(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المبهج في تفسير أسماء شعراء ديوان الحماسة القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: المبهج في تفسير أسماء شعراء ديوان الحماسة
المؤلف: أبو الفتح، عثمان بن جِنّي النحوي (ت 392 هـ)
قرأه وشرحه وعلق عليه: مروان العطية [ت 1444 هـ]- شيخ الراشد
الناشر: دار الهجرة للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق
الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988 م
عدد الصفحات: 240
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দিওয়ানুল হামাসাহ-এর কবিদের নামের ব্যাখ্যায় আল-মুবহিজ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমষ্টি
বই: দিওয়ানুল হামাসাহ-এর কবিদের নামের ব্যাখ্যায় আল-মুবহিজ
লেখক: আবুল ফাতহ، উসমান ইবন জিন্নি আন-নাহবি (মৃত্যু ৩৯২ হি.)
পাঠ, ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদান করেছেন: মারওয়ান আল-আতিয়্যাহ [মৃত্যু ১৪৪৪ হি.]- শায়খ আর-রাশিদ
প্রকাশক: দারুল হিজরাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ، দামেস্ক
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৮ হি. - ১৯৮৮ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪০
[বইটির বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين
تفسير أسماء شعراء الحماسة
وينبغي أن تعلم أن في ذلك علماً كثيراً وتدرباً نافعاً وستراه بإذن الله. يجب أن يقدم أمام ذلك ذكر أحوال هذه الأسماء الإعلام وكيف طريقها وعلى كم وجهاً تجدها وإلى كم ضرباً قسمتها.
فأصل انقسامها ضربان أحدهما ما كان منقولاً والآخر ما كان مرتجلاً من غير نقل.
الأول من هذين الضربين وهو ما كان منقولاً ثلاثة أنواع اسم نكرة فعل صوت.
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
হামাসার কবিদের নামের ব্যাখ্যা।
আপনার জেনে রাখা উচিত যে, এতে প্রচুর জ্ঞান এবং উপকারী অনুশীলন রয়েছে, যা আপনি আল্লাহর ইচ্ছায় অচিরেই দেখতে পাবেন। এর আগে এই নামগুলোর অবস্থা, সেগুলোর ব্যবহারের পদ্ধতি, কতটি রূপে সেগুলো পাওয়া যায় এবং কতটি প্রকারে সেগুলোকে বিভক্ত করা হয়েছে, তা আলোচনা করা আবশ্যক।
এগুলোর মূল বিভাজন দুই প্রকার: একটি হলো যা অন্য শব্দ থেকে স্থানান্তরিত এবং অপরটি হলো যা কোনো রূপ স্থানান্তর ব্যতিরেকেই মৌলিকভাবে গঠিত।
এই দুই প্রকারের মধ্যে প্রথমটি—অর্থাৎ যা স্থানান্তরিত—তা তিন প্রকার: অনির্দিষ্ট বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং ধ্বনি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
شرح الاسم الأسماء المنقولة إلى العلمية ضربان عين معنى والعين أيضاً ضربان اسم غير صفة واسم صفة. الأول منها نحو أوس ومجر وبكر وجمل. والأوس هنا الذئب وإن كان قد يمكن أن يكون العطية من قولهم أست الرجل أؤسه أوساً إذا أعطيته. الثاني من هذه القسمة هو الاسم الصفة وذلك نحو مالك وجابر وحاتم وفاطمة ونائلة فهذه في الأصل أوصاف ثم نقلت فصارت أعلاماً كما صار أوس وحجر وبكر وجمل ونحو ذلك أعلاماً. وهذه الصفة المنقولة ضربان أحدهما ما نقل وفيه اللام فأقرت بعد النقل عليه وذلك نحو الحارث والعباس والآخر ما نقل ولا لام فيه نحو سعيد ومكرم وما فيه اللام بعد النقل ببقايا أحكام الصفة أحرى.
وأما المعنى فنحو قولهم أوس وأنت تعني به العطية وزيد وعمرو وأنت تعني العمر الذي هو الحياة والزيد مصدر زاد يزيد زيداً وزياداً وزيادة فإن قلت فقد قال:
নামের ব্যাখ্যা: যে সকল নাম সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যে রূপান্তরিত হয়েছে সেগুলো দুই প্রকার: সত্তাবাচক এবং অর্থবাচক। সত্তাবাচক আবার দুই প্রকার: গুণবাচক নয় এমন নাম এবং গুণবাচক নাম। এর প্রথম প্রকারটি হলো যেমন: আউস, মাজর, বাকর এবং জামাল। এখানে ‘আউস’ অর্থ হলো নেকড়ে, যদিও এটি ‘উপহার’ অর্থ থেকেও হওয়ার সম্ভাবনা রাখে; যেমন আরবদের কথা: ‘আমি লোকটিকে আউস প্রদান করেছি’ যখন তাকে কোনো কিছু দান করা হয়। এই বিভাজনের দ্বিতীয় প্রকারটি হলো গুণবাচক নাম, যেমন: মালিক, জাবির, হাতিম, ফাতিমা এবং নায়েলা। এগুলো মূলত গুণবাচক শব্দ ছিল, অতঃপর তা স্থানান্তরিত হয়ে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যে পরিণত হয়েছে, যেমনটি আউস, হুজর, বাকর এবং জামাল ইত্যাদি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই স্থানান্তরিত গুণবাচক শব্দগুলো আবার দুই প্রকার: এক প্রকার হলো যা ‘আল’ (আলিফ-লাম) যুক্ত অবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে এবং স্থানান্তরের পরেও তা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যেমন: আল-হারিস এবং আল-আব্বাস। অন্য প্রকারটি হলো যা ‘আল’ ব্যতীত স্থানান্তরিত হয়েছে, যেমন: সাঈদ এবং মুকররাম। যেগুলোতে স্থানান্তরের পর ‘আল’ অবশিষ্ট থাকে, সেগুলো গুণবাচক বৈশিষ্ট্যের অবশিষ্টাংশ হিসেবে থাকাই অধিক যুক্তিসঙ্গত।
আর অর্থবাচকের উদাহরণ হলো যেমন তাদের কথা ‘আউস’, যার মাধ্যমে আপনি ‘দান’ উদ্দেশ্য গ্রহণ করেন; এবং ‘যায়েদ’ ও ‘আমর’, যার মাধ্যমে আপনি ‘উমর’ তথা জীবন উদ্দেশ্য গ্রহণ করেন। ‘যায়েদ’ শব্দটি ‘যাদা-ইয়াযিদু’ এর ক্রিয়ামূল ‘যাইদান’, ‘যিয়াদাতান’ ও ‘যিয়াদাহ’ থেকে আগত। যদি আপনি বলেন, তবে তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وأنتم معشر زيد على مئة فوصف به قيل هذا على حد ما يوصف بالمصدر في نحو قولك هذا رجل صوم وفطر وعدل قال زهير:
متى يشتجر قوم يقل سرواتهم
… هم بيننا فهم رضاً وهم عدل
نعم وربما أوغل المصدر في الوصف وتمكن هناك فأنث لتأنيث ما أجري عله كالحكاية عن أبي حاتم من قولهم فرس طوعة القياد وقال أمية:
والحية الحتفة الرقشاء أخرجها
… من بيتها آمنات الله والكلم
وقالوا امرأة عدلة كما نرى.
شرح الفعل قد نقلت الأفعال الثلاثة الماضي والحاضر والمستقبل. من ذلك الماضي وهو تسميتهم الرجل بكعسب وهو الماضي من الكعسبة ومثله ترجم وهو
আর হে জায়েদ গোত্র, তোমরা একশ’রও বেশি, তাই একে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, এটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) দিয়ে গুণ বর্ণনা করার মতো, যেমন আপনার উক্তি: ‘এ ব্যক্তি রোজা রাখা, ইফতার করা এবং ন্যায়বিচার সম্পন্ন’। যুহায়ের বলেছেন:
যখন কোনো সম্প্রদায় বিবাদে লিপ্ত হয়, তাদের নেতৃস্থানীয়রা বলে
… তারা আমাদের মধ্যে (মীমাংসাকারী), তারা পছন্দনীয় এবং তারা ন্যায়বিচারক।
হ্যাঁ, এবং কখনও কখনও মাসদার গুণ বর্ণনায় এত গভীরে প্রবেশ করে এবং সেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় যে, যা বর্ণিত হচ্ছে তার স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার কারণে সেটিও স্ত্রীলিঙ্গ রূপ ধারণ করে; যেমন আবু হাতেম থেকে বর্ণিত তাদের কথা: ‘বশ্যতাস্বীকারকারী ঘোড়া’। উমাইয়া বলেছেন:
এবং চিত্রবিচিত্র বিষধর সাপ, তাকে তার গর্ত থেকে বের করে এনেছে
… আল্লাহর নিরাপত্তা এবং তাঁর বাণীসমূহ।
এবং তারা বলেছে ‘ন্যায়পরায়ণ নারী’, যেমনটি আমরা দেখতে পাই।
ক্রিয়ার ব্যাখ্যা: তিনটি কাল—অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—থেকে শব্দসমূহ স্থানান্তরিত (নামকরণে ব্যবহৃত) হয়েছে। এর মধ্যে অতীতকাল থেকে উদাহরণ হলো কোনো ব্যক্তির নাম ‘কা’সাব’ রাখা, যা ‘আল-কা’সাবাহ’ ক্রিয়ার অতীত রূপ। আর অনুরূপ হলো ‘তারজাম’, যা হলো—
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
منقول من ترجم عن الشيء إذا فسره فأما قبيلة أبي الأسود الدؤلي فقيل فيها قولان أحدهما أن الدؤل اسم دويبة وأنشدوا في ذلك:
جاؤوا بحبس لو قيس معرسه
… ما كان إلا كمعرس الدؤل
والآخر أن دئل منقول وهو فعل من دأل يدأل قال: مرت بأعلى سحرين تدأل فهذا على قولك قد دئل في هذا المكان كقولك قد غدي فيه وقد سير فيه فإن كان من الأول فهو من باب ذئب وأسد وإن كان من الثاني فهو من باب يزيد ويشكر ومما سمي به من الماضي خضم بن عمرو بن تميم قال:
এটি এমন বিষয় থেকে গৃহীত যা কোনো কিছুর ব্যাখ্যা প্রদান করাকে বুঝায়। আর আবু আসওয়াদ আদ-দুয়ালির গোত্র সম্পর্কে দুটি অভিমত বর্ণিত হয়েছে; যার একটি হলো ‘আদ-দুয়াল’ একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর নাম এবং এ প্রসঙ্গে তারা এই কবিতাটি পাঠ করেন:
তারা এমন এক জনতা নিয়ে এসেছে যে, যদি তাদের বিশ্রামস্থল পরিমাপ করা হতো
… তবে তা আদ-দুয়াল প্রাণীর বিশ্রামস্থলের ন্যায় সংকীর্ণ হতো।
আর দ্বিতীয় মতটি হলো, ‘দুয়াল’ শব্দটি মূলত রূপান্তরিত এবং এটি ‘দা-আলা-ইয়াদ-আলু’ (দ্রুত হাঁটা) ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন। জনৈক ব্যক্তি বলেছেন: "সে সাহরাইনের উচ্চভূমি দিয়ে দ্রুতবেগে হেঁটে গেল।" সুতরাং এটি আপনার এই কথার ন্যায় যে, ‘এই স্থানে দ্রুত চলা হয়েছে’, যেমন আপনি বলেন ‘সেখানে সকালে যাওয়া হয়েছে’ এবং ‘সেখানে ভ্রমণ করা হয়েছে’। অতঃপর যদি এটি প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা ‘জি’ব’ (নেকড়ে) ও ‘আসাদ’ (সিংহ) পরিচ্ছেদের সমগোত্রীয়। আর যদি দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা ‘ইয়াজিদ’ ও ‘ইয়াশাকুর’ পরিচ্ছেদের সমগোত্রীয়। আর অতীতকালীন ক্রিয়া দ্বারা নাম রাখা হয়েছে এমন নামগুলোর মধ্যে খিদাম ইবনে আমর ইবনে তামীম অন্যতম। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
لولا الآلة ما سكنا خضماً
… ولا ظللنا بالمشائي قيما
أي بلاد خضم يعني بلاد بني تميم ومثله عثر اسم موضع قال زهير:
ليث بعثر يصطاد الرجال إذا
… ما الليث كذب عن أقرانه صدقا
وكذلك بذر. ومن أبيات الكتاب:
سقى الله أمواهاً عرفت مكانها
… جراباً وملكوماً وبذر والغمرا
وذلك كثير.
وأما الحاضر فنحو يشكر وتغلب ويزيد ويعفر وأما يبرين فليس من هذا ولا ينبغي أن يتوهم أنه اسم منقول من قولك هن يبرين لفلان أي يعارضنه من قوله:
যদি উপকরণ না থাকত তবে আমরা খিদাম নামক স্থানে বসবাস করতাম না
… আর আমরা পদব্রজে ভ্রমণকারীদের সাথে দাঁড়িয়ে থাকতাম না।
অর্থাৎ খিদাম জনপদ বলতে বনু তামীম গোত্রের ভূখণ্ডকে বোঝানো হয়েছে এবং অনুরূপভাবে ‘আছার’ একটি স্থানের নাম। যুহাইর বলেছেন:
আছার-এর এক সিংহ পুরুষদের শিকার করে যখন
… সেই সিংহ তার প্রতিপক্ষদের সামনে পিছু হটে না বরং সত্যই (আক্রমণ) করে।
একইভাবে ‘বাজার’ (একটি স্থানের নাম)। আর আল-কিতাব-এর কাব্য পঙ্ক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
আল্লাহ সেই জলাশয়গুলোকে সিক্ত করুন যেগুলোর অবস্থান আমি চিনতাম
… জিরব, মালকুম, বাজার এবং গামর।
এবং এরূপ উদাহরণ প্রচুর।
আর বর্তমান (ক্রিয়া সদৃশ বিশেষ্য) নামসমূহের ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো ইয়াশকুর, তাগলিব, ইয়াযিদ এবং ইয়া’ফুর। আর ইয়াবরিন-এর বিষয়টি এর অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এরূপ ধারণা করা উচিত নয় যে এটি আপনার কথা ‘তারা অমুকের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে’ (ইয়াবরিনা) থেকে স্থানান্তরিত একটি নাম, যার অর্থ হলো তারা তার বিরোধিতা করছে, যা তার এই উক্তি থেকে গৃহীত:
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
يبري لها من أيمن وأشمل يدل على أنه ليس منقولاً منه قولهم فيه يبرون وليس شيء من الفعل يكون هكذا فإن قلت ما أنكرت أن يكون يبرين ويبرون فعلاً فيه لغتان الياء والواو مثل نقوت ونقيته وسروت الثوب وسريته وكنوت الرجل وكنيته ونقيت الشيء ونقوته فيكون يبرين على هذا كيكنين ويبرون كيكنون ومثله يفعلن كقولك هن يدعون ويغزون في التنزيل ألا أن يعفون فالجواب أنه لو كان الواو والياء فيه لامين على ما ذكرته من اختلاف اللغتين لجاز أن يجيء عنهم يبرون بضم النون وبالواو كما أنه إذا سميته بقولك للنساء يغزون على قول من قال أكلوني البراغيث فجعل النون علامة جمع لقلت هذا يغزون كقولك في يقتلن اسم رجل على الوصف الذي ذكرنا هذا يقتلن وفي امتناع العرب أن تقول يبرون مع قولهم يبرين دلالة على أنه ليس على ما ظنه السائل من كون الواو والياء في يبرين ويبرون لامين مختلفين بل هما زائدتان قبل النون بمنزلة واو فلسطون وياء فلسطين وأيضاً فقد قالوا يبرين
তার জন্য ডান এবং বাম উভয় দিক থেকে ছাঁটাই করা হয়; এটি একথার প্রমাণ দেয় যে, তাদের ব্যবহৃত ইয়াবরুন শব্দটি এটি থেকে গৃহীত নয়। আর ক্রিয়ার কোনো রূপই এমন হয় না। যদি আপনি বলেন যে, আপনি কেন এটি অস্বীকার করছেন যে ইয়াবরিন এবং ইয়াবরুন এমন একটি ক্রিয়া যার মধ্যে ইয়া এবং ওয়াও এর দুটি ভাষাগত ব্যবহার রয়েছে? যেমন— নাকউতু এবং নাকাইতুহু, সারওতুল সাওবা এবং সারাইতুহু, কানওতুর রাজুলা এবং কানাইতুহু, এবং নাকাইতুশ শাইয়া এবং নাকাউতুহু। এমতাবস্থায় ইয়াবরিন শব্দটি ইয়াকনিন-এর মতো এবং ইয়াবরুন শব্দটি ইয়াকনুন-এর মতো হবে। আর এর দৃষ্টান্ত হলো ইয়াফআলনা রূপটি, যেমন আপনি বলেন তারা আহ্বান করে এবং তারা যুদ্ধ করে; আর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এসেছে: "যদি না তারা ক্ষমা করে দেয়"। এর উত্তর হলো: আপনি ভাষাগত পার্থক্যের যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সেই অনুযায়ী যদি এর ওয়াও এবং ইয়া বর্ণ দুটি লাম (ধাতুর শেষ বর্ণ) হতো, তবে তাদের পক্ষ থেকে নুন বর্ণে পেশসহ এবং ওয়াও যোগে ইয়াবরুনু হিসেবে আসা বৈধ হতো। যেমন আপনি যদি নারীদের উদ্দেশ্যে বলা ইয়াগজুনা শব্দটিকে এমন ব্যক্তির নাম রাখেন যে 'আকালুনি আল-বারাগিস' (মাছিগুলো আমাকে খেয়েছে) রীতি অনুসরণ করে এবং নুন বর্ণটিকে বহুবচনের আলামত হিসেবে গণ্য করে, তবে আপনি বলবেন "এটি ইয়াগজুনা", যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি যে ইউকতালনা কোনো ব্যক্তির নাম হলে বর্ণনারীতি অনুযায়ী বলা হয় "এটি ইউকতালনা"। আর ইয়াবরিন বলার পাশাপাশি আরবদের ইয়াবরুন (পেশসহ) বলতে অস্বীকৃতি জানানো একথারই প্রমাণ দেয় যে, প্রশ্নকারী যা ধারণা করেছেন অর্থাৎ ইয়াবরিন এবং ইয়াবরুন শব্দের ওয়াও এবং ইয়া দুটি ভিন্ন ভিন্ন লাম (ধাতুমূলের শেষ বর্ণ), বিষয়টি তেমন নয়। বরং এই দুটি বর্ণ নুন-এর পূর্বে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে, ঠিক যেমন ফিলাসতুন-এর ওয়াও এবং ফিলিস্তিন-এর ইয়া। অধিকন্তু তারা ইয়াবরিন শব্দটিও ব্যবহার করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
وأبرين وأبدلوا الياء همزة فدل على أنها هنا أصل ألا تدري أنها لو كانت في أول فعل لكانت حرف مضارعة لا غير ولم نر حرف مضارعة أبدل مكانه حرف مضارعة غيره فدل هذا كله على أن الياء في أول يبرين فاء لا محالة وأما قولهم بأهلة بن أعصر ثم أبدلوا من الهمزة الياء فقالوا يعصر فغير داخل فيما نحن عليه وذلك أن أعصر ليس فعلاً وإنما هو جمع عصر وإنما سمي بذلك لقوله:
أعمير أن أباك غير لونه
… كر الليالي واختلاف الأعصر
هذا وجه الاحتجاج على قائل إن ذهب إلى أن ذلك في يبرين وليس ينبغي أن يحتج عليه بأن يقال له لا يكونان لغتين ويبرون ويبرين كيكنون ويكنين لأنه لا يقال بروت له في معنى بريت له أي تعرضت له لأن له أن يحتج فيقول هبه ليس من بريت له أي تعرضت فلعله من بريت القلم وبروته حكى أبو زيد بروت القلم بالواو عن أبي الصقر فإن هو قال هذا فجوابه ما
এবং 'আবরিন'; তারা এখানে 'ইয়া'-কে 'হামজা' দ্বারা পরিবর্তন করেছে, যা প্রমাণ করে যে এটি এখানে মূল বর্ণ। আপনি কি জানেন না যে, এটি যদি কোনো ক্রিয়ার শুরুতে থাকত, তবে তা কেবল মুদারে-এর বর্ণই হতো? আর আমরা এমন কোনো মুদারে-এর বর্ণ দেখিনি যার পরিবর্তে অন্য কোনো মুদারে-এর বর্ণ প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এই সবকিছু প্রমাণ করে যে, 'ইয়াবরিন' শব্দের শুরুতে থাকা 'ইয়া' বর্ণটি নিঃসন্দেহে 'ফা' কালিমা। আর তাদের উক্তি 'বাহিলা বিন আ'সার' প্রসঙ্গে—যেখানে তারা হামজার পরিবর্তে 'ইয়া' ব্যবহার করে 'ইয়া'সার' বলেছে—তা আমাদের বর্তমান আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়। এর কারণ হলো 'আ'সার' কোনো ক্রিয়া নয়, বরং এটি 'আসর' শব্দের বহুবচন। তাকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কবির এই উক্তির কারণে:
হে উমায়ের! নিশ্চয়ই তোমার পিতার গায়ের রং পরিবর্তন করে দিয়েছে
… রাতসমূহের আবর্তন এবং যুগের পরিবর্তন।
এটি হলো সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুক্তির পদ্ধতি, যে মনে করে যে বিষয়টি 'ইয়াবরিন' শব্দের ক্ষেত্রে ঘটেছে। তবে তার বিরুদ্ধে এই বলে যুক্তি দেওয়া সমীচীন নয় যে, 'ইয়াবরুন' ও 'ইয়াবরিন'—'ইয়াকনুন' ও 'ইয়াকনিন'-এর মতো দুটি ভিন্ন ভাষা হতে পারে না। কারণ 'বারাইতু লাহু' (আমি তার মুখোমুখি হয়েছি) অর্থে 'বারাওতু লাহু' বলা হয় না। কেননা তার পক্ষে এমন যুক্তি দেওয়ার সুযোগ আছে যে—ধরে নিন এটি 'বারাইতু লাহু' (মুখোমুখি হওয়া) থেকে উদ্ভূত নয়, বরং সম্ভবত এটি 'বারাইতুল ক্বালাম' (আমি কলমটি চেঁছেছি) এবং 'বারাওতুল ক্বালাম' থেকে এসেছে। আবু যায়েদ আবু সাক্বর-এর সূত্রে 'ওয়াও' যোগে 'বারাওতুল ক্বালাম' কথাটি বর্ণনা করেছেন। এখন সে যদি এটি বলে, তবে তার উত্তর হবে এই যে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
قدمنا فهذا شيء عرض فقلنا فيه بما وجب.
وأما الفعل المستقبل المنقول إلى العلم فنحو قولهم في اسم الفلاة اصمت وإنما هو أمر من قولهم صمت يصمت إذا سكت كأن إنساناً قال لصاحبه في مفازة أصمت يسكته بذلك تسمعاً لنبأة أو جسها فسمي المكان بذلك وهذا نحو ما ذهب إليه أبو عمرو بن العلاء في قول الهذلي:
علي أطرقا باليات الخيام
… إلا التمام وإلا العصي
ألا تراه قال أصله أن رجلاً قال لصاحبيه هناك أطرقاً فسمي المكان به فصار علماً له كما صار أصمت علماً له وقطع الهمزة من أصمت مع التسمية به خالياً من ضميره هو الذي شجع النحاة على قطع نحو هذه الهمزات إذا سمي بما هي فيه فإن قلت فقد قالوا لقيته بوحش اصمته ولو كان
আমরা যা আগে পেশ করেছি, তা ছিল একটি আপতিত বিষয়, তাই আমরা সে বিষয়ে যা আবশ্যক ছিল তা বলেছি।
আর সেই ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া যা নামবাচক শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে, তার উদাহরণ হলো মরুভূমির নাম হিসেবে তাদের ব্যবহৃত শব্দ 'আসমিত'। এটি মূলত তাদের 'সমাতা ইয়াসমুতু' (সে নীরব হলো) উক্তি থেকে গৃহীত একটি আদেশসূচক শব্দ; যেন কোনো ব্যক্তি মরুপ্রান্তরে তার সঙ্গীকে বলেছিল 'আসমিত' (চুপ থাকো), এর মাধ্যমে তাকে নীরব করিয়েছিল কোনো ক্ষীণ শব্দ শোনার জন্য বা তা অনুভব করার জন্য, ফলে সেই স্থানটির নামকরণ এটিই হয়ে গেল। এটি আবু আমর ইবনুল আলার সেই অভিমতের অনুরূপ যা তিনি হুজালীর এই কবিতায় ব্যক্ত করেছেন:
'আলি আত্বরকা' জীর্ণ তাঁবুসমূহের নিকট
… কেবল পূর্ণতা এবং লাঠিগুলো ব্যতীত
আপনি কি দেখছেন না যে তিনি বলেছেন, এর মূল হলো জনৈক ব্যক্তি সেখানে তার দুই সঙ্গীকে বলেছিল 'আত্বরিকা' (তোমরা দুজন মাথা নিচু করো), ফলে স্থানটির নামকরণ করা হলো এর মাধ্যমে এবং সেটি তার জন্য নামবাচক শব্দে পরিণত হলো, যেমনিভাবে 'আসমিত' একটি নামবাচক শব্দে পরিণত হয়েছে। আর নামবাচক হিসেবে ব্যবহারের সময় 'আসমিত' শব্দের হামজাকে (তার মধ্যকার সর্বনাম ব্যতিরেকে) 'হামজায়ে কাতয়ি' হিসেবে উচ্চারণ করাই ব্যাকরণবিদদের এই ধরণের হামজাগুলোকে 'কাতয়ি' হিসেবে পড়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করেছে যখন কোনো কিছুকে সেই শব্দ দ্বারা নামকরণ করা হয়। যদি আপনি বলেন, তারা তো বলেছে: 'আমি তার সাথে আসমিতাহু নামক নির্জন প্রান্তরে সাক্ষাৎ করেছি', যদিও তা হতো
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
أصمت في الأصل فعلاً لما لحقته تاء التأنيث قيل إنما ألحقت هذه التاء في هذا المثال على هذا الحد ليزيدوا في إيضاح ما انتحوه من النقل ويعلموا بذلك أنه قد فارق موضعه من الفعلية حيث كانت هذه التاء لا تلحق هذا المثال فعلاً فصارت اصمته في اللفظ بعد النقل كأجربة وأبردة وأجردة نعم وأنسهم بذلك تأنيث المسمى به وهو الفلاة وزاد في ذلك أن اصمت ضارع الصفة لأنه من لفظ الفعل وفيه معناه أعني معنى الصمت وهو جثة لا حدث وتلك حال قائمة وكريمة ونحو ذلك ألا تراها من لفظ الفعل ومعناه وهي جثه فضارعت اصمته قائمةً ومحسنةً ونحو ذلك نعم ولو لم يكن في هذا أكثر من اطراد التغيير في الإعلام لكان كافياً فجعلوا هذا التغيير تابعاً لما اعتزموه من العلمية فيه وأيضاً فقد قالوا في الخرز المؤخذ به الينجلب وواحدته الينجلبة وينجلب ينفعل وهذا مثال مختص بالفعل ألا تراه إنما يؤخذ به ليجلب به الإنسان لأمر ما فإذا جازان تلحق التاء الينجلب وهو غير علم ويبقى على صورة نقليته فأصمت الذي قد تغير لفظه بقطع همزته ومعناه بكونه علماً أقبل للتغيير
'আসমাতে' মূলত একটি ক্রিয়া ছিল। যখন এর সাথে স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' যুক্ত হলো, তখন বলা হয়েছে যে, এই দৃষ্টান্তে এই সীমানায় এই 'তা' কেবল এজন্যই যুক্ত করা হয়েছে যাতে তারা শব্দটিকে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহারের (নাকল) যে পথ বেছে নিয়েছে তার স্পষ্টতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং এর মাধ্যমে তারা এটা জানাতে চেয়েছেন যে, শব্দটি তার ক্রিয়াবাচক (ফিলি) অবস্থান থেকে পৃথক হয়ে গেছে; যেহেতু এই 'তা' ক্রিয়া হিসেবে এই ওজনে যুক্ত হয় না। ফলে শব্দান্তরের পর উচ্চারণে 'আসমাতাহ' শব্দটি 'আজরিবাহ', 'আবরীদাহ' এবং 'আজরাদাহ' এর মতো হয়ে গেল। হ্যাঁ, এর দ্বারা নামকরণকৃত বিষয়টি স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার কারণে তাদের মাঝে একটি সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, আর তা হলো মরুভূমি। এর সাথে আরও যুক্ত হয়েছে যে, 'আসমাত' শব্দটি গুণবাচক শব্দের সদৃশ হয়েছে, কারণ এটি ক্রিয়ার শব্দ থেকে গঠিত এবং এতে ক্রিয়ার অর্থ—অর্থাৎ নীরবতার অর্থ—বিদ্যমান; অথচ এটি একটি সত্তা, কোনো কাজ বা ঘটনা নয়। এটি 'কায়িমাহ', 'কারীমাহ' এবং এই জাতীয় শব্দগুলোর অবস্থার মতোই। আপনি কি দেখছেন না যে, এগুলো ক্রিয়ার শব্দ ও অর্থ থেকে আসা সত্ত্বেও এগুলো একেকটি সত্তা? ফলে 'আসমাতাহ' শব্দটি 'কায়িমাহ', 'মুহসিনাহ' এবং এই জাতীয় শব্দগুলোর সদৃশ হয়েছে। হ্যাঁ, নামবাচক শব্দাবলীতে পরিবর্তনের এই ব্যাপকতা ছাড়া যদি আর কিছুই না থাকত, তবে সেটিই যথেষ্ট হতো। ফলে তারা এই পরিবর্তনকে শব্দটিকে নামবাচক করার সংকল্পের অনুগামী করেছেন। অধিকন্তু, তারা মন্ত্রপূত পুতি বা হাড়ের ক্ষেত্রে 'আল-ইয়ানজালিব' শব্দ ব্যবহার করেছেন, যার একবচন হলো 'আল-ইয়ানজালিবাহ'। আর 'ইয়ানজালিব' শব্দটি 'ইয়ানফাইলু' ওজনে গঠিত, যা মূলত ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটি রূপ। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, এটি কেবল এজন্যই ব্যবহৃত হয় যাতে মানুষ এর দ্বারা কোনো কিছুকে আকর্ষণ করতে পারে? সুতরাং, যদি 'ইয়ানজালিব' শব্দে 'তা' যুক্ত হওয়া বৈধ হয়—অথচ এটি কোনো নামবাচক শব্দ নয় এবং তার রূপান্তরিত রূপটি অবশিষ্ট থাকে—তবে 'আসমাত' শব্দটি, যার উচ্চারণ তার হামযা বিচ্ছেদের কারণে এবং অর্থ নামবাচক হওয়ার কারণে পরিবর্তিত হয়েছে, তা পরিবর্তনের জন্য অধিকতর গ্রহণযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
وقد قالوا أيضاً اليعملة وهذا مثال مختص بالفعل وقد قالوا أرقلة وأربعة وأشكلة فألحقوه التاء وهو للفعل.
شرح الصوت قد نقل الصوت إلى العلم كما نقل القبيلان اللذان قبله من ذلك تسمية بعض بني هاشم ببة وإنما هذا هو الصوت الذي كانت أمه ترقصه وهو صبي به وذلك قولها له:
لأنكحن ببه. جارية خدبة
… مكرمة محبة. تجب أهل الكعبة
انتهت الأعلام المنقولة وتتلوها الأعلام المرتجلة عند التسمية.
ذكر الأعلام المرتجلة عند التسمية بها
ولم تنقل إليها عن غيرها
إعلم أن هذه الأعلام ضربان أحدهما ما القياس قابل له وليس فيه خروج عنه والآخر ما كان القياس
তারা ‘আল-ইয়ামলাহ’ শব্দটিও বলেছে এবং এটি ক্রিয়ার সাথে বিশিষ্ট একটি উদাহরণ। তারা আরও বলেছে ‘আরকালাহ’, ‘আরবাআহ’ এবং ‘আশকাল্লাহ’, অতঃপর তারা এতে ‘তা’ যুক্ত করেছে, অথচ এটি ক্রিয়ার রূপ।
ধ্বনির ব্যাখ্যা: ধ্বনিটিকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যে (আলম) রূপান্তরিত করা হয়েছে, যেমন এর আগের দুটি গোত্রকেও রূপান্তরিত করা হয়েছিল। এর উদাহরণ হলো বনু হাশিমের কাউকে ‘বাব্বাহ’ নামে নামকরণ করা। মূলত এটি সেই ধ্বনি যা দিয়ে তার মা তাকে শৈশবে নাচাতেন, আর তা হলো তার প্রতি মায়ের উক্তি:
আমি অবশ্যই বাব্বাহকে বিয়ে দেব। এমন এক যুবতীর সাথে যে হবে স্বাস্থ্যবতী
… সম্মানিতা ও প্রেমময়ী। যে কাবার অধিবাসীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে।
স্থানান্তরিত সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যসমূহের (আল-মানকুলাহ) আলোচনা শেষ হয়েছে এবং এরপর নামকরণের সময় সরাসরি উদ্ভাবিত সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যসমূহ (আল-মুরতাজিলাহ) আসছে।
নামকরণের সময় সরাসরি উদ্ভাবিত সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যসমূহের বর্ণনা, যা অন্য কিছু থেকে স্থানান্তরিত হয়ে আসেনি।
জেনে রাখুন যে, এই সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যসমূহ দুই প্রকার। একটি হলো যার ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত নিয়ম (কিয়াস) গ্রহণযোগ্য এবং যাতে নিয়ম বহির্ভূত কিছু নেই, আর অন্যটি হলো যার ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত নিয়ম...
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
دافعاً له غير أن العملية هي التي سوغته فيه.
الأول من هذين الضربين نحو حمدان وعمران وغطفان فهذا وإن لم يكن موجوداً في الأجناس فإن الصنعة فيه تتلقى بالقبول له لأمرين أحدهما أن له نظيراً في الكلام فحمدان في العلم بمنزلة سعدان اسم نبت وصفوان للحجر الأملس وعمران كسرحان وهو الذئب وحرمان وعصيان مصدرين وغطفان كشقذان وهو الخفيف والرتكان والنفيان مصدرين فهذا وجه وجود النظير.
وأما تقبل القياس له فلأنه ليس فيه شيء مما يمجه القياس من اظهار تضعيف يجب ادغامه نحو ثهلل ومحبب ولا تصحيح معتل نحو حيوة ومكوزة ولا غير ذلك مما يكره وسترى ذلك بإذن الله.
ومن المرتجل ما كان معدولاً نحو عمر وزفر وقثم وثعل وجشم وزحل فهذه أعلام مرتجلة معدولة عن عامر وزافر وقاثم وثاعل وجاشم وزاحل وهي أعلام يدل على عدلها أنك لا تجدها في الأجناس فتقول الجشم والزحل كما تقول الصرد والنغر فكل علم معدول مرتجل وليس كل مرتجل معدولاً نحو عمران وقحطان.
الضرب الثاني من الأعلام المرتجلة وهو ما القياس دافع له وهو أصناف
একে প্রতিহত করা সত্ত্বেও ভাষাতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া এতে একে বৈধতা দিয়েছে।
এই দুই প্রকারের প্রথমটি হলো হামদান, ইমরান এবং গাতফান-এর মতো শব্দ। যদিও এগুলো সাধারণ বিশেষ্য হিসেবে বিদ্যমান নয়, তবুও দুটি কারণে শব্দগঠনশৈলী এতে গ্রহণযোগ্যতা পায়। প্রথমটি হলো, ভাষায় এর সমান্তরাল উদাহরণ বিদ্যমান। যেমন: ব্যক্তিনাম হিসেবে 'হামদান' হলো 'সা'দান' (একটি উদ্ভিদের নাম) এর সমপর্যায়ী; 'সাফওয়ান' হলো মসৃণ পাথরের নাম; 'ইমরান' হলো 'সারহান' (নেকড়ে) এর মতো; 'হিরমান' ও 'ইসবিয়ান' হলো দুটি ক্রিয়ামূল; এবং 'গাতফান' হলো 'শাকদান' (যা চটপটে)-এর মতো এবং 'রাকতাম' ও 'নাফিয়ান' হলো দুটি ক্রিয়ামূল। এটিই হলো সমান্তরাল উদাহরণ বিদ্যমান থাকার দিক।
আর শব্দগঠনরীতির (কিয়াস) গ্রহণের কারণ হলো, এতে এমন কিছু নেই যা কিয়াস প্রত্যাখ্যান করে—যেমন দ্বিত্ব বর্ণ প্রকাশ করা যা মূলত সন্ধি করা আবশ্যক ছিল, যেমন 'থাহলাল' এবং 'মুহাব্বাব'; অথবা দুর্বল বর্ণের রূপান্তর না করে অবিকৃত রাখা, যেমন 'হায়ওয়াহ' ও 'মাকওয়াজাহ'; কিংবা অন্য কোনো অপছন্দনীয় বিষয়। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি শীঘ্রই তা দেখতে পাবেন।
আর তাৎক্ষণিকভাবে গঠিত নামের মধ্যে কিছু হলো রূপান্তরিত, যেমন উমর, যুফার, কুথাম, থু'আল, জুশাম এবং যুহাল। এগুলো হলো তাৎক্ষণিকভাবে গঠিত ব্যক্তিনাম যা আমির, জাফির, কাথিম, থা'ইল, জাশিম এবং জাহিল থেকে রূপান্তরিত হয়েছে। এগুলো রূপান্তরিত হওয়ার প্রমাণ হলো, আপনি সেগুলোকে সাধারণ বিশেষ্যের মধ্যে পাবেন না যে আপনি 'আল-জুশাম' বা 'আল-যুহাল' বলবেন, যেমনটি আপনি 'আস-সুরাদ' বা 'আন-নুগার' বলে থাকেন। সুতরাং প্রত্যেক রূপান্তরিত নামই তাৎক্ষণিকভাবে গঠিত, কিন্তু প্রত্যেক তাৎক্ষণিকভাবে গঠিত নাম রূপান্তরিত নয়, যেমন ইমরান ও কাহতান।
তাৎক্ষণিকভাবে গঠিত ব্যক্তিনামের দ্বিতীয় প্রকারটি হলো সেগুলো, যার বিরুদ্ধে শব্দগঠনরীতি অবস্থান নেয় এবং এটি বিভিন্ন প্রকারের।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
فمن ذلك ما ظهر تضعيفه والقياس لولا العلمية مانع منه نحو ثهلل وهو تفعل يدلك على ذلك أنا لا نعرف أصلاً في الكلام تركيبه من ث هـ ل فيكون ثهلل فعللاً منه كقردد وأيضاً فلو كان تهلل فعللاً لوجب صرفه كرجل سميته بقردد فترك صرفهم له مذكراً دلالة على أنه تفعل من لفظ هـ ل ل فهو قريب من تسميتهم إياه هلالاً لفظاً ومعنى ومنه محبب كان قياسه محب لأنه مفعل من المحبة ألا ترى أنه ليس في الكلام تركيب م ح ب فيكون فعللاً فكذلك كان يجب أن يكون ثهلل ثهل كتضن وتصب كما كان يجب أن يكون محبب محباً كمفر ومرد ومنه قولهم في اسم المكان بأجج ويؤكد عندك أنه يفعل شيآن أحدهما ترك صرفه كترك صرف ثهلل ويأجج اسم موضع وأيضاً فإنهم قد قالوا فيه يأجج بكسر العين وليس في الكلام فعلل اسماً وأيضاً فلأن تركيب يء ج ليس معروفاً في الكلام ومن ذلك ما صحح وكان قياسه الأعلال نحو مزيد ومكوزة وقياسهما مزاد ومكازة
এর মধ্যে এমন কিছু শব্দ রয়েছে যার দ্বিত্বকরণ (তাদঈফ) প্রকাশ পেয়েছে, অথচ এটি যদি কোনো নির্দিষ্ট নাম (আলমিয়্যাহ) না হতো তবে নিয়ম (কিয়াস) অনুযায়ী তা বাধাগ্রস্ত হতো; যেমন: ‘থাহলাল’। এটি ‘তাফআল্লাল’ ওজনে গঠিত। এর প্রমাণ হলো, আরবি ভাষায় (থা, হা, লাম) মূলবর্ণের বিন্যাসে কোনো শব্দমূল আমাদের জানা নেই যার মাধ্যমে ‘থাহলাল’ শব্দটি ‘কুরদাদ’-এর মতো ‘ফাল্লাল’ ওজনে হতে পারে। তদুপরি, ‘থাহলাল’ যদি ‘ফাল্লাল’ ওজনে হতো, তবে একে রূপান্তরযোগ্য (মুনসারিফ) করা আবশ্যক ছিল, যেমনটি কোনো ব্যক্তির নাম ‘কুরদাদ’ রাখা হলে করা হয়। সুতরাং পুংলিঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও তাদের (আরবদের) এটিকে রূপান্তরহীন (গাইর মুনসারিফ) রাখা একথারই প্রমাণ দেয় যে, এটি (হা, লাম, লাম) শব্দমূল থেকে ‘তাফআল্লাল’ ওজনে গঠিত। ফলে এটি শব্দ ও অর্থের দিক থেকে তাদের ‘হিলাল’ নামকরণের সমগোত্রীয়।
অনুরূপভাবে ‘মুহাব্বাব’ শব্দটিও এর অন্তর্ভুক্ত, যার নিয়ম অনুযায়ী ‘মুহিব্ব’ হওয়ার কথা ছিল। কারণ এটি ‘মাহাব্বাহ’ থেকে ‘মুফআল’ ওজনে এসেছে। আপনি কি দেখছেন না যে, আরবি ভাষায় (মিম, হা, বা) মূলবর্ণের এমন কোনো বিন্যাস নেই যা ‘ফাল্লাল’ ওজনে হতে পারে? ঠিক সেভাবেই ‘থাহলাল’ শব্দটিকে ‘থাহাল্ল’ হওয়া আবশ্যক ছিল (যেমন ‘তাদান্ন’ ও ‘তাসাব্ব’ এর ক্ষেত্রে হয়েছে), যেভাবে ‘মুহাব্বাব’ শব্দটিকে ‘মুহাব্ব’ হওয়া আবশ্যক ছিল (যেমন ‘মুফারর’ ও ‘মুরাদ্দ’ এর ক্ষেত্রে হয়েছে)।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো একটি স্থানের নাম হিসেবে তাদের ‘ইয়া’জাজ’ ব্যবহার। এটি যে ‘ইয়াফআল’ ওজনে এসেছে, তা আপনার কাছে দুটি বিষয় দ্বারা সুনিশ্চিত হবে: প্রথমত, ‘থাহলাল’-এর মতো এরও রূপান্তর (তানভীন) বর্জন করা; আর ‘ইয়া’জাজ’ একটি স্থানের নাম। দ্বিতীয়ত, তারা একে আইন বর্ণে কাসরা বা জের যোগে ‘ইয়া’জিজ’ও বলেছে, অথচ আরবি ভাষায় বিশেষ্য হিসেবে ‘ফাল্লিল’ ওজনের কোনো শব্দ নেই। এছাড়া (ইয়া, হামজা, জিম) মূলবর্ণের বিন্যাসও আরবি ভাষায় পরিচিত নয়।
এর অন্তর্ভুক্ত আরও কিছু শব্দ রয়েছে যা মূল রূপেই রাখা হয়েছে (তাসহীহ), অথচ নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোতে বর্ণ পরিবর্তন (ই’লাল) হওয়া আবশ্যক ছিল; যেমন: ‘মাযয়িদ’ ও ‘মাকওয়াযাহ’। নিয়ম অনুযায়ী এই শব্দ দুটির রূপ ‘মাযাদ’ ও ‘মাকাযাহ’ হওয়ার কথা ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
كمسار من السير ومقامه ومنه مريم ومدين وقياسهما مرام ومدان فإن قلت فإن هذين اسمان أعجميان وليسا عربيين فمن أين أوجبت فهما ما هو للعربي قيل هذا موضع يتساوى فيه القبيلان جميعاً ألا ترى أنهم حملوا موسى على أنه مفعل حملاً على العربي كما حملوا الموسى الحديد على ذلك فلم يخالفوا بينهما وحكموا أيضاً في نحو إبراهيم وإسماعيل أن همزتيهما أصلان حملاً على أحكام العرب من حيث كانت الزيادة لا تلحق أوائل بنات الأربعة إلا في الأسماء الجارية على أفعالها نحو مدحرج ومسرهف ولم يفصلوا بين القبيلين بل تلاقيا فيه عندهم وكذلك حكموا أيضاً بزيادة الألف والياء في إبراهيم وإسماعيل حملاً على أحكام العربي من حيث كان هذا عملاً في الأصول لكنهم إنما يفرقون بينهما في تجويزهم الاشتقاق من العربي ومنعهم إياهم في الأعجمي المعرفة ويفصلون أيضاً بين العربي والعجمي في الصرف وتركه نعم ويعتدون أيضاً بالعجمة مع العلمية خاصة فأما الأصول من الحروف والصحة والاعلال فإنهم لا يفرقون بينهما ألا تراهم إذا خالف لفظ الحرف الأعجمي الحروف العربية جذبوه إلى أقرب الحروف من حروفهم التي تليه وتقرب من مخرجه فلذلك قالوا في أأشوب أأشوف وقالوا في روز
যেমন 'সাইর' (চলা) থেকে 'মাসার' এবং তার অবস্থান। এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'মারইয়াম' এবং 'মাদইয়ান', আর এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক পরিমাপ হলো 'মারাম' এবং 'মাদান'। যদি আপনি বলেন যে, এই নাম দুটি তো অনারব (আজমি) এবং এগুলো আরবি নয়, তবে আপনি এদের ওপর আরবির জন্য প্রযোজ্য নিয়মগুলো কীভাবে আবশ্যক করলেন? উত্তরে বলা হয়: এটি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে উভয় প্রকার (আরবি ও অনারব) শব্দই সমান। আপনি কি দেখেন না যে, তারা 'মুসা' শব্দটিকে আরবির অনুকরণে 'মুফআল' ওজনে গণ্য করেছেন, ঠিক যেভাবে তারা লোহার তৈরি 'মুসা' (ক্ষুর)-কেও এর ওপর কিয়াস করেছেন? ফলে তারা এই দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। তারা ইবরাহিম ও ইসমাইলের মতো শব্দগুলোর ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, এগুলোর 'হামজা' দুটি মূল অক্ষর (আসল), যা আরবদের ব্যাকরণিক নিয়মের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। কারণ, চার অক্ষরবিশিষ্ট মূল শব্দের শুরুতে অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হয় না, কেবল সেই বিশেষ্যগুলোর ক্ষেত্রে যা তাদের ক্রিয়ার (ফেল) অনুসরণে গঠিত হয়, যেমন 'মুদাহরিজ' এবং 'মুসারহাফ'। তারা উভয় প্রকার শব্দের মধ্যে কোনো বিভাজন করেননি, বরং তাদের নিকট এগুলো একই বিন্দুতে মিলিত হয়েছে। একইভাবে তারা 'ইবরাহিম' ও 'ইসমাইল' শব্দে 'আলিফ' ও 'ইয়া'-কে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন আরবির নিয়মানুযায়ী, যেহেতু এটি মূল অক্ষরের ক্ষেত্রে একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। তবে তারা এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করেন কেবল আরবি শব্দের ব্যুৎপত্তি (ইশতিকাক) বৈধ মনে করার ক্ষেত্রে এবং নির্দিষ্ট অনারব শব্দের ক্ষেত্রে তা নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে। তারা আরবি ও অনারব শব্দের মধ্যে রূপান্তর (সারফ) হওয়া এবং না-হওয়ার ক্ষেত্রেও পার্থক্য করেন। হ্যাঁ, তারা বিশেষ করে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (আলাম) হওয়ার পাশাপাশি অনারব হওয়ার বিষয়টিকেও বিবেচনায় নেন। কিন্তু মূল বর্ণ, সুস্থতা (সহিহ) এবং রূপান্তর (এলাল)-এর ক্ষেত্রে তারা এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। আপনি কি দেখেন না যে, যখন কোনো অনারব বর্ণের উচ্চারণ আরবি বর্ণের পরিপন্থী হয়, তখন তারা সেটিকে তাদের বর্ণমালার নিকটতম বর্ণের দিকে টেনে নিয়ে আসেন, যা সেই বর্ণের উচ্চারণস্থলের (মাখরাজ) কাছাকাছি হয়? এই কারণেই তারা 'আআশুব'-এর ক্ষেত্রে 'আআশুফ' বলেছে এবং 'রুজ'-এর ক্ষেত্রে বলেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
روز وقالوا في فرند السيف تارة فرند وأخرى برند وقالوا في كربز تارة قربز وأخرى جربز وقالوا في كفنجلاز قفنشليل فغيروا المثال والحروف. وهذا باب فيه طول وفيما ذكرناه منه كاف من غيره ومنه حيوة وأصله حية فأبدلت اللام واواً فصارت حيوة وهذا ضد ما يوجبه القياس وذلك أن عرف هذا النحو وعادته أنه إذا اجتمعت الواو والياء وسكنت الأولى منهما قلبت الواو ياءً نحو لويت لية وطويت طياً ونحو سيد وهين فأما أن تجتمع الياآن فتقلب الياء واواً فهذا ضد القياس في هذا الباب وإنما احتمل ذلك وارتجل لمكان العلمية ومن ذلك أيضاً قولهم في اسم الرجل موهب وفي اسم المكان موظب
রোজ; তারা তরবারির জৌলুসের ক্ষেত্রে কখনও 'ফিরান্দ' আবার কখনও 'বিরান্দ' বলত। তারা 'কারবায' শব্দের ক্ষেত্রে কখনও 'কারবায', কখনও 'কুরবায' এবং কখনও 'জারবায' বলত। তারা 'কাফনাজালায' শব্দের ক্ষেত্রে 'কাফনাশলীল' বলত; এভাবে তারা এর গঠন ও বর্ণ পরিবর্তন করত। এটি এমন একটি অধ্যায় যা বেশ দীর্ঘ, এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই অন্য উদাহরণের জন্য যথেষ্ট। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো 'হায়াত', যার মূল রূপ ছিল 'হাইয়্যাহ'; এখানে লাম-কালিমাকে 'ওয়াও' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, ফলে তা 'হায়াত' হয়েছে। এটি ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মের (কিয়াস) পরিপন্থী। কেননা, এই শাস্ত্রের পরিচিত নিয়ম হলো—যখন 'ওয়াও' এবং 'ইয়া' একত্রে আসে এবং তাদের প্রথমটি সুকুনযুক্ত হয়, তখন 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়; যেমন: 'লাইয়াহ', 'তইয়্যান' এবং 'সাইয়্যিদ' ও 'হাইয়্যিন'। কিন্তু দুটি 'ইয়া' একত্রে আসার কারণে 'ইয়া'-কে 'ওয়াও' দ্বারা পরিবর্তন করা এই পরিচ্ছেদের নিয়মের বিপরীত। এটি কেবল বিশেষায়িত নাম (আলামিয়্যাহ) হওয়ার কারণে গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োগ করা হয়েছে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো ব্যক্তির নাম হিসেবে তাদের 'মাওহাব' এবং কোনো স্থানের নাম হিসেবে 'মাওজাব' বলা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
وهذا شاذ وذلك إن ما فاؤه واو لا تبني العرب منه مفعلاً بفتح العين إنما ذلك بكسرها البتة نحو موضع وموقع ومورد وموجدة وموعدة وجاء موظب وموهب على الشذوذ وكذلك مورق حملوه على أنه من ورق لا من م ر ق وربما شذ الشيء من هذا في النكرة وقالوا موضع وقالوا موقعة الطائر وقالوا أكل الرطب موردة أي محمة ومثله في النكرة قالوا الفكاهة مقودة إلى الأذى وقرىء " لمثوبة من عند الله " وقالوا فيها أيضاً عوى الكلب عوة وعوية وهذا ونحوه في النكرات أقبح منه في المعارف. ومن ذلك قولهم معدي كرب وذلك أنهم بنوا مما لامه حرف علة مفعلاً بكسر العين وذلك شاذ وإنما المعتاد منه مفعل بفتحها نحو المشتى والمدعى والمغزى والمرمي والمقضي فمعدي على هذ شاذ كما ترى وبعد فمتى رأيت في الأعلام شيئاً مخالفاً لما عليه أمثاله فلا تنب عنه فيها نبوك عنها في غيرها وأوله طرفاً من نظرك ولا تخفن إلى رده والطعن فيه دون أن تراجعه وتليه عليه فإذا صحت روايته أنست به فوق أنسك لو كان نكرة فهذا منهاج هذا.
এটি বিরল বা ব্যতিক্রমী। এর কারণ হলো, যে শব্দের 'ফা' মূলবর্ণটি 'ওয়াও', আরবরা তা 'মাফ'আল' (আইন বর্ণে ফাতাহ বা যবরসহ) ছাঁচে গঠন করে না; বরং তা সর্বদা 'মাফ'ইল' (আইন বর্ণে কাসরা বা যেরসহ) ছাঁচেই গঠিত হয়। যেমন: মাউদি', মাউকি', মাউরিদ, মাউজিদাহ এবং মাউ'ইদাহ। তবে 'মাউজাব' এবং 'মাউহাব' শব্দ দুটি বিরল হিসেবে এসেছে। একইভাবে 'মাওরাক' শব্দটিকে তারা 'ওয়ারাফ' ধাতু থেকে আগত হিসেবে গণ্য করেছেন, 'ম-র-ক' থেকে নয়। সাধারণ বা অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকিরাহ) ক্ষেত্রেও মাঝে মাঝে এ জাতীয় বিচ্যুতি দেখা যায়। তারা 'মাউদা' বলেছে এবং পাখির বসার স্থানকে 'মাউকাআতুহ' বলেছে। আবার তারা বলেছে, 'কাঁচা খেজুর খাওয়া মউরাদাহ', যার অর্থ হলো যা জ্বর আনয়ন করে। সাধারণ বিশেষ্যের ক্ষেত্রে অনুরূপ আরেকটি উদাহরণ হলো তাদের এই কথা: 'রসিকতা কষ্টের দিকে ধাবিত করে' (মাকওয়াদাহ)। এছাড়া আল্লাহর বাণী 'আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদানস্বরূপ' (লি-মাসুওয়াহ) শব্দটিও পাঠ করা হয়েছে। তারা এ প্রসঙ্গে আরও বলেছে, 'কুকুর ডেকেছে আউওয়াহ এবং আউয়িয়্যাহ'। সাধারণ বা অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এ জাতীয় প্রয়োগ সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের (মা'রিফাহ) চেয়েও অধিক অশোভন। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাদের উক্তি 'মা'দি কারিব'। কারণ তারা এমন শব্দ থেকে 'মাফ'ইল' (আইন বর্ণে কাসরাসহ) গঠন করেছে যার 'লাম' মূলবর্ণটি দুর্বল বর্ণ (হারফে ইল্লাত), যা অত্যন্ত বিরল। অথচ প্রচলিত নিয়ম হলো আইন বর্ণে ফাতাহ বা যবরসহ 'মাফ'আল' গঠন করা; যেমন: আল-মাশতা, আল-মুদ্দা'আ, আল-মাগযা, আল-মারমি এবং আল-মাকদি। সুতরাং আপনার দৃষ্টিগোচর হচ্ছে যে, এই নিয়ম অনুযায়ী 'মা'দি' শব্দটি একটি ব্যতিক্রম। অতঃপর, সংজ্ঞাবাচক নামগুলোর মধ্যে যখনই আপনি এমন কিছু দেখবেন যা তার সমজাতীয় শব্দগুলোর নিয়মের পরিপন্থী, তখন সাধারণ শব্দের মতো তা থেকে বিমুখ হবেন না। বরং আপনার গভীর দৃষ্টি দিয়ে তা বিবেচনা করুন; যথাযথ পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানের পূর্বে তা প্রত্যাখ্যান করতে বা তাতে ত্রুটি অন্বেষণ করতে তাড়াহুড়ো করবেন না। যদি তার বর্ণনা বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হয়, তবে সাধারণ বিশেষ্যের তুলনায় সেটি আপনার নিকট অধিক গ্রহণযোগ্য হবে। এটিই হলো এই বিষয়ের সঠিক কর্মপন্থা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
فإن قيل ولو كان احتمال ذلك في العلم أسهل من احتماله في الجنس قيل أن العلم لما كثر استعماله لحقه التغيير في موضعين أحدهما نفسه والآخر إعرابه أما تغيير نفسه فما قدمناه آنفاً من مجيئه مخالفاً للباب نحو معدي كرب وثهلل ومورق وحيوة ومريم ومكوزة وأما تغيير إعرابه فوجود الحكاية فيه نحو قولك في جواب من قال رأيت زيداً من زيداً وفي قول من قال مررت بعمرو من عمرو وهذا التغيير باب مختص بالأعلام أعني الحكاية في الأعراب وسبب جواز ذلك فيه كثرة الاستعمال له وما يكثر استعماله مغير عما يقل استعماله وإنما غير لأمرين أحدهما المعرفة بموضعه والآخر الميل إلى تخفيفه ألا ترى إلى قولهم لم يك ولا أدر ولا تبل وهذا واضح.
واعلم أن معاني الأعلام تنقسم إلى ضربين أحدهما عين وهو الأكثر والآخر معنى وهو الأقل. فأما العين فنحو زيد وجعفر وعاتكة وهند وزينب واعود وسبل والغراب والوجيه ولاحق
যদি বলা হয় যে, যদিও জাতিবাচক বিশেষ্যের তুলনায় সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এর সম্ভাবনা অধিকতর সহজ, তবে উত্তরে বলা হবে যে, সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের ব্যবহার অধিক হওয়ার কারণে এতে দুই ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটে: একটি তার নিজ সত্তায় এবং অন্যটি তার ইরাবে (কারক বিভক্তি)। তার নিজ সত্তায় পরিবর্তনের বিষয়টি হলো যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—তার মূল ব্যাকরণিক নিয়মের পরিপন্থী হওয়া; যেমন: মা’দী কারিব, তাহলাল, মাওরিক, হাইওয়াহ, মারইয়াম এবং মাকওয়াজাহ। আর তার ইরাবে পরিবর্তনের বিষয়টি হলো তাতে অনুকরণ (হিকাহ) বিদ্যমান থাকা; যেমন কেউ 'আমি যায়দকে দেখেছি' বললে তার জবাবে আপনার বলা 'কোন যায়দকে?' এবং কেউ 'আমি আমরের পাশ দিয়ে গিয়েছি' বললে 'কোন আমরের?' বলা। এই পরিবর্তনটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট একটি অধ্যায়, অর্থাৎ ইরাবের ক্ষেত্রে অনুকরণ করা। এতে এটি বৈধ হওয়ার কারণ হলো এর অত্যধিক ব্যবহার; আর যা অধিক ব্যবহৃত হয়, তা স্বল্প ব্যবহৃত শব্দের তুলনায় পরিবর্তিত হয়ে থাকে। আর এটি দুটি কারণে পরিবর্তিত হয়: একটি হলো তার স্থান সম্পর্কে অবগত থাকা এবং অন্যটি হলো উচ্চারণে লঘুতা বা সহজ করার প্রবণতা। আপনি কি তাদের প্রয়োগ—'লাম ইয়াকু', 'লা আদরি' এবং 'লা তাবালি' এর দিকে লক্ষ্য করেন না? আর এটি সুস্পষ্ট।
জেনে রাখুন যে, সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের অর্থ দুই প্রকার: একটি হলো সত্তা (আইন), যা সংখ্যায় অধিক এবং অন্যটি হলো ভাব বা গুণ (মানি), যা সংখ্যায় কম। সত্তার উদাহরণ হলো: যায়দ, জাফর, আতিকাহ, হিন্দ, যায়নাব, আ’ওয়াদ, সুবুল, আল-গুরাব, আল-ওয়াজিহ এবং লাহিক।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وشدقم وجديل ومصر وحلب ومكة وفيد وخضارة والمهرقان وسجا.
وأما المعنى فنحو قولهم سبحان في قوله:
أقول لما جاءني فخره
… سبحان من علقمة الفاخر
فسبحان عندنا علم علق على معنى التسبيح وكذلك قولهم في ما حكاه أبو زيد من قولهم ما ألقاه إلا فينة أي في الندرى فهذه علم لهذا المعنى
এবং শাদাক্বাম, জাদীল, মিসর, হালব, মক্কা, ফায়দ, খিদারাহ, আল-মাহরাগান এবং সাজা।
আর অর্থের ক্ষেত্রে (সংজ্ঞাবাচক নাম হওয়ার) উদাহরণ হলো তাদের ‘সুবহান’ শব্দ ব্যবহার করা, যেমন কবির উক্তিতে:
আমি বললাম যখন তার দম্ভ আমার নিকট এল
… গর্বকারী আলক্বামাহর বিষয়ে পবিত্রতা (বা বিস্ময়) প্রকাশ করছি
সুতরাং আমাদের নিকট ‘সুবহান’ হলো এমন একটি সংজ্ঞাবাচক নাম যা তাসবিহ বা পবিত্রতা ঘোষণার অর্থের জন্য নির্ধারিত। অনুরূপভাবে আবু যায়েদ আরবদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, ‘আমি তার দেখা পাই কেবল কালেভদ্রে’ অর্থাৎ বিরল মুহূর্তে; সুতরাং এগুলো এই অর্থের জন্য নির্ধারিত সংজ্ঞাবাচক নাম।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
وغدوة كذلك عندنا هي علم على معنى غداة غيران غداة نكرة وغدوة معرفة ومعناهما على اختلاف حاليهما في التعريف والتنكير واحد كما أن أسداً وأسامة وثعلباً وثعالة وبحراً وخضارة وإن اختلفا في التعريف والتنكير فإن فائدة كل واحد منهما أنه واحد من جنسه ألا ترى أنك إذا قلت خرجت فإذا أسد وخرجت فإذا أسامة فالمعنى واحد وكذلك قولك مررت بأبي الحصين كقولك بثعلب وكان أبو علي رحمه الله يذب إلى أن تعريف غدوة تعريف لفظي وإن فائدتها كفائدة غداة لا فرق. ومن الأعلام المعلقة على المعاني ما قال الشاعر:
وإن قال غاو من تنوخ قصيدة
… بها جرب عدت عليه بزوبرا
فسألته عن ترك صرف زوبر فقال جعلها علماً لما تضمنته القصيدة من المعنى ومن ذلك ما حكاه أبو زيد من قولهم هذا غير أبعد قال أبو علي أبعد هنا علم على هذا المعنى وإنما يراد به بعده في النفس وأنشد سيبويه:
আমাদের নিকট একইভাবে ‘গাদওয়াহ’ শব্দটি ‘গাদাত’-এর অর্থের জন্য একটি সংজ্ঞাবাচক নাম, তবে পার্থক্য এই যে, ‘গাদাত’ শব্দটি অনির্দিষ্ট এবং ‘গাদওয়াহ’ শব্দটি নির্দিষ্ট। নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে এই পার্থক্য থাকলেও উভয়ের অর্থ এক। যেমনটি ‘আসাদ’ ও ‘উসামাহ’ (সিংহ), ‘সা’লাব’ ও ‘সুআলাহ’ (শেয়াল) এবং ‘বাহর’ ও ‘খাদারাহ’ (সমুদ্র)-এর ক্ষেত্রে দেখা যায়; যদিও এগুলোর নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতার মাঝে পার্থক্য রয়েছে, তবুও এগুলোর প্রত্যেকটির উপযোগিতা হলো তা স্বীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত একটিকে বোঝায়। আপনি কি দেখছেন না যে, যখন আপনি বলেন— “আমি বের হলাম এবং হঠাৎ একটি সিংহের (আসাদ) দেখা পেলাম” আর “আমি বের হলাম এবং হঠাৎ একটি সিংহের (উসামাহ) দেখা পেলাম”, তখন অর্থ একই থাকে। অনুরূপভাবে আপনার উক্তি— “আমি আবুল হুসাইনের পাশ দিয়ে গেলাম” কথাটি “আমি একটি শেয়ালের পাশ দিয়ে গেলাম” বলার মতোই। আবু আলী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই মত পোষণ করতেন যে, ‘গাদওয়াহ’ শব্দের নির্দিষ্টতা কেবল শাব্দিক এবং এর কার্যকারিতা ‘গাদাত’-এর মতোই, এতে কোনো পার্থক্য নেই। ভাবার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট সংজ্ঞাবাচক নামসমূহের (আলামুল মা’আনি) অন্তর্ভুক্ত হলো কবির এই উক্তি:
তানুখ গোত্রের কোনো পথভ্রষ্ট ব্যক্তি যদি এমন কোনো কবিতা বলে
… যাতে দোষত্রুটি রয়েছে, তবে তা ‘যাওবার’ (বিপদ) হয়ে তার দিকেই ফিরে আসবে।
আমি তাকে ‘যাওবার’ শব্দটিকে কেন কাসরা বা তানভিন দেওয়া হয়নি (অর্থাৎ কেন এটি অপরিবর্তনীয় শব্দ বা গাইরুন মুনসারিফ) সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি একে কবিতার অন্তর্নিহিত ভাবার্থের জন্য একটি সংজ্ঞাবাচক নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আবু যায়দ বর্ণিত আরবেদের উক্তি— “এটি ‘আবা’আদ’ (অকল্যাণ) ব্যতিরেকে অন্য কিছু”। আবু আলী বলেন, ‘আবা’আদ’ এখানে উক্ত অর্থের জন্য একটি সংজ্ঞাবাচক নাম এবং এর দ্বারা মূলত মনের ভেতরের দূরত্বকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। সিবওয়াইহ পাঠ করেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
إنا اقتسمنا خطتينا بيننا
… فحملت برة واحتملت فجار
وقال فيها هناك إنها معدولة عن الفجرة باللام كما ترى وهذا عندنا تفسير على المعنى لا على تحقيق حال الإعراب والتقدير وذلك إن فجار معدولة عندنا عن فجرة علماً يدل على ذلك إنه قرنها بقوله برة فكما أن برة علم لا حالة فكذلك ما عدل عنه فجار وهو في التقدير فجرة ولو عدل عن برة هذه لكان قياسه برار وكما لا يشك أن قطام وحذام معدولتان عن قاطمة وحاذمة وهما علمان وكذلك فجار معدولة عن فجرة وهذا تلخيص أصحابنا آخرهم أبو علي وكذلك ما هذه حاله وقليل ما هو.
ومن الأعلام على المعاني المثل الموزون بها نحو قولك فعلان لا ينصرف معرفة وأفعل إذا كان مؤنثه فعلاء لم ينصرف ووزن طلحة فعلة ووزن أصبع أفعل فعلاء ونحوها أعلام باشارتك فيها إلى المعنى
আমরা আমাদের দুই কর্মপন্থা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছি
… অতঃপর বাররাহ (সততা) তা বহন করল এবং ফাজার (পাপ) তা বহন করল।
এবং তিনি সেখানে এই সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি আল-ফাজরাহ (লাম যুক্ত শব্দ) থেকে রূপান্তরিত, যেমনটি আপনি দেখছেন। এটি আমাদের নিকট অর্থগত ব্যাখ্যা, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ বা মূল কাঠামোর চুলচেরা বিশ্লেষণ নয়। এর কারণ হলো, আমাদের নিকট ফাজার শব্দটি ফাজরাহ নামক বিশেষ্য থেকে রূপান্তরিত। এর প্রমাণ হলো, তিনি একে বাররাহ শব্দের সাথে যুক্ত করেছেন। সুতরাং বাররাহ যেহেতু একটি বিশেষ্য, কোনো অবস্থা নয়, তাই যে শব্দ থেকে ফাজার রূপান্তরিত হয়েছে সেটিও অনুরূপ একটি বিশেষ্য। এর মূল কাঠামো হলো ফাজরাহ। যদি এই বাররাহ থেকে রূপান্তর ঘটত, তবে নিয়ম অনুযায়ী তা বারার হতো। আর যেভাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কাতাম এবং হাযাম শব্দ দুটি কাতিমাহ ও হাযিমাহ থেকে রূপান্তরিত এবং এই উভয়টিই বিশেষ্য, তেমনি ফাজার শব্দটিও ফাজরাহ থেকে রূপান্তরিত। এটিই আমাদের পণ্ডিতদের সারসংক্ষেপ, যাদের সর্বশেষ হলেন আবু আলী। অনুরূপভাবে যার অবস্থা এমন তার ক্ষেত্রেও একই কথা, যদিও তা বিরল।
অর্থের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সেই সব ওজন (ছাঁচ) যার সাথে তুলনা করা হয়। যেমন আপনার কথা: ফালান নির্দিষ্ট বিশেষ্য হিসেবে রূপান্তরহীন থাকে। আর আফআল যখন এমন হয় যার স্ত্রীলিঙ্গ ফা'লা, তখন তাও রূপান্তরহীন থাকে। তালহা এর ওজন হলো ফাল্লাহ এবং আসবাহ এর ওজন হলো আফআল, ফা'লা এবং এর সদৃশ ওজনগুলো। এগুলো মূলত আপনার অর্থ নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বিশেষ্য হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
وكذلك أسماء الأعداد فتقول ستة ضعف ثلاثة وأربعة نصف ثمانية وستة ثلاثة أخماس عشرة ولا تصرفها لأنها أعلام لهذا القدر من العدد وهي مؤنثة فإن قيل فلم قل هذا الضرب وكثر العلم المعلق على العين نحو سعد وجعفر وسعاد وزينب قيل أن الأعلام إنما الغرض فيها التعريف والأعيان أقعد في التعريف من المعاني وذلك أن الأعيان يتناولها حسن العيان لظهورها له وليس كذلك المعاني لما يعرض من اللبس فيها والحاجة إلى تعب الاستدلال عليها وأنت ترى فرق ما بين علم الضرورة المشاهدة وبين علم الاستدلال بالمراجعة فلذلك كثر تعليق الأعلام على الأعيان وقل تعليقها على المعاني وهذا واضح.
انقضى العلم المفرد.
وأما المضاف فضربان اسم غير كنية نحو ذي النون وعبد الله وسعيد كرز وقيس قفة وابن آوى وابن قترة واسم كنية نحو أبي زيد وأبي جعفر وأبي جخادب وأبي براقش وأم العلا وأم وهب وأم جبين وأم القردان.
একইভাবে সংখ্যার নামসমূহও; আপনি বলবেন ‘ছয়’ হলো ‘তিন’ এর দ্বিগুণ, ‘চার’ হলো ‘আট’ এর অর্ধেক এবং ‘ছয়’ হলো ‘দশ’ এর তিন-পঞ্চমাংশ। আর আপনি এগুলোর ‘সরফ’ (রূপান্তর) করবেন না, কারণ এগুলো সংখ্যার এই নির্দিষ্ট পরিমাণের জন্য নির্ধারিত নাম এবং এগুলো স্ত্রীলিঙ্গ। যদি প্রশ্ন করা হয়, কেন এই প্রকারটি (অর্থাৎ অর্থের জন্য নির্ধারিত নাম) কম এবং দৃশ্যমান সত্তার সাথে সম্পৃক্ত নাম যেমন—সা’দ, জাফর, সুআদ এবং যায়নাব অধিক? তবে বলা হবে যে, নাম প্রদানের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিচয় প্রদান করা, আর পরিচয়ের ক্ষেত্রে অর্থগত বিষয়ের তুলনায় দৃশ্যমান সত্তাগুলো অধিকতর সুপ্রতিষ্ঠিত। কারণ দৃশ্যমান সত্তাগুলো তাদের স্পষ্টতার কারণে চাক্ষুষ দর্শনের আওতাভুক্ত হয়, কিন্তু অর্থগত বিষয়গুলো সেরকম নয়; কারণ তাতে অস্পষ্টতা তৈরি হয় এবং তা নিরূপণে দলীলের মাধ্যমে পরিশ্রম করার প্রয়োজন পড়ে। আর আপনি প্রত্যক্ষ দর্শনের মাধ্যমে অর্জিত অকাট্য জ্ঞান এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে অর্জিত গবেষণালব্ধ জ্ঞানের মধ্যকার পার্থক্য দেখতেই পাচ্ছেন। এই কারণেই সত্তাগুলোর জন্য নাম নির্ধারণের আধিক্য ঘটেছে এবং অর্থগত বিষয়ের জন্য নাম নির্ধারণ কম হয়েছে, আর বিষয়টি সুস্পষ্ট।
একক নাম সংক্রান্ত আলোচনা সমাপ্ত হলো।
আর সম্বন্ধযুক্ত নাম দুই প্রকার: প্রথমত এমন নাম যা উপনাম নয়, যেমন—যুন-নুন, আবদুল্লাহ, সাঈদ কারয, কায়েস কুফফাহ, ইবনুল আওয়া এবং ইবনু কাতরাহ। দ্বিতীয়ত উপনাম মূলক নাম, যেমন—আবু যায়দ, আবু জাফর, আবু জাখাদিব, আবু বারাকিশ, উম্মুল উলা, উম্মু ওয়াহাব, উম্মু জাবীন এবং উম্মুল কিরদান।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
وأما المركب فنحو حضرموت وعبل بك ورام هرزم ومنه سيبويه وعمرويه ونفطويه.
وأما الجملة فنحو تأبط شراً وبرق نحره وذرى حباً وشاب قرناها ويزيد إذا كان فيه ضمير نحو قوله:
نبيت أخوالي بنى يزيد
… ظلماً علينا لهم فديد
أي صوت وجلبة.
فإن قيل قد ثبت بما قدمته وأخرته حال الأعلام في انقسامها واختلاف حالها في أنفسها وحال ما علقت عليه وعبر بها عنه ولكن خبرنا من بعد عن الحاجة إلى وقوع الأعلام في تصاريف هذا الكلام قيل إنما وضعت الأعلام لضرب من الاختصار وتنكب الأكثار وذلك إن الاسم الواحد من الأعلام قد يؤدي بنفسه تأدية ما يطول لفظه ويمل استماعه ألا ترى إنك إذا قلت كلمت جعفر فقد استغنيت بجعفر عن أن تقول الطويل البزاز الذي نزل مكان كذا وكذا ويدعى ولده كذا ومبلغ تجارته كذا ويلبس من الثياب
আর যৌগিক নামগুলো যেমন—হাজরামাউত, বা'লাবাক এবং রাম-হুরমুজ। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সিবাবাইহি, আমরাওয়াইহি এবং নাফতাওয়াইহি।
আর বাক্যভিত্তিক নামগুলো যেমন—তাবাহাতা শাররান, বারাক্কা নাহরুহু, জারা হাব্বান, শাবা করনাহা এবং ইয়াযিদ—যখন তাতে সর্বনাম থাকে, যেমন কবির উক্তিতে:
আমি রাত কাটিয়েছি আমার মামাদের সাথে যারা ইয়াযিদের সন্তান
… আমাদের প্রতি অবিচার করতে গিয়ে, তাদের রয়েছে উচ্চ শোরগোল।
অর্থাৎ শব্দ ও উচ্চবাচ্য।
যদি বলা হয় যে, আপনি আগে ও পরে যা কিছু উল্লেখ করেছেন তা দ্বারা ব্যক্তিনামসমূহের (আলাম) বিভাজন, তাদের নিজেদের অবস্থার ভিন্নতা এবং তারা যে সত্তার জন্য নির্ধারিত হয়েছে ও যার মাধ্যমে তা ব্যক্ত করা হয়—তার অবস্থা সুসাব্যস্ত হয়েছে। তবে এরপর আমাদের এই কথোপকথনের বিভিন্ন ধারায় ব্যক্তিনাম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করুন। উত্তরে বলা হবে যে, ব্যক্তিনামসমূহ মূলত এক প্রকার সংক্ষিপ্তকরণ এবং বাহুল্য বর্জনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কেননা ব্যক্তিনামের একটি শব্দই একাই এমন অর্থ প্রকাশ করে যা (অন্যভাবে বলতে গেলে) শব্দমালা দীর্ঘ হতো এবং শ্রবণে বিরক্তি সৃষ্টি করত। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি যখন বলেন 'আমি জাফরের সাথে কথা বলেছি', তখন 'জাফর' বলার মাধ্যমে আপনি এই দীর্ঘ বক্তব্য থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যান যে—সেই লম্বা কাপড় বিক্রেতা যে অমুক অমুক স্থানে বসবাস করে, যার সন্তানকে অমুক নামে ডাকা হয়, যার ব্যবসার পরিমাণ এত এবং যে এই ধরনের পোশাক পরিধান করে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
كذا ويتعاطى من كذا كذا إلى ما يطول ذكره ثم لا يستوفى لأنه لا يمكنك في التفصيل أن تذكر جميع أحواله التي تخصه ولعلك أنت أيضاً إنما تعرف القليل منها فكان ذلك يكون مؤدياً إلى الاطالة وربما لم يستوف الغرض والبغية فلما رأوا ذلك كذلك أنابوا عن جميعه اسماً واحداً علماً يغني عن الإطالة والملالة وقصور المعنى مع حسور المنة ولهذا قال أصحابنا إن الأعلام لا تقيد يريدون بذلك أن الاسم الواحد من الأعلام يقع على الشيء ومخالفه وقوعاً واحداً ولا يقال أن أحدهما حقيقة والآخر مجاز ألا ترى أن زيداً قد يقع علماً على الأسود كما يقع علماً على الأبيض وعلى القصير كما يقع علماً على الطويل ويجوز أن توقعه علماً على السواد والبياض وقوعاً واحداً حتى لا يكون أحد الضدين أولى به من صاحبه وليس كذلك الأوصاف ولا أسماء الأجناس من حيث كان كل واحد منهما مقيداً ألا ترى أن الطويل لا يقع عبارة عن القصير كما يقع زيد عبارة عن الطويل والقصير موقعاً واحداً لا مزية لأحد الأمرين به على صاحبه والأجناس أيضاً مقيدة ألا ترى أن رجلاً يفيد صيغة مخصوصة ولا يقع على المرأة من حيث كان مقيداً وزيد يصلح أن يكون علماً على الرجل والمرأة وكذلك ثوب وكوز وكرسي ونحو ذلك كله مفيداً.
এমন এবং তেমন, এবং এর থেকে এটি এমনভাবে গৃহীত হয় যা উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যায়, তবুও তা পূর্ণতা পায় না। কারণ বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল অবস্থা উল্লেখ করা আপনার পক্ষে সম্ভব নয় এবং সম্ভবত আপনি নিজেও তার অতি সামান্যই অবগত। ফলে তা দীর্ঘসূত্রিতার কারণ হতো এবং সম্ভবত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যও পুরোপুরি অর্জিত হতো না। যখন তারা বিষয়টি এই রূপ দেখলেন, তখন তাঁরা এই সবকিছুর পরিবর্তে একটি মাত্র সংজ্ঞাবাচক নামকে স্থলাভিষিক্ত করলেন, যা দীর্ঘসূত্রিতা, একঘেয়েমি এবং অর্থের অপূর্ণতাসহ মানসিক শক্তির শ্রান্তি থেকে মুক্তি দেয়। এই কারণেই আমাদের সঙ্গীগণ বলেছেন যে, সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যসমূহ সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে তাঁরা বোঝাতে চেয়েছেন যে, একটি বিশেষ্য কোনো বস্তু এবং তার বিপরীত অবস্থার ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য হয়। সেখানে এমন বলা হয় না যে, এর একটি প্রকৃত অর্থ আর অন্যটি রূপক। আপনি কি দেখেন না যে, 'যায়েদ' নামটি যেমন কৃষ্ণাঙ্গের জন্য নাম হতে পারে, তেমনি শ্বেতাঙ্গের জন্যও নাম হতে পারে? এবং তা খাটোর জন্য যেমন নাম হতে পারে, লম্বার জন্যও নাম হতে পারে? এমনকি কৃষ্ণাঙ্গতা ও শ্বেতাঙ্গতার নাম হিসেবেও এটি একইভাবে ব্যবহার করা বৈধ, যাতে করে পরস্পরবিরোধী দুটি বিষয়ের কোনোটিই অপরটির চেয়ে সেই নামের ক্ষেত্রে অধিক উপযুক্ত না হয়। কিন্তু গুণবাচক শব্দ বা জাতিবাচক নামসমূহ এমন নয়, কারণ সেগুলোর প্রতিটিই সীমাবদ্ধ। আপনি কি দেখেন না যে, 'লম্বা' শব্দটি 'খাটো'র অভিব্যক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, অথচ 'যায়েদ' শব্দটি লম্বা এবং খাটো—উভয় ব্যক্তির ক্ষেত্রেই সমানভাবে ব্যবহৃত হয় এবং কোনোটির ওপর অপরটির কোনো বিশেষত্ব নেই। জাতিবাচক নামসমূহও সীমাবদ্ধ। আপনি কি দেখেন না যে, 'পুরুষ' শব্দটি একটি নির্দিষ্ট অবয়বকে নির্দেশ করে এবং তা নারীর ওপর প্রযুক্ত হয় না যেহেতু তা সীমাবদ্ধ; অথচ 'যায়েদ' পুরুষ ও নারী উভয়ের নাম হওয়ার যোগ্য। একইভাবে পোশাক, পানপাত্র, আসন এবং এই জাতীয় সবকিছুই নির্দিষ্ট অর্থ প্রদানকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
قد فرغنا مما كنا ضمنا تفسيره فيما تقدم من أحوال الأعلام ونحن نورد الأسماء المحتملة للقول من أسماء شعراء الحماسة ونقول في كل ما يحضرنا ويسنحه الله تعالى لنا.
বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের অবস্থা সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমরা যে বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা থেকে আমরা অবসর লাভ করেছি। এখন আমরা হামাসা কাব্যের কবিগণের মধ্য থেকে সেই নামগুলো উল্লেখ করছি যা আলোচনার যোগ্য এবং আমাদের নিকট যা কিছু উপস্থিত হয় ও মহান আল্লাহ আমাদের জন্য যা সহজ করে দেন, আমরা সে সম্পর্কে আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
أول أسماء الشعراء
قال رجل من بلعنبر العرب تقول بلعنبر وبلحارث يريدون بني العنبر وبني الحارث فيحذفون الياء لسكونها وسكون اللام من بعدها ثم يحذفون النون لأمرين أحدهما كثرة الاستعمال والآخر مشابهة النون للام فكأنه يكره فيحذف نحواً من حذف أحد المثلين نحو أحست وظلت ونحو من هذا قول قطري بن الفجاءة.
غداة طفت علماء بكر بن وائل
… وعجنا صدور الخيل نحو تميم
أراد على الماء فحذف اللام للام المعرفة وكثرة استعمال هذه الكلمة وذلك لكثرة ما يقولون بنو فلان على الماء ونزلوا على الماء وهم على الماء
কবিদের নামের প্রারম্ভিকা
বনি আম্বর গোত্রের একজন ব্যক্তি বলেছেন: আরবরা 'বাল-আম্বর' এবং 'বাল-হারিস' বলে থাকে, যার দ্বারা তারা মূলত 'বনি আল-আম্বর' এবং 'বনি আল-হারিস' বোঝাতে চায়। তারা 'বনি' শব্দের শেষের 'ইয়া' বর্ণটি বিলুপ্ত করে দেয় কারণ সেটি সাকিন এবং তার পরবর্তী 'লাম' বর্ণটিও সাকিন। এরপর তারা দুটি কারণে 'নুন' বর্ণটিকে বিলুপ্ত করে: একটি হলো এর অত্যধিক ব্যবহার এবং অন্যটি হলো 'নুন' বর্ণের সাথে 'লাম' বর্ণের সাদৃশ্য। ফলে বিষয়টি শ্রুতিকটু মনে হওয়ায় তারা একটি বর্ণ বিলুপ্ত করে দেয়, যেভাবে সমজাতীয় দুটি বর্ণের একটিকে 'আহাসতু' ও 'জালতু' শব্দে বিলুপ্ত করা হয়। কাতারি ইবনুল ফুজাআ-র নিম্নোক্ত পঙক্তিটি এই নিয়মেরই অন্তর্ভুক্ত:
সেই প্রভাতে যখন বকর বিন ওয়াইল গোত্র পানির ওপর ভেসে উঠেছিল
… এবং আমরা ঘোড়াগুলোর অগ্রভাগকে তামীম গোত্রের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিলাম
তিনি মূলত 'আলাল মা' (পানির ওপর) বোঝাতে চেয়েছেন, তাই তিনি আলিফ-লামে তারিফের (নির্দিষ্টতাবোধক লাম) কারণে এবং এই শব্দের অধিক ব্যবহারের ফলে 'লাম' বর্ণটি বিলুপ্ত করেছেন। এটি এ কারণে যে, আরবরা সচরাচর বলে থাকে— 'অমুক গোত্র পানির ওপর আছে', 'তারা পানির নিকট অবতরণ করেছে' এবং 'তারা পানির ওপর অবস্থান করছে'।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৭০)
ونحو ذلك وذلك لقدر الماء في نفوسهم وتمكنه من اعتقادهم إذ كانت المنفعة والحياة به ولذلك سمو الغيث حياً لأنه جار عندهم مجرى الحياة ولا يقولون مثل هذا في بني النجار لأنهم لو قالوا بنجار لحذفوا النون وقد أعلوا اللام بالأدغام فكأن يكون ذلك اجحافاً بالحرفين والعنبر مما نقل من أسماء الأجناس ككلب وحجر ونحو ذلك والعنبر أيضاً أحد أسماء الترس.
الفند الزمانيشهل بن شيبان قيل سمي الرجل الفند لعظم خلقته تشبيهاً بفند الجبل وهو قطعة منه واسمه شهل فهو لقب له وجمع الفند أفناد. وأما زمان فيحتمل أن يكون من باب زممت الناقة فيكون فعلان من ذلك ويحتمل أن يكون فعالاً من باب الزمن والأول أعلى عندنا وهو قياس مذهب
এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ; আর তা মানুষের অন্তরে পানির গুরুত্ব এবং তাদের বিশ্বাসে এর দৃঢ় অবস্থানের কারণে, যেহেতু উপকার ও জীবন এর মাধ্যমেই সাধিত হয়। এই কারণেই তারা বৃষ্টিকে ‘হায়া’ (জীবন) বলে নামকরণ করেছে, কারণ তাদের নিকট এটি জীবনের স্থলাভিষিক্ত। বনু নাজ্জারের ক্ষেত্রে তারা এ ধরনের কথা বলে না; কেননা তারা যদি 'বিনাজ্জার' বলত, তবে তারা ‘নূন’ বিলুপ্ত করত এবং ইদগামের মাধ্যমে ‘লাম’ এর পরিবর্তন ঘটাত, যা এই দুই বর্ণের প্রতি অবিচার হতো। আর 'আনবার' শব্দটি জাতিবাচক বিশেষ্যসমূহ (যেমন কুকুর, পাথর এবং এই জাতীয়) থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। আর 'আনবার' ঢালের নামসমূহেরও একটি নাম।
আল-ফানদ আয-যামানিশাহল ইবনে শায়বান। বলা হয়ে থাকে যে, লোকটিকে তার বিশাল শারীরিক অবয়বের কারণে ‘ফানদ’ নাম দেওয়া হয়েছে, যা পাহাড়ের চূড়ার (ফানদ) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ—আর এটি পাহাড়েরই একটি অংশ। তার প্রকৃত নাম শাহল, আর এটি (ফানদ) তার উপাধি। ‘ফানদ’-এর বহুবচন হলো ‘আফনাদ’। আর ‘যামান’ শব্দের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি ‘যমামতু আন-নাকাতা’ (আমি উষ্ট্রীকে বল্গা পরালাম) থেকে ‘ফালান’ ওজনে এসেছে। আবার এটিও সম্ভব যে এটি ‘যামান’ (কাল) থেকে ‘ফাউলান’ ওজনে এসেছে। আমাদের নিকট প্রথমটিই অধিকতর অগ্রগণ্য এবং এটিই মাযহাবের কিয়াস (পদ্ধতিগত যুক্তি)।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৭১)
سيبويه في ما فيه حرفان ثانيهما مضعف وبعدهما الألف والنون فقياسه أن تكون الألف والنون زائدتين كزمان وحمان إذا جهل اشتقاقه فإن عرفته قطعت باليقين في بابه وليس هذا كأن يكون قبل الألف ثلاثة أحرف أصول مختلفة نحو حمدان وعثمان وعمران وغطفان هذا لا يختلف في زيادة ألفه ونونه ويشهد لصحة مذهب سيبويه في باب زمان ورمان ما يحكى عن النبي صلى الله عليه وسلم وقد جاءه قوم من العرب فسألهم عليه السلام فقال: من أنتم فقالوا بنو غيان فقال: بل أنتم بنو رشدان أو لا تراه صلى الله عليه وسلم كيف تلقى غيان بأنه من الغي فحكم بزيادة ألفه ونونه وترك عليه السلام أن يتلقاه من باب الغين وهو إلباس الغيم من قوله:
كأني بين خافيتي عقاب
… تريد حمامة في يوم غين
يدلك على أنه صلى الله عليه وسلم تلقاه بما ذكرنا أنه قابله بضده فقال بل أنتم بنو رشدان فقابل الغي بالرشد فصار هذا عياراً على كل ما ورد في معناه فاعرفه.
সিবওয়াইহ-এর মতে, যে শব্দে দুটি অক্ষর থাকে এবং দ্বিতীয়টি দ্বিত্ব (তাশদীদযুক্ত) হয় এবং তারপরে আলিফ ও নুন থাকে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাকরণিক নিয়ম হলো আলিফ ও নুনকে অতিরিক্ত গণ্য করা, যেমন ‘যামান’ ও ‘হাম্মান’, যদি সেগুলোর ব্যুৎপত্তি অজ্ঞাত থাকে। তবে আপনি যদি এর ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানেন, তবে সেই নির্দিষ্ট অধ্যায়ের বিচারে আপনি নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন। এটি সেই শব্দগুলোর মতো নয় যেখানে আলিফের পূর্বে তিনটি ভিন্ন মূল অক্ষর থাকে, যেমন হামদান, উসমান, উমরান এবং গাতফান; এগুলোর আলিফ ও নুন অতিরিক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রশ্নাতীত। ‘যামান’ ও ‘রুম্মান’ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে সিবওয়াইহ-এর মতবাদের বিশুদ্ধতার প্রমাণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি ঘটনায় পাওয়া যায়। আরবদের একটি গোত্র তাঁর নিকট এলে তিনি (আলাইহিস সালাম) তাদের জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমরা কারা?" তারা উত্তরে বলল: "বনু গায়্যান"। তিনি বললেন: "বরং তোমরা বনু রুশদান"। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘গায়্যান’ শব্দটিকে ‘গায়্যুন’ (পথভ্রষ্টতা) থেকে আগত হিসেবে গণ্য করেছেন? ফলে তিনি এর আলিফ ও নুনকে অতিরিক্ত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আর তিনি (আলাইহিস সালাম) শব্দটিকে ‘গাইন’ শব্দমূল থেকে উদ্ভূত হিসেবে গ্রহণ করেননি, যার অর্থ হলো মেঘের আচ্ছাদন, যেমনটি কবির নিম্নোক্ত উক্তিতে রয়েছে:
যেন আমি ঈগলের দুই ডানার অন্তরালে
… কুয়াশাচ্ছন্ন দিনে একটি কবুতর শিকারের অপেক্ষায় আছি
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শব্দটিকে আমাদের উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করেছেন, তার প্রমাণ হলো তিনি শব্দটিকে এর বিপরীত শব্দ দ্বারা মোকাবিলা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, "বরং তোমরা বনু রুশদান"। এভাবে তিনি ‘গায়্যুন’-এর বিপরীতে ‘রুশদ’ (সঠিক পথ)-কে নিয়ে এসেছেন। সুতরাং এই জাতীয় অর্থের ক্ষেত্রে এটি একটি মানদণ্ড হিসেবে সাব্যস্ত হলো; অতএব বিষয়টি অনুধাবন করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৭২)
وزمان عندي مما ارتجل للتعريف نحو حمدان وعمران وعثمان عند أكثرهم وقال بعضهم هو منقول من العثمان وهو فرخ طائر ويقال فرخ حية ولا أعرف زمان في الأجناس. وأما شهل فإنهم يقولون امرأة شهلة كهلة ولا يكادون يفرقون بينهما وعلى أنه قال:
باتت تنزي دلوها تنزيا
… كما تنزي شهلة صبيا
ولا يقولون للرجل شهل كهل فقد يجوز أن يكون هذا الاسم قد سمع في بعض الأحوال جارياً على المذكر فنقل فسمي به على تلك اللغة أو تكون الهاء حذفت منه لتغيير العلمية التي ذكرت لك وإذا كانوا قد قالوا في النكرة.
أبلغ النعمان عني مألكاً
… أنه قد طال حبسي وانتظاري
এবং যামান আমার নিকট সেই সকল শব্দের অন্তর্ভুক্ত যা সংজ্ঞায়নের উদ্দেশ্যে নতুনভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, যেমন অধিকাংশ ভাষাবিদের মতে হামদান, ইমরান এবং উসমান। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, উসমান শব্দটি পাখির ছানা অর্থে ব্যবহৃত ‘উসমান’ থেকে নাম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে; আবার বলা হয় এটি সাপের ছানা। তবে আমি জাতিবাচক বা সাধারণ বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ‘যামান’ শব্দের প্রয়োগ সম্পর্কে জানি না। আর শাহল প্রসঙ্গে তারা ‘শাহলা কাহলা’ (প্রৌঢ়া নারী) বলে থাকে এবং এই শব্দ দুটির ব্যবহারের মধ্যে তারা বিশেষ কোনো পার্থক্য করে না। কবি যেমন বলেছেন:
সে সারা রাত তার বালতি নিয়ে আন্দোলিত হয়েছে
… যেমন একজন প্রৌঢ়া নারী তার শিশুকে নাচায় বা খেলায়
তারা পুরুষের জন্য ‘শাহল কাহল’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে না। সুতরাং হতে পারে যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই নামটি পুংলিঙ্গ হিসেবে প্রচলিত থাকতে শোনা গেছে, অতঃপর সেই ভাষারীতি অনুযায়ী একে নাম হিসেবে স্থির করা হয়েছে। অথবা হতে পারে যে, ইতিপূর্বে আমি আপনার নিকট সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের পরিবর্তনের যে কারণ উল্লেখ করেছি, তার ফলে শব্দটির শেষ থেকে ‘হা’ বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এমনকি তারা যদি সাধারণ বিশেষ্য হিসেবেও এটি ব্যবহার করে থাকে।
নুমানকে আমার পক্ষ থেকে এই সংবাদ পৌঁছে দাও
… যে আমার বন্দিত্ব ও প্রতীক্ষা দীর্ঘায়িত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
فحذفوا الهاء من مالكة فحذفها من العلم من شهلة أجوز وأجدر ولا أقول أن شهلاً من الأعلام المرتجلة لأنهم قد قالوا شهلة وشهل هو شهلة ليس بينهما إلا الهاء وفيها من الاحتمال ما وصفت لك وليس في العرب شهل بالشين معجمة غيره. وأما شيبان فمرتجل علماً ولا أعرفه جنساً وهو فعلان من شاب يشيب أو فيعلان من شاب يشوب وقد ذكرته في أول أبيات الحماسة ولا يجوز أن يكون فيعالاً من لفظ شبانة لأنه لو كان كذلك لكان مصروفاً وقد قال كما علمت من ذهل بن شيباناً فلم يصرفه.
أبو الغول الطهويدخول اللام في الغول هنا وهو علم كدخولها في أبي العباس وأبي القاسم وهذه اللام في الأعلام إنما بابها الصغات على ما قدمناه والغول في الحقيقة ليست صفة لكنها لما كانت إلى النكر والذعارة دخلت طريق
তারা 'মালিকাহ' থেকে 'হা' বিলোপ করেছে, তাই নামবাচক শব্দ 'শাহলাহ' থেকে এটি বিলোপ করা আরও বেশি গ্রহণযোগ্য ও উপযুক্ত। আমি বলি না যে 'শাহল' একটি মৌলিক নাম, কারণ তারা 'শাহলাহ' ও 'শাহল' উভয়ই ব্যবহার করেছে; এই দুইয়ের মধ্যে কেবল 'হা' অক্ষরের পার্থক্য রয়েছে। এতে আমি আপনার কাছে যে সম্ভাবনা বর্ণনা করেছি তা বিদ্যমান। আর আরবদের মধ্যে নুকতাহযুক্ত 'শীন' সম্বলিত 'শাহল' ব্যতীত অন্য কোনো শব্দ নেই। আর 'শাইবান' একটি মৌলিক নাম এবং আমি একে জাতিবাচক শব্দ হিসেবে জানি না। এটি 'শাবা-ইয়াশীবু' থেকে 'ফালান' ওজনে অথবা 'শাবা-ইয়াশুবু' থেকে 'ফায়আলান' ওজনে গঠিত। আমি এটি হামাসাহ-এর কবিতার শুরুতে উল্লেখ করেছি। এটি 'শাবানাহ' শব্দ থেকে 'ফিআল' ওজনে হওয়া বৈধ নয়; কারণ যদি তা হতো তবে এটি রূপান্তরযোগ্য হতো। অথচ আপনি যেমন জানেন যে, কবি বলেছেন 'যুহল বিন শাইবান' এবং তিনি একে রূপান্তরহীন রেখেছেন।
আবুল গুল আত-তাহাভীএখানে 'গুল' শব্দে 'লাম' যুক্ত হওয়া—অথচ এটি একটি নাম—ঠিক যেমন 'আবুল আব্বাস' এবং 'আবুল কাসিম'-এর ক্ষেত্রে যুক্ত হয়। নামবাচক শব্দের ক্ষেত্রে এই 'লাম'-এর ব্যবহার মূলত গুণবাচক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত, যা আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি। প্রকৃতপক্ষে 'গুল' কোনো গুণবাচক শব্দ নয়, তবে এটি যখন অনিষ্টতা ও ভীতিপ্রদ অর্থের দিকে ধাবিত হয়, তখন এটি সেই পথে প্রবেশ করে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুবহিজ ফী তাফসীরি আসমাই শুআরাই দীওয়ানিল হামাসাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
الوصف في هذا الوجه كما ألحق من منع من العرب أفعى الصرف من جهة الخبث والنكارة فجرى مجرى الخبيث والمنكر كما أن الفند دخله اللام لما فيه من معنى الصفة ألا تراه مشبهاً بالفند من الجبل فكأنه الضخم أو العظيم.
وأما الطهوي فمنسوب إلى طهية وهي أم قبيلة من العرب والنسب إليها طهوي أو طهوي وطهوي وطهوي على القياس والآخران شاذان وطهية تصغير طاهية والطاهي الطباخ يقال طهوت اللحم طهواً وقيل لأبي هريرة رضي الله عنه أأنت سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال فما كان طهوي أي فأي شيء كان شغلي وما كان عملي
এই ক্ষেত্রে বর্ণনাটি এমন, যেমন আরবদের মধ্য থেকে যারা 'আফআ' (সর্প) শব্দটিকে এর মন্দ এবং ন্যক্কারজনক প্রকৃতির কারণে শব্দরূপ পরিবর্তন থেকে বিরত রেখেছে। ফলে এটি মন্দ ও ঘৃণ্য বিষয়ের ধারায় প্রবাহিত হয়েছে। ঠিক যেমন 'ফান্দ' শব্দটিতে গুণবাচক অর্থের উপস্থিতির কারণে 'লাম' যুক্ত হয়েছে; আপনি কি দেখছেন না যে এটি পাহাড়ের চূড়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? সুতরাং এটি যেন বিশাল বা মহান কিছু।
আর 'তাহবি' শব্দটি 'তাহিয়্যাহ' এর সাথে সম্পর্কিত, যিনি আরবদের একটি গোত্রের মূল মাতা। এর সাথে সম্পৃক্ত বিশেষণ হলো 'তাহবি', তবে অন্য দুটি রূপ বিরল বা নিয়মবহির্ভূত। 'তাহিয়্যাহ' শব্দটি 'তাহিয়া' এর ক্ষুদ্রার্থ প্রকাশকারী রূপ, আর 'তাহী' অর্থ হলো পাচক। বলা হয়, 'আমি মাংস রান্না করেছি'। আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনি কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে এটি শুনেছেন?" তিনি উত্তরে বললেন, "তবে আমার কাজ কী ছিল?" অর্থাৎ "তবে আমার ব্যস্ততা এবং আমার কাজ কী ছিল?"