(খণ্ড: ১) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
منهاج السنة النبوية   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: منهاج السنة النبوية في نقض كلام الشيعة القدرية

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

المحقق: محمد رشاد سالم

الناشر: جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية

الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م

عدد المجلدات: 9

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ   (ইবনে তাইমিয়া)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: শিয়া কাদারিয়াদের বক্তব্য খণ্ডনে নববী সুন্নাহর পথ (মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফী নাকদি কালামিশ শিয়াতিল কাদারিয়্যাহ)

লেখক: তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানী আল-হাম্বালী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হি.)

গবেষক: মুহাম্মাদ রাশাদ সালিম

প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হি. - ১৯৮৬ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বরসমূহ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌[مقدمة المؤلف]

‌‌[خطبة الكتاب]

بسم الله الرحمن الرحيم

[وَبِهِ نَسْتَعِينُ] (1)

قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ، الْحَبْرُ الْكَامِلُ، الْأَوْحَدُ الْعَلَّامَةُ الْحَافِظُ، الْخَاشِعُ الْقَانِتُ، إِمَامُ الْأَئِمَّةِ، وَرَبَّانِيُّ الْأُمَّةِ، شَيْخُ الْإِسْلَامِ، بَقِيَّةُ الْأَعْلَامِ، تَقِيُّ الدِّينِ، خَاتِمَةُ الْمُجْتَهِدِينَ، (2) أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْحَلِيمِ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ تَيْمِيَّةَ الْحَرَّانِيُّ، قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ، وَنَوَّرَ ضَرِيحَهُ (3) .

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بَعَثَ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ، وَمُنْذِرِينَ، وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ، وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ، فَهَدَى اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ (4) ، وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ، وَأَشْهَدُ

--------------------------------------------

(1) وَبِهِ نَسْتَعِينُ: زِيَادَةٌ فِي (م) ، (أ) ، وَفِي (ن) : وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ.

(2) أ، ل: بَقِيَّةُ الْمُجْتَهِدِينَ.

(3) م، ن: قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَلَّامَةُ الرَّبَّانِيُّ، وَحِيدُ عَصْرِهِ، وَفَرِيدُ دَهْرِهِ، أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْحَلِيمِ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ بْنِ تَيْمِيَّةَ الْحَرَّانِيُّ رضي الله عنه، وَتَغَمَّدَهُ بِرَحْمَتِهِ، وَأَسْكَنَهُ بَحْبُوحَةَ جَنَّتِهِ، آمِينَ. وَلَمْ تَظْهَرْ بَعْضُ هَذِهِ الْكَلِمَاتِ فِي مُصَوَّرَةِ (ن) .

(4) بِإِذْنِهِ: سَاقِطَةٌ مِنْ (أ) فَقَطْ.
‌‌[লেখকের ভূমিকা]

‌‌[গ্রন্থের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

[এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি] (১)

শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, পূর্ণাঙ্গ মনীষী, অনন্য মহাজ্ঞানী ও হাফিজ, বিনীত ও অনুগত, ইমামদের ইমাম, উম্মাহর রব্বানী আলিম, শাইখুল ইসলাম, শ্রেষ্ঠ মনীষীদের উত্তরসূরি, তকিউদ্দীন, মুজতাহিদগণের সমাপক, আবু আব্বাস আহমাদ ইবন আব্দুল হালিম ইবন আব্দুস সালাম ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবিল কাসিম ইবন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (আল্লাহ তাঁর রুহকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন) বললেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নবীদেরকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে মানুষেরা যে বিষয়ে মতভেদ করছিল, তা তাঁদের মাঝে ফয়সালা করে দেয়। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পর কেবল পারস্পরিক বিদ্বেষের বশবর্তী হয়েই তারা তাতে মতভেদ করেছিল। অতঃপর মুমিনগণ যে সত্য বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল, আল্লাহ তাঁর অনুমতিতে তাদেরকে সেই সত্যের পথ দেখিয়েছেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন সরল সঠিক পথের দিকে হেদায়াত দান করেন। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি...

--------------------------------------------

(১) এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি: এটি (ম) ও (আ) পাণ্ডুলিপিতে বর্ধিত অংশ; আর (ন) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘এবং আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক লাভ হয়’।

(২) আ, ল: মুজতাহিদগণের অবশিষ্টাংশ।

(৩) ম, ন: শাইখ, ইমাম, আলিম, আল্লামা রব্বানী, স্বীয় যুগের অদ্বিতীয় ও সময়ের একক ব্যক্তিত্ব আহমাদ ইবন আব্দুল হালিম ইবন আব্দুস সালাম ইবন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন; আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে সিক্ত করুন এবং তাঁর জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে বসবাস করতে দিন, আমীন। তবে (ন) পাণ্ডুলিপির প্রতিকৃতিতে এই শব্দগুলোর কিছু অংশ প্রকাশিত হয়নি (অস্পষ্ট ছিল)।

(৪) তাঁর অনুমতিতে: শব্দটি কেবল (আ) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤)
أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، كَمَا شَهِدَ هُوَ سبحانه وتعالى (1) : {أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [سُورَةُ آلِ عِمْرَانَ: 18] وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، الَّذِي [خَتَمَ بِهِ أَنْبِيَاءَهُ، وَهَدَى بِهِ أَوْلِيَاءَهُ] (2) ، وَنَعَتَهُ (3) بِقَوْلِهِ فِي الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ - فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ} [سُورَةُ التَّوْبَةِ: 128 - 129] صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ [وَعَلَى آلِهِ (4) أَفْضَلَ صَلَاةٍ، وَأَفْضَلَ (5) . تَسْلِيمٍ] (6) .

 

‌‌[سبب تأليف ابن تيمية للكتاب]

أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّهُ قَدْ (7) أَحْضَرَ إِلَيَّ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ كِتَابًا صَنَّفَهُ بَعْضُ [شُيُوخِ الرَّافِضَةِ فِي عَصْرِنَا مُنَفِّقًا] (8) لِهَذِهِ الْبِضَاعَةِ، يَدْعُو بِهِ (9) إِلَى مَذْهَبِ الرَّافِضَةِ الْإِمَامِيَّةِ، مَنْ أَمْكَنَهُ دَعْوَتُهُ مِنْ وُلَاةِ الْأُمُورِ، [وَغَيْرِهِمْ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ، مِمَّنْ قَلَّتَ مَعْرِفَتُهُمْ] (10) بِالْعِلْمِ وَالدِّينِ، وَلَمْ

--------------------------------------------

(1) وَتَعَالَى: لَيْسَتْ فِي (م) ، (ل) . وَفِي (ن) : لَا شَرِيكَ لَهُ، كَمَا قَالَ: (شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ. . إِلَخْ) .

(2) مَا بَيْنَ الْمَعْقُوفَتَيْنِ مَكَانُهُ بَيَاضٌ فِي (ن) .

(3) أ، ب، ل: وَبَعَثَهُ.

(4) وَعَلَى آلِهِ: زِيَادَةٌ فِي (م) فَقَطْ.

(5) ب: وَأَكْمَلَ.

(6) مَا بَيْنَ الْمَعْقُوفَتَيْنِ مَكَانُهُ بَيَاضٌ فِي (ن) .

(7) قَدْ: زِيَادَةٌ فِي (م) ، (ن) .

(8) مَا بَيْنَ الْمَعْقُوفَتَيْنِ مَكَانُهُ بَيَاضٌ فِي (ن) .

(9) ن (فَقَطْ) : بِدَعْوَتِهِ.

(10) مَا بَيْنَ الْمَعْقُوفَتَيْنِ مَكَانُهُ بَيَاضٌ فِي (ن) .
এই যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, যেমনটি তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজে সাক্ষ্য দিয়েছেন (১): {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও (সাক্ষ্য দিয়েছে), তিনি ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [সূরা আল ইমরান: ১৮] এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁর মাধ্যমে তিনি তাঁর নবীগণের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং যাঁর মাধ্যমে তিনি তাঁর ওলীগণকে পথপ্রদর্শন করেছেন (২)। এবং তিনি পবিত্র কুরআনে তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করেছেন (৩) এই বলে: {নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যা কষ্ট দেয় তা তাঁর কাছে অসহনীয়। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত মমতাশীল ও দয়ালু। অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তুমি বলো, "আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তিনি মহান আরশের রব।"} [সূরা আত-তাওবাহ: ১২৮ - ১২৯] আল্লাহ তাঁর ওপর [এবং তাঁর পরিবারের ওপর (৪) সর্বোত্তম দরুদ এবং সর্বোত্তম (৫) সালাম বর্ষণ করুন] (৬)।

 

‌‌[ইবনে তাইমিয়্যাহ কর্তৃক কিতাবটি রচনার কারণ]

অতঃপর, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের একদল লোক আমার কাছে একটি কিতাব নিয়ে এসেছেন, যা আমাদের যুগের জনৈক [রাফেযী শায়খ তার এই পণ্য (ভ্রান্ত মতবাদ) প্রচারের উদ্দেশ্যে] (৮) রচনা করেছে। এর মাধ্যমে সে (৯) ইমামিয়া রাফেযী মাযহাবের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে তাদের, যাদেরকে দাওয়াত দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে—যেমন শাসকবর্গ [এবং অন্যান্য অজ্ঞ লোক, যাদের জ্ঞান ও দ্বীন সম্পর্কে জানাশোনা কম] (১০)। এবং তিনি...

--------------------------------------------

(১) ওয়া তাআলা: 'ম' এবং 'ল' পাণ্ডুলিপিতে নেই। 'ন' পাণ্ডুলিপিতে আছে: তাঁর কোনো শরিক নেই, যেমন তিনি বলেছেন: (আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই... ইত্যাদি)।

(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটির স্থান 'ন' পাণ্ডুলিপিতে শূন্য।

(৩) অ, ব, ল: এবং তাঁকে প্রেরণ করেছেন।

(৪) এবং তাঁর পরিবারের ওপর: কেবল 'ম' পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত আছে।

(৫) ব: এবং পূর্ণতম।

(৬) বন্ধনীভুক্ত অংশটির স্থান 'ন' পাণ্ডুলিপিতে শূন্য।

(৭) ক্বাদ (নিশ্চয়ই): 'ম' ও 'ন' পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত আছে।

(৮) বন্ধনীভুক্ত অংশটির স্থান 'ন' পাণ্ডুলিপিতে শূন্য।

(৯) ন (কেবল): তাঁর আহ্বানের মাধ্যমে।

(১০) বন্ধনীভুক্ত অংশটির স্থান 'ন' পাণ্ডুলিপিতে শূন্য।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
يَعْرِفُوا أَصْلَ دِينِ الْمُسْلِمِينَ، وَأَعَانَهُ عَلَى ذَلِكَ مَنْ عَادَتُهُمْ إِعَانَةُ [الرَّافِضَةِ مِنَ الْمُتَظَاهِرِينَ بِالْإِسْلَامِ، مِنْ] (1) أَصْنَافِ الْبَاطِنِيَّةِ الْمُلْحِدِينَ (2) الَّذِينَ هُمْ فِي الْبَاطِنِ مِنَ الصَّابِئَةِ (3) الْفَلَاسِفَةِ الْخَارِجِينَ عَنْ حَقِيقَةِ

--------------------------------------------

(1) مَا بَيْنَ الْمَعْقُوفَتَيْنِ مَكَانُهُ بَيَاضٌ فِي (ن) .

(2) الْبَاطِنِيَّةُ هُمُ الَّذِينَ جَعَلُوا لِكُلِّ ظَاهِرٍ مِنَ الْكِتَابِ بَاطِنًا، وَلِكُلِّ تَنْزِيلٍ تَأْوِيلًا، وَيَذْكُرُ الشَّهْرَسْتَانِيُّ (الْمِلَلَ وَالنِّحَلَ 1/172) أَنَّ " الْبَاطِنِيَّةَ الْقَدِيمَةَ " كَانَتْ تَخْلِطُ كَلَامَهَا بِبَعْضِ كَلَامِ الْفَلَاسِفَةِ. أَمَّا الْبَاطِنِيَّةُ عَلَى زَمَانِهِ فَقَدْ جَعَلَهُمْ هُمْ وَالْإِسْمَاعِيلِيَّةَ الْغُلَاةَ فَرْقَةً وَاحِدَةً، وَذَكَرَ أَنَّهُمْ يُسَمَّوْنَ فِي الْعِرَاقِ بِالْبَاطِنِيَّةِ وَالْقَرَامِطَةِ وَالْمَزْدَكِيَّةِ، وَفِي خُرَاسَانَ بِالتَّعْلِيمِيَّةِ وَالْمُلْحِدَةِ، وَأَضَافَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الدَّيْلَمِيُّ فِي كِتَابِهِ " قَوَاعِدِ عَقَائِدِ آلِ مُحَمَّدٍ " (الْقَاهِرَةِ سَنَةَ 1950) ص 34، الْأَلْقَابَ التَّالِيَةَ: السَّبْعِيَّةَ، وَالْخُرَّمِيَّةَ، وَالْبَابَكِيَّةَ، وَالْمُحَمِّرَةَ، وَالْمُبَارَكِيَّةَ، وَالْإِبَاحِيَّةَ، وَالزَّنَادِقَةَ، وَالْخَرْمَدِينِيَّةَ، وَنَقَلَ ابْنُ طَاهِرٍ الْبَغْدَادِيُّ (الْفَرْقَ بَيْنَ الْفِرَقِ، ص 196) عَنْ أَصْحَابِ الْمَقَالَاتِ قَوْلَهُمْ بِأَنَّ الَّذِينَ أَسَّسُوا دَعْوَةَ الْبَاطِنِيَّةِ جَمَاعَةٌ مِنْهُمْ مَيْمُونُ بْنُ دَيْصَانَ الْمَعْرُوفُ بِالْقَدَّاحِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْمُلَقَّبُ بِدَنْدَانَ.

وَانْظُرْ أَيْضًا: الْمِلَلَ وَالنِّحَلَ 1/170 - 178؛ الْفَرْقَ بَيْنَ الْفِرَقِ، ص 169 - 188؛ مَقَالَةَ كَارَادِي فُوفِي دَائِرَةَ الْمَعَارِفِ الْإِسْلَامِيَّةِ، مَادَّةَ: الْبَاطِنِيَّةِ؛ كِتَابَ " الصِّرَاعِ بَيْنَ الْمَوَالِي وَالْعَرَبِ " تَأْلِيفُ الدُّكْتُورِ مُحَمَّد بَدِيع شَرِيف، ص 57 - 65، الْقَاهِرَةَ، 1954.

(3) قَالَ الرَّازِيُّ عَنِ " الصَّابِئَةِ " (اعْتِقَادَاتِ فِرَقِ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُشْرِكِينَ ص [0 - 9] 0) : " قَوْمٌ يَقُولُونَ: إِنَّ مُدَبِّرَ هَذَا الْعَالَمِ وَخَالِقَهُ هَذِهِ الْكَوَاكِبُ السَّبْعَةُ وَالنُّجُومُ، فَهُمْ عَبَدَةُ الْكَوَاكِبِ ". وَأَمَّا الشَّهْرَسْتَانِيُّ (الْمِلَلُ وَالنِّحَلُ 1/210 - 211) فَيَذْكُرُ أَنَّ الْفِرَقَ كَانَتْ فِي زَمَانِ إِبْرَاهِيمَ عليه السلام تَرْجِعُ إِلَى صِنْفَيْنِ اثْنَيْنِ: الصَّابِئَةِ، وَالْحُنَفَاءِ، وَقَالَ الصَّابِئَةُ بِالْحَاجَةِ إِلَى وُجُودِ " مُتَوَسِّطٍ " رُوحَانِيٍّ، وَجَعَلَ بَعْضُهُمْ هَذَا " الْمُتَوَسِّطَ " مِنَ الْكَوَاكِبِ وَبَعْضُهُمْ جَعَلُوهُ مِنَ الْأَصْنَامِ. وَابْنُ تَيْمِيَّةَ كَثِيرًا مَا يَصِفُ الْفَلَاسِفَةَ بِأَنَّهُمْ مِنَ الصَّابِئَةِ الْمُشْرِكِينَ وَهُوَ يَذْكُرُ بِأَنَّ الْفَارَابِيَّ قَدِمَ حَرَّانَ - الَّتِي كَانَتْ مَرْكَزًا لِلصَّابِئَةِ الْمُشْرِكِينَ - فِي الْقَرْنِ الرَّابِعِ الْهِجْرِيِّ وَتَعَلَّمَ مِنْهُمْ وَأَخَذَ عَنْهُمُ الْفَلْسَفَةَ، وَكَذَلِكَ فَعَلَ ثَابِتُ بْنُ قُرَّةَ الْحَرَّانِيُّ وَغَيْرُهُ قَبْلَ الْفَارَابِيِّ. وَيُفَرِّقُ ابْنُ تَيْمِيَّةَ بَيْنَ هَؤُلَاءِ الصَّابِئَةِ الْمُشْرِكِينَ الَّذِينَ يَذْكُرُهُمُ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ [سُورَةَ الْحَجِّ: 17] وَبَيْنَ الصَّابِئَةِ الْمُوَحِّدِينَ الَّذِينَ يُثْنِي اللَّهُ عَلَيْهِمْ [سُورَةَ الْبَقَرَةِ: 62] . انْظُرْ تَفْصِيلَ ذَلِكَ وَغَيْرَهُ فِي الرَّدِّ عَلَى الْمَنْطِقِيِّينَ، ص [0 - 9] 87 - 290، 454 - 458؛ مِنْهَاجَ السُّنَّةِ (بُولَاقَ 1/197) ؛ مَجْمُوعَةَ الرَّسَائِلِ وَالْمَسَائِلِ 4/37، 38.؛ مَجْمُوعَةَ رَسَائِلِ شَيْخِ الْإِسْلَامِ ابْنِ تَيْمِيَّةَ 58، 74، 93، 94، 97 - 99. وَيُسَمِّي ابْنُ تَيْمِيَّةَ الْمُعْتَزِلَةَ وَغَيْرَهُمْ مِنَ النُّفَاةِ بِالصَّابِئَةِ الْمُعَطِّلَةِ، انْظُرْ مَثَلًا مَجْمُوعَةَ الرَّسَائِلِ وَالْمَسَائِلِ 1/183.
যাতে তারা মুসলমানদের মূল দ্বীন জানতে পারে। আর তাকে এ কাজে সাহায্য করেছে তারা যাদের স্বভাবই হলো সাহায্য করা [ইসলামের লেবাসধারী রাফেযীদের মধ্য থেকে, তারা হলো] (১) নাস্তিক বাতেনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণী (২) যারা অন্তরে সাবেয়ীদের (৩) অন্তর্ভুক্ত এবং সেই সকল দার্শনিক যারা প্রকৃত সত্য থেকে বিচ্যুত

--------------------------------------------

(১) বন্ধনীদ্বয়ের মধ্যবর্তী অংশটি (ন) পাণ্ডুলিপিতে শূন্য ছিল।

(২) বাতেনী হলো তারা যারা কিতাবের প্রতিটি প্রকাশ্য বিষয়ের জন্য একটি গোপন রহস্য এবং প্রতিটি অবতীর্ণ বাণীর জন্য একটি অপব্যাখ্যা সাব্যস্ত করেছে। শাহরাস্তানি (আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/১৭২) উল্লেখ করেছেন যে, "প্রাচীন বাতেনীরা" তাদের কথার সাথে দার্শনিকদের কিছু কথার মিশ্রণ ঘটাতো। আর তার সময়ের বাতেনীদের ক্ষেত্রে তিনি তাদের এবং চরমপন্থী ইসমাইলীদের একটি দল হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইরাকে তাদের বাতেনী, কারামিতা ও মাজদাকিয়া নামে ডাকা হয় এবং খোরাসানে তালীমিয়া ও মুলহিদা নামে ডাকা হয়। মুহাম্মদ বিন হাসান আদ-দাইলামি তার "কাওয়ায়িদু আকাইদি আলি মুহাম্মাদ" (কায়রো ১৯৫০) গ্রন্থের ৩৪ পৃষ্ঠায় আরও কিছু উপাধি যোগ করেছেন: সাবয়িয়াহ, খুররামীয়াহ, বাবকিয়াহ, মুহাম্মিরাহ, মুবারাকিয়াহ, ইবাহিয়্যাহ, যিনদীক এবং খারমাদিনিয়াহ। ইবন তাহির আল-বাগদাদী (আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃ. ১৯৬) মাক্বালাত লেখকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যে, যারা বাতেনী দাওয়াতের ভিত্তি স্থাপন করেছিল তারা একদল লোক, যাদের মধ্যে মাইমুন বিন দাইসান (আল-কাদ্দাহ নামে পরিচিত) এবং মুহাম্মদ বিন হুসাইন (দানদান উপাধিধারী) অন্যতম।

আরও দেখুন: আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/১৭০-১৭৮; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃ. ১৬৯-১৮৮; ইসলামের বিশ্বকোষে কারাদি ফুউফির নিবন্ধ, বিষয়: বাতেনী; ড. মুহাম্মদ বাদী' শরীফ রচিত "আস-সিরা বাইনাল মাওয়ালি ওয়াল আরব" গ্রন্থ, পৃ. ৫৭-৬৫, কায়রো, ১৯৫৪।

(৩) রাজী "সাবেয়ী" সম্পর্কে বলেছেন (ই'তিক্বদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন, পৃ. [০ - ৯] ০): "একদল লোক যারা বলে: এই মহাবিশ্বের পরিচালক ও স্রষ্টা হলো এই সাতটি গ্রহ ও নক্ষত্র; সুতরাং তারা নক্ষত্রপূজারী।" তবে শাহরাস্তানি (আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/২১০-২১১) উল্লেখ করেছেন যে, ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে দলগুলো দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল: সাবেয়ী এবং হানিফ। সাবেয়ীরা একজন আধ্যাত্মিক "মধ্যস্থতাকারী"র প্রয়োজনীয়তার কথা বলত; তাদের কেউ কেউ এই "মধ্যস্থতাকারী" হিসেবে নক্ষত্রদের নির্ধারণ করত, আবার কেউ কেউ একে মূর্তির রূপ দিত। ইবনে তাইমিয়া প্রায়শই দার্শনিকদের মুশরিক সাবেয়ী হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আল-ফারাবি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে হাররানে এসেছিলেন—যা ছিল মুশরিক সাবেয়ীদের কেন্দ্র—এবং তিনি তাদের কাছ থেকে দর্শন শিখেছেন ও গ্রহণ করেছেন। আল-ফারাবির আগে সাবিত বিন কুররা আল-হাররানি এবং অন্যরাও একই কাজ করেছিলেন। ইবনে তাইমিয়া এই মুশরিক সাবেয়ীদের (যাদের কথা আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন [সূরা আল-হাজ্জ: ১৭]) এবং একত্ববাদী সাবেয়ীদের (যাদের প্রশংসা আল্লাহ করেছেন [সূরা আল-বাকারাহ: ৬২]) মধ্যে পার্থক্য করেছেন। এর বিস্তারিত বর্ণনার জন্য দেখুন: আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যীন, পৃ. [০ - ৯] ৮৭-২৯০, ৪৫৪-৪৫৮; মিনহাজুস সুন্নাহ (বুলাক ১/১৯৭); মাজমুআতুর রাসায়িলি ওয়াল মাসায়িল ৪/৩৭, ৩৮; মাজমুআতু রাসায়িলি শায়খিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ৫৮, ৭৪, ৯৩, ৯৪, ৯৭-৯৯। ইবনে তাইমিয়া মুতাজিলা এবং গুণাবলী অস্বীকারকারী অন্যান্যদেরও "অস্বীকারকারী সাবেয়ী" বলে অভিহিত করেছেন, উদাহরণস্বরূপ দেখুন মাজমুআতুর রাসায়িলি ওয়াল মাসায়িল ১/১৮৩।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
[مُتَابَعَةِ (1) الْمُرْسَلِينَ الَّذِينَ لَا يُوجِبُونَ اتِّبَاعَ] (2) دِينِ الْإِسْلَامِ (3) ، وَلَا يُحَرِّمُونَ [اتِّبَاعَ] مَا سِوَاهُ (4) مِنَ الْأَدْيَانِ، بَلْ يَجْعَلُونَ الْمِلَلَ بِمَنْزِلَةِ الْمَذَاهِبِ، وَالسِّيَاسَاتِ [الَّتِي يَسُوغُ اتِّبَاعُهَا، وَأَنَّ النُّبُوَّةَ] نَوْعٌ مِنَ السِّيَاسَةِ الْعَادِلَةِ الَّتِي وُضِعَتْ لِمَصْلَحَةِ الْعَامَّةِ فِي الدُّنْيَا.

فَإِنَّ هَذَا الصِّنْفَ يَكْثُرُونَ وَيَظْهَرُونَ [إِذَا كَثُرَتِ الْجَاهِلِيَّةُ، وَأَهْلُهَا] ، وَلَمْ يَكُنْ هُنَاكَ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالنُّبُوَّةِ، وَالْمُتَابَعَةِ لَهَا مَنْ يُظْهِرُ أَنْوَارَهَا الْمَاحِيَةَ لِظُلْمَةِ (5) الضَّلَالِ، [وَيَكْشِفُ مَا فِي خِلَافِهَا مِنَ الْإِفْكِ] ، وَالشِّرْكِ، وَالْمِحَالِ.

وَهَؤُلَاءِ لَا يُكَذِّبُونَ بِالنُّبُوَّةِ تَكْذِيبًا مُطْلَقًا، بَلْ هُمْ يُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ أَحْوَالِهَا، وَيَكْفُرُونَ [بِبَعْضِ الْأَحْوَالِ (6) ، وَهُمْ مُتَفَاوِتُونَ فِيمَا] يُؤْمِنُونَ بِهِ، وَيَكْفُرُونَ بِهِ مِنْ تِلْكَ الْخِلَالِ، فَلِهَذَا يَلْتَبِسُ أَمْرُهُمْ بِسَبَبِ تَعْظِيمِهِمْ لِلنُّبُوَّاتِ عَلَى كَثِيرٍ مِنْ أَهْلِ (7) [الْجَهَالَاتِ.

--------------------------------------------

(1) م: اتِّبَاعِ.

(2) مَا بَيْنَ الْمَعْقُوفَتَيْنِ مَكَانُهُ بَيَاضٌ فِي (ن) . وَسَأَكْتَفِي فِيمَا يَلِي بِوَضْعِ الْمَعْقُوفَتَيْنِ بِدُونِ الْإِشَارَةِ إِلَى وُجُودِ الْبَيَاضِ فِي (ن) إِنْ شَاءَ اللَّهُ.

(3) ن، م: دِينِ الْمُسْلِمِينَ.

(4) ن، م: وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا سِوَاهُ.

(5) ن، م: لِظُلْمِ.

(6) الْأَحْوَالِ: سَاقِطَةٌ مِنْ (م) .

(7) أَهْلِ: سَاقِطَةٌ مِنْ (أ) ، (ل) .
[রাসূলগণের অনুসরণ (১), যারা অনুসরণ করাকে আবশ্যক করে না] (২) ইসলাম ধর্মের (৩), এবং তা ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম [অনুসরণ করাকে] (৪) নিষিদ্ধও করে না; বরং তারা ধর্মসমূহকে মাযহাবসমূহ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমপর্যায়ে গণ্য করে [যা অনুসরণ করা বৈধ; আর মনে করে যে নবুওয়াত হলো] এক প্রকার ন্যায়বিচারমূলক রাজনীতি যা দুনিয়াতে সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।

নিশ্চয়ই এই শ্রেণীর মানুষ সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় এবং তখনই তাদের আত্মপ্রকাশ ঘটে [যখন জাহিলিয়াত এবং জাহেলদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়], আর সেখানে নবুওয়াত এবং তার অনুসরণের বিষয়ে এমন কোনো আলেম থাকেন না যারা পথভ্রষ্টতার অন্ধকার (৫) মিটিয়ে দেওয়ার মতো নূরের বিচ্ছুরণ ঘটাবেন [এবং নবুওয়াতের বিরুদ্ধাচরণের মধ্যে যে মিথ্যা], শিরক ও অসম্ভব বিষয়াদি রয়েছে তা উন্মোচন করবেন।

আর এরা নবুওয়াতকে নিরঙ্কুশভাবে অস্বীকার করে না; বরং তারা এর কিছু অবস্থার প্রতি ঈমান রাখে এবং [কিছু অবস্থার (৬) কুফরি করে, আর তারা যা] বিশ্বাস করে এবং যা অস্বীকার করে সেই সকল বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে তারতম্য রয়েছে। এই কারণেই নবুওয়াতের প্রতি তাদের অতি-সম্মান প্রদর্শনের ফলে অনেক মূর্খ (৭) [লোকদের নিকট তাদের বিষয়টি সংশয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

--------------------------------------------

(১) মিম: অনুসরণ।

(২) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটির স্থানটি (নূন) পাণ্ডুলিপিতে শূন্য ছিল। ইনশাআল্লাহ, পরবর্তীতে আমি (নূন) পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থানের কথা উল্লেখ না করে কেবল তৃতীয় বন্ধনী ব্যবহার করেই ক্ষান্ত হব।

(৩) নূন, মিম: মুসলিমদের ধর্ম।

(৪) নূন, মিম: এবং তারা তা ব্যতীত অন্য কিছুকে নিষিদ্ধ করে না।

(৫) নূন, মিম: জুলুমের/অন্ধকারের।

(৬) অবস্থাসমূহ: এটি 'মিম' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৭) লোকদের: এটি 'আলিফ' ও 'লাম' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
وَالرَّافِضَةُ، وَالْجَهْمِيَّةُ] (1) هُمُ الْبَابُ لِهَؤُلَاءِ الْمُلْحِدِينَ، مِنْهُمْ يَدْخُلُونَ إِلَى سَائِرِ أَصْنَافِ الْإِلْحَادِ فِي أَسْمَاءِ اللَّهِ، وَآيَاتِ [كِتَابِهِ الْمُبِينِ، كَمَا قَرَّرَ ذَلِكَ] رُءُوسُ [الْمُلْحِدَةِ مِنَ] الْقَرَامِطَةِ (2) الْبَاطِنِيَّةِ (3) ، وَغَيْرِهِمْ مِنَ الْمُنَافِقِينَ.

وَذَكَرَ مَنْ أَحْضَرَ هَذَا الْكِتَابَ أَنَّهُ مِنْ [أَعْظَمِ الْأَسْبَابِ فِي تَقْرِيرِ مَذَاهِبِهِمْ] عِنْدَ مَنْ مَالَ إِلَيْهِمْ مِنَ الْمُلُوكِ، وَغَيْرِهِمْ، وَقَدْ صَنَّفَهُ (4) لِلْمَلِكِ الْمَعْرُوفِ الَّذِي سَمَّاهُ فِيهِ (5) [خَدَابَنْدَهْ (6) ، وَطَلَبُوا مِنِّي بَيَانَ مَا فِي هَذَا]

--------------------------------------------

(1) الْجَهْمِيَّةُ هُمُ الْمُنْتَسِبُونَ إِلَى جَهْمِ بْنِ صَفْوَانَ أَبِي مُحْرِزٍ مَوْلَى بَنِي رَاسِبٍ، وَهُوَ مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ، وَقَدْ تَتَلْمَذَ عَلَى الْجَعْدِ بْنِ دِرْهَمٍ، كَمَا اتَّصَلَ بِمُقَاتِلِ بْنِ سُلَيْمَانَ مِنَ الْمُرْجِئَةِ. وَكَانَ الْجَهْمُ كَاتِبًا لِلْحَارِثِ بْنِ سُرَيْجٍ مِنْ زُعَمَاءِ خُرَاسَانَ، وَخَرَجَ مَعَهُ عَلَى الْأُمَوِيِّينَ، فَقُتِلَا بِمَرْوَ سَنَةَ 128 هـ.

وَالْجَهْمِيَّةُ تُطْلَقُ أَحْيَانًا بِمَعْنًى عَامٍّ وَيُقْصَدُ بِهَا نُفَاةُ الصِّفَاتِ عَامَّةً، وَتُطْلَقُ أَحْيَانًا بِمَعْنًى خَاصٍّ وَيُقْصَدُ بِهَا مُتَابِعُو الْجَهْمِ بْنِ صَفْوَانَ فِي آرَائِهِ وَأَهَمُّهَا نَفْيُ الصِّفَاتِ وَالْقَوْلُ بِالْجَبْرِ وَالْقَوْلُ بِفَنَاءِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ. انْظُرْ مَقَالَاتِ الْأَشْعَرِيِّ 1/197 - 198، 224، 312؛ الْمِلَلَ وَالنِّحَلَ 1/79 - 81؛ الْفَرْقَ بَيْنَ الْفِرَقِ 128 - 129؛ التَّبْصِيرَ فِي الدِّينِ 63 - 64. وَانْظُرْ أَيْضًا مَا ذَكَرَهُ ابْنُ تَيْمِيَّةَ عَنِ الْجَهْمِيَّةِ فِي " التِّسْعِينِيَّةِ " ضِمْنَ الْفَتَاوَى 5/31 - 35، الْقَاهِرَةَ 1329.

(2) الْقَرَامِطَةُ مِنَ الْبَاطِنِيَّةِ هُمُ الَّذِينَ يَنْتَسِبُونَ إِلَى حَمْدَانَ بْنِ الْأَشْعَثِ الَّذِي كَانَ يُلَقَّبُ بِقَرْمَطَ وَقَدْ تَتَلْمَذَ عَلَى حُسَيْنٍ الْأَهْوَازِيِّ رَسُولِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مَيْمُونٍ الْقَدَّاحِ، ثُمَّ اتَّخَذَ لِنَفْسِهِ مَقَرًّا قُرْبَ الْكُوفَةِ سَمَّاهُ " دَارَ الْهِجْرَةِ " وَأَخَذَ هُوَ وَأَتْبَاعُهُ يَشُنُّونَ مِنْهُ الْغَارَاتِ عَلَى الْمُسْلِمِينَ، وَقَدِ انْتَشَرَتْ دَعْوَتُهُ فِي أَنْحَاءَ كَثِيرَةٍ فِي الْعَالَمِ الْإِسْلَامِيِّ وَكَانَتْ سَبَبًا فِي كَثِيرٍ مِنَ الْقَلَاقِلِ وَالْحُرُوبِ. وَذَكَرَ ابْنُ طَاهِرٍ الْبَغْدَادِيُّ (الْفَرْقَ بَيْنَ الْفِرَقِ، ص 177) أَنَّ حَمْدَانَ قَرْمَطَ كَانَ مِنَ الصَّابِئَةِ الْحَرَّانِيَّةِ. انْظُرْ أَيْضًا: هِيوَارَ فِي دَائِرَةِ الْمَعَارِفِ الْإِسْلَامِيَّةِ، مَادَّةَ: حَمْدَانَ قَرْمَطَ؛ آدَم مِتْز: الْحَضَارَةَ الْإِسْلَامِيَّةَ فِي الْقَرْنِ الرَّابِعِ الْهِجْرِيِّ 2/45 - 49، الْقَاهِرَةَ، 1948؛ الْفَرْقَ بَيْنَ الْفِرَقِ 169 - 172؛ مَقَالَاتِ الْأَشْعَرِيِّ 1/98.

(3) م: الْبَاطِنَةِ.

(4) أ: صَنَعَهُ.

(5) فِيهِ: زِيَادَةٌ فِي (م) ، (ن) .

(6) خَدَابَنْدَهْ: كَذَا فِي (ب) . وَفِي سَائِرِ النُّسَخِ: خَذَابَنْدَهْ.
রাফেজি এবং জাহমিয়ারা হলো এই নাস্তিকদের প্রবেশদ্বার। তাদের মাধ্যমেই তারা আল্লাহর নামসমূহ এবং তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াতসমূহে সব ধরনের নাস্তিক্যবাদী বিকৃতির পথে প্রবেশ করে, যেমনটি কারামিতা বাতেনিয়াদের নাস্তিক্যবাদী নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য মুনাফিকরা স্থির করেছে।

যিনি এই বইটি উপস্থিত করেছেন তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যারা রাজা-বাদশাহ এবং অন্যান্যদের মধ্যে তাদের মতবাদের প্রতি ঝুঁকেছিল, তাদের কাছে এটি তাদের মতবাদ সুপ্রতিষ্ঠিত করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। তিনি এটি সেই সুপরিচিত রাজার জন্য রচনা করেছেন যাকে তিনি এতে 'খোদাবান্দাহ' নামে অভিহিত করেছেন। তারা আমার কাছে এই বইটিতে যা আছে তা বর্ণনা করার অনুরোধ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) জাহমিয়া হলো তারা, যারা বনু রাসিবের মুক্তদাস আবু মুহরিজ জাহম ইবনে সাফওয়ানের অনুসারী। তিনি খোরাসানের অধিবাসী ছিলেন। তিনি জা’দ ইবনে দিরহামের নিকট শিক্ষা লাভ করেন এবং মুরজিয়াদের মুকাতিল ইবনে সুলায়মানের সাথেও তার যোগাযোগ ছিল। জাহম খোরাসানের অন্যতম নেতা হারিস ইবনে সুরাইজের লেখক ছিলেন এবং উমাইয়াদের বিরুদ্ধে তার সাথে বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন। হিজরি ১২৮ সনে মার্ভে তারা উভয়ে নিহত হন।

জাহমিয়া শব্দটি কখনও কখনও সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয় যার দ্বারা সামগ্রিকভাবে আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারীদের বোঝানো হয়। আবার কখনও কখনও এটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয় যার দ্বারা জাহম ইবনে সাফওয়ানের মতাদর্শের অনুসারীদের বোঝানো হয়। তার প্রধান মতবাদগুলো হলো আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করা, জবরবাদ (মানুষের কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নেই বলে বিশ্বাস করা) এবং জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা বলা। দেখুন: মাকালাতুল আশআরী ১/১৯৭-১৯৮, ২২৪, ৩১২; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/৭৯-৮১; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক ১২৮-১২৯; আত-তাবসির ফিদ দ্বীন ৬৩-৬৪। আরও দেখুন ফাতাওয়া ৫/৩১-৩৫ (কায়রো ১৩২৯)-এর অন্তর্ভুক্ত 'আত-তিসয়িনিয়্যাহ'-তে জাহমিয়াদের সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়া যা উল্লেখ করেছেন।

(২) বাতেনিয়াদের অন্তর্ভুক্ত কারামিতারা হলো তারা, যারা হামদান ইবনে আশআসের অনুসারী, যাকে 'কারমাত' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে মায়মুন আল-কাদ্দাহর প্রতিনিধি হুসাইন আল-আহওয়াজির নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কুফার কাছে নিজের জন্য একটি কেন্দ্র তৈরি করেন যার নাম দেন "দারুল হিজরত"। সেখান থেকে তিনি এবং তার অনুসারীরা মুসলিমদের ওপর আক্রমণ শুরু করেন। তার দাওয়াত ইসলামী বিশ্বের অনেক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তা অনেক বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধের কারণ হয়েছিল। ইবনে তাহির আল-বাগদাদি (আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃ. ১৭৭) উল্লেখ করেছেন যে, হামদান কারমাত হাররানিয়া সাবেয়ী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আরও দেখুন: এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইসলাম-এ হিউয়ার, নিবন্ধ: হামদান কারমাত; আদম মেটজ: আল-হাদারাতুল ইসলামিয়া ফিল কারনির রাবিয়িল হিজরি ২/৪৫-৪৯, কায়রো, ১৯৪৮; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক ১৬৯-১৭২; মাকালাতুল আশআরী ১/৯৮।

(৩) ম: আল-বাতেনাহ।

(৪) অ: তিনি এটি প্রস্তুত করেছেন।

(৫) 'এতে' শব্দটি (ম) ও (ন) পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত রয়েছে।

(৬) খোদাবান্দাহ: 'ব' পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। অন্যান্য সকল পাণ্ডুলিপিতে আছে 'খাজাবান্দাহ'।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
الْكِتَابِ مِنَ الضَّلَالِ، وَبَاطِلِ الْخِطَابِ، لِمَا فِي ذَلِكَ مِنْ نَصْرِ عِبَادِ اللَّهِ الْمُؤْمِنِينَ، وَبَيَانِ [بُطْلَانِ أَقْوَالِ الْمُفْتَرِينَ الْمُلْحِدِينَ] .

فَأَخْبَرْتُهُمْ أَنَّ هَذَا الْكِتَابَ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَعْلَى (1) مَا يَقُولُونَهُ فِي بَابِ الْحُجَّةِ وَالدَّلِيلِ، فَالْقَوْمُ [مِنْ أَضَلِّ النَّاسِ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ، فَإِنَّ] الْأَدِلَّةَ إِمَّا نَقْلِيَّةٌ، وَإِمَّا عَقْلِيَّةٌ، وَالْقَوْمُ مِنْ أَضَلِّ النَّاسِ فِي الْمَنْقُولِ، وَالْمَعْقُولِ فِي الْمَذَاهِبِ [وَالتَّقْرِيرِ، وَهُمْ مِنْ أَشْبَهِ (2) النَّاسِ بِمَنْ] قَالَ اللَّهُ فِيهِمْ: {وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ} [سُورَةُ الْمُلْكِ: 10] ، [وَالْقَوْمُ (3) مِنْ أَكْذَبِ النَّاسِ فِي النَّقْلِيَّاتِ، وَمِنْ أَجْهَلِ (4) ] النَّاسِ فِي الْعَقْلِيَّاتِ، يُصَدِّقُونَ مِنَ الْمَنْقُولِ بِمَا يَعْلَمُ الْعُلَمَاءُ بِالِاضْطِرَارِ (5) أَنَّهُ مِنَ [الْأَبَاطِيلِ، وَيُكَذِّبُونَ بِالْمَعْلُومِ مِنَ الِاضْطِرَارِ (6) ] الْمُتَوَاتِرِ أَعْظَمَ تَوَاتُرٍ فِي الْأُمَّةِ جِيلًا بَعْدَ جِيلٍ، وَلَا يُمَيِّزُونَ فِي نَقَلَةِ الْعِلْمِ، وَرُوَاةِ [الْأَحَادِيثِ (7) ] ، وَالْأَخْبَارِ (8) [بَيْنَ الْمَعْرُوفِ بِالْكَذِبِ، أَوِ] الْغَلَطِ، أَوِ الْجَهْلِ (9) بِمَا يُنْقَلُ، وَبَيْنَ الْعَدْلِ الْحَافِظِ الضَّابِطِ الْمَعْرُوفِ بِالْعِلْمِ بِالْآثَارِ (10) .

--------------------------------------------

(1) مِنْ أَعْلَى: سَاقِطَةٌ مِنْ (ل) .

(2) م: وَمِنْ أَشْبَهِ.

(3) أ، ب، ل: وَهُمْ.

(4) م: وَأَجْهَلِ.

(5) م: مِنَ الِاضْطِرَارِ.

(6) م: بِالِاضْطِرَارِ.

(7) الْأَحَادِيثِ: زِيَادَةٌ فِي (م) .

(8) وَالَاخْبَارِ: كَذَا فِي (م) وَفِي سَائِرِ النُّسَخِ: الْأَخْبَارِ.

(9) م، ن: وَالْجَهْلِ.

(10) بِالْآثَارِ: كَذَا فِي (م) . وَفِي يَسَارِ النُّسَخِ: وَالْآثَارِ.
এই কিতাবটি বিভ্রান্তি এবং বাতিল বক্তব্য থেকে মুক্ত, কারণ এতে রয়েছে আল্লাহর মুমিন বান্দাদের সাহায্য এবং [পথভ্রষ্ট মিথ্যুকদের বক্তব্যের অসারতা] বর্ণনা।

অতঃপর আমি তাদের অবগত করেছি যে, এই কিতাবটি যদি দলিল ও প্রমাণের ক্ষেত্রে তাদের বলা শ্রেষ্ঠ (১) কথাগুলোর অন্তর্ভুক্তও হয়, তবুও এই সম্প্রদায়টি [সরল পথ হতে বিচ্যুত সর্বাধিক বিভ্রান্ত মানুষদের অন্তর্ভুক্ত। কেননা] দলিলসমূহ হয় বর্ণনাভিত্তিক, অথবা যুক্তিভিত্তিক। আর এই সম্প্রদায়টি বর্ণনা ও যুক্তির ক্ষেত্রে মাযহাব এবং [বিবৃতির ক্ষেত্রে সর্বাধিক পথভ্রষ্ট। তারা ঐসব (২) লোকেদের সদৃশ] যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তবে আমরা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না’।" [সূরা আল-মুলক: ১০]। [আর এই সম্প্রদায়টি (৩) বর্ণনাভিত্তিক বিষয়সমূহে সর্বাধিক মিথ্যাচারী এবং (৪) ] যুক্তিভিত্তিক বিষয়সমূহে সর্বাধিক মূর্খ। তারা বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন সব বিষয়কে সত্য মনে করে যা আলেমগণ অকাট্যভাবে (৫) জানেন যে সেগুলো [বাতিল। পক্ষান্তরে তারা এমন সব অকাট্য (৬) ] মুতাওয়াতির বিষয়কে অস্বীকার করে যা উম্মতের মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রচলিত রয়েছে। তারা জ্ঞান এবং [হাদিস (৭) ] ও সংবাদ বহনকারীদের (৮) মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না; অর্থাৎ [যারা মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত কিংবা] ভুলকারী অথবা যা বর্ণনা করছে সে বিষয়ে অজ্ঞ (৯), তাদের সাথে ঐসব ন্যায়পরায়ণ, প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের পার্থক্য করতে পারে না যারা আসার বা বর্ণনা সংক্রান্ত জ্ঞানে (১০) সুপরিচিত।

--------------------------------------------

(১) শ্রেষ্ঠতম: 'লাম' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(২) মিম: এবং অধিক সদৃশ।

(৩) আলিফ, বা, লাম: এবং তারা।

(৪) মিম: এবং অধিক মূর্খ।

(৫) মিম: অকাট্যভাবে।

(৬) মিম: অকাট্যভাবে।

(৭) হাদিসসমূহ: 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত হিসেবে রয়েছে।

(৮) এবং সংবাদসমূহ: 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে, আর অন্যান্য অনুলিপিতে রয়েছে: সংবাদসমূহ।

(৯) মিম, নুন: এবং অজ্ঞতা।

(১০) আসার বা বর্ণনা সংক্রান্ত জ্ঞানে: 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে। আর অন্যান্য অনুলিপিতে রয়েছে: এবং বর্ণনা।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
[وَعُمْدَتُهُمْ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ عَلَى التَّقْلِيدِ] ، وَإِنْ ظَنُّوا إِقَامَتَهُ بِالْبُرْهَانِيَّاتِ، فَتَارَةً يَتَّبِعُونَ الْمُعْتَزِلَةَ، وَالْقَدَرِيَّةَ (1) ، وَتَارَةً يَتَّبِعُونَ الْمُجَسِّمَةَ (2) ، [وَالْجَبْرِيَّةُ (3) ، وَهُمْ مِنْ أَجْهَلِ هَذِهِ الطَّوَائِفِ] بِالنَّظَرِيَّاتِ، وَلِهَذَا كَانُوا عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَالدِّينِ مِنْ أَجْهَلِ الطَّوَائِفِ الدَّاخِلِينَ فِي الْمُسْلِمِينَ.

--------------------------------------------

(1) الْقَدَرِيَّةُ هُمُ الَّذِينَ كَانُوا يَخُوضُونَ فِي الْقَدَرِ وَيَذْهَبُونَ إِلَى إِنْكَارِهِ. وَأَوَّلُ الْقَدَرِيَّةِ هُوَ - عَلَى الْأَرْجَحِ - مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ الْمَقْتُولُ سَنَةَ 80 هـ. (انْظُرْ شَرْحَ مُسْلِمٍ لِلنَّوَوِيِّ 1/150 - 151) وَتَبِعَهُ عَلَى ذَلِكَ غَيْلَانُ بْنُ مُسْلِمٍ الدِّمَشْقِيُّ الْمَقْتُولُ فِي عَهْدِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ. انْظُرِ الْفَرْقَ بَيْنَ الْفِرَقِ 70؛ " الْمُعْتَزِلَةَ " تَأْلِيفُ زُهْدِي جَار اللَّهِ (الْقَاهِرَةَ، 1947) ص [0 - 9]- 7.

وَقَدْ ذَكَرَ الْأَشْعَرِيُّ فِي مَقَالَاتِهِ اخْتِلَافَ الرَّافِضَةِ فِي أُصُولِ الدِّينِ وَبَيَّنَ أَنَّ بَعْضَهُمْ كَانُوا يُتَابِعُونَ الْمُعْتَزِلَةَ وَالْقَدَرِيَّةَ. انْظُرِ الْمَقَالَاتِ 1/105، 110، 114، 115، (وَنَقَلَ ابْنُ تَيْمِيَّةَ بَعْضَ كَلَامِهِ فِيمَا يَلِي مِنْ هَذَا الْكِتَابِ: بُولَاقَ 1/214) . وَانْظُرْ أَيْضًا ضُحَى الْإِسْلَامِ لِأَحْمَدَ أَمِين 3/267 - 268، الْقَاهِرَةَ، 1949.

(2) الْمُجَسِّمَةُ هُمُ الْقَائِلُونَ بِأَنَّ اللَّهَ جِسْمٌ مِنَ الْأَجْسَامِ، وَقَدْ أَوْرَدَ الْأَشْعَرِيُّ (الْمَقَالَاتِ 1/102 - 105) آرَاءَ خَمْسِ فِرَقٍ مِنَ الشِّيعَةِ الْأَوَائِلِ وَكُلُّهَا تَذْهَبُ إِلَى التَّجْسِيمِ مِثْلَ قَوْلِ هِشَامِ بْنِ الْحَكَمِ بِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى جِسْمٌ " طُولُهُ مِثْلُ عَرْضِهِ، وَعَرْضُهُ مِثْلُ عُمْقِهِ " ثُمَّ قَالَ الْأَشْعَرِيُّ (1/105) " وَقَالُوا فِي التَّوْحِيدِ بِقَوْلِ الْمُعْتَزِلَةِ وَالْخَوَارِجِ، فَأَمَّا أَوَائِلُهُمْ فَإِنَّهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ مَا حَكَيْنَا عَنْهُمْ مِنَ التَّشْبِيهِ ". وَقَدْ نَقَلَ ابْنُ تَيْمِيَّةَ فِي كِتَابِنَا هَذَا (بُولَاقَ 1/203) كَلَامَ الْأَشْعَرِيِّ فِي هَذَا الصَّدَدِ، وَانْظُرْ مَا ذَكَرَهُ أَيْضًا عَنِ الْمُجَسِّمَةِ (1/238 - 240) . وَانْظُرْ أَيْضًا دَائِرَةَ الْمَعَارِفِ الْإِسْلَامِيَّةِ، مَادَّةَ " جَسَمَ "، 6/460 - 461، وَمَادَّةَ " التَّشْبِيهِ ": 5/257 - 258.

(3) م: الْجَبْرِيَّةُ وَالْمُجَسِّمَةُ. وَالْجَبْرِيَّةُ هُمُ الَّذِينَ لَا يُثْبِتُونَ لِلْعَبْدِ فِعْلًا، وَلَا قُدْرَةً عَلَى الْفِعْلِ أَصْلًا، بَلْ يُضِيفُونَ الْفِعْلَ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى. وَلَا تُوجَدُ - فِيمَا نَعْلَمُ - فِرَقٌ تَنْفَرِدُ بِالْقَوْلِ بِالْجَبْرِ، بَلْ أَكْثَرُ الْجَبْرِيَّةِ يَقُولُونَ بِهِ مَعَ قَوْلِهِمْ بِأُمُورٍ أُخْرَى مِثْلَ الْجَهْمِيَّةِ وَالنَّجَّارِيَّةِ وَالضِّرَارِيَّةِ الَّذِينَ جَمَعُوا بَيْنَ الْجَبْرِ وَنَفْيِ الصِّفَاتِ. انْظُرِ الْمِلَلَ وَالنِّحَلَ 1/79 - 83؛ الْفَرْقَ بَيْنَ الْفِرَقِ 126 - 130؛ اعْتِقَادَاتِ فِرَقِ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُشْرِكِينَ 68 - 69.

وَلَمْ أَجِدْ فِيمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ الْمَرَاجِعِ مَا يَدُلُّ عَلَى مُتَابَعَةِ الشِّيعَةِ لِلْجَبْرِيَّةِ، وَانْظُرْ فِي ذَلِكَ الْمَقَالَاتِ 1/110 - 112؛ الْمِلَلَ وَالنِّحَلَ 1/146 - 147، 154.
[প্রকৃতপক্ষে তাদের মূল ভিত্তি হলো অন্ধ অনুসরণ (তাকলিদ)], যদিও তারা ধারণা করে যে তারা তা প্রমাণাদির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে তারা কখনো মুতাজিলা ও কাদারিয়াদের (১) অনুসরণ করে, আবার কখনো মুজাস্সিমা (দেহবাদী) (২) [এবং জাবরিয়াদের (৩) অনুসরণ করে; আর তাত্ত্বিক পর্যালোচনার দিক থেকে তারা এই দলগুলোর মধ্যে সর্বাধিক মূর্খ]। আর এ কারণেই তারা সকল আলেম এবং দ্বীনদার ব্যক্তির নিকট মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মূর্খ গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য।

--------------------------------------------

(১) কাদারিয়া হলো তারা যারা তাকদির বা ভাগ্য নিয়ে অনর্থক বিতর্কে লিপ্ত হতো এবং তা অস্বীকার করার পথে চলত। অধিকাংশের মতে প্রথম কাদারি হলো মাবাদ আল-জুহানি, যাকে ৮০ হিজরিতে হত্যা করা হয়েছিল। (দেখুন: নববীর ‘শারহু মুসলিম’ ১/১৫০-১৫১)। এ পথে তার অনুসরণ করেছিল গাইলান ইবনে মুসলিম আল-দিমাশকি, যাকে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের শাসনামলে হত্যা করা হয়েছিল। দেখুন: ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’ ৭০; যুহদি জারুল্লাহ রচিত ‘আল-মুতাজিলা’ (কায়রো, ১৯৪৭) পৃষ্ঠা ০-৯-৭।

আশআরি তাঁর ‘মাকালাত’ গ্রন্থে দ্বীনের মৌলিক নীতিমালার ক্ষেত্রে রাফেজিদের মতপার্থক্য উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে তাদের কেউ কেউ মুতাজিলা ও কাদারিয়াদের অনুসরণ করত। দেখুন: ‘মাকালাত’ ১/১০৫, ১১০, ১১৪, ১১৫, (ইবনে তাইমিয়্যাহ এই গ্রন্থের পরবর্তী অংশে তাঁর কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন: বুলাক ১/২১৪)। আরও দেখুন: আহমদ আমিনের ‘দুহাল ইসলাম’ ৩/২৬৭-২৬৮, কায়রো, ১৯৪৯।

(২) মুজাস্সিমা হলো তারা যারা বলে যে আল্লাহ অন্যান্য দেহের মতো একটি দেহ। আশআরি (মাকালাত ১/১০২-১০৫) প্রাথমিক শিয়াদের পাঁচটি দলের মতামত উল্লেখ করেছেন যাদের সকলেই দেহবাদের (তাজসিম) দিকে ধাবিত হয়েছিল, যেমন হিশাম ইবনুল হাকামের উক্তি যে আল্লাহ তাআলা একটি দেহ, "তাঁর দৈর্ঘ্য তাঁর প্রস্থের সমান এবং তাঁর প্রস্থ তাঁর গভীরতার সমান"। এরপর আশআরি বলেন (১/১০৫): "তাওহিদের ক্ষেত্রে তারা মুতাজিলা ও খাওয়ারিজদের মত পোষণ করেছে। তবে তাদের পূর্বসূরিরা মূলত আল্লাহর সদৃশ সাব্যস্তকরণের (তাশবিহ) সেই কথাই বলত যা আমরা তাদের থেকে বর্ণনা করেছি।" ইবনে তাইমিয়্যাহ আমাদের এই কিতাবে (বুলাক ১/২০৩) এই বিষয়ে আশআরির বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন; আরও দেখুন তিনি মুজাস্সিমা সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন (১/২৩৮-২৪০)। আরও দেখুন: ‘দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ’, ‘জাসামা’ শব্দমূল, ৬/৪৬০-৪৬১ এবং ‘আত-তাশবিহ’ শব্দমূল: ৫/২৫৭-২৫৮।

(৩) পাণ্ডুলিপি ‘ম’-তে রয়েছে: জাবরিয়া ও মুজাস্সিমা। জাবরিয়া হলো তারা যারা বান্দার জন্য কোনো কর্ম বা কর্মের কোনো ক্ষমতা মোটেও সাব্যস্ত করে না, বরং তারা কর্মকে আল্লাহ তাআলার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করে। আমাদের জানামতে এমন কোনো স্বতন্ত্র দল নেই যারা কেবল জাবরিয়া মতবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত; বরং অধিকাংশ জাবরিয়াই অন্যান্য মতবাদের সাথে এটি পোষণ করে থাকে, যেমন জাহমিয়া, নাজ্জারিয়া এবং দ্বিরারিয়া—যারা জাবর (অপরিহার্যতা) এবং আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার বিষয়টিকে একত্রিত করেছে। দেখুন: ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ ১/৭৯-৮৩; ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’ ১২৬-১৩০; ‘ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিনা ওয়াল মুশরিকিন’ ৬৮-৬৯।

আমার নিকট বিদ্যমান উৎসগুলোর মধ্যে এমন কোনো তথ্য পাইনি যা শিয়াদের জাবরিয়াদের অনুসরণ করার বিষয়টি নির্দেশ করে; এ বিষয়ে দেখুন: ‘মাকালাত’ ১/১১০-১১২; ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ ১/১৪৬-১৪৭, ১৫৪।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
[وَمِنْهُمْ مَنْ أَدْخَلَ عَلَى الدِّينِ] مِنَ الْفَسَادِ مَا لَا يُحْصِيهِ إِلَّا رَبُّ الْعِبَادِ، فَمَلَاحِدَةُ الْإِسْمَاعِيلِيَّةِ (1) ، وَالنُّصَيْرِيَّةُ (2) ، وَغَيْرِهِمْ مِنَ [الْبَاطِنِيَّةِ

--------------------------------------------

(1) انْقَسَمَتِ الشِّيعَةُ الْإِمَامِيَّةُ بَعْدَ وَفَاةِ جَعْفَرٍ الصَّادِقِ حَوَالَيْ سَنَةِ 147 هـ إِلَى عِدَّةِ فِرَقِ أَهَمُّهَا الْمُوسَوِيَّةُ وَالْإِسْمَاعِيلِيَّةُ، قَالَتِ الْأُولَى مِنْهُمَا بِإِمَامَةِ مُوسَى الْكَاظِمِ بْنِ جَعْفَرٍ الصَّادِقِ وَهُمُ الْمُوسَوِيَّةُ، وَقَالَتِ الثَّانِيَةُ مِنْهُمَا بِإِمَامَةِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ وَهُمُ الْإِسْمَاعِيلِيَّةُ. وَانْقَسَمَتِ الْإِسْمَاعِيلِيَّةُ بِدَوْرِهَا إِلَى فِرْقَتَيْنِ، قَالَتِ الْأُولَى مِنْهُمَا: إِنَّ إِسْمَاعِيلَ لَمْ يَمُتْ بَلْ أَظْهَرَ الْمَوْتَ تَقِيَّةً (وَالْقَرَامِطَةُ عِنْدَ الْأَشْعَرِيِّ مِنْ هَؤُلَاءِ) ، وَقَالَتِ الْفِرْقَةُ الثَّانِيَةُ: بَلْ مَاتَ وَالْإِمَامُ بَعْدَهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَهَؤُلَاءِ هُمُ الْمُبَارَكِيَّةُ. ثُمَّ انْقَسَمُوا بَعْدَ ذَلِكَ إِلَى مَنْ وَقَفَ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ وَقَالَ بِرَجْعَتِهِ بَعْدَ غَيْبَتِهِ، وَإِلَى مَنْ سَاقَ الْإِمَامَةَ فِي " الْمَسْتُورِينَ " مِنْهُمْ ثُمَّ فِي " الظَّاهِرِينَ الْقَائِمِينَ " وَهَؤُلَاءِ هُمُ الْإِسْمَاعِيلِيَّةُ الْبَاطِنِيَّةُ. انْظُرِ الْمَقَالَاتِ 1/98 - 99، 100 - 101؛ الْمِلَلَ وَالنِّحَلَ 1/149، 170 - 178. وَانْظُرْ أَيْضًا كِتَابَ الدُّكْتُور مُحَمَّد كَامِل حُسَيْن: طَائِفَةَ الْإِسْمَاعِيلِيَّةِ، الْقَاهِرَةَ، 1959؛ هِيوَار: مَقَالَةٌ عَنِ الْإِسْمَاعِيلِيَّةِ، دَائِرَةَ الْمَعَارِفِ الْإِسْلَامِيَّةِ؛ جُولْد تِسِيهَر: الْعَقِيدَةُ وَالشَّرِيعَةُ، ص 212 - 220 (الطَّبْعَةَ الْأُولَى) ؛ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الدَّيْلَمِيُّ: كِتَابَ قَوَاعِدِ عَقَائِدِ آلِ مُحَمَّدٍ الْبَاطِنِيَّةِ، شتروتمان: مَقَالَةَ السَّبْعِيَّةِ، دَائِرَةَ الْمَعَارِفِ الْإِسْلَامِيَّةِ. Donaldson shi، ite religion pp. 153، 357 - 358، luzac. London 1993.

(2) النُّصَيْرِيَّةُ فِرْقَةٌ مِنْ غُلَاةِ الشِّيعَةِ قَالُوا بِظُهُورِ " الْحَقِّ " بِصُورَةِ عَلِيٍّ وَالْأَئِمَّةِ وَلِذَلِكَ أَطْلَقُوا عَلَيْهِمُ اسْمَ الْإِلَهِيَّةِ. يَقُولُ الشَّهْرَسْتَانِيُّ (الْمِلَلَ وَالنِّحَلَ 1/168 - 169) عَلَى لِسَانِهِمْ " وَإِنَّمَا أَثْبَتْنَا هَذَا الِاخْتِصَاصَ لِعَلِيٍّ رضي الله عنه دُونَ غَيْرِهِ، لِأَنَّهُ كَانَ مَخْصُوصًا بِتَأْيِيدٍ إِلَهِيٍّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ تَعَالَى فِيمَا يَتَعَلَّقُ بِبَاطِنِ الْأَسْرَارِ. قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: أَنَا أَحْكُمُ بِالظَّاهِرِ وَاللَّهُ يَتَوَلَّى السَّرَائِرَ ". وَيَذْكُرُ جُولْدُ تِسِيهَر (الْعَقِيدَةَ وَالشَّرِيعَةَ، ص [0 - 9] 84 - 185) أَنَّ النُّصَيْرِيَّةَ جَعَلُوا مُحَمَّدًا فِي مَنْزِلَةٍ أَقَلَّ شَأْنًا مِنْ عَلِيٍّ وَزَعَمُوا أَنَّهُ كَانَ حِجَابًا لَهُ، وَفِي مَوْضِعٍ آخَرَ (ص 220 - 221) يَقُولُ جُولْدُتِسِيهَر إِنَّ النُّصَيْرِيَّةَ يَسْكُنُونَ الْإِقْلِيمَ الْوَاقِعَ بَيْنَ طَرَابُلُسَ وَأَنْطَاكِيَةَ وَأَنَّ مَذْهَبَهُمُ الْأَصْلِيَّ هُوَ اثْنَا عَشْرِيٍّ وَلَكِنْ غَلَبَتْ عَلَيْهِ الْأَفْكَارُ وَالْعَقَائِدُ الْوَثَنِيَّةُ الْقَائِلَةُ بِتَأْلِيهِ عَلِيٍّ وَالْأَئِمَّةِ. أَمَّا Donaldson فَيَذْهَبُ فِي كِتَابِهِ سَالِفِ الذِّكْرِ (ص 153) إِلَى أَنَّ النُّصَيْرِيَّةَ يُمْكِنُ - إِلَى حَدِّ مَا - إِرْجَاعُ أَصْلِهِمْ إِلَى السَّبْعِيَّةِ. وَلِابْنِ تَيْمِيَّةَ رِسَالَةٌ فِي الرَّدِّ عَلَى النُّصَيْرِيَّةِ ضِمْنَ مَجْمُوعِ رَسَائِلِ (الْمَطْبَعَةِ الْحُسَيْنِيَّةِ، الْقَاهِرَةَ، 1323) ، ص 94 - 102، وَانْظُرْ مَا سَيَرِدُ عَنْهُمْ فِي كِتَابِنَا هَذَا، 1/240 بُولَاقَ.
[তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা দ্বীনের মধ্যে] এমন বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা প্রবেশ করিয়েছে যা বান্দাদের রব ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারবে না। তারা হলো ইসমাইলি নাস্তিকগণ (১), নুসাইরিগণ (২) এবং অন্যান্য [বাতিনি সম্প্রদায়ভুক্তরা...

--------------------------------------------

(১) ইমামি শিয়াগণ জাফর আস-সাদিকের ইন্তেকালের পর (আনুমানিক ১৪৭ হিজরি) কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়, যার মধ্যে প্রধান হলো মুসাউইয়্যাহ এবং ইসমাইলিয়া। প্রথম দলটি জাফর আস-সাদিকের পুত্র মুসা আল-কাজিমের ইমামতের কথা বলে, এরাই হলো মুসাউইয়্যাহ। আর দ্বিতীয় দলটি ইসমাইল বিন জাফরের ইমামতের কথা বলে, যারা ইসমাইলিয়া নামে পরিচিত। ইসমাইলিরা আবার দুই ভাগে বিভক্ত হয়; প্রথম দলটি বলে যে, ইসমাইল মারা যাননি বরং তাকিয়া স্বরূপ মৃত্যু প্রদর্শন করেছেন (আশ'আরির মতে কারামিতাগণ এদেরই অন্তর্ভুক্ত)। দ্বিতীয় দলটি বলে যে, বরং তিনি মারা গেছেন এবং তাঁর পরবর্তী ইমাম হলেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল, এরাই হলো মুবারাকিয়া। অতঃপর তারা পুনরায় বিভক্ত হয়; কেউ মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের ওপর থেমে গিয়ে তাঁর অন্তর্ধানের পর প্রত্যাবর্তনের কথা বলে, আবার কেউ ইমামতকে তাদের মধ্যে 'গোপন ইমামদের' ধারায় এবং পরবর্তীতে 'প্রকাশ্য ইমামদের' ধারায় চালিত করে; এরাই হলো বাতিনি ইসমাইলি সম্প্রদায়। দেখুন: আল-মাকালাত ১/৯৮-৯৯, ১০০-১০১; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/১৪৯, ১৭০-১৭৮। আরও দেখুন ডক্টর মুহাম্মদ কামিল হুসাইনের বই: ত্বয়িফাতুল ইসমাইলিয়া, কায়রো, ১৯৫৯; হুয়ার: ইসমাইলিয়া বিষয়ক নিবন্ধ, ইসলামি বিশ্বকোষ; গোল্ডজিহার: আল-আকিদাহ ওয়াশ শারিয়াহ, পৃষ্ঠা ২১২-২২০ (প্রথম সংস্করণ); মুহাম্মদ বিন হাসান আদ-দাইলামি: কিতাবু কাওয়াইদি আকায়িদি আলি মুহাম্মাদ আল-বাতিনিয়্যাহ; স্ট্রথম্যান: সাব'ইয়াহ (সপ্তমপন্থী) বিষয়ক নিবন্ধ, ইসলামি বিশ্বকোষ। ডোনাল্ডসন: শিয়া ধর্ম, পৃষ্ঠা ১৫৩, ৩৫৭-৩৫৮, লুজাক, লন্ডন ১৯৯৩।

(২) নুসাইরিরা হলো শিয়াদের চরমপন্থী একটি দল, যারা আলীর আকৃতিতে এবং ইমামদের আকৃতিতে 'সত্য' (আল্লাহ)-এর প্রকাশের কথা বলে, এজন্যই তারা তাঁদের প্রতি ইলাহ বা উপাস্য হওয়ার গুণ আরোপ করে। শাহরাস্তানি (আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/১৬৮-১৬৯) তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, "আমরা এই বৈশিষ্ট্য অন্য কারো পরিবর্তে কেবল আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্যই সাব্যস্ত করেছি, কারণ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে গোপন রহস্যের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ ঐশী সাহায্যের অধিকারী ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমি বাহ্যিক বিষয়ের ওপর ফয়সালা করি এবং আল্লাহ অন্তরের বিষয়গুলো পরিচালনা করেন।" গোল্ডজিহার (আল-আকিদাহ ওয়াশ শারিয়াহ, পৃষ্ঠা ৮৪-১৮৫) উল্লেখ করেন যে, নুসাইরিরা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আলীর চেয়ে নিম্ন মর্যাদায় স্থান দিয়েছে এবং দাবি করেছে যে তিনি তাঁর জন্য পর্দা বা আবরণ স্বরূপ ছিলেন। অন্য এক স্থানে (পৃষ্ঠা ২২০-২২১) গোল্ডজিহার বলেন যে, নুসাইরিরা ত্রিপলি ও আনতাকিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলে বাস করে এবং তাদের মূল মতাদর্শ ছিল ইসনা আশারিয়া (বারো ইমামি), কিন্তু পরবর্তীতে আলীকে এবং ইমামদের ইলাহ সাব্যস্ত করার মূর্তিপূজক চিন্তা ও বিশ্বাস তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। অন্যদিকে ডোনাল্ডসন তাঁর পূর্বোল্লিখিত বইয়ে (পৃষ্ঠা ১৫৩) মনে করেন যে, নুসাইরিদের উৎসকে কিছুটা সাব'ইয়াহ বা সপ্তমপন্থীদের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব। ইবনে তাইমিয়ার নুসাইরিদের খণ্ডন করে একটি রিসালা রয়েছে যা তাঁর 'মাজমুউ রাসাইল'-এর অন্তর্ভুক্ত (আল-মাতবাআহ আল-হুসাইনিয়্যাহ, কায়রো, ১৩২৩), পৃষ্ঠা ৯৪-১০২; এছাড়া আমাদের এই কিতাবের ১/২৪০ (বুলাক সংস্করণ)-এ তাদের সম্পর্কে যা আসবে তা সামনে দেখুন।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
الْمُنَافِقِينَ مِنْ بَابِهِمْ (1) دَخَلُوا] ، وَأَعْدَاءُ الْمُسْلِمِينَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ، وَأَهْلِ الْكِتَابِ بِطَرِيقِهِمْ وَصَلُوا، وَاسْتَوْلَوْا بِهِمْ عَلَى بِلَادِ [الْإِسْلَامِ، وَسَبَوُا الْحَرِيمَ، وَأَخَذُوا] الْأَمْوَالَ، وَسَفَكُوا الدَّمَ الْحَرَامَ، وَجَرَى عَلَى الْأُمَّةِ بِمُعَاوَنَتِهِمْ مِنْ فَسَادِ الدِّينِ وَالدُّنْيَا (2) [مَا لَا يَعْلَمُهُ إِلَّا رَبُّ الْعَالَمِينَ] .

إِذْ كَانَ أَصْلُ الْمَذْهَبِ مِنْ إِحْدَاثِ الزَّنَادِقَةِ الْمُنَافِقِينَ الَّذِينَ عَاقَبَهُمْ فِي حَيَاتِهِ عَلِيٌّ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ [رضي الله عنه] (3) ، فَحَرَّقَ مِنْهُمْ طَائِفَةً (4) بِالنَّارِ، وَطَلَبَ قَتْلَ بَعْضِهِمْ، [فَفَرُّوا] مِنْ سَيْفِهِ الْبَتَّارِ، وَتَوَعَّدَ بِالْجَلْدِ (5) طَائِفَةً مُفْتَرِيَةً (6) فِيمَا عُرِفَ (7) عَنْهُ مِنَ الْأَخْبَارِ، (8) [إِذْ قَدْ تَوَاتَرَ عَنْهُ مِنَ الْوُجُوهِ الْكَثِيرَةِ] (8) (8) أَنَّهُ قَالَ عَلَى مِنْبَرِ الْكُوفَةِ، وَقَدْ أَسْمَعَ مَنْ حَضَرَ: خَيْرُ [هَذِهِ] (9)

--------------------------------------------

(1) أ، ل: الْمُنَافِقِينَ بِأَنَّهُمْ. .، وَهُوَ تَحْرِيفٌ.

(2) أ، ل، ب: الدُّنْيَا وَالدِّينِ.

(3) رضي الله عنه: لَيْسَتْ فِي (ن) ، (م) .

(4) م: طَائِفَةً مِنْهُمْ.

(5) أ، ل: بِالْخُلْدِ، وَهُوَ تَحْرِيفٌ ظَاهِرٌ.

(6) مُفْتَرِيَةً: كَذَا فِي (ن) ، (م) ، (ل) ، وَفِي (أ) ، (ب) : مُغِيرِيَّةً. وَالْمُغِيرِيَّةُ هُمْ أَصْحَابُ الْمُغِيرَةِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَجَلِيِّ وَسَيَأْتِي الْكَلَامُ عَنْهُ فِيمَا بَعْدُ. وَقَدْ رُجِّحَتْ قِرَاءَةُ مُفْتَرِيَةً لِاتِّفَاقِهَا مَعَ سِيَاقِ الْكَلَامِ. وَقَدْ رَوَى ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي " تَلْبِيسِ إِبْلِيسَ "، (ص 101، الطَّبْعَةَ الثَّانِيَةَ بِالْمَطْبَعَةِ الْمُنِيرِيَّةِ، الْقَاهِرَةَ، 1368) مِنْ كَلِمَةٍ لِعَلِيٍّ رضي الله عنه قَوْلَهُ: أَلَا فَمَنْ أُوتِيتُ بِهِ يَقُولُ بَعْدَ هَذَا الْيَوْمِ (كَذَا وَلَعَلَّ صَوَابَهَا: هَذَا بَعْدَ الْيَوْمِ. وَالْمَقْصُودُ هُنَا الْقَوْلُ الَّذِي يَتَضَمَّنُ الطَّعْنَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما) فَإِنَّ عَلَيْهِ مَا عَلَى الْمُفْتَرِي. وَسَيَذْكُرُ ابْنُ تَيْمِيَّةَ فِيمَا يَلِي (1/84 بُولَاقَ) هَذِهِ الْقِصَّةَ، وَلَكِنَّهُ يُطْلِقُ عَلَيْهِمُ اسْمَ " الْمُفَضِّلَةِ " أَيِ الَّذِينَ يُفَضِّلُونَ عَلِيًّا عَلَى أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ -

(7) ن، م: تَوَاتَرَ.

(8) (8 - 8) سَاقِطٌ مِنْ (ن) ، (م) وَمَكَانُهَا بَيَاضٌ.

(9) هَذِهِ: سَاقِطَةٌ مِنْ (ن) ، (م) .
মুনাফিকরা তাদের দরজা দিয়ে (১) [প্রবেশ করেছে], আর মুশরিক ও আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে মুসলিমদের শত্রুরা তাদের পথ ধরে পৌঁছেছে। তারা তাদের মাধ্যমে [ইসলামি] দেশগুলো দখল করেছে, [নারীদের বন্দি করেছে, এবং] ধন-সম্পদ [লুটে নিয়েছে]। তারা নিষিদ্ধ রক্তপাত ঘটিয়েছে এবং তাদের সহায়তায় উম্মাহর ওপর দ্বীন ও দুনিয়ার এমন বিপর্যয় (২) নেমে এসেছে [যা রব্বুল আলামিন ছাড়া আর কেউ জানে না]।

কারণ এই মাযহাবের মূল ভিত্তি হলো সেই মুনাফিক যিনদীকদের নবউদ্ভাবিত কর্ম, যাদেরকে আমিরুল মুমিনীন আলী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] (৩) তাঁর জীবদ্দশায় শাস্তি দিয়েছিলেন। তিনি তাদের একটি দলকে (৪) আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন, আর তাদের কয়েকজনকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, ফলে তারা তাঁর ধারালো তলোয়ারের ভয়ে [পালিয়ে গিয়েছিল]। তিনি মিথ্যাচারী (৬) এক দলকে বেত্রাঘাতের (৫) হুমকি দিয়েছিলেন, যেমনটি তাঁর থেকে বর্ণিত সংবাদগুলোতে (৭) জানা যায়। (৮) [নিশ্চয়ই তাঁর থেকে বহু সূত্রে অকাট্যভাবে বর্ণিত হয়েছে] যে, তিনি কুফার মিম্বরে দাঁড়িয়ে উপস্থিত জনতাকে শুনিয়ে বলেছিলেন: [এই] (৯) উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম...

--------------------------------------------

(১) আলিফ, লাম: ‘মুনাফিকীন বিআন্নাহুম’... এটি একটি বিকৃতি।

(২) আলিফ, লাম, বা: দুনিয়া ও দ্বীন।

(৩) রাদিয়াল্লাহু আনহু: ‘নুন’ ও ‘মিম’ পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৪) মিম: তাদের মধ্য থেকে একটি দল।

(৫) আলিফ, লাম: ‘বিল খুলদ’, এটি একটি স্পষ্ট বিকৃতি।

(৬) মিথ্যাচারী: ‘নুন’, ‘মিম’, ‘লাম’ পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। ‘আলিফ’ ও ‘বা’ পাণ্ডুলিপিতে আছে: ‘মুগিরিয়্যাহ’। মুগিরিয়্যাহ হলো মুগিরা বিন সাঈদ আল-বাজালির অনুসারী, যার সম্পর্কে আলোচনা পরে আসবে। ‘মুফতারিয়াহ’ (মিথ্যাচারী) পাঠটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে কারণ এটি প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইবনুল জাওযী তাঁর ‘তালবিসু ইবলিস’ গ্রন্থে (পৃ. ১০১, আল-মাতবাআ আল-মুনিরিয়্যাহ দ্বিতীয় সংস্করণ, কায়রো, ১৩৬৮) আলীর [রাদিয়াল্লাহু আনহু] একটি উক্তি বর্ণনা করেছেন: "শোন, আজকের পর যার পক্ষ থেকেই এমন কথা আমার কাছে আসবে (এভাবেই আছে, সম্ভবত এর সঠিক রূপ হবে: এর পর। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো সেই কথা যা আবু বকর ও উমর [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা]-এর প্রতি বিষোদগার অন্তর্ভুক্ত করে), তবে তার ওপর মিথ্যাচারীর শাস্তি প্রযোজ্য হবে।" ইবনে তাইমিয়্যাহ সামনে (বুলাক সংস্করণ ১/৮৪) এই ঘটনাটি উল্লেখ করবেন, তবে তিনি তাদেরকে ‘মুফাদ্দিল্লাহ’ (যারা আলীকে আবু বকর ও উমরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়) নামে অভিহিত করেছেন - রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন।

(৭) নুন, মিম: অকাট্যভাবে বর্ণিত।

(৮) (৮ - ৮) ‘নুন’ ও ‘মিম’ পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে এবং সেখানে শূন্যস্থান রয়েছে।

(৯) এই: ‘নুন’ ও ‘মিম’ পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
الْأُمَّةِ بَعْدَ نَبِيِّهَا أَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ عُمَرُ، وَبِذَلِكَ أَجَابَ ابْنَهُ (1) [مُحَمَّدَ ابْنَ الْحَنَفِيَّةِ] (2) فِيمَا رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحِهِ (3) ، وَغَيْرُهُ مِنْ عُلَمَاءِ الْمِلَّةِ الْحَنِيفِيَّةِ.

--------------------------------------------

(1) ن، م، أ، ل: لِابْنِهِ.

(2) هُوَ أَبُو الْقَاسِمِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، وَيُعْرَفُ بِابْنِ الْحَنَفِيَّةِ نِسْبَةً إِلَى أُمِّهِ، وَقَدْ تُوُفِّيَ عَلَى الْأَرْجَحِ سَنَةَ 81 هـ. انْظُرْ تَرْجَمَتَهُ فِي ابْنِ خَلِّكَانَ 3/310 - 313؛ شَذَرَاتِ الذَّهَبِ 1/88 - 90. وَالْفِرْقَةُ الْمُخْتَارِيَّةُ (أَصْحَابُ الْمُخْتَارِ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ الثَّقَفِيِّ) وَهِيَ وَاحِدَةٌ مِنْ فُرُوعِ الْفِرْقَةِ الْكَيْسَانِيَّةِ كَانَتْ تَعْتَقِدُ بِإِمَامَتِهِ. وَيَذْكُرُ الشَّهْرَسْتَانِيُّ (الْمِلَلَ وَالنِّحَلَ 1/132 - 133) أَنَّ ابْنَ الْحَنَفِيَّةِ تَبَرَّأَ مِنَ الْمُخْتَارِ لَمَّا وَقَفَ عَلَى مَزَاعِمِهِ. وَانْظُرْ أَيْضًا مَقَالَاتِ الْأَشْعَرِيِّ 1/90 - 91.

(3) الْأَثَرُ فِي: الْبُخَارِيِّ 5/7 (كِتَابَ فَضَائِلِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، بَابُ حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ) وَنَصُّهُ. . عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي: أَيُّ النَّاسِ خَيْرٌ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: أَبُو بَكْرٍ. قُلْتُ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: ثُمَّ عُمَرُ. وَخَشِيتُ أَنْ يَقُولَ: عُثْمَانُ. قُلْتُ: ثُمَّ أَنْتَ. قَالَ: مَا أَنَا إِلَّا رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ. وَهَذَا الْأَثَرُ مَعَ اخْتِلَافٍ يَسِيرٍ فِي الْأَلْفَاظِ - فِي: سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ 4/288 (كِتَابُ السُّنَّةِ، بَابٌ فِي التَّفْضِيلِ) . وَفِي سُنَنِ ابْنِ مَاجَهْ 1/39 (الْمُقَدِّمَةَ، فَضْلُ عُمَرَ) . . عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَمَةَ قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيًّا يَقُولُ: خَيْرُ النَّاسِ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبُو بَكْرٍ وَخَيْرُ النَّاسِ بَعْدَ أَبِي بَكْرٍ عُمَرُ. وَوَرَدَ الْأَثَرُ فِي مُسْنَدِ أَحْمَدَ فِي الْجُزْءِ الثَّانِي (ط. الْمَعَارِفِ) بِأَلْفَاظٍ مُتَقَارِبَةٍ 24 مَرَّةً كَالْآتِي: عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ (الْأَحَادِيثَ رَقْمَ 833، 835 - 837، 871، 878 - 880، 1054) وَعَنْ عَبْدِ خَيْرٍ الْهَمْدَانِيِّ (الْأَرْقَامَ 908، 909، 922، 932 - 934، 1030، 1031، 1040، 1052، 1060) . وَعَنْ عَبْدِ خَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ (926، 932) وَعَنْ وَهْبٍ السُّوَائِيِّ (834) . وَعَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ قَيْسٍ (1051) وَقَدْ صَحَّحَ الشَّيْخُ أَحْمَد شَاكِر رحمه الله سَنَدَ جَمِيعِ هَذِهِ الْآثَارِ مَا عَدَا سَنَدَ الْآثَارِ 922، 1030 فَقَدْ حَسَّنَهُمَا، 1052 فَقَدْ ضَعَّفَهُ. وَذَكَرَ السُّيُوطِيُّ فِي الْجَامِعِ الْكَبِيرِ 1/518 حَدِيثَيْنِ الْأَوَّلُ هُوَ: " خَيْرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْدَ نَبِيِّهَا أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ " ثُمَّ قَالَ: " كر = ابْنُ عَسَاكِرَ فِي تَارِيخِهِ عَنْ عَلِيٍّ وَقَالَ: الْمَحْفُوظُ مَوْقُوفٌ " وَالثَّانِي هُوَ: " خَيْرُ أُمَّتِي بَعْدِي أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ " ثُمَّ قَالَ: " كر = ابْنُ عَسَاكِرَ فِي تَارِيخِهِ عَنْ عَلِيٍّ وَالزُّبَيْرِ مَعًا، ك = الْحَاكِمُ فِي تَارِيخِهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ " وَجَاءَ الْحَدِيثُ الثَّانِي فِي الْجَامِعِ الصَّغِيرِ 2/10 (ط. مُصْطَفَى الْحَلَبِيِّ، 1358 1939) وَلَمْ. يَذْكُرْ أَنَّ الْحَدِيثَ عَنِ الْحَاكِمِ، وَحَسَّنَ السُّيُوطِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ، وَلَكِنَّ الْأَلْبَانِيَّ ضَعَّفَهُ فِي " ضَعِيفِ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ 3/137 ".
নবীর পর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, তারপর উমর। আর এই উত্তরই তিনি তাঁর পুত্র (১) [মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহকে] (২) প্রদান করেছিলেন, যা বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৩) বর্ণনা করেছেন এবং হানিফি মিল্লাতের অন্যান্য আলেমগণও এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ন, ম, অ, ল: তাঁর পুত্রের নিকট।

(২) তিনি হলেন আবুল কাসিম মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব। মায়ের বংশ পরিচয়ের দিকে সম্বন্ধ করে তিনি ইবনুল হানাফিয়্যাহ নামে পরিচিত। তিনি সম্ভবত ৮১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ইবনে খাল্লিকান ৩/৩১০ - ৩১৩; শাজারাতুজ জাহাব ১/৮৮ - ৯০। মুখতারিয়্যাহ ফিরকা (মুখতার ইবনে আবি উবাইদ আস-সাকাফির অনুসারীগণ), যা কায়সানিয়্যাহ ফিরকার একটি শাখা ছিল, তারা তাঁর ইমামতের আকিদাহ পোষণ করত। শাহরাস্তানি (আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/১৩২ - ১৩৩) উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল হানাফিয়্যাহ যখন মুখতারের ভ্রান্ত দাবিগুলো সম্পর্কে অবগত হন, তখন তিনি তাঁর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। আরও দেখুন: মাক্বালাতুল আশআরি ১/৯০ - ৯১।

(৩) এই বর্ণনাটি রয়েছে: বুখারি ৫/৭ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: হুমাইদি ও মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন) এবং এর পাঠ হলো: মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কে? তিনি বললেন: আবু বকর। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তারপর কে? তিনি বললেন: তারপর উমর। আমি এই আশঙ্কায় ছিলাম যে তিনি উসমানের কথা বলবেন, তাই আমি বললাম: এরপর কি আপনি? তিনি বললেন: আমি তো মুসলিমদের সাধারণ একজন মানুষ মাত্র। এই বর্ণনাটি—শব্দের সামান্য পার্থক্যসহ—রয়েছে: সুনানে আবু দাউদ ৪/২৮৮ (কিতাবুস সুন্নাহ, শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)। এবং সুনানে ইবনে মাজাহ ১/৩৯ (ভূমিকা, উমরের মর্যাদা পরিচ্ছেদ)। আব্দুল্লাহ ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আলীকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন আবু বকর এবং আবু বকরের পর মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন উমর। এই বর্ণনাটি মুসনাদে আহমাদ-এর দ্বিতীয় খণ্ডে (আল-মাআরিফ সংস্করণ) কাছাকাছি শব্দে ২৪ বার বর্ণিত হয়েছে এভাবে: আবু জুহাইফাহ থেকে (হাদিস নং ৮৩৩, ৮৩৫-৮৩৭, ৮৭১, ৮৭৮-৮৮০, ১০৫৪); এবং আব্দ খাইর আল-হামদানি থেকে (নং ৯০৮, ৯০৯, ৯২২, ৯৩২-৯৩৪, ১০৩০, ১০৩১, ১০৪০, ১০৫২, ১০৬০); এবং আব্দ খাইর থেকে তাঁর পিতার সূত্রে (৯২৬, ৯৩২); এবং ওয়াহাব আস-সুওয়াই থেকে (৮৩৪); এবং আলকামাহ ইবনে কায়স থেকে (১০৫১)। শায়খ আহমদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ) এই সকল বর্ণনার সনদকে সহিহ বলেছেন, তবে ৯২২ ও ১০৩০ নং বর্ণনার সনদকে হাসান এবং ১০৫২ নং বর্ণনাটিকে দুর্বল বলেছেন। সুয়ূতী আল-জামেউল কাবীর ১/৫১৮ গ্রন্থে দুটি হাদিস উল্লেখ করেছেন, প্রথমটি হলো: "নবীর পর এই উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবু বকর ও উমর।" এরপর তিনি বলেন: "ইবনে আসাকির তাঁর তারিখে আলীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: সংরক্ষিত বর্ণনায় এটি মাওকুফ।" দ্বিতীয়টি হলো: "আমার পর আমার উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবু বকর ও উমর।" এরপর তিনি বলেন: "ইবনে আসাকির তাঁর তারিখে আলী ও জুবাইর উভয় থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; হাকিম তাঁর তারিখে আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।" এই দ্বিতীয় হাদিসটি আল-জামেউস সাগির ২/১০ (মুস্তফা আল-হালাবি সংস্করণ, ১৩৫৮ হি. ১৯৩৯ খ্রি.) গ্রন্থে এসেছে, তবে সেখানে এটি হাকিমের সূত্রে হওয়ার কথা উল্লেখ নেই। সুয়ূতী এই হাদিসটিকে হাসান বলেছেন, কিন্তু আলবানী 'জইফুল জামেউস সাগির ৩/১৩৭' গ্রন্থে এটিকে দুর্বল বলেছেন।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
وَلِهَذَا كَانَتِ الشِّيعَةُ الْمُتَقَدِّمُونَ الَّذِينَ صَحِبُوا عَلِيًّا، [أَوْ كَانُوا (1) فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ] لَمْ يَتَنَازَعُوا فِي تَفْضِيلِ أَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ، وَإِنَّمَا كَانَ نِزَاعُهُمْ فِي [تَفْضِيلِ] (2) عَلِيٍّ، وَعُثْمَانَ، وَهَذَا مِمَّا يَعْتَرِفُ بِهِ (3) [عُلَمَاءُ الشِّيعَةِ الْأَكَابِرُ مِنَ] الْأَوَائِلِ، وَالْأَوَاخِرِ حَتَّى ذَكَرَ مِثْلَ ذَلِكَ (4) أَبُو الْقَاسِمِ الْبَلْخِيُّ (5) . قَالَ: سَأَلَ سَائِلٌ شَرِيكَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ [أَبِي] نَمِرٍ (6) ، [فَقَالَ لَهُ: (7) أَيُّهُمَا أَفْضَلُ أَبُو بَكْرٍ، أَوْ عَلِيٌّ؟ فَقَالَ لَهُ] : أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ لَهُ السَّائِلُ: أَتَقُولُ هَذَا، وَأَنْتَ مِنَ الشِّيعَةِ؟ (8) فَقَالَ: نَعَمْ إِنَّمَا الشِّيعِيُّ [مَنْ قَالَ مِثْلَ هَذَا (9) ، وَاللَّهِ لَقَدْ] رَقَى عَلِيٌّ (10) هَذَا الْأَعْوَادَ، فَقَالَ: أَلَا إِنَّ خَيْرَ (11) هَذِهِ الْأُمَّةِ

--------------------------------------------

(1) م: وَكَانُوا.

(2) تَفْضِيلِ: سَاقِطَةٌ مِنْ (ن) ، (م) .

(3) ن: مِمَّا يَعْرِفُهُ، م: مِمَّا تَعْرِفُهُ.

(4) أ، ل: ذَكَرَ ذَلِكَ مِثْلُ.

(5) هُوَ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْمُودٍ الْكَعْبِيُّ الْبَلْخِيُّ صَاحِبُ " الْمَقَالَاتِ ". وَرَأَسُ فِرْقَةِ الْكَعْبِيَّةِ مِنْ فِرَقِ الْمُعْتَزِلَةِ، وَقَدْ تُوُفِّيَ سَنَةَ 319، وَقِيلَ سَنَةَ 317. انْظُرِ ابْنَ خَلِّكَانَ 2/248 - 249؛ الْفَرْقَ بَيْنَ الْفِرَقِ، ص 108 - 110؛ الْمِلَلَ وَالنِّحَلَ 1/73

(6) ن، م: شَرِيكَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَمِرٍ؛ أ: لِشَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ. وَالصَّوَابُ مَا أَثْبَتْنَاهُ. وَيَذْكُرُ ابْنُ تَيْمِيَّةَ هَذِهِ الرِّوَايَةَ فِيمَا بَعْدُ (1/168 بُولَاقَ) . وَشَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ الْقُرَشِيُّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْمَدَنِيُّ، تُوُفِّيَ سَنَةَ 140 هـ. تَرْجَمْتُهُ فِي: تَهْذِيبِ التَّهْذِيبِ 4/337 - 338؛ خُلَاصَةِ تَهْذِيبِ الْكَمَالِ لِلْخَزْرَجِيِّ، ص 140.

(7) م: نَمِرٌ أَنَّهُ قَالَ لَهُ قَائِلٌ.

(8) أ، ل، ب: تَقُولُ هَذَا وَأَنْتَ شِيعِيٌّ.

(9) أ، ل، ب: فَقَالَ لَهُ: نَعَمْ، مَنْ لَمْ يَقُلْ هَذَا فَلَيْسَ بِشِيعِيٍّ (فِي " ب " فَلَيْسَ شِيعِيًّا) .

(10) عَلِيٌّ: سَاقِطَةٌ مِنْ " أ "، " ل "، " ب ".

(11) م: فَقَالَ أَلَا خَيْرُ؛ ل: فَقَالَ: إِنَّ خَيْرَ.
এই কারণেই পূর্ববর্তী শিয়াগণ যারা আলীর সঙ্গী ছিলেন, [অথবা যারা সেই সময়ে ছিলেন] তারা আবু বকর ও উমরের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে কোনো মতভেদ করেননি। তাদের মতভেদ ছিল কেবল আলী ও উসমানের [শ্রেষ্ঠত্বের] বিষয়ে। আর এটি এমন এক বিষয় যা প্রাচীন ও পরবর্তীকালের [শিয়াদের বড় বড় আলেমগণও] স্বীকার করেন, এমনকি আবুল কাসিম আল-বালখীর মতো ব্যক্তিও তা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: এক প্রশ্নকারী শারিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে [আবি] নামিরকে জিজ্ঞাসা করলেন, [তাকে বললেন: আবু বকর ও আলীর মধ্যে কে বেশি শ্রেষ্ঠ? তিনি তাকে বললেন]: আবু বকর। তখন প্রশ্নকারী তাকে বললেন: আপনি শিয়া হওয়া সত্ত্বেও কি এ কথা বলছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, প্রকৃত শিয়া তো সেই [যে এমন কথা বলে। আল্লাহর কসম, আলী এই মিম্বরের কাষ্ঠখণ্ডে] আরোহণ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: জেনে রেখো, নিশ্চয়ই এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলো...

--------------------------------------------

(১) ম: এবং তারা ছিলেন।

(২) শ্রেষ্ঠত্বের: (ন) এবং (ম) পাণ্ডুলিপি থেকে এটি বাদ পড়েছে।

(৩) ন: যা তিনি জানেন, ম: যা আপনি জানেন।

(৪) অ, ল: এর অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

(৫) তিনি হলেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মাহমুদ আল-কাবি আল-বালখী, 'আল-মাকালাত' গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি মুতাজিলাদের কাবিইয়া উপদলের প্রধান ছিলেন। তিনি ৩১৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ৩১৭ হিজরিতে। দেখুন: ইবনে খাল্লিকান ২/২৪৮-২৪৯; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃ. ১০৮-১িও; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/৭৩।

(৬) ন, ম: শারিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নামির; অ: শারিক ইবনে আব্দুল্লাহর প্রতি। আমাদের সাব্যস্ত করা পাঠই সঠিক। ইবনে তাইমিয়া পরবর্তীতে এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন (১/১৬৮ বুলাক সংস্করণ)। শারিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি নামির আল-কুরাশি আবু আব্দুল্লাহ আল-মাদানি, ১৪০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী: তাহজিবুত তাহজিব ৪/৩৩৭-৩৩৮; আল-খাজরাজির খুলাসাহ তাহজিবিল কামাল, পৃ. ১৪০।

(৭) ম: নামির, জনৈক ব্যক্তি তাকে বলেছিল।

(৮) অ, ল, ব: আপনি শিয়া হওয়া সত্ত্বেও কি এ কথা বলছেন?

(৯) অ, ল, ব: তিনি তাকে বললেন: হ্যাঁ, যে ব্যক্তি এটি বলে না সে শিয়া নয় (ব-তে: শিয়া নয়)।

(১০) আলী: 'অ', 'ল', 'ব' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(১১) ম: এরপর বললেন: সাবধান শ্রেষ্ঠ; ল: এরপর বললেন: নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
بَعْدَ نَبِيِّهَا أَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ عُمَرُ، أَفَكُنَّا (1) نَرُدُّ [قَوْلَهُ؟ أَكُنَّا (2) نُكَذِّبُهُ؟ وَاللَّهِ مَا كَانَ] كَذَّابًا! ذَكَرَ هَذَا [أَبُو الْقَاسِمِ] الْبَلْخِيُّ. (3) فِي النَّقْضِ عَلَى ابْنِ الرَّاوَنْدِيِّ (4) اعْتِرَاضَهُ (5) عَلَى الْجَاحِظِ (6) . نَقَلَهُ عَنْهُ الْقَاضِيَ [عَبْدُ الْجَبَّارِ الْهَمْدَانِيُّ

--------------------------------------------

(1) أَفَكُنَّا: كَذَا فِي (ن) ، (ل) . وَفِي (م) ، (أ) : فَكُنَّا. وَفِي (ب) : فَكَيْفَ.

(2) أ: لَكُنَّا؛ ب: وَكَيْفَ.

(3) ن، م: ذَكَرَ هَذَا الْبَلْخِيُّ؛ أ، ل، ب: نَقَلَ هَذَا عَبْدُ الْجَبَّارِ الْهَمْدَانِيُّ فِي كِتَابِ " تَثْبِيتِ النُّبُوَّةِ " قَالَ ذَكَرَهُ أَبُو الْقَاسِمِ الْبَلْخِيُّ.

(4) هُوَ أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ إِسْحَاقَ الرَّاوَنْدِيُّ الْمُتَوَفَّى سَنَةَ 298 وَقِيلَ: 245. كَانَ مِنْ أَئِمَّةِ الْمُعْتَزِلَةِ ثُمَّ فَارَقَهُمْ وَهَاجَمَ مَذْهَبَهُمْ وَصَارَ مُلْحِدًا زِنْدِيقًا، وَقَدْ عَدَّهُ الشَّهْرَسْتَانِيُّ (الْمِلَلَ وَالنِّحَلَ 1/170) وَالْأَشْعَرِيُّ (الْمَقَالَاتِ 1/127) مِنْ مُؤَلِّفِي كُتُبِ الشِّيعَةِ. وَذَكَرَ الْأَشْعَرِيُّ (الْمَقَالَاتِ 1/205) أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ بِقَوْلِ أَصْحَابِ بِشْرٍ الْمَرِيسِيِّ فِي الْإِرْجَاءِ. وَقَدْ تَكَلَّمَ عَنْهُ الْخَوَانْسَارِيُّ فِي " رَوْضَاتِ الْجَنَّاتِ " (ص 54) بِالتَّفْصِيلِ وَذَكَرَ مَا قِيلَ مِنْ أَنَّ ابْنَ الرَّاوَنْدِيِّ كَانَ يَهُودِيًّا ثُمَّ أَسْلَمَ مُنْتَصِبًا قَائِلًا بِإِمَامَةِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَمِنْ أَنَّهُ كَانَ يُرْمَى عِنْدَ الْجُمْهُورِ بِالزَّنْدَقَةِ وَالْإِلْحَادِ وَقَدْ أَوْرَدَ ابْنُ تَيْمِيَّةَ فِيمَا بَعْدُ (1/136) مَا ذَكَرَهُ ابْنُ حَزْمٍ (الْفِصَلَ 4/154) عَنِ الرَّاوَنْدِيَّةِ الْقَائِلِينَ بِإِمَامَةِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ (نَسَبَهُمُ الرَّازِيُّ فِي " اعْتِقَادَاتِ فِرَقِ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُشْرِكِينَ "، ص [0 - 9] 3، إِلَى أَبِي هُرَيْرَةَ الرَّاوَنْدِيِّ، وَانْظُرْ مَقَالَاتِ الْأَشْعَرِيِّ 1/94) وَيَقُولُ الْخَوَانْسَارِيُّ بِاحْتِمَالِ كَوْنِ ابْنِ الرَّاوَنْدِيِّ الْمُلْحِدِ غَيْرَ ابْنِ الرَّاوَنْدِيِّ الشِّيعِيِّ، وَالْأَمْرُ كَمَا نَرَى فِي حَاجَةٍ إِلَى مَزِيدٍ مِنَ التَّحْقِيقِ. وَقَدْ أَلَّفَ " ابْنُ الرَّاوَنْدِيِّ " كُتُبًا عِدَّةً مِنْهَا كِتَابُ " الْإِمَامَةِ " وَكِتَابُ " فَضِيحَةِ الْمُعْتَزِلَةِ " الَّذِي كَتَبَهُ مُعْتَرِضًا بِهِ عَلَى كِتَابِ الْجَاحِظِ " فَضِيلَةِ الْمُعْتَزِلَةِ " فَرَدَّ عَلَيْهِ مِنَ الْمُعْتَزِلَةِ الْخَيَّاطُ فِي كِتَابِهِ " الِانْتِصَارِ " وَالْبَلْخِيُّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي يُشِيرُ إِلَيْهِ ابْنُ تَيْمِيَّةَ. وَانْظُرْ أَيْضًا عَنِ " ابْنِ الرَّاوَنْدِيِّ ": ابْنَ خَلِّكَانَ 1/78 - 79؛ تَكْمِلَةَ الْفِهْرِسْتِ لِابْنِ النَّدِيمِ 4 - 5؛ مُقَدِّمَةَ الدُّكْتُور نيبرجَ لِكِتَابِ " الِانْتِصَارِ " لِلْخَيَّاطِ، الْقَاهِرَةَ 1925؛ الْأَعْلَامَ 1/252 - 253.

(5) أ، ل، ب: عَلَى اعْتِرَاضِهِ.

(6) الْجَاحِظُ (أَبُو عُثْمَانَ عَمْرُو بْنُ بَحْرٍ الْكِنَانِيُّ اللَّيْثِيُّ الْمُتَوَفَّى سَنَةَ 250 وَقِيلَ: 255) مِنْ أَئِمَّةِ الْمُعْتَزِلَةِ وَهُوَ رَأْسُ فِرْقَةِ الْجَاحِظِيَّةِ الْمَنْسُوبَةِ إِلَيْهِ، وَمِنْ أَشْهَرِ كُتُبِهِ كِتَابُ " فَضِيلَةِ الْمُعْتَزِلَةِ " الَّذِي أَشَرْنَا إِلَيْهِ فِي التَّعْلِيقِ السَّابِقِ. انْظُرْ وَفَيَاتِ الْأَعْيَانِ 3/140 - 144؛ شَذَرَاتِ الذَّهَبِ 2/121 - 122؛ يَاقُوتٌ: مُعْجَمَ الْأُدَبَاءِ (ط. رِفَاعِيٍّ) 16 - 114؛ الْمِلَلَ وَالنِّحَلَ 1/71 - 72؛ الْفَرْقَ بَيْنَ الْفِرَقِ ص 105 - 107
তাঁর নবীর পর আবু বকর, তারপর ওমর। তবে কি আমরা (১) তাঁর কথা প্রত্যাখ্যান করতাম? আমরা কি (২) তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম? আল্লাহর কসম, তিনি মিথ্যুক ছিলেন না! এটি উল্লেখ করেছেন আবু আল-কাসিম আল-বালখি (৩) ইবনে রাওয়ান্দির (৪) আল-জাহিজের (৬) ওপর আপত্তির (৫) খণ্ডনে। এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন কাজি আবদুল জব্বার আল-হামদানি।

--------------------------------------------

(১) আ-ফাকুন্না (তবে কি আমরা ছিলাম): (ন) ও (ল) পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। (ম) ও (আ) পাণ্ডুলিপিতে আছে: ফাকুন্না (অতঃপর আমরা ছিলাম)। এবং (ব) পাণ্ডুলিপিতে আছে: ফাকাইফা (অতঃপর কীভাবে)।

(২) আ: লাকুন্না; ব: ওয়া কাইফা।

(৩) ন, ম: আল-বালখি এটি উল্লেখ করেছেন; আ, ল, ব: আবদুল জব্বার আল-হামদানি এটি 'তাসবিতুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন যে আবু আল-কাসিম আল-বালখি এটি উল্লেখ করেছেন।

(৪) তিনি হলেন আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক আল-রাওয়ান্দি, মৃত্যু ২৯৮ হিজরি, মতান্তরে ২৪৫ হিজরি। তিনি মুতাজিলাদের অন্যতম ইমাম ছিলেন, পরে তাদের ত্যাগ করেন এবং তাদের মতাদর্শের ওপর আক্রমণ করেন এবং নাস্তিক ও জিন্দিক হয়ে যান। শাহরাস্তানি (আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/১৭০) এবং আশআরি (আল-মাকালাত ১/১২৭) তাঁকে শিয়াদের গ্রন্থ রচয়িতাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আশআরি (আল-মাকালাত ১/২০৫) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইরজা-এর বিষয়ে বিশর আল-মারিসির অনুসারীদের মত পোষণ করতেন। আল-খাওয়ানসারি 'রওজাতুল জান্নাত' (পৃষ্ঠা ৫৪) গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইবনে রাওয়ান্দি সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি ইহুদি ছিলেন, পরে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের ইমামতের কথা প্রচার করেন। এবং তিনি জমহুর (অধিকাংশ আলেম)-এর নিকট জিন্দিক ও নাস্তিক হিসেবে অভিযুক্ত ছিলেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ পরে (১/১৩৬) ইবনে হাজম (আল-ফিসাল ৪/১৫৪) কর্তৃক বর্ণিত রাওয়ান্দিদের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের ইমামতের কথা বলতেন। রাজি (ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন ওয়াল মুশরিকিন, পৃষ্ঠা ৩) তাদের আবু হুরায়রা আল-রাওয়ান্দির দিকে সম্বন্ধ করেছেন (আরও দেখুন মাকালাত আল-আশআরি ১/৯৪)। খাওয়ানসারি সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন যে, নাস্তিক ইবনে রাওয়ান্দি এবং শিয়া ইবনে রাওয়ান্দি সম্ভবত ভিন্ন ব্যক্তি; তবে বিষয়টি আরও অধিক গবেষণার দাবি রাখে। ইবনে রাওয়ান্দি বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে 'আল-ইমামাহ' এবং 'ফাজিহাতুল মুতাজিলা'। শেষোক্ত বইটি তিনি জাহিজের 'ফাজিলাতুল মুতাজিলা' বইয়ের প্রতিবাদে লিখেছিলেন। পরবর্তীতে মুতাজিলাদের মধ্য থেকে আল-খাইয়াত তাঁর 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থে এর প্রতিবাদ করেন এবং আল-বালখি সেই গ্রন্থে প্রতিবাদ করেন যেটির দিকে ইবনে তাইমিয়্যাহ ইঙ্গিত করেছেন। ইবনে রাওয়ান্দি সম্পর্কে আরও দেখুন: ইবনে খালিকান ১/৭৮-৭৯; ইবনে নাদিমের ফিহরিসের পরিশিষ্ট ৪-৫; খাইয়াতের 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থের জন্য ডক্টর নিবার্গের ভূমিকা, কায়রো ১৯২৫; আল-আলাম ১/২৫২-২৫৩।

(৫) আ, ল, ব: তাঁর আপত্তির ওপর।

(৬) আল-জাহিজ (আবু উসমান আমর ইবনে বাহর আল-কিনানি আল-লাইসি, মৃত্যু ২৫০ হিজরি, মতান্তরে ২৫৫ হিজরি) মুতাজিলাদের অন্যতম ইমাম এবং তাঁর সাথে সম্বন্ধযুক্ত 'জাহিজিয়া' দলের প্রধান ছিলেন। তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর মধ্যে 'ফাজিলাতুল মুতাজিলা' অন্যতম যার উল্লেখ পূর্ববর্তী টিকায় করা হয়েছে। দেখুন ওফায়াতুল আইয়ান ৩/১৪০-১৪৪; শাজারাতুয যাহাব ২/১২১-১২২; ইয়াকুত: মুজামুল উদাবা (রিফাই সংস্করণ) ১৬/১১৪; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/৭১-৭২; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক পৃষ্ঠা ১০৫-১০৭।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
فِي كِتَابِ] (تَثْبِيتِ النُّبُوَّةِ) (1) .

 

‌‌[تحريم كتمان العلم]

[ (فَصْلٌ (2) .) ] .

فَلَمَّا أَلَحُّوا فِي طَلَبِ الرَّدِّ لِهَذَا الضَّلَالِ الْمُبِينِ، ذَاكِرِينَ أَنَّ فِي الْإِعْرَاضِ [عَنْ ذَلِكَ خِذْلَانًا لِلْمُؤْمِنِينَ] ، وَظَنَّ (3) أَهْلُ الطُّغْيَانِ نَوْعًا مِنَ الْعَجْزِ [عَنْ] (4) رَدِّ هَذَا الْبُهْتَانِ، فَكَتَبْتُ مَا يَسَّرَهُ اللَّهُ مِنَ الْبَيَانِ، [وَفَاءً بِمَا أَخَذَهُ اللَّهُ مِنَ] الْمِيثَاقِ عَلَى أَهْلِ الْعِلْمِ، وَالْإِيمَانِ، وَقِيَامًا بِالْقِسْطِ، وَشَهَادَةً

--------------------------------------------

(1) فِي (أ) ، (ب) ، (ل) : نَقَلَ هَذَا. إِلَخْ، كُتِبَتِ الْعِبَارَةُ مَقْلُوبَةً وَمُضْطَرِبَةً. وَالْقَاضِي عَبْدُ الْجَبَّارِ هُوَ الْقَاضِي عِمَادُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ أَحْمَدَ الْهَمْدَانِيُّ الْأَسَدَابَادِيُّ، شَيْخُ الْمُعْتَزِلَةِ فِي عَصْرِهِ، وَهُمْ يُلَقِّبُونَهُ " قَاضِيَ الْقُضَاةِ "، تُوُفِّيَ سَنَةَ 415، وَلَهُ مُؤَلِّفَاتٌ كَثِيرَةٌ أَهَمُّهَا " الْمُغْنِي فِي الْعَدْلِ وَالتَّوْحِيدِ " وَ " شَرْحُ الْأُصُولِ الْخَمْسَةِ " وَ " تَثْبِيتُ دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ " وَ " تَنْزِيهُ الْقُرْآنِ عَنِ الْمَطَاعِنِ ". انْظُرْ تَرْجَمَتَهُ وَمَذْهَبَهُ فِي: شَرْحِ الْعُيُونِ لِلْجُشَمِيِّ (ضِمْنَ كِتَابِ " فَضْلِ الِاعْتِزَالَ وَطَبَقَاتِ الْمُعْتَزِلَةِ "، تَحْقِيقَ الْأُسْتَاذِ فُؤَاد سَيِّد، الدَّارَ التُّونِسِيَّةَ لِلنَّشْرِ، 1393 - 1974) ص 365 - 371؛ طَبَقَاتِ الشَّافِعِيَّةِ 5/97 - 98؛ لِسَانَ الْمِيزَانِ 3/386 - 387؛ تَارِيخَ بَغْدَادَ 11/113 - 115؛ شَذَرَاتِ الذَّهَبِ 3/202 - 203؛ الْأَعْلَامَ 4/47. وَتَرْجَمَ لَهُ سَزْكِينُ مُجَلَّدَ 1 ج [0 - 9] ص [0 - 9] 1 - 84 وَذَكَرَ أَنَّهُ تُوجَدُ نُسْخَةٌ خَطِّيَّةٌ مِنْ كِتَابِ تَثْبِيتِ دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ فِي مَكْتَبَةِ شَهِيد عَلِي (إِسْتَانْبُولَ) . وَتُوجَدُ مُصَوَّرَةٌ مِنْ هَذِهِ النُّسْخَةِ فِي مَعْهَدِ الْمَخْطُوطَاتِ الْعَرَبِيَّةِ بِالْقَاهِرَةِ بِرَقْمِ 60 تَوْحِيدٌ) . وَقَدْ ذَكَرَ هَذَا الْخَبَرَ الَّذِي يُشِيرُ إِلَيْهِ ابْنُ تَيْمِيَّةَ الْقَاضِي عَبْدُ الْجَبَّارِ فِي كِتَابِهِ " تَثْبِيتِ دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ " 1/549 تَحْقِيقُ د. عَبْدِ الْكَرِيمِ عُثْمَان رحمه الله ، ط. دَارِ الْعَرَبِيَّةِ، بَيْرُوتَ، 1386/1966.

(2) فَصْلٌ: زِيَادَةٌ فِي (أ) ، (ل) ، (ب) .

(3) ن، م: فَظَنَّ.

(4) عَنْ: سَاقِطَةٌ مِنْ (ن) فَقَطْ.
[নবুওয়াত প্রমাণের] কিতাবে (১) ।

 

‌‌[জ্ঞান গোপন করার নিষেধাজ্ঞা]

[ (পরিচ্ছেদ (২) .) ] .

যখন তারা এই সুস্পষ্ট বিভ্রান্তির খণ্ডন চেয়ে অত্যন্ত পীড়াপীড়ি করল, এবং তারা উল্লেখ করল যে, এ থেকে [মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মুমিনদের জন্য এক প্রকার লাঞ্ছনা], আর সীমালঙ্ঘনকারীরা এই অপবাদ খণ্ডন করার ক্ষেত্রে এক ধরণের অক্ষমতা ধারণা করে বসল, তখন আমি আল্লাহর সহজ করে দেওয়া বর্ণনাটি লিখলাম; আল্লাহ জ্ঞান ও ঈমানদারদের নিকট থেকে যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন তার পূর্ণতা স্বরূপ, এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সাক্ষ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে।

--------------------------------------------

(১) (অ), (ব), (ল) পাণ্ডুলিপিতে: এটি বর্ণনা করা হয়েছে ইত্যাদি, বাক্যটি ওলটপালট ও অসংলগ্নভাবে লেখা হয়েছে। আর কাজী আব্দুল জাব্বার হলেন কাজী ইমাদুদ্দীন আবুল হাসান আব্দুল জাব্বার বিন আহমদ আল-হামদানী আল-আসাদাবাদী, তিনি তাঁর সময়ের মুতাজিলাদের শায়খ ছিলেন এবং তারা তাঁকে "কাযিউল কুযাত" (প্রধান বিচারপতি) উপাধি দিয়ে থাকে; তিনি ৪১৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো "আল-মুগনি ফিল আদলি ওয়াত তাওহীদ", "শারহুল উসুলিল খামসাহ", "তাসবীতু দালাঈলিন নুবুওয়াহ" এবং "তানযীহুল কুরআন আনিল মাতাঈন"। তাঁর জীবনী ও মাযহাবের জন্য দেখুন: জুশামীর "শারহুল উয়ুন" ("ফাদলুল ইতিযাল ওয়া তাবাকাতুল মুতাজিলা" গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত, যা ফুয়াদ সাইয়িদ কর্তৃক সম্পাদিত, আদ-দারুত তিউনিসিয়্যাহ লিন-নাশর, ১৩৯৩-১৯৭৪) পৃষ্ঠা ৩৬৫-৩৭১; তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৫/৯৭-৯৮; লিসানুল মিযান ৩/৩৮৬-৩৮৭; তারিখু বাগদাদ ১১/১১৩-১১৫; শাযারাতুয যাহাব ৩/২০২-২০৩; আল-আ’লাম ৪/৪৭। সেযকিন তাঁর গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ১-৮৪ পৃষ্ঠায় তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, ইস্তাম্বুলের শহীদ আলী লাইব্রেরিতে "তাসবীতু দালাঈলিন নুবুওয়াহ" গ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে। কায়রোস্থ আরবি পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে এই কপির একটি মাইক্রোফিল্ম ৬০ নম্বর তাওহীদ হিসেবে সংরক্ষিত আছে। ইবনে তাইমিয়্যাহ যে সংবাদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তা কাজী আব্দুল জাব্বার তাঁর "তাসবীতু দালাঈলিন নুবুওয়াহ" গ্রন্থের ১/৫৪৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, যা ড. আব্দুল করীম উসমান (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক সম্পাদিত এবং দারুল আরাবিয়্যাহ, বৈরুত, ১৩৮৬/১৯৬৬ থেকে প্রকাশিত।

(২) পরিচ্ছেদ: (অ), (ল), (ব) পাণ্ডুলিপিতে এটি অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে।

(৩) ন, ম পাণ্ডুলিপিতে: "ফাযন্না" (অতএব ধারণা করল)।

(৪) আন (থেকে): শব্দটি কেবল (ন) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
لِلَّهِ (1) ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا} [سُورَةُ النِّسَاءِ: 135] ، وَاللَّيُّ (2) هُوَ تَغْيِيرُ الشَّهَادَةِ، [وَالْإِعْرَاضُ كِتْمَانُهَا.

وَاللَّهُ تَعَالَى] قَدْ أَمَرَ بِالصِّدْقِ، وَالْبَيَانِ، وَنَهَى عَنِ الْكَذِبِ، وَالْكِتْمَانِ فِيمَا يُحْتَاجُ [إِلَى مَعْرِفَتِهِ، وَإِظْهَارِهِ، كَمَا قَالَ: النَّبِيُّ] (3) صلى الله عليه وسلم فِي الْحَدِيثِ الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ: ( «الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا، فَإِنْ صَدَقَا، وَبَيَّنَا بُورِكَ [لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا، وَإِنْ كَتَمَا، وَكَذَّبَا» (4) ] «مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا» (5) .) .

وَقَالَ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} [سُورَةُ الْمَائِدَةِ: 8] .

--------------------------------------------

(1) ن، م: شَهَادَةِ اللَّهِ.

(2) أ: وَاللَّائِي، وَهُوَ تَحْرِيفٌ ظَاهِرٌ.

(3) النَّبِيُّ: زِيَادَةٌ فِي (م) .

(4) م: وَإِنْ كَذَّبَا وَكَتَمَا.

(5) الْحَدِيثَ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ رضي الله عنه فِي مَوَاضِعَ عَدِيدَةٍ فِي الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ. انْظُرْ مَثَلًا الْبُخَارِيَّ 3/58 (كِتَابُ الْبُيُوعِ، بَابُ إِذَا بَيَّنَ الْبَيِّعَانِ وَلَمْ يَكْتُمَا.) ، 3/64 (كِتَابُ الْبُيُوعِ، بَابُ الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا) ؛ مُسْلِمٌ 3/1164 (كِتَابُ الْبُيُوعِ، بَابُ الصِّدْقِ فِي الْبَيْعِ وَالْبَيَانِ) . وَالْحَدِيثُ عَنْهُ وَعَنْ غَيْرِهِ مِنَ الصَّحَابَةِ - رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ - بِمَعْنَاهُ فِي: سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيِّ وَالنَّسَائِيِّ وَابْنِ مَاجَهْ وَمُسْنَدِ أَحْمَدَ.
আল্লাহর জন্য (১), যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষী হও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে অথবা পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে বিত্তবান হোক বা নিঃস্ব, আল্লাহ উভয়েরই যোগ্যতম অভিভাবক। সুতরাং তোমরা ন্যায়বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা পেঁচালো কথা বলো কিংবা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আল্লাহ তোমরা যা করো সে বিষয়ে সম্যক অবগত।} [সূরা আন-নিসা: ১৩৫]। আর 'লাই' (২) হলো সাক্ষ্য পরিবর্তন করা, [আর 'ইরাদ' হলো তা গোপন করা।

এবং মহান আল্লাহ] সত্যবাদিতা ও সুস্পষ্ট বর্ণনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মিথ্যাচার ও গোপন করা থেকে নিষেধ করেছেন যা [জানার ও প্রকাশ করার প্রয়োজন রয়েছে। যেমন নবী] (৩) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুখারি ও মুসলিমের সর্বসম্মত এক হাদিসে বলেছেন: ( «ক্রেতা ও বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের ইখতিয়ার (চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিলের অধিকার) থাকে। যদি তারা সত্য কথা বলে এবং (পণ্যের ত্রুটি) বর্ণনা করে, তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা [গোপন করে এবং মিথ্যা বলে (৪) ] তবে তাদের কেনা-বেচার বরকত মিটিয়ে দেওয়া হয় (৫)।» ) ।

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাক্ষ্যদানে সুদৃঢ় থাক এবং কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ না করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটাই তাকওয়ার নিকটতর।} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৮]।

--------------------------------------------

(১) 'নুন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: আল্লাহর সাক্ষ্য।

(২) 'আলিফ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'ওয়াল লা-ই', যা একটি স্পষ্ট বিকৃতি।

(৩) 'নবী' শব্দটি পাণ্ডুলিপি (মিম)-এ অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে।

(৪) 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে: 'আর যদি তারা মিথ্যা বলে এবং গোপন করে'।

(৫) হাদিসটি হাকিম ইবন হিযাম রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, বুখারি ও মুসলিমের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ দেখুন: বুখারি ৩/৫৮ (কেনা-বেচা অধ্যায়, ক্রেতা-বিক্রেতা যদি বর্ণনা করে এবং গোপন না করে অনুচ্ছেদ), ৩/৬৪ (কেনা-বেচা অধ্যায়, ক্রেতা-বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইখতিয়ার অনুচ্ছেদ); মুসলিম ৩/১১৬৪ (কেনা-বেচা অধ্যায়, কেনা-বেচায় সত্যবাদিতা ও বর্ণনার অনুচ্ছেদ)। এবং হাদিসটি তাঁর থেকে এবং অন্যান্য সাহাবীগণ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—থেকে একই অর্থে বর্ণিত হয়েছে: সুনান আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ এবং মুসনাদে আহমাদে।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
وَمِنْ أَعْظَمِ الشَّهَادَاتِ مَا جَعَلَ اللَّهُ [أُمَّةَ مُحَمَّدٍ (1) ] شُهَدَاءَ عَلَيْهِ حَيْثُ قَالَ: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [سُورَةُ الْبَقَرَةِ: 143] .

وَقَالَ تَعَالَى: {وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ} [سُورَةُ الْحَجِّ: 78] ، وَالْمَعْنَى [عِنْدَ الْجُمْهُورِ أَنَّ اللَّهَ سَمَّاهُمُ] الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلِ نُزُولِ الْقُرْآنِ، وَفِي الْقُرْآنِ.

وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَتَمَ شَهَادَةً عِنْدَهُ مِنَ اللَّهِ} [سُورَةُ الْبَقَرَةِ: 140] ، وَقَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ} [سُورَةُ آلِ عِمْرَانَ: 187] ، وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ - إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} [سُورَةُ الْبَقَرَةِ: 159 - 160] ، لَا سِيَّمَا الْكِتْمَانَ إِذَا لَعَنَ [آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا، كَمَا فِي الْأَثَرِ: «إِذَا لَعَنَ] آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا، فَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ عِلْمٌ فَلْيُظْهِرْهُ، فَإِنَّ كَاتِمَ الْعِلْمِ يَوْمَئِذٍ كَكَاتِمِ [مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ» (2) .

--------------------------------------------

(1) م: مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم.

(2) م: مَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ. وَفِي سُنَنِ ابْنِ مَاجَهْ 1/96 - 97. (الْمُقَدِّمَةُ، بَابُ مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ) عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا لَعَنَ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا، فَمَنْ كَتَمَ حَدِيثًا فَقَدْ كَتَمَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ " وَذَكَرَ الْمُحَقِّقُ: " فِي الزَّوَائِدِ فِي إِسْنَادِهِ حُسَيْنُ بْنُ أَبِي السَّرِيِّ كَذَّابٌ. وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ السِّرِيِّ، ضَعِيفٌ. وَفِي الْأَطْرَافِ: أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ السَّرِيِّ لَمْ يُدْرِكْ مُحَمَّدَ بْنَ الْمُنْكَدِرِ. وَذَكَرَ أَنَّ بَيْنَهُمَا وَسَائِطَ فَفِيهِ انْقِطَاعٌ أَيْضًا ".
আর মহানতম সাক্ষ্যসমূহের মধ্যে একটি হলো আল্লাহ যা [মুহাম্মদ (১)-এর উম্মতকে] তাঁর ওপর সাক্ষী করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন" [সূরা আল-বাকারা: ১৪৩]।

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি; এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের আদর্শ। তিনি ইতিপূর্বে তোমাদের নাম রেখেছেন 'মুসলিম' এবং এই কিতাবেও, যাতে রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও" [সূরা আল-হাজ্জ: ৭৮]। জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে এর অর্থ হলো, [আল্লাহ তাদের নাম রেখেছেন] 'মুসলিম' কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে এবং কুরআনেও।

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার নিকট থাকা সাক্ষ্যকে গোপন করে?" [সূরা আল-বাকারা: ১৪০]। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ আহলে কিতাবদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তোমরা অবশ্যই তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না" [সূরা আলে ইমরান: ১৮৭]। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয় যারা আমি যেসব স্পষ্ট নিদর্শন ও হিদায়াত নাযিল করেছি তা গোপন করে, কিতাবে মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর; আল্লাহ তাদেরকে লানত করেন এবং লানতকারীরাও তাদেরকে লানত করে। তবে তারা ব্যতীত যারা তওবা করেছে, নিজেদের সংশোধন করেছে এবং সত্যকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে; তাদের তওবা আমি কবুল করব এবং আমি অতিশয় তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু" [সূরা আল-বাকারা: ১৫৯-১৬০]। বিশেষ করে সেই গোপন করা যখন [এই উম্মতের শেষের লোকেরা প্রথমের লোকেদের লানত করবে, যেমনটি আসারে এসেছে: "যখন] এই উম্মতের শেষের লোকেরা প্রথমের লোকেদের লানত করবে, তখন যার নিকট জ্ঞান আছে সে যেন তা প্রকাশ করে। কেননা সেদিন জ্ঞান গোপনকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো হবে যে [আল্লাহর পক্ষ থেকে মুহাম্মদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা গোপন করল"] (২)।

--------------------------------------------

(১) ম: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

(২) ম: মুহাম্মদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে। এবং সুনানে ইবনে মাজাহ ১/৯৬-৯৭। (ভূমিকা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যাকে জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং সে তা গোপন করল)। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন এই উম্মতের শেষের লোকেরা প্রথমের লোকেদের লানত করবে, তখন যে ব্যক্তি কোনো হাদীস গোপন করবে, সে যেন আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা-ই গোপন করল"। মুহাক্কিক উল্লেখ করেছেন: "যাওয়ায়েদ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, এর সনদে হুসাইন বিন আবিস সাররি একজন মিথ্যাবাদী। আর আবদুল্লাহ বিন আস-সাররি দুর্বল। আতরাফ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবদুল্লাহ বিন আস-সাররি মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদিরকে পাননি। আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে তাদের উভয়ের মাঝে মধ্যস্থতাকারী রয়েছে, ফলে এতে সনদে বিচ্ছিন্নতাও (ইনকিতা) রয়েছে"।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
وَذَلِكَ أَنَّ أَوَّلَ] هَذِهِ الْأُمَّةِ هُمُ (1) الَّذِينَ قَامُوا بِالدِّينِ تَصْدِيقًا، وَعِلْمًا، وَعَمَلًا، وَتَبْلِيغًا، فَالطَّعْنُ فِيهِمْ [طَعْنٌ فِي الدِّينِ مُوجِبٌ لِلْإِعْرَاضِ عَمَّا] بَعَثَ اللَّهُ بِهِ (2) النَّبِيِّينَ.

وَهَذَا كَانَ مَقْصُودَ أَوَّلِ مَنْ أَظْهَرَ بِدْعَةَ التَّشَيُّعِ (3) ، فَإِنَّمَا كَانَ قَصْدُهُ (4) [الصَّدَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ، وَإِبْطَالَ مَا جَاءَتْ] بِهِ الرُّسُلُ عَنِ اللَّهِ، وَلِهَذَا كَانُوا يُظْهِرُونَ ذَلِكَ بِحَسَبِ ضَعْفِ الْمِلَّةِ، فَظَهَرَ [فِي الْمَلَاحِدَةِ حَقِيقَةُ هَذِهِ الْبِدَعِ الْمُضِلَّةِ] لَكِنْ رَاجَ كَثِيرٌ مِنْهَا عَلَى مَنْ لَيْسَ مِنَ الْمُنَافِقِينَ الْمُلْحِدِينَ، لِنَوْعٍ مِنَ الشُّبْهَةِ، وَالْجَهَالَةِ [الْمَخْلُوطَةِ (5) بِهَوًى، فَقُبِلَ (6) مَعَهُ الضَّلَالَةُ] ، وَهَذَا أَصْلُ كُلِّ بَاطِلٍ.

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: (7) {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى - مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى - وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى - إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [سُورَةُ النَّجْمِ: 1 - 4] إِلَى قَوْلِهِ: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى - وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى - أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنْثَى - تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَى - إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءٌ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِنْ رَبِّهِمُ الْهُدَى} [سُورَةُ النَّجْمِ: 19 - 23] ، فَنَزَّهَ اللَّهُ رَسُولَهُ عَنِ الضَّلَالِ، وَالْغَيِّ، وَالضَّلَالُ عَدَمُ الْعِلْمِ، وَالْغَيُّ اتِّبَاعُ الْهَوَى.

--------------------------------------------

(1) هُمْ: زِيَادَةٌ فِي (ن) ، (م) .

(2) بِهِ: سَاقِطَةٌ مِنْ (م) .

(3) ن: الشِّيَعِ.

(4) ن، م: مَقْصُودُهُ.

(5) م: الْمُخْتَلِطَةِ.

(6) م: تُقْبَلُ.

(7) أ، ل، ب: قَالَ تَعَالَى.
আর তা এজন্য যে, এই উম্মতের অগ্রগামীরা তারাই ছিলেন যারা সত্যয়ন, জ্ঞান, আমল ও প্রচারের মাধ্যমে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সুতরাং তাদের প্রতি কটাক্ষ করা মানেই দ্বীনের প্রতি কটাক্ষ করা, যা আল্লাহ নবীদের যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা থেকে বিমুখ হওয়াকে আবশ্যক করে।

আর শিয়া মতবাদের বিদআত যে প্রথম প্রকাশ করেছিল, তার উদ্দেশ্যও এটাই ছিল। মূলত তার উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিমুখ করা এবং রাসুলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছিলেন তা বাতিল করে দেওয়া। এই কারণেই মিল্লাতের (ধর্মাদর্শের) দুর্বলতা অনুযায়ী তারা তা প্রকাশ করত। ফলে মুলহিদদের (ধর্মত্যাগীদের) মাঝে এই পথভ্রষ্ট বিদআতগুলোর প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়। তবে এগুলোর অনেক কিছুই এমন ব্যক্তিদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পায় যারা মুনাফিক বা মুলহিদ ছিল না, বরং এক প্রকার সংশয় এবং প্রবৃত্তির সাথে মিশ্রিত অজ্ঞতার কারণে পথভ্রষ্টতা তাদের নিকট গৃহীত হয়। আর এটাই হলো সকল বাতিলের মূল ভিত্তি।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয় - তোমাদের সঙ্গী (মুহাম্মাদ) পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি - আর তিনি প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না - এ তো কেবল ওহী যা অবতীর্ণ করা হয়} [সূরা আন-নাজম: ১ - ৪] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উজ্জা সম্পর্কে? - এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে? - তবে কি তোমাদের জন্য পুত্রসন্তান আর আল্লাহর জন্য কন্যাসন্তান? - তবে তো এটা এক অন্যায্য বণ্টন। - এগুলো তো কেবল কতগুলো নাম যা তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ, আল্লাহ এর কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। তারা তো কেবল ধারণা এবং নফস যা কামনা করে তার অনুসরণ করে, অথচ তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের কাছে হিদায়াত এসেছে} [সূরা আন-নাজম: ১৯ - ২৩]। সুতরাং আল্লাহ তাঁর রাসুলকে পথভ্রষ্টতা ও বিপথগামিতা থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। আর পথভ্রষ্টতা হলো জ্ঞানের অভাব এবং বিপথগামিতা হলো প্রবৃত্তির অনুসরণ।

--------------------------------------------

(১) 'হুম': (ন) ও (ম) পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত।

(২) 'বিহি': (ম) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) ন: আশ-শিয়া।

(৪) ন, ম: মাকসুদুহু।

(৫) ম: আল-মুখতালিাতাহ।

(৬) ম: তু-কাবালু।

(৭) আ, ল, ব: তিনি তাআলা বলেছেন।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا} [سُورَةُ الْأَحْزَابِ: 72] ، فَالظَّلُومُ غَاوٍ، وَالْجَهُولُ ضَالٌّ إِلَّا مَنْ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {لِيُعَذِّبَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْمُشْرِكِينَ وَالْمُشْرِكَاتِ وَيَتُوبَ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} [سُورَةُ الْأَحْزَابِ: 73] (1) .

وَلِهَذَا أَمَرَنَا اللَّهُ أَنْ نَقُولَ فِي صَلَاتِنَا: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ - صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} ، [فَالضَّالُّ الَّذِي لَمْ يَعْرِفِ الْحَقَّ] كَالنَّصَارَى، وَالْمَغْضُوبِ عَلَيْهِ (2) الْغَاوِي الَّذِي يَعْرِفُ الْحَقَّ، وَيَعْمَلُ بِخِلَافِهِ كَالْيَهُودِ.

وَالصِّرَاطُ [الْمُسْتَقِيمُ يَتَضَمَّنُ مَعْرِفَةَ الْحَقِّ] وَالْعَمَلَ بِهِ، كَمَا فِي الدُّعَاءِ الْمَأْثُورِ: «اللَّهُمَّ أَرِنِي الْحَقَّ حَقًّا، وَوَفِّقْنِي لِاتِّبَاعِهِ، وَأَرِنِي الْبَاطِلَ [بَاطِلًا، وَوَفِّقْنِي لِاجْتِنَابِهِ، وَلَا تَجْعَلْهُ] مُشْتَبِهًا عَلَيَّ، فَأَتَّبِعَ الْهَوَى» .

وَفِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ عَائِشَةَ [رضي الله عنها (3) ] «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم (4) كَانَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يُصَلِّي يَقُولُ: (اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ، وَمِيكَائِيلَ، وَإِسْرَافِيلَ، فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ، إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ» ) (5) ، فَمَنْ خَرَجَ

--------------------------------------------

(1) ن، م: وَالْمُؤْمِنَاتِ. . الْآيَةَ.

(2) ن، م: عَلَيْهِمْ.

(3) رضي الله عنها: سَاقِطَةٌ مِنْ (ن) .

(4) م: عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ.

(5) الْحَدِيثُ فِي مُسْلِمٍ 1/534 (كِتَابُ صَلَاةِ الْمُسَافِرِينَ وَقَصْرِهَا، بَابُ الدُّعَاءِ فِي صَلَاةِ اللَّيْلِ وَقِيَامِهِ) وَأَوَّلُهُ:. . حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ: بِأَيِّ شَيْءٍ كَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْتَتِحُ صَلَاتَهُ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ؟ قَالَتْ: كَانَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ افْتَتَحَ صَلَاتَهُ: " اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ. . الْحَدِيثَ ".
যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর মানুষ তা বহন করেছে; নিশ্চয় সে অতিশয় জালেম ও অতিশয় জাহেল} [সূরা আল-আহজাব: ৭২], সুতরাং অতিশয় জালেম হলো বিভ্রান্ত, আর অতিশয় জাহেল হলো পথভ্রষ্ট; তবে আল্লাহ যার তাওবা কবুল করেন সে ব্যতীত, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {যাতে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীদের শাস্তি দেন এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের তাওবা কবুল করেন। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [সূরা আল-আহজাব: ৭৩] (১)।

এই কারণে আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমাদের সালাতে বলতে: {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন—তাদের পথ, যাদেরকে আপনি নেয়ামত দান করেছেন; তাদের পথ নয় যারা ক্রোধভাজন হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে}, [কেননা পথভ্রষ্ট সেই ব্যক্তি যে সত্যকে চেনে না] যেমন খ্রিস্টানগণ, আর ক্রোধভাজন (২) সেই বিভ্রান্ত ব্যক্তি যে সত্য জানে কিন্তু তার বিপরীত আমল করে যেমন ইহুদিগণ।

আর সরল পথ [সত্যের জ্ঞান এবং] তার ওপর আমলকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি বর্ণিত দোয়ায় রয়েছে: «হে আল্লাহ! আমাকে সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তা অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন; আর আমাকে বাতিলকে [বাতিল হিসেবে দেখান এবং তা বর্জন করার তৌফিক দান করুন, এবং তাকে] আমার নিকট অস্পষ্ট করবেন না যাতে আমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করে ফেলি»।

সহীহ মুসলিমে আয়েশা [রাদিয়াল্লাহু আনহা (৩)] থেকে বর্ণিত যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৪) যখন রাতে সালাত পড়তে উঠতেন তখন বলতেন: (হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত, আপনার বান্দারা যে বিষয়ে মতভেদ করত আপনি তাদের মধ্যে তার ফয়সালা করে দেবেন। যে বিষয়ে সত্য হতে বিচ্যুত হয়ে মতভেদ করা হয়েছে তাতে আপনার অনুমতি ক্রমে আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। নিশ্চয় আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে হেদায়াত দান করেন)» (৫), সুতরাং যে ব্যক্তি বের হয়ে গেল...

--------------------------------------------

(১) ন, ম: এবং মুমিন নারীদের... আয়াত পর্যন্ত।

(২) ন, ম: তাদের ওপর।

(৩) রাদিয়াল্লাহু আনহা: (ন) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৪) ম: তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।

(৫) হাদীসটি মুসলিমে রয়েছে ১/৫৩৪ (মুসাফিরদের সালাত ও তা সংক্ষিপ্তকরণ অধ্যায়, রাতের সালাত ও কিয়ামের দোয়ার পরিচ্ছেদ) এবং এর শুরু হলো: ... আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুমিন জননী আয়েশাকে জিজ্ঞেস করলাম: আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে সালাত শুরু করতেন তখন কী দিয়ে শুরু করতেন? তিনি বললেন: তিনি যখন রাতে উঠতেন তখন তাঁর সালাত শুরু করতেন এভাবে: "হে আল্লাহ! জিবরাঈলের রব..." হাদীসটি।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
عَنِ الصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ كَانَ مُتَّبِعًا لِظَنِّهِ، وَمَا تَهْوَاهُ نَفْسُهُ، وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ.

وَهَذَا حَالُ أَهْلِ الْبِدَعِ الْمُخَالِفَةِ لِلْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، فَإِنَّهُمْ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ، وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ، فَفِيهِمْ جَهْلٌ، وَظُلْمٌ، لَا سِيَّمَا الرَّافِضَةِ، فَإِنَّهُمْ أَعْظَمُ ذَوِي الْأَهْوَاءِ جَهْلًا وَظُلْمًا يُعَادُونَ خِيَارَ أَوْلِيَاءِ اللَّهِ [تَعَالَى] (1) مِنْ بَعْدِ النَّبِيِّينَ، مِنَ السَّابِقِينَ الْأَوَّلِينَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ، وَالْأَنْصَارِ (2) ، وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رضي الله عنهم، وَرَضُوا عَنْهُ، وَيُوَالُونَ الْكُفَّارَ، وَالْمُنَافِقِينَ مِنَ الْيَهُودِ، وَالنَّصَارَى، وَالْمُشْرِكِينَ، وَأَصْنَافِ الْمُلْحِدِينَ كَالنُّصَيْرِيَّةِ، وَالْإِسْمَاعِيلِيَّةِ، وَغَيْرِهِمْ مِنَ الضَّالِّينَ (3) ، فَتَجِدُهُمْ، أَوْ كَثِيرًا مِنْهُمْ إِذَا اخْتَصَمَ خَصْمَانِ فِي رَبِّهِمْ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، وَالْكُفَّارِ، وَاخْتَلَفَ النَّاسُ فِيمَا جَاءَتْ بِهِ الْأَنْبِيَاءُ، فَمِنْهُمْ مَنْ آمَنَ، وَمِنْهُمْ مَنْ كَفَرَ - سَوَاءٌ كَانَ الِاخْتِلَافُ بِقَوْلٍ، أَوْ عَمَلٍ كَالْحُرُوبِ الَّتِي بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ، وَأَهْلِ الْكِتَابِ، وَالْمُشْرِكِينَ - تَجِدُهُمْ يُعَاوِنُونَ الْمُشْرِكِينَ، وَأَهْلَ الْكِتَابِ عَلَى الْمُسْلِمِينَ أَهْلِ الْقُرْآنِ.

كَمَا قَدْ جَرَّبَهُ النَّاسُ مِنْهُمْ غَيْرَ مَرَّةٍ فِي مِثْلِ إِعَانَتِهِمْ لِلْمُشْرِكِينَ (4) مِنَ التُّرْكِ، وَغَيْرِهِمْ عَلَى أَهْلِ الْإِسْلَامِ بِخُرَاسَانَ، وَالْعِرَاقِ، وَالْجَزِيرَةِ، وَالشَّامِ، وَغَيْرِ

--------------------------------------------

(1) تَعَالَى: لَيْسَتْ فِي (ن) ، (م) .

(2) ن: مِنَ السَّابِقِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ.

(3) ن، م: الْغَالِينَ.

(4) ن، م: الْمُشْرِكِينَ.
সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে সে তার ধারণা এবং প্রবৃত্তির খেয়াল-খুশির অনুসরণকারী ছিল। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো পথনির্দেশ ছাড়াই যে ব্যক্তি তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে, তার চেয়ে বড় পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে? নিশ্চয়ই আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।

এটি হলো কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী বিদআতিদের অবস্থা; কারণ তারা কেবল ধারণা ও প্রবৃত্তির খেয়াল-খুশিরই অনুসরণ করে। ফলে তাদের মধ্যে মূর্খতা ও যুলুম রয়েছে; বিশেষ করে রাফেযীরা, কারণ তারা প্রবৃত্তির অনুসারীদের মধ্যে মূর্খতা ও যুলুমের দিক থেকে সর্বাপেক্ষা বড়। তারা নবীদের পরে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বন্ধুদের [তাআলা] (১) শত্রু জ্ঞান করে, যারা মুহাজির ও আনসারদের (২) অন্তর্ভুক্ত প্রথম অগ্রগামী দল এবং যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন—আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। অথচ তারা (রাফেযীরা) ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান, মুশরিক এবং বিভিন্ন শ্রেণির নাস্তিক যেমন নুসাইরিয়া, ইসমাইলিয়া ও অন্যান্য পথভ্রষ্টদের (৩) মতো কাফির ও মুনাফিকদের সাথে বন্ধুত্ব ও মিত্রতা স্থাপন করে। ফলে আপনি তাদের অথবা তাদের অধিকাংশকে দেখতে পাবেন যে, যখন মুমিন ও কাফিরদের মধ্য থেকে দুই পক্ষ তাদের প্রতিপালকের ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং নবীরা যা নিয়ে এসেছেন সে বিষয়ে মানুষেরা যখন মতভেদ করে—চাই সে বিশ্বাসী হোক বা অবিশ্বাসী, এবং চাই সেই মতভেদ কথা বা কাজে হোক যেমন মুসলিমদের সাথে আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধসমূহ—তখন আপনি তাদের দেখবেন যে তারা কুরআনের অনুসারী মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিক ও আহলে কিতাবদের সহায়তা করছে।

যেমনটি মানুষ তাদের পক্ষ থেকে বারবার প্রত্যক্ষ করেছে, উদাহরণস্বরূপ খোরাসান, ইরাক, জাযিরা, সিরিয়া ও অন্যান্য স্থানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তুর্কি মুশরিক (৪) ও অন্যদের তারা যে সহায়তা করেছিল।

--------------------------------------------

(১) তাআলা: ‘নূন’ ও ‘মীম’ পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(২) নূন পাণ্ডুলিপি: অগ্রগামী (সাবিকীন), মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে।

(৩) নূন ও মীম পাণ্ডুলিপি: চরমপন্থীরা।

(৪) নূন ও মীম পাণ্ডুলিপি: মুশরিকগণ।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
ذَلِكَ، وَإِعَانَتِهِمْ لِلنَّصَارَى (1) عَلَى الْمُسْلِمِينَ بِالشَّامِ، وَمِصْرَ، وَغَيْرِ ذَلِكَ فِي وَقَائِعَ مُتَعَدِّدَةٍ مِنْ أَعْظَمِهَا (2) الْحَوَادِثُ الَّتِي كَانَتْ فِي الْإِسْلَامِ فِي الْمِائَةِ الرَّابِعَةِ، وَالسَّابِعَةِ، فَإِنَّهُ (3) لَمَّا قَدِمَ كُفَّارُ التُّرْكِ إِلَى بِلَادِ الْإِسْلَامِ، وَقُتِلَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ مَا (4) لَا يُحْصِي عَدَدَهُ إِلَّا رَبُّ الْأَنَامِ كَانُوا مِنْ أَعْظَمِ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلْمُسْلِمِينَ، وَمُعَاوَنَةً لِلْكَافِرِينَ (5) ، وَهَكَذَا مُعَاوَنَتُهُمْ لِلْيَهُودِ أَمْرٌ شَهِيرٌ (6) حَتَّى جَعَلَهُمُ النَّاسُ لَهُمْ كَالْحَمِيرِ.

 

‌‌[كلام عام عن الرافضة]

‌‌[مشابهة الرافضة لليهود والنصارى]

(فَصْلٌ) .

وَهَذَا الْمُصَنِّفُ سَمَّى كِتَابَهُ (مِنْهَاجَ الْكَرَامَةِ فِي مَعْرِفَةِ الْإِمَامَةِ) (7) ، وَهُوَ خَلِيقٌ بِأَنْ يُسَمَّى (مِنْهَاجَ النَّدَامَةِ) ، كَمَا أَنَّ مَنِ ادَّعَى الطَّهَارَةَ، وَهُوَ مِنَ الَّذِينَ لَمْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ، بَلْ مِنْ أَهْلِ الْجِبْتِ، [وَالطَّاغُوتِ] ، وَالنِّفَاقِ (8) كَانَ وَصْفُهُ بِالنَّجَاسَةِ، وَالتَّكْدِيرِ أَوْلَى مِنْ وَصْفِهِ [بِالتَّطْهِيرِ] (9) .

--------------------------------------------

(1) م: النَّصَارَى.

(2) أ، ل، ب: أَعْظَمِ.

(3) ن: فَإِنَّهُمْ.

(4) م: مَنْ.

(5) ن، م: لِلْكُفَّارِ.

(6) ن، م: اشْتُهِرَ؛ أ: شُهِرَ.

(7) فِي هَامِشِ (م) أَمَامَ هَذَا الْمَوْضِعِ: " مَطْلَبٌ فِي الرَّدِّ عَلَى الرَّافِضِيِّ، سَمَّى كِتَابَهُ مِنْهَاجَ الْكَرَامَةِ ".

(8) ن، م: مِنْ أَهْلِ الْخُبْثِ وَالنِّفَاقِ.

(9) ذَكَرَ الصَّفَدِيُّ فِي تَرْجَمَتِهِ لِابْنِ تَيْمِيَّةَ (الْوَافِي بِالْوَفَيَاتِ - نُسْخَةٌ خَطِّيَّةٌ فِي مَكْتَبَةِ الْبُودْلِيَانِ بِأُكْسُفُورْدَ، ج [0 - 9] 6 ص (21) ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ تَيْمِيَّةَ يَقُولُ: ابْنُ الْمُنَجَّسِ، وَيُرِيدُ بِهِ ابْنَ الْمُطَهَّرِ الْحِلِّيَّ.
সেই বিষয়সমূহ, এবং শাম, মিশর ও অন্যান্য স্থানে অসংখ্য যুদ্ধে মুসলিমদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের প্রতি তাদের সহযোগিতা; যার মধ্যে অন্যতম বড় ঘটনা ছিল ইসলামের ইতিহাসের চতুর্থ ও সপ্তম শতাব্দীর ঘটনাবলি। কেননা, যখন তুর্কি কাফিররা মুসলিম ভূখণ্ডে আক্রমণ করল এবং মুসলিমদের এমন সংখ্যায় হত্যা করল যা সৃষ্টির প্রতিপালক ব্যতীত কেউ গণনা করতে পারে না, তখন তারা (রাফেযীরা) ছিল মুসলিমদের প্রতি শত্রুতা পোষণকারী এবং কাফিরদের সহযোগিতাকারী ব্যক্তিদের মধ্যে অগ্রগণ্য। একইভাবে ইহুদিদের প্রতি তাদের সহযোগিতার বিষয়টিও অত্যন্ত সুপরিচিত, এমনকি মানুষ তাদের (রাফেযীদের) ইহুদিদের বাহন বা গাধার ন্যায় মনে করত।

 

‌‌[রাফেযীদের সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা]

‌‌[ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে রাফেযীদের সাদৃশ্য]

(পরিচ্ছেদ) ।

এই গ্রন্থকার তার কিতাবের নাম রেখেছেন (মিনহাজুল কারামাহ ফি মা’রিফাতিল ইমামাহ), অথচ এটি (মিনহাজুন নাদাহ) বা অনুতাপের পথ নাম পাওয়ারই অধিক যোগ্য। যেমনভাবে কেউ যদি পবিত্রতার দাবি করে অথচ সে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের অন্তরসমূহকে আল্লাহ পবিত্র করার ইচ্ছা করেননি, বরং সে জিবত, তাগুত এবং নিফাকপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত, তবে তার ক্ষেত্রে পবিত্রতার গুণের চেয়ে অপবিত্রতা ও পঙ্কিলতার গুণারোপ করাই অধিক শ্রেয়।

--------------------------------------------

(১) ম: খ্রিস্টানরা।

(২) অ, ল, ব: মহান/বৃহত্তম।

(৩) ন: নিশ্চয়ই তারা।

(৪) ম: যারা।

(৫) ন, ম: কাফিরদের।

(৬) ন, ম: প্রসিদ্ধ হয়েছে; অ: প্রসিদ্ধ হয়েছে।

(৭) ‘ম’ এর পার্শ্বটীকায় এই স্থানের সামনে রয়েছে: "রাফেযীর খণ্ডনমূলক বক্তব্য, সে তার কিতাবের নাম রেখেছে মিনহাজুল কারামাহ"।

(৮) ন, ম: মন্দ ও নিফাকপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত।

(৯) সাফাদী ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনীতে (আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত - অক্সফোর্ডের বোডলিয়ান লাইব্রেরিতে রক্ষিত পাণ্ডুলিপি, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২১) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহকে বলতে শুনেছেন: ‘ইবনুল মুনাজ্জাস’ (অপবিত্রের সন্তান), এর দ্বারা তিনি ‘ইবনুল মুতাহহার আল-হিল্লি’কে উদ্দেশ্য করেছেন।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَمِنْ أَعْظَمِ خَبَثِ الْقُلُوبِ أَنْ يَكُونَ فِي قَلْبِ الْعَبْدِ غِلٌّ لِخِيَارِ (1) الْمُؤْمِنِينَ، [وَسَادَاتِ أَوْلِيَاءِ] اللَّهِ بَعْدَ النَّبِيِّينَ، وَلِهَذَا لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ [تَعَالَى] (2) فِي الْفَيْءِ نَصِيبًا لِمَنْ بَعْدَهُمْ إِلَّا الَّذِينَ يَقُولُونَ: {رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [سُورَةُ الْحَشْرِ: 10] .

وَلِهَذَا كَانَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْيَهُودِ مِنَ [الْمُشَابَهَةِ فِي الْخَبَثِ] (3) ، وَاتِّبَاعِ الْهَوَى، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ أَخْلَاقِ الْيَهُودِ، وَبَيْنَهُمْ وَبَيْنَ النَّصَارَى مِنَ الْمُشَابَهَةِ فِي الْغُلُوِّ، وَالْجَهْلِ (4) ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ أَخْلَاقِ النَّصَارَى مَا أَشْبَهُوا بِهِ هَؤُلَاءِ مِنْ وَجْهٍ، وَهَؤُلَاءِ مِنْ وَجْهٍ، وَمَا زَالَ النَّاسُ يَصِفُونَهُمْ بِذَلِكَ.

وَمِنْ أَخْبَرِ [النَّاسِ بِهِمُ] الشَّعْبِيُّ (5) وَأَمْثَالُهُ مِنْ عُلَمَاءِ الْكُوفَةِ، وَقَدْ ثَبَتَ عَنِ الشَّعْبِيِّ أَنَّهُ قَالَ: (مَا رَأَيْتُ أَحْمَقَ مِنَ الْخَشَبِيَّةِ (6) لَوْ كَانُوا مِنَ الطَّيْرِ لَكَانُوا رَخَمًا (7) ، وَلَوْ كَانُوا مِنَ الْبَهَائِمِ لَكَانُوا حُمُرًا، وَاللَّهِ لَوْ طَلَبْتُ مِنْهُمْ أَنْ

--------------------------------------------

(1) م: عَلَى خِيَارِ، وَهُوَ تَحْرِيفٌ.

(2) تَعَالَى: لَيْسَتْ فِي (ن) ، (م) ، (ل) .

(3) فِي الْخَبَثِ: زِيَادَةٌ فِي (م) ، (ل) وَظَهَرَ جُزْءٌ مِنَ الْكَلِمَةِ فِي (ن) .

(4) أ، ب، ل: وَالْجَهْلِ وَاتِّبَاعِ الْهَوَى.

(5) هُوَ أَبُو عَمْرٍو عَامِرُ بْنُ شَرَاحِيلَ بْنِ عَبْدٍ الشَّعْبِيُّ، كُوفِيٌّ تَابِعِيٌّ جَلِيلُ الْقَدْرِ وَافِرُ الْعِلْمِ، تُوُفِّيَ سَنَةَ 104. تَرْجَمَتُهُ فِي: وَفَيَاتِ الْأَعْيَانِ 2/227 - 229؛ شَذَرَاتِ الذَّهَبِ 1/126 - 128.

(6) أ، ل: الْحَبَشِيَّةِ، وَهُوَ تَحْرِيفٌ. وَالْخَشَبِيَّةُ نِسْبَةٌ إِلَى الْخَشَبِ، وَذَلِكَ لِأَنَّهُمْ كَانُوا يَرْفُضُونَ الْقِتَالَ بِالسَّيْفِ وَيُقَاتِلُونَ بِالْخَشَبِ كَمَا سَيَرِدُ بَعْدَ قَلِيلٍ (ص 22) . وَذَكَرَ ابْنُ حَزْمٍ (الْفِصَلَ 5/45) أَنَّ بَعْضَ الشِّيعَةِ كَانُوا " لَا يَسْتَحِلُّونَ حَمْلَ السِّلَاحِ حَتَّى يَخْرُجَ الَّذِي يَنْتَظِرُونَهُ فَهُمْ يَقْتُلُونَ النَّاسَ بِالْخَنْقِ وَبِالْحِجَارَةِ، وَالْخَشَبِيَّةُ بِالْخَشَبِ فَقَطْ ".

(7) الرَّخَمُ نَوْعٌ مِنَ الطَّيْرِ، وَاحِدَتُهُ رَخْمَةٌ، يُوصَفُ بِالْغَدْرِ وَالْقَذَرِ وَهُوَ مِنْ لِئَامِ الطَّيْرِ. لِسَانَ الْعَرَبِ 12/235 (ط. بَيْرُوتَ) .
হৃদয়ের চরম কলুষতার একটি দিক হলো যে, কোনো বান্দার হৃদয়ে নবীগণের পর সর্বোত্তম মুমিন তথা আল্লাহর মনোনীত ওলীগণের প্রতি বিদ্বেষ থাকা। একারণেই মহান আল্লাহ 'ফাই' (যুদ্ধবিহীন লব্ধ সম্পদ)-এর মধ্যে পরবর্তী প্রজন্মের তাদের জন্যই কেবল অংশ রেখেছেন যারা বলে: "হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের এবং আমাদের সেই সকল ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছেন এবং যারা ঈমান এনেছেন তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি পরম দয়ালু ও অতি মেহেরবান।" [সূরা আল-হাশর: ১০]।

একারণেই তাদের এবং ইহুদিদের মধ্যে কলুষতা, প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং ইহুদিদের অন্যান্য চরিত্রের দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে। আবার তাদের এবং খ্রিষ্টানদের মধ্যে চরমপন্থা, মূর্খতা এবং খ্রিষ্টানদের অন্যান্য চরিত্রের দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে। ফলে তারা এক দিক থেকে এদের সাথে এবং অন্য দিক থেকে ওদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে; আর মানুষ সর্বদা তাদের এই গুণেই বিশেষিত করে আসছে।

তাদের সম্পর্কে সবচেয়ে অভিজ্ঞ মানুষদের মধ্যে রয়েছেন আশ-শা'বী এবং কুফার ওলামাদের মধ্যে তার মতো ব্যক্তিবর্গ। আশ-শা'বী থেকে এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "আমি 'খাশাবিয়্যাহ' অপেক্ষা অধিক নির্বোধ কাউকে দেখিনি। তারা যদি পাখি হতো তবে শকুন হতো, আর যদি চতুষ্পদ জন্তু হতো তবে গাধা হতো। আল্লাহর কসম, আমি যদি তাদের কাছে চাইতাম যে...

--------------------------------------------

(১) 'ম' পাণ্ডুলিপিতে: মুমিনদের শ্রেষ্ঠদের 'উপর' (বিদ্বেষ), যা একটি পাঠ্যবিকৃতি।

(২) 'তাআলা' শব্দটি (ন), (ম), (ল) পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৩) 'কলুষতার মধ্যে': এই অংশটি (ম) ও (ল) পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত হিসেবে রয়েছে এবং (ন) পাণ্ডুলিপিতে শব্দের অংশবিশেষ দৃশ্যমান।

(৪) 'আ', 'বা', 'লা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'মূর্খতা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ'।

(৫) তিনি হলেন আবু আমর আমির ইবনে শারাহিল ইবনে আবদ আশ-শা'বী। তিনি কুফার একজন মহান তাবেয়ি এবং অগাধ ইলমের অধিকারী ছিলেন। তিনি ১০৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান ২/২২৭-২২৯; শাজারাতুজ জাহাব ১/১২৬-১২৮।

(৬) 'আ' ও 'লা' পাণ্ডুলিপিতে: 'হাবাশিয়্যাহ' আছে, যা একটি পাঠ্যবিকৃতি। 'খাশাবিয়্যাহ' শব্দটি 'খাশাব' (কাঠ) থেকে এসেছে। কারণ তারা তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করত এবং কাঠ দিয়ে যুদ্ধ করত, যেমনটি সামনে (পৃষ্ঠা ২২) আসবে। ইবনে হাজম (আল-ফিসাল ৫/৪৫) উল্লেখ করেছেন যে, শিয়াদের একাংশ "ততক্ষণ পর্যন্ত অস্ত্র বহন করা বৈধ মনে করত না যতক্ষণ না তাদের প্রতীক্ষিত ইমামের আবির্ভাব ঘটে; ফলে তারা মানুষকে শ্বাসরোধ করে ও পাথর দিয়ে হত্যা করত, আর খাশাবিয়্যাহরা কেবল কাঠ দিয়ে হত্যা করত।"

(৭) 'রাখাম' এক প্রকার পাখি, একবচনে 'রাখামাহ'। একে বিশ্বাসঘাতকতা ও অপবিত্রতার গুণে বিশেষিত করা হয় এবং এটি নীচ প্রকৃতির পাখির অন্তর্ভুক্ত। লিসানুল আরব ১২/২৩৫ (বৈরুত সংস্করণ)।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
يَمْلَئُوا لِي (1) هَذَا الْبَيْتَ ذَهَبًا عَلَى أَنْ أَكْذِبَ عَلَى عَلِيٍّ [لَأَعْطَوْنِي، وَوَاللَّهِ مَا] أَكْذِبُ عَلَيْهِ أَبَدًا) ، وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْكَلَامُ مَبْسُوطًا عَنْهُ أَكْثَرَ مِنْ هَذَا، لَكِنَّ (2) الْأَظْهَرُ أَنَّ الْمَبْسُوطَ مِنْ كَلَامِ غَيْرِهِ.

كَمَا [رَوَى أَبُو حَفْصِ بْنُ] شَاهِينَ فِي كِتَابِ اللَّطِيفِ فِي السُّنَّةِ (3) : حَدَّثَنَا (4) مُحَمَّدُ بْنُ [أَبِي] الْقَاسِمِ (5) بْنِ هَارُونَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْوَلِيدِ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنِي جَعْفَرُ [بْنُ نُصَيْرٍ الطُّوسِيُّ الْوَاسِطِيُّ] ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ لِي (6) الشَّعْبِيُّ: (أُحَذِّرُكُمْ هَذِهِ الْأَهْوَاءَ (7) [الْمُضِلَّةَ، وَشَرُّهَا الرَّافِضَةُ] لَمْ يَدْخُلُوا فِي الْإِسْلَامِ رَغْبَةً، وَلَا رَهْبَةً، وَلَكِنْ مَقْتًا لِأَهْلِ الْإِسْلَامِ، وَبَغْيًا عَلَيْهِمْ قَدْ حَرَّقَهُمْ عَلِيٌّ رضي الله عنه بِالنَّارِ (8) ، وَنَفَاهُمْ إِلَى الْبُلْدَانِ، مِنْهُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَبَأٍ: يَهُودِيٌّ مِنْ يَهُودِ صَنْعَاءَ نَفَاهُ إِلَى سَابَاطَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَسَارٍ نَفَاهُ إِلَى خَازِرَ (9) .

--------------------------------------------

(1) لِي: سَاقِطَةٌ مِنْ (ب) فَقَطْ.

(2) أ، ل، ب: الْكَلَامُ عَنْهُ مَبْسُوطًا لَكِنَّ. وَالْمُثْبَتُ مِنْ (ن) ، (م) .

(3) أ، ل، ب: اللُّطْفِ فِي السُّنَّةِ؛ م: اللَّطِيفُ فِي السُّنِّيَّةِ. وَابْنُ شَاهِينَ هُوَ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ أَحْمَدَ الْبَغْدَادِيُّ الْمُتَوَفَّى سَنَةَ 385. تَرْجَمَتُهُ فِي: تَذْكِرَةِ الْحُفَّاظِ لِلذَّهَبِيِّ 3/183 - 184؛ سَزْكِينَ م [0 - 9] ، ج [0 - 9] ، ص 425 - 427.

(4) ن، م: وَقَدْ رَوَى.

(5) ن، م: مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ.

(6) لِي: زِيَادَةٌ فِي (ن) .

(7) ب (فَقَطْ) : أُحَذِّرُكُمْ أَهْلَ هَذِهِ الْأَهْوَاءِ.

(8) بِالنَّارِ: سَاقِطَةٌ مِنْ (أ) ، (ب) .

(9) أ، ل خَارِزَ، ن: حَادِرَ؛ م. . حَادِنَ. وَقَدْ ذَكَرَ الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى النُّوبَخْتِيُّ (وَهُوَ مِنْ كِبَارِ عُلَمَاءِ الشِّيعَةِ) فِي كِتَابِهِ " فِرَقِ الشِّيعَةِ " (ط. إِسْتَانْبُولَ 1931) ، ص 19 - 20 مَا يَلِي: فَلَمَّا قُتِلَ. عَلِيٌّ عليه السلام افْتَرَقَتِ الَّتِي ثَبَتَتْ عَلَى إِمَامَتِهِ وَأَنَّهَا فَرْضٌ مِنَ اللَّهِ عز وجل وَرَسُولِ اللَّهِ عليه السلام فَصَارُوا فِرَقًا ثَلَاثًا: فِرْقَةٌ مِنْهُمْ قَالَتْ: إِنَّ عَلِيًّا لَمْ يُقْتَلْ وَلَمْ يَمُتْ وَلَا يُقْتَلُ وَلَا يَمُوتُ حَتَّى يَسُوقَ الْعَرَبَ بِعَصَاهُ وَيَمْلَأَ الْأَرْضَ عَدْلًا كَمَا مُلِئَتْ ظُلْمًا وَجَوْرًا، وَهِيَ أَوَّلُ فِرْقَةٍ قَالَتْ فِي الْإِسْلَامِ بِالْوَقْفِ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَآلِهِ - مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ، وَأَوَّلُ مَنْ قَالَ مِنْهَا بِالْغُلُوِّ وَهَذِهِ الْفِرْقَةُ تُسَمَّى " السَّبَئِيَّةَ " أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَبَأٍ، وَكَانَ مِمَّنْ أَظْهَرَ الطَّعْنَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ وَالصَّحَابَةِ وَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ وَقَالَ إِنَّ عَلِيًّا عليه السلام أَمَرَهُ بِذَلِكَ، فَأَخَذَهُ عَلِيٌّ فَسَأَلَهُ عَنْ قَوْلِهِ هَذَا فَأَقَرَّ بِهِ فَأَمَرَ بِقَتْلِهِ. وَحَكَى جَمَاعَةٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ عَلِيٍّ عليه السلام أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَبَأٍ كَانَ يَهُودِيًّا فَأَسْلَمَ وَوَالَى عَلِيًّا عليه السلام، وَكَانَ يَقُولُ وَهُوَ عَلَى يَهُودِيَّتِهِ فِي يُوشَعِ بْنِ نُونٍ بَعْدَ مُوسَى عليه السلام بِهَذِهِ الْمَقَالَةِ فَقَالَ فِي إِسْلَامِهِ بَعْدَ وَفَاةِ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ - فِي عَلِيٍّ عليه السلام بِمِثْلِ ذَلِكَ، وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ شَهَرَ الْقَوْلَ بِفَرْضِ إِمَامَةِ عَلِيٍّ عليه السلام وَأَظْهَرَ الْبَرَاءَةَ مِنْ أَعْدَائِهِ وَكَاشَفَ مُخَالِفِيهِ فَمِنْ هُنَاكَ قَالَ مَنْ خَالَفَ الشِّيعَةَ: إِنَّ أَصْلَ الرَّفْضِ مَأْخُوذٌ مِنَ الْيَهُودِيَّةِ ".

وَانْظُرْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَبَأٍ وَالسَّبَئِيَّةِ مَا ذُكِرَ فِي مَقَالَاتِ الْأَشْعَرِيِّ 1/85 - 86؛ الْإِسْفَرَايِينِيَّ: التَّبْصِيرَ فِي الدِّينِ، ص 71 - 72؛ الْفَرْقَ بَيْنَ الْفِرَقِ، ص 143 - 145، الْمِلَلَ وَالنِّحَلَ 1/155 - 156؛ كِتَابَ " الشِّيعَةِ وَالتَّشَيُّعِ " لِلْأُسْتَاذِ إِحْسَان إِلَهِي ظَهِير، ص 67 - 77، ط. هُورَ، بَاكِسْتَانَ، 1404 1984.

وَيَذْكُرُ ابْنُ طَاهِرٍ الْبَغْدَادِيُّ (الْفَرْقَ بَيْنَ الْفِرَقِ ص 18) أَنَّ السَّبَئِيَّةَ أَظْهَرُوا بِدْعَتَهُمْ فِي زَمَانِ عَلِيٍّ رضي الله عنه فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِعَلِيٍّ: أَنْتَ الْإِلَهُ، فَأَحْرَقَ عَلِيٌّ قَوْمًا مِنْهُمْ وَنَفَى ابْنَ سَبَأٍ إِلَى سَابَاطِ الْمَدَائِنِ (وَيُسَمِّيهَا يَاقُوتُ فِي " مُعْجَمِ الْبُلْدَانِ " بِسَابَاطِ كِسْرَى بِالْمَدَائِنِ) . وَأَمَّا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَسَارٍ فَهُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي لَيْلَى. ذَكَرَهُ الذَّهَبِيُّ (مِيزَانَ الِاعْتِدَالِ 2/527) وَابْنُ حَجَرٍ (لِسَانَ الْمِيزَانِ 3/379) وَلَمْ يَذْكُرَا سَنَةَ وَفَاتِهِ وَقَالَا إِنَّ حَدِيثَهُ عَنْ عَلِيٍّ لَا يَصِحُّ. وَخَازِرُ (بِكَسْرِ الزَّايِ) نَهْرٌ بَيْنَ إِرْبِلَ وَالْمَوْصِلِ (يَاقُوتٌ) .
তারা যেন (১) আলী সম্পর্কে মিথ্যা বলার জন্য আমার এই ঘরটি স্বর্ণে পূর্ণ করে দেয়, [তবে তারা অবশ্যই আমাকে তা দিত, কিন্তু আল্লাহর শপথ,] আমি তাঁর সম্পর্কে কখনো মিথ্যা বলব না)। এই কথাটি তাঁর থেকে এর চেয়েও বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, তবে (২) অধিকতর স্পষ্ট বিষয় এই যে, বিস্তারিত অংশটুকু অন্যের কথা।

যেমন [আবু হাফস ইবনে] শাহীন তাঁর ‘আল-লাতিফ ফিস সুন্নাহ’ গ্রন্থে (৩) বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মাদ বিন [আবুল] কাসিম (৫) বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন ওয়ালিদ আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর [বিন নুসাইর আত-তুসি আল-ওয়াসিতি] আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: (৬) শা’বী আমাকে বলেছেন: (আমি তোমাদেরকে এই [পথভ্রষ্টকারী] প্রবৃত্তিগুলো (৭) সম্পর্কে সতর্ক করছি, [যার মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো রাফেজিরা;] তারা ইসলামে কোনো অনুরাগ বা ভীতির কারণে প্রবেশ করেনি, বরং মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেছে। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদের আগুন দিয়ে (৮) পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন দেশে নির্বাসিত করেছিলেন। তাদের মধ্যে একজন হলো আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা: সে সানআর ইহুদিদের মধ্যকার একজন ইহুদি ছিল, যাকে তিনি সাবাতে নির্বাসিত করেছিলেন; আর আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াসারকে তিনি খাযিরে (৯) নির্বাসিত করেছিলেন)।

--------------------------------------------

(১) আমার জন্য: শব্দটি কেবল (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(২) আলিফ, লাম, বা: তাঁর থেকে বিস্তারিত কথা কিন্তু...। আর যা পাঠে সাব্যস্ত করা হয়েছে তা (নুন) ও (মীম) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৩) আলিফ, লাম, বা: ‘আল-লুতফ ফিস সুন্নাহ’; মীম: ‘আল-লাতিফ ফিস সুন্নিয়্যাহ’। ইবনে শাহীন হলেন আবু হাফস উমর বিন আহমাদ বিন উসমান বিন আহমাদ আল-বাগদাদি, যিনি ৩৮৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী রয়েছে: আয-যাহাবির ‘তাযকিরাতুল হুফফায’ ৩/১৮৩-১৮৪; সেজকিন ম [০-৯], খ [০-৯], পৃষ্ঠা ৪২৫-৪২৭।

(৪) নুন, মীম: এবং তিনি বর্ণনা করেছেন।

(৫) নুন, মীম: মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম।

(৬) আমাকে: শব্দটি (নুন) পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত রয়েছে।

(৭) বা (কেবল): আমি তোমাদেরকে এই কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের সম্পর্কে সতর্ক করছি।

(৮) আগুন দিয়ে: এটি (আলিফ) ও (বা) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৯) আলিফ, লাম: খারিয; নুন: হাদির; মীম: হাদিন। হাসান বিন মুসা আন-নুবখতি (যিনি শিয়াদের বড় আলেমদের একজন) তাঁর ‘ফিরাকুশ শিয়া’ গ্রন্থে (ইস্তাম্বুল সংস্করণ ১৯৩১), পৃষ্ঠা ১৯-২০ এ নিম্নরূপ উল্লেখ করেছেন: “যখন আলী (আলাইহিস সালাম) শহীদ হলেন, তখন যারা তাঁর ইমামতের ওপর অবিচল ছিল এবং বিশ্বাস করত যে এটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং আল্লাহর রাসূল (আলাইহিস সালাম)-এর পক্ষ থেকে একটি ফরয দায়িত্ব, তারা তিন দলে বিভক্ত হয়ে গেল: তাদের মধ্যে একদল বলল: নিশ্চয়ই আলী নিহত হননি এবং মৃত্যুবরণ করেননি, আর তিনি কখনো নিহত হবেন না এবং মরবেনও না যতক্ষণ না তিনি তাঁর লাঠি দিয়ে আরবদের হাঁকিয়ে নিয়ে যাবেন এবং পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করবেন যেমন তা অন্যায় ও জুলুমে পূর্ণ হয়েছিল। এটিই প্রথম দল যারা ইসলামে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরে এই উম্মতের মধ্যে ‘ওয়াকফ’ (ইমামতের ধারা স্থগিত হওয়া) এর কথা বলেছিল এবং এটিই প্রথম দল যারা ‘গুলু’ বা অতিশয়োক্তি করেছিল। এই দলটিকে ‘সাবায়িয়্যাহ’ বলা হয়, যারা আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারী। সে আবু বকর, উমর, উসমান এবং সাহাবায়ে কেরামের নিন্দা প্রকাশ করত এবং তাঁদের থেকে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করত এবং বলত যে, আলী (আলাইহিস সালাম) তাকে এমনটি করার আদেশ দিয়েছেন। আলী তাকে পাকড়াও করে এই বক্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে তা স্বীকার করে, ফলে তিনি তাকে হত্যার আদেশ দেন। আলী (আলাইহিস সালাম)-এর অনুসারী একদল আলেম বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা ইহুদি ছিল, এরপর ইসলাম গ্রহণ করে আলীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। সে ইহুদি থাকাকালীন মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর পরে ইউশা বিন নুন সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করত, ইসলাম গ্রহণের পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর আলী (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কেও অনুরূপ ধারণা প্রকাশ করে। সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে আলীর ইমামত ফরয হওয়ার কথা প্রচার করে এবং তাঁর শত্রুদের থেকে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করে ও বিরোধীদের সাথে প্রকাশ্য শত্রুতা শুরু করে। সেখান থেকেই শিয়াদের বিরোধীরা বলে থাকে: রাফেজি মতবাদের মূল উৎস ইহুদি ধর্ম থেকে গৃহীত।”

আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা এবং সাবায়িয়্যাহ সম্পর্কে আরও দেখুন: আল-আশআরির ‘মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন’ ১/৮৫-৮৬; আল-ইসফারায়িনি: ‘আত-তাবসির ফিদ দ্বীন’, পৃষ্ঠা ৭১-৭২; ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’, পৃষ্ঠা ১৪৩-১৪৫; ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ ১/১৫৫-১৫৬; উস্তাদ ইহসান ইলাহি যহিরের ‘আশ-শিয়া ওয়াত তাশায়্যু’ কিতাব, পৃষ্ঠা ৬৭-৭৭, লাহোর সংস্করণ, পাকিস্তান, ১৪০৪ হি./১৯৮৪ খ্রি.।

ইবনে তাহির আল-বাগদাদি (‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’ পৃষ্ঠা ১৮) উল্লেখ করেছেন যে, সাবায়িয়্যাহরা আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যুগে তাদের বিদআত প্রকাশ করেছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আলীকে বলেছিল: ‘আপনিই ইলাহ’, ফলে আলী তাদের এক দলকে আগুনে পুড়িয়ে দেন এবং ইবনে সাবাকে মাদায়েনের সাবাতে (ইয়াকুত তাঁর ‘মুজামুল বুলদান’-এ একে মাদায়েনের ‘সাবাতে কিসরা’ বলেছেন) নির্বাসিত করেন। আর আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াসার হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি লাইলা। আয-যাহাবি (‘মিযানুল ইতিদাল’ ২/৫২৭) এবং ইবনে হাজার (‘লিসানুল মিযান’ ৩/৩৭৯) তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তাঁরা তাঁর মৃত্যুর বছর উল্লেখ করেননি এবং তাঁরা বলেছেন যে আলী থেকে বর্ণিত তাঁর হাদিস সহিহ নয়। আর খাযির (ঝাই বর্ণের নিচে কাসরা যোগে) হলো ইরবিল ও মউসুলের মধ্যবর্তী একটি নদী (ইয়াকুত)।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَآيَةُ (1) ذَلِكَ أَنَّ مِحْنَةَ الرَّافِضَةِ مِحْنَةُ الْيَهُودِ، قَالَتِ [الْيَهُودُ] (2) : لَا يَصْلُحُ الْمُلْكُ إِلَّا فِي آلِ دَاوُدَ، وَقَالَتِ الرَّافِضَةُ: لَا تَصْلُحُ الْإِمَامَةُ إِلَّا فِي

--------------------------------------------

(1) أ، ب: وَأَيَّدَ.

(2) أ، ل: قَالُوا الْيَهُودُ؛ ن، م: قَالُوا: (بِدُونِ كَلِمَةِ الْيَهُودِ) .
আর এর নিদর্শন (১) হলো এই যে, রাফেজিদের ফিতনা ইহুদিদের ফিতনারই অনুরূপ। [ইহুদিরা] (২) বলেছে: রাজত্ব কেবল দাউদ-পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা সমীচীন। আর রাফেজিরা বলেছে: ইমামত কেবল...-এর মধ্যেই সমীচীন হতে পারে।

--------------------------------------------

(১) আলিফ, বা: এবং তিনি শক্তিশালী করেছেন।

(২) আলিফ, লাম: ইহুদিরা বলেছে; নুন, মিম: তারা বলেছে (ইহুদি শব্দটি ব্যতীত)।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وَلَدِ (1) عَلِيٍّ، وَقَالَتِ الْيَهُودُ (2) : لَا جِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَخْرُجَ الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ، وَيَنْزِلَ سَيْفٌ (3) مِنَ السَّمَاءِ، وَقَالَتِ الرَّافِضَةُ: لَا جِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَخْرُجَ الْمَهْدِيُّ، وَيُنَادِيَ مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ، وَالْيَهُودُ يُؤَخِّرُونَ [الصَّلَاةَ إِلَى اشْتِبَاكِ النُّجُومِ] ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ يُؤَخِّرُونَ الْمَغْرِبَ إِلَى اشْتِبَاكِ النُّجُومِ، وَالْحَدِيثُ عَنِ النَّبِيِّ - صَلَّى [اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَنَّهُ قَالَ (4) : ( «لَا تَزَالُ] أُمَّتِي عَلَى الْفِطْرَةِ مَا لَمْ يُؤَخِّرُوا الْمَغْرِبَ إِلَى اشْتِبَاكِ النُّجُومِ.» ) (5) ، وَالْيَهُودُ تَزُولُ عَنِ الْقِبْلَةِ شَيْئًا، وَكَذَلِكَ [الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ] تَنُودُ (6) فِي الصَّلَاةِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ تُسْدِلُ أَثْوَابَهَا فِي الصَّلَاةِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، [وَالْيَهُودُ لَا يَرَوْنَ عَلَى النِّسَاءِ] عِدَّةً، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ حَرَّفُوا التَّوْرَاةَ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ حَرَّفُوا الْقُرْآنَ، وَالْيَهُودُ قَالُوا: [افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْنَا خَمْسِينَ] صَلَاةً، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ (* وَالْيَهُودُ لَا يُخْلِصُونَ السَّلَامَ عَلَى

--------------------------------------------

(1) م: أَوْلَادِ.

(2) وَقَالَتِ الْيَهُودُ: كَذَا فِي (ن) . وَفِي (أ) ، (ل) ، (ب) : النَّصَارَى، وَهُوَ خَطَأٌ.

(3) أ، ب: سَيِّدٌ.

(4) أَنَّهُ قَالَ: سَاقِطَةٌ مِنْ (ن) ، (م) .

(5) الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ وَعُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رضي الله عنهما فِي: سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ 1/169 (كِتَابُ الصَّلَاةِ، بَابٌ فِي وَقْتِ الْمَغْرِبِ. وَنَصُّهُ: " لَا تَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ، أَوْ قَالَ: عَلَى الْفِطْرَةِ، مَا لَمْ يُؤَخِّرُوا الْمَغْرِبَ إِلَى أَنْ تَشْتَبِكَ النُّجُومُ. وَالْحَدِيثُ عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رضي الله عنه فِي سُنَنِ ابْنِ مَاجَهْ 1/225 (كِتَابُ الصَّلَاةِ، بَابُ وَقْتِ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ) وَعَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ فِي الْمُسْنَدِ (ط. الْحَلَبِيِّ) 4/147، 5/417، 422. وَصَحَّحَ الْأَلْبَانِيُّ الْحَدِيثَ فِي صَحِيحِ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ 6/145.

(6) نَادَ الرَّجُلُ يَنُودُ إِذَا حَرَّكَ رَأْسَهُ وَأَكْتَافَهُ.
আলীর সন্তান (১), এবং ইহুদিরা বলেছে (২): আল্লাহর পথে কোনো জিহাদ নেই যতক্ষণ না মসীহ দাজ্জাল বের হয় এবং আকাশ থেকে একটি তলোয়ার (৩) অবতীর্ণ হয়। রাফেযিরা বলেছে: আল্লাহর পথে কোনো জিহাদ নেই যতক্ষণ না মাহদী বের হন এবং আকাশ থেকে এক আহ্বানকারী আহ্বান করেন। ইহুদিরা [সালাতকে নক্ষত্রপুঞ্জ ঘন হওয়া পর্যন্ত] বিলম্বিত করে, একইভাবে রাফেযিরা মাগরিবকে নক্ষত্রপুঞ্জ ঘন হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করে। নবী -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- থেকে বর্ণিত হাদীস যে তিনি বলেছেন (৪): ( [“ততক্ষণ পর্যন্ত] আমার উম্মত ফিতরাতের ওপর থাকবে যতক্ষণ তারা মাগরিবকে নক্ষত্রপুঞ্জ ঘন হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করবে না।” ) (৫)। ইহুদিরা কিবলা থেকে কিছুটা বিচ্যুত হয়, একইভাবে [রাফেযিরা; ইহুদিরা] সালাতে মাথা ও কাঁধ দোলায় (৬), একইভাবে রাফেযিরাও। ইহুদিরা সালাতে তাদের কাপড় ঝুলিয়ে দেয়, একইভাবে রাফেযিরাও। [ইহুদিরা নারীদের ওপর] ইদ্দত পালন আবশ্যক মনে করে না, একইভাবে রাফেযিরাও। ইহুদিরা তাওরাত বিকৃত করেছে, একইভাবে রাফেযিরা কুরআন বিকৃত করেছে। ইহুদিরা বলেছে: [আল্লাহ আমাদের ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত] সালাত ফরজ করেছেন, একইভাবে রাফেযিরাও। (* এবং ইহুদিরা কারো প্রতি একনিষ্ঠভাবে সালাম প্রদান করে না...

--------------------------------------------

(১) ম: সন্তানগণ।

(২) ইহুদিরা বলেছে: ‘ন’ পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে। ‘আ’, ‘ল’, ‘ব’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: নাসারা (খ্রিস্টান), যা ভুল।

(৩) আ, ব: নেতা।

(৪) ‘তিনি বলেছেন’ বাক্যটি ‘ন’ ও ‘ম’ পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৫) হাদীসটি আবু আইয়ুব আল-আনসারী ও উকবা ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে: সুনানে আবু দাউদ ১/১৬৯ (সালাত অধ্যায়, মাগরিবের ওয়াক্ত পরিচ্ছেদ)। এর পাঠ হলো: “ততক্ষণ আমার উম্মত কল্যাণের ওপর থাকবে, অথবা বলেছেন: ফিতরাতের ওপর থাকবে, যতক্ষণ তারা মাগরিবকে নক্ষত্রপুঞ্জ ঘন হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করবে না।” হাদীসটি আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত সুনানে ইবনে মাজাহ ১/২২৫ (সালাত অধ্যায়, মাগরিবের সালাতের ওয়াক্ত পরিচ্ছেদ) এবং আবু আইয়ুব আল-আনসারী থেকে বর্ণিত মুসনাদে আহমাদ (হালাবী সংস্করণ) ৪/১৪৭, ৫/৪১৭, ৪২২। আলবানী হাদীসটিকে সহীহুল জামি আস-সাগীর ৬/১৪৫-এ সহীহ বলেছেন।

(৬) ব্যক্তি ‘নাদ’ করেছে বা ‘ইয়ানুদু’ বলা হয় যখন সে তার মাথা ও কাঁধ নাড়ায়।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
الْمُؤْمِنِينَ (1) إِنَّمَا يَقُولُونَ: السَّامُ عَلَيْكُمْ، وَالسَّامُ الْمَوْتُ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ *) (2) وَالْيَهُودُ لَا يَأْكُلُونَ الْجِرِّيَّ، وَالْمَرْمَاهَى، [وَالذِّنَابَ] (3) ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ لَا يَرَوْنَ (4) الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ.

وَالْيَهُودُ يَسْتَحِلُّونَ أَمْوَالَ النَّاسِ كُلِّهِمْ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَقَدْ أَخْبَرَنَا (5) اللَّهُ عَنْهُمْ بِذَلِكَ (6) فِي الْقُرْآنِ [أَنَّهُمْ] (7) : {قَالُوا لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِيلٌ} [سُورَةُ آلِ عِمْرَانَ: 75] ، [وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ] (8) ، وَالْيَهُودُ تَسْجُدُ عَلَى

--------------------------------------------

(1) ن، م: الْمُسْلِمِينَ.

(2) مَا بَيْنَ النَّجْمَتَيْنِ تَرْتِيبُهُ فِي (ن) ، (م) بَعْدَ الْعِبَارَاتِ التَّالِيَةِ.

(3) الْجِرِّيُّ ضَرْبٌ مِنَ السَّمَكِ زَعَمُوا أَنَّهُ كَانَ أُمَّةً ثُمَّ مُسِخَ (الْحَيَوَانَ 1/397) ، وَذَكَرَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي " تَلْبِيسِ إِبْلِيسَ "، ص 100، نَقْلًا عَنْ كِتَابِ الْمُرْتَضَى فِيمَا انْفَرَدَتْ بِهِ الْإِمَامِيَّةُ أَنَّهُمْ يُحَرِّمُونَ السَّمَكَ الْجِرِّيَّ، وَالْمَرْمَاهَى هُوَ سَمَكٌ شَبِيهٌ بِالْحَيَّاتِ وَلَيْسَ مِنَ الْحَيَّاتِ (الْحَيَوَانَ 4/129) .

وَالذِّنَابُ. كَذَا فِي (ب) فَقَطْ. وَفِي (أ) ، (ل) : الزِّنَابُ. وَسَقَطَتِ الْكَلِمَةُ مِنْ (ن) ، (م) . وَلَعَلَّ صَوَابَهُ " الْأَرْنَبُ " وَسَيَرِدُ بَعْدَ قَلِيلٍ (ص 20) قَوْلُ الشَّعْبِيِّ: وَالْيَهُودُ حَرَّمُوا الْأَرْنَبَ وَالطِّحَالَ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ. وَقَدْ ذَكَرَ الْعَامِلِيُّ فِي " أَعْيَانِ الشِّيعَةِ " (1/502) ، أَنَّ الشِّيعَةَ يُحَرِّمُونَ أَكْلَ الثَّعْلَبِ وَالْأَرْنَبِ وَالضَّبِّ وَالْجِرِّيِّ وَكُلَّ مَا لَا فَلْسَ لَهُ مِنَ السَّمَكِ، كَمَا ذَكَرَ ذَلِكَ أَيْضًا زَيْنُ الدِّينِ الْجَبَعِيُّ الْعَامِلِيُّ فِي " الرَّوْضَةِ الْبَهِيَّةِ شَرْحِ اللَّمْعَةِ الدِّمَشْقِيَّةِ " 2/277، 278، بَيْرُوتَ، 1379 1960 وَقَرَأَ مُحَمَّدٌ الْمَهْدِيُّ الْكَاظِمِيُّ الْقَزْوِينِيُّ فِي كِتَابِهِ " مِنْهَاجِ الشَّرِيعَةِ فِي الرَّدِّ عَلَى ابْنِ تَيْمِيَّةَ " 1/35، 37، كَلِمَةَ " الذِّنَابِ " عَلَى أَنَّهَا " الذِّئَابُ " وَهِيَ قِرَاءَةٌ غَيْرُ صَحِيحَةٍ؛ لِأَنَّ أَهْلَ السُّنَّةِ يُحَرِّمُونَ الذِّئَابَ أَيْضًا كَمَا هُوَ مَعْلُومٌ. وَيَقُولُ الشِّيعَةُ بِتَحْرِيمِ الذُّبَابِ (الرَّوْضَةَ الْبَهِيَّةَ 2/281) ، وَعَلَى ذَلِكَ فَقَدْ تَكُونُ الْكَلِمَةُ هِيَ " الذُّبَابُ " وَقَدْ تَكُونُ " الضِّبَابَ " جَمْعُ " ضَبٍّ " أَوْ تَكُونُ " الزِّمَارُ ".

(4) ن، م: لَا تَرَى.

(5) م: أَخْبَرَ.

(6) ن، م: بِهَذَا.

(7) أَنَّهُمْ: زِيَادَةٌ فِي (ل) .

(8) وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ: سَاقِطَةٌ مِنْ (أ) ، (ل) ، (ب) .
মুমিনদের (১) তারা কেবল বলে: ‘আস-সামু আলাইকুম’ (তোমাদের ওপর মৃত্যু বর্ষিত হোক), আর ‘সাম’ অর্থ হলো মৃত্যু; রাফেযীগণও তদ্রূপ। (২) ইহুদিরা জিররি (আঁশহীন মাছ বিশেষ), মারমাহা (সর্পিল মাছ) এবং [যিনাব] (৩) ভক্ষণ করে না; রাফেযীগণও তদ্রূপ। ইহুদিরা মোজার ওপর মাসেহ করা বৈধ মনে করে না (৪); রাফেযীগণও তদ্রূপ।

ইহুদিরা সকল মানুষের সম্পদ (লুণ্ঠন) বৈধ মনে করে; রাফেযীগণও তদ্রূপ। আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে কুরআনে এই সংবাদ দিয়েছেন (৫) (৬) [যে তারা] (৭): {তারা বলে: ‘উম্মীদের (অনারব বা নিরক্ষরদের) ব্যাপারে আমাদের ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই’} [সূরা আল-ইমরান: ৭৫], [রাফেযীগণও তদ্রূপ] (৮)। আর ইহুদিরা সেজদা করে...

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি ‘নুন’ ও ‘মীম’-এ রয়েছে: মুসলিমদের।

(২) তারকা চিহ্নিত অংশটুকুর বিন্যাস পাণ্ডুলিপি ‘নুন’ ও ‘মীম’-এ পরবর্তী বাক্যগুলোর পরে রয়েছে।

(৩) ‘জিররি’ হলো এক প্রকার মাছ, তারা দাবি করে যে এটি একটি জাতি ছিল যাদের পরে বিকৃত করা হয়েছে (আল-হায়াওয়ান ১/৩৯৭)। ইবনুল জাওযী ‘তালবিসু ইবলিস’ (পৃ. ১০০)-এ আল-মুরতাদার কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছেন—যাতে ইমামিয়াদের একক বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণিত হয়েছে—যে তারা ‘জিররি’ মাছ হারাম মনে করে। আর ‘মারমাহা’ হলো সাপের মতো দেখতে এক প্রকার মাছ, তবে তা সাপ নয় (আল-হায়াওয়ান ৪/১২৯)।

‘যিনাব’ (الذناب): এটি কেবল ‘বা’ পাণ্ডুলিপিতে এভাবে আছে। আর ‘আলিফ’ ও ‘লাম’ পাণ্ডুলিপিতে আছে ‘যিনাব’ (الزناب)। শব্দটি ‘নুন’ ও ‘মীম’ পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে। সম্ভবত সঠিক শব্দটি হবে ‘আরনাব’ (খরগোশ), যা একটু পরেই (পৃ. ২০) আশ-শাবি’র উক্তি হিসেবে আসবে: ‘ইহুদিরা খরগোশ ও প্লীহা হারাম করেছিল, রাফেযীগণও তদ্রূপ।’ আল-আমিলি ‘আ’য়ানুশ শিয়া’ (১/৫০২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, শিয়ারা শেয়াল, খরগোশ, গুঁইসাপ, জিররি মাছ এবং আঁশহীন সকল মাছ খাওয়া হারাম মনে করে। যেমনটি জয়নুদ্দীন আল-জাবায়ি আল-আমিলি ‘আর-রাওদাতুল বাহিয়্যাহ শারহুল লুমআতিল দিমাস্কিয়্যাহ’ (২/২৭৭, ২৭৮, বৈরুত, ১৩৭৯ হি./১৯৬০ খ্রি.) গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মদ মাহদি আল-কাযীমি আল-কাযভীনি তার ‘মিনহাজুশ শারিয়াহ ফী আর-রাদ্দি আলা ইবনে তাইমিয়্যাহ’ (১/৩৫, ৩৭) গ্রন্থে ‘যিনাব’ (الذناب) শব্দটিকে ‘যিআব’ (নেকড়ে) হিসেবে পড়েছেন, যা সঠিক পাঠ নয়; কারণ আহলে সুন্নাহর নিকটও নেকড়ে খাওয়া হারাম, যা সর্বজনবিদিত। শিয়ারা মাছি হারাম হওয়ার কথা বলে (আর-রাওদাতুল বাহিয়্যাহ ২/২৮১), সেই অনুযায়ী শব্দটি ‘যুবাব’ (মাছি) হতে পারে, অথবা ‘যিবাব’ (গুঁইসাপের বহুবচন), অথবা ‘যিমার’ হতে পারে।

(৪) নুন, মীম: তারা দেখে না (বৈধ মনে করে না)।

(五) মীম: সংবাদ দিয়েছে।

(৬) নুন, মীম: এর দ্বারা।

(৭) ‘যে তারা’: এটি পাণ্ডুলিপি ‘লাম’-এ অতিরিক্ত আছে।

(৮) ‘রাফেযীগণও তদ্রূপ’: এটি পাণ্ডুলিপি ‘আলিফ’, ‘লাম’ ও ‘বা’ থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
قُرُونِهَا فِي الصَّلَاةِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، [وَالْيَهُودُ لَا تَسْجُدُ حَتَّى] تَخْفُقُ بِرُءُوسِهَا مِرَارًا شِبْهَ (1) الرُّكُوعِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ تُبْغِضُ (2) جِبْرِيلَ، وَيَقُولُونَ هُوَ عَدُوُّنَا مِنَ الْمَلَائِكَةِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ يَقُولُونَ: غَلِطَ [جِبْرِيلُ] (3) بِالْوَحْيِ عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم (4) ، [وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ] (5) وَافَقُوا النَّصَارَى فِي خَصْلَةِ النَّصَارَى: لَيْسَ لِنِسَائِهِمْ صَدَاقٌ إِنَّمَا يَتَمَتَّعُونَ بِهِنَّ تَمَتُّعًا (6) ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ يَتَزَوَّجُونَ بِالْمُتْعَةِ (7) ، وَيَسْتَحِلُّونَ الْمُتْعَةَ.

وَفُضِّلَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى عَلَى الرَّافِضَةِ بِخَصْلَتَيْنِ: سُئِلَتِ الْيَهُودُ مَنْ خَيْرُ أَهْلِ مِلَّتِكُمْ.؟ قَالُوا: أَصْحَابُ مُوسَى، وَسُئِلَتِ النَّصَارَى مَنْ خَيْرُ أَهْلِ مِلَّتِكُمْ؟ قَالُوا: حَوَارِيُّ عِيسَى (8) ، وَسُئِلَتِ الرَّافِضَةُ: مَنْ شَرُّ أَهْلِ مِلَّتِكُمْ؟ قَالُوا: أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم (9) أُمِرُوا بِالِاسْتِغْفَارِ لَهُمْ فَسَبَوْهُمْ، فَالسَّيْفُ (10) عَلَيْهِمْ مَسْلُولٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، لَا تَقُومُ لَهُمْ رَايَةٌ، وَلَا يَثْبُتُ لَهُمْ قَدَمٌ، وَلَا تَجْتَمِعُ لَهُمْ كَلِمَةٌ (11) ، وَلَا تُجَابُ لَهُمْ دَعْوَةٌ،

--------------------------------------------

(1) م: تُشْبِهُ؛ أ، ل: تَشْبِيهٌ؛ ب: تَشْبِيهًا.

(2) أ، ب: يَنْقُصُونَ؛ ل: يُبْغِضُونَ.

(3) جِبْرِيلُ: زِيَادَةٌ فِي (أ) ، (ل) ، (ب) .

(4) صلى الله عليه وسلم: سَاقِطَةٌ مِنْ (أ) ، (ل) ، (ب) .

(5) وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ: سَاقِطَةٌ مِنْ (ن) ، (م) .

(6) تَمَتُّعًا: سَاقِطَةٌ مِنْ (ل) فَقَطْ.

(7) ن، م: الْمُتْعَةُ، وَهُوَ تَحْرِيفٌ.

(8) م: عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ.

(9) صلى الله عليه وسلم: سَاقِطَةٌ مِنْ (أ) ، (ل) ، (ب) .

(10) أ، ب: وَالسَّيْفُ.

(11) أ، ل، ب: وَلَا مُجْتَمَعَ لَهُمْ.
সালাতের মধ্যে তাদের শিংসমূহ, তেমনি রাফেজীরাও। [আর ইহুদিরা সিজদা করে না যতক্ষণ না] রুকুর মতো করে (১) তাদের মাথা বারবার ঝোঁকায়, রাফেজীরাও তাই। ইহুদিরা জিবরাঈলকে ঘৃণা করে (২) এবং তারা বলে যে তিনি ফেরেশতাদের মধ্যে আমাদের শত্রু। তেমনিভাবে রাফেজীরাও বলে: জিবরাঈল (৩) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (৪) ওপর ওহি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। [আর একইভাবে রাফেজীরাও] (৫) একটি বিষয়ে খ্রিস্টানদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে: তাদের নারীদের কোনো মোহরানা নেই, বরং তারা তাদের সাথে কেবল ভোগ-উপভোগ করে (৬), তেমনি রাফেজীরাও মুতা বিবাহ করে (৭) এবং মুতাকে বৈধ মনে করে।

ইহুদি ও খ্রিস্টানরা রাফেজীদের ওপর দুটি বৈশিষ্ট্যে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে: ইহুদিদের যখন জিজ্ঞেস করা হলো, তোমাদের মিল্লাতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক কারা? তারা উত্তর দিল: মূসার সাথীবৃন্দ। খ্রিস্টানদের যখন জিজ্ঞেস করা হলো, তোমাদের মিল্লাতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক কারা? তারা বলল: ঈসার হাওয়ারীগণ (সহচরবৃন্দ) (৮)। আর যখন রাফেজীদের জিজ্ঞেস করা হলো, তোমাদের মিল্লাতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক কারা? তারা বলল: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীবৃন্দ (সাহাবীগণ) (৯)। অথচ তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সাহাবীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে, কিন্তু তারা তাদের গালিগালাজ করে। ফলে কিয়ামত পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার (১০) কোষমুক্ত থাকবে, তাদের কোনো ঝাণ্ডা উড্ডীন হবে না, তাদের কোনো পা স্থির হবে না, তাদের কোনো কথা বা সিদ্ধান্ত ঐক্যবদ্ধ হবে না (১১), এবং তাদের কোনো প্রার্থনা কবুল করা হবে না।

--------------------------------------------

(১) মিম: এটি সদৃশ; আলিফ, লাম: সাদৃশ্য করা; বা: সাদৃশ্য হিসেবে।

(২) আলিফ, বা: তারা হ্রাস করে; লাম: তারা ঘৃণা করে।

(৩) জিবরাঈল: (আলিফ), (লাম), (বা) পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত।

(৪) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: (আলিফ), (লাম), (বা) থেকে বাদ পড়েছে।

(৫) আর একইভাবে রাফেজীরাও: (নুন), (মিম) থেকে বাদ পড়েছে।

(৬) ভোগ-উপভোগ: শুধুমাত্র (লাম) থেকে বাদ পড়েছে।

(৭) নুন, মিম: আল-মুতআতু, এটি একটি বিকৃতি।

(৮) মিম: ঈসা ইবনে মারইয়াম।

(৯) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: (আলিফ), (লাম), (বা) থেকে বাদ পড়েছে।

(১০) আলিফ, বা: এবং তলোয়ার।

(১১) আলিফ, লাম, বা: এবং তাদের কোনো সমাবেশের জায়গা থাকবে না।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
دَعْوَتُهُمْ مَدْحُوضَةٌ، وَكَلِمَتُهُمْ مُخْتَلِفَةٌ، وَجَمْعُهُمْ مُتَفَرِّقٌ (1) كُلَّمَا أَوْقَدُوا نَارًا لِلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ.

قُلْتُ: هَذَا الْكَلَامُ بَعْضُهُ [ثَابِتٌ عَنِ الشَّعْبِيِّ كَقَوْلِهِ] : لَوْ كَانَتِ الشِّيعَةُ مِنَ الْبَهَائِمِ لَكَانُوا (2) حُمُرًا، وَلَوْ كَانَتْ مِنَ الطَّيْرِ لَكَانُوا (3) رَخَمًا، فَإِنَّ هَذَا ثَابِتٌ عَنْهُ.

قَالَ ابْنُ شَاهِينَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ (4) النَّحْوِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ الْحَرْبِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ (5) ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، فَذَكَرَهُ، وَأَمَّا السِّيَاقُ الْمَذْكُورُ، فَهُوَ مَعْرُوفٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ الشَّعْبِيِّ.

وَرَوَى أَبُو عَاصِمٍ خُشَيْشُ بْنُ أَصْرَمَ. (6) فِي كِتَابِهِ، وَرَوَاهُ مِنْ طَرِيقِهِ أَبُو عَمْرٍو الطَّلَمَنْكِيُّ فِي كِتَابِهِ فِي الْأُصُولِ قَالَ (* أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا السَّنَدِيُّ بْنُ سُلَيْمَانَ

--------------------------------------------

(1) ن، م: مُفْتَرِقٌ.

(2) ن، م، ل: لَكَانَتْ.

(3) ن، م، ل: لَكَانَتْ.

(4) ن، م: مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ، وَهُوَ خَطَأٌ. وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْيَزِيدِيُّ النَّحْوِيُّ. قَالَ عَنْهُ ابْنُ خَلِّكَانَ (3/461) إِنَّهُ كَانَ إِمَامًا فِي النَّحْوِ وَالْأَدَبِ وَنَقْلِ النَّوَادِرِ وَكَلَامِ الْعَرَبِ، وَذَكَرَ أَنَّهُ تُوُفِّيَ سَنَةَ 310.

(5) ن، م: الزُّهْرِيُّ، وَالصَّوَابُ مَا فِي (أ) ، (ل) ، (ب) . وَهُوَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ الْبَصْرِيُّ، تُوُفِّيَ سَنَةَ 234. انْظُرْ تَهْذِيبَ التَّهْذِيبِ 4/191.

(6) ن: خُشَيْشُ بْنُ أَضْرَمَ؛ أ: حُسَيْسُ بْنُ صَرْمٍ؛ ل: حُسَيْسُ بْنُ صِرَامٍ وَالصَّوَابُ مَا فِي (م) ، (ب) . وَهُوَ خُشَيْشُ بْنُ أَصْرَمَ بْنِ الْأَسْوَدِ أَبُو عَاصِمٍ النَّسَائِيُّ الْمُتَوَفَّى سَنَةَ 253. انْظُرْ تَهْذِيبَ التَّهْذِيبِ 3/142.
তাদের দাবি বাতিলযোগ্য, তাদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী এবং তাদের দল ছিন্নভিন্ন (১); যখনই তারা যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করে, আল্লাহ তা নির্বাপিত করে দেন।

আমি বলি: এই বক্তব্যের কিছু অংশ [শাবি থেকে প্রমাণিত, যেমন তাঁর উক্তি]: যদি শিয়ারা চতুষ্পদ জন্তু হতো, তবে তারা (২) গাধা হতো; আর যদি তারা পাখি হতো, তবে তারা (৩) শকুন হতো; নিশ্চয়ই এটি তাঁর থেকে প্রমাণিত।

ইবনে শাহীন বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস (৪) আন-নাহবী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম আল-হারবি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু রাবি আল-জাহরানি (৫), আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে মিগওয়াল, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। আর উল্লিখিত প্রেক্ষাপটটি আবদুর রহমান ইবনে মালিক ইবনে মিগওয়াল কর্তৃক তাঁর পিতার সূত্রে শাবি থেকে সুপরিচিত।

আবু আসিম খুশাইশ ইবনে আসরাম (৬) তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন, এবং আবু আমর আত-তালামনকি তাঁর 'আল-উসুল' কিতাবে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি (আবু আসিম) বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ এবং আবদুল ওয়ারিস ইবনে ইব্রাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আস-সানাদি ইবনে সুলাইমান...

--------------------------------------------

(১) নুন, মিম পাণ্ডুলিপিতে: বিচ্ছিন্ন।

(২) নুন, মিম ও লাম পাণ্ডুলিপিতে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।

(৩) নুন, মিম ও লাম পাণ্ডুলিপিতে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।

(৪) নুন ও মিম পাণ্ডুলিপিতে: মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস, এবং এটি ভুল। তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আল-ইয়াজিদি আন-নাহবী। ইবনে খাল্লিকান (৩/৪৬১) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি ব্যাকরণ, সাহিত্য, বিরল বর্ণনা এবং আরবদের বক্তব্যের ইমাম ছিলেন; তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ৩১০ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু হয়।

(৫) নুন ও মিম পাণ্ডুলিপিতে: আজ-জুহরি, কিন্তু সঠিক হলো যা (আলিফ), (লাম) ও (বা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে। তিনি হলেন সুলাইমান ইবনে দাউদ আল-আতাকি আবু রাবি আল-জাহরানি আল-বাসরি, ২৩৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: তাহজিবুত তাহজিব ৪/১৯১।

(৬) নুন পাণ্ডুলিপিতে: খুশাইশ ইবনে আদররাম; আলিফ-এ: হুসাইস ইবনে সারম; লাম-এ: হুসাইস ইবনে সিরাম; এবং সঠিক হলো যা (মিম) ও (বা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে। তিনি হলেন খুশাইশ ইবনে আসরাম ইবনুল আসওয়াদ আবু আসিম আন-নাসায়ী, মৃত্যু ২৫৩ হিজরি। দেখুন: তাহজিবুত তাহজিব ৩/১৪২।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
الْفَارِسِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ *) (1) بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ (2) ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ (3) : (قُلْتُ لِعَامِرٍ الشَّعْبِيِّ: مَا رَدُّكَ عَنْ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ، [وَقَدْ كُنْتَ] فِيهِمْ رَأْسًا؟ قَالَ: رَأَيْتُهُمْ يَأْخُذُونَ بِأَعْجَازٍ لَا صُدُورَ لَهَا، ثُمَّ قَالَ لِي: يَا مَالِكُ لَوْ أَرَدْتُ أَنْ يُعْطُونِي رِقَابَهُمْ عَبِيدًا، أَوْ يَمْلَئُوا لِي بَيْتِي ذَهَبًا، أَوْ يَحُجُّوا إِلَى بَيْتِي هَذَا عَلَى أَنْ أَكْذِبَ عَلَى عَلِيٍّ رضي الله عنه لَفَعَلُوا، وَلَا وَاللَّهِ لَا أَكْذِبُ عَلَيْهِ أَبَدًا. يَا مَالِكُ إِنِّي قَدْ دَرَسْتُ الْأَهْوَاءَ (4) ، فَلَمْ أَرَ فِيهَا (5) أَحْمَقَ مِنَ الْخَشَبِيَّةِ (6) ، فَلَوْ كَانُوا مِنَ الطَّيْرِ لَكَانُوا رَخَمًا، وَلَوْ كَانُوا مِنَ الدَّوَابِّ لَكَانُوا حُمُرًا. يَا مَالِكُ لَمْ يَدْخُلُوا فِي الْإِسْلَامِ رَغْبَةً فِيهِ [لِلَّهِ] (7) ، وَلَا رَهْبَةً مِنَ اللَّهِ، وَلَكِنْ مَقْتًا مِنَ اللَّهِ عَلَيْهِمْ (8) ، وَبَغْيًا (9) مِنْهُمْ عَلَى أَهْلِ الْإِسْلَامِ يُرِيدُونَ أَنْ يَغْمِصُوا (10) دِينَ الْإِسْلَامِ، كَمَا غَمِصَ (11) بُولِصُ بْنُ يُوشَعَ مَلِكُ الْيَهُودِ دِينَ النَّصْرَانِيَّةِ، وَلَا تُجَاوِزُ (12)

--------------------------------------------

(1) مَا بَيْنَ النَّجْمَتَيْنِ سَاقِطٌ مِنْ (ب) فَقَطْ.

(2) ب: حَدَّثَنَا ابْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ.

(3) الرِّوَايَةُ التَّالِيَةُ مَذْكُورَةٌ مَعَ بَعْضِ الِاخْتِلَافِ فِي " الْعِقْدِ الْفَرِيدِ " 2/409 - 411 (ط. لَجْنَةُ التَّأْلِيفِ، الْقَاهِرَةَ، 1940) ، وَهِيَ مَرْوِيَّةٌ عَنْ مَالِكِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، وَسَأَذْكُرُ فِيمَا يَلِي الِاخْتِلَافَاتِ الْهَامَّةَ فَقَطْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ.

(4) ب: أَهْلَ الْأَهْوَاءِ.

(5) أ، ل، ب: فِيهِمْ.

(6) الْعِقْدَ الْفَرِيدَ (2/409) : الرَّافِضَةِ.

(7) لِلَّهِ: لَيْسَتْ فِي (ن) ، (م) .

(8) عَلَيْهِمْ: سَاقِطَةٌ مِنْ (م) . وَفِي " الْعِقْدِ الْفَرِيدِ ": وَلَكِنْ مَقْتًا لِأَهْلِ الْإِسْلَامِ وَبَغْيًا عَلَيْهِمْ.

(9) ن، م، ل: وَمَقْتًا.

(10) ن: يُغْمِضُوا.

(11) ن: غَمِضَ، وَهُوَ تَحْرِيفٌ وَفِي " اللِّسَانِ ": غَمَصَهُ وَغَمِصَهُ (بِفَتْحِ الْمِيمِ وَكَسْرِهَا) : حَقَّرَهُ وَعَابَهُ وَطَعَنَ عَلَيْهِ.

(12) ب: تَتَجَاوَزُ؛ أ، ل: يَتَجَاوَزُ؛ م: يُجَاوِزُ.
আল-ফারিসি, আমার নিকট আব্দুল্লাহ (১) ইবনে জাফর আর-রাক্কি (২) বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন (৩): (আমি আমির আশ-শা'বিকে বললাম: "এই কওম থেকে আপনাকে কিসে ফিরিয়ে দিল, অথচ আপনি তাদের মধ্যে একজন প্রধান ব্যক্তি ছিলেন?" তিনি বললেন: "আমি তাদের এমন লেজ ধরতে দেখেছি যার কোনো মাথা (ভিত্তি) নেই।" অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: "হে মালিক, আমি যদি চাইতাম যে তারা তাদের ঘাড়গুলো আমাকে দাসের ন্যায় দিয়ে দিক, অথবা আমার ঘরটি স্বর্ণ দিয়ে পূর্ণ করে দিক, কিংবা আমার এই ঘরের দিকে তারা হজ করে আসুক—এই শর্তে যে আমি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নামে মিথ্যা বলব—তবে তারা তাই করত। আল্লাহর শপথ, আমি কখনই তাঁর নামে মিথ্যা বলব না। হে মালিক, আমি প্রবৃত্তিপূজারীদের (৪) মতবাদগুলো অধ্যয়ন করেছি, তাতে (৫) খাশাবিয়্যাহদের (৬) চেয়ে অধিক নির্বোধ আর কাউকে দেখিনি। তারা যদি পাখি হতো, তবে শকুন হতো; আর যদি চতুষ্পদ জন্তু হতো, তবে গাধা হতো। হে মালিক, তারা ইসলামের প্রতি অনুরাগী হয়ে [আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য] (৭) ইসলামে প্রবেশ করেনি, আর না আল্লাহর ভয়ে; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর গজবস্বরূপ (৮) এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের বিদ্রোহস্বরূপ (৯) তারা ইসলামে প্রবেশ করেছে। তারা ইসলামের দ্বীনকে তুচ্ছ ও কলঙ্কিত (১০) করতে চায়, যেমনভাবে (১১) ইহুদিদের রাজা ইউশা’র পুত্র পৌল খ্রিস্টধর্মকে কলঙ্কিত করেছিল। আর তা অতিক্রম (১২) করে না...

--------------------------------------------

(১) দুই তারকা চিহ্নের মধ্যবর্তী অংশটি শুধুমাত্র (বা) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(২) বা: ইবনে জাফর আর-রাক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

(৩) পরবর্তী বর্ণনাটি কিছু পার্থক্যসহ "আল-ইকদুল ফারিদ" ২/৪০৯-৪১১ (তালিফ কমিটি সংস্করণ, কায়রো, ১৯৪০) গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি মালিক ইবনে মুয়াবিয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমি পরবর্তীতে কেবল গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো উল্লেখ করব।

(৪) বা: প্রবৃত্তিপূজারীগণ।

(৫) আলিফ, লাম, বা: তাদের মধ্যে।

(৬) আল-ইকদুল ফারিদ (২/৪০৯): রাফেজি।

(৭) আল্লাহর জন্য: (নুন) ও (মিম) পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৮) তাদের ওপর: (মিম) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে। আর "আল-ইকদুল ফারিদ" গ্রন্থে রয়েছে: বরং ইসলাম অনুসারীদের প্রতি ঘৃণা ও তাদের ওপর বিদ্রোহস্বরূপ।

(৯) নুন, মিম, লাম: এবং ঘৃণাস্বরূপ।

(১০) নুন: তারা চোখ বন্ধ করে ফেলে।

(১১) নুন: গামিযা (সোয়াদ-এর পরিবর্তে দদ দিয়ে), যা মূলত লিপিকারের প্রমাদ। "আল-লিসান" গ্রন্থে রয়েছে: গামাসাহু ও গামিসাহু (মিম-এ জবর বা যের যোগে)—এর অর্থ হলো: তুচ্ছ করা, দোষারোপ করা এবং কলঙ্কিত করা।

(১২) বা: অতিক্রম করে; আলিফ, লাম: সে অতিক্রম করে; মিম: তিনি অতিক্রম করেন।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
صَلَاتُهُمْ آذَانَهُمْ، قَدْ حَرَّقَهُمْ عَلِيُّ [بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه بِالنَّارِ] (1) ، وَنَفَاهُمْ مِنَ الْبِلَادِ، مِنْهُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَبَأٍ يَهُودِيٌّ مِنْ يَهُودِ صَنْعَاءَ نَفَاهُ إِلَى سَابَاطِ (2) ، وَأَبُو بَكْرٍ الْكَرَوَّسُ نَفَاهُ إِلَى الْجَابِيَةِ (3) ، وَحَرَّقَ مِنْهُمْ قَوْمًا أَتَوْهُ، فَقَالُوا: أَنْتَ هُوَ، فَقَالَ: مَنْ أَنَا؟ فَقَالُوا: أَنْتَ رَبُّنَا، فَأَمَرَ بِنَارٍ، فَأُجِّجَتْ، فَأُلْقَوْا فِيهَا، وَفِيهِمْ قَالَ (4) . عَلِيٌّ رضي الله عنه (5) :

لَمَّا رَأَيْتُ الْأَمْرَ أَمْرًا مُنْكَرًا … أَجَّجْتُ نَارِي، وَدَعَوْتُ قَنْبَرَا (6)

يَا مَالِكُ، إِنَّ مِحْنَتَهُمْ مِحْنَةُ الْيَهُودِ قَالَتِ الْيَهُودُ: لَا يَصْلُحُ الْمُلْكُ إِلَّا فِي آلِ دَاوُدَ، وَكَذَلِكَ قَالَتِ الرَّافِضَةُ (7) : لَا تَصْلُحُ الْإِمَامَةُ إِلَّا فِي. وَلَدِ عَلِيٍّ (8) ، وَقَالَتِ الْيَهُودُ: لَا جِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَبْعَثَ اللَّهُ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ، وَيَنْزِلَ سَيْفٌ (9) مِنَ السَّمَاءِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ قَالُوا: لَا جِهَادَ فِي.

--------------------------------------------

(1) مَا بَيْنَ الْمَعْقُوفَتَيْنِ زِيَادَةٌ فِي (أ) ، (ب) . وَفِي (ل) : عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ بِالنَّارِ.

(2) الْعِقْدَ الْفَرِيدَ (2/409) " مِنْهُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَبَأٍ نَفَاهُ إِلَى سَابَاطَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَبَابٍ نَفَاهُ إِلَى الْجَازِرِ ". وَالْجَازِرُ: قَرْيَةٌ مِنْ نَوَاحِي النَّهْرَوَانِ، مِنْ أَعْمَالِ بَغْدَادَ قُرْبَ الْمَدَائِنِ.

(3) وَأَبُو بَكْرٍ الْكَرَوَّسُ: كَذَا فِي (أ) ، (ل) ، (ب) ، وَفِي الْعِقْدِ الْفَرِيدِ (2/409) (وَفِيهِ الِاسْمُ مُشْكَلًا) وَفِي (ن) ، (م) : وَأَبُو الْكَرَوَّشِ. وَلَمْ أَجِدْ لِلرَّجُلِ ذِكْرًا فِيمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ الْمَرَاجِعِ، وَالْجَابِيَةُ قَرْيَةٌ مِنْ أَعْمَالِ دِمَشْقَ.

(4) وَفِيهِمْ قَالَ: سَاقِطَةٌ مِنْ (م) .

(5) رضي الله عنه: زِيَادَةٌ فِي (أ) ، (ل) ، (ب) .

(6) الرَّجَزُ فِي الْفِصَلِ لِابْنِ حَزْمٍ 5/47، وَفِي شَرْحِ ابْنِ أَبِي الْحَدِيدِ عَلَى نَهْجِ الْبَلَاغَةِ 8/169 (ط. عِيسَى الْحَلَبِيِّ) ، مَعَ اخْتِلَافٍ فِي الرِّوَايَةِ.

(7) ن، م: وَقَالَتِ الرَّافِضَةُ.

(8) ن، م، ل: لَا تَصْلُحُ الْأَئِمَّةُ إِلَّا مِنْ وَلَدِ عَلِيٍّ؛ الْعِقْدَ الْفَرِيدَ (2/409) : لَا يَكُونُ الْمُلْكُ إِلَّا فِي آلِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ.

(9) أ، ب: سَيِّدٌ.
তাদের সালাত হলো তাদের আজান; আলী [ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু] তাদেরকে [আগুনের দ্বারা] পুড়িয়ে দিয়েছিলেন (১) এবং তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করেছিলেন। তাদের মধ্যে সানাআ-এর ইহুদিদের অন্তর্ভুক্ত আব্দুল্লাহ বিন সাবা নামক এক ইহুদি ছিল, যাকে তিনি সাবাতে (২) নির্বাসিত করেছিলেন। এবং আবু বকর আল-কারাউসকে তিনি জাবিয়ায় (৩) নির্বাসিত করেছিলেন। তিনি তাদের মধ্যকার এমন একদল লোককে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন যারা তার কাছে এসে বলেছিল: 'আপনিই তিনি'। তিনি বললেন: 'আমি কে?' তারা বলল: 'আপনি আমাদের রব'। তখন তিনি আগুনের নির্দেশ দিলেন এবং তা প্রজ্বলিত করা হলো, অতঃপর তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হলো। তাদের সম্পর্কে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু (৫) বলেছেন (৪):

যখন আমি বিষয়টিকে একটি গর্হিত বিষয় হিসেবে দেখলাম … আমি আমার আগুন প্রজ্বলিত করলাম এবং কানবারকে ডাকলাম (৬)

হে মালিক, নিশ্চয়ই তাদের ফিতনা ইহুদিদের ফিতনার মতো। ইহুদিরা বলেছিল: দাউদ (আ.)-এর বংশধর ব্যতীত রাজত্ব অন্য কারো জন্য উপযুক্ত নয়। অনুরূপভাবে রাফেজিরা (৭) বলেছে: আলীর বংশধর ব্যতীত ইমামত (৮) অন্য কারো জন্য উপযুক্ত নয়। ইহুদিরা বলেছিল: আল্লাহর পথে ততক্ষণ কোনো জিহাদ নেই যতক্ষণ না আল্লাহ মাসিহ দাজ্জালকে প্রেরণ করবেন এবং আকাশ থেকে একটি তলোয়ার (৯) অবতীর্ণ হবে। অনুরূপভাবে রাফেজিরা বলেছে: [জিহাদ নেই]...

--------------------------------------------

(১) বন্ধনীভুক্ত অংশটি (أ) ও (ب) পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত। আর (ل) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: আলী ইবনে আবু তালিব আগুনের দ্বারা।

(২) আল-ইকদ আল-ফারিদ (২/৪০৯): "তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন সাবা ছিল যাকে তিনি সাবাতে নির্বাসিত করেছিলেন, এবং আব্দুল্লাহ বিন সাবাব যাকে তিনি আল-জাজিরে নির্বাসিত করেছিলেন।" আল-জাজির: নাহরাওয়ান অঞ্চলের একটি গ্রাম, যা বাগদাদের অধীনে মাদায়েনের নিকটবর্তী।

(৩) আবু বকর আল-কারাউস: (أ), (ل), (ب) পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। আল-ইকদ আল-ফারিদ-এ (২/৪০৯) নামটি অস্পষ্টভাবে রয়েছে। (ن) ও (م) পাণ্ডুলিপিতে আছে: আবু আল-কারাউশ। আমার কাছে বিদ্যমান উৎসগুলোতে এই ব্যক্তির কোনো উল্লেখ আমি পাইনি। আর জাবিয়া হলো দামেস্কের অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম।

(৪) "তাদের সম্পর্কে বলেছেন": এটি (م) পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৫) রাদিয়াল্লাহু আনহু: এটি (أ), (ل), (ب) পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত।

(৬) ছন্দোবদ্ধ পংক্তিটি ইবনে হাজমের 'আল-ফিসাল' ৫/৪৭ এবং ইবনে আবিল হাদিদের 'শারহু নাহজিল বালাগাহ' ৮/১৬৯ (ঈসা আল-হালাবি সংস্করণ)-এ রয়েছে, তবে বর্ণনায় কিছুটা ভিন্নতা আছে।

(৭) ن, م: এবং রাফেজিরা বলেছিল।

(৮) ن, م, ل: আলী (রা.)-এর বংশধর ব্যতীত ইমামগণ উপযুক্ত নয়; আল-ইকদ আল-ফারিদ (২/৪০৯): আলী ইবনে আবু তালিবের বংশধর ব্যতীত রাজত্ব হবে না।

(৯) أ, ب: নেতা।
(খণ্ড: ١) মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَخْرُجَ الرِّضَا مِنْ آلِ مُحَمَّدٍ، وَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ: اتَّبَعُوهُ.

وَقَالَتِ الْيَهُودُ: فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْنَا خَمْسِينَ صَلَاةً فِي كُلِّ يَوْمِ وَلَيْلَةٍ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ لَا يُصَلُّونَ الْمَغْرِبَ حَتَّى تَشْتَبِكَ النُّجُومُ، وَقَدْ جَاءَ عَنِ النَّبِيِّ. (1) صلى الله عليه وسلم: ( «لَا تَزَالُ أُمَّتِي عَلَى الْإِسْلَامِ مَا لَمْ يُؤَخِّرُوا (2) الْمَغْرِبَ إِلَى اشْتِبَاكِ النُّجُومِ مُضَاهَاةً لِلْيَهُودِ.» ) ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ إِذَا صَلَّوْا زَالُوا عَنِ الْقِبْلَةِ شَيْئًا، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ.

وَالْيَهُودُ تَنُودُ. (3) فِي صَلَاتِهَا، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ يُسْدِلُونَ أَثْوَابَهُمْ. (4) فِي الصَّلَاةِ، وَقَدْ بَلَغَنِي «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ. (5) صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِرَجُلٍ سَادِلٍ ثَوْبَهُ، فَعَطَفَهُ عَلَيْهِ» (6) .، وَالْيَهُودُ يَسْجُدُونَ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ

--------------------------------------------

(1) ن، م: عَنْ نَبِيِّنَا.

(2) أ، ل، ب: تُؤَخَّرِ.

(3) م: تَمِيدُ. وَالْكَلِمَةُ غَيْرُ ظَاهِرَةٍ فِي (ن) .

(4) ن، م، ل: أَثْوَابَهَا.

(5) أ، ل، ب: أَنَّ النَّبِيَّ.

(6) م: فَقَطَعَهُ عَلَيْهِ. وَقَالَ ابْنُ الْأَثِيرِ عَنِ السَّدْلِ (النِّهَايَةُ فِي غَرِيبِ الْحَدِيثِ) : " وَهُوَ أَنْ يَلْتَحِفَ بِثَوْبِهِ وَيُدْخِلَ يَدَيْهِ مِنْ دَاخِلٍ فَيَرْكَعُ وَيَسْجُدُ وَهُوَ كَذَلِكَ، وَكَانَتِ الْيَهُودُ تَفْعَلُهُ فَنُهُوا عَنْهُ، وَهَذَا مُطَّرِدٌ فِي الْقَمِيصِ وَغَيْرِهِ مِنَ الثِّيَابِ. وَقِيلَ: هُوَ أَنْ يَضَعَ وَسَطَ الْإِزَارِ عَلَى رَأْسِهِ وَيُرْسِلَ طَرَفَيْهِ عَنْ يَمِينِهِ وَشِمَالِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَجْعَلَهُمَا عَلَى كَتِفَيْهِ ". وَلَمْ أَجِدِ الْأَثَرَ الَّذِي يَذْكُرُهُ ابْنُ تَيْمِيَّةَ، وَلَكِنْ أَخْرَجَ أَبُو دَاوُدَ فِي سُنَنِهِ 1/245 (كِتَابُ الصَّلَاةِ، بَابُ مَا جَاءَ فِي السَّدْلِ فِي الصَّلَاةِ) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ السَّدْلِ فِي الصَّلَاةِ وَأَنْ يُغَطِّيَ الرَّجُلُ فَاهُ. ثُمَّ قَالَ. عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: أَكْثَرُ مَا رَأَيْتُ عَطَاءً يُصَلِّي سَادِلًا. قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَهَذَا يُضَعِّفُ ذَلِكَ الْحَدِيثَ. وَأَوْرَدَ التِّرْمِذِيُّ حَدِيثَ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي سُنَنِهِ 1/234 - 235 ثُمَّ قَالَ: ". وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي السَّدْلِ فِي الصَّلَاةِ، فَكَرِهَ بَعْضُهُمُ السَّدْلَ فِي الصَّلَاةِ، وَقَالُوا: هَكَذَا تَصْنَعُ الْيَهُودُ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّمَا كُرِهَ السَّدْلُ فِي الصَّلَاةِ إِذَا لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ إِلَّا ثَوْبٌ وَاحِدٌ، فَأَمَّا إِذَا سُدِلَ عَلَى الْقَمِيصِ فَلَا بَأْسَ، وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ. وَكَرِهَ ابْنُ الْمُبَارَكِ السَّدْلَ فِي الصَّلَاةِ ". وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي الْمُسْنَدِ (ط. الْمَعَارِفِ) 15 - 76 (وَانْظُرْ تَعْلِيقَ الشَّيْخِ أَحْمَد شَاكِر رحمه الله) ، 16/207، 228، 239
আল্লাহর পথে যতক্ষণ না মুহাম্মাদ (সা.)-এর বংশধর থেকে সন্তুষ্টির পাত্র (আল-রিদা) আত্মপ্রকাশ করেন এবং আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন: তোমরা তাঁকে অনুসরণ করো।

আর ইহুদিরা বলেছিল: আল্লাহ আমাদের ওপর প্রতিদিন দিবা-রাত্রিতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন; রাফেজিরাও অনুরূপ বলে। আর ইহুদিরা মাগরিবের নামাজ পড়ে না যতক্ষণ না তারকারাজি ঘন হয়ে ফুটে ওঠে; অথচ নবী (সা.) (১) থেকে বর্ণিত হয়েছে: ( «আমার উম্মত ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামের ওপর অবিচল থাকবে যতক্ষণ না তারা ইহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বনে মাগরিবের নামাজকে তারকারাজি ঘন হয়ে ফুটে ওঠা পর্যন্ত বিলম্ব করে» (২) )। রাফেজিরাও অনুরূপ করে। আর ইহুদিরা যখন নামাজ পড়ে, তখন তারা কিবলা থেকে কিছুটা বিচ্যুত হয়ে যায়; রাফেজিরাও অনুরূপ করে।

আর ইহুদিরা তাদের নামাজে দুলতে থাকে (৩); রাফেজিরাও অনুরূপ করে। আর ইহুদিরা নামাজের মধ্যে তাদের কাপড় ঝুলিয়ে রাখে (৪)। আর আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, «রাসূলুল্লাহ (সা.) (৫) এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে তার কাপড় ঝুলিয়ে রেখেছিল, তখন তিনি তা তার ওপর টেনে দিলেন» (৬)। আর ইহুদিরা ফজরের নামাজে সেজদা করে...

--------------------------------------------

(১) ন, ম: আমাদের নবী থেকে।

(২) অ, ল, ব: বিলম্ব করা হয়।

(৩) ম: দোলে। আর (ন) পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি স্পষ্ট নয়।

(৪) ন, ম, ল: তাদের কাপড়গুলো।

(৫) অ, ল, ব: নিশ্চয়ই নবী।

(৬) ম: তিনি তা তার ওপর গুটিয়ে দিলেন। আর ইবনুল আসির 'সাদল' সম্পর্কে বলেছেন (আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস): "তা হলো চাদরে নিজেকে জড়িয়ে নেওয়া এবং হাত দুটি ভেতরে ঢুকিয়ে রাখা, অতঃপর সেভাবেই রুকু ও সেজদা করা। ইহুদিরা এমনটি করত, তাই তাদের তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। এটি কামিজ বা অন্য কাপড়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো চাদরের মাঝখানের অংশ মাথার ওপর রাখা এবং দুই প্রান্ত কাঁধের ওপর না রেখে ডানে ও বামে ঝুলিয়ে দেওয়া।" ইবনে তাইমিয়্যাহ যে বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন সেটি আমি খুঁজে পাইনি, তবে আবু দাউদ তাঁর সুনানে ১/২৪৫ (কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: নামাজে সাদল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজে সাদল করতে এবং পুরুষের মুখ ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছেন। এরপর তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি অধিকাংশ সময় আতাকে সাদল করা অবস্থায় নামাজ পড়তে দেখেছি।" আবু দাউদ বলেন: এটি ওই হাদিসটিকে দুর্বল করে দেয়। তিরমিজি আবু হুরায়রার হাদিসটি তাঁর সুনানে ১/২৩৪-২৩৫-এ উল্লেখ করে বলেছেন: "আলেমগণ নামাজে সাদল করা নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ একে অপছন্দ করেছেন এবং বলেছেন: ইহুদিরা এমনটি করত। আবার কেউ কেউ বলেছেন: নামাজে সাদল করা তখনই অপছন্দনীয় যখন শরীরে একটি মাত্র কাপড় থাকে। কিন্তু যদি কামিজের ওপর ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তবে কোনো সমস্যা নেই। এটিই ইমাম আহমাদের অভিমত। ইবনুল মুবারক নামাজে সাদল করাকে অপছন্দ করতেন।" আর আবু হুরায়রার হাদিসটি মুসনাদে আহমাদে (আল-মাআরিফ সংস্করণ) ১৫-৭৬ (শেখ আহমদ শাকির রহ.-এর টীকা দ্রষ্টব্য), ১৬/২০৭, ২২৮, ২৩৯-এ বর্ণিত হয়েছে।