(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: -)
الإخنائية أو الرد على الإخنائي ت العنزي القسم: العقيدة
الكتاب: الإخنائية (أو الرد على الإخنائي)
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
المحقق: أحمد بن مونس العنزي
دار النشر: دار الخراز - جدة
الطبعة: الأولى، 1420هـ - 2000م
عدد الصفحات: 501
أعده للشاملة: محمد المنصور
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مقابل]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1433
আল-ইখনাইয়্যাহ অথবা আল-ইখনাইয়্যুর প্রতিবাদ, আল-আনযী সম্পাদিত বিভাগ: আকীদা
বই: আল-ইখনাইয়্যাহ (অথবা আল-ইখনাইয়্যুর প্রতিবাদ)
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (মৃ. ৭২৮ হি.)
সম্পাদক: আহমাদ বিন মুনিস আল-আনযী
প্রকাশনী: দার আল-খাররায - জেদ্দা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হি. - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০১
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মাদ আল-মানসূর
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ এবং এটি মূলের সাথে মিলিয়ে সংশোধিত]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ মুহাররাম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
[الحمد لله نستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، ونشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليمًا].
[إن ما ثبت عن المصطفى صلى الله عليه وسلم] ليس عن هوى النفس كما أنه ليس من الظن كحال الذين هم له مخالفون، بل هو {وحي يوحى * علمه شديد القوى * ذو مرة فاستوى * وهو بالأفق الأعلى * ثم دنى فتدلى * فكان قاب قوسين أو أدنى * فأوحى إلى عبده ما أوحى * ما كذب الفؤاد ما رأى * أفتمارونه على ما يرى} [سورة النجم: (4 - 12)] أيها الجاهلون. والذين أوتوا العلم يرون أن ما أنزل إليه من ربه {هو الحق ويهدي إلى صراط العزيز الحميد} [سورة سبأ: (6)] فهم له يتبعون.
فلهذا كان أفضل الخلق وأقربهم إلى الله من كان أتبع لرسول الله صلى الله عليه وسلم. وأضلهم وأشقاهم من كان أبعد عن ذلك وهم الأخسرون. وقد يتفق من يكون فيه معرفة لبعض ما جاء به، لكن لم يتبعه فيكون مشابهًا لليهود، ومن كان يخالف ما جاء به جهلاً وضلالاً [كان] كالنصارى الذين هم في دينهم يغلون. والله
[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ হেদায়াত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।]
[নিশ্চয়ই যা মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে] তা নফসের প্রবৃত্তি থেকে নয়, আর তা ধারণাপ্রসূতও নয় যেমনটি তাঁর বিরোধীদের অবস্থা; বরং তা হলো {ওহী, যা তাঁর নিকট পাঠানো হয়। তাকে শিক্ষা দান করেছে শক্তিশালী এক সত্তা। সে শক্তির অধিকারী, এরপর সে উঠে দাঁড়াল। তখন সে ছিল উচ্চ দিগন্তে। এরপর সে নিকটবর্তী হলো ও ঝুলে পড়ল। ফলে তাদের মাঝে দুই ধনুক পরিমাণ বা তার চেয়েও কম দূরত্ব রইল। তখন তিনি তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন। তিনি যা দেখেছেন তাঁর অন্তর তা অস্বীকার করেনি। তবে কি তোমরা তিনি যা দেখেছেন সে বিষয়ে তাঁর সাথে বিতর্ক করবে?} [সূরা আন-নাজম: ৪-১২] হে জাহিলরা! আর যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তারা দেখতে পায় যে, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে {তা-ই সত্য এবং তা মহাপরাক্রমশালী, সর্বপ্রশংসিত সত্তার পথের দিকে পরিচালিত করে} [সূরা সাবা: ৬]। সুতরাং তারা তা অনুসরণ করে।
এই কারণে সৃষ্টির মাঝে সর্বোত্তম এবং আল্লাহর নিকটতম সেই ব্যক্তি, যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অধিকতর অনুসারী। আর তাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি পথভ্রষ্ট ও দুর্ভাগা সেই ব্যক্তি, যে তা থেকে দূরে থাকে; আর তারাই হলো ক্ষতিগ্রস্ত। আর কখনো কখনো এমন ব্যক্তি পাওয়া যায় যার মাঝে তাঁর আনীত বিষয়ের কিছু জ্ঞান থাকে, কিন্তু সে তাঁর অনুসরণ করে না, ফলে সে ইহুদিদের সদৃশ হয়। আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতাবশত তাঁর আনীত বিষয়ের বিরোধিতা করে, [সে] নাসারাদের মতো যারা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে। আর আল্লাহ...
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
هو المسئول أن يجعلنا وإخواننا من عباده الذين هم بكتاب الله يهتدون، لله يؤمنون وبحبل الله يعتصمون ولأولياء الله يوالون ولأعدائه يعادون، وفي سبيله يجاهدون / ولطريقي المغضوب عليهم والضالين يجتنبون / وللسابقين الأولين من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان يتبعون.
أما بعد فإن الله بعث محمدًا بالهدى ودين الحق، وفرق به بين الحق والباطل، وبين الهدى والضلال، وبين الغي والرشاد، وبين طريق الجنة وطريق النار، وبين أوليائه وأعدائه، وبين المعروف والمنكر، والخبيث والطيب، والحلال والحرام، ودين الحق والباطل.
فالحلال ما أحله الله ورسوله، والحرام ما حرمه الله ورسوله، والدين ما شرعه الله ورسوله، وليس لأحد من الثقلين -الإنس والجن- سبيل إلى رضى الله وكرامته ورحمته إلا بالإيمان بمحمد واتباعه، فإن الله أرسله برسالة عامة إلى جميع الثقلين الجن والإنس، في جميع أمور الدين الباطنة والظاهرة، بشرائع الإسلام / وحقائق الإيمان، إلى علمائهم وعبادهم وملوكهم وسوقتهم، فليس لأحد -وإن
তিনিই সেই সত্তা যাঁর নিকট প্রার্থনা করা হয় যেন তিনি আমাদের এবং আমাদের ভাইদের তাঁর ঐসব বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে হিদায়াত লাভ করে, আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে, আল্লাহর বন্ধুদের সাথে মিত্রতা পোষণ করে এবং তাঁর শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, এবং তাঁর পথে জিহাদ করে / আর যারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের উভয় পথ পরিহার করে / এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রবর্তী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে।
অতঃপর, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে, হিদায়াত ও গোমরাহির মধ্যে, পথভ্রষ্টতা ও সঠিক পথের মধ্যে, জান্নাতের পথ ও জাহান্নামের পথের মধ্যে, তাঁর বন্ধু ও তাঁর শত্রুদের মধ্যে, সৎকাজ ও অসৎকাজের মধ্যে, অপবিত্র ও পবিত্রের মধ্যে, হালাল ও হারামের মধ্যে এবং সত্য ও মিথ্যা দ্বীনের মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছেন।
সুতরাং হালাল তাই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হালাল করেছেন, এবং হারাম তাই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম করেছেন, আর দ্বীন তাই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বিধিবদ্ধ করেছেন। আর মানব ও জিন—এই উভয় গুরুভার সৃষ্টির কারোর জন্যই আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাঁর মর্যাদা ও তাঁর রহমত লাভের কোনো পথ নেই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর আনুগত্য করা ব্যতীত। কেননা আল্লাহ তাঁকে জিন ও ইনসান—উভয় সৃষ্টির সকলের নিকট এক সর্বজনীন রিসালাত দিয়ে প্রেরণ করেছেন, দ্বীনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল বিষয়ে, ইসলামের বিধিবিধান / এবং ঈমানের হাকীকতসমূহসহ; তাদের আলিম, ইবাদতকারী, শাসক ও সাধারণ প্রজাদের নিকট। সুতরাং কারো জন্যই অবকাশ নেই—যদিও
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
عظم علمه وعبادته وملكه وسلطانه- أن يعدل عما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم إلى ما يخالفه في شيء من الأمور الدينية: باطنها وظاهرها، وشرائعها وحقائقها، بل على جميع الخلق أن يتبعوه ويسلموا لحكمه. قال تعالى: {فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجًا مما قضيت ويسلموا تسليمًا} [سورة النساء: (65)] وقال تعالى: {يا أيها الذين أمنوا أطيعوا الله وأطيعوا الرسول وأولي الأمر منكم} الآية [سورة النساء: (59)] وقال تعالى: {وما كان الناس إلا أمة واحدة فاختلفوا} [سورة يونس: (19)]، كما قال في سورة [البقرة: (213)] {فبعث الله النبيين مبشرين ومنذرين وأنزل معهم الكتاب بالحق ليحكم بين الناس فيما اختلفوا فيه} الآية. وفي صحيح مسلم عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا قام [يصلي من الليل] يقول: (اللهم رب جبريل وميكائيل وإسرافيل فاطر السموات والأرض عالم الغيب والشهادة أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون، اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم) وقد علق سبحانه الاهتداء بطاعته، فقال في ذم المنافقين: {ويقولون آمنا بالله وبالرسول وأطعنا ثم يتولى فريق منهم بعد ذلك وما أولئك بالمؤمنين *
তাঁর জ্ঞান, ইবাদত, রাজত্ব এবং ক্ষমতা যতই মহান হোক না কেন—রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে বিচ্যুত হয়ে কোনো দ্বীনি বিষয়ে তার বিরোধী কিছুর দিকে ফিরে যাওয়া কারও জন্য জায়েজ নয়: চাই তা বাতেনি বা জাহেরি হোক, এবং শরীয়ত সংক্রান্ত বা হাকীকত সংক্রান্ত হোক; বরং সকল সৃষ্টির ওপর আবশ্যক হলো তাঁর অনুসরণ করা এবং তাঁর ফয়সালার সামনে আত্মসমর্পণ করা। মহান আল্লাহ বলেন: "অতএব তোমার রবের শপথ, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের বিষয়ে তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধাবোধ না রাখে এবং পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে।" [সূরা আন-নিসা: (৬৫)] মহান আল্লাহ আরও বলেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল) তাদেরও।" আয়াতের শেষ পর্যন্ত [সূরা আন-নিসা: (৫৯)]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "মানুষ কেবল এক উম্মতভুক্তই ছিল, অতঃপর তারা মতভেদে লিপ্ত হলো" [সূরা ইউনুস: (১৯)], যেমনটি তিনি সূরা বাকারায় [(২১৩)] বলেছেন: "অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীদের প্রেরণ করলেন এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব নাযিল করলেন, যাতে মানুষের মধ্যে যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে তার ফয়সালা করা যায়।" আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আর সহীহ মুসলিমে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে [সালাত আদায় করতে] দাঁড়াতেন, তখন বলতেন: (হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত, তোমার বান্দাদের মধ্যে তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত তুমি তার ফয়সালা করবে। তোমার অনুমতিক্রমে সত্যের যে বিষয়ে মতভেদ হয়েছে তাতে আমাকে হেদায়েত দাও; নিশ্চয়ই তুমি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে হেদায়েত দিয়ে থাকো)। এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা হেদায়েত লাভকে তাঁর আনুগত্যের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। অতঃপর মুনাফিকদের নিন্দা করে তিনি বলেছেন: "এবং তারা বলে: আমরা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং আনুগত্য করেছি, অতঃপর এরপর তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়; আর তারা মুমিন নয়..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
وإذا دعوا إلى الله ورسوله ليحكم بينهم -إلى قوله- فأولئك هم الفائزون -إلى قوله- وما على الرسول إلا البلاغ المبين} [سورة النور: (47 - 54)].
وهذا الأصل متفق عليه بين كل من آمن به الإيمان الواجب الذي فرضه الله على الخلق، وكل أحد عليه أن يتقي الله قال تعالى: {فاتقوا الله ما استطعتم} [سورة التغابن: (16)]، وهذا تبيين لقوله تعالى: {اتقو الله حق تقاته} [سورة آل عمران: (102)] قال ابن مسعود: حق تقاته هو أن يطاع فلا يعصى، ويذكر فلا ينسى، ويشكر فلا يكفر. لكن الأمر مشروط بالاستطاعة كما بينه [في قوله تعالى] {فاتقوا الله ما استطعتم}. فقد يخفى على الإنسان بعض سنة الرسول صلى الله عليه وسلم وأمره مع اجتهاده في طاعته، فلا يكلف الله نفسًا إلا وسعها. ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: (إذا اجتهد الحاكم فأصاب فله أجران، وإذا اجتهد
"যখন তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যাতে তিনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করেন - তাঁর এই বাণী পর্যন্ত - তারাই হলো সফলকাম - তাঁর এই বাণী পর্যন্ত - আর রাসূলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া" [সূরা আন-নূর: ৪৭-৫৪]।
আর এই মূলনীতিটি সেই সকল মুমিনের মধ্যে সর্বসম্মত যারা আল্লাহর নির্দেশিত আবশ্যক ঈমান এনেছেন। প্রত্যেকের কর্তব্য হলো আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো" [সূরা আত-তাগাবুন: ১৬]। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যাস্বরূপ: "তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো" [সূরা আলে ইমরান: ১০২]। ইবনে মাসউদ বলেন: যথাযথভাবে ভয় করা হলো তাঁর আনুগত্য করা হবে—অবাধ্য হওয়া যাবে না, তাঁকে স্মরণ করা হবে—বিস্মৃত হওয়া যাবে না এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে—অকৃতজ্ঞ হওয়া যাবে না। তবে এই নির্দেশটি সামর্থ্যের সাথে শর্তযুক্ত, যেমনটি তিনি [আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে] বর্ণনা করেছেন: "অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো"। কেননা কোনো মানুষের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সুন্নাহ এবং তাঁর নির্দেশ অজানা থাকতে পারে, যদিও সে তাঁর আনুগত্য করার ক্ষেত্রে সাধ্যমতো চেষ্টা (ইজতিহাদ) চালায়; আর আল্লাহ কোনো প্রাণের ওপর তার সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তবে তার জন্য দুটি পুরস্কার রয়েছে; আর যখন তিনি ইজতিহাদ করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
فأخطأ فله أجر) أخرجاه في الصحيحين، وقد يقول الرجل ويحكم بغير علم فيأثم على ذلك، كما يأثم إذا قال بخلاف ما يعلمه من الحق، وفي السنن عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال (القضاة ثلاثة: قاضيان في النار، وقاض في الجنة. رجل علم الحق وقضى به فهو في الجنة، ورجل قضى للناس / على جهل فهو في النار، ورجل علم الحق فقضى بخلافه فهو في النار). وقد ذم الله القول بغير علم ونهى عنه في غير موضع من كتابه، قال تعالى: {ولا تقف ما ليس لك به علم} [سورة الإسراء: (36)]، وقال تعالى: {قل إنما حرم ربي الفواحش ما ظهر منها وما بطن والإثم والبغي} الآية [سورة الأعراف: (33)] وقال تعالى عن الشيطان: {إنما يأمركم بالسوء والفحشاء وأن تقولوا على الله ما لا تعلمون} [سورة البقرة: (169)] وقال فيما يخاطب به أهل الكتاب: {ها أنتم هؤلاء حاججتم فيما لكم به علم فلم تحاجون فيما ليس لكم به علم} الآية [سورة آل عمران: (66)]، وقال: {ألم يؤخذ عليهم ميثاق الكتاب أن لا يقولوا على الله إلا الحق ودرسوا ما فيه} [سورة الأعراف: (169)] وقال: {يا أهل الكتاب لا تغلوا في دينكم ولا تقولوا على الله إلا الحق} [سورة النساء: (171)]، وجعل القائل بغير علم كاذبًا، والصادق هو الذي يتكلم بعلم فقال
ভুল করলে তার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে) তারা উভয়ই এটি সহীহাইন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। কোনো ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়াই কথা বলতে পারে এবং ফয়সালা দিতে পারে, ফলে সে পাপিষ্ঠ হবে; ঠিক যেমন সে সত্য জানার পরও তার বিপরীত কথা বললে পাপিষ্ঠ হয়। সুনান গ্রন্থসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: "বিচারক তিন প্রকার: দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামী এবং এক প্রকার বিচারক জান্নাতি। যে ব্যক্তি সত্য জানল এবং সে অনুযায়ী ফয়সালা করল, সে জান্নাতি। আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত মানুষের ফয়সালা করল, সে জাহান্নামী। আর যে ব্যক্তি সত্য জানল কিন্তু তার বিপরীতে ফয়সালা করল, সে-ও জাহান্নামী।" আল্লাহ তাআলা জ্ঞানহীন কথা বলার নিন্দা করেছেন এবং তাঁর কিতাবের বহু স্থানে তা নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না} [সূরা আল-ইসরা: ৩৬]। তিনি আরও বলেন: {বলুন, আমার প্রতিপালক তো কেবল প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, পাপ ও অন্যায় আচরণ হারাম করেছেন} আয়াত [সূরা আল-আরাফ: ৩৩]। শয়তান সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: {সে তো তোমাদের কেবল মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহর সম্বন্ধে এমন কথা বলতে বলে যা তোমরা জান না} [সূরা আল-বাকারাহ: ১৬৯]। আহলে কিতাবদের সম্বোধন করে তিনি বলেন: {শোনো! তোমরা তো সেই সব লোক, যারা বিতর্ক করেছ সে বিষয়ে যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান ছিল; তবে যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে কেন বিতর্ক করছ?} আয়াত [সূরা আলে ইমরান: ৬৬]। তিনি আরও বলেন: {তাদের নিকট থেকে কি কিতাবের এই অঙ্গীকার নেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ছাড়া কিছু বলবে না? অথচ তারা তাতে যা আছে তা পাঠ করেছে} [সূরা আল-আরাফ: ১৬৯]। তিনি আরও বলেন: {হে কিতাবধারীগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ছাড়া কিছু বলো না} [সূরা আন-নিসা: ১৭১]। তিনি জ্ঞানহীন কথা বলা ব্যক্তিকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন, আর সত্যবাদী হলো সেই ব্যক্তি যে জ্ঞানসহকারে কথা বলে। অতঃপর তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
تعالى: {آالذكرين حرم أم الأنثيين أما اشتملت عليه أرحام الأنثيين نبئوني بعلم إن كنتم صادقين} [سورة الأنعام: (143)] وقال تعالى: {قل هاتوا برهانكم إن كنتم صادقين} [سورة البقرة: (111)]، لا سيما أهل الشرك فإنه وصفهم بالإفك مع الشرك وقرن الكذب بالشرك كما قرن الصدق بالإخلاص، ولهذا يقرن بين المنافقين أهل الكذب وبين المشركين في مثل قوله {هو الذي أنزل السكينة في قلوب المؤمنين -إلى قوله- وأعد لهم جهنم وساءت مصيرًا} [سورة الفتح: (4 - 6)]، وقال تعالى {واجتنبوا قول الزور * حنفاء لله غير مشركين به ومن يشرك بالله فكأنما خر من السماء} [سورة الحج: (30 - 31)]. وقال عن أهل الكهف: {هؤلاء قومنا اتخذوا من دونه آلهة لولا يأتون عليهم بسلطان بين} الآية [سورة الكهف: (15)] وقال عن الخليل: {إنما تعبدون من دون الله أوثانًا وتخلقون إفكًا} [سورة العنكبوت: (17)]، وقال لأبيه وقومه: {ماذا تعبدون * أإفكًا آلهة دون الله تريدون} [سورة الصافات: (85 - 86)] ومثل هذا مذكور في غير موضع من القرآن، وكثير من الناس يقع في الشرك والإفك جهلاً وضلالاً من المشركين وأهل الكتاب وأهل البدع.
والله سبحانه وتعالى قد أرسل جميع رسله وأنزل جميع كتبه بأن لا يعبد إلا الله وحده لا شريك له، لا يعبد معه لا ملك ولا نبي ولا صالح ولا تماثيل ولا قبور ولا شمس ولا قمر ولا كوكب ولا ما صنع من التماثيل لأجلهم، ولا شيء من الأشياء. وبين أن كل ما يعبد من دونه فإنه لا يضر ولا ينفع وإن كان ملكًا أو نبيًّا، وأن عبادته كفر، فقال تعالى: {قل ادعوا الذين زعمتم من دونه فلا
মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি কি পুরুষ দুটিকে হারাম করেছেন নাকি স্ত্রী দুটিকে? নাকি সেই বাচ্চাদের যা স্ত্রী দুটির জরায়ুতে আছে? তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে ইলম বা প্রমাণের ভিত্তিতে জানাও।} [সূরা আল-আন'আম: ১৪৩] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের দলিল পেশ করো।} [সূরা আল-বাকারা: ১১১]। বিশেষ করে শিরককারীদের ক্ষেত্রে; কেননা তিনি তাদের শিরকের পাশাপাশি মিথ্যাচারের গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং শিরকের সাথে মিথ্যাকে যুক্ত করেছেন, যেমনটি তিনি ইখলাসের সাথে সত্যবাদিতাকে যুক্ত করেছেন। এই কারণেই তিনি মিথ্যাবাদী মুনাফিক ও শিরককারীদের একত্রিত করেছেন, যেমনটি তাঁর এই বাণীতে রয়েছে: {তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাজিল করেছেন -বাণীর শেষ পর্যন্ত- এবং তিনি তাদের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত করে রেখেছেন, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য।} [সূরা আল-ফাতহ: ৪-৬]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {এবং তোমরা পরিহার করো মিথ্যা কথা। আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে, তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করে। আর যে কেউ আল্লাহর সাথে শিরক করল, সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল।} [সূরা আল-হাজ্জ: ৩০-৩১]। তিনি আসহাবে কাহাফ সম্পর্কে বলেছেন: {এরা আমাদেরই কওম, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য ইলাহ গ্রহণ করেছে। তারা কেন এদের স্বপক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করে না?} আয়াত [সূরা আল-কাহাফ: ১৫]। তিনি খলিল (ইবরাহিম) সম্পর্কে বলেছেন: {তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল মূর্তিপূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ।} [সূরা আল-আনকাবুত: ১৭]। তিনি তাঁর পিতা ও কওমকে বলেছিলেন: {তোমরা কিসের ইবাদত করছ? তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে মিথ্যা উপাস্যদের কামনা করছ?} [সূরা আস-সাফফাত: ৮৫-৮৬]। এই জাতীয় আলোচনা কুরআনের আরও অনেক স্থানে বর্ণিত হয়েছে। আর শিরককারী, আহলে কিতাব এবং বিদআতিদের মধ্য থেকে অনেক মানুষই অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার কারণে শিরক ও মিথ্যাচারের মধ্যে লিপ্ত হয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সকল রাসুলকে প্রেরণ করেছেন এবং সকল কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এই নির্দেশের সাথে যে, যেন একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করা না হয়, যাঁর কোনো শরিক নেই। তাঁর সাথে কোনো ফেরেশতা, কোনো নবী, কোনো নেককার ব্যক্তি, কোনো প্রতিমা, কোনো কবর, সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র কিংবা তাদের উদ্দেশ্যে নির্মিত কোনো মূর্তি—কোনো কিছুরই ইবাদত করা যাবে না। এবং তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁকে বাদ দিয়ে যারই ইবাদত করা হোক না কেন, সে কোনো ক্ষতিও করতে পারে না এবং কোনো উপকারও করতে পারে না, যদিও সে কোনো ফেরেশতা বা নবী হয়। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা কুফর। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে (ইলাহ) মনে করো তাদের ডাকো, তারা তো পারবে না...}
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
يملكون كشف الضر عنكم ولا تحويلاً -إلى قوله- محذورًا} [سورة الإسراء: (56 - 57)]، بين سبحانه أن كل ما يدعى من دونه من الملائكة والجن والإنس لا يملكون / كشف الضر ولا تحويله، وأن هؤلاء المدعوون من الملائكة والأنبياء يتقربون إلى الله ويرجونه ويخافونه.
وكذلك كان قوم من الإنس يعبدون رجالاً من الجن، فآمنت الجن المعبودون، وبقي عابدوهم يعبدونهم كما ذكر ذلك ابن مسعود، وقال تعالى: {قل ادعو الذين زعمتم من دون الله لا يملكون مثقال ذرة -إلى قوله- ولا تنفع الشفاعة عنده إلا لمن أذن له} [سورة سبأ: (22 - 23)] بين سبحانه أن كل ما يدعى من دونه من الملائكة والبشر وغيرهم ليس لهم مثقال ذرة في السموات والأرض ولا لهم نصيب فيهما، وليس لله ظهير يعاونه من خلقه، وهذه الأقسام الثلاثة هي التي تحصل مع المخلوقين: إما أن يكون لغيره ملك دونه، أو يكون شريكًا له، أو يكون معينًا وظهيرًا له.
والرب تعالى ليس له من خلقه مالك ولا شريك ولا ظهير. لم يبق إلا الشفاعة وهو دعاء الشافع وسؤاله لله في المشفوع له، فقال تعالى: {ولا تنفع الشفاعة عنده إلا لمن أذن له} ثم إنه خص بالذكر الملائكة والأنبياء في قوله: {ما
{তারা তোমাদের থেকে কষ্ট দূর করার ক্ষমতা রাখে না এবং তা পরিবর্তন করারও ক্ষমতা রাখে না -আল্লাহর বাণী- ‘ভীতিকর’ পর্যন্ত} [সূরা আল-ইসরা: (৫৬ - ৫৭)], মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, ফেরেশতা, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে তাঁকে ছাড়া যাদেরকেই ডাকা হয়, তারা কষ্ট দূর করার বা তা পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা রাখে না। আর ফেরেশতা ও নবীদের মধ্য হতে যাদের ডাকা হয়, তারা আল্লাহর নিকট নৈকট্য অনুসন্ধান করে এবং তাঁর রহমতের আশা করে ও তাঁর শাস্তিকে ভয় করে।
তদ্রূপ একদল মানুষ জিনদের মধ্য থেকে কিছু পুরুষের ইবাদত করত, অতঃপর সেই উপাস্য জিনেরা ঈমান আনল, কিন্তু তাদের ইবাদতকারীরা তাদের ইবাদতেই লিপ্ত থাকল, যেমনটি ইবনে মাসউদ বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের (উপাস্য) মনে করতে তাদেরকে ডাকো, তারা আসমানসমূহ ও জমিনে অণু পরিমাণ কিছুর মালিক নয় -আল্লাহর বাণী- ‘তাঁর নিকট সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না তবে যার জন্য তিনি অনুমতি দেবেন’ পর্যন্ত} [সূরা সাবা: (২২ - ২৩)]। মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, ফেরেশতা, মানুষ ও অন্যান্যদের মধ্য হতে তাঁকে ছাড়া যাদেরই ডাকা হয়, আসমানসমূহ ও জমিনে তাদের অণু পরিমাণ কোনো মালিকানা নেই এবং এ দুটির মধ্যে তাদের কোনো অংশীদারিত্বও নেই, আর তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে আল্লাহর জন্য এমন কোনো সাহায্যকারীও নেই যে তাঁকে সহায়তা করে। আর এই তিনটি প্রকারই মাখলুকের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে: হয় অন্যের অধীনে কোনো মালিকানা থাকে, অথবা তার কোনো শরিক বা অংশীদার থাকে, অথবা তার কোনো সাহায্যকারী বা পৃষ্ঠপোষক থাকে।
আর সুমহান রব, তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে তাঁর কোনো মালিক নেই, কোনো শরিক নেই এবং কোনো সাহায্যকারী নেই। এখন কেবল সুপারিশই অবশিষ্ট থাকল, আর তা হলো সুপারিশকারীর দোয়া এবং যার জন্য সুপারিশ করা হবে তার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে চাওয়া। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাঁর অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না} এরপর তিনি তাঁর বাণীতে ফেরেশতা ও নবীদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন: {যা
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১০০)
كان لبشر أن يؤتيه الله الكتاب والحكم والنبوة -إلى قوله- بعد إذ أنتم مسلمون} [سورة آل عمران: (79 - 80)] بين أن اتخاذهم أربابًا كفر، وقال تعالى: {لقد كفر الذين قالوا إن الله هو المسيح ابن مريم وقال المسيح -إلى قوله- والله هو السميع العليم} [سورة المائدة: (72 - 76)]، فقد بين أن من دعا المسيح وغيره فقد دعا ما لا يملك له ضرًّا ولا نفعًا، وقال لخاتم الرسل: {قل لا أقول لكم عندي خزائن الله ولا أعلم الغيب ولا أقول لكم إني ملك} [سورة الأنعام: (50)] وقال: {قل لا أملك لنفسي نفعًا ولا ضرًّا إلا ما شاء الله ولو كنت أعلم الغيب لاستكثرت من الخير وما مسني السوء إن أنا إلا نذير وبشير لقوم يؤمنون} [سورة الأعراف: (188)] وقال: {قل إني لا أملك لنفسي ضرًّا ولا نفعًا إلا ما شاء الله} [سورة يونس: (49)] وقال: {قل إني لا أملك لكم ضرًّا ولا رشدًا} [سورة الجن: (21)] وقال: {ليقطع طرفًا من الذين كفروا أو يكبتهم فينقلبوا خائبين * ليس لك من الأمر شيء أو يتوب عليهم أو يعذبهم فإنهم ظالمون} [سورة آل عمران: (127 - 128)] وقال: {إنك لا تهدي من أحببت ولكن الله يهدي من يشاء} [سورة القصص: (56)] وقال: {إن تحرص على هداهم فإن الله لا يهدي من يضل} [سورة النحل: (37)].
কোনো মানুষের পক্ষে এটা হতে পারে না যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করবেন—তার এই কথা পর্যন্ত—তোমরা মুসলিম হওয়ার পর [সূরা আল-ইমরান: (৭৯-৮০)]। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদেরকে রব হিসেবে গ্রহণ করা কুফরি। আর আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে যে, আল্লাহই হলেন মারইয়াম-পুত্র মাসীহ। অথচ মাসীহ বলেছিলেন—তার এই কথা পর্যন্ত—আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ" [সূরা আল-মায়িদাহ: (৭২-৭৬)]। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি মাসীহ বা অন্য কাউকে আহ্বান করে, সে মূলত এমন কিছুকে আহ্বান করে যে তার কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নয়। তিনি সর্বশেষ রাসুলকে বলেছেন: "আপনি বলুন, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে, আর না আমি গায়েব জানি, এবং আমি তোমাদেরকে এ-ও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা" [সূরা আল-আনআম: (৫০)]। তিনি আরও বলেন: "আপনি বলুন, আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত আমি আমার নিজের কোনো উপকার বা ক্ষতির মালিক নই। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তবে আমি প্রচুর কল্যাণ অর্জন করতাম এবং কোনো অনিষ্ট আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো কেবল মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা" [সূরা আল-আরাফ: (১৮৮)]। তিনি বলেন: "আপনি বলুন, আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত আমি আমার নিজের কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নই" [সূরা ইউনুস: (৪৯)]। তিনি বলেন: "আপনি বলুন, আমি তোমাদের কোনো ক্ষতি বা কল্যাণের মালিক নই" [সূরা আল-জিন: (২১)]। তিনি আরও বলেন: "যাতে তিনি কাফিরদের একটি অংশকে কর্তন করেন অথবা তাদেরকে লাঞ্ছিত করেন, ফলে তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। এ বিষয়ে আপনার কোনো কর্তৃত্ব নেই; তিনি হয় তাদের তওবা কবুল করবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দেবেন, কারণ তারা জালিম" [সূরা আল-ইমরান: (১২৭-১২৮)]। তিনি আরও বলেন: "নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়াত দিতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন" [সূরা আল-কাসাস: (৫৬)]। তিনি বলেন: "আপনি যদি তাদের হিদায়াতের জন্য লালায়িত হন, তবে নিশ্চয় আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন" [সূরা আন-নাহল: (৩৭)]।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১০১)
فصل
قد أرسل إلي بعض أصحابنا جزءًا أخبر أنه صنفه بعض القضاة، قد تكلم في المسألة التي انتشر الكلام فيها، وهي السفر إلى غير المساجد الثلاثة، كالسفر إلى زيارة القبور، هل هو محرم أو مباح أو مستحب؟ وهي المسألة التي أجبت فيها من مدة / [بضع عشرة] سنة بالقاهرة، فأظهر بعض الناس في هذا الوقت ظنًّا أن الذي فيها خلاف الإجماع وأن السفر لمجرد زيارة قبور الأنبياء والصالحين هو السفر المستحب بلا نزاع وهو السفر إلى مسجد نبينا محمد صلى الله عليه وسلم المتضمن لما شرعه الله من السفر إلى مسجده والصلاة فيه والسلام عليه ومحبته وتعظيمه وغير ذلك من حقوقه صلى الله عليه وسلم في مسجده المؤسس على التقوى المجاور لقبره صلى الله عليه وسلم، وظنوا أن السفر إلى زيارة [قبور جميع] الأنبياء والصالحين مستحب مجمع على استحبابه مثل السفر المشروع بالنص وإجماع المسلمين إلى مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم، سواء سافر مع حج البيت أو بدون حج البيت، فإن هذا السفر المشروع إلى مدينته بالنص والإجماع لا يختص بوقت الحج، فإن المسلمين على عهد خلفائه الراشدين كانوا يحجون ويرجعون إلى أوطانهم، ثم ينشىء السفر إلى مسجد النبي صلى الله عليه وسلم من ينشئه، لأنه عبادة
পরিচ্ছেদ
আমার জনৈক সাথী আমার নিকট একটি পুস্তিকা পাঠিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে এটি কোনো একজন বিচারক সংকলন করেছেন। এতে সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা নিয়ে ব্যপক আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে, আর সেটি হলো তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে ভ্রমণের বিষয়, যেমন কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা; এটি কি হারাম, নাকি মুবাহ, নাকি মুস্তাহাব? এটি সেই মাসআলা যার উত্তর আমি দীর্ঘ সময় (দশকের বেশি) আগে কায়রোতে থাকাকালীন প্রদান করেছিলাম। এমতাবস্থায় বর্তমান সময়ে কিছু লোক এমন ধারণা ব্যক্ত করছে যে, এতে যা বলা হয়েছে তা ইজমার পরিপন্থী এবং কেবল নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা কোনো বিতর্ক ছাড়াই একটি মুস্তাহাব সফর। তারা মনে করে এটি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মসজিদের দিকে সফরের মতো, যা আল্লাহ তাঁর মসজিদের দিকে সফর করা, সেখানে সালাত আদায় করা, তাঁর প্রতি সালাম পেশ করা, তাঁকে ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাঁর কবরের নিকটবর্তী ও তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত তাঁর মসজিদের অন্যান্য হকের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তারা আরও ধারণা করেছে যে, সকল নবী ও নেককার ব্যক্তির কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা এমন একটি মুস্তাহাব বিষয় যার ওপর ঐকমত্য রয়েছে, ঠিক যেমনটি দলিল ও মুসলিমদের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শহরের দিকে সফর করা বিধিসম্মত; চাই তা হজের সাথে হোক কিংবা হজ ব্যতীত। কেননা দলিল ও ইজমা দ্বারা সাব্যস্ত তাঁর শহরের দিকে এই বিধিসম্মত সফর হজের সময়ের সাথে নির্দিষ্ট নয়। কারণ খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মুসলিমগণ হজ সম্পাদন করতেন এবং নিজ নিজ স্বদেশে ফিরে যেতেন, অতঃপর যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করতে চাইতেন তারা সফর করতেন, কারণ এটি একটি ইবাদত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১০২)
مستقلة بنفسها كالسفر إلى بيت المقدس، والسفر إلى مسجد النبي صلى الله عليه وسلم أفضل من السفر إلى المسجد الأقصى بالنص والإجماع.
فظن من ظن أن السفر المشروع هو لمجرد القبر لا لأجل المسجد، وأن المسجد يدخل ضمنًا وتبعًا في السفر، وأن سائر الأنبياء كذلك، أو أن المسافرين لمجرد القبور سفرهم مشروع كالسفر إلى المساجد الثلاثة، ومن الناس من ظن أنه أفضل من السفر إلى المساجد الثلاثة حتى صرحوا بأنه أفضل من الحج، وأن الدعاء عند قبور الأنبياء والصالحين أفضل من الدعاء في المسجد الحرام ومسجد الرسول وعرفة ومزدلفة ومنى وغير ذلك من المساجد والمشاعر التي أمر الله ورسوله بالعبادة فيها والدعاء والذكر فيها، وظن [من ظن] أن هذا مجمع عليه وأن من قال: السفر لغير المساجد الثلاثة -سواء كان لقبر نبي أو غير نبي- منهي عنه، أو أنه مباح ليس بمستحب، فقد خالف الإجماع. وليس معهم بما ظنوه نقل عن أحد من أئمة الدين الذين لهم في الأمة لسان صدق، ولا حجة من كتاب الله ولا سنة رسوله، بل الكتاب والسنة وإجماع السلف والأئمة المشهورون وغيرهم على خلاف ما ظنوه، فإجماع أهل العلم الذين تحكى أقوالهم في مسائل الإجماع والنزاع هو على خلاف ما ظنه الغالطون / إجماعًا، وجرت في ذلك فصول.
বায়তুল মুকাদ্দাসে সফরের ন্যায় এটি নিজেই স্বতন্ত্র; আর কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট দলীল এবং ইজমা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে সফর করা মাসজিদুল আকসার সফরের চেয়ে উত্তম।
ফলে যারা মনে করার তারা মনে করে নিয়েছে যে, শরীয়তসম্মত সফর কেবল কবরের উদ্দেশ্যে, মসজিদের উদ্দেশ্যে নয়; এবং সফর করার ক্ষেত্রে মসজিদ তার অন্তর্ভুক্ত ও অনুগামী মাত্র। তারা আরও মনে করে যে, অন্যান্য নবীগণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমন, অথবা কেবল কবরের উদ্দেশ্যে সফর করাও তিন মসজিদের দিকে সফরের ন্যায় শরীয়তসম্মত। আবার মানুষের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছে যারা মনে করে যে, এটি তিন মসজিদের দিকে সফরের চেয়েও উত্তম, এমনকি তারা স্পষ্টভাবে বলেছে যে এটি হজ্জের চেয়েও উত্তম। তাদের ধারণা মতে, নবী ও নেককার লোকদের কবরের নিকট দুআ করা মাসজিদুল হারাম, মাসজিদুন নববী, আরাফা, মুজদালিফা, মিনা এবং অন্যান্য মসজিদ ও নিদর্শনসমূহে (মাশা'ইর) দুআ করার চেয়েও উত্তম; অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সেই সকল স্থানে ইবাদত, দুআ ও যিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা আরও মনে করেছে যে, এ বিষয়টি সর্বসম্মত; আর যে ব্যক্তি বলে: তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে সফর করা—চাই তা নবীর কবর হোক বা অন্য কারও—তা নিষিদ্ধ, কিংবা তা মুবাহ কিন্তু মুস্তাহাব নয়, তবে সে ইজমার বিরোধিতা করল। অথচ তাদের এই ধারণার পক্ষে উম্মতের নির্ভরযোগ্য দ্বীনি ইমামগণের কারো পক্ষ থেকে কোনো বর্ণনা নেই, এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকেও কোনো দলীল নেই। বরং কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ এবং সালাফ ও প্রসিদ্ধ ইমামগণসহ অন্যদের ইজমা তাদের ধারণার বিপরীত। সুতরাং ইজমা ও মতভেদের মাসআলাসমূহে যাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়, সেই আলেমগণের ইজমা এই ভুল পোষণকারীদের ধারণার বিপরীত; আর এ বিষয়ে বহু আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
[لكن المقصود] هنا أنه أرسل إلي ما كتبه هذا القاضي وأقسم بالله علي أن أكتب عليه شيئًا ليظهر للناس جهل مثل هؤلاء الذين يتكلمون في الدين بغير علم، وذلك أنهم رأوا في كلامه من الجهل والكذب والضلال ما لا يظن أن يقع فيه آحاد العلماء الذين يعرفون ما يقولون، فكيف بمن سمي قاضي القضاة! ورأيت كلامه يدل على أن عنده نوعًا من الدين [كما عند] كثير من الناس نوع من الدين، لكن مع جهل وسوء فهم وقلة علم، حتى قد يجهل دين الرسول الذي هو مؤمن به، ويكفر من قال بقول الرسول؛ وصدق خبره وأطاع أمره.
وقد يجهل أحدهم مذهبه الذي انتسب إليه كما قد يجهل مذهب مالك وغيره من أئمة المسلمين الأربعة وغيرهم، فإن هذه المسألة التي فيها النزاع -وهي التي أجبت فيها- وإن كانت في كتب أصحاب الشافعي وأحمد
[কিন্তু উদ্দেশ্য] এখানে হলো যে, তিনি এই কাজীর লেখাগুলো আমার কাছে পাঠিয়েছেন এবং আল্লাহর নামে শপথ করে আমাকে বলেছেন যেন আমি এ বিষয়ে কিছু লিখি, যাতে মানুষের নিকট ওই সকল ব্যক্তিদের মূর্খতা প্রকাশ পায় যারা জ্ঞান ছাড়াই দ্বীন সম্পর্কে কথা বলে। বিষয়টি হলো এই যে, তারা তার বক্তব্যের মধ্যে এমন মূর্খতা, মিথ্যাচার এবং বিভ্রান্তি লক্ষ্য করেছেন যা সাধারণত এমন কোনো আলেমের কাছ থেকে প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব যারা জানেন তারা কী বলছেন; তাহলে যাকে 'প্রধান বিচারপতি' (কাজীউল কুজাত) বলা হয় তার অবস্থা কেমন হতে পারে! আমি দেখলাম যে, তার বক্তব্য এক ধরণের দ্বীনদারির পরিচয় দেয়, [যেমনটি] অনেক মানুষের মধ্যেই এক ধরণের দ্বীনদারি থাকে; কিন্তু তা মূর্খতা, ভুল উপলব্ধি এবং স্বল্প জ্ঞানের সাথে মিশ্রিত। এমনকি তিনি হয়তো রাসূলের সেই দ্বীন সম্পর্কেই অজ্ঞ যার প্রতি তিনি ঈমান রেখেছেন, এবং তিনি তাকেই কাফের মনে করেন যে রাসূলের কথা অনুযায়ী কথা বলে, তাঁর সংবাদকে সত্য বলে বিশ্বাস করে এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো সেই মাযহাব সম্পর্কেও অজ্ঞ থাকতে পারে যার সাথে সে নিজেকে সম্পৃক্ত করে, যেমন তারা মালিক এবং মুসলিমদের অপরাপর চার ইমাম ও অন্যদের মাযহাব সম্পর্কেও অজ্ঞ হতে পারে। কেননা যে বিষয়টি নিয়ে এই বিরোধ—যার ব্যাপারে আমি উত্তর দিয়েছি—তা যদিও শাফেয়ী ও আহমাদের অনুসারীদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
وغيرهما وقد ذكروا القولين [في كلام مالك وأصحابه]. وأبو حنيفة مذهبه في ذلك أبلغ من مذهب الشافعي وأحمد، فهي في كلام مالك وأصحابه أكثر، وهي موجودة في كتبهم الصغار والكبار، ومالك نفسه نص على قبر نبينا محمد صلى الله عليه وسلم بخصوصه أنه داخل في هذا الحديث، بخلاف كثير من الفقهاء فإن كلامهم عام، لكن احتجاجهم بالحديث وغيره يبين أنهم قصدوا العموم، وكذلك بيانهم لمأخذ المسألة يقتضي العموم.
فهذا المعترض وأمثاله لا عرفوا ما قاله أئمتهم وأصحاب أئمتهم، ولا ما قاله بقية علماء المسلمين، ولا عرفوا سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وسنة خلفائه الراشدين، ولا ما كان يفعله الصحابة والتابعون لهم بإحسان.
ونقل هذا المعارض عن الجواب ما ليس فيه، بل المعروف المتواتر عن المجيب في جميع كتبه وكلامه بخلافه، وليس في الجواب ما يدل عليه بل على نقيض ما قاله.
...এবং অন্যান্যগণ। তাঁরা [ইমাম মালিক ও তাঁর অনুসারীদের বক্তব্যে] উভয় মতই উল্লেখ করেছেন। আর এ বিষয়ে আবু হানিফার মাযহাব শাফেয়ী ও আহমদের মাযহাবের চেয়েও জোরালো। ইমাম মালিক ও তাঁর অনুসারীদের বক্তব্যে এ বিষয়টি আরও বেশি দেখা যায় এবং তাঁদের ছোট-বড় সকল কিতাবে এটি বিদ্যমান। ইমাম মালিক স্বয়ং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের ব্যাপারে বিশেষভাবে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন যে, তা এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে অনেক ফকীহদের বক্তব্য সাধারণ বা ব্যাপক, তবে হাদিস ও অন্যান্য প্রমাণাদির মাধ্যমে তাঁদের দলিল পেশ করা এটাই স্পষ্ট করে যে তাঁরা ব্যাপক অর্থই উদ্দেশ্য করেছেন। অনুরূপভাবে মাসআলাটির উৎসের বর্ণনাও ব্যাপকতারই দাবি রাখে।
সুতরাং এই আপত্তিকারী এবং তার ন্যায় ব্যক্তিরা না তাদের ইমামগণ ও তাঁদের অনুসারীদের বক্তব্য সম্পর্কে জানে, আর না তারা বাকি মুসলিম আলেমদের বক্তব্য সম্পর্কে অবগত। এমনকি তারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত, খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাত এবং সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেঈগণের আমল সম্পর্কেও কোনো জ্ঞান রাখে না।
আর এই বিরোধিতাকারী মূল উত্তর থেকে এমন কিছু উদ্ধৃত করেছে যা মূলত সেখানে নেই। বরং উত্তরদাতার সকল কিতাব ও বক্তব্যে যা সুপ্রসিদ্ধ ও মুতাওয়াতির হিসেবে পরিচিত, তা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। সেই উত্তরের মধ্যে এমন কোনো বিষয় নেই যা বিরোধিতাকারীর কথার সপক্ষে প্রমাণ দেয়, বরং সেখানে তার বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয়ই বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
وهذا إما أن يكون عن تعمد للكذب، أو عن سوء فهم مقرون بسوء الظن وما تهوى الأنفس، وهذا أشبه الأمرين به، فإن من الناس / من يكون عنده نوع من الدين لكن مع جهل عظيم، فهؤلاء يتكلم أحدهم بلا علم فيخطىء، ويخبر عن الأمور بخلاف ما هي عليه خبرا غير مطابق. ومن تكلم في الدين بغير الاجتهاد المسوغ له الكلام وأخطأ فإنه كاذب آثم، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي في السنن عن بريدة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (القضاة ثلاثة: قاضيان في النار وقاض في الجنة، رجل قضى للناس على جهل فهو في النار، ورجل علم الحق وقضى بخلافه فهو في النار، ورجل علم الحق فقضى به فهو في الجنة). فهذا الذي يجهل وإن يتعمد خلاف الحق فهو في النار، بخلاف المجتهد الذي قال فيه النبي صلى الله عليه وسلم: (إذا اجتهد الحاكم فأصاب فله أجران، وإذا اجتهد الحاكم فأخطأ فله أجر). فهذا جعل له أجرًا مع خطئه لأنه اجتهد فاتقى الله ما استطاع، بخلاف من قضى بما ليس له به علم، وتكلم بدون الاجتهاد المسوغ له الكلام
আর এটি হয় ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচারের কারণে, অথবা কুধারণা ও প্রবৃত্তির তাড়নার সাথে সম্পৃক্ত ভুল বুঝাবুঝির কারণে। আর তার ক্ষেত্রে এটি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যাদের মাঝে কিছুটা দ্বীনদারি থাকলেও চরম মূর্খতা বিদ্যমান। ফলে তারা জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে এবং ভুল করে বসে, এবং বিষয়সমূহ সম্পর্কে বাস্তবতাবিরোধী ও অসত্য তথ্য প্রদান করে। আর যে ব্যক্তি কথা বলার জন্য প্রয়োজনীয় ইজতিহাদ ছাড়াই দ্বীনি বিষয়ে কথা বলে এবং ভুল করে, সে মিথ্যাবাদী ও পাপী। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুনানে বর্ণিত বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "বিচারক তিন প্রকার: দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামে এবং এক প্রকার জান্নাতে। যে ব্যক্তি মূর্খতা সত্ত্বেও মানুষের বিচারকার্য পরিচালনা করে সে জাহান্নামে। যে ব্যক্তি সত্য জানে কিন্তু তার বিপরীতে বিচার করে সেও জাহান্নামে। আর যে ব্যক্তি সত্য জানে এবং সেই অনুযায়ী বিচার করে সে জান্নাতে।" সুতরাং এই মূর্খ ব্যক্তি সত্যের পরিপন্থী কাজ করার ইচ্ছা না রাখলেও জাহান্নামী হবে। সেই মুজতাহিদের বিষয়টি এর বিপরীত যার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তবে তার জন্য রয়েছে দুটি পুরস্কার। আর যখন সে ইজতিহাদ করে ভুল করে, তখন তার জন্য রয়েছে একটি পুরস্কার।" অতএব, এখানে ভুল করা সত্ত্বেও তার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে কারণ সে ইজতিহাদ করেছে এবং সাধ্যমতো আল্লাহকে ভয় করেছে। এটি সেই ব্যক্তির সম্পূর্ণ বিপরীত যে জ্ঞান ছাড়াই ফয়সালা প্রদান করে এবং শরয়িভাবে বৈধ ইজতিহাদ ছাড়াই কথা বলে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
/ فإن هذا كما في الحديث عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (من قال في القرآن برأيه فليتبوأ مقعده من النار). وفي رواية (بغير علم). وفي حديث جندب عن النبي صلى الله عليه وسلم (من قال في القرآن برأيه فأصاب فقد أخطأ ومن أخطأ فليتبوأ مقعده من النار).
কারণ এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের ন্যায়, যেখানে তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে নিজ মতামত অনুযায়ী কথা বলল, সে যেন জাহান্নামে তার অবস্থান নির্দিষ্ট করে নেয়)। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে (জ্ঞান ব্যতীত)। জুনদুব থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে এসেছে: (যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে নিজ মতামত অনুযায়ী কথা বলল এবং তা সঠিকও হলো, তবুও সে ভুল করল; আর যে ব্যক্তি ভুল করল, সে যেন জাহান্নামে তার অবস্থান নির্দিষ্ট করে নেয়)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
وفي الصحيحين عن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (إن الله لا يقبض العلم انتزاعًا ينتزعه من الناس، ولكن يقبضه بقبض العلماء، فإذا لم يبق عالمًا اتخذ الناس رؤوسًا جهالاً فسئلوا فأفتوا بغير علم فضلوا وأضلوا)، وفي رواية للبخاري (فأفتوا برأيهم) وهذا بخلاف المجتهد الذي اتقى الله ما استطاع، وابتغى طلب العلم بحسب الإمكان، وتكلم ابتغاء وجه الله، وعلم رجحان دليل على دليل، فقال بموجب الراجح، فهذا مطيع لله مأجور أجرين إن أصاب، وإن أخطأ أجرًا واحدًا. ومن قال كل مجتهد مصيب بمعنى أنه مطيع لله فقد صدق، ومن قال المصيب لا يكون إلا واحدًا، وإن الحق لا يكون إلا واحدًا، ومن لم يعلمه فقد أخطأ بمعنى أنه لم يعلم الحق / في نفس الأمر فقد صدق، كما بسط هذا في مواضع.
والمقصود أن من تكلم بلا علم يسوغ وقال غير الحق يسمى كاذبًا، فكيف بمن نقل عن كلام موجود خلاف ما هو فيه مما يعرف كل من تدبر الكلام أن هذا نقل باطل؟ فإن مثل هذا كذب ظاهر، والأولى على صاحبه إثم الكذب،
সহীহাইন গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন আমর হতে বর্ণিত যে, নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের অন্তর থেকে টেনে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম ছিনিয়ে নেবেন না, বরং আলেমদের তুলে নেওয়ার মাধ্যমেই তিনি ইলম কবজ করবেন। যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করা হবে, আর তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করবে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে)। বুখারীর এক বর্ণনায় রয়েছে (তারা নিজেদের মতানুসারে ফতোয়া দেবে)। এটি সেই মুজতাহিদের বিপরীত, যিনি নিজ সাধ্যানুসারে আল্লাহকে ভয় করেছেন, সামর্থ্য অনুযায়ী ইলম অন্বেষণ করেছেন এবং আল্লাহর চেহারার প্রত্যাশায় কথা বলেছেন। তিনি এক দলিলের ওপর অপর দলিলের প্রাধান্য সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং প্রবলতর দলিলের চাহিদা অনুযায়ী কথা বলেছেন। এই ব্যক্তি আল্লাহর অনুগত এবং তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছালে দুটি পুরস্কার পাবেন, আর ভুল করলে একটি পুরস্কার পাবেন। আর যে ব্যক্তি বলে যে, প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক—অর্থাৎ তিনি আল্লাহর অনুগত—সে সত্য বলেছে। আবার যে ব্যক্তি বলে যে, সত্য সন্ধানী কেবল একজনই হন এবং সত্য কেবল একটিই হয়, আর যে তা জানতে পারল না সে ভুল করল—অর্থাৎ সে প্রকৃত সত্যটি জানতে পারেনি—সে ব্যক্তিও সত্য বলেছে, যেমনটি বিভিন্ন স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য হলো, যে ব্যক্তি গ্রহণযোগ্য ইলম ছাড়াই কথা বলে এবং সত্য বহির্ভূত কিছু বলে তাকে মিথ্যাবাদী বলা হয়। তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কী হবে, যে কোনো বিদ্যমান বক্তব্যকে তার প্রকৃত অর্থের বিপরীতভাবে উদ্ধৃত করে, অথচ যে কেউ বক্তব্যটি নিয়ে চিন্তা করলে বুঝতে পারবে যে এটি একটি বাতিল উদ্ধৃতি? নিশ্চয়ই এটি একটি প্রকাশ্য মিথ্যা এবং এর প্রবক্তার ওপর মিথ্যার পাপ বর্তাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
ويطلق عليه، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم (كذب أبو السنابل). وكما قال لما قيل له: إنهم يقولون إن عامرًا بطل عمله، قتل نفسه. فقال: (كذب من قال ذلك). وكما قال عبادة: (كذب أبو محمد) لما قال: الوتر واجب. وقال ابن عباس: (كذب نوف) لما قال: إن موسى صاحب بني إسرائيل ليس هو موسى صاحب الخضر. ومثل هذا كثير، فإذا كان هذا الخبر الذي ليس بمطابق يسمى كذبًا فما هو كذب ظاهر أولى. ومثل هذا إذا حكم بين الناس بالجهل فهو أحد القضاة الثلاثة الذين قال فيهم النبي صلى الله عليه وسلم (القضاة ثلاثة: قاضيان في النار، وقاض في الجنة، رجل علم الحق وقضى به فهو في الجنة، ورجل علم الحق وقضى بخلافه فهو في
এবং এটি তার ওপর প্রয়োগ করা হয়, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "(আবুস সানাবিল ভুল বলেছে)।" এবং যেমনটি তিনি বলেছিলেন যখন তাঁকে বলা হয়েছিল: তারা বলছে যে আমেরের আমল বাতিল হয়ে গেছে, সে আত্মহত্যা করেছে। তখন তিনি বললেন: "(যে এ কথা বলেছে সে ভুল বলেছে)।" এবং যেমন উবাদাহ বলেছিলেন: "(আবু মুহাম্মাদ ভুল বলেছে)" যখন তিনি বলেছিলেন: বিতর ওয়াজিব। এবং ইবনে আব্বাস বলেছিলেন: "(নাওফ ভুল বলেছে)" যখন তিনি বলেছিলেন: বনী ইসরাঈলের মূসা আর খিজিরের সাথি মূসা এক ব্যক্তি নন। আর এ ধরনের উদাহরণ অনেক রয়েছে। সুতরাং যে সংবাদ বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয় তাকে যদি 'মিথ্যা' বলা হয়, তবে যা স্পষ্ট মিথ্যা তা (মিথ্যা হিসেবে গণ্য হতে) আরও বেশি যুক্তিসঙ্গত। আর অনুরূপভাবে যদি কেউ অজ্ঞতাবশত মানুষের মাঝে ফয়সালা করে, তবে সে ওই তিন বিচারকের একজন যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "(বিচারক তিন প্রকার: দুই প্রকার জাহান্নামে যাবে এবং এক প্রকার জান্নাতে যাবে। যে ব্যক্তি সত্য জানল এবং সে অনুযায়ী ফয়সালা দিল, সে জান্নাতি। আর যে ব্যক্তি সত্য জানল এবং তার বিপরীতে ফয়সালা দিল, সে...)"
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
النار، ورجل قضى للناس على جهل فهو في النار). وإن قيل فيه قد يكون مجتهدًا مخطئًا مغفورًا له فحكمه الذي أخطأ فيه وخالف فيه النص والإجماع باطل باتفاق العلماء، وكذلك حكم من شاركه في ذلك. وكلام هذا وأمثاله يدل على أنهم بعيدون عن معرفة الصواب في هذا الباب؟ كأنهم غرباء عن دين الإسلام في مثل هذه المسائل، لم يتدبروا القرآن ولا عرفوا السنن [ولا آثار الصحابة ولا التابعين] ولا كلام أئمة المسلمين، وفي مثل هذا وهؤلاء قال النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: (بدأ الإسلام غريبًا وسيعود غريبًا كما بدأ).
فشريعة الإسلام في هذا الباب غريبة عند هؤلاء لا يعرفونها، فإن هذا وأمثاله لو كان عندهم علم بنوع من أنواع الأدلة الشرعية في هذا الباب لوزعهم ذلك عما وقعوا فيه من الضلال والابتداع ومخالفة دين المسلمين والخروج عما عليه جميع أئمة الدين، مع ما فيه من الافتراء / على الله ورسوله صلى الله عليه وسلم وعلماء المسلمين وعلى المجيب.
জাহান্নাম, এবং সেই ব্যক্তি যে অজ্ঞতাবশত মানুষের মাঝে বিচার-ফয়সালা করেছে সেও জাহান্নামী। আর যদি তার ব্যাপারে এ কথা বলা হয় যে, সে এমন একজন ভুলকারী মুজতাহিদ হতে পারে যাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে; তবে যে বিষয়ে সে ভুল করেছে এবং নস ও ইজমার বিরোধিতা করেছে, উলামায়ে কেরামের ঐকমত্যে সেই বিধানটি বাতিল, এবং অনুরূপভাবে সেই ব্যক্তির বিধানও বাতিল যে তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেছে। এই ব্যক্তি এবং তার সমমনাদের কথাবার্তা একথাই প্রমাণ করে যে, তারা এই বিষয়ে সঠিক জ্ঞান লাভ করা থেকে বহু দূরে। এই জাতীয় মাসআলাগুলোতে তারা যেন ইসলামের জন্য সম্পূর্ণ অপরিচিত; তারা না কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছে, না সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত হয়েছে, আর না সাহাবী ও তাবিঈদের আসার এবং মুসলিম ইমামগণের বক্তব্য সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। এদের মতো ব্যক্তিদের ব্যাপারেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহীহ হাদীসে ইরশাদ করেছেন: "ইসলামের সূচনা হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায় এবং অচিরেই তা শুরুর ন্যায় অপরিচিত হয়ে যাবে।"
বস্তুত এই বিষয়ে ইসলামের শরীয়ত এই লোকেদের নিকট অপরিচিত, তারা এটি জানে না। কারণ এই ব্যক্তি এবং তার সমজাতীয়দের যদি এই বিষয়ে কোনো প্রকার শরীয়তি দলীলের জ্ঞান থাকত, তবে তা অবশ্যই তাদেরকে এমন পথভ্রষ্টতা, বিদআত, মুসলমানদের দ্বীনের বিরোধিতা এবং দ্বীনের সকল ইমামদের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া থেকে বিরত রাখত। তদুপরি এতে আল্লাহ, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মুসলিম উলামা এবং উত্তরদাতার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদও নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১১০)
والاستدلال على ما ذكروه بما لا يصلح أن يكون دليلاً إما حديث صحيح لا يدل على المطلوب وإما خبر معتل مكذوب، والمستدل بالحديث عليه أن يبين صحته، ويبين دلالته على مطلوبه.
وهذا المعترض لم يجمع في حديث واحد بين هذا وهذا، بل إن ذكر صحيحًا لم يكن دالاًّ على محل النزاع، وإن أشار إلى ما يدل لم يكن ثابتا عند أهل العلم بالحديث الذين يعتد بهم في الإجماع والنزاع.
فأما ما فيه من الافتراء والكذب على المجيب فليس المقصود الجواب عنه وله أسوة أمثاله من أهل الإفك والزور، وقد قال تعالى: {إن الذين جاءوا بالإفك عصبة منكم لا تحسبوه شرًّا لكم بل هو خير لكم لكل امرئ منهم ما اكتسب من الإثم) [سورة النور: (11)] بل المقصود الانتصار لله ولكتابه ولرسوله ولدينه، وبيان جهل الجاهل الذي يتكلم في الدين بالباطل وبغير علم، فأذكر ما يتعلق بالمسألة وبالجواب.
وليس المقصود أيضًا العدوان على أحد -لا المعترض ولا غيره- ولا بخس حقه ولا تخصيصه بما لا يختص به مما يشركه فيه غيره - بل المقصود الكلام بموجب العلم والعدل والدين، كما قال تعالى: {يا أيها الذين آمنوا كونوا قوامين لله شهداء بالقسط ولا يجرمنكم شنآن قوم على ألا تعدلوا اعدلوا هو أقرب للتقوى} [سورة المائدة: (8)].
তারা যা উল্লেখ করেছে তার স্বপক্ষে এমন কিছু দিয়ে দলিল পেশ করা যা দলিল হওয়ার যোগ্য নয়। তা হয় এমন সহিহ হাদিস যা উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে না, অথবা এমন ত্রুটিযুক্ত বা মিথ্যা বর্ণনা যা গ্রহণযোগ্য নয়। আর যে ব্যক্তি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে, তার কর্তব্য হলো সেটির বিশুদ্ধতা বর্ণনা করা এবং তার দাবির স্বপক্ষে সেটির প্রাসঙ্গিকতা স্পষ্ট করা।
আর এই আপত্তি উত্থাপনকারী কোনো একটি হাদিসের মধ্যে এই দুটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটাতে পারেনি। বরং সে যদি কোনো সহিহ হাদিস উল্লেখ করে থাকে, তবে তা বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ওপর প্রমাণ হিসেবে দাঁড়ায় না। আর যদি এমন কোনো বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে যা প্রমাণ হতে পারত, তবে তা হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট সাব্যস্ত নয়, যাদের কথা ঐক্যমত ও বিরোধের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য হয়।
উত্তর প্রদানকারীর ওপর যে অপবাদ ও মিথ্যাচার আরোপ করা হয়েছে, সেটির উত্তর দেওয়া এখানে উদ্দেশ্য নয়। এ ক্ষেত্রে সে মিথ্যাবাদী ও অপপ্রচারকারীদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই যারা এই অপবাদ নিয়ে এসেছে তারা তোমাদেরই একটি দল; তোমরা একে তোমাদের জন্য ক্ষতিকর মনে করো না, বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে সেই পাপ যা সে অর্জন করেছে} [সূরা আন-নূর: ১১]। বরং প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল এবং তাঁর দ্বীনের পক্ষ অবলম্বন করা এবং সেই জ্ঞানহীনের মূর্খতা স্পষ্ট করা যে দ্বীনের ব্যাপারে বাতিল ও ইলমহীনভাবে কথা বলে। অতএব আমি এই মাসআলা ও উত্তর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উল্লেখ করছি।
আর কাউকেও আক্রমণ করাও এখানে উদ্দেশ্য নয়—আপত্তি উত্থাপনকারী হোক বা অন্য কেউ—না তার প্রাপ্য অধিকার খর্ব করা, আর না তাকে এমন কোনো বিষয়ে নির্দিষ্ট করা যাতে অন্যরাও অন্তর্ভুক্ত। বরং উদ্দেশ্য হলো ইলম, ইনসাফ ও দ্বীনের দাবি অনুযায়ী কথা বলা, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইনসাফের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হিসেবে সুদৃঢ় থাকো। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ বর্জন করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৮]।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১১১)
وليس أيضًا المقصود ذم شخص معين بل المقصود بيان ما يذم وينهى عنه ويحذر عنه من الخطأ والضلال في هذا الباب، كما كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول: (ما بال رجال يقولون أو يفعلون كذا) فيذم ذلك الفعل ويحذر عن ذلك النوع وليس مقصوده إيذاء شخص معين.
ولكن لما كان هذا صنف مصنفًا وأظهره وشهره لم يكن بد من حكاية ألفاظه والرد عليه وعلى من هو مثله ممن ينتسب إلى علم ودين ويتكلم في هذه المسألة بما يناقض دين المسلمين حيث يجعل ما بعث الله به رسوله كفرًا، وهذا رأس هؤلاء المبدلين، فالرد عليه رد عليهم.
উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে নিন্দা করা নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ভুল ও বিভ্রান্তিগুলোর মধ্য থেকে যা কিছু নিন্দনীয়, নিষিদ্ধ এবং যা হতে সতর্ক করা হয়েছে তা বর্ণনা করা। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "সেই সব লোকদের কী হলো যারা এমন কথা বলে বা এমন কাজ করে?" এর মাধ্যমে তিনি সেই কার্যের নিন্দা জানাতেন এবং সেই প্রকার বিষয় হতে সতর্ক করতেন, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে কষ্ট দেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।
কিন্তু যেহেতু এই ব্যক্তি একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তা প্রকাশ ও প্রচার করেছেন, তাই তার বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করা এবং তার ও তার অনুরূপ ব্যক্তিদের প্রতিবাদ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, যারা ইলম ও দ্বীনের প্রতি নিজেদের সম্বন্ধযুক্ত করে অথচ এই মাসআলায় এমন কথা বলে যা মুসলিমদের দ্বীনের পরিপন্থী। এমনকি সে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যা দিয়ে প্রেরণ করেছেন তাকেই কুফর সাব্যস্ত করে। আর এই ব্যক্তি হলো দ্বীন পরিবর্তনকারী ঐসব লোকদের মূলহোতা; সুতরাং তার প্রতিবাদ করা মানে তাদের সকলেরই প্রতিবাদ করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১১২)
فصل
قال المعترض:
ـ[أما بعد فإن العبد لما وقف على الكلام المنسوب لابن تيمية المنقول عنه من نسخة فتياه، ظهر لي -من صريح ذلك القول وفحواه- مقصده / السيئ ومغزاه، وهو تحريم زيارة قبور الأنبياء وسائر القبور والسفر إليها ودعواه أن ذلك معصية محرمة مجمع عليها.]ـ
فيقال: هذا الكلام مع قلته فيه من الكذب الباطل والافتراء ما يلحق صاحبه بالكذابين المردودي الشهادة، أو الجهال البالغين في نقص الفهم والبلادة. وكان ينبغي له أن يحكي لفظ المجيب بعينه ويبين ما فيه من الفساد، وإن ذكر معناه فيسلك طريق الهدى والسداد. فأما أن يذكر عنه ما ليس فيه، ولا يذكر ما فيه، فهذا خروج عن الصدق والعدل إلى الكذب والظلم. [وذلك أن] الجواب ليس فيه تحريم زيارة القبور ألبتة، لا قبور الأنبياء والصالحين ولا غيرهم، ولا كان السؤال عن هذا، وإنما فيه الجواب عن السفر إلى القبور، وذكر قولي العلماء في ذلك.
والمجيب قد عرفت كتبه، وفتاويه مشحونة باستحباب زيارة القبور، وفي جميع مناسكه يذكر استحباب زيارة قبور أهل البقيع وشهداء أحد،
অনুচ্ছেদ
আপত্তিকারী বলেছেন:
ـ[পর সমাচার, এই বান্দা যখন ইবনে তাইমিয়াহ-র ফতোয়ার অনুলিপি হতে তাঁর প্রতি আরোপিত বক্তব্যের মুখোমুখি হলো, তখন সেই বক্তব্যের স্পষ্ট শব্দ ও অন্তর্নিহিত মর্ম থেকে তাঁর অসৎ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য আমার নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠল; আর তা হলো নবীগণের কবরসহ অন্যান্য সকল কবর জিয়ারত করা এবং সে উদ্দেশ্যে সফর করাকে হারাম করা এবং তাঁর এই দাবি যে এটি একটি হারামে পরিণত হওয়া পাপের কাজ যার ওপর ঐক্যমত বা ইজমা রয়েছে।]ـ
এর উত্তরে বলা হবে: এই বক্তব্যটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এতে এমন সব ভিত্তিহীন মিথ্যা ও অপবাদ রয়েছে যা এর প্রবক্তাকে সেই সব মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত করে যাদের সাক্ষ্য অগ্রহণযোগ্য, অথবা সেই সব মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত করে যারা নির্বুদ্ধিতা ও বুঝের চরম ঘাটতিতে নিমজ্জিত। তাঁর জন্য উচিত ছিল উত্তরদাতার হুবহু শব্দগুলো উল্লেখ করা এবং তাতে কোনো ভুল থাকলে তা স্পষ্ট করা। আর যদি তিনি কেবল মর্মার্থই বর্ণনা করতে চাইতেন, তবে সত্য ও সঠিকত্বের পথ অবলম্বন করা আবশ্যক ছিল। কিন্তু তিনি এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা উত্তরদাতার বক্তব্যে নেই, আবার যা আছে তা তিনি উল্লেখ করেননি; এটি সত্য ও ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত হয়ে মিথ্যা ও অবিচারের দিকে ধাবিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। বস্তুত সেই উত্তরের মধ্যে কবর জিয়ারতকে মোটেও হারাম করা হয়নি—তা নবীগণ বা নেককার বান্দাদের কবর হোক কিংবা অন্য কারো। এমনকি প্রশ্নটিও সে সম্পর্কে ছিল না। বরং সেখানে কেবল কবরের উদ্দেশ্যে সফর করার বিষয়ে উত্তর দেওয়া হয়েছিল এবং সে বিষয়ে আলেমদের দুটি মত উল্লেখ করা হয়েছিল।
আর উক্ত উত্তরদাতার কিতাবসমূহ সকলেরই জানা আছে এবং তাঁর ফতোয়াগুলো কবর জিয়ারত মুস্তাহাব হওয়ার বর্ণনায় পরিপূর্ণ। তিনি তাঁর হজ্জ ও উমরার নিয়মাবলী সংক্রান্ত সকল কিতাবে জান্নাতুল বাকি এবং উহুদের শহীদদের কবর জিয়ারত মুস্তাহাব হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
ويذكر زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل مسجده والأدب في ذلك وما قاله العلماء، وفي نفس الجواب قد ذكر ذلك، ولم يذكر قط أن زيارة القبور معصية ولا حكاه عن أحد، بل كان يعتقد حين كتب هذا الجواب أن زيارة القبور مستحبة بالإجماع، ثم رأى بعد ذلك فيها نزاعًا وهو نزاع مرجوح، والصحيح أنها مستحبة، وهو في هذا الجواب إنما ذكر القولين في السفر إلى القبور، وذكر أحد القولين أن ذلك معصية ولم يقل إن هذا معصية محرمة مجمع عليها، لكن قال: إذا كان السفر إليها ليس للعلماء فيه إلا قولان: قول من يقول إنه معصية، وقول من يقول إنه ليس بمحرم بل لا فضيلة فيه وليس بمستحب، فإذن من اعتقد أن السفر لزيارة قبورهم أنه قربة وعبادة وطاعة فقد خالف الإجماع، وإذا سافر لاعتقاده أن ذلك طاعة كان ذلك محرمًا بالإجماع. فهذا الإجماع حكاه لأن علماء المسلمين الذين رأينا أقوالهم اختلفوا في قوله: (لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام، ومسجدي هذا والمسجد الأقصى) هل هو تحريم لذلك أو نفي لفضيلته؟ على قولين. وعامة المتقدمين على الأول مع اتفاقهم على أن هذا يتناول السفر / إلى
তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে প্রবেশ করলে তাঁর কবর যিয়ারত করার কথা, এর আদবসমূহ এবং এ বিষয়ে আলেমগণ যা বলেছেন তা উল্লেখ করেছেন। উক্ত জওয়াবের মধ্যেই তিনি তা উল্লেখ করেছেন। তিনি কখনোই উল্লেখ করেননি যে কবর যিয়ারত করা পাপের কাজ, আর না তিনি কারো পক্ষ থেকে এমনটি বর্ণনা করেছেন। বরং এই জওয়াবটি লেখার সময় তিনি বিশ্বাস করতেন যে, সর্বসম্মতভাবে কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব। পরবর্তীতে তিনি এ বিষয়ে মতপার্থক্য দেখতে পান, যা ছিল একটি দুর্বল মতপার্থক্য; আর সঠিক মত হলো এটি মুস্তাহাব। তিনি এই জওয়াবে কবরের উদ্দেশ্যে সফর করার ব্যাপারে কেবল দু’টি মত উল্লেখ করেছেন। তিনি একটি মত উল্লেখ করেছেন যে এটি পাপের কাজ, তবে তিনি এটি বলেননি যে এটি একটি সর্বসম্মত হারাম বা পাপ। বরং তিনি বলেছেন: যখন কবরের উদ্দেশ্যে সফর করার ব্যাপারে আলেমদের কেবল দু’টি মত রয়েছে: একদল বলেন এটি পাপ, আর অন্যদল বলেন এটি হারাম নয় বরং এতে কোনো ফযিলত নেই এবং এটি মুস্তাহাবও নয়; এমতাবস্থায় কেউ যদি বিশ্বাস করে যে তাদের কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা একটি পুণ্য, ইবাদত এবং আনুগত্যের কাজ, তবে সে ইজমা বা ঐকমত্যের বিরোধিতা করল। আর যখন সে এই বিশ্বাসে সফর করবে যে এটি একটি আনুগত্যের কাজ, তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম হবে। তিনি এই ইজমার কথা এ কারণেই বর্ণনা করেছেন যে, মুসলিম আলেমগণ যাদের বক্তব্য আমরা দেখেছি তারা তাঁর এই বাণীর ব্যাপারে মতভেদ করেছেন: (তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফরের প্রস্তুতি নিও না: মসজিদে হারাম, আমার এই মসজিদ এবং মসজিদে আকসা); এটি কি এ কাজকে হারাম করার জন্য, নাকি এর ফযিলত অস্বীকার করার জন্য? এ বিষয়ে দু’টি মত রয়েছে। অধিকাংশ পূর্বসূরী আলেম প্রথম মতটির পক্ষালম্বন করেছেন, যদিও তারা একমত ছিলেন যে এটি সফরের অন্তর্ভুক্ত... / দিকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
القبور. فإن الصحابة والتابعين والأئمة لم يعرف عنهم نزاع في أن السفر إلى القبور وآثار الأنبياء داخل في النهي، كالسفر إلى الطور الذي كلم الله عليه موسى وغيره، وإن كان الله سماه الوادي المقدس وسماه البقعة المباركة ونحو ذلك، فلم يعرف عن الصحابة نزاع أن هذا وأمثاله داخل في نهي النبي صلى الله عليه وسلم عن السفر إلى غير المساجد الثلاثة، كما لم يعرف عنهم نزاع أن ذلك منهي عنه، وأن قوله (لا تشد الرحال) نهي بصيغة الخبر، كما قد جاء في الصحيح بصيغة النهي من حديث أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لا تشدوا الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: مسجدي هذا، والمسجد الحرام، والمسجد الأقصى). فالصحابة ومن تبعهم لم يعرف عنهم نزاع أن هذا نهي منه، فإن لفظه صلى الله عليه وسلم صريح في النهي، ولم يعرف عنهم نزاع أن النهي متناول للسفر إلى البقاع المعظمة غير المساجد، سواء كان النهي عنها بطريق فحوى الخطاب وأنه إذا نهى عن السفر إلى مسجد غير الثلاثة فالنهي عن السفر إلى ما ليس بمسجد أولى، أو كان بطريق شمول اللفظ، فالصحابة الذين رووا هذا الحديث بينوا عمومه لغير المساجد كما في الموطأ والمسند والسنن عن بصرة بن أبي بصرة الغفاري أنه قال لأبي هريرة: من أين
কবরসমূহ। নিশ্চয়ই সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং ইমামগণের পক্ষ থেকে এমন কোনো বিরোধ জানা যায়নি যে, কবর এবং নবীদের স্মৃতিচিহ্নসমূহের দিকে সফর করা এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, যেমন তূর পাহাড়ের দিকে সফর করা, যেখানে আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছিলেন এবং অন্যান্য স্থান। যদিও আল্লাহ সেটিকে পবিত্র উপত্যকা এবং বরকতময় স্থান ও অনুরূপ নামে অভিহিত করেছেন, তবুও সাহাবীগণের মধ্যে এমন কোনো মতভেদ জানা যায়নি যে এটি এবং এর অনুরূপ স্থানসমূহ তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফর করার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। যেমন তাদের থেকে এ ব্যাপারেও কোনো বিরোধ জানা যায়নি যে তা নিষিদ্ধ, এবং তাঁর বাণী ‘সফর করা হবে না’ সংবাদ প্রদানের ঢঙে একটি নিষেধ। যেমনটি সহীহ হাদিসে নিষেধের ধরনে আবূ সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানের উদ্দেশ্যে সফর করো না: আমার এই মসজিদ, মসজিদে হারাম এবং মসজিদে আকসা)। সুতরাং সাহাবীগণ এবং যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের থেকে এ ব্যাপারে কোনো বিরোধ জানা যায়নি যে এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি নিষেধ; কেননা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই শব্দ নিষেধের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট। এবং তাঁদের থেকে এ ব্যাপারেও কোনো মতভেদ জানা যায়নি যে, এই নিষেধ মসজিদ ব্যতীত অন্যান্য সম্মানিত স্থানসমূহের দিকে সফর করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। চাই এই নিষেধ 'কথার মর্মার্থ' (ফাহওয়াল খিতাব) পদ্ধতির মাধ্যমে হোক—অর্থাৎ যদি তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো মসজিদে সফর করা নিষিদ্ধ হয়, তবে যা মসজিদ নয় সেখানে সফর করা তো আরও অধিকতর নিষিদ্ধ হওয়ার যোগ্য—অথবা তা শব্দের ব্যাপকতার মাধ্যমে হোক। সুতরাং যে সকল সাহাবী এই হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা মসজিদ ব্যতীত অন্যান্য স্থানের ক্ষেত্রেও এর ব্যাপকতা বর্ণনা করেছেন। যেমনটি মুয়াত্তা, মুসনাদ এবং সুনান গ্রন্থসমূহে বাসরাহ বিন আবী বাসরাহ আল-গিফারী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বললেন: আপনি কোথা থেকে
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
أقبلت؟ قال: من الطور. فقال: لو أدركتك قبل أن تخرج لما خرجت، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (لا تعمل المطي إلا إلى ثلاثة مساجد: إلى المسجد الحرام، وإلى مسجدي هذا، وإلى مسجد إيليا) أو قال (بيت المقدس).
وقال أبو زيد عمر بن شبة النميري، في كتاب أخبار المدينة النبوية: حدثنا هشام بن عبد الملك حدثنا عبد الحميد بن بهرام حدثنا شهر بن
আপনি কি ফিরে এসেছেন? তিনি বললেন: তূর পর্বত থেকে। তখন তিনি বললেন: আপনি বের হওয়ার আগে যদি আমি আপনার সাক্ষাৎ পেতাম, তবে আপনি বের হতেন না। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানের উদ্দেশ্যে সওয়ারি চালনা করা যাবে না: মসজিদুল হারাম, আমার এই মসজিদ এবং ইলিয়া মসজিদ) অথবা তিনি বলেছিলেন (বাইতুল মাকদিস)।
এবং আবু যায়িদ উমর ইবনে শাব্বাহ আন-নুমাইরি তাঁর 'আখবারুল মাদিনাহ আন-নাবাউইয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন: হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল হামিদ ইবনে বাহরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাহর ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
حوشب سمعت أبا سعيد الخدري وذكر عنده الصلاة في الطور فقال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (لا ينبغي للمطي أن تشد رحالها إلى مسجد تبتغى فيه الصلاة غير المسجد الحرام، والمسجد الأقصى، ومسجدي هذا). فهذا فيه أنه رواه بلفظ مسجد، بين أن النهي متناول للطور وإن لم يكن مسجدًا بطريق الأولى، فإن الذين يقصدون الطور ومثله لا يقصدونه لأنه مسجد بل ولم يكن هناك / قرية يتخذ المسلمون فيها مسجدًا، وبناء المسجد حيث لا يصلى فيه بدعة، وإنما يقصدونه لشرف البقعة، فعلم أن النهي عن المساجد نهي عن غيرها بطريق الأولى.
وقد ثبت في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (أحب البقاع إلى الله المساجد). فإذا كان قد حرم السفر إلى أحب البقاع إلى الله غير الثلاثة، فما دونها في الفضيلة أولى أن ينهى عنه، كما قال الصحابة، ومنهم أيضًا ابن عمر.
হাওশাব আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)-কে বলতে শুনেছেন, যখন তাঁর নিকট তূর পাহাড়ে সালাত আদায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলো, তখন তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আকসা এবং আমার এই মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো মসজিদের উদ্দেশ্যে সালাত আদায়ের প্রত্যাশায় সওয়ারীর পিঠে জিন কষা উচিত নয়)। সুতরাং এতে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এটি ‘মসজিদ’ শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন, যা স্পষ্ট করে যে এই নিষেধাজ্ঞা তূর পাহাড়কেও শামিল করে, যদিও তা কোনো মসজিদ নয়—বরং এটি আরও জোরালোভাবেই (আউলা) এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা যারা তূর পাহাড় বা এ জাতীয় স্থানের সংকল্প করে, তারা একে মসজিদ হিসেবে উদ্দেশ্য করে না; এমনকি সেখানে এমন কোনো জনপদও ছিল না যেখানে মুসলিমরা মসজিদ নির্মাণ করবে। আর যেখানে সালাত আদায় করা হয় না সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা একটি বিদআত। তারা কেবল সেই স্থানের মর্যাদার কারণেই সেখানে যাওয়ার সংকল্প করে। ফলে এটি জানা গেল যে, মসজিদের ক্ষেত্রে যে নিষেধ রয়েছে, তা অন্যান্য স্থানের ক্ষেত্রে আরও জোরালোভাবে প্রযোজ্য।
সহীহ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় ভূখণ্ড হলো মসজিদসমূহ)। অতএব, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় স্থানগুলোর মধ্যে এই তিনটি ব্যতীত অন্য কোনোটির উদ্দেশ্যে যদি সফর করা নিষিদ্ধ হয়ে থাকে, তবে মর্যাদায় এর চেয়ে নিম্নতর স্থানগুলোর ক্ষেত্রে নিষেধ থাকা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত, যেমনটি সাহাবীগণ বলেছেন এবং তাঁদের মধ্যে ইবনে উমরও ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
قال أبو زيد: حدثنا ابن أبي الوزير حدثنا سفيان عن عمرو بن دينار عن طلق عن قزعة قال: (أتيت ابن عمر فقلت: إني أريد الطور. فقال: إنما تشد الرحال إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام، ومسجد المدينة، والمسجد الأقصى. فدع عنك الطور فلا تأته).
لكن طائفة من المتأخرين قالوا: ليس هذا نهيًا بل هو نفي لاستحباب السفر إلى غير الثلاثة، ونفي لوجوب السفر بالنذر إلى غير الثلاثة، وهؤلاء يقولون: إن الحديث عام في السفر إلى قبور الأنبياء وآثارهم وغير ذلك.
আবু যাইদ বলেন: ইবনে আবিল উযাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি তালক থেকে এবং তিনি কাযাআ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আমি ইবনে উমরের নিকট আসলাম এবং বললাম: আমি তূর পাহাড়ে যাওয়ার ইচ্ছা করছি। তখন তিনি বললেন: কেবল তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যেই সফরের প্রস্তুতি নেওয়া যাবে: মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদ এবং মসজিদুল আকসা। সুতরাং তুমি তূর পাহাড়ের চিন্তা ছেড়ে দাও এবং সেখানে যেও না)।
তবে পরবর্তী যুগের একদল আলিম বলেছেন: এটি কোনো সরাসরি নিষেধ নয়, বরং এটি তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও ভ্রমণের মুস্তাহাব হওয়াকে নাকচ করা এবং মানত করার মাধ্যমে অন্য কোথাও ভ্রমণের আবশ্যকতাকে নাকচ করা। তারা বলেন: নবীগণের কবর, তাঁদের স্মৃতিচিহ্ন এবং এই জাতীয় অন্যান্য স্থানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই হাদিসটি সাধারণ ও ব্যাপক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
وقال ابن حزم الظاهري: السفر إلى مسجد غير المساجد الثلاثة حرام. وأما السفر إلى آثار الأنبياء فذلك مستحب. وهذا لأنه ظاهري لا يقول بفحوى الخطاب، وهي إحدى الروايتين عن داود الظاهري فلا يقول إن قوله: {فلا تقل لهما أف} [سورة الإسراء: (23)]، يدل على النهي عن الضرب والشتم، ولا إن قوله تعالى: {ولا تقتلوا أودلاكم خشية إملاق} [سورة الإسراء: (31)]، يدل على تحريم القتل مع الغنى واليسار، وأمثال ذلك مما يخالفه فيه عامة علماء المسلمين ويقطعون بخطأ من قال مثل ذلك فينسبونه إلى عدم الفهم ونقص العقل، ومع هذا فلم أجده ذكر ذلك إلا في آثار الأنبياء لا في القبور.
وأما السفر إلى مجرد زيارة القبور فما رأيت أحدًا من علماء المسلمين قال إنه مستحب، وإنما تنازعوا: هل هو منهي عنه، أو مباح؟ وهذا الإجماع والنزاع لم يتناول المعنى الذي أراده العلماء بقولهم يستحب زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم، ولا إطلاق القول بأنه يستحب السفر لزيارة قبره كما هو موجود في كلام كثير منهم، فإنهم يذكرون الحج ويقولون يستحب / للحاج أن يزور قبر النبي صلى الله عليه وسلم. ومعلوم أن هذا
ইবন হাজম আল-জাহেরি বলেছেন: তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা হারাম। আর নবীদের স্মৃতিচিহ্নসমূহের দিকে সফর করা মুস্তাহাব। এটি এই কারণে যে, তিনি জাহেরি মাযহাবের অনুসারী হওয়ার দরুন 'ফাহওয়াল খিতাব' (ভাষার ইঙ্গিতগত অর্থ) স্বীকার করেন না; আর এটি দাউদ আল-জাহেরি থেকে বর্ণিত দুটি মতের একটি। তাই তিনি বলেন না যে, মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের প্রতি 'উফ' শব্দটিও করো না} [সুরা আল-ইসরা: ২৩] দ্বারা তাদের প্রহার করা বা গালি দেওয়া নিষিদ্ধ হওয়া বোঝায়। কিংবা মহান আল্লাহর বাণী: {দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না} [সুরা আল-ইসরা: ৩১] দ্বারা ধনাঢ্যতা ও সচ্ছল অবস্থার সময় সন্তান হত্যা হারাম হওয়া বোঝায় না। এই জাতীয় আরও অনেক মাসআলা রয়েছে যাতে সাধারণ মুসলিম আলেমগণ তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং এই ধরনের কথা যারা বলেন, তাঁদের ভুল হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন; বরং তাঁরা একে বুঝের অভাব ও বুদ্ধিবৃত্তিক ত্রুটির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তা সত্ত্বেও, আমি তাঁকে এটি কেবল নবীদের স্মৃতিচিহ্নের ক্ষেত্রে উল্লেখ করতে দেখেছি, কবরের ক্ষেত্রে নয়।
আর নিছক কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফরের ব্যাপারে আমি মুসলিম আলেমদের কাউকে বলতে দেখিনি যে এটি মুস্তাহাব। বরং তাঁরা কেবল এই বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন যে: এটি কি নিষিদ্ধ, নাকি বৈধ? আর এই ঐক্যমত ও বিরোধ সেই অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে না যা আলেমগণ তাঁদের এই কথার দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন যে 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব'। এমনকি এটি তাঁদের অনেকের বক্তব্যে বিদ্যমান এই সাধারণ উক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয় যে 'তাঁর কবর যিয়ারতের জন্য সফর করা মুস্তাহাব'; কেননা তাঁরা হজের বিষয় উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, হাজীদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব। আর এটি সর্বজনবিদিত যে এটি
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
إنما يمكن مع السفر، لم يريدوا بذلك زيارة القريب بل أرادوا زيارة البعيد، فعلم أنهم قالوا يستحب السفر إلى زيارة قبره لكن مرادهم بذلك هو السفر إلى مسجده، إذ كان المصلون والزوار لا يصلون إلا إلى مسجده لا يصل أحد إلى قبره ولا يدخل إلى حجرته -. ولكن قد يقال هذا في الحقيقة ليس زيارة لقبره ولهذا كره من كره من العلماء أن يقال زرت قبره، ومنهم من لم يكرهه. والطائفتان متفقون على أنه لا يزار قبره كما تزار القبور، بل إنما يدخل إلى مسجده.
وأيضًا فالنية في السفر إلى مسجده وزيارة قبره مختلفة: فمن قصد السفر إلى مسجده للصلاة فيه فهذا مشروع بالنص والإجماع، وإن كان لم يقصد إلا القبر لم يقصد المسجد فهذا مورد النزاع، فمالك والأكثرون يحرمون هذا السفر، وكثير من الذين يحرمونه لا يجوزون قصر الصلاة فيه. والآخرون يجعلونه سفرًا جائزًا وإن كان غير مستحب ولا واجب بالنذر. وأما من كان قصده السفر إلى مسجده وقبره معًا فهذا قد قصد مستحبًّا مشروعًا بالإجماع، ولهذا لم يكن في الجواب تعرض لهذا، والجواب في السؤال كان عمن سافر لا يقصد إلا زيارة القبور لا يقصد سفرًا شرعيًّا كالسفر إلى مكة وإلى مسجد النبي صلى الله عليه وسلم والمسجد الأقصى، ولم يكن السؤال ولا الجواب عمن سافر إلى مسجد النبي صلى الله عليه وسلم، وإن قصد مع ذلك السفر إلى قبره فإن هذا لم تجمع العلماء على أنه سفر غير مستحب، بل أصحاب أحمد لهم في المسافر إلى القبور -هل يقصر الصلاة- أربعة أوجه:
قيل: يقصر مطلقًا.
এটি কেবল সফরের মাধ্যমেই সম্ভব, তারা এর দ্বারা নিকটবর্তী যিয়ারত বোঝাতে চাননি বরং দূরবর্তী যিয়ারত বা সফরই উদ্দেশ্য ছিল। ফলে এটি প্রতীয়মান হয় যে, তারা তাঁর কবরের যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করাকে মুস্তাহাব বলেছেন, তবে এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো তাঁর মসজিদের দিকে সফর করা; কেননা সালাত আদায়কারী ও যিয়ারতকারীরা কেবল তাঁর মসজিদেই পৌঁছাতে পারেন, কেউ সরাসরি তাঁর কবরের নিকট পৌঁছায় না এবং তাঁর হুজরায় প্রবেশ করে না। তবে প্রকৃতপক্ষে একে তাঁর কবরের যিয়ারত বলা হয় না। এই কারণেই আলেমদের মধ্য থেকে যারা একে অপছন্দ করেছেন, তারা 'আমি তাঁর কবর যিয়ারত করেছি' এ কথা বলা অপছন্দ করেছেন; আবার কেউ কেউ একে অপছন্দ করেননি। তবে উভয় পক্ষই এ বিষয়ে একমত যে, অন্যান্য সাধারণ কবরের মতো তাঁর কবর যিয়ারত করা হয় না, বরং কেবল তাঁর মসজিদে প্রবেশ করা হয়।
অধিকন্তু, তাঁর মসজিদে সফর এবং তাঁর কবর যিয়ারতের নিয়তের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে: সুতরাং যে ব্যক্তি কেবল সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে তাঁর মসজিদে সফরের ইচ্ছা করে, তা নস এবং ইজমা অনুযায়ী শরীয়তসম্মত। আর যদি কেউ মসজিদের নিয়ত না করে কেবল কবরের ইচ্ছা করে, তবে এটিই বিরোধের ক্ষেত্র। ইমাম মালিক ও অধিকাংশ আলেম এই সফরকে হারাম বলেছেন এবং যারা একে হারাম মনে করেন তাদের অনেকে এই সফরে সালাত কসর করাকেও জায়েজ মনে করেন না। অন্যরা একে বৈধ সফর মনে করেন যদিও তা মুস্তাহাব নয় এবং মানত করলেও ওয়াজিব হয় না। আর যার উদ্দেশ্য তাঁর মসজিদ এবং কবর উভয়টির দিকে সফর করা, তবে সে ইজমা অনুযায়ী একটি শরীয়তসম্মত মুস্তাহাব কাজের ইচ্ছা করেছে। এ কারণেই উত্তরের মধ্যে এর উল্লেখ করা হয়নি। প্রশ্নের উত্তরটি ছিল সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে কেবল কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করে, কিন্তু মক্কা, নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদ এবং মসজিদুল আকসার মতো শরীয়তসম্মত সফরের ইচ্ছা করে না। আর প্রশ্ন বা উত্তর কোনোটিই সেই ব্যক্তি সম্পর্কে ছিল না যে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করে যদিও সে এর সাথে তাঁর কবর যিয়ারতেরও ইচ্ছা রাখে। কারণ এটি মুস্তাহাব নয় এমন সফরের ব্যাপারে আলেমগণ একমত হননি। বরং ইমাম আহমাদের অনুসারীদের মধ্যে কবরের দিকে সফরকারীর সালাত কসর করা সম্পর্কে চারটি অভিমত রয়েছে:
বলা হয়েছে: সে সাধারণভাবে কসর করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১২০)
وقيل: لا يقصر مطلقًا.
وقيل: لا يقصر إلا إلى قبر نبينا صلى الله عليه وسلم.
وقيل: إلى قبور الأنبياء مطلقًا.
فهذان الوجهان من لم يعرفهما تخبط في هذه المسائل، فيعرف العمل الممكن المشروع والقصد في ذلك ليظهر له الفرق بين الرسول وبين غيره من جهة الفعل والقصد، فإن السفر المسمى زيارة له إنما هو سفر إلى مسجده.
وقد ثبت بالنص والإجماع أن المسافر ينبغي له أن يقصد السفر إلى مسجده والصلاة / فيه.
وعلى هذا فقد يقال: نهيه عن شد الرحال إلا إلى المساجد الثلاثة لا يتناول شدها إلى قبره فإن ذلك غير ممكن، لم يبق إلا شدها إلى مسجده وذلك مشروع، بخلاف غيره فإنه يمكن زيارته فيمكن شد الرحال إليه. لكن يبقى قصد المسافر ونيته ومسمى الزيارة في لغته هل قصده مجرد القبر أو المسجد أو كلاهما، كما قال مالك لمن سأله عمن نذر أن يأتي إلى قبر النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إن كان أراد مسجد النبي صلى الله عليه وسلم فليأته وليصل فيه، وإن كان أراد القبر فلا يفعل، للحديث الذي جاء (لا تعمل المطي إلا إلى ثلاثة مساجد).
فهذا السائل من عُرْفه أن لفظ زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم تتناول من أتى المسجد وكان قصده القبر، ومن أتاه وقصده المسجد، وهذا عُرف عامة الناس المتأخرين
আরও বলা হয়েছে: তিনি কোনোভাবেই কসর করবেন না।
আরও বলা হয়েছে: কেবল আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর যিয়ারত ব্যতীত (অন্য কোথাও সফরের জন্য) কসর করবেন না।
আরও বলা হয়েছে: সাধারণভাবে সকল নবীর কবরের দিকে (সফরের ক্ষেত্রে কসর করা যাবে)।
এই দুটি অভিমত যে ব্যক্তি জানে না, সে এই মাসআলাগুলোতে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়। সুতরাং সম্ভবপর শরয়ি আমল এবং এক্ষেত্রে নিয়ত বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা থাকা প্রয়োজন, যাতে কর্ম ও উদ্দেশ্যের দিক থেকে রাসূল এবং অন্যদের মাঝে পার্থক্যটি তার নিকট স্পষ্ট হয়। কেননা তাঁর যিয়ারত হিসেবে অভিহিত সফর মূলত তাঁর মসজিদের দিকেই সফর।
আর নস (দলিল) ও ইজমা (ঐক্যমত্য) দ্বারা এটি প্রমাণিত যে, মুসাফিরের উচিত তাঁর মসজিদে যাওয়ার এবং সেখানে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে সফর করা।
এর ভিত্তিতে বলা যেতে পারে যে, তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফরের প্রস্তুতি গ্রহণের (শাদ্দুর রিহাল) ব্যাপারে তাঁর যে নিষেধাজ্ঞা, তা তাঁর কবরের দিকে সফরের প্রস্তুতিকে অন্তর্ভুক্ত করে না; কারণ সেটি (মসজিদ বাদ দিয়ে এককভাবে কবরের দিকে সফর) সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় কেবল তাঁর মসজিদের দিকে সফরের প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়টিই অবশিষ্ট থাকে এবং তা শরয়িভাবে অনুমোদিত। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ তাদের (কবর) যিয়ারত করা সম্ভব, ফলে সরাসরি তাদের কবরের দিকে সফরের প্রস্তুতি গ্রহণও সম্ভব। কিন্তু মুসাফিরের উদ্দেশ্য, তার নিয়ত এবং তার ভাষায় 'যিয়ারত' বলতে কী বোঝায় তা অবশিষ্ট থাকে—তার উদ্দেশ্য কি কেবল কবর, নাকি মসজিদ, নাকি উভয়ই? যেমনটি ইমাম মালিক তাকে বলেছিলেন, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরে আসার মানত সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল। তিনি বলেছিলেন: "যদি সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদের ইচ্ছা করে থাকে, তবে সে যেন সেখানে আসে এবং তাতে সালাত আদায় করে। আর যদি সে কেবল কবরের ইচ্ছা করে থাকে, তবে সে যেন তা না করে; কারণ হাদিসে এসেছে: (তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানের উদ্দেশ্যে সফরের জন্য সওয়ারি প্রস্তুত করা যাবে না)।"
সুতরাং এই প্রশ্নকারীর পরিভাষায় 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর যিয়ারত' শব্দটি এমন ব্যক্তিকেও বোঝায় যে মসজিদে এসেছে এবং তার উদ্দেশ্য ছিল কবর, আবার তাকেও বোঝায় যে এসেছে এবং তার উদ্দেশ্য ছিল মসজিদ। আর এটিই হলো পরবর্তীকালের সাধারণ মানুষের প্রচলিত পরিভাষা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখনাইয়্যাহ আও আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ী ত আল-আনাযী
(পৃষ্ঠা: ১২১)
يسمون هذا كله زيارة لقبره، ولم يكن هذا لغة السلف من الصحابة والتابعين لهم بإحسان، بل تغير الاصطلاح في مسمى اللفظ والمقصود به، وهو صلى الله عليه وسلم لا يشرع للقريب من زيارته ما نهى عنه المسافر الذي يشد الرحل، بخلاف غيره فلا يقال إن زيارته بلا شد رحل مشروعة ومع شد الرحل منهي عنها، كما يقال في سائر المشاهد وفي قبور الشهداء وغيرهم من أموات المسلمين، إذ لم يشرع للمقيمين بالمدينة من زيارته ما ينهى عنها المسافرون، بل جميع الأمة مشتركون فيما يؤمرون به من حقوقه حيث كانوا، بل قد قيل إن الأمر بالعكس، وإنه يستحب للمسافر من السلام عليه والوقوف على قبره ما لا يستحب لأهل البلد، وإذا كان لا يمكن إلا العبادة في مسجده، فهذا مشروع لمن شد الرحل ومن لم يشده، تبقى النية كما ذكر مالك، وهذه النية التي يقصد صاحبها القبر دون المسجد قد نص مالك وغيره على أنها مكروهة لأهل المدينة قصدًا وفعلاً فيكره لهم كلما دخلوا المسجد أو خرجوا منه أن يأتوا القبر. وقد ذكر مالك أن هذا بدعة لم يبلغه عن أحد من السلف، ونهى عنها وقال: (لن يصلح آخر هذه الأمة إلا ما أصلح أولها).
فالذي يقصد مجرد القبر ولا يقصد المسجد خالف الحديث / والإجماع، فإنه قد ثبت عنه في الصحيح أن السفر إلى مسجده مستحب، وأن الصلاة فيه بألف صلاة. واتفق المسلمون على ذلك وعلى أن مسجده أفضل المساجد بعد المسجد الحرام، وقال بعضهم إنه أفضل من المسجد الحرام، ومسجده يستحب السفر إليه، والصلاة فيه مفضلة لخصوص كونه مسجد الرسول صلى الله عليه وسلم الذي بناه هو وأصحابه، وكان يصلي فيه هو وأصحابه. فهذه الفضيلة ثابتة للمسجد في حياة
তারা এই সব কিছুকেই তাঁর কবরের যিয়ারত বলে অভিহিত করে, অথচ সাহাবী এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী সালাফদের পরিভাষা এমন ছিল না। বরং শব্দের নামকরণে এবং এর দ্বারা যা উদ্দেশ্য, সেই পরিভাষায় পরিবর্তন ঘটেছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছাকাছি থাকা ব্যক্তির জন্য তাঁর যিয়ারতের এমন কোনো বিধান দেননি যা সফরকারীর জন্য নিষেধ করেছেন। অন্যান্যদের কবরের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম; সেখানে এমনটি বলা হয় না যে সফর ব্যতীত যিয়ারত করা শরীয়তসম্মত কিন্তু সফর করে যিয়ারত করা নিষিদ্ধ, যেমনটি অন্যান্য মাশহাদ (স্মৃতিস্তম্ভ), শহীদদের কবর এবং অন্যান্য মুসলিম মৃতদের কবরের ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে। কারণ মদিনায় বসবাসকারীদের জন্য তাঁর যিয়ারতের এমন কোনো নিয়ম বিধিবদ্ধ করা হয়নি যা মুসাফিরদের জন্য নিষিদ্ধ। বরং পুরো উম্মত তাঁর হকের বিষয়ে সমভাবে আদিষ্ট, তারা যেখানেই থাকুক না কেন। এমনকি বলা হয়েছে যে, বিষয়টি এর উল্টো; সফরকারীর জন্য তাঁর প্রতি সালাম পেশ করা এবং তাঁর কবরের পাশে দাঁড়ানো মুস্তাহাব, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মুস্তাহাব নয়। আর যদি তাঁর মসজিদে ইবাদত করা ছাড়া উপায় না থাকে, তবে যারা সফর করে এসেছেন এবং যারা সফর করেননি—উভয়ের জন্যই তা শরীয়তসম্মত। তবে ইমাম মালিক যেমনটি উল্লেখ করেছেন, নিয়তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আর যে নিয়তে ব্যক্তি মসজিদের পরিবর্তে কেবল কবরের উদ্দেশ্য করে, ইমাম মালিক এবং অন্যান্যগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মদিনাবাসীদের জন্য উদ্দেশ্য এবং আমল উভয় দিক থেকেই তা মাকরূহ। তাই তাদের জন্য মসজিদে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় প্রতিবার কবরের কাছে আসা মাকরূহ গণ্য করা হয়েছে। ইমাম মালিক উল্লেখ করেছেন যে এটি একটি বিদআত, যা তিনি কোনো সালাফের কাছ থেকে পাননি। তিনি এটি থেকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "এই উম্মতের শেষ অংশকে কেবল তা-ই সংশোধন করতে পারবে, যা এর প্রথম অংশকে সংশোধন করেছিল।"
সুতরাং যে ব্যক্তি মসজিদের ইচ্ছা পোষণ না করে কেবল কবরের উদ্দেশ্য করে, সে হাদিস এবং ইজমার বিরোধিতা করল। কেননা সহীহ হাদিসে প্রমাণিত যে, তাঁর মসজিদের দিকে সফর করা মুস্তাহাব এবং সেখানে সালাত আদায় করা এক হাজার সালাতের সমান। মুসলমানরা এই বিষয়ে এবং মসজিদুল হারামের পর তাঁর মসজিদই সর্বোত্তম মসজিদ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এমনকি কেউ কেউ একে মসজিদুল হারাম থেকেও উত্তম বলেছেন। তাঁর মসজিদের দিকে সফর করা মুস্তাহাব, এবং সেখানে সালাত আদায় করা ফজিলতপূর্ণ হওয়ার বিশেষ কারণ হলো এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ যা তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ নির্মাণ করেছিলেন এবং যেখানে তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ সালাত আদায় করতেন। মসজিদের এই মর্যাদা তাঁর জীবদ্দশাতেই সাব্যস্ত ছিল।