(খণ্ড: ১)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: -)
شرح رياض الصالحين لابن عثيمين (ابن عثيمين)
القسم: شروح الحديث
الكتاب: شرح رياض الصالحين
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
الناشر: دار الوطن للنشر، الرياض
الطبعة: 1426 هـ
عدد الأجزاء: 6
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে উসাইমীন কর্তৃক শারহ রিয়াদুস সলেহীন (ইবনে উসাইমীন)
বিভাগ: হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: শারহ রিয়াদুস সলেহীন
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমীন (ওফাত ১৪২১ হিজরী)
প্রকাশক: দারুল ওয়াতান পাবলিশিং, রিয়াদ
সংস্করণ: ১৪২৬ হিজরী
খণ্ড সংখ্যা: ৬
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم المقدمة إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلي الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إي يوم الدين وسلم تسليناً كثيراً. أما بعد: فإن هذا الكتاب يحتوي على تعليقات نافعه لفضيلة شيخنا محمد بن صالح العثيمين رحمه الله تعالي ـ لجمل كبيرة من الأحاديث الواردة في كتاب: ((رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين)) للإمام النووي رحمه الله تعالي ـ.وقد جاءت تلك التعليقات ضمن أحاديث شيخنا اليومية رحمه الله تعالي ـ بعد صلاة العصر في الجامع الكبير بعنيزه. وتكررت طباعتها منذ الطبعة الأولي عام 1415هـ التي اعتني بها فضيلة الأستاذ الدكتور عبد الله ابن محمد بن أحمد الطيار جزاه الله خيرا. وإنفاذاً للقواعد والضوابط والتوجيهات التي قررها وعهد بها إلي اللجنة العلمية فضيلة شيخنا رحمه الله تعالي ـ لإخراج مؤلفاته، تم ـ ولله الحمد ـ إعداد هذا الكتاب للنشر ومراجعة محتواه العلمي على أصوله المسموعة المسجلة.نسأل الله تعالي أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، نافعاً لعباده، وان يجزي فضيلة شيخنا محمد بن صالح العثيمين عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء، ويضاعف له المثوبة والأجر، إنه سميع قريب.وصلي الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان إلي يوم الدين. اللجنة العلميةفي مؤسسة الشيخ محمد بن صالح العثيمين الخيرية15/9/1424هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ভূমিকা নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর: এই গ্রন্থটিতে আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর অত্যন্ত উপকারী কিছু ব্যাখ্যা ও টীকা সংকলিত হয়েছে—যা ইমাম নববী (আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহম করুন) সংকলিত ‘রিয়াদুস সালিহীন মিন কালামি সাইয়্যিদিল মুরসালীন’ গ্রন্থের এক বিশাল অংশের হাদিসসমূহের ওপর প্রদান করা হয়েছে।এই ব্যাখ্যাসমূহ শাইখের (আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহম করুন) সেই প্রতিদিনের পাঠদান থেকে গৃহীত হয়েছে, যা তিনি উনাইজার জামেউল কাবীর মসজিদে আসরের সালাতের পর প্রদান করতেন। ১৪১৫ হিজরীতে এর প্রথম সংস্করণের পর থেকে গ্রন্থটি বারবার মুদ্রিত হয়েছে, যার বিশেষ তত্ত্বাবধানে ছিলেন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-ত্বাইয়্যার, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ (আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর রচনাবলী প্রকাশের জন্য ইলমী কমিটিকে যে নিয়মাবলী ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন, তা বাস্তবায়নের লক্ষে—আলহামদুলিল্লাহ—এই গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এর ইলমী বিষয়বস্তু শাইখের রেকর্ডকৃত অডিও মূল উৎসগুলোর সাথে মিলিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করেন। আর ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীনকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাঁর সওয়াব ও পুরস্কার বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী।আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। ইলমী কমিটিশাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন১৫/০৯/১৪২৪ হিজরী
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٧)
مقدمة الإمام النووي رحمه الله بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله الواحد القهار، العزيز الغفار، مكور الليل على النهار، تذكرة لأولى القلوب والأبصار وتبصرة لذوي الألباب والاعتبار، الذي أيقظ من خلقه من اصطفه فزهدهم في هذه الدار، وشغلهم بمراقبة وإدامة الأفكار، وملازمة الاتعاظ والأذكار، ووفقهم للدؤوب في طاعته والتأهب لدار القرار ن والحذر مما يسخطه ويوجب دار البوار، والمحافظة على ذلك مع تغاير الأحوال والأطوار. احمده أبلغ حمد وأزكاه، وأشمله وأنماه.وأشهد أن لا إله إلا الله البر الكريم، الرؤوف الرحيم، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، وحبيبه وخليليه، الهدي إلي صراط مستقيم، والداعي إلي دين قويم ن صلوات الله وسلامه عليه وعلى سائر النبيين، وآل كل وسائر الصالحين. أما بعد: فقد قال الله تعالي: (وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْأِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) (مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ) (الذريات: 56/57) وهذا تصريح بأنهم خلقوا للعبادة، فحق عليهم الاعتناء بما خلقوا له، والإعراض عن حظوظ الدنيا بالزهادة؛ فإنها دار نفاد لا محل إخلاد، ومركب عبور لا منزل حبور، ومشرع انفصام لا موطن دوام.
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ভূমিকা পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এক, মহাপরাক্রমশালী, মহা প্রতাপশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল; যিনি রাতকে দিনের ওপর আচ্ছাদিত করেন, যা অন্তর ও চক্ষুষ্মানদের জন্য এক উপদেশ এবং বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীলদের জন্য এক বিশেষ শিক্ষা। যিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে যাদের মনোনীত করেছেন তাদেরকে জাগ্রত করেছেন, ফলে তারা এই নশ্বর দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হয়েছেন এবং সর্বদা আল্লাহর পর্যবেক্ষণে থাকা, নিরন্তর চিন্তা-ফিকির করা এবং উপদেশ গ্রহণ ও যিকিরে নিজেদের মশগুল রেখেছেন। তিনি তাদেরকে তাঁর আনুগত্যে অবিচল থাকতে, পরকালের স্থায়ী আবাসের জন্য প্রস্তুতি নিতে, তাঁর অসন্তুষ্টি ও ধ্বংসের কারণ হতে সতর্ক থাকতে এবং জীবনের সকল পরিবর্তন ও পরিস্থিতির মাঝে এসকল বিষয়ে যত্নবান থাকতে তাওফীক দান করেছেন। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করি যা অত্যন্ত উচ্চমানের ও পবিত্র, অত্যন্ত ব্যাপক ও ক্রমবর্ধমান।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, পরম দাতা ও দয়ালু আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর পরম প্রিয় ও খলীল, যিনি সরল পথের দিশারী এবং সুদৃঢ় দ্বীনের দিকে আহ্বানকারী। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং অন্য সকল নবীগণের ওপর, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারবর্গ ও সকল নেককার বান্দাদের ওপর। অতঃপর: মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো রিযিক চাই না এবং তারা আমাকে আহার করাবে এমনটিও চাই না।" (সূরা আয-যারিয়াত: ৫৬-৫৭)। এটি এই বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা যে, তাদেরকে ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং তাদের ওপর কর্তব্য হলো যে উদ্দেশ্যে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা এবং দুনিয়াবী ভোগ-বিলাসের মোহ ত্যাগ করে তা থেকে বিমুখ হওয়া। কেননা এই দুনিয়া তো নিঃশেষ হওয়ার স্থান, চিরস্থায়ী আবাস নয়; এটি কেবল পারাপারের বাহন, আনন্দের চিরস্থায়ী নিবাস নয়; এবং এটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার এক মোহনা, চিরকাল অবস্থানের কোনো স্থান নয়।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٨)
فلهذا كان الأيقاظ من أهلها هم العباد، وأعقل الناس فيها هم الزهاد؛ قال الله تعالي: (إِنَّمَا مَثَلُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَاءٍ أَنْزَلْنَاهُ مِنَ السَّمَاءِ فَاخْتَلَطَ بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ مِمَّا يَأْكُلُ النَّاسُ وَالْأَنْعَامُ حَتَّى إِذَا أَخَذَتِ الْأَرْضُ زُخْرُفَهَا وَازَّيَّنَتْ وَظَنَّ أَهْلُهَا أَنَّهُمْ قَادِرُونَ عَلَيْهَا أَتَاهَا أَمْرُنَا لَيْلاً أَوْ نَهَاراً فَجَعَلْنَاهَا حَصِيداً كَأَنْ لَمْ تَغْنَ بِالْأَمْسِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآياتِ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ) (يونس: 24) والآيات في هذا المعني كثيرة.إن لله عباداً فطنا … طلقوا الدنيا وخافوا الفتنانظروا فيها فلما علموا … أنها ليست لحي وطناجعلوها لجة واتخذوا … صالح الأعمال فيها سفنا فإذا كان حالها ما وصفته، وحالنا ما خلقنا له، ما قدمته؛ فحق على المكلف أن يذهب بنفه مذهب الأخيار، ويسلك مسلك أولى النهي والأبصار، ويتأهب لما اشر ت إليه، ويهتم بما نبهت عليه. وأصوب طريق له في ذلك، وأرشد ما يسلكه السالكين: التأدب بما صح عن نبينا سيد الأولين والآخرين، وأكرم السابقين اللاحقين، صلوات الله وسلامه عليه وعلى سائر النبيين، وقد فال الله تعالي:) وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى) (المائدة: من الآية2) وقد صح عن رسول الله صلي الله عليه وسلم أنه قال: ((والله في عون العبد ما كان العبد في عون أخيه وأنه قال: ((من
এই কারণেই দুনিয়াবাসীদের মধ্যে যারা সজাগ তারা হলেন ইবাদতগুজার বান্দা, আর মানুষের মধ্যে যারা সর্বাধিক বুদ্ধিমান তারা হলেন সংসারবিরাগী বা যাহেদ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (নিশ্চয়ই পার্থিব জীবনের উদাহরণ হলো সেই বৃষ্টির মতো, যা আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর এর মাধ্যমে যমিনের উদ্ভিদসমূহ ঘনসন্নিবিষ্ট হয়ে উদ্গত হয়—যা থেকে মানুষ ও গবাদি পশু ভক্ষণ করে। এমনকি যখন যমিন তার শোভা ধারণ করে এবং সুশোভিত হয়ে ওঠে, আর তার অধিপতিরা মনে করে যে তারা এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাশীল, তখন দিনে বা রাতে আমার নির্দেশ তার ওপর নিপতিত হয়; অতঃপর আমি তাকে এমনভাবে কর্তিত তৃণে পরিণত করি যে, মনে হয় যেন গতকালও সেখানে তার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি বিস্তারিত বর্ণনা করি।) (ইউনুস: ২৪)। এই অর্থে আরও বহু আয়াত রয়েছে।নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু বুদ্ধিমান বান্দা রয়েছেন ... যারা দুনিয়া পরিত্যাগ করেছেন এবং ফিতনার ভয় করেছেন।তারা দুনিয়ার প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করলেন, আর যখন জানলেন ... যে এটি কোনো জীবিত প্রাণীর জন্য চিরস্থায়ী আবাসস্থল নয়;তখন তারা একে গভীর সমুদ্র হিসেবে গণ্য করলেন এবং ... সেখানে নেক আমলসমূহকে নৌকাস্বরূপ গ্রহণ করলেন। অতএব দুনিয়ার অবস্থা যখন এমন যা আমি বর্ণনা করলাম, আর আমাদের অবস্থা যখন তেমন যার জন্য আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যা আমি ইতিপূর্বে পেশ করেছি; তখন প্রত্যেক আদিষ্ট ব্যক্তির (মুকাল্লাফ) কর্তব্য হলো মহৎ ব্যক্তিদের পথ অবলম্বন করা, প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টিসম্পন্নদের পথে চলা এবং আমি যে বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছি তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা ও যে বিষয়ে সতর্ক করেছি তাতে মনোনিবেশ করা। এক্ষেত্রে তার জন্য সবচেয়ে সঠিক পথ এবং পথিকদের জন্য সর্বাপেক্ষা হেদায়েতপূর্ণ পন্থা হলো: আমাদের নবী, যিনি পূর্বাপর সকলের সরদার এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের মাঝে সর্বাধিক সম্মানিত, তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে যা বর্ণিত হয়েছে সেই শিষ্টাচারগুলো (আদব) গ্রহণ করা। তাঁর ওপর এবং সকল নবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো।) (আল-মায়েদাহ: আয়াত ২-এর অংশ)। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ ততক্ষণ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে লিপ্ত থাকে।" এবং তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি..."
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٩)
دل على خير، فله مثل أجر فاعله)) وأنه قال: ((من دعا إلي هدي كان له من الأجر مثل أجور من تبعه، لا ينقصه ذلك من أجورهم شيئاً) وأنه قال لعلي رضي الله عنه: ((فوالله لأن يهدي الله بك رجلاً واحدا خير لك من حمر النعم)) . فرأيت أن أجمع مختصراً من الأحاديث الصحيحة، مشتملاً على ما يكون طريقاً لصاحبه إلي الآخره، ومحصلاً لآدابه الباطنة والظاهرة، جامعاً للترغيب والترهيب وسائر أنواع آداب السالكين: من أحاديث الزهد، ورياضات النفوس، وتهذيب الأخلاق، وطهارات القلوب وعلاجها، وصيانة الجوارح وإزالة اعوجاجها، وغير ذلك من مقاصد العارفين. وألتزم فيه أن لا أذكر حديثاً صحيحاً من الواضحات، مضافاً إلي الكتب الصحيحة المشهورات، وأصدر الأبواب من القرآن العزيز بآيات كريمات، وأوشح ما يحتاج إلي ضبط أو شرح معني خفي بنفائس من التنبهات.
"...যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ প্রদর্শন করে, সে তার সম্পাদনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করে।" এবং তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য রয়েছে অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ সওয়াব, এতে তাদের সওয়াবের বিন্দুমাত্র ঘাটতি হবে না।" এবং তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন: "আল্লাহর শপথ! তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন ব্যক্তিকেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উট অপেক্ষাও উত্তম।" তাই আমি সহীহ হাদীসসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন প্রস্তুত করার সংকল্প করলাম, যা এর অধিকারীকে পরকালের পথে পরিচালিত করবে এবং তার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ শিষ্টাচার অর্জনে সহায়ক হবে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে পরকালের প্রতি উৎসাহদান, পাপের ভয় প্রদর্শন এবং আধ্যাত্মিক পথের পথিকদের যাবতীয় শিষ্টাচার: যথা—দুনিয়াবিমুখতার হাদীসসমূহ, আত্মিক সাধনা, চরিত্র সংশোধন, অন্তরের পবিত্রতা ও তার চিকিৎসা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুরক্ষা ও তার বক্রতা দূরীকরণ এবং তত্ত্বজ্ঞানীদের অন্যান্য লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ। আমি এতে কেবল প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ হতে সংগৃহীত সুস্পষ্ট সহীহ হাদীসসমূহ উল্লেখ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। প্রতিটি অধ্যায় আমি মহান কুরআনের মহিমান্বিত আয়াত দ্বারা শুরু করব এবং যেখানে শব্দের সঠিক বিন্যাস বা কোনো অস্পষ্ট অর্থের ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে, সেখানে অত্যন্ত মূল্যবান ও সূক্ষ্ম টীকা সংযোজন করে তা সুশোভিত করব।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وإذا قلت في آخر حديث: ((متفق عليه)) فمعناه: رواه البخاري ومسلم.وأرجو إن تم هذا الكتاب أن يكون سائقاً للمعتني به إلي الخيرات، حاجزاً له عن أنواع القبائح والمهلكات. وأنا سائل أخاً انتفع بشيء منه أن يدعو لي، ولوالدي، ومشايخي، وسائر أحبابنا، والمسلمين أجمعين، وعلى الله الكريم اعتمادي، وإليه تفويضي واستنادي، وحسبي الله ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العزيز الحكيم.
আর যখন আমি কোনো হাদিসের শেষে বলি: 'মুত্তাফাকুন আলাইহি', তখন এর অর্থ হলো: এটি ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।আমি আশা করি এই গ্রন্থটি সম্পন্ন হলে তা এর প্রতি যত্নশীল ব্যক্তিকে কল্যাণের দিকে ধাবিত করবে এবং যাবতীয় মন্দ ও ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে তাকে বিরত রাখবে। আমি সেই ভাইয়ের নিকট প্রার্থনা করি যে এটি থেকে সামান্যতম উপকৃত হবে, সে যেন আমার জন্য, আমার পিতামাতার জন্য, আমার শিক্ষকবৃন্দের জন্য, আমাদের সকল প্রিয়জনদের জন্য এবং সকল মুসলমানের জন্য দোয়া করে। মহান করুণাময় আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা এবং তাঁরই প্রতি আমার যাবতীয় বিষয় সমর্পণ ও নির্ভরতা। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর সুমহান ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ١١)
مقدمة الشارح إن الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا؛ من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، واشهد أن لا إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله. (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ) (آل عمران: 102) (يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً) (النساء: 1)) يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً) (ايُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً) (الأحزاب 70/71) . أما بعد:فإن اصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلي الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة. فهذه الخطبة الطويلة المفيدة ((لكتاب رياض الصالحين)) الذي ألفه الشيخ الحافظ النووي رحمه الله وهو كتاب جيد ولم يسبق لنا قراءته.ورأيت أن نبدأ فيه ونسأل الله تعالي أن نتمه على خير؛ لأنه كتاب نافع للقلوب، وللأعمال الظاهرة والمتعلقة بالجوارح؛ لذلك ينبغي أن يعتني
ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকা নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। (হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।) (আলে ইমরান: ১০২) (হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর অসিলায় তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।) (আন-নিসা: ১) (হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করল।) (আল-আহযাব: ৭০/৭১)। অতঃপর:নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মাঝে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদ‘আত এবং প্রতিটি বিদ‘আত হলো পথভ্রষ্টতা। এটি শায়খ হাফেজ আন-নববী (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক সংকলিত "রিয়াদুস সালিহীন" কিতাবের একটি দীর্ঘ ও উপকারী ভূমিকা। এটি একটি অনন্য কিতাব যা ইতিপূর্বে আমাদের পাঠ করা হয়নি।আমি স্থির করেছি যে আমরা এটি দিয়েই শুরু করব এবং আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি কল্যাণের সাথে এটি সমাপ্ত করার তাওফিক দান করেন; কারণ এটি অন্তরের সংশোধন, বাহ্যিক আমল এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য একটি অত্যন্ত উপকারী কিতাব; তাই এর প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত...
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ١٢)
بهذا الكتاب.وقد طلب رحمه الله ممن انتفع به أن يدعو له ولوالديه ولسائر المسلمين؛ فنسأل الله أن يغفر له ولوالديه ولسائر المسلمين، وأن يجمعنا وإياه وإخواننا المؤمنين في دار كرامته؛ إنه جواد كريم، وأسال الله أن يوفقنا لاتمامه، وأن ينفعنا بهن وأن يغفر لمؤلفه وأن يجزيه عن الإسلام والمسلمين خيراً، والله الموفق. الشارح محمد بن صالح العثيمين
এই গ্রন্থের মাধ্যমে।তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই গ্রন্থ দ্বারা উপকৃত ব্যক্তিদের নিকট তাঁর নিজের জন্য, তাঁর পিতামাতার জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য দোয়া করার আবেদন জানিয়েছেন। অতএব আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন এবং আমাদের, তাঁকে ও আমাদের মুমিন ভাইদেরকে তাঁর মর্যাদাপূর্ণ আবাসে একত্রিত করেন; নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও পরম দয়ালু। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন, এর দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন, এর লেখককে ক্ষমা করে দেন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আল্লাহই তাওফিকদাতা। ব্যাখ্যাকার মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ١٣)
1- باب الإخلاص وإحضار النية في جميع الأعمال والأقوال البارزة والخفية قال الله تعالي: (وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ) (البينة: 5) وقال تعالي:) لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ) (الحج: من الآية37) وقال تعالي (قُلْ إِنْ تُخْفُوا مَا فِي صُدُورِكُمْ أَوْ تُبْدُوهُ يَعْلَمْهُ اللَّهُ) (آل عمران: من الآية29) . [الشَّرْحُ] قال المؤلف رحمه الله تعالي: ((باب الإخلاص وإحضار النية، في جميع الأعمال والأقوال البارز والخفية)) :((النية)) محلها القلب، ولا محل لها في اللسان في جميع الأعمال؛ ولهذا كان من نطق بالنية عند إرادة الصلاة، أو الصوم، أو الحج، أو الوضوء، أو غير ذلك من الأعمال كان مبتدعاً قائلاً في دين الله ما ليس منه؛ لأن النبي صلي الله عليه وسم كان يتوضأ، ويصلي ويتصدق، ويصوم ويحج، ولم يكن ينطق بتالنية، فلم يكن يقول: اللهم إني نويت أن أتوضأ، اللهم إني نويت أن أصلي، اللهم إني نويت أن أتصدق، اللهم إني نويت أن أحج، لم يكن يقول هذا؛ وذلك لأن النية محلها القلب، والله عز وجل يعلم ما في القلب، ولا يخفي عليه شيء؛ كما قال الله تعالي في الآية التي ساقها المؤلف: (قُلْ إِنْ تُخْفُوا مَا فِي صُدُورِكُمْ أَوْ
১- সকল প্রকাশ্য ও গোপন কথা ও কাজে ইখলাস ও নিয়ত উপস্থিত রাখার অধ্যায় আল্লাহ তাআলা বলেন: (তোমাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে এবং সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। আর এটিই সঠিক ও সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন।) (আল-বায়্যিনাহ: ৫) তিনি আরও বলেন: (আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।) (আল-হজ্জ: ৩৭ এর অংশ) তিনি আরও বলেন: (বলুন, তোমাদের অন্তরে যা আছে তা যদি তোমরা গোপন করো কিংবা প্রকাশ করো, আল্লাহ তা জানেন।) (আলে ইমরান: ২৯ এর অংশ)। [ব্যাখ্যা] লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "সকল প্রকাশ্য ও গোপন কথা ও কাজে ইখলাস ও নিয়ত উপস্থিত রাখার অধ্যায়":"নিয়ত"-এর স্থান হলো অন্তর। সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে রসনার (জিহ্বার) কোনো স্থান নেই। এজন্যই সালাত, সিয়াম, হজ্জ, ওজু বা অন্য কোনো ইবাদতের প্রাক্কালে যিনি মুখে নিয়ত উচ্চারণ করেন, তিনি একজন বিদআতকারী এবং আল্লাহর দ্বীনে এমন কথা বলছেন যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওজু করতেন, সালাত আদায় করতেন, সাদকা করতেন, সিয়াম পালন করতেন এবং হজ্জ পালন করতেন; কিন্তু তিনি কখনো মুখে নিয়ত উচ্চারণ করতেন না। তিনি কখনও বলতেন না: 'হে আল্লাহ! আমি ওজু করার নিয়ত করছি', 'হে আল্লাহ! আমি সালাত আদায়ের নিয়ত করছি', 'হে আল্লাহ! আমি সাদকা করার নিয়ত করছি', কিংবা 'হে আল্লাহ! আমি হজ্জ করার নিয়ত করছি'—এমনটি তিনি বলতেন না। কারণ নিয়তের স্থান হলো অন্তর, আর আল্লাহ তাআলা অন্তরে যা আছে তা জানেন এবং তাঁর কাছে কোনো কিছুই গোপন নয়; যেমনটি আল্লাহ তাআলা লেখক কর্তৃক উদ্ধৃত আয়াতে বলেছেন: (বলুন, তোমাদের অন্তরে যা আছে তা যদি তোমরা গোপন করো কিংবা...)
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ١٤)
تُبْدُوهُ يَعْلَمْهُ اللَّهُ) (آل عمران: الآية29) .ويجب علي الإنسان أن يخلص النية لله سبحانه وتعالي في جميع عباداته، وأن لا ينوى بعباداته إلا وجه الله والدار الآخرة. وهذا هو الذي أمر الله به في قوله: (وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ) ، أي مخلصين له العمل، (وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ) وينبغي أن يستحضر النية، أي: نية الإخلاص في جميع العبادات. فينوى مثلاً الوضوء، وأنه توضأ لله، وأنه توضأ أمثالاً لأمر الله.فهذه ثلاثة أشياء:نية العبادة.ونية أن تكون لله.ونية أنه قام بها امتثالاً لأمر الله.فهذا أكمل شيء في النية.كذلك في الصلاة: تنوي أولاً: الصلاة، وأنها الظهر، أو العصر، أو المغرب، أو العشاء ن أو الفجر، أو ما أشبه ذلك، وتنوي ثانياً: أنك إنما تصلي لله عز وجل لا لغيره، لا تصلي رياء ولا سمعة، ولا لتمدح على صلاتك، ولا لتنال شيئاً من المال أو الدنيا، ثالثاً: تستحضر أنك تصلي امتثالاً لأمر ربك حيث قال: (أَقِمِ الصَّلاة) (ْ فَأَقِيمُوا الصَّلاةَ) (وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ) إلي غير ذلك من الأوامر. وذكر المؤلف رحمه الله عدة آيات كلها تدل على أن النية محلها
(তোমরা তা প্রকাশ করো, তবে আল্লাহ তা জানেন) (আল ইমরান: আয়াত ২৯)।প্রত্যেক মানুষের জন্য তার সকল ইবাদতে মহান আল্লাহর প্রতি নিয়তকে বিশুদ্ধ করা আবশ্যক এবং তার ইবাদতের মাধ্যমে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকাল ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর নিয়ত করা সমীচীন নয়। আর এটিই আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর এই বাণীতে: (তাদেরকে এছাড়া আর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে), অর্থাৎ তাঁর উদ্দেশ্যেই আমলকে একনিষ্ঠ করে, (এবং তারা যেন সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। আর এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন)। তাই সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে নিয়তকে উপস্থিত করা প্রয়োজন, অর্থাৎ একনিষ্ঠতার নিয়ত রাখা। উদাহরণস্বরূপ, ওজুর নিয়ত করা—সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ওজু করছে এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে সে ওজু করছে।এগুলো হলো তিনটি বিষয়:ইবাদতের নিয়ত।তা যেন কেবল আল্লাহর জন্য হয়—সেই নিয়ত।এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে তা সম্পাদন করছে—এই নিয়ত।এটিই হলো নিয়তের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ অবস্থা।অনুরূপভাবে সালাতের ক্ষেত্রেও: প্রথমে আপনি সালাতের নিয়ত করবেন যে, এটি যোহর, আসর, মাগরিব, এশা কিংবা ফজর অথবা এই জাতীয় কোনো সালাত। দ্বিতীয়ত আপনি নিয়ত করবেন যে, আপনি কেবল মহান আল্লাহর জন্যই সালাত আদায় করছেন, অন্য কারো জন্য নয়। আপনি লোক-দেখানো বা লৌকিকতা কিংবা শোনানোর জন্য সালাত আদায় করবেন না এবং আপনার সালাতের প্রশংসা পাওয়ার জন্য কিংবা কোনো ধন-সম্পদ বা পার্থিব কিছু অর্জনের জন্যও নয়। তৃতীয়ত আপনি মনে এটি উপস্থিত করবেন যে, আপনি আপনার রবের নির্দেশ পালনার্থে সালাত আদায় করছেন; যেহেতু তিনি বলেছেন: (সালাত কায়েম করো), (তোমরা সালাত কায়েম করো), (তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো) এবং এই জাতীয় অন্যান্য নির্দেশাবলি। গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বেশ কিছু আয়াত উল্লেখ করেছেন যার সবই প্রমাণ করে যে, নিয়তের স্থান হলো...
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ١٥)
القلب، وأن الله ـ سبحانه وتعالي ـ عالم بنية العبد، ربما يعمل العبد عملاً يظهر أمام الناس أنه عمل صالح، وهو عمل فاسد أفسدته النية، لأن الله ـ تعالي ـ يعلم ما في القلب، ولا يجازى الإنسان يوم القيامة إلا على ما في قلبه، لقول الله تعالي:) إِنَّهُ عَلَى رَجْعِهِ لَقَادِرٌ) (يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ) (فَمَا لَهُ مِنْ قُوَّةٍ وَلا نَاصِرٍ) (الطارق: 8-10) يعني: يوم تختبر السرائر ـ القلوب ـ كقوله:) أَفَلا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُورِ) (وَحُصِّلَ مَا فِي الصُّدُورِ) (العاديات: 9-10) .ففي الآخرة: يكون الثواب والعقاب، والعمل والاعتبار بما في القلب. أما في الدنيا: فالعبرة بما ظهر، فيعامل الناس بظواهر أحوالهم، ولكن هذه الظواهر: إن وافقت ما في البواطن، صلح ظاهره وباطنهن وسريرته وعلانيته، وإن خالفت وصار القلب منطوياً على نية فاسد، نعوذ بالله ـ فبما أعظم خسارته !! يعمل ويتعب ولكن لا حظ له في هذا العمل؛ كما جاء في الحديث الصحيح عن النبي صلي الله عليه وسلم قال: ((قال الله تعالي: أنا أغني الشركاء عن الشرك من عمل عملاً أشرك فيه معي غيري، تركته وشركه)) . فالله الله!! أيها الاخوة بإخلاص النية لله سبحانه وتعالي!!واعلم: أن الشيطان قد يأتيك عند إرادة عمل الخير، فيقول لك: إنك
অন্তর, এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বান্দার নিয়ত সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। অনেক সময় বান্দা এমন আমল করে যা মানুষের সামনে বাহ্যত নেক আমল হিসেবে প্রতীয়মান হয়, অথচ তা মূলত একটি কলুষিত আমল যা নিয়ত নষ্ট করে দিয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলা অন্তরের খবর জানেন। আর কিয়ামতের দিন মানুষকে কেবল তার অন্তরের অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই প্রতিদান দেওয়া হবে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম। যেদিন গোপন রহস্যসমূহ পরীক্ষিত হবে। সেদিন তার কোনো শক্তি থাকবে না এবং থাকবে না কোনো সাহায্যকারী।" (সূরা আত-তারিক: ৮-১০)। অর্থাৎ: যেদিন গোপন বিষয়সমূহ—অন্তরসমূহ—পরীক্ষা করা হবে; যেমন তাঁর বাণী: "সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে তা উত্থিত করা হবে? এবং অন্তরে যা আছে তা প্রকাশ করা হবে?" (সূরা আল-আদিয়াত: ৯-১০)।সুতরাং পরকালে সওয়াব, শাস্তি, আমল ও বিচার হবে অন্তরের অবস্থার ভিত্তিতে। আর দুনিয়াতে বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই বিচার করা হয়। মানুষের সাথে তাদের বাহ্যিক অবস্থার আলোকেই আচরণ করা হয়। তবে এই বাহ্যিক দিকগুলো যদি অভ্যন্তরীণ অবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, তবেই তার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ এবং গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু সঠিক হবে। আর যদি তা বিপরীত হয় এবং অন্তরে কলুষিত নিয়ত লুকিয়ে থাকে—আমরা আল্লাহর কাছে এ থেকে পানাহ চাই—তবে তার ক্ষতি কতই না ভয়াবহ! সে আমল করে এবং পরিশ্রম করে, কিন্তু এই আমলে তার কোনো অংশ থাকে না; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আমি অংশীদারিত্ব (শিরক) থেকে সব অংশীদারের তুলনায় বেশি মুখাপেক্ষীহীন। যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করল, আমি তাকে এবং তার শিরককে বর্জন করি।" অতএব আল্লাহকে ভয় করুন! হে ভাইয়েরা, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য নিয়তকে খাঁটি করুন!এবং জেনে রাখুন: শয়তান হয়তো আপনার কাছে কোনো নেক কাজের ইচ্ছার সময় আসবে এবং আপনাকে বলবে: নিশ্চয়ই আপনি...
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ١٦)
إنما تعمل هذا رياء، فيحبط همتك ويثبطك ولكن لا تلتفت إلي هذا، ولا تطعه، بل اعمل ولو قال لك: إنك إنما تعمل رياء أو سمعة؛ لأنك لو سئلت: هل أنت الآن تعمل هذا رياء وسمعة؟ : لا!!إذن فهذا الوسواس الذي أدخله الشيطان في قلبك، لا تلتفت له، وافعل لخير؛ ولا تقل: إني أرائي وما أشبه ذلك. * * * 1- وعن أمير المؤمنين أبي حفص عمر بن الخطاب بن نفيل بن عبد العزي بن رباح بن عبد الله بن قرط بن رزاح بن عدي بن كعب بن لؤس بن غالب القرشي العدوي رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلي الله عليه وسلم يقول: ((إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امري ما نوي فمن كانت هجرته إلي الله ورسوله، فهجرته إلي الله ورسوله، ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها، أو امرأة ينكحها، فهجرته إلي ما هاجر إليه)) ؛ متفق على صحته؛ رواه إماما المحدثين: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم ابن المغيرة بن بردزبة الجعفي البخاري، وأبو الحسين مسلم بن الحجاج ابن مسلم القشيري النيساوي رضي الله عنهما في صحيحيهما اللذين هما اصح الكتب المصنفة.
নিশ্চয়ই তুমি এটি লোকদেখানোর উদ্দেশ্যেই করছ—শয়তান এভাবেই তোমার সংকল্পকে নস্যাৎ করতে এবং তোমাকে নিরুৎসাহিত করতে চায়। কিন্তু তুমি সেদিকে লক্ষ্য করো না এবং তার আনুগত্য করো না; বরং আমল করে যাও, যদিও সে তোমাকে বলে যে: 'তুমি লোকদেখানো বা সুখ্যাতি অর্জনের জন্য আমল করছ'; কারণ যদি তোমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়: 'তুমি কি এখন এটি লোকদেখানো ও সুখ্যাতির উদ্দেশ্যে করছ?' তবে তোমার উত্তর হবে: না!!অতএব, শয়তান তোমার অন্তরে যে কুমন্ত্রণা প্রবেশ করিয়েছে, তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করো না এবং সৎকাজ করে যাও; আর এ কথা বলো না যে: 'আমি রিয়া করছি' বা এই জাতীয় কিছু। * * * ১- আমিরুল মুমিনীন আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে নুফায়েল ইবনে আবদিল উযযা ইবনে রাবাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুরত ইবনে রিযাহ ইবনে আদী ইবনে কা’ব ইবনে লুওয়াই ইবনে গালিব আল-কুরাশী আল-আদভী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব কোনো সুবিধা অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যেজন্য সে হিজরত করেছে।)); হাদিসটির বিশুদ্ধতার ওপর ঐক্যমত রয়েছে; হাদিস বিশারদগণের দুই ইমাম: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম ইবনুল মুগীরা ইবনে বারদিযবাহ আল-জু’ফী আল-বুখারী এবং আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশায়রী আন-নিশাপুরী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁদের ‘সহীহ’ গ্রন্থদ্বয়ে এটি বর্ণনা করেছেন, যা সংকলিত কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ١٧)
[الشَّرْحُ] لما كان هذا الباب في الإخلاص، إخلاص النية لله عز وجل، وأنه ينبغي أن تكون النية مخلصة لله في كل قول، وفي كل فعل، وعلى كل حال، ذكر المؤلف من الآيات ما يتعلق بهذا المعني، وذكر رحمه الله من الأحاديث ما يتعلق به أيضاً، وصدر هذا بحديث عمر بن الخطاب الذي قال فيه: سمعت رسول الله صلي الله عليه وسلم يقول: ((إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوي)) : هاتان الجملتان اختلف العلماء رحمهم الله فيهما:فقال بعض العلماء: إنهما جملتان بمعني واحد، وإن الجملة الثانية تأكيد للجملة الأولي.ولكن هذا ليس بصحيح، وذلك لأن الأصل في الكلام أن يكون تأسيسا لا توكيداً، ثم إنهما عند التأمل يتبين أن بينهما فرقاً عظيماً؛ فالأولي سبب، والثانية نتيجة:الأولي: سبب يبين فيها النبي صلي الله عليه وسلم أن كل عمل لابد فيه من نية، فكل عمل يعمله الإنسان وهو عاقل مختار، فلابد فيه من نية، ولا يمكن لأي عاقل مختار أن يعمل عملاً إلا بنية؛ حتى قال بعض العلماء: ((لو كلفنا الله عملاً بلا نية، لكان من تكليف ما لا يطاق!)) .وهذا صحيح؛ كيف تعمل وأنت في عقلك، وأنت مختار غير مكره، كيف تعمل عملاً بلا نية؟ ! هذا مستحيل؛ لأن العمل ناتج عن إرادة
[ব্যাখ্যা]যেহেতু এই অধ্যায়টি ইখলাস বা একনিষ্ঠতা তথা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়তকে বিশুদ্ধ করা প্রসঙ্গে, আর এটি সমীচীন যে প্রতিটি কথা, কাজ ও অবস্থায় নিয়ত যেন আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হয়; সেহেতু লেখক এই অর্থ সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ এবং হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। তিনি এই অধ্যায়ের সূচনা করেছেন উমর ইবনুল খাত্তাব বর্ণিত সেই হাদীসটি দিয়ে যেখানে তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে।" এই বাক্য দুটির ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মতভেদ করেছেন:কিছু আলিম বলেছেন: এই দুটি বাক্য একই অর্থ বহন করে এবং দ্বিতীয় বাক্যটি প্রথম বাক্যের তাকিদ বা পুনর্নিশ্চিতকরণ স্বরূপ।কিন্তু এই অভিমতটি সঠিক নয়, কারণ কালাম বা বাক্যের মূল নীতি হলো তা নতুন অর্থ প্রদান বা ভিত্তিস্থাপন করবে (তা’সিস), কেবল পুনরুক্তি (তাকিদ) নয়। তাছাড়া গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় যে, এ দুটির মধ্যে এক বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান; প্রথমটি হলো কারণ এবং দ্বিতীয়টি হলো ফলাফল:প্রথম বাক্য: এটি একটি কারণ বা মূলনীতি যাতে নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিটি আমলের জন্যই নিয়ত অপরিহার্য। সুতরাং একজন সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন ও স্বেচ্ছাধীন মানুষ যে কাজই করে, তাতে অবশ্যই নিয়ত থাকে। কোনো সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন ও স্বেচ্ছাধীন ব্যক্তির পক্ষে নিয়ত ছাড়া কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। এমনকি কোনো কোনো আলিম বলেছেন: "যদি আল্লাহ আমাদের নিয়ত ছাড়া কোনো কাজ করার নির্দেশ দিতেন, তবে তা অসাধ্য কোনো কাজের নির্দেশ প্রদানের অন্তর্ভুক্ত হতো!"আর এটিই সঠিক; আপনি সুস্থ মস্তিষ্কে এবং কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়া স্বেচ্ছায় কোনো কাজ করবেন অথচ আপনার কোনো নিয়ত থাকবে না—তা কীভাবে সম্ভব?! এটি অসম্ভব; কারণ প্রতিটি কাজই ইচ্ছা বা সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وقدرة، والإرادة هي النية.إذن: فالجملة الأولي معناها أنه ما من عامل إلا وله نية، ولكن النيات تختلف اختلافاً عظيماً، وتتباين تبتيناً بعيداً كما بين السماء والأرض. من الناس من نيته في القمة في أعلي شيء، ومن الناس من نيته في القمامة في أخس شيء وأدني شيء؛ حتى إنك لتري الرجلين يعملان عملاً واحداً يتفقان في ابتدائه وانتهائه وفي أثنائه، وفي الحركات والسكنات، والأقوال والأفعال، وبينهما كما بين السماء والأرض، وكل ذلك باختلاف النية.إذن: الأساس أه ما من عمل إلا بنية، ولكن النيات تختلف وتتابين.نتيجة ذلك قال: ((وإنما لكل أمري ما نوي)) ؛ فكل امريء له ما نوي: إن نوي الله والدار الآخر في أعماله الشرعية، حصل له ذلك، وإن نوي الدنيا، قد تحصل وقد لا تحصل.قال الله تعالي:) مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُرِيدُ) (الاسراء: الآية18) ما قال: عجلنا له ما يريد؛ بل قال: (عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ) ، لا ما يشاء هو؛ (لِمَنْ نُرِيدُ) لا لكل إنسان، فقيد المعجل والمعجل له؛ فمن الناس: من يعطي ما يريد من الدنيان ومنهم: من يعطي شيئاً منه، ومنهم: من لا يعطي شيئاً أبدا. أما: (وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُوراً) (الاسراء: 19) لابد أن يجني ثمرات هذا العمل الذي أراد به وجه الله والدار الآخرة.
...এবং ক্ষমতা, আর সংকল্পই হলো নিয়ত।অতএব, প্রথম বাক্যটির অর্থ হলো: প্রত্যেক আমলকারীরই একটি নিয়ত থাকে, কিন্তু নিয়তসমূহের মধ্যে রয়েছে বিশাল পার্থক্য এবং আকাশ ও জমিনের ন্যায় বিস্তর ব্যবধান। মানুষের মাঝে এমন কেউ আছে যার নিয়ত সর্বোচ্চ শিখরে আসীন, আবার এমন কেউ আছে যার নিয়ত আস্তাকুঁড়ের ন্যায় নিকৃষ্টতম ও নিম্নতম স্তরে। এমনকি আপনি হয়তো দেখবেন যে, দুইজন ব্যক্তি একই কাজ করছে, তাদের শুরু, শেষ, কাজের মধ্যবর্তী অবস্থা, নড়াচড়া, স্থিতি, কথা ও কাজ সব একই রকম; অথচ তাদের উভয়ের আমলের মাঝে আকাশ ও জমিনের ন্যায় ব্যবধান রয়েছে। আর এই সবটুকুই হয়েছে নিয়তের ভিন্নতার কারণে।অতএব, মূল ভিত্তি হলো— নিয়ত ছাড়া কোনো আমল নেই, তবে নিয়তসমূহ ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় হয়।এর ফলস্বরূপ তিনি বলেছেন: "আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পায় যার সে নিয়ত করে।" সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে: সে যদি তার শরীয়তসম্মত আমল দ্বারা আল্লাহ ও পরকাল কামনা করে, তবে সে তা লাভ করবে। আর যদি সে দুনিয়া কামনা করে, তবে তা কখনো অর্জিত হতে পারে, আবার কখনো নাও হতে পারে।মহান আল্লাহ বলেন: "যে ব্যক্তি ইহকাল কামনা করে, আমি তাকে সেখানে যা ইচ্ছা করি এবং যাকে ইচ্ছা করি দ্রুত দিয়ে দেই।" (সূরা আল-ইসরা: আয়াত ১৮)। তিনি বলেননি যে, 'সে যা চায় আমি তাকে তা দ্রুত দিয়ে দেই'; বরং তিনি বলেছেন: "আমি যা ইচ্ছা করি তাকে সেখানে তা দ্রুত দিয়ে দেই", সে যা চায় তা নয়। আবার বলেছেন: "যাকে আমি ইচ্ছা করি", অর্থাৎ প্রত্যেকের জন্য নয়। এভাবে তিনি যা দ্রুত দেওয়া হবে এবং যাকে দেওয়া হবে— উভয়কেই শর্তযুক্ত করেছেন। সুতরাং মানুষের মধ্যে কেউ আছে যাকে দুনিয়ার যা সে চায় তা প্রদান করা হয়, আবার কাউকে তার সামান্য কিছু দেওয়া হয়, আর কাউকে মোটেও কিছু দেওয়া হয় না। অন্যদিকে: "আর যারা পরকাল কামনা করে এবং মুমিন অবস্থায় তার জন্য যথাযথ চেষ্টা-সাধনা করে, তাদেরই প্রচেষ্টা হবে মূল্যায়নযোগ্য।" (সূরা আল-ইসরা: ১৯)। অর্থাৎ যে আমলের মাধ্যমে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকাল কামনা করেছে, তার ফল সে অবশ্যই লাভ করবে।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ١٩)
إذن ((إنما لكل امري ما نوي)) .وقوله: ((إنما الأعمال بالنيات..إلخ)) هذه الجملة والتي قبلها ميزان لكل عمل؛ لكنه ميزان الباطن، وقوله ص فيما أخرجه الشيخان عن عائشة رضي الله عها: ((من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد)) ميزان للأعمال الظاهرة.ولهذا قال أهل العلم: ((هذان الحديثان يجمعان الدين كله)) حديث عمر: ((إنما الأعمال بالنيات)) ميزان للباطن، وحديث عائشة: ((من عمل عملاً ليس عليه أمرنا)) ميزان للظاهر.ثم ضرب النبي صلي الله عليه وسلم مثلاً يطبق هذا الحديث عليه، قال: ((فمن كانت هجرته إلي الله ورسوله، فهجرته إلي الله ورسوله، ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها أو امرأة ينكحها، فهجرته إلي ما هاجر إليه)) :((الهجرة)) : أن ينتقل الإنسان من دار الكفر إلي دار الإسلام. مثل أن يكون رجل في أمريكا ـ وأمريكا دار كفر ـ فيسلم، ولا يتمكن من إظهار دينه هناك، فينتقل منها إلي البلاد الإسلامية، فهذه هي الهجرة. وإذا هاجر الناس، فهم يختلفون في الهجرة.الأول: منهم من يهاجر، ويدع بلده إلي الله ورسوله؛ يعني إلي شريعة
অতএব ((নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই পাবে))।আর তাঁর বাণী: ((নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল... ইত্যাদি))—এই বাক্যটি এবং এর পূর্ববর্তী বাক্যটি প্রতিটি আমলের জন্য একটি মাপকাঠি; তবে তা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ (বাতিনী) মাপকাঠি। আর আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে হাদীসটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) সংকলন করেছেন, যাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যাত))—এটি হচ্ছে বাহ্যিক আমলসমূহের মাপকাঠি।এ কারণেই আহলে ইলমগণ (বিদ্বানগণ) বলেছেন: ((এই দুটি হাদীস সমগ্র দীনকে অন্তর্ভুক্ত করে))। উমর (রা.)-এর হাদীস: ((নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)) হলো অভ্যন্তরীণ বিষয়ের মাপকাঠি, আর আয়েশা (রা.)-এর হাদীস: ((যে ব্যক্তি এমন আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই)) হলো বাহ্যিক বিষয়ের মাপকাঠি।অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই হাদীসটি প্রয়োগের জন্য একটি উদাহরণ পেশ করেছেন; তিনি বলেছেন: ((সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে)) :((হিজরত)) হলো: কোনো মানুষের কুফর রাষ্ট্র (দারুল কুফর) থেকে ইসলামি রাষ্ট্রের (দারুল ইসলাম) দিকে স্থানান্তরিত হওয়া। যেমন কোনো ব্যক্তি আমেরিকায় অবস্থান করছে—আর আমেরিকা হলো কুফর রাষ্ট্র—অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করল এবং সেখানে তার দীন প্রকাশ করতে সক্ষম হলো না, ফলে সে সেখান থেকে ইসলামি দেশগুলোতে চলে গেল; এটিই হচ্ছে হিজরত। আর মানুষ যখন হিজরত করে, তখন হিজরতের উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে তারা ভিন্ন ভিন্ন হয়।প্রথম প্রকার: তাদের মধ্যে কেউ কেউ হিজরত করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে নিজের দেশ ত্যাগ করে; অর্থাৎ তাঁর শরীয়তের দিকে।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الله التي شرعها الله على رسوله صلي الله عليه وسلم هذا هو الذي ينال الخير،، وينال مقصوده؛ ولهذا قال: ((فهجرته إلي الله ورسوله)) ؛ أي فقد أدرك ما نوي.الثاني من المهاجرين: هاجر لدنيا يصيبها، يعني: رجل يحب جمع المال، فسمع أن بلاد الإسلام مرتعاً خصباً يصيبها خصباً لاكتساب الأموال، فهاجر من بلد الكفر إلي بلد الإسلام؛ من أجل الماء فقط، لا يقصد أن يستقيم دينه، ولا يهتم بدينه، ولكن همه المال.الثالث: رجل هاجر من بلد الكفر إلي بلد الإسلام؛ يريد امرأة يتزوجها، قيل له: لا نزوجك إلا في بلاد الإسلام، ولا تسافر بها إلي بلد الكفر، فهاجر من بلده ـ إلي بلاد الإسلام؛ من أجل أن يتزوج هذه المرأة.فمريد الدنيا ومريد المرأة، لم يهاجر إلي الله ورسوله، ولهذا قال النبي صلي الله عليه وسلم ((فهجرته إلي ما هاجر إليه)) ، وهنا قال ((إلي ما هاجر إليه)) ولم يقل ((فهجرته إلي دنيا يصيبها أو امرأة ينكحها)) فلماذا؟ قيل: لطول الكلام؛ لأنه إذا قال: فهجرته إلي دنيا يصيبها أو امرأة ينكحها؛ صار الكلام طويلاً، فقال: ((هجرته إلي ما هاجر إليه))وقيل: بل لم ينص عليهما؛ احتقاراً لهما، وإعراضاً عن ذكرهما؛ فلأنهما حقيران؛ أي: الدنيا، والزوجة. ونية الهجرة ـ التي هي من أفضل الأعمال - لإرادة الدنيا والمرأة؛ نية منحطة سافلة، قال: ((فهجرته إلي ما هاجر إليه)) فلم يذكر ذلك احتقاراً، لأنها نية فاسدة منحطة.
আল্লাহর সেই বিধান যা আল্লাহ তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর বিধিবদ্ধ করেছেন, যে ব্যক্তি এটি অনুসরণ করবে সেই কল্যাণ লাভ করবে এবং নিজ উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে পারবে। একারণেই তিনি বলেছেন: "তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই হবে"; অর্থাৎ সে যা নিয়ত করেছিল তা সে লাভ করেছে।দ্বিতীয় প্রকার মুহাজির: যে ব্যক্তি পার্থিব কোনো স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে হিজরত করে। অর্থাৎ: এমন এক ব্যক্তি যে সম্পদ জমা করতে ভালোবাসে, অতঃপর সে শুনতে পেল যে ইসলামী ভূখণ্ড অর্থ উপার্জনের জন্য একটি উর্বর চারণভূমি; তাই সে কুফরি রাষ্ট্র থেকে ইসলামী রাষ্ট্রে হিজরত করল কেবল সম্পদের মোহে। তার উদ্দেশ্য দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা নয় এবং সে নিজের দ্বীন নিয়েও চিন্তিত নয়, বরং তার একমাত্র দুশ্চিন্তা হলো সম্পদ।তৃতীয় প্রকার: এমন এক ব্যক্তি যে কুফরি রাষ্ট্র থেকে ইসলামী রাষ্ট্রে হিজরত করল কোনো এক নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে। তাকে বলা হয়েছিল: "আমরা তোমার সাথে বিয়ে দেব না যদি না তা ইসলামী ভূখণ্ডে হয়, আর তুমি তাকে নিয়ে কুফরি রাষ্ট্রে যেতে পারবে না।" তাই সে নিজ দেশ ছেড়ে ইসলামী রাষ্ট্রে হিজরত করল কেবল সেই নারীকে বিবাহ করার জন্য।সুতরাং দুনিয়াপ্রত্যাশী এবং নারীপ্রত্যাশী ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করেনি। একারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তবে তার হিজরত সেদিকেই হবে যেদিকে সে হিজরত করেছে।" এখানে তিনি "সেদিকেই হবে যেদিকে সে হিজরত করেছে" বলেছেন, কিন্তু "তার হিজরত কোনো পার্থিব সম্পদ অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহের জন্য" কেন বললেন না? বলা হয়েছে: বাক্য দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। কারণ যদি তিনি বলতেন: "তবে তার হিজরত কোনো পার্থিব সম্পদ অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহের জন্য হবে", তবে বাক্যটি অনেক দীর্ঘ হয়ে যেত। তাই তিনি বলেছেন: "তার হিজরত সেদিকেই হবে যেদিকে সে হিজরত করেছে।"আবার এও বলা হয়েছে যে: বরং এই দুটির তুচ্ছতা বুঝাতে এবং তা উল্লেখ করা থেকে বিমুখ থাকতেই তিনি স্পষ্টভাবে তা উচ্চারণ করেননি। কেননা দুনিয়া এবং স্ত্রী—উভয়ই তুচ্ছ। আর হিজরতের মতো নিয়ত—যা শ্রেষ্ঠ আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত—তা যদি দুনিয়া বা নারীর উদ্দেশ্যে হয়, তবে সেই নিয়ত অত্যন্ত হীন ও নিম্নমানের। তিনি বলেছেন: "তবে তার হিজরত সেদিকেই হবে যেদিকে সে হিজরত করেছে", আর অবজ্ঞাবশত তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেননি, যেহেতু এটি একটি কলুষিত ও নিম্নমানের নিয়ত।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وعلي كل حال، سواء هذا أو الجميع؛ فإن هذا الذي نوي بهجرته الدنيا، أو المرأة التي ينكحها، لا شك أن نية سافلة منحطة هابطة، بخلاف الأول الذي هاجر غلي الله ورسوله صلي الله عليه وسلم. أقسام الهجرة: الهجرة تكون للعمل، وتكون للعامل، وتكون للمكان.القسم الأول: هجرة المكان: فأن ينتقل الإنسان من مكان تكثر فيه المعاصي، ويكثر فيه الفسوق، وربما يكون بلد كفر إلي بلد لا يوجد فيه ذلك.وأعظمه الهجرة من بلد الكفر إلي بلد الإسلام، وقد ذكر أهل العلم إنه يجب علي الإنسان أن يهاجر من بلد الكفر إلي بلد الإسلام إذا كان غير قادر علي إظهار دينه. وأما إذا كان قادراً علي إظهار دينه، ولا يعارض إذا أقام شعائر الإسلام؛ فإن الهجرة لا تجب عليه، ولكنها تستحب، وبناء علي ذلك يكون السفر إلي بلد الكف أعظم من البقاء فيه، فإذا كان بلد الكفر الذي كان وطن الإنسان؛ إذا لم يستطع إقامة دينه فيه؛ وجب عليه مغادرته، والهجرة منه.فذلك إذا كان الإنسان من أهل الإسلام، ومن بلاد المسلمين؛ فإنه لا يجوز له أن يسافر إلي بلد الكفر؛ لما في ذلك من الخطر على دينه، وعلي أخلاقه، ولما في ذلك من الخطر على دينه، وعلي أخلاقه، ولما في ذلك من إضاعة ماله، ولما في ذلك من تقوية اقتصاد الكفار، ونحن مأمورون بأن نغيظ الكفار بكل ما نستطيع، كما قال
যাহোক, এটি হোক বা সবগুলিই হোক; যে ব্যক্তি তার হিজরতের মাধ্যমে দুনিয়া হাসিল করা অথবা কোনো নারীকে বিবাহের নিয়ত করে, নিঃসন্দেহে তার এই নিয়ত অতি হীন, নিচু ও অধঃপতিত; সেই প্রথম ব্যক্তির বিপরীতে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উদ্দেশ্যে হিজরত করেছে। হিজরতের প্রকারভেদ: হিজরত কর্মের (আমল) জন্য হয়, কর্মীর (আমিল) জন্য হয় এবং স্থানের জন্য হয়ে থাকে।প্রথম প্রকার: স্থান ভিত্তিক হিজরত: অর্থাৎ মানুষ এমন কোনো স্থান থেকে প্রস্থান করবে যেখানে পাপাচার ও ফাসেকী অধিক পরিমাণে বিদ্যমান, এমনকি তা কুফরী রাষ্ট্রও হতে পারে; এমন কোনো দেশের দিকে যেখানে এগুলোর প্রাদুর্ভাব নেই।আর এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো কুফরী রাষ্ট্র থেকে ইসলামী রাষ্ট্রে হিজরত করা। আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি কুফরী রাষ্ট্রে স্বীয় দ্বীন প্রকাশ করতে অক্ষম হয়, তবে তার জন্য সেখান থেকে ইসলামী রাষ্ট্রে হিজরত করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। পক্ষান্তরে যদি সে তার দ্বীন প্রকাশ করতে সক্ষম হয় এবং ইসলামের নিদর্শনাবলী পালনে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়, তবে তার জন্য হিজরত করা ওয়াজিব নয়, বরং মুস্তাহাব। এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, কুফরী রাষ্ট্রে সফর করা সেখানে অবস্থানের চেয়েও অধিকতর আশঙ্কাজনক। সুতরাং কুফরী রাষ্ট্র যদি কারো মাতৃভূমিও হয়, আর সেখানে যদি সে তার দ্বীন পালন করতে সক্ষম না হয়, তবে তার জন্য সেই স্থান ত্যাগ করা ও সেখান থেকে হিজরত করা ওয়াজিব।অনুরূপভাবে, কোনো ব্যক্তি যদি মুসলিম হয় এবং মুসলিম ভূখণ্ডের অধিবাসী হয়, তবে তার জন্য কুফরী রাষ্ট্রে সফর করা বৈধ নয়; কারণ এতে তার দ্বীন ও চরিত্রের ওপর ঝুঁকি বিদ্যমান, তদুপরি এতে সম্পদের অপচয় হয় এবং কাফেরদের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। অথচ আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাফেরদের ক্ষোভের কারণ হই, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
الله تبارك وتعالي:) يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُمْ مِنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ) (التوبة: 123) وقال تعالي: (وَلا يَطَأُونَ مَوْطِئاً يُغِيظُ الْكُفَّارَ وَلا يَنَالُونَ مِنْ عَدُوٍّ نَيْلاً إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ إِنَّ اللَّهَ لا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ) (التوبة: من الآية120) . فالكافر إيا كان، سواء كان من النصارى، أو من اليهود، أو من الملحدين، وسواء تسمي بالإسلام أم لم يتسم بالإسلام، الكافر عدو لله ولكتابه ولرسوله وللمؤمنين جميعاً، مهما تلبس بما تلبس به؛ فإنه عدو!!فلا يجوز للإنسان أن يسافر إلي بلد الكفر إلا بشروط ثلاثة:الشرط الأول: أن يكون عنده علم يدفع به الشبهات؛ لأن الكفار يوردون على المسلمين شبهاً في أخلاقهم، وفي كل شيء يوردون الشبهة؛ ليبقي الإنسان شاكا متذبذبا، ومن المعلوم أن الإنسان إذا شك في الأمور التي يجب فيها اليقين؛ فإنه لم يقم بالواجب، فالإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر والقدر خيره وشره - الإيمان بهذه - يجب أن يكون يقيناً؛ فإن شك الإنسان في شيء من ذلك فهو كافر. فالكفار يدخلون علي المسلمين الشك، حتى إن بعض زعمائهم صرح قائلاً: لا تحاولوا أن تخرجوا المسلم من دينه إلي دين النصارى، ولكن يكفي أن تشككوه في دينه؛ لأنكم إذا شككتموه في دينه سلبتموه الدين، وهذا كاف، أنتم أخرجوه من هذه الحظيرة التي فيها الغلبة والعزة والكرامة ويكفي. أما أن تحاولوا أن تدخلوه في دين النصارى - المبني
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেন: (হে মুমিনগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো এবং তারা যেন তোমাদের মাঝে কঠোরতা দেখতে পায়। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন) (আত-তাওবা: ১২৩)। এবং তিনি আরও বলেন: (এবং তারা এমন কোনো স্থানে পদক্ষেপ করে না যা কাফিরদের ক্রোধ প্রজ্বলিত করে এবং শত্রুর পক্ষ থেকে এমন কিছুই অর্জন করে না যার বিনিময়ে তাদের জন্য নেক আমল লেখা হয় না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না) (আত-তাওবা: ১২০ আয়াতের অংশ)। সুতরাং কাফির যে-ই হোক না কেন, সে খ্রিস্টান হোক, বা ইহুদি হোক, অথবা নাস্তিক হোক, আর সে নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিক বা না দিক; কাফির আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল এবং সকল মুমিনের শত্রু, সে যে বেশেই থাকুক না কেন; সে নিশ্চিতভাবেই শত্রু!!তাই কোনো ব্যক্তির জন্য কুফরীর দেশে সফর করা বৈধ নয় তিনটি শর্ত ব্যতীত:প্রথম শর্ত: তার কাছে এমন জ্ঞান থাকতে হবে যার মাধ্যমে সে সংশয়সমূহ নিরসন করতে পারে; কারণ কাফিররা মুসলিমদের নৈতিকতা এবং প্রতিটি বিষয়ে সংশয় ছুড়ে দেয়, যাতে মানুষ সন্দেহপ্রবণ ও দোদুল্যমান থাকে। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, যেসব বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস থাকা অপরিহার্য, মানুষ যদি তাতে সন্দেহ পোষণ করে, তবে সে তার আবশ্যিক দায়িত্ব পালন করল না। সুতরাং আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস—এই বিষয়গুলোর ওপর ঈমান অবশ্যই সুনিশ্চিত হতে হবে; যদি কোনো মানুষ এর কোনো একটির ব্যাপারেও সন্দেহ করে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে। কাফিররা মুসলিমদের মনে সংশয় ঢুকিয়ে দেয়, এমনকি তাদের জনৈক নেতা স্পষ্টভাবে বলেছে: "মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বের করে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা করবেন না, বরং তাদের মনে তাদের দ্বীন সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করাই যথেষ্ট; কারণ যদি আপনারা তাকে তার দ্বীন সম্পর্কে সংশয়ে ফেলে দিতে পারেন, তবে আপনারা তার কাছ থেকে তার দ্বীনকে ছিনিয়ে নিলেন, আর এটাই যথেষ্ট। আপনারা তাকে সেই বেষ্টনী থেকে বের করে আনুন যাতে রয়েছে বিজয়, সম্মান ও মর্যাদা; এটাই যথেষ্ট। আর আপনারা তাকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা করা—যা মূলত..."
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
علي الضلال والسفاهة - فهذا لا يمكن، لأن النصارى ضالون، كما جاء في الحديث عن النبي صلي الله عليه وسلم، وإن كان دين المسيح عليه الصلاة والسلام دين حق، لكنه دين الحق في وقته قل أن ينسخ برسالة النبي صلي الله عليه وسلم فإن الهدي والحق فيما جاء به الرسول صلي الله عليه وسلم.الشرط الثاني: أن يكون عنده دين يحميه من الشهوات؛ لأن الإنسان يدفع به الشبهات. الذي ليس عنده دين إذا ذهب إلي بلاد الكفر انغمس؛ لأنه يجد زهرة الدنيا، هناك شهوات، من خمر، وزني، ولوط. كل إجرام موجود في بلاد الكفر. فإذا ذهب إلي هذه البلاد يخشي عليه أن ينزلق في هذه الأوحال، إلا إذا كان عنده دين يحميه. فلابد أن يكون عند الإنسان دين يحميه من الشهوات.الشرط الثالث: أن يكون محتاجاً إلي ذلك؛ مثل أن يكون مريضاً؛ يحتاج إلي السفر إلي بلاد الكفر للاستشفاء، أو يكون محتاجاً إلي علم لا يوجد في بلد الإسلام تخصص فيه؛ فيذهب إلي هناك ويتعلم، أو يكون الإنسان محتاجاً إلي تجارة، يذهب ويتجر ويرجع. المهم أنه لابد أن يكون هناك حاجة ولهذا أري أن الذين يسافرون إلي بلد الكفر من أجل السياحة فقط. أري أنهم آثمون، وأن كل قرش يصرفونه لهذا السفر فإنه
ভ্রষ্টতা ও নির্বুদ্ধিতার ওপর—এটি সম্ভব নয়; কারণ নাসারাগণ (খ্রিস্টানরা) পথভ্রষ্ট, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে। যদিও মসীহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের দ্বীন সত্য ছিল, তবে তা ছিল তাঁর নিজ সময়ের জন্য সত্য দ্বীন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের মাধ্যমে রহিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কার্যকর ছিল। সুতরাং বর্তমান হিদায়েত ও সত্য কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার মধ্যেই নিহিত।দ্বিতীয় শর্ত: তার মাঝে এমন ধর্মীয় দৃঢ়তা থাকতে হবে যা তাকে প্রবৃত্তির তাড়না থেকে রক্ষা করবে; কেননা মানুষ এর মাধ্যমে সংশয়সমূহ প্রতিহত করে। যার মাঝে দ্বীনদারী নেই, সে যখন কুফরি রাষ্ট্রে যায় তখন সেখানে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে; কারণ সে সেখানে পার্থিব চাকচিক্য দেখতে পায়। সেখানে মদ্যপান, ব্যভিচার ও সমকামিতার মতো নানাবিধ কুপ্রবৃত্তি বিদ্যমান। কুফরি দেশগুলোতে সকল প্রকার অপরাধের উপস্থিতি রয়েছে। তাই কেউ যখন সেই দেশগুলোতে যায়, তখন আশঙ্কা থাকে যে সে এই পঙ্কিলতায় নিপতিত হবে, যদি না তার মাঝে এমন ধর্মীয় চেতনা থাকে যা তাকে রক্ষা করবে। অতএব, মানুষের মাঝে অবশ্যই এমন দ্বীনদারী থাকতে হবে যা তাকে প্রবৃত্তি থেকে সুরক্ষা দেবে।তৃতীয় শর্ত: সেখানে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকা; যেমন কেউ অসুস্থ হলো এবং চিকিৎসার জন্য তাকে কুফরি রাষ্ট্রে গমনের প্রয়োজন পড়ল। অথবা এমন কোনো বিশেষায়িত জ্ঞান বা শিক্ষার প্রয়োজন হলো যা মুসলিম ভূখণ্ডে পাওয়া যায় না; ফলে সে সেখানে গেল এবং শিক্ষা গ্রহণ করল। অথবা কোনো ব্যক্তি ব্যবসার প্রয়োজনে সেখানে গেল এবং ব্যবসা সম্পাদন করে ফিরে এল। মূল কথা হলো, সেখানে যাওয়ার পেছনে অবশ্যই কোনো না কোনো প্রয়োজন থাকতে হবে। এজন্য আমি মনে করি, যারা কেবল পর্যটনের উদ্দেশ্যে কুফরি রাষ্ট্রে সফর করে, তারা গুনাহগার। এবং এই সফরের পেছনে তারা যে প্রতিটি পয়সা ব্যয় করে, তা নিশ্চিতভাবেই...
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
حرام عليهم، وإضاعة لمالهم، وسيحاسبون عنه يوم القيامة؛ حين لا يجدون مكاناً يتفسحون فيه أو يتنزهون فيه، حين لا يجدون إلا أعمالهم، لأن هؤلاء يضيعون أوقاتهم، ويتلفون أموالهم، ويفسدون أخلاقهم، وكذلك ربما يكون معهم عوائلهم، ومن عجب أن هؤلاء يذهبون إلي بلاد الكفر التي لا يسمع فيها صوت مؤذن، ولا ذكر ذاكر، وإنما يسمع فيها أبواق اليهود، ونواقيس النصارى، ثم يبقون فيها مدة هم وأهلوهم وبنوهم وبناتهم، فيحصل في هذا شر كثير، نسأل الله العافية والسلامة. وهذا من البلاء الذي يحل الله به النكبات التي تأتينا، والتي نحن الآن نعيشها كلها بسبب الذنوب والمعاصي، كما اقل الله تعالي: (وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ) (الشورى: 30) نحن غافون، نحن آمنون في بلادنا. كأن ربنا غافل عنان كأنه لا يعلم، كأنه لا يملي للظالم حتى إذا أخذه لم يفلته.والناس يعصرون في هذا الحوداث، ولكن قلوبهم قاسية والعياذ بالله! وقد قال الله سبحانه:) وَلَقَدْ أَخَذْنَاهُمْ بِالْعَذَابِ فَمَا اسْتَكَانُوا لِرَبِّهِمْ وَمَا يَتَضَرَّعُونَ) (المؤمنون: 76) أخذناهم بالعذاب، ونزل بهم، ومع ذلك ما استكانوا إلي الله، وما تضرعوا إليه بالدعاء، وما خافوا من سطوته، ولكن قست القلوب - نسأ الله العافية-وماتت؛ حتى أصبحت الحوادث المصيرية تمر على القلب وكأنها ماء بارد، نعوذ بالله من موت القلب وقسوته، وإلا لو كان الناس في
এটি তাদের জন্য হারাম এবং এটি তাদের সম্পদের অপচয়, আর কিয়ামতের দিন তাদের এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে; যখন তারা ভ্রমণের বা চিত্তবিনোদনের কোনো স্থান খুঁজে পাবে না, তখন কেবল নিজেদের আমল ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। কেননা এরা নিজেদের সময় নষ্ট করছে, অর্থ অপচয় করছে এবং নিজেদের চরিত্র কলুষিত করছে। তদুপরি অনেক সময় তাদের সাথে তাদের পরিবার-পরিজনও থাকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই লোকগুলো কুফরি রাষ্ট্রসমূহে গমন করে, যেখানে মুয়াজ্জিনের আজান শোনা যায় না, কোনো যিকিরকারীর যিকির শোনা যায় না; বরং সেখানে কেবল ইহুদিদের শিঙা আর খ্রিষ্টানদের ঘণ্টার শব্দ শোনা যায়। অতঃপর তারা সেখানে তাদের পরিবার, পুত্র ও কন্যাদের নিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে, যার ফলে এতে ব্যাপক অনিষ্টের সৃষ্টি হয়। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি। আর এটি সেই পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের ওপর বিপর্যয় আপতিত করেন, আর বর্তমানে আমরা যে সব সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছি তার মূলে রয়েছে আমাদের পাপ ও অবাধ্যতা। যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন: (তোমাদের ওপর যে বিপদই আসুক না কেন, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল, আর তিনি তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন) (আশ-শুরা: ৩০)। আমরা উদাসীন হয়ে আছি, নিজেদের ভূখণ্ডে নিরাপদ বোধ করছি। মনে হচ্ছে যেন আমাদের প্রতিপালক আমাদের ব্যাপারে বিমুখ, যেন তিনি কিছুই জানেন না, যেন তিনি জালিমকে অবকাশ দিচ্ছেন না—অথচ যখন তিনি তাকে পাকড়াও করবেন, তখন আর রেহাই দেবেন না।মানুষ এই সকল ঘটনার আবর্তে পিষ্ট হচ্ছে, কিন্তু তাদের অন্তর অত্যন্ত কঠোর হয়ে গেছে, আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই! মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এরশাদ করেছেন: (আমি তাদেরকে আযাব দিয়ে পাকড়াও করলাম, তবুও তারা তাদের প্রতিপালকের সামনে নতি স্বীকার করল না এবং বিনীতভাবে প্রার্থনাও করল না) (আল-মুমিনুন: ৭৬)। আমি তাদের আযাব দ্বারা পাকড়াও করেছি এবং তাদের ওপর মুসিবত নাজিল হয়েছে, তা সত্ত্বেও তারা আল্লাহর সমীপে বিনয়াবনত হয়নি, দোয়ার মাধ্যমে তাঁর কাছে কাকুতি-মিনতি করেনি এবং তাঁর প্রতাপকে ভয় করেনি। বরং তাদের অন্তরগুলো কঠোর হয়ে গেছে—আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই—এবং মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে; এমনকি ভাগ্যনির্ধারণী ভয়াবহ ঘটনাবলিও অন্তরের ওপর দিয়ে শীতল পানির মতো বয়ে যায় (অর্থাৎ কোনো প্রভাব ফেলে না), আমরা অন্তরের মৃত্যু ও কঠোরতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। নতুবা মানুষ যদি...
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
عقل، وفي قلوب حية، ما صاروا علي هذا الوضع الذي نحن عليه الآن، مع أننا في وضع نعتبر أننا في حال حرب مدمرة مهلكة، حرب غازات الأعصاب والجنود وغير ذلك، ومع هذا لا تجد أحداً حرك ساكناً إلا أن يشاء الله، هذا لا شك أنه خطأ، إن أناسا في هذه الظروف العصيبة ذهبوا بأهليهم يتنزهون في بلاد الكفر، وفي بلاد الفسق وفي بلاد المجون والعياذ بالله! والسفر إلي بلاد الكفر للدعوة يجوز؛ إذا كان له أثر وتأثير هناك فإنه جائز، لأنه سفر لمصلحة، وبلاد الكفر كثير من عوامهم قد عمي عليهم الإسلام، لا يدرون عن الإسلام شيئاً، بل قد ضللوا، وقيل لهم إن الإسلام دين وحشية وهمجية ورعاع، ولا سيما إذا سمع الغرب بمثل هذه الحوادث التي حصلت علي أيدي من يقولون إنهم مسلمون، سيقولون أين الإسلام؟! هذه وحشية!! وحوش ضارية يعدو بعضها علي بعض ويأكل بعضها بعضا، فينفر الناس من الإسلام بسبب أفعال المسلمين، نسأل الله أن يهدينا جميعاً صراطه المستقيم.القسم الثاني: هجرة العمل، وهي أن يهجر الإنسان ما نهاه الله عنه من المعاصي والفسوق كما قال النبي صلي الله عليه وسلم: ((المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده والمهاجر من هجر ما نهي الله عنه)) فتهجر كل ما حرم الله
বিবেক এবং জীবন্ত হৃদয় থাকলে তারা বর্তমান এই অবস্থায় উপনীত হতো না যাতে আমরা রয়েছি; যদিও আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে রয়েছি যাকে বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী যুদ্ধাবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়—স্নায়ু যুদ্ধ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সরঞ্জামের যুদ্ধ। তা সত্ত্বেও আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে কাউকে নড়চড় করতে দেখা যায় না। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভুল যে, এই চরম সংকটাপন্ন পরিস্থিতির মধ্যেও একদল লোক সপরিবারে কুফরি রাষ্ট্রসমূহে, পাপাচার ও অশ্লীলতার জনপদে প্রমোদভ্রমণে লিপ্ত হয়, আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন! আর দাওয়াতের উদ্দেশ্যে কুফরি দেশগুলোতে সফর করা বৈধ; যদি সেখানে তার কোনো প্রভাব ও কার্যকারিতা থাকে তবে তা জায়েজ, কারণ এটি একটি কল্যাণকর সফর। কুফরি দেশের অনেক সাধারণ মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত রূপ আচ্ছন্ন হয়ে আছে, তারা ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানে না; বরং তাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, ইসলাম হলো বর্বরতা, অসভ্যতা ও উচ্ছৃঙ্খলতার ধর্ম। বিশেষ করে যখন পাশ্চাত্য এমন সব ঘটনার কথা শোনে যা নিজেদের মুসলিম দাবিদার এক শ্রেণির মানুষের হাতে সংঘটিত হয়, তখন তারা বলে যে, ইসলাম কোথায়?! এটি তো নিছক পাশবিকতা!! যেন হিংস্র পশুরা একে অপরের ওপর চড়াও হচ্ছে এবং একে অপরকে ছিঁড়ে খাচ্ছে। ফলে মুসলমানদের কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ ইসলাম থেকে বিমুখ হয়ে যায়। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকলকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।দ্বিতীয় বিভাগ: কর্মের হিজরত। আর তা হলো মানুষ পাপাচার ও অবাধ্যতার সেই সব বিষয় বর্জন করবে যা আল্লাহ তাকে নিষেধ করেছেন; যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমানরা নিরাপদ থাকে, আর প্রকৃত মুহাজির সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করে।" সুতরাং আল্লাহ যা কিছু হারাম করেছেন তা আপনি বর্জন করবেন।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
عليك، سواء كان مما يتعلق بحقوق الله، أو ما يتعلق بحقوق عباد الله؛ فتجهر السبب والشتم والقتل والغش وأكل المال بالباطل وعقوق الوالدين وقطيعة الأرحام وكل شيء حرم الله تهجره، حتى لو أن نفسك دعتك إلي هذا وألحت عليك، فاذكر أن الله حرم ذلك حتى تهجره وتبعد عنه. القسم الثالث: هجرة العامل، فإن العامل قد تجب هجرته أحياناً، قال أهل العلم: مثل الرجل المجاهر بالمعصية؛ الذي لا يبالي بها؛ فإنه يشرع هجره إذا كان في هجره فائدة ومصلحة.والمصلحة والفائدة إنه إذا هجر عرف قدر نفسه، ورجع عن المعصية.ومثال ذلك: رجل معروف بالغش بالبيع والشراء؛ فيهجره الناس، فإذا هجروه تاب من هذا ورجع وندم، ورجل ثان يتعامل بالربا، فيهجره الناس، ولا يسلمون عليه، ولا يكلمونه؛ فإذا عرف هذا خجل من نفسه وعاد إلي صوابه، ورجل ثالث-وهو أعظمهم-لا يصلي؛ فهذا مرتد كافر - والعياذ بالله -؛ يجب أن يهجر؛ فلا يرد عليه السلام، ولا يسلم عليه، ولا تجاب دعوته حتى إذا عرف نفسه ورجع إلي الله وعاد إلي الإسلام انتفع بذلك.أما إذا كان الهجر لا يفيد ولا ينفعن وهو من أجل معصية، لا من أجل كفر، لأن الهجر إذا كان للكفر فإنه يهجر. والكافر المرتد يهجر على كل حال - أفاد أم لم يفد - لكن صاحب المعصية التي دون الكفر إذا لم يكن في هجره مصلحة فإنه لا يحل هجره؛ لأن النبي صلي الله عليه وسلم قال: ((لا يحل لمسلم أن يهجر أخاه فوق ثلاث ليال يلتقيان فيعرض هذا ويعرض هذا، وخيرهما
আপনার ওপর আবশ্যক—চাই তা আল্লাহর হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক কিংবা আল্লাহর বান্দাদের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক—আপনি যেন গালিগালাজ, মন্দ বাক্য প্রয়োগ, হত্যা, প্রতারণা, অবৈধভাবে সম্পদ ভক্ষণ, পিতামাতার অবাধ্যতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং আল্লাহ যা কিছু হারাম করেছেন তা সবকিছু বর্জন করেন। এমনকি যদি আপনার নফস আপনাকে এগুলোর দিকে আহ্বান করে এবং প্ররোচিত করে, তবুও স্মরণ রাখবেন যে আল্লাহ তা হারাম করেছেন, যাতে আপনি তা বর্জন করতে পারেন এবং তা থেকে দূরে থাকতে পারেন। তৃতীয় প্রকার: আমলকারীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ; কেননা কখনও কখনও আমলকারীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। আলেমগণ বলেছেন: যেমন সেই ব্যক্তি যে প্রকাশ্যে পাপে লিপ্ত হয় এবং এর পরোয়া করে না; এমতাবস্থায় তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা শরীয়তসম্মত যদি সেই বর্জনের মধ্যে কোনো ফায়দা ও কল্যাণ থাকে।আর সেই কল্যাণ ও উপকারিতা হলো এই যে, যখন তাকে বর্জন করা হবে, তখন সে নিজের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারবে এবং পাপ থেকে ফিরে আসবে।এর উদাহরণ হলো: এমন এক ব্যক্তি যে কেনা-বেচায় প্রতারণার জন্য পরিচিত; মানুষ তার সাথে সম্পর্ক বর্জন করে। যখন তারা তাকে বর্জন করে, তখন সে এ থেকে তওবা করে, ফিরে আসে এবং অনুতপ্ত হয়। দ্বিতীয় ব্যক্তি যে সুদী কারবার করে; মানুষ তার সাথে সম্পর্ক বর্জন করে, তাকে সালাম দেয় না এবং তার সাথে কথা বলে না; তখন সে যখন এটি বুঝতে পারে, তখন লজ্জিত হয় এবং সঠিক পথে ফিরে আসে। তৃতীয় ব্যক্তি—যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য—সে সালাত আদায় করে না; সে মুরতাদ ও কাফের—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—তাকে বর্জন করা ওয়াজিব। তাকে সালাম দেওয়া যাবে না, তার সালামের উত্তর দেওয়া যাবে না এবং তার দাওয়াত কবুল করা যাবে না, যতক্ষণ না সে নিজেকে অনুধাবন করে, আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং ইসলামে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে উপকৃত হয়।পক্ষান্তরে, যদি সম্পর্কচ্ছেদ কোনো উপকারে না আসে এবং তা কুফরির কারণে না হয়ে কোনো গোনাহের কারণে হয়, তবে বিষয়টি ভিন্ন। কারণ সম্পর্কচ্ছেদ যদি কুফরির জন্য হয়, তবে তাকে অবশ্যই বর্জন করতে হবে। আর কাফের ও মুরতাদকে সব অবস্থাতেই বর্জন করা হবে—চাই তাতে ফায়দা হোক বা না হোক। কিন্তু কুফরের নিম্নপর্যায়ের পাপে লিপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি তাকে বর্জন করায় কোনো কল্যাণ না থাকে, তবে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা বৈধ নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়; তাদের দেখা হলে একজন একদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অন্যজন অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আর তাদের মধ্যে সেই উত্তম...”
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الذي يبدأ بالسلام.ومن المعلوم أن المعاصي التي دون الكفر عند أهل السنة والجماعة لا تخرج من الإيمان.فيبقي النظر بعد ذلك؛ هل الهجر مفيد أو لا؟ فإن أفاد، وأوجب أن يدع الإنسان معصيته فإنه يهجر، ودليل ذلك قصة كعب بن مالك رضي الله عنه، وهلال بن أمية، ومرارة بن الربيع رضي الله عنهم الذين تختلفوا عن غزوة تبوك فهجرهم النبي صلي الله عليه وسلم وأمر المسلمين بهجرهم، لكنهم انتفعوا في ذلك انتفاعا عظيماً ولجأوا إلي الله، وضاقت عليهم الأرض بما رحبت، وضاقت عليهم أنفسهم، وأيقنوا أن لا ملجأ من الله إلا إليه فتابوا وتاب الله عليهم.هذه أنواع الهجرة: هجرة المكان، وهجرة العمل، وهجرة العامل. * ** 2-وعن أم المؤمنين أم عبد الله عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: ((يغزو جيش الكعبة فإذا كانوا ببيداء من الأرض يخسف بأولهم وآخرهم)) قالت: يا رسول الله، كيف تخسف بأولهم وآخرهم
যে সালামের মাধ্যমে শুরু করে।আর এটি সুবিদিত যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট কুফরি নয় এমন পাপরাশি মানুষকে ঈমান থেকে বের করে দেয় না।এরপর বিচার্য বিষয় হলো; এই বর্জন কি ফলপ্রসূ হবে নাকি হবে না? যদি তা ফলদায়ক হয় এবং এর ফলে ব্যক্তি তার পাপ বর্জন করে, তবে তাকে বর্জন করা হবে। এর প্রমাণ হলো কাব ইবনে মালিক (রা.), হিলাল ইবনে উমাইয়াহ এবং মুরারাহ ইবনে রাবী (রা.)-এর ঘটনা, যারা তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বর্জন করেছিলেন এবং মুসলিমদেরও তাদের বর্জনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা এর মাধ্যমে অত্যন্ত উপকৃত হয়েছিলেন এবং আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। পৃথিবী তার বিশালতা সত্ত্বেও তাদের নিকট সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছিল। তারা নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই। অতঃপর তারা তওবা করলেন এবং আল্লাহও তাদের তওবা কবুল করলেন।এগুলোই হলো হিজরতের প্রকারভেদ: স্থান বর্জন, কর্ম বর্জন এবং ব্যক্তিকে বর্জন। * ** ২-উম্মুল মুমিনীন উম্মে আবদুল্লাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “একটি বাহিনী কাবার ওপর আক্রমণ করতে আসবে। অতঃপর তারা যখন বিস্তীর্ণ কোনো এক প্রান্তরে পৌঁছাবে, তখন তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকে মাটির নিচে ধসিয়ে দেওয়া হবে।” তিনি (আয়েশা রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কীভাবে তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকে ধসিয়ে দেওয়া হবে?
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وفيهم اسوافهم، ومن ليس منهم؟ قال: ((يخسف بأولهم وآخرهم ثم يبعثون على نياتهم)) (متفق عليه) هذا لفظ البخاري. [الشَّرْحُ] ذكر المؤلف حديث عائشة رضي الله عنها أن النبي صلي الله عليه وسلم أخبر أنه يغزو جيش الكعبة، الكعبة المشرفة حماها الله وأنقذها من كل شر.هذه الكعبة هي بيت الله؛ بناه إبراهيم، وابنه إسماعيل - عليهما الصلاة والسلام - وكانا يرفعان القواعد من البيت ويقولان) رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ) (البقرة: من الآية127)هذا البيت أراد ابرهة أن يغزو من اليمن، فغزاه بجيش عظيم في مقدمته فيل عظيم؛ يريد أن يهدم به الكعبة - بيت الله - فلما قرب من الكعبة ووصل إلي مكان يقال له المغمس حرن الفيل، وأبي أن يتقدم، فجعلوا ينهرونه ليتقدم إلي الكعبة فأبي، فإذا صرفوه نحو اليمن هرول وأسرع؛ ولهذا قال الرسول عليه الصلاة والسلام في غزوة الحديبة لما أن ناقته حزنت، وبركت من غير علة - قال الرسول صلي الله عليه وسلم: ((ما خلأت القصواء وما ذاك لها بخلق!)) فالنبي عليه الصلاة والسلام يدافع عن بهيمة،
এবং তাদের মধ্যে কেনাবেচায় নিয়োজিত সাধারণ লোক রয়েছে এবং এমন সব লোকও রয়েছে যারা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়? তিনি (সা.) বললেন: "তাদের প্রথম ও শেষ সকলকেই মাটির নিচে ধসিয়ে দেওয়া হবে, অতঃপর তাদের নিয়ত অনুযায়ী তাদের পুনরুত্থিত করা হবে।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। এটি বুখারীর শব্দাবলি। [ব্যাখ্যা] গ্রন্থকার আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, একটি বাহিনী কাবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসবে—সেই সম্মানিত কাবা, যাকে আল্লাহ হিফাযত করেছেন এবং সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন।এই কাবা হলো আল্লাহর ঘর; ইবরাহীম এবং তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম) এটি নির্মাণ করেছেন। যখন তাঁরা কাবার ভিত্তি স্থাপন করছিলেন, তখন তাঁরা বলছিলেন: "হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" (আল-বাকারাহ: ১২৭ নং আয়াতের অংশবিশেষ)।ইয়ামেন থেকে আবরাহা এই ঘরটি আক্রমণ করতে চেয়েছিল। সে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে আক্রমণ করতে আসে যার অগ্রভাগে ছিল একটি প্রকান্ড হাতি; সে এর মাধ্যমে আল্লাহর ঘর কাবাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। যখন সে কাবার নিকটবর্তী হলো এবং 'মুগাম্মিস' নামক স্থানে পৌঁছাল, তখন হাতিটি থমকে দাঁড়াল এবং সামনে অগ্রসর হতে অস্বীকার করল। তারা তাকে কাবার দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করল কিন্তু সে অস্বীকার করল। তবে তারা যখন তাকে ইয়ামেনের দিকে ফিরিয়ে দিত, তখন সে দ্রুতগতিতে চলতে শুরু করত। এ কারণেই হুদায়বিয়ার যুদ্ধে যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উটটি বসে পড়ল এবং কোনো কারণ ছাড়াই জেদ ধরল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: "কাসওয়া জেদ করেনি এবং এটি তার স্বভাবও নয়!" এভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি অবলা পশুর পক্ষ সমর্থন করছিলেন।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
لأن الظلم لا ينبغي، ولو على البهائم. ((ما خلات القصواء وما ذاك لها بخلق - أي عادة- ولكن حبسها حابس الفيل)) وحابس الفيل: هو الرب سبحانه وتعالي، ((والذي نفسي بيده لا يسألوني خطة يعظمون فيها حرمات الله إلا أعطتيهم إياها))المهم أن الكعبة غزيت من قبل اليمن، في جيش عظيم، يقوده هذا الفيل العظيم، ليهدم الكعبة، فلما وصلوا إلي المغمس أبي الفيل أن يمشي، وحرن، فنتهروه، ولكن لا فائدة، فبقوا هناك وانحبسوا، فأرسل الله عليهم طيراً أبابيل، والأبابيل: يعني الجماعات الكثيرة من الطيور، وكل طير يحمل حجراً قد أمسكه برجله، ثم يرسله على الواحد منهم، حتى يضربه مع هامته ويخرج إلي دبره) فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ) (الفيل: 5) . كأنهم زرع أكلته البهائم، وأندكوا في الأرض، وفي هذا يقول أمية بن الصلت: حبس الفيل في المغمس حتى ظل يحبو كأنه معقور فحمي الله عز وجل بيته من كيد هذا الملك الظالم الذي ججاء ليهدم بيت الله، وقد قال الله عز وجل،:) وَمَنْ يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ) (الحج: من الآية25)في آخر الزمان يغزو قوم الكعبة، جيش عظيم.وقوله: ((حتى إذا كانوا بيداء من الأرض)) أي بأرض واسعة متسعة، خسف الله بأولهم وآخرهم.خسفت بهم الأرض، وساخوا فيها هم وأسواقهم، وكل من معهم.وفي هذا دليل على أنهم جيش عظيم؛ لأن معهم اسواقهم؛ للبيع
কেননা অবিচার সমীচীন নয়, এমনকি পশুপাখির ক্ষেত্রেও। ((কাসওয়া অবাধ্য হয়নি এবং এটি তার স্বভাব—অর্থাৎ অভ্যাস—নয়, বরং তাকে সেই সত্তাই আটকে দিয়েছেন যিনি হাতিকে আটকে দিয়েছিলেন)) আর হাতিকে আটকেদানকারী হলেন মহান রব সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। (("সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তারা আমার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব বা পরিকল্পনা পেশ করবে না যাতে আল্লাহর পবিত্র নিদর্শনাবলীর সম্মান বজায় থাকে, আমি অবশ্যই তাদের তা প্রদান করব"))সারকথা হলো, কাবার ওপর ইয়েমেনের পক্ষ থেকে এক বিশাল বাহিনীর মাধ্যমে আক্রমণ করা হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিল এই অতিকায় হাতিটি, যাতে তারা কাবা ধ্বংস করতে পারে। তারা যখন মুগাম্মাস নামক স্থানে পৌঁছাল, তখন হাতিটি চলতে অস্বীকার করল এবং জেদ ধরে বসে পড়ল। তারা তাকে অনেক ধমকাল ও চালনা করার চেষ্টা করল, কিন্তু কোনো লাভ হলো না। ফলে তারা সেখানে আটকা পড়ে রইল। অতঃপর আল্লাহ তাদের ওপর 'আবাবিল' পাখি প্রেরণ করলেন। আবাবিল অর্থ হলো ঝাঁকে ঝাঁকে আসা অসংখ্য পাখি। প্রতিটি পাখি তার পায়ে ধরা পাথর বহন করছিল এবং একেকজনের ওপর তা নিক্ষেপ করছিল, যা তাদের মস্তক ভেদ করে মলদ্বার দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। (অতঃপর তিনি তাদের ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দিলেন) (সূরা আল-ফীল: ৫)। অর্থাৎ তারা যেন এমন শস্য যা গবাদি পশু খেয়ে ফেলেছে এবং তারা মাটির সাথে পিষ্ট হয়ে মিশে গেল। এ বিষয়ে উমাইয়া ইবনে আস-সালত বলেন: হাতিটিকে মুগাম্মাস প্রান্তরে আটকে দেওয়া হয়েছিল, ফলে সেটি আহত পশুর মতো হাঁটু গেড়ে বসে রইল। অতঃপর আল্লাহ আজজাওয়াজাল সেই জালিম বাদশাহর ষড়যন্ত্র থেকে তাঁর ঘরকে রক্ষা করলেন যে আল্লাহর ঘর ধ্বংস করতে এসেছিল। আল্লাহ আজজাওয়াজাল বলেছেন: (আর যে ব্যক্তি সেখানে অন্যায়ভাবে কোনো সীমালঙ্ঘনের ইচ্ছা পোষণ করবে, আমি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাবো) (সূরা আল-হজ্জ: আয়াত ২৫-এর অংশ)।শেষ জামানায় একদল লোক অর্থাৎ এক বিশাল বাহিনী কাবার ওপর আক্রমণ করতে আসবে।আর তাঁর বাণী: ((যখন তারা ভূমির একটি বিশাল নির্জন প্রান্তরে পৌঁছাবে)) অর্থাৎ একটি প্রশস্ত ও বিস্তৃত ভূমিতে, তখন আল্লাহ তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সবাইকে ধসিয়ে দেবেন।তাদের নিয়ে জমিন ধসে যাবে এবং তারা তাদের বাজার-সদাই ও সাথে থাকা লোকজনসহ সেখানে তলিয়ে যাবে।এটি তারা এক বিশাল বাহিনী হওয়ার প্রমাণ বহন করে; কারণ কেনাবেচার জন্য তাদের সাথে তাদের বাজারও ছিল।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
والشراء وغير ذلك.فيخسف الله بأولهم وآخرهم. لما قال الرسول صلي الله عليه وسلم هذا، ورد على خاطر عائشة رضي الله عنها سؤال، فقالت: يا رسول الله ((كيف يخسف بأولهم وآخرهم وفيهم أسواقهم، ومن ليس منهم؟)) أسو أقهم: الذين جاءوا للبيع والشراء؛ ليس لهم قصد سيء في غزو الكعبة، وفيهم أناس ليسوا منهم تبعوهم من غير أن يعلموا بخطتهم، فقال الرسول صلي الله عليه وسلم: ((يخسف بأولهم وآخرهم وأسواقهم ومن ليس منهم ثم يبعثون يوم القيامة على نياتهم)) كل له ما نوي.هذا فرد من أفراد قول الرسول عليه الصلاة والسلام: ((إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوي)) .وفي هذا الحديث عبرة: أن من شارك أهل الباطل وأهل البغي والعدوان، فإنه يكون معهم في العقوبة؛ الصالح والطالح، العقوبة إذا وقعت تعم الصالح والطالح، والبر والفاجر، والمؤمن والكافر، والمصلي والمستكبر، ولا تترك أحداً، ثم يوم القيامة يبعثون علي نياتهم. يقول الله عز وجل:) وَاتَّقُوا فِتْنَةً لا تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْكُمْ خَاصَّةً وَاعْلَمُوا أَنَّاللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ) (لأنفال: 25) والشاهد من هذا الحديث قول الرسول صلي الله عليه وسلم: ((ثم يبعثون علينياتهم)) فهو كقوله: ((إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوي)) .
এবং ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি।অতঃপর আল্লাহ তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকে ভূমিধসের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেবেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা বললেন, তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মনে একটি প্রশ্নের উদয় হলো। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ((কীভাবে তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকে ধসিয়ে দেওয়া হবে, অথচ তাদের মধ্যে তাদের ব্যবসায়ী বা বাজারকারী এবং এমন লোকও থাকবে যারা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়?)) বাজারকারী বলতে: যারা কেনা-বেচার জন্য এসেছিল; কাবা আক্রমণ করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। আর তাদের মধ্যে এমন কিছু লোকও ছিল যারা তাদের দলভুক্ত ছিল না, বরং তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে না জেনেই তাদের অনুসরণ করেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকে, তাদের বাজারকারী এবং যারা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়—সবাইকে ধসিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর কিয়ামতের দিন তারা নিজ নিজ নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত হবে))। প্রত্যেকে যা নিয়ত করেছে তা-ই পাবে।এটি রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের এই বাণীরই একটি অন্তর্ভুক্ত দৃষ্টান্ত: ((নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে))।এই হাদিসে একটি শিক্ষা রয়েছে: যে ব্যক্তি বাতিলপন্থী, বিদ্রোহী ও সীমালঙ্ঘনকারীদের সাথে শরিক হবে, সে শাস্তির ক্ষেত্রেও তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে; হোক সে নেককার বা বদকার। যখন শাস্তি আপতিত হয়, তখন তা নেককার ও বদকার, পুণ্যবান ও পাপী, মুমিন ও কাফির এবং নামাজি ও অহঙ্কারী—সকলকেই গ্রাস করে এবং কাউকে ছেড়ে দেয় না। অতঃপর কিয়ামতের দিন তারা তাদের নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত হবে। মহান আল্লাহ বলেন: (আর তোমরা সেই ফিতনাকে ভয় করো, যা বিশেষ করে তোমাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে কেবল তাদেরই আক্রান্ত করবে না। আর জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ইআল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা) (আল-আনফাল: ২৫)। আর এই হাদিস থেকে মূল প্রাসঙ্গিক অংশটি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ((অতঃপর তারা নিজ নিজনিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত হবে))। এটি তাঁর সেই বাণীরই মতো: ((নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে))।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال النبي صلي الله عليه وسلم ((لا هجرة بعد الفتح ولكن جهاد ونبة وإذا استفرتم فانفروا)) متفق عليه.ومعناه: لا هجرة من مكة؛ لأنها صارت دار إسلام. [الشَّرْحُ] في هذا الحديث نفي رسول الله صلي الله عليه وسلم الهجرة بعد الفتح، فقال: ((لا هجرة)) وهذا النفي ليس على عمومه، يعني أن الهجرة لم تبطل بالفتح، بل إنه ((وهذا النفي ليس على عمومه، يعني أن الهجرة لم تبطل بالفتح، بل إنه ((لا تنقطع الهجرة حتى تنقطع التوبة، ولا تنقطع التوبة حتى تخرج الشمس من مغربها)) _ كما جاء ذلك في الحديث عن رسول الله صلي الله عليه وسلم - لكن المراد بالنفي هنا نفي الهجرة من مكة كما قاله المؤلف رحمه الله؛ لأن مكة بعد الفتح صارت بلاد إسلام، ولن تعود بعد ذلك بلاد كفر، ولذلك نفي النبي صلي الله عليه وسلم صلي الله عليه وسلم أن تكون هجرة بعد الفتح.وكانت مكة تحت سيطرة المشركين، وأخرجوا منها رسول الله صلي الله عليه وسلم، فهاجر صلي الله عليه وسلم بإذن ربه إلي المدينة وبعد ثمان سنوات رجع النبي صلي الله عليه وسلم إلي مكة فاتحاً مظفراً منصوراً- صلوات الله وسلامه عليه-.فصارت مكة كونها بلد كفر النبي صلي الله عليه وسلم صارت بلد إيمان وبلد إسلام، ولم يكن منها هجرة بعد ذلك.
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট আছে; অতএব যখন তোমাদেরকে (জিহাদের জন্য) বের হতে বলা হবে, তখন তোমরা বের হয়ে যেও।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।এর অর্থ হলো: মক্কা থেকে আর হিজরত নেই; কারণ তা দারুল ইসলাম (ইসলামি ভূখণ্ড) হয়ে গিয়েছে। [ব্যাখ্যা] এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের পর হিজরতকে নাকচ করেছেন। তিনি বলেছেন: "কোনো হিজরত নেই।" এই নাকচ করা তার ব্যাপক অর্থে নয়, অর্থাৎ মক্কা বিজয়ের ফলে হিজরতের বিধান বাতিল হয়ে যায়নি; বরং "তওবা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হিজরত বন্ধ হবে না, আর পশ্চিম দিগন্ত দিয়ে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তওবা বন্ধ হবে না" — যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে হিজরত নাকচ করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মক্কা থেকে হিজরতকে নাকচ করা, যেমনটি লেখক (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। কারণ মক্কা বিজয়ের পর ইসলামি ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে এবং এরপর তা আর কখনোই কুফরি ভূখণ্ডে পরিণত হবে না। আর এ কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিজয়ের পর হিজরত হওয়াকে নাকচ করেছেন।মক্কা মুশরিকদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং তারা সেখান থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বের করে দিয়েছিল। অতঃপর তিনি তাঁর রবের নির্দেশক্রমে মদিনায় হিজরত করেন এবং আট বছর পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিজয়ী ও সাহায্যপ্রাপ্ত অবস্থায় মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন — তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।ফলে মক্কা কুফরি ভূখণ্ড থাকার পরিবর্তে ঈমান ও ইসলামের ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে এবং এরপর সেখান থেকে হিজরতের আর কোনো আবশ্যকতা থাকেনি।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وفي هذا دليل على أن مكة لن تعود بلاد كفر، بل ستبقي بلاد إسلام إلي أن تقوم الساعة، أو إلي أن يشاء الله. ثم قال عليه الصلاة والسلام: ((ولكن جهاد ونية)) ؛ أي الأمر بعد هذا جها؛ أي يخرج أهل مكة من مكة إلي الجهاد.و ((النية)) أي النية الصالحة للجهاد في سبيل الله، وذاك بان ينوي الإنسان بجهاده، أن تكون كلمة الله هي العليا.ثم قال عليه الصلاة والسلام ((وإذا استنفرتم فانفروا)) يعني: إذا استنفركم ولي أمركم للجهاد في سبيل الله، فانفروا وجوباً، وحينئذ يكون الجهاد فرض عين، إذا استنفر الناس للجهاد؛ وجب عليهم أن ينفروا، وألا يتخلف أحد إلا من عذره، لقول الله تعالي:) يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انْفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ أَرَضِيتُمْ بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ) (إِلاّ تَنْفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَاباً أَلِيماً وَيَسْتَبْدِلْ قَوْماً غَيْرَكُمْ وَلا تَضُرُّوهُ شَيْئا) (التوبة: من الآية38/39) ، وهذا أحد المواضع التي يكون فيها الجهاد فرض عين. الموضع الثاني: إذا حضر بلدة العدو، أي جاء العدو حتى وصل إلي البلد وحصر البلد، صار الجهاد فرض عين، ووجي علي كل أحد أن يقاتل، حتى على النساء والشيوخ القادرين في هذه الحال، لأن هذا قتال دفاع.وفرق بين قتال الدفاع وقتال الطلب.فيجب في هذا الحال أن ينفر الناس كلهم للدفاع عن بلدهم.
এর মধ্যে এ কথার দলীল রয়েছে যে, মক্কা পুনরায় কখনও কুফর রাষ্ট্রে পরিণত হবে না; বরং কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত অথবা আল্লাহ যা চান তা হওয়া পর্যন্ত এটি ইসলামের ভূখণ্ড হিসেবেই অবশিষ্ট থাকবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "তবে জিহাদ ও নিয়ত (অবশিষ্ট রয়েছে)"; অর্থাৎ এরপরের বিষয়টি হলো জিহাদ; অর্থাৎ মক্কাবাসী মক্কা থেকে জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হবে।আর "নিয়ত" বলতে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য সৎ নিয়তকে বোঝানো হয়েছে; আর তা হলো মানুষ তার জিহাদের মাধ্যমে এই নিয়ত করবে যে, আল্লাহর বাণীই যেন সর্বোচ্চ হয়।এরপর তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "আর যখন তোমাদেরকে যুদ্ধের ডাক দেওয়া হবে, তখন তোমরা বেরিয়ে পড়ো।" অর্থাৎ যখন তোমাদের শাসক তোমাদেরকে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ডাক দেবেন, তখন বের হওয়া তোমাদের জন্য বাধ্যতামূলক। আর সেই মুহূর্তে জিহাদ 'ফরজে আইন' হয়ে যায়। যখন মানুষকে জিহাদের জন্য তলব করা হয়, তখন তাদের জন্য বের হওয়া ওয়াজিব হয়ে যায় এবং ওজরগ্রস্ত ব্যক্তি ব্যতীত কারও পিছিয়ে থাকা বৈধ নয়। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "হে মুমিনগণ, তোমাদের কী হলো যে, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে বের হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো, তখন তোমরা ভারাক্রান্ত হয়ে জমিনে লুটিয়ে পড়লে? তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে সন্তুষ্ট হয়ে গেলে? আখিরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনের ভোগ-সামগ্রী তো অতি সামান্য। যদি তোমরা বের না হও, তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবেন। আর তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না।" (সূরা আত-তাওবাহ: ৩৮-৩৯ আয়াত থেকে)। আর এটি সেই স্থানগুলোর একটি যেখানে জিহাদ ফরজে আইন হয়ে থাকে। দ্বিতীয় স্থান: যখন শত্রু কোনো জনপদে উপস্থিত হয়; অর্থাৎ শত্রু এসে শহরে পৌঁছে যায় এবং শহরটি অবরুদ্ধ করে ফেলে, তখন জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সক্ষম নারী ও বৃদ্ধসহ প্রত্যেকের ওপর লড়াই করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। কারণ এটি হলো প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ।আর প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ এবং আক্রমণাত্মক যুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।তাই এমতাবস্থায় নিজ দেশ রক্ষার জন্য সকল মানুষের বেরিয়ে পড়া ওয়াজিব।
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
الموضع الثالث: إذا حضر الصف، والتقي الصفان؛ صف الكفار وصف المسلمسن؛ صار الجهاد حينئذ فرض عين، ولا يجوز لأحد أن ينصرف كما قال الله تعالي:) يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفاً فَلا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ) (وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفاً لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزاً إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ) (لأنفال: 15، 16) .وقد جعل النبي صلي الله عليه وسلم التولي يوم الزحف من السبع الموبقات.الموضع الرابع: إذا احتيج إلي الإنسان؛ بأن يكون السلاح لا يعرفه إلا فرد من الأفراد، وكان الناس يحتاجون إلي هذا الرجل؛ لاستعمال هذا السلاح الجديد مثلاً؛ فإنه يتعين عليه أن يجاهد وإن لم يستنفره الإمام وذلك لأنه محتاج إليه.ففي هذه المواطن الأربعة، يكون الجهاد فرض عين.وما سوي ذلك فإنه يكون فرض كفاية.قال أهل العلم: ويجب علي المسلمين ان يكون منهم جهاد في العام مرة واحدة، يجاهد أعداء الله؛ لتكون كلمة الله هي العليا، لا لأجل أن يدافعوا عن الوطن من حيث إنه وطن، لأن الدفاع عن الوطن من حيث هو وطن يكون من المؤمن والكافر، حتى الكفار يدافعون عن أوطانهم، لكن
তৃতীয় ক্ষেত্র: যখন রণক্ষেত্রে কাতারসমূহ প্রস্তুত হয় এবং উভয় পক্ষ—কাফিরদের দল ও মুসলিমদের দল—মুখোমুখি হয়; তখন জিহাদ ফরযে আইন (আবশ্যিক কর্তব্য) হয়ে যায় এবং কারও জন্য পিছুটান দেওয়া বৈধ নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা যখন যুদ্ধের ময়দানে কাফিরদের মোকাবিলা করবে, তখন তাদের থেকে পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করো না। আর সেদিন রণকৌশল অবলম্বন কিংবা নিজ দলে যোগ দেওয়া ছাড়া কেউ যদি তাদের থেকে পিঠ ফিরিয়ে নেয়, তবে সে আল্লাহর গজব নিয়ে ফিরল এবং তার আবাসস্থল হবে জাহান্নাম; আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল!" (আল-আনফাল: ১৫-১৬)।আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়নকে ধ্বংসাত্মক সাতটি মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।চতুর্থ ক্ষেত্র: যখন কোনো ব্যক্তির বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়; যেমন এমন কোনো সমরাস্ত্র আছে যা কেবল জনৈক ব্যক্তিই চালাতে সক্ষম এবং উদাহরণস্বরূপ, এই নতুন অস্ত্রটি ব্যবহারের জন্য মানুষের তাকে একান্ত প্রয়োজন হয়; এমতাবস্থায় তার ওপর জিহাদ করা ফরয হয়ে যায়, যদিও ইমাম তাকে যুদ্ধে যাওয়ার আহ্বান না জানান; কারণ তাকে প্রয়োজন।সুতরাং, এই চারটি ক্ষেত্রে জিহাদ ফরযে আইন হয়ে থাকে।আর এর বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্রে তা ফরযে কিফায়া।আলেমগণ বলেন: মুসলিমদের জন্য বাঞ্ছনীয় হলো প্রতি বছর অন্তত একবার আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করা; যেন আল্লাহর বাণীই সমুন্নত থাকে। কেবলমাত্র নিছক দেশপ্রেমের বশবর্তী হয়ে মাতৃভূমি রক্ষার জন্য নয়, কারণ নিছক মাতৃভূমি রক্ষা করার কাজ মুমিন ও কাফির উভয়েই করে থাকে; এমনকি কাফিররাও তাদের নিজ নিজ ভূখণ্ড রক্ষা করে থাকে। কিন্তু...
(খণ্ড: ١)
শারহু রিয়াদিস সলিহীন লিইবনি উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
المسلم يدافع عن دين الله، فيدافع عن وطنه؛ لا لأنه وطنه مثلاً، ولكن لأنه بلد إسلامي؛ فيدافع عنه حماية للإسلام الذي حل في هذه البلد. ولذلك يجب علينا في مثل هذه الظروف التي نعيشها اليوم النبي صلي الله عليه وسلم يجب علينا أن نذكر جميع العامة بأن الدعوة إلي تحرير الوطن، وما أشبه ذلك دعوة غير مناسبة، وأنه يجب أن يعبأ الناس تعبئة دينية، ويقال إننا ندافع عن ديننا قبل كل شيء؛ لأن بلدنا بلد دين، بلد إسلام يحتاج إلي حماية ودفاع، فلابد ان ندافع عنها بهذه النية. أما الدفاع بنية الوطنية، أو بنية القومية، فهذا يكون من المؤمن والكافر، ولا ينفع صاحبه يوم القيامة، وإذا قتل وهو يدافع بهذه النية فليس بشهيد؛ لأن الرسول صلي الله عليه وسلم سئل عن الرجل يقاتل حمية، ويقاتل شجاعة، ويقاتل ليري مكانه أي ذلك في سبيل الله؟ فقال: ((من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله)) .أنتبه إلي هذا القيد ((من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا)) لا لأنه وطنه وإذا كنت تقاتل لوطنك؛ فأنت والكافر سواء، لكن قلت لتكون كلمة الله هي العليا، ممثلة في بلدك؛ لأن بلدك بلد إسلام؛ ففي هذه الحال يكون القتال قتالاً في سبيل الله. وثبت عنه صلي الله عليه وسلم أنه قال: ((لا يكلم أحد في سبيل الله - والله أعلم بمن يكلم في سبيله- أي يخرج - إلا جاء يوم القيامة وجرحه يثعب؛ اللون لون الدم،
একজন মুসলিম আল্লাহর দ্বীনের প্রতিরক্ষা করে, ফলে সে তার স্বদেশেরও প্রতিরক্ষা করে; কেবল তা তার স্বদেশ হওয়ার কারণে নয়, বরং সেটি একটি ইসলামি দেশ হওয়ার কারণে। সুতরাং সে ওই ভূখণ্ডে বিদ্যমান ইসলামের সুরক্ষার্থেই তার প্রতিরক্ষা করে। আর এ কারণেই বর্তমানের মতো পরিস্থিতিতে আমাদের ওপর আবশ্যিক হলো সর্বসাধারণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে, কেবল দেশ স্বাধীন করার ডাক বা এই জাতীয় অন্যান্য ডাকগুলো অনুপযুক্ত। বরং মানুষকে ধর্মীয়ভাবে উদ্বুদ্ধ করা উচিত এবং বলা উচিত যে, আমরা সবকিছুর আগে আমাদের দ্বীনের প্রতিরক্ষা করছি; কেননা আমাদের দেশ হলো দ্বীনের দেশ, ইসলামের দেশ—যার সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা প্রয়োজন। অতএব, এই নিয়তেই এর প্রতিরক্ষা করা অপরিহার্য। পক্ষান্তরে দেশপ্রেম বা জাতীয়তাবাদী নিয়তে প্রতিরক্ষা করা মুমিন ও কাফির উভয়ের পক্ষ থেকেই হতে পারে এবং তা কিয়ামতের দিন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো উপকারে আসবে না। যদি এই নিয়তে লড়াই করে কেউ নিহত হয়, তবে সে শহীদ নয়; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে, আভিজাত্যের লড়াইয়ে লিপ্ত হয় কিংবা লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে—এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার লক্ষ্যে লড়াই করে, কেবল সেই আল্লাহর পথে।"এই শর্তটির প্রতি লক্ষ্য করুন—"যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার লক্ষ্যে লড়াই করে"—কেবল নিজের দেশ হওয়ার কারণে নয়। আপনি যদি কেবল স্বদেশের জন্য লড়াই করেন, তবে আপনি ও কাফির সমান। কিন্তু আপনি যদি বলেন, যাতে আল্লাহর কালিমা সমুন্নত হয়, যা আপনার দেশে বিদ্যমান (যেহেতু আপনার দেশ একটি ইসলামি রাষ্ট্র); তবে এই অবস্থায় এই লড়াই আল্লাহর পথে লড়াই হিসেবে গণ্য হবে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর পথে যে কেউ জখমপ্রাপ্ত হয়—আর আল্লাহই ভালো জানেন কে তাঁর পথে জখমপ্রাপ্ত হয়—সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে; যার রঙ হবে রক্তের রঙের মতো...