(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: -)
رسالة إنقاذ الهالكين في حكم أخذ الأجرة على تلاوة القرآن الكريم القسم: مسائل فقهية
الكتاب: رسالة إنقاذ الهالكين (تبحث في حكم أخذ الأجرة على تلاوة القرآن الكريم)
المؤلف: تقي الدين، محمد بن بير علي البركوي الرومي الحنفي (ت 981هـ)
قدَّم لها وحققها وعلَّق عليها: الدكتور حسام الدين بن موسى عفانة
الطبعة: الأولى، 1423هـ - 2002 م (القدس - فلسطين)
عدد الصفحات: 152
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 شوّال 1432
রিসালাহ ইনকাযুল হালিকিন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারিম (পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান সংক্রান্ত ধ্বংসোন্মুখদের মুক্তির পত্র) বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: রিসালাহ ইনকাযুল হালিকিন (পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে)
লেখক: তাকিউদ্দীন, মুহাম্মদ বিন পীর আলী আল-বিরকিউই আর-রুমি আল-হানাফি (মৃত্যু ৯৮১ হিজরি)
ভূমিকা, সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন: ডক্টর হুসামুদ্দীন বিন মুসা আফানাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ (আল-কুদস - ফিলিস্তিন)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২২ শাওয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১)
رسالة إنقاذ الهالكين
(تبحث في حكم أخذ الأجرة على تلاوة القرآن الكريم)
تأليف
العلامة تقي الدين محمد البركوي الحنفي
المتوفى سنة 981 هـ
قدَّم لها وحققها وعلَّق عليها
الدكتور حسام الدين بن موسى عفانه
الأستاذ المشارك في الفقه والأصول
كلية الدعوة وأصول الدين
جامعة القدس
রিসালাহ ইনকাযুল হালিকিন
(পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান (حكم) সংক্রান্ত গবেষণা)
রচনা করেছেন
আল্লামা তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ আল-বিরকিভি আল-হানাফি
মৃত্যু: ৯৮১ হিজরি
ভূমিকা, পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) ও টীকা প্রদান করেছেন
ড. হুসামুদ্দীন বিন মুসা আফানা
ফিকহ (فقه) ও উসুল (أصول) শাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক
দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন (أصول الدين) অনুষদ
আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى
1423هـ - 2002 م
القدس - فلسطين
حقوق الطبع محفوظة للمحقق
طباعة وصفّ
شفاء بنت حسام الدين عفانه
প্রথম সংস্করণ
১৪২৩ হিজরী - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
আল-কুদস - ফিলিস্তিন
মুদ্রণস্বত্ব গবেষক (محقق) কর্তৃক সংরক্ষিত
মুদ্রণ ও কম্পোজ
শিফা বিনতে হুসামুদ্দিন আফানা
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المحققإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
(يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ) سورة آل عمران الآية 102.
(يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا) سورة النساء الآية 1.
(يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا) سورة الأحزاب الآيتان 70 - 71.
وبعد
فهذه رسالة (إنقاذ الهالكين) للعلامة محمد البركوي أحد كبار العلماء الأتراك، تبحث في مسألة مهمة من مسائل العلم الشرعي، ألا وهي أخذ الأجرة على تلاوة القرآن الكريم وهبته للأموات.
وقد بحث العلامة البركوي هذه المسألة، بتأصيل شرعي اعتماداً على الأدلة من كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، وبعد استعراضه للأدلة وأقوال العلماء في ذلك، قرر
শুরু করছি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।) সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ১০২।
(হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।) সুরা আন-নিসা, আয়াত: ১।
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে এক মহা সফলতা অর্জন করল।) সুরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০-৭১।
অতঃপর—
এটি তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের অন্যতম আল্লামা মুহাম্মদ আল-বারকাওয়ীর একটি পুস্তিকা ‘ইনকাযুল হালিকিন’, যা শরয়ি ইলমের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সম্পর্কে আলোচনা করে; আর তা হলো— কুরআন তিলাওয়াতের ওপর বিনিময় গ্রহণ এবং তা মৃতদের জন্য সওয়াব হিসেবে উৎসর্গ করার বিষয়টি।
আল্লামা বারকাওয়ী আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة)-এর দলিলের ওপর ভিত্তি করে শরয়ি মূলনীতির (تأصيل) আলোকে এই মাসআলাটি আলোচনা করেছেন। দলীলসমূহ এবং এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর তিনি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে—
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬)
تحريم أخذ الأجرة على تلاوة القرآن الكريم وهبته للأموات، وأن ذلك بدعة محدثة لم تعرفها القرون الأولى التي شهد لها النبي صلى الله عليه وسلم بالخيرية.
وهذه الرسالة قد طبعت قديماً سنة 1326هـ أي قبل حوالي مائة عام، ولكنها لم تخل من السقط والغلط والنقص، وكنت قد وقفت على نسخة مخطوطة لهذه الرسالة محفوظة لدى مؤسسة إحياء التراث والبحوث الإسلامية، وهذه النسخة مصورة عن أصل محفوظ في مكتبة المسجد الأقصى المبارك، فعزمت على نشرها حسب أصول علم تحقيق المخطوطات، وقد جعلت عملي في قسمين:
القسم الأول: دراسة حول المؤلف والرسالة وتشمل ما يلي:
- تمهيد حول حكم أخذ الأجرة على تلاوة القرآن الكريم وكلام أهل العلم في ذلك.
المطلب الأول: اسمه ونسبه وولادته.
المطلب الثاني: ثناء العلماء عليه.
المطلب الثالث: مؤلفاته.
المطلب الرابع: توثيق نسبة الرسالة إلى مؤلفها البركوي.
المطلب الخامس: عنوان الرسالة.
المطلب السادس: وصف النسخ.
المطلب السابع: منهج التحقيق.
القسم الثاني: وفيه نص الرسالة محققاً ومعلقاً عليه حسب أصول وقواعد علم تحقيق المخطوطات.
ثم أتبعت ذلك بالفهارس العلمية للرسالة وهي:
1. فهرس الآيات القرآنية الواردة في الرسالة.
2. فهرس الأحاديث النبوية الواردة في الرسالة.
3. فهرس الأعلام الذين ورد ذكرهم في الرسالة.
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং তার সওয়াব মৃত ব্যক্তিদের জন্য উপহার প্রদানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার অবৈধতা; এটি একটি নবউদ্ভাবিত বিদআত (بدعة محدثة) যা সেই প্রাথমিক যুগের মানুষ জানতেন না যাদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য নবী (সা.) প্রদান করেছেন।
এই রিসালাহটি অনেক আগে ১৩২৬ হিজরি সনে অর্থাৎ প্রায় একশত বছর পূর্বে মুদ্রিত হয়েছিল, তবে এটি বিচ্যুতি, ভুল এবং অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত ছিল না। আমি এই রিসালাহটির একটি পাণ্ডুলিপি সংস্করণ দেখতে পেয়েছি যা 'মুয়াসসাসাতু ইহয়াইত তুরাস ওয়াল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ'-তে সংরক্ষিত আছে। এই কপিটি মসজিদে আকসার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত মূল কপির একটি ছায়ালিপি। তাই আমি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) বিজ্ঞানের মূলনীতি অনুযায়ী এটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমি আমার কাজকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অংশ: লেখক এবং রিসালাহ সম্পর্কে গবেষণা যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
- কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান এবং এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্য সম্পর্কে উপক্রমণিকা।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: লেখক আল-বিরকিবির প্রতি এই রিসালাহটির সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্যতা (توثيق)।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: রিসালাহটির শিরোনাম।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির বিবরণ।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: সম্পাদনা (تحقيق) পদ্ধতি।
দ্বিতীয় অংশ: এতে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা বিজ্ঞানের মূলনীতি ও নিয়ম অনুযায়ী সম্পাদিত (محققاً) এবং টীকাযুক্ত (معلقاً) রিসালাহটির মূল পাঠ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এরপর আমি রিসালাহটির জন্য জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্ঘণ্টসমূহ সংযোজন করেছি, যা নিম্নরূপ:
1. রিসালাহটিতে বর্ণিত কুরআনের আয়াতের সূচি।
2. রিসালাহটিতে বর্ণিত হাদিসের সূচি।
3. রিসালাহটিতে বর্ণিত প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের নামের সূচি।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭)
4. فهرس الكتب التي وردت في الرسالة.
5. فهرس المصادر والمراجع التي اعتمدت عليها في الدراسة والتحقيق.
6. فهرس المحتويات.
وفي الختام فإني أقدم هذه الرسالة القيمة لطلبة العلم وأهله، وأنا أعلم أن ما قمت به من عمل، إنما هو عمل البشر، الذي يعتريه النقص والخلل، وحسبي أنني بذلت جهدي، فأسأل اللهَ جل جلاله أن يجعله، في ميزان حسناتي يوم القيامة وأن ينفع به المسلمين.
وأخيراً أتقدم بالشكر الجزيل لمؤسسة إحياء التراث والبحوث الإسلامية في بيت المقدس، التابعة لوزارة الأوقاف الفلسطينية، لما قدمت لي من عون ومساعدة في تصوير النسخة المخطوطة، كما وأشكر تلميذي وصهري يوسف الأوزبكي لما قدمه من عون ومساعدة، وأشكر ابنتي لبابه لمساعدتها لي في مقابلة النسختين، وابنتي شفاء التي قامت بصف الرسالة على جهاز الحاسوب، وأشكر كل من مدَّ لي يد العون والمساعدة، فجزى الله الجميع خير الجزاء، وبارك الله فيهم، وصلى الله وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
أبوديس / القدس / فجر يوم الخميس التاسع عشر من صفر الخير 1423هـ
وفق الثاني من أيار 2002م
كتبه الدكتور حسام الدين بن موسى عفانه
الأستاذ المشارك في الفقه والأصول
كلية الدعوة أصول الدين - جامعة القدس
৪. গবেষণাপত্রে উল্লিখিত কিতাবসমূহের নির্ঘণ্ট।
৫. অধ্যয়ন ও পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমি যেসব মূল উৎস ও সহায়ক গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি তার নির্ঘণ্ট।
৬. সূচিপত্র।
পরিশেষে, আমি এই মূল্যবান গবেষণাপত্রটি ইলম অন্বেষী ছাত্র ও বিজ্ঞজনদের উদ্দেশে পেশ করছি। আমি জানি যে আমার সম্পাদিত এই কাজ একজন মানুষেরই কাজ, যাতে অপূর্ণতা ও ত্রুটি বিচ্যুতি থাকা স্বাভাবিক। তবে আমার প্রাপ্তি এটুকুই যে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছি। অতএব, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে কিয়ামতের দিন আমার নেক আমলের পাল্লায় কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে উপকৃত করেন।
সবশেষে, আমি ফিলিস্তিনি ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বায়তুল মাকদিসের ‘হেরিটেজ রিভাইভাল অ্যান্ড ইসলামিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট’-এর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, পাণ্ডুলিপির (مخطوطة) অনুলিপি সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য ও সহযোগিতা করার জন্য। সেইসাথে আমি আমার ছাত্র ও জামাতা ইউসুফ আল-উজবেকিকে তার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমি আমার কন্যা লুবাবাকে ধন্যবাদ জানাই দুটি পাণ্ডুলিপির (نسختين) পাঠ মিলিয়ে দেখার কাজে সহায়তার জন্য এবং আমার কন্যা শিফাকে ধন্যবাদ জানাই যে কম্পিউটারে এই গবেষণাপত্রটি কম্পোজ করেছে। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই তাদের প্রত্যেকের প্রতি যারা আমাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাদের মধ্যে বরকত দান করুন। আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত নাযিল হোক।
আবু দিস / কুদস / ১৯ সফরুল খায়ের ১৪২৩ হিজরি, বৃহস্পতিবার ফজর।
মোতাবেক ২ মে ২০০২ খ্রিস্টাব্দ।
লিখেছেন: ড. হুসামুদ্দিন বিন মুসা আফানা
সহযোগী অধ্যাপক, ফিকহ ও মূলনীতি (الأصول)
দাওয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদ - আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৯)
القسم الأولالدراسة حول المؤلف والرسالة- تمهيد حول حكم أخذ الأجرة على تلاوة القرآن الكريم وكلام أهل العلم في ذلك.
المطلب الأول: اسمه ونسبه وولادته.
المطلب الثاني: ثناء العلماء عليه.
المطلب الثالث: مؤلفاته.
المطلب الرابع: توثيق نسبة الرسالة إلى مؤلفها البركوي.
المطلب الخامس: عنوان الرسالة.
المطلب السادس: وصف النسخ.
المطلب السابع: منهج التحقيق.
প্রথম অংশলেখক এবং পাণ্ডুলিপি বিষয়ক গবেষণা- পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান এবং এ বিষয়ে বিদগ্ধ আলেমদের বক্তব্য সংক্রান্ত ভূমিকা।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: লেখক আল-বিরকিউয়ি-র প্রতি পাণ্ডুলিপিটির সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ (توثيق)।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির শিরোনাম।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপিগুলোর বিবরণ।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: সম্পাদনা পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال ابن أبي العز الحنفي: [وأما استئجار قوم يقرؤون القرآن ويهدونه للميت، فهذا لم يفعله أحد من أئمة الدين، ولا رخص فيه، والاستئجار على نفس التلاوة غير جائز بلا خلاف] شرح العقيدة الطحاوية ص 672.
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: [ولا يصح الاستئجار على القراءة وإهدائها للميت، لأنه لم ينقل عن أحد من الأئمة الأذن في ذلك. وقد قال العلماء إن القارئ إذا قرأ لأجل المال فلا ثواب له، فأي شيء يُهدى إلى الميت، وإنما يصل إلى الميت العمل الصالح، والاستئجار على مجرد التلاوة لم يقل به أحد من الأئمة] الاختيارات العلمية ص 89.
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية أيضاً: [
… فإن الاستئجار على التلاوة لم يرخص فيه أحد من العلماء] مجموع الفتاوى 23/ 364.
وقال العلامة البركوي: [إن ما شاع في زماننا من قراءة الأجزاء بالأجرة لا يجوز، لأن فيه الأمر بالقراءة، وإعطاء الثواب للآمر، والقراءة لأجل المال، فإذا لم يكن للقارئ ثواب لعدم النية الصحيحة، فأنى يصل الثواب إلى المستأجر، ولولا الأجرة ما قرأ أحد لأحد في هذا الزمان، بل جعلوا القرآن العظيم مكسباً ووسيلة إلى جمع الدنيا، إنا لله وإنا إليه راجعون] رسالة تبيين المحارم للبركوي نقلاً عن شفاء العليل لابن عابدين 1/ 180.
وقال الشيخ محمد رشيد رضا: [إن كل ما جرت به العادة من قراءة القرآن والأذكار وإهداء ثوابها إلى الأموات، واستئجار القراء، وحبس الأوقاف على ذلك، بدع غير مشروعة، ومثلها ما يسمونه إسقاط الصلاة، ولو كان لها أصل في الدين، لما جهلها السلف، ولو علموها، لما أهملوا العمل بها وليس هذا من قبيل ما لا شك في جوازه ووقوعه في كل زمن من فتح الله على بعض الناس بما لم يؤثر عمن قبلهم من حكم الدين وأسراره والفهم في كتابه كما قال أمير المؤمنين علي المرتضى كرم الله وجهه
ইবনে আবিল ইয আল-হানাফী বলেন: [আর মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন তিলাওয়াত করে সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে একদল লোককে ভাড়া করার বিষয়টি দ্বীনের ইমামগণের মধ্যে কেউ করেননি এবং এর অনুমতিও দেননি। আর তিলাওয়াতের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ কোনো দ্বিমত ছাড়াই অবৈধ (غير جائز)] শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৬৭২।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: [আর তিলাওয়াতের ওপর পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা এবং তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে পৌঁছানো সহিহ (صحيح) নয়; কারণ ইমামগণের কারোর থেকেই এ বিষয়ে অনুমতির কথা বর্ণিত হয়নি। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, তিলাওয়াতকারী যদি অর্থের বিনিময়ে তিলাওয়াত করে, তবে তার কোনো সওয়াব নেই। এমতাবস্থায় মৃত ব্যক্তির কাছে কী পৌঁছানো হবে? মৃত ব্যক্তির নিকট কেবল নেক আমলই পৌঁছায়। আর নিছক তিলাওয়াতের ওপর পারিশ্রমিক নেওয়ার কথা ইমামগণের কেউ বলেননি] আল-ইখতিয়ারাতুল ইলমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৮৯।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আরও বলেন: [
… কেননা তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার বিষয়ে আলেমদের কেউ অনুমতি দেননি] মাজমুউল ফাতাওয়া, ২৩/৩৬৪।
আল্লামা বিরকিভী বলেন: [আমাদের যুগে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে খতম পড়ার যে প্রথা ছড়িয়ে পড়েছে তা জায়েজ (جائز) নয়। কারণ এতে তিলাওয়াতের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং নির্দেশদাতাকে সওয়াব দেওয়ার কথা বলা হয়, আর তিলাওয়াত করা হয় অর্থের বিনিময়ে। যখন সঠিক নিয়ত না থাকার কারণে তিলাওয়াতকারীর কোনো সওয়াবই অর্জিত হয় না, তখন নিয়োগকর্তার কাছে কীভাবে সওয়াব পৌঁছাবে? যদি পারিশ্রমিক না থাকত, তবে বর্তমান যুগে কেউ কারো জন্য তিলাওয়াত করত না। বরং তারা মহান কুরআনকে জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম এবং দুনিয়া অর্জনের উপায় বানিয়ে নিয়েছে। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী] রিসালা তাবিইনুল মারাম লি-বিরকিভী, শিফাউল আলিল লি-ইবনি আবিদিন ১/১৮০-এর বরাতে।
শাইখ মুহাম্মাদ রশিদ রিদা বলেন: [কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকার করা এবং তার সওয়াব মৃতদের উদ্দেশ্যে পৌঁছানো, কারীদের ভাড়া করা এবং এ উদ্দেশ্যে ওয়াকফ সম্পত্তি নির্দিষ্ট করার যে প্রচলিত প্রথা রয়েছে, তার সবই অবৈধ বিদআত (بدع غير مشروعة)। তেমনিভাবে তারা যাকে 'ইসকাতে সালাত' বলে তাও একই পর্যায়ভুক্ত। যদি দ্বীনের মধ্যে এর কোনো ভিত্তি থাকত, তবে সালাফে সালেহীন এ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকতেন না; আর যদি তারা এটি জানতেন, তবে এর ওপর আমল করতে অবহেলা করতেন না। এটি ওই সমস্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় যার বৈধতা (جواز) এবং প্রতি যুগে ঘটার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, যেমন আল্লাহ তাআলা কোনো কোনো ব্যক্তির জন্য দ্বীনের হুকুম ও রহস্য এবং তাঁর কিতাব বোঝার এমন দ্বার উন্মোচন করে দেন যা পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত হয়নি, যেমনটি আমিরুল মুমিনীন আলী আল-মুরতাজা (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন) বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
: (إلا أن يؤتي الله عبداً فهماً في القرآن)، بل هو من العبادات العملية التي يهتم الناس بأمرها في كل زمان، ولو فعلها الصحابة لتوفرت الدواعي على نقلها بالتواتر أو الاستفاضة] تفسير المنار 8/ 249.
وقال الشيخ محمد بن عبد العزيز المانع: [
… ومن المعلوم أن التالي بالأجرة عمله ليس خالصاً لله تعالى، لأنه قصد به المال، ولا صواباً لأن التلاوة بالأجرة بدعة منكرة] إقامة الدليل والبرهان على تحريم أخذ الأجرة على تلاوة القرآن ص 9 نقلاً عن الاستئجار على القربات ص139 - 140.
وقالت اللجنة الدائمة للإفتاء السعودية: [تلاوة القرآن من أفضل العبادات والأصل في العبادات، أن تكون خالصة لوجه الله، لا يقصد بها سواه، من دنيا يصيبها أو وجاهة يحظى بها، إنما يرجى بها الله ويخشى عذابه قال الله تعالى: (فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ) سورة الزمر الآيات 2 - 3. وقال: (وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ) سورة البينة الآية 5. وفي الحديث عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله، فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها، أو امرأة ينكحها، فهجرته إلى ما هاجر إليه) رواه البخاري ومسلم، فلا يجوز لقارئ القرآن أن يأخذ على قراءته أجراً يستوفيه قبل القراءة أو بعدها، سواء أكانت هذه القراءة في الصلاة أم كانت على الميت، ولذا لم يرخص أحد من العلماء في الاستئجار على تلاوة القرآن، وليس من هذا أخذ أئمة المساجد والمؤذنين أجراً من بيت مال المسلمين، فإنه ليس على التلاوة ولا على نفس الصلاة، إنما يأخذه مقابل تفرغه عن شغله الخاص بواجب كفائي عن المسلمين، ونظيره أخذ خليفة المسلمين من بيت المال، لاشتغاله بواجب أعمال الخلافة
(তবে আল্লাহ যদি কোনো বান্দাকে কুরআনের সমঝ দান করেন); বরং এটি এমন আমলগত ইবাদাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা নিয়ে মানুষ সব যুগে গুরুত্বারোপ করেছে। আর সাহাবায়ে কিরাম যদি তা করতেন, তবে তা মুতাওয়াতির (تواتر) বা মুস্তাফিদ (استفاضة) সনদে বর্ণনা করার প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট বিদ্যমান থাকত।] তাফসির আল-মানার ৮/২৪৯।
শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-মানে' বলেছেন: [
… আর এটা সুবিদিত যে, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কুরআন তিলাওয়াতকারীর আমল মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ নয়; কেননা এর মাধ্যমে সে অর্থ উপার্জনের লক্ষ্য স্থির করেছে। আর তা সঠিকও নয়, কারণ পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তিলাওয়াত করা একটি বর্জনীয় বিদআত (بدعة منكرة)।] ইকামাতুদ দালীল ওয়াল বুরহান আলা তাহরীমি আখজিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআন, পৃষ্ঠা ৯; আল-ইসতি’জার আলাল কুরবাত, পৃষ্ঠা ১৩৯-১৪০ থেকে উদ্ধৃত।
সৌদি আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেছে: [কুরআন তিলাওয়াত শ্রেষ্ঠ ইবাদাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর ইবাদাতের মূলনীতি হলো তা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ হতে হবে; দুনিয়াবি কোনো স্বার্থ লাভ বা পদমর্যাদা লাভের উদ্দেশ্যে নয়। বরং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশা করা হবে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করা হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: (অতএব আপনি আল্লাহর ইবাদাত করুন তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। জেনে রাখুন, একনিষ্ঠ আনুগত্য কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য) সূরা আয-যুমার, আয়াত: ২-৩। তিনি আরও বলেন: (তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদাত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে এবং একনিষ্ঠভাবে) সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৫। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেই লক্ষ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে) এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। সুতরাং কুরআন পাঠকারীর জন্য তার তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ নয়—চাই তা তিলাওয়াতের আগে গ্রহণ করুক বা পরে; চাই এই তিলাওয়াত নামাজের মধ্যে হোক কিংবা মৃতের উদ্দেশ্যে হোক। এ কারণেই আলেমদের কেউই কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করার অনুমতি দেননি। আর মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বায়তুল মাল থেকে সম্মানী গ্রহণ এই নিষিদ্ধ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়; কেননা তা তিলাওয়াত বা মূল নামাজের বিনিময় নয়, বরং তা গ্রহণ করা হয় মুসলমানদের পক্ষ থেকে একটি ফরযে কিফায়া (واجب كفائي) দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে নিজের ব্যক্তিগত কাজ থেকে বিরত থাকার বিনিময়ে। এর উদাহরণ হলো মুসলিম খলিফার বায়তুল মাল থেকে ভাতা গ্রহণ, যা তিনি খেলাফতের দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকার কারণে গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الإسلامية عن عمله الخاص الذي يكسب منه لنفسه، وكان عمر رضي الله عنه يعطي المجاهدين ومن لهم قدم صدق في الإسلام، من بيت المال كل على قدر سابقته وما قدمه لجماعة المسلمين من نفع عميم، وآكد من هذا أن الله جعل للعاملين على الزكاة الجابين لها نصيباً في الزكاة، ولو كانوا أغنياء لقيامهم بواجب إسلامي للجماعة غنيهم وفقيرهم، واشتغالهم بهذا مدة عن الكسب لأنفسهم] فتاوى اللجنة الدائمة 4/ 90.
وقالت اللجنة الدائمة أيضاً: [تلاوة القرآن عبادة محضة، وقربة يتقرب بها العبد إلى ربه، والأصل فيها وفي أمثالها من العبادات المحضة، أن يفعلها المسلم ابتغاء مرضاة الله وطلباً للمثوبة عنده، فلا يبتغي بها المخلوق جزاء ولا شكوراً، ولهذا لم يعرف عن السلف الصالح، استئجار قوم يقرؤون القرآن في حفلات أو ولائم، ولم يؤثر عن أحد من أئمة الدين أنه أمر بذلك أو رخص فيه، ولم يعرف أيضاً عن أحد منهم أنه أخذ أجراً على تلاوة القرآن لا في الأفراح ولا في المآتم، بل كانوا يتلون كتاب الله رغبة فيما عنده سبحانه، وقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم من قرأ القرآن أن يسأل الله به وحذر من سؤال الناس روى الترمذي في سننه عن عمران بن حصين أنه مرَّ على قاص يقرأ ثم سأل فاسترجع قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (من قرأ القرآن فليسأل اللهَ به، فإنه سيجيء أقوام يقرؤون القرآن يسألون به الناس)، وأما أخذ الأجرة على تعليمه أو الرقية به ونحو ذلك مما نفعه متعد لغير القارئ، فقد دلت الأحاديث الصحيحة على جوازه كحديث أبي سعيد في أخذه قطيعاً من الغنم جعلاً على شفاء من رقاه بسورة الفاتحة، وحديث سهل في تزويج النبي صلى الله عليه وسلم امرأة لرجل بتعليمه إياها ما معه من القرآن، فمن أخذ أجراً على نفس التلاوة أو استأجر جماعة لتلاوة القرآن فهو مخالف لما أجمع عليه السلف الصالح رضوان الله عليهم] فتاوى اللجنة الدائمة 4/ 93.
ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা তার ব্যক্তিগত কাজ থেকে দূরে থাকার বিনিময়ে ভাতা প্রদান করে যা থেকে সে নিজের জন্য উপার্জন করত। ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মুজাহিদদের এবং ইসলামে যাদের বিশেষ অবদান রয়েছে তাদের বায়তুল মাল থেকে দান করতেন, প্রত্যেকে তাদের অগ্রগামীতা এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য যে ব্যাপক উপকার বয়ে এনেছেন তার ভিত্তিতে। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো আল্লাহ তাআলা জাকাত আদায়কারী কর্মীদের জন্য জাকাতের মধ্যে একটি অংশ নির্ধারণ করেছেন, যদিও তারা ধনী হন; কারণ তারা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে মুসলিম সমাজের জন্য একটি ইসলামি দায়িত্ব পালন করছেন এবং এর মাধ্যমে নিজের উপার্জনের কাজ থেকে বিরত থেকে এই কাজে সময় ব্যয় করছেন।] ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ ৪/ ৯০।
স্থায়ী কমিটি আরও বলেছে: [কুরআন তিলাওয়াত একটি বিশুদ্ধ ইবাদত এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। এই ধরনের বিশুদ্ধ ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো যে, একজন মুসলিম কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁর নিকট সওয়াব পাওয়ার আশায় তা পালন করবে। সে এর বিনিময়ে কোনো সৃষ্টির কাছ থেকে প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা কামনা করবে না। এই কারণেই সালাফে সালেহীন থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা ভোজসভায় কুরআন তিলাওয়াত করার জন্য লোক ভাড়া করার কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না। দ্বীনের ইমামগণের কারো কাছ থেকেও এটি করার আদেশ বা অনুমতির বর্ণনা পাওয়া যায়নি। তাদের কারো সম্পর্কে এমনটিও জানা যায়নি যে, তারা বিয়ের অনুষ্ঠান বা শোক সভায় কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক নিয়েছেন। বরং তারা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তার আশায় তাঁর কিতাব তিলাওয়াত করতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে সে যেন তার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে এবং মানুষের কাছে চাওয়া থেকে সতর্ক করেছেন। তিরমিযী তার সুনানে ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একজন গল্পকারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে কুরআন পড়ছিল এবং এরপর মানুষের কাছে সাহায্য চাচ্ছিল। তখন তিনি ইন্নালিল্লাহ পড়লেন এবং বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (যে ব্যক্তি কুরআন পড়বে সে যেন তার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে চায়, কারণ অচিরেই এমন এক দল আসবে যারা কুরআন পাঠ করবে এবং এর মাধ্যমে মানুষের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে)। তবে কুরআন শিক্ষা দেওয়া বা এর মাধ্যমে রুকইয়াহ করা এবং এই জাতীয় কাজ যার উপকার তিলাওয়াতকারী ব্যতীত অন্যদের নিকটও পৌঁছে, তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়ার বৈধতার ব্যাপারে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসসমূহ প্রমাণ বহন করে। যেমন আবু সাঈদের হাদিস, যেখানে তিনি সূরা ফাতিহা দিয়ে রুকইয়াহ করার বিনিময়ে পারিশ্রমিক হিসেবে এক পাল ছাগল গ্রহণ করেছিলেন। এবং সাহল বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে তার জানা থাকা কুরআনের কিছু অংশ শেখানোর বিনিময়ে এক মহিলার সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন। অতএব, যে ব্যক্তি স্বয়ং তিলাওয়াতের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ করে অথবা কুরআন তিলাওয়াতের জন্য কোনো দলকে ভাড়া করে, সে সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) এর ঐক্যমত্যের পরিপন্থী কাজ করল।] ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ ৪/ ৯৩।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المطلب الأول: اسم المؤلف ونسبه وولادته:هو محمد بن بير علي بن اسكندر البركوي أو البركلي.
تقي الدين الرومي، أو محيي الدين، ولد سنة 926هـ كما في هدية العارفين 2/ 199 وذكر الزركلي أنه ولد سنة 929هـ، الأعلام 6/ 61.
المطلب الثاني: ثناء العلماء عليه:قال العلامة ابن عابدين عنه: (أفضل المتأخرين الإمام العالم العامل المحقق المدقق الكامل) رسالة منهل الواردين من بحار الفيض، مجموعة رسائل ابن عابدين 1/ 67.
وقال ابن عابدين عنه أيضاً: (الإمام العابد الورع النبيه) المصدر السابق 1/ 173.
وقال الزركلي عنه: (عالمٌ بالعربية نحواً وصرفاً له اشتغال بالفرائض ومعرفة بالتجويد تركي الأصل والمنشأ من أهل قصبة (بالي كسرى) كان مدرساً في قصبة (بركي) فنسب إليها). الأعلام 6/ 61.
وقال عمر كحالة عنه: [صوفي واعظ نحوي فقيه مفسر محدث فرضي مشارك في غير ذلك] معجم المؤلفين 3/ 176.
وفاته:
اتفقت المصادر التي ترجمت له على أنه توفي سنة 981هـ.
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের নাম, বংশপরিচয় এবং জন্ম:তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে পীর আলী ইবনে ইস্কান্দার আল-বিরকিভি অথবা আল-বিরকিলি।
তাকিউদ্দীন আর-রুমি অথবা মুহিউদ্দীন; তিনি ৯২৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, যেমনটি হাদিয়্যাতুল আরিফীন (২/১৯৯) গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যিরিকলি আল-আলাম (৬/৬১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৯২৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা:আল্লামা ইবনে আবিদীন তাঁর সম্পর্কে বলেন: (পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, ইমাম, আমলকারী আলেম, গবেষক (محقق), সূক্ষ্মদর্শী এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তি)। রিসালাহ মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়দ, মাজমুআতু রাসায়িলি ইবনে আবিদীন ১/৬৭।
ইবনে আবিদীন তাঁর সম্পর্কে আরও বলেন: (ইমাম, ইবাদতকারী, পরহেজগার (ورع) এবং প্রজ্ঞাবান)। পূর্বোক্ত উৎস ১/১৭৩।
যিরিকলি তাঁর সম্পর্কে বলেন: (তিনি আরবি নাহু ও সরফ শাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন; ফারায়েয শাস্ত্রে তাঁর বিশেষ ব্যুৎপত্তি এবং তাজবীদের ওপর তাঁর জ্ঞান ছিল। তিনি তুর্কি বংশোদ্ভূত ও সেখানে লালিত-পালিত, বালি কাসরা জনপদের অধিবাসী ছিলেন। তিনি বিরকি জনপদে শিক্ষকতা করতেন, তাই তাঁর নাম সেদিকেই সম্বন্ধিত করা হয়)। আল-আলাম ৬/৬১।
উমর কাহহালা তাঁর সম্পর্কে বলেন: [তিনি ছিলেন একজন সুফি, ওয়ায়েজ, ব্যাকরণবিদ, ফকিহ (فقيه), মুফাসসির (مفسر), মুহাদ্দিস (محدث), ফারায়েয বিশেষজ্ঞ এবং আরও অন্যান্য বিষয়ে পারদর্শী]। মুজামুল মুআল্লিফীন ৩/১৭৬।
তাঁর মৃত্যু:
তাঁর জীবনী বর্ণনাকারী সকল উৎস এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, তিনি ৯৮১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المطلب الثالث: مؤلفاتهللعلامة البركوي عدد كبير من المصنفات وهذه قائمة بأسماء مصنفاته التي وقفت عليها مع ذكر من نسبها إليه:
1. آداب البركوي. هدية العارفين 2/ 199، إيضاح المكنون 1/ 5 وذكر له عدة شروح وحواش.
2. الأربعون في الحديث. كشف الظنون 1/ 105، هدية العارفين 2/ 199.
3. إظهار الأسرار في النحو، وهو مختصر مفيد، كما قال حاجي خليفة في كشف الظنون 1/ 149، معجم المؤلفين 3/ 176. هدية العارفين 2/ 199، وهو مطبوع كما في الأعلام 6/ 61.
4. شرح لب الألباب في علم الإعراب للبيضاوي المسمى امتحان الأذكياء، في النحو، كشف الظنون 2/ 458. هدية العارفين 2/ 199.
5. إمعان الأنظار في شرح المقصود في الصرف، كشف الظنون 2/ 650. هدية العارفين 2/ 199.
6. إيقاظ النائمين وإفهام القاصرين، وهو مختصر كما ذكر حاجي خليفة حيث قال: [إن البركوي كتب أولاً رسالة في عدم جواز أخذ الأجرة للقراءة وعدم جواز وقف النقود وأفتى المولى أبو السعود بالجواز وردَّ عليه فصنف هذا المذكور جواباً عن رده وأتمه في أواسط شوال سنة 972هـ]. كشف الظنون 1/ 216، وذكره في هدية العارفين 2/ 199.
7. تحفة المسترشدين في بيان مذاهب فرق المسلمين، كشف الظنون 1/ 318. هدية العارفين 2/ 199.
8. تفسير سورة البقرة، هدية العارفين 2/ 199.
9. جلاء القلوب، كشف الظنون 1/ 465. هدية العارفين 2/ 199.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলিআল্লামা বিরকিউই-এর বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ রয়েছে। নিচে তাঁর সেই গ্রন্থগুলোর একটি তালিকা প্রদান করা হলো যা আমি অবগত হয়েছি, এবং সেই সাথে তাঁদের নামও উল্লেখ করা হলো যারা এগুলোকে তাঁর রচনা হিসেবে নিসবত (সম্পর্কযুক্ত) করেছেন:
1. আদাবুল বিরকিউই। হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ১৯৯, ইজাহুল মাকনুন ১/ ৫; এখানে এর বেশ কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شروح) ও টীকাগ্রন্থের (حواش) কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
2. হাদিস বিষয়ক চল্লিশ (الأربعون)। কাশফুজ্জুনুন ১/ ১০৫, হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ১৯৯।
3. ইজহারুল আসরার ফিন নাহু। এটি একটি সারসংক্ষেপ (مختصر) ও উপকারী গ্রন্থ, যেমনটি হাজি খলিফা কাশফুজ্জুনুন ১/ ১৪৯-এ বলেছেন। মু’জামুল মুআল্লিফিন ৩/ ১৭৬, হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ১৯৯। এটি মুদ্রিত যেমনটি আল-আ’লাম ৬/ ৬১-তে বর্ণিত হয়েছে।
4. বায়জাবীর লুব্বুল আলবাব ফি ইলমিল ইরাব-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) যার নাম ইমতিহানুল আজকিয়া, এটি নাহু শাস্ত্রের উপর রচিত। কাশফুজ্জুনুন ২/ ৪৫৮, হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ১৯৯।
5. ইমআনুল আনজার ফি শারহিল মাকসুদ ফিস সরফ। কাশফুজ্জুনুন ২/ ৬৫০, হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ১৯৯।
6. ইকাজুন নাইমিন ওয়া ইফহামুল কাসিরিন। এটি একটি সারসংক্ষেপ (مختصر), যেমনটি হাজি খলিফা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: [বিরকিউই প্রথমে তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ নাজায়েজ হওয়া এবং অর্থ বা মুদ্রা ওয়াকফ করা নাজায়েজ হওয়া প্রসঙ্গে একটি পুস্তিকা (رسالة) লিখেছিলেন। কিন্তু মাওলা আবু সউদ এটি জায়েজ হওয়ার ফতোয়া প্রদান করেন এবং তাঁর প্রতিবাদ করেন। ফলে বিরকিউই সেই প্রতিবাদের উত্তর হিসেবে উক্ত কিতাবটি রচনা করেন এবং ৯৭২ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে এটি সম্পন্ন করেন]। কাশফুজ্জুনুন ১/ ২১৬, এবং হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ১৯৯-এ এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
7. তুহফাতুল মুস্তারশিদিন ফি বায়ান মাযাহিব ফিরাকিল মুসলিমিন। কাশফুজ্জুনুন ১/ ৩১৮, হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ১৯৯।
8. তাফসিরে সূরা আল-বাকারা। হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ১৯৯।
9. জালাউল কুলুব। কাশফুজ্জুনুন ১/ ৪৬৫, হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ১৯৯।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
10 حاشية على شرح الوقاية لصدر الشريعة، حاكم فيها بين العلامة ابن كمال باشا وبهاء الدين زاده المولى محيي الدين المتوفى سنة 953هـ لأنه ردَّ كلامه في حاشيته على صدر الشريعة، كشف الظنون 2/ 308، هدية العارفين 2/ 199.
11. دامغة المبتدعين وكاشفة بطلان الملحدين في الكلام، هدية العارفين 2/ 200، إيضاح المكنون 1/ 280، معجم المؤلفين 3/ 176، الأعلام 6/ 61 وأشار إلى أنها مخطوطة.
12. الدر اليتيم في علم التجويد، وعليها شرح للشيخ أحمد فائز الرومي كما قال حاجي خليفة في كشف الظنون 1/ 564، ونسبها له في هدية العارفين 2/ 200، وفي معجم المؤلفين 3/ 276، وذكرها الزركلي باسم (الدرة اليتيمة) وأشار إلى أنها مطبوعة.
13. ذخر المتأهلين والنساء في تعريف الأطهار والدماء، قال حاجي خليفة [وهو مرتب على مقدمة وستة فصول وتذنيب وفي المقدمة نوعان الأول في تفسير الألفاظ المستعملة والثاني في القواعد الكلية والفصل الأول في ابتداء الدماء الثلاثة والثاني في المبتدئة والمعتادة والثالث في الانقطاع والرابع في الاستمرار والخامس في المضلة والسادس في الأحكام والتذنيب في حكم الجنابة والحدث وعذر المعذور، أتمه في يوم التروية سنة 979هـ]. كشف الظنون 1/ 621، ونسبها له في هدية العارفين 2/ 200. وقد شرحها العلامة ابن عابدين وسمَّى شرحه (منهل الواردين من بحار الفيض على ذخر المتأهلين في مسائل الحيض) وهو مطبوع ضمن مجموعة رسائل ابن عابدين 1/ 67.
14. رسالة في التغني وحرمته ووجوب استماع الخطبة، كشف الظنون 1/ 642، هدية العارفين 2/ 200.
15. روضات الجنات، هدية العارفين 2/ 200.
10 সদরুশ শরীয়াহর শরহুল বিকায়াহ-র ওপর একটি হাশিয়া, যেখানে তিনি আল্লামা ইবনে কামাল পাশা এবং ৯৫৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী বাহাউদ্দিন জাদেহ মাওলা মহিউদ্দিনের মধ্যকার বিতর্কে বিচারকের ভূমিকা পালন করেছেন; কারণ বাহাউদ্দিন জাদেহ সদরুশ শরীয়াহর ওপর তাঁর হাশিয়াতে ইবনে কামালের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছিলেন। কাশফুয যুনুন ২/৩০৮, হাদিয়াতুল আরিফীন ২/১৯৯।
11. ইলমুল কালাম শাস্ত্রে বিদআতিদের মূলোৎপাটনকারী এবং নাস্তিকদের অসারতা উন্মোচনকারী গ্রন্থ ‘দামিগাতুল মুবতাদিঈন ওয়া কাশিফাতু বুতলানিল মুলহিদিন’; হাদিয়াতুল আরিফীন ২/২০০, ঈজাহুল মাকনুন ১/২৮০, মুজামুল মুআল্লিফীন ৩/১৭৬, আল-আলাম ৬/৬১। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি একটি পাণ্ডুলিপি।
12. তাজবিদ শাস্ত্রের ওপর রচিত ‘আদ-দুররুল ইয়াতীম’; হাজি খলিফা কাশফুয যুনুন ১/৫৬৪-এ যেমনটি বলেছেন, এর ওপর শেখ আহমদ ফাইজ আল-রুমীর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। হাদিয়াতুল আরিফীন ২/২০০ এবং মুজামুল মুআল্লিফীন ৩/২৭৬-এ এটি তাঁর রচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আল-যিরিকলি একে ‘আদ-দুররাতুল ইয়াতীমাহ’ নামে উল্লেখ করেছেন এবং এটি মুদ্রিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
13. যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা ফী তারিফ আল-আতহার ওয়াদ দিমা। হাজি খলিফা বলেন, [এটি একটি ভূমিকা, ছয়টি পরিচ্ছেদ এবং একটি পরিশেষের ওপর বিন্যস্ত। ভূমিকায় দুটি ভাগ রয়েছে: প্রথমটি ব্যবহৃত শব্দাবলির ব্যাখ্যায় এবং দ্বিতীয়টি মৌলিক নীতিমালা প্রসঙ্গে। প্রথম পরিচ্ছেদটি তিন প্রকার রক্তস্রাবের সূচনা সম্পর্কে, দ্বিতীয়টি নতুন ঋতুস্রাব শুরু হওয়া এবং নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকা নারীদের সম্পর্কে, তৃতীয়টি রক্তস্রাব বন্ধ হওয়া সম্পর্কে, চতুর্থটি রক্তস্রাব অব্যাহত থাকা সম্পর্কে, পঞ্চমটি যে নারী তার ঋতু-অভ্যাসের সময়কাল ভুলে গেছেন তার সম্পর্কে এবং ষষ্ঠটি বিধিবিধান প্রসঙ্গে। আর পরিশেষটি জানাবাত, হাদাস বা অপবিত্র অবস্থা এবং ওজরগ্রস্ত ব্যক্তির বিধান সংক্রান্ত; তিনি ৯৭৯ হিজরির তারবিয়ার দিনে (৮ই জিলহজ) এটি সম্পন্ন করেন]। কাশফুয যুনুন ১/৬২১ এবং হাদিয়াতুল আরিফীন ২/২০০-এ এটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। আল্লামা ইবনে আবিদীন এর ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন ‘মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহরিল ফায়দ আলা যুখরিল মুতাআহহিলীন ফী মাসায়িলিল হায়দ’। এটি ইবনে আবিদীনের ‘মাজমুআতু রাসায়িল’ ১/৬৭-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে।
14. গানের সুরে আবৃত্তি ও এর নিষিদ্ধতা এবং খুতবা শোনার আবশ্যকতা বিষয়ক একটি রিসালাহ। কাশফুয যুনুন ১/৬৪২, হাদিয়াতুল আরিফীন ২/২০০।
15. রওজাতুল জান্নাত; হাদিয়াতুল আরিফীন ২/২০০।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
16. السيف الصارم في عدم جواز وقف النقود والدراهم، قال حاجي خليفة: [أتمه في التاسع من شهر ذي القعدة سنة 979هـ قال فيه: هذا سيف صارم لإبطال وقف النقود إذ قد صنف في لزومه رسالة مفتي زماننا أبو السعود عليه رحمة الودود وسهى فيها كثيراً فلزم بيان كل وجه مردود لئلا يعتمد عليها الواقفون يريدون ثواباً فيأثمون ولئلا يغتر بها الحكام فإنها لا تصلح للاعتماد ولا تكون عذراً ليوم التناد فذكر أقواله ثم ردها] كشف الظنون 2/ 55 - 56. وذكرها في هدية العارفين 2/ 200.
17. رسالة البركلي، قال حاجي خليفة: [وهي رسالة كتبها بالتركية فعم النفع بها بين العوام والنسوان والصبيان لأنها محتوية على إجمال الاعتقاديات على مذهب أهل السنة والجماعة والعبادات والأخلاق في ضمن وصاياه لأولاده وأقربائه وسائر المؤمنين أجمعين أتمها تقريباً سنة 970هـ وشرحها الشيخ علي الصدري القونوي المتوفى سنة 970 باللسان التركي] كشف الظنون 1/ 640.
18. معدل الصلاة، كشف الظنون 2/ 598.
19. صحاح عجمية، كشف الظنون 2/ 98. هدية العارفين 2/ 200.
20. الطريقة المحمدية وهي في الموعظة، كشف الظنون 2/ 127 - 128، هدية العارفين 2/ 200.
21. عوامل في النحو. هدية العارفين 2/ 200.
22. فرائض البركوي، كشف الظنون 2/ 232. هدية العارفين 2/ 200.
23. كفاية المبتدي في التصريف، كشف الظنون 2/ 422. هدية العارفين 2/ 200.
24. محك المتصوفين، هدية العارفين 2/ 200.
25. نوادر الأخبار، هدية العارفين 2/ 200.
26. نور الأخيار، هدية العارفين 2/ 200.
27. شرح مختصر الكافي في النحو، الأعلام 6/ 61.
16. আস-সাইফুল সারিম ফি আদামি জাওয়াজি ওয়াকফিন নুকুদি ওয়াদ দরাহিম; হাজি খলিফা বলেছেন: [৯৭৯ হিজরি সনের ৯ই জিলকদ মাসে এটি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি এতে বলেছেন: এটি মুদ্রার ওয়াকফ বাতিল করার ক্ষেত্রে একটি তীক্ষ্ণ তলোয়ার; যেহেতু আমাদের সময়ের মুফতি আবু আল-সাউদ এর আবশ্যকতা বিষয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন এবং তাতে অনেক ভ্রান্তি করেছেন। ফলে তার উপস্থাপিত প্রতিটি প্রত্যাখ্যাত (مردود) দিক বর্ণনা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে যাতে ওয়াকফকারীরা সওয়াবের আশায় তার ওপর নির্ভর করে গুনাহগার না হয় এবং বিচারকরা যেন এটি দ্বারা প্রতারিত না হয়। কেননা এটি নির্ভর করার যোগ্য নয় এবং কিয়ামতের দিনে তা কোনো ওজর হিসেবে গণ্য হবে না। অতঃপর তিনি তার বক্তব্যগুলো উল্লেখ করে সেগুলোর খণ্ডন করেছেন।] কাশফুয যুনুন ২/ ৫৫ - ৫৬। এবং হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ২০০-এ এর উল্লেখ রয়েছে।
17. রিসালাতুল বিরকিলি; হাজি খলিফা বলেছেন: [এটি একটি পুস্তিকা যা তিনি তুর্কি ভাষায় লিখেছেন, ফলে সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুদের মধ্যে এর উপকারিতা ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ এতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাযহাব অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত আকিদাহ, ইবাদত এবং চরিত্র সংক্রান্ত বিষয়াবলি তার সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও সকল মুমিনের প্রতি উপদেশের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি আনুমানিক ৯৭০ হিজরি সনে সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯৭০ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শেখ আলী আল-সাদরি আল-কুনাবি তুর্কি ভাষায় এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ লিখেছেন।] কাশফুয যুনুন ১/ ৬৪০।
18. মুয়াদ্দিলুস সালাত, কাশফুয যুনুন ২/ ৫৯৮।
19. সিহাহ আজামিয়্যাহ, কাশফুয যুনুন ২/ ৯৮। হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ২০০।
20. আত-তরীকাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ, এটি ওয়ায-নসিহত বিষয়ক একটি গ্রন্থ, কাশফুয যুনুন ২/ ১২৭ - ১২৮, হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ২০০।
21. আওয়ামিল ফিন নাহবি। হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ২০০।
22. ফারায়েদুল বিরকুই, কাশফুয যুনুন ২/ ২৩২। হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ২০০।
23. কিফায়াতুল মুবতাদি ফিত তাসরীফ, কাশফুয যুনুন ২/ ৪২২। হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ২০০।
24. মিহাক্কুল মুতাসাওউফীন, হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ২০০।
25. নাওয়াদিরুল আখবার, হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ২০০।
26. নুরুল আখইয়ার, হাদিয়াতুল আরিফিন ২/ ২০০।
27. শারহু মুখতাসারিল কাফি ফিন নাহবি, আল-আলাম ৬/ ৬১।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
28. راحة الصالحين، الأعلام 6/ 61 وأشار إلى أنه مخطوط.
29. رسالة في أصول الحديث، معجم المؤلفين 3/ 176، الأعلام 6/ 61 وأشار أنها مطبوعة.
30. رسالة في آداب البحث والمناظرة، الأعلام 6/ 61.
31. رسالة في تفضيل الغني الشاكر على الفقير الصابر، الأعلام 6/ 61.
32. تعليقة مختصرة على الهداية، كشف الظنون 2/ 820.
33. زيارة القبور البدعية والشركية وهو مطبوع.
34. تعليقة على إصلاح الوقاية في الفروع لابن كمال باشا حيث علق البركلي على كتاب الطهارة منه، كشف الظنون 1/ 143.
35. وصية نامه تركي، هدية العارفين 2/ 200.
36. شرح الأربعين، ذكره المؤلف في مقدمة رسالته إنقاذ الهالكين، وذكره حاجي خليفة في كشف الظنون 1/ 70.
37. إنقاذ الهالكين، وهي الرسالة محل التحقيق.
28. রাহাতুস সালিহীন, আল-আলাম ৬/ ৬১; এবং তিনি এটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
29. হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) বিষয়ক একটি রিসালা, মু'জামুল মুয়াল্লিফীন ৩/ ১৭৬, আল-আলাম ৬/ ৬১; এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে এটি মুদ্রিত।
30. গবেষণা ও বিতর্ক পদ্ধতির আদব বিষয়ক একটি রিসালা, আল-আলাম ৬/ ৬১।
31. ধৈর্যশীল দরিদ্যের ওপর কৃতজ্ঞ ধনীর শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক একটি রিসালা, আল-আলাম ৬/ ৬১।
32. আল-হিদায়াহ-এর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত টীকা, কাশফুয যুনুন ২/ ৮২০।
33. বিদআতি ও শিরকি কবর যিয়ারত; এটি মুদ্রিত।
34. ইবনে কামাল পাশা রচিত ফিকহশাস্ত্রের শাখা জ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'ইসলাহুল বিকায়াহ'-এর ওপর টীকা, যেখানে আল-বিরকিওয়ি এর 'কিতাবুত তাহারাত' বা পবিত্রতা অধ্যায়ের ওপর টীকা লিখেছেন, কাশফুয যুনুন ১/ ১৪৩।
35. তুর্কি ভাষায় অসিয়তনামা, হাদিয়াতুল আরিফীন ২/ ২০০।
36. চল্লিশ হাদিসের ব্যাখ্যা; লেখক তার 'ইনকাযুল হালিকীন' নামক রিসালার ভূমিকায় এটি উল্লেখ করেছেন এবং হাজি খলিফা কাশফুয যুনুন ১/ ৭০-এ এটি উল্লেখ করেছেন।
37. ইনকাযুল হালিকীন; আর এটিই সেই রিসালা যা বর্তমান সম্পাদনার বিষয়বস্তু।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২০)
المطلب الرابع: توثيق نسبة الرسالة إلى مؤلفها البركوي1. ذكرها المؤلف البركوي في كتابه الطريقة المحمدية فقال بعد أن ذكر بعض البدع التي يفعلها الناس: [وقد بينَّا ذلك في رسائلنا السيف الصارم، وإنقاذ الهالكين، وإيقاظ النائمين، وجلاء القلوب فعليك بها وطالعها حتى تعلم حقيقة مقالنا] نقلاً عن رسالة شفاء العليل وبل الغليل لابن عابدين ضمن مجموعة رسائله 1/ 174.
2. وذكرها المؤلف في رسالته إيقاظ النائمين فقال: [
… وخصوصاً على ما بينَّا بعضه في إنقاذ الهالكين] إيقاظ النائمين ص180.
3. ونسبها له حاجي خليفة فقال: [إنقاذ الهالكين للفاضل محمد بن بير علي الشهير ببركلي الحنفي المتوفى سنة 981هـ وهو رسالة على مقدمة وأربع مقالات في عدم جواز وضع الأجزاء بالأجرة ووقف النقود فرغ عنها في ذي الحجة سنة 967هـ أوله الحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب
… إلخ] كشف الظنون 1/ 195، وذكرها حاجي خليفة أيضاً في موضع آخر، انظر كشف الظنون 1/ 216.
4. ونسبها إلى المصنف البغدادي في هدية العارفين 2/ 199، وكحالة في معجم المؤلفين 3/ 176.
المطلب الخامس: عنوان الرسالة:ذكر المؤلف عنوان رسالته باسم (إنقاذ الهالكين) كما سبق في توثيق نسبة الرسالة لمؤلفها، وهكذا ورد عنوان الرسالة على النسخة المطبوعة (هذه الرسالة المسماة إنقاذ الهالكين).
وهكذا ذكره حاجي خليفة فقال: [إنقاذ الهالكين للفاضل محمد بن بير علي الشهير ببركلي الحنفي المتوفى سنة 981هـ] كشف الظنون 1/ 195.
وهكذا ذكره البغدادي في هدية العارفين 2/ 199.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকার আল-বিরকিবির প্রতি রিসালাটির সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) যাচাই১. লেখক আল-বিরকিবি তাঁর ‘আত-তারিকা আল-মুহাম্মাদিয়া’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। মানুষ যেসব বিদআত করে থাকে তার কিছু বর্ণনা করার পর তিনি বলেন: [এবং আমরা আমাদের রিসালা ‘আস-সাইফ আস-সারিম’, ‘ইনকাযুল হালিকিন’, ‘ইকায়ুয নাইমিন’ এবং ‘জিলউল কুলুব’-এ তা বর্ণনা করেছি। সুতরাং আপনার প্রতি নির্দেশ হলো সেগুলো সংগ্রহ করা এবং অধ্যয়ন করা, যাতে আপনি আমাদের বক্তব্যের প্রকৃত বাস্তবতা জানতে পারেন]। এটি ইবনে আবিদিনের ‘শিফাউল আলিল ওয়া বাল্লুল গালিল’ রিসালা থেকে উদ্ধৃত, যা তাঁর মাজমুআতু রাসায়িলের ১/১৭৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
২. লেখক তাঁর ‘ইকায়ুয নাইমিন’ রিসালায় এটি উল্লেখ করেছেন, সেখানে তিনি বলেন: [
… বিশেষ করে যা আমরা ‘ইনকাযুল হালিকিন’-এ কিছুটা বর্ণনা করেছি]। ইকায়ুয নাইমিন, পৃষ্ঠা ১৮০।
৩. হাজি খলিফা একে তাঁর প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন এবং বলেছেন: [ইনকাযুল হালিকিন; আল-ফাযিল মুহাম্মদ বিন পীর আলী যিনি বিরকিলি আল-হানাফি (মৃত্যু ৯৮১ হিজরি) নামে প্রসিদ্ধ, তাঁর রচিত। এটি একটি রিসালা যা একটি মুকাদ্দিমা এবং চারটি প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে রচিত; যার আলোচ্য বিষয় হলো পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কুরআন পাঠের অংশ নির্ধারণ করা এবং মুদ্রার ওয়াকফ করার বৈধতা না থাকা। তিনি এটি ৯৬৭ হিজরি সনের যিলহজ মাসে সমাপ্ত করেন। এর প্রারম্ভ হলো: আলহামদুলিল্লাহিল্লাযি আনযালা আলা আবদিহিল কিতাব... ইত্যাদি]। কাশফুয যুনুন ১/১৯৫। হাজি খলিফা অন্য স্থানেও এটি উল্লেখ করেছেন, দেখুন: কাশফুয যুনুন ১/২১৬।
৪. বাগদাদি ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ ২/১৯৯-এ এবং কাহহালা ‘মুজামুল মুআল্লিফিন’ ৩/১৭৬-এ একে গ্রন্থকারের প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: রিসালাটির শিরোনাম:লেখক তাঁর রিসালার শিরোনাম ‘ইনকাযুল হালিকিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি পূর্বে গ্রন্থকারের প্রতি রিসালাটির সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) যাচাই সংক্রান্ত আলোচনায় গত হয়েছে। একইভাবে মুদ্রিত কপিতেও রিসালাটির শিরোনাম এভাবেই এসেছে (এই রিসালাটির নাম ইনকাযুল হালিকিন)।
হাজি খলিফাও একইভাবে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: [ইনকাযুল হালিকিন; আল-ফাযিল মুহাম্মদ বিন পীর আলী যিনি বিরকিলি আল-হানাফি (মৃত্যু ৯৮১ হিজরি) নামে প্রসিদ্ধ, তাঁর রচিত]। কাশফুয যুনুন ১/১৯৫।
বাগদাদিও ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ ২/১৯৯-এ একইভাবে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২১)
وأما النسخة المخطوطة فقد كتب على صفحة الغلاف ما يلي: (رسالة في القراءة لأحمد محمد بركوي رحمه الله، وواضح أن هذا ليس هو عنوان الرسالة، بل هو بعض ما جاء فيها، كما ويلاحظ وقوع خطأ في اسم المؤلف، حيث ذكر أنه أحمد محمد، ولم يرد في أي مصدر من مصادر ترجمته التي اطلعت عليها أن اسمه أحمد، بل كلها اتفقت على أن اسمه محمد، وهذا يدل على أن ما ورد على غلاف النسخة المخطوطة من تصرف النساخ، والله أعلم.
وأما العنوان الذي ذكره بروكلمان وهو (رسالة في ما شاع وذاع بعلم القرآن العظيم) وكذا العنوان الوارد في فهرس مخطوطات المسجد الأقصى وهو (رسالة لإبطال ما شاع من اتخاذ القرآن مكسباً لجمع الدنيا) فهما مأخوذان من مقدمة الرسالة حيث قال المؤلف: (فهذه رسالة معمولة لإبطال ما شاع في البلاد واشتهر بين العِباد والعُبَّاد من اتخاذ القرآن العظيم والفرقان الكريم تنزيل من رب العالمين لا يمسه إلا المطهرون مكسباً لجمع الدنيا
… الخ)، وهما ليس من وضع البركوي.
وبناءً على ما تقدم فإن عنوان الرسالة على الصحيح هو ما وضعه المؤلف البركوي وهو (إنقاذ الهالكين).
আর হাতেলেখা পাণ্ডুলিপি (نسخة مخطوطة)-এর বিষয়ে বলতে গেলে, এর মলাটে নিম্নোক্ত কথাটি লেখা ছিল: (আহমদ মুহাম্মদ বিরগিবি—আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন—এর কিরাত বিষয়ক একটি পুস্তিকা)। এটি স্পষ্ট যে এটি পুস্তিকাটির প্রকৃত শিরোনাম নয়, বরং এটি তার ভেতরে যা রয়েছে তারই অংশবিশেষ। এছাড়া লেখকের নামের ক্ষেত্রেও একটি ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে তাঁর নাম আহমদ মুহাম্মদ উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তাঁর জীবনী (ترجمة) সংক্রান্ত যেসব উৎস আমি পর্যবেক্ষণ করেছি, তার কোনোটিতেই তাঁর নাম আহমদ হিসেবে আসেনি; বরং সব উৎসই একমত যে তাঁর নাম হলো মুহাম্মদ। এটি প্রমাণ করে যে, হাতেলেখা পাণ্ডুলিপির মলাটে যা এসেছে তা প্রতিলিপিকারকদের (نساخ) নিজস্ব হস্তক্ষেপ, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
আর ব্রোকলম্যান যে শিরোনামটি উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ (আল-কুরআনুল আজিম সংক্রান্ত বিদ্যায় যা প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ হয়েছে তার ওপর একটি পুস্তিকা) এবং একইভাবে মসজিদুল আকসার পাণ্ডুলিপি তালিকায় যে শিরোনামটি এসেছে অর্থাৎ (দুনিয়া অর্জনের জন্য কুরআনকে উপার্জনের মাধ্যম বানানোর যে প্রথা ছড়িয়ে পড়েছে তা বাতিল করার উদ্দেশ্যে রচিত পুস্তিকা)—এই উভয় শিরোনামই পুস্তিকার ভূমিকা থেকে নেওয়া হয়েছে। যেখানে লেখক বলেছেন: (এটি এমন একটি পুস্তিকা যা দেশসমূহে প্রচলিত এবং সাধারণ মানুষ ও ইবাদতগুজারদের মাঝে প্রসিদ্ধ এমন একটি প্রথা বাতিলের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ মহান কুরআন ও সম্মানিত ফুরকান—যাকে পবিত্রগণ ছাড়া কেউ স্পর্শ করে না—তাকে দুনিয়া অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে
… ইত্যাদি), আর এই শিরোনাম দুটি বিরগিবি কর্তৃক নির্ধারিত নয়।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে পুস্তিকাটির সঠিক (صحيح) শিরোনাম হলো সেটিই যা লেখক বিরগিবি নিজে রেখেছেন, আর তা হলো (ইনকাযুল হালিকিন)।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২২)
المطلب السادس: وصف النسخاعتمدت في تحقيق هذه الرسالة على نسختين إحداهما مخطوطة والثانية مطبوعة طبعة قديمة فيها أغلاط كثيرة وتحريف وسقط وهذا وصف للنسختين:
أولاً: النسخة المخطوطة: النسخة التي اعتمدت عليها مصورة عن أصل محفوظ في مكتبة المسجد الأقصى المبارك تحت رقم 213 / علوم القرآن / 68 ووصفها كما يلي:
[العنوان: رسالة لإبطال ما شاع من اتخاذ القرآن مكسباً لجمع الدنيا.
المؤلف: محيي الدين محمد بن بيرغلي بن اسكندر الرومي 929 - 981هـ.
تاريخ النسخ: ربيع الثاني سنة 1113هـ.
بخط رجب بن محمد.
عدد الأوراق: ثلاثون ورقة، 17 سطراً، 1، 22 × 8، 15 (3، 16× 8، 6 سم).
ويوجد بالهوامش تعليقات وشروحات مختلفة، وقد ذكر بروكلمان نسخة مخطوطة واحدة وهي بعنوان (رسالة في ما شاع وذاع بعلم القرآن العظيم)]. فهرس مخطوطات مكتبة المسجد الأقصى المبارك 2/ 10.
والنسخة المصورة عن الأصل السابق موجودة لدى مؤسسة إحياء التراث والبحوث الإسلامية في مدينة القدس التابعة لوزارة الأوقاف الفلسطينية، وهي محفوظة تحت رقم 157/ 2.
وقد رمزت لهذه النسخة بحرف (أ).
ثانياً: النسخة المطبوعة:
هذه النسخة مطبوعة بهامش كتاب شرح شرعة الإسلام ليعقوب بن سيد علي المتوفى سنة 931هـ وقد طبع بهامشه إحدى عشرة رسالة للبركوي ومنها رسالة إنقاذ الهالكين.
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: অনুলিপিগুলোর বিবরণএই রিসালাহটির সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমি দুইটি অনুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। যার একটি হলো পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) এবং দ্বিতীয়টি হলো একটি পুরাতন মুদ্রিত (مطبوعة) সংস্করণ, যাতে প্রচুর ভুল, বিকৃতি (تحريف) এবং বিচ্যুতি (سقط) রয়েছে। নিচে অনুলিপি দুটির বিবরণ দেওয়া হলো:
প্রথমত: পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) সংস্করণ: আমি যে সংস্করণটির ওপর নির্ভর করেছি তা মাসজিদুল আকসা লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত মূল কপির একটি ফটোকপি, যার সংগ্রহ নম্বর হলো ২১৩ / উলূমুল কুরআন / ৬৮। এর বিবরণ নিম্নরূপ:
[শিরোনাম: দুনিয়া উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে কুরআনকে গ্রহণ করার প্রচলিত প্রথা বাতিলের বিষয়ে রিসালাহ।
লেখক: মুহিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন পীর আলী বিন ইসকান্দার আল-রূমী ৯২৯ - ৯৮১ হিজরি।
অনুলিপিকরণের তারিখ: রবিউস সানি ১১১৩ হিজরি।
রজব বিন মুহাম্মদের হস্তাক্ষরে।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ত্রিশটি পত্র, ১৭টি লাইন, ১, ২২ × ৮, ১৫ (৩, ১৬ × ৮, ৬ সেমি)।
এর পার্শ্বটীকায় (هامش) বিভিন্ন টীকা ও ব্যাখ্যা বিদ্যমান। ব্রোকলম্যান একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) সংস্করণের কথা উল্লেখ করেছেন যার শিরোনাম হলো: (রিসালাহ ফী মা শাআ ওয়া যাআ বি ইলমিল কুরআনিল আজিম)]। মাসজিদুল আকসা লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগ ২/ ১০।
পূর্বোক্ত মূল কপির ফটোকপিটি ফিলিস্তিন আওকাফ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জেরুজালেম শহরের 'ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান' (মুয়াসসাসাতু ইহয়াইত তুরাস ওয়াল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ)-এ সংরক্ষিত আছে, যা ১৫৭/ ২ নম্বরে তালিকাভুক্ত।
আমি এই অনুলিপিটিকে (أ) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
দ্বিতীয়ত: মুদ্রিত (مطبوعة) সংস্করণ:
এই সংস্করণটি ইয়াকুব বিন সাইয়্যিদ আলী (মৃত্যু ৯৩১ হিজরি) রচিত শারহু শিরআতিল ইসলাম গ্রন্থের পার্শ্বটীকায় (هامش) মুদ্রিত (مطبوعة) হয়েছে। এর পার্শ্বটীকায় (هامش) ইমাম বিরকিভির এগারোটি রিসালাহ মুদ্রিত (مطبوعة) হয়েছে, যার মধ্যে 'ইনকাযুল হালিকিন' রিসালাহটিও অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهو مطبوع طبعة قديمة يعود تاريخها إلى شهر رجب سنة 1326هـ في مطبعة الإقدام الكائنة في دار الخلافة العلية في استنبول في تركيا.
وصورته دار الكتب العلمية بيروت لبنان بدون ذكر للتاريخ.
وتقع رسالة إنقاذ الهالكين في الصفحات 106 - 167.
وقد رمزت لهذه النسخة بحرف (ط)
… .
এটি একটি প্রাচীন সংস্করণে মুদ্রিত, যার প্রকাশকাল তুরস্কের ইস্তাম্বুলের দারুল খিলাফাহ আল-আলিয়্যাহ-তে অবস্থিত ‘আল-ইকদাম’ প্রেসে ১৩২৬ হিজরি সনের রজব মাস।
এবং লেবাননের বৈরুতের দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ কোনো তারিখ উল্লেখ ছাড়াই এটি পুনর্মুদ্রণ করেছে।
আর ‘ইনকাযুল হালিকিন’ নামক রিসালাটি ১০৬ থেকে ১৬৭ পৃষ্ঠার মধ্যে রয়েছে।
আমি এই সংস্করণের জন্য (ط) বর্ণটিকে প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করেছি
…।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المطلب السابع: منهج التحقيقاتبعت المنهج التالي في تحقيق هذه الرسالة:
1. نسخت الرسالة من النسخة (أ) وكتبتها حسب الرسم والإملاء المتعارف عليه الآن.
2. ثم قابلت الرسالة على النسخة المطبوعة (ط)، وأثبت الفروق في الهامش.
3. قابلت النصوص التي نقلها المصنف من المصادر التي أخذ منها والتي وقفت عليها
4. ما كان خطأً في النسختين أثبته في الهامش وأثبت ما رأيت أنه صواب في المتن ووضعته بين قوسين معكوفين هكذا [].
5. أشرت في الهامش إلى نهاية كل ورقة من النسخة المخطوطة وأثبت ذلك في المتن بوضع نجمة هكذا *.
7. عزوت الآيات القرآنية إلى السور وذكرت رقم الآية وذلك في الهامش.
8. خرَّجت الأحاديث الواردة في الرسالة من مصادر السنة النبوية وذكرت الجزء والصفحة من الكتاب الذي ورد فيه الحديث، وذكرت حكم الشيخ العلامة ناصر الدين الألباني عليها، حيث إن المؤلف قد نقل أكثر الأحاديث التي استدل بها من كتاب الترغيب والترهيب للحافظ المنذري، وقد أخذت حكم الشيخ العلامة ناصر الدين الألباني عليها من كتابيه صحيح الترغيب والترهيب ومن ضعيف الترغيب والترهيب في الغالب.
9. علَّقت على المسائل التي ذكرها المصنف بما يقتضيه المقام وذكرت مجموعة من المصادر للمسائل التي ذكرها المصنف.
8. شرحت الكلمات الغامضة.
সপ্তম পরিচ্ছেদ: সম্পাদনা পদ্ধতিএই রিসালাটি (প্রবন্ধটি) সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
1. আমি পাণ্ডুলিপি 'আলিফ' থেকে রিসালাটি অনুলিপি করেছি এবং বর্তমান প্রচলিত লিখনরীতি ও বানানরীতি অনুযায়ী তা লিপিবদ্ধ করেছি।
2. এরপর আমি মুদ্রিত কপি 'ত্বা'-এর সাথে রিসালাটি মিলিয়ে দেখেছি এবং পাঠভেদসমূহ টীকায় উল্লেখ করেছি।
3. গ্রন্থকার যেসব উৎস থেকে পাঠগুলো উদ্ধৃত করেছেন এবং যেগুলোর সন্ধান আমি পেয়েছি, সেগুলোর সাথে উক্ত পাঠগুলো আমি মিলিয়ে দেখেছি।
4. উভয় কপিতে যা ভুল ছিল তা আমি টীকায় রেখেছি এবং মূল পাঠে যা আমার কাছে সঠিক বলে মনে হয়েছে তা সন্নিবেশ করেছি এবং সেটিকে এভাবে তৃতীয় বন্ধনীতে [] আবদ্ধ করেছি।
5. পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পৃষ্ঠার সমাপ্তি আমি টীকায় নির্দেশ করেছি এবং মূল পাঠে তা একটি তারকা চিহ্ন * দিয়ে চিহ্নিত করেছি।
7. কুরআনের আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং টীকায় আয়াতের নম্বর উল্লেখ করেছি।
8. রিসালাটিতে বর্ণিত হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি সুন্নাহর মূল উৎসসমূহ থেকে এবং যে কিতাবে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে তার খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি। এছাড়া হাদিসগুলোর ওপর শায়খ আল্লামা নাসিরুদ্দিন আল-আলবানীর হুকুম (حكم) উল্লেখ করেছি; যেহেতু লেখক অধিকাংশ হাদিস যা দিয়ে তিনি দলিল পেশ করেছেন, হাফিজ আল-মুনজিরির আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব থেকে গ্রহণ করেছেন। আমি এই হাদিসগুলোর ওপর শায়খ আল্লামা নাসিরুদ্দিন আল-আলবানীর হুকুম (حكم) মূলত তার ‘সহিহ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব’ এবং ‘জয়িফ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব’ কিতাবদ্বয় থেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রহণ করেছি।
9. গ্রন্থকার যে সকল মাসআলা উল্লেখ করেছেন, প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী সেগুলোর ওপর টীকা প্রদান করেছি এবং গ্রন্থকার বর্ণিত মাসআলাগুলোর জন্য একগুচ্ছ উৎসের উল্লেখ করেছি।
8. অস্পষ্ট শব্দাবলির ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
9. ترجمت للأعلام الذين ذكرهم المصنف ترجمة موجزة وذكرت مصادر الترجمة وذلك في الهامش.
10. عرفت بالكتب التي ذكرها المصنف.
11. وضعت صورة للنسخة المخطوطة.
12. وضعت فهارس للرسالة وهي:
أ. فهرس الآيات الواردة في الرسالة.
ب. الأحاديث النبوية الواردة في الرسالة.
ج. فهرس الأعلام الذين ورد ذكرهم في الرسالة.
د. فهرس الكتب التي وردت في الرسالة.
هـ. فهرس مصادر ومراجع الدراسة والتحقيق.
هـ. فهرس المحتويات.
كتبه المحقق
د. حسام الدين بن موسى عفانه
৯. লেখক যে সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের (أعلام) নাম উল্লেখ করেছেন, আমি তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) লিখেছি এবং পাদটীকায় সেই জীবনীর উৎসসমূহ উল্লেখ করেছি।
১০. লেখক যে সকল কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন, আমি সেগুলোর পরিচয় প্রদান করেছি।
১১. আমি পাণ্ডুলিপির (نسخة مخطوطة) একটি ছবি যুক্ত করেছি।
১২. আমি এই গবেষণাপত্রের জন্য নিম্নোক্ত নির্ঘণ্ট বা সূচিসমূহ (فهارس) তৈরি করেছি:
ক. গবেষণাপত্রে উল্লিখিত আয়াতসমূহের সূচি।
খ. গবেষণাপত্রে উল্লিখিত হাদিসসমূহের সূচি।
গ. গবেষণাপত্রে উল্লিখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের (أعلام) সূচি।
ঘ. গবেষণাপত্রে উল্লিখিত কিতাবসমূহের সূচি।
ঙ. অধ্যয়ন ও পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) উৎস ও সহায়ক গ্রন্থাবলির সূচি।
চ. বিষয়সূচি।
এটি লিখেছেন পাণ্ডুলিপি সম্পাদক (محقق)
ড. হুসামুদ্দিন বিন মুসা আফানা
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
صورة الغلاف من النسخة (أ)
পাণ্ডুলিপি (نسخة) (ক) থেকে প্রচ্ছদ চিত্র
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
صورة الورقة 2 / أ
২ / ক নং পত্রের চিত্র
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
القسم الثانينص الرسالة محققاً ومعلقاً عليهرسالة إنقاذ الهالكين
(تبحث في حكم أخذ الأجرة على تلاوة القرآن الكريم)
تأليف
العلامة تقي الدين محمد البركوي الحنفي
المتوفى سنة 981 هـ
قدَّم لها وحققها وعلَّق عليها
الدكتور حسام الدين بن موسى عفانه
الأستاذ المشارك في الفقه والأصول
كلية الدعوة وأصول الدين
جامعة القدس
দ্বিতীয় অংশরিসালাহ্-র মূল পাঠ, সম্পাদিত (محقق) ও টীকা সম্বলিতরিসালাহ ইনকাযুল হালিকিন
(পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান (حكم) সংক্রান্ত আলোচনা)
রচনায়
আল্লামা তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ আল-বিরকাভি আল-হানাফি
মৃত্যু: ৯৮১ হিজরি
উপস্থাপনা, সম্পাদনা (تحقيق) ও টীকা প্রদান করেছেন
ডক্টর হুসামুদ্দীন বিন মুসা আফানা
সহযোগী অধ্যাপক, ফিকহ ও উসুল (أصول) শাস্ত্র
দাওয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদ
আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب، ليخرج الناس من الظلمات إلى النور، وجعله هدى وبشرى لأولي الألباب، ليعملوا به (1) بلا رياء ولا فتور، والصلاة والسلام على حبيبه الذي نهى أمته عن الأكل بالقرآن والدين، وأمرهم أن يعبدوه وحده، ويتلوا كتابه مخلصين له الدين، وعلى آله الذين اقتدوا بهداه وسنته، وأصحابه الذين امتثلوا بأمره وشريعته.
وبعد
فهذه رسالة معمولة لإبطال ما شاع في البلاد، واشتهر فيما بين العباد والعُبَّاد، من اتخاذ القرآن العظيم، والفرقان الكريم، تنزيل من رب العالمين، لا يمسه إلا المطهرون
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যাতে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং একে জ্ঞানবানদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেন তারা এর ওপর আমল (১) করতে পারে কোনো লোকদেখানো বা শিথিলতা ছাড়াই। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রিয়তম রাসূলের ওপর, যিনি তাঁর উম্মতকে কুরআন ও দ্বীনকে উপজীবিকা হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন এবং তাঁদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা একনিষ্ঠভাবে কেবল তাঁরই ইবাদত করেন ও তাঁর কিতাব তিলাওয়াত করেন। আরও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গের ওপর যাঁরা তাঁর হেদায়েত ও সুন্নাহর অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর যাঁরা তাঁর নির্দেশ ও শরিয়ত পালন করেছেন।
অতঃপর
এই পুস্তিকাটি জনপদে ছড়িয়ে পড়া এবং সাধারণ মানুষ ও ইবাদতগুজারদের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করা একটি বিষয় খণ্ডন করার জন্য রচিত। বিষয়টি হলো মহান কুরআন ও মহিমান্বিত ফুরকান—যা বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং পবিত্রগণ ব্যতীত কেউ তা স্পর্শ করে না—তাকে (পার্থিব উদ্দেশ্যে) গ্রহণ করা সংক্রান্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
مكسباً لجمع الدنيا، وسبيلاً يشترون بآيات الله ثمناً قليلاً، يستبدلون الذي هو أدنى (1) بالذي هو خير، فهم كحاطب الليل، لا يفرقون بين نفع وضر، فويل لهم مما يقرؤون، وويل لهم مما يكسبون، فنعوذ بالله تعالى ثم نعوذ بالله (2) أن يبتلينا وإياكم به وأمثاله (3)، به تعالى اعتصمنا، وإليه (4) فوضنا، ومنه (5) رجونا، وعليه توكلنا، حسبنا الله ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
ويحصل هذا الغرض والغاية، بمقدمة ومقصد وخاتمة.
أما المقدمة ففيما يتوقف عليه المقصود، وفيها أربع مقالات.
--------------------------------------------
পার্থিব সম্পদ সংগ্রহের উপায় এবং এমন এক পথ হিসেবে [ব্যবহার করে], যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর আয়াতের বিনিময়ে নগণ্য মূল্য ক্রয় করে; তারা উত্তমের পরিবর্তে তুচ্ছ বিষয়কে বেছে নেয়। তারা রাতের কাঠ সংগ্রাহকের (حاطب الليل) মতো, যারা উপকার ও অপকারের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। অতএব, তারা যা পাঠ করে তার জন্য তাদের প্রতি আক্ষেপ এবং তারা যা উপার্জন করে তার জন্য তাদের প্রতি আক্ষেপ। আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং পুনরায় আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই যেন তিনি আমাদের ও আপনাদেরকে এর দ্বারা এবং এর অনুরূপ বিষয়ের মাধ্যমে পরীক্ষায় না ফেলেন। আমরা মহান আল্লাহর মাধ্যমেই সুরক্ষা লাভ করেছি, তাঁর কাছেই যাবতীয় বিষয় ন্যস্ত করেছি, তাঁর নিকটই প্রত্যাশা করেছি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করেছি। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক; আর সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
এই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জিত হবে একটি ভূমিকা (مقدمة), একটি মূল বিষয়বস্তু (مقصد) এবং একটি উপসংহারের (خاتمة) মাধ্যমে।
ভূমিকা (مقدمة) প্রসঙ্গে কথা হলো, তা এমন বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত যার ওপর মূল উদ্দেশ্য নির্ভর করে এবং এতে চারটি প্রবন্ধ (مقالات) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المقالة الأولى في النيةهي في اللغة مصدر نواه أي قصده (1).
وفي الشرع زيد عليه كون المقصود التقرب (2) إلى الله تعالى، وأن يكون متصلاً بالعمل حقيقة أو حكماً (3)، فالنية ليست فعل اللسان ولا الإخطار بالبال وحديث النفس، بل هي حالةٌ للقلب باعثةٌ على العمل، مثلاً من جاع وأحضر الطعام ليدفع جوعه، ويقضي شهوته، ثم قال بلسانه أريد الأكل للتقوي على عبادة الله (4)، وأخطر معناه بباله فهذا ليس من النية أصلاً وإن اغتر به الحمقى.
وإن أردت (5) زيادة تفصيل، فطالع شرحنا للأربعين تجد فوائد كثيرة.
--------------------------------------------
নিয়ত (النية) বিষয়ক প্রথম প্রবন্ধএটি আভিধানিক অর্থে 'নাওয়া' (نواه) ক্রিয়ামূল থেকে আগত, যার অর্থ কোনো কিছুর সংকল্প (قصده) করা (১)।
আর শরিয়তের (الشرع) পরিভাষায় এর সাথে অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত হয়েছে যে, উদ্দেশ্যটি হতে হবে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন (التقرب) (২) করা এবং তা কাজের সাথে প্রকৃতভাবে (حقيقة) অথবা বিধানগতভাবে (حكماً) (৩) সংশ্লিষ্ট হতে হবে। সুতরাং নিয়ত (النية) কেবল জিহ্বার উচ্চারণ নয় এবং মনের কল্পনা বা কুচিন্তাও নয়, বরং এটি অন্তরের এমন এক অবস্থা যা কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত এবং সে ক্ষুধা নিবারণ ও প্রবৃত্তি পূরণের জন্য খাবার উপস্থিত করল, অতঃপর মুখে বলল, "আমি আল্লাহর ইবাদতে শক্তি অর্জনের জন্য আহারের ইচ্ছা করছি" (৪) এবং মনে মনেও সেই অর্থ নিয়ে এল—তবে এটি মোটেও নিয়তের (النية) অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও নির্বোধরা এতে প্রতারিত হয়।
আপনি যদি (৫) আরও বিস্তারিত জানতে চান, তবে আরবাঈন-এর ওপর আমাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পাঠ করুন, সেখানে অনেক উপকারিতা খুঁজে পাবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المقالة الثانية في الرياء وما يتعلق بهوفيها ثلاثة مباحث:
المبحث الأول في ذم الرياء وإرادة الدنيا بعمل الآخرة:الآيات: قوله تعالى (مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا
وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ) (1).
قال الزمخشري (2): [يعني لم يكن لهم ثواب الآخرة (3)، لأنهم لم يريدوا به ثواب الآخرة، وإنما أرادوا به الدنيا، وقد وفيَّ إليهم ما أرادوا، وباطل ما كانوا يعملون، أي كان عملهم في نفسه باطلاً، لأنه لم يُعمل لوجه صحيح، والعمل الباطل لا ثواب له. انتهى] (4).
وقال الإمام الرازي (5) في التفسير الكبير (6): [واعلم أن العقل يدل عليه قطعاً (7)، وذلك لأن
--------------------------------------------
দ্বিতীয় প্রবন্ধ: লোকপ্রদর্শন (الرياء) এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি প্রসঙ্গেএতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: লোকপ্রদর্শন (الرياء) এর নিন্দা এবং পরকালীন আমলের মাধ্যমে দুনিয়া অন্বেষণ প্রসঙ্গে:আয়াতসমূহ: আল্লাহ তাআলার বাণী: (যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন ও তার শোভা কামনা করে, আমি তাদের আমলের পূর্ণ প্রতিদান দুনিয়াতেই প্রদান করি এবং সেখানে তাদের কোনো কমতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। তারা যা কিছু করেছিল তা সেখানে বিফল হয়ে গেছে
আর তারা যা করত তা ছিল অসার।) (১)।
যামাখশারী (২) বলেন: [অর্থাৎ তাদের জন্য পরকালের কোনো প্রতিদান ছিল না (৩), কারণ তারা এর মাধ্যমে পরকালের সওয়াব বা প্রতিদান কামনা করেনি; বরং তারা কেবল দুনিয়া চেয়েছিল। তারা যা চেয়েছিল তা তাদের পূর্ণরূপে দেওয়া হয়েছে। আর ‘তারা যা করত তা অসার’—অর্থাৎ তাদের আমলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল ছিল; কারণ তা সঠিক উদ্দেশ্যে করা হয়নি, আর বাতিল আমলের কোনো প্রতিদান নেই। সমাপ্ত] (৪)।
এবং ইমাম আর-রাজি (৫) তাঁর আত-তাফসিরুল কাবির (৬) গ্রন্থে বলেন: [জেনে রাখুন, বুদ্ধি বা বিবেক অকাট্যভাবে এর ওপর প্রমাণ পেশ করে (৭), আর তা এ কারণে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ইনকাযিল হালিকীন ফী হুকমি আখযিল উজরাতি আলা তিলাওয়াতিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
من أتى بالأعمال الصالحة (1) لأجل [طلب البقاء (2) ولأجل الدنيا فذلك] (3) (4) لأجل أنه غلب على قلبه حب الدنيا، ولم يحصل في قلبه حب الآخرة، إذ لو عرف حقيقة الآخرة وما فيها من السعادات لامتنع أن يأتي بالخيرات لأجل الدنيا (5)، فثبت أن الآتي بأعمال البر لأجل الدنيا لا بد وأن يكون عظيم الرغبة في الدنيا عديم الطلب (6) للآخرة، ومن كان كذلك فإذا مات فاته (7) جميع منافع الدنيا ويبقى عاجزاً عن وجدانها غير قادر على تحصيلها.
ومن أحب شيئاً ثم حيل بينه وبين المطلوب، فإنه لا بد وأن (8) يشتغل قلبه بالحسرات، فثبت بهذا البرهان العقلي، أن الآتي بعمل من الأعمال لطلب الأحوال الدنيوية، فإنه يجد تلك المنفعة الدنيوية اللائقة بذلك العمل، ثم إذا مات فإنه لا يحصل له منه (9) إلا (10) النار. ويصير ذلك العمل في دار (11) الآخرة محبطاً باطلاً عديم الأثر. انتهى)
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি নেক আমল (১) সম্পাদন করে [স্থায়িত্ব লাভের অন্বেষায় (২) এবং দুনিয়ার উদ্দেশ্যে, তবে তা] (৩) (৪) এই কারণে যে, তার অন্তরে দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা প্রবল হয়েছে এবং তার অন্তরে পরকালের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়নি। কারণ, সে যদি পরকালের বাস্তবতা এবং এখানকার সুখ-শান্তি সম্পর্কে অবগত হতো, তবে দুনিয়ার জন্য কল্যাণকর কাজ করা থেকে বিরত থাকতো (৫)। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, যে ব্যক্তি দুনিয়ার উদ্দেশ্যে পুণ্যকর্ম সম্পাদন করে, তার মাঝে দুনিয়ার প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং পরকালের অন্বেষণের (৬) অভাব থাকা অপরিহার্য। আর যে ব্যক্তি এরূপ হয়, সে মৃত্যুবরণ করলে দুনিয়ার সকল সুযোগ-সুবিধা তার হাতছাড়া (৭) হয়ে যায় এবং সে তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অক্ষম ও তা অর্জনে অসমর্থ হয়ে পড়ে।
আর যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে ভালোবাসে এবং এরপর তার ও তার কাঙ্ক্ষিত বস্তুর মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়, তবে অবশ্যই (৮) তার অন্তর আক্ষেপে নিমজ্জিত হয়। সুতরাং এই যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, যে ব্যক্তি পার্থিব অবস্থা লাভের উদ্দেশ্যে কোনো আমল করে, সে সেই আমলের উপযুক্ত পার্থিব সুবিধা লাভ করে; অতঃপর যখন সে মৃত্যুবরণ করে, তখন সেই আমল থেকে তার জন্য (৯) জাহান্নাম ব্যতীত (১০) আর কিছুই অর্জিত হয় না। আর পরকালীন আবাসে (১১) সেই আমলটি নিষ্ফল ও বাতিল (باطل) হয়ে যায় এবং প্রভাবহীন হয়ে পড়ে। সমাপ্ত।
--------------------------------------------