(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: -)
الفصول في سيرة الرسول القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الفصول في سيرة الرسول -صلى الله عليه وسلم-
المؤلف: أبو الفداء إسماعيل بن كثير (701 - 774 هـ)
تحقيق وتعليق: محمد العيد الخطراوي [ت 1433 هـ]، محيي الدين مستو [ت 1442 هـ]
الناشر: (مؤسسة علوم القرآن - دمشق)، (مكتبة دار التراث - المدينة المنورة)
الطبعة: الثالثة، 1402 - 1403 هـ
[وصُوِّر طبعة رابعة، 1405 هـ - 1985 م، عن دار ابن كثير (دمشق، بيروت)]
عدد الصفحات: 344
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসুলের জীবনীতে পরিচ্ছেদসমূহ বিভাগ: সীরাতুন নবী
গ্রন্থ: রাসুলের জীবনীতে পরিচ্ছেদসমূহ -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-
লেখক: আবুল ফিদা ইসমাইল বিন কাসীর (৭০১ - ৭৭৪ হিজরি)
সম্পাদনা ও টীকা: মুহাম্মদ আল-ঈদ আল-খাতরাভী [মৃত্যু ১৪৩৩ হিজরি], মুহিউদ্দিন মিস্তো [মৃত্যু ১৪৪২ হিজরি]
প্রকাশক: (মুয়াসসাসাতু উলূমিল কুরআন - দামেস্ক), (মাকতাবাতু দারিত তুরাস - মদীনা মুনাওয়ারা)
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০২ - ১৪০৩ হিজরি
[চতুর্থ সংস্করণ পুনর্মুদ্রিত, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ, দার ইবনে কাসীর (দামেস্ক, বৈরুত) থেকে]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
مقدمة المؤلفبسم الله الرحمن الرحيم وبه نستعين:
الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه كما يحب ربنا ويرضى، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة من أخلص له قلبه وانجابت عنه أكدار الشرك وصفا، وأقر له برق العبودية، واستعاذ به من شر الشيطان والهوى، وتمسك بحبله المتين المنزل على رسوله الأمين محمد خير الورى صلوات الله وسلامه عليه دائماً إلى يوم الحشر واللقا، ورضي الله عن أصحابه وأزواجه وذريته وأتباعه أجمعين، أولي البصائر والنهى.
أما بعد:
فإنه لا يجمل بأولي العلم إهمال معرفة الأيام النبوية والتواريخ الإسلامية، وهي مشتملة على علوم جمة وفوائد مهمة، لا يستغني عالم عنها، ولا يعذر في العرو منها.
وقد أحببت أن أعلق تذكرةً في ذلك لتكون مدخلاً إليه وأنموذجاً وعوناً له وعليه، وعلى الله اعتمادي، وإليه تفويضي واستنادي، وهي مشتملة على
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক; এমন অঢেল, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা যা আমাদের প্রতিপালক পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক ব্যক্তির সাক্ষ্য যার অন্তর তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ হয়েছে, যার থেকে শিরকের আবিলতা দূর হয়ে তা পরিচ্ছন্ন হয়েছে, যে তাঁর দাসত্বের শৃঙ্খলকে স্বীকার করে নিয়েছে, শয়তান ও প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় চেয়েছে এবং তাঁর সুদৃঢ় রশিকে আঁকড়ে ধরেছে যা অবতীর্ণ হয়েছে সৃষ্টির সেরা তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি। হাশর ও সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত সর্বদা তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আর আল্লাহ তাঁর সকল সাহাবী, স্ত্রীগণ, বংশধর এবং অনুসারীদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, যারা ছিলেন অন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞার অধিকারী।
অতপর:
প্রকৃতপক্ষে জ্ঞানপিপাসুদের জন্য নবীজির জীবনকাল ও ইসলামের ইতিহাস জানার ব্যাপারে উদাসীন থাকা সমীচীন নয়। কারণ এটি বহুবিধ জ্ঞান ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সম্বলিত, যা থেকে কোনো আলিম বিমুখ থাকতে পারেন না এবং এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকার জন্য কাউকেও ছাড় দেওয়া যায় না।
তাই আমি এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত স্মারক সংকলন করতে চেয়েছি, যা হবে এর প্রবেশদ্বার, একটি আদর্শ এবং এ পথে সহায়ক। আল্লাহর ওপরই আমার নির্ভরতা এবং তাঁরই কাছে আমার সকল কাজের সমর্পণ ও অবলম্বন। আর এটি অন্তর্ভুক্ত করেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮০)
ذكر نسب رسول الله عليه الصلاة والسلام، وسيرته وأعلامه، وذكر أيام الإسلام بعده إلى يومنا هذا، مما يمس حاجة ذوي الأرب إليه، على سبيل الاختصار إن شاء الله تعالى.
রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর বংশপরম্পরা, তাঁর সীরাত ও নিদর্শনাবলি এবং তাঁর পরবর্তী সময় থেকে আমাদের বর্তমান দিন পর্যন্ত ইসলামের ইতিহাসের বর্ণনা, যা জ্ঞানান্বেষীদের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়; আল্লাহ তাআলা চাইলে তা সংক্ষেপে বিবৃত হলো।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮১)
الجزء الأول سيرتهُ صلى الله عليه وسلم وَغَزَواتُهُ
প্রথম খণ্ড: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনী ও তাঁর যুদ্ধসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
فصل ذكر نسبه صلى الله عليه وسلمهو سيد ولد آدم: أبو القاسم محمد، وأحمد، والماحي الذي يمحى به الكفر، والحاشر الذي يحشر الناس، والعاقب الذي ليس بعده نبي، والمقفي، ونبي الرحمة، ونبي التوبة، ونبي الملحمة.
ابن عبد الله، وهو أخو
পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরিচয় উল্লেখতিনি আদম সন্তানদের নেতা: আবুল কাসিম মুহাম্মদ, আহমদ, আল-মাহী (বিদূরণকারী) যাঁর মাধ্যমে কুফর মিটিয়ে দেওয়া হয়, আল-হাশির (সমবেতকারী) যাঁর পশ্চাতে মানুষকে সমবেত করা হবে, আল-আকিব (সর্বশেষ আগমনকারী) যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, আল-মুকাফফী (সর্বশেষ প্রেরিত), রহমতের নবী, তাওবার নবী এবং যুদ্ধের নবী।
আব্দুল্লাহর পুত্র, এবং তিনি হলেন ভ্রাতা
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
الحارث، والزبير، وحمزة، والعباس، ويكنى أبا الفضل، وأبي طالب، واسمه عبد مناف، وأبي لهب، واسمه عبد العزى، وعبد الكعبة، وهو المقوم، وقيل: هما اثنان، وحجل، واسمه المغيرة، والغيداق، وسمي بذلك لكثرة جوده، وأصل اسمه نوفل، وقيل: حجل، وضرار.
وصفية، وعاتكة، وأروى، وأميمة، وبرة، وأم حكيم ـ وهي البيضاء ـ.
هؤلاء كلهم أولاد عبد المطلب، واسمه شيبة الحمد على الصحيح، ابن هشام واسمه عمرو، وهو أخو المطلب ـ وإليهما نسب ذوي القربى ـ وعبد شمس، ونوفل، أربعتهم أبناء عبد مناف أخي عبد العزى، وعبد الدار، وعبد، أبناء قصي، واسمه زيد، وهو أخو زهرة، ابنا كلاب أخي تيم، ويقظة أبي مخزوم، ثلاثتهم أبناء مرة أخي عدي، وهصيص، وهم أبناء كعب أخي عامر، وسامة،
হারিস, জুবায়ের, হামযা, আব্বাস—যাঁর উপনাম ছিল আবুল ফজল, আবু তালিব—যাঁর নাম ছিল আবদ মানাফ, আবু লাহাব—যাঁর নাম ছিল আবদ আল-উযযা, আবদ আল-কাবা—যিনি আল-মুকাউউইম নামে পরিচিত ছিলেন, কারো মতে তাঁরা দুইজন ভিন্ন ব্যক্তি ছিলেন, হাজল—যাঁর নাম ছিল আল-মুগীরাহ, আল-গায়দাক—অত্যধিক দানশীলতার কারণে তাঁকে এই নামে অভিহিত করা হতো, তাঁর মূল নাম ছিল নাওফাল, কারো মতে হাজল, এবং দিরার।
এবং সাফিয়্যাহ, আতিকাহ, আরওয়া, উমায়মাহ, বাররাহ এবং উম্মে হাকীম—যিনি আল-বায়দা নামে পরিচিত ছিলেন।
তাঁরা সবাই আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান, বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী যাঁর নাম ছিল শায়বাতুল হামদ। তিনি হিশামের পুত্র যাঁর নাম ছিল আমর, তিনি মুত্তালিবের ভাই ছিলেন—যাঁদের উভয়ের সাথে 'নিকটাত্মীয়দের' (যিল কুরবা) বংশধারা সম্পৃক্ত—এবং আবদ শামস ও নাওফাল; এই চারজন ছিলেন আবদ মানাফের পুত্র। তিনি আবদ আল-উযযা, আবদ আদ-দার এবং আবদ-এর ভাই ছিলেন; তাঁরা কুসাইয়ের পুত্র যাঁর নাম ছিল যায়দ এবং তিনি ছিলেন যুহরার ভাই। তাঁরা কিলাবের দুই পুত্র, যিনি তায়ম এবং ইয়াকাযাহ—যিনি আবু মাখযুম—তাঁদের ভাই ছিলেন। এই তিনজন ছিলেন মুররার পুত্র, যিনি আদী ও হুসাইসের ভাই ছিলেন। আর তাঁরা ছিলেন কাবের পুত্র, যিনি আমির ও সামার ভাই ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
وخزيمة، وسعد، والحارث، وعوف، سبعتهم أبناء لؤي أخي تيم الأدرم.
ابني غالب أخي الحارث، ومحارب، بني فهر أخي الحارث ابني مالك أخي الصلت، ويخلد، بني النضر أخي مالك، وملكان، وعبد مناة، وغيرهم، بني كنانة أخي أسد، وأسدة، الهون، بني خزيمة أخي هذيل، ابن مدركة، واسمه عمرو، وهوأخو طابخة، واسمه عامر، وقمعة، وثلاثتهم أبناء إلياس، أخي الناس، وهو عيلان والدقيس كلها، كلاهما، ولد مضر أخي ربيعة وهما الصريحان من ولد إسماعيل، وأخي أنمار، وإياد، وقد تيامنا، أربعتهم أولاد نزار أخي قضاعة في قول أكثر أهل النسب، كلاهما ابنا معد بن عدنان.
فجميع قبائل العرب ينتسبون إلى من ذكرت من أبناء عدنان.
وقد بين ذلك الحافظ أبو عمر النمري في كتاب الإنباه بمعرفة قبائل الرواة بياناً شافياً رحمه الله تعالى:
وقريش على قول أكثر أهل النسب هم الذين ينتسبون إلى فهر بن مالك بن النضر بن كنانة وأنشدوا في ذلك:
قصي لعمري كان يدعى مجمعاً
… به جمع الله القبائل من فهر
এবং খুযাইমাহ, সা'দ, আল-হারিস এবং আওফ; তাঁরা সাতজনই লুই-এর পুত্র, যিনি তায়ম আল-আদরামের ভাই।
গালিবের দুই পুত্র, যিনি হারিসের ভাই; এবং মুহারিব; তাঁরা ফিহরের বংশধর, যিনি হারিসের ভাই; তাঁরা মালিকের দুই পুত্র, যিনি আল-সালত ও ইয়াখলুদের ভাই; তাঁরা আল-নাযরের বংশধর, যিনি মালিকের ভাই; এবং মালকান, আবদ মানাত ও অন্যান্যরা—তাঁরা কিনানাহ-র বংশধর, যিনি আসাদ, আসাদাহ ও আল-হাওনের ভাই; তাঁরা খুযাইমাহ-র বংশধর, যিনি হুযায়লের ভাই; তিনি মুদরিকার পুত্র, যাঁর নাম আমর, এবং তিনি তাবিহা-র ভাই, যাঁর নাম আমির; এবং কামা'আহ—এই তিনজন ইলিয়াসের পুত্র, যিনি আন-নাসের ভাই, আর তিনি হলেন আয়লান ও সমগ্র কাইস গোত্রের পিতা; তাঁরা উভয়েই মুদারের সন্তান, যিনি রাবি'আর ভাই এবং তাঁরা দুজনেই ইসমাইলের বংশধরদের মাঝে সবচেয়ে বিশুদ্ধ; এবং আনমার ও ইয়াদ-এর ভাই, যাঁরা ইয়ামানে চলে গিয়েছিলেন; অধিকাংশ বংশতত্ত্ববিদের মতে এই চারজন নিযারের সন্তান, যিনি কুযা'আর ভাই; তাঁরা দুজনেই মা'আদ বিন আদনানের পুত্র।
আরবের সকল গোত্রই আদনানের উল্লিখিত সেই সন্তানদের সাথে সম্পর্কিত।
হাফেজ আবু উমর আন-নামারি তাঁর ‘আল-ইনবাহ বি-মা'রিফাতি কাবায়িলির রুওয়াত’ গ্রন্থে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন:
অধিকাংশ বংশতত্ত্ববিদের মতে, কুরাইশ হলো তারাই যারা ফিহর বিন মালিক বিন আল-নাযর বিন কিনানাহ-র বংশধর এবং তারা এ বিষয়ে এই কবিতা আবৃত্তি করে:
আমার জীবনের শপথ, কুসাই-কে ‘মুজাম্মি’ (একত্রকারী) বলা হতো
… যার মাধ্যমে আল্লাহ ফিহরের গোত্রসমূহকে একত্রিত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
وقيل: بل جماع قريش هو النضر بن كنانة، وعليه أكثر العلماء والمحققين، واستدل على ذلك بالحديث الذي ذكره أبو عمر بن عبد البر ـ رحمه الله تعالى ـ «عن الأشعث بن قيس رضي الله عنه قال: قدمت على رسول الله صلى الله عليه وسلم في وفد كندة فقلت: ألستم منا يا رسول الله؟ قال: [لا، نحن بنو النضر بن كنانة لا نقفوا أمنا ولا ننتفى من أبينا] » .
وقد رواه ابن ماجه في سننه بإسناد حسن، وفيه: فكان الأشعث يقول: لا أوتى برجل نفى رجلاً من قريش من النضر بن كنانة إلا جلدته الحد.
وقيل: إن جماع قريش إلياس بن مضر بن نزار.
وقيل: بل جماعهم أبوه مضر.
وهما قولان لبعض أصحاب الشافعي، حكاهما أبو القاسم عبد الكريم الرافعي في شرحه، وهما
বলা হয়েছে: বরং কুরাইশের গোত্রপিতা হলেন নযর ইবনে কিনানা, এবং অধিকাংশ আলেম ও গবেষক এই মতের উপরেই রয়েছেন। আবু উমর ইবনে আব্দুল বার (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বর্ণিত একটি হাদীস দ্বারা এর স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করা হয়েছে, যা আশআছ ইবনে কায়েস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি কিন্দা গোত্রের এক প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদের বংশোদ্ভূত নন? তিনি বললেন: [না, আমরা হলাম নযর ইবনে কিনানার সন্তান; আমরা আমাদের মায়ের সতীত্বের ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ দেই না এবং আমাদের পিতার বংশ পরিচয় থেকেও বিচ্যুত হই না]।
ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। এতে বর্ণিত আছে যে: আশআছ বলতেন: কুরাইশ বংশের কোনো ব্যক্তিকে নযর ইবনে কিনানা থেকে বিচ্ছিন্ন ঘোষণা করেছে এমন কোনো ব্যক্তি যদি আমার সামনে আনা হয়, তবে আমি তাকে অবশ্যই নির্ধারিত দণ্ডবিধি (হদ) অনুযায়ী বেত্রাঘাত করব।
বলা হয়েছে: কুরাইশের মূল উৎস হলেন ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার।
আবার বলা হয়েছে: বরং তাদের মূল উৎস হলো তাঁর পিতা মুদার।
এই দুটি হলো ইমাম শাফেয়ীর কিছু অনুসারীর অভিমত, যা আবুল কাসিম আব্দুল কারীম আর-রাফেয়ী তাঁর শরহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এবং সেগুলো হলো-
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
وجهان غريبان جداً.
فأما قبائل اليمن كحمير وحضرموت وسبأ، وغير ذلك، فأولئك من قحطان ليسوا من عدنان.
وقضاعة فيها ثلاثة أقوال: قيل: إنها من العدنانية، وقيل: قحطانية، وقيل: بطن ثالث لا من هؤلاء ولا من هؤلاء، وهو غريب، حكاه أبو عمر وغيره.
فصل ـذكر نسبه صلى الله عليه وسلم بعد عدنانوهذا النسب الذي سقناه إلى عدنان لا مرية فيه ولانزاع، وهو ثابت بالتواتر والإجماع، وإنما الشأن فيما بعد ذلك، لكن لا خلاف بين أهل النسب وغيرهم من علماء أهل الكتاب أن عدنان من ولد إسماعيل نبي الله، وهو الذبيح على الصحيح من قول الصحابة والأئمة، وإسماعيل بن إبراهيم خليل الرحمن عليه أفضل الصلاة والسلام، وقد اختلف في كم أب بينهما على أقوال:
فأكثر ما قيل أربعون أباً، وأقل ما قيل سبعة آباء، وقيل: تسعة، وقيل: خمسة عشر، ثم اختلف في أسمائهم.
وقد كره بعض السلف والأئمة الانتساب إلى ما بعد عدنان، ويحكى عن مالك بن أنس الأصبحي الإمام رحمه الله أنه كره ذلك.
দুটি অত্যন্ত বিরল অভিমত।
আর ইয়েমেনের গোত্রসমূহ যেমন হিমইয়ার, হাজরামাউত, সাবা এবং অন্যান্যরা—তারা কাহতান বংশীয়, আদনান বংশীয় নয়।
আর কুযাআহ গোত্র সম্পর্কে তিনটি উক্তি রয়েছে: বলা হয়েছে যে তারা আদনানিয়া বংশীয়, আবার বলা হয়েছে যে তারা কাহতানিয়া বংশীয়, এবং আরও বলা হয়েছে যে তারা তৃতীয় একটি শাখা—না এদের অন্তর্ভুক্ত, না ওদের অন্তর্ভুক্ত; এটি একটি বিরল মত যা আবু উমর এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদ: আদনানের পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরম্পরার বর্ণনাআদনান পর্যন্ত আমরা যে বংশধারাটি উল্লেখ করেছি, তাতে কোনো সন্দেহ বা বিবাদ নেই এবং এটি তাওয়াতুর ও ইজমা (ঐক্যমত) দ্বারা প্রমাণিত। মূল আলোচনার বিষয় হলো তার পরবর্তী অংশ। তবে বংশবিশারদ ও আহলে কিতাব আলেমদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, আদনান আল্লাহর নবী ইসমাইলের বংশধর। আর সাহাবী ও ইমামগণের বিশুদ্ধ মতানুসারে তিনিই হলেন 'যবিহ'। ইসমাইল হলেন ইবরাহীম খলিলুর রহমানের পুত্র, তাঁর উপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। তবে তাঁদের উভয়ের মাঝে কতজন পিতা অতিবাহিত হয়েছেন, সে ব্যাপারে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে:
সর্বাধিক যা বলা হয়েছে তা হলো চল্লিশজন পিতা, আর সর্বনিম্ন বলা হয়েছে সাতজন পিতা। আবার বলা হয়েছে নয়জন, কেউ বলেছেন পনেরোজন। এরপর তাঁদের নামের ব্যাপারেও মতভেদ হয়েছে।
কোনো কোনো সালাফ ও ইমাম আদনানের পরবর্তী বংশপরম্পরা বর্ণনা করাকে অপছন্দ করেছেন। ইমাম মালেক ইবনে আনাস আসবাহী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি এটি অপছন্দ করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
قال الإمام أبو عمر بن عبد البر في كتاب الإنباه والذي عليه أئمة هذا الشأن في نسب عدنان قالوا: عدنان بن أدد، بن مقوم بن ناحور، بن تيرح، ابن يعرب، بن يشجب، بن نابت، بن إسماعيل، بن إبراهيم خليل الرحمن، بن تارح ـ وهو آزر ـ بن ناحور، بن شاروخ، بن راعو، بن فالخ، بن عيبر، ابن شالخ، بن أرفخشذ، بن سام، بن نوح بن لامك، بن متوشلخ، بن أخنوخ ـ وهو إدريس النبي عليه السلام فيما يزعمون، والله أعلم، وهو أول بني آدم أعطي النبوة بعد آدم وشيث، وأول من خط بالقلم، بن يرد، بن مهليل، ابن قينن، بن يانش، بن شيث، بن آدم صلى الله عليه وسلم.
هكذا ذكره محمد بن إسحق بن يسار المدني صاحب السيرة النبوية، وغيره من علماء النسب.
وقد نظم ذاك أبو العباس عبد الله بن محمد الناشي المعتزلي في قصيدة يمدح فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد أوردها الإمام أبو عمر، وشيخنا في تهذيبه، وهي قصيدة بليغة أولها:
ইমাম আবু উমর ইবনে আব্দুল বার তাঁর 'আল-ইনবাহ' গ্রন্থে আদনানের বংশপরম্পরা সম্পর্কে বলেছেন এবং এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ইমামগণ যা বর্ণনা করেছেন তা হলো: আদনান বিন আদাদ, বিন মাকওয়াম, বিন নাহুর, বিন তেরাহ, বিন ইয়ারুব, বিন ইয়াশজুব, বিন নাবিত, বিন ইসমাইল, বিন ইব্রাহিম খালিলুর রহমান, বিন তারাহ—যিনি হলেন আজর—বিন নাহুর, বিন শারুখ, বিন রাউ, বিন ফালিখ, বিন আইবার, বিন শালিখ, বিন আরফাকশাদ, বিন সাম, বিন নুহ বিন লামাক, বিন মাতুশালাখ, বিন আখনুখ—যিনি তাঁদের দাবি অনুযায়ী নবী ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম), আর আল্লাহই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। তিনি আদম ও শিসের পর বনী আদমের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যাঁকে নবুওয়াত প্রদান করা হয়েছিল এবং তিনিই সর্বপ্রথম কলম দ্বারা লিখেছিলেন। তিনি বিন ইয়ারদ, বিন মাহলাইল, বিন কাইনান, বিন ইয়ানিশ, বিন শিস, বিন আদম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
সীরাতুন নববীর রচয়িতা মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার আল-মাদানি এবং অন্যান্য বংশতত্ত্ববিদ আলিমগণ এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন।
আবু আল-আব্বাস আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আন-নাশি আল-মুতাজিলি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রশংসায় রচিত একটি কবিতায় এটি ছন্দবদ্ধ করেছেন। ইমাম আবু উমর এবং আমাদের শায়খ তাঁর 'তাহজীব' গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন। এটি একটি অত্যন্ত অলঙ্কারপূর্ণ কবিতা, যার প্রারম্ভিক অংশ হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
مدحت رسول الله أبغي بمدحه
… وفور حظوظي من كريم المآرب
مدحت امرءاً فاق المديح موحداً
… بأوصافه عن مبعد ومقارب
فجميع قبائل العرب مجتمعون معه في عدنان، ولهذا قال الله تعالى: {قل لا أسألكم عليه أجرا إلا المودة في القربى} ، قال ابن عباس رضي الله عنهما: لم يكن بطن من قريش إلا ولرسول الله صلى الله عليه وسلم فيهم قرابة.
وهو صفوة الله منهم كما رواه مسلم في صحيحه «عن واثلة بن الأسقع رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: [إن الله اختار كنانة من ولد إسماعيل ثم اختار من كنانة قريشاً، ثم اختار من قريش بني هاشم، ثم اختارني من بني هاشم] »
وكذلك بنو إسرائيل أنبياؤهم وغيرهم يجتمعون يجتمعون معه في إبراهيم الخليل عله الصلاة والسلام، الذي جعل الله في ذريته النبوة والكتاب، وهكذا أمر الله سبحانه بني إسرائيل على لسان موسى عليه السلام، وهو في التوراة كما ذكره غير واحد من العلماء ممن جمع بشارات الأنبياء به صلى الله عليه وسلم، إن الله تعالى قال لهم
আমি আল্লাহর রাসূলের প্রশংসা করেছি এবং তাঁর প্রশংসার মাধ্যমে আমি কামনা করছি
… মহান লক্ষ্যসমূহ হতে আমার সৌভাগ্যের পূর্ণতা।
আমি এমন এক মানবের প্রশংসা করেছি যিনি প্রশংসার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং অনন্য
… আপন গুণাবলির কারণে দূর ও নিকটবর্তী সকলের কাছে।
আরবের সকল গোত্রই আদনানের বংশতালিকায় তাঁর সাথে মিলিত হয়। এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলো, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে আত্মীয়তার ভালোবাসা ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিদান চাই না}। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: কুরাইশদের এমন কোনো শাখা ছিল না যাদের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না।
আর তিনি তাদের মধ্য থেকে আল্লাহর মনোনীত শ্রেষ্ঠ বান্দা, যেমনটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন «ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: [নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, অতপর কিনানাহ থেকে কুরাইশদের মনোনীত করেছেন, অতপর কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন]»
অনুরূপভাবে বনী ইসরাঈল—তাদের নবীগণ এবং অন্যান্যরা—ইবরাহীম খলীল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর মাধ্যমে তাঁর সাথে সম্মিলিত হন, মিলিত হন, যাঁর বংশধরদের মাঝে আল্লাহ নবুওয়াত ও কিতাব গচ্ছিত রেখেছেন। একইভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর মুখে বনী ইসরাঈলকে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি তাওরাতেও বিদ্যমান রয়েছে, যেমনটি একাধিক আলিম উল্লেখ করেছেন যারা নবী করীম (সালلاًল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে পূর্ববর্তী নবীদের সুসংবাদসমূহ সংকলন করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাদের বলেছিলেন
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯০)
ما معناه: [سأقيم لكم من أولاد أخيكم نبياً كلكم يسمع له، وأجعله عظيماً جداً] .
ولم يولد من بني اسماعيل أعظم من محمد صلى الله عليه وسلم، بل لم يولد من بني آدم أحد ولا يولد إلى قيام الساعة أعظم منه صلى الله عليه وسلم، فقد صح أنه قال: «أنا سيد ولد آدم ولا فخر، آدم فمن دونه من الأنبياء تحت لوائي» وصح عنه أنه قال: «سأقوم مقاماً يرغب إلي الخلق كلهم حتى إبراهيم» .. وهذا هو المقام المحمود الذي وعده الله تعالى، وهو الشفاعة العظمى التي يشفع في الخلائق كلهم، ليريحهم الله بالفضل بينهم من مقام المحشر، كما جاء مفسراً في الأحاديث الصحيحة عنه صلى الله عليه وسلم.
وأمه صلى الله عليه وسلم: آمنة بنت وهب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب بن مرة.
এর অর্থ হলো: [আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ভাইয়ের সন্তানদের মধ্য থেকে একজন নবী নিয়োগ করব, যার কথা তোমরা সবাই শুনবে এবং আমি তাঁকে অত্যন্ত মহান করব]।
বনী ইসমাঈলের মধ্যে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেয়ে মহান আর কেউ জন্ম নেননি, বরং বনী আদমের মধ্যে তাঁর চেয়ে মহান কেউ জন্ম নেননি এবং কিয়ামত পর্যন্ত আর কেউ জন্ম নেবেনও না (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এটি সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «আমি আদম সন্তানের নেতা, এতে কোনো অহঙ্কার নেই। আদম এবং তাঁর পরবর্তী সকল নবী আমার পতাকাতলে থাকবেন»। আরও সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «আমি এমন এক অবস্থানে দাঁড়াব যার প্রতি ইবরাহীমসহ সকল সৃষ্টি আগ্রহ পোষণ করবে»। আর এটিই হলো সেই মাকামে মাহমুদ (প্রশংসিত স্থান) যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তাআলা তাঁকে দিয়েছেন। আর এটিই হলো শাফাআতে কুবরা (মহা সুপারিশ), যার মাধ্যমে তিনি সমস্ত সৃষ্টির জন্য সুপারিশ করবেন, যাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে হাশরের ময়দানের অবস্থান থেকে তাদের মাঝে ফয়সালার মাধ্যমে তাদের স্বস্তি দান করেন, যেমনটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে সহীহ হাদীসসমূহে ব্যাখ্যাসহ বর্ণিত হয়েছে।
আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাতা হলেন: আমিনা বিনতে ওয়াহাব বিন আবদে মানাফ বিন জুহরা বিন কিলাব বিন মুররাহ।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯১)
فصل ـ ولادته ورضاعه ونشأتهولد صلى الله عليه وسلم يوم الإثنين لليلتين خلتا من ربيع الأول، وقيل: ثامنه، وقيل عاشره، وقيل لثنتي عشرة منه، وقال الزبير بن بكار: ولد في رمضان، وهو شاذ، حكاه السهيلي في روضه.
وذلك عام الفيل، بعده بخمسين يوماً، وقيل بثمانية وخمسين يوماً، وقيل بعده بعشر سنين، وقيل: بعد الفيل بثلاثين عاماً، وقيل: بأربعين عاماً،
পরিচ্ছেদ — তাঁর জন্ম, দুগ্ধপান এবং বেড়ে ওঠারাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রবিউল আউয়াল মাসের দুই রাত অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিনে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়েছে: উক্ত মাসের আট তারিখে; মতান্তরে দশ তারিখে; আবার বলা হয়েছে: এর বারো তারিখে। জুবাইর ইবনে বাক্কার বলেছেন: তিনি রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন, তবে এটি একটি বিরল (শায) মত; সুহাইলি তাঁর 'রওদ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
আর এটি ছিল হস্তীবর্ষে, হস্তী ঘটনার পঞ্চাশ দিন পরে। মতান্তরে আটান্ন দিন পরে; কেউ বলেছেন এর দশ বছর পরে; আবার বলা হয়েছে: হস্তীবর্ষের ত্রিশ বছর পরে; এবং আরও বলা হয়েছে: চল্লিশ বছর পরে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯২)
والصحيح أنه ولد عام الفيل، وقد حكاه إبراهيم بن المنذر الحزامي شيخ البخاري، وخليفة بن خياط وغيرها إجماعاً.
ومات أبوه وهو حمل، وقيل بعد ولادته بأشهر، وقيل بسنة، وقيل بسنتين، والمشهور الأول، واسترضع له في بني سعد، فأرضعته حليمة السعدية كما روينا ذلك بإسناد صحيح، وأقام عندها في بني سعد نحواً من أربع سنين، وشق عن فؤاده هناك، فردته إلى أمه، فخرجت به أمه إلى المدينة تزور أخواله بالمدينة، فتوفيت بالأبواء، وهي راجعة إلى مكة وله من العمر ست سنين
এবং সঠিক অভিমত হলো তিনি হস্তীবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন। বুখারীর উস্তাদ ইবরাহীম বিন মুনযির আল-হিযামী, খলীফা বিন খইয়াত এবং অন্যান্যরা এটিকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তার পিতা ইনতিকাল করেন যখন তিনি গর্ভস্থ ভ্রূণ ছিলেন। বলা হয়েছে তার জন্মের কয়েক মাস পর, বলা হয়েছে এক বছর পর, এবং বলা হয়েছে দুই বছর পর; তবে প্রথম অভিমতটিই প্রসিদ্ধ। তার জন্য বনু সাদ গোত্রে দুধমাতা নিযুক্ত করা হয়, ফলে হালিমা আস-সাদীয়া তাকে দুধ পান করান যেমনটি আমরা সহীহ সনদে বর্ণনা করেছি। তিনি তার নিকট বনু সাদ গোত্রে প্রায় চার বছর অবস্থান করেন এবং সেখানেই তার বক্ষ বিদারণ করা হয়। অতঃপর হালিমা তাকে তার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দেন। এরপর তার মা তাকে নিয়ে মদিনায় তার মামাদের সাথে দেখা করতে যান। মক্কায় ফেরার পথে ‘আবওয়া’ নামক স্থানে তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন তার বয়স ছিল ছয় বছর।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
وثلاثة أشهر وعشرة أيام، وقيل: بل أربع سنين وقد روى مسلم في صحيحه «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما مر بالأبواء وهو ذاهب إلى مكة عام الفتح استأذن ربه في زيارة قبر أمه فأذن له، فبكى وأبكى من حوله وكان معه ألف مقنع [يعني بالحديد] » .
فلما ماتت أمه حضنته أم أيمن وهي مولاته، ورثها من أبيه، وكفله جده عبد المطلب، فلما بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم من العمر ثماني سنين توفي جده، وأوصى به إلى عمه أبي طالب، لأنه كان شقيق فكفله، وحاطه أتم حياطة، ونصره حين بعثه الله أعز نصر، مع أنه كان مستمراً على شركه إلى أن مات، فخفف الله بذلك من عذابه كما صح الحديث بذلك.
وخرج به عمه إلى الشام في تجارة وهو ابن ثنتي عشرة سنة، وذلك من تمام لطفه به، لعدم من يقوم إذا تركه بمكة،
...এবং তিন মাস ও দশ দিন। কেউ কেউ বলেছেন: বরং চার বছর। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা বিজয়ের বছর মক্কার দিকে যাওয়ার পথে আবওয়া অতিক্রম করছিলেন, তখন তিনি তাঁর রবের কাছে তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করার অনুমতি চাইলেন। আল্লাহ তাঁকে অনুমতি দিলেন। তখন তিনি কাঁদলেন এবং তাঁর চারপাশের সবাইকে কাঁদালেন। তাঁর সাথে এক হাজার লৌহবর্মধারী [অর্থাৎ লৌহবর্ম পরিহিত] সৈন্য ছিল।
যখন তাঁর মাতা ইন্তেকাল করলেন, তখন উম্মে আয়মান তাঁকে লালন-পালন করেন। তিনি ছিলেন তাঁর মুক্তদাসী, যাকে তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন। এরপর তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আট বছর বয়সে পৌঁছালেন, তখন তাঁর দাদা ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর চাচা আবু তালিবের প্রতি তাঁর ব্যাপারে ওসীয়ত করে যান; কারণ তিনি ছিলেন (রাসূলুল্লাহর পিতার) সহোদর ভাই। আবু তালিব তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন এবং তাঁকে সর্বোত্তমভাবে হিফাযত করেন। আল্লাহ যখন তাঁকে রাসূল হিসেবে পাঠালেন, তখন তিনি তাঁকে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে সাহায্য করেছিলেন, যদিও তিনি মৃত্যু পর্যন্ত শিরকের ওপর অবিচল ছিলেন। তবে এর কারণে আল্লাহ তাঁর আযাব লাঘব করেছেন, যেমনটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
বারো বছর বয়সে তাঁর চাচা তাঁকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে শাম দেশে নিয়ে যান। এটি ছিল তাঁর প্রতি তাঁর চাচার পূর্ণ মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ, কারণ তাঁকে মক্কায় রেখে গেলে দেখাশোনা করার মতো কেউ ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
فرأى هو وأصحابه ممن خرج معه إلى الشام من الآيات فيه صلى الله عليه وسلم ما زاد عمه في الوصاة به والحرص عليه، كما رواه الترمذي في جامعه بإسناد رجاله كلهم ثقات، من تظليل الغمامة له وميل الشجرة بظلها عليه، وتبشير بحيرا الراهب به، وأمره لعمه بالرجوع به لئلا يراه اليهود فيرمونه سوءاً، والحديث له أصل محفوظ وفيه زيادات أخر ز ثم خرج ثانياً إلى الشام في تجارة لخديجة بنت خويلد رضي الله تعالى عنها مع غلامها ميسرة على سبيل القراض، فرأى ميسرة ما بهره من شأنه، فرجع فأخبر سيدته بما رأى، فرغبت إليه أن يتزوجها، لما رجت في
অতঃপর তিনি এবং সিরিয়া অভিমুখে তাঁর সাথে গমনকারী সঙ্গীরা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাঝে এমন সব নিদর্শন প্রত্যক্ষ করলেন যা তাঁর প্রতি তাঁর চাচার অসিয়ত (তদারকির গুরুত্ব) ও অতি-সতর্কতাকে আরও বৃদ্ধি করে দিল। ইমাম তিরমিজি তাঁর জামি গ্রন্থে এমন এক সনদে এটি বর্ণনা করেছেন যার সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য। সেই নিদর্শনগুলোর মধ্যে ছিল মেঘের মাধ্যমে তাঁকে ছায়া প্রদান করা, গাছের ছায়া তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়া এবং পাদ্রী বাহীরার পক্ষ হতে তাঁর সম্পর্কে সুসংবাদ প্রদান করা। সেইসাথে ইহুদিরা যাতে তাঁকে দেখে কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য তাঁর চাচাকে তাঁকে নিয়ে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করা। এই হাদিসের একটি সংরক্ষিত মূল ভিত্তি রয়েছে এবং এতে আরও কিছু অতিরিক্ত বর্ণনাও রয়েছে। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা)-এর ব্যবসায়ী কাফেলা নিয়ে তাঁর গোলাম মাইসারার সাথে মুনাফা বণ্টনের চুক্তিতে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন। সেখানে মাইসারা তাঁর অবস্থা ও মর্যাদার এমন সব বিষয় প্রত্যক্ষ করলেন যা তাঁকে বিমোহিত করল। ফিরে এসে তিনি যা দেখেছিলেন তা তাঁর কর্ত্রীকে অবহিত করলেন। ফলে তিনি (খাদিজা রা.) তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন, কারণ তিনি আশা করেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
ذلك من الخير الذي جمعه الله لها، وفوق ما يخطر ببال بشر، فتزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم وله خمس وعشرون سنة.
وكان الله سبحانه قد صانه وحماه من صغره، وطهره من دنس الجاهلية ومن كل عيب، ومنحه كل خلق جميل حتى لم يكن يعرف بين قومه إلا بالأمين، لما شاهدوا من طهارته وصدق حديثه وأمانته، حتى إنه لما بنت قريش الكعبة في سنة خمس وثلاثين من عمره فوصلوا إلى موضع الحجر الأسود اشتجروا فيمن يضع الحجر موضعه، فقالت كل قبيلة: نحن نضعها، ثم اتفقوا على أن يضعه أول داخل عليهم، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: جاء الأمين، فرضوا به، فأمر بثوب، فوضع الحجر في وسطه، وأمر كل قبيلة أن ترفع بجانب من جوانب الثوب، ثم أخذا الحجر فوضعه موضعه صلى الله عليه وسلم.
فصل ـ مبعثه صلى الله عليه وسلمولما أراد الله تعالى رحمة العباد، وكرامته بإرساله إلى العالمين، حبب إليه الخلاء، فكان يتحنث في غار حراء، كما كان يصنع ذلك متعبدو ذلك الزمان، كما قال أبو طالب في قصيدته المشهورة اللامية:
وثور ومن أرسى ثبيراً مكانه
… وراق لبر في حراء ونازل
এটি ছিল সেই কল্যাণের অংশ যা আল্লাহ তাঁর জন্য একত্রিত করেছিলেন এবং যা মানুষের কল্পনারও অতীত। ফলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পঁচিশ বছর বয়সে তাঁকে বিয়ে করেন।
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে শৈশব থেকেই রক্ষা ও হিফাযত করেছেন। জাহিলিয়াতের কলুষতা ও সকল দোষ থেকে তাঁকে পবিত্র রেখেছেন এবং তাঁকে সকল সুন্দর চরিত্রে ভূষিত করেছেন। এমনকি তাঁর পবিত্রতা, সত্যবাদিতা এবং আমানতদারিতা প্রত্যক্ষ করার কারণে তিনি তাঁর কওমের মধ্যে 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) নামেই পরিচিত ছিলেন। এমনকি যখন কুরাইশরা তাঁর পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে কাবা ঘর পুনর্নির্মাণ করল এবং হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করার স্থানে পৌঁছাল, তখন কে পাথরটি যথাস্থানে স্থাপন করবে তা নিয়ে তারা বিবাদে লিপ্ত হলো। প্রতিটি গোত্র বলতে লাগল: "আমরা এটি স্থাপন করব।" এরপর তারা এই মর্মে একমত হলো যে, প্রথম যে ব্যক্তি তাদের কাছে প্রবেশ করবে, সেই এটি স্থাপন করবে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন। তখন তারা বলে উঠল: "আল-আমিন এসেছেন।" তারা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হলো। তিনি একটি চাদরের আদেশ দিলেন এবং পাথরটিকে তার মাঝখানে রাখলেন। অতঃপর প্রতিটি গোত্রকে চাদরের এক একটি প্রান্ত ধরে উঁচুতে তুলতে বললেন। এরপর তিনি পাথরটি গ্রহণ করে যথাস্থানে স্থাপন করলেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়াত লাভঅতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি রহমত বর্ষণ এবং তাঁকে বিশ্ববাসীর কাছে প্রেরণের মাধ্যমে সম্মানিত করার ইচ্ছা করলেন, তখন তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় করে দিলেন। ফলে তিনি হেরা গুহায় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন, যেমনটি সেই সময়ের ইবাদতকারীরা করতেন। যেমন আবু তালিব তাঁর প্রসিদ্ধ 'লামিয়া' কবিতায় বলেছেন:
সাওর পাহাড়ের কসম এবং যিনি সাবীর পাহাড়কে তার স্থানে সুদৃঢ় করেছেন
… আর হেরা গুহায় অবস্থানরত এবং সেখান থেকে অবতরণকারী পুণ্যবানের কসম।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
ففجأه الحق وهو بغار حراء في رمضان، وله من العمر أربعون سنة، «فجاءه الملك فقال له أقرأ، قال لست بقارىء، فغته حتى بلغ منه الجهد، ثم أرسله فقال له: اقرأ، قال: لست بقارئ ثلاثاً ثم قال: {اقرأ باسم ربك الذي خلق * خلق الإنسان من علق * اقرأ وربك الأكرم * الذي علم بالقلم * علم الإنسان ما لم يعلم} .
فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم ترجف بوادره، فأخبر بذلك خديجة رضي الله تعالى عنها، وقال: قد خشيت بها على عقلي، فثبتته وقالت: أبشر كلا والله لا يخزيك الله أبداً، إنك لتصل الرحم، وتصدق الحديث وتحمل الكل، وتعين على نوائب الدهر»
…في أوصاف أخر جميلة عددتها من أخلاقه صلى الله عليه وسلم
হঠাৎ তাঁর নিকট সত্যের আগমন ঘটল যখন তিনি রমজান মাসে হেরা গুহায় অবস্থান করছিলেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। "অতপর ফেরেশতা তাঁর নিকট এসে বললেন, 'পাঠ করুন'। তিনি বললেন, 'আমি পাঠ করতে জানি না'। তখন ফেরেশতা তাঁকে সজোরে আলিঙ্গন করলেন বা চাপ দিলেন, যাতে তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। অতপর তাঁকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন, 'পাঠ করুন'। তিনি বললেন, 'আমি পাঠ করতে জানি না'। এভাবে তিনবার হওয়ার পর তিনি বললেন: {পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আলাক (রক্তপিণ্ড) থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার রব অত্যন্ত মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।}"
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়ে এমন অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করলেন যে তাঁর ঘাড়ের মাংসপেশি কাঁপছিল। তিনি খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিষয়টি অবহিত করলেন এবং বললেন: "আমি নিজের জীবনের ওপর আশঙ্কা করছি।" তখন তিনি তাঁকে আশ্বস্ত করে বললেন: "সুসংবাদ গ্রহণ করুন! আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেন, সত্য কথা বলেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন এবং সময়ের দুর্যোগে মানুষকে সাহায্য করেন।"
…রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রের অন্যান্য সুন্দর বৈশিষ্ট্যগুলোর বর্ণনায় তিনি এটি উল্লেখ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
وتصديقاً منها له وتثبيتاً وإعانة على الحق، فهي أول صديق له رضي الله تعالى عنها وأكرمها.
ثم مكث رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شاء الله أن يمكث لا يرى شيئاً، وفتر عنه الوحي، فاغتنم لذلك وذهب مراراً ليتردى من رؤوس الجبال، وذلك من شوقه إلى ما رأى أول مرة، من حلاوة ما شاهده من وحي الله [إليه] ، فقيل: إن فترة الوحي كانت قريباً من سنتين أو أكثر، ثم تبدى له الملك بين السماء والأرض على كرسي، وثبته، وبشره بأنه رسول الله حقاً، فلما رآه رسول الله صلى الله عليه وسلم فرق منه وذهب إلى خديجة وقال: زملوني.
دثروني.
فأنزل الله عليه {يا أيها المدثر * قم فأنذر * وربك فكبر * وثيابك فطهر} .
وكانت الحال الأولى حال نبوة وإيحاء، ثم أمره الله في هذه الآية أن ينذر قومه ويدعوهم إلى الله، فشمر صلى الله عليه وسلم عن ساق التكليف، وقام في طاعة الله أتم قيام، يدعوا إلى الله سبحانه الكبير والصغير، والحر والعبد، والرجال والنساء، والأسود والأحمر، فاستجاب له عباد الله من كل قبيلة وكان حائز سبقهم أبو بكر رضي الله عنه، عبد الله بن عثمان التيمي وآزره
তাঁকে সত্যয়ন করা, সুদৃঢ় করা এবং সত্যের পথে সহযোগিতার নিমিত্তে তিনি ছিলেন তাঁর প্রথম সত্যায়নকারী (সিদ্দীক), আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সম্মানিত করুন।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করলেন যখন তিনি ওহির কোনো কিছু প্রত্যক্ষ করলেন না এবং তাঁর থেকে ওহি স্থগিত হয়ে রইল। এতে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হলেন এবং পাহাড়ের চূড়া থেকে নিজেকে নিক্ষেপ করার অভিপ্রায়ে বারবার সেখানে গেলেন। এটি ছিল প্রথমবার তিনি যা দেখেছিলেন তার প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে [তাঁর প্রতি] প্রেরিত ওহির যে স্বাদ তিনি আস্বাদন করেছিলেন তার মিষ্টতার কারণে। বলা হয় যে, ওহি স্থগিত থাকার সময়কাল ছিল প্রায় দুই বছর বা তারও বেশি। অতঃপর আসমান ও জমিনের মাঝে একটি আসনের ওপর ফেরেশতা তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করলেন এবং তাঁকে সুদৃঢ় করলেন। তিনি তাঁকে সুসংবাদ দিলেন যে, তিনি সত্যিই আল্লাহর রাসূল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি অত্যন্ত ভীত হলেন এবং খাদিজার নিকট ফিরে গিয়ে বললেন: তোমরা আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত করো।
তোমরা আমাকে বস্ত্রাবৃত করো।
অতঃপর আল্লাহ তাঁর ওপর অবতীর্ণ করলেন: {হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন, আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন এবং আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন}।
আর প্রাথমিক অবস্থাটি ছিল নবুয়ত ও ওহি প্রাপ্তির অবস্থা। অতঃপর আল্লাহ এই আয়াতের মাধ্যমে তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাঁর কওমকে সতর্ক করেন এবং তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণরূপে দায়িত্ব পালনে তৎপর হলেন এবং আল্লাহর আনুগত্যে সর্বোত্তমভাবে দণ্ডায়মান হলেন। তিনি মহান আল্লাহর দিকে ছোট-বড়, স্বাধীন-ক্রীতদাস, পুরুষ-নারী এবং কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ নির্বিশেষে সকলকে আহ্বান করতে লাগলেন। ফলে প্রত্যেক গোত্র থেকে আল্লাহর বান্দারা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিল এবং তাদের মধ্যে অগ্রবর্তী হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু, তথা আব্দুল্লাহ বিন উসমান আত-তাইমি এবং তিনি তাঁকে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
في دين الله، ودعا معه إلى الله على بصيرة، فاستجاب لأبي بكر عثمان بن عفان، وطلحة، وسعد بن أبي وقاص.
وأما علي فأسلم صغيراً ابن ثماني سنين، وقيل: أكثر من ذلك وقيل: كان إسلامه قبل إسلام أبي بكر، وقيل: لا، وعلى كل حال، فإسلامه ليس كإسلام الصديق، لأنه كان في كفالة رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذه من عمه إعانة له على سنة محل.
وكذلك أسلمت خديجة، وزيد بن حارثة.
وأسلم القس ورقة بن نوفل فصدق بما وجد من وحي الله، وتمنى أن لو كان جذعاً، وذلك أول ما نزل الوحي، وقد روى الترمذي: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رآه في المنام في هيئة حسنة، وجاء في حديث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: [رأيت القس عليه ثياب بيض] » وفي الصحيحين أنه قال: هذا الناموس الذي جاء موسى بن عمران.
لما ذهبت خديجة به إليه، فقص عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ما رأى من أمر جبريل عليه السلام.
আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর সাথে সুস্পষ্ট প্রজ্ঞার ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন; ফলে আবু বকরের আহবানে উসমান বিন আফফান, তালহা এবং সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস সাড়া দিলেন।
আর আলীর কথা হলো, তিনি ছোটবেলায় আট বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। বলা হয়ে থাকে: এর চেয়ে বেশি বয়সে। আবার বলা হয়ে থাকে: তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল আবু বকরের ইসলাম গ্রহণের পূর্বে। আবার বলা হয়ে থাকে: না। যাই হোক না কেন, তাঁর ইসলাম গ্রহণ সিদ্দিকের ইসলাম গ্রহণের মতো নয়, কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তত্ত্বাবধানে ছিলেন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দুর্ভিক্ষের বছরে তাঁর চাচার সহায়তার জন্য তাঁর কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন।
একইভাবে খাদিজা এবং জায়েদ বিন হারিসা ইসলাম গ্রহণ করেন।
আর যাজক ওয়ারাকা বিন নওফেল ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহীর যা তিনি পেয়েছিলেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করেন। তিনি কামনা করেছিলেন যে, তিনি যদি তখন শক্তিশালী যুবক থাকতেন! আর এটি ছিল ওহী নাজিলের শুরুর দিকের ঘটনা। তিরমিযী বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে স্বপ্নে অত্যন্ত সুন্দর অবস্থায় দেখেছেন।" এবং একটি হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: [আমি যাজককে দেখেছি, তাঁর পরনে সাদা পোশাক ছিল]। আর সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন: এটি সেই নামুস (গোপন বার্তাবাহক ফেরেশতা) যা মুসা বিন ইমরানের কাছে এসেছিল।
যখন খাদিজা তাঁকে তাঁর (ওয়ারাকা) কাছে নিয়ে গেলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈল আলাইহিস সালামের যে বিষয়গুলো দেখেছিলেন তা তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
ودخل من شرح بن صدره للإسلام على نور وبصيرة ومعاينة فأخذهم سفهاء مكة بالأذى والعقوبة، وصان الله رسوله وحماه بعمه أبي طالب، لأنه كان شريفاً مطاعاً فيهم، نبيلاً بينهم، لا يتجاسرون على مفاجأته بشيء في أمر محمد صلى الله عليه وسلم لما يعلمون من محبته له، وكان من حكمة الله بقاؤه على دينهم لما في ذلك من المصلحة، هذا رسول الله يدعو إلى الله ليلاً ونهاراً سراً وجهاراً لا يصده عن ذلك صاد ولا يرده عنه راد، ولا يأخذه في الله لومة لائم.
فصل ـ فتنة المعذبين والهجرة إلى الحبشةولما اشتد أذى المشركين على من آمن وفتنوا منهم جماعة حتى إنهم كانوا يصبرونهم، ويلقونهم في الحر، ويضعون الصخرة العظيمة على صدر أحدهم في شدة الحر، حتى إن أحدهم إذا أطلق لا يستطيع أن يجلس من شدة الألم فيقولون لأحدهم: اللاتي إلهك من دون الله.
فيقول مكرهاً: نعم! وحتى إن الجعل ليمر فيقولون: وهذا إلهك من دون الله.
فيقول نعم! ومر الخبيث عدو الله أبو جهل عمرو بن هشام بسمية أم عمار وهي تعذب وزوجها وابنها، فطعنها بحربة في فرجها فقتلها، رضي الله عنها وعن ابنها وزوجها.
وكان الصديق رضي الله تعالى عنه إذا مر بأحد من الموالي يعذب يشتريه من
যাদের অন্তরকে আল্লাহ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করেছেন, তারা নূর, দূরদর্শিতা ও চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে ইসলামে প্রবেশ করলেন। অতঃপর মক্কার নির্বোধরা তাদের ওপর নির্যাতন ও শাস্তি চাপিয়ে দিল। আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাঁর চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে রক্ষা ও হেফাজত করলেন। কারণ তিনি তাদের মধ্যে সম্মানিত ও প্রভাবশালী ছিলেন এবং তাদের মাঝে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি আবু তালিবের গভীর ভালোবাসা সম্পর্কে তাদের জানা ছিল বলে তারা সরাসরি তাঁর সামনে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার দুঃসাহস করত না। আবু তালিবের নিজ ধর্মে অটল থাকা আল্লাহর এক হিকমত ছিল, কারণ এতে (ইসলামের) বিশেষ স্বার্থ ও কল্যাণ নিহিত ছিল। এই সেই আল্লাহর রাসূল, যিনি রাত-দিন, গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়ে চলেছেন; কোনো বাধাদানকারী তাঁকে বাধা দিতে পারছে না, কোনো প্রতিবন্ধক তাঁকে রুখতে পারছে না এবং আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করছেন না।
পরিচ্ছেদ — নির্যাতিতদের পরীক্ষা ও আবিসিনিয়ায় হিজরতযখন ঈমানদারদের ওপর মুশরিকদের নির্যাতন চরম আকার ধারণ করল এবং তারা একদল মুসলিমকে ফিতনায় ফেলে দিল, এমনকি তারা তাদের ওপর চরম কঠোরতা করত এবং প্রচণ্ড উত্তাপে তাদের ফেলে রাখত। তারা প্রচণ্ড দহনকালে তাদের কারো কারো বুকের ওপর বিশাল পাথর চাপা দিয়ে রাখত, যার ফলে তাদের কাউকে যখন ছেড়ে দেওয়া হতো, ব্যথার তীব্রতায় সে সোজা হয়ে বসতেও পারত না। তারা তাদের কাউকে বলত: ‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে লাত কি তোমার ইলাহ?’
অতঃপর সে নিরুপায় হয়ে বলত: ‘হ্যাঁ!’ এমনকি যদি কোনো গোবরে পোকাও পাশ দিয়ে যেত, তারা বলত: ‘এটিও কি আল্লাহ ছাড়া তোমার ইলাহ?’
সে বলত, ‘হ্যাঁ!’ আল্লাহর শত্রু পাপিষ্ঠ আবু জাহেল আমর ইবনে হিশাম আম্মারের মা সুমাইয়্যার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল যখন তাকে, তার স্বামী ও তার ছেলেকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। সে তার লজ্জাস্থানে বর্শা দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করল। আল্লাহ তার প্রতি এবং তার পুত্র ও স্বামীর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) যখনই নির্যাতিত কোনো দাসের পাশ দিয়ে যেতেন, তাকে তাদের নিকট থেকে কিনে নিতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১০০)
مواليه ويعتقه، منهم بال، وأمه حمامة، وعامر بن فخيرة، وأم عبس، وزهيرة، والنهدية، وابنتها، وجارية لبني عدي، كان عمر يعذبها على الإسلام قبل أن يسلم.
حتى قال له أبوه أبو قحافة: يا بني، أراك تعتق رقاباً ضعافاً فلو أعتقت قوماً جلداً يمنعونك.
فقال له أبو بكر: إني أريد ما أريد.
فيقال إنه نزلت فيه {وسيجنبها الأتقى * الذي يؤتي ماله يتزكى *} ، إلى آخر السورة.
فلما اشتد البلاء أذن الله سبحانه وتعالى في الهجرة إلى أرض الحبشة وهي في غرب مكة، بين البلدين صحارى السودان، والبحر الآخذ من اليمن إلى القلزم، فكان أول من خرج فاراً بدينه إلى الحبشة عثمان بن عفان رضي الله عنه، ومعه زوجته رقية بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتبعه الناس.
وقيل: بل أول
তিনি তাঁর অধীনস্থদের মুক্ত করে দিতেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বিলাল, তাঁর মা হামামাহ, আমির ইবনে ফুহাইরাহ, উম্মু উবাইস, জুনাইরাহ, নাহদিয়্যাহ ও তাঁর কন্যা এবং বনু আদির এক দাসী—যাকে উমর তাঁর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ইসলামের কারণে নির্যাতন করতেন।
এমনকি তাঁর পিতা আবু কুহাফা তাঁকে বললেন: হে বত্স, আমি তোমাকে কেবল দুর্বল দাসদের মুক্ত করতে দেখছি; তুমি যদি শক্তিশালী লোকদের মুক্ত করতে তবে তারা তোমাকে শত্রুদের থেকে রক্ষা করত।
আবু বকর তাঁকে বললেন: আমি যা চাই তা (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই) চাই।
বলা হয় যে, তাঁর সম্পর্কেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে: {অচিরেই তা থেকে দূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকীকে, যে তার সম্পদ দান করে আত্মশুদ্ধির জন্য...} সূরার শেষ পর্যন্ত।
অতঃপর যখন বিপদ-আপদ চরম আকার ধারণ করল, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আবিসিনিয়া (হাবাশা) অভিমুখে হিজরতের অনুমতি দিলেন। এটি মক্কার পশ্চিমে অবস্থিত এবং দুই দেশের মাঝে সুদানের মরুভূমি ও ইয়ামান থেকে কুলজুম পর্যন্ত বিস্তৃত সমুদ্র বিদ্যমান। নিজ দ্বীন রক্ষার্থে যারা প্রথম আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন, তারা হলেন উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা রুকাইয়্যাহ। অতঃপর অন্য মানুষজনও তাঁর অনুসরণ করেন।
আবার বলা হয় যে: বরং প্রথম...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১০১)
من هاجر إلى أرض الحبشة أبو حاطب بن عمرو بن عبد شمس بن عبد ود بن نصر بن مالك.
ثم خرج جعفر بن أبي طالب وجماعات رضي الله عنهم وأرضاهم وكانوا قريباً من ثمانين رجلاً.
وقد ذكر محمد بن إسحاق في جملة من هاجر إلى أرض الحبشة أبا موسى الأشعري عبد الله بن قيس، وما أدري ما حمله على هذا؟ فإن هذا أمر ظاهر لا يخفى على من دونه في هذا الشأن، وقد أنكر ذلك عليه الواقدي وغيره من أهل المغازي، وقالوا: إن أبا موسى إنما هاجر من اليمن إلى الحبشة إلى عند جعفر، كما جاء ذلك مصرحاً به في الصحيح من روايته رضي الله عنه فانحاز المهاجرون إلى مملكة أصحمة النجاشي فآواهم وأكرمهم، فكانوا عنده
যারা হাবাশার ভূমিতে হিজরত করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন আবু হাতিব ইবনে আমর ইবনে আবদ শামস ইবনে আবদ উদ ইবনে নাসর ইবনে মালিক।
অতঃপর জাফর ইবনে আবি তালিব এবং আরও অনেক জামাত বের হলেন—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের সন্তুষ্ট করুন—এবং তাঁরা সংখ্যায় প্রায় আশিজন পুরুষ ছিলেন।
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক হাবাশার ভূমিতে হিজরতকারীদের তালিকায় আবু মুসা আল-আশআরি আবদুল্লাহ ইবনে কায়েসের নাম উল্লেখ করেছেন; আমি জানি না কী তাঁকে এই মত গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করল? অথচ এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয় যা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর চেয়ে নিম্নস্তরের লোকদের কাছেও অস্পষ্ট নয়। আল-ওয়াকিদি এবং মাগাযি (যুদ্ধ-বিগ্রহের ইতিহাস) শাস্ত্রের অন্যান্য পণ্ডিতগণ তাঁর এই উক্তিকে অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলেছেন: আবু মুসা তো কেবল ইয়েমেন থেকে হাবাশায় জাফরের নিকট হিজরত করেছিলেন, যেমনটি তাঁর নিজের বর্ণিত সহিহ রেওয়ায়েতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। অতঃপর মুহাজিরগণ আসহামা নাজাশির রাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করলেন; তিনি তাঁদের আশ্রয় দিলেন ও সম্মানিত করলেন এবং তাঁরা তাঁর নিকটেই অবস্থান করছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১০২)
آمنين.
فلما علمت قريش بذلك بعثت في إثرهم عبد الله بن أبي ربيعة وعمرو بن العاص بهدايا وتحف من بلادهم إلى النجاشي، ليردهم عليهم، فأبى ذلك عليهم وتشفعوا إليه بالقواد من جنده، فلم يجبهم إلى ما طلبوا، فوشوا إليه: إن هؤلاء يقولون في عيسى قولاً عظيماً، يقولون: إنه عبد، فأحضر المسلمون إلى مجلسه، وزعيمهم جعفر بن أبي طالب رضي الله عنه، فقال: ما يقول هؤلاء إنكم تقولون في عيسى؟ ! فتلا عليه جعفر سورة {كهيعص} فلما فرغ أخذ النجاشي عوداً من الأرض فقال: ما زاد هذا على ما في التوراة ولا هذا العود، ثم قال: اذهبوا فأنتم شيوم بأرضي، من سبكم غرم، وقال لعمرو وعبد الله: والله لو أعطيتموني دبراً من ذهب يقول: جبلاً من ذهب ما سلمتهم إليكما، ثم أمر فرددت عليهما هداياهما، ورجعا مقبوحين بشر خيبة وأسوئها.
فصل ـ مقاطعة قريش لبني هاشم وبني المطلبثم أسلم حمزة عم رسول الله صلى الله عليه وسلم، وجماعة كثيرون، وفشا الإسلام.
فلما رأت قريش ذلك ساءها، وأجمعوا على أن يتعاقدوا على بنى هاشم وبني المطلب ابني عبد مناف: ألا يبايعونهم، ولا يناكحوهم، ولا يكلموهم، ولا يجالسوهم، حتى يسلموا إليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وكتبوا يذلك صحيفة وعلقوها في سقف الكعبة، ويقال إن الذي كتبها منصور بن عكرمة بن عامر بن هاشم بن عبد مناف، ويقال: بل الضر بن الحارث، فدعا عليه
নিরাপদে।
যখন কুরাইশরা এ সম্পর্কে জানতে পারল, তারা তাদের পিছু পিছু আবদুল্লাহ ইবন আবি রাবিআ এবং আমর ইবনুল আসকে তাদের দেশ থেকে উপঢৌকন ও দুর্লভ উপহারসামগ্রী দিয়ে নাজাশির কাছে পাঠাল, যাতে তিনি তাদের (মুসলিমদের) তাদের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেন। কিন্তু নাজাশী তাদের এই প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানালেন। তারা তাঁর সেনাপতিদের মাধ্যমে তাঁর কাছে সুপারিশ করাল, কিন্তু তিনি তাদের প্রার্থিত বিষয়ে সাড়া দিলেন না। তখন তারা তাঁর কাছে চোগলখুরি করল যে: এরা ঈসা সম্পর্কে এক গুরুতর উক্তি করে; তারা বলে যে, তিনি একজন বান্দা। তখন মুসলিমদের তাঁর মজলিসে উপস্থিত করা হলো এবং তাদের নেতা ছিলেন জাফর ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি (নাজাশী) জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা ঈসা সম্পর্কে যা বল বলে এরা দাবি করছে, তা কী? তখন জাফর তাঁর সামনে সূরা {ক্বাফ-হা-ইয়া-আইন-সদ} পাঠ করলেন। পাঠ শেষ হলে নাজাশী মাটি থেকে একটি কাঠি হাতে নিয়ে বললেন: তোমরা যা বললে তা তাওরাতে যা আছে তার চেয়ে এই কাঠি পরিমাণও বেশি নয়। অতঃপর তিনি বললেন: তোমরা যাও, তোমরা আমার দেশে নিরাপদ; যে তোমাদের গালি দেবে তাকে দণ্ডিত হতে হবে। তিনি আমর ও আবদুল্লাহকে বললেন: আল্লাহর কসম, তোমরা যদি আমাকে এক 'দাবর' সোনা অর্থাৎ এক পাহাড় পরিমাণ সোনাও দাও, তবুও আমি এদেরকে তোমাদের হাতে সোপর্দ করব না। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন এবং তাদের উপঢৌকনগুলো তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হলো। তারা অত্যন্ত লাঞ্ছিত ও নিকৃষ্টতম ব্যর্থতা নিয়ে ফিরে গেল।
পরিচ্ছেদ — বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের প্রতি কুরাইশদের বয়কটঅতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা হামযাহ এবং আরও একটি বড় দল ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং ইসলামের প্রসার ঘটল।
কুরাইশরা যখন তা দেখল, তখন তা তাদের অত্যন্ত ব্যথিত করল এবং তারা আবদে মানাফের দুই পুত্র বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের বিরুদ্ধে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করল যে: তারা তাদের সাথে কোনো প্রকার ক্রয়-বিক্রয় করবে না, তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না, তাদের সাথে কথা বলবে না এবং তাদের সাথে উঠাবসা করবে না—যে পর্যন্ত না তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের হাতে সোপর্দ করে। তারা এ বিষয়ে একটি অঙ্গীকারনামা লিখল এবং তা কাবার ছাদে ঝুলিয়ে দিল। বলা হয় যে, এটি লিখেছিল মনসুর ইবনে ইকরিমা ইবনে আমির ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ। আবার বলা হয় যে, বরং এটি লিখেছিল নাদর ইবনুল হারিস, অতঃপর তিনি তার বিরুদ্ধে দুআ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
رسول الله صلى الله عليه وسلم فشلت يده.
وانحاز إلى شعب بنو هاشم وبنو المطلب، مؤمنهم وكافرهم إلا أبا لهب لعنه الله (فإنه ظاهر قريشاً.
وبقوا على تلك الحال لا يدخل (عليهم أحد نحواً من ثلاث سنين.
وهناك عمل أبو طالب قصيد ته المشهورة: جزى الله عنا عبد شمس ونوفلا.
ثم سعى في نقص تلك الصحيفة أقوام من قريش، فكان القائم في أمر ذلك هشام بن عمرو بن ربيعة بن الحارث بن حبيب بن جذيمة بن مالك بن حسل بن عامر بن لؤي، مشى في ذلك إلى مطعم بن عدي وجماعة من قريش، فأجابوه إلى ذلك، وأخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم قومه أن الله قد أرسل على تلك الصحيفة الأرضة، فأكلت جميع ما فيها إلا ذكر الله عز وجل، فكان كذلك.
ثم
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)—তাঁর হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল।
এবং তারা বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের গিরিসঙ্কটে (শিআব) আশ্রয় নিলেন, তাদের মুমিন ও কাফির উভয়ই, কেবল আবু লাহাব ব্যতীত—আল্লাহ তাকে অভিশপ্ত করুন (কেননা সে কুরাইশদের সমর্থন করেছিল।
আর তারা প্রায় তিন বছর এই অবস্থায় থাকলেন যে, তাদের নিকট কেউ প্রবেশ করতে পারত না।
সেখানে আবু তালিব তাঁর বিখ্যাত কাসিদাটি রচনা করেন: আল্লাহ আমাদের পক্ষ হতে আবদে শামস ও নাওফালকে প্রতিদান দান করুন।
অতঃপর কুরাইশদের কিছু লোক সেই চুক্তিপত্রটি বাতিল করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হলেন। এই কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী ছিলেন হিশাম ইবনে আমর ইবনে রাবিআ ইবনুল হারিস ইবনে হাবীব ইবনে জুযাইমাহ ইবনে মালিক ইবনে হুসল ইবনে আমির ইবনে লুআই। তিনি এই বিষয়ে মুতঈম ইবনে আদি ও কুরাইশদের একটি দলের নিকট গমন করলেন এবং তারা তাঁর প্রস্তাবে সম্মতি প্রদান করলেন। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কওমকে অবহিত করলেন যে, আল্লাহ সেই চুক্তিপত্রটির ওপর উইপোকা পাঠিয়েছেন, ফলে সেটি মহান আল্লাহর যিকির (নাম) ব্যতীত সেখানে থাকা অবশিষ্ট সবকিছু খেয়ে ফেলেছে। আর বিষয়টি তেমনই ছিল।
অতঃপর
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
رجع بنو هاشم وبنو المطلب إلى مكة، وحصل الصلح برغم من أبي جهل عمرو بن هشام.
واتصل الخبر بالذين هم بالحبشة أن قريشاً أسلموا، فقدم مكة منهم جماعة، فوجدوا البلاء والشدة كما كانا، فاستمروا بمكة إلى أن هاجروا إلى المدينة، إلا السكران بن عمرو زوج سود بنت مزمعة، فإنه مات بعد مقدمه من الحبشة بمكة قبل الهجرة إلى المدينة وإلا سلمة بن هشام، وعياش بن أبي ربيعة، فإنهما احتبسا مستضعفين، وإلا عبد الله بن مخرمة بن عبد العزى فإنه حبس فلما كان يوم بدر، هرب من المشركين إلى المسلمين.
বনু হাশিম এবং বনু মুত্তালিব মক্কায় ফিরে এলেন এবং আবু জাহল আমর ইবন হিশামের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও সন্ধি সম্পন্ন হলো।
হাবশায় অবস্থানকারীদের নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, কুরাইশরা ইসলাম গ্রহণ করেছে। ফলে তাদের মধ্য থেকে একটি দল মক্কায় ফিরে এলেন, কিন্তু তারা সেখানে পূর্বের ন্যায় বিপদ ও কঠোরতা বিদ্যমান পেলেন। মদিনায় হিজরত করার পূর্ব পর্যন্ত তারা মক্কায় অবস্থান করতে থাকেন। তবে সাওদা বিনতে জামআর স্বামী সাকরান ইবন আমর হাবশা থেকে মক্কায় ফেরার পর এবং মদিনায় হিজরতের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। আর সালামা ইবন হিশাম এবং আইয়াশ ইবন আবি রাবিআহ দুর্বল ও অসহায় হওয়ার কারণে মক্কায় আটকে পড়েছিলেন। এছাড়া আবদুল্লাহ ইবন মাখরামা ইবন আবদিল উজ্জাকেও বন্দি রাখা হয়েছিল; অতঃপর যখন বদরের দিন এল, তখন তিনি মুশরিকদের নিকট থেকে পালিয়ে মুসলিমদের সাথে এসে যোগ দেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
فصل ـ خروج النبي صلى الله عليه وسلم إلى الطائففلما نقضت الصحيفة وافق موت خديجة رضي الله عنها، وموت أبي طالب، وكان بينهما ثلاثة أيام، فاشتد البلاء على رسول الله صلى الله عليه وسلم من سفهاء قومه، وأقدموا عليه، فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الطائف لكي يؤووه وينصروه على قومه، ويمنعوه منهم، ودعاهم إلى الله عز وجل، فلم يجيبوه إلى شيء من الذي طلب، وآذوه أذى عظيماً، لم ينل قومه منه أكثر مما نالوا منه.
فرجع عنهم، ودخل مكة في جوار المطعم بن عدي بن نوفل بن عبد مناف، وجعل يدعو إلى الله عز وجل، فأسلم الطفيل بن عمرو الدوسي، ودعا
পরিচ্ছেদ — নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তায়েফ যাত্রাযখন (বয়কট সংক্রান্ত) চুক্তিপত্রটি ছিন্ন করা হলো, তখন খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা ও আবু তালিবের মৃত্যু হলো; আর তাদের উভয়ের মৃত্যুর মাঝে মাত্র তিন দিনের ব্যবধান ছিল। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর তাঁর স্বজাতির নির্বোধদের পক্ষ থেকে বিপদের মাত্রা তীব্রতর হলো এবং তারা তাঁর ওপর চড়াও হলো। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফের উদ্দেশ্যে বের হলেন, যাতে তারা তাঁকে আশ্রয় দেয়, তাঁর স্বজাতির বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করে এবং তাদের হাত থেকে তাঁকে রক্ষা করে। তিনি তাদেরকে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন, কিন্তু তিনি যা চেয়েছিলেন তার কোনো কিছুতেই তারা সাড়া দিল না; বরং তারা তাঁকে চরমভাবে কষ্ট দিল, যা ইতিপূর্বে তাঁর স্বজাতিও তাঁকে এতটা দেয়নি।
অতঃপর তিনি তাদের নিকট থেকে ফিরে আসলেন এবং মুতঈম ইবনে আদি ইবনে নাওফাল ইবনে আবদে মানাফের আশ্রয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন। তিনি মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে থাকলেন; এ সময় তুফাইল ইবনে আমর আদ-দাউসী ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তিনি দাওয়াত দিতে লাগলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
له رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يجعل الله له آية، فجعل الله في وجهه نوراً، فقال: يا رسول الله أخشى أن يقولوا هذا مثله، فدعا له، فصار النور في سوطه، فهو المعروف بذي النور.
ودعا الطفيل قومه إلى الله فأسلم بعضهم، وأقام في بلاده، فلما فتح الله على رسوله خيبر قدم بهم في نحو من ثمانين بيتاً.
فصل ـ الإسراء والمعراج وعرض النبي نفسه على القبائلوأسري برسول الله صلى الله عليه وسلم يجسده على الصحيح من قولي الصحابة والعلماء، من المسجد الحرام إلى بيت المقدس، راكباً البراق في صحبه جبر يل عليه السلام، فنزل ثم، وأم بالأنبياء ببيت المقدس فصلى بهم.
ثم عرج به تلك الليلة من هناك إلى السماء الدنيا، ثم للتي تليها، ثم الثالثة، ثم إلى التي تليها، ثم الخامسة، ثم التي تليها، ثم السابعة.
ورأى عندها جبريل على الصورة التي خلقه الله عليها، وفرض الله عليه الصلوات تلك الليلة.
তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আবেদন করলেন যেন আল্লাহ তাঁর জন্য একটি নিদর্শন নির্ধারণ করেন। ফলে আল্লাহ তাঁর চেহারায় একটি নূর (জ্যোতি) দান করলেন। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আশঙ্কা করছি যে তারা (গোত্রের লোকেরা) বলবে এটি কোনো অঙ্গবিকৃতি বা রোগ। তখন তিনি তাঁর জন্য দুআ করলেন, ফলে সেই নূর তাঁর চাবুকে স্থানান্তরিত হলো। তাই তিনি 'যুন-নূর' (জ্যোতির অধিকারী) হিসেবে পরিচিত।
তুফাইল তাঁর কওমকে আল্লাহর পথে আহ্বান করলেন এবং তাদের কেউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করলেন। তিনি তাঁর নিজ দেশেই অবস্থান করলেন। অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁর রাসূলের জন্য খায়বার বিজয় দান করলেন, তখন তিনি প্রায় আশিটি পরিবার নিয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন।
পরিচ্ছেদ — ইসরা ও মিরাজ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বিভিন্ন গোত্রের নিকট নিজেকে পেশ করাসাহাবী ও ওলামায়ে কেরামের দুটি মতের মধ্যে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সশরীরে মসজিদুল হারাম থেকে বাইতুল মাকদিসে রাতের বেলা ভ্রমণ (ইসরা) করানো হয়েছিল। তিনি জিবরাঈল আলাইহিস সালামের সাথে বুরাকে আরোহণ করেছিলেন। সেখানে তিনি অবতরণ করেন এবং বাইতুল মাকদিসে নবীদের ইমামতি করেন ও তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।
অতঃপর সেই রাতেই তাঁকে সেখান থেকে প্রথম আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়, এরপর দ্বিতীয় আসমানে, এরপর তৃতীয় আসমানে, এরপর চতুর্থ আসমানে, এরপর পঞ্চম আসমানে, এরপর ষষ্ঠ আসমানে এবং এরপর সপ্তম আসমানে।
আর সেখানে তিনি জিবরাঈলকে তাঁর সেই আদি রূপে দেখেছিলেন যে রূপে আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টি করেছেন। সেই রাতেই আল্লাহ তাঁর ওপর সালাতসমূহ ফরয করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
واختلف العلماء: هل رأى ربه عز وجل أولا؟ على قولين:
فصح «عن ابن عباس أنه قال: رأى ربه وجاء في رواية عنه: رآه بفؤاده» .
وفي الصحيحين «عن عائشة رضي الله تعالى عنها أنها أنكرت ذلك على قائله، وقالت هي وابن مسعود: إنما رأى جبريل» .
وروى مسلم في صحيحه من «حديث قتادة عن عبد الله بن شقيق عن أبي ذر أنه قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم هل رأيت ربك؟ قال: [نور، أنى أراه! ؟] وفي رواية [رأيت نوراً] .
» فهذا الحديث كاف في هذه المسألة.
ولما أصبح رسول الله صلى الله عليه وسلم في قومه أخبرهم بما أراه الله من آياته الكبرى، فاشتد تكذيبهم له وأذاهم واستجراؤهم عليه.
وجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يعرض نفسه على القبائل أيام الموسم ويقول: «من
আলেমগণ মতভেদ করেছেন: তিনি কি তাঁর মহাপরাক্রমশালী প্রতিপালককে দেখেছিলেন কি না? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে:
ইবনে আব্বাস থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «তিনি তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন। তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: তিনি তাঁকে তাঁর অন্তঃকরণ দিয়ে দেখেছেন»।
সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এই উক্তির প্রবক্তার প্রতিবাদ করেছেন এবং তিনি ও ইবনে মাসঊদ বলেছেন: «নিশ্চয়ই তিনি কেবল জিবরাঈলকে দেখেছিলেন»।
মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে কাতাদার সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে এবং তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? তিনি বললেন: [তিনি তো নূর, আমি তাঁকে কীভাবে দেখব!?] এবং অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: [আমি নূর দেখেছি]।
এই মাসআলায় এই হাদীসটিই যথেষ্ট।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সকালে তাঁর কওমের মাঝে উপনীত হলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে তাঁর বড় বড় নিদর্শনের মধ্য হতে যা যা দেখিয়েছিলেন সে সম্পর্কে তিনি তাদের সংবাদ দিলেন। এতে তাদের পক্ষ থেকে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, কষ্ট দেওয়া এবং তাঁর ওপর ধৃষ্টতা দেখানোর মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজের দিনগুলোতে বিভিন্ন গোত্রের নিকট নিজেকে পেশ করতে শুরু করলেন এবং বলতে লাগলেন: «কে আছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসূল ফী সীরাতির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
رجل يحملني إلى قومه فيمنعني حتى أبلغ رسالة ربي! ؟ فإن قريشاً قد منعوني أن أبلغ رسالة ربي» .
هذا وعمه أبو لهب ـ لعنه الله ـ وراءه يقول الناس: لا تسمعوا منه فإنه كذاب.
فكان أحياء العرب يتحامونه لما يسمعون من قريش عنه: إنه كذاب، إنه ساحر، إنه كاهن، إنه شاعر، أكاذيب يقذفونه بها من تلقاء أنفسهم، فيصغي إليهم من لا تمييز له من الأحياء.
وأما الألباء إذا سمعوا كلامه وتفهموه شهدوا بأن ما يقوله حق وأنهم مفترون عليه، فيسلمون.
فصل ـ حديث سويد بن الصامت وإسلام إياس بن معاذوكان مما صنع الله لأنصاره من الأوس والخزرج أنهم كانوا يسمعون من حلفائهم من يهود المدينة أن نبياً مبعوث في هذا الزمن، ويتوعدونهم به إذا حاربوهم، ويقولون: إنا سنقتلكم معه قتل عاد وإرم، وكان الأنصار يحجون البيت، (كما كانت العرب تحجه (وأما اليهود فلا.
فلما رأى الأنصار رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعوالناس إلى الله تعالى، ورأوا أمارات الصدق عليه قالوا: والله هذا الذي توعدكم يهود به فلا يسبقنكم إليه.
وكان سويد بن الصامت أخو بني عمرو بن عوف بن الأوس قد قدم
এমন কোনো লোক কি আছে যে আমাকে তার গোত্রের কাছে নিয়ে যাবে এবং আমাকে নিরাপত্তা দিবে যাতে আমি আমার রবের বাণী পৌঁছাতে পারি? কেননা কুরাইশরা আমাকে আমার রবের বাণী পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে।
আর তাঁর চাচা আবু লাহাব—তার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক—তাঁর পেছনে পেছনে ঘুরে লোকদের বলত: তোমরা তার কথা শুনো না, কেননা সে একজন মিথ্যাবাদী।
ফলে আরবের গোত্রগুলো তাঁর থেকে দূরে থাকত, কারণ তারা কুরাইশদের পক্ষ থেকে তাঁর সম্পর্কে শুনত যে: তিনি একজন মিথ্যাবাদী, তিনি একজন জাদুকর, তিনি একজন গণক, তিনি একজন কবি। তারা নিজেদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর এসব মিথ্যারোপ করত। ফলে গোত্রগুলোর মধ্যে যাদের বিচার-বিবেচনা ছিল না, তারা তাদের কথায় কর্ণপাত করত।
কিন্তু বুদ্ধিমানেরা যখন তাঁর কথা শুনত এবং তা অনুধাবন করত, তখন তারা সাক্ষ্য দিত যে, তিনি যা বলছেন তা সত্য এবং তারা তাঁর ওপর অপবাদ দিচ্ছে। ফলে তারা ইসলাম গ্রহণ করত।
পরিচ্ছেদ — সুওয়াইদ বিন সামিত-এর ঘটনা এবং ইয়াস বিন মুআয-এর ইসলাম গ্রহণআর আল্লাহ তাঁর আনসারদের (আউস ও খাজরাজ গোত্র) জন্য যা নির্ধারণ করেছিলেন তা হলো, তারা মদিনার ইহুদি মিত্রদের কাছ থেকে শুনতে পেত যে, এই যুগে একজন নবী আবির্ভূত হবেন। যখন ইহুদিদের সাথে তাদের যুদ্ধ হতো, তখন তারা এর মাধ্যমে তাদের হুমকি দিত এবং বলত: শীঘ্রই আমরা তাঁর সাথে মিলে তোমাদেরকে আদ ও ইরাম জাতির ন্যায় হত্যা করব। আনসাররা বায়তুল্লাহর হজ করত (যেমন আরবরা হজ করত), কিন্তু ইহুদিরা তা করত না।
যখন আনসাররা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন যে তিনি মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করছেন এবং তাঁর মধ্যে সত্যবাদিতার নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তারা বলল: আল্লাহর কসম, ইনিই সেই নবী যাঁর ব্যাপারে ইহুদিরা তোমাদের হুমকি দিত; সুতরাং তারা যেন তাঁর কাছে পৌঁছাতে তোমাদের আগে বেড়ে না যায়।
আর বনু আমর বিন আউফ বিন আউস গোত্রের ভাই সুওয়াইদ বিন সামিত এসেছিলেন...