(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الحجاب شريعة الله في الإسلام واليهودية والنصرانية القسم: كتب عامة
الكتاب: الحجاب شريعة الله في الإسلام واليهودية والنصرانية
المؤلف: سامى عامرى
صدر هذا الكتاب تحت رعاية: المؤسسة العلمية العالمية الدعوية - مبادرة البحث العلمي لمقارنة الأديان
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 141
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মে হিজাব আল্লাহর বিধান বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মে হিজাব আল্লাহর বিধান
লেখক: সামি আমিরি
এই বইটি যার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত হয়েছে: আল-মুয়াসসাসাতুল ইলমিয়্যা আল-আলামিয়্যা আদ-দাওয়াহ - মুবাদারাতুল বাহসিল ইলমি লি-মুকারানাতিল আদইয়ান (তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক গবেষণা উদ্যোগ)
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪১
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
الحجاب
شريعة الله في الإسلام واليهودية والنصرانية
سامي عامري
হিজাব
ইসলাম, ইহুদি ধর্ম ও খ্রিস্টধর্মে আল্লাহর বিধান
সামি আমেরি
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الإهداء إلى أخواتي العفيفات في كلّ أرض.. نضّر الله وجوههن..
ورزقهن نعيم الجنان..
وزادهن بسطة في الإيمان!
উৎসর্গ প্রতিটি ভূখণ্ডের আমার সতী-সাধ্বী বোনদের প্রতি.. আল্লাহ তাদের চেহারাকে প্রোজ্জ্বল করুন..
এবং তাদের জান্নাতের নেয়ামত দান করুন..
এবং তাদের ঈমানে প্রশস্ততা বৃদ্ধি করুন!
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الحُسْنُ أسفرَ بالحجابِ (1)
قمر توشحَ بالسَحابْ
غَبَشٌ توغل، حالمًا، بفجاجِ غابْ
فجرٌ تحمم بالندى وأطل من خلف الهضابْ
الورد في أكمامه
ألق اللآلئ في الصدفْ
سُرُجٌ تُرفرفُ في السَدَفْ
ضحكات أشرعةٍ يؤرجحها العبابْ
ومرافئ بيضاء تنبض بالنقاء العذبِ من خلل الضبابْ
من أي سِحرٍ جِئت أيتها الجميلهْ؟
من أي باِرقة نبيلهْ
هطلت رؤاك على الخميلةِ فانتشى عطرُ الخميلهْ؟
من أي أفقٍ ذلك البَرَدُ المتوجُ باللهيبِ وهذه الشمسُ الظليلَهْ؟
من أي نَبْعٍ غافِل الشفتينِ تندلعُ الورودُ؟ - من الفضيلَهْ
هي ممكنات مستحيلهْ!
قمر على وجه المياهِ َيلُمهُ العشب الضئيلُ وليس تُدركه القبابْ
قمر على وجه المياه، سكونه في الاضطراب، وبعده في الاقترابْ
غَيب يمد حُضورَه وسْطَ الغيابْ
وطن يلم شتاته في الاغترابْ
روح مجنحة بأعماق الترابْ!
--------------------------------------------
সৌন্দর্য হিজাবের আবরণে উদ্ভাসিত হয়েছে (১)
যেন মেঘের চাদরে আবৃত এক চাঁদ
অরণ্যের গিরিপথে স্বপ্নাতুর হয়ে প্রবেশ করা এক গোধূলি
শিশিরে স্নান সেরে পাহাড়ের আড়াল থেকে উঁকি দেওয়া এক প্রভাত
পাপড়ির আবরণে লুকায়িত গোলাপ
ঝিনুকের অভ্যন্তরে মুক্তার দ্যুতি
অন্ধকারের মাঝে প্রকম্পিত প্রদীপসমূহ
উত্তাল তরঙ্গের দোলায় দোদুল্যমান পালের মৃদু হাসি
কুয়াশার বুক চিরে সুমিষ্ট নির্মলতায় স্পন্দিত শুভ্র বন্দরসমূহ
হে সুন্দরী! কোন মোহিনী শক্তি থেকে তোমার আগমন?
কোন মহৎ আলোকছটা থেকে
এই কাননে তোমার স্বপ্নরা ঝরে পড়ল, যার ফলে কাননের সুবাস হলো মাতোয়ারা?
কোন দিগন্ত থেকে এলো অগ্নিশিখায় মুকুটিত সেই শিলাবৃষ্টি আর এই ছায়াময় সূর্য?
কোন নির্লিপ্ত অধরের ঝরনাধারা থেকে গোলাপেরা প্রস্ফুটিত হয়? — সচ্চরিত্রতা থেকে
এ যেন অসম্ভব সব সম্ভাব্যতা!
পানির উপরিভাগে প্রতিবিম্বিত এক চাঁদ, যাকে ক্ষুদ্র ঘাসেরা আগলে রাখে কিন্তু সুউচ্চ গম্বুজ যার নাগাল পায় না
পানির উপরিভাগে এক চাঁদ, অস্থিরতার মাঝে যার স্থিরতা আর নিকটবর্তিতার মাঝে যার দূরত্ব
এক অদৃশ্যের উপস্থিতি, যা অনুপস্থিতির মাঝে নিজের অস্তিত্বকে প্রসারিত করে
এমন এক স্বদেশ, যা প্রবাসের মাঝে নিজ বিচ্ছিন্নতাকে একত্রিত করে
মৃত্তিকার গভীরে ডানাযুক্ত এক আত্মা!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهي الحضارة كلها تنسَل من رَحِم الخرابْ
وتقوم سافرة لتختزل الدنا في كِلْمتين: (أنا الحِجابْ!)
الحُسْنُ أسفرَ بالحجابِ فمالها حُجُبُ النفورْ
نزلت على وجهِ السفورْ؟
واهًا
… أرائحة الزهور تضيرُ عاصمة العطورْ؟
أتعف عن رشْفِ الندى شَفَةُ البكورْ؟
أيضيق دوح بالطيورْ؟!
يا للغرابة! _ لا غرابهْ
أنا بسمة ضاقت بفرحتها الكآبهْ
أنا نغمة جرحت خدود الصمت وازدردت الرتابهْ
أنا وقدة محت الجليد وعبأت بالرعب أفئدة الذئابْ
أنا عِفة وطهارة بينَ الكلابْ
الشمس حائرة يدور شِراعُها وَسْطَ الظلام بغير مرسى
الليلُ جن بأفقها والصبحُ أمسى!
والوردة الفيحاء تصفعها الرياح ويحتويها السيل دَوْسا
والحانة السكرى تصارع يقظتي وتصب لي ألمًا ويأسا
سأغادرُ المبغى الكبيرَ ولست آسى أنا لستُ غانية وكأسا!
نَعلاكِ أوسعُ من فرنسا
نعلاكِ أطهرُ من فرنسا كلها جَسَدًا ونفْسا
نعلاك أجْملُ من مبادئ ثورةٍ ذُكِرَتْ لتُنسى
مُدي جُذورَكِ في جذورِكِ واتركي أن تتركيها
قري بمملكةِ الوقارِ وسَفهي الملِكَ السفيها
هي حرة ما دامَ صوتُكِ مِلءَ فيها
وجميلة ما دُمتِ فيها
هي مالَها من مالِها شيء سِوى (سِيدا) بَنيها!
هي كلها ميراثُكِ المسروقُ: أسفلت الدروبِ، حجارةُ الشرفاتِ، أوعيةُ المعاصِرْ
আর এই হলো সেই সভ্যতা যা সম্পূর্ণ ধ্বংসের জঠর থেকে নির্গত হয়
এবং তা অনাবৃত হয়ে দণ্ডায়মান হয় জগতকে মাত্র দুটি শব্দে সংকুচিত করতে: (আমিই পর্দা!)
সৌন্দর্যের বিকাশ তো পর্দার মাধ্যমেই হয়েছে, তবে কেন এই বিদ্বেষের আবরণ
যা অনাবৃত চেহারার ওপর নেমে এসেছে?
হায় আক্ষেপ!
… সুগন্ধির রাজধানীতে কি পুষ্পের সুবাস কোনো ক্ষতি সাধন করে?
প্রভাতের ওষ্ঠাধর কি শিশির বিন্দু পান করা থেকে বিরত থাকে?
বিশাল মহীরুহ কি পাখিদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায়?!
কী আশ্চর্য! — না, আশ্চর্যের কিছু নেই
আমি সেই স্মিতহাস্য যার আনন্দে বিষণ্ণতা সংকুচিত হয়ে পড়েছে
আমি সেই সুর যা নিস্তব্ধতার গণ্ডদেশকে বিদীর্ণ করেছে এবং একঘেয়েমিকে গ্রাস করেছে
আমি সেই অগ্নিশিখা যা তুষার নির্মূল করেছে এবং নেকড়েদের হৃদয়ে ত্রাস সঞ্চার করেছে
আমি কুকুরের পালের মাঝে এক শুচিতা ও পবিত্রতা
সূর্য আজ বিভ্রান্ত, অন্ধকারের মাঝে তার পালের তরী নোঙরহীন ঘুরপাক খাচ্ছে
তার দিগন্তে রজনী উন্মাদপ্রায় এবং প্রভাত পরিণত হয়েছে সন্ধ্যায়!
সুবাসিত গোলাপকে সমীরণ চপেটাঘাত করছে এবং প্লাবন তাকে পদদলিত করে গ্রাস করছে
মাতাল সরাইখানা আমার জাগরণকে বাধা দিচ্ছে এবং আমার জন্য ঢেলে দিচ্ছে বেদনা ও নিরাশা
আমি এই বিশাল বেশ্যালয় ত্যাগ করব এবং আমি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নই; আমি কোনো বিলাসিনী বা মদের পেয়ালা নই!
তোমার পাদুকা জোড়া ফ্রান্সের চেয়েও প্রশস্ত
তোমার পাদুকা জোড়া দেহ ও প্রাণে সমগ্র ফ্রান্সের চেয়েও অধিক পবিত্র
তোমার পাদুকা জোড়া বিপ্লবের সেই আদর্শের চেয়েও সুন্দর যা কেবল বিস্মৃত হওয়ার জন্যই আলোচিত হয়েছিল
তুমি তোমার শিকড়কে নিজ মূলে গভীরভাবে প্রোথিত করো এবং তা ত্যাগ করা পরিহার করো
তুমি গাম্ভীর্যের সাম্রাজ্যে অবস্থান করো এবং সেই নির্বোধ রাজাকে মূর্খ প্রতিপন্ন করো
সে ততক্ষণই স্বাধীন যতক্ষণ তোমার কণ্ঠস্বর তার মুখগহ্বরে পূর্ণ থাকে
এবং সে ততক্ষণই সুন্দরী যতক্ষণ তুমি তাতে বিরাজমান
তার নিজস্ব বলতে কিছুই নেই কেবল তার সন্তানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া (সিডাও) ব্যতীত!
এ সবই তোমার লুণ্ঠিত উত্তরাধিকার: রাজপথের পিচ, বাতায়নের পাথর আর আঙুর পেষার পাত্রসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
النفطُ، زيتُ العِطرِ، مسحوقُ الغسيلِ، صفائحُ العَرباتِ، أصباغُ الأظافرْ
خَشَبُ الأسِرةِ، زئبقُ المرآةِ، أقمشةُ الستائِرْ
غازُ المدفئ، مَعدنُ الشَفَراتِ، أضواءُ المتاجرْ
وسِواهُ من خيرٍ يسيلُ بغيرِ آخِرْ
هي كلها أملاكُ جَدكِ في مراكشَ أو دمشقَ أو الجزائِر
هي كلها ميراثك المغصوبُ فاغتصبي كنوزَ الاغتصابْ
زاد الحسابُ على الحسابِ وآنَ تسديدُ الحسابْ
فإذا ارتضتْ..أهلاً
وإنْ لم ترضَ فلترحَلْ فرنسا عن فرنسا نفسها إن كانَ يُزعجُها الحجابْ
الشاعر: أحمد مطر
পেট্রোলিয়াম, সুগন্ধি তৈল, ধৌতকরণ চূর্ণ, যানবাহনের ধাতব পাত, নখরঞ্জক।
পালঙ্কের কাষ্ঠ, দর্পণের পারদ, যবনিকার বস্ত্র।
তাপন যন্ত্রের গ্যাস, ক্ষুরধার ফলকের ধাতু, বিপণির আলোকচ্ছটা।
এবং এ ব্যতীত অপরাপর অফুরন্ত প্রবহমান কল্যাণরাশি।
এ সবই মরক্কো, দামেস্ক অথবা আলজেরিয়ায় তোমার পিতামহের মালিকানাধীন সম্পদ।
এ সবই তোমার জবরদখলকৃত উত্তরাধিকার, সুতরাং জবরদখলকৃত সেই ধনভাণ্ডার তুমিও বলপূর্বক অধিকার করো।
হিসাবের ওপর হিসাব পুঞ্জীভূত হয়েছে এবং এখন সময় হিসাব চুকিয়ে দেওয়ার।
যদি সে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়... তবে তাকে অভিবাদন।
আর যদি সে সন্তুষ্ট না হয়, তবে ফ্রান্স যেন স্বয়ং ফ্রান্স থেকেই প্রস্থান করে, যদি পর্দা তাকে বিরক্ত করে।
কবি: আহমদ মাতার
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون} (1)
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منها رجالًا كثيرًا ونساءًا واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبًا} (2)
{يا ايها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولًا سديدًا، يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزًا عظيمًا} (3)
أما بعد
…يمثّل حجاب المرأة المسلمة اليوم في الحسّ الكوني مظهرًا من مظاهر الاستعلاء الفكري والسلوكي الإسلامي المتأبّي على التركيع في زمن تهاوت فيه الأنماط الفكريّة والأخلاقيّة الشرقيّة أمام سحر الليبراليّة الغربيّة التي أعلنت نهاية تاريخ الأفكار والقِيم عند سواحلها..
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} (১)
{হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে পাওনা দাবি করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} (২)
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল} (৩)
অতঃপর
…বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম নারীর হিজাব ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক ও আচরণগত শ্রেষ্ঠত্বের এমন এক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়, যা বশ্যতা স্বীকার করতে বিমুখ। এটি এমন এক সময়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে যখন প্রাচ্যের বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক আদর্শসমূহ পশ্চিমা উদারতাবাদের জাদুকরী মোহনীয়তার সামনে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে; যে পশ্চিমা উদারতাবাদ তার উপকূলে এসে চিন্তা ও মূল্যবোধের ইতিহাসের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ويمثّل في الجدل الأيديولوجي والفكري داخل بلاد المسلمين، أحد عناوين الصراع بين حملة رسالة الإسلام والعالمانيين (1) ..
وهو يشغل اليوم حيزًا كبيرًا من اهتمام الشرق والغرب، متصدّرًا عناوين المشهد السياسي والثقافي والإعلامي داخل بلاد المسلمين والبلاد الغربيّة لما يحمله من دلالة، ولما احتفّت به من هالة!
وتقع الحملة الموجّهة (لقولبة) الحجاب في صور نمطيّة متعددة الأوجه السلبيّة، ضمن سياق فكري تعاظمت فيه هجمات الصادين عن الحقّ، والمتسوّرين على حقائق الدين وثوابت الشرع؛ فقد أطلق المغرضون لألسنتهم عنان قذف المسلمات الملتزمات بأحكام الشرع بالرقيع من الدعوى، تحت ستار البحث الموضوعي والنقد الواعي، ممّا كشف أضغانًا داكنة قد أُشرِبتها قلوب المخالفين، وتبدّت أوهامهم شوهاء رغم أنّهم قد سعوا إلى أن يلبسوها دثار العقل والمنطق، وأن يجمّلوها بمطارف النصح والرفق..
وقد كان راكبو متون المحادة الفجّة للإسلام في النصف الثاني من القرن العشرين، خليطًا من الليبراليين والماركسيين، ولكن لماّ غيض الطرح الماركسي في تربة الأمة، وتبخّرت آخر قطراته تحت لفح الطرح القرآني الأصيل، التحق أبناء (الآفلين) بعربة دعاة الليبرالية، (متناسين) ما كان يفرّقهم ويثير بينهم النزاع والشقاق، ثم انضمّت لقافلة (الآبقين) فلول المنصّرين على تعدد كنائسهم وبرامجهم؛ فكان الركب المسارع إلى جَدْل خيوط الفتنة، خليطًا يجمع أضغاثًا من الأفكار المتنافرة والعقائد المتحادّة التي لم يلمّ شملها ويجمع (أعوادها) المتشاكسة غير (التململ) من جاذبيّة هذا الدين!
ويتولّى الإعلام العربي اليوم عمليًا (وظيفة) نشر هذا الفكر الفاسد، وتجديع جسد الأمّة وتمزيقه بإعلان المحادة الصريحة لفريضة الحجاب؛ فصارت القنوات الفضائية تنفث سيل الشتم
--------------------------------------------
মুসলিম ভূখণ্ডসমূহের অভ্যন্তরে আদর্শিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের ক্ষেত্রে এটি ইসলামি বার্তার ধারক-বাহক এবং সেক্যুলারদের (العالمانيين) মধ্যে চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান শিরোনাম হিসেবে বিবেচিত হয় (১)...
এটি আজ প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের ব্যাপক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর বিশেষ তাৎপর্য এবং একে ঘিরে বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে মুসলিম ও পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমের দৃশ্যপটে এটি শীর্ষস্থানীয় শিরোনাম হিসেবে স্থান করে নিয়েছে!
হিজাবকে নেতিবাচক নানাবিধ ছাঁচে বন্দি করার এই সুপরিকল্পিত প্রচারণা এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে সত্যবিমুখ এবং দ্বীনের ধ্রুব সত্য ও শরিয়তের অকাট্য বিষয়সমূহের ওপর আক্রমণকারীদের দৌরাত্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সংকীর্ণমনা ব্যক্তিরা বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা ও সচেতন সমালোচনার আবরণে শরিয়তের বিধান মেনে চলা মুসলিম নারীদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ অপবাদ দেওয়ার হীন প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এতে বিরোধীদের অন্তরে লালিত অন্ধকার বিদ্বেষ উন্মোচিত হয়েছে এবং তাদের বিকৃত ভ্রান্তিগুলোও প্রকাশ হয়ে পড়েছে; যদিও তারা সেগুলোকে যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তির পোশাকে আবৃত করতে চেয়েছিল এবং সদুপদেশ ও নম্রতার অলঙ্কারে সজ্জিত করার চেষ্টা করেছিল...
বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ইসলামের বিরুদ্ধে এই চরম বিদ্বেষপূর্ণ পথে বিচরণকারীরা ছিল লিবারেল ও মার্ক্সবাদীদের এক সংমিশ্রণ। কিন্তু যখন উম্মাহর মাটি থেকে মার্ক্সবাদী চিন্তাধারার বিলুপ্তি ঘটল এবং খাঁটি কুরআনি দাওয়াতের উত্তাপে তার শেষ বিন্দুটিও বাষ্পীভূত হয়ে গেল, তখন সেই ‘অস্তমিতদের’ উত্তরসূরিরা তাদের মধ্যকার পূর্ববর্তী বিভেদ ও বিবাদ ভুলে গিয়ে লিবারেলবাদীদের মিছিলে যোগ দিল। অতঃপর বিভিন্ন চার্চ ও কর্মসূচির অনুসারী মিশনারিদের এক দল এই ‘পলাতকদের’ কাফেলায় শামিল হলো। ফলে ফিতনার জাল বুনতে সচেষ্ট এই দলটি বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী চিন্তা ও বিবাদমান আকিদার এক জগাখিচুড়ি হয়ে দাঁড়াল, যাদের এই চরম বৈপরীত্য সত্ত্বেও কেবল এই দ্বীনের প্রবল আকর্ষণের প্রতি বিরক্তিই একত্রিত করেছিল!
বর্তমানে আরব গণমাধ্যমগুলো কার্যত এই কলুষিত চিন্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এবং হিজাবের বিধানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য শত্রুতা ঘোষণা করে উম্মাহর সংহতি বিনষ্ট করার দায়িত্ব পালন করছে। স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো এখন বিষোদগারের প্লাবন বইয়ে দিচ্ছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والتشهير؛ تصريحًا وتلميحًا
… وأصبحت الأذن تألف الكلمات النابيّة؛ تأنيبًا وتقريعًا
… وفَشَت التشبيهات الفاحشة للمحجّبات؛ تجريحًا وتقبيحًا
… (فالحجاب: حجاب على العقل) ، و (النقاب: خيمة) ، و (الملتزمة بأحكام الشرع: معقّدة) ، و (من تأبى الاختلاط: متخلّفة) .. وأضحت قيمة المرأة ترتفع كلّما تقلّصت مساحة القماش الذي تلبسه.. وكلّما غطّت المرأة من جسدها شبرًا؛ كلّما فقدت من قيمتها قدرًا.. وهكذا هي العلاقة (المتناغمة) بين (اللحم) المبذول و (القدر) المصون.. وذاك هو القانون المُحََكَّم؛ كلّما أبدت المرأة من نفسها جزءًا؛ كلّما زِِِيد لها في أفق (الوعي!!) مَدًا..!!؟
وهكذا استقرّت الصور المشوّهة عن الحجاب الإسلامي في أذهان (الإسفنجيين) الذين تتشرّب عقولهم كلّ ما يلقى إليها من فكر فاسد، وهو أمر واقع في الغرب كما الشرق، وكما تقول ((كاثرين بلّوك)) فإنّ: ((الذين يستعملون التيار الإعلامي الرئيسي كمصدر وحيد للمعلومات عن الإسلام، لا يمكن أن يكتسبوا غير المنظور السلبي عن الحجاب.)) (1)
لقد ركب العالمانيون والمنصّرون مَتْن (الدغدغة) واستثارة عواطف النساء، بشعارات لامعة خادعة، وفُتّحت الأبواب لكلّ مَنْ خوى وفاضه من الفهم والاطلاع؛ ليدلي بدلوه ويشنّع على الملتزمات باللباس الشرعي المطلوب..وليس على دعيّ (الفهم) و (البصيرة) إلاّ أن يدندن ببعض الكلمات التي يحسبها (ساحرة) ك: (المعاصرة) و (الحداثة) و (الحريّة)
… ويزيد على ذلك بعض الكلمات الأعجميّة التي لا يفقه هو نفسه لها معنى (!) ، فإن فعل؛ فقد قدم المطلوب وبلغ ذرى المجد المنشود من (متنوّر!) يصارع قوى الظلام التي (تلوّث) عقول الفتيات المسلمات (!) ، ويصاول (الخفافيش المحنّطة) (!) التي تريد أسر المرأة بين آكام الماضي السحيق (!) .. وكلّما أحدث هذا (الدعيّ) مزيدًا من (الصفير) ؛ كلّما انفرجت له مغاليق الإعلام العربي، واحتفت به منصّات الندوات النديّة بالهذر والكلام (الخفيف) المنمّق..
في ظلّ هذا الجو البئيس وسيطرة التغريبيين على المنافذ الكبرى للبلاغ، تُمنع كلمة الحقّ بكلّ قوّة متاحة من الوصول إلى أسماع المسلمات.. ويُصوّر الحال على أنّ حملة الشريعة والداعين إلى استئناف الحياة الإسلاميّة، هم من السُوقة والمترديّة ممّن لا يعرفون غير سَوق الناس
--------------------------------------------
বদনাম ও কুৎসা রটনা; প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে
… আর কর্ণকুহর অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে কুরুচিপূর্ণ শব্দাবলীতে; ভর্ৎসনা ও তিরস্কারের সুরে
… পর্দাশীন নারীদের প্রতি অশালীন উপমা ছড়িয়ে পড়েছে; তাদের চরিত্র হনন (تجريح) ও কদর্য রূপদানের উদ্দেশ্যে
… (যেমন: হিজাব হলো বিবেকের ওপর পর্দা), (নিকাব হলো তাবু), (শরীয়তের বিধান মেনে চলা নারী হলো সংকীর্ণমনা), এবং (যে নারী পরপুরুষের মেলামেশা প্রত্যাখ্যান করে সে হলো সেকেলে).. আর নারীর মূল্য যেন ততই বৃদ্ধি পায়, যত তার পরিহিত কাপড়ের পরিমাণ কমে যায়.. নারী যখনই তার শরীরের এক বিঘত পরিমাণ আবৃত করে, তখনই যেন সে তার মূল্যের একটি অংশ হারায়.. এভাবেই যেন সস্তা (মাংস) এবং সংরক্ষিত (মর্যাদার) মাঝে এক (সমন্বিত) সম্পর্ক বিদ্যমান.. আর এটাই হলো সেই প্রতিষ্ঠিত নীতি; নারী যখনই নিজের কোনো অঙ্গ প্রকাশ করে, তথাকথিত (সচেতনতার!!) দিগন্তে তার পাল্লা ততই বিস্তৃত হয়..!!?
এভাবেই ইসলামি হিজাব সম্পর্কে বিকৃত ছবিগুলো সেই সব (স্পঞ্জ সদৃশ) ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে গেঁথে গেছে, যারা তাদের দিকে ছুঁড়ে দেওয়া প্রতিটি ভ্রান্ত চিন্তাধারা শুষে নেয়। এটি প্রাচ্যের মতো প্রতীচ্যেও একটি বাস্তব বিষয়। যেমনটি ক্যাথরিন বুলক বলেছেন: ((যারা ইসলাম সম্পর্কে তথ্যের একমাত্র উৎস হিসেবে মূলধারার গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে, তারা হিজাব সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া অন্য কিছু অর্জন করতে পারে না।)) (১)
সেকুলার এবং মিশনারিরা নারীদের আবেগ ও অনুভূতিকে সুড়সুড়ি দিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির পথে পা বাড়িয়েছে চটকদার ও প্রতারণামূলক স্লোগান নিয়ে। আর দ্বার উন্মোচন করা হয়েছে এমন প্রত্যেকের জন্য যার জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভাণ্ডার শূন্য; যাতে সে নিজের মতামত জাহির করতে পারে এবং শরীয়ত নির্দেশিত পোশাক পরিধানকারী নারীদের ওপর অপবাদ আরোপ করতে পারে.. আর (বোধ) ও (অন্তর্দৃষ্টির) সেই তথাকথিত দাবিদারের কাজ শুধু কিছু শব্দের গুঞ্জন তোলা, যা সে (জাদুকরী) মনে করে; যেমন: (আধুনিকায়ন), (প্রগতিশীলতা) ও (স্বাধীনতা)
… এর সঙ্গে সে আরও কিছু বিদেশি শব্দ যোগ করে যার অর্থ সে নিজেও বোঝে না (!)। যদি সে তা করে, তবে সে তার কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সাধন করল এবং একজন (আলোকিত!) ব্যক্তির মর্যাদার শিখরে আরোহণ করল, যে কি না মুসলিম মেয়েদের মস্তিষ্ক (কলুষিত) করা অন্ধকার শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছে (!) এবং সেই (মমি করা বাদুড়দের) (!) মোকাবিলা করছে যারা নারীকে সুদূর অতীতের টিলার মাঝে বন্দি করতে চায় (!).. এই (ভণ্ড দাবিদার) যত বেশি (শোরগোল) তোলে, তার জন্য আরব মিডিয়ার রুদ্ধ দ্বারগুলো তত বেশি খুলে যায় এবং অন্তঃসারশূন্য ও অলঙ্কৃত কথাবার্তায় ভরপুর সেমিনারের মঞ্চগুলোতে তাকে সাদরে গ্রহণ করা হয়..
এই হতাশাজনক পরিবেশ এবং প্রচারের প্রধান মাধ্যমগুলোর ওপর পশ্চিমা-পন্থীদের আধিপত্যের প্রেক্ষাপটে, সত্যের বাণীকে মুসলিম নারীদের কানে পৌঁছাতে সম্ভাব্য সকল শক্তি দিয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে.. আর পরিস্থিতি এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে যেন শরীয়তের ধারক এবং ইসলামি জীবন ব্যবস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠার আহ্বানকারীগণ হলো নিচু স্তরের সাধারণ লোক এবং অধঃপতিত মানুষ, যারা মানুষকে হাঁকিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কিছু জানে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بالسياط إلى حتفهم، وأنّهم أغمار لا يزيدهم الطول من الأعمار إلاّ تحجّرًا وتبلّدًا.. وأنّ بينهم وبين هذا العصر عداوة وإحنًا.. وهكذا.. زد من كلّ وصف ماتح للبشاعة من قعر النفوس العليلة..!!
لقد أطالوا في نقش وهم الكلام.. وحق علينا أن نجهر بالبيان..!
لقد أمعن دعاة العالمانيّة في استخدام منهج الإسقاط النفسي والتلبيس العقلي بأسلوب إنشائي ساذج فجّ.. فقالوا وجالوا في الديار يَدْعون لقولهم ويقمعون بسلطان الترهيب كلّ مخالف عَلِمَ وهاء قولهم
… فكان علينا أن ننزع عنهم وطاءهم؛ ليلامسوا جمر الحقيقة التي تحرق ما حاكوا من زور..
وأفاض أرباب التنصير في القول بلا علم وإطلاق الدعوى بلا برهان ونسبة الأباطيل إلى الإسلام، وكالوا للقرآن الكريم بغير ما كالوا لدينهم، وطمسوا من أسفارهم وتاريخهم كلّ ما لا يناغم الدعاوى التي وُكّلوا بنشرها، وتوجّهوا إلى النساء المسلمات ليُحْدِثوا من خلالهن شرخًا في جدار الأمّة، وثلمة في حصن الدين.. (1)
وقد دفعنا ما سبق إلى أنّ نرد على هؤلاء وأولئك بالبيان الشافي والجواب الكافي من شهادات القرآن الكريم الذي يفترون عليه، والواقع البشري الذي يزيفون معالمه ليثبتوا منه غير منطوقه وظاهر نتوئه، وأسفار أهل الكتاب وأقوال أعلام علمائهم بلفظها الصريح المحكم لينكشف ما يخفيه المنصّرون!
--------------------------------------------
চাবুকের আঘাতে তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে; তারা এক নির্বোধ গোষ্ঠী, দীর্ঘ জীবন তাদের জড়তা ও স্থবিরতা ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না। তাদের এবং এই আধুনিক যুগের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ বিদ্যমান। এভাবেই রুগ্ন আত্মার গভীর থেকে কুৎসিত বর্ণনার প্রতিটি দিক তুলে ধরা হচ্ছে...!!
তারা অলীক কথার নকশা তৈরিতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছে; আর আমাদের ওপর সত্য প্রকাশ করা কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে..!
ধর্মনিরপেক্ষতার প্রচারকরা এক কাঁচা ও স্থূল আলঙ্কারিক শৈলীতে মনস্তাত্ত্বিক প্রক্ষেপণ ও বুদ্ধিগত বিভ্রান্তির পদ্ধতি ব্যবহারে লিপ্ত হয়েছে। তারা জনপদে ঘুরে ঘুরে নিজেদের মতাদর্শের প্রচার করেছে এবং ভীতির শাসনের মাধ্যমে সেই সব বিরোধীদের দমন করেছে যারা তাদের বক্তব্যের অসারতা জানত
… তাই আমাদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের আবরণ উন্মোচন করা, যাতে তারা সেই সত্যের আগুনের মুখোমুখি হতে পারে যা তাদের বোনা মিথ্যাকে পুড়িয়ে ছাই করে দেবে...
খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের হোতারা জ্ঞানহীন কথাবার্তা, প্রমাণহীন দাবি এবং ইসলামের প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপের ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করেছে। তারা পবিত্র কুরআনের বিচারের ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড অনুসরণ করেনি যা তারা তাদের নিজেদের ধর্মের ক্ষেত্রে করে। তারা তাদের ধর্মগ্রন্থ ও ইতিহাস থেকে এমন সবকিছু মুছে ফেলেছে যা তাদের ওপর অর্পিত প্রচারণার লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা মুসলিম নারীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে যাতে তাদের মাধ্যমে উম্মাহর দেয়ালে ফাটল এবং দ্বীনের দুর্গে ছিদ্র তৈরি করা যায়... (১)
উপরোক্ত বিষয়গুলোই আমাদের বাধ্য করেছে এই উভয় গোষ্ঠীর উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত জবাব দিতে। আমরা এই জবাব দিয়েছি পবিত্র কুরআনের সাক্ষ্যের মাধ্যমে যার বিরুদ্ধে তারা মিথ্যাচার করে, মানবীয় বাস্তবতার আলোকে যার রূপ তারা বিকৃত করে নিজেদের ভ্রান্ত দাবি প্রমাণের চেষ্টা করে, এবং আহলে কিতাবদের ধর্মগ্রন্থ ও তাদের প্রথিতযশা পণ্ডিতদের সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় (محكم) বক্তব্যের মাধ্যমে, যাতে মিশনারিদের লুকানো চক্রান্ত প্রকাশ হয়ে পড়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ليست الغاية هي أن نقول للنصارى واليهود إنّ ديننا لا يدعونا إلى (عيب) ؛ فإنّ عندكم الحجاب كما هو عندنا..!
إنّنا لا نتبنّى هذا الخطاب الذي يرضى بأن يكون الشرع محلّ تهمة، وموضع حرج وريبة؛ حتّى نهرع لكلّ الأدلة لنقول لغيرنا إن ّالدليل على أنّنا على الحقّ، هو أنّ دينكم أيضًا يدعوكم إلى ما يدعو إليه الإسلام، وأنّ الحجّة على صواب مسلكنا، هي أنّ ذاك ما تدعو إليه عقائدكم ومذاهبكم!
إنّ غايتنا الحقّة هي تبشير المسلمة أنّ الله قد اصطفاها وخصّها بفضله أن تكون وحدها من بين نساء أمم الأرض محافظة على شريعته، مستجيبة لأمره، لمّا أوغلت الأمم الأخرى في الحرام، وتركت ما أنزل عليها من الحق القراح..
ولسنا هنا ساعين لإقناع غيرنا أننا نشاركهم في ما عندهم، إذ إنّ بيننا وبينهم مفازات كما بين الدلسة والإشراق، أو ما بين الحقّ الصُراح والباطل البَواح، وإنّما نحن ندعوهم في هذا المقام إلى أن تبصر أعينهم كيف جنت عليهم أيدي رجال الدين، ونرغّبهم في الحقّ الذي طمست حروفه في أسفارهم المقدّسة!
وهاك هذا الكتاب، حجّة للحقيقة التي يُراد وأدها، ونصرة للمسلمة التي تُعَلّم العالم اليوم معنى الطهر وحقيقة العفّة، وتظهر جمال الأنوثة المصونة، وجلال الرقي الإيماني، بعد أن استمسكت بالكتاب الهادي وتفيّأت مقيله.. فهي أحقّ الخلق بقول الشاعر:
وهم النجوم لكل عبدٍ سائرٍ
… يبغي الإله وجنة الحيوانِ (1)
وسواهم والله قطّاع الطـ
… ـريق أئمةٌ تدعو إلى النيرانِ
وقد تحدّثنا في مبتدأ الكتاب عن شبهات العالمانيين (ومن تابعهم) ، وأظهرنا تهافتها وعوارها بالدليل والمثال؛ لتعلم المسلمة أنّ القوم ليسوا على شيء، وإنّما هي شبهات واهية ودعاوى واهنة..
--------------------------------------------
উদ্দেশ্য এটি নয় যে আমরা নাসারা ও ইয়াহুদদের বলব যে, আমাদের দ্বীন কোনো ত্রুটি (عيب) এর দিকে আহ্বান করে না; কারণ তোমাদের নিকটও হিজাব রয়েছে যেমনটি আমাদের নিকট আছে..!
আমরা এমন কোনো বক্তব্য গ্রহণ করি না যা শরীয়তকে অভিযুক্ত করার এবং সংকীর্ণতা ও সন্দেহের পাত্র হওয়ার সুযোগ দেয়; এমনকি আমরা সকল দলিলের দিকে এই উদ্দেশ্যে ধাবিত হই না যে অন্যদের বলব—আমরা যে সত্যের ওপর আছি তার প্রমাণ হলো তোমাদের দ্বীনও তোমাদেরকে সেই দিকেই আহ্বান করে যেদিকে ইসলাম আহ্বান করে, এবং আমাদের পথের সঠিকতার প্রমাণ (حجة) হলো তোমাদের বিশ্বাস ও মতাদর্শও সেই দিকেই আহ্বান করে!
আমাদের প্রকৃত লক্ষ্য হলো মুসলিম নারীকে এই সুসংবাদ প্রদান করা যে, আল্লাহ তাকে মনোনীত করেছেন এবং স্বীয় অনুগ্রহে তাকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন যাতে পৃথিবীর সকল জাতির নারীদের মধ্যে কেবল সে-ই তাঁর শরীয়তকে হিফাজতকারী এবং তাঁর আদেশের অনুসারী হতে পারে, যখন অন্যান্য জাতিসমূহ হারামের মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে এবং তাদের প্রতি অবতীর্ণ বিশুদ্ধ সত্যকে পরিত্যাগ করেছে...
আমরা এখানে অন্যদেরকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করছি না যে আমরা তাদের বিষয়ের অংশীদার, কারণ আমাদের এবং তাদের মধ্যে সেই ব্যবধান রয়েছে যা অন্ধকার এবং আলোকপ্রভার মধ্যে বিদ্যমান, অথবা যা সুস্পষ্ট সত্য এবং প্রকাশ্য বাতিলের মধ্যে থাকে। বরং আমরা এই পর্যায়ে তাদেরকে এটি দেখার আহ্বান জানাই যে, কীভাবে ধর্মীয় যাজকদের হাত তাদের ওপর জুলুম করেছে, এবং আমরা তাদেরকে সেই সত্যের প্রতি আগ্রহী করতে চাই যার অক্ষরগুলো তাদের পবিত্র কিতাবসমূহে মুছে ফেলা হয়েছে!
আর এই হলো সেই কিতাব, যা সেই সত্যের স্বপক্ষে একটি প্রমাণ (حجة) যাকে সমাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এবং সেই মুসলিম নারীর জন্য এক সাহায্য স্বরূপ যে আজ বিশ্বকে পবিত্রতার অর্থ ও সতীত্বের বাস্তবতা শিক্ষা দিচ্ছে, এবং সংরক্ষিত নারীত্বের সৌন্দর্য ও ঈমানি উৎকর্ষের গরিমা প্রকাশ করছে, পথপ্রদর্শক কিতাবকে আঁকড়ে ধরার এবং এর শীতল ছায়ায় আশ্রয় নেওয়ার পর... তাই কবির এই উক্তি তার জন্যই সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য:
তারা প্রতিটি পথিকের জন্য এক একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র
… যারা আল্লাহকে এবং প্রকৃত জীবনের জান্নাত অন্বেষণ করে (১)
আর তারা ব্যতীত অন্যেরা আল্লাহর কসম, কেবলই ডাকাত
… তারা এমন নেতা যারা আগুনের দিকে আহ্বান করে।
আমরা এই কিতাবের শুরুতে সেক্যুলারিস্টদের (এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে) সংশয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি, এবং দলিল ও উদাহরণের মাধ্যমে সেগুলোর অসারতা ও ত্রুটিগুলো প্রকাশ করেছি; যাতে মুসলিম নারী জানতে পারে যে এই লোকগুলো কোনো ভিত্তির ওপর নেই, বরং এগুলো কেবল অসার সংশয় এবং দুর্বল দাবি মাত্র...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ثم انتقلنا إلى ما أثبتته الكتب التي يقدّسها اليهود والنصارى وأقوال أئمة المجتهدين في هاتين الديانتين، لنعلن أنّ اليهوديّة والنصرانيّة تجزمان بفرض الحجاب على النساء باعتباره شريعة ربّانيّة وفريضة أخلاقيّة..
وقد آثرنا أن يكون الحديث مختصرًا والكلام مختزلاً مع بذل خلاصة الباب والعصارة واللباب، بما لا يأخذ من القارئ وقتًا ولا طول نظر، ونرجو أن نكون قد وفّقنا إلى ذلك..
ونسأل الله بفضله أن ينير بهذا الكتاب بصائر، وأن يشرح به قلوبًا.. وأن يتقبّله من كاتبه في حياته، وأن ينير به قبره ويوسّع له فيه يوم يوارى تحت الجنادل بلا قوّة وسلطان، وأن يشفّعه فيه يوم تتطاير الصحف بعد أن تجفّ الأقلام..
فلا يَشُحَّن القارئ على مؤلّف الكتاب بدعوة بظهر الغيب!
অতঃপর আমরা ইহুদি ও নাসারাদের নিকট পবিত্র হিসেবে গণ্য কিতাবসমূহে যা প্রমাণিত হয়েছে এবং এই দুই ধর্মের মুজতাহিদ (مجتهدين) ইমামগণের বক্তব্যের দিকে অগ্রসর হয়েছি; যাতে আমরা এটি ঘোষণা করতে পারি যে, ইহুদি ও নাসারা ধর্ম নারীকে হিজাব পরিধানের বাধ্যবাধকতাকে একটি ঐশী বিধান (شريعة) এবং নৈতিক আবশ্যিকতা (فريضة) হিসেবে সুনিশ্চিত করে।
আমরা আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত এবং কথাগুলো পরিমিত রাখার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছি, যাতে অধ্যায়ের সারকথা ও নির্যাসটুকু পেশ করা যায়; যা পাঠকের অধিক সময় ব্যয় করাবে না এবং দীর্ঘ গভীর নিবিষ্টতারও প্রয়োজন হবে না। আমরা আশা করি, আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছি।
আমরা আল্লাহর অনুগ্রহে প্রার্থনা করি যে, তিনি এই কিতাবের মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টিসমূহকে আলোকিত করবেন এবং এর দ্বারা হৃদয়সমূহকে উন্মুক্ত করবেন। আল্লাহ যেন লেখকের জীবদ্দশায় এটি কবুল করেন এবং তার কবরকে আলোকিত ও প্রশস্ত করেন—সেদিন, যেদিন কোনো ক্ষমতা ও প্রভাব ছাড়াই তাকে পাথরের নিচে সমাহিত করা হবে। আর আল্লাহ যেন এই কিতাবকে লেখকের জন্য সুপারিশকারী করেন—সেদিন, যেদিন কলমসমূহ শুকিয়ে যাওয়ার পর আমলনামাগুলো উড়তে থাকবে।
অতএব, পাঠক যেন এই কিতাবের লেখকের জন্য অগোচরে দোয়া করতে কৃপণতা না করেন!
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحجاب في الإسلام
الحجاب.. فريضة ربّانية: الحجاب.. فريضة ربّانيّة في نصوص الوحي.. ومقصودنا ((بالحجاب)) هو اللباس الذي يغطي جسد المرأة كاملاً أو مع كشف الوجه والكفّين والقدمين (1) .. وهو اللباس الذي تظهر به المرأة أمام الرجال الذين لا يحرم عليها أن تتزوج منهم على التأبيد، كابن العم وابن الخال ومن لا تربطها بهم قرابة..
وقد جاءت النصوص القرآنية في تفصيل هذا الأمر وبيان حدوده، رغم أنّ عامة آيات الأحكام في القرآن الكريم نزّاعة إلى ترك التفصيل، وتقديم قواعد شرعيّة عامة؛ وما ذلك إلاّ لأهميّة هذا الأمر وتعلّقه بصميم بناء الشخصيّة الإسلاميّة للمرأة المؤمنة..
قال تعالى: {وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُوْلِي الإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ
--------------------------------------------
ইসলামে হিজাব
হিজাব.. একটি রব্বানি বিধান: হিজাব.. ওহির বর্ণনা অনুযায়ী একটি রব্বানি বিধান। হিজাব বলতে আমাদের উদ্দেশ্য হলো সেই পোশাক যা নারীর পুরো শরীর ঢেকে রাখে অথবা যা পরিধান করলে মুখমণ্ডল, কবজি পর্যন্ত হাত ও পা প্রকাশ থাকে (১)। এটি সেই পোশাক যা পরিধান করে একজন নারী এমন পুরুষদের সামনে উপস্থিত হন যাদের সাথে তার বিবাহ চিরস্থায়ীভাবে হারাম নয়; যেমন চাচাতো ভাই, মামাতো ভাই এবং যাদের সাথে তার কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই।
পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহে এই বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ এবং এর সীমানা বর্ণনা করা হয়েছে, যদিও কুরআনের বিধান সংশ্লিষ্ট সাধারণ আয়াতগুলো বিস্তারিত বর্ণনার পরিবর্তে মৌলিক শরয়ি নীতিমালা প্রদানের দিকেই বেশি ধাবিত হয়। এটি কেবল এই বিষয়ের গুরুত্ব এবং মুমিন নারীর ইসলামি ব্যক্তিত্ব গঠনের মূল কাঠামোর সাথে এর নিবিড় সম্পর্কের কারণেই করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশ আবৃত করে। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে—তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভাগনে, নিজেদের নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অনুগামী অথবা সেইসব শিশু যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে এখনো অবহিত নয় তাদের ছাড়া...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاء وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُون} (1)
وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاء الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا} (2)
ففي الآية الأولى جاء التصريح بوجوب ستر الزينة كلها، وعدم إظهار شيء منها أمام الأجانب، ولا يستثنى من ذلك إلاّ ((ما ظهر)) من الزينة.. وهذا دليل أنّ على المرأة أن ترتدي ما تستر به نفسها، ولا يستثنى من ذلك إلاّ ما ظهر.. ولم يمتد خلاف أهل العلم في أمر الزينة (الظاهرة) إلى أكثر من الوجه والكفين والقدمين! (3)
قال تعالى: {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} (4) . وقد روى ((البخاري)) عن ((عائشة))
… رضي الله عنها قالت: ((لما أنزلت هذه الآية أخذن أزورهن، فشققنها من قبل الحواشي فاختمرن بها.)) .. وفي هذا النصّ دليل قاطع على أنّ شعر المرأة عورة؛ فقد غطت الصحابيات رؤوسهن لمّا نزلت هذه الآية، وهو فهم للآية أقرّه عليهن الرسول صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
{...যারা নারীদের গোপন অঙ্গ (عورات) সম্পর্কে অবগত হয়নি। আর তারা যেন তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে নিজেদের পদযুগল দ্বারা আঘাত না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তওবা করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।} (১)
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।} (২)
প্রথম আয়াতে সমস্ত সৌন্দর্য আবৃত রাখার আবশ্যকতা এবং গায়রে মাহরামদের সামনে তার কোনো অংশ প্রকাশ না করার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে এসেছে। এখান থেকে কেবল সৌন্দর্যের সেই অংশটিই ব্যতিক্রম যা ‘প্রকাশ পেয়ে যায়’ (ما ظهر)। এটি প্রমাণ করে যে, নারীর এমন পোশাক পরিধান করা আবশ্যক যা দ্বারা সে নিজেকে আবৃত রাখবে, আর যা নিজে থেকে প্রকাশ পেয়ে যায় তা ব্যতীত অন্য কিছু প্রকাশ করা যাবে না। আর ‘প্রকাশ্য’ (الظاهرة) সৌন্দর্যের বিষয়ে আলেমদের (أهل العلم) মতপার্থক্য কেবল মুখমণ্ডল, কবজি পর্যন্ত দুই হাত এবং দুই পা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ! (৩)
মহান আল্লাহ বলেন: {তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশ আবৃত করে।} (৪)। এবং বুখারি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন
… তিনি বলেন: {যখন এই আয়াত নাজিল হলো, তখন তারা (নারীরা) তাদের চাদরগুলো গ্রহণ করল এবং তার প্রান্তভাগ থেকে ছিঁড়ে তা দিয়ে ওড়না বানিয়ে মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করল।} এই পাঠ্যের মধ্যে এই বিষয়ে অকাট্য দলিল (دليل قاطع) রয়েছে যে, নারীর চুল সতর বা গোপন অঙ্গ (عورة); কেননা এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর নারী সাহাবিগণ তাদের মাথা ঢেকেছিলেন এবং এটি আয়াতের এমন এক অনুধাবন যা রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের জন্য অনুমোদন করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال الرسول صلى الله عليه وسلم: ((المرأة عورة؛ فإذا خرجت استشرفها الشيطان)) (1) . وهذا دليل على أن جميع بدن المرأة عورة؛ ومن أراد أن يستثني فعليه الدليل، ولا يعلم للمستثنين غير استثناء الوجه واليدين والقدمين.. وليس وراء ذلك مجال للزيادة..
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من جرَّ ثوبهُ خيلاءَ لم ينظرِ اللهُ إليهِ يومَ القيامةِ، فقالت أمُّ سلمةَ: فكيفَ يصنعُ النِّساءُ بذُيُولهنَّ؟ قال: يُرخينَ شبرًا، فقالت: إذًا تنكشفُ أقدامُهُنَّ، قال: فيرخِينهُ ذراعًا لا يزدنَ عليهِ.)) (2) .. هذا الحديث دليل على أنّ الأصل في المرأة الستر، وقد كانت هذه الصحابيّة تخشى أن يظهر منها قدماها لحرمة ذلك.. فكيف يقال مع ذلك إنّ الإسلام لم يحدد للمرأة لباسًا شرعيًا ساترًا؟!! أو أنّه يجوز لها أن تلبس ما يظهر الركبة أو ما دونها بقليل مادام (محتشما!!) ؟!
هل اختلف أهل العلم في وجوب تغطية الرأس؟
شاع بين العالمانيين القول إنّ الإسلام لا يمنع المرأة من أن تلبس (على الموضة) مادام اللباس محتشمًا (!) ، وجاؤوا بالدعاوى الكثيرة الباطلة التي ترفضها وتلفظها نصوص الكتاب والسنّة. وبلغ بهم أمر الجرأة على التحريف، أن قالوا إنّ علماء الإسلام لم يجمعوا على وجوب تغطية المرأة رأسها!
لقد اختار (بنو عِلمان) أن يزيفوا الحقيقة، وأن يسيروا على خلاف الكتاب والسنّة وإجماع الأمّة، ليحقّ عليهم وعيد الله -جلّ وعلا-بالعذاب وسوء المآل لمن خالف هذا الإجماع:
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নারী হলো গোপনযোগ্য (عورة); সে যখন বের হয়, শয়তান তখন তাকে উঁকি দিয়ে দেখে।" (১)। এটি এই কথার দলিল যে নারীর পুরো শরীরই গোপনযোগ্য (عورة); যারা এর ব্যতিক্রম করতে চান তাদের দলিল পেশ করতে হবে। যারা ব্যতিক্রমের কথা বলেন তারা কেবল মুখমণ্ডল, দুই হাত এবং দুই পা ছাড়া অন্য কিছুর কথা জানেন না। এর অতিরিক্ত কিছু বাড়ানোর অবকাশ নেই।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অহংকারবশত নিজের কাপড় টেনে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রতি তাকাবেন না। তখন উম্মে সালামাহ (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: তবে নারীরা তাদের কাপড়ের ঝুল নিয়ে কী করবে? তিনি বললেন: তারা এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখবে। তিনি বললেন: তবে তো তাদের পা উম্মুক্ত হয়ে যাবে! তিনি বললেন: তবে তারা এক হাত ঝুলিয়ে দেবে, এর বেশি নয়।" (২) .. এই হাদিসটি এই কথার প্রমাণ যে, নারীর ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো আবরণ, আর এই নারী সাহাবি তাঁর পা প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলেন কারণ তা নিষিদ্ধ। এরপরও কীভাবে বলা হয় যে ইসলাম নারীর জন্য কোনো পর্দানশিন শরয়ি পোশাক নির্ধারণ করে দেয়নি?!! অথবা কীভাবে বলা সম্ভব যে, যতক্ষণ পর্যন্ত (শালীন!!) থাকবে ততক্ষণ হাঁটুর ওপর বা তার কিছুটা নিচ পর্যন্ত পোশাক পরিধান করা তার জন্য বৈধ?!
মাথা ঢেকে রাখা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কি আলিমগণ মতভেদ করেছেন?
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের মধ্যে এ কথাটি ছড়িয়ে পড়েছে যে ইসলাম নারীকে (আধুনিক ফ্যাশন অনুযায়ী) পোশাক পরতে বাধা দেয় না যতক্ষণ পোশাকটি শালীন (!) হয়। তারা অনেকগুলো বাতিল দাবি নিয়ে এসেছে যা কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলীলসমূহ প্রত্যাখ্যান ও বর্জন করে। বিকৃতি সাধনের ধৃষ্টতা তাদের এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা বলেছে, ইসলামি আলিমগণ নারীর মাথা ঢেকে রাখা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেননি!
তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষরা সত্যকে বিকৃত করার এবং কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মতের ঐকমত্যের (إجماع) বিপরীতে চলার পথ বেছে নিয়েছে, যাতে এই ঐকমত্য (إجماع) লঙ্ঘনকারীদের প্রতি আল্লাহর আজাব ও অশুভ পরিণতির যে হুঁশিয়ারি এসেছে তা তাদের জন্য কার্যকর হয়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال تعالى: {وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءتْ مَصِيرًا} (1) .. فمن خالف سبيل الأمّة في إجماعها على أمر من الأمور؛ فقد شاق الرسول صلى الله عليه وسلم وأهلك نفسه بلحوق الوعيد الشديد به.
لقد اتّفق علماء الإسلام منذ عصر الصحابة على أنّه على المرأة الحرّة أن تغطّي كامل بدنها، ولم يختلفوا إلاّ في الوجه والكفّين والقدمين. وهذا الاتفاق مبثوث في كتب أهل العلم، ومن هذه الشهادات التي تؤكّد حصر الخلاف في ما ذكرنا:
قال ((ابن حزم)) :
((واتفقوا على أن شعر الحرة وجسمها حاشا وجهها ويدها عورة، واختلفوا في الوجه واليدين حتى أظفارهما؛ عورة هي أم لا؟)) (2)
وأقرَّه شيخ الإسلام ((ابن تيمية)) ولم يتعقبه كما فعل في بعض المواضع الأخرى من تعقيبه على كتاب الإمام ((ابن حزم)) الذي خصّصه لنقل الإجماعات.
قال ((الجزيري)) :
((اختلف العلماء في تحديد العورة على مذاهب:
الشافعية في إحدى رواياتهم والحنابلة، قالوا: جميع بدن المرأة الحرة عورة، ولا يصح لها أن تكشف أي جزء من جسدها أمام الرجال الأجانب إلا إذا دعت لذلك ضرورة، كالطبيب للعلاج والخاطب للزواج، والشهادة أمام القضاء، والمعاملة في حالة البيع والشراء، واستثنوا من ذلك الوجه والكفين لأن ظهورهما للضرورة، أما القدم فليس ظهوره بضروري فلا جرم أنهم اختلفوا فيه أهو عورة أم لا؟ فيه وجهان، والأصح أنه عورة.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি তার কাছে হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরে যায় এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, আর তা কতই না মন্দ আবাস!} (১) .. সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে উম্মতের ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী পথ অবলম্বন করে, সে মূলত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করল এবং কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি নিজের ওপর টেনে নিয়ে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিল।
সাহাবীগণের যুগ থেকেই ইসলামের আলেমগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, স্বাধীন নারীর জন্য তার পুরো শরীর আবৃত করা আবশ্যক। তারা কেবল মুখমণ্ডল, কবজি পর্যন্ত দুই হাত এবং দুই পায়ের ব্যাপারে মতভেদ (خلاف) করেছেন। এই ঐকমত্য (إجماع) আলেমগণের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে রয়েছে। আমাদের উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে মতভেদ (خلاف) যে অন্য কিছুতে নেই, তা নিশ্চিতকারী কিছু সাক্ষ্য নিম্নরূপ:
ইবনে হাজম বলেন:
((তারা এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, স্বাধীন নারীর চুল এবং তার দেহ—মুখমণ্ডল ও হাত ব্যতীত—পুরোটাই সতর (عورة)। আর তারা মুখমণ্ডল ও দুই হাতের ব্যাপারে, এমনকি নখ পর্যন্ত, মতভেদ (خلاف) করেছেন যে, তা সতর (عورة) কি না?)) (২)
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এটি সমর্থন করেছেন এবং এর ওপর কোনো আপত্তি করেননি, যেমনটি তিনি ইমাম ইবনে হাজমের কিতাবের ওপর করা তার অন্যান্য মন্তব্যে করেছেন; যে কিতাবটি তিনি ঐকমত্যসমূহ (إجماعات) বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন।
আল-জাজিরি বলেন:
((সতর (عورة) নির্ধারণের ক্ষেত্রে আলেমগণ বিভিন্ন মাযহাবে (مذاهب) বিভক্ত হয়েছেন:
শাফেয়ীগণের একটি বর্ণনায় (رواية) এবং হাম্বলীগণ বলেছেন: স্বাধীন নারীর পুরো শরীরই সতর (عورة)। কোনো পরপুরুষের সামনে তার শরীরের কোনো অংশ উন্মোচন করা বৈধ নয়, যদি না বিশেষ কোনো প্রয়োজনে (ضرورة) হয়। যেমন: চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক, বিয়ের প্রস্তাবকারী, বিচারালয়ে সাক্ষ্য প্রদান এবং ক্রয়-বিক্রয়ের লেনদেন। তবে তারা মুখমণ্ডল ও দুই হাতকে এর ব্যতিক্রম বলেছেন, কারণ এ দুটি প্রকাশ করা প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু পায়ের পাতা প্রকাশ করা জরুরি নয়; ফলে তারা এ বিষয়ে মতভেদ (خلاف) করেছেন যে, তা কি সতর (عورة) নাকি নয়? এ ক্ষেত্রে দুটি মত (وجهان) রয়েছে এবং সঠিকতম মত (الأصح) হলো সেটি সতর (عورة)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الحنفية والرأي الثاني للشافعية والمفتي به عند المالكية، قالوا: جميع بدن المرأة الحرة عورة إلا الوجه والكفين فيباح للمرأة كشف وجهها وكفيها في الطرقات، وأمام الرجال الأجانب، ولكنهم قيّدوا هذه الإباحة بشرط أمن الفتنة، أما إذا كان كشف الوجه واليدين يثير الفتنة لجمالها الطبيعي أو لما فيهما من الزينة وأنواع الحلي؛ فإنه يجب عليها سترهما ويصيران عورة كبقية أعضاء جسدها، وذلك من باب سد الذرائع
… )) (1)
لم يتجاوز أهل العلم عند استعراضهم المذاهب الفقهية في أمر حدود ما يباح كشفه، الوجه والكفين والقدمين، فدلّ ذلك بذاته على إجماعهم على حرمة كشف ما عدا ما سبق.
شبهات حول الحجاب في الإسلامفي زمن (إفراغ) المسلم من ماهيّته، وتسطيح وعيه، وحجزه عن الانحياز إلى دينه وحضارته، بفعل التعليم الملحد (2) عن صراط الحقّ، والإعلام المجيّر لخدمة العالمانيين والإباحيين، ورفع النماذج الفاسدة والتائهة لتكون قدوات تشرئبّ لها أعناق النائشة ويحتذى (بهديها!) .. في هذا السياق العقدي والثقافي، أوجد المناوئون للإسلام منفذًا إلى عقول شباب الإسلام، وتخلّلوا من خلال هذه الثغرة المعرفيّة في بنائهم العلمي ليصرفوهم عن دينهم الذي هو لبّ وجودهم وجوهر كيانهم..
ولمّا كانت العالمانية في تضاد دائم مع الإسلام، فقد وجد المنصّرون بذلك جوًا مهيّأ وسعة ويسرًا لمشاركة (إخوانهم) العالمانيين في السعي لزعزعة الثوابت الشرعيّة والحقائق الإيمانيّة الإسلامية، رغم اختلاف مشاربهم وتباعد مذاهبهم..
وبدأت القنوات الفضائيّة اليوم في خدمة هذا (المشروع) والترويج له؛ فهي تجمع في برامجها (التوجيهيّة!) إلى جانب العالماني الذي يحاول أن يخفي جحده لمبدأ الوحي المنزّل -بدعوى الفهم العصري للإسلام-، المنصِّرَ صاحب الأسفار المحرّفة والأفكار المعطّلة.. كلّ يشتكي في لوعة موجوعة حزينة من (أسلمة المجتمع) و (أصوليّة المجتمع) و (تحجّر المجتمع) .. وغير ذلك
--------------------------------------------
হানাফি মাজহাব, শাফেয়ি মাজহাবের দ্বিতীয় মত এবং মালিকি মাজহাবের ফতোয়া অনুযায়ী তারা বলেন: স্বাধীন নারীর মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কব্জি ব্যতীত সমগ্র শরীরই আবৃত রাখা আবশ্যকীয় অঙ্গ (عورة)। সুতরাং নারীর জন্য রাস্তাঘাটে এবং পরপুরুষের সামনে তার মুখমণ্ডল ও হাত খোলা রাখা বৈধ। তবে তারা এই বৈধতাকে ফিতনা (فتنة) থেকে নিরাপদ থাকার শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন। কিন্তু যদি মুখমণ্ডল ও হাত খোলা রাখা তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য কিংবা তাতে থাকা সাজসজ্জা ও অলংকারের কারণে ফিতনা (فتنة) সৃষ্টি করে, তবে তার জন্য সেগুলো ঢেকে রাখা ওয়াজিব বা আবশ্যিক এবং তা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ন্যায় আবৃত রাখা আবশ্যকীয় অঙ্গ (عورة) হিসেবে গণ্য হবে। এটি মূলত ক্ষতিকর পথ বন্ধ করার (سد الذرائع) নীতির অন্তর্ভুক্ত
... )) (১)
আলেমগণ যখন বৈধভাবে অনাবৃত রাখার সীমানার বিষয়ে ফিকহি মাজহাবসমূহ পর্যালোচনা করেছেন, তখন তারা মুখমণ্ডল, দুই হাতের কব্জি এবং দুই পা-এর অতিরিক্ত অগ্রসর হননি। যা স্বত:সিদ্ধভাবে এর বাইরে অন্য কিছু অনাবৃত করার নিষিদ্ধতার ওপর তাদের ঐক্যমত (إجماع) প্রমাণ করে।
ইসলামে হিজাব সম্পর্কে সংশয়সমূহএকজন মুসলিমকে তার সত্তা থেকে বিচ্যুত করার, তার চেতনাকে অগভীর করার এবং তাকে তার ধর্ম ও সভ্যতার পক্ষাবলম্বন থেকে বিরত রাখার এই যুগে— যা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত নাস্তিক্যবাদী (২) শিক্ষা এবং ধর্মনিরপেক্ষ ও অবাদ যৌনাচারে বিশ্বাসীদের সেবায় নিয়োজিত গণমাধ্যমের প্রভাবে ঘটছে; যেখানে ভ্রষ্ট ও লক্ষ্যহীন আদর্শগুলোকে এমনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে যেন উদীয়মান প্রজন্মের নিকট তা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এবং তারা তাদের (তথাকথিত!) আদর্শ অনুসরণ করে... এই আকিদাগত ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে, ইসলাম বিরোধীরা মুসলিম যুবকদের মগজে প্রবেশের একটি পথ খুঁজে পেয়েছে। তারা তাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোর এই ছিদ্রপথ দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে যেন তাদেরকে তাদের ধর্ম থেকে বিমুখ করা যায়, যা তাদের অস্তিত্বের মূল এবং সত্তার নির্যাস।
যেহেতু ধর্মনিরপেক্ষতা সর্বদা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, তাই খ্রিস্টান মিশনারিরা তাদের ধর্মনিরপেক্ষ (ভাইদের) সাথে শরিয়তের অকাট্য বিধানসমূহ এবং ইসলামি ইমানি সত্যগুলোকে টলিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ পেয়েছে, যদিও তাদের উদ্দেশ্য ও আদর্শ ভিন্ন।
আজ স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো এই (প্রকল্পের) সেবায় এবং এর প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে। তারা তাদের (দিকনির্দেশনামূলক!) অনুষ্ঠানগুলোতে একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের একত্র করে—যারা ইসলামের আধুনিক ব্যাখ্যার নামে ওহি অবতীর্ণ হওয়ার মূলনীতিকে অস্বীকার করার বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করে—আর অন্যদিকে সেই মিশনারিদের আনে যারা বিকৃত ধর্মগ্রন্থ এবং অসার চিন্তাধারার অধিকারী। তারা সবাই অত্যন্ত ব্যথিত ও শোকাতুর হৃদয়ে 'সমাজের ইসলামায়ন', 'সমাজের মৌলবাদ' এবং 'সমাজের রক্ষণশীলতা' ইত্যাদি নিয়ে অভিযোগ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
من (القوالب) المألوفة من الشتائم المعروفة التي توصم بها مجتمعاتنا التي هي أبعد ما تكون عن أن تعدّ ممثّلة للإسلام، رغم ما فيها من خير متنامٍ.. فكيف لو كان العالمانيون والمنصّرون يعيشون في مجتمع تحكمه ضوابط الشريعة، ويسلك الناس فيه صراط الأحكام القويمة؟!!
إنّ العالمانيين والمنصّرين ليسوا (هبلاً) حتى يلتبس عليهم الأمر وتأخذهم الظنون إلى أنّ مجتمعاتنا على جادة الإسلام حقًا.. وإنّما هم يسعون –من وراء خطابهم المتّقد حنقًا- إلى الحيلولة دون عودة هذه المجتمعات إلى موئلها الأوّل والأخير: (الإسلام) .. ولذلك فهم يستحييون مشاعر (الريبة) و (الرُهاب) في أنفس أضرابهم؛ وكأنّ القوم تتهددهم جحافل الإجرام، أو كأنّهم يئنّون تحت كلكل (الظلاميات) التي تنشر في آفاق أبصارهم حجب الفقر والمرض والتخلف بأسبابه وأنواعه.. إنّه استباق (للكارثة) الكبرى التي يخشونها؛ وهي انخلاع أمّتنا من ربقة الفكر الوافد الاستلابي..فعندها سينفض الناس عنهم، وينضب ضرع (العطايا) التي يستحلبونها باسم نشر (التنوير) !!
ويشكّل الحجاب الإسلامي مصدر (قلق) لدعاة العالمانيّة وإخوانهم المنصّرين؛ ذلك أنّ الفكر التغربيبي والعمل التنصيري قد ظنّا –في بداية القرن العشرين- أنّ المرأة هي أضعف مناطق المناعة في الأمّة، فهي منفذ سهل لزرع الأدواء فيها..فبذلوا كلّ نفيس لأجل اختراق أجيال المسلمين من خلال المرأة، وأنشؤوا لذلك الجمعيات، وأقاموا لذلك المخططات طويلة النفس وقصيرة الزمن.. لكنّهم فوجئوا بعودة الفتاة المسلمة إلى دين الطهر وإدبارها عن الفتنة الزائفة التي عرضوها أمامها رخيصة، مستعصية بذلك على الذوبان في حوامض الفكر الاسترقاقي.. وهنا فقدوا اتزانهم المزيّف، ووسطيّتهم المختلقة المزوّقة، وسقطت أقنعة الخديعة، وأدبر عنهم شعارهم القديم: (حقّ الاختلاف) ، وأرسلوا من ألسنتهم التهم والسباب، ولم يتوانوا عن تحقير كلّ امرأة رفضت أن تشتري منهم كفن هلاكها ورَمْس فنائها.. لأجل ذلك ردّدوا شبهاتهم الطاعنة في الحجاب، والتي سنستعرضها الآن؛ لنكتشف مبلغ ظلم أصحابها وعِظم مجافاتهم للحقّ.. وهي شبهات مكرّرة، تطرق أسماعنا كلّ حين بفعل الجوّ الثقافي والإعلامي الذي يتّخذ العالمانيّة محرابًا، وقِبلة، وشعيرة، ومهوى فؤاد.. ولا سبيل لنقض هذه الشبهات إلاّ أن نعرضها كما هي على ألسنة (أهلها) ، ونعرّيها عن بريق الحقّ الذي تسربلت به على حين غفلة من حماة الفضيلة..
পরিচিত গতানুগতিক অপবাদগুলোর মধ্যে একটি হলো আমাদের সমাজকে এমনভাবে কলঙ্কিত করা, যা ইসলামকে প্রতিনিধিত্ব করার থেকে অনেক দূরে, যদিও এতে উত্তরোত্তর কল্যাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং মিশনারিরা যদি এমন এক সমাজে বসবাস করত যা শরীয়তের বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং যেখানে মানুষ সঠিক বিধানসমূহের পথে চলে, তবে তাদের অবস্থা কেমন হতো?!!
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও মিশনারিরা এতটা নির্বোধ নয় যে তাদের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যাবে অথবা তারা এই ধারণায় নিমজ্জিত হবে যে আমাদের সমাজগুলো সত্যিই ইসলামের সঠিক পথে রয়েছে। বরং তারা তাদের ক্রোধদীপ্ত বক্তব্যের আড়ালে এই সমাজগুলোকে তাদের আদি ও আসল আশ্রয়স্থল—ইসলামের দিকে ফিরে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণেই তারা তাদের সমমনাদের অন্তরে সন্দেহ ও ভীতির উদ্রেক করে; যেন তারা অপরাধী বাহিনীর দ্বারা হুমকির সম্মুখীন, অথবা তারা যেন সেই অন্ধকারাচ্ছন্নতার যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে যা তাদের দৃষ্টিসীমার দিগন্তে দারিদ্র্য, রোগ এবং সব ধরনের অনগ্রসরতার পর্দা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটি আসলে সেই মহা বিপর্যয় ঘটার আগেই তা ঠেকানোর একটি আগাম প্রচেষ্টা যা তারা ভয় পায়; আর তা হলো আমদানিকৃত লুণ্ঠনমূলক চিন্তাধারার দাসত্ব থেকে আমাদের উম্মাহর মুক্ত হওয়া। কারণ তখন মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং 'আলোকায়ন' প্রসারের নামে তারা যে দান-অনুদানের সুযোগ গ্রহণ করছে তার উৎস শুকিয়ে যাবে!!
ইসলামী হিজাব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রবক্তা এবং তাদের মিশনারি ভাইদের জন্য এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; কারণ বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পাশ্চাত্যকরণ ও মিশনারি কার্যক্রমের চিন্তাধারা ধারণা করেছিল যে, নারী হলো এই উম্মাহর প্রতিরোধ ব্যবস্থার সবচেয়ে দুর্বল স্থান এবং তার মাধ্যমেই সহজে ব্যাধি প্রবেশ করানো সম্ভব। তাই তারা নারীর মাধ্যমে মুসলিম প্রজন্মগুলোর ভেতর অনুপ্রবেশের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিল। এজন্য তারা বিভিন্ন সমিতি গঠন করেছিল এবং দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু তারা বিস্মিত হলো যখন মুসলিম তরুণীরা পবিত্রতার দ্বীনের দিকে প্রত্যাবর্তন করল এবং তাদের সামনে উপস্থাপন করা সস্তা ও কৃত্রিম ফেতনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল; যা দাসত্বমূলক চিন্তাধারার এসিডে বিলীন হওয়া থেকে তাদের রক্ষা করল। এমতাবস্থায় তারা তাদের মেকি ভারসাম্য এবং বানোয়াট ও অলঙ্কৃত মধ্যপন্থা হারিয়ে ফেলল; প্রতারণার মুখোশ উন্মোচিত হলো এবং তাদের সেই পুরাতন স্লোগান— ‘ভিন্নমতের অধিকার’—তাদের থেকে বিদায় নিল। তারা তাদের রসনা থেকে অপবাদ ও গালাগাল বর্ষণ শুরু করল এবং এমন প্রত্যেক নারীকে অবজ্ঞা করতে দ্বিধা করল না যে তাদের থেকে নিজের ধ্বংসের কাফন এবং বিলীন হওয়ার সমাধি কিনতে অস্বীকার করেছিল। এই কারণেই তারা হিজাবের বিরুদ্ধে তাদের আপত্তিজনক সংশয়গুলো বারবার আওড়াতে থাকে, যা আমরা এখন পর্যালোচনা করব; যাতে আমরা এর উদ্ভাবকদের জুলুমের সীমা এবং সত্য থেকে তাদের বিমুখতার বিশালতা উন্মোচন করতে পারি। এগুলো হচ্ছে সেই বারবার পুনরাবৃত্ত হওয়া সংশয়, যা সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম জগতের প্রভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের কানে আসে—যে মাধ্যমগুলো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে তাদের মেহরাব, কেবলা, ইবাদত এবং প্রাণের স্পন্দন হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই সংশয়গুলো খণ্ডন করার একমাত্র উপায় হলো তাদের প্রবক্তাদের মুখ থেকেই সেগুলোকে হুবহু উপস্থাপন করা এবং সত্যের সেই মেকি চাকচিক্য থেকে সেগুলোকে মুক্ত করা, যা তারা সচ্চরিত্র রক্ষাকারীদের অসতর্কতার সুযোগে পরিধান করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الشبهة الأولى: الحجاب، شريعة رجعيّةكثيرًا ما طرق آذان المسلمات قول صارخ منتفش، ودعوى فجّة مغرورة أنّ ((مطالبة المرأة (العربيّة) بارتداء الحجاب في القرن الواحد والعشرين، حيث تطوّر العالم، وبلغ في ابتكاراته العلميّة الذروة، وتطوّر المجتمع، وأصبح أكثر انفتاحًا ونضجًا؛ لهو دعوة صريحة إلى الانتكاس والعودة إلى القرون الوسطى؛ عصور الظلام!!))
الجواب:
أولًا/ ما معنى كلمة ((رجعيّة)) التي صار يكرّرها مناهضو الإسلام، ويرمون بها من يدعون إلى الالتزام بأحكام القرآن والسنّة، بكلّ حماسة؟
كلمة ((رجعيّة)) هي تعريب للكلمة الإنجليزيّة ((reactionism)) والتي يُقصد بها الدعوة إلى العودة إلى أيّ نظام أيديولوجي أو سياسي أو اجتماعي قديم. وقد ظهر هذا الاصطلاح إبّان الثورة الفرنسيّة في وصف من كانوا ينادون بالعودة إلى النظام الملكي والإقطاعيّة، بعد إزالة الملك والإقطاعيّة من فرنسا
… ثم صار كلّ من يدعو إلى العودة إلى نظام أو منهج سابق موصومًا ((بالرجعيّة)) .. فهل ((الرجعيّة)) بمعناها الاصطلاحيّ مذمومة بإطلاق؟
إنّ ولع التغريبيين بالاصطلاحات الغربيّة دون النظر إلى خلفياتها التاريخيّة وبيئتها التي نشأت فيها؛ قد أحدث لبسًا في الفهم وخللاً في الحكم على الواقع، قادهم إلى التناقض الفجّ والتسطيح الساذج في قراءة الواقع والتعامل الواعي والإيجابي معه.
إنّ كلمة ((رجعيّة)) كحكم سلبي على موقف أو مذهب، تحمل في داخلها مخزونًا معرفيًا متصلاً بحبل سُرِّي بالثقافة السائدة في الفكر الغربي الرافض لكلّ ثابت إنساني حيث تتبدّل القيم و (تتطوّر) بتبدّل الزمان!
إنّ إدانة ((الرجعيّة)) تعني إدانة كلّ حقيقة نازلة من السماء أو نابعة من اجتهاد بشري سليم، قُدِّر لها أن توجد في يوم من أيام (الماضي) .. ويترتّب على ذلك القول إنّ كلّ القيم الجميلة التي تبنّاها أجدادنا، وكلّ الأفكار الرائعة التي نافحوا عنها؛ يجب تجاوزها لأنّها من الماضي.. فكلّ ((ماضٍ)) ، هو (فكر مرفوض) لا يجوز (الرجوع) -أو (الدعوة إلى الرجوع) - إليه، دون النظر في حقيقة قيمته ومبلغ صوابه!
প্রথম সংশয়: হিজাব, একটি পশ্চাদমুখী (رجعية) বিধানমুসলিম নারীদের কানে প্রায়ই একটি চড়া ও আস্ফালনমূলক কথা এবং একটি স্থূল ও অহংকারী দাবি করা হয় যে, "একবিংশ শতাব্দীতে (আরব) নারীকে হিজাব পরিধানের দাবি জানানো—যেখানে বিশ্ব আজ উন্নত হয়েছে এবং বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের শিখরে পৌঁছেছে, সমাজ বিবর্তিত হয়ে আরও উদার ও পরিপক্ক হয়েছে—তা স্পষ্টতই পশ্চাদপদতা এবং মধ্যযুগের অন্ধকারের দিকে ফিরে যাওয়ারই নামান্তর!!"
উত্তর:
প্রথমত/ ‘পশ্চাদমুখিতা’ (رجعية) শব্দটির অর্থ কী, যা ইসলামবিদ্বেষীরা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে অহরহ পুনরাবৃত্তি করে চলেছে এবং যারা কুরআন ও সুন্নাহর বিধান পালনের আহ্বান জানায়, তাদের প্রতি এই অপবাদ ছুঁড়ে দিচ্ছে?
‘পশ্চাদমুখিতা’ (رجعية) শব্দটি ইংরেজি 'reactionism' শব্দের আরবি পরিভাষা, যার দ্বারা কোনো প্রাচীন আদর্শিক, রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার আহ্বানকে বোঝানো হয়। এই পরিভাষাটির উদ্ভব হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের সময়, যখন ফ্রান্স থেকে রাজতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্র বিলুপ্ত করার পর যারা পুনরায় সেই ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার ডাক দিচ্ছিল, তাদের বর্ণনা করার জন্য এটি ব্যবহৃত হতো
… এরপর থেকে যারা পূর্ববর্তী কোনো ব্যবস্থা বা পদ্ধতির দিকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান, তারা সবাই ‘পশ্চাদমুখী’ (رجعي) হিসেবে আখ্যায়িত হতে থাকেন। এখন প্রশ্ন হলো, পারিভাষিক অর্থে ‘পশ্চাদমুখিতা’ (رجعية) কি ঢালাওভাবে নিন্দনীয়?
পাশ্চাত্যপন্থীদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও উৎপত্তিস্থল বিচার না করেই পশ্চিমা পরিভাষাগুলোর প্রতি অতি মোহগ্রস্ততা তাদের বোধশক্তিতে বিভ্রান্তি এবং বাস্তবতাকে বিচার করার ক্ষেত্রে ত্রুটি সৃষ্টি করেছে। এটি তাদের বাস্তবতাকে অনুধাবন করার এবং এর সাথে সচেতন ও ইতিবাচকভাবে মিথস্ক্রিয়া করার পরিবর্তে স্থূল বৈপরীত্য ও সস্তা সরলীকরণের দিকে নিয়ে গেছে।
কোনো অবস্থান বা মতাদর্শের উপর নেতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘পশ্চাদমুখিতা’ (رجعية) শব্দটি তার অভ্যন্তরে এমন এক জ্ঞানতাত্ত্বিক সঞ্চয় বহন করে, যা নাড়ির বন্ধনে পশ্চিমা চিন্তাধারার প্রচলিত সংস্কৃতির সাথে যুক্ত। এই সংস্কৃতি মানুষের শাশ্বত ধ্রুব সত্যগুলোকে অস্বীকার করে, যেখানে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধ পরিবর্তিত এবং ‘বিবর্তিত’ হয়!
‘পশ্চাদমুখিতা’কে (رجعية) নিন্দা করার অর্থ হলো আসমান থেকে অবতীর্ণ হওয়া প্রতিটি সত্যকে অথবা সঠিক মানবীয় গবেষণা (اجتهاد) থেকে উদ্ভূত প্রতিটি বিষয়কে নিন্দা করা, যা অতীতে কোনো এক সময়ে বিদ্যমান ছিল। এর অনিবার্য পরিণতি এই দাঁড়ায় যে, আমাদের পূর্বপুরুষদের গ্রহণ করা সকল সুন্দর মূল্যবোধ এবং তারা যে চমৎকার ধারণাগুলোর প্রতিরক্ষা করেছিলেন, সেই সবকিছুকেই বর্জন করতে হবে; কারণ সেগুলো অতীতের। ফলে প্রতিটি ‘অতীতই’ এক ‘প্রত্যাখ্যাত চিন্তা’ হিসেবে গণ্য হয়, যার প্রকৃত মূল্য বা সঠিকতা বিচার না করেই তার দিকে ‘ফিরে যাওয়া’—কিংবা ‘ফিরে যাওয়ার আহ্বান’—নিষিদ্ধ হয়ে যায়!
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
هذه هي حقيقة تهمة ((الرجعيّة)) وذاك أصلها في منبتها الأوّل.. فهل يقبل العاقل من صاحبها تهمته لصاحبة الحجاب؟!!
وماذا لو أنزلنا حكم ((الرجعيّة)) على الواقع الغربي؟! ماذا ترى هذا المعترض يقول!؟؟
سأضرب مثالين اثنين، أظنّ أنّهما يغنيان عن التفصيل!
المثال الأوّل: انتقلت الأسرة في الغرب في ظلّ الأنظمة ((الرأسماليّة المتوحشّة)) ((capitalisme sauvage)) (1) من نموذج العائلة المتماسكة حيث يتقاسم الوالدان تربية الأبناء، ويربيانهم على مراعاة الأخلاق الفاضلة واحترام النظم العامة التي تخدم مصالح الشعب، إلى شكل الأسرة التي يعمل فيها كلّ من الأبوين لتحصيل أكبر مبلغ من المال دون الاهتمام بتنشئة الأبناء على القيم المحمودة؛ حتّى أصبح الأبناء نهبًا للفساد الإعلامي والجشع التجاري الذي يستثمر سذاجة النشء لتحقيق مبالغ هائلة من الأرباح..
وقد نشأت اليوم تيّارات في الغرب تدعو إلى إصلاح الأنظمة الأسريّة، وإعادة اللحمة القديمة التي كانت تربط أفرادها وتحكم علاقاتها، بتعميق الارتباط بين الزوجين والأبناء، وحماية الأجيال الصاعدة من سموم الإعلام التجاري والقيم الهابطة.. ولا شكّ أنّ هذا التيّار يعتبر من ناحية الاصطلاح، تيّارًا (رجعيًا) ؛ لأنّه طبق التعريف السالف، يدعو إلى العودة إلى أنظمة اجتماعيّة قديمة.. فهل يستحقّ هؤلاء الداعون إلى العودة إلى النظام الأسري القديم الإدانة لمجرّد أنهم على مذهب (رجعي) ؟!! وهل كلّ دعوة للتغيير ومفارقة القديم هي دعوى محمودة؟ وهل كلّ دعوة للعودة إلى القديم هي دعوى مدانة مرذولة؟!!
المثال الثاني: دعا الغرب في مؤتمر السكّان في القاهرة، وفي غيره من المؤتمرات إلى تغيير ما سمّاه ((الشكل التقليدي للأسرة)) .. والمقصود بهذا الشكل التقليدي هو أن يكون الزواج قاصرًا على طرفين: رجل وامرأة.. والشكل الحديث المطلوب، بل والذي تتبنّاه عامة المجتمعات
--------------------------------------------
এটাই হলো 'পশ্চাৎপদতা' (الرجعية) নামক অপবাদের বাস্তবতা এবং এটিই হলো তার আদি উৎসের মূল ভিত্তি। তবে কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কি হিজাব পরিহিতার বিরুদ্ধে এই অপবাদকারীর আনীত অভিযোগ গ্রহণ করবে?!!
আর আমরা যদি পাশ্চাত্য বাস্তবতার ওপর এই 'পশ্চাৎপদতার' (الرجعية) বিধান (حكم) প্রয়োগ করি, তবে কী হবে?! আপনি কী মনে করেন এই আপত্তিকারী তখন কী বলবে!??
আমি মাত্র দুটি উদাহরণ পেশ করছি, আমার মনে হয় যা বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা দূর করবে!
প্রথম উদাহরণ: 'বন্য পুঁজিবাদী' (الرأسمالية المتوحشة) (capitalisme sauvage) (১) ব্যবস্থার ছায়াতলে পাশ্চাত্যের পরিবারগুলো সুসংহত পারিবারিক আদর্শ—যেখানে পিতামাতা উভয়েই সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব ভাগ করে নিতেন এবং তাদেরকে মহৎ নৈতিকতা ও জনকল্যাণমূলক সাধারণ নিয়মাবলী মেনে চলার ওপর গড়ে তুলতেন—তা থেকে বিচ্যুত হয়ে এমন এক পারিবারিক রূপ পরিগ্রহ করেছে, যেখানে পিতামাতা উভয়েই সন্তানদের মহৎ মূল্যবোধের ওপর গড়ে তোলার প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে কেবল সর্বাধিক পরিমাণ অর্থ উপার্জনের নেশায় লিপ্ত থাকেন; যার ফলে সন্তানরা সংবাদমাধ্যমের কলুষতা ও বাণিজ্যিক লালসার শিকারে পরিণত হয়েছে, যারা অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য নবীন প্রজন্মের সরলতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে...
বর্তমানে পাশ্চাত্যে এমন কিছু ধারার উদ্ভব হয়েছে যা পারিবারিক ব্যবস্থা সংস্কারের এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার সেই প্রাচীন সুদৃঢ় বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ক পুনরায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছে, যেন স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক সুনিশ্চিত হয় এবং উদীয়মান প্রজন্মকে বাণিজ্যিক সংবাদমাধ্যমের বিষাক্ত প্রভাব ও চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা যায়... নিঃসন্দেহে পারিভাষিক বিচারে এই ধারাটিকে 'পশ্চাৎপদ' (رجعي) হিসেবে গণ্য করা হবে; কারণ পূর্বোক্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি প্রাচীন সামাজিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে... তবে যারা এই প্রাচীন পারিবারিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন, তারা কি কেবল একটি 'পশ্চাৎপদ' (رجعي) মতাদর্শ অনুসরণের দায়ে দণ্ডনীয় বা নিন্দার যোগ্য হবেন?!! আর পরিবর্তনের এবং প্রাচীন প্রথা বিসর্জনের প্রতিটি আহ্বানই কি প্রশংসনীয়? এবং প্রাচীন ঐতিহ্যে ফিরে যাওয়ার প্রতিটি আহ্বানই কি নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য?!!
দ্বিতীয় উদাহরণ: কায়রো জনসংখ্যা সম্মেলনসহ অন্যান্য বিভিন্ন সম্মেলনে পাশ্চাত্য যাকে 'পরিবারের ঐতিহ্যবাহী রূপ' বলে অভিহিত করেছে, তা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে। আর এই ঐতিহ্যবাহী রূপ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিবাহ কেবল দুই পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা: পুরুষ ও নারী। আর যে আধুনিক রূপটি কাঙ্ক্ষিত, বরং যা বর্তমানে সাধারণ সমাজগুলো গ্রহণ করে নিচ্ছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الغربيّة –ممارسةً-، ومن اليقيني أنّ كلّ الدول الغربيّة ستتبنّاه قريبًا –قانونًا- لتعاظم نفوذ الداعين إليه وتناقض التيّارات الغربيّة الرافضة له، هذا الشكل هو: زواج رجل برجل.. وزواج امرأة بامرأة.. مع الصورة (القديمة) : زواج رجل بامرأة..!
وقد ظهر تيّار غربي يدعو اليوم إلى المحافظة على الصورة التقليديّة لشكل الأسرة الموافقة لأحكام الدين ونواميس الطبيعة، لكّنه قوبل بصدّ حاد وردّ جاف من دعاة ما يسمّى بـ (حقوق الشواذ) ، واتُّهم هذا التيّار، بأّنه تيّار (رجعي) .. ولا شكّ أنّ وصفه (بالرجعيّة) هو وصف سليم منضبط؛ لأنّه حسب تعريف ((الرجعيّة)) ، يُعدّ الداعي إلى كلّ نظام قديم، رجعيًا!!
فهل يصحّ القول إن منع الزواج بين الرجال فيما بينهم، أو بين النساء فيما بينهن، يعدّ فعلاً (ظلاميًا) (ظالمًا) ؛ لأنّه يرفض الواقع الجديد، ويدعو إلى نموذج أسري قديم؟!!
الإجابة على السؤالين السالفين، أَظَهَرُ من أن نفصّلها، إلاّ أن يكون المخالف لا يرى تربية الأبناء شيئًا جديرًا بالاعتبار، ولا يجد حرجًا -أو ما دون ذلك- في زواج الرجل بالرجل والأنثى بالأنثى!!؟؟
إذن.. ((الرجعيّة)) ليست تهمة تخشاها صاحبة الحجاب؛ لأنّ ((الرجعيّة)) قد تكون إيجابيّة أو سلبيّة، تبعًا لصلاح الأمر الذي يعمل المرء على ((الرجوع)) إليه؛ فإذا كانت الرجعية هي العودة إلى الصالح من الأفكار والأفعال، فنِعمّ الرجعيّة هي! وإذا كانت الرجعيّة هي العودة إلى القبيح والمشين من الأفكار والأفعال، فبئس الرجعيّة هي!
إنّ (الإنسان) هو (الإنسان) في علاقته ببيئته بما فيها من البشر وبقيّة الأحياء والأشياء، ولا تكاد تتغيّر فيه إلاّ وسائل الإشباع، أمّا الحاجات الأساسيّة الكامنة فيه؛ كالأكل والشرب والزواج وطلب الأمن والسكينة والأنس؛ فهي نفسها في القديم والحديث، ولم يكد يمسّها تطوّر إلاّ في وسائل التعامل معها لتحقيق الإشباع المطلوب.. إنّ قيم الإنسان الجميلة التي تؤسّس فيه حقيقة انتمائه للجنس الآدمي المكرّم، لا تَنْدَرِسُ لمجرّد تغيّر الزمان وتبدّل البلاد.. إنّ الإنسان قيمة ثابتة، لا تتغيّر منها إلاّ الظواهر السطحيّة.. ولو فصلناه عن حقيقة الجمال
পশ্চিমা বিশ্বে এটি বর্তমানে চর্চায় পরিণত হয়েছে—এবং এটি নিশ্চিত যে, অচিরেই সকল পশ্চিমা রাষ্ট্র আইনগতভাবে এটি গ্রহণ করবে; কারণ এর প্রবক্তাদের প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর বিরোধিতাকারী পশ্চিমা ধারাগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই রূপটি হলো: পুরুষের সাথে পুরুষের বিবাহ... এবং নারীর সাথে নারীর বিবাহ... তার সাথে (প্রাচীন) রূপটিও বিদ্যমান: পুরুষের সাথে নারীর বিবাহ!
বর্তমানে একটি পশ্চিমা ধারা উদ্ভূত হয়েছে যারা ধর্মের বিধান (أحكام) ও প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের ঐতিহ্যগত রূপটি সংরক্ষণের আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু তথাকথিত 'সমকামীদের অধিকার' প্রবক্তাদের পক্ষ থেকে এটি তীব্র বাধা ও রূঢ় প্রত্যাখ্যানের সম্মুখীন হয়েছে। এই ধারাটিকে 'প্রতিক্রিয়াশীল' হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে... এবং নিঃসন্দেহে একে 'প্রতিক্রিয়াশীলতা' হিসেবে অভিহিত করা একটি সঠিক ও সুশৃঙ্খল বর্ণনা; কারণ 'প্রতিক্রিয়াশীলতা'-র সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি যে কোনো প্রাচীন ব্যবস্থার দিকে আহ্বান জানায়, তাকেই প্রতিক্রিয়াশীল বলা হয়!!
সুতরাং এটি বলা কি সঠিক হবে যে, পুরুষদের পারস্পরিক বিবাহ অথবা নারীদের পারস্পরিক বিবাহ নিষিদ্ধ করা একটি 'অন্ধকারাচ্ছন্ন' বা 'অন্যায়' কাজ; যেহেতু এটি নতুন বাস্তবতাকে অস্বীকার করে এবং একটি প্রাচীন পারিবারিক কাঠামোর দিকে আহ্বান জানায়?!!
পূর্বোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর এতটাই স্পষ্ট যে তা বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন রাখে না, যদি না প্রতিপক্ষ সন্তানদের লালন-পালনকে বিবেচনার যোগ্য মনে না করে এবং পুরুষের সাথে পুরুষের কিংবা নারীর সাথে নারীর বিবাহে কোনো কুণ্ঠাবোধ—বা তার চেয়ে সামান্যতম কিছু—অনুভব না করে!!??
অতএব.. 'প্রতিক্রিয়াশীলতা' এমন কোনো অপবাদ নয় যা একজন হিজাব পরিহিতাকে ভয় পেতে হবে; কারণ 'প্রতিক্রিয়াশীলতা' ইতিবাচক বা নেতিবাচক উভয়ই হতে পারে, যা নির্ভর করে মানুষ কোন বিষয়ের দিকে 'প্রত্যাবর্তন' করতে চাইছে তার উৎকর্ষের ওপর। সুতরাং যদি প্রতিক্রিয়াশীলতা বলতে উত্তম চিন্তাধারা ও কর্মের দিকে ফিরে যাওয়া বোঝায়, তবে তা কতই না চমৎকার প্রতিক্রিয়াশীলতা! আর যদি প্রতিক্রিয়াশীলতা বলতে কদর্য ও ঘৃণ্য চিন্তাধারা ও কর্মের দিকে ফিরে যাওয়া বোঝায়, তবে তা কতই না মন্দ প্রতিক্রিয়াশীলতা!
নিশ্চয়ই 'মানুষ' তার পরিবেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে—যাতে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণী ও বস্তুও অন্তর্ভুক্ত—'মানুষ'-ই থাকে। তার মাঝে কেবল পরিতৃপ্তির মাধ্যমগুলো পরিবর্তিত হয়, কিন্তু তার ভেতরে সুপ্ত মৌলিক প্রয়োজনগুলো; যেমন আহার, পানীয়, বিবাহ এবং নিরাপত্তা, প্রশান্তি ও সখ্যের অন্বেষণ—এগুলো আদি ও আধুনিককালেও অভিন্ন। পরিতৃপ্তি অর্জনের লক্ষ্যে এগুলোর সাথে আচরণের পন্থায় পরিবর্তন ছাড়া অন্য কোনো বিবর্তন একে স্পর্শ করেনি। মানুষের সেই মহৎ মূল্যবোধগুলো, যা তার মাঝে সম্মানিত মানবজাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রকৃত ভিত্তি স্থাপন করে, তা কেবল কালের পরিক্রমা বা ভূখণ্ডের পরিবর্তনে বিলীন হয়ে যায় না। মানুষ এক ধ্রুব সত্তা, যার কেবল বাহ্যিক রূপান্তর ঘটে.. যদি আমরা তাকে সুন্দরের প্রকৃত সত্য থেকে বিচ্ছিন্ন করি...
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الكامنة فيه لمجرّد أنها قديمة في ذاته وأصيلة في وعيه بنفسه؛ فلن تكون النتيجة غير تحويل الإنسان إلى منتج صناعي هشّ بلا أصل له ممتد في تربة التاريخ، وإنشاء حالة اغتراب لروحه في جنبات كيانه..
ثانيا/ يعيش الغرب اليوم من الناحيتين الفكرية والقِيَميّة تحت سلطان فكر ((ما بعد الحداثة)) ((Post-modernism)) ، وهو الفكر الذي يضخّ في شرايين أنسجة البناء الأسري والمجتمعي الغربي المفاهيم والقناعات والتصورات..ونظرًا للطبيعة الإسفنجيّة الرخوة للعالمانيين العرب؛ فإنّهم لا ينظرون بعين النقد إلى الأصل الرَحِمِيّ لمتبنيّات الغرب، وإنّما قد شغلهم النقل والنسخ والتكرار الغرّ عن التدبّر والتفكّر!
فما هو فكر ((ما بعد الحداثة)) الذي يعدّ مخالفه (رجعيًا) ؟
((ما بعد الحداثة)) هو فكر ((اللافكر)) أي هو فكر لا يستمد وجوده من نفسه، وإنما يعود في تشكيل ماهيّته إلى نفي غيره ((اللا)) ؛ فهو (ليس) غيره، أي ليس (الحداثة) ولا غيرها من المنظومات الكليّة المعروفة.. هو فكر عاجز أن يثبت ذاته (من) ذاته! إنّه فلسفة الرفض والتيه، وإفناء كلّ الأنماط القديمة، وإلغاء (المركز) الذي يدور حوله الموجود الإنساني، وإلغاء فكرة الحقيقة المطلقة، وفاعلية العقل على إفراز مدركات يقينيّة.. إنّه المظهر الشمولي للعدميّة (nihilism) !
يعتبر المنهج ((التفكيكي)) من أهمّ آلية التفكير والتفسير في فكر ((ما بعد الحداثة)) ، وهو منهج ((يفكّك)) الإنسان إلى قطع من ((الأشياء)) و ((النزعات)) لتشريحه وفهمه. وعمليّة التفكيك هذه هي جوهر ما يسمّى ((الاستنارة المظلمة)) أي رؤية الإنسان باعتباره كائنًا طبيعيًّا تحرّكه غرائزه الوحشيّة المظلمة القابعة داخله، أو القوانين الآليّة الموجودة خارجه ولا يمكنه تجاوزها. (1)
لقد تحوّل (الإنسان) في النسقين الفكري والقيمي في زمن ((ما بعد الحداثة)) إلى (كائن سائل) فاقد للمعالم الثابتة التي تمنحه تفوّقًا (حقيقيًا) على (الحيوان) !
--------------------------------------------
তার ভেতরে সুপ্ত বিষয়গুলোকে শুধুমাত্র তার নিজের মধ্যে প্রাচীন এবং নিজের চেতনায় মৌলিক হওয়ার কারণে পরিহার করা হলে; এর ফলাফল মানুষকে ইতিহাসের মাটিতে প্রোথিত কোনো মূলহীন একটি ভঙ্গুর শিল্পজাত পণ্যে রূপান্তর করা এবং তার সত্তার অভ্যন্তরে তার আত্মার জন্য এক পরকীয়াত্বের অবস্থা তৈরি করা ছাড়া আর কিছু হবে না।
দ্বিতীয়ত: বর্তমান পশ্চিমারা বুদ্ধিবৃত্তিক এবং মূল্যবোধের দিক থেকে 'উত্তর-আধুনিকতাবাদ' (Post-modernism)-এর কর্তৃত্বের অধীনে বসবাস করছে। এটি এমন এক চিন্তাধারা যা পশ্চিমা পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর ধমনীতে বিভিন্ন ধারণা, বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি সঞ্চারিত করে। আর আরব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের শিথিল ও স্পঞ্জসদৃশ স্বভাবের কারণে, তারা পশ্চিমাদের গ্রহণকৃত বিষয়গুলোর উৎস বা আঁতুড়ঘরকে সমালোচনার দৃষ্টিতে দেখে না; বরং অন্ধ অনুকরণ, অনুলিপি এবং পুনরাবৃত্তিই তাদেরকে গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করা থেকে বিমুখ করে রেখেছে।
তাহলে এই 'উত্তর-আধুনিকতাবাদ' বিষয়টি আসলে কী, যার বিরোধিতাকারীকে 'পশ্চাদপদ' হিসেবে গণ্য করা হয়?
'উত্তর-আধুনিকতাবাদ' হলো 'চিন্তাহীনতার' এক চিন্তা। অর্থাৎ এটি এমন এক চিন্তাধারা যা নিজের থেকে অস্তিত্ব লাভ করে না, বরং এর সারসত্তা গঠনে এটি অন্যকে অস্বীকার করার ('না' বা 'অ-') ওপর নির্ভর করে। এটি তার অন্য কিছু 'নয়'; অর্থাৎ এটি 'আধুনিকতা' নয় এবং পরিচিত কোনো সামগ্রিক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তও নয়। এটি এমন এক চিন্তা যা নিজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে অক্ষম! এটি হলো প্রত্যাখ্যান ও বিভ্রান্তির দর্শন, যা সমস্ত পুরাতন ধারাকে বিলীন করে দেয়, এবং মানব অস্তিত্ব যে 'কেন্দ্র' কে ঘিরে আবর্তিত হয় তাকে রদ করে দেয়। এটি পরম সত্যের ধারণা এবং নিশ্চিত জ্ঞান আহরণে বুদ্ধির কার্যকারিতাকে অস্বীকার করে। এটি হলো শূন্যতাবাদের (nihilism) এক সর্বগ্রাসী রূপ!
'উত্তর-আধুনিকতাবাদে' চিন্তা ও ব্যাখ্যার অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে 'বিনির্মাণ' পদ্ধতিকে গণ্য করা হয়। এটি এমন এক পদ্ধতি যা মানুষকে ব্যবচ্ছেদ ও বোঝার জন্য বিভিন্ন 'বস্তু' ও 'প্রবৃত্তি'র টুকরোয় 'বিভক্ত' করে। এই বিনির্মাণ প্রক্রিয়াই হলো তথাকথিত 'অন্ধকারাচ্ছন্ন আলোকায়ন'-এর মূল নির্যাস; অর্থাৎ মানুষকে এমন এক প্রাকৃতিক জীব হিসেবে দেখা যার চালিকাশক্তি হলো তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার বন্য প্রবৃত্তি অথবা তার বাইরের কোনো যান্ত্রিক নিয়মাবলি যা সে অতিক্রম করতে সক্ষম নয়। (১)
'উত্তর-আধুনিকতাবাদের' যুগে বুদ্ধিবৃত্তিক ও মূল্যবোধের কাঠামোতে 'মানুষ' এক 'তরল সত্তায়' পরিণত হয়েছে, যে তার সেই স্থিতিশীল বৈশিষ্ট্যগুলো হারিয়ে ফেলেছে যা তাকে 'পশু'র ওপর 'প্রকৃত' শ্রেষ্ঠত্ব দান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
في ظلّ هذا التصوّر الهدمي (للإنسان المكرّم) ، تتشكّل التصوّرات الغربيّة عن (المرأة) ، وهي تصوّرات ظاهرة الملامح في الدراسات السوسيولوجيّة والنفسيّة، وقد تُسمّى فيها بمسيّاتها الحقيقيّة، إلاّ أنّها مغيّبة الألوان في الخطاب الإعلامي العالماني الموجّه إلى الغربي العامي أو المصدّر إلى العالم الإسلامي؛ لبشاعتها وشناعة مآلاتها.. ولعلّنا نلخّص ما يعنينا منها هنا، في نقاط سريعة تظهر معالم الكيان الأنثوي في زمن ((ما بعد الحداثة)) الذي يُعدّ (المواجه له) أو (المنتكس عنه) ، (رجعيًا) ، مقبوحًا (!) :
المرأة المثاليّة: إن (المرأة المثاليّة) التي يدعو إليها التيّار النسوي الغربي في زمن ((ما بعد الحداثة)) ، هي تلك التي حدّدت ((سيمون دو بوفوار)) ((Simone de Beauvoir)) (1) ملامحها في كتابها الذي يعدّ (دستور) الموجة الثانية للنسويات (2) : ((الجنس الثاني)) ((Le Deuxième Sexe)) ؛ إنّها المرأة التي ترفض أن تكون زوجة (( (كائن طفيلي)) ) ، وتأبى أن تكون أُمًا (( (امرأة غير راضية)) ) ، وتأنف أن تكون لها علاقة حب مع رجل (( (امرأة مذعورة)) ) (3) .. إنّها المرأة المستقلّة بنفسها عن (الأسرة) و (الزوج) ، والمنخلعة من صميم (أنوثتها) !
المرأة كـ (شيء جنسي) : في إحصائية تمّت سنة 1993م، أجاب 65% من المراهقين الأمريكان أنّه يجوز أن يجبر الرجل المرأة على المواقعة الجنسيّة، بعد لقائهما الأول بستة أشهر. وأجاب ربع المراهقين أنّه يجوز إجبار المرأة على المواقعة الجنسيّة، إذا كان الرجل
--------------------------------------------
(মর্যাদাবান মানুষের) এই ধ্বংসাত্মক ধারণার প্রেক্ষাপটে, (নারী) সম্পর্কে পশ্চিমা ধারণাগুলো গড়ে ওঠে। এই ধারণাগুলোর বৈশিষ্ট্য সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সেখানে এগুলোকে তাদের প্রকৃত নামে অভিহিত করা হতে পারে। তবে সাধারণ পশ্চিমা জনগণের উদ্দেশ্যে বা মুসলিম বিশ্বে রপ্তানি করা ধর্মনিরপেক্ষ মিডিয়া ভাষ্যে এই চিত্রগুলো তাদের বীভৎসতা এবং পরিণতির ভয়াবহতার কারণে অস্পষ্ট রাখা হয়। আমরা সম্ভবত এখানে আমাদের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো কিছু সংক্ষিপ্ত পয়েন্টের মাধ্যমে সারসংক্ষেপ করতে পারি, যা ‘উত্তর-আধুনিকতা’ যুগের নারীত্বের স্বরূপকে প্রকাশ করবে। যে ব্যক্তি এর (মুখোমুখি হয়) বা এ থেকে (বিমুখ হয়), তাকে (পশ্চাৎপদ) ও নিন্দনীয় হিসেবে গণ্য করা হয় (!) :
আদর্শ নারী: উত্তর-আধুনিক যুগে পশ্চিমা নারীবাদী ধারা যে (আদর্শ নারী)র আহ্বান জানায়, সে হলো সেই নারী যার বৈশিষ্ট্যগুলো সিমোন দ্য বোভোয়ার (Simone de Beauvoir) (১) তার বইয়ে নির্ধারণ করেছেন, যা নারীবাদীদের দ্বিতীয় তরঙ্গের (২) ‘সংবিধান’ হিসেবে গণ্য করা হয়: (দ্য সেকেন্ড সেক্স) (Le Deuxième Sexe); সে এমন এক নারী যে স্ত্রী হতে অস্বীকার করে ((একটি পরজীবী সত্তা)), মা হতে অস্বীকার করে ((একজন অসন্তুষ্ট নারী)), এবং পুরুষের সাথে প্রেমের সম্পর্ক রাখতে ঘৃণা বোধ করে ((একজন আতঙ্কিত নারী)) (৩)। সে এমন এক নারী যে (পরিবার) ও (স্বামী) থেকে নিজেকে স্বাধীন রাখে এবং নিজের (নারীত্বের) মূল সত্তা থেকে বিচ্যুত!
(যৌন বস্তু) হিসেবে নারী: ১৯৯৩ সালে পরিচালিত এক পরিসংখ্যানে, ৬৫ শতাংশ মার্কিন কিশোর উত্তর দিয়েছে যে, তাদের প্রথম সাক্ষাতের ছয় মাস পর কোনো পুরুষ যদি নারীকে যৌন মিলনে বাধ্য করে তবে তা বৈধ। আবার এক চতুর্থাংশ কিশোর উত্তর দিয়েছে যে, নারীকে যৌন মিলনে বাধ্য করা বৈধ যদি পুরুষটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قد أنفق عليها سابقًا من ماله! (1)
لقد أضحت المرأة في واقع التوحّش الليبرالي في زمن ((ما بعد الحداثة)) أشبه (باللعب الجنسيّة) ؛ فهي على الحقيقة لا المجاز توضع في (فترينات) في محلات الدعارة في الغرب، ويمتهن جسدها على مدار اليوم في المجال البصري للرجل من خلال وسائل الإعلام والإشهار والترفيه؛ فكانت نهايتها أن تعامل من الرجل على أنّها لا تملك من جسدها شيئًا إذا ما رأى الرجل أنّه قد صار له حق فيها لمجرّد أنه التقى بها لمرات في مطعم، أو أنفق عليها دولارات معدودة!
الأنثى في محرقة (الانفجار الجنسي) : كشف رئيس التخطيط الأبوي لمدينة نيويورك سنة 1997م أنّ 75% من المراهقين الأمريكان يمارسون الجنس قبل الانتهاء من سنوات التعليم في المدرسة الثانوية، وأنّ في مدينة نيويورك وحدها تحمل كل عام أكثر من 45 ألف فتاة في السنوات العمرية بين 15 و19 سنة. (2)
وفي دراسة أجريت سنة 1993م حول النساء اللواتي يدرسن في الجامعات الأمريكيّة، كشف الإحصاء أنّ 69،8% من الطالبات قد تعرضن (لإكراه لفظي) بالدعوة إلى (مواقعة جنسيّة لا يرغبن فيها) ! (3)
لقد تحوّلت (الليبراليّة الجنسيّة) في زمن ((ما بعد الحداثة)) ، من حلم أنثوي وردي بعد زمن (التابوهات) ، إلى كابوس أخلاقي واجتماعي واقتصادي امتدّ تأثيره إلى البنيّات الصغيرات في المدارس الإعداديّة بسبب محاولة إلغاء قيم ((العفّة)) و ((الحياء)) و ((الأسرة)) التي قيل إنّها صناعة (المجتمعات الباطريركيّة) (4)
…--------------------------------------------
ইতিপূর্বে তিনি তার পেছনে নিজের সম্পদ ব্যয় করেছিলেন! (১)
"উত্তর-আধুনিকতা"র যুগে লিবারেল বর্বরতার বাস্তবতায় নারী আজ 'যৌন খেলনার' মতো হয়ে পড়েছে; রূপক অর্থে নয়, বরং আক্ষরিক অর্থেই পশ্চিমের পতিতালয়গুলোর শো-কেসে তাদের সাজিয়ে রাখা হয় এবং গণমাধ্যম, বিজ্ঞাপন ও বিনোদনের মাধ্যমে পুরুষের দৃষ্টিসীমায় দিনভর তার দেহকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর পরিণতি দাঁড়িয়েছে এই যে, পুরুষের কাছে সে এমন এক সত্তায় পরিণত হয়েছে যার নিজের দেহের ওপর কোনো অধিকার নেই—যদি কোনো পুরুষ মনে করে যে কোনো রেস্তোরাঁয় কয়েকবার তার সাথে দেখা করার কারণে বা তার পেছনে সামান্য কিছু ডলার ব্যয় করার ফলে তার ওপর অধিকার জন্মেছে!
"যৌন বিস্ফোরণের" অগ্নিকুণ্ডে নারী: ১৯৯৭ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির 'প্ল্যান্ড প্যারেন্টহুড'-এর প্রধান প্রকাশ করেন যে, ৭৫% আমেরিকান কিশোর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ করার আগেই যৌনাচারে লিপ্ত হয় এবং কেবল নিউ ইয়র্ক সিটিতেই প্রতি বছর ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী ৪৫ হাজারেরও বেশি মেয়ে গর্ভবতী হয়। (২)
১৯৯৩ সালে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত নারীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় পরিসংখ্যানটি প্রকাশ করে যে, ৬৯.৮% ছাত্রী তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও যৌন মিলনের আহ্বানে 'মৌখিক জবরদস্তির' শিকার হয়েছে! (৩)
"উত্তর-আধুনিকতা"র যুগে "যৌন উদারবাদ" 'নিষিদ্ধ প্রথা' (Taboos)-র যুগের পর এক স্বপ্নিল নারীসুলভ বিভ্রম থেকে এক নৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাব এমনকি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছোট মেয়েদের ওপরও বিস্তৃত হয়েছে। এর কারণ হলো "পবিত্রতা", "লজ্জা" ও "পরিবার"-এর মতো মূল্যবোধগুলোকে বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টা, যেগুলোকে তথাকথিত "পিতৃতান্ত্রিক সমাজের" উদ্ভাবন বলে দাবি করা হয়েছিল। (৪)
...--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(الأسرة) كمفهوم: أنتج النسق القانوني الذي ظلّ مسيطرًا على أوروبا منذ زمن تبنّي الدول الغربيّة للنصرانيّة، إلى بداية القرن العشرين، والذي سلب المرأة حقّها في جوانب أساسيّة كبيرة من حياتها كأمور الطلاق والملكيّة والميراث والتعليم، مفاهيم قانونيّة جديدة تطمع في أن تحمي المرأة من الظلم القديم، وأدّى ذلك إلى محاولة إلغاء المؤسسات القديمة التي هضمتها حقوقها أو تقزيمها إلى حدّ إفقادها الكثير من قيمتها. وقد تواكب هذا الأمر مع إقصاء الممارسة الجنسيّة البهيميّة غير المسؤولة من دائرة (الذنب) . ورافق ذلك تفاقمُ النزعة الاستهلاكيّة وتعقّد الأنماط الاقتصادية وما تفرزه من ازدياد ثقل المسؤوليّة على من يرى أخلاقيّة القيام بأعباء أسرةٍ..
اجتمع كلّ ما سبق في سياق زمني واحد ليفرز نفورًا عارمًا للرجال من (مؤسسة الزواج) بما تمثّله من أثقال قانونيّة وواجبات أخلاقيّة ومسؤوليات ماليّة، فانحاز الرجل إلى نمط المخادنة حيث لا تكلّفه العشيقة شيئًا؛ إذ هو غير ملزم قانونيًا ولا أخلاقيًا بالإنفاق عليها، كما (يوفّر) هذا النمط المعيشي للرجل أن يغيّر من عشيقاته كلّما استهوته امرأة جديدة دون الإحساس باقتراف جناية قانونيّة أو أخلاقيّة!
وبسبب تضخّم (مؤسسة) المخادنة؛ فقد اتّسع أثرها ليصيب بنصله الجارح مؤسسة الزواج؛ فانتشر تفلّت الرجال من مسؤولياتهم، وتفشّي الطلاق، وتعاظمت الخيانة الزوجيّة إلى درجة وبائيّة؛ حتّى إنّ إحصائية لسنة 1988م، أثبتت أن 78% من الأزواج البريطانيين قد خانوا زوجاتهم، ومثل ذلك في الولايات المتحدة التي كانت فيها النسبة سنة 1965م 47%. (1)
لقد أصبجت (الأسرة) في زمن ((ما بعد الحداثة)) (شبه كيان!) مفرّغ من حقيقته، وافتقدت للروابط الأصيلة لأجزائها؛ فتفلّتت أبعاضها وتناثرت حبّات عقدها مخلّفة شتاتًا في النفس وتقلّصًا (مخيفًا) في آفاق العين؛ ليشعر الفرد بعد ذلك أنّه (جزيرة) نائية عن كل أرض، وقد انقطعت بينه وبين نسبه ونسله وشائج الفكر والشعور!
--------------------------------------------
ধারণা হিসেবে (পরিবার): পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের সময় থেকে বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত ইউরোপে যে আইনি কাঠামো আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তা নারীর জীবনের মৌলিক দিকগুলোতে—যেমন তালাক, মালিকানা, উত্তরাধিকার ও শিক্ষা—তার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এটি এমন কিছু নতুন আইনি ধারণার জন্ম দিয়েছে যা নারীকে সেই প্রাচীন জুলুম থেকে সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় রাখে। এর ফলে সেই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিলুপ্ত করার অথবা সেগুলোর গুরুত্বকে সংকুচিত করে তাদের মূল আবেদন হরণ করার একটি প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়। এই বিষয়টি পশুতুল্য ও দায়িত্বহীন যৌন চর্চাকে ‘পাপ’ এর গণ্ডি থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার সাথে সমান্তরালে চলেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে চরম ভোগবাদী মানসিকতা এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর জটিলতা, যা সেই ব্যক্তির ওপর দায়িত্বের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যে কি না একটি পরিবারের ভার বহন করাকে নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করে।
উপরে উল্লিখিত সব বিষয় একটি নির্দিষ্ট সময়কালে একত্রিত হয়ে পুরুষদের মধ্যে (বিবাহ প্রতিষ্ঠান) এর প্রতি এক প্রচণ্ড অনীহা তৈরি করেছে; কারণ এই ব্যবস্থা আইনি বোঝা, নৈতিক কর্তব্য ও আর্থিক দায়বদ্ধতার প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে পুরুষরা উপপত্নী রক্ষার (সহাবস্থান) জীবনপদ্ধতির দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যেখানে সঙ্গিনীর পেছনে তাকে কিছুই ব্যয় করতে হয় না; কারণ তার ভরণপোষণের জন্য সে আইনি বা নৈতিকভাবে বাধ্য নয়। পাশাপাশি জীবনযাপনের এই পদ্ধতি পুরুষকে এই (সুযোগ) দেয় যে, কোনো আইনি বা নৈতিক অপরাধবোধ ছাড়াই সে যখনই নতুন কোনো নারীর প্রতি আকৃষ্ট হবে, তখনই তার সঙ্গিনী পরিবর্তন করতে পারবে!
উপপত্নী সংস্কৃতির এই (প্রতিষ্ঠানের) অতিবিস্তারের কারণে এর ক্ষতিকর প্রভাব বিবাহ ব্যবস্থার ওপরও আঘাত হেনেছে। ফলে পুরুষদের দায়িত্ব এড়িয়ে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তালাকের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে এবং বৈবাহিক বিশ্বাসভঙ্গ মহামারি আকার ধারণ করেছে। এমনকি ১৯৮৮ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৭৮% ব্রিটিশ স্বামী তাদের স্ত্রীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন; একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৫ সালে এই হার ছিল ৪৭%। (১)
নিশ্চয়ই (উত্তর-আধুনিকতা) যুগে (পরিবার) একটি (সত্তা-সদৃশ!) বিষয়ে পরিণত হয়েছে যা তার মূল বাস্তবতা থেকে রিক্ত। এটি তার অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর মধ্যকার আদি ও অকৃত্রিম বন্ধন হারিয়ে ফেলেছে। ফলে এর অংশগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং এর ঐক্যের মালাটি ছিঁড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যা মানুষের মনে শূন্যতা এবং দৃষ্টির দিগন্তে একটি (ভীতিকর) সংকোচন রেখে গেছে। পরিণামে ব্যক্তি নিজেকে সকল ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন একটি নির্জন (দ্বীপ) হিসেবে অনুভব করে, যার সাথে তার বংশ এবং প্রজন্মের চিন্তা ও অনুভূতির সকল যোগসূত্র ছিন্ন হয়ে গেছে!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
العلاقة العاطفيّة بين الرجل والمرأة: في زمن محاربة الكثير من النِِِسَويّات -وهن اللواتي يَصُغن برامج وزارات الأسرة في الغرب- مؤسسة الزواج ذاتها؛ باعتبارها مؤسسة إلغاء للمرأة، صرّحت إحداهن - ((أندريا دوركن)) ((Andrea Dworkin)) - أنّ الحبّ الرومانسي هو ((احتفال أسطوري بنفي المرأة)) ، وأنّ الزواج ليس إلاّ ((اغتصابًا مشروعًا بالقانون)) ((Legalized rape)) !! (1)
لقد تحوّل الإحساس الوجداني العفوي الذي يعبّر عن صميم الذات البشريّة، إلى عنوان (هزيمة) وبصمة (استلاب) في التصوّر النِسوي لزمن ((ما بعد الحداثة)) !
هذا هو (الواقع) الفكري والقِيمي الذي يُعدّ الرافض له (رجعيًا) .. فهل (للعاقلة) اليوم أن تأنف من أن تكون (رجعيّة) ؟!
ثالثا/ أثبتت الإحصائيات العلميّة الجادة، أنّ الأفكار الحديثة التي يعدّ الرافض لها رجعيًا، تقود الآن الفرد والأسرة إلى (وادي) الإفلاس القِيمي حيث لا قمم يحثّ المرء السعي إليها للارتقاء بكيانه؛ فانتشرت بذلك الأوبئة الأخلاقيّة، والقلق المرضي، والانتحار، والتحلّل الجنسي، والشذوذ، والأمراض الفتّاكة.. وفي مقابل هذا الواقع الانحداري المنبثق من تحلّل الإنسان من نواة إنسانيته وأصالتها، استبان للراصدين للواقع الغربي وتحوّلاته، أنّ الأنظمة المحافظة أخلاقيًا والتي كانت لها اليد العليا في الغرب في زمن ما قبل الحداثة، كانت أفضل وأجدى وأنفع للفرد والأسرة والمجتمع (2) .. فهل يجوز للمرء أن يعاند الحقائق، ويعانق الأوافل، ويترك النافع الهادي ليأخذ بالفاسد الضار؛ لمجرّد أنّ الفاسد هو (الجديد) ، وأنّ النافع من (القديم) المتصرّم؟!!
--------------------------------------------
পুরুষ ও নারীর মধ্যকার আবেগীয় সম্পর্ক: অনেক নারীবাদীর—যারা পাশ্চাত্যের পরিবার বিষয়ক মন্ত্রণালয়গুলোর কর্মসূচি প্রণয়ন করেন—বিবাহ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেই যুদ্ধের এই যুগে, যেখানে তারা একে নারীর অস্তিত্ব বিলোপকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করেন; তাদেরই একজন—আন্দ্রেয়া ডওয়ার্কিন (Andrea Dworkin)—দাবি করেছেন যে, রোমান্টিক ভালোবাসা হলো "নারীকে নির্বাসিত করার এক পৌরাণিক উদ্যাপন", আর বিবাহ হলো "আইনসম্মত ধর্ষণ" (Legalized rape) ব্যতীত আর কিছুই নয়!! (১)
সেই স্বতঃস্ফূর্ত আবেগীয় অনুভূতি যা মানবসত্তার অন্তঃস্থলের প্রকাশ ঘটায়, তা উত্তর-আধুনিক যুগের নারীবাদী চিন্তাধারায় 'পরাজয়' এবং 'বঞ্চনার' প্রতীকে পরিণত হয়েছে!
এটিই হলো সেই বুদ্ধিবৃত্তিক ও মূল্যবোধগত 'বাস্তবতা', যার বিরোধিতাকারীকে 'প্রতিক্রিয়াশীল' হিসেবে গণ্য করা হয়। তাহলে বর্তমানের কোনো 'বুদ্ধিমতী' নারীর জন্য 'প্রতিক্রিয়াশীল' হওয়া কি অনীহার বিষয় হতে পারে?!
তৃতীয়ত/ নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পরিসংখ্যানগুলো প্রমাণ করেছে যে, আধুনিক চিন্তাধারাগুলো—যার বিরোধিতাকারীকে প্রতিক্রিয়াশীল বলা হয়—বর্তমানে ব্যক্তি ও পরিবারকে মূল্যবোধের দেউলিয়াত্বের এক 'উপত্যকায়' নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে মানুষের সত্তার উত্তরণের লক্ষ্যে প্রচেষ্টার কোনো উচ্চশিখর অবশিষ্ট নেই। এর ফলে ছড়িয়ে পড়েছে নৈতিক মহামারি, অসুস্থ মানসিক উদ্বেগ, আত্মহত্যা, যৌন অবক্ষয়, বিকৃতি এবং প্রাণঘাতী রোগসমূহ। মানুষের মানবিকতার কেন্দ্রবিন্দু ও মৌলিকতা থেকে বিচ্যুত হওয়ার ফলে সৃষ্ট এই অধঃপতনের বিপরীতে, যারা পশ্চিমা বাস্তবতা ও এর পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করেন তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, নৈতিকভাবে রক্ষণশীল ব্যবস্থাগুলো—যা প্রাক-আধুনিক যুগে পাশ্চাত্যে আধিপত্য বিস্তার করেছিল—তা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য অনেক বেশি উত্তম, কার্যকর ও উপকারী ছিল (২)। এমতাবস্থায় কোনো ব্যক্তির জন্য কি সমীচীন হবে বাস্তবতাকে অস্বীকার করা, বিলীন হওয়া বিষয়গুলোকে আঁকড়ে ধরা এবং কেবল এই কারণে উপকারী ও সঠিক পথ বর্জন করে ধ্বংসাত্মক ও ক্ষতিকর পথ গ্রহণ করা যে, ক্ষতিকরটি 'নতুন' আর উপকারীটি অপসৃত 'পুরাতন' থেকে এসেছে?!!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
رابعا/ الدعوة إلى التبرّج هي أيضًا دعوة إلى الرجعيّة والعودة إلى ما كانت عليه حضارات
قديمة وفلسفات كانت تمجّد حريّة المرأة في أن تفعل ما يحلو لها كالإبيقوريّة (1) والمزدكية (2) وغيرهما.. فهي ليست دعوة خرجت لتوّها من رحم (الإبداع) ، كما أنّها ليست من طريف الفكر الإنساني!
ولا يصحّ أن يُعترض علينا في هذا المقام، بأنّ المنكرين للحجاب والراغبين في السفور لا يدعون إلى كشف المرأة مفاتنها من باب تقليد الحضارات القديمة، وإنّما من باب موافقة صواب هذه الآراء.. لأننا سنقول نحن أيضًا؛ إننا لا ندعو المرأة إلى التزام الحجاب، لمجرّد أنّ الأمم السالفة أو الأجيال المسلمة السابقة قد فعلت ذلك، وإنما لأنّه الحقّ من ربّ العالمين!
خامسا/ تحدّث ((ساركوزي)) -رئيس فرنسا ذات التاريح الاستعماري البغيض- عن (الحجاب) الإسلامي؛ فأتى بمرّ القول وشنيع الدعوى؛ إذ قد صوّر الإسلام على أنّه يختزل المرأة في أنّها (عورة) لا بدّ أن تمنع أنفاسها من معانقة أنسام الحريّة، ممّا يعارض الأنموذج الغربي (الراقي) (!) للمرأة الحديثة، ذاك الأنموذج الذي لا يمكن أن تترددّ المرأة في أيّ مكان كان من أن تأخذ به وتتشبّث بأهدابه؛ فهو جزء أصيل من المنظومة الفكريّة والقِيميّة الغربيّة التي تمثّل (ذروة) (!) ما بلغه (الإنسان) ..!!؟ لكنّ ((ساركوزي)) في حقيقة نفسه، وفي قرارة قناعته يعلم أنّ الإسلام كتصوّر إيماني يَصِل الدنيا بالآخرة، والزمني بالمطلق، وكممارسة ماديّة ذات جذور أيديولوجيّة متماسكة ومتناغمة مع أجزائها، لا يمكن أن تقف أمامه ثقافة
--------------------------------------------
চতুর্থত/ প্রদর্শনপ্রিয়তা বা বেপর্দা (تبرج) হওয়ার প্রতি আহ্বান জানানো মূলত পশ্চাৎমুখিতারই ডাক এবং এমন কিছু প্রাচীন সভ্যতা ও দর্শনের দিকে ফিরে যাওয়া যা নারীর যথেচ্ছাচারকে মহিমান্বিত করত, যেমন: এপিকিউরিবাদ (১) ও মাজদাকবাদ (২) ইত্যাদি। সুতরাং এটি এমন কোনো ডাক নয় যা কেবল এইমাত্র 'সৃজনশীলতার' গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে, আর এটি মানবীয় চিন্তাধারার কোনো অভিনব বিষয়ও নয়!
এই পর্যায়ে আমাদের ওপর এমন আপত্তি তোলা সঠিক হবে না যে, যারা পর্দার বিরোধী এবং সৌন্দর্য উন্মুক্ত (سفور) রাখার পক্ষপাতী, তারা প্রাচীন সভ্যতার অন্ধ অনুকরণে নারীর রূপ-সৌন্দর্য প্রকাশের আহ্বান জানায় না, বরং এই মতাদর্শগুলোর নির্ভুলতার নিরিখে তারা এটি করে থাকে... কারণ আমরাও বলব; আমরা নারীকে কেবল এই কারণে পর্দা পালনের আহ্বান জানাই না যে, পূর্ববর্তী উম্মত বা বিগত মুসলিম প্রজন্মসমূহ তা পালন করত, বরং এই কারণে যে—এটি রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অবধারিত সত্য!
পঞ্চমত/ ঘৃণ্য ঔপনিবেশিক ইতিহাসের দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সারকোজি ইসলামি পর্দা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে অত্যন্ত তিক্ত ও জঘন্য দাবি পেশ করেছেন। তিনি ইসলামকে এমনভাবে চিত্রায়িত করেছেন যেন এটি নারীকে কেবল এক গোপনযোগ্য বিষয় বা সতর (عورة) হিসেবেই সীমাবদ্ধ করে ফেলে, যার নিশ্বাসকে স্বাধীনতার স্নিগ্ধ বাতাসের পরশ থেকে বঞ্চিত করা আবশ্যক। এটি আধুনিক নারীর সেই ‘উন্নত’ (!) পশ্চিমা মডেলের পরিপন্থী, যে মডেল গ্রহণে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের নারী দ্বিধাবোধ করবে না এবং যা তারা আঁকড়ে ধরবে। এটি পশ্চিমা বুদ্ধিবৃত্তিক ও মূল্যবোধ ব্যবস্থার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা ‘মানুষের’ অর্জিত সফলতার ‘চূড়ান্ত শিখর’ (!) হিসেবে বিবেচিত হয়...!!? কিন্তু সারকোজি নিজের অন্তরে এবং দৃঢ় বিশ্বাসের গহীনে জানেন যে, ইসলাম এমন এক ঈমানি রূপরেখা যা দুনিয়াকে আখিরাতের সাথে এবং নশ্বরতাকে শাশ্বতের সাথে সংযুক্ত করে। আর এটি এমন এক সুসংগত মতাদর্শিক শেকড় সমৃদ্ধ বস্তুনিষ্ঠ চর্চা যার প্রতিটি অংশ একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; কোনো সংস্কৃতিই এর সামনে টিকে থাকতে পারে না—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أوروبا في زمن ((ما بعد الحداثة)) ، حيث الثقافة (التهادميّة) والاختزال المُشطّ (1) ؛ ولذلك قال هو نفسهُ بالحرف: ((إنّ أسلمة أوروبا تُعد أمراً لا يمكن تفاديه.)) ((l’islamisation de l’Europe est inéluctable)) !! (2)
فليست دعاوى ربط (الحجاب) بالرجعيّة التي روّج لها ((ساركوزي)) ، وسنّ لأجلها قانونًا يقضي بمنع المحجبات من دخول المدارس؛ إلاّ حالة دفاع نفسي متشنّج وليست هي موقفاً عقلياً بقناعات موزونة؛ إذ كيف يجتمع القول بظلامية شرائع الإسلام مع حقيقة تفوّق هذا الدين وجاذبيّته في أوروبا نفسها، رغم غياب الكيان السياسي الذي يتبنّى حمل هذا الدين إلى الأمم الغربيّة، في نفس الآن؟!!
إنّها ازدواجيّة الخطاب.. خطاب التشويه والتخدير الموجّه إلى العامة عن طريق الإعلام.. وخطاب التحذير النابع من وعي –ولو كان جزئيًا- بقدرة هذا الدين على فرض بدائله لحلّ المشاكل الفرديّة والجماعيّة المزمنة في أوروبا!
--------------------------------------------
উত্তর-আধুনিকতার ((ما بعد الحداثة)) যুগে ইউরোপ, যেখানে বিরাজ করছে ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতি এবং চরম অতি-সরলীকরণ (১); এই প্রেক্ষাপটেই তিনি নিজে অক্ষরে অক্ষরে বলেছিলেন: “ইউরোপের ইসলামায়ন এমন এক বিষয় যা এড়ানো অসম্ভব।” ((l’islamisation de l’Europe est inéluctable)) !! (২)
সারকোজি হিজাবকে পশ্চাৎপদতার সাথে যুক্ত করার যে প্রচারণা চালিয়েছেন এবং যার ভিত্তিতে হিজাব পরিহিতাদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করেছেন, তা কোনো সুশৃঙ্খল বিশ্বাসের ভিত্তিতে গৃহীত যৌক্তিক অবস্থান নয়; বরং এটি একটি সংকুচিত মনস্তাত্ত্বিক আত্মরক্ষামূলক অবস্থা মাত্র। কারণ, একই সাথে কীভাবে ইসলামের শরয়ি বিধানসমূহকে অন্ধকারাচ্ছন্ন বলা এবং খোদ ইউরোপেই এই দ্বীনের শ্রেষ্ঠত্ব ও আকর্ষণের বাস্তবতাকে অস্বীকার করা সম্ভব? অথচ পাশ্চাত্য জাতিগুলোর কাছে এই দ্বীনকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক সত্তাও বিদ্যমান নেই!!
এটি মূলত দ্বিমুখী বক্তব্য... একটি হলো বিকৃতি ও অসাড়তার বক্তব্য যা গণমাধ্যমের সাহায্যে জনসাধারণের দিকে ছুড়ে দেওয়া হয়; আর অন্যটি হলো সেই সচেতনতা প্রসূত সতর্কবার্তা—তা আংশিক হলেও—যা ইউরোপের দীর্ঘস্থায়ী ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক সমস্যা সমাধানের বিকল্প হিসেবে এই দ্বীনের সক্ষমতাকে উপলব্ধি করে তৈরি হয়েছে!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ولا يستغرب أن تصدر هذه التعليقات والمواقف من رئيس دولة لازال شعبها يعيش في (جيتو) ضيق داخل أوروبا حيث ينامون ويصحون على أمجاد التراث التليد (المجيد) ، و (الثورة الفرنسيّة) العتيقة، في عجز عن التواصل حتى مع الثقافات الأوروبيّة الأخرى، وذعر من
النموذج الثقافي الأمريكي..! (1)
الشبهة الثانية: الحجاب امتهان لكرامة المرأةيقول المعترض..: ((إنّ الإسلام يمتهن المرأة ويحطّ من قدرها ويسومها من كأس الصَغار صنوفًا؛ حتى إنّه يرى أنّها عورة تستقذر العين النظر إليها؛ فلا بدّ أن تمنع عن أعين الرجال!!!))
((إنّ القرآن يشينها بقوله: {وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُوْلِي الإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاء وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُون} (2))
--------------------------------------------
ইউরোপের অভ্যন্তরে একটি সংকীর্ণ ‘ঘেটো’র (ghetto) মধ্যে বসবাসকারী একটি জাতির রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে এ জাতীয় মন্তব্য ও অবস্থান প্রকাশ পাওয়া আশ্চর্যজনক নয়; যেখানে তারা তাদের সুপ্রাচীন (মহিমান্বিত) ঐতিহ্যের গৌরব এবং সেকেলে (ফরাসি বিপ্লব)-এর স্মৃতি নিয়ে দিনাতিপাত করে। এমনকি অন্যান্য ইউরোপীয় সংস্কৃতির সাথে যোগাযোগ স্থাপনেও তারা অক্ষম এবং আমেরিকান সাংস্কৃতিক মডেলের ভয়ে আতঙ্কিত..! (১)
দ্বিতীয় সংশয়: হিজাব নারীর মর্যাদার অবমাননাআপত্তিকারী বলেন: ((“নিশ্চয়ই ইসলাম নারীকে লাঞ্ছিত করে, তার মর্যাদাহানি করে এবং তাকে বিভিন্নভাবে তুচ্ছজ্ঞান করে; এমনকি ইসলাম নারীকে কেবল একটি লজ্জাস্থান বা আবৃত অংশ (عورة) মনে করে, যার দিকে তাকালে চোখ অপবিত্র হয়ে যায়; তাই তাকে অবশ্যই পুরুষদের দৃষ্টি থেকে দূরে রাখতে হবে!!!”))
((“নিশ্চয়ই কুরআন তাকে এই বলে কলঙ্কিত করে: {আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে টেনে দেয়। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে কেবল তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, তাদের নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌনকামনাহীন অনুগামী এবং ঐসব শিশু যারা নারীদের গোপনীয় অঙ্গ (عورات) সম্পর্কে এখনও সচেতন হয়নি, তাদের ছাড়া। আর তারা যেন নিজেদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।} (২)”))
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হিজাব শারীয়াতুল্লাহি ফিল ইসলামি ওয়াল ইয়াহুদিয়াতি ওয়ান নাসরানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الجواب:
أولًا/ ما هي كرامة المرأة التي يخشى المعترض أن تُهدر إن لبست المرأة الحجاب؟!!
هل كرامتها التي يجب أن تصان، هي إثبات حقّها في أن تتعرّى، وتكشف مفاتنها، وتخاطب غرائز الرجال بلغة الإثارة؟!
هل صميم كرامتها هو في أن تشغل وقتها في التزيّن والتعطّر واللهاث وراء (تقليعات) التسريحات والفساتين؛ حتى تلوي أعناق الرجال في الطرقات والمحلاّت العامة؟!
هل لبّ كرامتها هو في أن تُختزل في لحمها وألوان ثيابها؟!
هل عين كرامتها هي في نضارة شبابها التي ينتشي بها الباحثون عمّا يفتن العيون؟!
عن أيّة كرامة يتحدّث المعترض؟!
أين كرامة إنسانيّة المرأة؟!
أين شرف عقل المرأة؟!
أين قيمة المرأة الأم؟!
القضيّة عند هؤلاء، لا تخرج عن اثنين.. إمّا ترديد ببغائيّ لما يقوله الدسّاسون دون وعي..! أو عمالة عن وعي وتدبير!
لقد ظلّ هؤلاء الذين يدّعون نصرة المرأة، يحاربون الحجاب على أنّه يقمع حقّ المرأة في الاختيار، ويجبرها على أن تفعل ما لا تريد.. ولمّا أعلنت فرنسا عدوانها على الحجاب بمنع البنت التي تغطّي رأسها بقطعة قماش من طلب العلم في المدارس والجامعات ولو أقسمت لهم بالذات المقدّسة والأيمان المغلّظة أنّها ترتدي الحجاب عن قناعة ويقين وحبّ، سكت دعاة (حريّة) المرأة وحقّها في (الاختيار) .. فأين إذن ذهبت (كرامة المرأة) التي يدافعون عنها ويدفعون عنها-بزعمهم- عدوان (الظلاميين) ؟ أليس حقّ المرأة عندهم في أن تغطّي رأسها جزءًا من كرامتها الآدميّة.. أم أنّ كرامة المرأة لا تلتقي مع (الستر) ، وإنّما هي فقط موصولة (بالعري) ؟!!
উত্তর:
প্রথমত/ আপত্তিকারী নারীর কোন মর্যাদার হানি হওয়ার আশঙ্কা করছেন যদি নারী হিজাব পরিধান করে?!!
তার যে মর্যাদা রক্ষা করা আবশ্যক, তা কি নগ্ন হওয়ার অধিকার সাব্যস্ত করা, নিজের রূপ-যৌবন উন্মুক্ত করা এবং উত্তেজনাকর ভাষায় পুরুষের কামভাবকে প্ররোচিত করা?!
তার মর্যাদার মূল কি কেবল প্রসাধন, সুগন্ধি এবং নিত্যনতুন কেশবিন্যাস ও পোশাকের মোহে মগ্ন থেকে সময় অতিবাহিত করা; যাতে রাস্তাঘাট ও জনসমাগমস্থলে পুরুষদের দৃষ্টি সেদিকে আকৃষ্ট হয়?!
তার মর্যাদার নির্যাস কি কেবল তার রক্ত-মাংসের দেহ এবং পোশাকের বর্ণের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া?!
তার প্রকৃত মর্যাদা কি তার যৌবনের সেই লাবণ্যের মাঝে, যা দ্বারা তারা প্রফুল্ল হয় যারা কেবল কামোদ্দীপক সৌন্দর্যের সন্ধানে ঘোরে?!
আপত্তিকারী কোন ধরণের মর্যাদার কথা বলছেন?!
নারীর মানবিক মর্যাদা কোথায়?!
নারীর বুদ্ধিবৃত্তিক সম্মান কোথায়?!
মা হিসেবে নারীর মূল্য কোথায়?!
এদের কাছে বিষয়টি দুটির বাইরে নয়.. হয় অবচেতনভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের কথার তোতাপাখির মতো পুনরাবৃত্তি করা..! অথবা সচেতনভাবে ও সুপরিকল্পিতভাবে দালালি করা!
যারা নারী অধিকারের দাবিদার, তারা দীর্ঘকাল ধরে হিজাবকে এই অজুহাতে আক্রমণ করে আসছে যে এটি নারীর পছন্দের অধিকারকে খর্ব করে এবং তাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করে যা সে চায় না.. অথচ যখন ফ্রান্স হিজাবের বিরুদ্ধে তার বিদ্বেষ প্রকাশ করল এবং যে মেয়ে এক টুকরো কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে রাখে তাকে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত করল—যদিও সে পবিত্র সত্তার কসম খেয়ে এবং সুদৃঢ় শপথের মাধ্যমে তাদের জানায় যে সে পূর্ণ উপলব্ধি, বিশ্বাস ও ভালোবাসার সাথেই হিজাব পরিধান করেছে—তখন সেই নারীর (স্বাধীনতা) এবং (পছন্দের) অধিকারের প্রবক্তারা নীরব হয়ে গেল.. তবে কি সেই (নারীর মর্যাদা) বিলীন হয়ে গেল যা তারা রক্ষা করে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী যার মাধ্যমে তারা (অন্ধকারাচ্ছন্নদের) আগ্রাসন প্রতিহত করে? তাদের নিকট নারীর মাথা ঢেকে রাখার অধিকার কি তার মানবিক মর্যাদার অংশ নয়.. নাকি নারীর মর্যাদা (আচ্ছাদন)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং তা কেবল (নগ্নতা)-র সাথেই সম্পৃক্ত?!!