(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: -)
الإلمام بأحاديث الأحكام - ومعه حاشية ابن عبد الهادي القسم: كتب السنة
الكتاب: الإلمام بأحاديث الأحكام
المؤلف: (ابن دقيق العيد) أبو الفتح، تقي الدين، محمد بن علي بن وهب القشيري المصري (625 - 702 هـ)
ومعه: حاشية شمس الدين بن عبد الهادي؛ لأبي عبد الله محمد بن أحمد بن عبد الهادي (704 - 744 هـ)
حقق نصوصه وشرح غريبه: محمد خَلّوف العبد الله
الناشر: دار النوادر، سوريا
الطبعة: الأولى، 1434 هـ - 2013 م
عدد الصفحات: 664
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 ذو القعدة 1436
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - এবং সাথে রয়েছে ইবনে আব্দুল হাদির টীকা বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম
লেখক: (ইবনে দাকীকুল ঈদ) আবুল ফাতহ، তাকীউদ্দীন، মুহাম্মাদ বিন আলী বিন ওয়াহাব আল-কুশাইরী আল-মিসরী (৬২৫ - ৭০২ হিজরি)
এবং সাথে আছে: শামসুদ্দীন ইবনে আব্দুল হাদির টীকা; আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল হাদি (৭০৪ - ৭৪৪ হিজরি)
পাঠ্য তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং বিরল শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন: মুহাম্মাদ খাল্লাফ আল-আব্দুল্লাহ
প্রকাশক: দারুন নাওয়াদির، সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬৪
[কিতাবটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ যিলকদ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ١)
الإلمام بأحاديث الأحكام
تأليف
الإمام المجتهد ابن دقيق العيد أبي الفتح تقي الدين محمد بن علي بن وهب القشيري المصري (625 - 702 هـ)
ومعه حاشية
الحافظ شمس الدين بن عبد الهادي أبي عبد الله محمد بن أحمد بن عبد الهادي المقدسي الصالحي الحنبلي (704 - 744 هـ)
حقق نصوصه وشرح غريبه
محمد خلوف العبد الله
دار النوادر
আহকামের হাদিসসমূহের সম্যক জ্ঞান
রচনা
ইমাম মুজতাহিদ ইবনে দাকীক আল-ঈদ আবুল ফাতহ তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আলী বিন ওয়াহাব আল-কুশাইরি আল-মিসরি (৬২৫ - ৭০২ হিজরি)
সাথে রয়েছে পাদটীকা
হাফিজ শামসুদ্দীন বিন আব্দুল হাদি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি আস-সালেহি আল-হানবালি (৭০৪ - ৭৪৪ হিজরি)
মূল পাঠ্য সম্পাদন এবং দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন
মুহাম্মদ খালুফ আল-আবদুল্লাহ
দারুন নাওয়াদির
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٣)
حُقق هَذَا الْكتاب عَن نُسْخَة الْحَافِظ شمس الدّين بن عبد الْهَادِي الْمَقْدِسِي الْحَنْبَلِيّ والمنسوخة بِخَط يَده سنة (729 هـ)
الإِلمَام بِأَحَادِيْثِ الأَحَكَامِ
এই গ্রন্থটি হাফিজ শামসউদ্দিন বিন আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি আল-হাম্বলির পাণ্ডুলিপি থেকে সম্পাদিত, যা ৭২৯ হিজরি সনে তাঁর নিজ হাতে অনুলিপি করা হয়েছিল।
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম (বিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহের সংক্ষিপ্ত সংকলন)
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٤)
جَمِيعُ الحُقُوقِ مَحْفوظَة
الطَّبْعَةُ الأُولَى 1434 هـ - 2013 م
ردمك: 4 - 37 - 482 - 9933 - 978 ISBN
دَارُ النَّوَادِرِ
سورية - لبنان - الكويت
مُؤسَّسَة دَار النَّوَادِرِ م. ف - سُورية: * شَركَة دَار النَّوَادِرِ اللُّبْنَانِيَّة ش. م. م - لبْنَان * شَركَة دَارُ النَّوَادِرِ الْكُوَيْتِيَّة ذ. م. م - الكُوَيْت
سورية - دمشق - ص. ب: 34306 - هَاتِف: 2227001 - فاكس: 2227011 (0096311)
لبنان - بيروت - ص. ب: 14/ 5180 - هَاتِف: 652528 - فاكس: 652529 (009611)
الكويت - الصالحية - برج السَّحَاب - ص. ب: 4316 حَولي - الرَّمْز البريدي: 32046
هَاتِف: 22273725 - فاكس: 22273726 (00965)
www.daralnawader.com - info@daralnawader.com
أسَّسهَا سَنَة: 1426 هـ - 2006 م نُورُ الدِّيْن طَالِب المُدير العَام والرَّئيس التَّنْفِيذِي
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
আইএসবিএন: ৯৭৮ - ৯৯৩৩ - ৪৮২ - ৩৭ - ৪
দারুন নাওয়াদির
সিরিয়া - লেবানন - কুয়েত
মুআসসাসাতু দারিন নাওয়াদির ম. ফ. - সিরিয়া: * শারিকাতু দারিন নাওয়াদিরে লুবনানিইয়াহ শা. ম. ম. - লেবানন * শারিকাতু দারিন নাওয়াদিরে কুয়েতিইয়াহ যা. ম. ম. - কুয়েত
সিরিয়া - দামেস্ক - পো. বক্স: ৩৪৩০৬ - টেলিফোন: ২২২৭০০১ - ফ্যাক্স: ২২২৭০১১ (০০৯৬৩১১)
লেবানন - বৈরুত - পো. বক্স: ১৪/ ৫১৮০ - টেলিফোন: ৬৫২৫২৮ - ফ্যাক্স: ৬৫২৫২৯ (০০৯৬১১)
কুয়েত - আস-সালিহিয়্যাহ - সাহাব টাওয়ার - পো. বক্স: ৪৩১৬ হাওয়ালি - পোস্টাল কোড: ৩২০৪৬
টেলিফোন: ২২২৭৩৭২৫ - ফ্যাক্স: ২২২৭৩৭২৬ (০০৯৬৫)
www.daralnawader.com - info@daralnawader.com
এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৪২৬ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে; নূরুদ্দীন তালিব, মহাপরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدِّمَة التَّحْقِيْقإنَّ الحمدَ للَّهِ نحمدُه ونسَتعينُه ونستغفِرُه، ونعوذُ باللَّهِ من شرورِ أنفسِنا، وسَيِّئاتِ أعمالنا، مَنْ يهدِهِ اللَّهُ فلا مُضِلَّ له، ومَنْ يُضْلِلْ فلا هاديَ له.
وأشهدُ أنَّ لا إلهَ إلا اللَّهُ وحدَه لا شريكَ له، وأشهدٌ أنَّ محمدًا عبدُه ورسولُه.
أمّا بعد:
فإنَّ التفقُّهَ في الدِّين منزلةٌ لا يخفى شرفُها وعُلاها، ولا تَحتجِبُ عن العقل طوالعُها وأَضْواها، وأرفعُها بعد فهمِ كتاب اللَّه المُنْزَل، البحثُ عن معاني حديث نبيِّه المرسَل، إذ بذلك تثبُتُ القواعدُ ويستقِرُّ الأساس، وعنه يصدُرُ الإجماعُ ويقومُ القياس، وما تقدَّمَ شرعًا تعيَّنَ تقديمُهُ شُروعًا، وما كان مَحمولًا على الرأسِ لا يَحْسُنُ أنْ يُجْعَلَ موضوعًا.
لكنَّ شَرْطَ ذلك عندنا أَنْ يُحْفَظَ هذا النِّظام، ويُجعَلَ الرأيُ هو المؤتمَّ والنصُّ هو الإمام، وتُرَدَّ المذاهبُ إليه، وتُضَمَّ الآراءُ المنتشرة حتى تقِفَ بينَ يدَيه، وأما أَنْ يُجعَلَ الفرعُ أصلًا؛ بردِّ النصِّ إليه بالتكلُّف والتَّحيُّل،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গবেষণার ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই দ্বীনের গভীর জ্ঞান (তাফাক্কুহ) অর্জন করা এমন এক সুউচ্চ মর্যাদা, যার মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্ব কারো অজানা নয় এবং এর উজ্জ্বল জ্যোতি ও উদয়স্থল বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকে না। অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাব বুঝার পর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ কাজ হলো তাঁর প্রেরিত নবীর হাদিসের অর্থসমূহ অনুসন্ধান করা। কারণ এর মাধ্যমেই যাবতীয় মূলনীতি সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। হাদিস থেকেই ইজমা উৎসারিত হয় এবং এর মাধ্যমেই কিয়াস প্রতিষ্ঠিত হয়। শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গিতে যা অগ্রগণ্য, সূচনায় তাকেই প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক। আর যা মস্তকে ধারণ করার যোগ্য, তাকে নিচে নামিয়ে রাখা সমীচীন নয়।
তবে আমাদের নিকট এর শর্ত হলো এই নিয়ম রক্ষা করা যে, ব্যক্তিগত অভিমত হবে অনুসারী এবং নস (দলিল) হবে ইমাম বা পথপ্রদর্শক। বিভিন্ন মাযহাবকে এর (নসের) দিকেই প্রত্যাবর্তন করাতে হবে এবং ছড়িয়ে থাকা মতামতগুলোকে এর অধীনে সমবেত করতে হবে যেন তা নসের সামনে দণ্ডায়মান হয়। কিন্তু শাখাকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা; অর্থাৎ কৃত্রিম ব্যাখ্যা ও কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে নসকে শাখার অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٦)
ويُحمَلَ على أبعدِ المحاملِ بلطافةِ الوَهْمِ وسَعَةِ التخيُّل، ويُرْكَبَ في تقريرِ الآراءِ الصَّعبُ والذَّلُول، ويُعْمَلَ مِنَ التأويلات ما تنفِرُ عنه النفوسُ وتَستنكِرُه العقول، فذلك عندنا مِنْ أردأ مذهبٍ وأسوأ طريقة، ولا يُعتقدُ أنَّه تحصُلُ معه النصيحةُ للدِّين على الحقيقة، وكيف يقعُ أمرٌ مع رُجحانِ مُنَافيه؟ وأنَّى يَصِحُّ الوزنُ بميزانٍ مالَ أحدُ الجانبين فيه؟ ومتى يُنْصِفُ حاكمٌ ملكَتْهُ غَضَبِيةُ العصبيةِ؟ وأينَ يقعُ الحقُّ مِنْ خاطرٍ أخذتْة العزَّةُ بالحَمِيَّة؟ وأنَّى يُحْكَمُ بالعدل عند تعادُلِ الطَّرفَين، ويظهرُ الجَوْرُ عند تَقايُلِ المُتَحرِّفَين؟!
(1)هذا، وإنَّ كتابَ "الإلمام بأحاديث الأحكام" للإمام المُجتهد المُجدِّد ابنِ دّقيق العيد رحمه الله لا نظيرَ له في الكتبِ المصنَّفةِ في الأحكام الجامعةِ بينَ الحلالِ والحرام، بل هو مِنْ أجلِّ ما صُنِّفَ في بابه، يحفظُه المُبتدِئ المُستفيد، ويُناظِرُ فيه الفقيهُ المُفِيد
(2).
* وقد شَرَطَ فيه رحمه الله أن لا يورِدَ إلا حديثَ مَنْ وَثَّقه إمامٌ مِنْ مُزكِّي رُواةِ الأَخبار، وكانَ صحيحًا على طَريقةِ بعضِ أَهْلِ الحديث الحُفَّاظ، أو بعضِ أئمةِ الفُقهاء النظَّار، وقد اعتبرَ رحمه الله هذا الشَّرطَ، ولم يشترِط الاتفاقَ مِنَ الطائفتين، لأنَّ ذلك الاشتراطَ يَضِيقُ به الحالُ جدًّا، ويوجِبُ تعذُّرَ الاحتجاجِ بكثيرٍ مما ذكرهُ الفقهاءُ، لعسرِ الاتفاق على وجودِ الشُّروط المتَّفقِ عليها، ولأنَّ الفقهاءَ قد اعتادوا أنْ يحتجُّوا بما هو نازِلٌ عن هذه
--------------------------------------------
এবং সূক্ষ্ম কল্পনা ও কল্পনার বিস্তৃতি দিয়ে বিষয়গুলোকে দূরতম অর্থের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, আর মতামত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কঠিন ও সহজ উভয় পথই অবলম্বন করা হয়। এমন সব ব্যাখ্যা করা হয় যা থেকে অন্তরসমূহ বিমুখ হয় এবং বিবেকসমূহ তা প্রত্যাখ্যান করে। আমাদের নিকট তা নিকৃষ্টতম মতবাদ এবং জঘন্যতম পদ্ধতি; এটি বিশ্বাস করা হয় না যে, এর মাধ্যমে ধর্মের প্রতি প্রকৃত অর্থে কল্যাণকামিতা অর্জিত হয়। এর বিপরীতে কোনো বিষয় প্রবল থাকা অবস্থায় তা কীভাবে ঘটতে পারে? এমন দাঁড়িপাল্লায় ওজন কীভাবে সঠিক হতে পারে যার এক পাল্লা ঝুঁকে পড়েছে? আর এমন বিচারক কখন ইনসাফ করবেন যাকে গোঁড়ামির ক্রোধ আচ্ছন্ন করেছে? আর এমন অন্তর থেকে সত্য কোথায় পাওয়া যাবে যাকে আভিজাত্য ও পক্ষপাতের মোহে ধরেছে? উভয় পক্ষ সমান হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ন্যায়বিচার করা হবে, যখন বিচ্যুতদের পরস্পর ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে জুলুম প্রকাশ পায়?!
(১)এটি উল্লেখ্য যে, মুজতাহিদ ও মুজাদ্দিদ ইমাম ইবনে দাকীকুল ঈদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর রচিত "আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম" গ্রন্থটি হালাল ও হারাম বিষয়ের সমন্বিত বিধি-বিধানের কিতাবসমূহের মধ্যে অতুলনীয়। বরং এটি এই বিষয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংকলন, যা উপকৃত হতে ইচ্ছুক নতুন শিক্ষার্থীরা মুখস্থ করে এবং বিজ্ঞ ফকীহগণ তা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক করেন
(২)।
* তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এতে এই শর্তারোপ করেছেন যে, তিনি কেবল সেই হাদীসই উল্লেখ করবেন যাকে বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইকারী কোনো ইমাম নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং যা কোনো হাফেজ মুহাদ্দিস অথবা প্রাজ্ঞ ফকীহদের কারো মানদণ্ডে সহীহ প্রমাণিত। তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই শর্তটিই বিবেচনা করেছেন, তবে উভয় দলের (মুহাদ্দিস ও ফকীহ) ঐকমত্যের শর্ত করেননি। কারণ সেই শর্তারোপ করলে ক্ষেত্র অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে পড়বে এবং ফকীহগণ যা কিছু উল্লেখ করেছেন তার অনেকগুলো দিয়েই দলিল প্রদান করা অসম্ভব হয়ে পড়বে; কারণ সর্বসম্মত শর্তাবলি পাওয়া যাওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হওয়া কঠিন, এবং ফকীহগণ সাধারণত এর চেয়ে নিম্নস্তরের দলিল দ্বারাও প্রমাণ পেশ করে থাকেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٧)
الدرجة، فرجوعُهم إلى هذه الدرجةِ ارتفاعٌ عما قد يَعتادونه، فهو أَولى بالذِّكْرِ، ولأنَّ كثيرًا مما اختُلِفَ فيه مِنْ ذلك يرجعُ إلى أنَّه قد لا يَقْدَحُ عند التأمُّلِ في حقِّ كثير من المجتهدين، فالاقتصارُ على ما أُجمعَ عليه تضييعٌ لكثير مما تقومُ به الحجةُ عند جمعٍ من العلماء، وذلك مَفْسَدة
(1).
* وقَصَدَ رحمه الله في تأليفه هذا الاختصارَ، وذلك لمقاصد عدةٍ منها:
1 - تركُ الأحاديث التي يكفي في الاستدلال على حُكمها كتابُ اللَّه تعالى أو إجماعُ الأمة، وإنْ وقَعَ من هذا شيءٌ في هذا الكتاب فيكونُ المقصودُ أمرًا آخرَ يتعلَّقُ بدلالة الحديث، وتَنْجرُّ الدلالةُ إلى الحكم المجمَعِ عليه انجرارًا غيرَ مقصودٍ بالوضع وحدَه، كما في قوله صلى الله عليه وسلم: "لا يقبلُ اللَّهُ صلاةَ أحدِكم إذا أَحْدثَ حتى يتوضَّأ"
(2)، فإنه استُدِلَّ به على وجوب طهارةِ الحَدَث، وهو أمرٌ مُجمَعٌ عليه، وليس هو المقصودُ بإيرادِ الحديث وحدَه، وإنما استدل به على أنَّ سَبْقَ الحَدَثِ مُبْطِلٌ للصلاة، مانِعٌ من البناء.
2 - ومنها: ألَّا يذكرَ أحاديثَ متعدِّدةً للدلالةِ على حكمٍ واحدٍ إلا لمعارِضٍ.
3 - ومنها: الاكتفاءُ بأتمِّ الحديثين وأكثرِهما فائدة عن أقلِّهما، أو لدخولِ مَدلوله تحت الأعمِّ فائدة، وقد يقومُ في مثل هذا معارِضٌ، وهو أن
--------------------------------------------
স্তর; সুতরাং তাদের এই স্তরে ফিরে আসা তাদের অভ্যস্ত বিষয়ের চেয়ে উন্নততর, তাই এটি উল্লেখ করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত। কারণ, এসব ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে মতভেদ রয়েছে তার অনেকগুলোর কারণ হলো, গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় যে অনেক মুজতাহিদের ক্ষেত্রে তা দোষণীয় নয়। ফলে কেবল ঐকমত্যপূর্ণ (ইজমা) বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা অনেক প্রমাণের বিনাশ ঘটায় যা একদল আলেমের নিকট গ্রহণযোগ্য, আর এটি একটি ক্ষতিকর বিষয়
(১)।
* আর তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর এই গ্রন্থ রচনায় সংক্ষেপনের ইচ্ছা করেছেন, আর তা কয়েকটি উদ্দেশ্যে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - এমন হাদিসগুলো বর্জন করা যেগুলোর বিধান সাব্যস্ত করার জন্য আল্লাহ তাআলার কিতাব বা উম্মতের ইজমা যথেষ্ট। যদি এই কিতাবে এমন কিছু এসেও থাকে, তবে উদ্দেশ্য হবে হাদিসের নির্দেশনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিষয়। আর ইজমা হওয়া বিধানের দিকে নির্দেশনাটি মূল লক্ষ্য না হওয়া সত্ত্বেও অপ্রধান হিসেবে চলে এসেছে। যেমন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমাদের কেউ যখন অপবিত্র হয়, সে অজু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার নামাজ কবুল করেন না"
(২)। এখানে হাদিসটি দ্বারা অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার আবশ্যকতা প্রমাণ করা হয়েছে, যা একটি সর্বসম্মত বিষয়। কিন্তু কেবল এই উদ্দেশ্যে হাদিসটি আনা হয়নি, বরং এটি দ্বারা এই প্রমাণ করা হয়েছে যে, নামাজের মাঝে অপবিত্র হয়ে যাওয়া নামাজ বাতিল করে দেয় এবং তা পুনরায় সেখান থেকে গড়ে তোলার (নামাজ পূর্ণ করার) পথে অন্তরায় হয়।
২ - এর মধ্যে রয়েছে: একই বিধান প্রমাণের জন্য একাধিক হাদিস উল্লেখ না করা, তবে কোনো বিরোধপূর্ণ বিষয় থাকলে ভিন্ন কথা।
৩ - এর মধ্যে রয়েছে: দুটি হাদিসের মধ্যে যেটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ এবং অধিক ফায়দাপূর্ণ সেটিকে গ্রহণ করে কম ফায়দাপূর্ণটিকে বর্জন করা, অথবা যদি তার অর্থটি অধিকতর ব্যাপক ফায়দাপূর্ণ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। তবে অনেক সময় এর বিপরীতে কোনো কারণ থাকতে পারে, আর তা হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٨)
يكون الحديثُ الأقل فائدة هو الحديث المشهورُ أو المُخرَّج في "الصحيحين" فيُذكر لذلك، ويُتبَعُ بالحديث الَّذي فيه الزيادة، فإنَّ إهمالَ ما في "الصحيحين" وما اشتُهِرَ بين العلماء الاستدلالُ به غيرُ مُستحسَنٍ.
4 - ومنها: أنَّ الحديثَ الذي يستدل به قد يكون مُطوَّلًا في الصِّحاح أو في الكتب المشهورة، ويكون موضعُ الاحتجاجِ مُقتصرًا عليه، مختصَرًا في غير ذلك من الكتب، فيقتصِرُ على المختصَر، ويتركُ التخريجَ من الصحاح؛ لأنه ألْيقُ بالكتاب، ولأنه إنْ ذَكَرَ ما في الصحاح مُطولًا خَرَجَ عن المقصود الذي لأجله أخرجَ الحديث. إلى غير ذلك من المقاصد
(1).
* ولما كان المؤلفُ قد جمَع كتابًا كبيرًا في أحاديث الأحكام سمَّاه: "الإمام في معرفة أحاديث الأحكام"، وقال فيه: ما وقفتُ على كتابٍ من كُتُبِ الحديث وعلومِه المتعلِّقةِ به، سُبِقْتُ بتأليفه وانتهى إليَّ، إلا أَودعتُ منه فائدةً في هذا الكتاب
(2).
وقال فيه: أنا جازِمٌ أنَّه ما وُضعَ في هذا الفنِّ مثلُه
(3).
فقد اسْتَخشَنهُ بعضُ أهلِ عصر؛ لإطالته، فعَمدَ رحمه الله إلى اختصارِه في كتابه: "الإلمام بأحاديث الأحكام"، وسمَّاه بهذه التسمية بالنسبةِ إلى الكتابِ الكبير الَّذي قَصَدَ فيه التوسُّعَ وتكثيرَ الأحاديث وجَلْبَها من حيثُ كانت على حَسب القُدرةِ، فهو بالنسبة إليه إلمامٌ، لا بمعنى
--------------------------------------------
কখনো কখনো অপেক্ষাকৃত কম উপকারী হাদিসটিই হয় প্রসিদ্ধ হাদিস অথবা ‘সহীহাইন’-এ বর্ণিত হাদিস, তাই এটি সেই কারণে উল্লেখ করা হয় এবং এর পরপরই এমন হাদিস আনা হয় যাতে অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে। কেননা ‘সহীহাইন’-এ যা বিদ্যমান এবং আলেমদের নিকট দলিল হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে যা প্রসিদ্ধ, তা উপেক্ষা করা সমীচীন নয়।
৪ - তার মধ্যে একটি হলো: দলিল হিসেবে উপস্থাপিত হাদিসটি ‘সহীহ’ গ্রন্থসমূহে বা প্রসিদ্ধ কিতাবগুলোতে দীর্ঘ হতে পারে, অথচ দলিল হিসেবে গ্রহণের মূল অংশটুকু অন্য কিতাবগুলোতে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি সংক্ষিপ্ত বর্ণনার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেন এবং ‘সহীহ’ গ্রন্থসমূহ থেকে তা উদ্ধৃত করা পরিহার করেন; কারণ এটি এই কিতাবের জন্য অধিকতর মানানসই। তাছাড়া যদি তিনি ‘সহীহ’ গ্রন্থসমূহের দীর্ঘ বর্ণনাটি উল্লেখ করতেন, তবে যে উদ্দেশ্যে তিনি হাদিসটি এনেছেন সেই মূল লক্ষ্য ব্যাহত হতো। এ ছাড়াও আরও অন্যান্য উদ্দেশ্য রয়েছে
(১)।
* যেহেতু লেখক আহকামের হাদিস বিষয়ে একটি বিশাল গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন এবং তার নাম দিয়েছিলেন: ‘আল-ইমাম ফী মা’রিফাতি আহাদিসিল আহকাম’, এবং তাতে তিনি বলেছিলেন: হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহের এমন কোনো কিতাব আমার নজরে আসেনি—যা আমার পূর্বে রচিত হয়েছে এবং আমার হস্তগত হয়েছে—যার কোনো না কোনো ফায়দা আমি এই কিতাবে সন্নিবেশিত করিনি
(২)।
তিনি তাতে আরও বলেছিলেন: আমি নিশ্চিত যে, এই শাস্ত্রে এর সমতুল্য কোনো কিতাব রচিত হয়নি
(৩)।
তাঁর সমসাময়িক কেউ কেউ দীর্ঘ হওয়ার কারণে একে কিছুটা কঠিন মনে করেছিলেন; তাই তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম’ নামক গ্রন্থে একে সংক্ষিপ্ত করার উদ্যোগ নেন। সেই বিশাল গ্রন্থের তুলনায় তিনি এর এই নামকরণ করেছেন, যে গ্রন্থে তিনি বিস্তারিত আলোচনা এবং সাধ্যানুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে প্রচুর হাদিস একত্রিত করার সংকল্প করেছিলেন। সুতরাং বড় কিতাবটির তুলনায় এটি একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ মাত্র, এই অর্থে নয় যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٩)
قُصُورِه في نفسه وضَعْفِه بالنسبة إلى أحاديث الأحكام
(1).
* ولا بدَّ مِنَ التنبيه إلى أنَّ المؤلِّف رحمه الله قد وقَعَ له في كتابه هذا بعضُ الأوهامِ، وقد فَسَّرَ الحافظُ قطبُ الدِّينِ الحَلَبيُّ -وهو تلميذُ المؤلف- تلك الأوهام الواقعةَ فقال: وكان شيخُنا رحمه الله لمَّا جَمَعَ كتابَ "الإلمام" أملاهُ تارةً على مَنْ لم يكن الحديثُ مِنْ شأنه، وتارةً كان يكتُبه في أوراق بخطِّه، وكان خَطُّه مُعلَّقًا، ويُعطيه للنُّسَّاخ، فيكتب كلُّ إنسانٍ مِنَ النُّسَّاخ ما قَدَرَ عليه، فبسببِ ذلك وقعَ في كتاب "الإلمام" مواضعُ لم يُصَوِّبْها الناسِخُ، ولم تُقرأْ على الشيخ بعد ذلك
(2).
وقد صَحَّحَ الحافظُ قطبُ الدِّين الحلبي ما قَدرَ عليه في تَلخيصه لكتاب "الإلمام" المُسمَّى: "الاهتمام".
* ثمَّ كان مِنْ فضلِ اللَّه وجُودِه عَليَّ أَنْ أكرمني بالوقوفِ على نسُخةِ الإمامِ الحافظ شمسِ الدِّين بنِ عبد الهادي المَقْدِسي الحنبلي لكتاب "الإلمام" والتي خطَّها بيده
(3)، مُحلَّاة بحواشيه المُجوَّدَةِ من التصحيح والتَّحريرِ والفوائد والنِّكات على كتاب "الإلمام"، والتي وصَفَها ابنُ قاضي
--------------------------------------------
এর নিজস্ব সীমাবদ্ধতা এবং আহকাম সংক্রান্ত হাদিসের তুলনায় এর দুর্বলতা।
(১)* এটি লক্ষ্য করা জরুরি যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই কিতাবে কিছু ভ্রম বা ভুলের শিকার হয়েছেন। হাফেজ কুতুবুদ্দিন আল-হালাবি—যিনি লেখকের ছাত্র ছিলেন—ঘটে যাওয়া এই ভুলগুলোর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন: আমাদের শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) যখন 'আল-ইলমাম' কিতাবটি সংকলন করেন, তখন কখনো এমন ব্যক্তির কাছে তা শ্রুতিলিপি (ইমলা) দিয়েছেন যার কাজ হাদিস চর্চা ছিল না। আবার কখনো তিনি নিজের হাতে কাগজের পাতায় লিখতেন, আর তাঁর হস্তাক্ষর ছিল বেশ অস্পষ্ট (মুয়াল্লাক), যা তিনি অনুলিপিকারকদের হাতে দিতেন। ফলে অনুলিপিকারকদের প্রত্যেকে যা আয়ত্ত করতে পারত তা-ই লিপিবদ্ধ করত। এরই ফলশ্রুতিতে 'আল-ইলমাম' কিতাবের এমন কিছু স্থান রয়ে গেছে যা অনুলিপিকারক সংশোধন করতে পারেনি এবং পরবর্তীতে শায়খকেও তা পড়ে শোনানো হয়নি।
(২)হাফেজ কুতুবুদ্দিন আল-হালাবি 'আল-ইলমাম' কিতাবটির তাঁর করা সংক্ষেপিত রূপ—যার নাম 'আল-ইহতিমাম'—তাতে সাধ্যমতো বিষয়গুলো সংশোধন করেছেন।
* অতঃপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা যে, তিনি আমাকে ইমাম হাফেজ শামসুদ্দিন বিন আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি আল-হাম্বলির হস্তলিখিত 'আল-ইলমাম' কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপি দেখার সৌভাগ্য দান করেছেন
(৩), যা ছিল সংশোধন, পরিমার্জন, তাত্ত্বিক আলোচনা ও সুক্ষ্ম বিষয়াদি সম্বলিত তাঁর চমৎকার টীকা দ্বারা সুশোভিত, যার বর্ণনা ইবনুল কাজি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ١٠)
شُهْبة بأنَّها حواشٍ مفيدة
(1). كيف لا، وهي مكتوبةٌ بخطِّ الإمام الحافظ، سليلِ أَعْرقِ الأُسَرِ العلميَّة في التاريخ.
وتلميذِ شيخ الإسلام ابنِ تيميَّة والحافظِ المِزِّي، وملازِمهما، وحافظِ عُلومِهما، والناقلِ عنهما جُملًا من كلامهما في هذه الحواشي؟!
وقد جاء رحمه الله على جميع ما وقع في "الإلمام" من إشكال وإبهام، فتكلم عن الأحاديث صحة وضعفًا، وسَرَدَ الشواهد لها، وبَيَّن حال طائفة مما وقع في رجال أسانيدها، وأوضحَ غريبَ الألفاظ والكلمات إلى ذلك من الفوائد والعوائد القيمة.
فحقُّ هذه النُّسخةِ أنْ تُكْتَبَ بذَوْبِ التِّبْر لا بالحِبْر، وأنْ تُقدَّمَ في الحِفْظ والدَّرْسِ على غيرها، وإنْ جاءت مطالعتُها -أعني الإلمام مع حواشيه هذه- بعد "عُمدة الأحكام" للإمام عبد الغني المَقْدسي، فقد يكونُ حافِظُهما على رَتْوةٍ من العلم، لقوةِ حُجَّته وأدِلَّته، فكلُّ ما فيهما صحيحٌ في الجملة، فليسْعَدْ أهلُ العلمِ ورُوَّامُه بهذه التُّحفةِ النَّفيسةِ، ولتنشرِحْ صدورُهم بهذه الدُّرَّة المُنِيفة.
* وهذه النسخةُ مِنْ محفوظات مكتبة كُوبريلي في تركيا، برقم (250)، وتقع في (142) ورقة، جاء على غلافها اسمُ ناسخها، وهو الإمامُ الحافِظُ أبو عبد اللَّه محمدُ بنُ أحمدَ بنِ عبدِ الهادي المقدسي رحمه اللَّه تعالى، وعليها تملُّكات لغير واحدٍ منها تملُّكٌ لابنه عمر.
وقد حُلِّيت هوامشُها -كما أسلفنا- بتحريراتِ وفوائد الإمام الحافظ شمس الدِّين، وجاء فيها أيضًا بعضُ الحواشي لغير واحدٍ من العلماء ممن
--------------------------------------------
...শুহবা বর্ণনা করেছেন যে এগুলো অত্যন্ত উপকারী পার্শ্বটীকা
(১)। কেন হবে না, অথচ এগুলো ইমাম হাফেজের নিজ হাতে লিখিত, যিনি ইতিহাসের অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ইলমি পরিবারের বংশধর।
এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও হাফেজ মিজ্জীর ছাত্র, তাঁদের দীর্ঘদিনের সহচর, তাঁদের ইলমের হিফাযতকারী এবং এই টীকাগুলোতে তাঁদের বক্তব্যের বহু অংশ বর্ণনাকারী?!
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) "আল-ইলমাম" গ্রন্থে আসা সকল জটিলতা ও অস্পষ্টতা নিরসন করেছেন। তিনি হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন, সেগুলোর স্বপক্ষে শাহেদ (সমর্থক বর্ণনা) পেশ করেছেন এবং সনদের বর্ণনাকারীদের একটি দলের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। এছাড়া তিনি কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যাসহ আরও অনেক মূল্যবান ফায়দা ও তথ্য প্রদান করেছেন।
সুতরাং এই পাণ্ডুলিপিটির হক হলো এটি কালির পরিবর্তে গলিত স্বর্ণ দিয়ে লেখা হবে এবং হিফয ও দরসের ক্ষেত্রে অন্য সবকিছুর ওপর একে প্রাধান্য দেওয়া হবে। যদিও ইমাম আব্দুল গনি আল-মাকদিসির "উমদাতুল আহকাম"-এর পর এটি—অর্থাৎ এই টীকাযুক্ত আল-ইলমাম—অধ্যয়ন করা হয়, তবুও এ দুটির হাফেজ ব্যক্তি তার শক্তিশালী দলীল ও প্রমাণের কারণে ইলমের এক বিশেষ স্তরে উন্নীত হতে পারেন। কেননা এই উভয় গ্রন্থে যা রয়েছে তা সামগ্রিকভাবে সহিহ। সুতরাং ইলম অন্বেষণকারী ও আলেমগণ এই মূল্যবান উপহার পেয়ে আনন্দিত হোন এবং এই সুউচ্চ মণি-মুক্তার মাধ্যমে তাঁদের বক্ষ প্রশস্ত হোক।
* এই পাণ্ডুলিপিটি তুরস্কের কোপরুলু লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যার নম্বর (২৫০)। এটি ১৪২টি পাতার সমন্বয়ে গঠিত। এর প্রচ্ছদে এর অনুলিপিকারীর নাম রয়েছে, আর তিনি হলেন ইমাম হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)। এর ওপর একাধিক ব্যক্তির মালিকানা স্বত্বের বিবরণ রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো তাঁর পুত্র ওমরের মালিকানা।
ইতিপূর্বে যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, এর পার্শ্বটীকাগুলো ইমাম হাফেজ শামসুদ্দিনের তাহকিক ও ফায়দাগুলো দিয়ে সজ্জিত। এছাড়াও এতে একাধিক আলেমের কিছু টীকা রয়েছে যারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ١١)
وقَفُوا على هذه النُّسخةِ، منهم: الإمامُ المؤرِّخُ ابنُ حِجِّي رحمه الله.
وجاء في آخرِها تاريخُ الفراغِ من النسخ وهو سنة (729 هـ).
* * *
عملي في الكتاب:1 - نسخُ الأصلِ المخطوط بالاعتماد على النُّسخة الخطِّيَّةِ المُشَار إليها، والتي انتسخها الإمامُ الحافظُ ابنُ عبد الهادي بخطِّه.
2 - قابلتُ المنسوخَ على الأصلِ الخَطِّي مَرَّتين مع أَخوينِ من أفاضِلِ إخوتي.
3 - ضبطتُ الكتابَ مع حَواشيه بالشَّكْل شِبْهِ الكامل، وقد كان جُلُّ اعتمادي على ضبطِ الإمام الحافظ شمس الدِّين بن عبد الهادي في هذه النسخة.
4 - رقمتُ أحاديثَ الكتابِ تَرقيمًا تسلسليًا.
5 - خرَّجتُ أحاديثَ الكتاب بذِكر رقم الحديث أو الجزء والصفحة، ملتزِمًا ما خرَّجه الإمامُ ابنُ دقيق العيد، والإضافة إليه إنْ كان ثَمَّة ضرورة إلى ذلك.
6 - جعلتُ كتاب "الإلمام" منفصلًا عن حواشيه، ورمزتُ لحواشي الإمامِ الحافظ شمس الدِّين بن عبد الهادي بمزهرة هكذا (*).
7 - شرحتُ غريبَ الحديث والمُشْكِل، معتمدًا على أمَّهات كتب المعاجم؛ كـ "الصِّحاح" للجوهري، و"لسان العرب" لابن مَنظور، و"القاموس المحيط" للفيروزأبادي، و"المصباح المنير" للفَيومي، و"النهاية
তারা এই পাণ্ডুলিপিটি দেখেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইতিহাসবিদ ইমাম ইবনে হিজ্জি (রহিমাহুল্লাহ)।
এর শেষে অনুলিপি সম্পন্ন করার তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, যা হলো (৭২৯ হিজরি) সাল।
* * *
কিতাবে আমার কাজ:১ - উল্লিখিত পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে মূল পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করা, যা ইমাম হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদী স্বহস্তে অনুলিপি করেছিলেন।
২ - আমি আমার দুই মর্যাদাবান ভাইয়ের সাথে অনুলিপিটিকে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে দুইবার মিলিয়ে দেখেছি।
৩ - আমি কিতাবটিকে তার টীকা-টিপ্পনীসহ প্রায় পূর্ণাঙ্গভাবে হরকত প্রদান করেছি; এক্ষেত্রে আমার প্রধান নির্ভরতা ছিল এই পাণ্ডুলিপিতে ইমাম হাফেজ শামসুদ্দিন ইবনে আব্দুল হাদীর দেওয়া হরকতের ওপর।
৪ - আমি কিতাবের হাদিসগুলোকে ধারাবাহিক নম্বর প্রদান করেছি।
৫ - হাদিস নম্বর অথবা খণ্ড ও পৃষ্ঠা উল্লেখ করে আমি কিতাবের হাদিসগুলোর তাখরিজ করেছি; এক্ষেত্রে ইমাম ইবনে দাকিক আল-ঈদের কৃত তাখরিজ অনুসরণ করেছি এবং যেখানে প্রয়োজন ছিল সেখানে অতিরিক্ত তথ্য যোগ করেছি।
৬ - আমি "আল-ইলমাম" কিতাবটিকে তার টীকাগুলো থেকে পৃথক রেখেছি এবং ইমাম হাফেজ শামসুদ্দিন ইবনে আব্দুল হাদীর টীকাগুলোকে এই চিহ্নের (*) মাধ্যমে চিহ্নিত করেছি।
৭ - আমি অভিধানের মূল কিতাবগুলোর ওপর ভিত্তি করে হাদিসের দুর্বোধ্য ও জটিল শব্দাবলির ব্যাখ্যা করেছি; যেমন— জাওহারীর "আস-সিহাহ", ইবনে মানজুরের "লিসানুল আরব", ফিরোজাবাদীর "আল-কামুসুল মুহিত", ফাইয়ুমীর "আল-মিসবাহুল মুনির" এবং ইবনুল আসিরের "আন-নিহায়া"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ١٢)
في غريب الحديث" لابن الأثير.
وكذا اعتمدتُ شروحَ كتبِ الحديثِ المشهورة كـ "فتح الباري" لابن حَجر، و"عمدة القاري" للعَيني، و"شرح مسلم" للنَّووي، وشروح "مصابيح السُّنة" للبيضَاوي والمُظْهِري وزَينِ العرب، و"مِرْقاة المفاتيح شرحِ مشكاة المصابيح" لمُلَّا علي القاري، و"نيل الأوطار" للشَّوكاني، و"سبل السلام" للصَّنْعاني.
8 - ختمتُ الكتابَ بفِهْرِسٍ لأطرافِ الأحاديث النَّبوية الشَّريفة، وفهرِس لأسماء الكُتُب والأبواب.
9 - قدمتُ للكتابِ بمقدِّمة عن كتابِ "الإلمامِ" لابن دقيق العيد، وحواشي الإمامِ الحافظ ابنِ عبد الهادي عليه، ثم ترجمتُ للإمامين ابنِ دقيق العيد وابنِ عبد الهادي رحمهما اللَّه تعالى.
اللهم إنِّي أسألُكَ أنْ تَغمُرَني وإخواني بلُطْفِكَ ورحمتِكَ، وأنْ تجعلَنا مِنْ سالكي هَدْيكَ، ومِنَ الحافظين لسُنَّة حبيبِكَ ونبيِّكَ محمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، اللهمَّ آمين.
وكتبه
أَبو عبْد اللَّه
مَحَمَّد خَلُّوف العبْد اللَّه
22 / جمادى الآخر / 1433 هـ - 13/ 5 / 2012 م
دمشق الشام
حرسها اللَّه من الشرور والآثام
* * *
ইবনুল আসিরের "গারীবুল হাদীস" গ্রন্থে।
তদ্রূপ আমি হাদীসের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের ভাষ্যগ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি, যেমন ইবনে হাজারের "ফাতহুল বারী", আইনীর "উমদাতুল ক্বারী", নববীর "শরহু মুসলিম", বায়যাবী, মাযহারী ও যাইনুল আরবের "মাসাবীহুস সুন্নাহ"-এর ভাষ্যসমূহ, মোল্লা আলী ক্বারীর "মিরকাতুল মাফাতিহ শরহু মিশকাতুল মাসাবীহ", শাওকানীর "নাইলুল আওতার" এবং সান'আনীর "সুবুলুস সালাম"।
৮ - আমি গ্রন্থটি হাদীসে নববী শরীফের অংশসমূহের (আতরাফ) একটি নির্ঘণ্ট এবং কিতাব ও অধ্যায়সমূহের নামের একটি নির্ঘণ্ট দ্বারা সমাপ্ত করেছি।
৯ - আমি কিতাবটির শুরুতে ইবনে দাকীকুল ঈদের "আল-ইলমাম" গ্রন্থ এবং তার ওপর ইমাম হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদীর টীকা সম্পর্কে একটি ভূমিকা প্রদান করেছি, অতঃপর ইমাম ইবনে দাকীকুল ঈদ এবং ইবনে আব্দুল হাদী (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন) - এই দুই ইমামের জীবনী পেশ করেছি।
হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমাকে ও আমার ভাইদেরকে আপনার অনুগ্রহ ও রহমতে সিক্ত করেন, এবং আমাদেরকে আপনার হেদায়েতের পথচারী এবং আপনার হাবীব ও নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর হিফাযতকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। হে আল্লাহ, কবুল করুন।
এটি লিখেছেন
আবু আব্দুল্লাহ
মুহাম্মদ খাল্লাফ আল-আব্দুল্লাহ
২২ / জুমাদাল আখিরা / ১৪৩৩ হিজরী - ১৩ / ৫ / ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
দামেশক, শাম
আল্লাহ একে সকল অনিষ্ট ও পাপ থেকে রক্ষা করুন
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ١٣)
تَرْجَمَة الإِمَام الْمُجْتَهِدِ ابْنِ دَقِيقِ الْعِيْدِ (1)--------------------------------------------
ইমাম মুজতাহিদ ইবনে দাকীক আল-ঈদের জীবনী (১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ١٤)
*
اسمه ونسبه وولادته:هو الإمامُ، المُجدِّدُ، المجتهد، شيخُ الإسلام، محمدُ بنُ عليِّ بنِ وهبِ بن مُطيع بن أبي طاعة المَنْفَلُوطيُّ، القُوصِي
(1)، الثَّبَجِي، المِصْري المالكي الشافعيُّ، تقيُّ الدِّين، أبو الفتح، ابنُ القاضي الإمامِ أبي الحسن القُشيري، من ذرية بَهْزِ بن حكيم القُشَيريِّ رضي الله عنه
(2)، المشهورُ بـ: ابن دقيقِ العيد
(3).
وُلد في شعبان سنةَ (625 هـ)، في يَنْبُع على ساحل البحر الأحمر، عندما كان والدُه متوجِّهًا من قُوص إلى مكةَ للحج.
* * *
*
نشأته وطلبه للعلم:نشأ الإمامُ ابنُ دقيقِ العيد في أسرة علميَّة، مشهورةٍ بالتديُّن والصلاح؛ فأبوه الشيخُ مجدُ الدِّين أبو الحسن علي، جَمَعَ بين العلم والعمل،
--------------------------------------------
তার নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:তিনি হলেন ইমাম, সংস্কারক, মুজতাহিদ, শাইখুল ইসলাম, মুহাম্মদ বিন আলী বিন ওয়াহাব বিন মুতী' বিন আবি ত্বা'আ আল-মানফালুতি, আল-কুসি
(১), আস-সাবাজি, আল-মিসরি আল-মালিকি আশ-শাফি'য়ি, তাকিউদ্দীন, আবুল ফাতহ, ইমাম কাজি আবুল হাসান আল-কুশায়রির সন্তান, বাহজ বিন হাকিম আল-কুশায়রি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর
(২), যিনি ‘ইবনে দাকীকুল ঈদ’ নামে প্রসিদ্ধ
(৩)।
তিনি ৬২৫ হিজরি সনের শাবান মাসে লোহিত সাগরের তীরের ইয়ানবুতে জন্মগ্রহণ করেন, যখন তাঁর পিতা কুস থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে হজে যাচ্ছিলেন।
* * *
*
তাঁর বেড়ে ওঠা ও জ্ঞানান্বেষণ:ইমাম ইবনে দাকীকুল ঈদ দ্বীনদারি ও নেক আমলের জন্য প্রসিদ্ধ একটি ইলমি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা শাইখ মাজদুদ্দীন আবুল হাসান আলী ইলম ও আমলের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ١٥)
والعبادة، والوَرع والتقوى، والزَّهَادة والإحسان إلى الخلائق مع اختلافهم، وبَذْلِ المجهود في اجتماع قلوبهم وائتلافهم، وقد ارتحل إليه الناسُ من سائر الأقطار، وقَصَدوه من كلِّ النواحي والأمصار
(1).
أما أمُّه: فهي بنتُ الشيخِ الصَّالحِ تقيِّ الدين مُظَفَّر بنِ عبد اللَّه المشهورِ بالمُقْترَح.
قال الأُدفُوي: فأصلاهُ كريمانِ، وأبواهُ عظيمانِ.
وقد ذَكَر والدُه: أنَّه أخذه عند ولادته وطاف به الكعبةَ، وجعل يدعو اللهَ أنْ يجعلَه عالمًا عاملًا.
ابتدأ الشيخُ بقراءة القرآن العظيم، حتى حَصَلَ منه على حظٍّ جسيم، ونشأ بقُوص على حالة واحدة من الصَّمت والاشتغال بالعلوم، ولُزومِ الصيانة والديانة، فاشتغل بالفقهِ على مذهب الإمامين مالك والشافعيِّ على والده، وكان قد اشتغل بمذهب الشافعيِّ أيضًا على تلميذ والده الشيخِ بهاء الدين هِبَةِ اللَّه القِفْطي، وكان يقول: البهاءُ مُعلِّمي.
وقرأ الأصولَ على والده، ثم سَمعَ بمِصْر والشام والحِجاز، على تحرٍّ في ذلك واحتِراز، فرحلَ إلى القاهرة؛ فقرأ على شيخِ الإسلام العزِّ ابنِ عبد السلام، وقرأ العربيةَ على الشيخ شرفِ الدِّين محمد بن أبي الفَضْل المُرْسِي، وغيره.
ثم ارتحل في طلب الحديث إلى دمشقَ والإسكندريَّة وغيرهما، وسمع
--------------------------------------------
ইবাদত, সংযম, তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখতা এবং বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও সৃষ্টিজগতের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শন এবং তাদের অন্তরের মিলন ও ঐক্যের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করা। পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে মানুষ তাঁর নিকট সফর করে আসত এবং সকল জনপদ ও শহর থেকে মানুষ তাঁর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে আসত
(১)।
আর তাঁর মাতা ছিলেন নেককার শায়খ তকিউদ্দীন মুজাফফর বিন আব্দুল্লাহর কন্যা, যিনি 'আল-মুক্তারিহ' নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন।
আল-উদফুউয়ি বলেন: তাঁর উৎস ছিল অত্যন্ত সম্মানিত এবং তাঁর পিতামাতা ছিলেন মহান ব্যক্তিত্ব।
তাঁর পিতা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর জন্মের সময় তাঁকে নিয়ে কাবা ঘর তাওয়াফ করেছিলেন এবং আল্লাহর নিকট এই দুআ করেছিলেন যেন আল্লাহ তাঁকে একজন আমলকারী আলেম হিসেবে কবুল করেন।
শায়খ মহান কুরআনের পাঠের মাধ্যমে শিক্ষা জীবন শুরু করেন এবং তাতে বিশাল বুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি কুস নামক স্থানে অত্যন্ত নীরবতা, জ্ঞানচর্চা এবং নিজের মর্যাদা ও দ্বীনদারিতা রক্ষার মধ্য দিয়ে বড় হয়ে ওঠেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। এছাড়াও তিনি তাঁর পিতার ছাত্র শায়খ বাহাউদ্দীন হিবাতুল্লাহ আল-কিফতির নিকট শাফেয়ী মাযহাবের চর্চা করেন এবং তিনি বলতেন: "বাহাউদ্দীন আমার শিক্ষক"।
তিনি তাঁর পিতার নিকট উসূলে ফিকহ পড়েন। অতঃপর অত্যন্ত সতর্কতা ও সাবধানতার সাথে তিনি মিশর, সিরিয়া ও হিজাজে হাদিস শ্রবণ করেন। এরপর তিনি কায়রোর উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং শায়খুল ইসলাম ইয বিন আব্দুস সালামের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি শায়খ শারাফুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবিল ফজল আল-মুরসি ও অন্যান্যদের নিকট আরবি ভাষা শিক্ষা করেন।
অতঃপর তিনি হাদিস অন্বেষণের উদ্দেশ্যে দামেস্ক, আলেকজান্দ্রিয়া ও অন্যান্য স্থানে সফর করেন এবং শ্রবণ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ١٦)
الحديثَ من والده، والشيخِ الحافظِ عبدِ العظيم المُنْذِري، وأبي العباس أحمدَ بن عبد الدائم بن نِعْمة المقدسيِّ، والحافظ أبي علي الحسن ابن محمد البَكْري، وخلائق.
ثم درَّس بالمدرسة الفاضليَّة، والمدرسة المُجاورة للشافعي، والكامِليَّة، والصالحية بالقاهرة، ودرَّس بقُوص بدار الحديث ببيتٍ له.
وقد اشتُهِر اسمُه في حياة مشايخه، وشاع ذكرُه، وتخرَّج به أئمة، وسَمعَ منه الخلقُ الكثير، والجمُّ الغفير مع قِلَّة تحديثه رحمه الله.
* * *
*
صفاته وأخلاقه:قال ابنُ سيِّد الناسِ: ولم يَزَلْ حافظًا للسانِه، مُقْبلًا على شانه، وَقَفَ نفسَه على العلوم وقَصَرَها، ولو شاء العادُّ أنْ يَعُدَّ كلماتهِ لحَصَرها، وله مع ذلك في الأدبِ باعٌ وِساع، وكرمُ طِباع، لم يخلُ بعضُها من حُسْنِ انطباع، حتى لقد كان محمودُ الكاتب، المحمود في تلك المذاهب، المشهود له بالتقدُّم فيما يشاء من الإنشاء على أهل المشارق والمغارب، يقول: لم ترَ عيني آدبَ منه
(1).
وكان يقول رحمه الله: ما تكلَّمتُ كلمة، ولا فعلتُ فعلًا، إلا وأعددتُ له جوابًا بين يدي اللَّه عز وجل
(2).
--------------------------------------------
তিনি তাঁর পিতা, হাফেজ শেখ আব্দুল আজিম আল-মুনজিরি, আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল দাইম ইবনে নিমাহ আল-মাকদিসি, হাফেজ আবু আলী হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকরি এবং আরও অসংখ্য লোকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
অতঃপর তিনি কায়রোর আল-মাদরাসা আল-ফাদিলিয়্যাহ, ইমাম শাফেয়ীর (মাজারের) নিকটবর্তী মাদ্রাসা, আল-কামিলিয়্যাহ এবং আস-সালিহিয়্যাহ মাদ্রাসায় অধ্যাপনা করেন। এছাড়াও তিনি কুস শহরের দারুল হাদিসে তাঁর নিজস্ব একটি গৃহে অধ্যাপনা করেন।
তাঁর শিক্ষকদের জীবদ্দশাতেই তাঁর নাম প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর মাধ্যমে বহু ইমাম তৈরি হয়েছেন এবং তাঁর হাদিস বর্ণনা কম হওয়া সত্ত্বেও অসংখ্য মানুষ তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
* * *
*
তাঁর গুণাবলি ও চরিত্র:ইবনে সাইয়্যিদুন নাস বলেন: তিনি সর্বদা নিজ জিহ্বার সংবরণ করতেন এবং নিজের কাজেই নিমগ্ন থাকতেন। তিনি নিজেকে ইলমের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন এবং এর মাঝেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। যদি কেউ তাঁর কথা গণনা করতে চাইত, তবে সে তা সীমাবদ্ধ করতে সক্ষম হতো। তা সত্ত্বেও সাহিত্যে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল, যার কিছু কিছু ক্ষেত্রে চমৎকার শৈল্পিক ছাপ পরিলক্ষিত হতো। এমনকি মাহমুদ আল-কাতিব—যিনি লিখনশৈলীর এই ধারায় প্রশংসিত ছিলেন এবং পূর্ব ও পশ্চিমের সকল রচয়িতাদের ওপর যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত ছিল—তিনি বলতেন: "আমার চোখ তাঁর চেয়ে অধিক শিষ্টাচারসম্পন্ন আর কাউকে দেখেনি"
(১)।
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলতেন: "আমি এমন কোনো কথা বলিনি এবং এমন কোনো কাজ করিনি, যার জন্য মহান আল্লাহর সামনে পেশ করার মতো উত্তর আমি প্রস্তুত করে রাখিনি"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وكان رحمه الله يُسْهِرُ ليلَه في العلم والعبادة؛ قرأ الشيخُ ليلةً، فقرأ إلى قوله تعالى: {فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ فَلَا أَنْسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَتَسَاءَلُونَ} [المؤمنون: 101]، فما زال يكرِّرُها إلى مَطْلَعِ الفجر
(1).
قال الصاحبُ شرفُ الدين محمد بن الصاحب: سمعتُ الشيخَ الإمامَ شهابَ الدِّين القَرافيَّ المالكيَّ يقول: أقام الشيخُ تقيُّ الدينِ أربعينَ سنةً لا ينامُ الليل، إلا أنَّه كان إذا صلَّى الصبحَ اضطجع على جَنبِهِ إلى حيثُ يتضحَّى النَّهار
(2).
وكان رحمه الله يحاسِبُ نفسَه على الكلام، ويأخذُ عليها بالمَلَام، لكنه تولَّى القضاء في آخر عُمُره، وذاقَ مِنْ حُلْوِّه ومُرِّه، على أنَّه عَزَلَ نفسَه مرةً بعدَ مرَّة، وتنصَّلَ منه كَرَّة بعد كَرَّة.
وله في القضاءِ آثارٌ حَسَنة، منها انتزاعُ أوقافٍ كانت أُخِذَت واقتُطِعَت، ومنها أنَّ القُضاة كان يُخْلَع عليهم الحَرير، فخُلِع على الشيخ الصُّوف فاستمرَّ، وكان يكتب إلى النُّواب يُذكِّرُهم ويحذِّرُهم
(3).
وكان رحمه الله كريمًا جوادًا سخيًا.
وكان يقول: ضابطُ ما يُطلبُ مِنِّي أنْ يجوزَ شرعًا، ثم لا أبخل
(4).
--------------------------------------------
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) রাত জেগে ইলম ও ইবাদতে সময় কাটাতেন। শায়খ এক রাতে তিলাওয়াত করছিলেন, তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত পৌঁছালেন: {যখন শিঙায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরের খোঁজ নেবে না} [আল-মুমিনুন: ১০১], এরপর তিনি ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত বারবার এটিই তিলাওয়াত করতে থাকলেন
(১).
আস-সাহিব শরফ উদ্দিন মুহাম্মদ ইবন আস-সাহিব বলেন: আমি শায়খ আল-ইমাম শিহাব উদ্দিন আল-কারাফি আল-মালিকিকে বলতে শুনেছি: শায়খ তাকি উদ্দিন চল্লিশ বছর যাবৎ রাতে ঘুমাতেন না; তবে ফজর সালাত আদায়ের পর বেলা না ওঠা পর্যন্ত তিনি পার্শ্ব পরিবর্তন করে শুয়ে থাকতেন
(২).
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিজের কথার হিসাব নিতেন এবং এ জন্য নিজেকে তিরস্কার করতেন। তবে জীবনের শেষ দিকে তিনি বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এর তিক্ত ও মধুর উভয় দিকের স্বাদ গ্রহণ করেন; যদিও তিনি বারবার নিজেকে সে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে চেয়েছেন এবং বারবার তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
বিচারকার্যে তাঁর অনেক ভালো নিদর্শন রয়েছে, তন্মধ্যে একটি হলো এমন কিছু ওয়াকফ সম্পদ পুনরুদ্ধার করা যা আত্মসাৎ বা কর্তন করা হয়েছিল। আরেকটি হলো, বিচারকদের তখন রেশমি পোশাক পরানো হতো, কিন্তু শায়খকে পশমি পোশাক পরানো হয়েছিল এবং তিনি তা-ই অব্যাহত রাখেন। তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের কাছে চিঠি লিখে তাঁদের নসিহত করতেন এবং সতর্ক করতেন
(৩).
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) অত্যন্ত সম্মানিত, দানশীল ও মহানুভব ছিলেন।
তিনি বলতেন: আমার কাছে যা চাওয়া হয় তার মূলনীতি হলো তা শরিয়তসম্মত হওয়া; এরপর আমি কার্পণ্য করি না
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وكان رحمه الله متحرِّزًا جدًّا في أمر النجاسة، مشدِّدًا على نفسِه، وله في ذلك حكاياتٌ ووقائعُ عَجيبة.
وكان رحمه الله عزيزَ النفسِ، خفيفَ الروح، لطيفًا، على نُسُك وورع، ودينٍ مُتَّبع، يُنْشِدُ الشِّعر والزَّجَل والمُوشَّح، وكان يستحسن ذلك، رحمه اللَّه تعالى ورضي عنه.
* * *
*
علم الإمام ابن دقيق رحمه الله:تفرَّدَ الإمامُ ابنُ دقيقِ العيد في عُلوم كثيرة، فكانَ حافظًا مُكْثِرًا، إلا أنَّ الروايةَ عَسُرت عليه لقلَّة تحديثه، فإنَّه كان شديدَ التحرِّي في ذلك
(1)، وكان خبيرًا بصناعة الحديث، وهو إمامُ الدنيا في فِقه الحديث والاستنباط
(2).
قال الذَّهبيُّ: أربعةٌ تعاصروا: التقيُّ ابنُ دقيق العيد، والشَّرف الدِّمياطي، والتقيُّ ابنُ تَيمية، والجمال المِزِّيُّ، قال الذهبيُّ: أعلمُهم بعلل الحديث والاستنباطِ ابنُ دقيقِ العيد، وأعلمهم بالأنساب الدِّمياطي، وأحفظُهم للمتون ابنُ تيمية، وأعلمُهم بالرجال المِزِّيُّ
(3).
وكان رحمه الله يحقِّقُ المذهبينِ المالكيَّ والشافعيَّ تحقيقًا عظيمًا،
--------------------------------------------
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) অপবিত্রতার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন, নিজের ওপর কঠোরতা অবলম্বন করতেন এবং এ বিষয়ে তাঁর অনেক বিস্ময়কর কাহিনী ও ঘটনা রয়েছে।
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) অত্যন্ত আত্মমর্যাদা সম্পন্ন, প্রফুল্ল চিত্ত ও কোমল স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। তিনি ইবাদত-বন্দেগি, পরহেজগারি এবং শরয়ি বিধিবিধানের অনুসরণে অবিচল ছিলেন। তিনি কবিতা, যজল এবং মুওয়াশাহ আবৃত্তি করতেন এবং বিষয়টিকে তিনি পছন্দ করতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
* * *
*
ইমাম ইবনু দাকীক (রহিমাহুল্লাহ)-এর জ্ঞান:ইমাম ইবনু দাকীকিল ঈদ বহু জ্ঞানে অনন্য ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন হাফিয এবং অধিক হাদিস বর্ণনাকারী, তবে তাঁর হাদিস বর্ণনা করাটা তাঁর জন্য কঠিন ছিল কারণ তিনি হাদিস বর্ণনা খুব কম করতেন। কেননা তিনি এ বিষয়ে অত্যন্ত নিখুঁত ও সাবধানী ছিলেন
(১)। তিনি হাদিস শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন এবং হাদিসের ফিকহ ও বিধান আহরণের (ইস্তিনবাত) ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সমকালীন বিশ্বের ইমাম
(২)।
আয-যাহাবী বলেন: চারজন মনীষী সমসাময়িক ছিলেন: তাকীউদ্দীন ইবনু দাকীকিল ঈদ, শারাফুদ্দীন আদ-দিময়াতি, তাকীউদ্দীন ইবনু তাইমিয়াহ এবং জামালুদ্দীন আল-মিযযী। যাহাবী আরও বলেন: হাদিসের সূক্ষ্ম দোষ-ত্রুটি (ইলাল) এবং বিধান আহরণে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন ইবনু দাকীকিল ঈদ, বংশলতিকা বিদ্যায় সবচেয়ে বিজ্ঞ ছিলেন আদ-দিময়াতি, হাদিসের মূল পাঠ (মতন) মুখস্থ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পারদর্শী ছিলেন ইবনু তাইমিয়াহ এবং বর্ণনাকারীদের জীবনবৃত্তান্ত (রিজাল শাস্ত্র) সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানতেন আল-মিযযী
(৩)।
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মালিকি ও শাফিয়ি উভয় মাজহাব অত্যন্ত গভীরভাবে তাহকীক (গবেষণা) করতেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وله اليدُ الطُّولى في الفُروع والأصول، وفي تصانيفه من الفُروع الغريبة والوجوهِ والأقاويل ما ليس في كثيرٍ من المبسوطات، ولا يعرفه كثيرٌ من النَّقَلة
(1)، وكان لا يَسْلُكُ المِراءَ في بحثه، بل يتكلَّمُ كلماتٍ يسيرةً بسكينةٍ ولا يُراجَع
(2).
وكان رحمه الله في نقده وتدقيقه لا يُوازى، حتى قال الشيخُ صَدْرُ الدينِ بنُ الوَكيل: إذا نَقَد وحرَّر فلا يَوفِيه أحد
(3). فإنَّه كان رحمه الله صحيحَ الذِّهن، كما قال علاءُ الدينِ الباجي
(4).
وله - مع ذلك - النَّظمُ الفائق، المشتملُ على المعنى البديع واللفظِ الرَّائق، السَّهلِ المُمْتنع، والمَنْهجِ المُسْتَعْذَبِ المَنْبع، والذي يَصْبو إليه كلُّ فاضل، ويستحسِنُه كلُّ أديب كامل.
وله أيضًا نثرٌ أحسنُ من الدُّرر، ونظمٌ أبهجُ مِنْ عقود الجوهر، ولو لم يكن له إلا ما تضمَّنته خطبةُ "شرح الإلمام"، لشُهِدَ له من الأدبِ بأوفر الأقسام
(5).
قال الأُدفُوي: رأيتُ خزانةَ المدرسة "النّجيبة" بقُوص، فيها جملةُ كتب؛ من جملتها: "عيون الأدلة" لابنِ القَصَّار في نحوٍ من ثلاثينَ مُجلدة،
--------------------------------------------
ফুরু ও উসুল শাস্ত্রে তাঁর অনন্য পাণ্ডিত্য ছিল। তাঁর রচনাবলিতে এমন সব বিরল শাখা-মাসআলা, অভিমত ও মতামত রয়েছে যা অনেক বিস্তারিত গ্রন্থেও পাওয়া যায় না এবং অনেক বর্ণনাকারীও
(১) সে সম্পর্কে অবগত নন। তিনি তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনায় বিতর্ক পরিহার করতেন; বরং অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে সংক্ষেপে কথা বলতেন এবং তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করা হতো না
(২)।
আল্লাহ তাঁকে রহম করুন, সমালোচনা ও সূক্ষ্ম বিচারে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। এমনকি শাইখ সদরুদ্দিন ইবনুল ওয়াকিল বলতেন: "তিনি যখন কোনো বিষয়ের সমালোচনা ও পরিমার্জন করতেন, তখন কেউই তাঁর সমকক্ষ হতে পারত না"
(৩)। কেননা তিনি ছিলেন প্রখর মেধার অধিকারী, যেমনটি আলাউদ্দিন আল-বাজি বলেছেন
(৪)।
এর পাশাপাশি তাঁর ছিল চমৎকার কাব্যশৈলী, যা অপূর্ব অর্থ ও স্বচ্ছ শব্দে সমৃদ্ধ। এটি ছিল অত্যন্ত প্রাঞ্জল অথচ দুর্লভ এবং এমন এক মধুর উৎসজাত রচনাশৈলী, যা প্রতিটি গুণী ব্যক্তি কামনা করেন এবং প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যিক পছন্দ করেন।
তাঁর গদ্য ছিল মুক্তার চেয়েও সুন্দর এবং পদ্য ছিল মণি-মুক্তার মালার চেয়েও উজ্জ্বল। তাঁর যদি কেবল 'শারহুল ইলমাম' গ্রন্থের ভূমিকাটিই থাকত, তবে সাহিত্যের সর্বোচ্চ স্তরের অধিকারী হিসেবে তাঁর জন্য সেটিই যথেষ্ট হতো
(৫)।
আদফুওয়ী বলেন: "আমি কুস-এর ‘নাজিবিয়্যাহ’ মাদরাসার লাইব্রেরি দেখেছি, সেখানে অনেক কিতাব ছিল। সেগুলোর মধ্যে ইবনুল কাসসারের ‘উয়ুনুল আদিল্লাহ’ কিতাবটিও ছিল যা প্রায় ত্রিশ খণ্ডে সমাপ্ত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وعليها علاماتٌ له، وكذلك رأيتُ كتبَ المدرسةِ "السابقية"؛ رأيت على "السننِ الكبير" للبيهقيِّ فيها في كلِّ مجلدة علامةٌ، وفيها "تاريخ الخطيب" كذلك، و"معجم الطَّبراني الكبير"، و"البسيط" للواحدي، وغير ذلك
(1).
وأخبر الشيخُ الفقيهُ سِراجُ الدين الدَّندري: أنَّه لمَّا ظَهَر "الشرح الكبير" -وهو فتحُ العزيز في شرح الوجيز- للرافعي، اشتراهُ بألف دِرْهم، وصار يُصلِّي الفرائضَ فقط، واشتغلَ بالمطالعة، إلى أنْ أنهاهُ مطالعةً
(2).
وكان رحمه الله يقول: ما خَرَجتُ من باب من أبواب الفقه واحتجت أنَّ أعودَ إليه
(3).
* * *
*
بلوغه رتبةَ الإجتهاد:كانَ الإمامُ ابنُ دقيق رحمه الله من أذكى الأئمة قريحةً، قال عن نفسه رحمه الله: وافقَ اجتهادي اجتهادَ الشافعيِّ إلا في مسألتين. قال الصَّفديُّ: وحسبُكَ بمَنْ يتنزَّل ذهنُه على ذِهْنِ الشافعي
(4).
وقال الصَّفَدِي: وما أُراه إلا أنَّه بَعَثهُ اللَّهُ تعالى على رأس المئةِ ليجدِّدَ
--------------------------------------------
এবং সেগুলোতে তাঁর (পঠন-পাঠনের) চিহ্ন রয়েছে, একইভাবে আমি ‘সাবিকিয়া’ মাদ্রাসার কিতাবসমূহ দেখেছি; তাতে বায়হাক্বীর ‘আস-সুনান আল-কাবীর’-এর প্রতিটি খণ্ডে আমি চিহ্ন দেখেছি, এবং তাতে ‘তারীখুল খতিব’, তাবারানীর ‘আল-মু’জামুল কাবীর’, ওয়াহিদীর ‘আল-বাসীত’ এবং অন্যান্য কিতাবেও অনুরূপ ছিল
(১)।
ফকীহ শায়খ সিরাজুদ্দীন আদ-দান্দারী বর্ণনা করেছেন যে: যখন রাফেয়ীর ‘আশ-শারহুল কাবীর’—যা ‘আল-ওয়াজীয়’ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল আযীয’—প্রকাশিত হয়, তখন তিনি সেটি এক হাজার দিরহাম দিয়ে ক্রয় করেন এবং কেবল ফরয সালাতসমূহ আদায় করতেন আর পাঠে মগ্ন থাকতেন, যতক্ষণ না তিনি তা আদ্যোপান্ত পাঠ করে শেষ করেন
(২)।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলতেন: আমি ফিকহের এমন কোনো অধ্যায় থেকে উত্তীর্ণ হইনি যেখানে আমাকে পুনরায় ফিরে আসার প্রয়োজন হয়েছে
(৩)।
* * *
*
ইজতিহাদের স্তরে উপনীত হওয়া:ইমাম ইবনে দাক্বীক্ব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মেধার দিক থেকে আইম্মায়ে কেরামের মধ্যে অন্যতম প্রখর ছিলেন। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছিলেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন): কেবল দুটি মাসআলা ব্যতীত আমার ইজতিহাদ ইমাম শাফেয়ীর ইজতিহাদের সাথে মিলে গিয়েছে। সাফাদী বলেন: আপনার জন্য সেই ব্যক্তিই যথেষ্ট যার চিন্তা ইমাম শাফেয়ীর চিন্তার স্তরে উপনীত হয়
(৪)।
সাফাদী আরও বলেন: আমি মনে করি মহান আল্লাহ তাঁকে শতাব্দীর শুরুতে দ্বীন সংস্কারের জন্য পাঠিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٢١)
لهذه الأمةِ دينَهم
(1).
قال الذهبيُّ: وقد كانَ على رأسِ السَّبعِ مئة شيخُنا أبو الفتحِ ابنُ دقيقِ العيد
(2).
قال السُّبكي: ولم نُدْرِكْ أحدًا مِنْ مشايخنا يختلفُ في أنَّ ابنَ دقيق العيد هو العالمُ المبعوثُ على رأس السبع مئة، المشارُ إليه في الحديث المُصْطَفوي النبويُّ صلى الله عليه وسلم، وأنه أستاذُ زمانِه عِلمًا ودينًا
(3).
وقد كُتب له (بَقيَّةُ المجتهدين)، وقُرِئ بين يديه، فأقرَّ عليه
(4).
* * *
*
مشاهير شيوخه:1 - ابنُ المقيَّر: الإمامُ المُسْنِدُ الصَّالح، رحلةُ الوقت، أبو الحسنِ عليُّ
--------------------------------------------
এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনকে
(১)।
আয-যাহাবী বলেন: সাতশ হিজরির শুরুতে আমাদের শায়খ আবুল ফাতহ ইবনু দাকীকিল ঈদ বিদ্যমান ছিলেন
(২)।
আস-সুবকী বলেন: আমরা আমাদের শায়খদের মধ্য থেকে এমন কাউকে পাইনি যিনি ইবনু দাকীকিল ঈদ সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেছেন যে, তিনি হলেন সেই আলেম যাকে সাতশ হিজরির শুরুতে পাঠানো হয়েছে, যার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসে ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং তিনি জ্ঞান ও দ্বীনদারিতে তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন
(৩)।
তাঁর সম্পর্কে (মুজতাহিদগণের অবশিষ্টাংশ) কথাটি লেখা হয়েছিল এবং তাঁর সামনে তা পাঠ করা হয়েছিল, আর তিনি তা বহাল রেখেছিলেন (স্বীকৃতি দিয়েছিলেন)
(৪)।
* * *
*
তাঁর প্রসিদ্ধ শায়খগণ:১ - ইবনুল মুকাইয়ার: ইমাম, হাদীস বর্ণনাকারী, নেককার, সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ জ্ঞান-মুসাফির, আবুল হাসান আলী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ابنُ الحسينِ بنِ عليِّ بن منصور بن المُقيَّر، البغداديُّ، الأَزْجيُّ، الحنبلي، كان شيخًا صالحًا، كثيرَ التهجُّدِ والعبادة والتلاوة، وكان مُشتغلًا بنفسه.
قال التَّجيبي في "مستفاد الرحلة"
(1): وهو أقدمُ مَنْ سَمِعَ عليه سنًا. توفي سنة (643 هـ)
(2).
2 - المُنْذري: الحافظُ الكَبير، والإمامُ الثَّبْتُ النَّحْرير، عبدُ العظيمِ ابنُ عبد القويِّ بن عبد اللَّه بن سلامة، أبو مُحمد المُنْذريُّ، الشاميُّ المِصْريُّ.
كان عديمَ النَّظيرِ في معرفة علمِ الحديث على اختلاف فُنونه، عالمًا بصحيحهِ وسَقيمهِ، ومَعْلُوله وطُرُقِه، متبحِّرًا في معرفة أحكامه ومَعانيه ومُشْكِله.
له تصانيفُ عِدَّة منها: "الترغيب والترهيب"، و"مختصر مسلم"، و"مختصر سنن أبي داود". قال السُّبكي: وبه تَخرَّج أبو محمدٍ الدِّمياطيُّ، وإمامُ المتأخرين تقيُّ الدينِ ابنُ دقيقِ العيد. توفي سنة (656 هـ)
(3).
--------------------------------------------
ইবনে আল-হুসাইন বিন আলী বিন মনসুর বিন আল-মুকাইয়ার, আল-বাগদাদী, আল-আজজি, আল-হাম্বলী। তিনি একজন নেককার শায়খ ছিলেন, অধিক তাহাজ্জুদ গুজার, ইবাদতকারী এবং তিলাওয়াতকারী ছিলেন এবং তিনি নিজের কাজ নিয়ে মগ্ন থাকতেন।
আত-তাজিবি "মুস্তাফাদ আর-রিহলাহ"
(১)-এ বলেন: তিনি বয়সে তার নিকট শ্রবণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ ছিলেন। তিনি (৬৪৩ হি.) সনে মৃত্যুবরণ করেন
(২)।
২ - আল-মুনজিরি: মহান হাফেজ, এবং সুদৃঢ় ও গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন ইমাম, আব্দুল আজিম ইবনে আব্দুল কাবি ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালামাহ, আবু মুহাম্মাদ আল-মুনজিরি, আশ-শামি আল-মিসরি।
তিনি হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় জ্ঞানের ক্ষেত্রে অতুলনীয় ছিলেন; এর সহিহ, সাকিম (দুর্বল), মা'লুল (ত্রুটিযুক্ত) এবং এর সূত্রসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ অবগত ছিলেন এবং এর বিধান, অর্থ ও জটিল বিষয়সমূহ উপলব্ধিতে পারদর্শী ছিলেন।
তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে আছে: "আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব", "মুখতাসার মুসলিম" এবং "মুখতাসার সুনানে আবু দাউদ"। আস-সুবকি বলেন: তাঁর মাধ্যমেই আবু মুহাম্মাদ আদ-দিমইয়াতি এবং পরবর্তী যুগের ইমাম তাকি উদ্দিন ইবনে দাকীক আল-ঈদ শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি (৬৫৬ হি.) সনে মৃত্যুবরণ করেন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
3 - العِزُّ بنُ عبد السلام: شيخُ الإسلامِ، وحيدُ عَصْرِه، وسُلطان العلماءِ، عبدُ العزيزِ بنُ عبد السلام، أبو محمد السُّلَميُّ، الدمشقيُّ، ثم المِصْري، الشافعيُّ.
بَرَعَ في الفقه والأصول، ودرَّسَ وأفتى وصَنَّف، وبلغَ رتبةَ الاجتهاد، وانتهت إليه رئاسةُ المَذهب مع الزهد والورع، والأمرِ بالمعروف والنهي عن المُنكر، والصَّلابة فِي الدين.
قال عنه الشيخُ ابنُ دقيق: كان ابنُ عبد السلام أحدَ سلاطينِ العلماء، ويقال: إنَّ ابنَ دقيق هو أولُ مَنْ لقَّبه بـ: سلطان العلماء.
ويحكى أنَّ ابنَ عبد السلام كان يقول: ديارُ مِصْر تفتخرُ برجلين في طَرفيها: ابنُ منيِّرٍ بالإسكندريَّة، وابنُ دقيق العيد بقُوص. توفي سنة (660 هـ)
(1).
4 - الفَخْرُ بنُ البُخَاري: مُسْنِدُ الدُّنيا، أبو الحسن علي بنُ أحمد بن عبدِ الواحد، الفخرُ بنُ البخاريِّ السَّعْدي، المقدسيُّ الصالحيُّ، الحنبليُّ.
طالَ عمُره، ورحلَ الطلبةُ إليه من البلاد، وأَلْحَقَ الأسباطَ بالأجدادِ في عُلوِّ الإسناد، وقد تفرَّد في الدنيا بالرواية العالية.
قال الذهبيُّ: قال شيخُنا ابنُ تيميةَ: ينشرِحُ صَدْري إذا أدخلتُ ابنَ
--------------------------------------------
৩ - আল-ইজ্জ বিন আবদুস সালাম: শায়খুল ইসলাম, তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তি, সুলতানুল উলামা (আলেমদের সুলতান), আবদুল আজিজ বিন আবদুস সালাম, আবু মুহাম্মদ আস-সুলামী, দামেশকী, অতপর মিসরীয়, শাফেয়ী।
তিনি ফিকহ ও উসূলশাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন, পাঠদান ও ফতোয়া প্রদান করেন এবং গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ইজতিহাদের স্তরে উপনীত হন এবং মাযহাবের নেতৃত্ব তাঁর কাছে এসেই সমাপ্ত হয়; সেই সঙ্গে তাঁর মাঝে ছিল দুনিয়া-বিমুখতা, তাকওয়া, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং দ্বীনের ব্যাপারে আপসহীনতা।
শায়খ ইবনে দাকীক তাঁর সম্পর্কে বলেন: ইবনে আবদুস সালাম ছিলেন আলেমদের সুলতানদের অন্যতম। বলা হয়ে থাকে যে, ইবনে দাকীকই প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁকে 'সুলতানুল উলামা' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
বর্ণিত আছে যে, ইবনে আবদুস সালাম বলতেন: মিসর ভূখণ্ড তার দুই প্রান্তের দুজন ব্যক্তির জন্য গর্ববোধ করে: আলেকজান্দ্রিয়ার ইবনে মুনাইর এবং কূসের ইবনে দাকীক আল-ঈদ। তিনি ৬৬০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
(১)।
৪ - আল-ফাখর বিন আল-বুখারী: মুসনিদুদ দুনিয়া (বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সনদধারী), আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন আবদুল ওয়াহিদ, আল-ফাখর বিন আল-বুখারী আস-সাদী, মাকদিসী আস-সালিহী, হাম্বলী।
তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে ছুটে আসত। সনদের উচ্চতার (উলুউউল ইসনাদ) মাধ্যমে তিনি নাতিদেরকে দাদাদের স্তরে পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং উচ্চতর রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে পৃথিবীতে অনন্য ছিলেন।
যাহাবী বলেন: আমাদের শায়খ ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: আমার বক্ষ প্রশান্ত হয় যখন আমি ইবনে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
البخاريِّ بيني وبينَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم في حديث. توفي سنة (690 هـ)
(1).
* * *
*
مشاهير تلاميذته:1 - نجمُ الدِّين بنُ الرِّفْعة الشافعيُّ: الإمامُ العلَّامة، أحمدُ بنُ محمدِ ابنِ عليِّ بن مُرْتفع، أبو العباس المِصْريُّ الشافعيُّ، حاملُ لواء الشافعية في زمانه، كان فقيهًا فاضلًا، وإمامًا في عُلوم كثيرة، وقد أثنى عليه الإمامُ ابنُ دقيق، وكان يُعظِّمه، ويقول له إذا خاطبه: يا فقيه.
وله تصانيفٌ لِطاف؛ منها: "المَطْلب في شرح الوسيط" وهو أعجوبةٌ في كثرةِ النُّصوص والمَباحث، ومنها: "الكِفاية في شرح التنبيه" وقد فاقَ به على الشروحِ السابقة. توفي سنة (710 هـ) رحمه اللَّه تعالى
(2).
2 - ابنُ سَيِّد النَّاسِ: الحافظُ العلامة المُتفنِّنُ، والأديبُ المشهورُ، محمدُ بنُ محمدِ بنِ محمد بن أحمدَ، أبو الفتح، فتحُ الدِّين اليَعْمُريُّ الشافعيُّ.
--------------------------------------------
বুখারি, একটি হাদিসে আমার এবং নবির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাঝে। তিনি ৬৯০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন
(১).
* * *
*
তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রবৃন্দ:১ - নাজমুদ্দিন বিনুর রিফআ আশ-শাফিয়ি: ইমাম, আল্লামা, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ ইবনে আলি বিন মুরতাফি, আবুল আব্বাস আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি, নিজ সময়ে শাফিয়ি মাজহাবের ঝাণ্ডাবাহী। তিনি একজন বিদগ্ধ ফকিহ এবং বহু শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন। ইমাম ইবনু দাকিক তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁকে সম্মান করতেন; তিনি যখন তাঁকে সম্বোধন করতেন তখন বলতেন: হে ফকিহ।
তাঁর চমৎকার কিছু রচনা রয়েছে; তন্মধ্যে রয়েছে: "আল-মাতলাব ফি শারহিল ওয়াসিত", যা উদ্ধৃতি এবং আলোচনার প্রাচুর্যের কারণে এক বিস্ময়কর কাজ। আরও রয়েছে: "আল-কিফায়া ফি শারহিত তানবিহ", যা দ্বারা তিনি পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোকে ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি ৭১০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
(২)।
২ - ইবনু সাইয়্যিদিল নাস: হাফেজ, আল্লামা, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ, আবুল ফাতহ, ফাতহুদ্দিন আল-ইয়ামুরি আশ-শাফিয়ি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
لازمَ ابنَ دقيقٍ، وتخرَّجَ عليه في أصول الفقه، وأعادَ عِنده، وكان يحبُّه ويُؤْثِرُه، ويسمعُ كلامَه ويُثْني عليه، وَيرْكَنُ إلى نقَله، قال عمادُ الدِّين بن القَيْسَراني: كانَ ابنُ دقيق إذا حَضَرْنًا درسَه، وجاء ذكرُ أحدٍ من الصحابة والرجال قال: أَيش ترجمة هذا يا أبا الفتح؟ فيأخذُ في الكلام ويَسْرُد، والناسُ سكوتٌ، والشيخُ مُصْغٍ إلى ما يقول.
قال الأُدفُوي: وشَرَعَ لشرح التِّرمذي، ولو اقتصرَ فيه على فنِّ الحديث من الكلام على الأسانيد لكَمُل، لكنه قَصَدَ أنْ يتبع شيخَه ابنَ دقيق العيد، فوقَفَ دونَ ما يُريد. توفي سنة (734 هـ)
(1).
3 - قطبُ الدِّين الحلبيُّ: الحافظُ المُتقن المُقْرِئ المُجِيد، عبدُ الكريمِ بنُ عبدِ النور بن مُنيِّر، أبو عليٍّ الحلبيُّ ثم المِصْري، مُفيد الديارِ المِصْرية، كانَ كَيِّسًا متواضعًا، غزيرَ المعرفة، متقنًا لِمَا يقول.
شرحَ سيرةَ عبدِ الغني، وشرح معظمَ صحيحِ البُخاري. توفي سنة (735 هـ)
(2).
--------------------------------------------
তিনি ইবন দাকিকের সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর নিকট উসুলুল ফিকহ সম্পন্ন করেছেন। তিনি তাঁর নিকট পাঠ পুনরাবৃত্তি করতেন। তিনি তাঁকে ভালোবাসতেন ও অগ্রাধিকার দিতেন, তাঁর কথা শুনতেন ও তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর বর্ণনার ওপর নির্ভর করতেন। ইমাদুদ্দীন ইবন আল-কায়সারানি বলেন: আমরা যখন ইবন দাকিকের পাঠে উপস্থিত থাকতাম এবং কোনো সাহাবী বা ব্যক্তির আলোচনা আসত, তখন তিনি বলতেন: হে আবুল ফাতহ, এই ব্যক্তির জীবনী কী? তখন তিনি কথা বলতে শুরু করতেন এবং ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করে যেতেন, আর মানুষ নীরব থাকত এবং শায়খ তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন।
আল-উদফুওয়ি বলেন: তিনি তিরমিযীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখতে শুরু করেছিলেন। যদি তিনি এতে কেবল সনদসমূহের আলোচনার মতো হাদিস শাস্ত্রের বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন তবে তা পূর্ণতা পেত। কিন্তু তিনি তাঁর শায়খ ইবন দাকিক আল-ঈদকে অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন, ফলে তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই থেমে যান। তিনি ৭৩৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(১)।
৩ - কুতুবুদ্দীন আল-হালাবি: হাফেজ, সুনিপুণ, দক্ষ কারী, আব্দুল কারীম ইবন আব্দুল নূর ইবন মুনাইর, আবু আলী আল-হালাবি এরপর আল-মিসরি, মিশরের ইলমি খিদমতকারী। তিনি বুদ্ধিমান, বিনয়ী, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী এবং নিজের বক্তব্যের ব্যাপারে সুনিপুণ ছিলেন।
তিনি আব্দুল গানির সীরাত গ্রন্থ এবং সহীহ বুখারীর অধিকাংশের ব্যাখ্যা লিখেছেন। তিনি ৭৩৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
4 - المِزِّيُّ: الإمامُ العلامةُ، الحافظُ الكَبير، وعُمْدَةُ الحُفَّاظ، أُعجوبةُ الزمانِ، أبو الحجاجِ يوسفُ بنُ عبدِ الرحمن بن يوسف المِزِّيُّ الشافعيُّ.
قال الذهبيُّ: كان خاتمةَ الحُفَّاظِ، وناقدَ الأسانيدِ والألفاظ، وهو صاحبُ مُعْضِلاتِنا، ومُوضحُ مُشْكِلاتِنا، وكان مُحِبًّا للآثار، مُعَظِّمًا لطريقة السَّلَف.
وله تصانيفُ تدلُّ على سَعَةِ علمه، وحُسْنِ معرفته، ولو لم يكن له إلا "تهذيب الكمال" لَكَفاه. توفي سنة (742 هـ)
(1).
5 - الذَّهبيُّ: الحافظُ الكبيرُ، مؤرِّخُ الإسلام، محمدُ بنُ أحمدَ بنِ عثمانَ بنِ قايماز التُّركماني الدمشقيُّ، كان علامةَ زمانِه في الرجال وأحوالِهم، حَديدُ الفَهْم، ثاقبُ الذِّهن، جَمَعَ "تاريخ الإسلام" فأربى فيه على مَنْ تَقَدَّم بتحرير أخبارِ المُحدِّثين خصوصًا، واختصر منه مختصراتٍ كثيرةً منها: "العِبر"، و"سير أعلام النبلاء"، و"تَذْكرة الحفاظ"، و"طبقات القراء"، وغيرُ ذلك. توفي سنة (748 هـ)
(2).
* * *
--------------------------------------------
৪ - আল-মিযযি: ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম, মহান হাফেজ, হাফেজদের প্রধান স্তম্ভ, যুগের বিস্ময়, আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ আল-মিযযি আশ-শাফিয়ি।
আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি ছিলেন হাফেজদের ধারার সর্বশেষ ব্যক্তিত্ব, এবং সনদ ও শব্দাবলির সূক্ষ্ম সমালোচক। তিনি ছিলেন আমাদের জটিল বিষয়াদির সমাধানকারী এবং আমাদের অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যাদাতা। তিনি আসারের (বর্ণনার) প্রতি অনুরাগী এবং সালাফদের পদ্ধতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
তাঁর এমন সব রচনা রয়েছে যা তাঁর ইলমের প্রশস্ততা এবং উত্তম জ্ঞানের প্রমাণ দেয়। যদি তাঁর কেবল 'তহজীবুল কামাল' গ্রন্থটিই থাকত, তবে সেটিই তাঁর জন্য যথেষ্ট হতো। তিনি ৭৪২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(১).
৫ - আয-যাহাবি: মহান হাফেজ, ইসলামের ইতিহাসবিদ, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান ইবনে কায়মাজ আত-তুর্কিমানি আদ-দিমাশকি। তিনি বর্ণনাকারীদের পরিচয় এবং তাদের অবস্থার বর্ণনায় তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। তিনি প্রখর বোধশক্তি ও তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন। তিনি 'তারিখুল ইসলাম' সংকলন করেছেন এবং এতে বিশেষত মুহাদ্দিসদের সংবাদসমূহ নিখুঁতভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি এটি থেকে অনেকগুলো সংক্ষিপ্তসার তৈরি করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: 'আল-ইবার', 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা', 'তাযকিরাতুল হুফফাজ', 'তাবাকাতুল কুররা' ইত্যাদি। তিনি ৭৪৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(২).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
*
تصانيفه:صنَّف الإمامُ ابنُ دقيق العيد التصانيفَ البديعةَ المُفيدة، الدالَّةَ على سَعَة عِلمه، أتى فيها بكثيرٍ من الفُروعِ الغَريبة، والوجوهِ والأقاويل، مما ليس في كثيرٍ من المبسوطات، ولا يَعْرِفُهُ كثيرٌ من النَّقَلة
(1)، ومن أشهر هذه المؤلفات:
1 - "الإمام في معرفة أحاديث الأحكام":
وهو كتابٌ لا نظيرَ له في جَمْعِ طُرُقِ الحديثِ على الأبواب الفقهيَّة، وجمعِ شواهده، وشَرْحِ غَريبهِ، وضَبْطِ مُشْكِله.
قال عنه مؤلِّفُه رحمه الله: ما وقفتُ على كتابٍ من كتبِ الحديثِ وعلومِه المتعلِّقة به، سُبِقْتُ بتأليفه وانتهى إليَّ، إلا وأودعتُ منه فائدةً في هذا الكتاب، إلا ما كان مِنْ كتاب "التاريخ الكبير" للإمام أبي عمرَ الصَّدَفي، فإني لَمْ أره
(2).
وقال عنه أيضًا: أنا جازمٌ أنَّه ما وُضعَ في هذا الفنِّ مثلُه
(3).
وقال عنه شيخُ الإسلام ابن تَيميَّة: هو كتابُ الإسلامِ.
وقال أيضًا: ما عَمِلَ أحدٌ مثلَه، ولا الحافظُ الضِّياء، ولا جَدِّي أبو البركات
(4).
--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলি:ইমাম ইবনু দাকীকিল ঈদ চমৎকার ও উপকারী সব কিতাব রচনা করেছেন, যা তাঁর জ্ঞানের গভীরতা প্রমাণ করে। এতে তিনি এমন অনেক বিরল শাখা-মাসয়ালা, বিভিন্ন দিক ও অভিমত নিয়ে এসেছেন যা সচরাচর বিস্তারিত কিতাবসমূহেও পাওয়া যায় না এবং অনেক হাদিস বর্ণনাকারীও সে সম্পর্কে অবগত নন
(১)। তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো:
১ - "আল-ইমাম ফি মারিফাতি আহাদিসিল আহকাম":
এটি ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী হাদিসের সূত্রসমূহ এবং এর স্বপক্ষীয় বর্ণনাগুলো একত্র করা, কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা এবং জটিল বিষয়ের সমাধানের ক্ষেত্রে এক অনন্য গ্রন্থ।
এ সম্পর্কে এর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: হাদিস এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের এমন কোনো কিতাব আমার সামনে আসেনি যা আমার আগে রচিত হয়েছে এবং আমার হাতে পৌঁছেছে, অথচ আমি সেখান থেকে কোনো না কোনো উপকৃত বিষয় এই কিতাবে সংযোজন করিনি। তবে ইমাম আবু উমর আস-সাদাফীর 'আত-তারিখুল কাবীর' গ্রন্থটি এর ব্যতিক্রম, কারণ আমি সেটি দেখিনি
(২)।
তিনি আরও বলেছেন: আমি নিশ্চিত যে, এই বিষয়ে এর মতো কোনো কিতাব আর রচিত হয়নি
(৩)।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এটি সম্পর্কে বলেছেন: এটি ইসলামের কিতাব।
তিনি আরও বলেছেন: এর মতো কাজ কেউ করেনি; না হাফেজ দিয়া, আর না আমার দাদা আবুল বারাকাত
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وقال عنه تاجُ الدَّين السُّبكي: ومن مصنفاته: كتابُ "الإمام" في الحديث، وهو جليلٌ حافل، لم يُصنَّفْ مثلُه
(1).
ويقال: إنَّ أكثرَ الكتابِ قد عُدِم -حَسَدًا- بعده، ولم يبقَ منه إلا الجزءُ الأول مِنَ الطهارة.
ويقال: إنَّ ابنَ دقيق لم يبيِّضْ منه إلا القطعةَ الموجودةَ بين يَدَي الناس.
قال الأُدفُوي: لو كَمُلَتْ نسختُه في الوجود، لأغنتْ عَنْ كلِّ مُصنَّف في ذلك موجود
(2)2 - "إحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام":
وهو مِنْ أجلِّ شُروح "عمدة الأحكام" للحافظ عبد الغنيِّ المَقْدسي، إنْ لم يكن أجلَّها على الإطلاق؛ لِمَا اشتملَ عليه من مباحثَ دقيقةٍ، واستنباطاتٍ عجيبةٍ.
قال الأُدفُوي: ولو لم يكنْ له إلا ما أملاهُ على "العمدة"، لكان عمدةً في الشهادة بفضْلِه، والحكمِ بعلوِّ منزلتِه في العِلْم ونُبْلِه
(3).
وقال ابن فرحون: أبانَ فيه عن عِلْمٍ واسع، وذهنٍ ثاقب، ورُسوخٍ في العلم
(4).
--------------------------------------------
তাজউদ্দীন আস-সুবকী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তাঁর সংকলনসমূহের মধ্যে রয়েছে হাদীস শাস্ত্রের 'আল-ইমাম' কিতাবটি; এটি একটি মহান ও তথ্যবহুল গ্রন্থ, যার সমতুল্য কোনো কিতাব রচিত হয়নি।"
(১).
বলা হয় যে, তাঁর পরবর্তী সময়ে হিংসাবশত কিতাবটির অধিকাংশ অংশই হারিয়ে ফেলা হয়েছে এবং এর পবিত্রতা (তাহারাত) অধ্যায়ের প্রথম অংশ ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
বলা হয় যে, ইবনু দাকীক মানুষের হাতে বিদ্যমান অংশটুকু ব্যতীত অন্য কোনো অংশের পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করেননি।
আল-আদফুওয়ী বলেছেন: "যদি এই কিতাবটির পূর্ণাঙ্গ কপি বিদ্যমান থাকত, তবে তা এই বিষয়ের অন্য সকল কিতাবের প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিত।"
(২)২ - "ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম":
এটি হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসী রচিত 'উমদাতুল আহকাম'-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যদি না এটি সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে থাকে; কারণ এতে সূক্ষ্ম আলোচনা ও চমৎকার উদ্ভাবনী বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আল-আদফুওয়ী বলেছেন: "যদি 'উমদাহ'র ওপর তাঁর শ্রুতিলিখনের বাইরে আর কিছু নাও থাকত, তবে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিতে এবং ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও মহত্ত্বের বিচারের জন্য এটিই যথেষ্ট হতো।"
(৩).
ইবনু ফারহুন বলেছেন: "তিনি এতে তাঁর প্রশস্ত জ্ঞান, তীক্ষ্ণ মেধা এবং ইলমের গভীরতা ফুটিয়ে তুলেছেন।"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম - ওয়া মাআহু হাশিয়াতু ইবনি আব্দুল হাদি
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
3 - "شرح مختصر ابن الحاجب في الفقه":
وقد شَرحَهُ شرحًا عظيمًا، حتى قال الحافظُ قطبُ الدِّين الحلبيُّ: لم أرَ في كُتُبِ الفقه مثلَه
(1)، قال فيه في مقدِّمته: وحُقَّ أن نشرحَ هذا الكتابَ شرحًا يُعِين الناظرينَ على فكِّ لفظِه، وفَهْمِ معانيه على وجهٍ يَسْهُلُ للماهر مساغُه وذوقُه، ويرفعُ القاصدَ فَيُلْحِقه بدرجة مَنْ هو فوقَه، ويَسْلُك سبيلَ معرفتِه ذُلُلًا، ويُدْرِكُ به ناظرُه من وضوحه أَمَلًا
(2).
قال ابن فرحون: ذكر لي شيخُنا أبو عبد اللَّه بن مَرزوق: أنَّه بلغهُ أنَّ الشيخَ تقيَّ الدين وصل في شرح ابن الحاجب إلى كتاب الحج. والذي وقع لي منه إلى آخِر التيمُّم، وأظنُّه بلغَ إلى كتاب الصلاة
(3).
* * *
--------------------------------------------
৩ - "শারহু মুখতাসার ইবনিল হাজিব ফিল ফিকহ":
তিনি এটি এক সুমহান ব্যাখ্যা গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছেন, এমনকি হাফিজ কুতুবুদ্দিন আল-হালাবি বলেছেন: আমি ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোর মধ্যে এর মতো আর কিছু দেখিনি
(১)। তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: আর এটিই সংগত যে, আমি এই কিতাবটির এমন এক ব্যাখ্যা প্রদান করব যা পাঠকদের এর শব্দাবলি বিশ্লেষণ করতে এবং এর অর্থ উপলব্ধি করতে এমনভাবে সাহায্য করবে যা দক্ষ ব্যক্তির জন্য এর আস্বাদন ও স্বাদ গ্রহণ সহজ করে দেবে, এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষীকে উন্নীত করে তার ঊর্ধ্বস্থ স্তরের সাথে মিলিত করবে; এটি তার জ্ঞানের পথকে সুগম করবে এবং এর স্পষ্টতার মাধ্যমে পাঠক তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে
(২)।
ইবনে ফারহুন বলেন: আমাদের শায়খ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মারজুক আমার কাছে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে শায়খ তাকিউদ্দিন ইবনুল হাজিবের ব্যাখ্যা গ্রন্থে 'কিতাবুল হাজ্জ' (হজ অধ্যায়) পর্যন্ত পৌঁছেছেন। তবে আমি এর যতটুকু পেয়েছি তা 'তায়াম্মুম' অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত, আর আমার ধারণা তিনি 'কিতাবুস সালাত' (সালাত অধ্যায়) পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন
(৩)।
* * *
--------------------------------------------