(খণ্ড: ১)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
منهاج السنة النبوية القسم: العقيدة
الكتاب: منهاج السنة النبوية في نقض كلام الشيعة القدرية
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
المحقق: محمد رشاد سالم
الناشر: جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
عدد المجلدات: 9
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: শিয়া কাদারিয়াদের বক্তব্য খণ্ডনে নববী সুন্নাহর পথ (মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফী নাকদি কালামিশ শিয়াতিল কাদারিয়্যাহ)
লেখক: তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানী আল-হাম্বালী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হি.)
গবেষক: মুহাম্মাদ রাশাদ সালিম
প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হি. - ১৯৮৬ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বরসমূহ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
[مقدمة المؤلف]
[خطبة الكتاب]بسم الله الرحمن الرحيم
[وَبِهِ نَسْتَعِينُ] (1)
قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ، الْحَبْرُ الْكَامِلُ، الْأَوْحَدُ الْعَلَّامَةُ الْحَافِظُ، الْخَاشِعُ الْقَانِتُ، إِمَامُ الْأَئِمَّةِ، وَرَبَّانِيُّ الْأُمَّةِ، شَيْخُ الْإِسْلَامِ، بَقِيَّةُ الْأَعْلَامِ، تَقِيُّ الدِّينِ، خَاتِمَةُ الْمُجْتَهِدِينَ، (2) أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْحَلِيمِ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ تَيْمِيَّةَ الْحَرَّانِيُّ، قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ، وَنَوَّرَ ضَرِيحَهُ (3) .
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بَعَثَ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ، وَمُنْذِرِينَ، وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ، وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ، فَهَدَى اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ (4) ، وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ، وَأَشْهَدُ
--------------------------------------------
[লেখকের ভূমিকা]
[গ্রন্থের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
[এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি] (১)
শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, পূর্ণাঙ্গ মনীষী, অনন্য মহাজ্ঞানী ও হাফিজ, বিনীত ও অনুগত, ইমামদের ইমাম, উম্মাহর রব্বানী আলিম, শাইখুল ইসলাম, শ্রেষ্ঠ মনীষীদের উত্তরসূরি, তকিউদ্দীন, মুজতাহিদগণের সমাপক, আবু আব্বাস আহমাদ ইবন আব্দুল হালিম ইবন আব্দুস সালাম ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবিল কাসিম ইবন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (আল্লাহ তাঁর রুহকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন) বললেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নবীদেরকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে মানুষেরা যে বিষয়ে মতভেদ করছিল, তা তাঁদের মাঝে ফয়সালা করে দেয়। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পর কেবল পারস্পরিক বিদ্বেষের বশবর্তী হয়েই তারা তাতে মতভেদ করেছিল। অতঃপর মুমিনগণ যে সত্য বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল, আল্লাহ তাঁর অনুমতিতে তাদেরকে সেই সত্যের পথ দেখিয়েছেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন সরল সঠিক পথের দিকে হেদায়াত দান করেন। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، كَمَا شَهِدَ هُوَ سبحانه وتعالى (1) : {أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [سُورَةُ آلِ عِمْرَانَ: 18] وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، الَّذِي [خَتَمَ بِهِ أَنْبِيَاءَهُ، وَهَدَى بِهِ أَوْلِيَاءَهُ] (2) ، وَنَعَتَهُ (3) بِقَوْلِهِ فِي الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ - فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ} [سُورَةُ التَّوْبَةِ: 128 - 129] صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ [وَعَلَى آلِهِ (4) أَفْضَلَ صَلَاةٍ، وَأَفْضَلَ (5) . تَسْلِيمٍ] (6) .
[سبب تأليف ابن تيمية للكتاب]أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّهُ قَدْ (7) أَحْضَرَ إِلَيَّ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ كِتَابًا صَنَّفَهُ بَعْضُ [شُيُوخِ الرَّافِضَةِ فِي عَصْرِنَا مُنَفِّقًا] (8) لِهَذِهِ الْبِضَاعَةِ، يَدْعُو بِهِ (9) إِلَى مَذْهَبِ الرَّافِضَةِ الْإِمَامِيَّةِ، مَنْ أَمْكَنَهُ دَعْوَتُهُ مِنْ وُلَاةِ الْأُمُورِ، [وَغَيْرِهِمْ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ، مِمَّنْ قَلَّتَ مَعْرِفَتُهُمْ] (10) بِالْعِلْمِ وَالدِّينِ، وَلَمْ
--------------------------------------------
এই যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, যেমনটি তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজে সাক্ষ্য দিয়েছেন (১): {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও (সাক্ষ্য দিয়েছে), তিনি ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [সূরা আল ইমরান: ১৮] এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁর মাধ্যমে তিনি তাঁর নবীগণের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং যাঁর মাধ্যমে তিনি তাঁর ওলীগণকে পথপ্রদর্শন করেছেন (২)। এবং তিনি পবিত্র কুরআনে তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করেছেন (৩) এই বলে: {নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যা কষ্ট দেয় তা তাঁর কাছে অসহনীয়। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত মমতাশীল ও দয়ালু। অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তুমি বলো, "আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তিনি মহান আরশের রব।"} [সূরা আত-তাওবাহ: ১২৮ - ১২৯] আল্লাহ তাঁর ওপর [এবং তাঁর পরিবারের ওপর (৪) সর্বোত্তম দরুদ এবং সর্বোত্তম (৫) সালাম বর্ষণ করুন] (৬)।
[ইবনে তাইমিয়্যাহ কর্তৃক কিতাবটি রচনার কারণ]অতঃপর, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের একদল লোক আমার কাছে একটি কিতাব নিয়ে এসেছেন, যা আমাদের যুগের জনৈক [রাফেযী শায়খ তার এই পণ্য (ভ্রান্ত মতবাদ) প্রচারের উদ্দেশ্যে] (৮) রচনা করেছে। এর মাধ্যমে সে (৯) ইমামিয়া রাফেযী মাযহাবের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে তাদের, যাদেরকে দাওয়াত দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে—যেমন শাসকবর্গ [এবং অন্যান্য অজ্ঞ লোক, যাদের জ্ঞান ও দ্বীন সম্পর্কে জানাশোনা কম] (১০)। এবং তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
يَعْرِفُوا أَصْلَ دِينِ الْمُسْلِمِينَ، وَأَعَانَهُ عَلَى ذَلِكَ مَنْ عَادَتُهُمْ إِعَانَةُ [الرَّافِضَةِ مِنَ الْمُتَظَاهِرِينَ بِالْإِسْلَامِ، مِنْ] (1) أَصْنَافِ الْبَاطِنِيَّةِ الْمُلْحِدِينَ (2) الَّذِينَ هُمْ فِي الْبَاطِنِ مِنَ الصَّابِئَةِ (3) الْفَلَاسِفَةِ الْخَارِجِينَ عَنْ حَقِيقَةِ
--------------------------------------------
যাতে তারা মুসলমানদের মূল দ্বীন জানতে পারে। আর তাকে এ কাজে সাহায্য করেছে তারা যাদের স্বভাবই হলো সাহায্য করা [ইসলামের লেবাসধারী রাফেযীদের মধ্য থেকে, তারা হলো] (১) নাস্তিক বাতেনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণী (২) যারা অন্তরে সাবেয়ীদের (৩) অন্তর্ভুক্ত এবং সেই সকল দার্শনিক যারা প্রকৃত সত্য থেকে বিচ্যুত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
[مُتَابَعَةِ (1) الْمُرْسَلِينَ الَّذِينَ لَا يُوجِبُونَ اتِّبَاعَ] (2) دِينِ الْإِسْلَامِ (3) ، وَلَا يُحَرِّمُونَ [اتِّبَاعَ] مَا سِوَاهُ (4) مِنَ الْأَدْيَانِ، بَلْ يَجْعَلُونَ الْمِلَلَ بِمَنْزِلَةِ الْمَذَاهِبِ، وَالسِّيَاسَاتِ [الَّتِي يَسُوغُ اتِّبَاعُهَا، وَأَنَّ النُّبُوَّةَ] نَوْعٌ مِنَ السِّيَاسَةِ الْعَادِلَةِ الَّتِي وُضِعَتْ لِمَصْلَحَةِ الْعَامَّةِ فِي الدُّنْيَا.
فَإِنَّ هَذَا الصِّنْفَ يَكْثُرُونَ وَيَظْهَرُونَ [إِذَا كَثُرَتِ الْجَاهِلِيَّةُ، وَأَهْلُهَا] ، وَلَمْ يَكُنْ هُنَاكَ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالنُّبُوَّةِ، وَالْمُتَابَعَةِ لَهَا مَنْ يُظْهِرُ أَنْوَارَهَا الْمَاحِيَةَ لِظُلْمَةِ (5) الضَّلَالِ، [وَيَكْشِفُ مَا فِي خِلَافِهَا مِنَ الْإِفْكِ] ، وَالشِّرْكِ، وَالْمِحَالِ.
وَهَؤُلَاءِ لَا يُكَذِّبُونَ بِالنُّبُوَّةِ تَكْذِيبًا مُطْلَقًا، بَلْ هُمْ يُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ أَحْوَالِهَا، وَيَكْفُرُونَ [بِبَعْضِ الْأَحْوَالِ (6) ، وَهُمْ مُتَفَاوِتُونَ فِيمَا] يُؤْمِنُونَ بِهِ، وَيَكْفُرُونَ بِهِ مِنْ تِلْكَ الْخِلَالِ، فَلِهَذَا يَلْتَبِسُ أَمْرُهُمْ بِسَبَبِ تَعْظِيمِهِمْ لِلنُّبُوَّاتِ عَلَى كَثِيرٍ مِنْ أَهْلِ (7) [الْجَهَالَاتِ.
--------------------------------------------
[রাসূলগণের অনুসরণ (১), যারা অনুসরণ করাকে আবশ্যক করে না] (২) ইসলাম ধর্মের (৩), এবং তা ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম [অনুসরণ করাকে] (৪) নিষিদ্ধও করে না; বরং তারা ধর্মসমূহকে মাযহাবসমূহ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমপর্যায়ে গণ্য করে [যা অনুসরণ করা বৈধ; আর মনে করে যে নবুওয়াত হলো] এক প্রকার ন্যায়বিচারমূলক রাজনীতি যা দুনিয়াতে সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
নিশ্চয়ই এই শ্রেণীর মানুষ সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় এবং তখনই তাদের আত্মপ্রকাশ ঘটে [যখন জাহিলিয়াত এবং জাহেলদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়], আর সেখানে নবুওয়াত এবং তার অনুসরণের বিষয়ে এমন কোনো আলেম থাকেন না যারা পথভ্রষ্টতার অন্ধকার (৫) মিটিয়ে দেওয়ার মতো নূরের বিচ্ছুরণ ঘটাবেন [এবং নবুওয়াতের বিরুদ্ধাচরণের মধ্যে যে মিথ্যা], শিরক ও অসম্ভব বিষয়াদি রয়েছে তা উন্মোচন করবেন।
আর এরা নবুওয়াতকে নিরঙ্কুশভাবে অস্বীকার করে না; বরং তারা এর কিছু অবস্থার প্রতি ঈমান রাখে এবং [কিছু অবস্থার (৬) কুফরি করে, আর তারা যা] বিশ্বাস করে এবং যা অস্বীকার করে সেই সকল বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে তারতম্য রয়েছে। এই কারণেই নবুওয়াতের প্রতি তাদের অতি-সম্মান প্রদর্শনের ফলে অনেক মূর্খ (৭) [লোকদের নিকট তাদের বিষয়টি সংশয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
وَالرَّافِضَةُ، وَالْجَهْمِيَّةُ] (1) هُمُ الْبَابُ لِهَؤُلَاءِ الْمُلْحِدِينَ، مِنْهُمْ يَدْخُلُونَ إِلَى سَائِرِ أَصْنَافِ الْإِلْحَادِ فِي أَسْمَاءِ اللَّهِ، وَآيَاتِ [كِتَابِهِ الْمُبِينِ، كَمَا قَرَّرَ ذَلِكَ] رُءُوسُ [الْمُلْحِدَةِ مِنَ] الْقَرَامِطَةِ (2) الْبَاطِنِيَّةِ (3) ، وَغَيْرِهِمْ مِنَ الْمُنَافِقِينَ.
وَذَكَرَ مَنْ أَحْضَرَ هَذَا الْكِتَابَ أَنَّهُ مِنْ [أَعْظَمِ الْأَسْبَابِ فِي تَقْرِيرِ مَذَاهِبِهِمْ] عِنْدَ مَنْ مَالَ إِلَيْهِمْ مِنَ الْمُلُوكِ، وَغَيْرِهِمْ، وَقَدْ صَنَّفَهُ (4) لِلْمَلِكِ الْمَعْرُوفِ الَّذِي سَمَّاهُ فِيهِ (5) [خَدَابَنْدَهْ (6) ، وَطَلَبُوا مِنِّي بَيَانَ مَا فِي هَذَا]
--------------------------------------------
রাফেজি এবং জাহমিয়ারা হলো এই নাস্তিকদের প্রবেশদ্বার। তাদের মাধ্যমেই তারা আল্লাহর নামসমূহ এবং তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াতসমূহে সব ধরনের নাস্তিক্যবাদী বিকৃতির পথে প্রবেশ করে, যেমনটি কারামিতা বাতেনিয়াদের নাস্তিক্যবাদী নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য মুনাফিকরা স্থির করেছে।
যিনি এই বইটি উপস্থিত করেছেন তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যারা রাজা-বাদশাহ এবং অন্যান্যদের মধ্যে তাদের মতবাদের প্রতি ঝুঁকেছিল, তাদের কাছে এটি তাদের মতবাদ সুপ্রতিষ্ঠিত করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। তিনি এটি সেই সুপরিচিত রাজার জন্য রচনা করেছেন যাকে তিনি এতে 'খোদাবান্দাহ' নামে অভিহিত করেছেন। তারা আমার কাছে এই বইটিতে যা আছে তা বর্ণনা করার অনুরোধ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
الْكِتَابِ مِنَ الضَّلَالِ، وَبَاطِلِ الْخِطَابِ، لِمَا فِي ذَلِكَ مِنْ نَصْرِ عِبَادِ اللَّهِ الْمُؤْمِنِينَ، وَبَيَانِ [بُطْلَانِ أَقْوَالِ الْمُفْتَرِينَ الْمُلْحِدِينَ] .
فَأَخْبَرْتُهُمْ أَنَّ هَذَا الْكِتَابَ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَعْلَى (1) مَا يَقُولُونَهُ فِي بَابِ الْحُجَّةِ وَالدَّلِيلِ، فَالْقَوْمُ [مِنْ أَضَلِّ النَّاسِ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ، فَإِنَّ] الْأَدِلَّةَ إِمَّا نَقْلِيَّةٌ، وَإِمَّا عَقْلِيَّةٌ، وَالْقَوْمُ مِنْ أَضَلِّ النَّاسِ فِي الْمَنْقُولِ، وَالْمَعْقُولِ فِي الْمَذَاهِبِ [وَالتَّقْرِيرِ، وَهُمْ مِنْ أَشْبَهِ (2) النَّاسِ بِمَنْ] قَالَ اللَّهُ فِيهِمْ: {وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ} [سُورَةُ الْمُلْكِ: 10] ، [وَالْقَوْمُ (3) مِنْ أَكْذَبِ النَّاسِ فِي النَّقْلِيَّاتِ، وَمِنْ أَجْهَلِ (4) ] النَّاسِ فِي الْعَقْلِيَّاتِ، يُصَدِّقُونَ مِنَ الْمَنْقُولِ بِمَا يَعْلَمُ الْعُلَمَاءُ بِالِاضْطِرَارِ (5) أَنَّهُ مِنَ [الْأَبَاطِيلِ، وَيُكَذِّبُونَ بِالْمَعْلُومِ مِنَ الِاضْطِرَارِ (6) ] الْمُتَوَاتِرِ أَعْظَمَ تَوَاتُرٍ فِي الْأُمَّةِ جِيلًا بَعْدَ جِيلٍ، وَلَا يُمَيِّزُونَ فِي نَقَلَةِ الْعِلْمِ، وَرُوَاةِ [الْأَحَادِيثِ (7) ] ، وَالْأَخْبَارِ (8) [بَيْنَ الْمَعْرُوفِ بِالْكَذِبِ، أَوِ] الْغَلَطِ، أَوِ الْجَهْلِ (9) بِمَا يُنْقَلُ، وَبَيْنَ الْعَدْلِ الْحَافِظِ الضَّابِطِ الْمَعْرُوفِ بِالْعِلْمِ بِالْآثَارِ (10) .
--------------------------------------------
এই কিতাবটি বিভ্রান্তি এবং বাতিল বক্তব্য থেকে মুক্ত, কারণ এতে রয়েছে আল্লাহর মুমিন বান্দাদের সাহায্য এবং [পথভ্রষ্ট মিথ্যুকদের বক্তব্যের অসারতা] বর্ণনা।
অতঃপর আমি তাদের অবগত করেছি যে, এই কিতাবটি যদি দলিল ও প্রমাণের ক্ষেত্রে তাদের বলা শ্রেষ্ঠ (১) কথাগুলোর অন্তর্ভুক্তও হয়, তবুও এই সম্প্রদায়টি [সরল পথ হতে বিচ্যুত সর্বাধিক বিভ্রান্ত মানুষদের অন্তর্ভুক্ত। কেননা] দলিলসমূহ হয় বর্ণনাভিত্তিক, অথবা যুক্তিভিত্তিক। আর এই সম্প্রদায়টি বর্ণনা ও যুক্তির ক্ষেত্রে মাযহাব এবং [বিবৃতির ক্ষেত্রে সর্বাধিক পথভ্রষ্ট। তারা ঐসব (২) লোকেদের সদৃশ] যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তবে আমরা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না’।" [সূরা আল-মুলক: ১০]। [আর এই সম্প্রদায়টি (৩) বর্ণনাভিত্তিক বিষয়সমূহে সর্বাধিক মিথ্যাচারী এবং (৪) ] যুক্তিভিত্তিক বিষয়সমূহে সর্বাধিক মূর্খ। তারা বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন সব বিষয়কে সত্য মনে করে যা আলেমগণ অকাট্যভাবে (৫) জানেন যে সেগুলো [বাতিল। পক্ষান্তরে তারা এমন সব অকাট্য (৬) ] মুতাওয়াতির বিষয়কে অস্বীকার করে যা উম্মতের মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রচলিত রয়েছে। তারা জ্ঞান এবং [হাদিস (৭) ] ও সংবাদ বহনকারীদের (৮) মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না; অর্থাৎ [যারা মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত কিংবা] ভুলকারী অথবা যা বর্ণনা করছে সে বিষয়ে অজ্ঞ (৯), তাদের সাথে ঐসব ন্যায়পরায়ণ, প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের পার্থক্য করতে পারে না যারা আসার বা বর্ণনা সংক্রান্ত জ্ঞানে (১০) সুপরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
[وَعُمْدَتُهُمْ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ عَلَى التَّقْلِيدِ] ، وَإِنْ ظَنُّوا إِقَامَتَهُ بِالْبُرْهَانِيَّاتِ، فَتَارَةً يَتَّبِعُونَ الْمُعْتَزِلَةَ، وَالْقَدَرِيَّةَ (1) ، وَتَارَةً يَتَّبِعُونَ الْمُجَسِّمَةَ (2) ، [وَالْجَبْرِيَّةُ (3) ، وَهُمْ مِنْ أَجْهَلِ هَذِهِ الطَّوَائِفِ] بِالنَّظَرِيَّاتِ، وَلِهَذَا كَانُوا عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَالدِّينِ مِنْ أَجْهَلِ الطَّوَائِفِ الدَّاخِلِينَ فِي الْمُسْلِمِينَ.
--------------------------------------------
[প্রকৃতপক্ষে তাদের মূল ভিত্তি হলো অন্ধ অনুসরণ (তাকলিদ)], যদিও তারা ধারণা করে যে তারা তা প্রমাণাদির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে তারা কখনো মুতাজিলা ও কাদারিয়াদের (১) অনুসরণ করে, আবার কখনো মুজাস্সিমা (দেহবাদী) (২) [এবং জাবরিয়াদের (৩) অনুসরণ করে; আর তাত্ত্বিক পর্যালোচনার দিক থেকে তারা এই দলগুলোর মধ্যে সর্বাধিক মূর্খ]। আর এ কারণেই তারা সকল আলেম এবং দ্বীনদার ব্যক্তির নিকট মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মূর্খ গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
[وَمِنْهُمْ مَنْ أَدْخَلَ عَلَى الدِّينِ] مِنَ الْفَسَادِ مَا لَا يُحْصِيهِ إِلَّا رَبُّ الْعِبَادِ، فَمَلَاحِدَةُ الْإِسْمَاعِيلِيَّةِ (1) ، وَالنُّصَيْرِيَّةُ (2) ، وَغَيْرِهِمْ مِنَ [الْبَاطِنِيَّةِ
--------------------------------------------
[তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা দ্বীনের মধ্যে] এমন বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা প্রবেশ করিয়েছে যা বান্দাদের রব ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারবে না। তারা হলো ইসমাইলি নাস্তিকগণ (১), নুসাইরিগণ (২) এবং অন্যান্য [বাতিনি সম্প্রদায়ভুক্তরা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
الْمُنَافِقِينَ مِنْ بَابِهِمْ (1) دَخَلُوا] ، وَأَعْدَاءُ الْمُسْلِمِينَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ، وَأَهْلِ الْكِتَابِ بِطَرِيقِهِمْ وَصَلُوا، وَاسْتَوْلَوْا بِهِمْ عَلَى بِلَادِ [الْإِسْلَامِ، وَسَبَوُا الْحَرِيمَ، وَأَخَذُوا] الْأَمْوَالَ، وَسَفَكُوا الدَّمَ الْحَرَامَ، وَجَرَى عَلَى الْأُمَّةِ بِمُعَاوَنَتِهِمْ مِنْ فَسَادِ الدِّينِ وَالدُّنْيَا (2) [مَا لَا يَعْلَمُهُ إِلَّا رَبُّ الْعَالَمِينَ] .
إِذْ كَانَ أَصْلُ الْمَذْهَبِ مِنْ إِحْدَاثِ الزَّنَادِقَةِ الْمُنَافِقِينَ الَّذِينَ عَاقَبَهُمْ فِي حَيَاتِهِ عَلِيٌّ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ [رضي الله عنه] (3) ، فَحَرَّقَ مِنْهُمْ طَائِفَةً (4) بِالنَّارِ، وَطَلَبَ قَتْلَ بَعْضِهِمْ، [فَفَرُّوا] مِنْ سَيْفِهِ الْبَتَّارِ، وَتَوَعَّدَ بِالْجَلْدِ (5) طَائِفَةً مُفْتَرِيَةً (6) فِيمَا عُرِفَ (7) عَنْهُ مِنَ الْأَخْبَارِ، (8) [إِذْ قَدْ تَوَاتَرَ عَنْهُ مِنَ الْوُجُوهِ الْكَثِيرَةِ] (8) (8) أَنَّهُ قَالَ عَلَى مِنْبَرِ الْكُوفَةِ، وَقَدْ أَسْمَعَ مَنْ حَضَرَ: خَيْرُ [هَذِهِ] (9)
--------------------------------------------
মুনাফিকরা তাদের দরজা দিয়ে (১) [প্রবেশ করেছে], আর মুশরিক ও আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে মুসলিমদের শত্রুরা তাদের পথ ধরে পৌঁছেছে। তারা তাদের মাধ্যমে [ইসলামি] দেশগুলো দখল করেছে, [নারীদের বন্দি করেছে, এবং] ধন-সম্পদ [লুটে নিয়েছে]। তারা নিষিদ্ধ রক্তপাত ঘটিয়েছে এবং তাদের সহায়তায় উম্মাহর ওপর দ্বীন ও দুনিয়ার এমন বিপর্যয় (২) নেমে এসেছে [যা রব্বুল আলামিন ছাড়া আর কেউ জানে না]।
কারণ এই মাযহাবের মূল ভিত্তি হলো সেই মুনাফিক যিনদীকদের নবউদ্ভাবিত কর্ম, যাদেরকে আমিরুল মুমিনীন আলী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] (৩) তাঁর জীবদ্দশায় শাস্তি দিয়েছিলেন। তিনি তাদের একটি দলকে (৪) আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন, আর তাদের কয়েকজনকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, ফলে তারা তাঁর ধারালো তলোয়ারের ভয়ে [পালিয়ে গিয়েছিল]। তিনি মিথ্যাচারী (৬) এক দলকে বেত্রাঘাতের (৫) হুমকি দিয়েছিলেন, যেমনটি তাঁর থেকে বর্ণিত সংবাদগুলোতে (৭) জানা যায়। (৮) [নিশ্চয়ই তাঁর থেকে বহু সূত্রে অকাট্যভাবে বর্ণিত হয়েছে] যে, তিনি কুফার মিম্বরে দাঁড়িয়ে উপস্থিত জনতাকে শুনিয়ে বলেছিলেন: [এই] (৯) উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
الْأُمَّةِ بَعْدَ نَبِيِّهَا أَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ عُمَرُ، وَبِذَلِكَ أَجَابَ ابْنَهُ (1) [مُحَمَّدَ ابْنَ الْحَنَفِيَّةِ] (2) فِيمَا رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحِهِ (3) ، وَغَيْرُهُ مِنْ عُلَمَاءِ الْمِلَّةِ الْحَنِيفِيَّةِ.
--------------------------------------------
নবীর পর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, তারপর উমর। আর এই উত্তরই তিনি তাঁর পুত্র (১) [মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহকে] (২) প্রদান করেছিলেন, যা বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৩) বর্ণনা করেছেন এবং হানিফি মিল্লাতের অন্যান্য আলেমগণও এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وَلِهَذَا كَانَتِ الشِّيعَةُ الْمُتَقَدِّمُونَ الَّذِينَ صَحِبُوا عَلِيًّا، [أَوْ كَانُوا (1) فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ] لَمْ يَتَنَازَعُوا فِي تَفْضِيلِ أَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ، وَإِنَّمَا كَانَ نِزَاعُهُمْ فِي [تَفْضِيلِ] (2) عَلِيٍّ، وَعُثْمَانَ، وَهَذَا مِمَّا يَعْتَرِفُ بِهِ (3) [عُلَمَاءُ الشِّيعَةِ الْأَكَابِرُ مِنَ] الْأَوَائِلِ، وَالْأَوَاخِرِ حَتَّى ذَكَرَ مِثْلَ ذَلِكَ (4) أَبُو الْقَاسِمِ الْبَلْخِيُّ (5) . قَالَ: سَأَلَ سَائِلٌ شَرِيكَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ [أَبِي] نَمِرٍ (6) ، [فَقَالَ لَهُ: (7) أَيُّهُمَا أَفْضَلُ أَبُو بَكْرٍ، أَوْ عَلِيٌّ؟ فَقَالَ لَهُ] : أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ لَهُ السَّائِلُ: أَتَقُولُ هَذَا، وَأَنْتَ مِنَ الشِّيعَةِ؟ (8) فَقَالَ: نَعَمْ إِنَّمَا الشِّيعِيُّ [مَنْ قَالَ مِثْلَ هَذَا (9) ، وَاللَّهِ لَقَدْ] رَقَى عَلِيٌّ (10) هَذَا الْأَعْوَادَ، فَقَالَ: أَلَا إِنَّ خَيْرَ (11) هَذِهِ الْأُمَّةِ
--------------------------------------------
এই কারণেই পূর্ববর্তী শিয়াগণ যারা আলীর সঙ্গী ছিলেন, [অথবা যারা সেই সময়ে ছিলেন] তারা আবু বকর ও উমরের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে কোনো মতভেদ করেননি। তাদের মতভেদ ছিল কেবল আলী ও উসমানের [শ্রেষ্ঠত্বের] বিষয়ে। আর এটি এমন এক বিষয় যা প্রাচীন ও পরবর্তীকালের [শিয়াদের বড় বড় আলেমগণও] স্বীকার করেন, এমনকি আবুল কাসিম আল-বালখীর মতো ব্যক্তিও তা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: এক প্রশ্নকারী শারিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে [আবি] নামিরকে জিজ্ঞাসা করলেন, [তাকে বললেন: আবু বকর ও আলীর মধ্যে কে বেশি শ্রেষ্ঠ? তিনি তাকে বললেন]: আবু বকর। তখন প্রশ্নকারী তাকে বললেন: আপনি শিয়া হওয়া সত্ত্বেও কি এ কথা বলছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, প্রকৃত শিয়া তো সেই [যে এমন কথা বলে। আল্লাহর কসম, আলী এই মিম্বরের কাষ্ঠখণ্ডে] আরোহণ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: জেনে রেখো, নিশ্চয়ই এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
بَعْدَ نَبِيِّهَا أَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ عُمَرُ، أَفَكُنَّا (1) نَرُدُّ [قَوْلَهُ؟ أَكُنَّا (2) نُكَذِّبُهُ؟ وَاللَّهِ مَا كَانَ] كَذَّابًا! ذَكَرَ هَذَا [أَبُو الْقَاسِمِ] الْبَلْخِيُّ. (3) فِي النَّقْضِ عَلَى ابْنِ الرَّاوَنْدِيِّ (4) اعْتِرَاضَهُ (5) عَلَى الْجَاحِظِ (6) . نَقَلَهُ عَنْهُ الْقَاضِيَ [عَبْدُ الْجَبَّارِ الْهَمْدَانِيُّ
--------------------------------------------
তাঁর নবীর পর আবু বকর, তারপর ওমর। তবে কি আমরা (১) তাঁর কথা প্রত্যাখ্যান করতাম? আমরা কি (২) তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম? আল্লাহর কসম, তিনি মিথ্যুক ছিলেন না! এটি উল্লেখ করেছেন আবু আল-কাসিম আল-বালখি (৩) ইবনে রাওয়ান্দির (৪) আল-জাহিজের (৬) ওপর আপত্তির (৫) খণ্ডনে। এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন কাজি আবদুল জব্বার আল-হামদানি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
فِي كِتَابِ] (تَثْبِيتِ النُّبُوَّةِ) (1) .
[تحريم كتمان العلم][ (فَصْلٌ (2) .) ] .
فَلَمَّا أَلَحُّوا فِي طَلَبِ الرَّدِّ لِهَذَا الضَّلَالِ الْمُبِينِ، ذَاكِرِينَ أَنَّ فِي الْإِعْرَاضِ [عَنْ ذَلِكَ خِذْلَانًا لِلْمُؤْمِنِينَ] ، وَظَنَّ (3) أَهْلُ الطُّغْيَانِ نَوْعًا مِنَ الْعَجْزِ [عَنْ] (4) رَدِّ هَذَا الْبُهْتَانِ، فَكَتَبْتُ مَا يَسَّرَهُ اللَّهُ مِنَ الْبَيَانِ، [وَفَاءً بِمَا أَخَذَهُ اللَّهُ مِنَ] الْمِيثَاقِ عَلَى أَهْلِ الْعِلْمِ، وَالْإِيمَانِ، وَقِيَامًا بِالْقِسْطِ، وَشَهَادَةً
--------------------------------------------
[নবুওয়াত প্রমাণের] কিতাবে (১) ।
[জ্ঞান গোপন করার নিষেধাজ্ঞা][ (পরিচ্ছেদ (২) .) ] .
যখন তারা এই সুস্পষ্ট বিভ্রান্তির খণ্ডন চেয়ে অত্যন্ত পীড়াপীড়ি করল, এবং তারা উল্লেখ করল যে, এ থেকে [মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মুমিনদের জন্য এক প্রকার লাঞ্ছনা], আর সীমালঙ্ঘনকারীরা এই অপবাদ খণ্ডন করার ক্ষেত্রে এক ধরণের অক্ষমতা ধারণা করে বসল, তখন আমি আল্লাহর সহজ করে দেওয়া বর্ণনাটি লিখলাম; আল্লাহ জ্ঞান ও ঈমানদারদের নিকট থেকে যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন তার পূর্ণতা স্বরূপ, এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সাক্ষ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
لِلَّهِ (1) ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا} [سُورَةُ النِّسَاءِ: 135] ، وَاللَّيُّ (2) هُوَ تَغْيِيرُ الشَّهَادَةِ، [وَالْإِعْرَاضُ كِتْمَانُهَا.
وَاللَّهُ تَعَالَى] قَدْ أَمَرَ بِالصِّدْقِ، وَالْبَيَانِ، وَنَهَى عَنِ الْكَذِبِ، وَالْكِتْمَانِ فِيمَا يُحْتَاجُ [إِلَى مَعْرِفَتِهِ، وَإِظْهَارِهِ، كَمَا قَالَ: النَّبِيُّ] (3) صلى الله عليه وسلم فِي الْحَدِيثِ الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ: ( «الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا، فَإِنْ صَدَقَا، وَبَيَّنَا بُورِكَ [لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا، وَإِنْ كَتَمَا، وَكَذَّبَا» (4) ] «مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا» (5) .) .
وَقَالَ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} [سُورَةُ الْمَائِدَةِ: 8] .
--------------------------------------------
আল্লাহর জন্য (১), যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষী হও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে অথবা পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে বিত্তবান হোক বা নিঃস্ব, আল্লাহ উভয়েরই যোগ্যতম অভিভাবক। সুতরাং তোমরা ন্যায়বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা পেঁচালো কথা বলো কিংবা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আল্লাহ তোমরা যা করো সে বিষয়ে সম্যক অবগত।} [সূরা আন-নিসা: ১৩৫]। আর 'লাই' (২) হলো সাক্ষ্য পরিবর্তন করা, [আর 'ইরাদ' হলো তা গোপন করা।
এবং মহান আল্লাহ] সত্যবাদিতা ও সুস্পষ্ট বর্ণনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মিথ্যাচার ও গোপন করা থেকে নিষেধ করেছেন যা [জানার ও প্রকাশ করার প্রয়োজন রয়েছে। যেমন নবী] (৩) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুখারি ও মুসলিমের সর্বসম্মত এক হাদিসে বলেছেন: ( «ক্রেতা ও বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের ইখতিয়ার (চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিলের অধিকার) থাকে। যদি তারা সত্য কথা বলে এবং (পণ্যের ত্রুটি) বর্ণনা করে, তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা [গোপন করে এবং মিথ্যা বলে (৪) ] তবে তাদের কেনা-বেচার বরকত মিটিয়ে দেওয়া হয় (৫)।» ) ।
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাক্ষ্যদানে সুদৃঢ় থাক এবং কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ না করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটাই তাকওয়ার নিকটতর।} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৮]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وَمِنْ أَعْظَمِ الشَّهَادَاتِ مَا جَعَلَ اللَّهُ [أُمَّةَ مُحَمَّدٍ (1) ] شُهَدَاءَ عَلَيْهِ حَيْثُ قَالَ: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [سُورَةُ الْبَقَرَةِ: 143] .
وَقَالَ تَعَالَى: {وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ} [سُورَةُ الْحَجِّ: 78] ، وَالْمَعْنَى [عِنْدَ الْجُمْهُورِ أَنَّ اللَّهَ سَمَّاهُمُ] الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلِ نُزُولِ الْقُرْآنِ، وَفِي الْقُرْآنِ.
وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَتَمَ شَهَادَةً عِنْدَهُ مِنَ اللَّهِ} [سُورَةُ الْبَقَرَةِ: 140] ، وَقَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ} [سُورَةُ آلِ عِمْرَانَ: 187] ، وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ - إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} [سُورَةُ الْبَقَرَةِ: 159 - 160] ، لَا سِيَّمَا الْكِتْمَانَ إِذَا لَعَنَ [آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا، كَمَا فِي الْأَثَرِ: «إِذَا لَعَنَ] آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا، فَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ عِلْمٌ فَلْيُظْهِرْهُ، فَإِنَّ كَاتِمَ الْعِلْمِ يَوْمَئِذٍ كَكَاتِمِ [مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ» (2) .
--------------------------------------------
আর মহানতম সাক্ষ্যসমূহের মধ্যে একটি হলো আল্লাহ যা [মুহাম্মদ (১)-এর উম্মতকে] তাঁর ওপর সাক্ষী করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন" [সূরা আল-বাকারা: ১৪৩]।
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি; এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের আদর্শ। তিনি ইতিপূর্বে তোমাদের নাম রেখেছেন 'মুসলিম' এবং এই কিতাবেও, যাতে রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও" [সূরা আল-হাজ্জ: ৭৮]। জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে এর অর্থ হলো, [আল্লাহ তাদের নাম রেখেছেন] 'মুসলিম' কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে এবং কুরআনেও।
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার নিকট থাকা সাক্ষ্যকে গোপন করে?" [সূরা আল-বাকারা: ১৪০]। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ আহলে কিতাবদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তোমরা অবশ্যই তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না" [সূরা আলে ইমরান: ১৮৭]। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয় যারা আমি যেসব স্পষ্ট নিদর্শন ও হিদায়াত নাযিল করেছি তা গোপন করে, কিতাবে মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর; আল্লাহ তাদেরকে লানত করেন এবং লানতকারীরাও তাদেরকে লানত করে। তবে তারা ব্যতীত যারা তওবা করেছে, নিজেদের সংশোধন করেছে এবং সত্যকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে; তাদের তওবা আমি কবুল করব এবং আমি অতিশয় তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু" [সূরা আল-বাকারা: ১৫৯-১৬০]। বিশেষ করে সেই গোপন করা যখন [এই উম্মতের শেষের লোকেরা প্রথমের লোকেদের লানত করবে, যেমনটি আসারে এসেছে: "যখন] এই উম্মতের শেষের লোকেরা প্রথমের লোকেদের লানত করবে, তখন যার নিকট জ্ঞান আছে সে যেন তা প্রকাশ করে। কেননা সেদিন জ্ঞান গোপনকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো হবে যে [আল্লাহর পক্ষ থেকে মুহাম্মদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা গোপন করল"] (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وَذَلِكَ أَنَّ أَوَّلَ] هَذِهِ الْأُمَّةِ هُمُ (1) الَّذِينَ قَامُوا بِالدِّينِ تَصْدِيقًا، وَعِلْمًا، وَعَمَلًا، وَتَبْلِيغًا، فَالطَّعْنُ فِيهِمْ [طَعْنٌ فِي الدِّينِ مُوجِبٌ لِلْإِعْرَاضِ عَمَّا] بَعَثَ اللَّهُ بِهِ (2) النَّبِيِّينَ.
وَهَذَا كَانَ مَقْصُودَ أَوَّلِ مَنْ أَظْهَرَ بِدْعَةَ التَّشَيُّعِ (3) ، فَإِنَّمَا كَانَ قَصْدُهُ (4) [الصَّدَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ، وَإِبْطَالَ مَا جَاءَتْ] بِهِ الرُّسُلُ عَنِ اللَّهِ، وَلِهَذَا كَانُوا يُظْهِرُونَ ذَلِكَ بِحَسَبِ ضَعْفِ الْمِلَّةِ، فَظَهَرَ [فِي الْمَلَاحِدَةِ حَقِيقَةُ هَذِهِ الْبِدَعِ الْمُضِلَّةِ] لَكِنْ رَاجَ كَثِيرٌ مِنْهَا عَلَى مَنْ لَيْسَ مِنَ الْمُنَافِقِينَ الْمُلْحِدِينَ، لِنَوْعٍ مِنَ الشُّبْهَةِ، وَالْجَهَالَةِ [الْمَخْلُوطَةِ (5) بِهَوًى، فَقُبِلَ (6) مَعَهُ الضَّلَالَةُ] ، وَهَذَا أَصْلُ كُلِّ بَاطِلٍ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: (7) {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى - مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى - وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى - إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [سُورَةُ النَّجْمِ: 1 - 4] إِلَى قَوْلِهِ: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى - وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى - أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنْثَى - تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَى - إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءٌ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِنْ رَبِّهِمُ الْهُدَى} [سُورَةُ النَّجْمِ: 19 - 23] ، فَنَزَّهَ اللَّهُ رَسُولَهُ عَنِ الضَّلَالِ، وَالْغَيِّ، وَالضَّلَالُ عَدَمُ الْعِلْمِ، وَالْغَيُّ اتِّبَاعُ الْهَوَى.
--------------------------------------------
আর তা এজন্য যে, এই উম্মতের অগ্রগামীরা তারাই ছিলেন যারা সত্যয়ন, জ্ঞান, আমল ও প্রচারের মাধ্যমে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সুতরাং তাদের প্রতি কটাক্ষ করা মানেই দ্বীনের প্রতি কটাক্ষ করা, যা আল্লাহ নবীদের যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা থেকে বিমুখ হওয়াকে আবশ্যক করে।
আর শিয়া মতবাদের বিদআত যে প্রথম প্রকাশ করেছিল, তার উদ্দেশ্যও এটাই ছিল। মূলত তার উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিমুখ করা এবং রাসুলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছিলেন তা বাতিল করে দেওয়া। এই কারণেই মিল্লাতের (ধর্মাদর্শের) দুর্বলতা অনুযায়ী তারা তা প্রকাশ করত। ফলে মুলহিদদের (ধর্মত্যাগীদের) মাঝে এই পথভ্রষ্ট বিদআতগুলোর প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়। তবে এগুলোর অনেক কিছুই এমন ব্যক্তিদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পায় যারা মুনাফিক বা মুলহিদ ছিল না, বরং এক প্রকার সংশয় এবং প্রবৃত্তির সাথে মিশ্রিত অজ্ঞতার কারণে পথভ্রষ্টতা তাদের নিকট গৃহীত হয়। আর এটাই হলো সকল বাতিলের মূল ভিত্তি।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয় - তোমাদের সঙ্গী (মুহাম্মাদ) পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি - আর তিনি প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না - এ তো কেবল ওহী যা অবতীর্ণ করা হয়} [সূরা আন-নাজম: ১ - ৪] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উজ্জা সম্পর্কে? - এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে? - তবে কি তোমাদের জন্য পুত্রসন্তান আর আল্লাহর জন্য কন্যাসন্তান? - তবে তো এটা এক অন্যায্য বণ্টন। - এগুলো তো কেবল কতগুলো নাম যা তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ, আল্লাহ এর কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। তারা তো কেবল ধারণা এবং নফস যা কামনা করে তার অনুসরণ করে, অথচ তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের কাছে হিদায়াত এসেছে} [সূরা আন-নাজম: ১৯ - ২৩]। সুতরাং আল্লাহ তাঁর রাসুলকে পথভ্রষ্টতা ও বিপথগামিতা থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। আর পথভ্রষ্টতা হলো জ্ঞানের অভাব এবং বিপথগামিতা হলো প্রবৃত্তির অনুসরণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا} [سُورَةُ الْأَحْزَابِ: 72] ، فَالظَّلُومُ غَاوٍ، وَالْجَهُولُ ضَالٌّ إِلَّا مَنْ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {لِيُعَذِّبَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْمُشْرِكِينَ وَالْمُشْرِكَاتِ وَيَتُوبَ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} [سُورَةُ الْأَحْزَابِ: 73] (1) .
وَلِهَذَا أَمَرَنَا اللَّهُ أَنْ نَقُولَ فِي صَلَاتِنَا: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ - صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} ، [فَالضَّالُّ الَّذِي لَمْ يَعْرِفِ الْحَقَّ] كَالنَّصَارَى، وَالْمَغْضُوبِ عَلَيْهِ (2) الْغَاوِي الَّذِي يَعْرِفُ الْحَقَّ، وَيَعْمَلُ بِخِلَافِهِ كَالْيَهُودِ.
وَالصِّرَاطُ [الْمُسْتَقِيمُ يَتَضَمَّنُ مَعْرِفَةَ الْحَقِّ] وَالْعَمَلَ بِهِ، كَمَا فِي الدُّعَاءِ الْمَأْثُورِ: «اللَّهُمَّ أَرِنِي الْحَقَّ حَقًّا، وَوَفِّقْنِي لِاتِّبَاعِهِ، وَأَرِنِي الْبَاطِلَ [بَاطِلًا، وَوَفِّقْنِي لِاجْتِنَابِهِ، وَلَا تَجْعَلْهُ] مُشْتَبِهًا عَلَيَّ، فَأَتَّبِعَ الْهَوَى» .
وَفِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ عَائِشَةَ [رضي الله عنها (3) ] «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم (4) كَانَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يُصَلِّي يَقُولُ: (اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ، وَمِيكَائِيلَ، وَإِسْرَافِيلَ، فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ، إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ» ) (5) ، فَمَنْ خَرَجَ
--------------------------------------------
যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর মানুষ তা বহন করেছে; নিশ্চয় সে অতিশয় জালেম ও অতিশয় জাহেল} [সূরা আল-আহজাব: ৭২], সুতরাং অতিশয় জালেম হলো বিভ্রান্ত, আর অতিশয় জাহেল হলো পথভ্রষ্ট; তবে আল্লাহ যার তাওবা কবুল করেন সে ব্যতীত, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {যাতে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীদের শাস্তি দেন এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের তাওবা কবুল করেন। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [সূরা আল-আহজাব: ৭৩] (১)।
এই কারণে আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমাদের সালাতে বলতে: {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন—তাদের পথ, যাদেরকে আপনি নেয়ামত দান করেছেন; তাদের পথ নয় যারা ক্রোধভাজন হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে}, [কেননা পথভ্রষ্ট সেই ব্যক্তি যে সত্যকে চেনে না] যেমন খ্রিস্টানগণ, আর ক্রোধভাজন (২) সেই বিভ্রান্ত ব্যক্তি যে সত্য জানে কিন্তু তার বিপরীত আমল করে যেমন ইহুদিগণ।
আর সরল পথ [সত্যের জ্ঞান এবং] তার ওপর আমলকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি বর্ণিত দোয়ায় রয়েছে: «হে আল্লাহ! আমাকে সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তা অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন; আর আমাকে বাতিলকে [বাতিল হিসেবে দেখান এবং তা বর্জন করার তৌফিক দান করুন, এবং তাকে] আমার নিকট অস্পষ্ট করবেন না যাতে আমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করে ফেলি»।
সহীহ মুসলিমে আয়েশা [রাদিয়াল্লাহু আনহা (৩)] থেকে বর্ণিত যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৪) যখন রাতে সালাত পড়তে উঠতেন তখন বলতেন: (হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত, আপনার বান্দারা যে বিষয়ে মতভেদ করত আপনি তাদের মধ্যে তার ফয়সালা করে দেবেন। যে বিষয়ে সত্য হতে বিচ্যুত হয়ে মতভেদ করা হয়েছে তাতে আপনার অনুমতি ক্রমে আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। নিশ্চয় আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে হেদায়াত দান করেন)» (৫), সুতরাং যে ব্যক্তি বের হয়ে গেল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
عَنِ الصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ كَانَ مُتَّبِعًا لِظَنِّهِ، وَمَا تَهْوَاهُ نَفْسُهُ، وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ.
وَهَذَا حَالُ أَهْلِ الْبِدَعِ الْمُخَالِفَةِ لِلْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، فَإِنَّهُمْ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ، وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ، فَفِيهِمْ جَهْلٌ، وَظُلْمٌ، لَا سِيَّمَا الرَّافِضَةِ، فَإِنَّهُمْ أَعْظَمُ ذَوِي الْأَهْوَاءِ جَهْلًا وَظُلْمًا يُعَادُونَ خِيَارَ أَوْلِيَاءِ اللَّهِ [تَعَالَى] (1) مِنْ بَعْدِ النَّبِيِّينَ، مِنَ السَّابِقِينَ الْأَوَّلِينَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ، وَالْأَنْصَارِ (2) ، وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رضي الله عنهم، وَرَضُوا عَنْهُ، وَيُوَالُونَ الْكُفَّارَ، وَالْمُنَافِقِينَ مِنَ الْيَهُودِ، وَالنَّصَارَى، وَالْمُشْرِكِينَ، وَأَصْنَافِ الْمُلْحِدِينَ كَالنُّصَيْرِيَّةِ، وَالْإِسْمَاعِيلِيَّةِ، وَغَيْرِهِمْ مِنَ الضَّالِّينَ (3) ، فَتَجِدُهُمْ، أَوْ كَثِيرًا مِنْهُمْ إِذَا اخْتَصَمَ خَصْمَانِ فِي رَبِّهِمْ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، وَالْكُفَّارِ، وَاخْتَلَفَ النَّاسُ فِيمَا جَاءَتْ بِهِ الْأَنْبِيَاءُ، فَمِنْهُمْ مَنْ آمَنَ، وَمِنْهُمْ مَنْ كَفَرَ - سَوَاءٌ كَانَ الِاخْتِلَافُ بِقَوْلٍ، أَوْ عَمَلٍ كَالْحُرُوبِ الَّتِي بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ، وَأَهْلِ الْكِتَابِ، وَالْمُشْرِكِينَ - تَجِدُهُمْ يُعَاوِنُونَ الْمُشْرِكِينَ، وَأَهْلَ الْكِتَابِ عَلَى الْمُسْلِمِينَ أَهْلِ الْقُرْآنِ.
كَمَا قَدْ جَرَّبَهُ النَّاسُ مِنْهُمْ غَيْرَ مَرَّةٍ فِي مِثْلِ إِعَانَتِهِمْ لِلْمُشْرِكِينَ (4) مِنَ التُّرْكِ، وَغَيْرِهِمْ عَلَى أَهْلِ الْإِسْلَامِ بِخُرَاسَانَ، وَالْعِرَاقِ، وَالْجَزِيرَةِ، وَالشَّامِ، وَغَيْرِ
--------------------------------------------
সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে সে তার ধারণা এবং প্রবৃত্তির খেয়াল-খুশির অনুসরণকারী ছিল। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো পথনির্দেশ ছাড়াই যে ব্যক্তি তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে, তার চেয়ে বড় পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে? নিশ্চয়ই আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।
এটি হলো কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী বিদআতিদের অবস্থা; কারণ তারা কেবল ধারণা ও প্রবৃত্তির খেয়াল-খুশিরই অনুসরণ করে। ফলে তাদের মধ্যে মূর্খতা ও যুলুম রয়েছে; বিশেষ করে রাফেযীরা, কারণ তারা প্রবৃত্তির অনুসারীদের মধ্যে মূর্খতা ও যুলুমের দিক থেকে সর্বাপেক্ষা বড়। তারা নবীদের পরে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বন্ধুদের [তাআলা] (১) শত্রু জ্ঞান করে, যারা মুহাজির ও আনসারদের (২) অন্তর্ভুক্ত প্রথম অগ্রগামী দল এবং যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন—আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। অথচ তারা (রাফেযীরা) ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান, মুশরিক এবং বিভিন্ন শ্রেণির নাস্তিক যেমন নুসাইরিয়া, ইসমাইলিয়া ও অন্যান্য পথভ্রষ্টদের (৩) মতো কাফির ও মুনাফিকদের সাথে বন্ধুত্ব ও মিত্রতা স্থাপন করে। ফলে আপনি তাদের অথবা তাদের অধিকাংশকে দেখতে পাবেন যে, যখন মুমিন ও কাফিরদের মধ্য থেকে দুই পক্ষ তাদের প্রতিপালকের ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং নবীরা যা নিয়ে এসেছেন সে বিষয়ে মানুষেরা যখন মতভেদ করে—চাই সে বিশ্বাসী হোক বা অবিশ্বাসী, এবং চাই সেই মতভেদ কথা বা কাজে হোক যেমন মুসলিমদের সাথে আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধসমূহ—তখন আপনি তাদের দেখবেন যে তারা কুরআনের অনুসারী মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিক ও আহলে কিতাবদের সহায়তা করছে।
যেমনটি মানুষ তাদের পক্ষ থেকে বারবার প্রত্যক্ষ করেছে, উদাহরণস্বরূপ খোরাসান, ইরাক, জাযিরা, সিরিয়া ও অন্যান্য স্থানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তুর্কি মুশরিক (৪) ও অন্যদের তারা যে সহায়তা করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
ذَلِكَ، وَإِعَانَتِهِمْ لِلنَّصَارَى (1) عَلَى الْمُسْلِمِينَ بِالشَّامِ، وَمِصْرَ، وَغَيْرِ ذَلِكَ فِي وَقَائِعَ مُتَعَدِّدَةٍ مِنْ أَعْظَمِهَا (2) الْحَوَادِثُ الَّتِي كَانَتْ فِي الْإِسْلَامِ فِي الْمِائَةِ الرَّابِعَةِ، وَالسَّابِعَةِ، فَإِنَّهُ (3) لَمَّا قَدِمَ كُفَّارُ التُّرْكِ إِلَى بِلَادِ الْإِسْلَامِ، وَقُتِلَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ مَا (4) لَا يُحْصِي عَدَدَهُ إِلَّا رَبُّ الْأَنَامِ كَانُوا مِنْ أَعْظَمِ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلْمُسْلِمِينَ، وَمُعَاوَنَةً لِلْكَافِرِينَ (5) ، وَهَكَذَا مُعَاوَنَتُهُمْ لِلْيَهُودِ أَمْرٌ شَهِيرٌ (6) حَتَّى جَعَلَهُمُ النَّاسُ لَهُمْ كَالْحَمِيرِ.
[كلام عام عن الرافضة]
[مشابهة الرافضة لليهود والنصارى](فَصْلٌ) .
وَهَذَا الْمُصَنِّفُ سَمَّى كِتَابَهُ (مِنْهَاجَ الْكَرَامَةِ فِي مَعْرِفَةِ الْإِمَامَةِ) (7) ، وَهُوَ خَلِيقٌ بِأَنْ يُسَمَّى (مِنْهَاجَ النَّدَامَةِ) ، كَمَا أَنَّ مَنِ ادَّعَى الطَّهَارَةَ، وَهُوَ مِنَ الَّذِينَ لَمْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ، بَلْ مِنْ أَهْلِ الْجِبْتِ، [وَالطَّاغُوتِ] ، وَالنِّفَاقِ (8) كَانَ وَصْفُهُ بِالنَّجَاسَةِ، وَالتَّكْدِيرِ أَوْلَى مِنْ وَصْفِهِ [بِالتَّطْهِيرِ] (9) .
--------------------------------------------
সেই বিষয়সমূহ, এবং শাম, মিশর ও অন্যান্য স্থানে অসংখ্য যুদ্ধে মুসলিমদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের প্রতি তাদের সহযোগিতা; যার মধ্যে অন্যতম বড় ঘটনা ছিল ইসলামের ইতিহাসের চতুর্থ ও সপ্তম শতাব্দীর ঘটনাবলি। কেননা, যখন তুর্কি কাফিররা মুসলিম ভূখণ্ডে আক্রমণ করল এবং মুসলিমদের এমন সংখ্যায় হত্যা করল যা সৃষ্টির প্রতিপালক ব্যতীত কেউ গণনা করতে পারে না, তখন তারা (রাফেযীরা) ছিল মুসলিমদের প্রতি শত্রুতা পোষণকারী এবং কাফিরদের সহযোগিতাকারী ব্যক্তিদের মধ্যে অগ্রগণ্য। একইভাবে ইহুদিদের প্রতি তাদের সহযোগিতার বিষয়টিও অত্যন্ত সুপরিচিত, এমনকি মানুষ তাদের (রাফেযীদের) ইহুদিদের বাহন বা গাধার ন্যায় মনে করত।
[রাফেযীদের সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা]
[ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে রাফেযীদের সাদৃশ্য](পরিচ্ছেদ) ।
এই গ্রন্থকার তার কিতাবের নাম রেখেছেন (মিনহাজুল কারামাহ ফি মা’রিফাতিল ইমামাহ), অথচ এটি (মিনহাজুন নাদাহ) বা অনুতাপের পথ নাম পাওয়ারই অধিক যোগ্য। যেমনভাবে কেউ যদি পবিত্রতার দাবি করে অথচ সে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের অন্তরসমূহকে আল্লাহ পবিত্র করার ইচ্ছা করেননি, বরং সে জিবত, তাগুত এবং নিফাকপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত, তবে তার ক্ষেত্রে পবিত্রতার গুণের চেয়ে অপবিত্রতা ও পঙ্কিলতার গুণারোপ করাই অধিক শ্রেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَمِنْ أَعْظَمِ خَبَثِ الْقُلُوبِ أَنْ يَكُونَ فِي قَلْبِ الْعَبْدِ غِلٌّ لِخِيَارِ (1) الْمُؤْمِنِينَ، [وَسَادَاتِ أَوْلِيَاءِ] اللَّهِ بَعْدَ النَّبِيِّينَ، وَلِهَذَا لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ [تَعَالَى] (2) فِي الْفَيْءِ نَصِيبًا لِمَنْ بَعْدَهُمْ إِلَّا الَّذِينَ يَقُولُونَ: {رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [سُورَةُ الْحَشْرِ: 10] .
وَلِهَذَا كَانَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْيَهُودِ مِنَ [الْمُشَابَهَةِ فِي الْخَبَثِ] (3) ، وَاتِّبَاعِ الْهَوَى، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ أَخْلَاقِ الْيَهُودِ، وَبَيْنَهُمْ وَبَيْنَ النَّصَارَى مِنَ الْمُشَابَهَةِ فِي الْغُلُوِّ، وَالْجَهْلِ (4) ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ أَخْلَاقِ النَّصَارَى مَا أَشْبَهُوا بِهِ هَؤُلَاءِ مِنْ وَجْهٍ، وَهَؤُلَاءِ مِنْ وَجْهٍ، وَمَا زَالَ النَّاسُ يَصِفُونَهُمْ بِذَلِكَ.
وَمِنْ أَخْبَرِ [النَّاسِ بِهِمُ] الشَّعْبِيُّ (5) وَأَمْثَالُهُ مِنْ عُلَمَاءِ الْكُوفَةِ، وَقَدْ ثَبَتَ عَنِ الشَّعْبِيِّ أَنَّهُ قَالَ: (مَا رَأَيْتُ أَحْمَقَ مِنَ الْخَشَبِيَّةِ (6) لَوْ كَانُوا مِنَ الطَّيْرِ لَكَانُوا رَخَمًا (7) ، وَلَوْ كَانُوا مِنَ الْبَهَائِمِ لَكَانُوا حُمُرًا، وَاللَّهِ لَوْ طَلَبْتُ مِنْهُمْ أَنْ
--------------------------------------------
হৃদয়ের চরম কলুষতার একটি দিক হলো যে, কোনো বান্দার হৃদয়ে নবীগণের পর সর্বোত্তম মুমিন তথা আল্লাহর মনোনীত ওলীগণের প্রতি বিদ্বেষ থাকা। একারণেই মহান আল্লাহ 'ফাই' (যুদ্ধবিহীন লব্ধ সম্পদ)-এর মধ্যে পরবর্তী প্রজন্মের তাদের জন্যই কেবল অংশ রেখেছেন যারা বলে: "হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের এবং আমাদের সেই সকল ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছেন এবং যারা ঈমান এনেছেন তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি পরম দয়ালু ও অতি মেহেরবান।" [সূরা আল-হাশর: ১০]।
একারণেই তাদের এবং ইহুদিদের মধ্যে কলুষতা, প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং ইহুদিদের অন্যান্য চরিত্রের দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে। আবার তাদের এবং খ্রিষ্টানদের মধ্যে চরমপন্থা, মূর্খতা এবং খ্রিষ্টানদের অন্যান্য চরিত্রের দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে। ফলে তারা এক দিক থেকে এদের সাথে এবং অন্য দিক থেকে ওদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে; আর মানুষ সর্বদা তাদের এই গুণেই বিশেষিত করে আসছে।
তাদের সম্পর্কে সবচেয়ে অভিজ্ঞ মানুষদের মধ্যে রয়েছেন আশ-শা'বী এবং কুফার ওলামাদের মধ্যে তার মতো ব্যক্তিবর্গ। আশ-শা'বী থেকে এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "আমি 'খাশাবিয়্যাহ' অপেক্ষা অধিক নির্বোধ কাউকে দেখিনি। তারা যদি পাখি হতো তবে শকুন হতো, আর যদি চতুষ্পদ জন্তু হতো তবে গাধা হতো। আল্লাহর কসম, আমি যদি তাদের কাছে চাইতাম যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
يَمْلَئُوا لِي (1) هَذَا الْبَيْتَ ذَهَبًا عَلَى أَنْ أَكْذِبَ عَلَى عَلِيٍّ [لَأَعْطَوْنِي، وَوَاللَّهِ مَا] أَكْذِبُ عَلَيْهِ أَبَدًا) ، وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْكَلَامُ مَبْسُوطًا عَنْهُ أَكْثَرَ مِنْ هَذَا، لَكِنَّ (2) الْأَظْهَرُ أَنَّ الْمَبْسُوطَ مِنْ كَلَامِ غَيْرِهِ.
كَمَا [رَوَى أَبُو حَفْصِ بْنُ] شَاهِينَ فِي كِتَابِ اللَّطِيفِ فِي السُّنَّةِ (3) : حَدَّثَنَا (4) مُحَمَّدُ بْنُ [أَبِي] الْقَاسِمِ (5) بْنِ هَارُونَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْوَلِيدِ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنِي جَعْفَرُ [بْنُ نُصَيْرٍ الطُّوسِيُّ الْوَاسِطِيُّ] ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ لِي (6) الشَّعْبِيُّ: (أُحَذِّرُكُمْ هَذِهِ الْأَهْوَاءَ (7) [الْمُضِلَّةَ، وَشَرُّهَا الرَّافِضَةُ] لَمْ يَدْخُلُوا فِي الْإِسْلَامِ رَغْبَةً، وَلَا رَهْبَةً، وَلَكِنْ مَقْتًا لِأَهْلِ الْإِسْلَامِ، وَبَغْيًا عَلَيْهِمْ قَدْ حَرَّقَهُمْ عَلِيٌّ رضي الله عنه بِالنَّارِ (8) ، وَنَفَاهُمْ إِلَى الْبُلْدَانِ، مِنْهُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَبَأٍ: يَهُودِيٌّ مِنْ يَهُودِ صَنْعَاءَ نَفَاهُ إِلَى سَابَاطَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَسَارٍ نَفَاهُ إِلَى خَازِرَ (9) .
--------------------------------------------
তারা যেন (১) আলী সম্পর্কে মিথ্যা বলার জন্য আমার এই ঘরটি স্বর্ণে পূর্ণ করে দেয়, [তবে তারা অবশ্যই আমাকে তা দিত, কিন্তু আল্লাহর শপথ,] আমি তাঁর সম্পর্কে কখনো মিথ্যা বলব না)। এই কথাটি তাঁর থেকে এর চেয়েও বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, তবে (২) অধিকতর স্পষ্ট বিষয় এই যে, বিস্তারিত অংশটুকু অন্যের কথা।
যেমন [আবু হাফস ইবনে] শাহীন তাঁর ‘আল-লাতিফ ফিস সুন্নাহ’ গ্রন্থে (৩) বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মাদ বিন [আবুল] কাসিম (৫) বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন ওয়ালিদ আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর [বিন নুসাইর আত-তুসি আল-ওয়াসিতি] আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: (৬) শা’বী আমাকে বলেছেন: (আমি তোমাদেরকে এই [পথভ্রষ্টকারী] প্রবৃত্তিগুলো (৭) সম্পর্কে সতর্ক করছি, [যার মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো রাফেজিরা;] তারা ইসলামে কোনো অনুরাগ বা ভীতির কারণে প্রবেশ করেনি, বরং মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেছে। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদের আগুন দিয়ে (৮) পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন দেশে নির্বাসিত করেছিলেন। তাদের মধ্যে একজন হলো আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা: সে সানআর ইহুদিদের মধ্যকার একজন ইহুদি ছিল, যাকে তিনি সাবাতে নির্বাসিত করেছিলেন; আর আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াসারকে তিনি খাযিরে (৯) নির্বাসিত করেছিলেন)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَآيَةُ (1) ذَلِكَ أَنَّ مِحْنَةَ الرَّافِضَةِ مِحْنَةُ الْيَهُودِ، قَالَتِ [الْيَهُودُ] (2) : لَا يَصْلُحُ الْمُلْكُ إِلَّا فِي آلِ دَاوُدَ، وَقَالَتِ الرَّافِضَةُ: لَا تَصْلُحُ الْإِمَامَةُ إِلَّا فِي
--------------------------------------------
আর এর নিদর্শন (১) হলো এই যে, রাফেজিদের ফিতনা ইহুদিদের ফিতনারই অনুরূপ। [ইহুদিরা] (২) বলেছে: রাজত্ব কেবল দাউদ-পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা সমীচীন। আর রাফেজিরা বলেছে: ইমামত কেবল...-এর মধ্যেই সমীচীন হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وَلَدِ (1) عَلِيٍّ، وَقَالَتِ الْيَهُودُ (2) : لَا جِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَخْرُجَ الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ، وَيَنْزِلَ سَيْفٌ (3) مِنَ السَّمَاءِ، وَقَالَتِ الرَّافِضَةُ: لَا جِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَخْرُجَ الْمَهْدِيُّ، وَيُنَادِيَ مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ، وَالْيَهُودُ يُؤَخِّرُونَ [الصَّلَاةَ إِلَى اشْتِبَاكِ النُّجُومِ] ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ يُؤَخِّرُونَ الْمَغْرِبَ إِلَى اشْتِبَاكِ النُّجُومِ، وَالْحَدِيثُ عَنِ النَّبِيِّ - صَلَّى [اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَنَّهُ قَالَ (4) : ( «لَا تَزَالُ] أُمَّتِي عَلَى الْفِطْرَةِ مَا لَمْ يُؤَخِّرُوا الْمَغْرِبَ إِلَى اشْتِبَاكِ النُّجُومِ.» ) (5) ، وَالْيَهُودُ تَزُولُ عَنِ الْقِبْلَةِ شَيْئًا، وَكَذَلِكَ [الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ] تَنُودُ (6) فِي الصَّلَاةِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ تُسْدِلُ أَثْوَابَهَا فِي الصَّلَاةِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، [وَالْيَهُودُ لَا يَرَوْنَ عَلَى النِّسَاءِ] عِدَّةً، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ حَرَّفُوا التَّوْرَاةَ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ حَرَّفُوا الْقُرْآنَ، وَالْيَهُودُ قَالُوا: [افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْنَا خَمْسِينَ] صَلَاةً، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ (* وَالْيَهُودُ لَا يُخْلِصُونَ السَّلَامَ عَلَى
--------------------------------------------
আলীর সন্তান (১), এবং ইহুদিরা বলেছে (২): আল্লাহর পথে কোনো জিহাদ নেই যতক্ষণ না মসীহ দাজ্জাল বের হয় এবং আকাশ থেকে একটি তলোয়ার (৩) অবতীর্ণ হয়। রাফেযিরা বলেছে: আল্লাহর পথে কোনো জিহাদ নেই যতক্ষণ না মাহদী বের হন এবং আকাশ থেকে এক আহ্বানকারী আহ্বান করেন। ইহুদিরা [সালাতকে নক্ষত্রপুঞ্জ ঘন হওয়া পর্যন্ত] বিলম্বিত করে, একইভাবে রাফেযিরা মাগরিবকে নক্ষত্রপুঞ্জ ঘন হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করে। নবী -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- থেকে বর্ণিত হাদীস যে তিনি বলেছেন (৪): ( [“ততক্ষণ পর্যন্ত] আমার উম্মত ফিতরাতের ওপর থাকবে যতক্ষণ তারা মাগরিবকে নক্ষত্রপুঞ্জ ঘন হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করবে না।” ) (৫)। ইহুদিরা কিবলা থেকে কিছুটা বিচ্যুত হয়, একইভাবে [রাফেযিরা; ইহুদিরা] সালাতে মাথা ও কাঁধ দোলায় (৬), একইভাবে রাফেযিরাও। ইহুদিরা সালাতে তাদের কাপড় ঝুলিয়ে দেয়, একইভাবে রাফেযিরাও। [ইহুদিরা নারীদের ওপর] ইদ্দত পালন আবশ্যক মনে করে না, একইভাবে রাফেযিরাও। ইহুদিরা তাওরাত বিকৃত করেছে, একইভাবে রাফেযিরা কুরআন বিকৃত করেছে। ইহুদিরা বলেছে: [আল্লাহ আমাদের ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত] সালাত ফরজ করেছেন, একইভাবে রাফেযিরাও। (* এবং ইহুদিরা কারো প্রতি একনিষ্ঠভাবে সালাম প্রদান করে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الْمُؤْمِنِينَ (1) إِنَّمَا يَقُولُونَ: السَّامُ عَلَيْكُمْ، وَالسَّامُ الْمَوْتُ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ *) (2) وَالْيَهُودُ لَا يَأْكُلُونَ الْجِرِّيَّ، وَالْمَرْمَاهَى، [وَالذِّنَابَ] (3) ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ لَا يَرَوْنَ (4) الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ.
وَالْيَهُودُ يَسْتَحِلُّونَ أَمْوَالَ النَّاسِ كُلِّهِمْ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَقَدْ أَخْبَرَنَا (5) اللَّهُ عَنْهُمْ بِذَلِكَ (6) فِي الْقُرْآنِ [أَنَّهُمْ] (7) : {قَالُوا لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِيلٌ} [سُورَةُ آلِ عِمْرَانَ: 75] ، [وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ] (8) ، وَالْيَهُودُ تَسْجُدُ عَلَى
--------------------------------------------
মুমিনদের (১) তারা কেবল বলে: ‘আস-সামু আলাইকুম’ (তোমাদের ওপর মৃত্যু বর্ষিত হোক), আর ‘সাম’ অর্থ হলো মৃত্যু; রাফেযীগণও তদ্রূপ। (২) ইহুদিরা জিররি (আঁশহীন মাছ বিশেষ), মারমাহা (সর্পিল মাছ) এবং [যিনাব] (৩) ভক্ষণ করে না; রাফেযীগণও তদ্রূপ। ইহুদিরা মোজার ওপর মাসেহ করা বৈধ মনে করে না (৪); রাফেযীগণও তদ্রূপ।
ইহুদিরা সকল মানুষের সম্পদ (লুণ্ঠন) বৈধ মনে করে; রাফেযীগণও তদ্রূপ। আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে কুরআনে এই সংবাদ দিয়েছেন (৫) (৬) [যে তারা] (৭): {তারা বলে: ‘উম্মীদের (অনারব বা নিরক্ষরদের) ব্যাপারে আমাদের ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই’} [সূরা আল-ইমরান: ৭৫], [রাফেযীগণও তদ্রূপ] (৮)। আর ইহুদিরা সেজদা করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
قُرُونِهَا فِي الصَّلَاةِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، [وَالْيَهُودُ لَا تَسْجُدُ حَتَّى] تَخْفُقُ بِرُءُوسِهَا مِرَارًا شِبْهَ (1) الرُّكُوعِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ تُبْغِضُ (2) جِبْرِيلَ، وَيَقُولُونَ هُوَ عَدُوُّنَا مِنَ الْمَلَائِكَةِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ يَقُولُونَ: غَلِطَ [جِبْرِيلُ] (3) بِالْوَحْيِ عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم (4) ، [وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ] (5) وَافَقُوا النَّصَارَى فِي خَصْلَةِ النَّصَارَى: لَيْسَ لِنِسَائِهِمْ صَدَاقٌ إِنَّمَا يَتَمَتَّعُونَ بِهِنَّ تَمَتُّعًا (6) ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ يَتَزَوَّجُونَ بِالْمُتْعَةِ (7) ، وَيَسْتَحِلُّونَ الْمُتْعَةَ.
وَفُضِّلَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى عَلَى الرَّافِضَةِ بِخَصْلَتَيْنِ: سُئِلَتِ الْيَهُودُ مَنْ خَيْرُ أَهْلِ مِلَّتِكُمْ.؟ قَالُوا: أَصْحَابُ مُوسَى، وَسُئِلَتِ النَّصَارَى مَنْ خَيْرُ أَهْلِ مِلَّتِكُمْ؟ قَالُوا: حَوَارِيُّ عِيسَى (8) ، وَسُئِلَتِ الرَّافِضَةُ: مَنْ شَرُّ أَهْلِ مِلَّتِكُمْ؟ قَالُوا: أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم (9) أُمِرُوا بِالِاسْتِغْفَارِ لَهُمْ فَسَبَوْهُمْ، فَالسَّيْفُ (10) عَلَيْهِمْ مَسْلُولٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، لَا تَقُومُ لَهُمْ رَايَةٌ، وَلَا يَثْبُتُ لَهُمْ قَدَمٌ، وَلَا تَجْتَمِعُ لَهُمْ كَلِمَةٌ (11) ، وَلَا تُجَابُ لَهُمْ دَعْوَةٌ،
--------------------------------------------
সালাতের মধ্যে তাদের শিংসমূহ, তেমনি রাফেজীরাও। [আর ইহুদিরা সিজদা করে না যতক্ষণ না] রুকুর মতো করে (১) তাদের মাথা বারবার ঝোঁকায়, রাফেজীরাও তাই। ইহুদিরা জিবরাঈলকে ঘৃণা করে (২) এবং তারা বলে যে তিনি ফেরেশতাদের মধ্যে আমাদের শত্রু। তেমনিভাবে রাফেজীরাও বলে: জিবরাঈল (৩) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (৪) ওপর ওহি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। [আর একইভাবে রাফেজীরাও] (৫) একটি বিষয়ে খ্রিস্টানদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে: তাদের নারীদের কোনো মোহরানা নেই, বরং তারা তাদের সাথে কেবল ভোগ-উপভোগ করে (৬), তেমনি রাফেজীরাও মুতা বিবাহ করে (৭) এবং মুতাকে বৈধ মনে করে।
ইহুদি ও খ্রিস্টানরা রাফেজীদের ওপর দুটি বৈশিষ্ট্যে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে: ইহুদিদের যখন জিজ্ঞেস করা হলো, তোমাদের মিল্লাতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক কারা? তারা উত্তর দিল: মূসার সাথীবৃন্দ। খ্রিস্টানদের যখন জিজ্ঞেস করা হলো, তোমাদের মিল্লাতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক কারা? তারা বলল: ঈসার হাওয়ারীগণ (সহচরবৃন্দ) (৮)। আর যখন রাফেজীদের জিজ্ঞেস করা হলো, তোমাদের মিল্লাতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক কারা? তারা বলল: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীবৃন্দ (সাহাবীগণ) (৯)। অথচ তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সাহাবীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে, কিন্তু তারা তাদের গালিগালাজ করে। ফলে কিয়ামত পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার (১০) কোষমুক্ত থাকবে, তাদের কোনো ঝাণ্ডা উড্ডীন হবে না, তাদের কোনো পা স্থির হবে না, তাদের কোনো কথা বা সিদ্ধান্ত ঐক্যবদ্ধ হবে না (১১), এবং তাদের কোনো প্রার্থনা কবুল করা হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
دَعْوَتُهُمْ مَدْحُوضَةٌ، وَكَلِمَتُهُمْ مُخْتَلِفَةٌ، وَجَمْعُهُمْ مُتَفَرِّقٌ (1) كُلَّمَا أَوْقَدُوا نَارًا لِلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ.
قُلْتُ: هَذَا الْكَلَامُ بَعْضُهُ [ثَابِتٌ عَنِ الشَّعْبِيِّ كَقَوْلِهِ] : لَوْ كَانَتِ الشِّيعَةُ مِنَ الْبَهَائِمِ لَكَانُوا (2) حُمُرًا، وَلَوْ كَانَتْ مِنَ الطَّيْرِ لَكَانُوا (3) رَخَمًا، فَإِنَّ هَذَا ثَابِتٌ عَنْهُ.
قَالَ ابْنُ شَاهِينَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ (4) النَّحْوِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ الْحَرْبِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ (5) ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، فَذَكَرَهُ، وَأَمَّا السِّيَاقُ الْمَذْكُورُ، فَهُوَ مَعْرُوفٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ الشَّعْبِيِّ.
وَرَوَى أَبُو عَاصِمٍ خُشَيْشُ بْنُ أَصْرَمَ. (6) فِي كِتَابِهِ، وَرَوَاهُ مِنْ طَرِيقِهِ أَبُو عَمْرٍو الطَّلَمَنْكِيُّ فِي كِتَابِهِ فِي الْأُصُولِ قَالَ (* أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا السَّنَدِيُّ بْنُ سُلَيْمَانَ
--------------------------------------------
তাদের দাবি বাতিলযোগ্য, তাদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী এবং তাদের দল ছিন্নভিন্ন (১); যখনই তারা যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করে, আল্লাহ তা নির্বাপিত করে দেন।
আমি বলি: এই বক্তব্যের কিছু অংশ [শাবি থেকে প্রমাণিত, যেমন তাঁর উক্তি]: যদি শিয়ারা চতুষ্পদ জন্তু হতো, তবে তারা (২) গাধা হতো; আর যদি তারা পাখি হতো, তবে তারা (৩) শকুন হতো; নিশ্চয়ই এটি তাঁর থেকে প্রমাণিত।
ইবনে শাহীন বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস (৪) আন-নাহবী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম আল-হারবি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু রাবি আল-জাহরানি (৫), আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে মিগওয়াল, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। আর উল্লিখিত প্রেক্ষাপটটি আবদুর রহমান ইবনে মালিক ইবনে মিগওয়াল কর্তৃক তাঁর পিতার সূত্রে শাবি থেকে সুপরিচিত।
আবু আসিম খুশাইশ ইবনে আসরাম (৬) তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন, এবং আবু আমর আত-তালামনকি তাঁর 'আল-উসুল' কিতাবে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি (আবু আসিম) বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ এবং আবদুল ওয়ারিস ইবনে ইব্রাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আস-সানাদি ইবনে সুলাইমান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الْفَارِسِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ *) (1) بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ (2) ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ (3) : (قُلْتُ لِعَامِرٍ الشَّعْبِيِّ: مَا رَدُّكَ عَنْ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ، [وَقَدْ كُنْتَ] فِيهِمْ رَأْسًا؟ قَالَ: رَأَيْتُهُمْ يَأْخُذُونَ بِأَعْجَازٍ لَا صُدُورَ لَهَا، ثُمَّ قَالَ لِي: يَا مَالِكُ لَوْ أَرَدْتُ أَنْ يُعْطُونِي رِقَابَهُمْ عَبِيدًا، أَوْ يَمْلَئُوا لِي بَيْتِي ذَهَبًا، أَوْ يَحُجُّوا إِلَى بَيْتِي هَذَا عَلَى أَنْ أَكْذِبَ عَلَى عَلِيٍّ رضي الله عنه لَفَعَلُوا، وَلَا وَاللَّهِ لَا أَكْذِبُ عَلَيْهِ أَبَدًا. يَا مَالِكُ إِنِّي قَدْ دَرَسْتُ الْأَهْوَاءَ (4) ، فَلَمْ أَرَ فِيهَا (5) أَحْمَقَ مِنَ الْخَشَبِيَّةِ (6) ، فَلَوْ كَانُوا مِنَ الطَّيْرِ لَكَانُوا رَخَمًا، وَلَوْ كَانُوا مِنَ الدَّوَابِّ لَكَانُوا حُمُرًا. يَا مَالِكُ لَمْ يَدْخُلُوا فِي الْإِسْلَامِ رَغْبَةً فِيهِ [لِلَّهِ] (7) ، وَلَا رَهْبَةً مِنَ اللَّهِ، وَلَكِنْ مَقْتًا مِنَ اللَّهِ عَلَيْهِمْ (8) ، وَبَغْيًا (9) مِنْهُمْ عَلَى أَهْلِ الْإِسْلَامِ يُرِيدُونَ أَنْ يَغْمِصُوا (10) دِينَ الْإِسْلَامِ، كَمَا غَمِصَ (11) بُولِصُ بْنُ يُوشَعَ مَلِكُ الْيَهُودِ دِينَ النَّصْرَانِيَّةِ، وَلَا تُجَاوِزُ (12)
--------------------------------------------
আল-ফারিসি, আমার নিকট আব্দুল্লাহ (১) ইবনে জাফর আর-রাক্কি (২) বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন (৩): (আমি আমির আশ-শা'বিকে বললাম: "এই কওম থেকে আপনাকে কিসে ফিরিয়ে দিল, অথচ আপনি তাদের মধ্যে একজন প্রধান ব্যক্তি ছিলেন?" তিনি বললেন: "আমি তাদের এমন লেজ ধরতে দেখেছি যার কোনো মাথা (ভিত্তি) নেই।" অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: "হে মালিক, আমি যদি চাইতাম যে তারা তাদের ঘাড়গুলো আমাকে দাসের ন্যায় দিয়ে দিক, অথবা আমার ঘরটি স্বর্ণ দিয়ে পূর্ণ করে দিক, কিংবা আমার এই ঘরের দিকে তারা হজ করে আসুক—এই শর্তে যে আমি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নামে মিথ্যা বলব—তবে তারা তাই করত। আল্লাহর শপথ, আমি কখনই তাঁর নামে মিথ্যা বলব না। হে মালিক, আমি প্রবৃত্তিপূজারীদের (৪) মতবাদগুলো অধ্যয়ন করেছি, তাতে (৫) খাশাবিয়্যাহদের (৬) চেয়ে অধিক নির্বোধ আর কাউকে দেখিনি। তারা যদি পাখি হতো, তবে শকুন হতো; আর যদি চতুষ্পদ জন্তু হতো, তবে গাধা হতো। হে মালিক, তারা ইসলামের প্রতি অনুরাগী হয়ে [আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য] (৭) ইসলামে প্রবেশ করেনি, আর না আল্লাহর ভয়ে; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর গজবস্বরূপ (৮) এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের বিদ্রোহস্বরূপ (৯) তারা ইসলামে প্রবেশ করেছে। তারা ইসলামের দ্বীনকে তুচ্ছ ও কলঙ্কিত (১০) করতে চায়, যেমনভাবে (১১) ইহুদিদের রাজা ইউশা’র পুত্র পৌল খ্রিস্টধর্মকে কলঙ্কিত করেছিল। আর তা অতিক্রম (১২) করে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
صَلَاتُهُمْ آذَانَهُمْ، قَدْ حَرَّقَهُمْ عَلِيُّ [بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه بِالنَّارِ] (1) ، وَنَفَاهُمْ مِنَ الْبِلَادِ، مِنْهُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَبَأٍ يَهُودِيٌّ مِنْ يَهُودِ صَنْعَاءَ نَفَاهُ إِلَى سَابَاطِ (2) ، وَأَبُو بَكْرٍ الْكَرَوَّسُ نَفَاهُ إِلَى الْجَابِيَةِ (3) ، وَحَرَّقَ مِنْهُمْ قَوْمًا أَتَوْهُ، فَقَالُوا: أَنْتَ هُوَ، فَقَالَ: مَنْ أَنَا؟ فَقَالُوا: أَنْتَ رَبُّنَا، فَأَمَرَ بِنَارٍ، فَأُجِّجَتْ، فَأُلْقَوْا فِيهَا، وَفِيهِمْ قَالَ (4) . عَلِيٌّ رضي الله عنه (5) :
لَمَّا رَأَيْتُ الْأَمْرَ أَمْرًا مُنْكَرًا
… أَجَّجْتُ نَارِي، وَدَعَوْتُ قَنْبَرَا (6)
يَا مَالِكُ، إِنَّ مِحْنَتَهُمْ مِحْنَةُ الْيَهُودِ قَالَتِ الْيَهُودُ: لَا يَصْلُحُ الْمُلْكُ إِلَّا فِي آلِ دَاوُدَ، وَكَذَلِكَ قَالَتِ الرَّافِضَةُ (7) : لَا تَصْلُحُ الْإِمَامَةُ إِلَّا فِي. وَلَدِ عَلِيٍّ (8) ، وَقَالَتِ الْيَهُودُ: لَا جِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَبْعَثَ اللَّهُ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ، وَيَنْزِلَ سَيْفٌ (9) مِنَ السَّمَاءِ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ قَالُوا: لَا جِهَادَ فِي.
--------------------------------------------
তাদের সালাত হলো তাদের আজান; আলী [ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু] তাদেরকে [আগুনের দ্বারা] পুড়িয়ে দিয়েছিলেন (১) এবং তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করেছিলেন। তাদের মধ্যে সানাআ-এর ইহুদিদের অন্তর্ভুক্ত আব্দুল্লাহ বিন সাবা নামক এক ইহুদি ছিল, যাকে তিনি সাবাতে (২) নির্বাসিত করেছিলেন। এবং আবু বকর আল-কারাউসকে তিনি জাবিয়ায় (৩) নির্বাসিত করেছিলেন। তিনি তাদের মধ্যকার এমন একদল লোককে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন যারা তার কাছে এসে বলেছিল: 'আপনিই তিনি'। তিনি বললেন: 'আমি কে?' তারা বলল: 'আপনি আমাদের রব'। তখন তিনি আগুনের নির্দেশ দিলেন এবং তা প্রজ্বলিত করা হলো, অতঃপর তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হলো। তাদের সম্পর্কে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু (৫) বলেছেন (৪):
যখন আমি বিষয়টিকে একটি গর্হিত বিষয় হিসেবে দেখলাম
… আমি আমার আগুন প্রজ্বলিত করলাম এবং কানবারকে ডাকলাম (৬)
হে মালিক, নিশ্চয়ই তাদের ফিতনা ইহুদিদের ফিতনার মতো। ইহুদিরা বলেছিল: দাউদ (আ.)-এর বংশধর ব্যতীত রাজত্ব অন্য কারো জন্য উপযুক্ত নয়। অনুরূপভাবে রাফেজিরা (৭) বলেছে: আলীর বংশধর ব্যতীত ইমামত (৮) অন্য কারো জন্য উপযুক্ত নয়। ইহুদিরা বলেছিল: আল্লাহর পথে ততক্ষণ কোনো জিহাদ নেই যতক্ষণ না আল্লাহ মাসিহ দাজ্জালকে প্রেরণ করবেন এবং আকাশ থেকে একটি তলোয়ার (৯) অবতীর্ণ হবে। অনুরূপভাবে রাফেজিরা বলেছে: [জিহাদ নেই]...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَخْرُجَ الرِّضَا مِنْ آلِ مُحَمَّدٍ، وَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ: اتَّبَعُوهُ.
وَقَالَتِ الْيَهُودُ: فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْنَا خَمْسِينَ صَلَاةً فِي كُلِّ يَوْمِ وَلَيْلَةٍ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ لَا يُصَلُّونَ الْمَغْرِبَ حَتَّى تَشْتَبِكَ النُّجُومُ، وَقَدْ جَاءَ عَنِ النَّبِيِّ. (1) صلى الله عليه وسلم: ( «لَا تَزَالُ أُمَّتِي عَلَى الْإِسْلَامِ مَا لَمْ يُؤَخِّرُوا (2) الْمَغْرِبَ إِلَى اشْتِبَاكِ النُّجُومِ مُضَاهَاةً لِلْيَهُودِ.» ) ، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ إِذَا صَلَّوْا زَالُوا عَنِ الْقِبْلَةِ شَيْئًا، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ.
وَالْيَهُودُ تَنُودُ. (3) فِي صَلَاتِهَا، وَكَذَلِكَ الرَّافِضَةُ، وَالْيَهُودُ يُسْدِلُونَ أَثْوَابَهُمْ. (4) فِي الصَّلَاةِ، وَقَدْ بَلَغَنِي «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ. (5) صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِرَجُلٍ سَادِلٍ ثَوْبَهُ، فَعَطَفَهُ عَلَيْهِ» (6) .، وَالْيَهُودُ يَسْجُدُونَ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ
--------------------------------------------
আল্লাহর পথে যতক্ষণ না মুহাম্মাদ (সা.)-এর বংশধর থেকে সন্তুষ্টির পাত্র (আল-রিদা) আত্মপ্রকাশ করেন এবং আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন: তোমরা তাঁকে অনুসরণ করো।
আর ইহুদিরা বলেছিল: আল্লাহ আমাদের ওপর প্রতিদিন দিবা-রাত্রিতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন; রাফেজিরাও অনুরূপ বলে। আর ইহুদিরা মাগরিবের নামাজ পড়ে না যতক্ষণ না তারকারাজি ঘন হয়ে ফুটে ওঠে; অথচ নবী (সা.) (১) থেকে বর্ণিত হয়েছে: ( «আমার উম্মত ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামের ওপর অবিচল থাকবে যতক্ষণ না তারা ইহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বনে মাগরিবের নামাজকে তারকারাজি ঘন হয়ে ফুটে ওঠা পর্যন্ত বিলম্ব করে» (২) )। রাফেজিরাও অনুরূপ করে। আর ইহুদিরা যখন নামাজ পড়ে, তখন তারা কিবলা থেকে কিছুটা বিচ্যুত হয়ে যায়; রাফেজিরাও অনুরূপ করে।
আর ইহুদিরা তাদের নামাজে দুলতে থাকে (৩); রাফেজিরাও অনুরূপ করে। আর ইহুদিরা নামাজের মধ্যে তাদের কাপড় ঝুলিয়ে রাখে (৪)। আর আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, «রাসূলুল্লাহ (সা.) (৫) এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে তার কাপড় ঝুলিয়ে রেখেছিল, তখন তিনি তা তার ওপর টেনে দিলেন» (৬)। আর ইহুদিরা ফজরের নামাজে সেজদা করে...
--------------------------------------------