(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
البدع الحولية   (عبد الله بن عبد العزيز التويجري)

القسم: العقيدة


الكتاب: البدع الحولية

إعداد: عبد الله بن عبد العزيز بن أحمد التويجري

الناشر: دار الفضيلة للنشر والتوزيع، الرياض

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 441

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বার্ষিক বিদআতসমূহ   (আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আত-তুওয়াইজিরি)

বিভাগ: আকিদা


বই: বার্ষিক বিদআতসমূহ

রচনা: আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ বিন আহমদ আত-তুওয়াইজিরি

প্রকাশক: দারুল ফজিলা প্রকাশনা ও বিতরণ, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪১

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
البدع الحولية

إعداد

عبد الله بن عبد العزيز بن أحمد التويجري

هذا الكتاب رسالة علمية تقدم بها المؤلف لنيل درجة الماجستير في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية قسم العقيدة، ومنح صاحبها درجة الماجستير بتقدير ممتاز عام 1406 هـ
বাৎসরিক বিদআতসমূহ

প্রস্তুতকরণে

আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ বিন আহমাদ আত-তুওয়াইজরি

এই বইটি একটি গবেষণামূলক সন্দর্ভ যা লেখক ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আকিদাহ বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশ করেছেন এবং এর লেখককে ১৪০৬ হিজরি সালে ‘মুমতাজ’ (চমৎকার) ফলাফলসহ মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدّمَة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه، ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد:

فإنه لا يشك مسلم في أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يفارق الدنيا ويلتحق بالرفيق الأعلى إلا بعد أن أكمل الله هذا الدين الحنيف، قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإسْلامَ دِيناً} (1) ، وجعل رسوله صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين، قال تعالى: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيماً} (2) . وأن هذا الدين المؤسس على كتاب الله الكريم، وسنة نبيه عليه أتم الصلاة وأزكى التسليم، صالح لكل زمان ومكان، كفيل بكل ما يحتاجه البشر، ولذلك أمرنا الله باتباعه فقال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} (3) .

وأمرنا أن نطيع رسوله صلى الله عليه وسلم فقال عز من قائل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} (4) . وأمرنا برد كل ما يقع فيه النزاع إليه سبحانه وتعالى وإلى رسول صلى الله عليه وسلم، فقال عز وجل: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} (5) .

فما دام أن الدين كامل، وليس في حاجة إلى زيادة، فلا حاجة إذن لإحداث البدع

--------------------------------------------

(1) - سورة المائدة: الآية3.

(2) - سورة الأحزاب:40.

(3) - سورة الأنعام:153.

(4) - سورة الحشر: الآية7.

(5) - سورة النساء: الآية59.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করি। আমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

কোনো মুসলিমের মনে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলা এই নিষ্ঠাপূর্ণ দ্বীনকে পরিপূর্ণ করার আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া ত্যাগ করেননি এবং মহান বন্ধুর সাথে মিলিত হননি। মহান আল্লাহ বলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" (১), এবং তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী বানিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারো পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আর আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।" (২)। আর আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত এই দ্বীন—তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক—সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য উপযোগী এবং মানুষের প্রয়োজনীয় সবকিছুর নিশ্চয়তা প্রদানকারী। আর এই কারণেই আল্লাহ আমাদের তাঁর অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: "আর এটিই আমার সঠিক পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।" (৩)।

এবং তিনি আমাদের তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: "রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।" (৪)। এবং তিনি আমাদের মধ্যে যা কিছুতে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় তা তাঁর (আল্লাহর) দিকে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই উত্তম এবং পরিণামে অতি উৎকৃষ্ট।" (৫)।

যেহেতু এই দ্বীন পূর্ণাঙ্গ এবং এতে কোনো কিছু সংযোজনের প্রয়োজন নেই, তাই নতুন করে বিদআত উদ্ভাবন করারও কোনো প্রয়োজন নেই।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৩।

(২) - সূরা আল-আহযাব: ৪০।

(৩) - সূরা আল-আনআম: ১৫৩।

(৪) - সূরা আল-হাশর: আয়াত ৭।

(৫) - সূরা আন-নিসা: আয়াত ৫৯।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
في الدين، والتقُّرب بذلك إلى رب العالمين، ومن أحدث بدعة واستحسنها فقد أتى بشرع زائد، واتهم الشريعة بالنقص، وكأنه استدرك على الله- سبحانه وتعالى وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم، وكفى بذلك قبحاً. ولكن أعداء الإسلام، ومن يغيظهم انتشاره، حسَّنُوا لبعض الناس البدع، وأظهروها بمظاهر براقة خادعة، وكسوها بمظهر الزهد، والتقرب إلى الله، ومحبة النبي صلى الله عليه وسلم، وقصدهم كله إفساد دينهم، ومزاحمة المشروع بالمبتدع، حتى تكون السنن مستغربة، والبدع تقوم مقامها!.

وقد روَّج لهذه البدع بعضُ علماء السوء، وأرباب الطرق (1) الذين جعلوا من ذلك سبيلاً إلى رئاسة الناس، وكسب الأموال، حتى انتشرت في العالم الإسلامي انتشار النار في الهشيم، وصار عامة الناس يعدونها أموراً مشروعة يجب المحافظة عليها، مع تركهم لكثير من السنن المشروعة!.

ولزوم السنة ومحاربة البدعة من الأمور التي تجب على عامة المسلمين، وعلى العلماء وطلاب العلم خاصة.

والبدع من المنكرات التي يجب تغييرها على حسب القدرة: إما باليد، أو باللسان، أو بالقلب.

ومن هذا المنطلق، فقد اخترت الكتابة في هذا الموضوع وهو [البدع الحولية]- والمراد بها: البدع التي تتكرر كل حول في وقت معين منه - أداءً لهذا الواجب على حسب قدرتي واطلاعي المحدود، لاسيما وأن كثيراً من البدع قد تفشى في كثير من البلدان الإسلامية في الوقت الحاضر.

والحمد لله الذي حفظ هذه البلاد من كثير من البدع والضلالات بفضله سبحانه وتعالى، ثم بفضل الشيخ محمد بن عبد الوهاب - رحمه الله تعالى - الذي كان لدعوته كبير الأثر في محاربة البدع، ورجوع الناس إلى العقيدة الصحيحة.

 

‌‌أسباب اختيار الموضوع:

بما أني أحد الدارسين بكلية أصول الدين بالرياض، قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة، وكان نظام الدراسات العليا في هذه الكلية ينص على أن الطالب يدرس سنة

--------------------------------------------

(1) - المراد: أرباب الطرق الصوفية.
দ্বীনের মধ্যে, এবং এর মাধ্যমে রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য অর্জনের ক্ষেত্রে। যে ব্যক্তি কোনো বিদআত উদ্ভাবন করল এবং তাকে উত্তম মনে করল, সে মূলত একটি অতিরিক্ত শরীয়ত নিয়ে এল এবং শরীয়তকে অসম্পূর্ণ হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করল। যেন সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সংশোধন করল। আর কদর্যতার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। কিন্তু ইসলামের শত্রুরা এবং যাদের নিকট ইসলামের প্রচার-প্রসার বিরক্তির কারণ, তারা কিছু মানুষের সামনে বিদআতগুলোকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে এবং সেগুলোকে চাকচিক্যময় ও প্রতারণামূলক চেহারায় প্রকাশ করেছে। সেগুলোকে যহদ (দুনিয়া বিমুখতা), আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার আবরণে আবৃত করেছে। অথচ তাদের পুরো উদ্দেশ্য হলো মানুষের দ্বীনকে নষ্ট করা এবং সুন্নাহর স্থলে বিদআতকে স্থলাভিষিক্ত করা, যাতে করে সুন্নাহগুলো অপরিচিত হয়ে যায় এবং বিদআতগুলো সেগুলোর স্থান দখল করে নেয়!

আর এই বিদআতগুলোর প্রচার চালিয়েছে কিছু মন্দ আলেম এবং তরীকার প্রধানরা (১), যারা একে মানুষের ওপর নেতৃত্ব লাভের এবং অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে। এমনকি এগুলো মুসলিম বিশ্বে খড়কুটোয় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ এগুলোকে শরীয়তসম্মত বিষয় হিসেবে গণ্য করতে শুরু করেছে যা রক্ষা করা আবশ্যক, যদিও তারা অনেক শরীয়তসম্মত সুন্নাহ বর্জন করে চলছে!

সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং বিদআতের বিরুদ্ধে লড়াই করা এমন বিষয় যা সাধারণ মুসলিম এবং বিশেষ করে আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের ওপর ওয়াজিব।

আর বিদআত হলো সেই সব অপকর্মের (মুনকারাত) অন্তর্ভুক্ত যা সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবর্তন করা ওয়াজিব: হয় হাত দ্বারা, নতুবা জিহ্বা দ্বারা, অথবা অন্তর দ্বারা।

আর এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমি এই বিষয়ে লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর তা হলো [বার্ষিক বিদআতসমূহ]—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সেই সব বিদআত যা প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে পুনরাবৃত্তি হয়—যাতে আমার সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধ জ্ঞান অনুযায়ী এই দায়িত্ব পালন করা যায়, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে অনেক বিদআত বিভিন্ন মুসলিম দেশে ছড়িয়ে পড়ার কারণে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর অনুগ্রহে এই দেশকে অনেক বিদআত ও পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করেছেন, অতঃপর শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব -রহিমাহুল্লাহ তা'আলা- এর অবদানের মাধ্যমে, যাঁর দাওয়াত বিদআত দূর করতে এবং মানুষের সহীহ আকীদায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল।

 

‌‌বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ:

যেহেতু আমি রিয়াদের কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দীন (ধর্মতত্ত্ব অনুষদ), আকীদা ও সমকালীন মতবাদ বিভাগের একজন ছাত্র এবং এই অনুষদের উচ্চতর শিক্ষার নিয়ম অনুযায়ী একজন ছাত্রকে এক বছর পড়তে হয়...

--------------------------------------------

(১) - উদ্দেশ্য: সূফী তরীকাগুলোর প্রধানগণ।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيدية يقدم بعدها بحثاً علمياً يتناول جانباً من جوانب الحياة في مجال تخصصه، فقد بذلت جهدي في العثور على موضوع يكون ذا فائدة علمية، فوقع اختياري على موضوع (البدع الحولية) . وعلى الرغم مما وجدته من صعوبة في البحث عن هذه البدع ولم شتاتها، فقد اخترت هذا الموضوع لعدة أسباب، منها:

انتشار كثير من البدع في البلاد الإسلامية، بل إن بعض الناس في تلك البلدان اعتبر بعض البدع سنناً يجب المحافظة عليها، كاحتفالهم بالمولد النبوي ونحوه.

أن من أهم أسباب انتشار البدع هو سكوت العلماء وطلاب العلم عن إنكار هذه البدع، واختياري الكتابة في هذا البحث من باب المشاركة في إنكار هذه المنكرات.

ولما كانت هذه البدع منتشرة ومتفرقة في بطون الكتب، أحببت جمعها وتحقيقها، وتقريبها لذهن القارئ، مسلسلة حسب أزمانها، والاستشهاد بكلام العلماء في حكمهم على هذه الأمور المحدثة بأنها بدع منكرة.

وكذلك تحقيق الخلاف في بعض الأمور التي اختلف العلماء في حكمها: كعتيرة رجب، والتعريف يوم عرفة، ونحو ذلك.

الإشارة إلى بعض الاحتفالات المبتدعة، والتي صار لها رواج بين المسلمين، إلا من عصم الله، ولم يذكرها أغلب العلماء ممن صنفوا في هذا المجال، كالاحتفال بأعياد الميلاد، ورأس السنة الهجرية، وغير ذلك من الاحتفالات المحدثة.

الرغبة في الإلمام قدر الاستطاعة بما صنفه العلماء حول هذا الموضوع.

وقد سرت في إعداد البحث على خطة تشمل على:

مقدمة، وتمهيد، وتسعة فصول، وخاتمة.

أما المقدمة:

فقد تناولت فيها أهمية الموضوع، وأسباب اختياري له، والمنهج الذي سأسلكه - إن شاء الله تعالى - في معالجة موضوعاته.

وأما التمهيد:

فقد تكلمت فيه عن البدع:

أولاً: تعريف البدع لغة واصطلاحاً.
একটি উপক্রমণিকা যার পর এমন একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পেশ করা হয় যা গবেষকের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের জীবনের একটি দিক নিয়ে আলোচনা করে। আমি একটি বৈজ্ঞানিক উপযোগিতা সম্পন্ন বিষয় খুঁজে বের করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, অতঃপর আমার পছন্দটি 'বার্ষিক বিদআতসমূহ' (আল-বিদ' আল-হাওলিয়্যাহ) বিষয়ের ওপর স্থির হয়েছে। এই বিদআতগুলো অনুসন্ধান করা এবং সেগুলোর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্র করার ক্ষেত্রে যে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি, তা সত্ত্বেও আমি বেশ কিছু কারণে এই বিষয়টি বেছে নিয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে:

ইসলামিক দেশগুলোতে অনেক বিদআতের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার, এমনকি ওইসব দেশের কিছু মানুষ কিছু বিদআতকে এমন সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করেছে যা রক্ষা করা আবশ্যক, যেমন—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মবার্ষিকী (মাওলিদ) পালন করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

বিদআত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই বিদআতগুলোকে প্রত্যাখ্যান বা নিষেধ করার ক্ষেত্রে আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের নীরবতা। এই গবেষণাপত্রটি লেখার ক্ষেত্রে আমার নির্বাচন মূলত এই অপছন্দনীয় বিষয়গুলো বা মুনকারাতগুলো প্রত্যাখ্যান করার কাজে অংশগ্রহণের অংশ হিসেবে।

যেহেতু এই বিদআতগুলো বিভিন্ন কিতাবের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল, তাই আমি এগুলোকে সংকলন ও যাচাই-বাছাই করা এবং পাঠকের কাছে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা পছন্দ করেছি। এক্ষেত্রে আমি বিষয়গুলোকে তাদের সময়ানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি এবং এই নবউদ্ভাবিত বিষয়গুলোকে 'প্রত্যাখ্যাত বিদআত' হিসেবে অভিহিত করার ক্ষেত্রে আলেমদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়েছি।

পাশাপাশি এমন কিছু বিষয়ের মতপার্থক্য পর্যালোচনা করা যেগুলোর বিধানের ব্যাপারে আলেমগণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন: যেমন রজব মাসের 'আতিরাহ' কুরবানি, আরাফার দিনে 'তারীফ' (নিজ এলাকায় সমবেত হওয়া) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।

এমন কিছু বিদআতী উৎসবের দিকে ইঙ্গিত করা যা মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত হয়ে গেছে—যাদের আল্লাহ রক্ষা করেছেন তারা ব্যতীত—এবং এই বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন সেইসব আলেমদের অধিকাংশ তা উল্লেখ করেননি, যেমন জন্মদিন পালন, হিজরি নববর্ষ উদযাপন এবং অন্যান্য নবউদ্ভাবিত উৎসবসমূহ।

এই বিষয়ে আলেমগণ যা কিছু রচনা করেছেন সে সম্পর্কে যথাসম্ভব সম্যক জ্ঞান অর্জনের আকাঙ্ক্ষা।

আমি এই গবেষণাটি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি যার অন্তর্ভুক্ত হলো:

একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, নয়টি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার।

ভূমিকা প্রসঙ্গে:

এতে আমি বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণ এবং এর আলোচ্য বিষয়গুলো আলোচনার ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করব—ইনশাআল্লাহ তাআলা—তা উল্লেখ করেছি।

আর উপক্রমণিকা প্রসঙ্গে:

এতে আমি বিদআত সম্পর্কে আলোচনা করেছি:

প্রথমত: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে বিদআতের সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ثانياً: حكم البدع في الإسلام.

ثالثاً: أسباب نشأة البدع.

رابعاً: أول بدعة ظهرت في الإسلام.

خامساً: أسباب انتشار البدع.

سادساً: آثار البدع على المجتمع.

سابعاً: وسائل الوقاية من البدع.

ثامناً: البدع الحولية.

ثم تسعة فصول على النحو التالي:

الفصل الأول:

شهر المحرم: ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: بعض الآثار الواردة فيه.

المبحث الثاني: البدعة الحزن فيه عند الرافضة.

المبحث الثالث: بدعة الفرح فيه عند النواصب.

الفصل الثاني:

شهر صفر: ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: بعض الآثار الواردة فيه.

المبحث الثاني: بدعة التشاؤم به.

الفصل الثالث:

شهر ربيع الأول: بدعة الاحتفال بالمولد النبوي: ويشمل على ستة مباحث:

المبحث الأول: أول من أحدث هذه البدعة.

المبحث الثاني: حالة المجتمع في ذلك العصر.

المبحث الثالث: بعض الشبه التي عرضت للقائلين بهذه البدعة والجواب عنها.

المبحث الرابع: طريقة إحياء المولد.

المبحث الخامس: حقيقة محبته صلى الله عليه وسلم.
দ্বিতীয়ত: ইসলামে বিদআতের বিধান।

তৃতীয়ত: বিদআত সৃষ্টির কারণসমূহ।

চতুর্থত: ইসলামে প্রকাশিত প্রথম বিদআত।

পঞ্চমত: বিদআত ছড়িয়ে পড়ার কারণসমূহ।

ষষ্ঠত: সমাজে বিদআতের প্রভাব।

সপ্তমত: বিদআত থেকে বাঁচার উপায়সমূহ।

অষ্টমত: বার্ষিক বিদআতসমূহ।

এরপর নিম্নোক্ত নয়টি অধ্যায়:

প্রথম অধ্যায়:

মহররম মাস: এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এ মাস সম্পর্কে বর্ণিত কিছু বর্ণনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাফেজিদের নিকট এ মাসের শোক পালনের বিদআত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নাওয়াসিবদের নিকট এ মাসের আনন্দ উদযাপনের বিদআত।

দ্বিতীয় অধ্যায়:

সফর মাস: এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এ মাস সম্পর্কে বর্ণিত কিছু বর্ণনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এ মাসকে অশুভ মনে করার বিদআত।

তৃতীয় অধ্যায়:

রবিউল আউয়াল মাস: মিলাদুন্নবী পালনের বিদআত: এটি ছয়টি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এই বিদআত সর্বপ্রথম কে উদ্ভাবন করেছে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তৎকালীন যুগের সামাজিক অবস্থা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই বিদআতের প্রবক্তাদের উপস্থাপিত কিছু সংশয় এবং তার উত্তর।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মিলাদ উদযাপনের পদ্ধতি।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত স্বরূপ।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث السادس: موقف أهل السنة من هذه البدعة.

الفصل الرابع:

شهر رجب: ويشتمل على خمسة مباحث:

المبحث الأول: بعض الآثار الواردة فيه.

المبحث الثاني: ويحتوي علي مطلبين.

* المطلب الأول: تعظيم الكفار لشهر رجب.

* المطلب الثاني: عتيرة رجب.

المبحث الثالث: بدعة تخصيصه بالصيام أو القيام وحكم العمرة فيه والزيارة الرجبية.

المبحث الرابع: بدعة صلاة الرغائب.

المبحث الخامس: بدعة الاحتفال بليلة الإسراء والمعراج.

الفصل الخامس:

شهر شعبان، ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: بعض الآثار الواردة فيه.

المبحث الثاني: بدعة الاحتفال بليلة النصف من شعبان.

المبحث الثالث: بدعة الصلاة الألفية.

الفصل السادس:

شهر رمضان: ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: فضل هذا الشهر وما ورد فيه.

المبحث الثاني: بعض البدع التي تقام في هذا الشهر.

أولاً: قراءة سورة الأنعام.

ثانياً: بدعة صلاة التراويح بعد المغرب.

ثالثاً: بدعة صلاة القدر.

رابعاً: بدعة القيام عند ختم القرآن في رمضان بسجدات القرآن
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এই বিদআতের ব্যাপারে আহলে সুন্নতের অবস্থান।

চতুর্থ অধ্যায়:

রজব মাস: এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এই মাসে বর্ণিত কিছু আসার (বিবরণ)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি দুটি পাঠ সংবলিত:

* প্রথম পাঠ: কাফিরদের নিকট রজব মাসের সম্মান।

* দ্বিতীয় পাঠ: রজবের আতীরা (কুরবানি)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই মাসকে সিয়াম বা কিয়ামের জন্য নির্দিষ্ট করার বিদআত এবং এতে উমরাহ ও রজবীয়াহ জিয়ারতের বিধান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সালাতুর রাগায়িবের বিদআত।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মিরাজের রাত উদযাপনের বিদআত।

পঞ্চম অধ্যায়:

শাবান মাস: এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এই মাসে বর্ণিত কিছু আসার।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মধ্য-শাবানের রাত উদযাপনের বিদআত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সালাতুল আলফিয়ার বিদআত।

ষষ্ঠ অধ্যায়:

রমজান মাস: এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এই মাসের ফজিলত এবং এই বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই মাসে প্রচলিত কিছু বিদআত।

প্রথমত: সূরা আল-আনআম পাঠ করা।

দ্বিতীয়ত: মাগরিবের পর তারাবিহ সালাতের বিদআত।

তৃতীয়ত: সালাতুল কদরের বিদআত।

চতুর্থত: রমজানে কুরআন খতমের সময় কুরআনের সিজদাহসমূহের মাধ্যমে কিয়াম করার বিদআত।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
كلها في ركعة.

خامساً: بدعة سرد آيات الدعاء.

سادساً: بدعة الذكر بعد التسليمتين من صلاة التراويح.

سابعاً: بعض بدع ليلة ختم القرآن.

ثامناً: بدعة التسحير.

تاسعاً: البدع المتعلقة برؤية هلال رمضان.

عاشراً: بدعة حفيظة رمضان.

أحد عشر: بدعة قرع النحاس آخر الشهر.

اثنا عشر: بدعة وداع رمضان.

ثلاثة عشر: بدعة الاحتفال بذكرى غزوة بدر.

الفصل السابع:

شهر شوال، ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: بعض الآثار الواردة فيه.

المبحث الثاني: بدعة التشاؤم من الزواج فيه

المبحث الثالث: بدعة عيد الأبرار.

الفصل الثامن:

شهر ذي الحجة، ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: بعض الآثار الواردة فيه.

المبحث الثاني: بدعة التعريف.

المبحث الثالث: بدعة عيد غدير خم.

الفصل التاسع:

مشابهة المسلمين للكفار في أعيادهم. ويشتمل على ثمانية مباحث:

المبحث الأول: الاحتفال بعيد ميلاد المسيح.
সবগুলো এক রাকাতে।

পঞ্চম: দোয়ার আয়াতগুলো একাধারে পাঠ করার বিদআত।

ষষ্ঠ: তারাবিহ সালাতের প্রতি দুই সালামের পর জিকির করার বিদআত।

সপ্তম: কুরআন খতমের রাতের কিছু বিদআত।

অষ্টম: তাস‌হীর (সাহরির জন্য ডাকার বিশেষ পদ্ধতি) বিদআত।

নবম: রমজানের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত বিদআতসমূহ।

দশম: হাফিজায়ে রমজানের বিদআত।

একাদশ: মাসের শেষে তামা বা পিতল পেটানোর বিদআত।

দ্বাদশ: রমজানকে বিদায় জানানোর বিদআত।

ত্রয়োদশ: বদর যুদ্ধের বার্ষিকী পালনের বিদআত।

সপ্তম অধ্যায়:

শাওয়াল মাস, এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে বর্ণিত কিছু আসার (বর্ণনা)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই মাসে বিবাহ করাকে অশুভ মনে করার বিদআত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ঈদুল আবরারের বিদআত।

অষ্টম অধ্যায়:

জিলহজ মাস, এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে বর্ণিত কিছু আসার।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আত-তারীফ (আরাফাতের দিন নিজ শহরের মসজিদে সমবেত হওয়া)-এর বিদআত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ঈদে গাদীরে খুমের বিদআত।

নবম অধ্যায়:

কাফেরদের উৎসবে মুসলমানদের সাদৃশ্য অবলম্বন। এটি আটটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মসীহের জন্মদিন (ক্রিসমাস) উদযাপন।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثاني: الاحتفال بالنيروز.

المبحث الثالث: الاحتفال بأعياد الميلاد.

المبحث الرابع: الاحتفالات والأعياد المحدثة.

المبحث الخامس: الاحتفال برأس السنة الهجرية.

البحث السادس: الاحتفال برأس القرن الهجري.

المبحث السابع: الاحتفال بذكرى بعض العلماء.

المبحث الثامن: مشروعية مخالفة أهل الكتاب.

الخاتمة:

وذكرت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها من خلال هذا البحث.

 

‌‌منهجي في إعداد البحث.

أفردت كل شهر بفصل خاص، ذكرت في مقدمته بعض الآثار الواردة فيه، وأشرت في بعض الأشهر إلى بعض الأحاديث الموضوعة، وهناك بعض الأشهر لم أعثر فيما اطلعت عليه من كتب السنة على آثار في فضله كشهر ربيع الأول.

ذكرت أشهر البدع التي تحدث في كل شهر من شهور السنة الهجرية مستشهداً بكلام الأئمة الأعلام، وبعض العلماء، على كون هذه الأمور مبتدعة، ليس لها أصل من الكتابة أو السنة أو الإجماع. وهناك بعض الأشهر لم أجد-حسب اطلاعي المحدود- أحداً من العلماء ذكر فيها شيئاً من البدع-كشهر ربيع الثاني، وشهري جماد الأولى والثاني، وشهر ذي القعدة -.

حققت الخلاف - قدر استطاعتي - في بعض الأمور التي اختلف العلماء فيها كعتيرة رجب، وليلة النصف من شعبان، والتعريف يوم عرفة، وذكرت ما ترجح لي في الحكم على هذه الأمور.

ذكرت بعض الاحتفالات المحدثة، التي أصلها التشبّه بأهل الكتاب وغيرهم، في احتفالاتهم الباطلة ثم عقبت ذلك بذكر بعض الأدلة من الكتاب والسنة والآثار والاعتبار على النهي عن التشبه بأهل الكتاب عموماً، وعن مشابهتهم في احتفالاتهم وأعيادهم خصوصاً.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নওরোজ উদযাপন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জন্মদিন উদযাপন।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নবউদ্ভাবিত উদযাপন ও উৎসবসমূহ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: হিজরি নববর্ষ উদযাপন।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: হিজরি শতাব্দীর প্রারম্ভ উদযাপন।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: কতিপয় আলেমের স্মরণসভা উদযাপন।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করার বিধান।

উপসংহার:

এতে আমি এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করেছি।

 

‌‌গবেষণা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি.

আমি প্রতিটি মাসকে একটি বিশেষ অধ্যায়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, যার ভূমিকায় আমি উক্ত মাস সম্পর্কে বর্ণিত কিছু আছার উল্লেখ করেছি। কোনো কোনো মাসের ক্ষেত্রে আমি কিছু জাল হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছি। আবার এমন কিছু মাসও রয়েছে যেগুলোর ফজিলত সম্পর্কে আমি সুন্নাহর কিতাবসমূহে আমার জানামতে কোনো আছার খুঁজে পাইনি, যেমন রবিউল আউয়াল মাস।

আমি হিজরি বছরের প্রতিটি মাসে সচরাচর ঘটে থাকে এমন প্রসিদ্ধ বিদআতগুলো উল্লেখ করেছি এবং প্রখ্যাত ইমাম ও আলেমগণের বক্তব্যের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো যে নবউদ্ভাবিত এবং কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমার ভিত্তিতে এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই, তা প্রমাণ করেছি। আমার সীমিত জানাশোনা অনুযায়ী, এমন কিছু মাস রয়েছে যেগুলোতে কোনো আলেম কোনো বিদআতের কথা উল্লেখ করেছেন বলে আমি পাইনি—যেমন রবিউস সানি, জমাদিউল আউয়াল, জমাদিউস সানি এবং জিলকদ মাস।

আমি সাধ্যমতো সেই সব বিষয়ে মতভেদ পর্যলোচনা করার চেষ্টা করেছি যেগুলোতে আলেমগণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যেমন—রজব মাসের ‘আতিরাহ’, শাবান মাসের মধ্যরাত্রি এবং আরাফার দিনে (অন্যান্য স্থানে সমবেত হয়ে) দুআ করা। এসব বিষয়ের হুকুমের ক্ষেত্রে আমার কাছে যা অগ্রগণ্য মনে হয়েছে তা আমি উল্লেখ করেছি।

আমি কিছু নবউদ্ভাবিত উদযাপনের কথা উল্লেখ করেছি, যার মূল উৎস হলো আহলে কিতাব ও অন্যদের বাতিল উৎসবসমূহের অনুকরণ। এরপর আমি কুরআন, সুন্নাহ, আছার এবং যুক্তির আলোকে সাধারণভাবে আহলে কিতাবদের অনুকরণ এবং বিশেষভাবে তাদের উৎসব ও পরবে সাদৃশ্য অবলম্বন করার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কিছু দলিল উপস্থাপন করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
قمت بتخريج الآيات والأحاديث والآثار على النحو التالي:

بالنسبة للآيات: أذكر رقم الآية والسورة التي وردت فيها.

وبالنسبة للأحاديث والآثار: فإني أذكر راوي الحديث أو الأثر، واسم الكتاب، والجزء ورقم الصفحة، ورقم الحديث إن وجد.

وبالنسبة للأحاديث المتفق على صحتها: اقتصرت على رواية الشيخين لها فقط دون غيرهما.

قمت بتفسير الكلمات الغريبة التي مرَّت في البحث، وذلك بالرجوع إلى الكتب التي تعني بتفسير غريب الحديث والأثر، وكذلك كتب اللغة.

ترجمت لجميع الأعلام الذين ورد ذكرهم في هذا البحث بشكل مختصر وذلك بذكر اسم المترجم له، وتاريخ ولادته، ووفاته، وبعض صفاته، وبعض مؤلفاته- إذا كانت له مؤلفات -. ووضعت ذلك كله في الهامش ليكون أسهل عند الرجوع إليه، ورجعت في ذلك إلى كتب التراجم المعتمدة، وهناك بعض الأعلام لم أعثر على ترجمة لهم فأشرت إلى ذلك في الهامش (1) .

قمت بعمل فهارس شاملة لهذه الرسالة: فوضعت فهرساً للآيات، وفهرساً للأحاديث والآثار، وفهرساً للأعلام، وفهرساً للأماكن والبلدان، وفهرساً للفرق، وفهرساً لمصادر البحث، وفهرساً للموضوعات. وكل ذلك تم عمله في أصل الرسالة، ولكني اكتفيت هنا - خشية الإطالة - بذكر فهرس مصادر البحث وكذا فهرس الموضوعات.

واتبعت في هذا الطرق التي يجري اتباعها في عمل مثل هذه الفهارس، ووضحت في بداية كل فهرس الطريقة المتبعة فيه لتسهل الاستفادة منه (2) .

التزمت بما ورد في خطة البحث المشار إليها سابقاً، وحاولت أن أوفي كل موضوع حقه قدر الإمكان، حتى استدعى ذلك الإطالة في بعض الموضوعات.

بذلت جهدي، واستفرغت طاقتي في صياغة أسلوب هذا البحث، ليكون سهل العبارة، متناسق التركيب، واضح المعنى. وأشرت في كل مبحث إلى المراجع التي اعتمدت عليها ليسهل على القارئ الرجوع إليها.

--------------------------------------------

(1) - يراجع: أصل الكتاب ((البدع الحولية))

(2) - يراجع: أصل الكتاب ((البدع الحولية))
আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে আয়াত, হাদিস এবং আছারসমূহের তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করেছি:

আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে: আমি আয়াতের নম্বর এবং যে সূরায় এটি বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছি।

হাদিস এবং আছারসমূহের ক্ষেত্রে: আমি হাদিস বা আছারের বর্ণনাকারী, কিতাবের নাম, খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর এবং হাদিস নম্বর (যদি থাকে) উল্লেখ করেছি।

সহীহ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যপূর্ণ হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে: আমি অন্য কারও বর্ণনা উল্লেখ না করে শুধুমাত্র শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি।

গবেষণায় আসা দুর্বোধ্য শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করেছি; এ ক্ষেত্রে আমি 'গারীবুল হাদিস ওয়াল আছার' (হাদিস ও আছারের দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা) সংক্রান্ত কিতাবসমূহ এবং ভাষাতত্ত্বের গ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হয়েছি।

এই গবেষণায় উল্লিখিত সকল ব্যক্তিত্বের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছি; সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, জন্ম ও মৃত্যু তারিখ, কিছু বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর রচিত কিছু গ্রন্থ (যদি থাকে) উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো রেফারেন্স হিসেবে সহজে ব্যবহারের জন্য পাদটীকায় যুক্ত করেছি এবং এ জন্য নির্ভরযোগ্য জীবনীগ্রন্থসমূহের সাহায্য নিয়েছি। কিছু ব্যক্তির জীবনী খুঁজে না পাওয়ায় পাদটীকায় (১) সেদিকে ইঙ্গিত করেছি।

আমি এই গবেষণাপত্রের জন্য একটি ব্যাপক নির্ঘণ্ট (সূচি) তৈরি করেছি: সেখানে আয়াতের নির্ঘণ্ট, হাদিস ও আছারের নির্ঘণ্ট, ব্যক্তিত্বের নির্ঘণ্ট, স্থান ও দেশের নির্ঘণ্ট, বিভিন্ন দল বা ফিরকার নির্ঘণ্ট, গবেষণার উৎস বা রেফারেন্সের নির্ঘণ্ট এবং বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্ট অন্তর্ভুক্ত করেছি। এই সবকিছু মূল গবেষণাপত্রে করা হয়েছে, তবে এখানে দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় শুধুমাত্র গবেষণার উৎস ও বিষয়সূচি উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি।

এ ক্ষেত্রে আমি এই ধরণের নির্ঘণ্ট তৈরির প্রচলিত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করেছি এবং প্রতিটি নির্ঘণ্টের শুরুতে তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ করতে অনুসৃত পদ্ধতিটি স্পষ্ট করেছি (২)।

পূর্বে উল্লিখিত গবেষণা পরিকল্পনার প্রতি আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি এবং প্রতিটি বিষয়ের যথাযথ হক আদায় করার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, এমনকি এর ফলে কোনো কোনো বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হয়েছে।

আমি এই গবেষণার ভাষাশৈলীকে সহজবোধ্য, সুশৃঙ্খল এবং অর্থবহ করে তোলার জন্য আমার সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ও শ্রম ব্যয় করেছি। প্রতিটি পরিচ্ছেদে আমি আমার ব্যবহৃত উৎসসমূহের উল্লেখ করেছি যাতে পাঠকের জন্য রেফারেন্স দেখা সহজ হয়।

--------------------------------------------

(১) - দ্রষ্টব্য: মূল গ্রন্থ ((আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ))

(২) - দ্রষ্টব্য: মূল গ্রন্থ ((আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ))
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وبعد:

فإنني أجزم بأنني لو أعدت النظر في هذا البحث مرة بعد أخرى لوجدت فيه ما يحتاج إلى تعديل أو تبديل، أو تقديم أو تأخير، ولكني أقول:

هذا جهد المقل، فما كان فيه من صواب فمن الله سبحانه وتعالى وأحمده على ذلك، وما كان فيه من خطأ فمني ومن الشيطان وأستغفر الله من الخطأ والزلل، فالكمال لله وحده، والعصمة لأنبيائه ورسله، وكل كتاب لا يخلوا من هذا سوى كتاب الله فهو الذي {لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} (1) . وقال عز من قائل: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيرا} (2) . فلا شك أن النقص مستول على جملة البشر إلا من عصم الله.

وأنه من باب الاعتراف بالجميل، وإرجاع الفضل إلى أهله، لا يفوتني أن أشكر الله العلي القدير على ما يسر لي من سبل البحث، ثم أشكر كل من مدَّ لي يد العون والمساعدة بتوجيهات وإرشاداته خلال إعدادي لهذا البحث.

وأخص بالشكر فضيلة الشيخ / فهد بن حمين الفهد، المشرف على هذه الرسالة، والأستاذ بكلية أصول الدين، الذي منحني الكثير من وقته وجهده وعلمه، رغم كثرة مشاغله، فقد وجدت من فضيلته كل تعاون وتوجيه، مع رحابة صدر وتواضع جم، فكان لي - بعد الله - خير مرشد ومعين وموجه إلى طريقة البحث السليم، فالله أسأل أن يجزيه عني خير الجزاء وأن يجزل له المثوبة والأجر، وأن ينفع به الإسلام والمسلمين.

كما أخص بالشكر فضيلة الشيخ / عبد العزيز بن عبد الله بن محمد آل الشيخ الأستاذ بكلية الشريعة بالرياض الذي عرضت عليه خطة البحث قبل تقديمها للكلية، وأبدى بعض الملاحظات القيمة عليها، وجعل مكتبته الخاصة رهن إشارتي، ولم يبخل عليَّ بعلمه ومشورته ووقته أيضاً، رغم كثرة التزاماته، فجزاه الله عني وعن المسلمين خير الجزاء.

كما أتقدم بالشكر والتقدير لكلية أصول الدين، ولعموم الأساتذة الأفاضل أعضاء

--------------------------------------------

(1) - سورة فصلت:42.

(2) - سورة النساء: الآية82.
অতঃপর:

আমি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি যে, আমি যদি এই গবেষণার দিকে বারবার দৃষ্টিপাত করতাম, তবে আমি এতে এমন কিছু খুঁজে পেতাম যা সংশোধন বা পরিবর্তন, অথবা অগ্রপশ্চাৎ করার প্রয়োজন হতো। কিন্তু আমি বলছি:

এটি এক নগণ্য প্রচেষ্টা মাত্র। এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে, এবং আমি তার জন্য তাঁর প্রশংসা করি। আর যা কিছু ভুল রয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আমি ভুল ও বিচ্যুতি থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কেননা পূর্ণতা কেবল আল্লাহরই একক গুণ, আর নির্ভুলতা (ইসমা) কেবল তাঁর নবী ও রাসূলগণের জন্য নির্ধারিত। আল্লাহর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবই এর (ভুলের) ঊর্ধ্বে নয়। কারণ এটি সেই কিতাব যার {সম্মুখ হতে কিংবা পশ্চাৎ হতে কোনো বাতিল আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময়, চির প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} (১)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যদি এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ খুঁজে পেত} (২)। সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ যাদের রক্ষা করেছেন তারা ব্যতীত সমগ্র মানবজাতি অপূর্ণতার অধীন।

আর কৃতজ্ঞতা স্বীকার এবং গুণীর গুণের স্বীকৃতি স্বরূপ, আমি সেই সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে ভুলছি না যিনি আমার জন্য গবেষণার পথসমূহ সহজ করে দিয়েছেন। অতঃপর আমি সেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাই যারা এই গবেষণাটি প্রস্তুত করার সময় তাদের দিকনির্দেশনা ও উপদেশের মাধ্যমে আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই শ্রদ্ধেয় শায়খ ফাহাদ বিন হুমাইন আল-ফাহাদকে, যিনি এই থিসিসের তত্ত্বাবধায়ক এবং উসুলুদ্দিন অনুষদের অধ্যাপক। তিনি তাঁর চরম ব্যস্ততা সত্ত্বেও আমাকে তাঁর অনেক সময়, শ্রম ও জ্ঞান দান করেছেন। আমি তাঁর কাছ থেকে উদারতা ও বিনয়সহ সর্বাত্মক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা পেয়েছি। আল্লাহর পরে তিনিই ছিলেন আমার জন্য সঠিক গবেষণা পদ্ধতির সর্বোত্তম প্রদর্শক, সাহায্যকারী ও পথপ্রদর্শক। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাঁর সওয়াব ও পুরস্কার বাড়িয়ে দেন, আর তাঁর দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন।

অনুরূপভাবে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আলুশ শায়খকে, যিনি রিয়াদের শরিয়াহ অনুষদের অধ্যাপক। কলেজে পেশ করার পূর্বে আমি তাঁর নিকট গবেষণার পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করেছিলাম এবং তিনি এর ওপর কিছু মূল্যবান পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছিলেন। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত লাইব্রেরিটি আমার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং তাঁর ব্যস্ততা সত্ত্বেও তাঁর জ্ঞান, পরামর্শ ও সময় দিতে কার্পণ্য করেননি। আল্লাহ আমার ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমি উসুলুদ্দিন অনুষদ এবং অনুষদের সকল সম্মানিত সদস্য শিক্ষকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি...

--------------------------------------------

(১) - সূরা ফুসসিলাত: ৪২।

(২) - সূরা আন-নিসা: আয়াত ৮২।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة الذين كان لتوجيهاتهم الطيبة أكبر الأثر في خروج هذا البحث على هذا الشكل.

وختاماً:

أرجو المعذرة مرة أخرى عما يحصل في هذا البحث من خطأ أو تقصير أو نقص، وأسأله سبحانه وتعالى أن يجعل عملي هذا خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفع به إنه ولي ذلك والقادر عليه.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم

المؤلف
আকীদা ও সমকালীন মতবাদ বিভাগ, যাদের উত্তম দিকনির্দেশনা এই গবেষণাকে এই রূপে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে।

পরিশেষে:

এই গবেষণায় সংঘটিত কোনো ভুল, ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতার জন্য আমি আবারো ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর মহান চেহারার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর দ্বারা কল্যাণ দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

লেখক
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
التمهيد

البدع

أولاً: تعريف‌‌ البدع لغة واصطلاحاً.

ثانياً: حكم البدع في الإسلام.

ثالثاً: أسباب نشأة البدع.

رابعاً: أول بدعة ظهرت في الإسلام.

خامساً: أسباب انتشار البدع.

سادساً: آثار البدع على المجتمع.

سابعاً: وسائل الوقاية من البدع.

ثامناً: البدع الحولية.
উপক্রমণিকা

বিদআতসমূহ

প্রথমত: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে বিদআতের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয়ত: ইসলামে বিদআতের বিধান।

তৃতীয়ত: বিদআত সৃষ্টির কারণসমূহ।

চতুর্থত: ইসলামে প্রকাশিত প্রথম বিদআত।

পঞ্চমত: বিদআত প্রসারের কারণসমূহ।

ষষ্ঠত: সমাজে বিদআতের প্রভাব।

সপ্তমত: বিদআত প্রতিরোধের উপায়সমূহ।

অষ্টমত: বার্ষিক বিদআতসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أولاً:‌‌ تعريف البدعة.

1- البدع لغة:

قال ابن منظور: ((بدع الشيء يبدعه بدعاً وابتدعه: أنشأه وبدأه. وبدع الركيَّة: استنبطها وأحداثها … والبديع والبدع: الشيء الذي يكون أولاً)) .

وفي التنزيل: {قُلْ مَا كُنْتُ بِدْعاً مِنَ الرُّسُلِ} (1) أي: ما كنت أول من أُرسِل، قد أرسل قبلي رسلٌ كثير....

وفلان بدع في هذا الأمر أي أول لم يسبقه أحد.... وأبدع وابتدع وتبدَّع: أتى ببدعةٍ، قال الله تعالى: {وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا} (2) .

قال رؤبة:

إن كنت للهِ التقيّ الأطوعا فليس وجه الحقِّ أن تبدعا

وبدّعه: نسبة إلى البدعةِ.

والبديع: المحدث العجيب، والبديع: المبدع.

وأبدعت الشيء: اخترعته لا على مثال.

والبديع: من أسماء الله تعالى لإبداعهِ الأشياء وإحداثه إياها. وهو البديع الأول قبل كل شيءٍ، ويجوز أن يكون بمعنى مبدع، أو يكون من بدع الخلق أي بدأه، والله

--------------------------------------------

(1) -سورة الاحقاف: الآية9.

(2) -سورة الحديد: الآية27.
প্রথমত:‌‌ বিদআতের সংজ্ঞা।

১- শাব্দিক অর্থে বিদআত:

ইবনু মানযুর বলেছেন: ((কোনো কিছু উদ্ভাবন করা মানে হলো তা তৈরি করা এবং শুরু করা। আর কূপ খনন করার ক্ষেত্রে এটি তখন বলা হয় যখন তা নতুন করে খনন ও শুরু করা হয় … আর 'বাদিউ' ও 'বিদউ' হলো সেই বস্তু যা প্রথম বা নতুন হয়)) ।

পবিত্র কুরআনে এসেছে: {বলুন, আমি রাসূলদের মধ্যে কোনো নতুন বা প্রথম কেউ নই} (১) অর্থাৎ: আমিই প্রথম প্রেরিত রাসূল নই, বরং আমার পূর্বে অনেক রাসূল প্রেরিত হয়েছেন....

অমুক ব্যক্তি এই কাজে 'বিদউ' অর্থাৎ সে প্রথম এবং তার আগে কেউ তা করেনি.... আর উদ্ভাবন করা বা বিদআত করার অর্থ হলো এমন কিছু নিয়ে আসা যা অভিনব। মহান আল্লাহ বলেন: {আর বৈরাগ্যবাদ, তারা তা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে} (২) ।

রু’বাহ বলেন:

যদি তুমি আল্লাহর প্রতি অতিশয় মুত্তাকী ও অনুগত হও, তবে সত্যের পথ নতুন কিছু উদ্ভাবন করা নয়।

আর কাউকে বিদআতী বলা মানে তাকে বিদআতের দিকে সম্বন্ধ করা।

আর 'বাদিউ' হলো যা অভিনব ও বিস্ময়কর এবং 'বাদিউ' অর্থ উদ্ভাবকও হয়।

আর কোনো কিছু উদ্ভাবন করার অর্থ হলো কোনো পূর্ব-নমুনা ছাড়াই তা তৈরি করা।

আর 'আল-বাদিউ' মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত, কারণ তিনি বস্তুসমূহকে কোনো নমুনা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন ও অস্তিত্ব দান করেছেন। তিনি সবকিছুর আগে আদি উদ্ভাবক। এটি উদ্ভাবক অর্থ প্রদান করতে পারে অথবা সৃষ্টির সূচনা করা অর্থও হতে পারে, আর আল্লাহ...

--------------------------------------------

(১) -সূরা আল-আহকাফ: আয়াত ৯।

(২) -সূরা আল-হাদীদ: আয়াত ২৭।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
تعالى كما قال سبحانه: {بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} (1) . أي: خالقها ومبدعها، فهو سبحانه الخالق المخترع لا عن مثال سابق …

وسقاء بديع: أي جديد....

وأبدعت الإبل: بركت في الطريق من هزال أو داء أو كلال.

وأبدعت هي: كلت أو عطبت، وقيل: لا يكون الإبداع إلا بظلع.

وأبدع وأبدع به وأبدع: كلَّت راحلته أو عطبت وبقي منقطعاً به، وحسر عليه ظهره أو قام به أي وقف به. وفي الحديث: أن رجلاً أتي النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! إني أبدع بي فاحملني (2) . أي: انقطع بي لكلال راحلتي.... كأنه جعل انقطاعها عما كانت مستمرة عليه من عادة السير إبداعاً أي إنشاء أمر خارج عما أعتيد منها (3) .

فتبين لنا مما تقدَّم أن معنى (بدع) يقصد به غالباً الإحداث والاختراع على غير مثال سابق.

وإبداع الإبل - أي تعبها وكللها - أمر حادث أيضاً، فالمعتاد منها الاستمرار في السير.

فالبدعة: اسم هيئة من الابتداع، كالرفعة من الارتفاع، وهي كل شيء أحدث على غير مثال سابق (4) .

2-‌‌ البدعة في الاصطلاح:

اختلف العلماء في تحديد معنى البدعة في الاصطلاح، فمنهم من جعلها مقابل السنة، ومنهم من جعلها عامة تشمل كل ما حدث بعد عصر الرسول صلى الله عليه وسلم سواء كان محموداً أو

--------------------------------------------

(1) -سورة البقرة: الآية117.

(2) - رواه مسلم في صحيحه (3/1506) ، كتاب الإمارة، حديث رقم (1893) .

(3) - يراجع: لسان العرب، لابن منظور: مادة (بدع) (8/6- 8) .

(4) - يراجع: كتاب البدعة، للدكتور عزة عطية ص (157) .
মহান আল্লাহ যেমন বলেছেন: {তিনি আসমানসমূহ ও জমিনের অভিনব স্রষ্টা} (১)। অর্থাৎ: এগুলোর স্রষ্টা ও উদ্ভাবক। সুতরাং তিনি মহান স্রষ্টা ও উদ্ভাবক যিনি কোনো পূর্ববর্তী নমুনা ছাড়াই সৃষ্টি করেন ...

এবং নতুন মশক: অর্থাৎ নতুন....

এবং উটগুলো থেমে গেল: অর্থাৎ দুর্বলতা, রোগ বা ক্লান্তির কারণে রাস্তায় বসে পড়ল।

এবং সে পরিশ্রান্ত হলো: অর্থাৎ সে ক্লান্ত হয়ে পড়ল বা অকেজো হয়ে গেল। আর বলা হয়েছে যে, খুঁড়িয়ে চলা ব্যতীত কোনো কিছু থেমে যাওয়াকে ‘ইবদা’ বলা হয় না।

এবং সে সওয়ারি নিয়ে আটকা পড়ল: তার সওয়ারি ক্লান্ত হয়ে পড়ল বা অকেজো হয়ে গেল এবং সে যাত্রা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল, আর তার পিঠের ভার ক্লান্ত হয়ে গেল অথবা সে থেমে গেল। হাদিসে এসেছে: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার সওয়ারি অকেজো হয়ে পড়েছে, সুতরাং আমাকে একটি সওয়ারি দিন (২)। অর্থাৎ: সওয়ারির ক্লান্তির কারণে আমার যাত্রা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে... যেন তার চলার স্বাভাবিক গতির বিচ্যুতিকে এক নতুন অবস্থার উদ্ভব হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, অর্থাৎ যা তার অভ্যাসের বাইরে ছিল (৩)।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হলো যে, 'বাদাআ' শব্দের অর্থ দ্বারা সাধারণত কোনো পূর্ববর্তী নমুনা ছাড়াই নতুন কিছু সৃষ্টি করা বা উদ্ভাবন করা বোঝায়।

আর উটের থেমে যাওয়া—অর্থাৎ তার ক্লান্তি ও অবসাদ—তাও একটি নতুন বিষয়, কারণ তার স্বাভাবিক অবস্থা হলো নিরবচ্ছিন্নভাবে পথ চলা।

অতএব বিদআত: এটি উদ্ভাবনের একটি বিশেষ অবস্থা বা রূপ, যেমন উচ্চতা থেকে উচ্চতর হওয়া। এটি এমন প্রতিটি বিষয় যা কোনো পূর্ববর্তী নমুনা ছাড়াই নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে (৪)।

২-‌‌ পারিভাষিক অর্থে বিদআত:

পারিভাষিক অর্থে বিদআতের সংজ্ঞা নির্ধারণে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে সুন্নাহর বিপরীতে স্থান দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ একে সাধারণ অর্থে গ্রহণ করেছেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের পরে উদ্ভূত সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, চাই তা প্রশংসনীয় হোক বা...

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-বাকারা: আয়াত ১১৭।

(২) - এটি মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৩/১৫০৬) বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ইমারাহ, হাদিস নং (১৮৯৩)।

(৩) - দ্রষ্টব্য: ইবনে মানযুর রচিত লিসানুল আরব: ‘বাদাআ’ পরিচ্ছেদ (৮/৬-৮)।

(৪) - দ্রষ্টব্য: ড. ইজ্জাহ আতিয়্যাহ রচিত কিতাবুল বিদআত, পৃষ্ঠা (১৫৭)।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
مذموماً، ونبين ذلك فيما يلي:

القول الأول:

أن كل ما حدث بعد عصر الرسول الله صلى الله عليه وسلم فهو بدعة، سواء كان محموداً أو مذموماً. وقال به الشافعي، والعز بن عبد السلام، والقرافي، والغزالي في الإحياء، وابن الأثير في النهاية في غريب الحديث والأثر (1) ، والنووي في شرح

--------------------------------------------

(1) - يُراجع النهاية في غريب الحديث والأثر (1/106، 107) .
নিন্দনীয় হিসেবে; আমরা তা নিম্নে বর্ণনা করছি:

প্রথম মত:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের পরে যা কিছু নতুন উদ্ভাবিত হয়েছে তার সবই বিদআত, চাই তা প্রশংসনীয় হোক বা নিন্দনীয়। ইমাম শাফিঈ, ইজ্জ ইবনে আব্দুস সালাম, আল-কারাফী, 'এহয়া' গ্রন্থে আল-গাজালী, 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার' গ্রন্থে ইবনুল আসীর (১) এবং 'শরহ'-এ আন-নববী এই মত ব্যক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) - দ্রষ্টব্য: আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার (১/১০৬, ১০৭)।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
صحيح مسلم (1) .

قال الإمام الشافعي رحمه الله فيما روي عن حرملة بن يحي قال: سمعت الإمام الشافعي رحمه الله يقول: (البدعة بدعتان: بدعة محمود وبدعة مذمومة، فما وافق السنة فهو محمود، وما خالف السنة فهو مذموم) (2) .

وقال العز بن عبد السلام في تعريف البدعة هي: (فعل ما لم يعهد في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم (3) .

وقد اعتمدوا في ذلك على ما ورد عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه حيث قال

--------------------------------------------

(1) - يُراجع: شرح مسلم للنووي (6/154، 155) .

(2) - يُراجع: حلية الأولياء، لأبي نعيم (9/113) ، ويراجع - أيضاً -: فتح الباري (13/253) .

(3) - يراجع: قواعد الأحكام (2/113) .
সহীহ মুসলিম (১)।

ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি বলেন: আমি ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: (বিদআত দুই প্রকার: প্রশংসনীয় বিদআত এবং নিন্দনীয় বিদআত। সুতরাং যা সুন্নাহর অনুকূল তা প্রশংসনীয়, আর যা সুন্নাহর পরিপন্থী তা নিন্দনীয়) (২)।

ইজ্জ ইবনে আব্দুস সালাম বিদআতের সংজ্ঞায় বলেছেন: (বিদআত হলো এমন কাজ করা যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে পরিচিত ছিল না) (৩)।

তারা এ বিষয়ে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন

--------------------------------------------

(১) - দ্রষ্টব্য: ইমাম নববী কৃত শারহু মুসলিম (৬/১৫৪, ১৫৫)।

(২) - দ্রষ্টব্য: আবু নুআইম কৃত হিলইয়াতুল আউলিয়া (৯/১১৩), এবং আরও দ্রষ্টব্য: ফাতহুল বারি (১৩/২৫৩)।

(৩) - দ্রষ্টব্য: কাওয়াইদুল আহকাম (২/১১৩)।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
في صلاة التراويح: ((نعم البدعة هذه)) (1) .

القول الثاني:

أن البدعة لا تطلق على ما خالف السنة

وبه قال الشاطبي، وابن حجر العسقلاني، وابن حجر الهيتمي، وابن رجب الحنبلي،

--------------------------------------------

(1) - رواه البخاري في صحيحه المطبوع مع فتح الباري (4/250) كتاب صلاة التراويح، حديث (2010) . ورواه مالك في الموطأ (1/114) بلفظ: نعمت البدعة هذه)) .
তারাবিহ নামাজের ব্যাপারে: "এটি কতই না উত্তম বিদআত" (১)।

দ্বিতীয় মত:

বিদআত কেবল সুন্নাহর পরিপন্থী বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় না

আর এই মতটি ব্যক্ত করেছেন শাতিবি, ইবনে হাজার আসকালানি, ইবনে হাজার হাইতামি এবং ইবনে রজব হাম্বলি,

--------------------------------------------

(১) - ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যা ফাতহুল বারির সাথে মুদ্রিত (৪/২৫০), তারাবিহ নামাজের অধ্যায়, হাদিস (২০১০)। এবং ইমাম মালিক মুওয়াত্তায় (১/১১৪) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "এটি কতই না উত্তম বিদআত"।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وشيخ الإسلام ابن تيمية، والزركشي.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: (وقد قررنا في قاعدة السنة والبدعة: أن البدعة في الدين هي ما لم يشرعه الله ورسوله، وهو ما لم يأمر به أمر إيجاب ولا استحباب، فأما ما أمر به أمر إيجاب أو استحباب، وعلم الأمر به بالأدلة الشرعية: فهو من الدين الذي شرعه الله، وإن تنازع أولو الأمر في بعض ذلك. وسواء كان هذا مفعولاً على عهد النبي صلى الله عليه وسلم أو لم يكن. فما فعل بعده بأمره؛ من قتال المرتدين، والخوارج (1) المارقين، وفارس، والترك، والروم، وإخراج اليهود والنصارى من

--------------------------------------------

(1) - الخوارج: هم أول من فارق جماعة المسلمين من أهل البدع المارقين، القائلون بتكفير عثمان وعلي رضي الله عنهما، ويقدمون ذلك على كل طاعة، وكذلك تكفير الحكمين، وكل من رضي بالتحكيم، ويكفّرون أصحاب الكبائر، ويرون الخروج على الإمام إذا خالف السنة حقاً واجباً، وينقسمون إلى عدة فرق.

يُراجع: الفرق بين الفرق للبغدادي ص (55) ، والملل والنحل للشهرستاني ص (114- 137) ، ومجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية (3/349) .
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং আল-যারকাশি।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আমরা সুন্নাহ ও বিদ'আতের মূলনীতিতে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি যে: দ্বীনের মধ্যে বিদ'আত হলো তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল শরীয়তসম্মত করেননি, আর তা হলো এমন বিষয় যা তিনি ওয়াজিব (আবশ্যক) কিংবা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) কোনো নির্দেশ হিসেবে প্রদান করেননি। পক্ষান্তরে, যে বিষয়ে ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হিসেবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং শরয়ি দলিলের মাধ্যমে সে নির্দেশ সম্পর্কে জানা গেছে, তা আল্লাহর প্রবর্তিত দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, যদিও এ সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে উলিল আমর (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিগণ) বিবাদে লিপ্ত হয়েছেন। চাই এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে আমল করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক। ফলে তাঁর নির্দেশক্রমে তাঁর পরবর্তী সময়ে যা করা হয়েছে; যেমন মুরতাদ ও দলছুট খারেজিদের (১) বিরুদ্ধে যুদ্ধ, পারস্য, তুর্কি ও রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ইয়াহুদি ও নাসারাদের বহিষ্কার...

--------------------------------------------

(১) - খারেজি: তারা বিদ'আতি ও বিপথগামীদের মধ্যে প্রথম যারা মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তারা উসমান ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে কাফির সাব্যস্ত করত এবং তারা এই বিশ্বাসকে সকল আনুগত্যের ঊর্ধ্বে স্থান দিত। একইভাবে তারা দুই সালিশকারী এবং সালিশি মেনে নেওয়া প্রত্যেককে কাফির সাব্যস্ত করত। তারা কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের কাফির মনে করে এবং শাসক যদি সুন্নাহর বিরোধিতা করেন তবে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে সত্য ও আবশ্যকীয় কর্তব্য মনে করে। তারা বেশ কয়েকটি উপদলে বিভক্ত।

দ্রষ্টব্য: আল-বাগদাদি রচিত 'আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক', পৃষ্ঠা (৫৫); আশ-শাহরাস্তানি রচিত 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল', পৃষ্ঠা (১১৪-১৩৭); এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (৩/৩৪৯)।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
جزيرة العرب، وغير ذلك - هو من سنته (1) .

وقال الشاطبي في تعريف البدعة: (البدعة طريقة في الدين مخترعة تضاهي الشرعية، يقصد بالسلوك عليها المبالغة في التعبد لله سبحانه) .

وهذا على رأي من لا يدخل العادات في معنى البدعة، وإنَّما يخصّها بالعبادات.

وأما على رأي من أدخل الأعمال العادية في معنى البدعة فيقول: (البدعة طريقة في الدين مخترعة تضاهي الشرعية، يقصد بالسلوك عليها ما يقصد بالطريقة الشرعية) (2) .

أدلة أصحاب القول الثاني:

أ- من السنة:

ما رواه جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا خطب احمرت عيناه، وعلا وصوته، واشتد غضبه، حتى كأنه منذر جيش يقول ((صبحكم ومساكم)) ، ويقول: ((بعثت أنا والساعة كهاتين)) ، ويقرن بين أصبعيه السبابة والوسطى، ويقول: ((أما بعد: فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة)) ، ثم يقول: ((أنا أولى بكل مؤمن من نفسه، من ترك مالاً فلأهله، ومن ترك ديناً أو ضياعاً فإلي وعلي)) (3) .

ما رواه ابن مسعود رضي الله عنه مرفوعاً وموقوفاً أنه كان يقول: ((إنما هما اثنتان الكلام

--------------------------------------------

(1) - يُراجع: مجموعة الفتاوى (4/107، 108) .

(2) - يُراجع: الاعتصام للشاطبي (1/37) .

(3) - رواه مسلم في صحيحه المطبوع مع شرح النووي (6/153-154) ، كتاب الجمعة. ورواه النسائي في سننه (3/189) ، كتاب صلاة العيدين. ورواه ابن ماجه في سننه (1/17) ، المقدمة.
আরব উপদ্বীপ এবং অন্যান্য বিষয়—তা ছিল তাঁর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত (১)।

আর শাতবি বিদআতের সংজ্ঞায় বলেছেন: (বিদআত হলো দ্বীনের মধ্যে আবিষ্কৃত এমন একটি পথ যা শরিয়তের সদৃশ, এটি অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদতে অতিরঞ্জন বা ঐকান্তিকতা উদ্দেশ্য থাকে)।

এটি ঐ ব্যক্তিদের অভিমত যারা অভ্যাসগত বিষয়গুলোকে বিদআতের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেন না, বরং একে কেবল ইবাদতের সাথেই নির্দিষ্ট করেন।

আর যারা অভ্যাসগত কাজগুলোকে বিদআতের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করেন, তাদের মতে: (বিদআত হলো দ্বীনের মধ্যে আবিষ্কৃত এমন একটি পথ যা শরিয়তের সদৃশ, এটি অনুসরণের মাধ্যমে সেই উদ্দেশ্যই রাখা হয় যা শরয়ি পদ্ধতির মাধ্যমে রাখা হয়ে থাকে) (২)।

দ্বিতীয় মত পোষণকারীদের দলিলসমূহ:

ক- সুন্নাহ থেকে:

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন খুতবা দিতেন তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেত, তাঁর কণ্ঠস্বর উচ্চ হতো এবং তাঁর ক্রোধ তীব্র হতো, মনে হতো যেন তিনি কোনো সৈন্যবাহিনীকে সতর্ক করছেন এই বলে যে, ‘শত্রু তোমাদের ওপর সকালে বা সন্ধ্যায় আক্রমণ করবে’। তিনি বলতেন: ‘আমি এবং কিয়ামত এই দুইটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি’—এ কথা বলে তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল একত্রিত করতেন এবং বলতেন: ‘পর সমাচার এই যে, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদের পথনির্দেশ, আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা’। অতঃপর তিনি বলতেন: ‘আমি প্রত্যেক মুমিনের কাছে তার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ, যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যাবে তা তার পরিবারের জন্য, আর যে ব্যক্তি ঋণ বা নিঃস্ব পরিবার রেখে যাবে তা আমার নিকট এবং আমার দায়িত্বে’ (৩)।

ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ এবং মাওকূফ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলতেন: ‘নিশ্চয়ই কথা হলো দুটি...

--------------------------------------------

(১) - দ্রষ্টব্য: মাজমুউল ফাতাওয়া (৪/১০৭, ১০৮)।

(২) - দ্রষ্টব্য: শাতবি রচিত আল-ইতিসাম (১/৩৭)।

(৩) - মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যা নববীর ব্যাখ্যাসহ মুদ্রিত (৬/১৫৩-১৫৪), জুমুআ অধ্যায়। নাসায়ি তাঁর সুনান গ্রন্থে (৩/১৮৯), দুই ঈদ সালাত অধ্যায়। ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে (১/১৭), মুকাদ্দিমা।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
والهدي، فأحسن الكلام كلام الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم ألا وإياكم ومحدثات الأمور، فإن شر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلاله)) (1)

ما رواه العرباض بن سارية - رض الله عنه - قال: صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم، ثم أقبل علينا فوعظنا موعظة بليغة ذرفت منها العيون، ووجلت منها القلوب، فقال قائل: يا رسول الله! كأن هذه موعظة مودع فماذا تعهد إلينا؟ فقال: ((أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة، وإن عبداً حبشياً، فإنه من يعش منكم فسير اختلافاً كثيراً فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، تمسكوا بها، وعضُّو عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة)) (2)

ب- ومن الآثار:

ما ورد عن ابن العباس رضي الله عنهما أنه قال: ((ما أتى على الناس عام، إلا

--------------------------------------------

(1) - رواه ابن ماجه في سننه مرفوعاً إلى النبي صلى الله عليه وسلم (1/18) المقدمة. وفي سنده عبيده بن ميمون الدني، قال ابن حجر: مستور. تقريب التهذيب (1/545) .

(2) - رواه الإمام أحمد في مسنده (4/126، 127) .

ورواه أبو داود في سننه المطبوع مع شرحه عون المعبود (12/358- 360) كتاب الفتن، واللفظ له.

ورواه الترمذي في سننه المطبوع مع شرحه تحفة الأحوذي (7/ 438-442) . وقال هذا حديث حسن صحيح، باب الأخذ بالسنة واجتناب البدعة.

ورواه ابن ماجه في سننه (1/ 15، 16) ، المقدمة. …
এবং সঠিক পথনির্দেশ; সুতরাং সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর বাণী, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ। সাবধান! তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো। কেননা সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা। (১)

ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, তারপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে আমাদের এমন এক মর্মস্পর্শী উপদেশ দিলেন যাতে চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন একজন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি বিদায়ী নসিহত, তাই আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: "আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি (তাকওয়া) এবং কথা শোনা ও আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি, এমনকি যদি সে (নেতা) একজন হাবশি ক্রীতদাসও হয়। কেননা তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে। তোমরা তা শক্তভাবে ধরবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনের নব উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকবে, কেননা প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।" (২)

খ- আছার (সাহাবায়ে কেরামের বাণী) থেকে:

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "মানুষের কাছে এমন কোনো বছর আসে না, তবে...

--------------------------------------------

(১) - ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন (১/১৮), মুকাদ্দিমা। এর সনদে উবাইদাহ ইবনে মাইমুন আদ-দুনি রয়েছেন, ইবনে হাজার বলেছেন: মস্তুর (অজ্ঞাত পরিচয়)। তাকরিবুত তাহজিব (১/৫৪৫)।

(২) - ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৪/১২৬, ১২৭)।

আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যা তাঁর শারহ 'আউনুল মাবুদ' সহ মুদ্রিত (১২/৩৫৮-৩৬০), কিতাবুল ফিতান; আর শব্দগুলো তাঁরই।

তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যা তাঁর শারহ 'তুহফাতুল আহওয়াযি' সহ মুদ্রিত (৭/৪৩৮-৪৪২)। তিনি বলেছেন, এটি হাসান সহিহ হাদিস; সুন্নাহ গ্রহণ ও বিদআত বর্জন অধ্যায়।

ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১/১৫, ১৬), মুকাদ্দিমা। …
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
أحدثوا فيه بدعة، وأماتوا فيه سنَّة، حتى تحيا البدع وتموت السنن)) (1) .

وورد عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: ((اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كُفيتم)) (2) .

فما تقدم من الأحاديث والآثار، يدلُّ على أنَّ البدعة لم ترد في الشرع إلا مذمومة.

فالراجح- والله أعلم - أن البدعة لا تطلق إلا على ما خالف السنة، فليس في البدع محمود.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: (واعلم أن هذه القاعدة وهي: الاستدلال بكون الشيء بدعة على كراهته، قاعدة عامة عظيمة، وتمامها بالجواب عما يعارضها، وذلك أن من الناس من يقول: البدع تنقسم إلى قسمين: حسنة، وقبيحة. بدليل قول عمر رضي الله عنه في صلاة الترويح: ((نعمت البدعة هذه)) (3) .

وهؤلاء المعارضون يقولون: ليست كل بدعة ضلالة.

والجواب: أما القول ((أن شر الأمور محدثاتها، وأن كل بدعة ضلالة وكل ضلالة في

--------------------------------------------

(1) - قال الهيثمي في مجمع الزوائد: ((رواه الطبراني في الكبير ورجاله موثقون)) . مجمع الزوائد (1/188) ، باب في البدع والأهواء. ورواه ابن وضَّاح في كتاب البدع ص (39) .

(2) - قال الهيثمي في مجمع الزوائد: ((رواه الطبراني في الكبير ورجاله رجال الصحيح)) . مجمع الزوائد (1/181) ، باب الاقتداء بالسلف.

(3) - رواه البخاري في صحيحه المطبوع مع فتح الباري (4/250) كتاب صلاة التراويح، حديث (2010) . ورواه مالك في الموطأ (1/114) بلفظ: نعمت البدعة هذه)) .
তারা তাতে বিদআত উদ্ভাবন করেছে এবং তাতে সুন্নাতকে বিলীন করে ফেলেছে, এমনকি বিদআতসমূহ জীবিত হয়েছে এবং সুন্নাতসমূহ মৃত হয়েছে)) (১) ।

ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ((তোমরা অনুসরণ করো এবং বিদআত উদ্ভাবন করো না, কেননা তোমাদের জন্য (শরীয়তই) যথেষ্ট)) (২) ।

সুতরাং উপরিউক্ত হাদীস এবং আছারসমূহ (পূর্ববর্তীদের বাণী) প্রমাণ করে যে, শরীয়তে বিদআত কেবল নিন্দনীয় হিসেবেই গণ্য হয়েছে।

অতএব অগ্রগণ্য মত হলো—আর আল্লাহই ভালো জানেন—বিদআত শব্দটি কেবল সুন্নাহ বিরোধী বিষয়ের ওপরই প্রয়োগ করা হয়, সুতরাং বিদআতের মধ্যে প্রশংসনীয় কিছু নেই।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: (জেনে রেখো যে, এই মূলনীতি অর্থাৎ কোনো বিষয় বিদআত হওয়ার মাধ্যমে তার অপছন্দনীয়তা বা নিষিদ্ধ হওয়ার ওপর দলীল পেশ করা একটি মহান ও ব্যাপক মূলনীতি। এর পূর্ণতা লাভ হয় এর বিপরীত যুক্তির জবাব প্রদানের মাধ্যমে। আর তা হলো, মানুষের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা বলে: বিদআত দুই প্রকার: উত্তম এবং মন্দ। এর সপক্ষে তারা তারাবীহ সালাত সম্পর্কে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর উক্তিকে দলীল হিসেবে পেশ করে: ((এটি কতই না উত্তম বিদআত)) (৩) ।

আর এই বিরোধীরা বলে থাকে: প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা নয়।

উত্তর হলো: এই কথা যে, ((নিশ্চয়ই সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হলো নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতাই...

--------------------------------------------

(১) - আল-হাইতামী মাজমাউয যাওয়াইদ-এ বলেছেন: ((তাবারানী আল-কাবীর গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য))। মাজমাউয যাওয়াইদ (১/১৮৮), বিদআত ও প্রবৃত্তি অধ্যায়। ইবনে ওয়াদদাহ এটি কিতাবুল বিদা-এর ৩৯ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন।

(২) - আল-হাইতামী মাজমাউয যাওয়াইদ-এ বলেছেন: ((তাবারানী আল-কাবীর গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী))। মাজমাউয যাওয়াইদ (১/১৮১), সালাফদের অনুসরণের অধ্যায়।

(৩) - ফাতহুল বারী সহ মুদ্রিত বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে (৪/২৫০), তারাবীহ সালাত অধ্যায়, হাদীস নং (২০১০)। ইমাম মালেক এটি মুয়াত্তা-এ (১/১১৪) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: এটি কতই না উত্তম বিদআত))।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
النار)) ، والتحذير من الأمور المحدثات: فهذا نصُّ رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلا يحل لأحد أن يدفع دلالته على ذمّ البدع، ومن نازع في دلالته فهو مراغم.....

(ولا يحلُّ لأحد أن يقابل هذه الكلمة الجامعة من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهي قوله: ((كل بدعة ضلالة)) . بسلب عمومها، وهو أن يقال: ليست كل بدعة ضلالة، فإن هذا إلى مشاقة رسول الله صلى الله عليه وسلم أقرب منه إلى التأويل) (1) .

فأمَّا صلاة الترويح فليست بدعة في الشريعة، بل سنة بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم وفعله في الجماعة. ولا صلاتها في الجماعة بدعة، بل هي سنة في الشريعة، بل قد صلَاّها رسول الله صلى الله عليه وسلم في الجماعة، في أول شهر رمضان ثلاث ليال، وقال في الرابعة: ((أمَّا بعد: فإنه لم يخف على مكانكم، ولكني خشيت أن تفرض عليكم فتعجزوا عنها)) (2) .

فعلَّل صلى الله عليه وسلم عدم الخروج بخشية الافتراض، فعلم بذلك أن المقتضي للخروج قائم، وأنه لولا خوف الافتراض لخرج إليهم، فلما كان في عهد عمر بن الخطاب رضي الله عنه جمعهم على قارئ واحد (3) ، وأسرج المسجد، فصارت هذه الهيئة، وهي اجتماعهم في المسجد وعلى إمام واحد مع الإسراج عملاً لم يكونوا يعملونه من قبل، فسُمِّي بدعة؛ لأنَّهُ في اللغة يسمى بذلك، ولم يكن بدعة شرعية؛ لأنَّ السنَّة اقتضت أنه عمل صالح، لولا خوف الافتراض، وخوف الافتراض زال بموته صلى الله عليه وسلم، فانتفى المعارض (4) .

وأما قولُ عمر- رضي الله عنه: ((نعمت البدعة هذه)) فأكثر المحتجِّين بهذا لو أردنا أن نثبت حكماً بقول عمر رضي الله عنه الذين لم يُخالف فيه، لقالوا: قول الصاحب ليس بحجة، فكيف يكون حجة لهم في خلاف قول رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومن اعتقد أن قول الصاحب حجَّة، فلا يعتقده إذا خالف الحديث.

--------------------------------------------

(1) - يُراجع: اقتضاء الصراط المستقيم، لشيخ الإسلام ابن تيمية (2/582-588)

(2) - رواه البخاري في صحيحه المطبوع مع فتح الباري (4/251) كتاب صلاة التراويح، حديث (2012) وفي مواضع أخرى.

ورواه مسلم في صحيحه (1/524) ، كتاب صلاة المسافرين، حديث رقم (761) (178) .

(3) - وهو: الصحابي الجليل أبي بن كعب. يراجع: الموطأ (1/114) .

(4) - يُراجع: اقتضاء الصراط المستقيم، لشيخ الإسلام ابن تيمية (2/588-591)
...জাহান্নাম)), এবং নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ সম্পর্কে সতর্ক করা: এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অকাট্য বাণী, তাই কারো জন্য বিদআতের নিন্দার ব্যাপারে এর প্রমাণিকতাকে প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়। আর যে ব্যক্তি এর প্রমাণিকতার ব্যাপারে বিবাদ করে, সে সত্যের বিরুদ্ধাচরণকারী...

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই অর্থপূর্ণ ও ব্যাপক বাণীকে—যা হলো তাঁর এই উক্তি: "প্রত্যেক বিদআত-ই ভ্রষ্টতা"—এর ব্যাপকতাকে অস্বীকার করার মাধ্যমে মুকাবিলা করা কারো জন্য বৈধ নয়। আর তা হলো এই বলা যে: 'প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা নয়'। কারণ এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরোধিতা করারই নামান্তর, ব্যাখ্যার (তাউইল) চেয়ে এটি বিরোধিতারই অধিক নিকটবর্তী) (১)।

আর তারাবিহ সালাতের বিষয়টি হলো, এটি শরিয়তে কোনো বিদআত নয়; বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা এবং জামাতের সাথে তাঁর কর্ম দ্বারা প্রমাণিত একটি সুন্নাত। জামাতের সাথে এর সালাত আদায় করাও বিদআত নয়, বরং এটি শরিয়তে একটি সুন্নাত। এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসের শুরুতে তিন রাত জামাতের সাথে এটি আদায় করেছেন এবং চতুর্থ রাতে বলেছিলেন: "অতঃপর কথা হলো: তোমাদের উপস্থিতির বিষয়টি আমার কাছে গোপন ছিল না, কিন্তু আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে এটি তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হবে এবং তোমরা তা পালনে অক্ষম হয়ে পড়বে" (২)।

সুতরাং সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের না হওয়ার কারণ হিসেবে ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাকে উল্লেখ করেছেন। এতে জানা গেল যে, বের হওয়ার কারণটি বিদ্যমান ছিল, আর যদি ফরজ হওয়ার ভয় না থাকত তবে তিনি অবশ্যই তাদের কাছে বের হতেন। অতঃপর যখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগ এল, তিনি তাদেরকে একজন ক্বারীর পেছনে একত্রিত করলেন (৩) এবং মসজিদে আলোকসজ্জা করলেন। ফলে এই অবস্থাটি—অর্থাৎ মসজিদে তাদের একত্রিত হওয়া, একজন ইমামের পেছনে থাকা এবং আলোকসজ্জা করা—এমন এক আমলে পরিণত হলো যা তারা ইতিপূর্বে করত না। তাই একে 'বিদআত' নামকরণ করা হলো; কারণ আভিধানিক ভাষায় একে বিদআত বলা হয়। কিন্তু এটি শরয়ী বিদআত ছিল না; কারণ সুন্নাহর দাবি অনুযায়ী এটি একটি নেক আমল ছিল, যদি না ফরজ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকত। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকালের মাধ্যমে ফরজ হওয়ার ভয় দূর হয়ে গেছে, ফলে প্রতিবন্ধকতাও অপসারিত হয়েছে (৪)।

আর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উক্তি: "এটি কতই না উত্তম বিদআত"—এর ব্যাপারে কথা হলো, যারা এটি দিয়ে দলিল পেশ করেন, তাদের অধিকাংশের অবস্থা এমন যে, আমরা যদি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এমন কোনো উক্তি দিয়ে কোনো হুকুম সাব্যস্ত করতে চাই যে বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করেনি, তখন তারা বলে বসেন: "সাহাবীর কথা দলিল (হুজ্জাত) নয়"। তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর বিপরীতে এটি তাদের জন্য কীভাবে দলিল হতে পারে? আর যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে সাহাবীর কথা দলিল, সে-ও তখন তাকে দলিল মনে করে না যখন তা হাদিসের বিপরীত হয়।

--------------------------------------------

(১) - দ্রষ্টব্য: ইক্তিজাউস সিরাতিল মুস্তাকিম, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (২/৫৮২-৫৮৮)

(২) - ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন যা ফাতহুল বারীর সাথে মুদ্রিত (৪/২৫১), তারাবিহ সালাত অধ্যায়, হাদিস (২০১২) এবং অন্যান্য স্থানে।

এবং ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১/৫২৪), মুসাফিরের সালাত অধ্যায়, হাদিস নং (৭৬১) (১৭৮)।

(৩) - আর তিনি হলেন: মহান সাহাবী উবাই ইবনে কাব। দ্রষ্টব্য: আল-মুয়াত্তা (১/১১৪)।

(৪) - দ্রষ্টব্য: ইক্তিজাউস সিরাতিল মুস্তাকিম, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (২/৫৮৮-৫৯১)
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وتسمية عمر رضي الله عنه صلاة التراويح بدعة، تسمية لغوية، لا تسمية شرعية؛ لأن البدعة في اللغة تعم كل ما فعل ابتداءً من غير مثال سابق.

وأما البدعة الشرعية: فما لم يدل عليه دليل شرعي. فإذا كان نص رسول الله صلى الله عليه وسلم قد دلَّ على استحباب فعل، أو إيجابه بعد موته، أو دلَّ عليه مطلقاً، ولم يعمل به إلا بعد موته ككتاب الصدقة الذي أخرجه أبو بكر رضي الله عنه، فإذا عمل ذلك العمل بعد موته، صحَّ أن يسمى بدعة في اللغة؛ لأنَّه عمل مبتدأ، وكذلك صلاة التراويح، ومثلها جمع القرآن الكريم، ونفي عمر رضي الله عنه ليهود خيبر (1) ونصارى نجران (2)

، ونحوهما من جزيرة العرب (3) .

ثانياً:‌‌ حكم البدع في الإسلام:

يختلف حكم البدعة باختلاف تقسيمها، فالعلماء الذين قسَّمُوا البدعة إلى خمسة

--------------------------------------------

(1) - وهي ناحية على ثمانية برد من المدينة لمن يريد الشام، يطلق هذا الاسم على الولاية وهي مشتملة على سبعة حصون ومزارع ونخل كثير، وخبير بلسان اليهود: الحصن، وقد فتحها النبي صلى الله عليه وسلم في سنة سبع أو ثمان للهجرة، وفي خلافة عمر رضي الله عنه، نفى أهلها إلى الشام. يُراجع: معجم البلدان (2/409- 410) ، وهي الآن تابعة لإمارة المدينة النبوية.

(2) - نجران من مخاليف اليمن من ناحية مكة، وسمي بذلك نسبة إلى نجران بن يعرب بن قحطان؛ لأنه أول من عمرها، وبها واد عظيم، وكان بها على زمن النبي صلى الله عليه وسلم كعبة وبها أساقفة وهم الذين دعاهم صلى الله عليه وسلم للمباهلة. وبها خُد الأخدود ولا زالت آثاره باقية.

وهي الآن تابعة للمملكة العربية السعودية، وبها إمارة خاصة بمنطقة نجران وتبعد عن الرياض حوالي تسعمائة كيلوا متر عن طريق وادي الدواسر، وتشتهر بالزراعة. يراجع: معجم البلدان (5/266 - 270) .

(3) - يُراجع: اقتضاء الصراط المستقيم (2/589-592) .
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক তারাবিহ সালাতকে বিদআত হিসেবে নামকরণ করা হলো আভিধানিক নামকরণ, শরয়ী নামকরণ নয়; কারণ অভিধানে বিদআত বলতে এমন সবকিছুকে বোঝায় যা কোনো পূর্ব উদাহরণ ছাড়াই শুরু করা হয়েছে।

আর শরয়ী বিদআত হলো: যার স্বপক্ষে কোনো শরয়ী দলিল নেই। সুতরাং যদি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নস (শরয়ী ভাষ্য) কোনো কাজের মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে অথবা তাঁর মৃত্যুর পরে তা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দালিলিক প্রমাণ বহন করে, অথবা তা সাধারণভাবে সাব্যস্ত হয় কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরই কেবল সেই আমলটি করা হয়—যেমন সদকা সংক্রান্ত কিতাব যা আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রকাশ করেছিলেন—তবে তাঁর মৃত্যুর পর যদি সেই আমলটি করা হয়, তবে আভিধানিক অর্থে তাকে বিদআত বলা সঠিক হবে; কারণ এটি একটি নবসূচিত কাজ। অনুরূপভাবে তারাবিহ সালাত, এবং এর মতোই কুরআন মাজিদ সংকলন করা, এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক খায়বারের ইহুদিদের (১) ও নাজরানের নাসারাদের (২) এবং আরব উপদ্বীপের (৩) অনুরূপ সম্প্রদায়গুলোকে বহিষ্কার করা।

দ্বিতীয়ত:‌‌ ইসলামে বিদআতের বিধান:

বিদআতের প্রকারভেদের ভিন্নতা অনুযায়ী বিদআতের বিধান ভিন্ন ভিন্ন হয়। অতএব, যে সকল আলেম বিদআতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) - এটি সিরিয়া গমনেচ্ছুদের জন্য মদিনা থেকে আট 'বুরুদ' (প্রায় ৯৬ কিমি) দূরত্বে অবস্থিত একটি অঞ্চল। এই নামটি একটি প্রদেশের ওপর প্রয়োগ করা হয় এবং এটি সাতটি দুর্গ, খামার এবং প্রচুর খেজুর বাগান সমৃদ্ধ। ইহুদিদের ভাষায় 'খায়বার' অর্থ হলো দুর্গ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি হিজরি সপ্তম অথবা অষ্টম সনে জয় করেছিলেন এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে সেখানকার বাসিন্দাদের সিরিয়ায় বহিষ্কার করা হয়। দেখুন: মুজামুল বুলদান (২/৪০৯-৪১০)। বর্তমানে এটি মদিনা মুনাওয়ারা প্রদেশের অন্তর্গত।

(২) - নাজরান মক্কার নিকটবর্তী ইয়েমেনের প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। নাজরান বিন ইয়ারুব বিন কাহরানের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে; কারণ তিনিই প্রথম এটি আবাদ করেছিলেন। সেখানে একটি বিশাল উপত্যকা রয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে সেখানে একটি গির্জা এবং কিছু বিশপ ছিল, যাদেরকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুবাহালার জন্য আহ্বান করেছিলেন। সেখানে 'উখদুদ' (গর্ত) এর চিহ্ন বিদ্যমান যা এখনও রয়ে গেছে। বর্তমানে এটি সৌদি আরব রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং নাজরান অঞ্চলের জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক এলাকা রয়েছে। এটি ওয়াদি আদ-দাওয়াসির হয়ে রিয়াদ থেকে প্রায় নয়শ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এটি কৃষির জন্য প্রসিদ্ধ। দেখুন: মুজামুল বুলদান (৫/২৬৬-২৭০)।

(৩) - দেখুন: ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম (২/৫৮৯-৫৯২)।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أقسام بحسب الأحكام التكليفية- كالعز بن عبد السلام وغيره-لا إشكال عندهم- رحمهم الله في حكم البدعة، فهي عندهم تنقسم إلى بدعة واجبة وبدعة مندوبة، وبدعة مباحة وبدعة مكروهة وبدعة محرمة.

فالبدعة الواجبة حكمها الوجوب، والبدعة المندوبة حكمها الندب … وهكذا باقي أقسام البدعة عندهم.

وأما على قول من قال إن البدع كلها مذمومة - وهو القول الراجح من أقوال العلماء -فإنهم قالوا بأن البدع حرام، ولكنها تتفاوت في التحريم:

أ- فمنها ما هو كفر لا يحتمل التأويل، كبدعة الجاهلية التي نبَّه عليها القرآن، كقوله تعالى: {وَجَعَلُوا لِلَّهِ مِمَّا ذَرَأَ مِنَ الْحَرْثِ وَالْأَنْعَامِ نَصِيباً فَقَالُوا هَذَا لِلَّهِ بِزَعْمِهِمْ وَهَذَا لِشُرَكَائِنَا} (1) .

وقوله تعالى: {وَقَالُوا مَا فِي بُطُونِ هَذِهِ الْأَنْعَامِ خَالِصَةٌ لِذُكُورِنَا وَمُحَرَّمٌ عَلَى أَزْوَاجِنَا وَإِنْ يَكُنْ مَيْتَةً فَهُمْ فِيهِ شُرَكَاءُ} (2) .

وقوله تعالى: {َا جَعَلَ اللَّهُ مِنْ بَحِيرَةٍ وَلا سَائِبَةٍ وَلا وَصِيلَةٍ وَلا حَامٍ} (3) .

وكذلك بدعة المنافقين في اتخاذ الدين ذريعة لحفظ النفس والمال … وما أشبه ذلك من أنواع الكفر

ب- ومنها ما هو من المعاصي التي ليست بكفر، أو مختلف فيها هل هي كفر أم لا؟ ؛ كبدعة الخوارج، والقدرية (4) ،

--------------------------------------------

(1) - سورة الأنعام: الآية136.

(2) - سورة الأنعام: الآية139.

(3) -سورة المائدة: الآية103.

(4) - القدرية: فرقة ضالة تنفي صفات الله الأزلية كالعلم والقدرة والحياة والسمع والبصر وأنه ليس لله اسم ولا صفة، وأن الله لا يُرى، وأن كلام الله حادث مخلوق، وأن الله غير خالق لأكساب الناس، وأن الناس هم الذين يقدرون كسبهم، فهم ينكرون القدر فلذلك سمُّو قدرية. وبدعتهم هذه حدثت في آخر عصر الصحابة وكان أكثرهم في الشام والبصرة وفي المدينة أيضاً، وأصل هذه البدعة أحدثها مجوسي من البصرة ثم تلقَّاها عنه معبد الحهني. وقد أنكر الصحابة عليهم ذلك.

يراجع: الفرق بين الفرق ص (93- 94) ، ومجموع الفتاوى (7/384- 386) ، وكذلك (13/36، 37) .
শরয়ী বিধানের (আহকামে তাকলিফিয়া) ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ—যেমন ইজ্জ বিন আব্দুস সালাম এবং অন্যান্যরা—তাঁদের নিকট (আল্লাহ তাঁদের রহম করুন) বিদআতের বিধানের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা নেই। তাঁদের নিকট বিদআত ওয়াজিব বিদআত, মানদুব বিদআত, মুবাহ বিদআত, মাকরূহ বিদআত এবং হারাম বিদআত—এই ভাগে বিভক্ত।

সুতরাং ওয়াজিব বিদআতের বিধান হলো ওয়াজিব হওয়া, আর মানদুব বিদআতের বিধান হলো মানদুব বা মুস্তাহাব হওয়া … এভাবেই তাঁদের নিকট বিদআতের অবশিষ্ট বিভাগগুলোও প্রযোজ্য।

আর যারা বলেন যে সকল বিদআতই নিন্দনীয়—যা আলেমদের মতামতের মধ্যে অধিক গ্রহণযোগ্য মত—তারা বলেন যে বিদআত হারাম, তবে এই হারামের মাত্রায় তারতম্য রয়েছে:

ক- তন্মধ্যে কিছু এমন যা কুফর এবং কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না, যেমন জাহেলিয়াতের বিদআত যার ব্যাপারে কুরআন সতর্ক করেছে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহ যে শস্যক্ষেত্র ও গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে তারা আল্লাহর জন্য একটি অংশ নির্ধারণ করে এবং তাদের ধারণা অনুযায়ী বলে যে, এটি আল্লাহর জন্য এবং এটি আমাদের শরীকদের (উপাস্যদের) জন্য} (১)।

এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তারা বলে, এই গবাদি পশুগুলোর গর্ভে যা আছে তা কেবল আমাদের পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট এবং আমাদের নারীদের জন্য হারাম; আর তা যদি মৃত হয়, তবে তারা সকলেই এতে অংশীদার} (২)।

এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহ বাহিরাহ, সাইবাহ, ওয়াসিলাহ ও হাম-এর বিধান দেননি} (৩)।

অনুরূপভাবে জান ও মাল রক্ষার মাধ্যম হিসেবে দ্বীনকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুনাফিকদের বিদআত … এবং এ জাতীয় অন্যান্য কুফরীসমূহ।

খ- আবার কিছু বিদআত এমন যা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত কিন্তু কুফর নয়, অথবা তা কুফর কি না সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; যেমন খারেজী ও কাদরিয়াদের বিদআত (৪),

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-আনআম: আয়াত ১৩৬।

(২) - সূরা আল-আনআম: আয়াত ১৩৯।

(৩) -সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ১০৩।

(৪) - কাদরিয়া: একটি পথভ্রষ্ট দল যারা আল্লাহর অনাদি গুণাবলী যেমন জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন, শ্রবণ ও দর্শনকে অস্বীকার করে এবং বলে যে আল্লাহর কোনো নাম বা গুণ নেই, এবং আল্লাহকে দেখা যাবে না; আর আল্লাহর কালাম বা কথা নতুন সৃষ্টি, এবং আল্লাহ মানুষের কর্মের স্রষ্টা নন, বরং মানুষ নিজেই তাদের কর্মের ভাগ্য নির্ধারণ করে। তারা তাকদীর বা ভাগ্যকে অস্বীকার করে বিধায় তাদের কাদরিয়া বলা হয়। এই বিদআতের উদ্ভব সাহাবায়ে কেরামের যুগের শেষ ভাগে হয়েছে এবং তাদের অধিকাংশই ছিল শাম (সিরিয়া), বসরা এবং মদীনায়। এই বিদআতের মূল উদ্ভাবন করেছিল বসরার এক অগ্নিপূজক (মজুসি), যার নিকট থেকে মাবাদ আল-জুহানি এটি গ্রহণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম তাদের এই মতবাদের প্রতিবাদ করেছিলেন।

দ্রষ্টব্য: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃষ্ঠা (৯৩-৯৪), মাজমুউল ফাতাওয়া (৭/৩৮৪-৩৮৬), এবং (১৩/৩৬, ৩৭)।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
والمرجئة (1) ، ومن أشبههم من الفرق الضَّالة.

ج- ومنها ما هو معصية؛ كبدعة التبتل، والصيام قائماً في الشمس، والخصاء بقصد قطع شهوة الجماع.

د-ومنها ما هو مكروه، كبدعة التعريف - وهو اجتماع الناس في المساجد للدعاء عشية عرفة - وذكر السلاطين في خطبة الجمعة، ونحو ذلك.

فهذه البدع ليست في رتبة واحدة، وليس حكمها واحد.

وكما أن المعاصي منها ما هو صغيرة، ومنها ما هو كبيرة ويعرف ذلك بكونها واقعة في الضروريات أو الحاجيات أو التكميليات - التحسينات - فإن كانت الضروريات- وهي الدين، والنفس، والنسل، والعقل، والمال - فهي أعظم الكبائر، وإن وقعت في التحسينات فهي أدنى رتبة بلا إشكال، وإن وقعت في الحاجيات فمتوسطة بين الرتبتين.

والبدع من جملة المعاصي، وقد ثبت التفاوت في المعاصي، فكذلك يتصور مثله في البدع:

فمنها ما يقع في الضروريات، ومنها ما يقع في الحاجيات، ومنها ما يقع في التحسينات.

وما يقع في رتبة الضروريات: منه ما يقع في الدين أو النفس أو النسل أو العقل أو المال.

--------------------------------------------

(1) - المرجئة: من الفرق الضَّلَّة التي تقوم: لا يضر مع الإيمان معصية، كما لا ينفع مع الكفر طاعة، والإرجاء هو: التأخير، وسمُّوا مرجئة لتأخيرهم العمل عن النية، أو لتأخير حكم صاحب الكبيرة إلى يوم القيامة، ويقولون: إنَّ الإيمان لا يزيد ولا ينقص. وإنه يكون في القلب واللسان.

يراجع: الفرق بين الفرق (190- 195) ، والملل والنِّحل للشهرستاني ص (139-146) .
এবং মুরজিয়া (১) ও তাদের অনুরূপ ভ্রান্ত দলসমূহ।

গ- এর মধ্যে কিছু রয়েছে যা গুনাহ; যেমন বৈরাগ্যের বিদআত, রোদে দাঁড়িয়ে রোজা রাখা এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা দমনের উদ্দেশ্যে অণ্ডকোষ কর্তনের বিদআত।

ঘ- এর মধ্যে কিছু রয়েছে যা মাকরূহ; যেমন 'তারিফ'-এর বিদআত—আর তা হলো আরাফার সন্ধ্যায় দোয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে মানুষের সমবেত হওয়া—এবং জুমার খুতবায় সুলতানদের নাম উল্লেখ করা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।

সুতরাং এই বিদআতগুলো একই স্তরের নয় এবং এগুলোর বিধানও এক নয়।

যেভাবে গুনাহসমূহের মধ্যে কোনটি ছোট এবং কোনটি বড় হয়ে থাকে, আর তা নির্ধারিত হয় 'জরুরিয়াত' (মৌলিক প্রয়োজনীয়তা), 'হাজিয়াত' (সাধারণ প্রয়োজনীয়তা) অথবা 'তাকমিলিয়াত' বা 'তাহসিনিয়াত' (পরিপূরক)-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। যদি তা 'জরুরিয়াত'-এর ক্ষেত্রে হয়—যা হলো দ্বীন, জীবন, বংশধারা, বুদ্ধি ও সম্পদ—তবে তা সর্ববৃহৎ কবীরা গুনাহ। আর যদি তা 'তাহসিনিয়াত'-এর ক্ষেত্রে হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে নিম্নস্তরের। আর যদি তা 'হাজিয়াত'-এর ক্ষেত্রে হয়, তবে তা এই দুই স্তরের মাঝামাঝি।

বিদআতসমূহ গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, আর যেহেতু গুনাহের মধ্যে তারতম্য থাকা প্রমাণিত, তাই বিদআতের ক্ষেত্রেও অনুরূপ তারতম্য হওয়া সম্ভব:

সুতরাং তার মধ্যে কোনোটি 'জরুরিয়াত'-এর ক্ষেত্রে ঘটে, কোনোটি 'হাজিয়াত'-এর ক্ষেত্রে ঘটে এবং কোনোটি 'তাহসিনিয়াত'-এর ক্ষেত্রে ঘটে।

আর যা 'জরুরিয়াত'-এর স্তরে ঘটে: তা দ্বীন অথবা জীবন অথবা বংশধারা অথবা বুদ্ধি অথবা সম্পদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।

--------------------------------------------

(১) - মুরজিয়া: তারা ঐ সকল ভ্রান্ত দলগুলোর অন্তর্ভুক্ত যারা বলে: ঈমানের সাথে কোনো গুনাহ ক্ষতি করে না, যেমনিভাবে কুফরের সাথে কোনো আনুগত্য উপকারে আসে না। 'ইরজা' শব্দের অর্থ হলো: পিছিয়ে দেয়া বা বিলম্বিত করা। তাদের মুরজিয়া নামকরণ করা হয়েছে আমলকে নিয়ত (বা বিশ্বাস) থেকে পিছিয়ে দেওয়ার কারণে, অথবা কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির ফয়সালা কিয়ামত পর্যন্ত বিলম্বিত করার কারণে। তারা বলে: নিশ্চয়ই ঈমান বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাসও পায় না; আর তা হলো অন্তর ও জিহ্বার বিষয়।

দ্রষ্টব্য: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক (১৯০-১৯৫) এবং শাহরাস্তানি রচিত আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, পৃষ্ঠা (১৩৯-১৪৬)।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فمثال وقوعه في الدين: ما تقدم من اختراع الكفار، وتغييرهم ملة إبراهيم عليه السلام من نحوه قول تعالى: {مَا جَعَلَ اللَّهُ مِنْ بَحِيرَةٍ وَلا سَائِبَةٍ وَلا وَصِيلَةٍ وَلا حَامٍ} (1) .

قال سعيد بن المسيب- رحمه الله: البحيرة: التي يمنح درّها للطواغيت، فلا يحلبها أحد من الناس.

والسَّائبة: كانوا يسبونها لآلهتهم فلا يحمل عليها شيء.

والوصيلة: الناقة البكر، تُبكّر في أول نتاج الإبل بأنثى، ثم تثنى بعد بأنثى، وكانوا يُسيبونها لطواغيتهم إن وصلت إحداهما بالأخرى، ليس بينهما ذكر.

والحام: فحل الإبل يضرب الضراب المعدود، فإذا قضى ضرابه، ودعوه للطواغيت، وأعفوه من الحمل فلم يُحمل عليه شيء، وسموه الحامي (2) .

ففي الآية السابقة نفي لفعل أهل الجاهلية وتغييرهم ملة إبراهيم عليه السلام، حيث اخترعوا أشياء من أنفسهم، ونسبوه إلى الدين، وجعلوها من شعائرهم.

ومثال ما يقع في النفس: ما ذكر من نحل الهند في تعذيبها أنفسها بأنواع العذاب الشنيع والقتل بالأصناف التي تفزع منها القلوب، كل ذلك على استعجاب الموت لنيل الدرجات العلى بزعمهم. ومنها قتل العرب أولادهم في الجاهلية خشية الفقر أو العار، قال تعالى: {وَلا تَقْتُلُوا أَوْلادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ} (3) .

وقال تعالى {وَإِذَا الْمَوْؤُودَةُ سُئِلَتْ*بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ} (4) .

--------------------------------------------

(1) -سورة المائدة: الآية103.

(2) - رواه البخاري في صحيحه المطبوع مع فتح الباري (2/283) ، كتاب التفسير، حديث (4623) .

(3) -سورة الاسراء: الآية31.

(4) -سورة التكوير: الآيتان 8، 9.
দ্বীনের ক্ষেত্রে এটি ঘটার উদাহরণ হলো: কাফেরদের পক্ষ থেকে যা পূর্বে উদ্ভাবিত হয়েছে এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মিল্লাত বা আদর্শকে তাদের পরিবর্তন করা। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ বাহিরাহ, সাইবাহ, ওয়াসিলাহ এবং হাম-এর কোনো বিধান দেননি।" (১)।

সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: 'বাহিরাহ' হলো সেই পশু যার দুধ তাগুতদের (মূর্তিদের) জন্য উৎসর্গ করা হতো, ফলে মানুষের কেউ তা দোহন করত না।

আর 'সাইবাহ' হলো: তারা তাদের উপাস্যদের নামে পশু ছেড়ে দিত, যার ওপর কোনো কিছু বহন করা হতো না।

আর 'ওয়াসিলাহ' হলো: সেই কুমারী উষ্ট্রী, যে তার প্রথম প্রসবে মাদী বাচ্চা প্রসব করত, এরপর পুনরায় মাদী বাচ্চা প্রসব করত। তারা সেটিকে তাদের তাগুতদের জন্য ছেড়ে দিত যদি একটির পর আরেকটি মাদী বাচ্চা জন্ম নিত এবং তাদের মাঝে কোনো পুরুষ বাচ্চা না থাকত।

আর 'হাম' হলো: সেই পুরুষ উট যা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বার প্রজনন সম্পন্ন করেছে। যখন সে তার প্রজনন শেষ করত, তারা সেটিকে তাগুতদের জন্য ছেড়ে দিত এবং বোঝা বহন থেকে অব্যাহতি দিত, ফলে সেটির ওপর আর কিছু বহন করা হতো না। তারা এর নাম দিয়েছিল 'আল-হামি' (২)।

সুতরাং পূর্ববর্তী আয়াতে জাহেলিয়াত যুগের লোকদের কাজ এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের দ্বীন পরিবর্তনের বিষয়টিকে নাকচ করা হয়েছে; যেহেতু তারা নিজেদের পক্ষ থেকে কিছু বিষয় উদ্ভাবন করেছিল, সেগুলোকে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করেছিল এবং সেগুলোকে তাদের ধর্মীয় নিদর্শনের অংশ বানিয়েছিল।

আর জান বা জীবনের ক্ষেত্রে যা ঘটে তার উদাহরণ হলো: ভারতের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা নিজেদেরকে বিভিন্ন জঘন্য প্রকারের শাস্তি দেয় এবং এমন সব উপায়ে হত্যা করে যা দেখলে অন্তর কেঁপে ওঠে। তাদের দাবি অনুযায়ী উচ্চ মর্যাদা লাভের আশায় মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করার জন্য এসব করা হয়। এর মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত হলো জাহেলিয়াত যুগে দারিদ্র্য বা লজ্জার ভয়ে আরবদের সন্তান হত্যা করা। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, আমিই তাদের রিযিক দেই এবং তোমাদেরও।" (৩)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর যখন জীবন্ত দাফনকৃত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে— কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে?" (৪)।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ১০৩।

(২) - ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন তাঁর সহীহ গ্রন্থে যা ফাতহুল বারীর সাথে মুদ্রিত (২/২৮৩), তাফসীর অধ্যায়, হাদীস (৪৬২৩)।

(৩) - সূরা আল-ইসরা: আয়াত ৩১।

(৪) - সূরা আত-তাকভীর: আয়াত ৮, ৯।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ومثال ما يقع في النسل: نكاحات الجاهلية، فجاء عن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها: ((أن النكاح في الجاهلية كان على أربعة أنحاء: فنكاح منها نكاح الناس اليوم، يخطب الرجل إلى الرجل وليّته أو ابنته فيصدقها ثم ينكحها. ونكاح آخر: كان الرجل يقول لامرأته إذا طهرت من طمثها: أرسلي إلى فلان فاستبضعي منه، ويعتزلها زوجها ولا يمسها أبداً حتى يتبين حملها من ذلك الرجل الذي تستبضع منه، فإذا تبين حملها أصابها زوجها إذا أحب، وإنَّما يفعل ذلك رغبة في نجابة الولد، فكان هذا النكاح نكاح الاستبضاع. ونكاح آخر: يجتمع الرهط ما دون العشرة، فيدخلون على المرأة كلهم يُصيبها، فإذا حملت ووضعت ومرّ ليال بعد أن تضع حملها أرسلت إليهم، فلم يستطع رجل منهم أن يمتنع، حتى يجتمعوا عندها، تقول لهم: قد عرفتم الذي كان من أمركم، وقد ولدت فهو ابنك يا فلان، تُسمي من أحبت باسمه، فيلحق به ولدها، لا يستطيع أن يمتنع به الرجل. ونكاح الرابع: يجتمع الناس الكثير فيدخلون على المرأة لا تمنع من جاءها، وهنَّ البغايا، كن ينصبن على أبوابهن رايات تكون علماً، فمن أرادهن دخل عليهنَّ، فإذا حملت إحداهن، ووضعت حملها، ج معوا لها ودعوا لهم القافة، ثم ألحقوا ولدها بالذي يرون فالتاطته به (1)

ودعي ابنه لا يمتنع من ذلك. فلما بُعث محمد صلى الله عليه وسلم بالحق هدم نكاح الجاهلية كله، إلا نكاح الناس اليوم)) (2) .

ومثال ما يقع في العقل: أن الشريعة بَّينت أن حكم الله على العباد لا يكون إلا بما شرع في دينه على ألسِنة أنبيائه ورسله، ولذلك قال تعالى {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ

--------------------------------------------

(1) - فالتاطته به: أي استلحقته به، وأصل اللوط - بفتح اللام -: اللصوق.

يراجع: النهاية لابن الأثير (4/277) باب اللام مع الواو، وفتح الباري (9/185) .

(2) - رواه البخاري في صحيحه المطبوع مع فتح الباري (9/182، 183) ، كتاب النكاح، حديث رقم (5127) ، ورواه أبو داود في سننه (2/702) كتاب الطلاق، حديث رقم (2272) .
বংশগতির ক্ষেত্রে যা ঘটে থাকে তার উদাহরণ হলো: জাহেলী যুগের বিবাহসমূহ। মুমিন জননী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: "জাহেলী যুগে বিবাহ ছিল চার প্রকারের: এর একটি হলো বর্তমান সময়ের মানুষের বিবাহের মতো, যেখানে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কাছে তার অভিভাবকত্বে থাকা নারী বা তার কন্যার বিয়ের প্রস্তাব দেয়, এরপর সে তাকে মোহর প্রদান করে এবং তাকে বিবাহ করে। দ্বিতীয় প্রকারের বিবাহ ছিল: কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলত যখন সে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হতো: 'অমুকের কাছে যাও এবং তার সাথে সহবাস করে গর্ভধারণ করো'। আর তার স্বামী তার থেকে পৃথক থাকত এবং তাকে কখনও স্পর্শ করত না যতক্ষণ না ওই ব্যক্তির মাধ্যমে তার গর্ভধারণ নিশ্চিত হতো। যখন গর্ভধারণ নিশ্চিত হতো, তখন স্বামী চাইলে তার সাথে সহবাস করত। সে কেবল সন্তানের আভিজাত্য লাভের আকাঙ্ক্ষায় এমনটি করত। এই বিবাহকে বলা হতো 'নিকাহুল ইস্তিবদা' (গর্ভধারণের উদ্দেশ্যে বিবাহ)। তৃতীয় প্রকারের বিবাহ ছিল: দশজনের কম একদল লোক একত্রিত হতো এবং তারা সবাই একজন নারীর কাছে প্রবেশ করে তার সাথে সহবাস করত। এরপর সে গর্ভবতী হলে এবং সন্তান প্রসবের পর কিছু রাত অতিবাহিত হলে সে তাদের ডেকে পাঠাত। তখন তাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তিরই উপস্থিত হতে অস্বীকার করার উপায় থাকত না, যতক্ষণ না তারা তার নিকট একত্রিত হতো। সে তখন তাদের বলত: 'তোমাদের বিষয়টি তো তোমরা জানোই, এখন আমি সন্তান প্রসব করেছি। হে অমুক! এটি তোমার সন্তান'—সে তাদের মধ্য থেকে যাকে পছন্দ করত তার নাম বলত। ফলে সন্তানটি তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়ে যেত এবং ওই ব্যক্তি তা অস্বীকার করতে পারত না। চতুর্থ প্রকারের বিবাহ ছিল: অনেক লোক একত্রিত হয়ে একজন নারীর নিকট প্রবেশ করত এবং সে আগত কাউকেই বাধা দিত না। এরা ছিল পতিতা নারী, তারা তাদের ঘরের দরজায় নিশান বা পতাকা উড়িয়ে রাখত যা চিহ্ন হিসেবে কাজ করত। যে তাদের চাইত সে তাদের কাছে প্রবেশ করত। এরপর তাদের কেউ গর্ভবতী হলে এবং সন্তান প্রসব করলে, তারা একত্রিত হতো এবং তাদের জন্য 'কাফাহ' (বংশ পরিচয় বিশেষজ্ঞ) ডাকা হতো। তারপর তারা যে ব্যক্তির সাথে চেহারার মিল দেখত, সন্তানটিকে তার সাথে জুড়ে দিত এবং সে তাকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে নিত।

আর তাকে তার পুত্র বলে ডাকা হতো, সে তা অস্বীকার করতে পারত না। অতঃপর যখন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যসহ প্রেরিত হলেন, তখন তিনি বর্তমান সময়ের প্রচলিত বিবাহ পদ্ধতি ব্যতিরেকে জাহেলী যুগের সকল প্রকার বিবাহ প্রথা বিলুপ্ত করে দিলেন।" (২)।

আর বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে যা ঘটে থাকে তার উদাহরণ হলো: শরীয়ত বর্ণনা করেছে যে, বান্দাদের ওপর আল্লাহর বিধান কেবল তা-ই হতে পারে যা তিনি তাঁর নবী ও রাসূলগণের মাধ্যমে তাঁর দ্বীনে বিধিবদ্ধ করেছেন। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা পেশ করো...

--------------------------------------------

(১) - ফালতাতাতহু বিহি: অর্থাৎ সে তাকে নিজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে নিল। আর 'লাওত' শব্দের মূল অর্থ হলো—লেগে থাকা বা সেঁটে থাকা।

দ্রষ্টব্য: ইবনুল আসীরের আন-নিহায়া (৪/২৭৭), লাম ও ওয়াও অধ্যায়; এবং ফাতহুল বারী (৯/১৮৫)।

(২) - এটি বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যা ফাতহুল বারীর সাথে মুদ্রিত (৯/১৮২, ১৮৩), বিবাহ অধ্যায়, হাদিস নং ৫১২৭; এবং আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (২/৭০২), তালাক অধ্যায়, হাদিস নং ২২৭২।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} (1) .

وقال تعالى: {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ} (2) .

فخرجت أقوام عن هذا الأصل فزعموا أن العقل له مجال في التشريع وأنه مُحسن ومُقبح، فابتدعوا في دين الله ما ليس فيه.

ومثال ما يقع في المال: أالكفار قالوا: {إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبا} (3) .

فإنهم لما استحلوا العمل به احتجُّوا بقياس فاسد، فقالوا: إذا فسخ العشرة التي اشترى بها إلى شهر في خمسة عشر إلى شهر، فهو كما لو باع بخمسة عشر إلى شهرين فأكذبهم الله تعالى ورد عليهم فقال: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا} (4) ؛ أي: ليس البيع مثل الربا، فهذه محدثة أخذوا بها مستندين إلى رأي فاسد، فكان من جملة المحدثات كسائر ما حدثوا في البيوع الجارية بينهم المبنية على الخطر والغرر.

ومن ذلك أيضاً ما شرعوه في الأموال كالحظوظ التي كانوا يخصُّون بها الأمير، وسموها بأسماء مختلفة بينها شاعرهم بقول:

لك المرباع فيها والصفايا وحكمك والنشيطة والفضول (5)

فلما أنزل الله القرآن بقسمة الغنيمة في قوله تعالى: {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ} الآية (6) ، ارتفع حكم هذه البدعة (7) .

ويرى الشاطبي أن البدعة لا تكون صغيرة إلا إذا توفرت فيها عدة شروط؛ منها:

--------------------------------------------

(1) -سورة النساء: لآية59.

(2) -سورة الأنعام: الآية57.

(3) - سورة البقرة: الآية275.

(4) - سورة البقرة: الآية275.

(5) - المرباع: ربع المغنم. والصفايا: ما يصفيه الأمير لنفسه من المغنم. والنشيطة: ما يغنمه الغزاة في الطريق. والفضول: ما عجز عن أن يُقسم لقتله وخص به.

يراجع: لسان العرب (8/101) ، مادة (ربع) .

(6) - سورة لأنفال: الآية41.

(7) - يراجع: الاعتصام للشاطبي (2/37-48) .
...আল্লাহ এবং রাসূলের দিকে। (১) .

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বিধান কেবল আল্লাহরই জন্য} (২) ।

ফলে কিছু সম্প্রদায় এই মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং দাবি করেছে যে শরিয়ত প্রণয়নে আকল বা বিবেকের ভূমিকা রয়েছে এবং বিবেকই কোনো কিছুকে ভালো বা মন্দ সাব্যস্ত করতে পারে। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর দ্বীনে এমন সব নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেছে যা এর অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

আর সম্পদের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তার উদাহরণ হলো: কাফেররা বলেছিল: {ব্যবসা তো সুদের মতোই} (৩) ।

যখন তারা সুদের কারবারকে বৈধ মনে করল, তখন তারা একটি ভ্রান্ত কিয়াসের (যুক্তি) আশ্রয় নিল। তারা বলেছিল: যদি কেউ দশ টাকার বিনিময়ে কেনা জিনিসের চুক্তি এক মাসের জন্য বাতিল করে এক মাসের মেয়াদে পনের টাকা নির্ধারণ করে, তবে তা তেমনই যেমন সে পনের টাকার বিনিময়ে দুই মাসের মেয়াদে বিক্রি করল। আল্লাহ তাআলা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন এবং তাদের উত্তর দিয়ে বলেছেন: {তা এজন্য যে তারা বলেছিল ব্যবসা তো সুদের মতোই, অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন} (৪); অর্থাৎ: ব্যবসা সুদের মতো নয়। এটি একটি নব উদ্ভাবিত বিষয় যা তারা এক ভ্রান্ত মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণ করেছিল। এটি ছিল তাদের প্রচলিত অন্যান্য ক্রয়-বিক্রয়ের মতো উদ্ভাবিত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যা ঝুঁকি ও ধোঁকার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।

এর মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মালের ব্যাপারে তাদের প্রবর্তিত নিয়মাবলি, যেমন গনীমতের মালের অংশ যা তারা আমীরের (নেতার) জন্য নির্দিষ্ট করত এবং তারা একে বিভিন্ন নামে অভিহিত করত। তাদের কবি তার কবিতায় তা বর্ণনা করেছেন:

গনীমতের এক-চতুর্থাংশ আপনার জন্য, আর যা আপনি নিজের জন্য পছন্দ করেন তাও আপনার, আর আপনার নির্দেশ অনুযায়ী বণ্টিত অংশ, আর যা পথিমধ্যে অর্জিত হয় এবং যা বণ্টন করা অসাধ্য তাও আপনার জন্য (৫)

অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা গনীমত বণ্টনের ব্যাপারে কুরআনের আয়াত নাযিল করলেন: {তোমরা জেনে রেখো যে, তোমরা যা কিছু গনীমত লাভ করো তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রাসূলের জন্য} আয়াতটি (৬), তখন এই বিদআতের হুকুম রহিত হয়ে গেল (৭) ।

আশ-শাতবি মনে করেন যে, বিদআত ছোট বলে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তাতে বেশ কিছু শর্ত পাওয়া যায়; তার মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) - সূরা আন-নিসা: আয়াত ৫৯।

(২) - সূরা আল-আনআম: আয়াত ৫৭।

(৩) - সূরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৫।

(৪) - সূরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৫।

(৫) - মিরবা: গনীমতের এক-চতুর্থাংশ। সাফায়া: গনীমতের যে অংশ আমীর নিজের জন্য বেছে নিতেন। নাশিতা: গনীমতের যা যোদ্ধারা পথিমধ্যে অর্জন করে। ফুযুল: যা বণ্টন করা সম্ভব না হওয়ার কারণে নেতাকে প্রদান করা হতো।

দ্রষ্টব্য: লিসানুল আরব (৮/১০১), শব্দমূল: (র-ব-আ)।

(৬) - সূরা আল-আনফাল: আয়াত ৪১।

(৭) - দ্রষ্টব্য: আল-ইতিসাম লি-শাতবি (২/৩৭-৪৮)।
(খণ্ড: ১) আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
1- أن لا يداوم عليها، فإنَّ الصغيرة من المعاصي لمن داوم عليها تكبر بالنسبة إليه؛ لأن ذلك ناشئ عن الإصرار عليها، والإصرار على الصغيرة يُصيِّرها كبيرة.

2- أن لا يدعو المبتدع إلى بدعته، فإن البدعة قد تكون صغيرة بالإضافة ثم يدعو مبتدعها إلى القول بها والعمل على مقتضاها، فيكون إثم ذلك كله عليه.

3- أن لا يفعلها في المواضع التي هي مجتمعات الناس أو المواضع التي تقام فيها السنن، وتظهر فيها أعلام الشريعة، فأما إظهارها في المجتمعات ممن يُقتدى به أو ممن يحسن الظن به، فذلك من أضر الأشياء على سنة الإسلام؛ لأنه إما أن يقتدي العوام بصاحبها فيها، وإذا اقتدى بصاحب البدعة الصغيرة كبرت بالنسبة إليه، أو أن يتوهم الناس أن ما أظهره هو من شعائر الإسلام فكأنه بإظهاره لها يقول: هذه سنة فاتبعوها.

4-أن لا يستصغرها ولا يستحقرها، فإن ذلك استهانة بها، والاستهانة بالذنب أعظم من الذنب فكان ذلك سبباً لعظم ما هو صغير

فإذا تحققت هذه الشروط، فإن ذلك يرجى أن تكون صغيرتها صغيرة، فإذا تخلف شرط منها أو أكثر، صارت كبيرة، أو خيف أن تكون كبيرة، كما أن المعاصي كذلك (1) .

وبعد أن تكلمنا عن حكم البدع نورد بشكل موجز موقف السلف الصالح من البدع عموماً وتحذيرهم منها، فمن ذلك:

قول ابن مسعود رضي الله عنه: ((الاقتصاد في السنة، أحسن من الاجتهاد في البدعة)) (2) .

وقول ابن عباس- رضي الله عنهما: ((ما أتى على الناس عام إلا أحدثوا فيه بدعة، وأماتوا فيه سنة حتى تحيا البدع، وتموت السنن)) (3) .

--------------------------------------------

(1) - يراجع: الاعتصام للشاطبي (2/65- 72) .

(2) - رواه الحاكم في مستدركه (1/103) كتاب العلم. وقال: هذا حديث مسند صحيح على شروطهما ولم يخرجاه. ووافقه الذهبي في تلخيصه.

(3) - قال الهيثمي في مجمع الزوائد (1/188) : رواه الطبراني في الكبير ورجاله موثّقون. ورواه ابن وضاح في كتابه البدع والنهي عنها ص (38) .
১- এর ওপর যেন অবিচল না থাকে, কারণ পাপের মধ্যে যা ছোট তা যদি কেউ অবিচলভাবে করতে থাকে তবে তার ক্ষেত্রে সেটি বড় হয়ে যায়; কেননা এটি তা নিয়মিত করার একগুঁয়েমি থেকে উৎপন্ন হয়, আর ছোট পাপে অটল থাকা তাকে বড় পাপে পরিণত করে।

২- বিদআতকারী যেন তার বিদআতের দিকে আহ্বান না করে, কারণ বিদআতটি তুলনামূলকভাবে ছোট হতে পারে কিন্তু এরপর বিদআতকারী সেটির কথা বলতে ও তদানুযায়ী আমল করার দাওয়াত দেয়, ফলে সেই সমস্ত কিছুর পাপ তার ওপর বর্তায়।

৩- জনসমাগমের স্থানে বা যেখানে সুন্নাত কায়েম করা হয় এবং শরীয়তের নিশানসমূহ প্রকাশিত হয়, সেখানে যেন তা না করে। আর জনসমাগমে এমন ব্যক্তির মাধ্যমে এর প্রকাশ ঘটা যাকে অনুসরণ করা হয় বা যার প্রতি সুধারণা রাখা হয়, তা ইসলামের সুন্নাহর জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত; কেননা হয় সাধারণ মানুষ এর কর্তাকে অনুসরণ করবে, আর ছোট বিদআতের কর্তাকে অনুসরণ করলে তা তার জন্য বড় হয়ে দাঁড়াবে, অথবা মানুষ ধারণা করবে যে সে যা প্রকাশ করেছে তা ইসলামের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেন সে তা প্রকাশ করার মাধ্যমে বলছে: এটি সুন্নাত, অতএব তোমরা এর অনুসরণ করো।

৪-সেটিকে যেন তুচ্ছ বা নগণ্য মনে না করে, কেননা এটি সেটির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন, আর পাপের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন স্বয়ং পাপের চেয়েও গুরুতর, ফলে যা ছোট ছিল তা বড় হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সুতরাং যদি এই শর্তসমূহ পূর্ণ হয়, তবে আশা করা যায় যে এর ছোটটি ছোটই থাকবে, কিন্তু যদি এর কোনো একটি বা একাধিক শর্ত লঙ্ঘিত হয়, তবে তা বড় পাপে পরিণত হবে, অথবা তা বড় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে, যেমনটি অন্যান্য গুনাহের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে (১)।

বিদআতের বিধান নিয়ে আলোচনার পর আমরা সংক্ষেপে সাধারণভাবে বিদআত সম্পর্কে সালাফে সালেহীনের অবস্থান এবং এ ব্যাপারে তাঁদের সতর্কবাণী উল্লেখ করছি, তার মধ্যে রয়েছে:

ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাণী: ((সুন্নাতের ওপর মধ্যপন্থা অবলম্বন করা বিদআতে কঠোর পরিশ্রম করার চেয়ে উত্তম)) (২)।

এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-র বাণী: ((মানুষের ওপর এমন কোনো বছর অতিবাহিত হয় না যাতে তারা কোনো বিদআতের উদ্ভাবন করে না এবং কোনো সুন্নাতকে বিলুপ্ত করে না, ফলে বিদআতগুলো সজীব হয়ে ওঠে আর সুন্নাতগুলো বিলীন হয়ে যায়)) (৩)।

--------------------------------------------

(১) - দ্রষ্টব্য: শাতবি রচিত আল-ইতিসাম (২/৬৫-৭২)।

(২) - হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে (১/১০৩) ইলম অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি একটি মুসনাদ হাদিস যা তাঁদের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ কিন্তু তাঁরা তা বর্ণনা করেননি। আর জাহাবি তাঁর তালখিস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

(৩) - হাইসামি মাজমাউয যাওয়ায়েদ গ্রন্থে (১/১৮৮) বলেছেন: তাবারানি আল-কাবীর গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আর ইবনে ওয়াদদাহ তাঁর 'আল-বিদা ওয়ান নাহয়ু আনহা' গ্রন্থের ৩৮ পৃষ্ঠায় এটি বর্ণনা করেছেন।