(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: -)
الإكليل في المتشابه والتأويل القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: الإكليل في المتشابه والتأويل
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
خرج أحاديثه وعلق عليه: محمد الشيمي شحاته
الناشر: دار الإيمان للطبع والنشر والتوزيع، الإسكندرية - مصر
عدد الصفحات: 52
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইকলিল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত-তাবিল বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর
কিতাব: আল-ইকলিল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত-তাবিল
লেখক: তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আল-হানবালি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)
হাদিস সমূহের তাখরিজ (تخريج) ও টীকা প্রদান করেছেন: মুহাম্মাদ আল-শিমি শাহাতা
প্রকাশক: দারুল ঈমান মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, আলেকজান্দ্রিয়া - মিশর
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
আল-শামেলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: -)
الإكليل في المتشابه والتأويل
شيخ الإسلام ابن تيمية
আল-ইকলিল ফিল মুতাশাবিহ ওয়াত তাবিলশায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقال شيخ الإسلام أبو العباس أحمد بن تيمية الحراني الدمشقي الحمد لله رب العالمين وصلى الله على سيدنا محمد وآله وسلم فصل قوله تعالى {وما أرسلنا من قبلك من رسول ولا نبي إلا إذا تمنى ألقى الشيطان في أمنيته} إلى قوله: {ليجعل ما يلقي الشيطان فتنة للذين في قلوبهم مرض والقاسية قلوبهم وإن الظالمين لفي شقاق بعيد} {وليعلم الذين أوتوا العلم أنه الحق من ربك فيؤمنوا به فتخبت له قلوبهم وإن الله لهادي الذين آمنوا إلى صراط مستقيم} .
جعل الله القلوب ثلاثة أقسام: قاسية وذات مرض ومؤمنة مخبتة؛ وذلك لأنها إما أن تكون يابسة جامدة لا تلين للحق اعترافا وإذعانا أو لا تكون يابسة جامدة.
ف " الأول " هو القاسي وهو الجامد اليابس بمنزلة الحجر لا ينطبع ولا يكتب فيه الإيمان ولا يرتسم فيه العلم؛ لأن ذلك يستدعي محلا لينا قابلا.
শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আদ-দিমাশকী বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {আপনার পূর্বে আমি যে রাসুল বা নবি পাঠিয়েছি, তারা যখনই কোনো আকাঙ্ক্ষা করেছে, শয়তান তাদের সেই আকাঙ্ক্ষায় (কিছু) নিক্ষেপ করেছে} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {যাতে শয়তান যা নিক্ষেপ করে তিনি তাকে তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেন যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যাদের অন্তর কঠোর; আর নিশ্চয়ই জালিমরা ঘোরতর বিরোধে লিপ্ত।} {আর যাতে যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তারা জানতে পারে যে, এটি আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্য, ফলে তারা তাতে ঈমান আনে এবং তাদের অন্তর তাঁর প্রতি অনুগত হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন।}
আল্লাহ তাআলা অন্তরকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: কঠোর, ব্যাধিযুক্ত এবং অনুগত মুমিন; আর তা এ কারণে যে, অন্তর হয় শুষ্ক ও নিরেট হবে যা সত্যের স্বীকৃতি ও আনুগত্যের জন্য কোমল হয় না, অথবা তা শুষ্ক ও নিরেট হবে না।
প্রথম প্রকারটি হলো "কঠোর", যা পাথরের মতো নিরেট ও শুষ্ক; এতে ঈমান অঙ্কিত হয় না এবং এতে ঈমান লিখিত হয় না, আর এতে জ্ঞান চিত্রিত হয় না; কারণ এর জন্য একটি কোমল ও গ্রহণক্ষম আধার বা স্থানের প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৭)
و " الثاني " لا يخلو إما أن يكون الحق ثابتا فيه لا يزول عنه لقوته مع لينه أو يكون لينه مع ضعف وانحلال. فالثاني هو الذي فيه مرض والأول هو القوي اللين. وذلك أن القلب بمنزلة أعضاء الجسد كاليد مثلا فإما أن تكون جامدة يابسة لا تلتوي ولا تبطش أو تبطش بعنف فذلك مثل القلب القاسي أو تكون ضعيفة مريضة عاجزة لضعفها ومرضها فذلك مثل الذي فيه مرض أو تكون باطشة بقوة ولين فهو مثل القلب العليم الرحيم فبالرحمة خرج عن القسوة وبالعلم خرج عن المرض؛ فإن المرض من الشكوك والشبهات. ولهذا وصف من عدا هؤلاء بالعلم والإيمان والإخبات. وفي قوله: {وليعلم الذين أوتوا العلم أنه الحق من ربك فيؤمنوا به فتخبت له قلوبهم} دليل على أن العلم يدل على الإيمان ليس أن أهل العلم ارتفعوا عن درجة الإيمان - كما يتوهمه طائفة من المتكلمة - بل معهم العلم والإيمان كما قال تعالى: {لكن الراسخون في العلم منهم والمؤمنون يؤمنون بما أنزل إليك وما أنزل من قبلك} وقال تعالى: {وقال الذين أوتوا العلم والإيمان لقد لبثتم في كتاب الله} الآية. وعلى هذا فقوله: {والراسخون في العلم يقولون آمنا به كل من عند ربنا} نظير هذه الآية فإنه أخبر هنا أن الذين أوتوا العلم يعلمون أنه الحق من ربهم وأخبر هناك أنهم يقولون في المتشابه: {آمنا به كل من عند ربنا}
এবং "দ্বিতীয়" বিষয়টি এমন অবস্থা থেকে মুক্ত নয় যে, তার কোমলতা (لين) থাকা সত্ত্বেও শক্তির কারণে সত্য তাতে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং তা থেকে বিচ্যুত হবে না; অথবা দুর্বলতা (ضعف) ও শিথিলতার কারণে তার মাঝে কোমলতা (لين) থাকবে। সুতরাং দ্বিতীয়টি হলো সেটি যার মাঝে ব্যাধি রয়েছে, আর প্রথমটি হলো শক্তিশালী ও কোমল। আর তা এই কারণে যে, অন্তর হলো শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ন্যায়, যেমন উদাহরণস্বরূপ হাত; তা হয় স্থবির ও শুষ্ক হবে যা বাঁকানো যায় না এবং কোনো কিছু শক্তভাবে ধরতে পারে না অথবা রুক্ষভাবে ধরে, আর সেটি হলো কঠোর হৃদয়ের ন্যায়। অথবা তা তার দুর্বলতা (ضعف) ও অসুস্থতার কারণে দুর্বল (ضعيف), অসুস্থ এবং অক্ষম হবে; এটি হলো সেই ব্যক্তির ন্যায় যার হৃদয়ে ব্যাধি রয়েছে। অথবা তা শক্তি ও কোমলতার (لين) সাথে কোনো কিছু পাকড়াও করবে, যা জ্ঞানী ও দয়ালু হৃদয়ের ন্যায়। সুতরাং করুণার দ্বারা তা কঠোরতা থেকে মুক্ত হলো এবং জ্ঞানের দ্বারা ব্যাধি থেকে মুক্ত হলো; কেননা ব্যাধি সৃষ্টি হয় সংশয় (شكوك) ও অস্পষ্টতা (شبهات) থেকে। এই কারণেই এদের ব্যতীত অন্যদের জ্ঞান, ঈমান এবং বিনয় ও একাগ্রতা দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে। আর মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তারা জানতে পারে যে, এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য, ফলে তারা তাতে ঈমান আনে এবং তাদের অন্তর এর প্রতি বিনত হয়} - এটি এই বিষয়ের দলিল যে, জ্ঞান ঈমানের দিকে পরিচালিত করে; বিষয়টি এমন নয় যে জ্ঞানীরা ঈমানের স্তর থেকে ঊর্ধ্বে উঠে গেছেন—যেমনটি একদল কালাম শাস্ত্রবিদ (متكلمة) ধারণা করেন—বরং তাদের সাথে জ্ঞান ও ঈমান উভয়ই বিদ্যমান। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {কিন্তু তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানে সুগভীর (راسخون) এবং যারা মুমিন, তারা তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান আনে} এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যাদের জ্ঞান ও ঈমান প্রদান করা হয়েছে তারা বলবে, অবশ্যই তোমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী অবস্থান করেছ...} (আয়াত)। এর ভিত্তিতে মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর যারা জ্ঞানে সুগভীর (راسخون), তারা বলে: আমরা এতে ঈমান এনেছি, এ সমস্তই আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে} - এই আয়াতটি পূর্বোক্ত আয়াতের সদৃশ। কেননা তিনি এখানে সংবাদ দিয়েছেন যে, যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা জানে যে এটি তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য, আর সেখানে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) বিষয় সম্পর্কে বলে: {আমরা এতে ঈমান এনেছি, এ সমস্তই আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে}।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৮)
وكلا الموضعين موضع ريب وشبهة لغيرهم؛ فإن الكلام هناك في المتشابه وهنا فيما يلقي الشيطان مما ينسخه الله ثم يحكم الله آياته وجعل المحكم هنا ضد الذي نسخه الله مما ألقاه الشيطان؛
আর উভয় ক্ষেত্রই অন্যদের নিকট সন্দেহ ও সংশয়ের অবকাশ রাখে; কেননা সেখানে আলোচনা অস্পষ্ট (المتشابه) বিষয় সম্পর্কে এবং এখানে আলোচনা শয়তানের প্রক্ষিপ্ত বিষয় সম্পর্কে, যা আল্লাহ রহিত (ينسخه) করে দেন এবং এরপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত (يحكم) করেন। আর তিনি এখানে সুপ্রতিষ্ঠিত (المحكم)-কে শয়তানের প্রক্ষিপ্ত এবং আল্লাহর রহিতকৃত বিষয়ের বিপরীত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন;
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৯)
ولهذا قال طائفة من المفسرين المتقدمين: إن " المحكم " هو الناسخ و " المتشابه " المنسوخ. أرادوا والله أعلم قوله: {فينسخ الله ما يلقي الشيطان ثم يحكم الله آياته} . والنسخ هنا رفع ما ألقاه الشيطان لا رفع ما شرعه الله.
وقد أشرت إلى وجه ذلك فيما بعد وهو: أن الله جعل المحكم مقابل المتشابه تارة ومقابل المنسوخ أخرى. والمنسوخ يدخل فيه في اصطلاح السلف - العام - كل ظاهر ترك ظاهره لمعارض راجح كتخصيص العام وتقييد المطلق
আর এই কারণেই পূর্ববর্তী মুফাসসিরগণের একটি দল বলেছেন: নিশ্চয়ই "সুস্পষ্ট (المحكم)" হলো "রহিতকারী (الناسخ)" এবং "অস্পষ্ট (المتشابه)" হলো "রহিত (المنسوخ)"। তারা এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য নিয়েছেন—আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ—আল্লাহর এই বাণী: {অতঃপর শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে আল্লাহ তা বাতিল করে দেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন}। আর এখানে "রহিতকরণ (النسخ)" বলতে শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করেছে তা দূর করা বোঝানো হয়েছে, আল্লাহ যা শরয়ি বিধান হিসেবে দিয়েছেন তা রহিত করা নয়।
আমি পরবর্তীতে এর কারণ নির্দেশ করেছি যে: আল্লাহ তাআলা কখনো "সুস্পষ্টকে (المحكم)" "অস্পষ্টের (المتشابه)" বিপরীতে উল্লেখ করেছেন, আবার কখনো "রহিতের (المنسوخ)" বিপরীতে। আর পূর্বসূরীগণের (السلف) পরিভাষায় (اصطلاح) —সাধারণভাবে— "রহিত (المنسوخ)" বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলো এমন প্রতিটি বাহ্যিক অর্থ যা কোনো শক্তিশালী বিরোধী প্রমাণের কারণে বর্জন করা হয়েছে; যেমন "সাধারণের বিশেষীকরণ (تخصيص العام)" এবং "অনির্ধারিতকে নির্ধারিত করা (تقييد المطلق)"।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১০)
فإن هذا متشابه لأنه يحتمل معنيين ويدخل فيه المجمل فإنه متشابه وإحكامه رفع ما يتوهم فيه من المعنى الذي ليس بمراد وكذلك ما رفع حكمه فإن في ذلك جميعه نسخا لما يلقيه الشيطان في معاني القرآن؛ ولهذا كانوا يقولون: هل عرفت الناسخ من المنسوخ؟ فإذا عرف الناسخ عرف المحكم. وعلى هذا فيصح أن يقال: المحكم والمنسوخ كما يقال المحكم والمتشابه. وقوله بعد ذلك {ثم يحكم الله آياته} جعل جميع الآيات محكمة محكمها ومتشابهها كما قال: {الر} {كتاب أحكمت آياته ثم فصلت}
নিশ্চয়ই এটি অস্পষ্ট (متشابه); কারণ এটি দুটি অর্থের সম্ভাবনা রাখে এবং এর মধ্যে সংক্ষিপ্ত বা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ (المجمل) বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হয়, ফলে সেটিও অস্পষ্ট (متشابه) হিসেবে গণ্য। আর একে সুস্পষ্টকরণ (إحكام) হলো সেই কাল্পনিক অর্থ দূরীভূত করা যা প্রকৃতপক্ষে উদ্দেশ্য নয়। অনুরূপভাবে যার বিধান রহিত করা হয়েছে তার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; কারণ এ সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে সেই বিষয়ের রহিতকরণ (نسخ) যা শয়তান কুরআনের অর্থের মধ্যে প্রক্ষেপ করে। এই কারণেই তাঁরা বলতেন: "তুমি কি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে অবগত হয়েছ?" সুতরাং যখন রহিতকারী (الناسخ) জানা যায়, তখন সুস্পষ্ট (المحكم) বিষয়টিও পরিজ্ঞাত হয়। এই ভিত্তিতেই বলা সঠিক যে: সুস্পষ্ট (المحكم) ও রহিত (المنسوخ), ঠিক যেমনটি বলা হয় সুস্পষ্ট (المحكم) ও অস্পষ্ট (متشابه)। এরপর আল্লাহর বাণী—{অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুস্পষ্ট (يحكم) করেন}—এর মাধ্যমে তিনি সকল আয়াতকেই সুনির্ধারিত (محكمة) সাব্যস্ত করেছেন, চাই তা সুস্পষ্ট (محكم) হোক কিংবা অস্পষ্ট (متشابه); যেমনটি তিনি ইরশাদ করেছেন: {আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুনির্ধারিত (أحكمت) করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে}।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقال: {تلك آيات الكتاب الحكيم} على أحد القولين. وهنالك جعل الآيات قسمين: محكما ومتشابها كما قال: {منه آيات محكمات هن أم الكتاب وأخر متشابهات} . وهذه المتشابهات مما أنزله الرحمن لا مما ألقاه الشيطان ونسخه الله.
فصار المحكم في القرآن تارة يقابل بالمتشابه والجميع من آيات الله وتارة يقابل بما نسخه الله مما ألقاه الشيطان. ومن الناس من يجعله مقابلا لما نسخه الله مطلقا حتى يقول: هذه الآية محكمة ليست منسوخة ويجعل المنسوخ ليس محكما وإن كان الله أنزله أولا اتباعا لظاهر قوله: {فينسخ الله} و {يحكم الله آياته} . فهذه ثلاث معان تقابل المحكم ينبغي التفطن لها. وجماع ذلك أن " الإحكام " تارة يكون في التنزيل فيكون في مقابلته ما يلقيه الشيطان فالمحكم المنزل من عند الله أحكمه الله أي فصله من الاشتباه بغيره وفصل منه ما ليس منه؛ فإن الإحكام هو الفصل والتمييز والفرق والتحديد الذي به يتحقق الشيء ويحصل إتقانه؛ ولهذا دخل فيه معنى المنع كما دخل في الحد فالمنع جزء معناه لا جميع معناه. وتارة يكون " الإحكام " في إبقاء التنزيل عند من قابله بالنسخ الذي هو رفع ما شرع وهو اصطلاحي أو يقال - وهو أشبه بقول السلف - كانوا يسمون كل رفع نسخا سواء كان رفع حكم أو رفع دلالة ظاهرة.
وإلقاء الشيطان في أمنيته قد يكون في نفس لفظ المبلغ وقد يكون في سمع المبلغ وقد يكون
এবং তিনি বলেছেন: {এগুলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত} দুই মতের একটি অনুযায়ী। সেখানে তিনি আয়াতসমূহকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: সুষ্পষ্ট ও সুদৃঢ় (محكما) এবং রূপক বা অস্পষ্ট (متشابها), যেমনটি তিনি বলেছেন: {তাঁর পক্ষ থেকে এমন কিছু আয়াত রয়েছে যা সুষ্পষ্ট ও সুদৃঢ় (محكمات), সেগুলো কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো রূপক বা অস্পষ্ট (متشابهات)}। আর এই রূপক (المتشابهات) বিষয়গুলো পরম করুণাময় আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা থেকে এসেছে, শয়তান যা প্রক্ষেপ করেছে এবং আল্লাহ যা রহিত (نسخه) করেছেন তা থেকে নয়।
ফলে কুরআনে সুষ্পষ্ট ও সুদৃঢ় (المحكم) বিষয়টি কখনও রূপক বা অস্পষ্ট (بالمتشابه) এর বিপরীতে আসে এবং এ সবই আল্লাহর আয়াতের অন্তর্ভুক্ত; আবার কখনও তা শয়তান যা প্রক্ষেপ করে এবং আল্লাহ যা রহিত (نسخه) করেন তার বিপরীতে আসে। মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা একে নিরঙ্কুশভাবে আল্লাহ যা রহিত (نسخه) করেছেন তার বিপরীতে গণ্য করেন, এমনকি তারা বলেন: এই আয়াতটি সুদৃঢ় ও বহাল (محكمة), এটি রহিত (منسوخة) নয়। তারা রহিত (المنسوخ) বিষয়কে সুদৃঢ় (محكما) হিসেবে গণ্য করেন না, যদিও আল্লাহ তা প্রথমে নাযিল করেছিলেন। তারা আল্লাহর বাণীর বাহ্যিক অর্থের অনুসরণ করে এটি বলেন: {অতঃপর আল্লাহ শয়তানের প্রক্ষিপ্ত বিষয় রহিত (فينسخ) করেন} এবং {আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুদৃঢ় (يحكم) করেন}। সুতরাং সুদৃঢ় ও বহাল (المحكم) শব্দের বিপরীতে এই তিনটি অর্থ রয়েছে যা লক্ষ্য রাখা উচিত। এর সারকথা হলো, 'সুদৃঢ়করণ (الإحكام)' কখনও ওহী নাযিলের ক্ষেত্রে হয়, যা শয়তান যা প্রক্ষেপ করে তার বিপরীতে থাকে। সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সুদৃঢ় (المحكم) বাণীকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, অর্থাৎ একে অন্য কিছুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া থেকে পৃথক করেছেন এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় তা থেকে একে আলাদা করেছেন। কেননা 'সুদৃঢ়করণ (الإحكام)' হলো পৃথকীকরণ, পার্থক্য নিরূপণ, প্রভেদ সৃষ্টি এবং সীমানা নির্ধারণ, যার মাধ্যমে কোনো বিষয় সুনিশ্চিত হয় এবং তার পূর্ণতা অর্জিত হয়। এজন্য এর মধ্যে 'প্রতিবন্ধকতা'র অর্থ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যেমনটি 'সীমানা নির্ধারণের' (الحد) ক্ষেত্রে হয়। ফলে বাধা প্রদান করা এর অর্থের একটি অংশ, পূর্ণ অর্থ নয়। আবার কখনও 'সুদৃঢ়করণ (الإحكام)' বলতে ওহীকে বহাল রাখাকে বোঝায় তাদের নিকট যারা একে রহিতকরণের (بالنسخ) বিপরীতে ব্যবহার করেন। আর রহিতকরণ (النسخ) হলো শরীয়তের বিধান তুলে নেওয়া, যা একটি পারিভাষিক অর্থ। অথবা বলা যায়—যা সালাফদের বক্তব্যের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ—তারা যেকোনো কিছু তুলে নেওয়াকেই রহিতকরণ (نسخا) বলতেন, চাই তা কোনো বিধান (حكم) তুলে নেওয়া হোক অথবা কোনো বাহ্যিক নির্দেশক অর্থ (دلالة ظاهرة) তুলে নেওয়া হোক।
আর নবী-রাসূলদের পাঠকালে শয়তানের প্রক্ষেপণ কখনও প্রচারকারীর নিজ উচ্চারণের মধ্যে হতে পারে, কখনও শ্রবণকারীর শোনার মধ্যে হতে পারে, আবার কখনও
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১২)
في فهمه كما قال: {أنزل من السماء ماء فسالت أودية بقدرها} الآية.
ومعلوم أن من سمع النص الذي قد رفع حكمه أو دلالة له فإنه يلقي الشيطان في تلك التلاوة اتباع ذلك المنسوخ فيحكم الله آياته بالناسخ الذي به يحصل رفع الحكم وبيان المراد. وعلى هذا التقدير فيصح أن يقال: المتشابه المنسوخ بهذا الاعتبار والله أعلم.
وتارة يكون " الإحكام " في التأويل والمعنى وهو تمييز الحقيقة المقصودة من غيرها حتى لا تشتبه بغيرها. وفي مقابلة المحكمات الآيات المتشابهات التي تشبه هذا وتشبه هذا فتكون محتملة للمعنيين. قال أحمد بن حنبل " المحكم " الذي ليس فيه اختلاف والمتشابه الذي يكون في موضع كذا وفي موضع كذا. ولم يقل في المتشابه لا يعلم تفسيره ومعناه إلا الله وإنما قال: {وما يعلم تأويله إلا الله} وهذا هو فصل الخطاب بين المتنازعين في هذا الموضع فإن الله أخبر أنه لا يعلم تأويله إلا هو.
والوقف هنا على ما دل عليه أدلة كثيرة وعليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وجمهور التابعين وجماهير الأمة. ولكن لم ينف علمهم بمعناه وتفسيره بل قال: {كتاب أنزلناه إليك مبارك ليدبروا آياته} وهذا يعم الآيات المحكمات والآيات المتشابهات وما لا يعقل له معنى لا يتدبر: وقال: {أفلا يتدبرون القرآن} ولم يستثن شيئا منه نهى عن تدبره.
তাঁর বোধগম্যতা অনুযায়ী, যেমনটি তিনি বলেছেন: {তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, ফলে উপত্যকাসমূহ তাদের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী প্লাবিত হয়}—আয়াতটি।
এটা সুবিদিত যে, যে ব্যক্তি এমন কোনো পাঠ (نص) শ্রবণ করে যার বিধান (حكم) বা অর্থের নির্দেশনা রহিত করা হয়েছে, তখন শয়তান সেই তিলাওয়াতের মধ্যে ঐ রহিত (منسوخ) বিষয়ের অনুসরণের কুমন্ত্রণা দেয়। অতঃপর আল্লাহ রহিতকারী (ناسخ) আয়াতের মাধ্যমে তাঁর আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন, যার দ্বারা বিধান রহিত হওয়া এবং প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হওয়া সাধিত হয়। আর এই বিবেচনা অনুযায়ী এটি বলা সঠিক যে: এই দৃষ্টিকোণ থেকে রহিত (منسوخ) আয়াতই হলো অস্পষ্ট (متشابه), আল্লাহই ভালো জানেন।
আবার কখনও কখনও 'সুস্পষ্টতা' (إحكام) ব্যাখ্যা (تأويل) ও অর্থের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, আর তা হলো উদ্দিষ্ট হাকিকত বা প্রকৃত অর্থকে অন্য বিষয় থেকে পৃথক করা, যাতে তা অন্য বিষয়ের সাথে সংশয়যুক্ত না হয়। আর সুস্পষ্ট (محكمات) আয়াতসমূহের বিপরীতে রয়েছে অস্পষ্ট (متشابهات) আয়াতসমূহ, যা এর সাথেও সাদৃশ্য রাখে আবার ওর সাথেও সাদৃশ্য রাখে, ফলে তা উভয় অর্থের সম্ভাবনা রাখে। আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন, 'সুস্পষ্ট' (محكم) হলো তা যাতে কোনো মতভেদ নেই, আর 'অস্পষ্ট' (متشابه) হলো যা এই স্থানেও থাকে আবার ওই স্থানেও থাকে। তিনি অস্পষ্ট (متشابه) আয়াতের ক্ষেত্রে এটি বলেননি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ এর ব্যাখ্যা (تفسير) ও অর্থ জানে না; বরং তিনি বলেছেন: {আর আল্লাহ ছাড়া কেউ এর প্রকৃত ব্যাখ্যা (تأويل) জানে না}। আর এই বিষয়টিই এই ক্ষেত্রে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত ফয়সালা, কারণ আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত আর কেউ এর প্রকৃত ব্যাখ্যা জানে না।
এখানে বিরতি দেওয়া অসংখ্য দলিলের দাবি এবং এটিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, অধিকাংশ অনুসারী (تابعين) এবং উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের অভিমত। তবে এটি তাদের অর্থ ও ব্যাখ্যা (تفسير) জানার বিষয়টিকে নাকচ করে না; বরং আল্লাহ বলেছেন: {এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণা করে}। আর এটি সুস্পষ্ট (محكمات) এবং অস্পষ্ট (متشابهات) উভয় প্রকার আয়াতকেই শামিল করে। আর যার অর্থ অনুধাবন করা যায় না, তা নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না?}। তিনি কুরআনের কোনো অংশকেই গবেষণা করা থেকে নিষেধ করে তা ত্যাজ্য করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والله ورسوله إنما ذم من اتبع المتشابه ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله فأما من تدبر المحكم والمتشابه كما أمره الله وطلب فهمه ومعرفة معناه فلم يذمه الله بل أمر بذلك ومدح عليه. يبين ذلك أن التأويل قد روى أن من اليهود الذين كانوا بالمدينة على عهد النبي صلى الله عليه وسلم كحيي بن أخطب وغيره من طلب من حروف الهجاء التي في أوائل السور تأويل بقاء هذه الأمة
আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল কেবল তাদেরই নিন্দা করেছেন যারা ফিতনা সৃষ্টি এবং মনগড়া ব্যাখ্যার (تأويل) উদ্দেশ্যে অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়গুলোর অনুসরণ করে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী সুস্পষ্ট (محكم) এবং অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করে এবং তার মর্ম উপলব্ধি ও অর্থ অনুধাবনের চেষ্টা করে, আল্লাহ তার নিন্দা করেননি; বরং তিনি এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর জন্য প্রশংসাও করেছেন। বিষয়টি এভাবে স্পষ্ট হয় যে, ব্যাখ্যার (تأويل) ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে (روي) যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে মদিনায় বসবাসকারী ইহুদিদের মধ্য হতে হুয়াই বিন আখতাব ও অন্যরা সুরার শুরুতে ব্যবহৃত বিচ্ছিন্ন বর্ণমালা (حروف الهجاء) থেকে এই উম্মতের স্থায়িত্বের মেয়াদের ব্যাখ্যার (تأويل) অনুসন্ধান করেছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
كما سلك ذلك طائفة من المتأخرين موافقة للصابئة المنجمين وزعموا أنه ستمائة وثلاثة وتسعون عاما لأن ذلك هو عدد ما للحروف في حساب الجمل بعد إسقاط المكرر وهذا من نوع تأويل الحوادث التي أخبر بها القرآن في اليوم الآخر. وروي أن من النصارى الذين وفدوا على النبي صلى الله عليه وسلم في وفد نجران من تأول (إنا و (نحن على أن الآلهة ثلاثة لأن هذا ضمير جمع. وهذا تأويل في الإيمان بالله فأولئك تأولوا في اليوم الآخر وهؤلاء تأولوا في الله. ومعلوم أن: (إنا و (نحن من المتشابه فإنه يراد بها الواحد الذي معه غيره من جنسه ويراد بها الواحد الذي معه أعوانه وإن لم يكونوا من جنسه ويراد بها الواحد المعظم نفسه الذي يقوم مقام من معه غيره لتنوع أسمائه التي كل اسم منها يقوم مقام مسمى فصار هذا متشابها لأن اللفظ واحد والمعنى متنوع.
و" الأسماء المشتركة في اللفظ " هي من المتشابه وبعض " المتواطئة " أيضا من المتشابه ويسميها أهل التفسير " الوجوه والنظائر " وصنفوا " كتب الوجوه والنظائر " فالوجوه في الأسماء المشتركة والنظائر في الأسماء المتواطئة. وقد ظن بعض أصحابنا المصنفين في ذلك أن الوجوه والنظائر جميعا في الأسماء المشتركة فهي نظائر باعتبار اللفظ ووجوه باعتبار المعنى وليس الأمر على ما قاله بل كلامهم صريح فيما قلناه لمن تأمله.
যেমনটি পরবর্তী প্রজন্মের (متأخرين) একটি দল সাবি জ্যোতিষীদের সাথে একমত হয়ে এই পথ অবলম্বন করেছে এবং দাবি করেছে যে এটি ছয়শত তিরানব্বই বছর; কারণ এটি হলো বর্ণমালার পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়ে হিসাবুল জুমাল (حساب الجمل) পদ্ধতির সংখ্যা। এটি কিয়ামত দিবসের সেই সকল ঘটনাবলির অপব্যাখ্যার (تأويل) অন্তর্ভুক্ত যে সম্পর্কে কুরআন সংবাদ দিয়েছে। বর্ণিত আছে যে, নাজরানের প্রতিনিধিদলে যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসেছিলেন, সেই খ্রিস্টানদের মধ্যে কেউ কেউ 'নিশ্চয়ই আমরা' এবং 'আমরা' শব্দগুলোর এমন অপব্যাখ্যা (تأويل) করেছিল যে উপাস্য তিনজন, যেহেতু এটি বহুবচনবাচক সর্বনাম। এটি হলো আল্লাহর প্রতি ঈমানের বিষয়ে অপব্যাখ্যা (تأويل); সুতরাং তারা কিয়ামত দিবস সম্পর্কে অপব্যাখ্যা (تأويل) করেছিল আর এরা আল্লাহ সম্পর্কে অপব্যাখ্যা (تأويل) করেছে। এটি সুবিদিত যে, 'নিশ্চয়ই আমরা' এবং 'আমরা' শব্দগুলো অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এর দ্বারা কখনো এমন এক সত্তাকে বোঝানো হয় যার সাথে তার সমজাতীয় অন্য কেউ থাকে, আবার কখনো এমন এক সত্তাকে বোঝানো হয় যার সাথে তার সাহায্যকারীরা থাকে যদিও তারা তার সমজাতীয় না হয়। আবার কখনো এর দ্বারা এমন এক মহান সত্তাকে বোঝানো হয় যিনি একাই তার সাথীদের স্থলাভিষিক্ত হন তার নামের বৈচিত্র্যের কারণে, যার প্রতিটি নাম একেকটি নির্দিষ্ট বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত। ফলে এটি অস্পষ্ট (متشابه) হয়ে পড়েছে কারণ শব্দ এক হলেও এর অর্থ বিবিধ।
আর "উচ্চারণে অভিন্ন কিন্তু অর্থে ভিন্ন নামসমূহ" (الأسماء المشتركة) অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। আবার কিছু "সুসংগত শব্দ" (المتواطئة) ও অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের পর্যায়ভুক্ত। তাফসীরবিদগণ একে "আল-উজুহ ওয়া আন-নাজাইর" নামে অভিহিত করেছেন এবং তারা "কিতাবুল উজুহ ওয়া আন-নাজাইর" শিরোনামে গ্রন্থ রচনা করেছেন। এখানে 'উজুহ' হলো বহু অর্থবোধক নামসমূহের (الأسماء المشتركة) ক্ষেত্রে এবং 'নাজাইর' হলো সুসংগত শব্দসমূহের (المتواطئة) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আমাদের কোনো কোনো লেখক বন্ধু এই বিষয়ে ধারণা করেছেন যে, উজুহ এবং নাজাইর উভয়ই বহু অর্থবোধক নামসমূহের (الأسماء المشتركة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শব্দের বিচারে এগুলো নাজাইর এবং অর্থের বিচারে উজুহ। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয় যা তিনি বলেছেন, বরং যারা গভীরভাবে চিন্তা করেন তাদের কাছে আমাদের বক্তব্যই সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والذين في قلوبهم زيغ يدعون المحكم الذي لا اشتباه فيه مثل {وإلهكم إله واحد} {إنني أنا الله لا إله إلا أنا فاعبدني} {ما اتخذ الله من ولد وما كان معه من إله} {ولم يتخذ ولدا ولم يكن له شريك في الملك} {لم يلد ولم يولد} {ولم يكن له كفوا أحد} ويتبعون المتشابه ابتغاء الفتنة ليفتنوا به الناس إذا وضعوه على غير مواضعه وابتغاء تأويله وهو الحقيقة التي أخبر عنها.
وذلك أن " الكلام نوعان ": إنشاء فيه الأمر وإخبار فتأويل الأمر هو نفس الفعل المأمور به كما قال من قال من السلف إن السنة هي تأويل الأمر. {قالت عائشة رضي الله عنها كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في ركوعه وسجوده سبحانك اللهم وبحمدك اللهم اغفر لي يتأول القرآن} تعني قوله: {فسبح بحمد ربك واستغفره إنه كان توابا} .
وأما الإخبار فتأويله عين الأمر المخبر به إذا وقع ليس تأويله فهم معناه. وقد جاء اسم " التأويل " في القرآن في غير موضع وهذا معناه قال الله تعالى:
যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে তারা সেই সুস্পষ্ট (محكم) বিষয়সমূহ বর্জন করে যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই; যেমন: {আর তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র ইলাহ}, {নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো}, {আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই}, {এবং তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই}, {তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি}, {এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই}। তারা ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অস্পষ্ট/রূপক (متشابه) বিষয়গুলোর অনুসরণ করে যাতে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে যখন তারা সেগুলোকে ভুল প্রেক্ষাপটে স্থাপন করে এবং তারা এর বাস্তব রূপ বা পরিণাম (تأويل) অনুসন্ধান করে, অথচ তা হলো সেই বাস্তবতা যার সংবাদ তিনি প্রদান করেছেন।
আর তা এই কারণে যে, "কথা দুই প্রকার": প্রবর্তক বা নির্দেশমূলক (إنشاء) যাতে নির্দেশ থাকে এবং সংবাদমূলক (إخبار)। সুতরাং নির্দেশের বাস্তব রূপ (تأويل) হলো সেই আদিষ্ট কাজটি স্বয়ং সম্পাদন করা, যেমনটি পূর্বসূরিদের (سلف) মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, সুন্নাহ (سنة) হলো নির্দেশের বাস্তব প্রয়োগ (تأويل)। {আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রুকু ও সিজদাতে বলতেন: ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী’—তিনি কুরআনের নির্দেশের বাস্তব রূপ (تأويل) দিচ্ছিলেন}। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর বাণী: {অতএব আপনি আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন, নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী}।
আর সংবাদমূলক (إخبار) বিষয়ের ক্ষেত্রে এর বাস্তব রূপ (تأويل) হলো সেই সংবাদকৃত বিষয়টি যখন বাস্তবে সংঘটিত হয়; এর অর্থ কেবল মর্ম উপলব্ধি করা নয়। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে "বাস্তব রূপ বা পরিণাম" (تأويل) শব্দটি এসেছে এবং এর অর্থ এটাই। আল্লাহ তাআলা বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
{ولقد جئناهم بكتاب فصلناه على علم هدى ورحمة لقوم يؤمنون} {هل ينظرون إلا تأويله يوم يأتي تأويله يقول الذين نسوه من قبل قد جاءت رسل ربنا بالحق} فقد أخبر أنه فصل الكتاب وتفصيله بيانه وتمييزه بحيث لا يشتبه ثم قال: {هل ينظرون} أي ينتظرون {إلا تأويله يوم يأتي تأويله} إلى آخر الآية. وإنما ذلك مجيء ما أخبر القرآن بوقوعه من القيامة وأشراطها: كالدابة ويأجوج ومأجوج وطلوع الشمس من مغربها ومجيء ربك والملك صفا صفا وما في الآخرة من الصحف والموازين والجنة والنار وأنواع النعيم والعذاب وغير ذلك فحينئذ يقولون: {قد جاءت رسل ربنا بالحق فهل لنا من شفعاء فيشفعوا لنا أو نرد فنعمل غير الذي كنا نعمل} وهذا القدر الذي أخبر به القرآن من هذه الأمور لا يعلم وقته وقدره وصفته إلا الله؛ فإن الله يقول: {فلا تعلم نفس ما أخفي لهم من قرة أعين} ويقول: {أعددت لعبادي الصالحين ما لا عين رأت ولا أذن سمعت ولا خطر على قلب بشر} وقال ابن عباس: ليس في الدنيا مما في الجنة
{আর আমি তাদের কাছে এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি যা আমি জ্ঞানের ভিত্তিতে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত।} {তারা কি কেবল এর পরিণতির (تأويل) প্রতীক্ষা করছে? যেদিন এর পরিণতি (تأويل) উপস্থিত হবে, সেদিন যারা ইতিপূর্বে একে বিস্মৃত হয়েছিল তারা বলবে: অবশ্যই আমাদের রবের রাসুলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন।}
আল্লাহ এখানে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি কিতাবটিকে বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন; আর এর বিশদ বর্ণনা (تفصيل) হলো এর ব্যাখ্যা ও সুস্পষ্টকরণ, যাতে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা না থাকে। অতঃপর তিনি বলেছেন: {তারা কি কেবল প্রতীক্ষা করছে} অর্থাৎ তারা কি অপেক্ষা করছে {কেবল এর পরিণতির (تأويل) জন্য, যেদিন এর পরিণতি (تأويل) উপস্থিত হবে} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আর তা হলো কুরআন যে সকল বিষয় ঘটার সংবাদ দিয়েছে—যেমন কিয়ামত ও তার আলামতসমূহ (أشراط)—সেগুলোর বাস্তব সংঘটন: যেমন দাব্বাহ, ইয়াজুজ ও মাজুজ, পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্যোদয়, আপনার রবের আগমন এবং ফেরেশতাগণের সারিবদ্ধভাবে উপস্থিতি; এবং পরকালে আমলনামা (صحف), মিযান (موازين), জান্নাত, জাহান্নাম এবং বিভিন্ন প্রকার নেয়ামত ও আযাব ইত্যাদি। তখন তারা বলবে: {আমাদের রবের রাসুলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। তবে কি আমাদের জন্য কোনো সুপারিশকারী আছে যে তারা আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদের কি পুনরায় দুনিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে যাতে আমরা ইতিপূর্বে যা করতাম তা ছাড়া ভিন্ন আমল করতে পারি?}
কুরআনে এসব বিষয় সম্পর্কে যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সময়, পরিমাণ ও স্বরূপ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: {কেউ জানে না তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কী প্রতিদান লুকিয়ে রাখা হয়েছে।} তিনি আরও বলেন: "আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরেও তা কখনো উদিত হয়নি।" আর ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "জান্নাতে যা আছে তার কোনো কিছুই দুনিয়াতে নেই।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إلا الأسماء؛ فإن الله قد أخبر أن في الجنة خمرا ولبنا وماء وحريرا وذهبا وفضة وغير ذلك ونحن نعلم قطعا أن تلك الحقيقة ليست مماثلة لهذه بل بينهما تباين عظيم مع التشابه كما في قوله: {وأتوا به متشابها} على أحد القولين أنه يشبه ما في الدنيا وليس مثله فأشبه اسم تلك الحقائق أسماء هذه الحقائق كما أشبهت الحقائق الحقائق من بعض الوجوه.
فنحن نعلمها إذا خوطبنا بتلك الأسماء من جهة القدر المشترك بينهما ولكن لتلك الحقائق خاصية لا ندركها في الدنيا ولا سبيل إلى إدراكنا لها لعدم إدراك عينها أو نظيرها من كل وجه. وتلك الحقائق على ما هي عليه هي تأويل ما أخبر الله به. وهذا فيه رد على اليهود والنصارى والصابئين من المتفلسفة وغيرهم فإنهم ينكرون أن يكون في الجنة أكل وشرب ولباس ونكاح ويمنعون وجود ما أخبر به القرآن.
ومن دخل في الإسلام ونافق المؤمنين تأول ذلك على أن هذه أمثال مضروبة لتفهيم النعيم الروحاني إن كان من المتفلسفة الصابئة المنكرة لحشر الأجساد. وإن كان من منافقة الملتين المقرين بحشر الأجساد تأول ذلك على تفهيم النعيم الذي في الجنة من الروحاني والسماع الطيب والروائح العطرة. فكل ضال يحرف الكلم
তবে কেবল নামসমূহ ব্যতিরেকে; কারণ আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, জান্নাতে শরাব, দুধ, পানি, রেশম, স্বর্ণ, রৌপ্য ও আরও অনেক কিছু রয়েছে। আর আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, সেই বাস্তবতা (حقيقة) দুনিয়ার এই বস্তুগুলোর সমরূপ নয়; বরং সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও উভয়ের মাঝে বিরাট পার্থক্য বিদ্যমান। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {তাদেরকে তা সাদৃশ্যপূর্ণ অবস্থায় প্রদান করা হবে} — দুই মতের একটি অনুযায়ী এর অর্থ হলো, তা দুনিয়ার বস্তুর সদৃশ হবে কিন্তু হুবহু তার মতো হবে না। সুতরাং ঐ বাস্তবতাসমূহের নামসমূহ এই বাস্তবতাসমূহের নামের সদৃশ হয়েছে, যেমনটি কিছু দিক থেকে উভয় জগতের বাস্তবতা একে অপরের সদৃশ হয়েছে।
যখন আমাদের সেই নামগুলো দ্বারা সম্বোধন করা হয়, তখন আমরা উভয়ের মধ্যকার সাধারণ বা অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সেগুলো বুঝতে পারি। কিন্তু সেই বাস্তবতাসমূহের এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আমরা দুনিয়াতে অনুধাবন করতে পারি না এবং আমাদের পক্ষে তা অনুধাবনের কোনো উপায়ও নেই; কারণ আমরা সেগুলোর মূল সত্তা বা সর্বদিক থেকে সেগুলোর সদৃশ কোনো কিছু প্রত্যক্ষ করিনি। আর ঐ বাস্তবতাসমূহ প্রকৃতরূপে যেভাবে বিদ্যমান, তাই হলো আল্লাহ যা সংবাদ দিয়েছেন তার প্রকৃত ব্যাখ্যা (تأويل)। এতে ইহুদি, খ্রিস্টান এবং দার্শনিকদের অন্তর্ভুক্ত সাবয়ী ও অন্যদের বক্তব্যের খণ্ডন রয়েছে; কারণ তারা জান্নাতে পানাহার, পোশাক ও বিবাহের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে এবং কুরআনে বর্ণিত বিষয়গুলোর অস্তিত্বকে অসম্ভব মনে করে।
আর যারা ইসলামে প্রবেশ করে মুমিনদের সাথে কপটতা (نفاق) করেছে, তারা যদি শারীরিক পুনরুত্থান অস্বীকারকারী দার্শনিক সাবয়ী হয়, তবে তারা এগুলোকে কেবল আধ্যাত্মিক নেয়ামত বোঝানোর জন্য পেশকৃত উদাহরণ হিসেবে অপব্যাখ্যা (تأويل) করে। আর যদি সে দৈহিক পুনরুত্থানে বিশ্বাসী দুই ধর্মাদর্শের মুনাফিকদের (منافق) অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সে জান্নাতের এই নেয়ামতগুলোকে কেবল আধ্যাত্মিক প্রশান্তি, সুমধুর শ্রবণ ও সুগন্ধি প্রাপ্তি হিসেবে অপব্যাখ্যা (تأويل) করে। মূলত প্রত্যেক পথভ্রষ্ট (ضال) ব্যক্তিই এভাবেই শব্দসমূহকে তার স্থান থেকে বিকৃত (تحريف) করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عن مواضعه إلى ما اعتقد ثبوته. وكان في هذا أيضا متبعا للمتشابه إذ الأسماء تشبه الأسماء والمسميات تشبه المسميات ولكن تخالفها أكثر مما تشابهها. فهؤلاء يتبعون هذا المتشابه {ابتغاء الفتنة} بما يوردونه من الشبهات على امتناع أن تكون في الجنة هذه الحقائق {وابتغاء تأويله} ليردوه إلى المعهود الذي يعلمونه في الدنيا. قال الله تعالى: {وما يعلم تأويله إلا الله} فإن تلك الحقائق قال الله فيها: {فلا تعلم نفس ما أخفي لهم من قرة أعين} لا ملك مقرب ولا نبي مرسل. وقوله: {وما يعلم تأويله} إما أن يكون الضمير عائدا على الكتاب أو على المتشابه؛
فإن كان عائدا على الكتاب كقوله (منه و (منه {فيتبعون ما تشابه منه ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله} فهذا يصح؛ فإن جميع آيات الكتاب المحكمة والمتشابهة التي فيها إخبار عن الغيب الذي أمرنا أن نؤمن به لا يعلم حقيقة ذلك الغيب ومتى يقع إلا الله. وقد يستدل لهذا أن الله جعل التأويل للكتاب كله مع إخباره أنه مفصل بقوله {ولقد جئناهم بكتاب فصلناه على علم هدى ورحمة لقوم يؤمنون} {هل ينظرون إلا تأويله يوم يأتي تأويله} فجعل التأويل الجائي للكتاب المفصل. وقد بينا أن ذلك التأويل لا يعلمه وقتا وقدرا ونوعا وحقيقة إلا الله وإنما نعلم نحن بعض صفاته بمبلغ علمنا لعدم نظيره عندنا وكذلك قوله: {بل كذبوا بما لم يحيطوا بعلمه ولما يأتهم تأويله}
শব্দগুলোকে তাদের স্ব-স্থান থেকে সরিয়ে ঐ দিকে নিয়ে যাওয়া যা তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত (ثبوت) বলে বিশ্বাস করতেন। এবং এক্ষেত্রে তিনি অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়েরই অনুসারী ছিলেন, কারণ নামসমূহ নামসমূহের সাদৃশ্য রাখে এবং নামধারী সত্তা বা বস্তুসমূহ অন্যান্য নামধারী সত্তা বা বস্তুসমূহের সাদৃশ্য রাখে, কিন্তু এগুলোর পারস্পরিক বৈসাদৃশ্য সাদৃশ্যের তুলনায় অনেক বেশি। এরা এই অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের অনুসরণ করে ‘ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে’, যা তারা জান্নাতে এই সকল হাকিকত বিদ্যমান থাকার অসম্ভাব্যতা সম্পর্কে সংশয় আকারে উপস্থাপন করে, এবং ‘এর ব্যাখ্যা (تأويل) খোঁজার উদ্দেশ্যে’ যাতে তারা এগুলোকে ঐ সকল পরিচিত বিষয়ে পর্যবসিত করতে পারে যা তারা দুনিয়াতে জানে। মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘আর আল্লাহ ব্যতীত কেউ এর ব্যাখ্যা (تأويل) জানে না’। কেননা আল্লাহ সেই সকল হাকিকত সম্পর্কে বলেছেন: ‘কোনো প্রাণীই জানে না তাদের জন্য চোখের প্রশান্তি হিসেবে কী গোপন রাখা হয়েছে’, যা কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা কিংবা প্রেরিত (مرسل) নবীও জানেন না। আর আল্লাহর বাণী: ‘এবং এর ব্যাখ্যা (تأويل) কেউ জানে না’—এক্ষেত্রে সর্বনামটি হয় কিতাবের দিকে ফিরবে অথবা অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের দিকে ফিরবে;
যদি তা কিতাবের দিকে ফিরে থাকে—যেমন আল্লাহর বাণী ‘তার থেকে’ এবং ‘তার থেকে’ (অর্থাৎ কিতাব থেকে): ‘অতঃপর তারা ফিতনা ও ব্যাখ্যা (تأويل) অন্বেষণের উদ্দেশ্যে তার অস্পষ্ট (متشابه) অংশের অনুসরণ করে’—তবে তা সঠিক হবে। কেননা কিতাবের সকল সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট (متشابه) আয়াতসমূহ, যাতে সেই অদৃশ্যের সংবাদ রয়েছে যার প্রতি আমাদের ঈমান আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেই অদৃশ্যের প্রকৃত স্বরূপ এবং তা কখন সংঘটিত হবে তা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। এর স্বপক্ষে এ দ্বারাও দলিল পেশ করা যায় যে, আল্লাহ পুরো কিতাবের জন্যই ব্যাখ্যা (تأويل) সাব্যস্ত করেছেন, অথচ তিনি তা বিশদভাবে বর্ণিত হওয়ার সংবাদ দিয়ে বলেছেন: ‘আমি তো তাদের নিকট এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি যা আমি জ্ঞানের ভিত্তিতে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত’। ‘তারা কি কেবল এর ব্যাখ্যার (تأويل) অপেক্ষা করে? যেদিন এর ব্যাখ্যা (تأويل) আসবে...’। সুতরাং তিনি বিশদভাবে বর্ণিত কিতাবের জন্য আগত বিষয়কে ব্যাখ্যা (تأويل) হিসেবে গণ্য করেছেন। আর আমরা ইতিপূর্বেই বর্ণনা করেছি যে, সেই ব্যাখ্যার (تأويل) সময়কাল, পরিমাণ, ধরন ও হাকিকত আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না; আমরা কেবল আমাদের জ্ঞানের নাগালে থাকা কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা জানি, কারণ আমাদের কাছে এর কোনো সমরূপ নমুনা নেই। অনুরূপভাবে আল্লাহর বাণী: ‘বরং তারা এমন বিষয়কে অস্বীকার করেছে যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার ব্যাখ্যা (تأويل) এখনো তাদের কাছে আসেনি’।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وإذا كان التأويل للكتاب كله والمراد به ذلك ارتفعت الشبهة وصار هذا بمنزلة قوله: {يسألونك عن الساعة أيان مرساها قل إنما علمها عند ربي لا يجليها لوقتها إلا هو ثقلت في السماوات والأرض} إلى قوله: {إنما علمها عند الله} وكذلك قوله: {يسألك الناس عن الساعة قل إنما علمها عند الله وما يدريك لعل الساعة تكون قريبا}
فأخبر أنه ليس علمها إلا عند الله وإنما هو علم وقتها المعين وحقيقتها وإلا فنحن قد علمنا من صفاتها ما أخبرنا به. فعلم تأويله كعلم الساعة والساعة من تأويله وهذا واضح بين.
ولا ينافي كون علم الساعة عند الله أن نعلم من صفاتها وأحوالها ما علمناه وأن نفسر النصوص المبينة لأحوالها فهذا هذا. وإن كان الضمير عائدا إلى ما تشابه كما يقوله كثير من الناس فلأن المخبر به من الوعد والوعيد متشابه بخلاف الأمر والنهي ولهذا في الآثار: " العمل بمحكمه والإيمان بمتشابهه " لأن المقصود في الخبر الإيمان وذلك لأن المخبر به من الوعد والوعيد فيه من التشابه ما ذكرناه بخلاف الأمر والنهي؛ ولهذا قال بعض [العلماء] : " المتشابه " الأمثال والوعد [والوعيد] و " المحكم " الأمر والنهي
আর যদি ব্যাখ্যা বা প্রকৃত তাৎপর্য (تأويل) দ্বারা সম্পূর্ণ কিতাবকে বোঝানো হয় এবং সেটাই উদ্দেশ্য হয়, তবে সংশয় দূর হয়ে যায়। তখন বিষয়টি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সমতুল্য হয়: "তারা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে, তা কখন ঘটবে? বলুন, এর জ্ঞান তো কেবল আমার রবের কাছেই রয়েছে; নির্দিষ্ট সময়ে তিনিই তা প্রকাশ করবেন। তা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে একটি ভারী বিষয়।" থেকে আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "নিশ্চয়ই এর জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে।" অনুরূপভাবে তাঁর এই বাণী: "মানুষ আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন, এর জ্ঞান তো কেবল আল্লাহর কাছেই রয়েছে। আপনি কী জানেন, সম্ভবত কিয়ামত নিকটেই।"
সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, এর জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে নেই। আর তা হলো এর নির্দিষ্ট সময় এবং প্রকৃত স্বরূপের জ্ঞান। অন্যথায় আমরা তো এর ঐসব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনেছি যা তিনি আমাদের জানিয়েছেন। অতএব, এর ব্যাখ্যা বা প্রকৃত তাৎপর্য (تأويل) বিষয়ক জ্ঞান কিয়ামতের জ্ঞানের মতো, আর কিয়ামত নিজেই এর ব্যাখ্যা বা প্রকৃত তাৎপর্য (تأويل)-এর অন্তর্ভুক্ত। এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার।
কিয়ামতের জ্ঞান আল্লাহর কাছে থাকার বিষয়টি এর বৈশিষ্ট্য ও অবস্থা সম্পর্কে আমাদের জানা এবং এর অবস্থা বর্ণনাকারী পাঠসমূহের ব্যাখ্যা করার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। আর যদি সর্বনামটি অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করে—যেমনটি অনেক লোক বলে থাকেন—তবে তার কারণ হলো পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারি সম্পর্কিত সংবাদগুলো অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) প্রকৃতির হয়, যা আদেশ ও নিষেধের বিপরীত। এই কারণেই বর্ণনা (آثار)-সমূহে এসেছে: "এর সুস্পষ্ট (محكم) অংশের ওপর আমল করা এবং অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) অংশের ওপর ঈমান আনা।" কেননা সংবাদের উদ্দেশ্য হলো ঈমান বা বিশ্বাস স্থাপন করা। আর এর কারণ হলো, পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারি বিষয়ক সংবাদের মধ্যে সেই অস্পষ্টতা বা সাদৃশ্য বিদ্যমান যা আমরা উল্লেখ করেছি, যা আদেশ ও নিষেধের বিপরীত। এই জন্যই কোনো কোনো আলেম বলেছেন: 'অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه)' হলো দৃষ্টান্তসমূহ এবং পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারি, আর 'সুস্পষ্ট (محكم)' হলো আদেশ ও নিষেধ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
فإنه متميز غير مشتبه بغيره فإنه أمور نفعلها قد علمناها بالوقوع وأمور نتركها لا بد أن نتصورها.
ومما جاء من لفظ " التأويل " في القرآن قوله تعالى {بل كذبوا بما لم يحيطوا بعلمه ولما يأتهم تأويله} والكناية عائدة على القرآن أو على ما لم يحيطوا بعلمه وهو يعود إلى القرآن. قال تعالى: {وما كان هذا القرآن أن يفترى من دون الله ولكن تصديق الذي بين يديه وتفصيل الكتاب لا ريب فيه من رب العالمين} {أم يقولون افتراه قل فأتوا بسورة مثله وادعوا من استطعتم من دون الله إن كنتم صادقين} {بل كذبوا بما لم يحيطوا بعلمه ولما يأتهم تأويله كذلك كذب الذين من قبلهم فانظر كيف كان عاقبة الظالمين} {ومنهم من يؤمن به ومنهم من لا يؤمن به وربك أعلم بالمفسدين} . فأخبر سبحانه أن هذا القرآن ما كان ليفترى من دون الله وهذه الصيغة تدل على امتناع المنفي كقوله: {وما كان ربك ليهلك القرى بظلم} وقوله: {وما كان الله ليعذبهم وأنت فيهم} لأن الخلق عاجزون عن الإتيان بمثله كما تحداهم وطالبهم لما قال: {أم يقولون افتراه قل فأتوا بسورة مثله وادعوا من
নিশ্চয়ই এটি স্বতন্ত্র এবং অন্য কিছুর সাথে বিভ্রান্তিকর নয়; কারণ এটি এমন বিষয় যা আমরা সম্পাদন করি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার দ্বারা তা জানতে পারি, আর কিছু বিষয় আমরা বর্জন করি যা অবশ্যই আমাদের অনুধাবন করতে হবে।
কুরআনে 'তাউয়িল' (التأويل) শব্দের প্রয়োগের মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: {বরং তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার ব্যাখ্যা বা পরিণতি (التأويل) এখনও তাদের নিকট আসেনি}। এখানে সর্বনামটি কুরআনের দিকে অথবা তারা যে বিষয়ের জ্ঞান আয়ত্ত করতে পারেনি তার দিকে ফিরেছে, আর সেটিও মূলত কুরআনের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর এই কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে রচিত হওয়া সম্ভব নয়; বরং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, এতে কোনো সন্দেহ নেই, যা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} {নাকি তারা বলে যে, এটি তিনি নিজে রচনা করেছেন? আপনি বলুন, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো আহ্বান করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও} {বরং তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা বলেছে যা তাদের জ্ঞানের আয়ত্তে নেই এবং যার ব্যাখ্যা বা পরিণতি (التأويل) এখনও তাদের নিকট আসেনি। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা বলেছিল; সুতরাং দেখুন জালিমদের পরিণাম কেমন হয়েছিল} {আর তাদের মধ্যে কেউ এতে ঈমান আনে এবং কেউ এতে ঈমান আনে না, আর আপনার প্রতিপালক ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সম্পর্কে সম্যক অবগত}। অতঃপর মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, এই কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে রচিত হওয়া অসম্ভব। এই রূপকাঠামো (صيغة) অস্বীকৃত বিষয়টি ঘটার অসম্ভবতা নির্দেশ করে, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: {আপনার প্রতিপালক অন্যায়ভাবে জনপদসমূহ ধ্বংস করার মতো নন} এবং তাঁর বাণী: {আর আল্লাহ এমন নন যে আপনি তাদের মাঝে থাকাবস্থায় তিনি তাদের শাস্তি দেবেন}; কারণ সৃষ্টিজগত এর অনুরূপ কিছু উপস্থাপনে অক্ষম, যেমনটি তিনি তাদের চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং দাবি জানিয়েছেন যখন তিনি বলেছেন: {নাকি তারা বলে যে, এটি তিনি রচনা করেছেন? আপনি বলুন, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসো এবং আহ্বান করো তাদের যাদের...}
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
استطعتم من دون الله إن كنتم صادقين} فهذا تعجيز لجميع المخلوقين. قال تعالى: {ولكن تصديق الذي بين يديه} أي مصدق الذي بين يديه {وتفصيل الكتاب} أي مفصل الكتاب فأخبر أنه مصدق الذي بين يديه ومفصل الكتاب والكتاب اسم جنس وتحدى القائلين: (افتراه ودل على أنهم هم المفترون قال: {بل كذبوا بما لم يحيطوا بعلمه ولما يأتهم تأويله} أي كذبوا بالقرآن الذي لم يحيطوا بعلمه ولما يأتهم تأويله. ففرق بين الإحاطة بعلمه وبين إتيان تأويله. فتبين أنه يمكن أن يحيط أهل العلم والإيمان بعلمه ولما يأتهم تأويله وأن الإحاطة بعلم القرآن ليست إتيان تأويله فإن الإحاطة بعلمه معرفة معاني الكلام على التمام وإتيان التأويل نفس وقوع المخبر به وفرق بين معرفة الخبر وبين المخبر به فمعرفة الخبر هي معرفة تفسير القرآن ومعرفة المخبر به هي معرفة تأويله.
و" نكتة ذلك " أن الخبر لمعناه صورة علمية وجودها في نفس العالم كذهن الإنسان مثلا ولذلك المعنى حقيقة ثابتة في الخارج عن العلم واللفظ إنما يدل ابتداء على المعنى الذهني ثم تتوسط ذلك أو تدل على الحقيقة الخارجة فالتأويل هو الحقيقة الخارجة وأما معرفة تفسيره ومعناه فهو معرفة الصورة العلمية. وهذا هو الذي بيناه فيما تقدم أن الله إنما أنزل القرآن ليعلم ويفهم ويفقه ويتدبر ويتفكر فيه محكمه ومتشابهه وإن لم يعلم تأويله. ويبين ذلك أن الله يقول عن الكفار: {وإذا قرأت القرآن جعلنا بينك وبين الذين لا يؤمنون بالآخرة حجابا مستورا} {وجعلنا على قلوبهم أكنة أن يفقهوه وفي آذانهم وقرا وإذا ذكرت ربك في القرآن وحده ولوا على أدبارهم نفورا} فقد أخبر - ذما للمشركين - أنه إذا قرئ عليهم القرآن حجب بين أبصارهم وبين الرسول بحجاب مستور وجعل على قلوبهم أكنة أن
{আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যাদের পারো [ডাকো], যদি তোমরা সত্যবাদী হও}—এটি মূলত সকল সৃষ্টির জন্য একটি অক্ষমকারী চ্যালেঞ্জ (تعجيز)। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {কিন্তু এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়ন} অর্থাৎ যা তার সামনে বিদ্যমান তার সত্যায়নকারী, {এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা} অর্থাৎ কিতাবের বিশদ বর্ণনাকারী। সুতরাং তিনি অবহিত করেছেন যে, এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী এবং কিতাবের বিশদ ব্যাখ্যাকারী। এখানে 'কিতাব' শব্দটি একটি জাতিবাচক নাম (اسم جنس)। তিনি সেই দাবিদারদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যারা বলে: "সে এটি মিথ্যা রচনা করেছে" (افتراه), যা নির্দেশ করে যে তারাই মূলত মিথ্যা রচনাকারী (المفترون)। তিনি বলেন: {বরং তারা এমন বিষয়কে অস্বীকার করেছে যার জ্ঞানকে তারা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার চূড়ান্ত পরিণতি বা হাকিকত (تأويل) তাদের নিকট আসেনি}। অর্থাৎ তারা এমন কুরআনের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার প্রকৃত বাস্তবতা (تأويل) এখনও তাদের নিকট উপস্থিত হয়নি। সুতরাং জ্ঞানের পরিবেষ্টন এবং বাস্তব পরিণতির আগমনের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ইলম ও ঈমানদারগণের পক্ষে এর জ্ঞান পরিবেষ্টন করা সম্ভব অথচ তখনও এর চূড়ান্ত বাস্তবতা (تأويل) আসেনি। আর কুরআনের জ্ঞানকে আয়ত্ত করা মানেই তার বাস্তব রূপ প্রাপ্তি (تأويل) নয়। কেননা জ্ঞান আয়ত্ত করা হলো বাণীর অর্থসমূহ পরিপূর্ণভাবে অনুধাবন করা, আর বাস্তব রূপ প্রাপ্তি (تأويل) হলো যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে তার হুবহু সংঘটিত হওয়া। সংবাদের পরিচয় লাভ এবং যার সংবাদ দেওয়া হয়েছে তার হাকিকত লাভের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সংবাদের পরিচয় লাভ হলো কুরআনের তাফসির (تفسير) জানা, আর যার সংবাদ দেওয়া হয়েছে তার পরিচয় লাভ হলো তার হাকিকত বা পরিণতি (تأويل) জানা।
আর এর "সুক্ষ্ম রহস্য (نكتة)" হলো এই যে, সংবাদের অর্থের জন্য একটি ইলমি প্রতিচ্ছবি থাকে যার অস্তিত্ব জ্ঞানীর অন্তরে বিদ্যমান, যেমন মানুষের মস্তিষ্ক। আর সেই অর্থের জন্য জ্ঞানের বাইরের জগতে একটি প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা থাকে। শব্দ মূলত প্রথমে মানসিক অর্থের প্রতি নির্দেশ করে, অতঃপর তার মাধ্যমে বা সরাসরি বাহ্যিক বাস্তবতার দিকে নির্দেশ করে। সুতরাং বাস্তব রূপ প্রাপ্তি বা চূড়ান্ত পরিণতি (تأويل) হলো বাহ্যিক বাস্তবতা, পক্ষান্তরে এর তাফসির ও অর্থ জানা হলো ইলমি প্রতিচ্ছবি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। এটিই আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে, আল্লাহ তায়ালা কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যাতে এটি জানা যায়, বোঝা যায়, অনুধাবন করা যায় এবং এর সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট বা রূপক (متشাবে) আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তাগবেষণা ও তাদাব্বুর করা যায়, যদিও এর চূড়ান্ত পরিণতি বা হাকিকত (تأويل) জানা না থাকে। এটি এই বিষয়কে আরও স্পষ্ট করে যে, আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের সম্পর্কে বলেছেন: {আর যখন তুমি কুরআন পাঠ করো, তখন আমি তোমার ও যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের মাঝে এক অদৃশ্য পর্দা টেনে দিই।} {আর আমি তাদের অন্তরের ওপর আবরণ (أكنة) দিয়েছি যাতে তারা তা বুঝতে না পারে এবং তাদের কানে দিয়েছি বধিরতা (وقرا)। আর যখন তুমি কুরআনে তোমার রবের একত্বের কথা উল্লেখ করো, তখন তারা ঘৃণাভরে পিঠ ফিরিয়ে চলে যায়।} সুতরাং তিনি মুশরিকদের নিন্দা জ্ঞাপন করে সংবাদ দিয়েছেন যে, যখন তাদের সামনে কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তাদের দৃষ্টি ও রাসূলের মাঝে এক অদৃশ্য পর্দা দিয়ে আড়াল করে দেওয়া হয় এবং তাদের অন্তরের ওপর আবরণ (أكنة) দেওয়া হয় যাতে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
يفقهوه وفي آذانهم وقرا. فلو كان أهل العلم والإيمان على قلوبهم أكنة أن يفقهوا بعضه لشاركوهم في ذلك. وقوله: {أن يفقهوه} يعود إلى القرآن كله. فعلم أن الله يحب أن يفقه؛ ولهذا قال الحسن البصري: ما أنزل الله آية إلا وهو يحب أن يعلم في ماذا أنزلت وماذا عنى بها وما استثنى من ذلك لا متشابها ولا غيره. وقال مجاهد: عرضت المصحف على ابن عباس من أوله إلى آخره مرات أقف عند كل آية وأسأله عنها.
فهذا ابن عباس حبر الأمة وهو أحد من كان يقول: لا يعلم تأويله إلا الله يجيب مجاهدا عن كل آية في القرآن.
যাতে তারা তা অনুধাবন করতে না পারে এবং তাদের কর্ণে বধিরতা রয়েছে। সুতরাং যদি ইলম ও ঈমানওয়ালাদের অন্তরে তা অনুধাবন করার ক্ষেত্রে কোনো আবরণ থাকত, তবে তারা এ বিষয়ে তাদের (কাফিরদের) সাথে সদৃশ হতো। আর তাঁর বাণী: {যাতে তারা তা অনুধাবন করতে পারে}—এটি সমগ্র কুরআনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ চান যেন কুরআন অনুধাবন করা হয়। এজন্যই হাসান বসরী বলেছেন: আল্লাহ এমন কোনো আয়াত অবতীর্ণ করেননি যার সম্পর্কে তিনি এটা পছন্দ করেন না যে, তা কেন অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর দ্বারা তিনি কী উদ্দেশ্য নিয়েছেন—তা জানা হোক। আর এক্ষেত্রে তিনি রূপক (متشابه) বা অন্য কোনো আয়াতকেই বাদ দেননি। মুজাহিদ বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের নিকট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কয়েকবার পূর্ণ কুরআন পেশ করেছি; আমি প্রতিটি আয়াতের নিকট থামতাম এবং তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম।
ইনি হলেন ইবনে আব্বাস, উম্মতের শ্রেষ্ঠ বিদগ্ধ পণ্ডিত; তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা বলতেন: আল্লাহ ব্যতীত এর ব্যাখ্যা (تأويل) কেউ জানে না। অথচ তিনিই মুজাহিদকে কুরআনের প্রতিটি আয়াতের উত্তর প্রদান করছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهذا هو الذي حمل مجاهدا ومن وافقه كابن قتيبة على أن جعلوا الوقف عند قوله {والراسخون في العلم} فجعلوا الراسخين يعلمون التأويل لأن مجاهدا تعلم من ابن عباس تفسير القرآن كله وبيان معانيه فظن أن هذا هو التأويل المنفي عن غير الله.
وأصل ذلك أن لفظ " التأويل " فيه اشتراك بين ما عناه الله في القرآن وبين ما كان يطلقه طوائف من السلف وبين اصطلاح طوائف من المتأخرين فبسبب الاشتراك في لفظ التأويل اعتقد كل من فهم منه معنى بلغته أن ذلك هو المذكور في القرآن. ومجاهد إمام التفسير. قال الثوري: إذا جاءك التفسير عن مجاهد فحسبك به. وأما التأويل فشأن آخر.
ويبين ذلك أن الصحابة والتابعين لم يمتنع أحد منهم عن تفسير آية من كتاب الله ولا قال هذه من المتشابه الذي لا يعلم معناه ولا قال قط أحد من سلف الأمة ولا من الأئمة المتبوعين: إن في القرآن آيات لا يعلم معناها ولا يفهمها رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا أهل العلم والإيمان جميعهم وإنما قد ينفون علم بعض ذلك عن بعض الناس وهذا لا ريب فيه.
আর এটিই মুজাহিদ এবং তাঁর সাথে একমত পোষণকারী যেমন ইবনে কুতায়বাকে এই পথে ধাবিত করেছে যে, তাঁরা ‘এবং জ্ঞানগভীর পণ্ডিতগণ’ {والراسخون في العلم} আয়াতাংশে বিরতি (الوقف) টেনেছেন। ফলে তাঁরা জ্ঞানগভীর পণ্ডিতগণকে ব্যাখ্যা (التأويل) অবগত বলে গণ্য করেছেন; কারণ মুজাহিদ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর নিকট থেকে সমগ্র কুরআনের তাফসির (تفسير) এবং এর মর্মার্থের বর্ণনা শিখেছিলেন, ফলে তিনি ধারণা করেছিলেন যে, এটিই সেই ব্যাখ্যা (التأويل) যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে নেতিবাচক বা অস্বীকৃত (المنفي) বলা হয়েছে।
এর মূল কারণ হলো, 'ব্যাখ্যা' (التأويل) শব্দটির মধ্যে আল্লাহ কুরআনে যা বুঝিয়েছেন, পূর্বসূরিদের (السلف) বিভিন্ন গোষ্ঠী যা প্রয়োগ করতেন এবং পরবর্তীগণের (المتأخرين) পরিভাষার মধ্যে একাধিক অর্থের সংমিশ্রণ বা সমার্থকতা (اشتراك) রয়েছে। ফলে 'ব্যাখ্যা' (التأويل) শব্দের এই বহুমুখী ব্যবহারের কারণে যে ব্যক্তিই এর দ্বারা নিজস্ব পরিভাষায় কোনো অর্থ বুঝেছেন, তিনি বিশ্বাস করেছেন যে এটিই কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আর মুজাহিদ হলেন তাফসিরের (تفسير) ইমাম (إمام)। সাওরি বলেন: যদি তোমার নিকট মুজাহিদের পক্ষ থেকে তাফসির (تفسير) পৌঁছে, তবে সেটিই তোমার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু ব্যাখ্যা (التأويل) বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আর এটি এ বিষয় দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, সাহাবি (الصحابة) এবং তাবেয়িগণের (التابعين) মধ্যে কেউই আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াতের তাফসির (تفسير) করা থেকে বিরত থাকেননি। তাঁরা কেউই বলেননি যে, এটি এমন দ্ব্যর্থবোধক (المتشابه) যার অর্থ জানা সম্ভব নয়। উম্মাহর কোনো পূর্বসূরি (سلف الأمة) কিংবা অনুসরণীয় ইমামগণের (الأئمة المتبوعين) কেউই কখনও বলেননি যে: কুরআনে এমন কিছু আয়াত রয়েছে যার অর্থ জানা যায় না এবং যা আল্লাহর রাসুল (সা.) কিংবা ইলম ও ঈমানওয়ালাদের কেউই বুঝতে পারেন না। বরং তাঁরা বড়জোর নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এর কিছু অংশের জ্ঞানের অভাব থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন, আর এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وإنما وضع هذه المسألة المتأخرون من الطوائف بسبب الكلام في آيات الصفات وآيات القدر وغير ذلك. فلقبوها: " هل يجوز أن يشتمل القرآن على ما لا يعلم معناه ". وما " تعبدنا بتلاوة حروفه بلا فهم " فجوز ذلك طوائف متمسكين بظاهر من هذه الآية وبأن الله يمتحن عباده بما شاء ومنعها طوائف ليتوصلوا بذلك إلى تأويلاتهم الفاسدة التي هي تحريف الكلم عن مواضعه. والغالب على كلا الطائفتين الخطأ أولئك يقصرون في فهم القرآن بمنزلة من قيل فيه: {ومنهم أميون لا يعلمون الكتاب إلا أماني} وهؤلاء معتدون بمنزلة الذين يحرفون الكلم عن مواضعه.
মূলত পরবর্তী প্রজন্মের বিভিন্ন দল সিফাত (গুণাবলি) ও তকদির সম্পর্কিত আয়াত এবং অন্যান্য বিষয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে এই মাসআলাটি উত্থাপন করেছেন। তারা এর শিরোনাম দিয়েছেন: "কুরআনে কি এমন কিছু থাকা সম্ভব যার অর্থ জানা নেই?" এবং "যার অর্থ না বুঝে কেবল হরফ তিলাওয়াতের মাধ্যমে আমাদের ইবাদত করতে বলা হয়েছে।" একদল লোক এই আয়াতের বাহ্যিক (ظاهر) দিক আঁকড়ে ধরে এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যা ইচ্ছা তা দিয়ে পরীক্ষা করেন—এই যুক্তিতে একে বৈধ মনে করেছেন। অন্যদিকে, অন্য দলগুলো একে অস্বীকার করেছে যাতে তারা এর মাধ্যমে তাদের ভ্রান্ত ব্যাখ্যার (تأويل) দিকে পৌঁছাতে পারে, যা মূলত শব্দাবলিকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করা। মূলত উভয় দলের ক্ষেত্রেই ভুলের প্রাধান্য রয়েছে; প্রথমোক্তরা কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা প্রদর্শন করে এবং তারা ঐ ব্যক্তিদের পর্যায়ভুক্ত যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: "তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক রয়েছে যারা অলীক আকাঙ্ক্ষা ছাড়া কিতাব সম্পর্কে কিছুই জানে না।" আর শেষোক্তরা হলো সীমালঙ্ঘনকারী, যারা ঐসব লোকদের স্থলাভিষিক্ত যারা শব্দাবলিকে তার যথাযথ স্থান থেকে বিকৃত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن المتأخرين من وضع المسألة بلقب شنيع فقال: " لا يجوز أن يتكلم الله بكلام ولا يعني به شيئا خلافا للحشوية ".
وهذا لم يقله مسلم إن الله يتكلم بما لا معنى له. وإنما النزاع هل يتكلم بما لا يفهم معناه؟ وبين نفي المعنى عند المتكلم ونفي الفهم عند المخاطب بون عظيم. ثم احتج بما لا يجري على أصله فقال: هذا عبث والعبث على الله محال. وعنده أن الله لا يقبح منه شيء أصلا بل يجوز أن يفعل كل شيء وليس له أن يقول: العبث صفة نقص فهو منتف عنه؛ لأن النزاع في الحروف وهي عنده مخلوقة من جملة الأفعال ويجوز أن يشتمل الفعل عنده على كل صفة فلا نقل صحيح ولا عقل صريح. ومثار الفتنة بين الطائفتين ومحار عقولهم: أن مدعي التأويل أخطئوا في زعمهم أن العلماء يعلمون التأويل وفي دعواهم أن التأويل هو تأويلهم الذي هو تحريف الكلم عن مواضعه؛ فإن الأولين لعلمهم بالقرآن والسنن وصحة عقولهم وعلمهم بكلام السلف وكلام العرب علموا يقينا أن التأويل الذي يدعيه هؤلاء ليس هو معنى القرآن؛ فإنهم حرفوا الكلم عن مواضعه وصاروا مراتب ما بين قرامطة وباطنية يتأولون الأخبار والأوامر وما بين صابئة
পরবর্তীকালের একদল আলেম বিষয়টি একটি কুৎসিত উপাধিতে উপস্থাপন করে বলেছেন: "হাশউইয়্যাহদের (حشوية) বিপরীতে আল্লাহর পক্ষে এমন কোনো কথা বলা বৈধ নয় যার দ্বারা তিনি কোনো অর্থ উদ্দেশ্য করেন না।"
কোনো মুসলিমই এ কথা বলেননি যে, আল্লাহ এমন কিছু বলেন যার কোনো অর্থ নেই। বরং বিরোধ হলো, তিনি কি এমন কিছু বলেন যার অর্থ বোঝা যায় না? বক্তার পক্ষ থেকে অর্থ অস্বীকার করা এবং সম্বোধিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে মর্ম উপলব্ধি করতে না পারার মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। অতঃপর তিনি এমন কিছু দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা তার নিজস্ব মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; তিনি বলেছেন: এটি একটি অনর্থক কাজ, আর আল্লাহর ক্ষেত্রে অনর্থক কাজ হওয়া অসম্ভব। অথচ তার মতে, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো কিছুই মূলত মন্দ নয়, বরং তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারেন। আর তার পক্ষে এ কথা বলার সুযোগ নেই যে, অনর্থক হওয়া একটি ত্রুটিপূর্ণ গুণ, তাই তা আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কারণ বিরোধ হলো বর্ণমালা (حروف) নিয়ে, যা তার মতে অন্যান্য কর্মের ন্যায় সৃষ্ট। আর তার মতে, কোনো কাজ যেকোনো গুণের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে কোনো সঠিক বর্ণনা (نقل صحيح) নেই এবং কোনো স্পষ্ট যুক্তি (عقل صريح) নেই। উভয় দলের মধ্যে ফিতনার উৎস এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তির কারণ হলো: যারা ব্যাখ্যার (تأويل) দাবিদার, তারা তাদের এই ধারণায় ভুল করেছে যে আলেমগণ সেই ব্যাখ্যা (تأويل) জানেন, এবং তাদের এই দাবিতেও ভুল করেছে যে তাদের ব্যাখ্যাই (تأويل) হলো প্রকৃত ব্যাখ্যা—যা মূলত শব্দের অর্থকে তার সঠিক স্থান থেকে বিকৃতি (تحريف) করা ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা পূর্বসূরীগণ কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান, বুদ্ধিবৃত্তিক সুস্থতা এবং সালাফদের (سلف) ও আরবদের বাচনভঙ্গি সম্পর্কে অবগতির কারণে নিশ্চিতভাবে জানতেন যে, এই লোকেরা যে ব্যাখ্যার (تأويل) দাবি করছে তা কুরআনের প্রকৃত অর্থ নয়। তারা তো শব্দসমূহকে তাদের সঠিক স্থান থেকে বিকৃতি (تحريف) করেছে এবং তারা কারামিতা (قرامطة) ও বাতিনিয়্যাহদের (باطنية) মতো বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে যারা সংবাদ ও আদেশসমূহের অপব্যাখ্যা (تأويل) করে, এমনকি তারা সাবেয়ী (صابئة) পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فلاسفة يتأولون عامة الأخبار عن الله وعن اليوم الآخر حتى عن أكثر أحوال الأنبياء وما بين جهمية ومعتزلة يتأولون بعض ما جاء في اليوم الآخر
দার্শনিকগণ আল্লাহ তাআলা ও পরকাল সংক্রান্ত সাধারণ সংবাদসমূহ (أخبار), এমনকি নবীদের অধিকাংশ অবস্থা সম্পর্কেও রূপক ব্যাখ্যা (تأويل) প্রদান করেন; এবং জহমিয়া ও মুতাজিলাদের মধ্যেও এমন একদল রয়েছে যারা পরকাল সম্পর্কে বর্ণিত কতিপয় বিষয়ের রূপক ব্যাখ্যা (تأويل) করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي آيات القدر ويتأولون آيات الصفات وقد وافقهم بعض متأخري الأشعرية على ما جاء في بعض الصفات وبعضهم في بعض ما جاء في اليوم الآخر وآخرون من أصناف الأمة وإن كان تغلب عليهم السنة فقد يتأولون أيضا مواضع يكون تأويلهم من تحريف الكلم عن مواضعه.
والذين ادعوا العلم بالتأويل مثل طائفة من السلف وأهل السنة وأكثر أهل الكلام والبدع رأوا أيضا أن النصوص دلت على معرفة معاني القرآن ورأوا عجزا وعيبا وقبيحا أن يخاطب الله عباده بكلام يقرءونه ويتلونه وهم لا يفهمونه وهم مصيبون فيما استدلوا به من سمع وعقل؛ لكن أخطئوا في معنى التأويل الذي نفاه الله وفي التأويل الذي أثبتوه وتسلق بذلك مبتدعتهم إلى تحريف الكلم عن مواضعه وصار الأولون أقرب إلى السكوت والسلامة بنوع من الجهل وصار الآخرون أكثر كلاما وجدالا ولكن بفرية على الله وقول عليه ما لا يعلمونه وإلحاد في أسمائه وآياته. فهذا هذا. ومنشأ الشبهة الاشتراك في لفظ التأويل.
فإن " التأويل " في عرف المتأخرين من المتفقهة والمتكلمة والمحدثة والمتصوفة ونحوهم هو صرف اللفظ عن المعنى الراجح إلى المعنى المرجوح لدليل يقترن به وهذا هو التأويل الذي يتكلمون عليه في أصول الفقه ومسائل الخلاف. فإذا قال أحدهم: هذا الحديث أو هذا النص مؤول أو هو محمول على كذا قال الآخر: هذا نوع تأويل والتأويل يحتاج إلى دليل.
والمتأول عليه وظيفتان: بيان احتمال اللفظ للمعنى الذي ادعاه وبيان الدليل الموجب للصرف إليه
ভাগ্য সংক্রান্ত আয়াতসমূহে এবং তাঁরা গুণাবলি (صفات) সংক্রান্ত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা (تأويل) করেন। পরবর্তী প্রজন্মের কিছু আশআরি কতিপয় গুণাবলির (صفات) ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে একমত হয়েছেন, আবার তাঁদের কেউ কেউ পরকাল সম্পর্কে বর্ণিত বিষয়ের কিছু ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন। উম্মাহর অন্যান্য দলসমূহ, যদিও তাদের ওপর সুন্নাহর প্রভাব প্রবল, তবুও তারা এমন কিছু স্থানে ব্যাখ্যা (تأويل) করে থাকে যেখানে তাদের সেই ব্যাখ্যা (تأويل) শব্দের অর্থ পরিবর্তনের (تحريف الكلم عن مواضعه) অন্তর্ভুক্ত।
আর যারা ব্যাখ্যার (تأويل) জ্ঞান রাখার দাবি করেছেন—যেমন সলফদের একটি দল, আহলুস সুন্নাহ এবং অধিকাংশ কালামশাস্ত্রবিদ ও বিদআতি—তাঁরাও মনে করেন যে টেক্সটসমূহ (نصوص) কুরআনের অর্থ উপলব্ধির প্রতি নির্দেশ করে। তাঁরা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সাথে এমন কোনো কালামের মাধ্যমে সম্বোধন করাকে অক্ষমতা, ত্রুটি ও কদর্য মনে করেছেন যা তারা পাঠ করে অথচ তা তারা বোঝে না। তাঁরা শ্রবণ ও যুক্তির ভিত্তিতে যে দলীল দিয়েছেন তাতে তাঁরা সঠিক। কিন্তু আল্লাহ যে ব্যাখ্যাকে (تأويل) নাকচ করেছেন এবং যে ব্যাখ্যাকে (تأويل) সাব্যস্ত করেছেন, তার অর্থ বুঝতে তাঁরা ভুল করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁদের মধ্যকার বিদআতিরা শব্দের অর্থ পরিবর্তনের (تحريف الكلم عن مواضعه) সুযোগ পেয়েছে। ফলে পূর্ববর্তীরা এক প্রকার অজ্ঞতার কারণে নীরবতা ও নিরাপত্তার কাছাকাছি ছিলেন, আর পরবর্তীরা অধিক কথা ও তর্কে জড়িয়েছেন, তবে তা ছিল আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ, না জেনে তাঁর সম্পর্কে কথা বলা এবং তাঁর নাম ও আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে বিকৃতি (إلحاد) করার শামিল। এই হলো বিষয়টি। আর এই সংশয়ের উৎস হলো 'তাকবিল' (تأويل) শব্দের একাধিক অর্থে ব্যবহার।
কেননা ফকিহ, কালামশাস্ত্রবিদ, হাদিসশাস্ত্রবিদ (محدثة) ও সুফীদের মতো পরবর্তী প্রজন্মের পরিভাষায় ব্যাখ্যা (تأويل) হলো কোনো শব্দকে তার শক্তিশালী অর্থ (المعنى الراجح) থেকে সরিয়ে কোনো সংলগ্ন প্রমাণের ভিত্তিতে দুর্বল অর্থের (المعنى المرجوح) দিকে ফিরিয়ে নেওয়া। এটিই সেই ব্যাখ্যা (تأويل) যা নিয়ে তাঁরা উসুলুল ফিকহ ও মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহে আলোচনা করেন। যখন তাঁদের কেউ বলেন: এই হাদিস বা এই টেক্সটটি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ (مؤول) অথবা এটি অমুক অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে, তখন অন্যজন বলেন: এটি এক প্রকার ব্যাখ্যা (تأويل) আর ব্যাখ্যার (تأويل) জন্য দলীলের প্রয়োজন।
আর যিনি ব্যাখ্যা (تأويل) করেন তাঁর দুটি দায়িত্ব রয়েছে: শব্দটি তিনি যে অর্থ দাবি করছেন তার সম্ভাবনা রাখে কি না তা স্পষ্ট করা এবং সেই অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আবশ্যকীয় দলীল বর্ণনা করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
عن المعنى الظاهر وهذا هو التأويل الذي يتنازعون فيه في مسائل الصفات إذا صنف بعضهم في إبطال التأويل أو ذم التأويل أو قال بعضهم آيات الصفات لا تؤول وقال الآخر: بل يجب تأويلها وقال الثالث: بل التأويل جائز يفعل عند المصلحة ويترك عند المصلحة أو يصلح للعلماء دون غيرهم إلى غير ذلك من المقالات والتنازع. وأما " التأويل " في لفظ السلف فله معنيان:
" أحدهما " تفسير الكلام وبيان معناه سواء وافق ظاهره أو خالفه فيكون التأويل والتفسير عند هؤلاء متقاربا أو مترادفا وهذا - والله أعلم - هو الذي عناه مجاهد أن العلماء يعلمون تأويله ومحمد بن جرير الطبري يقول في تفسيره: القول في تأويل قوله كذا وكذا واختلف أهل التأويل في هذه الآية ونحو ذلك ومراده التفسير.
و" المعنى الثاني " في لفظ السلف - وهو الثالث من مسمى التأويل مطلقا -: هو نفس المراد بالكلام فإن الكلام إن كان طلبا كان تأويله نفس الفعل المطلوب وإن كان خبرا كان تأويله نفس الشيء المخبر به.
وبين هذا المعنى والذي قبله بون؛ فإن الذي قبله يكون التأويل فيه من باب العلم والكلام كالتفسير والشرح والإيضاح ويكون وجود التأويل في القلب واللسان له الوجود الذهني واللفظي والرسمي.
وأما هذا فالتأويل فيه نفس الأمور الموجودة في الخارج سواء كانت ماضية أو مستقبلة.
فإذا قيل: طلعت الشمس فتأويل هذا نفس طلوعها. ويكون " التأويل " من باب الوجود العيني الخارجي فتأويل الكلام هو الحقائق الثابتة في الخارج بما هي عليه من صفاتها وشؤونها وأحوالها وتلك الحقائق لا تعرف على ما هي عليه بمجرد الكلام والإخبار إلا أن يكون المستمع قد تصورها أو تصور نظيرها بغير كلام وإخبار؛ لكن يعرف من صفاتها وأحوالها قدر ما أفهمه المخاطب: إما بضرب المثل وإما بالتقريب وإما بالقدر المشترك بينها وبين غيرها وإما بغير ذلك.
وهذا
বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) থেকে বিচ্যুত হওয়া; আর এটিই হলো সেই ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) যা নিয়ে সিফাত বা গুণাবলির (صفات) মাসআলাসমূহে তারা মতভেদ করেন। যখন তাদের কেউ ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) বাতিল করার বিষয়ে অথবা ব্যাখ্যাকরণের (تأويل) নিন্দায় কিতাব রচনা করেন, অথবা তাদের কেউ বলেন যে, গুণাবলি সম্পর্কিত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) করা যাবে না। আবার অন্যজন বলেন: বরং সেগুলোর ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) করা ওয়াজিব। আর তৃতীয় একজন বলেন: বরং ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) জায়েজ; জনস্বার্থে (مصلحة) তা করা হবে এবং জনস্বার্থেই তা বর্জন করা হবে, অথবা তা অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল আলেমদের (علماء) জন্য উপযোগী—এই জাতীয় আরও অনেক উক্তি ও মতবিরোধ রয়েছে। আর সালাফদের পরিভাষায় 'ব্যাখ্যাকরণ' (تأويل)-এর দুটি অর্থ রয়েছে:
তার মধ্যে একটি হলো: কথার ব্যাখ্যা (تفسير) করা এবং তার অর্থ স্পষ্ট করা, চাই তা তার বাহ্যিক অর্থের (ظاهر) অনুকূলে হোক বা প্রতিকূলে। ফলে তাদের নিকট ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) এবং ব্যাখ্যা (تفسير) পরস্পর কাছাকাছি বা সমার্থক (مترادف) শব্দ। আর আল্লাহ ভালো জানেন—মুজাহিদ এটিই বুঝিয়েছেন যে, আলেমগণ (علماء) তার ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) জানেন। আর মুহাম্মদ ইবনে জারির আল-তাবারি তার তাফসিরে বলেন: 'আল্লাহর অমুক বাণীর ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) প্রসঙ্গে আলোচনা', এবং 'এই আয়াতের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাকরণকারীগণ (أهل التأويل) মতভেদ করেছেন' এবং এই জাতীয় বক্তব্য; আর তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ব্যাখ্যা (تفسير)।
আর 'দ্বিতীয় অর্থটি'—যা সাধারণভাবে ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) নামকরণের তৃতীয় প্রকার—তাহলো: কোনো কথা দ্বারা যা উদ্দেশ্য করা হয়েছে সরাসরি সেটিই। কারণ কথাটি যদি কোনো দাবি বা নির্দেশ হয়, তবে তার ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) হলো সরাসরি সেই নির্দেশিত কাজটি সম্পাদন করা। আর যদি কথাটি কোনো সংবাদ (خبر) হয়, তবে তার ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) হলো সরাসরি সেই বিষয়টি যার সংবাদ দেওয়া হয়েছে।
এই অর্থ এবং এর পূর্ববর্তী অর্থের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। কারণ পূর্ববর্তী অর্থে ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) হলো জ্ঞান (علم) ও বাণীর অন্তর্ভুক্ত, যেমন ব্যাখ্যা (تفسير), বিশদ বর্ণনা (شرح) এবং স্পষ্টীকরণ (إيضاح)। এমতাবস্থায় অন্তরে এবং জিহ্বায় ব্যাখ্যাকরণের (تأويل) যে উপস্থিতি থাকে, তা হলো মানসিক (ذهني), মৌখিক (لفظي) এবং লিখিত (رسمي) অস্তিত্ব।
পক্ষান্তরে এই অর্থে ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) বলতে বাস্তব জগতে বিদ্যমান বিষয়গুলোকেই বুঝায়, চাই তা অতীত হোক বা ভবিষ্যৎ।
সুতরাং যখন বলা হয়: 'সূর্য উদিত হয়েছে', তখন এর ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) হলো সরাসরি সূর্যের সেই উদিত হওয়ার ঘটনাটি। এখানে ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) হলো বাহ্যিক ও চাক্ষুষ অস্তিত্বের (وجود عيني) অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কথার ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) হলো বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত সেই সব বাস্তবতা (حقائق), যা তার নিজস্ব গুণাবলি (صفات), অবস্থা ও শানের উপর বিদ্যমান। আর সেই বাস্তবতাগুলো (حقائق) নিছক কথা বা সংবাদের (خبر) মাধ্যমে হুবহু জানা সম্ভব নয়, যদি না শ্রোতা আগে থেকেই কথা বা সংবাদ ছাড়াই তা কল্পনা করে থাকে অথবা তার সদৃশ কিছু কল্পনা করে থাকে। তবে তার গুণাবলি (صفات) ও অবস্থা সম্পর্কে ততটুকুই জানা যায় যতটুকু বক্তা তাকে বুঝিয়েছেন: হয় উদাহরণ পেশ করার (ضرب المثل) মাধ্যমে, অথবা নিকটবর্তী করার (تقريب) মাধ্যমে, অথবা সেই বিষয় ও অন্য বিষয়ের মধ্যে বিদ্যমান সাধারণ গুণের (قدر مشترك) মাধ্যমে, অথবা অন্য কোনোভাবে।
وهذا
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الوضع والعرف الثالث هو لغة القرآن التي نزل بها. وقد قدمنا التبيين في ذلك. ومن ذلك قول يعقوب عليه السلام ليوسف: {وكذلك يجتبيك ربك ويعلمك من تأويل الأحاديث ويتم نعمته عليك} وقوله: {ودخل معه السجن فتيان قال أحدهما إني أراني أعصر خمرا وقال الآخر إني أراني أحمل فوق رأسي خبزا تأكل الطير منه نبئنا بتأويله إنا نراك من المحسنين} {قال لا يأتيكما طعام ترزقانه إلا نبأتكما بتأويله قبل أن يأتيكما} وقول الملأ: {أضغاث أحلام وما نحن بتأويل الأحلام بعالمين} {وقال الذي نجا منهما وادكر بعد أمة أنا أنبئكم بتأويله فأرسلوني} وقول يوسف لما دخل عليه أهله مصر {آوى إليه أبويه وقال ادخلوا مصر إن شاء الله آمنين} {ورفع أبويه على العرش وخروا له سجدا وقال يا أبت هذا تأويل رؤياي من قبل قد جعلها ربي حقا} . فتأويل الأحاديث التي هي رؤيا المنام هي نفس مدلولها التي تؤول إليه كما قال يوسف: {هذا تأويل رؤياي من قبل}
শব্দপ্রয়োগ ও প্রচলনের (الوضع والعرف) তৃতীয় স্তরটি হলো কুরআনের ভাষা, যে ভাষায় এটি অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা ইতিপূর্বেই এ বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর উক্তি: {এভাবেই তোমার রব তোমাকে মনোনীত করবেন এবং তোমাকে ঘটনাবলির ব্যাখ্যা (تأويل الأحاديث) শিক্ষা দেবেন এবং তোমার প্রতি তাঁর নিআমত পূর্ণ করবেন} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাঁর সাথে দুজন যুবক কারাগারে প্রবেশ করল। তাদের একজন বলল, ‘আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি আঙুর থেকে শরাব নিংড়াচ্ছি।’ অন্যজন বলল, ‘আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি মাথায় রুটি বহন করছি, যা থেকে পাখি খাচ্ছে। আমাদের এর ব্যাখ্যা (تأويله) বলে দিন। আমরা আপনাকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত দেখছি’} {ইউসুফ বললেন, ‘তোমাদের যে খাদ্য প্রদান করা হয় তা আসার আগেই আমি তোমাদের এর ব্যাখ্যা (بتأويله) বলে দেব’} এবং নেতৃবর্গের উক্তি: {এগুলো এলোমেলো স্বপ্ন (أضغاث أحلام) আর আমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় (بتأويل الأحلام) পারদর্শী নই} {এবং তাদের দুজনের মধ্য থেকে যে মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পর যার স্মরণে এসেছিল সে বলল, ‘আমি তোমাদের এর ব্যাখ্যা (بتأويله) জানিয়ে দেব, সুতরাং তোমরা আমাকে পাঠিয়ে দাও’} এবং ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর উক্তি যখন তাঁর পরিবার মিশরে তাঁর নিকট প্রবেশ করল {তিনি তাঁর পিতামাতাকে নিজের কাছে স্থান দিলেন এবং বললেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় আপনারা নিরাপদে মিশরে প্রবেশ করুন’} {এবং তিনি তাঁর পিতামাতাকে সিংহাসনে বসালেন এবং তাঁরা তাঁর সম্মানে সিজদাবনত হলেন। তিনি বললেন, ‘হে আমার পিতা! এটিই আমার আগের স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ণ (تأويل رؤياي), যা আমার রব সত্যে পরিণত করেছেন’}। সুতরাং ঘটনাবলির ব্যাখ্যা (تأويل الأحاديث), যা মূলত ঘুমের স্বপ্ন (رؤيا المنام), তা হলো সেই নির্দেশিত বিষয়ের বাস্তবতা যাতে তা পর্যবসিত হয়, যেমনটি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: {এটিই আমার আগের স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ণ (تأويل رؤياي)}।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والعالم بتأويلها: الذي يخبر به. كما قال يوسف: {لا يأتيكما طعام ترزقانه} أي في المنام {إلا نبأتكما بتأويله قبل أن يأتيكما} أي قبل أن يأتيكما التأويل.
وقال الله تعالى: {فإن تنازعتم في شيء فردوه إلى الله والرسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر ذلك خير وأحسن تأويلا} قالوا: أحسن عاقبة ومصيرا. فالتأويل هنا تأويل فعلهم الذي هو الرد إلى الكتاب والسنة. والتأويل في سورة يوسف تأويل أحاديث الرؤيا. والتأويل في الأعراف ويونس تأويل القرآن وكذلك في سورة آل عمران. وقال تعالى في قصة موسى والعالم: {قال هذا فراق بيني وبينك سأنبئك بتأويل ما لم تستطع عليه صبرا} إلى قوله: {وما فعلته عن أمري ذلك تأويل ما لم تسطع عليه صبرا} فالتأويل هنا تأويل الأفعال التي فعلها العالم من خرق السفينة بغير إذن صاحبها ومن قتل الغلام ومن إقامة الجدار فهو تأويل عمل لا تأويل قول. وإنما كان كذلك لأن التأويل مصدر أوله يؤوله تأويلا مثل حول تحويلا وعول تعويلا
وأول يؤول تعديه آل يئول أولا مثل حال يحول حولا. وقولهم: آل يئول أي عاد إلى كذا ورجع إليه ومنه " المآل " وهو ما يئول إليه الشيء ويشاركه في الاشتقاق الأكبر " الموئل " فإنه من وأل وهذا من أول. والموئل المرجع قال تعالى: {لن يجدوا من دونه موئلا} .
ব্যাখ্যা (تأويل) সম্পর্কে প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হলেন তিনি, যিনি সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেন। যেমন ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: "তোমাদেরকে যে খাদ্য প্রদান করা হয়, তা তোমাদের কাছে আসার পূর্বেই আমি তোমাদেরকে তার ব্যাখ্যা (تأويل) জানিয়ে দেব।" অর্থাৎ সেই ব্যাখ্যা বা বাস্তব রূপটি তোমাদের নিকট আসার পূর্বেই।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতভেদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণতির (تأويل) দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ।" মুফাসসিরগণ বলেছেন: এটি পরিণাম ও গন্তব্যের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ। সুতরাং এখানে ব্যাখ্যা (تأويل) বলতে তাদের সেই কর্মের ব্যাখ্যা বা বাস্তব রূপকে বোঝানো হয়েছে যা হলো কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা। আর সুরা ইউসুফে ব্যাখ্যা (تأويل) বলতে স্বপ্নের ঘটনাবলির ব্যাখ্যা বোঝানো হয়েছে। সুরা আল-আরাফ এবং সুরা ইউনুসে ব্যাখ্যা (تأويل) বলতে কুরআনের সংবাদের বাস্তব রূপ বা ব্যাখ্যা বোঝানো হয়েছে এবং সুরা আলে ইমরানেও অনুরূপ। আল্লাহ তাআলা মুসা (আলাইহিস সালাম) ও সেই বিদ্বান ব্যক্তির ঘটনায় বলেছেন: "সে বলল, এখানেই আমার ও তোমার মধ্যে বিচ্ছেদ। তুমি যে বিষয়গুলোতে ধৈর্য ধারণ করতে পারোনি, আমি তার ব্যাখ্যা (تأويل) তোমাকে জানিয়ে দিচ্ছি।" তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "আমি আমার নিজ ইচ্ছায় এ সব কিছু করিনি; এটিই হলো সেই বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা (تأويل) যার ওপর তুমি ধৈর্য ধারণ করতে পারোনি।" সুতরাং এখানে ব্যাখ্যা (تأويل) বলতে সেই কাজগুলোর নিহিত রহস্য বা যৌক্তিকতা বোঝানো হয়েছে যা সেই বিদ্বান ব্যক্তি করেছিলেন; যেমন মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে নৌকা ছিদ্র করা, বালককে হত্যা করা এবং প্রাচীর নির্মাণ করে দেওয়া। এটি কর্মের ব্যাখ্যা (تأويل), কোনো বাণীর ব্যাখ্যা নয়। আর বিষয়টি এমন হওয়ার কারণ হলো 'তাউয়িল' (تأويل) শব্দটি 'আউওয়ালা-ইউআউয়িলু' ক্রিয়ার ক্রিয়ামূল (مصدر), যেমন 'হাওওয়ালা' থেকে 'তাহউয়িল' এবং 'আউওয়ালা' থেকে 'তাউয়িল'।
'আউওয়ালা' ক্রিয়াটি 'আলা-ইয়াউলু' এর সকর্মক রূপ, যেমন 'হালা-ইয়াহুলু' থেকে 'হাওলান'। ভাষাবিদদের বক্তব্য অনুযায়ী: 'আলা-ইয়াউলু' অর্থ হলো কোনো কিছুর দিকে ফিরে যাওয়া বা প্রত্যাবর্তন করা। আর এ থেকেই 'মাআল' শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হলো কোনো বিষয় শেষ পর্যন্ত যেখানে গিয়ে পর্যবসিত হয়। বৃহৎ শব্দতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এর সাথে 'মুওয়াল' শব্দটিরও যোগসূত্র রয়েছে; কেননা 'মুওয়াল' শব্দটি 'ওয়ায়ালা' মূল থেকে এবং এটি (তাউয়িল) 'আওয়ালা' মূল থেকে উদ্ভূত। 'মুওয়াল' অর্থ হলো প্রত্যাবর্তনস্থল। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা তাঁকে ব্যতীত অন্য কোনো আশ্রয়স্থল পাবে না।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ومما يوافقه في اشتقاقه الأصغر " الآل " فإن آل الشخص من يئول إليه؛ ولهذا لا يستعمل إلا في عظيم بحيث يكون المضاف إليه أعظم من المضاف يصلح أن يئول إليه الآل كآل إبراهيم وآل لوط وآل فرعون بخلاف الأهل والأول أفعل لأنهم قالوا في تأنيثه أولى كما قالوا جمادى الأولى. وفي القصص: {له الحمد في الأولى والآخرة}
ومن الناس من يقول: فوعل ويقول: أولة. إلا أن هذا يحتاج إلى شاهد من كلام العرب؛ بل عدم صرفه يدل على أنه أفعل لا فوعل فإن فوعل مثل كوثر وجوهر مصروف، سمي المتقدم أول - والله أعلم - لأن ما بعده يئول إليه ويبنى عليه فهو أس لما بعده وقاعدة له. والصيغة صيغة تفضيل لا صفة مثل أكبر وكبرى وأصغر وصغرى لا من باب أحمر وحمراء؛ ولهذا يقولون: جئته من أول أمس وقال: {لمسجد أسس على التقوى من أول يوم} {وأنا أول المسلمين} {ولا تكونوا أول كافر به} فإذا قيل هذا أول هؤلاء فهو الذي فضل عليهم في الأول لأن كل واحد يرجع إلى ما قبله فيعتمد عليه وهذا السابق كلهم يئول إليه فإن من تقدم في فعل فاستن به من بعده كان السابق الذي يئول الكل إليه فالأول له وصف السؤدد والاتباع. ولفظ " الأول " مشعر بالرجوع والعود و " الأول " مشعر بالابتداء والمبتدأ؛ خلاف العائد لأنه إنما كان أولا لما بعده فإنه يقال: أول المسلمين وأول يوم فما
"আল" শব্দটির ক্ষুদ্রতর ব্যুৎপত্তি (اشتقاق الأصغر) এর সাথে এর অর্থের সামঞ্জস্য রয়েছে; কেননা কোনো ব্যক্তির "আল" হলো তারা, যারা তার দিকে প্রত্যাবর্তন করে। এই কারণেই শব্দটি কেবল মহান বা মর্যাদাপূর্ণ সত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেখানে যার দিকে সম্বন্ধ করা হচ্ছে সে সম্বন্ধকৃত বিষয়ের চেয়ে অধিক মহান হয়, যেন অনুসারীরা তার দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারে; যেমন ইবরাহিমের পরিবার, লুতের পরিবার এবং ফেরাউনের অনুসারীগণ। এটি "আহল" শব্দের ব্যতিক্রম। আর "আউয়াল" শব্দটি "আফআলু" (أفعل) ওজনের, কারণ আরবরা এর স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে "উলা" ব্যবহার করে থাকে, যেমনটি তারা "জুমাদাল উলা" বলে থাকে। সূরা আল-কাসাসে বর্ণিত হয়েছে: {ইহকাল ও পরকালে সমস্ত প্রশংসা কেবল তাঁরই।}
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ একে "ফাওআল" ওজনের এবং এর স্ত্রীলিঙ্গ "আউয়ালাহ" বলেন। তবে এর জন্য আরবদের বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে। বরং শব্দটির অপরিবর্তনীয়তা (عدم الصرف) প্রমাণ করে যে এটি "আফআলু" (أفعل) ওজনের, "ফাওআল" ওজনের নয়। কারণ "ফাওআল" ওজন—যেমন কাওসার ও জওহর—রূপান্তরযোগ্য (منصرف)। অগ্রগামীকে "আউয়াল" (প্রথম) বলা হয়—আল্লাহই ভালো জানেন—কেননা যা পরে আসে তা এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। সুতরাং এটি পরবর্তী বিষয়ের জন্য মূল ভিত্তি ও আদর্শ স্বরূপ। আর এর গঠনটি আধিক্যবোধক (تفضيل) রূপের, সাধারণ গুণবাচক (صفة) নয়; যেমন আকবার ও কুবরা এবং আসগার ও সুগরা। এটি "আহমার" ও "হামরা" এর মতো নিছক বর্ণনামূলক নয়। এ কারণেই তারা বলে: "আমি তার কাছে গত পরশু (আউয়াল আমসি) থেকে এসেছি।" আল্লাহ তাআলা বলেন: {যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত}, {আর আমিই মুসলিমদের মধ্যে প্রথম}, {আর তোমরা এর প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না}। সুতরাং যখন বলা হয় "এ এদের মধ্যে প্রথম", তখন এর অর্থ দাঁড়ায় সে প্রথম হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সবার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। কারণ প্রতিটি বিষয় তার পূর্ববর্তী বিষয়ের দিকে ফিরে যায় এবং তার ওপর নির্ভর করে। আর এই অগ্রগামী ব্যক্তির দিকেই সবাই প্রত্যাবর্তন করে। সুতরাং যে কোনো কাজে অগ্রণী হয় এবং পরবর্তীতে অন্যরা তাকে অনুসরণ করে, সেই অগ্রগামীই হলো সে যার দিকে সবাই ফিরে আসে। অতএব "আউয়াল" শব্দটির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব এবং অনুসৃত হওয়ার গুণ বিদ্যমান। "আউয়াল" শব্দটি মূলত প্রত্যাবর্তন ও ফিরে আসার ব্যঞ্জনা বহন করে এবং এটি আরম্ভ ও সূচনার ইঙ্গিত দেয়; যা প্রত্যাবর্তনকারীর বিপরীত। কেননা এটি তার পরবর্তী বিষয়ের সাপেক্ষে প্রথম হয়। যেমন বলা হয়: মুসলিমদের প্রথম এবং প্রথম দিন, যা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فيه من معنى الرجوع والعود هو للمضاف إليه لا للمضاف.
وإذا قلنا: آل فلان فالعود إلى المضاف؛ لأن ذلك صيغة تفضيل في كونه مآلا ومرجعا لغيره لأن كونه مفضلا دل على أنه مآل ومرجع لا آيل راجع؛ إذ لا فضل في كون الشيء راجعا إلى غيره آيلا إليه وإنما الفضل في كونه هو الذي يرجع إليه ويؤال إليه. فلما كانت الصيغة صيغة تفضيل أشعرت بأنه مفضل في كونه مآلا ومرجعا والتفضيل المطلق في ذلك يقتضي أن يكون هو السابق المبتدئ والله أعلم. فتأويل الكلام ما أوله إليه المتكلم أو ما يؤول إليه الكلام أو ما تأوله المتكلم؛ فإن التفعيل يجري على غير فعل كقول: {وتبتل إليه تبتيلا} فيجوز أن يقال تأول الكلام إلى هذا المعنى تأويلا وتأولت الكلام تأويلا وأولت الكلام تأويلا. والمصدر واقع موقع الصفة إذ قد يحصل المصدر صفة بمعنى الفاعل كعدل وصوم وفطر وبمعنى المفعول كدرهم ضرب الأمير وهذا خلق الله. فالتأويل: هو ما أول إليه الكلام أو يؤول إليه أو تأول هو إليه. والكلام إنما يرجع ويعود ويستقر ويئول ويؤول إلى حقيقته التي هي عين المقصود به كما قال بعض السلف في قوله {لكل نبإ مستقر} قال حقيقة فإنه إن كان خبرا فإلى الحقيقة المخبر بها يئول ويرجع وإلا لم تكن له حقيقة ولا مآل ولا مرجع بل كان كذبا وإن كان طلبا
এতে প্রত্যাবর্তন ও ফেরার যে অর্থ নিহিত রয়েছে, তা সম্বন্ধপদের (مضاف إليه) সাথে সংশ্লিষ্ট, সম্বন্ধীর (مضاف) সাথে নয়।
আর যখন আমরা বলি: 'অমুকের পরিবার' (আ-লু ফুলান), তখন ফেরার বিষয়টি সম্বন্ধীর (مضاف) দিকেই হয়ে থাকে; কারণ সেটি অন্যের জন্য গন্তব্য ও প্রত্যাবর্তনস্থল হওয়ার ক্ষেত্রে একটি অতিশয়বাচক রূপ (صيغة تفضيل)। কেননা তার শ্রেষ্ঠত্ব একথাই নির্দেশ করে যে, সে-ই হলো গন্তব্য ও প্রত্যাবর্তনস্থল, প্রত্যাবর্তনকারী নয়; কারণ কোনো বস্তু অন্য কিছুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী হওয়ার মধ্যে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, বরং শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত রয়েছে সে গন্তব্য হওয়ার মধ্যে যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয় এবং যার কাছে ফিরে আসা হয়। সুতরাং যখন এই রূপটি অতিশয়বাচক রূপ (صيغة تفضيل) হিসেবে ব্যবহৃত হলো, তখন তা এই ইঙ্গিত দিল যে, গন্তব্য ও প্রত্যাবর্তনস্থল হওয়ার ক্ষেত্রে সে-ই শ্রেষ্ঠ। আর এক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে যে, সে-ই হবে পূর্ববর্তী প্রারম্ভকারী। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। সুতরাং কথার ব্যাখ্যা বা পরিণতি (تأويل) হলো তা-ই, যার দিকে বক্তা কথাটিকে ফিরিয়ে নেয়, অথবা কথার যে চূড়ান্ত পরিণতি হয়, কিংবা বক্তা কথাটি দিয়ে যা ব্যক্ত করে; কারণ 'তাফয়ীল' (تفعيل) রূপটি অনেক সময় মূল ক্রিয়াপদ ব্যতিরেকেই ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তাঁর প্রতি পূর্ণরূপে নিবিষ্ট হোন।" অতএব এটি বলা বৈধ যে, কথাটি এই অর্থের দিকে পর্যবসিত হয়েছে, আর আমি কথাটিকে ব্যাখ্যা করেছি অথবা কথাটিকে একটি পরিণতির দিকে ফিরিয়ে নিয়েছি। আর ক্রিয়ামূলটি (مصدر) গুণের (صفة) স্থলাভিষিক্ত হয়; কেননা কখনো ক্রিয়ামূল (مصدر) কর্তার (فاعل) অর্থে গুণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়—যেমন 'ন্যায়পরায়ণ' (عدل), 'রোজা' (صوم) ও 'ইফতার' (فطر)—আবার কখনো কর্মের (مفعول) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন 'আমিরের মুদ্রা' (ضرب الأمير) এবং 'এটি আল্লাহর সৃষ্টি'। সুতরাং ব্যাখ্যা বা পরিণতি (تأويل) হলো তা-ই, যার দিকে কথাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, অথবা যা নিজে থেকে পরিণতির দিকে ধাবিত হয়। আর কথা কেবল তার সেই হাকিকত বা বাস্তবতার দিকেই ফিরে আসে, স্থির হয় এবং পর্যবসিত হয়, যা সেই কথাটি দ্বারা মূলত উদ্দেশ্য। যেমনটি কোনো কোনো পূর্বসূরী (سلف) মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছেন: "প্রত্যেক সংবাদের জন্য একটি স্থিরতা রয়েছে", তিনি বলেন: এটি হলো এর হাকিকত বা বাস্তবতা। কারণ যদি তা কোনো সংবাদ (خبر) হয়, তবে তা যে বিষয়ে সংবাদ দেওয়া হয়েছে সেই বাস্তবতার দিকেই পর্যবসিত ও প্রত্যাবর্তিত হয়; অন্যথায় এর কোনো বাস্তবতা, পরিণতি বা গন্তব্য থাকবে না, বরং তা মিথ্যায় পর্যবসিত হবে। আর যদি তা কোনো তলব বা নির্দেশ হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহি ওয়াত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فإلى الحقيقة المطلوبة يئول ويرجع وإن لم يكن مقصوده موجودا ولا حاصلا. ومتى كان الخبر وعدا أو وعيدا فإلى الحقيقة المطلوبة المنتظرة يئول كما {روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه تلا هذه الآية {قل هو القادر على أن يبعث عليكم عذابا من فوقكم أو من تحت أرجلكم أو يلبسكم شيعا} قال إنها كائنة ولم يأت تأويلها بعد} وعن عبد الله قال: خمس قد مضين البطشة واللزام والدخان والقمر والروم.
فصل:
وأما إدخال أسماء الله وصفاته أو بعض ذلك في المتشابه الذي لا يعلم تأويله إلا الله. أو اعتقاد أن ذلك هو المتشابه الذي استأثر الله بعلم تأويله كما يقول كل واحد من القولين طوائف من أصحابنا وغيرهم. فإنهم وإن أصابوا في كثير مما يقولونه ونجوا من بدع وقع فيها غيرهم فالكلام على هذا من وجهين:
الأول:
من قال: إن هذا من المتشابه وأنه لا يفهم معناه فنقول أما الدليل على [بطلان] ذلك فإني ما أعلم عن أحد من سلف الأمة ولا من الأئمة لا أحمد بن حنبل ولا غيره أنه جعل ذلك من المتشابه الداخل في هذه الآية ونفى أن يعلم أحد معناه. وجعلوا أسماء الله وصفاته بمنزلة الكلام الأعجمي الذي لا يفهم ولا قالوا: إن الله ينزل كلاما لا يفهم أحد معناه وإنما قالوا كلمات لها معان صحيحة. قالوا في أحاديث الصفات: تمر كما جاءت.
সুতরাং এটি কাঙ্ক্ষিত বাস্তবতার দিকেই পর্যবসিত হয় এবং ফিরে যায়, যদিও তার উদ্দেশ্য বর্তমানে বিদ্যমান বা অর্জিত না হয়। আর যখন কোনো সংবাদ (خبر) প্রতিশ্রুতি বা সতর্কবাণী হয়, তখন তা প্রতীক্ষিত কাঙ্ক্ষিত বাস্তবতার দিকেই পর্যবসিত হয়। যেমন {নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {বলুন, তিনি তোমাদের ওপর তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ হতে অথবা তোমাদের পদতল হতে আজাব পাঠাতে অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দিতে সক্ষম।} তিনি বললেন: এটি সংঘটিত হবে এবং এর প্রকৃত ব্যাখ্যা (تأويل) এখনো আসেনি।} আর আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: পাঁচটি বিষয় গত হয়ে গেছে: পাকড়াও (আল-বাতশাহ), অটল থাকা (আল-লিযাম), ধোঁয়া (আদ-দুখান), চন্দ্র (আল-কামার) এবং রোম (আর-রুম)।
পরিচ্ছেদ:
আর আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলী (صفات) অথবা এর কিছু অংশকে অস্পষ্ট (المتشابه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করা, যার প্রকৃত ব্যাখ্যা (تأويل) আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না—অথবা এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, এটিই সেই অস্পষ্ট (المتشابه) বিষয় যার প্রকৃত ব্যাখ্যার (تأويل) জ্ঞান আল্লাহ নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন; যেমনটি আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে কোনো কোনো গোষ্ঠী এবং অন্যরা বলে থাকেন। তারা যদিও তাদের বক্তব্যের অনেক ক্ষেত্রে সঠিক এবং অন্যরা যেসব বিদআতে (بدع) লিপ্ত হয়েছে তা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছেন, তবে এ বিষয়ে আলোচনা দুটি দিক থেকে হতে পারে:
প্রথমত:
যারা বলেন যে, এটি অস্পষ্ট (المتشابه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং এর অর্থ বুঝা যায় না, তাদের প্রতি আমাদের বক্তব্য—এই মতের [অসারতার] প্রমাণ হলো, আমি উম্মতের পূর্বসূরি (سلف) বা ইমামদের (الأئمة) কারো সম্পর্কে জানি না, এমনকি আহমদ ইবনে হাম্বল বা অন্য কেউও নন, যিনি বিষয়টিকে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত অস্পষ্ট (المتشابه) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং কেউ এর অর্থ জানতে পারে—এমন সম্ভাবনাকে নাকচ করেছেন। তারা আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলীকে (صفات) কোনো অনারব বাক্যের ন্যায় গণ্য করেননি যা বোঝা যায় না, আর তারা এমনটিও বলেননি যে, আল্লাহ এমন কালাম অবতীর্ণ করেন যার অর্থ কেউ বোঝে না। বরং তারা একে এমন শব্দ হিসেবে গণ্য করেছেন যার সঠিক অর্থ রয়েছে। গুণাবলী (صفات) সম্পর্কিত হাদিসগুলোর ব্যাপারে তারা বলেছেন: এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিবাহিত করো।