(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: -)
بذل المجهود في تحرير أسئلة تغير النقود   (الخطيب التمرتاشي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بذل المجهود في تحرير أسئلة تغير النقود

المؤلف: شمس الدين محمد بن عبد الله بن أحمد، الخطيب العمري التمرتاشي الغزي الحنفي (ت 1004 هـ)

قدَّم لها وحققها وعلَّق عليها: الدكتور حسام الدين بن موسى عفانة

صف وتنسيق: حذيفة بن حسام الدين عفانة

الناشر: جامعة القدس، فلسطين

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 115

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 شوّال 1432

বযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকুন্দ   (আল-খতীব আল-তুমারতাশি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: বযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকুন্দ

লেখক: শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ, আল-খতীব আল-উমরি আল-তুমারতাশি আল-গাজ্জি আল-হানাফি (মৃ. ১০০৪ হি.)

ভূমিকা, সম্পাদনা (تحقيق) এবং টীকা প্রদান: ডক্টর হুসামুদ্দীন বিন মুসা আফানা

অক্ষরবিন্যাস ও সজ্জা: হুযাইফা বিন হুসামুদ্দীন আফানা

প্রকাশক: আল-কুদ্স বিশ্ববিদ্যালয়, ফিলিস্তিন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হি. - ২০০১ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ শাওয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: -)
رسالة

بذل المجهود في تحرير أسئلة تغير النقود

 

تأليف

شيخ الإسلام بركة الأنام عمدة العلماء الأعلام

محمد بن عبد الله الغزي التمرتاشي الحنفي

المتوفى سنة 1004 هـ

 

قدَّم لها وحققها وعلَّق عليها

الدكتور حسام الدين بن موسى عفانه

الأستاذ المشارك في الفقه والأصول

كلية الدعوة وأصول الدين

جامعة القدس
রিসালাহ

বজলুল মাজহুদ ফী তাহরীরি আসইলাতি তাগাইয়ুরিন নুকূদ

 

রচনায়

শায়খুল ইসলাম, সৃষ্টির জন্য বরকতস্বরূপ, প্রখ্যাত আলেমদের নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-গাজ্জি আত-তিমুরতাশি আল-হানাফি

মৃত্যু: ১০০৪ হিজরি

 

উপস্থাপনা, পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) ও টীকা প্রদান

ডক্টর হুসামুদ্দিন ইবনে মুসা আফানা

ফিকহ ও উসুল (أصول) শাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক

দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন (أصول الدين) অনুষদ

আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى

1422هـ - 2001 م

القدس - فلسطين

حقوق الطبع محفوظة للمحقق

 

صف وتنسيق

حذيفة بن حسام الدين عفانه
প্রথম সংস্করণ

১৪২২ হিজরী - ২০০১ খ্রি.

আল-কুদস - ফিলিস্তিন

সর্বস্বত্ব গবেষক কর্তৃক সংরক্ষিত

 

অক্ষরবিন্যাস ও বিন্যাসবিধি

হুজাইফা বিন হুসামুদ্দিন আফানা
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المحقق

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

(يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ) سورة آل عمران الآية 102.

(يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا) سورة النساء الآية 1.

(يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا) سورة الأحزاب الآيتان 70 - 71.

وبعد

فهذه رسالة لطيفة من تراث فقهاء الإسلام تخرج إلى النور بعد أن كانت حبيسة الرفوف لقرون.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌সম্পাদকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১০২।

(হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১।

(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল।) সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ৭০-৭১।

অতঃপর,

এটি ইসলামী ফকীহগণের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে সংগৃহীত একটি চমৎকার পুস্তিকা, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী তাকের মধ্যে বন্দি থাকার পর আজ আলোর মুখ দেখছে।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ৬)
وهذه الرسالة تعالج قضية فقهية مهمة من قضايا النقود، والتي كانت محل اهتمام الفقهاء ومجالاً لبحثهم، ومؤلف هذه الرسالة هو الشيخ محمد بن عبد الله الغزيّ التمرتاشي، من فقهاء الحنفية المتأخرين في فلسطين، وصاحب المتن المشهور المسمى تنوير الأبصار، والذي شرحه الحصكفي في الدر المختار، ووضع عليه العلامة ابن عابدين حاشيته المعروفة برد المحتار.

وقد رغبت في نشر هذه الرسالة بعد أن اطلعت عليها في مؤسسة إحياء التراث والبحوث الإسلامية في بيت المقدس، هذه المؤسسة الرائدة في جمع المخطوطات في فلسطين، والتي ما فتئت تقدم كل مساعدة للباحثين لخدمة ونشر تراثنا الإسلامي.

وإنني أدعو الباحثين وطلبة الدراسات العليا إلى توجيه مزيد من الاهتمام لتحقيق المخطوطات ونشرها، فلا يصح أن تبقى هذه الكنوز مطمورة وغير مستفاد منها. ومن المعروف أن ما حقق من مخطوطات قليل جداً، يقول بعض المحققين إن الكتب المخطوطة في مختلف العلوم الإسلامية باللغة العربية تزيد على ثلاثة ملايين كتاب، فلا بد من بذل مزيد من الجهود لإحياء هذه الذخائر العظيمة وإخراجها إلى عالم النور بالطباعة والتحقيق العلمي الرصين.
এই পুস্তিকাটি মুদ্রার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করে, যা ফকিহগণের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু এবং তাদের গবেষণার ক্ষেত্র ছিল। এই পুস্তিকাটির রচয়িতা হলেন ফিলিস্তিনের পরবর্তী যুগের (متأخرون) হানাফি ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল-গাজ্জি আত-তিমিরতাশি। তিনি তানভিরুল আবসার নামক প্রসিদ্ধ মূল পাঠের রচয়িতা, যার ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে হাসকাফি আদ-দুররুল মুখতার রচনা করেছেন এবং আল্লামা ইবনে আবিদিন এর ওপর তাঁর সুপরিচিত হাশিয়া (টীকা) রাদ্দিল মুখতার লিখেছেন।

বাইতুল মাকদিসের 'মুয়াসসাসাতু ইহয়ায়িত তুরাস ওয়াল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ' (ইসলামি ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান)-এ এই পুস্তিকাটি দেখার পর আমি এটি প্রকাশের ইচ্ছা পোষণ করি। ফিলিস্তিনে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের ক্ষেত্রে এটি একটি অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান, যা আমাদের ইসলামি ঐতিহ্য রক্ষা ও প্রসারে গবেষকদের নিরন্তর সব ধরনের সহায়তা প্রদান করে থাকে।

আমি গবেষক এবং উচ্চতর গবেষণারত শিক্ষার্থীদের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) এবং তা প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ, এই অমূল্য সম্পদগুলো লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এবং সেগুলো থেকে উপকৃত না হওয়া সমীচীন নয়। এটি সর্বজনবিদিত যে, এ পর্যন্ত সম্পাদিত পাণ্ডুলিপির পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। কতিপয় গবেষক (محققون) উল্লেখ করেছেন যে, আরবি ভাষায় বিভিন্ন ইসলামি শাস্ত্রের পাণ্ডুলিপির সংখ্যা ত্রিশ লক্ষেরও অধিক। তাই এই বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার পুনর্জীবিত করতে এবং মুদ্রণ ও বলিষ্ঠ জ্ঞানতাত্ত্বিক সম্পাদনার (تحقيق) মাধ্যমে আলোর মুখ দেখাতে আরও অধিক শ্রম ও প্রচেষ্টার প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ৭)
وقياماً ببعض الواجب وجهت همتي إلى تحقيق هذه الرسالة اللطيفة مساهمة مني في إحياء الكنوز العلمية لعلمائنا ومحافظة عليها من الضياع ورغبة في تسهيل اطلاع طلبة العلم على تراث أسلافهم وخدمة للعلم وأهله.

وقد جعلت عملي في خدمة هذه الرسالة على قسمين:

القسم الأول: الدراسة

وتشمل ما يلي:

- تمهيد حول الدراسات الفقهية لمسائل النقود قديماً وحديثاً

- المبحث الأول: دراسة حول المصنف التمرتاشي وفيه مطالب:

المطلب الأول: اسمه ونسبه

المطلب الثاني: مولده ونشأته

المطلب الثالث: رحلاته

المطلب الرابع: شيوخه

المطلب الخامس: ثناء العلماء عليه

المطلب السادس: تلاميذه

المطلب السابع: العائلة التمرتاشية

المطلب الثامن: مؤلفاته

المطلب التاسع: وفاته

- المبحث الثاني: دراسة حول رسالة " بذل المجهود في تحرير أسئلة تغير النقود " وفيه مطالب:
এবং কর্তব্যের তাগিদে আমি এই সংক্ষিপ্ত রিসালাহটির সম্পাদনা (تحقيق)-এর প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করেছি। এটি আমাদের ওলামায়ে কেরামের ইলমি রত্নভাণ্ডার পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে আমার একটি ক্ষুদ্র অবদান এবং একে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার প্রয়াস। সেইসাথে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য তাদের পূর্বসূরিদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হওয়া সহজতর করা এবং জ্ঞান ও জ্ঞানীদের সেবা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

আমি এই রিসালাহটির সেবামূলক কাজকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি:

প্রথম অংশ: গবেষণা (دراسة)

এতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

- প্রাচীন ও আধুনিক মুদ্রার সমস্যাবলি সংক্রান্ত ফিকহী পর্যালোচনার ভূমিকা

- প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকার আত-তুমুরতাশি বিষয়ক আলোচনা, যাতে রয়েছে কয়েকটি অনুচ্ছেদ (مطالب):

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষা সফর

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকগণ (شيوخ)

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা (ثناء)

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ

সপ্তম অনুচ্ছেদ: তুমুরতাশি পরিবার

অষ্টম অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি

নবম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকাল

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: "বাজলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগইয়্যিরিন নুূকুদ" রিসালাহটির ওপর গবেষণা (دراسة), যাতে রয়েছে কয়েকটি অনুচ্ছেদ:
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ৮)
المطلب الأول: عنوان الرسالة ونسبتها للمصنف

المطلب الثاني: أهمية الرسالة وموضوعاتها

المطلب الثالث: وصف النسخة المخطوطة

القسم الثاني: نص رسالة بذل المجهود محققاً ومعلقاً عليه.

ثم أتبعت ذلك بالفهارس التالية:

أ. فهرس الأعلام الذين ورد ذكرهم في نص الرسالة.

ب. فهرس الكتب التي وردت في نص الرسالة.

ج. فهرس النقود التي وردت في نص الرسالة.

د. فهرس مصادر ومراجع الدراسة والتحقيق.

هـ. فهرس المحتويات.

 

وختاماً أتقدم بالشكر والتقدير إلى مؤسسة إحياء التراث والبحوث الإسلامية في بيت المقدس التابعة لوزارة الأوقاف والشؤون الدينية ممثلة بعميدها وجميع موظفيها لما قدموه لي من عون ومساعدة حتى خرجت هذه الرسالة إلى عالم النور مطبوعة محققة.

وأشكر أيضاً ولدي حذيفة الذي قام بصف الرسالة وتنسيقها على جهاز الحاسوب.

وأشكر كل من مد لي يد العون والمساعدة فجزى الله الجميع خير الجزاء.
প্রথম পরিচ্ছেদ: গবেষণাপত্রের শিরোনাম এবং লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধযুক্তকরণ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গবেষণাপত্রের গুরুত্ব এবং এর বিষয়বস্তুসমূহ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির (نسخة مخطوطة) বর্ণনা

দ্বিতীয় অংশ: ‘বযলুল মাজহুদ’ গবেষণাপত্রের সম্পাদিত (محقق) ও টীকাযুক্ত (معلق عليه) মূল পাঠ।

এরপর আমি একে নিম্নোক্ত নির্ঘণ্টগুলোর অনুগামী করেছি:

ক. গবেষণাপত্রের মূল পাঠে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।

খ. গবেষণাপত্রের মূল পাঠে উল্লিখিত গ্রন্থসমূহের নির্ঘণ্ট।

গ. গবেষণাপত্রের মূল পাঠে উল্লিখিত পর্যালোচনাসমূহের (النقود) নির্ঘণ্ট।

ঘ. গবেষণা ও সম্পাদনার উৎস (مصادر) ও তথ্যসূত্রসমূহের (مراجع) নির্ঘণ্ট।

ঙ. সূচিপত্র।

 

পরিশেষে, আমি ফিলিস্তিনের বাইতুল মুকাদ্দাসে অবস্থিত ওয়াকফ ও ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘ইসলামি ঐতিহ্য পুনর্জীবন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের’ ডিন ও সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি; এই গবেষণাপত্রটি মুদ্রিত ও সম্পাদিত (محقق) আকারে আলোর মুখ দেখা পর্যন্ত তারা আমাকে যে সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

আমি আমার সন্তান হুজাইফাকেও ধন্যবাদ জানাই, যে কম্পিউটারে গবেষণাপত্রটির কম্পোজ ও বিন্যাসের কাজ করেছে।

যারা আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন, আমি তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আল্লাহ তাআলা সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ৯)
وأخيراً فهذا جهدي وعملي المتواضع الذي لا يخلو من النقص والتقصير لأنه جهد بشري وأرجو الله سبحانه وتعالى أن ينفع به إخوتي طلبة العلم وأن يجعله في ميزان حسناتي يوم القيامة وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

أبوديس / القدس في صباح يوم الإثنين الثالث والعشرين من جمادى الأولى 1422 هـ، وفق الثالث عشر من آب 2001 م.

 

كتبه: الدكتور حسام الدين بن موسى عفانه

الأستاذ المشارك في الفقه والأصول

كلية الدعوة وأصول الدين / جامعة القدس
পরিশেষে, এটি আমার এক বিনম্র প্রচেষ্টা ও কর্ম যা ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা মুক্ত নয়; কারণ এটি একটি মানবিক প্রচেষ্টা। আমি মহান ও পবিত্র আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন এর মাধ্যমে আমার ইলম অন্বেষণকারী ভাইদের উপকৃত করেন এবং কিয়ামতের দিন একে আমার নেক আমলের পাল্লায় স্থান দেন। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত নাযিল করুন।

 

আবু দিস / কুদস। ২৩ জুমাদাল উলা, ১৪২২ হিজরি, সোমবার সকাল; মোতাবেক ১৩ আগস্ট, ২০০১ খ্রিস্টাব্দ।

 

লেখক: ড. হুসামুদ্দীন বিন মুসা আফানা

সহযোগী অধ্যাপক, ফিকহ ও উসুল (الأصول)

দাওয়া ও উসুলুদ্দীন অনুষদ / আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌القسم الأول

الدراسة

وتشمل ما يلي:

- تمهيد حول الدراسات الفقهية لمسائل النقود قديماً وحديثاً

- المبحث الأول: دراسة حول المصنف التمرتاشي وفيه مطالب:

المطلب الأول: اسمه ونسبه

المطلب الثاني: مولده ونشأته

المطلب الثالث: رحلاته

المطلب الرابع: شيوخه

المطلب الخامس: ثناء العلماء عليه

المطلب السادس: تلاميذه

المطلب السابع: العائلة التمرتاشية

المطلب الثامن: مؤلفاته

المطلب التاسع: وفاته

المبحث الثاني: دراسة حول رسالة " بذل المجهود في تحرير أسئلة تغير النقود " وفيه مطالب:

المطلب الأول: عنوان الرسالة ونسبتها للمصنف

المطلب الثاني: أهمية الرسالة وموضوعاتها

المطلب الثالث: وصف النسخة المخطوطة

المطلب الرابع: منهج التحقيق
প্রথম অংশ

গবেষণা ও পর্যালোচনা

যা নিম্নোক্ত বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত করে:

- প্রাচীন ও আধুনিক প্রেক্ষাপটে মুদ্রাসংক্রান্ত মাসআলাসমূহের ফিকহী গবেষণার ওপর একটি প্রারম্ভিকা

- প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকার আত-তুমুরতাশি বিষয়ক গবেষণা এবং এতে কয়েকটি পাঠ রয়েছে:

প্রথম পাঠ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

দ্বিতীয় পাঠ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা

তৃতীয় পাঠ: তাঁর সফরসমূহ

চতুর্থ পাঠ: তাঁর উস্তাদগণ

পঞ্চম পাঠ: তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা

ষষ্ঠ পাঠ: তাঁর ছাত্রগণ

সপ্তম পাঠ: তুমুরতাশি পরিবার

অষ্টম পাঠ: তাঁর রচনাবলী

নবম পাঠ: তাঁর মৃত্যু

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: "বাযলুল মাজহুদ ফি তাহরির আসইলাতি তাগাইয়ুরিন নু্কুদ" নামক রিসালাহ বিষয়ক গবেষণা এবং এতে রয়েছে একাধিক পাঠ:

প্রথম পাঠ: রিসালাহ্‌র শিরোনাম এবং গ্রন্থকারের প্রতি এর সম্পৃক্ততা

দ্বিতীয় পাঠ: রিসালাহ্‌র গুরুত্ব ও এর বিষয়বস্তু

তৃতীয় পাঠ: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা

চতুর্থ পাঠ: সম্পাদনা পদ্ধতি (منهج التحقيق)
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تمهيد

نبذة موجزة عن دراسات الفقهاء لمسائل النقود قديماً وحديثاً

 

اعتنى الفقهاء بمسائل النقود عناية خاصة، وقد ظهرت الأقوال والآراء في هذه المسائل قديماً، وتعرض الفقهاء لمسائل النقود في أبواب الربا والصرف والبيع والإجارة، وغير ذلك من أبواب الفقه، وهذا أمر واضح جلي لمن يراجع كتب الفقه الإسلامي، وفي فترة لاحقة ظهرت دراسات لمسائل النقود على شكل فتاوى أو رسائل عندما كانت تقع واقعة متعلقة بهذه المسائل.

ففي القرن الخامس الهجري كما ذكر الونشريسي أنه قد حدث ببلنسية حين غيرت دراهم السكة التي كان ضربها القيسي وبلغت ستة دنانير بمثقال ونقلت إلى سكة أخرى كان صرفها ثلاثة دنانير للمثقال، فالتزم الحافظ ابن عبد البر السكة الأخيرة وأفتى أبو الوليد الباجي بأنه لا يلزم إلا السكة الجارية حين العقد (1).

وقال الونشريسي أيضاً: [سئل ابن الحاج (المتوفى 529هـ) عمن عليه دراهم فقطعت السكة فأجاب: أخبرني بعض أصحابنا أن ابن جابر

--------------------------------------------

(1) تغير قيمة العملة في الفقه الإسلامي، د. عجيل النشمي، بحث منشور في مجلة مجمع الفقه الإسلامي عدد 5 الجزء 3 ص 1620، وانظر المعيار المعرب 6/ 164.
ভূমিকা

অতীত ও বর্তমানে মুদ্রা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ নিয়ে ফকিহদের গবেষণার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ

 

ফকিহগণ মুদ্রা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রাচীনকাল থেকেই এই মাসআলাগুলোর বিষয়ে বিভিন্ন অভিমত ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। ফকিহগণ সুদ (রিবা), মুদ্রা বিনিময় (সারফ), ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা এবং ফিকহের অন্যান্য অধ্যায়ে মুদ্রা সংক্রান্ত বিষয়াদি আলোচনা করেছেন। যারা ইসলামি ফিকহের কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করেন, তাদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। পরবর্তী সময়ে, যখনই মুদ্রা সংক্রান্ত কোনো সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, তখন সে বিষয়ে ফতোয়া বা প্রবন্ধ আকারে গবেষণাধর্মী কাজ প্রকাশিত হয়েছে।

যেমনটি আল-ওয়ানশারিসি উল্লেখ করেছেন, হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে বালেন্সিয়ায় যখন কায়সি কর্তৃক প্রবর্তিত দিরহামের মুদ্রামান পরিবর্তিত হয়েছিল, তখন এর মান ছিল প্রতি মিসকালে ছয় দিনার। পরবর্তীতে যখন এটি অন্য মুদ্রায় স্থানান্তরিত হয়, তখন এর বিনিময় হার ছিল প্রতি মিসকালে তিন দিনার। এমতাবস্থায় হাফিজ (الحافظ) ইবনে আব্দুল বার সর্বশেষ প্রচলিত মুদ্রামান অনুসরণের পক্ষ নেন, পক্ষান্তরে আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি ফতোয়া প্রদান করেন যে, চুক্তিকালীন সময়ে যে মুদ্রা প্রচলিত ছিল কেবল সেটিই কার্যকর হবে (১)।

আল-ওয়ানশারিসি আরও বলেন: [ইবনুল হাজ (মৃত্যু ৫২৯ হি.)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার ওপর দিরহাম পরিশোধের দায় ছিল, কিন্তু সেই মুদ্রার প্রচলন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনি উত্তরে বললেন: আমাদের কিছু সাথী আমাকে জানিয়েছেন যে, ইবনে জাবির

--------------------------------------------

(১) ইসলামি ফিকহে মুদ্রার মানের পরিবর্তন, ড. আজিল আল-নাশমি, ইসলামিক ফিকহ একাডেমি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধ, সংখ্যা ৫, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬২০; আরও দেখুন: আল-মিয়ার আল-মু'রাব ৬/১৬৪।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
فقيه إشبيلية قال: نزلت هذه المسألة في قرطبة أيام نظري في الأحكام ومحمد بن عتاب حي ومن معه من الفقهاء فانقطعت سكة ابن جهور

(المتوفى 462هـ) بدخول ابن عباد (المتوفى 488هـ) سكة أخرى فأفتى الفقهاء أنه ليس لصاحب الدين إلا السكة القديمة، وأفتى ابن عتاب بأن يرجع في ذلك إلى قيمة السكة المقطوعة من الذهب ويأخذ صاحب الدين القيمة من الذهب. قال وأرسل إليَّ ابن عتاب فنهضت إليه فذكر المسألة وقال لي: الصواب فيها فتواي فاحكم بها ولا تخالفها أو نحو هذا من الكلام (1).

وفي القرن السابع الهجري قال الذهبي في تاريخه: في سنة إثنتين وثلاثين وستمئة أمر الخليفة المستنصر بضرب الدراهم الفضية ليتعامل بها بدلاً عن قراضة الذهب فجلس الوزير وأحضر الولاة والتجار والصيارفة وفرشت الأنطاع وأفرغ عليها الدراهم وقال الوزير: قد رسم مولانا أمير المؤمنين بمعاملتكم بهذه الدراهم عوضاً عن قراضة الذهب رفقاً بكم وإنقاذاً لكم من التعامل بالحرام من الصرف الربوي. فأعلنوا بالدعاء ثم أديرت بالعراق وسعرت كل عشرة بدينار. (2)

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق 1621، وانظر المعيار المعرب 6/ 163 - 164.

(2) قطع المجادلة عند تغيير المعاملة ص 103 - 104 ضمن المجلد الأول من الحاوي للفتاوي.
সেভিলের ফকিহ (فقيه) বলেন: এই বিষয়টি কর্ডোভাতে সেই সময়ে উত্থাপিত হয়েছিল যখন আমি বিচারিক বিধানসমূহ (أحكام) পর্যালোচনায় নিয়োজিত ছিলাম এবং মুহাম্মদ ইবনে আত্তাব ও তাঁর সমসাময়িক ফকিহগণ (فقهاء) জীবিত ছিলেন। ইবনে আব্বাদ (মৃত্যু: ৪৮৮ হিজরি) কর্তৃক অন্য মুদ্রা প্রবর্তনের ফলে ইবনে জাহওয়ার (মৃত্যু: ৪৬২ হিজরি) এর মুদ্রার (سكة) প্রচলন বন্ধ হয়ে যায়। তখন ফকিহগণ (فقهاء) ফতোয়া (أفتى) দিলেন যে, পাওনাদার কেবল পুরাতন মুদ্রা পাওয়ার অধিকারী হবেন। তবে ইবনে আত্তাব ফতোয়া (أفتى) দিলেন যে, এ ক্ষেত্রে প্রচলন রহিত হয়ে যাওয়া মুদ্রার সমপরিমাণ স্বর্ণের মূল্যের দিকে ফিরে যেতে হবে এবং পাওনাদার স্বর্ণের সেই মূল্য গ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, ইবনে আত্তাব আমার কাছে লোক পাঠালেন, ফলে আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বিষয়টি উল্লেখ করে আমাকে বললেন: "এই বিষয়ে আমার ফতোয়াটিই সঠিক (الصواب), অতএব আপনি এটি অনুসারেই ফয়সালা করুন এবং এর বিরোধিতা করবেন না" অথবা এই জাতীয় কোনো কথা বললেন। (১)

সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে আল-জাহাবি তাঁর ইতিহাসে বলেছেন: ৬৩২ হিজরি সনে খলিফা আল-মুসতানসির রৌপ্য দিরহাম তৈরির নির্দেশ দেন যাতে স্বর্ণের চূর্ণের পরিবর্তে এটি দিয়ে লেনদেন করা যায়। অতঃপর উজির বসলেন এবং গভর্নর, ব্যবসায়ী ও মুদ্রা বিনিময়কারীদের (صيارفة) উপস্থিত করলেন। চামড়ার দস্তরখান (أنطاع) বিছানো হলো এবং তার উপর দিরহামগুলো ঢেলে দেওয়া হলো। উজির বললেন: "আমাদের অভিভাবক আমিরুল মুমিনিন আপনাদের প্রতি সদয় হয়ে এবং সুদি (ربوي) বিনিময়ের (صرف) ন্যায় হারাম (حرام) লেনদেন থেকে আপনাদের বাঁচাতে স্বর্ণের চূর্ণের পরিবর্তে এই দিরহামগুলো দিয়ে লেনদেন করার নির্দেশ দিয়েছেন।" অতঃপর তারা উচ্চস্বরে দোয়া করলেন, এরপর এটি ইরাকে প্রচলিত হলো এবং প্রতি দশটি দিরহামের বিনিময় মূল্য এক দিনার নির্ধারণ করা হলো। (২)

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস ১৬২১; এবং দেখুন আল-মিয়ার আল-মুরাব ৬/ ১৬৩ - ১৬৪।

(২) ক্বাতউল মুজাদালাহ ইনদা তাগয়ীরিল মুয়ামালাহ, পৃ. ১০৩ - ১০৪, আল-হাভি লিল ফাতাভি-এর প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وكذلك فإن شيخ الإسلام ابن تيمية الذي عاش في أواخر القرن السابع والثلث الأول من القرن الثامن، قد أفتى في عدة قضايا متعلقة بالنقود، كما في مجموع الفتاوى: 29/ 251، 29/ 466، 29/ 469.

وذكر جلال الدين السيوطي أنه: [قد وقع في سنة إحدى وعشرين وثمانمائة عكس ما نحن فيه وهو عزة الفلوس وغلوها بعد كثرتها ورخصها، وتكلم في ذلك قاضي القضاة جلال الدين البلقيني كلاماً مختصراً فنسوقه ثم نتكلم بما وعدنا به، نقلت من خط شيخنا قاضي القضاة شيخ الإسلام علم الدين البلقيني رحمه الله، قال في فوائد الأخ شيخ الإسلام جلال الدين وتحريره ما قال اتفق في سنة إحدى وعشرين وثمانمائة عزة الفلوس بمصر وعلى الناس ديون في مصر من الفلوس وكان سعر الفضة قبل عزة الفلوس كل درهم بثمانية دراهم من الفلوس ثم صار بتسعة وكان الدينار الأفلوري بمائتين وستين درهماً من الفلوس، والهرجة بمائتين وثمانين والناصري بمائتين وعشرة وكان القنطار المصري ستمائة درهم فعزت الفلوس ونودي على الدرهم بسبعة دراهم وعلى الدينار بناقص خمسين فوقع السؤال عمن لم يجد فلوساً وقد طلب منه صاحب دينه الفلوس فلم يجدها فقال أعطني عوضاً عنها
অনুরূপভাবে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, যিনি সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগে এবং অষ্টম শতাব্দীর প্রথম এক-তৃতীয়াংশে জীবিত ছিলেন, মুদ্রাসংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করেছেন; যেমনটি মাজমুউল ফাতাওয়া-তে উল্লেখ রয়েছে: ২৯/ ২৫১, ২৯/ ৪৬৬, ২৯/ ৪৬৯।

জালালুদ্দীন সুয়ুতী উল্লেখ করেছেন যে: [আটশ একুশ হিজরি সালে আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির বিপরীত একটি ঘটনা ঘটেছিল, আর তা হলো—মুদ্রার (ফুলুস) প্রাচুর্য ও সস্তা হওয়ার পর সেটির দুষ্প্রাপ্যতা ও মূল্যবৃদ্ধি। এ বিষয়ে কাযিল কুযাত জালালুদ্দীন আল-বুলকিনী সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন, যা আমরা এখানে উদ্ধৃত করছি এবং এরপর আমাদের ওয়াদা অনুযায়ী তা নিয়ে আলোচনা করব। আমি আমাদের উস্তাদ কাযিল কুযাত শায়খুল ইসলাম আলামুদ্দীন আল-বুলকিনী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর স্বহস্তলিপি থেকে অনুলিপি করেছি; তিনি শায়খুল ইসলাম জালালুদ্দীনের 'ফাওয়াইদ' ও তাঁর লেখনীতে বলেছেন: আটশ একুশ হিজরি সালে মিশরে মুদ্রার (ফুলুস) সংকট দেখা দেয়, অথচ মিশরের মানুষের ওপর ফুলুস পরিশোধের ঋণ ছিল। মুদ্রার সংকট সৃষ্টির পূর্বে রৌপ্যমুদ্রার বিনিময় মূল্য ছিল প্রতি দিরহামের বিপরীতে আট দিরহাম সমপরিমাণ ফুলুস, যা পরবর্তীতে নয় দিরহামে উন্নীত হয়। আর আফলোরি দিনারের মূল্য ছিল দুইশ ষাট দিরহাম সমপরিমাণ ফুলুস, হারজাহ দিনারের মূল্য ছিল দুইশ আশি এবং নাসিরি দিনারের মূল্য ছিল দুইশ দশ। মিশরীয় ক্বিনতরের মূল্য ছিল ছয়শ দিরহাম। এরপর যখন মুদ্রার (ফুলুস) সংকট প্রকট হলো এবং ঘোষণা করা হলো যে দিরহামের মান সাত দিরহাম (ফুলুস) এবং দিনারের মান পঞ্চাশ কমিয়ে ধরা হলো, তখন প্রশ্ন উত্থাপিত হলো—যে ব্যক্তি মুদ্রা (ফুলুস) খুঁজে পাচ্ছে না অথচ তার পাওনাদার তার কাছে ফুলুস দাবি করছে এবং সে তা পাচ্ছে না, তখন সে (পাওনাদার) বলল: আমাকে এর পরিবর্তে বিনিময় প্রদান করো।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ذهباً أو فضة بسعر يوم المطالبة ما الذي يجب عليه؟] (1)، ثم ذكر السيوطي كلام جلال الدين البلقيني في المسألة. (2)

 

‌‌الرسائل المؤلفة في مسائل النقود:

ألف جماعة من أهل العلم رسائل خاصة في مسائل النقود منها:

1. رسالة أحمد بن محمد بن عماد بن علي الشهير بابن الهائم المتوفى سنة 815 هـ وعنوان رسالته " نزهة النفوس في ببيان حكم التعامل بالفلوس " وهي مطبوعة، وهي أقدم ما اطلعت عليه من الرسائل المتخصصة في المسألة، وقد ذكر ابن الهائم في مقدمة رسالته سبب تأليفه لها فقال:

[فإن لله جلّ ثناؤه عليَّ نعماً مترادفة ومنناً متضاعفة لا يحيط بالفرد منها حدّ، ولا يحصي جملتها عدّ، فمنها أن الله يسر لي الإقامة بالقدس الشريف، ووفقني لمجاورة مسجده المنيف، وكان ابتداؤها في سنة إحدى وتسعين وسبعمائة، وكان التعامل إذ ذاك بالقدس الشريف بالفلوس العددية واقعاً، وكانت نوعاً واحداً، كل ثمانين فلساً منها بدرهم، وكل حبة خمسة أفلس، لأن الحبة عبارة عن نصف ثمن الدرهم في هذه البلاد، بخلاف ما في بلدنا حينئذ في مصر حماها الله تعالى، فإنها عبارة فيه عن

ثلث قيراط، وما كانت الفلوس رائجةً رواج النقود لعدم التعامل بها في

--------------------------------------------

(1) قطع المجادلة عند تغيير المعاملة ص 95 - 96، ضمن المجلد الأول من الحاوي للفتاوي.

(2) المصدر السابق ص 96.
[স্বর্ণ অথবা রূপা পরিশোধের দিনের বাজার দর অনুযায়ী, এমতাবস্থায় তার ওপর কী আবশ্যক হবে?] (১), এরপর সুয়ূতী এই বিষয়ে জালালুদ্দীন আল-বুলকীনীর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। (২)

 

‌‌মুদ্রা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে রচিত রিসালাসমূহ:

একদল আলেম মুদ্রা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে বিশেষ কিছু রিসালা (পুস্তিকা) রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইমাদ ইবনে আলী—যিনি ইবনুল হাইম (মৃত্যু ৮১৫ হি.) নামে সমধিক পরিচিত—এর রিসালা। তার রিসালার শিরোনাম হলো "নুযহাতুন নুফুস ফি বায়ানি হুকমিত তা'আমুলি বিল ফুলুস"। এটি মুদ্রিত হয়েছে এবং এই বিষয়ে আমার দেখা এটিই প্রাচীনতম বিশেষায়িত রিসালা। ইবনুল হাইম তার রিসালার ভূমিকায় এটি রচনার কারণ উল্লেখ করে বলেছেন:

[নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর অসংখ্য প্রশংসা, তাঁর পক্ষ থেকে আমার ওপর রয়েছে একের পর এক অফুরন্ত নিয়ামত এবং বহুগুণ অনুগ্রহ, যার কোনো একটিরও সীমা নেই এবং সামগ্রিকভাবে যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। সেসব নিয়ামতের অন্যতম হলো, আল্লাহ তাআলা আমার জন্য পবিত্র কুদসে (জেরুজালেম) অবস্থান করা সহজ করে দিয়েছেন এবং তাঁর সুউচ্চ মসজিদের প্রতিবেশী হওয়ার তাওফিক দান করেছেন। এর সূচনা হয়েছিল সাতশ একানব্বই হিজরি সালে। সেই সময়ে পবিত্র কুদসে সংখ্যাভিত্তিক ক্ষুদ্র মুদ্রা (ফুলুস) দ্বারা লেনদেন প্রচলিত ছিল এবং তা ছিল এক প্রকারের; যেখানে প্রতি আশি ফুলুসে এক দিরহাম হতো এবং প্রতিটি হাব্বা ছিল পাঁচটি ফুলুসের সমান। কারণ এই জনপদে হাব্বা বলতে দিরহামের এক-অষ্টমাংশের অর্ধেক বোঝাত, যা তৎকালীন সময়ে আমাদের দেশ মিসরে—আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন—প্রচলিত নিয়মের বিপরীত ছিল। সেখানে হাব্বা বলতে বোঝাত

এক কিরাতের এক-তৃতীয়াংশ। আর তখন এই ফুলুসগুলো সাধারণ মুদ্রার মতো অতটা প্রচলিত ছিল না, কারণ এতে লেনদেনের হার ছিল কম...

--------------------------------------------

(১) কাতউল মুজাদালাহ ইনদা তাগয়ীরিল মুআমালাহ, পৃষ্ঠা ৯৫-৯৬, যা আল-হাবি লিল ফাতাওয়া-এর প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৯৬।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
شراء عقار ونحوه، ثم غيرَّها بعض نواب القدس الشريف، فجعل الحبة ستة أفلس، والدرهم ستة وتسعين فلساً فرخصت قيمتها، ونقص عدد الدرهم خمسة، ثم دخلت الفلوس المصرية العددية القدس الشريف المعبر عنها بالجدد، وكانت إذ ذاك كل أربعة وعشرين فلساً بدرهم وما زال التعامل بها بمصر حين ضربت إلى الآن على هذا الحساب، كل فلس بقيراط من الدرهم، وصار التعامل في القدس بالنوعين، ثم راجت الجدد على العتق رواجاً كبيراً، ثم إن بعض النواب غيَّر العتق فجعل الحبة ثمانية أفلس، والدرهم مائة وثمانية وعشرين فلساً، فنقص عدد الدرهم ربعه، ثم راجت الجدد رواجاً عظيماً وزادت في الرواج حتى كاد الناس لا يتعاملون بغيره، ولم يتعامل الناس بالدراهم ولا بالفلوس العتق إلا نادراً، وصار الشهود يثبتون في الوثائق من الدراهم بالفلوس الجدد الرائجة يومئذٍ، كذا واستمر الحال على ذلك إلى أواخر ذي القعدة سنة ثلاث وثمانمئة، وهي السنة التي حلَّ فيها بحلب ودمشق وضواحيها في حينها ما حلَّ، التي وافق عددها أعداد أحرف خراب، فغيَّر بعض النواب عدد الجدد، وجعل الحبة فلسين، والثمن أربعة، والدرهم اثنين وثلاثين فلساً على نسبة الربع من عدد العتق فنقص الدرهم أيضاً ربعه، ومن هناك اضطرب الناس في معاملاتهم اضطراباً شديداً، وكثر الاستفتاء والسؤال في البيوع والإجارات والقروض وغيرها، في أن البائع مثلاً إذا باع بعدد منها ولم

يقبضه فهل يلزم المشتري دفع الثمن بحساب ما كانت حال العقد أو
স্থাবর সম্পত্তি বা অনুরূপ কিছু ক্রয় করা; অতঃপর আল-কুদ্স আল-শরীফের কিছু প্রতিনিধি এতে পরিবর্তন আনেন এবং এক হাব্বাকে ছয় ফালস ও এক দিরহামকে ছিয়ানব্বই ফালস নির্ধারণ করেন, ফলে এর বিনিময় মূল্য হ্রাস পায় এবং দিরহামের সংখ্যাগত মান পাঁচ ভাগ কমে যায়। পরবর্তীতে আল-কুদ্স আল-শরীফে 'জুদুদ' নামে পরিচিত গণনাযোগ্য মিশরীয় ফালসগুলোর প্রচলন ঘটে; তখন চব্বিশ ফালসে এক দিরহাম গণ্য হতো এবং মিশরে এগুলো তৈরির সময় থেকে আজ অবধি এই হিসেবেই লেনদেন প্রচলিত রয়েছে যে, প্রতিটি ফালস দিরহামের এক কিরাত সমপরিমাণ। কুদ্সে উভয় প্রকার মুদ্রার মাধ্যমেই কারবার চলত, তবে পুরনো মুদ্রার তুলনায় নতুনগুলোর ব্যাপক প্রসার ঘটে। এরপর জনৈক প্রতিনিধি পুরনো মুদ্রার মানে পরিবর্তন করে এক হাব্বাকে আট ফালস ও এক দিরহামকে একশত আটাশ ফালস নির্ধারণ করেন, যার ফলে দিরহামের সংখ্যাগত মান এক-চতুর্থাংশ হ্রাস পায়। অতঃপর নতুন মুদ্রার প্রচলন এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, মানুষ প্রায় তা দিয়েই সমস্ত লেনদেন সম্পন্ন করত এবং দিরহাম বা পুরনো ফালসের ব্যবহার বিরল হয়ে পড়ে। এমনকি তৎকালীন সাক্ষীরা দলিলাদিতে দিরহামের বিবরণ সেই সময়ে প্রচলিত নতুন ফালসের মাধ্যমেই লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেন। ৮০৩ হিজরি সালের জিলকদ মাসের শেষভাগ পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকে; এটি সেই বছর যখন আলেপ্পো ও দামেস্ক এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে, যে বছরের সংখ্যাতাত্ত্বিক মান 'খারাব' শব্দের অক্ষরগুলোর সমষ্টির সাথে মিলে যায়। এমতাবস্থায় কিছু প্রতিনিধি নতুন মুদ্রার মানে পরিবর্তন করেন এবং এক হাব্বাকে দুই ফালস, এক সুমুনকে চার ফালস এবং এক দিরহামকে পুরনো মুদ্রার চার ভাগের এক ভাগ অনুপাতে বত্রিশ ফালস নির্ধারণ করেন; ফলে দিরহামের মান পুনরায় এক-চতুর্থাংশ কমে যায়। সেখান থেকেই মানুষের পারস্পরিক লেনদেনে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, ঋণ ও অন্যান্য কারবার সংক্রান্ত বিষয়ে ফতোয়া ও জিজ্ঞাসার আধিক্য ঘটে; যেমন কোনো বিক্রেতা যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক মুদ্রার বিনিময়ে পণ্য বিক্রয় করে থাকে কিন্তু তা

হস্তগত না করে থাকে, তবে ক্রেতার পক্ষে কি চুক্তিকালীন হার অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করা আবশ্যক হবে নাকি...
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
بحساب ما صارت إليه الآن بعد مناداة نائب السلطان عليها فإن كل أربعة ثمن، وكذلك القرض وغيره؟

فتوقفت في الجواب كثيراً وتطلبته طمعاً في أن يكون مسطوراً فلم أظفر فيها بنقل لأحد من الأصحاب، لكني ظفرت بما يدل على أن المعتبر ما كان التعامل به حين العقد، وهو ما سأذكره إن شاء الله تعالى، وهو الذي يقتضيه النظر فلم يثلج صدري لذلك طمعاً في العثور على نقل في المسألة بعينها، فراجعت في ذلك صاحبنا شيخ الشافعية بالبلاد النظامية الشيخ الإمام العلامة أبا عبد الله شمس الدين محمد القرقشندي، فسح الله في مدته، فأخبرني أنه تتبع النقل في المسألة فلم يظفر به فيها بعينها، وأن الذي ظهر له، هو أن المعتبر ما كان التعامل به حين العقد، كما ظهر لي، وأن مستنده في ذلك ما ظهر لي أنه المستند، وأخبرني أيضاً أنه أفتى بذلك فقوي الظن بتوافق النظرين، ثم ازداد قوة بأنه هو الذي نص عليه الإمام مالك في المسألة بعينها، وأنه مذهب الحنفية والحنابلة، ولما رأيت هذه الحادثة مما عمَّ به البلوى وكثر عنها السؤال، ولم أظفر لأحد من أصحابنا فيها بمقال، سنح لي أن أصنع فيها تصنيفاً، أذكر فيه المستند وأبين أن ما أفتينا به هو المعتمد، وأزيد مقاماته تحريراً، وأوضح منتجاته

تقريراً، بحيث إذا تأمله ذو الإنصاف يكاد يقطع بأنه لا يتجه فيه خلاف، فشرعت فيه بعد الاستشارة وبعد تأكيده بالاستخارة]. (1)

--------------------------------------------

(1) نزهة النفوس في بيان حكم التعامل بالفلوس ص 140 - 141.
সুলতানের প্রতিনিধির ঘোষণার পর বর্তমানে এর যে মান দাঁড়িয়েছে—অর্থাৎ প্রতি চার এক-অষ্টমাংশ (ثمن)—সেই হিসেবে কি ঋণ এবং অন্যান্য লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে?

আমি এই উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সময় নিয়েছি এবং কোনো লিখিত দলিল পাওয়ার আশায় তা অনুসন্ধান করেছি। কিন্তু আমাদের মাজহাবের অনুসারীদের কারো কাছ থেকে এ বিষয়ে আমি কোনো সরাসরি বর্ণনা (نقل) খুঁজে পাইনি। তবে আমি এমন কিছু প্রমাণ পেয়েছি যা নির্দেশ করে যে, চুক্তির সময় যে লেনদেন প্রচলিত ছিল সেটিই ধর্তব্য (معتبر)। ইনশাআল্লাহ আমি তা অচিরেই উল্লেখ করব। যৌক্তিক বিচারেও এটিই সঠিক মনে হয়। তবে নির্দিষ্ট এই মাসআলাটিতে সরাসরি কোনো বর্ণনা না পাওয়ায় আমার অন্তর পুরোপুরি প্রশান্ত হতে পারছিল না। তাই আমি নিজামিয়া অঞ্চলের শাফেয়ি শায়খ, ইমাম আল্লামা আবু আবদুল্লাহ শামসউদ্দীন মুহাম্মদ আল-কারকাশান্দি—আল্লাহ তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন—এর সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করি। তিনি আমাকে জানান যে, তিনিও এই মাসআলাটি নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন কিন্তু সরাসরি কোনো উদ্ধৃতি পাননি। তাঁর কাছেও এটিই প্রতীয়মান হয়েছে যে, চুক্তির সময়কার প্রচলিত লেনদেনই ধর্তব্য (معتبر), যেমনটি আমার কাছেও স্পষ্ট হয়েছিল। আমার কাছে যে বিষয়টি দলিল (مستند) হিসেবে স্পষ্ট হয়েছিল, তাঁর কাছেও সেটিই ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়েছে। তিনি আমাকে আরও জানালেন যে, তিনি এই মর্মে ফতোয়া (أفتى) দিয়েছেন। এতে দুই চিন্তাধারার ঐকমত্য দেখে আমার ধারণা আরও প্রবল হলো। পরবর্তীতে এটি আরও সুদৃঢ় হয় যখন জানতে পারি যে, ইমাম মালিক স্বয়ং এই নির্দিষ্ট মাসআলায় অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং এটিই হানাফি ও হাম্বলি মাজহাবের অভিমত। আমি যখন দেখলাম যে, এই বিষয়টি এমন এক সমস্যায় পরিণত হয়েছে যা সর্বসাধারণকে আক্রান্ত করেছে (عموم البلوى) এবং এর ব্যাপারে জিজ্ঞাসার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ আমাদের মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যে কারো সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য আমি খুঁজে পাইনি; তখন আমার মনে উদয় হলো যে, এই বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করি। সেখানে আমি এর ভিত্তি (مستند) উল্লেখ করব এবং ব্যাখ্যা করব যে আমরা যে ফতোয়া দিয়েছি সেটিই নির্ভরযোগ্য (معتمد)। আমি এর পর্যায়গুলোকে আরও সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করব এবং এর সিদ্ধান্তসমূহকে এমনভাবে উপস্থাপন করব

যাতে কোনো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি তা পর্যবেক্ষণ করলে প্রায় নিশ্চিতভাবেই বুঝতে পারেন যে, এতে ভিন্ন কোনো মতের অবকাশ নেই। অতঃপর পরামর্শ এবং ইস্তিখারার (استخارة) মাধ্যমে বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়ে আমি এটি রচনার কাজ শুরু করি। (১)

--------------------------------------------

(১) নুজহাতুন নুফুস ফি বায়ানি হুকমিত তা’আমুলি বিল ফুলুস, পৃষ্ঠা ১৪০ - ১৪১।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
2. رسالة " قطع المجادلة عند تغيير المعاملة " لجلال الدين السيوطي المتوفى سنة 911 هـ وهي مطبوعة ضمن الحاوي للفتاوي له، وذكر في أولها سبب تأليفها فقال: [فقد كثر السؤال عما وقع كثيراً في هذه الأزمان، وهو اختلاف الخصوم في المطالبة بعد المناداة على الفلوس، كل رطل بثلاثين درهماً، بعد أن كانت ستة وثلاثين، وهل يطالب من عليه الدين بقيمته يوم اللزوم أو يوم المطالبة؟ وهل يأخذ من الفلوس الجدد المتعامل بها عدداً بالوزن أو بالعدد؟ فرأيت أن أنظر في ذلك وفي جميع فروعه تخريجاً على القواعد الفقهية، وكذا لو نودي على الذهب أو الفضة]. (1)

3. رسالة " بذل المجهود في تحرير أسئلة تغير النقود " لمحمد بن عبد الله التمرتاشي المتوفى سنة 1004 هـ، وهي الرسالة محل التحقيق والتعليق وسيأتي الكلام عليها مفصلاً.

4. رسالة " في تراجع سعر النقود بالأمر السلطاني " لعبد القادر الحسيني ألفها سنة 1216 هـ وهي مطبوعة بتحقيق د. نزيه حماد وقد

رجح أنها أُلفت قبل رسالة ابن عابدين حيث إن الحسيني متقدم في العمر والطبقة على ابن عابدين. (2)

--------------------------------------------

(1) قطع المجادلة عند تغيير المعاملة ص 95.

(2) انظر " تغير قيمة العملة عند الفقهاء " د. عجيل النشمي بحث منشور في مجلة مجمع الفقه الإسلامي عدد 5 الجزء 3 ص 1623.
2. জালালুদ্দিন আল-সুয়ূতী (ইন্তেকাল ৯১১ হিজরী)-এর রিসালাহ "ক্বতউল মুজাদালাহ ইনদা তাগয়িরিল মুআমালাহ", যা তাঁর "আল-হাওয়ি লিল ফাতাওয়া"-র অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত। তিনি এর শুরুতে এটি রচনার কারণ উল্লেখ করে বলেন: [বর্তমান সময়ে যা অধিক হারে ঘটছে সে সম্পর্কে প্রচুর জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, আর তা হলো—ফুলুস (তাম্রমুদ্রা)-এর বিনিময় হার ঘোষণার পর পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে বিবাদীদের মতবিরোধ; যেখানে প্রতি রতল পূর্বে ছত্রিশ দিরহাম থাকলেও বর্তমানে তা ত্রিশ দিরহাম হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় যার ওপর ঋণ রয়েছে, সে কি ঋণ সাব্যস্ত হওয়ার দিনের মূল্য পরিশোধ করবে নাকি পাওনা দাবির দিনের মূল্য? আর প্রচলিত নতুন মুদ্রার ক্ষেত্রে সে কি ওজনে গ্রহণ করবে নাকি সংখ্যায়? আমি ফিকহী মূলনীতিসমূহের আলোকে বিষয়টি এবং এর সকল শাখা-প্রশাখা নিয়ে তখরিজ (تخريج) করার সিদ্ধান্ত নিলাম; তেমনিভাবে যদি সোনা বা রুপার দাম ঘোষণার মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়, তবে তার বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত করেছি]। (1)

3. মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তিমিরতাশী (ইন্তেকাল ১০০৪ হিজরী)-এর রিসালাহ "বাযলুল মাজহুদ ফি তাহরারি আসইলাতি তাগয়িরিন নুকুউদ"। এটিই বর্তমান তাহকিক (تحقيق) ও তালিক (تعليق)-এর মূল বিষয়বস্তু এবং এর ওপর বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

4. আব্দুল কাদির আল-হুসাইনি রচিত রিসালাহ "ফি তরাজুয়ি সিরিন নুকুউদ বিল আমরিস সুলতানি", যা তিনি ১২১৬ হিজরীতে রচনা করেছেন। এটি ড. নাজিহ হাম্মাদ-এর তাহকিকে (تحقيق) মুদ্রিত হয়েছে। তিনি এটি অগ্রাধিকার (ترجيح) দিয়েছেন যে, এটি ইবনে আবিদিন-এর রিসালাহর পূর্বে রচিত হয়েছে; কারণ আল-হুসাইনি বয়সে এবং স্তরে (طبقة) ইবনে আবিদিন-এর অগ্রবর্তী। (2)

--------------------------------------------

(1) ক্বতউল মুজাদালাহ ইনদা তাগয়িরিল মুআমালাহ, পৃষ্ঠা ৯৫।

(2) দেখুন "তাগায়্যুর কিমাতিল উমলাহ ইনদাল ফুক্বাহা", ড. আজিল আন-নাশমি; মাজাল্লাতু মাজমাউল ফিকহিল ইসলামি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ, সংখ্যা ৫, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬২৩।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ২০)
5. رسالة " تنبيه الرقود على مسائل النقود " لمحمد أمين المشهور بابن عابدين المتوفى سنة 1252 هـ، ذكر أنه ألفها سنة 1230 هـ. (1)

قال ابن عابدين في أولها: [هذه رسالة سميتها " تنبيه الرقود على مسائل النقود " من رخص وغلاء وكساد وانقطاع، جمعت فيها ما وقفت عليه من كلام أئمتنا ذوي الارتقاء والارتفاع ضاماً إلى ذلك ما يستحسنه ذوو الإصغاء والاستماع … ]. (2)

وقد ضمَّن ابن عابدين رسالته معظم كلام التمرتاشي في " بذل المجهود في تحرير أسئلة تغيير النقود " واعترض عليه في بعض المسائل، وحرر مذهب الحنفية تحريراً جيداً، وبيّن ما عليه الفتوى في مسائل النقود، والرسالة مطبوعة ضمن مجموعة رسائل ابن عابدين في المجلد الثاني.

6. رسالة " إمتاع الأحداق والنفوس بمطالعة أحكام الفلوس " للشيخ ألفا هاشم الفوتي.

ذكرها د. محمد الأشقر في بحثه " النقود وتقلب قيمة العمله " (3)، ولم أقف بعد البحث على أي شيء يتعلق بها أو بمؤلفها.

--------------------------------------------

(1) تنبيه الرقود على مسائل الرقود ص 65.

(2) المصدر السابق ص 56.

(3) مجلة مجمع الفقه الإسلامي عدد 5 الجزء 3 ص 1681.
5. মুহাম্মদ আমিন, যিনি ইবনে আবিদিন নামে পরিচিত (মৃত্যু ১২৫২ হিজরি), তাঁর পুস্তিকা (رسالة) "তানবিহুর রুকুুদ আলা মাসায়িলিন নুকুদ"; তিনি উল্লেখ করেছেন যে এটি ১২৩০ হিজরিতে রচনা করেছেন। (১)

ইবনে আবিদিন এর শুরুতে বলেছেন: [এটি একটি পুস্তিকা (رسالة) যার নাম আমি রেখেছি "তানবিহুর রুকুুদ আলা মাসায়িলিন নুকুদ", যা মুদ্রার সস্তাত্ব, উচ্চমূল্য, মন্দা এবং প্রচলন রহিত হওয়া সংক্রান্ত। এতে আমি আমাদের সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ইমামগণের (أئمة) এমন সব বক্তব্য সংগ্রহ করেছি যা আমি অবগত হয়েছি, এবং এর সাথে এমন বিষয়গুলো যুক্ত করেছি যা মনোযোগী শ্রোতাদের নিকট পছন্দনীয় হবে … ]। (২)

ইবনে আবিদিন তাঁর পুস্তিকায় (رسالة) তিমরতাসি-র "বাযলুল মাজহুদ ফি তাহরিরি আসইলাতি তাগয়িরিন নুকুদ" গ্রন্থের অধিকাংশ বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং কিছু মাসআলায় (مسائل) তাঁর ওপর আপত্তি (اعتراض) উত্থাপন করেছেন। তিনি হানাফি মাযহাবকে (مذهب) চমৎকারভাবে বিশ্লেষণ করেছেন এবং মুদ্রা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে (مسائل) ফতোয়া (فتوى) কোনটির ওপর তা স্পষ্ট করেছেন। পুস্তিকাটি (رسالة) মাজমুআতু রাসায়িলি ইবনি আবিদিন-এর দ্বিতীয় খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

6. শেখ আলফা হাশিম আল-ফুতি-র পুস্তিকা (رسالة) "ইমতাউল আহদাকি ওয়ান নুফুস বি মুতালাআতি আহকামিল ফুলুস"।

ড. মুহাম্মদ আশকার তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ "আন-নুকুদ ওয়া তাকাল্লুবু কিমাতিল উমলাহ"-তে (৩) এটি উল্লেখ করেছেন। তবে অনুসন্ধানের পর আমি এই গ্রন্থ বা এর লেখক সংক্রান্ত কোনো তথ্যের হদিস পাইনি।

--------------------------------------------

(১) তানবিহুর রুকুুদ আলা মাসায়িলিন নুকুদ, পৃষ্ঠা ৬৫।

(২) প্রাগুক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৫৬।

(৩) মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামি, সংখ্যা ৫, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬৮১।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الدراسات المعاصرة لمسائل النقود:

بحث كثير من العلماء والباحثين المعاصرين المسائل المتعلقة بالنقود بشكل عام ومسألة تغير قيمة العملة وأثر ذلك على الالتزامات بشكل خاص، ومن هذه الدراسات ما يلي:

7. " تغيرات النقود والأحكام المتعلقة بها في الفقه الإسلامي " د. نزيه حماد.

8. " أحكام أوراق النقود والعملات " القاضي محمد تقي العثماني.

9. " أحكام النقود الورقية وتغير قيمة العملة " الشيخ محمد علي عبد الله.

10. رسالة " فواتح الإشراق في أحكام نقود الأوراق وتغير قيمة العملة بإطلاق " د. محمد عبد اللطيف الفرفور.

11. " أحكام النقود الورقية " د. أبو بكر دكوري.

12. " أحكام النقود الورقية وتغير قيمة العملة في نظر الشريعة الإسلامية " الشيخ محمد عبده عمر.

13. " تغير قيمة العملة " د. علي أحمد السالوس.

14. " أحكام النقود الورقية وتغير قيمة العمله " الشيخ عبد الله بن الشيخ المحفوظ بن بيَّه. (1)

--------------------------------------------

(1) البحوث من 7 - 14 منشورة في مجلة مجمع الفقه الإسلامي عدد 3 الجزء 3.
মুদ্রা সংক্রান্ত বিষয়াবলির সমসাময়িক গবেষণা:

অনেক সমসাময়িক আলেম ও গবেষক সাধারণভাবে মুদ্রা সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং বিশেষ করে মুদ্রার মানের পরিবর্তন ও দায়বদ্ধতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন। এসব গবেষণার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

৭. "ইসলামী ফিকহে মুদ্রার পরিবর্তন ও এ সংক্রান্ত বিধান" - ড. নাজিহ হাম্মাদ।

৮. "কাগজি মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রার বিধান" - বিচারপতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী।

৯. "কাগজি মুদ্রার বিধান ও মুদ্রার মানের পরিবর্তন" - শায়খ মুহাম্মদ আলী আবদুল্লাহ।

১০. "ফাওয়াইহুল ইশরাক ফি আহকামিন নুকুদি ওয়াল আওরাক ওয়া তাগাইয়ুরি কিমাতিল উমলাতি বি ইতলাক" (কাগজি মুদ্রার বিধান ও মুদ্রার মানের নিরঙ্কুশ পরিবর্তন সংক্রান্ত গবেষণা প্রবন্ধ) - ড. মুহাম্মদ আবদুল লতিফ আল-ফারফুর।

১১. "কাগজি মুদ্রার বিধান" - ড. আবু বকর দোকোরি।

১২. "ইসলামী শরিয়ার দৃষ্টিতে কাগজি মুদ্রার বিধান ও মুদ্রার মানের পরিবর্তন" - শায়খ মুহাম্মদ আবদু ওমর।

১৩. "মুদ্রার মানের পরিবর্তন" - ড. আলী আহমদ আল-সালুস।

১৪. "কাগজি মুদ্রার বিধান ও মুদ্রার মানের পরিবর্তন" - শায়খ আবদুল্লাহ বিন শায়খ আল-মাহফুজ বিন বায়্যাহ। (১)

--------------------------------------------

(১) ৭ থেকে ১৪ নম্বর পর্যন্ত গবেষণাগুলো 'মাজাল্লাতু মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী' (ইসলামী ফিকহ একাডেমি পত্রিকা), সংখ্যা ৩, খণ্ড ৩-এ প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ২২)
15. " تغير قيمة العملة في الفقه الإسلامي " د. عجيل جاسم النشمي.

16. " النقود وتقلب قيمة العملة " د. محمد سليمان الأشقر.

17. " تغير قيمة العملة " د. يوسف محمود قاسم.

18. " أثر تغير قيمة النقود في الحقوق والالتزامات "

د. علي أحمد السالوس.

19. " تغير العملة الورقية " د. محمد عبد اللطيف الفرفور.

20. " تذبذب قيمة النقود الورقية وأثره على الحقوق والالتزامات على ضوء قواعد الفقه الإسلامي " د. علي محي الدين القره داغي.

21. " تغير قيمة العملة " الشيخ محمد علي التسخيري.

22. " موقف الشريعة الإسلامية من ربط الحقوق والالتزامات المؤجلة بمستوى الأسعار " الشيخ عبد الله بن سليمان المنيع.

23. " مسألة تغير قيمة العملة وربطها بقائمة الاسعار " د. محمد تقي العثماني.

24. " المعاملات الإسلامية وتغير قيمة العملة قيمةً وعيناً " الشيخ محمد الحاج الناصر.

25. " تغير قيمة العملة " الشيخ محمد علي عبد الله.
15. "ইসলামি ফিকহে মুদ্রার মানের পরিবর্তন" ড. আজিল জাসিম আল-নাশমি।

16. "মুদ্রা এবং মুদ্রার মানের অস্থিরতা" ড. মুহাম্মদ সুলাইমান আল-আশকার।

17. "মুদ্রার মানের পরিবর্তন" ড. ইউসুফ মাহমুদ কাসিম।

18. "অধিকার ও দায়বদ্ধতার ওপর অর্থের মান পরিবর্তনের প্রভাব"

ড. আলী আহমদ আল-সালুস।

19. "কাগুজে মুদ্রার পরিবর্তন" ড. মুহাম্মদ আবদুল লতিফ আল-ফারফুর।

20. "কাগুজে মুদ্রার মানের অস্থিরতা এবং ইসলামি ফিকহের মূলনীতির আলোকে অধিকার ও দায়বদ্ধতার ওপর এর প্রভাব" ড. আলী মহিউদ্দিন আল-কারাদাগি।

21. "মুদ্রার মানের পরিবর্তন" শায়খ মুহাম্মদ আলী আল-তাসখিরি।

22. "বিলম্বিত অধিকার ও দায়বদ্ধতাকে মূল্যস্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট করার ব্যাপারে ইসলামি শরিয়তের অবস্থান" শায়খ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানি।

23. "মুদ্রার মান পরিবর্তনের মাসআলা এবং দ্রব্যমূল্যের তালিকার সাথে তার সংশ্লিষ্টতা" ড. মুহাম্মদ তাকি উসমানি।

24. "ইসলামি লেনদেন এবং মান ও বস্তুগত দিক থেকে মুদ্রার মানের পরিবর্তন" শায়খ মুহাম্মদ আল-হাজ আল-নাসির।

25. "মুদ্রার মানের পরিবর্তন" শায়খ মুহাম্মদ আলী আবদুল্লাহ।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
26. " تغير قيمة العملة والأحكام المتعلقة بها في فقه الشريعة الإسلامية " الشيخ محمد عبده عمر. (1)

 

‌‌كتب حديثة بحثت مسائل النقود خاصة:

27. " أحكام صرف النقود والعملات في الفقه الإسلامي " د. عباس أحمد الباز، رسالة ماجستير.

28. " الأوراق النقدية في الاقتصاد الإسلامي قيمتها وأحكامها "

د. أحمد حسن، رسالة دكتوراة.

29. " آثار التغيرات في قيمة النقود وكيفية معالجتها في الاقتصاد الإسلامي " موسى آدم عيسى، رسالة ماجستير.

30. " النقود وظائفها الأساسية وأحكامها الشرعية " علاء الدين الزعتري، رسالة ماجستير.

31. " النقود الإئتمانية دورها وآثارها في اقتصاد إسلامي " إبراهيم بن صالح العمر، رسالة ماجستير.

32. " أثر انهيار قيمة الأوراق النقدية على المهور " الشيخ فيصل المولوي.

33. " أحكام تغير قيمة العملة النقدية وأثرها في تسديد القرض " مضر نزار العاني، رسالة ماجستير.

--------------------------------------------

(1) البحوث من 15 - 26 منشورة في مجلة مجمع الفقه الإسلامي عدد 5 الجزء 3.
২৬. "ইসলামি শরীয়াহর ফিকহে মুদ্রার মানের পরিবর্তন ও এ সংক্রান্ত বিধানসমূহ" শেখ মুহাম্মদ আবদু ওমর। (১)

 

‌‌মুদ্রা সংক্রান্ত বিষয়াবলি নিয়ে বিশেষভাবে রচিত আধুনিক গ্রন্থসমূহ:

২৭. "ইসলামি ফিকহে অর্থ ও মুদ্রা বিনিময়ের বিধানসমূহ" ড. আব্বাস আহমদ আল-বাজ, মাস্টার্স থিসিস।

২৮. "ইসলামি অর্থনীতিতে কাগুজে মুদ্রা: এর মান ও বিধানসমূহ"

ড. আহমদ হাসান, ডক্টরেট থিসিস।

২৯. "মুদ্রার মানের পরিবর্তনের প্রভাব এবং ইসলামি অর্থনীতিতে তা নিরসনের পদ্ধতি" মুসা আদম ঈসা, মাস্টার্স থিসিস।

৩০. "মুদ্রা: এর মৌলিক কার্যাবলি ও শরয়ী বিধানসমূহ" আলাউদ্দীন আয-যা’তারী, মাস্টার্স থিসিস।

৩১. "ক্রেডিট মানি (ঋণপত্র মুদ্রা): ইসলামি অর্থনীতিতে এর ভূমিকা ও প্রভাব" ইব্রাহিম বিন সালেহ আল-উমর, মাস্টার্স থিসিস।

৩২. "মোহরানার ওপর কাগুজে মুদ্রার মান হ্রাসের প্রভাব" শেখ ফয়সাল আল-মওলভি।

৩৩. "মুদ্রার মানের পরিবর্তনের বিধান এবং ঋণ পরিশোধে এর প্রভাব" মুদার নিযার আল-আনী, মাস্টার্স থিসিস।

--------------------------------------------

(১) ১৫ থেকে ২৬ নম্বর গবেষণা প্রবন্ধগুলো ইসলামি ফিকহ একাডেমি সাময়িকীর ৫ নম্বর সংখ্যার ৩য় খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
34. " الورق النقدي " الشيخ عبد الله بن سليمان بن المنيع، رسالة ماجستير.

35. " أحكام الأوراق النقدية والتجارية في الفقه الإسلامي " ستر بن ثواب الجعيد، رسالة ماجستير.

36. " تطور النقود في الشريعة الإسلامية " د. أحمد حسين أحمد الحسيني، رسالة دكتوارة.

37. " أحكام النقود في الشريعة الإسلامية " جبر محمد سلامه.

38. " النقود واستبدال العملات " د. علي أحمد السالوس.

39. " الإسلام والنقود " د. رفيق المصري.

 

‌‌كتب حديثة أخرى تعرضت لمسألة تغير قيمة العملة:

40. " نحو نظام نقدي عادل " د. محمد عمر شابرا.

42. " توضيح أوجه اختلاف الأقوال في مسائل معاملات الأموال " الشيخ عبد الله بن بيَّه.

43. " قاعدة المثلي والقيمي في الفقه الإسلامي " د. علي محي الدين القره داغي.

44. " السياسة النقدية والمصرفية في الإسلام " د. عدنان التركماني

وغير ذلك من الكتب والأبحاث.
34. "কাগজের মুদ্রা" শায়খ আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আল-মানী, মাস্টার্স থিসিস।

35. "ইসলামী ফিকহে কাগজের মুদ্রা ও বাণিজ্যিক দলিলের বিধান" সাতার বিন সাওয়াব আল-জুয়াইদ, মাস্টার্স থিসিস।

36. "ইসলামী শরীআতে মুদ্রার বিবর্তন" ড. আহমদ হুসাইন আহমদ আল-হুসাইনী, পিএইচডি থিসিস।

37. "ইসলামী শরীআতে মুদ্রার বিধানসমূহ" জাবর মুহাম্মদ সালামাহ।

38. "মুদ্রা এবং কারেন্সি বিনিময়" ড. আলী আহমদ আল-সালুস।

39. "ইসলাম ও মুদ্রা" ড. রফিক আল-মাসরি।

 

‌‌মুদ্রার মান পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে রচিত অন্যান্য আধুনিক গ্রন্থাবলী:

40. "একটি ইনসাফপূর্ণ মুদ্রা ব্যবস্থার অভিমুখে" ড. মুহাম্মদ উমর ছাপরা।

42. "আর্থিক লেনদেনের মাসআলাসমূহে মতভিন্নতার দিকগুলোর ব্যাখ্যা" শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বাইয়্যাহ।

43. "ইসলামী ফিকহে সমজাতীয় (মিছলী) ও মূল্যভিত্তিক (কীমী) মালের মূলনীতি" ড. আলী মহিউদ্দিন আল-কারাহ দাগী।

44. "ইসলামে মুদ্রানীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা" ড. আদনান আল-তুর্কমানি

এছাড়াও আরও অন্যান্য গ্রন্থ ও গবেষণা প্রবন্ধ।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الأول

دراسة حول المصنف التمرتاشي وفيه مطالب:

المطلب الأول: اسمه ونسبه

المطلب الثاني: مولده ونشأته

المطلب الثالث: رحلاته

المطلب الرابع: شيوخه

المطلب الخامس: ثناء العلماء عليه

المطلب السادس: تلاميذه

المطلب السابع: العائلة التمرتاشية

المطلب الثامن: مؤلفاته

المطلب التاسع: وفاته
প্রথম পরিচ্ছেদ

মুসান্নিফ আত-তিমিরতাশি সম্পর্কে পর্যালোচনা এবং এতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও শৈশব

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর সফরসমূহ

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর উস্তাদবৃন্দ

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ

সপ্তম অনুচ্ছেদ: তিমিরতাশি পরিবার

অষ্টম অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী

নবম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকাল
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المبحث الأول

الدراسة حول المصنف التمرتاشي

‌‌المطلب الأول: اسمه ونسبه:

هو محمد بن عبد الله بن أحمد الخطيب بن محمد الخطيب بن إبراهيم الخطيب بن محمد الخطيب التمرتاشي الغزي. (1)

قال ابن عابدين: [ورأيت في رسالة لحفيد المصنف وهو الشيخ محمد بن الشيخ صالح ابن المصنف زاد بعد إبراهيم المذكور ابن خليل بن تمرتاشي]. (2)

وقال ابن عابدين أيضاً: [التمرتاشي نسبة إلى تمرتاش نقل صاحب مراصد الإطلاع في أسماء الأماكن والبقاع أن تُمُرتاش بضمتين وسكون الراء وتاء وألف وشين معجمة، قرية من قرى خوارزم. قلت والأقرب أنه نسبة إلى جده تمرتاش كما قدمناه] (3).

--------------------------------------------

(1) له ترجمة في المصادر التالية:

خلاصة الأثر 4/ 18 - 20 * كشف الظنون 1/ 401 * إيضاح المكنون 1/ 26 * هدية العارفين 2/ 262 * معجم المؤلفين 3/ 427 * الأعلام 6/ 239 * ديوان الإسلام 2/ 24 * بلادنا فلسطين 1/ 2/82 - 83 * أعلام من أرض السلام ص 371 - 372.

(2) حاشية ابن عابدين 1/ 18 - 19.

(3) المصدر السابق 1/ 19، وانظر مراصد الاطلاع على أسماء الأمكنة والبقاع 1/ 274.
প্রথম পরিচ্ছেদ

গ্রন্থকার (المصنف) আত-তামারতাশি সংক্রান্ত গবেষণা

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ আল-খতিব বিন মুহাম্মদ আল-খতিব বিন ইবরাহিম আল-খতিব বিন মুহাম্মদ আল-খতিব আত-তামারতাশি আল-গাজ্জি। (১)

ইবনে আবিদিন বলেন: [আমি গ্রন্থকারের (المصنف) পৌত্র শেখ মুহাম্মদ বিন শেখ সালিহ বিন গ্রন্থকারের (المصنف) একটি পত্রে দেখেছি যে, তিনি উল্লিখিত ইবরাহিমের পর ‘ইবনে খলিল বিন তামারতাশ’ বৃদ্ধি করেছেন]। (২)

ইবনে আবিদিন আরও বলেন: [‘আত-তামারতাশি’ হলো ‘তামারতাশ’-এর প্রতি একটি সম্বন্ধ (نسبة); মারাসিদ আল-ইত্তিলা ফি আসমা আল-আমেকিনা ওয়াল বিকা গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, ‘তামারতাশ’ (ত-এর ওপর পেশ, ম-এর ওপর পেশ, র-এর ওপর সাকিন এবং ত, আলিফ ও শিন সহযোগে) হলো খাওয়ারিজম অঞ্চলের একটি গ্রাম। আমি বলি যে, অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো—এটি তাঁর দাদা তামারতাশ-এর প্রতি সম্বন্ধ (نسبة), যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি] (৩)।

--------------------------------------------

(১) নিচের উৎসগুলোতে তাঁর জীবনী (ترجمة) রয়েছে:

খুলাসাত আল-আসার ৪/১৮-২০ * কাশফ আল-জুনুন ১/৪০১ * ইজাহ আল-মাকনুন ১/২৬ * হাদিয়াত আল-আরিফিন ২/২৬২ * মুজাম আল-মুয়াল্লিফিন ৩/৪২৭ * আল-আলাম ৬/২৩৯ * দিওয়ান আল-ইসলাম ২/২৪ * বিলাদুনা ফিলিস্তিন ১/২/৮২-৮৩ * আলাম মিন আরদিস সালাম পৃ. ৩৭১-৩৭২।

(২) হাশিয়া ইবনে আবিদিন ১/১৮-১৯।

(৩) প্রাগুক্ত উৎস ১/১৯, এবং দেখুন মারাসিদ আল-ইত্তিলা আলা আসমা আল-আমেকিনা ওয়াল বিকা ১/২৭৪।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المطلب الثاني: مولده ونشأته:

ولد في غزة سنة 939 هـ وفق سنة 1532م ونشأ فيها (1).

 

‌‌المطلب الثالث: رحلاته:

ذكر المحبي أن المصنف قد رحل إلى القاهرة أربع مرات آخرها في سنة ثمان وتسعين وتسعمائة. (2)

وذكر المحبي أيضاً أنه رحل إلى حماة فقال: [وذكره جدي القاضي محب الدين في رحلته إلى مصر، ووصفه بأوصاف جليلة، وذكر ما وقع بينهما من المحاضرة، قال: ثم اتسعت معه دائرة المخاطبة واستطرد القول بطريق المناسبة، إلى ذكر رحلته إلى بلدتنا حماة المحروسة، وتغزل لنا بوصف ما فيها من تلك الأماكن المأنوسة، ثم سألني عمن يعهده فيها من أفاضل الأصحاب، فكان سائل دمع مقلتي الجواب، ثم حدثنا بكثير من حسن المحاضرات، ولطيف المحاورات التي كانت تصدر بينه وبين فاضلها المرحوم سيدي الشيخ محمد بن الشيخ علوان وكان يتعجب من

--------------------------------------------

(1) انظر المصادر المذكورة في الهامش رقم (1) من الصفحة السابقة.

(2) خلاصة الأثر 4/ 19.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

তিনি ৯৩৯ হিজরী মোতাবেক ১৫৩২ খ্রিস্টাব্দে গাজায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন (১)।

 

‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সফরসমূহ:

আল-মুহিব্বী উল্লেখ করেছেন যে, গ্রন্থকার কায়রোতে চারবার সফর করেছিলেন, যার শেষটি ছিল নয়শত আটানব্বই হিজরীতে। (২)

আল-মুহিব্বী আরও উল্লেখ করেছেন যে তিনি হামাতে সফর করেছিলেন। তিনি বলেন: [আমার দাদা কাজি মুহিব্বুদ্দিন মিসর সফরকালে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে মহান গুণাবলীতে ভূষিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে যে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও মতবিনিময় হয়েছিল তা-ও তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: অতঃপর তাঁর সাথে কথোপকথনের পরিধি বিস্তৃত হলো এবং প্রসঙ্গক্রমে তিনি আমাদের সুরক্ষিত শহর হামাতে তাঁর সফরের কথা উল্লেখ করলেন। সেখানকার মনোরম স্থানগুলোর বর্ণনায় তিনি আমাদের নিকট কাব্যিক উপস্থাপনা করলেন। এরপর তিনি আমাকে সেই শহরের পরিচিত গুণীজনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন; তখন আমার চোখের অশ্রুধারাই ছিল সেই প্রশ্নের উত্তর। এরপর তিনি আমাদের অনেক চমৎকার আলোচনা এবং সূক্ষ্ম কথোপকথন শোনালেন যা তাঁর এবং সেই শহরের অন্যতম গুণী ব্যক্তিত্ব মরহুম সাইয়্যিদি শেখ মুহাম্মদ বিন শেখ আলওয়ানের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করতেন...

--------------------------------------------

(১) পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার ১ নম্বর পাদটীকায় উল্লিখিত উৎসসমূহ দেখুন।

(২) খুলাসাতুল আসার ৪/ ১৯।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فصاحته وبلاغته التي حارت فيها العقول والأذهان، ويمدح فضائله وفواضله الغزار ويذكر صفاء العيش الذي قضاه في صحبته في تلك الديار. (1)

 

‌‌المطلب الرابع: شيوخه:

طلب العلم أولاً على مشايخ بلده غزة، فأخذ أنواع الفنون عن الشمس محمد بن المشرقي مفتي الشافعية، ثم رحل إلى القاهرة أربع مرات آخرها في سنة 998 هـ، وتفقه فيها على الشيخ الإمام زين الدين بن نجيم الحنفي، وأخذ عن الإمام الكبير أمين الدين بن عبد العال، وأخذ عن المولى علي بن الحنائي قاضي القضاة بمصر.

ثم عاد إلى بلده غزة وقد رأس في العلم وقصده الناس للفتوى. (2)

 

وهذه تراجم شيوخه التي وقفت عليها:

1. الشمس محمد المشرقي: هو محمد بن محمد بن علي الشيخ العلامة المعمر المسند الحافظ شمس الدين أبو عبد الله الغزي الأزهري الشافعي المعروف بابن المشرقي ميلاده بغزة في أوائل صفر سنة 900 هـ.

أخذ عن القاضي زكريا والشيخ عبد الحق السنباطي وقاضي القضاة الكمال الطويل والجمال الصالحي والشمس الدلجي والشيخ شمس الدين

الطحان والشهاب أحمد بن شعبان الأنصاري والسيد كمال الدين بن حمزة

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق 4/ 20.

(2) انظر خلاصة الأثر 4/ 19.
তাঁর বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্র, যাতে মেধা ও বুদ্ধি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে; তিনি তাঁর প্রচুর শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলীর প্রশংসা করেন এবং সেই জনপদে তাঁর সান্নিধ্যে অতিবাহিত নির্মল জীবনের কথা স্মরণ করেন। (১)

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:

তিনি সর্বপ্রথম তাঁর নিজ শহর গাজার শায়েখদের নিকট ইলম অর্জন করেন। ফলে তিনি শাফেয়ী মাযহাবের মুফতি শামস মুহাম্মদ ইবনুল মাশরিকীর নিকট থেকে বিভিন্ন শাস্ত্রের জ্ঞান গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি চারবার কায়রো সফর করেন, যার সর্বশেষটি ছিল ৯৯৮ হিজরি সনে। সেখানে তিনি শেখ ইমাম যাইনুদ্দীন ইবনে নুজাইম আল-হানাফীর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং প্রখ্যাত ইমাম আমীনুদ্দীন ইবনে আব্দুল আল-এর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি মিশরের প্রধান বিচারপতি মাওলা আলী ইবনুল হিন্নায়ীর নিকট থেকেও জ্ঞান লাভ করেন।

অতঃপর তিনি তাঁর নিজ শহর গাজায় ফিরে আসেন এবং ইলমের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হন এবং ফতোয়া প্রদানের জন্য মানুষ তাঁর শরণাপন্ন হতে শুরু করে। (২)

 

এখানে তাঁর সেই সকল শিক্ষকদের জীবনী উল্লেখ করা হলো যাদের সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি:

১. শামস মুহাম্মদ আল-মাশরিকী: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী; প্রাজ্ঞ আলেম (العلامة), দীর্ঘজীবী (المعمر), বর্ণনাকারী (المسند), হাফিজ (الحافظ), শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ আল-গাজ্জী আল-আযহারী আল-শাফেয়ী, যিনি ইবনুল মাশরিকী নামে পরিচিত। তাঁর জন্ম ৯০০ হিজরি সনের সফর মাসের শুরুর দিকে গাজায়।

তিনি কাজী জাকারিয়া, শেখ আব্দুল হক আল-সুনবাতী, প্রধান বিচারপতি আল-কামাল আল-তাবীল, আল-জামাল আল-সালিহী, আশ-শামস আদ-দালজী, শেখ শামসুদ্দীন আল-তাহহান, শিহাব আহমদ ইবনে শা'বান আল-আনসারী এবং সাইয়্যেদ কামালুদ্দীন ইবনে হামযার নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস ৪/২০।

(২) দেখুন: খুলাসাতুল আসার ৪/১৯।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وغيرهم وأخذ عنه جماعة منهم الشيخ ابن كسبائي وغيره. توفي سنة 980 هـ. (1)

2. ابن نجيم الحنفي: وهو زين الدين بن ابراهيم بن محمد بن محمد المصري الفقيه الحنفي الأصولي، أخذ العلوم عن جماعة منهم الشيخ شرف الدين البلقيني والشيخ شهاب الدين بن الشلبي والشيخ أمين الدين بن عبد العال له مؤلفات كثيرة منها " البحر الرائق شرح كنز الدقائق في فروع الفقه الحنفي "، " شرح المنار في أصول الفقه "، " الأشباه والنظائر "، " الرسائل الزينة " وغير ذلك. توفي سنة 970 هـ. (2)

3. أمين الدين بن عبد العال: هو محمد بن عبد العال الحنفي المصري أمين الدين فقيه، من آثاره فتاوى جمعها تلميذه إبراهيم بن سليمان العادلي وسماها " العقد النفيس لما يُحتاج إليه للفتوى والتدريس " توفي سنة 971 هـ. (3)

وذكر في الكواكب السائرة ترجمة لوالده عبد العال وأشار نقلاً عن العلائي إلى أنه أعقب ولداً فاضلاً يسمى أمين الدين من أمة حبشية نشأ

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في الكواكب السائرة 3/ 26 - 27.

(2) انظر ترجمته في الكواكب السائرة 3/ 154، التعليقات السنية على الفوائد البهية ص 221، معجم المؤلفين 1/ 740.

(3) انظر ترجمته في معجم المؤلفين 3/ 413، كشف الظنون 2/ 160، 213.
...এবং অন্যান্যরা। তাঁর নিকট থেকে একদল (جماعة) ব্যক্তি ইলম অর্জন করেছেন যাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ ইবনে কাসবায়ি এবং অন্যান্যরা। তিনি ৯৮০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। (১)

২. ইবনে নুজাইম আল-হানাফি: তিনি হলেন জাইন আল-দিন ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি, হানাফি ফকিহ (فقيه) ও উসুলবিদ (أصولي)। তিনি একদল (جماعة) আলিমের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন যাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ শরাফ আল-দিন আল-বুলকিনি, শেখ শিহাব আল-দিন ইবনে আল-শিলবি এবং শেখ আমিন আল-দিন ইবনে আবদ আল-আল। তাঁর অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হানাফি ফিকহের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক ‘আল-বাহরুর রায়িক শারহু কানযিদ দাকায়িক’, উসুলুল ফিকহ বিষয়ক ‘শারহুল মানার’, ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির’, ‘আর-রাসায়িল আল-যাইনিয়্যাহ’ এবং আরও অনেক কিছু। তিনি ৯৭০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। (২)

৩. আমিন আল-দিন ইবনে আবদ আল-আল: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আবদ আল-আল আল-হানাফি আল-মিসরি আমিন আল-দিন, একজন ফকিহ (فقيه)। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ফাতাওয়া যা তাঁর ছাত্র ইব্রাহিম ইবনে সুলাইমান আল-আদলি সংকলন করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন ‘আল-ইকদুন নাফিস লিমা ইউহতাজু ইলাইহি লিল ফাতওয়া ওয়াত তাদরিস’। তিনি ৯৭১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। (৩)

‘আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়িরাহ’ গ্রন্থে তাঁর পিতা আবদ আল-আলের জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করা হয়েছে এবং আল-আলায়ি-এর বরাতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তিনি একজন গুণী (فاضل) পুত্র রেখে গেছেন যার নাম আমিন আল-দিন, যিনি একজন হাবশি দাসীর গর্ভে লালিত-পালিত হয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়িরাহ ৩/ ২৬-২৭ গ্রন্থে তাঁর জীবনী (ترجمة) দেখুন।

(২) আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়িরাহ ৩/ ১৫৪, আত-তালিকাত আস-সানিয়্যাহ আলাল ফাওয়াইদ আল-বাহিয়্যাহ পৃষ্ঠা ২২১, মুজামুল মুআল্লিফিন ১/ ৭৪০ গ্রন্থে তাঁর জীবনী (ترجمة) দেখুন।

(৩) মুজামুল মুআল্লিফিন ৩/ ৪১৩, কাশফুয যুনুন ২/ ১৬০, ২১৩ গ্রন্থে তাঁর জীবনী (ترجمة) দেখুন।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
على علم وخير، وقال إن ترجمة أمين الدين ستأتي في الطبقة الثانية ولم أعثر عليها. (1)

4. المولى علي بن الحنائي: قاضي القضاة بمصر، عدَّه المحبي (2) من شيوخ التمرتاشي، ولم أعثر له على ترجمة فيما رجعت إليه من المصادر. (3)

 

‌‌المطلب الخامس: ثناء العلماء عليه:

قال المحبي عنه: [رأس الفقهاء في عصره كان إماماً فاضلاً كبيراً حسن السمت، جميل الطريقة، قوي الحافظة، كثير الاطلاع، وبالجملة فلم يبق في آخر أمره من يساويه في الدرجة]. (4)

وقال أيضاً: [وقد رأس في العلوم وقصده الناس في الفتوى وألف التآليف العجيبة المتقنة]. (5)

وقال أبو المعالي محمد بن عبد الرحمن بن الغزي المتوفى سنة 1167 هـ عن المصنف: [ … الإمام العالم الحبر الفقيه شيخ الحنفية]. (6)

--------------------------------------------

(1) الكواكب السائرة 1/ 237.

(2) خلاصة الأثر 4/ 19.

(3) ولعله المذكور في معجم المؤلفين 2/ 396.

(4) خلاصة الأثر 4/ 19.

(5) المصدر السابق.

(6) ديوان الإسلام 2/ 24.
তিনি জ্ঞান ও কল্যাণের অধিকারী ছিলেন এবং বলেছিলেন যে, আমিনুদ্দীনের জীবনী দ্বিতীয় স্তরে (الطبقة) আসবে, তবে আমি তা খুঁজে পাইনি। (১)

৪. মাওলা আলী বিন আল-হিনাই: মিশরের প্রধান বিচারপতি, মুহিব্বি (২) তাঁকে তামারতাশির উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমি যেসব উৎস পর্যালোচনা করেছি তাতে তাঁর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। (৩)

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা:

মুহিব্বি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: [তিনি তাঁর যুগের ফকীহগণের (الفقهاء) প্রধান ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ও মহান ইমাম (إماماً), উত্তম স্বভাব ও সুন্দর পদ্ধতির অধিকারী, প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (قوي الحافظة) এবং ব্যাপক পড়াশোনার অধিকারী। পরিশেষে, তাঁর শেষ জীবনে তাঁর সমমর্যাদার আর কেউ অবশিষ্ট ছিলেন না]। (৪)

তিনি আরও বলেছেন: [তিনি জ্ঞানবিজ্ঞানে নেতৃত্ব দান করেছেন এবং মানুষ ফতোয়া গ্রহণের জন্য তাঁর কাছে আসত। তিনি বিস্ময়কর ও নিপুণ গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন]। (৫)

আবু আল-মা'আলি মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান বিন আল-গাজ্জি (মৃত্যু ১১৬৭ হিজরি) গ্রন্থকার সম্পর্কে বলেছেন: [ ... ইমাম (الإمام), বিজ্ঞ আলেম, সুপণ্ডিত ফকীহ (الفقيه) এবং হানাফীদের শায়খ (شيخ)]। (৬)

--------------------------------------------

(১) আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়্যারা ১/ ২৩৭।

(২) খুলাসাতুল আসার ৪/ ১৯।

(৩) সম্ভবত তিনি মুজামুল মুআল্লিফীন ২/ ৩৯৬-এ উল্লিখিত ব্যক্তি।

(৪) খুলাসাতুল আসার ৪/ ১৯।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস।

(৬) দিওয়ানুল ইসলাম ২/ ২৪।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وقال عمر رضا كحاله: [فقيه أصولي متكلم]. (1)

وقال خير الدين الزركلي: [شيخ الحنفية في عصره]. (2)

وقال مصطفى الدباغ: [كان رأس فقهاء الحنفية في عصره]. (3)

 

‌‌المطلب السادس: تلاميذه:

قال المحبي: [وانتفع به جماعة منهم ولداه صالح ومحفوظ والشيخان الإمامان أحمد ومحمد ابنا عمار، ومن أهالي القدس البرهان الفتياني المؤلف والشيخ عبد الغفار العجمي وغيرهم]. (4)

وهذه ترجمة لتلاميذه الذين وقفت على تراجمهم:

1. صالح ابن المؤلف: هو صالح بن محمد بن عبد الله بن أحمد الخطيب ابن محمد الخطيب بن إبراهيم الخطيب التمرتاشي الغزي الحنفي، الإمام ابن الإمام كان فاضلاً متبحراً بحاثاً وله إحاطة بفروع المذهب أخذ عن والده ورحل إلى مصر وأخذ عن علمائها وتصدر في ذلك القطر بعد وفاة أبيه ونفع الناس في الفتاوى وألف التآليف النافعة في الفقه

وغيره منها حاشية على الأشباه والنظائر التي سماها " زواهر الجواهر وله

--------------------------------------------

(1) معجم المؤلفين 3/ 427.

(2) الأعلام 6/ 239.

(3) بلادنا فلسطين ج 1 ق2/ 82.

(4) خلاصة الأثر 4/ 20.
এবং উমর রিদা কাহহালা বলেন: [তিনি ছিলেন একজন ফকীহ (فقيه), উসূলবিদ (أصولي) ও কালামশাস্ত্রবিদ (متكلم)]। (১)

এবং খাইরুদ্দিন আয-যিরিকলি বলেন: [তিনি ছিলেন তাঁর যুগের হানাফিদের শায়খ]। (২)

এবং মুস্তাফা আদ-দাব্বাগ বলেন: [তিনি তাঁর সময়ে হানাফি ফকীহ (فقيه)গণের প্রধান ছিলেন]। (৩)

 

‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

আল-মুহিব্বি বলেন: [একদল লোক তাঁর নিকট থেকে উপকৃত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর দুই পুত্র সালেহ ও মাহফুজ এবং দুই প্রথিতযশা ইমাম (إمام) আহমদ ও মুহাম্মদ ইবনে আম্মার; আর জেরুজালেমবাসীদের মধ্যে রয়েছেন গ্রন্থকার বুরহান আল-ফিতইয়ানি এবং শেখ আবদুল গাফফার আল-আজমি ও অন্যান্যরা]। (৪)

নিচে তাঁর ওই সকল ছাত্রদের জীবনী (ترجمة) তুলে ধরা হলো যাঁদের জীবনবৃত্তান্ত সম্পর্কে আমি অবগত হতে পেরেছি:

১. গ্রন্থকারের পুত্র সালেহ: তিনি হলেন সালেহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ আল-খাতিব বিন মুহাম্মদ আল-খাতিব বিন ইব্রাহিম আল-খাতিব আত-তুমারতাশি আল-গাজ্জি আল-হানাফি। তিনি ছিলেন একজন ইমাম (إمام) এবং ইমামের (إمام) পুত্র; তিনি অত্যন্ত গুণী, অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ও গবেষক ছিলেন। মাযহাবের শাখা-প্রশাখা (فروع المذهب) সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ জ্ঞান ছিল। তিনি তাঁর পিতার নিকট শিক্ষা লাভ করেন এবং মিশরে সফর করে সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। পিতার ইন্তেকালের পর তিনি সেই ভূখণ্ডে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন এবং ফতোয়া (فتوى) প্রদানের মাধ্যমে মানুষের উপকার করেন। তিনি ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ে অনেক উপকারী গ্রন্থ রচনা করেন।

সেগুলোর মধ্যে একটি হলো আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর-এর টিকা (حاشية), যার নাম তিনি দিয়েছিলেন 'জাওয়াহিরুল জাওয়াহির'। এছাড়া তাঁর রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) মুজামুল মুআল্লিফীন ৩/ ৪২৭।

(২) আল-আলাম ৬/ ২৩৯।

(৩) বিলাদুনা ফিলিস্তিন খণ্ড ১, ২য় অংশ/ ৮২।

(৪) খুলাসাতুল আসার ৪/ ২০।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী তাহরীর আসইলাতি তাগায়্যুরিন নুকূদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
" منظومة في الفقه " " وشرح تحفة الملوك " " وشرح ألفية ولده محمد في النحو " التي أولها:

قال محمد هو ابن صالح … أحمدُ ربي الله خير فاتح

 

وله شرح النُّقاية سماه " العناية "، " وشرح تاريخ شيخ الإسلام سعدي المحشي "، وله رسائل كثيرة منها رسالة في سيدنا محمد (كذا ولعل الصواب موسى) وأخيه هارون عليهما السلام، ورسالة في علم الوضع، وترسلاته وأشعاره وافرة مطبوعة، وقفت له على هذه الأبيات كتب بها إلى الخير الرملي في صدر رسالة وقد استحسنتها فأثبتها له وهي قوله:

إن جزتَ عن رملةٍ لي ثَمَّ إنسانٌ … حبرٌ همامٌ له علمٌ وإحسان

في العلم نعمانه في الجود حاتمه … وماله فيهما ضد وأقران

والخير أوله والخير شيمته … والدين قيدٌ له في العلم إمكان

قالوا هو البحر قلت البحر ذو غرق … قالوا هو البدر لا يعروه نقصان

قالوا هو الليث قلت الليث ذو حمق … قالوا هو الشمس قلت الشمس ميزان

قالوا هو السيف قلت السيف ذو كلل … وربما جاء منه صاحِ عدوان

قالوا فما هو قل لي قلت قد جمعت … فيه الخصال وزادت فيه عرفان

أخوه شمس به ضائت منازله … وصدره بعلوم الله ريان

ليثان حبران في آجام معرفة … يروى بأنداهما للعلم ظمآن

قد جاء للرملة البيضا وقد درست … فيها العلوم وفيها لاح طغيان

فجدد العلم فيها واستنار به

عرشُ العلوم وفيها زاد إيمان
"ফقه শাস্ত্রের একটি কাব্যগ্রন্থ", "তুহফাতুল মুলুক-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ" এবং "ব্যাকরণ শাস্ত্রে তাঁর পুত্র মুহাম্মাদের আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ", যার প্রারম্ভে রয়েছে:

মুহাম্মাদ বলেন, তিনি সালিহের পুত্র … আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম উন্মোচনকারী

 

তাঁর "নুকায়াহ"-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থও রয়েছে যার নাম দিয়েছেন "আল-ইনায়াহ", এবং "শায়খুল ইসলাম সাদী আল-মুহাশশীর ইতিহাসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ"। তাঁর অসংখ্য গবেষণাপত্র বা রিসালাহ রয়েছে, যার মধ্যে একটি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে সম্ভবত সঠিক হবে মূসা) এবং তাঁর ভাই হারুন আলাইহিমাস সালাম সম্পর্কে, এবং একটি শব্দ-প্রয়োগ বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণাপত্র। তাঁর পত্রাবলি ও কবিতাগুলো প্রচুর পরিমাণে মুদ্রিত হয়েছে। আমি তাঁর এই পংক্তিগুলোর সন্ধান পেয়েছি যা তিনি একটি পত্রের শুরুতে খায়র আল-রামলির উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন; আমি সেগুলো চমৎকার মনে করেছি বিধায় এখানে তা উল্লেখ করছি, যা নিম্নরূপ:

যদি তুমি রামলা অতিক্রম করে যাও, তবে সেখানে আমার এক প্রিয়জন রয়েছে … তিনি এক মহান পণ্ডিত ও তেজস্বী ব্যক্তিত্ব, যাঁর জ্ঞান ও মহানুভবতা সুবিদিত

জ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি ইমাম নুমান, আর দানশীলতায় তিনি হাতিম … এবং এই উভয় গুণে তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা সমকক্ষ নেই

কল্যাণই তাঁর নামের শুরুতে এবং কল্যাণই তাঁর স্বভাব … দ্বীনদারি তাঁর ভূষণ এবং জ্ঞানে তাঁর অগাধ সামর্থ্য রয়েছে

তারা বলল, "তিনি তো সমুদ্র", আমি বললাম, "সমুদ্র তো নিমজ্জিত হওয়ার আধার"; তারা বলল, "তিনি তো পূর্ণিমা", যাতে কোনো অপূর্ণতা স্পর্শ করে না

তারা বলল, "তিনি তো সিংহ", আমি বললাম, "সিংহের মাঝে তো হঠকারিতা রয়েছে"; তারা বলল, "তিনি তো সূর্য", আমি বললাম, "সূর্য তো উদয়-অস্তের হিসাবের অধীন"

তারা বলল, "তিনি তো তলোয়ার", আমি বললাম, "তলোয়ার তো ভোঁতা হয়ে যায়" … আর হে বন্ধু! অনেক সময় তা থেকে অনিষ্টও প্রকাশ পায়

তারা বলল, "তবে তিনি কী? আমাকে বলো"; আমি বললাম, "তাঁর মাঝে সকল শ্রেষ্ঠ গুণাবলি পুঞ্জীভূত হয়েছে এবং তাতে প্রজ্ঞা বৃদ্ধি পেয়েছে"

তাঁর ভাই হলেন এক সূর্য যার দ্বারা তাঁর গৃহগুলো আলোকিত হয়েছে … আর তাঁর অন্তর আল্লাহর প্রদত্ত জ্ঞানে পরিতৃপ্ত

তাঁরা দুজনেই জ্ঞানের অরণ্যে দুই সিংহ এবং দুই মহান পণ্ডিত … যাঁদের বদান্যতার সিক্ততায় জ্ঞানের পিপাসার্তরা পরিতৃপ্ত হয়

তিনি শ্বেতশুভ্র রামলাতে এমন সময় এসেছিলেন যখন জ্ঞানচর্চা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল … এবং সেখানে অনাচার প্রকাশ পেয়েছিল

অতঃপর তিনি সেখানে জ্ঞানকে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং তাঁর মাধ্যমে উদ্ভাসিত হয়

জ্ঞানের আরশ, আর সেখানে ঈমান বৃদ্ধি পায়