(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: -)
الخصال المكفرة للذنوب   (الخطيب الشربيني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الخصال المكفرة للذنوب

المؤلف: شمس الدين، محمد بن أحمد الخطيب الشربيني الشافعي (ت 977هـ)

تحقيق: حسام الدين بن موسى محمد بن عفانة

الطبعة: الأولى، 1423هـ - 2002م (القدس / فلسطين)

عدد الصفحات: 110

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 شوّال 1432

গুনাহ মোচনকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ   (আল-খতীব আল-শিরবিনী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: গুনাহ মোচনকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ

লেখক: শামসুদ্দীন, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-খতীব আল-শিরবিনী আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু ৯৭৭ হিজরি)

সম্পাদনা ও যাচাই: হুসামুদ্দীন বিন মুসা মুহাম্মাদ বিন আফানাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ (আল-কুদস / ফিলিস্তিন)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ শাওয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ১)
الخِصالُ المُكَفِّرَةُ للذنوب

 

يتضمن تحقيق مخطوط صغير للخطيب الشربيني فيه سؤال وجواب حول تكفير الحج للذنوب

 

دراسة وتعليق وتحقيق

الدكتور حسام الدين بن موسى عفانه

الأستاذ المشارك في الفقه والأصول

كلية الدعوة وأصول الدين

جامعة القدس
পাপমোচনকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ

 

এতে আল-খতিব আল-শিরবিনির একটি ক্ষুদ্র পাণ্ডুলিপির সম্পাদনা (تحقيق) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে হজের মাধ্যমে পাপমোচন সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর রয়েছে।

 

গবেষণা, টীকা ও সম্পাদনা (تحقيق)

ডক্টর হুসামুদ্দিন বিন মুসা আফানা

ফিকহ ও উসুল (أصول) শাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক

দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন (أصول الدين) অনুষদ

আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى القدس / فلسطين

1423هـ

2002م

حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
প্রথম সংস্করণ আল-কুদস / ফিলিস্তিন

১৪২৩ হিজরি

২০০২ খ্রিস্টাব্দ

সর্বস্বত্ব গ্রন্থকার কর্তৃক সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ) سورة آل عمران الآية 102.

(يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا) سورة النساء الآية 1.

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا) سورة الأحزاب الآيتان 70 - 71.

وبعد

فإنه أثناء قيامي بفهرسة مخطوطات مؤسسة إحياء التراث الإسلامي في بيت المقدس، التابعة لوزارة الأوقاف الفلسطينية، عثرت على مخطوطة صغيرة، ضمن مجموعة مخطوطات، وهذه المخطوطة
ভূমিকা

নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অকল্যাণ ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

(হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১০২।

(হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে অসংখ্য পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং সতর্ক থাকো রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখার ব্যাপারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১।

(হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে।) সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ৭০ - ৭১।

অতঃপর

ফিলিস্তিনের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাইতুল মাকদিসের ‘মুয়াসসাসাতু ইহয়ায়িত তুরাসিল ইসলামি’ (ইসলামি ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ সংস্থা)-এর পাণ্ডুলিপিসমূহ তালিকাভুক্ত করার সময় আমি একগুচ্ছ পাণ্ডুলিপির মধ্যে একটি ছোট পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাই। আর এই পাণ্ডুলিপিটি হলো—
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ৬)
الصغيرة، عبارة عن سؤال وُجِهَ إلى العلامة الخطيب الشربيني حول تكفير الحج للذنوب، فأجاب عنه إجابة موجزة.

فرغبت في نشر هذه المخطوطة، ليُنتفعَ بها، وقد دعاني هذا إلى توضيح بعض القضايا المتعلقة بموضوع السؤال والجواب، فتحدثت بإيجاز في التمهيد، عن تقسيم المعاصي إلى صغائر وكبائر، ثم بينت المراد بحقوق الله وحقوق العباد، ووضحت أثر التوبة على حقوق الله وحقوق العباد.

وفي المبحث الأول ذكرت طائفة عطرة من الأحاديث النبوية الواردة في الخصال المكفرة للذنوب.

وفي المبحث الثاني ذكرت كلام أهل العلم على الأحاديث السابقة الذكر، وماهية الذنوب التي تكفرها الأعمال الصالحة، وهل يدخل في ذلك الكبائر أم لا؟

وفي المبحث الثالث تكلمت على تكفير الحج للذنوب، وذكرت كلام أهل العلم في ذلك، وخصصت الحج بالكلام لأنه موضوع المخطوطة.

وفي المبحث الرابع ذكرت كلام أهل العلم على قوله تعالى:

(إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ) سورة هود الآية 114، حيث إن كثيراً من أهل العلم، قد استدلوا بهذه الآية الكريمة على غفران الذنوب صغيرها وكبيرها.
ক্ষুদ্র এই পুস্তিকাটি মূলত আল্লামা খতিব আল-শিরবিনী-এর নিকট হজ্জের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হওয়া প্রসঙ্গে করা একটি প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর।

আমি এই পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশের ইচ্ছা পোষণ করেছি যাতে তা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। এটি আমাকে উক্ত প্রশ্ন ও উত্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় স্পষ্ট করার প্রতি ধাবিত করেছে। তাই আমি উপক্রমণিকায় সংক্ষেপে গুনাহকে সগিরা ও কবিরা গুনাহে বিভক্ত করা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এরপর আল্লাহর হক ও বান্দার হকের মর্মার্থ বর্ণনা করেছি এবং আল্লাহর হক ও বান্দার হকের ওপর তাওবার প্রভাব স্পষ্ট করেছি।

প্রথম পরিচ্ছেদে আমি গুনাহ মোচনকারী আমলসমূহ সম্পর্কে বর্ণিত নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুগন্ধিময় একগুচ্ছ হাদিস উল্লেখ করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি পূর্বোক্ত হাদিসসমূহ সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য এবং নেক আমল দ্বারা কোন ধরনের গুনাহ মাফ হয় এবং তাতে কবিরা গুনাহ অন্তর্ভুক্ত কি না, সে বিষয়ে আলোচনা করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমি হজ্জের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হওয়া নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি। বিশেষভাবে হজ্জ নিয়ে আলোচনার কারণ হলো এটিই পাণ্ডুলিপিটির মূল বিষয়বস্তু।

চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমি মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ মন্দ কাজসমূহকে মিটিয়ে দেয়) [সূরা হুদ, আয়াত ১১৪] সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি; যেখানে অধিকাংশ আলেম এই পবিত্র আয়াত দ্বারা ছোট ও বড়—উভয় প্রকার গুনাহ ক্ষমা হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ৭)
وفي المبحث الخامس: تحدثت بإيجاز عن العلامة الخطيب الشربيني، فذكرت اسمه ونسبه وثناء العلماء عليه ومؤلفاته.

وفي المبحث السادس: قدَّمت نص المخطوطة محققاً ومعلقاً عليه.

ثم أتبعت ذلك بفهرس المصادر وفهرس المحتويات.

وفي الختام، فإني أرجو أن ينتفع العبد الفقير المذنب، بهذا الكتاب وأن يحافظ على الخصال المكفرة للذنوب، وكذا إخواني المسلمين، وأسأل الله الكريم رب العرش العظيم، أن يغفر لي ولكم ولجميع المسلمين.

وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

كتبه د. حسام الدين بن موسى عفانه

القدس - أبوديس

ضحى يوم الجمعة السابع من صفر الخير 1423هـ

وفق التاسع عشر من نيسان 2002 م
পঞ্চম পরিচ্ছেদে: আমি আল্লামা খতিব আল-শিরবিনি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করেছি; সেখানে তাঁর নাম, বংশপরিচয়, তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা এবং তাঁর রচনাবলী উল্লেখ করেছি।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে: আমি পাণ্ডুলিপির মূল পাঠটি সম্পাদিত (محققاً) এবং টীকাযুক্ত (معلقاً) অবস্থায় উপস্থাপন করেছি।

অতঃপর আমি এর সাথে উৎসগ্রন্থের তালিকা এবং সূচিপত্র যুক্ত করেছি।

পরিশেষে, আমি আশা করি যে এই গুনাহগার ও মুখাপেক্ষী বান্দা এই কিতাব দ্বারা উপকৃত হবে এবং গুনাহ মোচনকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ আঁকড়ে ধরবে, এবং একইভাবে আমার মুসলিম ভাইয়েরাও। আমি দয়াময় আল্লাহ, মহান আরশের অধিপতির কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে, আপনাদেরকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন।

আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

এটি লিখেছেন ড. হুসামুদ্দিন ইবনে মুসা আফানা

জেরুজালেম - আবু দিস

জুমুআর দিন চাশতের সময়, ৭ই সফরুল খায়ের ১৪২৩ হিজরি

মোতাবেক ১৯শে এপ্রিল ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌تمهيد

ويشمل ما يلي:

1 - تقسيم المعاصي إلى صغائر وكبائر.

2 - توضيح المراد بحقوق الله وحقوق العباد.

3 - أثر التوبة على حقوق الله وحقوق العباد.

 

‌‌أولاً: تقسيم المعاصي إلى صغائر وكبائر:

اعلم أن جماهير العلماء قد قالوا إن المعاصي والذنوب تنقسم إلى صغائر وكبائر، واستدلوا على ذلك بأدلة كثيرة من الكتاب والسنة أذكر بعضها:

قول الله عز وجل: (إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ) سورة النساء الآية 31.

وقوله تعالى: (وَالَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ) سورة الشورى الآية 37.

وقوله تعالى: (الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ) سورة النجم الآية 32.
উপক্রমণিকা

এটি নিম্নোক্ত বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত করে:

১ - পাপাচারকে সগিরা (صغائر) ও কবিরা (كبائر) গুনাহে বিভক্ত করা।

২ - আল্লাহর হক ও বান্দার হকের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা।

৩ - আল্লাহর হক ও বান্দার হকের ওপর তাওবার প্রভাব।

 

প্রথমত: পাপাচারকে সগিরা (صغائر) ও কবিরা (كبائر) গুনাহে বিভক্ত করা:

জেনে রাখুন যে, জমহুর (جماهير) উলামায়ে কেরাম বলেছেন, পাপাচার ও গুনাহসমূহ সগিরা (صغائر) ও কবিরা (كبائر) গুনাহে বিভক্ত। তাঁরা এ বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে অসংখ্য দলিল (أدلة) পেশ করেছেন, যার কিছু আমি উল্লেখ করছি:

আল্লাহ তাআলার বাণী: (তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে, তার মধ্যে যা কবিরা (كبائر) গুনাহ, তা থেকে যদি তোমরা বেঁচে থাকো, তবে আমি তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব) - সূরা নিসা, আয়াত: ৩১।

এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: (যারা কবিরা (كبائر) গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে এবং যখন তারা রাগান্বিত হয়, তখন তারা ক্ষমা করে দেয়) - সূরা শূরা, আয়াত: ৩৭।

এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: (যারা কবিরা (كبائر) গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে, ছোটখাটো ত্রুটি (اللمم) ছাড়া; নিশ্চয় আপনার প্রতিপালক ক্ষমার ক্ষেত্রে অতি প্রশস্ত) - সূরা নাজম, আয়াত: ৩২।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ৯)
وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الكبائر أو سئل عن الكبائر فقال: (الشرك بالله وقتل النفس وعقوق الوالدين، وقال ألا أنبئكم بأكبر الكبائر؟ قال: قول الزور، أو قال شهادة الزور) رواه البخاري ومسلم.

وعن عبد الرحمن بن أبي بكرة عن أبيه قال: كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: (ألا أنبئكم بأكبر الكبائر ثلاثاً، الإشراك بالله، وعقوق الوالدين، وشهادة الزور أو قول الزور، وكان رسول الله متكئاً فجلس، فما زال يكررها حتى قلنا يا ليته سكت) رواه البخاري ومسلم.

وعن أبي هريرة رضي الله عنهم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (الصلوات الخمس والجمعة إلى الجمعة كفارة لما بينهن ما لم تغش الكبائر) رواه مسلم.

وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

(إن من أكبر الكبائر أن يلعن الرجل والديه، قيل يا رسول الله وكيف يلعن الرجل والديه؟ قال: يسب الرجل أبا الرجل فيسب أباه ويسب أمه فيسب أمه) رواه البخاري.

وعن نعيم المجمر أن صهيباً مولى العتواريين حدثه أنه سمع أبا هريرة وأبا سعيد الخدري رضي الله عنهما يخبران عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أنه جلس على المنبر ثم قال والذي نفسي بيده ثلاث مرات، ثم سكت فأكب كل رجل منا يبكي حزناً ليمين رسول الله، ثم قال: ما من
আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহাপাপসমূহ (الكبائر) উল্লেখ করলেন অথবা তাঁকে মহাপাপসমূহ (الكبائر) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে শিরক (الشرك) করা, কোনো আত্মাকে হত্যা করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।" এরপর তিনি বললেন: "আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় মহাপাপ (أكبر الكبائر) সম্পর্কে অবহিত করব না?" তিনি বললেন: "মিথ্যা কথা বলা অথবা বললেন মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আবদুর রহমান ইবনে আবি বাকরা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "আমি কি তোমাদের তিনটি সবচেয়ে বড় মহাপাপ (أكبر الكبائر) সম্পর্কে সংবাদ দেব না? আল্লাহর সাথে শিরক (الإشراك) করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া অথবা মিথ্যা কথা বলা।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন। তিনি এ কথাটি বারবার বলতে থাকলেন, এমনকি আমরা (মনে মনে) বললাম—হায়! তিনি যদি থামতেন। এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা—এগুলো তাদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, যতক্ষণ না মহাপাপসমূহ (الكبائر) লিপ্ত হওয়া হয়।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"নিশ্চয়ই এটি সবচেয়ে বড় মহাপাপসমূহের (أكبر الكبائر) অন্তর্ভুক্ত যে, কোনো ব্যক্তি তার নিজের পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেবে।" জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! একজন ব্যক্তি কীভাবে তার পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেয়? তিনি বললেন: "সে অন্য কোনো ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয়, ফলে সেই ব্যক্তি তার পিতাকে গালি দেয়। আর সে অন্যের মাকে গালি দেয়, ফলে সেই ব্যক্তিও তার মাকে গালি দেয়।" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।

নুআইম আল-মুজমির থেকে বর্ণিত যে, উতুয়ারীদের মুক্তদাস (مولى) সুহাইব তাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সংবাদ দিতে শুনেছেন: "তিনি মিম্বরের উপর বসলেন, এরপর বললেন—সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, এটি তিনি তিনবার বললেন। এরপর তিনি নীরব হয়ে গেলেন। তখন আমাদের মধ্য থেকে প্রত্যেক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শপথের কারণে দুঃখে ও ভয়ে অবনত হয়ে কাঁদতে লাগল। এরপর তিনি বললেন: কোনো ব্যক্তিই এমন নেই যে..."
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ১০)
عبد يؤدي الصلوات الخمس ويصوم رمضان ويجتنب الكبائر السبع إلا فتحت له أبواب الجنة الثمانية يوم القيامة حتى إنها لتصطفق ثم تلى: (إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ) رواه النسائي وابن حبان وابن خزيمة.

وعن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (شفاعتي لأهل الكبائر من أمتي) رواه الترمذي، وقال حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه، ورواه الحاكم وقال: هذا حديث صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه بهذا اللفظ. وغير ذلك من النصوص.

ولكن أهل العلم اختلفوا في حقيقة الكبيرة، وهذه بعض أقوالهم:

فمنهم من يرى أن الكبيرة هي ما لحق صاحبها بخصوصها وعيد شديد بنص من القرآن الكريم أو السنة النبوية، قال ابن عباس رضي الله عنهما: [الكبيرة كل ذنب ختمه الله بنار أو غضب أو لعنة أو عذاب] تفسير القرطبي 5/ 159.

ومن العلماء من يرى أن الكبيرة هي كل معصية أوجبت الحد.

ومنهم من يرى أن الكبيرة هي كل محرم لعينه، منهيٌ عنه لمعنى في نفسه، فإن فُعل على وجهٍ يجمع وجهين أو وجوهاً من التحريم كان فاحشة، فالزنا كبيرة، وأن يزني الرجل بزوجة جاره فاحشة.
যে বান্দা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজানের রোজা রাখে এবং সাতটি বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে, কিয়ামতের দিন তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে, এমনকি সেগুলো (আনন্দে) শব্দ করতে থাকবে। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবিরা বা বড় গুনাহ, তা যদি তোমরা বর্জন করো, তবে আমি তোমাদের মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দেব।" (সূরা নিসা: ৩১)। এটি বর্ণনা করেছেন নাসায়ি, ইবনে হিব্বান এবং ইবনে খুজাইমা।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমার উম্মতের কবিরা গুনাহগারদের জন্য আমার সুপারিশ থাকবে।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি এই সূত্রে একটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) গরিব (غريب) হাদিস। হাকীম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্ত অনুযায়ী সহিহ (صحيح), কিন্তু তাঁরা এই শব্দে এটি বর্ণনা করেননি। এ ছাড়াও আরও অনেক দলিল রয়েছে।

তবে আলেমগণ কবিরা গুনাহের প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে মতভেদ করেছেন। নিচে তাদের কিছু অভিমত তুলে ধরা হলো:

তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন, কবিরা গুনাহ হলো সেই অপরাধ যার কর্তার জন্য কুরআনুল কারিম বা সুন্নাহর ভাষ্যে সুনির্দিষ্টভাবে কঠোর শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "কবিরা গুনাহ হলো প্রতিটি সেই পাপ, যা আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের আগুন, ক্রোধ, লানত বা আজাবের বিবরণের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন।" (তাফসিরে কুরতুবি ৫/১৫৯)।

আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন, কবিরা গুনাহ হলো প্রতিটি সেই পাপাচার যা দুনিয়ায় শরয়ি দণ্ড বা হদ (حد) কার্যকর করাকে অনিবার্য করে।

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন, কবিরা গুনাহ হলো এমন প্রতিটি নিষিদ্ধ কাজ যা সরাসরি সত্তাগত কারণে হারাম এবং যা তার অভ্যন্তরীণ কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি তা এমন পদ্ধতিতে সংঘটিত হয় যা হারামের দুই বা ততোধিক দিককে একত্রিত করে, তবে তা অশ্লীলতা (فاحشة) হিসেবে গণ্য হয়। যেমন—ব্যভিচার একটি কবিরা গুনাহ, কিন্তু কোনো ব্যক্তির তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা হলো অশ্লীলতা (فاحشة)।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ১১)
وقال الواحدي المفسر: [الصحيح أن الكبيرة ليس لها حد يعرفها العباد به، وإلا لاقتحم الناس الصغائر واستباحوها، ولكن الله عز وجل أخفى ذلك عن العباد، ليجتهدوا في اجتناب المنهي عنه رجاء أن تجتنب الكبائر، ونظائره إخفاء الصلاة الوسطى وليلة القدر وساعة الإجابة ونحو ذلك] الزواجر عن اقتراف الكبائر 1/ 16.

وقد لخَّص الشيخ ابن حجر المكي تعريفات العلماء للكبيرة فذكر ما يلي:

أحدها: أنها ما لحق صاحبها عليها بخصوصها وعيدٌ شديدٌ بنص كتاب أو سنة.

ثانيها: أنها كل معصية أوجبت الحد.

ثالثها: أنها كل ما نص الكتاب على تحريمه، أو وجب في جنسه حدٌ وترك فريضة تجب فوراً.

رابعها: كل جريمة تعلم بقلة اكتراث مرتكبها بالدين ورقة الديانة.

خامسها: أنها ما أوجبت الحد، أو توجه إليه الوعيد.

سادسها: أنها كل محرم لعينه منهيٌ عنه لمعنى في نفسه.

سابعها: أنها كل فعل نص الكتاب على تحريمه، أي بلفظ التحريم وهو أربعة أشياء: أكل لحم الميتة والخنزير ومال اليتيم ونحوه والفرار من الزحف، ورُدَّ بمنع الحصر في الأربعة.
মুফাসসির আল-ওয়াহিদি বলেন: [সঠিক (الصحيح) অভিমত হলো কবিরা গুনাহের এমন কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নেই যার মাধ্যমে বান্দারা তা চিনতে পারে। অন্যথায় মানুষ সগিরা গুনাহে লিপ্ত হতো এবং সেগুলোকে বৈধ মনে করত। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তা বান্দাদের থেকে গোপন রেখেছেন, যাতে তারা নিষিদ্ধ বিষয়গুলো পরিহার করার ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করে—এই আশায় যে তারা যেন কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারে। এর সাদৃশ্য হলো সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তী নামাজ), লাইলাতুল কদর এবং দোয়ার কবুলিয়তের সময় ইত্যাদি গোপন রাখার মতো] আয-যাওয়াজির আন ইবতিরাফিল কাবায়ির ১/১৬।

শাইখ ইবনে হাজার আল-মাক্কি কবিরা গুনাহ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের সংজ্ঞাসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন, যা নিম্নরূপ:

প্রথমত: এটি এমন গুনাহ যার কারণে কিতাব (কুরআন) বা সুন্নাহর সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) অনুযায়ী বিশেষভাবে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি (وعيد) এসেছে।

দ্বিতীয়ত: এটি এমন প্রতিটি নাফরমানি যা দণ্ডবিধি (الحد) প্রয়োগকে অনিবার্য করে।

তৃতীয়ত: এটি এমন প্রতিটি বিষয় যার হারাম (تحريم) হওয়ার ব্যাপারে কিতাবে (কুরআনে) সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) রয়েছে, অথবা যার সমজাতীয় কাজের জন্য দণ্ডবিধি (حد) নির্ধারিত রয়েছে, অথবা এমন কোনো ফরজ ইবাদত ত্যাগ করা যা অবিলম্বে পালন করা আবশ্যক।

চতুর্থত: এমন প্রতিটি অপরাধ যা সম্পাদনকারীর দ্বীনের প্রতি উদাসীনতা এবং তার ধর্মীয় দুর্বলতা প্রকাশ করে।

পঞ্চমত: এটি এমন গুনাহ যা দণ্ডবিধি (الحد) অনিবার্য করে অথবা যার ক্ষেত্রে শাস্তির হুঁশিয়ারি (الوعيد) দেওয়া হয়েছে।

ষষ্ঠত: এটি এমন প্রতিটি নিষিদ্ধ (محرم) বিষয় যা তার নিজস্ব সত্তাগত কারণেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সপ্তমত: এটি এমন প্রতিটি কাজ যার হারাম (تحريم) হওয়ার ব্যাপারে কিতাবে (কুরআনে) সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) এসেছে, অর্থাৎ 'হারাম' (تحريم) শব্দের ব্যবহারের মাধ্যমে। আর তা হলো চারটি বিষয়: মৃত প্রাণীর মাংস ভক্ষণ, শুকরের মাংস, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ ও অনুরূপ বিষয় এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন। তবে এই চারটির মধ্যে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ করার দাবিটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ১২)
ثامنها: أنه لا حدَّ لها يحصرها يعرفه العباد. وغير ذلك من الأقوال الزواجر عن اقتراف الكبائر 1/ 14 - 16.

ثم ذكر ابن حجر المكي طائفةً من أقوال العلماء في الكبيرة:

قول ابن عباس: [الكبائر كل ذنب ختمه الله بنار، أو غضب أو لعنة أو عذاب].

قول الحسن البصري وسعيد بن جبير ومجاهد والضحاك: [كل ذنب أوعد فاعله بالنار].

قول الغزالي: [كل معصية يقدم المرء عليها من غير استشعار خوف ووجدان ندم تهاوناً واستجراءً عليها فهي كبيرة، وما يحمل على فلتات النفس ولا ينفك عن ندم يمتزج بها وينغص التلذذ بها فليس بكبيرة].

وقال الغزالي في موضع آخر: [ولا مطمع في معرفة الكبائر مع الحصر، إذ لا يعرف ذلك إلا بالسمع ولم يرد].

قول العز بن عبد السلام: [الأولى ضبط الكبيرة بما يشعر بتهاون مرتكبها بدينه إشعار صغر الكبائر المنصوص عليها قال: وإذ أردت الفرق بين الصغيرة والكبيرة، فاعرض مفسدة الذنب على مفاسد الكبائر المنصوص عليها، فإن نقصت عن أقل الكبائر فهي صغيرة وإلا فكبيرة]
অষ্টমত: এর কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই যা বান্দারা অবগত হতে পারে। এ জাতীয় অন্যান্য উক্তিগুলো কবীরা গুনাহ (الكبائر) করার বিরুদ্ধে সতর্কবাণীস্বরূপ ১/ ১৪ - ১৬।

অতঃপর ইবনে হাজার আল-মাক্কী কবীরা গুনাহ (الكبيرة) সম্পর্কে ওলামাদের কতিপয় অভিমত উল্লেখ করেছেন:

ইবনে আব্বাসের উক্তি: [কবীরা গুনাহ (الكبائر) হলো সেই সব গুনাহ যার পরিণতি আল্লাহ জাহান্নাম, ক্রোধ, লানত অথবা আজাব দ্বারা নির্ধারণ করেছেন।]

হাসান বসরী, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, মুজাহিদ এবং দাহহাকের উক্তি: [প্রত্যেক সেই গুনাহ যার সম্পাদনকারীকে জাহান্নামের হুমকি দেওয়া হয়েছে।]

ইমাম গাজালীর উক্তি: [প্রত্যেক পাপাচার যা মানুষ অন্তরে খোদাভীতি ও অনুশোচনা বোধ ব্যতিরেকে অবজ্ঞা ও দুঃসাহস প্রদর্শন করে সম্পাদন করে, তা-ই কবীরা গুনাহ (كبيرة)। আর যা নফসের প্ররোচনায় আকস্মিক ঘটে যায় এবং যা অনুশোচনা থেকে মুক্ত নয় বরং সেই অনুশোচনা গুনাহের স্বাদকে তিক্ত করে দেয়, তা কবীরা গুনাহ (كبيرة) নয়।]

ইমাম গাজালী অন্য এক স্থানে বলেছেন: [সীমাবদ্ধতার সাথে কবীরা গুনাহ (الكبائر) জানার কোনো উপায় নেই, কারণ এটি শ্রবণ (السمع) তথা ওহী ব্যতীত জানা সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা আসেনি।]

ইজ্জ ইবনে আব্দুস সালামের উক্তি: [কবীরা গুনাহকে (الكبيرة) এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করাই শ্রেয় যা দ্বারা সম্পাদনকারীর দ্বীনের প্রতি শিথিলতা বা অবজ্ঞা প্রকাশ পায়, যেমনটি নস দ্বারা প্রমাণিত ক্ষুদ্রতম কবীরা গুনাহসমূহের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তিনি বলেন: আপনি যখন সগীরা গুনাহ (الصغيرة) এবং কবীরা গুনাহের (الكبيرة) মধ্যে পার্থক্য করতে চাইবেন, তখন উক্ত গুনাহের অপকারিতাকে নস দ্বারা প্রমাণিত কবীরা গুনাহসমূহের অপকারিতার ওপর পেশ করুন; যদি তা ক্ষুদ্রতম কবীরা গুনাহ অপেক্ষা কম হয় তবে তা সগীরা (صغيرة), অন্যথায় তা কবীরা (كبيرة)।]
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ১৩)
قول ابن صلاح في فتاويه: [الكبيرة كل ذنب عظم عظماً يصح معه أن يطلق عليه اسم الكبيرة، ويوصف بكونه عظيماً على الإطلاق، ولها أمارات منها: إيجاب الحد.

ومنها: الإيعاد عليه بالعذاب بالنار ونحوها في الكتاب أو السنة.

ومنها: وصف فاعلها بالفسق.

ومنها: اللعن].

وقال البارزي: [والتحقيق أن الكبيرة كل ذنب قرن به وعيد أو لعن بنص كتاب أو سنة، أو علم أن مفسدته كمفسدة ما قرن به وعيد، أو حد أو لعن أو أكثر من مفسدته أو أشعر بتهاون مرتكبه في دينه إشعار أصغر الكبائر المنصوص عليها].

واعلم أن كل ما سبق من الحدود إنما قصدوا به التقريب فقط، وإلا فهي ليست بحدود جامعة وكيف يمكن ضبط ما لا طمع في ضبطه] الزواجر 1/ 17 - 19.

والذي عليه أكثر أهل العلم أن كبائر الذنوب كثيرة، وليست محصورة في عدد معين، وإن ذكر في بعض الأحاديث عددها، فليس المراد الحصر، فمن ذلك ما ورد في الحديث، عن عبد الرحمن بن أبي بكرة عن أبيه قال: كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: (ألا أنبئكم بأكبر الكبائر ثلاثاً، الإشراك بالله، وعقوق الوالدين، وشهادة الزور أو
ইবনে সালাহ তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে বলেছেন: [কবিরা গুনাহ হলো এমন প্রতিটি গুনাহ যা এতটাই গুরুতর যে তাকে 'কবিরা' বলা সঠিক হয় এবং যাকে নিঃশর্তভাবে 'মহান' হিসেবে বর্ণনা করা যায়। এর কিছু আলামত রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: নির্ধারিত দণ্ড (حد) আবশ্যক হওয়া।

অন্যটি হলো: কিতাব বা সুন্নাহ (سنة)-তে সেই পাপের জন্য জাহান্নামের আগুন বা অনুরূপ শাস্তির হুমকি থাকা।

অন্যটি হলো: এর কর্তাকে পাপাচার (فسق) হিসেবে আখ্যায়িত করা।

অন্যটি হলো: অভিশাপ (لعن) প্রদান করা]।

বারযি বলেন: [গবেষণালব্ধ সঠিক মত এই যে, কবিরা গুনাহ হলো এমন প্রতিটি গুনাহ যার সাথে কিতাব বা সুন্নাহ (سنة)-র অকাট্য দলীল দ্বারা পরকালীন শাস্তি বা অভিশাপ (لعن) যুক্ত করা হয়েছে; অথবা যার অনিষ্ট সেই সব গুনাহর অনিষ্টের সমতুল্য বলে জানা যায় যার সাথে পরকালীন শাস্তির হুমকি, নির্ধারিত দণ্ড (حد) কিংবা অভিশাপ (لعن) যুক্ত হয়েছে, অথবা যার অনিষ্ট সেগুলোর চেয়েও বেশি; অথবা যা সম্পাদনকারীর দ্বীনের প্রতি এমন অবজ্ঞা প্রকাশ করে যা বর্ণিত ক্ষুদ্রতম কবিরা গুনাহর অবজ্ঞার সমপর্যায়ের]।

জেনে রাখুন যে, পূর্বে বর্ণিত সংজ্ঞাসমূহের মাধ্যমে তারা কেবল বিষয়টিকে অনুধাবনের নিকটবর্তী করার ইচ্ছা করেছেন; অন্যথায় এগুলো কোনো ব্যাপক বা স্বয়ংসম্পূর্ণ সংজ্ঞা নয়। আর যে বিষয়টিকে সুনির্দিষ্টভাবে সীমাবদ্ধ করার অবকাশ নেই, তাকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব?] আয-যাওয়াযির ১/ ১৭-১৯।

অধিকাংশ আলিমদের অভিমত হলো, কবিরা গুনাহর সংখ্যা অনেক এবং তা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। যদিও কিছু হাদিসে এর নির্দিষ্ট সংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তার উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ করা নয়। যেমনটি সেই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যা আবদুর রহমান ইবনে আবি বকরাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তিনি বললেন: (আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে অবহিত করব না? কথাটি তিনি তিনবার বললেন: আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া অথবা
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ১৪)
قول الزور، وكان رسول الله متكئاً فجلس، فما زال يكررها حتى قلنا يا ليته سكت) رواه البخاري ومسلم.

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الكبائر أو سئل عن الكبائر فقال: (الشرك بالله وقتل النفس وعقوق الوالدين وقال ألا أنبئكم بأكبر الكبائر؟ قال قول الزور، أو قال شهادة الزور) رواه مسلم.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (اجتنبوا السبع الموبقات، قيل يا رسول الله وما هن؟ قال: الشرك بالله والسحر وقتل النفس التي حرم الله قتلها إلا بالحق، وأكل مال اليتيم، وأكل الربا والتولي يوم الزحف، وقذف المحصنات الغافلات المؤمنات) رواه البخاري ومسلم.

قال الإمام النووي: [وأما قوله صلى الله عليه وسلم: (الكبائر سبع) فالمراد به من الكبائر سبع، فإن هذه الصيغة وإن كانت للعموم، فهي مخصوصة بلا شك، وإنما وقع الاقتصار على هذه السبع وفي الأخرى ثلاث، وفي الرواية الأخرى أربع، لكونها من أفحش الكبائر مع كثرة وقوعها لا سيما فيما كانت عليه الجاهلية ولم يذكر في بعضها ما ذكر في الأخرى، وهذا مصرح بما ذكرته من أن المراد البعض] شرح النووي على صحيح مسلم 1/ 264.
মিথ্যা কথা বলা; আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং কথাটি বারবার বলতে থাকলেন, এমনকি আমরা মনে মনে বললাম, আহ! তিনি যদি এখন থামতেন।) বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবিরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করলেন অথবা তাঁকে কবিরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি বললেন: (আল্লাহর সাথে শিরক করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। এরপর তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তিনি বললেন: মিথ্যা কথা বলা অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শিরক করা, জাদু করা, আল্লাহ যা হারাম করেছেন এমন ব্যক্তিকে ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া হত্যা করা, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, সুদ খাওয়া, যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা এবং সচ্চরিত্রা উদাসীন মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ দেওয়া।) বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

ইমাম নববী বলেন: [আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: (কবিরা গুনাহ সাতটি)—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কবিরা গুনাহসমূহের মধ্য থেকে সাতটি। কেননা এই শব্দসমষ্টি যদিও ব্যাপকতা (العموم) প্রকাশ করে, তবে এটি নিঃসন্দেহে বিশেষায়িত (مخصوصة)। কেবল এই সাতটির কথা উল্লেখ করা এবং অন্য বর্ণনায় তিনটি, আবার অন্য বর্ণনায় (الرواية) চারটির কথা উল্লেখ করার কারণ হলো—এগুলো জাহেলি যুগে ব্যাপকভাবে প্রচলিত অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ ছিল। কোনো কোনো বর্ণনায় যা উল্লেখ করা হয়েছে অন্যটিতে তা করা হয়নি। এটি আমার পূর্বোক্ত আলোচনারই সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, এখানে কেবল কতিপয় সংখ্যাই উদ্দেশ্য।] শারহু নববী আলা সহীহ মুসলিম ১/ ২৬৪।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ১৫)
ويؤيد عدم انحصار الكبائر في سبع، أو ثلاث، أو أربع، ما ورد عن ابن عباس رضي الله عنه، أنه لما سئل عن الكبائر أسبعٌ هي؟ فقال: هي إلى سبعين أقرب.

وقال سعيد بن جبير: [قال رجل لابن عباس الكبائر سبع؟ قال: هي إلى سبعمائة أقرب منها إلى السبع، غير أنه لا كبيرة مع استغفار ولا صغيرة مع إصرار]. انظر تفسير القرطبي 5/ 159.

وهذا هو الراجح إن شاء الله، وهو أن الكبائر ليست محصورة في عدد معين، وقد ذكر الإمام ابن حجر المكي يرحمه الله عدداً كبيراً من الذنوب التي تعد من الكبائر وساق الأدلة على ذلك فمن أراد الاستزادة فليرجع إلى كتابه القيم الزواجر عن اقتراف الكبائر.
কবিরা গুনাহ (الكبائر) যে সাত, তিন বা চারটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সেই মতটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত বর্ণনার দ্বারা সমর্থিত। যখন তাঁকে কবিরা গুনাহ (الكبائر) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, সেগুলো কি সংখ্যায় সাতটি? তখন তিনি বলেছিলেন: “সেগুলো সত্তরটির কাছাকাছি।”

সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: [এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসকে বললেন, কবিরা গুনাহ (الكبائر) কি সাতটি? তিনি বললেন: “সেগুলো সাতের চেয়ে সাতশর কাছাকাছি; তবে ক্ষমা প্রার্থনার (استغفار) মাধ্যমে কোনো কবিরা গুনাহ (كبيرة) থাকে না এবং পাপে অবিচল থাকার (إصرار) মাধ্যমে কোনো সগিরা গুনাহ (صغيرة) আর ছোট থাকে না।”] দেখুন তাফসিরে কুরতুবি ৫/১৫৯।

আর এটিই ইনশাআল্লাহ অগ্রগণ্য (الراجح) মত যে, কবিরা গুনাহ (الكبائر) কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইমাম ইবনে হাজার মাক্কি (রাহিমাহুল্লাহ) এমন অনেক পাপের কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলোকে কবিরা গুনাহ (الكبائر) হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তিনি সেগুলোর স্বপক্ষে দলিলসমূহ উপস্থাপন করেছেন। সুতরাং যারা বিস্তারিত জানতে চান, তারা তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ ‘আয-যাওয়াজির আন ইবতিরাফিল কাবায়ের’ দেখতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ثانياً: توضيح المراد بحقوق الله وحقوق العباد:

قسم جمهور الفقهاء والأصوليين الحق باعتبار صاحب الحق إلى أربعة أقسام وهي:

أولاً: حق الله تعالى ويسمى الحق العام:

وهو ما قصد به التقرب إلى الله تعالى وتعظيمه وإقامة شعائر دينه، أو قصد به تحقيق النفع العام دون اختصاص بأحد، ونسب هذا الحق لله تعالى لعظم خطره وشمول نفعه كما قاله ابن نجيم الحنفي في فتح الغفار 3/ 59.

وحق الله تعالى يشمل الإيمان به جل جلاله، والصلاة والصيام والزكاة والحج والجهاد وإقامة الحدود والكفارات وغير ذلك. انظر الفروق 1/ 140 - 141، أصول الفقه لأبي زهرة ص 323 - 326، نظرية الحكم القضائي ص 239 - 242، الفقه الإسلامي وأدلته 4/ 13 - 15، الموسوعة الفقهية 18/ 14 - 19.

ثانياً: حق العبد المحض:

وهو ما كان متعلقاً بمصالح الإنسان الخالصة، قال القرافي: [وحق العبد مصالحه] الفروق 1/ 140.

وحق العبد المحض يشمل الحقوق المالية، قال الشيخ محمد أبو زهرة: [حقوق العباد الخالصة وذلك كالديون والأملاك وحق الوراثة وغير
দ্বিতীয়ত: আল্লাহর অধিকার এবং বান্দার অধিকারের উদ্দেশ্য স্পষ্টীকরণ:

জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) ফকিহ এবং উসুলবিদগণ অধিকারের অধিকারীর বিবেচনায় অধিকারকে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন, আর সেগুলো হলো:

প্রথমত: মহান আল্লাহর অধিকার, যাকে সাধারণ অধিকার বলা হয়:

এটি এমন বিষয় যা দ্বারা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ, তাঁর মহিমা ঘোষণা এবং তাঁর দ্বীনের নিদর্শনাবলী প্রতিষ্ঠা করা উদ্দেশ্য হয়; অথবা যার দ্বারা বিশেষ কাউকে নির্দিষ্ট না করে সাধারণ জনকল্যাণ সাধন করা উদ্দেশ্য হয়। এই অধিকারটিকে মহান আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব এবং এর উপকারের ব্যাপকতার কারণে, যেমনটি ইবনে নুজাইম হানাফি ফাতহুল গাফফার ৩/৫৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

আল্লাহ তাআলার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন করা, সালাত, সিয়াম, জাকাত, হজ, জিহাদ, হুদুদ কার্যকর করা, কাফফারা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। দেখুন: আল-ফুরুক ১/১৪০-১৪১, উসুলুল ফিকহ (আবু জাহরা) পৃ. ৩২৩-৩২৬, নাজারিয়াতুল হুকমি আল-কাদায়ি পৃ. ২৩৯-২৪২, আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু ৪/১৩-১৫, আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ১৮/১৪-১৯।

দ্বিতীয়ত: বান্দার নিরঙ্কুশ অধিকার:

এটি মানুষের বিশুদ্ধ বা একান্ত স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। আল-কারাফি বলেন: [বান্দার অধিকার হলো তার স্বার্থসমূহ] আল-ফুরুক ১/১৪০।

বান্দার নিরঙ্কুশ অধিকার আর্থিক অধিকারসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। শেখ মুহাম্মদ আবু জাহরা বলেন: [বান্দাদের নিরঙ্কুশ অধিকারসমূহ, যেমন: ঋণ, মালিকানা, উত্তরাধিকারের অধিকার এবং অন্যান্য...
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ১৭)
ذلك مما يتعلق بالأموال نقلاً وبقاءً، فهذه كلها حقوق العباد خالصة والاعتداء على حقوق العباد ظلم، ولا يقبل الله تعالى توبة عبد قد أكل حقاً من حقوق العباد إلا إذا أداه أو أسقطه صاحبه وعفا] أصول الفقه ص324.

وحق العبد يقبل الإسقاط، فإذا أسقط إنسان حقاً له على غيره فله ذلك، قال القرافي: [ونعني بحق العبد المحض أنه لو أسقطه لسقط] الفروق 1/ 141.

ثالثاً: ما اجتمع فيه حق الله وحق العبد وحق الله غالب:

ومثاله حد القذف فهو من جهة أن فيه مساً بأعراض الناس علناً فهو حق لله تعالى، ومن جهة أن المقذوف بالزنى قد اتهم في عرضه فهو حق له ولكن حق الله غالب فيه.

وكذلك حد السرقة بعد أن يبلغ الإمام، وكذلك عدة المطلقة وعدة المتوفى عنها زوجها، فحق الله فيها صيانة الأنساب عن الاختلاط وحماية المجتمع من الفوضى، وأما حق العبد فيها فهو المحافظة على نسب أولاد الزوج وحق الله غالب. نظرية الحكم القضائي ص 242، أصول أبو زهرة ص 324 - 325 الفقه الإسلامي وأدلته 4/ 15 الموسوعة الفقهية 18/ 18.

رابعاً: ما اجتمع فيه حق الله وحق العبد وحق العبد الغالب:
এটি সেই সকল বিষয় যা সম্পদের মালিকানা স্থানান্তর ও স্বত্ব বহাল থাকা সংশ্লিষ্ট; এসবই পুরোপুরি বান্দার অধিকার এবং বান্দার অধিকারে হস্তক্ষেপ করা জুলুম স্বরূপ। আর আল্লাহ তাআলা এমন কোনো বান্দার তাওবা কবুল করেন না যে বান্দার কোনো অধিকার হরণ করেছে, যতক্ষণ না সে তা আদায় করে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তা মওকুফ করে বা ক্ষমা করে দেয়।] উসুলুল ফিকহ, পৃষ্ঠা ৩২৪।

আর বান্দার অধিকার মওকুফযোগ্য; সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের ওপর থাকা তার কোনো পাওনা অধিকার মওকুফ করে দেয়, তবে সে তা করতে পারে। আল-কারাফি বলেছেন: [বিশুদ্ধ বান্দার অধিকার বলতে আমরা এটিই বুঝি যে, যদি সে তা মওকুফ করে দেয় তবে তা রহিত হয়ে যায়।] আল-ফুরুক ১/১৪১।

তৃতীয়: যাতে আল্লাহর অধিকার ও বান্দার অধিকার উভয়টিই বিদ্যমান থাকে, তবে আল্লাহর অধিকারই সেখানে প্রবল:

এর উদাহরণ হলো অপবাদের শাস্তি। এটি এই দিক থেকে আল্লাহর অধিকার যে, এতে প্রকাশ্যে মানুষের সম্মানহানি করা হয়, তাই এটি মহান আল্লাহর অধিকার। আবার এই দিক থেকে এটি বান্দার অধিকার যে, ব্যভিচারের অপবাদপ্রাপ্ত ব্যক্তির সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে; তবে এতে আল্লাহর অধিকারই প্রবল।

অনুরূপভাবে ইমামের নিকট পৌঁছানোর পর চুরির শাস্তি, এবং তালাকপ্রাপ্তা ও বিধবা নারীর ইদ্দত। এগুলোতে আল্লাহর অধিকার হলো বংশপরম্পরা যেন সংমিশ্রিত না হয় তা নিশ্চিত করা এবং সমাজকে বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করা। আর এতে বান্দার অধিকার হলো স্বামীর সন্তানদের বংশপরিচয় সংরক্ষণ করা, তবে আল্লাহর অধিকারই এখানে প্রবল। নাজারিয়াতুল হুকমিল কাজায়ি, পৃষ্ঠা ২৪২; উসুলু আবু জাহরা, পৃষ্ঠা ৩২৪-৩২৫; আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু ৪/১৫; আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ১৮/১৮।

চতুর্থ: যাতে আল্লাহর অধিকার ও বান্দার অধিকার উভয়টিই বিদ্যমান থাকে, তবে বান্দার অধিকারই সেখানে প্রবল:
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ১৮)
ومثاله القصاص وعقوبات الدماء بشكل عام كالديات.

[فالقصاص لله فيه حق لأنه اعتداء على المجتمع واعتداء على مخلوق الله وعبده، الذي حرم دمه إلا بحق، ولله في نفس العبد حق الاستعباد حيث قال عز وجل: (وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) سورة الذاريات الآية 56. وللعبد في القصاص حق، لأن القتل العمد اعتداء على شخصه لأن للعبد المقتول في نفسه حق الحياة وحق الاستمتاع بها فحرمه القاتل من حقه وهو اعتداء على أولياء المقتول لأنه حرمهم من رعاية مورثهم واستمتاعهم بحياته فكان القتل العمد اعتداء على حق الله وحق العبد ولذلك كان في شرعية القصاص إبقاء للحقين وإخلاء للعالم من الفساد، تصديقاً لقول الله تعالى: (وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ) سورة البقرة الآية 179.

وغلب حق العبد لأن ولي المقتول يملك رفع دعوى القصاص أو عدم رفعها وبعد المطالبة بالقصاص والحكم على الجاني القاتل يملك التنازل عنه والصلح على مال أو الصلح بغير عوض كما يملك تنفيذ حكم القصاص على القاتل إن أراد ذلك وكان يتقن التنفيذ ولا يجوز ذلك إلا بإذن الحاكم لئلا يفتات عليه فلو فعل وقع القصاص موقعه واستحق التعزير] الموسوعة الفقهية 18/ 18 - 19.
এর উদাহরণ হলো কিসাস (قصاص) এবং সাধারণভাবে রক্তপণ সংক্রান্ত দণ্ডসমূহ যেমন দিয়াত (ديات)।

[কিসাসে (قصاص) আল্লাহর হক বা অধিকার রয়েছে; কারণ এটি সমাজের ওপর আক্রমণ এবং আল্লাহর সৃষ্টি ও তাঁর বান্দার ওপর সীমালঙ্ঘন, যার রক্তকে আল্লাহ ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া হারাম করেছেন। আর বান্দার জীবনের ওপর আল্লাহর ইবাদত লাভের অধিকার রয়েছে; যেমন মহান আল্লাহ বলেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি" (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬)। কিসাসে (قصاص) বান্দারও অধিকার রয়েছে, কেননা ইচ্ছাকৃত হত্যা (قتل العمد) তার সত্তার ওপর একটি আক্রমণ; কারণ নিহত ব্যক্তির জীবনের ওপর এবং তা উপভোগ করার অধিকার ছিল, যা থেকে হত্যাকারী তাকে বঞ্চিত করেছে। এটি নিহতের অভিভাবকদের ওপরও একটি অপরাধ, কেননা এটি তাদের উত্তরসূরির রক্ষণাবেক্ষণ ও তার সান্নিধ্য থেকে তাদের বঞ্চিত করেছে। ফলে ইচ্ছাকৃত হত্যা (قتل العمد) আল্লাহর হক এবং বান্দার হক—উভয়ের ওপরই আক্রমণ। এ কারণেই কিসাস (قصاص) বিধিবদ্ধ করার মাঝে উভয় অধিকার রক্ষা করা এবং পৃথিবীকে ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত রাখার কল্যাণ নিহিত রয়েছে, যা মহান আল্লাহর এই বাণীরই প্রতিফলন: "হে বুদ্ধিমানগণ, কিসাসের (قصاص) মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো" (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৭৯)।

এখানে বান্দার হককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে; কারণ নিহতের অভিভাবক কিসাস (قصاص) দাবি করার অথবা না করার অধিকার রাখেন। কিসাস (قصاص) দাবি করার পর এবং অপরাধী হত্যাকারীর বিরুদ্ধে রায় হওয়ার পর, তিনি তা ক্ষমা করে দেওয়ার, অর্থের বিনিময়ে আপোষ (صلح) করার বা কোনো বিনিময় ছাড়াই আপোষ (صلح) করার অধিকার রাখেন। তেমনিভাবে তিনি যদি চান এবং দণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে পারদর্শী হন, তবে হত্যাকারীর ওপর কিসাসের (قصاص) দণ্ড কার্যকর করার অধিকারও তাঁর রয়েছে। তবে শাসকের অনুমতি ব্যতীত এটি করা বৈধ নয়, যাতে তাঁর কর্তৃত্বে হস্তক্ষেপ না হয়। যদি কেউ অনুমতি ছাড়া এটি করে ফেলে, তবে কিসাস (قصاص) তার যথাস্থানেই কার্যকর হবে, তবে সে তা'যীর (تعزير) বা সংশোধনমূলক শাস্তির যোগ্য হবে।] আল-মাওসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ ১৮/ ১৮ - ১৯।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌ثالثاً: أثر التوبة على حقوق الله وحقوق العباد:

اعلم أن المعصية إذا كانت متعلقة بحقوق الله المالية فلا بد للتائب منها أن يؤدي حقوق الله تعالى، ولا يكفي مجرد الإقلاع عن المعصية.

قال الإمام النووي: [ … ثم إن كانت المعصية لا يتعلق بها حق مالي لله تعالى ولا للعباد، كقبلة الأجنبية ومباشرتها فيما دون الفرج فلا شيء عليه سوى ذلك، وإن تعلق بها حق مالي كمنع الزكاة والغصب والجنايات في أموال الناس وجب مع ذلك تبرئة الذمة عنه] روضة الطالبين 11/ 245 - 246.

وذكر الخطيب الشربيني أن حق الله تعالى كالزكاة والكفارات لابد من أدائها. مغني المحتاج 4/ 440.

وقال الإمام النووي أيضاً: [وإن تعلق بالمعصية حق ليس بمالي، فإن كان حداً لله تعالى بأن زنى أو شرب الخمر، فإن لم يظهر عليه فله أن يظهره ويقر به ليقام عليه الحد، ويجوز أن يستر على نفسه وهو الأفضل، فإن ظهر فقد فات الستر فيأتي الإمام ليقيم عليه الحد] روضة الطالبين 11/ 246 - 247.

وكلام النووي يدل على أن الحدود المختصة بالله تعالى كحد الزنا والسرقة وشرب الخمر لا تسقط بمجرد التوبة، ولا بد من إقامة الحد وهذا مذهب جمهور الفقهاء. انظر الموسوعة الفقهية 18/ 18 - 19.
তৃতীয়ত: আল্লাহর হক এবং বান্দার হকের ওপর তাওবার প্রভাব:

জেনে রাখুন যে, গুনাহ যদি আল্লাহর আর্থিক হকের সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে তাওবাকারীর জন্য আল্লাহ তাআলার সেই হক আদায় করা আবশ্যক; শুধুমাত্র গুনাহ পরিত্যাগ করাই যথেষ্ট নয়।

ইমাম নববী বলেছেন: [ … অতঃপর গুনাহটি যদি আল্লাহ তাআলার বা বান্দার কোনো আর্থিক হকের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়—যেমন বেগানা নারীকে চুম্বন করা বা লজ্জাস্থান ব্যতিরেকে স্পর্শ করা—তবে তাওবা ব্যতীত তার ওপর অন্য কিছু আবশ্যক নয়। আর যদি তা আর্থিক হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়—যেমন জাকাত না দেওয়া, জবরদখল করা এবং মানুষের সম্পদের ক্ষতিসাধন করা—তবে এর পাশাপাশি দায়মুক্ত হওয়া (تبرئة الذمة) আবশ্যক।] রওজাতুত তালিবিন ১১/ ২৪৫ - ২৪৬।

খতিব শিরবিনি উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলার হক যেমন জাকাত এবং কাফফারা (كفارة), তা অবশ্যই আদায় করতে হবে। মুগনী আল-মুহতাজ ৪/ ৪৪০।

ইমাম নববী আরও বলেছেন: [আর যদি গুনাহর সাথে এমন কোনো হক সংশ্লিষ্ট থাকে যা আর্থিক নয়, তবে তা যদি আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত দণ্ড (حد) সংশ্লিষ্ট হয়—যেমন ব্যভিচার করা বা মদ্যপান করা—যদি তা প্রকাশ না পায় তবে তার অবকাশ রয়েছে যে সে তা প্রকাশ করবে এবং স্বীকারোক্তি দেবে যাতে তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) কার্যকর করা হয়। আবার সে নিজের বিষয়টি গোপনও রাখতে পারে এবং এটিই উত্তম। কিন্তু যদি বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে তবে গোপনীয়তা রক্ষা করার সুযোগ থাকে না, এমতাবস্থায় সে ইমামের নিকট উপস্থিত হবে যাতে তিনি তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) কার্যকর করেন।] রওজাতুত তালিবিন ১১/ ২৪৬ - ২৪৭।

ইমাম নববীর বক্তব্য নির্দেশ করে যে, আল্লাহ তাআলার জন্য নির্ধারিত দণ্ডসমূহ (الحدود)—যেমন ব্যভিচার, চুরি ও মদ্যপানের দণ্ড—শুধুমাত্র তাওবার মাধ্যমে রহিত হয় না, বরং দণ্ড কার্যকর করা আবশ্যক। আর এটিই সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) ফকিহগণের মাযহাব। দেখুন: আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ১৮/ ১৮ - ১৯।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ২০)
وكذلك فإنه من المقرر عند العلماء أن من شروط التوبة من المعصية المتعلقة بالناس رَدُّ الحقوق لأصحابها

قال الإمام النووي: [وإن تعلق بها حق مالي كمنع الزكاة والغصب والجنايات في أموال الناس، وجب مع ذلك تبرئة الذمة عنه بأن يؤدي الزكاة ويرد أموال الناس إن بقيت، ويغرم بدلها إن لم تبق، أو يستحل المستحق فيبرئه، ويجب أن يعلم المستحق إن لم يعلم به، وأن يوصله إليه إن كان غائباً إن كان غصبه منه هناك، فإن مات سلَّمه إلى وارثه، فإن لم يكن له وارث وانقطع خبره، دفعه إلى قاضٍ تُرضى سيرتهُ وديانته، فإن تعذر تصدق به على الفقراء بنية الغرامة له إن وجده … وإن كان معسراً نوى الغرامة إذا قدر، فإن مات قبل القدرة فالمرجو من فضل الله تعالى المغفرة.

قلت - أي النووي - ظواهر السنن الصحيحة تقتضي ثبوت المطالبة بالظلامة، وإن مات معسراً عاجزاً إذا كان عاصياً بالتزامها، فأما إذا استدان في مواضع يباح له الاستدانة واستمر عجزه عن الوفاء حتى مات، أو أتلف شيئاً خطأً وعجز عن غرامته حتى مات، فالظاهر أن هذا لا مطالبة في حقه في الآخرة، إذ لا معصية منه والمرجو أن الله تعالى يعوض صاحب الحق]. روضة الطالبين 11/ 245 - 246.
অনুরূপভাবে, আলেমগণের নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত যে, মানুষের সাথে সম্পৃক্ত পাপ হতে তওবা করার অন্যতম শর্ত হলো হকদারদের নিকট তাদের পাওনা ফেরত দেওয়া।

ইমাম নববী বলেন: [যদি এর (পাপের) সাথে কোনো আর্থিক অধিকার বা হক জড়িত থাকে—যেমন যাকাত প্রদান না করা, জবরদখল করা এবং মানুষের সম্পদের ক্ষতি করা—তবে সেক্ষেত্রে দায়মুক্ত হওয়ার জন্য যাকাত আদায় করা এবং মানুষের সম্পদ অবশিষ্ট থাকলে তা ফেরত দেওয়া ওয়াজিব। যদি তা অবশিষ্ট না থাকে তবে তার বিনিময় প্রদান করতে হবে, অথবা হকদারের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে যাতে সে তাকে দায়মুক্ত করে দেয়। হকদার যদি বিষয়টি না জেনে থাকে তবে তাকে জানানো আবশ্যক, আর সে যদি অনুপস্থিত থাকে তবে তা তার নিকট পৌঁছে দিতে হবে যদি সেখান থেকে তা জবরদখল করা হয়ে থাকে। যদি সে মৃত্যুবরণ করে তবে তার ওয়ারিশের কাছে তা হস্তান্তর করতে হবে। যদি তার কোনো ওয়ারিশ না থাকে এবং তার কোনো সংবাদ না পাওয়া যায়, তবে তা এমন একজন বিচারকের নিকট সমর্পণ করতে হবে যার চরিত্র ও দ্বীনদারী সন্তোষজনক। যদি তাও অসম্ভব হয়, তবে মালিককে খুঁজে পেলে তাকে পরিশোধ করে দেওয়ার নিয়তে তা দরিদ্রদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে … আর সে যদি অসচ্ছল হয় তবে সামর্থ্য হওয়ামাত্র তা পরিশোধের নিয়ত করবে। যদি সামর্থ্য হওয়ার আগেই সে মারা যায়, তবে মহান আল্লাহর অনুগ্রহে ক্ষমা পাওয়ার আশা করা যায়।

আমি (অর্থাৎ ইমাম নববী) বলছি—সহিহ (صحيحة) সুনানসমূহের বাহ্যিক অর্থ এটাই দাবি করে যে, এই জুলুমের দায় বা দাবি বহাল থাকবে, যদিও সে পরিশোধে অক্ষম ও অসচ্ছল অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, যদি সে সেই দায় গ্রহণে পাপিষ্ঠ হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, সে যদি এমন কোনো ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণ করে যেখানে ঋণ নেওয়া বৈধ এবং আমৃত্যু তা পরিশোধে অক্ষম থাকে, অথবা ভুলবশত কোনো কিছু নষ্ট করে ফেলে এবং আমৃত্যু তার ক্ষতিপূরণ দিতে অক্ষম থাকে, তবে বাহ্যিক দৃষ্টিতে পরকালে তার প্রতি কোনো দাবি থাকবে না। কারণ এতে তার কোনো পাপ নেই এবং আশা করা যায় যে মহান আল্লাহ পাওনাদারকে এর প্রতিদান দিয়ে দেবেন]। রওজাতুত তালিবীন ১১/ ২৪৫ - ২৪৬।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ২১)
وقال النووي أيضاً: [وإن كان حقاً للعباد كالقصاص وحد القذف فيأتي المستحق ويمكنه من الاستيفاء فإن لم يعلم المستحق وجب في القصاص أن يعلمه فيقول أنا الذي قتلت أباك ولزمني القصاص، فإن شئت فاقتص وإن شئت فاعف

وأما الغيبة إذا لم تبلغ المغتاب فرأيت في فتاوى الحناطي أنه يكفيه الندم والاستغفار وإن بلغته … فالطريق أن يأتي المغتاب ويستحل منه فإن تعذر لموته أو تعسر لغيبته البعيدة استغفر الله تعالى ولا اعتبار بتحليل الورثة هكذا ذكره الحناطي]. روضة الطالبين11/ 247.

وذكر الشيخ أحمد النفراوي المالكي أن الإسنوي والسنوسي قالا:

[التوبة من الغصب والسرقة والحرابة ونحو ذلك يشترط في صحتها رد المغصوب]. الفواكه الدواني 1/ 76.

وقال النفراوي أيضاً: [وإن تعلقت - المعصية - بحقوق العباد لزم مع الندم رضا العبد أو بذله إليه إن كان الذنب ظلماً كما في الغصب وقتل العمد] الفواكه الدواني 1/ 76.

وقال النفراوي أيضاً: [ومن واجبات التوبة رد المظالم إلى أهلها بأن يدفعها إليهم إن كانت أموالاً ولو أتى ذلك على جميع ما عنده أو يردها إلى الوارث فإن لم يجد له وارثاً تصدق به على المظلوم.
ইমাম নববী আরও বলেছেন: [আর যদি তা বান্দার অধিকার (حقاً للعبাদ) হয়, যেমন কিসাস (القصاص) এবং অপবাদের দণ্ড (حد القذف), তবে পাওনাদারের নিকট আসবে এবং তাকে তা আদায়ের সুযোগ দিবে। যদি পাওনাদার বিষয়টি না জানে, তবে কিসাসের (القصاص) ক্ষেত্রে তাকে জানানো আবশ্যক (وجب); সে বলবে: আমিই আপনার পিতাকে হত্যা করেছি এবং আমার ওপর কিসাস (القصاص) বর্তেছে। সুতরাং আপনি চাইলে কিসাস (القصاص) গ্রহণ করুন, আর চাইলে ক্ষমা করুন

আর গীবত (الغيبة) বা পরনিন্দার ক্ষেত্রে, যদি তা যার গীবত করা হয়েছে তার নিকট না পৌঁছায়, তবে আমি আল-হান্নাতীর ফতোয়াতে দেখেছি যে, তার জন্য অনুশোচনা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করাই যথেষ্ট। আর যদি তার নিকট পৌঁছে যায় … তবে নিয়ম হলো সেই ব্যক্তির নিকট যাওয়া এবং তার নিকট ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। যদি তার মৃত্যুর কারণে তা অসম্ভব হয় কিংবা দূরবর্তী স্থানে গমনের কারণে কষ্টসাধ্য হয়, তবে মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে। এক্ষেত্রে ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারীদের ক্ষমা করে দেওয়ার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই—হান্নাতী এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন]। রওজাতুত তালিবীন ১১/ ২৪৭।

শাইখ আহমদ আল-নাফরাবী আল-মালিকী উল্লেখ করেছেন যে, আল-ইসনাবী এবং আল-সানুসী বলেছেন:

[জবরদখল (الغصب), চুরি (السرقة), ডাকাতি (الحرابة) এবং এ জাতীয় বিষয় থেকে তওবা (التوبة) শুদ্ধ হওয়ার জন্য জবরদখলকৃত বস্তু ফিরিয়ে দেওয়া শর্ত (يشترط)]। আল-ফাওয়াকিহ আল-দাওয়ানী ১/ ৭৬।

আল-নাফরাবী আরও বলেছেন: [আর যদি পাপাচারটি (المعصية) বান্দার হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে অনুশোচনার সাথে সাথে বান্দার সন্তুষ্টি অর্জন অথবা তার নিকট পাওনা সমর্পণ করা আবশ্যক (لزم), যদি সেই গুনাহটি জুলুম (ظلماً) হয়, যেমন জবরদখল (الغصب) এবং ইচ্ছাকৃত হত্যার (قتل العمد) ক্ষেত্রে] আল-ফাওয়াকিহ আল-দাওয়ানী ১/ ৭৬।

আল-নাফরাবী আরও বলেছেন: [তওবার (التوبة) অন্যতম ওয়াজিব (واجبات) কাজ হলো হকদারদের কাছে তাদের পাওনা বা মাজালিম (المظالم) ফিরিয়ে দেওয়া। যদি তা সম্পদ হয় তবে তা তাদের নিকট প্রদান করবে, যদিও তা তার নিকট থাকা সর্বস্ব শেষ করে দেয়। অথবা তা উত্তরাধিকারীর নিকট ফিরিয়ে দিবে। যদি তার কোনো উত্তরাধিকারী না পাওয়া যায়, তবে মজলুম বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তা সদকা করে দিবে।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ২২)
وإن كانت أعراضاً كقذف أو غيبة استحلل المقذوف أو المغتاب إن كان حياً وإن وجده مات فيكثر من فعل الحسنات ليعطي منها المظلوم] الفواكه الدواني 2/ 301.

وقال الشيخ أحمد النفراوي المالكي: [وأما تبعات العباد فلا يكفرها التوبة، بل لا بد من استحلال أربابها، لأن حقوق العباد لا يقال لها ذنوب] الفواكه الدواني 2/ 302.

وقال الخطيب الشربيني: [يشترط في التوبة منها إقلاع عنها وندم عليها وعزم أن لا يعود لها وردُّ ظلامة آدمي من مال وغيره وقصاص وحد قذف إن تعلقت به والله أعلم، فيؤدي الزكاة لمستحقها ويرد المغصوب إن بقي وبدله إن تلف لمستحقه أو يستحق منه أو من ورائه ويعلمه إن لم يعلم فإن لم يوجد مستحق أو انقطع خبره سلمها إلى قاض أمين فإن تعذر تصدق بها ويؤدي الغرم أو يتركها عنده]. مغني المحتاج 4/ 439.
আর যদি তা সম্মান-সংক্রান্ত বিষয় হয়, যেমন অপবাদ (قذف) বা গিবত (غيبة), তবে অপবাদপ্রাপ্ত বা যার গিবত করা হয়েছে তার নিকট ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে যদি সে জীবিত থাকে। আর যদি তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে অধিক পরিমাণে নেক আমল করতে হবে যেন তা থেকে অত্যাচারিত ব্যক্তিকে (مظلوم) প্রদান করা যায়। — আল-ফাওয়াকিহ আদ-দাওয়ানি ২/৩০১।

শায়খ আহমদ আন-নাফরাওয়ি আল-মালিকি বলেন: [আর বান্দার প্রতি দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে তওবা (توبة) তা মোচন করে না, বরং এর মালিকদের থেকে ক্ষমা নেওয়া আবশ্যক। কারণ মানুষের অধিকারকে (حقوق العباد) কেবল গুনাহ (ذنوب) বলা হয় না।] — আল-ফাওয়াকিহ আদ-দাওয়ানি ২/৩০২।

খতিব আশ-শিরবিনি বলেন: [এই পাপসমূহ থেকে তওবা (توبة) করার ক্ষেত্রে শর্ত হলো—তা বর্জন করা (إقلاع), তজ্জন্য লজ্জিত হওয়া (ندম), পুনরায় তা না করার দৃঢ় সংকল্প করা (عزم) এবং মানুষের পাওনা বা অধিকার তা সম্পদ হোক বা অন্য কিছু—তা ফেরত দেওয়া। যদি কিসাস (قصاص) বা অপবাদের দণ্ড (حد قذف) সংশ্লিষ্ট থাকে, তবে তাও কার্যকর করতে হবে—আল্লাহই ভালো জানেন। সুতরাং সে তার হকদারকে জাকাত প্রদান করবে এবং জোরপূর্বক দখলকৃত সম্পদ (مغصوب) অবশিষ্ট থাকলে তা ফিরিয়ে দেবে, আর তা নষ্ট হয়ে গেলে তার বিনিময় পাওনাদারকে বা তার ওয়ারিশকে প্রদান করবে। পাওনাদার যদি বিষয়টি না জানে তবে তাকে অবহিত করবে। আর যদি কোনো পাওনাদার পাওয়া না যায় বা তার কোনো সংবাদ না থাকে, তবে তা একজন বিশ্বস্ত বিচারকের (قاضي أمين) নিকট সমর্পণ করবে। যদি তাও অসম্ভব হয়, তবে তা সদকা (صدقة) করে দেবে এবং জরিমানা আদায় করবে অথবা তা নিজের কাছে গচ্ছিত রাখবে।] — মুগনি আল-মুহতাজ ৪/৪৩৯।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الأول

الخصال المكفرة للذنوب

ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم في أحاديث كثيرة أن الأعمال الصالحة تكفر الذنوب وتمحها ومن هذه الأعمال ما يلي:

 

‌‌أولاً: الوضوء وقد جاء فيه أحاديث كثيرة منها:

عن حمران أنه قال: فلما توضأ عثمان قال والله لأحدثنكم حديثاً والله لولا آية في كتاب الله ما حدثتكموه إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (لا يتوضأ رجل فيحسن وضوءه ثم يصلي الصلاة إلا غفر له ما بينه وبين الصلاة التي تليها) قال عروة الآية: (إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى … اللَّاعِنُونَ). رواه مسلم

وعن عثمان رضي الله عنهم أنه دعا بطهور ثم قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (ما من امرئ مسلم تحضره صلاة مكتوبة فيحسن وضوءها وخشوعها وركوعها إلا كانت كفارة لما قبلها من الذنوب ما لم يؤت كبيرة وذلك الدهر كله) رواه مسلم.

وعن عثمان بن عفان رضي الله عنهم أنه دعا بوضوء فتوضأ فغسل كفيه ثلاث مرات ثم مضمض واستنثر ثم غسل وجهه ثلاث مرات ثم غسل يده اليمنى إلى المرفق ثلاث مرات ثم غسل يده اليسرى مثل ذلك ثم مسح
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

গুনাহ মোচনকারী আমলসমূহ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনেক হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নেক আমলসমূহ গুনাহ মোচন করে এবং তা মিটিয়ে দেয়। এই আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:

 

‌‌প্রথমত: ওজু; এ বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

হুমরান থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: যখন উসমান (রা.) ওজু করলেন তখন বললেন, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই আপনাদের কাছে একটি হাদিস বর্ণনা করব। আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত না থাকত, তবে আমি আপনাদের কাছে তা বর্ণনা করতাম না। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (কোনো ব্যক্তি যখন সুন্দরভাবে ওজু করে, অতঃপর সালাত আদায় করে, তবে তার সেই সালাত এবং পরবর্তী সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়)। উরওয়াহ বলেন, আয়াতটি হলো: (নিশ্চয় যারা গোপন করে আমি যেসব সুস্পষ্ট নিদর্শন ও হেদায়াত নাযিল করেছি … অভিশাপকারীরা তাদের অভিশাপ দেয়)। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ওজুর পানি চাইলেন এবং এরপর বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (যেকোনো মুসলিম ব্যক্তির যখন ফরয সালাতের সময় উপস্থিত হয়, অতঃপর সে তার ওজু, খুশু (একাগ্রতা) এবং রুকু সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে, তবে তা তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের জন্য কাফফারা হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়। আর এটি সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য)। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ওজুর পানি চাইলেন এবং ওজু করলেন। তিনি তাঁর উভয় হাতের কবজি তিনবার ধৌত করলেন, এরপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন, এরপর তাঁর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন, এরপর তাঁর বাম হাতও একইভাবে ধৌত করলেন, তারপর তিনি মাসেহ করলেন...
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ২৪)
رأسه ثم غسل رجله اليمنى إلى الكعبين ثلاث مرات ثم غسل اليسرى مثل ذلك ثم قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم توضأ نحو وضوئي هذا، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من توضأ نحو وضوئي هذا ثم قام فركع ركعتين لا يحدث فيهما نفسه غفر له ما تقدم من ذنبه) رواه مسلم.

وعن حمران مولى عثمان قال أتيت عثمان بن عفان بوضوء فتوضأ ثم قال إن ناساً يتحدثون عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أحاديث لا أدري ما هي إلا أني رأيت رسول الله توضأ مثل وضوئي هذا ثم قال: (من توضأ هكذا غفر له ما تقدم من ذنبه وكانت صلاته ومشيه إلى المسجد نافلة) رواه مسلم.

وعن أبي هريرة رضي الله عنهم أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (أرأيتم لو أن نهراً بباب أحدكم يغتسل فيه كل يوم خمساً ما تقول ذلك يبقي من درنه، قالوا لا يبقي من درنه شيئاً، قال فذلك مثل الصلوات الخمس يمحو الله بها الخطايا) رواه البخاري.

وعن مسعر عن جامع بن شداد أبي صخرة قال سمعت حمران بن أبان قال كنت أضع لعثمان طهوره فما أتى عليه يوم إلا وهو يفيض عليه نطفة وقال عثمان حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم عند انصرافنا من صلاتنا هذه قال مسعر أراها العصر فقال ما أدري أحدثكم بشيء أو أسكت فقلنا: يا رسول الله إن كان خيراً فحدثنا وإن كان غير ذلك
[তাঁর] মাথা [মাসাহ করলেন], অতঃপর তাঁর ডান পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন, এরপর বাম পা-ও অনুরূপভাবে ধৌত করলেন। এরপর তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করতে দেখেছি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: (যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে, অতঃপর দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে এবং তাতে মনে মনে কোনো কথা বলবে না, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

উসমানের মুক্ত দাস (مولى) হুমরান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উসমান ইবনে আফফানের নিকট ওযুর পানি নিয়ে এলাম, তিনি ওযু করলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করে যা আমার জানা নেই; তবে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি এইভাবে ওযু করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং তার নামাজ ও মসজিদের দিকে গমন নফল (نافلة) হিসেবে গণ্য হবে)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: (তোমরা কি মনে করো, যদি তোমাদের কারো দরজার সামনে একটি নদী থাকে যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তবে তোমরা কি মনে করো তার শরীরে কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে? তারা বললেন: না, তার শরীরে কোনো ময়লাই অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি বললেন: এটিই হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা পাপসমূহ মিটিয়ে দেন)। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

মিসআর হতে বর্ণিত, তিনি জামে ইবনে শাদ্দাদ আবু সাখরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হুমরান ইবনে আবানকে বলতে শুনেছি: আমি উসমানের জন্য তাঁর পবিত্রতা অর্জনের পানি প্রস্তুত করে রাখতাম; এমন কোনো দিন অতিবাহিত হতো না যেদিন তিনি নিজের ওপর সামান্য পানি ঢালতেন না। উসমান (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এই নামাজ থেকে ফেরার সময় আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন—মিসআর বলেন: আমার ধারণা এটি আসরের নামাজ ছিল—অতঃপর তিনি বললেন: আমি তোমাদের নিকট কোনো বিষয় বর্ণনা করব নাকি চুপ থাকব তা বুঝতে পারছি না। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যদি তা কল্যাণকর হয় তবে আমাদের নিকট বর্ণনা করুন, আর যদি তা অন্য কিছু হয়...
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ২৫)
فالله ورسوله أعلم قال: (ما من مسلم يتطهر فيتم الطهور الذي كتب الله عليه فيصلي هذه الصلوات الخمس إلا كانت كفارات لما بينها) رواه مسلم.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إذا توضأ العبد المسلم أو المؤمن فغسل وجهه خرج من وجهه كل خطيئة نظر إليها بعينيه مع الماء أو مع آخر قطر الماء فإذا غسل يديه خرج من يديه كل خطيئة كانت بطشتها يداه مع الماء أو مع آخر قطر الماء فإذا غسل رجليه خرجت كل خطيئة مشتها رجلاه مع الماء أو مع آخر قطر الماء حتى يخرج نقياً من الذنوب). رواه مسلم.

وعن عبد الله الصنابجي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إذا توضأ العبد فمضمض خرجت الخطايا من فيه، فإذا استنثر خرجت الخطايا من أنفه، فإذا غسل وجهه خرجت الخطايا من وجهه، حتى تخرج من تحت أشفار عينيه، فإذا غسل يديه خرجت الخطايا من يديه حتى تخرج من تحت أظفار يديه، فإذا مسح برأسه خرجت الخطايا من رأسه حتى تخرج من أذنيه، فإذا غسل رجليه خرجت الخطايا من رجليه حتى تخرج من تحت أظفار رجليه، ثم كان مشيه إلى المسجد وصلاته نافلة). رواه مالك والنسائي وابن ماجة والحاكم وقال:
আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেছেন: (যে কোনো মুসলিম পবিত্রতা অর্জন করে এবং আল্লাহ তার ওপর যে পবিত্রতা বিধিবদ্ধ করেছেন তা পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পাদন করে, অতঃপর এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, তবে তা অবশ্যই তার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের জন্য কাফফারা (كفارات) হয়)। মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: (যখন কোনো মুসলিম বা মুমিন বান্দা অজু করে এবং তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার মুখমণ্ডল থেকে সে সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যা সে তার দুই চোখ দিয়ে দেখেছিল। যখন সে তার দুই হাত ধৌত করে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার দুই হাত থেকে সে সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যা তার হাত দুটি স্পর্শ করেছিল। যখন সে তার দুই পা ধৌত করে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার দুই পা দিয়ে হেঁটে করা প্রতিটি গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি সে গুনাহসমূহ থেকে সম্পূর্ণ নির্মল হয়ে বের হয়)। মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহি (রা.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: (যখন কোনো বান্দা অজু করে এবং কুলি করে, তখন তার মুখ থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। যখন সে নাকে পানি দিয়ে ঝাড়ে, তখন তার নাক থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। যখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার মুখমণ্ডল থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তা তার চোখের পাতার নিচ দিয়েও বের হয়। যখন সে তার দুই হাত ধৌত করে, তখন তার দুই হাত থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তা তার নখের নিচ দিয়েও বের হয়। যখন সে তার মাথা মাসাহ করে, তখন তার মাথা থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তা তার দুই কান থেকেও বের হয়। যখন সে তার দুই পা ধৌত করে, তখন তার দুই পা থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তা তার নখের নিচ দিয়েও বের হয়। অতঃপর তার মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া এবং তার নামাজ অতিরিক্ত (نافلة) হিসেবে গণ্য হয়)। মালিক, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ২৬)
صحيح على شرطهما ولا علة له، والصنابجي صحابي مشهور. وقال الألباني: صحيح.

وعن عمرو بن عبسة السلمي رضي الله عنه قال: كنت وأنا في الجاهلية أظن أن الناس على ضلالة وأنهم ليسوا على شيء وهم يعبدون الأوثان فسمعت برجل في مكة يخبر أخباراً فقعدت على راحلتي فقدمت عليه فإذا رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر الحديث إلى أن قال: فقلت: يا نبي الله فالوضوء حدثني عنه؟ فقال: (ما منكم من رجل يقرب وضوءه فيمضمض ويستنشق فينتثر إلا خرت خطايا وجهه من أطراف لحيته مع الماء ثم يغسل يديه إلى المرفقين إلا خرت خطايا يديه من أنامله مع الماء ثم يمسح رأسه إلا خرت خطايا رأسه من أطراف شعره مع الماء ثم يغسل رجليه إلى الكعبين إلا خرت خطايا رجليه من أنامله مع الماء فإن هو قام فصلى فحمد الله تعالى وأثنى عليه ومجده بالذي هو له أهل وفرغ قلبه لله تعالى إلا انصرف من خطيئته كهيئته يوم ولدته أمه) رواه مسلم.

وعن أبي أمامة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أيما رجل قام إلى وضوئه يريد الصلاة ثم غسل كفيه نزلت كل خطيئة من كفيه مع أول قطرة فإذا مضمض واستنشق واستنثر نزلت خطيئته من لسانه وشفتيه مع أول قطرة فإذا غسل وجهه نزلت كل خطيئة من سمعه وبصره مع أول
এটি তাঁদের (বুখারি ও মুসলিমের) শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح) এবং এতে কোনো ত্রুটি (علة) নেই; আর আস-সুনাবিহি একজন প্রখ্যাত (مشهور) সাহাবি (صحابي)। আলবানি বলেছেন: সহিহ (صحيح)।

আমর ইবনে আবাসা আস-সুলামি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জাহেলিয়াত যুগে মনে করতাম যে, মানুষ পথভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর রয়েছে এবং তারা সঠিক কোনো কিছুর ওপর নেই, যেহেতু তারা মূর্তিপূজা করত। এরপর আমি মক্কায় এক ব্যক্তির সংবাদ পেলাম যিনি বিভিন্ন খবর দিচ্ছেন। তখন আমি আমার বাহনে আরোহণ করে তাঁর নিকট আসলাম। তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এরপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করলেন যতক্ষণ না তিনি বললেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর নবি! আমাকে অজু সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে তার অজুর পানি সংগ্রহ করে, এরপর কুলি করে, নাকে পানি দেয় এবং নাক ঝাড়ে, তবে অবশ্যই তার চেহারার গুনাহসমূহ তার দাড়ির অগ্রভাগ দিয়ে পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর সে যখন তার দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করে, তখন তার হাতের আঙুলের ডগা দিয়ে পানির সাথে তার হাতের গুনাহসমূহ ঝরে যায়। এরপর সে যখন তার মাথা মাসাহ করে, তখন তার চুলের অগ্রভাগ দিয়ে পানির সাথে তার মাথার গুনাহসমূহ ঝরে যায়। এরপর সে যখন তার দুই পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করে, তখন তার পায়ের আঙুলের ডগা দিয়ে পানির সাথে তার পায়ের গুনাহসমূহ ঝরে যায়। এরপর যদি সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে এবং মহান আল্লাহর প্রশংসা করে, তাঁর মহিমা কীর্তন করে এবং তাঁর যথাযোগ্য গুণগান করে এবং নিজের অন্তরকে আল্লাহর জন্য নিবিষ্ট করে, তবে সে তার গুনাহসমূহ থেকে সেদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যেকোনো ব্যক্তি যখন সালাতের উদ্দেশ্যে অজুর জন্য দাঁড়ায়, অতঃপর তার দুই হাতের কবজি ধৌত করে, তখন প্রথম ফোঁটা পানির সাথেই তার দুই হাতের সমস্ত গুনাহ ঝরে যায়। এরপর যখন সে কুলি করে, নাকে পানি দেয় এবং নাক ঝাড়ে, তখন প্রথম ফোঁটা পানির সাথে তার জিহ্বা ও ঠোঁটের গুনাহ ঝরে যায়। এরপর যখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার শ্রবণেন্দ্রিয় ও দৃষ্টিশক্তির সমস্ত গুনাহ প্রথম..."
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ২৭)
قطرة فإذا غسل يديه إلى المرفقين ورجليه إلى الكعبين سلم من كل ذنب كهيئته يوم ولدته أمه قال: فإذا قام إلى الصلاة رفع درجته وإن قعد، قعد سالماً) رواه أحمد وغيره من طريق عبد الحميد بن بهرام عن شهر بن حوشب وقد حسنها الترمذي لغير هذا المتن وهو إسناد حسن في المتابعات لا بأس به وقال الألباني: صحيح.

وعن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إسباغ الوضوء على المكاره وإعمال الأقدام إلى المساجد وانتظار الصلاة بعد الصلاة يغسل الخطايا غسلاً) رواه أبو يعلى والبزار بإسناد صحيح والحاكم وقال: صحيح على شرط مسلم وقال الألباني: صحيح.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (ألا أدلكم على ما يمحو الله به الخطايا ويرفع به الدرجات قالوا: بلى يا رسول الله قال: إسباغ الوضوء على المكاره وكثرة الخطا إلى المساجد وانتظار الصلاة بعد الصلاة فذلكم الرباط فذلكم الرباط فذلكم الرباط) رواه مالك ومسلم والترمذي والنسائي وابن ماجة بمعناه وقال الألباني: صحيح.

ورواه ابن ماجة أيضاً وابن حبان في صحيحه من حديث أبي سعيد الخدري إلا أنهما قالا فيه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ألا أدلكم على ما يكفر الله به الخطايا ويزيد به في الحسنات ويكفر به الذنوب؟ قالوا: بلى يا رسول الله قال: إسباغ الوضوء على المكروهات وكثرة الخطا
...পানির ফোঁটা। অতঃপর যখন সে তার দুই হাত কনুই পর্যন্ত এবং দুই পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করে, তখন সে তার সমস্ত গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয় যেমন তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: অতঃপর সে যদি সালাতের জন্য দাঁড়ায় তবে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়, আর যদি বসে থাকে তবে সে নিরাপদ হয়ে বসে।) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ এবং অন্যান্যগণ আবদুল হামিদ ইবনে বাহরামের সূত্রে শাহর ইবনে হাওশাব থেকে। ইমাম তিরমিজি একে এই মূল পাঠ (متن) ব্যতীত অন্য সূত্রের কারণে হাসান (حسن) বলেছেন এবং এটি অনুসরণমূলক বর্ণনার (المتابعات) ক্ষেত্রে একটি হাসান (حسن) সনদ (إسناد), যাতে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)। আলবানি বলেছেন: সহিহ (صحيح)।

আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করা, মসজিদের দিকে পদব্রজে গমন করা এবং এক সালাতের পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করা গুনাহসমূহকে সম্পূর্ণরূপে ধুয়ে দেয়।) এটি আবু ইয়ালা এবং বাজ্জার সহিহ (صحيহ) সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন এবং হাকিমও বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح)। আলবানি বলেছেন: সহিহ (صحيح)।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (আমি কি তোমাদের এমন কিছু জানাব না যার মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহসমূহ মুছে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? তাঁরা বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করা, মসজিদের দিকে অধিক পদচারণা এবং এক সালাতের পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করা। এটাই হলো সীমান্ত পাহারা, এটাই হলো সীমান্ত পাহারা, এটাই হলো সীমান্ত পাহারা।) এটি মালিক, মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ অর্থগতভাবে বর্ণনা করেছেন। আলবানি বলেছেন: সহিহ (صحيح)।

এটি ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থেও আবু সাঈদ খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁরা তাতে উল্লেখ করেছেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (আমি কি তোমাদের এমন কিছু জানাব না যার মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহসমূহ মোচন করেন, নেকিসমূহ বৃদ্ধি করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করেন? তাঁরা বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: প্রতিকূল অবস্থায়ও পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করা এবং অধিক পদচারণা...
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ২৮)
إلى المساجد وانتظار الصلاة بعد الصلاة فذلكم الرباط) رواه ابن حبان في صحيحه عن شرحبيل بن سعد عنه. وقال الألباني: صحيح.

وعن أبي أيوب قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (من توضأ كما أمر وصلى كما أمر غفر له ما تقدم من عمل) رواه النسائي وابن ماجة وابن حبان في صحيحه إلا أنه قال: (غفر له ما تقدم من ذنبه) وقال الألباني: صحيح.

وعن أبي عثمان قال: كنت مع سلمان رضي الله عنه تحت شجرة فأخذ غصناً منها يابساً فهزه حتى تحات ورقه ثم قال: يا أبا عثمان ألا تسألني لم أفعل هذا؟ قلت: ولم تفعله؟ قال: هكذا فعل بي رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا معه تحت الشجرة فأخذ منها غصناً يابساً فهزه حتى تحات ورقه فقال: (يا سلمان ألا سألتني لماذا أفعل ذلك؟ قلت: ولم تفعله؟ قال: إن المسلم إذا توضأ فأحسن الوضوء ثم صلى الصلوات الخمس تحاتت خطاياه كما تحات هذا الورق وقال: (أقم الصلاة طرفي النهار وزلفاً من الليل إن الحسنات يذهبن السيئات ذلك ذكرى للذاكرين) رواه أحمد والنسائي والطبراني، وقال الألباني: حسن.

 

‌‌ثانياً: الصلوات الخمس:

عن أبي هريرة رضي الله عنهم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (الصلوات الخمس والجمعة إلى الجمعة كفارة لما بينهن ما لم تغش الكبائر) رواه مسلم.
...মসজিদে গমন করা এবং এক সালাতের পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করা; এটিই হলো সীমান্ত পাহারা (الرباط)। এটি ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে শুরাহবিল ইবনে সা'দ থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আলবানি বলেছেন: সহিহ (صحيح)।

আবু আইয়ুব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি নির্দেশিত পন্থায় অজু করল এবং নির্দেশিত পন্থায় সালাত আদায় করল, তার পূর্ববর্তী আমলসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" এটি নাসায়ি, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি (ইবনে হিব্বান) উল্লেখ করেছেন: "তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" আলবানি বলেছেন: সহিহ (صحيح)।

আবু উসমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সালমান (রা.)-এর সাথে একটি গাছের নিচে ছিলাম। তিনি গাছের একটি শুকনো ডাল ধরে নাড়া দিলেন, ফলে তার পাতাগুলো ঝরে পড়ল। অতঃপর তিনি বললেন: "হে আবু উসমান! আমি কেন এমন করছি, তা কি আমাকে জিজ্ঞেস করবে না?" আমি বললাম: "আপনি কেন এটি করলেন?" তিনি বললেন: "রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার সাথে এমনই করেছিলেন যখন আমি তাঁর সাথে একটি গাছের নিচে ছিলাম। তিনি একটি শুকনো ডাল ধরে নাড়া দিলেন এবং এর পাতাগুলো ঝরে পড়ল। অতঃপর তিনি বললেন: 'হে সালমান! আমি কেন এমন করছি, তা কি তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করবে না?' আমি বললাম: 'আপনি কেন এটি করলেন?' তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই কোনো মুসলিম যখন অজু করে এবং সুন্দরভাবে অজু সম্পন্ন করে, অতঃপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, তখন তার গুনাহসমূহ ঝরে পড়ে যেমন এই পাতাগুলো ঝরে পড়ল।' অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: (দিনের দুই প্রান্তভাগে এবং রাতের প্রথম ভাগে সালাত কায়েম করো। নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য এক মহান উপদেশ।)" এটি আহমাদ, নাসায়ি এবং তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি বলেছেন: হাসান (حسن)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং এক জুমুআ থেকে অন্য জুমুআ—এগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারা স্বরূপ, যতক্ষণ না কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া হয়।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ২৯)
وعن أبي هريرة رضي الله عنهم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (الصلوات الخمس والجمعة إلى الجمعة كفارات لما بينهن) رواه مسلم.

وعن أبي وائل عن حذيفة رضي الله عنهم قال: قال عمر رضي الله عنهم: من يحفظ حديثاً عن النبي صلى الله عليه وسلم في الفتنة قال حذيفة رضي الله عنهم أنا سمعته يقول: (فتنة الرجل في أهله وماله وجاره تكفرها الصلاة والصيام والصدقة … ) رواه البخاري ومسلم.

وقد سبق في إحدى روايات حديث عثمان رضي الله عنهم قوله صلى الله عليه وسلم: (ما من مسلم يتطهر فيتم الطهور الذي كتب الله عليه فيصلي هذه الصلوات الخمس إلا كانت كفارات لما بينها) رواه مسلم.

وفي رواية أخرى لحديث عثمان قوله صلى الله عليه وسلم: (من توضأ نحو وضوئي هذا ثم قام فركع ركعتين لا يحدث فيهما نفسه غفر له ما تقدم من ذنبه) رواه مسلم.

وفي رواية أخرى لحديث عثمان قوله صلى الله عليه وسلم: (من توضأ هكذا غفر له ما تقدم من ذنبه وكانت صلاته ومشيه إلى المسجد نافلة) رواه مسلم.

وعن أبي أيوب رضي الله عنهم قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (من توضأ كما أمر وصلى كما أمر غفر له ما تقدم من عمل) رواه النسائي وابن ماجة وابن حبان في صحيحه إلا أنه قال: (غفر له ما تقدم من ذنبه) وقال الألباني: صحيح.
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: (পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত সময় তাদের মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু ওয়ায়িল থেকে, তিনি হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ওমর (রা.) বললেন: ফিতনা সম্পর্কে নবী (সা.) এর হাদিস কার মুখস্থ আছে? হুজাইফা (রা.) বললেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: (পরিবার, সম্পদ ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে মানুষের যে ফিতনা হয়, নামাজ, রোজা ও দান-সদকা তা মোচন করে দেয় … ) বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

উসমান (রা.)-এর হাদিসের অন্যতম একটি বর্ণনা (رواية) ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যেখানে নবী (সা.)-এর বাণী হলো: (যে কোনো মুসলিম পবিত্রতা অর্জন করে এবং আল্লাহ তার ওপর যে পবিত্রতা ফরজ করেছেন তা পূর্ণরূপে সম্পাদন করে, অতঃপর এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, তবে তা অবশ্যই তাদের মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফফারা হয়ে যায়) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

উসমান (রা.)-এর হাদিসের অন্য এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী নবী (সা.) বলেছেন: (যে ব্যক্তি আমার এই ওজুর মতো ওজু করবে, অতঃপর দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে এবং তাতে নিজের মনের সাথে কোনো কথা বলবে না, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

উসমান (রা.)-এর হাদিসের অন্য এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী নবী (সা.) বলেছেন: (যে ব্যক্তি এভাবে ওজু করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং তার নামাজ ও মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া অতিরিক্ত বা নফল হিসেবে গণ্য হবে) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু আইয়ুব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: (যে ব্যক্তি নির্দেশিত পন্থায় ওজু করবে এবং নির্দেশিত পন্থায় নামাজ আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী আমলসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে) নাসায়ী, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি (ইবনে হিব্বান) বলেছেন: (তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে) এবং আলবানী বলেছেন: এটি সঠিক (صحيح)।
(খণ্ড: ১) আল-খিসালুল মুকাফফিরাতু লিয-যুনুব (পৃষ্ঠা: ৩০)
وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: (الصلوات الخمس كفارة لما بينها) ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أرأيت لو أن رجلاً كان يعتمل وكان بين منزله وبين معتمله خمسة أنهار فإذا أتى معتمله عمل فيه ما شاء الله فأصابه الوسخ أو العرق فكلما مر بنهر اغتسل ما كان ذلك يبقي من درنه؟ فكذلك الصلاة كلما عمل خطيئة فدعا واستغفر غفر له ما كان قبلها) رواه البزار والطبراني في الأوسط والكبير بإسناد لا بأس به وشواهده كثيرة وقال الألباني: حسن.

وعن جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (مثل الصلوات الخمس كمثل نهرٍ جارٍ غمرٍ على باب أحدكم يغتسل منه كل يوم خمس مرات) رواه مسلم.

وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: (يبعث مناد عند حضرة كل صلاة فيقول: بني آدم قوموا فأطفئوا عنكم ما أوقدتم على أنفسكم فيقومون، فتسقط خطاياهم من أعينهم ويصلون فيغفر لهم ما بينهما ثم توقدون فيما بين ذلك فإذا كان عند الصلاة الأولى نادى: يا بني آدم! قوموا فأطفئوا ما أوقدتم على أنفسكم فيقومون فيتطهرون ويصلون الظهر فيغفر لهم ما بينهما فإذا حضرت العصر فمثل ذلك فإذا حضرت للمغرب فمثل ذلك فإذا حضرت العتمة
আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: (পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারা স্বরূপ)। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: (তোমরা কি মনে করো, যদি কোনো ব্যক্তি কাজ করে এবং তার ঘর ও কর্মস্থলের মাঝে পাঁচটি নদী থাকে, আর যখন সে তার কর্মস্থলে যায় সেখানে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কাজ করে যার ফলে সে ময়লা বা ঘামে আক্রান্ত হয়; অতঃপর যখনই সে কোনো নদীর পাশ দিয়ে যায় তখন গোসল করে, তবে কি তার শরীরে কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে? নামাজের বিষয়টিও ঠিক তেমনই; যখনই সে কোনো পাপ করে এবং দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়)। এটি বর্ণনা করেছেন আল-বাযযার এবং তাবারানি তার আল-আওসাত ও আল-কাবির গ্রন্থে একটি গ্রহণযোগ্য সনদ (إسناد لا بأس به) সহকারে এবং এর অনেকগুলো সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে। আলবানী একে হাসান (حسن) বলেছেন।

জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ হলো তোমাদের কারো দরজায় প্রবহমান একটি গভীর নদীর মতো, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: (প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্ত উপস্থিত হলে একজন ঘোষক পাঠানো হয়, সে বলে: হে বনী আদম! ওঠো এবং নিজেদের ওপর তোমরা যে আগুন জ্বালিয়েছো তা নির্বাপিত করো। তখন তারা উঠে দাঁড়ায়, ফলে তাদের পাপসমূহ তাদের চোখের সামনে থেকে ঝরে যায় এবং তারা নামাজ পড়ে। ফলে তাদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এরপর তোমরা এর মধ্যবর্তী সময়ে পুনরায় আগুন জ্বালাও। যখন প্রথম নামাজের (যুহরের) সময় হয়, তখন সে ডাক দিয়ে বলে: হে বনী আদম! ওঠো এবং নিজেদের ওপর তোমরা যা জ্বালিয়েছো তা নির্বাপিত করো। তখন তারা উঠে পবিত্রতা অর্জন করে এবং যুহরের নামাজ পড়ে, ফলে তাদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। যখন আসরের ওয়াক্ত আসে তখনো অনুরূপ ঘটে, মাগরিবের ওয়াক্ত এলে অনুরূপ ঘটে এবং যখন ইশার ওয়াক্ত আসে...)