(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: -)
فقه التاجر المسلم   (حسام الدين عفانة)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: فقه التاجر المسلم

المؤلف: حسام الدين بن موسى محمد بن عفانة

الطبعة: الأولى، بيت المقدس 1426هـ - 2005م

توزيع: المكتبة العلمية ودار الطيب للطباعة والنشر

عدد الصفحات: 260

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 شوّال 1432

ফিকহুত তাজির আল-মুসলিম   (হুসামুদ্দিন আফানা)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: ফিকহুত তাজির আল-মুসলিম

লেখক: হুসামুদ্দিন বিন মুসা মুহাম্মদ বিন আফানা

সংস্করণ: প্রথম, বাইতুল মাকদিস ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পরিবেশনায়: আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ ওয়া দারুত তীব লিত-তিবাআহ ওয়ান নাশর

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২২ শাওয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২)
فقهُ التاجرِ المسلمِ وآدابُه

 

تأليف

الأستاذ الدكتور حسام الدين بن موسى عفانه

أستاذ الفقه والأصول

كلية الدعوة وأصول الدين

جامعة القدس
মুসলিম ব্যবসায়ীর ফিকহ (فقه) ও শিষ্টাচার

 

রচনায়

প্রফেসর ডক্টর হুসামুদ্দিন ইবনে মুসা আফানা

ফিকহ (فقه) ও উসুল (أصول) শাস্ত্রের অধ্যাপক

দাওয়াহ ও উসুল আদ-দীন (أصول الدين) অনুষদ

আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩)
الطبعة الأولى

بيت المقدس

1426هـ

2005م

 

توزيع

المكتبة العلمية ودار الطيب للطباعة والنشر

القدس / أبوديس / شارع جامعة القدس تلفون (2791365)

 

طباعة وتنسيق:

شفاء بنت حسام الدين عفانه
প্রথম সংস্করণ

বাইতুল মাকদিস

১৪২৬ হিজরি

২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

 

পরিবেশনায়

আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ ও দারুত তায়্যিব ফর প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং

আল-কুদস / আবু দিস / আল-কুদস ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট, টেলিফোন (২৭৯১৩৬৫)

 

মুদ্রণ ও বিন্যাস:

শিফা বিনতে হুসামুদ্দিন আফানাহ
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

نصوص شرعية في البيع والشراء: قال الله تعالى: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ} سورة البقرة الآية 275.

وقال الله تعالى: {فَإِذَا قُضِيَتْ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُون َ} سورة الجمعة الآية 10.

وقال الله تعالى: {رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ} سورة النور الآية 37.

وقال الله تعالى: {الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أثيم إن الَّذِينَءَامَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَءَاتَوُا الزَّكَاةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ يَا أَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِين َفإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ} سورة البقرة الآيات 275 - 279.

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (التاجر الصدوق الأمين مع النبيين والصديقين والشهداء) رواه الترمذي وقال حديث حسن.

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن الله يحب سَمْح البيع سَمْح الشراء سَمْح القضاء) رواه الترمذي وصححه العلامة الألباني في صحيح سنن الترمذي 2/ 34.

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لعن الله آكل الربا ومؤكله وكاتبه وشاهديه وقال: هم سواء) رواه مسلم.

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (يا معشر التجار، فاستجابوا لرسول الله صلى الله عليه وسلم ورفعوا أعناقهم وأبصارهم إليه، فقال: إن التجار يبعثون يوم القيامة فجاراً إلا من اتقى الله وبر وصدق) رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত শরয়ি দলিলসমূহ: মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন} সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৫।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {অতঃপর যখন সালাত শেষ হবে তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত: ১০।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {এমন কিছু লোক, যাদেরকে ব্যবসা এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদান হতে বিচ্যুত করতে পারে না; তারা সেই দিনকে ভয় করে যে দিন অন্তর ও চক্ষুসমূহ উল্টে যাবে} সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩৭।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {যারা সুদ খায় তারা কেবল সেই ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ করে উন্মাদ করে দেয়। তা এই জন্য যে, তারা বলেছিল: ব্যবসা তো সুদের মতই; অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। অতএব যার কাছে তার রবের পক্ষ হতে উপদেশ এল এবং সে বিরত হলো, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই, আর তার বিষয়টি আল্লাহর ইখতিয়ারে। আর যারা পুনরায় তা করবে তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-সদকাকে বৃদ্ধি করেন। আর আল্লাহ কোন অকৃতজ্ঞ পাপিষ্ঠকে ভালোবাসেন না। নিশ্চয় যারা ইমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, সালাত কায়েম করেছে এবং জাকাত প্রদান করেছে, তাদের প্রতিদান তাদের রবের কাছে রয়েছে। আর তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। অতঃপর যদি তোমরা তা না করো তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। আর যদি তোমরা তাওবা করো তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না} সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৫ - ২৭৯।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (সত্যবাদী আমানতদার ব্যবসায়ী নবীগণ, সত্যনিষ্ঠ ও শহীদদের সাথে থাকবেন) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয় আল্লাহ সহজভাবে বিক্রয় করা, সহজভাবে ক্রয় করা এবং সহজভাবে পাওনা পরিশোধ করাকে পছন্দ করেন) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং আল্লামা আলবানী সহিহ সুনান তিরমিজি (২/৩৪) গ্রন্থে একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (সুদখোর, সুদদাতা, এর লেখক এবং এর সাক্ষীদ্বয়ের ওপর আল্লাহ লানত করেছেন এবং বলেছেন: তারা সকলেই সমান) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়! তখন তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ডাকে সাড়া দিল এবং তাদের ঘাড় ও দৃষ্টি তাঁর দিকে উত্তোলন করল। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয় কিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীরা পাপিষ্ঠ হিসেবে পুনরুত্থিত হবে, তবে সে ব্যক্তি ছাড়া যে আল্লাহকে ভয় করেছে, নেক কাজ করেছে এবং সত্য কথা বলেছে) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি একটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস।
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله. {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} سورة آل عمران الآية 102. {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} النساء الآية 1. {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} سورة الأحزاب الآيتان 70 - 71.

أما بعد …

فإن هذا الكتاب يتناول قضية هامة من القضايا التي يحتاجها كثير من الناس، حيث إن التجارة هي عصب الحياة الاقتصادية في المجتمع وقد رغبت أن أضع بين يدي إخواننا التجار كتاباً يحوي أهم المسائل التي يحتاجونها في تجارتهم وتعاملهم مع الناس. فوضعت هذا الكتاب المشتمل على أحكام البيع والشراء وما يتعلق بهما من آداب ليكون دليلاً للتاجر المسلم في تجارته، وقدمت على ذلك حديثاً موجزاً عن التجارة في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم. وعرضت مسائل الكتاب بلغة سهلة واضحة، وطرزت الكتاب بنصوص كثيرة من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم. وبيّنت الراجح من أقوال أهل العلم في المسائل الخلافية التي ذكرتها، مستنداً في ترجيحي على الأدلة الشرعية، وعلى ما قرره كبار فقهاء الإسلام قديماً وحديثاً. وذكرت في هذا الكتاب كثيراً من القضايا المعاصرة التي يتعامل بها التجار في وقتنا الحاضر، وبينت أحكامها الشرعية، وخاصة مسألة الربا والتعامل مع البنوك الربوية، فقد نالت حظاً وافراً من الحديث في مواضع عديدة، نظراً لانتشار التعامل بالربا بين كثير من التجار.

وختاماً أذكر العبارة المشهورة التي تقول: (الدين المعاملة)، فهذه العبارة صحيحة المعنى ويدل على صدقها وصحتها الأدلة الكثيرة التي سقتها في هذا الكتاب، فإن حسن تعامل التجار المسلمين
‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (সুরা আল-ইমরান, আয়াত ১০২)। {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} (সুরা আন-নিসা, আয়াত ১)। {হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে মহা সফলতা অর্জন করবে।} (সুরা আল-আহজাব, আয়াত ৭০-৭১)।

অতঃপর …

নিশ্চয়ই এই গ্রন্থটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে যা অনেক মানুষের প্রয়োজন। যেহেতু ব্যবসা হলো সমাজের অর্থনৈতিক জীবনের প্রাণশক্তি, তাই আমি আমাদের ব্যবসায়ী ভাইদের সামনে এমন একটি কিতাব তুলে ধরার ইচ্ছা পোষণ করেছি যা তাদের ব্যবসা ও মানুষের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ধারণ করবে। ফলে আমি ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান এবং এ সংক্রান্ত আদব বা শিষ্টাচার সম্বলিত এই গ্রন্থটি সংকলন করেছি, যাতে এটি মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে একটি পথনির্দেশিকা হয়। এর পূর্বে আমি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর আলোকে ব্যবসার বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করেছি। আমি কিতাবটির বিষয়বস্তু সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করেছি এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়ে কিতাবটিকে সুশোভিত করেছি। আমি আলোচিত মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলোতে আলেমদের বক্তব্যের মধ্য থেকে অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি স্পষ্ট করেছি। এই প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে আমি শারয়ী দলিলসমূহ এবং প্রাচীন ও বর্তমান যুগের বরেণ্য ফকিহদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেছি। আমি এই কিতাবে বর্তমান সময়ের ব্যবসায়ীদের প্রচলিত অনেক সমসাময়িক বিষয় উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোর শারয়ী বিধান বর্ণনা করেছি। বিশেষ করে সুদ (الربا) এবং সুদী ব্যাংকগুলোর সাথে লেনদেনের বিষয়টি বিভিন্ন স্থানে বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে, কারণ অনেক ব্যবসায়ীর মধ্যে সুদী লেনদেনের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।

পরিশেষে, আমি সেই বিখ্যাত উক্তিটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যাতে বলা হয়েছে: (দীন হলো লেনদেন)। এই উক্তিটি অর্থের দিক থেকে সঠিক এবং এর সত্যতা ও সঠিকতার ওপর অনেক দলিল রয়েছে যা আমি এই কিতাবে উপস্থাপন করেছি। নিশ্চয়ই মুসলিম ব্যবসায়ীদের সুন্দর লেনদেন...
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৬)
قديماً كان سبباً في دخول ملايين الناس في دين الإسلام. فالتاجر المسلم صاحب عقيدة يدعو الناس إليها. والتاجر المسلم صاحب خلق يدعو الناس إليه، والتاجر المسلم داعية إلى دين الله بسلوكه وحسن تعامله مع الناس فهو داعية بلسان الحال وإن لم يكن كذلك بلسان المقال، وقد ذكر بعض أهل العلم تحليلاً لكلمة تاجر حيث قال: [التاء تعني تقوى، والألف أمين، والجيم جسور، والراء رحيم، فالتاجر المسلم تقيٌّ أمينٌ جسورٌ رحيمٌ] وآمل أن يتحلى تجارنا بهذه المعاني الطيبة وأن يعيدوا سيرة التجار المسلمين السابقين الذين كانوا هداة مهتدين.

وأود أن نبه إلى أن هذا الكتاب سيكون إن شاء الله تعالى الأول ضمن سلسلة تهدف إلى تقريب الفقه الإسلامي إلى أصحاب المهن والصنائع وغيرهم وسيتبعه بإذن الله تعالى بقية السلسلة كما يلي:

- فقه الطبيب المسلم وآدابه … - فقه الممرض المسلم وآدابه

- فقه الزوجة المسلمة وآدابها … - فقه الزوج المسلم وآدابه

- فقه الموظف المسلم وآدابه … - فقه المعلم المسلم وآدابه (المربي)

- فقه إمام المسجد وآدابه … - فقه خطيب الجمعة وآدابه

- فقه العامل المسلم وآدابه … - فقه الرياضي المسلم وآدابه

- فقه المسئول وآدابه

أسأل الله عز وجل أن يعينني على إعدادها وأن يرزقني الإخلاص في القول والعمل. وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين

كتبه الأستاذ الدكتور حسام الدين بن موسى عفانه

أبوديس/ القدس

صباح يوم الثلاثاء الثاني عشر من رجب 1426هـ

وفق السادس عشر من آب 2005 م.

অতীতে এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের ইসলাম ধর্মে প্রবেশের কারণ ছিল। একজন মুসলিম ব্যবসায়ী আকিদার (عقيدة) অধিকারী, যার দিকে তিনি মানুষকে আহ্বান করেন। মুসলিম ব্যবসায়ী সচ্চরিত্রের অধিকারী, যার মাধ্যমে তিনি মানুষকে সেদিকে আহ্বান করেন। মুসলিম ব্যবসায়ী তাঁর আচরণ ও মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনের দিকে একজন আহ্বানকারী (داعية)। তিনি তাঁর অবস্থার জবান (لسان الحال) দিয়ে একজন দাঈ বা আহ্বানকারী, যদিও তিনি মুখের ভাষায় (لسان المقال) তেমনটি না হন। জনৈক আলেম 'তাজির' (ব্যবসায়ী) শব্দের একটি বিশ্লেষণ উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: ['তা' (التاء) বর্ণটি দ্বারা খোদাভীতি (تقوى), 'আলিফ' (الألف) দ্বারা আমানতদার (أمين), 'জিম' (الجيم) দ্বারা সাহসী (جسور) এবং 'রা' (الراء) দ্বারা দয়ালু (رحيم) বুঝানো হয়েছে। সুতরাং মুসলিম ব্যবসায়ী হলেন খোদাভীরু (تقي), আমানতদার (أمين), সাহসী (جسور) ও দয়ালু (رحيم)]। আমি আশা করি আমাদের ব্যবসায়ীরা এই উত্তম গুণাবলীতে ভূষিত হবেন এবং পূর্ববর্তী মুসলিম ব্যবসায়ীদের সেই আদর্শিক জীবনচরিত ফিরিয়ে আনবেন, যাঁরা নিজেরা সৎপথের দিশারী ও হিদায়েতপ্রাপ্ত ছিলেন।

আমি আরও উল্লেখ করতে চাই যে, এই বইটি ইনশাআল্লাহ পেশাজীবী, কারিগর এবং অন্যান্যদের নিকট ইসলামী ফিকহকে সহজবোধ্য করার লক্ষ্যে প্রণীত একটি সিরিজের প্রথম বই হবে। আল্লাহর ইচ্ছায় এই সিরিজের পরবর্তী বইগুলো হবে নিম্নরূপ:

- মুসলিম চিকিৎসকের ফিকহ ও আদব … - মুসলিম নার্সের ফিকহ ও আদব

- মুসলিম স্ত্রীর ফিকহ ও আদব … - মুসলিম স্বামীর ফিকহ ও আদব

- মুসলিম চাকুরিজীবীর ফিকহ ও আদব … - মুসলিম শিক্ষকের ফিকহ ও আদব (মুরুব্বি)

- মসজিদের ইমামের ফিকহ ও আদব … - জুমার খতিবের ফিকহ ও আদব

- মুসলিম শ্রমিকের ফিকহ ও আদব … - মুসলিম ক্রীড়াবিদের ফিকহ ও আদব

- দায়িত্বশীলের ফিকহ ও আদব

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এগুলো প্রস্তুত করতে সাহায্য করেন এবং কথা ও কাজে আমাকে একনিষ্ঠতা (إخلاص) দান করেন। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

লিখেছেন: প্রফেসর ড. হুসামুদ্দিন বিন মুসা আফানা

আবু দিস/জেরুজালেম

মঙ্গলবার সকাল, ১২ই রজব ১৪২৬ হিজরি

মোতাবেক ১৬ই আগস্ট ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تمهيد في التفقه في أحكام التجارة

حث الله سبحانه وتعالى على التفقه في الدين فقال جل جلاله: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} سورة التوبة الآية 122. فيجب على المسلم أن يتعلم من أمور دينه ما هو ضروري لعبادته ولعمله. وقد ورد في الحديث قول النبي صلى الله عليه وسلم: (طلب العلم فريضة على كل مسلم) وهو حديث لا يقلّ عن درجة الحسن كما سيأتي لاحقاً.

وقد قال العلماء إن المقصود بالفريضة من العلم ما تتوقف عليه صحة العبادة والمعاملة فلا بد للسلم أن يتعلم كيفية أداء الصلاة والصيام والزكاة والحج بشكل صحيح وكذا يجب على من اشتغل بعمل من الأعمال أن يتعلم الأمور الأساسية التي لا يصح العمل بدونها، فعلى التاجر المسلم أن يتعلم أحكام البيع والشراء وما يتعلق بالربا حتى يتجنبه ونحو ذلك من الأحكام.

ومن الجدير بالذكر أن العلماء قد قسموا العلم الشرعي إلى ثلاثة أقسام: الأول: ما هو فرض عين، والمقصود بفرض العين ما يجب على كل مسلم مكلف أن يحصله ولا يعذر بجهله، وحدُّ هذا القسم هو ما تتوقف عليه صحة العبادة أو المعاملة فيجب على المسلم أن يتعلم كيفية الوضوء والصلاة والأحكام الأساسية في الصوم والزكاة إن كان عنده نصاب، والأحكام الأساسية في الحج إن كان من أهل الاستطاعة وكذلك يجب عليه أن يتعلم أحكام المعاملات التي يحتاج إليها، فمثلاً لو كان شخص يعمل في الصرافة فيجب عليه أن يتعلم أحكام الصرف في الشريعة الإسلامية وهكذا بالنسبة للأمور التي يحتاج لها في عباداته ومعاملاته.

قال الإمام النووي: [ … فرض العين وهو تعلم المكلف ما لا يتأدّى الواجب الذي تعين عليه فعله إلا به، ككيفية الوضوء والصلاة ونحوها وعليه حمل جماعات الحديث المروي في مسند أبي يعلى الموصلي عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم: (طلب العلم فريضة على كل مسلم) وهذا الحديث وإن لم يكن ثابتاً فمعناه صحيح … ] المجموع 1/ 24.

والحديث الذي ذكره الإمام النووي وهو: (طلب العلم فريضة على كل مسلم) حديث مختلف فيه فمن العلماء من يرى أنه حديث ضعيف، قال الإمام البيهقي: [وهذا حديث متنه مشهور وإسناده ضعيف وقد روي من أوجه كلها ضعيف] وضعفه الإمام أحمد أيضاً كما قال الحافظ العراقي في
ব্যবসা-বাণিজ্যের বিধানাবলি অনুধাবনের ভূমিকা

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দ্বীনী জ্ঞান অর্জন তথা ফিকহ অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। মহান রব ইরশাদ করেন: {কেন তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ বের হলো না, যেন তারা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের স্বগোত্রীয়দেরকে সতর্ক করতে পারে যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসবে; যাতে তারা সতর্ক হতে পারে} (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ১২২)। সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য তার ইবাদত ও কর্মের ক্ষেত্রে যা অপরিহার্য তা শিখে নেয়া আবশ্যক। হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী বর্ণিত হয়েছে: "জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।" এটি এমন একটি হাদিস যা হাসান (حسن) স্তরের নিচে নয়, যেমনটি পরবর্তীতে আসবে।

উলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, জ্ঞানের যে অংশটুকু অর্জন করা ফরজ বা আবশ্যিক, তা হলো যার ওপর ইবাদত ও লেনদেনের শুদ্ধতা নির্ভর করে। সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য সালাত, সিয়াম, জাকাত এবং হজের পদ্ধতি সঠিকভাবে শিখে নেয়া আবশ্যক। তদ্রূপ যে ব্যক্তি কোনো পেশায় নিয়োজিত হন, তার ওপর সেই কাজ সংক্রান্ত এমন মৌলিক বিষয়গুলো শিখে নেয়া ওয়াজিব যা ব্যতীত কাজটি সঠিক হবে না। অতএব, একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর ওপর ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান এবং সুদ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ শিখে নেয়া জরুরি যাতে সে তা থেকে বেঁচে থাকতে পারে এবং অনুরূপ অন্যান্য বিধানাবলি।

উল্লেখ্য যে, উলামায়ে কেরাম শরয়ী জ্ঞানকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: প্রথমত: যা ফরজে আইন (فرض عين)। ফরজে আইন বলতে এমন জ্ঞানকে বোঝায় যা প্রত্যেক মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ মুসলিমের অর্জন করা আবশ্যক এবং এ ক্ষেত্রে অজ্ঞতা কোনো ওজর হিসেবে কবুল করা হয় না। এই স্তরের জ্ঞানের সীমা হলো যার ওপর ইবাদত বা লেনদেনের শুদ্ধতা নির্ভর করে। সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য ওজু ও সালাতের নিয়মাবলি, সিয়ামের মৌলিক বিধান এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে জাকাতের বিধানাবলি শিখে নেয়া জরুরি। তদ্রূপ হজের সামর্থ্য থাকলে হজের মৌলিক মাসআলাগুলো এবং তার প্রয়োজনীয় লেনদেনের বিধানাবলি শিখে নেয়াও ওয়াজিব। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি যদি মুদ্রা বিনিময়ের কাজ করেন, তবে তার জন্য ইসলামি শরিয়তে মুদ্রাবিনিময় সংক্রান্ত বিধানাবলি শিখে নেয়া আবশ্যক। একইভাবে তার ইবাদত ও লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

ইমাম নববী রহ. বলেছেন: [ … ফরজে আইন (فرض عين) হলো মুকাল্লাফ ব্যক্তির এমন বিষয় শিক্ষা করা যা ব্যতীত তার ওপর অর্পিত ওয়াজিব কাজ আদায় করা সম্ভব নয়, যেমন ওজু ও সালাতের পদ্ধতি এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয়। উলামায়ে কেরামের একটি বড় জামাত মুসনাদ আবু ইয়ালা আল-মাওসিলিতে আনাস রা. হতে বর্ণিত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসটিকে — "জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ" — এই অর্থে গ্রহণ করেছেন। এই হাদিসটি যদিও প্রমাণিত (ثابت) নয়, তবে এর অর্থ সঠিক … ] আল-মাজমু ১/২৪।

ইমাম নববী যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ: "জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ", সেটি একটি মতভেদপূর্ণ হাদিস। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস। ইমাম বায়হাকী রহ. বলেছেন: [এই হাদিসটির মতন (متن) প্রসিদ্ধ কিন্তু এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف); এটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই দুর্বল (ضعيف)]। হাফেজ ইরাকী যেমনটি উল্লেখ করেছেন, ইমাম আহমদ রহ.ও একে দুর্বল (ضعيف) বলে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১০)
تخريج أحاديث إحياء علوم الدين. ويرى بعض أهل الحديث أن الحديث يصلح للاحتجاج لتعدد طرقه كالسيوطي والعلامة الألباني. وعلى كل حال فالمقصود بالعلم في الحديث هو العلم الذي يكون فرض عين فقط وليس مطلق العلم.

قال ابن عابدين في حاشيته نقلاً عن العلامي في فصوله: [من فرائض الإسلام تعلم ما يحتاج إليه العبد في إقامة دينه وإخلاص عمله لله تعالى ومعاشرة عباده وفرض على كل مكلف ومكلفة بعد تعلمه علم الدين والهداية تعلم علم الوضوء والغسل والصلاة والصوم وعلم الزكاة لمن له نصاب والحج لمن وجب عليه والبيوع على التجار ليحترزوا عن الشبهات والمكروهات في سائر المعاملات وكذا أهل الحرف وكل من اشتغل بشيء يفترض عليه علمه وحكمه ليمتنع عن الحرام فيه] حاشية ابن عابدين 1/ 42.

الثاني: فرض الكفاية وهو ما إذا قام به البعض كفى وسقط الإثم عن الباقي، وعرّفه الإمام النووي بقوله: [وهو تحصيل ما لا بد للناس منه في إقامة دينهم من العلوم الشرعية كحفظ القرآن والأحاديث وعلومهما والأصول والفقه والنحو واللغة والتصريف ومعرفة رواة الحديث والإجماع والخلاف. وأما ما ليس علماً شرعياً ويحتاج إليه في قوام أمر الدنيا كالطب والحساب ففرض كفاية أيضاً … ] المجموع 1/ 26.

الثالث: النفل وهو كالتوسع في العلوم الشرعية.

وبهذا يظهر لنا أن تعلم أحكام التجارة من باب فرض العين في حق التجار، لأن صحة أعمالهم التجارية متوقفة على العلم بها، قال الإمام النووي: [باب أقسام العلم الشرعي هي ثلاثة: الأول فرض العين وهو تعلم المكلف ما لا يتأدى الواجب الذي تعين عليه فعله إلا به … أما البيع والنكاح وشبههما مما لا يجب أصله فقال إمام الحرمين والغزالي وغيرهما يتعين على من أراده تعلم كيفيته وشرطه وقيل لا يقال يتعين بل يقال يحرم الإقدام عليه إلا بعد معرفة شرطه وهذه العبارة أصح: وعبارتهما محمولة عليها] المجموع 1/ 24 - 25.

وقال الإمام الغزالي: [اعلم أن تحصيل علم هذا الباب واجب على كل مسلم مكتسب لأن طلب العلم فريضة على كل مسلم وإنما هو طلب العلم المحتاج إليه والمكتسب يحتاج إلى علم الكسب ومهما حصل علم هذا الباب وقف على مفسدات المعاملة فيتقيها وما شذ عنه من الفروع المشكلة فيقع على سبب إشكالها فيتوقف فيها إلى أن يسأل فإنه إذا لم يعلم أسباب الفساد بعلم جملي
এহ্ইয়াউ উলুমিদ্দীন-এর হাদিসসমূহের তাখরিজ। কতিপয় হাদিস বিশারদ মনে করেন যে, বহু সূত্র (تعدد طرقه) থাকার কারণে হাদিসটি দালিল হিসেবে ব্যবহারের যোগ্য (يصلح للاحتجاج); যেমন ইমাম সুয়ুতি এবং আল্লামা আলবানি। যাই হোক, হাদিসে 'ইলম' বা জ্ঞান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কেবল সেই ইলম যা ফরজে আইন (فرض عين), ঢালাওভাবে সব জ্ঞান নয়।

ইবনে আবিদিন তাঁর হাশিয়ায় আল্লামি-এর 'ফাসুল' থেকে উদ্ধৃত করে বলেন: [ইসলামের ফরজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ওই বিষয়গুলো শিক্ষা করা যা একজন বান্দার তার দীন পালন, আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা এবং তাঁর বান্দাদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে প্রয়োজন। দ্বীনি জ্ঞান এবং হিদায়াত অর্জনের পর প্রত্যেক মুকাল্লাফ (مكلف) নারী ও পুরুষের ওপর অজু, গোসল, সালাত ও সওমের ইলম শিক্ষা করা ফরজ। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের জন্য জাকাতের ইলম, যার ওপর হজ ওয়াজিব হয়েছে তার জন্য হজের ইলম এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ক্রয়-বিক্রয়ের ইলম শিক্ষা করা ফরজ, যাতে তারা যাবতীয় লেনদেনে সন্দেহযুক্ত ও অপছন্দনীয় বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারে। একইভাবে পেশাজীবী এবং যেকোনো কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির ওপর সেই কাজের ইলম এবং বিধান শিক্ষা করা ফরজ হয়ে যায়, যাতে সে তাতে হারাম বিষয় থেকে বিরত থাকতে পারে।] হাশিয়া ইবনে আবিদিন ১/৪২।

দ্বিতীয়: ফরজে কিফায়া (فرض الكفاية); এটি এমন কাজ যা কিছু লোক সম্পাদন করলে তা যথেষ্ট হয়ে যায় এবং অন্যদের থেকে গুনাহ রহিত হয়। ইমাম নববী এর সংজ্ঞায় বলেছেন: [তা হলো ওইসব শরয়ি ইলম অর্জন করা যা মানুষের দীন পালনের জন্য অপরিহার্য, যেমন কুরআন ও হাদিস এবং এই উভয়ের সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ, উসুল, ফেকাহ, নাহু, ভাষা ও সারফ এবং হাদিসের বর্ণনাকারীদের (معرفة رواة الحديث) পরিচয়, ইজমা ও মতভেদ সম্পর্কে জানা। আর যা শরয়ি ইলম নয় কিন্তু পার্থিব জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজন—যেমন চিকিৎসা ও গণিত—সেগুলোও ফরজে কিফায়া (فرض الكفاية) … ] আল-মাজমু ১/২৬।

তৃতীয়: নফল; যেমন শরয়ি ইলমসমূহে গভীর জ্ঞান অর্জন করা।

এর দ্বারা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যবসার আহকাম শিক্ষা করা ফরজে আইন (فرض عين)-এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ তাদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের শুদ্ধতা তা জানার ওপর নির্ভরশীল। ইমাম নববী বলেন: [শরয়ি ইলমের প্রকারভেদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ—তা তিন প্রকার। প্রথমটি হলো ফরজে আইন (فرض عين); আর তা হলো মুকাল্লাফ (مكلف) ব্যক্তির এমন বিষয় শিক্ষা করা যা ছাড়া তার ওপর অর্পিত আবশ্যকীয় দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয় … তবে ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ এবং এজাতীয় বিষয়সমূহ যা মূলত করা বাধ্যতামূলক নয়, সে সম্পর্কে ইমামুল হারামাইন, গাজালি ও অন্যান্যগণ বলেন—যে ব্যক্তি এসব করতে চায় তার জন্য এর নিয়ম ও শর্তাবলি শিক্ষা করা আবশ্যক (تعين)। মতান্তরে বলা হয়—'আবশ্যক' বলা হবে না, বরং বলা হবে যে এর শর্তাবলি না জেনে তাতে লিপ্ত হওয়া হারাম; আর এই বক্তব্যটিই অধিক সঠিক। তাঁদের বক্তব্যও এর ওপরই প্রযোজ্য।] আল-মাজমু ১/২৪-২৫।

ইমাম গাজালি বলেন: [জেনে রেখো, এই অধ্যায়ের ইলম অর্জন করা উপার্জনকারী প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ওয়াজিব। কেননা জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। আর এটি হলো প্রয়োজনীয় জ্ঞান অন্বেষণ করা। উপার্জনকারীর জন্য উপার্জনের ইলম প্রয়োজন। যখন সে এই অধ্যায়ের ইলম অর্জন করবে, তখন সে লেনদেনের নষ্টকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হবে এবং তা থেকে বেঁচে থাকবে। আর এর বাইরে যেসব জটিল শাখা-প্রশাখা (الفروع) থাকবে, সেগুলোর জটিলতার কারণ সে বুঝতে পারবে এবং মাসআলা জিজ্ঞাসা করার আগ পর্যন্ত সে বিষয়ে থমকে দাঁড়াবে। কারণ সে যদি সামগ্রিকভাবে লেনদেন নষ্ট হওয়ার কারণগুলো না জানে...]
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১১)
فلا يدري متى يجب عليه التوقف والسؤال، ولو قال لا أقدم العلم ولكني أصبر إلى أن تقع لي الواقعة فعندها أتعلم وأستفتي، فيقال له: وبم تعلم وقوع الواقعة مهما لم تعلم جمل مفسدات العقود فإنه يستمر في التصرفات ويظنها صحيحة مباحة فلا بد له من هذا القدر من علم التجارة ليتميز له المباح عن المحظور وموضع الإشكال عن موضع الوضوح ولذلك روي عن عمر رضي الله عنه أنه كان يطوف السوق ويضرب بعض التجار بالدرِّة ويقول لا يبيع في سوقنا إلا من يفقه وإلا أكل الربا شاء أم أبى] إحياء علوم الدين 2/ 66.

وقال الشوكاني: [التفقه في الدين مأمور به في كتاب الله عز وجل، وفي صحيح الأخبار عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وليس ذلك بخاص بنوع من أنواع الدَّين، بل في كل أنواعه، فيندرج تفقه التاجر للتجارة تحت الأدلة العامة ولا شك أن أنواع الدَّين تختلف باختلاف الأشخاص دون بعض، فمثلاً التاجر المباشر للبيع والشراء أحوج لمعرفة ما يرجع إلى ما يلابسه من غيره ممن لا يلابس البيع إلا نادراً] وبل الغمام 2/ 122.

وقال ابن عابدين: [ … وفي تبيين المحارم: لا شك في فرضية علم الفرائض الخمس وعلم الإخلاص؛ لأن صحة العمل موقوفة عليه وعلم الحلال والحرام … وعلم البيع والشراء والنكاح والطلاق لمن أراد الدخول في هذه الأشياء] حاشية ابن عابدين 1/ 42.

وجاء في الموسوعة الفقهية الكويتية: [تعلم الفقه قد يكون فرض عين على المكلف كتعلمه ما لا يتأدّى الواجب الذي تعين عليه فعله إلا به، ككيفية الوضوء والصلاة، والصوم ونحو ذلك، وعليه حمل بعضهم الحديث المروي عن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: (طلب العلم فريضة على كل مسلم) … أما البيوع والنكاح وسائر المعاملات مما لا يجب أصله فيتعين على من يريد شيئاً من ذلك تعلم أحكامه ليحترز عن الشبهات والمكروهات، وكذا كل أهل الحرف، فكل من يمارس عملاً يجب عليه تعلم الأحكام المتعلقة به ليمتنع عن الحرام] الموسوعة الفقهية الكويتية 32/ 194 - 195.

فيجب على التاجر المسلم أن يتعلم أحكام البيع والشراء وما يتعلق بالربا حتى يتجنبه ونحو ذلك من الأحكام الأساسية.

وهذا الواجب ينبغي أن يكون قبل الخوض في التجارة فإن العلم قائد والعمل تابع وخاصة أن كثيراً من التجار والباعة في أسواقنا هم من العامة الذين لا يعرفون معظم أحكام البيع والشراء، وقد كان عمر رضي الله عنه يأمر التجار بالتفقه في أحكام البيع والشراء، فقد روى الترمذي أن عمر بن
ফলে সে জানে না কখন তার থামা এবং জিজ্ঞাসা করা আবশ্যক হবে। আর সে যদি বলে: 'আমি অগ্রিম জ্ঞান অর্জন করব না, বরং আমার সামনে কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়া পর্যন্ত আমি ধৈর্য ধরব, আর তখন আমি শিখে নেব ও ফতোয়া গ্রহণ করব,' তবে তাকে বলা হবে: 'যতক্ষণ তুমি চুক্তি বাতিল হওয়ার কারণসমূহ না জানবে, ততক্ষণ তুমি কীভাবে বুঝবে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে?' কারণ সে তার লেনদেন চালিয়ে যেতে থাকবে এবং সেগুলোকে সহিহ (صحيحة) ও বৈধ মনে করবে। তাই তার জন্য ব্যবসা সংক্রান্ত জ্ঞানের এই পরিমাণ অংশ থাকা অপরিহার্য, যাতে তার কাছে বৈধ ও নিষিদ্ধের এবং সংশয়পূর্ণ ও স্পষ্ট বিষয়ের পার্থক্য ফুটে ওঠে। এ কারণেই ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বাজারে চক্কর দিতেন এবং কোনো কোনো ব্যবসায়ীকে চাবুক দিয়ে আঘাত করতেন আর বলতেন: 'আমাদের বাজারে যেন কেবল সেই ব্যক্তিই কেনাবেচা করে যার ফিকহ বা গভীর জ্ঞান আছে, অন্যথায় সে চাইুক বা না চাইুক সুদ খাবেই।' [এহয়াউ উলুমিদ্দীন ২/ ৬৬]

শাওকানী বলেন: [দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করার নির্দেশ মহান আল্লাহর কিতাবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহিহ (صحيح) সংবাদসমূহে দেওয়া হয়েছে। এটি দ্বীনের কোনো বিশেষ প্রকারের সাথে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সকল প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং ব্যবসায়ীর ব্যবসা সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন সাধারণ দলিলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দ্বীনের প্রকারগুলো ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়; যেমন, যে ব্যবসায়ী সরাসরি ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে যুক্ত, তার জন্য সেই বিষয়গুলো জানা অধিক জরুরি যা তার কর্মক্ষেত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেই ব্যক্তির তুলনায় যে খুব কমই ক্রয়-বিক্রয় করে।] ওবলুল গামাম ২/ ১২২।

ইবনে আবিদীন বলেন: [ … এবং 'তাবয়ীনুল মাহারিম'-এ বলা হয়েছে: পাঁচটি ফরজের জ্ঞান এবং ইখলাসের জ্ঞান ফরজ হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই; কারণ আমলের বিশুদ্ধতা এর ওপর নির্ভরশীল। তেমনি হালাল ও হারামের জ্ঞান … এবং যে ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ ও তালাকের মতো বিষয়গুলোতে প্রবেশ করতে চায়, তার জন্য সেই সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করাও ফরজ।] হাশিয়া ইবনে আবিদীন ১/ ৪২।

কুয়েতি ফিকহ বিশ্বকোষে এসেছে: [ফিকহ শিক্ষা করা কোনো কোনো সময় মুকাল্লাফের ওপর ফরজে আইন হতে পারে, যেমন—সেই বিষয়গুলো শেখা যা ছাড়া তার ওপর অর্পিত আবশ্যক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়; যেমন অজু, নামাজ, রোজা ইত্যাদির পদ্ধতি। কেউ কেউ আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই হাদিসটিকে এই অর্থেই গ্রহণ করেছেন: (জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ) … তবে ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ এবং অন্যান্য সামাজিক লেনদেন যা মৌলিকভাবে আবশ্যক নয়, যে ব্যক্তি এগুলোর কোনোটিতে জড়াতে চায়, তার জন্য এর বিধানগুলো শেখা আবশ্যক হয়ে যায়, যাতে সে সন্দেহযুক্ত ও অপছন্দনীয় বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারে। অনুরূপভাবে সকল পেশাজীবীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যে ব্যক্তি কোনো পেশায় নিয়োজিত থাকে, তার ওপর সেই সংক্রান্ত বিধানাবলি শেখা আবশ্যক হয়ে যায় যাতে সে হারাম থেকে বিরত থাকতে পারে।] কুয়েতি ফিকহ বিশ্বকোষ ৩২/ ১৯৪ - ১৯৫।

অতএব, একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য ক্রয়-বিক্রয়ের বিধানাবলি এবং সুদ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ শেখা আবশ্যক যাতে সে তা থেকে বেঁচে থাকতে পারে এবং অনুরূপ অন্যান্য মৌলিক বিধানও জানা প্রয়োজন।

আর এই আবশ্যকীয় দায়িত্বটি ব্যবসায় নামার আগেই পালন করা উচিত; কারণ জ্ঞান হলো চালক আর আমল হলো তার অনুসারী। বিশেষ করে আমাদের বাজারের অনেক ব্যবসায়ী ও বিক্রেতা সাধারণ মানুষ, যারা ক্রয়-বিক্রয়ের অধিকাংশ বিধানই জানে না। ওমর (রা.) ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয়ের বিধানাবলি সম্পর্কে ফিকহ অর্জনের নির্দেশ দিতেন। ইমাম তিরমিজি বর্ণনা করেছেন যে, ওমর ইবনুল...
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১২)
الخطاب رضي الله عنه قال: [لا يبع في سوقنا إلا من قد تفقه في الدين] قال العلامة الألباني حسن الإسناد، انظر صحيح الترمذي 1/ 151.

وجاء في رواية أخرى عن عمر رضي الله عنه قال: [لا يبع في سوقنا إلا من تفقه، وإلا أكل الربا شاء أم أبى].

وقد روي أن عمر رضي الله عنه كان يضرب من وجده في السوق وهو لا يعرف أحكام البيع والشراء، وقال الشيخ أحمد محمد شاكر رحمه الله معلقاً على أثر عمر السابق: [نعم، حتى يعرف ما يأخذ وما يدع، وحتى يعرف الحلال والحرام، ولا يفسد على الناس بيعهم وشراءهم بالأباطيل والأكاذيب، وحتى لا يُدخِل الربا عليهم من أبواب قد لا يعرفها المشتري، وبالجملة: لتكون التجارة تجارة إسلامية صحيحة خالصة، يطمئن إليها المسلم وغير المسلم، لا غش فيها ولا خداع] تعليق أحمد شاكر على سنن الترمذي 2/ 357.

وقال عطاء من التابعين: [مجالس الذكر هي مجالس الحلال والحرام كيف تشتري وتبيع وتصلي وتصوم وتنكح وتطلق وتحج وأشباه هذا] الآداب الشرعية 2/ 34.

وقال ابن نجيم الحنفي في البحر الرائق: [ … وكان التجار في القديم إذا سافروا استصحبوا معهم فقيهاً يرجعون إليه وعن أئمة خوارزم أنه لا بد للتاجر من فقيه صديق].

 

- - -
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: [আমাদের বাজারে সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ যেন বেচাকেনা না করে, যে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেছে।] আল্লামা আলবানী একে উত্তম সনদ সংবলিত (حسن الإسناد) বলেছেন, দেখুন সহীহ তিরমিযী ১/ ১৫১।

উমর (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন: [আমাদের বাজারে সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ যেন ব্যবসা না করে যে (দ্বীনের) গভীর জ্ঞান অর্জন করেছে; নতুবা সে ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় সুদ ভক্ষণ করবে।]

বর্ণিত হয়েছে যে, উমর (রা.) বাজারে এমন কাউকে পেলে প্রহার করতেন যে ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান জানত না। শেখ আহমদ মুহাম্মদ শাকির (রহ.) উমরের (রা.) পূর্বোক্ত বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: [হ্যাঁ, যাতে সে জানতে পারে কী সে গ্রহণ করছে আর কী সে বর্জন করছে, এবং যাতে সে হালাল ও হারাম চিনতে পারে। সে যেন বাতিল ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মানুষের ক্রয়-বিক্রয়কে বিনষ্ট না করে এবং এমন সব পন্থায় তাদের ওপর সুদ চাপিয়ে না দেয় যা ক্রেতা হয়তো জানে না। মোদ্দাকথা হলো: যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য হয় সঠিক ও বিশুদ্ধ (صحيحة) এবং খাঁটি ইসলামী ব্যবসা, যার ওপর মুসলিম ও অমুসলিম সকলে আশ্বস্ত হতে পারে এবং যেখানে কোনো প্রকার ধোঁকা বা প্রতারণা থাকবে না।] সুনান তিরমিযীর ওপর আহমদ শাকিরের টীকা ২/ ৩৫৭।

তাবেয়ী (التابعين) আতা (রহ.) বলেছেন: [যিকিরের মজলিস হলো হালাল ও হারামের মজলিস; অর্থাৎ কীভাবে তুমি ক্রয় করবে, বিক্রয় করবে, সালাত আদায় করবে, সিয়াম পালন করবে, বিবাহ করবে, তালাক দিবে, হজ করবে এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।] আদাব আশ-শারইয়্যাহ ২/ ৩৪।

ইবনে নুজাইম আল-হানাফী ‘আল-বাহরুর রায়েক’ গ্রন্থে বলেছেন: [ … প্রাচীনকালে ব্যবসায়ীরা যখন সফরে বের হতেন, তখন তারা নিজেদের সাথে একজন ফকীহ (فقيه) রাখতেন যার কাছে তারা পরামর্শের জন্য ফিরে আসতেন। আর খাওয়ারিজমের ইমামদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ব্যবসায়ীর জন্য একজন ফকীহ (فقيه) বন্ধু থাকা অপরিহার্য।]

 

- - -
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌التجارة

في

الكتاب والسنة
ব্যবসা-বাণিজ্য

আলোকে

আল-কিতাব ও সুন্নাহ
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌التجارة في الكتاب الكريم

التجارة هي البيع والشراء وقد ذكرها الله سبحانه وتعالى في كتابه الكريم في عدة مواضع منها:

- قوله تعالى: {إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً حَاضِرَةً تُدِيرُونَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَلَّا تَكْتُبُوهَا} سورة البقرة الآية 282.

- وقوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا} سورة النساء الآية 29.

قال الإمام الطبري: [ … عن قتادة قوله: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ} قال التجارة رزق من رزق الله وحلال من حلال الله لمن طلبها بصدقها وبرها وقد كنا نحدث أن التاجر الأمين الصدوق مع السبعة في ظل العرش يوم القيامة] تفسير الطبري 5/ 32.

وقال ابن كثير في تفسير قوله تعالى: {إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ} … كأنه يقول: لا تتعاطوا الأسباب المحرمة في اكتساب الأموال، ولكن المتاجر المشروعة التي تكون عن تراض من البائع والمشتري فافعلوها وتسببوا بها في تحصيل الأموال] تفسير ابن كثير2/ 239.

- ومنها قوله تعالى: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا} سورة البقرة الآية 275.

- ومنها قوله تعالى: {إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى مِنْ ثُلُثَي اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ وَطَائِفَةٌ مِنْ الَّذِينَ مَعَكَ وَاللَّهُ يُقَدِّرُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْ الْقُرْآنِ عَلِمَ أَنْ سَيَكُونُ مِنْكُمْ مَرْضَى وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَآخَرُونَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ} سورة المزمل الآية 20.

قال الإمام القرطبي في تفسير الآية: [سوَّى الله تعالى في هذه الآية بين درجة المجاهدين والمكتسبين المال الحلال للنفقة على نفسه وعياله، والإحسان والإفضال، فكان هذا دليلاً على أن كسب المال بمنزلة الجهاد؛ لأنه جمعه مع الجهاد في سبيل الله].
পবিত্র কুরআনে ব্যবসা

ব্যবসা হলো ক্রয় ও বিক্রয় এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবের বেশ কয়েকটি স্থানে এর উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

- মহান আল্লাহর বাণী: {তবে যদি নগদ ব্যবসা হয় যা তোমরা পরস্পরের মধ্যে লেনদেন করো, তবে তা না লিখলে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই।} সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮২।

- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে ঈমানদারগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; তবে তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।} সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯।

ইমাম তাবারী বলেন: [ … কাতাদাহ (রহ.) থেকে তাঁর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে: {হে ঈমানদারগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; তবে তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা} তিনি বলেছেন, ব্যবসা হলো আল্লাহর রিযিকসমূহের মধ্য থেকে একটি রিযিক এবং আল্লাহর হালালকৃত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি হালাল বিষয় তার জন্য, যে তা সততা ও নিষ্ঠার সাথে অন্বেষণ করে। আমাদের নিকট বর্ণিত হতো যে, আমানতদার ও সত্যবাদী (الصدوق) ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন আরশের ছায়ার নিচে থাকা সাত শ্রেণির লোকের সাথে থাকবেন।] তাফসীর তাবারী ৫/ ৩২।

এবং ইবনে কাসীর মহান আল্লাহর বাণী {তবে তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা} এর তাফসীরে বলেন: [ … যেন তিনি বলছেন: তোমরা সম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে হারাম উপায়গুলো গ্রহণ করো না, বরং বৈধ ব্যবসা যা বিক্রেতা ও ক্রেতার পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে হয়, তা তোমরা করো এবং সম্পদ অর্জনের জন্য একে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করো।] তাফসীর ইবনে কাসীর ২/ ২৩৯।

- এবং তার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।} সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭৫।

- এবং তার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় তোমার রব জানেন যে, তুমি রাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, তার অর্ধেক ও তার এক-তৃতীয়াংশ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো এবং তোমার সাথে যারা আছে তাদের একটি দলও। আর আল্লাহ রাত ও দিনের পরিমাপ নির্ধারণ করেন। তিনি জানেন যে, তোমরা তা পুরোপুরি হিসাব করে রাখতে পারবে না, তাই তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন। অতএব, তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পড়ো। তিনি জানেন যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে, আর কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে পৃথিবীতে বিচরণ করবে, আর কেউ কেউ আল্লাহর পথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে।} সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াত: ২০।

ইমাম কুরতুবী এই আয়াতের তাফসীরে বলেন: [আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে মুজাহিদ এবং যারা নিজের ও নিজ পরিবারের ভরণপোষণ এবং দয়া ও অনুগ্রহের উদ্দেশ্যে হালাল সম্পদ উপার্জনকারী—উভয়ের মর্যাদাকে সমান করেছেন। এটি এই কথার দলিল যে, সম্পদ উপার্জন করা জিহাদের সমতুল্য; কেননা তিনি একে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের সাথে একত্রে উল্লেখ করেছেন।]
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৫)
- ومنها قوله تعالى: {فَإِذَا قُضِيَتْ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} سورة الجمعة الآية 10.

وقد وصف الله سبحانه وتعالى البيع بأنه حلال في قوله جل جلاله: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ} سورة البقرة الآية 275.

وقال الإمام البخاري: [باب صدقة الكسب والتجارة لقوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنْ الْأَرْضِ وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنفِقُونَ وَلَسْتُمْ بِآخِذِيهِ إِلَّا أَنْ تُغْمِضُوا فِيهِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ} سورة البقرة الآية 267.

وقال الإمام البخاري أيضاً: [باب الخروج في التجارة وقول الله تعالى: {فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ} سورة الجمعة الآية 10].

وقال الإمام البخاري أيضاً: [باب التجارة في البحر وقال مطر لا بأس به وما ذكره الله في القرآن إلا بحق ثم تلا: {وَتَرَى الْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ} سورة النحل الآية 14].

ثم روى الإمام البخاري بإسناده عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: كانت عكاظ ومجنة وذو المجاز أسواقاً في الجاهلية فلما كان الإسلام تأثموا من التجارة فيها فأنزل الله {لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ} في مواسم الحج.

وغير ذلك من النصوص من كتاب الله عز وجل ومن سنة نبيه صلى الله عليه وسلم.

 

- - -
- এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন সালাত শেষ হবে, তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো; আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো যাতে তোমরা সফলকাম হও} সূরা আল-জুমুআ, আয়াত ১০।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {আর আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন} সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৭৫।

ইমাম বুখারী বলেছেন: [পরিচ্ছেদ: উপার্জন ও ব্যবসার সদকা; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা উপার্জন করেছ এবং আমি যা তোমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করো; এবং তার মধ্য থেকে মন্দ জিনিসের সংকল্প করো না যা তোমরা দান করতে চাও, অথচ তা গ্রহণ করার মতো নও যদি না তোমরা সে ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে থাক। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত} সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৬৭।

ইমাম বুখারী আরও বলেছেন: [পরিচ্ছেদ: ব্যবসার উদ্দেশ্যে বের হওয়া এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো} সূরা আল-জুমুআ, আয়াত ১০]।

ইমাম বুখারী আরও বলেছেন: [পরিচ্ছেদ: সমুদ্রে ব্যবসা করা; মাতার বলেছেন: এতে কোনো দোষ নেই এবং আল্লাহ কুরআনে যা কিছু উল্লেখ করেছেন তা কেবল সত্যের সাথেই। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {এবং তুমি তাতে জলযানসমূহকে পানি চিরে চলতে দেখবে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার} সূরা আন-নাহল, আয়াত ১৪]।

অতঃপর ইমাম বুখারী তাঁর সনদ (إسناد) সহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উকাজ, মাজান্না এবং যুল-মাজায জাহেলী যুগে বাজার ছিল। যখন ইসলাম আসলো, তারা সেখানে ব্যবসা করাকে পাপ মনে করতে লাগলেন। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {তোমাদের প্রতি কোনো পাপ নেই যে তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ অন্বেষণ করবে} হজের মৌসুমসমূহে।

এছাড়া মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ থেকে আরও অনেক উদ্ধৃতি রয়েছে।

 

- - -
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌التجارة في السنة النبوية

ورد في سنة النبي صلى الله عليه وسلم أحاديث كثيرة في التجارة وأشير إلى طائفة منها:

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: كانت عكاظ ومجنة وذو المجاز أسواقاً في الجاهلية فلما كان الإسلام تأثموا من التجارة فيها فأنزل الله {لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ} في مواسم الحج قرأ ابن عباس كذا) رواه البخاري.

وفي رواية أخرى قال ابن عباس رضي الله عنهما: كان ذو المجاز وعكاظ متجر الناس في الجاهلية فلما جاء الإسلام كأنهم كرهوا ذلك حتى نزلت {لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ} في مواسم الحج) رواه البخاري.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (كان تاجر يداين الناس فإذا رأى معسراً قال لفتيانه تجاوزوا عنه لعلّ الله أن يتجاوز عنا فتجاوز الله عنه) رواه البخاري.

وعن قيس بن أبي غرزة رضي الله عنه قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نسمى السماسرة فقال: (يا معشر التجار إن الشيطان والإثم يحضران البيع فشوبوا بيعكم بالصدقة) رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح.

وعن أبي سعيد رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (التاجر الصدوق الأمين مع النبيين والصديقين والشهداء) رواه الترمذي وقال حديث حسن.

وفي رواية أخرى عن ابن عمر رضي الله عنهما (التاجر الأمين الصدوق المسلم مع الشهداء يوم القيامة) أخرجه ابن ماجة والحاكم وقال صحيح.

قال الطيبي في شرح الحديث [قوله: (التاجر الصدوق الأمين إلخ … ) فمن تحرى الصدق والأمانة في تجارته كان في زمرة الأبرار من النبيين والصديقين ومن توخى خلافهما كان في قرن الفجار من الفسقة والعاصين] شرح الطيبي على المشكاة 7/ 2119.

وقال الإمام البخاري: [باب السهولة والسماحة في الشراء والبيع ومن طلب حقاً فليطلبه في عفاف].

قال الحافظ ابن حجر العسقلاني: [قوله: (باب السهولة والسماحة في الشراء والبيع) … والمراد بالسماحة ترك المضاجرة ونحوها لا المكايسة في ذلك].
সুন্নাহর আলোকে ব্যবসা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহতে ব্যবসা সংক্রান্ত অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং আমি এখানে সেগুলোর একটি সংকলনের দিকে ইঙ্গিত করছি:

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জাহেলিয়াত যুগে উকাজ, মাজান্নাহ এবং যুল-মাজায ছিল কিছু বাজার। যখন ইসলাম আসলো, তখন তারা (সাহাবীগণ) সেখানে ব্যবসা করাকে গুনাহ মনে করলেন। ফলে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {তোমাদের উপর কোনো গুনাহ নেই যে তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ (জীবিকা) অন্বেষণ করবে} হজের মৌসুমে। ইবনে আব্বাস এভাবেই পাঠ করেছেন। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

অন্য এক বর্ণনায় ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: জাহেলিয়াত যুগে যুল-মাজায এবং উকাজ ছিল মানুষের ব্যবসার স্থান। যখন ইসলাম আসলো, তখন তারা এটি অপছন্দ করতে শুরু করলেন যতক্ষণ না এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: {তোমাদের উপর কোনো গুনাহ নেই যে তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ অন্বেষণ করবে} হজের মৌসুমে। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: (জনৈক ব্যবসায়ী মানুষকে ঋণ দিতেন। যখন তিনি কোনো অভাবী ব্যক্তিকে দেখতেন, তখন তাঁর কর্মচারীদের বলতেন: তাকে মাফ করে দাও, হয়তো আল্লাহ আমাদেরও মাফ করে দেবেন। ফলে আল্লাহ তাকে মাফ করে দিলেন)। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

কায়স বিন আবু গারাজাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন যখন আমাদের 'দালাল' বলা হতো। তখন তিনি বললেন: (হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই শয়তান এবং গুনাহ ক্রয়-বিক্রয়ের সময় উপস্থিত হয়, তাই তোমরা সদকার মাধ্যমে তোমাদের ব্যবসাকে মিশ্রিত (পবিত্র) করো)। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস।

আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: (সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী নবীগণ, সিদ্দিকগণ এবং শহীদগণের সাথে থাকবেন)। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান (حسن) হাদিস।

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় আছে: (মুসলিম বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহীদগণের সাথে থাকবেন)। এটি ইবনে মাজাহ ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

আল-তিবি হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: [তাঁর বাণী: (সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী ইত্যাদি...) যে ব্যক্তি তার ব্যবসায় সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা তালাশ করবে, সে নবী ও সিদ্দিকগণের মতো পুণ্যবানদের দলভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি এর বিপরীত পথ অবলম্বন করবে, সে পাপিষ্ঠ ও অবাধ্যদের কাতারে শামিল হবে]। শরহ আল-তিবি আলাল মিশকাত ৭/২১১৯।

ইমাম বুখারি বলেন: [অধ্যায়: ক্রয় ও বিক্রয়ে সহজতা ও উদারতা এবং যে ব্যক্তি নিজের পাওনা দাবি করে সে যেন তা ভদ্রভাবে করে]।

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেন: [তাঁর বক্তব্য: (অধ্যায়: ক্রয় ও বিক্রয়ে সহজতা ও উদারতা)... আর উদারতা বলতে বিরক্তি প্রকাশ বর্জন করা এবং অনুরুপ আচরণ বুঝানো হয়েছে, এর দ্বারা ব্যবসায়িক বিচক্ষণতা বর্জন করা বুঝানো হয়নি]।
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭)
ثم روى الإمام البخاري بإسناده عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (رحم الله رجلاً سمحاً إذا باع وإذا اشترى وإذا اقتضى).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله يحب سَمْح البيع سَمْح الشراء سَمْح القضاء) رواه الترمذي وصححه العلامة الألباني في صحيح سنن الترمذي 2/ 34.

قال المباركفوري: [قوله: (إن الله يحب سَمْح البيع) بفتح السين وسكون الميم أي سهلاً في البيع وجواداً يتجاوز عن بعض حقه إذا باع. قال الحافظ: السمح الجواد يقال سمح بكذا إذا جاد والمراد هنا المساهلة. (سمح الشراء سمح القضاء) أي التقاضي لشرف نفسه وحسن خلقه بما ظهر من قطع علاقة قلبه بالمال. قاله المناوي: وللنسائي من حديث عثمان رفعه: (أدخل الله الجنة رجلاً كان سهلاً مشترياً وبائعاً وقاضياً ومقتضياً) … وأخرجه الحاكم في المستدرك وقال صحيح. قال المناوي في شرح الجامع الصغير: وأقروه] تحفة الأحوذي 4/ 457.

وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم خطبة بعد العصر إلى مغيربان الشمس حفظها منّا من حفظها ونسيها منّا من نسيها فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: (أما بعد، فإن الدنيا خضرة حلوة وإن الله مستخلفكم فيها فناظرٌ كيف تعملون، ألا فاتقوا الدنيا واتقوا النساء، ألا إن بني آدم خلقوا على طبقات شتى منهم من يولد مؤمناً ويحيا مؤمناً ويموت مؤمناً، ومنهم من يولد كافراً ويحيا كافراً ويموت كافراً، ومنهم من يولد مؤمناً ويحيا مؤمناً ويموت كافراً، ومنهم من يولد كافراً ويحيا كافراً ويموت مؤمناً، ألا إن الغضب جمرة توقد في جوف ابن آدم، ألا ترون إلى حمرة عينيه وانتفاخ أوداجه فإذا وجد أحدكم شيئاً من ذلك فالأرض الأرض، ألا إنّ خير الرجال من كان بطيء الغضب سريع الرضا، وشر الرجال من كان سريع الغضب بطيء الرضا، فإذا كان الرجل بطيء الغضب بطيء الفيء وسريع الغضب وسريع الفيء فإنها بها، ألا إن خير التجار من كان حسن القضاء حسن الطلب، وشر التجار من كان سيئ القضاء سيئ الطلب، فإذا كان الرجل حسن القضاء سيئ الطلب أو كان سيئ القضاء حسن الطلب فإنها بها، ألا إن لكل غادر لواء يوم القيامة بقدر غدرته، ألا وأكبر الغدر غدر أمير عامة، ألا لا يمنعن رجلاً مهابة الناس أن يتكلم بالحق إذا علمه، ألا إن أفضل الجهاد كلمة حق عند سلطان جائر) فلما كان عند مغيربان الشمس قال: (ألا إن مثل ما بقي من الدنيا فيما مضى منها مثل ما بقي من يومكم هذا فيما مضى منه) رواه أحمد والترمذي وحسنه والحاكم والبيهقي.
অতঃপর ইমাম বুখারি তাঁর সনদে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যে বিক্রয় করার সময়, ক্রয় করার সময় এবং পাওনা আদায়ের সময় উদারতা প্রদর্শন করে)।

এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ বিক্রয় করার সময় উদার, ক্রয় করার সময় উদার এবং পাওনা পরিশোধের সময় উদার ব্যক্তিকে ভালোবাসেন)। এটি তিরমিযি বর্ণনা করেছেন এবং আল্লামা আলবানি সহিহ সুনান আত-তিরমিযিতে একে সহিহ (صحيح) বলেছেন (২/৩৪)।

মুবারকপুরী বলেন: [তাঁর কথা: (নিশ্চয়ই আল্লাহ বিক্রয়ের সময় উদার ব্যক্তিকে ভালোবাসেন) 'সিমহুন' (সীন বর্ণে ফাতহা এবং মীম বর্ণে সুকুন যোগে) অর্থাৎ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সহজ ও দানশীল, যে বিক্রয়ের সময় তার হকের কিছু অংশ ছেড়ে দেয়। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: 'সামহুন' অর্থ দানশীল; বলা হয় সে অমুক বিষয়ে ছাড় দিয়েছে যখন সে দানশীলতা দেখায়। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো সহজিকরণ। (ক্রয়ের সময় উদার, পাওনা পরিশোধের সময় উদার) অর্থাৎ নিজের আত্মার মর্যাদা এবং উত্তম চরিত্রের কারণে পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে সহজিকরণ, যার মাধ্যমে অর্থের সাথে তার হৃদয়ের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এটি মুনাওয়ি বলেছেন। আর নাসাঈতে উসমান (রা.)-এর হাদিস হতে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত: (আল্লাহ এমন এক ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন, যে ক্রয়-বিক্রয় এবং পাওনা দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে সহজ ছিল) … এবং হাকিম এটি মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। মুনাওয়ি শারহুল জামিউস সাগির গ্রন্থে বলেছেন: তারা একে বহাল রেখেছেন] তুহফাতুল আহওয়াযি ৪/৪৫৭।

এবং আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমাদের উদ্দেশ্যে এক ভাষণ প্রদান করলেন; আমাদের মধ্যে যার মনে রাখার সে তা মনে রেখেছে আর যে ভুলে যাওয়ার সে ভুলে গেছে। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, অতঃপর বললেন: (অতঃপর, নিশ্চয়ই দুনিয়া হলো সবুজ ও সুস্বাদু, আর আল্লাহ তোমাদেরকে এতে স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তিনি দেখছেন তোমরা কী আমল করো। সাবধান! তোমরা দুনিয়া সম্পর্কে সচেতন থেকো এবং নারী জাতি সম্পর্কে সচেতন থেকো। সাবধান! আদম সন্তানদের বিভিন্ন স্তরে সৃষ্টি করা হয়েছে; তাদের মধ্যে কেউ মুমিন হিসেবে জন্মগ্রহণ করে, মুমিন হিসেবে বেঁচে থাকে এবং মুমিন হিসেবে মৃত্যুবরণ করে। আবার কেউ কাফির হিসেবে জন্মগ্রহণ করে, কাফির হিসেবে বেঁচে থাকে এবং কাফির হিসেবে মৃত্যুবরণ করে। কেউ মুমিন হিসেবে জন্মগ্রহণ করে ও বেঁচে থাকে কিন্তু কাফির হিসেবে মৃত্যুবরণ করে। আবার কেউ কাফির হিসেবে জন্মগ্রহণ করে ও বেঁচে থাকে কিন্তু মুমিন হিসেবে মৃত্যুবরণ করে। সাবধান! ক্রোধ হলো আদমসন্তানের হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। তোমরা কি তার চোখের লাল বর্ণ এবং ঘাড়ের রগ ফুলে ওঠা দেখনি? তোমাদের কেউ যখন এর কিছু অনুভব করবে, সে যেন মাটির সাথে মিশে যায়। সাবধান! পুরুষদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই যে দেরিতে রাগান্বিত হয় এবং দ্রুত সন্তুষ্ট হয়। আর পুরুষদের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট সেই যে দ্রুত রাগান্বিত হয় এবং দেরিতে সন্তুষ্ট হয়। আর যদি কোনো ব্যক্তি দেরিতে রাগান্বিত হয় এবং দেরিতে শান্ত হয়, অথবা দ্রুত রাগান্বিত হয় এবং দ্রুত শান্ত হয়, তবে তা সমান সমান। সাবধান! ব্যবসায়ীদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই যে পাওনা পরিশোধে উত্তম এবং পাওনা তলবেও উত্তম। আর ব্যবসায়ীদের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট সেই যে পাওনা পরিশোধে মন্দ এবং পাওনা তলবেও মন্দ। আর যদি কোনো ব্যক্তি পাওনা পরিশোধে উত্তম কিন্তু তলবে মন্দ হয়, অথবা পরিশোধে মন্দ কিন্তু তলবে উত্তম হয়, তবে তা সমান সমান। সাবধান! প্রত্যেক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামতের দিন তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মাত্রা অনুযায়ী একটি পতাকা থাকবে। জেনে রেখো, কোনো সর্বজনীন শাসকের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের চেয়ে বড় কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নেই। সাবধান! মানুষের ভয় যেন কোনো ব্যক্তিকে জানা থাকা সত্য কথা বলতে বাধা না দেয়। জেনে রেখো, সর্বোত্তম জিহাদ হলো জালিম শাসকের সামনে সত্য কথা বলা)। যখন সূর্য ডোবার উপক্রম হলো তখন তিনি বললেন: (সাবধান! দুনিয়ার অতীতে যা অতিবাহিত হয়েছে তার তুলনায় যা অবশিষ্ট আছে, তা তোমাদের আজকের দিনের অতিক্রান্ত সময়ের তুলনায় অবশিষ্ট সময়ের মতোই)। এটি আহমাদ ও তিরমিযি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযি একে হাসান (حسن) বলেছেন, এছাড়াও হাকিম ও বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮)
وعن عبيد بن رفاعة عن أبيه عن جده أنه خرج مع النبي صلى الله عليه وسلم إلى المصلى فرأى الناس يتبايعون فقال: (يا معشر التجار، فاستجابوا لرسول الله صلى الله عليه وسلم ورفعوا أعناقهم وأبصارهم إليه، فقال: إن التجار يبعثون يوم القيامة فجاراً إلا من اتقى الله وبر وصدق) رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح.

وعن قيس بن أبي غرزة رضي الله عنه قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نسمى السماسرة فقال: (يا معشر التجار إن الشيطان والإثم يحضران البيع فشوبوا بيعكم بالصدقة) رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح.

وعن سالم بن عبد الله بن عمر عن أبيه عن جده قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من قال حين يدخل السوق لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد يحيي ويميت وهو حي لا يموت، بيده الخير كله وهو على كل شيء قدير، كتب الله له ألف ألف حسنة، ومحا عنه ألف ألف سيئة وبنى له بيتاً في الجنة) رواه ابن ماجة وهو حديث حسن كما قال العلامة الألباني في صحيح سنن ابن ماجة 2/ 21.

وعن رافع بن خديج رضي الله عنه قال: قيل (يا رسول الله أي الكسب أطيب؟ قال: كسب الرجل بيده وكل بيع مبرور) رواه أحمد والحاكم.

وأخرج البخاري عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (البيعان بالخيار ما لم يتفرقا أو يقول أحدهما للآخر اختر).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله يقول أنا ثالث الشريكين ما لم يخن أحدهما صاحبه فإذا خانه خرجت من بينهما) رواه أبو داود والدارقطني وهو حديث حسن.

وقال الإمام البخاري [باب ما ذكر في الأسواق، وقال عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه لما قدمنا المدينة قلت هل من سوق فيه تجارة؟ قال: سوق قينقاع. وقال أنس قال عبد الرحمن دلوني على السوق. وقال عمر ألهاني الصفق بالأسواق].

قال الحافظ ابن حجر العسقلاني: [قوله: (باب ما ذكر في الأسواق) قال ابن بطال: أراد بذكر الأسواق إباحة المتاجر ودخول الأسواق للأشراف والفضلاء وكأنه أشار إلى ما لم يثبت على شرطه من أنها شر البقاع وهو حديث أخرجه أحمد والبزار وصححه الحاكم من حديث جبير بن مطعم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (أحب البقاع إلى الله المساجد، وأبغض البقاع إلى الله الأسواق) وإسناده حسن،
উবাইদ ইবনে রিফাআ থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ঈদগাহের দিকে বের হলেন। তখন তিনি লোকদের কেনাবেচা করতে দেখলেন। তিনি বললেন: (হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়!) তখন তারা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডাকে সাড়া দিল এবং তাদের ঘাড় ও দৃষ্টি তাঁর দিকে উত্তোলন করল। তিনি বললেন: (নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীদের পাপিষ্ঠ হিসেবে পুনরুত্থান করা হবে, তবে তারা ব্যতীত যারা আল্লাহকে ভয় করেছে, সদাচরণ করেছে এবং সত্য বলেছে।) এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি একটি গ্রহণযোগ্য বিশুদ্ধ (حسن صحيح) হাদিস।

কাইস ইবনে আবি গারজাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন যখন আমাদের 'দালাল' নামে ডাকা হতো। তিনি বললেন: (হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, কেনাবেচার সময় শয়তান ও পাপ উপস্থিত হয়, সুতরাং তোমরা সদকার মাধ্যমে তোমাদের কেনাবেচাকে মিশ্রিত করো।) এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি একটি গ্রহণযোগ্য বিশুদ্ধ (حسن صحيح) হাদিস।

সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশের সময় বলে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন, তিনি চিরঞ্জীব, কখনও মৃত্যুবরণ করবেন না, তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান", আল্লাহ তার জন্য দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন, তার দশ লক্ষ গুনাহ মিটিয়ে দেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেন।) এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) হাদিস যেমনটি আল্লামা আলবানী 'সহীহ সুনান ইবনে মাজাহ' ২/২১-এ উল্লেখ করেছেন।

রাফে ইবনে খাদিজ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিজ্ঞেস করা হলো (হে আল্লাহর রাসুল! কোন ধরনের উপার্জন সবচেয়ে পবিত্র ও উত্তম? তিনি বললেন: কোনো ব্যক্তির নিজ হাতের উপার্জন এবং প্রত্যেক সৎ কেনাবেচা।) এটি আহমাদ ও হাকীম বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বুখারি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই কেনাবেচা বাতিল করার ইখতিয়ার থাকে যতক্ষণ না তারা বিচ্ছিন্ন হয়, অথবা তাদের একজন অন্যজনকে ইখতিয়ারের প্রস্তাব দেয়।)

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ বলেন: আমি দুই অংশীদারের মাঝে তৃতীয় জন, যতক্ষণ না তাদের একজন তার সঙ্গীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। যখন সে বিশ্বাসঘাতকতা করে, আমি তাদের মাঝ থেকে বেরিয়ে যাই।) এটি আবু দাউদ ও দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) হাদিস।

ইমাম বুখারি বলেছেন: [অধ্যায়: বাজারে যা বর্ণিত হয়েছে; এবং আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেছেন: যখন আমরা মদীনায় আসলাম, আমি বললাম: এখানে কি এমন কোনো বাজার আছে যেখানে ব্যবসা করা যায়? তিনি বললেন: কায়নুকাহ বাজার। আনাস (রা.) বলেন, আব্দুর রহমান বললেন: আমাকে বাজারের পথ দেখিয়ে দাও। উমর (রা.) বলেন: বাজারে কেনাবেচার ব্যস্ততা আমাকে বিমুখ করে রেখেছিল]।

হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী বলেন: [তাঁর কথা: (অধ্যায়: বাজারে যা বর্ণিত হয়েছে) ইবনে বাত্তাল বলেন: বাজার প্রসঙ্গের অবতারণা করে তিনি ব্যবসার বৈধতা এবং উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও ফযিলতপূর্ণ ব্যক্তিদের বাজারে প্রবেশের বিষয়টি বুঝাতে চেয়েছেন। যেন তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন যা তাঁর (বুখারির) শর্ত অনুযায়ী সাব্যস্ত হয়নি যে, বাজার হলো নিকৃষ্টতম স্থান। এটি এমন একটি হাদিস যা আহমাদ ও বাজ্জার বর্ণনা করেছেন এবং হাকীম জুবায়ের ইবনে মুতয়িম-এর হাদিস থেকে একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হলো মসজিদসমূহ এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত জায়গা হলো বাজারসমূহ) এবং এর সনদটি গ্রহণযোগ্য (إسناده حسن)]।
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وأخرجه ابن حبان والحاكم أيضا من حديث ابن عمر نحوه، قال ابن بطال: وهذا خرج على الغالب وإلا فرب سوق يذكر فيها الله أكثر من كثير من المساجد … والغرض منه هنا ذكر السوق فقط وكونه كان موجوداً في عهد النبي صلى الله عليه وسلم ، وكان يتعاهده الفضلاء من الصحابة لتحصيل المعاش للكفاف وللتعفف عن الناس] فتح الباري 4/ 429.

وقال الإمام الترمذي: [باب ما جاء في التبكير بالتجارة] ثم روى بإسناده عن صخر الغامدي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (اللهم بارك لأمتي في بكورها) قال: وكان إذا بعث سرية أو جيشاً بعثهم أول النهار وكان صخر رجلاً تاجراً وكان إذا بعث تجارة بعثهم أول النهار فأثرى وكثر ماله) … قال الترمذي حديث حديث حسن.

وقد حذر النبي صلى الله عليه وسلم التجار من الحلف الكاذب فقال: (إن التجار هم الفجار. قيل: يا رسول الله! أو ليس قد أحل الله البيع؟ قال: بلى، ولكنهم يحدثون فيكذبون، ويحلفون فيأثمون] رواه أحمد وصححه العلامة الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة، ج1 حديث رقم 366.

 

- - -
এবং ইবনে হিব্বান ও হাকেমও ইবনে উমর বর্ণিত হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনে বাত্তাল বলেন: এটি সাধারণত অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, নতুবা এমন অনেক বাজার রয়েছে যেখানে অনেক মসজিদের তুলনায় অধিক আল্লাহর জিকির করা হয় … আর এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো কেবল বাজারের উল্লেখ করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এর অস্তিত্ব থাকা; আর সাহাবীগণের (الصحابة) মধ্যকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের প্রয়োজন পূরণ ও মানুষের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে জীবিকা অন্বেষণে বাজারে যাতায়াত করতেন] ফাতহুল বারী ৪/ ৪২৯。

ইমাম তিরমিজি বলেন: [ব্যবসা-বাণিজ্যে ভোরে বের হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণিত অধ্যায়] এরপর তিনি স্বীয় সনদ (إسناد) সহ সখর আল-গামিদি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (হে আল্লাহ, আপনি আমার উম্মতের জন্য তাদের ভোরবেলার কাজে বরকত দান করুন)। তিনি বলেন: তিনি যখন কোনো ছোট সামরিক অভিযান (سرية) বা বড় সেনাবাহিনী প্রেরণ করতেন, তখন দিনের শুরুতেই পাঠাতেন। সখর একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, তিনি যখন তার ব্যবসার মালামাল পাঠাতেন তখন দিনের শুরুতেই পাঠাতেন, ফলে তিনি ধনাঢ্য হয়েছিলেন এবং তার সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছিল) … তিরমিজি বলেন, এই হাদিসটি হাসান (حسن)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যবসায়ীদের মিথ্যা শপথ করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন: (নিশ্চয় ব্যবসায়ীরাই হলো পাপাচারী। বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ কি ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেননি? তিনি বললেন: অবশ্যই করেছেন, কিন্তু তারা কথা বলার সময় মিথ্যা বলে এবং শপথ করে পাপে লিপ্ত হয়।] এটি আহমদ বর্ণনা করেছেন এবং আল্লামা আলবানি সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ গ্রন্থে (১ম খণ্ড, হাদিস নং ৩৬৬) এটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

 

- - -
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌التجارة لا تلهي عن الواجبات عامة ولا تلهي عن الصلوات خاصة

التاجر الصادق مع الله ومع نفسه هو الذي يوازن بين أمور الدنيا وأمور الآخرة فيعطي كلاً حقه وقد أثنى الله عز وجل على الذين لا تلهيهم تجارة ولا بيع عن ذكر الله ولا عن شيء من الواجبات فقال: {رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ} سورة النور الآية 37.

قال القرطبي [قوله تعالى: {لَا تُلْهِيهِمْ} أي لا تشغلهم. {تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ} خص التجارة بالذكر لأنها أعظم ما يشتغل بها الإنسان عن الصلاة … {عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ} اختُلِفَ في تأويله؛ فقال عطاء: يعني حضور الصلاة، وقاله ابن عباس، وقال: المكتوبة. وقيل عن الأذان؛ ذكره يحيى بن سلام. وقيل: عن ذكره بأسمائه الحسنى؛ أي يوحدونه ويمجدونه. والآية نزلت في أهل الأسواق؛ قاله ابن عمر. قال سالم: جاز عبد الله بن عمر بالسوق وقد أغلقوا حوانيتهم وقاموا ليصلوا في جماعة فقال: فيهم نزلت: {رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ} الآية. وقال أبو هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: (هم الذين يضربون في الأرض يبتغون من فضل الله). وقيل: إن رجلين كانا في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، أحدهما بياعاً فإذا سمع النداء بالصلاة فإن كان الميزان بيده طرحه ولا يضعه وضعاً، وإن كان بالأرض لم يرفعه. وكان الآخر قيناً يعمل السيوف للتجارة، فكان إذا كانت مطرقته على السندان أبقاها موضوعة، وإن كان قد رفعها ألقاها من وراء ظهره إذا سمع الأذان؛ فأنزل الله تعالى هذا ثناءً عليهما وعلى كل من اقتدى بهما … قوله تعالى {وَإِقَامِ الصَّلَاةِ} هذا يدل على أن المراد بقوله {عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ} غير الصلاة؛ لأنه يكون تكراراً … قوله تعالى {وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ} قيل: الزكاة المفروضة؛ قاله الحسن. وقال ابن عباس: الزكاة هنا طاعة الله تعالى والإخلاص؛ إذ ليس لكل مؤمن مال. {يَخَافُونَ يَوْمًا} يعني يوم القيامة. {تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ} يعني من هوله وحذر الهلاك] تفسير القرطبي 12/ 279 - 280.
‌‌ব্যবসা যেন সাধারণভাবে ওয়াজিবসমূহ (الواجبات) পালনে এবং বিশেষভাবে সালাতসমূহ আদায়ে গাফেল না করে

আল্লাহ এবং নিজের প্রতি সত্যবাদী ব্যবসায়ী সেই ব্যক্তি, যে দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে এবং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করে। আল্লাহ তাআলা সেই সকল মানুষের প্রশংসা করেছেন যাদেরকে ব্যবসা এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ বা কোনো ওয়াজিব (الواجبات) পালন থেকে গাফেল করে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {সেই সকল ব্যক্তি, যাদেরকে ব্যবসা এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখে না; তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে} সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩৭।

ইমাম কুরতুবী বলেন, [আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদেরকে গাফেল করে না} অর্থাৎ তাদের ব্যস্ত রাখে না। {ব্যবসা এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে} এখানে ব্যবসাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটি মানুষকে সালাত থেকে বিমুখ করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম … {আল্লাহর স্মরণ থেকে} এর ব্যাখ্যায় মতভেদ রয়েছে; আতা বলেন: এর অর্থ সালাতে উপস্থিত হওয়া, ইবনে আব্বাসও একই কথা বলেছেন এবং তিনি বলেছেন: এর অর্থ ফরজ (المكتوبة) সালাত। কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ আজান; যা ইয়াহইয়া বিন সালাম উল্লেখ করেছেন। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ তাঁর সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে তাঁর জিকির করা; অর্থাৎ তারা তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করে এবং তাঁর মহিমা বর্ণনা করে। আর আয়াতটি বাজারবাসীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে; ইবনে উমর এমনটিই বলেছেন। সালেম বর্ণনা করেন: একদা আবদুল্লাহ বিন উমর বাজারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তারা তাদের দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছিল এবং জামাতের সাথে সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়েছিল। তখন তিনি বললেন: এদের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে: {সেই সকল ব্যক্তি যাদেরকে ব্যবসা এবং ক্রয়-বিক্রয় গাফেল করে না} আয়াতাংশটি। আবু হুরায়রা (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন: (তারা সেই সকল ব্যক্তি যারা আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে জমিনে বিচরণ করে)। আরও বলা হয়েছে: নবী (সা.)-এর যুগে দুই ব্যক্তি ছিল, তাদের একজন ছিল বিক্রেতা; সে যখন সালাতের আজান শুনত, তখন তার হাতে দাঁড়িপাল্লা থাকলেও তা ফেলে দিত এবং তা সযত্নে নামিয়ে রাখত না। অন্যজন ছিল কামার যে ব্যবসার জন্য তলোয়ার তৈরি করত; তার হাতুড়ি নেহাইয়ের ওপর থাকা অবস্থায় আজান শুনলে সে তা সেখানেই রেখে দিত, আর যদি হাতুড়ি উপরে উঠিয়ে থাকত তবে আজান শোনার সাথে সাথে তা তার পিঠের পেছনে ফেলে দিত; ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের দুজনের এবং যারা তাদের অনুসরণ করে তাদের সকলের প্রশংসায় এই আয়াত অবতীর্ণ করেন … আল্লাহ তাআলার বাণী {এবং সালাত কায়েম করা} এটি প্রমাণ করে যে {আল্লাহর স্মরণ থেকে} দ্বারা সালাত ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য; অন্যথায় এটি পুনরুক্তি হতো … আল্লাহ তাআলার বাণী {এবং জাকাত প্রদান করা} হাসান বলেন: এর অর্থ ফরজ (المفروضة) জাকাত। ইবনে আব্বাস বলেন: এখানে জাকাত বলতে আল্লাহর আনুগত্য ও ইখলাস বা একনিষ্ঠতা বোঝানো হয়েছে; যেহেতু প্রত্যেক মুমিনের ধন-সম্পদ থাকে না। {তারা সেই দিনকে ভয় করে} অর্থাৎ কিয়ামত দিবস। {যেদিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে} অর্থাৎ সেদিনের ভয়াবহতা এবং ধ্বংসের আশঙ্কায়] তাফসিরে কুরতুবী ১২/ ২৭৯ - ২৮০।
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২১)
وقال ابن كثير: [وقوله تعالى: {رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ} كقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ} الآية. وقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ} الآية، يقول تعالى لا تشغلهم الدنيا وزخرفها وزينتها وملاذ بيعها وربحها عن ذكر ربهم الذي هو خالقهم ورازقهم، والذين يعلمون أن الذي عنده هو خير لهم وأنفع مما بأيديهم، لأن ما عندهم ينفد وما عند الله باق، ولهذا قال تعالى: {لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ} يقدمون طاعته ومراده ومحبته على مرادهم ومحبتهم، قال هشيم عن سيار قال: حدثت عن ابن مسعود أنه رأى قوماً من أهل السوق حيث نودي للصلاة المكتوبة تركوا بياعاتهم ونهضوا إلى الصلاة، فقال عبد الله بن مسعود: هؤلاء من الذين ذكر الله في كتابه {رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ} الآية، … عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه كان في السوق فأقيمت الصلاة، فأغلقوا حوانيتهم ودخلوا المسجد فقال ابن عمر: فيهم نزلت {رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّه} … وعن ابن عباس {لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّه} يقول عن الصلاة المكتوبة … وقال السدي: عن الصلاة في جماعة. وقال مقاتل بن حيان: لا يلهيهم ذلك عن حضور الصلاة وأن يقيموها كما أمرهم الله، وأن يحافظوا على مواقيتها وما استحفظهم الله فيها] تفسير ابن كثير4/ 559 - 560.

وقد عاتب الله عز وجل الصحابة الذين تركوا النبي صلى الله عليه وسلم أثناء خطبة الجمعة عندما جاءت قافلة تجارية وفيهم نزل قوله تعالى: {وَإِذَا رَأَوْاْ تِجَارَةً أَوْ لَهْواً انفَضّوَاْ إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَآئِماً قُلْ مَا عِندَ اللهِ خَيْرٌ مّنَ اللهْوِ وَمِنَ التّجَارَةِ وَاللهُ خَيْرُ الرّازِقِينَ}.

قال ابن كثير: [يعاتب تبارك وتعالى على ما كان وقع من الانصراف عن الخطبة يوم الجمعة إلى التجارة التي قدمت المدينة يومئذ فقال تعالى: {وَإِذَا رَأَوْاْ تِجَارَةً أَوْ لَهْواً انفَضّوَاْ إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَآئِماً} أي على المنبر تخطب، هكذا ذكره غير واحد من التابعين … فانصرفوا إليها وتركوا رسول الله صلى الله عليه وسلم قائماً على المنبر إلا القليل منهم، وقد صحّ بذلك الخبر فقال الإمام أحمد … عن جابر قال: قدمت عير مرة المدينة، ورسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب فخرج الناس وبقي اثنا عشر رجلاً فنزلت {وَإِذَا رَأَوْاْ تِجَارَةً أَوْ لَهْواً انفَضّوَاْ إِلَيْهَا} أخرجاه في الصحيحين … وعن جابر بن عبد الله قال: بينما النبي
ইবনে কাসির বলেন: [এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এমন ব্যক্তিগণ, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে বিমুখ করে না} — এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ হতে বিমুখ না করে} আয়াত। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিন সালাতের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করো} আয়াত। মহান আল্লাহ বলছেন যে, দুনিয়া, এর চাকচিক্য, সৌন্দর্য এবং ব্যবসা ও লাভের আনন্দ যেন তাদের সেই রবের স্মরণ হতে বিমুখ না করে যিনি তাদের স্রষ্টা ও রিযিকদাতা। তারা জানেন যে, আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তা তাদের জন্য অধিক উত্তম এবং তাদের হাতে যা আছে তার চেয়ে অধিক কল্যাণকর; কারণ তাদের কাছে যা আছে তা ফুরিয়ে যাবে এবং আল্লাহর কাছে যা আছে তা চিরস্থায়ী। একারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: {এমন ব্যক্তিগণ, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদান হতে বিমুখ করে না}। তারা আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর উদ্দেশ্য এবং ভালোবাসাকে নিজেদের উদ্দেশ্য ও ভালোবাসার ওপর অগ্রাধিকার প্রদান করেন। হুশাইম সাইয়ার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে মাসউদ সম্পর্কে বর্ণিত হতে শুনেছি যে, তিনি বাজারের কিছু লোককে দেখলেন যে, যখন ফরয (مكتوبة) সালাতের আজান দেওয়া হলো, তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে দিয়ে সালাতের দিকে উঠে পড়লেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বললেন: এরা সেই সব লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদের কথা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন: {এমন ব্যক্তিগণ, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে বিমুখ করে না} আয়াত। … ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বাজারে ছিলেন এমতাবস্থায় সালাতের ইকামত দেওয়া হলো। তখন তারা তাদের দোকানপাট বন্ধ করে মসজিদে প্রবেশ করলেন। ইবনে উমর বললেন: তাদের ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে: {এমন ব্যক্তিগণ, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে বিমুখ করে না} … এবং ইবনে আব্বাস থেকে {যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে বিমুখ করে না} সম্পর্কে বর্ণিত, তিনি বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফরয (مكتوبة) সালাত … এবং আস-সুদ্দী বলেন: জামাআতে (جماعة) সালাত আদায় করা। আর মুকাতিল বিন হাইয়ান বলেন: তা তাদেরকে সালাতে উপস্থিত হওয়া এবং তা যথাযথভাবে কায়েম করা থেকে বিমুখ করে না যেমনটি আল্লাহ তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তারা সালাতের ওয়াক্তসমূহ ও আল্লাহ যা তাদের সংরক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছেন তা হিফাযত করে] তাফসিরে ইবনে কাসির ৪/ ৫৫৯ - ৫৬০।

আর আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা সেই সাহাবীদের তিরস্কার করেছেন যারা জুমার খুতবার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রেখে চলে গিয়েছিলেন যখন একটি বাণিজ্যিক কাফেলা এসেছিল এবং তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহর এই বাণী নাযিল হয়েছে: {যখন তারা কোনো ব্যবসা বা ক্রীড়া-কৌতুক দেখে তখন তারা আপনাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে যায়। বলুন, আল্লাহর কাছে যা আছে তা ক্রীড়া-কৌতুক ও ব্যবসা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। আল্লাহই সর্বোত্তম রিযিকদাতা}।

ইবনে কাসির বলেন: [জুমার দিন খুতবা ছেড়ে সেই ব্যবসার দিকে চলে যাওয়ার কারণে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তিরস্কার করছেন যা সেদিন মদিনায় এসেছিল। মহান আল্লাহ বলেন: {যখন তারা কোনো ব্যবসা বা ক্রীড়া-কৌতুক দেখে তখন তারা সেদিকে ছুটে যায় এবং আপনাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় রেখে যায়} অর্থাৎ মিম্বারের ওপর খুতবা দেওয়া অবস্থায়। তাবিঈদের (تابعين) একাধিক ব্যক্তি এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন … ফলে তারা সেদিকে চলে যায় এবং অল্প কয়েকজন বাদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারের ওপর দণ্ডায়মান অবস্থায় রেখে যায়। এ ব্যাপারে সংবাদটি (خبر) বিশুদ্ধ (صحيح) হয়েছে। ইমাম আহমদ … জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একবার একটি বাণিজ্যিক কাফেলা মদিনায় এল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন মানুষ বেরিয়ে গেল এবং মাত্র বারো জন লোক অবশিষ্ট রইল। তখন নাযিল হলো: {যখন তারা কোনো ব্যবসা বা ক্রীড়া-কৌতুক দেখে তখন তারা সেদিকে ছুটে যায়}। তাঁরা এটি সহিহাইন-এ সংকলন (أخرجاه) করেছেন … এবং জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, যখন নবী...
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২২)
- صلى الله عليه وسلم يخطب يوم الجمعة، فقدمت عير إلى المدينة فابتدرها أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ، حتى لم يبق مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا اثنا عشر رجلاً فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (والذي نفسي بيده لو تتابعتم حتى لم يبق منكم أحد لسال بكم الوادي ناراً) ونزلت هذه الآية {وَإِذَا رَأَوْاْ تِجَارَةً أَوْ لَهْواً انفَضّوَاْ إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَآئِماً} وقال: كان في الاثني عشر الذين ثبتوا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم أبو بكر وعمر رضي الله عنهما] تفسير ابن كثير 6/ 218 - 219.

وروى الإمام البخاري بإسناده عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: (بينما نحن نصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم إذ أقبلت عير تحمل طعاماً فالتفتوا إليها حتى ما بقي مع النبي صلى الله عليه وسلم إلا اثنا عشر رجلاً فنزلت هذه الآية {وَإِذَا رَأَوْاْ تِجَارَةً أَوْ لَهْواً انفَضّوَاْ إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَآئِماً}.

وقال الإمام البخاري: [باب {وَإِذَا رَأَوْاْ تِجَارَةً أَوْ لَهْواً انفَضّوَاْ إ} وقوله جل ذكره {رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّه} وقال قتادة كان القوم يتجرون ولكنهم كانوا إذا نابهم حق من حقوق الله لم تلههم تجارة ولا بيع عن ذكر الله حتى يؤدوه إلى الله].

وقد أمر الله سبحانه وتعالى عباده المؤمنين بإجابة النداء لصلاة الجمعة وترك البيع والشراء فقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ} سورة الجمعة الآية 9.

فيا أخي التاجر إذا سمعت الأذان لصلاة الجمعة فأجب النداء وأغلق محلك وقت الصلاة واحذر من الانشغال عن صلاة الجمعة فالبيع والشراء الذي يؤدي إلى فوات صلاة الجمعة محرم وما تحصل عليه من كسب حينئذ فهو كسب خبيث واحذر من إضاعة بقية الصلوات لأجل كسب دراهم معدودات فإن الدنيا زائلة ومال الدنيا باقٍ فيها فاترك الدنيا الفانية واسع لذكر الله الموصل للآخرة {ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُون َ}.

والزم يا أخي التاجر ذكر الله عز وجل عندما تدخل السوق أو محلك التجاري فقد جاء في الحديث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (من قال حين يدخل السوق لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، يحيي ويميت وهو حي لا يموت بيده الخير كله وهو على كل شيء قدير كتب

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার দিন খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় মদিনায় একটি বাণিজ্যিক কাফেলা আগমন করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ সেদিকে দ্রুত ধাবিত হলেন, এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মাত্র বারোজন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট রইলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! তোমরা যদি সবাই এভাবে চলে যেতে এবং তোমাদের একজনও অবশিষ্ট না থাকত, তবে এই উপত্যকা তোমাদেরকে নিয়ে আগুন হয়ে প্রবাহিত হতো।" আর তখন এই আয়াতটি নাজিল হলো: {আর যখন তারা কোনো ব্যবসা বা খেল-তামাশা দেখে, তখন তারা আপনাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় রেখে সেদিকে ধাবিত হয়}। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে যে বারোজন অবিচল ছিলেন, তাদের মধ্যে আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।] তাফসিরে ইবনে কাসির ৬/ ২১৮ - ২১৯।

ইমাম বুখারি তাঁর সনদ (إسناد) সহকারে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম, তখন খাদ্যবাহী একটি বাণিজ্যিক কাফেলা এল। তখন লোকেরা সেদিকে ফিরে গেল, এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মাত্র বারোজন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ রইল না। তখন এই আয়াত নাজিল হলো: {আর যখন তারা কোনো ব্যবসা বা খেল-তামাশা দেখে, তখন তারা আপনাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় রেখে সেদিকে ধাবিত হয়}।"

ইমাম বুখারি বলেন: [পরিচ্ছেদ: {আর যখন তারা কোনো ব্যবসা বা খেল-তামাশা দেখে, তখন তারা সেদিকে ধাবিত হয়} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সেই সব মানুষ, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে গাফেল করে না}। কাতাদাহ (রহ.) বলেন: তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন, কিন্তু যখন আল্লাহর কোনো হক বা বিধান পালনের সময় উপস্থিত হতো, তখন কোনো ব্যবসা বা কেনাবেচা তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করতে পারত না, যতক্ষণ না তারা তা আল্লাহর জন্য আদায় করতেন।]

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের জুমার সালাতের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার এবং ক্রয়-বিক্রয় বর্জন করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ত্যাগ করো। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে} সূরা আল-জুমুআ, আয়াত ৯।

হে আমার ব্যবসায়ী ভাই! যখন আপনি জুমার সালাতের আজান শুনবেন, তখন সেই আহ্বানে সাড়া দিন এবং সালাতের সময় আপনার প্রতিষ্ঠান বন্ধ করুন। জুমার সালাত থেকে বিমুখ হওয়া সম্পর্কে সতর্ক থাকুন; কেননা যে কেনাবেচা জুমার সালাত ছুটে যাওয়ার কারণ হয় তা নিষিদ্ধ, আর সেই সময় অর্জিত আয় একটি অপবিত্র উপার্জন। সামান্য কিছু দিরহাম উপার্জনের লোভে অন্যান্য সালাতসমূহ নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন। কেননা দুনিয়া নশ্বর এবং দুনিয়ার সম্পদ এখানেই পড়ে থাকবে। সুতরাং এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া ত্যাগ করুন এবং আল্লাহর স্মরণের দিকে সচেষ্ট হোন যা পরকালের পথে নিয়ে যায়: {এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে}।

হে ব্যবসায়ী ভাই! আপনি যখন বাজারে বা আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করবেন, তখন আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকুন। কেননা হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশের সময় বলে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই, তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান', তবে আল্লাহ তার জন্য লিখে দেন..."

(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৩)
الله له ألف ألف حسنة ومحا عنه ألف ألف سيئة وبنى له بيتاً في الجنة) رواه الترمذي وابن ماجة وغيرهما وهو حديث حسن كما قال العلامة الألباني في صحيح سنن ابن ماجة 2/ 21.

قال المباركفوري: [قوله (من دخل السوق) قال الطيبي: خصه بالذكر لأنه مكان الغفلة عن ذكر الله والاشتغال بالتجارة فهو موضع سلطنة الشيطان ومجمع جنوده، فالذاكر هناك يحارب الشيطان ويهزم جنوده فهو خليق بما ذكر من الثواب انتهى. (فقال) أي سراً أو جهراً … قال الطيبي: فمن ذكر الله فيه دخل في زمرة من قال تعالى في حقهم {رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّه} تحفة الأحوذي 9/ 272 - 273.

قال الإمام الغزالي تحت عنوان شفقة التاجر على دينه فيما يخصه ويعم آخرته: [ولا ينبغي للتاجر أن يشغله معاشه عن معاده فيكون عمره ضائعاً وصفقته خاسرة وما يفوته من الربح في الآخرة لا يفي به ما ينال في الدنيا فيكون اشترى الحياة الدنيا بالآخرة بل العاقل ينبغي أن يشفق على نفسه وشفقته على نفسه يحفظ رأس ماله ورأس ماله دينه وتجارته فيه.

قال بعض السلف أولى الأشياء بالعاقل أحوجه إليه في العاجل وأحوج شيء إليه في العاجل أحمده عاقبة في الآجل. وقال معاذ بن جبل رضي الله عنه في وصيته: إنه لا بد لك من نصيبك في الدنيا وأنت إلى نصيبك من الآخرة أحوج فابدأ بنصيبك من الآخرة فخذه فإنك ستمر على نصيبك من الدنيا فتنظمه قال الله تعالى: {وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنْ الدُّنْيَا} أي لا تنس في الدنيا نصيبك منها للآخرة فإنها مزرعة الآخرة وفيها تكتسب الحسنات وإنما تتم شفقة التاجر على دينه بمراعاة سبعة أمور ثم ذكر منها: الثالث أن لا يمنعه سوق الدنيا عن سوق الآخرة وأسواق الآخرة المساجد، قال الله تعالى: {رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ} وقال الله تعالى: {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ} فينبغي أن يجعل أول النهار إلى وقت دخول السوق لآخرته فيلازم المسجد ويواظب على الأوراد كان عمر رضي الله عنه يقول للتجار: اجعلوا أول نهاركم لآخرتكم وما بعده لدنياكم. وكان صالحو السلف يجعلون أول النهار وآخره للآخرة والوسط للتجارة] إحياء علوم الدين 2/ 86.

ثم قال الإمام الغزالي: [الرابع أن لا يقتصر على هذا بل يلازم ذكر الله سبحانه في السوق ويشتغل بالتهليل والتسبيح فذكر الله في السوق بين الغافلين أفضل … قال صلى الله عليه وسلم: (من دخل السوق فقال لا
...আল্লাহ তার জন্য দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন, তার থেকে দশ লক্ষ গুনাহ মুছে দেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেন।) এটি তিরমিজি, ইবনে মাজাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস, যেমনটি আল্লামা আলবানী সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ ২/২১-এ উল্লেখ করেছেন।

মুবারকপুরী বলেন: [তাঁর বাণী (যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করল) সম্পর্কে তিবি বলেছেন: একে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটি আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হওয়ার এবং ব্যবসায় মশগুল হওয়ার স্থান। ফলে এটি শয়তানের আধিপত্য এবং তার সৈন্যবাহিনীর সমাবেশের জায়গা। অতএব, সেখানে জিকিরকারী শয়তানের সাথে যুদ্ধ করে এবং তার সৈন্যদের পরাজিত করে। তাই সে উল্লিখিত সওয়াবের উপযুক্ত। সমাপ্ত। (অতঃপর বলল) অর্থাৎ গোপনে বা উচ্চস্বরে … তিবি বলেন: যে ব্যক্তি সেখানে আল্লাহর জিকির করল, সে সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হলো যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সেই সকল ব্যক্তি যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর জিকির থেকে বিরত রাখে না} তুহফাতুল আহওয়াযি ৯/২৭২ - ২৭৩।

ইমাম গাজালি 'ব্যবসায়ীর তার দ্বীনের প্রতি মমতা—যা তার নিজের এবং পরকালের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট' শিরোনামের অধীনে বলেন: [ব্যবসায়ীর জন্য উচিত নয় যে তার জীবিকা তাকে পরকাল থেকে বিমুখ করে রাখবে, ফলে তার আয়ু বৃথা যাবে এবং তার কারবার লোকসানে পরিণত হবে। আখেরাতে সে যে মুনাফা হারাবে, দুনিয়াতে যা কিছু সে পাবে তা তার সমকক্ষ হবে না; ফলে সে মূলত পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবনকে ক্রয় করল। বরং বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত নিজের প্রতি দয়া করা। আর নিজের প্রতি তার দয়া হলো নিজের মূলধন রক্ষা করা; আর তার মূলধন হলো তার দ্বীন এবং এতেই তার প্রকৃত ব্যবসা।

জনৈক সলফ (পূর্বসূরি) বলেছেন: বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে অগ্রগণ্য বিষয় হলো সেই কাজ যা বর্তমানে তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, আর বর্তমানে তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় বিষয় হলো সেটিই যার পরিণাম পরকালে অতি প্রশংসনীয় হবে। মুয়াজ বিন জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর অসিয়তে বলেছেন: দুনিয়াতে তোমার অংশ তোমার জন্য অনস্বীকার্য, কিন্তু আখেরাতে তোমার অংশের প্রয়োজন আরও বেশি। সুতরাং তুমি আখেরাতের অংশ দিয়ে শুরু করো এবং তা গ্রহণ করো, কেননা অচিরেই তুমি দুনিয়ার অংশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে এবং তা গুছিয়ে নেবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না} অর্থাৎ দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় আখেরাতের জন্য তোমার পাথেয় ভুলে যেয়ো না; কেননা দুনিয়াই হলো আখেরাতের শস্যক্ষেত্র এবং এখানেই নেকি অর্জন করা হয়। আর দ্বীনের প্রতি ব্যবসায়ীর মমতা কেবল সাতটি বিষয় পালনের মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়। অতঃপর তিনি তার মধ্য থেকে উল্লেখ করেন: তৃতীয়ত, দুনিয়ার বাজার যেন তাকে আখেরাতের বাজার থেকে বিরত না রাখে। আর আখেরাতের বাজার হলো মসজিদসমূহ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {সেই সকল ব্যক্তি যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর জিকির, সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখে না} এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {সেই সকল ঘরে (মসজিদে) যেগুলোকে সমুন্নত করার এবং তাতে তাঁর নাম স্মরণ করার আদেশ আল্লাহ দিয়েছেন}। অতএব, দিনের শুরু থেকে বাজারে প্রবেশের সময় পর্যন্ত আখেরাতের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত। ফলে সে মসজিদে অবস্থান করবে এবং নিয়মিত অজিফা আদায় করবে। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ব্যবসায়ীদের বলতেন: তোমাদের দিনের শুরুটা আখেরাতের জন্য রাখো এবং এরপরের অংশ দুনিয়ার জন্য। সৎকর্মপরায়ণ সলফগণ দিনের শুরু এবং শেষ অংশ আখেরাতের জন্য এবং মধ্যভাগ ব্যবসার জন্য রাখতেন] ইহয়াউ উলুমিদ্দিন ২/৮৬।

অতঃপর ইমাম গাজালি বলেন: [চতুর্থত, সে যেন শুধু এর ওপরই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাজারেও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জিকিরে নিমগ্ন থাকে এবং তাহলিল ও তাসবিহ পাঠে মশগুল হয়। কেননা গাফেলদের মাঝে বাজারে আল্লাহর জিকির করা অধিক উত্তম … রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে বলল: লা...
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৪)
إله إلا الله وحده لا شريك له الملك وله الحمد يحيى ويميت وهو حي لا يموت بيده الخير وهو على كل شيء قدير كتب الله له ألف ألف حسنة) وكان ابن عمر وسالم بن عبد الله ومحمد بن واسع وغيرهم يدخلون السوق قاصدين لنيل فضيلة هذا الذكر] إحياء علوم الدين 2/ 86.

واحذر أخي التاجر أن تكون من المتكالبين على الدنيا الحريصين عليها فلا تكونن أول من يدخل السوق ولا آخر من يخرج منها فإن ذلك شر عظيم فقد روى الإمام مسلم بإسناده عن سلمان الفارسي رضي الله عنه قال: (لا تكونن إن استطعت أول من يدخل السوق ولا آخر من يخرج منها فإنها معركة الشيطان وبها ينصب رايته).

قال الإمام النووي: [قوله في السوق (إنها معركة الشيطان) … فشبه السوق وفعل الشيطان بأهلها ونيله منهم بالمعركة; لكثرة ما يقع فيها من أنواع الباطل كالغش والخداع، والأيمان الخائنة، والعقود الفاسدة، والنجش، والبيع على بيع أخيه، والشراء على شرائه، والسوم على سومه، وبخس المكيال والميزان. قوله (وبها ينصب رايته) إشارة إلى ثبوته هناك، واجتماع أعوانه إليه للتحريش بين الناس، وحملهم على هذه المفاسد المذكورة، ونحوها، فهي موضعه وموضع أعوانه] شرح النووي على صحيح مسلم 6/ 8 - 9.

 

- - -
(আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন, আর তিনি চিরঞ্জীব, যাঁর কোনো মৃত্যু নেই। তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান—তাহলে আল্লাহ তাঁর জন্য দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন)। ইবনে উমর, সালিম ইবনে আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি এবং অন্যান্যরা এই জিকিরের ফজিলত অর্জনের উদ্দেশ্যে বাজারে প্রবেশ করতেন। [ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন ২/ ৮৬]।

হে ব্যবসায়ী ভাই, আপনি দুনিয়ার প্রতি অতি আসক্ত ও লোভী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে সতর্ক থাকুন। বাজারে প্রবেশকারী প্রথম ব্যক্তি এবং সেখান থেকে বের হওয়া সর্বশেষ ব্যক্তি হবেন না; কারণ এটি এক ভয়াবহ অকল্যাণ। ইমাম মুসলিম তাঁর সনদ (إسناد) সহ সালমান আল-ফারসি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (যদি তোমার সাধ্যে থাকে তবে বাজারে প্রবেশকারী প্রথম ব্যক্তি এবং সেখান থেকে বের হওয়া সর্বশেষ ব্যক্তি হয়ো না; কারণ এটি শয়তানের যুদ্ধক্ষেত্র এবং সেখানেই সে তার ঝাণ্ডা গেড়ে বসে)।

ইমাম নববী বলেন: [বাজার সম্পর্কে তাঁর কথা (এটি শয়তানের যুদ্ধক্ষেত্র) … মূলত তিনি বাজার এবং সেখানে অবস্থানরত লোকদের সাথে শয়তানের আচরণ ও তাদের ওপর তার বিজয় লাভকে যুদ্ধের ময়দানের সাথে তুলনা করেছেন; কারণ সেখানে বহু প্রকারের বাতিল কাজ সংঘটিত হয়, যেমন: ধোঁকা, জালিয়াতি, প্রতারণামূলক কসম, নষ্ট চুক্তি (العقود الفاسدة), কৃত্রিমভাবে দর বৃদ্ধি (النجش), অন্য ভাইয়ের বিক্রির ওপর বিক্রি করা, অন্যের ক্রয়ের ওপর ক্রয় করা, অন্যের দরাদরির ওপর দরাদরি করা এবং মাপে ও ওজনে কম দেওয়া। তাঁর কথা (সেখানেই সে তার ঝাণ্ডা গেড়ে বসে) দ্বারা বাজারে শয়তানের সুদৃঢ় অবস্থান এবং মানুষের মধ্যে উসকানি দেওয়ার জন্য ও তাদেরকে উল্লিখিত এবং অনুরূপ অনিষ্টগুলোর দিকে ধাবিত করার জন্য তার সহযোগীদের সেখানে সমবেত করার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে; সুতরাং এটি শয়তান ও তার অনুসারীদের আস্তানা]। [শরহু নববী আলা সহিহ মুসলিম ৬/ ৮ - ৯]।

 

- - -
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌التجار من الصحابة

من المعلوم أنه كانت للعرب أسواق في الجاهلية يتاجرون فيها وهي أسواق مشهورة في شعر العرب وأدبهم وقد ذكرها ابن عباس رضي الله عنهما فقال: كانت عكاظ ومَجنَّه وذو المجاز أسواقاً في الجاهلية، فلما كان الإسلام فكأنهم تأثموا فيه، فنزل قول الله تعالى: {لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ} رواه البخاري.

وكان الرسول صلى الله عليه وسلم وهو في مكة يرتاد الأسواق ويتاجر كسباً للرزق وطلباً للمعاش بل كان له شريك في التجارة يقال له السائب وقد عاب المشركون على النبي صلى الله عليه وسلم تردده على الأسواق حيث ذكر الله جل جلاله ذلك عنهم {وَقَالُوا مَالِ هَذَا الرَّسُولِ يَأْكُلُ الطَّعَامَ وَيَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ} سورة الفرقان الآية 7.

قال الإمام القرطبي: [قوله تعالى {وَقَالُوا} ذكر شيئاً آخر من مطاعنهم. والضمير في {وَقَالُوا} لقريش؛ وذلك أنهم كان لهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مجلس مشهور، ذكره ابن إسحاق في السيرة وغيره. مضمنه - أن سادتهم عتبة بن ربيعة وغيره اجتمعوا معه فقالوا: يا محمد! إن كنت تحب الرئاسة وليَّناك علينا، وإن كنت تحب المال جمعنا لك من أموالنا؛ فلما أبى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك رجعوا في باب الاحتجاج معه فقالوا: ما بالك وأنت رسول الله تأكل الطعام، وتقف بالأسواق! فعيروه بأكل الطعام؛ لأنهم أرادوا أن يكون الرسول مَلَكاً، وعيروه بالمشي في الأسواق حين رأوا الأكاسرة والقياصرة والملوك الجبابرة يترفعون عن الأسواق، وكان عليه السلام يخالطهم في أسواقهم، ويأمرهم وينهاهم؛ فقالوا: هذا يطلب أن يتملك علينا، فماله يخالف سيرة الملوك؛ فأجابهم الله بقوله، وأنزل على نبيه: {وَما أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ} فلا تغتم ولا تحزن، فإنها شكاة ظاهر عنك عارها … دخول الأسواق مباح للتجارة وطلب المعاش. وكان عليه السلام يدخلها لحاجته، ولتذكرة الخلق بأمر الله ودعوته، ويعرض نفسه فيها على القبائل، لعل الله أن يرجع بهم إلى الحق. وفي البخاري في صفته عليه السلام: ليس بفظ ولا غليظ ولا سخاب في الأسواق … وذكر السوق مذكور في غير ما حديث، ذكره أهل
ব্যবসায়ী সহাবী (الصحابة) গণ

এটি সুবিদিত যে, জাহেলি যুগে আরবদের কিছু বাজার ছিল যেখানে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করত। এই বাজারগুলো আরবদের কবিতা ও সাহিত্যে অত্যন্ত সুপরিচিত। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এ সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেছেন: ওকাজ, মাজান্না এবং যুল-মাজায জাহেলি যুগে প্রসিদ্ধ বাজার ছিল। যখন ইসলামের আগমন ঘটল, তখন তারা সেখানে ব্যবসা করাকে পাপের কাজ মনে করল। তখন মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হলো: {তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ অন্বেষণ করাতে তোমাদের ওপর কোনো পাপ নেই}। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় থাকাকালীন জীবিকা নির্বাহ ও জীবনধারণের তাগিদে বাজারে যাতায়াত করতেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। এমনকি ব্যবসায় তাঁর একজন অংশীদারও ছিল যাকে সায়েব বলা হতো। মুশরিকরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাজারে যাতায়াত করার ব্যাপারে সমালোচনা করেছিল, যার প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ তাদের সেই বক্তব্য এভাবে উল্লেখ করেছেন: {এবং তারা বলল, এ কেমন রাসূল যে খাদ্য গ্রহণ করে এবং বাজারে চলাফেরা করে?} (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৭)।

ইমাম কুরতুবি বলেন: [আল্লাহর বাণী {এবং তারা বলল} তাদের অন্যান্য অপবাদের একটি উল্লেখ করেছেন। আর {তারা বলল} বাক্যে সর্বনামটি কুরাইশদের প্রতি নির্দেশিত; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাদের একটি সুপরিচিত বৈঠক হয়েছিল, যা ইবনে ইসহাক সিরাত গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এর মূল বক্তব্য হলো—তাদের নেতৃবৃন্দ যেমন উতবাহ বিন রাবিয়াহ এবং অন্যান্যরা তাঁর সাথে একত্রিত হয়ে বলল: হে মুহাম্মদ! তুমি যদি নেতৃত্ব চাও, তবে আমরা তোমাকে আমাদের শাসক বানিয়ে দেব। আর যদি তুমি সম্পদ চাও, তবে আমরা তোমার জন্য আমাদের সম্পদ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দেব। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালেন, তখন তারা তর্কের খাতিরে পুনরায় বলতে শুরু করল: তোমার কী হয়েছে যে, তুমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও আহার গ্রহণ করছ এবং বাজারে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছ! তারা তাঁকে আহার করার কারণে তিরস্কার করল; কারণ তারা চেয়েছিল রাসূল যেন একজন ফেরেশতা হন। তারা তাঁকে বাজারে চলাফেরার কারণেও বিদ্রূপ করল যখন তারা দেখল যে পারস্য সম্রাট, রোমান সম্রাট এবং প্রতাপশালী রাজারা বাজার থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে। অথচ নবী (আলাইহিস সালাম) বাজারে তাদের সাথে মেলামেশা করতেন এবং তাদের সৎ কাজের আদেশ দিতেন ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতেন। তখন তারা বলল: সে আমাদের ওপর রাজত্ব করতে চায়, অথচ সে কেন রাজাদের জীবনপদ্ধতির বিরুদ্ধাচরণ করছে! ফলে আল্লাহ তাদের উত্তর দিলেন এবং তাঁর নবীর ওপর অবতীর্ণ করলেন: {আপনার পূর্বে আমি যতজন রাসূল প্রেরণ করেছি, তারা সকলেই আহার গ্রহণ করত এবং বাজারে চলাফেরা করত}। সুতরাং আপনি মনঃক্ষুণ্ণ বা চিন্তিত হবেন না, কেননা এটি এমন এক অভিযোগ যার নিন্দা আপনার থেকে অপসারিত … ব্যবসা এবং জীবিকা অন্বেষণের জন্য বাজারে প্রবেশ করা বৈধ। নবী (আলাইহিস সালাম) স্বীয় প্রয়োজনে এবং মানুষকে আল্লাহর বিধান স্মরণ করিয়ে দিতে ও দাওয়াত প্রদানের উদ্দেশ্যে সেখানে যেতেন। তিনি সেখানে নিজেকে বিভিন্ন গোত্রের নিকট উপস্থাপন করতেন, যাতে সম্ভবত আল্লাহ তাদের সত্যের পথে ফিরিয়ে আনেন। বুখারি-তে তাঁর বৈশিষ্ট্যের বর্ণনায় এসেছে: তিনি কর্কশভাষী বা কঠোর স্বভাবের ছিলেন না এবং বাজারে শোরগোলকারী ছিলেন না … বাজারে যাতায়াতের বিষয়টি একাধিক হাদিসে উল্লিখিত হয়েছে, যা বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন...]
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৬)
الصحيح. وتجارة الصحابة فيها معروفة، وخاصة المهاجرين؛ كما قال أبو هريرة: وإن إخواننا من المهاجرين كان يشغلهم الصفق بالأسواق؛ خرجه البخاري] تفسير القرطبي 13/ 4 - 5.

وقال تعالى: {وَما أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا} سورة الفرقان الآية 20.

قال الإمام القرطبي: [قوله تعالى: {وَما أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ الْمُرْسَلِينَ} نزلت جواباً للمشركين حيث قالوا: {وَقَالُوا مَالِ هَذَا الرَّسُولِ يَأْكُلُ الطَّعَامَ وَيَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ} سورة الفرقان الآية 7. وقال ابن عباس: لمّا عيّر المشركون رسول الله صلى الله عليه وسلم بالفاقة وقالوا: {وَقَالُوا مَالِ هَذَا الرَّسُولِ يَأْكُلُ الطَّعَامَ وَيَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ} الآية، حزن النبي صلى الله عليه وسلم لذلك فنزلت تعزية له؛ فقال جبريل عليه السلام: السلام عليك يا رسول الله! الله ربك يقرئك السلام ويقول لك: {وَما أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ} أي يبتغون المعايش في الدنيا … هذه الآية أصل في تناول الأسباب وطلب المعاش بالتجارة والصناعة وغير ذلك … وقال: {وَما أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ} قال العلماء: أي يتجرون ويحترفون … وكان الصحابة رضي الله عنهم يتجرون ويحترفون وفي أموالهم يعملون] تفسير القرطبي 13/ 12 - 14.

وعن مجاهد عن السائب بن أبي السائب أنه كان يشارك رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل الإسلام في التجارة فلما كان يوم الفتح جاءه فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (مرحباً بأخي وشريكي، كان لا يداري ولا يماري، يا سائب قد كنت تعمل أعمالاً في الجاهلية لا تقبل منك وهي اليوم تقبل منك وكان ذا سلف وصلة) رواه أحمد والطبراني في الكبير ورجاله رجال الصحيح كما قال الحافظ الهيثمي في مجمع الزوائد.

وذكر ابن هشام تحت عنوان [خروجه صلى الله عليه وسلم إلى الشام في تجارة خديجة وما كان من بحيرى].

قال ابن إسحاق: وكانت خديجة بنت خويلد امرأة تاجرة ذات شرف ومال. تستأجر الرجال في مالها وتضاربهم إياه بشيء تجعله لهم وكانت قريش قوماً تجاراً; فلما بلغها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بلغها، من صدق حديثه وعظم أمانته وكرم أخلاقه بعثت إليه فعرضت عليه أن يخرج في مال لها إلى الشام تاجراً، وتعطيه أفضل ما كانت تعطي غيره من التجار مع غلام لها يقال له ميسرة فقبله رسول الله صلى الله عليه وسلم منها، وخرج في مالها ذلك وخرج معه غلامها ميسرة حتى قدم الشام ثم باع رسول
সহিহ (صحيহ)। আর সাহাবীদের ব্যবসা-বাণিজ্য এতে সুপরিচিত ছিল, বিশেষ করে মুহাজিরগণের; যেমনটি আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: ‘আমাদের মুহাজির ভাইরা বাজারে কেনা-বেচায় ব্যস্ত থাকতেন’; এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন। [তাফসিরে কুরতুবি ১৩/৪-৫]।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আমি তোমার পূর্বে যে সকল রাসুলকে পাঠিয়েছি, তারা সবাই অবশ্যই খাবার গ্রহণ করত এবং বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের একজনকে অন্যজনের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছি। তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে? আর তোমার রব সর্বদ্রষ্টা।} সুরা আল-ফুরকান, আয়াত ২০।

ইমাম কুরতুবি বলেন: [আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি তোমার পূর্বে যে সকল রাসুলকে পাঠিয়েছি}—এটি মুশরিকদের উত্তরে নাজিল হয়েছে যখন তারা বলেছিল: {তারা বলল, এ কেমন রাসুল যে খাবার খায় এবং বাজারে চলাফেরা করে} (সুরা আল-ফুরকান, আয়াত ৭)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: মুশরিকরা যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দারিদ্র্যের জন্য উপহাস করল এবং বলল: {তারা বলল, এ কেমন রাসুল যে খাবার খায় এবং বাজারে চলাফেরা করে}—এই আয়াত পর্যন্ত, তখন নবী (সা.) এতে দুঃখিত হলেন। তখন তাঁর সান্ত্বনা স্বরূপ এই আয়াত নাজিল হয়; জিবরাঈল (আ.) এসে বললেন: ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আল্লাহর রাসুল! আপনার রব আল্লাহ আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনাকে বলছেন: {আমি তোমার পূর্বে যে সকল রাসুলকে পাঠিয়েছি তারা সবাই অবশ্যই খাবার গ্রহণ করত এবং বাজারে চলাফেরা করত}’ অর্থাৎ তারা দুনিয়াতে জীবনোপকরণ অন্বেষণ করত … এই আয়াতটি উপায়-উপকরণ গ্রহণ এবং ব্যবসা, শিল্প ও অন্যান্য মাধ্যমে জীবিকা অন্বেষণের মূল ভিত্তি … আর তিনি বলেছেন: {আমি তোমার পূর্বে যে সকল রাসুলকে পাঠিয়েছি তারা সবাই অবশ্যই খাবার গ্রহণ করত এবং বাজারে চলাফেরা করত} আলেমগণ বলেন: অর্থাৎ তারা ব্যবসা ও পেশাগত কাজ করতেন … সাহাবায়ে কিরাম (রা.) ব্যবসা ও পেশাগত কাজ করতেন এবং নিজেদের সম্পদে শ্রম দিতেন।] তাফসিরে কুরতুবি ১৩/১২-১৪।

এবং মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, সাইব ইবন আবিস সাইব (রা.) থেকে যে, তিনি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে ব্যবসায় অংশীদার ছিলেন। যখন মক্কা বিজয়ের দিন এলো, তিনি তাঁর কাছে আসলেন। তখন নবী (সা.) বললেন: "স্বাগতম আমার ভাই ও অংশীদারকে, তিনি না ছিলেন কূটকৌশলী, না ছিলেন ঝগড়াটে। হে সাইব! তুমি জাহিলিয়াত আমলে এমন কিছু নেক আমল করতে যা তোমার থেকে কবুল করা হতো না, কিন্তু আজ তা তোমার থেকে কবুল করা হবে। আর তিনি ছিলেন দানশীল ও আত্মীয়তা রক্ষাকারী।" ইমাম আহমাদ এবং তাবারানি তার কাবিরে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) সহিহ (صحيح) পর্যায়ের বর্ণনাকারী (رجال); যেমনটি হাফিজ হাইসামি মাজমাউজ জাওয়াঈদে বলেছেন।

ইবনে হিশাম [খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসায় সিরিয়ায় নবী (সা.)-এর সফর এবং বাহিরা (পাদ্রি)-এর ঘটনা] শিরোনামের অধীনে এটি উল্লেখ করেছেন।

ইবনে ইসহাক বলেন: খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ ছিলেন একজন ব্যবসায়ী নারী, যিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান ও সম্পদশালী ছিলেন। তিনি পুরুষদের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তাঁর ব্যবসায় নিয়োগ দিতেন এবং লভ্যাংশ প্রদানের চুক্তিতে (مضاربة) তাদের পুঁজি প্রদান করতেন। কুরাইশরা ছিল মূলত ব্যবসায়ী জাতি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা এবং সুমহান চারিত্রিক গুণাবলী সম্পর্কে যখন তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি তাঁর কাছে প্রস্তাব পাঠালেন যে, তিনি তাঁর সম্পদ নিয়ে ব্যবসায়ী হিসেবে সিরিয়া যাবেন এবং অন্য ব্যবসায়ীদের তিনি যা দিতেন, তাঁকে তার চেয়েও উত্তম পারিশ্রমিক প্রদান করবেন। সাথে থাকবে তাঁর মাইসারা নামক এক গোলাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং তাঁর সম্পদ নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। তাঁর সাথে তাঁর গোলাম মাইসারাও গেল, যতক্ষণ না তারা সিরিয়ায় পৌঁছালেন। এরপর রাসুল...
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৭)
الله صلى الله عليه وسلم سلعته التي خرج بها، واشترى ما أراد أن يشتري ثم أقبل قافلاً إلى مكة ومعه ميسرة] سيرة ابن هشام 1/ 187 - 188.

هذا وقد اقتدى الصحابة رضوان الله عليهم بالنبي صلى الله عليه وسلم فكانوا يرتادون الأسواق ويتجرّون فيها بأموالهم، ولا يرون في ذلك بأساً.

وقد ذكر أهل الحديث والتاريخ والسير عدداً من الصحابة الذين اشتغلوا في التجارة منهم أبو بكر وعمر وعثمان وطلحة وعبد الرحمن بن عوف وعبد الله بن عمر وزيد بن أرقم والبراء بن عازب والزبير بن العوام رضوان الله عليهم فقد ذكر ابن سعد في الطبقات في ترجمة أبي بكر رضي الله عنه أنه كان رجلاً تاجراً فكان يغدو إلى السوق فيبيع ويبتاع] الطبقات 3/ 186. وذكر أيضاً أن عثمان رضي الله عنه كان رجلاً تاجراً في الجاهلية والإسلام. الطبقات 3/ 60. وذكر نحوه محمد بن الحسن في كتاب الكسب ص 89.

عن أم سلمة رضي الله عنها قالت: لقد خرج أبو بكر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم تاجراً إلى بصرى، لم يمنع أبا بكر الضن برسول الله صلى الله عليه وسلم شحه على نصيبه من الشخوص للتجارة، وذلك كان لإعجابهم كسبَ التجارة، وحبهم للتجارة، ولم يمنع رسول الله صلى الله عليه وسلم أبا بكر من الشخوص في تجارته لحبه صحبته وضنه بأبي بكر، - فقد كان بصحبته معجباً - لاستحسان (وفي رواية: لاستحباب) رسول الله صلى الله عليه وسلم للتجارة وإعجابه بها) رواه الطبراني في الكبير وهو حديث صحيح كما قال العلامة الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة 6/ 1036.

وروي في الحديث عن أم سلمة رضي الله عنها قالت: خرج أبو بكر رضي الله عنه في تجارة إلى بصرى قبل موت النبي صلى الله عليه وسلم بعام ومعه نعيمان وسويبط بن حرملة وكانا شهدا بدراً وكان نعيمان على الزاد وكان سويبط رجلاً مزَّاحاً، فقال لنعيمان: أطعمني، قال: حتى يجيء أبو بكر، قال: فلأغيظنك، قال: فمروا بقوم فقال لهم سويبط: تشترون مني عبداً لي؟ قالوا: نعم، قال: إنه عبد له كلام وهو قائل لكم إني حر فإن كنتم إذا قال لكم هذه المقالة تركتموه فلا تفسدوا عليَّ عبدي، قالوا: لا بل نشتريه منك، فاشتروه منه بعشر قلائص، ثم أتوه فوضعوا في عنقه عمامة أو حبلا فقال: نعيمان إن هذا يستهزئ بكم وإني حر لست بعبد، فقالوا: قد أخبرنا خبرك فانطلقوا به فجاء أبو بكر فأخبروه بذلك قال: فاتبع القوم ورد عليهم القلائص وأخذ نعيمان، قال: فلما قدموا على النبي
...আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সেই পণ্যসামগ্রী বিক্রয় করলেন যা নিয়ে তিনি বের হয়েছিলেন এবং যা যা ক্রয় করার ইচ্ছা ছিল তা ক্রয় করলেন। অতঃপর তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে ফিরে আসলেন এবং তাঁর সাথে মাইসারা ছিল। [সিরাতে ইবনে হিশাম ১/ ১৮৭ - ১৮৮]।

অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তাঁরা বাজারে যাতায়াত করতেন এবং সেখানে নিজেদের অর্থ-সম্পদ দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন এবং এতে তাঁরা কোনো দোষ বা অসুবিধা মনে করতেন না।

হাদিস, ইতিহাস ও সিরাত বিশেষজ্ঞগণ এমন অনেক সাহাবীর কথা উল্লেখ করেছেন যাঁরা ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু বকর, উমর, উসমান, তালহা, আবদুর রহমান বিন আউফ, আবদুল্লাহ বিন উমর, জায়েদ বিন আরকাম, বারা বিন আজিব এবং জুবায়ের বিন আওয়াম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। ইবনে সাদ ‘আত-তবাকাত’ গ্রন্থে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি প্রতিদিন সকালে বাজারে যেতেন এবং সেখানে ক্রয়-বিক্রয় করতেন। [আত-তবাকাত ৩/ ১৮৬]। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগেই ব্যবসায়ী ছিলেন। [আত-তবাকাত ৩/ ৬০]। মুহাম্মদ বিন হাসান তাঁর ‘কিতাবুল কাসব’ গ্রন্থের ৮৯ পৃষ্ঠায় অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে ব্যবসায়ী হিসেবে বসরার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য হারানোর ভয় ও তাঁর প্রতি গভীর মমতা আবু বকরকে তাঁর ব্যবসায়িক সফরের সুযোগ গ্রহণ থেকে বিরত রাখেনি। এটি ছিল উপার্জনের ক্ষেত্রে ব্যবসার প্রতি তাঁদের মুগ্ধতা ও ভালোবাসার কারণে। আর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও আবু বকরের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও তাঁর সাহচর্য পছন্দ করা সত্ত্বেও—যেহেতু তিনি আবু বকরের সাহচর্যে মুগ্ধ ছিলেন—তাঁকে বাণিজ্যিক সফরে যেতে বাধা দেননি। কারণ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যবসাকে পছন্দ করতেন (অন্য বর্ণনায় এসেছে: প্রশংসা করতেন) এবং এর প্রতি তাঁর সমর্থন ছিল। ইমাম তাবারানি এটি ‘আল-মুজামুল কাবীর’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, যেমনটি আল্লামা আলবানী ‘সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহিহা’ (৬/ ১০৩৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

হাদিসে উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের এক বছর আগে ব্যবসার উদ্দেশ্যে বসরার পথে বের হন। তাঁর সাথে ছিলেন নুয়াইমান এবং সুওয়াইবিত বিন হারমালা, যাঁরা উভয়েই বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। নুয়াইমান ছিলেন খাদ্যসামগ্রীর দায়িত্বে, আর সুওয়াইবিত ছিলেন একজন রসিক মানুষ। তিনি নুয়াইমানকে বললেন: আমাকে খাবার দাও। নুয়াইমান বললেন: আবু বকর আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো। সুওয়াইবিত বললেন: তবে আমি তোমাকে অবশ্যই রাগান্বিত করব। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তাঁরা এক কওমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সুওয়াইবিত তাদের বললেন: তোমরা কি আমার থেকে আমার একটি গোলাম ক্রয় করবে? তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: সে এমন এক গোলাম যে কথা বলতে পারে, আর সে তোমাদের বলবে যে সে স্বাধীন। যদি সে এ কথা বলার কারণে তোমরা তাকে ছেড়ে দাও, তবে আমার গোলামকে আমার জন্য নষ্ট করো না। তারা বলল: না, বরং আমরা তাকে তোমার থেকে কিনব। তারা দশটি মাদী উটের বিনিময়ে তাকে কিনে নিল। অতঃপর তারা তার কাছে এসে তার গলায় পাগড়ি বা রশি পেঁচিয়ে ধরল। তখন নুয়াইমান বলল: সে তোমাদের সাথে উপহাস করছে, আমি তো স্বাধীন মানুষ, গোলাম নই। তারা বলল: তোমার খবর সে আমাদের আগেই দিয়ে দিয়েছে। এরপর তারা তাকে নিয়ে চলে গেল। আবু বকর ফিরে আসলে তারা তাঁকে বিষয়টি অবহিত করল। বর্ণনাকারী বলেন: আবু বকর সেই কওমের পিছু নিলেন এবং উটগুলো তাদের ফেরত দিয়ে নুয়াইমানকে ছাড়িয়ে আনলেন। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর যখন তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে আসলেন...
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৮)
- صلى الله عليه وسلم وأخبروه، قال: فضحك النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه منه حولاً) رواه أحمد وابن ماجة والطبراني في الكبير.

وكان عمر بن الخطاب رضي الله عنه يتاجر أيضاً حتى شغله الصفق في الأسواق عن المواظبة على مجالس العلم عند النبي صلى الله عليه وسلم، فقد روى الإمام البخاري بإسناده (أن أبا موسى الأشعري استأذن على عمر بن الخطاب رضي الله عنه فلم يؤذن له وكأنه كان مشغولاً فرجع أبو موسى ففرغ عمر فقال: ألم أسمع صوت عبد الله بن قيس ائذنوا له، قيل: قد رجع، فدعاه فقال: كنا نؤمر بذلك، فقال: تأتيني على ذلك بالبينة، فانطلق إلى مجلس الأنصار فسألهم فقالوا: لا يشهد لك على هذا إلا أصغرنا أبو سعيد الخدري فذهب بأبي سعيد الخدري، فقال: عمر أخفي هذا عليَّ من أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم ألهاني الصفق بالأسواق يعني الخروج إلى تجارة).

قال الحافظ ابن حجر العسقلاني: [ … وأطلق عمر على الاشتغال بالتجارة لهواً لأنها ألهته عن طول ملازمته النبي صلى الله عليه وسلم حتى سمع غيره منه ما لم يسمعه، ولم يقصد عمر ترك أصل الملازمة وهي أمر نسبي، وكان احتياج عمر إلى الخروج للسوق من أجل الكسب لعياله والتعفف عن الناس] فتح الباري 4/ 378.

وكان عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه من أهم التجار في المدينة وكان ذا ثراء عظيم مع أنه بدأ تجارته بعد الهجرة ولما مات رضي الله عنه ترك ثروة كبيرة حتى إن امرأته صولحت بثمنها بثمانين ألفا. أخرجه ابن أبي الدنيا في إصلاح المال ص51.

وقال الإمام البخاري: [باب ما ذكر في الأسواق، وقال عبد الرحمن بن عوف لما قدمنا المدينة قلت هل من سوق فيه تجارة؟ قال: سوق قينقاع. وقال أنس قال: عبد الرحمن دلوني على السوق، وقال عمر: ألهاني الصفق بالأسواق).

قال الحافظ ابن حجر العسقلاني: [قوله: (باب ما ذكر في الأسواق) قال ابن بطال: أراد بذكر الأسواق إباحة المتاجر ودخول الأسواق للأشراف والفضلاء … قوله: (وقال عبد الرحمن بن عوف إلخ) تقدم موصولاً في أوائل البيوع، والغرض منه هنا ذكر السوق فقط وكونه كان موجوداً في عهد النبي صلى الله عليه وسلم ، وكان يتعاهده الفضلاء من الصحابة لتحصيل المعاش للكفاف وللتعفف عن الناس] فتح الباري 4/ 429.
(রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তারা অবহিত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ এক বছর যাবত হাসাহাসি করলেন।) আহমদ, ইবনে মাজাহ এবং আল-তাবারানি তাঁর আল-কবীর গ্রন্থে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও ব্যবসা করতেন, এমনকি বাজারে কেনাবেচার ব্যস্ততা তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইলমি মজলিসগুলোতে নিয়মিত উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত রাখত। ইমাম বুখারি তাঁর সনদ (إسناد)-সহ বর্ণনা করেছেন যে, (আবু মুসা আল-াশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, কিন্তু তাঁকে অনুমতি দেওয়া হলো না। সম্ভবত তিনি ব্যস্ত ছিলেন। ফলে আবু মুসা ফিরে গেলেন। এরপর উমর অবসর হয়ে বললেন: আমি কি আবদুল্লাহ ইবনে কাইসের কণ্ঠস্বর শুনিনি? তাঁকে অনুমতি দাও। বলা হলো: তিনি ফিরে গেছেন। তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন। তখন আবু মুসা বললেন: আমাদের এমনটিই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উমর বললেন: তোমাকে এর স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে হবে। এরপর তিনি আনসারদের এক মজলিসে গিয়ে তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন। তাঁরা বললেন: আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট আবু সাইদ আল-খুদরি ছাড়া আর কেউ আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে না। তিনি আবু সাইদ আল-খুদরিকে নিয়ে গেলেন। তখন উমর বললেন: উমর বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বিষয়টি আমার কাছে অগোচরে থেকে গিয়েছিল; বাজারে কেনাবেচা অর্থাৎ ব্যবসার জন্য বের হওয়া আমাকে ব্যস্ত রেখেছিল।)

হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেন: [ … উমর ব্যবসায় লিপ্ত থাকাকে 'ব্যস্ততা' বলে অভিহিত করেছেন কারণ এটি তাঁকে দীর্ঘ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে থাকা থেকে বিমুখ করেছিল, ফলে অন্যেরা তাঁর কাছ থেকে এমন অনেক কিছু শুনেছে যা তিনি শুনতে পাননি। উমর সাহচর্য পুরোপুরি ত্যাগ করা বুঝাননি, কারণ এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়। উমরের বাজারে যাওয়ার প্রয়োজন হতো তাঁর পরিবারের জন্য উপার্জন এবং মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে।] ফাতহুল বারী ৪/৩৭৮।

আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু মদিনার অন্যতম প্রধান ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তিনি বিপুল সম্পদের অধিকারী ছিলেন, যদিও তিনি হিজরতের পর তাঁর ব্যবসা শুরু করেছিলেন। যখন তিনি ইন্তেকাল করেন রাদিয়াল্লাহু আনহু, তখন তিনি এত বিশাল সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন যে, তাঁর এক স্ত্রীকে (উত্তরাধিকারের হিস্যার পরিবর্তে) আশি হাজার দিয়ে রফাদফা করা হয়েছিল। ইবন আবিদ দুনিয়া তাঁর ইসলাহুল মাল (পৃষ্ঠা ৫১) গ্রন্থে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

ইমাম বুখারি বলেন: [অধ্যায়: বাজার সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ বলেন: যখন আমরা মদিনায় আসলাম, আমি বললাম: এখানে কি এমন কোনো বাজার আছে যেখানে ব্যবসা করা যায়? তিনি বললেন: কাইনুকা বাজার। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আব্দুর রহমান বললেন: আমাকে বাজারের পথ দেখিয়ে দাও। উমর বললেন: বাজারে কেনাবেচা আমাকে ব্যস্ত রেখেছিল।)

হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেন: [তাঁর কথা: (অধ্যায়: বাজার সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে) ইবনে বাত্তাল বলেন: বাজার উল্লেখ করার মাধ্যমে তিনি ব্যবসার বৈধতা এবং মর্যাদাশীল ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের বাজারে প্রবেশের বিষয়টি বুঝাতে চেয়েছেন … তাঁর কথা: (আব্দুর রহমান ইবনে আউফ বলেছেন...) এটি কিতাবুল বিয়ূ-র শুরুতে অবিচ্ছিন্ন (موصولاً) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এখানে এর উদ্দেশ্য কেবল বাজারের উল্লেখ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এর অস্তিত্বের কথা জানানো। সাহাবীদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ ছিলেন তাঁরা জীবন ধারণের জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে এবং মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বিরত থাকতে বাজারে যাতায়াত করতেন।] ফাতহুল বারী ৪/৪২৯।
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وروى الإمام البخاري بإسناده أن عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه قال: (لما قدمنا المدينة آخى رسول الله صلى الله عليه وسلم بيني وبين سعد بن الربيع فقال سعد بن الربيع: إني أكثر الأنصار مالاً فأقسم لك نصف مالي وانظر أي زوجتي هويت نزلت لك عنها فإذا حلت تزوجتها، قال فقال له عبد الرحمن: لا حاجة لي في ذلك هل من سوق فيه تجارة؟ قال: سوق قينقاع قال فغدا إليه عبد الرحمن فأتى بأقط وسمن قال ثم تابع الغدو فما لبث أن جاء عبد الرحمن عليه أثر صفرة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: تزوجت؟ قال: نعم، قال: ومن قال امرأة من الأنصار، قال: كم سقت؟ قال: زنة نواة من ذهب أو نواة من ذهب، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: أولم ولو بشاة).

وجاء في رواية عند الإمام أحمد في المسند (أن عبد الرحمن بن عوف قدم المدينة فآخى رسول الله صلى الله عليه وسلم بينه وبين سعد بن الربيع الأنصاري فقال له سعد: أي أخي أنا أكثر أهل المدينة مالاً فانظر شطر مالي فخذه وتحتي امرأتان فانظر أيهما أعجب إليك حتى أطلقها، فقال عبد الرحمن: بارك الله لك في أهلك ومالك، دلوني على السوق، فدلوه على السوق، فذهب فاشترى وباع وربح فجاء بشيء من أقط وسمن ثم لبث ما شاء الله أن يلبث فجاء وعليه ردع زعفران، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: مهيم – أي ما أمرك وما شأنك - فقال: يا رسول الله تزوجت امرأة، فقال: ما أصدقتها؟ قال: وزن نواة من ذهب، قال: أولم ولو بشاة. قال عبد الرحمن فلقد رأيتني ولو رفعت حجراً لرجوت أن أصيب ذهباً أو فضةً).

وعن سعيد بن جبير عن ابن عمر قال: (كنت أبيع الإبل بالبقيع فأبيع بالدنانير فآخذ مكانها الورق وأبيع بالورق فآخذ مكانها الدنانير فأتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجدته خارجاً من بيت حفصة فسألته عن ذلك فقال: لا بأس به بالقيمة) رواه أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجة.

وكان زيد بن أرقم والبراء بن عازب والزبير بن العوام وعثمان بن عفان رضوان الله عليهم من التجار. روى الإمام البخاري بإسناده عن أبي المنهال قال: سألت البراء بن عازب وزيد بن أرقم عن الصرف فقالا: كنا تاجرين على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فسألنا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الصرف فقال: إن كان يداً بيد فلا بأس وإن كان نساءً – أي مؤجلاً - فلا يصلح).

وهكذا كان عدد كبير من الصحابة مهاجرين وأنصار يشتغلون في التجارة. روى الإمام البخاري بإسناده عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: إن الناس يقولون أكثر أبو هريرة، ولولا آيتان في كتاب الله ما حدثت حديثاً ثم يتلو {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلْنَا مِنْ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى … إلى قوله
ইমাম বুখারি তাঁর বর্ণনাসূত্র (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেন: (যখন আমরা মদিনায় আসলাম, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার এবং সাদ ইবনে রাবির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন তৈরি করে দিলেন। তখন সাদ ইবনে রাবি বললেন: আমি আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের অধিকারী, তাই আমি আমার সম্পদ আপনার জন্য দুই ভাগে ভাগ করে দিচ্ছি। আর দেখুন আমার দুই স্ত্রীর মধ্যে কাকে আপনার পছন্দ হয়, আমি তাকে আপনার জন্য ছেড়ে দেব; অতঃপর তার ইদ্দত পূর্ণ হলে আপনি তাকে বিয়ে করবেন। আবদুর রহমান (রা.) তাকে বললেন: আমার এগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই; সেখানে কি এমন কোনো বাজার আছে যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য হয়? তিনি বললেন: কায়নুকা বাজার। আবদুর রহমান (রা.) পরদিন সকালে সেখানে গেলেন এবং কিছু পনির ও ঘি নিয়ে আসলেন। তিনি এভাবে যাতায়াত করতে থাকলেন। কিছুদিন পর আবদুর রহমান (রা.) যখন আসলেন, তখন তাঁর কাপড়ে হলুদ রঙের চিহ্ন ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: তুমি কি বিয়ে করেছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: কাকে? তিনি বললেন: আনসারদের একজন নারীকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: মোহরানা কত দিয়েছ? তিনি বললেন: একটি খেজুরের আঁটির ওজনের সমপরিমাণ স্বর্ণ। তখন নবী (সা.) তাকে বললেন: একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওলিমা করো)।

ইমাম আহমাদের মুসনাদে একটি বর্ণনায় এসেছে (আবদুর রহমান ইবনে আউফ মদিনায় আসলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর ও সাদ ইবনে রাবি আনসারীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দেন। সাদ তাকে বললেন: হে আমার ভাই, আমি মদিনাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে সম্পদশালী। আপনি আমার অর্ধাংশ সম্পদ দেখুন এবং তা গ্রহণ করুন। আর আমার দুই স্ত্রী আছে, আপনার যাকে বেশি পছন্দ হয় বলুন, আমি তাকে তালাক দিয়ে দেব। আবদুর রহমান (রা.) বললেন: আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন, আমাকে বাজার দেখিয়ে দিন। তারা তাকে বাজার দেখিয়ে দিলেন। তিনি সেখানে গিয়ে ক্রয়-বিক্রয় করলেন এবং মুনাফা করলেন। অতঃপর তিনি কিছু পনির ও ঘি নিয়ে আসলেন। এরপর আল্লাহ যতটুকু চাইলেন তিনি ততটুকু সময় অতিবাহিত করলেন এবং যখন আসলেন তখন তাঁর শরীরে জাফরানের সুগন্ধি বা চিহ্ন ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: তোমার খবর কী? — অর্থাৎ তোমার অবস্থা কী? — তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি এক নারীকে বিয়ে করেছি। তিনি বললেন: তাকে কী মোহরানা দিয়েছ? তিনি বললেন: একটি খেজুরের আঁটির ওজনের সমপরিমাণ স্বর্ণ। তিনি বললেন: একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওলিমা করো। আবদুর রহমান (রা.) বলেন: আমি নিজেকে এমন অবস্থায় দেখেছি যে, আমি যদি কোনো পাথরও তুলতাম, তবে আশা করতাম যে তার নিচে স্বর্ণ বা রূপা পাব)।

সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (আমি বাকি-তে উট বিক্রি করতাম। আমি দিনারের বিনিময়ে বিক্রি করতাম কিন্তু তার পরিবর্তে রৌপ্যমুদ্রা (الورق) গ্রহণ করতাম, আবার রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি করে তার পরিবর্তে দিনার গ্রহণ করতাম। এরপর আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আসলাম এবং তাঁকে হাফসা (রা.)-এর ঘর থেকে বের হতে দেখে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: বাজার দর বা সমমূল্যে (بالقيمة) হলে এতে কোনো অসুবিধা নেই (لا بأس))। এটি আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

জায়েদ ইবনে আরকাম, বারা ইবনে আজিব, জুবায়ের ইবনে আওয়াম এবং উসমান ইবনে আফফান (রা.) ব্যবসায়ী ছিলেন। ইমাম বুখারি তাঁর বর্ণনাসূত্র (إسناد) সহ আবু মিনহাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বারা ইবনে আজিব ও জায়েদ ইবনে আরকামকে মুদ্রা বিনিময় (صرف) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তাঁরা বললেন: আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে ব্যবসায়ী ছিলাম। আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মুদ্রা বিনিময় (صرف) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: যদি তা হাতে হাতে (يداً بيد) হয় তবে কোনো অসুবিধা নেই (لا بأس), আর যদি বাকিতে (نساءً) — অর্থাৎ বিলম্বিত — হয় তবে তা সঠিক নয়)।

এভাবে বিপুল সংখ্যক সাহাবী মুহাজির ও আনসার বাণিজ্যে নিয়োজিত ছিলেন। ইমাম বুখারি তাঁর বর্ণনাসূত্র (إسناد) সহ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানুষ বলে আবু হুরায়রা অনেক বেশি হাদিস বর্ণনা করে। অথচ আল্লাহর কিতাবে যদি দুটি আয়াত না থাকত, তবে আমি কোনো হাদিস বর্ণনা করতাম না। এরপর তিনি পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই যারা গোপন করে যা আমি নাজিল করেছি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ ও হেদায়াত থেকে … আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩০)
الرَّحِيمُ} إن إخواننا من المهاجرين كان يشغلهم الصفق بالأسواق وإن إخواننا من الأنصار كان يشغلهم العمل في أموالهم وإن أبا هريرة كان يلزم رسول الله صلى الله عليه وسلم بشبع بطنه ويحضر ما لا يحضرون ويحفظ ما لا يحفظون).

وقال سعيد بن المسيب: (كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يتجرون في بحر الروم، منهم طلحة بن عبيد الله وسعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل) إصلاح المال لابن أبي الدنيا ص 76.

وقال أيوب: (كان أبو قلابة يأمرني بلزوم السوق والصنعة، ويقول: إن الغنى من العافية) إصلاح المال لابن أبي الدنيا ص76.

وعن الهيثم بن جميل قال: قلت لابن المبارك: أتّجر في البحر؟ قال: اتّجر في البر والبحر، واستغن عن الناس) إصلاح المال لابن أبي الدنيا ص77.

ولقي رجل الحسن بن يحيى بأرض الحبشة، معه تجارة، فقال له: (ما الذي بلغ بك هاهنا؟ فأخبره، فعذله الرجل. فقال: أكل هذا طلب للدنيا، وحرص عليها؟ فقال له الحسن: يا هذا إن الذي حملني على هذا، كراهة الحاجة إلى مثلك) إصلاح المال لابن أبي الدنيا ص78.

وقد ضرب التجار من الصحابة أروع الأمثلة في البذل والعطاء والإنفاق في سبيل الله تعالى فهذا أبو بكر رضي الله عنه خير مثال للمنفق في سبيل الله. فعن زيد بن أسلم عن أبيه قال: سمعت عمر بن الخطاب يقول: (أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نتصدق فوافق ذلك عندي مالاً فقلت: اليوم أسبق أبا بكر إن سبقته يوماً، قال: فجئت بنصف مالي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما أبقيت لأهلك قلت مثله، وأتى أبو بكر بكل ما عنده فقال: يا أبا بكر ما أبقيت لأهلك؟ قال أبقيت لهم الله ورسوله، قلت: والله لا أسبقه إلى شيء أبداً) رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح.

وروى الإمام أحمد والترمذي عن عبد الرحمن بن سمرة، قال: (جاء عثمان إلى النبي صلى الله عليه وسلم بألف دينار حين جهز جيش العسرة فينثرها في حجره قال عبد الرحمن فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم يقلبها في حجره ويقول ما ضر عثمان ما عمل بعد اليوم مرتين) قال الترمذي حديث حسن غريب.

وعن عبد الرحمن بن خباب قال: شهدت النبي صلى الله عليه وسلم وهو يحث على جيش العسرة فقام عثمان بن عفان فقال: يا رسول الله عليَّ مائة بعير بأحلاسها وأقتابها في سبيل الله ثم حض على الجيش، فقام عثمان بن عفان فقال: يا رسول الله عليَّ مائتا بعير بأحلاسها وأقتابها في سبيل الله ثم حض على الجيش، فقام عثمان بن عفان فقال: يا رسول الله عليَّ ثلاث مائة بعير بأحلاسها وأقتابها
পরম দয়ালু}... আমাদের মুহাজির ভাইগণ বাজারে কেনাবেচায় ব্যস্ত থাকতেন এবং আমাদের আনসার ভাইগণ তাদের ধন-সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে ব্যস্ত থাকতেন। আর আবু হুরায়রা কেবল পেট ভরার বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সান্নিধ্যে লেগে থাকত; সে এমন সব মজলিশে উপস্থিত থাকত যেখানে তারা উপস্থিত থাকতেন না এবং সে এমন সব বিষয় মুখস্থ রাখত যা তারা রাখতেন না।

সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ রোম সাগরে ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন, তাদের মধ্যে ছিলেন তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ এবং সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল) — ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত ইসলাহুল মাল, পৃষ্ঠা ৭৬।

আইয়ুব বলেন: (আবু কিলাবা আমাকে বাজারে যাতায়াত ও পেশায় যুক্ত থাকার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন: অভাবমুক্ত থাকা সুস্থতারই অংশ) — ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত ইসলাহুল মাল, পৃষ্ঠা ৭৬।

হায়সাম ইবনে জামিল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে বললাম: আমি কি সমুদ্রে ব্যবসা করব? তিনি বললেন: স্থলে ও সমুদ্রে ব্যবসা করো এবং মানুষের মুখাপেক্ষীহীন হও) — ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত ইসলাহুল মাল, পৃষ্ঠা ৭৭।

আবিসিনিয়া (হাবাশা) ভূখণ্ডে এক ব্যক্তি হাসান ইবনে ইয়াহইয়ার দেখা পেলেন, যখন তাঁর সাথে ব্যবসায়ী পণ্য ছিল। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: (কী আপনাকে এখানে নিয়ে এল? তিনি তাঁকে জানালেন। তখন ব্যক্তিটি তাঁকে তিরস্কার করলেন এবং বললেন: এসবই কি দুনিয়ার অন্বেষণ এবং এর প্রতি লালসা? হাসান তাঁকে বললেন: হে লোক! যে বিষয়টি আমাকে একাজে উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো আপনার মতো লোকের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রতি অনীহা) — ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত ইসলাহুল মাল, পৃষ্ঠা ৭৮।

সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে যারা ব্যবসায়ী ছিলেন তাঁরা আল্লাহর পথে দান ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ ক্ষেত্রে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর পথে ব্যয়কারীদের জন্য সর্বোত্তম উদাহরণ। যায়েদ ইবনে আসলাম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি: (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সদকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন আমার কাছে কিছু ধন-সম্পদ ছিল। আমি মনে মনে বললাম: আজ আমি আবু বকরকে ছাড়িয়ে যাব, যদি কোনো দিন তাঁকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। তিনি বলেন: এরপর আমি আমার সম্পদের অর্ধেক নিয়ে এলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছ? আমি বললাম: সমপরিমাণ। আর আবু বকর তাঁর কাছে যা ছিল তার সবটুকুই নিয়ে এলেন। তিনি বললেন: হে আবু বকর, তোমার পরিবারের জন্য কী রেখেছ? তিনি বললেন: তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি। আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আমি তাঁকে কোনো বিষয়েই কখনো পেছনে ফেলতে পারব না)। এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান সহিহ (حديث حسن صحيح)।

ইমাম আহমাদ ও তিরমিজি আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (উসমান নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এক হাজার দিনার নিয়ে এলেন যখন তিনি ‘জাইশুল উসরাহ’ বা অর্থকষ্টের সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এরপর সেগুলো তাঁর কোলে ঢেলে দিলেন। আব্দুর রহমান বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখলাম তিনি তাঁর কোলে সেই মুদ্রাগুলো নাড়াচাড়া করছিলেন এবং দুইবার বললেন: আজকের পর থেকে উসমান যাই করুক না কেন, তাতে তার কোনো ক্ষতি হবে হবে না)। তিরমিজি বলেন এটি হাসান গরিব (حديث حسن غريب)।

আব্দুর রহমান ইবনে খাব্বাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম যখন তিনি ‘জাইশুল উসরাহ’ বা অর্থকষ্টের সেনাবাহিনীর জন্য উৎসাহ প্রদান করছিলেন। তখন উসমান ইবনে আফফান দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আল্লাহর রাস্তায় জিন ও হাওদাসহ একশ উট প্রদানের জিম্মাদারি নিচ্ছি। এরপর তিনি পুনরায় সেনাবাহিনীর জন্য উৎসাহ দিলেন। তখন উসমান ইবনে আফফান দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আল্লাহর রাস্তায় জিন ও হাওদাসহ দুইশ উট প্রদানের জিম্মাদারি নিচ্ছি। এরপর তিনি আবারো সেনাবাহিনীর জন্য উৎসাহ দিলেন। তখন উসমান ইবনে আফফান দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আল্লাহর রাস্তায় জিন ও হাওদাসহ তিনশ উট...
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩১)
في سبيل الله، فأنا رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينزل عن المنبر وهو يقول ما على عثمان ما عمل بعد هذه ما على عثمان ما عمل بعد هذه) رواه الترمذي.

وعن أبي عبد الرحمن السلمي قال: لما حصر عثمان أشرف عليهم فوق داره ثم قال: أذكركم بالله هل تعلمون أن حراء حين انتفض قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أثبت حراء فليس عليك إلا نبي أو صديق أو شهيد، قالوا: نعم، قال: أذكركم بالله، هل تعلمون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في جيش العسرة: من ينفق نفقة متقبلة والناس مجهدون معسرون فجهزت ذلك الجيش قالوا: نعم، ثم قال أذكركم بالله، هل تعلمون أن بئر رومة لم يكن يشرب منها أحد إلا بثمن فابتعتها فجعلتها للغني والفقير وابن السبيل قالوا اللهم نعم وأشياء عددها) رواه الترمذي ثم قال حديث حسن صحيح غريب وصححه العلامة الألباني في صحيح سنن الترمذي 3/ 208.

وذكر أهل التاريخ أنه في عهد الخليفة أبي بكر الصديق رضي الله عنه أصاب الناس جفاف وجوع شديدان، فلمّا ضاق بهم الأمر ذهبوا إلى الخليفة أبي بكر رضي الله عنه وقالوا: يا خليفة رسول الله، إنّ السّماء لم تمطر، والأرض لم تنبت، وقد أدرك الناس الهلاك فماذا نفعل؟ قال أبو بكر رضي الله عنه: انصرفوا، واصبروا، فإني أرجو ألاّ يأتي المساء حتّى يفرج الله عنكم. وفي آخر النهار جاء الخبر بأنّ قافلة جمالٍ لعثمان بن عفّان رضي الله عنه قد أتت من الشّام إلى المدينة. فلمّا وصلت خرج النّاس يستقبلونها، فإذا هي ألف جمل محملة سمناً وزيتاً ودقيقاً، وتوقّفت عند باب عثمان رضي الله عنه فلمّا أنزلت أحمالها في داره جاء التجار. قال لهم عثمان رضي الله عنه ماذا تريدون؟ أجاب التجار: إنّك تعلم ما نريد، بعنا من هذا الذي وصل إليك فإنّك تعرف حاجة النّاس إليه. قال عثمان: كم أربح على الثّمن الذي اشتريت به؟ قالوا: الدّرهم درهمين. قال: أعطاني غيركم زيادة على هذا. قالوا: أربعة! قال عثمان رضي الله عنه: أعطاني غيركم أكثر. قال التّجار: نربحك خمسة. قال عثمان: أعطاني غيركم أكثر. فقالوا: ليس في المدينة تجار غيرنا، ولم يسبقنا أحد إليك، فمن الذي أعطاك أكثر مما أعطينا؟! قال عثمان رضي الله عنه:إن الله قد أعطاني بكل درهم عشرة، الحسنة بعشرة أمثالها، فهل عندكم زيادة؟ قالوا: لا. قال عثمان: فإني أشهد الله أني جعلت ما جاءت به هذه الجمال صدقة للمساكين وفقراء المسلمين. ثم أخذ عثمان بن عفان يوزّع بضاعته، فما بقي من فقراء المدينة واحد إلاّ أخذ ما يكفيه ويكفي أهله.
আল্লাহর পথে (ব্যয় করার কারণে), আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মিম্বর থেকে নামতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন, 'আজকের পর উসমান যা-ই করুক না কেন, তাতে তার কোনো ক্ষতি হবে না; আজকের পর উসমান যা-ই করুক না কেন, তাতে তার কোনো ক্ষতি হবে না।' এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।

আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উসমান (রা.) যখন অবরুদ্ধ হলেন, তখন তিনি তাঁর ঘরের ওপর থেকে তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তোমরা কি জানো যে, হেরা (পাহাড়) যখন কেঁপে উঠেছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন: 'হে হেরা! স্থির হও, কারণ তোমার ওপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক (সত্যনিষ্ঠ) অথবা একজন শহীদ ব্যতীত আর কেউ নেই'?" তারা বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তোমরা কি জানো যে রাসূলুল্লাহ (সা.) 'জাইশুল উসরা' (সংকটের সেনাবাহিনী) সম্পর্কে বলেছিলেন: 'যে ব্যক্তি এমন দান করবে যা কবুলযোগ্য (মাকবুল), এমতাবস্থায় যখন মানুষ চরম অভাবগ্রস্ত ও সংকটে আছে', আর আমি সেই সেনাবাহিনী প্রস্তুত করেছিলাম?" তারা বলল: "হ্যাঁ।" এরপর তিনি বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তোমরা কি জানো যে 'বি'রে রুমা' (রুমা কুপ) থেকে মূল্য পরিশোধ করা ছাড়া কেউ পানি পান করতে পারত না, অতঃপর আমি সেটি ক্রয় করে ধনী, দরিদ্র ও মুসাফিরদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম?" তারা বলল: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।" এভাবে তিনি আরও কিছু বিষয়ের উল্লেখ করলেন। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং এরপর তিনি একে একটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) গরিব (غريب) হাদিস হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল্লামা আলবানি সহিহ সুনান তিরমিজি ৩/২০৮-এ একে সহিহ (صححه) বলে গণ্য করেছেন।

ইতিহাসবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর শাসনামলে মানুষ চরম অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল। পরিস্থিতি যখন অসহনীয় হয়ে উঠল, তখন তারা খলিফা আবু বকর (রা.)-এর কাছে গিয়ে বলল: "হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আকাশ থেকে বৃষ্টি হচ্ছে না, জমিনে ফসল ফলছে না এবং মানুষ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এখন আমরা কী করব?" আবু বকর (রা.) বললেন: "তোমরা ফিরে যাও এবং ধৈর্য ধরো, আমি আশা করি সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আল্লাহ তোমাদের এই বিপদ দূর করে দেবেন।" দিনের শেষ ভাগে সংবাদ এল যে, উসমান বিন আফফান (রা.)-এর একটি উটের কাফেলা শাম (সিরিয়া) থেকে মদিনায় পৌঁছেছে। কাফেলাটি পৌঁছালে মানুষ সেটিকে স্বাগত জানাতে বেরিয়ে পড়ল। দেখা গেল, সেখানে এক হাজার উট রয়েছে যা ঘি, তেল ও আটা দ্বারা বোঝাই। কাফেলাটি উসমান (রা.)-এর দরজায় এসে থামল। যখন পণ্যগুলো তাঁর ঘরে নামানো হলো, তখন ব্যবসায়ীরা এল। উসমান (রা.) তাদের জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা কী চাও?" ব্যবসায়ীরা উত্তর দিল: "আপনি জানেন আমরা কী চাই। আপনার কাছে যে পণ্য এসেছে তা আমাদের কাছে বিক্রি করুন, কারণ আপনি জানেন মানুষের এগুলোর কত প্রয়োজন।" উসমান (রা.) বললেন: "আমি যে দামে কিনেছি তার ওপর তোমরা আমাকে কত লাভ দেবে?" তারা বলল: "এক দিরহামে দুই দিরহাম।" তিনি বললেন: "অন্যরা আমাকে এর চেয়ে বেশি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।" তারা বলল: "চার দিরহাম (প্রতি দিরহামে)!" উসমান (রা.) বললেন: "অন্যরা আমাকে আরও বেশি দিচ্ছে।" ব্যবসায়ীরা বলল: "মদিনায় আমরা ছাড়া আর কোনো ব্যবসায়ী নেই এবং আমাদের আগে কেউ আপনার কাছে আসেনি। তবে কে আপনাকে আমাদের চেয়ে বেশি দিচ্ছে?" উসমান (রা.) বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে প্রতি দিরহামের বিনিময়ে দশ দিরহাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কারণ একটি নেক কাজের বিনিময়ে দশগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। তোমাদের কাছে কি এর চেয়ে বেশি দেওয়ার কিছু আছে?" তারা বলল: "না।" উসমান (রা.) বললেন: "আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, এই কাফেলায় যা কিছু এসেছে তা আমি মুসলিমদের অভাবী ও দরিদ্রদের জন্য সদকা হিসেবে দান করে দিলাম।" অতঃপর উসমান বিন আফফান তাঁর পণ্যগুলো বণ্টন করতে শুরু করলেন। মদিনার এমন কোনো দরিদ্র ব্যক্তি বাকি ছিল না, যে তার নিজের এবং তার পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য পায়নি।
(খণ্ড: ১) ফিকহুত তাজিরিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩২)
قال الإمام البخاري: [باب مناقب عثمان بن عفان رضي الله عنه وقال النبي صلى الله عليه وسلم: (من يحفر بئر رومة فله الجنة فحفرها عثمان وقال من جهز جيش العسرة فله الجنة فجهزه عثمان).

وعن أنس رضي الله عنه قال: بينما عائشة في بيتها إذ سمعت صوتاً في المدينة فقالت: ما هذا؟ قالوا: عير لعبد الرحمن بن عوف قدمت من الشام تحمل من كل شيء، قال: فكانت سبع مائة بعير، قال: فارتجت المدينة من الصوت، فقالت عائشة: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: قد رأيت عبد الرحمن بن عوف يدخل الجنة حبواً فبلغ ذلك عبد الرحمن بن عوف، فقال: إن استطعت لأدخلنها قائماً فجعلها بأقتابها وأحمالها في سبيل الله عز وجل رواه أحمد.

 

- - -
ইমাম বুখারী বলেন: [পরিচ্ছেদ: উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মর্যাদা। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি রুমাহ কূপ খনন করবে তার জন্য জান্নাত।" অতঃপর উসমান তা খনন করেন। তিনি আরও বলেন: "যে ব্যক্তি সংকটের সেনাবাহিনী (জাইশুল উসরাহ) প্রস্তুত করবে তার জন্য জান্নাত।" অতঃপর উসমান তা প্রস্তুত করেন।]

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর ঘরে অবস্থান করছিলেন, এমন সময় তিনি মদিনায় একটি শোরগোল শুনতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন: "এটি কী?" লোকেরা বলল: "এটি সিরিয়া থেকে আগত আব্দুর রহমান বিন আউফের একটি বাণিজ্যিক কাফেলা যা সকল ধরণের পণ্য বহন করে এনেছে।" বর্ণনাকারী বলেন: কাফেলাটিতে সাতশত উট ছিল। তিনি বলেন: সেই শব্দে মদিনা প্রকম্পিত হয়ে উঠল। তখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: "আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি—আমি আব্দুর রহমান বিন আউফকে হামাগুড়ি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে দেখেছি।" এই সংবাদ আব্দুর রহমান বিন আউফের নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: "আমি সক্ষম হলে অবশ্যই তাতে দাঁড়িয়ে প্রবেশ করব।" অতঃপর তিনি উটগুলোকে তাদের হাওদা ও পিঠের বোঝাসহ মহান আল্লাহর পথে দান করে দিলেন। এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।

 

- - -