(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: -)
الغصون اليانعة في محاسن شعراء المائة السابعة   (ابن سعيد المغربي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الغصون اليانعة في محاسن شعراء المائة السابعة

المؤلف: أبو الحسن على بن موسى بن سعيد المغربي الأندلسي (ت 685 هـ)

تحقيق: إبراهيم الأبياري [ت 1414 هـ]

الناشر: دار المعارف، مصر

عدد الصفحات: 155

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সপ্তম শতাব্দীর কবিদের গুণাবলীতে পরিপক্ব শাখাসমূহ   (ইবনে সাঈদ আল-মাগরিবি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: সপ্তম শতাব্দীর কবিদের গুণাবলীতে পরিপক্ব শাখাসমূহ

লেখক: আবুল হাসান আলী বিন মুসা বিন সাঈদ আল-মাগরিবি আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৬৮৫ হিজরি)

সম্পাদনা: ইব্রাহিম আল-আবিয়ারি [মৃত্যু ১৪১৪ হিজরি]

প্রকাশক: দার আল-মাআরিফ, মিশর

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৫

[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌الغصون اليانعة في محاسن شعراء المائة السابعة
সপ্তম শতাব্দীর কবিদের গুণাবলি বিষয়ক সুপক্ব শাখাসমূহ
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌في تراجم الذين تحققت سنو وفاتهم

‌‌تراجم سنة إحدى وستمائة ثمان
যাদের মৃত্যুর সন নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাদের জীবনবৃত্তান্ত প্রসঙ্গে

ছয়শত এক হিজরি সালের জীবনীসমূহ, আটটি
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الترجمة الأولى [شميم الحلي]

الأديب الشاعر المتصوف شميم الحلي علي] بن الحسن [ابن عنتر، من مدينة الحلة من مدن الفرات العراقية. شاعر مشهور بالمشرق، مذكور في الكتب وعلى الألسن.

وقفت على ترجمته في تاريخ بغداد لابن الساعي، وتاريخ حلب لابن العديم، وكتاب الأدباء لياقوت الحموي. وتلقيت جملاً من أخباره
প্রথম জীবনী [শামীম আল-হিল্লি]

সাহিত্যিক, কবি ও সুফি শামীম আল-হিল্লি [আলী] বিন আল-হাসান [ইবনে আনতার], ইরাকি ফোরাত অঞ্চলের অন্যতম শহর হিল্লাহ্ নগরীর অধিবাসী। তিনি প্রাচ্যের একজন বিখ্যাত কবি, যার কথা কিতাবসমূহে এবং মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত।

আমি ইবনে আস-সাঈর ‘তারীখে বাগদাদ’, ইবনুল আদিমের ‘তারীখে হালাব’ এবং ইয়াকুত আল-হামাভীর ‘কিতাবুল উদাবা’-তে তাঁর জীবনীর ওপর অবগত হয়েছি। এছাড়া আমি তাঁর জীবনের বিভিন্ন সংবাদ ও ঘটনাবলী সম্পর্কে জানতে পেরেছি।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وأشعاره من أدباء العراق والجزيرة والشام. فلخصت من جميع ذلك ما يليق بهذا المكان: جملة أمر هذا الرجل أن ذكره فوق شعره، فعلى كثرته لم أقف له على ما فيه إغراب ولإبداع. ومن جملة ذلك كتاب الحماسة التي جمعها من شعره، لحظتها فلفظتها إذ وجدتها مفسولة غير معسولة. وأقرب ما وقفت عليه من شعره، لما يليق بالمنزع المختار لهذا الكتاب، قوله:

ألا هاتها حيث الجداول أصبحت … تصول على أرجائها بصلال

لدى نرجسٍ يسبى العيون بمثلها … كأقراط تبرٍ كللت بلآل

فهو وإن لم يأت بما يظهر عليه غوص الفكر فإنه ما قصر في سبك اللفظ وتقريب المعنى وزيادة التلفيق. وأشهر ما تقدمه في تشبيه النرجس بالأقراط قول ابن عبد ربه القرطبي صاحب العقد:

على ياسمين كاللجين ونرجس … كأقراط تبر في قضيب زبرجد

نظر إليه والى قول أبي الطيب السلامي:
ইরাক, জাজিরা ও শামের সাহিত্যিকদের নিকট তার বহু কবিতা রয়েছে। আমি সেসব থেকে এই স্থানের উপযোগী সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করেছি: এই ব্যক্তির সামগ্রিক বিষয়ের মূল কথা হলো, তার সুখ্যাতি তার কবিতার চেয়েও ঊর্ধ্বে। তার কবিতার প্রাচুর্য সত্ত্বেও আমি তাতে কোনো বিচিত্রতা বা অনন্য সৃজনশীলতার দেখা পাইনি। তার কাব্যসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত হলো ‘কিতাবুল হামাসাহ’, যা তিনি তার কবিতা থেকে সংকলন করেছেন। আমি সেটি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং অতঃপর তা বর্জন করেছি; কারণ আমি একে অসার ও নিরস হিসেবে পেয়েছি। আমার এই গ্রন্থের নির্বাচিত পদ্ধতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ তার কবিতার মধ্যে সবচেয়ে নিকটতর হলো তার এই উক্তি:

ওহে, সেটি নিয়ে এসো যেখানে ছোট নদীগুলো এমন হয়েছে … যা তার তীরগুলোতে সর্পের ন্যায় আক্রমণ করছে

এমন নার্গিসের নিকট যা স্বীয় সাদৃশ্যে চোখগুলোকে বিমোহিত করে … যেন মুক্তাখচিত স্বর্ণের কানের দুল

যদিও তিনি এমন কিছু আনতে পারেননি যা চিন্তার গভীরতা প্রকাশ করে, তথাপি তিনি শব্দের বুনন, অর্থকে নিকটবর্তী করা এবং অলঙ্করণের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেননি। নার্গিস ফুলকে কানের দুলের সাথে উপমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার পূর্ববর্তী সবচেয়ে প্রসিদ্ধ উক্তি হলো ‘আল-ইকদ’ গ্রন্থের রচয়িতা ইবনে আবদে রাব্বিহি আল-কুরতুবীর এই পংক্তি:

রূপার ন্যায় জেসমিনের ওপর এবং এমন নার্গিসের ওপর … যা জাবারজাদের ডালের ওপর স্বর্ণের কানের দুলের মতো

তিনি এর দিকে এবং আবু তাইয়িব আস-সালামির উক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
انظر إلى غصن لوته الصبا … وقد غدا من زهره في حلى

كأنه جيد على قامة … من عقده بالدر قد كللا

ولفق منهما ما استحق به اسم شاعر.

وتذاكرت في شأن هذا الرجل مع بعض أهل بلده، فلم يعجبه ما وصفته به من عدم غوص الفكرة والنهوض إلى الطبقة العالية ذات الإعراب والإبداع. فجاءني بعد أيام وقال: ما تقول أيضاً فيمن يصدر عنه مثل هذا:

أقول لآمرةٍ بالخضاب … تحاول رد الشباب النضير

أليس المشيب نذير الإله … ومن ذا يسود وجه النذير

فقلت: لعمري لقد أغرب لو لم يكن اهتذم ذلك من قول أبي أحمد النهرجوري:

وقائلةٍ تخضب فالغواني … قعود عن مصاحبة الكهول

فقلت لها المشيب رسول ربي … ولست مسوِّداً وجه الرسول
সেই শাখার দিকে তাকাও যাকে পুবালী বাতাস হেলিয়ে দিয়েছে … আর যা স্বীয় পুষ্পরাজি দ্বারা অলঙ্কারে বিভূষিত হয়েছে

যেন তা এক সুঠাম দেহের গ্রীবা … যা তার মুক্তার হার দ্বারা মুকুটমণ্ডিত হয়েছে

আর তিনি এই দুইয়ের সমন্বয়ে এমন কিছু রচনা করেছেন যার মাধ্যমে তিনি কবি নামের সার্থকতা লাভ করেছেন।

আমি এই ব্যক্তির বিষয়ে তার এলাকার কিছু লোকের সাথে আলোচনা করলাম, কিন্তু আমি তার চিন্তার অগভীরতা এবং অলঙ্কারশাস্ত্র ও সৃজনশীলতার উচ্চস্তরে উন্নীত হতে না পারার যে বর্ণনা দিয়েছিলাম, তা তাদের নিকট মনঃপূত হলো না। অতঃপর কয়েক দিন পর তিনি আমার কাছে এসে বললেন: যার থেকে এই ধরনের কাব্য প্রকাশ পায়, তার সম্পর্কে আপনি আর কী বলবেন:

আমি খিজাব ব্যবহারের নির্দেশদাত্রীকে বলছি … যে সতেজ যৌবন ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট

বার্ধক্যের শুভ্রতা কি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সতর্ককারী নয়? … আর এমন কে আছে যে সতর্ককারীর মুখ কালো করবে?

আমি বললাম: আমার জীবনের শপথ! এটি অত্যন্ত চমৎকার হতো যদি না তিনি এটি আবু আহমাদ আন-নাহরাজুরীর পঙক্তি থেকে চয়ন করতেন:

এবং জনৈকা বলছিল: খিজাব লাগান, কেননা রূপসীরা … প্রৌঢ়দের সান্নিধ্য থেকে বিমুখ থাকে

আমি তাকে বললাম: এই বার্ধক্য আমার রবের প্রেরিত দূত … আর আমি সেই দূতের মুখ কালো করার পক্ষপাতী নই।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
فقال: أمثل هذا الرجل تقصر به، وهو إمام في العلماء والزهاد! فقلت له: الآن أرحت واسترحت، إن كنت منصفاً لم أقصر به من جهة علمه ولا زهده بل من جهة الشعر، لكونكم أوجبتم له من الشهرة والتقديم فيه مالا يقوم عليه برهان. فنفض ثيابه، وقام يجر أهدابه.

وقد ذكر ياقوت الحموي أنه اجتمع بشميم فرآه كثير الدعاوى، خارجاً عن نمط الإنصاف والاعتراف. قال: أنشدني مرة قوله في الخمر:

خفقت لنا شمسان من … لآلائها في الخافقين

في ليلة بدأ السرو … ر بها يطالبنا بدين

ومضى طليق الراح من … قد كان مغلول اليدين

قال: فقلت: أحسنت! فغضب وقال ويحك! ما عندك غير الاستحسان؟ فقلت: فما أصنع؟ قال: تصنع هكذا، ثم قام يرقص ويصفق. وجلس وهو يقول: ما أصنع! وقد بليت ببقر لا يفرقون بين الدر والبعر، والياقوت والحجر! قال: وكان قد جال البلاد واستقر بالموصل، فمات بها في ربيع الآخر سنة إحدى وستمائة.
তিনি বললেন: আপনি কি এই ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছেন, অথচ তিনি আলেম ও যাহিদদের (সংসারবিরাগী) মধ্যে একজন ইমাম! আমি তাকে বললাম: এখন আপনি স্বস্তি দিলেন এবং নিজেও শান্ত হলেন; আপনি যদি ইনসাফকারী হন তবে জানবেন যে, আমি তার জ্ঞান বা যুহদ-এর দিক থেকে তার অবমূল্যায়ন করিনি, বরং কবিতার দিক থেকে করেছি। কারণ আপনারা তার জন্য কবিতায় এমন খ্যাতি এবং শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত করেছেন যার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। অতঃপর তিনি তার কাপড় ঝাড়লেন এবং নিজের কাপড়ের আঁচল টেনে টেনে উঠে দাঁড়ালেন।

ইয়াকুত আল-হামাভি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি শামীমের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তাকে অত্যন্ত আত্মম্ভরী হিসেবে দেখতে পান, যা ইনসাফ এবং সত্য স্বীকারের রীতির বাইরে ছিল। তিনি বললেন: তিনি একবার আমাকে মদ সম্পর্কে তার এই কবিতাটি পাঠ করে শোনালেন:

আমাদের জন্য দুটি সূর্য উদিত হয়েছে … দুই দিগন্তে যার উজ্জ্বল আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে

এমন এক রাতে যখন আনন্দ শুরু হয়েছে … যার মাধ্যমে সে আমাদের নিকট ঋণ দাবি করছে

এবং মদের বন্ধন হতে মুক্ত হয়ে সে চলে গেল … অথচ তার দুই হাত শৃঙ্খলিত ছিল

তিনি বললেন: আমি বললাম: চমৎকার! এতে তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন: তোমার ধ্বংস হোক! তোমার কাছে কি কেবল প্রশংসা ছাড়া আর কিছুই নেই? আমি বললাম: তাহলে আমি কী করব? তিনি বললেন: তুমি এমন করবে, অতঃপর তিনি উঠে নাচতে ও তালি দিতে শুরু করলেন। তিনি বসলেন এবং বলতে লাগলেন: আমি কী করব! আমি এমন সব গবাদিপশুর পাল্লায় পড়েছি যারা মুক্তা ও গোবরের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, এবং ইয়াকুত ও পাথরের মধ্যে প্রভেদ বোঝে না! তিনি বললেন: তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে পরিশেষে মসুলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানেই ছয়শত এক হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ومما ذكره المؤرخون من أمره أنه كان من أعلام فقهاء الشيعة بالحلة، وأهل الفُتيا والإقراء عندهم. ثم ترقى إلى الزهد بزعمه وإطراح الدنيا. وصار يكثر الخلوة ويصل الصوم، إلى أن كان يزعم أنه يبلغ شهراً لا يأكل ولا يشرب، في يوم ولانهار منه.

وكثير من أمثاله عاينتهم ببلاد المشرق يبلغون في الخلوة هذا المقدار وأكثر، ويجعل عليهم أمناء وحراس من قبل الملوك والكبراء لتتبين حقائقهم، فيشار إليهم بعد ذلك بالأنامل، وتلتفت عليهم هالات المحافل.

ومن تاريخ ابن العديم: أن شميماً بلغ في الخلوة إلى أن كان يصل الصوم، ثم يأكل الطين فينزل برجيع ما فيه رائحة، ويشمه من يدخل عليه ليعلم مقدار مبلغه من الرياضة، فلذلك لقب بشميم.

وحكى لي أحد فضلاء ماردين أنه ورد عليها ونزل حيث لا يخفى مكانه، لما كان عليه من التهويل واستعمال المخارق. فأرسل إليه ملكها ابن أرتق في أن يحضر عنده. فقال للرسول: كيف أسير
ঐতিহাসিকগণ তাঁর সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো, তিনি হিল্লার শিয়া ফকিহদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং তাদের মধ্যে ফতোয়া প্রদান ও কিরাত শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ ছিলেন। এরপর তাঁর দাবি অনুযায়ী তিনি জুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) এবং দুনিয়া ত্যাগের স্তরে উন্নীত হন। তিনি অধিক পরিমাণে নির্জনবাস শুরু করেন এবং লাগাতার রোজা রাখতে থাকেন, এমনকি তিনি দাবি করতেন যে, তিনি পুরো এক মাস দিনে বা রাতে কোনো কিছু আহার বা পান না করে কাটিয়ে দিতে পারেন।

প্রাচ্যের দেশগুলোতে আমি তাঁর মতো অনেককে দেখেছি যারা নির্জনবাসে এই পর্যায়ে বা তার চেয়েও বেশি পৌঁছে যেতেন। তাদের অবস্থার সত্যতা যাচাই করার জন্য রাজা-বাদশাহ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আমানতদার ও প্রহরী নিযুক্ত করা হতো। এরপর জনগণের মধ্যে তারা বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করতেন এবং সভা-মজলিসের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতেন।

ইবনুল আদীমের ইতিহাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: শামীম নির্জনবাসে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন যে তিনি লাগাতার রোজা রাখতেন, এরপর মাটি ভক্ষণ করতেন, ফলে তাঁর মল এমনভাবে নির্গত হতো যাতে ঘ্রাণ থাকত। যারা তাঁর নিকট প্রবেশ করত তারা তাঁর কৃচ্ছ্রসাধনার মাত্রা বোঝার জন্য তা শুকত; একারণেই তাঁর উপাধি হয়েছিল 'শামীম'।

মারদীনের জনৈক গুণী ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সেখানে আগমন করেন এবং এমন এক স্থানে অবস্থান করেন যা কারো অজানা ছিল না, কারণ তাঁর মধ্যে একপ্রকার প্রভাব এবং অলৌকিক সদৃশ কৌশল বা কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ ছিল। এরপর সেখানকার রাজা ইবনে আরতুক তাঁকে তাঁর নিকট উপস্থিত হওয়ার জন্য সংবাদ পাঠান। তখন তিনি দূতের উদ্দেশ্যে বললেন: আমি কীভাবে যাব?
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
إليه وأنا الذي أقول:

أنا الذي لو درى زماني … قدري ما كان غير عبدي

لم يزل واقفاً ببابي … ولم يصرف خلاف قصدي

فعاد الرسول بالجواب. فضحك الملك وقال: هذا رجل مجنون أو مستخف، وعلى الأمرين ينبغي لنا إن نرى ما عنده. ثم ركب إليه واجتمع به وانصرف، وقال للرسول: قل له: كان فلان قد نظر لك في ضيافة زاد قبل أن يشاهد ما عندك، فلما شاهده علم أن قدرك يحل عن كل ما عنده. فلما عاد إليه الرسول بذلك، التفت إلى أحد أصحابه وقال: أي ولد زنى! وسمع ذلك الرسول فرجع وهو يضحك. فقال له الملك: ما كان جوابه؟ قال: سكت. قال سبحان الله! أمن السكوت يكون ضحك؟ فأخبره. فضحك حتى فحص برجليه وقال: الرجل ممخرق، وقد علم أن مخرقته لم تجز علينا فجعل هذا فصل ما بيننا وبينه.

 

وأخبرني ابن الصفار الدينوري … أن شميماً اجتاز بمدينة دنيسر
তার প্রতি; আর আমিই সেই যে বলে:

আমিই সেই, যদি আমার কাল আমার মর্যাদা সম্পর্কে … জানত, তবে সে আমার দাস ছাড়া আর কিছুই হতো না।

সে সর্বদা আমার দরজায় দাঁড়িয়ে থাকত … এবং আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কখনো বিমুখ হতো না।

অতঃপর দূত উত্তর নিয়ে ফিরে এল। রাজা হাসলেন এবং বললেন: এই ব্যক্তি হয় উন্মাদ নতুবা দাম্ভিক, এবং উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের দেখা উচিত তার কাছে কী আছে। তারপর তিনি সওয়ার হয়ে তার কাছে গেলেন, তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং ফিরে আসলেন। এরপর তিনি দূতকে বললেন: তাকে বলো: অমুক ব্যক্তি তোমার কাছে যা আছে তা দেখার আগে তোমার মেহমানদারির জন্য রসদ প্রস্তুতের কথা ভেবেছিল, কিন্তু যখন সে তা প্রত্যক্ষ করল, তখন সে বুঝল যে তোমার মর্যাদা তার কাছে যা আছে তার সবকিছুর ঊর্ধ্বে। দূত যখন এই বার্তা নিয়ে তার কাছে ফিরে গেল, তখন সে (ঐ ব্যক্তি) তার এক সঙ্গীর দিকে ফিরে তাকাল এবং বলল: কী এক জারজ সন্তান! দূত তা শুনতে পেল এবং হাসতে হাসতে ফিরে গেল। রাজা তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তার উত্তর কী ছিল? সে বলল: সে নীরব ছিল। রাজা বললেন: সুবহানাল্লাহ! নীরবতা থেকে কি হাসির উদ্রেক হয়? তখন সে তাকে ঘটনাটি জানাল। এতে রাজা হাসতে হাসতে আল্লাহর পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে লাগলেন এবং বললেন: এই ব্যক্তিটি একজন ধূর্ত, সে বুঝতে পেরেছে যে তার ধূর্তামি আমাদের ওপর চলেনি, তাই সে এটাকে আমাদের ও তার মাঝে একটি ব্যবধান হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

 

আর ইবনুল সাফফার আদ-দিনাওয়ারি আমাকে জানিয়েছেন … যে শামিম দুনাইসার শহরের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
فصادف أن كان بها صاحب ماردين، فبلغه نزوله في بستان هنالك، فركب كأنه يتفقد البستان، وغرضه الاجتماع به. فقيل له: إن السلطان قد دخل البستان. فقال: ومن منعه؟ ولم يقم له ولا لقيه. فصعب على صاحب ماردين ذلك، وأظهر أنه جاء للفرجة، وانصرف ولم يجتمع به. وجاءه من عتبه في ذلك. فقال: كنت في مناجاة سلطان أعظم منه. فقال صاحب ماردين: رحم عياله! ولو كان الجنيد. ودس إليه من يؤذيه حتى خرج عن بلده.

ঘটনাক্রমে সেখানে মারদিনের অধিপতি উপস্থিত ছিলেন। তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে তিনি (অপর ব্যক্তি) সেখানকার একটি বাগানে অবস্থান করছেন। তখন তিনি বাগানটি পরিদর্শনের ছলে সওয়ার হয়ে বের হলেন, যদিও তাঁর প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করা। তাঁকে জানানো হলো: "সুলতান বাগানে প্রবেশ করেছেন।" তিনি বললেন: "তাঁকে কে বাধা দিয়েছে?" তিনি তাঁর সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ালেন না এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎও করলেন না। এটি মারদিনের অধিপতির কাছে অত্যন্ত কঠিন ও অপমানজনক মনে হলো; তবে তিনি বাহ্যিকভাবে প্রকাশ করলেন যে তিনি কেবল ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এসেছেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ না করেই ফিরে গেলেন। জনৈক ব্যক্তি এ বিষয়ে তাঁকে তিরস্কার করলে তিনি বললেন: "আমি তাঁর অপেক্ষা অধিকতর মহান এক সুলতানের সাথে নিভৃত আলাপে নিমগ্ন ছিলাম।" মারদিনের অধিপতি বললেন: "আল্লাহ তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি দয়া করুন! তিনি কি নিজেকে জুনাইদ (বাগদাদী) মনে করেন?" অতঃপর তিনি তাঁর বিরুদ্ধে এমন লোক লেলিয়ে দিলেন যারা তাঁকে কষ্ট দিতে লাগল, শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন।

(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الترجمة الثانية [العبدوسي]

الشاعر البارع المحسن العبدوسي محمد بن عبدوس الواسطي، من مدينة واسط. أطلعته واسطة من عقد شعرائها، فترقى إلى مخالطة كبرائها وأمرائها، ثم جال حتى انتهى إلى الديار المصرية، ومدح بها العادل وأرباب دولته، ومدح الظاهر صاحب حلب بما اجتمع منه سفر. ذكر ذلك صاحب تاريخها ولم يعجبني من جميع ما أورد من شعره غير قوله في الملك المذكور:

أشتاقه شوق مصدود وكم حملت … أم الأماني برؤياه فلم تلد

وطبقته أعلى من هذا بأضعاف. ذاكرت أحد علماء بلدي في شأنه، فنوه باسمه وأنشدني له ما اخترته لكتاب "كنوز الأدب" وهو قوله الذي أبدع فيه وأغرب:
দ্বিতীয় জীবনী [আল-আব্দুসী]

নিপুণ ও সৃজনশীল কবি আল-আব্দুসী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস আল-ওয়াসিতী, ওয়াসিত নগরী থেকে আগত। তিনি সেখানকার কবিদের কণ্ঠহারের মধ্যমণি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং সেখানকার উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ ও আমীরদের সান্নিধ্য লাভ করেন। এরপর তিনি পরিভ্রমণ করতে করতে মিশরীয় ভূখণ্ডে পৌঁছান এবং সেখানে আল-আদিল ও তাঁর রাষ্ট্রের কর্ণধারদের প্রশংসা করেন। তিনি হালবের অধিপতি আল-জাহিরের প্রশংসাও করেছেন, যা একটি পূর্ণাঙ্গ খণ্ডে সংকলিত হয়েছে। হালবের ইতিহাসের লেখক এ কথা উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি তাঁর কবিতার যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে উল্লিখিত রাজা সম্পর্কে তাঁর এই কথাটি ব্যতীত অন্য কোনোটি আমার নিকট পছন্দনীয় মনে হয়নি:

আমি তাঁর জন্য এমন এক বঞ্চিত ব্যক্তির ন্যায় ব্যাকুলতা অনুভব করি, যার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রয়ে গেছে; আর কতবারই তো কামনার জননী তাঁকে দেখার স্বপ্ন গর্ভে ধারণ করেছে কিন্তু তা প্রসব করতে পারেনি।

তাঁর কবিতার স্তর এর চেয়ে বহুগুণ উন্নত। আমি আমার দেশের জনৈক আলেমের সাথে তাঁর বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি তাঁর নামের উচ্চ প্রশংসা করেন এবং তাঁর এমন কিছু পংক্তি আমাকে শুনিয়েছেন যা আমি "কুনুযুল আদব" (সাহিত্যের ভাণ্ডার) গ্রন্থের জন্য নির্বাচন করেছি। এটি তাঁর এমন এক উক্তি যাতে তিনি চমৎকার শিল্পনৈপুণ্য ও বিরল সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন:
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أهلاً وسهلاً بالعذار الذي … أصبحت في شغل به شاغل

خطان صيغت منهما في الهوى … "لا" وهي حرف النهى للعاذل

يا سائلي عن أمرها نكتة … أضحى بها كالقمر الكامل

كأنها ذاك السواد الذي … تبصره في البدر يا سائلي

فجر الصبا في وجنتيه غدا … يموج مثل البحر الجائل

أما تراه إذ طفا ماؤه … قد قذف العنبر في الساحل

وقد ازدحم على مشرع هذه الأبيات جملة من شعراء عصره، فما بلغوا فيه إلا دون قدره. وقوله، وهو غير خارج من "كنوز الأدب":

وبديع أطلع الآ … س بروض الجلنار

رمت منه لثمة إذ … عيل في الحب اصطباري

قال لي لا تدن أنفا … سك من نبت العذار

إنني أخشى عليه … منك من لفح الأوار

قلت دعني من رقاعا … تك واسمع لاعتذاري

هو كالعنبر يذكو … طيبه من غير نار

فانثنى يبسم عن جمر … شبيه بالدراري

فرتعنا في رياض … وكرعنا في عقار

أي خمر أنا منها … طول عمري في خمار
সেই গণ্ডরেখাকে স্বাগতম যা … আমাকে এক অবিরাম ব্যস্ততায় মগ্ন করেছে।

প্রেমে এমন দুটি রেখা খোদাই করা হয়েছে যা … 'না' বা নিষেধসূচক অক্ষর হয়ে নিন্দুককে বাধা দেয়।

হে এর অবস্থা সম্পর্কে আমার নিকট প্রশ্নকারী, এটি এক সূক্ষ্ম রহস্য … যার মাধ্যমে সে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় শোভিত হয়েছে।

মনে হয় যেন এটি সেই কৃষ্ণবর্ণ চিহ্ন যা … হে প্রশ্নকারী, তুমি পূর্ণিমার চাঁদের বুকে দেখতে পাও।

তার গণ্ডদ্বয়ে যৌবনের উষা আজ এমন … যা প্রবহমান সমুদ্রের ন্যায় তরঙ্গায়িত হচ্ছে।

তুমি কি তাকে দেখছ না যখন তার লাবণ্য উপচে পড়ে … তখন তা উপকূলে আম্বর (সুগন্ধি) নিক্ষেপ করেছে।

তাঁর সমসাময়িক কবিদের একটি দল এই পঙক্তিগুলোর প্রস্রবণের নিকট ভিড় করেছিলেন, কিন্তু তাঁরা তাঁর যোগ্যতার স্তরে পৌঁছাতে পারেননি। তাঁর উক্তি, যা 'সাহিত্যের ভাণ্ডার' থেকে আলাদা কিছু নয়:

এক অপূর্ব রূপবান ব্যক্তি যিনি ডালিম ফুলের বাগানে … আস (সুগন্ধি লতা) প্রস্ফুটিত করেছেন।

আমি তাঁর নিকট একটি চুম্বনের প্রত্যাশা করলাম যখন … প্রেমে আমার ধৈর্য নিঃশেষ হয়ে এল।

তিনি আমাকে বললেন, তোমার নিঃশ্বাসকে … এই নবোদগত গণ্ডরেখার নিকটবর্তী করো না।

নিশ্চয়ই আমি এর ওপর তোমার পক্ষ থেকে … প্রবল উত্তাপের আশঙ্কা করছি।

আমি বললাম, তোমার এই চাতুরতা ছাড়ো … এবং আমার কৈফিয়ত শোনো।

এটি আম্বরের ন্যায়, যার সুগন্ধ … কোনো আগুন ছাড়াই বিচ্ছুরিত হয়।

অতঃপর তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় দ্যুতিময় দাঁত বের করে … আগুনের ফুলকির মতো মুচকি হাসলেন।

অতঃপর আমরা উদ্যানে বিচরণ করলাম … এবং পাত্র ভরে সুধা পান করলাম।

এ কেমন শরাব যার প্রভাবে আমি … সারাজীবন এক ঘোরগ্রস্ত অবস্থায় বিভোর থাকব।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وهو من الشعراء الذين حفظ ما قالوه في الجارية التي صنعت في أحد خديها بالغالية حية وفي الآخر عقرباً، فأمر الملك العزيز صاحب مصر أن يقال فيها. وكان قول العبدوسي:

يا معشر الناس ألا فأعجبوا … من قمرٍ حل به العقرب

وحية ميتة أرسلت … في جنة تلدغ من يقرب

يا مظهراً آية موسى لنا … إليك من دون الهوى المهرب

وكانت وفاته بمصر سنة إحدى وستمائة، بعدما أكثر من هجائها وذم أهلها. ومن أعف ذلك وأبدعه قوله:

يأهل مصر مدحتم … مصراً بلا برهان

وقلتم هي عينٌ … نعم بلا إنسان

أرض عدمنا لديها … عوارف الإحسان

وكل بر تراه … فإنه في اللسان

يوم ارتحالي عنها … جعلته مهرجان

وكان قد اتصل بالوزير ابن مجاور، فلما بلغ الغاية من الاستيلاء على دولة العزيز، لما استبد بالديار المصرية، قصر به، فأنشده:
তিনি সেই কবিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সেই দাসী সম্পর্কে বলা কবিতাগুলো সংরক্ষিত হয়েছে, যে তার এক গালে সুগন্ধি (ঘালিয়া) দ্বারা একটি সাপ এবং অন্য গালে একটি বিচ্ছু এঁকেছিল। তখন মিশরের অধিপতি মালিক আজিজ তার সম্পর্কে কাব্য রচনার আদেশ দেন। আল-আবদুসী বলেছিলেন:

হে লোকসকল! তোমরা কি সেই চাঁদের বিষয়ে আশ্চর্য হবে না … যাতে বিচ্ছু অবস্থান নিয়েছে!

এবং একটি প্রাণহীন সাপ যা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে … এমন এক উদ্যানে, যে কাছে আসবে তাকেই সে দংশন করে।

হে আমাদের নিকট মুসার নিদর্শন প্রদর্শনকারী! … প্রবৃত্তি বিসর্জন দিয়ে তোমার দিকেই পলায়নের পথ।

তাঁর মৃত্যু মিশরে ৬০১ হিজরি সনে হয়েছিল, দেশটির অনেক নিন্দা এবং এর অধিবাসীদের কুৎসা রটানোর পর। এর মধ্যে সবচেয়ে মার্জিত ও চমৎকার হলো তাঁর এই বক্তব্য:

হে মিশরের অধিবাসী! তোমরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই … মিশরের প্রশংসা করেছ।

তোমরা বলেছ এটি একটি চক্ষু, … হ্যাঁ, তবে তাতে কোনো মানুষ (বা মণি) নেই।

এমন এক ভূমি যেখানে আমরা … দয়া ও দাক্ষিণ্যের নিদর্শনগুলো হারিয়ে ফেলেছি।

আর যে পুণ্যই তুমি দেখবে, … তা কেবল রসনাতেই সীমাবদ্ধ।

সেখান থেকে আমার প্রস্থানের দিনটিকে … আমি উৎসবে পরিণত করেছি।

তিনি উজির ইবনে মুজাউরের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। অতঃপর তিনি যখন আজিজের রাষ্ট্রের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব লাভে চরম সীমায় পৌঁছালেন এবং মিশরীয় জনপদে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করলেন, তখন তিনি কবির প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করলেন। তখন কবি তাকে আবৃত্তি করে শোনালেন:
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
عجبت لبحر جاد لي عند جزره … ولم أر جوداً منه إذ جاءه المد

لعل له عذراً على كل حالة … هو الملك الأعلى يداً وأنا العبد?

فقال: ما ثم عذر، لكن هذا شان الدهر، وعلى هذه الحال مرت الليالي والأيام، ولقد أحسنت إلي إذ ذكرتني بفضيلة. ثم أحسن إليه وسعى له فيما أقر عينه عند صاحبه. ومدحه بقصيدة منها:

يا سائلي عما رأى من كساً … ونعمة يقصر عنها الكلام

قد كنت ذا جدب ولكنني … أفلحت فاستمطرت صوب الغمام

قام بأمري سيد ماجد … ذكره عتبي رعى الذمام

مبارك الطلعة ميمونها … يبدأ من يخدمه بالسلام

قد جرب الدهر وأحواله … وأختار أخلاق جميع الكرام

ومن محاسن شعره قوله:

لله ذو أدبٍ حلو شمائله … لقياه أطيب لي من جملة النعم

أمس يحدثني والكأس في يده … فبت أشرب راح الكرم والكرم

وأنشدت له بالعراق هذه الأبيات، وهي مما يرتاح إليه في السماع، ويهتز لما اشتملت عليه كل كريم الطباع:

ليلى بلا سحرٍ من ساحر الحوار … أشتاقه وهو مشتاق إلى السحر

ولو أتى زائر ما كان يمنعني … لقرب ما بين حال الورد والصدر
আমি এমন এক সমুদ্র দেখে বিস্মিত হলাম যা তার ভাটার সময় আমাকে দান করেছিল … অথচ যখন জোয়ার এল তখন আমি তার পক্ষ থেকে কোনো দান দেখতে পেলাম না।

সম্ভবত সকল অবস্থাতেই তার কোনো ওজর আছে … তিনিই সুউচ্চ হাতবিশিষ্ট বাদশাহ এবং আমি হলাম তাঁর দাস।

অতঃপর তিনি বললেন: এখানে কোনো ওজর নেই, বরং এটাই মহাকালের রীতি, আর এই অবস্থাতেই দিন ও রাত অতিবাহিত হয়েছে। আপনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে আমাকে একটি গুণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এরপর তিনি তার প্রতি সদাচরণ করলেন এবং তার সঙ্গীর নিকট তাকে সন্তুষ্ট করার মতো বিষয়ে সচেষ্ট হলেন। এবং তিনি একটি কবিতার মাধ্যমে তার প্রশংসা করলেন যার অংশবিশেষ হলো:

হে আমার নিকট জিজ্ঞাসু! তিনি যা দেখেছেন সেই পোশাকাদি সম্পর্কে … এবং এমন নেয়ামত সম্পর্কে যা বর্ণনায় শব্দরাজি অপর্যাপ্ত।

আমি অনাবৃষ্টির কবলে ছিলাম কিন্তু আমি … সফল হলাম এবং মেঘমালা থেকে মুষলধারে বৃষ্টির প্রার্থনা করলাম।

এক মহান সর্দার আমার কার্যাবলী আঞ্জাম দিলেন … যার উল্লেখ আমার সন্তুষ্টি, তিনি অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন।

বরকতময় চেহারার অধিকারী ও সৌভাগ্যবান … যে তার খেদমত করে তাকে তিনি সালাম প্রদানের মাধ্যমে সম্বোধন করেন।

তিনি মহাকাল ও তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন … এবং সকল মহৎ ব্যক্তির চরিত্রকে বেছে নিয়েছেন।

তার চমৎকার কবিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তার এই বাণী:

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেই শিষ্টাচারী ব্যক্তি যার স্বভাব অতি মিষ্ট … তাঁর সাথে সাক্ষাৎ আমার নিকট সমস্ত নেয়ামতের চেয়ে অধিক সুমধুর।

গতকাল তিনি আমার সাথে কথা বলছিলেন আর তাঁর হাতে ছিল পেয়ালা … ফলে আমি সারারাত মহানুভবতা ও আঙ্গুর-রস পান করে অতিবাহিত করলাম।

ইরাকে তার অনুকূলে এই পংক্তিগুলো আবৃত্তি করা হয়েছিল, যা শ্রবণে প্রশান্তি অনুভূত হয় এবং এর বিষয়বস্তুর প্রভাবে প্রত্যেক মহৎ স্বভাবের ব্যক্তি আলোড়িত হয়:

সংলাপে নিপুণ জাদুকরের জাদুহীন এক রাত … আমি তার জন্য ব্যাকুল অথচ সে শেষরাতের সময়ের জন্য ব্যাকুল।

যদি কোনো অভ্যাগত আসতেন তবে আমাকে কেউ বাধা দিত না … আগমনের স্থান ও বক্ষদেশের মধ্যকার নৈকট্যের কারণে।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
فالليل عندي سواء إن دنا وقلا … أشكو من الطول ما أشكو من القصر

يا خاليا حاليا بالحسن ها كبدي … أمست بالا جلد قوسا بلا وتر

الظبي أنت وقد حوشيت من خنسٍ … والبدر أنت موقى كلفه الغير

والخمر أنت ولكن سكرها أبداً … والغصن أنت ولكن دائم الزهر

لا جفف الله عيني من هواك ولا … متعت من غير ذاك الوجه بالبصر

ورأيت جماعة من أدباء العراق يتطاولون بإنشاد هذه الأبيات ويفتخرون بها، وهي لعمري أهل لذلك، إلا أن بيته الذي هو واسطة القلادة مسروق من قول اللص الإشبيلي:

فالليل إن هجرت كالليل إن وصلت … أشكو من الطول ما أشكو من القصر
আমার নিকট রাত সমান, তা নিকটবর্তী হোক কিংবা দূরে সরে যাক … আমি এর দীর্ঘতা নিয়ে যতটুকু অভিযোগ করি, এর হ্রস্বতা নিয়েও ততটুকুই করি।

হে সৌন্দর্যমণ্ডিত ও আমা হতে উদাসীন, এই তো আমার কলিজা … যা আজ ধৈর্যহীন, যেন গুণহীন এক ধনুক।

আপনি তো হরিণ, তবে খাঁদা নাক হতে মুক্ত … আর আপনি পূর্ণিমা চাঁদ, যা অন্যের কলঙ্ক হতে সুরক্ষিত।

আপনি তো সুরা, তবে এর মত্ততা চিরস্থায়ী … আর আপনি তো পল্লব, তবে সর্বদা পুষ্পশোভিত।

আল্লাহ আপনার ভালোবাসায় আমার চক্ষুদ্বয়কে শুষ্ক না করুন … আর সেই মুখমণ্ডল ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর দর্শনে আমার দৃষ্টিকে ধন্য না করুন।

আমি ইরাকের একদল সাহিত্যিককে দেখেছি যারা এই পঙক্তিগুলো আবৃত্তি করে গর্ববোধ করেন এবং এগুলো নিয়ে অহংকার করেন। আমার জীবনের কসম, এই কবিতাগুলো এর যোগ্যই বটে। তবে এর সেই পঙক্তিটি, যা এই কাব্য-হারের মধ্যমণি স্বরূপ, তা আল-লিস আল-ইশবিলির বাণী থেকে অপহৃত:

বিচ্ছেদ ঘটলে রাত যেমন, মিলন ঘটলেও রাত ঠিক তেমনই … আমি এর দীর্ঘতা নিয়ে যতটুকু অভিযোগ করি, এর হ্রস্বতা নিয়েও ততটুকুই করি।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وهذا كما قال الملك الأشرف لبعض الشعراء وقد مدحه بقصيدة فيها أبيات سلخ ألفاظها ومعانيها من شعر غيره: أما تستحي أن تنشدي لنفسك ما أحفظه لغيرك؟ فقال: قد يقع الحافر على الحافر. فقال: نعم، ولكن للميدان كله لا. فضحك جميع من حضر من أهل الأدب. وصار ذلك الشخص عندهم يعرف بالميداني. وأخبرني بدمشق أحد أقارب الأموي كاتب الملك الأشرف بن العادل بن أيوب، أن ابن عبدوس وصل إلى الملك الأشرف وهو حينئذ بالجزيرة في مدة أبيه، والحال ضيقة، فحضر مجلسه وأنشده قصيدةً منها:

ملك شككنا أيها أعلى علا … أولاه أم وسطاه أم أخراه

لما علا فوق الأنام محله … مسحت عليهم كالسحاب يداه

أشتاق رؤيته لأني واثقٌ … إلا أرى بؤساً متى ألقاه

فضحك الأشرف لما انتهى إلى هذا البيت وقال: ذهب البوس يابن عبدوس. إلا أنه نحن على ما لا يخفى عنك في هذا الوقت، فأيما
আর এটি ঠিক যেমন মালিক আল-আশরাফ জনৈক কবিকে বলেছিলেন, যখন সে এমন একটি কাসিদা দিয়ে তাঁর প্রশংসা করেছিল যার পঙক্তিগুলোর শব্দ ও অর্থ সে অন্য কারো কবিতা থেকে হরণ করেছিল: "তুমি কি নিজের নামে এমন কিছু আবৃত্তি করতে লজ্জা বোধ করছো না যা আমি অন্য কারো রচনা হিসেবে মুখস্থ জানি?" তখন সে বলল: "কখনও কখনও খুর খুরের ওপর পড়ে যায় (অর্থাৎ কাকতালীয়ভাবে মিলে যায়)।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তবে পুরো ময়দান জুড়ে নয়।" এতে উপস্থিত সকল সাহিত্যিকরা হেসে উঠলেন। আর সেই ব্যক্তিটি তাদের নিকট 'আল-মাইদানি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করল। দামেস্কে মালিক আল-আশরাফ বিন আল-আদিল বিন আইয়ুবের লেখক আল-উমাবির এক আত্মীয় আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনে আবদুস মালিক আল-আশরাফের নিকট পৌঁছেছিলেন, যখন তিনি তাঁর পিতার শাসনামলে আল-জাজিরায় অবস্থান করছিলেন এবং তখন অবস্থা ছিল সংকীর্ণ। তিনি তাঁর মজলিসে উপস্থিত হয়ে তাঁকে একটি কাসিদা শোনালেন, যার অংশ ছিল:

এমন এক রাজা, যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কোন স্তরটি সর্বোচ্চ সে বিষয়ে আমরা সংশয়ে পড়ে গেছি … তার প্রথম ভাগ, মধ্য ভাগ নাকি শেষ ভাগ?

যখন সৃষ্টির উপরে তাঁর মর্যাদা সমুন্নত হলো … মেঘের ন্যায় তাঁর হাত তাদের ওপর বুলিয়ে দেওয়া হলো

আমি তাঁর সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা করি, কারণ আমি নিশ্চিত যে … যখনই তাঁর সাথে দেখা হবে, আমি কোনো দুঃখ-কষ্ট দেখব না

যখন তিনি এই পঙক্তি পর্যন্ত পৌঁছালেন, আল-আশরাফ হেসে উঠলেন এবং বললেন: "হে ইবনে আবদুস! দুঃখ-কষ্ট দূরীভূত হয়েছে। তবে বর্তমানে আমরা যে অবস্থায় আছি তা তোমার নিকট অস্পষ্ট নয়, সুতরাং..."
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
تختار: يسير معجل، أو كثير مؤجل؟ فقال: يا خوند، إنما يصبر على المؤجل التجار أصحاب رءوس الأموال، وأما المفلسون الذي رؤوس أموالهم الأشعار مثلي وأشباهي فإنما هم أبناء يومهم. قال صدقت، وألتفت إلى الصفي كاتبه وقال: بحياتي عليك إلا ما أجزته عني. فقال: نعم وكرامة. وانصرف به إلى منزله، وحلف له انه ما يملك في ذمته شيئاً يقدر على خروجه عنه والتعوض منه إلا على البغلة التي يركبها، ودفعها إليه وألبسه ثيابه التي كانت عليه. فجن فرحاً، وأطنب في الثناء على الملك والكاتب وقال: هذا عندي في هذا الوقت خير من عشرة آلاف دينار في وقت آخر.

قال: وهكذا كانت أفعال الملك الأشرف في أكثر الأوقات، إذ كان أعرف الناس باستجلاب الثناء في كل وقت وبكل ما أمكن. قال: ومما أنشده لنفسه فاستحسنه الصفي وكتبه، قوله:

اسمع أخي اختبار … قد شيبت رأسه الرجال

إياك أن تشتفي بقول … فيه على ربه وبال

وبلغ النفس ما تمنت … إذا تأتى لك الفعال
আপনি কোনটি বেছে নেবেন: দ্রুত সামান্য কিছু, নাকি ভবিষ্যতে অধিক কিছু? তিনি বললেন: হে আমার মুনিব, যারা পুঁজিওয়ালা ব্যবসায়ী কেবল তারাই বিলম্বিত প্রাপ্তির জন্য ধৈর্য ধরতে পারে; আর আমার মতো এবং আমার সমমনা যারা রিক্তহস্ত, যাদের পুঁজি কেবল কবিতা, তারা বর্তমান নিয়েই বাঁচে। তিনি বললেন: তুমি সত্য বলেছ। অতঃপর তিনি তার লেখক সফীর দিকে ফিরে বললেন: আমার জীবনের কসম, তুমি তাকে আমার পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করো। তিনি বললেন: আপনার আদেশ শিরোধার্য। এরপর তিনি তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গেলেন এবং তার কাছে শপথ করে বললেন যে, বর্তমানে তার মালিকানায় এমন কিছুই নেই যা সে তাকে দিতে পারে বা যার দ্বারা প্রতিদান দিতে পারে, কেবল সেই খচ্চরটি ছাড়া যার ওপর সে আরোহণ করে। অতঃপর তিনি সেটি তাকে দিয়ে দিলেন এবং নিজের পরনের পোশাকগুলোও তাকে পরিয়ে দিলেন। এতে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন এবং রাজা ও লেখকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন। তিনি বললেন: এই মুহূর্তে এটি পাওয়া আমার কাছে অন্য সময়ে দশ হাজার দিনার পাওয়ার চেয়েও উত্তম।

তিনি বলেন: অধিকাংশ সময়ে রাজা আশরাফের কর্মকাণ্ড এমনই ছিল, কারণ তিনি সকল সময়ে এবং সম্ভাব্য সকল উপায়ে প্রশংসা অর্জনে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পারদর্শী ছিলেন। তিনি বলেন: তার নিজের রচিত কবিতার মধ্যে যা সফীর পছন্দ হয়েছিল এবং তিনি তা লিখে নিয়েছিলেন, তা হলো:

হে আমার ভাই, অভিজ্ঞতার কথা শোন … যা পুরুষদের মস্তক শুভ্র করে দিয়েছে

এমন কথা দ্বারা তৃপ্ত হওয়া থেকে সাবধান থেকো … যাতে তার রবের পক্ষ থেকে বিপদ রয়েছে

আর নফসকে তার আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দাও … যখন কাজ করার সুযোগ তোমার অনুকূলে আসে।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الترجمة الثالثة [ابن مجاور]

الوزير الجواد المجيد نجم الدين بن مجاور يوسف بن الحسن.

بيت بني مجاور بدمشق مشهور إلى الآن. لزمهم هذا النسب من جدهم، رفض جنة الدنيا بدمشق ولزم المجاورة بمكة، فعرف بالمجاور. ونشا نجم الدين متغذياً بتلك الطريقة ملتزما قراءة القرآن وإقراءه، واتخذ مكتبا يعلم فيه الصبيان على باب جامع دمشق. وسمت همته إلى إقراء النحو والأدب، واستفاد من ذلك ما علم به أولاد الكبراء، إلى أن أحتاج السلطان صلاح الدين معلما لابنه العزيز، فدل عليه، ووصفت طريقته الحميدة فأخذت السعادة بيديه. وأنس به العزيز فساد بخدمته في بلده وغير بلده، ووكله في أول الحال، ثم استوزره في نيابته عن أبيه بمصر، ثم فوض له جميع أمور دولته لما مات أبوه واستبد بالسلطنة. وكان أهلا لذلك، لما جمع من الفضائل والآداب ومكارم الأخلاق.

وكان معرفا بتوطئة الأكتاف، ومعاونة الأدباء والشعراء، والأخذ معهم غير مميز عنهم، حتى كأنه إذا باحثهم واحد منهم، مع ارتقاء في الشعر إلى الدرجة التي تأخذ بمجامع القلوب والألباب،
তৃতীয় জীবনী [ইবনে মুজাবির]

দানশীল ও মহিমান্বিত উজির নজমউদ্দীন বিন মুজাবির ইউসুফ বিন হাসান।

দামেশকে বনী মুজাবিরের বংশধারা বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রসিদ্ধ। এই বংশপরিচয় তাদের দাদার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, যিনি দামেশকের পার্থিব জান্নাত পরিত্যাগ করেছিলেন এবং মক্কায় অবস্থান (মুজাওয়ারা) বেছে নিয়েছিলেন, ফলে তিনি 'আল-মুজাবির' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। আর নজমউদ্দীন সেই আদর্শেই লালিত-পালিত হন এবং কুরআন পাঠ ও তা পাঠদানের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি দামেশক জামে মসজিদের দ্বারে বালকদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একটি মক্তব স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ব্যাকরণ ও সাহিত্য পাঠদানের প্রতি তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় এবং এর মাধ্যমে তিনি অভিজাত ব্যক্তিবর্গের সন্তানদের শিক্ষা দান করে সমৃদ্ধি অর্জন করেন। একপর্যায়ে সুলতান সালাহউদ্দীন তার পুত্র আল-আজিজের জন্য একজন শিক্ষকের প্রয়োজন বোধ করলে তাকে সুলতানের কাছে উপস্থাপন করা হয়। তার প্রশংসিত পাঠদান পদ্ধতির কথা বর্ণনা করা হলে সৌভাগ্য তাকে বরণ করে নেয়। আল-আজিজ তার সান্নিধ্যে প্রশান্তি লাভ করেন এবং নিজ দেশে ও বিদেশে তার সেবার মাধ্যমে সাফল্য লাভ করেন। প্রাথমিক অবস্থায় তাকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয়, অতঃপর মিসরে পিতার ডেপুটি হিসেবে অবস্থানকালে আল-আজিজ তাকে উজির নিযুক্ত করেন। পরবর্তীতে যখন তার পিতা ইন্তেকাল করেন এবং তিনি সালতানাতের পূর্ণ ক্ষমতা লাভ করেন, তখন তিনি রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলি তার ওপর অর্পণ করেন। তিনি তার চারিত্রিক উৎকর্ষ, শিষ্টাচার ও মহানুভবতার কারণে এই পদের সম্পূর্ণ যোগ্য ছিলেন।

তিনি মানুষের প্রতি বিনয়ী এবং সাহিত্যিক ও কবিদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি তাদের সাথে এমনভাবে মেলামেশা করতেন যেন তিনি তাদের থেকে আলাদা কেউ নন। এমনকি তিনি যখন তাদের সাথে কোনো বিষয়ে আলোচনা করতেন, তখন মনে হতো তিনি যেন তাদেরই একজন। পাশাপাশি কবিতার ক্ষেত্রে তিনি এমন এক উচ্চশিখরে আরোহণ করেছিলেন যা মানুষের হৃদয় ও মনকে গভীরভাবে স্পর্শ করত।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وترفع عن طبقة العلماء والأدباء والكتاب. ومن أمعن الفكر فيما أورد له في هذا المجموع علم أن له فكرة غواصة، وان معاني الأغراب وألفاظ الإبداع ليست عليه بمعتاصة.

ومن الحكايات المستطرفة المتعلقة بترجمته أن ابن منذر البطلبوسي لما ورد من المغرب أعترضه وهو قاصد دار السلطان، فكلفه رفع بطاقة إليه في مرتب يستعين به على طلب العلم. فأعلمه أن الكلام في إجراء راتب مخترع لا يمكن. فقال: فإن لم يمكن هذا فاكتب إلى الفقيه فلان في أن ينزلني عنده في المدرسة ويجري لي من الوقف ما يكفيني. فقال: ليس هذا من شغلي وإنما من شغل متولي الاوقاف0 فاظهر انه لا ينفصل عنه إلا بالنظر في أمره، وجعل يورد عليه من أنواع التكليف ما يروغ الوزير عنه إلى أن أضجر. فأراد الانفصال عنه فقال: يا هذا، أعلم أنه من كلف ما لا يقدر عليه أتعب لسانه وسمع من يكلمه. فقال: أيها الوزير، أتعد إن أنا كلفتك ما تستطيع لم تعتذر لي عنه؟ قال: ما أعتذر لك عن شيء أستطيعه. قال: وأنا أيضاً فما أكلفك إلا أن ترجع إلى تعليم الصبيان في المكتب الذي كنت فيه، فتستريح أنت من كلف الناس ويستريح الناس من هذه الوزارة الخراء التي لا فائدة فيها، وقد شغلت مكانتها عن مستحقها ممن يفرح بقضاء حوائج الناس،، ويتكلف المشقات في تخليد شكرهم. فضحك الوزير ضحكاً لم يعهد منه مثله، وقال له:
তিনি আলেম, সাহিত্যিক ও লেখকদের স্তর থেকেও উচ্চতর মর্যাদা লাভ করেছিলেন। আর এই সংকলনে তাঁর সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তাতে যে ব্যক্তি গভীরভাবে চিন্তা করবে সে বুঝতে পারবে যে, তাঁর রয়েছে অত্যন্ত গভীর ও সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি। বিরল অর্থ ও সৃজনশীল শব্দাবলি তাঁর নিকট মোটেও দুর্ভেদ্য ছিল না।

তাঁর জীবনী সংক্রান্ত চিত্তাকর্ষক গল্পসমূহের মধ্যে একটি হলো—ইবনে মুনযির আল-বাতালইউসি যখন মরক্কো থেকে এলেন, তখন সুলতানের প্রাসাদের দিকে যাওয়ার পথে তিনি তাঁর গতিরোধ করেন। তিনি সুলতানের নিকট একটি আবেদনপত্র পেশ করার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন, যাতে তাঁর জ্ঞানার্জনে সহায়তার জন্য একটি ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। তখন তিনি তাকে অবগত করলেন যে, নতুন করে কোনো ভাতা নির্ধারণের ব্যাপারে কথা বলা অসম্ভব। তিনি বললেন: "যদি এটি সম্ভব না হয়, তবে অমুক ফকীহকে লিখে দিন যাতে তিনি আমাকে তাঁর মাদরাসায় থাকার জায়গা দেন এবং ওয়াকফ থেকে আমার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্দ করেন।" তিনি বললেন: "এটি আমার কাজ নয়; বরং এটি ওয়াকফ তত্ত্বাবধায়কের কাজ।" তখন তিনি এমন ভাব প্রকাশ করলেন যে, তাঁর বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁকে ছেড়ে যাবেন না। তিনি মন্ত্রীর ওপর এমন সব দাবির বোঝা চাপাতে থাকলেন যে মন্ত্রী তা থেকে এড়িয়ে যেতে চাইলেন, এমনকি তিনি অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেন। তিনি তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাইলেন এবং বললেন: "হে লোক! জেনে রেখো, যে ব্যক্তি কাউকে তার সাধ্যাতীত কাজের দায়িত্ব দেয়, সে নিজের জিহ্বাকেই ক্লান্ত করে এবং যার সাথে সে কথা বলছে তার থেকে অপ্রিয় কথা শোনে।" তিনি বললেন: "হে মন্ত্রী! আপনি কি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, আমি যদি আপনাকে আপনার সাধ্যের মধ্যে কোনো কাজের দায়িত্ব দেই, তবে আপনি ওজর পেশ করবেন না?" তিনি বললেন: "আমার সাধ্যের মধ্যে কোনো বিষয়ে আমি তোমার কাছে ওজর পেশ করব না।" তিনি বললেন: "আমিও আপনাকে কেবল এই কাজেরই দায়িত্ব দিচ্ছি যে—আপনি ইতিপূর্বে যে মক্তবে ছিলেন, সেখানেই পুনরায় শিশুদের শিক্ষাদানে ফিরে যান। এর ফলে আপনিও মানুষের বোঝা থেকে মুক্তি পাবেন, আর মানুষও এই অসার ও মূল্যহীন মন্ত্রিত্ব থেকে রেহাই পাবে যার কোনো উপকারিতা নেই। অথচ আপনি এমন এক যোগ্য ব্যক্তির স্থান দখল করে রেখেছেন যিনি মানুষের প্রয়োজন পূরণ করতে আনন্দিত হন এবং মানুষের চিরস্থায়ী কৃতজ্ঞতা অর্জনের জন্য কষ্ট সহ্য করেন।" এতে মন্ত্রী এমনভাবে হেসে উঠলেন যা আগে কখনো তাঁর থেকে দেখা যায়নি এবং তাঁকে বললেন:
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
أي وأنت على هذا المنزع، وفيك هذه الحلاوة، ولست من المغاربة الجفاء، ففيك مصطنع، ونبلغ إن شاء الله في شأنك فوق ما نقدر عليه. وحمله معه حتى ادخله على العزيز، فأعاد عليه ما جرى بينه وبين الوزير.

فضحك واستطاب القصة وصيره من خواصه وانتفع بخدمته غاية الانتفاع. حتى أشتهر ذكره وصار كالوكيل والأمين، وانتقل بعد ذلك إلى حلب فصار في خدمة أخيه الظاهر.

ومن الحكايات التي اخترتها لكتاب "روح الأدب" وشعرها من "كنوز المعاني" ما أخبرني به أبو بيان الإسرائيلي حكيم الديار المصرية وبقية المعمرين من أشياخها، الممازحين للملوك وأرباب الدول، قال: أهدي للملك العزيز بن صلاح الدين مملوك من القفجق، كما دب عذاره بشقره، لا يراه أحد فيقدر أن يثني عنه بصره. فقال:
অর্থাৎ আপনি যেহেতু এই পন্থার ওপর রয়েছেন এবং আপনার মাঝে এই মাধুর্যতা বিদ্যমান, আর আপনি রুক্ষ স্বভাবের মাগরেবীদের অন্তর্ভুক্ত নন, তাই আপনার প্রতি অনুগ্রহ করার অবকাশ রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আপনার বিষয়ে আমরা আমাদের সাধ্যের অতীত প্রচেষ্টা করব। অতঃপর তিনি তাকে সাথে নিয়ে আল-আজিজের নিকট প্রবেশ করালেন এবং তাঁর ও উজিরের মাঝে যা ঘটেছিল তা পুনরায় তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন।

অতঃপর তিনি হাসলেন এবং কাহিনীটি পছন্দ করলেন। এরপর তাকে তাঁর একান্ত ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত করলেন এবং তার সেবা থেকে চূড়ান্তভাবে উপকৃত হলেন। এমনকি তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ল এবং তিনি একজন প্রতিনিধি ও বিশ্বস্ত ব্যক্তির ন্যায় হয়ে উঠলেন। এরপর তিনি আলেপ্পোতে স্থানান্তরিত হলেন এবং তাঁর ভাই আয-যাহিরের সেবায় নিযুক্ত হলেন।

"রুহুল আদব" গ্রন্থের জন্য আমি যে সকল কাহিনী নির্বাচন করেছি এবং যার কবিতা "কুনূযুল মা'আনী" হতে গৃহীত হয়েছে, তন্মধ্যে একটি হলো যা আমাকে মিশরের বিজ্ঞ ব্যক্তি এবং সেখানের প্রবীণ শায়খদের অবশিষ্টাংশ আবু বায়ান আল-ইসরাঈলী বর্ণনা করেছেন, যিনি রাজা ও রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সাথে কৌতুক করতেন। তিনি বলেন: সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর পুত্র মালিক আল-আজিজকে কিপচাক বংশীয় এক গোলাম উপহার দেয়া হয়েছিল, যার কপোলে সোনালি রোমরাজির শুভ্রতা কেবল প্রকাশিত হতে শুরু করেছিল; কেউ তাকে দেখলে তার থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হতো না। অতঃপর তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الملك العزيز لجلسائه الأدباء: نجعل هذا المملوك الجديد ساقينا اليوم. فلما استقر مجلس الأنس- وفيه جعفر بن شمس الخلافة، والأسعد ابن مماتي، وهما حينئذ الغاية في طبقة الشعراء، وهناك من يشعر غيرهما- قال لهم، وقد أخذت الكأس منهم وأزلت حجاب الحياء عنهم: هذا مكان الأفكار وإجالتها، وأشار إلى المملوك. فأفكروا ساعةً فلم يحضر لهم ما يرضونه، فقالوا: يا مولانا، إن الوزير نجم الدين له شغف بالمعذرين وأوصافهم، بفكرة منقادة لتعلقه بهم، وما لهذا إلا خاطره. فقال: نسره بالمشاركة في هذا الشأن ولا نضيره بالاستدعاء للحضور على ما لا يريده. ثم أمر بالكتب له في ذلك. فوصل جوابه بهذه الأبيات التي لا نظير لها في حسنها، ولا عديل لقصدها في فنها:

غصن من الفضة قد أورقا … بالتبر من فاز به وفقا

رواه ساقي الحسن من مائة … فبان في أعلاه ما قد سقى

ومنتهى الأحرف من خطه … في جانبي صدغيه قد عرقا
আল-মালিক আল-আজিজ তাঁর সাহিত্যিক সহচরদের বললেন: আমরা আজ এই নতুন দাসটিকে আমাদের সাকি (পানপাত্র পরিবেশক) নিযুক্ত করব। অতঃপর যখন আনন্দের মজলিস জমজমাট হলো—যেখানে জাফর বিন শামস আল-খিলাফাহ এবং আল-আসআদ ইবনে মাম্মাতি উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা তৎকালীন সময়ে কবিসমাজে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আসীন ছিলেন এবং সেখানে আরও কবি উপস্থিত ছিলেন—রাজা তাঁদের উদ্দেশে বললেন, যখন সুরাপাত্রের প্রভাবে তাঁদের জড়তা কেটে গেছে এবং লজ্জার পর্দা অপসারিত হয়েছে: "এটি চিন্তা ও মেধা প্রয়োগের স্থান," এবং তিনি দাসটির দিকে ইশারা করলেন। তাঁরা কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন কিন্তু সন্তোষজনক কিছু উপস্থিত করতে পারলেন না। তখন তাঁরা বললেন: "হে আমাদের অধিপতি, উজির নাজমুদ্দিনের নবারুণ দাড়িওয়ালা কিশোরদের রূপ বর্ণনায় বিশেষ অনুরাগ রয়েছে; তাদের প্রতি তাঁর আসক্তির কারণে তাঁর কল্পনাপ্রসূত চিন্তা এ বিষয়ে অত্যন্ত ক্ষিপ্র, আর এ কাজের জন্য তাঁর মেধা ভিন্ন অন্য কিছু উপযুক্ত নয়।" তখন তিনি বললেন: "আমরা তাঁকে এই বিষয়ে অংশীদার করে আনন্দিত করব, তবে তিনি যা পছন্দ করেন না তেমন মজলিসে তাঁকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে আমরা তাঁকে কষ্ট দেব না।" অতঃপর তিনি এ বিষয়ে তাঁকে পত্র লিখতে আদেশ দিলেন। তাঁর উত্তর এই কবিতাগুলোর মাধ্যমে এল, যার সৌন্দর্য অতুলনীয় এবং যার শৈল্পিক লক্ষ্য বিচারে কোনো সমকক্ষ নেই:

রৌপ্য-ধবল এক শাখা আজ পল্লবিত হয়েছে … স্বর্ণের আভায়, যে তা লাভ করেছে সে সফল হয়েছে

রূপের সাকি তাকে আপন বারি দ্বারা সিক্ত করেছে … ফলে সে যা পান করিয়েছে তা তার উপরিভাগে প্রকাশ পেয়েছে

তার গণ্ডদেশের কেশরেখা হতে উৎপন্ন শেষ অক্ষরগুলো … তার দুই রগের পার্শ্বে ঘর্মাক্ত হয়ে ফুটে উঠেছে
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
يا حسنه نوناً بماءٍ جرى … ودار كالعقرب كي يتقى

فاغتنموا بدراً بدا كاملاً … في شفق من قبل أن يمحقا

لا أبصرته مقلة ذاوياً … ولا رأت زخرفه محرقا

فطرب الملك العزيز، ووالي الشرب وأمر المغني بالغناء فيها. قال للخازن: أحضر جميع ما أهدي إلينا مع هذا المملوك. فأحضر وقوم، فكانت قيمته عشرة آلاف دينار مصرية. فقال: لو أن نجم الدين كمل أبياته عشرة لفاز بجملتها، ولكن يأخذ منها ستة آلاف ويقتسمون الباقي. ثم أطال النظر في المملوك فقال له: كن أنت الرسول إليه بهذا، وأنت من جملة ما حبوناه به. قال أبو بيان: فلا ندري من أي شيء نعجب، فهل مما تضمنته هذه الحكاية من الأخلاق الملوكية؟ وهي على ما جمعته نقطة من بحار فضائله رحمة الله عليه، فما ملك مصر مثله. ومما استحسنه الملك العزيز، فأمر شعراءه بالقول فيه، قصة الجارية التي صورت في خدها بالمسك حية، وكان الذي قال في ذلك وزيره المذكور.
আহা, কী চমৎকার! প্রবহমান পানির অক্ষরে আঁকা ‘নুন’-এর মতো … যা বৃশ্চিকের মতো বক্র হয়ে আছে যেন তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা যায়।

তোমরা পূর্ণিমার চাঁদকে অর্জনের সুযোগ লুফে নাও যা পূর্ণরূপে প্রকাশ পেয়েছে … গোধূলির রক্তিম আভায় বিলীন হয়ে যাওয়ার পূর্বে।

কোনো চক্ষু যেন তাকে মলিন অবস্থায় না দেখে … আর তার সৌন্দর্যকে যেন ভস্মীভূত হতে না দেখে।

ফলে মালিক আল-আজিজ উল্লসিত হলেন, মদ্যপানের ধারা বজায় রাখলেন এবং গায়ককে এর ওপর ভিত্তি করে গান গাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি কোষাধক্ষ্যকে বললেন: এই দাসের সাথে আমাদের কাছে যা কিছু উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে তা সব হাজির করো। অতঃপর তা উপস্থিত করা হলো এবং মূল্যায়ন করা হলো; যার মূল্য দাঁড়াল দশ হাজার মিশরীয় দিনার। তিনি বললেন: যদি নাজমুদ্দিন তার পঙ্ক্তিগুলো দশটি পূর্ণ করতেন, তবে তিনি এর পুরোটাই লাভ করতেন। কিন্তু তিনি এখান থেকে ছয় হাজার গ্রহণ করবেন এবং অবশিষ্ট অংশ অন্যরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবে। এরপর তিনি দাসের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে রইলেন এবং তাকে বললেন: তুমিই এই বার্তা নিয়ে তার কাছে ফিরে যাও; আর আমরা তাকে যা কিছু দান করলাম, তুমিও তার অন্তর্ভুক্ত। আবু বায়ান বলেন: আমরা জানি না কোন বিষয়টিতে আমরা বেশি বিস্মিত হব। এই কাহিনীতে বর্ণিত রাজকীয় চরিত্রের মাধুর্য দেখে? অথচ আমি যা সংগ্রহ করেছি তা তার গুণাবলির সমুদ্রের একটি বিন্দুমাত্র (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন); কেননা মিশরে তার মতো কোনো রাজা রাজত্ব করেননি। মালিক আল-আজিজ যা পছন্দ করেছিলেন এবং তার কবিদের তা নিয়ে কাব্য রচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা হলো সেই দাসীর কাহিনী যে তার গালে মিশক দিয়ে একটি সাপের ছবি এঁকেছিল। আর এ বিষয়ে যিনি কবিতা বলেছিলেন তিনি ছিলেন তাঁর উল্লিখিত উজির।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
قد رقمت في خدها أرقما … بالمسك في مذهب ثوب طسيم

ما ذاق من قبله غفوةً … يا عجيبا من ساهر بالرقيم

مرسلة بالحسن قد أظهرت … في نار إبراهيم أيم الكليم

ووقفت على ترجمته في تاريخ حلب لابن العديم فوجدت هنالك أنه مات سنة إحدى وستمائة.

وقوله الطيار لخفته على الألسن وحسن منزعه:

ولما تولى الخد وإلى عذراه … رفعت إليه قصتي أتظلم

فوقع فيها خطه بصبابتي … وقال لي السلوان شيء محرم

أتلبس ثوب الخد إذ كان ساذجاً … وتخلعه لما بدا وهو معلم

ثم وجدت الشهاب القوصى قد أثنى عليه في كتاب "تاج
তিনি তার গালে কিছু চিহ্ন অঙ্কিত করেছেন … ম্লান হয়ে যাওয়া কাপড়ের সোনালী আভার ওপর কস্তুরী দ্বারা।

এর আগে তিনি তন্দ্রার স্বাদ গ্রহণ করেননি … হে গুহাবাসীদের সাথে বিনিদ্র থাকা ব্যক্তি, আপনি কতই না বিস্ময়কর!

সৌন্দর্যের সাথে প্রেরিত হয়ে তিনি প্রকাশ করেছেন … ইবরাহীমের আগুনের মধ্যে কালিমের বিধবা।

আমি ইবনুল আদিমের 'তারিখে হালাব'-এ তাঁর জীবনী সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং সেখানে দেখতে পেয়েছি যে তিনি ৬০১ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এবং মানুষের মুখে মুখে সাবলীলতা ও চমৎকার প্রকাশভঙ্গির কারণে তাঁর সুপ্রসিদ্ধ কাব্য:

যখন গাল ফিরে গেল এবং তার গণ্ডদেশের কেশরাজি প্রকাশিত হলো … আমি জুলুমের অভিযোগ জানিয়ে তার কাছে আমার দুঃখের কাহিনী পেশ করলাম।

অতঃপর তিনি তাতে আমার অনুরাগের বিষয়ে স্বাক্ষর করলেন … এবং আমাকে বললেন যে, ধৈর্য ধারণ করা বা ভুলে থাকা একটি নিষিদ্ধ বিষয়।

যখন গালটি ছিল অলঙ্কারহীন তখন কি তুমি গালের পোশাক পরিধান করতে … আর যখন তা সুশোভিত হয়ে প্রকাশ পেল তখন কি তুমি তা খুলে ফেলছ?

অতঃপর আমি দেখতে পেয়েছি যে, শিহাব আল-কওসি 'তাজ' নামক গ্রন্থে তাঁর প্রশংসা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
المعاجم" وأنشد له قوله، وهو من المحاسن التي لا يجب أن تغفل:

يا ثغره المحمى منه بنابل … من طرفه وبسائف من خده

وبمشرق من صدغه وبناظر … من خاله وبعامل من قده

ارفق بما اغتصب الغرام فقد أتى … خط العذار موقعاً في رده

وأنشد له ابن المستوفى في تاريخ إربل:

ليت رقيبي لم يكن أحولا … إذا لم يكن أعمى ولا أعور

لأن من يبصر من واحدٍ … شيئين أولى الناس أن يحذرا

وجرى ذكره يوما بحضرة الصاحب بهاء الدين زهير صاحب الأشعار الرقيقة الطائرة في أقطار الشرق والمغرب، فقال: وددت أن لي قوله بكثير من شعري، فما سمعت أظرف منه:

صديق قال لي لما رآني … وقد صليت زهداً ثم صمت

على يد شيخ تبت قل لي … فقلت على يد الإفلاس تبت
'আল-মু'আজিম' এবং তিনি তার জন্য এটি আবৃত্তি করেছেন, যা এমন এক সৌন্দর্য যা উপেক্ষা করা উচিত নয়:

হে তার সংরক্ষিত ওষ্ঠাধর যা সুরক্ষিত রয়েছে চোখের তীরন্দাজ থেকে … এবং গালের তরবারিধারী থেকে।

এবং রগের দ্যুতি ও তিলের দর্শক থেকে … এবং দেহের উচ্চতার বর্শাধারী থেকে।

প্রেম যা হরণ করেছে তার প্রতি সদয় হও, কেননা গণ্ডদেশের রেখা তার প্রত্যাবর্তনের স্বাক্ষর হিসেবে উপস্থিত হয়েছে।

ইবনুল মুসতাওফি 'তারিখে ইরবিল'-এ তার সম্পর্কে আবৃত্তি করেছেন:

হায়! যদি আমার প্রহরী ট্যারা না হতো … যদি সে অন্ধ বা একচক্ষু বিশিষ্ট না হতো।

কারণ যে ব্যক্তি এক বস্তুকে দুই দেখে … সে-ই সর্তক হওয়ার সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ছড়িয়ে পড়া সূক্ষ্ম কবিতার রচয়িতা সাহিব বাহাউদ্দিন জুহাইরের উপস্থিতিতে একদিন তার কথা আলোচিত হলো, তখন তিনি বললেন: আমি কামনা করি যে আমার অনেক কবিতার বিনিময়ে হলেও যদি এই কথাগুলো আমার হতো, কারণ আমি এর চেয়ে চমৎকার ও বুদ্ধিদীপ্ত আর কিছু শুনিনি:

এক বন্ধু আমাকে দেখে বলল, যখন আমি বিরাগবশত সালাত আদায় করছিলাম এবং রোজা রাখছিলাম— …

বলো তো, কোন শাইখের হাতে তুমি তওবা করেছ? আমি বললাম, নিঃস্বতার হাতে আমি তওবা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الترجمة الرابعة [ابن نفاذة]

الرئيس الشاعر المتقدم شمس الدولة أحمد بن نفاذة السلمي الدمشقي. كان عند السلطان صلاح الدين بن أيوب في عداد رؤساء الأجناد الذين يسمونهم بالأمراء.

ذكر الشهاب القصوى في"تاج المعاجم" أنه كان جليل القدر بعيد الهمة أديباً شاعراً.

ولد بدمشق سنة إحدى وأربعين وخمسمائة، ومات بها في محرم سنة إحدى وستمائة.

وأنشد له -مما طول فيه من الأشعار- ما يدل على اقتداره وطول نفسه.

ومما يعد من "كنوز الأدب" قوله، وقد دخل على الفاضل البيساني مهنئاً له:

قد عوفي الفاضل مما شكا … وصح من سائر آلامه
চতুর্থ জীবনী [ইবন নুফাযাহ]

প্রথিতযশা নেতা ও কবি শামসুদ দাওলা আহমাদ ইবন নুফাযাহ আস-সুলামি আদ-দিমাশকি। তিনি সুলতান সালাহুদ্দীন ইবন আইয়ুবের নিকট সেই সকল সৈন্যবাহিনীর প্রধানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদেরকে তারা ‘আমীর’ নামে অভিহিত করত।

আশ-শিহাব আল-কুসওয়া ‘তাজুল মা‘আজিম’-এ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান, উচ্চাকাঙ্ক্ষী, সাহিত্যিক ও কবি ছিলেন।

তিনি ৫৪১ হিজরি সনে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬০১ হিজরির মহররম মাসে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর দীর্ঘ কবিতাসমূহ থেকে এমন কিছু পঙ্ক্তি আবৃত্তি করা হয়েছে, যা তাঁর দক্ষতা এবং দীর্ঘ রচনার ক্ষমতার প্রমাণ দেয়।

‘সাহিত্যের অমূল্য ভাণ্ডার’ হিসেবে যা গণ্য করা হয় তা হলো তাঁর সেই উক্তি, যা তিনি আল-ফাদিল আল-বায়সানিকে অভিনন্দন জানাতে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন:

আল-ফাদিল তাঁর শারীরিক কষ্ট থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন … এবং তাঁর সমস্ত বেদনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وذاك أن الداء لما أتى … إليه في جملة خدامه

أجله أن يعتري جسمه … معرفة منه بإعظامه

ورام توديعا له فأثنى … يرغب في تقبيل أقدامه

فلم يكن بد من إسعافه … جرياً على معهود إنعامه

أخبرني الشهاب أنه لما أنشد هذه الأبيات قال الفاضل: أبياتك هذه يا شمس الدولة خير من العافية، ما سمعت في معناها أحسن منها، وأحسن ما فيها أنها من رب سيف.

قال: ودخل على الصفي ابن شكر وزير العادل، وقد فهم عنه تقصيرا في حقه فأنشده:

أيا من مودته لم تزل … إذا ما ارتقى رتبة أو ولي

أعيذك من غفلةٍ تعتري … جلالك عن خادم أو ولي

إذا لم تزدني على رتبتي … فعد بي إلى حالي الأول

فقال: بل لا أقنع لك إلا بالمزيد، ولا أعتذر لك إلا بالفعل.

وشعره مدون، ظفرت به عند شخص لا يسمح بإعارته ولا مطالعته، فحفظت منه هذه الأبيات، وهي عنوان عما تضمنه من البدائع والغرائب:
এবং তা এই যে, রোগ যখন এল … তার নিকট তার সেবকদের দলের মাঝে।

সে তার শরীরকে আক্রান্ত করতে তাকে সম্মান প্রদর্শন করল … তার মহিমা সম্পর্কে অবগত হওয়ার কারণে।

এবং সে তাকে বিদায় জানাতে চাইল, তাই সে প্রশংসা করল … তার পদযুগল চুম্বন করার আকাঙ্ক্ষায়।

তাই তাকে বিমুখ করার কোনো উপায় ছিল না … তার অভ্যস্ত দানশীলতা অনুযায়ী।

শিহাব আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি যখন এই কবিতাগুলো আবৃত্তি করলেন, তখন আল-ফাদিল বললেন: হে শামসুদ দাওলা, আপনার এই কবিতাগুলো আরোগ্যের চেয়েও উত্তম; আমি এর ভাবে এর চেয়ে সুন্দর কিছু শুনিনি, আর এর সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এটি একজন তলোয়ারের অধিকারীর পক্ষ থেকে আসা।

তিনি বললেন: তিনি আল-আদিলের উজির সফি ইবনে শুকরের নিকট প্রবেশ করলেন। তিনি তার হকের ব্যাপারে উজিরের পক্ষ থেকে কিছুটা অবহেলা অনুভব করে তাকে এই কবিতা শোনালেন:

হে ওই ব্যক্তি, যার ভালোবাসা কখনো ফুরিয়ে যায় না … যখনই সে কোনো উচ্চ মর্যাদা লাভ করে অথবা দায়িত্বশীল নিযুক্ত হয়।

আমি আপনার মহিমাকে সেই উদাসীনতা থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে রাখছি যা প্রকাশ পায় … কোনো সেবক বা বন্ধুর প্রতি।

যদি আপনি আমার মর্যাদা বৃদ্ধি না করেন … তবে আমাকে আমার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিন।

তখন তিনি বললেন: বরং আমি তোমার জন্য কেবল বৃদ্ধিতেই সন্তুষ্ট হব, এবং কাজের মাধ্যমেই তোমার নিকট ওজর পেশ করব।

তার কাব্য সংকলিত; আমি এমন এক ব্যক্তির নিকট এটি পেয়েছি যে তা ধার দিতে বা পড়তে দিতে কৃপণতা করত। ফলে আমি তা থেকে এই কয়েকটি পঙক্তি মুখস্থ করে নিয়েছি, যা এর মধ্যকার চমৎকার ও দুর্লভ বিষয়গুলোর পরিচায়ক:
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
شاق الحمام فباح بالأشجان … عقد الندى في جيد غصن البان

وتأويد الغيد النواعم شاقني … فله ولي نوح على الأغصان

لي بالحدوج وبالغواني صبابةٌ … وله بورد الروض والريحان

ولو أنني واصلت من أحببته … يوماً لكان وكنت في بستان

وبمهجتي خنث اللحاظ جفونه … نشطت لقتلي نشطة الكسلان
কবুতরটি বিরহে কাতর হয়ে তার দুঃখ প্রকাশ করল … যেন বান বৃক্ষের শাখার গ্রীবায় শিশিরের মালা।

কোমল ও লাবণ্যময়ী সুন্দরীদের ছন্দময় চলন আমাকে ব্যাকুল করল … ফলে বৃক্ষশাখায় তার এবং আমার বিলাপের সুর ধ্বনিত হলো।

শিবিকা ও সুন্দরী রমণীদের প্রতি আমার প্রবল অনুরাগ … আর বাগানের গোলাপ ও সুগন্ধি পুষ্পের প্রতি তার আসক্তি।

আমি যদি কোনো একদিন আমার প্রিয়তমার সান্নিধ্য লাভ করতাম … তবে সে এবং আমি একটি উদ্যানের মাঝে থাকতাম।

আমার প্রাণের বিনিময়ে রয়েছেন সেই কোমল দৃষ্টির অধিকারী, যার চোখের পলক … আমাকে সংহার করতে অলস ব্যক্তির তৎপরতার ন্যায় সচেষ্ট হলো।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الترجمة الخامسة [التلمساني]

قاضي الجماعة الأديب المتفنن أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن مروان التلمساني.

ذكره التاج ابن حموية الدمشقي في رحلته المغربية وأخبر أنه من المرية أصلاً. وكان والده من الأجناد، تقدم وساد وولى مدينة وهران. وبها ولد أبو عبد الله، ونشأ بتلمسان مجدا في الفقه والأدب، ومال لعلم الظاهر، وأكثر من مطالعة كتب ابن حزم
পঞ্চম জীবনী [আত-তিলিমসানি]

কাজীউল জামাআত, বহুবিদ বিদ্যায় পারদর্শী সাহিত্যিক আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মারওয়ান আত-তিলিমসানি।

তাজ ইবনে হামুওয়াহ আদ-দিমাশকি তাঁর মরক্কো ভ্রমণকাহিনীতে তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মূলত আল-মারিয়্যাহর অধিবাসী ছিলেন। তাঁর পিতা সৈনিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তিনি পদমর্যাদায় উন্নতি লাভ করেন, নেতৃত্ব দেন এবং ওরান শহরের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। আর সেখানেই আবু আবদুল্লাহর জন্ম হয় এবং তিনি তিলিমসানে ফিকহ ও সাহিত্যের একনিষ্ঠ সাধক হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তিনি জাহেরি মতাদর্শের প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং ইবনে হাজমের গ্রন্থসমূহ অধিক পরিমাণে অধ্যয়ন করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فاشتهر بذلك، وصادف انحراف المنصور عن كتب الفروع وميله إلى مذهب أهل الحديث، فتقدم عنده إلى أن ولاه قضاء قضائه، فأبان عن صرامة وعفة ومروءة.

وكان ممن له مشاركة في صناعتي النظم والنثر.

وذكره والدي فيمن لقيه من أهل العلم وأطنب في الثناء عليه من جهة التعصب والسعي الجميل في حق من اعتمد عليه، مع خلق أندى من النسيم، وأدب أنق من الوجه الوسيم. قال: إلا أن حفظه وعمله بالأدب فوق شعره.

وأحسن ما أورده منه قوله في المنصور، وله فيه أمداح كثيرة، أورد منها ما رأيت الاقتناع ببعضه كافٍ:

أسيدنا يابن الإمامين أمركم … منوطٌ بأمر الله ما عنده معدل

نصرتم لأن الحق آن ظهوره … وناصر في الله ما كان يخذل
তিনি এর মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং ঘটনাচক্রে তা আল-মনসুরের ফিকহী গ্রন্থসমূহ থেকে বিমুখতা ও আহলুল হাদিস মাযহাবের প্রতি অনুরাগের সাথে মিলে যায়। ফলে তিনি তার নিকট এমন উচ্চমর্যাদা লাভ করেন যে, তিনি তাকে প্রধান বিচারপতির পদে আসীন করেন। সেখানে তিনি স্বীয় দৃঢ়তা, চারিত্রিক নির্মলতা এবং মহত্ব প্রকাশ করেন।

তিনি গদ্য ও পদ্য উভয় রচনাশৈলীতেই পারদর্শী ছিলেন।

আমার পিতা যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এমন আলেমদের তালিকায় তার নাম উল্লেখ করেছেন এবং তার পক্ষাবলম্বন ও তার ওপর নির্ভরশীলদের প্রতি তার সুন্দর প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সাথে ছিল সমীরণের চেয়েও স্নিগ্ধ স্বভাব এবং সুন্দর চেহারার চেয়েও মনোরম শিষ্টাচার। তিনি বলেন: তবে সাহিত্য আত্মস্থ করা ও এর প্রয়োগ তার কবিতার চেয়েও শ্রেষ্ঠ ছিল।

তার পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে মনসুরের প্রশংসায় রচিত পঙ্ক্তিগুলোই সর্বাপেক্ষা সুন্দর। তার ব্যাপারে তার অনেক প্রশংসা রয়েছে, যার মধ্য থেকে সামান্য কিছু উল্লেখ করাকেই আমি যথেষ্ট বলে মনে করছি:

হে আমাদের নেতা! হে দুই ইমামের বংশধর! আপনাদের শাসন … আল্লাহর নির্দেশের সাথে যুক্ত, যার কোনো বিকল্প নেই

আপনারা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছেন কারণ সত্যের বিকাশের সময় এসেছে … আর আল্লাহর পথে সাহায্যকারী কখনো লাঞ্ছিত হন না।
(খণ্ড: ১) আল-গুসুনুল ইয়ানিআহ ফী মাহাসিনি শুআরাইল মিয়্যাতিস সাবিআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
أزلتم على ما ينفع الناس جهلها … وعلمتم في الدين ما كان يجهل

وأوردتم السلسال من شفه الظما … أوان جرى ذاك الحديث المسلسل

قطعتم فروعاً قد أضرت بأصلها … ألا هكذا من كان بالعدل يشتمل

ملأتم بساط الأرض خيراً وما بقى … فأخباركم فيه تسير وتنقل

أقم إن تسر نحو الممالك راحلاً … فساكنها شوقاً لعدلك يرحل

ومن نادر الحكايات أنه كان قد لزم أبا جعفر بن مضاء قاضي القضاة مدة، وكان يثقل عليه بالطبع ويخف عليه بالتصنيع، ى فسأله في بعض الأوقات عن حاله، فارتجل هذه الأبيات:

يا من مضى وتسمى … ولم يخنه زمانه

سألتني كيف حالي … وقد كفاك عيانه

إن كان عندك خيرٌ … يرجى فهذا أوانه
আপনারা মানুষের জন্য যা উপকারী সেই বিষয়গুলোর অজ্ঞতা দূর করেছেন … আর দ্বীনের যা কিছু অজানা ছিল তা আপনারা শিক্ষা দিয়েছেন।

তৃষ্ণার্ত ওষ্ঠাধরে আপনারা সুপেয় স্বচ্ছ ধারা প্রবাহিত করেছেন … যখন সেই ধারাবাহিক (মুসালসাল) হাদীসের আলোচনা জারি ছিল।

আপনারা এমন সব শাখা কর্তন করেছেন যা তার মূলের ক্ষতি সাধন করছিল … সাবধান! যারা ন্যায়বিচারের অনুসারী তাদের কাজ এমনই হয়।

আপনারা পৃথিবীর জমিনকে কল্যাণে পূর্ণ করেছেন, আর যা অবশিষ্ট আছে … সেখানে আপনাদের সংবাদসমূহ পরিভ্রমণ করছে এবং বর্ণিত হচ্ছে।

আপনি অবস্থান করুন, যদি আপনি ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের দিকে সফর করার সংকল্প করেন … তবে সেই জনপদের অধিবাসীরা আপনার ইনসাফের তৃষ্ণায় আপনার দিকেই ছুটে আসবে।

একটি বিরল ঘটনা এই যে, তিনি দীর্ঘকাল প্রধান বিচারপতি আবু জাফর বিন মাদা-এর সান্নিধ্যে ছিলেন। স্বভাবগতভাবে তিনি বিচারপতির কাছে কিছুটা বিরক্তির কারণ হলেও লৌকিকভাবে নিজেকে হালকা রাখতেন। একদা বিচারপতি তাকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই পঙক্তিগুলো আবৃত্তি করেন:

হে ওই ব্যক্তি যিনি সফল হয়ে অতিবাহিত হয়েছেন এবং প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন … আর কাল যাকে প্রতারিত করেনি।

আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন আমার অবস্থা কেমন … অথচ তা স্বচক্ষে দর্শন করাই আপনার জন্য যথেষ্ট ছিল।

যদি আপনার কাছে এমন কোনো কল্যাণ থাকে … যার প্রত্যাশা করা যায়, তবে এখনই তার উপযুক্ত সময়।