(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: -)
المنهج المقترح لفهم المصطلح   (حاتم العوني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: المنهج المقترح لفهم المصطلح

المؤلف: حاتم بن عارف بن ناصر الشريف العوني

الناشر: دار الهجرة للنشر والتوزيع، الرياض

الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1996 م

عدد الصفحات: 294

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পরিভাষা বোঝার জন্য প্রস্তাবিত পদ্ধতি   (হাতিম আল-আওনি)

বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র


গ্রন্থ: পরিভাষা বোঝার জন্য প্রস্তাবিত পদ্ধতি

লেখক: হাতিম বিন আরিফ বিন নাসির আল-শরীফ আল-আওনি

প্রকাশক: দারুল হিজরাহ প্রকাশনী ও পরিবেশনী، রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: -)
المَنْهَجُ المُقْتَرَحُ

لِفَهْمِ المُصْطَلَحِ

دراسة تأريخية تأصيلية لمصطلح الحديث

 

(وهي مقدمة تمهيدية لكتابي:

المرسل الخفي وعلاقته بالتدليس)

 

تأليف

الشريف حاتم بن عارف العوني
প্রস্তাবিত পদ্ধতি

পরিভাষা বোঝার জন্য

হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার একটি ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক গবেষণা

 

(এটি আমার লিখিত কিতাবের একটি প্রারম্ভিক ভূমিকা:

আল-মুরসাল আল-খাফি এবং তাদলিসের সাথে এর সম্পর্ক)

 

রচনায়

আশ-শরীফ হাতিম বিন আরিফ আল-আওনি
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

المقدمة

 

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

اللهم صل على محمد وعلى أزواجه وذريته، كما صليت على آل إبراهيم، إنك حميد مجيد. وبارك على محمد وعلى أزواجه وذريته، كما باركت على آل إبراهيم، إنك حميد مجيد.

أما بعد: فإن علوم السنة المشرفة من أجل العلوم أو أجلها، وأحقها بالتعلم والتعليم، وأولاها بكل اهتمام وعناية. فهي العوم التي عرفنا بها معاني كتاب الله، وبيان مجمل آياته، وتفسير حكمه وعظاته. وهي العوم التي أدت لنا أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم، وأسمعتنا … منيرحروفها، وأرتنا مواقع العبر، وبصرتنا معالم الاقتداء، ومثلت لنا في فيها الأسوة الحية في شخصه صلى الله عليه وسلم. وهي العوم التي حرست الدين، وحمت الشريعة، من كذب الكاذبين، وافتراء المبطلين، وجهل المسلمين

وهذه العلوم الشريفة ـ كشرف ما تخدمه من سنة النبي صلى الله عليه وسلم قام بإنشائها وبنائها وإبداعها وإتمامها = علماء أمة محمد صلى الله عليه وسلم عبر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

 

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং তাঁর পত্নীগণ ও তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর আপনি বরকত দান করুন মুহাম্মদ এবং তাঁর পত্নীগণ ও তাঁর বংশধরদের ওপর, যেমন আপনি বরকত দান করেছেন ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

অত:পর: নিশ্চয়ই সম্মানিত সুন্নাহর ইলমসমূহ অন্যতম মহান ইলম অথবা এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম, এবং এটি শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বাধিক উপযুক্ত এবং বিশেষ গুরুত্ব ও মনোযোগের দাবিদার। এটিই সেই ইলম যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কিতাবের অর্থসমূহ জানতে পারি, তাঁর আয়তসমূহের সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বর্ণনা এবং তাঁর হিকমত ও উপদেশের ব্যাখ্যা অবগত হই। এটিই সেই ইলম যা আমাদের নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসসমূহ পৌঁছে দিয়েছে, আমাদের শুনিয়েছে ... তাঁর উজ্জ্বল বাণীসমূহ, আমাদের দেখিয়েছে উপদেশের ক্ষেত্রসমূহ, আমাদের অন্তর্দৃষ্টি দান করেছে অনুসরণের চিহ্নসমূহ সম্পর্কে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সত্তার মাঝে আমাদের জন্য এক জীবন্ত আদর্শ চিত্রিত করেছে। এটিই সেই ইলম যা দ্বীনকে রক্ষা করেছে এবং মিথ্যাবাদীদের মিথ্যাচার, বাতিলপন্থীদের অপবাদ ও মুসলিমদের অজ্ঞতা থেকে শরিয়তকে সুরক্ষা প্রদান করেছে।

আর এই সম্মানিত ইলমসমূহ — যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর ন্যায় উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন যার সেবা এটি করে থাকে — উম্মতে মুহাম্মাদীর ওলামাগণ যুগ যুগ ধরে এগুলোর উদ্ভাবন, নির্মাণ, সৃজন ও পূর্ণতা দান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
العصور، وأئمة المسلمين على مر الدهور. فهم أصحاب تلك المفخرة، وبناة ذلك الصرح الخالد، وملاك مفاتيح قصوره. وكيف لا؟ وهم ورثة الأنبياء، ورسل الرسل، وحملة الشريعة، وأمناء المِلّة، وحرّاس الدين، والموقعين عن رب العالم، والموقعين عن رب العالمين!!

فخرجت علوم السنة من عصارة تلك العقول، ومن نتائج تلك الأفكار، علوماً عميقة، بعيدة الغور، دقيقة المسالك، فليس من السهل فهمُها، ولا من المتيسر إدراكها.

وعبّر عن ذلك قائلهم، بنوع من الطّرافة، فقال: ((الحديث ذكر، يحبه ذكور الرجال، ويكرهه مؤنثوهم)) (1) .

وكان قد بدأ مع نشأة هذه العلوم استخدام ألقاب وأوصاف للأحوال المختلفة للراوي والمروي، هي المسماة بمصطلح الحديث. وكانت تلك المصطلحات حية المدلول العرفي بين المحدثين حقبة من الزمن، فلم تكن تغمض عليهم معانيها، ولا يستشكل عليهم مفادها.

فلما تناقص العلماء، وتفانى أصحاب الحديث، واجتالت علومهم عوامل الضعف والتغير؛ بدا علم الحديث غريباً بين أهله، بعيداً بين أقربائه. فانبرى لذلك البقية المتبقية من علماء الحديث ونقاده، إلى شرح مصطلحه وبيان أصوله وضوابطه.

لكن (وعلى مر الأزمان) تعددت المناهج في فهم مصطلح الحديث، فاختلفت الأقوال في تفسيره؛ وتباعدت الطرائق في دراسة أصوله، فتباينت المذاهب في وضع قواعده وتحديد ضوابطه. وتأثرت كتب علوم الحديث بعقائد مؤلفيها ومذاهبهم،

--------------------------------------------

(1) انظر الكامل لابن عدي (1/58ـ 59) ، وترجمة الزهري في تاريخ دمشق لابن عساكر، المطبوعة مفردة (150) .
যুগ যুগ ধরে এবং মহাকালের আবর্তে মুসলিম উম্মাহর ইমামগণ। তাঁরাই সেই গৌরবের অধিকারী, সেই চিরন্তন সৌধের নির্মাতা এবং এর প্রাসাদের চাবিকাঠির মালিক। আর কেনই বা হবে না? তাঁরা তো নবীদের উত্তরসূরি, রাসুলগণের বার্তাবাহক, শরীয়তের বাহক, মিল্লাতের আমানতদার, দ্বীনের প্রহরী এবং বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরকারী!!

সেই প্রজ্ঞাবানদের মেধার নির্যাস এবং চিন্তাশক্তির ফসল হিসেবে সুন্নাহর ইলমসমূহ এমন এক গভীর, অগাধ এবং সূক্ষ্ম পথসংবলিত জ্ঞান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা বোঝা সহজ নয় এবং যার উপলব্ধি করাও আয়ত্তাধীন নয়।

তাদের একজন চমৎকারভাবে এই বিষয়টি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন: "হাদিস হচ্ছে একটি পুরুষালি বিষয়, যা কেবল পৌরুষদীপ্ত পুরুষরাই পছন্দ করে, আর নারীসুলভ পুরুষরা একে অপছন্দ করে।" (১)

এই ইলমসমূহের সূচনালগ্নে বর্ণনাকারী এবং বর্ণিত বিষয়ের বিভিন্ন অবস্থা বুঝাতে নানাবিধ উপাধি ও বিশেষণের ব্যবহার শুরু হয়েছিল, যাকে 'মুসতালাহুল হাদিস' বা হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা বলা হয়। একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মুহাদ্দিসগণের নিকট এই পরিভাষাগুলোর প্রচলিত অর্থ অত্যন্ত জীবন্ত ছিল; ফলে এর অর্থগুলো তাদের কাছে অস্পষ্ট ছিল না এবং এর মর্মার্থ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো সংশয়ও তৈরি হতো না।

অতঃপর যখন আলেমদের সংখ্যা কমে গেল, হাদিস বিশারদগণ বিদায় নিলেন এবং দুর্বলতা ও পরিবর্তনের নানাবিধ কারণ তাদের ইলমকে গ্রাস করল; তখন ইলমে হাদিস তার আপনজনদের নিকট আগন্তুক এবং নিকটাত্মীয়দের নিকট দূরবর্তী হয়ে পড়ল। এমতাবস্থায় হাদিস বিশারদ ও সমালোচক আলেমদের মধ্য থেকে অবশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এর পরিভাষাগুলোর ব্যাখ্যা এবং এর মূলনীতি ও নিয়মাবলি স্পষ্ট করার জন্য এগিয়ে এলেন।

তবে (কালের পরিক্রমায়) হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা বোঝার ক্ষেত্রে নানাবিধ মানহাজ বা পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে, ফলে এর ব্যাখ্যায় মতভেদ দেখা দেয়। এর মূলনীতি অধ্যয়নের পন্থাসমূহ ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয়, যার দরুন এর নিয়মকানুন প্রণয়ন ও নীতিমালা নির্ধারণে বিভিন্ন মাযহাব বা মতাদর্শের সৃষ্টি হয়। এমনকি উলুমুল হাদিসের গ্রন্থগুলোও তাদের লেখকদের আকিদা ও মাযহাব দ্বারা প্রভাবিত হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল আদী রচিত আল-কামিল (১/৫৮-৫৯), এবং ইবনু আসাকির রচিত তারিখু দামেশক-এ যুহরীর জীবনী, যা পৃথকভাবে মুদ্রিত (১৫০)।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وبعلوم أجنبية عنها، تشبع بها أولئك المصنفون.

فلما بلغ الأمر إلى هذا العصر، وقد قربت الساعة، وقل أهل السنة والجماعة، فكم هم؟ وأين هم؟ ازدادت غربت علوم السنة، وبعدت أفهام كثير من طلبة العلم من أهل عصري عن إدراك معاني مصطلحاتها. وصار كثير منهم إذا ابتغى الحق في مسائل علوم الحديث أخطأ طريقه، ورام غير سبيله، وهو صادق النية في ابتغائه بسبب عدم العم بنشأة العم الذي يبحث فيه، وكيفية تطور مصطلحه عبر العصور، وبأسباب قوته في قرونه الأولى، وعوامل ضعفه بعد ذلك. ثم بسبب الجهل بمناهج المصنفات في علوم الحديث، وبالمؤثرات المؤدية إلى اختلاف تلك المناهج، وبالتعامل المنصف السليم مع كل واحد منها، وإنزال الأقوال والتنظير المبني عليه منزلة أصله ومنبعه. وأخيراً بسبب عدم وضوح الخطة التي يجب السير عليها لفهم المصطلح، وبخطواتها على التفصيل، حتى يمكن اقتفاؤها، وأسباب أخيار هذه الخطة دونما سواها على علوم السنة

وبعد إذ حباني الله تعالى ـ له الحمد والمنة ـ بأن كنت من طلبة علم الحديث الشريف، وممن له شغف واشتغال به منذ نعومة أظفاري، وقطفت معه زهرة شبابي، وأنا خلال ذلك ويعلم الله ـ منكب على قراءته ودرسه، منصرف عن غيره به، عازف عن استعجال التصنيف فيه قبل أوان التصنيف، مع ما أراه من أبناء عصري وإخوان جيلي من التسارع إلى ذلك. وكنت أثناء تعلمي ـ ولم أزل في تلك الأثناء، لا خرجت منها ـ قد وقفت على ذلك البحر المتلاطم، واخضم المتلاحم، من تلك الاختلافات في علوم الحديث، وذلك التباين في فهم مصطلحه،
এবং এর বাহ্যিক বিজাতীয় জ্ঞানসমূহে সেসব লেখকগণ নিমজ্জিত হয়েছিলেন।

অবশেষে যখন বিষয়টি বর্তমান যুগ পর্যন্ত পৌঁছাল, এমতাবস্থায় যে কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসারীদের সংখ্যা কমে গেছে—তাহলে তারা কতজন? আর তারা কোথায়? সুন্নাহর ইলম বা জ্ঞানসমূহের বিজাতীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমার যুগের ইলম অন্বেষণকারীদের অনেকেরই বোধশক্তি এর পারিভাষিক অর্থসমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে দূরে সরে গিয়েছে। ফলে তাদের অনেকে যখন হাদিস শাস্ত্রের মাসয়ালাগুলোতে সত্য অনুসন্ধান করতে চায়, তখন তারা সঠিক পথ হারিয়ে ফেলে এবং ভিন্ন পথ বেছে নেয়। অথচ তারা তাদের অনুসন্ধানে নিয়তের ক্ষেত্রে সত্যবাদী; আর এর কারণ হলো যে জ্ঞান নিয়ে তারা গবেষণা করছে তার উদ্ভব সম্পর্কে অজ্ঞতা, যুগ পরম্পরায় এর পরিভাষাগুলো কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা না থাকা, প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতে এর শক্তিশালী হওয়ার কারণসমূহ এবং পরবর্তীতে এর দুর্বল হয়ে পড়ার প্রভাবকগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকা। এরপর হাদিস শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহের কর্মপন্থা (মানহাজ), সেই কর্মপন্থাগুলোর ভিন্নতার পেছনের প্রভাবকসমূহ, তাদের প্রত্যেকের সাথে ইনসাফপূর্ণ ও সঠিক আচরণ এবং কোনো উক্তি বা তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তত্ত্বকে তার মূল উৎস ও উৎপত্তিস্থলে স্থাপন করার ব্যাপারে অজ্ঞতা এর অন্যতম কারণ। পরিশেষে, পরিভাষাগুলো বোঝার জন্য যে কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ করা উচিত সেটির অস্পষ্টতা, এবং এর বিস্তারিত পদক্ষেপসমূহ যা অনুসরণ করা সম্ভব হতে পারত এবং সুন্নাহর ইলমের ক্ষেত্রে অন্য কোনো পদ্ধতির বদলে এই কর্মপরিকল্পনাটিকেই কেন বেছে নেওয়া হলো সেই কারণগুলোর অস্পষ্টতা এর জন্য দায়ী।

আল্লাহ তাআলা যখন আমাকে অনুগ্রহ করেছেন—তাঁরই সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা—যে আমি হাদিস শাস্ত্রের একজন শিক্ষার্থী হতে পেরেছি, এবং এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি যাদের শৈশব থেকেই এর প্রতি গভীর অনুরাগ ও নিবিষ্টতা ছিল; আমি আমার তারুণ্যের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো এর সাথেই কাটিয়েছি। আমি এ সময়ে—আর আল্লাহই ভালো জানেন—এর পঠন ও পাঠনেই নিমগ্ন ছিলাম, অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ হয়ে এতেই নিবিষ্ট থেকেছি। উপযুক্ত সময় হওয়ার আগে এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় তাড়াহুড়া করা থেকে বিরত থেকেছি, যদিও আমি আমার সমসাময়িক ও সমবয়সীদের মধ্যে এ বিষয়ে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করেছি। আমার জ্ঞান অন্বেষণ চলাকালীন সময়ে—আর আমি এখনো সেই পথেই আছি, তা থেকে বেরিয়ে আসিনি—আমি হাদিস শাস্ত্রের মতপার্থক্যের সেই উত্তাল সমুদ্র ও বিশাল তরঙ্গের সম্মুখীন হয়েছি এবং এর পরিভাষাগুলো বোঝার ক্ষেত্রে সেই অসংগতিসমূহ প্রত্যক্ষ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وما جر هذا من تناقض التطبيق مع التقعيد، وتضاد الأقوال والمناهج أيضاً فهالني الأمر جداً، وبقيت زماناً متحيزاً بين تلك الموارد، متردداً بين تيك المشارب

وكم كنت أسمع شيوخنا الأفاضل وأساتذتنا الأماثل عند أخذنا منهم لهذا العم، يرددون عبارة خطيرة المضمون، لكنها كانت تخرج منهم وتمر علينا دون أن نقدرها قدرها فقد كانوا يقولون عند شرحهم لبعض المصطلحات: ((معنى المصطلح: (كذا) ، عند المتأخرين، وليس معناه كذلك عند المتقدمين)) . فكنت أعجب من ذلك غاية العجب، وأستغرب من دواعي هذا الاختلاف، ومن فائدة هذا الفهم المغاير لفهم أصحاب الأصول من أهل الاصطلاح، الذين: منهم، وإليهم، وفيهم، وعنهم: يدور الكلام في علم الحديث

وما زلت أستغرب ذلك حتى استنكرته، وحين استنكرته وضح لي الطريق، وتبينت المنهج، والله الحمد كله

وعندها لاحت لي أخطار جمة تحدق بعلوم السنة، لا يسعني السكوت عنها. فجردت القلم للدفاع عن السنة، وفي بيان (المنهج المقترح لفهم المصطلح) ، وفي التحذير من المناهج ذات النتائج المدمرة لعلم الحديث.

وليس يخفى علي أن بعضاً من أهل عصري لن يرضى عن هذا الطرح، ولن يعجبه ذلك المنهج المقترح، لا لشيء، إلا لأن لسان حاله يقول: ((يا ابن أخي لا خير لك فيما لم يبلغه علمي)) لله أبوك … فلاخير إذن في جل الحق !!!

لو كان جهل هؤلاء جهل من يدري بأنه لا يدري، لكان الخطب كلا خطب، فإنما شفاء العي السؤال. لكن جهلهم جهل من لا يدري بأنه لا يدري، فقتلوا العلم، قتلهم الله
প্রয়োগের সাথে মূলনীতির এই যে বৈপরীত্য এবং বক্তব্য ও কর্মপদ্ধতির এই যে দ্বন্দ্ব—তা আমাকে অত্যন্ত আতঙ্কিত করেছিল। আমি দীর্ঘ সময় এই উৎসগুলোর মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে এবং এই পথগুলোর মাঝে দ্বিধান্বিত অবস্থায় কাটিয়েছি।

আমরা যখন আমাদের শ্রেষ্ঠ শায়খ ও মহান উস্তাদদের নিকট থেকে এই ইলম অর্জন করতাম, তখন কতবারই না তাঁদের বলতে শুনেছি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বাক্য; কিন্তু তা তাঁদের মুখ থেকে বের হতো আর আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রান্ত হতো এর যথাযথ গুরুত্ব অনুধাবন করা ছাড়াই। তাঁরা কোনো কোনো পরিভাষার ব্যাখ্যায় বলতেন: "পরবর্তী আলিমদের নিকট এই পরিভাষার অর্থ হলো অমুক, কিন্তু পূর্ববর্তী আলিমদের নিকট এর অর্থ এমন নয়।" এতে আমি চরম বিস্ময় বোধ করতাম। আমি এই পার্থক্যের কারণ এবং পরিভাষার মূল প্রবর্তকদের বুঝের চেয়ে ভিন্ন এই বুঝের উপকারিতা সম্পর্কে অবাক হতাম, যাঁদের থেকে, যাঁদের প্রতি, যাঁদের মাঝে এবং যাঁদের মাধ্যমেই হাদীস শাস্ত্রের যাবতীয় আলোচনা আবর্তিত হয়।

আমি এই বিষয়ে অবাক হতেই থাকলাম, এমনকি শেষ পর্যন্ত আমি এটি প্রত্যাখ্যান করলাম। আর যখনই আমি এটি প্রত্যাখ্যান করলাম, তখনই আমার সামনে সঠিক পথ স্পষ্ট হয়ে উঠল এবং কর্মপদ্ধতি প্রতিভাত হলো—আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই।

সেই মুহূর্তে আমার নিকট সুন্নাহর ইলমকে ঘিরে থাকা অসংখ্য বিপদ ফুটে উঠল, যা নিয়ে নিশ্চুপ থাকা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে আমি সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং 'পরিভাষা বোঝার জন্য প্রস্তাবিত মানহাজ' বর্ণনায় এবং হাদীস শাস্ত্রের জন্য ধ্বংসাত্মক ফলাফল বয়ে আনা কর্মপদ্ধতিসমূহ থেকে সতর্ক করতে কলম ধারণ করলাম।

আমার কাছে এটি অজানা নয় যে, আমার সমসাময়িকদের কেউ কেউ এই উপস্থাপনায় সন্তুষ্ট হবেন না এবং এই প্রস্তাবিত মানহাজকে পছন্দ করবেন না; কেবল এই কারণে যে, তাঁর অবস্থা এমন হবে যেন তিনি বলছেন: "হে ভ্রাতুষ্পুত্র, আমার ইলম যেখানে পৌঁছাতে পারেনি তার মাঝে তোমার জন্য কোনো কল্যাণ নেই।" আপনার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক … তাহলে কি অধিকাংশ সত্যের মধ্যেই কোনো কল্যাণ নেই?!!!

এদের মূর্খতা যদি এমন ব্যক্তির মূর্খতা হতো যে জানে যে সে জানে না, তবে বিষয়টি তেমন গুরুতর হতো না; কেননা অজ্ঞতার চিকিৎসা হলো প্রশ্ন করা। কিন্তু তাদের মূর্খতা হলো এমন ব্যক্তির মূর্খতা যে জানেই না যে সে জানে না। ফলে তারা ইলমকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وأمثل لك حالهم: هم ممن حدا العجز بهم إلى الرضى بالكسل والخمول، وفرحوا بالشهادات، ورضوا بالألقاب. ثم هداهم جهلهم إلى التشبث بقول من الأقوال، فلم يروا سواه، ((وأجرأ الناس على الفتيا أجهلهم بالخلاف)) . فلا كان الحق والصواب عندهم معيار الاختيار، ولا الباطل والخطأ سبب الرفض! وأنى لهم ذلك؟!! وقد قيدوا أنفسهم بمختصرات في علوم الحديث، إن زادوا زادوا عليها حواشيها وشروحها، فإن توسعوا اكتفوا بفهم خطأ وتأويل بعيدٍ لكلام أهل الاصطلاح. وهم خلال ذلك قد حصنوا أنفسهم بلقاح (إجلال العلماء) ، وسوغوا للناس ذلك بجرعة (عظيم أقدار الأئمة) ، وهي كلمات حق يراد بها باطل!!! فلا أجل العلماء، من قلد أحدهم غير ناظر إلى من عداه من العلماء؛ ولا عرف أقدار الأئمة، من رضي قولاً لواحدٍ منهم دون دليله، من غير اعتبارٍ لما سواه، وكأنه كلام ما قيل! أرأيت وقد قالوا عن الباطل: كيف وقد قيل؟ !!

ومع ذلك كله: فوالذي نفسي بيده! لو لم يكن الأمر من أجل السنة، وفي سبيل السنة، وعن منهاج السنة = لخطبت ودهم، ولسعيت إلى رضاهم. فلا رضي أبعدهم إذا كان العلم يسخطه، ولا قرت عينه إذا كان نور الحق يعشيه!!

وسوف ألفظ ذكرهم، بعد أن ضقت بهم، وكرهت معناهم ولفظهم!

أما بحثي هذا، فقد كان في صورته الأولى مقدمة مختصرة لكتابي (المرسل الخفي وعلاقته بالتدليس: دراسة نظرية وتطبيقية على مرويات الحسن البصري) . جعلتها له مقدمة تأصيلية، أساساً أبني عليها، وقاضياً أحتكم إليها، فيما يعترضني من اختلافات ومذاهب.

আমি আপনার কাছে তাদের অবস্থার উদাহরণ দিচ্ছি: তারা এমন লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদের অক্ষমতা অলসতা ও স্থবিরতায় সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য করেছে, তারা সনদ বা ডিগ্রিতে আনন্দিত হয়েছে এবং উপাধিতেই তুষ্ট থেকেছে। অতঃপর তাদের অজ্ঞতা তাদের কোনো একটি মতকে আঁকড়ে ধরতে প্ররোচিত করেছে, ফলে তারা তা ছাড়া অন্য কিছুই দেখেনি, ((আর ফতোয়া প্রদানে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দুঃসাহসী হলো তারাই, যারা মতভেদ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অজ্ঞ))। তাদের কাছে সত্য ও সঠিকতা নির্বাচনের মানদণ্ড ছিল না, আর বাতিল ও ভুল বর্জনের কারণ ছিল না! আর তাদের জন্য তা সম্ভবই বা কীভাবে?!! অথচ তারা হাদীস শাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসারগুলোর শিকলে নিজেদের বন্দি করে রেখেছে; যদি তারা এর অতিরিক্ত কিছু করে, তবে বড়জোর এর টীকা ও ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ পর্যন্ত যায়। আর যদি তারা ব্যাপকতা চায়, তবে পরিভাষা শাস্ত্রবিদদের বক্তব্যের ভুল অনুধাবন ও দূরবর্তী অপব্যাখ্যার ওপরই তুষ্ট থাকে। এর মাঝেই তারা নিজেদের (উলামাদের সম্মান) নামক প্রতিষেধক দিয়ে সুরক্ষিত করেছে এবং (ইমামদের সুউচ্চ মর্যাদা) নামক ডোজ দিয়ে মানুষের কাছে তা বৈধ করে নিয়েছে; অথচ এগুলো এমন সত্য কথা যা দ্বারা বাতিল উদ্দেশ্য করা হয়েছে!!! সুতরাং সেই ব্যক্তি উলামাদের যথাযথ সম্মান করেনি, যে অন্য উলামাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে তাদের কোনো একজনের অন্ধ অনুসরণ করেছে; আর সেই ব্যক্তি ইমামদের মর্যাদা বোঝেনি, যে তাদের কোনো একজনের কথাকে দলিল ছাড়াই গ্রহণ করেছে এবং এর বিপরীতে অন্য যা কিছু আছে তাকে এমনভাবে উপেক্ষা করেছে যেন তা কোনোদিন বলাই হয়নি! আপনি কি দেখেছেন তারা বাতিল সম্পর্কে বলেছে: 'কীভাবে [তা ভুল হতে পারে] যখন তা ইতিপূর্বে কেউ বলেছে?' !!

এ সবকিছু সত্ত্বেও: সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! বিষয়টি যদি সুন্নাহর স্বার্থে, সুন্নাহর পথে এবং সুন্নাহর মানহাজের ওপর ভিত্তি করে না হতো = তবে আমি তাদের বন্ধুত্ব কামনা করতাম এবং তাদের সন্তুষ্টির জন্য চেষ্টা করতাম। অতএব তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে দূরবর্তী সে যেন সন্তুষ্ট না হয় যদি ইলম তাকে অসন্তুষ্ট করে, আর তার চোখ যেন শীতল না হয় যদি হকের নূর তাকে ধাঁধিয়ে দেয়!!

আমি তাদের আলোচনা বর্জন করব, যেহেতু আমি তাদের নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি এবং তাদের অর্থ ও শব্দ উভয়কেই অপছন্দ করেছি!

আমার এই গবেষণার বিষয়: এটি এর প্রাথমিক রূপে আমার ‘আল-মুরসাল আল-খাফি ওয়া আলাকাতুহু বিত-তাদলীস: দিরাসাহ নাযারিইয়্যাহ ওয়া তাতবিকিইয়্যাহ আলা মারউইইয়্যাত আল-হাসান আল-বাসরি’ (গুপ্ত মুরসাল ও তাদলীসের সাথে এর সম্পর্ক: হাসান বসরীর বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহের ওপর তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক গবেষণা) নামক গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা ছিল। আমি একে একটি মৌলিক ভূমিকা হিসেবে তৈরি করেছি; এমন এক ভিত্তি যার ওপর আমি ইমারত নির্মাণ করি এবং এমন এক বিচারক যার কাছে আমি ফয়সালা চাই সেইসব বিষয়ে যা বিভিন্ন মতভেদ ও মাযহাবের ক্ষেত্রে আমার সামনে আসে।

(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ثم شاء الله تعالى، ولأسبابٍ لا أحب ذكرها، أن أفصل هذه المقدمة عن ذلك الكتاب. وكان ذلك خيراً (بحمد الله تعالى) ، حيث توسعت في هذه المعدمة، بما أرجو أن يكون أدعى لوضوحها وقبولها من القارئ الكريم. ولعلي أعود إليها بتوسع أكبر، وخاصة في بعض أبوابها، وفصولها، فيما إذا اضطررت إلى ذلك!

ثم إني إذ أكتب هذا البحث ن مسطراً فيه ما أحسبه الحق الصراح؛ إلا أني لا أشك أن الخطأ حليف بني آدم، والنسيان من خلقة الإنسان. لكني أطلب من القارئ الإنصاف، وأسأله أن يجتهد في طلب العدل، كما أطالب نفسي بذلك. فإن وقف أحد على خطأ، أو اتضح له زلل، أو خالفني في شيءٍ من هذا البحث =

فالنقد العلمي سبيل التصحيح، والنصيحة الأخوية سبب القبول، والعدل في موازنة الحسنات بالسيئات نهج للحق واضح. إن أحب نشر ذلك: فبها ونعمت، وإن أحب أن يخصني بشيء منه: فهو حسن (1)

--------------------------------------------

(1) عنواني هو: المملكة العربية السعودية، مكة المكرمة، ص. ب 10768/ العمرة.
অতঃপর আল্লাহ তাআলা চাইলেন, এবং এমন কিছু কারণে যা আমি উল্লেখ করতে পছন্দ করি না, এই ভূমিকাটিকে সেই কিতাব থেকে পৃথক করি। আর এটিই কল্যাণকর ছিল (আল্লাহ তাআলার প্রশংসায়), যেহেতু আমি এই ভূমিকাকে বিস্তারিত করেছি, যার মাধ্যমে আমি আশা করি এটি সম্মানিত পাঠকের নিকট অধিকতর স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য হবে। সম্ভবত আমি এতে আরও বিশদভাবে ফিরে আসব, বিশেষ করে এর কিছু অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে, যদি আমি এর প্রয়োজন বোধ করি!

এরপর আমি যখন এই গবেষণাটি লিখছি এবং এতে তা-ই লিপিবদ্ধ করছি যা আমি খাঁটি সত্য বলে মনে করি; তবে আমার কোনো সন্দেহ নেই যে ভুল আদম সন্তানের সঙ্গী এবং বিস্মৃতি মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। কিন্তু আমি পাঠকের নিকট ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠা কামনা করি, এবং তাঁকে ন্যায়বিচার কামনায় সচেষ্ট হতে অনুরোধ করি, যেমনটি আমি নিজের জন্য দাবি করি। সুতরাং যদি কেউ কোনো ভুলের সম্মুখীন হন, অথবা তাঁর কাছে কোনো বিচ্যুতি স্পষ্ট হয়, অথবা এই গবেষণার কোনো বিষয়ে আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করেন—

তবে বৈজ্ঞানিক সমালোচনা হলো সংশোধনের পথ, ভ্রাতৃত্বসুলভ উপদেশ হলো কবুল হওয়ার কারণ, এবং দোষ-গুণের ভারসাম্যে ন্যায়বিচার করা সত্যের একটি স্পষ্ট পথ। যদি তিনি তা প্রকাশ করতে পছন্দ করেন, তবে তা অতি উত্তম; আর যদি তিনি এর কোনো কিছু দিয়ে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সম্বোধন করতে চান, তবে সেটিও ভালো (১)

--------------------------------------------

(১) আমার ঠিকানা হলো: সৌদি আরব রাজ্য, মক্কা আল-মুকাররামা, পি.ও. বক্স ১০৭৬৮/ আল-উমরাহ।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الباب الأول:

تاريخ نشأة علوم الحديث وتطور

مصطلحه

 

الفصل الأول: في عصر النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم.

الفصل الثاني: في عصر التابعين.

 

الفصل الثالث: في عصر أتباع التابعين.

 

الفصل الرابع: العصر الذهبي للسنة.

 

الفصل الخامس: في القرن الرابع الهجري.
প্রথম অধ্যায়:

হাদিস শাস্ত্রের উৎপত্তির ইতিহাস এবং এর পরিভাষার বিবর্তন

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাবিঈগণের যুগে।

 

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাবে-তাবিঈগণের যুগে।

 

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর স্বর্ণযুগ।

 

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: হিজরি চতুর্থ শতাব্দীতে।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الأول:

في عصر النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم

 

لا شك أن نشوء علوم الحديث قديم قدم بدء الوحي على النبي صلى الله عليه وسلم !

فأول علم نشأ منها علم الرواية، وأول رواية من هذا العلم سماع ورواية خديجة أم المؤمنين رضي الله عنها لحديث بدء الوحي وقصة مجيء جبريل عليه السلام بأوائل سورة (أقرأ) إلى النبي صلى الله عليه وسلم في غار حراء (1) .

هذا أول حديث من وحي السنة، فهو أول ما نشا من علومها. ومن ذلك الحين، حين إنباء النبي صلى الله عليه وسلم وإرساله، وإسلام السابقين الأولين، بزغ نور السنة مع القرآن، وسطعت شمس الإسلام بالآيات

والحكمة (2) ، وبدأت ملحمة الصلاع بين الحق والباطل.

--------------------------------------------

(1) حديث عائشة في بدء الوحي: أخرجه البخاري (رقم 3 ـ وفيه أطرافه ـ) ، ومسلم (رقم 160) .

(2) ذكر الإمام الشافعي في الرسالة (77- 78 رقم 251- 252) قوله تعالى: (واذكرن ما يتلى في بيوتكن من ءايت الله والحكمة إن الله كان لطيفاً خبيراً) ] الأحزاب: 34 [، فقال: ((فذكر الله الكتاب، وهو القران، وذكر الحكمة، فسمعت من أرضى من أهل العلم بالقران يقول: الحكمة: سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم. (قال الشافعي:) وهذا يشبه ما قال، والله أعلم)) .
প্রথম অধ্যায়:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগে

 

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাদীস শাস্ত্রের উদ্ভব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সূচনালগ্নের মতোই প্রাচীন!

এর মধ্যে সর্বপ্রথম যে শাস্ত্রটি জন্ম নিয়েছে তা হলো বর্ণনা শাস্ত্র (ইলমুর রেওয়ায়েত), আর এই শাস্ত্রের প্রথম বর্ণনা হলো উম্মুল মুমিনীন খাদিজাহ রাযিয়াল্লাহু আনহার ওহী শুরুর হাদীস শ্রবণ এবং বর্ণনা করা, যা হেরা গুহায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জিবরাঈল আলাইহিস সালামের সূরা (ইকরা)-এর প্রথম দিকের আয়াতগুলো নিয়ে আসার ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট (১)।

এটিই সুন্নাহর ওহীর প্রথম হাদীস, তাই এটিই এর শাস্ত্রসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম যা উদ্ভূত হয়েছে। সেই সময় থেকে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবুওয়াত ও রিসালাত প্রদান করা হলো এবং অগ্রগামী প্রথম ব্যক্তিগণ ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন থেকেই কুরআনের সাথে সুন্নাহর নূর উদ্ভাসিত হলো এবং আয়াত ও হিকমতের (২) মাধ্যমে ইসলামের সূর্য প্রদীপ্ত হলো। আর শুরু হলো সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার সংগ্রামের মহাকাব্য।

--------------------------------------------

(১) ওহী শুরুর ব্যাপারে আয়েশার হাদীস: ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (হাদীস নং ৩ - এবং এতে এর বিভিন্ন অংশ রয়েছে) এবং ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন (হাদীস নং ১৬০)।

(২) ইমাম শাফেয়ী আর-রিসালা গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৭৭-৭৮, নং ২৫১-২৫২) মহান আল্লাহর এই বাণী উল্লেখ করেছেন: (আর তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াত ও হিকমত পাঠ করা হয় তা তোমরা স্মরণ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সর্বজ্ঞ) [সূরা আল-আহযাব: ৩৪]। অতঃপর তিনি বলেন: ((আল্লাহ কিতাব উল্লেখ করেছেন যা হলো কুরআন, এবং হিকমত উল্লেখ করেছেন। আমি কুরআন সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেমদের মধ্যে যাদের ওপর আস্থাশীল তাদের বলতে শুনেছি: হিকমত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। (শাফেয়ী বলেন:) তারা যা বলেছেন এটি তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, আর আল্লাহই ভালো জানেন।))।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وخلال هذه الفترة، فترة سنوات البعثة المحمدية (على صاحبها أفضل صلاةٍ وأتم تسليم) التي امتدت لثلاثةٍ وعشرين عاماً = كانت السنة النبوية ق

أنزلت منزلتها في مصادر التشريع الإلهي. وعلم من ذلك الحين أنه لا سبيل إلى رضى الله عز وجل، وإلى الفوز بسعادة الدارين، إلا بكلام الله تعالى المنزل، وبيانه من سنة النبي صلى الله عليه وسلم: القولية والفعلية والتقريرية.

ولن أطيل في ذكر عظيم حرص الصحابة رضي الله عنهم على الاقتباس من نور الملازمتهم للنبي صلى الله عليه وسلم، وإصغائهم إليه بالألباب قبل الأسماع، ومد القلوب للنظر قبل الأبصار، واحتفافهم به صلى الله عليه وسلم بالأرواح قبل الأجساد.

فما تركوا من أقواله قولاً إلا وفي القلوب نقشوه، ولا فعلاً إلا وضبطوه، ولا تقريراً إلا وأحاطوا به علماً. علموا أنه رسول الله فتتلمذوا عليه، وأيقنوا أنه وحي بجسده وروحه صلى الله عليه وسلم فاقتدوا به، وأدركوا أنه سيد ولد آدم فلم يفوتوا فرصة حياته (طاب حياً وميتاً بأبي هو وأمي صلى الله عليه وسلم ، وآمنوا أن حبه أحب الأشياء إليهم ـ بعد حب الله تعالى ـ فتفانوا وبذلوا حتى رضي الله عنهم وأرضاهم.

 

فلله درهم

ولم يزل النور متصلاً بالوحي من السماء حياته صلى الله عليه وسلم ن فلقلوب بالإيمان تزخر، والنفوس بالخير تزكو، والعقول بالعلم تثقف ن والبصيرة بالنور السني تنفذ ن والجوارح بالقدوة تتطهر، والأرواح إلى الجنات ورضى الله تتسابق ز

فلما كمل الدين ن وتمت النعمة، ورضي الله لنا الإسلام ديناً، وبلغ النبي صلى الله عليه وسلم الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح للأمة،
এই সময়কালে, অর্থাৎ মুহাম্মাদী নবুওয়াতের তেইশ বছরব্যাপী বিস্তৃত সময়কালে (তার অধিকারীর প্রতি সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক), সুন্নাহে নববীকে ঐশ্বরিক বিধানের উৎসসমূহে তার যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হয়েছিল। সেই সময় থেকেই এটা জানা গিয়েছিল যে, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য লাভের কোনো পথ নেই মহান আল্লাহর অবতীর্ণ কালাম এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ—যা মৌখিক, ব্যবহারিক ও মৌনসম্মতি ভিত্তিক—তার ব্যাখ্যা ব্যতীত।

আমি সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সেই মহান আকাঙ্ক্ষার বর্ণনায় দীর্ঘসূত্রিতা করব না, যা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্যের নূর থেকে আলো গ্রহণ করার ক্ষেত্রে; তারা কান দিয়ে শোনার আগে প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে শ্রবণ করতেন, চাক্ষুষ দেখার আগে অন্তরের দৃষ্টি প্রসারিত করতেন এবং দেহের উপস্থিতির আগে রূহ দিয়ে তাঁকে বেষ্টন করে রাখতেন।

ফলে তারা তাঁর বাণীর কোনো বাণীই ছাড়েননি যা তারা অন্তরে খোদাই করে নেননি, তাঁর কোনো কাজ ছাড়েননি যা তারা নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করেননি এবং তাঁর কোনো মৌনসম্মতি ছাড়েননি যার পূর্ণ জ্ঞান তারা অর্জন করেননি। তারা জানতেন যে তিনি আল্লাহর রাসূল, তাই তারা তাঁর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তারা নিশ্চিত বিশ্বাস করতেন যে তিনি তাঁর দেহ ও রূহসহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহীর প্রতিচ্ছবি, তাই তারা তাঁর অনুসরণ করেছিলেন। তারা উপলব্ধি করেছিলেন যে তিনি আদম সন্তানের সর্দার, তাই তারা তাঁর জীবনের কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেননি (জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় তিনি পবিত্রতম, তাঁর জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তারা বিশ্বাস করতেন যে তাঁর প্রতি ভালোবাসা তাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় বিষয়—আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার পরেই—তাই তারা আত্মনিয়োগ করেছিলেন ও সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হলেন এবং তাদেরকেও সন্তুষ্ট করলেন।

 

আল্লাহ তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দিন!

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবনভর আকাশ থেকে আসা ওহীর মাধ্যমে এই নূর অবিচ্ছিন্নভাবে বহমান ছিল; ফলে অন্তরসমূহ ঈমানে সমৃদ্ধ হচ্ছিল, নফসসমূহ কল্যাণের মাধ্যমে বিকশিত হচ্ছিল, বুদ্ধি ও মেধা জ্ঞান দ্বারা সুশিক্ষিত হচ্ছিল, অন্তর্দৃষ্টি সুন্নাহর নূরে তীক্ষ্ণ হচ্ছিল, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনুকরণের মাধ্যমে পবিত্র হচ্ছিল এবং রূহসমূহ জান্নাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল।

অতঃপর যখন দ্বীন পূর্ণ হলো, নিয়ামত সমাপ্ত হলো এবং আল্লাহ আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রিসালাতের বাণী পৌঁছে দিলেন, আমানত আদায় করলেন এবং উম্মতকে সদুপদেশ দিলেন,
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وجاهد في الله حق جهاده = أتاه اليقين، ولحق بالرفيق الأعلى، وانقطع الوحي

عندها ختم على السنة بما كان في صدور الصحابة رضي الله عنهم، وفقدت الأسوة إلا بما تمثله الجيل الأول رضي الله عنه.

فعلم الصحابة رضي الله عنهم عظم الأمانة التي عليهم للأمة عبر العصور، وأدركوا ثقل هذا الحمل الذي سيسائلهم الله تعالى عنه، ثم رغبوا أيضاً بالأجر العظيم الذي سينالونه إذا أدوا هذه الأمانة، وبالثواب الممتد الجزيل إذا حملوا ذلك الثقل الأجيال من بعدهم كما تحملوها هم، وعقلوا أن عليهم: من واجب نشر الدين، وتبليغ الدعوة ونصرة الإسلام، وانتشال العباد من عبادة العبباد إلى عبادة رب العباد، ومن ضيق الدنيا إلى

سعة الدنيا والآخرة = من لن يكون إلا بينشر العلوم السنية، وتبليغ الآثار المصطفوية، وتأديب الخلق بالأخلاق المحمدية.

لكنهم كانوا يعملون تمام العلم خطورة الأمر، وأنه تشريف وتكليف ـ وأي تكليف؟ ـ أن تكون الأمة إلى قيام الساعة، ليس لها طريق إلى العلم بدين الله، إلا عن طريق هذا الجيل، من تلامذة محمد صلى الله عليه وسلم ورضي عنهم.

ثم إن الله تعالى قد أدبهم ورسوله صلى الله، على التوثق في الأخبار، والتحري في قبول ناقليها. ومن ذلك قوله تعالى (يأيها الذين ءامنوا إن جاءكم فاسق بنبإٍ فتبينوا … ) ] الحجرات: 6 [وقوله سبحانه: (إذ تلقونه بألسنتكم وتقولون بأفواهكم ما ليس لكم به علم وتحسبونه هيناً وهو عند الله عظيم} .

وقال عز وجل {وإذا جاءهم أمر من الأمن أو الخوف أذاعوا به ولو ردّوه إلى الرسول وإلى أولى الأمر منهم لعلمه الذين يستنبطونه منهم ولولا فضل الله عليكم
আর তিনি আল্লাহর পথে যথাযথভাবে জিহাদ করেছেন = তাঁর নিকট মৃত্যু উপস্থিত হলো এবং তিনি মহান বন্ধুর সাথে মিলিত হলেন এবং ওহী বন্ধ হয়ে গেল।

তখন সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হৃদয়ে যা সংরক্ষিত ছিল, তার মাধ্যমেই সুন্নাহর সীলমোহর বা পরিসমাপ্তি ঘটল এবং প্রথম প্রজন্ম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যা উপস্থাপন করেছেন তা ব্যতীত আদর্শিক দৃষ্টান্ত হারিয়ে গেল।

সুতরাং সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ-যুগান্তরের উম্মতের প্রতি তাঁদের ওপর অর্পিত আমানতের বিশালতা উপলব্ধি করলেন এবং এই বোঝার গুরুত্ব অনুধাবন করলেন যা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। অতঃপর তাঁরা সেই মহান প্রতিদানেরও আকাঙ্ক্ষা করলেন যা তাঁরা এই আমানত আদায়ের বিনিময়ে লাভ করবেন, এবং সেই প্রলম্বিত ও বিপুল সওয়াবের আশা করলেন যদি তাঁরা সেই বোঝা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেন যেমনটি তাঁরা নিজেরা বহন করেছিলেন। তাঁরা অনুধাবন করলেন যে তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো: দ্বীন প্রচার করা, দাওয়াত পৌঁছানো এবং ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করা, আর বান্দাদেরকে বান্দার ইবাদত থেকে সরিয়ে সৃষ্টিজগতের রবের ইবাদতের দিকে এবং দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে

দুনিয়া ও আখেরাতের প্রশস্ততার দিকে নিয়ে যাওয়া = যা সুন্নাহর ইলম প্রচার, মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আসার (রেওয়ায়েতসমূহ) পৌঁছানো এবং মুহাম্মাদী আখলাকের মাধ্যমে সৃষ্টিজগতকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া ছাড়া সম্ভব নয়।

কিন্তু তাঁরা এই বিষয়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে পূর্ণরূপে অবগত ছিলেন এবং জানতেন যে এটি একই সাথে সম্মান ও এক মহান দায়িত্ব—আর কতই না ভারী সেই দায়িত্ব!—যে কেয়ামত পর্যন্ত এই উম্মতের আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের কোনো পথ থাকবে না এই প্রজন্ম অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ছাত্রবৃন্দের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পথ ব্যতীত।

তদুপরি আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদেরকে সংবাদ যাচাই-বাছাই করার এবং বর্ণনাকারীদের গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছিলেন। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী (হে ঈমানদারগণ! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করো … ) [আল-হুজুরাত: ৬] এবং মহান আল্লাহর বাণী: (যখন তোমরা তা তোমাদের জিহ্বা দিয়ে গ্রহণ করছিলে এবং তোমাদের মুখে এমন কথা বলছিলে যা সম্পর্কে তোমাদের কোনো জ্ঞান ছিল না এবং তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ আল্লাহর নিকট তা ছিল অত্যন্ত গুরুতর)।

আর তিনি পরাক্রমশালী ও মহান সত্তা বলেছেন (যখন তাদের কাছে শান্তি বা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে, তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা তা রাসূলের কাছে বা তাদের উলুল আমর (কর্তৃত্বশীলদের) কাছে পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা গবেষণালব্ধ জ্ঞান রাখেন তারা অবশ্যই তার রহস্য জানতে পারতেন। আর তোমাদের ওপর যদি আল্লাহর অনুগ্রহ না থাকত...)
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ورحمته لاتبعتم الشيطان إلا قليلاً} .

 

(1) ومنه أيضاً قوله صلى الله عليه وسلم ك ((كفى بالمرء كذباً] وفي رواية: إثماً [أن يحدث بكل ما سمع)) (1) ، وقوله صلى الله عليه وسلم: ((من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار)) (2) ، وقوله صلى الله عليه وسلم: ((من حدث عني بحديث يرى أنه كذب فهو أحد الكاذبين)) (3) .

 

لذلك فقد اجتمع في هذا الجيل، من دوافع نشر السنة وتعليمها، ومن أسباب التوثق والتورع؛ ما جعله يقوم بأداء الأمانة خير أداء، من غير زيادةٍ ولا نقصان، على الوجه الذي تكفل بتحميل تلك الأمانة للأجيال من بعدهم، وإخلاء المسؤلية عنهم بعد ذلك الكمال والشمول والدقة المتناهية في التبليغ والأداء.

وقد جاءت أخبار متكاثرة في بيان توثق الصحابة رضوان

--------------------------------------------

(1) جه الإمام مسلم في مقدمة صحيحه (رقم 5) ، وأبو داود (رقم 4993) ، وابن حبان في صحيحه ـ الإحسان (رقم 30) ، والحاكم (1/112) ، وغيرهم. وقد اختلف في هذا الحديث على وصله وإرساله، فرجح الدارقطني في العلل إرسلاله (3/175/أ) ، بينما صححه ابن حبان والحاكم كما رأيت، مع عرض الحاكم للاختلاف فيه. وقد نبهني فضيلة الشيخ سعد الحميد على أنه وقع إقحام (في الطباعة) في أحد

 

طريقي الإمام مسلم، جعل الحديث من وجهيه متصلاً، مع أن الصواب أن الإمام مسلماً أخرجه مبيناً الخلاف في وصله وإرساله.

(2) هو حديث صحيح ثابت، مما وصف بأنه متواتر: انظر قطف الأزهار المتناثرة في الأخبار المتواترة للسيوطي (رقم 1) ، ولقط اللآلي المتناثرة في الأحاديث المتواترة للزبيدي (رقم 61) ، ونظم المتناثر في الحديث المتوتر للكتاني (رقم 2) ، وانظر مبحث (المتواتر) هنا= ص (91ـ 132) .

(3) أخرجه الإمام أحمد (4/252، 255) ، ومسلم في مقدمة صحيحه (1/9) ، والترمذي (رقم 2662) وقال ك ((حسن صحيح)) ، وابن ماجه (رقم 41) ، وغيرهم = من حديث المغيرة بن شعبة رضي الله عنه، وهو صحيح عنه، كما قال الرمذي ز وأخرجه الإمام أحمد (4/19ـ 20) ن ومسلم في مقدمة الصحيح (1/9) ، وابن ماجه (رقم 39) ، وابن حبان في صحيحه ت الإحسان ـ (رقم 29) = من حديث سمرة بن جندب رضي الله عنه، وهو صحيح عنه، كما ذكر ابن حبان.
...এবং তাঁর রহমত, তবে অল্পসংখ্যক ব্যতীত তোমরা অবশ্যই শয়তানের অনুসরণ করতে।}।

 

(১) এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী [অন্য বর্ণনায়: পাপী] হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে)) (১), এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়)) (২), এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করবে যা সে মিথ্যা বলে মনে করে, তবে সে মিথ্যাবাদীদের একজন)) (৩)।

 

তাই এই প্রজন্মের মধ্যে সুন্নাহর প্রচার ও তা শিক্ষাদানের প্রেরণা এবং সততা ও সতর্কতার কারণসমূহ এমনভাবে একত্রিত হয়েছিল, যা তাঁদেরকে কোনো প্রকার কম-বেশি না করে সর্বোত্তম উপায়ে আমানত আদায়ে সচেষ্ট করেছিল। এমন এক পদ্ধতিতে তাঁরা আমানত আদায় করেছেন যা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সেই আমানত পৌঁছে দেওয়াকে নিশ্চিত করেছে এবং প্রচার ও আদায়ের ক্ষেত্রে সেই পূর্ণতা, ব্যাপকতা ও চরম সূক্ষ্মতার পর তাঁদেরকে দায়মুক্ত করেছে।

সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কতটুকু সতর্কতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতেন সেই বিবরণে অনেক সংবাদ বর্ণিত হয়েছে

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ-এর মুকাদ্দিমায় (নং ৫), আবু দাউদ (নং ৪৯৯৩), ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ (আল-ইহসান) (নং ৩০), হাকেম (১/১১২) এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটির সূত্র সংযুক্ত (মাওসুল) হওয়া এবং বিচ্ছিন্ন (মুরসাল) হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। দারাকুতনী 'আল-ইলাল'-এ (৩/১৭৫/আ) এর মুরসাল হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অন্যদিকে ইবনে হিব্বান ও হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন যেমনটি আপনি দেখছেন, যদিও হাকেম এর মধ্যকার মতভেদ উল্লেখ করেছেন। শ্রদ্ধেয় শাইখ সাদ আল-হুমাইদ আমাকে সতর্ক করেছেন যে, ইমাম মুসলিমের একটি সনদে (মুদ্রণজনিত কারণে) অনুপ্রবেশ ঘটেছে,

 

যার ফলে হাদীসটি উভয় দিক থেকে সংযুক্ত মনে হচ্ছে। অথচ সঠিক হলো ইমাম মুসলিম হাদীসটির মাওসুল ও মুরসাল হওয়ার মধ্যকার মতভেদ স্পষ্ট করার জন্যই এটি বর্ণনা করেছিলেন।

(২) এটি একটি সহীহ ও সুসাব্যস্ত হাদীস, যা 'মুতাওয়াতির' হিসেবে অভিহিত হয়েছে: দেখুন সুয়ূতী কৃত 'কাতফুল আজহারিল মুতানাসিরা ফিল আখবারিল মুতাওয়াতিরা' (নং ১), জুবাইদী কৃত 'লাকতুল লাআলিল মুতানাসিরা ফিল আহাদিসিল মুতাওয়াতিরা' (নং ৬১), কাত্তানী কৃত 'নাজমুল মুতানাসির ফিল হাদীসিল মুতাওয়াতির' (নং ২), এবং এখানে 'মুতাওয়াতির' পরিচ্ছেদের আলোচনা দেখুন = পৃ (৯১-১৩২)।

(৩) এটি ইমাম আহমাদ (৪/২৫২, ২৫৫), মুসলিম তাঁর সহীহ-এর মুকাদ্দিমায় (১/৯), তিরমিযী (নং ২৬৬২) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: ((হাসান সহীহ)), ইবনে মাজাহ (নং ৪১) এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। এটি মুগীরা বিন শু'বা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হাদীস, যা তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যেমনটি তিরমিযী বলেছেন। ইমাম আহমাদ (৪/১৯-২০), মুসলিম সহীহ-এর মুকাদ্দিমায় (১/৯), ইবনে মাজাহ (নং ৩৯), ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ (আল-ইহসান) (নং ২৯) এটি বর্ণনা করেছেন। এটি সামুরা বিন জুনদুব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হাদীস, যা তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যেমনটি ইবনে হিব্বান উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الله عليهم في نقل السنة، في حياته صلى الله عليه وسلم، فضلاً عما بعد وفاته عليه الصلاة والسلام.

ومن أمثلة توثق الصحابة رضي الله عنهم للسنة في حياته صلى الله عليه وسلم، ما ثبت في حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه، في اعتزال النبي صلى الله عليه وسلم نساءه، وما شاع حينها بين الصحابة أنه صلى الله عليه وسلم طلقهن، فجاءه عمر رضي الله عنه يستأذن عليه، ليستثبته عن الخبر، فقال عمر للنبي صلى الله عليه وسلم: ((أطلقت نساءك؟)) فقال صلى الله عليه وسلم: ((لا)) ، فكبر عمر رضي الله عنه، وقال: ((يا رسول الله، إني دخلت المسجد والمسلمون ينكتون بالحصى، يقولون: طلق رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه، أفأنزل فأخبرهم أنك لم تطلقهن؟ قال:، عم، إن شئت … )) (1) .

ومن ذلك أيضاً حديث أنس رضي الله عنه، في وفود ضمام بن ثعلبة رضي الله عنه على النبي صلى الله عليه وسلم، ليتوثق من نقل الرسول الذي أرسله النبي صلى الله عليه وسلم إلى قومه؛ حيث قال ضمام للنبي صلى الله عليه وسلم: ((يا محمد، أتانا رسولك، فزعم لنا أنك تزعم أن الله أرسلك؟ قال: صدق. قال: فمن خلق السماء؟ قال صلى الله عليه وسلم: الله، قال: فمن خلق الأرض؟ قال: الله، قال: فمن نصب هذه الجبال، وجعل فيها ما جعل؟ قال: الله. قال: فبالذي خلق السماء وخلق الأرض ونصب هذه الجبال = آلله أرسلك؟ قال: نعم … )) الحديث (2) .

 

أما بعد وفاته صلى الله عليه وسلم، فقد ازداد شعور الصحابة بالضرورة

--------------------------------------------

(1) اخرجه البخاري (رقم 89، 2468، 4913، 4914، 4915، 5191، 5218، 5843، 7256، 7263) ، ومسلم (2/1105ـ 1113رقم 1479) ، وغيرهما.

(2) أخرجه البخاري (رقم 63) ، ومسلم (رقم 12) ، والفظ لمسلم.
সুন্নাহ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ বর্ষিত হোক, এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবদ্দশায় ছিল, তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ইন্তেকালের পরবর্তী সময়ের গুরুত্ব তো বলাই বাহুল্য।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় সাহাবীগণ (রাদিআল্লাহু আনহুম) কর্তৃক সুন্নাহর প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করার উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি হলো যা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁর স্ত্রীদের থেকে আলাদা থাকার বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে। সে সময় সাহাবীদের মধ্যে প্রচার হয়ে গিয়েছিল যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের তালাক দিয়েছেন। তখন উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) সংবাদটি যাচাই করার জন্য তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইতে আসলেন। উমর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: ((আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন?)) তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((না))। তখন উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) তাকবীর পাঠ করলেন এবং বললেন: ((হে আল্লাহর রাসুল! আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখলাম মুসলমানরা কঙ্কর নাড়াচাড়া করছে এবং বলছে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন। আমি কি নিচে গিয়ে তাঁদের সংবাদ দেব যে আপনি তাঁদের তালাক দেননি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যদি তুমি চাও … )) (১)।

এর অন্য একটি উদাহরণ হলো আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর হাদিস, যিমাম বিন সা’লাবাহ (রাদিআল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগমনের ব্যাপারে। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁর কওমের কাছে প্রেরিত দূতের বার্তার সত্যতা যাচাই করতে চেয়েছিলেন। যিমাম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: ((হে মুহাম্মদ! আপনার দূত আমাদের কাছে এসেছিল এবং আমাদের নিকট দাবি করেছে যে আপনি নাকি দাবি করেন যে আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। তিনি বললেন: তবে আকাশ কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আল্লাহ। তিনি বললেন: যমীন কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ। তিনি বললেন: কে এই পাহাড়গুলো স্থাপন করেছেন এবং তাতে যা রাখার তা রেখেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ। তিনি বললেন: তবে সেই সত্তার কসম, যিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন, যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং এই পাহাড়গুলো স্থাপন করেছেন—আল্লাহ কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ … )) হাদিসটি শেষ পর্যন্ত (২)।

 

আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকালের পর সাহাবীদের মাঝে এর প্রয়োজনীয়তার বোধ আরও বৃদ্ধি পায়

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (নম্বর ৮৯, ২৪৬৮, ৪৯১৩, ৪৯১৪, ৪৯১৫, ৫১৯১, ৫২১৮, ৫৮৪৩, ৭২৫৬, ৭২৬৩), এবং মুসলিম (২/১১০৫-১১১৩, নম্বর ১৪৭৯), এবং অন্যান্যরা।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (নম্বর ৬৩) এবং মুসলিম (নম্বর ১২), তবে শব্দগুলো মুসলিমের।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
القصوى للتوثق للسنة، إذ لم يمكنهم الرجوع إلى معدنها واصلها، بعد أن فقدوا شخص النبي صلى الله عليه وسلم، وواروه التراب!!

ومن ذلك ما وقع للخلفية الثاني عمر بن الخطاب رضي الله عنه.

فعن أبي سعيد الخدري، قال: ((كنا في مجلسٍ عند أبي بن كعب، فأتى أبو موسى الأشعري مغضباً] وفي رواية: فزعاً أو مذعوراً [حتى وقف، فقال: أنشدكم الله! هل سمع أحدُ منكم رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (الا ستئذان ثلاث، فإن أذن لك، وإلا فارجع) ؟ قال أبي: وما ذاك؟ ! قال: استأذنت على عمر بن الخطاب أمس ثلاث مرات، فلم يؤذن لي، فرجعت. ثم جئت. ثم جئته اليوم، فدخلت عليه، فأخبرته أني جئت أمس، فسلمت ثلاثاً، ثم انصرفت. قال: قد سمعناك، ونحن حينئذٍ في شغل، فلو استأذنت حتى يؤذن لك؟ قال: استأذنت كما سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال: فوالله لأوجعن ظهرك وبطنك، أو لتأتين بمن شهد لك على هذا (1) .

فقال أبي بن كعب: فوالله لا يقوم معك إلا أحدثنا صناً! قم يا أبا سعيد. فقمت حتى أتيت عمر، فقلت: قد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول هذا)) (2)

--------------------------------------------

(1) لم يكن هذا من عمر رضي الله عنه، لأنه لم يكن يحتج بخبر الآحاد، كما زعموا!! فإنه لما قبل حديث أبي سعيد، لم يزل الخبر بعدها آحاداً. ولم يكن هذا أيضاً، لأ، هـ لم يكن يثق بأبي موسى، حاشاه، وإنما فعل ذلك زيادة في التثبت، طلباً لاطمئنان القلب، كما جاء صريحاً عن عمر نفسه في بعض الروايات، وكما بينه العلماء أيضاً، فانظر فتح الباري (11/32شرح الحديث رقم 624) .

(2) أخرجه البخاري (رقم 6245) ، ومسلم (رقم 2153) ، واللفظ لمسلم.
সুন্নাহর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতকরণের চরম পর্যায়, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হারানো এবং তাঁকে মাটিতে শায়িত করার পর তাঁদের পক্ষে সুন্নাহর মূল উৎস ও খনির দিকে ফিরে যাওয়া সম্ভব ছিল না!!

আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো যা দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমরা উবাই ইবনে কাবের নিকট এক মজলিসে ছিলাম, এমতাবস্থায় আবু মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু রাগান্বিত অবস্থায় আসলেন [অন্য বর্ণনায়: ভীত বা সন্ত্রস্ত অবস্থায়] এবং দাঁড়িয়ে বললেন: আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি! আপনাদের কেউ কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: (অনুমতি প্রার্থনা তিনবার, যদি তোমাকে অনুমতি দেওয়া হয় তবে ভালো, অন্যথায় ফিরে যাও)? উবাই বললেন: বিষয়টি কী?! তিনি বললেন: আমি গতকাল উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট তিনবার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, ফলে আমি ফিরে গিয়েছিলাম। এরপর আমি আজ আসলাম এবং তাঁর কাছে প্রবেশ করে তাঁকে জানালাম যে আমি গতকাল এসেছিলাম এবং তিনবার সালাম দিয়েছিলাম, অতঃপর ফিরে গিয়েছিলাম। উমর বললেন: আমরা তোমার শব্দ শুনেছিলাম, কিন্তু তখন আমরা ব্যস্ত ছিলাম, তাই তুমি যদি অনুমতি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যেভাবে বলতে শুনেছি ঠিক সেভাবেই অনুমতি চেয়েছিলাম। উমর বললেন: আল্লাহর কসম! হয় আমি তোমার পিঠ ও পেট ব্যথিত করে দেব, নতুবা তোমাকে অবশ্যই এমন কাউকে নিয়ে আসতে হবে যে তোমার পক্ষে এ বিষয়ে সাক্ষ্য দেবে (১)।

উবাই ইবনে কাব বললেন: আল্লাহর কসম! আমাদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তোমার সাথে যাবে না! হে আবু সাঈদ, দাঁড়াও। তখন আমি দাঁড়ালাম এবং উমরের নিকট গিয়ে বললাম: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এটি বলতে শুনেছি)) (২)

--------------------------------------------

(১) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষ থেকে এটি এমন ছিল না যে তিনি একক বর্ণনা (খবরে ওয়াহিদ) দ্বারা দলিল গ্রহণ করতেন না, যেমনটি তারা দাবি করেছে!! কেননা তিনি যখন আবু সাঈদের হাদিসটি গ্রহণ করলেন, তখনও সেটি একক বর্ণনাই রয়ে গিয়েছিল। আর এটি এজন্যও ছিল না যে তিনি আবু মুসাকে বিশ্বাস করতেন না—আল্লাহ ক্ষমা করুন—বরং তিনি এটি করেছিলেন অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এবং হৃদয়ের প্রশান্তি কামনায়, যা স্বয়ং উমরের পক্ষ থেকেই কিছু বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং উলামায়ে কেরামও তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারী (১১/৩২, হাদিস নং ৬২৪ এর ব্যাখ্যা)।

(২) বুখারী (নং ৬২৪৫) ও মুসলিম (নং ২১৫৩) এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস মুসলিমের।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
بل لقد كان عمر رضي الله عنه، كما سقول الإمام الذهبي: ((هو الذي سن للمحدثين التثبت في النقل)) (1) . يعني: أنه حرص على إشاعة هذه السنة وتعليهما، وأخذ الرعية على التزامها، والتشديد في ذلك؛ وهي سنة التوثق والتحري للسنة.

قال إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف: ((بعث عمر بن الخطاب إلى عبد الله بن مسعود، وإلى أبي الدرداء، وإلى أبي مسعود الأنصاري،] وإلى أبي ذر [، فقال: ما هذا الحديث الذي تكثرون عن رسول الله صلى الله عليه وسلم!!

فحبسهم بالمدينة (2) ، حتى استشهد)) (3)

--------------------------------------------

(1) تذكرة الحافظ (1/6) .

(2) قال أبو عبد الله ابن بري شيخ الرامهرمزي ـ كما في المحدث الفاصل (553رقم 745) ـ: ((يعني منعهم من الحديث، ولم يكن لعمر حبس)) . قلت تنبيه حسن. ظاهر أن معنى (حبسهم) ، أي: منعهم الخروج من المدينة.

(3) إسناده صحيح، فإبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف قد سمع من عمر رضي الله عنه على الصحيح، كما يأتي بيانه. أخرجه الإمام أحمد في العلل (رقم 372) ، وابن سعد في الطبقات (2/336) ، وابن أبي شيبه في المصنف (8/756) ، وأبو زرعة الدمشقي في تاريخه (رقم 1479) ، والبلاذري في أنساب الأشراف ـ ترجمة الشيخين: أبي بكر وعمر ـ (151) ، والطحاوي في بيان مشكل أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم واستخراج ما فيها من الأحكام ونفي التضاد عنها ـ المطبوع باسم: شرح مشكل الآثار! انظر نماذج المخطوطات في مقدمة تحقيقه (1/105ـ 119) ، وفهرسة أبي بكر الإشبيلي (200) ـ (15/311ـ 312) ، والطبراني في المعجم الأوسط ـ كما في مجمع البحرين للهيثمي (رقم 304) ، والرامهرزي في المحدث الفاصل (رقم 745) ، والحاكم وصححه في المستدرك (1/110) ، وأبو نعيم في الإمامة (رقم 130) ، وابن حزم في الإحكام (2/139) ، والخطيب في شرف أصحاب الحديث (87 رقم 190) ، وابن عساكر في تاريخ دمشق ـ المطبوع ت (39/108) ـ والمخطوط ـ (13/749-750، 750) . وله أسانيد متعددة، تلتقي: في شعبة بن الحجاج أو سعد بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف، كلاهما: عن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف

به.

والأسانيد بذلك صحيحه، كما سبق.

لكن بعض الأئمة أعله بالانقطاع بين إبراهيم وعمر رضي الله عنه، منهم: ابن حزم في الإحكام (2/239-140) ، وشنع في رده. ونحوه الهيثمي في مجمع البحرين (1/263) ، حيث قال: ((هذا باطل، لا يصح عن عمر..)) ، ثم أعله بالانقطاع، ورد قول الواقدي بإثبات سماع إبراهيم من عمر رضي الله عنه.

وإليك بسط مسألة سماع إبراهيم بن عبد الرحمن من عمر رضي الله عنه:

فنفى السماع ـ كما سبق ـ: ابن حزم، والهيثمي. وقال البيهقي في السنن الكبرى (8/277) : ((لم يثبت له سماع من عمر بن الخطاب رضي الله عنه، وإنما يقال رآه)) .

وخالفهم جماعة: فقال الإمام أحمد في العلل (رقم 464) : ((وإبراهيم بن عبد الرحمن لا شك فيه، سمع من عمر)) .

وقال يعقوب بن شيبة ـ كما في تاريخ دمشق لابن عساكر المطبوع (2/461) ، وكما في تهذيب التهذيب (1/139) ـ: ((لا نعلم أحداً من ولد عبد الرحمن روى عن عمر سماعاً غيره)) .

وأثبت السماع أيضاً: ابن جرير الطبري، كما في التهذيب (1/140) . وأثبته أيضاً الواقدي، فقال ـ كما في طبقات ابن سعد (5/56) ـ: ((لا نعلم أحداً من ولد عبد الرحمن بن عوف روى عن عمر سماعاً ورؤية غير إبراهيم)) .

والفصل في ذلك الروايات بأزمتها وخطمها!

قال الدولابي في الكنى (1/189) : ((حدثنا محمد بن منصور الجواز، حدثنا عبد الله بن جعفر بن المسور ابن مخرمة، عن سعد بن إبراهيم، (أو حممة) ، وكان جارنا يبيع الخمر)) .

وهذا إسناد حسن.

وأخرجه ابن سعد في الطبقات (5/56) ، قال ك ((أخبرنا يزيد بن هارون، ومعن بن عيسى، ومحمد بن إسماعيل بن أبي فديل، قالوا: أخبرنا ابن أبي ذئب، عن سعد بن إبراهيم، عن أبيه، قال: إن عمر بن الخطاب حرق بيت رويشد الثقفي وكان حانوتاً للشراب، وكان عمر قد نهاه، فلقد رأيته يلتهب كأنه جمرة)) .

وهذا إسناد صحيح. وقال سعد بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف: ((اشهد على أبي، أنه أخبرني: أن أمه أمرت بشاةٍ فسلخت] وفي رواية: إني لأذكر مسك شاةٍ [، حين جلد عمر أبا بكرة، فألبستها إياه. فهل كان ذلك إلا من جلدٍ شديد؟!)) . … =

أخرجه عبد الرزاق (رقم 13510) ، وابن أبي شيبة (9/524-525، 256، ووقع فيه تحريف ظاهر) ، والبيهقي في السنن الكبرى (

8/326) . وإسناده صحيح. ومما يدل أيضاً على إدراكه لعمر رضي الله عنه: أنه ولد في أواخر حياة النبي صلى الله عليه وسلم، ولذلك ذكره جماعة في الصحابة، كابن مندة، وأبي نعيم، وابن عبد البر، وابن الأثير، وابن حجر.

انظر معرفة الصحابة لأبي نعيم (2/159رقم 76) ، والاستيعاب لابن عبد البر (1/61رقم 2) ، وأسد الغابة لابن الأثير (1/53) ، والإصابة لابن حجر (1/98) .
বরং উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যেমনটি ইমাম যাহাবী বলেছেন: ((তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি মুহাদ্দিসগণের জন্য বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের নীতি প্রবর্তন করেছিলেন)) (১)। অর্থাৎ: তিনি এই সুন্নাহকে (পদ্ধতিকে) প্রচার ও শিক্ষা দিতে এবং প্রজাদেরকে তা মেনে চলতে বাধ্য করতে এবং এ বিষয়ে কঠোরতা বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিলেন; আর তা হলো সুন্নাহর বিশুদ্ধতা যাচাই ও অনুসন্ধানের নীতি।

ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ বলেন: ((উমর ইবনুল খাত্তাব আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু দারদা, আবু মাসউদ আনসারী এবং আবু যার-এর নিকট (লোক) পাঠালেন এবং বললেন: রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে আপনাদের বর্ণিত এই হাদিসগুলো কী, যা আপনারা এত অধিক পরিমাণে বর্ণনা করছেন!!

অতঃপর তিনি তাঁদেরকে মদীনায় আটকে রাখলেন (২), এমনকি তিনি শহীদ হওয়া পর্যন্ত (৩)))

--------------------------------------------

(১) তাযকিরাতুল হাফিয (১/৬)।

(২) রামহুরমুযীর শায়খ আবু আবদুল্লাহ ইবনে বাররী বলেন—যেমনটি আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল (৫৫৩, নং ৭৪৫) গ্রন্থে রয়েছে—: ((অর্থাৎ তিনি তাঁদেরকে হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত রেখেছিলেন, উমরের কোনো কয়েদখানা ছিল না))। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি একটি উত্তম সতর্কতা। স্পষ্টত 'حبسهم' (তাঁদের আটকে রাখা) এর অর্থ হলো: তিনি তাঁদেরকে মদীনা থেকে বের হওয়া থেকে নিষেধ করেছিলেন।

(৩) এর সনদ সহীহ। কেননা ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ সঠিক মতানুসারে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শ্রবণ করেছেন, যা সামনে বর্ণিত হবে। ইমাম আহমাদ আল-ইলাল (নং ৩৭২), ইবনে সাদ আত-তাবাকাত (২/৩৩৬), ইবনে আবি শাইবাহ আল-মুসান্নাফ (৮/৭৫৬), আবু যুরআ আদ-দিমাশকী তাঁর তারিখে (নং ১৪৭৯), বালাযুরী আনসাবুল আশরাফ-এ—শায়খাইন: আবু বকর ও উমরের জীবনী—(১৫১), তাহাবী বায়ান মুশকিলে আহাদিসি রসূলিল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এ যা 'শারহু মুশকিলিল আসার' নামে মুদ্রিত! এর তাহকীককৃত মুখাদিমার পাণ্ডুলিপি নমুনা দেখুন (১/১০৫-১১৯) ও আবু বকর আল-ইশবীলীর ফাহরাসা (২০০)—(১৫/৩১১-৩১২), তাবারানী আল-মুজামুল আওসাত-এ—যেমনটি হাইসামীর মাজমাউল বাহরাইন (নং ৩০৪)-এ রয়েছে—, রামহুরমুযী আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল (নং ৭৪৫), হাকিম আল-মুস্তাদরাক (১/১১০)-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং সহীহ বলেছেন, আবু নুআইম আল-ইমামাহ (নং ১৩০), ইবনে হাযম আল-ইহকাম (২/১৩৯), খতীব শারাফু আসহাবিল হাদিস (৮৭, নং ১৯০), ইবনে আসাকির তারিখু দিমাশক—মুদ্রিত (৩৯/১০৮)—ও পাণ্ডুলিপিতে—(১৩/৭৪৯-৭৫০, ৭৫০) এটি বর্ণনা করেছেন। এর একাধিক সনদ রয়েছে যা শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ অথবা সাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ-এর নিকট গিয়ে মিলেছে, তাঁরা উভয়ে ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং এর সনদসমূহ সহীহ, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

তবে কোনো কোনো ইমাম ইবরাহীম ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাঝে ইনকিতা' (বিচ্ছিন্নতা) থাকার কারণে একে যয়ীফ বলেছেন, তাঁদের মাঝে রয়েছেন: ইবনে হাযম আল-ইহকাম (২/২৩৯-১৪০)-এ, এবং তিনি তাঁর খণ্ডনে কঠোরতা করেছেন। অনুরূপ হাইসামী মাজমাউল বাহরাইন (১/২৬৩)-এ বলেছেন: ((এটি বাতিল, উমর থেকে এটি প্রমাণিত নয়...)), অতঃপর তিনি একে ইনকিতা'-এর কারণে যয়ীফ বলেছেন এবং ইবরাহীমের উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শ্রবণ সাব্যস্ত করার ব্যাপারে ওয়াতিদীর উক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমানের উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শ্রবণের মাসআলার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:

শ্রবণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—: ইবনে হাযম ও হাইসামী। বায়হাকী আস-সুনানুল কুবরা (৮/২৭৭)-এ বলেন: ((উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তাঁর শ্রবণ সাব্যস্ত নয়, বড়জোর বলা যায় তিনি তাঁকে দেখেছেন))।

তবে একটি জামাত তাঁদের বিরোধিতা করেছেন: ইমাম আহমাদ আল-ইলাল (নং ৪৬৪)-এ বলেন: ((ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমানের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, তিনি উমর থেকে শুনেছেন))।

ইয়াকুব ইবনে শাইবাহ বলেন—যেমনটি ইবনে আসাকিরের তারিখু দিমাশক মুদ্রিত (২/৪৬১) ও তাহযীবুত তাহযীব (১/১৩৯)-এ রয়েছে—: ((আমরা আবদুর রহমানের সন্তানদের মধ্যে তাঁর ব্যতীত আর কাউকে জানি না যিনি উমর থেকে শ্রবণের সাথে বর্ণনা করেছেন))।

শ্রবণের বিষয়টি ইবনে জারীর তাবারীও সাব্যস্ত করেছেন, যেমনটি আত-তাহযীব (১/১৪০)-এ রয়েছে। ওয়াতিদীও এটি সাব্যস্ত করেছেন এবং ইবনে সাদের আত-তাবাকাত (৫/৫৬)-এ তিনি বলেন: ((আমরা আবদুর রহমান ইবনে আউফের সন্তানদের মধ্যে ইবরাহীম ব্যতীত আর কাউকে জানি না যিনি উমর থেকে শ্রবণ ও দেখার সাথে বর্ণনা করেছেন))।

আর এ বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা হলো সনদ ও সূত্রের বলিষ্ঠতার ভিত্তিতে!

দৌলাবী আল-কুনা (১/১৮৯) গ্রন্থে বলেন: ((মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর আল-জাওওয়ায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনুল মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাদ ইবনে ইবরাহীম (অথবা হামামাহ) থেকে, তিনি আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন এবং মদ বিক্রি করতেন))।

এই সনদটি হাসান।

ইবনে সাদ আত-তাবাকাত (৫/৫৬) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ((ইয়াযীদ ইবনে হারুন, মা'ন ইবনে ঈসা ও মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আবি ফুদাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: ইবনে আবি যিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাদ ইবনে ইবরাহীম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব রুওয়াইশিদ সাকাফীর বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিলেন কারণ সেটি শরাব বিক্রির দোকান ছিল, অথচ উমর তাকে নিষেধ করেছিলেন; আমি অবশ্যই তাকে অঙ্গারের মতো জ্বলতে দেখেছি))।

এই সনদটি সহীহ। সাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ বলেন: ((আমি আমার পিতার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: যখন উমর আবু বাকরাহকে চাবুক মারলেন তখন তাঁর মা একটি ছাগল জবাই করে সেটির চামড়া ছাড়ানোর নির্দেশ দিলেন [অন্য বর্ণনায়: আমি ছাগলের চামড়ার স্পর্শের কথা স্মরণ করতে পারি], অতঃপর তিনি তাঁকে সেটি পরিয়ে দিলেন। এটি কি তীব্র প্রহারের কারণে ছিল না?!))। … =

আব্দুল রাজ্জাক (নং ১৩৫১০), ইবনে আবি শাইবাহ (৯/৫২৪-৫২৫, ২৫৬ এবং এতে প্রকাশ্য বিকৃতি ঘটেছে), বায়হাকী আস-সুনানুল কুবরা (৮/৩২৬)-এ এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ সহীহ। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগ পাওয়ার আরেকটি প্রমাণ হলো: তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনের শেষ দিকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, এই কারণে একদল উলামা তাঁকে সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমন ইবনে মানদাহ, আবু নুআইম, ইবনে আবদুল বারর, ইবনুল আসীর ও ইবনে হাজার।

দেখুন আবু নুআইমের মা'রিফাতুস সাহাবাহ (২/১৫৯, নং ৭৬), ইবনে আবদুল বাররের আল-ইসতিআব (১/৬১, নং ২), ইবনুল আসীরের আসাদুল গাবাহ (১/৫৩), ইবনে হাজারের আল-ইসাবাহ (১/৯৮)।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وفي رواية أخرى لإبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف، قال: ((والله ما مات عمر حتى بعث إلى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ن فجمعهم جميعاً من الآفاق ك حذيفة، وابن مسعود، وأبا الدرداء، وأبا ذر، وعقبة بن عامر. فقال: ما هذه الأحاديث التي أفشيتم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في الآفاق؟! قالوا: أتتهمنا؟ !!! قال ك لا، ولكن أقيموا عندي، ولا تفارقوني ما عشت، فنحن أعلم بما نأخذ منكم وما نرد عليكم. فما فارقوه حتى مات، فما خرج ابن مسعود إلى الكوفة ببيعة عثمان، إلا من سجن عمر (1) .

--------------------------------------------

(1) أورده ابن كثير في مسند الفاروق (2/624) ، وقال: ((إسناده جيد)) .

قلت: وفيه عنعنة ابن إسحاق، وهو مدلس.

ثم اطلعت على الأثر: فقد أخرجه ابن عساكر في تاريخ دمشق ـ المخطوط ـ (11/702) ، وفيه تصريح ابن إسحاق بالسماع.
ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফের অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন: "আল্লাহর কসম, উমর (রা.) মৃত্যুবরণ করেননি যতক্ষণ না তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের কাছে লোক পাঠিয়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাঁদের সকলকে একত্রিত করলেন; যেমন: হুযাইফা, ইবনে মাসউদ, আবুদ্দারদা, আবু যার এবং উকবা ইবনে আমির। অতঃপর তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আপনারা বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব হাদীস ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলো কী?! তাঁরা বললেন: আপনি কি আমাদের অভিযুক্ত করছেন?! তিনি বললেন: না, তবে আপনারা আমার সান্নিধ্যে অবস্থান করুন এবং আমি যতদিন বেঁচে আছি আমাকে ছেড়ে যাবেন না; আপনাদের থেকে আমরা যা গ্রহণ করব এবং যা প্রত্যাখ্যান করব তা আমরাই ভালো জানি। অতঃপর তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁরা তাঁকে ছেড়ে যাননি। উসমানের বাইয়াতের সময় ইবনে মাসউদ যে কুফায় বের হয়েছিলেন, তা উমরের সেই আবদ্ধ অবস্থা (১) থেকেই হয়েছিল।"

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর এটি 'মুসনাদুল ফারুক' (২/৬২৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "এর সনদ উত্তম।"

আমি বলছি: এতে ইবনে ইসহাকের 'আনআনা' (অস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা) রয়েছে, আর তিনি একজন মুদাল্লিস (বর্ণনাকারী গোপনকারী)।

পরবর্তীতে আমি এই বর্ণনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি: ইবনে আসাকির এটি 'তারীখে দিমাশক'—পাণ্ডুলিপি—(১১/৭০২)-এ বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে ইবনে ইসহাকের সরাসরি শোনার (সামা‘) স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وهذا قرظة بن كعب الأنصاري رضي الله عنه، يروي أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه شيعه وفداً خارجاً إلى الكوفة، فأوصى عمر الوفد وصية قال فيها: ((إنكم تأتون بلدة ً لها دوي بالقرآن، كدوي النحل. فلا تصدوهم بالأحاديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم] وفي رواية: فأقلوا الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم [، وأنا شريككم)) (1)

ولهذا التشديد في رواية السنة، والتحذير من أي دواعي الخطأ فيها، خطب معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه على منبر دمشق قائلاً: ((أيها الناس، إياكم وأحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، إلا حديثاً كان يذكر على عهد عمر رضي الله عنه، فإن عمر كان يخيف الناس في الله عز وجل) (2) .

وقد علق الإمام الطحاوي 0 أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة الأزدي المصري ت 321هـ) ، على هذه الآثار عن عمر

--------------------------------------------

(1) إسناده صحيح.

أخرجه أحمد في العلل (رقم 373) ، وابن ماجه في السنن (رقم 28) ، وأبو يوسف في الرد على سير الأوزاعي (29ـ 30) ، وابن سعد في الطبقات (6/7) ، وابن أبي شيبة في المصنف ـ مختصراً دون موطن الشاهد ـ (6/7) ، وابن أبي شيبة في المصنف ـ مختصراً دون موطن الشاهد ـ (1/10) (12/535) ، والدارمي في السنن (رقم 285، 286) ، والطحاوي في بيان مشكل الأحاديث (15/316ـ 319) ، والرامهرمزي في المحدث الفاصل (553 رقم 744) ، وابن حبان في المجروحين 01/35-36) ، والحاكم وصححه في المستدرك (1/ 102) ، وابن حزم في الإحكام (2/137-138) ، وابن عبد البر في جامع بيان العلم وفضله (رقم 1904ـ 1906) ، والخطيب في شرف أصحاب الحديث (88 رقم 192) ، والمزي في تهذيب الكمال (23/565-566) .

(2) صحيح.

أخرجه أبو زرعة الدمشقي في تاريخه (رقم 1478) ، وابن عدي في الكامل (1/5، 19) ، وأبو نعيم في الإمامة (رقم 131) ، والخطيب في شرف أصحاب الحديث (91 رقم 198) .
ইনি হলেন কারাজা ইবনে কাব আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কুফার উদ্দেশ্যে বের হওয়া এক প্রতিনিধি দলকে বিদায় জানাতে কিছু দূর পর্যন্ত সাথে গেলেন। তখন উমর সেই প্রতিনিধি দলকে এক অসিয়ত করে বললেন: ((তোমরা এমন এক জনপদে যাচ্ছ যেখানে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো কুরআনের গুঞ্জন ধ্বনিত হয়। সুতরাং তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস শুনিয়ে তাদের (কুরআন থেকে) ফিরিয়ে দিয়ো না।)) [অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ((তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীস বর্ণনা কমিয়ে দাও, আর আমি তোমাদের অংশীদার।))] (১)

সুন্নাহ বর্ণনার ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি এবং তাতে ভুলের যেকোনো কারণ থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দামেস্কের মিম্বরে ভাষণ প্রদানকালে বলেছিলেন: ((হে লোকসকল, তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে সাবধান থাকো, তবে সেই হাদীসগুলো ব্যতীত যা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে আলোচিত হতো। কেননা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মহান আল্লাহর ব্যাপারে মানুষকে ভীত রাখতেন।)) (২) ।

ইমাম তাহাবী (আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ আল-আযদি আল-মিসরি, মৃত্যু ৩২১ হিজরি) উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত এই আসারগুলোর ওপর মন্তব্য করেছেন

--------------------------------------------

(১) এর সনদ সহীহ।

আহমদ 'আল-ইলাল' গ্রন্থে (নং ৩৭৩), ইবনে মাজাহ 'আস-সুনান' গ্রন্থে (নং ২৮), আবু ইউসুফ 'আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ' গ্রন্থে (২৯-৩০), ইবনে সাদ 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থে (৬/৭), ইবনে আবি শায়বাহ 'আল-মুসান্নাফ' গ্রন্থে—সংক্ষিপ্তভাবে মূল সাক্ষী অংশ ব্যতীত—(৬/৭), ইবনে আবি শায়বাহ 'আল-মুসান্নাফ' গ্রন্থে—সংক্ষিপ্তভাবে মূল সাক্ষী অংশ ব্যতীত—(১/১০) (১২/৫৩৫), দারেমি 'আস-সুনান' গ্রন্থে (নং ২৮৫, ২৮৬), তাহাবী 'বায়ানু মুশকিলিল আসার' গ্রন্থে (১৫/৩১৬-৩১৯), রামাহুরমুজি 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল' গ্রন্থে (৫৫৩, নং ৭৪৪), ইবনে হিব্বান 'আল-মাজরুহীন' গ্রন্থে (১/৩৫-৩৬), হাকেম 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে (১/১০২) এবং একে সহীহ বলেছেন, ইবনে হাযম 'আল-ইহকাম' গ্রন্থে (২/১৩৭-১৩৮), ইবনে আব্দিল বার 'জামি বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি' গ্রন্থে (নং ১৯০৪-১৯০৬), খাতিব বাগদাদী 'শরাফু আসহাবিল হাদীস' গ্রন্থে (৮৮, নং ১৯২) এবং মিযযি 'তাহযিবুল কামাল' গ্রন্থে (২৩/৫৬৫-৫৬৬) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) সহীহ।

আবু যুরআহ আদ-দিমাশকি তার 'তারিখ' গ্রন্থে (নং ১৪৭৮), ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে (১/৫, ১৯), আবু নুয়াইম 'আল-ইমামাহ' গ্রন্থে (নং ১৩১) এবং খাতিব বাগদাদী 'শরাফু আসহাবিল হাদীস' গ্রন্থে (৯১, নং ১৯৮) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
رضي الله عنه، في كتابه (بيان مشكل أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ، فقال: ((فقال قائل: فما وجه هذا الذي رويتموه عن عمر، وهو إمام راشد مهدي؟ ! وأنتم تعلمون أنه لا يقف الناس على ماكان رسول الله صلى الله عليه وسلم، إلا بما يحدثهم به أصحابه عنه، وفيما كان من عمر ما يقطعهم عن ذلك مما كان منه!!

(قال الطحاوي:) فكان جوابنا له في ذلك: أن عمر كان مذهبه حياطة ما يروى عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإن كان الذين رووه عدولاً. إذ كان على الأئمة تأمل ما يشهد به عندهم ممن قد ثبت عدله عندهم، فكان عمر فيما كان يحدث به عن رسول الله صلى الله عليه وسلم مما لا يحفظه عنه كذلك أيضاً (1) . وكذلك فعل بأبي موسى مع عدله عنده فيما حدث به عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم، مما لم يكحن عنده في الارستئذان مما ذكرناه فيما تقدم من كتابنا هذا. وقد وقف على ذلك منه أبي بن كعب ومن سواه من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، الذين وقفوا على ذلك منه ولم ينكروه عليه، ولم يخالفوه فيه، فدل ذلك على موافقتهم إياه عليه.

ولما كان ذلك كذلك: فعل في أمور الذين كان منه في حبسهم ـ مما كان فعله في ذلك ـ لهذا المعنى، لا لأن يقطعهم عن التبليغ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس ما قد سمعوه منه. وكذلك كان أبو بكر رضي الله عنه قبله في مثل هذا …

 

(إلى أن قال:) وقد يحتمل أن يكون ما كان من الذين حبسهم ـ فيما كان حبسهم فيه ـ لتجاوز ما كان ينبغي أن يكون من أمثالهم، حتى خاف أن يقطعوا الناس بذلك، ويشغلوهم به

--------------------------------------------

(1) وهذا من (نقد المتون) ، الذي ينكره أعداء السنة على علماء السنة أنهم لم يقوموا به.. هذا عمر قد سبق إليه!! وانظر ما يأتي في (ص 143) وحاشيتها.
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁর গ্রন্থ 'বায়ান মুশকিলে আহাদিস রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'-এ বলেন: "একজন প্রশ্নকারী বললেন: ওমর (রা.) থেকে আপনারা যা বর্ণনা করেছেন তার তাৎপর্য কী, অথচ তিনি একজন সঠিক পথে পরিচালিত ও হেদায়েতপ্রাপ্ত ইমাম? আপনারা তো জানেন যে, মানুষ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে কেবল তাঁর সাহাবীদের বর্ণনার মাধ্যমেই জানতে পারে; অথচ ওমরের পক্ষ থেকে যা ঘটেছে তা তাদের সেই বর্ণনা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়!!"

(ইমাম তহাবী রহ. বলেন:) এ বিষয়ে আমাদের উত্তর হলো: ওমরের নীতি ছিল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয় তা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে রক্ষণাবেক্ষণ করা, যদিও বর্ণনাকারীরা ন্যায়পরায়ণ ছিলেন। কেননা ইমামদের দায়িত্ব হলো তাদের নিকট যারা সাক্ষ্য দেয়—যাদের ন্যায়পরায়ণতা তাদের কাছে প্রমাণিত—তাদের বর্ণিত বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। ওমর (রা.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এমন হাদিসের ক্ষেত্রেও এমনই করতেন যা তাঁর মুখস্থ ছিল না (১)। অনুরূপভাবে তিনি আবু মুসা (রা.)-এর সাথেও করেছিলেন—যিনি তাঁর নিকট ন্যায়পরায়ণ ছিলেন—আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুমতি গ্রহণ সংক্রান্ত তাঁর বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে, যা তাঁর (ওমরের) জানা ছিল না, যেমনটি আমরা আমাদের এই গ্রন্থের পূর্ববর্তী অংশে উল্লেখ করেছি। তাঁর এই কর্মপন্থা সম্পর্কে উবাই ইবনে কাব (রা.) এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য সাহাবীগণ অবগত হয়েছিলেন; তাঁরা তাঁর এই কাজের প্রতিবাদ করেননি এবং তাঁর বিরোধিতা করেননি। এটি প্রমাণ করে যে, তাঁরা তাঁর এই বিষয়ের সাথে একমত ছিলেন।

আর যেহেতু বিষয়টি এমনই ছিল, তাই তিনি যাদের বন্দি করেছিলেন তাদের ক্ষেত্রেও একই কারণে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন; মানুষের কাছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছে তা পৌঁছানো থেকে তাদের বিরত রাখার জন্য নয়। তাঁর পূর্বে আবু বকর (রা.)-এর নীতিও অনুরূপ ছিল ...

 

(পরিশেষে তিনি বলেন:) আর এটিও সম্ভাব্য যে, যাদের তিনি বন্দি করেছিলেন—যে কারণে তাদের বন্দি করা হয়েছিল—তা ছিল তাদের মতো ব্যক্তিদের জন্য যা করা সমীচীন ছিল তারা তা অতিক্রম করে গিয়েছিলেন, যার ফলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে তারা এর মাধ্যমে মানুষকে (অন্যান্য কাজ থেকে) বিচ্ছিন্ন করে ফেলবেন এবং এর মধ্যে ব্যস্ত করে রাখবেন।

--------------------------------------------

(১) এটি হলো 'মতন বা হাদিসের মূল পাঠ্য বিশ্লেষণ' (নকদুল মুতুন)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা সুন্নাহর শত্রুরা সুন্নাহর আলেমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে তারা এটি করেননি। অথচ ওমর (রা.) তাদের অনেক আগেই এটি করেছেন!! দেখুন সামনে (১৪৩ পৃষ্ঠায়) এবং এর টীকা।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
عن كتاب الله عز وجل، وتأمله، والاستنباط للأشياء منه، مما فيه تعلو مرتبة المستنبطين على من سواهم ممن يقرؤه، بقوله عز وجل: (لعلمه الذين يستنبطونه منهم) (1) ، ولذكره سواهم ممن يقرؤونه بما سوى ذلك، بقوله: (لا يعلمون الكتب إلا أماني) (2) ، أي: إلا تلاوة، فلم يحمد ذلك منهم كما حمد أهل الاستنباط على الاستنباط)) (3) .

وقال ابن حبان (محمد بن حبان بن أحمد التميمي البستي: ت 354هـ) ، في كتابه (معرفة المجروحين) : ((لم يكن عمر بن الخطاب ـ] بما [قد فعل ـ يتهم الصحابة بالتقول على النبي صلى الله عليه وسلم، ولا ردهم عن تبليغ ما سمعوا من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد علم أنه صلى الله عليه وسلم قال: ((ليبلغ الشاهد منكم الغائب)) (4) ، وأنه لا يحل لهم كتمان ما سمعوا من رسول الله صلى الله عليه وسلم. ولكنه علم ما يكون بعده من التقول على رسول الله صلى الله عليه وسلم، لأنه عليه السلام قال: ((إن الله تبارك وتعالى نزل الحق على لسان عمر وقلبه)) (5) ، وقال:

((إن

--------------------------------------------

(1) سورة النساء: 83.

(2) سورة البقرة: 78.

(3) بيان مشكل أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، للطحاوي (15/313-316) ، وانظر كلاماً نحو هذا الأخير في جامع بيان العلم وفضله لابن عبد البر (2/1004) .

(4) حديث صحيح.

أخرجه البخاري (رقم 104، 1832، 4295) ، ومسلم (رقم 1354) ، من حديث أبي شريح الخزاعي، وأخرجاه وغيرهما من حديث غيره. بل عد هذا الحديث من الأحاديث المتواترة، لأنه روي من طريق ثمانية عشر صحابياً: انظر نظم المتناثر للكتاني (رقم 4) .

(5) حديث صحيح.

أخرجه الإمام أحمد (2/401) ، وابنه عبد الله في زياداته على فضائل الصحابة (رقم 415) ، وابن حبان في صحيحه (رقم 6889) ، وغيرهم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.
মহান আল্লাহর কিতাব, এর নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা এবং তা থেকে বিভিন্ন বিষয় উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত) করা প্রসঙ্গে; এর মাধ্যমেই উদ্ভাবনকারীদের মর্যাদা অন্যদের তুলনায় উচ্চ হয় যারা তা কেবল পাঠ করে। মহান আল্লাহর বাণী: (তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ভাবন করতে সক্ষম তারা তা জানতে পারত) (১) এবং তিনি অন্যদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যারা কিতাব কেবল অন্যভাবে পাঠ করে: (তারা কিতাব সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখে না কেবল পাঠ করা ছাড়া) (২), অর্থাৎ কেবল তিলাওয়াত। ফলে তিনি তাদের এই বিষয়টির জন্য প্রশংসা করেননি যেভাবে তিনি ইস্তিনবাতকারীদের ইস্তিনবাতের (গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন) জন্য প্রশংসা করেছেন (৩)।

ইবনে হিব্বান (মুহাম্মাদ ইবনে হিব্বান ইবনে আহমাদ আত-তামীমি আল-বুস্তি: মৃত্যু ৩৫৪ হিজরি) তাঁর (মা'রিফাতুল মাজরুহীন) গ্রন্থে বলেছেন: ((উমর ইবনুল খাত্তাব — যা তিনি করেছিলেন তার মাধ্যমে — সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যা বলার অপবাদ দেননি, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে যা শুনেছেন তা প্রচার করা থেকেও তাদের ফিরিয়ে রাখেননি। অথচ তিনি জানতেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়)) (৪), এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা তারা শুনেছে তা গোপন করা তাদের জন্য বৈধ নয়। কিন্তু তিনি তাঁর পরবর্তী সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করার বিষয়ে অবগত ছিলেন। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা উমরের জিহ্বায় ও হৃদয়ে সত্যকে জারি করে দিয়েছেন)) (৫), এবং তিনি বলেছেন:

((নিশ্চয়ই

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা: ৮৩।

(২) সূরা আল-বাকারা: ৭৮।

(৩) ইমাম ত্বাহাবীর ‘বায়ানু মুশকিলে আহাদিসি রাসূলিল্লাহ (সা.)’ (১৫/৩১৩-৩১৬), এবং ইবনে আব্দুল বার রচিত ‘জামি‘উ বায়ানি ইলমি ওয়া ফাদলিহি’ গ্রন্থে এ জাতীয় সর্বশেষ বক্তব্যটি দেখুন (২/১০০৪)।

(৪) হাদিসটি সহিহ।

ইমাম বুখারি (হাদিস নং ১০৪, ১৮৩২, ৪২৯৫) এবং ইমাম মুসলিম (হাদিস নং ১৩৫৪) আবু শুরাইহ আল-খুযায়ী থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁরা উভয়ে ও অন্যরা এটি ভিন্ন সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। বরং এই হাদিসটিকে মুতাওয়াতির হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কারণ এটি আঠারোজন সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: দেখুন কিত্তানী রচিত ‘নাযমুল মুতানাছির’ (হাদিস নং ৪)।

(৫) হাদিসটি সহিহ।

ইমাম আহমাদ (২/৪০১), তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ ‘ফাদায়িলুস সাহাবা’ এর পরিশিষ্টে (হাদিস নং ৪১৫), এবং ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে (হাদিস নং ৬৮৮৯) সহ আরও অনেকে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
يكن في هذه الأ/ة محدثون: فعمر منهم)) (1) .] فعمد عمر إلى الثقات [المتقنين، الذين شهدوا الوحي والتنزيل، فأنكر عليهم كثرة الرواية عن النبي صلى الله عليه وسلم، لئلا يجترئ من بعدهم، ممن ليس في الإسلام محله كمحلهم، فيكثر الرواية، فيزل فيها، أو يقول متعمداً عليه صلى الله عليه وسلم لنوال الدنيا..)) (2) .

وقد علق الخطيب البغدادي على هذه الآثار عن عمر رضي الله عنه، بكلام نفيس، حيث قال: ((إن قال قائل: ما وجه إنكار عمر على الصحابة روايتهم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتشديده عليهم في ذلك؟ قيل له: إنما فعل عمر ذلك احتياطاً للدين، وحسن نظر للمسلمين. لأنه خاف أن ينكلوا عن الأعمال، ويتكلوا على ظاهر الأخبار. وليس حكم جميع الأحاديث على ظاهرها، ولا كل من سمعها عرف فقهها. فقد يرد الحديث مجملاً، ويستنبط معناه وتفسيره من غيره. فخشي عمر أن يحمل حديث على غير وجهه، أو يؤخذ بظاهر لفظه، والحكم بخلاف ما أخذ به.

وكذلك نهى عمر الصحابة أن يكثروا رواية الحديث، وفي تشديد عمر أيضاً على الصحابة في روايتهم = حفظ لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وترهيب لمن لم يكن من الصحابة أن يدخل في السنن ما ليس منها؛ لأنه إذا رأى الصحابي المقبول القول، المشهور بصحبة النبي صلى الله عليه وسلم، قد تشدد عليه في الرواية، كان هو أجدر أن يكون للرواية أهيب، ولما يلقي الشيطان في النفس من تحسين

--------------------------------------------

(1) حديث صحيح.

أخرجه البخاري (رقم 3469، 3689) : من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، وأخرجه مسلم (رقم 2398) : من حديث عائشة رضي الله عنها.

(2) المجروحين لابن حبان (1/-37) .
এই উম্মতের মধ্যে যদি কোনো ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকে, তবে ওমর তাদের একজন)) (১) ।] অতঃপর ওমর সেই সকল বিশ্বস্ত [পারদর্শী ব্যক্তিদের প্রতি মনোনিবেশ করলেন, যারা ওহী ও প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ হওয়ার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তিনি তাদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অধিক হারে হাদীস বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আপত্তি জানালেন, যাতে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের লোকেরা—যাদের মর্যাদা ইসলামে তাদের মতো নয়—অধিক বর্ণনায় সাহসী হয়ে না ওঠে; পাছে তারা বর্ণনায় ভুল করে বসে অথবা দুনিয়াবী স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আরোপ করে..)) (২) ।

খতিব আল-বাগদাদী ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এই সকল আছারের ওপর অত্যন্ত মূল্যবান মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন: ((যদি কেউ প্রশ্ন করে: সাহাবায়ে কিরামের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ওমরের আপত্তি এবং এ বিষয়ে তাঁর কঠোরতার কারণ কী? তাকে বলা হবে: ওমর দ্বীনের সতর্কতা এবং মুসলমানদের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই এমনটি করেছিলেন। কারণ তিনি ভয় পেতেন যে, মানুষ আমল করা ছেড়ে দিয়ে হাদীসের বাহ্যিক অর্থের ওপর নির্ভর করতে শুরু করবে। অথচ সকল হাদীসের বিধান কেবল বাহ্যিক অর্থের ওপর নির্ধারিত নয়, আর যারা হাদীস শোনে তাদের সবাই এর গভীর তত্ত্ব (ফেকাহ) অনুধাবন করতে পারে না। অনেক সময় হাদীস সংক্ষেপে বর্ণিত হয়, যার অর্থ ও ব্যাখ্যা অন্য উৎস থেকে বের করতে হয়। ফলে ওমর আশঙ্কা করেছিলেন যে, কোনো হাদীসকে তার সঠিক উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্যভাবে গ্রহণ করা হতে পারে, অথবা কেবল শব্দের বাহ্যিক রূপ অনুযায়ী আমল করা হতে পারে, যেখানে প্রকৃত বিধান গৃহীত বাহ্যিক রূপের বিপরীত।

অনুরূপভাবে ওমর সাহাবায়ে কিরামকে অধিক হারে হাদীস বর্ণনা করতে নিষেধ করেছিলেন। সাহাবীদের প্রতি ওমরের এই কঠোরতার মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস সংরক্ষণের দিকটি নিহিত ছিল। পাশাপাশি এটি সেই সকল লোকদের জন্য সতর্কবার্তা ছিল যারা সাহাবী নন, যাতে তারা সুন্নাহর মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করাতে না পারে যা তার অংশ নয়; কেননা যখন কোনো ব্যক্তি দেখবে যে, একজন গ্রহণযোগ্য এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্যে সুপরিচিত সাহাবীর প্রতি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে এতোটা কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে, তখন সে নিজে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আরও বেশি ভীত ও সতর্ক হবে। এবং শয়তান মনে যেসব কুমন্ত্রণা দেয় তা থেকে দূরে থাকবে...

--------------------------------------------

(১) সহীহ হাদীস।

এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (নং ৩৪৯, ৩৬৮৯): আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস থেকে, এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন (নং ২৩৯৮): আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদীস থেকে।

(২) ইবনে হিব্বানের আল-মাজরুহীন (১/৩৭)।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الكذب أرهب)) (1)

فانظر ـ رعاك الله ـ إلى هذا الحرص البالغ في التوقي للسنة، والتأكيد الشديد على وجوب التثبت لها، من عمر أمير المؤمنين رضي الله عنه! مع أنه رضي الله عنه كان في جيل من أقرانه في الإيمان والعلم والسن، من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، لم يكونوا بأقل منه شعوراً بعظم الأمانة، وثقل الحمل، وخطورة الأمر!!

 

يقول عبد الرحمن بن أبي ليلى ـ التابعي الكبير الثقة: ت 83هـ ـ: ((أدركت عشرين ومائة من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم] في المسجد [، فما كان منهم محدث إلا ود أن أخاه كفاه الحديث، ولا مفتي إلا ود أن أخاه كفاه الفتيا)) (2) .

وقال عبد الله بن الزبير رضي الله عنهما لأبيه الزبير رضي الله عنه: ((إني لا أسمعك تحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كما يحدث فلان وفلان؟! فقال: أما إني لم أفارقه] منذ أسلمت [،] ولقد كان لي منه وجه ومنزلة [،] وأخاف أن أزيد أو أنقص [، ولقد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((من كذب علي فليتبوأ مقعده من النار)) (3)

--------------------------------------------

(1) شرف أصحاب الحديث (88- 89، 90- 91) ، بتصرف يسير.

(2) أثر صحيح.

أخرجه ابن المبارك في الزهد (رقم 58) ، وأبو خيثمة في العلم (رقم 21) ، وابن سعد في الطبقات (6/110) ، والآجري في أخلاق العلماء (147) ، ابن عبد البر في جامع بيان العلم وفضله (رقم 2199ـ 2202) .

(3) حديث صحيح من حديث الزبير بن العوام رضي الله عنه.

أخرجه أحمد (رقم 1413) ، والبخاري (رقم 107) ، وأبو داود (رقم 3651) ، والنسائي في الكبرى (رقم 5912) ، وابن ماجه (رقم 36) ، وغيرهم، منهم: الطبراني في طرق حديث من كذب علي متعمداً (رقم 26ـ 31) .
মিথ্যা বলা অত্যন্ত ভয়াবহ)) (১)

সুতরাং লক্ষ্য করুন—আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন—সুন্নাহর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন এবং তা যাচাই-বাছাই করার আবশ্যিকতার ওপর আমিরুল মুমিনীন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষ থেকে এই চরম গুরুত্বারোপের প্রতি! অথচ তিনি রাযিয়াল্লাহু আনহু ঈমান, ইলম এবং বয়সের দিক থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন এক প্রজন্মের সাথীদের মাঝে ছিলেন, যারা আমানতের বিশালতা, দায়িত্বের ভার এবং বিষয়টির ভয়াবহতা অনুভবের ক্ষেত্রে তাঁর থেকে কোনো অংশেই কম ছিলেন না!!

 

প্রখ্যাত ও বিশ্বস্ত তাবিঈ আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (মৃত্যু: ৮৩ হিজরি) বলেন: ((আমি মসজিদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একশ বিশ জন সাহাবীকে পেয়েছি; তাঁদের মধ্যে এমন কোনো হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন না যিনি এটি কামনা করতেন না যে, যদি তাঁর ভাই তাঁর পরিবর্তে হাদিসটি বর্ণনা করে দিত, এবং এমন কোনো মুফতি ছিলেন না যিনি এটি কামনা করতেন না যে, যদি তাঁর ভাই তাঁর পরিবর্তে ফতোয়া প্রদানের কাজটি সম্পন্ন করে দিত)) (২)।

আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা তাঁর পিতা যুবাইর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: ((আমি তো আপনাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সেভাবে হাদিস বর্ণনা করতে শুনি না, যেভাবে অমুক এবং অমুক ব্যক্তি বর্ণনা করেন?! তখন তিনি বললেন: শোনো, আমি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তাঁর থেকে পৃথক হইনি, এবং তাঁর নিকট আমার বিশেষ মর্যাদা ও অবস্থান ছিল। তবে আমি ভয় পাই যে (বর্ণনায়) কিছু বাড়িয়ে ফেলি কি না অথবা কমিয়ে ফেলি কি না। আর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়)) (৩)

--------------------------------------------

(১) শারফ আসহাবিল হাদিস (৮৮-৮৯, ৯০-৯১), সামান্য পরিমার্জনসহ।

(২) এটি একটি সহিহ আছার।

এটি বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক ‘আয-যুহদ’ গ্রন্থে (নং ৫৮), আবু খাইসামা ‘আল-ইলম’ গ্রন্থে (নং ২১), ইবনে সাদ ‘আত-তবাকাত’ গ্রন্থে (৬/১১০), আল-আজুরি ‘আখলাকুল উলামা’ গ্রন্থে (১৪৭), ইবনে আবদিল বার ‘জামি বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি’ গ্রন্থে (নং ২১৯৯-২২০২)।

(৩) যুবাইর ইবনুল আওয়াম রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এটি একটি সহিহ হাদিস।

এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (নং ১৪১৩), বুখারি (নং ১০৭), আবু দাউদ (নং ৩৬৫১), নাসায়ী ‘আল-কুবরা’ গ্রন্থে (নং ৫৯১২), ইবনে মাজাহ (নং ৩৬), এবং অন্যান্যরা; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: তবারানি তাঁর ‘তুরুকু হাদিসি মান কাযাবা আলাইয়্যা মুতাআম্মিদান’ গ্রন্থে (নং ২৬-৩১)।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
فهذا يدل على أن الزبير بن العوام رضي الله عنه كان يرى أن وعيد هذا الحديث ينال المخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم غير ما قال، سواء أكان ذلك عن خطأ أو عن عمد!!

وعلى هذا المذهب أيضاً أنس بن مالك رضي الله عنه، حيث قال: ((لولا أني أخشى أن أخطئ، لحدّثتكم بأشياء سمعتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم. وذاك أني سمعته يقول: ((من كذب علي متعمداً، فليتبوأ مقعده من النار)) (1) .

وهذا عبد الله بن مسعود وأبو الدرداء رضي الله عنهما، وهما ممن حبس عمر رضي الله عنه بالمدينة من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم للحديث كما سبق، كانا إذا أراد أحدهما الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: ارتعد فزعاً، واغرورقت عيناه، وقال: ((أو دون ذلك، أو فوق ذلك، أو قريباً منه، أو شبيهاً بذلك)) (2) !! ورعاً ورهبة

--------------------------------------------

(1) إسناده بهذا اللفظ حسن.

(2) أسانيد ذلك ثابتة صحيحة.

أخرجه الإمام أحمد (رقم 3670، 4015، 4321) ، وابن ماجه (رقم 23) ، وابن أبي شيبة في المصنف (8/753-754) ، وأبو خيثمة في العلم (رقم 105) ، والدارمي في سننه (رقم 274ـ 277) ، وابن سعد في الطبقات (3/156-157) (7/392) ، وأبو زرعة الدمشقي في تاريخه (رقم 1473، 1474) ، والفسوي في المعرفة والتاريخ (2/547-548-، 548) ، وأبو يعلى في المسند الكبير له: انظر المطالب العالية (رقم 3046) ، وابن الأعرابي في معجمه (رقم 605) ، والرامهرمزي في المحدث الفاصل (رقم 733-735) ، وابن عبد البر في جامع بيان العلم (رقم 459، 460) ، والخطيب في الكفاية (240-241) ، وابن عساكر في تاريخ دمشق - المطبوع (39/109-114) .
এটি প্রমাণ করে যে, জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মনে করতেন যে, এই হাদীসের হুমকি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করবে যা তিনি বলেননি, তা ভুলবশত হোক কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে হোক!!

আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)ও এই মতের অনুসারী ছিলেন, যেহেতু তিনি বলেছেন: "যদি আমি ভুল করার ভয় না পেতাম, তবে আমি আপনাদের কাছে এমন অনেক কিছু বর্ণনা করতাম যা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছি। আর এর কারণ হলো, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়'।" (১)।

আর এই যে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)—তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই সকল সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত যাঁদেরকে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হাদীস বর্ণনার কারণে মদিনায় আটকে রেখেছিলেন যেমনটা আগে অতিবাহিত হয়েছে—তাঁদের কেউ যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা করতে চাইতেন, তখন ভয়ে প্রকম্পিত হতেন, চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে যেত এবং বলতেন: "অথবা এর চেয়ে কম, অথবা এর চেয়ে বেশি, অথবা এর কাছাকাছি, কিংবা এর সদৃশ" (২)!! এটি ছিল তাঁদের তাকওয়া ও ভীতির কারণে।

--------------------------------------------

(১) এই শব্দে এর সনদ হাসান।

(২) এর সনদসমূহ প্রমাণিত ও সহীহ।

এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ (নং ৩৬৭০, ৪০১৫, ৪৩২১), ইবনে মাজাহ (নং ২৩), ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে (৮/৭৫৩-৭৫৪), আবু খাইসামা ‘আল-ইলম’ গ্রন্থে (নং ১০৫), দারেমী তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে (নং ২৭৪-২৭৭), ইবনে সাদ ‘আত-তবাকাত’ গ্রন্থে (৩/১৫৬-১৫৭) (৭/৩৯২), আবু যুরআ আদ-দিমাশকী তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে (নং ১৪৭৩, ১৪৭৪), ফাসাউয়ী ‘আল-মা'রিফাহ ওয়াত তারিখ’ গ্রন্থে (২/৫৪৭-৫৪৮), আবু ইয়ালা তাঁর ‘মুসনাদুল কাবীর’ গ্রন্থে: দেখুন 'আল-মাতালিবুল আলিয়া' (নং ৩০৪৬), ইবনুল আরাবী তাঁর ‘মুজাম’ গ্রন্থে (নং ৬০৫), রামহুরমুযী ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল’ গ্রন্থে (নং ৭৩৩-৭৩৫), ইবনে আব্দুল বার ‘জামি বায়ানিল ইলম’ গ্রন্থে (নং ৪৫৯, ৪৬০), খতিব ‘আল-কিফায়াহ’ গ্রন্থে (২৪০-২৪১) এবং ইবনে আসাকির ‘তারিখে দিমাশক’ (মুদ্রিত) গ্রন্থে (৩৯/১০৯-১১৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
من تبعة الزيادة أو النقصان!!!

ثم يتشدد عمر رضي الله عنه مع هؤلاء!!! ومع أمثال هؤلاء!!!

هكذا بدأ أول عصر الصحابة رضي الله عنهم، ومن وقت مبكرٍ جداً فيه، وقبل فتنة مقتل عثمان رضي الله عنه، بل قبل مقتل عمر رضي الله عنه = على التشديد البالغ في رواية السنن،

والترهيب من دواعي وقوع الخطأ فيها!!

فإلى أي حس سوف ينتهي تثبتهم في الرواية، بل هل سيكون لتثبتهم حد؛ فيما إذا ظهرت بوادر الفتنة، وبدت دواعي الكذب؟!!!

لاشك أن مقتل عثمان بن عفان رضي الله عنه كان ثلمة في حصن الإسلام، فلم تجتمع الأمة بعده على خليفة إلى اليوم. وكان له من الآثار العظيمة، عقب الجريمة مباشرة، وبعدها.. إلى اليوم، ما يكاد يكون بها السبب الأول لما تلاه من نكبات وكبوات في تاريخ هذه الأمة.

وكان من أكبر آثار فتنة مقتل عثمان رضي الله عنه، افتراق الأمة، وظهور بعض الأحزاب، لا سياسية فحسب، بل عقدية سياسية.

عندها بدأت دواعي التقول على النبي صلى الله عليه وسلم تظهر، نصرة للمذهب الاعتقادي الذي يتحزب له بعض مرضى النفوس والجهلة.

لكن جيل الصحابة رضي الله عنهم كانوا ـ كما رأيت سابقاً ـ قد سبقوا ذلك بالتشديد في الرواية، فما أن لاحت بوادر الفتنة، حتى سابقوها أيضاً بالمبالغة في التشدد للرواية، وبتحصين السنة
বৃদ্ধি বা হ্রাসের দায়বদ্ধতা থেকে!!!

অতঃপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করেন!!! এবং এদের সমগোত্রীয়দের প্রতিও!!!

এভাবেই সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগের সূচনা থেকেই এবং অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে—এমনকি উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাতের ফিতনার পূর্বে, বরং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাতেরও পূর্বে—সুন্নাহ বর্ণনার ক্ষেত্রে চরম কড়াকড়ি অবলম্বনের ধারা শুরু হয়,

এবং এতে ভুল হওয়ার কারণসমূহ থেকে সতর্ক করার মাধ্যমে!!

সুতরাং বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের এই সতর্কতার মাত্রা কোন্ পর্যায়ে পৌঁছাবে, বরং যখন ফিতনার আলামত এবং মিথ্যার কারণসমূহ প্রকাশ পাবে, তখন কি তাদের সেই সতর্কতার কোনো সীমা থাকবে?!!!

নিঃসন্দেহে উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাত ছিল ইসলামের দুর্গে এক বিশাল ফাটল। ফলে আজ পর্যন্ত উম্মাহ তাঁর পর কোনো খলিফার ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। সেই অপরাধের অব্যবহিত পরে এবং পরবর্তীতে আজ পর্যন্ত এর এমন সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে, যা এই উম্মাহর ইতিহাসে পরবর্তী সকল বিপর্যয় ও পদস্খলনের প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাতের ফিতনার অন্যতম বড় প্রভাব ছিল উম্মাহর বিভক্তি এবং কতিপয় দলের আত্মপ্রকাশ; যা কেবল রাজনৈতিক ছিল না, বরং আকিদাগত ও রাজনৈতিক ছিল।

ঠিক তখনই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে মনগড়া কথা বলার প্রবণতা শুরু হয়; সেই আকিদাগত মতবাদকে সহযোগিতার জন্য যার পক্ষে কিছু রুগ্ন আত্মা ও মূর্খ ব্যক্তিরা দলবাজি শুরু করেছিল।

তবে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর প্রজন্ম—যেমনটি আপনি আগে দেখেছেন—ইতিপূর্বেই বর্ণনার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করেছিলেন। তাই যখনই ফিতনার আলামত দেখা দিতে শুরু করল, তাঁরা দ্রুততার সাথে বর্ণনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরও বাড়িয়ে দিলেন এবং সুন্নাহর সুরক্ষা নিশ্চিত করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
بحصن آخر قبل مجيء العدو الضعيف. وبذلك اماتوا الكذب في صدور أصحابه، ولم يستشر داؤه، بل لم يوجد اصلاً إلا من آحادٍ هلكوا فهلك معهم.

وقد أعلن عبد الله بن العباس رضي الله عنهما المنهج الذي بدأ يود ذلك العصر في تلقي السنة، عندما قال رضي الله عنه: ((إنا كنا إذا سمعنا رجلاً يقول: (قال رسول الله صلى الله عليه وسلم 9، ابتدرته أبصارنا، وأغينا إليه بآذاننا. فلما ركب الناس الصعب والذلول، لم نأخذ من الناس إلا ما نعرف)) (1)

لقد كان في ذلك التثبت إنشاء لعلم جديد من علوم الحديث، وهو علم الجرح والعديل، الذي كانت قد وضعت أسسه، وأصلت قواعده، في الأصلين: الكتاب والسنة، كما مر بيانه.

فابن عباس رضي الله عنه، يعلن هنا عن بداية حقبةٍ جديدةٍ للرواية، تختلف عن الحقبة السابقة لها. حيث لم يكن يحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في تلك الحقبة السابقة، إلا من زكاهم الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم من الصحابة رضي الله عنهم، الذين لم يكن يستلزم قبول ما يروونه إلا سماعه منهم. أما الحقبة التي يتكلم عنها ابن عباس رضي الله عنه، فقد بدأ من لم يكن له لقي بالنبي صلى الله عليه وسلم ولا صحبة، بالحديث عنه صلى الله عليه وسلم. وهؤلاء لم يلقوه، فحديثهم عنه صلى الله عليه وسلم لا بد أن يكون لهم إليه

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في مقدمة صحيحه (1/12-13) ، والدارمي في السنن (رقم 432، 433) وأبو زرعة الدمشقي في تاريخه (رقم 1486) ، وابن حبان في المجروحين (1/112) ، وابن عساكر في تاريخ دمشق ـ المخطوط ـ (3/389) .
অন্য এক দুর্গের মাধ্যমে দুর্বল শত্রুর আগমনের পূর্বেই। এর মাধ্যমে তারা মিথ্যাকে এর পোষণকারীদের অন্তরেই নিস্তেজ করে দিয়েছিলেন, ফলে এর ব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারেনি; বরং মুষ্টিমেয় কিছু লোক ছাড়া এর কোনো অস্তিত্বই ছিল না, যারা নিজেরা ধ্বংস হওয়ার সাথে সাথে তাদের মিথ্যাকেও ধ্বংস করে নিয়ে গেছে।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) সুন্নাহ গ্রহণের ক্ষেত্রে সেই যুগে শুরু হওয়া পদ্ধতির কথা ঘোষণা করেছিলেন, যখন তিনি বলেছিলেন: "আমরা যখন কাউকে বলতে শুনতাম যে, 'আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন', তখন আমাদের দৃষ্টি সেদিকে দ্রুত নিবদ্ধ হতো এবং আমরা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে কান পেতে তা শুনতাম। কিন্তু মানুষ যখন সব ধরণের ভালো-মন্দ পথে চলতে শুরু করল, তখন আমরা মানুষের কাছ থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করতে লাগলাম যা আমরা (সঠিক বলে) চিনি।" (১)

এই যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই হাদিস শাস্ত্রের এক নতুন জ্ঞানের উদ্ভব ঘটেছিল, আর তা হলো 'ইলমুল জারহ ওয়াত তা'দীল' (রাবীদের সমালোচনা ও গুণাগুণ বিচার শাস্ত্র), যার ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল এবং যার মূলনীতিগুলো কুরআন ও সুন্নাহ নামক দুই মূল উৎসে সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল, যা আগে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এখানে রিওয়ায়াতের একটি নতুন যুগের সূচনার কথা ঘোষণা করছেন, যা এর পূর্ববর্তী যুগ থেকে ভিন্ন ছিল। কারণ পূর্ববর্তী যুগে কেবল তারাই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন যাদের পরিশুদ্ধির সাক্ষ্য আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিয়েছেন, অর্থাৎ সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। তাদের বর্ণিত বিষয় গ্রহণের জন্য কেবল তাদের নিকট থেকে শোনাই যথেষ্ট ছিল। আর ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যে যুগের কথা বলছেন, তখন এমন সব লোক আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করেছিলেন যাদের সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সরাসরি সাক্ষাৎ বা সাহচর্য লাভের সুযোগ ঘটেনি। আর যেহেতু তারা তাঁর সাক্ষাৎ পাননি, তাই তাঁর থেকে তাদের বর্ণিত হাদিসের জন্য অবশ্যই তাদের কোনো যোগসূত্র থাকতে হবে...

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহের মুকাদ্দিমায় (১/১২-১৩), দারেমী তাঁর সুনানে (নং ৪৩২, ৪৩৩), আবু যুরআহ দিমাশকী তাঁর তারিখে (নং ১৪৮৬), ইবনে হিব্বান আল-মাজরুহীনে (১/১১২) এবং ইবনে আসাকির তাঁর তারিখু দিমাশকের পাণ্ডুলিপিতে (৩/৩৮৯) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فيه واسطة؛ ثم إنهم هم أنفسهم ليس لهم شرف الصحبة، ولا نالهم تعديل من الله تعلى أو رسوله صلى الله عليه وسلم؛ ثم بعد أن دبت الفتنة، (وركب الناس الصعب والذلول) ، كان لا بد من معرفة الواسطة المحذوفة في مرسل ذلك التابعي، للتوثق من ثقة تلك الواسطة، وذلك ـ بالطبع ـ بعد التوثق من ثقة ذلك التابعي نفسه الذي أرسل الحديث أولاً.

فكان هذا أول تطبيق عملي ظاهر لعلم الجرح والتعديل، وأول السؤال عن الإسناد، ورفض المراسيل. وذلك لظهور علتين اقتضت ذلك، هما علتا: رواية المجروح، والإرسال وعدم الإسناد (1) وفي الحقيقة، فإن علة الإرسال عائدة إلى العلة الأولى، لأن عدم قبول المرسل إنما كان، لا حتمال كون المحذوف مجروحاً.

وقد أرخ بداية نشوء هذين العلمين (علم الإسناد وعلم الجرح والعديل) من علوم الحديث، أحد أئمة التابعين، وهو محمد بن سيرين (ت 110هـ) ، عندما قال: ((لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة، قالوا: سموا لنا رجالكم. فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر على أهل البدع فلا يؤخذ

--------------------------------------------

(1) وفي ذلك رد على من زعم أن أول من رد الحديث المرسل الإمام الشافعي، فهذا عبد الله ابن عباس رضي الله عنه قد سبقه إلى ذلك!! وتلاه أيضاً محمد بن سيرين، والزهري، كما يأتي (ص 30-31، 37) .

انظر رسالة أبي دواود إلى أهل مكة (24) ، والتمهيد لابن عبد البر (1/4) . ثم انظر جامع التحصيل للعلائي (70) ، والنكت على كتاب ابن الصلاح لابن حجر (2/567-568) وتهذيب التهذيب (1/471) ، وفتح المغيث للسخاوي (1/166) ، وتوضيح الأفكار للصنعاني (1/296) ، وإرشاد الفحول للشوكاني (120) .
এতে মাধ্যম রয়েছে; উপরন্তু তারা নিজেরা সাহচর্য লাভের সম্মানে ধন্য নন, আর মহান আল্লাহ বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাদের কোনো বিশ্বস্ততা বা প্রশংসা (তাদিল) অর্জিত হয়নি; এরপর যখন ফিতনা ছড়িয়ে পড়ল (এবং মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে সব পথে চলতে লাগল), তখন সেই তাবেয়ীর মুরসাল বর্ণনায় বাদ পড়া মাধ্যমকে জানা আবশ্যক হয়ে দাঁড়াল, যাতে সেই মাধ্যমের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়। আর এটি অবশ্যই সেই তাবেয়ীর নিজের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার পর, যিনি মূলত হাদিসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং এটিই ছিল 'জারহ ও তাদিল' (বর্ণনাকারীর সমালোচনা ও প্রশংসা) বিজ্ঞানের প্রথম প্রকাশ্য ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং সনদ (সূত্র) সম্পর্কে জিজ্ঞাসার ও মুরসাল বর্ণনাসমূহ প্রত্যাখ্যানের সূচনা। এটি দুটি ত্রুটি প্রকাশের কারণে অনিবার্য হয়েছিল, সেগুলো হলো: বিতর্কিত ব্যক্তির বর্ণনা এবং মুরসাল হওয়া ও সনদের অভাব। (১) প্রকৃতপক্ষে, মুরসাল হওয়ার ত্রুটিটি প্রথম ত্রুটির দিকেই ফিরে যায়; কেননা মুরসাল বর্ণনা গ্রহণ না করার কারণ ছিল বাদ পড়া ব্যক্তিটি বিতর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা।

হাদীস শাস্ত্রের এই দুটি বিজ্ঞানের (সনদ শাস্ত্র এবং জারহ ও তাদিল শাস্ত্র) উদ্ভবের সূচনাকাল তাবেয়ীদের অন্যতম ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (মৃত্যু ১১০ হিজরী) বর্ণনা করেছেন, যখন তিনি বলেছিলেন: "তারা আগে সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না, কিন্তু যখন ফিতনা দেখা দিল, তখন তারা বলতে লাগল: তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম আমাদের নিকট উল্লেখ করো। অতঃপর আহলে সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতপন্থীদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো না।"

--------------------------------------------

(১) এর মাধ্যমে ঐ ব্যক্তির দাবি খণ্ডন করা হয়েছে যে মনে করে মুরসাল হাদীস প্রথম প্রত্যাখ্যান করেছেন ইমাম শাফেয়ী; অথচ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এক্ষেত্রে তাঁর অগ্রবর্তী ছিলেন!! তাঁর পরবর্তীতে মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন এবং যুহরীও একই কাজ করেছেন, যেমনটি সামনে (পৃষ্ঠা ৩০-৩১, ৩৭) আসবে।

দেখুন: মক্কাবাসীদের প্রতি আবু দাউদের পত্র (২৪), ইবনে আবদিল বার-এর আত-তামহীদ (১/৪)। আরও দেখুন: আল-আলাঈ-এর জামেউত তাহসীল (৭০), ইবনে হাজারের আন-নুকাত আলা কিতাবি ইবনিস সালাহ (২/৫৬৭-৫৬৮), তাহযীবুত তাহযীব (১/৪৭১), সাখাভীর ফাতহুল মুগীস (১/১৬৬), সান'আনীর তাওদীহুল আফকার (১/২৯৬) এবং শাওকানির ইরশাদুল ফুহুল (১২০)।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
حديثهم (1) .

ومن هنا يظهر أن الصحابة رضي الله عنهم، كانوا هم أول من بدأ بإنشاء ما عرف بعد ب (علوم الحديث ومصطلحه) .

ولا غرابة في ذلك، فإن الهدف واحد والغاية معلومة، لهذه الأمة عبر العصور، وهو: التوثق للسنة، وتأديتها للأجيال صافية، من غير نقص أو زيادة. فكل وسيلة تؤدي إلى هذا الهدف سيسلكه ذلك الجيل، وأي سبيل يحقق تلك الغاية فستطرقه الأمة، ولن تواجهها عقبة إلا وكان عندها من العلم والعزيمة ما يقتحم بها العقبات، ولا اعترضها عائق إلا واخترعت ما يجاوزها إياه.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الإمام أحمد في العلل (رقم 3640) ، ومسلم في مقدمة صحيحه (1/15) ، والدرامي في سننه (رقم 422) ، وابن أ [ي حاتم في مقدمة الجرح والتعديل (2/28) ، والجوزجاني في أحوال الرجال (35ـ 36) ، والعقيلي في الضعفاء (1/10) ، وابن عدي في الكامل (1/121) ، وأبو نعيم في حلية الأولياء (2/278) ، والخطيب في الكفاية (150، 151) .
তাদের হাদিস (১) ।

আর এখান থেকেই স্পষ্ট হয় যে, সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-ই ছিলেন সর্বপ্রথম যারা সেই ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন যা পরবর্তীতে (হাদিস বিজ্ঞান ও তার পরিভাষা) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ যুগ যুগ ধরে এই উম্মতের উদ্দেশ্য ছিল অভিন্ন এবং লক্ষ্য ছিল সুনির্ধারিত, আর তা হলো: সুন্নাহর বিশুদ্ধতা যাচাই করা এবং কোনো প্রকার ঘাটতি বা বৃদ্ধি ব্যতিরেকে তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া। সুতরাং সেই লক্ষ্য পানে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পথই সেই প্রজন্ম অবলম্বন করত এবং যে পন্থাই সেই উদ্দেশ্য হাসিল করত উম্মত সেখানেই পদচারণা করত। তাদের সামনে এমন কোনো বাধা আসেনি যা জয় করার মতো ইলম ও দৃঢ় সংকল্প তাদের ছিল না, এবং তাদের সামনে এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি যা কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা কোনো পথ উদ্ভাবন করেনি।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ‘আল-ইলাল’ (নং ৩৬৪০) গ্রন্থে, মুসলিম তাঁর সহীহ-এর মুকাদ্দিমায় (১/১৫), দারেমি তাঁর সুনানে (নং ৪২২), ইবনে আবি হাতিম ‘আল-জারহু ওয়াত-তাদিল’-এর মুকাদ্দিমায় (২/২৮), জুযজানি ‘আহওয়ালুর রিজাল’ (৩৫-৩৬)-এ, উকায়লি ‘আদ-দুয়াফা’ (১/১০)-তে, ইবনে আদি ‘আল-কামিল’ (১/১২১)-এ, আবু নুয়াইম ‘হিলয়াতুল আউলিয়া’ (২/২৭৮)-এ এবং খতিব ‘আল-কিফায়াহ’ (১৫০, ১৫১)-তে।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الثاني:

في عصر التابعين

 

بدأ عصر التابعين، بعد أن انتهى الجيل الأول، وذهب قرن الصحابة رضي الله عنهم. فتحمل التابعون بإحسان عن الصحابة رضي الله عنهم العلم والإيمان، والشعور العميق بعظم المسؤولية الملقاة عليهم بتبليغ العلم والإيمان للاجيال من بعدهم، كما بلغتهم.

لكن زاد الأمر خطورة، وتتابعت الفتن على الأمة، وتعبت الأحزاب، وخرج دعاتها يدعون الناس إلى باطلهم، لاجئين أحياناً إلأى الكذب الصريح، أو إلى أنواع من التلبيس و (التدليس) لإخفاء عيب رواياتهم.

ومع ذلك فقد بدأ الإسناد يطول، وأصبحت لا تسمع حديثاً عن النبي صلى الله عليه وسلم، إلا بواسطةٍ فأكثر، خاصة بعد أن اخترم غالب جيل الصحابة، فأصبح التابعي يأخذ عن قرينه من التابعين ويروي عنه. وهذه الوسائط ـ حاشا الصحابي ـ يلزم لقبول ما ترويه: العلم من حالها ما يدل على عدالة وحسن نقل أصحابها، أي يلزم تمييز الثقات في النقل، من غير الثقات فيه، من أهل هذه الطبقة فمن بعدهم.

وفي هذه الحقبة دوت صرخات من أئمة التابعين، لمواجهة
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

তাবেঈদের যুগে

 

প্রথম প্রজন্মের সমাপ্তি এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর প্রজন্মের বিদায়ের পর তাবেঈদের যুগ শুরু হয়। ফলে তাবেঈগণ সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর কাছ থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ইলম ও ঈমান গ্রহণ করেন। তারা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই ইলম ও ঈমান পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাদের ওপর অর্পিত মহান দায়িত্বের গুরুত্ব গভীরভাবে অনুভব করেছিলেন, ঠিক যেমনটি তাদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু বিষয়টি আরও আশঙ্কাজনক হয়ে উঠল, যখন উম্মাহর ওপর একের পর এক ফিতনা নেমে আসতে লাগল এবং বিভিন্ন বাতিল দলগুলো সক্রিয় হয়ে উঠল। তাদের প্রচারকরা মানুষকে নিজেদের ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করতে শুরু করল। তারা কখনও কখনও প্রকাশ্য মিথ্যার আশ্রয় নিল, আবার কখনও তাদের বর্ণনার ত্রুটি গোপন করার জন্য বিভিন্ন ধরণের বিভ্রান্তি সৃষ্টি (তালবিস) ও কারসাজির (তাদলিস) পথ বেছে নিল।

এর পাশাপাশি সনদের (বর্ণনাসূত্র) দৈর্ঘ্য বাড়তে শুরু করল। ফলে নবী (সা.)-এর কোনো হাদিস শুনতে হলে এক বা একাধিক মাধ্যম ছাড়া তা সম্ভব হচ্ছিল না, বিশেষ করে সাহাবায়ে কেরামের প্রজন্মের অধিকাংশের তিরোধানের পর। তখন একজন তাবেঈ তাঁর সমসাময়িক অন্য তাবেঈর কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করতে ও বর্ণনা করতে শুরু করলেন। সাহাবী ব্যতীত এসব মধ্যবর্তী বর্ণনাকারীদের বর্ণিত বিষয় কবুল করার জন্য তাদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ল, যা বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা ও উত্তম বর্ণনার স্মারক হবে। অর্থাৎ, বর্ণনার ক্ষেত্রে এই স্তরের এবং এর পরবর্তী স্তরের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অনির্ভরযোগ্যদের থেকে পৃথক করা অপরিহার্য হয়ে পড়ল।

এই সময়েই তাবেঈ ইমামগণের পক্ষ থেকে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও উচ্চকণ্ঠ ধ্বনিত হয়েছিল মোকাবেলা করার জন্য...
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
كل هذه الأخطار المحدقة بالسنة. وتجند لذلك الغرض: (الدفاع عن السنة) ، فئام عظيم من الأمة حينها، حريصون كل الحرص على نشر السنة، لكن بعد التأكد والتثبت والتامين الكاملين من أنها سنة نبوية حقاًَ.

 

ومن هذه الصرخات، كلمة محمد بن سيرين، التي حفظتها الأجيال، وتناقلتها الأعقاب، وهي قوله: ((إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم)) (1) .

لقد أصبحت هذه الكلمة، الدالة على وجوب التثبت في نقل السنة، شعاراً في ذلك العصر، وفيما بعده، إلى يوم الناس هذا، وإلى ما شاء الله، مادام في الناس من يهمه أمر الدين ويسعى لرضى ربه عز وجل.

 

ومع نشوء علم الإسناد، نشأت بعض علومه، الكفيلة بحفظ السنة في هذا الجيل، وبتبليغه للأجيال من بعده.

وبدأ حملة الآثار في هذا العصر وأئمة التابعين، بالتعبير عن حال الرواية والراوي، وعن أوصافهما المختلفة، بألفاظٍ.. كثر استخدامهم لها بعد ذلك، حتى أصبحت مصطلحاتٍ ذات دلالة ٍ عرفية بين أهل الحديث.

وهكذا أخذت الحاجة إلى حفظ السنة، وإلى أدائها

--------------------------------------------

(1) أخرجه الإمام أحمد في العلل (رقم 4199) ومسلم في مقدمة صحيحه (1/14) ، والدارمي في سننه (رقم 425) ، والجوزجاني في أحوال الرجال (36) ، وابن أبي حاتم في الجرح والعديل (2/15) ، وابن حبان في المجروحين (1/21) ، والرامهرمزي في المحدث الفاصل (رقم 437ـ 439) ، وابن شاهين في تاريخ أسماء الضعفاء والكذابين (40) ، وأبو نعيم في الحلية 0 2/278) ، والخطيب في الكفاية (150) .
সুন্নাহর চতুর্দিকে ঘিরে থাকা এই সকল বিপদ। আর সেই উদ্দেশ্যে (সুন্নাহর প্রতিরক্ষা) তখন উম্মাহর একটি বিশাল দল নিয়োজিত হয়েছিল, যারা সুন্নাহর প্রসারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন; তবে তা সত্যই নববী সুন্নাহ কি না, সে বিষয়ে পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া ও যাচাই-বাছাই করার পর।

 

আর এই সব জোরালো বার্তার অন্যতম হলো মুহাম্মদ ইবনে সিরীন-এর সেই উক্তি, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম সংরক্ষণ করে এসেছে এবং পরবর্তী বংশধররা একে অপরের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। আর তা হলো তাঁর এই কথা: "নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দীন, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো কার নিকট থেকে তোমরা তোমাদের দীন গ্রহণ করছো।" (১)।

সুন্নাহ বর্ণনার ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাইয়ের আবশ্যকতা নির্দেশকারী এই উক্তিটি সেই যুগে এবং পরবর্তী সময়ে আজ পর্যন্ত একটি স্লোগানে পরিণত হয়েছে, এবং আল্লাহর ইচ্ছায় ভবিষ্যতে যতদিন মানুষের মাঝে এমন লোক থাকবে যারা দীনের ব্যাপারে গুরুত্ব দেবে এবং তাদের মহান প্রভুর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করবে, ততদিন তা বলবৎ থাকবে।

 

আর ইসনাদ শাস্ত্রের উদ্ভবের সাথে সাথে এর সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কিছু শাখা শাস্ত্রেরও উদ্ভব ঘটে, যা এই প্রজন্মের কাছে সুন্নাহ সংরক্ষণে এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে সক্ষম ছিল।

আর এই যুগের আসার (রেওয়ায়েত) বহনকারীগণ এবং তাবিঈ ইমামগণ বর্ণনা ও বর্ণনাকারীর অবস্থা এবং তাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এমন সব শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করেন, যা পরবর্তীতে তাঁদের মাঝে বহুল ব্যবহৃত হতে থাকে; এমনকি শেষ পর্যন্ত হাদীস বিশারদদের নিকট তা বিশেষ পারিভাষিক অর্থে রূপ লাভ করে।

এভাবেই সুন্নাহ সংরক্ষণ এবং তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল...

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম আহমাদ 'আল-ইলাল' গ্রন্থে (নং ৪১৯৯), মুসলিম তাঁর 'সহীহ' এর মুকাদ্দিমায় (১/১৪), দারেমী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে (নং ৪২৫), জুযাজানী 'আহওয়ালুর রিজাল' গ্রন্থে (৩৬), ইবনে আবি হাতিম 'আল-জারহু ওয়াত তা'দীল' গ্রন্থে (২/১৫), ইবনে হিব্বান 'আল-মাজরুহীন' গ্রন্থে (১/২১), রামাহুরমুযী 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল' গ্রন্থে (নং ৪৩৭-৪৩৯), ইবনে শাহীন 'তারিখু আসমাইদ দুয়াফা ওয়াল কাযযাবীন' গ্রন্থে (৪০), আবু নুআয়ম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে (২/২৭৮) এবং খতীব 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে (১৫০) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মানহাজুল মুকতারাহু লিফাহমিল মুসতালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
للأجيال، في بناء علم جديد، تمز به الإسلام، وتفرد به علماؤه. ألا وهو الإسناد وعلومه، التي أطلق عليها بعد ذلك: علوم الحديث وأصوله.

وإن كنا نحن في بحثنا هذا، إنما نقصره على مصطلح الحديث خاصة، إلا أنه لا يسعنا إغفال تاريخ تدوينه ومراحل هذا التدوين. ذلك لأن مصطلح الحديث أخذ بالبروز والتبلور، هي هذا العصر وفي العصور اللاحقة له، مع حركة التدوين، مرافقة لها جنباً إلى جنب.

ولا غرابة في ذلك، إذ إن تدوين السنة ذاته: (أصوله وآدابه) = من علوم الحديث، وله مصطلحاته الخاصة به.

ولا غرابة في ذلك أيضاً، لأن حركة التدوين إنما كانت تنقل من مرحلةٍ إلى مرحلة ٍ أخرى أكثر ارتقاء، بناء على ما يستجد من دواعي الحفاظ على السنة، وما يظهر من أخطار عليها، تستلزم حماية معينة تجاهها. وحينها لا يعقل أن يرتقي تدوين السنة، دون باقي علومها، ودون نشوء مصطلحات واستقرار أخرى، في مواجهة تلك الدواعي والأخطار. خاصة إذا أدركنا أن من تلك الدواعي: انتشار السنة، وتشعب الأسانيد وطولها؛ وأن من تلك الأخطار: فشو الكذب بعد جيل أتباع التابعين، وافتراق الأمة قبل ذلك بكثير إلى شيع وأحزاب.

وهذا الأمر ـ أعني: ترابط مراحل ارتقاء تدوين السنة بمراحل ارتقاء مصطلحاتها ـ من أوضح ما يكون عند المتخصصين في هذا العلم. بل كان يمكن أن نعكس القضية، فنقيس مراحل ارتقاء التدوين بمراحل ارتقاء المصطلح، بدلاً من ضد ذلك مما نزمع القيام به؛ لولا أن تدوين السنة قد درس وخدم تأريخه ومراحل تطوره من علماء الأمة، قديماً وحديثاً، بما
প্রজন্মের জন্য এক নতুন জ্ঞান নির্মাণে, যার মাধ্যমে ইসলাম বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে এবং এর আলেমগণ অনন্যতা লাভ করেছেন। আর তা হলো ইসনাদ ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ, যেগুলোকে পরবর্তীতে হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান ও এর মূলনীতি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

যদ্যপি আমরা আমাদের এই গবেষণায় কেবল হাদীসের পরিভাষা (মুসতালাহুল হাদীস) সংক্রান্ত আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকছি, তবুও এর সংকলনের ইতিহাস এবং এই সংকলনের পর্যায়সমূহকে উপেক্ষা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ হাদীসের পরিভাষা এই যুগে এবং এর পরবর্তী যুগগুলোতে সংকলন আন্দোলনের পাশাপাশি একযোগে বিকশিত ও সুসংহত হতে শুরু করেছিল।

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ সুন্নাহর সংকলন প্রক্রিয়াটি নিজেই (এর মূলনীতি ও আদবসহ) হাদীস শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত এবং এর নিজস্ব পরিভাষা রয়েছে।

এতে বিস্ময়ের কিছু নেই আরও এ কারণে যে, সংকলন আন্দোলন এক ধাপ থেকে অন্য এক উন্নত ধাপে উন্নীত হয়েছিল সুন্নাহ সংরক্ষণের নতুন প্রয়োজনীয়তা এবং এর ওপর চড়াও হওয়া বিপদসমূহের ভিত্তিতে, যা এর সুরক্ষায় নির্দিষ্ট ব্যবস্থার দাবি রাখত। এমতাবস্থায় এটি কল্পনা করা যায় না যে, সুন্নাহর সংকলন তার অন্যান্য সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ ছাড়া এবং উক্ত প্রয়োজনীয়তা ও বিপদসমূহের মোকাবিলায় নতুন পরিভাষা সৃষ্টি ও অন্যগুলোর স্থায়িত্ব লাভ ব্যতিরেকেই উন্নত হবে। বিশেষ করে যখন আমরা উপলব্ধি করি যে, সেই প্রয়োজনীয়তাগুলোর মধ্যে ছিল: সুন্নাহর প্রসার এবং সনদের শাখা-প্রশাখা ও দীর্ঘতা; আর সেই বিপদগুলোর মধ্যে ছিল: তাবে-তাবেয়ীদের যুগের পর মিথ্যার বিস্তার এবং তারও অনেক আগে উম্মাহর বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হওয়া।

আর এই বিষয়টি—অর্থাৎ সুন্নাহ সংকলনের উন্নতির পর্যায়গুলোর সাথে এর পরিভাষাগুলোর উন্নতির পর্যায়গুলোর পারস্পরিক সম্পৃক্ততা—এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট অত্যন্ত সুস্পষ্ট। বরং আমরা বিষয়টিকে বিপরীতভাবেও দেখতে পারতাম, অর্থাৎ আমরা যা করতে যাচ্ছি তার বদলে পরিভাষার উন্নতির পর্যায়গুলো দিয়ে সংকলনের উন্নতির পর্যায়গুলো পরিমাপ করতে পারতাম; যদি না উম্মাহর আলেমগণ প্রাচীন ও আধুনিক কালে সুন্নাহ সংকলনের ইতিহাস ও এর বিবর্তনের পর্যায়সমূহ নিয়ে এমনভাবে আলোচনা ও সেবা করতেন যার মাধ্যমে...