(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
مطلع الأنوار ونزهة البصائر والأبصار   (ابن خميس)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: مطلع الأنوار ونزهة البصائر والأبصار

تأليف: أبي عبد الله بن عسكر، أبي بكر بن خميس

تقديم وتخريج وتعليق: الدكتور عبد الله المرابط الترغي

الناشر: دار الغرب الإسلامي، بيروت - لبنان، دار الأمان للنشر والتوزيع، الرباط

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 379

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

المؤلف: أبو بكر محمد بن محمد بن علي بن خميس المالقي (ت بعد 639هـ)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নূরসমূহের উদয়স্থল এবং অন্তর্দৃষ্টি ও চাক্ষুষ দর্শনের প্রমোদকানন   (ইবনে খামিস)

বিভাগ: জীবনী এবং স্তরসমূহ


গ্রন্থ: নূরসমূহের উদয়স্থল এবং অন্তর্দৃষ্টি ও চাক্ষুষ দর্শনের প্রমোদকানন

গ্রন্থনা: আবু আবদুল্লাহ ইবনে আসকার, আবু বকর ইবনে খামিস

উপস্থাপনা, তাখরীজ ও টীকা: ডক্টর আবদুল্লাহ আল-মুরাবিত আল-তারগী

প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামী, বৈরুত - লেবানন, দারুল আমান পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রাবাত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরী - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন খামিস আল-মালাকী (মৃত্যু ৬৩৯ হিজরীর পর)

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[تعريف بالكتاب] (*)

 

كتاب " أدباء مالقة " أو سيرة كتاب ينشر لأول مرة بعد خمس وأربعين سنة من اكتشاف مخطوطته الأصلية

الأستاذ عبد العزيز الساوري

وزارة الشؤون الثقافية ـ الرباط

 

وكم من الشيوخ الأكابر كتبوا فملؤوا الدفاتر والدواوين بأسماء رجال الأندلس خاصة فضلاً عن ذكر مصنّفاتهم وأنسابهم وفضائلهم وأحوالهم (1) .

 

إذا كان مصطلح "السيرة" يختص بالأعلام، فإن للكتاب الذي نتحدث عنه في هذا العرض سيرة تشبه سير الرجال، لا تخلو من طرافة وتشويق. وهذه بعض تفاصيلها:

 

للمحققين والدارسين الأردنيين يَدٌ يَجِبُ أن تُذكر فَتُشْكَر (2) ، لما يبذلونه من جهود متواصلة في نشر التراث المغربي الأندلسي، أمثال: د. عبد الكريم خليفة، ود. صلاح جرَّار، ود. نصرت عبد الرحمن، ود. حسين يوسف خربوش، ود. محمد علي شوابكة، ود. عبد الجليل حسن عبد المهدي، ود. محمود عبد الرحمن خياري، ود. حسن افلفيل، والأستاذة منال منيزل. وليس المجال مجال الإفاضة في هذا الموضوع، ولكن دعا إليه الحديث عن كتاب جليل مما قام أولئك بإحيائه بالنشر والتحقيق (3) ، وهو كتاب "أدباء مالقة المسمّى مطلع الأنوار ونزهة البصائر والأبصار فيما احتوت عليه مالقة من الأعلام والرؤساء والأخيار وتقييد مالهم من المناقب والآثار" لمؤلفه أبي بكر محمد بن محمد بن علي بن خميس المالقي المتوفى بعد سنة 639 هـ.

 

وقد تولى تحقيقه والتقديم له الصديق الأستاذ د. صلاح جَرَّار، وهو من أساتيذ الجامعة الأردنية في عمان، وصدر عن دار البشير بعمان ومؤسسة الرسالة ببيروت، الطبعة الأولى، 1419 هـ 1999 م، في 510 صفحة من القطع الكبير، مذيّلاً بالفهارس الضرورية.

--------------------------------------------

(1) الأنوار النبوية في آباء خير البرية تأليف محمد بن عبد الرفيع بن محمد الشريف الحُسَيْنِي الجعفري المرسي الأندلسي المتوفى سنة 1052 هـ، مخطوط بالخزانة العامة بالرباط رقم كـ 1238، صص. 342 ـ 343.

(2) مجلة "العرب"، دار اليمامة للبحث والترجمة والنشر، الرياض، ج 11، 12، ص 33، شتنبر ـ أكتوبر 1998، ص. 846.

(3) انظر: من مساهمات الباحثين الأردنيين في تحقيق التارث الأندلسي والمغربي، بيبليوغرافيا أعدّها د. صلاح جَرّار (لم تنشر) .

 

(*) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: هذه التقدمة ليست في المطبوع، بل هي مقال للأستاذ «عبد العزيز الساوري» ، أضفته هنا لفائدته
‌‌[গ্রন্থ পরিচিতি] (*)

 

"আদিবা মালাকা" গ্রন্থ অথবা একটি গ্রন্থের জীবনবৃত্তান্ত যা এর মূল পাণ্ডুলিপি আবিষ্কারের পঁয়তাল্লিশ বছর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে

অধ্যাপক আব্দুল আজিজ আল-সাওয়ারি

সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় — রাবাত

 

কতই না মহান শায়খগণ লিখেছেন এবং খাতা ও দিওয়ানসমূহকে বিশেষ করে আন্দালুসের মনীষীদের নামে পূর্ণ করেছেন, পাশাপাশি তাদের সংকলন, বংশপরিচয়, গুণাবলি ও অবস্থাদিও উল্লেখ করেছেন (১)।

 

যদি "সিরাত" (জীবনী) পরিভাষাটি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে থাকে, তবে এই আলোচনায় আমরা যে গ্রন্থটি নিয়ে কথা বলছি, তারও একটি জীবনবৃত্তান্ত রয়েছে যা মানুষের জীবনীর মতোই, যা কৌতূহল ও উদ্দীপনা বর্জিত নয়। নিচে এর কিছু বিবরণ দেওয়া হলো:

 

জর্দানীয় গবেষক ও পণ্ডিতদের একটি অনন্য অবদান (হাত) রয়েছে যা অবশ্যই উল্লেখ ও কৃতজ্ঞতার যোগ্য (২), মাগরেবি ও আন্দালুসি ঐতিহ্য (তুরাস) প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের নিরন্তর প্রচেষ্টার জন্য, যেমন: ড. আব্দুল কারিম খলিফা, ড. সালাহ জাররার, ড. নসরত আব্দুর রহমান, ড. হুসাইন ইউসুফ খারবুশ, ড. মুহাম্মদ আলী শাওয়াবিকা, ড. আব্দুল জলিল হাসান আব্দুল মাহদী, ড. মাহমুদ আব্দুর রহমান খিয়ারি, ড. হাসান ফালফিল এবং অধ্যাপিকা মানাল মানিজাল। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার এটি উপযুক্ত স্থান নয়, তবে একটি মহৎ গ্রন্থ সম্পর্কে আলোচনা এর প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করেছে, যা তারা সম্পাদনা ও প্রকাশের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করেছেন (৩)। আর সেটি হলো "আদিবা মালাকা", যার পূর্ণ নাম হলো "মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুজহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার ফি-মা ইহতাওয়াত আলাইহি মালাকা মিনাল আ'লাম ওয়ার রুয়াসা ওয়াল আখইয়ার ওয়া তাকয়িদু মা লাহুম মিনাল মানাকিবি ওয়াল আসার"। এর লেখক হলেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন খামিস আল-মালাকি, যিনি ৬৩৯ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন।

 

এর সম্পাদনা ও ভূমিকা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেছেন বন্ধুপ্রতীম অধ্যাপক ড. সালাহ জাররার, যিনি আম্মানের জর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। এটি আম্মানের দারুল বাশির এবং বৈরুতের মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে ১৪১৯ হিজরি ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম সংস্করণ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে, যা ৫১০ পৃষ্ঠার বড় সাইজের এবং প্রয়োজনীয় নির্ঘণ্ট (ইনডেক্স) সংবলিত।

--------------------------------------------

(১) আল-আনওয়ারুন নববীয়াহ ফি আবাই খাইরিল বারিয়্যাহ, লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রফি বিন মুহাম্মদ আশ-শরিফ আল-হুসাইনি আল-জাফরি আল-মুরসি আল-আন্দালুসি, মৃত্যু: ১০৫২ হিজরি, রাবাতের আল-খিজানাতুল আম্মাহ-তে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি নং ক-১২৩৮, পৃ. ৩৪২-৩৪৩।

(২) "আল-আরাব" সাময়িকী, দারুল ইয়ামামাহ ফর রিসার্চ, ট্রান্সলেশন অ্যান্ড পাবলিশিং, রিয়াদ, খণ্ড ১১, ১২, পৃ. ৩৩, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৯৮, পৃ. ৮৪৬।

(৩) দেখুন: আন্দালুসি ও মাগরেবি ঐতিহ্য সম্পাদনায় জর্দানীয় গবেষকদের অবদান, ড. সালাহ জাররার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি গ্রন্থপঞ্জি (অপ্রকাশিত)।

 

(*) শামিলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক বলেছেন: এই ভূমিকাটি মুদ্রিত কিতাবে নেই, বরং এটি অধ্যাপক "আব্দুল আজিজ আল-সাওয়ারি"-র একটি প্রবন্ধ, যা আমি এর উপযোগিতার কারণে এখানে যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
اعتمد د. صلاح جَرَّار في تحقيقه لهذا الكتاب على نسخة مصوّرة عن النسخة الخطية الوحيدة التي كان يملكها الأستاذ محمد العرائشي المكناسي، ثم آلت إلى خزانة خاصة أخرى.

 

وتقع هذه المخطوطة في 105 ورقة من الحجم المتوسط، ومعدل سطور الصفحة الواحدة تتراوح ما بين 22 و25 سطراً. أما كلمات كل سطر، فتتراوح ما بين سبع كلمات وثلاث عشرة كلمة.

 

ويتخلل الأسطر عناوين أسماء المترجم بهم بخط غليظ أحمر.

 

وليس هناك تاريخ محدد للنسخ، ولكن لاحظ د. صلاح جَرَّار أن عبارة "أعادها الله" التي كان يثبتها الناسخ بإزاء اسم مدينة مالقة، تدل على أنها نسخت بعد سقوط مدينة مالقة سنة 892 هـ، ولكن اختلاف الخطوط فيها يوحي بأنها لم تكتب في زمن واحد (1) .

 

ويذكر د. قاسم أحمد السامرائي ـ الذي فحص أصل هذه النسخة سنة 1988 في مكتبة خاصة في الرباط حين زار مالكها في داره برفقة د. يحيى محمود ساعاتي، وصديقه المستعرب الهولندي د. بيتر شورد فان كوننكزفيلد ـ أن النص كتب" بالمداد الأسود والأحمر بخط أندلسي واضح على نوعين من الكاغد، أولهما: عربي سميك يعود إلى القرن التاسع للهجرة وأوراقه قليلة، والثاني: وهو الأغلب، أوروبي أبيض يعود إلى القرن العاشر (السادس عشر للميلاد) تظهر فيه الخطوط المائية المتوازية والعلامة المائية فيه على شكل عنقود عنب. أما تسفيرها (أي تجليدها) ، فهو مغربي حديث جدّاً " (2) .

 

والنسخة ـ كما يصفها د. قاسم السامرائي ـ مرممة ترميماً بدائياً سيئاً طمس الكثير من أسطر رؤوس الصفحات فأخفاها. وفي آخر النسخة نقصٌ لا يزيد على بضع ورقات، وفي داخلها نقص آخر يقع في ورقة واحدة أو اثنتين (5) لا تزالان محفوظتين في خزانة الأستاذ الحسن السائح في الرباط، كما أخبرني بذلك الفقيه محمد المنوني شفاه الله تعالى، ولم تَعْلَق بهما يد المحقق بعد.

 

وبالإضافة إلى ما في النسخة من محو ونقص وطمس، فإن فيها تصحيفاً كثيراً وسقطاً وتآكلاً في بعض الكلمات والأسطر، وأخطاء لغوية وإملائية.

--------------------------------------------

(1) أدباء مالقة، ص. 30.

(2) مخطوطة أندلسية فريدة في تراجم رجال مالقة، عالم الكتب (مجلة سعودية) ، مج 9، ع 3، محرم 1409 هـ، ص. 335.
ড. সালাহ জাররার এই গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে উস্তাদ মুহাম্মাদ আল-আরায়েশি আল-মিকনাসির মালিকানাধীন একমাত্র পাণ্ডুলিপিটির একটি আলোকচিত্রের ওপর নির্ভর করেছেন, যা পরবর্তীতে অন্য একটি ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় স্থানান্তরিত হয়।

 

এই পাণ্ডুলিপিটি ১০৫টি মাঝারি আকারের পাতার সমন্বয়ে গঠিত। প্রতি পৃষ্ঠার গড় পঙ্ক্তি সংখ্যা ২২ থেকে ২৫-এর মধ্যে। আর প্রতি পঙ্ক্তির শব্দ সংখ্যা সাত থেকে তেরোটির মধ্যে।

 

পঙ্ক্তিগুলোর মাঝে যাদের জীবনী আলোচিত হয়েছে, তাদের নাম শিরোনাম হিসেবে মোটা ও লাল হরফে লেখা হয়েছে।

 

পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া যায় না। তবে ড. সালাহ জাররার লক্ষ্য করেছেন যে, মালাগাহ শহরের নামের পাশে অনুলিপিকারক কর্তৃক ব্যবহৃত 'আল্লাহ এটিকে পুনরায় ফিরিয়ে দিন' বাক্যটি নির্দেশ করে যে, এটি ৮৯২ হিজরিতে মালাগাহ শহরের পতনের পর অনুলিপি করা হয়েছে। কিন্তু এতে লিপিশৈলীর ভিন্নতা নির্দেশ করে যে, এটি একই সময়ে লেখা হয়নি (১)।

 

ড. কাসিম আহমাদ আল-সামাররাই—যিনি ১৯৮৮ সালে রাবাতের একটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে এই পাণ্ডুলিপিটির মূল কপি পরীক্ষা করেছিলেন, যখন তিনি ড. ইয়াহইয়া মাহমুদ সাআতি এবং তাঁর বন্ধু ডাচ প্রাচ্যবিদ ড. পিটার শুর্ড ফন কুনেনকসভেল্ড-এর সাথে এর মালিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন—তিনি উল্লেখ করেন যে, মূল পাঠটি "কালো এবং লাল কালিতে স্পষ্ট আন্দালুসি লিপিতে দুই ধরনের কাগজের ওপর লেখা হয়েছে। প্রথমটি: নবম হিজরি শতকের মোটা আরবি কাগজ এবং এর পাতার সংখ্যা কম। দ্বিতীয়টি: যা অধিকাংশ জুড়ে রয়েছে, সেটি দশম হিজরি শতকের (ষোড়শ খ্রিস্টাব্দ) সাদা ইউরোপীয় কাগজ, যাতে সমান্তরাল জলছাপ এবং আঙ্গুরের থোকার আকৃতির জলছাপ দেখা যায়। এর বাঁধাই (অর্থাৎ তজলিদ) ছিল একদম আধুনিক মরক্কান শৈলীর" (২)।

 

পাণ্ডুলিপিটি—যেমনটি ড. কাসিম আল-সামাররাই বর্ণনা করেছেন—খুবই নিম্নমানের আদিম পদ্ধতিতে মেরামত করা হয়েছে, যা অনেক পৃষ্ঠার উপরিভাগের পঙ্ক্তিগুলোকে মুছে দিয়ে অস্পষ্ট করে ফেলেছে। পাণ্ডুলিপির শেষে কয়েক পাতার বেশি নয় এমন কিছুটা অপূর্ণতা রয়েছে। এছাড়া পাণ্ডুলিপির ভেতরেও আরও এক বা দুই পাতার (৫) ঘাটতি রয়েছে, যা এখনও রাবাতে উস্তাদ আল-হাসান আস-সাইহের ব্যক্তিগত সংগ্রহে সংরক্ষিত আছে, যেমনটি আমাকে ফকিহ মুহাম্মাদ আল-মানুনি (আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা দান করুন) মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আর সম্পাদকের হাতে এখনও সেগুলো পৌঁছেনি।

 

পাণ্ডুলিপিটিতে থাকা মুছে যাওয়া অংশ, অপূর্ণতা এবং অস্পষ্টতার পাশাপাশি এতে প্রচুর পরিমাণে শব্দগত বিকৃতি, শব্দের বিলুপ্তি, কিছু শব্দ ও পঙ্ক্তির ক্ষয় এবং ব্যাকরণগত ও বানানজনিত ভুল রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আদাবাউ মালাগাহ, পৃ. ৩০।

(২) মাখতুতাতুন আন্দালুসিয়্যাতুন ফারিদাতুন ফি তারাজিমি রিজালি মালাগাহ, আলামুল কুতুব (সৌদি সাময়িকী), খণ্ড ৯, সংখ্যা ৩, মুহাররম ১৪০৯ হিজরি, পৃ. ৩৩৫।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
ونظراً إلى الأهمية الكبيرة لهذه المخطوطة، فقد نالت شهرة واسعة بين المعنيين بالمخطوطات والدارسين ومحققي التراث الأندلسي؛ إلا أنه لم يجرؤ أحد على تحقيقها ونشرها مع وجود أصلها (5) ، ومنتسخات خطية كثيرة عنها، وبعض النسخ من مصوراتها في الخزائن العامة والخاصة داخل المغرب وخارجه.

 

وقد كان الفقيه محمد المنوني شفاه الله تعالى لما بلّغته خبر صدور كتاب أدباء مالقة، قال لي: في سنة 1957، كانت نية معهد مولاي الحسن للأبحاث المغربية الأندلسية بتطوان متجهة إلى تحقيقه مشاركة مع الأستاذ محمد بن تاويت التطواني مدير المعهد آنذاك ود. محمود علي مكي. غير أن المبلغ القليل الممنوح للأستاذ محمد العرائشي المكناسي مالك المخطوطة الأصلية لهذا الكتاب حالت بين المعهد وبين المضيّ معه إلى النهاية، لذا قرّر المعهد إلقاءه من مشاريعه.

 

كما رأيت منه نسخة مخرّجة بتحقيق د. محمد بن شريفة ولست أدري هل دفعه إلى المطبعة أولاً؟

 

وأول من عرّف بهذه المخطوطة وقيمتها الأدبية والتاريخية في وقت مبكّر، هو المستعرب الفرنسي ليفي بروفنسال في مقالة له بعنوان: "حول شعراء مالقة في القرن العاشر"، ونشرها في مجلة "أرابيكا"، العدد الأول، سنة 1954، صص. 289 ـ 293.

 

ثم تلاه المستعرب الإسباني خواكين بالبي برميخو في دراسة له بعنوان: "مصدر مهم في تاريخ الأندلس: "تاريخ ابن عسكر". وهذه الدراسة منشورة في مجلة "الأندلس"، في العدد 31 لسنة 1966، صص. 237 ـ 265.

 

وكان الذي أمَدَّهما بمصوّرة منها هو المستعرب الفرنسي جورج كولان، كما أخبرني بذلك د. محمد بن شريفة.

 

ووجدنا بعدهما مجموعة من الدارسين قد عرَّفوا بها أيضاً. فمن هؤلاء الأستاذ محمد الفاسي في مقالة له بعنوان: "كتاب ابن عسكر وابن خميس في مشاهير مالقة"، وهي منشورة في مجلة "المناهل" التي تصدرها وزارة الشؤون القافية في الرباط في عددها 13 لسنة 1978، صص. 125 ـ 135.
এই পাণ্ডুলিপিটির বিশাল গুরুত্ব বিবেচনা করে, এটি পাণ্ডুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, গবেষক এবং আন্দালুসীয় ঐতিহ্যের গবেষক-সম্পাদকমণ্ডলীর মধ্যে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে; তবে এর মূল পাণ্ডুলিপি (৫), অনেকগুলো হাতে লেখা প্রতিলিপি এবং মরক্কোর ভেতরে ও বাইরে সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারে এর কিছু অনুলিপি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কেউ এটি সম্পাদনা ও প্রকাশের সাহস করেনি।

 

ফকিহ মুহাম্মদ আল-মানুনি (আল্লাহ তাআলা তাকে সুস্থতা দান করুন), যখন আমি তাকে 'মালাগার সাহিত্যিকবৃন্দ' (আদীবানে মালাকা) বইটি প্রকাশের খবর জানাই, তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন: ১৯৫৭ সালে তেতুয়ানের মাওলে হাসান ইনস্টিটিউট ফর মরক্কান অ্যান্ড আন্দালুসিয়ান রিসার্চের ইচ্ছা ছিল ইনস্টিটিউটের তৎকালীন পরিচালক উস্তাদ মুহাম্মদ বিন তাওয়িত আত-তিতওয়ানি এবং ডক্টর মাহমুদ আলী মাক্কির সাথে যৌথভাবে এটি সম্পাদনা করার। কিন্তু এই বইটির মূল পাণ্ডুলিপির মালিক উস্তাদ মুহাম্মদ আল-আরাইশি আল-মিকনাসিকে প্রদত্ত সামান্য অর্থের কারণে ইনস্টিটিউট শেষ পর্যন্ত এগোতে পারেনি, তাই ইনস্টিটিউট এটি তাদের প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

আমি ডক্টর মুহাম্মদ বিন শরীফার সম্পাদনায় এর একটি অনুলিপি বের হতে দেখেছি, তবে আমি জানি না তিনি এটি প্রথমত ছাপাখানায় পাঠিয়েছিলেন কি না।

 

প্রথম যিনি অনেক আগে এই পাণ্ডুলিপি এবং এর সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক মূল্যের পরিচয় দেন, তিনি হলেন ফরাসি প্রাচ্যবিদ লেভি প্রোভেনসাল। তিনি ১৯৫৪ সালে 'অ্যারাবিকা' সাময়িকীর প্রথম সংখ্যায় 'দশম শতাব্দীর মালাগার কবিদের প্রসঙ্গে' শিরোনামের একটি নিবন্ধে এটি প্রকাশ করেন (পৃষ্ঠা নং ২৮৯-২৯৩)।

 

এরপর স্প্যানিশ প্রাচ্যবিদ হোয়াকিন ভালভে বারমেহো 'আন্দালুসের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস: ইবনে আসকারের ইতিহাস' শিরোনামের একটি গবেষণাপত্রে এর পরিচয় দেন। এই গবেষণাটি ১৯৬৬ সালের 'আল-আন্দালুস' সাময়িকীর ৩১তম সংখ্যায় প্রকাশিত হয় (পৃষ্ঠা নং ২৩৭-২৬৫)।

 

তাদের উভয়কে এর একটি অনুলিপি সরবরাহ করেছিলেন ফরাসি প্রাচ্যবিদ জর্জ কলিন, যেমনটি ডক্টর মুহাম্মদ বিন শরীফা আমাকে জানিয়েছেন।

 

আমরা তাদের পরে একদল গবেষককে খুঁজে পাই যারা এটির পরিচয় দিয়েছেন। তাদের মধ্যে উস্তাদ মুহাম্মদ আল-ফাসি অন্যতম, যিনি 'মালাগার বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনীতে ইবনে আসকার ও ইবনে খামিসের কিতাব' শিরোনামের একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন। এটি ১৯৭৮ সালে রাবাতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত 'আল-মানাহিল' সাময়িকীর ১৩তম সংখ্যায় প্রকাশিত হয় (পৃষ্ঠা নং ১২৫-১৩৫)।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
ومن هؤلاء الدارسين أيضاً الأستاذ محمد العرائشي المكناسي ـ الذي كان يحتفظ بنسخة فريدة من هذه المخطوطة ـ مقالة له بعنوان: "صفحات من المخطوط النادر: بعض أخبار فقهاء مالقة وأدبائها لابن عسكر"، ونشرها في مجلة "دعوة الحق" التي تصدرها وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية في الرباط، في العدد 2، السنة 23، جمادى الأولى 1402 هـ/ أبريل 1982، صص. 110 ـ 114.

 

وفي هذا المقال أعلن الأستاذ العرائشي عن نية تحقيقه لهذه المخطوطة، إلا أن هذا الأمل لم يتحقق. يقول:

 

يسميه بعضهم "تاريخ مالقة"، والبعض الآخر "تاريخ ابن عسكر"، وهو مخطوط نادر، وتحفة أدبية تاريخية، لم يسبق له أن نشر أو عثر على نسخة أخرى في خزانة من الخزانات؛ إذ بعد البحث المتواصل، انتهيت إلى أنه لا وجود لنسخة ثانية من هذا المخطوط، سوى تلك النسخة الفريدة التي تعتز خزانتي باحتضانها. ومنذ أن قدمت هذا المخطوط لجائزة الحسن الثاني للمخطوطات [سنة 1970 التي تنظمها وزارة الشؤون الثقافية بالرباط] (1) ، وأنا منهمك في تصحيحه وجمع شتاته. وبمجرد فراغي من تصحيح القسم الأول منه، سأقدمه للطبع عندما تتيسر أسبابه بإذن الله تعالى. ونظراً لكوني أمتلك النسخة الأصلية، وهي النسخة الوحيدة الموجودة منه كما ذكرت آنفاً، فإني أحتفظ بجميع حقوقي القانونية فيما يرجع للنشر؛ وكل من قام بعمل يتنافى وتلك الحقوق، فإنني أعتبره مختلساً ومعتدياً على حقوق الغير بدون موجب. أما التعريف بالمخطوط في المجلات والصحف، فإنني لا أمانع فيه (2) .

 

غير أن أدق تعريف ـ على إيجازه ـ قرأناه عن هذه المخطوطة هو تعريف الأستاذ الخبير بالمخطوطات، قاسم أحمد السامرائي في مقالة له بعنوان: "مخطوطة أندلسية فريدة في تراجم رجال مالقة" منشورة في مجلة "عالم الكتب" السعودية (مجلد 9، عدد 3، محرم 1049 هـ، صص 335 ـ 336) .

--------------------------------------------

(1) استخرج الفقيه محمد بوخبزة نسخة أخرى منه بخطه، وحصل بها على جائزة الحسن الثاني للمخطوطات سنة 1989.

(2) ص. 10، هامش رقم 1.
এই গবেষকদের মধ্যে উস্তাদ মুহাম্মদ আল-আরাইশি আল-মিকনাসিও রয়েছেন—যিনি এই পাণ্ডুলিপির একটি অনন্য কপি সংরক্ষণ করতেন—তার একটি প্রবন্ধের শিরোনাম হলো: "একটি দুর্লভ পাণ্ডুলিপির পাতা থেকে: ইবনে আসকার রচিত মালাগাহর ফকিহ ও সাহিত্যিকদের কিছু খবর", যা রাবাতের আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত "দাওয়াতুল হক" সাময়িকীর ২৩তম বর্ষের ২য় সংখ্যায় (জুমাদাল উলা ১৪০২ হিজরি / এপ্রিল ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দ), ১১০-১১৪ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল।

 

এই নিবন্ধে উস্তাদ আল-আরাইশি এই পাণ্ডুলিপিটি সম্পাদনা করার ইচ্ছার কথা ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হয়নি। তিনি বলেন:

 

কেউ কেউ এটিকে "মালাগাহর ইতিহাস" নামে অভিহিত করেন, আবার অন্যরা এটিকে "ইবনে আসকারের ইতিহাস" বলেন। এটি একটি দুর্লভ পাণ্ডুলিপি এবং একটি ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক শ্রেষ্ঠকর্ম। এর আগে এটি কখনো প্রকাশিত হয়নি কিংবা কোনো গ্রন্থাগারে এর অন্য কোনো কপির সন্ধান পাওয়া যায়নি; কারণ নিরবচ্ছিন্ন অনুসন্ধানের পর আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, এই পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় কোনো অনুলিপি নেই, কেবল সেই অনন্য কপিটি ছাড়া যা আমার ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারকে সমৃদ্ধ করে রেখেছে। এবং যখন থেকে আমি এই পাণ্ডুলিপিটি হাসান দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি পুরস্কারের জন্য [১৯৭০ সালে, যা রাবাতের সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত হয়] (১) জমা দিয়েছি, তখন থেকেই আমি এটি সংশোধন এবং এর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অংশগুলো একত্রিত করার কাজে নিবিষ্ট আছি। এর প্রথম অংশ সংশোধন শেষ হওয়ার সাথে সাথে, যখনই আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, আমি তা মুদ্রণের জন্য পেশ করব। যেহেতু আমি মূল পাণ্ডুলিপির মালিক এবং পূর্বে উল্লিখিত মতে এটিই এর একমাত্র বিদ্যমান কপি, তাই এর প্রকাশনার বিষয়ে আমি আমার সমস্ত আইনি অধিকার সংরক্ষণ করছি; যে ব্যক্তিই এই অধিকারের পরিপন্থী কোনো কাজ করবে, আমি তাকে উপযুক্ত কারণ ছাড়াই অন্যের অধিকার আত্মসাৎকারী ও সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবে গণ্য করব। তবে সাময়িকী ও সংবাদপত্রে পাণ্ডুলিপিটির পরিচিতি তুলে ধরার বিষয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই (২)।

 

তবে এই পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আমরা যে সবচেয়ে নির্ভুল বর্ণনাটি পড়েছি, তা হলো পাণ্ডুলিপি বিশেষজ্ঞ উস্তাদ কাসিম আহমদ আস-সামাররাইয়ের একটি প্রবন্ধ। প্রবন্ধটির শিরোনাম হলো: "মালাগাহর ব্যক্তিবর্গের জীবনী বিষয়ক একটি অনন্য আন্দালুসি পাণ্ডুলিপি", যা সৌদি আরবের "আলমুল কুতুব" সাময়িকীতে (৯ম খণ্ড, ৩য় সংখ্যা, মুহররম ১০৪৯ হিজরি, পৃষ্ঠা ৩৩৫-৩৩৬) প্রকাশিত হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) ফকিহ মুহাম্মদ বুখাবজাহ স্বহস্তে এর একটি অনুলিপি তৈরি করেছিলেন এবং তার মাধ্যমে ১৯৮৯ সালে হাসান দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

(২) পৃষ্ঠা ১০, পাদটীকা নং ১।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
وآخر من عرّف بهذه المخطوطة هو الأستاذ د. عبد الله المرابط الترغي في مقالة له بعنوان: "سبتة من خلال أعلام مالقة"، وهي منشورة في مجلة كلية الآداب بتطوان، العدد الخاص بندوة سبتة: التاريخ والتراث، السنة 3، ع 3، 1410 هـ/ 1989 م، صص. 135 ـ 161.

 

وفيها يقول:

 

ورغم أن الكتاب يتعلق بمالقة وأخبار أهلها والتعريف برجالها، فإنه لم يخل من ذكر بعض البلاد الأخرى وعرض أخبار رجالها، ولا سيما البلاد القريبة من مالقة كسبتة في عدوة المغرب. وتبرز سبتة على أكثر من واجهة بين مواد كتاب أعلام مالقة، فهي تبرز ضمن واجهة تراجم الرجال المعرَّف بهم سواء أكانوا سبتيين أم من بلاد غيرها. وتبرز على واجهة المصادر التي اعتمد عليها المؤلف في جمع مواد كتابه. وأخيراً تبرز وبشكل لافت للنظر ضمن النصوص الأدبية التي تخص سبتة أو ترتبط بأي صنف من أصناف العلاقة التي تجمع بين الأدباء في كل من سبتة ومالقة (1) .

 

كما اعتمد عليها نفر من محققي التراث الأندلسي، مثل الفقيه محمد المنوني في كتابه "العلوم والآداب والفنون على عهد الموحدين"، ود. محمد بن شريفة في تحقيقه لبعض أجزاء "الذيل والتكملة" لابن عبد الملك المراكشي، وكتابه: "أبو المُطرِّف أحمد بن عَمِيرَة المخزومي حياته وآثاره"، ود. إحسان عباس في تحقيقه لشعر أبي عبد الله الرّصافي البلنسي وبعض أجزاء "الذيل والتكملة"، والأستاذ إبراهيم بن مراد في تحقيقه لكتاب "مختارات من الشعر المغربي الأندلسي" تنشر لأول مرة، ود. صلاح جَرَّار في تحقيق لشعر مَرْج الكُحْل الشُّقرِي، ود. عبد السلام الهراس والشيخ سعيد أعراب في تحقيقهما لبعض أجزاء "صلة الصلة" لابن الزبير، ود. محمود ومحمد عبد الرحمن خياري في رسالته للدكتوراه: "رسائل موحدية جمعاً وتحقيقاً ودراسة"، والمستعربان الإسبانيان ماريا إيزابيل كاليروسكال وفيرخيليو مارتينز اينمورادو في كتابهما "مالقة مدينة الأندلس" … وآخرون.

 

فما السبب في تردُّد وعزوف الدارسين عن تحقيقها ونشرها؟

--------------------------------------------

(1) ص. 141.
আর সর্বশেষ যিনি এই পাণ্ডুলিপিটির পরিচয় দিয়েছেন তিনি হলেন অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মুরাবিত আত-তারগি। তার একটি প্রবন্ধে যার শিরোনাম: "আলামে মালাকার মাধ্যমে সাবতাহ", যা তেতুয়ানের সাহিত্য অনুষদ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, এটি সাবতাহ সেমিনার: ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক বিশেষ সংখ্যা, ৩য় বর্ষ, ৩য় সংখ্যা, ১৪১০ হিজরি/ ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৬১।

 

এতে তিনি বলেন:

 

যদিও বইটি মালাকা, সেখানকার অধিবাসীদের সংবাদ এবং তাদের ব্যক্তিবর্গের পরিচয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, তবুও এটি অন্যান্য কিছু জনপদ এবং সেখানকার অধিবাসীদের সংবাদ উপস্থাপনা থেকে খালি নয়, বিশেষ করে মালাকার নিকটবর্তী শহরগুলো যেমন মরক্কোর উপকূলবর্তী সাবতাহ। 'আলামে মালাকা' বইটির বিষয়বস্তুর মধ্যে সাবতাহ শহরটি একাধিক দিক থেকে গুরুত্ব পেয়েছে। এটি যেমন সেসব ব্যক্তিদের জীবনীর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে যাদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে, তারা সাবতাহর অধিবাসী হোন কিংবা অন্য কোনো দেশের। আবার লেখক তার বইয়ের তথ্য সংগ্রহে যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন, সেগুলোর ক্ষেত্রেও এটি দৃশ্যমান। পরিশেষে, সাবতাহ সংশ্লিষ্ট সাহিত্যিক পাঠগুলোর মধ্যে এটি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়ভাবে ফুটে উঠেছে অথবা সাবতাহ ও মালাকার সাহিত্যিকদের মধ্যে বিদ্যমান যে কোনো ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তা প্রতীয়মান হয় (১)।

 

অনুরূপভাবে আন্দালুসিয়ান ঐতিহ্যের একদল গবেষক এর ওপর নির্ভর করেছেন, যেমন ফকিহ মুহাম্মদ আল-মানুনি তার "আল-উলুম ওয়াল আদাব ওয়াল ফুনুন আলা আহদিল মুওয়াহহিদুন" গ্রন্থে, এবং ড. মুহাম্মদ বিন শারিফাহ ইবনে আব্দুল মালিক আল-মাররাকুশির "আদ-জায়ল ওয়াত তাকমিলা"র কিছু খণ্ডের সম্পাদনায় এবং তার রচিত গ্রন্থ: "আবু আল-মুতাররিফ আহমাদ বিন আমিরা আল-মাখজুমি: তার জীবন ও কর্ম" এ, এবং ড. ইহসান আব্বাস আবু আব্দুল্লাহ আল-রুসাফি আল-বালানসির কবিতা ও "আদ-জায়ল ওয়াত তাকমিলা"র কিছু খণ্ডের সম্পাদনায়, এবং অধ্যাপক ইব্রাহিম বিন মুরাদ তার "মুখতারাত মিনাশ শির আল-মাগরিবি আল-আন্দালুসি" যা প্রথমবার প্রকাশিত হচ্ছে তার সম্পাদনায়, এবং ড. সালাহ জাররার মারজ আল-কুহল আশ-শুকরির কাব্য সম্পাদনায়, এবং ড. আব্দুস সালাম আল-হাররাস ও শেখ সাঈদ আরাব ইবনুয যুবাইরের "সিলাতুস সিলা"র কিছু খণ্ডের সম্পাদনায়, এবং ড. মাহমুদ ও মুহাম্মদ আব্দুর রহমান খিয়ারি তাদের ডক্টরেট থিসিস: "রাসাইল মুওয়াহহিদিয়্যাহ: সংগ্রহ, সম্পাদনা ও গবেষণা"য়, এবং স্প্যানিশ গবেষক মারিয়া ইসাবেল ক্যালিরোসকাল ও ভার্জিলিও মার্টিনেজ এনমোরাডো তাদের "মালাকা: আন্দালুসের একটি শহর" গ্রন্থে ... এবং আরও অনেকে।

 

তবে গবেষকদের এটি সম্পাদনা ও প্রকাশের ব্যাপারে দ্বিধা ও বিমুখতার কারণ কী?

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ১৪১।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
يجيب د. صلاح جرَّار، فيقول: " لعل مصدر هذا التردد هو ما يعتور المخطوطة من نقص في أولها ووسطها وآخرها، وما لحق بعض صفحاتها من تلف، وما أصاب بعض سطورها وعباراتها من طمس ومحو، وما يشوب المخطوطة نفسها من تصحيف وسقط وتقديم وتأخير وخلل، مما يجعل من قراءتها أمراً شاقّاً، ولا سيما أن نسخة هذه المخطوطة فريدة ولا يوجد نسخة ثانية لمقابلتها بها " (1) .

 

غير أن مثل هذه العوائق ليس مما يُعجز الأستاذ المحقق د. محمد بن شريفة على سبيل المثال، ولذلك يبدو أن سبباً آخر حال دون نشره هذا الكتاب دون شك. وفي هذا المجال أفادني د. علي لغزيوي أن ما حال دون إقدام د. محمد بن شريفة على إخراج الكتاب، على الرغم من نيته القوية، يرجع في الغالب إلى ما كان قد ذكره الأستاذ محمد العرائشي في مقالته المشار إليها، من احتفاظه بحقه في متابعة كل من يُقدم على إخراج الكتاب ونشره بحكم كونه هو المالك الحقيقي الوحيد للنسخة الأصلية منه.

 

ونظراً لأهمية مدينة مالقة ـ وهي من أعمال كورة ريّة في الأندلس ـ موضوع هذه المخطوطة، فقد حظيت بعدة تواليف في تراجم أعلامها، مثل:

 

1 ـ فقهاء ريّة لقاسم بن سعدان المتوفى سنة 347 هـ؛

 

2 ـ رجال مالقة المُؤلَّف للحكم المستنصر؛

 

3 ـ تاريخ مالقة لأبي عبد الحميد إسحاق بن سلمة القَيْنِي؛

 

4 ـ كتاب في المشهورين من أعلام مالقة لأبي زيد عبد الرحمن بن محمد الأنصاري؛

 

5 ـ الإعلام بمحاسن الأعلام من أهل مالقة الكرام لأبي العباس أصبغ بن علي بن هشام المالقي المتوفى سنة 592 هـ (2) ؛

--------------------------------------------

(1) أدباء مالقة، ص. 7.

(2) ختم أسبغ بن أبي العباس كتابه في أعلام مالقة بترجمة أبي محمد ابن الأصم المنْشِي أو المنشري المتوفى سنة 598. (انظر: الذيل والتكملة، س 5، ق 1، ص. 77) .
ড. সালাহ জাররার উত্তর দিয়ে বলেন: "সম্ভবত এই দ্বিধার উৎস হলো পাণ্ডুলিপিটির শুরু, মধ্য ও শেষাংশে বিদ্যমান অপূর্ণতা, এর কিছু পৃষ্ঠায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি, কিছু ছত্র ও বাক্যাংশে ঘটা অস্পষ্টতা ও মুছে যাওয়া অংশ, এবং পাণ্ডুলিপিটিতে বিদ্যমান ভুল পাঠ, বিচ্যুতি, আগে-পিছে হওয়া ও ত্রুটিসমূহ। এসব বিষয় এর পাঠোদ্ধারকে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য করে তোলে, বিশেষত যেহেতু এই পাণ্ডুলিপিটির অনুলিপিটি অনন্য এবং এর সাথে তুলনা করার মতো দ্বিতীয় কোনো অনুলিপি নেই।" (১) .

 

তবে এ জাতীয় বাধাগুলো উদাহরণস্বরূপ উস্তাদ গবেষক ড. মুহাম্মদ বিন শরীফার মতো ব্যক্তির জন্য অক্ষমতার কারণ হওয়ার মতো নয়। তাই প্রতীয়মান হয় যে, অন্য কোনো কারণ নিঃসন্দেহে এই কিতাবটি প্রকাশে অন্তরায় হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ড. আলী লাগজিউই আমাকে অবহিত করেছেন যে, ড. মুহাম্মদ বিন শরীফার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কিতাবটি প্রকাশ থেকে বিরত থাকার কারণ সম্ভবত তা-ই যা উস্তাদ মুহাম্মদ আল-আরাইশি তার উল্লিখিত প্রবন্ধে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি এই পাণ্ডুলিপির মূল কপির একমাত্র প্রকৃত মালিক হওয়ার সুবাদে এটি প্রকাশ বা মুদ্রণে এগিয়ে আসা যে কারো বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানিয়েছিলেন।

 

আন্দালুসের রায়্যাহ প্রদেশের অন্তর্গত মালাকা (মালাগাহ) শহরের গুরুত্বের কারণে—যা এই পাণ্ডুলিপির মূল বিষয়বস্তু—এখানকার প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জীবনী নিয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। যেমন:

 

১ — ৩৪৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী কাসিম বিন সা'দানের 'ফুকাহা রায়্যাহ';

 

২ — আল-হাকাম আল-মুস্তানসিরের জন্য সংকলিত 'রিজালু মালাকা';

 

৩ — আবু আব্দুল হামিদ ইসহাক বিন সালামাহ আল-কাইনি রচিত 'তারিখে মালাকা';

 

৪ — আবু যাইদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি রচিত মালাকার প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের ওপর একটি কিতাব;

 

৫ — ৫৯২ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবুল আব্বাস আসবাগ বিন আলী বিন হিশাম আল-মালকি রচিত 'আল-ই'লাম বি মাহাসিনিল আ'লাম মিন আহলি মালাকাল কিরাম' (২);

--------------------------------------------

(১) উদাবা মালাকা, পৃষ্ঠা ৭।

(২) আসবাগ বিন আবিল আব্বাস মালাকার প্রখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে লিখিত তার কিতাবটি ৫৯৮ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু মুহাম্মদ ইবনুল আসম আল-মানশি বা আল-মানশারির জীবনী দিয়ে শেষ করেছেন। (দ্রষ্টব্য: আদ-দাইল ওয়াত তাকমিলাহ, খণ্ড ৫, অংশ ১, পৃষ্ঠা ৭৭)।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
6 ـ الإكمال والإتمام في صلة الإعلام بمحاسن الأعلام من أهل مالقة الكرام لأبي عبد الله محمد بن علي بن خضر بن هارون الغسَّاني المشهور بابن عسكر المتوفى سنة 636 هـ (1) . وهذا الكتاب هو صلة وتتميم لكتاب أصبغ؛

 

7 ـ ذيل أو تذييل تاريخ مالقة لأبي الحسن علي بن عبد الله بن الحسن الجُذامي البُنّاهي المالقي كان حيّاً سنة 793 هـ.

 

ويبدو أن هذا الكتاب تذييل على كتاب ابن عسكر وابن خميس الآتي ذكره، ولم نقف على ذكره إلا عند ابن الخطيب (2) .

 

8 ـ أما الكتاب الثامن ـ من الكتب التي وضعت في التعريف بأعلام مدينة مالقة وأدبائها وفقهائها ـ فهو كتاب ابن خميس الذي ينشر لأول مرة بتحقيق د. صلاح جرَّار، وهو تتمة وتكملة لكتاب خاله ابن عسكر السابق.

 

يقول السخاوي عن ابن خميس في سياق حديثه عن مدينة مالقة:

 

وعمل أبو عبد الله محمد بن علي بن خضر بن عسكر الغسّاني لها تاريخاً لم يكمله، فأكمله ابن أخته أبو بكر محمد بن محمد بن علي بن خميس، وسماه "مطلع الأنوار ونزهة البصائر والأبصار فيما احتوت عليه مالقة من الأعلام والرؤساء والأخيار وتقييد ما لهم من المناقب والآثار" (3) .

 

وقد فهم المحقق" من هذا النص أن ابن خميس هو الذي اختار هذا العنوان للكتاب وليس ابن عسكر حسب قول ابن عبد الملك المراكشي في "الذيل والتكملة"، وابن الخطيب في "الإحاطة" اللذين جعلا كتاب "مطلع الأنوار" عنواناً آخر لكتاب "الإكمال والإتمام" لابن عسكر " (4) .

--------------------------------------------

(1) له كتاب آخر ذيّل فيه كتاب السهيلي، عنوانه: "التكميل والإتمام لكتاب التعريف والإعلام"، حققه وقدم له حسن مروة، وصدر عن دار الفكر المعاصر ببيروت ودار الفكر بدمشق، الطبعة الأولى سنة 1418 هـ/ 1997 م، كما حققه الباحث حسين عبد الهادي بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض عام 1404 هـ، ونال به درجة الدكتوراه.

(2) انظر مقال الدكتور محمد بن شريفة: "البُنّاهي لا النُّباهي" مجلة الأكاديمية، أكاديمية المملكة المغربية، الرباط، العدد 13، سنة 1988، ص. 78، 81؛ والإحاطة في أخبار غرناطة، ج 3، ص. 46، 193؛ ج 4، ص. 263.

(3) الإعلان بالتوبيخ لمن ذمّ التاريخ، ص. 272.

(4) المصدر نفسه، ص. 18.
৬ — আল-ইকমাল ওয়াল-ইতमाम ফি সিলাতিল ই'লাম বি-মাহাসিনিল আ'লাম মিন আহলি মালাকাহ আল-কিরাম; লেখক আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন খিজর বিন হারুন আল-গাসসানী, যিনি ইবনে আসকার নামে পরিচিত, মৃত্যু ৬৩৬ হিজরি (১)। এই বইটি আসবাগ-এর গ্রন্থের একটি সংযোজন ও পরিশিষ্ট;

 

৭ — যাইল বা তাযয়িল তারিখে মালাকাহ (মালাকা ইতিহাসের পরিশিষ্ট); লেখক আবুল হাসান আলী বিন আবদুল্লাহ বিন হাসান আল-জুজামী আল-বুননাহী আল-মালাকী, যিনি ৭৯৩ হিজরি সালে জীবিত ছিলেন।

 

প্রতীয়মান হয় যে, এই বইটি ইবনে আসকার এবং ইবনে খামিসের (যিনি সামনে উল্লিখিত হবেন) গ্রন্থের একটি পরিশিষ্ট, এবং ইবনে আল-খাতিব ব্যতীত অন্য কারো কাছে এর উল্লেখ আমরা পাইনি (২)।

 

৮ — অষ্টম গ্রন্থটি হলো—যা মালাকা শহরের ব্যক্তিবর্গ, সাহিত্যিক ও ফকিহদের পরিচয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত—ইবনে খামিসের গ্রন্থ, যা ড. সালাহ জাররার-এর তাহকিকসহ প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে। এটি তাঁর মামা ইবনে আসকারের পূর্বোক্ত গ্রন্থের একটি পূর্ণতা ও পরিশিষ্ট।

 

মালাকা শহর সম্পর্কে আলোচনার প্রসঙ্গে সাখাভি ইবনে খামিস সম্পর্কে বলেন:

 

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন খিজর বিন আসকার আল-গাসসানী এই শহরের একটি ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি। অতঃপর তাঁর ভাগ্নে আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন খামিস তা সম্পন্ন করেন এবং এর নামকরণ করেন "মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার ফিমা ইহতাওয়াত আলাইহি মালাকাহ মিনাল আলাম ওয়ার রুয়াসা ওয়াল আখইয়ার ওয়া তাকয়িদ মা লাহুম মিনাল মানাকিব ওয়াল আসার" (৩)।

 

এই পাঠ্য থেকে মুহাক্কিক (গবেষক) বুঝেছেন যে, ইবনে খামিস-ই এই গ্রন্থের শিরোনাম নির্বাচন করেছেন, ইবনে আসকার নন; যেমনটি ইবনে আবদুল মালিক আল-মাররাকুশি "আয-যাইল ওয়াত তাকমিলা" গ্রন্থে এবং ইবনে আল-খাতিব "আল-ইহাতা" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যারা "মাতলাউল আনওয়ার" শিরোনামটিকে ইবনে আসকারের "আল-ইকমাল ওয়াল-ইতमाम" গ্রন্থের অপর একটি শিরোনাম হিসেবে গণ্য করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর আরেকটি গ্রন্থ রয়েছে যাতে তিনি আস-সুহাইলি-র গ্রন্থের পরিশিষ্ট লিখেছেন, যার শিরোনাম: "আত-তাকমিল ওয়াল-ইতमाम লি-কিতাবিত তারিফ ওয়াল-ইলাম"। এটি হাসান মারওয়াহ তাহকিক ও ভূমিকা প্রদান করেছেন এবং বৈরুতের দারুল ফিকর আল-মুআসির ও দামেস্কের দারুল ফিকর থেকে ১৪১৮ হিজরি/১৯৯৭ সালে প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪০৪ হিজরিতে গবেষক হুসাইন আবদুল হাদি এটি তাহকিক করেন এবং এর মাধ্যমে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

(২) দেখুন ড. মুহাম্মদ বিন শরিফাহ-র প্রবন্ধ: "আল-বুননাহী লা আন-নুবাহি", মাজাল্লাতুল একাডেমিয়া, মরক্কো রাজকীয় একাডেমি, রাবাত, সংখ্যা ১৩, ১৯৮৮ সাল, পৃষ্ঠা ৭৮, ৮১; এবং আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতা, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৬, ১৯৩; খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৬৩।

(৩) আল-ইলান বিত-তাওবিখ লিমান জাম্মাত তারিখ, পৃষ্ঠা ২৭২।

(৪) একই উৎস, পৃষ্ঠা ১৮।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
وفي رأيه "أن ابن عسكر سمى كتابه "الإكمال والإتمام … " وأن ابن خميس سمى تتمته لذلك الكتاب "مطلع الأنوار … " (1) .

 

وتسمِّي المصادر كتاب ابن خميس: "تاريخ مالقة"، و"التتميم"، و"التكملة" و"أدباء مالقة". أما العنوان المثبت على غلاف مخطوطة هذا الكتاب، فهو: "كتابٌ جُمعَ فيه بعض فقهاء مالقة وأدباؤهم". وهذه كلها تسميات صحيحة لكتاب ابن خميس.

 

ويؤكد المحقق" أن ما وضعه أصبغ بن أبي العباس وأبو عبد الله بن عسكر وأبو بكر بن خميس هي كتبٌ ثلاثة مستقلة وليست كتاباً واحداً، وإن كان اللاحق منها يتمم السابق. وقد اختار كل واحد من هؤلاء المؤلفين الثلاثة عنواناً لكتابه " (2) .

 

ومن الأدلة التي ساقها المحقق على أن ما وضعه ابن خميس هو كتاب مستقل عما وضعه سابقاه:

 

1 ـ أن ابن خميس قد نقل في كتابه مراراً من كتاب ابن عسكر وكتاب أصبغ. فلو كانت هذه الكتب كتاباً واحداً، لما احتاج ابن خميس إلى تكرار ما ذكره وأورده سابقاه؛

 

2 ـ لو كان ما أضافه ابن خميس جزءاً من كتاب ابن عسكر، لما وضع ابن خميس له عنواناً، ولما فرّقت المصادر في نقلها عن ابن خميس وابن عسكر بينهما؛

 

3 ـ لو كان ما قام به المؤلفان كتاباً واحداً، لوصلنا بجزئيه أو لضاع بجزئيه. أما أن يضيع الجزءُ الذي وضعه ابن عسكر ويصلنا الجزء الذي وضعه ابن خميس، لذلك دليل على استقلال كل من العملين عن الآخر (16) . ويخلص د. صلاح جرَّار من ذلك إلى أن

 

كتاب "مطلع الأنوار" لابن خميس هو كتاب مستقل عن كتاب ابن عسكر، وإن كان يتمّم ما بدأه ابن عسكر. وإنما قام ابن خميس بتأليف هذا الكتاب، وفاء وتقديراً لخاله وأستاذه ابن عسكر. ويظهر هذا الوفاء لخاله جليّاً من خلال الترجمة المطوّلة التي خصّه بها في كتابه واستغرقت نحو إحدى وعشرين صفحة (3) … وهي أطول ترجمة في الكتاب (4) .

 

ولم يقف المحقق على ترجمة لابن خميس في أي من المصادر التي رجع إليها في تحقيق هذه المخطوطة. وقد جمع بعض أخباره من خلال كتابه هذا، وبعض الإشارات القليلة جدّاً الواردة في بعض المصادر.

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه، ص. 19.

(2) المصدر نفسه، ص. 21.

(3) المصدر نفسه، ص. 164 ـ 184ن رقم 50.

(4) المصدر نفسه، ص. 21 ـ 22.
তাঁর মতে "ইবনে আসকার তাঁর বইটির নাম রেখেছিলেন 'আল-ইকমাল ওয়াল-ইতাম' … " এবং ইবনে খামিস সেই বইটির পরিশিষ্টের নাম রেখেছিলেন 'মাতলাউল আনওয়ার … ' (১)।

 

এবং উৎসগ্রন্থসমূহ ইবনে খামিসের বইটিকে: "তারিখে মালাকা", "আত-তাতমিম", "আত-তাকমিলা" এবং "আদাবাউ মালাকা" নামে অভিহিত করে। তবে এই বইটির পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে যে শিরোনামটি লিপিবদ্ধ আছে তা হলো: "একটি বই যাতে মালাকার কিছু ফকিহ ও সাহিত্যিকদের সংকলিত করা হয়েছে"। ইবনে খামিসের বইটির জন্য এগুলো সবই সঠিক নামকরণ।

 

এবং মুহাক্কিক নিশ্চিত করেছেন যে, "আসবাগ বিন আবিল আব্বাস, আবু আব্দুল্লাহ বিন আসকার এবং আবু বকর বিন খামিস যা রচনা করেছেন তা মূলত তিনটি স্বতন্ত্র বই, একটি বই নয়; যদিও পরবর্তীটি পূর্ববর্তীটিকে পূর্ণতা দান করেছে। এই তিন লেখকের প্রত্যেকেই নিজ নিজ বইয়ের জন্য আলাদা শিরোনাম নির্বাচন করেছিলেন" (২)।

 

ইবনে খামিস যা রচনা করেছেন তা তাঁর পূর্ববর্তী দুই জনের রচনার চেয়ে স্বতন্ত্র একটি বই—মুহাক্কিক এর সপক্ষে যে প্রমাণগুলো উপস্থাপন করেছেন তা হলো:

 

১ — ইবনে খামিস তাঁর বইতে বারবার ইবনে আসকার এবং আসবাগের বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। যদি এই বইগুলো একটিই বই হতো, তবে ইবনে খামিসের তাঁর পূর্বসূরিদের উল্লিখিত ও উপস্থাপিত বিষয়গুলোর পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন হতো না;

 

২ — ইবনে খামিস যা যুক্ত করেছেন তা যদি ইবনে আসকারের বইয়েরই অংশ হতো, তবে ইবনে খামিস সেটির জন্য শিরোনাম দিতেন না, এবং উৎসগ্রন্থসমূহও ইবনে খামিস ও ইবনে আসকার থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের সময় তাদের মধ্যে পার্থক্য করত না;

 

৩ — যদি এই দুই লেখকের কাজ একটিই বই হতো, তবে এর উভয় অংশই আমাদের কাছে পৌঁছাত অথবা উভয় অংশই হারিয়ে যেত। কিন্তু ইবনে আসকারের রচিত অংশটি হারিয়ে যাওয়া এবং ইবনে খামিসের রচিত অংশটি আমাদের কাছে পৌঁছানো—এটি প্রতিটি কাজ একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র হওয়ারই প্রমাণ (১৬)। ড. সালাহ জাররার এ থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে

 

ইবনে খামিসের ‘মাতলাউল আনওয়ার’ বইটি ইবনে আসকারের বই থেকে একটি স্বতন্ত্র বই, যদিও এটি ইবনে আসকারের শুরু করা কাজকে পূর্ণতা দান করে। ইবনে খামিস এই বইটি মূলত তাঁর মামা এবং উস্তাদ ইবনে আসকারের প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা স্বরূপ রচনা করেছিলেন। তাঁর মামার প্রতি এই আনুগত্যের বিষয়টি তাঁর গ্রন্থে তাঁর জন্য বরাদ্দকৃত দীর্ঘ জীবনীর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় যা প্রায় একুশ পৃষ্ঠা ব্যাপী (৩) … এবং এটিই বইটির দীর্ঘতম জীবনী (৪)।

 

এবং মুহাক্কিক এই পাণ্ডুলিপিটি সম্পাদনার জন্য যে সকল উৎসগ্রন্থের শরণাপন্ন হয়েছেন তার কোনোটিতেই ইবনে খামিসের কোনো জীবনী পাননি। তিনি তাঁর সম্পর্কে কিছু তথ্য এই বই থেকেই সংগ্রহ করেছেন এবং অত্যন্ত সামান্য কিছু ইঙ্গিত কিছু উৎস গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস, পৃষ্ঠা ১৯।

(২) একই উৎস, পৃষ্ঠা ২১।

(৩) একই উৎস, পৃষ্ঠা ১৬৪-১৮৪, নং ৫০।

(৪) একই উৎস, পৃষ্ঠা ২১-২২।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
وينبه المحقق إلى" أن آخر تاريخ وفاة ورد في كتاب ابن خميس هو سنة وفاة أبي عبد الله محمد بن عيسى بن مع النصر المومناني، وهي سنة 638 هـ. ويذكر السخاوي أن كتاب ابن خميس قد انتهى في سنة تسع وثلاثين وستمائة. مما يعني أن ابن خميس كان حيّاً في هذه السنة " (1) .

 

ولهذا الكتاب فوائد جمّة. فهو أولاً مصدر أدبي وتاريخي أندلسي له مكانته المرموقة في المكتبة الأندلسية، إذ يشتمل على تراجم ثلاثة وسبعين ومائة علمٍ من أعلام مدينة مالقة والطارئين عليها.

 

وقد حذا فيه ابن خميس" حذو أستاذه ابن عسكر في ترتيب كتابه ترتيباً هجائياً حسب الترتيب المغربي، وبدأ من حيث انتهى أستاذه. فقد وصل أستاذه إلى أول حرف الميم، فترجم ابن خميس للأعلام التي تبدأ بحرف الميم، ثم حرف الصاد، فالعين، فالغين، فالقاف، فالسين، فالشين، فالهاء، فالياء. وهذا يعني أن الأحرف الأولى … كانت من نصيب ابن عسكر؛ ولذلك لا نجد تراجم تبدأ بهذه الحروف في كتاب ابن خميس " (2) .

 

ويمتاز هذا الكتاب بكثير من التراجم مما لا نعثر عليه في مصدر آخر سواه، كما أنه انفرد بمعلومات كثيرة من الأعلام التي لها تراجم في مصادر أخرى.

 

وتشمل تراجم هذا الكتاب: الخلفاء والرؤساء والأدباء والشعراء والفقهاء والمدرّسين، وغيرهم من طبقات الأعلام.

 

أما منهج ابن خميس في الترجمة لأعلامه، فهو يقوم

 

على ذكر اسم العلم كاملاً، ثم كنيته، ثم بلده مبيّناً إن كان من مالقة أو من أحد أعمالها أو طارئاً عليها. ثم يسوق لنا أسماء شيوخه وتلاميذه ورحلاته ومؤلفاته وأهم الوظائف التي شغلها، ثم يسوق لنا نماذج من شعره ونثره. وغالباً ما يطيل في إيراد أشعار المشاهير ورسائلهم، ويظهر لنا واضحاً ميل ابن خميس إلى الشعر أكثر من النثر، ثم يختم الترجمة بذكر تاريخ وفاة صاحب الترجمة، وفي أغلب الأحيان بذكر اليوم والشهر والسنة ومكان الدفن (3) .

 

وفي هذا الكتاب أيضاً قصائد ونصوص نثرية كثيرة لا نجد لها ذكراً في مصدر آخر.

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه، صص. 24 ـ 25.

(2) المصدر نفسه، ص. 25.

(3) المصدر نفسه، صص. 25 ـ 26.
সম্পাদক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, "ইবন খামিসের গ্রন্থে বর্ণিত সর্বশেষ মৃত্যুর তারিখ হলো আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন মা' আন-নাসর আল-মুমিনানির মৃত্যুর বছর, আর তা হলো ৬৩৮ হিজরি। সাখাভি উল্লেখ করেছেন যে, ইবন খামিসের গ্রন্থটি ৬৩৯ হিজরিতে সমাপ্ত হয়েছে। এর অর্থ হলো, ইবন খামিস এই বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন" (১)।

 

এই গ্রন্থটির অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। প্রথমত, এটি আন্দালুসিয়ার একটি সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক উৎস, যার আন্দালুসি লাইব্রেরিতে এক সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে। কারণ এতে মালাগা শহরের এবং সেখানে বহিরাগত হিসেবে আগমনকারী একশত তিয়াত্তর জন প্রখ্যাত ব্যক্তির জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

ইবন খামিস তার গ্রন্থটি "মাগরিবী (আন্দালুসি) বর্ণানুক্রম অনুযায়ী সাজানোর ক্ষেত্রে তার উস্তাদ ইবন আসকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং তার উস্তাদ যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকেই তিনি শুরু করেছেন। তার উস্তাদ মিম বর্ণের শুরু পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, তাই ইবন খামিস সেই সকল ব্যক্তিদের জীবনী বর্ণনা করেছেন যাদের নাম মিম বর্ণ দিয়ে শুরু হয়েছে, এরপর সাদ, এরপর আইন, এরপর গাইন, এরপর কাফ, এরপর সিন, এরপর শিন, এরপর হা এবং সবশেষে ইয়া বর্ণ দিয়ে। এর অর্থ হলো প্রথম বর্ণগুলো … ইবন আসকারের ভাগে ছিল; এই কারণেই আমরা ইবন খামিসের গ্রন্থে এই বর্ণগুলো দিয়ে শুরু হওয়া কোনো জীবনী খুঁজে পাই না" (২)।

 

এই গ্রন্থটি এমন অনেক জীবনীর দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত যা অন্য কোনো উৎস ব্যতীত পাওয়া যায় না। এছাড়াও, অন্যান্য উৎসে যাদের জীবনী রয়েছে, তাদের সম্পর্কেও এটি অনেক অনন্য তথ্য প্রদান করে।

 

এই গ্রন্থের জীবনীগুলোর মধ্যে রয়েছে: খলিফা, শাসক, সাহিত্যিক, কবি, ফকিহ, শিক্ষক এবং অন্যান্য স্তরের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ।

 

ব্যক্তিদের জীবনী বর্ণনায় ইবন খামিসের পদ্ধতি হলো, তিনি

 

ব্যক্তির পূর্ণ নাম উল্লেখ করেন, এরপর তার উপনাম (কুনিয়াত), এরপর তার শহর—তা মালাগা কি না বা তার কোনো উপশহর কি না অথবা সেখানে তিনি বহিরাগত হিসেবে এসেছেন কি না তা স্পষ্ট করেন। এরপর তিনি তার উস্তাদগণের নাম, ছাত্রবৃন্দ, তার সফরসমূহ, গ্রন্থসমূহ এবং তার নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহ উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি তার কবিতা ও গদ্যের নমুনা পেশ করেন। প্রায়শই তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের কবিতা ও পত্রাবলি বর্ণনায় দীর্ঘ করেন। আমাদের কাছে ইবন খামিসের গদ্যের তুলনায় কবিতার প্রতি ঝোঁক স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। সবশেষে তিনি ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করে জীবনী সমাপ্ত করেন, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে দিন, মাস, বছর ও দাফনের স্থানও উল্লেখ করেন (৩)।

 

এই গ্রন্থে এমন অনেক কবিতা ও গদ্য-পাঠও রয়েছে যার উল্লেখ অন্য কোনো উৎসে পাওয়া যায় না।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস, পৃষ্ঠা ২৪-২৫।

(২) একই উৎস, পৃষ্ঠা ২৫।

(৩) একই উৎস, পৃষ্ঠা ২৫-২৬।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
ولكتاب ابن خميس هذا مقدمة بين فيها أهمية تدوين الأخبار وتقييد المناقب والآثار، ولكن هذه المقدمة أخلّت بها النسخة الخطية التي اعتمد عليها المحقق، وإنما وردت في كتاب "الإعلان بالتوبيخ لمن ذمّ التاريخ" للسخاوي (1) الذي كان يملك نسخة كاملة منه، ووصفه بقوله: " وهو في مجلد لطيف على حروف المعجم " (2) .

 

وقد أثبت د. صلاح جَرّار هذه المقدمة في بداية النص المحقق (3) .

 

استمد ابن خميس معلوماته في هذا الكتاب من مصادر وتقييدات كتابية وشفوية، وهي: كتاب "الإعلام بمحاسن الأعلام من أهل مالقة الكرام" لأبي العباس أصبغ بن هلي بن هشام المالقي المتوفى سنة 592 هـ، وبعض تقييدات أبي عمرو بن سالم، ومؤلفات خاله ابن عسكر مثل كتاب "الإكمال والإتمام"، ورسالة شيخه أبي علي الرندي إلى أهل سبتة، وكتاب "طلوع الزهرة السنية في سقوط زهرة الثنية" لمحمد بن حسن البنّالي، وتاريخ ابن حمادة السبتي وابن الفرضي والرازي وابن حيان وابن الصّيْرفي وابن أبي الفيّاض وابن مزين والحميدي، و"طبقات الشعراء" لابن الفرضي، و"رجال" أبي الفضل عياض، و"قلائد العقيان" للفتح بن خاقان، و"رجال مالقة" المُؤلَّف للحكم المستنصر، و"فهرسة" ابن الباذش، وفهرسة شيوخ أبي القاسم ابن الطيلسان المسماة: "اقتطاف الأنوار واختطاف الأزهار"، و"زاد المسافر" لصفوان ابن إدريس، و"المظفّري" لابن الأفطس، وكتاب أبي الطاهر السبتي في موثّقي زمانه، و"المقامات المُحْسنيَّة" لأبي عبد الله الجوني، و"صاحب الخبر".

 

أما المصادر التي نقلت من كتاب ابن خميس واعتمدت عليه، فمنها "صلة الصلة" لابن الزبير، و"الذيل والتكملة" لابن عبد الملك المراكشي، و"الإحاطة" و"أعمال الأعلام"، وهما للسان الدين بن الخطيب، و"الإعلان بالتوبيخ لمن ذم التاريخ" للسخاوي، و" جامع مختارات من الشعر المغربي والأندلسي".

--------------------------------------------

(1) صص. 49 ـ 50.

(2) الإعلام بالتوبيخ لمن ذمّ التاريخ، ص. 273.

(3) أدباء مالقة، ص. 43.
ইবনে খামিসের এই বইটির একটি ভূমিকা রয়েছে যাতে তিনি সংবাদ সংকলন এবং গুণাবলী ও নিদর্শনসমূহ লিপিবদ্ধ করার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। তবে গবেষক যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন, তাতে এই ভূমিকাটি বাদ পড়ে গেছে। এটি সাখাভীর (১) "আল-ইলান বিত-তাওবিখ লি-মান যাম্মাত তারিখ" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, যার কাছে বইটির একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি ছিল এবং তিনি এর বর্ণনায় বলেছেন: "এটি অভিধানের বর্ণানুসারে একটি চমৎকার খণ্ড।" (২)।

 

ড. সালাহ জাররার সম্পাদিত মূল পাঠের শুরুতে এই ভূমিকাটি যুক্ত করেছেন (৩)।

 

ইবনে খামিস এই বইটির তথ্যসমূহ লিখিত এবং মৌখিক বিভিন্ন উৎস ও বর্ণনা থেকে গ্রহণ করেছেন, সেগুলো হলো: আবু আব্বাস আসবাগ ইবনে হালি ইবনে হিশাম আল-মালাকি (মৃত্যু ৫৯২ হি.) রচিত "আল-ইলাম বি-মাহাসিনিল আলাম মিন আহলি মালাকাহ আল-কিরাম" গ্রন্থ, আবু আমর ইবনে সালিমের কিছু বর্ণনা, তার মামা ইবনে আসকারের রচনাবলী যেমন "আল-ইকমাল ওয়াল ইতিমাম", সেউতাবাসীদের প্রতি তার উস্তাদ আবু আলি আর-রুন্দির পত্র, মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আল-বান্নালির "তুলুউয যাহরাতিস সানিইয়াহ ফি সুকুতি যাহরাতিস সানিইয়াহ" গ্রন্থ, ইবনে হামাদাহ আস-সেউতি, ইবনে আল-ফারদি, আর-রাজি, ইবনে হাইয়ান, ইবনে আস-সাইরাফি, ইবনে আবিল ফাইয়াদ, ইবনে মুযাইন এবং আল-হুমাইদির ইতিহাস গ্রন্থসমূহ, ইবনে আল-ফারদির "তাবাকাতুশ শুআরা", আবু আল-ফজল ইয়াজের "রিজাল", ফাতহ ইবনে খাকানের "কালাইদুল উকিয়ান", আল-হাকাম আল-মুস্তানসিরের জন্য রচিত "রিজালু মালাকাহ", ইবনে আল-বাদিশের "ফিহরিসত", আবু আল-কাসিম ইবনে আত-তাইলসানের উস্তাদদের তালিকা (ফিহরিসত) যার নাম "ইকতিতাফুল আনওয়ার ওয়া ইখতিতাফুল আযহার", সাফওয়ান ইবনে ইদ্রিসের "যাদুল মুসাফির", ইবনে আল-আফতাসের "আল-মুজাফফারি", স্বীয় যুগের দলিল লেখকদের সম্পর্কে আবু তাহির আস-সেউতির বই, আবু আব্দুল্লাহ আল-জুনির "আল-মাকামাতুল মুহসিনিয়াহ" এবং "সাহিবুল খাবার"।

 

আর যেসব উৎস ইবনে খামিসের বই থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছে এবং এর ওপর নির্ভর করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইবনে আয-যুবাইরের "সিলাতুস সিলাহ", ইবনে আব্দুল মালিক আল-মাররাকুশির "আয-যাইল ওয়াত তাকমিলাহ", লিসানুদ্দিন ইবনে আল-খাতিবের "আল-ইহাতা" ও "আমালুল আলাম", সাখাভীর "আল-ইলান বিত-তাওবিখ লি-মান যাম্মাত তারিখ" এবং "জামি’ মুখতারাত মিনাশ শি’রিল মাগরিবি ওয়াল আন্দালুসি"।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ৪৯-৫০।

(২) আল-ইলান বিত-তাওবিখ লি-মান যাম্মাত তারিখ, পৃষ্ঠা ২৭৩।

(৩) উদাবাউ মালাকাহ, পৃষ্ঠা ৪৩।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: -)
وكلمة أخيرة: إن هذا الكتاب نفيس ومهم في تخصصه بمدينة مالقة، إضافة إلى أنه يقدم لنا "معلومات تفصيلية أدبية وعلمية وتاريخية كثيرة عنها، ويصوّر لنا جوانب شتى من الحياة الأدبية فيها مثل المجالس الأدبية والمعارضات الشعرية والعلاقات التي تربط بين الأدباء. والكتاب واحد من مصادر أندلسية قليلة وصلتنا واختصت بالتعريف بأعلام مدينة بعينها، كما فعل لسان الدين بن الخطيب في زمنٍ تال عندما ألف "الإحاطة في أخبار غرناطة". وقد أورد السخاوي في كتابه "الإعلان بالتوبيخ لمن ذم التاريخ" أسماء طائفة من الأندلسيين الذين ألفوا كتباً في التعريف بأعلام مدن أندلسية بعينها. وقد ضاع أكثر هذه الكتب ولم يصل إلينا منها سوى عددٍ قليل (1) .

 

وأكرر القول، فأشيد بما كان للأستاذ د. صلاح جَرّار من عمل جاد ومخلص في هذا التحقيق، كما أشير بأن الكتاب سيصدر مرة أخرى هذه السنة بتقديم وتخريج وتعليق الصديق الكريم د. عبد الله المرابط الترغي ـ وهو من أساتيذ كلية الآداب في تطوان ـ عن دار الغرب الإسلامي ببيروت ودار الأمان بالرباط، تحت عنوان: "أعلام مالقة المسمّى الإكمال والإتمام في صلة الإعلام بمحاسن الأعلام من أهل مالقة الكرام أو مطلع الأنوار ونزهة البصائر والأبصار فيما احتوت عليه مالقة من الأعلام والرؤساء والأخيار وتقييد ما لهم من المناقب والآثار" تأليف أبي عبد الله بن عسكر وأبي بكر بن خميس.

 

ولنا وقفة قادمة معه للموازنة بينه وبين تحقيق د. صلاح جَرَّار.

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه، ص. 7 ـ 8.
একটি শেষ কথা: এই বইটি মালাগাহ শহরের বিশেষত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি এটি আমাদের সেই শহর সম্পর্কে অসংখ্য বিস্তারিত সাহিত্যিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক তথ্য প্রদান করে এবং সেখানকার সাহিত্যিক জীবনের বিভিন্ন দিক যেমন সাহিত্য আসর, কাব্যিক প্রতিযোগিতা এবং সাহিত্যিকদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। বইটি আমাদের কাছে পৌঁছানো সেই অল্পসংখ্যক আন্দালুসীয় উৎসের অন্যতম যা একটি নির্দিষ্ট শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচিতি প্রদানের জন্য নিবেদিত, যেমনটি পরবর্তী সময়ে লিসানুদ্দীন ইবনুল খাতিব করেছিলেন যখন তিনি ‘আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতাহ’ রচনা করেন। সাখাভী তাঁর ‘আল-ইলান বিত-তাওবিখ লিমান জাম্মাত তারিখ’ গ্রন্থে একদল আন্দালুসীয় পণ্ডিতের নাম উল্লেখ করেছেন যারা নির্দিষ্ট আন্দালুসীয় শহরগুলোর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচিতি নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এই বইগুলোর অধিকাংশই হারিয়ে গেছে এবং আমাদের কাছে অল্প কিছু সংখ্যক ছাড়া আর কিছুই পৌঁছায়নি (১)।

 

আমি পুনরায় বলছি, এই সম্পাদনার ক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. সালাহ জাররারের ঐকান্তিক ও নিষ্ঠাপূর্ণ কাজের প্রশংসা করছি, পাশাপাশি আমি উল্লেখ করছি যে, বইটি এই বছর পুনরায় বৈরুতের দারুল গারবিল ইসলামি এবং রুবাতের দারুল আমান থেকে পরম শ্রদ্ধেয় বন্ধু ড. আবদুল্লাহ আল-মুরাবিত আত-তারগির—যিনি তেতুয়ানের সাহিত্য অনুষদের অন্যতম অধ্যাপক—ভূমিকা, তাখরিজ ও টীকা সহ প্রকাশিত হবে, যার শিরোনাম: ‘আ’লামু মালাগাহ আল-মুসাম্মা আল-ইকমাল ওয়াল ইতাম ফি সিলাতিল ইলাম বি-মাহাসিনিল আ’লাম মিন আহলি মালাগাহ আল-কিরাম’ অথবা ‘মাতলাউল আনোয়ার ওয়া নুজহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার ফিমা ইহতাওয়াত আলাইহি মালাগাহ মিনাল আ’লাম ওয়ার রুয়াসা ওয়াল আখইয়ার ওয়া তাকয়িদু মা লাহুম মিনাল মানাকিব ওয়াল আসার’, এটি আবু আবদুল্লাহ ইবনে আসকার এবং আবু বকর ইবনে খামিসের রচনা।

 

ড. সালাহ জাররারের সম্পাদনার সাথে এর তুলনা করার জন্য ভবিষ্যতে আমরা আরও আলোচনার সুযোগ রাখছি।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস, পৃ. ৭-৮।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٧٣)
كتاب أعلام مالقة

النص

بسم الله الرحمن الرحيم

صلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم وكتاب جمع فيه بغض أخبار فقهاء مالقة وأدبائهم مما ابتدأ تأليفه الفقيه المتفنن محمد بن فلي بن خضر بن هارون الغساني المشهور بابن عسكر.

وقد كمله ولد أخته محمد بن محمد علي بن خميس بعد أن عاجلته منيته. وجمع في هذا الكتاب من سكن مالقة ودخلها أو اجتاز عليها وجملاً من أخبارهم وأدبهم ومحاسنهم ومراسلاتهم وبلاغتهم وذكر من أخذوا عنه من فقهاء الأندلس وغيرهم.

منهم

 

‌‌1- محمد بن عمثيل العاملي

من أهل مالقة من أعيان أهلها وجلتهم حكى أبو العباس ابن أبي العباس في كتابه قال: أنشد الفقيه أبو عبد الله بن عمثيل الأديب أبا محمد غانم بن وليد بينين وهما: [كامل]
মালাগাহর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রন্থ

মূল পাঠ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে মালাগাহর ফকিহ ও সাহিত্যিকদের কিছু সংবাদ সংকলিত হয়েছে, যার সংকলন শুরু করেছিলেন বহুমুখী শাস্ত্রজ্ঞ ফকিহ মুহাম্মদ বিন ফলি বিন খিদর বিন হারুন আল-গাসসানি, যিনি ইবন আসকার নামে প্রসিদ্ধ।

তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভাগ্নে মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আলী বিন খামিস এটি সমাপ্ত করেছেন। তিনি এই গ্রন্থে মালাগাহর স্থায়ী বাসিন্দা, সেখানে আগমনকারী অথবা তা অতিক্রমকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাদের সংবাদ, সাহিত্য, সৌন্দর্য, চিঠিপত্র ও অলঙ্কারশাস্ত্রের এক বিশাল সংগ্রহ তুলে ধরেছেন। এছাড়াও তিনি আন্দালুসের ফকিহগণ ও অন্যদের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের নিকট থেকে তারা জ্ঞানার্জন করেছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন

 

‌‌১- মুহাম্মদ বিন আমসিল আল-আমিলি

তিনি মালাগাহর অধিবাসী এবং সেখানকার গণ্যমান্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যতম। আবু আল-আব্বাস ইবনে আবি আল-আব্বাস তাঁর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ফকিহ আবু আবদুল্লাহ বিন আমসিল সাহিত্যিক আবু মুহাম্মদ গানিম বিন ওয়ালিদকে এই দু’টি পঙক্তি পাঠ করে শুনিয়েছেন, যা কামিল ছন্দে রচিত:
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٧٤)
وإذا الديار تغيرت عن حالها … فدع الديار وبادر التحويلا

ليس المقام عليك حتما واجبا … في بلدة تدع العزيز ذليلا

فاستحسن ذلك وبادر للمعارضة فقال:] كامل [

 

لا يرتضي حر بمنزل ذلة … لو لم بجد في الخافقين مقيلا

فارض الوفاء لحر نفسك لا تكن … ترضى المذلة ما حييت بديلا

واخصص بودك من خبرت وفاءه … لا تتخذ إلا الوفي خليلا

إن الصديق إذا أحب صديقه … أثنى عليه بكرة وأصيلا

ولقد خبرت الناس منذ عرفنهم … فوجدت جنس الأوفياء قليلا

سقيا لأيام الشباب فإنها … كالإلف حاول أن يجد رحيلا

قصرت أمان كنت أرجو نيلها … قد عاد ليلي بعدهن طويلا

قد مات روضي بعد ذلك جذبة … وغدا فؤادي بعدهن عليلا

 

‌‌2- محمد بن خليفة بن عبد الواحد بن سعيد الحارث بن خلف بن عبد الله بن بدر سعد الأنصاري

يكنى أبا عبد الله من أعيان مالقة وفضلائها وعلمائها المشهورين ولي قضاء مالقة فسار فيه بأجمل سير من العدل والفضل وله على الموطأ شرح حسن بليغ. ويحكى أنه قال ألفت شرح الموطأ أيام ولايتي للقضاء بمالقة ابتدأته أول سنة ثمان وسبعين وأكملته سنة تسع وسبعين.

قال: وكنت عند ابتدائي تأليفه أرى وأنا بين النائم واليقظان كأني أخرج إلى البحر على باب يسمى باب الفرج وهو باب الحلاقين فأقف على البحر فكان يلقى إلي من صنوف الحيتان ما يملأ الفضاء بين يدي وأمواجه تلقي بعضها على بعض إلي فكنت أروم تعبئتها وضمها وتلفيفها بالملح وأنظر في توطية لها من فرش ودوم بين يدي وآلة وكنت أقول: ألا رجل يعينني على تعبئة ذلك فكان يبدو
যখন জনপদ তার অবস্থা থেকে পরিবর্তিত হয়ে যায় … তখন জনপদ ত্যাগ করো এবং স্থানান্তরের ত্বরিত ব্যবস্থা করো

তোমার ওপর অবস্থান করা কোনো অনিবার্য কর্তব্য নয় … এমন এক শহরে যা সম্মানিত ব্যক্তিকে হীন করে দেয়

তিনি এটি পছন্দ করলেন এবং এর বিপরীতে কবিতা বলতে উদ্যত হয়ে বললেন: [কামিল ছন্দ]

 

স্বাধীন মানুষ হীন আবাসে সন্তুষ্ট হয় না … যদিও সে দুই দিগন্তের মাঝে কোনো বিশ্রামের স্থান না পায়

নিজের স্বাধীন সত্তার জন্য বিশ্বস্ততা পছন্দ করো, এমন হয়ো না যে … যতদিন বেঁচে আছো হীনতাকে বিকল্প হিসেবে মেনে নিয়েছ

তোমার ভালোবাসা কেবল তার জন্য নির্দিষ্ট করো যার বিশ্বস্ততা তুমি পরীক্ষা করেছ … বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না

নিশ্চয়ই বন্ধু যখন তার বন্ধুকে ভালোবাসে … তখন সে সকাল-সন্ধ্যা তার প্রশংসা করে

আমি যখন থেকে মানুষকে চিনেছি, তাদের পরীক্ষা করেছি … কিন্তু আমি বিশ্বস্ত শ্রেণির মানুষ খুব কমই পেয়েছি

যৌবনের দিনগুলোর জন্য শুভকামনা, কেননা সেগুলো … এমন এক বন্ধুর মতো যে চলে যাওয়ার পথ খুঁজছে

সেই সব আশা সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে যা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আমি করতাম … সেগুলোর বিদায়ের পর আমার রাতগুলো পুনরায় দীর্ঘ হয়ে গেছে

সেই খরার পর আমার উদ্যান মরে গেছে … আর সেগুলোর পর আমার অন্তর রুগ্ন হয়ে পড়েছে

 

‌‌২- মুহাম্মদ ইবনে খলিফা ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে সাঈদ আল-হারিস ইবনে খালাফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বদর সাদ আল-আনসারি

তাকে আবু আব্দুল্লাহ কুনিয়াতে ডাকা হতো। তিনি মালাগাহর বিশিষ্ট ব্যক্তি, গুণীজন এবং প্রসিদ্ধ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি মালাগাহর বিচারপতির (কাজী) দায়িত্ব পালন করেন এবং তাতে ন্যায়বিচার ও শ্রেষ্ঠত্বের অতি সুন্দর পথ অনুসরণ করেন। মুয়াত্তা-এর ওপর তার একটি চমৎকার ও প্রাঞ্জল ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: আমি মালাগাহর বিচারপতির দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মুয়াত্তা-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি রচনা করেছি; এর সূচনা করি আটাত্তর সালের শুরুতে এবং সমাপ্ত করি উনআশি সালে।

তিনি বলেন: যখন আমি এটি রচনা শুরু করি, তখন তন্দ্রা ও জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থায় দেখতাম যে, আমি যেন 'বাবুল ফারাজ' নামক একটি দরজা দিয়ে সমুদ্রের দিকে বের হচ্ছি—যা নাপিতদের দরজা (বাবুল হাল্লাকিন) নামে পরিচিত। এরপর আমি সমুদ্রের তীরে দাঁড়ালাম। তখন আমার সামনে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এমনভাবে আসতে লাগল যা আমার সম্মুখস্থ স্থান পূর্ণ করে দিল এবং সমুদ্রের ঢেউগুলো একটির ওপর অন্যটি আছড়ে পড়ে আমার কাছে মাছ নিয়ে আসতে লাগল। আমি সেগুলো গুছিয়ে রাখতে, একত্র করতে এবং লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে চাচ্ছিলাম। আমি আমার সামনে সেগুলো রাখার জন্য বিছানা ও খেজুর পাতার চাটাই এবং সরঞ্জামের ব্যবস্থা দেখছিলাম। আমি বলছিলাম: এমন কি কেউ নেই যে আমাকে এগুলো গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করবে? এরপর উপস্থিত হলো...
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٧٥)
لي رجل فيقول ارفع رأسك هذا رسول الله إلي على البحر من جهة القبلة فكنت أمشي إليه ألقاه وأسلم عليه فلما فرغت من السلام قال لي يا محمد أنا أعينك على تعبئة ما أردته من هذه فخذ في ذلك فكان يسوي بيديه الكريمتين وطاءها ثم أجمع إليه وأقرب بين يديه من تلك الحيتان وهو يسويها ويجعل ملحها صفا على صف حتى بلغ سبعة صفوف وهي كانت عدد أسفار المسودة إذا تمت ثم ضم عليها صيانتها وزمها ثم قال لي هذا مرادك منها قد تم. ثم استيقظت وتماديت على التأليف فلعمري لقد كان هذا التأليف أسهل علي من كل أمر حاولته جعله الله لوجهه وذكره بن بشكوال فقال روى عن أبي عبد الله بن عتاب والقاضي محمد بن شماخ والقاضي أبي الوليد الباجي وغيرهم وكان معتنيا بالعلم والسماع من الشيوخ ومن أهل المعرفة والذكاء والفهم واستقضي ببلده وسمع الناس منه كثيرا من روايته وكان رحمه الله من أهل الأدب البارع مع علمه وفضله ومن شعره رحمه الله: [بسيط]

 

ولى زمان وكان الناس تشبهه … فالآن فوضى فلا دهر ولا ناس

أسافل قد علت لم تعل من كرم … ومشرفات الأعالي منه أنكاس

ومن شعره أيضاً رحمه الله تعالى ورضي عنه: [طويل]

 

تقول سليمى إذا وفيت بعدها … أشيب وفي وصل الأحبة منصف

وإن بياضا كان مني سواده … مكان السويدا بالعلاء مصرف

فقلت أجل إن تعف أطلال وامق … تراه له في ذلك الرسم موقف

وهل هو إلا قالص فوق ثوبه … ولكنه القلب الذي كنت تعرف
একজন লোক আমাকে বলল, "তোমার মাথা তোলো, এই যে আল্লাহর রাসূল কিবলার দিক থেকে সমুদ্রের তীরে আমার দিকে (আসছেন)।" তখন আমি তাঁর দিকে হেঁটে গেলাম, তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। সালাম শেষ করলে তিনি আমাকে বললেন, "হে মুহাম্মদ, তুমি এখান থেকে যা প্রস্তুত করতে চেয়েছ, তাতে আমি তোমাকে সাহায্য করছি। সুতরাং তুমি তা গ্রহণ করো।" তিনি তাঁর দুই সম্মানিত হাত দিয়ে সেটির বিছানা ঠিক করছিলেন, তারপর আমি তাঁর কাছে জমা করছিলাম এবং তাঁর হাতের কাছে সেই মাছগুলো থেকে এগিয়ে দিচ্ছিলাম। তিনি সেগুলো গুছিয়ে রাখছিলেন এবং সেগুলোর লবণ স্তরে স্তরে দিচ্ছিলেন, এমনকি তা সাতটি স্তর পর্যন্ত পৌঁছাল। আর এটিই ছিল পাণ্ডুলিপির খণ্ডগুলোর সংখ্যা যখন তা সম্পন্ন হলো। এরপর তিনি সেটির আবরণ মিলিয়ে দিলেন এবং তা বেঁধে দিলেন। তারপর তিনি আমাকে বললেন, "তোমার যা উদ্দেশ্য ছিল তা পূর্ণ হয়েছে।" অতঃপর আমি জাগ্রত হলাম এবং গ্রন্থ রচনার কাজ চালিয়ে গেলাম। আমার জীবনের শপথ! এই গ্রন্থ রচনা আমার জন্য আমার করা অন্য যেকোনো কাজের চেয়ে সহজ ছিল। আল্লাহ একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন। ইবনে বাশকুওয়াল তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি আবু আবদুল্লাহ ইবনে আত্তাব, কাজী মুহাম্মদ ইবনে শাম্মাখ, কাজী আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইলম অর্জনে এবং শাইখদের থেকে শ্রবণে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ, মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। নিজ শহরে তিনি বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং মানুষ তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা শুনেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি তাঁর ইলম ও মর্যাদার পাশাপাশি চমৎকার সাহিত্যের অধিকারী ছিলেন। তাঁর কবিতার মধ্যে রয়েছে: [বাসিত]

 

একটি সময় গত হয়েছে যখন মানুষ সেই সময়ের মতো ছিল … এখন বিশৃঙ্খলা, না আছে সময়, না আছে মানুষ।

নীচলোকেরা উপরে উঠেছে কিন্তু তারা মর্যাদার কারণে উঠেনি … বরং উচ্চমর্যাদাবানরা সেখানে লাঞ্ছিত ও অধঃপতিত।

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁর কবিতা থেকে আরও রয়েছে: [তওয়ীল]

 

সুলায়মা বলে, যখন আমি তার পরে পূর্ণতা পেলাম … সে কি বৃদ্ধ হয়ে গেছে? অথচ প্রিয়জনদের সাথে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে সে কি ন্যায়পরায়ণ?

আর আমার চুল যা কালো ছিল তা সাদা হয়ে গেছে … উচ্চমর্যাদার কারণে হৃদয়ের কালিমার স্থান পরিবর্তিত হয়েছে।

আমি বললাম, হ্যাঁ, যদি কোনো প্রেমিকের স্মৃতিচিহ্নগুলো মুছে যায় … তবে তাকে দেখবে সেই চিহ্নের সামনে থমকে দাঁড়িয়ে থাকতে।

আর এটি তো তার পোশাকের উপর গুটিয়ে যাওয়া দেহ ছাড়া আর কিছু নয় … তবে এটি সেই হৃদয় যা তুমি চিনতে।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٧٦)
وكان قد تغرب في الفتنة إلى جهة تدمير فقال:

 

أعاد الله أيام التلاقي … كما كنا بها قبل الفراق

وأكمل بالسرور إياب نفسي … فقد آل السرور إلى محاق

نأى صبري غداة نأيت عنكم … وهل تنأى همومي واشتياقي

لئن ضن الأسى بالصبر عني … فما ضنت بأدمعها مآقي

أحن إلى الرفاق لآن أنسي … بأخبار الأحبة في الرفاق

وأفرح بالهلال لأن خلي … به في غير آناء المحاق

كأني مذ نأيت وصرت رهنا … بتدمير أسير في وثاق

لقد أبقى فراقكم بقلبي … كلوما لدغ حرقتهن باق

أرى ليلي علي إذا تدجى … سواء والنهار بما ألاقي

ومنها:

 

أقول وقد ذكرتك فاستقادت … لذكرك أذكعي ذات اشياق

سلام ترجف الأحشاء منه … على الحسن بن وهب والعراق

على البلد الحبيب إلي غوراً … ونجداً ولأخ العذب المذاق

ومن شعره:

 

ومن عجب أني أهيم بحبه … وأوليه إعراضاً وفي القلب يرتع

كذي رمد في مقلتيه يزيده … سنا الشمس (ضراً) وهو بالشمس مولع

وتوفي رحمه الله بمالقة يوم السبت لسبع خلون من جمادى الأولى سنة خمسمائة قال ابن بشكوال وكان مولده سنة سبع عشرة وأربعمائة رحمة الله ورضوانه عليه.

ومنهم:
তিনি ফিতনার সময় তাদমির অঞ্চলের দিকে দেশান্তরী হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন:

 

আল্লাহ পুনর্মিলনের দিনগুলো ফিরিয়ে দিন … যেমন আমরা বিচ্ছেদের আগে ছিলাম।

আমার প্রাণের প্রত্যাবর্তনকে আনন্দময় করুন … কারণ আনন্দ এখন অমাবস্যার অন্ধকারে বিলীন হয়েছে।

যেদিন প্রভাতে আমি তোমাদের ছেড়ে দূরে এলাম, ধৈর্যও আমায় ছেড়ে গেল … আমার দুশ্চিন্তা আর আকাঙ্ক্ষা কি কখনো বিদায় নেয়?

শোক যদি আমার প্রতি ধৈর্য ধারণে কৃপণতা করে … আমার অক্ষিপুট তো অশ্রু বিসর্জনে কৃপণতা করেনি।

আমি বন্ধুদের জন্য ব্যাকুল হই, কারণ বন্ধুদের মাঝে … প্রিয়জনদের খবর পাওয়াই এখন আমার সান্ত্বনা।

আমি নতুন চাঁদ দেখে আনন্দিত হই কারণ আমার প্রিয় বন্ধুটিও … অমাবস্যার প্রহর ব্যতীত অন্য সময় সেটি দেখে।

আমি যেদিন থেকে দূরে এসেছি এবং তাদমিরে অবস্থান করছি … মনে হয় যেন আমি শিকলে বাঁধা এক কয়েদি।

তোমাদের বিচ্ছেদ আমার হৃদয়ে এমন ক্ষত সৃষ্টি করেছে … যার দহনের দংশন আজও রয়ে গেছে।

যখন রাত অন্ধকার হয়ে আসে, তখন আমি যা সহ্য করি … তাতে রাত এবং দিন আমার কাছে সমান হয়ে যায়।

তার কবিতার অংশ বিশেষ:

 

তোমাকে স্মরণ করে আমি বলছি, আর তোমার স্মরণে … আমার ব্যাকুল সত্তা বশীভূত হয়ে গেছে।

এমন এক সালাম যাতে হৃদস্পন্দন কেঁপে ওঠে … আল-হাসান বিন ওয়াহাব এবং ইরাকের প্রতি।

আমার সেই প্রিয় জনপদের প্রতি, তার সমভূমি … ও উচ্চভূমির প্রতি, আর সেই সুমিষ্ট স্বভাবের ভাইয়ের প্রতি।

তার আরও কিছু কবিতা:

 

বিস্ময়কর হলো যে আমি তার ভালোবাসায় দিশেহারা … অথচ আমি তাকে এড়িয়ে চলি, যদিও সে আমার হৃদয়েই বিচরণ করে।

যেমন চোখের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, সূর্যের তেজ যার … ক্ষতি বৃদ্ধি করে, অথচ সে সূর্যের প্রতিই আসক্ত।

তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি পাঁচশত হিজরি সনের সাতই জমাদিউল উলা শনিবার মালাগায় ইন্তেকাল করেন। ইবনে বাশকুওয়াল বলেন, তার জন্ম হয়েছিল চারশত সতেরো হিজরি সনে। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক।

এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন:
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٧٧)
‌‌3- محمد بن عبد الله بن أصبغ بن أحمد أبي العباس

يكنى أبا عبد الله من أهل مالقة من جلة أعيانها. ذكره أبو العباس بن أبي العباس في كتابه وأثنى عليه وذكر …

ومن شعره في رثاء أبي عبد الله بن السراج رحمة الله عليهما:

 

هل أدرك العلم وهنا ليس يعهده … أم ليس يدري بأن أودى محمده

بلى لقد ناله وهن لفقد فتى … قد كان ينصره حفظا ويعضده

فرع زكا وبحق ما زكا حسباً … في منبت الفضل فرع طاب محتده

تخطفته المنايا غير مكترث … علماً بأن لقاء الله موعده

رفعت ذكراً من الشورى يسير مسي … ر الشمس متهمه فينا ومنجده

تقرب الحكم فيها بالصواب ولو … تشاء كنت بأولى منه تبعده

وقد مدح ابن عباد بإشبيلية وفر إليه في الفتنة التي كانت بمالقة أيام بني بلقين ابن إدريس وفد عليه فأنزله وأكرمه وأقام عنده حتى رجع إلى بلده وهذه القصيدة المذكورة:

 

لعرف الصبا أزكى نسيماً لناسم … وبارق ذاك الأفق أشفى لشائم

نظرت وقد نام الخليون نظرة … قضيت بها حق الدموع السواجم

وهل يبعث الشوق المبرح شائم … تألق في جنح من الليل فاحم

وأرقني بالأيك نوح حمامة … وقد يطرب المحزون نوح الحمائم

وما … حسن العزاء لعاشق … ثوى حبه بين القنا والصوارم

خلي من الخلان في أرض غربة … تذكر من عهد الصبا المتقادم

أأيامنا أفدي أصائلك التي … جلت لي صفو العيش عذب المباسم

بحيث تجلى الروض أحسن منظراً … وحاكت برود الزهر أيدي الغمائم
৩- মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আসবাগ ইবনে আহমাদ আবুল আব্বাস

তার উপনাম ছিল আবু আবদুল্লাহ; তিনি মালাগা শহরের অধিবাসী এবং সেখানকার অন্যতম বিশিষ্ট ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। আবুল আব্বাস ইবনে আবিল আব্বাস তার গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ও বর্ণনা করেছেন ...

আবু আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাররাজ (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর শোকগাঁথায় তার রচিত কিছু কবিতাংশ:

 

জ্ঞান কি আজ এমন এক দুর্বলতার সম্মুখীন হয়েছে যা আগে কখনও দেখেনি ... নাকি সে জানে না যে তার 'মুহাম্মদ' চিরবিদায় নিয়েছেন?

হ্যাঁ, এক যুবকের বিদায়ে সে আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে ... যে তাকে মুখস্থ রাখার মাধ্যমে রক্ষা করত এবং সাহায্য করত।

এক পবিত্র শাখা, আর বংশমর্যাদায় সে যথার্থই পবিত্র ... শ্রেষ্ঠত্বের উদ্যানে বেড়ে ওঠা এক শাখা যার উৎস অত্যন্ত নির্মল।

মৃত্যু তাকে পরোয়া না করেই ছিনিয়ে নিয়েছে ... এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে যে, আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎই তার নির্ধারিত সময়।

আপনি 'শুরা'র এমন এক খ্যাতি উচ্চকিত করেছেন যা বিচরণ করে ... সূর্যের পরিক্রমণের ন্যায় আমাদের পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে।

সেখানে আপনি বিচারকাজকে সত্যের অতি নিকটবর্তী করেছেন, আর আপনি যদি ... চাইতেন তবে তার চেয়েও উত্তম কিছুর মাধ্যমে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারতেন।

তিনি সেভিয়াতে ইবনে আব্বাদের প্রশংসা করেছিলেন এবং বনু বুলুক্কিন ইবনে ইদ্রিসের শাসনামলে মালাগাতে যে ফিতনা বা গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সময় তার কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি তার নিকট গেলে তিনি তাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় সমাদর করেন ও সম্মানিত করেন এবং নিজ শহরে ফিরে না আসা পর্যন্ত তিনি তার কাছেই অবস্থান করেন। এটিই সেই উল্লিখিত কাসিদা:

 

যৌবনের সুবাস ঘ্রাণ গ্রহণকারীর নিকট অতি পবিত্র সমীরণ ... আর সেই দিগন্তের বিদ্যুৎচ্ছটা অবলোকনকারীর জন্য অধিক প্রশান্তিদায়ক।

নিশ্চিন্ত মানুষেরা যখন গভীর ঘুমে মগ্ন তখন আমি এমন এক দৃষ্টিতে তাকালাম ... যার মাধ্যমে আমি বিগলিত অশ্রুধারার হক আদায় করলাম।

তীব্র বিরহ-বেদনা কি কোনো অবলোকনকারীকে জাগিয়ে তোলে ... যা ঘোর কৃষ্ণবর্ণ রাতের গভীরে ঝলক দিয়ে ওঠে?

কুঞ্জবনে ঘুঘুর বিলাপ আমাকে বিনিদ্র রেখেছে ... আর কখনও কখনও ঘুঘুর করুণ সুর দুঃখিত হৃদয়কেও আপ্লুত করে।

আর সেই প্রেমিকের জন্য কোনো উত্তম ধৈর্য নেই ... যার প্রেম বল্লম ও ধারালো তলোয়ারের মাঝে পড়ে আছে।

এক পরবাসে বন্ধুহীন অবস্থায় ... ফেলে আসা অতীতের যৌবনবেলার কথা বারবার মনে পড়ছে।

হে আমাদের সেই অতীত দিনগুলো! আমি তোমাদের সেই অপরাহ্ণগুলোর জন্য জীবন উৎসর্গ করি যা ... আমার সামনে স্বচ্ছ জীবন ও মধুর হাসির দ্যুতি ছড়িয়েছিল।

যেখানে বাগানসমূহ পরম রমণীয়রূপে প্রকাশিত হয়েছিল ... এবং মেঘমালাদের হাত পুষ্পরাজি দিয়ে অলংকৃত চাদর বুনেছিল।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٧٨)
وطاب بنا طيب الغواني وطيبه … فيقضي على امرارنا بالنمائم

وحيث مهاها والظباء أوانس … ولا مرشف إلا متاح للآثم

ولا حقف إلا ما تقل روادف … ولا غصن إلا من قدود نواعم

ولا منزه إلا غناء وقرقف … يقوم بها وسنان حلو المباسم

كأن اصفرار الزهر بين ابيضاضه … دنانير حفتهن أيدي الدراهم

كأن الصفا أمواهه تحت آسه … صقال سيوف تحت خضر العمائم

وأعمل أخفاف المطي لرتبة … تريني قرن الشمس تحت المناسم

إلى الغاية القصوى إلى المللك الذي … تذل له صيد الملوك الخضارم

إلى ذي الأيادي الغر والمنن التي … وسائلها مقروءة كالتراجم

تقبل أطراف البساط جلالة … وقد صغرت في كمه والبراجم

وتعنو له قسراً فرادى وتوءماً … بإذعان جبار ورغم مراغم

بمعتمد نامت عيون قريرة … وردت على الأعقاب سود المظالم

يخوض الوغى والخيل والبيض تلتظي … بسمر العوالي والنسور القشاعم

منها:

 

وهوب مهيب فهو يرضي ويتقي … كذلك أخلاق الملوك الأعاظم

ولما انثنت نفسي إليك محبة … رفضت ملوك الأرض رفض المحارم

ولذت بمولى باسمه أنا عائذ … من الخطب واستعصمت منه بعاصم

إليك ابن عباد زففت عروسها … فدونكها كالدر في سلك ناظم

وهل أنا إلا عبدك القن عاقه … زمان فلم ينهضه عن جد عازم

لعل له عطفاً بديل عنايةً … بعتبي وإن طالت منامة نائم

وله فصل من رسالة كتب بها إلى أبي المطرف بن أبي الهيثم المالقي يهنيه
সুন্দরীদের সান্নিধ্য ও তাদের সুগন্ধ আমাদের নিকট মনোরম হলো … যা চোগলখুরির মাধ্যমে আমাদের তিক্ততার সমাপ্তি ঘটায়।

সেখানে সুন্দরীগণ ও হরিণীরা ছিল ঘনিষ্ঠ সাথী … আর পাপীদের জন্য লভ্য অধরামৃত ছাড়া আর কোনো পানীয় ছিল না।

সেখানে বালুকাময় টিলা বলতে কেবল নিতম্বের ভার ছিল … আর লতা বলতে কেবল কোমল দেহের গড়ন ছিল।

সেখানে গান ও সুরা ছাড়া কোনো বিনোদন ছিল না … যা পরিবেশন করছিল মিষ্ট হাসিমাখা এক তন্দ্রালু কিশোর।

শ্বেত শুভ্রতার মাঝে পুষ্পের পীতবর্ণ যেন … রৌপ্যমুদ্রার হস্তবেষ্টিত স্বর্ণমুদ্রাসমূহ।

স্বচ্ছ পানির ধারা তার সুগন্ধি গুল্মের নিচে যেন … সবুজ পাগড়ির নিচে ঝকঝকে তলোয়ারের উজ্জ্বলতা।

আমি এমন এক সুউচ্চ মর্যাদার অন্বেষণে উটের ক্ষুরকে শ্রান্ত করেছি … যা আমাকে উটের নখের নিচে সূর্যের কিরণ দেখায়।

সেই চূড়ান্ত গন্তব্যের দিকে, সেই বাদশাহর দিকে … যার নিকট মহান শক্তিশালী রাজন্যবর্গও নতি স্বীকার করে।

সেই উন্নত হস্ত ও অনুগ্রহের অধিকারীর দিকে … যার বদান্যতার মাধ্যমগুলো জীবনীর ন্যায় সুস্পষ্টভাবে পঠিত।

মহত্ত্বের কারণে গালিচার প্রান্তসমূহ চুম্বিত হয় … অথচ তাঁর আস্তিন ও আঙুলের পর্বের কাছে তা অতি ক্ষুদ্র।

তাঁর সমীপে অবাধ্যরাও একক বা দ্বৈতভাবে বাধ্য হয়ে নতি স্বীকার করে … কোনো স্বৈরাচারীর আনুগত্যের ন্যায় এবং তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও।

মুতামিদের আশ্রয়ে চক্ষুসমূহ প্রশান্তিতে নিদ্রা যায় … আর ঘোর অন্ধকার জুলুমসমূহ পিছু হটতে বাধ্য হয়।

তিনি যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েন যখন অশ্ব ও শ্বেত তরবারিগুলো প্রজ্জ্বলিত হয় … বাদামী বর্শা ও শিকারি ঈগলদের সাথে।

তা থেকে অংশবিশেষ:

 

তিনি দানশীল ও মহিমান্বিত, ফলে তিনি সন্তুষ্ট করেন এবং ভীতিও সঞ্চার করেন … মহান সম্রাটদের চরিত্র এমনই হয়।

যখন আমার অন্তর ভালোবাসার টানে আপনার দিকে ঝুঁকে পড়ল … তখন আমি পৃথিবীর অন্য সব রাজাদের বর্জন করলাম, যেমনটি নিষিদ্ধ বস্তুকে বর্জন করা হয়।

আমি এমন এক অভিভাবকের আশ্রয় নিলাম যার নামের বরকতে আমি রক্ষা পাই … বিপদ-আপদ থেকে, এবং তাঁর মাধ্যমেই আমি এক সুদৃঢ় রক্ষাকবচ লাভ করেছি।

হে ইবনে আব্বাদ! আমি আপনার নিকট এক নববধূর ন্যায় এই কাব্যকে অলঙ্কৃত করে পেশ করেছি … সুতরাং একে গ্রহণ করুন, যা সুতোয় গাঁথা মুক্তামালার মতো।

আমি তো আপনার অনুগত দাস ছাড়া আর কিছুই নই, যাকে সময় বাধাগ্রস্ত করেছে … ফলে কোনো দৃঢ় সংকল্প তাকে জাগিয়ে তুলতে পারেনি।

সম্ভবত আমার অনুযোগের পরিবর্তে তিনি অনুগ্রহের দৃষ্টি দেবেন … যদিও কোনো নিদ্রামগ্ন ব্যক্তির নিদ্রা দীর্ঘায়িত হয়।

আর এটি তাঁর একটি পত্রের অংশবিশেষ, যা তিনি আবু আল-মুতরিফ বিন আবি আল-হাইসাম আল-মালাকিকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٧٩)
بخطة القضاء: وهل كان ذلك القطر إلا مفرقاً دون تاج ومنارة ً بغير سراج فالآن قد استصبح سناه واتضح لفظه ومعناه ولست أهنئه بالقضاء خطة ولا أعتدها له غبطة ولكن أهنئ بها من تجري عليه قضاياه وأحكامه وتدور عليه دولته وأيامه فمثله من عرف بما قلد ووفق في أموره وسدد فالزهد أيسر شعاره والورع أدنى دثاره فلله ذلك المجد ما أشرق صفحاته وذلك الروض ما أعبق نفحاته.

وله يجاوب الكاتب أبا محمد البزلياني المالقي:

 

تأملت ما أهديته متفضلاً … فخلت الذي تهديه دراً مفصلاً

إذا قسته بالدر في حال تقده … وحققت فيه كان أغلى وأكملاً

معان تريك السحر لفظاً ورقةً … كما يستبيك اللفظ أول أولا

بخط بديع زانه الوشي زينة … ينسيك من وشى الربيع المفضلا

أقمت به في ذروة المجد همتي … وحملتني عبئا من المجد مثقلا

وهي طويلة وله رحمه الله:

 

أربع بربع الذي تسليك أربعه … حتى يصيف مصيف ثم مربعه

واغن بمغنى الذي تغنيك غنته … عن الأغاني غناء الشوق يطبعه

واحلل بمورد رحب حله حرم … حليت منه فصرف الدهر يمنعه

القد منه قضيب ماس فوق نقا … ريح الصبا إن مشى خطوا تزعزعه

ولحظه بابلي سحره حور … في كل قلب له نفث يولعه

والجيد جيد غزال قد رنا جزعا … إذ مسه ليث عرنين يروعه

ظبي تكامل فيه الدل فهو طلى … كما تكامل فيه الحُسن أجمعه

لاحت عشاءً على خديه شمس ضحى … فعنَّ لي يوسفي الحُسن يوشعه
বিচারকের দায়িত্বভার গ্রহণের বিষয়ে: সেই অঞ্চলটি কি মুকুটহীন মস্তক এবং প্রদীপহীন মিনারের ন্যায় ছিল না? এখন তার জ্যোতি প্রজ্জ্বলিত হয়েছে এবং তার শব্দ ও অর্থ সুস্পষ্ট হয়েছে। আমি তাকে বিচারকের পদের জন্য অভিনন্দন জানাই না এবং এটিকে তার জন্য ঈর্ষণীয় বিষয় বলে গণ্য করি না, বরং আমি অভিনন্দন জানাই তাদের যাদের ওপর তার বিচার ও বিধানসমূহ জারি হবে এবং যাদের ঘিরে তার শাসন ও দিনকাল আবর্তিত হবে। তার মতো ব্যক্তিই সেই পদের যোগ্য বলে পরিচিত হন এবং আপন কর্মে সফল ও সঠিক পথের দিশারী হন। অল্পে তুষ্টি তার সাধারণ পোশাক এবং খোদাভীতি তার গায়ের চাদর। আল্লাহর জন্যই সেই মর্যাদা, যার প্রতিটি পাতা কতই না উজ্জ্বল, এবং সেই বাগান, যার সুগন্ধি কতই না সুরভিত।

আর লেখক আবু মুহাম্মদ আল-বিজলিয়ানি আল-মালাকিকে উত্তর প্রদানকালে তাঁর পঙক্তিমালা:

 

আপনি অনুগ্রহ করে যা উপহার দিয়েছেন তা আমি গভীর মনোযোগে দেখেছি … আমার মনে হলো আপনি যা উপহার দিয়েছেন তা যেন সুবিন্যস্ত মুক্তামালা।

যদি সেটিকে সুবিন্যস্ত মুক্তার সাথে তুলনা করেন … এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে তা হবে অধিক মূল্যবান ও পূর্ণাঙ্গ।

এমন সব অর্থ যা আপনাকে শব্দের জাদু ও মাধুর্য দেখায় … যেভাবে শব্দ আপনাকে শুরু থেকেই মোহিত করে।

চমৎকার হস্তাক্ষরে যা কারুকাজের অলংকারে শোভিত … যা আপনাকে বসন্তের শ্রেষ্ঠ কারুকাজের কথা ভুলিয়ে দেয়।

এর মাধ্যমে আমি আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে গৌরবের শিখরে স্থাপন করেছি … আর আপনি আমার ওপর গৌরবের এক ভারী বোঝা অর্পণ করেছেন।

এটি একটি দীর্ঘ কবিতা। আর তাঁর রচিত—আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন:

 

সেই আবাসে অবস্থান করো যার চারটি দিক তোমাকে প্রশান্তি দেয় … যতক্ষণ না গ্রীষ্মকাল এবং এরপর বসন্তকাল অতিবাহিত হয়।

সেই সুরের আবাসে তুষ্ট থাকো যার গুঞ্জন তোমাকে সমৃদ্ধ করে … গানের পরিবর্তে বিরহ-ব্যথার সুর যাতে মুদ্রিত।

এমন এক প্রশস্ত ঘাটে অবতরণ করো যার পরশ পবিত্র … তুমি তার দ্বারা অলঙ্কৃত হয়েছ, তাই কালের পরিবর্তন তাকে স্পর্শ করতে পারে না।

তার অবয়ব বালুকাস্তূপের ওপর দোদুল্যমান ডালপালার ন্যায় … হাঁটার সময় পুবালি বাতাস তাকে নাড়া দিয়ে যায়।

তার দৃষ্টি ব্যাবিলনীয় জাদুময়, তাতে রয়েছে হরিণচক্ষুর মায়া … প্রতিটি হৃদয়ে তার ফুৎকার অনুরাগের আগুন জ্বালায়।

তার গ্রীবা যেন সেই ভীত হরিণের ন্যায় যে সশঙ্ক চিত্তে তাকায় … যখন কোনো বিক্রমী সিংহ তাকে স্পর্শ করে আতঙ্কিত করে।

এক হরিণশাবক যার মাঝে লাবণ্য পূর্ণতা পেয়েছে, তাই সে নবীন … যেমন তার মাঝে সমস্ত সৌন্দর্য পূর্ণতা লাভ করেছে।

সন্ধ্যায় তার গণ্ডদেশে ভোরের সূর্য উদিত হলো … তখন আমার সামনে ইউসুফী সৌন্দর্যের অধিকারী ইউশা-সদৃশ কেউ প্রতিভাত হলো।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٨٠)
أستودع الله من لم ألتمحه ضحى … يوم الفراق ولم أقدر أودعه

بدر الكمال الذي في القلب مسكنه … وإن نأى بي فبالأردان مطلعه

ما خلت يوم النوى أني أعيش غداً … لكن حيني لم يصرعه مصرعه

عاينت يونس في التشبيه حين بدا … لا تعدليه فإن العذل يولعه

ومنهم:

 

‌‌4- محمد بن عبيد بن حسين بن عيسى الكلبي

هو القاضي أبو عبد الله بن حسون من أهل مالقة كان فاضلا خيرا من أهل العلم والفقه ولي قضاء غرناطة له بيت منيف ولعشيرته وأهله نباهة وله تأليف حسن في الزهد سماه كتاب المونس وهو موجود بأيدي الناس نفعة الله به وتوفي سنة تسع عشرة وخمسمائة ومنهم:

 

‌‌5- محمد بن سليمان بن أحمد النفزي

المعروف بابن أخت غانم يكنى أبا عبد الله من أهل مالقة ومن شيوخها الجلة أهل الأدب والرواية والثقة روى كثيرا من كتب الأدب وغيرها. وعمر واشتهر ورحل الناس إليه من كل بلد وسكن قرطبة مدة وأقرأ بها وكان لا يأخذ أجرا على القراءة معظم كتب الأدب واللغات وكان محققا فيها وذاكرا لها.
আমি সেই ব্যক্তিকে আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি, বিচ্ছেদের দিন দ্বিপ্রহরের সময় যাকে আমি দেখতে পাইনি … এবং তাকে বিদায় জানাতে সক্ষম হইনি।

পূর্ণিমার সেই পূর্ণ চাঁদ, যার আবাসস্থল আমার হৃদয়ে … যদিও সে আমা হতে দূরে সরে গেছে, কিন্তু আমার এই পরিধেয় বস্ত্রের প্রান্তই তার উদয়স্থল।

বিচ্ছেদের দিন আমি ভাবিনি যে আমি আগামীকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকব … কিন্তু আমার নির্ধারিত মরণ তখন আমাকে ধরাশায়ী করেনি।

যখন তাকে দেখা গেল, তখন আমি তাকে উপমার ক্ষেত্রে ইউনুসের মতো প্রত্যক্ষ করলাম … তাকে তিরস্কার করো না, কেননা তিরস্কার তাকে আরও প্রজ্জ্বলিত করে।

এবং তাদের মধ্য হতে:

 

‌‌৪- মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বিন হুসাইন বিন ঈসা আল-কালবী

তিনি হলেন মালাগাহর অধিবাসী কাজী আবু আব্দুল্লাহ বিন হাসসুন। তিনি অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ ও কল্যাণকামী এবং ইলম ও ফিকহ শাস্ত্রের বিদগ্ধ পণ্ডিত ছিলেন। তিনি গ্রানাডার বিচারপতির (কাজী) দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সুউচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন একটি পরিবার ছিল এবং তার গোত্র ও আত্মীয়-স্বজন ছিল সুপরিচিত। যুহদ (পরহেজগারি) বিষয়ে তার একটি চমৎকার রচনা রয়েছে যার নাম 'কিতাবুল মুনিস'; এটি বর্তমানে মানুষের নিকট সহজলভ্য। আল্লাহ তাকে এর দ্বারা উপকৃত করুন। তিনি পাঁচশত উনিশ হিজরী সালে মৃত্যুবরণ করেন। এবং তাদের মধ্য হতে:

 

‌‌৫- মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন আহমাদ আন-নাফযী

তিনি 'ইবনু উখতি গানিম' নামে পরিচিত ছিলেন এবং তার উপনাম (কুনিয়া) ছিল আবু আব্দুল্লাহ। তিনি মালাগাহর অধিবাসী এবং সেখানকার অন্যতম মহান শায়খ ছিলেন, যিনি আদব (সাহিত্য), রেওয়ায়েত (বর্ণনা) ও নির্ভরযোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। তিনি আদব ও অন্যান্য শাস্ত্রের প্রচুর কিতাব বর্ণনা করেছেন। তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং সুপ্রসিদ্ধ হয়েছিলেন; প্রতিটি দেশ থেকে মানুষ (জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে) তার নিকট আসত। তিনি দীর্ঘ সময় কর্ডোভায় বসবাস করেন এবং সেখানে পাঠদান করেন। আদব ও ভাষা বিষয়ক অধিকাংশ কিতাব পড়ানোর বিনিময়ে তিনি কোনো পারিশ্রমিক নিতেন না। তিনি এ সকল বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষ ও প্রখর স্মৃতির অধিকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٨١)
روى عنه الأئمة المشاهير كأبي الفضل عياض بن مرسى بن عياض وأبي القاسم ابن بشكوال وأبي عبد الله بن معمر وغيرهم ممن يطول ذكرهم وذكره القاضي أبو الفضل في رجاله فقال: كان شيخا مسنا من شيوخ أهل الأدب والنحو والرواية وجمع الكتب وأخذ الناس عنه هذين العلمين كثيرا ودرسهما غيره بغير اجر سمع منه كتب الحديث والغريب وحمل عنه جلة من المشايخ والنبلاء لعلو سنه ومعرفته وكان أكثر أخذه عن خاله الأديب أبي محمد غانم بن وليد وسمع أيضاً من القاضي أبي بكر بن صاحب الأحباس وأبي العباس الدلائي والقاضي أبي إسحاق بن وردون والقاضي أبي الوليد الوقشي والفقيه أبي المطرف الشعبي والقاضي أبي بطر السمنتاني وأبي محمد حجاج بن قاسم الماموني السبتي وجماعة غيرهم وذكره أيضاً أبو القاسم بن بشكوال بنحو ذلك وتوفي أبو عبد الله بمالقة في سنة خمس وعشرين وخمسمائة ومولده سنة سبع وثلاثين وأربعمائة ومنهم:

 

‌‌6- محمد بن عبد الرحمن بن سيد بن معمر المذحجي

من أهل مالقة يكنى أبا عبد الله من أهل العلم والفضل والورع بنى المسجد المنسوب إليه أنفق فيه مالا جما وهو من أعظم المساجد بناء ولم يجعل فيه شيئا يسمى باسم حيوان نحو الكلب وعراس بل صنع ذلك على غير شكل الكلب تورعا منه قال أبو القاسم بن بشكوال وقد ذكره روى عن أبي المطرف الشعبي وأبي عبد الله بن خليفة القاضي وسمع بقرطبة من أبي بكر المصحفي وأبي عبد الله بن فرج وأبي مروان بن سراج وأبي علي الغساني وغيرهم وكان من أهل العلم والفضل والدين والعفاف والتصاون أخذ الناس عنه وأجاز لنا ما رواه بخطه وتوفي رحمه الله بمالقة سنة تسع وثلاثين وخمسمائة انتهى ما ذكره ابن بشكوال
প্রখ্যাত ইমামগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন আবুল ফজল ইয়াদ বিন মুসা বিন ইয়াদ, আবুল কাসিম ইবনে বাশকুওয়াল, আবু আবদুল্লাহ বিন মুয়াম্মার এবং আরও অনেকে যাদের নাম উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যাবে। কাজী আবুল ফজল তাঁর রিজাল গ্রন্থে তাঁকে উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি আদব (সাহিত্য), নাহু (ব্যাকরণ) এবং রেওয়ায়েত (বর্ণনা) শাস্ত্রের আলেমদের মধ্যে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ শাইখ ছিলেন। তিনি গ্রন্থসমূহ সংগ্রহ করতেন এবং মানুষ তাঁর থেকে এই দুই শাস্ত্র প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করেছেন। তিনি অন্যদের কোনো বিনিময় ছাড়াই এই দুই শাস্ত্র পড়াতেন। তাঁর নিকট থেকে হাদিসের কিতাবসমূহ এবং 'গারিব' (দুর্লভ শব্দাবলি) শোনা হয়েছে। তাঁর উচ্চ বয়স ও জ্ঞানের গভীরতার কারণে অনেক বড় বড় শাইখ ও অভিজাত ব্যক্তি তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁর অধিকাংশ শিক্ষা অর্জন ছিল তাঁর মামা সাহিত্যিক আবু মুহাম্মদ গানিম বিন ওয়ালিদ থেকে। এ ছাড়াও তিনি কাজী আবু বকর বিন সাহেব আল-আহবাস, আবু আব্বাস আদ-দালাই, কাজী আবু ইসহাক বিন ওয়ারদুন, কাজী আবুল ওয়ালিদ আল-ওয়াকশি, ফকিহ আবু আল-মুতরিফ আশ-শা’বি, কাজী আবু বকর আস-সামান্তানি, আবু মুহাম্মদ হাজ্জাজ বিন কাসিম আল-মামুনি আস-সাবতি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শুনেছেন। আবু আল-কাসিম ইবনে বাশকুওয়ালও তাঁকে অনুরূপভাবে উল্লেখ করেছেন। আবু আবদুল্লাহ ৫২৫ হিজরি সনে মালাকায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর জন্ম ছিল ৪৩৭ হিজরি সনে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

 

‌‌৬- মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন সাইয়্যেদ বিন মুয়াম্মার আল-মাযহিজী

মালাকার অধিবাসী, তাঁর কুনিয়াত ছিল আবু আবদুল্লাহ। তিনি ইলম, মর্যাদা ও তাকওয়ার অধিকারী ছিলেন। তিনি নিজের নামে নামাঙ্কিত মসজিদটি নির্মাণ করেন এবং তাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। এটি স্থাপত্যের দিক থেকে অন্যতম বিশাল মসজিদ। তাকওয়ার কারণে তিনি এতে কুকুর বা এই জাতীয় কোনো প্রাণীর আকৃতির কিছু রাখেননি; বরং কুকুরের আকৃতি এড়িয়ে অন্য নকশায় তা নির্মাণ করেন। আবু আল-কাসিম ইবনে বাশকুওয়াল তাঁকে উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি আবু আল-মুতরিফ আশ-শা’বি এবং আবু আবদুল্লাহ বিন খলিফা আল-কাজী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি কর্ডোভায় আবু বকর আল-মুসহাফি, আবু আবদুল্লাহ বিন ফারাজ, আবু মারওয়ান বিন সিরাজ, আবু আলী আল-গাসসানি এবং অন্যদের নিকট থেকে শুনেছেন। তিনি ইলম, ফজল, দ্বীনদারি, পবিত্রতা ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। মানুষ তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তাঁর নিজ হাতে লেখা বর্ণনার জন্য আমাদের ইজাজত দিয়েছেন। তিনি ৫৩৯ হিজরি সনে মালাকায় মৃত্যুবরণ করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। ইবনে বাশকুওয়ালের বক্তব্য এখানেই শেষ।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٨٢)
وحدث عن أبي عبد الله رحمه الله الإمام أبو زيد السهيلي والحافظ أبو عبد الله بن الفخار وغيرهما من أهل مالقة وغيرهم من أهل مالقة وغيرهم وآخر من حدث عنه بمالقة الخطيب أبو كامل تمام بن الحسين رحمه الله تعالى منهم:

 

‌‌7- محمد بن الحسين بن كامل الحضرمي

المعروف بابن الفخار ويعرف بها وبصاحب نصف الربص كان من أعيان مالقة وجلتها وكاتبا بليغا وشاعرا مطبوعا وانتهى من كثرة المال وسعة الحال إلى ما لم يصل إليه غيره وذكره الفتح في كتاب القلائد ووصفه وأثبت له شعرا حسنا وكانت بينه وبين بني حسون منازعة فخرج فارا عن مالقة خوفا منهم قال أبو العباس أصبغ في كتابه فأجلسوا عليه الرصائد وضيقوا عليه الوصائد حتى سيق إليهم وهو مصفد في الحديد يرثي له القريب والبعيد فلم يزل يستعطفهم من السجن فمن ذلك ما أنشدني أبو بكر بن دحمان رحمه الله لأبي عبد الله المذكور وهو جده لأمه هذه القصيدة:

 

أريد بأن ألقاك في دارك التي … بها أمن الخواف من نوب الدهر

فيمنعني عض الحديد وكالح … إذا رمت باب السجن يدفع في الصدر

يقول تجلد للحديد وعضه … ومن ذا الذي يعطى التجلد في الأسر

فرش لي جناحي واجبر العظم إنه … مهيض وأنت المرء تعرف بالجبر

وإني عليها ما حييت لشاكر … كما عرفت في المحل عارفة القطر

ومن ذلك قوله:

 

أنت الكريم وقد ملكت فأسجح … واغفر فقد عظمت ذنوبي واصفح

لا تلتفت غش الولاة كنصحهم … فالكاشحون غشاهم بتنصح

يا حاميا سرج السيادة ممرعا … بالله عجل إن رأيت تسرحي
এবং আবু আব্দুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু যায়েদ আল-সুহাইলি, হাফিয আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল ফাকখার এবং মালাকার অধিবাসী ও অন্যান্যদের মধ্যে আরও অনেকে। আর মালাকাতে তাঁর থেকে সর্বশেষ যিনি বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন খতীব আবু কামিল তাম্মাম ইবনুল হুসাইন (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা)। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

 

‌‌৭- মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন কামিল আল-হাদরামি

তিনি ইবনুল ফাকখার নামে পরিচিত ছিলেন এবং এই নামে ও 'সাহিবু নিসফির রাবাস' নামেও পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তিনি মালাকার গণ্যমান্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং একজন প্রাঞ্জল লেখক ও স্বভাবজাত কবি ছিলেন। ধন-সম্পদ ও সচ্ছলতার দিক থেকে তিনি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন যেখানে অন্য কেউ পৌঁছাতে পারেনি। আল-ফাতহ তাঁর 'কিতাবুল কালাইদ'-এ তাঁকে উল্লেখ করেছেন, তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর চমৎকার কিছু কবিতা তাতে সংকলন করেছেন। তাঁর এবং বনু হাসসুনের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তিনি তাঁদের ভয়ে মালাকা থেকে পালিয়ে যান। আবু আব্বাস আসবাগ তাঁর কিতাবে বলেন: অতঃপর তারা তাঁর উপর নজরদারি বসাল এবং তাঁর পালানোর পথগুলো সংকীর্ণ করে ফেলল, শেষ পর্যন্ত তাঁকে লোহার শিকলে বন্দি অবস্থায় তাদের কাছে নিয়ে আসা হলো। তখন আপন ও পর সবাই তাঁর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছিল। তিনি কারাগার থেকে অবিরত তাদের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। এরই অংশ হিসেবে আবু বকর বিন দাহমান (রাহিমাহুল্লাহ) আমাকে তাঁর মাতামহ উপরে উল্লিখিত আবু আব্দুল্লাহর এই কাসিদাটি শুনিয়েছেন:

 

আমি আপনার সাথে সেই গৃহে সাক্ষাৎ করতে চাই... যেখানে কালের বিবর্তনে ভীত ব্যক্তি নিরাপত্তা পায়।

কিন্তু লোহার কামড় (শিকল) এবং এক কঠোর ব্যক্তি আমাকে বাধা দেয়... যখনই আমি কারাগারের দরজার ইচ্ছা করি, সে আমার বুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।

সে বলে, "লোহার আঘাত ও তার কামড়ের ব্যাপারে ধৈর্য ধর"... কিন্তু বন্দিদশায় ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা কার আছে?

সুতরাং আমার ডানা পালকযুক্ত করে দিন (সাহায্য করুন) এবং আমার হাড় জোড়া লাগিয়ে দিন, নিশ্চয়ই তা... ভেঙে গেছে; আর আপনি তো সেই ব্যক্তি যিনি হাড় জোড়া লাগানো বা পরোপকারের জন্য সুপরিচিত।

আর যতদিন আমি বেঁচে থাকব এর জন্য কৃতজ্ঞ থাকব... যেমন দুর্ভিক্ষের সময় বৃষ্টির মহিমা স্বীকৃত হয়।

তাঁর কবিতার আরও অংশ হলো:

 

আপনি তো মহানুভব, আর এখন আপনি সামর্থ্যবান, তাই ক্ষমা করুন... আমাকে মাফ করে দিন কারণ আমার অপরাধ বড় হয়ে গেছে, আর মার্জনা করুন।

শাসকদের প্রতারণাকে তাদের উপদেশের মতো মনে করবেন না... কারণ বিদ্বেষীরা তাদের প্রতারণাকে উপদেশের আবরণে আবৃত করে।

হে শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসন ও মর্যাদার রক্ষক... আল্লাহর দোহাই, আপনি যদি আমাকে মুক্ত করা সমীচীন মনে করেন তবে দ্রুত করুন।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٨٣)
واعلم لأني للعوارف شاكر … كالهيم تشكر عارفات الأمنح

أشفقت من عض الحديد وروعه … في الصدر لم يذهب ولم يتزحزح

ومن ذلك قوله:

 

ويحبسون بأن الدهر غيركم … والظن أكذب أين الفضل والكرم

يا حافظ العهد بأن خان الرجال به … ألم تكن بيننا فيما مضى ذمم

إن توقف عطف أوجفا كرم … فالطرف يكبو وينبو الصارم الخذم

أبا علي وخير القول أصدقه … دع ما تجيء به الظنات والتهم

تسيء بي الظن والرحمن يشهد لي … أني بحبلك بعد الله أعتصم

من غير الود ما بيني وبينكم … تغيرت عنده الأرزاق والنعم

فلا تطاوع أناسا في صدورهم … مع الحسادة نار الحقد تضطرم

من أجل نكسي يرى أن الصلاح به … أن يظهر السر مثل الموج يلتطم

فاخفض جناحا وخذ بالعفو ما ظلموا … لازلت تعفو ومنن عاداك تنتقم

إذا أصابت من الأيام حادثة … فأنت نور لديه تنجلي الظلم

وأن غدوت خفيف الجسم ضامرة … فالذابلات إليها تنجلي الظلم

الخيل تسبق إن كانت مضمرة … والسهم ينحت والصمصام والقلم

فلا تمكن سفيها من إرادته … فيصبح الرأس تعلو فوقه القدم

شاور أخاك ودع بعض الورى همجا … أما الذئاب فما ترعى بها الغنم

وشدد يديك بمن صحت مودته … فليس يدبغ جلد مسه حلم

وقد دعوت إلى إصلاح فاسده … وما بأذنك عن أمثالها صمم

وسقت بيتا جرى في دهرنا مثلا … والشعر فيه ترى الأمثال والحكم

يا أعدل الناس إلا في معاملتي … فيك الخصام وأنت الخصم والحكم

قال أبو العباس أصيغ رحمه الله: هذه القصيدة كانت سبب عفوهم عنه والله يغفر للجميع.
জেনে রেখ, আমি অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞ … যেমন তৃষ্ণার্ত উট দাতার দানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

লোহার দংশন ও তার ত্রাস থেকে আমি শঙ্কিত হয়েছি … যা বক্ষপিঞ্জরের ভেতর রয়ে গেছে, দূর হয়নি এবং বিচ্যুতও হয়নি।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তার এই উক্তি:

 

তারা ধারণা করে যে কালচক্র তোমাদের পরিবর্তন করে দিয়েছে … অথচ ধারণা হলো ডাহা মিথ্যা; সেই শ্রেষ্ঠত্ব ও মহানুভবতা এখন কোথায়?

হে অঙ্গীকার রক্ষাকারী, যখন অন্য পুরুষেরা তাতে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে … আমাদের মাঝে কি অতীতে কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না?

যদি মমত্ববোধ থমকে যায় কিংবা বদান্যতা রুক্ষ হয়ে পড়ে … তবে দৃষ্টি শক্তি হারায় এবং ধারালো তলোয়ার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

হে আবু আলী, সর্বোত্তম কথা হলো সত্য কথা … কুধারণা ও অপবাদ যা নিয়ে আসে তা বর্জন করো।

তুমি আমার সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করছ অথচ রহমান (আল্লাহ) আমার সাক্ষী … যে আমি আল্লাহর পর তোমার রজ্জুকেই মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরি।

যে ব্যক্তি আমার ও তোমাদের মাঝের সৌহার্দ্য নষ্ট করে দিয়েছে … তার কাছে রিজিক ও নেয়ামতসমূহ পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

সুতরাং এমন লোকদের অনুসরণ করো না যাদের অন্তরে … হিংসার সাথে সাথে বিদ্বেষের অগ্নি প্রজ্বলিত হচ্ছে।

আমার পতনের জন্য সে মনে করে যে তাতেই কল্যাণ … যেন গোপন বিষয়টি আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মতো প্রকাশ পায়।

সুতরাং তুমি বিনয়ী হও এবং তাদের জুলুমকে ক্ষমার সাথে গ্রহণ করো … তুমি তো সর্বদা ক্ষমা করতেই থাকো এবং শত্রুদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করো।

যখন মহাকালের কোনো বিপদ আপতিত হয় … তখন তুমিই সেই আলো যার কাছে অন্ধকার বিদূরিত হয়।

আর যদি তুমি কৃশকায় ও ক্ষীণদেহী হয়ে থাকো … তবে সেই ক্ষীণদেহীদের মাধ্যমেই অন্ধকার দূরীভূত হয়।

ঘোড়া তখনই অগ্রগামী হয় যখন তা কৃশকায় হয় … আর তীরকে চাঁছতে হয় এবং তলোয়ার ও কলমকেও তীক্ষ্ণ করতে হয়।

সুতরাং কোনো নির্বোধকে তার ইচ্ছায় ক্ষমতা দিও না … অন্যথায় মস্তক নিচে আর পা তার উপরে চলে আসবে।

তোমার ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করো এবং কিছু লোককে নিচ প্রকৃতির হিসেবে ছেড়ে দাও … কেননা নেকড়ে দিয়ে তো আর মেষ চড়ানো যায় না।

যার বন্ধুত্ব অকৃত্রিম তাকে তোমার হাত দিয়ে মজবুতভাবে ধরো … কারণ পোকায় ধরা চামড়া কখনো ট্যান করা (ব্যবহারযোগ্য করা) যায় না।

আমি বিশৃঙ্খলা সংশোধনের জন্য আহ্বান জানিয়েছি … আর তোমার কানে এই ধরনের কথার প্রতি কোনো বধিরতা নেই।

আমি এমন এক পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেছি যা আমাদের যুগে প্রবাদে পরিণত হয়েছে … আর কবিতায় প্রবাদ ও হিকমত পরিলক্ষিত হয়।

হে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি—তবে আমার সাথে আচরণের ক্ষেত্রটি ব্যতীত … তোমার কাছেই অভিযোগ অথচ তুমিই বিবাদী এবং তুমিই বিচারক।

আবু আব্বাস আসিগ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এই কাসিদাটিই ছিল তাদের পক্ষ থেকে তাকে ক্ষমা করার কারণ। আর আল্লাহ সকলকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٨٤)
ومن شعره رحمه الله تعالى يرثي القاضي أبا مروان عبيد الله بن حسون ويعزي ابنيه أبا علي وأبا عبد الله:

أما الدموع فمنها الواكف السرب … وفي الضلوع ضرام الحزن يلتهب

ما كان هلك أبي مروان عندهم … إلا الكسوف به الأعيان الحزن تنقلب

صارت له نيرات العين مظلمة … وعاد كالصاب في أفواهنا الطرب

في كل واد وناد من عشائرنا … انتابه الجد لما مات واللعب

كنا به من خطوب الدهر في حرم … والأمن تلحفنا أبراده القشب

وكان رأس المعاني ساميا صعدا … فطؤطىء الرأس واستغلى به الذنب

يا هضبة هد ركن المجد هدتها … وحده فل لما فلت الحسب

أقول فيك الذي يعزى لفاطمة … والقلب حران من فرط الهوى يجب

قد كان بعدك أنباء وهينمة … لو كنت شاهدها لم تكثر الخطب

العلم والحلم والتقوى وهمته … في العدل والبذل ثم الرأي والأدب

ما ضيع الله قوما أنت جارهم … أبا علي وإن طافوا وإن طلبوا

والسهل يصعب مهما كنت راكبه … فلا تهزنك الأهوال والرعب

وقد حننت أبا عبد الإله لكم … كما تحن لك الأقلام والكتب

وما اليراع إذا أصبحت تعمله … إلا تذل له الهندية القضب

تدنو وتبعد والمنات عالية … كالطرف يوجد فيه الجري والخبب

وإن حجبت زمانا عن زيارتكم … فالشمس شمس وإن كانت لها حجب

قلبي سنان تشق الصخر حدته … ومقولي صارم في متنه شطب

ولي وفاء لو أن الأرض تعهده … ما دل فيها لفرع النبعة الغرب
তাঁর কাব্যসম্ভার থেকে (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), তিনি কাজী আবু মারওয়ান উবাইদুল্লাহ বিন হাসসুন-এর শোকগাথা হিসেবে এবং তাঁর দুই পুত্র আবু আলী ও আবু আব্দুল্লাহর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লিখেছেন:

অশ্রুর কথা বললে, তার মাঝে কিছু অবিরত ঝরছে … আর পাঁজরের ভেতরে শোকের অনল প্রজ্বলিত হচ্ছে।

তাদের কাছে আবু মারওয়ানের প্রস্থান নিছক মৃত্যু ছিল না … বরং এ ছিল এক সূর্যগ্রহণ, যার ফলে সম্মানিত চক্ষুগুলো শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

তাঁর বিরহে চোখের উজ্জ্বল জ্যোতি অন্ধকার হয়ে গেছে … আর আমাদের কণ্ঠে আনন্দ তিক্ত স্বাদের বৃক্ষের মতো ফিরে এসেছে।

আমাদের বংশের প্রতিটি প্রান্তর ও সমাবেশে … তাঁর মৃত্যুতে গাম্ভীর্য ও চপলতা উভয়কেই শোক গ্রাস করেছে।

তাঁর মাধ্যমে আমরা কালের দুর্যোগ থেকে এক নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলাম … এবং নিরাপত্তা আমাদের নতুন পোশাকে আচ্ছাদিত করে রেখেছিল।

শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষদেশ ছিল সুউচ্চ ও আরোহণকারী … অতঃপর সেই মস্তক অবনত হলো এবং অনুগামীরা দিশেহারা হয়ে পড়ল।

হে সুউচ্চ পাহাড়, যার ধসে পড়ার সাথে সাথে গৌরবের স্তম্ভও ধসে পড়েছে … আভিজাত্যের ধার যখন ভোঁতা হয়ে গেল, তখন এর প্রান্তও খণ্ডিত হয়ে গেল।

আপনার স্মরণে আমি তাই বলি যা ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয় … আর আমার হৃদয়টি অত্যধিক ভালোবাসায় দগ্ধ ও স্পন্দিত হচ্ছে।

আপনার প্রস্থানের পর অনেক সংবাদ ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে … আপনি যদি উপস্থিত থাকতেন, তবে কথার এই স্তূপ বৃদ্ধি পেত না।

জ্ঞান, সহনশীলতা, তাকওয়া এবং তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল … ন্যায়বিচার, দানশীলতা, প্রজ্ঞা ও শিষ্টাচারের পথে নিবেদিত।

আল্লাহ সেই সম্প্রদায়কে ধ্বংস করবেন না যাদের আশ্রয়দাতা আপনি … হে আবু আলী, তারা যেখানেই বিচরণ করুক বা যা কিছুই অন্বেষণ করুক।

সহজ পথও কঠিন হয়ে যায় যার ওপরই আপনি আরোহণ করেন না কেন … সুতরাং ভয়াবহতা ও আতঙ্ক যেন আপনাকে বিচলিত না করে।

হে আবু আব্দুল ইলাহ, আমি আপনাদের জন্য তেমনই ব্যাকুল হয়েছি … যেমনটি কলম ও কিতাবসমূহ আপনাদের জন্য ব্যাকুল হয়।

আপনি যখন আপনার কলম পরিচালনা করতে শুরু করেন … তখন তীক্ষ্ণ ভারতীয় তরবারিগুলোও তার কাছে মস্তক অবনত করে।

এটি সান্নিধ্য দেয় আবার দূরত্ব বজায় রাখে, এর মর্যাদা সুউচ্চ … যেমন তেজস্বী অশ্ব, যার মধ্যে দ্রুতগতি ও ছন্দময় চাল উভয়ই বিদ্যমান।

যদি দীর্ঘকাল আপনাদের যিয়ারত থেকে আমি বঞ্চিত থাকি … তবুও সূর্য তো সূর্যই থাকে, যদিও তার সামনে মেঘের পর্দা পড়ে।

আমার হৃদয় এক বল্লমের ফলা যার তীক্ষ্ণতা পাথরকেও বিদীর্ণ করে … আর আমার রসনা এক শাণিত কৃপাণ যার পৃষ্ঠদেশে উজ্জ্বল রেখা বিদ্যমান।

আমার মাঝে এমন বিশ্বস্ততা রয়েছে যা যদি ধরিত্রী জানত … তবে এই ভূমিতে বৃক্ষের শাখাগুলো কখনই নুয়ে পড়ত না।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٨٥)
أبى لي الله إلا أن يفضلني … على أناس وإن ذموا وإن جلبوا

وكل قول إذا ما كان مدحكم … وإن أضيف إلى الإسهاب مقتضب

وإن غدا الجسم في ترب فليس لنا … إلا الدعاء بأن تهمي له السحب

فنعم الله حتى الحشر أعظمه … وحام فوق ثراه المزن ينسكب

ومن شعره رحمه الله برثي القاضي أبا عبد الله بن خليفة المذكور:

 

أقضت على القوم الكرام المضاجع … وفضت جموع بعده ومدامع

وأصبحت العليا يراع فؤادها … وحق لها أن تعتريها الروائع

ألا إنما الدنيا غداة فراقه … ككف أبين الخمس منها الأصابع

وكل كريم بعده هاله الأسى … وأصبح قد سدت عليه المطالع

شهاب هوى فالعلم أسود حالك … ونجم خوى فالخير أغبر شاسع

وطرف كبا والطرف لم يك عاثرا … وسيف نبا والسيف أبيض قاطع

فيا لدموع العين غيضت من البكا … ويا لحصاة القلب هن الصوادع

وهي طويلة وكتب إلى أبي الحسن بن معمر وكان صديقا له:

 

إلى كم يجد الحر والدهر يلعب … ويبعد عنه الأمن والخوف يقرب

وهل نافعي إن كنت سيفا مصمما … إذا لم يكن يلقى بحدي مضرب

أبينهم والليل كالنفس أسود … وأهجمهم والصبح كالطرس أشهب

فلا أنا عما رمت من ذاك مقصر … ولا خيل عزمي للمقادير تغلب

أبا حسن سائل لمن شهد الوغى … لئن كنت لم أصبح أهش وأطرب
আল্লাহ আমার জন্য এটিই অবধারিত করেছেন যেন তিনি আমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন … এমন সব লোকেদের ওপর যারা নিন্দা করে কিংবা হট্টগোল সৃষ্টি করে।

আপনাদের প্রশংসা সম্বলিত প্রতিটি কথা … যদিও তা অতিশয়োক্তির সাথে যুক্ত করা হয়, তবুও তা সংক্ষিপ্ত বলে গণ্য হয়।

যদি শরীর একদিন মাটিতে মিশে যায়, তবে আমাদের জন্য … তার কবরে মেঘমালা থেকে বৃষ্টি বর্ষণের দুআ ব্যতীত আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।

হাশরের ময়দান পর্যন্ত আল্লাহর নিআমতসমূহ তার ওপর মহান হোক … এবং তার কবরের ওপর সিক্ত মেঘমালা বিচরণ করুক।

তার (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) কবিতাসমূহের মধ্যে রয়েছে উল্লিখিত কাযী আবু আব্দুল্লাহ বিন খলিফার শোকগাঁথা:

 

সম্মানিত লোকদের শয্যাগুলো আজ কণ্টকাকীর্ণ হয়ে পড়েছে … আর তার বিদায়ের পর জমায়েতগুলো বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং অশ্রু বিগলিত হয়েছে।

মর্যাদা আজ ভীত-বিহ্বল হৃদয়ে পরিণত হয়েছে … আর তার জন্য এটিই স্বাভাবিক যে তাকে ভয়াবহতা গ্রাস করবে।

জেনে রেখো, তার বিয়োগের দিনে দুনিয়াটা যেন … এমন একটি হাত যার থেকে পাঁচটি আঙুলই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

তার পরে প্রতিটি মহান ব্যক্তি শোকের মেঘে আচ্ছন্ন হয়েছে … এবং তার সামনে উন্নতির সব পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।

এক উজ্জ্বল উল্কা খসে পড়ল, ফলে জ্ঞান আজ গাঢ় অন্ধকারে নিমজ্জিত … আর একটি নক্ষত্র নিভে গেল, ফলে কল্যাণ আজ ধূলিমলিন ও সুদূরপরাহত।

একটি ঘোড়া মুখ থুবড়ে পড়ল যদিও ইতিপূর্বে তার দৃষ্টি হোঁচট খাওয়ার মতো ছিল না … আর একটি তলোয়ার আজ লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো, অথচ সেই তলোয়ারটি ছিল শুভ্র ও ধারালো।

হায় চোখের অশ্রু, যা কান্নার চোটে শুষ্ক হয়ে গেছে … আর হায় অন্তরের পাষাণ খণ্ড, যা আজ বিদীর্ণ ও চূর্ণ-বিচূর্ণ।

এটি একটি দীর্ঘ কবিতা। তিনি তার বন্ধু আবুল হাসান বিন মুয়াম্মারের নিকট লিখেছিলেন:

 

আর কতকাল একজন স্বাধীন মানুষ পরিশ্রম করবে যেখানে কালচক্র কেবল তামাশা করছে … আর তার থেকে নিরাপত্তা দূরে চলে যাচ্ছে ও ভয় নিকটে আসছে।

আমি একটি অটল তলোয়ার হলেও আমার কী লাভ হবে … যদি আমার ধারের আঘাতে কোনো লক্ষ্যবস্তু পরাস্ত না হয়।

তাদের মাঝে রাতটি যেন প্রাণের ন্যায় কৃষ্ণবর্ণ … আর আমি তাদের ওপর আক্রমণ করি যখন সকালটা কাগজের ন্যায় শুভ্র।

আমি যা আকাঙ্ক্ষা করেছি তাতে কোনো ত্রুটি করিনি … আর আমার সংকল্পের অশ্ব তাকদীরের কাছে কখনো পরাজিত হয়নি।

হে আবুল হাসান, যুদ্ধে উপস্থিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করো … যদিও আজ আমি আনন্দিত ও প্রফুল্ল চিত্তে প্রভাত অতিবাহিত করছি না।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٨٦)
وأعتنق الأبطال حتى كأنما … يعانقني عنهم من البيض ربرب

وفي كل باب قد ولجت لكيدهم … ولكن أمور ليس تقضى فتصعب

فيا أسفا كم قد أبيت بذلة … وسيفي ضجيعي والجواد مقرب

وكتب معرضا لأهل بلده:

 

لو صح عقلك أعط النفس قدوتها … ولم تكن منبئا بالحقد والحسد

أما الخليط فقد حلوا بأرضهم … وأنت وسط الفيافي من بني أسد

يا من أتاه معمى ليس يفهمه … إن النسيجة من أرائك الفسد

أهون بخطب امرئ حلت بضاعته … من النميمة في أسوافها الكسد

الدين يضرب عنا من يعاندنا … ضربا يزايل بين الرأس والجسد

وهل يطيق دفاعا عن جوانبه … من حبله موثق في الجيد من مسد

ما للوحيدي ذنب في سيادته … إن كنت في جملة الغوغاء لم تسد

ورأى يوما ابنا لأحد إخوانه في بطالة فقال ينهاه:

 

فديتك أرعني سمعا فإني … نظمت لك النصيحة في نظام

ولا يوحشك عتب من محب … فإن الطب يذهب بالسقام

وإن العلم تدرسه صغيرا … كمثل النقش ثبت في الرخام

أبوك أبوك دينا لا يبارى … وجدك علمه كالبحر طام

وعمك لم يزل مذ كان يسمو … إلى العلياء بالهمم السوامي

وأنت فتى كمثل النجم لكن … يعز علي كونك في ظلام

وكان جالسا عند القاضي أبي علي بن حسون بمالقة في مجلس أحكامه وقد حضر جملة من أعيان مالقة فجاءه رجل فأخبره أن قوماً يعرفون ببني العصري من قرية يرفة وتعرف الآن برذلفة وبنو العصيري بها الآن فأخبروه أنهم سيبوا مواشيهم على غراس وزرع كان له بالقرية المذكورة أو قريبا منها فتناول إضبارة وكتب فيها:
আমি বীরদের আলিঙ্গন করি, যেন সাদা তলোয়ারগুলো … তাদের পক্ষ থেকে আমাকে আলিঙ্গন করছে।

তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে আমি প্রতিটি দরজায় প্রবেশ করেছি … কিন্তু কিছু বিষয় ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তা কঠিনই থেকে যায়।

হায় আফসোস! কতবার আমি লাঞ্ছনার মধ্যে রাত কাটিয়েছি … অথচ আমার তলোয়ার ছিল আমার শয্যাসঙ্গী এবং দ্রুতগামী ঘোড়াটি ছিল নিকটেই প্রস্তুত।

তিনি তার শহরের লোকদের প্রতি বিমুখ হয়ে লিখেছিলেন:

 

যদি তোমার বুদ্ধি সঠিক থাকত, তবে আত্মাকে তার যোগ্য আদর্শ প্রদান করতে … এবং তুমি বিদ্বেষ ও হিংসার সংবাদবাহক হতে না।

সঙ্গীরা তো তাদের ভূমিতে পৌঁছে আবাস গেঁড়েছে … আর তুমি বনু আসাদের প্রান্তরের মাঝে রয়ে গেলে।

হে ব্যক্তি, যার কাছে কোনো রহস্যময় বিষয় এসেছে যা সে বোঝে না … নিশ্চয়ই এই বুননটি অকেজো সিংহাসনের তৈরি।

সেই ব্যক্তির বিপদ কতই না তুচ্ছ যার পণ্যের সমাহার চোগলখুরিতে পরিণত হয়েছে … যার বাজারে কোনো চাহিদা নেই।

দ্বীন আমাদের পক্ষ থেকে তাদের আঘাত করে যারা আমাদের বিরোধিতা করে … এমন এক আঘাত যা মাথা ও দেহকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

সে কি তার চারপাশ রক্ষা করার ক্ষমতা রাখে … যার গলায় খেজুরের আঁশের রশি শক্ত করে বাঁধা?

ওয়াহিদী তার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য অপরাধী নয় … যদি তুমি সাধারণ জনমন্ডলীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে না পারো।

একদিন তিনি তার এক ভাইয়ের ছেলেকে অলস অবস্থায় দেখে তাকে নিষেধ করে বললেন:

 

আমি তোমার জন্য উৎসর্গিত হই, আমার কথা শোনো; কেননা আমি … তোমার জন্য এই উপদেশের মালা গেঁথেছি।

কোনো প্রেমিকের তিরস্কার যেন তোমাকে বিচলিত না করে … কারণ ওষুধ যেমন অসুস্থতা দূর করে (তেমনি তিরস্কারও)।

শৈশবে যে জ্ঞান তুমি অর্জন করবে … তা মার্বেল পাথরে খোদাই করা নকশার মতো স্থায়ী হয়।

তোমার পিতা দ্বীনদারিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী … এবং তোমার দাদার জ্ঞান ছিল টইটম্বুর সমুদ্রের মতো।

তোমার চাচা চিরকাল উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণ করে আসছেন … উচ্চ হিম্মতের মাধ্যমে।

আর তুমি নক্ষত্রের মতো এক যুবক, কিন্তু … তোমার অন্ধকারে থাকাটা আমার জন্য বড়ই কষ্টের।

তিনি মালাগাতে বিচারক আবু আলী বিন হাসসুনের বিচারিক মজলিসে বসা ছিলেন এবং সেখানে মালাগার একদল গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি এসে তাঁকে খবর দিল যে, ইরাফাহ গ্রাম (যা বর্তমানে রাযলাফাহ নামে পরিচিত) থেকে আসা একদল লোক—যারা বনু আসরি নামে পরিচিত এবং বনু আসিরিরা এখনও সেখানে রয়েছে—তারা তাঁকে জানাল যে, তারা উক্ত গ্রামে বা তার নিকটবর্তী স্থানে থাকা তাঁর বৃক্ষ ও ফসলের ওপর তাদের গবাদিপশু ছেড়ে দিয়েছে। তখন তিনি একটি কাগজের ফাইল নিলেন এবং তাতে লিখলেন:
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٨٧)
يا ذا الذي بجماله وكماله … رد القلوب النافرات أوانسا

بقر العصيري بقرية يرفة … رتعت فآذت غارسا أو دارسا

وله رعاة من بنيه خمسة … أخنوا على شجري فأصبح يابسا

ودفعها للقاصي فأمر بهم فأحضرهم وسجنهم واشتد عليهم وكلفه القاضي ابن حسون أن يذيل له هذا البيت وأنشده له:

 

أترضى أن تطير بريش عز … ومن يهواك مقصوص الجناح

فقال مرتجلا:

 

إذا هاجت من الأيام حرب … فإن جميل رأيكم سلاحي

وإن مالت إلى الراحات نفسي … فذكرك جنتي وهواك راحي

وقد أصبحت أنشد بيت شعر … يلوح الغدر فيه كالصباح

أترضى أن تطير بريش عز … ومن يهواك مقصوص الجناح

ومن كتبه رحمه الله ما كتب به في حق أحد أصهاره: المفاتحة أعزك الله خوض غمار وضرب قمار وقد ألأم الشعب وأرأب الصعب لكن تنشأ أزمات وتطرأ لمن لا يرد من القرابات عزمات يوضع لها الخد ويركب فيها الجد ويترك الأهون ويؤخذ الأشد وإني اقتضبت هذه الحروف من خطوب تنوب وحوادث مضلات لا تؤوب وكأني أنحتها من حجارة الأزارق وأستنزلها من خلب البوارق وأسألها عود الشباب المفارق ورد الليالي الحالكة على المفارق فناهيك بها عسرة وإضافة وافتقارا إلى عطائك وفاقة وحسرة لا ترجو منها الخواطر إفاقة وفلان كر على القف ولا يعرف ما في الخف قد ركب لجاجته ولم ير ما حيلة إلا حاجته ولولا ولاء صادق حثه وثناء عاطر بثه وشهادة في محاسنك استحفظها ونبذ من محامدك نبذها إلي ولفظها استحق بها مني إحمادا واستوجب لمكانها اعتدادا واعتمادا إلى ما اعترف به من إكمال ناظر واهتبال خاطر عمه فضلها وعمره طولها ما تمكن لي كتب حرف ولا تنسمت من إجهاض الحوادث بعرف والله يشكر إجمالك ويحمد إخلالك ويبلغك في الدارين آمالك بمنه
হে আপনি, যিনি আপনার সৌন্দর্য ও পূর্ণতার মাধ্যমে … অবাধ্য অন্তরগুলোকে অনুরক্ত করে ফিরিয়ে আনেন।

ইয়ারফা গ্রামের আসীরির গরুগুলো … বিচরণ করে রোপণকারী বা শিক্ষার্থীকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তার পাঁচজন রাখাল পুত্র রয়েছে … তারা আমার গাছগুলোর ওপর চড়াও হয়েছে, ফলে সেগুলো শুষ্ক হয়ে গেছে।

অতঃপর তিনি সেগুলো বিচারকের নিকট পেশ করলেন। বিচারক তাদের হাজির করার আদেশ দিলেন এবং তাদের কারারুদ্ধ করলেন ও তাদের ওপর কঠোরতা অবলম্বন করলেন। বিচারক ইবনে হাসসুন তাকে এই কবিতার চরণের সাথে আরও কিছু চরণ যুক্ত করতে বললেন এবং তাকে এটি শোনালেন:

 

আপনি কি সম্মানের পালক নিয়ে উড়তে পছন্দ করবেন … অথচ যে আপনাকে ভালোবাসে তার ডানা কাটা?

অতঃপর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বললেন:

 

যদি দিনগুলোর পক্ষ থেকে যুদ্ধ শুরু হয় … তবে আপনার সুন্দর অভিমতই আমার অস্ত্র।

আর যদি আমার মন আরামের দিকে ঝুঁকে পড়ে … তবে আপনার স্মরণই আমার জান্নাত এবং আপনার ভালোবাসাই আমার প্রশান্তি।

আমি এমন এক কবিতার চরণ আবৃত্তি করতে শুরু করেছি … যাতে বিশ্বাসঘাতকতা প্রভাতের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আপনি কি সম্মানের পালক নিয়ে উড়তে পছন্দ করবেন … অথচ যে আপনাকে ভালোবাসে তার ডানা কাটা?

তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) রচনাবলির মধ্যে একটি হলো যা তিনি তাঁর এক জামাতার বিষয়ে লিখেছিলেন: আলোচনা শুরু করা—আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন—গভীর সমুদ্রে অবগাহন এবং ভাগ্যের জুয়া খেলার মতো। এটি বিচ্ছেদকে জোড়া লাগিয়েছে এবং কঠিনকে সহজ করেছে, তবে এমন সব সংকট সৃষ্টি হয় এবং এমন সব সংকল্প উপস্থিত হয় তাদের জন্য যাদের আত্মীয়তা ছিন্ন করা যায় না, যার সামনে মস্তক অবনত করতে হয় এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালাতে হয়; এতে সহজ পথ ত্যাগ করে কঠিন পথ গ্রহণ করা হয়। আমি এই শব্দগুলো এমন সব বিপদ থেকে চয়ন করেছি যা বারবার ফিরে আসে এবং এমন সব বিভ্রান্তিকর ঘটনা থেকে যা পিছু ছাড়ে না। যেন আমি এগুলোকে নীল কঠিন পাথর থেকে খোদাই করছি এবং বিদ্যুতের চমকপ্রদ (বৃষ্টিহীন) মেঘমালা থেকে নামিয়ে আনছি। আমি এগুলোর মাধ্যমে হারানো যৌবন ফিরে পাওয়ার এবং সিথির ওপর ঘন কালো রাতগুলো ফিরে আসার প্রার্থনা করছি। আপনার দান ও অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী হওয়ার জন্য এই কষ্ট, অভাব ও আক্ষেপই যথেষ্ট, যেখান থেকে মন কোনো আরোগ্য আশা করে না। অমুক ব্যক্তি টিলার ওপর ঘোড়া ছুটিয়ে দিয়েছে এবং সে জানে না মোজার ভেতর কী আছে। সে তার একগুঁয়েমিতে চড়েছে এবং স্বীয় প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখেনি। যদি না আপনার প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য তাকে উৎসাহিত করত এবং আপনার সুগন্ধি প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ত, এবং আপনার মহত্ত্বের এমন সাক্ষ্য না থাকত যা সে সংরক্ষণ করেছে এবং আপনার প্রশংসার এমন কিছু অংশ না থাকত যা সে আমার কাছে অর্পণ করেছে, যার কারণে সে আমার পক্ষ থেকে প্রশংসার যোগ্য হয়েছে এবং তার অবস্থানের কারণে মর্যাদা ও নির্ভরতা লাভ করেছে। এছাড়া সে যে পূর্ণ দৃষ্টি এবং একাগ্র চিত্তের কথা স্বীকার করেছে, যা তার অনুগ্রহে পরিবেষ্টিত এবং তার দীর্ঘায়ু দ্বারা পূর্ণ, তাতে আমার পক্ষে একটি অক্ষর লেখাও সম্ভব হতো না এবং বিপদের গর্ভপাত থেকে কোনো সুঘ্রাণও পেতাম না। আল্লাহ আপনার মহানুভবতার প্রতিদান দিন, আপনার ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করুন এবং তাঁর অনুগ্রহে আপনার ইহকাল ও পরকালের সকল আশা পূর্ণ করুন।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٨٨)
وكتب معزيا أطال الله بقاء السيد المفدى والكريم الأعز الأهدى وجلاله مأثور وأجره موفور ومذخور تأبى الأيام أدام الله عزتك إلا أن تفجع بساداتها وتجري من اخترامهم على عاداتها فالحازم من استسر الحوادث قبل أن تحل وهانت عليه من حيث شملت الكل وإن مصابك بالصبر الجميل عن أوصابك فقد علمت أن الحزن ما نفع ولا أجدى ولا استرد في الدهر سؤددا فقد ولا مجدا فإن كان شأن هذا الحادث شمولا وكل على تلك الأعواد محمولا فما لنا لا نبكي أنفسنا وهي أحب أو نرجع فيمن فقدنا إلى ما أراده الرب فإنا الله وإنا إليه راجعون عليها مصيبة قدحت ورزية فدحت. وقد يعلم الله أني ساهمتك مساهمة فؤادك وأخذت من رزئك ما أخذت من ودادك وإني لأتذمم من دهر يعوق لا تقضى معه الحقوق فكان من واجب مرزيتك أن أعمل قدمي إلى تعزيتك لكن الذنب للأيام لا لي وحسبك اليوم ما لك قبلي.

وكتب في حق المعروف بالزريزير وكان رجلا حسن الإنشاد يرد على النبهاء فيخف عليهم. ولكتاب العصر فيه كتب مشهورة منها ما كتب به أبو عبد الله المذكور وهو

 

يسقط الطير حيث ينتشر الح … ب وتغشى منازل الكرماء

لما كنت أعزك الله روضة في الأدب طيبة الماء والعشب وغدوت دوحة في المجد مورقة بالتهمم مثمرة بالجد أوشكت طيور الثناء أن تنشر عليك قلاعا وحامت عصافير الرجاء عليك عطاشا وجياعا فوجدت بثراك الحب النثير والماء العذب النمير فشربت والتقطت وانتفضت وترنمت ولم ترع بصر صرة الصقور حين غدت في الماء النمير فهي مائلة على طي الأجنحة مثنية عليك بالألسنة المفصحة قد جعلت أراكها قصب الأراك وبسطت درانيكها فلم تقتنص بأيدي الفخوخ والأشراك تتغنى من الطرب وتتناشد بمخضرة القصب:
তিনি শোক প্রকাশ করে লিখেছেন: আল্লাহ এই উৎসর্গিত নেতার এবং সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ও সুপথপ্রাপ্ত ব্যক্তির হায়াত দীর্ঘায়িত করুন। তাঁর মর্যাদা অবিস্মরণীয় এবং তাঁর প্রতিদান পরিপূর্ণ ও সংরক্ষিত থাকুক। কালচক্র—আল্লাহ আপনার সম্মান অক্ষয় রাখুন—সর্বদাই তার মহানায়কদের বিয়োগের মাধ্যমে শোকের সৃষ্টি করে এবং তাদের বিনাশ করার চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। সুতরাং সেই ব্যক্তিই বিচক্ষণ, যে বিপদ আসার পূর্বেই তা অনুধাবন করে সতর্ক হয় এবং যেহেতু তা সকলের জন্যই অবধারিত, তাই তা তার কাছে সহনীয় হয়ে ওঠে। আপনার এই শোকের মুহূর্তে সুন্দর ধৈর্যের মাধ্যমে দুঃখ জয় করুন। নিশ্চয়ই আপনি জানেন যে, বিলাপ কোনো উপকার করে না, কোনো কাজে আসে না এবং তা মহাকালের গর্ভে বিলীন হওয়া নেতৃত্ব বা গৌরবকেও ফিরিয়ে আনতে পারে না। যদি এই দুর্যোগের প্রকৃতি হয় সর্বজনীন এবং সকলকেই যদি সেই কাষ্ঠফলকে আরোহণ করতে হয়, তবে কেন আমরা নিজেদের জন্য কাঁদব না—অথচ আমরাই নিজেদের অধিক প্রিয়—অথবা কেন আমরা হারানো স্বজনদের বিষয়ে রবের ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করব না? নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। এটি এমন এক বিপদ যা দহন করেছে এবং এমন এক মসিবত যা অতিশয় ভারাক্রান্ত করেছে। আল্লাহ নিশ্চয়ই জানেন যে, আমি আপনার শোকের ভাগ নিয়েছি আপনার হৃদয়ের মতোই এবং আপনার বিয়োগ ব্যথায় আমি ঠিক ততটুকুই ব্যথিত হয়েছি যতটুকু আপনার প্রতি আমার প্রগাঢ় ভালোবাসা রয়েছে। আমি এমন এক প্রতিকূল সময়ের নিন্দা করি যা প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় এবং যাতে অধিকারসমূহ আদায় করা সম্ভব হয় না। আপনার এই শোকাতুর অবস্থায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে সান্ত্বনা প্রদান করা আমার জন্য আবশ্যক ছিল, কিন্তু অপরাধ তো কালের, আমার নয়। আজ আপনার প্রতি আমার এই সহানুভূতিই আপনার জন্য পর্যাপ্ত হোক।

তিনি যুরায়যির নামে পরিচিত এক ব্যক্তির সম্পর্কে লিখেছেন, যিনি ছিলেন একজন সুকণ্ঠী আবৃত্তিকার। তিনি বিদ্বানদের নিকট আসতেন এবং তারা তাকে সানন্দচিত্তে গ্রহণ করত। সমকালীন সাহিত্যিকদের নিকট তার বিষয়ে অনেক প্রসিদ্ধ রচনা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লিখিত আবু আবদুল্লাহ যা লিখেছেন তা হলো:

 

পাখিরা সেখানেই অবতরণ করে যেখানে দানা ছড়ানো থাকে … আর উদার ব্যক্তিদের আবাসস্থলেই সবাই ভিড় করে।

আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন; যেহেতু আপনি সাহিত্যের এক তপোবন সদৃশ, যার পানি সুপেয় এবং তৃণভূমি মনোরম। আপনি আভিজাত্যের এমন এক মহীরুহে পরিণত হয়েছেন যা উচ্চাকাঙ্ক্ষার পাতায় সুশোভিত এবং প্রচেষ্টার ফল দ্বারা সমৃদ্ধ। ফলে প্রশংসার পাখিরা আপনার ওপর ডানা বিস্তার করতে উদ্যত হয়েছে এবং আশার চড়ুইগুলো তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত হয়ে আপনার চারপাশে ভিড় করেছে। তারা আপনার মাটিতে ছিটানো শস্যদানা এবং নির্মল সুপেয় পানি খুঁজে পেয়েছে। অতঃপর তারা পান করেছে, দানা খুঁটে খেয়েছে, ডানা ঝেড়েছে এবং সুমধুর সুরে গান গেয়েছে। স্বচ্ছ পানির ধারে যখন বাজপাখিদের সমাগম হলো, তখনও তারা ভীত হয়নি। বরং তারা ডানা গুটিয়ে আপনার অনুরাগী হয়ে রইল এবং সাবলীল ভাষায় আপনার গুণকীর্তন করতে লাগল। তারা পিলু বৃক্ষের ডালকে তাদের আশ্রয়স্থল বানাল এবং সেখানে নিশ্চিন্তে বিচরণ করতে লাগল; কোনো ফাঁদ বা জালের হাত তাদের বন্দি করতে পারল না। তারা পরম উল্লাসে গান গাইছে এবং নলখাগড়ার সবুজ ঝাড়ে কবিতা আবৃত্তি করছে।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٨٩)
فيا لك من قبرة بمعمر … خلا لك الجو فبيضي واصفري

ونقري ما شئت أن تنقري

ولما قطع الآن إليك منها زريزيز له أبداً بالثناء عليك صفير قص جناحه فهو نحوك حاذف وحسن صاحبه فكل قلب عليه عاطف رجوت أن تعيده وافر الجناح صافرا يذكرك في الغدو والرواح.

وكلامه رحمه الله كثير وتوفي بمالقة في شهر شعبان سنة تسع وثلاثين وخمسمائة ومنهم:

 

‌‌8- محمد بن عبد الله بن فطيس

يكنى أبا عبد الله من أهل مالقة كان طبيبا ماهرا وأديبا شاعرا وكان في أيام بني حسون يخف عليهم ويلج عندهم وله فيهم أمداح كثيرة يحكى أنه دخل يوما على القاضي أبي مروان بن حسون بعد انقطاع عن زيارته فعتبه القاضي على انقطاعه فاعتذر له ثم أنشد:

 

يا حامى من علاه تاجا … ومن سنا وجهه سراجا

لو كان زوري عديل ودي … لكنت من بابك الرتاجا

إن لم يعرج عليك شخصي … نفسي وروحي عليك عاجا

ومن شعره رحمه الله تعالى:

 

يا نازح الدار نائي البلد … وخالدا في الفؤاد والخلد

إن قدر الله بالتقائك بي … لا عدت في البين آخر الأبد

وله رحمه الله تعالى:

 

أيا سرب القطا سربي مروع … ومن والاه قد والى انتزاحا
হে মুয়াম্মারের চাতক পাখি! তোমার জন্য আকাশ উন্মুক্ত, তাই ডিম পাড়ো এবং শিস দাও।

আর তোমার যা ইচ্ছা ঠোকর দাও।

আর এখন যখন তার পক্ষ থেকে একটি ক্ষুদ্র পাখি তোমার দিকে পাড়ি জমিয়েছে, যার শিস সর্বদা তোমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তার ডানা ছেঁটে দেওয়া হয়েছে ফলে সে তোমার দিকেই ধাবমান। তার সাথী অতি উত্তম, তাই প্রতিটি হৃদয় তার প্রতি দয়াশীল। আমি আশা করি তুমি তাকে পূর্ণ ডানা বিশিষ্ট অবস্থায় এবং শিস দেওয়া অবস্থায় ফিরিয়ে দেবে, যে সকাল-সন্ধ্যায় তোমার কথা স্মরণ করবে।

তার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বাণী অনেক। তিনি ৫৩৯ হিজরি সনের শাবান মাসে মালাগাতে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

 

‌‌৮- মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ফুতায়েস

তাঁর ডাকনাম আবু আব্দুল্লাহ, তিনি মালাগার অধিবাসী ছিলেন। তিনি একজন দক্ষ চিকিৎসক এবং সাহিত্যিক কবি ছিলেন। বনু হাসসুনদের আমলে তিনি তাদের কাছে যাতায়াত করতেন এবং তাদের নিকট সমাদৃত ছিলেন। তাদের প্রশংসায় তাঁর অনেক কবিতা রয়েছে। বর্ণিত আছে যে, একদিন তিনি দীর্ঘ বিরতির পর কাজী আবু মারওয়ান বিন হাসসুনের নিকট উপস্থিত হলেন। কাজী তাঁর অনুপস্থিতির জন্য তাঁকে তিরস্কার করলেন, তখন তিনি ওজর পেশ করলেন এবং আবৃত্তি করলেন:

 

হে উচ্চমর্যাদার রক্ষক যার উচ্চতা মুকুটের মতো … এবং যার চেহারার জ্যোতি প্রদীপের মতো।

যদি আমার যাতায়াত আমার ভালোবাসার সমান হতো … তবে আমি তোমার দরজার কবজা হয়ে থাকতাম।

যদি আমার দেহ তোমার নিকট পৌঁছাতে না-ও পারে … তবে আমার নফস ও রূহ তোমার দিকেই ধাবিত হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর কবিতার অংশবিশেষ:

 

হে গৃহহারা ও দূর দেশের প্রবাসী … তবুও তুমি হৃদয়ে ও অন্তরে চিরস্থায়ী।

আল্লাহ যদি আমার সাথে তোমার সাক্ষাতের তকদীর লিখে থাকেন … তবে আমি আর কখনোই চিরতরের জন্য বিচ্ছেদে ফিরে যাব না।

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর আরও কবিতা:

 

হে কাত্তা পাখির ঝাঁক, আমার ঝাঁক ভীত-সন্ত্রস্ত … আর যে তাদের অনুসরণ করে, সে তো বিজন মরুর পথই বেছে নেয়।
(খণ্ড: ১) মাতলাউল আনওয়ার ওয়া নুযহাতুল বাসাইর ওয়াল আবসার (পৃষ্ঠা: ٩٠)
وبي ظمأ إلى لقياه برح … فهل فيكن باذلة جناحا

ومن ذلك قوله

 

قالوا به صفرة عابت محاسنه … فقلت: ما ذاكم عيب به نزلا

عيناه تطلب من أوتار من قتلت … فليس تلقاه إلا خائفا وجلا

وفر عن مالقة لأمور طلب فيها فاضطر في غربته إلى بيع ثياب ظهره فقال:

 

لعمرك إن بيعت وفي دار غربة … ثيابي أن ضاقت علي المشاكل

فما أنا إلا السيف يأكل غمده … له حلية من نفسه وهو عاطل

وله رحمه الله تعالى:

 

يا من تبسم عن جواهر بارق … أهد السلام لمستهام وامق

تأبى عللي برشف ريقك مرة … أولست أحيانا له كالباصق

إن كنت لا تهدي السلام لعلة … فاهد السلام مع الخيال الطارق

فلعل طيفك أن يزيل بريهة … نار الغرام عن الفؤاد الخافق

وله رحمه الله تعالى:

 

لقاؤكم الذي جلب الفراقا … لقاء كم يشقي بل أشاقا

وكان محببا أبدا لنفسي … عناقهم فكره لي العناقا

مضوا وبقيت أسبح في دموعي … بنار الشوق أحترق احتراقا

فلو أني ظفرت بشخص بين … لكنت أذيقه مما أذاقا

وله رحمه الله تعالى:

 

ولما رأيتك أوليتني … قبيحا وأوليت غيري جميلا

تسليت عنكم رويدا رويدا … فرب السلو قليلا قليلا
তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য আমার এক তীব্র তৃষ্ণা রয়েছে … তোমাদের মাঝে কি এমন কেউ আছে যে তার ডানা ধার দেবে?

তাঁর উক্তিগুলোর মধ্যে এটিও একটি:

 

তারা বলল, তার মাঝে এক পাণ্ডুতা রয়েছে যা তার সৌন্দর্যকে কলঙ্কিত করেছে … আমি বললাম: তার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা কোনো খুঁত নয়।

তার চক্ষুদ্বয় যাদের সে হত্যা করেছে তাদের থেকে প্রতিশোধ কামনা করছে … তাই তাকে সর্বদা ভীত ও সন্ত্রস্ত অবস্থাতেই পাবে।

কিছু বিষয়ের কারণে তিনি মালাগা থেকে পলায়ন করেন যেখানে তাঁকে তলব করা হয়েছিল, ফলে প্রবাস জীবনে তিনি নিজের পরনের কাপড় বিক্রি করতে বাধ্য হন এবং বলেন:

 

তোমার জীবনের শপথ, যদি পরবাসে থাকাকালীন আমার পোশাক বিক্রি করা হয় … তবে তা এই কারণে যে সমস্যাসমূহ আমার ওপর সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।

আমি তো সেই তলোয়ারের ন্যায় যে নিজের খাপকেই খেয়ে ফেলে … তার নিজের মাঝেই তার অলঙ্কার রয়েছে অথচ সে রিক্ত।

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর আরও কবিতা:

 

হে সেই সত্তা, যার মুচকি হাসি উজ্জ্বল মুক্তার ন্যায় দীপ্তিমান … এক ব্যাকুল প্রেমিকের প্রতি শান্তির বার্তা প্রেরণ করো।

আমার অসুস্থতা তোমার লালারস একবার পান করতেও অস্বীকার করছে … অথচ আমি কি কখনো কখনো তার প্রতি থুতু নিক্ষেপকারীর ন্যায় নই?

কোনো কারণে যদি তুমি শান্তির বার্তা পাঠাতে না পারো … তবে তা রাতের স্বপ্নে আসা কল্পনার মাধ্যমেই পাঠিয়ে দিও।

হয়তো তোমার সেই কাল্পনিক রূপ মুহূর্তের জন্য হলেও … এই স্পন্দিত হৃদয়ের প্রেমের আগুন প্রশমিত করবে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর আরও কবিতা:

 

তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ যা বিচ্ছেদ বয়ে আনে … এমন সাক্ষাৎ কতই না কষ্টদায়ক, বরং এটি অতিশয় ব্যাকুল করে দেয়।

তাদের আলিঙ্গন সর্বদা আমার মনের কাছে প্রিয় ছিল … কিন্তু এখন তা আমার কাছে আলিঙ্গনকেই অপ্রিয় করে তুলেছে।

তারা চলে গেছে আর আমি আমার চোখের জলে সাঁতার কাটছি … আকাঙ্ক্ষার আগুনে পুড়ছি দাউদাউ করে।

আমি যদি বিচ্ছেদের মূর্ত রূপকে কবজায় পেতাম … তবে সে আমাকে যা আস্বাদন করিয়েছে, আমিও তাকে তারই স্বাদ গ্রহণ করাতাম।

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর আরও কবিতা:

 

যখন দেখলাম তুমি আমার সাথে মন্দ আচরণ করছ … আর অন্যদের সাথে করছ সুন্দর ব্যবহার।

আমি ধীরে ধীরে তোমাদের স্মৃতি থেকে বিমুখ হতে লাগলাম … কেননা ধৈর্য বা বিস্মৃতি অল্প অল্প করেই অর্জিত হয়।