(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: -)
الإملاء المختصر في شرح غريب السير   (أبو ذر الخشني)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الإملاء المختصر في شرح غريب السير

المؤلف: مصعب بن محمد (أبي بكر) بن مسعود الخشنى الجيانى الأندلسي، أبو ذر، ويعرف كأبيه، بابن أبي الركب (ت 604هـ)

استخرجه وصححه: بولس برونله

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

عدد الصفحات: 466

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সীরাত-গ্রন্থের দুর্লভ শব্দসমূহের ব্যাখ্যায় সংক্ষিপ্ত শ্রুতলিপি   (আবু যর আল-খুশানি)

বিভাগ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত


বই: সীরাত-গ্রন্থের দুর্লভ শব্দসমূহের ব্যাখ্যায় সংক্ষিপ্ত শ্রুতলিপি

লেখক: মুসআব বিন মুহাম্মাদ (আবু বকর) বিন মাসউদ আল-খুশানি আল-জায়ানি আল-আন্দালুসি, আবু যর, এবং তিনি তাঁর পিতার মতো ইবনে আবির রাকিব হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু ৬০৪ হিজরি)

উদ্ধার ও সংশোধন করেছেন: পল ব্রোনলি

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬৬

[বইয়ের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌كتاب الإملاء المختصر في شرح غريب السير

‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

صلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه قال الشيخ الفقيه القاضي العلامة المتفرد المحدث اللغوي النحوي المتفنن أبو ذر ابن الشيخ الإمام العلامة المرحوم أبي بكر محمد بن مسعود الخشني رضي الله عنهم: الحمد لله باعث الرسل، وناهج السبل، الذي هدانا للإسلام، وشرفنا بملة نبيه محمد عليه السلام، تخيره من أكرم نسب، وجعله سيد العجم والعرب، ثم بعثه بآياته الطاهرة، وأيده بمعجزاته الباهرة، وأمره بجهاد من صد عن سبيله، ولم يجب داعي الله ورسوله، فجاهد في الله حق جهاده، حتى ظهر دين الحق الذي ارتضاه لعباده، ثم توفاه وقد أكمل له الدين، وختم به النبيين، فصلوات الله عليه وعليهم أجمعين.

وبعد فهذا إملاء أمليته من حفظي بلفظي على كتاب سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، التي تقدم محمد بن إسحق إلى جمعها وتلخيصها وعني عبد الملك بن هشام بعده بتهذيبها وتخليصها، أو أن سمع هذا الكتاب مني، وقيدت رواياته بطرقها عني، قصدت فيه شرح ما استبهم من غريبه ومعانيه،
সীরাতের অপরিচিত শব্দসমূহের ব্যাখ্যায় সংক্ষিপ্ত শ্রুতিলিখন গ্রন্থ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাথীদের ওপর। শায়খ, ফকীহ, বিচারক, অদ্বিতীয় আল্লামা, মুহাদ্দিস, ভাষাবিদ, ব্যাকরণবিদ ও বহুমুখী বিদ্যায় পারদর্শী আবু যর ইবনুল ইমাম আল্লামা মরহুম আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মাসউদ আল-খুশানি (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি রাসুলদের প্রেরণকারী এবং পথসমূহ উন্মোচনকারী; যিনি আমাদের ইসলামের হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাঁর নবী মুহাম্মাদ আলাইহিস সালামের আদর্শের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন। তিনি তাঁকে শ্রেষ্ঠ বংশধারা থেকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে অনারব ও আরবদের নেতা বানিয়েছেন। অতঃপর তিনি তাঁকে তাঁর পবিত্র নিদর্শনসমূহ দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর উজ্জ্বল মুজিযাসমূহ দ্বারা তাঁকে সাহায্য করেছেন। তিনি তাঁকে সেই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন যারা আল্লাহর পথে বাধা প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেয় না। অতঃপর তিনি আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন, যতক্ষণ না সেই সত্য দ্বীন বিজয়ী হলো যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য মনোনীত করেছেন। এরপর তিনি তাঁর মৃত্যু ঘটালেন এমতাবস্থায় যে, তিনি তাঁর জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই নবীগণের সমাপ্তি ঘটিয়েছিলেন। সুতরাং তাঁর ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক।

অতঃপর, এটি একটি শ্রুতিলিখন যা আমি আমার মুখস্থ স্মৃতি থেকে আমার নিজ উচ্চারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত গ্রন্থের ওপর প্রদান করেছি, যা মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক সর্বপ্রথম সংগ্রহ ও সংক্ষেপিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম তা পরিমার্জন ও সারসংক্ষেপ করতে মনোনিবেশ করেছিলেন। আর যারা আমার থেকে এই কিতাবটি শ্রবণ করেছেন এবং আমার মাধ্যমে এর বর্ণনা ও সূত্রসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন, তাদের উদ্দেশ্যে এতে আমি সীরাতের অপরিচিত শব্দ ও অর্থসমূহের মধ্য হতে যা কিছু অস্পষ্ট ছিল তা ব্যাখ্যা করার সংকল্প করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ২)
وإيضاح ما التبس تفسيره على حامله وراويه، مع اختصار لا يخل وإيجاز يتم به البيان ويستقل لم يقصد فيه قصد التأليف فتمد أطنابه، ولا ينحى به نحو التصنيف فتمهد فصوله وأبوابه، وإنما هي عجالة الخاطر وغنية الناظر، ثم عرض علي هذا الإملاء بعد كماله فتصفحته، ورغب في حمله عني فبعد لأي ما أذنت في ذلك وأبحته، والله سبحانه ينفعنا بما قصدنا، ويجزل ثوابنا على ما ابتغيناه فيه وتوخيناه، فمنه العدل والإحسان، وعليه الاعتماد والتكلان، لا رب غيره، ولا خير إلا خيره.

 

‌‌قال الشيخ الفقيه أبو ذر رضى الله عنه

‌‌روى لنا سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم عن عبد الملك بن هشام عن زياد بن عبد الله عن محمد بن إسحق، فأما محمد بن إسحق فهو أبو بكر محمد بن إسحق بن يسار مولى قيس بن مخرمة بن المطلب بن عبد مناف، ولذلك يقال في نسبه المطلبي وهو من كبار المحدثين في المغازي والسير وكان الزهري يثني عليه بذلك ويفضله على غيره وهو مدني توفي ببغداد سنة إحدى وخمسين ومائة.

وأما زياد بن عبد الله فهو أبو محمد زياد بن عبد الله بن الطفيل البكائي الكوفي، نسب إلى البكاء
এবং এর বাহক ও বর্ণনাকারীর নিকট যার ব্যাখ্যা অস্পষ্ট ছিল তা স্পষ্ট করা, এমন সংক্ষিপ্ততার সাথে যা বিষয়বস্তুর ক্ষতি করে না এবং এমন সংক্ষেপণের সাথে যার মাধ্যমে বর্ণনা পূর্ণতা পায় ও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। এতে গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য করা হয়নি যার ফলে এর কলেবর বৃদ্ধি পায়, আর না একে সংকলনের রূপ দেওয়া হয়েছে যার ফলে এর অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ বিন্যস্ত হয়; বরং এটি হলো স্মৃতির ক্ষণিক চয়ন এবং পাঠকের জন্য পর্যাপ্ত পাথেয়। অতঃপর এই শ্রুতিলিপি পূর্ণ হওয়ার পর তা আমার কাছে পেশ করা হলো এবং আমি তা আদ্যোপান্ত দেখলাম। আমার নিকট থেকে এটি গ্রহণ ও বর্ণনা করার আগ্রহ প্রকাশ করা হলে দীর্ঘকাল পর আমি তাতে অনুমতি প্রদান ও তা বৈধ করলাম। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী আমাদের উপকৃত করুন এবং আমরা এতে যা অন্বেষণ ও সংকল্প করেছি তার প্রতিদান বহুগুণে বাড়িয়ে দিন। কেননা তাঁর পক্ষ থেকেই ইনসাফ ও ইহসান আসে এবং তাঁরই ওপর ভরসা ও নির্ভরতা। তিনি ব্যতীত কোনো রব নেই এবং তাঁর কল্যাণ ব্যতীত অন্য কোনো কল্যাণ নেই।

 

‌‌ফকিহ শায়খ আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন

‌‌আমাদের নিকট রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সিরাত বর্ণিত হয়েছে আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের পরিচয় হলো, তিনি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার, কাইস ইবনে মাখরামা ইবনে মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফের মুক্তদাস। এ কারণেই তাঁর বংশীয় পরিচয়ে মুত্তালিবি বলা হয়। তিনি মাগাযি ও সিরাত শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান মুহাদ্দিস ছিলেন। ইমাম যুহরি এই বিদ্যায় তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করতেন এবং অন্যদের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দিতেন। তিনি মদিনার অধিবাসী ছিলেন এবং একশত একান্ন হিজরিতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।

আর যিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ হলেন আবু মুহাম্মদ যিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে তুফাইল আল-বাক্কায়ি আল-কুফি। তাঁকে 'বাক্কা' গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ৩)
بن عمرو بن ربيعة بن صعصعة بن معاوية بن بكر بن هوزان، وهو من أصحاب الحديث، أخرج له البخاري ومسلم، وأما ابن هشام فهو أبو محمد عبد الملك بن هشام المعافري البصري نزيل مصر، وكان من أهل المعرفة باللغة والغريب والتاريخ والنساب ومات بمصر سنة ثلاث عشر ومائتين.

 

‌‌تفسير ما في نسب رسول الله صلى الله عليه وسلم من غريب

(قوله) : إلى معد بن عدنان، وما بعد ذلك فهي أسماء أعجمية منها ما يوافق العربي في الاشتقاق والتصريف ومنها ما يخالفه، والنسابون يختلفون فيما فوق عدنان اختلافاً كثيراً، قال ابن هشام، واسم عبد مناف المغيرة مناف اسم صنم أضيف عبد إليه كما يقولون عبد يغوث وعبد العزى وعبد اللات، وقصي يقال اسمه زيد، ويقال اسمه مجمع، ولؤي تصغير لآي وهو الثور الوحشي، وقد يكون تصغير لأي وهو البطء والمشهور فيه الهمز، والفهر حجر على مقدار ملء الكف، يذكر ويؤنث، والنضر الذهب الأحمر، وإلياس مختلف فيه، فمنهم من يقول فيه اليأس موافق للذي هو خلاف الرجاء، وهو مصدر يئس ويستدل على ذلك بقول رؤبة بن
বিন আমর বিন রাবিআহ বিন সা'সাআহ বিন মুআবিয়া বিন বকর বিন হাওয়ান, আর তিনি হাদীসবেত্তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, বুখারী ও মুসলিম তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। আর ইবনে হিশাম হলেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক বিন হিশাম আল-মাআফিরি আল-বাসরি, যিনি মিশরের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ভাষা, বিরল শব্দাবলী (গারীব), ইতিহাস ও বংশবিদ্যায় বিজ্ঞ ছিলেন এবং দুইশত তের হিজরি সনে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশপরম্পরায় উল্লিখিত বিরল শব্দসমূহের ব্যাখ্যা

(তাঁর বক্তব্য): মাআদ্দ বিন আদনান পর্যন্ত, এবং তার পরবর্তী নামগুলো অনারবীয় নাম, যার কোনোটি ব্যুৎপত্তি ও রূপান্তরের ক্ষেত্রে আরবীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কোনোটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। বংশবিদগণ আদনানের ঊর্ধ্বের নামগুলোর ব্যাপারে ব্যাপকভাবে মতভেদ করেছেন। ইবনে হিশাম বলেন, আবদ মানাফের নাম হলো আল-মুগীরা; মানাফ একটি মূর্তির নাম যার সাথে 'আবদ' (দাস) শব্দটিকে যুক্ত করা হয়েছে যেমন তারা বলত আবদ ইয়াগুস, আবদ আল-উজ্জা ও আবদ আল-লাত। কুসাই-এর নাম যায়দ বলা হয়, আবার মুজাম্মিও বলা হয়। লুআই হলো লা-য়ি শব্দের ক্ষুদ্রবাচক রূপ যার অর্থ বন-ষাঁড়, আবার এটি লায়-এর ক্ষুদ্রবাচক রূপও হতে পারে যার অর্থ ধীরগতি এবং এতে হামযা থাকাই প্রসিদ্ধ। ফিহর হলো হাতের মুষ্টি পরিমাণ পাথর, যা পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয় হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। আন-নাদর হলো লাল স্বর্ণ। ইলিয়াস নামটির ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে; কেউ কেউ একে 'আল-ইয়াস' বলেন যা আশার বিপরীত অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং এটি 'ইয়া-ইসা' ক্রিয়ামূল থেকে উদ্গত। এর স্বপক্ষে রূবাহ ইবনে-এর উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ৪)
العجاج: أمهتي خندف واليأس أبي: وبقول ابن هرمة: أصيب بداء يأس فهو مودي، أي هالك وبعضهم يقول فيه: إلياس بكسر الهمزة، ومضر الأبيض، مشتق من اللبن الماضر وهو الحامض، ونزار من النزارة وهي القلة، ومعد من تمعدد إذا اشتد، ويقال متعدد أيضاً أي أبعد في الذهاب، وعدنان مأخوذ من عدن في المكان إذا أقام فيه، ومنه جنات عدن أي جنات إقامة وخلود، وقوله في ولد إسماعيل، وطيماء كذا وقع هنا بالطاء المهملة مكسورة ومفتوحة، وقيده الدارقطني، وظمياء بالظاء المعجمة ممدوداً وتقديم الميم.

 

‌‌(وقوله) : وأمهم بنت مضاض اسمها السيدة في ما ذكر الدارقطني رحمه الله، ويقال مضاض بكسر الميم أيضاً، (وقوله) : مولى عفرة بنت بلال مولى أبي بكر الصديق رضي الله عنه، (وقوله) : أهل المدرة السوداء، المدرة هنا (108) والبلدة والسحم السود واحدهم أسحم وسحماء، والجعاد هم الذين في شعرهم تكسير (وقوله) : تسرر فيهم، يقال تسرر الرجل وتسرى إذا اتخذ أمة لفراشه (وقوله) : بسد مأرب: مأرب قصر كان بناه بعض الملوك بذلك الموضع وكان به ماء، ويقال فيه مأرب ومارب مهموز وغير مهموز
আল-আজ্জাজ বলেছেন: "আমার মায়েরা খিন্দিফ এবং ইলিয়াস আমার পিতা।" এবং ইবনে হারমার উক্তি: "তিনি ইলিয়াস (হতাশার) রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তাই তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত," অর্থাৎ তিনি ধ্বংসোন্মুখ। এবং তাদের কেউ কেউ এটি হামজার নিচে কাসরা দিয়ে 'ইলিয়াস' বলেন। আর 'মুদার আল-আবইয়ায' শব্দটি 'মাযির' দুধ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ টক বা অম্ল। 'নিজার' শব্দটি 'নিযারা' থেকে এসেছে যার অর্থ স্বল্পতা। আর 'মা'আদ' শব্দটি 'তামা'দুদ' থেকে এসেছে যার অর্থ যখন সে কঠোর হয়; আবার 'মুতা'আদাদ'ও বলা হয় যার অর্থ অনেক দূরে চলে যাওয়া। 'আদনান' শব্দটি 'আদন' থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ কোনো স্থানে অবস্থান করা; এখান থেকেই 'জান্নাতে আদন' বা চিরস্থায়ী অবস্থানের বাগান কথাটি এসেছে। আর ইসমাইলের সন্তানদের সম্পর্কে তাঁর উক্তি: 'ত্বয়মা', এটি এখানে 'ত্ব' বর্ণের সাথে কাসরা ও ফাতহা উভয় যোগে বর্ণিত হয়েছে; দারাকুতনী একে এভাবেই সীমাবদ্ধ করেছেন। আবার মীম-কে আগে এনে এবং দীর্ঘস্বর যোগে একে 'যামইয়া'ও বলা হয়।

 

‌‌(এবং তাঁর উক্তি) : এবং তাদের মা মুদাদ-এর কন্যা, যার নাম আস-সায়্যিদা যেমনটি দারাকুতনী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। মুদাদ শব্দটি মীম-এ কাসরা দিয়েও পঠিত হয়। (এবং তাঁর উক্তি) : বিলালের কন্যা আফ্রার মুক্তদাস, যিনি আবু বকর সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুক্তদাস ছিলেন। (এবং তাঁর উক্তি) : কালো মাটির অধিবাসী; এখানে 'মাদারা' অর্থ শহর বা জনপদ। 'সুহম' অর্থ কালো, যাদের একবচন 'আসহাম' ও 'সাহমা'। 'জুয়াদ' হলো তারা যাদের চুলে কোঁকড়ানো ভাব আছে। (এবং তাঁর উক্তি) : তাদের মধ্যে তাসাররুর করেছেন; বলা হয় যখন কোনো ব্যক্তি তার শয্যার জন্য দাসী গ্রহণ করে তখন তাকে 'তাসাররারা' বা 'তাসাররা' বলা হয়। (এবং তাঁর উক্তি) : মা'রিব বাঁধে; মা'রিব একটি প্রাসাদ যা কোনো এক রাজা সেই স্থানে নির্মাণ করেছিলেন এবং সেখানে পানি ছিল। এটি 'মা'রিব' (হামযা সহ) এবং 'মারিব' (হামযা ছাড়া) উভয়ভাবেই বলা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ৫)
وهو الصحيح فيه، ومن قال مآرب فكأنه جمع المكان مع ما حوله، (وقوله) : ابن الأزد بن الغوث قال الخشني، يقال الأزد والأسد والأصل في الأزد ابن الغوث، (وقوله) : ويقال عدنان بن الريث قال الدارقطني: الريث بن عدنان وابنه عك بن الريث بالثاء المعجمة بثلاث، (وقوله) في هذا النسب: منهم عك بن عدنان بن عبد الله بن الأزد بن الغوث قال أبو علي الغساني صوابه عدنان بن عبد الله، (وقوله) : لأنه أول من سبى في العرب بن يعرب بن يشجب، قال الشيخ أبو ذر رضى الله عنه: الصواب تقديم يشجب على يعرب، وقد ذكره ابن هشام بعد هذا، (وقوله) : ابن بن أسلم بن الحاف بن قضاعة، كذا وقع أسلم هنا بضم اللام وفتحها، وأسلم بضم اللام وهو الصواب، وكذلك قيده الدارقطني رحمه الله. (وقوله) : ابن الحاف بن قضاعة، إلحاف منهم من يكسر همزته ويقطعها، كأنه سمي بمصدر ألحف في المسألة، إذا بالغ فيها، ومنه قوله تعالى: لا يسألون الناس إلحافاً، ومنهم من يجعل الألف واللام فيه للتعريف، بمنزلة اسم الفاعل من حفي يحفى، وقول عمرو بن مرة

এটিই এতে সঠিক মত; আর যিনি 'মাআরিব' বলেছেন, তিনি যেন স্থানটিকে তার চারপাশের এলাকাসহ একত্রিত করেছেন। (এবং তাঁর বক্তব্য): ইবনুল আযদ ইবনুল গাওস। আল-খুশানি বলেছেন, একে আযদ এবং আসাদ—উভয়ই বলা হয়; তবে মূল হলো আযদ ইবনুল গাওস। (এবং তাঁর বক্তব্য): আর বলা হয় আদনান ইবনুর রাইস। আদ-দারাকুতনি বলেছেন: রাইস ইবনু আদনান এবং তাঁর পুত্র হলো আক্ক ইবনুর রাইস, এটি তিন নুকতাযুক্ত 'সা' অক্ষর দিয়ে। (এবং এই বংশপরম্পরায় তাঁর বক্তব্য): তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো আক্ক ইবনু আদনান ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুল আযদ ইবনুল গাওস। আবু আলী আল-গাসসানি বলেছেন, এর সঠিক রূপ হলো আদনান ইবনু আব্দুল্লাহ। (এবং তাঁর বক্তব্য): কারণ তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি আরবদের মধ্যে যুদ্ধবন্দী গ্রহণ করেছিলেন, তিনি ইবনু ইয়ারুব ইবনু ইয়াশজুব। শাইখ আবু যর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: সঠিক হলো ইয়াশজুব শব্দটিকে ইয়ারুব-এর আগে আনা; ইবনু হিশাম এরপরে এটি উল্লেখ করেছেন। (এবং তাঁর বক্তব্য): ইবনু আসলাম ইবনুল হাফ ইবনু কুযাআহ। এখানে 'আসলাম' শব্দটি লাম অক্ষরে পেশ এবং জবর—উভয়ভাবে এসেছে; তবে লাম অক্ষরে পেশ হওয়াই সঠিক; আদ-দারাকুতনি (রহিমাহুল্লাহ) এভাবেই একে লিপিবদ্ধ করেছেন। (এবং তাঁর বক্তব্য): ইবনুল হাফ ইবনু কুযাআহ। 'ইলহাফ'—তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর হামযাহকে কাসরা দিয়ে এবং বিচ্ছিন্ন করে পড়েন; মনে হয় যেন এর নামকরণ করা হয়েছে কোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ি করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত 'আলহাফা' ক্রিয়ামূল থেকে। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "তারা মানুষের কাছে পিড়াপিড়ি করে যাচ্ঞা করে না।" আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এতে 'আলিফ' এবং 'লাম'-কে নির্দিষ্টকরণের জন্য ধরেন, যা 'হাফিয়া-ইয়াহফা' থেকে কর্তৃবাচক বিশেষ্যের সমপর্যায়ের। আর আমর ইবনু মুররাহ-এর উক্তি—

(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ৬)
في رجزه، نحن بنو الشيخ الهجان الأزهر: الهجان الكريم، وأصل الهجان الأبيض من الإبل، وهو أكرمها، فأما الهجين فهو ذم، وقال بعض البلغاء: ناهيك من زمان لا يفرق فيه بين هجين وهجان، والأزهر المشهور، وأول هذا الرجز:

 

يا أيَّها الدَّاعي أدعنا وأبشر … وكنْ قضاعياً ولا تنزَّر

 

‌‌وبعده: نحن بنو الشيخ الأبيات، و (قوله) : فسلحه إياه: أي قلده إياه وجعله سلاحاً له، تقول: سلحت الرجل إذا كسوته السلاح، و (قوله) : كان من أشلاء قنص بن معد، قال ابن اسحق الأشلاء البقايا من كل شيء واحدها شلو، والجرذ الذكر من الفيران، و (قوله) : فكانت حربهم سجالاً، السجال أن يغلب هؤلاء مرة وهؤلاء وأصله من المساجلة في الاستقاء، وهو أن يخرج المستقي من الماء مثل ما يخرج صاحبه، و (قوله) : ونزلت خزاعة مراً، هو موضع وهو الذي يقال له مر الظهران.

 

‌‌تفسير غريب أبيات الأعشى

‌‌(قوله) : وفي ذاك للمؤتسي أسوة: يعني المقتدي، والإسوة والأسوة الاقتداء، مأرب موضع وقد تقدم،
তাঁর রাজায কাব্যে রয়েছে: আমরা সেই উজ্জ্বল ও শ্বেতবর্ণের সম্মানিত শেখের সন্তান। 'হাজ্জান' অর্থ সম্মানিত ব্যক্তি, আর 'হাজ্জান'-এর মূল অর্থ হলো সাদা উট, যা উটদের মধ্যে সবচেয়ে দামী। পক্ষান্তরে 'হাজিন' শব্দটি নিন্দার্থে ব্যবহৃত হয়। জনৈক বাগ্মী বলেছেন: "আপনার জন্য এমন এক সময় যথেষ্ট (দুর্ভোগের), যাতে 'হাজিন' ও 'হাজ্জান'-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয় না।" আর 'আজহার' অর্থ প্রসিদ্ধ। এই রাজায কবিতার শুরু হলো:

 

হে আহ্বানকারী! আমাদের ডাকুন এবং সুসংবাদ গ্রহণ করুন … আর আপনি কুদায়ী হোন, নিযার গোত্রভুক্ত হবেন না।

 

‌‌আর এর পরে রয়েছে: "আমরা সেই শেখের সন্তান" পঙ্‌ক্তিগুলো। আর (তাঁর উক্তি): "অতঃপর তিনি তাকে তা দ্বারা সজ্জিত করলেন": অর্থাৎ তিনি তাকে তা পরিয়ে দিলেন এবং সেটিকে তার অস্ত্র বানিয়ে দিলেন। আপনি বলবেন: "আমি লোকটিকে সজ্জিত করলাম" যখন আপনি তাকে অস্ত্র পরিধান করাবেন। আর (তাঁর উক্তি): "তিনি কানাস বিন মাআদ-এর বংশীয় অবশিষ্টাংশের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন"; ইবনে ইসহাক বলেন, 'আশলা' হলো যেকোনো কিছুর অবশিষ্টাংশ, এর একবচন হলো 'শিলউ'। আর 'জুরায' হলো বড় পুরুষ ইঁদুর। আর (তাঁর উক্তি): "তাদের যুদ্ধ ছিল পালাক্রমে জয়-পরাজয়ের (সিজাল)", 'সিজাল' হলো একবার এরা জয়লাভ করা এবং আরেকবার তারা; এর মূল উৎস হলো পানি তোলার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে পাল্লা দেওয়া, আর তা হলো একজন পানি উত্তোলনকারী যেন কুয়া থেকে ততটুকুই পানি তোলে যতটুকু তার সাথী তোলে। আর (তাঁর উক্তি): "খুযাআ গোত্র 'মার' নামক স্থানে অবতরণ করল", এটি একটি স্থানের নাম যাকে মাররুয যাহরান বলা হয়।

 

‌‌আশা-র কবিতার দুর্লভ শব্দসমূহের ব্যাখ্যা

‌‌(তাঁর উক্তি): "আর তাতে অনুসরণকারীর জন্য রয়েছে আদর্শ": অর্থাৎ অনুসারী। 'ইসওয়াহ' ও 'উসওয়াহ' অর্থ হলো অনুসরণ করা। 'মারিব' একটি স্থানের নাম যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ৭)
وعفى غير ودرس، ومن روى نفى فمعناه نحى، والعرم السد وقد تقدم، ومواره تلاطم مائه وتموجه، وكذلك هو بفتح الميم في المعنى، و (قوله) : لم يرم: أي لم يبرح ولم يزل و (قوله) : فصاروا أيادي أي متفرقين، والشرب بضم الشين المصدر وبكسر الشين الحظ والنصيب من الماء، وفطم قطع عنه الرضاع، (قوله) : وفظع بها: يقال فظع بالأمر إذا اشتد عليه وأفظعه الأمر أيضاً، ووقه في الرواية فظع بضم الفاء وفتحها، قال الشيخ الفقيه أبو ذر رضى الله عنه: والصواب فظع بفتحها علة وزن علم، والعائف هنا الذي يزجر الطير و (قوله) : فليبعث إلى سطيح وشق، يقال: إنما سمي سطيح سطيحاً لأنه كان كالبضعة الملقاة على الأرض فكأنه سطح عليها، و (قوله) : في نسب سطيح ابن أفرك، قال أبو عبيد هو أفرك بن يزيد بن قيس، وقال ابن حبيب أفرك اسمه غانم بن قصي بن يزيد بن قسر، وسمي شق شقاً لأنه كان إنسان أي كنصف إنسان، وقول سطيح في تفسير رؤيا الملك ربيعة بن نصر، رأيت حممة، الحممة واحدة الحمم وهو الفحم، وإنما أراد فحمة فيها نار ولذلك قال: فإكلت منها كل ذات

এবং 'আফা' (মুছে ফেলা) শব্দটি 'দারাসা' (বিলুপ্ত হওয়া) থেকে ভিন্ন। আর যিনি 'নাফা' বর্ণনা করেছেন, তার অর্থ হলো 'নাহা' (সরিয়ে দেওয়া বা দূর করা)। 'আরিম' মানে হলো বাঁধ, যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এর 'মাওয়ার' হলো এর পানির পরস্পর আঘাত ও ঢেউ খেলানো। অনুরূপভাবে এটি অর্থের দিক থেকে মিম বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগেও একই।

(তাঁর বক্তব্য): 'লাম ইয়ারাম' অর্থ হলো সে প্রস্থান করেনি এবং বিচ্যুত হয়নি।

(তাঁর বক্তব্য): 'তারা আয়াদি হয়ে গেল' অর্থাৎ ছিন্নভিন্ন বা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। 'আশ-শুব' শিন বর্ণে পেশ যোগে ক্রিয়া বিশেষ্য (মাসদার), আর শিন বর্ণে যের যোগে 'আশ-শিরব' হলো পানির অংশ ও হিস্যা। 'ফাতামা' অর্থ হলো স্তন্যপান বন্ধ করে দেওয়া।

(তাঁর বক্তব্য): 'ওয়া ফাযিয়া বিহা'; বলা হয় 'ফাযিয়া বিল আমর' যখন বিষয়টি কারো ওপর কঠিন ও অসহনীয় হয়ে পড়ে, আর বিষয়টি তাকে বিচলিতও করে। বর্ণনায় শব্দটি ফা বর্ণে পেশ এবং যবর—উভয়ভাবেই এসেছে। ফকিহ শেখ আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: সঠিক হলো ফা বর্ণে যবর যোগে 'ফাযিয়া', যা 'আলিমা' শব্দের ওজনে। আর এখানে 'আয়িফ' বলতে তাকে বোঝানো হয়েছে, যে পাখির উড্ডয়ন দেখে শুভ-অশুভ নির্ণয় করে।

(তাঁর বক্তব্য): 'সে যেন সাতিহ ও শিক্ক-এর কাছে লোক পাঠায়'; বলা হয়ে থাকে: সাতিহ-কে 'সাতিহ' নামকরণ করা হয়েছে কারণ সে জমিনে পড়ে থাকা গোশতের টুকরোর মতো ছিল, যেন তাকে জমিনের ওপর বিছিয়ে রাখা হয়েছে।

(তাঁর বক্তব্য): সাতিহ ইবনে আফরাকের বংশপরিচয় প্রসঙ্গে; আবু উবায়েদ বলেন: সে হলো আফরাক ইবনে ইয়াযিদ ইবনে কায়েস। ইবনুল হাবিব বলেন: আফরাকের নাম ছিল গানিম ইবনে কুসাই ইবনে ইয়াযিদ ইবনে কাসর। আর শিক্ক-কে 'শিক্ক' নামকরণ করা হয়েছে কারণ সে ছিল মানুষের মতো, অর্থাৎ অর্ধেক মানুষের মতো।

রাজা রাবিয়া ইবনে নাসরের স্বপ্নের ব্যাখ্যায় সাতিহ-এর উক্তি: 'আমি একটি হামামাহ দেখেছি'। 'হামামাহ' হলো 'হামাম'-এর একবচন, যার অর্থ কয়লা। মূলত তিনি এমন এক টুকরো কয়লা বুঝিয়েছেন যাতে আগুন রয়েছে, আর এ কারণেই তিনি বলেছিলেন: 'তা থেকে প্রতিটি প্রাণসম্পন্ন সত্তা ভক্ষণ করেছে'—

(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ৮)
جمجمة، و (قوله) : من ظلمة، يعني من جهة البحر، و (قوله) : فرقعت بأرض تهمة، التهمة الواسعة المتطامنة ولذلك قيل لما انخفض من ارض الحجاز تهامة، والجمجمة الرأس، وأبين بلد باليمن، يقال بفتح الهمزة وكسرها، وجرش بلد أيضاً، وعدن اسم بلد، والغسق الظلمة، والفلق الصبح، واتسق تتابع وتوالى، و (قوله) : شق وقعت بين روضة وأكمة، الأكمة الكدية، (وقوله) : كل ذات نسمة النسمة النفس ويروى كل ذات نسمة بالرفع هنا وفي الأول، والصواب النصب لأن الجمجمة هنا الآكلة وليست المأكولة، ولذلك فسرها بالحبشة الذين غلبوا على اليمن و (قوله) : بين الحرتين الحرة أرض فيه حجارة سود، و (قوله) : على كل طفلة البنان، الطفلة الناعمة الرخصة، والبنان أطراف الأصابع، وقد يعبر بها عن الصابع كلها، ونجران بلد و (قوله) : ليس بدني ولا مدن الدني معلوم وأراد لا مدن فسكنه للسجع، والمدني هو المقصر في الأمور، قاله كراع، و (قوله) : ما فيه أمض الأمضر الشك بلغة حمير، وقيل أمض باطل و (قوله) : ابن عمرو وذي الأذعار، قيل له ذو الأذعار، لأنه غزا بلاد النسناس
জমজুমাহ (মাথার খুলি), এবং (তাঁর উক্তি): 'অন্ধকার থেকে', অর্থাৎ সমুদ্রের দিক থেকে। (তাঁর উক্তি): 'তুহমাহ ভূমিতে প্রতিধ্বনিত হলো'; তুহমাহ হলো প্রশস্ত ও নিচু ভূমি, আর এ কারণেই হিজাজের নিচু ভূমিকে তিহামাহ বলা হয়। জমজুমাহ অর্থ মস্তক। আবইয়ান হলো ইয়েমেনের একটি শহর; এটি হামজাহ-র ফাতহাহ ও কাসরা উভয়ভাবেই উচ্চারিত হয়। জুরাশও একটি শহরের নাম, আর আদন একটি শহরের নাম। আল-গাসাক হলো অন্ধকার এবং আল-ফালাক হলো সকাল। ইত্তাসাকা অর্থ ধারাবাহিকভাবে আসা ও অনুগামী হওয়া। (তাঁর উক্তি): 'শাক্ক যা রওজাহ (বাগান) ও আকামাহ-র মাঝখানে অবস্থিত'। আকামাহ হলো টিলা। (তাঁর উক্তি): 'প্রত্যেক নাসামাহ বিশিষ্ট'; নাসামাহ অর্থ প্রাণ। এখানে এবং শুরুতে এটি পেশ যোগে বর্ণিত হয়েছে, তবে সঠিক হলো যবর যোগে পড়া। কারণ এখানে জমজুমাহ বলতে ভক্ষণকারীকে বোঝানো হয়েছে, ভক্ষিত বস্তুকে নয়। একারণেই এর ব্যাখ্যায় সেই হাবশীদের কথা বলা হয়েছে যারা ইয়েমেনে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। (তাঁর উক্তি): 'দুই হাররাহ-র মধ্যবর্তী'। হাররাহ হলো এমন ভূমি যেখানে কালো পাথর রয়েছে। (তাঁর উক্তি): 'প্রত্যেক সুকোমল আঙুলের ডগার ওপর'। তিফলাহ অর্থ নরম ও সুকোমল। বানান হলো আঙুলের ডগা, তবে কখনো কখনো এটি দ্বারা পুরো আঙুলকেও বোঝানো হয়। নাজরান একটি শহরের নাম। (তাঁর উক্তি): 'সে নীচ নয় এবং মুদুন নয়'। দানীয়ু (নীচ) শব্দটি সুপরিচিত, আর তিনি 'লা মুদিন' বুঝিয়েছেন কিন্তু ছন্দের প্রয়োজনে সাকিন করেছেন। কুরা' বলেছেন, মুদনী হলো সেই ব্যক্তি যে কাজে অবহেলা বা ত্রুটি করে। (তাঁর উক্তি): 'তাতে কোনো আমদ নেই'। হিমইয়ার গোত্রের ভাষায় আমযার অর্থ সন্দেহ। কেউ কেউ বলেছেন আমদ অর্থ বাতিল বা মিথ্যা। (তাঁর উক্তি): 'আমর-এর পুত্র ও যুল আযআর'। তাঁকে যুল আযআর বলা হতো কারণ তিনি নাসনাসদের জনপদে অভিযান চালিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ৯)
فقتلهم وأسر أسارى ودخل بهم اليمن فذعر بهم الناس، و (قوله) : ابن أبرهة ذي المنار، قيل له: ذو المنالا، لأنه غزا غزواً بعيداً وكان يبني على طريقه المنار ليستدل به إذا رجع، و (قوله) : كهف الظلم، يعني أن الظلم كان يلجأ إليه ويعتمد عليه فينصره، و (قوله) : في الشعر: أن يسد خيره خبله، الخبل الفساد و (قوله) : وجده في عذق له، العذق بفتح العين النخلة وبكسرها الكساسة، وهي عنقود النخلة ويجده يقطعه، وأبره أي القحة، والحنق شدة الغيظ، ويقرونه بالليل، أي لأنه كان نازلاً بهم.

 

‌‌تفسير غريب أبيات خالد بن عبد العزى

‌‌(قوله) : إنها حرب رباعية، أراد أنها حرب فتية، فأستعار لها سن الرباعية، كما قال: الحرب أول ما تكون فتية تسعى بمسيرتها لكل جهول و (قوله) : غدواً مع الزهرة، هو من الغدو، ومن رواه عدواً بالعين المهملة فهو من عدا يعدو إذا أسرع، والزهرة الكوكب المعلوم، وفيلق كتيبة شديدة، وسبغ كاملة ومن قال تبع فهو أبو كرب، وهو
তিনি তাদের হত্যা করলেন এবং অনেককে বন্দী করলেন। তিনি তাদের নিয়ে ইয়েমেনে প্রবেশ করলেন, যার ফলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। (তাঁর বক্তব্য): যুল-মানারের পুত্র আবরাহা; তাঁকে 'যুল-মানার' বলা হতো কারণ তিনি সুদূরপ্রসারী যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করতেন এবং ফেরার পথে দিকনির্দেশনার জন্য রাস্তার পাশে মিনার বা স্তম্ভ নির্মাণ করতেন। (তাঁর বক্তব্য): 'অন্ধকারের গুহা', এর অর্থ হলো যুলুম তাঁর কাছে আশ্রয় নিত এবং তাঁর ওপর নির্ভর করত, ফলে তিনি তাকে সাহায্য করতেন। (কবিতায় তাঁর বক্তব্য): যেন তাঁর কল্যাণ তাঁর বিপর্যয়কে প্রতিহত করে; এখানে 'খাবল' অর্থ ফাসাদ বা অনিষ্ট। (তাঁর বক্তব্য): তিনি তাকে তাঁর একটি খেজুর শাখায় পেলেন; 'আযক' শব্দটি আইন বর্ণে ফাতহাহ দিয়ে পড়লে এর অর্থ খেজুর গাছ, আর কাসরাহ দিয়ে পড়লে এর অর্থ খেজুরের ছড়া বা কাঁদি যা খেজুরের গুচ্ছ। তিনি তাকে তা কর্তনরত অবস্থায় পেলেন। 'আবরাহু' অর্থাৎ তাকে ক্ষতবিক্ষত করল। 'হানাক' অর্থ প্রচণ্ড ক্রোধ। তারা রাতে তাঁর মেহমানদারি করল, অর্থাৎ যেহেতু তিনি তাদের নিকট মেহমান হিসেবে অবতরণ করেছিলেন।

 

‌‌খালিদ বিন আব্দুল উযযা-র কবিতার দুর্বোধ্য শব্দাবলির ব্যাখ্যা

‌‌(তাঁর বক্তব্য): এটি একটি চতুষ্পদ (রুবায়্যাহ) যুদ্ধ; এর দ্বারা তিনি যুদ্ধের তেজস্বিতা বা নতুনত্ব বুঝিয়েছেন, তাই যুদ্ধের জন্য তিনি 'রুবায়্যাহ' (দাঁত ওঠার বয়স) পরিভাষাটি রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। যেমন বলা হয়েছে: যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন তা নবযৌবনা তরুণীর মতো থাকে, যে তার রূপ-মাধুর্য নিয়ে প্রত্যেক অজ্ঞ ব্যক্তিকে প্রলুব্ধ করে। (তাঁর বক্তব্য): যুহরা নক্ষত্রের সাথে প্রভাতকালীন যাত্রা; এটি 'গুদুউ' (প্রভাতে যাত্রা) শব্দ থেকে এসেছে। আর যারা একে আইন বর্ণ দিয়ে 'আদওয়ান' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তা দ্রুত গতিতে ধাবিত হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। 'যুহরা' হলো সুপরিচিত নক্ষত্র (শুক্র গ্রহ)। 'ফাইল্যাক' অর্থ শক্তিশালী সেনাদল এবং 'সাবাগ' অর্থ পূর্ণাঙ্গ। আর যিনি 'তাব্বা' (তুব্বা) বলেছেন, তিনি হলেন আবু কারিব, এবং তিনি...
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ১০)
أحد التبابعة، وهم ملوك اليمن، وأبدنها: جمع بدن، وهي الدرع هنا، و (قوله) ذفرة: أي لها رائحة من صدأ الحديد، وتؤم تقصد والترة طلب الثأر، مسايفة قوم يتقاتلون بالسيوف، ومن رواه مسايفة بفتح الفاء فمعناه مقاتلة يعني المصدر، ومدها كثرتها، والغبية المطرة والنثرة المتفرقة المطر، و (قوله) : على الإله قومه، أي متعهم به وسامى الملوك، أي ساواهم في الرفعة، ومن رواه سام، فمعناه كلف، أي كلفهم أن يكونوا مثل القبيل، قالوا والأسباط في ولد يعقوب مثل القبائل في ولد إسماعيل وأولى لهم، كلمة بمعنى التهديد والوعيد، وهي اسم سمي به الفعل، ومعناها قربت من الهلكة، وسرمد دائم، و (قوله) : بين عسفان وأمج: هما موضعان و (قوله) : على بيت مال دائر إي قديم، والزبرجد يقال هو الزمرد، و (قوله) : فكساه الخصف، الخصف حصر تنسج من خوص النخل، وقيل هي ثياب غلاظ، والمعافر قياب كانت تعملها معافر وهي قبيلة من اليمن، والملاء: جمع ملاءة:

তুব্বা’গণের একজন, তারা হলেন ইয়েমেনের রাজা। আবাদানাহা: এটি বাদান শব্দের বহুবচন, এখানে এর অর্থ হলো বর্ম। (তার উক্তি) যাফরাহ: অর্থাৎ এতে লোহার মরিচার গন্ধ রয়েছে। তুউম্মু অর্থ উদ্দেশ্য করা এবং আত-তিরাহ অর্থ প্রতিশোধ চাওয়া। মুসাইয়াফাহ হলো এমন একদল লোক যারা তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করে। আর যারা একে ফা বর্ণে ফাতহা দিয়ে মুসাইয়াফাহ বর্ণনা করেছেন, তার অর্থ হবে যুদ্ধ করা অর্থাৎ এটি একটি ক্রিয়ামূল। মাদ্দুহা অর্থ তার আধিক্য। আল-গাবিয়্যাহ অর্থ বৃষ্টি এবং আন-নাথরাহ অর্থ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। (তার উক্তি): ইলাহ তাঁর কওমকে (দিয়েছেন), অর্থাৎ তিনি তাদেরকে তাঁর মাধ্যমে উপকৃত করেছেন। সামাল মুলুক অর্থাৎ মর্যাদার দিক থেকে তিনি তাদের সমান হয়েছেন। আর যারা সাম্মা বর্ণনা করেছেন, তার অর্থ হলো দায়িত্ব অর্পণ করা, অর্থাৎ তিনি তাদের গোত্রের মতো হওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা বলেছেন: ইয়াকুবের সন্তানদের মধ্যে আসবাত হলো ঠিক তেমনি যেমন ইসমাইলের সন্তানদের মধ্যে কাবায়িল বা গোত্রসমূহ। আওলা লাহুম শব্দটি হুমকি ও সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এটি একটি বিশেষ্য যা ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর অর্থ হলো ধ্বংসের নিকটবর্তী হওয়া। সারমাদ অর্থ চিরস্থায়ী। (তার উক্তি): উসফান ও আমাজের মধ্যবর্তী—এই দুটি হলো স্থানের নাম। (তার উক্তি): একটি প্রাচীন কোষাগারের ওপর। যাবারজাদ সম্পর্কে বলা হয় যে এটি হলো পান্না। (তার উক্তি): অতঃপর তিনি তাকে খাসাফ পরিধান করালেন; খাসাফ হলো খেজুর পাতা দিয়ে বোনা চাটাই। আবার বলা হয় যে এটি মোটা কাপড়। মাআফির হলো এমন সব কাপড় যা মাআফির গোত্র তৈরি করত, এটি ইয়েমেনের একটি গোত্র। আল-মুলা শব্দটি মুলাআহ বা চাদর এর বহুবচন।

(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ১১)
وهي الملحفة، والوصائل ثياب مخططة من اليمن يوصل بعضها إلى بعض والمثلاة خرقة الحائض.

 

‌‌تفسير غريب أبيات سبيعة بنت الأحب

(قولها) : فوجدت ظالمها يبور، أي يهلك، ومنه قوله تعالى: (يوجد آيه) ، والعصم الوعول لأنها تعتصم بالحبال، وثبير جبل بمكة و (قوله) : فكسا بنيتها الحبير يعني الكعبة، والحبير ضرب من ثياب اليمن موشى، والمهارى الإبل العرب النجيبة، والرحيض شراب يعمل من خبز الشعير، وأصل الرحيض المغسول تقول: رحضت الثوب إذا غسلته، و (قولها) : في الأعاجم والخزير، الخزير أمة من العجم، ويقال لهم الخزر أيضاً، ومن رواه الجزير بالجيم فيحتمل أن يكون جمع جزيرة يريد جزيرة ببلاد العرب، (وقولها) : فذمرهم، معناه حضهم وشجعهم، وتتنكص أي ترجع على عقبها.

 

‌‌تفسير غريب أبيات لرجل من حمير

‌‌(قوله) : قتلته المقاول، هم الذين يخلفون الملوك إذا غابوا، (قوله) : لباب لباب، قد فسره ابن إسحق ويقال لباب
এটি চাদর বিশেষ, এবং ওয়াসায়েল হলো ইয়ামেনের ডোরাকাটা কাপড় যার একটির সাথে অপরটি জোড়া লাগানো থাকে, আর মিছলাত হলো ঋতুবর্তী নারীর ব্যবহৃত এক টুকরো কাপড়।

 

‌‌সুবাইআ বিনতে আহাব-এর কবিতার অপরিচিত শব্দসমূহের ব্যাখ্যা

(তার কথা): 'ফাওয়াজাদাত জালিমানহা ইয়াবুর', অর্থাৎ সে ধ্বংস হয়, এখান থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: (সেখানে একটি আয়াত বিদ্যমান), এবং আল-ইসাম হলো বুনো ছাগল কারণ তারা পাহাড়ের উচ্চতায় আশ্রয় নেয়, আর ছাবীর মক্কার একটি পাহাড় এবং (তার কথা): 'ফাকাসা পুনাইয়াতাহাল হাবীর' অর্থাৎ তিনি কাবাকে পোশাক পরালেন, হাবীর হলো ইয়ামেনের এক প্রকার অলঙ্কৃত কাপড়, আর আল-মাহারি হলো উন্নত জাতের আরব উট, এবং আর-রাহীজ হলো যবের রুটি থেকে তৈরি এক প্রকার পানীয়, আর রাহীজ শব্দের মূল অর্থ হলো ধৌত করা, আপনি বলেন: 'আমি কাপড়টি ধৌত করেছি' যখন আপনি তা ধৌত করেন, এবং (তার কথা): 'অনআরব এবং আল-খাযীর-এর মধ্যে', খাযীর হলো অনআরবদের একটি জাতি, তাদের খাযারও বলা হয়, আর যারা একে জীম বর্ণ দিয়ে 'জাযীর' বর্ণনা করেছেন তবে সম্ভাবনা আছে যে এটি জাযীরা বা দ্বীপের বহুবচন হবে যা দ্বারা তিনি আরব ভূখণ্ডের দ্বীপসমূহকে বুঝিয়েছেন, (এবং তার কথা): 'ফাজামমারাহুম', এর অর্থ হলো তিনি তাদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন, এবং তাতানাক্কাসু অর্থাৎ নিজের গোড়ালির ওপর ভর করে পিছু হটে যাওয়া।

 

‌‌হিমইয়ারের এক ব্যক্তির কবিতার অপরিচিত শব্দসমূহের ব্যাখ্যা

‌‌(তার কথা): 'কাতাল্লাহুল মাকাউইল', তারা হলো ওই সকল ব্যক্তি যারা রাজাদের অনুপস্থিতিতে তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়, (তার কথা): 'লুবাব লুবাব', ইবনে ইসহাক এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং একে লুবাবও বলা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ১২)
كلمة فارسية معناها القفل القفل أي الرجوع الرجوع، (وقوله) : فلما جهده ذلك يقال جهده الأمر وأجهده إذا شق عليه، والحزاة هم الذين ينظرون في النجوم ويقضون بها، واحدهم حاز، والعرافون ضرب من الكهان يزعمون انهم يعرفون من الغيب ما لا يعرف الناس، و (قوله) : فهرج أمر حمير، أي اختلط وقلق، و (قوله) : يقال له لخنيعة قال ابن دريد المعروف: لخيعة بغير نون مأخوذ من اللخع وهو استرخاء اللحم، والشناتر الأصابع بلغة حمير واحدها شنتير (قوله) : في مشربة له، المشربة الغرفة المرتفعة، و (قوله) : وسيما أي حسناً، والوسامة الحسن، و (قوله) : فوجأه، أي ضربه، ونخماس بلغة حمير الرأس وكذلك تفسيره في الروايات كلها، وروى عن ابن هشام أنه قال: نخماس زاجر فتى منهم ثم تاب، يعني انه كان يعمل عمل لخنيعة، وقالوا في تفسير: استرطبان أن معناه أخذته النار بالفارسية، و (قوله) : وكان سائحاً السائح الذاهب على وجه الأرض للعبادة لا يستقر بمكان، اخذ من الماء السائح وهو الذاهب على وجه الأرض، و (قوله) : ذات الرؤس السبعة
এটি একটি ফারসি শব্দ যার অর্থ হলো প্রত্যাবর্তন বা ফিরে আসা। (তার উক্তি): ‘যখন তা তাকে পরিশ্রান্ত করে ফেলল’; বলা হয়ে থাকে যে, কোনো বিষয় কাউকে ‘জাহাদা’ বা ‘আজহাদা’ করেছে যখন তা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ‘আল-হুযাত’ হলো তারা যারা নক্ষত্ররাজির দিকে তাকিয়ে ভাগ্য গণনা করে; তাদের একবচন হলো ‘হা-য’। ‘আল-আররাফুন’ (গণক) হলো এক প্রকার জ্যোতিষী যারা দাবি করে যে, তারা অদৃশ্যের এমন বিষয় অবগত যা সাধারণ মানুষ জানে না। (তার উক্তি): ‘হিমইয়ারের বিষয়াবলী এলোমেলো হয়ে গেল’, অর্থাৎ তা বিশৃঙ্খল ও অস্থির হয়ে পড়ল। (তার উক্তি): তাকে ‘লাখনিআহ’ বলা হয়। ইবনে দুরাইদ বলেন, প্রসিদ্ধ হলো ‘লাখিআহ’ (নুন ব্যতীত), যা ‘আল-লাখ’ থেকে উদ্ভূত এবং এর অর্থ হলো মাংসের শিথিলতা। ‘আশ-শানাতিল’ হিমইয়ারি ভাষায় আঙুলসমূহকে বলা হয়, যার একবচন হলো ‘শিনতীর’। (তার উক্তি): তার একটি ‘মাশরাবাহ’-তে; ‘মাশরাবাহ’ হলো উচ্চতলার কক্ষ। (তার উক্তি): ‘ওয়াসিমান’ অর্থাৎ সুন্দর; ‘ওয়াসামাহ’ অর্থ হলো সৌন্দর্য। (তার উক্তি): ‘ফাউজাআহু’ অর্থাৎ সে তাকে আঘাত করল। ‘নাখমাস’ হিমইয়ারি ভাষায় ‘মাথা’কে বোঝায় এবং সকল বর্ণনায় এর ব্যাখ্যা এভাবেই এসেছে। ইবনে হিশাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: নাখমাস ছিল তাদের মধ্যকার এক যুবককে সতর্ককারী, অতঃপর সে তাওবা করে; অর্থাৎ সে লাখনিআহর ন্যায় আচরণ করত। ‘ইস্তারতুবান’-এর ব্যাখ্যায় তারা বলেছেন যে, ফারসি ভাষায় এর অর্থ হলো ‘আগুন তাকে পাকড়াও করেছে’। (তার উক্তি): ‘তিনি একজন পর্যটক (সায়েহ) ছিলেন’; সায়েহ হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ইবাদতের উদ্দেশ্যে দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণ করেন এবং এক স্থানে স্থির থাকেন না। এটি ‘মা-উন সায়েহ’ (প্রবহমান পানি) থেকে গৃহীত, যা ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। (তার উক্তি): সাত মাথা বিশিষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৩)
يعني بالرؤوس هنا القرون التي على رأسها، و (قوله) :: فعيل عوله أي غلب على صبره، يقال عاله الأمر إذا غلبه، و (قوله) : ثم انتشط الرجل الثوب، أي كشفه بسرعة، وسيارة جماعة قوم يسيرون بالتجارة، و (قوله) : فجعفتها من أصلها، أي قلعتها وأسقطتها، و (قول) : أوس ابن حجر كما جر الفصيل المقرع، الفصيل الصغير من أولاد الإبل، والمقرع الذي يخرج عليه القرع، وهي حبوب تشبه الجرب فيداوى بالماء والملح أو ينضح بالماء ويجر على الأرض السبخة فيبرأ من ذلك، و (قول) ذي الرمة: يحيل لها، معناه يصب لها، يقال أحال الماء في الحوض إذا صبه فيه، والجدول النهر الصغير شبه الساقية، و (قوله) : فتثعبت دماً، أي سالت، والثعب الموضع الذي يخرج منه الماء من الحوض، والضحضاح الماء القليل، والغمر الماء الكثير، و (قوله) : ذي جدن الحميري: هونك لن يرد الدمع، معناه ترفقي وليهن عليك هذا الأمر ويروى هونكما وهو أصح في الوزن.

এখানে 'মাথাগুলো' দ্বারা মাথার উপরিভাগের শিংসমূহকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এবং (তাঁর উক্তি): এটি তার ধৈর্যকে পরাভূত করেছে; কোনো বিষয় কাউকে পরাস্ত করলে তাকে 'আ-লাহু' বলা হয়। এবং (তাঁর উক্তি): এরপর ব্যক্তিটি দ্রুততার সাথে কাপড়টি সরিয়ে নিল বা উন্মোচন করল। আর 'সাইয়্যারা' হলো সেই দল যারা ব্যবসার উদ্দেশ্যে পরিভ্রমণ করে। এবং (তাঁর উক্তি): আমি সেটিকে মূলসহ উপড়ে ফেলেছি এবং ভূপাতিত করেছি। এবং আওস ইবন হাজার-এর উক্তি: "যেমনটি চর্মরোগাক্রান্ত উটের শাবককে টেনে নেওয়া হয়", উটের ছোট শাবককে 'ফাসীল' বলা হয়, আর 'মুকাররা' হলো যার দেহে চর্মরোগ প্রকাশ পেয়েছে; এটি খোস-পাঁচড়ার মতো দানা বিশেষ, যা পানি ও লবণের মাধ্যমে নিরাময় করা হয় অথবা গায়ে পানি ছিটিয়ে নোনা মাটিতে টেনে নেওয়া হয়, যার ফলে তা থেকে মুক্তি মেলে। এবং যু-রুম্মাহ-এর উক্তি: "সেটির জন্য ঢেলে দেয়", এর অর্থ হলো সেটির জন্য পানি প্রবাহিত করা; হাউজে পানি ঢালা হলে 'আ-হা-লা' পরিভাষা ব্যবহৃত হয়। আর 'জাদওয়াল' হলো ছোট নদী যা সেচ নালার ন্যায়। এবং (তাঁর উক্তি): অতঃপর রক্ত প্রবাহিত হলো; আর 'সা'ব' হলো হাউজের পানি নির্গমনের পথ। এবং 'দাহদাহ' হলো সল্প পানি, আর 'গামর' হলো গভীর বা প্রচুর পানি। এবং যূ জাদান আল-হিমইয়ারী-এর উক্তি: "ধৈর্য ধরুন, অশ্রু কিছুই ফিরিয়ে দেবে না", এর অর্থ হলো নিজের প্রতি কোমল হোন এবং এই বিষয়টিকে সহজভাবে গ্রহণ করুন; এটি 'হাওনাকুমা' রূপেও বর্ণিত হয়েছে যা ছন্দের বিচারে অধিকতর বিশুদ্ধ।

(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌تفسير غريب أبيات لذي جدن أيضاً

 

‌‌(وقوله) : قد أنزقت ريقي، معناه أيبست، يقال: أنزفت البئر إذا لم يبق بها ماء، ونزقتها أنا وأنزفتها أيضاً، والعزف ضرب القيان بالملاهي، وانتشينا سكرنا. والرحيق المصفى الخالص، والشفاء ما يتداوى به فيشفى، والنشوق ما يشم من الدواء ويجعل في الأنف، وأسطوان جمع أسطوانة وهي السارية وأراد بها ها هنا موضع الراهب المرتفع، وجدره جمع جدار وكان الأصل فيه جدر فسكنه تخفيفاً، والأنوق الرخم وهي لا تبيض إلا في الجبال العالية المشرفة فلا يكاد يوصل إلى بيضها، وغمدان حصن، ومسمكاً مرتفعاص، والنيق أعلى الجبل، والمنهمة موضع الراهب، وجروب حجارة سود قال الروقشي وهي روايته، ومن رواه حروث، فهو جمع حرث، (وقوله) : وحر الموجل اللثق الزليق، الحر من كل شيء خالصه، يقال حر الرمل وحر الطين، وحر التراب وهو خالصه، والموحل من الوحل وهوالماء والطين، واللثق الذي فيه بلل، والزليق الذي يزلق فيه، ومن رواه
যু জদান-এর কবিতার দুর্লভ শব্দাবলির ব্যাখ্যাও

 

(তাঁর উক্তি): ‘আমি আমার লালা শুকিয়ে ফেলেছি’, এর অর্থ আমি শুষ্ক করে দিয়েছি। বলা হয়: কূপটি নিঃশেষ হয়ে গেছে যখন তাতে আর কোনো পানি অবশিষ্ট থাকে না, আর আমি তা নিঃশেষ করেছি এবং আমি তা শুষ্কও করেছি। ‘আল-আযফ’ হলো বিনোদনমূলক বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে গায়িকাদের বাদ্য পরিবেশন, আর ‘ইনতাশাইনা’ অর্থ আমরা মাতাল হয়েছি। ‘আর-রাহীক’ হলো পরিশোধিত ও খাঁটি বস্তু, ‘আশ-শিফা’ হলো যার মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয় এবং আরোগ্য লাভ করা হয়, ‘আন-নাশাক’ হলো সেই ওষধি ঘ্রাণ যা শোঁকা হয় এবং নাকে দেওয়া হয়। ‘উসতুওয়ান’ হলো ‘উসতুওয়ানা’-এর বহুবচন যার অর্থ স্তম্ভ; আর এখানে তিনি এর দ্বারা সন্ন্যাসীর উচ্চ স্থানকে বুঝিয়েছেন। ‘জুদুরুহু’ হলো ‘জিদার’ (দেয়াল)-এর বহুবচন, এর মূল রূপ ছিল ‘জুদুর’ কিন্তু উচ্চারণের সহজতার জন্য একে সুকুনযুক্ত (স্থির) করা হয়েছে। ‘আল-আনুক’ হলো শকুন বা ঈগল সদৃশ পাখি যা কেবল সুউচ্চ ও খাড়া পাহাড়ে ডিম পাড়ে, ফলে এর ডিমের নাগাল পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ‘গুমদান’ একটি দুর্গের নাম, ‘মাসমাক’ অর্থ সুউচ্চ, ‘আন-নাইক’ পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়া, ‘আল-মানহামা’ সন্ন্যাসীর মঠ বা অবস্থানস্থল। ‘জুরুব’ অর্থ কালো পাথর—রুকশী এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিই তাঁর বর্ণনা; আর যারা একে ‘হুরুস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তা ‘হারস’ (চাষাবাদ) শব্দের বহুবচন। (তাঁর উক্তি): ‘পিচ্ছিল সিক্ত জলাশয়ের খাঁটি অংশ’। যেকোনো জিনিসের ‘হুর’ বলতে তার বিশুদ্ধ বা উৎকৃষ্ট অংশকে বোঝায়। বলা হয় বালুর খাঁটি অংশ, কাদার খাঁটি অংশ এবং মাটির খাঁটি অংশ—অর্থাৎ তার বিশুদ্ধ ভাগ। ‘আল-মুহাল’ শব্দটি ‘ওয়াহাল’ থেকে আগত যা হলো পানি ও কাদার সংমিশ্রণ। ‘আল-লাসাক’ যাতে সিক্ততা আছে, এবং ‘আয-যালিক’ যাতে পা পিছলে যায়। আর যারা এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৫)
الموجل بالجيم فيقال هي حجارة ملس لينة كذا قال الوقشي، ومن رواه اللبق بالباء فاللبق هو الحسن الخفيف الذي تتهيأ له الأشياء، واللثق بالثاء المثلثة هو الصواب هنا، والسليط الدهن، وتوماض البروق لمعانها، والبسر التمر قبل أن يطيب ويهصر أي يكسر، والعذوق جمع عذق وهو عنقود النخلة، (وقوله) : مستكيناً: أي ذليلاً يقال: استكان للأمر إذا ذل له، والضنك شدة الضيق.

 

‌‌تفسير غريب أبيات ابن الذئبة الثقفي

‌‌(قوله) : ما للفتى صحرة، أي ماله نجاة ويروى بفتح الصاد والضم أشهر، والوزر الملجأ، وذات العبر اسم من أسماء الداهية، والحرابة أصحاب الحراب، والمقربات الخيل العتاق، والذفر الرائحة الشديدة، والسعالى جمع سعلاة وهي ساحرة الجن، و (قول) عمرو بن معدي كرب في أبياته: وملك ثابت في الناس راسي: الراسي الثابت المستقر، يقال رسا الشيء إذا ثبت، وقاس شديد، من القساوة وهي الشدة، و (قوله) : على أصحاب الخيل المقارف، المقارف جمع
'আল-মাওজাল' জীম বর্ণযোগে পাঠ করলে এর অর্থ হয় মসৃণ ও নরম পাথর, আল-ওয়াক্শি এমনই বলেছেন। আর যারা একে বা বর্ণ দিয়ে 'আল-লাবাক' বর্ণনা করেছেন, তার অর্থ হলো—উত্তম ও চটপটে স্বভাবের ব্যক্তি যার জন্য বিষয়সমূহ সহজসাধ্য হয়। তবে এখানে ছা (ث) বর্ণ দিয়ে 'আল-লাছাক' পাঠ করাই সঠিক। 'আস-সালীত' অর্থ হলো তেল। 'তাওমাদুল বুরুক' হলো বিজলির চমক। 'আল-বুসর' হলো পরিপক্ব হওয়ার পূর্বের খেজুর। 'ইয়াহসির' অর্থ হলো ভেঙে ফেলা বা মচকে দেওয়া। 'আল-আজুক' হলো 'আযক' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ খেজুরের ছড়া। (তাঁর উক্তি) 'মুস্তাকিনান' অর্থ হলো হীন বা বিনীত; বলা হয়—সে বিষয়টির সামনে 'ইস্তাকানা' করেছে অর্থাৎ যখন সে তার কাছে নতি স্বীকার করে। আর 'আদ-দঙ্ক' হলো তীব্র সংকীর্ণতা।

 

‌‌ইবনে আদ-জিবাহ আস-সাকাফীর পঙ্ক্তিগুলোর দুর্লভ শব্দসমূহের ব্যাখ্যা

‌‌(তাঁর উক্তি): 'মা লিল ফাতা সাহরাহ', অর্থাৎ যুবকের কোনো মুক্তি নেই। এটি 'সোয়াদ' বর্ণে জবর (ফতহ) দিয়েও বর্ণিত হয়েছে, তবে পেশ (জম) দিয়ে পাঠ করা অধিক প্রসিদ্ধ। 'আল-ওয়াযার' অর্থ হলো আশ্রয়স্থল, 'জাতুল ইবার' হলো মহাবিপদের নামসমূহের একটি নাম। 'আল-হারাবাহ' হলো বল্লমধারী যোদ্ধা। 'আল-মুর্করাবাত' হলো উচ্চজাতের ঘোড়াসমূহ। 'আয-যাফার' হলো তীব্র গন্ধ। 'আস-সা'আলী' হলো 'সা'লাত' শব্দের বহুবচন, যা জিনের জাদুকরী রূপ। আর আমর ইবনে মা’দী কারিব-এর পঙ্ক্তিতে (উক্তি): 'মানুষের মাঝে সুদৃঢ় রাজত্ব যা রাসী'; এখানে 'রাসী' অর্থ হলো সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল। কোনো বস্তু স্থির হলে বলা হয় তা 'রাসা' হয়েছে। 'কাসিন' অর্থ হলো কঠোর, যা কঠোরতা বা 'কাসাওয়া' থেকে উদ্ভূত। এবং (তাঁর উক্তি): 'ঘোড়সওয়ারদের ওপর যারা মুকারিফ', এখানে 'মুকারিফ' হলো বহুবচন...
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৬)
مقرف وهو من الخيل الذي أبوه هجين وأمه عتيقة، و (قوله) : فتواعده، ويروى فتوعده معناهما جميعاً هدده، و (قوله) : فشرمت حاجبه أي شقته يقال شرمت أنف الرجل إذا شققته، و (قوله) : وودى أبرهة أرباط يعني أنه أعطى ديته لقومه، و (قوله) : بني القليس القليس هو اسم الكنيسة التي بنى، وهو مشتق من قلس الشيء إذا ارتفع، و (قول) العجاج: في أثعبان المنجنون المرسل، الأثعبان الثعب الذي يخرج منه الماء، والمنجنون السانية، والخليج النهر الصغير يخرج من النهر الكبير، و (قوله) : فإذا أرادوا الصدر يعني الرجوع من مكة إلى بلادهم وأصله في الماء، يقال: صدر عن الماء، إذا ورده ثم رجع عنه، (وقوله) : في نسب عمير جذل الطعان، قال أبو عبيدة: جذل الطعان هو علقمة بن فراس بن غنم بن ثعلبة بن ملك بن كنانة (وقول) : عمير في شعره: فأي الناس فاتونا بوتر: الوتر هنا طلب الثأر، و (قول) أمية بن أبي الصلت: قومي إياد لو أنهم أمم: الأمم القرب يريد لو أنهم قريب، والنعم الإبل، وقال بعض اللغويين،: النعم كل ماشية أكثرها إبل،
মুকরিফ হলো সেই ঘোড়া যার পিতা সংকর এবং মাতা কুলীন, এবং (তার উক্তি): ফাতাওয়াআদাহু, বর্ণিত আছে ফাতাওয়াআদাহু, এই উভয়টির অর্থ হলো সে তাকে হুমকি দিল, এবং (তার উক্তি): ফাশারামাত হাজিবাহু অর্থাৎ সে তার ভ্রূ বিদীর্ণ করেছে, বলা হয় শারামতু আনফার রাজুলি যখন তুমি কোনো ব্যক্তির নাক বিদীর্ণ করো, এবং (তার উক্তি): ওয়া ওয়াদা আবরাহাতু আরবাতান অর্থাৎ সে আরবাতে তার রক্তপণ তার কওমকে প্রদান করল, এবং (তার উক্তি): বুনিয়াল কুল্লাহিস, কুল্লাহিস হলো তার নির্মিত গির্জার নাম, আর এটি কালাসা থেকে উদ্ভূত যখন কোনো বস্তু উপরে উঠে, এবং আল-আজজাজের উক্তি: ফি আসউবানিল মানজানুনিল মুরসাল, আসউবান হলো পানির প্রবাহ যেখান দিয়ে পানি বের হয়, আর মানজানুন হলো পানি তোলার যন্ত্র, আর খালীজ হলো ছোট নদী যা বড় নদী থেকে বের হয়, এবং (তার উক্তি): ফা ইজা আরাদুস সাদার অর্থাৎ যখন তারা মক্কা থেকে নিজ দেশে ফেরার ইচ্ছা পোষণ করে এবং এর মূল প্রয়োগ পানির ক্ষেত্রে, বলা হয়: সাদারা আনিল মা, যখন কেউ পানির ঘাটে আসে এবং সেখান থেকে ফিরে যায়, (এবং তার উক্তি): উমাইরের বংশ পরিচয়ে জিজলুত তিয়ান, আবু উবাইদাহ বলেন: জিজলুত তিয়ান হলেন আলকামাহ বিন ফিরাাস বিন গানাম বিন সালাবাহ বিন মালিক বিন কিনানাহ (এবং উমাইরের উক্তি): তার কবিতায়: ফা আইয়ুন নাসি ফাতুনা বিওয়াতরিন: এখানে ওয়াতর হলো প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা, এবং উমাইয়াহ বিন আবিস সালতের উক্তি: কওমি ইয়াদুন লাও আন্নাহুম আমামুন: আমাম অর্থ হলো নৈকট্য, তিনি বুঝিয়েছেন যদি তারা নিকটবর্তী হতো, আর নাআম হলো উট, এবং কোনো কোনো ভাষাবিদ বলেন: নাআম হলো সকল চতুষ্পদ গবাদি পশু যার অধিকাংশ হলো উট,
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৭)
و (قوله) : والقط والقلم، قد فسره ابن هشام، (وقوله) : حتى أنزله المغمس، قال أبو عبيد البكري هو المغمس بكسر التمنع، ويروى التحوز هو أن ينحاز إلى جهة ويتمنع، وشعغ الجبال رؤوسها، والشعاب المواضع الخفية بين الجبال، ومعرة الجيش شدته، (وقول) عبد المطلب في الشعر: فأمنع حلالك الحلال بكسر الحاء جمع حلة وهي جماعة البيوت، والحلال بفتح الحاء خلاف الحرام، والمحال القوة والشدة، (وقول) عكرمة ابن عامر في الشعر: الآخذ الهجمة فيها التقليد: الهجمة القطعة من الإبل قال بعضهم: هي ما بين الخمسين إلى الستين، (وقوله) : فيها التقليد أي في أعناقها قلائد، وحراء جبل بمكة، وثبير جبل أيضاً، والبيد جمع بيداً وهي القفر، والطماطم الأعاجم واحدهم طمطماني، (وقوله) : أخفر معناه انقض عهده يقال: أخفرت الرجل، إذا نقضت عهده وخفرته إذا أجرته، ومن رواه أحفره بالحاء المهملة، فمعناه أجعله منحفراً يريد خائفاً وجلاص، (وقوله) : وكان اسم الفيل محموداً، يقال: إن هذا
এবং (তাঁর উক্তি): 'আল-কাত্ত' ও 'আল-কালম', ইবনে হিশাম এর ব্যাখ্যা করেছেন। (এবং তাঁর উক্তি): 'যতক্ষণ না তাকে মুগাম্মাসে নামিয়ে আনল', আবু উবাইদ আল-বাকরি বলেছেন, এটি হলো 'মুগাম্মিস' (মীমের নিচে কাসরা যোগে), যা বাধা প্রদান করা বা নিজেকে রক্ষা করার অর্থ প্রকাশ করে। আবার 'আত-তাহাউউয' ও বর্ণিত হয়েছে, যার অর্থ এক পাশে সরে যাওয়া এবং প্রতিরোধ করা। পাহাড়ের 'শুআগ' বলতে তার চূড়াসমূহকে বোঝায়। আর 'শিআব' হলো পাহাড়ের মধ্যবর্তী লুকানো বা নিভৃত স্থানসমূহ। 'মাআররাতুল জায়শ' বলতে সেনাবাহিনীর তীব্রতা বা কঠোরতাকে বোঝানো হয়। (এবং) কবিতায় আব্দুল মুত্তালিবের উক্তি: "সুতরাং আপনি আপনার 'হিলাল' রক্ষা করুন"; এখানে 'হা' বর্ণে কাসরা (ই-কার) যোগে 'হিলাল' শব্দটি 'হিল্লাহ'-এর বহুবচন, যার অর্থ ঘরবাড়ির সমষ্টি। আর 'হা' বর্ণে ফাতহা (আ-কার) যোগে 'হালাল' শব্দটি হারামের বিপরীত। 'মিহাল' অর্থ হলো শক্তি ও কঠোরতা। (এবং) কবিতায় ইকরামা ইবনে আমিরের উক্তি: "হাজমাহ গ্রহণকারী যাতে তাকলিদ রয়েছে"; 'হাজমাহ' হলো উটের একটি পাল; কেউ কেউ বলেন, এটি পঞ্চাশ থেকে ষাটটি উটের সমষ্টি। (এবং তাঁর উক্তি): "তাতে তাকলিদ রয়েছে", অর্থাৎ তাদের গলায় মালা বা চিহ্ন রয়েছে। হেরা মক্কার একটি পাহাড় এবং সাবীরও একটি পাহাড়। 'বিদ' হলো 'বাইদা'-এর বহুবচন, যার অর্থ মরুভূমি বা জনশূন্য প্রান্তর। 'তামাতিম' হলো অনারব জনগোষ্ঠী, যার একবচন হলো 'তামতামানি'। (এবং তাঁর উক্তি): 'আখফারা' এর অর্থ হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা; বলা হয়ে থাকে: 'আখফারতুর রাজুলা', যখন তার প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার ভঙ্গ করা হয়, আর যখন তাকে আশ্রয় দেওয়া হয় তখন বলা হয় 'খাফারতুহু'। আর যারা একে 'হা' (বিন্দুহীন হা) যোগে 'আহফারাহু' বর্ণনা করেছেন, তার অর্থ হলো তাকে আতঙ্কিত বা ভীত-সন্ত্রস্ত করে তোলা। (এবং তাঁর উক্তি): "হাতির নাম ছিল মাহমুদ"; বলা হয়ে থাকে যে এটি...
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৮)
الاسم كان علماً لهذا الفيل خاصة، وقيل بل هو علم للجنس كله، كما يقال للأسد أسامة، ويكنى أبا الحارث وقال بعضهم: إنما قيل لكل فيل محمود باسم هذا الذي جاء إلى البيت، والفيل على عظم جرمه من أفهم الحيوانات، (وقوله) : حتى أصعد في الجبل، أي علا في الجبل، والطبرزين آلة معقفة من حديد، والمحاجن جمع محجن، وهي عصا مهوجة وقد يجعل في طرفها حديد، (وقوله) : في مراقة يعني في أسفل بطنه، (وقوله) : بزغوه أي شرطوه بالحديد الذي في تلك المحاجن، ويهرول أي يسرع، والخطاطيف والبلسان، ضربان من الطير، (وقول) : نفيل في شعره: ولم تأسى على ما فات بينا أي لم تحزني قال الله تعالى: لكيلا تأسوا على ما فاتكم (وقوله) : على كل منهل، المنهل موضع ورود الماء وجمعه مناهل، والأنملة طرف الإصبع، ويقال أنملة أيضاً بضم الميم، (وقوله) : تمت أي تسيل وقيل ترشح، وصنعاء بلد باليمن وانصدع صدره، أي انشق، ومرائر الشجر، يعني المر منها وهو جمع أمرار وأمرار جمع مر، والعشر شجر، قال الكندي:
এই নামটি বিশেষভাবে এই হাতির জন্য একটি নির্দিষ্ট নাম ছিল। আবার বলা হয়েছে যে, এটি বরং পুরো প্রজাতির জন্যই একটি সাধারণ নাম, যেমন সিংহকে ‘উসামা’ বলা হয় এবং ‘আবু আল-হারিস’ উপনামে ডাকা হয়। কেউ কেউ বলেছেন: বায়তুল্লাহতে (কাবা) আসা এই হাতির নামানুসারেই প্রত্যেক হাতিকে ‘মাহমুদ’ বলা হয়েছে। হাতি তার বিশাল দেহ সত্ত্বেও প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম বুদ্ধিমান। (তার উক্তি): ‘যতক্ষণ না সে পাহাড়ে উঠল’, অর্থাৎ পাহাড়ে আরোহণ করল। ‘তাবারযিন’ হলো লোহার তৈরি একটি বাঁকানো যন্ত্র। ‘মাহাজিন’ হলো ‘মিহজান’-এর বহুবচন, আর এটি হলো একটি বাঁকানো লাঠি যার মাথায় কখনও লোহা লাগানো থাকে। (তার উক্তি): ‘তার মারাক্কায়’, অর্থাৎ তার পেটের নিচের অংশে। (তার উক্তি): ‘তারা তাকে আঘাত করল’, অর্থাৎ ওই বাঁকানো লাঠিগুলোর লোহা দিয়ে তারা তাকে ক্ষতবিক্ষত করল। ‘সে দ্রুত দৌড়াচ্ছে’, অর্থাৎ সে দ্রুতগতিতে চলছে। ‘খাতাতীফ’ এবং ‘বালসান’ হলো দুই প্রকারের পাখি। (নুফায়লের কাব্যে তার উক্তি): ‘আমাদের মাঝে যা গত হয়ে গেছে তার জন্য তুমি দুঃখ করো না’, অর্থাৎ তুমি ব্যথিত হয়ো না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য দুঃখিত না হও।" (তার উক্তি): ‘প্রতিটি মানহালে’, মানহাল হলো পানি সংগ্রহের স্থান এবং এর বহুবচন হলো মানাহিল। ‘আনমুলাহ’ হলো আঙুলের ডগা, মীম বর্ণে পেশ দিয়েও (আনমুলাহ) এটি বলা হয়। (তার উক্তি): ‘প্রবাহিত হওয়া’, অর্থাৎ গড়িয়ে পড়া, আবার বলা হয়েছে চুইয়ে পড়া। সানআ হলো ইয়ামেনের একটি শহর। তার বুক বিদীর্ণ হয়ে গেল, অর্থাৎ ফেটে গেল। ‘মারা’ইর আল-শাজার’ বলতে গাছের তিক্ত অংশকে বোঝায়, এটি ‘আমরার’-এর বহুবচন এবং ‘আমরার’ হলো ‘মুরর’ (তিক্ত)-এর বহুবচন। ‘উশর’ হলো এক প্রকারের গাছ। আল-কিন্দি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৯)
أمرخ خيامهم أم عشر، (وقول) ابن هشام: البابيل الجماعات ولم تتكلم لها العرب بواحد قال النحويون واحدها في القياس إبيل وإبول، (وقول) علقمة في شعره تسقي مذانب، المذانب جمع مذنب، وهو مسيل الماء إلى الروضة، والعصيفة ورق الزرع وقد فسره ابن هشام، وحدورها ما انحدر منها، ومن رواه جذورها بالجيم المضمومة فهو جمع جذر وهي أصول الشجر هنا، والآتي السيل، ومطموم من قولهم طم الماء وطماً إذا علا وارتفع، وقول الراجز:

 

فصيروا مثل كعصف مأكول

 

‌‌قال ولهذا البيت تفسير في النحو، تفسيره إن الكاف زائدة لكونها قد تكون حرفاً، ومثل، لا تكون إلا إسماً فزيادة الحرف أولى من زيادة الاسم، والمراد لزيادتها التأكيد، و (قول) ذي الرمة.

 

من المؤلفات الرمل أدماء حرة

الأدماء من الظباء السمراء الظهر البيضاء البطن، والأدمة في الإبل البياض الخالص، والأدمة في الآدميين أن يميل
তাদের তাঁবুগুলো কি মারখ কাঠের নাকি উশরের? (এবং উক্তি) ইবনে হিশাম বলেছেন: আবাবিল হলো দলসমূহ, এবং আরবরা এর কোনো একবচন ব্যবহার করেনি। ব্যাকরণবিদগণ বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী এর একবচন হলো ইব্বীল এবং ইব্বূল। (এবং উক্তি) আলক্বামা তাঁর কবিতায় বলেছেন "তাসক্বি মাযানিবি", মাযানিবি হলো মাযনাব-এর বহুবচন, আর তা হলো বাগানের দিকে প্রবাহিত পানি চলাচলের পথ। আসিফাহ হলো ফসলের পাতা, ইবনে হিশাম এর ব্যাখ্যা করেছেন। হাদুরুহা হলো যা তা থেকে নিচে পতিত হয়। আর যারা জিম বর্ণে পেশ দিয়ে জুযুরুহা বর্ণনা করেছেন, তা হলো জিযর-এর বহুবচন এবং এখানে এর অর্থ হলো বৃক্ষের মূল। আতি হলো প্লাবন। মাতমুম শব্দটি তাদের উক্তি "তাম্মাল মাউ তামান" থেকে এসেছে, যখন পানি বৃদ্ধি পায় ও উপরে উঠে যায়। এবং রাজেজ কবির উক্তি:

 

ফলে তারা ভক্ষিত তৃণসদৃশ হয়ে গেল

 

‌‌তিনি বলেন, এই পঙক্তিটির ব্যাকরণগত একটি ব্যাখ্যা রয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলো, কাফ অক্ষরটি এখানে অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে কারণ এটি একটি হরফ বা অব্যয় হতে পারে, আর মিসল শব্দটি কেবল ইসম বা বিশেষ্য হিসেবেই ব্যবহৃত হয়; তাই ইসমের তুলনায় হরফ অতিরিক্ত হওয়াই অধিক শ্রেয়। আর এটি অতিরিক্ত করার উদ্দেশ্য হলো তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদান করা। এবং যু-রুম্মার উক্তি।

 

বালিয়াড়িতে বসবাসকারী উজ্জ্বল বর্ণের এক স্বাধীন হরিণী

হরিণদের মধ্যে আদমা হলো সেই হরিণী যার পিঠ বাদামী এবং পেট সাদা। উটের ক্ষেত্রে উদমাহ বলতে খাঁটি শুভ্রতা বোঝায়। আর মানুষের ক্ষেত্রে উদমাহ হলো সেই বর্ণ যা শ্যামলিমার দিকে ঝুঁকে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ২০)
اللون إلى السمرة قليلاً، وشعاع الضحى بريق لونه ويتوضح يتبين و (قول) مطرود بن كعب في شعره: إذا تغيرت يعني استحالت عن عادتها من المطر على مذهب العرب في النجوم ومن رواه تغيرت بالباء المنقوطة بواحدة من أسفل فمعناه قل مطرها من الغبر وهي البقية (وقول) الكميت في شعره.

 

هذا المعيم لنا المرجل

هو من العيمة وهو الشوق إلى اللبن، والمرجل الذي تذهب فيه إبلهم فيمشون على أرجلهم ومن رواه المرحل بالحاء المهملة فمعناه يرحلهم عن بلادهم لطلب الخصب، يريد أنه عام شديد.

 

‌‌تفسير غريب أبيات عبد الله بن الزبعري

‌‌الزبعري السيء الخلق، (قوله) : تنكبوا أي ارجعوا خوفاً منها، تقول نكبت فلاناً عن الشيء إذا صرفته عنه صرف هيبة وخوف، والشعرى اسم النجم، وهما شعريان: إحداهما الغميصاء وهي التي في ذراع الأسد، والأخرى التي تتبع الجوزاء، وهي أضوأ من الغميصاء و (قوله) : لم يؤوبوا أرضهم، أي لم يرجعوا إلى أرضهم، يقال:
রঙ কিছুটা শ্যামল বর্ণের দিকে, আর চাশতের আলো এর রঙের উজ্জ্বলতা এবং এটি সুস্পষ্ট ও প্রকাশিত হয়। আর তাঁর কবিতায় মটরুদ বিন কাবের (উক্তি): যখন তা পরিবর্তিত হয়, অর্থাৎ নক্ষত্র সম্পর্কে আরবদের বিশ্বাস অনুযায়ী বৃষ্টির স্বাভাবিক রীতি থেকে তা বিচ্যুত হয়। আর যারা একে নিচে এক নুক্তাযুক্ত ‘বা’ বর্ণ দিয়ে বর্ণনা করেছেন, এর অর্থ হলো ‘গুবরা’ বা অবশিষ্টাংশের কারণে বৃষ্টি কমে যাওয়া। আর তাঁর কবিতায় কুমাইতের (উক্তি)।

 

এটি আমাদের জন্য দুগ্ধপিপাসু ও পদব্রজে চালিতকারী

এটি ‘আইমাহ’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ দুধের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা। আর ‘মুরজ্জিল’ হলো সেই অবস্থা যাতে তাদের উটগুলো চলে যায় এবং তারা তাদের পায়ে হেঁটে চলে। আর যারা একে ‘হা’ বর্ণ দিয়ে ‘মুরাহহিল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তার অর্থ হলো এটি উর্বরতার সন্ধানে তাদের নিজ দেশ থেকে দেশান্তরে পাঠিয়ে দেয়; এর দ্বারা তিনি একটি অত্যন্ত কঠিন বছর বুঝিয়েছেন।

 

‌‌আবদুল্লাহ বিন আল-জিবারার পঙক্তিগুলোর দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা

‌‌আল-জিবারা অর্থ হলো দুশ্চরিত্র। (তাঁর উক্তি): ‘তানাক্কাবু’ অর্থাৎ তার ভয়ে ফিরে আসো। কাউকে কোনো বিষয় থেকে ভয় বা শ্রদ্ধার কারণে সরিয়ে দিলে বলা হয় ‘নাকাবতু ফুলানান’। ‘শি’রা’ হলো একটি নক্ষত্রের নাম। শি’রা নক্ষตร দুটি: একটি হলো ‘গুমাইসা’, যা সিংহের বাহুতে অবস্থিত, আর অন্যটি হলো যা কালপুরুষকে অনুসরণ করে এবং এটি ‘গুমাইসা’র চেয়ে অধিক উজ্জ্বল। আর (তাঁর উক্তি): ‘তারা তাদের জমিনে প্রত্যাবর্তন করেনি’ অর্থাৎ তারা তাদের ভূমিতে ফিরে আসেনি। বলা হয়ে থাকে:
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ২১)
آب إلى كذا أي رجع إليه، وكان وجه الكلام أن يقول إلى أرضهم، فحذف حرف الجر وأوصل الفعل، و (قوله) : دانت بها عاد، أي أطاعت، والدين الطاعة، وقوله في نسب أبي قيس بن عامرة بن مرة، كذا وقع ويروى ابن عامر وبإثبات التاء وهو الصواب.

 

‌‌تفسير غريب أبيات أبى قيس بن الأسلت

‌‌(قوله) : كلما بعثوه رزم، يقال رزم البعير إذا ثبت بمكانه فلم يبرح، أكثر ما يكون ذلك من الأعياء، ومحاجنهم جمع محجن وهي عصا معوجة وقد تقدم تفسيره، وأقرابه جمع قرب وهو الخصر، وشرموا شقوا، وانخرم انشق أيضاً، والمغول بالغين المعجمة سكين كبيرة دون الشمل، والمشمل سيف صغير، وقال بعضهم: المغول هي السكين التي تكون في السوط، ومن رواه معولاً بالعين المهملة فهي هذه الفأس التي تنقر بها الحجارة، ويممون قصدوه، وكلم جرح والكلم الجرح، و (قوله) أدبر أدراجه، أي رجع من حي جاء، بواء بالظلم، أي رجع مستحقاً به، والحاصب هنا الحجارة، والقرم صغار الغنم، وثأجوا صاحوا.
আবা ইলা কাযা মানে হলো তার দিকে ফিরে আসা। বক্তব্যের রূপটি এমন হওয়া উচিত ছিল যে, 'তাদের ভূমির দিকে' বলা হবে, কিন্তু এখানে অব্যয় বিলুপ্ত করে ক্রিয়াটিকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। (তার বক্তব্য): 'দানাত বিহা আদ', অর্থাৎ তারা আনুগত্য করল, আর 'দীন' হলো আনুগত্য। আবু কাইস ইবনে আমিরাহ ইবনে মুররাহ-এর বংশপরিচয় সম্পর্কে এভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে; তবে ইবনে আমির রূপেও বর্ণিত হয়েছে এবং 'তা' বর্ণটি বহাল রাখাই সঠিক।

 

‌‌আবু কাইস বিন আল-আসলাত-এর কবিতাসমূহের বিরল শব্দাবলির ব্যাখ্যা

‌‌(তার বক্তব্য): "যখনই তারা তাকে পাঠাত, সে স্থির হয়ে থাকত", উট যখন তার জায়গায় স্থির হয়ে যায় এবং নড়ে না, তখন তাকে 'রাযামা' বলা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্লান্তির কারণে এমনটা ঘটে। আর তাদের 'মাহাজিন' হলো 'মিহজান'-এর বহুবচন, যা হলো একটি বাঁকানো লাঠি; এর ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর 'আকরাব' হলো 'কুরব'-এর বহুবচন, যার অর্থ কোমর। 'শারামু' মানে তারা বিদীর্ণ করেছে, আর 'ইনখারামা' মানেও বিদীর্ণ হওয়া। আর 'মিগওয়াল' (ঘাইন বর্ণসহ) হলো একটি বড় ছুরি যা 'শামল'-এর চেয়ে ছোট, আর 'মিশমাল' হলো একটি ছোট তলোয়ার। কেউ কেউ বলেছেন: 'মিগওয়াল' হলো সেই ছুরি যা চাবুকের ভেতরে থাকে। আর যারা একে 'মি'ওয়াল' (আইন বর্ণসহ) বর্ণনা করেছেন, তার অর্থ হলো সেই কুঠার যা দিয়ে পাথর খোদাই করা হয়। 'ইউয়াম্মিমুন' মানে তারা তার সংকল্প করেছে, আর 'কালম' মানে ক্ষত বা জখম। এবং (তার বক্তব্য) 'আদবারা আদরাজাহু', অর্থাৎ যেখান থেকে এসেছিল সেদিকেই ফিরে গেল। 'বাওয়া বিয-যুলম', অর্থাৎ জুলুমের কারণে শাস্তির যোগ্য হয়ে ফিরে আসা। আর এখানে 'হাসিব' মানে পাথর। 'কারম' হলো ছোট ভেড়া, এবং 'সা-আজু' মানে তারা চিৎকার করল।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌تفسير غريب أبيات أبي قيس أيضاً

(قوله) : فصلوا ربكم، أي ادعوا ربكم، وقد تكون الصلاة الدعاء، والأخاشب جبلان بمكة فجمعهما مع ما حولها وإنما هما أخشبان، والكتائب جمع كتيبة وهي العسكر، والقاذفات أعالي الجبال البعيدة، والمناقب جمع منقبة وهي الطريق في رأس الجبل، و (قوله) : بين ساف وحاصب، السافي هنا الذي غطاه التراب يقال: سفت الريح التراب، والحاصب الذي أصابته الحجارة وهما على معنى السبب وقد يكون السافي والحاصب يراد بهما اسم الفاعل حقيقة، والعصائب الجماعات.

 

‌‌تفسير غريب بيتي طالب بن أبي طالب

(قوله) : في حرب داحس، داحس اسم فرس مشهور وكانت حرب بسببه، والشعب الطريق بين جبلين، السرب بفتح السين، المال الراعي، والسرب بكسر السين، النفس، ويقال القوم، ومنه اصبح آمناً في سربه في نفسه، وقيل في قومه.
আবু কাইসের পংক্তিগুলোর বিরল শব্দসমূহের ব্যাখ্যাও

(তার বক্তব্য): তোমরা তোমাদের রবের নিকট প্রার্থনা করো, অর্থাৎ তোমাদের রবের নিকট দোয়া করো। আর সালাত অর্থ কখনো কখনো দোয়া হয়ে থাকে। আখাশিব হলো মক্কার দুটি পাহাড়। তিনি শব্দটিকে এর চারপাশের এলাকাসহ বহুবচনে ব্যবহার করেছেন, অথচ সেগুলো মূলত দুটি পাহাড় (আখশাবান)। আর কাতায়েব হলো কাতিবাহ শব্দের বহুবচন, যা হলো সৈন্যদল। কাযিফাত হলো সুদূর পাহাড়সমূহের উচ্চচূড়া। মানাকিব হলো মানকাবাহ শব্দের বহুবচন, যা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত পথ। আর (তার বক্তব্য): সাফি ও হাসিবের মাঝে। এখানে সাফি অর্থ হলো যা ধূলিকণা দ্বারা আবৃত। বলা হয়: বাতাস ধূলিকণা উড়িয়ে নিয়েছে। আর হাসিব হলো যা পাথরের আঘাতে আক্রান্ত হয়েছে। এ দুটি শব্দ কারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আবার কখনো সাফি ও হাসিব দ্বারা প্রকৃত কর্তৃবাচক বিশেষ্যও উদ্দেশ্য হতে পারে। আর আসায়িব অর্থ হলো দলসমূহ।

 

তালিব বিন আবি তালিবের পংক্তিদ্বয়ের বিরল শব্দসমূহের ব্যাখ্যা

(তার বক্তব্য): দাহিসের যুদ্ধে। দাহিস হলো একটি প্রসিদ্ধ ঘোড়ার নাম এবং এর কারণেই যুদ্ধ হয়েছিল। শিব হলো দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী পথ। সারব (সীন বর্ণে জবর যোগে) হলো বিচরণশীল গবাদিপশু। আর সিরব (সীন বর্ণে যের যোগে) হলো প্রাণ বা সত্তা। আবার একে জাতিও বলা হয়। এর থেকেই বলা হয়: সে তার আবাসে (সিরব) নিরাপদ হয়ে সকাল যাপন করল, অর্থাৎ নিজের মধ্যে; আবার বলা হয়েছে—তার জাতির মধ্যে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌تفسير غريب أبيات أبي الصلت

(قوله) : ما يماري، أي ما يشك والمرية الشك، (وقوله) : بمهاة شعاعها منشور، يعني الشمس، والمهاة من أسمائها، والمغمس موضع، والجران باطن حلق البعير فاستعاره هنا للفيل، وفي كتاب العين: الجران الصدر، وقطر أي رمي به على جانبه، والقطر الجانب، وكبكب اسم جبل، وملاويث أشداء، وابذعروا تفرقوا، (وقوله) : بور أي هالك، من البوار، وهو الهلاك.

 

‌‌تفسير غريب أبيات الفرزدق

(قوله) : رمى الله في جثمانه، الجثمان الجسم، والقبلة البيضاء يعني الكعبة، والهباء ما يظهر في شعاع الشمس إذا دخلت من موضع ضيق، والمطرخم الممتلى كبراً وغضباً، وفي شعر قيس الرقيات، وهو فل، والفل الجيش المنهزم، والقنقل المكيال، و (قوله) : لأورط جيشاً، أي انشبهم في شر والورطة الانتشاب في شر والمرازبة
আবু আল-সালতের কবিতাগুলোর কঠিন শব্দসমূহের ব্যাখ্যা

(তাঁর কথা): "মা ইয়ুমারি" অর্থাৎ সে সন্দেহ করে না, এবং "আল-মিরইয়াহ" শব্দের অর্থ হলো সন্দেহ। (এবং তাঁর কথা): "বি-মাহাতিন শু'আউহা মানশুর" দ্বারা সূর্যকে বুঝানো হয়েছে, আর "আল-মাহাহ" হলো সূর্যের অন্যতম নাম। "আল-মুগাম্মাস" একটি স্থানের নাম। "আল-জিরান" হলো উটের কণ্ঠনালীর অভ্যন্তরীণ অংশ, এখানে শব্দটি হাতির ক্ষেত্রে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। "কিতাবুল আইন"-এ বর্ণিত আছে: "আল-জিরান" হলো বক্ষ। "কুতারা" অর্থাৎ তাকে তার এক পার্শ্বে নিক্ষেপ করা হয়েছে, আর "আল-কুত্র" মানে হলো পার্শ্ব। "কাবকাব" একটি পাহাড়ের নাম। "মালাউয়িস" হলো শক্তিশালী ব্যক্তিবর্গ। "ইবযা'আররু" অর্থ তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। (এবং তাঁর কথা): "বুর" অর্থাৎ ধ্বংসপ্রাপ্ত, এটি "আল-বাওয়ার" শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ হলো ধ্বংস।

 

আল-ফারাজদাকের কবিতাগুলোর কঠিন শব্দসমূহের ব্যাখ্যা

(তাঁর কথা): "আল্লাহ তার শরীরে নিক্ষেপ করেছেন", এখানে "জাসমান" অর্থ শরীর বা দেহ। "আল-কিবলাহ আল-বাইদা" বলতে কাবাকে বুঝানো হয়েছে। "আল-হাবা" হলো সূর্যের আলোতে দৃশ্যমান ধূলিকণা যা কোনো সংকীর্ণ পথ দিয়ে আলো প্রবেশের সময় দেখা যায়। "আল-মুতারাখখিম" হলো সেই ব্যক্তি যে অহঙ্কার ও ক্রোধে পরিপূর্ণ। কায়স আল-রুকাইয়্যাতের কবিতায় "ফাল্লুন" শব্দটির উল্লেখ আছে, আর "আল-ফাল্লু" হলো পরাজিত সৈন্যবাহিনী। "আল-কানকাল" হলো এক প্রকার পরিমাপক পাত্র। (তাঁর কথা): "লা-আওরাতা জায়শান" অর্থাৎ সৈন্যদলকে কোনো সংকটে বা মন্দের মাঝে নিপতিত করা। "আল-ওয়ারতাহ" হলো মন্দের মাঝে আটকে পড়া। আর "আল-মারাজিবা"... (অসমাপ্ত)
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৪)
وزراء الفرس واحدهم مرزبان، (وقوله) : لاثوا به، أي اجتمعوا حوله.

 

‌‌تفسير غريب أبيات سيف بن ذي يزن

‌‌(قوله) : قد التأما، أي قد اصطلحا واتفقا، والخطب الأمر العظيم، وفقم عظم، ويروى فقم بكسر القاف والصواب فتحها، والقيل الملك، والكثيب كدس الرمل، والمشعشع الشراب الممزوج بالماء، ويفي يغنم، والنعم الإبل.

 

‌‌تفسير غريب أبيات أبي الصلت

(قوله) : ليطلب الوتر أمثال، الوتر طلب الثأر، وريم في البحر، أي أقام، ويمم قصد، وقيصر ملك الروم، وانتحى اعتمد وقصد، وكسرى ملك الفرس يقال بفتح الكاف وكسرها، والكسر أفصح، وأوغلت إيغالاً، أي أبعدت إبعاداً، وبنو الأحرار يعني الفرس، القلقال التحرك والسرعة، وغلباً شداداً، والأساورة رماة الفرس، والمرازبة وزراء الفرس، وتربب وتربت بالباء والتاء في معنى واحد بمعنى التربية،
পারস্যের মন্ত্রীবর্গ, যাদের একজনকে মারযুবান বলা হয়। (তাঁর কথা): 'লাসু বিহি', অর্থাৎ তারা তাঁর চারপাশে সমবেত হয়েছে।

 

‌‌সাইফ বিন যি ইয়াযানের কাব্যগাথার কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা

‌‌(তাঁর কথা): 'কাদ ইলতাইয়ামা', অর্থাৎ তারা উভয়ে আপস-মীমাংসা ও ঐকমত্যে পৌঁছেছে। 'আল-খাতব' অর্থ গুরুতর বিষয়। 'ফাক্বামা' অর্থ বড় হওয়া বা গুরুতর হওয়া; এটি ক্বাফ বর্ণে কাসরা দিয়েও বর্ণিত হয়, তবে ফাতহা দেওয়াই সঠিক। 'আল-ক্বাইল' অর্থ রাজা। 'আল-কাসিব' অর্থ বালুর স্তূপ। 'আল-মুশা'শা'' অর্থ পানি মিশ্রিত পানীয়। 'ইয়াফি' অর্থ গনীমত বা সম্পদ লাভ করা। 'আন-না'আম' অর্থ উট।

 

‌‌আবুস সালতের কাব্যগাথার কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা

(তাঁর কথা): 'লিয়াতলুবাল ওয়াতরা আমসাল', এখানে 'ওয়াতর' অর্থ প্রতিশোধ গ্রহণ করা। 'রীমা ফিল বাহরি' অর্থ সে সমুদ্রে অবস্থান করেছে। 'য়াম্মামা' অর্থ উদ্দেশ্য করা। 'কায়সার' হলেন রোম সম্রাট। 'ইনতাহা' অর্থ নির্ভর করা ও উদ্দেশ্য করা। 'কিসরা' হলেন পারস্য সম্রাট; এটি কাফ বর্ণে ফাতহা ও কাসরা উভয়ভাবে বলা হয়, তবে কাসরা অধিক বিশুদ্ধ। 'আওগালা ইগালা' অর্থ অনেক দূরে অগ্রসর হওয়া। 'বানুল আহরার' বলতে পারস্যবাসীদের বোঝানো হয়েছে। 'আল-ক্বালকাল' অর্থ নড়াচড়া ও দ্রুততা। 'গুলবান' অর্থ শক্তিশালী। 'আল-আসাউয়িরা' অর্থ পারস্যের তীরন্দাজ বাহিনী। 'আল-মারাযিবা' অর্থ পারস্যের মন্ত্রীবর্গ। 'তারাব্বাবা' ও 'তারাব্বাত' (বা এবং তা সহযোগে) উভয়টি একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ লালন-পালন করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৫)
والغيضات جمع غيضة وهي الشجر المتلف، والأشبال أولاد السود فاستعارها لهم، وشدف عظام الأشخاص يعني به القسي، ومن رواه عن عتل، فالعتل القسي الفارسية، وغبط جمع غبيط وهي عيدان الهودج واداته، والزمخر القصب اليابس يعني قصب النشاب، وفلال منهزمون وغمدان بلد، وشالت نعامتهم، أي هلكوا، يقال: شالت نعامة الرجل إذا مات، والإسبال إرخاء الثوب، وهنا يريد به الخيلاء والإعجاب، وقعبان تثنية قعب وهو قدح يحلب فيه، وشيبا مزجا.

 

‌‌تفسير غريب أبيات عدي بن زيد

‌‌(قوله) : ما بعد صنعاء، صنعاء بلد باليمن، و (قوله) : ولاة ملك، يريد الذين يدبرون أمر الناس ويصلحونه، وجزل كثير، والقزع السحاب المتفرق، والمزن السحاب، والمحارب الغرف المرتفعة، والعراء ما يستر الشيء عنك، وغواربها أعاليها، والنهام الذكر من اليوم وهو طائر يصيح بالليل، والقاصب صاحب الزمارة، وفوزت قطعت المفازة
'গাইদাত' হলো 'গাইদাহ' শব্দের বহুবচন, আর তা হলো ঘন ও জটলা পাকানো বৃক্ষরাজি; 'আশবাল' হলো সিংহের শাবক, তিনি এখানে তাদের জন্য এটি রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন; 'শাদাফে ইযামিল আশখাস' দ্বারা তিনি ধনুক বুঝিয়েছেন; আর যারা একে 'উতুল' শব্দে বর্ণনা করেছেন, তাদের মতে 'উতুল' হলো পারস্যের ধনুক; 'গুবুত' হলো 'গাবীত' এর বহুবচন, যা উটের হাওদার কাঠ ও এর সরঞ্জামাদি; 'যামখার' হলো শুষ্ক নলখাগড়া, অর্থাৎ তীরের নল; 'ফুলাল' অর্থ পরাজিতরা; 'গুমদান' একটি শহরের নাম; 'শালাত না'মাতুহুম' অর্থাৎ তারা ধ্বংস হয়েছে; বলা হয়ে থাকে: 'ব্যক্তির উটপাখি উঠে গেছে' যখন সে মারা যায়; 'ইসবাল' হলো কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া, আর এখানে এর দ্বারা অহংকার ও আত্মমুগ্ধতা উদ্দেশ্য; 'কা'বান' হলো 'কা'ব' শব্দের দ্বিবচন, আর তা হলো এমন বড় পেয়ালা যাতে দুধ দোহন করা হয়; এবং 'শাইবান' অর্থ মিশ্রিত করা।

 

‌আদী বিন যায়িদের কবিতার দুর্লভ শব্দাবলির ব্যাখ্যা

‌(তাঁর উক্তি) : সানার পরে যা আছে, সানা হলো ইয়ামেনের একটি শহর; এবং (তাঁর উক্তি) : রাজত্বের শাসকবৃন্দ, তিনি এর দ্বারা তাদের বুঝিয়েছেন যারা মানুষের বিষয়াবলি পরিচালনা ও সংশোধন করে; 'জাযল' অর্থ প্রচুর; 'কাযা' হলো বিক্ষিপ্ত মেঘ; 'মুযন' অর্থ মেঘ; 'মাহারিব' হলো সুউচ্চ কক্ষসমূহ; 'আরা' হলো এমন কিছু যা তোমার থেকে কোনো বস্তুকে আড়াল করে; 'গাওয়ারিব' হলো তার উপরিভাগসমূহ; 'নাহহাম' হলো দিনের পুরুষজাতী (পাখি), যা রাতে চিৎকার করে; 'কাসিব' হলো বাঁশিবাদক; এবং 'ফাউওয়াযাত' অর্থ মরুভূমি পাড়ি দিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৬)
وهي القفر، وتوالبها جمع تولب والتولب ولد الحمار، فجعله هنا للبغال، والأقوال هنا الملوك، والمنقل الطريق المختصرة، والمنقل أيضاً الأرض التي يكثر فيها النقل وهي الحجارة، والكتائب العساكر واحدها كتيبة، والإمة بكسر الهمزة النعمة، والفيج الذي يسير للسلطان بالكتب على رجليه، والزرافة الجماعة من الناس، والزرافة أيضاً حيوان معروف، وخون خائنة، وجم كثير، وبنو تبع، ملوك اليمن في القديم، ونخاورة كرام، وقيل ملوك، (وقول) : خالد بن حق في شعره: كما اقتسم اللحام، اللحام جمع لحم، وتمخضت المنون، أي حملت لتلد كما تفعل الماخض من إناث الحيوان، وأنى بالنون أي حان، يقال أنى الشيء وأني وآن ثلاث لغات بمعنى واحد في معنى حان (وقول) الأعشى في بيته ما نظرت ذات أشفار، يعني زرقاء اليمامة، وكانت العرب تزعم أنها كانت ترى الأشخاص عن مسيرة ثلاثة أيام في الصحراء، وخبرها مشهور، وفيها يقول النابغة:

 

أحكمْ كحكم فتاة الحيَّ إذ نظرت،
সেটি হলো জনশূন্য প্রান্তর; আর 'তাওয়ালিব' হলো 'তাওলাব'-এর বহুবচন, আর তাওলাব হলো গাধার বাচ্চা, তবে লেখক এখানে একে খচ্চরের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। এখানে 'আকওয়াল' বলতে রাজন্যবর্গকে বোঝানো হয়েছে। 'মানকাল' হলো সংক্ষিপ্ত পথ। এছাড়া 'মানকাল' বলতে এমন ভূখণ্ডকেও বোঝায় যেখানে প্রচুর পরিমাণে 'নাকল' বা পাথর থাকে। 'কাতায়েব' হলো সৈন্যদল, এর একবচন হলো 'কাতিবাহ'। হামযাহ-এর নিচে কাসরাহ যোগে 'ইম্মাহ' শব্দের অর্থ হলো নেয়ামত বা অনুগ্রহ। 'ফাইয' হলো সেই ব্যক্তি যে সুলতানের চিঠিপত্র নিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করে। 'যারাফাহ' হলো জনসমষ্টি বা দল; আবার 'যারাফাহ' একটি সুপরিচিত প্রাণীর নামও। 'খুন' হলো বিশ্বাসঘাতক। 'জাম্মুন' মানে হলো প্রচুর। 'বানু তুব্বা' হলো প্রাচীনকালের ইয়ামানের রাজন্যবর্গ। 'নাখাওয়িরাহ' হলো সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, কারো মতে তারা হলো রাজা। খালিদ বিন হাক্ক-এর কবিতায় বলা হয়েছে: "যেমন গোশত বণ্টনকারীরা বণ্টন করে"; এখানে 'লাহহাম' হলো গোশতের বহুবচন। 'তামাখখাদাতিল মানুন' অর্থ হলো প্রসবের সময় নিকটবর্তী হওয়া, অর্থাৎ এটি প্রসবের জন্য গর্ভবতী হয়েছে যেমনটি গবাদি পশুর স্ত্রীজাতী করে থাকে। নুন যুক্ত 'আনা' শব্দের অর্থ হলো সময় হওয়া; বলা হয়ে থাকে যে 'আনা', 'আনি' এবং 'আ-না' এই তিনটি রূপই একই অর্থে অর্থাৎ সময় হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়। আশার কবিতার চরণে 'চোখের পাপড়ি বিশিষ্ট নারী যা প্রত্যক্ষ করেনি' বলতে 'যারকা আল-ইয়ামামাহ'-কে বোঝানো হয়েছে। আরবরা বিশ্বাস করত যে, সে মরুভূমিতে তিন দিনের পথ দূরত্বে থাকা ব্যক্তিকেও দেখতে পেত এবং তার কাহিনী অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। তার সম্পর্কে নাবিগাহ বলেন:

 

সেই গোত্রের তরুণীর ন্যায় ফয়সালা করো, যখন সে দৃষ্টিপাত করেছিল,
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৭)
(الأبيات)

 

‌‌‌‌تفسير غريب أبيات عدي بن زيد أيضاً

(قوله) : وإذا دجلة تجبى إليه والخابور، دجلة والخابور نهران مشهوران، وشاده بناه وأعلاه، والمرمر الرخام، والكلس ما طلي به الحائط من جص وجيار، وكان الأصعمي يقول: الصواب وخلله بالخاء المعجمة لن بناء الحجارة لا يلبس وغنما يخلل بالجص بين حجر وحجر، وذراه أعاليه، والوكور جمع وكر، وهو عش الطائر، والآس الريحان، وقرون رأسها يعني ذوائب شعرها، (وقول) الأعشى: تضرب فيه القدم، القدم جمع قدوم وهي الآلة التي يقطع بها النجار، وأناب إليه أي رجع إليه.

 

تفسير غريب أبيات عدي بن زيد أيضاً

(قوله) : صابت عليه داهية، أي سقطت ونزلت، يقال صاب المطر يصوب إذا نزل، وأيد شديد، وربية التي رباها والدها، ومن رواه ربته فيعني صاحبته، ومن روى زنية فنسبها إلى الزنا، (وقوله) : لحينها أي لهلاكها، ومن رواه لخبها بالخاء المعجمة المكسورة فمعناه لمكرها بأبيها، والخب
(কবিতাংশসমূহ)

 

‌‌‌‌আদী ইবনে জায়েদের কবিতার বিরল শব্দসমূহের আরও কিছু ব্যাখ্যা

(তাঁর উক্তি): "যখন দজলা ও খাবুর তার নিকট সংগৃহীত হয়", দজলা ও খাবুর দুটি সুপ্রসিদ্ধ নদী। "শাদাহু" অর্থ তিনি তা নির্মাণ করেছেন এবং উচ্চ করেছেন। "মারমার" হলো মার্বেল পাথর। "কিলস" বলতে দেয়াল লেপন করার চুন বা প্লাস্টারকে বোঝায়। আল-আসমায়ী বলতেন: সঠিক পাঠ হলো "খাল্লালাহু" (নুক্তাযুক্ত খা বর্ণ যোগে), কারণ পাথরের গাঁথুনিকে কোনো কিছু পরিধান করানো হয় না, বরং এক পাথর ও অন্য পাথরের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান চুন দিয়ে পূরণ করা হয়। "যুরাহু" হলো তার উপরিভাগ। "উকুুর" হলো "উকর" এর বহুবচন, যার অর্থ পাখির বাসা। "আস" হলো রায়হান (সুগন্ধি উদ্ভিদ বিশেষ)। "তার মাথার শিং" বলতে তিনি তার চুলের বেণীসমূহকে বুঝিয়েছেন। (আল-আশার উক্তি): "তাতে কাদাম দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে", "কাদাম" হলো "কাদুম" এর বহুবচন, যা কাঠমিস্ত্রির কাঠ কাটার একটি যন্ত্র। "আনাবা ইলাইহি" অর্থ তার নিকট ফিরে আসা।

 

আদী ইবনে জায়েদের কবিতার বিরল শব্দসমূহের আরও কিছু ব্যাখ্যা

(তাঁর উক্তি): "তার ওপর এক মহাবিপদ আপতিত হলো", অর্থাৎ নিপতিত হলো ও নেমে আসলো। বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে বলা হয় "সাবা আল-মাতারু"। "আইদ" অর্থ শক্তিশালী। "রাবিয়্যাহ" হলো সেই নারী যাকে তার পিতা লালন-পালন করেছে। যারা "রাব্বাতুহু" বর্ণনা করেছেন তাদের মতে এর অর্থ হলো তার সহচরী। আর যারা "যানিয়্যাহ" বর্ণনা করেছেন তারা তাকে ব্যভিচারের দিকে সম্পর্কিত করেছেন। (তাঁর উক্তি): "লি-হাইনিহা" অর্থাৎ তার ধ্বংসের নিমিত্তে। যারা একে খা বর্ণের নিচে কাসরা (যের) দিয়ে "লি-খিব্বিহা" বর্ণনা করেছেন তার অর্থ হলো তার পিতার সাথে তার চাতুর্য বা প্রতারণা। আর "খিব্ব" অর্থ...
(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৮)
الخديعة والمكر، وغبقته سقته بالعشي، والغبوق شرب العشي، والصبوح شرب أول النهار، والصهباء من أسماء الخمر، ووهل أي ضعف، ويهيم يتحير، وجشر الصبح أي أضاء وتبين، وسبائبها طرائقها، ومشاجبها جمع مشجب وهو عود تعلق عليه الثياب ورواية الخشني مساحبها، وقال هي القلآئد في العنق من قرنفل أو غيره، (قوله) : وهو ينافر الفرافصة معناه يحاكمه في المفاخرة، يقال تنافر الرجلان إذا تحاكما في الفخر، وقال بعضهم المنافرة المحاكمة على الإطلاق، وقال بعض اللغويين: الفرافصة بضم الفاء حيث ما وقع في كلام العرب إلا الفرافصة والد نائلة زوج عثمان بن عفان رضي الله عنه فإنه بالفاء مفتوحة، (وقول) جرير بن عبد الله في بيت له: إنك إن يصرع أخاك تصرع، هكذا وقعت الرواية في هذا الكتاب وهذا يخرج على لغة بني الحارث بن كعب فإنهم يجعلونه بالألف في الأحوال الثلاثة، (وقوله) : يجر قصبه في النار، القصب الأمعاء، والبحيرة والسائبة والوصلية والحامي قد فسرها ابن هشام بعد هذا، (وقوله) : حتى سلخ ذلك بهم، أي خرج ذلك بهم، يقال انسلخت من كذا أي خرجت منه،

প্রতারণা ও চাতুর্য; 'গাবাকতুহু' অর্থ হলো আমি তাকে সন্ধ্যার সময় পান করালাম। 'গাবুক' হলো সন্ধ্যার পানীয় এবং 'সাবুহ' হলো দিনের শুরুর ভাগের পানীয়। 'সাহবা' হলো মদের অন্যতম একটি নাম। 'ওয়াহিলা' অর্থ হলো দুর্বল হওয়া। 'ইয়াহিমু' অর্থ সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় বা দিশেহারা হয়। 'জাশারাস সুবহা' অর্থ ভোর আলোকিত ও স্পষ্ট হলো। 'সাবায়িবুহা' অর্থ তার পথসমূহ। 'মাশাজিবুহা' হলো 'মাশজাব'-এর বহুবচন, আর তা হলো একটি কাষ্ঠখণ্ড যাতে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা হয়। খুশানি-এর বর্ণনায় 'মাসাহিবুহা' এসেছে; তিনি বলেছেন, এগুলো হলো লবঙ্গ বা অন্য কিছু দ্বারা নির্মিত গলার হার। (তার উক্তি): 'সে ফারাফিসার সাথে মুনাফারা করছে' এর অর্থ হলো সে তার সাথে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে বিচার প্রার্থনা করছে। বলা হয়, দুই ব্যক্তি 'তানাফারা' করেছে যখন তারা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য বিচারপ্রার্থী হয়। কেউ কেউ বলেছেন, 'মুনাহাফারাহ' বলতে সাধারণভাবে বিচার প্রার্থনা করাকে বোঝায়। কিছু ভাষাবিদ বলেছেন, আরবদের কথায় যেখানেই 'ফারাফিসাহ' শব্দটি এসেছে তা 'ফা' বর্ণে পেশ (যম্মা) সহযোগে হবে, কেবল উসমান ইবন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী নায়িলার পিতা 'ফারাফাসাহ'-এর ক্ষেত্রে 'ফা' বর্ণে যবর (ফাতহা) হবে। জারির ইবন আবদুল্লাহর একটি কাব্য পঙ্ক্তিতে এসেছে: 'নিশ্চয়ই তোমার ভাই যদি আছাড় খায় তবে তুমিও আছাড় খাবে'। এই কিতাবে বর্ণনাটি এভাবেই এসেছে। আর এটি বনু হারিস ইবন কাব-এর উপভাষা অনুযায়ী প্রকাশ পেয়েছে, কারণ তারা (ইরাবের) তিন অবস্থাতেই আলিফ ব্যবহার করে। (তার উক্তি): 'সে আগুনের মধ্যে তার নাড়িভুঁড়ি টেনে নিয়ে বেড়াবে', এখানে 'কুসব' অর্থ হলো নাড়িভুঁড়ি। আর 'বাহিরাহ', 'সাইবাহ', 'ওয়াসিলাহ' এবং 'হামি'—এগুলোর ব্যাখ্যা ইবন হিশাম এর পরেই প্রদান করেছেন। (তার উক্তি): 'এমনকি তা তাদের নিয়ে বের হয়ে গেল', অর্থাৎ তা তাদের নিয়ে বের হলো। বলা হয়, 'ইনসালাখতু মিন কাযা' অর্থাৎ আমি তা থেকে বের হয়ে গেলাম।

(খণ্ড: ১) আল-ইমলাউল মুখতাসার ফী শারহি গারীবিল সিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৯)
وانسلخ الشهر أي خرج، ومنه قولهم في التاريخ منسلخ شهر كذا وكذا، (وقول) كعب بن مالك: ونسلبها القلائد والشنوفا، الشنوف جمع شنف وهو القرط الذي يجعل في الأذن، و (قوله) : وأهل جرش من مذحج، كذا وقع هنا، وقال أبو علي الغساني صوابه من حمير، (وقول) مالك بن نمط: يريش الله في الدنيا ويبري، يريد أن الله تعالى ينفع، وهذا الصنم لا ينفع، تقول العرب فلان يريش ويبري، إذا كان عنده نفع، وأصله أن يبري السهم ويصنعه، ثم يجعل له ريشاً حتى ينتفع به فضربوا ذلك مثلاً لمن عنده خير ونفع، (وقوله) : بإبل مؤبلة، المؤبلة الإبل الكثيرة المتخذة للاكتساب لا للركوب، (وقول) رجل من بني ملكان في شعره، بتنوفة من الأرض، التنوفة القفر التي لا تنبت شيئاً، (وقوله) : لها سدنة، قدعا في عينها، القدع ضعف في البصر، يقال قدعت عينه تقدع قدعاً إذا ضعف نظرها، (وقول) رؤبة: فلا ورب الآمنات القطن، يعني حمام مكة، والقطن المقيمات، يقال قطن بالمكان إذا
এবং মাস শেষ হওয়া অর্থাৎ বের হয়ে যাওয়া; আর এ থেকেই ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের উক্তি— অমুক মাসের শেষে— এর উদ্ভব হয়েছে। (এবং উক্তি) কাব ইবনে মালিকের: "এবং আমরা তাদের থেকে কণ্ঠহার ও কানের দুল ছিনিয়ে নিই।" 'শুনুফ' হলো 'শিনফ'-এর বহুবচন, আর তা হলো সেই দুল যা কানে লাগানো হয়। এবং (তার উক্তি): "এবং মাজহিজ গোত্রের জুরাশবাসী", এখানে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আবু আলী আল-গাসসানি বলেছেন, এর সঠিক রূপ হবে হিমইয়ার গোত্র থেকে। (এবং উক্তি) মালিক ইবনে নামাতের: "আল্লাহ দুনিয়াতে সমৃদ্ধ করেন এবং সংশোধন করেন।" তিনি বুঝিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা উপকার করেন, আর এই প্রতিমা কোনো উপকার করে না। আরবরা বলে, "অমুক ব্যক্তি পালক লাগায় এবং চাঁছে" (অর্থাৎ সমৃদ্ধ ও সংশোধন করে), যখন তার কাছে উপকারের কিছু থাকে। এর মূল হলো তীর চাঁছা এবং তা তৈরি করা, অতঃপর তাতে পালক লাগানো যাতে তা দ্বারা উপকার লাভ করা যায়; ফলে তারা একে এমন ব্যক্তির জন্য উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছে যার কাছে কল্যাণ ও উপকার বিদ্যমান। (এবং তার উক্তি): "প্রচুর সংখ্যক পালিত উট দ্বারা।" 'মুআববালাহ' হলো সেই অধিক সংখ্যক উট যা উপার্জনের উদ্দেশ্যে রাখা হয়, আরোহণের জন্য নয়। (এবং উক্তি) বানু মালকান গোত্রের এক ব্যক্তির তার কবিতায়: "যমীনের এক জনশূন্য প্রান্তরে।" 'তানুফাহ' হলো এমন মরুভূমি যা বৃক্ষলতাহীন এবং যেখানে কিছুই জন্মে না। (এবং তার উক্তি): "তার খাদেম রয়েছে, যার চোখে দৃষ্টির দুর্বলতা রয়েছে।" 'ক্বাদা' হলো দৃষ্টির দুর্বলতা; বলা হয়— 'তার চোখ দুর্বল হয়ে পড়েছে' যখন তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যায়। (এবং উক্তি) রু'বাহ-র: "না, নিরাপদ বসবাসকারীদের রবের কসম।" অর্থাৎ মক্কার কবুতরসমূহ; আর 'কুতুন' অর্থ হলো স্থায়ী বসবাসকারীরা। বলা হয়— 'সে স্থানে অবস্থান করেছে' যখন...