(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: -)
الأسماء والصفات - البيهقي   (أبو بكر البيهقي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: الأسماء والصفات للبيهقي

المؤلف: أبو بكر أحمد بن الحسين البيهقي (ت 458 هـ)

حققه وخرج أحاديثه وعلق عليه: عبد الله بن محمد الحاشدي

قدم له: فضيلة الشيخ مقبل بن هادي الوادعي

الناشر: مكتبة السوادي، جدة - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1413 هـ - 1993 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আসমা ওয়াস সিফাত - আল-বায়হাকী   (আবু বকর আল-বায়হাকী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: আল-বায়হাকী রচিত আল-আসমা ওয়াস সিফাত

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-বায়হাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হি.)

তাহকীক, হাদিস যাচাই ও টীকা প্রদান করেছেন: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-হাশেদী

ভূমিকা প্রদান করেছেন: ফযীলাতুশ শায়খ মুকবিল বিন হাদী আল-ওয়াদিয়ী

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাওয়াদী, জেদ্দা - সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হি. - ১৯৯৩ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ১৫)
الْأَسْمَاءُ وَالصِّفَاتُ لِلْبَيْهَقِيِّ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَبِهِ إِيَّاهُ نَسْتَعِينُ

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ صَاحِبِ الْخُلُقِ الْعَظِيمِ وَالْمَنْزِلِ الْأَسْنَى، الْفَاتِحِ الْخَاتِمِ الْمُنَزَّلِ فِي تَقْرِيبِهِ {فَكاَنَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى} [سورة: النجم، آية رقم: 9] وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ الْغُرَرِ الْكِرَامِ، نُجُومِ الْهُدَى وَسَلَّمَ، صَلَاةً وَتَسْلِيمًا فَائِضَيِ الْبَرَكَاتِ عَدَدَ خَلْقِ اللَّهِ فُرَادَى وَمَثْنَى، أَخْبَرَنِي شَيْخُنَا الْعَارِفُ بِاللَّهِ الْوَارِثُ الْكَامِلُ صَفِيُّ الدِّينِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَدَنِيُّ الْأَنْصَارِيُّ قُدِّسَ سِرُّهُ، إِجَازَةً عَنْ شَيْخِهِ الْعَارِفِ بِاللَّهِ أَبِي الْمَوَاهِبِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الْقُدُّوسِ الْعَبَّاسِيِّ الشِّنَّاوِيِّ ثُمَّ الْمَدَنِيِّ قُدِّسَ سِرُّهُ عَنِ الشَّيْخِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الرَّمْلِيِّ، عَنْ شَيْخِ الْإِسْلَامِ زَيْنِ الدِّينِ زَكَرِيَّا بْنِ مُحَمَّدٍ الْأَنْصَارِيِّ الْقَاهِرِيِّ، عَنِ الْحَافِظِ ابْنِ حَجَرٍ الْعَسْقَلَانِيِّ، عَنِ الْبُرْهَانِ أَبِي إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ التَّنُّوخِيِّ الْبَعْلِيِّ الْأَصْلِ الدِّمَشْقِيِّ الْمَنْشَأِ نَزِيلِ الْقَاهِرَةِ، عَنِ الْمُسْنِدِ الْمُعَمَّرِ أَبِي نَصْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ الْعِمَادِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي النَّصْرِ مُحَمَّدٍ الْفَارِسِيِّ الْأَصْلِ الدِّمَشْقِيِّ ثُمَّ الْمِزِّيِّ عَنْ جَدِّهِ أَبِي النَّصْرِ مُحَمَّدِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بِنْ مُمَيْلٍ الشِّيرَازِيِّ، عَنِ الْحَافِظِ الثَّقَةِ أَبِي الْقَاسِمِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ عَسَاكِرَ الدِّمَشْقِيِّ. قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي الْحَسَنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الْبَيْهَقِيِّ بِبَغْدَادَ. قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكَ جَدُّكَ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبَيْهَقِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فَأَقَرَّ بِهِ، وَأَنْبَأَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْفَرَاوِيُّ الْوَاعِظُ الْفَقِيهُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِنَيْسَابُورَ أَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ
বায়হাকি রচিত আল-আসমা ওয়াস-সিফাত

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই নিকট আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। এবং আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা উম্মি নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর, যিনি মহান চরিত্রের অধিকারী এবং উচ্চতম মর্যাদার স্তরের অধিকারী; যিনি (ধর্মের) উন্মোচনকারী ও সমাপ্তকারী, যাঁর নৈকট্য সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে: "অতঃপর তার ব্যবধান ছিল দুই ধনুকের সমান বা তার চাইতেও কম।" [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৯]। এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সম্মানীত উজ্জ্বল সাথীদের ওপর, যাঁরা হেদায়াতের নক্ষত্র; তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এমন রহমত ও শান্তি যা আল্লাহর সৃষ্টির সংখ্যার ন্যায় একক ও দ্বৈতভাবে বরকতপূর্ণ ও অফুরন্ত। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমাদের শাইখ, আরিফ বিল্লাহ, পূর্ণাঙ্গ উত্তরাধিকারী সাফিয়্যুদ্দিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মাদানি আল-আনসারি (তাঁর গোপন রহস্য পবিত্র হোক), তাঁর শাইখ আরিফ বিল্লাহ আবু আল-মাওয়াহিব আহমাদ বিন আলি বিন আব্দুল কুদ্দুস আল-আব্বাসি আশ-শিন্নাউয়ি অতঃপর আল-মাদানি (তাঁর গোপন রহস্য পবিত্র হোক) থেকে প্রাপ্ত ইজাযত সূত্রে; তিনি শাইখ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আর-রামলি থেকে, তিনি শাইখুল ইসলাম যাইনুদ্দিন জাকারিয়া বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারি আল-কাহিরি থেকে, তিনি হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি থেকে, তিনি আল-বুরহান আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আত-তানুখি (যিনি মূলে বালি, জন্ম ও বেড়ে ওঠা দামেশকে এবং কায়রো নিবাসী) থেকে; তিনি সুদীর্ঘ আয়ুপ্রাপ্ত মুসনিদ আবু নাসর মুহাম্মাদ বিন আল-ইমাদ মুহাম্মাদ বিন আবি আন-নাসর মুহাম্মাদ আল-ফারিসি (যিনি মূলে পারস্যের, দামেশকি ও পরবর্তীতে মিজ্জি নিবাসী) থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবু আন-নাসর মুহাম্মাদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুমাইল আশ-শিরাজি থেকে, তিনি নির্ভরযোগ্য হাফিজ আবুল কাসিম আলি বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আসাকির আদ-দিমাশকি থেকে। তিনি বলেন: আমি বাগদাদে শাইখ আবুল হাসান উবাইদুল্লাহ বিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবু বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আলি আল-বায়হাকির কাছে পাঠ করেছি। আমি তাঁকে বললাম: আপনার দাদা আবু বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-বায়হাকি কি আপনাকে পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন? অতঃপর তিনি তা স্বীকার করলেন। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-ফাযল বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-ফারাউয়ি, যিনি একজন ওয়ায়েজ ও ফকিহ, নিশাপুরে তাঁর কাছে পাঠের মাধ্যমে যে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম হাফিজ আবু বকর আহমাদ বিন...
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ১৬)
الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الْبَيْهَقِيُّ رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي شَعْبَانَ سَنَةَ 449هـ قَالَ:

كِتَابُ أَسْمَاءِ اللَّهِ جَلَّ ثَنَاؤُهُ وَصِفَاتُهَ الَّتِي دَلَّ كِتَابُ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى إِثْبَاتِهَا، أَوْ دَلَّتْ عَلَيْهِ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَوْ دَلَّ عَلَيْهِ إِجْمَاعُ سَلَفِ هَذِهِ الْأُمَّةِ قَبْلَ وُقُوعِ الْفُرْقَةِ وَظُهُورِ الْبِدْعَةِ
আল-হুসাইন ইবনে আলী আল-বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) ৪৪৯ হিজরি সনের শাবান মাসে তাঁর নিকট পাঠ করার সময় বলেছেন:

আল্লাহ তাআলার নামসমূহ—তাঁর প্রশংসা সুমহান—এবং তাঁর গুণাবলির কিতাব, যেগুলোর সাব্যস্তকরণের ওপর মহান আল্লাহর কিতাব প্রমাণ পেশ করে, অথবা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ যেগুলোর ওপর প্রমাণ প্রদান করে, কিংবা অনৈক্য সৃষ্টি হওয়ার এবং বিদআতের আবির্ভাব ঘটার পূর্বে এই উম্মতের সালাফদের ঐক্যমত যেগুলোর ওপর প্রমাণ নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ১৭)
بَابُ إِثْبَاتِ أَسْمَاءِ اللَّهِ تَعَالَى ذِكْرُهُ بِدَلَالَةِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَإِجْمَاعِ الْأُمَّةِ قَالَ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف: 180] وَقَالَ تَعَالَى: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الإسراء: 110] وَقَالَ: {وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ} [المائدة: 4] وَقَالَ: {لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [طه: 8]
কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের ঐক্যমত্যের দলীল দ্বারা মহান আল্লাহর নামসমূহ সাব্যস্ত করার অধ্যায়। আল্লাহ তাআলা—যাঁর প্রশংসা অতি সুমহান—বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো} [আল-আ’রাফ: ১৮০]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো অথবা রাহমান নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ} [আল-ইসরা: ১১০]। তিনি আরও বলেছেন: {এবং তার ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করো} [আল-মায়িদাহ: ৪]। তিনি আরও বলেছেন: {তাঁর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ} [ত্ব-হা: ৮]
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌1 - أنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ عَبْدَانَ الْأَهْوَازِيُّ أنا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ ، أنا تَمْتَامٌ مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ أنا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، ثنا شُعْبَةُ ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ ، عَنْ رِبْعِيٍّ ، عَنْ حُذَيْفَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ: «اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَحْيَا وَبِاسْمِكَ أَمُوتُ» ، وَإِذَا أَصْبَحَ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَمَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ» أَخْرَجَهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْجُعْفِيُّ الْبُخَارِيُّ فِي الْجَامِعِ الصَّحِيحِ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ، وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ الْقُشَيْرِيُّ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنْ ‌‌⦗ص: 18⦘ شُعْبَةَ بْنِ الْحَجَّاجِ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমদ আবদান আল-আহওয়াজি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে উবায়দ আস-সাফফার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তামতাম মুহাম্মদ ইবনে গালিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম ইবনে ইবরাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, আবদুল মালিক ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি রিব'ঈ থেকে, তিনি হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) যখন ঘুমানোর জন্য বিছানায় যেতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি জীবন ধারণ করি এবং আপনার নামেই মৃত্যুবরণ করি।» আর যখন তিনি সকালে জাগ্রত হতেন তখন বলতেন: «সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যু প্রদানের পর পুনরায় জীবন দান করেছেন এবং তাঁর নিকটেই পুনরুত্থান।» আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-জু'ফি আল-বুখারি তাঁর 'আল-জামে আস-সহীহ' গ্রন্থে মুসলিম ইবনে ইবরাহিম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ আল-কুশায়রি অন্য সূত্রে ⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ শু'বাহ ইবনে আল-হাজ্জাজ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌2 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ، أنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي نَصْرٍ الدَّارَبُرْدِيُّ ، بِمَرْو ، أنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى الْقَاضِي ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ ، نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ ، قَالَ: سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ ، رضي الله عنه يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ فِي صَبَاحِ كُلِّ يَوْمٍ وَمَسَاءِ كُلِّ لَيْلَةٍ: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَيَضُرَّهُ شَيْءٌ "
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর বিন আবি নাসর আদ-দারাবারদি, মার্ভ শহরে, আমাদের জানিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-কাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আবি আয-যিনাদ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবান বিন উসমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "কোনো বান্দা যদি প্রতিদিন সকালে এবং প্রতি রাতে সন্ধ্যায় তিনবার বলে: 'আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে জমিনে বা আসমানে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা', তবে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌بَابُ عَدَدِ الْأَسْمَاءِ الَّتِي أَخْبَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
অধ্যায়: সেই নামসমূহের সংখ্যা প্রসঙ্গে, যেগুলোর ব্যাপারে নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সংবাদ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি সেগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌3 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْعَدْلُ ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادِيُّ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ ، عَنْ أَيُّوبَ ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، ح وَعَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعًا وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا ، مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ» ، زَادَ أَحَدُهُمَا فِي حَدِيثِهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم «إِنَّهُ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-আদল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ আস-সাফফার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মানসুর আর-রামাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। (হ) এবং হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে—এক কম একশত; যে ব্যক্তি এগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।» তাদের একজন আবু হুরায়রা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণিত হাদিসে বর্ধিত করেছেন: «নিশ্চয়ই তিনি বিজোড়, তিনি বিজোড়কে পছন্দ করেন।» ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে মুহাম্মাদ বিন রাফি‘র সূত্রে আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌4 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى أنا أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ الْفَقِيهُ ، أنا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ ، نا سُفْيَانُ، نَا أَبُو الزِّنَادِ ، عَنِ الْأَعْرَجِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعًا وَتِسْعِينَ اسْمًا، مِائَةً غَيْرَ وَاحِدٍ ، مَنْ حَفِظَهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَهُوَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ ، وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ عَمْرٍو النَّاقِدِ وَزُهَيْرِ بْنِ حَرْبٍ وَابْنِ أَبِي عُمَرَ كُلُّهُمْ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন ইসহাক আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশর বিন মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুমাইদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আয-যিনাদ, তিনি আল-আরাজ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে—এক কম একশত; যে ব্যক্তি এগুলো মুখস্থ রাখবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তিনি বিজোড় (একক), তিনি বিজোড়কে পছন্দ করেন।» এটি বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আলী বিন আল-মাদিনী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিম এটি আমর আন-নাকিদ, যুহাইর বিন হারব ও ইবনে আবি উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সকলে সুফিয়ান বিন উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌بَابُ بَيَانِ الْأَسْمَاءِ الَّتِي مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
সেই নামসমূহের বর্ণনার পরিচ্ছেদ, যা যে ব্যক্তি গণনা বা সংরক্ষণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌5 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ يَعْقُوبَ السُّوسِيُّ وَأَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْقَاضِي ، قَالُوا: ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ نا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ خَلِيٍّ ، نا بِشْرُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ ، عَنِ الْأَعْرَجِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعًا وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ ، إِنَّهُ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ أَبِي الْيَمَانِ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আবু আব্দুল্লাহ ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আস-সুসি এবং আবু বকর আহমদ ইবনুল হাসান আল-কাদি। তাঁরা বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব। আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে খলি। আমাদের বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে শুআইব ইবনে আবু হামজাহ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে—এক কম একশত। যে ব্যক্তি তা সংরক্ষণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। নিশ্চয়ই তিনি বেজোড়, তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন।» ইমাম বুখারী এটি তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে আবুল ইয়ামান থেকে, তিনি শুআইব ইবনে আবু হামজাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌6 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْمِهْرَجَانِيُّ الْعَدْلُ ، أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ أَبِي مُوسَى الْمُزَكِّي نا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْعَبْدِيُّ ، نا أَبُو عِمْرَانَ مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ النَّصِيبِيُّ نا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ ، ح وَأنا أَبُو نَصْرٍ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ أنا أَبُو عَمْرِو بْنُ مَطَرٍ ، نا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى السُّلَمِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى أنا عَلِيُّ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ الْخُزَاعِيُّ ، أنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُسْتَفَاضِ الْفِرْيَابِيُّ ، قَالَا: ثنا صَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ ، نا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ ، نا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ ، عَنِ الْأَعْرَجِ ‌‌⦗ص: 23⦘ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَهُوَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ: وَهُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ الْغَفَّارُ الْقَهَّارُ الْوَهَّابُ الرَّزَّاقُ الْفَتَّاحُ الْعَلِيمُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الْخَافِضُ الرَّافِعُ الْمُعِزُّ الْمُذِلُّ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ الْحَكَمُ الْعَدْلُ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ الْحَلِيمُ الْعَظِيمُ الْغَفُورُ الشَّكُورُ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ الْحَفِيظُ الْمُقِيتُ الْحَسِيبُ الْجَلِيلُ الْكَرِيمُ الرَّقِيبُ الْمُجِيبُ الْوَاسِعُ الْحَكِيمُ الْوَدُودُ الْمَجِيدُ الْبَاعِثُ الشَّهِيدُ الْحَقُّ الْوَكِيلُ الْقَوِيُّ الْمَتِينُ الْوَلِيُّ الْحَمِيدُ الْمُحْصِي الْمُبْدِئُ الْمُعِيدُ الْمُحْيِي الْمُمِيتُ الْحَيُّ الْقَيُّومُ الْوَاجِدُ الْمَاجِدُ الْوَاحِدُ الصَّمَدُ الْقَادِرُ الْمُقْتَدِرُ الْمُقَدِّمُ الْمُؤَخِّرُ ‌‌⦗ص: 24⦘ الْأَوَّلُ الْآخِرُ الظَّاهِرُ الْبَاطِنُ الْوَالِي الْمُتَعَالِي الْبَرُّ التَّوَّابُ الْمُنْتَقِمُ الْعَفُوُّ الرَّؤُوفُ مَالِكُ الْمُلْكِ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ الْمُقْسِطُ الْجَامِعُ الْغَنِيُّ الْمُغْنِي الْمَانِعُ الضَّارُّ النَّافِعُ النُّورُ الْهَادِي الْبَدِيعُ الْبَاقِي الْوَارِثُ الرَّشِيدُ الصَّبُورُ الْكَافِي " لَفْظُ حَدِيثِ الْفِرْيَابِيِّ وَفِي رِوَايَةِ الْحَسَنِ بْنِ سُفْيَانَ الرَّافِعُ بَدَلَ الْمَانِعِ ، وَقِيلَ فِي رِوَايَةِ النَّصِيبِيِّ الْمُغِيثُ بَدَلَ الْمُقِيتِ
6 - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-মিহরাজানি আল-আদল, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর আবু মুসা আল-মুযাক্কি, তিনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-আবদি, তিনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ইমরান মুসা ইবনে আইয়ুব আন-নাসিবি, তিনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম। (হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর ইবনে মাতার, তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে সুফিয়ান। (হ) এবং আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আস-সুলামি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন), তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আল-ফাদল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল আল-খুযাঈ, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুস্তাফায আল-ফিরইয়াবি। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাফওয়ান ইবনে সালিহ, তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন শুআইব ইবনে আবি হামযাহ, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, এক কম একশত; যে ব্যক্তি এগুলি মুখস্থ করবে (বা আয়ত্ত করবে) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তিনি বেজোড়, তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন: তিনি আল্লাহ, যাঁর ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; তিনি পরম দয়ালু, অত্যন্ত করুণাময়, অধিপতি, মহাপবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তা দানকারী, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী, প্রতাপশালী, অহংকারী, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী, পরম ক্ষমাশীল, দমনকারী, মহাদাতা, রিযিকদাতা, উন্মোচনকারী, মহাজ্ঞানী, সংকোচনকারী, প্রসারণকারী, অবনতকারী, উন্নতকারী, সম্মানদাতা, লাঞ্ছিতকারী, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, বিচারক, ন্যায়বিচারক, সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত, পরম সহনশীল, মহিমান্বিত, অতি ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী, সুউচ্চ, সুমহান, হিফাযতকারী, আহার্যদাতা, হিসাব গ্রহণকারী, মহিমাময়, দাতা, পর্যবেক্ষণকারী, কবুলকারী, সর্বব্যাপী, প্রজ্ঞাময়, প্রেমময়, গৌরবময়, পুনরুত্থানকারী, সাক্ষী, সত্য, কর্মবিধায়ক, শক্তিশালী, সুদৃঢ়, অভিভাবক, প্রশংসিত, গণনা সংরক্ষণকারী, প্রথমবার সৃষ্টিকারী, পুনর্বার সৃষ্টিকারী, জীবনদানকারী, মৃত্যুদানকারী, চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী সত্তা, প্রাপক, মর্যাদাশীল, এক, মুখাপেক্ষীহীন, ক্ষমতাশালী, শক্তিমান, অগ্রবর্তীকারী, পশ্চাদবর্তীকারী, ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ অনাদি, অনন্ত, প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য, অধিপতি, সমুন্নত, সদাচারী, তওবা কবুলকারী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী, ক্ষমাশীল, অতীব দয়ালু, রাজত্বের মালিক, মহিমা ও মহত্ত্বের অধিকারী, ইনসাফকারী, একত্রকারী, অভাবহীন, অভাবমুক্তকারী, প্রতিরোধকারী, ক্ষতিসাধনকারী, কল্যাণকারী, জ্যোতি, পথপ্রদর্শক, অপূর্ব উদ্ভাবক, চিরস্থায়ী, উত্তরাধিকারী, সঠিক পথপ্রদর্শক, পরম ধৈর্যশীল, পর্যাপ্ত।" এটি আল-ফিরইয়াবির হাদীসের শব্দ। আর আল-হাসান ইবনে সুফিয়ানের বর্ণনায় 'প্রতিরোধকারী' (আল-মানি) এর স্থলে 'উন্নতকারী' (আর-রাফি) শব্দটি রয়েছে এবং নাসিবির বর্ণনায় 'আহার্যদাতা' (আল-মুকীত) এর স্থলে 'উদ্ধারকর্তা' (আল-মুগীয়) বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌بَابُ بَيَانِ أَنَّ لِلَّهَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ أَسْمَاءً أُخْرَى وَلَيْسَ فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «لِلَّهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ اسْمًا» نَفْيُ غَيْرِهَا وَإِنَّمَا وَقَعَ التَّخْصِيصُ بِذِكْرِهَا لِأَنَّهَا أَشْهَرُ الْأَسْمَاءِ وَأَبْيَنُهَا مَعَانِيَ وَفِيهَا وَرَدَ الْخَبَرُ أَنَّ مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ ، وَفِي رِوَايَةِ سُفْيَانَ «مَنْ حَفِظَهَا» وَذَلِكَ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِقَوْلِهِ: «مَنْ أَحْصَاهَا» مَنْ عَدَّهَا ، وَقِيلَ: مَعْنَاهُ مَنْ أَطَاقَهَا بِحُسْنِ الْمُرَاعَاةِ لَهَا ، وَالْمُحَافَظَةِ عَلَى حُدُودِهَا فِي مُعَامَلَةِ الرَّبِّ بِهَا ، وَقِيلَ: مَعْنَاهُ مَنْ عَرَفَهَا وَعَقَلَ مَعَانِيهَا ، وَآمَنَ بِهَا وَاللَّهُ أَعْلَمُ
পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর (যাঁর প্রশংসা অতি মহিমান্বিত) আরও নাম রয়েছে তার বর্ণনা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে" এর দ্বারা অন্য নামগুলোকে অস্বীকার করা উদ্দেশ্য নয়; বরং এগুলোর উল্লেখের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করার কারণ হলো এগুলো সর্বাধিক প্রসিদ্ধ নাম এবং অর্থগতভাবে অত্যন্ত সুস্পষ্ট, আর এগুলোর ব্যাপারেই বর্ণনা এসেছে যে, যে ব্যক্তি এগুলোকে আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সুফিয়ানের বর্ণনায় এসেছে: "যে ব্যক্তি এগুলো মুখস্থ করবে", আর এটি প্রমাণ করে যে তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি এগুলোকে আয়ত্ত করবে" এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—যে ব্যক্তি এগুলো গণনা করবে। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো যে ব্যক্তি এগুলোর যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করতে এবং রবের সাথে মুয়ামালার ক্ষেত্রে এগুলোর সীমারেখা হিফাজত করতে সক্ষম হবে। আবার কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো যে ব্যক্তি এগুলো জানবে, এগুলোর অর্থ অনুধাবন করবে এবং এগুলোর ওপর ঈমান আনবে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌7 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ، نا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بَالَوَيْهِ نا مُحَمَّدُ بْنُ شَاذَانَ الْجَوْهَرِيُّ ، نا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْوَاسِطِيُّ ، نا فُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ الْجُهَنِيُّ ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا أَصَابَ مُسْلِمًا قَطُّ هَمٌّ وَلَا حَزَنٌ فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ ‌‌⦗ص: 28⦘ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ ، أَسْأَلُكُ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي وَجِلَاءَ حُزْنِي ، وَذَهَابَ هَمِّي وَغَمِّي ، إِلَّا أَذْهَبَ اللَّهُ عَنْهُ هَمَّهُ وَأَبْدَلَهُ مَكَانَ هَمِّهِ فَرَحًا " ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا نَتَعَلَّمُ هَذِهِ الْكَلِمَاتِ؟ قَالَ: «بَلَى يَنْبَغِي لِمَنْ سَمِعَهُنَّ أَنْ يَتَعَلَّمَهُنَّ»
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন বালাইহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন শাযান আল-জাওহারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ বিন সুলাইমান আল-ওয়াসিতি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফুযাইল বিন মারযুক, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ আল-জুহানি, আল-কাসিম বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো মুসলিম যখনই কোনো দুশ্চিন্তা বা দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত হয় এবং বলে: হে আল্লাহ, আমি আপনার গোলাম, আপনার ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ গোলামের পুত্র এবং আপনার বাঁদীর পুত্র। আমার কপাল আপনার হাতে। আমার ওপর আপনার বিধান কার্যকর, আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ন্যায়সংগত। আমি আপনার কাছে আপনার সেই প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যে নামে আপনি নিজেকে অভিহিত করেছেন অথবা আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন অথবা আপনার কাছে ইলমে গায়েবে নিজের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন; আপনি কুরআনকে আমার হৃদয়ের বসন্ত, আমার দুঃখের অপসারণকারী এবং আমার দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা দূরকারী বানিয়ে দিন—তবে আল্লাহ অবশ্যই তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তার দুঃখের পরিবর্তে আনন্দ দান করবেন।" তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি এই শব্দগুলো শিখে নেব না? তিনি বললেন: "অবশ্যই, যে ব্যক্তি এগুলো শুনবে তার উচিত এগুলো শিখে নেওয়া।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌8 - وَأنا الْأُسْتَاذُ أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الْقَاهِرِ بْنُ طَاهِرٍ الْبَغْدَادِيُّ ـ مِنْ أَصْلِ كِتَابِهِ ـ نا أَبُو سَعِيدٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ الْجُرْجَانِيُّ إِمْلَاءً أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ السَّلَامِ الْبَصْرِيُّ بِهَا ، نا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ ، نا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ ‌‌⦗ص: 30⦘ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ أَصَابَهُ هَمٌّ أَوْ حَزَنٌ فَلْيَقُلِ: اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ فِي قَبْضَتِكَ نَاصِيَتِي بِيَدِكَ ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ ، أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي وَنُورَ صَدْرِي وَذَهَابَ هَمِّي وَجِلَاءَ حُزْنِي " ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا قَالَهُنَّ مَهْمُومٌ قَطُّ إِلَّا أَذْهَبَ اللَّهُ هَمَّهُ وَأَبْدَلَهُ بِهَمِّهِ فَرَحًا» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا نَتَعَلَّمُهُنَّ؟ قَالَ: «بَلَى فَتَعَلَّمُوهُنَّ وَعَلِّمُوهُنَّ» قَالَ الشَّيْخُ رضي الله عنه: فِي هَذَا الْحَدِيثِ دَلَالَةٌ عَلَى صِحَّةِ مَا وَقَعَتْ عَلَيْهِ تَرْجَمَةُ هَذَا الْبَابِ ، وَاسْتَشْهَدَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا فِي ذَلِكَ بِمَا
‌‌৮ - এবং আমাকে উস্তাদ আবু মানসুর আব্দুল কাহির বিন তাহির আল-বাগদাদী — তাঁর মূল গ্রন্থ হতে — সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু সাঈদ ইসমাঈল বিন আহমদ আল-জুরজানী আমাদের নিকট শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম আল-বসরী সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আল-মিনহাল আদ-দারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহিদ বিন যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান বিন ইসহাক থেকে, তিনি কাসিম বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো দুশ্চিন্তা বা দুঃখের সম্মুখীন হয়, সে যেন বলে: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার বান্দা, আপনার দাসের পুত্র এবং আপনার দাসীর পুত্র; আমি আপনার মুষ্টিতে, আমার কপাল আপনার হাতে, আমার ওপর আপনার ফয়সালা ন্যায়সঙ্গত, আমার ক্ষেত্রে আপনার নির্দেশ কার্যকর। আমি আপনার নিকট আপনার প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যে নামে আপনি নিজেকে অভিহিত করেছেন অথবা আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিক্ষা দিয়েছেন অথবা যা আপনার নিকট অদৃশ্য জ্ঞানে সংরক্ষিত রেখেছেন; আপনি কুরআনকে আমার হৃদয়ের বসন্ত, আমার বক্ষের নূর, আমার দুশ্চিন্তার অপসারণকারী এবং আমার দুঃখ মোচনকারী বানিয়ে দিন।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কোনো চিন্তিত ব্যক্তি যখনই এই কথাগুলো বলে, আল্লাহ অবশ্যই তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেন এবং তার দুশ্চিন্তার পরিবর্তে তাকে আনন্দ দান করেন», তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি এই কথাগুলো শিখে নেব না? তিনি বললেন: «অবশ্যই, তোমরা এগুলো শেখো এবং অন্যদের শেখাও।» শায়খ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: এই হাদীসে এই অধ্যায়ের শিরোনামে যা বর্ণিত হয়েছে তার সঠিকতার প্রমাণ রয়েছে এবং আমাদের কোনো কোনো সঙ্গী এই বিষয়ে সেই দলীল পেশ করেছেন যা...
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌9 - أنا أَبُو نَصْرٍ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ قَتَادَةَ ، وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ‌‌⦗ص: 31⦘ الْفَارِسِيُّ قَالَا: أنا أَبُو عَمْرِو بْنُ مَطَرٍ ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيٍّ الذُّهْلِيُّ ، نا يَحْيَى بْنِ يَحْيَى ، أنا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ زَيْدٍ الْعَبْدِيِّ ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ ، أَنَّهَا قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي اسْمَ اللَّهِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ قَالَ لَهَا صلى الله عليه وسلم: «قَوْمِي فَتَوَضَّئِي وَادْخُلِي الْمَسْجِدَ فَصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ ادْعِي حَتَّى أَسْمَعَ» فَفَعَلْتُ ، فَلَمَّا جَلَسْتُ لِلدُّعَاءِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ وَفِّقْهَا» فَقَالَتِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِجَمِيعِ أَسْمَائِكَ الْحُسْنَى كُلِّهَا ، مَا عَلِمْنَا مِنْهَا وَمَا لَمْ نَعْلَمْ ، وَأَسْأَلُكَ بِاسْمِكَ الْعَظِيمِ الْأَعْظَمِ ، الْكَبِيرِ الْأَكْبَرِ ، وَالَّذِي مَنْ دَعَاكَ بِهِ أَجَبْتَهُ ، وَمَنْ سَأَلَكَ بِهِ أَعْطَيْتَهُ قَالَ: يَقُولُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَصَبْتِهِ أَصَبْتِهِ»
৯ - আবু নাসর উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে কাতাদাহ এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ আল-ফারিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর ইবনে মাতার, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে আলী আদ-দুহলী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সালিহ আল-মুররী, জাফর ইবনে যাইদ আল-আবদী থেকে বর্ণিত, মুমিনজননী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে আল্লাহর সেই নামটি শিখিয়ে দিন, যা দ্বারা তাঁকে ডাকলে তিনি সাড়া দেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন: "উঠুন, অজু করুন এবং মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করুন, অতঃপর দুআ করুন যেন আমি শুনতে পাই।" আমি তাই করলাম। এরপর যখন আমি দুআর জন্য বসলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে আল্লাহ! তাঁকে তাওফিক দান করুন।" অতঃপর তিনি (আয়েশা) বললেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার সকল সুন্দর নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি—সেগুলো সব, যার কিছু আমরা জানি এবং যার কিছু আমরা জানি না। আর আমি আপনার নিকট আপনার সেই মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ, বড় ও সর্ববৃহৎ নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যা দ্বারা কেউ আপনাকে ডাকলে আপনি তার ডাকে সাড়া দেন এবং যা দ্বারা কেউ আপনার কাছে প্রার্থনা করলে আপনি তাকে দান করেন। বর্ণনাকারী বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন বললেন: "তুমি তা পেয়ে গেছ, তুমি তা পেয়ে গেছ।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌10 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ، أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَمْدَانَ الْجَلَّابُ بِهَمَذَانَ ثنا الْأَمِيرُ أَبُو الْهَيْثَمِ خَالِدُ بْنُ أَحْمَدَ بِهَمَذَانَ ثنا أَبُو أَسْعَدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَلْخِيُّ ، ثنا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْقَطَوَانِيُّ ، ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ هَانِئٍ ، وَأَبُو بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ‌‌⦗ص: 33⦘ قَالَا: ثنا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ سُفْيَانَ النَّسَوِيِّ ، ثنا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ ، ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ الْحُصَيْنُ بْنُ التُّرْجُمَانِ ، ثنا أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ ، وَهِشَامُ بْنُ حَسَّانَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ» ، فَذَكَرَهَا وَعَدَّ مِنْهَا: «الْإِلَهُ الرَّبُّ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ الْبَارِي الْأَحَدُ الْكَافِي الدَّائِمُ الْمَوْلَى النَّصِيرُ الْمُبِينُ الْجَمِيلُ الصَّادِقُ الْمُحِيطُ الْقَرِيبُ الْقَدِيمُ الْوِتْرُ الْفَاطِرُ الْعَلَّامُ الْمَلِيكُ الْأَكْرَمُ الْمُدَبِّرُ الْقَدِيرُ الشَّاكِرُ ذُو الطَّوْلِ ذُو الْمَعَارِجِ ذُو الْفَضْلِ الْكَفِيلُ» تَفَرَّدَ بِهَذِهِ الرِّوَايَةِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْحُصَيْنِ بْنِ التُّرْجُمَانِ وَهُوَ ضَعِيفُ الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ النَّقْلِ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ التَّفْسِيرُ وَقَعَ مِنْ بَعْضِ الرُّوَاةِ ، وَكَذَلِكَ فِي حَدِيثِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ ، وَلِهَذَا الِاحْتِمَالِ تَرَكَ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ إِخْرَاجَ حَدِيثِ الْوَلِيدِ فِي الصَّحِيحِ ، فَإِنْ كَانَ مَحْفُوظًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَأَنَّهُ قَصَدَ أَنَّ مَنْ أَحْصَى مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا دَخَلَ الْجَنَّةَ ، سَوَاءً أَحْصَاهَا مِمَّا نَقَلْنَا فِي حَدِيثِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ أَوْ مِمَّا نَقَلْنَاهُ فِي حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْحُصَيْنِ ، أَوْ مِنْ سَائِرِ مَا دَلَّ عَلَيْهِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ، وَهَذِهِ الْأَسَامِي كُلُّهَا فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَفِي سَائِرِ أَحَادِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‌‌⦗ص: 34⦘ نَصًّا أَوْ دَلَالَةً وَنَحْنُ نُشِيرُ إِلَى مَوَاضِعِهَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فِي جِمَاعِ أَبْوَابِ مَعَانِي هَذِهِ الْأَسْمَاءِ ، وَنُضِيفُ إِلَيْهَا مَا لَمْ يَدْخُلْ فِي جُمْلَتِهَا بِمَشِيئَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَحُسْنِ تَوْفِيقِهِ
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে হামদান আল-জাল্লাব হামাদানে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমির আবু আল-হাইসাম খালিদ ইবনে আহমাদ হামাদানে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আসআদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বালখি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে মাখলাদ আল-কাতাওয়ানি। (হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালিহ ইবনে হানি এবং আবু বকর ইবনে আব্দুল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে সুফিয়ান আন-নাসায়ি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে মাখলাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনুল হুসাইন ইবনে তুর্জুমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি এবং হিশাম ইবনে হাসান, তাঁরা বর্ণনা করেন মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলো গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে», এরপর তিনি সেগুলো উল্লেখ করেন এবং তার মধ্য থেকে গণনা করেন: «আল-ইলাহ (উপাস্য), আর-রব্ব (প্রতিপালক), আল-হান্নান (অত্যন্ত দয়ালু), আল-মান্নান (পরম অনুগ্রহকারী), আল-বারি (সৃষ্টিকর্তা), আল-আহাদ (একক), আল-কাফি (পর্যাপ্তকারী), আদ-দায়িম (চিরস্থায়ী), আল-মাওলা (অভিভাবক), আন-নাসির (সাহায্যকারী), আল-মুবিন (সুস্পষ্ট), আল-জামিল (পরম সুন্দর), আস-সাদিক (সত্যবাদী), আল-মুহিত (পরিবেষ্টনকারী), আল-কারিব (নিকটবর্তী), আল-কাদিম (অনাদি), আল-উয়িত্র (বিজোড়), আল-ফাতির (সৃষ্টিকর্তা), আল-আল্লাম (মহা জ্ঞানী), আল-মালিক (অধিপতি), আল-আকরাম (মহা সম্মানিত), আল-মুদাব্বির (পরিচালক), আল-কাদির (মহা ক্ষমতাবান), আশ-শাকির (গুণগ্রাহী), যুত্তওল (বিশাল সামর্থ্যের অধিকারী), যুল মাআরিজ (উচ্চ মাকামসমূহের অধিকারী), যুল ফদল (অনুগ্রহের অধিকারী), আল-কাফিল (জামিনদার)»। আব্দুল আজিজ ইবনুল হুসাইন ইবনে তুর্জুমান এককভাবে এই বর্ণনাটি করেছেন এবং তিনি হাদীস বিশেষজ্ঞদের নিকট হাদীস বর্ণনায় দুর্বল; ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী তাঁকে দুর্বল বলেছেন। এটি সম্ভব যে, নামের এই ব্যাখ্যা বা তালিকা কোনো কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে এসেছে, যেমনটি ওয়ালীদ ইবনে মুসলিমের হাদীসে ঘটেছে। এই সম্ভাবনার কারণেই বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থে ওয়ালীদের হাদীসটি গ্রহণ করা পরিহার করেছেন। তবে যদি এটি নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) থেকে সংরক্ষিত হয়ে থাকে, তবে এর অর্থ এই যে, তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে ব্যক্তি আল্লাহর নামসমূহ থেকে নিরানব্বইটি নাম গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; চাই সে তা আমাদের বর্ণিত ওয়ালীদ ইবনে মুসলিমের হাদীস থেকে গণনা করুক অথবা আব্দুল আজিজ ইবনুল হুসাইনের হাদীস থেকে, কিংবা কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত অন্যান্য নামসমূহ থেকে। আর আল্লাহই ভালো জানেন। এই নামগুলোর সবগুলোই মহান আল্লাহর কিতাবে এবং রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর অন্যান্য হাদীসসমূহে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ স্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতগতভাবে বিদ্যমান। ইনশাআল্লাহ আমরা এই নামগুলোর অর্থের পরিচ্ছেদসমূহে সেগুলোর স্থানসমূহ নির্দেশ করব এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও তাঁর উত্তম তাওফীকে সেই তালিকায় যা অন্তর্ভুক্ত হয়নি তাও যোগ করব।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌بَابُ جِمَاعِ أَبْوَابِ مَعَانِي أَسْمَاءِ الرَّبِّ عَزَّ ذِكْرُهُ ذَكَرَ الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَلِيمِيُّ فِيمَا يَجِبُ اعْتِقَادُهُ وَالْإِقْرَارُ بِهِ فِي الْبَارِي سبحانه وتعالى عِدَّةَ أَشْيَاءَ: أَحَدُهَا: إِثْبَاتُ الْبَارِي جل جلاله لِتَقَعَ بِهِ مُفَارَقَةُ التَّعْطِيلِ وَالثَّانِي: إِثْبَاتُ وَحْدَانِيَّتِهِ لِتَقَعَ بِهِ الْبَرَاءَةُ مِنَ الشِّرْكِ وَالثَّالِثُ: إِثْبَاتُ أَنَّهُ لَيْسَ بِجَوْهَرٍ وَلَا عَرَضٍ لِيَقَعَ بِهِ الْبَرَاءَةُ مِنَ التَّشْبِيهِ وَالرَّابِعُ: إِثْبَاتُ أَنَّ وُجُودَ كُلِّ مَا سِوَاهُ كَانَ مِنْ قِبَلِ إِبْدَاعِهِ وَاخْتِرَاعِهِ إِيَّاهُ لِتَقَعَ بِهِ الْبَرَاءَةُ مِنْ قَوْلِ مَنْ يَقُولُ بِالْعِلَّةِ وَالْمَعْلُولِ وَالْخَامِسُ: إِثْبَاتُ أَنَّهُ مُدَبِّرُ مَا أَبْدَعَ وَمُصَرِّفُهُ عَلَى مَا يَشَاءُ لِتَقَعَ بِهِ الْبَرَاءَةُ مِنْ قَوْلِ الْقَائِلِينَ بِالطَّبَائِعِ ، أَوْ بِتَدْبِيرِ الْكَوَاكِبِ ، أَوْ تَدْبِيرِ الْمَلَائِكَةِ ، قَالَ: " ثُمَّ إِنَّ أَسْمَاءَ اللَّهِ تَعَالَى جَدُّهُ ، الَّتِي وَرَدَ بِهَا الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ ، وَأَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ عَلَى تَسْمِيَتِهِ بِهَا ، مُنْقَسِمَةٌ بَيْنَ الْعَقَائِدِ الْخَمْسِ ، فَيَلْحَقُ بِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُنَّ بَعْضَهَا وَقَدْ يَكُونُ مِنْهَا مَا يَلْتَحِقُ بِمَعْنَيَيْنِ ، وَيَدْخُلُ فِي بَابَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ ، وَهَذَا شَرَحُ ذَلِكَ وَتَفْصِيلُهُ
রব —তাঁর যিকির মহান হোক— এর নামসমূহের অর্থ সংক্রান্ত অধ্যায়সমূহের সংকলন। আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনুল হাসান আল-হালিমি মহান স্রষ্টা —তিনি পবিত্র ও সুউচ্চ— সম্পর্কে যেসব বিষয়ে বিশ্বাস রাখা ও স্বীকৃতি দেওয়া ওয়াজিব, সে সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন: প্রথমটি: স্রষ্টার অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা —তাঁর মহিমা মহান হোক— যাতে এর মাধ্যমে ‘তাতীল’ (আল্লাহর অস্তিত্ব বা গুণাবলি অস্বীকার করা) থেকে পৃথক হওয়া যায়। দ্বিতীয়টি: তাঁর একত্ববাদ সাব্যস্ত করা, যাতে এর মাধ্যমে শিরক থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। তৃতীয়টি: তিনি কোনো ‘জাওহার’ (মৌলিক সত্তা) বা ‘আরায’ (অস্থায়ী গুণ) নন—এটি সাব্যস্ত করা, যাতে এর মাধ্যমে ‘তাশবিহ’ (সাদৃশ্য দান) থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। চতুর্থটি: তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছুর অস্তিত্ব তাঁরই উদ্ভাবন ও সৃষ্টির মাধ্যমে হয়েছে—এটি সাব্যস্ত করা, যাতে এর মাধ্যমে যারা কার্যকরণ তত্ত্বে বিশ্বাসী তাদের বক্তব্য থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। পঞ্চমটি: তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার পরিচালক এবং নিজের ইচ্ছানুযায়ী তার পরিবর্তনকারী—এটি সাব্যস্ত করা, যাতে এর মাধ্যমে যারা প্রকৃতিবাদে বিশ্বাসী অথবা গ্রহ-নক্ষত্র বা ফেরেশতাদের পরিচালনায় বিশ্বাসী তাদের বক্তব্য থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। তিনি বলেন: "অতঃপর আল্লাহর নামসমূহ —তাঁর মহিমা সুউচ্চ— যা কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে এবং উলামায়ে কিরাম তাঁকে সেই নামে অভিহিত করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, সেগুলো এই পাঁচটি আকিদার মধ্যে বিভক্ত। সুতরাং এগুলোর প্রত্যেকটির সাথে কতিপয় নাম যুক্ত হয়। আবার এমন কিছু নামও থাকতে পারে যা দুটি অর্থের সাথে যুক্ত এবং দুই বা ততোধিক অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। এটিই হলো তার ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বিবরণ।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌بَابُ ذِكْرِ الْأَسْمَاءِ الَّتِي تَتْبَعُ إِثْبَاتَ الْبَارِي جَلَّ ثَنَاؤُهُ وَالِاعْتِرَافَ بِوُجُودِهِ جَلَّ وَعَلَا مِنْهَا الْقَدِيمُ وَذَلِكَ مِمَّا يُؤْثَرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَقَدْ ذَكَرْنَاهُ فِي رِوَايَةِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْحُصَيْنِ
সেই নামসমূহ বর্ণনার অধ্যায় যা মহান স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ এবং তাঁর অস্তিত্বের স্বীকৃতির অনুগামী, যার একটি হলো 'আল-কাদীম' (অনাদি); আর এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত, যা আমরা আব্দুল আজীজ ইবনুল হুসাইনের বর্ণনায় উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌11 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ ـ بِبَغْدَادَ ـ نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ ، ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ ، ثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ ، ثَنَا أَبِي ، ثَنَا الْأَعْمَشُ ، ثَنَا جَامِعُ بْنُ شَدَّادٍ ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ ، رضي الله عنه قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ الْحَدِيثَ فَفِيهِ قَالُوا: جِئْنَاكَ نَسْأَلُكُ عَنْ هَذَا الْأَمْرِ ، قَالَ: «كَانَ اللَّهُ تَعَالَى وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ غَيْرُهُ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ قَالَ الْحَلِيمِيُّ ، رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي مَعْنَى الْقَدِيمِ: إِنَّهُ الْمَوْجُودُ الَّذِي لَيْسَ لِوُجُودِهِ ابْتِدَاءٌ ، وَالْمَوْجُودُ الَّذِي لَمْ يَزَلْ ، وَأَصْلُ الْقَدِيمِ فِي اللِّسَانِ: السَّابِقُ ، لِأَنَّ الْقَدِيمَ هُوَ الْقَادِمُ قَالَ اللَّهُ عز وجل فِيمَا أَخْبَرَ بِهِ عَنْ فِرْعَوْنَ: {يَقْدُمُ قَوْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} [هود: 98] فَقِيلَ لِلَّهِ عز وجل: قَدِيمٌ ، بِمَعْنَى أَنَّهُ سَابِقٌ لِلْمَوْجُودَاتِ كُلِّهَا وَلَمْ يَجُزْ إِذْ كَانَ كَذَلِكَ أَنْ يَكُونَ لِوُجُودِهِ ابْتِدَاءٌ لِأَنَّهُ لَوْ كَانَ لِوُجُودِهِ ابْتِدَاءٌ لَاقْتَضَى ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ غَيْرٌ لَهُ أَوْجَدَهُ ، وَلَوَجَبَ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ الْغِيَرُ مَوْجُودًا قَبْلَهُ ، فَكَانَ لَا يَصِحُّ حِينَئِذٍ أَنْ يَكُونَ هُوَ سَابِقًا لِلْمَوْجُودَاتِ ، فَبَانَ أَنَّا إِذَا وَصَفْنَاهُ بِأَنَّهُ سَابِقٌ لِلْمَوْجُودَاتِ فَقَدْ أَوْجَبْنَا أَلَّا يَكُونَ لِوُجُودِهِ ابْتِدَاءٌ ، فَكَانَ الْقَدِيمُ فِي وَصْفِهِ جَلَّ ثَنَاؤُهُ عِبَارَةً عَنْ هَذَا الْمَعْنَى ، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ ‌‌⦗ص: 38⦘ وَمِنْهَا الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ قَالَ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ} [الحديد: 3] وَقَدْ ذَكَرْنَاهُمَا فِي رِوَايَةِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ
১১ - বাগদাদে আবুল হুসাইন ইবনুল ফজল আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে হাফস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমাশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জামে' ইবনে শাদ্দাদ, সাফওয়ান ইবনে মুহরিজ হতে বর্ণিত যে, ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করলাম, এরপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করলেন, যাতে রয়েছে— তারা বললেন: 'আমরা আপনার নিকট এসেছি এই সৃষ্টিজগত সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে।' তিনি বললেন: «মহান আল্লাহ ছিলেন এবং তিনি ব্যতীত আর কিছুই ছিল না।» বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে উমর ইবনে হাফস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আল-হালীমী (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) 'আল-কাদীম' (অনাদি)-এর অর্থ সম্পর্কে বলেছেন: তিনি এমন এক বিদ্যমান সত্তা যার অস্তিত্বের কোনো শুরু নেই এবং এমন বিদ্যমান সত্তা যিনি সর্বদা ছিলেন। ভাষার মূল উৎস অনুযায়ী 'কাদীম' মানে হচ্ছে পূর্ববর্তী, কারণ 'কাদীম' হচ্ছে সেই যে অগ্রবর্তী থাকে। মহান আল্লাহ ফিরআউন সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে বলেছেন: {সে কিয়ামতের দিন তার সম্প্রদায়ের আগে আগে থাকবে} [হুদ: ৯৮]। অতএব আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে 'কাদীম' বলা হয় এই অর্থে যে, তিনি সমস্ত সৃষ্টির পূর্বে বিদ্যমান। আর যেহেতু বিষয়টি এমন, তাই তাঁর অস্তিত্বের কোনো শুরু থাকা বৈধ নয়; কারণ তাঁর অস্তিত্বের কোনো শুরু থাকলে তার দাবি হতো এমন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তাকে অস্তিত্বে এনেছে। আর সেক্ষেত্রে আবশ্যক হতো যে, সেই অন্য সত্তাটি তাঁর পূর্বে বিদ্যমান থাকা, ফলে তখন তাঁকে সমস্ত সৃষ্টির পূর্বে বিদ্যমান বলা সঠিক হতো না। সুতরাং স্পষ্ট হলো যে, আমরা যখন তাঁকে সমস্ত সৃষ্টির পূর্ববর্তী হিসেবে বর্ণনা করি, তখন আমরা সাব্যস্ত করি যে তাঁর অস্তিত্বের কোনো শুরু নেই। সুতরাং তাঁর বর্ণনায় 'কাদীম' শব্দটি এই অর্থের বহিঃপ্রকাশ। আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক প্রার্থনা করছি। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ আর সেই নামসমূহের মধ্য হতে হলো 'আল-আউয়াল' (অনাদি) ও 'আল-আখির' (অনন্ত)। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনিই আদি এবং তিনিই অন্ত} [হাদীদ: ৩]। আর আমরা ওয়ালীদ ইবনে মুসলিমের বর্ণনায় এ দু'টি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌12 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ ، بِطُوسَ أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرِ بْنِ دَاسَةَ بِالْبَصْرَةِ ، ثَنَا أَبُو دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ ، ثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، ثَنَا وُهَيْبٌ ، ح ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَحَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ ، عَنْ خَالِدٍ ، نَحْوَهُ ، جَمِيعًا عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ: «اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَرَبَّ الْأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي شَرٍّ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ ، أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ» زَادَ وَهْبٌ فِي حَدِيثِهِ: «اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ وَاغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ بَيَانٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ
১২ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-রূদবারী তূস শহরে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে বকর ইবনে দাসাহ বসরা শহরে, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মূসা ইবনে ইসমাঈল, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উহাইব। (হাদীস বর্ণনার সূত্রের রূপান্তর): আবু দাউদ বলেন: এবং আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যাহ, খালিদ থেকে, অনুরূপ। তাঁরা সকলেই সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যখন তাঁর বিছানায় শয়ন করতে যেতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! আসমানসমূহের রব এবং যমীনের রব, প্রত্যেক বস্তুর রব, শস্যদানা ও আঁটি বিদীর্ণকারী, তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন অবতীর্ণকারী। আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রত্যেক অনিষ্টকারীর অনিষ্ট থেকে, যার ললাট আপনি ধারণ করে আছেন। আপনিই প্রথম, সুতরাং আপনার পূর্বে কিছু নেই; আপনিই শেষ, সুতরাং আপনার পরে কিছু নেই; আপনিই প্রকাশ্য, সুতরাং আপনার উপরে কিছু নেই; এবং আপনিই গোপন, সুতরাং আপনার নিচে কিছু নেই।’» ওয়াহব তাঁর বর্ণনায় অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: «আমার ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাকে অভাব থেকে মুক্তি দিয়ে স্বচ্ছলতা দান করুন।’» ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে আব্দুল হামীদ ইবনে বায়ান সূত্রে খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌13 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ، أَخْبَرَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّعْرَانِيُّ ، ثَنَا جَدِّي ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ الزُّبَيْرِيُّ ، ثَنَا ابْنُ أَبِي حَازِمٍ ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أبي عُبَيْدِ ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رضي الله عنها عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو بِهَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ: «اللَّهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَا قَبْلَكَ شَيْءٌ ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَا شَيْءَ بَعْدَكَ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ نَاصِيَتِهَا بِيَدِكَ، ‌‌⦗ص: 40⦘ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْإِثْمِ وَالْكَسَلِ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْغِنَى وَفِتْنَةِ الْفَقْرِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ»
‌‌১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল ফজল ইবনে মুহাম্মাদ আশ-শা'রানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে হামযা আজ-যুবাইরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি হাযিম, সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, মুসা ইবনে উকবা থেকে, আসিম ইবনে আবি উবায়েদ থেকে, উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই শব্দগুলোর মাধ্যমে দোয়া করতেন: «হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছু নেই; আপনিই শেষ, আপনার পরে কিছু নেই। আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রত্যেক এমন বিচরণশীল প্রাণীর অনিষ্ট হতে, যার কপাল আপনার হাতে। ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি গুনাহ ও অলসতা হতে, কবরের আজাব হতে, জাহান্নামের আজাব হতে, সচ্ছলতার ফিতনা ও দারিদ্র্যের ফিতনা হতে; এবং আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি পাপ ও ঋণ হতে।»
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌14 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمِّشٍ الْفَقِيهُ ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْقَطَّانُ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ ، قَالَ: ذَكَرَ سُفْيَانُ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْأَصَمِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يَسْأَلُكُمُ النَّاسُ عَنْ كُلِّ شَيْءٍ ، حَتَّى ‌‌⦗ص: 41⦘ يَسْأَلُوكُمْ: هَذَا اللَّهُ خَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟ قَالَ سُفْيَانُ قَالَ جَعْفَرٌ: فَحَدَّثَنِي رَجُلٌ آخَرُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه ، قَالَ جَعْفَرٌ كَانَ يَرْفَعُهُ: " فَإِنْ سُئِلْتُمْ فَقُولُوا: اللَّهُ قَبْلَ كُلِّ شَيْءٍ وَخَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ كَائِنٌ بَعْدَ كُلِّ شَيْءٍ "
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুহম্মিশ আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-কাত্তান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন ইউসুফ আস-সুলামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি, তিনি বলেন: সুফিয়ান জাফর ইবন বুরকান থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবনুল আসম্ম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মানুষ তোমাদের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, এমনকি ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ তারা তোমাদের জিজ্ঞাসা করবে: এই আল্লাহ তো সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন? সুফিয়ান বলেন, জাফর বলেছেন: আমার নিকট অন্য এক ব্যক্তি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন—জাফর বলেন যে তিনি এটি মারফু হিসেবে (রাসূলুল্লাহর বাণী হিসেবে) বর্ণনা করতেন—: "যদি তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে বলো: আল্লাহ সবকিছুর পূর্বে ছিলেন, তিনি সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর পরেও বিদ্যমান থাকবেন।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌15 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ ، ثَنَا فَتْحُ بْنُ عَمْرٍو ، ثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ، أنا مَعْمَرٌ ، عَنْ هِشَامٍ ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنَّ رِجَالًا سَتَرْفَعُ بِهِمُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يَقُولُوا: اللَّهُ خَلَقَ الْخَلْقَ فَمَنْ خَلْقَهُ؟ " قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ ، قَالَ مَعْمَرٌ: وَزَادَ فِيهِ رَجُلٌ آخَرُ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " فَقُولُوا: اللَّهُ كَانَ قَبْلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ خَالِقٌ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ كَائِنٌ بَعْدَ كُلِّ شَيْءٍ "
15 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে হাতিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফাতহ ইবনে আমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, হিশাম থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট ছিলাম, তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই কিছু লোক এই প্রশ্নটি এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবে যে তারা বলবে: আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন, তবে তাঁকে কে সৃষ্টি করেছে?" আবদুর রাজ্জাক বলেন, মা'মার বলেছেন: অন্য একজন ব্যক্তি এতে আরও বৃদ্ধি করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তখন তোমরা বলো: আল্লাহ প্রতিটি বস্তুর পূর্বে ছিলেন, তিনি প্রতিটি বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি প্রতিটি বস্তুর পরেও বিদ্যমান থাকবেন।"
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌16 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ بِشْرَانَ ـ بِبَغْدَادَ ـ أنا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ ، ثَنَا أَبُو بَكْرٍ بْنُ أَبِي الدُّنْيَا ، حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الشَّيْبَانِيُّ ، ثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكُوفِيُّ ، عَنْ صَالِحِ بْنِ حَيَّانَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَّمَ عَلِيًّا رضي الله عنه دَعْوَةً يَدْعُو بِهَا عِنْدَمَا أَهَمَّهُ ، فَكَانَ عَلِيٌّ رضي الله عنه يُعَلِّمُهَا وَلَدَهُ: «يَا كَائِنًا قَبْلَ كُلِّ شَيْءٍ وَيَا مُكَوِّنَ كُلِّ شَيْءٍ وَيَا كَائِنًا بَعْدَ كُلِّ شَيْءٍ ، افْعَلْ بِي كَذَا وَكَذَا» هَذَا مُنْقَطِعٌ
১৬ - বাগদাদে আবুল হুসাইন বিন বিশরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন - আবু আলী আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন আবিদ দুনিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আবদিল আ'লা আশ-শায়বানী আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুর রহমান আল-কুফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালিহ বিন হাইয়ান থেকে, মুহাম্মদ বিন আলী থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে একটি দুআ শিখিয়েছিলেন যা তিনি কোনো সংকটে পড়লে পাঠ করতেন, আর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটি তাঁর সন্তানকে শেখাতেন: «হে সকল কিছুর পূর্বে বিদ্যমান সত্তা, হে সকল কিছুর সৃজনকারী এবং হে সকল কিছুর পরেও বিদ্যমান সত্তা, আমার জন্য এমন এমন (অমুক অমুক কাজ) করে দিন।» এটি (সনদটি) বিচ্ছিন্ন।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌17 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ، ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ يُوسُفَ ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ الْقَزَّازُ ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَارِثِ ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيُّ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، رضي الله عنهما قَالَ: كَانَ مِنْ دُعَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي كَانَ يَقُولُ: «يَا كَائِنًا قَبْلَ أَنْ يَكُونَ شَيْءٌ ، وَالْمُكَوِّنُ لِكُلِّ شَيْءٍ ، وَالْكَائِنُ بَعْدَمَا لَا يَكُونُ شَيْءٌ ، أَسْأَلُكُ بِلَحْظَةٍ مِنْ لَحَظَاتِكَ الْحَافِظَاتِ الْغَافِرَاتِ الْوَاجِبَاتِ الْمُنْجِيَاتِ» قَالَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ: إِنْ صَحَّ هَذَا فَإِنَّمَا أَرَادَ بِاللَّحْظَةِ النَّظْرَةَ وَنَظَرُهُ فِي أُمُورِ عِبَادِهِ رَحْمَتُهُ إِيَّاهُمْ ، قَالَ الْحَلِيمِيُّ رحمه الله: فَالْأَوَّلُ هُوَ الَّذِي لَا قَبْلَ لَهُ وَالْآخِرُ هُوَ الَّذِي لَا بَعْدَ لَهُ ، وَهَذَا لِأَنَّ قَبْلَ وَبَعْدَ نِهَايَتَانِ ، فَقَبْلُ نِهَايَةُ الْمَوْجُودِ مِنْ ‌‌⦗ص: 44⦘ قَبْلِ ابْتِدَائِهِ ، وَبَعْدُ غَايَتُهُ مِنْ قَبْلِ انْتِهَائِهِ فَإِذَا لَمْ يَكُنْ لَهُ ابْتِدَاءٌ وَلَا انْتِهَاءٌ لَمْ يَكُنْ لِلْمَوْجُودِ قَبْلُ وَلَا بَعْدُ ، فَكَانَ هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ، وَمِنْهَا الْبَاقِي ، قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ} [الرحمن: 27] وَقَدْ رُوِّينَاهُ فِي حَدِيثِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ الْحَلِيمِيُّ رحمه الله: وَهَذَا أَيْضًا مِنْ لوازمِ قَوْلِهِ: قَدِيمٌ ، لِأَنَّهُ إِذَا كَانَ مَوْجُودًا لَا عَنْ أَوَّلٍ وَلَا بِسَبَبٍ لَمْ يَجُزْ عَلَيْهِ الِانْقِضَاءُ وَالْعَدَمُ ، فَإِنَّ كُلَّ مُنْقَضٍ بَعْدَ وُجُودِهِ فَإِنَّمَا يَكُونُ انْقِضَاؤُهُ لِانْقِطَاعِ سَبَبِ وُجُودِهِ ، فَلَمَّا لَمْ يَكُنْ لوُجُودِ الْقَدِيمِ سَبَبٌ فَيُتَوَهَّمُ أَنَّ ذَلِكَ السَّبَبَ إِنِ ارْتَفَعَ عُدِمَ عَلِمْنَا أَنَّهُ لَا انْقِضَاءَ لَهُ قَالَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ: وَفِي مَعْنَى الْبَاقِي: الدَّائِمُ وَهُوَ فِي رِوَايَةِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْحُصَيْنِ ، قَالَ أَبُو سُلَيْمَانَ الْخَطَّابِيُّ فِيمَا أُخْبِرْتُ عَنْهُ: الدَّائِمُ الْمَوْجُودُ لَمْ يَزَلْ ، الْمَوْصُوفُ بِالْبَقَاءِ ، الَّذِي لَا يَسْتَوْلِي عَلَيْهِ الْفَنَاءُ ، قَالَ: وَلَيْسَتْ صِفَةُ بَقَائِهِ وَدَوَامِهِ كَبَقَاءِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَدَوَامِهِمَا وَذَلِكَ أَنَّ بَقَاءَهُ أَبْدِيٌّ أَزَلِيٌّ ، وَبَقَاءُ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ أَبْدِيُّ غَيْرُ أَزَلِيٍّ ، وَصِفَةُ الْأَزَلِ مَا لَمْ يَزَلْ ، وَصِفَةُ الْأَبَدِ مَا لَا يَزَالُ ، وَالْجَنَّةُ وَالنَّارُ مَخْلُوقَتَانِ كَائِنَتَانِ بَعْدَ أَنْ لَمْ تَكُونَا ، فَهَذَا فَرْقُ مَا بَيْنَ الْأَمْرَيْنِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ وَمِنْهَا الْحَقُّ الْمُبِينُ ، قَالَ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {وَيَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ الْمُبِينُ} [النور: 25]
‌‌১৭ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব ইবন ইউসুফ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন সিনান আল-কাযযায, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল হারিস, যিনি বনী হাশিমের মুক্তদাস, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন আব্দুর রহমান ইবনুল বাইলামানি, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুআগুলোর মধ্যে এটি একটি যা তিনি বলতেন: «হে সত্তা! যিনি কোনো কিছুর অস্তিত্ব লাভের পূর্বে বিদ্যমান ছিলেন, এবং যিনি প্রতিটি বস্তুর অস্তিত্বদানকারী, এবং যিনি কোনো কিছু অবশিষ্ট না থাকার পরও বিদ্যমান থাকবেন; আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি আপনার সেই বিশেষ দৃষ্টিসমূহের একটি দৃষ্টির যা হেফাযতকারী, ক্ষমাশীল, অপরিহার্য এবং নাজাতদানকারী।» শায়খ আহমাদ বলেন: যদি এটি সহীহ হয়, তবে এখানে 'লাহযাহ' (মুহূর্ত বা দৃষ্টি) দ্বারা তিনি 'নাযরাহ' (দৃষ্টি) বুঝিয়েছেন, আর তাঁর বান্দাদের ব্যাপারের প্রতি তাঁর দৃষ্টি প্রদান হলো তাদের প্রতি তাঁর রহমত করা। হালীমী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: 'আল-আউয়াল' (অনাদি) হলেন তিনি যার পূর্বে কিছু নেই এবং 'আল-আখির' (অনন্ত) হলেন তিনি যার পরে কিছু নেই। এর কারণ হলো 'পূর্বে' এবং 'পরে' হলো দুটি প্রান্তসীমা। সুতরাং 'পূর্বে' হলো বিদ্যমান বস্তুর শুরুর দিকের প্রান্তসীমা যা তার শুরুর ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ আগে থাকে, আর 'পরে' হলো তার শেষ হওয়ার দিকের লক্ষ্যস্থল। অতএব যখন তাঁর কোনো শুরু নেই এবং শেষ নেই, তখন সেই বিদ্যমান সত্তার জন্য 'পূর্বে' এবং 'পরে' থাকতে পারে না। তাই তিনিই হলেন আল-আউয়াল এবং আল-আখির। আর আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো 'আল-বাকী' (চিরস্থায়ী)। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং আপনার মহিমাময় ও মহানুভব রবের চেহারা অবশিষ্ট থাকবে} [আর-রাহমান: ২৭]। আর আমরা এটি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমের হাদীসে বর্ণনা করেছি। হালীমী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটি তাঁর 'কাদীম' (অনাদি) হওয়ার অনিবার্য দাবি। কারণ যদি তিনি কোনো শুরু এবং কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যমান থাকেন, তবে তাঁর ধ্বংস বা অনস্তিত্ব হওয়া অসম্ভব। কেননা অস্তিত্ব লাভের পর যারই পরিসমাপ্তি ঘটে, তা মূলত ঘটে তার অস্তিত্বের কারণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার দরুন। যেহেতু অনাদি সত্তার অস্তিত্বের কোনো কারণ নেই যা বিলুপ্ত হলে তাঁর অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে বলে ধারণা করা যায়, তাই আমরা জানি যে তাঁর কোনো পরিসমাপ্তি নেই। শায়খ আহমাদ বলেন: 'আল-বাকী'র অর্থেই 'আদ-দায়িম' (চিরন্তন) শব্দটি ব্যবহৃত হয়, যা আব্দুল আজিজ ইবনুল হুসাইনের বর্ণনায় এসেছে। আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবী (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: আদ-দায়িম হলেন এমন বিদ্যমান সত্তা যিনি অনাদিকাল থেকে আছেন, যিনি স্থায়িত্বের গুণে গুণান্বিত, যাকে ধ্বংস গ্রাস করতে পারে না। তিনি বলেন: তাঁর স্থায়িত্ব এবং চিরন্তন হওয়ার গুণ জান্নাত ও জাহান্নামের স্থায়িত্ব ও চিরন্তন হওয়ার মতো নয়। কারণ তাঁর স্থায়িত্ব হলো অনাদি এবং অনন্ত (আযালী ও আবদী)। আর জান্নাত ও জাহান্নামের স্থায়িত্ব হলো অনন্ত কিন্তু অনাদি নয়। অনাদি (আযাল) গুণের অর্থ হলো যা সর্বদা ছিল, আর অনন্ত (আবাদ) গুণের অর্থ হলো যা সর্বদা থাকবে। জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে এবং অস্তিত্বে এসেছে আগে বিদ্যমান না থাকার পর। এটিই হলো এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য। আর আল্লাহই ভালো জানেন। আর আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে একটি হলো 'আল-হাক্কুল মুবীন' (সুস্পষ্ট সত্য)। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তারা জানবে যে, আল্লাহই হলেন সুস্পষ্ট সত্য} [আন-নূর: ২৫]।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌18 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ ، أنا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ اللَّخْمِيُّ الطَّبَرَانِيُّ ، ثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الرَّقِّيُّ ، ثَنَا قَبِيصَةُ ، ح قَالَ سُلَيْمَانُ: وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ ‌‌⦗ص: 45⦘ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ كَيْسَانَ ، ثَنَا أَبُو حُذَيْفَةَ ، ثَنَا سُفْيَانُ ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَحْوَلِ ، عَنْ طَاوُسٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، رضي الله عنه قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَهَجَّدَ مِنَ اللَّيْلِ يَدْعُو: «اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ ، أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ ، وَقَوْلُكَ حَقُّ ، وَوَعْدُكَ حَقُّ ، وَلِقَاؤُكَ حَقُّ ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ ، وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ ، اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِيَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ قَبِيصَةَ ، وَهُمَا مَذْكُورَانِ فِي خَبَرِ الْأَسَامِي: أَحَدُهُمَا فِي رِوَايَةِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ وَالْآخَرُ فِي رِوَايَةِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ الْحَلِيمِيُّ رحمه الله: الْحَقُّ مَا لَا يَسَعُ إِنْكَارُهُ وَيَلْزَمُ إِثْبَاتُهُ وَالِاعْتِرَافَ بِهِ ، وَوُجُودُ الْبَارِي عَزَّ ذِكْرُهُ أَوْلَى مَا يَجِبُ الِاعْتِرَافُ بِهِ يَعْنِي عِنْدَ وُرُودِ أَمْرِهِ بِالِاعْتِرَافِ بِهِ وَلَا يَسَعُ جُحُودُهُ إِذْ لَا مُثْبَتَ يُتَظَاهَرُ عَلَيْهِ مِنَ الدَّلَائِلِ الْبَيِّنَةِ الْبَاهِرَةِ مَا تَظَاهَرَتْ ‌‌⦗ص: 46⦘ عَلَى وُجُودِ الْبَارِي جَلَّ ثَنَاؤُهُ وَقَالَ: وَالْمُبِينُ هُوَ الَّذِي لَا يَخْفَى وَلَا يَنْكَتِمْ ، وَالْبَارِي جَلَّ ثَنَاؤُهُ لَيْسَ بِخَافٍ وَلَا مُنْكَتِمٍ لِأَنَّ لَهُ مِنَ الْأَفْعَالِ الدَّالَّةِ عَلَيْهِ مَا يَسْتَحِيلُ مَعَهَا أَنْ يَخْفَى فَلَا يُوقَفُ عَلَيْهِ وَلَا يُدْرَى وَمِنْهَا الظَّاهِرُ قَالَ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ} [الحديد: 3] وَهُوَ فِي خَبَرِ الْأَسَامِي وَغَيْرِهِ
১৮ - আলী ইবনে আহমাদ ইবনে আবদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমাদ আল-লাখমি আত-তাবারানি আমাদের জানিয়েছেন, হাফস ইবনে উমর আর-রাক্কি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, কাবিছাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, (হ) সুলাইমান বলেন: এবং মুহাম্মাদ ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ ইবনে আল-হাসান ইবনে কায়সান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু হুযাইফাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি সুলাইমান আল-আহওয়াল থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রাতে তাহাজ্জুদ পড়তেন তখন এই দোয়া করতেন: «হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনারই, আপনি আসমানসমূহ, যমিন এবং এগুলোর মাঝে যা কিছু আছে সবকিছুর রব। সকল প্রশংসা আপনারই, আপনি আসমানসমূহ, যমিন এবং এগুলোর মাঝে যা কিছু আছে সবকিছুর নূর। সকল প্রশংসা আপনারই, আপনি আসমানসমূহ, যমিন এবং সেগুলোর মধ্যে যারা আছে তাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। আপনিই সত্য, আপনার কথা সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাথে সাক্ষাৎ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য এবং কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আমি আপনারই অনুগত হলাম, আপনার ওপরই ঈমান আনলাম, আপনার ওপরই ভরসা করলাম, আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করলাম, আপনার সাহায্যেই বিতর্ক করলাম এবং আপনাকেই বিচারক মানলাম। অতএব আপনি আমার পূর্বের ও পরের এবং গোপন ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আপনিই আমার ইলাহ, আপনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই»। এটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে কাবিছাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এ দুটি নাম আসমাউল হুসনার বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে: একটি আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমের বর্ণনায় এবং অন্যটি আব্দুল আজিজের বর্ণনায়। আল-হালিমি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সত্য (আল-হাক) হচ্ছে তা, যাকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই এবং যার স্বীকৃতি দেওয়া ও যা সাব্যস্ত করা অপরিহার্য। আর স্রষ্টার (যাঁর স্মরণ মর্যাদাপূর্ণ) অস্তিত্বই হচ্ছে সেই বিষয় যার স্বীকৃতি দেওয়া সর্বাগ্রে কর্তব্য। অর্থাৎ যখন তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর স্বীকৃতির নির্দেশ আসে, তখন তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ থাকে না। কারণ এমন কোনো প্রমাণিত বিষয় নেই যার অনুকূলে এতো সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল প্রমাণাদি বিদ্যমান, যেমনটি বিদ্যমান রয়েছে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ স্রষ্টার (যাঁর প্রশংসা মহান) অস্তিত্বের সপক্ষে। তিনি আরো বলেন: 'সুস্পষ্ট' (আল-মুবিন) হচ্ছেন তিনি, যিনি গোপন বা প্রচ্ছন্ন নন। স্রষ্টা (যাঁর প্রশংসা মহান) গোপন বা প্রচ্ছন্ন নন, কারণ তাঁর এমন সব কর্মকাণ্ড রয়েছে যা তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়, যার ফলে তাঁর অপ্রকাশ্য থাকা অসম্ভব; যাতে করে তাঁকে চেনা না যায় বা তাঁর সম্পর্কে জানা না যায় এমনটি ঘটা অসম্ভব। আর এই নামগুলোর একটি হলো 'প্রকাশ্য' (আজ-জাহির)। আল্লাহ (যাঁর প্রশংসা মহান) বলেছেন: {তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য ও তিনিই গোপন} [সূরা আল-হাদিদ: ৩]। এটি আসমাউল হুসনার বর্ণনায় এবং অন্যান্য স্থানেও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌19 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقْرِئ، أنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ، ثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ ، ثَنَا الْأَغْلَبُ بْنُ تَمِيمٍ ، ثَنَا مَخْلَدٌ أَبُو الْهُذَيْلِ الْعَنْبَرِيُّ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، رضي الله عنهما قَالَ: إِنَّ عُثْمَانَ رضي الله عنه سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ تَفْسِيرِ: {لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [الزمر: 63] فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " مَا سَأَلَنِي عَنْهَا أَحَدٌ قَبْلَكَ ، تَفْسِيرُهَا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ ‌‌⦗ص: 47⦘ أَكْبَرُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْأَوَّلِ وَالْآخَرِ وَالظَّاهِرِ وَالْبَاطِنِ بِيَدِهِ الْخَيْرُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ " وَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ الْحَلِيمِيُّ رحمه الله فِي مَعْنَى الظَّاهِرُ إِنَّهُ الْبَادِي فِي أَفْعَالِهِ وَهُوَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ بِهَذِهِ الصِّفَةِ ، فَلَا يُمْكِنُ مَعَهَا أَنْ يُجْحَدَ وُجُودُهُ وَيُنْكَرُ ثُبُوتُهُ وَقَالَ أَبُو سُلَيْمَانَ الْخَطَّابِيُّ: هُوَ الظَّاهِرُ بِحُجَجِهِ الْبَاهِرَةِ وَبَرَاهِينِهِ النَّيِّرَةِ وَشَوَاهِدِ أَعْلَامِهِ الدَّالَّةِ عَلَى ثُبُوتِ رُبُوبِيَّتِهِ وَصِحَّةِ وَحْدَانِيَّتِهِ ، وَيَكُونُ الظَّاهِرُ فَوْقَ كُلِّ شَيْءٍ بِقُدْرَتِهِ ، وَقَدْ يَكُونُ الظُّهُورُ بِمَعْنَى الْعُلُوِّ ، وَيَكُونُ بِمَعْنَى الْغَلَبَةِ وَمِنْهَا الْوَارِثُ وَمَعْنَاهُ الْبَاقِي بَعْدَ ذَهَابِ غَيْرِهِ وَرَبُّنَا جَلَّ ثَنَاؤُهُ بِهَذِهِ الصِّفَةِ لِأَنَّهُ يَبْقَى بَعْدَ ذَهَابِ الْمُلَّاكِ الَّذِينَ أَمْتَعَهُمْ فِي هَذِهِ الدُّنْيَا بِمَا آتَاهُمْ ، لِأَنَّ وُجُودَهُمْ وَوُجُودَ الْأَمْلَاكِ كَانَ بِهِ ، وَوُجُودُهُ لَيْسَ بِغَيْرِهِ ، وَهَذَا الِاسْمُ مِمَّا يُؤْثَرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي خَبَرِ الْأَسَامِي وَقَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَإِنَّا لَنَحْنُ نُحْيِي وَنُمِيتُ وَنَحْنُ الْوَارِثُونَ} [الحجر: 23]
১৯ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মুকরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আগুলাব ইবনে তামিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাখলাদ আবু আল-হুযাইল আল-আনবারি, আবদুর রহমান থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এই আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: {আসমানসমূহ ও জমিনের চাবিকাঠি তাঁরই} [যুমার: ৬৩]। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: "তোমার আগে এ বিষয়ে আমাকে কেউ জিজ্ঞাসা করেনি। এর ব্যাখ্যা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং তাঁর প্রশংসা করছি, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই, তিনিই আদি ও অন্ত, প্রকাশ্য ও গোপন, ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ তাঁর হাতেই কল্যাণ, তিনিই জীবিত করেন ও মৃত্যু দান করেন এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।" এবং তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন। আল-হালিমি (রাহিমাহুল্লাহ) 'আয-যাহির' (প্রকাশ্য) এর অর্থ সম্পর্কে বলেন যে, তিনি তাঁর কার্যাবলীর মাধ্যমে প্রকাশিত এবং আল্লাহ মহান তিনি এই গুণে গুণান্বিত, ফলে তাঁর অস্তিত্বকে অস্বীকার করা বা তাঁর সাব্যস্ত হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব নয়। এবং আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি বলেন: তিনি তাঁর উজ্জ্বল দলিলসমূহ, সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ এবং তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) সাব্যস্ত হওয়ার ও তাঁর একত্ববাদ সঠিক হওয়ার নিদর্শনসমূহের মাধ্যমে প্রকাশ্য। আর 'আয-যাহির' তাঁর কুদরতের মাধ্যমে সব কিছুর উপরে হওয়াকেও বোঝায়। আবার 'প্রকাশ' দ্বারা উচ্চতা এবং প্রাধান্য লাভ করাও উদ্দেশ্য হতে পারে। আর এগুলোর মধ্যে একটি হলো 'আল-ওয়ারিস' (উত্তরাধিকারী), এর অর্থ হলো অন্যের চলে যাওয়ার পর অবশিষ্ট থাকা। আমাদের রব মহান তিনি এই গুণে গুণান্বিত, কেননা তিনি সেই সব মালিকদের চলে যাওয়ার পরেও অবশিষ্ট থাকবেন যাদেরকে তিনি এই দুনিয়াতে তাঁর দেওয়া সম্পদ দ্বারা ভোগ করার সুযোগ দিয়েছিলেন; কারণ তাদের অস্তিত্ব এবং সম্পদের অস্তিত্ব ছিল তাঁর মাধ্যমে, কিন্তু তাঁর অস্তিত্ব অন্য কারো মাধ্যমে নয়। আর এই নামটি সেই নামগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা আসমাউল হুসনার বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই আমিই জীবন দান করি ও মৃত্যু দান করি এবং আমিই উত্তরাধিকারী} [হিজর: ২৩]।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
بَابُ جِمَاعِ أَبْوَابِ ذِكْرِ الْأَسْمَاءِ الَّتِي تَتْبَعُ إِثْبَاتَ وَحْدَانِيَّتِهِ عَزَّ اسْمُهُ أَوَّلُهَا الْوَاحِدُ قَالَ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {قُلْ إِنَّمَا أَنَا مُنْذِرٌ وَمَا مِنْ إِلَهٍ إِلَّا اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ} [ص: 65] وَقَدْ ذَكَرْنَاهُ فِي خَبَرِ الْأَسَامِي
পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর একত্ব প্রমাণের অনুগামী নামসমূহের বর্ণনার অধ্যায়সমূহের সংকলন, যাঁর নাম মহিমান্বিত। সেগুলোর প্রথমটি হলো ‘আল-ওয়াহিদ’ (একক)। আল্লাহ জাল্লা ছানাউহু বলেছেন: {বলুন, আমি কেবল একজন সতর্ককারী এবং আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি একক, মহাপরাক্রমশালী} [ছোয়াদ: ৬৫]। আর এটি আমরা নামসমূহের বর্ণনার বিবরণে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত - বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌20 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرِ بْنُ قَتَادَةَ ، نا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سَعْدٍ الْبَزَّارُ الْحَافِظُ ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبُوشَنْجِيُّ ، ثَنَا يُوسُفُ بْنُ عَدِيٍّ ، ثَنَا عَثَّامُ بْنُ عَلِيٍّ ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَائِشَةَ ، رضي الله عنها قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَضَوَّرَ مِنَ اللَّيْلِ قَالَ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ‌‌⦗ص: 49⦘ وَمَا بَيْنَهُمَا الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ» قَالَ الْحَلِيمِيُّ رحمه الله ، فِي مَعْنَى الْوَاحِدِ: إِنَّهُ يَحْتَمِلُ وُجُوهًا: أَحَدُهَا أَنَّهُ لَا قَدِيمَ سِوَاهُ وَلَا إِلَهَ سِوَاهُ ، فَهُوَ وَاحِدٌ مِنْ حَيْثُ أَنَّهُ لَيْسَ لَهُ شَرِيكٌ فَيَجْرِي عَلَيْهِ حُكْمُ الْعَدَدِ وَتَبْطُلُ بِهِ وَحْدَانِيَّتُهُ وَالْآخَرُ: أَنَّهُ وَاحِدٌ بِمَعْنَى أَنَّ ذَاتَهُ ذَاتٌ لَا يَجُوزُ عَلَيْهِ التَّكَثُّرِ بِغَيْرِهِ ، وَالْإِشَارَةُ فِيهِ إِلَى أَنَّهُ لَيْسَ بِجَوْهَرٍ وَلَا عَرَضٍ ، لِأَنَّ الْجَوْهَرَ قَدْ يَتَكَثَّرُ بِالِانْضِمَامِ إِلَى جَوْهَرٍ مِثْلِهِ ، فَيَتَرَكَّبُ مِنْهُمَا جِسْمٌ ، وَقَدْ يَتَكَثَّرُ بِالْعَرَضِ الَّذِي يُحِلُّهُ ، وَالْعَرَضُ لَا قِوَامَ لَهُ إِلَّا بِغَيْرٍ يُحِلُّهُ وَالْقَدِيمُ فَرْدٌ لَا يَجُوزُ عَلَيْهِ حَاجَةٌ إِلَى غَيْرِهِ ، وَلَا يَتَكَثَّرُ بِغَيْرِهِ ، وَعَلَى هَذَا لَوْ قِيلَ: إِنَّ مَعْنَى الْوَاحِدِ أَنَّهُ الْقَائِمُ بِنَفْسِهِ لَكَانَ ذَلِكَ صَحِيحًا وَلَرَجَعَ الْمَعْنَى إِلَى أَنَّهُ لَيْسَ بِجَوْهَرٍ وَلَا عَرَضٍ ، لِأَنَّ قِيَامَ الْجَوْهَرِ بِفَاعِلِهِ وَمُبْقِيهِ ، وَقِيَامُ الْعَرَضِ بِجَوْهَرِ يُحِلُّهُ ، وَالثَّالِثُ: أَنَّ مَعْنَى الْوَاحِدِ هُوَ الْقَدِيمُ فَإِذَا قُلْنَا الْوَاحِدُ فَإِنَّمَا هُوَ الَّذِي لَا يُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ أَكْثَرَ مِنْ وَاحِدٍ هُوَ الْقَدِيمُ لِأَنَّ الْقَدِيمَ مُتَّصِفٌ فِي الْأَصْلِ بِالْإِطْلَاقِ السَّابِقَ لِلْمَوْجُودَاتِ ، وَمَهْمَا كَانَ قَدِيمًا كَانَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهَا غَيْرُ سَابِقٍ بِالْإِطْلَاقِ لِأَنَّهُ إِنْ سَبَقَ غَيْرَ صَاحِبِهِ فَلَيْسَ بِسَابِقٍ صَاحِبَهُ وَهُوَ مَوْجُودٌ كوُجُودِهِ فَيَكُونُ ‌‌⦗ص: 50⦘ إِذًا قَدِيمًا مِنْ وَجْهٍ ، غَيْرَ قَدِيمٍ مِنْ وَجْهٍ ، وَيَكُونُ الْقَدِيمُ وَصْفًا لَهُمَا مَعًا ، وَلَا يَكُونُ وَصْفًا لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا ، فَثَبَتَ أَنَّ الْقَدِيمَ بِالْإِطْلَاقِ لَا يَكُونُ إِلَّا وَاحِدًا ، فَالْوَاحِدُ إِذًا هُوَ الْقَدِيمُ الَّذِي لَا يُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ إِلَّا وَاحِدًا وَمِنْهَا الْوِتْرُ: لِأَنَّهُ إِذَا لَمْ يَكُنْ قَدِيمٌ سِوَاهُ لَا إِلَهٌ وَلَا غَيْرُ إِلَهٍ لَمْ يَنْبَغِ لِشَيْءٍ مِنَ الْمَوْجُودَاتِ أَنْ يُضَمَّ إِلَيْهِ فَيُعْبَدَ مَعَهُ ، فَيَكُونَ الْمَعْبُودُ مَعَهُ شَفْعًا ، لَكِنَّهُ وَاحِدٌ وِتْرٌ وَقَدْ ذَكَرْنَاهُ فِي رِوَايَةِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْحُصَيْنِ
২০ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর বিন কাতাদাহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন সাদ আল-বাজার আল-হাফিজ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল-বুশানজী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইউসুফ বিন আদি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আসসাম বিন আলী, হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রাতে পার্শ্বপরিবর্তন করতেন তখন বলতেন: «আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, মহাপরাক্রমশালী, আসমানসমূহ ও জমিন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘ এবং এই উভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, তিনি মহা সম্মানিত, পরম ক্ষমাশীল।» আল-হালীমী (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-ওয়াহিদ' (একক)-এর অর্থে বলেন: এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে: প্রথমত, তিনি ছাড়া কোনো অনাদি (কাদীম) সত্তা নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। সুতরাং তিনি একক এই দিক থেকে যে, তাঁর কোনো শরিক নেই, ফলে তাঁর ক্ষেত্রে সংখ্যার নিয়ম প্রযোজ্য হয় না যার মাধ্যমে তাঁর একত্ব ক্ষুণ্ণ হতে পারে। দ্বিতীয়ত: তিনি একক এই অর্থে যে, তাঁর সত্তা এমন এক সত্তা যাতে অন্য কিছুর মাধ্যমে বহুত্ব হওয়া অসম্ভব। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি 'জাওহার' (বস্তুগত একক) নন এবং 'আরায' (গুণাগুণ যা অন্য কিছুর ওপর নির্ভরশীল) নন। কারণ, জাওহার অন্য কোনো সমজাতীয় জাওহারের সাথে যুক্ত হয়ে বহুত্ব প্রাপ্ত হতে পারে, যার ফলে তা থেকে দেহ গঠিত হয়। আবার কখনো তা তার মধ্যে অবস্থানকারী গুণের (আরায) মাধ্যমেও বহুত্ব লাভ করতে পারে। আর গুণের নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব নেই সেই আধার (জাওহার) ছাড়া যাতে সে অবস্থান করে। অথচ অনাদি সত্তা একক, যাঁর অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া অসম্ভব এবং অন্য কিছুর দ্বারা বহুত্ব প্রাপ্ত হওয়াও অসম্ভব। এ প্রেক্ষিতে যদি বলা হয়: 'ওয়াহিদ'-এর অর্থ হলো তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে দণ্ডায়মান (কায়েম বি-নাফসিহী), তবে তা সঠিক হবে। তখন এর অর্থ দাঁড়াবে যে, তিনি জাওহার নন এবং আরাযও নন। কেননা জাওহারের স্থায়িত্ব তার স্রষ্টা ও বজায় রক্ষাকারীর ওপর নির্ভরশীল, আর গুণের (আরায) স্থায়িত্ব নির্ভর করে সেই আধারের ওপর যাতে সে অবস্থান করে। তৃতীয়ত: 'ওয়াহিদ' অর্থ হলো অনাদি। সুতরাং আমরা যখন 'ওয়াহিদ' বলি, তার অর্থ হলো এমন সত্তা যাঁর একের অধিক হওয়া অসম্ভব এবং তিনিই অনাদি। কারণ অনাদি সত্তা মূলত বিদ্যমান বস্তুসমূহের পূর্ববর্তী নিরঙ্কুশ অনাদিত্বের গুণে গুণান্বিত। যদি একাধিক সত্তা অনাদি হতো, তবে তাদের প্রত্যেকে নিরঙ্কুশভাবে পূর্ববর্তী হতে পারত না। কারণ সে যদি অন্য কোনো কিছু থেকে পূর্ববর্তী হয়ও, তবে তার সমকক্ষ অনাদি সাথী থেকে তো সে পূর্ববর্তী হতে পারবে না, যেহেতু সেই সাথীটিও তার মতোই অনাদিভাবে বিদ্যমান। এমতাবস্থায় সে ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ এক দিক থেকে অনাদি হবে কিন্তু অন্য দিক থেকে (নিরঙ্কুশভাবে) অনাদি হবে না। তখন 'অনাদি' গুণটি হবে তাদের উভয়ের জন্য সম্মিলিতভাবে, কিন্তু তাদের প্রত্যেকের জন্য স্বতন্ত্রভাবে নিরঙ্কুশ হবে না। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, নিরঙ্কুশভাবে অনাদি সত্তা কেবল একজনই হতে পারেন। অতএব, 'ওয়াহিদ' হলেন সেই অনাদি সত্তা যিনি কেবল একজনই হওয়া সম্ভব। আর এই নামের অন্তর্ভুক্ত হলো 'আল-বিতর' (একক/বেজোড়): কারণ যখন তিনি ছাড়া অন্য কোনো অনাদি সত্তা নেই—তা ইলাহ হোক বা অন্য কিছু—তখন বিদ্যমান কোনো বস্তুর জন্যই এটা সমীচীন নয় যে তাকে আল্লাহর সাথে যুক্ত করে ইবাদত করা হবে, যার ফলে মাবুদ আল্লাহর সাথে অন্য কেউ যুক্ত হয়ে জোড় (শাফ'উ) হয়ে যাবে। বরং তিনি এক ও একক (বিতর)। আর আমরা এটি আব্দুল আজিজ বিন আল-হুসাইনের বর্ণনায় উল্লেখ করেছি।