(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: -)
جواهر البلاغة في المعاني والبيان والبديع   (أحمد الهاشمي)

القسم: البلاغة


الكتاب: جواهر البلاغة في المعاني والبيان والبديع

المؤلف: أحمد بن إبراهيم بن مصطفى الهاشمي (ت 1362هـ)

ضبط وتدقيق وتوثيق: د. يوسف الصميلي

الناشر: المكتبة العصرية، بيروت

عدد الصفحات: 344

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফি আল-মাআনি ওয়াল-বায়ান ওয়াল-বাদি   (আহমাদ আল-হাশিমী)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)


গ্রন্থ: জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফি আল-মাআনি ওয়াল-বায়ান ওয়াল-বাদি

লেখক: আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন মুস্তফা আল-হাশিমী (মৃত ১৩৬২ হি.)

সম্পাদনা, পরিমার্জন ও তথ্যসূত্র যাচাই: ড. ইউসুফ আস-সুমাইলি

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আশরিয়্যাহ، বৈরুত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৪

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم

الكتاب: جواهر البلاغة في المعاني والبيان والبديع

تأليف: السيد أحمد الهاشمي بك

مدير مدارس فؤاد الأول ـ ووليّ العهد بشبرا بمصر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

গ্রন্থ: জাওয়াহিরুল বালাগাত ফীল মা’আনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী

রচনা: আস-সাইয়্যিদ আহমাদ আল-হাশিমী বেক

মিশরের শুবরায় অবস্থিত ফুয়াদ আল-আউয়াল এবং ওয়ালিউল আহদ বিদ্যালয়সমূহের পরিচালক
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

حمداً لمن خصَّ سيَّد الرُّسل بكمال الفصاحة بين البَدو والحضَر وانطقهُ بجوامع

الكلم فأعجزه بُلغاء رَبيعة ومُضر، وانزل عليه الكتاب المُفحِم بتحدَّيه مصاقِع بُلغاء

الأعراب، وأتاه بحكمته أسرار البلاغة وَفَصلَ الخطاب، ومنحهُ الأسلُوب الحكيم (1) في

جوامع كلِمه، وخصَّ «السّعادة الأبدية» لمُقتفِى آثاره وحِكَمِه، صلى الله عليه وعلى آله

وأصحابه «جواهر البلاغة» الذين نظموا لآلئ البديع في عُقود الإيجاز والإطناب، فَفُهنا

بعد اللَّكن «بجواهر الإعراب» ونطقنا «بميزان الذهب» وطرزنا سطور الطروس «بجواهر

الأدب» فصارت «المُفرد العَلم» في باب النّسب (وبعد) فإنَّ العلومَ أَرفعُ المطالب، وأنفع

المآرب، وعلم البلاغة من بينها أجلُّها شأناً، وأبينها تبيانا، إذ هو الكفيل بإيضاح حقائق

التنزيل، وإفصاح دقائق التأويل، وإظهار «دلائل الاعجاز» ورفع معالم الإيجاز،

ولاشتغالي بتدريس البيان بالمدارس الثانوية، كانت البواعث داعية إلى تاليف كتاب

«جواهر البلاغة» جامعاً للمهمات من القواعد والتطبيقات ـ وأسأل المولى جل شأنه أن ينفع بهذا الكتاب، وهو المُوفّق للحق والصّواب.

المؤلف

السيد أحمد الهاشمي

--------------------------------------------

(1) ـ الأسلوب الحكيم والسعادة الأبدية. وجواهر البلاغة. وجواهر الاعراب وجواهر الأدب، وميزان الذهب. والمفرد العلم ـ الواردة في هذه الخطبة أسماء بعض كتب مطبوعة لمؤلف هذا الكتاب. وغيرها من القواعد الأساسية للغة العربية. ومختار الأحاديث النبوية والحكم المحمدية. والسحر الحلال في الحكم والأمثال.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

প্রশংসা সেই সত্তার জন্য, যিনি রাসুলদের সর্দারকে মরুচারী ও শহরবাসী সবার মাঝে পূর্ণাঙ্গ বাগ্মিতার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং তাঁকে সারগর্ভ

বাণীর মাধ্যমে কথা বলিয়েছেন, যা রবীআ ও মুদার গোত্রের অলঙ্কারিকদের হতবাক করে দিয়েছে। তিনি তাঁর ওপর এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা স্বীয় চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে আরবের শ্রেষ্ঠ বাগ্মীদের

নিরুত্তর করে দিয়েছে। তিনি স্বীয় হিকমতে তাঁকে অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্য ও সুস্পষ্ট ভাষণ দান করেছেন। তিনি তাঁকে তাঁর অর্থবহ বাণীর মধ্যে 'আল-উসলুবুল হাকিম' (১) (প্রাজ্ঞ রীতি) প্রদান করেছেন

এবং তাঁর পদাঙ্ক ও হিকমতের অনুসারীদের জন্য 'আস-সাআদাতুল আবাদিয়্যাহ' (চিরন্তন সুখ) নির্দিষ্ট করেছেন। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার

ও সহচরদের ওপর—যাঁরা ছিলেন 'জাওয়াহিরুল বালাগাহ' (অলঙ্কারশাস্ত্রের মণি-মুক্তা); যাঁরা 'ইজায' (সংক্ষিপ্ততা) ও 'ইতনাব' (দীর্ঘায়ন)-এর মালায় অলঙ্কারশাস্ত্রের মুক্তাসমূহ গেঁথেছেন। ফলে আমরা

জড়তা কাটিয়ে 'জাওয়াহিরুল ইরাব' (ব্যাকরণিক মণি-মুক্তা) দ্বারা কথা বলতে শিখেছি, 'মিযানুজ যাহাব' (স্বর্ণতুলা) দ্বারা বাক্য উচ্চারণ করেছি এবং কাগজের পৃষ্ঠাগুলোকে 'জাওয়াহিরুল

আদাব' (সাহিত্যের মণি-মুক্তা) দ্বারা সজ্জিত করেছি। ফলে তা বংশপরম্পরার অধ্যায়ে 'আল-মুফরাদ আল-আলাম' (একক ঝাণ্ডা) হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। (অতঃপর) নিশ্চয়ই জ্ঞানার্জন হলো উচ্চতম লক্ষ্য এবং সর্বাপেক্ষা

উপকারী উদ্দেশ্য। অলঙ্কারশাস্ত্র সেগুলোর মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ এবং বর্ণনায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট। কেননা এটিই ওহীর হাকিকতসমূহ স্পষ্ট করার,

ব্যাখ্যার সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ ব্যক্ত করার, 'দালাইলুল ইজায' (কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রমাণ) প্রকাশ করার এবং অলঙ্কারপূর্ণ সংক্ষিপ্ততার নিদর্শনসমূহ তুলে ধরার জিম্মাদার।

মাধ্যমিক মাদরাসাগুলোতে ইলমে বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্রের শাখা) পাঠদানে আমার সম্পৃক্ততার কারণে একটি কিতাব রচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি, যার নাম-

'জাওয়াহিরুল বালাগাহ'; যা গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলী ও প্রয়োগসমূহের একটি সংকলন। আমি মহান রবের কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কিতাব দ্বারা উপকার সাধন করেন; আর তিনিই সত্য ও সঠিক পথের তাওফিকদাতা।

লেখক

সাইয়্যেদ আহমাদ আল-হাশিমী

--------------------------------------------

(১) আল-উসলুবুল হাকিম, আস-সাআদাতুল আবাদিয়্যাহ, জাওয়াহিরুল বালাগাহ, জাওয়াহিরুল ইরাব, জাওয়াহিরুল আদাব, মিযানুজ যাহাব এবং আল-মুফরাদ আল-আলাম—এই ভূমিকার মধ্যে উল্লিখিত শব্দগুলো এই কিতাবের লেখকের কিছু মুদ্রিত গ্রন্থের নাম। এ ছাড়া তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে আরবি ভাষার মৌলিক নিয়মাবলী (কাওয়াইদুল আসাসিয়্যাহ), মুখতারুল আহাদিসিন নববিয়্যাহ ওয়াল হিকামুল মুহাম্মাদিয়্যাহ এবং আস-সিহরুল হালাল ফিল হিকামি ওয়াল আমসাল।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১৬)
تمهيد

لما وضع «علم الصرف» للنظر في أبنية الألفاظ

ووضع علم النحو للنظر في إعراب ما تركب منها

وضع «البيان (1) » للنظر في أمر هذا التركيب، وهو ثلاثة علوم:

(العلم الأول) ما يحترز به عن الخطأ في تأديه المعنى الذي يريده المتكلم لإيصاله إلى ذهن السامع، ويسمى «علم المعاني» .

(العلم الثاني) ما يحترز به عن التعقيد المعنوي ـ أي عن أن يكون الكلام غير واضح الدلالة على المعنى المراد، ويسمى «علم البيان» (العلم الثالث) ما يراد به تحسين الكلام ويسمى (علم البديع) فعلم البديع تابع لهما إذ بهما يعرف التحسين الذاتي، وبه يعرف التحسين العرضي.

والكلام باعتبار «المعاني والبيان» يقال إنه:

«فصيح» من حيث اللفظ ـ لأن النظر في الفصاحة إلى مجرد اللفظ دون المعنى.

«وبليغ» من حيث اللفظ والمعنى جميعاً ـ لأن البلاغة ينظر فيها إلى الجانبين (2) .

--------------------------------------------

(1) ـ علم البيان في اصطلاح المتقدمين من ائمة البلاغة يطلق على فنونها الثلاثة من باب التسمية الكل باسم البعض ـ وخصه المتاخرون بالعلم الباحث عن المجاز والاستعارة. والتشبية والكناية ـ والغرض منه صوغ الكلام بطريقة تبين ما في نفس المتكلم من المقاصد، وتوصل الاثر الذي يريده إلى نفس السامع.

(2) ـ وبيان ذلك أن الفصاحة تمام آلة البيان فهي مقصورة على اللفظ لأن الآلة تتعلق باللفظ دون المعنى ـ فإذن هي كمال لفظي توصف به الكلمة والكلام. والبلاغة إنما هي انهاء المعنى في القلب فكأنها مقصورة على المعنى، ومن الدليل على أن الفصاحة تتضمن اللفظ. والبلاغة تتناول المعنى. أن الببغاء يسمى فصيحا ولا يسمى بليغا، إذ هو مقيم الحروف وليس لها قصد إلى المعنى الذي يؤديه ـ وقد يجوز مع هذا أن يسمى الكلام الواحد فصيحاً بليغاً إذا كان واضح المعنى سهل اللفظ جيد السبك غير مستكره فج، ولا متكلف وخم، ولا يمنعه من أحد الاسمين شيء لما فيه من ايضاح المعنى وتقويم الحروف. واعلم أن الفصيح من الألفاظ هو الظاهر البين، وإنما كان ظاهراً بيناً لأنه مألوف الاستعمال، وإنما كان مألوف الاستعمال بين النابهين من الكتاب والشعراء لمكان حسنه، وحسنه مدرك بالسمع، والذي يدرك بالسمع انما هو اللفظ لانه صوت يتألف من مخارج الحروف ـ فما استلذه السمع منه فهو الحسن، وما كرهه فهو القبيح ـ والحسن هو الموصوف بالفصاحة ـ والقبيح غير موصوف بالفصاحة، لأنه ضدها لمكان قبحه.
ভূমিকা

যেহেতু শব্দের গঠনশৈলী পর্যালোচনার জন্য ‘ইলমুস সরফ’ প্রণয়ন করা হয়েছে

এবং শব্দসমূহ দ্বারা গঠিত বাক্যের ব্যাকরণগত অবস্থান পর্যালোচনার জন্য ‘ইলমুন নাহু’ প্রণয়ন করা হয়েছে

সেহেতু এই বাক্যগঠনের অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ‘ইলমুল বায়ান (১)’ প্রণয়ন করা হয়েছে, আর এটি তিনটি বিজ্ঞান:

(প্রথম বিজ্ঞান) যা দ্বারা বক্তা শ্রোতার মনে যে অর্থ পৌঁছাতে চান, তা আদায় করার ক্ষেত্রে ভুল করা থেকে বেঁচে থাকা যায় এবং একে ‘ইলমুল মাআনি’ বলা হয়।

(দ্বিতীয় বিজ্ঞান) যা দ্বারা অর্থগত জটিলতা—অর্থাৎ বক্তব্যটি কাঙ্ক্ষিত অর্থের ওপর অস্পষ্ট হওয়া থেকে বেঁচে থাকা যায় এবং একে ‘ইলমুল বায়ান’ বলা হয়। (তৃতীয় বিজ্ঞান) যা দ্বারা বক্তব্যকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করার ইচ্ছা করা হয় এবং একে ‘ইলমুল বাদি’ বলা হয়। ইলমুল বাদি হলো পূর্বোক্ত দুটির অনুগামী; কেননা ওই দুটির মাধ্যমে স্বকীয় সৌন্দর্য জানা যায় এবং এর মাধ্যমে বাহ্যিক সৌন্দর্য জানা যায়।

‘মাআনি ও বায়ান’-এর বিবেচনায় বক্তব্যকে বলা হয় যে, তা:

শব্দের দিক থেকে ‘ফাসিহ’ (সাবলীল)—কেননা ফাসাহাতের ক্ষেত্রে অর্থ বাদ দিয়ে কেবল শব্দের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হয়।

শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকেই ‘বালিগ’ (অলংকারপূর্ণ)—কেননা বালাগাতের ক্ষেত্রে উভয় দিকের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হয় (২)।

--------------------------------------------

(১) বালাগাত শাস্ত্রের প্রাচীন ইমামদের পরিভাষায় ‘ইলমুল বায়ান’ শব্দটি এর তিনটি শাখার ওপরই প্রয়োগ করা হতো (অংশের নাম দিয়ে পূর্ণের নামকরণ করার নীতি অনুযায়ী)। কিন্তু পরবর্তী যুগের আলিমগণ একে কেবল মাজায (রূপক), ইস্তিয়ারা (ধার করা রূপক), তাশবিহ (উপমা) এবং কিনায়া (ইঙ্গিত) বিষয়ক আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো বক্তব্যকে এমন পদ্ধতিতে গঠন করা যা বক্তার মনের উদ্দেশ্যকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে এবং শ্রোতার মনে কাঙ্ক্ষিত প্রভাব সৃষ্টি করে।

(২) এর ব্যাখ্যা হলো, ফাসাহাত হলো বর্ণনার পূর্ণাঙ্গ উপকরণ, তাই এটি শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ; কারণ উপকরণটি অর্থের সাথে নয় বরং শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। অতএব, এটি একটি শব্দগত পূর্ণতা যা দ্বারা শব্দ ও বাক্যকে বিশেষায়িত করা হয়। আর বালাগাত হলো অন্তরে অর্থ পৌঁছে দেওয়া, তাই এটি যেন অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফাসাহাত শব্দকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং বালাগাত অর্থকে পরিব্যপ্ত করে—এর প্রমাণ হলো, তোতাপাখিকে ‘ফাসিহ’ (পরিষ্কার শব্দ উচ্চারণকারী) বলা হয় কিন্তু ‘বালিগ’ বলা হয় না; কারণ সে অক্ষরগুলো উচ্চারণ করলেও তার উচ্চারিত অর্থের প্রতি কোনো উদ্দেশ্য থাকে না। তবে একই বক্তব্যকে ‘ফাসিহ’ ও ‘বালিগ’ উভয়ই বলা বৈধ, যদি তার অর্থ স্পষ্ট হয়, শব্দ সহজ হয়, গঠনশৈলী চমৎকার হয়, শ্রুতিকটু না হয় এবং কৃত্রিমতামুক্ত হয়। অর্থ স্পষ্ট করা এবং অক্ষরের সঠিক বিন্যাসের কারণে একে উভয় নামের কোনোটি থেকে বাধা দেওয়া যায় না। জেনে রাখুন যে, ফাসিহ শব্দ হলো তা যা স্পষ্ট ও প্রকাশিত। আর তা স্পষ্ট হয় অধিক ব্যবহারের কারণে। প্রথিতযশা লেখক ও কবিদের নিকট এটি অধিক ব্যবহৃত হওয়ার কারণ হলো এর সৌন্দর্য, আর এর সৌন্দর্য শ্রবণশক্তির মাধ্যমে অনুভূত হয়। যা শ্রবণেন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয় তা হলো শব্দ, কারণ এটি অক্ষরের মাখরাজ থেকে উৎপন্ন একটি ধ্বনি। শ্রবণেন্দ্রিয় যা থেকে আনন্দ পায় তা-ই সুন্দর, আর যা অপছন্দ করে তা-ই কুৎসিত। সুন্দরটিই ফাসাহাত গুণে গুণান্বিত, আর কুৎসিতটি ফাসাহাত গুণে গুণান্বিত নয়; কারণ কুৎসিত হওয়া ফাসাহাতের বিপরীত।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأما باعتبار البديع فلا يقال إنه فصيح ولا بليغ، لأن البديع أمر خارجي يراد به تحسين الكلام لا غير.

إذا تقرر ذلك، وجب على طالب البيان أن يعرف قبل الشروع فيه معرفة معنى «الفصاحة والبلاغة» لأنهما محوره، وإليها مرجع أبحاثه.

فهما الغاية التي يقف عندها المتكلم والكاتب، والضالة التي ينشدانها وما عقد أئمة البيان الفصول. ولا بوبوا الأبواب، إلا بغية أن يوقفوا المسترشد على تحقيقات، وملاحظات، وضوابط، إذا روعيت في خطابه. أو كتابه. بلغت الحد المطلوب من سهولة الفهم، وإيجاد الأثر المقصود في نفس السامع، واتصفت من ثم بصفة الفصاحة (1) والبلاغة.

--------------------------------------------

(1) ـ يرى الإمام عبد القاهر الجرجاني وجمع من المتقدمين أن الفصاحة والبلاغة والبيان والبراعة ـ ألفاظ مترادفة لا تتصف بها المفردات، وإنما يوصف بها الكلام بعد تحري معاني النحو فيما بين الكلم حسب الأغراض التي يصاغ لها.

وقال أبو هلال العسكري في كتاب الصناعتين ـ الفصاحة والبلاغة ترجعان إلى معنى واحد: وإن اختلف أصلاهما. لأن كل واحد منهما انما هو الابانة عن المعنى والاظهار له. وقال الرازي في نهاية الإيجاز ـ وأكثر البلغاء لا يكادون يفرقون بين الفصاحة والبلاغة: وقال الجوهري في كتابه الصحاح ـ الفصاحة هي البلاغة.
আর বাদি‘ (অলংকারসৌষ্ঠব)-এর বিচারে একে সাবলীল (ফাসিহ) বা প্রাঞ্জল (বালিগ) বলা হয় না, কারণ বাদি‘ হলো একটি বাহ্যিক বিষয় যার দ্বারা কেবল বক্তব্যকে সুশোভিত করা উদ্দেশ্য, অন্য কিছু নয়।

যখন এটি স্থির হলো, তখন অলংকারশাস্ত্রের (বায়ান) শিক্ষার্থীর জন্য এতে প্রবেশের পূর্বে 'ফাসাহাত' (সাবলীলতা) ও 'বালাগাত' (প্রাঞ্জলতা)-এর অর্থ জানা আবশ্যক; কারণ এ দুটিই এই শাস্ত্রের মূল কেন্দ্র এবং এর সকল গবেষণার আবর্তনস্থল।

বক্তা ও লেখকের শেষ গন্তব্য হলো এই দুটি বিষয় এবং এটিই তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। অলংকারশাস্ত্রের ইমামগণ বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও অধ্যায় বিন্যস্ত করেছেন কেবল এই উদ্দেশ্যে যেন তারা জ্ঞানান্বেষীকে এমন কিছু সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও মূলনীতির ওপর অবগত করতে পারেন, যা যদি তার ভাষণ বা লেখায় অনুসরণ করা হয়, তবে তা সহজবোধ্যতার কাঙ্ক্ষিত সীমায় পৌঁছাবে এবং শ্রোতার মনে উদ্দিষ্ট প্রভাব সৃষ্টি করবে; আর তখনই তা ফাসাহাত (১) ও বালাগাত গুণে গুণান্বিত হবে।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানি এবং পূর্বসূরিদের একদল বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, ফাসাহাত, বালাগাত, বায়ান ও বারায়াত—এগুলো সমার্থক শব্দ। কোনো একক শব্দ (মুফরাদ) এই গুণে গুণান্বিত হয় না; বরং কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী শব্দগুলোর পারস্পরিক বিন্যাসে ব্যাকরণিক অর্থের সঠিক প্রয়োগের পরেই সামগ্রিক বক্তব্যকে এই গুণে গুণান্বিত করা হয়।

আবু হিলাল আল-আসকারি তার 'কিতাবুস সিনাআতাইন' গ্রন্থে বলেছেন—ফাসাহাত ও বালাগাত একই অর্থের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, যদিও শব্দ দুটির মূল উৎস ভিন্ন। কারণ এ দুটির প্রত্যেকটির কাজই হলো অর্থকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা ও প্রকাশ করা। ফখরুদ্দিন রাজি তার 'নিহায়াতুল ইজায' গ্রন্থে বলেছেন—অধিকাংশ অলংকারবিদ ফাসাহাত ও বালাগাতের মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য করেন না। জাওহারি তার 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে বলেছেন—ফাসাহাতই হলো বালাগাত।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১৯)
مقدمة (1)

(في معرفة الفصاحة والبلاغة)

الفصاحة

الفصاحة: تطلق في اللغة على معان كثيرة ـ منها البيان والظهور قال الله تعالى: (وأخي هارون هو أفصح مِنِّي لساناً) أي أبين منِّي منطقاً وأظهر منَّي قولاً.

ويقال: أفصح الصبي في منطقه. إذا بان وظهر كلامه.

وقالت العرب: أفصح الصبح. إذا أضاء، وفصح أيضا.

وأفصح الأعجمي: إذا أبان بعد أن لم يكن يُفصح ويُبين.

وفصح اللحان. إذا عبر عما في نفسه. وأظهره على وجه الصواب دون الخطأ.

والفصاحة: في اصطلاح أهل المعاني، عبارة عن الألفاظ البينة الظاهرة، المتبادرة إلى الفهم، والمأنوسة الاستعمال بين الكتاب والشّعراء لمكان حسنها.

وهي تقع وصفا للكلمة، والكلام، والمتكلّم، حسبما يعتبر الكاتب اللفظة وحدها. أو مسبوكة مع أخواتها.

--------------------------------------------

(1) ـ مقدمة مشتقة من قدم اللازم، وهذه مقدمة كتاب لأنها ألفاظ تقدمت أمام المقصود لارتباط له بها وانتفاع بها فيه ـ بخلاف مقدمة العلم فهي معان يتوقف الشروع عليها ـ كبيان حد العلم المشروع فيه. وموضوعه. وغايته.

واعلم أن علوم البلاغة أجل العلوم الأدبية قدراً. وأرسخها أصلا. وأبسقها فرعا وأحلاها جنى. وأعذبها وردا. لانها العلوم التي تستولي على استخراج درر البيان من معادنها. وتريك محاسن النكت في مكامنها. (ولولاها لم تر لسانا يحوك الوشي، ويلفظ الدر، وينفث السحر، ويريك بدائع الزهر، وينثر بين يديك الحلو اليانع من الثمر) فهي الغاية التي تنتهي إليها أفكار النظار، واللالئ التي تتطلبها غاصة البحار لهذا كانت منزلتها تلو العلم بتوحيد الله تعالى.
ভূমিকা (১)

(ফাসাহাত এবং বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রের পরিচিতি প্রসঙ্গে)

ফাসাহাত (প্রাঞ্জলতা)

ফাসাহাত: আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অনেকগুলো অর্থে ব্যবহৃত হয়—তার মধ্যে অন্যতম হলো স্পষ্টতা এবং প্রকাশ পাওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (এবং আমার ভাই হারূন, সে আমার চেয়ে অধিক প্রাঞ্জলভাষী) অর্থাৎ আমার চেয়ে অধিক স্পষ্টভাষী এবং বর্ণনায় অধিক সুস্পষ্ট।

বলা হয়ে থাকে: শিশুটি তার কথাবার্তায় প্রাঞ্জলতা দেখিয়েছে। অর্থাৎ যখন তার কথা স্পষ্ট ও প্রকাশিত হয়।

আরবগণ বলে: সকাল ফাসিহ (সুস্পষ্ট) হয়েছে। অর্থাৎ যখন তা আলোকিত হয়; ‘ফাসুহা’ শব্দটিও এই অর্থে ব্যবহৃত হয়।

অনারব ব্যক্তি প্রাঞ্জলতা প্রকাশ করেছে: যখন সে প্রাঞ্জল ও স্পষ্ট করে কথা বলতে না পারার পর স্পষ্টভাবে কথা বলতে শুরু করে।

বক্তা প্রাঞ্জলতা প্রকাশ করে যখন সে তার মনের ভাব ব্যক্ত করে এবং তা ভুলের ঊর্ধ্বে থেকে সঠিকভাবে প্রকাশ করে।

ফাসাহাত: বালাগাত শাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় এটি এমন স্পষ্ট ও প্রকাশ্য শব্দাবলিকে বুঝায়, যা সহজেই বোধগম্য হয় এবং তার সৌন্দর্যের কারণে লেখক ও কবিদের নিকট যার ব্যবহার সুপরিচিত।

এটি শব্দ, বাক্য এবং বক্তার গুণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, লেখক শব্দটিকে এককভাবে বিবেচনা করেন কিংবা তার সমগোত্রীয় শব্দের সাথে গ্রথিত অবস্থায় বিবেচনা করেন কি না—তার ওপর ভিত্তি করে।

--------------------------------------------

(১) — ভূমিকা (মুকদ্দিমাহ) শব্দটি ‘কাদামা’ (অকর্মক ক্রিয়া) থেকে উদ্ভূত। এটি হচ্ছে গ্রন্থের ভূমিকা; কারণ এগুলো এমন কিছু শব্দ যা মূল উদ্দেশ্যের পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে সেই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্টতা এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার কারণে—এটি ইলমের (জ্ঞানের) ভূমিকা থেকে ভিন্ন; কারণ ইলমের ভূমিকা এমন কিছু বিষয়কে বুঝায় যার ওপর সেই শাস্ত্রের চর্চা শুরু করা নির্ভর করে—যেমন শাস্ত্রের সংজ্ঞা, আলোচ্য বিষয় এবং এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের বর্ণনা।

জেনে রাখুন যে, বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্র সাহিত্যিক জ্ঞানসমূহের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে অত্যন্ত মহান, এর মূল অত্যন্ত সুদৃঢ়, এর শাখা অত্যন্ত সুউচ্চ এবং এর ফল অত্যন্ত সুমিষ্ট। এর ঝরনাধারা অত্যন্ত সুস্বাদু। কারণ এটি এমন এক শাস্ত্র যা বর্ণনার খনি থেকে অলঙ্কার রূপ মুক্তা আহরণে সক্ষম এবং যা আপনাকে নিগূঢ় রহস্যের সৌন্দর্যসমূহ প্রদর্শন করে। (যদি এই শাস্ত্র না থাকত, তবে আপনি এমন কোনো বাগ্মী পেতেন না যা সুসজ্জিত কারুকাজ বুনতে পারে, মুক্তা ছড়াতে পারে, জাদুকরী প্রভাব বিস্তার করতে পারে, বিস্ময়কর ফুল দেখাতে পারে এবং আপনার সম্মুখে সুস্বাদু ও পরিপক্ক ফল ছিটিয়ে দিতে পারে)। এটিই সেই চূড়ান্ত লক্ষ্য যেখানে চিন্তাবিদদের চিন্তা শেষ হয় এবং এটি এমন এক মুক্তা যা গভীর সমুদ্রের ডুবুরিরা সন্ধান করে। এ কারণেই মহান আল্লাহর তাওহীদের জ্ঞানের পরেই এর মর্যাদা।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২০)
فصاحة الكلمة

1. خلوصها من تنافر الحروف: لتكون رقيقة عذبة. تخف على اللسان، ولا تثقل على السمع، فلفظ «أسد» أخف من لفظ «فدوكس» .

2. خلوصها من الغرابة، وتكون مألوفة الاستعمال.

3. خلوصها من مخالفة القياس الصرفي، حتى لا تكون شاذة.

4. خلوصها من الكراهة في السمع (1) .

أما «تنافر الحروف» ؛ فهو وصف في الكلمة يوجب ثقلها على السمع. وصعوبة أدائها باللسان: بسبب كون حروف الكلمة متقاربة المخارج ـ وهو نوعان:

1. شديد في الثقل ـ كالظش (للموضع الخشن) ونحو: همخع «لنبت ترعاه الإبل» من قول أعرابي:

* تركت ناقتي ترعى الهمخع*

2. وخفيف في الثقل ـ كالنقنقة «لصوت الضفادع» والنقاخ «للماء العذب الصافي» ونحو: مستشزرات «بمعنى مرتفعات» من قول امرئ القيس يصف شعر ابنة عمه:

غدائره مستشزراتٌ إلى العلا تضل العقاص في مُثنَّى ومرسل (2)

ولا ضابط لمعرفة الثقل والصعوبة سوى الذوق السليم، والحس الصادق

--------------------------------------------

(1) ـ ففصاحة الكلمة تكونها من حروف متآلفة يسهل على اللسان نطقها من غير عناء، مع وضوح معناها، وكثرة تداولها بين المتكلمين وموافقتها للقواعد الصرفية ومرجع ذلك الذوق السليم، والالمام بمتن اللغة، وقواعد الصرف ـ وبذلك تسلم مادتها وصيغتها. ومعناها من الخلل ـ واعلم أنه ليس تنافر الحروف يكون موجبه دائما قرب مخارج الحروف. إذ قربها لا يوجبه دائما ـ كما أن تباعدها لا يوجب خفتها ـ فها هي كلمة «بفمي» حسنة، وحروفها من مخرج واحد وهو الشفة، وكلمة «ملع» منتافرة ثقيلة، وحروفها متباعدة المخارج، وأيضاً ليس موجب التنافر طول الكلمة وكثرة حروفها.

(2) ـ «الغدائر» الضفائر، والضمير يرجع إلى (فرع) في البيت قبله (والاستشراز) الارتفاع (والعقاص) جمع عقيصة وهي الخصلة من الشعر (والثنى) الشعر المفتول (والمرسل) ضده ـ أي ابنة عمه لكثرة شعرها بعضه مرفوع، وبعضه مثنى، وبعضه مرسل، وبعضه معقوص: أي ملوي.
শব্দের প্রাঞ্জলতা

১. অক্ষরের কর্কশতা থেকে মুক্ত হওয়া: যাতে তা কোমল ও সুমধুর হয়। জিহ্বার জন্য সহজ হয় এবং শ্রবণে ভারি না ঠেকে। যেমন: ‘আসাদ’ শব্দটি ‘ফাদাওকাস’ শব্দের চেয়েও হালকা।

২. অপরিচিতি থেকে মুক্ত হওয়া এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচিত হওয়া।

৩. রূপতাত্ত্বিক নিয়মের পরিপন্থী হওয়া থেকে মুক্ত হওয়া, যাতে তা বিরল না হয়।

৪. শ্রবণে শ্রুতিকটু হওয়া থেকে মুক্ত হওয়া (১)।

আর ‘অক্ষরের কর্কশতা’ হলো শব্দের এমন এক বৈশিষ্ট্য যা শ্রবণে বোঝা সৃষ্টি করে এবং জিহ্বায় উচ্চারণ করা কঠিন করে তোলে; কারণ শব্দটির অক্ষরগুলোর উচ্চারণস্থল অত্যন্ত কাছাকাছি হয়ে থাকে—এটি দুই প্রকার:

১. প্রবল কর্কশতা—যেমন ‘আল-জশ’ (অমসৃণ স্থানের জন্য ব্যবহৃত) এবং ‘আল-হামখা’ (উট যে উদ্ভিদ খায়)। জনৈক বেদুইনের উক্তি:

* আমি আমার উটটিকে হামখা ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দিয়েছি*

২. সামান্য কর্কশতা—যেমন ‘আন-নাকনাকাহ’ (ব্যাঙের ডাকের জন্য), ‘আন-নুকাখ’ (সুমিষ্ট ও স্বচ্ছ পানির জন্য) এবং ‘মুস্তাশযিরাত’ (উন্নত বা উঁচুর অর্থে)। ইমরুল কায়েস তার চাচাতো বোনের চুলের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:

তার চুলের বেণীগুলো উপরের দিকে উঁচানো, চুলের জটগুলো পাকানো এবং এলানো চুলের মাঝে হারিয়ে যায় (২)

ভারি বা কঠিন হওয়ার বিষয়টি জানার জন্য মার্জিত রুচিবোধ এবং সঠিক অনুভূতি ছাড়া অন্য কোনো মানদণ্ড নেই।

--------------------------------------------

(১) শব্দের প্রাঞ্জলতা হলো এমন সুসংগত অক্ষর দ্বারা গঠিত হওয়া যা জিহ্বার জন্য কোনো কষ্ট ছাড়াই উচ্চারণ করা সহজ হয়, সাথে তার অর্থ স্পষ্ট থাকে, বক্তাদের মধ্যে তার প্রচলন বেশি থাকে এবং যা রূপতাত্ত্বিক নিয়মের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। এর মূল ভিত্তি হলো মার্জিত রুচিবোধ, ভাষার মূল শব্দের উপর দখল এবং রূপতত্ত্বের নিয়মাবলির জ্ঞান—এর মাধ্যমেই শব্দের উপাদান, গঠন ও অর্থ ত্রুটিমুক্ত থাকে। জেনে রাখা উচিত যে, অক্ষরের কর্কশতার কারণ সর্বদা উচ্চারণস্থলের নৈকট্য নয়; কারণ উচ্চারণস্থলের নৈকট্য সর্বদা কর্কশতা তৈরি করে না—যেমনটি উচ্চারণস্থলের দূরত্ব সর্বদা হালকা হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। উদাহরণস্বরূপ, ‘বি-ফামি’ (আমার মুখে) শব্দটি অত্যন্ত সুন্দর, অথচ এর অক্ষরগুলো একই উচ্চারণস্থল তথা ঠোঁট থেকে উচ্চারিত। আবার ‘মালা’ শব্দটি কর্কশ ও ভারি, অথচ এর অক্ষরগুলোর উচ্চারণস্থল পরস্পর থেকে দূরে। তদ্রূপ, শব্দের দীর্ঘ হওয়া বা অক্ষরের আধিক্যও কর্কশতার কারণ নয়।

(২) ‘আল-গাদাইর’ অর্থ বেণীসমূহ। এখানে সর্বনামটি আগের চরণের ‘ফার’ (চুল) শব্দের দিকে ফিরেছে। ‘আল-ইস্তিশরাজ’ অর্থ উপরে উঠা। ‘আল-আকাস’ হলো ‘আকিসাহ’ এর বহুবচন, যার অর্থ চুলের গুচ্ছ। ‘আস-সিনা’ হলো পাকানো চুল এবং ‘আল-মুরসাল’ এর বিপরীত। অর্থাৎ তার চাচাতো বোনের চুলের আধিক্যের কারণে কিছু অংশ উপরে উঠানো, কিছু অংশ পাকানো, কিছু অংশ এলানো এবং কিছু অংশ বেণী করা বা প্যাঁচানো।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২১)
الناجمين عن النظر في كلام البلغاء وممارسة أساليبهم (1)

واما غرابة الاستعمال، فهي كون الكلمة غير ظاهرة المعنى، ولا مألوفة الاستعمال عند العرب الفصحاء، لان المعول عليه في ذلك استعمالهم.

والغرابة قسمان:

القسم الاول: ما يوجب حيرة السامع في فهم المعنى المقصود من الكلمة: لترددها بين معنيين أو أكثر بلا قرينة.

وذلك في الألفاظ المشتركة «كمسّرج» من قول رؤبة بن العجاج:

ومقلةً وحاجباً مزججا وفاحماً ومرسنا مسرّجا (2) .

--------------------------------------------

(1) ـ الألفاظ تنقسم إلى ثلاثة أقسام ـ قسمان حسنان، وقسم قبيح، فالقسمان الحسنان: أحدهما ما تداول استعماله السلف والخلف من الزمن القديم إلى زماننا هذا ولا يطلق عليه أنه وحشي، والآخر ما تداول استعماله السلف دون الخلف، ويختلف في استعماله بالنسبة إلى الزمن واهله ـ وهذا هو الذي يعاب استعماله عند العرب لأنه لم يكن عندهم وحشيا وهو عندنا وحشي.

ولا يسبق وهمك إلى قول قصراء النظر بأن العرب كانت تستعمل من الألفاظ كذا وكذا ـ فهذا دليل على أنه حسن، بل ينبغي أن تعلم أن الذي نستحسنه نحن في زماننا هذا، هو الذي كان عند العرب مستحسناً، والذي نستقبحه هو الذي كان عندهم مستقبحا ـ والاستعمال ليس بدليل على الحسن، فاننا نحن نستعمل الأن من الكلام ما ليس بحسن، وإنما نستعمله لضرورة، فليس استعمال الحسن بممكن في كل الأحوال ـ واعلم أن استحسان الألفاظ واستقباحها لا يؤخذ بالتقليد من العرب لانه شيء ليس للتقليد فيه مجال، وإنما هو شيء له خصائص وهيئات وعلامات إذا وجدت علم حسنه من قبحه ـ ألا ترى أن لفظة (المزنة) مثلا حسنة عند الناس كافة من العرب وغيرهم، فاذا استعملتها العرب لا يكون استعمالهم إياها مخرجا لها عن القبح، ولا يلتفت إذن إلى استعمالهم إياها بل يعاب مستعملها ويغلظ له النكير حيث استعملها ـ فلا تظن ان الوحشي من الألفاظ ما يكرهه سمعك ويثقل عليك النطق به وانما هو الغريب الذي يقل استعماله، فتارة يخف على سمعك ولا تجد به كراهة، وتارة يثقل على سمعك وتجد منه الكراهة، وذلك في اللفط عيبان كونه غريب الاستعمال وكونه ثقيلا على السمع كريها على الذوق. وليس وراءه في القبح درجة أخرى، ولا يستعمله إلا أجهل الناس ممن لم يخطر بباله شيء من معرفة هذا الفن أصلا. انتهى عن المثل السائر ـ بتصرف.

(2) ـ «مزججا» مدققا مطولا (فاحما) شعرا اسود كالفحمة (مرسنا) بكسر الميم وفتح السين كمنبر ـ او بفتح الميم وكسر السين كمجلس ـ ومعناه انفاذا لمعان كالسراج أو ذا صقالة واحد يداب كالسيف السريجي أي المنسوب إلى سريج وهو قين حداد تنسب إليه السيوف في الدقة والاستواء.
বাগ্মীদের বক্তব্য পর্যবেক্ষণ এবং তাদের শৈলী অনুশীলনের ফলে উদ্ভূত (১)

আর ব্যবহারের অপরিচিতি (গারাবাতুল ইসতি'মাল) হলো শব্দের অর্থ স্পষ্ট না হওয়া এবং বিশুদ্ধভাষী আরবদের নিকট এর ব্যবহার পরিচিত না হওয়া; কারণ এ ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহারই হলো মূল মানদণ্ড।

এই অপরিচিতি দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: যা কোনো সংকেত ছাড়াই দুই বা ততোধিক অর্থের মধ্যে দোদুল্যমান হওয়ার কারণে উদ্দিষ্ট অর্থ বুঝতে শ্রোতার মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

আর তা ঘটে থাকে একাধিক অর্থবোধক শব্দাবলির ক্ষেত্রে, যেমন রুবাহ ইবনুল আজজাজ-এর উক্তিতে ‘মুসাররাজ’ (مسرّج) শব্দটি:

এবং একটি অক্ষিগোলক ও একটি সূক্ষ্ম ভ্রূ, আর আলকাতরার মতো কালো চুল এবং একটি মুসাররাজ নাক (২)।

--------------------------------------------

(১) শব্দাবলি তিন ভাগে বিভক্ত—দুটি ভাগ উত্তম এবং একটি ভাগ মন্দ। উত্তম ভাগ দুটির একটি হলো: যার ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের মধ্যে প্রচলিত এবং তাকে বন্য বা অস্বাভাবিক (ওয়াহশি) বলা হয় না। অন্যটি হলো: যার ব্যবহার কেবল পূর্বসূরিদের মধ্যে প্রচলিত ছিল, উত্তরসূরিদের মধ্যে নয়; আর এটি কাল ও পাত্রভেদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়ে থাকে। আরবদের নিকট এর ব্যবহার নিন্দনীয়, কারণ তাদের নিকট এটি বন্য ছিল না কিন্তু আমাদের নিকট এটি বন্য।

আপনার মনে যেন এমন ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্নদের কথার উদয় না হয় যে, আরবরা যেহেতু অমুক অমুক শব্দ ব্যবহার করত, তাই এটিই এর উত্তম হওয়ার দলিল। বরং আপনার জানা উচিত যে, আমরা বর্তমানে যেটিকে উত্তম মনে করি, তা আরবদের নিকটও উত্তম ছিল; আর যেটিকে আমরা মন্দ মনে করি, তা তাদের নিকটও মন্দ ছিল। ব্যবহার কোনো কিছুর উত্তম হওয়ার দলিল নয়; কারণ আমরা বর্তমানে এমন সব কথা ব্যবহার করি যা উত্তম নয়, কেবল প্রয়োজনের খাতিরেই তা ব্যবহার করি। সুতরাং সব অবস্থায় উত্তমের ব্যবহার সম্ভব নয়। আর জেনে রাখুন যে, শব্দের উত্তম বা মন্দ হওয়া আরবদের অনুকরণের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয় না, কারণ এটি এমন বিষয় নয় যেখানে অনুকরণের সুযোগ আছে। বরং এটি এমন একটি বিষয় যার কিছু বৈশিষ্ট্য, অবস্থা ও চিহ্ন রয়েছে, যা পাওয়া গেলে এর ভালো-মন্দ জানা যায়। আপনি কি দেখেন না যে, ‘আল-মুজনাহ’ (মেঘ) শব্দটি যেমন সকল মানুষের নিকট সুন্দর, তেমনি আরবরা যদি এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করে যা সুন্দর নয়, তবে তাদের ব্যবহার শব্দটিকে মন্দ অবস্থা থেকে বের করে আনবে না। এমতাবস্থায় তাদের ব্যবহারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না, বরং ব্যবহারকারীকে নিন্দা করা হবে এবং ব্যবহারের কারণে তাকে কঠোরভাবে তিরস্কার করা হবে। সুতরাং আপনি মনে করবেন না যে, বন্য শব্দ কেবল তাই যা আপনার কান অপছন্দ করে এবং উচ্চারণে আপনার নিকট ভারী মনে হয়। বরং তা হলো সেই অপরিচিত শব্দ যার ব্যবহার কম; কখনো তা আপনার কানে হালকা মনে হয় এবং আপনার কাছে অপছন্দনীয় মনে হয় না, আবার কখনো তা কানে ভারী ঠেকে এবং আপনার কাছে অপছন্দনীয় মনে হয়। আর শব্দের মধ্যে দুটি দোষ থাকে: ব্যবহারের অপরিচিতি এবং কানের নিকট ভারী হওয়া ও রুচির নিকট অপছন্দনীয় হওয়া। মন্দের ক্ষেত্রে এর ঊর্ধ্বে আর কোনো পর্যায় নেই। এই শাস্ত্রের জ্ঞান সম্পর্কে যার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই, এমন চরম মূর্খ ব্যক্তি ছাড়া কেউ এটি ব্যবহার করে না। আল-মাসালুস সাইর থেকে সমাপ্ত—পরিমার্জিত।

(২) — ‘মুযাজ্জাজা’ অর্থ সূক্ষ্ম ও দীর্ঘ। ‘ফাহিমান’ অর্থ কয়লার মতো কালো চুল। ‘মারসিনান’ (মিম-এ কাসরা ও সিন-এ ফাতহা দিয়ে ‘মিনবার’-এর ওজনে অথবা মিম-এ ফাতহা ও সিন-এ কাসরা দিয়ে ‘মাজলিস’-এর ওজনে) এর অর্থ হলো নাক। এর অর্থ প্রদীপের মতো উজ্জ্বল নাক অথবা সরাইজি তলোয়ারের মতো পালিশ করা ও ধারালো নাক। অর্থাৎ যা সুরাইজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, আর তিনি ছিলেন একজন কামার যার দিকে তলোয়ারসমূহকে তাদের সূক্ষ্মতা ও সোজা হওয়ার (ইস্তিওয়া) কারণে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২২)
فلا يعلم ما أراد بقوله «مسرَّجا» حتى اختلف أئمة اللغة في تخريجة.

فقال «ابن دريد» يريد ان انفه في الاستواء والدقة كالسيف السّريجي.

وقال «ابن سيده» يريد انه في البريق واللمعان كالسراج (1) .

فلهذا يحتار السامع في فهم المعنى المقصود لتردد الكلمة بين معنيين بدون «قرينة» تعين المقصود منهما.

فلأجل هذا التردد، ولأجل أن مادة (فعل) تدل على مجرد نسبة شيء لشيء، لا على النسبة التشبيهية: كانت الكلمة غير ظاهرة الدلالة على المعنى. فصارت غريبة.

وأما مع القرينة فلا غرابة ـ كلفظة «عزَّر» في قوله تعالى: (فالذين امنوا وعزروه ونصروه) فانها مشتركة بين التعظيم والإهانة.

ولكن ذكر النصر قرينة على ارادة التعظيم.

القسم الثاني: ما يعاب استعماله لاحتياج إلى تتبع اللغات وكثرة البحث والتفتيش في المعاجم «قواميس متن اللغة المطولة» :

«أ» فمنه ما يعثر فيها على تفسير بعد كدّ. وبحث ـ نحو: تكأكأتم «بمعنى

--------------------------------------------

(1) ـ أي ولفظة مسرج غير ظاهر الدلالة على ما ذكر، لأن فعل إنما يدل على مجرد النسبة، وهي لا تدل على التشبيه، فاخذه منها بعيد ـ لهذا أدخل الحيرة على السامع في فهم المعنى المقصود من الكلمة لترددها
তাই তার ‘মুসাররাজান’ বলার দ্বারা কী উদ্দেশ্য ছিল তা জানা যায় না, এমনকি ভাষাবিদ ইমামগণও এর ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ করেছেন।

‘ইবনে দুরাইদ’ বলেছেন, এর অর্থ হলো তার নাক সোজা হওয়া এবং সূক্ষ্মতার দিক থেকে সুরইজি তলোয়ারের মতো।

আর ‘ইবনে সিদাহ’ বলেছেন, এর অর্থ হলো উজ্জ্বলতা এবং দ্যুতির দিক থেকে তা প্রদীপের মতো (১)।

এই কারণে উদ্দিষ্ট অর্থ বুঝতে শ্রোতা বিভ্রান্ত হন, কারণ শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট ‘কারীনা’ (অনুষঙ্গ) ছাড়াই দুটি অর্থের মাঝে দোলাচল সৃষ্টি করে যা থেকে কোনো একটিকে সুনির্দিষ্ট করা যায় না।

এই দোলাচলের কারণে এবং ‘ফা’আলা’ ক্রিয়ামূলটি কেবল এক বস্তুর সাথে অন্য বস্তুর নিছক সম্বন্ধ নির্দেশ করে, কোনো সাদৃশ্যমূলক সম্বন্ধ নয়—সে কারণে শব্দটি অর্থের ওপর সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত প্রদানকারী ছিল না। ফলে এটি ‘গরীব’ (অস্পষ্ট) হয়ে পড়েছে।

তবে অনুষঙ্গ থাকলে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না—যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (সুতরাং যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে এবং তাঁকে সাহায্য করেছে)-এ ব্যবহৃত ‘আযযারাহু’ শব্দটির মতো। কারণ এটি সম্মান প্রদর্শন এবং লাঞ্ছিত করা—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু এখানে সাহায্যের (নাসর) উল্লেখ থাকাই সম্মান প্রদর্শন করার অর্থ গ্রহণের জন্য ‘কারীনা’ বা অনুষঙ্গ।

দ্বিতীয় প্রকার: যার ব্যবহার ত্রুটিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, কারণ এটি বুঝতে ভাষাতাত্ত্বিক অনুসন্ধান এবং অভিধানসমূহে (বিস্তারিত মূল শব্দকোষসমূহে) প্রচুর গবেষণা ও তল্লাশির প্রয়োজন হয়:

(ক) এর মধ্যে এমন শব্দ রয়েছে যার ব্যাখ্যা কঠোর পরিশ্রম ও দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর খুঁজে পাওয়া যায়—যেমন: ‘তাকা’কা’তুম’ (যার অর্থ...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ ‘মুসাররাজ’ শব্দটি উল্লিখিত বিষয়ের ওপর সুস্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদানকারী নয়, কারণ ‘ফা’আলা’ রূপটি কেবল নিছক সম্বন্ধ বুঝায়, যা কোনো সাদৃশ্য বা উপমা বুঝায় না। ফলে এটি থেকে সেই অর্থ গ্রহণ করা দুরূহ—এই কারণেই শব্দটির দ্ব্যর্থবোধকতার দরুন উদ্দিষ্ট অর্থ বুঝতে শ্রোতা বিভ্রান্তিতে পড়েন।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৩)
اجتمعتم» من قول عيسى بن عمرو النَّحوي:

مالكم تكأكأتم (1) عليّ، كتكأكئكم على ذي جنة (2) إفر نقعوا عنّي (3) ـ ونحو (مشمخر) في قول: بشر بن عوانة. يصف الأسد:

فخر مدرَّجاً بدم كأني هدمت به بناء مشمخرا

«ب» ومنه ما لم يعثر على تفسيره نحو (جحلنجع) من قول ابي الهميسع

من طمحة صبيرهاجحلنجع (4) لم يحضها الجدول بالتنوع

واما (مخالفة القياس) فهو كون الكلمة شاذَّة غير جارية على القانون الصرفي المستنبط من كلام العرب؛ بأن تكون على خلاف ما ثبت فيها عن العرف العربي الصحيح (5) مثل (الأجلل) في قول أبي النجم:

ألحمد لله العلي الأجلل الواحد الفرد القديم الأوَّل

--------------------------------------------

(1) ـ اجتمعتم.

(2) ـ جنون.

(3) ـ انصرفوا ـ وقال ذلك حين سقط عن دابته فاجتمع الناس حوله.

(4) ـ الطمحة النظرة، والصبير السحاب المتراكم ـ وقبله

إن تمنعي صوبك صوب المدمع … يجري على الخد كضئب الثعثع

الضئب الحب والثعثع اللؤلؤ ـ قال صاحب القاموس ذكروا جحلنجع ولم يفسروه، وقالوا كان ابو الهميسع من أعراب مدين، وكنا لا نكاد نفهم كلامه.

(5) ـ ما استثناه الصرفيون من قواعدهم المجمع عليها وان خالف للقياس «فصيح» فمثل (آل وماه) أصلها أهل وموه ـ أبدلت الهاء فيهما همزة، وابدال الهمزة من الهاء وإن كان على خلاف القياس إلا أنه ثبت عن الواضع ـ ومثل (أبي يأبى) بفتح الباء في المضارع والقياس، كسرها فيه لأن فعل بفتح العين لا يأتي مضارعه على يفعل بالفتح إلا إذا كان عين ماضيه او لامه حرف حلق كسال ونفع، فمجيئ المضارع بالفتح على خلاف القياس، الا ان الفتح ثبت عن الواضع ـ ومثل (عور يعور) أي فالقياس فيهما عار يعار بقلب الواو ألفا لتحركها وانفتاح ما قبلها، فتصحيح الواو خلاف القياس إلا أنه ثبت عن الواضع.
«তোমরা একত্রিত হয়েছ» এটি নাহবি ঈসা বিন আমরের উক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে:

তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আমার ওপর এভাবে ভিড় করছ, যেমনটি তোমরা কোনো উন্মাদ ব্যক্তির ওপর ভিড় করে থাকো? আমার কাছ থেকে সরে যাও (৩) — এবং বিশর বিন আওয়ানার উক্তিতে (মুশমাখির) শব্দের ন্যায়। তিনি সিংহের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:

সে রক্তে রঞ্জিত হয়ে লুটিয়ে পড়ল, যেন আমি তার মাধ্যমে কোনো সুউচ্চ অট্টালিকা ধ্বংস করে দিয়েছি।

«খ» আর এর মধ্যে এমন শব্দও রয়েছে যার কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি, যেমন আবু আল-হুমায়সার উক্তিতে (জাহলানজা) শব্দটি:

কোনো দৃষ্টি থেকে এর পুঞ্জীভূত মেঘমালা জাহলানজা (৪) যা জলধারা বৈচিত্র্যের সাথে সিক্ত করেনি।

আর (কিয়াস পরিপন্থী হওয়া) বলতে বুঝায় শব্দের এমন শায বা অস্বাভাবিক রূপ হওয়া যা আরবদের ভাষা থেকে আহরিত সরফী বা রূপতাত্ত্বিক নিয়মানুযায়ী পরিচালিত নয়; অর্থাৎ যা সঠিক আরবি রীতিতে সাব্যস্ত নিয়মের পরিপন্থী হওয়া (৫)। যেমন আবু আন-নাজমের উক্তিতে (আল-আজালাল) শব্দটি:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সুউচ্চ, সর্বমহান, একক, অদ্বিতীয়, অনাদি ও আদি।

--------------------------------------------

(১) — তোমরা একত্রিত হয়েছ।

(২) — উন্মাদনা।

(৩) — সরে পড়ো বা চলে যাও — তিনি এটি তখন বলেছিলেন যখন তিনি তাঁর সওয়ারি থেকে পড়ে গিয়েছিলেন এবং লোকজন তাঁর চারপাশে ভিড় জমিয়েছিল।

(৪) — ত্বমহাহ শব্দের অর্থ দৃষ্টি, এবং সবীর অর্থ পুঞ্জীভূত মেঘ — আর এর আগে রয়েছে:

যদি তুমি তোমার বারিধারাকে অশ্রুর ধারার মতো প্রবাহিত হতে বাধা দাও ... তবে তা গাল বেয়ে শিয়ালের চোখের পানির মতো বয়ে যাবে।

যিব অর্থ ভালোবাসা এবং সা'সা' অর্থ মুক্তো — কামুস গ্রন্থের লেখক বলেছেন, তারা জাহলানজা শব্দটি উল্লেখ করেছেন কিন্তু এর ব্যাখ্যা করেননি। তারা আরও বলেছেন যে, আবু আল-হুমায়সা মাদয়্যান অঞ্চলের বেদুইনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং আমরা প্রায় তাঁর কথা বুঝতে পারতাম না।

(৫) — সরফবিদগণ তাঁদের সর্বসম্মত নিয়ম থেকে যা কিছু ব্যতিক্রম রেখেছেন, তা কিয়াস বা নিয়মের পরিপন্থী হলেও 'ফসীহ' বা বিশুদ্ধ; যেমন (আল এবং মাহ) এর মূল হলো আহল এবং মুয়াহ — এখানে 'হা' অক্ষরকে 'হামযা' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। 'হা' থেকে 'হামযা'র এই পরিবর্তন কিয়াস বিরোধী হলেও এটি ভাষা প্রণেতা থেকে এভাবেই প্রমাণিত। অনুরূপভাবে (আবা ইয়াবা) এর ক্ষেত্রে মুজারি বা বর্তমানকালে 'বা' অক্ষরে ফাতহা হওয়া। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে কাসরা হওয়ার কথা ছিল, কারণ 'ফাআলা' (আইন অক্ষরে ফাতহা বিশিষ্ট) ক্রিয়ার মুজারি 'ইয়াফআলু' (ফাতহা বিশিষ্ট) হয় না যতক্ষণ না তার আইন বা লাম অক্ষরটি হলকি বা কণ্ঠনালীর বর্ণ হয় (যেমন সায়ালা এবং নাফাআ)। সুতরাং মুজারিটি ফাতহা সহযোগে আসা কিয়াস বিরোধী হলেও এটি ভাষা প্রণেতা থেকে এভাবেই সাব্যস্ত হয়েছে। আবার (আওয়িরা ইয়াওয়ারু) এর ক্ষেত্রেও একই কথা, নিয়ম অনুযায়ী ওয়াও বর্ণটি হারাকাত বিশিষ্ট এবং তার পূর্বের বর্ণটি ফাতহা বিশিষ্ট হওয়ায় তা আলিফ দ্বারা পরিবর্তিত হয়ে 'আরা ইয়ায়ারু' হওয়ার কথা ছিল। সুতরাং ওয়াও বর্ণটি অপরিবর্তিত রাখা কিয়াস বিরোধী হলেও এটি ভাষা প্রণেতা থেকে এভাবেই সাব্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
فإن القياس (الأجل) بالادغام، ولا مسوّغ لفكّه وكقطع همزة وصل «اثنين» في قول جميل:

ألا لا أرى إثنين أحسن شيمةً على حدثان الدَّهر منَّى ومن جمل (1)

ويستثنى من ذلك ما ثبت استعماله لدى العرب مخالفاً للقياس ولكنه فصيح.

لهذا لم يخرج عن الفصاحة لفظتا (المشرق والمغرب) بكسر الراء، والقياس فتحها فيهما، وكذا لفظتا (المُدهُن والمنخُل) والقياس فيهما مِفْعَل بكسر الميم وفتح العين ـ وكذا نحو قولهم (عَوِر) والقياس عارَ: لتحرك الواو وانفتاح ما قبلها.

واما (الكراهة في السمع) فهو كون الكلمة وحشية، تأنفها الطباع وتمجها الاسماع، وتنبو عنه، كما ينبو عن سماع الأصوات المنكرة.

(كالجرشى ـ للنفس) في قول أبي الطيب المتنبي يمدح سيف الدولة

مبارك الإسم أغرُّ اللقب … كريم الجرشَّى شريف النَّسب

--------------------------------------------

(1) - الشيمة الخلق، والحدثان نوائب الدهر، وجمل فرسه.
নিশ্চয়ই নিয়ম (কিয়াস) হলো ইদগাম করা, এবং তা পরিহার করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই; যেমন জামিল-এর কবিতায় ‘ইছনাইন’ শব্দের হামজাতুল ওয়াসলকে হামজাতুল ক্বাত’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে:

আহা! আমি আমার ও জামালের চেয়ে যুগের বিপর্যয়ে উত্তম চরিত্রের অধিকারী আর কোনো দুই ব্যক্তিকে দেখি না। (১)

এর ব্যতিক্রম হলো আরবদের নিকট প্রচলিত সেই শব্দগুলো যা নিয়মের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও সাবলীল (ফাসিহ) হিসেবে স্বীকৃত।

এই কারণেই ‘আল-মাশরিক’ (পূর্ব) এবং ‘আল-মাগরিব’ (পশ্চিম) শব্দ দুটি ‘রা’ অক্ষরে কাসরা (জের) সহকারে ব্যবহৃত হওয়া সত্ত্বেও সাবলীলতার বহির্ভূত হয়নি, যদিও নিয়ম অনুযায়ী এই দুটিতে ফাতহা (জবর) হওয়ার কথা ছিল। একইভাবে ‘আল-মুদহুন’ (তৈলাধার) এবং ‘আল-মানখুল’ (চালনি) শব্দ দুটিও সাবলীল, যদিও এগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম হলো ‘মিফ’আল’ ওজনে মিম-এ কাসরা এবং আইন-এ ফাতহা হওয়া। অনুরূপভাবে তাদের উক্তি ‘আউয়িরা’ (সে একচোখা হলো), যেখানে নিয়ম অনুযায়ী ‘আ-রা’ হওয়ার কথা ছিল; কারণ ওয়াও হরফটি হরকতযুক্ত এবং তার পূর্বের হরফটি ফাতহা বিশিষ্ট।

আর ‘শ্রবণকটুতা’ হলো শব্দটি কর্কশ হওয়া, যা মানুষের প্রকৃতি অপছন্দ করে এবং কান প্রত্যাখ্যান করে, আর তা থেকে মানুষ বিমুখ হয় যেমন কোনো কদর্য শব্দ শোনা থেকে মানুষ বিমুখ হয়।

যেমন সাইফুদ্দৌলার প্রশংসায় আবু তাইয়্যিব আল-মুতানাব্বির উক্তিতে প্রাণের (নফস) পরিবর্তে ব্যবহৃত ‘আল-জুরাশশা’ শব্দটি:

তিনি বরকতময় নামের অধিকারী ও উজ্জ্বল উপাধিধারী... তিনি উদার হৃদয়ের অধিকারী ও মর্যাদাপূর্ণ বংশের উত্তরসূরি।

--------------------------------------------

(১) - ‘শিমাহ’ অর্থ চরিত্র, ‘হাদাসান’ অর্থ যুগের দুর্যোগ বা বিপদসমূহ, আর ‘জামাল’ হলো তার ঘোড়ার নাম।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وملخَّص القول ـ أن فصاحة الكلمة تكون بسلامتها من تنافر الحروف ومن الغرابة. ومن مخالفة القياس. ومن الابتذال. والضعف.

فاذا لصق بالكلمة عيب من هذه العيوب السابقة وجب نبذها واطراحها.

تطبيق (1)

ما الذي أخل بفصاحة الكلمات فيما يأتي:

قال يحيى بن يعمر: لرجل حاكمته امراته إليه «أئن سالتك ثمن شكرها وشبرك، اخذت تطلها وتضهلها (1) .

وقال بعض أمراء العرب، وقد اعتلت أمّه، فكتب رقاعاً وطرحها في المسجد الجامع بمدينة السلام: صين امرؤ وَرَعَا، دعا لامراة انقحلة (2) مقسئنة (3) قد منيت بأكل الطرموق (4) فأصابها من أجله الاستمصال (5) بأن يمن الله عليها بالاطرعشاش (6) والابرغشاش أسمع جعجعة (7) ـ ولا أرى طحنا ـ الاسفنط (8) ـ حرام ـ وهذا الخنشليل (9) صقيل، والفدوكس مفترس (10) .

يوم عصبصب وهلوف، ملأ السجسج طلا (11) .

أمنَّا أن تصرّع عن سماحٍ وللآمال في يدك اصطراع (12)

--------------------------------------------

(1) ـ الشكر الرضاع والثبر النكاح وتطلها تسعى في بطلان حقها وتصهلها تعطيها الشيء القليل.

(2) ـ يابسة.

(3) ـ مسنة عجوز.

(4) ـ ابتليت باكل الطين.

(5) ـ الإسهال.

(6) ـ البرء ـ وكذا معنى ما بعده.

(7) ـ جعجعة غير فصيحة لتنافر حروفها، وهو مثل يضرب لمن يقول ولا يفعل.

(8) ـ الاسفنط الخمر.

(9) ـ الخنشليل السيف.

(10) ـ الفدوكس الأسد، فكل من هذه الألفاظ الثلاثة وحشية غير مألوفة.

(11) ـ شديد البرد فيهما ـ والسجسج الارض التي ليست بسهلة ولا صلبة.

(12) ـ أراد: أنهم امنوا أن يغلبه غالب يصرعه عن السماع ويمنعه منه وأما قوله (وللآمال في يدك اصطراع) فمعناه تنافس وتغالب وازدحام في يده ـ يريد كثرة نواله وكرمه. واستعماله للفظة الاصطراع بهذا المعنى بعيد.
বক্তব্যের সারকথা হলো— শব্দের সাবলীলতা (ফাসাহাত) অর্জিত হয় অক্ষরের কর্কশতা, শব্দের দুষ্প্রাপ্যতা, ব্যাকরণিক নিয়মের লঙ্ঘন, অশ্লীলতা ও দুর্বলতা থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে।

সুতরাং শব্দের সাথে যদি পূর্বোক্ত ত্রুটিগুলোর কোনোটি যুক্ত হয়, তবে তা বর্জন ও পরিহার করা আবশ্যক।

অনুশীলন (১)

নিম্নে বর্ণিত বাক্যগুলোতে শব্দের সাবলীলতাকে কী বিষয় ব্যাহত করেছে:

ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর জনৈক ব্যক্তিকে বলেছিলেন যার স্ত্রী তার নিকট বিচার নিয়ে এসেছিল: "আমি কি তোমার নিকট তার স্তন্যদানের বিনিময় ও তোমার মিলনের মোহরানা চেয়েছি যে, তুমি তার হক নষ্ট করছো এবং তাকে যৎসামান্য দিচ্ছো (১)?"

জনৈক আরব আমীর, যার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তিনি কিছু চিরকুট লিখে বাগদাদ শহরের জামে মসজিদে ছড়িয়ে দিয়ে বললেন: আল্লাহ সেই পরহেজগার ব্যক্তিকে রক্ষা করুন, যে এক শুষ্কদেহী (২) ও বৃদ্ধা (৩) মহিলার জন্য দোয়া করবে, যে কাদা মাটি খাওয়ার (৪) ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে তার পাতলা পায়খানা (৫) শুরু হয়েছে; যেন আল্লাহ তাকে আরোগ্য (৬) ও সুস্থতা দান করেন। আমি তো যাঁতার আওয়াজ (৭) শুনতে পাচ্ছি—কিন্তু আটা দেখছি না—মদ (৮) হারাম—আর এই তলোয়ার (৯) ধারালো, এবং সিংহ (১০) শিকারি।

দিনটি অত্যন্ত শীতল ও মেঘাচ্ছন্ন ছিল, যা সমতল ভূমিকে শিশিরে সিক্ত করে দিয়েছে (১১)।

আমরা নিরাপদ বোধ করেছি যে, দানশীলতা থেকে কেউ আপনাকে বিচ্যুত করতে পারবে না, আর আপনার হাতেই তো সকল আশা-আকাঙ্ক্ষার মল্লযুদ্ধ (প্রতিযোগিতা) (১২)।

--------------------------------------------

(১) - আশ-শুক্রু অর্থ স্তন্যদান, আস-সাবরু অর্থ মিলন, তুতিলুহা অর্থ তার হক বাতিল করার চেষ্টা করা এবং তুদাহহিলুহা অর্থ তাকে সামান্য জিনিস প্রদান করা।

(২) - শুষ্ক।

(৩) - বয়োবৃদ্ধা মহিলা।

(৪) - কাদা মাটি খাওয়ার অভ্যাসে আক্রান্ত হওয়া।

(৫) - উদরাময় বা পাতলা পায়খানা।

(৬) - রোগমুক্তি—পরবর্তী শব্দটির অর্থও অনুরূপ।

(৭) - 'জা’জাআ' শব্দটি বর্ণের কর্কশতার কারণে সাবলীল নয়। এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় যে কেবল কথাই বলে কিন্তু কাজ করে না।

(৮) - আল-ইসফিন্তু অর্থ মদ।

(৯) - আল-খানশালীল অর্থ তলোয়ার।

(১০) - আল-ফাদাওকাস অর্থ সিংহ; এই তিনটি শব্দের প্রতিটিই অপরিচিত ও অপ্রচলিত।

(১১) - শব্দ দুটির অর্থ তীব্র শীত—আর আস-সাজসাজ হলো এমন ভূমি যা খুব নরমও নয় আবার খুব শক্তও নয়।

(১২) - কবি বুঝাতে চেয়েছেন: তারা নিরাপদ বোধ করেছে যে কোনো বিজয়ী তাকে দানশীলতা থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না এবং তাকে তা থেকে বিরত রাখতে পারবে না। আর তার উক্তি "আপনার হাতে আশা-আকাঙ্ক্ষার মল্লযুদ্ধ"—এর অর্থ হলো তার হাতে দান পাওয়ার জন্য মানুষের প্রতিযোগিতা ও ভিড়। তিনি তার প্রচুর দান ও বদান্যতা বোঝাতে চেয়েছেন। তবে এই অর্থে 'মল্লযুদ্ধ' শব্দের ব্যবহারটি সুদূরপরাহত।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال الفرزدق:

واذا الرجال رأوا يزيد رأيتهم خُضعَ الرَّقاب نواكس الأبصار (1)

وقال أبو تمّام:

قد قلت لمّا اطلخمَّ الأمر وانبعثت عشواء تاليةً غيساً دهاريسا (2)

وقال شمر:

واحمق ممن يكرع الماء قال لي … دع الخمر واشرب من نقاخ مُبّرد (3)

يظل بموماة ويمسى بغيرها جحيشا ويعرورى ظهور المسالك (4)

فلا يبرم الأمر الذي هو حالل ولا يُحللُ الأمر الذي هو يبرم (5)

--------------------------------------------

(1) ـ فقد جمع (ناكس) على (فواعل) شذوذا وهذا لا يطرد إلا في وصف لمؤنث عاقل لا لمذكر كما هنا إلا في موضعين (فوارس وهوالك) والناكس: مطأطئ الرأس.

(2) ـ قال صاحب المثل السائر ـ ان لفظ (اطلخم) من الالفاظ المنكرة التي جمعت الوصفين القبيحين في انها غريبة، وانها غليظة في السمع كريهة على الذوق، وكذلك لفظة (دهاريس) واطلخم: أي اشت وعظم، والعشواء الليلة المظلمة، والغبسة جمع اغبس وغبسا: وهي الشديدة الظلام مثلها ـ والدهاريس جمع دهريس وهي الدواهي.

(3) - الماء العذب الصافي

(4) - الموماة المفازة الواسعة، ويقال للمستبد برأيه جحيش، ويقال اغروري الفرس ركبها عريانا- وان لفظة جحيش من الألفاظ المنكرة القبيحة - وبالله العجب - أليس أنها بمعنى فريد، وفريد لفظة حسنة رائقة، ولو وضعت في هذا البيت موضع جحيش لما اختل شيء من وزنه، فتأبط شراً لأنه ملوم من وجهين في هذا الموضع، أحدهما أنه استعمل القبيح، والآخر أنه كانت له مندوحة عن استعماله فلم يعدل عنه.

(5) - العيب في هذا البيت من حيث فك الادغام في (حالل ويحلل) بلا مسوغ وهو شاذ ومخالف للقياس الصرفي ومخالف للكلام العربي الصحيح
আর আল-ফারাজদাক বলেছেন:

যখন মানুষেরা ইয়াজিদকে দেখে, তখন তুমি তাদের দেখতে পাবে ঘাড় নত করে এবং দৃষ্টি অবনত করে (১)

আর আবু তাম্মাম বলেছেন:

আমি বলেছিলাম যখন বিষয়টি জটিল ও কঠিন হয়ে পড়ল এবং এক অন্ধকার রাত নেমে এল যার অনুগামী ছিল ঘোর অন্ধকার ও বিপদসমূহ (২)

আর শিমর বলেছেন:

এবং যে ব্যক্তি সরাসরি মুখ লাগিয়ে পানি পান করে তার চেয়েও নির্বোধ এক ব্যক্তি আমাকে বলল … মদ ছেড়ে দাও এবং শীতল স্বচ্ছ পানি পান করো (৩)

সে দিনের বেলা এক প্রশস্ত মরুভূমিতে থাকে এবং সন্ধ্যায় অন্যটিতে উপনীত হয় একাকী অবস্থায়, আর সে দুর্গম পথের নগ্ন পিঠে আরোহণ করে (৪)

সে এমন কোন বিষয়কে মজবুত করতে পারে না যা শিথিল, আর সে এমন কোন বিষয়কে শিথিল করতে পারে না যা মজবুত (৫)

--------------------------------------------

(১) ـ এখানে 'নাকিস' শব্দটিকে 'ফাওয়া'ইল' ওজনে বহুবচন করা হয়েছে যা নিয়মবহির্ভূত। এটি কেবল আকলসম্পন্ন স্ত্রীবাচক বিশেষণের ক্ষেত্রেই নিয়মিতভাবে ব্যবহৃত হয়, পুরুষবাচকের ক্ষেত্রে নয়—যেমনটি এখানে ঘটেছে—ব্যতিক্রম কেবল দুটি শব্দ (ফাওয়ারিস এবং হাওয়ালিক)। আর 'নাকিস' অর্থ হলো: মাথা অবনতকারী।

(২) ـ আল-মাসালুস সায়ির গ্রন্থের লেখক বলেছেন— 'ইত্লাখাম্মা' শব্দটি সেই সমস্ত বর্জনীয় শব্দের অন্তর্ভুক্ত যা দুটি কুৎসিত বৈশিষ্ট্যকে একত্রিত করেছে; তা হলো—এটি শ্রুতিকটু এবং রুচিবিরুদ্ধ। একইভাবে 'দাহারিস' শব্দটিও। 'ইত্লাখাম্মা' অর্থ: কঠিন ও গুরুতর হওয়া; 'আশওয়া' অর্থ: অন্ধকার রাত; 'গুবসা' হলো 'আগবাস' ও 'গাবসা'-এর বহুবচন, যার অর্থ: প্রচণ্ড অন্ধকার; আর 'দাহারিস' হলো 'দিহরিস'-এর বহুবচন যার অর্থ: বিপদসমূহ।

(৩) - মিষ্টি ও স্বচ্ছ পানি।

(৪) - 'মাওমাহ' মানে প্রশস্ত মরুভূমি। যে ব্যক্তি নিজের মতে অটল থাকে তাকে 'জাহীশ' বলা হয়। আর 'ই'রাওরা আল-ফারাসা' মানে জিনের ব্যবহার ছাড়াই ঘোড়ার পিঠে চড়া। 'জাহীশ' শব্দটি অত্যন্ত বর্জনীয় ও কুৎসিত একটি শব্দ—আল্লাহর শপথ, আশ্চর্যের বিষয় হলো—এটি কি 'ফারীদ' (একাকী) শব্দের সমার্থক নয়? অথচ 'ফারীদ' শব্দটি অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার। যদি এই চরণে 'জাহীশ'-এর স্থানে 'ফারীদ' বসানো হতো, তবে ছন্দের কোনো বিচ্যুতি ঘটত না। সুতরাং তা'আব্বাতা শাররান এখানে দুটি কারণে নিন্দনীয়: প্রথমত, সে কুৎসিত শব্দ ব্যবহার করেছে; দ্বিতীয়ত, তার কাছে এটি এড়িয়ে চলার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সে তা করেনি।

(৫) - এই চরণের ত্রুটি হলো 'হালিল' এবং 'ইয়াহলুলু' শব্দ দুটিতে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই 'ইদগাম' বা বর্ণ-দ্বিত্ব পরিহার করা হয়েছে, যা শায বা নিয়মবহির্ভূত, সরফ শাস্ত্রের পরিপন্থী এবং বিশুদ্ধ আরবি বাচনভঙ্গির বিরোধী।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৭)
مقابل في ذرا الاذواء منصبه عيصاً فعيصاً وقدموساً فقدموسا

وقال أبو تمام:

نعم متاع الدنيا حباك به أورع لا جيدر ولا جبس

وقال امرؤ القيس:

رب جفنة (1) مثعنجرة، وطعنة مسحنفرة، وخطبة مستحضرة وقصيدة محبّرة، تبقى

غداً بأنقرة ـ أكلت العرين، وشربت الصّمادح (2) إني إذا أنشدت لاحبنطى (3) نزل بزيد داهية خنفقيق (4) وحل به عنقفير. لم يجدمنها مخلصاً. رأيت ماء نقاخا (5) ينباع (6) من سفح جبل شامخ. إخال أنك مصوون (7) ـ البعاق (8) ملأ الجردحل

فان يك بعض الناس سيفا لدولة ففي الناس بوقاتٌ لها وطبولُ (9)

--------------------------------------------

(1) - يريد بقوله جفنة صحفة كبيرة ملأى تشبع عشرة، والمثعنجرة السائلة، والمسحنفرة الماضية بسرعة، وطعنة متسعة ببلد أنقرة، وهو كلام امرىء القيس لما قصد ملك الروم ليستنجده على قتلة أبيه، فهوته بنت الملك وبلغ ذلك القيصر فوعده أن يتبعه بالجنود إذا بلغ الشام، أو يأمر من بالشام من جنوده بنجدته - فلما كان بأنقرة بعث إليه بثياب مسمومة فلما لبسها تساقط لحمه فعلم بالهلاك - فقال رب الخ.

(2) يريد اللحم والماء الخالص

(3) احبنطي انتفخ بطنه.

(4) دهياء.

(5) عذبا.

(6) يتبع ويسيل.

(7) مصوون: شاذة وليست فصيحة لمخالفتها للقياس الصرفي.

(8) البعاق مطر السحاب، والجرد حل الوادي - وليستا فصيحتين لغرابتهما.

(9) بوقات مزامير - والقياس في جمعه أبواق.
আযওয়াদের (অভিজাতদের) উচ্চ শিখরে তার অবস্থান সুপ্রতিষ্ঠিত, বংশপরম্পরায় যা অত্যন্ত প্রাচীন ও আভিজাত্যপূর্ণ।

আবু তাম্মাম বলেন:

দুনিয়ার কতই না উত্তম সম্পদ তোমাকে দান করেছেন এমন এক পরহেযগার ব্যক্তি, যিনি না খর্বকায়, আর না ভীরু বা অসার।

ইমরুল কায়েস বলেন:

কতই না বড় উপচে পড়া থালা, দ্রুতগামী বর্শা নিক্ষেপ, উপস্থিত ভাষণ এবং কারুকার্যমণ্ডিত কবিতা, যা আগামীকাল আঙ্কারায় রয়ে যাবে। আমি গোশত খেয়েছি এবং স্বচ্ছ পানি পান করেছি। আমি যখন কবিতা পাঠ করি তখন আমার পেট ফুলে যায়। যায়িদের ওপর এক ভয়াবহ মহাবিপদ নেমে এসেছে এবং তার ওপর চরম বিপর্যয় আপতিত হয়েছে, যা থেকে সে কোনো নিস্তার পায়নি। আমি দেখলাম সুউচ্চ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে স্বচ্ছ সুপেয় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আমি মনে করি তুমি সুরক্ষিত। প্রবল বৃষ্টি উপত্যকাটি পূর্ণ করে দিয়েছে।

যদি কিছু মানুষ রাষ্ট্রের জন্য তরবারি স্বরূপ হয়, তবে মানুষের মাঝে এমন লোকও আছে যারা তার জন্য শিঙা ও ঢোলস্বরূপ।

--------------------------------------------

(১) - ‘জফনাহ’ (পাত্র) বলতে তিনি এমন এক বড় থালা বুঝিয়েছেন যা দশজনকে তৃপ্ত করতে পারে। ‘মুছআনজিরাহ’ অর্থ প্রবাহিত হওয়া। ‘মুসহানফিরাহ’ অর্থ দ্রুতবেগে বয়ে যাওয়া। আঙ্কারা শহরে প্রশস্ত যখম। এটি ইমরুল কায়েসের বক্তব্য যখন তিনি তাঁর পিতার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে রোম সম্রাটের কাছে সাহায্য চাইতে গিয়েছিলেন। তখন সম্রাটের কন্যা তাঁর প্রতি অনুরক্ত হয় এবং এ খবর কায়সারের কাছে পৌঁছায়। কায়সার তাঁকে সিরিয়া পৌঁছালে সৈন্য দিয়ে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন অথবা সিরিয়ায় অবস্থানরত তাঁর সৈন্যদের নির্দেশ দেবেন বলে জানান। যখন তিনি আঙ্কারায় পৌঁছালেন, সম্রাট তাঁর কাছে বিষাক্ত পোশাক পাঠালেন। যখন তিনি তা পরিধান করলেন, তাঁর শরীরের চামড়া খসে পড়তে শুরু করল এবং তিনি তাঁর মৃত্যু অনিবার্য বুঝতে পারলেন। তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করেন।

(২) এর দ্বারা তিনি গোশত এবং স্বচ্ছ পানি বুঝিয়েছেন।

(৩) পেট ফুলে যাওয়া।

(৪) মহাবিপদ।

(৫) মিষ্ট বা সুপেয়।

(৬) অনুসরণ করে এবং প্রবাহিত হয়।

(৭) মাসউন (সুরক্ষিত): এটি ব্যাকরণগত নিয়মের পরিপন্থী হওয়ার কারণে বিরল (শায) এবং তা বিশুদ্ধ অলঙ্কারপূর্ণ ভাষা (ফসীহ) নয়।

(৮) ‘বুয়াক’ অর্থ মেঘের প্রবল বৃষ্টি এবং ‘জর্দাহল’ অর্থ উপত্যকা—শব্দ দুটি অত্যন্ত অপরিচিত হওয়ার কারণে প্রাঞ্জল (ফসীহ) নয়।

(৯) ‘বুকাত’ অর্থ শিঙা বা বাঁশি—এর বহুবচনের ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী ‘আবওয়াক’ হওয়া উচিত ছিল।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৮)
نقيُّ تقيُّ لم يكثر غنيمة بنكهة ذي القربى ولا بحقلّد

إن بني للئام زهده … مالي في صدورهم من مودده (1)

رمتني ميّ بالهوى رمى ممضغ من الوحش لوطٌ لم تعقه الأوالس (2)

بعينين نجلاوين لم يجر فيهما ضمان وجيدٍ حلى الدرّ شامس (3)

علمي إلى علمك كالقرارة في المثعنجر (4) .

أنّ بعضاً من القريض هراءٌ ليس شيئا وبعضه إحكام

فيه ما يجلب البراعة والفهـ م وفيه ما يجلب البرسامُ (5)

ومن الناس من تجوز عليهم شعراء كأنها الخاز بازُ (6)

تمرين (1)

1. فرِّق بين التنافر في الكلمة، وفي الكلام، واذكر السبب؟

2. اذكر مثالا للتعقيد اللفظي، وبين سبب هذا التعقيد، ثم ازله؟

3. قد يلازم تنافر الحروف الغرابة، وقد تنفرد الغرابة عن التنافر. وضح ذلك بامثلة مبتكرة؟

4. كل كلام بليغ يكون فصيحا ولا عكس. اشرح هذه العبارة واستشهد عليها بما يحضرك؟

تمرين (ب)

ميِّز الكلام الفصيح من غير الفصيح في كل ما يأتي، وبين السبب:

(1) كلما قربت النفس من المال شبراً، بعدت عن الفضيلة ميلا.

(2) شكت امرأة صمعمعة الرأس (7) ، متعثكلة الشعر، درد بيساحلَّت بها.

(3) … نم وإن لم أنم كراى كراكا شاهدت الدمع، ان ذاك كذاكا

(4) … فأصبحت بعد خطِّ بهجتها كاز قفراً رسومها (8) قلما.

(5) … وازورَّ (9) مَن كان لهُ زائراً وعاف عافى العُرف عرِفانَه.

(6) … وأكرمُ من غَمام عند مَحل فتىً يَحيِى بمدحته الكراما. (10)

(7) أشكوك كُوكك، كي ينفكَّ عن كنفي ولا ينيخ على الركَّاب كَلكله. (11)

(8) سأل كوفيٌّ خياطاً عن فرس ومُهر فقدَهُما فقال:

«يا ذا النِّصاح (12) - وذات السَّمِّ الطاعن بها في غير وغى لنير عِداً:

هل رأيت الخيفانة القبَّاء، يتبعها الحسن المُرهف.

(9) كتب أحدهم لصديقه يقول:

«يا أحبَّ صواحبي وأعزَزهم علىّ، يؤلمني أن أُصبح مقَصوباً عنك هذا الإقصاي، وانت، منِِّى بمنزلة الروح من الجسد» .

تمرين

(1) أيّ أجزاء هذين البيتين غير فصيح:

(أ) … أصبحتُ كالثوب اللّبيس قد أخلقت جدَّاتُه منه فعاد مذالا.

(ب) … رمتني ميّ بالهوى رمىَ مَمضغ من الوحش أو لوطٍ لم تعقهُ الأوالس.

تطبيق

ما الذي أخلّ بفصاحة الكلمات فيما يلي:

يا نفسُ صبراً كل حيٍ لاق … وكل إثنين إلى افتراق

أبعد بعدتَ بياضاً لا بياض له … لأنت أسودُ في عيني منَ الظُّلم (13)

مهلاً أعَازلَ قد جَرَّبتِ من خَلقي … إتسعَ الفتقُّ على الرَّافِع (14)

تشكو الوَجى من أظلَلٍ وأظلّل … غداتئذٍ أو هالك في الهوالك (15)

--------------------------------------------

(1) القياس مودة بالادغام.

(2) لوط لازق والاوالس النياق.

(3) ضرب من القلائد.

(4) المثعنجر لنمظة متنافر والمعنى إن علمي مقيس إلى علمك كالغدير الصغير موضوعا في جانب البحر

(5) القريض الشعر، والهراء الكلام الفاسد الذي لا نظام له، وأحكام جمع حكم، والمراد الحكمة، وابرسام بفتح الباء وكسرها التهاب الصدر.

(6) الخازباز صوت الذباب - وتجوز: تروح وتقبل.

(7) الرأس الصمعمعه: الصغيرة.

(8) الرسوم آثار الديار.

(9) أزور: أعرض وعاف: كره. وعافى العرف: طالب المعروف.

(10) للمغفور له أحمد شوقي، والمحل: الجدب.

(11) أناخ بكلكله: هبط بمقدم صدره، وينسب البيت للمرحوم الشيخ حمزة فتح الله.

(12) النصاح: الخيط، وذات السم الابرة، والخيفانة: الفرس الطويلة، والقباء، الدقيقة الخصر الضامرة، والحاسن: الجميل: والمرهف: المستريح..

(13) أ - لابن الرومي - واللبيس: الملوس والاخلاق: البلى، والجدة: صفة الثوب الجديد: والمذال: الممتهن..

لا نَسبَ اليومَ ولَا خُلَّة … ب- اللوط: الخفيف السريع - والأوالس: النوق السريعة.

فأيقنتَ أنّى عند ذلك ثائِر … (1) الظلم: الليالي الثلاث آخر الشهر، ولا بياض له، لاحسن له - قاله المتنبي يخاطب الشيب له وخالف القياس في الاسود: لأنه لا يبني اسم تفضيل من نحو سود وحمر.

(14) الحلة الصداقة: والفتق الشق، والراقع مصلح الفنق - وقد خالف القياس في إتسع: حيث قطع همزة الوصل.

(15) هوالك فواعل - لا يطرد في وصف العاقل كما هنا..
নিষ্পাপ ও মুত্তাকী, যিনি নিকটাত্মীয়ের অনুগ্রহে বা কোনো সংকীর্ণমনার ধন-সম্পদে তুষ্ট হননি।

নিশ্চয়ই নীচদের সন্তানেরা তাঁর অনাগ্রহ দেখে … তাদের অন্তরে আমার প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই (১)।

মাই আমাকে প্রেমের এমন তীব্র বাণে বিদ্ধ করেছে যা বন্যপ্রাণী শিকারীর তীরের মতো, যাকে দ্রুতগামী উটগুলোও বাধা দিতে পারেনি (২)।

দুটি ডাগর চোখের মায়ায়, যাতে কোনো ক্লান্তি নেই এবং এমন এক গ্রীবা যা উজ্জ্বল মুক্তার হার দ্বারা সুশোভিত (৩)।

তোমার জ্ঞানের তুলনায় আমার জ্ঞান বিশাল সমুদ্রের বুকে জমে থাকা এক সামান্য জলাশয়ের মতো (৪)।

নিশ্চয়ই কিছু কবিতা নিছক অর্থহীন ও অসার, আর কিছু কবিতা প্রজ্ঞা ও নিপুণতায় ভরপুর।

তার মধ্যে কিছু এমন যা দক্ষতা ও প্রজ্ঞা বয়ে আনে, আর কিছু এমন যা মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে (৫)।

মানুষের মধ্যে এমন কিছু কবি আছে যাদের কবিতা মাছি বা মশার গুঞ্জনের মতো মূল্যহীন ও অস্পষ্ট (৬)।

অনুশীলনী (১)

১. শব্দের বিষমতা এবং বাক্যের বিষমতার মধ্যে পার্থক্য করুন এবং কারণ উল্লেখ করুন?

২. শাব্দিক জটিলতার (তা’কীদ লাফযি) একটি উদাহরণ দিন, এই জটিলতার কারণ ব্যাখ্যা করুন এবং অতঃপর তা নিরসন করুন?

৩. কখনও অক্ষরের বিষমতা ও শব্দের দুর্বোধ্যতা একত্রে থাকে, আবার কখনও বিষমতা ছাড়াই শব্দ দুর্বোধ্য হতে পারে। মৌলিক উদাহরণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করুন?

৪. প্রত্যেক সাবলীল (বলিষ্ঠ) বাক্যই প্রাঞ্জল হয়, কিন্তু প্রতিটি প্রাঞ্জল বাক্য সাবলীল হয় না। এই উক্তিটি ব্যাখ্যা করুন এবং আপনার জানা উদাহরণ দ্বারা প্রমাণ করুন?

অনুশীলনী (খ)

নিচের বাক্যগুলো থেকে প্রাঞ্জল ও অপ্রাঞ্জল বাক্য পৃথক করুন এবং কারণ বর্ণনা করুন:

(১) আত্মা যখনই মালের বা সম্পদের দিকে এক বিঘত এগিয়ে যায়, সে মহত্ত্ব থেকে এক মাইল দূরে সরে যায়।

(২) একজন ছোট মাথা ও উস্কোখুস্কো চুলের নারী তার ওপর আপতিত কঠিন মুসিবতের অভিযোগ করল (৭)।

(৩) … ঘুমাও, যদিও আমি তোমার ঘুমের মতো ঘুমাতে পারি না; আমি অশ্রু প্রত্যক্ষ করেছি, যা ঠিক তেমনই ছিল।

(৪) … তার সৌন্দর্য ও সজীবতা বিলীন হওয়ার পর তা যেন জনশূন্য মরুভূমির চিহ্ন হয়ে গেল (৮)।

(৫) … যে তার কাছে আসত সে এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং অনুগ্রহপ্রার্থী এখন তার অনুগ্রহকে ঘৃণা করে (৯)।

(৬) … দুর্ভিক্ষের সময় বৃষ্টির মেঘের চেয়েও সেই যুবক অধিক সম্মানিত, যার প্রশংসার মাধ্যমে মহান ব্যক্তিরা পুনর্জীবিত হন (১০)।

(৭) আমি তোমার কাছে তোমার বিষাদের অভিযোগ করছি, যাতে তা আমার পাশ থেকে দূর হয় এবং সওয়ারের বুকে যেন তার ভার চেপে না বসে (১১)।

(৮) জনৈক কুফাবাসী একজন দর্জিকে তার হারিয়ে যাওয়া ঘোড়া ও ঘোড়ার বাচ্চা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বলল:

«হে সুতা ও সূঁচের অধিপতি—যা দিয়ে আপনি শত্রুদের ধ্বংসের জন্য কোনো যুদ্ধ ছাড়াই আঘাত করেন:

আপনি কি সেই চঞ্চল ও ক্ষীণকায় ঘোটকীটিকে দেখেছেন, যার পেছনে একটি সুন্দর ও দ্রুতগামী শাবক রয়েছে?» (১২)।

(৯) একজন তার বন্ধুর উদ্দেশ্যে লিখেছে:

«হে আমার প্রিয়তম ও সম্মানিত বন্ধু, আপনার থেকে এভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া আমাকে ব্যথিত করছে, অথচ আপনি আমার কাছে শরীরের প্রাণের ন্যায় মর্যাদা রাখেন»।

অনুশীলনী

(১) এই দুই পঙক্তির কোন অংশগুলো অপ্রাঞ্জল:

(ক) … আমি সেই জীর্ণ বস্ত্রের মতো হয়ে গেছি যার নতুনত্ব শেষ হয়ে গেছে এবং তা লাঞ্ছিত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।

(খ) … মাই আমাকে প্রেমের এমন তীব্র বাণে বিদ্ধ করেছে যা বন্যপ্রাণী শিকারীর বা দ্রুতগামী উটের ন্যায়, যাকে কোনো কিছুই বাধা দিতে পারেনি।

প্রয়োগ

নিচের বাক্যগুলোতে শব্দের প্রাঞ্জলতা কিসে ক্ষুণ্ন হয়েছে:

হে নফস! ধৈর্য ধরো, প্রতিটি প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী … এবং প্রতিটি জুটিই বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে।

অন্ধকার দূর হওয়ার পর তুমি কি আরও শুভ্রতা হারিয়েছ? … তুমি তো আমার চোখে ঘোর অন্ধকারের চেয়েও বেশি কালো (১৩)।

হে তিরস্কারকারী! থামো, তুমি তো আমার স্বভাব সম্পর্কে জেনেছ … তালি প্রদানকারীর (মেরামতকারীর) জন্য ফাটল অনেক বড় হয়ে গেছে (১৪)।

সে তার পায়ের ব্যথার অভিযোগ করছে … সেই ভোরে অথবা ধ্বংসশীলদের মাঝে তার ধ্বংস অনিবার্য ছিল (১৫)।

--------------------------------------------

(১) নিয়ম অনুযায়ী এটি ইদগামসহ ‘মাওয়াদ্দাহ’ হওয়ার কথা ছিল।

(২) ‘লুত’ অর্থ লেগে থাকা এবং ‘আওয়ালিস’ অর্থ উষ্ট্রী।

(৩) এক প্রকারের হার বা অলঙ্কার।

(৪) ‘আল-মুসআনজির’ শব্দটি বিষমতাযুক্ত এবং এর অর্থ হলো: সমুদ্রের বিশালতার তুলনায় আমার জ্ঞান একটি ক্ষুদ্র জলাশয়ের মতো।

(৫) ‘আল-কারীয়’ অর্থ কবিতা, ‘আল-হুরা’ অর্থ অসার কথাবার্তা যার কোনো শৃঙ্খলা নেই; ‘আহকাম’ হলো হিকমতের বহুবচন; আর ‘ইবরিসাম’ অর্থ বক্ষব্যাধি বা মনের অস্থিরতা।

(৬) ‘খাযবায’ মাছির গুঞ্জনকে বলা হয়—শব্দটি এখানে তুচ্ছতা অর্থে ব্যবহৃত।

(৭) ‘সামআমাআ’ অর্থ ছোট মাথা।

(৮) ‘রুসুম’ অর্থ গৃহের ধ্বংসাবশেষ বা চিহ্ন।

(৯) ‘আযওয়ার্রা’ অর্থ মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, আর ‘আফাল উরফ’ অর্থ অনুগ্রহপ্রার্থী।

(১০) মরহুম আহমদ শওকির কবিতা, ‘মাহল’ অর্থ দুর্ভিক্ষ।

(১১) ‘আনাখা বিকালাকালিহি’ অর্থ সজোরে চেপে বসা। কবিতাটি শেখ হামযাহ ফাতহুল্লাহর দিকে নিসবত করা হয়।

(১২) ‘নিসাহ’ অর্থ সুতা, ‘যাতুস সাম্ম’ অর্থ সূঁচ, ‘খাইফানা’ অর্থ দীর্ঘদেহী ঘোটকী, ‘কাব্বা’ অর্থ ক্ষীণকায়, ‘হাসান’ অর্থ সুন্দর, এবং ‘মুরহাফ’ অর্থ ধারালো বা দ্রুতগামী।

(১৩) (ক) ইবনুর রুমীর কবিতা। ‘লাবীস’ অর্থ পরিধানকৃত বস্ত্র, ‘আখলাক’ অর্থ জীর্ণ হওয়া, ‘জিদ্দাহ’ নতুন বস্ত্রের গুণ এবং ‘মুযাল’ অর্থ অবহেলিত।

আজ কোনো বংশমর্যাদা বা বন্ধুত্ব কাজে আসবে না … (খ) ‘লুত’ অর্থ দ্রুতগামী এবং ‘আওয়ালিস’ অর্থ দ্রুতগামী উষ্ট্রী।

আমি নিশ্চিত হলাম যে আমি তখন উত্তেজিত ছিলাম … (১) ‘যুলুম’ অর্থ মাসের শেষ তিন রাত। আল-মুতানাব্বী বার্ধক্যের শুভ্রতাকে সম্বোধন করে এটি বলেছেন; এখানে ‘আসওয়াদ’ শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি ব্যাকরণগত নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন কারণ ‘আফআলুত তাফযীল’ সরাসরি বর্ণবাচক শব্দ থেকে গঠিত হয় না।

(১৪) ‘হুল্লাহ’ অর্থ বন্ধুত্ব, ‘ফাতক’ অর্থ ছিদ্র বা ফাটল এবং ‘রাকি’ অর্থ ফাটল মেরামতকারী। এখানে ‘ইত্তাসা’ শব্দে হামযাতুল ওয়াসলকে হামযাতুল কাতই হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাকরণগত নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে।

(১৫) ‘হাওয়ািলিক’ শব্দটি এখানে বিবেকবানদের বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়েছে যা ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৯)
أنّى أجودُ لأقوامِ وان ضنُنوا

من طول إملالٍ وظهرٍ مُملِلٍ (1)

(1) وقال ابن جحدر:

حلَفتُ بما أرفلت حَوله … هَمَرجَلةٌ خُلُقها شَبظَمُ (2)

--------------------------------------------

(1) الوجى الجفا: والأظلل باطن خف البعير - وخالف القياس بفك الادغام..

تنبيهات: الأول من عيوب فصاحة اللفظة المفردة كونها مبتذلة - أي عامية ساقطة للقالق والشنطار ونحوهما والابتذال ضربان:

(1) ما استعمله العامة ولم تغيره عن وضعه، فسخف وانحطت رتبته، واصبح استعماله لدى الخاصة معيباً، كلفظة البرسام في قول المتنبي.

إن بعضاً من القريض هراء ليس شيئاً وبعضه إحكام

فيه ما يجلب البراعة والفهم وفيه ما يجلب البرسام

وكلفظة الخاز باز في قوله:

ومن الناس من تجوز عليهم شعراء كأنها الخازباز

(2) ما استعملته العامة دالا على غير ما وضع له، وليس بمستقبح ولا مكروه كقول المتلمس:

وما شَبرقَت من تَنُو فِيَّةٍ … وقد أتناسى الهم عند احتضاره بناج عليه الصيعرية مكدم

وكقول أبي نواس:

اختصم الجود والجمال فيك فصارا إلى جدال

فقال هذا يمينه لي للعرف والبذل والنوال

وقال هذاك وجهه لي للظرف والحسن والكمال

فافترقا فيك عن تراض كلاهما صادق المقال

فوصف في الأول: البعير بالصيعرية، وهي مختصة بالنوق، وفي الثاني: الوجه بالظرف وهو في اللغة مختص بالنطق للفالق والشنطار - ونحوهما.

(الثاني) لا تستعمل الألفاظ المبهمة إذا كان غرضك التعيين واحضار صورة الشيء، أو المعنى المراد في الذهن.

(الثالث) لا تستعمل اللفظ المشترك الامع قرينة تبين المراد من معانيه المشتركة

(2) الأرقال: الاسراع: الهمرجلة، الناقة السريقة، الشيظم، الطويل الجسيم من الابل والخيلن شبرقت - قطعت - التنوفية والتنوفة المفازة: الوحي، الصوت الخفي - زيزيزم: حكاية أصوات الجن.

(1) الهبق، الظليم (ذكر النعام) شام البرق نظر إليه أين يقصد، واين يمطر واستعمل هنا للنظر إلى الأفرخ، النأى، البعد.

(2) الدمية، الصورة المنقوشة المزينة فيها حمرة كالدم، تضرب مثلا في الحسن المرمر، الرخام، الآجر ما يبنى به - القرمد، بفتح القاف ما يطلى به للزينة، وقيل حجارة لها خروق يوقد عليها فتنضج ويبنى بها، وقيل الخزف المطبوخ.
আমি কেন এমন সম্প্রদায়ের প্রতি উদার হব, যদিও তারা কৃপণতা করে, দীর্ঘ ক্লান্তি ও ক্লান্তিকর ভারের কারণে (১)।

(১) এবং ইবনে জাহদার বলেছেন:

আমি শপথ করেছি তার মাধ্যমে যার চারপাশে দ্রুত চলেছে... দ্রুতগামী উটনী যার প্রকৃতি দীর্ঘকায়। (২)

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়াজা (الوجى) মানে হলো রুক্ষতা: আর আল-আজলাল (الأظلل) হলো উটের খুরের তলদেশ - এবং এটি সন্ধিবিচ্ছেদ পরিহার করার মাধ্যমে ভাষাগত নিয়মের (কিয়াস) ব্যত্যয় ঘটিয়েছে।

সতর্কতাসমূহ: প্রথমত, একক শব্দের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় (ফাসাহাত) ত্রুটিসমূহের মধ্যে একটি হলো শব্দটির 'মুবতাযাল' (সস্তা বা মামুলি) হওয়া - অর্থাৎ তা সাধারণ চাটুকার বা নিচু শ্রেণির লোকদের ব্যবহৃত চলতি শব্দ। এই 'ইবতিযাল' (সস্তা হওয়া) দুই প্রকার:

(১) যা সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে এবং এর মূল ভাষাগত অবস্থান পরিবর্তন করে না, ফলে তা তুচ্ছ ও নিম্নমানের হয়ে যায় এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এর ব্যবহার ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে গণ্য হয়। যেমন মুতানাব্বির উক্তিতে 'বিরসাম' (মানসিক যন্ত্রণা বা বক্ষপ্রদাহ) শব্দটি:

নিশ্চয়ই কবিতার কিছু অংশ অর্থহীন প্রলাপ যা কিছুই নয়, আর কিছু অংশ নিপুণ গাঁথুনি।

তাতে এমন কিছু আছে যা দক্ষতা ও বোধশক্তি বৃদ্ধি করে, আবার এমন কিছু আছে যা প্রলাপ বা মানসিক যন্ত্রণা বয়ে আনে।

এবং তার উক্তিতে 'খায-বায' শব্দের মতো:

মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যাদের কাছে এমন কবিদের কবিতা গ্রহণযোগ্য হয় যারা 'খায-বায' (মাছি বা আগাছা) এর মতো তুচ্ছ।

(২) যা সাধারণ মানুষ তার মূল অর্থের বাইরে অন্য অর্থে ব্যবহার করে, এবং তা কুৎসিত বা অপছন্দনীয় নয়। যেমন মুতালাম্মিসের উক্তি:

আর যা মরুভূমি থেকে ছিন্নভিন্ন হয়েছে... আমি দুশ্চিন্তার উপস্থিতিতে তা ভুলে যাই এমন এক দ্রুতগামী উটের মাধ্যমে যার ওপর সাইয়ারিয়্যাহ (চিহ্ন) রয়েছে এবং সে কামড় খাওয়া।

এবং আবু নুওয়াসের উক্তির মতো:

বদান্যতা ও সৌন্দর্য তোমার বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হলো এবং তারা তর্কে উপনীত হলো।

এটি বলল, তার ডান হাত আমার জন্য পরিচিতি, দান ও অনুগ্রহের জন্য।

আর ওটি বলল, তার মুখমণ্ডল আমার জন্য মাধুর্য, রূপ ও পূর্ণতার জন্য।

অতঃপর তারা তোমার ব্যাপারে সন্তুষ্টির সাথে পৃথক হলো, তাদের উভয়ই সত্যবাদী।

প্রথমটিতে তিনি পুরুষ উটকে 'সাইয়ারিয়্যাহ' গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, যা উটনীর জন্য নির্দিষ্ট। আর দ্বিতীয়টিতে মুখমণ্ডলকে 'যরফ' (মাধুর্য) দ্বারা বর্ণনা করেছেন, যা মূলত চাটুকার বা বাকপটুদের বাকচাতুর্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট - এবং এ জাতীয়।

(দ্বিতীয়) অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করো না যদি তোমার উদ্দেশ্য হয় সুনির্দিষ্ট করা এবং জিনিসের চিত্র বা কাঙ্ক্ষিত অর্থ মনে উপস্থিত করা।

(তৃতীয়) একাধিক অর্থবোধক (মুশতারাক) শব্দ ব্যবহার করো না যতক্ষণ না কোনো ক্লু বা সূত্র থাকে যা এর সম্ভাব্য অর্থগুলোর মধ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত অর্থটি স্পষ্ট করে।

(২) আল-অরকাল (الأرقال): দ্রুত চলা। হামরাজালা (الهمرجلة): দ্রুতগামী উটনী। শায়যাম (الشيظم): উট ও ঘোড়ার মধ্যে দীর্ঘকায় ও স্থূলকায়। শাবরাকাত (شبرقت): টুকরো করেছে। তানূফিয়্যাহ ও তানূফাহ (التنوفية والتنوفة): মরুভূমি। আল-ওয়াহ্যি (الوحي): গোপন আওয়াজ। যিযিযাম (زيزيزم): জিনের আওয়াজের অনুকরণ।

(১) আল-হাবাক্ক (الهبق): পুরুষ উটপাখি। শামাল বারক (شام البرق): বিদ্যুৎ চমকানো দেখা যে সেটি কোথায় যাচ্ছে এবং কোথায় বৃষ্টি হবে, আর এখানে এটি বাচ্চাদের দেখার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আন-নায় (النأى): দূরত্ব।

(২) আদ-দুমইয়াহ (الدمية): খোদাই করা সুসজ্জিত প্রতিচ্ছবি যাতে রক্তের মতো লাল আভা থাকে, সৌন্দর্যের উদাহরণ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। মারমার (المرمر): শ্বেতপাথর। আল-আজুর (الآجر): যা দিয়ে ঘর তৈরি করা হয়। আল-কারমাদ (القرمد): 'কাফ' বর্ণে ফাতহা (যবর) সহ, যা শোভার জন্য লেপন করা হয়; কেউ বলেছেন এটি এমন পাথর যাতে ছিদ্র থাকে এবং তার ওপর আগুন জ্বালানো হয় ফলে তা পরিপক্ব হয় এবং তা দিয়ে ঘর বানানো হয়; আবার কেউ বলেছেন এটি পোড়ামাটির টাইলস।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৩০)
وما شبرقت من تنوفية … بها مِن وَحَى الجِنِّ زيز يزَم

(2) وقال ذو الرُّمة:

حتى إذا الهَبقُ أمسى شامَ أفرُخَهُ … وهُن لا مُؤيِسٌ نأياً ولا كتَبُ (1)

وقال أبو نواس:

يا مَن جَفاني وملأَّ … نَسيتَ أهلا وسَهلا

تدريب (1)

ما الذي أخلَّ بفصاحة الكلمات فيما يلي؟

(1) قال النّابغة الذُّبياني:

أودُميَةٍ في مَرمَرٍ مَرفُوعة … بُنِيَت بآجرٍ يُشادُ بقَرمَد (2) ِ

(2) وقال أبو تّمَّام:

لكَ هَضبةُ الحِلم التي لو وَازَنَت … أجَأَ اُذا ثَقُلَت وكان خفيفا

وحلاوة الشّيم التي لو مَازَجَت … خُلُقَ الزَّمَان الفَدمِ عَاد ظَريفا (3)

(3) وقال المُتنبي:

يُوَسِّطه المَفاوزَ كلَّ يوم … طِلاّبُ الطّالبِين لا الانتِظارُ

--------------------------------------------

(1) النصاح: الخيط، وذات السم الابرة، والخيفانة: الفرس الطويلة، والقباء، الدقيقة الخصر الضامرة، والحاسن: الجميل: والمرهف: المستريح..

(2) الدمية، الصورة المنقوشة المزينة فيها حمرة كالدم، تضرب مثلا في الحسن المرمر الرخام، الآجر ما يبنى به - القرمد، بفتح القاف ما يطلى به للزينة، وقيل حجارة لها خروق يوقد عليها فتنضج ويبنى بها، وقيل الخزف المطبوخ..

(3) الهضبة: الرابية، أجأ، جبلن. القدم - الغليظ الجافي - وصف الشيم بالحلاوة وهي خاصة بالعينين - ووصف خلق الزمان بالظرف وهو خاص بالنطق.
নির্জন মরুভূমি থেকে যা কিছু বিদীর্ণ হয়েছে … তাতে জিনের গুঞ্জনের শব্দ শোনা যায়

(২) যু-রুম্মাহ বলেছেন:

যতক্ষণ না দ্রুতগামী উট সন্ধ্যাবেলায় তার শাবকগুলোকে দেখতে পায় … অথচ তারা দূরত্বের কারণে নিরাশ নয় এবং নিকটেও নয় (১)

আবু নুওয়াস বলেছেন:

হে ওই ব্যক্তি যে আমার প্রতি বিমুখ হয়েছে এবং বিরক্ত হয়েছে … তুমি কি অভ্যর্থনা ও স্বাগতম জানানোর কথা ভুলে গেছ?

অনুশীলন (১)

নিচের শব্দগুলোতে সাবলীলতা (ফাসাহাত) ক্ষুণ্ণ হওয়ার কারণ কী?

(১) আন-নাবিগাহ আদ-জুবইয়ানি বলেছেন:

অথবা মার্বেল পাথরের ওপর স্থাপিত কোনো মূর্তি … যা ইট দিয়ে নির্মিত এবং পাথর বা চুন দিয়ে মজবুত করা হয়েছে (২)

(২) আবু তাম্মাম বলেছেন:

তোমার রয়েছে সহনশীলতার এমন সুউচ্চ পাহাড়, যা যদি আযা পাহাড়ের সাথে পাল্লা দিত … তবে তা (আযা পাহাড়) ভারী হওয়া সত্ত্বেও হালকা হয়ে যেত।

এবং স্বভাবের এমন মাধুর্য, যা যদি এই স্থূল ও অসাড় সময়ের চরিত্রের সাথে মিশে যেত … তবে তা সুন্দর ও মার্জিত হয়ে উঠত (৩)

(৩) আল-মুতানাব্বি বলেছেন:

অন্বেষণকারীদের অনুসন্ধান তাকে প্রতিদিন মরুভূমির মাঝখানে নিয়ে যায় … অপেক্ষা নয়।

--------------------------------------------

(১) নিসাহ: সুতো; জাতুস সাম্ম: সুঁই; খয়ফানা: দীর্ঘাকৃতির ঘোড়া; ক্ববা: সরু কোমরবিশিষ্ট কৃশ তনু; হাসিন: সুন্দর; মুরহাফ: আরামদায়ক বা ধারালো।

(২) দুমইয়াহ: খোদাই করা অলঙ্কৃত ছবি যাতে রক্তের ন্যায় লাল আভা থাকে, এটি সৌন্দর্যের উপমা হিসেবে ব্যবহৃত হয়; মার্মার: মার্বেল পাথর; আজুর: যা দিয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়; ক্বরমাদ (ক্বফ-এর জবর যোগে): যা দিয়ে সৌন্দর্যের জন্য প্রলেপ দেওয়া হয়। কেউ বলেছেন, এটি এমন পাথর যাতে ছিদ্র আছে এবং তার ওপর আগুন জ্বালিয়ে তা পাকানো হয় এবং নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়। আবার কেউ বলেছেন, এটি পোড়ানো মৃৎপাত্র।

(৩) হাদবাহ: টিলা বা পাহাড়; আযা: একটি পাহাড়ের নাম; ফাদম: স্থূল ও রূঢ়; চরিত্রের মাধুর্য বর্ণনা করা হয়েছে যা মূলত চোখের বৈশিষ্ট্য; এবং সময়ের চরিত্রের জন্য 'যরফ' (মার্জিত/সুন্দর) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা মূলত বাকশৈলীর বৈশিষ্ট্য।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৩১)
تدريب (2)

ما الذي اخلِّ بفصاحة الكلمات فيما يأتي؟

(1) لم يَلقَهَا إى بشكَّه باسِلٍ … يخشى الحوادِث حازم مُستَعدد (1)

(2) وأصبح مَبيضَّ الضَّريب كأنه … على سَرَوات البَيت قُطن مُندفِ (2)

(3) فأيقَنتُ أنِّى عند ذلك ثائرٌ … غدَاتئذٍ أو هالِكٌ في الهوَالك (3)

(4) ومَلمُومَةٍ سيَفيَّةٍ رَبعيَّةٍ … يَصيح الحصا فيها صِياح اللقائِقِ (4)

(5) والقىَ بصحراء الغبِيط بَعاعَهُ … نُزول اليماني ذو العياب المُحمل (5)

(6) ليس التَّعَللُ بالآمالِ من أربى … ولا القُنُوع بضنكِ العيشِ من شيمي (6)

--------------------------------------------

(1) الشكة: الخصلة، الباسل، الشجا..

(2) قائلة الفرزدق. الضريب الشبيه والمثيل، سروات البيت، أعاليه، مندف مندوف: من قولهم ندف القطن ضربه بالمندف.

(3) الثائر الذي لا يبقى على شيء حتى يدرك ثأره.

(4) قائلة المتنبي، ملمومة، كتيبة مجتمعة، سيفية، نسبة لسيف الدولة، ربعية نسبة إلى ربيعة: قبيلته، اللقالق، جمع لقلقة وهي صوت اللقلاق (طائرا) أو هي كل صوت في اضطراب وحركة.

(5) قائله امرؤ القيس، الغبيطن الأرض المطمئنة، وقبل الواسعة المستوبة يرتفع طرفاها، البعاع. ثقل السحاب من المطر: يقال مع السحاب بيع بعا وبعاعا، إذا ألح بمكان، والقى عليه بعاعه أي ثقله، العياب جمع عيبة وهي ما يجعل فيه الثياب، يقال جعل الرجل خير متاعه في عيبته، والمحمل يروى بكسر الميم على جعل اليماني رجلا - وبفتحها على جعله جملا - والمعنى أن هذا المطر نزل بهذا المكان ولم يبرح كما نزل الرجل في ذلك الموضع، وضمير ألقى يرجع إلى السحاب فيما قبله..

(6) القنوع، المسئلة، يقال قنع قنوعا، إذا سأل - والمراد القناعة.
অনুশীলন (২)

নিচের উদাহরণগুলোতে কোন বিষয়টি শব্দের ফাসাহাত বা বিশুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে?

(১) সে সাহসী যোদ্ধার বেশে অস্ত্রসজ্জিত হওয়া ব্যতীত তার মোকাবিলা করেনি... যে বিপদের আশঙ্কা করে এবং সদা সতর্ক ও প্রস্তুত থাকে। (১)

(২) আর বরফশুভ্র অংশটি এমন শুভ্র রূপ ধারণ করল যেন... ঘরের উপরিভাগে স্তূপীকৃত ধুনিত তুলা। (২)

(৩) অতঃপর আমি নিশ্চিত হলাম যে, আমি তখন প্রতিশোধ গ্রহণকারী... সেই সকালেই অথবা ধ্বংসপ্রাপ্তদের দলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব। (৩)

(৪) এবং একটি সুসংগঠিত, সাইফুদ্দৌলার প্রতি অনুগত এবং রবীআ গোত্রের বীর সেনাদল... যেখানে পাথরের ঘর্ষণে লাকায়িক পাখিদের শব্দের মতো আওয়াজ হচ্ছিল। (৪)

(৫) আর সেই মেঘ গাবীত নামক মরুভূমিতে তার ভারী বর্ষণ ঝরিয়ে দিল... যেমন ভারবাহী গাঁটরি নিয়ে ইয়েমেনি মুসাফির কোনো স্থানে অবতরণ করে। (৫)

(৬) অলীক আশায় মগ্ন থাকা আমার কাম্য নয়... আর সংকীর্ণ জীবন যাপনে তুষ্ট হওয়া আমার স্বভাব বিরুদ্ধ। (৬)

--------------------------------------------

(১) শিক্কাহ: অস্ত্রশস্ত্র বা যুদ্ধের সরঞ্জামের সমষ্টি; বাসিল: সাহসী বীর।

(২) এর রচয়িতা ফারাযদাক। দ্বরিব: সদৃশ ও উপমা; সারওয়াতুল বাইত: ঘরের উপরিভাগ; মুন্দাফ: ধুনিত তুলা; এটি ‘নাদাফাল কুতনা’ থেকে আগত, যার অর্থ ধুনানি দিয়ে তুলা ধোনা।

(৩) সায়ির: ঐ ব্যক্তি যে স্বীয় প্রতিশোধ গ্রহণ না করা পর্যন্ত নিবৃত্ত হয় না।

(৪) এর রচয়িতা মুতানাব্বি। মালমুমা: সুসংগঠিত শক্তিশালী সেনাদল; সাইফিয়্যা: সাইফুদ্দৌলার সাথে সম্পর্কিত; রাবায়িইয়া: রবীআ গোত্রের সাথে সম্পর্কিত; লাকায়িক: লাকলাকা-এর বহুবচন, যা সারস জাতীয় পাখির ডাক অথবা যেকোনো কম্পনশীল বা অস্থির শব্দকে বোঝায়।

(৫) এর রচয়িতা ইমরুল কায়েস। গাবীত: সমতল নিচু ভূমি যার দুই প্রান্ত উঁচু; বাআ': বৃষ্টির মেঘের ভার। বলা হয়ে থাকে, মেঘ যখন কোনো স্থানে প্রবলভাবে বর্ষণ করে তখন তাকে বাআ' বলা হয়। ‘সে তার বাআ’ নিক্ষেপ করেছে’ মানে সে তার ভার বা বোঝা নামিয়ে দিয়েছে। ইয়াব: ‘আইবা’-এর বহুবচন, যাতে কাপড় রাখা হয়। প্রবাদ আছে, ব্যক্তি তার সর্বোত্তম পাথেয় তার আইবা বা ঝোলায় রেখেছে। ‘মুহমাল’ শব্দটি মিমের নিচে কাসরা (জের) দিয়ে পড়লে ইয়েমেনি ব্যক্তিকে বোঝাবে এবং উপরে ফাতহা (জবর) দিয়ে পড়লে উটকে বোঝাবে। সারকথা হলো, এই বৃষ্টি সেই স্থানে এমনভাবে অবস্থান নিয়েছে যেমন কোনো মুসাফির কোনো স্থানে অবস্থান নেয়। ‘আলকা’ ক্রিয়ার সর্বনামটি পূর্বোক্ত মেঘের দিকে নির্দেশ করছে।

(৬) কুনু: সওয়াল বা প্রার্থনা করা। বলা হয় ‘কানাআ কুনুয়ান’ যখন সে কিছু প্রার্থনা করে। এখানে মূলত অল্পে তুষ্ট থাকা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৩২)
ى القنوعو

فصاحة الكلام

فصاحة الكلام: سلامته بعد فصاحة مفُرداته ممَّا يُبهم معناه ويحول دون المراد منه (1)

- وتتحقَّق فصاحته بخلُوه من ستة عيوب (1) تنافر الكلمات مجتمعة (2) ضعف التأليف (3) التعقيد اللفظي (4) التعقيد المعنوي (5) كثرة التكرار (2) (6) تتابُع الإضافات.

الأول - «تنافُر الكلمات مُجتمعة» أن تكون الكلمات ثقيلة على السمع من تركيبها مع بعضها، عَسرة النّطق بها مُجتمعةً على اللّسان (وإن كان كل جزء منه على انفراده فصيحاً) والتنافر يَحصُل: إمِّا بتجاوُز كلمات متقاربة الحروف وإمّا بتكرير كلمة واحدة.

(1) ومنه شديد الثِّقل: كالشطر الثاني في قوله:

وَقبرُ حرب بمكان قفرٌ وَليس قَرب قبر حربٍ قبرُ (3)

(ب) ومنه خفيف الثِّقل كالشطر الأول في قلو أبي تمَّام:

كريم ٌ متى أمدَحهُ والورى معي: وإذا ما لمته لمته وحدي (4)

--------------------------------------------

(1) المراد بفصاحة الكلام تكونه من كلمات فصيحة يسهل على اللسان النطق بها لتآلفها،، ويسهل على العقل فهمها لترتيب ألفاظها وفق ترتيب المعاني.

ومرجع ذلك الذوق السليم والالمام بقواعد النحو، بحيث يكون واضح المعنى، سهل اللفظ، حسن السبك- ولذلك يجب أن تكون كل لفظة من ألفاظه واضحة الدلالة على المقصود منها، جارية على القياس الصرفي، عذبة سلسلة، كما يكون تركيب الكلمات جار يا على القواعد النحوية خاليا من تنافر الكلمات مع بعضها، ومن التعقيد فمرجع الفصاحة سواء في اللفظة المفردة، أو في الجمل المركبة إلى أمرين (مراعات القواعد - والذوق السليم) وتختلف فصاحة الكلام أحيانا باختلاف التعبير عما يدور بالنفس من المعاني اختلافا ظاهرا، فتجد في عبارات الأدباء من الحسن والجودة ما لا تجد في تعبير غيرهم، مع اتحاد المعنى الذي يعبر عنه، ويختلف الأدباء أنفسهم في أساليبهم: فقد يعلو بعضهم في أسلوبه، فتراه يسيل رقة وعذوبة، ويصل إلى القلوب فيبلغ منها ما يشاء أن يبلغ، وذلك نوع من البيان يكاد يكون سحرا، وقد يكون دون هذه المنزلة قليلا أو كثيرا - وهو مع ذلك من فصيح القول وحسن البيان.

(2) (كثرة التكرار: وتتابع الاضافات) أقول الحق - أن هذين العيبين قد احترز عنهما بالتنافر.

على أن بعضهم أجازهما لوقوعهما في القرآن كما في قوله تعالى «ونفس وما سواها» الآيات - وفي قوله تعالى «ذكر رحمت ربك عبده زكريا»

(3) حرب بن أمية: قتله قائل هذا البيت، وهو هاتف من الجن صاح عليه (وقفر) خال من الماء والكلأ، وقبر اسم ليس مؤخر، وقرب خبرها مقدم - قبل إن هذا البيت لا يمكن إنشاده ثلاث مرات متوالية ألا ويغلط المنشد فيه، لأن نفس اجتماع كلماته وقرب مخارج حروفها، يحدثان ثقلا ظاهراً، مع أن كل كلمة منه لو أخذت وحدها ما كانت مستكرهة ولا ثقيلة.

(4) أي هو كريم، وإذا مدحته وافقني الناس على مدحه، ويمدحونه معي، لإسداء إحسانه إليهم كاسدائه إلى، وإذا لمته لا يوافقني أحد على لومه، لعدم وجود المقتضى للوم فيه - وآثر لمته على هجوته مع أنه مقابل المدح إشارة إلى أنه لا يستحق الهجو ولو فرط منه شيء فإنما يلام عليه فقط، والثقل في قوله «أمدحه» لما بين الحاء والهاء من التنافر، للجمع بينهما: وهما من حروف الحلق - كما ذكره الصاحب اسماعيل بن عباد..
কালামের ফাসাহাত (বাক্যের প্রাঞ্জলতা)

কালামের ফাসাহাত: শব্দসমূহ এককভাবে প্রাঞ্জল হওয়ার পর এমন ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকা যা তার অর্থকে অস্পষ্ট করে এবং উদ্দেশ্য অনুধাবনে বাধা সৃষ্টি করে (১)

- কালামের ফাসাহাত ছয়টি ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়ার মাধ্যমে অর্জিত হয়: (১) শব্দের শ্রুতিকটু বিন্যাস (২) রচনার দুর্বলতা (৩) শব্দগত জটিলতা (৪) অর্থগত জটিলতা (৫) শব্দের আধিক্য (২) (৬) সম্বন্ধ পদের (ইদাফাত) অনুক্রম।

প্রথম - "শব্দের শ্রুতিকটু বিন্যাস" হলো শব্দগুলো একত্রে বিন্যস্ত হওয়ার কারণে শ্রবণে ভারী অনুভূত হওয়া এবং জিহ্বায় একত্রে উচ্চারণ করা কঠিন হওয়া (যদিও এককভাবে প্রতিটি শব্দই প্রাঞ্জল হয়)। এই শ্রুতিকটুতা ঘটে: হয় নিকটবর্তী মাখরাজের বর্ণবিশিষ্ট শব্দসমূহ একত্রিত হওয়ার কারণে, অথবা একই শব্দের পুনরাবৃত্তির কারণে।

(১) এর মধ্যে চরম মাত্রার ভারী হলো: যেমন কবির এই চরণের দ্বিতীয় অংশ:

আর জনশূন্য স্থানে হরবের কবর, আর হরবের কবরের কাছে কোনো কবর নেই (৩)

(খ) হালকা মাত্রার ভারী হলো: যেমন আবু তাম্মামের চরণের প্রথম অংশ:

তিনি এমন মহানুভব, যখন আমি তাঁর প্রশংসা করি আর সৃষ্টিজগত আমার সাথে থাকে; আর যখন আমি তাঁকে তিরস্কার করি, একাই করি (৪)

--------------------------------------------

(১) কালামের ফাসাহাত বা বাক্যের প্রাঞ্জলতা বলতে উদ্দেশ্য হলো—এমন সব প্রাঞ্জল শব্দের সমন্বয়ে বাক্য গঠিত হওয়া যা শব্দের সুসমন্বয়ের কারণে জিহ্বায় উচ্চারণ করা সহজ হয় এবং অর্থের বিন্যাস অনুযায়ী শব্দের বিন্যাস হওয়ার কারণে মস্তিষ্ক সহজেই বুঝতে পারে।

এর মূল ভিত্তি হলো মার্জিত রুচি এবং নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের নিয়মাবলির জ্ঞান, যাতে বাক্যটি অর্থগতভাবে স্পষ্ট, শব্দগতভাবে সহজ এবং গঠনশৈলী চমৎকার হয়। এজন্য প্রতিটি শব্দের অর্থ স্পষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়, যা সরফ শাস্ত্রের নিয়মানুযায়ী এবং শ্রুতিমধুর হবে। তেমনিভাবে শব্দের বিন্যাস নাহুর নিয়ম মেনে হতে হবে এবং শব্দগুলোর পারস্পরিক শ্রুতিকটুতা ও জটিলতা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। সুতরাং একক শব্দ বা যৌগিক বাক্য—উভয় ক্ষেত্রেই প্রাঞ্জলতার মূল ভিত্তি দুটি বিষয়ের ওপর (নিয়মাবলির অনুসরণ এবং মার্জিত রুচি)। মনের ভাব প্রকাশের ভিন্নতার কারণে মাঝে মাঝে বাক্যের প্রাঞ্জলতায় স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। আপনি সাহিত্যিকদের বাণীতে যে সৌন্দর্য ও উৎকর্ষ পাবেন, অন্যদের বাণীতে তা পাবেন না, যদিও উভয়ের ব্যক্ত করা অর্থ একই হয়। সাহিত্যিকগণ তাঁদের শৈলীর ক্ষেত্রে পরস্পর ভিন্ন হন: কারো শৈলী অত্যন্ত উচ্চমানের হয়, যা অত্যন্ত কোমল ও সুমধুর মনে হয় এবং হৃদয়ে এমন প্রভাব ফেলে যা সে চায়; এটি এক প্রকার বর্ণনাভঙ্গি যা জাদুর মতো কাজ করে। আবার কোনোটি এর চেয়ে কিছুটা নিচে বা অনেক নিচে হতে পারে—তবুও তা প্রাঞ্জল কথা এবং উত্তম বর্ণনাভঙ্গি হিসেবে গণ্য হয়।

(২) (শব্দের আধিক্য ও সম্বন্ধ পদের অনুক্রম): আমি বলব সত্য কথা এই যে, এই দুটি ত্রুটি শ্রুতিকটুতার মাধ্যমেই পরিহার করা হয়েছে।

তবে কেউ কেউ এই দুইটিকে জায়েজ বলেছেন, কারণ কুরআনে এগুলো এসেছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "শপথ প্রাণের এবং তাঁর, যিনি তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন" (সূরা শামস) এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আপনার রবের অনুগ্রহের বিবরণ তাঁর বান্দা জাকারিয়ার প্রতি।" (সূরা মারইয়াম)।

(৩) হারব ইবনে উমাইয়া: এই চরণের রচয়িতা তাকে হত্যা করেছিল, সে ছিল একজন জিন যে তার ওপর চিৎকার করেছিল। (কাফর) অর্থ পানি ও ঘাসহীন জনশূন্য স্থান। এই কবিতাটি সম্পর্কে বলা হয় যে, এটি পর পর তিনবার পাঠ করা অসম্ভব, পাঠকারী ভুল করবেই। কারণ এর শব্দগুলোর একত্র হওয়া এবং বর্ণগুলোর মাখরাজ (উচ্চারণস্থল) কাছাকাছি হওয়ায় এটি স্পষ্টত ভারী হয়ে গেছে, যদিও এর প্রতিটি শব্দ আলাদাভাবে নিলে তা অপছন্দনীয় বা ভারী ছিল না।

(৪) অর্থাৎ তিনি অত্যন্ত দাতা, যখন আমি তাঁর প্রশংসা করি তখন অন্য মানুষরাও আমার সাথে একমত হয় এবং তারা তাঁর ইহসানের কারণে আমার সাথে প্রশংসা করে। আর যখন আমি তাঁকে তিরস্কার করি, তখন কেউ আমার সাথে একমত হয় না, কারণ সেখানে তিরস্কারের কোনো কারণ নেই। এখানে কবির প্রশংসার বিপরীতে 'তিরস্কার' শব্দ ব্যবহার করা ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি নিন্দার যোগ্য নন, যদি তাঁর থেকে কোনো ত্রুটি প্রকাশ পায়ও তবে তা কেবল সামান্য ভর্ৎসনার যোগ্য। 'আদাহু' (আমি তাঁর প্রশংসা করি) শব্দটিতে ভারী ভাব রয়েছে কারণ 'হা' (ح) এবং 'হা' (ه) বর্ণ দুটির মাঝে উচ্চারণগত দূরত্ব নেই, উভয়ই হলকের (কণ্ঠনালীর) বর্ণ—যেমনটি সাহেব ইসমাইল ইবনে আব্বাদ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الثاني - «ضعف التأليف» أن يكون الكلام جارياً على خلاف ما اشُتهر من قوانين النحو المعتبرة عند جُمهور العلماء - كوصل الضميرين، وتقديم غير الأعراف منهما على الأعرف- مع أنه يجب الفصل في تلك الحالة - كقول المتنبي:

خَلتِ البلادُ من الغزالةِ ليلَهَا فأعاضهَاكَ اللهُ كي لا تحزنا

وكالإضمار قبل ذكر مرجعه لفظا وَرتُبة وحكما في غير أبوابه (1) نحو

ولو أن مَجداً أخلدَ الدهرَ واحداً من الناس أبقى مجده الدهر (مطعما) (2) .

الثالث - «التعقيد اللفظي» هو كون الكلام خفيّ الدّلالة على المعنى المراد به - بحيث تكون الألفاظ غير مُرتبة على وفق ترتيب المعاني.

(وينشأ ذلك التّعقيد من تقديم أو تأخير أو فصل بأجنبي بين الكلمات التي يجب أن تتجاور ويتصل بعضها ببعض) (3) وهو مذموم: لأنه يُوجب

--------------------------------------------

(1) المجموعة في قول بعضهم

ومرجع الضمير قد تأخرا لفظاً ورتبة وهذا حصرا

في باب نعم وتنازع العمل ومضمر الشأن ورب والبدل

ومبتدأ مفسر بالخبر وباب فاعل يخلف فاخبر

واعلم أن ضعف التأليف ناشى، من العدول عن المشهور إلى قول له صحة عند بعض أولى النظر - أما إذا خالف المجمع عليه كجر الفاعل ورفع المفعول ففاسد غير معتبر، والكلام في (تركيب له صحة واعتبار) .

(2) فان الضمير في من (مجده) راجع إلى (مطعما) وهو متأخر في اللفظ كما يرى، وفي الرتبة لأنه مفعول به، فالبيت غير فصيح لمخالفته قواعد النحو.

ومطعم أحد رؤساء المشركين وكان يدافع عن النبي صلى الله عليه وسلم، ومعنى البيت أنه لو كان مجد الانسان سببا لخلوده في هذه الدنيا لكان (مطعم ابن عدي) أولى الناس بالخلود لأنه حاز من المجد ما لم يحزه غيره - على يد صاحب الشريعة..

(3) وذلك كالفصل بأجنبي بين الموصوف والصفة، وبين البدل والمبدل منه وبين المبتدأ والخبر، وبين المستثنى والمستثنى منه، مما يسبب ارتباكا واضطراباً شديداً.
দ্বিতীয় - «রচনাশৈলীর দুর্বলতা» হলো কথাটি জমহুর বা অধিকাংশ আলেমদের নিকট স্বীকৃত নাহু বা ব্যাকরণের প্রসিদ্ধ নিয়মনীতির পরিপন্থী হওয়া - যেমন দুটি সর্বনামকে যুক্ত করা এবং তাদের মধ্যে অধিক পরিচিতটির আগে কম পরিচিতটিকে উপস্থাপন করা - যদিও সেই অবস্থায় পৃথক করা ওয়াজিব ছিল - যেমন মুতানাব্বীর উক্তি:

শহরটি তার রাতের বেলায় সূর্য থেকে শূন্য হয়ে গেল, ফলে আল্লাহ তোমাকে তার বিনিময় হিসেবে দিলেন যাতে তুমি ব্যথিত না হও।

এবং এর নির্ধারিত ক্ষেত্রগুলো (১) ব্যতীত শব্দে, পদে ও বিধানে তার নির্দেশিত বিষয়ের উল্লেখের পূর্বেই সর্বনাম ব্যবহার করা, যেমন:

আর যদি মর্যাদা কোনো মানুষকে চিরকাল দুনিয়ায় টিকিয়ে রাখত, তবে তাঁর মর্যাদাই মুতঈমকে চিরকাল জীবিত রাখত। (২) ।

তৃতীয় - «শাব্দিক জটিলতা» হলো কথাটি উদ্দীষ্ট অর্থের ওপর অস্পষ্ট হওয়া - যার ফলে শব্দগুলো অর্থের ক্রম অনুযায়ী সাজানো থাকে না।

(এই জটিলতা সৃষ্টি হয় শব্দগুলোর আগে-পিছে করার কারণে অথবা এমন শব্দগুলোর মাঝে বিজাতীয় শব্দ দ্বারা ব্যবধান করার কারণে যেগুলোর পরস্পর সংলগ্ন হওয়া এবং একটির সাথে অন্যটি যুক্ত থাকা আবশ্যক) (৩) আর এটি নিন্দনীয়: কারণ এটি অপরিহার্য করে—

--------------------------------------------

(১) কারো কারো কবিতায় সংকলিত:

সর্বনামের প্রত্যাবর্তনস্থল শব্দে ও পদে পিছিয়ে পড়ে এবং এটি সীমাবদ্ধ থাকে—

নি'মা (نعم) এর অধ্যায়ে, আমলের বিবাদে (তানাযু‘), জমিরুশ শান, রুব্বা (رب) এবং বদল-এর ক্ষেত্রে—

এবং খবরের মাধ্যমে ব্যাখ্যায়িত মুবতাদার ক্ষেত্রে এবং ফায়েলের অধ্যায়ে যা স্থলাভিষিক্ত হয়, সুতরাং সংবাদ দাও।

জেনে রাখুন যে, রচনাশৈলীর দুর্বলতা উৎপন্ন হয় প্রসিদ্ধ নিয়ম পরিহার করে একদল গবেষকের নিকট বিশুদ্ধ এমন মত গ্রহণ করার কারণে - তবে যদি তা সর্বসম্মত বিষয়ের খেলাফ হয় যেমন ফায়েলকে জের দেওয়া এবং মাফউলকে পেশ দেওয়া, তবে তা ফাসিদ (অশুদ্ধ) ও অগ্রহণযোগ্য। আর এখানে আলোচনা হচ্ছে (এমন বাক্য গঠন নিয়ে যার বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে)।

(২) কারণ ‘মাজদুহু’ শব্দের সর্বনামটি ‘মুতঈমান’ শব্দের দিকে ফিরছে, যা দৃশ্যত শব্দে পিছিয়ে আছে, এবং পদেও পিছিয়ে কারণ এটি মাফউল বা কর্মপদ। সুতরাং কবিতাটি অলঙ্কারপূর্ণ নয় কারণ এটি নাহুর নিয়মনীতি লঙ্ঘন করেছে।

আর মুতঈম ছিলেন মুশরিকদের অন্যতম নেতা এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করতেন। কবিতার অর্থ হলো যদি মানুষের মর্যাদা এই দুনিয়ায় তার অমরত্বের কারণ হতো, তবে (মুতঈম ইবনে আদি) অমরত্বের জন্য মানুষের মাঝে সবচেয়ে যোগ্য হতেন কারণ তিনি শরীয়তের প্রবর্তকের হাতে এমন মর্যাদা লাভ করেছিলেন যা অন্য কেউ লাভ করেনি।

(৩) আর তা হলো সিফাত ও মাউসুফ, বদল ও মুবদল মিনহু, মুবতাদা ও খবর এবং মুস্তাসনা ও মুস্তাসনা মিনহু-এর মাঝে বিজাতীয় শব্দ দ্বারা ব্যবধান করা, যা চরম বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
اختلال المعنى واضطرابه، من وضع ألفاظه في غير المواضع اللّائقة بها - كقول المتنبي

جفخت وهم لا يجفخونَ بهابهم شيمٌ على الحسَب الأغر دلائل (1)

أصله - جفخت (افتخرت) بهم شيمَ دلائل على الحسب الأغر هم لا يجفخون بها.

الرابع - «التعقيد المعنوي» كون التركيب خفىّ الدَّلالة على المعنى المراد (2) - بحيث لا يفهم معناه إلاّ بعد عناء وتفكير طويل.

وذلك لخلل في انتقال الذهن من المعنى الأصلي إلى المعنى المقصود بسبب إيراد اللوازم البعيدة، المفتقرة إلى وسائط كثيرة، مع عدم ظهور القرائن الدّالة على المقصود «بأن يكون فهمُ المعنى الثاني من الأول بعيداً عن الفهم عُرفا (3) » كما في قول عبّاس بن الأحنَف.

سأصلبُ بُعد الدار عنكم لتقرُبوا وتسكبُ عيناي الدُّموع لتجمُدا (4)

جعلَ سكبَ الدُموع كناية عمّا يلزم في فراق الأحبَّة من الحزن والكمد: فأحسن وأصابَ في ذلك، ولكنَّه أخطأ في جعل جمود العين كنايةً عمَّا يوجبه التَّلاقى من الفرح والسُرُور بقُرب أحبتّه، وهو خفىّ وبعيدٌ - (5) إذ لم يعرف في كلام العرب عند

--------------------------------------------

(1) فلفظة جفخت مرة الطعم، وإذا مرت على السمع اقشعر منها: ولو استعمل (المتنبي) عوضا عن جفخت (فخرت) لاستقام البيت، وحظى في استعماله بالأحسن.

(2) بحيث يعمد المتكلم إلى التعبير عن معنى فيستعمل فيه كلمات في غير معناها الحقيقي، فيسىء اختيار الكلمات للمعنى الذي يريده، فيضطرب التعبير ويلتبس الأمر على السامع نحو: نشر الملك السنته في المدينة، يريد جواسيسه والصوان نشر عيونه.

(3) فالمناط في الصعوبة عدم الجريان على ما يتعاطاه أهل الذوق السليم، لا كثرة الوسائط الحسية، فانها قد تكثر من غير صعوبة، كما في قولهم: فلان كثير الرماد كناية عن المضياف - فان الوسائط كثيرة فيه ولكن لا تعقيد..

(4) تسكب بالرفع عطف على أطلب، وبالنصب عطف على بعد: من قبيل عطف الفعل على اسم خالص من التأويل بالفعل، والمراد طلب استمرار السكب: لا أصله لئلا يلزم تحصيل الحاصل..

(5) ووجه الخفاء والبعد: أن أصل معنى جمود العين جفافها من الدموع عند إرادتها منها، والانتقال منه إلى حصول السرور بعيد، لأنه يحتاج إلى وسائط بأن ينتقل من جمود العين إلى انتفاء الدمع منها، حال إرادة البكاء، ومنه إلى انتفاء الدمع مطلقاً، ومنه إلى انتفاء الحزن ونحوه «فان ذلك هو السبب غالبا في الدمع» ومن انتفاء الحزن ونحوه إلى السرور - ولا يخفى أن الشاعر قد طوى وحذف جميع هذه الوسائط فأورث بطء الانتقال من المعنى الأصلي الحقيقي إلى المعنى المراد - وخالف حينئذ أسلوب البلغاء، فنشأ من ذلك التعقيد المعنوي واعلم أن الشاعر أراد أن يرضى بالبعد والفراق، ويعود نفسه على مقاساة الأحزان والأشواق، ويتحمل من أجلها حزنا يفيض من عينيه الدموع، ليتوصل بذلك إلى وصل يدوم، ومسرة لا تزول - على حد قول الشاعر:

ولطالما اخترت الفراق مغالطا واحتلت في استثمار غرس ودادي.

ورغبت عن ذكر الوصال لأنها تبنى الأمور على خلاف مرادي..
অর্থের বিকৃতি ও বিভ্রান্তি, যা শব্দগুলোকে তার অনুপযুক্ত স্থানে স্থাপন করার কারণে ঘটে - যেমন আল-মুতানাব্বির উক্তি

আমি গর্ব করেছি, অথচ তারা তা নিয়ে গর্ব করে না; তাদের মধ্যে এমন কিছু স্বভাব রয়েছে যা উজ্জ্বল আভিজাত্যের প্রমাণ। (১)

এর মূল অর্থ হলো— আমি গর্ব করেছি (গৌরব করেছি) তাদের মাধ্যমে, এমন স্বভাবের কারণে যা উজ্জ্বল আভিজাত্যের নিদর্শন, অথচ তারা তা নিয়ে গর্ব করে না।

চতুর্থ — «মানাবিয়্যাহ জটিলতা» (অর্থগত জটিলতা), যা হলো বাক্যরীতি বা শব্দবিন্যাস উদ্দীষ্ট অর্থের প্রতি অস্পষ্ট হওয়া (২) — যাতে দীর্ঘ চিন্তা ও কষ্ট ছাড়া এর অর্থ বোঝা সম্ভব হয় না।

এটি ঘটে থাকে মূল অর্থ থেকে উদ্দীষ্ট অর্থের দিকে মস্তিষ্কের স্থানান্তরের ত্রুটির কারণে; যার কারণ হলো এমন দূরবর্তী আবশ্যকতা নিয়ে আসা যা অনেক মধ্যস্থতার মুখাপেক্ষী, অথচ উদ্দীষ্ট অর্থের দিকে ইঙ্গিতকারী কোনো স্পষ্ট নিদর্শন অনুপস্থিত। অর্থাৎ, «প্রথম অর্থ থেকে দ্বিতীয় অর্থ বোঝা প্রথাগতভাবে (৩) বোধগম্যতার বাইরে হওয়া», যেমনটি আব্বাস বিন আল-আহনাফ-এর উক্তিতে দেখা যায়।

তোমাদের থেকে গৃহের দূরত্বকে আমি মেনে নেব যাতে তোমরা নিকটে আসো, আর আমার দুই চোখ অশ্রু বিসর্জন দেবে যাতে তারা জমাটবদ্ধ হয়ে যায়। (৪)

তিনি অশ্রু বিসর্জনকে প্রিয়জনদের বিচ্ছেদে অবধারিত দুঃখ ও শোকের রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন; এক্ষেত্রে তিনি চমৎকার ও সঠিক বর্ণনা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি চোখের পানি জমাটবদ্ধ হওয়াকে প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে মিলনের ফলে সৃষ্ট আনন্দ ও খুশির রূপক হিসেবে ব্যবহার করে ভুল করেছেন; আর এটি অত্যন্ত অস্পষ্ট ও দূরবর্তী — (৫) কেননা আরবদের বাক্যে এটি পরিচিত নয়

--------------------------------------------

(১) 'জাফাখতু' শব্দটির স্বাদ তিক্ত, এবং এটি শ্রবণে কানে আঘাত করে: আল-মুতানাব্বি যদি 'জাফাখতু'-এর পরিবর্তে 'ফাখারতু' (আমি গর্ব করেছি) ব্যবহার করতেন, তবে কবিতাটি সাবলীল হতো এবং এর ব্যবহার আরও উৎকৃষ্ট হতো।

(২) যেখানে বক্তা কোনো অর্থ প্রকাশ করতে গিয়ে এমন শব্দ ব্যবহার করেন যা তার প্রকৃত অর্থে ব্যবহৃত হয় না; ফলে তিনি উদ্দীষ্ট অর্থের জন্য শব্দ চয়নে ভুল করেন, যার দরুন প্রকাশভঙ্গি বিভ্রান্তিকর হয় এবং শ্রোতার কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন: "রাজা শহরে তার জিহ্বাগুলো ছড়িয়ে দিয়েছেন", এখানে তিনি তার গোয়েন্দাদের বুঝিয়েছেন, অথচ সঠিক প্রয়োগ ছিল "তার চক্ষুসমূহ ছড়িয়ে দিয়েছেন" বলা।

(৩) এখানে অসুবিধার মূল ভিত্তি হলো সুস্থ রুচিবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রচলিত রীতির অনুসরণ না করা, বাহ্যিক মধ্যস্থতার আধিক্য নয়। কারণ অনেক সময় মধ্যস্থতা বেশি হলেও কোনো জটিলতা তৈরি হয় না, যেমন বলা হয়: "অমুক ব্যক্তির ছাই অনেক বেশি", যা দ্বারা তার মেহমানদারিকে বোঝানো হয়— এখানে মধ্যস্থতা অনেক হলেও কোনো জটিলতা নেই।

(৪) 'তাসকুবু' শব্দটি পেশযুক্ত অবস্থায় 'আতিলুবু'-এর ওপর সংযুক্ত হয়েছে, অথবা যবরযুক্ত অবস্থায় 'বু'দা'-এর ওপর সংযুক্ত হয়েছে: এটি কোনো ক্রিয়াকে এমন বিশেষ্যের ওপর সংযুক্ত করার অন্তর্ভুক্ত যা ক্রিয়ার ব্যাখ্যা থেকে মুক্ত। এখানে উদ্দেশ্য হলো অশ্রু বিসর্জনের ধারাবাহিকতা কামনা করা; মূল অশ্রু বিসর্জন নয়, যাতে ইতোমধ্যে অর্জিত বিষয়ের নতুন করে অর্জনের আবশ্যকতা না আসে।

(৫) অস্পষ্টতা ও দূরবর্তী হওয়ার কারণ হলো: চোখের পানি জমাট বাঁধার মূল অর্থ হলো কাঁদার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অশ্রু শুকিয়ে যাওয়া। এ থেকে খুশির অর্থ গ্রহণ করা অনেক দূরবর্তী বিষয়; কারণ এর জন্য অনেকগুলো মধ্যস্থতার প্রয়োজন হয়। যথা: চোখ জমাটবদ্ধ হওয়া থেকে অশ্রু না আসায় পৌঁছানো যখন কান্নার ইচ্ছা থাকে, সেখান থেকে সাধারণভাবে অশ্রু না আসায় পৌঁছানো, সেখান থেকে দুঃখ ও এই জাতীয় অনুভূতির অবর্তমানে পৌঁছানো «কেননা দুঃখই হলো সাধারণত অশ্রুর কারণ», এবং সবশেষে দুঃখ না থাকা থেকে খুশিতে পৌঁছানো। এটি স্পষ্ট যে, কবি এই সমস্ত মধ্যস্থতাকে সংক্ষেপ করে বাদ দিয়েছেন, যার ফলে মূল প্রকৃত অর্থ থেকে উদ্দীষ্ট অর্থে পৌঁছানোর গতি ধীর হয়ে গেছে এবং তিনি বাগ্মী ব্যক্তিদের পদ্ধতি পরিহার করেছেন। ফলে সেখান থেকে মানাবিয়্যাহ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। জেনে রাখুন, কবি বিচ্ছেদ ও দূরত্বে সন্তুষ্ট থাকতে চেয়েছেন এবং নিজেকে দুঃখ ও আকাঙ্ক্ষার কষ্ট সইতে অভ্যস্ত করতে চেয়েছেন। তিনি এর জন্য এমন এক দুঃখ সহ্য করতে চেয়েছেন যা তার চোখ থেকে অশ্রু ঝরাবে, যাতে এর মাধ্যমে তিনি এমন এক মিলনে পৌঁছাতে পারেন যা স্থায়ী হবে এবং এমন এক আনন্দ লাভ করতে পারেন যা কখনো শেষ হবে না — যেমন অন্য কবির উক্তিতে রয়েছে:

দীর্ঘদিন আমি ভুলবশত বিচ্ছেদকেই বেছে নিয়েছি এবং আমার ভালোবাসার বৃক্ষ রোপণে কৌশল অবলম্বন করেছি।

আমি মিলনের আলোচনা থেকে বিমুখ হয়েছি কারণ বিষয়গুলো আমার ইচ্ছার বিপরীতে পরিচালিত হয়।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الدُّعاء لشخص بالسرور (أن يقال له جُمدت عينك) أو لا زالت عينك جامدةً، بل المعروف عندهم أنّ جمود العين إنّما يكنى به عن عدم البكاء حالة الحزن، كما في قول الخنساء.

أعيني جودا ولا تجمُدا ألا تبكيانِ لصَخر النَّدى

وكما في قول أبي عطاء يرثى ابن هُبيرة:

ألا إنَّ عيناً لم تجدُ يومَ واسط عليك: بحارى دمعها لجمود (1)

وهكذا كل الكنايات التي تستعملها العرب لأَغراض ويُغَيرها المتكلمُ، ويريد بها أغراضاً أخرى تعتبر خروجاً عن سُنن العرب في استعمالاتهم - ويُعدّ ذلك تعقيداً في المعنى: حيث لا يكون المراد بها واضحاً.

الخامس - «كثرة التكرار» (2) : كون اللفظ الواحد: اسماً - كان أو فعلاً - أو حرفاً.

وسواء أكان الاسم: ظاهراً - أو ضميراً، تعدّد مرَّة بعد أخرى بغير فائدة - كقوله:

إنّي وأسطارٍ سُطرنَ سَطراً لَقائلٌ يا نصرُّ نصرُ نصراَ

وكقول المتنبي:

أقِل أنل اقطع اجمل علَّ سل أعد زد هشَّ بش تفضَّلُ أدِنِ سُرَّصل

--------------------------------------------

(1) أي لبخيلة بالدموع.

(2) المراد بالكثرة ههنا ما فوق الوحدة - فذكر الشيء ثانيا تكرار، وذكره ثاالثاً كثرة، وانما شرطت الكثرة لأن التكرار بلا كثرة لا يخل بالفصاحة - وإلا لقبح التوكيد اللفظي.
কারও জন্য আনন্দের দুয়া করা (তাকে বলা যে, 'তোমার চোখ যেন জমে যায়') অথবা 'তোমার চোখ যেন জমেই থাকে', বরং তাদের নিকট সুপরিচিত হলো যে, চোখের জড়তা বা জমে যাওয়া বলতে দুঃখের সময় না কাঁদাকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যেমনটি আল-খানসার পঙক্তিতে রয়েছে।

হে আমার দুচোখ, অঝোরে ঝরো এবং জমে যেও না; তোমরা কি দানশীল সাখরের জন্য কাঁদবে না?

আর যেমন আবু আতার উক্তি, যিনি ইবনে হুবায়রার শোকগাথা গেয়েছেন:

জেনে রেখো, ওয়াসিতের যুদ্ধের দিনে যে চোখ তোমার জন্য অঝোরে চোখের পানি ফেলেনি, তা নিশ্চয়ই জমে যাওয়ার (জড়তার) কারণে (১)

একইভাবে আরবরা যেসব রূপক নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে এবং বক্তা যদি তা পরিবর্তন করে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বুঝাতে চান, তবে তা আরবদের ব্যবহারের রীতির পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হবে - এবং একে অর্থগত জটিলতা গণ্য করা হবে: কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয় না।

পঞ্চম - «অত্যধিক পুনরাবৃত্তি» (২) : একই শব্দ - চাই তা বিশেষ্য হোক, ক্রিয়া হোক অথবা অব্যয় হোক - বারবার আসা।

চাই সেই বিশেষ্যটি প্রকাশ্য নাম হোক অথবা সর্বনাম, কোনো ফায়দা ছাড়াই একের পর এক একাধিকবার আসা - যেমন কবির উক্তি:

আমি এবং সেই পঙক্তিগুলো যা সারিবদ্ধভাবে লেখা হয়েছে, অবশ্যই বলছি, হে নাসর, নাসর, নাসর

এবং আল-মুতানাব্বির উক্তির ন্যায়:

ক্ষমা করো, দান করো, বিচ্ছিন্ন করো, সুন্দর করো, উচ্চ করো, যাচনা করো, পুনরাবৃত্তি করো, বৃদ্ধি করো, প্রফুল্ল হও, আনন্দিত হও, অনুগ্রহ করো, ঋণী করো, আনন্দিত করো, মিলিত হও

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ অশ্রু বিসর্জনে কৃপণ।

(২) এখানে 'অত্যধিক' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো একের অধিক - সুতরাং কোনো কিছু দ্বিতীয়বার উল্লেখ করা হলো পুনরাবৃত্তি, আর তৃতীয়বার উল্লেখ করা হলো আধিক্য। এখানে আধিক্যের শর্ত এ কারণোরোপ করা হয়েছে যে, আধিক্যহীন পুনরাবৃত্তি বিশুদ্ধতায় বিঘ্ন ঘটায় না - অন্যথায় শাব্দিক তাকিদ দোষণীয় হয়ে যেত।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وكقول أبي تمَّام في المديح:

كأنَّه في اجتماع الرُّوح فيه لَهُ في كلِّ جارحةٍ من جسمِهِ رُوحُ

السادس - «تتابعُ الإضَافات» كون الاسم مضافا إضافةً مُتداخلة غالباً، كقول ابن بابك:

حمامَةَ جَرعا حَومةِ الجَندَلِ لسجَعِي فأنتِ بمراى من سُعادَ ومَسمع (1)

وملخص القول: إنَّ فصاحة الكلام تكون بخُلوَّه من تنافر كلماته ومن ضعف تأليفه، وتعقيد معناه، ومن وضع ألفاظه في غير المواضع اللائقة بها.

تطبيق

بين العيوب التي أخلَّت بفصاحة الكلام فيما يأتي؟

لك الخيرُ غيري رَامَ من غيرك الغنى … وغيري بغير اللازقيَّة لاحق

وازورَّ مَن كانَ له زائراً … وعافَ عافى العُرف عِرفانُه (2)

أنَّى يكونُ أبا البرايا آدمٌ … وأبوكَ والثَّقَلَانِ أنتَ محمدُ (3)

ومن جاهل بي وهُوَ يجهَلُ جهلة … ويَجهل عِلمي أنه بيَ جاهل

وقَلقلت بالهمَّ الذي قَلقَلَ الحَشا … قَلَاقلَ همّ كلَّهنَّ قَلَاقلُ

وما مِثلهُ في النَّاس إلا مُمَلَّكاً … أبو أمّهِ حتى أبوه يقاربُه (4)

--------------------------------------------

(1) ففيه إضافة حمامة إلى جرعا وهو تأنيث الأجرع وهو المكان ذو الحجارة السود، أو مكان الرمل الذي لا ينبت شيئا «وجرعا» مضاف إلى «حومة» وهي معظم الشيء «وحومة» مضاف إلى «الجندل» بسكون النون وهو الحجر، والمراد به هنا مكان الحجارة، فهو بمعنى الجندل بفتح النون وكسر الدال - وقوله «فأنت بمرأى من سعاد ومسمع، أي أنت بحيث تراك سعاد وتسمع كلامك - يقول: اسجعي يا حمامة أرض قفرة سبخة، فان سعاد تراك وتسمعك.

(2) العيب في تنافر الكلمات - والمعنى انحرف عنه من كان يزوره، وكره طالب الاحسان معرفته.

(3) يريد كيف يكون آدم أبا البرايا وأبوك محمد وأنت الثقلان أي الأنس والجن - يعني أنه قد جمع ما في الخليقة من الفضل والكمال - وقد فصل بين المبتدأ والخبر وهما أبوك محمد، وقدم الخبر على المبتدأ تقديما قد يدعو إلى اللبس في قوله «والثقلان وأنت» على أنه بعد هذا التعسف لم يسلم كلامه من سخف وهذر.

(4) يريد الفرزدق مدح إبراهيم بن اسماعيل خال هشام بن عبد الملك - وما مثله في الناس حي «أحد» يقاربه «يشابهه» إلا مملكا، أبو أمه أبوه - فقدم المستثنى على المستثنى منه - وفصل بين مثل وحي وهما بدل ومبدل منه وبين أبو أمه وأبوه وهما مبتدأ وخبر- وبين حي ويقاربه وهما نعت ومنعوت، ولا يفصل بين كل منهما بأجنبي. والمعنى: وليس مثل إبراهيم في الناس أحد يشبهه في الفضائل إلا ابن اخته هشام - فضمير أمه عائد على المملك، وضمير أبوه عائد على إبراهيم الخال.
যেমন প্রশংসামূলক কবিতায় আবু তাম্মামের উক্তি:

তার মধ্যে রুহের সমাবেশের কারণে মনে হয় যেন তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গে একটি করে রুহ রয়েছে।

ষষ্ঠ - «তাতাবউ আল-ইদাফাত» (ক্রমাগত সম্বন্ধপদ): বিশেষ্যের প্রায়শই পরস্পর সম্পৃক্ত সম্বন্ধযুক্ত হওয়া। যেমন ইবনে বাবিকের উক্তি:

হে জানদালের প্রান্তরের মরুভূমির কপোতী, তুমি ডাকো; কেননা তুমি সুয়াদ-এর দেখার এবং শোনার সীমানায় আছো। (১)

কথার সারসংক্ষেপ: কালামের প্রাঞ্জলতা (ফাসাহাত) অর্জিত হয় শব্দসমূহের শ্রুতিকটুতা, রচনার দুর্বলতা, অর্থগত জটিলতা এবং শব্দসমূহকে তাদের যথাযথ স্থানে ব্যবহার না করা থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে।

অনুশীলন

নিচের বাক্যগুলোতে কালামের প্রাঞ্জলতা নষ্টকারী দোষগুলো চিহ্নিত করো।

তোমার কল্যাণ হোক; আমি ছাড়া অন্য কেউ তোমার ছাড়া অন্যের কাছে প্রাচুর্য চেয়েছে... আর আমি ছাড়া অন্য কেউ লাজকিয়্যাহ ছাড়া অন্য স্থানের সাথে যুক্ত হচ্ছে।

যে তাকে জিয়ারত করত সে বিমুখ হয়েছে... এবং অনুগ্রহ প্রার্থীর কৃতজ্ঞতাকে তার পরিচয় উপেক্ষা করেছে। (২)

আদম কীভাবে সৃষ্টির পিতা হন? যখন তোমার পিতা এবং জীন ও মানবজাতি হলেন মুহাম্মদ। (৩)

এবং যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে অজ্ঞ অথচ সে তার নিজের মূর্খতা সম্পর্কেও জানে না... এবং সে আমার জ্ঞান সম্পর্কেও অজ্ঞ যে সে আমার ব্যাপারে অজ্ঞ।

আর আমি সেই অস্থিরতায় ছটফট করেছি যা পাজরকে অস্থির করে তোলে... এমন সব অস্থির দুশ্চিন্তা যার প্রতিটিই অস্থিরতাময়।

মানুষের মধ্যে তার মতো কেউ নেই, তবে যাকে রাজত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি ব্যতীত; যার মায়ের পিতা স্বয়ং তারও পিতা এবং তার সমকক্ষ। (৪)

--------------------------------------------

(১) এতে 'হামামাহ' (কপোতী) শব্দটিকে 'জারআ' এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, যা 'আজরা' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ। এটি এমন একটি স্থান যেখানে কালো পাথর থাকে অথবা এমন বালুকাময় স্থান যেখানে কিছুই জন্মায় না। 'জারআ' শব্দটিকে 'হাওমাহ' এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, যার অর্থ কোনো জিনিসের মূল অংশ। 'হাওমাহ' শব্দটিকে 'জানদাল' এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে (নুনের সুকুনসহ), যার অর্থ পাথর। এখানে পাথুরে স্থান বুঝানো হয়েছে। এর অর্থ 'জানদাল' (নুনের ফাতহা এবং দালের কাসরাসহ)। তার উক্তি "তুমি সুয়াদ এর দেখার এবং শোনার সীমানায় আছো" এর অর্থ হলো তুমি এমন অবস্থানে আছো যে সুয়াদ তোমাকে দেখছে এবং তোমার ডাক শুনছে। তিনি বলছেন: হে নির্জন ঊষর ভূমির কপোতী, তুমি ডাকো, কেননা সুয়াদ তোমাকে দেখছে এবং শুনছে।

(২) দোষটি হলো শব্দসমূহের শ্রুতিকটুতা। এর অর্থ হলো: যে তাকে জিয়ারত করত সে তার থেকে বিমুখ হয়েছে এবং অনুগ্রহ প্রার্থীরা তার পরিচয়কে ঘৃণা করতে শুরু করেছে।

(৩) তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, কীভাবে আদম সৃষ্টির পিতা হন যখন তোমার পিতা মুহাম্মদ এবং তুমি হলে সাক্বালান (জীন ও মানব জাতি)। অর্থাৎ তিনি (মুহাম্মদ) সৃষ্টির সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতাকে একত্রিত করেছেন। এখানে কবি মুক্তাদা ও খবর এর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন যা হলো 'তোমার পিতা মুহাম্মদ', এবং খবরকে মুক্তাদার আগে নিয়ে এসেছেন। তার "সাক্বালান এবং তুমি" উক্তির ক্ষেত্রে এটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এই কৃত্রিম বিন্যাসের পরেও তার কথাগুলো অযৌক্তিকতা ও প্রলাপ থেকে মুক্ত হয়নি।

(৪) ফারাজদাক হিশাম বিন আব্দুল মালিকের মামা ইব্রাহিম বিন ইসমাইলের প্রশংসা করতে চেয়েছেন। তিনি বুঝিয়েছেন যে, মানুষের মধ্যে জীবিত এমন কেউ নেই যে তার সমকক্ষ হবে, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যাকে রাজত্ব দেওয়া হয়েছে (হিশাম); যার মায়ের পিতা (ইব্রাহিম) স্বয়ং হিশামেরও পিতা। তিনি মুস্তাসনা-কে মুস্তাসনা মিনহু-এর আগে নিয়ে এসেছেন। 'মিছল' এবং 'হাই' (যা বদল ও মুবদাল মিনহু) এর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। আবার 'আবু উম্মিহি' এবং 'আবুহু' (যা মুক্তাদা ও খবর) এর মধ্যে এবং 'হাই' ও 'ইউক্বরিবুহু' (যা নাত ও মানউত) এর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। অথচ এদের কোনোটির মাঝখানে অন্য কোনো শব্দ দ্বারা বিচ্ছেদ ঘটানো অনুচিত। এর অর্থ হলো: মানুষের মধ্যে ইব্রাহিমের মতো শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী আর কেউ নেই কেবল তার ভাগ্নে হিশাম ব্যতীত। এখানে 'তার মা' এর সর্বনামটি বাদশাহর (হিশাম) দিকে ফিরেছে এবং 'তার পিতা' এর সর্বনামটি মামা ইব্রাহিমের দিকে ফিরেছে।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
إلى مَلك ما أمُّه من مُحَارب … أبوه ولا كانت كُلَيبٌ تُصاهره (1)

ليسَ إلاكَ يا عليُّ هُمامٌ … سيَفهُ دُونَ عَرضِه مسلولُ (2)

كَسا حلمهُ ذا الحلم أثوابُ سُؤدُد … ورقَّى نداهُ ذا النَّدَى في ذُرا المجد (3)

من يهتدي في الفعل ما لا يهتدى … في القول حتَّى يَفعل الشعراءُ (4)

جزَى بنوه أبا الغَيلَان عن كِبر … وحُسن فعلٍ كما يُجزَى سِنمَّارُ (5)

وما من فتىً كنَّا من النَّاس واحداً … به نَبتغى منهم عَديلاً نُبادِلهُ (6)

لمَا راى طالبوه مُصعباً ذُعِرُوا … وكاد لو ساعدَ المقَدورُ ينتَصرُ

نشر الملك ألسنته في المدينة … مُريداً جواسيسه.

أي - والصوَّاب «نشر الملك عيونه» (7)

لو كنت كنت كتمت السَّر كنت كما … كنَّا وكنتَ ولكن ذَاكَ لم يكن

ألَا لَيتَ شِعري هل يَلومنَّ قومهُ … زُهيراً على ما جَرَّ من كلِّ جانِب

دانٍ بعيدٍ مُحبّ مبغض بَهجٍ … أغرّ حلو مُمر ليّن شَرِس (8)

… ... لأنت أسودُ في عيني من الظُّلم (9)

--------------------------------------------

(1) يريد إلى ملك ابوه ليست أمه من محارب - أي ما أمه منهم.

(2) فيه ضعف تأليف حيث وضع الضمير المتصل بعد إلا - وحقه وضع المنفصل (إياك) .

(3) أي من كان ديدنه الحلم والكرم حاز السيادة والرفعة - فالضمير في حله لذا الحلم المذكور بعد - فهو المتأخر لفظا ومعنى وحكما - وكذا الضمير في نداه لذا الندى.

(4) أي يهتدى في الفعل ما لا يهتديه الشعراء في القول حتى يفعل.

(5) العيب فيه من جهة أن ضمير بنوه عائد على أبا الغيلان وهو متأخر لفظاً ورتبة، لأنه مفعول ورتبته التأخر عن الفاعل: وسنمار رجل رومي بني قصر الخورنق بظهر الكوفة للنعمان بن امرىء القيس ملك الحيرة، فلما فرغ منه ألقاه النعمان من أعلاه فخر ميتا لئلا بيني لغيره مثله.

(6) أي وما من فتى من الناس كنا نبتغى واحداً منهم عديلا نبادله به.

(7) لأن الذي يتوصل به إلى الاخبار عادة إنما هو العيون - لا الألسنة.

(8) فيه توالى الصفات، وذلك مما يحدث في الكلام ثقلا وهذا مما يؤخذ على (المتنبي) .

(9) والقياس أشد سواداً لانه لا يبنى أفعل التفضيل من الافعال الدالة على الالوان.
এমন এক বাদশাহর প্রতি, যার মাতা মুহারিব বংশের নয় … এবং তার পিতাও নয়, আর কুলাইব গোত্রও তার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক রাখত না (১)

হে আলী! আপনি ব্যতীত এমন কোনো সাহসী বীর নেই … যার তলোয়ার আপন সম্মান রক্ষায় সর্বদা কোষমুক্ত থাকে (২)

তাঁর সহনশীলতা সেই সহনশীল ব্যক্তিকে শ্রেষ্ঠত্বের পোশাক পরিধান করিয়েছে … এবং তাঁর দানশীলতা সেই দানশীল ব্যক্তিকে গৌরবের শিখরে উন্নীত করেছে (৩)

যে ব্যক্তি কর্মের মাধ্যমে এমন পথ খুঁজে পায় যা অন্য কেউ খুঁজে পায় না … এমনকি কবিরা তাদের বাণীর মাধ্যমেও তা পায় না যতক্ষণ না সে তা সম্পাদন করে (৪)

তার পুত্ররা বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর এবং তার সদ্ব্যবহারের প্রতিদানে আবু গায়লানকে তেমন প্রতিদানই দিয়েছে … যেমন প্রতিদান সিনিম্মারকে দেওয়া হয়েছিল (৫)

মানুষের মধ্যে এমন কোনো যুবক ছিল না যার বদলে … আমরা অন্য কাউকে তার সমতুল্য হিসেবে বিনিময় করতে চাইতাম (৬)

যখন অন্বেষণকারীরা মুসআবকে দেখল, তারা ভীত হয়ে পড়ল … এবং ভাগ্য সহায় হলে তিনি প্রায় বিজয়ী হতেন

রাজা শহরে তাঁর জিহ্বাগুলো ছড়িয়ে দিলেন … এর দ্বারা তিনি তাঁর গোয়েন্দাদের বুঝিয়েছেন।

অর্থাৎ—আর সঠিক প্রয়োগ হলো "রাজা তাঁর চোখগুলো (গোয়েন্দা) ছড়িয়ে দিলেন" (৭)

যদি তুমি রহস্য গোপন রাখতে, তবে তুমি তেমনই থাকতে … যেমন আমরা ছিলাম এবং তুমি ছিলে, কিন্তু তা হয়নি

হায়! আমি যদি জানতাম, তাঁর জাতি কি যুহাইরকে … সব দিক থেকে বয়ে আনা বিপদের জন্য তিরস্কার করবে?

নিকটবর্তী, দূরবর্তী, প্রেমিক, বিদ্বেষী, প্রফুল্ল … উজ্জ্বল, মিষ্ট, তিক্ত, কোমল, কর্কশ (৮)

… ... আমার চোখে তুমি অন্ধকারের চেয়েও বেশি কালো (৯)

--------------------------------------------

(১) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন এক রাজা যার পিতাও আছে কিন্তু মা মুহারিব গোত্রের নয় - অর্থাৎ তার মা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

(২) এতে বাক্যগঠনে দুর্বলতা রয়েছে, যেখানে 'ইল্লা'-র পরে সংলগ্ন সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে; অথচ সেখানে পৃথক সর্বনাম ব্যবহার করাই সংগত ছিল।

(৩) অর্থাৎ যার স্বভাব হলো সহনশীলতা ও মহানুভবতা, সে শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চমর্যাদা লাভ করে - এখানে সহনশীলতার সর্বনামটি পরবর্তী উল্লিখিত ব্যক্তির দিকে ফিরেছে - যা শব্দে, অর্থে এবং হুকুমে পরবর্তী। একইভাবে দানশীলতার সর্বনামটিও পরবর্তী ব্যক্তির দিকে ফিরেছে।

(৪) অর্থাৎ কর্মের ক্ষেত্রে এমন পথ পাওয়া যায় যা কবিরা তাদের বাণীতে খুঁজে পায় না যতক্ষণ না সে তা বাস্তবে রূপদান করে।

(৫) এতে ত্রুটি এই দিক থেকে যে, 'তার পুত্ররা' শব্দাংশের সর্বনামটি আবু গায়লানের দিকে ফিরেছে, যা শব্দ ও পদমর্যাদায় পরবর্তী। কারণ এটি কর্ম (মাফউল), আর কর্মের স্বাভাবিক অবস্থান কর্তার পরে। আর সিনিম্মার ছিল একজন রোমক ব্যক্তি যে হীরার রাজা নুমান বিন ইমরুল কাইসের জন্য কুফার সন্নিকটে খাওয়ারনাক প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল। নির্মাণকাজ শেষ হলে নুমান তাকে প্রাসাদের চূড়া থেকে নিচে ফেলে দেয় এবং সে মারা যায়, যাতে সে অন্য কারও জন্য এমন প্রাসাদ আর নির্মাণ করতে না পারে।

(৬) অর্থাৎ মানুষের মধ্যে এমন কোনো যুবক ছিল না যার পরিবর্তে আমরা অন্য কাউকে তার সমকক্ষ হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতাম।

(৭) কারণ সাধারণত খবরাখবর সংগ্রহের জন্য মাধ্যম হিসেবে 'চক্ষু' (গোয়েন্দা) ব্যবহৃত হয়—'জিহ্বা' নয়।

(৮) এতে গুণাবলির অত্যধিক ধারাবাহিকতা রয়েছে, যা বাক্যে জড়তা তৈরি করে এবং এটি মুতানাব্বির কাব্যিক সীমাবদ্ধতা হিসেবে ধরা হয়।

(৯) আর ভাষাতাত্ত্বিক নিয়ম অনুযায়ী এটি 'অধিকতর কালো' (আশাদ্দু সাওয়াদান) হওয়া উচিত ছিল, কারণ রঙের অর্থ প্রদানকারী ক্রিয়া থেকে সরাসরি শ্রেষ্ঠত্বসূচক বিশেষ্য গঠিত হয় না।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وتُسُعدني في غَمرَة بعدَ غمرَة … سبوحٌ لها منها عليها شواهد (1)

ولبست خراسانُ التي كان خالدٌ … بها أسدِ إذ كَان سيفاً أميرها (2)

والشمسُ طالعة ليست بكاسِفةٍ … تبكى عليك نُجومَ الليل والقمر (3)

أرضٌ لها شَرَفٌ سوَاها مثلها … لو كان مثلك في سِواها يوجَدُ

والمجدُ لا يرضى بأن ترضى بأن … يَرضى المعاشر منك إلَاّ بالرِّضا

في رفع عَرش الشَّر ع مثلك يَشرعُ

ومن لم يذُد عن حوضه بسلاحه … يُهَدَّم ومن لم يظلم الناس يُظلِم (4)

مُتحَيرين فباهِتٌ مُتعَجِّبٌ … ممَّا يَرى أون ناظرٌ متأمِّلُ (5)

فأصبحت بعد خطِّ بهجتها … كأنَّ قفراً رسومها قلَما (6)

وما أرضَى لمُقلتِهِ بحلم … إذا انتبهت توهَّمه ابتِشاكا (7)

فصاحة المتكلم

فصاحة المتُكلِّم: عبارةٌ عن المَلكة (8) التي يقتدر بها صاحبها على

--------------------------------------------

(1) معنى البيت: وتسعدني بالفوز بالغنائم والنجاة في شدة بعد شدة فرس سبوح أي حسنة العدو لا تتعب رابكها، فكأنها تسبح على الماء.

(2) خالد - وأسد: علمان - والتعقيد فيه نشأ من تقديم أسد الذي هو جزء مما أضيف إليه إذ.

(3) أي والشمس ليست بكاسفة نجوم الليل وهي تبكي عليك، والقمر يبكي عليك أيضاً - ففيه تعقيد نشأ من الفصل بين الصفة التي هي كاسفة، ومفعولها الذي هو نجوم بحملة «تبكي عليك» .

(4) فيه تعقيد معنوي، حيث كنى بالظلم عن المحافظة على الحقوق - وهو بعيد.

(5) باهت بمعنى مدهوش (لغة رديئة) واللفظ العربي المستغمل بهت الرجل فهو مبهوت.

(6) أي فأصبحت بعد بهجتها قفرا، كأن قلما خط رسومها.

(7) المقلة العين، والحلم الرؤيا التي يراها النائم، وابتشاك الكذب، قال الصاحب لم يسمع الابتشاك في شعر قديم ولا محدث.

(8) أي كيفية وصفة من العلم راسخة وثابتة في نفس صاحبها يكون قادراً بها على أن يعبر عن كل ما قصده من أي نوع من المعاني كالمدح والذم والرثاء وغير ذلك بكلام فصيح، فاذاً المدار على الاقتدار المذكور سواء وجد التعبير أو لم يوجد - وأن من قدر على تأليف كلام فصيح في نوع واحد من تلك المعاني لم يكن فصيحاً - وانه لا يكون فصيحاً إلا إذا كان ذا صفة من العلم راسخة فيه وهي المسماة «بالملكة» يقتدر بها على أن يعبر عن أي معنى قصده بكلام فصيح أي خال عن الخلل في مادته «وذلك بعدم تنافر كلماته» وعن الخلل في تأليفه «وذلك بعدم ضعف تأليفه» وعن الخلل في دلالته على المعنى التركيبي «وذلك بعدم التعقيد اللفظي والمعنوي» فان كان شاعراً اتسع أمامه ميدان القول في جميع فنون الشعر - من نسيب وتشبيب ومديح وهجاء ووصف ورثاء وعتاب واعتذار وأشباه ذلك - وإن كان ناثراً حاك الرسائل المحلاة، والخطب الممتعة الموشاة، في الوعظ، والارشاد، والحفل والأعياد.
এবং সে আমাকে একের পর এক বিপদে আনন্দিত করে … একটি দ্রুতগামী ঘোড়া, যার নিজের মধ্যেই যার জন্য সাক্ষী রয়েছে (১)

আর খোরাসান পরিধান করেছে, যেখানে খালিদ ছিল … সেখানে আসাদ, যখন তার আমির ছিল একটি তলোয়ার (২)

আর সূর্য উদিত হচ্ছে, যা নক্ষত্ররাজিকে অন্ধকারকারী নয় … রাতের নক্ষত্ররাজি এবং চাঁদ তোমার জন্য কাঁদছে (৩)

এমন এক ভূমি যার সম্মান রয়েছে, তার মতো অন্য ভূমিও সমতুল্য … যদি তোমার মতো কেউ অন্য কোথাও পাওয়া যেত

আর মহিমা এতে সন্তুষ্ট নয় যে তুমি এতে সন্তুষ্ট হবে যে … সঙ্গীরা তোমার থেকে সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হবে

শরীয়তের আরশ সমুন্নত করতে তোমার মতো ব্যক্তিই বিধান প্রদান করে

আর যে ব্যক্তি তার অস্ত্র দিয়ে নিজের হাউজ রক্ষা করে না … তা ধ্বংস করা হয়; আর যে মানুষের প্রতি জুলুম করে না, সে নিজে জুলুমের শিকার হয় (৪)

কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায়, কেউ হতভম্ব ও আশ্চর্যান্বিত … যা সে দেখছে তা নিয়ে, অথবা কেউ গভীর পর্যবেক্ষক (৫)

অতঃপর তার সৌন্দর্যের রেখাঙ্কনের পর সে এমন হয়ে গেল … যেন তার ধ্বংসাবশেষকে কলম বিরাণ ভূমিতে পরিণত করেছে (৬)

আর সে তার চোখের স্বপ্নের ওপর সন্তুষ্ট নয় … যখন সে জাগ্রত হয়, তখন সেটিকে মিথ্যা বলে মনে করে (৭)

বক্তার সাবলীলতা

বক্তার সাবলীলতা: এটি এমন এক সক্ষমতা বা গুণ (মালেকাহ) (৮) যার মাধ্যমে এর অধিকারী ব্যক্তি সক্ষম হন

--------------------------------------------

(১) কবিতার অর্থ: এটি আমাকে গনীমত লাভ এবং একের পর এক বিপদে নাজাত পাওয়ার মাধ্যমে আনন্দিত করে। "সাবূহ" অর্থ এমন দ্রুতগামী ঘোড়া যার দৌড় অত্যন্ত চমৎকার এবং যা আরোহীকে ক্লান্ত করে না, মনে হয় যেন সে পানির ওপর সাঁতার কাটছে।

(২) খালিদ এবং আসাদ: দুটি নাম। এখানে জটিলতা তৈরি হয়েছে 'আসাদ' শব্দটিকে আগে নিয়ে আসার কারণে, যা মূলত 'ইজ' (যখন) শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অংশ ছিল।

(৩) অর্থাৎ সূর্য রাতের নক্ষত্ররাজিকে অন্ধকারকারী নয় অথচ সেগুলো তোমার জন্য কাঁদছে, এবং চাঁদও তোমার জন্য কাঁদছে। এখানে জটিলতা তৈরি হয়েছে গুণ (সিফাত) তথা 'কাসিফাহ' এবং তার কর্ম (মাফউল) তথা 'নুজুম' এর মাঝে 'তুবকি আলাইকা' বাক্যটি দিয়ে ব্যবধান তৈরির মাধ্যমে।

(৪) এখানে অর্থগত জটিলতা রয়েছে, যেখানে অধিকার রক্ষার পরিবর্তে 'জুলুম' শব্দটি রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে—যা একটি দূরবর্তী অর্থ।

(৫) 'বাহিতা' অর্থ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়া (এটি একটি নিম্নমানের ভাষাগত প্রয়োগ)। মূলত ব্যবহৃত আরবি শব্দ হলো 'বাহুতা আর-রাজুলু ফাহুওয়া মাবহুত'।

(৬) অর্থাৎ তার আনন্দের পর সে বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে, যেন কলম তার চিহ্নগুলো অঙ্কন করেছে।

(৭) 'মুকলাহ' অর্থ চোখ। 'হুলম' অর্থ স্বপ্ন যা ঘুমন্ত ব্যক্তি দেখে। 'ইবতিশাক' অর্থ মিথ্যা। সাহেব বলেছেন, প্রাচীন বা আধুনিক কোনো কবিতায় 'ইবতিশাক' শব্দটির ব্যবহার শোনা যায়নি।

(৮) অর্থাৎ ইলম বা জ্ঞানের এমন এক সুদৃঢ় ও স্থায়ী বৈশিষ্ট্য বা গুণ যা এর অধিকারীর অন্তরে বদ্ধমূল থাকে, যার মাধ্যমে সে তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী যে কোনো ধরণের ভাব (যেমন—প্রশংসা, নিন্দা, শোকগাঁথা ইত্যাদি) সাবলীল ভাষায় প্রকাশ করতে সক্ষম হয়। সুতরাং মূল ভিত্তি হলো উক্ত সক্ষমতার ওপর, চাই বাস্তবে সে প্রকাশ করুক বা না করুক। আর যে ব্যক্তি কেবল এক ধরণের ভাবে সাবলীল কথা বলতে সক্ষম, তাকে 'সাবলীল বক্তা' বলা হবে না। সে ততক্ষণ পর্যন্ত সাবলীল হতে পারবে না যতক্ষণ না তার মধ্যে জ্ঞানের এই স্থায়ী গুণ বা 'মালেকাহ' সৃষ্টি হয়, যার মাধ্যমে সে তার যে কোনো উদ্দেশ্য সাবলীল ভাষায় প্রকাশ করতে সক্ষম হবে; অর্থাৎ যা শব্দগত বৈসাদৃশ্য (তানাফুরুল কালিমাথ), বাক্য গঠনে দুর্বলতা (দউফুত তালিফ) এবং গাঠনিক অর্থ প্রকাশের ত্রুটি (শব্দগত ও অর্থগত জটিলতা) থেকে মুক্ত হবে। যদি সে কবি হয়, তবে তার সামনে কবিতার সকল ক্ষেত্রে—যেমন প্রেমগাথা, প্রশংসা, ব্যঙ্গ, বর্ণনা, শোকগাঁথা, তিরস্কার, ওজরখাহি এবং অনুরূপ বিষয়গুলোতে—বক্তব্যের ময়দান প্রশস্ত হবে। আর যদি সে গদ্যকার হয়, তবে সে অলংকৃত পত্র এবং চিত্তাকর্ষক ভাষণ তৈরি করতে পারবে; চাই তা উপদেশ, পথনির্দেশনা, সভা-সমাবেশ বা উৎসবের জন্যই হোক না কেন।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
التعبير عن المقصود بكلام فصيح في أيِّ غرضٍ كان.

فيكون قادراً بصفة الفصاحة الثابتة في نفسه على صياغة الكلام مُتمكّناً من التّصرف في ضُروبه بصيراً بالخوض في جهاته ومَنَاحِيه.

أسئلة على الفصاحة يطلب أجوبتها

ما هي الفصاحة لغة واصطلاحا؟ ما الذي يوصف بالفصاحة

ما الذي يخرج الكلمة عن كونها فصيحة؟

ما هي فصاحة المفرد؟ ما هو تنافر الحروف، وإلى كم ينقسم؟..

ما هي الغرابة وما موجبها؟ ما هي مخالفة القياس؟ ما هي الكراهة في السمع؟

ما هي فصاحة الكلام - وبما تتحقق؟ ما هو تنافر الكلمات، وما موجبه وإلى كم يتنوَّع، ما هو ضعف التأليف؟ ما هو التعقيد؟ وإلى كم ينقسم؟

ما هو كثرة التكرار؟ ما هو تتابع الاضافات؟ ما هي فصاحة المتكلم؟
যে কোনো উদ্দেশ্যে প্রাঞ্জল বক্তব্যের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করা।

ফলে সে তার সত্তায় বদ্ধমূল সাবলীলতার গুণের মাধ্যমে বাক্য গঠনে সক্ষম হয়, এর বিভিন্ন রূপ প্রয়োগে পারদর্শিতা লাভ করে এবং এর সকল দিক ও বিভাগে বিচক্ষণতার সাথে বিচরণ করতে পারে।

সাবলীলতা বিষয়ক কতিপয় প্রশ্ন ও উত্তর

শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে সাবলীলতা কী? কোন বিষয়কে সাবলীল হিসেবে বর্ণনা করা হয়?

কোন বিষয়টি শব্দকে সাবলীল হওয়া থেকে বহিষ্কার করে?

একক শব্দের সাবলীলতা কী? বর্ণমালার শ্রুতিকটুতা কী এবং তা কত ভাগে বিভক্ত?..

শব্দের দুর্ভেদ্যতা কী এবং এর কারণ কী? ব্যাকরণিক নিয়মের পরিপন্থী হওয়া কী? শ্রবণে অপ্রীতিকর হওয়া কী?

বাক্যের সাবলীলতা কী এবং তা কিসের মাধ্যমে অর্জিত হয়? শব্দের শ্রুতিকটুতা কী, এর কারণ কী এবং তা কত প্রকার? রচনার দুর্বলতা কী? জটিলতা কী এবং তা কত প্রকার?

অত্যধিক পুনরাবৃত্তি কী? সম্বন্ধ পদের পর্যায়ক্রমিক ব্যবহার কী? বক্তার সাবলীলতা কী?
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৪০)
البلاغة

البلاغة في اللغة (الوُصول والأنتِهاء) يقال بلغ فلان مراده - إذا وصل إليه، وبلغ الركب المدينة - إذا انتهى اليها (1)

وَمبلغ الشيء منتهاه

وبلغ الرجل بلاغة - فهو بليغ: إذا أحسَن التّعبير عمَّا في نفسه وتقع البلاغة في الاصطلاح: وصفا للكلام، والمتكلّم فقط ولا توصف «الكلمة» بالبلاغة، لقصورها عن الرسول بالمُتكلَّم إلى غرضه، ولعدم السّماع بذلك.

بلاغة الكلام

البلاغة في الكلام: مطابقته لما يقتضيه حال الخطاب (2) - مع فصاحة ألفاظه «مفردها ومركبها» .

--------------------------------------------

(1) البلاغة هي تأدية المعنى الجليل واضحاً بعبارة صحيحة فصيحة: لها في النفس أثر خلاب، مع ملاءمة كل كلام للموطن الذي يقال فيه، والاشخاص الذين يخاطبون والبلاغة مأخوذة من قولهم، بلغت الغاية إذا انتهيت اليها، وبلغتها غيري - والمبالغة في الشيء الانتهاء إلى غايته - فسميت البلاغة بلاغة لأنها تنهى عن المعنى إلى قلب السامع فيفهمه، وسميت البلغة بلغة لأنك تتبلغ بها، فتنتهي بك إلى ما فوقها - وهي البلاغ أيضاً ويقال: الدنيا بلاغ، لأنها تؤديك إلى الآخرة، والبلاغ أيضاً التبليغ - ومنه: هذا بلاغ للناس - أي تبليغ - ويقال بلغ الرجل بلاغة إذا صار بليغاً، كما يقال نبل الرجل نبالة إذا صار نبيلا - قال أعرابي: البلاغة التقرب من البعيد، والتباعد من الكلفة، والدلالة بقليل على كثير - وقال عبد الحميد بن يحيى - البلاغة تقرير المعنى في الأفهام من أقرب وجوه الكلام - وقال ابن المعتز البلاغة البلوغ إلى المعنى ولم يطل سفر الكلام - وقال العتابي: البلاغة مد الكلام بمعانيه إذا قصر، وحسن التأليف إذا طال - وقال عبد الله ابن المقفع: البلاغة لمعان تجري في وجوه كثيرة - فمنها ما يكون في الاشارة، ومنها ما يكون في =

الحديث، ومنها ما يكون في الاستماع، ومنها ما يكون في الاحتجاج، ومنها ما يكون شعراً، ومنها ما يكون ابتداء، ومنها ما يكون جواباً ومنها ما يكون خطباً، ومنها ما يكون رسائل، فعامة هذه الأبواب الوحي فيها والاشارة إلى المعنى ابلغ - والايجاز هو البلاغة، فالسكوت يسمى بلاغاً مجازاً - وهي في حالة لا ينجع فيها القول، ولا ينفع فيها إقامة الحجج - إما عند جاهل لا يفهم الخطاب أو عند وضيع لا يرهب الجواب، او ظالم سليط يحكم بالهوى، ولا يرتدع بكلمة التقوى وإذا كان الكلام يعرى من الخير، أو يجلب الشر فالسكوت أولى، وقال الرشيد: البلاغة التباعد من الاطالة، والتقرب من البغية، والدلالة بالقليل من اللفظ، على الكثير من المعنى قال أحد الأدباء: ابلغ الكلام ما حسن إيجازه، وقل مجازه، وكثر إعجازه، وتناسبت صدوره وأعجازه.

(2) مقتضى الحال - هو ما يدعو إليه الأمر الواقع، أي ما يستلزمه مقام الكلام واحوال المخاطب من التكلم على وجه مخصوص، ولن يطابق الحال إلا إذا كان وفق عقول المخاطبين، واعتبار طبقاتهم في البلاغة، وقوتهم في البيان والمنطق - فللسوقة كلام لا يصلح غيره في موضعه، والغرض الذي يبنى له، ولسراة القوم والأمراء فن آخر لايسد مسده سواه - من أجل ذلك كانت مراتب البلاغة متفاوتة، بقدر تفاوت الاعتبارات والمقتضيات، وبقدر رعايتها يرتفع شأن الكلام في الحسن والقبح، ويرتقي صعداً إلى حيث تنقطع الاطماع، وتخور القوى، ويعجز الانس والجن أن يأتو بمثله ولو كان بعضهم لبعض ظهيراً، وتلك مرتبة الأعجاز التي تخرس عندها ألسن الفصحاء لو تاقت إلى العبارة: وقد عرف بالخبر المتواتر أن القرآن الكريم نزل في أرقى العصور فصاحة، وأجملها بلاغة ولكنه سد السبل أمام العرب عند ما صاح عليهم صيحة الحق، فوجفت قلوبهم، وخرست شقاشقهم، مع طول التحدي وشد النكير (وحقت للكتاب العزيز الكلمة العليا) .
বালাঘাত (অলঙ্কারশাস্ত্র)

অভিধানে বালাঘাতের অর্থ হলো (পৈাঁছানো এবং সমাপ্তি)। বলা হয়ে থাকে, অমুক ব্যক্তি তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করেছে - অর্থাৎ যখন সে সেখানে পৌঁছেছে। আর কাফেলাটি শহরে পৌঁছেছে - যখন সেটি সেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে (১)।

কোনো জিনিসের 'মাবলাগ' হলো তার শেষ সীমা।

আর কোনো ব্যক্তি যখন তার মনের ভাব সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়, তখন তাকে 'বালিগ' (বাগ্মী) বলা হয়। পরিভাষায় 'বালাঘাত' শব্দটি কেবল বাক্য এবং বক্তার বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একক 'শব্দ'-কে 'বালিগ' বা সাবলীল বলা হয় না; কারণ এটি বক্তার উদ্দেশ্য পূর্ণভাবে পৌঁছে দিতে সক্ষম নয় এবং এ ধরনের ব্যবহারের কোনো নজিরও শোনা যায়নি।

বাক্যের বালাঘাত

বাক্যের বালাঘাত হলো: তার শব্দাবলি (একক ও যৌগিক উভয় ক্ষেত্রে) প্রাঞ্জল হওয়ার পাশাপাশি বক্তব্যের পরিস্থিতির দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া (২)।

--------------------------------------------

(১) বালাঘাত হলো সুমহান অর্থকে সঠিক ও প্রাঞ্জল শব্দের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা, যা অন্তরে এক চমৎকার প্রভাব বিস্তার করে; এর পাশাপাশি প্রতিটি কথাকে তার প্রেক্ষাপট এবং সম্বোধিত ব্যক্তিদের অবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হয়। বালাঘাত শব্দটি তাদের এই কথা থেকে নেওয়া হয়েছে—'আমি লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি', যখন তুমি সেখানে গিয়ে শেষ করেছ বা অন্য কাউকে সেখানে পৌঁছে দিয়েছ। কোনো বিষয়ে 'মুবালগা' মানে তার শেষ সীমায় পৌঁছানো। সুতরাং বালাঘাতকে বালাঘাত বলা হয় কারণ এটি অর্থকে শ্রোতার অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং সে তা বুঝতে পারে। 'বুলগা' (জীবিকা) কে বুলগা বলা হয় কারণ তুমি এর মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করো এবং এটি তোমাকে তার পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যায়। একে 'বালাগ'ও বলা হয়। যেমন বলা হয়: 'দুনিয়া একটি বালাগ', কারণ এটি তোমাকে পরকাল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। 'বালাগ' মানে পৌঁছে দেওয়াও হয়—যেমন: 'এটি মানুষের জন্য এক বালাগ' অর্থাৎ পৌঁছে দেওয়া। কোনো ব্যক্তি বাগ্মী হলে বলা হয় 'বালাগাতুর রাজুলু' (ব্যক্তিটি বাগ্মী হয়েছে), যেমনটি বলা হয় 'নাবালুর রাজুলু' যখন সে মর্যাদাবান হয়। এক আরব বেদুইন বলেছেন: বালাঘাত হলো দূরকে নিকটে আনা, কৃত্রিমতা বর্জন করা এবং অল্প কথায় অধিক অর্থ নির্দেশ করা। আব্দুল হামিদ বিন ইয়াহইয়া বলেন: বালাঘাত হলো বক্তব্যের নিকটতম উপায়ে শ্রোতার বুঝে অর্থকে বদ্ধমূল করে দেওয়া। ইবনুল মু’তায বলেন: বালাঘাত হলো শব্দের দীর্ঘ সফর না করেই অর্থের কাছে পৌঁছানো। আল-আত্তাবি বলেন: বালাঘাত হলো সংক্ষিপ্ত কথাকে তার অর্থ দিয়ে টেনে বড় করা এবং দীর্ঘ কথাকে সুন্দরভাবে সাজানো। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা বলেন: বালাঘাত হলো এমন কিছু দ্যুতি যা বিভিন্ন দিক থেকে প্রবাহিত হয়—কখনো ইঙ্গিতে, কখনো বক্তৃতায়, কখনো শ্রবণে, কখনো যুক্তিতর্কে, কখনো কবিতায়, কখনো সূচনাতে, কখনো উত্তরে, কখনো খুতবায়, আবার কখনো পত্রাবলীতে। এই সব ক্ষেত্রেই সারকথা হলো খুব দ্রুত মূল অর্থের দিকে ইঙ্গিত করা—আর সংক্ষিপ্ত করাই হলো বালাঘাত। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে নীরবতাকেও রূপকভাবে বালাঘাত বলা হয়—আর এটি এমন অবস্থায় যখন কথা কোনো কাজে আসে না এবং দলিল উপস্থাপনেও কোনো লাভ হয় না; যেমন এমন কোনো মূর্খের সামনে যে কথা বোঝে না, অথবা এমন কোনো নীচ ব্যক্তির সামনে যে উত্তরের পরোয়া করে না, অথবা এমন কোনো প্রভাবশালী জালেমের সামনে যে খেয়ালখুশি মতো বিচার করে এবং তাকওয়ার কথায় কর্ণপাত করে না। আর যখন কথা কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণ বয়ে আনে, তখন নীরব থাকাই শ্রেয়। খলিফা হারুনুর রশীদ বলেছেন: বালাঘাত হলো দীর্ঘসূত্রতা থেকে দূরে থাকা, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের নিকটবর্তী হওয়া এবং অল্প শব্দের মাধ্যমে ব্যাপক অর্থের দিকে পথনির্দেশ করা। জনৈক সাহিত্যিক বলেছেন: সর্বোত্তম কথা সেটিই যার সংক্ষিপ্ত রূপ সুন্দর, রূপক কম, অলৌকিকত্ব বেশি এবং যার শুরু ও শেষের মধ্যে চমৎকার সামঞ্জস্য বিদ্যমান।

(২) পরিস্থিতির দাবি হলো বর্তমান অবস্থা যা দাবি করে, অর্থাৎ বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং সম্বোধিত ব্যক্তির অবস্থা অনুযায়ী একটি বিশেষ পদ্ধতিতে কথা বলার আবশ্যকতা। পরিস্থিতি তখনই মানানসই হবে যখন তা শ্রোতাদের বুদ্ধিবৃত্তি, তাদের অলঙ্কারিক জ্ঞান এবং যুক্তি ও বর্ণনাশৈলীর স্তর অনুযায়ী হবে। সাধারণ মানুষের জন্য এমন ভাষা প্রযোজ্য যা অন্য কোথাও চলে না এবং যার জন্য মূল লক্ষ্য নির্ধারিত হয়। আবার উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও নেতৃবৃন্দের জন্য স্বতন্ত্র শিল্পরীতি রয়েছে যা ছাড়া অন্য কিছু অচল। এই কারণেই বালাঘাতের স্তরগুলো প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির বিভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। আর এগুলোর যথাযথ অনুসরণের মাধ্যমেই কথার সৌন্দর্য বা কদর্যতা বৃদ্ধি পায় এবং তা এমন উচ্চতায় আরোহণ করে যেখানে মানুষের আকাঙ্ক্ষা স্তব্ধ হয়ে যায়, শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায় এবং মানুষ ও জিন তার সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম হয়ে পড়ে, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়। এটিই হলো অলৌকিকত্বের সেই স্তর, যার সামনে বাগ্মীদের জিহ্বা আড়ষ্ট হয়ে যায় যদি তারা তা ব্যক্ত করতে চায়। অবিচ্ছিন্ন সংবাদের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে, পবিত্র কুরআন এমন এক যুগে অবতীর্ণ হয়েছে যা ছিল প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের স্বর্ণযুগ। কিন্তু কুরআন যখন সত্যের আওয়াজ তুলল, তখন তা আরবদের সমস্ত পথ রুদ্ধ করে দিল; ফলে তাদের অন্তর কেঁপে উঠল এবং দীর্ঘ সময় ধরে চ্যালেঞ্জ ও কঠোর সমালোচনা সত্ত্বেও তাদের বাগ্মিতা স্তব্ধ হয়ে গেল (এবং মহান কিতাবের বাণীই সর্বোচ্চ থাকল)।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৪১)
والكلام البليغ: هو الذي يُصورَّه المتُكلِّم بصورة تناسبُ أحوال المخاطبين.

وحال الخطاب «ويسمى بالمقام» هو الأمر الحامل للمتكلم على أن يُوردَ عبارته على صورة مخصوصة دون أخرى.

والمُقتضَى - «ويسمى الاعتبار المُناسب» هو الصورة المخصوصة التي تُورَدُ عليها العبارة.

مثلاً - المدح - حال يدعو لا يراد العبارة على صورة الإطناب وذكاء المخاطب - حال يدعو لإيرادها على صورة الإيجاز فكلٌ من المدح والذكاء «حال ومقام» وكلٌّ من الإطناب والإيجاز «مُقتضَى» ، وإيراد الكلام على صورة الاطناب (1) أو لايجاز «مُطابقة للمقُتضَى» وليست البلاغة (2)

إذاً مُنحصرة في إيجاد

--------------------------------------------

(1) فان اختلاف هذه الظروف يقتضي هيئة خصوصية من التعبير - ولكل مقام مقال، فعلى المتكلم ملاحظة المقام أو الحال: وهو الأمر الذي يدعوه إلى أن يورد كلامه على صورة خاصة تشاكل غرضه، وتلك الصورة الخاصة التي يورد عليها تسمى المقتضى - او الاعتبار المناسب، فمثلاً الوعيد والزجر والتهديد مقام يقتضي كون الكلام المورد فيه فخما جزلا والبشارة بالوعد، واستجلاب المودة، مقام يتطلبه رقيق الكلام ولطيفه، والوعظ مقام يوجب البسط والاطناب، وكون المخاطب عاميا سوقيا، أو أميراً شريفاً، يوجب الاتيان بما يناسب بيانه عقله.

(2) لأن البلاغة كل ما تبلغ به المعنى قلب السامع، فتمكنه في نفسه كتمكنه في نفسك، مع صورة مقبولة، ومعرض حسن - وإنما جعلنا حسن المعرض وقبول الصورة شرطا في البلاغة، لأن الكلام إذا كانت عبارته رثة، ومعرضه خلقا، لم يسم بليغاً وإن كان مفهوم المعنى، مكشوف المغزى. فعناصر البلاغة إذاً (لفظ ومعنى، وتأليف للألفاظ) ، يمنحها قوة وتأثيراً وحسنا، ثم دقة في اختيار الكلمات والأساليب، على حسب مواطن الكلام ومواقعه، موضوعاته وحال السامعين، والنزعة النفسية التي تتملكهم وتسيطر على نفوسهم - فرب كلمة حسنت في موطن، ثم كانت مستكرهة في غيره - ورب كلام كان في نفسه حسنا خلايا، حتى إذا جاء في غير مكانه، وسقط في غير مسقطه، خرج عن حد البلاغة، وكان غرضا لسهام الناقدين..
সাবলীল কথা: হলো তা, যা বক্তা সম্বোধিত ব্যক্তিদের অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কোনো রূপে উপস্থাপন করেন।

সম্বোধনের অবস্থা (যাকে 'মাকাম' বা প্রেক্ষিত বলা হয়) হলো সেই বিষয়টি, যা বক্তাকে তার বক্তব্য অন্য কোনো পন্থার পরিবর্তে একটি বিশেষ রূপে উপস্থাপন করতে উদ্বুদ্ধ করে।

'মুকতাদা' (যাকে 'উপযুক্ত বিবেচনা' বলা হয়) হলো সেই বিশেষ রূপ, যার মাধ্যমে বক্তব্যটি উপস্থাপন করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ—প্রশংসা করা একটি 'হাল' বা অবস্থা, যা বক্তব্য দীর্ঘ করার দাবি রাখে। আবার শ্রোতার বুদ্ধিমত্তা একটি 'হাল', যা বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার দাবি রাখে। সুতরাং প্রশংসা এবং বুদ্ধিমত্তা উভয়ই 'হাল ও মাকাম'। আর দীর্ঘায়ন এবং সংক্ষিপ্তকরণ উভয়ই 'মুকতাদা'। আর কথাকে দীর্ঘ (১) বা সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করা হলো 'মুকতাদার সাথে সামঞ্জস্যতা'। আর বালাগাত (২)

অতএব কেবল সৃষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়

--------------------------------------------

(১) কারণ এই পরিস্থিতিগুলোর ভিন্নতা প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শৈলীর দাবি রাখে—এবং প্রতিটি মাকামের (প্রেক্ষিত) জন্য উপযুক্ত মাকাল (বক্তব্য) রয়েছে। সুতরাং বক্তার উচিত মাকাম বা হাল লক্ষ্য করা: আর তা হলো এমন বিষয় যা তাকে তার বক্তব্যকে একটি বিশেষ রূপে পেশ করতে উদ্বুদ্ধ করে যা তার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। বক্তব্যটি যে বিশেষ রূপে উপস্থাপিত হয় তাকেই 'মুকতাদা' বা 'উপযুক্ত বিবেচনা' বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভীতি প্রদর্শন, ধমক ও হুমকি এমন একটি মাকাম যা দাবি করে যে সেখানে উপস্থাপিত কথাটি হবে গাম্ভীর্যপূর্ণ ও বলিষ্ঠ। পক্ষান্তরে প্রতিশ্রুতির সুসংবাদ দান এবং ভালোবাসা অর্জন এমন একটি মাকাম যা কোমল ও সূক্ষ্ম কথা দাবি করে। আর উপদেশ প্রদান এমন একটি মাকাম যা বিস্তারিত ও দীর্ঘ বক্তব্যের দাবি রাখে। আবার সম্বোধিত ব্যক্তি যদি সাধারণ সাধারণ স্তরের লোক হয় অথবা কোনো উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন আমীর হয়, তবে তার বোধশক্তি ও বুদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করা আবশ্যক।

(২) কারণ বালাগাত হলো এমন সব মাধ্যম যার দ্বারা অর্থ শ্রোতার হৃদয়ে পৌঁছে যায় এবং তা তার মনে এমনভাবে গেঁথে যায় যেমনটি আপনার নিজের মনে আছে; সাথে সাথে তা হতে হবে গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর উপস্থাপনা সমৃদ্ধ। আমরা সুন্দর উপস্থাপনা ও গ্রহণযোগ্যতাকে বালাগাতের শর্ত হিসেবে গণ্য করেছি কারণ যদি বক্তব্যের শব্দগুলো জীর্ণ হয় এবং উপস্থাপনা মলিন হয়, তবে অর্থ বোধগম্য ও মর্মার্থ স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তাকে সাবলীল (বালীগ) বলা হবে না। সুতরাং বালাগাতের উপাদানগুলো হলো (শব্দ, অর্থ এবং শব্দের বিন্যাস), যা তাকে শক্তি, প্রভাব ও সৌন্দর্য দান করে। এরপর বক্তব্যের স্থান ও পরিস্থিতি, বিষয়বস্তু, শ্রোতাদের অবস্থা এবং তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী মানসিক প্রবণতা অনুযায়ী শব্দ ও শৈলী নির্বাচনে সূক্ষ্মতা অবলম্বন করা। কারণ অনেক সময় একটি শব্দ এক স্থানে সুন্দর মনে হয়, কিন্তু অন্য স্থানে তা অপছন্দনীয় হয়। আবার অনেক কথা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়, কিন্তু যদি তা যথাস্থানে প্রয়োগ করা না হয় বা অনুপযুক্ত জায়গায় ব্যবহৃত হয়, তবে তা বালাগাতের সীমা থেকে বিচ্যুত হয় এবং সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৪২)
معان جليلة، ولا في اختيار ألفاظ واضحة جزيلة، بل هي تتناول مع هذين الأمرين أمراً ثالثاً (هو إيجاد أساليب مُناسبة للتأليف بين تلك المعاني والألفاظ) مما يُكسبها قوَّة وجمالا وملخص القول - إنَّ الأمر الذي يَحملُ المُتكلّم على إيراد كلامه في صورة دون أخرى: يُسمى «حالا» وإلقاء الكلام على هذه الصُّورة التي اقتضاها الحال يُسمى «مُقتضَى» والبلاغة هي مُطابقة الكلام الفصيح لما يقتضيه الحال.

بلاغة المتكلم

بلاغة المتكلم: هي مَلَكة في النَّفس (1)

يقتَدرُ بِهَا صاحبها علىتأليف كلام بليغ: مُطابق لمقتَضَى الحال، مع فصاحته في أيّ معنى قَصَده وتلك غاية لن يَصِل إليها إلَاّ من أحاط بأساليب العرب خُبرا وعرف سُنن تخاطُبهم في مُنافراتهم، ومفاخراتهم، ومديحهم، وَهجائهم وَشكرهم، واعتذارهم، لِيلَبس لكل حالة لبُوسها «ولكلِّ مقام مَقال» .

--------------------------------------------

(1) أي أن الهيئة والصفة الراسخة الثابتة في نفس المتكلم يمكنه بواسطتها أن يعبر عن المعاني التي يريد إفادتها لغيره بعبارات بليغة؛ أي مطابقة لحال الخطاب، فلو لم يكن ذا ملكة يقتدر بها على التصرف في اغراض الكلام وفنونه بقول رائع، وبيان بديع بالغاً من مخاطبه كل ما يريد، لم يكن بليغاً - وإذاً لابد للبليغ: أولا - من التفكير في المعاني التي تجيش في نفسه، وهذه يجب أن تكون صادقة ذات قيمة، وقوة يظهر فيها أثر الابتكار وسلامة النظر وذوق تنسيق المعاني وحسن ترتيبها، فاذا تم له ذلك عمد إلى الالفاظ الواضحة المؤثرة الملائمة، فألف بينها تأليفاً يكسبها جمالا وقوة.

فالبلاغة ليست في اللفظ وحده، وليست في المعنى وحده، ولكنها أثر لازم لسلامة تألبف هذين وحسن انسجامهما، وقد علم أن البلاغة أخص والفصاحة أعم لانها مأخوذة في تعريف البلاغة - وان البلاغة يتوقف حصولها على أمرين - الأول: الاحتراز عن الخطأ في تأدية المعنى المقصود، والثاني: تمييز الكلام الفصيح من غيره - لهذا كان للبلاغة درجات متفاوتة تعلو وتسفل في الكلام بنسبة ما تراعى فيه مقتضيات الحال - وعلى مقدار جودة ما يستعمل فيه من الأساليب في التعبير والصور البيانية والمحسنات البديعية، وأعلى تلك الدرجات ما يقرب من حد الاعجاز، واسفلها ما إذا غير الكلام عنه إلى ما هو دونه التحق عند البلغاء بأصوات الحيوانات العجم وان كان صحيح الاعراب: وبين هذين الطريفين مراتب عديدة.
সুমহান অর্থাবলি, কিংবা সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল শব্দাবলি চয়ন করাই শুধু উদ্দেশ্য নয়; বরং এই দুটির সাথে এটি একটি তৃতীয় বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে (তা হলো সেই সকল অর্থ ও শব্দের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য উপযুক্ত শৈলী উদ্ভাবন করা), যা উক্ত বাক্যে শক্তি ও সৌন্দর্য দান করে। সারসংক্ষেপ হলো—যে বিষয়টি বক্তাকে তার বক্তব্যকে অন্য কোনো রূপের পরিবর্তে একটি বিশেষ রূপে প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ করে, তাকে 'হাল' (পরিস্থিতি) বলা হয়। আর পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী সেই বিশেষ রূপে বক্তব্য প্রদান করাকে 'মুকতাদা' (দাবি) বলা হয়। আর বালাঘাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) হলো পরিস্থিতি বা অবস্থার দাবি অনুযায়ী প্রাঞ্জল কথা বলা।

বক্তার সাবলীলতা (বালাঘাত)

বক্তার সাবলীলতা: এটি মনের একটি সক্ষমতা বা গুণ (১)

যার মাধ্যমে বক্তা পরিস্থিতি বা অবস্থার দাবি অনুযায়ী প্রাঞ্জল ও সুসংহত বক্তব্য রচনায় সক্ষম হন, সাথে সাথে তিনি যে অর্থই উদ্দেশ্য করুন না কেন তাতে তার বক্তব্যে সাবলীলতা বজায় থাকে। এটি এমন এক লক্ষ্য যা কেবল সেই ব্যক্তিই অর্জন করতে পারে, যে আরবদের প্রকাশশৈলী সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখে এবং তাদের পারস্পরিক বিবাদ, গৌরবগাথা, প্রশংসা, নিন্দা, কৃতজ্ঞতা ও ওজর পেশ করার রীতিনীতি সম্পর্কে অবগত। যাতে সে প্রতিটি পরিস্থিতির উপযোগী রূপ দান করতে পারে এবং 'প্রত্যেক স্থানের জন্য উপযোগী বক্তব্য রয়েছে'—এই নীতির অনুসরণ করতে পারে।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ, বক্তার অন্তরে প্রোথিত এমন একটি সুদৃঢ় অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে তিনি অন্যদের নিকট তার অভিপ্রেত অর্থসমূহ অত্যন্ত সাবলীল অভিব্যক্তিতে প্রকাশ করতে পারেন; যা পরিস্থিতির দাবির সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সুতরাং যদি বক্তার এমন কোনো সক্ষমতা না থাকে যার মাধ্যমে তিনি বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও শৈলীসমূহে চমৎকার বাচনভঙ্গি ও অপূর্ব বিবৃতির সাহায্যে শ্রোতার ওপর পূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, তবে তাকে সাবলীল বা 'বালিগ' বলা হবে না। অতএব, একজন সাবলীল বক্তার জন্য অপরিহার্য হলো: প্রথমত—নিজের মনে উদিত হওয়া অর্থ ও ভাবসমূহ নিয়ে চিন্তা করা। এই ভাবসমূহ অবশ্যই সত্যনিষ্ঠ, মূল্যবান এবং শক্তিশালী হতে হবে, যাতে তাতে সৃজনশীলতা, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভাবসমূহ সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যাসের রুচিবোধের ছাপ থাকে। যখন এটি সম্পন্ন হবে, তখন তিনি সুস্পষ্ট, প্রভাবশালী ও উপযুক্ত শব্দাবলি চয়ন করবেন এবং সেগুলোর মধ্যে এমনভাবে সমন্বয় করবেন যা তাকে সৌন্দর্য ও শক্তি দান করে।

সুতরাং সাবলীলতা কেবল শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আবার কেবল অর্থের মধ্যেও নয়; বরং এটি শব্দ ও অর্থের সঠিক সমন্বয় এবং চমৎকার সামঞ্জস্যের একটি অপরিহার্য ফলাফল। এটি বিদিত যে, 'বালাঘাত' হলো বিশেষ এবং 'ফাসাহাত' (প্রাঞ্জলতা) হলো সাধারণ; কারণ বালাঘাতের সংজ্ঞায় ফাসাহাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বালাঘাত অর্জিত হওয়া দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—প্রথমটি হলো: উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশে ভুল থেকে বেঁচে থাকা। দ্বিতীয়টি হলো: প্রাঞ্জল বক্তব্যকে অপ্রাঞ্জল বক্তব্য থেকে পৃথক করা। এই কারণেই বালাঘাতের বিভিন্ন স্তর রয়েছে যা পরিস্থিতির দাবি রক্ষার তারতম্য অনুযায়ী বক্তব্যে উচ্চে বা নিচে অবস্থান করে। এটি প্রকাশভঙ্গি, আলঙ্কারিক উপমা এবং ভাষাশৈলীর উৎকর্ষের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। এই স্তরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর হলো যা অলৌকিকতার (মুজিযা) সীমানার কাছাকাছি, আর সর্বনিম্ন স্তর হলো এমন যে, যদি বাক্যকে তার চেয়ে নিচু স্তরে নামিয়ে দেওয়া হয় তবে তা অলঙ্কারবিদদের নিকট অবোধ পশুর আওয়াযের সমতুল্য হবে, যদিও তার ব্যাকরণগত গঠন সঠিক থাকে। এই দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থানে আরও অনেক স্তর রয়েছে।
(খণ্ড: ১) জাওয়াহিরুল বালাগাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
أقوال ذوي النبوغ والعبقرية في البلاغة

(1) قال قُدامَة: البلاغة ثلاثة مذاهبَ:

المُساواة: وهي مُطابقة اللَّفظ المعني: لا زائداً ولا ناقصاً.

والإشارة: وهي أن يكون اللفظ كاللَّمحة الدَّالة.

والتَّذييلُ: وهو إعادة الألفاظ المُترادفة على المعنى الواحد، ليظهر لمن لم يفهمه، ويتأكد عند من فهمه (1) .

أولاً - من التفكير في المعاني التي تجيش في نفسه، وهذه يجب أن تكون صادقة ذات قيمة، وقوة يظهر فيها أثر الابتكار وسلامة النظر وذوق تنسيق المعاني وحسن ترتيبها، فاذا تم له ذلك عمد إلى الالفاظ الواضحة المؤثرة الملائمة، فألف بينها تاليفاً يكسبها جمالا وقوة.

فالبلاغة ليست في اللفظ وحده، وليست في المعنى وحده، ولكنها أثر لازم لسلامة تألف هذين وحسن انسجامهما، وقد علم أن البلاغة أخص والفصاحة أعم لانها مأخوذة في تعريف البلاغة - وان البلاغة يتوقف حصولها على أمرين - الأول: الاحتراز عن الخطأ في تأدية المعنى المقصود، والثاني: تمييز الكلام الفصيح من غيره- لهذا كان للبلاغة درجات متفاوتة تعلو وتسفل في الكلام بنسبة ما تراعى فيه مقتضيات الحال - وعلى مقدار جودة ما يستعمل فيه من الأساليب في التعبير والصور البيانية والمحسنات البديعية، وأعلى تلك الدرجات ما يقرب من حد الاعجاز، واسفلها ما إذا غير الكلام عنه إلى ما هو دونه التحق عند البلغاء باصوات الحيوانات العجم وان كان صحيح الاعراب: وبين هذين الطريفين مراتب عديدة.

(2) وقيل لجعفر بن يحيى: ما البيان؟ فقال: أن يكون اللفظ محيطاً بمعناك، كاشفاً عن مغزاك، وتخرجه من الشركةِ، ولا تستعين عليه بطول الفكرة> ويكون سالماً من التكلّف، بعيداً من سوء الصِّنعة، بريئاً من التعقيد، غنياً عن التأمل (2) .

(3) ومما قيل في وصف البلاغة: لا يكون الكلام يستحقّ اسم البلاغة حتى يُسابِقَ معناهُ لَفظَهُ معناه، فلا يكون لَفظه إلى سمعك أسبقَ من معناه إلى قلبك (3)

(4) وسأل معاوية صُحَاراً العَبديَّ: ما البلاغة؟ قال: أن تُجيب فلا تُبطىء، وتُصيبَ فلا تُخطىء (4) .

(5) وقال الفضل: قلت لأعرابي ما البلاغة؟ قال: الايجازُ في غير عَجز، والاطناب في غير خَطَلٍ (5) .

(6) وسُئل ابن المُقفع: ما البلاغة؟ فقال: البلاغة اسمٌ جَامِعٌ لمعانٍ تجري في وجوه كثيرة: فمنها ما يكون في السكوت، ومنها ما يكون في الاستماع، ومنها ما يكون في الاشارة، ومنها ما يكون في الحديث، ومنها ما يكون في الاحتجاج، ومنها ما يكون سَجعاً وخُطباً، ومنها ما يكون رَسَائلَ، فعامَّةُ ما يكون من هذه الأبواب - الوحيُ فيها، والاشارة إلى المعنى، والإيجاز، هو البلاغة.

فأمَّا الخُطبُ بين السِّماطينِ، وفي إصلاح ذاتِ البَينِ، فالإكثار في غير خَطلٍ، والاطَالَةَ في غير إملالٍ، وليَكن في صَدرِ كلامك دليلٌ على حاجتك، فقيل له: فإن مَلَّ المُستمعُ الاطالَة التي ذَكرتَ أنَّها حَقٌّ ذلك الموقف؟ قال: إذا أعطيتَ كل َّ مقام حَقَّهُ، وقَمتَ بالذي يجبُ من سياسة ذلك المقام، وأرضيتَ مَن يَعرفَ حقوقَ الكلام - فلا تهتم لما فاتك من رضا الحاسد والعدوّ، فإنه لا يُرضيهمَا شيء، وأما الجاهلُ فَلَستَ منه، وليس منك، وقد كان يقال: (رِضاء الناس شيء لا يُنال (6))

(7) ولابنِ المُعتّزّ: أبلغُ الكلام: ما حَسُنَ إيجازُهُ، وَقلَّ مَجَازُه، وكَثُر إعجازُه، وتناسَبت صُدُوره وأعجَازُه (7) .

(8) وسمع خالدُ بنُ صَفوَان رجلاً يتكلّم، ويكثرُ الكلام، فقال: اعلم (رحمك الله) أن البلاغة ليست بخفَّة اللّسان، وكثرة الهذيان، ولكنها بإصابة المعنى، والقصد إلى الحُجّة (8)

(9) ولبشرِ بن المعُتمرِ: فيما يجب أن يكون عليه الخطيب والكاتب رسالة من أنفس الرسائل الأدبية البليغة، جمعت حدود البلاغة وصوّرتها أحسَنَ تصوير، وسنذكر مع شيء من الإيجاز ما يتصل منها بموضوعنا - قال:

خُذ من نفسك سَاعةَ نشاطك، وفراغِ بالكَ، وإجابتها إيَّاك؛ فانّ قليلَ تلك الساعة أكرَمُ جَوهَراً، واشرفُ حسباً، وأحسّنُ في الأسماع، وأحلى في الصُّدُور، واسلمُ من فاحش الخطأ، وأجلَبُ لكل عَينٍ وغُرَّة: من لفظ شريف، ومعنى بديع.

واعلم أن ذلك أجدَى عليك: مما يعطيك يَومُكَ الأطولُ بالكَد والمُطاوَلة والمجاهدة، وبالتكلُّفِ والمعاودة.

وإيَّاك والتّوعُرَ؛ فإنّ التّوعر يُسلِمُك إلى التّعقيد، والتعقيد هو الذي يستهلك معانيكَ، ويشين ألفاظَك، ومن اراد معنى كريماً فَليَلتمس له لفظاً كريماً، فإن حقَّ المعنى الشريف اللفظُ الشريف، ومن حقِهِّما أن تصونهما عما يفسدهما ويهُجِّنهما....

وكن في ثلاث منازل: فان أولى الثلاث ان يكون لفظكَ رشيقاً عذباً، وفَخماً سهلاً، ويكونَ معناك ظاهراً مكشوفاً، وقريباً معروفاً، إمَّا عند الخاصة: إن كنت للخاصة قَصَدت، وإمَّا عند العامة: إن كنت للعامة أرَدت، والمعنى ليس يشرُف بأن يكون من معاني الخاصة، وكذلك ليس يَتَّضِعُ بان يكون من معاني العامة، وإنما مدار الشرف على الصواب، وإحراز المنفعة، مع موافقة الحال، وما يجب لكل مقام من المقال، وكذلك اللفظُ العامِّي والخاصِّي، فان أمكنك أن تبلغ من بيان لسانك، وبلاغة قلمك، ولطف مَدَاخلك، واقتدارك على نفسك.

على أن تفهم العامة معاني الخاصة، وتكسوها الألفاظ الواسِعةَ التي لا تلطفُ عن الدّهمَاءن ولا تجفُو عن الأكفاء، فأنت البليغ التام.

فان كانت المنزلة الأولى لا تُواتيك ولا تَعتَريك، ولا تسنح لك عند أوّل نظرِك، وفي أوّل تكلّفك، وتجد اللفظة لم تقع مَوقِعها ن ولم تصل إلى قرارها وإلى حقَّها: من أماكنها المقسومة لها، والقافية لم تحُلَّ في مركزها وفي نصابها، ولم تصل بشكلها، وكانت قلقة في مكانها، نافرة من موضعها، فلا تُكرهها على اغتصاب الأماكن، والنّزول في غير أوطانها، فانك إذا لم تتعاط قرضَ الشعر الموزون، ولم تتكلّف أختيار الكلام المنثور، لم يَعبكَ بترك ذلك أحد، وإن انت تكلَّفته، ولم تكن حاذقاً مطبوعاً، ولا مُحكماً لسانك، بصيراً بما عليك أو مَالَك - عابك من أنت أقَلُّ عيباً منه، ورأى من هو دونَكَ أنهُ فوقك.

فإن ابتليتَ بان تتكلّفَ القول، وتتعاطى الصّنعة، ولم تسمح لك الطباع في أول وَهلة، وتَعصى عليك بعد إحالة الفِكرة - فلا تَعجَل ولا تضجَر، ودَعهُ بياض يومك، أو سوادَ ليلك، وعاودهُ عند نشاطك وفراغ بالك، فإنك لا تعدَمُ الإجابة وَالمُواتاة، إن كانت هناك طبيعة، أو جَرَيتَ من الصناعة على عِرق.

فإن تَمنَّع عليك بعد ذلك من غير حادث شُغلٍ عَرضَ، ومن غير طول إهمال - فالمنزلة الثالثة أن تتحوّل من هذه الصناعة إلى أشهى الصناعات إليك، وأخفّها عليك … ؛ لأن النفوس لا تجود بمكنونها مع الرغبَة، ولا تسمح بمخزونها مع الرَّهبَة، كما تجُودُ به مع المحبّة والشّهوة. فهكذا هذا.

وينبغي للمتكلم: أن يعرف أقدار المعاني، ويوازن بينها وبين أقدار المستمعين، وبين اقدار الحالات؛ فيجعل لكل طبقة من ذلك كلامان ولكل حالة من ذلك مقامان حتى يقسِّم أقدار الكلام على أقدار المعاني، ويقسِّم أقدار المعاني على أقدار المقامات، واقدار المستمعين على أقدار تلك الحالات.

وبعدُ، فاَنت ترى فيما قالوه: أن حدّ البلاغة - هو أن تجعل لكل مقام مقالا؛ فتوجز: حيث يحسن الإيجاز، وتطنب: حيث يجمل الاطناب، وتؤكد: في موضع التوكيد، وتقدم أو تؤخر: إذا رأيت ذلك أنسبَ لقولك، وأوفى بغرضك، وتخاطب الذكي بغير ما تخاطب به الغبي، وتجعل لكل حال ما يناسبها من القول، في عبارة فصيحة، ومعنى مختار.

ومن هنا عَرَّفَ العلماء «البلاغة» بأَنها: مطابقة الكلام لمقتضَى الحال مع فصاحة عباراته.

واعلم: أنَّ الفرق بين الفصاحة والبلاغة: أن الفصاحةَ مقصورةٌ على وصف الألفاظ، والبلاغةَ لا تكون إلا وصفاً للألفاظ مع المعاني؛ وأن الفصاحةَ تكون وصفاً للكلمة والكلام، والبلاغةَ لا تكون وصفاً للكلمة، بل تكون وصفاً للكلام، وأن فصاحة الكلام شرط في بلاغته؛

فكل كلام بليغ: فصيحٌ، وليس كل فصيح بليغاً، كالذي يقع فيه الإسهاب حين يجب الإيجاز.

تمرين

بيَّن الحال ومقتضاه فيما يلي:

(1) هنَاء محَا ذاك العزاء المُقدما فما عبس المحزونُ حتى تبسَّما (9)

(2) تقول للرّاضي عن إثارة الحروب (إن الحرب مُتلفةٌ للعباد، ذهَّابَةٌ (10) بالطّارف والتَّلاد)

(3) يقول الناس إذا رأوا لِصَّا. أو حريقاً: لصٌّ - حريقٌ (11) .

(4) قال تعالى (وَإنَا لَا نَدرِي أَشَرٌّ أُريدَ (12) بمن في الأرض، أم أرَادَ بِهم رَبُّهُم رَشَدا)

(5) يقول راثى البرَامِكة (13) ..

أُصِبتُ بسَادةٍ كانوا عيوناً بهم نسقى إذا انقطعَ الغَمامُ

ملاحظات

(1) التّنافر - يُعرف (بالذوق) السلَّيم؛ والحِسِّ الصَّادق (14) .

(2) مخالفة القياس: تُعرف (بعلم الصرَّف) .

(3) ضعف التَّأليف والتَّعقيد اللَّفظي: يُعرفان (بعلم النحو) .

(4) الغرَابة: تُعرف بكثرة (الاطّلاع) على كلام العرب، والإحاطة بالمفردات المأنوسة.

--------------------------------------------

(1) نهاية الارب جزء 7 ص - 8.

(2) نهاية الأرب جزء 7 ص 6.

(3) من كتاب البيان والتبيين للجاحظ جزء 1 - صحيفة 91.

(4) نهاية الأرب جزء 7 ص 8..

(5) البيان والتبين للجاحظ جزء 1 ص 91.

(6) البيان والتبيين جزء 1 ص 91، 92.

(7) نهاية الأرب جزء 7 ص 11.

(8) مختار العقد الفريد ص 98.

(9) الحال هنا هو تعجيل المسرة - والمقتضى هو تقديم الكلمة الدالة على السرور - «وهي كلمة هناء»

(10) الحال هنا هو إنكار الضرر من الحرب - والمقتضى هو توكيد الكلام.

(11) الحال هنا هو ضيق المقام - والمقتضى هو الاختصار بحذف المسند إليه والتقدير، هذا لص، هذا حريق.

(12) الحال في (أشر أريد) هو عدم نسبة الشر إلى الله تعالى، والمقتضى هو حذف الفاعل، إذ الأصل، أشر أرادة الله بمن في الأرض.

والحال في (أم أراد بهم ربهم رشداً) هو نسبة الخير إلى الله تعالى، والمقتضى بقاء الفاعل من غير حذف «أي فعل الارادة جاء مع الشر على صورة المبني للمجهول، ومع الرشد على صورة المبني للمعلوم، والحال الداعية إلى بناء الأول للمجهول (التأدب) في جانب الله تعالى بعدم نسبة الشر إليه صراحة، وإن كان الخير والشر مما قدره الله تعالى وأراده» .

(13) الحال هنا هو الخوف من (الرشيد) ناكب البرامكة، والمقتضى حذف الفاعل من اصبت.

(14) الذوق: في اللغة الحاسة يدرك بها طعم المأكل - وفي الاصطلاح - قوة غريزية لها اختصاص بادراك لطائف الكلام ومحاسنه الخفية، وتحصل بالمثابرة على الدرس، وممارسة كلام أئمة الكتاب، وتكراره على السمع، والتفطن لخواص معانيه وتراكيبه - وأيضاً تحصل بتنزيه العقل والقلب عما يفسد الآداب والأخلاق. فان ذلك من أقوى أسباب سلامة الذوق.

أعلم أن (الذوق السليم) هو العمدة في معرفة حسن الكلمات وتمييز ما فيها من وجوه البشاعة ومظاهر الاستكراه، لأن الألفاظ أصوات، فالذي يطرب لصوت البلبل، وينفر من صوت البوم والغربان، ينبو سمعه عن الكلمة إذا كانت غريبة متنافرة الحروف - ألا ترى أن كلمتي (المزنة والديمة - السحابة الممطرة) كلتاهما سهلة عذبة يسكن اليهما السمع بخلاف كلمة (البعاق) التي في معناهما فانها قبيحة تصك الأذن وأمثال ذلك كثير في مفردات اللغة تستطيع أن تدركه بذوقك - وقد سبق شرح ذلك
অলঙ্কারশাস্ত্রে (বালাগাত) প্রজ্ঞাবান ও মনীষীদের উক্তি

(১) কুদামা বলেছেন: বালাগাতের তিনটি পদ্ধতি রয়েছে:

মুসাওয়াত (সমতা): এটি হলো শব্দের সাথে অর্থের পূর্ণ সামঞ্জস্য বিধান করা: যা অতিরিক্তও নয়, আবার কমও নয়।

ইশারা (ইঙ্গিত): এটি হলো শব্দ এমন হবে যা অর্থ নির্দেশক ইশারার মতো কাজ করে।

তাজয়িল (সংযোজন): এটি হলো একই অর্থের ওপর সমার্থক শব্দের পুনরাবৃত্তি করা, যাতে যে বুঝতে পারেনি তার কাছে তা স্পষ্ট হয় এবং যে বুঝেছে তার নিকট তা সুদৃঢ় হয় (১)।

প্রথমত - নিজের মনে যে অর্থগুলো আলোড়িত হচ্ছে তা নিয়ে চিন্তা করা; আর এগুলোকে অবশ্যই সত্য, মূল্যবান ও শক্তিশালী হতে হবে, যাতে তাতে উদ্ভাবনী প্রভাব, সুস্থ দৃষ্টিভঙ্গি, অর্থ বিন্যাসের রুচি ও উত্তম শৃঙ্খলা প্রকাশ পায়। যখন এটি সম্পন্ন হবে, তখন সে স্পষ্ট, প্রভাবশালী ও উপযুক্ত শব্দাবলীর দিকে মনোনিবেশ করবে এবং সেগুলোর মধ্যে এমনভাবে সমন্বয় সাধন করবে যা সেগুলোকে সৌন্দর্য ও শক্তি দান করে।

সুতরাং বালাগাত কেবল শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আবার কেবল অর্থের মধ্যেও নয়; বরং এটি এই দুইয়ের সুস্থ সমন্বয় ও উত্তম সংহতির একটি অনিবার্য ফল। এটি জানা কথা যে, বালাগাত হলো ‘খাস’ (বিশেষ) এবং ফাসাহাত হলো ‘আম’ (সাধারণ), কারণ বালাগাতের সংজ্ঞায় ফাসাহাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বালাগাত অর্জিত হওয়া দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—প্রথমটি: কাঙ্ক্ষিত অর্থ প্রকাশে ভুল করা থেকে বেঁচে থাকা, এবং দ্বিতীয়টি: ফাসিহ ( প্রাঞ্জল) কালামকে অন্যটি থেকে পৃথক করা। এই কারণেই বালাগাতের বিভিন্ন স্তর রয়েছে যা বক্তব্যের পরিস্থিতির দাবি (মুকতাদাল হাল) রক্ষার অনুপাত অনুযায়ী উচ্চে বা নিম্নে অবস্থান করে—এবং তাতে ব্যবহৃত ভঙ্গি, বর্ণনাশৈলী (ইমেজারি) ও অলঙ্কারসমূহের উৎকর্ষের পরিমাণ অনুযায়ী। এই স্তরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চটি হলো যা মুজিজার (অলৌকিকত্বের) সীমার নিকটবর্তী, আর সর্বনিম্নটি হলো সেই বক্তব্য যা থেকে বিচ্যুত হয়ে এর নিচের স্তরে গেলে অলঙ্কারবিদদের নিকট তা অবোধ পশুর শব্দের ন্যায় গণ্য হয়, যদিও তার ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ই’রাব) সঠিক থাকে। আর এই দুই প্রান্তের মাঝে রয়েছে অসংখ্য স্তর।

(২) জাফর ইবনে ইয়াহিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হলো: বয়ান (সুস্পষ্ট প্রকাশ) কী? তিনি বললেন: শব্দ যেন তোমার অর্থকে পরিবেষ্টন করে, তোমার লক্ষ্যকে উন্মোচিত করে, তাকে সংশয় থেকে মুক্ত করে, এবং তা অর্জনে দীর্ঘ চিন্তার সাহায্যের প্রয়োজন না হয়; আর তা যেন কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত, মন্দ নির্মাণশৈলী থেকে দূরে, জটিলতামুক্ত এবং গভীর ভাবনার মুখাপেক্ষীহীন হয় (২)।

(৩) বালাগাতের বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে: কোনো বক্তব্য বালাগাত নামের যোগ্য হয় না যতক্ষণ না তার অর্থ তার শব্দের সাথে পাল্লা দেয়, ফলে তোমার কানে শব্দ পৌঁছানোর আগেই যেন তার অর্থ তোমার হৃদয়ে পৌঁছে যায় (৩)।

(৪) মুয়াবিয়া সুহার আল-আবদীকে জিজ্ঞাসা করলেন: বালাগাত কী? তিনি বললেন: তুমি উত্তর দেবে কিন্তু দেরি করবে না, এবং সঠিক বলবে কিন্তু ভুল করবে না (৪)।

(৫) ফজল বলেছেন: আমি এক আরব বেদুইনকে বললাম, বালাগাত কী? সে বলল: অক্ষমতা ছাড়া সংক্ষিপ্ত করা, আর বিরক্তি ও অসারতা ছাড়া বিস্তারিত বলা (৫)।

(৬) ইবনুল মুকাফফাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: বালাগাত কী? তিনি বললেন: বালাগাত এমন একটি সামষ্টিক নাম যা অনেক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়: তার কিছু নীরবতার মধ্যে, কিছু শ্রবণের মধ্যে, কিছু ইশারার মধ্যে, কিছু কথোপকথনের মধ্যে, কিছু যুক্তিতর্কের মধ্যে, কিছু ছন্দোবদ্ধ গদ্য ও ভাষণের মধ্যে এবং কিছু চিঠিপত্রের মধ্যে। এই সকল বিষয়ের সাধারণ বৈশিষ্ট্য—অর্থাৎ ইশারা, অর্থের দিকে ইঙ্গিত এবং সংক্ষিপ্ততাই হলো বালাগাত।

আর দুই সারির মাঝে প্রদত্ত ভাষণ এবং বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে সন্ধি স্থাপনের ক্ষেত্রে বালাগাত হলো অসারতা ছাড়া বাকবাহুল্য এবং বিরক্তি সৃষ্টি করা ছাড়া দীর্ঘ করা। তোমার বক্তব্যের শুরুতেই যেন তোমার প্রয়োজনের ইঙ্গিত থাকে। তাকে বলা হলো: যদি শ্রোতা সেই দীর্ঘ বক্তব্যে বিরক্ত হয় যাকে আপনি সেই অবস্থানের জন্য সঠিক বলেছেন? তিনি বললেন: যখন তুমি প্রতিটি স্থানকে তার যথাযথ হক দান করবে এবং সেই স্থানের ব্যবস্থাপনার জন্য যা আবশ্যক তা পালন করবে, আর যারা বক্তব্যের মর্যাদা বোঝে তাদের সন্তুষ্ট করবে—তখন হিংসুক ও শত্রুর সন্তুষ্টির পরোয়া করো না, কারণ তাদের কোনো কিছুই সন্তুষ্ট করতে পারে না। আর মূর্খদের সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই, আর তোমার সাথেও তাদের নেই। প্রবাদে বলা হয়ে থাকে: (মানুষের সন্তুষ্টি এমন এক বস্তু যা কখনো অর্জিত হয় না (৬))।

(৭) ইবনুল মু’তাযের মতে: শ্রেষ্ঠ বক্তব্য সেটি: যার সংক্ষিপ্তকরণ সুন্দর, যার রূপক কম, যার প্রভাব (ই’জায) বেশি এবং যার শুরু ও শেষ সামঞ্জস্যপূর্ণ (৭)।

(৮) খালিদ ইবনে সাফওয়ান এক ব্যক্তিকে কথা বলতে শুনলেন যে অনেক কথা বলছিল, তখন তিনি বললেন: জেনে রাখো (আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন), বালাগাত জিহ্বার ক্ষিপ্রতা বা অত্যধিক প্রলাপ বকা নয়; বরং তা হলো অর্থের সঠিক প্রয়োগ এবং প্রমাণের দিকে লক্ষ্য রাখা (৮)।

(৯) বিশর ইবনে মুতামিরের একটি পত্র রয়েছে যা একজন বক্তা বা লেখকের গুণাবলি সম্পর্কে অত্যন্ত মূল্যবান ও সাবলীল সাহিত্যিক নিদর্শন। এটি বালাগাতের সীমারেখা নির্ধারণ করেছে এবং তাকে সর্বোত্তমভাবে চিত্রায়িত করেছে। আমরা আমাদের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশটুকু সংক্ষেপে উল্লেখ করব—তিনি বলেছেন:

তোমার প্রফুল্লতা, মানসিক অবসর এবং মনের স্বতঃস্ফূর্ততার মুহূর্তগুলো থেকে কাজ গ্রহণ করো; কারণ সেই সময়ের অল্প কাজও মৌলিকত্বের দিক থেকে অধিক মূল্যবান, মর্যাদায় অধিক উচ্চ, শ্রবণে অধিক সুন্দর, হৃদয়ে অধিক মধুর, জঘন্য ভুল থেকে অধিক নিরাপদ এবং আভিজাত্যপূর্ণ শব্দ ও চমৎকার অর্থের কারণে সবার দৃষ্টি ও মনোযোগ আকর্ষণে অধিক সক্ষম।

জেনে রাখো যে, এটি তোমার জন্য অধিক ফলপ্রসূ: সেই সময়ের তুলনায় যা তুমি শ্রম, দীর্ঘসূত্রতা, কঠোর সাধনা, কৃত্রিমতা ও বারবার চেষ্টার মাধ্যমে ব্যয় করো।

আর ভাষা কঠিন করা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ ভাষার কাঠিন্য তোমাকে জটিলতার দিকে ঠেলে দেয়, আর জটিলতাই তোমার অর্থকে বিলীন করে দেয় এবং তোমার শব্দকে কলঙ্কিত করে। যে উত্তম অর্থ চায়, সে যেন তার জন্য উত্তম শব্দ সন্ধান করে; কেননা মর্যাদাপূর্ণ অর্থের প্রাপ্য হলো মর্যাদাপূর্ণ শব্দ। আর উভয়ের হক হলো সেগুলোকে এমন সব বিষয় থেকে রক্ষা করা যা সেগুলোকে কলুষিত ও তুচ্ছ করে....

তিনটি স্তরের প্রতি লক্ষ্য রেখো: প্রথম স্তরটি হলো তোমার শব্দ হবে ঝরঝরে, মিষ্টি, গাম্ভীর্যপূর্ণ ও সহজ; আর তোমার অর্থ হবে স্পষ্ট, উন্মোচিত এবং পরিচিত—বিশেষ শ্রেণির কাছে: যদি তুমি বিশেষ শ্রেণির উদ্দেশ্য করো, অথবা সাধারণ মানুষের কাছে: যদি তুমি সাধারণ মানুষের ইচ্ছা করো। কোনো অর্থ কেবল বিশেষ শ্রেণির হওয়ার কারণে মর্যাদাপূর্ণ হয় না, তেমনি সাধারণ মানুষের হওয়ার কারণে তুচ্ছ হয় না। বরং মর্যাদার মাপকাঠি হলো সঠিক হওয়া, উপযোগিতা অর্জন করা এবং পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রাখা এবং প্রতিটি স্থানের জন্য যা বলা আবশ্যক তা পূরণ করা। সাধারণ ও বিশেষ শব্দের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। যদি তুমি তোমার জিহ্বার প্রকাশভঙ্গি, কলমের বালাগাত, প্রবেশের সূক্ষ্মতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই সামর্থ্য অর্জন করতে পারো।

যাতে সাধারণ মানুষ বিশেষ শ্রেণির অর্থ বুঝতে পারে এবং তুমি তাকে এমন ব্যাপক শব্দ দ্বারা আবৃত করো যা সাধারণ মানুষের জন্য দুর্বোধ্য না হয় এবং সমপর্যায়ের যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট তুচ্ছ মনে না হয়, তবেই তুমি পূর্ণ অলঙ্কারবিদ (বালিগ)।

আর যদি প্রথম স্তরটি তোমার অনুকূলে না আসে, তোমার ওপর ভর না করে এবং তোমার প্রাথমিক দৃষ্টিতে বা প্রচেষ্টায় ধরা না দেয়; আর তুমি দেখতে পাও যে শব্দটি তার যথাযোগ্য স্থানে বসেনি, তার নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছেনি, ছন্দ তার কেন্দ্রে ও মূল ভিটেয় স্থির হয়নি, তার স্বগোত্রের সাথে মিলিত হয়নি এবং শব্দটি তার স্থানে অস্থির ও তার অবস্থান থেকে বিমুখ হয়ে আছে—তবে তাকে জোর করে অন্য স্থানে বসাতে বা বিজাতীয় স্থানে অবতরণ করতে বাধ্য করো না। কেননা তুমি যদি ছন্দোবদ্ধ কবিতা রচনা না করো বা গদ্য নির্বাচনে কষ্ট না করো, তবে কেউ তোমাকে তা ছেড়ে দেওয়ার কারণে নিন্দা করবে না। কিন্তু যদি তুমি তা করার চেষ্টা করো অথচ তুমি তাতে দক্ষ ও সহজাত প্রতিভাধর না হও, তোমার জিহ্বা সুসংহত না হয় এবং তোমার করণীয় বা পাওনা সম্পর্কে সচেতন না হও—তবে তোমার চেয়ে অধিক দোষী ব্যক্তিও তোমার খুঁত ধরবে এবং তোমার চেয়ে নিম্নস্তরের ব্যক্তিও নিজেকে তোমার উপরে মনে করবে।

যদি তুমি কথা বলতে বা রচনাশৈলী প্রয়োগে বাধ্য হও, অথচ প্রথমবারেই তোমার স্বভাব তাতে সাড়া না দেয় এবং চিন্তা করার পরও তা তোমার অবাধ্য থাকে—তবে তাড়াহুড়ো করো না এবং বিরক্ত হয়ো না। এটি দিনের আলো বা রাতের আঁধারের কোনো এক সময়ের জন্য ছেড়ে দাও এবং তোমার প্রফুল্লতা ও মানসিক অবসরের সময় পুনরায় চেষ্টা করো; তবেই তুমি মনের সাড়া ও অনুকূল পরিবেশ পাবে, যদি তোমার সহজাত প্রতিভা থাকে বা সেই শিল্পের সাথে তোমার গভীর সম্পর্ক থাকে।

যদি এরপরেও কোনো আপতিত ব্যস্ততা বা দীর্ঘ অবহেলা ছাড়াই তা তোমার অবাধ্য থাকে—তবে তৃতীয় স্তর হলো এই শিল্প থেকে তোমার পছন্দের ও সহজ অন্য কোনো শিল্পের দিকে ফিরে যাওয়া...; কারণ মন ভয়ের সাথে তার গোপন সম্পদ দান করে না, যেমনটি সে ভালোবাসা ও আগ্রহের সাথে দান করে। বিষয়টি এমনই।

একজন বক্তার উচিত: অর্থের গুরুত্ব সম্পর্কে জানা এবং সেগুলোর সাথে শ্রোতাদের গুরুত্ব ও পরিস্থিতির গুরুত্বের ভারসাম্য রক্ষা করা; ফলে সে প্রতিটি শ্রেণির জন্য আলাদা বক্তব্য এবং প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আলাদা প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করবে, যাতে সে বক্তব্যের মানকে অর্থের মান অনুযায়ী এবং অর্থের মানকে প্রেক্ষাপট ও শ্রোতাদের মান অনুযায়ী বিন্যস্ত করতে পারে।

পরিশেষে, তাদের বক্তব্যের নির্যাস হলো: বালাগাতের সংজ্ঞা—প্রতিটি পরিস্থিতির উপযোগী বক্তব্য প্রদান করা; ফলে যেখানে সংক্ষেপ করা সুন্দর সেখানে সংক্ষেপ করবে, যেখানে বিস্তারিত বলা শোভনীয় সেখানে বিস্তারিত বলবে, যেখানে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন সেখানে তাকিদ (গুরুত্ব) দেবে, এবং যদি তুমি মনে করো শব্দকে আগে বা পরে আনা তোমার বক্তব্যের জন্য অধিক মানানসই ও উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক তবে তাই করবে। মেধাবীকে এমনভাবে সম্বোধন করবে যা নির্বোধের সম্বোধন থেকে ভিন্ন হবে এবং প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত বক্তব্য নির্ধারণ করবে, যা হবে প্রাঞ্জল ভাষায় এবং বাছাইকৃত অর্থে।

এখান থেকেই উলামায়ে কেরাম ‘বালাগাত’-এর সংজ্ঞা দিয়েছেন যে: শব্দের প্রাঞ্জলতার (ফাসাহাত) সাথে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী বক্তব্য প্রদান করাকে বালাগাত বলে।

জেনে রাখো: ফাসাহাত ও বালাগাতের মধ্যে পার্থক্য হলো: ফাসাহাত কেবল শব্দের গুণের মধ্যে সীমাবদ্ধ, আর বালাগাত অর্থসহ শব্দের গুণকে বোঝায়; ফাসাহাত একক শব্দ (কালিমা) ও বাক্য (কালাম)—উভয়ের গুণ হতে পারে, কিন্তু বালাগাত একক শব্দের গুণ হয় না বরং কেবল বাক্যের গুণ হয়। আর বাক্যের ফাসাহাত বালাগাত হওয়ার জন্য শর্ত;

তাই প্রতিটি বালিগ (অলঙ্কারপূর্ণ) কালামই ফাসিহ (প্রাঞ্জল), কিন্তু প্রতিটি ফাসিহ কালাম বালিগ নয়; যেমন যেখানে সংক্ষিপ্ত করা আবশ্যক সেখানে যদি দীর্ঘ করা হয় (তবে তা ফাসিহ হতে পারে কিন্তু বালিগ নয়)।

অনুশীলনী

নিচের উদাহরণগুলোতে পরিস্থিতি (হাল) ও তার দাবি (মুকতাদা) বর্ণনা করো:

(১) আনন্দ সেই শোকের মাতমকে মুছে দিয়েছে, ফলে শোকাতুর ব্যক্তি মুচকি না হাসা পর্যন্ত মুখ কালো করেনি (৯)

(২) যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হওয়াকে সমর্থনকারী ব্যক্তিকে তুমি বলবে (নিশ্চয়ই যুদ্ধ বান্দাদের ধ্বংসকারী এবং অর্জিত ও পৈত্রিক সম্পদ বিনাশকারী) (১০)

(৩) মানুষ যখন চোর দেখে বা আগুন লাগতে দেখে তখন বলে: চোর! — আগুন! (১১)

(৪) আল্লাহ তাআলা বলেন (আর আমরা জানি না যে, জমিনে যারা আছে তাদের কি অমঙ্গল করার ইচ্ছা করা হয়েছে, নাকি তাদের রব তাদের সুপথ দেখানোর ইচ্ছা করেছেন)

(৫) বারামিকাদের (১৩) শোকে ক্রন্দনকারী বলে...

আমি এমন সব নেতাদের হারিয়েছি যারা ছিল নয়নমণি, মেঘের বৃষ্টি থেমে গেলে যাদের অসিলায় আমাদের পানি পান করানো হতো।

টীকা

(১) তানফুর (শব্দের কর্কশতা বা উচ্চারণ কাঠিন্য) - সুস্থ (রুচি) ও সঠিক অনুভবের মাধ্যমে চেনা যায় (১৪)।

(২) কিয়াসের (ব্যাকরণগত নিয়ম) পরিপন্থী হওয়া: ‘সরফ’ (শব্দতত্ত্ব) বিদ্যার মাধ্যমে চেনা যায়।

(৩) দুর্বল রচনাশৈলী ও শাব্দিক জটিলতা: ‘নাহু’ (বাক্যতত্ত্ব) বিদ্যার মাধ্যমে চেনা যায়।

(৪) গারাবাত (শব্দের দুর্বোধ্যতা): আরবদের বক্তব্যের ওপর ব্যাপক ‘অধ্যয়ন’ এবং পরিচিত শব্দভাণ্ডারের ওপর দখলের মাধ্যমে চেনা যায়।

--------------------------------------------

(১) নিহায়াতুল আরাব, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা - ৮।

(২) নিহায়াতুল আরাব, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৬।

(৩) জাহিজের কিতাবুল বায়ান ওয়াত তাবয়িন থেকে, খণ্ড ১ - পৃষ্ঠা ৯১।

(৪) নিহায়াতুল আরাব, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৮।

(৫) জাহিজের আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯১।

(৬) আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯১, ৯২।

(৭) নিহায়াতুল আরাব, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১১।

(৮) মুখতার আল-ইকদ আল-ফারিদ, পৃষ্ঠা ৯৮।

(৯) পরিস্থিতি (হাল) এখানে আনন্দ দ্রুত প্রকাশ করা - আর দাবি (মুকতাদা) হলো আনন্দের অর্থ জ্ঞাপক শব্দটি আগে আনা - “আর তা হলো ‘হানা’ (আনন্দ) শব্দটি”।

(১০) পরিস্থিতি এখানে যুদ্ধের ক্ষতিকে অস্বীকার করা - আর দাবি হলো বক্তব্যকে তাকিদ বা গুরুত্ব দিয়ে জোরালো করা।

(১১) পরিস্থিতি এখানে সময়ের সংকীর্ণতা - আর দাবি হলো মুসনাদ ইলাইহি (উদ্দেশ্য) বিলুপ্ত করে সংক্ষেপ করা। মূল বাক্য ছিল: এটি চোর, এটি আগুন।

(১২) (অমঙ্গল করা হয়েছে) বাক্যে পরিস্থিতি হলো অমঙ্গলকে আল্লাহর দিকে নিসবত বা সম্পর্কযুক্ত না করা, আর দাবি হলো কর্তা (ফায়েল) বিলুপ্ত করা। কেননা মূল ছিল: আল্লাহ কি জমিনবাসীর অমঙ্গল করার ইচ্ছা করেছেন?

আর (নাকি তাদের রব সুপথ দেখানোর ইচ্ছা করেছেন) বাক্যে পরিস্থিতি হলো কল্যাণকে আল্লাহর দিকে নিসবত করা, আর দাবি হলো কর্তা বিলুপ্ত না করে রেখে দেওয়া। “অর্থাৎ অনিষ্টের ক্ষেত্রে ‘ইচ্ছা করা’ ক্রিয়াটি প্যাসিভ ভয়েস (মাঝহুল) রূপে এসেছে, আর সুপথের ক্ষেত্রে একটি একটিভ ভয়েস (মা’লুম) রূপে এসেছে। প্রথমটিকে মাঝহুল করার পেছনের পরিস্থিতি হলো আল্লাহর প্রতি (শিষ্টাচার) প্রদর্শন করা, যাতে তাঁর দিকে সরাসরি অনিষ্টের নিসবত না হয়, যদিও কল্যাণ ও অকল্যাণ সবই আল্লাহর তাকদির ও ইচ্ছায় হয়ে থাকে।”

(১৩) পরিস্থিতি এখানে বারামিকাদের ধ্বংসকারী (হারুনুর রশিদ) এর ভয়, আর দাবি হলো ‘উসিবতু’ (আমি বিপদে পড়েছি) বাক্যে কর্তাকে গোপন রাখা।

(১৪) রুচি (যওক): আভিধানিক অর্থে এটি এমন এক ইন্দ্রিয় যার মাধ্যমে খাবারের স্বাদ অনুভব করা হয়। পরিভাষায়—এটি একটি সহজাত শক্তি যা বক্তব্যের সূক্ষ্ম রহস্য ও লুক্কায়িত সৌন্দর্য অনুধাবনের জন্য বিশেষায়িত। এটি নিয়মিত অধ্যয়ন, শ্রেষ্ঠ লেখকদের সাহিত্য চর্চা, বারবার শ্রবণ এবং তাদের অর্থের বৈশিষ্ট্য ও বাক্য গঠন নিয়ে চিন্তাভাবনার মাধ্যমে অর্জিত হয়। এছাড়াও বুদ্ধি ও হৃদয়কে সেই সব বিষয় থেকে পবিত্র রাখার মাধ্যমেও এটি অর্জিত হয় যা আদব ও আখলাককে কলুষিত করে; কেননা এটি সুস্থ রুচি লাভের অন্যতম শক্তিশালী কারণ।

জেনে রাখো যে, ‘সুস্থ রুচি’ হলো শব্দের সৌন্দর্য চেনা এবং তার মধ্যকার কদর্যতা ও অগ্রহণযোগ্য দিকগুলো পৃথক করার মূল ভিত্তি। কারণ শব্দ হলো ধ্বনি; সুতরাং যে ব্যক্তি বুলবুল পাখির কণ্ঠে আনন্দিত হয় এবং পেঁচা ও কাকের ডাক অপছন্দ করে, তার কান সেই শব্দ থেকে বিমুখ হবে যদি শব্দটি অপরিচিত ও বর্ণমালার বিন্যাসে কর্কশ হয়। তুমি কি দেখছো না যে (আল-মুজনাহ এবং আদ-দিমাহ—অর্থাৎ বৃষ্টিময় মেঘ) শব্দ দুটি কত সহজ ও মিষ্টি যা শ্রবণে প্রশান্তি দেয়, অথচ এই একই অর্থের শব্দ (আল-বাআক) অত্যন্ত কুৎসিত যা কানে আঘাত করে। ভাষাতত্ত্বে এমন আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা তুমি তোমার রুচি দিয়ে অনুধাবন করতে পারবে—এর ব্যাখ্যা আগে দেওয়া হয়েছে।