِهِ نَظَرٌ
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব—তিনি হলেন আশ-শায়বানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ ইবনে উমর, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাফস ইবনে গিয়াস, দাউদ থেকে, তিনি আশ-শা’বি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! ইবনে জুদআন জাহেলি যুগে আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখত এবং অভাবগ্রস্তদের অন্নদান করত, তবে কি তা তার কোনো উপকারে আসবে? তিনি বললেন: «তা তার উপকারে আসবে না; কেননা সে কোনোদিনও বলেনি: হে আমার রব! বিচার দিবসে আমার ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন» ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এটি আবু তালিবের ক্ষেত্রে যা প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যা কিছু (সহযোগিতা) করেছিলেন তা তাঁর শাস্তি লাঘবে উপকারে আসবে—তার পরিপন্থী নয়। আর এটি হতে পারে যে, কাফির কুফরের ওপর মৃত্যুবরণ করলে তার নেক আমলগুলো বাতিল হয়ে যাওয়া সম্পর্কিত যে সকল আয়াত ও বর্ণনা এসেছে, তার উদ্দেশ্য হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ এবং জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সেগুলোর কোনো প্রভাব থাকবে না; তবে কুফর ব্যতীত অন্যান্য যেসব অপরাধ সে করেছে, তার কৃত নেক আমলসমূহের কারণে সেসবের শাস্তি লাঘব করা হতে পারে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আর এই মর্মে একটি বর্ণনা এসেছে যার সনদে দুর্বলতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
15 - حَدَّثَنَا الْإِمَامُ أَبُو الطَّيِّبِ سَهْلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ، أَنْبَأَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْجَوْهَرِيُّ، ثنا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى الْبَزَّازُ، ثنا زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ الطَّائِيُّ، ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ الزَّاهِدُ، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْجُنَيْدِ، ثنا زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ الطَّائِيُّ، ثنا عَامِرُ بْنُ مُدْرِكٍ الْحَارِثِيُّ، ثنا عُتْبَةُ بْنُ يَقْظَانَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا أَحْسَنَ مُحْسِنٌ مِنْ مُسْلِمٍ وَلَا كَافِرٍ إِلَّا أَثَابَهُ اللَّهُ عز وجل» قَالَ: فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا إِثَابَةُ اللَّهِ لِلْكَافِرِ؟ قَالَ: «إِنْ كَانَ قَدْ وَصَلَ رَحِمًا أَوْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ أَوْ عَمِلَ حَسَنَةً ⦗ص: 63⦘ أَثَابَهُ اللَّهُ الْمَالَ وَالْوَلَدَ وَالصِّحَّةَ وَأَشْبَاهَ ذَلِكَ» ، قَالَ: فَقُلْنَا: وَمَا إِثَابَتُهُ فِي الْآخِرَةِ؟ فَقَالَ: «عَذَابًا دُونَ الْعِقَابِ» قَالَ: وَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم « {أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ» } [غافر: 46] زَادَ ابْنُ الْجُنَيْدِ هَكَذَا قَرَأَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقْطُوعَةَ الْأَلْفِ. وَرُوِيَ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ مَا يُؤَكِّدُ هَذِهِ الطَّرِيقَةَ
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু আল-তাইয়িব সাহল বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান, সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আল-জাওহারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আল-বাযযায, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ বিন আখযাম আল-ত্বায়ী, এবং (অন্য সূত্রে) আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন দাউদ আল-যাহিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আল-জুনাইদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ বিন আখযাম আল-ত্বায়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমির বিন মুদরিক আল-হারিছি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উতবাহ বিন ইয়াকযান, কায়স বিন মুসলিম থেকে, তিনি তারিক বিন শিহাব থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «কোনো মুসলিম বা কাফির সৎকর্মশীল ব্যক্তিই এমন নেই যে কোনো নেক আমল করে অথচ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল তাকে তার প্রতিদান দেন না।» বর্ণনাকারী বলেন: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, কাফিরের জন্য আল্লাহর প্রতিদান কী? তিনি বললেন: «যদি সে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে থাকে অথবা দান-সদকা করে থাকে কিংবা কোনো নেক আমল করে থাকে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ তবে আল্লাহ তাকে ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, সুস্থতা এবং এই জাতীয় জিনিসের মাধ্যমে প্রতিদান দান করেন।» বর্ণনাকারী বলেন: আমরা বললাম: আর আখিরাতে তার প্রতিদান কী হবে? তখন তিনি বললেন: «মূল শাস্তির তুলনায় লঘু আজাব।» বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিলাওয়াত করলেন: «{তোমরা ফিরআউনের অনুসারীদের প্রবেশ করাও কঠিনতম আজাবে}» [সূরা গাফির: ৪৬]। ইবনুল জুনাইদ এখানে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবেই শব্দটি মাকতুআতুল আলিফ (আলিফকে স্পষ্ট করে) পাঠ করেছেন। এবং উরওয়াহ বিন আল-যুবাইর থেকে একটি সহীহ সনদে এমন বর্ণনা পাওয়া যায় যা পাঠের এই পদ্ধতিকে সমর্থন করে।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَ أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدوسٍ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْيَمَانِ أَنَّ شُعَيْبًا أَخْبَرَهُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ، - وَأُمُّهَا أُمُّ سَلَمَةَ - أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ أَبِي سُفْيَانَ أَخْبَرَتْهَا أَنَّهَا، قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ذِكْرُ الْحَدِيثِ فِي عَرْضِهَا عَلَيْهِ نِكَاحَ أُخْتِهَا ثُمَّ نِكَاحَ دُرَّةَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ. فَقَالَ: «وَاللَّهِ لَوْ أَنَّهَا لَمْ تَكُنْ رَبِيبَتِي فِي حِجْرِي مَا حَلَّتْ لِي إِنَّهَا لَابْنَةُ أَخِي مِنَ الرَّضَاعَةِ أَرْضَعَتْنِي وَأَبَا سَلَمَةَ ثُوَيْبَةُ فَلَا تَعْرِضْنَ عَلَيَّ بَنَاتِكُنَّ وَلَا أَخَوَاتِكُنَّ» قَالَ عُرْوَةُ: وَثُوَيْبَةُ مَوْلَاةُ أَبِي لَهَبٍ، كَانَ أَبُو لَهَبٍ أَعْتَقَهَا فَأَرْضَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا مَاتَ أَبُو لَهَبٍ أُرِيَهُ بَعْضُ أَهْلِهِ فِي النَّوْمِ بِشَرِّ حِيبَةٍ فَقَالَ لَهُ: مَاذَا لَقِيتَ؟ فَقَالَ أَبُو لَهَبٍ: «لَمْ نَرَ بَعْدَكُمْ رَجَاءً غَيْرَ أَنِّي سُقِيتُ فِي هَذِهِ مِنِّي بِعَتَاقَتِي ثُوَيْبَةَ وَأَشَارَ إِلَى النَّقِيرَةِ الَّتِي بَيْنَ الْإِبْهَامِ وَالَّتِي تَلِيهَا» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ أَبِي الْيَمَانِ
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুস, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি, তিনি বলেন: আমি আবু আল-য়ামানের নিকট পাঠ করেছি যে, শুয়াইব তাকে যুহরি থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর সংবাদ দিয়েছেন যে, যয়নব বিনতে আবি সালামাহ —যাঁর মা হলেন উম্মু সালামাহ— তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উম্মু হাবিবা বিনতে আবি সুফিয়ান তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি (উম্মু হাবিবা) বলেছেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এরপর তিনি তাঁর নিকট নিজের বোনকে এবং পরবর্তীতে আবু সালামাহর কন্যা দুররাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দেওয়ার হাদিসটি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: “আল্লাহর কসম, সে যদি আমার কোলে লালিত-পালিত আমার সৎকন্যা না-ও হতো, তবুও সে আমার জন্য হালাল হতো না; কেননা সে আমার দুগ্ধ-ভাইয়ের মেয়ে। সুওয়াইবা আমাকে এবং আবু সালামাহকে দুধ পান করিয়েছে। সুতরাং তোমরা আমার নিকট তোমাদের কন্যাদের বা বোনদের (বিয়ের জন্য) পেশ করো না।” উরওয়াহ বলেন: আর সুওয়াইবা ছিলেন আবু লাহাবের দাসী, আবু লাহাব তাকে মুক্ত করে দিয়েছিল এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুধ পান করিয়েছিলেন। যখন আবু লাহাব মারা গেল, তখন তার পরিবারের কেউ তাকে স্বপ্নে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় দেখল এবং তাকে জিজ্ঞেস করল: আপনি কীসের সম্মুখীন হয়েছেন? আবু লাহাব বলল: “তোমাদের ছেড়ে আসার পর আমি কোনো স্বস্তি বা সুখের দেখা পাইনি, তবে সুওয়াইবাকে মুক্ত করার কারণে এই স্থানটি থেকে আমাকে পানি পান করতে দেওয়া হয়।” আর তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার পাশের আঙুলের মধ্যবর্তী ক্ষুদ্র খাঁজ বা গর্তের দিকে ইশারা করলেন। বুখারি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে আবু আল-য়ামান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
17 - وَأَمَّا الْحَدِيثُ الَّذِي أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْعَلَوِيُّ، أَنْبَأَ أَبُو حَامِدٍ الشَّرْقِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْخَزَّازُ الْأَصَمُّ الْكُوفِيُّ، بنَيْسَابُورَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ الْعَبْدِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْأَسْوَدِ، عَنِ الْحُصَيْنِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ الْمُخَارِقِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، رضي الله عنه قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ غَشَّ الْعَرَبَ لَمْ يَدْخُلْ فِي شَفَاعَتِي وَلَمْ تَنَلْهُ مَوَدَّتِي» تَابَعَهُ مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرٍ. وَلَمْ أَكْتُبْهُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ الْحُصَيْنِ بْنِ عَمْرٍو الْأَحْمَسِيِّ وَهُوَ عِنْدَ أَهْلِ النَّقْلِ ضَعِيفٌ
১৭ - আর যে হাদীসটি সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেছেন আবু হাসান মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আল-আলাবি; সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ আশ-শারকি; আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আল-খাযযায আল-আসাম আল-কুফি, নিশাপুরে; আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বিশর আল-আবদি; আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আসওয়াদ; তিনি হুসাইন ইবনে উমর থেকে; তিনি মুখারিকি ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাবির থেকে; তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে; তিনি উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আরবদের সাথে প্রতারণা করবে, সে আমার সুপারিশে প্রবেশ করতে পারবে না এবং আমার ভালোবাসা তাকে স্পর্শ করবে না।" মুয়াবিয়া ইবনে আমর এটি মুহাম্মদ ইবনে বিশর থেকে বর্ণনা করার মাধ্যমে তাকে অনুসরণ করেছেন। আর আমি এই হাদীসটি কেবল হুসাইন ইবনে উমর আল-আহমাসির সূত্র ছাড়া অন্য কোনোভাবে লিখিনি, অথচ তিনি হাদীস বিশারদদের নিকট দুর্বল।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
18 - فَأَمَّا مَا أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو الْحَسَنِ الْعَلَوِيُّ، أَنْبَأَ أَبُو نَصْرٍ، أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ قُرَيْشٍ الْمَرْوَزُودِيُّ قَدِمَ عَلَيْنَا غَارَنَا، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بَالْوَجِيهِ الْفَزَارِيُّ، ثنا عَبْدَانُ بْنُ عُثْمَانَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، ثنا مَنِيعٌ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «رَجُلَانِ لَا تَنَالُهُمَا شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ، إِمَامٌ ظَلُومٌ غَشُومٌ عَسُوفٌ، وَآخَرُ غَالٌّ فِي الدِّينِ مَارِقٌ مِنْهُ» فَقَدْ تَفَرَّدَ بِهِ مَنِيعُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْبَصْرِيُّ، وَرُوِيَ مِنْ أَوْجُهٍ أُخَرَ ضَعِيفَةٍ، وَفِيهِ وَفِيمَا قَبْلَهُ إِنْ صَحَّ إِثْبَاتُ الشَّفَاعَةِ لِغَيْرِ الْمَذْكُورِينَ فِيهِ وَالْمَارِقُ مِنَ الدِّينِ: هُوَ الْخَارِجُ مِنْهُ، وَلَا شَفَاعَةَ لَهُ وَلَا عَفْوَ عَنْهُ وَغَيْرُهُ إِنْ لَمْ يَخْرُجْ مِنَ النَّارِ بِالشَّفَاعَةِ فَقَدْ يَخْرُجُ مِنْهَا يَوْمًا مَا بِرَحْمَةِ اللَّهِ. وَقَدْ وَرَدَ خَبَرُ الصَّادِقِ بِأَنَّهُ لَا يَضِيعُ إِيمَانُ مَنْ مَاتَ عَلَيْهِ فَيَكُونُ مَا أَوْعَدَهُ بِأَنَّ شَفَاعَتَهُ لَا تَنَالُهُ تَلْحَقُهُ بِأَنْ يَطُولَ بَقَاؤُهُ فِي النَّارِ وَلَا يَخْرُجُ مِنْهَا مَعَ مَنْ يَخْرُجُ مِنْهَا بِالشَّفَاعَةِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ
১৮ - আমাদের আবুল হাসান আল-আলাভি যা জানিয়েছেন তা হলো: আবু নাসর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কুরাইশ আল-মারভাযুদি (যিনি আমাদের নিকট ঘারানে এসেছিলেন) আমাদের খবর দিয়েছেন যে, মুহাম্মাদ বিন বালওয়াজহ আল-ফাজারি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদান বিন উসমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মানি'উ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুআবিয়া বিন কুররাহ থেকে, তিনি মা’কিল বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন দুই প্রকার ব্যক্তি আমার সুপারিশ লাভ করবে না: এক হচ্ছে অত্যন্ত যালিম, চরম অন্যায়কারী ও কঠোর শাসক, এবং অন্যজন যে দ্বীনের ব্যাপারে চরমপন্থা অবলম্বন করে এবং তা থেকে বেরিয়ে যায়»। মানি'উ বিন আবদুর রহমান আল-বাসরি এই বর্ণনায় একক হয়েছেন, এবং এটি অন্যান্য দুর্বল সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এই হাদীসে এবং এর পূর্ববর্তী হাদীসে যদি বিশুদ্ধতা সাব্যস্ত হয়, তবে এতে উল্লিখিত ব্যক্তিগণ ব্যতীত অন্যদের জন্য সুপারিশ সাব্যস্ত হবে। আর দ্বীন থেকে বিচ্যুত ব্যক্তি হলো সে, যে দ্বীন থেকে বের হয়ে গেছে; তার জন্য কোনো সুপারিশ নেই এবং তার কোনো ক্ষমা নেই। আর অন্যরা যদি সুপারিশের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বের হতে না পারে, তবে কোনো একদিন আল্লাহর রহমতে তারা সেখান থেকে বের হবে। সত্যবাদী রাসুলের পক্ষ থেকে সংবাদ এসেছে যে, যে ব্যক্তি ঈমানের উপর মৃত্যুবরণ করবে তার ঈমান বৃথা যাবে না। সুতরাং সুপারিশ লাভ না করার যে ধমকি তাকে দেওয়া হয়েছে, তার মর্ম হলো জাহান্নামে তার অবস্থান দীর্ঘ হবে এবং সুপারিশের মাধ্যমে যারা বের হবে তাদের সাথে সে বের হতে পারবে না। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ عز وجل " {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48] هَذَا الْبَيَانُ أَنَّ الْمُرَادَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنَّهُ يَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ ذَنْبَهُ - الَّذِي هُوَ دُونَ الشِّرْكِ - فَلَا يُعَاقِبُهُ عَلَيْهِ، وَلَا يَغْفِرُهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَاقِبُهُ عَلَيْهِ، ثُمَّ يَكُونُ عَاقِبَتُهُ الْجَنَّةَ وَلَا يَخْلُدُ فِي النَّارِ مَنْ وَافَى الْقِيَامَةَ مُؤْمِنًا. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى « {إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا» } [الكهف: 30] وَفِي تَخْلِيدِ الْمُؤْمِنِ مَعَ الْكُفَّارِ فِي النَّارِ تَضْيِيعُ مَا أَحْسَنَ مِنَ الْإِيمَانِ بِاللَّهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ. وَقَالَ « {إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ» } [النساء: 40]
মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণীর পরিচ্ছেদ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না, তবে এছাড়া অন্য যা কিছু আছে যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন" [আন-নিসা: ৪৮]। এই বর্ণনাটির উদ্দেশ্য হলো—আর আল্লাহই ভালো জানেন—নিশ্চয়ই তিনি যাকে ইচ্ছা তার সেই গুনাহ ক্ষমা করবেন যা শিরকের নিচে, ফলে তিনি তাকে এর জন্য শাস্তি দেবেন না; এবং যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন না এবং তাকে এর জন্য শাস্তি দেবেন, অতঃপর তার শেষ পরিণতি হবে জান্নাত। আর যে ব্যক্তি মুমিন হিসেবে কিয়ামতে উপস্থিত হবে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি তার প্রতিদান নষ্ট করি না যে উত্তম আমল করেছে" [আল-কাহফ: ৩০]। আর কাফেরদের সাথে মুমিনকে জাহান্নামে চিরস্থায়ী করার অর্থ হলো আল্লাহ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনার মাধ্যমে সে যে উত্তম আমল করেছে তা নষ্ট করে দেওয়া। তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না" [আন-নিসা: ৪০]।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
19 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ نُعَيْمٍ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ سَالِمٍ، أَنْبَأَ هُشَيْمٌ، ثنا خَالِدٌ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: أَخَذَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا أَخَذَ عَلَى النِّسَاءِ «أَنْ لَا نُشْرِكَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا نَسْرِقَ وَلَا نَزْنِيَ وَلَا نَقْتُلَ أَوْلَادَنَا وَلَا يَعْضَهَ بَعْضُنَا بَعْضًا، فَمَنْ وَفَّى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَمَنْ أَتَى مِنْكُمْ حَدًّا فَأُقِيمَ عَلَيْهِ فَهُوَ كَفَّارَتُهُ وَمَنْ سَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ فَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَالِمٍ، وَأَخْرَجَاهُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيِّ عَنْ عُبَادَةَ "
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে নুআইম, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে সালিম, সংবাদ দিয়েছেন হুশাইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ, আবু কিলাবা থেকে, তিনি আবু আল-আশআছ আস-সানআনি থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনে আস-সামিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট থেকে তেমনি অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন যেমনটি তিনি নারীদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন; (তা হলো) «আমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক করব না, চুরি করব না, ব্যভিচার করব না, আমাদের সন্তানদের হত্যা করব না এবং একে অপরের প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করব না। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি এর কোনো একটি অপরাধে লিপ্ত হবে এবং তার ওপর দণ্ড কার্যকর করা হবে, তবে তা হবে তার জন্য কাফফারা (পাপমোচন)। আর যার বিষয়টি আল্লাহ গোপন রাখবেন, তার বিষয়টি আল্লাহর নিকট ন্যস্ত; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন এবং চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন»। ইমাম মুসলিম এটি সহীহ গ্রন্থে ইসমাঈল ইবনে সালিম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তারা উভয়ই (বুখারী ও মুসলিম) আবু ইদরিস আল-খাওলানি-এর সূত্রে উবাদাহ (রা.) থেকে হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْإِمَامُ، أَنْبَأَ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَرْسَقَانِيُّ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ النَّسَوِيُّ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، ثنا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: بَايَعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «تُبَايِعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا تَسْرِقُوا وَلَا تَزْنُوا فَمَنْ وَفَّى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَسَتَرَهُ اللَّهُ فَذَلِكَ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ»
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আল-ইমাম, আমাদের জানিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবন আলী আল-হারসাকানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবন সুফিয়ান আন-নাসায়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, যুহরী হতে, তিনি আবু ইদরীস হতে, তিনি উবাদাহ ইবন আস-সামিত হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি, তখন তিনি বলেন: «তোমরা আমার নিকট এই মর্মে বায়আত গ্রহণ করো যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, চুরি করবে না এবং ব্যভিচার করবে না। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তা পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং আল্লাহ তা গোপন রাখবেন, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন আর চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।»
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ، بِبَغْدَادَ، أَنْبَأَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، ثنا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَكَّارٍ السُّلَمِيُّ الْبَيْرُوتِيُّ، وَصَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَا: ثنا الْوَلِيدُ هُوَ ابْنُ مُسْلِمٍ، أَنْبَأَ ابْنُ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ سَلْمَانَ الْعَبْسِيِّ، ثنا أَبُو ذَرٍّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل لِيَغْفِرُ لِلْعَبْدِ مَا لَمْ يَقَعِ الْحِجَابُ» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا وُقُوعُ الْحِجَابِ؟ قَالَ: «أَنْ تَمُوتَ - يَعْنِي النَّفْسَ - وَهِيَ مُشْرِكَةٌ» كَذَا قَالَهُ: الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ
২১ - আবু আল-হুসাইন বিন আল-ফাদল আল-কাত্তান বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আব্দুল্লাহ বিন জাফর আমাদের জানিয়েছেন, ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল হামিদ বিন বাক্কার আস-সুলামী আল-বৈরুতী এবং সাফওয়ান বিন সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আল-ওয়ালিদ (যিনি ইবনে মুসলিম) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে সাওবান তাঁর পিতা থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি উসামাহ বিন সালমান আল-আবসী থেকে, আবু যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বান্দাকে ততক্ষণ ক্ষমা করেন যতক্ষণ না পর্দা পতিত হয়», তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, পর্দা পতিত হওয়া বলতে কী বোঝায়? তিনি বললেন: «প্রাণের মৃত্যু হওয়া —অর্থাৎ আত্মার— এমতাবস্থায় যখন সে মুশরিক (শিরকে লিপ্ত)» আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
22 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ، قَالَا: ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ، ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ نُعَيْمٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ سَلْمَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ لِعَبْدِهِ مَا لَمْ يَقَعِ الْحِجَابُ» ، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْحِجَابُ؟ قَالَ: «أَنْ تَمُوتَ النَّفْسُ وَهِيَ مُشْرِكَةٌ» ⦗ص: 67⦘ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ وَغَيْرُهُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَابِتٍ
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয এবং মুহাম্মাদ বিন মুসা বিন আল-ফাযল, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন আলী বিন আফফান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ বিন আল-হুবাব, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন সাবিত বিন সাওবান, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি উমর বিন নুআইম থেকে, তিনি উসামা বিন সালমান থেকে, তিনি আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাকে ক্ষমা করেন যতক্ষণ না পর্দা আপতিত হয়», তখন জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! পর্দা কী? তিনি বললেন: «প্রাণটি মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা» ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ অনুরূপভাবে এটি উমর বিন আব্দুল ওয়াহিদ এবং অন্যান্যরা আব্দুর রহমান বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
23 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ الشَّيْبَانِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ حَازِمٍ الْغِفَارِيُّ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، ثنا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ وَاصِلٍ الْأَحْدَبِ، عَنْ مَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَتَانِي آتٍ مِنْ رَبِّي فَبَشَّرَنِي» أَوْ قَالَ: «أَخْبَرَنِي أَنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ» ، قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ مُوسَى عَنْ مَهْدِيٍّ، وَأَخْرَجَاهُ مِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ عَنْ وَاصِلٍ
২৩ - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে দুহাইম আশ-শাইবানি আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন, আহমাদ ইবনে হাজিম আল-গিফারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাহদি ইবনে মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াসিল আল-আহদাব থেকে, তিনি মারুর ইবনে সুওয়াইদ থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার রবের পক্ষ থেকে একজন আগমনকারী আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিলেন” অথবা তিনি বলেছেন: “তিনি আমাকে সংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” আমি বললাম: “যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে?” তিনি বললেন: “যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।” ইমাম বুখারি এটি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে মুসা থেকে, তিনি মাহদি থেকে—এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা উভয়ে (বুখারি ও মুসলিম) একে শু’বার হাদিস থেকে ওয়াসিলের সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
24 - أَخْبَرَنَا أَبُو صَالِحِ بْنُ أَبِي طَاهِرٍ الْعَنْبَرِيُّ، أَنْبَأَ جَدِّي يَحْيَى بْنُ مَنْصُورٍ الْقَاضِي، ثنا أَحْمَدُ بْنُ سَلَمَةَ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنْبَأَ جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: خَرَجْتُ لَيْلَةً مِنَ اللَّيَالِي، فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْشِي لَيْسَ مَعَهُ إِنْسَانٌ. فَذَكَرَ الْحَدِيثَ، قَالَ فَلَمَّا جَاءَ لَمْ أَصْبِرْ حَتَّى قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ مَنْ كُنْتَ تُكَلِّمُ فِي جَانِبِ الْحَرَّةِ فَمَا سَمِعْتُ أَحَدًا يَرْفَعُ إِلَيْكَ شَيْئًا. فَقَالَ: " ذَاكَ جِبْرِيلُ عَرَضَ لِي فِي جَانِبِ الْحَرَّةِ، فَقَالَ: بَشِّرْ أُمَّتَكَ مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ. فَقُلْتُ: " يَا جِبْرِيلُ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: نَعَمْ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ، قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ، وَشَرِبَ الْخَمْرَ " رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ قُتَيْبَةَ عَنْ جَرِيرٍ
২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সালিহ বিন আবু তাহির আল-আনবারি, আমাদের অবহিত করেছেন আমার দাদা ইয়াহইয়া বিন মানসুর আল-কাদি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমদ বিন সালামাহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইসহাক বিন ইবরাহিম, আমাদের অবহিত করেছেন জারির, আবদুল আজিজ বিন রুফাই থেকে, তিনি যাইদ বিন ওয়াহব থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এক রাতে বের হলাম, এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁটছিলেন এবং তাঁর সাথে কোনো মানুষ ছিল না। অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি যখন আসলেন, আমি আর ধৈর্য ধারণ করতে পারলাম না, এমনকি আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন, হাররার এক পাশে আপনি কার সাথে কথা বলছিলেন? আমি তো কাউকে আপনার নিকট কোনো কথা উত্থাপন করতে শুনিনি। তিনি বললেন: "তিনি ছিলেন জিবরাইল, হাররার এক পাশে তিনি আমার সম্মুখে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং বললেন: আপনার উম্মতকে সুসংবাদ দিন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" আমি বললাম: হে জিবরাইল! যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।" আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে, চুরি করে এবং মদ পান করে।" ইমাম বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থে কুতাইবা-এর সূত্রে জারির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ السَّدِيرِيُّ الْبَيْهَقِيُّ، بِخُسْرَوْجِرْدَ، أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْخُسْرَوْجِرْدِيُّ، ثنا دَاوُدُ بْنُ الْحُسَيْنِ ⦗ص: 68⦘ الْبَيْهَقِيُّ، ثنا حُمَيْدُ بْنُ زَنْجُوَيْهِ، ثنا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، أَنْبَأَ شُعْبَةُ، ثنا حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، وَسُلَيْمَانُ الْأَعْمَشُ، وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، قَالُوا: سَمِعْنَا زَيْدَ بْنَ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام أَتَانِي فَبَشَّرَنِي أَنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ» ، قَالَ: قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟، قَالَ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ " قَالَ سُلَيْمَانُ: يَعْنِي لِزَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، إِنَّمَا يُرْوَى هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: أَمَّا أَنَا فَسَمِعْتُهُ مِنْ أَبِي ذَرٍّ وَأَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ. فَقَالَ: وَقَالَ النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ
২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আস-সুদাইরি আল-বাইহাকি, খুসরাওজির্দে, আমাদের খবর দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-খুসরাওজির্দি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ বিন আল-হুসাইন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ আল-বাইহাকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ বিন জানজুয়াহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আন-নাদর বিন শুমাইল, আমাদের খবর দিয়েছেন শু'বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাবিব বিন আবি সাবিত, সুলাইমান আল-আ'মাশ এবং আবদুল আজিজ বিন রুফাই; তাঁরা বললেন: আমরা জাইদ বিন ওয়াহাব থেকে শুনেছি, তিনি আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার নিকট এসেছেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।» তিনি (আবু যার) বলেন: আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: «যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।» সুলাইমান বলেন: অর্থাৎ জাইদ বিন ওয়াহাবকে উদ্দেশ্য করে, এই হাদিসটি কেবল আবু যার (রা.) থেকেই বর্ণিত হয়; তিনি বললেন: আমি এটি আবু যার থেকে শুনেছি এবং ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বললেন: এবং আন-নাদর বিন শুমাইল বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
26 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ بِبَغْدَادَ، أَنْبَأَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ دُرُسْتَوَيْهِ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، ثنا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، ثنا أَبِي، ثنا الْأَعْمَشُ، ثنا زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ، ثنا وَاللَّهِ أَبُو ذَرٍّ، بِالرَّبَذَةِ قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَمْشِي فِي حَرَّةِ الْمَدِينَةِ عَشِيًّا فَاسْتَقْبَلَنَا أُحُدٌ، فَقَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ مَا أُحِبُّ أَنَّ أُحُدًا ذَاكَ ذَهَبًا يَأْتِي عَلَيَّ لَيْلَةً وَعِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ إِلَّا دِينَارًا أَرْصُدُهُ لِدِينِي إِلَّا أَنْ أَقُولَ بِهِ فِي عَبَّادِ اللَّهِ هَكَذَا وَهَكَذَا وَأَرَانَا بِيَدِهِ» ، ثُمَّ قَالَ: يَا أَبَا ذَرٍّ قُلْتُ: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: «إِنَّ الْأَكْثَرِينَ هُمُ الْأَقَلُّونَ، إِلَّا مَنْ قَالَ بِالْمَالِ هَكَذَا وَهَكَذَا» . ثُمَّ قَالَ: «مَكَانَكَ لَا تَبْرَحْ حَتَّى أَرْجِعَ إِلَيْكَ» فَانْطَلَقَ حَتَّى غَابَ عَنَّا فَسَمِعْتُ صَوْتًا فَتَخَوَّفْتُ أَنْ يَكُونَ قَدْ عَرَضَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَرَدْتُ أَنْ أَذْهَبَ ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: لَا تَبْرَحْ، فَمَكَثْتُ. فَأَقْبَلَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ سَمِعْتُ صَوْتًا فَخَشِيتُ أَنْ يَكُونَ عَرَضَ لَكَ فَأَرَدْتُ أَنْ آتِيَكَ، ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَكَ: لَا تَبْرَحْ يَعْنِي فَأَقَمْتُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ذَاكَ جِبْرِيلُ عليه السلام أَتَانِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ» ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟، قَالَ: «وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ»
⦗ص: 69⦘ قَالَ الْأَعْمَشُ: قُلْتُ لِزَيْدٍ: بَلَغَنِي أَنَّهُ أَبُو الدَّرْدَاءِ. قَالَ: أَشْهَدُ لَحَدَّثَنِيهِ أَبُو ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنِ الْأَعْمَشِ
27 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ هَانِي، ثنا السَّرِيُّ بْنُ خُزَيْمَةَ، ثنا الْأَعْمَشُ، حَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، نَحْوَهُ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ، قَالَ الْبُخَارِيُّ: حَدِيثُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، مُرْسَلٌ وَحَدِيثُ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، مُرْسَلٌ أَيْضًا، وَالصَّحِيحُ حَدِيثُ أَبِي ذَرٍّ كَذَا قَالَ
26 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-ফাদল আল-কাত্তান বাগদাদে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন দুরুস্তাওয়াইহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওমর বিন হাফস বিন গিয়াস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়িদ বিন ওয়াহাব, তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ, আবু যার রাবাযাহ নামক স্থানে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মদিনার হাররাহ অঞ্চলে এক সন্ধ্যায় হাঁটছিলাম। তখন ওহুদ পাহাড় আমাদের সামনে পড়ল। তিনি বললেন: «হে আবু যার! আমি এটি পছন্দ করি না যে ওহুদ পাহাড়টি আমার জন্য সোনা হয়ে যাক এবং এক রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমার কাছে তার একটি দিনারও অবশিষ্ট থাকুক—এক দিনার ব্যতিরেকে যা আমি আমার ঋণের জন্য সংরক্ষণ করব—বরং আমি তা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এভাবে ও এভাবে বিলিয়ে দিতে চাই।» এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমাদের ইশারা করে দেখালেন। তারপর তিনি বললেন: «হে আবু যার!» আমি বললাম: «হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার সেবায় হাজির ও প্রস্তুত।» তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই যারা অধিক সম্পদের অধিকারী, তারাই হবে (কিয়ামতের দিন) সবচেয়ে স্বল্প প্রতিদানের অধিকারী; তবে তারা নয়, যারা সম্পদের ক্ষেত্রে এভাবে ও এভাবে ব্যয় করে।» এরপর তিনি বললেন: «তুমি তোমার জায়গায় থাকো, আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত এখান থেকে সরবে না।» তারপর তিনি চলে গেলেন এবং আমাদের দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলেন। তখন আমি একটি শব্দ শুনতে পেলাম এবং ভয় পেলাম যে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো বিপদ হলো কি না। আমি যেতে চাইলাম, কিন্তু আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী মনে পড়ল: «সরবে না», তাই আমি অবস্থান করলাম। যখন তিনি ফিরে এলেন, আমি বললাম: «হে আল্লাহর রাসুল! আমি একটি শব্দ শুনেছিলাম এবং ভয় পেয়েছিলাম যে আপনার কোনো বিপদ হয়েছে কি না, তাই আমি আপনার কাছে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনার কথা মনে পড়ল যে আপনি বলেছিলেন: 'সরবে না', অর্থাৎ তাই আমি অবস্থান করলাম।» তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «উনি ছিলেন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম। তিনি আমার কাছে এসে সংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।» তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম: «হে আল্লাহর রাসুল! যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে?» তিনি বললেন: «যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।»
⦗পৃষ্ঠা: 69⦘ আল-আমাশ বলেন: আমি যায়িদকে বললাম: «আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে এটি আবু আদ-দারদা বর্ণনা করেছেন।» তিনি বললেন: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে এটি রাবাযাহ নামক স্থানে আবু যার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।» এটি ইমাম বুখারি সহিহ গ্রন্থে ওমর বিন হাফস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম আল-আমাশ থেকে অন্য সূত্রে এটি বের করেছেন।
27 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সালেহ বিন হানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আস-সাররি বিন খুজাইমাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালেহ, তিনি আবু আদ-দারদা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি এটি সহিহ গ্রন্থে ওমর বিন হাফস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি বলেন: আবু সালেহ-এর হাদিস যা আবু আদ-দারদা থেকে বর্ণিত তা মুরসাল, এবং আতা বিন ইয়াসার-এর হাদিস যা আবু আদ-দারদা থেকে বর্ণিত সেটিও মুরসাল; আর সঠিক হলো আবু যার-এর হাদিস। তিনি এরূপই বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাসু ওয়ান নুশুরু লিল-বাইহাকী ত হায়দার
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
28 - وَقَدْ أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبِيبٍ الْمُفَسِّرُ، مِنْ أَصْلِهِ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّغَانِيُّ، ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الدَّرْدَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ يَوْمًا هَذِهِ الْآيَةَ « {وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ» } [الرحمن: 46] فَقُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ: « {وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ» } [الرحمن: 46] فَقُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ: «وَإِنْ رَغِمَ أَنْفُ أَبِي الدَّرْدَاءِ» قَالَ الشَّيْخُ: قَدْ ذَكَرَ فِيهِ عَنْ عَطَاءٍ سَمَاعَهُ مِنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، وَهَذَا غَيْرُ حَدِيثِ أَبِي ذَرٍّ، وَإِنْ كَانَ يُؤَدِّي مَعْنَاهُ، ⦗ص: 70⦘ وَرُوِيَ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ
২৮ - আবু আল-কাসিম আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিব আল-মুফাসসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে; আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের জানিয়েছেন; মুহাম্মদ ইবনে আবি হারমালাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি বলেন: আবু আদ-দারদা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন এই আয়াতটি পাঠ করলেন: « {আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোর স্থানকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত} » [আর-রহমান: ৪৬]। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, যদি সে ব্যভিচার করে এবং যদি সে চুরি করে তবুও কি? তিনি বললেন: « {আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোর স্থানকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত} » [আর-রহমান: ৪৬]। আমি পুনরায় বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, যদি সে ব্যভিচার করে এবং যদি সে চুরি করে তবুও কি? তিনি বললেন: «যদিও তা আবু আদ-দারদার নাসিকা ধূলিমলিনকারী হয় (অর্থাৎ তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়)»। শায়খ বলেন: এতে আতা কর্তৃক আবু আদ-দারদা থেকে শ্রবণ করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। আর এটি আবু যর-এর বর্ণিত হাদিসটি নয়, যদিও এটি তার অর্থের অনুরূপ ভাব প্রকাশ করে। ⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘ এটি যায়েদ ইবনে ওয়াহব-এর সূত্রে আবু আদ-দারদা থেকে অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।