(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: -)
السيرة النبوية والدعوة في العهد المدني   (أحمد أحمد غلوش)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: السيرة النبوية والدعوة في العهد المدني

المؤلف: أحمد أحمد غلوش

الناشر: مؤسسة الرسالة للطباعة والنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى 1424هـ- 2004م

عدد الصفحات: 738

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সীরাত আন-নববী এবং মাদানি যুগের দাওয়াত   (আহমদ আহমদ গালুশ)

বিভাগ: সীরাত আন-নববী


গ্রন্থ: সীরাত আন-নববী এবং মাদানি যুগের দাওয়াত

লেখক: আহমদ আহমদ গালুশ

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি- ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৩৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمات

‌‌مقدمة

…

المقدمات:

بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة:

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد:

فلقد توقفت مع الكتاب الثاني في سلسلة تاريخ الدعوة إلى الله تعالى عند بيعة العقبة الثانية، على أمل أن يبدأ الكتاب الثالث بالهجرة إلى المدينة المنورة لأنها البداية المنورة لأنها البداية العملية للعهد المدني.

لقد بدأ رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد الهجرة مباشرة في وضع أسس الدولة الإسلامية الشامخة في المدينة المنورة واستمر صلى الله عليه وسلم يتلقى الوحي المناسب للمرحلة، فلم يعد الوحي قاصرًا على العقيدة فقط، بل تناولها مع الشريعة والأخلاق، ولم يستمر أمر الله لهم بـ: {كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ} 1، وإنما تحول إلى أن أمرهم بالجهاد فقال سبحانه: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} 2.

إن العقيدة الدينية أصبحت راسخة في قلوب المؤمنين رسوخًا ثابتًا لا يقبل الإزاحة أو التغيير، وهي في رسوخها وثباتها تجعل المسلم يعيش بها، ويعمل لها، ولا يقبل معها أي مخالفة، أو تقصير، أو إهمال.

إن العقيدة الإيمانية جعلت المهاجرين يتركون كل شيء في مكة، ويرحلون إلى المدينة {يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا} 3، وجعلت المسلمين الأنصار أهل المدينة

--------------------------------------------

1 سورة النساء: 77.

2 سورة البقرة: 190.

3 سورة الحشر: 8.
ভূমিকা

মুখবন্ধ

…

ভূমিকা:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

মুখবন্ধ:

সকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীর ওপর।

অতঃপর:

আল্লাহর পথে দাওয়াতের ইতিহাসের এই ধারাবাহিক গ্রন্থাবলির দ্বিতীয় খণ্ডে আমি আকাবার দ্বিতীয় বায়আতে এসে থেমেছিলাম, এই আশায় যে তৃতীয় গ্রন্থটি মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরতের মাধ্যমে শুরু হবে, কারণ এটিই হলো মাদানি যুগের বাস্তব ও ব্যবহারিক সূচনা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের পরপরই মদিনা মুনাওয়ারায় সুউচ্চ ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপনে মনোনিবেশ করেন এবং সেই সময়ের উপযোগী ওহী লাভ করা অব্যাহত রাখেন। তখন ওহী কেবল আকীদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা শরীয়াহ ও আখলাককেও অন্তর্ভুক্ত করেছিল। তখন তাদের প্রতি আল্লাহর নির্দেশ আর "তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখো" ১ হিসেবে থাকল না, বরং তা জিহাদের নির্দেশে রূপান্তরিত হলো। সুতরাং মহান আল্লাহ বললেন: "আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, এবং সীমা লঙ্ঘন করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না" ২।

ধর্মীয় আকীদা মুমিনদের অন্তরে এমন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা বিচ্যুতি বা পরিবর্তন গ্রহণ করে না। এই সুদৃঢ়তা ও অটলতা মুসলিমকে সেই আকীদার ভিত্তিতে জীবন অতিবাহিত করতে ও তার জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, এবং এর বিপরীতে কোনো বিরোধিতা, ত্রুটি বা অবহেলা সে গ্রহণ করে না।

ঈমানী আকীদাই মুহাজিরদের মক্কার সবকিছু ত্যাগ করতে এবং মদিনায় হিজরত করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল "আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির অন্বেষণে" ৩, এবং তা মদিনার অধিবাসী আনসার মুসলিমদেরও এমন করে তুলেছিল যে...

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা: ৭৭।

২ সূরা আল-বাকারাহ: ১৯০।

৩ সূরা আল-হাশর: ৮।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ৮)
يتركون حظوظ النفس والهوى، و {يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ} 1.

لقد صنعت العقيدة الدينية الجماعة المسلمة صافية في توحيدها، وتوحدها، وتوجهها، وجعلت المؤمنين عبيدًا خاشعين لله، يرون في مكة قبل الهجرة سعادتهم في الطاعة، ويقصرون آمالهم في رضى الله، ويرجون سعادة حقيقية يعيشونها في الدنيا مع الناس، ويتمتعون بها في الآخرة عند الله.

فلما هاجروا إلى المدينة المنورة احتاجوا إلى الشريعة تنير لهم الطريق، وتعرفهم بمراد الله تعالى، وتطلعهم على أوامره ونواهيه، ليعيشوا في إطار المشروعية الدينية الصحيحة وليكون عملهم وخلقهم متوازنًا مع إيمانهم وعقيدتهم، وليكونوا سويًا مجتمع الحب، والتسامح، والتآلف.

لقد عاش الرسول صلى الله عليه وسلم في المدينة المنورة بعد الهجرة والمسلمون معه الإسلام كله ولم ينتقل صلى الله عليه وسلم إلى الرفيق الأعلى إلا بعد أن نزل عليه قول الله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} 2.

إن سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم في المدينة المنورة تختلف عن سيرته صلى الله عليه وسلم في مكة من ناحية أحداثها، ووقائعها، وحركتها، وإن اتفقت في أنها جميعًا كانت في مجال الدعوة إلى الله تعالى.

في مكة عاش صلى الله عليه وسلم بعيدًا عن الوحي حتى بلغ سن الأربعين! وكان الله معه، يرعاه ويصنعه للرسالة فهيأ له التربية الصحيحة، وأبعده من مزالق الهوى، وأحاطه بخوارق العادات في صورة إرهاصات، ومبشرات، وعلامات … كما أنه صلى الله عليه وسلم عاش بعد البعثة فترة الرسالة في مكة وسط قلة من المؤمنين مستضعفة أمام ظلم الكفرة وعدوانهم، وكثيرًا ما عانت، وتحملت، وصبرت، وتمسكت بدينها الذي آمنت به. أما في المدينة المنورة فقد عاش النبي صلى الله عليه وسلم والمسلمون معه حياة القوة العادلة، وسط

--------------------------------------------

1 سورة الحشر: 9.

2 سورة المائدة: 3.
তারা নফসের প্রবৃত্তি ও আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করে এবং {যারা তাদের দিকে হিজরত করে এসেছে তাদের ভালোবাসে এবং যা তাদের দেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে তারা নিজেদের অন্তরে কোনো প্রয়োজন অনুভব করে না। আর তারা নিজেদের ওপর অন্যদের প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা নিজেরা ক্ষুধার্ত বা অভাবগ্রস্ত থাকে} ১।

ধর্মীয় আকীদা মুসলিম জামাতকে তাদের তাওহীদ, ঐক্য এবং লক্ষ্যের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তুলেছিল। এটি মুমিনদের আল্লাহর প্রতি অনুগত ও বিনয়ী দাসে পরিণত করেছিল। তারা হিজরতের পূর্বে মক্কায় আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যেই নিজেদের সুখ দেখতে পেতেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপরই নিজেদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সীমাবদ্ধ রাখতেন এবং দুনিয়ায় মানুষের মাঝে বসবাসকালীন একটি প্রকৃত সুখের আশা করতেন, যা তারা পরকালে আল্লাহর নিকটে উপভোগ করবেন।

অতঃপর যখন তারা মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করলেন, তখন তাদের এমন একটি শরীয়তের প্রয়োজন হলো যা তাদের পথকে আলোকিত করবে, মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের জানাবে এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধগুলো তাদের সামনে তুলে ধরবে; যাতে তারা সঠিক ধর্মীয় বিধানের কাঠামোর মধ্যে বসবাস করতে পারে এবং যাতে তাদের কাজ ও চরিত্র তাদের ঈমান ও আকীদার সাথে ভারসাম্যপূর্ণ হয়, এবং তারা একত্রে ভালোবাসা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির একটি সমাজ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের পর মদিনা মুনাওয়ারায় তাঁর সাথে থাকা মুসলিমদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইসলামের ওপর জীবন অতিবাহিত করেছেন। মহান আল্লাহর এই বাণী নাযিল হওয়ার পরেই কেবল তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান বন্ধুর (রাফীকুল আ'লা) দিকে প্রস্থান করেছিলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পন্ন করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} ২।

মদিনা মুনাওয়ারায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত তার ঘটনাপ্রবাহ, বাস্তবতা এবং গতির দিক থেকে মক্কার সীরাতের চেয়ে ভিন্ন; যদিও সেগুলো এই বিষয়ে একমত ছিল যে, তার সবটুকুই ছিল মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে।

মক্কায় তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত ওহী ব্যতিরেকে জীবন অতিবাহিত করেছেন! আল্লাহ তাঁর সাথে ছিলেন, তাঁকে রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন এবং রিসালাতের জন্য প্রস্তুত করেছেন। তাই তিনি তাঁর জন্য সঠিক লালন-পালনের ব্যবস্থা করেছেন, তাঁকে প্রবৃত্তির স্খলন থেকে দূরে রেখেছেন এবং তাঁকে অলৌকিক ঘটনাবলি দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছেন যা প্রাথমিক নিদর্শন, সুসংবাদ ও আলামত হিসেবে প্রকাশ পেয়েছিল... তেমনিভাবে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত প্রাপ্তির পর মক্কায় রিসালাতের সময়কাল অতিবাহিত করেছেন অল্প কিছু মুমিনের মাঝে, যারা কাফেরদের জুলুম ও আগ্রাসনের মুখে দুর্বল হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তারা অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন, ধৈর্য ধারণ করেছেন এবং যে দ্বীনের ওপর ঈমান এনেছিলেন তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন। পক্ষান্তরে মদিনা মুনাওয়ারায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাথে থাকা মুসলিমগণ ন্যায়পরায়ণ শক্তির জীবন যাপন করেছেন, যার মাঝে

--------------------------------------------

১ সূরা আল-হাশর: ৯।

২ সূরা আল-মায়িদাহ: ৩।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ৯)
كثرة من المؤمنين تمثل أمة الإسلام الوليدة بمزاياها ومحاسنها مع استمرار تتابع نزول الوحي لتوضيح الطريق، وتحديد معالم النجاح.

لقد احتاج المسلمون في مكة إلى عقيدة تربطهم بالله، وتؤملهم في الجنة، وتدفعهم إلى الصبر والتحمل وهذا يكفيهم، وقد تم لهم ذلك مع شيء من التوجيهات الخلقية التي لا بد منها للإنسان المسلم.

أما في المدينة المنورة فقد أصبح المسلمون في حاجة إلى الشريعة لتأكيد اعتقادهم الراسخ، وكان لا بد لهم من فقه أحكام الحياة، التي أخذت تتنزل عليهم تبعًا للأحداث، وكانوا رضوان الله عليهم يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لأنهم يريدون أن تخضع جوارحهم لله مثل ما آمنت قلوبهم، ولذلك نراهم يرجعون لرسول الله صلى الله عليه وسلم في كل ما لا حكم لله فيه يوضح القرآن الكريم ذلك في آيات عديدة حيث يقول الله تعالى:

{يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِنْ نَفْعِهِمَا وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ} 1.

{وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلَاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} 2.

{وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ وَمَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ فِي يَتَامَى النِّسَاءِ اللَّاتِي لَا تُؤْتُونَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْوِلْدَانِ وَأَنْ تَقُومُوا لِلْيَتَامَى بِالْقِسْطِ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِهِ عَلِيمًا} 3.

{يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ قُلِ الْأَنْفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ

--------------------------------------------

1 سورة البقرة: 219.

2 سورة البقرة: 220.

3 سورة النساء: 127.
মুমিনদের এক বিশাল জামাত তাদের বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য নিয়ে নবজাতক ইসলামি উম্মাহর প্রতিনিধিত্ব করছিল, আর সে সময় পথ স্পষ্ট করতে এবং সফলতার চিহ্নসমূহ নির্ধারণ করতে ক্রমাগত ওহি অবতীর্ণ হচ্ছিল।

মক্কায় মুসলমানদের এমন একটি আকিদার প্রয়োজন ছিল যা তাদেরকে আল্লাহর সাথে যুক্ত করবে, জান্নাতের প্রতি আশাবাদী করবে এবং ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে—আর এটিই তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল। তাদের জন্য এটি অর্জিত হয়েছিল সেই সাথে কিছু চারিত্রিক নির্দেশনার মাধ্যমে যা একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।

কিন্তু মদিনা মুনাওয়ারায় মুসলমানরা তাদের দৃঢ় বিশ্বাসকে সুসংহত করার জন্য শরয়ি বিধানের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছিলেন। জীবনের বিধিবিধানের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) অর্জন করা তাদের জন্য জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে তাদের ওপর অবতীর্ণ হতে শুরু করে। তারা (আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করতেন; কারণ তাদের অন্তর যেভাবে ঈমান এনেছিল, তারা চাইতেন তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গও তেমনি আল্লাহর অনুগত হোক। এজন্য আমরা দেখি, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বিধান স্পষ্ট না থাকলে তারা প্রতিটি বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে যেতেন। পবিত্র কুরআন অসংখ্য আয়াতে এটি স্পষ্ট করেছে, যেখানে মহান আল্লাহ বলেন:

“তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন: উভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারিতা; কিন্তু সেগুলোর পাপ উপকারের চেয়ে অনেক বড়। আর তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে তারা কী ব্যয় করবে? বলুন: যা উদ্বৃত্ত। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পারো।” ১।

“আর তারা আপনাকে এতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন: তাদের জন্য সংশোধন করা উত্তম। আর যদি তোমরা তাদের সাথে একত্রে মিলেমিশে থাকো, তবে তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ জানেন কে অনিষ্টকারী আর কে সংশোধনকারী। আর আল্লাহ চাইলে তোমাদেরকে কষ্টে ফেলতে পারতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” ২।

“আর তারা আপনার কাছে নারীদের সম্পর্কে ফতোয়া জানতে চায়। বলুন: আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন এবং কিতাবের মধ্য থেকে যা তোমাদের কাছে পাঠ করা হয় সেই সব নারী এতিমদের সম্পর্কেও, যাদের জন্য নির্ধারিত পাওনা তোমরা তাদের দাও না অথচ তোমরা তাদের বিবাহ করতে আগ্রহী হও। আর অসহায় শিশুদের সম্পর্কেও এবং এতিমদের প্রতি তোমাদের ইনসাফ কায়েম রাখার ব্যাপারেও। আর তোমরা ভালো কাজ যা-ই করো না কেন, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।” ৩।

“তারা আপনাকে আনফাল (যুদ্ধের অতিরিক্ত সম্পদ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন: আনফাল আল্লাহ ও রাসূলের। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করো...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারা: ২১৯।

২ সূরা আল-বাকারা: ২২০।

৩ সূরা আন-নিসা: ১২৭।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ১০)
بَيْنِكُمْ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} 1.

وهكذا كانت حياة المسلمين في المدينة.

ومعهم كانت حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

لقد كان الله رءوفًا بهؤلاء الصفوة، وكان معهم يمدهم بشريعته، ويفصل لهم أحكامها ويوضح مزاياها وفوائدها، ويركز على ضرورة التهيؤ للعمل بها، وربطها بسائر أركان الإسلام، لأنها جميعًا تنتج الدين بكماله، وتمامه2.

لقد كان المسلمون في مكة يبحثون عن أمن ييسر لهم العبودية، ويرجون استقرارًا يمكنهم من العمل لله بين أهليهم وأقوامهم، لكن هذا الأمل لم يتحقق وهم في مكة فهاجروا إلى الحبشة، وبعدها كانت الهجرة إلى المدينة المنورة حتى أصبحوا آمنين في حياتهم، وعباداتهم، وتوجههم لله رب العالمين، فحملوا الأمانة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وصاروا مسئولين عن نشر الإسلام، وتبليغه إلى كل مكان استطاعوا أن يصلوا إليه وإلى أي إنسان يمكنهم تبليغه ودعوته وفق منهج الله للوصول إلى الغايات المحددة بواسطة وحي الله تعالى.

وعاش رسول الله صلى الله عليه وسلم متحركًا بالدعوة، ومبلغًا لدين الله تعالى، وأخذ الإسلام يظهر في قوله صلى الله عليه وسلم بلاغًا ودعوة، وفي عمله سلوكًا وعملا، وفي قلبه صدقًا وانفعالا، وفي أخلاقه مودة ورحمة، ومع الناس حياة وحضارة وعزا.

وشارك المسلمون في المدينة رسول الله صلى الله عليه وسلم في العمل بالإسلام وللإسلام حتى تم

--------------------------------------------

1 سورة الأنفال: 1.

2 يظهر هذا الربط بين موضوع السؤال والإسلام حين ننظر في الآيات لنرى الأمر حين كان السؤال عن الأنفال كانت الإجابة بأنها لله والرسول، وبعدها أمرهم بتقوى الله، وإصلاح ذات البين، وطاعة الله والرسول في كل أمر ونهي لأن ذلك دلالة الإيمان.

وحين كان السؤال عن اليتامى كانت الإجابة في أن الإصلاح لهم هو الخير المطلوب، ثم أرشدهم إلى ضرورة مخالطتهم للتعليم والتأسي، وضرورة معاملتهم بالصلاح حتى لا يؤاخذهم الله على تقصيرهم معهم …

وهكذا سائر التساؤلات حيث نرى فيها الإجابة المطلوبة، ومعها إرشادات وتوجيهات تؤكد شمول النظرة الإسلامية لكافة جوانب الحياة.
{...তোমাদের নিজেদের মধ্যকার বিবাদ মিটিয়ে নাও এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।} ১.

এভাবেই মদিনায় মুসলিমদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছিল।

তাঁদের সাথেই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবন।

আল্লাহ এই মনোনীত ব্যক্তিদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং তিনি তাঁদেরকে নিজের শরীয়ত দিয়ে সাহায্য করছিলেন, এর বিধানগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করছিলেন এবং এর বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতাগুলো স্পষ্ট করছিলেন। আর তিনি এর ওপর আমল করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছিলেন এবং একে ইসলামের অন্যান্য রুকনের সাথে সম্পৃক্ত করছিলেন; কারণ এই সবকিছু মিলেই দ্বীনকে তার পূর্ণতা ও সমাপ্তিতে উপনীত করে।২.

মক্কায় মুসলিমরা এমন এক নিরাপত্তার সন্ধান করছিলেন যা তাঁদের ইবাদতকে সহজতর করবে এবং তাঁরা এমন এক স্থিতিশীলতার আশা করছিলেন যা তাঁদের পরিবার ও কওমের মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করতে সক্ষম করবে। কিন্তু মক্কায় থাকাকালীন এই আশা পূরণ হয়নি, ফলে তাঁরা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। পরবর্তীতে মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত অনুষ্ঠিত হয় এবং অবশেষে তাঁরা তাঁদের জীবন, ইবাদত এবং রাব্বুল আলামীন আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে নিরাপদ হন। তখন তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে আমানত বহন করেন এবং ইসলাম প্রচার ও তা প্রতিটি স্থানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দায়িত্বশীল হন; যেখানে পৌঁছানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল এবং এমন প্রত্যেক মানুষের কাছে যাঁর নিকট পৌঁছানো ও আল্লাহর ওহীর মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আল্লাহর মানহাজ অনুযায়ী দাওয়াত দেওয়া সম্ভব ছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াতের কাজে তৎপর থেকে এবং আল্লাহর দ্বীন প্রচার করে জীবন অতিবাহিত করেন। আর ইসলাম তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীতে প্রচার ও দাওয়াত হিসেবে, তাঁর কাজে আচরণ ও আমল হিসেবে, তাঁর অন্তরে সত্যবাদিতা ও আবেগ হিসেবে, তাঁর চরিত্রে হৃদ্যতা ও রহমত হিসেবে এবং মানুষের মাঝে জীবন, সভ্যতা ও মর্যাদা হিসেবে প্রকাশ পেতে শুরু করে।

মদিনার মুসলিমরা ইসলামের বিধান পালনে এবং ইসলামের খেদমতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে অংশগ্রহণ করেন, যতক্ষণ না তা পূর্ণতা পায়।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আনফাল: ১।

২. প্রশ্ন এবং ইসলামের এই যোগসূত্রটি তখন স্পষ্ট হয় যখন আমরা আয়াতগুলোর দিকে তাকাই; যাতে দেখা যায় যে, যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (আনফাল) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন উত্তর ছিল যে এগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। অতঃপর তিনি তাঁদেরকে তাকওয়া অবলম্বন, নিজেদের মধ্যকার বিবাদ মিটিয়ে ফেলা এবং প্রতিটি আদেশ ও নিষেধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ দেন; কারণ এটাই হলো ঈমানের পরিচয়।

আর যখন ইয়াতীমদের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন উত্তর ছিল যে তাঁদের অবস্থার সংশোধনই হলো কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ। এরপর তিনি তাঁদেরকে শিক্ষা ও আদর্শ গ্রহণের জন্য তাঁদের সাথে মেলামেশা করার প্রয়োজনীয়তা এবং তাঁদের সাথে সদাচরণ করার নির্দেশ দেন, যাতে তাঁদের প্রতি কোনো অবহেলার কারণে আল্লাহ তাঁদের পাকড়াও না করেন ...

এভাবেই অন্যান্য সকল প্রশ্নের ক্ষেত্রে আমরা কাঙ্ক্ষিত উত্তর দেখতে পাই, যার সাথে রয়েছে এমন সব দিকনির্দেশনা ও উপদেশ যা জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামের ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গিকে সুনিশ্চিত করে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ১১)
النصر ودخل الناس في دين الله تعالى.

ومن هنا:

اختلط الجانب الشخصي لرسول الله صلى الله عليه وسلم في المدينة المنورة مع حركته بالدعوة اختلاطًا بينًا، حتى أصبح الفصل بينهما أمرًا شاقًا؛ لأن كل جزئية في حياة رسول الله صارت دليلا شرعيًا يبحث عنه المسلمون ويتأسون به، ولا يمكن استثناء شيء من حياته صلى الله عليه وسلم إلا ما ذكره صلى الله عليه وسلم ونبه عليه، وأعلم أصحابه بأنه من خصوصياته صلى الله عليه وسلم.

وحيث أن حبي لرسول الله صلى الله عليه وسلم يجعلني أعيش مع سيرته صلى الله عليه وسلم في إطارها الذاتي كما فعلت معه في العهد المكي، فإني أجد نفسي مع هذا المنهج أكتب أولا عن سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم في المدينة، وبعد ذلك أكتب عن حركة الرسول بالدعوة، لأنتهي بعد ذلك إلى الكتابة عن أهم ركائز الدعوة المستفادة من العهد المدني.

إني على يقين من أن السيرة النبوية في العهد المدني، الذي يبدأ بالهجرة ويستمر حتى وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم اختلطت اختلاطًا كاملا بحياة المسلمين العامة وعاشت حركة في نشاط الجماعة المؤمنة؛ لأن الرسول لم يعش لنفسه، وإنما عاش لله بكل مشاعره وعناصره كما أمره الله تعالى، وكما عرفه صلى الله عليه وسلم لأصحابه رضي الله عنهم بقوله تعالى: {قُلْ إِنَّنِي هَدَانِي رَبِّي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ دِينًا قِيَمًا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ، قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ، قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِي رَبًّا وَهُوَ رَبُّ كُلِّ شَيْءٍ وَلا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ إِلَاّ عَلَيْهَا وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ مَرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ} 1.

ولذلك أجد نفسي أمام تصور لدراسة العهد المدني، تتضمن السيرة النبوية والدعوة، مشتملة على ما يلي:

--------------------------------------------

1 سورة الأنعام: 161-164.
বিজয় অর্জিত হলো এবং মানুষ মহান আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল।

আর এখান থেকেই:

মদিনা মুনাওয়ারায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিগত জীবন তাঁর দাওয়াতী তৎপরতার সাথে এমন স্পষ্টভাবে মিশে গিয়েছিল যে, উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করা একটি কঠিন বিষয়ে পরিণত হয়েছিল; কারণ রাসূলুল্লাহর জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশই একেকটি শরয়ী দলিলে পরিণত হয়েছিল যা মুসলমানরা তালাশ করত এবং যার অনুসরণ করত। আর তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের কোনো কিছুকেই এর ব্যতিক্রম গণ্য করা সম্ভব নয়, কেবল সেই বিষয়গুলো ব্যতীত যা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে উল্লেখ করেছেন ও সে সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, এবং তাঁর সাহাবীদের জানিয়েছেন যে তা তাঁরই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আমার ভালোবাসা আমাকে তাঁর সীরাতের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত গণ্ডির মধ্যে এমনভাবে বসবাস করতে উদ্বুদ্ধ করে যেমনটি আমি মক্কী যুগে তাঁর সাথে করেছিলাম, তাই আমি এই পদ্ধতির অনুসরণে প্রথমে মদিনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত সম্পর্কে লিখছি, আর তারপরে লিখব রাসূলের দাওয়াতী তৎপরতা সম্পর্কে, এবং শেষে মাদানী যুগ থেকে প্রাপ্ত দাওয়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করব।

আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, মাদানী যুগের সীরাতে নববী—যা হিজরতের মাধ্যমে শুরু হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে—তা মুসলমানদের সাধারণ জীবনের সাথে পূর্ণাঙ্গরূপে মিশে গিয়েছিল এবং মুমিন জামায়াতের তৎপরতার মাঝে একটি জীবন্ত আন্দোলন হিসেবে বিদ্যমান ছিল; কারণ রাসূল নিজের জন্য বাঁচেননি, বরং তিনি তাঁর সমস্ত আবেগ ও সত্তা দিয়ে আল্লাহর জন্য বেঁচেছিলেন, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং যেমনটি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের (রাদিআল্লাহু আনহুম) নিকট মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন: {বলুন, ‘নিশ্চয় আমার প্রতিপালক আমাকে সরল পথের দিশা দিয়েছেন। এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, ইব্রাহীমের আদর্শ, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। বলুন, ‘নিশ্চয় আমার সালাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আর আমিই মুসলিমদের মধ্যে প্রথম।’ বলুন, ‘আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো প্রতিপালক তালাশ করব, অথচ তিনি সব কিছুর প্রতিপালক?’ প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করে তা তার নিজের ওপরই বর্তায় এবং কেউ অন্য কারও পাপের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রতিপালকের কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল। তখন তিনি তোমাদেরকে সেসব বিষয়ে অবহিত করবেন যা নিয়ে তোমরা মতবিরোধ করতে।} ১।

তাই আমি মাদানী যুগ অধ্যয়নের এমন এক রূপরেখার সামনে উপস্থিত হয়েছি যা সীরাতে নববী ও দাওয়াতকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো ধারণ করে:

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আনআম: ১৬১-১৬৪।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ১২)
أولا: تمهيد يعرف بالمدينة المنورة، وبمن كان يسكنها وبأهم الأديان والاتجاهات الدينية بها قبيل الهجرة، وبمدى ملائمتها لإنطلاقة الدعوة إلى الله تعالى.

ثانيًا: فصل يقدم أحداث السيرة النبوية متتابعة، بدءًا من الهجرة حتى وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم مع الاهتمام بالجانب الذاتي لرسول الله صلى الله عليه وسلم بقدر الإمكان لشدة ارتباط سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم بحركته في تبليغ الدعوة.

ثالثًا: فصل يوضح حركة الرسول صلى الله عليه وسلم بالدعوة، وهذه الحركة وإن كانت جزءًا من السيرة إلا أن تأثيرها في حركة الإسلام وانفعال المسلمين بها، وترسيخها لمبادئ الإسلام وقيمه، جعلتني أدرسها في إطار حركة الرسول بالدعوة.

وسيشتمل هذا الفصل على عدد من المباحث تتضمن تأسيس دولة الإسلام في المدينة وتعداد السرايا والغزوات، وبيان الرسائل والوفود، وتفصيل كل ما كان له دور في حركة تبليغ الإسلام حتى وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

رابعًا: فصل أوضح فيه الركائز المستفادة من سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وحركته بالدعوة، لتكون زادًا لكل مخلص يحب دينه، ويقدر أمانة الله، ويعمل على إبراز الإسلام نقيًا صافيًا، ويبلغه لغيره من الناس مستفيدًا بما تركه رسول الله صلى الله عليه وسلم في مجال الدعوة إلى الله تعالى.

وبهذا التصور سيأتي الحديث عن العهد المدني مكونًا من تمهيد وثلاثة فصول وخاتمة، وبها تكمل الدراسة بإذن الله تعالى.

إن العهد المدني يتضمن حوادث الإسلام العظمى، التي هي أساس التشريح، ودعامة الحياة الإسلامية على طول الزمن إلى يوم القيامة، فلقد شرعت العبادات في العهد المدني، وتابع رسول الله صلى الله عليه وسلم صحابته والمسلمين بالتوجيه وبيان الأحكام، وفيها كان خطاب الدعوة لكل فئات البشر على اختلاف أديانهم، وثقافتهم، وحضاراتهم.

وفي العهد المدني أذن الله بالجهاد، وأمر به، وفصل في أحكامه، وبين الآثار المترتبة عليه.
প্রথমত: একটি ভূমিকা যা মদীনা মুনাওয়ারা সম্পর্কে ধারণা দেবে, সেখানে কারা বসবাস করত, হিজরতের অব্যবহিত পূর্বে সেখানকার প্রধান ধর্ম ও ধর্মীয় ধারাগুলো কী ছিল এবং মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রচারের সূচনার জন্য তা কতটুকু উপযুক্ত ছিল সে সম্পর্কে আলোচনা করবে।

দ্বিতীয়ত: একটি অধ্যায় যা সীরাতে নববীর ঘটনাবলী ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করবে, হিজরত থেকে শুরু করে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাত পর্যন্ত; এতে দাওয়াত প্রচারের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্মতৎপরতার সাথে সীরাতের নিবিড় সম্পর্কের কারণে যথাসম্ভব তাঁর ব্যক্তিগত দিকের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হবে।

তৃতীয়ত: একটি অধ্যায় যা দাওয়াতের কাজে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্মতৎপরতাকে ব্যাখ্যা করবে। যদিও এই তৎপরতা সীরাতেরই একটি অংশ, তথাপি ইসলামী আন্দোলনের ওপর এর প্রভাব, এতে মুসলমানদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ইসলামের মূলনীতি ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এর ভূমিকার কারণে আমি এটিকে আল্লাহর রাসূলের দাওয়াতি কর্মতৎপরতার কাঠামোর অধীনে অধ্যয়ন করেছি।

এই অধ্যায়টি বেশ কিছু পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত হবে যা মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, সারিয়া ও গাজওয়াসমূহের (অভিযান ও যুদ্ধ) সংখ্যাতাত্ত্বিক বিবরণ, পত্র ও প্রতিনিধি দলসমূহের বর্ণনা এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাত পর্যন্ত ইসলাম প্রচারের কাজে ভূমিকা পালনকারী প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করবে।

চতুর্থত: একটি অধ্যায় যাতে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত এবং তাঁর দাওয়াতি তৎপরতা থেকে প্রাপ্ত মূল ভিত্তিগুলো ব্যাখ্যা করব, যা এমন প্রত্যেক নিষ্ঠাবান ব্যক্তির জন্য পাথেয় হবে যে তার দ্বীনকে ভালোবাসে, আল্লাহর আমানতকে মূল্যায়ন করে এবং ইসলামকে স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধভাবে ফুটিয়ে তুলতে কাজ করে এবং মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা রেখে গেছেন তা থেকে উপকৃত হয়ে অন্য মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেয়।

এই পরিকল্পনার আলোকে মাদানী যুগ সম্পর্কে আলোচনা একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে উপস্থাপিত হবে এবং এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই অধ্যয়নটি সম্পন্ন হবে।

নিশ্চয়ই মাদানী যুগ ইসলামের এমন সব মহান ঘটনাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে যা শরীয়ত প্রণয়নের ভিত্তি এবং কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামী জীবনের মূল স্তম্ভ। মাদানী যুগেই ইবাদতসমূহ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবী ও মুসলমানদের দিকনির্দেশনা ও বিধিবিধান বর্ণনার মাধ্যমে নিরন্তর তত্ত্বাবধান করেছেন। এই যুগেই মানুষের বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সভ্যতা নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষের প্রতি দাওয়াতের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

আর মাদানী যুগেই আল্লাহ জিহাদের অনুমতি দিয়েছেন, এর আদেশ দিয়েছেন, এর বিধানসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং এর ফলশ্রুতিতে উদ্ভূত প্রভাবসমূহ ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ১৩)
ونزلت أحكام سائر المعاملات، والأحوال الشخصية، وأحكام الميلاد، والموت، وكافة نظم الحياة.

وتحددت سمة المجتمع المسلم، وطريقته في التعامل مع أتباعهم، وغيرهم، على اختلاف مذاهبهم، واتجاههم، ومواطنهم.

إن دراسة العهد المدني طويلة عميقة، وتحتاج إلى القراءة الواسعة والتأمل الواعي، والاستنباط القائم على العلم والفهم، وهذا ما سأحاوله معتمدًا على الله تعالى، مؤملا في توفيقه، وبخاصة أن مقصدي إبراز الإسلام جليًا، نقيًا، وإظهار المسلمين في مجتمعهم العظيم، الذي نباهي به الدنيا على الزمن كله، ونرجوه مرة أخرى ليعود المسلمون إلى مجدهم وعزهم في وقت كثرت فيه معاول النقد، وتعددت طرق الهجوم على الإسلام.

إن المجتمع الذي أقامه الرسول صلى الله عليه وسلم في المدينة -مع مثاليته- يتهمه الحاقدون بالتخلف، والرجعية، والعدوانية، ويفضلون عليه مجتمع الاختلاط، والعري، وبروز الفوضى، والخلق الرديء، مع محاولة إلباسه أثوابًا لا تليق به، بدعوى التجديد، والتنوير، والنهضة بطرق ملتوية لا تبغي إلا الهدم والفساد.

والعقيدة التي عاشها المسلمون الأوائل كانت يقينًا يتحكم في عملهم، وشريعة تنظم سلوكهم وخلقًا يحمل جوانب الحياة.

هذه العقيدة التي صنعت الجماعة الأولى معرضة اليوم لفصلها عن حركة الحياة بدعوى أنها الدين، وليست هي الدنيا.

والشريعة الشاملة التي حكمت الحياة الإسلامية الأولى يعمل الأعداء على أن يُستبدل بها قانون البشر رغم تناقضه، وقصوره.

وها هي الأخلاق الإسلامية تغيب عن واقع الحياة حتى لا نراها إلا نادرًا بين الناس مع أن الحياة بها تكون جميلة، وسلسلة، وطيبة.

من كان يتصور أن عاقلا من الناس يرى البغاء حرية، وانتهاك الحرمات حضارة والإفساد في الأرض باسم التنوير، والحداثة تقدمًا، والتمتع المحرم أمورًا شخصية للإنسان أن يفعلها، ويعيش بها متى أراد.
অন্যান্য যাবতীয় লেনদেন, ব্যক্তিগত বিষয়াদি, জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত বিধান এবং জীবন পরিচালনার সকল নিয়মাবলী অবতীর্ণ হয়েছে।

আর মুসলিম সমাজের বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়েছে এবং তাদের নিজেদের অনুসারী ও অন্যদের সাথে—তাদের বিভিন্ন মাজহাব, মতাদর্শ ও আবাসস্থল নির্বিশেষে—আচরণের পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট হয়েছে।

মাদানী যুগের অধ্যয়ন দীর্ঘ ও গভীর; এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক পঠন, সচেতন চিন্তা এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞাভিত্তিক মাসয়ালা উদ্ভাবন। আমি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং তাঁর তাওফীক কামনা করে এটিই চেষ্টা করব; বিশেষ করে আমার উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে স্পষ্টভাবে ও পরিচ্ছন্নভাবে তুলে ধরা এবং মুসলিমদের তাদের সেই মহান সমাজে উপস্থাপন করা, যা নিয়ে আমরা সর্বযুগে বিশ্ববাসীর সামনে গর্ব করি। আর আমরা পুনরায় এটিই প্রত্যাশা করি যাতে মুসলিমরা তাদের গৌরব ও মর্যাদায় ফিরে আসতে পারে এমন এক সময়ে যখন সমালোচনার কুঠার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইসলামের ওপর আক্রমণের পথ বহুমুখী হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় যে সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার আদর্শিক রূপ থাকা সত্ত্বেও বিদ্বেষীরা তাকে অনগ্রসরতা, প্রতিক্রিয়াশীলতা ও উগ্রতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে। তারা এর পরিবর্তে অবাধ মেলামেশা, নগ্নতা, বিশৃঙ্খলা ও চারিত্রিক পতনকে প্রাধান্য দেয়। তারা আধুনিকায়ন, আলোকায়ন ও জাগরণের নামে আঁকাবাঁকা পথে এর ওপর এমন পোশাক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ধ্বংস ও ফাসাদ সৃষ্টি করা।

প্রাথমিক যুগের মুসলিমরা যে আকিদা বা বিশ্বাসের ওপর জীবন অতিবাহিত করেছেন, তা ছিল এক অটল বিশ্বাস যা তাদের কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করত, এক শরীয়ত যা তাদের আচরণকে সুশৃঙ্খল করত এবং এমন এক চরিত্র যা জীবনের সকল দিককে ধারণ করত।

এই আকিদা যা প্রথম মুসলিম জামাতটিকে তৈরি করেছিল, আজ তাকে জীবনের গতিধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র চলছে এই অজুহাতে যে—এটি কেবলই ধর্ম, পার্থিব জীবনের সাথে এর সম্পর্ক নেই।

আর যে পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত প্রাথমিক ইসলামি জীবনকে পরিচালিত করেছিল, শত্রুরা তার পরিবর্তে মানুষের তৈরি আইন প্রবর্তনের চেষ্টা করছে, যদিও সে আইন স্ববিরোধী ও অসম্পূর্ণ।

আজ ইসলামি চরিত্র ও নৈতিকতা জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, এমনকি মানুষের মাঝে তা কদাচিৎ দেখা যায়; অথচ এই নৈতিকতার মাধ্যমেই জীবন সুন্দর, সাবলীল ও পবিত্র হয়ে ওঠে।

কে ভেবেছিল যে কোনো জ্ঞানবান মানুষ ব্যভিচারকে স্বাধীনতা, পবিত্র বিষয়সমূহের অবমাননাকে সভ্যতা, আলোকায়নের নামে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা এবং আধুনিকতার নামে হারাম উপভোগ করাকে মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখবে, যা সে যখন ইচ্ছা করতে পারে এবং তা নিয়ে জীবন যাপন করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن كان يتصور الزواج المثلي، والشذوذ الجنسي يبرز في العلن، بل ويحميه تشريع وقانون!!

ومن كان يتصور أن الاستعداد لرد الظلم، وحماية الحقوق يصير إرهابًا، وعدوانًا.

إن مجتمع المسلمين المعاصر بعُد كثيرًا عن طريق الله حتى أصبح الدين غريبًا فيه، غائبًا عنه، وتمكن أعداء الدين من تشويه بعض حقائقه، وإلحاق التهم الباطلة بالمتمسكين به، مستغلين غيبة تعاليم الله عن الناس.

ويتساءل المرء:

من الذي غيب الدين عن الناس؟

ومن الذي أبعدهم عن فهم حقائقه؟

ومن الذي أغرقهم في الماديات الباطلة؟

ويدرك الفاهم المدقق أن من فعل ذلك هو الذي يشوه ويتهم!!

إنه يرتكب الجريمة … ويسأل عن فاعليها!! ويتهم غيره!!

إن الإسلام يحتاج إلى رجال، والدعوة تحتاج إلى من يقوم بها وفق منهجية عصرية، تفهم الدين، وتخاطب الناس، وتتعامل مع الواقع لتسمو به وترتقي.

إن أملي الذي أرجوه من دراسة السيرة والدعوة في العهد المدني التصدي لمحاولات الهدم، ونقض التشكيك، ورد كافة ألوان الزيف، مهما كان مصدرها، وأيًا كان قائلها راجيًا الوصول إلى ما يلي:

أولا: الإحاطة بالسيرة النبوية بصورتها الشاملة لمعرفة الجوانب الشخصية لرسول الله صلى الله عليه وسلم كهجرته، ومسكنه، وزواجه، وعنايته بأولاده، وسفره، وإقامته، وأيضًا لمعرفة الجوانب الدعوية العامة التي باشر رسول الله صلى الله عليه وسلم خلالها تعليم الناس، وتبليغهم دين الله تعالى.

ثانيًا: اكتشاف حياة المسلمين الأوائل، ومعرفة أنشطتهم، ومدى مساهمتهم في نصر دين الله تعالى بيانًا لمناط الأسوة، وإظهارًا لجوانب القدوة والريادة.
আর কেইবা কল্পনা করেছিল যে সমকামী বিবাহ এবং যৌন বিকৃতি প্রকাশ্যে চলে আসবে, এমনকি আইন ও বিধিবিধান একে সুরক্ষা প্রদান করবে!!

আর কেইবা কল্পনা করেছিল যে জুলুম প্রতিহত করার প্রস্তুতি এবং অধিকার রক্ষা করা সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে।

নিশ্চয়ই সমকালীন মুসলিম সমাজ আল্লাহর পথ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে, এমনকি দীন তাতে আগন্তুক হয়ে পড়েছে এবং তা থেকে অনুপস্থিত হয়ে গেছে। দীনের শত্রুরা এর কিছু সত্যকে বিকৃত করতে এবং একে আঁকড়ে ধরা ব্যক্তিদের ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করতে সক্ষম হয়েছে, আর তারা মানুষের নিকট থেকে আল্লাহর শিক্ষার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়েছে।

আর মানুষ প্রশ্ন করে:

কে মানুষের নিকট থেকে দীনকে অদৃশ্য করে দিয়েছে?

কেইবা তাদেরকে এর সত্যগুলো উপলব্ধি করা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে?

এবং কেইবা তাদেরকে অসার বস্তুবাদের মাঝে ডুবিয়ে দিয়েছে?

আর প্রাজ্ঞ ও সূক্ষ্মদর্শী ব্যক্তি উপলব্ধি করতে পারেন যে, যে ব্যক্তি এটি করেছে সে-ই বিকৃত করে এবং অভিযোগ তোলে!!

সে অপরাধ সংঘটন করে … এবং এর হোতাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে!! আর অন্যদের অভিযুক্ত করে!!

নিশ্চয়ই ইসলামের জন্য একদল যোগ্য পুরুষের প্রয়োজন, আর দাওয়াতি কাজের জন্য এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজন যারা আধুনিক কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী তা আঞ্জাম দেবে, যা দীনকে বুঝবে, মানুষের সাথে কথা বলবে এবং বাস্তবতার সাথে এমনভাবে লেনদেন করবে যাতে একে উন্নত ও সমুন্নত করা যায়।

মাদানি যুগের সিরাত ও দাওয়াহ অধ্যয়ন থেকে আমার যে প্রত্যাশা রয়েছে তা হলো—বিধ্বংসী প্রচেষ্টাসমূহ রুখে দেওয়া, সংশয়বাদ খণ্ডন করা এবং সকল প্রকার মিথ্যা প্রতিহত করা, তার উৎস যা-ই হোক না কেন এবং তার প্রবক্তা যেই হোক না কেন; যার মাধ্যমে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে পৌঁছানোর আশা রাখি:

প্রথমত: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিগত দিকগুলো যেমন—তাঁর হিজরত, বাসস্থান, বিবাহ, সন্তানদের প্রতি তাঁর যত্ন, তাঁর সফর এবং অবস্থান সম্পর্কে জানার জন্য পূর্ণাঙ্গ রূপে সিরাতে নববীকে আয়ত্ত করা; সেইসাথে দাওয়াতি কার্যক্রমের সাধারণ দিকগুলো জানার জন্য যার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে শিক্ষা দান করেছেন এবং তাদের কাছে মহান আল্লাহর দীন পৌঁছে দিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত: প্রথম যুগের মুসলিমদের জীবন উন্মোচন করা, তাঁদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা এবং মহান আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানের মাত্রা অনুধাবন করা, যাতে অনুসরণের ক্ষেত্রগুলো সুস্পষ্ট হয় এবং আদর্শ ও নেতৃত্বের দিকগুলো প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ১৫)
ثالثًا: بيان صور المواجهة التي تمت بين المسلمين وبين أعدائهم من المنافقين واليهود والكفار، لإظهار مدى ملازمة الدعوة للحسن في التوجيه، والصدق في الطلب، وتقدير الإنسان بصورة عامة، وتوضيح أن الجهاد الإسلامي هو نصير العدل والحق والكرامة.

رابعًا: توضيح حركة النبي صلى الله عليه وسلم بالدعوة لبيان ما فيها من منهج شامل لكل جوانب الدعوة، وأركانها، واستنباط الفوائد التي يمكن الاستفادة بها في العصر الحديث.

وسوف اعتمد على المصادر الصحيحة لهذه المرحلة، وعلى رأسها القرآن الكريم الذي صور هذه المرحلة، وقدم تفصيلات عديدة للعهد المدني حتى قال بعضهم: إن القرآن الكريم هو الصحيفة اليومية المصورة للمسلمين في المدينة المنورة، تعيش حياتهم، وترشدهم للتي هي أقوم، وتعرفهم بخفايا النفوس، وتكشف طبائع الناس، وتحذرهم من مزالق الهوى، ومكائد الأعداء، من الجنة والناس، وتعرفهم بحكم الله كلما جد أمر أو وقع حدث، أو دعت الحاجة إليه.

لقد كان القرآن الكريم ينزل منجمًا حسب الوقائع والأحداث، ثم كان جمعه وسيلة بينه لتقويم الصورة الإسلامية بتمامها وكمالها، ومثاليتها، وواقعيتها، لتبقى أسوة للناس، وقدوة للعالمين.

ومع القرآن الكريم تكون السنة شارحه، ومبينة، ومصدرًا لهذه الحقبة الزمنية الرائدة.

ومن فضل الله تعالى أن مدة البعثة النبوية في مكة والمدينة نالت اهتمام أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، والسلف الصالح من بعدهم، حيث وجد الرواة، والمحدثون، والمفسرون والفقهاء، وغيرهم يبذلون الجهد من أجل صيانة التراث الإسلامي كله، وبذلك كان حفظ أحداث مرحلة البعثة النبوية، وأحداث تاريخ الدعوة إلى الله تعالى.

إن معايشة مصادر هذه المرحلة تحتاج إلى العقل والفهم، والتحليل والاستنباط، وقوة الوعي وسرعة الإدراك، حتى لا يقع صاحب هذه المعايشة في الإسرائيليات، والأكاذيب التي وضعها أعداء الإسلام مع شروح المصادر الإسلامية.
তৃতীয়ত: মুসলিম এবং তাদের শত্রু মুনাফিক, ইহুদি ও কাফিরদের মধ্যে সংঘটিত সংঘাতের চিত্রসমূহ বর্ণনা করা; যাতে দাওয়াতের ক্ষেত্রে নির্দেশনার উত্তম পন্থা, আহ্বানে সত্যবাদিতা এবং সাধারণভাবে মানুষের মূল্যায়নের আবশ্যকতা স্পষ্ট হয় এবং এটি পরিষ্কার করা যে, ইসলামি জিহাদ হলো ন্যায়বিচার, সত্য ও মর্যাদার রক্ষক।

চতুর্থত: দাওয়াতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তৎপরতা ব্যাখ্যা করা, যাতে দাওয়াতের সকল দিক ও স্তম্ভকে অন্তর্ভুক্তকারী একটি ব্যাপক মানহাজ ফুটে ওঠে এবং বর্তমান যুগে এর থেকে যেসব শিক্ষা ও উপকারিতা লাভ করা যায় তা আহরণ করা।

আমি এই পর্যায়ের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করব, যার শীর্ষে রয়েছে আল-কুরআনুল কারীম; যা এই সময়ের চিত্র অঙ্কন করেছে এবং মাদানি জীবনের অসংখ্য খুঁটিনাটি তুলে ধরেছে। এমনকি কেউ কেউ বলেছেন: কুরআনুল কারীম হলো মদিনা মুনাওয়ারায় মুসলিমদের একটি সচিত্র দৈনিক সংবাদপত্র, যা তাদের যাপিত জীবনের সাথে মিশে থাকে, তাদের অধিকতর সঠিক পথ প্রদর্শন করে, অন্তরের গোপন রহস্যগুলো জানিয়ে দেয়, মানুষের স্বভাব উন্মোচন করে এবং নফসের খাহেশ ও জিন-মানুষের মধ্য হতে শত্রুদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তাদের সতর্ক করে। যখনই নতুন কোনো বিষয় ঘটে বা প্রয়োজন দেখা দেয়, কুরআন তাদের আল্লাহর বিধান জানিয়ে দেয়।

কুরআনুল কারীম বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও ঘটনার প্রেক্ষিতে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে, অতঃপর এর সংকলন ইসলামি আদর্শকে তার পূর্ণতা, শ্রেষ্ঠত্ব ও বাস্তবতাসহ উপস্থাপন করার এক সুস্পষ্ট মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাতে তা মানুষের জন্য পাথেয় এবং বিশ্ববাসীর জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকে।

কুরআনুল কারীমের পাশাপাশি সুন্নাহ হলো এই অগ্রগামী সময়ের ব্যাখ্যাকারী, বিশদ বর্ণনাকারী এবং একটি মৌলিক উৎস।

আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ যে, মক্কা ও মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তের সময়কাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ এবং পরবর্তী সালাফে সালেহীনের বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছে। ফলে রাবী, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফকীহ ও অন্যান্যদের দেখা গেছে যারা সমগ্র ইসলামি ঐতিহ্য সংরক্ষণে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। এভাবেই নবুয়তের সময়কালের ঘটনাবলী এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের ইতিহাসের ঘটনাবলী সংরক্ষিত হয়েছে।

এই পর্যায়ের উৎসগুলো গভীরভাবে অধ্যয়ন করার জন্য বিবেক, প্রজ্ঞা, বিশ্লেষণ, উদ্ভাবন ক্ষমতা, প্রবল সচেতনতা ও দ্রুত উপলব্ধি প্রয়োজন, যাতে এই জ্ঞান অন্বেষণকারী ব্যক্তি ইসলামি উৎসসমূহের ব্যাখ্যার আড়ালে ইসলামের শত্রুদের ঢুকিয়ে দেওয়া ইসরাইলি বর্ণনা ও মিথ্যার জালে আটকা না পড়েন।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ১৬)
إن كثيرًا من علماء العصر الحديث شغلوا أنفسهم بتنقية مرويات العصر النبوي من الدخيل فيه، وبذلك أسدوا للمسلمين معروفًا حسنًا يتمكنون به من الوقوف على الحق والحقيقة.

ولسوف أستعين بكل ما بذله المخلصون مع السيرة والدعوة -قدامى ومحدثين- لأسجل الحقيقة التي أرجوها، وأعيش الحق الذي أعمل له، وأضع أمام المسلم المعاصر المعالم الواضحة التي تحقق الأمن، والسلام، وتنشر السعادة، والرضى في الناس أجمعين، استنباطًا من عصر النبي الكريم صلى الله عليه وسلم.

ومع كل ما أرجوه فإني أشير إلى العلم الذي أكتب فيه وأذكر به، وهو تاريخ الدعوة إلى الله تعالى في إطار مرحلة زمنية محددة، مع الاستفادة بكل دراسة جادة توصلني إلى ما أتمناه وأرجوه.

والأمل الكبير في أن يمدني الله بسداد الفكر، ودقة الترتيب، وتحقيق الهدف، وأن يفتح أمام هذه الدراسة القلوب والعقول، وأن يجعلها في طريقها المنشود مصدر هداية ورشاد، ووسيلة للدعوة، والبيان.

إن تعلقي برسول الله صلى الله عليه وسلم حياة.

وخدمتي للإسلام غاية.

وتوجهي لهداية الناس أمنية.

والتزامي بالصدق، والأمانة، والموضوعية دين وعقيدة.

إن الله سبحانه وتعالى هو مصدر الأمل والرجاء، وإليه قصدي وتوجهي، وله حياتي ومماتي، وعليه توكلي واعتمادي.

وهو حسبي، ونعم الوكيل.

المؤلف

أ. د/ أحمد أحمد غلوش

مدينة نصر في غرة جمادى الأولى عام 1425هـ

19/ 6/ 2004م
আধুনিক যুগের অনেক আলেম নবুওয়াত যুগের বর্ণনাগুলোকে বিজাতীয় সংমিশ্রণ থেকে মুক্ত করার কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন; এর মাধ্যমে তারা মুসলমানদের প্রতি এক মহৎ কল্যাণ সাধন করেছেন, যার ফলে তারা সত্য ও বাস্তবতাকে জানতে সক্ষম হচ্ছেন।

আমি সীরাত ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী যুগের একনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের সকল প্রচেষ্টার সাহায্য গ্রহণ করব, যাতে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত সত্য লিপিবদ্ধ করতে পারি এবং সেই সত্যের মাঝে যাপন করতে পারি যার জন্য আমি কাজ করছি। সেই সাথে আমি সমকালীন মুসলিমদের সামনে এমন সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি উপস্থাপন করতে চাই যা নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করবে এবং সকল মানুষের মাঝে সুখ ও সন্তুষ্টি ছড়িয়ে দেবে, যা মহিমান্বিত নবী—আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—এর যুগ থেকে সংগৃহীত।

আমার এই সকল প্রত্যাশার সাথে আমি সেই জ্ঞানটির দিকে ইঙ্গিত করছি যে বিষয়ে আমি লিখছি এবং যা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আর তা হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের সীমারেখার মধ্যে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ইতিহাস; সাথে এমন প্রতিটি ঐকান্তিক গবেষণার সাহায্য নিচ্ছি যা আমাকে আমার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।

আল্লাহর কাছে আমার বড় প্রত্যাশা এই যে, তিনি আমাকে চিন্তার সঠিকতা, বিন্যাসের সূক্ষ্মতা এবং লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবেন। তিনি যেন এই গবেষণার জন্য মানুষের হৃদয় ও মস্তিষ্ক খুলে দেন এবং একে এর কাঙ্ক্ষিত পথে হিদায়েত ও সঠিক পথের উৎস এবং দাওয়াত ও বর্ণনার মাধ্যম হিসেবে কবুল করেন।

আল্লাহর রাসূল—আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—এর প্রতি আমার এই আসক্তিই হলো আমার জীবন।

ইসলামের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য।

মানুষের হিদায়েতের দিকে মনোনিবেশ করাই আমার আকাঙ্ক্ষা।

সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও বস্তুনিষ্ঠতার প্রতি আমার অবিচল থাকাটাই হলো আমার দ্বীন ও বিশ্বাস।

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ—তিনি পবিত্র ও মহান—হলেন আশা ও ভরসার উৎস। তাঁর দিকেই আমার অভিপ্রায় ও অভিমুখ, তাঁরই জন্য আমার জীবন ও মরণ এবং তাঁরই ওপর আমার নির্ভরতা ও ভরসা।

তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

লেখক

প্রফেসর ডক্টর আহমদ আহমদ গালওয়াস

নাসর সিটি, পহেলা জুমাদাল উলা, ১৪২৫ হিজরি

১৯/ ০৬/ ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌التمهيد: التعريف بالمدينة المنورة "دار الهجرة" وبيان أهميتها للدعوة

المدينة المنورة:

المدينة المنورة هي مهجر النبي صلى الله عليه وسلم، ومأوى المسلمين، وكهف الإسلام، وأساس الدولة الإسلامية، ومنها انطلق الإسلام إلى العالم كله، وبوصول المهاجرين إليها بدأت الحركة بالإسلام تأخذ شكلا شموليًا لأركان الدين، ولسائر الناس في كل أرض الله تعالى معتمدة على جهود المهاجرين والأنصار بقيادة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

والتعريف بالمدينة يحتاج إلى بيان النقاط التالية:

1- أسماء المدينة المنورة وفضلها:

عرفت المدينة المنورة قبل الإسلام باسم "يثرب"، ويقال: إن الأرض التي أقيمت عليها المدينة هي المسماة بهذا الاسم، وقيل: إنه اسم كل من سكنها1.

وحيث أن هذا الاسم يتضمن معنى سيئًا لأن يثرب مشتق من التثريب أو الثرب ومعنى كل منهما الإفساد، والتغيير، واللوم، والتعنيف، والعقوبة، والجزاء فقد تغير اسمها في الإسلام إلى ما يدل على الخير والبركة، والنور، والطهر، وصارت تسمى بأسماء كثيرة.

من هذه الأسماء المدينة المنورة بهجرة النبي صلى الله عليه وسلم إليها.

ومن أسمائها المدينة، يقول الله تعالى: {وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ} 2.

ويقول سبحانه: {يَقُولُونَ لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ} 3.

ومنها طابة، يقول النبي صلى الله عليه وسلم حينما أشرف على المدينة عند عودته من تبوك: $"هذه طابة"4.

--------------------------------------------

1 سبل الهدى والرشاد ج3 ص414.

2 التوبة: 101.

3 المنافقون: 8.

4 صحيح البخاري كتاب الحج باب المدينة طابة ج3 ص275 ط الأوقاف.
ভূমিকা: মদিনা মুনাওয়ারা "দারুল হিজরত" এর পরিচিতি এবং দাওয়াতের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বের বর্ণনা

মদিনা মুনাওয়ারা:

মদিনা মুনাওয়ারা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিজরতের স্থান, মুসলিমদের আশ্রয়স্থল, ইসলামের দুর্গ এবং ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তি। এখান থেকেই সমগ্র বিশ্বে ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছে। মুহাজিরদের আগমনের মধ্য দিয়ে ইসলামের আন্দোলন দ্বীনের স্তম্ভগুলোর ক্ষেত্রে এবং আল্লাহর জমিনে বসবাসরত সকল মানুষের জন্য একটি সামগ্রিক রূপ ধারণ করতে শুরু করে, যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নেতৃত্বে মুহাজির ও আনসারদের প্রচেষ্টার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

মদিনার পরিচিতির ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বর্ণনা করা প্রয়োজন:

১- মদিনা মুনাওয়ারার নামসমূহ এবং এর ফজিলত:

ইসলামের পূর্বে মদিনা মুনাওয়ারা "ইয়াসরিব" নামে পরিচিত ছিল। বলা হয়: যে ভূমির ওপর মদিনা প্রতিষ্ঠিত, তাকে এই নামে ডাকা হতো। আবার বলা হয়েছে: এটি সেখানে বসবাসকারী সকলের নাম ছিল।১

যেহেতু এই নামটি একটি মন্দ অর্থ বহন করে—কারণ ইয়াসরিব শব্দটি 'তাতরিব' বা 'সারব' থেকে উদ্ভূত, আর এগুলোর প্রতিটির অর্থ হলো বিপর্যয় সৃষ্টি করা, পরিবর্তন করা, তিরস্কার করা, কঠোরতা করা, শাস্তি এবং প্রতিফল—তাই ইসলামে এর নাম পরিবর্তন করে এমন নাম রাখা হয়েছে যা কল্যাণ, বরকত, নূর এবং পবিত্রতা নির্দেশ করে। এর ফলে এটি অনেক নামে পরিচিতি লাভ করে।

এই নামগুলোর মধ্যে একটি হলো 'মদিনা মুনাওয়ারা', যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেখানে হিজরতের কারণে নামকরণ করা হয়েছে।

এর অন্যতম নাম হলো 'আল-মদিনা'। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং মদিনাবাসীদের মধ্য থেকে}২।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও বলেন: {তারা বলে: আমরা যদি মদিনায় ফিরে যাই}৩।

এর আরেকটি নাম হলো 'তাবাহ'। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাবুক থেকে ফেরার পথে মদিনার নিকটবর্তী হলেন, তখন তিনি বললেন: "এটি হলো তাবাহ"৪।

--------------------------------------------

১ সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ৩য় খণ্ড, ৪১৪ পৃষ্ঠা।

২ সূরা আত-তাওবা: ১০১।

৩ সূরা আল-মুনাফিকুন: ৮।

৪ সহীহ বুখারী, কিতাবুল হাজ্জ, অনুচ্ছেদ: মদিনা হলো তাবাহ, ৩য় খণ্ড, ২৭৫ পৃষ্ঠা, আওকাফ প্রকাশনী।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ২০)
ومنها "طيبة" يقول النبي صلى الله عليه وسلم: "إنها طيبة" 1.

ولها أسماء أخر أشهرها الإيمان، والجائرة، والمنورة، والمحبوبة، والقاصمة، والبارة، والحرم، والخيرة، وقد عد صاحب السيرة الشامية للمدينة خمسة وتسعين اسمًا2.

وأسماء المدينة في الإسلام مشتقة من صفاتها، وخصائصها ونظرًا لانتفاء صفاتها الجاهلية فإنه يكره شرعًا تسميتها بما كان لها في الجاهلية من أسماء وعلى رأسها يثرب.

روى الإمام أحمد ومالك والشيخان عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أمرت بقرية تأكل القرى يقولون: يثرب، وهي المدينة، تنفي الناس كما ينفي الكير خبث الحديد" 3. ويقول النبي صلى الله عليه وسلم: "من سمى المدينة بيثرب فليستغفر الله، هي طابة، هي طابة، هي طابة" 4.

وقد التزم السلف أسماءها الجديدة وكرهوا تسميتها بيثرب، يقول ابن عباس رضي الله عنه:

"من قال يثرب فليستغفر الله ثلاث مرات"5.

ويقول عيسى بن دينار: "من سمى المدينة يثرب كتب عليه خطيئة"6.

وبهذا جزم العلامة كمال الدميري، ونظم رأيه شعرًا فقال:

ومن دعاها يثربًا يستغفر … فقوله خطيئة لتنظر

وسبب الكراهة ما في كلمة يثرب من دلالة على السوء أيا كان اشتقاقها فإن كان اشتقاقها من الثرب فمعناها الفساد، وإن كان اشتقاقها من التثريب فمعناها العقوبة، والمؤاخذة بالذنب، وكلا المعنيين لا يليق بالمدينة، وكان صلى الله عليه وسلم يحب الاسم الحسن دائمًا، ولذلك سماها طابة، وطيبة وأقر سائر أسمائها الحسنة.

--------------------------------------------

1 صحيح البخاري ج3 ص274 ط الأوقاف.

2 انظر سبيل الهدى والرشاد ج3 ص414-427.

3 صحيح البخاري كتاب الحج ج3 ص274.

4 الكشف الإلهي للطرابلسي، وفي صحيح البخاري "هي طابة" ج1 ص275.

5 الفوائد المجموعة للشوكاني، الدرر ج5 ص188.

6 سبل الهدى والرشاد ج3 ص427.
আর এর মধ্যে অন্যতম নাম হলো "ত্বইবাহ"। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "নিশ্চয়ই এটি ত্বইবাহ।" ১।

আর এর আরও অন্যান্য নাম রয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো: আল-ইমান, আল-জায়িরাহ, আল-মুনাওয়ারাহ, আল-মাহবুবাহ, আল-কাসিমাহ, আল-বাররাহ, আল-হারাম এবং আল-খায়িরাহ। 'সিরাত শামী' এর লেখক মদিনার পঁচানব্বইটি নাম গণনা করেছেন। ২।

ইসলামে মদিনার নামসমূহ এর গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য থেকে উদ্ভূত। এর জাহেলি গুণাবলি অপসারিত হওয়ার কারণে জাহেলি যুগে এর যেসব নাম ছিল, সে নামে একে ডাকা শরয়িভাবে অপছন্দনীয়, যার শীর্ষে রয়েছে ইয়াসরিব।

ইমাম আহমাদ, মালিক এবং শাইখায়ন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমাকে এমন এক জনপদের (হিজরত করার) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যা অন্য সব জনপদকে গ্রাস করবে (অর্থাৎ বিজয়ী হবে)। লোকেরা একে ইয়াসরিব বলে, অথচ এটি হলো মদিনা। এটি মন্দ লোকদেরকে সেভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে হাপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়।" ৩। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: "যে ব্যক্তি মদিনাকে ইয়াসরিব নামে ডাকল, সে যেন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। এটি তাবাহ, এটি তাবাহ, এটি তাবাহ।" ৪।

সালাফগণ এর নতুন নামগুলো অনুসরণ করেছেন এবং একে ইয়াসরিব নামে ডাকা অপছন্দ করেছেন। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:

"যে ব্যক্তি ইয়াসরিব বলল, সে যেন তিনবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।" ৫।

ঈসা বিন দিনার বলেন: "যে ব্যক্তি মদিনাকে ইয়াসরিব নাম দিল, তার আমলনামায় একটি পাপ লেখা হবে।" ৬।

আল্লামা কামাল আদ-দামিরি এ বিষয়ে সুনিশ্চিত মত ব্যক্ত করেছেন এবং তাঁর অভিমতকে কবিতার ছন্দে এভাবে ব্যক্ত করেছেন:

যে ব্যক্তি একে ইয়াসরিব নামে ডাকবে সে যেন ক্ষমা প্রার্থনা করে … কারণ তার এই উক্তিটি একটি পাপ, তা বিবেচনা করো

এই অপছন্দনীয়তার কারণ হলো 'ইয়াসরিব' শব্দের মাঝে নিহিত মন্দ অর্থ, এর বুৎপত্তি যেখান থেকেই হোক না কেন। যদি এর বুৎপত্তি 'আস-সারব' থেকে হয়, তবে এর অর্থ হলো বিপর্যয় বা ফাসাদ। আর যদি এর বুৎপত্তি 'আত-তাসরীব' থেকে হয়, তবে এর অর্থ হলো শাস্তি ও অপরাধের কারণে তিরস্কার। এই উভয় অর্থই মদিনার জন্য শোভনীয় নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা সুন্দর নাম পছন্দ করতেন, তাই তিনি এর নাম রেখেছেন তাবাহ ও ত্বইবাহ এবং এর অন্যান্য সুন্দর নামগুলোকে বহাল রেখেছেন।

--------------------------------------------

১ সহিহ বুখারি, ৩য় খণ্ড, ২৭৪ পৃষ্ঠা, আওকাফ সংস্করণ।

২ দেখুন: সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ৩য় খণ্ড, ৪১৪-৪২৭ পৃষ্ঠা।

৩ সহিহ বুখারি, কিতাবুল হজ, ৩য় খণ্ড, ২৭৪ পৃষ্ঠা।

৪ আত-তরাবুলুসি রচিত আল-কাশফুল ইলাহি; এবং সহিহ বুখারিতে রয়েছে "এটি তাবাহ", ১ম খণ্ড, ২৭৫ পৃষ্ঠা।

৫ শাওকানি রচিত আল-ফাওয়ায়েদুল মাজমুআহ, আদ-দুরার, ৫ম খণ্ড, ১৮৮ পৃষ্ঠা।

৬ সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ৩য় খণ্ড, ৪২৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ২১)
وأما تسميتها في القرآن بيثرب، فهو حكاية قول المنافقين في قوله تعالى: {وَإِذْ قَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ يَا أَهْلَ يَثْرِبَ لَا مُقَامَ لَكُمْ فَارْجِعُوا} 1.

وحكاية قول المنافقين تثبت الكراهة، ولا تفيد الإباحة لأنهم {هُمُ الْعَدُوُّ فَاحْذَرْهُمْ} 2 فقول المنافق سوء كصاحبه.

وأما قوله صلى الله عليه وسلم وهو يشير إلى أصحابه عن دار هجرتهم بعد ما رآها منامًا حين قال لهم: "رأيت في المنام أني أهاجر من مكة إلى أرض بها نخل فذهب وهلي إلى اليمامة أو هجر فإذا هي يثرب المدينة" 3، وقال لهم: "لا أراها إلا يثرب" 4، فليس دليلا على عدم الكراهة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال ذلك تعريفًا بها لأصحابه وهم في مكة ولأنهم لم يعهدوا لها قبل الإسلام اسمًا غير "يثرب"، ولم يكن نزل نهي عن هذه التسمية بعد، فلما نزل النهي بينه النبي صلى الله عليه وسلم لأصحابه ليتركوه فتركوه.

وكان النبي صلى الله عليه وسلم يحب المدينة، ويحب أهلها، فعن أنس بن مالك رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا قدم من سفر ينظر إلى جدر المدينة المنورة، ويطرح رداءه ويقول: "هذه أرواح طيبة" 5 ويحث راحلته على سرعة السير نحوها حبًا وسرورًا بالمدينة، وأهلها، وكثيرًا ما كان ينادي ربه: "اللهم اجعل لنا بالمدينة قرارًا، ورزقًا حسنًا" 6 ومن دعائه صلى الله عليه وسلم للمدينة ما رواه أنس رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يدعو ويقول: "اللهم اجعل بالمدينة ضعفي ما جعلت بمكة من البركة" 7.

وعن عبد الله بن زيد رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن إبراهيم حرم مكة ودعا لأهلها، وإني حرمت المدينة ودعوت لها في مدها وصاعها مثل ما دعا

--------------------------------------------

1 سورة الأحزاب: 13.

2 سورة المنافقون: 4.

3 صحيح البخاري كتاب مناقب الأنصار باب هجرة النبي صلى الله عليه وسلم ج6 ص203، والوهل: الظن.

4 سبل الهدى والرشاد ج3 ص434.

5 صحيح البخاري كتاب الحج ج3 ص283.

6 سبيل الهدى والرشاد ج3 ص430.

7 صحيح البخاري كتاب الحج ج3 ص282.
আর কুরআনে একে ইয়াসরিব হিসেবে নামকরণ করার বিষয়টি মূলত মুনাফিকদের উক্তির উদ্ধৃতি হিসেবে এসেছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: "যখন তাদের একটি দল বলেছিল, হে ইয়াসরিববাসী, তোমাদের জন্য এখানে কোনো অবস্থানের জায়গা নেই, সুতরাং তোমরা ফিরে যাও।" ১

আর মুনাফিকদের উক্তির উদ্ধৃতি দেওয়া এই নামকরণের অপছন্দনীয়তাই প্রমাণ করে এবং এটি বৈধতা প্রদান করে না। কারণ তারা হলো "শত্রু, সুতরাং তাদের থেকে সতর্ক থেকো।" ২ সুতরাং মুনাফিকের কথা তার নিজের মতোই মন্দ।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে তাঁর হিজরতের স্থান দেখার পর তাঁর সাহাবীদের লক্ষ্য করে যা বলেছিলেন: "আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মক্কা থেকে এমন এক ভূমিতে হিজরত করছি যেখানে খেজুর বাগান রয়েছে। আমার ধারণা হলো তা ইয়ামামা বা হাজার হবে, কিন্তু দেখা গেল সেটি ইয়াসরিব অর্থাৎ মদিনা।" ৩ এবং তিনি তাদের বলেছিলেন: "আমি একে ইয়াসরিব হিসেবেই দেখছি।" ৪ - এটি অপছন্দনীয় না হওয়ার দলিল নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় থাকাকালীন সাহাবীদের কাছে একে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য এমনটি বলেছিলেন এবং ইসলামের পূর্বে তারা 'ইয়াসরিব' ছাড়া এর অন্য কোনো নাম জানতেন না। তখন পর্যন্ত এই নামকরণের ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয়নি। এরপর যখন নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের কাছে তা বর্ণনা করলেন যাতে তারা এটি বর্জন করেন, ফলে তারা তা বর্জন করলেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাকে ভালোবাসতেন এবং এর অধিবাসীদেরও ভালোবাসতেন। আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর থেকে ফিরতেন, তখন মদিনা মুনাওয়ারার প্রাচীরের দিকে তাকাতেন, তাঁর চাদর সরিয়ে নিতেন এবং বলতেন: "এগুলো পবিত্র বাতাস" ৫। তিনি মদিনা ও এর অধিবাসীদের প্রতি ভালোবাসা ও আনন্দের আতিশয্যে তাঁর সওয়ারিকে দ্রুত চালানোর জন্য উৎসাহিত করতেন। তিনি প্রায়ই তাঁর রবকে ডাকতেন: "হে আল্লাহ, আমাদের জন্য মদিনায় একটি স্থায়ী আবাস এবং উত্তম রিযিক নির্ধারণ করুন।" ৬ মদিনার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের করা দোয়াগুলোর মধ্যে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত একটি হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ, মক্কায় আপনি যে পরিমাণ বরকত দান করেছেন, মদিনায় তার দ্বিগুণ বরকত দান করুন।" ৭

আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইব্রাহিম মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছিলেন এবং এর অধিবাসীদের জন্য দোয়া করেছিলেন। আর আমি মদিনাকে হারাম ঘোষণা করলাম এবং এর মুদ ও সা-তে বরকতের জন্য দোয়া করলাম যেমনটি তিনি দোয়া করেছিলেন..."

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আহযাব: ১৩।

২ সূরা আল-মুনাফিকুন: ৪।

৩ সহীহ বুখারী, আনসারদের মর্যাদা অধ্যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরত পরিচ্ছেদ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২০৩; 'ওয়াহাল' অর্থ: ধারণা।

৪ সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৩৪।

৫ সহীহ বুখারী, হাজ্জ অধ্যায়, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৮৩।

৬ সাবীলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৩০।

৭ সহীহ বুখারী, হাজ্জ অধ্যায়, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৮২।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ২২)
إبراهيم لمكة" 1.

وعن عبد الله بن الفضل بن العباس رضي الله عنه أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أدعوك لأهل المدينة بمثل مكة" 2.

ويقول صلى الله عليه وسلم: "إني أحرم ما بين لابتي المدينة، أن يقطع عضاها، أو يقتل صيدها" ، وقال صلى الله عليه وسلم: "المدينة خير لهم لو كانوا يعلمون لا يدعها أحد رغبة عنها إلا أبدل الله فيها من هو خير منه، ولا يثبت أحد على لأوائها وجهدها إلا كنت شفيعًا أو شهيدًا له يوم القيامة" 3.

ويروي أبو سعيد الخدري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "اللهم إن إبراهيم حرم مكة فجعلها حرامًا، وإني حرمت المدينة حرامًا ما بين مأزميها أن لا يهراق فيها دم ولا يحمل فيها سلاح لقتال، ولا تخبط فيها شجرة إلا لعلف، اللهم بارك لنا في مدينتنا، اللهم بارك لنا في صاعنا، اللهم بارك لنا في مدنا، اللهم بارك لنا في صاعنا، اللهم بارك لنا في مدنا، اللهم بارك لنا في مدينتنا، اللهم اجعل مع البركة بركتين، والذي نفسي بيده ما من المدينة شعب ولا نقب إلا عليه ملكان يحرسانها حتى تقدموا إليها" 4.

وعن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "اللهم إن إبراهيم عبدك وخليلك دعا لأهل مكة بالبركة وأنا محمد عبدك ورسولك، وأنا أدعوك لأهل المدينة أن تبارك لهم في صاعهم ومدهم، مثلما باركت لأهل مكة، واجعل مع البركة بركتين" 5.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: كان الناس إذا رأوا أول الثمر جاءوا به إلى النبي

--------------------------------------------

1 صحيح مسلم بشرح النووي فضل المدينة ج9 ص135.

2 صحيح مسلم باب فضل المدينة ج9 ص146.

3 صحيح مسلم باب فضل المدينة ج 9 ص136.

4 صحيح مسلم باب فضل المدينة ج 9 ص147، 148، والمأزِم بكسر الزاي الجبل أو المضيق بين جبلين، والمراد به هنا الجبل.

5 سنن الترمذي بشرح تحفة الأحوذي باب فضل المدينة ج10 ص284.
ইব্রাহিম মক্কার জন্য" ১।

এবং আবদুল্লাহ ইবনে ফজল ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি আপনার নিকট মক্কার অনুরূপ মদিনাবাসীদের জন্য প্রার্থনা করছি।" ২।

এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "আমি মদিনার দুই পাথুরে প্রান্তরের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে হারাম (পবিত্র ও নিষিদ্ধ) ঘোষণা করছি; এর কোনো কাঁটাযুক্ত গাছ কাটা যাবে না এবং এর কোনো শিকারকে হত্যা করা যাবে না।" এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেন: "মদিনা তাদের জন্য উত্তম যদি তারা জানত! একে অপছন্দ করে কেউ তা ত্যাগ করলে আল্লাহ সেখানে তার স্থলে তার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন। আর যে কেউ এর দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটনে ধৈর্য ধরে অবিচল থাকবে, কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব।" ৩।

আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ইব্রাহিম মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন এবং একে পবিত্র স্থান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর আমি মদিনার দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে হারাম ঘোষণা করছি; সেখানে কোনো রক্তপাত ঘটানো যাবে না, যুদ্ধের জন্য কোনো অস্ত্র বহন করা যাবে না এবং পশুর খাদ্য ব্যতীত অন্য কোনো প্রয়োজনে এর গাছ থেকে পাতা ঝরানো যাবে না। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের মদিনায় বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের 'সা'তে বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের 'মুদ'এ বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের 'সা'তে বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের 'মুদ'এ বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের মদিনায় বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! বরকতের সাথে দ্বিগুণ বরকত দান করুন। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, মদিনার প্রতিটি গিরিপথ ও প্রবেশপথে দুইজন ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছেন যারা একে পাহারা দিচ্ছেন যতক্ষণ না আপনারা সেখানে পৌঁছান।" ৪।

এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ইব্রাহিম আপনার বান্দা ও আপনার খলিল (অন্তরঙ্গ বন্ধু); তিনি মক্কাবাসীদের জন্য বরকতের দোয়া করেছিলেন। আর আমি মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও আপনার রাসূল; আমি আপনার কাছে মদিনাবাসীদের জন্য এই প্রার্থনা করছি যে আপনি তাদের 'সা' ও 'মুদ'এ বরকত দান করুন, যেমনটি আপনি মক্কাবাসীদের জন্য বরকত দান করেছিলেন এবং বরকতের সাথে দ্বিগুণ বরকত দান করুন।" ৫।

এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: লোকেরা যখন মৌসুমের প্রথম ফল দেখত, তখন তারা তা নিয়ে আসত নবীর নিকট

--------------------------------------------

১ সহীহ মুসলিম, শরহে নববীসহ, মদিনার মর্যাদা অধ্যায়, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৩৫।

২ সহীহ মুসলিম, মদিনার মর্যাদা অনুচ্ছেদ, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৪৬।

৩ সহীহ মুসলিম, মদিনার মর্যাদা অনুচ্ছেদ, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৩৬।

৪ সহীহ মুসলিম, মদিনার মর্যাদা অনুচ্ছেদ, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৪৭, ১৪৮; এবং 'আল-মা’যিম' (যা-এর নিচে যির দিয়ে) অর্থ হলো পাহাড় বা দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ পথ, আর এখানে এর দ্বারা পাহাড় উদ্দেশ্য।

৫ সুনানে তিরমিযী, তুহফাতুল আহওয়াযী শরহসহ, মদিনার মর্যাদা অনুচ্ছেদ, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২৮৪।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ২৩)
صلى الله عليه وسلم فإذا أخذه رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "اللهم بارك لنا في ثمرنا، وبارك لنا في مدينتنا، وبارك لنا في صاعنا، وبارك لنا في مدنا، اللهم إن إبراهيم عبدك، وخليلك، ونبيك وإنه دعاك لمكة، وإني أدعوك للمدينة بمثل ما دعاك لمكة ومثله معه" 1.

وقد اتفق العلماء على تفضيل مكة والمدينة على سائر المدن والقرى، إلا أنهم اختلفوا في التفاضل بينهما، فذهب عمر بن الخطاب رضي الله عنه، وبعض الصحابة، وأكثر المدنيين إلى تفضيل المدينة وهو مذهب الإمام مالك، وإحدى الروايتين عن الإمام أحمد مستدلين بما يلي:

1- يقول الله تعالى: {وَقُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا} 2، والمخرج الصدق هو مكة، والمدخل الصدق هو المدينة، والسلطان النصير هم الأنصار، وقد بدأت الآية بالمدخل، وهو المدينة لأفضليتها يقول ابن عبد البر: "وفيه دليل واضح على تفضيل المدينة؛ لأن الله ابتدأ بها، وكان القياس أن يبتدئ بمكة؛ لأنه خرج منها قبل أن يدخل المدينة، وأيضًا قد جعل الله لرسوله صلى الله عليه وسلم سلطانًا نصيرًا في المدينة ولم يجعله بمكة، ويأبى الله تعالى بكرمه إلا أن ينقل نبيه إلا إلى ما هو خير"3.

2- يقول النبي صلى الله عليه وسلم: "اللهم إنك أخرجتني من أحب البلاد إليَّ فأسكني أحب البلاد إليك" 4، ففي هذا الحديث تصريح بأن المدينة أحب البلاد إلى الله تعالى، وذلك يدل على أفضليتها.

3- ذهب العلماء إلى أن الإنسان يدفن في التربة التي خلق منها.

فلقد مر النبي صلى الله عليه وسلم على قبر فسأل: "قبر من هذا"؟.

قالوا: قبر فلان الحبشي يا رسول الله.

--------------------------------------------

1 صحيح مسلم باب فضل المدينة ج9 ص146.

2 سورة الإسراء: 80.

3 الدرر في اختصار المغازي والسير ص80.

4 البداية والنهاية ج3 ص25 نقلا عن البيهقي.
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম); অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটি গ্রহণ করতেন, তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আমাদের ফলে আমাদের জন্য বরকত দিন, আমাদের শহরে আমাদের জন্য বরকত দিন, আমাদের সা'-তে (পরিমাপক) আমাদের জন্য বরকত দিন এবং আমাদের মুদ-এ (পরিমাপক) আমাদের জন্য বরকত দিন। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ইব্রাহিম আপনার বান্দা, আপনার বন্ধু এবং আপনার নবী। তিনি মক্কার জন্য আপনার কাছে দোয়া করেছিলেন, আর আমি মক্কার জন্য তিনি যা দোয়া করেছিলেন তার অনুরূপ এবং তার সাথে আরও সমপরিমাণ দোয়া আপনার কাছে মদিনার জন্য করছি।" ১।

আলেমগণ মক্কা ও মদিনাকে অন্য সব শহর ও গ্রামের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, তবে তারা এই দুটির মধ্যে কোনটি অধিক শ্রেষ্ঠ সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), কিছু সাহাবী এবং অধিকাংশ মদিনাবাসী মদিনাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। এটি ইমাম মালিকের মাযহাব এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি। তারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দিয়ে দলিল পেশ করেন:

১- আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর বলুন, হে আমার রব! আমাকে প্রবেশ করান সত্যের প্রবেশস্থলে এবং আমাকে বের করুন সত্যের বহির্গমনস্থল হতে, আর আপনার পক্ষ হতে আমাকে দান করুন সাহায্যকারী শক্তি} ২। এখানে 'সত্যের বহির্গমনস্থল' হলো মক্কা এবং 'সত্যের প্রবেশস্থল' হলো মদিনা, আর 'সাহায্যকারী শক্তি' হলো আনসারগণ। আয়াতটি প্রবেশস্থল অর্থাৎ মদিনার আলোচনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে। ইবনে আব্দুল বার বলেন: "এতে মদিনার শ্রেষ্ঠত্বের ওপর সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে; কারণ আল্লাহ তা মদিনা দিয়ে শুরু করেছেন। অথচ সাধারণ নিয়মানুযায়ী মক্কা দিয়ে শুরু করার কথা ছিল; কারণ মদিনায় প্রবেশের আগে তিনি মক্কা থেকে বের হয়েছিলেন। তদুপরি, আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য মদিনায় সাহায্যকারী শক্তি নির্ধারণ করেছেন যা মক্কায় করেননি। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে তাঁর নবীকে সর্বোত্তম স্থান ছাড়া অন্য কোথাও স্থানান্তরিত করতে চাননি।" ৩।

২- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এমন এক শহর থেকে বের করেছেন যা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, সুতরাং আমাকে এমন এক শহরে বসবাস করতে দিন যা আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়" ৪। এই হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, মদিনা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় শহর, যা এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।

৩- আলেমগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, মানুষকে সেই মাটিতেই দাফন করা হয় যে মাটি থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার একটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "এটি কার কবর?"।

তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এটি অমুক হাবশীর কবর।

--------------------------------------------

১ সহিহ মুসলিম, মদিনার শ্রেষ্ঠত্ব অধ্যায়, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৪৬।

২ সূরা আল-ইসরা: ৮০।

৩ আদ-দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাজি ওয়াস সিয়ার, পৃষ্ঠা ৮০।

৪ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৫, বায়হাকির বরাতে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ২৪)
قال صلى الله عليه وسلم: "لا إله إلا الله سيق من أرضه وسمائه إلى التربة التي خلق منها" 1، وروى الإمام أحمد والترمذي وحسنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إذا قضى الله لعبد أن يموت بأرض جعل له إليها حاجة" ، قال الحكيم الترمذي: "إنما صار أجله هناك لأنه خلق من تلك البقعة وقد قال الله تعالى: {مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى} 2 قال: فإنما يعاد المرء من حيث بدئ به"3.

وقد دفن النبي صلى الله عليه وسلم بالمدينة، وفي ذلك دلالة على أن ترتبها أفضل من غيرها.

4- يقول النبي صلى الله عليه وسلم داعيًا للمدينة: "اللهم حبب إلينا المدينة كحبنا مكة أو أشد" 4، وقد استجاب الله دعوته، حتى كان يحرك دابته إذا رأى المدينة، وهو عائد إليها ليسرع إليها من حبه لها، وفي حب النبي صلى الله عليه وسلم للمدينة أكثر من حبه مكة دليل على أفضليتها عند الله تعالى؛ لأن حبه صلى الله عليه وسلم تابع لحب ربه والمحبوب إلى الله ورسوله أكثر من غيره كيف لا يكون أفضل؟! إنه الأفضل.

5- بيان حقيقة أن ما بين بيته وقبره صلى الله عليه وسلم روضة من رياض الجنة، دليل على فضل المدينة، يقول النبي صلى الله عليه وسلم: "ما بين بيتي ومنبري روضة من رياض الجنة ومنبري على حوضي" 5؛ لأن رياض الجنة يفضل أرض الدنيا كلها.

6- تفضيل المدينة يكون بسبب مجاورة ساكنيها والمقيمين بها لقبره صلى الله عليه وسلم؛ لأن مجاورة أهل الخير خير، ولذلك كان جزاء الصالحين في الآخرة إلحاقهم بالصالحين، وقد حرمت الشريعة الإسلامية مس المحدث لجلد المصحف لمجاورة الجلد للمصحف نفسه، مع أنه ليس منه، وذلك لأن القبر الشريف ينزل عليه من الرحمة، والرضوان والملائكة وله عند الله من المحبة، ولساكنه ما تقصر العقول عن إدراكه، فكيف لا يكون أفضل الأماكن؟!!

--------------------------------------------

1 سبل الهدى والرشاد ج3 ص435.

2 سورة طه: 55.

3 الدرر في اختصار المغازي والسير ص80.

4 صحيح البخاري كتاب الحج ج3 ص285 ط الأوقاف.

5 صحيح البخاري كتاب الحج ج3 ص284.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাকে তাঁর জমিন ও আসমান থেকে সেই মাটির দিকে নিয়ে আসা হয়েছে যেখান থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে" ১। ইমাম আহমাদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আল্লাহ কোনো বান্দার জন্য কোনো ভূখণ্ডে মৃত্যু নির্ধারণ করেন, তখন তিনি সেখানে তার জন্য কোনো প্রয়োজন সৃষ্টি করে দেন"। হাকীম তিরমিযী বলেছেন: "সেখানে তার মৃত্যু নির্ধারিত হয়েছে কারণ তাকে সেই ভূখণ্ড থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তা থেকেই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতে আমি তোমাদের ফিরিয়ে নেব এবং তা থেকেই পুনরায় তোমাদের বের করে আনব} ২। তিনি বলেছেন: মানুষকে সেখান থেকেই পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া হয় যেখান থেকে তার সূচনা হয়েছিল" ৩।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় সমাহিত হয়েছেন, আর এটি প্রমাণ করে যে এর মাটি অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে উত্তম।

৪- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার জন্য দুআ করতে গিয়ে বলেছেন: "হে আল্লাহ! আমাদের কাছে মদীনাকে তেমনি প্রিয় করে দিন যেমন আমরা মক্কাহকে ভালোবাসি, অথবা তার চেয়েও বেশি" ৪। আল্লাহ তাঁর দুআ কবুল করেছেন, এমনকি যখন তিনি মদীনায় ফিরতেন এবং তা দেখতে পেতেন, তখন মদীনার প্রতি ভালোবাসার কারণে তাঁর বাহনকে দ্রুতগতিতে চালাতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কার চেয়ে মদীনাকে বেশি ভালোবাসার মধ্যে আল্লাহর কাছে এর শ্রেষ্ঠত্বের দলিল রয়েছে; কেননা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভালোবাসা তাঁর রবের ভালোবাসার অনুগামী। আর যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে অন্যদের চেয়ে বেশি প্রিয়, তা কীভাবে শ্রেষ্ঠ হবে না?! অবশ্যই এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ।

৫- এই সত্যের বর্ণনা যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘর এবং কবরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান, এটি মদীনার শ্রেষ্ঠত্বের দলিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান এবং আমার মিম্বর আমার হাউযের উপর অবস্থিত" ৫; কেননা জান্নাতের বাগানসমূহ দুনিয়ার সমস্ত ভূখণ্ডের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

৬- মদীনার শ্রেষ্ঠত্বের আরেকটি কারণ হলো সেখানে বসবাসকারী এবং অবস্থানকারীদের তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের নৈকট্য লাভ করা; কারণ নেককার লোকদের সান্নিধ্য কল্যাণকর। এই কারণেই পরকালে সৎকর্মশীলদের পুরস্কার হবে তাদের সৎকর্মশীলদের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা। ইসলামী শরীয়াহ অপবিত্র ব্যক্তির জন্য কুরআনের জিলদ স্পর্শ করা হারাম করেছে যেহেতু জিলদটি কুরআনের সংলগ্ন থাকে, যদিও জিলদটি মূল কুরআনের অংশ নয়। ঠিক তেমনিভাবে, এই সম্মানিত কবরের ওপর রহমত, সন্তুষ্টি এবং ফেরেশতাগণ অবতীর্ণ হন এবং আল্লাহর কাছে এর এবং এর অধিবাসীর এমন মর্যাদা ও মহব্বত রয়েছে যা অনুধাবন করতে মানুষের বুদ্ধি অক্ষম। তাহলে এটি কীভাবে সর্বোত্তম স্থান হবে না?!!

--------------------------------------------

১ সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ৩য় খণ্ড, ৪৩৫ পৃষ্ঠা।

২ সূরা ত্বা-হা: ৫৫।

৩ আদ-দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাযি ওয়াস সিয়ার, ৮০ পৃষ্ঠা।

৪ সহীহ বুখারী, হাজ্জ অধ্যায়, ৩য় খণ্ড, ২৮৫ পৃষ্ঠা, আওকাফ সংস্করণ।

৫ সহীহ বুখারী, হাজ্জ অধ্যায়, ৩য় খণ্ড, ২৮৪ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد حرص عمر بن الخطاب رضي الله عنه أن يدفن بجوار صاحبيه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر الصديق رضي الله عنه لينال من الجوار بعض الخير الذي لا يرجوه في غيره.

ومن المعلوم أن جمهرة من العلماء قالوا بأفضلية مكة المكرمة على المدينة المنورة نظرًا لمضاعفة ثواب العمل بمكة ووجود الكعبة بها من بدء الحياة البشرية من لدن آدم عليه السلام ولضعف حديث أن المدينة أحب البلاد إلى الله تعالى إلا أن الجميع متفقون على أن البقعة التي تضم الأعضاء الشريفة لرسول الله صلى الله عليه وسلم بعد دفنه أفضل من غيرها على الإطلاق، تليها في الأفضلية الكعبة ببنائها المعروف.

وقد حرم الله تعالى المدينة كما حرم مكة فلا يقطع شجرها، ولا يقتل صيدها يقول النبي صلى الله عليه وسلم: "إني حرمت المدينة ما بين لابتيها، لا يقطع عضاها، ولا يقتل صيدها" 1.

ويقول صلى الله عليه وسلم: "المدينة حرام، لا يختلي خلاها، ولا ينفر صيدها، ولا تحل لقطتها إلا لمن أشار لها وعرفها، ولا يصلح لرجل أن يحمل السلاح فيها إلا لقتال، ولا يصلح أن يقطع منها شجر إلا أن يعلف الرجل بعيره" 2.

ويقول النبي صلى الله عليه وسلم: "المدينة حرام ما بين عير إلى ثور" 3.

ويقول النبي صلى الله عليه وسلم: "أحد جبل يحبنا ونحبه، اللهم إن إبراهيم عليه السلام حرم مكة، وإني أحرم ما بين لابتيها أي المدينة" 4.

وفي المدينة المنورة قامت دولة الإسلام الأولى، ومنها انطلق الدعاة إلى كل مكان وانتشر الإسلام في العالم كله، والمسلم في كل زمان ومكان له في نفسه حب يسوقه إلى المدينة؛ لأنه يساق إلى المدينة في زمن النبي صلى الله عليه وسلم لحب رؤيته صلى الله عليه وسلم والتعلم منه، وفي زمن الصحابة والتابعين وتابعيهم للاقتداء بهديهم والسلام على نبيهم، ومن بعد ذلك للصلاة في مسجده والسلام عليه صلى الله عليه وسلم، والتبرك بمشاهدة آثاره، وآثار

--------------------------------------------

1 صحيح مسلم باب فضل المدينة ج9 ص137.

2 صحيح مسلم باب فضل المدينة ج9 ص141.

3 صحيح البخاري كتاب الحج، باب حرم المدينة ج3 ص271.

4 صحيح البخاري بشرح فتح الباري باب أحد جبل يحبنا ج4 ص89.
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর দুই সাথী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পাশে সমাহিত হওয়ার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, যাতে তিনি সেই নৈকট্য থেকে এমন কিছু কল্যাণ অর্জন করতে পারেন যা অন্য কোথাও পাওয়ার আশা করা যায় না।

এটি সুবিদিত যে, একদল আলেম মক্কার আমলের সওয়াব বহুগুণ হওয়া এবং আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সময় থেকে মানবজীবনের সূচনা লগ্ন থেকে সেখানে কাবার অবস্থানের কারণে মদিনা মুনাওয়ারার তুলনায় মক্কা মুকাররমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও 'মদিনা আল্লাহর কাছে সবচাইতে প্রিয় শহর' সম্পর্কিত হাদিসটি দুর্বল হওয়ার কারণেও তাঁরা এই মত দিয়েছেন। তবে সকলেই এ বিষয়ে একমত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দাফনের পর তাঁর পবিত্র দেহ মুবারক ধারণকারী স্থানটি নিঃসন্দেহে অন্য যে কোনো স্থানের চেয়ে উত্তম; এরপর শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে সুপরিচিত অবকাঠামোসহ কাবার অবস্থান।

আল্লাহ তাআলা মক্কার মতো মদিনাকেও হারাম (পবিত্র ও নিষিদ্ধ অঞ্চল) ঘোষণা করেছেন। সুতরাং সেখানকার গাছ কাটা যাবে না এবং শিকার হত্যা করা যাবে না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "নিশ্চয়ই আমি মদিনার দুই পাথুরে মাঠের মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম ঘোষণা করেছি; এখানকার কাঁটাযুক্ত গাছ কাটা যাবে না এবং এখানকার শিকারকে হত্যা করা যাবে না" ১।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেন: "মদিনা হারাম। এখানকার ঘাস কাটা যাবে না, এখানকার শিকারকে তাড়ানো যাবে না, এবং এখানকার পড়ে থাকা বস্তু কেউ তুলে নিতে পারবে না কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে এর প্রচার করবে এবং একে পরিচিত করবে। কোনো ব্যক্তির জন্য সেখানে যুদ্ধের প্রয়োজন ছাড়া অস্ত্র বহন করা বৈধ নয় এবং কোনো গাছ কাটা সমীচীন নয়, তবে কেউ যদি তার উটকে খাওয়ানোর জন্য কাটে (তাহলে ভিন্ন কথা)" ২।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "আইর থেকে সাওর পাহাড় পর্যন্ত মদিনার এলাকা হারাম" ৩।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "উহুদ এমন এক পাহাড় যা আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসি। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছিলেন, আর আমি এর দুই পাথুরে মাঠের মধ্যবর্তী স্থান অর্থাৎ মদিনাকে হারাম ঘোষণা করছি" ৪।

মদিনা মুনাওয়ারাতেই ইসলামের প্রথম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এখান থেকেই দাঈগণ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং সারা বিশ্বে ইসলাম বিস্তৃত হয়েছিল। প্রত্যেক যুগ ও স্থানের মুসলিমের হৃদয়ে মদিনার প্রতি এক ভালোবাসা কাজ করে যা তাকে মদিনার দিকে টেনে নিয়ে যায়। কারণ, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মানুষ মদিনায় যেত তাঁকে দেখার এবং তাঁর কাছ থেকে শেখার ভালোবাসায়। আর সাহাবী, তাবেঈ এবং তাবে-তাবেঈদের যুগে মানুষ যেত তাঁদের হেদায়েত অনুসরণ করতে এবং তাঁদের নবীর প্রতি সালাম পেশ করতে। এরপর থেকে মানুষ সেখানে যায় তাঁর মসজিদে সালাত আদায় করতে, তাঁর প্রতি সালাম পেশ করতে এবং তাঁর ও অন্যদের নিদর্শনাদি দেখার বরকত হাসিল করতে...

--------------------------------------------

১ সহিহ মুসলিম, মদিনার ফযিলত অধ্যায়, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৩৭।

২ সহিহ মুসলিম, মদিনার ফযিলত অধ্যায়, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৪১।

৩ সহিহ বুখারি, হজ অধ্যায়, মদিনার হারাম অনুচ্ছেদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৭১।

৪ ফাতহুল বারীর ব্যাখ্যাসহ সহিহ বুখারি, উহুদ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে অনুচ্ছেদ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৮৯।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ২৬)
أصحابه رضوان الله عليهم1.

ومن المعلوم أن شد الرحال إلى مسجد النبي صلى الله عليه وسلم سنة مشروعة.

وكل من يزور المدينة المنورة، ويتشرف بزيارة مسجد الرسول صلى الله عليه وسلم ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم يعيش ذكريات الإسلام الأولى التي اكتمل خلالها الإيمان، وتمت النعمة، وأصبح للإسلام دولة وقوة فهي مأوى الإسلام وقوته، يقول النبي صلى الله عليه وسلم: "إن الإيمان ليأرز إلى المدينة كما تأرز الحية إلى جحرها" 2.

والمدينة المنورة هي دار الإسلام الباقية على الزمن كله وآخر القرى خرابًا في آخر الزمان، يقول صلى الله عليه وسلم: "آخر قرية من قرى الإسلام خرابًا المدينة" 3.

2- جغرافية المدينة المنورة:

تقع المدينة المنورة شمال مكة المكرمة بثلاثمائة وخمسين ميلا تقريبًا، وهي أصغر مساحة، وأقل سكانًا من مكة، ويذهب بعض العلماء إلى أن المدينة كانت عند الهجرة نصف مكة مساحة وسكانًا، وتقع المدينة وسط جبال بركانية، وتلال صخرية، وأراضي حجرية فهي بذلك تمثل واحة خضراء، بها زراعات ونخيل وسط الصخر والحجر.

وهي قرية صغيرة تقع بين جبلي عير وثور، لقوله صلى الله عليه وسلم: "المدينة حرم ما بين عير إلى ثور" 4.

وقد حققت مجلة الأزهر في عددها الصادر في غرة صفر سنة 1375هـ وجود هذين الجبلين حول المدينة المنورة، بعدها شكك البعض في أن جبل ثور هو الموجود بمكة، ولا وجود له بالمدينة.

--------------------------------------------

1 السيرة النبوية ج9 ص137.

2 صحيح البخاري كتاب الحج باب الإيمان يأرز إلى المدينة ج3 ص277ط الأوقاف ومعنى يأرز ينضم ويجتمع.

3 تحفة الأحوذي بشرح سنن الترمذي ج10 ص418.

4 صحيح البخاري، كتاب الحج، باب حرم المدينة ج3. ص271، صحيح مسلم، كتاب الحج ج2 ص944.
তাঁর সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)১।

এটি সুবিদিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা একটি বিধিবদ্ধ সুন্নাহ।

মদিনা মুনাওয়ারা যিয়ারতকারী, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদ যিয়ারতের সৌভাগ্য অর্জনকারী এবং নবীর প্রতি সালাত ও সালাম পাঠকারী ব্যক্তি ইসলামের সেই প্রথম স্মৃতির মাঝে বিচরণ করেন, যখন ঈমান পূর্ণতা পেয়েছিল, নিয়ামত সম্পন্ন হয়েছিল এবং ইসলামের জন্য একটি রাষ্ট্র ও শক্তি অর্জিত হয়েছিল। এটি ইসলামের আশ্রয়স্থল ও শক্তির কেন্দ্র। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "নিশ্চয়ই ঈমান মদিনার দিকে গুটিয়ে আসবে, যেমন সাপ তার গর্তের দিকে গুটিয়ে আসে।" ২।

মদিনা মুনাওয়ারা হলো ইসলামের এমন এক আবাসভূমি যা সর্বকাল টিকে থাকবে এবং শেষ জামানায় ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদগুলোর মধ্যে এটি হবে সর্বশেষ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "ইসলামের জনপদগুলোর মধ্যে সর্বশেষ ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদ হবে মদিনা।" ৩।

২- মদিনা মুনাওয়ারার ভৌগোলিক অবস্থান:

মদিনা মুনাওয়ারা মক্কা মুকাররমা থেকে প্রায় তিনশত পঞ্চাশ মাইল উত্তরে অবস্থিত। এটি আয়তনে মক্কার চেয়ে ছোট এবং জনসংখ্যায় কম। কোনো কোনো আলিম মনে করেন যে, হিজরতের সময় আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে মদিনা মক্কার অর্ধেক ছিল। মদিনা আগ্নেয়গিরিজাত পাহাড়, পাথুরে টিলা এবং প্রস্তরময় ভূমির মাঝে অবস্থিত। ফলে এটি পাথর ও পাহাড়ের মাঝে কৃষিকাজ ও খেজুর বাগান সমৃদ্ধ একটি সবুজ মরুদ্যানের মতো।

এটি 'আইর' ও 'সাওর' নামক দুটি পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত একটি ছোট জনপদ। কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আইর থেকে সাওর পর্যন্ত এলাকা মদিনার হারাম (পবিত্র এলাকা)।" ৪।

১৩৭৫ হিজরি সালের পহেলা সফর সংখ্যায় আল-আযহার ম্যাগাজিন মদিনা মুনাওয়ারার চারপাশে এই দুটি পাহাড়ের অস্তিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, কারণ ইতিপূর্বে কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে সাওর পাহাড়টি কেবল মক্কায় অবস্থিত এবং মদিনায় এর কোনো অস্তিত্ব নেই।

--------------------------------------------

১ আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৩৭।

২ সহীহ আল-বুখারী, কিতাবুল হাজ্জ, অনুচ্ছেদ: ঈমান মদিনার দিকে গুটিয়ে আসবে, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৭৭, আওকাফ প্রকাশনী। আর 'ইয়া’রিজু' শব্দের অর্থ হলো সংকুচিত হওয়া ও একত্রিত হওয়া।

৩ তুহফাতুল আহওয়াযী বিশারহি সুনানিত তিরমিযী, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৪১৮।

৪ সহীহ আল-বুখারী, কিতাবুল হাজ্জ, মদিনার হারাম অনুচ্ছেদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৭১; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হাজ্জ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯৪৪।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ২৭)
ويقع جبل ثور1 خلف جبل أحد شمال المدينة، وبذلك يكون جبل أحد جزءًا من المدينة؛ لأن ثورًا يحدها شمالا.

ويقع جبل "عير"2 في جنوب المدينة وهو حدها الجنوبي.

كما يحد المدينة من الشرق حرة "واقم".

ومن الغرب تقع حرة "الوبرة"3.

وتتميز المدينة المنورة بأنها دار حق وصدق، لقوله تعالى: {وَقُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا} 4، يقول المفسرون: هما مكة التي خرج صلى الله عليه وسلم منها والمدينة التي دخلها صلى الله عليه وسلم5.

والمدينة أحب البلاد إلى الله تعالى؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال عند خروجه من مكة: "اللهم إنك تعلم أنهم أخرجوني من أحب البلاد إليّ فأسكني أحب البلاد إليك" 6، فأسكنه الله المدينة المنورة.

3- أهمية موقع المدينة:

تتميز المدينة بموقعها الحصين، وخيرها الكثير فهي تقع في ملتقى طرق الجزيرة العربية الآتية من كل جهاتها، كما أنها محاطة بحواجز طبيعية تمنع وصول العدو إليها إن قصدها بسوء، وتعتبر المدينة جزيرة خضراء محاطة بحواجز صخرية، منيعة، إذ تقع حرة "واقم" في الشرق، وحرة "الوبرة" في الغرب، وجبل ثور وأحد في الشمال وجبل "عير" في الجنوب.

--------------------------------------------

1 جبل ثور بالمدينة جبل صغير مدور، يقع خلف جبل أحد، وهو غير جبل ثور الموجود بمكة، ولونه يميل إلى الحمرة.

2 عير جبل عظيم شامخ يقع جنوب المدينة على مسافة ساعتين منها.

3 الحرة: بفتح الحاء وتشديد الراء المفتوحة، وواقم رجل من العماليق، والوبرة بفتح الباء أو بسكونها أرض حجرية لونها أسود كأنها أحرقت.

4 سورة الإسراء: 80.

5 تفسير ابن كثير ج3 ص58، 59 وهو أشهر الأقوال.

6 البداية والنهاية ج3 ص205.
সওর পাহাড় মদীনার উত্তরে উহুদ পাহাড়ের পেছনে অবস্থিত, আর এর মাধ্যমেই উহুদ পাহাড় মদীনার একটি অংশে পরিণত হয়েছে; কেননা সওর পাহাড় উত্তর দিক থেকে এর সীমানা নির্ধারণ করে।

আর 'আইর' পাহাড় মদীনার দক্ষিণে অবস্থিত এবং এটি এর দক্ষিণ সীমানা।

একইভাবে পূর্ব দিক থেকে 'ওয়াকিম' নামক হাররা (কৃষ্ণপ্রস্তর ভূমি) মদীনার সীমানা নির্ধারণ করে।

এবং পশ্চিম দিকে 'ওয়াবারাহ' নামক হাররা অবস্থিত।

মদীনা মুনাওয়ারাহর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি সত্য ও সততার আবাসভূমি, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {এবং বলুন: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করান সত্য ও সততার সাথে এবং আমাকে বের করুন সত্য ও সততার সাথে, আর আপনার পক্ষ থেকে আমাকে দান করুন এক সাহায্যকারী শক্তি}। মুফাসসিরগণ বলেন: এই স্থান দুটি হলো মক্কা যেখান থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হয়েছিলেন এবং মদীনা যেখানে তিনি প্রবেশ করেছিলেন।

আর মদীনা মহান আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় ভূখণ্ড; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে বের হওয়ার সময় বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! আপনি অবশ্যই জানেন যে, তারা আমাকে আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় শহর থেকে বের করে দিয়েছে, অতএব আমাকে আপনার নিকট সর্বাধিক প্রিয় শহরে বসবাস করার তাওফিক দিন।" অতঃপর আল্লাহ তাঁকে মদীনা মুনাওয়ারাহয় বসবাস করালেন।

৩- মদীনার অবস্থানের গুরুত্ব:

মদীনা তার সুরক্ষিত অবস্থান এবং প্রচুর কল্যাণ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, এটি আরব উপদ্বীপের সব দিক থেকে আগত পথসমূহের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এছাড়া এটি এমন কিছু প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক দ্বারা পরিবেষ্টিত যা শত্রুর অশুভ উদ্দেশ্যে সেখানে পৌঁছাতে বাধা দান করে। মদীনাকে একটি সবুজ দ্বীপ হিসেবে গণ্য করা হয় যা দুর্ভেদ্য পাথুরে প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত; যেহেতু পূর্ব দিকে 'ওয়াকিম' হাররা, পশ্চিম দিকে 'ওয়াবারাহ' হাররা, উত্তরে সওর ও উহুদ পাহাড় এবং দক্ষিণে 'আইর' পাহাড় অবস্থিত।

--------------------------------------------

১ মদীনার সওর পাহাড় একটি ছোট ও গোলাকার পাহাড়, যা উহুদ পাহাড়ের পেছনে অবস্থিত। এটি মক্কায় অবস্থিত সওর পাহাড় নয় এবং এর রং লালাভ।

২ আইর একটি সুউচ্চ ও বিশাল পাহাড় যা মদীনা থেকে দক্ষিণ দিকে দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত।

৩ হাররা: হা বর্ণের জবর এবং রা বর্ণের তাশদীদ ও জবর যোগে। ওয়াকিম ছিল আমালিকা সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির নাম। আর ওয়াবারাহ (বা বর্ণের জবর অথবা সাকিন যোগে) হলো এমন পাথুরে ভূমি যার রং কালো, যেন তা আগুনে পোড়ানো হয়েছে।

৪ সূরা আল-ইসরা: ৮০।

৫ তাফসীর ইবনে কাসীর, ৩য় খণ্ড, ৫৮-৫৯ পৃষ্ঠা; এটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মত।

৬ আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩য় খণ্ড, ২০৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ২৮)
وكان بها الزرع والثمر والنخيل، واستقر بها بعض اليهود وأقام فيها الأوس والخزرج منذ القدم وأنشئوا بها الصناعات، وزرعوا الأرض، واستخرجوا الثمر ولذلك يقول عنها النبي صلى الله عليه وسلم: "إني أريت دار هجرتكم، ذات نخل بين لابتين" 1. فتميزها بالنخيل دليل الزراعة والثمر، وإحاطتها باللابتين دليل المنعة والتحصين.

وكان العرب وعلى رأسهم أهل مكة يقدرون لأهل المدينة هذا الموقع، ويعاملونهم بالتقدير والاحترام كسبًا لودهم، وأملا في حماية تجارتهم وهي تغدو وتروح عليهم، ولذلك رأينا القرشيين بعد بيعة العقبة الثانية يصبون جام غضبهم على من أسلم من أهل مكة، ويتجنبون مخالفة أهل المدينة.

جاء في صحيح البخاري أن سعد بن معاذ رضي الله عنه كان صديقًا لأمية بن خلف، وكان أمية إذا مر بالمدينة نزل على سعد، وكان سعد إذا مر بمكة نزل على أمية فلما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة انطلق سعد معتمرًا فنزل على أمية بمكة كعادته فقال لأمية: انظر لي ساعة خلوة لعلي أن أطوف بالبيت فخرج به قريبًا من نصف النهار، فلقيهما أبو جهل فقال: يا أبا صفوان من معك؟

فقال: هذا سعد.

فقال له أبو جهل: ألا أراك تطوف بمكة آمنًا، وقد آويتم الصباة، وزعمتم أنكم تنصرونهم، وتعينونهم؟ أما والله لولا أنك مع أبي صفوان ما رجعت إلى أهلك سالمًا.

فقال له سعد، ورفع صوته عليه: أما والله لو منعتني هذا لأمنعنك ما هو أشد عليك منه، طريقك على المدينة.

فقال له أمية: لا ترفع صوتك يا سعد على أبي الحكم سيد الوادي.

فقال سعد: دعنا عنك يا أمية2.

--------------------------------------------

1 سيرة النبي لابن هشام ج1 ص468 واللابة هي الحرة بفتح الحاء.

2 صحيح البخاري كتاب المغازي باب ذكر النبي من قتل ببدر ج7 ص282.
সেখানে শস্য, ফলমূল এবং খেজুর বাগান ছিল। সেখানে প্রাচীনকাল থেকেই কিছু ইহুদি বসতি স্থাপন করেছিল এবং আউস ও খাজরাজ গোত্র সেখানে বসবাস করত। তারা সেখানে বিভিন্ন শিল্প গড়ে তুলেছিল, ভূমি চাষ করত এবং ফল উৎপাদন করত। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনা সম্পর্কে বলেছেন: "আমাকে তোমাদের হিজরতস্থল দেখানো হয়েছে, যা দুটি লাভাহর (কৃষ্ণপ্রস্তর ভূমি) মধ্যবর্তী খেজুর বাগান সমৃদ্ধ একটি স্থান।" ১। খেজুর বাগান দ্বারা এর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হওয়া কৃষি ও ফলমূলের প্রাচুর্যের প্রমাণ, আর দুই লাভাহ দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়া এর দুর্ভেদ্যতা ও সুদৃঢ় সুরক্ষার প্রমাণ।

আরবগণ এবং বিশেষ করে মক্কাবাসীগণ মদিনাবাসীদের এই অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিত। তারা তাদের ভালোবাসা অর্জন এবং তাদের যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক কাফেলাগুলোর নিরাপত্তার আশায় মদিনাবাসীদের সাথে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে আচরণ করত। এ কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, দ্বিতীয় বায়আতে আকাবার পর কুরাইশরা মক্কার যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাদের ওপর চরম ক্রোধ উগরে দিলেও মদিনাবাসীদের বিরোধিতা করা এড়িয়ে চলত।

সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে যে, সাদ ইবনে মুআজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উমাইয়া ইবনে খালাফের বন্ধু ছিলেন। উমাইয়া যখন মদিনা দিয়ে অতিক্রম করত তখন সাদের মেহমান হতো, আর সাদ যখন মক্কায় যেতেন তখন উমাইয়ার মেহমান হতেন। অতঃপর যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় আগমন করলেন, তখন সাদ উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন এবং প্রথানুযায়ী মক্কায় উমাইয়ার বাড়িতে উঠলেন। তিনি উমাইয়াকে বললেন: "আমার জন্য এমন একটি নির্জন সময় দেখো যাতে আমি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারি।" ফলে উমাইয়া তাকে নিয়ে দ্বিপ্রহরের কাছাকাছি সময়ে বের হলো। তখন আবু জাহলের সাথে তাদের দেখা হলো। সে বলল: "হে আবু সাফওয়ান, তোমার সাথে ইনি কে?"

উমাইয়া বলল: "ইনি সাদ।"

তখন আবু জাহল তাকে বলল: "আমি কি তোমাকে মক্কায় নিরাপদে তাওয়াফ করতে দেখছি না, অথচ তোমরা ধর্মত্যাগীদের আশ্রয় দিয়েছ এবং দাবি করছ যে তোমরা তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করবে? আল্লাহর কসম! তুমি যদি আবু সাফওয়ানের সাথে না থাকতে, তবে তুমি সহি-সালামতে নিজের পরিবারে ফিরে যেতে পারতে না।"

তখন সাদ তার সামনে উচ্চকণ্ঠে বললেন: "আল্লাহর কসম! তুমি যদি আমাকে এতে বাধা দাও, তবে আমি তোমার জন্য এমন কিছুতে বাধা দেব যা তোমার জন্য এর চেয়েও কঠিন হবে; আর তা হলো মদিনার ওপর দিয়ে তোমার বাণিজ্যিক যাতায়াতের পথ।"

তখন উমাইয়া তাকে বলল: "হে সাদ, এই উপত্যকার সরদার আবুল হাকামের সামনে নিজের কণ্ঠস্বর উচ্চ করো না।"

সাদ বললেন: "হে উমাইয়া, তোমার কথা রাখো।" ২।

--------------------------------------------

১. সীরাতুন নবী, ইবনে হিশাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৬৮; আর 'লাবাহ' হলো 'হাররাহ' (কৃষ্ণপ্রস্তর ভূমি)।

২. সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বদরে যারা নিহত হয়েছে তাদের সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আলোচনার অধ্যায়, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৮২।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ২৯)
كما أنه واضح أن المدينة كانت ذات ثمر، فلقد أرسل النبي صلى الله عليه وسلم إلى عيينة بن حصن بن بدر الفزاري وهو يومئذ رأس المشركين من غطفان عند الخندق ليخذل بين الأحزاب؟! ويصرفهم عن حصار المدينة.

فأرسل إليه عيينة وقال له: إن جعلت لي الشطر فعلت1.

لقد كان ثمر المدينة جديرًا بأن يغري رؤساء الكفر بنقض ما عزموا عليه، كما كان جديرًا أن يمزق جمعهم طمعًا فيه.

إن إشارة النبي صلى الله عليه وسلم إلى أنها ذات نخل دليل على ما فيها من خير لأن النخلة كثيرة الفوائد، عظيمة الثمر، ووجودها دليل على وجود ثمرها، وفيها عناصر الغذاء المطلوبة للإنسان يقول النبي صلى الله عليه وسلم: "أكرموا عمتكم النخلة، فإنها خلقت من الطين الذي خلق منه آدم عليه السلام، وليس من الشجر شيء يلقح غيرها" 2، ويقول عمرو بن ميمون: "ما من شيء خير للنفساء من التمر والرطب"3.

إن عديدًا من الصناعات تقوم على النخلة منذ القدم، وقد استفاد بها العربي فائدة كبرى، فمنها يصنع بيته وأدواته، وفراشه، بالإضافة إلى تنوع ثمرها طعمًا، ولونًا، وصورة.

4- خلو المدينة من الوباء:

اشتهرت يثرب قبل الإسلام بأنها بلد موبوءة، يكثر فيها المرض وتنتشر به الحمى، تقول عائشة رضي الله عنها: "قدمنا المدينة وهي أوبأ أرض الله، وكان بطحان يجري نجلا أي ماء آجنًا"4، وبهذا بينت السيدة عائشة رضي الله عنها السر في كون المدينة وبيئة، وهي أن وادي بطحان ينز ماؤه جهة المدينة فيحدث المرض والوباء

--------------------------------------------

1 السيرة النبوية في ضوء الكتاب والسنة ص154.

2 تفسير ابن كثير ج3 ص118.

3 المرجع السابق ج3 ص118.

4 صحيح البخاري كتاب الحج ج3 ص285.
তেমনিভাবে এটি স্পষ্ট যে মদিনা ছিল ফলমূল সমৃদ্ধ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খন্দকের যুদ্ধের সময় গাতফান গোত্রের মুশরিকদের তৎকালীন প্রধান উয়ায়না ইবন হিসন ইবন বদর আল-ফাজারির নিকট এই উদ্দেশ্যে লোক পাঠিয়েছিলেন যেন সে আহযাব (সম্মিলিত বাহিনী)-এর মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি করে এবং তাদেরকে মদিনা অবরোধ থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

ফলে উয়ায়না তাঁর নিকট বার্তা পাঠালো এবং বললো: যদি আপনি আমার জন্য ফলের অর্ধেক অংশ নির্দিষ্ট করে দেন, তবে আমি তা করব ১।

মদিনার ফলমূল কুফর বাহিনীর প্রধানদের তাদের সংকল্প ভঙ্গ করতে প্রলুব্ধ করার মতো এবং এর লোভে তাদের ঐক্য ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার মতো যথেষ্ট ছিল।

মদিনা খেজুর বাগান সমৃদ্ধ হওয়ার প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইঙ্গিত সেখানে বিদ্যমান কল্যাণের প্রমাণ। কারণ খেজুর গাছ অত্যন্ত উপকারী এবং প্রচুর ফলদায়ক। এর অস্তিত্বই এর ফলের অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে এবং এতে মানুষের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের ফুফু খেজুর গাছকে সম্মান করো, কারণ তা সেই মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে যা থেকে আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর গাছপালার মধ্যে এটি ছাড়া অন্য কোনো গাছ নেই যা পরাগায়িত হয়" ২। আমর ইবন মাইমুন বলেন: "প্রসূতি নারীর জন্য শুকনো ও তাজা খেজুরের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই" ৩।

প্রাচীনকাল থেকেই খেজুর গাছকে কেন্দ্র করে বহুবিধ শিল্প গড়ে উঠেছে এবং আরবরা এর দ্বারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ঘরবাড়ি, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও বিছানা তৈরি করত। এর পাশাপাশি এর ফলের স্বাদ, রং ও আকৃতিতেও রয়েছে বৈচিত্র্য।

৪- মদিনার মহামারি থেকে মুক্ত হওয়া:

ইসলামের পূর্বে ইয়াসরিব মহামারি প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি ছিল এবং জ্বর ছড়িয়ে পড়ত। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: "আমরা যখন মদিনায় আসলাম, তখন এটি ছিল আল্লাহর জমিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মহামারি প্রবণ এলাকা। বাতহান উপত্যকায় তখন পচা বা দূষিত পানি প্রবাহিত হতো" ৪। এর মাধ্যমে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) মদিনার অস্বাস্থ্যকর হওয়ার রহস্যটি স্পষ্ট করেছেন, আর তা হলো বাতহান উপত্যকার পানি মদিনার দিকে চুইয়ে আসত, যা রোগ ও মহামারির সৃষ্টি করত।

--------------------------------------------

১ আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফী দাউইল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ১৫৪।

২ তাফসীর ইবন কাসীর, খণ্ড ৩, পৃ. ১১৮।

৩ প্রাগুক্ত, খণ্ড ৩, পৃ. ১১৮।

৪ সহীহ বুখারী, হজ অধ্যায়, খণ্ড ৩, পৃ. ২৮৫।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ৩০)
ولذلك قال مشركو مكة حين جاء المسلمون للعمرة بعد الحديبية مع رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنه يقدم عليكم وفد وهنهم حمى يثرب" 1، ومن هنا ندرك سر أمر النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه أن يرملوا في الأشواط الثلاثة وهم يطوفون بالبيت وأن يمشوا ما بين الركنين ليرى المشركون قوتهم ولم يمنعه أن يأمرهم أن يرملوا الأشواط كلها إلا الإبقاء عليهم2.

وقد تأثر أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم بحمى المدينة بعد هجرتهم. تقول السيدة عائشة رضي الله عنها: لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة وعك أبو بكر وبلال، فكان أبو بكر إذا أخذته الحمى يقول:

كل امرئ مصبح في أهله … والموت أدنى من شراك نعله

وكان بلال إذا أقلع عن الحمى يرفع عقيرته يقول:

ألا ليت شعري هل أبيتن ليلة … بواد وحولي إذخر وجليل

وهل أردن يومًا مياه مجنة … وهل يبدون لي شامة وطفيل

اللهم العن شيبة بن ربيعة، وعتبة بن ربيعة، وأمية بن خلف، كما أخرجونا من أرضنا إلى أرض الوباء.

ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اللهم حبب إلينا المدينة كحبنا مكة أو أشد، اللهم بارك لنا في صاعنا ومدنا وصححها لنا، وانقل حماها إلى الجحفة" 3.

واستجاب الله دعاء نبيه للمدينة، وجعلها بلدًا طيبًا.

يقول الحافظ ابن حجر: "أصبحت المدينة أطيب بلاد الله سبحانه، كما سماها بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ سماها "طابة" و"طيبة" والطاب والطيب لغتان بمعنى واشتقاقها من الشيء الطيب لطهارة تربتها ولطيبها لساكنيها، ومن طيب العيش بها وفي طيب ترابها وهوائها دليل شاهد على صحة هذه التسمية؛ لأن من أقام بها يجد من تربتها وحيطانها رائحة طيبة لا تكاد توجد في غيرها.

يقول الحافظ ابن حجر: وقرأت بخط أبي علي الصدفي في هامش نسخته من

--------------------------------------------

1 صحيح البخاري كتاب الحج ج3 ص130.

2 صحيح البخاري كتاب الحج باب الرمل في الحج والعمرة ج3 ص131.

3 صحيح البخاري كتاب فضائل المدينة ج4 ص284، 285.
এজন্যই মক্কার মুশরিকরা বলেছিল যখন মুসলমানরা হুদায়বিয়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উমরা করার জন্য আসল: "তোমাদের কাছে এমন এক কাফেলা আসছে যাদেরকে ইয়াসরিবের জ্বর দুর্বল করে দিয়েছে" ১। এখান থেকেই আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর সাহাবীদেরকে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করার সময় প্রথম তিন চক্করে 'রমল' করার এবং দুই রুকনের মাঝে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার নির্দেশের রহস্য বুঝতে পারি, যাতে মুশরিকরা তাদের শক্তি দেখতে পায়। আর সাহাবীদের প্রতি সদয় হয়ে কষ্ট লাঘব করার আকাঙ্ক্ষা ছাড়া অন্য কিছু তাঁকে সকল চক্করে রমল করার নির্দেশ প্রদান থেকে বিরত রাখেনি ২।

হিজরতের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীরা মদিনার জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সায়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আসলেন, তখন আবু বকর ও বিলাল অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আবু বকর যখন জ্বরে আক্রান্ত হতেন তখন বলতেন:

প্রত্যেক ব্যক্তি তার পরিবারে সকাল অতিবাহিত করে … অথচ মৃত্যু তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটবর্তী

আর বিলাল যখন জ্বর থেকে মুক্তি পেতেন, তখন উচ্চস্বরে বলতেন:

হায়! আমি যদি জানতাম, আমি কি কোনো রাত এমন কোনো উপত্যকায় কাটাতে পারব … যার চারপাশে ইযখির ও জলীল ঘাস থাকবে

আমি কি কোনোদিন মাজান্নার ঝরনার পানিতে পৌঁছাতে পারব … আর শামা ও তফীল পাহাড় কি আমার সামনে দৃশ্যমান হবে

হে আল্লাহ! আপনি শায়বা ইবনে রাবীআহ, উতবা ইবনে রাবীআহ এবং উমাইয়্যা ইবনে খালাফকে অভিশাপ দিন, যেমন তারা আমাদেরকে আমাদের মাতৃভূমি থেকে এই মহামারীর ভূমিতে বের করে দিয়েছে।

অতপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আল্লাহ! আমাদের কাছে মদিনাকে মক্কার মতো প্রিয় করে দিন অথবা তার চেয়েও বেশি। হে আল্লাহ! আমাদের সা এবং মুদ-এ বরকত দান করুন, এর আবহাওয়াকে আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর করে দিন এবং এখানকার জ্বরকে জুহফায় স্থানান্তরিত করে দিন" ৩।

আল্লাহ তাআলা মদিনার ব্যাপারে তাঁর নবীর দোয়া কবুল করলেন এবং একে এক পবিত্র জনপদে পরিণত করলেন।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "মদিনা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পবিত্রতম ভূমিতে পরিণত হয়েছে, যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম 'ত্বাবাহ' ও 'ত্বয়িবাহ' রাখার মাধ্যমে নামকরণ করেছিলেন। 'ত্বাব' ও 'ত্বিব' একই অর্থবোধক দুটি শব্দ এবং এর বুৎপত্তি ঘটেছে পবিত্র ও উত্তম বস্তু থেকে—এর মাটির পবিত্রতা এবং এর বাসিন্দাদের জন্য এর আরামদায়ক হওয়ার কারণে। সেখানে বসবাস করার সুখ এবং এর মাটি ও বাতাসের সুগন্ধি এই নামকরণের সত্যতার সাক্ষ্য দেয়; কেননা যে ব্যক্তি সেখানে অবস্থান করে, সে এর মাটি ও দেয়াল থেকে এমন এক পবিত্র ঘ্রাণ পায় যা অন্য কোথাও মেলা ভার।"

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: আমি আবু আলী আস-সাদাফীর হস্তাক্ষরে তাঁর অনুলিপির পার্শ্বটীকায় পড়েছি...

--------------------------------------------

১ সহীহ বুখারী, কিতাবুল হাজ্জ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৩০।

২ সহীহ বুখারী, কিতাবুল হাজ্জ, অধ্যায়: হজ্জ ও উমরায় রমল করা, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৩১।

৩ সহীহ বুখারী, কিতাবুল ফাযাইলিল মদিনা, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৮৪, ২৮৫।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ৩১)
صحيح البخاري بخطه يقول: أمر المدينة في طيب ترابها وهوائها يجده من أقام بها ويجد لطيبها أقوى رائحة، ويتضاعف طيبها فيها عن غيرها من البلاد، وكذلك العود وسائر أنواع الطيب1.

وهكذا خلت المدينة من الوباء، وحسن حالها، واستقر أمر المسلمين بها، وصارت حاضرة الإسلام الأولى بعد الهجرة إليها.

5- وسطية المدينة:

تقع المدينة المنورة وسط العالم كمكة؛ لأنها قريبة منها، وأغلب سكانها عرب، ولغتهم هي العربية، وقد ساعد قرب المدينة من مكة أن يعرف الرسول صلى الله عليه وسلم أخبار المكيين، أمل الدعوة وأسسها وركيزتها، فهم الذين يدين لهم العرب جميعًا بالسيادة، ويتخذونهم القدوة والأسوة، ولأنهم منذ القدم حماة بيت الله وسدنته، ومقصد أهل الجزيرة حيث يأتون إليهم حاجين ومعتمرين، وقد ترك فيهم إبراهيم عليه السلام وحي الله ودينه وقد بوأهم رسول الله صلى الله عليه وسلم منزلتهم وهو يقول: "قريش ولاة هذا الأمر فبر الناس تبع لبرهم وفاجرهم تبع لفاجرهم" 2.

ولم تغب مكة عن فكر رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد الهجرة، ولم ينس أهلها ولذلك حرص الرسول صلى الله عليه وسلم على معرفة أسرارهم، وأخبارهم، ومعرفة نقاط الضعف لديهم وإذا كان صلى الله عليه وسلم مكث بينهم يدعوهم إلى الله تعالى ثلاثة عشر عامًا، وعجز عن إدخالهم في الإسلام، فإنه بعد الهجرة أخذ يحاول في إيمانهم؛ لأنهم شعب كثير، قوي يمكنه خدمة الإسلام بما يملك من إمكانيات واسعة، وثقة كبيرة يوليها العرب لهم.

وتبرز أهمية أهل مكة وإمكاناتها الدعوية، فيما حدث للإسلام بعد فتح مكة إذ خرج من المكيين للجهاد في "حنين" آلاف، ولم يمض على إسلامهم عام واحد،

--------------------------------------------

1 فتح الباري على صحيح البخاري ج4 ص89.

2 مسند الإمام أحمد مسند أبي بكر الصديق ج1 حديث رقم 18 ص199 ط الرسالة وانظر صحيح البخاري كتاب المناقب ج6 ص85.
সহীহ আল-বুখারীর নিজ হাতের লেখায় তিনি বলেন: মদীনার মাটি এবং এর আবহাওয়ার সুগন্ধির বিষয়টি সেখানে বসবাসকারী ব্যক্তি অনুভব করতে পারে এবং এর সুগন্ধির সবচেয়ে শক্তিশালী ঘ্রাণ পায়। অন্যান্য দেশের তুলনায় মদীনায় এর সুগন্ধি বহু গুণ বৃদ্ধি পায়, আর একইভাবে আগর এবং অন্যান্য সুগন্ধি দ্রব্যের ক্ষেত্রেও এটি ঘটে ১।

এভাবেই মদীনা মহামারী মুক্ত হলো, এর অবস্থার উন্নতি ঘটলো এবং সেখানে মুসলিমদের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলো। হিজরতের পর এটি ইসলামের প্রথম মহানগরীতে পরিণত হলো।

৫- মদীনার মধ্যবর্তী অবস্থান:

মদীনা মুনাওয়ারা মক্কার মতোই বিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থিত; কারণ এটি মক্কার নিকটবর্তী, এর অধিকাংশ অধিবাসী আরব এবং তাদের ভাষা আরবি। মক্কার সাথে মদীনার এই নৈকট্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কাবাসীদের খবরাখবর জানতে সাহায্য করেছিল, যারা ছিল দাওয়াতের আশা, এর ভিত্তি ও স্তম্ভ। আরবরা সবাই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করত এবং তাদের আদর্শ ও অনুসরণীয় হিসেবে গ্রহণ করত। কারণ প্রাচীনকাল থেকেই তারা আল্লাহর ঘরের রক্ষক ও খাদেম ছিল এবং জাযিরাতুল আরবের মানুষের গন্তব্যস্থল ছিল, যেখানে তারা হজ ও ওমরাহ করার জন্য আসত। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাদের মধ্যে আল্লাহর ওহী ও দ্বীন রেখে গিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মর্যাদাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এই বলে: "কুরাইশরা এই শাসনের অভিভাবক, সুতরাং মানুষের মধ্যে যারা নেককার তারা তাদের নেককারদের অনুসারী হবে এবং যারা পাপাচারী তারা তাদের পাপাচারীদের অনুসারী হবে" ২।

হিজরতের পর মক্কা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিন্তা থেকে হারিয়ে যায়নি এবং তিনি মক্কাবাসীদের ভুলে যাননি। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের গোপন তথ্য ও খবর জানতে এবং তাদের দুর্বল দিকগুলো সম্পর্কে অবগত হতে সচেষ্ট ছিলেন। যদিও তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেরো বছর তাদের মাঝে অবস্থান করে তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছিলেন এবং তাদের ইসলামে দীক্ষিত করতে সক্ষম হননি, তবুও হিজরতের পর তিনি তাদের ঈমানের ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। কারণ তারা ছিল একটি বিশাল ও শক্তিশালী জনগোষ্ঠী, যারা তাদের ব্যাপক সক্ষমতা এবং আরবদের দেওয়া অগাধ বিশ্বাসের মাধ্যমে ইসলামের সেবা করতে পারত।

মক্কাবাসীদের গুরুত্ব এবং তাদের দাওয়াতী সম্ভাবনা মক্কা বিজয়ের পর ইসলামের ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল তাতে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে; কেননা হাজার হাজার মক্কাবাসী "হুনাইন" যুদ্ধে জিহাদের জন্য বেরিয়েছিলেন, অথচ তাদের ইসলাম গ্রহণের পর এক বছরও অতিক্রান্ত হয়নি।

--------------------------------------------

১ ফাতহুল বারী আলা সহীহ আল-বুখারী, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৯।

২ মুসনাদে ইমাম আহমাদ, মুসনাদে আবী বকর আস-সিদ্দিক, ১ম খণ্ড, হাদীস নং ১৮, পৃষ্ঠা ১৯৯, আর-রিসালাহ প্রকাশনী। আরও দেখুন: সহীহ আল-বুখারী, কিতাবুল মানাকিুব, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৫।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ৩২)
ودخلت الجزيرة كلها في الإسلام بعدهم، وظهر من بينهم دعاة أفذاذ حملوا راية الإسلام، وجاهدوا في سبيل الله تعالى.

لقد كان أهل مكة تجارًا يجوبون الآفاق، وهذا علمهم الواقعية في التفكير، واستخلاص النتائج من المقدمات، والاهتمام بالدور الفردي لخدمة الجماعة، والاستفادة من المهارات الخاصة في تحقيق منافع محددة، والإحاطة ببلاد العالم وطرق الرحلة إليها.

كل هذا جعل من المدينة المنورة موطن الدعوة المثالي لما بينها وبين مكة من ترابط وصلة ولذلك هاجر الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه إليها وعيونهم وقلوبهم ترنوا لمكة رجاءً وأملا.

6- تميز المدينة عن غيرها من المدن:

لو نظرنا لسائر مدن الجزيرة العربية لرأينا تميز المدينة عنها جميعًا، ولأدركنا سر اختيارها للهجرة، فمدينة "الطائف" قريبة من مكة، بل هي أقرب إليها من المدينة، وقد حاول الرسول صلى الله عليه وسلم أن يجعلها موئل الإسلام حين ذهب إليها، وطلب من أهلها الحماية والنصرة1 إلا أنهم كانوا متأثرين بنفوذ القرشيين، ولذلك تجنبوا مخالفتهم، وردوا الرسول حين أتاهم ردا قبيحًا.

وكان للمسيحية قوة التأثير في بلاد اليمن القريبة من بلاد الحبشة وفي بلاد الشام القريبة من أرض الروم.

وكان للفرس نفوذ في شرق جزيرة العرب وبعض بلاد الشام.

ولم يبق من مدن الجزيرة العربية مدينة تصلح للحركة الإسلامية، وتصير قاعدة الإسلام إلا مدن بلاد الحجاز الثلاث "مكة، والطائف، والمدينة" لعدم تأثرها بغيرها وحسن موقعها، ومزايا سكانها، فإذا ما انتفت منها مكة، والطائف لم يبق إلا المدينة المنورة وإليها كانت الهجرة النبوية.

--------------------------------------------

1 انظر ص364 من الكتاب الثاني من هذه السلسلة.
এরপর সমগ্র আরব উপদ্বীপ ইসলামে প্রবেশ করল এবং তাদের মধ্য থেকে অসামান্য দাঈদের আবির্ভাব ঘটল যারা ইসলামের ঝান্ডা বহন করেছিলেন এবং মহান আল্লাহর পথে জিহাদ করেছিলেন।

মক্কাবাসী ছিল দিগন্তব্যাপী বিচরণকারী ব্যবসায়ী। এটি তাদেরকে চিন্তার ক্ষেত্রে বাস্তবতা, ভূমিকা থেকে ফলাফল আহরণ, জামাতের সেবায় ব্যক্তিগত ভূমিকার প্রতি গুরুত্বারোপ, নির্দিষ্ট উপকার অর্জনে বিশেষ দক্ষতাকে কাজে লাগানো এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সেখানে যাওয়ার পথগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান দান করেছিল।

এই সবকিছুই মদিনা মুনাওয়ারাকে দাওয়াতের আদর্শ কেন্দ্রে পরিণত করেছিল মক্কার সাথে তার পারস্পরিক বন্ধন ও সম্পর্কের কারণে। এই কারণেই রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ সেখানে হিজরত করেছিলেন, যদিও তাঁদের চোখ ও অন্তর আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মক্কার দিকে তাকিয়ে ছিল।

৬- অন্যান্য শহরের তুলনায় মদিনার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য:

আমরা যদি আরব উপদ্বীপের অন্যান্য শহরের দিকে তাকাই, তবে সেগুলোর তুলনায় মদিনার স্বাতন্ত্র্য দেখতে পাব এবং হিজরতের জন্য কেন এটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল তার রহস্য বুঝতে পারব। যেমন 'তায়েফ' শহর মক্কার কাছে অবস্থিত, বরং এটি মদিনার চেয়েও মক্কার বেশি নিকটবর্তী। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সেখানে গিয়েছিলেন, তখন একে ইসলামের আশ্রস্থলে পরিণত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সেখানকার অধিবাসীদের কাছে আশ্রয় ও সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা কুরাইশদের প্রভাবে প্রভাবিত ছিল। তাই তারা কুরাইশদের বিরোধিতা এড়িয়ে চলে এবং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাদের কাছে আসলেন, তখন তারা তাঁকে অত্যন্ত রূঢ়ভাবে ফিরিয়ে দেয়।

আবিসিনিয়ার নিকটবর্তী ইয়ামেন ভূখণ্ডে এবং রোমানদের নিকটবর্তী সিরিয়া ভূখণ্ডে খ্রিস্টধর্মের শক্তিশালী প্রভাব ছিল।

আরব উপদ্বীপের পূর্ব দিকে এবং সিরিয়ার কিছু অংশে পারস্যের প্রভাব ছিল।

আরব উপদ্বীপের শহরগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন এবং ইসলামের ঘাঁটি হওয়ার জন্য হেজাজ ভূখণ্ডের তিনটি শহর "মক্কা, তায়েফ ও মদিনা" ছাড়া আর কোনো উপযুক্ত শহর বাকি ছিল না। কারণ এগুলোর ওপর অন্যের প্রভাব ছিল না এবং এগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান ও অধিবাসীদের গুণাবলি ছিল চমৎকার। সুতরাং যখন মক্কা ও তায়েফ বাদ পড়ল, তখন কেবল মদিনা মুনাওয়ারাই অবশিষ্ট রইল এবং সেখানেই নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হিজরত সম্পন্ন হয়েছিল।

--------------------------------------------

১. এই সিরিজের দ্বিতীয় গ্রন্থের ৩৬৪ নং পৃষ্ঠা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
7- سكان المدينة المنورة:

سكن المدينة المنورة قبل الهجرة كل من قبيلتي الأوس والخزرج، ومعهم طوائف من اليهود.

وكان أول الأمر بالمدينة أن سكنها العمالقة، ثم قدم عليهم أناس من بدو بني إسرائيل، فجاورهم فيها، فلما انهدم سد مأرب هاجر إليها الأوس والخزرج، ونزلوا بها، وتفرقوا في عاليتها وسافلتها1 فمنهم من نزل مع بني إسرائيل في القرى حول المدينة، ومنهم من أقام في يثرب.

ولما دالت دولة اليهود في فلسطين في الزمن القديم وقضى عليهم الرومان، وهدموا الهيكل فر كثير منهم إلى الحجاز، وأقاموا في يثرب، وخيبر فكان بيثرب يهود بني قينقاع، وفي تخومها يهود بني قريظة والنضير، وكانت هناك جماعات أخرى من اليهود تقيم بخيبر، وفدك، وتيماء، ووادي القرى.

وقد اتفقت قبائل الأوس والخزرج واليهود على المسالمة، وحسن الجوار، فعقدوا حلفًا يأمن به بعضهم على بعض، ويمتنعون به عمن سواهم.

وكانت الغلبة والقوة لليهود ابتداء لتملكهم مصادر الغنى والثروة، إذ كانوا يشتغلون بالصياغة وصنع آلات الحرب، وبالزراعة وفلاحة البساتين، وكان لهم سوق كبيرة تقام بصورة دورية لبيع منتجاتهم لأهل يثرب والقرى المجاورة.

ولما كثر عدد الأوس والخزرج، وزادت ثروتهم، واشتد ساعد أبنائهم وصارت لهم قوة خافت قريظة والنضير منهم فتنمروا لهم حتى قطعوا الحلف الذي كان بينهم الأمر الذي جعل قبيلتي الأوس والخزرج تتحدان في إطار واحد، ويملكان عليهم "مالكًا بن العجلان"، أخا سالم بن عوف الخزرجي.

وهكذا انقسمت المدينة إلى قسمين، قسم هم العرب من الأوس والخزرج ومن والاهم، وقسم هم اليهود بمختلف قبائلهم، وطوائفهم.

--------------------------------------------

1 يراد بالعالية ما كان فوق المدينة إلى قباء وما بعدها، ويراد بالسافلة ما كان في أسفل المدينة إلى أحد وقبر حمزة رضي الله عنه.
৭- মদিনা মুনাওয়ারার অধিবাসীগণ:

হিজরতের পূর্বে মদিনা মুনাওয়ারায় আউস ও খাজরাজ উভয় গোত্র বসবাস করত এবং তাদের সাথে ছিল ইহুদিদের কয়েকটি গোষ্ঠী।

মদিনার সূচনালগ্নে সেখানে আমালিকা সম্প্রদায় বসবাস করত, অতঃপর তাদের নিকট বনী ইসরায়েলের কিছু যাযাবর লোক আসে এবং তাদের প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস শুরু করে। যখন মাআরিব বাঁধ ভেঙে যায়, তখন আউস ও খাজরাজ গোত্র সেখানে হিজরত করে এবং সেখানে অবস্থান গ্রহণ করে। তারা এর উঁচু ভূমি ও নিচু ভূমিতে ১ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের কেউ কেউ মদিনার চারপাশের গ্রামগুলোতে বনী ইসরায়েলের সাথে বসবাস করতে থাকে এবং কেউ কেউ ইয়াসরিবে অবস্থান করে।

প্রাচীনকালে যখন ফিলিস্তিনে ইহুদিদের শাসনাবসান ঘটে এবং রোমানরা তাদের পরাজিত করে তাদের উপাসনালয় ধ্বংস করে দেয়, তখন তাদের অনেকে হিজাজে পালিয়ে আসে এবং ইয়াসরিব ও খায়বারে বসবাস শুরু করে। ইয়াসরিবে বনী কাইনুকা গোত্র ছিল এবং এর উপকণ্ঠে বনী কুরাইজা ও বনী নাযির গোত্র বসবাস করত। এছাড়া ইহুদিদের আরও কিছু দল খায়বার, ফাদাক, তাইমা এবং ওয়াদিল কুরা-তে অবস্থান করত।

আউস, খাজরাজ এবং ইহুদি গোত্রগুলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সুপ্রতিবেশী সুলভ আচরণের বিষয়ে একমত হয়েছিল। ফলে তারা একটি চুক্তি সম্পাদন করে যার মাধ্যমে তারা একে অপরের থেকে নিরাপদ থাকে এবং অন্যদের হাত থেকে সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়।

শুরুতে ইহুদিদেরই আধিপত্য ও শক্তি ছিল কারণ তারা ধন-সম্পদ ও উপার্জনের উৎসের অধিকারী ছিল। তারা স্বর্ণালঙ্কার তৈরি, যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ এবং কৃষি ও বাগান পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত ছিল। ইয়াসরিব ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর অধিবাসীদের কাছে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য তাদের একটি বড় বাজার ছিল যা পর্যায়ক্রমে বসত।

যখন আউস ও খাজরাজ গোত্রের লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তাদের সম্পদ বাড়ল এবং তাদের সন্তানদের সামর্থ্য বৃদ্ধি পেয়ে তারা শক্তিশালী হয়ে উঠল, তখন বনী কুরাইজা ও বনী নাযির তাদের ভয় করতে লাগল। ফলে তারা তাদের সাথে রুক্ষ আচরণ করতে শুরু করল, এমনকি শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যবর্তী চুক্তিটি ছিন্ন করল। এই ঘটনাটি আউস ও খাজরাজ গোত্রদ্বয়কে ঐক্যবদ্ধ হতে বাধ্য করে এবং তারা সালিম বিন আউফ আল-খাজরাজির ভাই "মালিক বিন আল-আজলান"-কে নিজেদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করে।

এভাবে মদিনা দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়—একটি অংশ হলো আউস ও খাজরাজ এবং তাদের মিত্র আরবগণ, আর অন্য অংশটি হলো ইহুদিদের বিভিন্ন গোত্র ও দলসমূহ।

--------------------------------------------

১ 'আলিয়া' বলতে মদিনার উপরের অংশ থেকে কুবা এবং তার পরবর্তী এলাকা বোঝায়, আর 'সাফিলা' বলতে মদিনার নিচের অংশ থেকে ওহুদ ও হামজা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কবর পর্যন্ত এলাকা বোঝায়।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ولم يدم توحد عرب يثرب طويلا، فقد لعب بهم اليهود، وأوقعوا بينهم الفتنة، واشتعلت الحرب بين الأوس والخزرج واستمرت وكان آخرها حرب "بعاث".

ولم يتمكن "مالك بن العجلان" الذي سوده الأوس والخزرج عليهم من إيقاف الحرب، وإنهاء القتال، الأمر الذي أدى إلى كثرة الضرر وإهمال طرق الكسب والمعاش.

وقد تطور الأمر بعد ذلك حيث مكن الله للأوس والخزرج بعد بغي اليهود، وظلمهم لأهل المدينة.

يذكر المؤرخون أن ملك اليهود "الفطيون"1 كانت له السيادة على اليهود والأوس والخزرج، وكانت له فيهم سنة ألا تزوج منهم امرأة إلا أدخلت عليه قبل زوجها حتى يكون هو الذي يفتضها، إلى أن خطبت أخت لمالك بن العجلان الخزرجي، فلما كانت الليلة التي تهدى فيها إلى زوجها خرجت على مجلس قومها كاشفة عن ساقيها، وأخوها مالك في المجلس.

فقال لها: قد جئت بسوأة بخروجك على قومك وقد كشفت عن ساقيك!! قالت: الذي يراد بي الليلة أعظم من ذلك لأنني أدخل على غير زوجي، ثم دخلت إلى منزلها فدخل إليها أخوها وقد أرمضه قولها.

فقالت له: هل عندك من خبر؟

قال: نعم.

قالت: فماذا؟

قال: أدخل معك في جملة النساء على الفطيون، فإذا خرجن من عندك ودخل عليك ضربته بالسيف حتى يبرد.

قالت: افعل.

فتزيا بزي النساء، وراح معها، فلما خرج النساء من عندها دخل الفطيون عليها فشد عليه "مالك بن العجلان" بالسيف وضربه حتى قتله، وخرج هاربًا حتى

--------------------------------------------

1 الفطيون بكسر الفاء وسكون الطاء وياء مفتوحة وسكون الواو.
ইয়াসরিবের আরবদের ঐক্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ ইহুদিরা তাদের নিয়ে খেলা করেছিল এবং তাদের মাঝে ফিতনা সৃষ্টি করেছিল। ফলে আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং তা অব্যাহত থাকে, যার সর্বশেষটি ছিল 'বুয়াস' এর যুদ্ধ।

'মালিক বিন আল-আজলান', যাকে আউস ও খাজরাজ গোত্র তাদের নেতা বানিয়েছিল, যুদ্ধ থামাতে এবং লড়াই বন্ধ করতে সক্ষম হননি। এর ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং উপার্জন ও জীবনযাত্রার উপায়গুলো অবহেলিত হয়।

এরপর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে, যখন ইহুদিদের অবাধ্যতা এবং মদিনাবাসীদের ওপর তাদের জুলুমের পর আল্লাহ আউস ও খাজরাজ গোত্রকে সামর্থ্য দান করেন।

ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেন যে, ইহুদিদের রাজা 'আল-ফিতইউন'১ এর ইহুদি, আউস এবং খাজরাজ গোত্রের ওপর কর্তৃত্ব ছিল। তাদের মধ্যে তার একটি নিয়ম ছিল যে, তাদের কোনো মহিলার বিয়ে হলে তাকে তার স্বামীর কাছে পাঠানোর আগে রাজার কাছে নিয়ে আসা হতো যাতে সে তার সতীত্ব হরণ করতে পারে। এই অবস্থা চলতে থাকে যতক্ষণ না খাজরাজী মালিক বিন আল-আজলানের এক বোনের বিয়ের প্রস্তাব আসে। যে রাতে তাকে তার স্বামীর কাছে পাঠানোর কথা ছিল, সেই রাতে সে তার পায়ের গোছা উন্মুক্ত করে তার সম্প্রদায়ের মজলিসে বেরিয়ে আসে, যখন তার ভাই মালিক সেই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি তাকে বললেন: "তুমি নিজের কওমের সামনে এভাবে বেরিয়ে এসে এবং তোমার পায়ের গোছা উন্মুক্ত করে এক জঘন্য কাজ করেছ!" সে বলল: "আজ রাতে আমার সাথে যা করার ইচ্ছা করা হয়েছে তা এর চেয়েও ভয়াবহ, কারণ আমাকে আমার স্বামী ব্যতীত অন্য কারো কাছে প্রবেশ করানো হবে।" এরপর সে তার ঘরে চলে গেল এবং তার ভাই তার কথার যন্ত্রণায় ব্যথিত হয়ে তার কাছে প্রবেশ করল।

সে তাকে বলল: "আপনার কাছে কি কোনো খবর আছে?"

তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"

সে বলল: "তবে কী?"

তিনি বললেন: "আমি নারীদের বেশে তোমার সাথে আল-ফিতইউনের কাছে প্রবেশ করব। নারীরা যখন তোমার কাছ থেকে বেরিয়ে যাবে এবং সে তোমার কাছে আসবে, তখন আমি তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করব যতক্ষণ না সে নিথর হয়ে যায়।"

সে বলল: "তা-ই করুন।"

অতঃপর তিনি নারীদের পোশাক পরিধান করলেন এবং তার সাথে গেলেন। যখন নারীরা তার কাছ থেকে বেরিয়ে গেল, তখন আল-ফিতইউন তার কাছে প্রবেশ করল। এমতাবস্থায় 'মালিক বিন আল-আজলান' তলোয়ার নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তাকে আঘাত করে হত্যা করলেন। এরপর তিনি পালিয়ে বের হলেন যতক্ষণ না...

--------------------------------------------

১ আল-ফিতইউন: ফা বর্ণে কাসরা (জের), তা বর্ণে সুকুন, ইয়া বর্ণে ফাতহা (জবর) এবং ওয়াও বর্ণে সুকুন।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
قدم الشام، فدخل على ملك من ملوك غسان يقال له أبو جبيلة فشكا إليه ما كان من الفطيون وما كان يعمل في نسائهم، وذكر له أنه قتله وهرب، وأنه لا يستطيع الرجوع خوفًا من اليهود، فعاهده أبو جبيلة أن لا يقرب امرأة، ولا يمس طيبًا، ولا يشرب خمرًا حتى يسير إلى المدينة، ويذل من بها من اليهود، وأقبل سائرًا من الشام في جمع كثير، مظهرًا أنه يريد اليمن حتى قدم المدينة، ونزل بذي حرض، ثم أرسل إلى الأوس والخزرج أنه على المكر باليهود، عازم على قتل رؤسائهم، وأنه يخشى متى علموا بذلك أن يتحصنوا في آماطهم، وأمرهم بكتمان ما أسره إليهم، ثم أرسل إلى وجهاء اليهود أن يحضروا طعامه، ليحسن إليهم، ويصلهم، فأتاه وجوههم، وأشرافهم، ومع كل واحد منهم خاصته وحشمه، فلما تكاملوا أدخلهم في خيامه، ثم قتلهم عن آخرهم، فصارت الأوس والخزرج من يومئذ أعز أهل المدينة1.

وبعد أن هاجر المسلمون إلى المدينة وأقاموا بها ظهر المهاجرون عنصرًا جديدًا فيها، يحمل الفكر والخلق، وينشر الهدى والدين.

وقد تغير حال المسلمين في المدينة بعد الهجرة عن ما كانوا عليه من مكة، فلقد أصبح أمرهم بأيديهم، وصارت القوة معهم، وأخذوا يظهرون الإسلام بسائر نظمه في حياتهم، ومعاشهم، وأصبح لزامًا عليهم أن يكونوا مجتمعًا إسلاميا، يحمي أبناءه، ويصون عقيدته، وينشر دين الله في الأرض كلها.

وليس بخاف أن تكوين هذا المجتمع يحتاج إلى جهد وإخلاص، كما يحتاج إلى صبر شديد، وزمن مديد، وعمل جاد رشيد، حتى يتكامل التشريع مع التطبيق، ويتوافق التثقيف والحركة، ويمتلئ الوجود بنور الوحي حركة في السلوك والحياة.

وهذه الآمال الكبار المنوطة بالمسلمين في المدينة تحتاج إلى مجتمع متماسك، متحد الوسائل والغايات، يدرك رسالة الله، ويحمل الأمانة، ويعيش بها، ويتحرك لها بتوجيه رسول الله صلى الله عليه وسلم.

إن هذا المجتمع بعناصره بعد الهجرة يحتاج إلى فهم مكوناته، والتعامل مع كل

--------------------------------------------

1 معجم البلدان ج5 ص85.
তিনি সিরিয়ায় আসলেন এবং গাসসান গোত্রের রাজাদের মধ্য থেকে আবু জুবায়লা নামক এক রাজার নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি তার কাছে ফিতইউন এবং সে তাদের নারীদের সাথে যা করত সে সম্পর্কে অভিযোগ করলেন। তিনি তাকে জানালেন যে, তিনি তাকে হত্যা করে পালিয়ে এসেছেন এবং ইহুদিদের ভয়ে ফিরে যেতে পারছেন না। আবু জুবায়লা তার কাছে অঙ্গীকার করলেন যে, মদিনায় না যাওয়া এবং সেখানকার ইহুদিদের লাঞ্ছিত না করা পর্যন্ত তিনি কোনো নারীর নিকটবর্তী হবেন না, সুগন্ধি স্পর্শ করবেন না এবং মদ পান করবেন না। তিনি এক বিশাল বাহিনী নিয়ে সিরিয়া থেকে রওয়ানা হলেন এবং প্রকাশ করলেন যে তিনি ইয়ামেন যেতে চান। অবশেষে তিনি মদিনায় আসলেন এবং যি হুরয নামক স্থানে অবতরণ করলেন। অতঃপর তিনি আউস ও খাজরাজ গোত্রকে বার্তা পাঠালেন যে, তিনি ইহুদিদের বিরুদ্ধে কৌশল অবলম্বন করতে এবং তাদের নেতাদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ভয় পাচ্ছিলেন যে, ইহুদিরা যদি এ বিষয়ে জানতে পারে তবে তারা তাদের দুর্গে আশ্রয় নিবে। তিনি তাদেরকে এই গোপন বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি ইহুদি নেতৃবৃন্দকে তার আপ্যায়নে উপস্থিত হওয়ার জন্য দাওয়াত পাঠালেন, যেন তিনি তাদের প্রতি সদয় হতে পারেন এবং সুসম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন। তখন তাদের গণ্যমান্য ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত হলো এবং প্রত্যেকের সাথে ছিল তাদের ঘনিষ্ঠ ও অনুচরবর্গ। যখন তারা সবাই সমবেত হলো, তিনি তাদেরকে তার তাঁবুতে প্রবেশ করালেন এবং তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত সবাইকে হত্যা করলেন। সেই দিন থেকে আউস ও খাজরাজ মদিনার সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হলো।

আর মুসলমানগণ মদিনায় হিজরত করার এবং সেখানে বসবাস করার পর, মুহাজিরগণ সেখানে এক নতুন উপাদান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন, যারা উন্নত চিন্তা ও নৈতিকতার ধারক এবং হিদায়াত ও দ্বীন প্রচারকারী।

হিজরতের পর মদিনায় মুসলমানদের অবস্থা মক্কার অবস্থার তুলনায় পরিবর্তিত হয়ে গেল। তাদের বিষয়াদি তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে চলে এল, শক্তি তাদের সাথে যুক্ত হলো এবং তারা তাদের জীবন ও জীবিকার সকল ক্ষেত্রে ইসলামের বিধানসমূহ প্রকাশ করতে শুরু করলেন। এখন তাদের জন্য একটি ইসলামি সমাজ গঠন করা আবশ্যক হয়ে পড়ল, যা তার সদস্যদের সুরক্ষা দেবে, তার আকিদাহ সংরক্ষণ করবে এবং সমগ্র পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন প্রচার করবে।

এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই সমাজ গঠনের জন্য প্রচেষ্টা ও ইখলাসের প্রয়োজন, সেই সাথে প্রয়োজন চরম ধৈর্য, দীর্ঘ সময় এবং সঠিক ও নিষ্ঠাপূর্ণ কর্মতৎপরতা; যাতে বিধানের সাথে প্রয়োগের পূর্ণতা ঘটে, শিক্ষা ও কর্মের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি হয় এবং মানুষের আচরণ ও জীবনে ওহীর আলোয় অস্তিত্ব পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মদিনার মুসলমানদের ওপর অর্পিত এই মহান আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য একটি সুসংহত সমাজ প্রয়োজন, যার লক্ষ্য ও উপায় হবে অভিন্ন। এমন এক সমাজ যা আল্লাহর বাণী উপলব্ধি করবে, আমানত বহন করবে, তদানুযায়ী জীবন যাপন করবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনায় সেই লক্ষ্যে পরিচালিত হবে।

হিজরত পরবর্তী এই সমাজকে তার উপাদানসমূহ দিয়ে বোঝার এবং প্রত্যেকের সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে...

--------------------------------------------

১. মু'জামুল বুলদান, ৫ম খণ্ড, ৮৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ৩৬)
عنصر بما يكافئه.

فالمسلمون يتكونون من الأنصار المقيمين في أرضهم وديارهم وأموالهم، آمنين في شئونهم، عندهم قوتهم ومعاشهم، وكل ما ينقصهم هو القضاء على كل ما بينهم من منازعات وعداوات امتدت طويلا فيما مضى من الزمان، وقد دخلوا في الإسلام ومن آمالهم أن تنتهي هذه المنازعات بالإسلام.

وبفضل الله تعالى انتهت هذه المنازعات من اللحظة الأولى بعد البيعة، عندما بايعوا الرسول صلى الله عليه وسلم عند العقبة يدًا واحدة، تمثل جماعة واحدة، ومدينة واحدة، ولما جاءهم مصعب بن عمير رضي الله عنه، قادهم جميعًا إلى الله، وأدركوا أنهم بالإسلام مسئولون مع المهاجرين على مواجهة الوثنية في بلاد العرب وغيرها.

لقد كانت قبيلة الخزرج أكثر عددًا وقوة من الأوس، وكان النقباء منهم أكثر ومع ذلك لم يحدث أن خص الرسول صلى الله عليه وسلم فريقًا دون غيره بشروط، ولم يحدث أن اعترض فريق منهم على شيء، وإنما أدى إقبالهم على الإسلام وصدقهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم أنهم كانوا جميعًا على مستوى واحد في الحرص على الإيمان، واتباع كل ما يأمرهم به صلى الله عليه وسلم ولذلك وصفهم الله جميعًا وصفًا واحدًا فقال تعالى: {وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} 1.

ومع الأنصار كان المهاجرون الذين استجابوا لرسول الله صلى الله عليه وسلم وتركوا بلدهم، ومالهم، وأرضهم، وأهليهم، وجاءوا إلى المدينة لا يملكون شيئًا، ولا يحوزون أرضًا، أو دارًا.

ومع المسلمين في المدينة كان اليهود بقبائلهم الثلاث بنو قينقاع، وبنو النضير، وبنو قريظة.

--------------------------------------------

1 سورة الحشر: 9.
একটি উপাদান তার সমতুল্য দ্বারা।

মুসলিমরা মূলত সেই আনসারদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল যারা তাদের নিজ ভূমি, ঘরবাড়ি এবং ধন-সম্পদের মাঝে নিরাপদ থেকে বসবাস করত। তাদের পার্থিব বিষয়ে তারা নিশ্চিন্ত ছিল, তাদের কাছে নিজস্ব শক্তি ও জীবিকা বিদ্যমান ছিল। তাদের যা কিছুর অভাব ছিল তা হলো তাদের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বিবাদ ও শত্রুতার অবসান ঘটানো। তারা ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিল এই আশায় যে, ইসলামের মাধ্যমে এই বিবাদগুলোর ইতি ঘটবে।

আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে বায়আতের প্রথম মুহূর্ত থেকেই এই বিবাদগুলো শেষ হয়ে যায়, যখন তারা আকাবায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে ঐক্যবদ্ধভাবে বায়আত গ্রহণ করেন, যারা একটি জামাত ও একটি শহরের প্রতিনিধিত্ব করছিল। যখন মুসআব ইবনে উমায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের কাছে আসলেন, তিনি তাদের সকলকে আল্লাহর দিকে পরিচালিত করলেন। তারা উপলব্ধি করলেন যে, ইসলামের কারণে তারা মুহাজিরদের সাথে আরব ভূখণ্ড ও তার বাইরে পৌত্তলিকতার মোকাবিলা করার জন্য দায়বদ্ধ।

খাযরাজ গোত্র আওস গোত্রের তুলনায় সংখ্যা ও শক্তিতে বেশি ছিল এবং তাদের মধ্য থেকে প্রতিনিধিদের (নকীব) সংখ্যাও ছিল বেশি। তা সত্ত্বেও এমনটি ঘটেনি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো এক দলকে বিশেষ কোনো শর্ত দিয়ে অন্য দলের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। আবার তাদের কোনো দল কোনো বিষয়ে আপত্তিও করেনি। বরং ইসলামের প্রতি তাদের একাগ্রতা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাদের সত্যবাদিতা তাদের সকলকে ঈমানের প্রতি যত্নশীল হওয়ার ক্ষেত্রে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু আদেশ করতেন তা অনুসরণের ক্ষেত্রে একই স্তরে নিয়ে এসেছিল। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা তাদের সকলকে একই বিশেষণে বিশেষিত করে বলেছেন: {আর যারা তাদের আগে এই নগরীতে বসবাস করেছে এবং ঈমান গ্রহণ করেছে, তারা তাদের কাছে হিজরত করে আসা লোকদের ভালোবাসে এবং তাদেরকে যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা নিজেদের অন্তরে কোনো অভাববোধ বা আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না, আর তারা নিজেদের ওপর তাদেরকে প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত থাকে। আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম।} ১।

আনসারদের সাথে ছিলেন সেই সব মুহাজির যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন এবং নিজেদের দেশ, সম্পদ, ভূমি ও পরিবার-পরিজন ত্যাগ করেছিলেন। তারা মদিনায় এসেছিলেন এমন অবস্থায় যে তাদের কোনো কিছুর মালিকানা ছিল না এবং তাদের কোনো জমি বা ঘরবাড়িও ছিল না।

মদিনায় মুসলিমদের সাথে তিনটি ইহুদি গোত্রও ছিল: বনু কাইনুকা, বনু নাযির এবং বনু কুরাইযা।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-হাশর: ৯।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وعلى الجملة:

فإن سكان المدينة بعد الهجرة كانوا مكونين من الفئات التالية:

الفئة الأولى: الأنصار: وهم أهل المدينة الذين آمنوا برسول الله صلى الله عليه وسلم ودخلوا في الإسلام، وأساس الأنصار قبيلتا الأوس والخزرج.

الفئة الثانية: المهاجرون: وهم أهل مكة الذين هاجروا بدينهم إلى المدينة ومن لحق بهم من القبائل.

الفئة الثالثة: اليهود وقبائلهم الرئيسية بنو قينقاع، وبنو النضير، وبنو قريظة.

ومع هذه الفئات الثلاث وجد أفراد في المدينة تابعون لهذا الفريق أو ذاك، ولهم مذهبهم الخاص واتجاههم المستقل، ومنهم كان المشركون والمنافقون.

ولم تكن العلاقات بين هذه الفئات طيبة؛ لأن اليهود نظروا إلى الإسلام نظرة حقد وحسد، وأملوا في إثارة العرب ضده، وكانوا يكرهون رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويتمنون القضاء عليه، وعلى دينه.

نظر اليهود إلى الإسلام، ورأوه دعوة صالحة تؤلف بين أشتات القلوب، وتطفئ نار العداوة والبغضاء، وتدعو إلى التزام الأمانة في الشئون كلها، وإلى التقييد بأكل الحلال من طيب الأموال، ولهذا تآمروا عليه.

خاف اليهود من تآلف العرب، والتخلص من سيطرتهم الاقتصادية، الأمر الذي قد يؤدي إلى فشل نشاط اليهود التجاري، وحرمانهم من أموال الربا التي تدير رحى ثروتهم، ويحتمل أن تتيقظ تلك القبائل فتفكر في الأموال الربوية التي أخذها اليهود، فتقوم بإرجاع أرضها وحوائطها التي أضاعتها في تأدية الربا إلى اليهود.

كان اليهود يدخلون كل ذلك في حسابهم منذ عرفوا أن دعوة الإسلام تحاول الاستقرار في يثرب، ولذلك كانوا يبطنون أشد العداوة ضد الإسلام، وضد رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ أن دخل يثرب، وإن كانوا لم يتجاسروا على إظهارها إلا بعد حين.

يظهر ذلك جليًا بما رواه ابن إسحاق عن أم المؤمنين صفية رضي الله عنها أنها قالت: كنت أحب ولد أبي إليه، وإلى عمي أبي ياسر، لم ألقهما قط مع ولد لهما
সংক্ষেপে:

হিজরতের পর মদীনার অধিবাসীরা নিম্নলিখিত শ্রেণিগুলোতে বিভক্ত ছিল:

প্রথম শ্রেণি: আনসার: তারা হলেন মদীনার সেই অধিবাসী যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান এনেছিলেন এবং ইসলামে প্রবেশ করেছিলেন। আনসারদের মূল ভিত্তি ছিল আউস ও খাজরাজ নামক দুটি গোত্র।

দ্বিতীয় শ্রেণি: মুহাজিরগণ: তারা হলেন মক্কার সেই অধিবাসী যারা তাদের দ্বীন রক্ষার্থে মদীনায় হিজরত করেছিলেন এবং অন্যান্য গোত্র থেকে যারা তাদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন।

তৃতীয় শ্রেণি: ইয়াহুদি এবং তাদের প্রধান গোত্রগুলো—বনু কাইনুকা, বনু নাযির এবং বনু কুরায়যা।

এই তিন শ্রেণির সাথে মদীনায় এমন কিছু ব্যক্তিও ছিল যারা এই বা সেই দলের অনুসারী ছিল এবং তাদের নিজস্ব মতাদর্শ ও স্বতন্ত্র চিন্তাধারা ছিল। তাদের মধ্যে ছিল মুশরিক ও মুনাফিকরা।

এই শ্রেণিগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সুমধুর ছিল না; কারণ ইয়াহুদিরা ইসলামের দিকে বিদ্বেষ ও হিংসার নজরে তাকাত এবং তারা আরবদেরকে এর বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়ার আশা পোষণ করত। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘৃণা করত এবং তাঁকে ও তাঁর দ্বীনকে মিটিয়ে দেওয়ার কামনা করত।

ইয়াহুদিরা ইসলামের দিকে লক্ষ্য করল এবং দেখল যে এটি একটি কল্যাণকর দাওয়াত যা মানুষের বিক্ষিপ্ত হৃদয়গুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে, শত্রুতা ও ঘৃণার আগুন নিভিয়ে দেয় এবং সকল বিষয়ে আমানতদারী রক্ষার পাশাপাশি পবিত্র ও হালাল উপার্জিত সম্পদ ভক্ষণ করার আহ্বান জানায়; এই কারণেই তারা এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল।

ইয়াহুদিরা আরবদের ঐক্য এবং তাদের অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার ভয় পাচ্ছিল। এর ফলে ইয়াহুদিদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যর্থ হওয়ার এবং তাদের সেই সুদী অর্থ থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল যা তাদের সম্পদের চাকা সচল রাখত। এটাও সম্ভব ছিল যে, ওই গোত্রগুলো সচেতন হয়ে উঠবে এবং ইয়াহুদিদের নেওয়া সুদী অর্থ সম্পর্কে চিন্তা করবে, ফলে তারা তাদের সেই জমি ও বাগানগুলো ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করবে যা সুদের দায় শোধ করতে গিয়ে ইয়াহুদিদের কাছে হারিয়েছিল।

ইয়াহুদিরা যখন থেকে জানতে পেরেছিল যে ইসলামের দাওয়াত ইয়াসরিবে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করছে, তখন থেকেই তারা এ সব কিছু তাদের হিসাবে রেখেছিল। তাই তারা ইসলামের বিরুদ্ধে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াসরিবে প্রবেশের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে চরম শত্রুতা অন্তরে লালন করত, যদিও তারা কিছুকাল অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রকাশ করার দুঃসাহস দেখায়নি।

ইবনে ইসহাক উম্মুল মুমিনীন সাফিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তিনি বলেন: আমি আমার পিতা এবং আমার চাচা আবু ইয়াসিরের কাছে তাদের অন্য সব সন্তানের চেয়ে অধিক প্রিয় ছিলাম। আমি তাদের অন্য কোনো সন্তানের সাথে তাদের সাথে কখনোই দেখা করিনি...