(খণ্ড: ১) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة   (اللالكائي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة

المؤلف: أبو القاسم هبة الله بن الحسن بن منصور الطبري الرازي اللالكائي (ت 418 هـ)

تحقيق: أحمد بن سعد بن حمدان الغامدي [ت 1434 هـ]

الناشر: دار طيبة - السعودية

الطبعة: الثامنة، 1423 هـ / 2003 م

عدد الأجزاء: 9 أجزاء (4 مجلدات) - الجزء 9 تجده منفردا باسم: كرامات الأولياء

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ   (লালকায়ী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ

লেখক: আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন মানসুর আত-তাবারী আর-রাজী আল-লালকায়ী (মৃ. ৪১৮ হি.)

তাহকীক: আহমদ বিন সাদ বিন হামদান আল-গামিদী [মৃ. ১৪৩৪ হি.]

প্রকাশক: দার তাইয়িবাহ - সৌদি আরব

সংস্করণ: অষ্টম، ১৪২৩ হি. / ২০০৩ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ৯ খণ্ড (৪ ভলিউম) - ৯ম খণ্ডটি স্বতন্ত্রভাবে এই নামে পাবেন: কারামাতুল আউলিয়া

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مقدمة المؤلف]

بسم الله الرحمن الرحيم

رَبِّ يَسِّرْ وَلَا تُعَسِّرْ

حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّهَاوِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ السِّلَفِيُّ الْأَصْبَهَانِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا شَيْخُنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ زَكَرِيَّا الطُّرَيْثِيثِيُّ بِبَغْدَادَ حَدَّثَكُمُ الشَّيْخُ أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مَنْصُورٍ الطَّبَرِيُّ الْحَافِظُ فِي رَبِيعٍ الْأَوَّلِ سَنَةَ سِتَّ عَشْرَةَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَظْهَرَ الْحَقَّ وَأَوْضَحَهُ، وَكَشَفَ عَنْ سَبِيلِهِ وَبَيَّنَهُ، وَهَدَى مَنْ شَاءَ مِنْ خَلْقِهِ إِلَى طَرِيقِهِ، وَشَرَحَ بِهِ صَدْرَهُ، وَأَنْجَاهُ مِنَ الضَّلَالَةِ حِينَ أَشْفَا عَلَيْهَا، فَحَفِظَهُ وَعَصَمَهُ مِنَ الْفِتْنَةِ فِي دِينِهِ، فَأَنْقَذَهُ مِنْ مَهَاوِي الْهَلَكَةِ، وَأَقَامَهُ عَلَى سُنَنِ الْهُدَى وَثَبَّتَهُ، وَآتَاهُ الْيَقِينَ فِي اتِّبَاعِ رَسُولِهِ وَصَحَابَتِهِ وَوَفَّقَهُ، وَحَرَسَ قَلْبَهُ مِنْ وَسَاوِسِ الْبِدْعَةِ وَأَيَّدَهُ،
[লেখকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

হে আমার প্রতিপালক, সহজ করে দিন এবং কঠিন করবেন না

শায়খ ইমাম আলেম আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বিন আব্দুল্লাহ আর-রুহাভী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শায়খ ইমাম আলেম হাফেজ আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সিলাফী আল-আসবাহানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বাগদাদে আমাদের শায়খ আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন যাকারিয়া আত-তুরাইথীসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, শায়খ আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন মানসুর আত-তাবারী আল-হাফেজ চারশত ষোল হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে আপনাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সত্যকে প্রকাশ ও স্পষ্ট করেছেন, এবং তাঁর পথ উন্মোচন ও বর্ণনা করেছেন, আর তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে চেয়েছেন তাঁর পথের দিকে হেদায়েত দান করেছেন এবং তার বক্ষকে এর জন্য প্রশস্ত করেছেন, এবং তাকে পথভ্রষ্টতা থেকে উদ্ধার করেছেন যখন সে তার দ্বারপ্রান্তে ছিল; অতঃপর তাকে রক্ষা করেছেন এবং তার দ্বীনের ব্যাপারে ফেতনা থেকে তাকে নিরাপদ রেখেছেন, ফলে তাকে ধ্বংসের গহ্বর থেকে উদ্ধার করেছেন এবং তাকে হেদায়েতের পথে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ও অটল রেখেছেন, এবং তাঁর রাসূল ও তাঁর সাহাবীদের অনুসরণের ক্ষেত্রে তাকে নিশ্চিত বিশ্বাস দান করেছেন ও তাওফিক দিয়েছেন, আর তার অন্তরকে বিদআতের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করেছেন এবং তাকে শক্তিশালী করেছেন,
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وَأَضَلَّ مَنْ أَرَادَ مِنْهُمْ وَبَعَّدَهُ، وَجَعَلَ عَلَى قَلْبِهِ غِشَاوَةً، وَأَهْمَلَهُ فِي غَمْرَتِهِ سَاهِيًا، وَفِي ضَلَالَتِهِ لَاهِيًا، وَنَزَعَ مِنْ صَدْرِهِ الْإِيمَانَ، وَابْتَزَّ مِنْهُ الْإِسْلَامَ، وَتَيَّهَهُ فِي أَوْدِيَةِ الْحَيْرَةِ، وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَبَصَرِهِ؛ لِيَبْلُغَ الْكِتَابُ فِيهِ أَجَلَهُ، وَيَتَحَقَّقَ الْقَوْلُ عَلَيْهِ بِمَا سَبَقَ مِنْ عِلْمِهِ فِيهِ مِنْ قَبْلِ خَلْقِهِ لَهُ وَتَكْوِينِهِ إِيَّاهُ؛ لِيَعْلَمَ عِبَادُهُ أَنَّ إِلَيْهِ الدَّفْعَ وَالْمَنْعَ، وَبِيَدِهِ الضُّرَّ وَالنَّفْعَ، مِنْ غَيْرِ غَرَضٍ لَهُ فِيهِ، وَلَا حَاجَةٍ بِهِ إِلَيْهِ، لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ، إِذْ لَمْ يُطْلِعْ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا، وَلَا جَعَلَ السَّبِيلَ إِلَى عِلْمِهِ فِي خَلْقِهِ أَبَدًا، لَا الْمُحْسِنُ اسْتَحَقَّ الْجَزَاءَ مِنْهُ بِوَسِيلَةٍ سَبَقَتْ مِنْهُ إِلَيْهِ، وَلَا الْكَافِرُ كَانَ لَهُ جُرْمٌ أَوْ جَرِيرَةٌ حِينَ قَضَى وَقَدَّرَ النَّارَ عَلَيْهِ، فَمَنْ أَرَادَ أَنْ يَجْعَلَهُ لِإِحْدَى الْمَنْزِلَتَيْنِ أَلْهَمَهُ إِيَّاهَا، وَجَعَلَ مَوَارِدَهُ وَمَصَادِرَهُ نَحْوَهَا، وَمُتَقَلَّبَهُ وَمُتَصَرَّفَاتِهِ فِيهَا، وَكَدَّهُ وَجَهْدَهُ وَنَصَبَهُ عَلَيْهَا؛ لِيَتَحَقَّقَ وَعْدُهُ الْمَحْتُومُ، وَكِتَابُهُ الْمَخْتُومُ، وَغَيْبُهُ الْمَكْتُومُ، {وَالَّذِينَ آمَنُوا مُشْفِقُونَ مِنْهَا وَيَعْلَمُونَ أَنَّهَا الْحَقُّ} [الشورى: 18] مِنْ رَبِّهِمْ، {وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ} [البقرة: 257] .

وَنَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ الَّذِي لَا شَرِيكَ لَهُ، الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ وَيُنْشِئُ وَيُقِيتُ وَيُبْدِئُ وَيُعِيدُ، شَهَادَةَ مُقِرٍّ بِعُبُودِيَّتِهِ، وَمُذْعِنٍ بِأُلُوهِيَّتِهِ، وَمُتَبَرِّئٍ عَنِ الْحَوْلِ وَالْقُوَّةِ إِلَّا بِهِ،
এবং তিনি তাদের মধ্যে যাকে চেয়েছেন তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন ও দূরে সরিয়ে দিয়েছেন, এবং তার হৃদয়ের ওপর আবরণ ফেলে দিয়েছেন, এবং তাকে তার বিভ্রান্তিতে বিস্মৃত অবস্থায় ও তার পথভ্রষ্টতায় মত্ত অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি তার বক্ষ থেকে ঈমান ছিনিয়ে নিয়েছেন, তার থেকে ইসলাম অপসারিত করেছেন এবং তাকে দিশেহারা অবস্থার উপত্যকায় দিগভ্রান্ত করেছেন। আর তিনি তার শ্রবণ ও দৃষ্টির ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন; যাতে তার ব্যাপারে কিতাবের নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয় এবং তার ওপর সেই কথা বাস্তবায়িত হয় যা তাকে সৃষ্টি করার ও অস্তিত্ব দেওয়ার পূর্বেই তাঁর পূর্বজ্ঞানে নির্ধারিত ছিল। যেন তাঁর বান্দারা জানতে পারে যে, কোনো কিছু রদ করা বা নিবারণ করা কেবল তাঁরই অধিকারে, এবং ক্ষতি ও উপকার তাঁরই হাতে; এতে তাঁর কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নেই এবং এর কোনো প্রয়োজনও তাঁর নেই। তিনি যা করেন সে সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে। যেহেতু তিনি তাঁর অদৃশ্যের খবর কাউকে অবগত করেননি এবং তাঁর সৃষ্টির জন্য তাঁর সেই বিশেষ জ্ঞানের দিকে কোনো পথও রাখেননি। কোনো সৎকর্মশীল ব্যক্তি তার কোনো পূর্ববর্তী মাধ্যমের দ্বারা তাঁর নিকট থেকে প্রতিদান পাওয়ার অধিকার লাভ করেনি, আর কাফেরের ওপর যখন তিনি জাহান্নামের ফয়সালা ও তকদির নির্ধারণ করেছিলেন তখন তার কোনো অপরাধ বা পাপাচার ছিল না। অতএব তিনি যাকে যে স্তরে রাখতে চেয়েছেন তাকে সেই স্তরেরই অনুপ্রেরণা দিয়েছেন এবং তার আসা-যাওয়া ও উৎসসমূহ সেদিকেই নির্ধারণ করেছেন, তার বিচরণ ও কর্মকাণ্ড সেখানে নিবদ্ধ করেছেন এবং তার পরিশ্রম, প্রচেষ্টা ও শ্রমকে তার ওপরই ন্যস্ত করেছেন; যাতে তাঁর অমোঘ প্রতিশ্রুতি, মোহরকৃত কিতাব এবং গোপন অদৃশ্য সংবাদ বাস্তবায়িত হয়। {এবং যারা ঈমান এনেছে তারা তা থেকে ভীত থাকে এবং জানে যে তা তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য} [শূরা: ১৮]। {আর যারা কুফরি করে, তাগুত তাদের অভিভাবক; তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে বের করে নিয়ে যায়} [বাকারা: ২৫৭]।

এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন, যিনি সৃষ্টি করেন ও রিযিক দান করেন এবং যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন ও পুনরায় সৃষ্টি করবেন। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য দেওয়ার মতো যে তাঁর দাসত্বের স্বীকৃতি প্রদানকারী, তাঁর উলুহিয়্যাতের প্রতি অনুগত এবং তাঁর সাহায্য ব্যতীত সকল ক্ষমতা ও শক্তি থেকে সম্পর্কহীনতার ঘোষণাকারী।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وَنَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، بَعَثَهُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً، وَأَمَرَهُ أَنْ يَدْعُوَ النَّاسَ عَامَّةً؛ لِيُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ.

 

‌‌[أَوْجَبُ مَا عَلَى الْمَرْءِ]

أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ أَوْجَبَ مَا عَلَى الْمَرْءِ مَعْرِفَةُ اعْتِقَادِ الدِّينِ، وَمَا كَلَّفَ اللَّهُ بِهِ عِبَادَهُ مِنْ فَهْمِ تَوْحِيدِهِ وَصِفَاتِهِ وَتَصْدِيقِ رُسُلِهِ بِالدَّلَائِلِ وَالْيَقِينِ، وَالتَّوَصُّلِ إِلَى طُرُقِهَا وَالِاسْتِدْلَالِ عَلَيْهَا بِالْحُجَجِ وَالْبَرَاهِينِ.

وَكَانَ مِنْ أَعْظَمِ مَقُولٍ، وَأَوْضَحِ حُجَّةٍ وَمَعْقُولٍ:

كِتَابُ اللَّهِ الْحَقُّ الْمُبِينُ.

ثُمَّ قَوْلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَصَحَابَتِهِ الْأَخْيَارِ الْمُتَّقِينَ.

ثُمَّ مَا أَجْمَعَ عَلَيْهِ السَّلَفُ الصَّالِحُونَ.

ثُمَّ التَّمَسُّكُ بِمَجْمُوعِهَا وَالْمُقَامُ عَلَيْهَا إِلَى يَوْمِ الدِّينِ.

ثُمَّ الِاجْتِنَابُ عَنِ الْبِدَعِ وَالِاسْتِمَاعِ إِلَيْهَا مِمَّا أَحْدَثَهَا الْمُضِلُّونَ.

 

‌‌[مَا كَانَ عَلَيْهِ السَّلَفُ]

فَهَذِهِ الْوَصَايَا الْمَوْرُوثَةُ الْمَتْبُوعَةُ، وَالْآثَارُ الْمَحْفُوظَةُ الْمَنْقُولَةُ، وَطَرَايِقُ الْحَقِّ الْمَسْلُوكَةُ، وَالدَّلَائِلُ اللَّايِحَةُ الْمَشْهُورَةُ، وَالْحُجَجُ الْبَاهِرَةُ الْمَنْصُورَةُ الَّتِي عَمِلَتْ عَلَيْهَا: الصَّحَابَةُ وَالتَّابِعُونَ. وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنْ خَاصَّةِ النَّاسِ وَعَامَّتِهِمْ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَاعْتَقَدُوهَا حُجَّةً فِيمَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে তিনি সমগ্র সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করেছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি সকল মানুষকে আহ্বান করেন; যাতে তিনি জীবিতদের সতর্ক করেন এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে ফয়সালা অবধারিত হয়।

 

‌‌[মানুষের ওপর যা সবচেয়ে বেশি আবশ্যক]

এরপর: নিশ্চয়ই একজন মানুষের ওপর সবচেয়ে অপরিহার্য বিষয় হলো দ্বীনের আকিদা (বিশ্বাস) সম্পর্কে জানা এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর তাওহীদ ও সিফাত (গুণাবলি) বোঝা এবং দলিল ও নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে তাঁর রাসূলদের সত্য বলে বিশ্বাস করার যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তা অনুধাবন করা; আর এগুলোর পথে উপনীত হওয়া এবং প্রমাণ ও দলিলের মাধ্যমে সেগুলোর সপক্ষে যুক্তি পেশ করা।

আর সর্বশ্রেষ্ঠ বক্তব্য এবং সবচেয়ে স্পষ্ট ও যুক্তিগ্রাহ্য দলিল হলো:

আল্লাহর সত্য ও সুস্পষ্ট কিতাব।

অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এবং তাঁর উত্তম ও মুত্তাকী সাহাবীগণের বক্তব্য।

অতঃপর যার ওপর সালাফে সালেহীন (সৎকর্মশীল পূর্বসূরিগণ) ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

অতঃপর এগুলোর সামগ্রিক রূপকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত এর ওপর অটল থাকা।

অতঃপর বিদআতসমূহ এবং পথভ্রষ্টদের উদ্ভাবিত নবতর ভ্রান্ত মতবাদ শোনা থেকে বিরত থাকা।

 

‌‌[সালাফগণ যা অবলম্বন করেছিলেন]

এই হলো উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অনুসৃত অসিয়তসমূহ, সংরক্ষিত ও বর্ণিত বর্ণনাধারা, সত্যের অনুসৃত পথ, সুপ্রসিদ্ধ উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ এবং অকাট্য বিজয়ী প্রমাণাদি, যার ওপর সাহাবী ও তাবেয়ীগণ আমল করেছেন। আর তাঁদের পরবর্তী মুসলিমদের বিশিষ্ট ও সাধারণ সর্বস্তরের মানুষও এর ওপর আমল করেছেন এবং একেই তাঁরা নিজেদের ও রাব্বুল আলামীন আল্লাহর মধ্যে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ثُمَّ مَنِ اقْتَدَى بِهِمْ مِنَ الْأَئِمَّةِ الْمُهْتَدِينَ، وَاقْتَفَى آثَارَهُمْ مِنَ الْمُتَّبِعِينَ، وَاجْتَهَدَ فِي سُلُوكِ سَبِيلِ الْمُتَّقِينَ، وَكَانَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ.

 

‌‌[نَجَاةُ الْمُتَّبِعِينَ وَهَلَاكُ الْمُعْرِضِينَ]

فَمَنْ أَخَذَ فِي مِثْلِ هَذِهِ الْمَحَجَّةِ، وَدَاوَمَ بِهَذِهِ الْحُجَجِ عَلَى مِنْهَاجِ الشَّرِيعَةِ؛ أَمِنَ فِي دِينِهِ التَّبِعَةَ فِي الْعَاجِلَةِ وَالْآجِلَةِ، وَتَمَسَّكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى الَّتِي لَا انْفِصَامَ لَهَا، وَاتَّقَى بِالْجُنَّةِ الَّتِي يُتَّقَى بِمِثْلِهَا؛ لِيَتَحَصَّنَ بِجِملتِهَا، وَيَسْتَعْجِلَ بَرَكَتَهَا، وَيَحْمَدَ عَاقِبَتَهَا فِي الْمَعَادِ وَالْمَآبِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ.

وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْهَا وَابْتَغَى الْحَقَّ فِي غَيْرِهَا مِمَّا يَهْوَاهُ، أَوْ يَرُومُ سِوَاهَا مِمَّا تَعَدَّاهُ؛ أَخْطَأَ فِي اخْتِيَارِ بُغْيَتِهِ وَأَغْوَاهُ، وَسَلَكَهُ سَبِيلَ الضَّلَالَةِ، وَأَرَدْاهُ فِي مَهَاوِي الْهَلَكَةِ فِيمَا يَعْتَرِضُ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ بِضَرْبِ الْأَمْثَالِ وَدَفْعِهِمَا بِأَنْوَاعِ الْمِحَالِ وَالْحَيْدَةِ عَنْهُمَا بِالْقِيلِ وَالْقَالِ، مِمَّا لَمْ يُنَزِّلِ اللَّهُ بِهِ مِنْ سُلْطَانٍ، وَلَا عَرَفَهُ أَهْلُ التَّأْوِيلِ وَاللِّسَانِ، وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ عَاقِلٍ بِمَا يَقْتَضِيهِ مِنْ بُرْهَانٍ، وَلَا انْشَرَحَ لَهُ صَدْرُ مُوَحِّدٍ عَنْ فِكْرٍ أَوْ عِيَانٍ، فَقَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِ الشَّيْطَانُ، وَأَحَاطَ بِهِ الْخِذْلَانُ، وَأَغْوَاهُ بِعِصْيَانِ
অতঃপর হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণের মধ্য থেকে যারা তাদের অনুসরণ করেছে, অনুসারীদের মধ্য থেকে যারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে এবং মুত্তাকীদের পথ চলার ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালিয়েছে; আর সে ছিল তাদের সাথে যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে এবং যারা সৎকর্মশীল।

 

‌‌[অনুসারীদের মুক্তি এবং বিমুখদের ধ্বংস]

সুতরাং যে ব্যক্তি এই ধরনের স্বচ্ছ পথের ওপর চলবে এবং শরীয়তের মানহাজের ওপর এই প্রমাণসমূহ নিয়ে অবিচল থাকবে; সে দুনিয়া ও আখিরাতে তার দ্বীনের ব্যাপারে যাবতীয় মন্দ পরিণতি থেকে নিরাপদ থাকবে এবং সে এমন সুদৃঢ় রশি আঁকড়ে ধরল যা কখনো ছিঁড়ে যাওয়ার নয়। আর সে এমন ঢাল দ্বারা নিজেকে রক্ষা করল যা দ্বারা আত্মরক্ষা করা যায়; যাতে সে এর পূর্ণতার মাধ্যমে সুরক্ষিত হতে পারে, এর বরকত লাভে ত্বরান্বিত হয় এবং আল্লাহ চাইলে পরকালে ও শেষ ঠিকানায় এর পরিণামের প্রশংসা করতে পারে।

আর যে ব্যক্তি তা থেকে বিমুখ হলো এবং নিজের প্রবৃত্তির খেয়ালখুশি অনুযায়ী সত্যকে অন্য কিছুর মাঝে তালাশ করল, কিংবা এর বাইরে অন্য কিছুর ইচ্ছা পোষণ করল যা সীমা লঙ্ঘনকারী; তবে সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য নির্বাচনে ভুল করল এবং তা তাকে পথভ্রষ্ট করল। আর এটি তাকে গোমরাহীর পথে পরিচালিত করল এবং ধ্বংসের গহ্বরে নিক্ষেপ করল। কারণ সে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর ওপর বিভিন্ন উদাহরণ দেওয়ার মাধ্যমে আপত্তি উত্থাপন করেছে এবং তা প্রতিহত করার জন্য নানা প্রকার অসম্ভব যুক্তির আশ্রয় নিয়েছে এবং অনর্থক বাক্যালাপের মাধ্যমে তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আল্লাহ এ ব্যাপারে কোনো দলিল অবতীর্ণ করেননি, তাফসীর ও ভাষাবিদগণও তা জানেন না, আর কোনো দলিলাদির ভিত্তিতে কোনো বিবেকবানের অন্তরেও এমন কিছু উদিত হয়নি এবং চিন্তা কিংবা চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো একত্ববাদীর হৃদয়ও এর জন্য প্রশস্ত হয়নি। বস্তুত শয়তান তাকে কাবু করে ফেলেছে, লাঞ্ছনা তাকে পরিবেষ্টন করেছে এবং অবাধ্যতা তাকে পথভ্রষ্ট করেছে।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
الرَّحْمَنِ، حَتَّى كَابَرَ نَفْسَهُ بِالزُّورِ وَالْبُهْتَانِ.

 

‌‌[نَتَائِجُ تَحْكِيمِ الْعَقْلِ فِي أُمُورِ الشَّرِيعَةِ]

فَهُوَ دَائِبُ الْفِكْرِ فِي تَدْبِيرِ مَمْلَكَةِ اللَّهِ بِعَقْلِهِ الْمَغْلُوبِ، وَفَهْمِهِ الْمَقْلُوبِ، بِتَقْبِيحِ الْقَبِيحِ مِنْ حَيْثُ وَهِمَهُ، أَوْ بِتَحْسِينِ الْحَسَنِ بِظَنِّهِ، أَوْ بِانْتِسَابِ الظُّلْمِ وَالسَّفَهِ مِنْ غَيْرِ بَصِيرَةٍ إِلَيْهِ، أَوْ بِتَعْدِيلِهِ تَارَةً كَمَا يَخْطِرُ بِبَالِهِ، أَوْ بِتَجْوِيرِهِ أُخْرَى كَمَا يُوَسْوِسُهُ شَيْطَانُهُ، أَوْ بِتَعْجِيزِهِ عَنْ خَلْقِ أَفْعَالِ عِبَادِهِ، أَوْ بِأَنْ يُوجِبَ حُقُوقًا لِعَبِيدِهِ عَلَيْهِ قَدْ أَلْزَمَهُ إِيَّاهُ بِحُكْمِهِ لِجَهْلِهِ بِعَظِيمِ قَدْرِهِ، وَأَنَّهُ تَعَالَى لَا تَلْزَمُهُ الْحُقُوقُ، بَلْ لَهُ الْحُقُوقُ اللَّازِمَةُ وَالْفُرُوضُ الْوَاجِبَةُ عَلَى عَبِيدِهِ، وَأَنَّهُ الْمُتَفَضِّلُ عَلَيْهِمْ بِكَرَمِهِ وَإِحْسَانِهِ.

وَلَوْ رَدَّ الْأُمُورَ إِلَيْهِ وَرَأَى تَقْدِيرَهَا مِنْهُ وَجَعَلَ لَهُ الْمَشِيئَةَ فِي مُلْكِهِ وَسُلْطَانِهِ، وَلَمْ يَجْعَلْ خَالِقًا غَيْرَهُ مَعَهُ، وَأَذْعَنَ لَهُ؛ كَانَ قَدْ سَلِمَ مِنَ الشِّرْكِ وَالِاعْتِرَاضِ عَلَيْهِ.
পরম করুণাময় আল্লাহর মোকাবিলায়, শেষ পর্যন্ত সে মিথ্যা ও অপবাদের মাধ্যমে চরম ঔদ্ধত্য দেখাল।

 

‌‌[শরীয়তের বিষয়ে বিবেকের বিচারের পরিণামসমূহ]

সে তার পরাজিত বুদ্ধি ও বিকৃত বোধশক্তি দ্বারা আল্লাহর রাজত্ব পরিচালনার বিষয়ে সর্বদা চিন্তাগ্রস্ত থাকে; কখনও তার কল্পিত মন্দকে মন্দ বলা কিংবা তার ধারণা অনুযায়ী ভালোকে ভালো সাব্যস্ত করার মাধ্যমে, আবার কখনও কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ ছাড়াই তাঁর দিকে অবিচার ও নির্বুদ্ধিতার সম্বন্ধ করার মাধ্যমে, কখনও বা তার মনে যা উদয় হয় সে অনুযায়ী তাঁকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করার মাধ্যমে, আবার কখনও তার শয়তান যেভাবে কুমন্ত্রণা দেয় সে অনুযায়ী তাঁকে অন্যায়কারী বলার মাধ্যমে, কিংবা বান্দার কর্মসমূহ সৃষ্টি করতে তাঁকে অক্ষম সাব্যস্ত করার মাধ্যমে, অথবা আল্লাহর মহান মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে সে নিজের বিচারের মাধ্যমে তাঁর ওপর বান্দাদের এমন কিছু অধিকার আবশ্যক করে দেয় যা সে তাঁর ওপর বাধ্যতামূলক মনে করে। অথচ আল্লাহ তাআলা কোনো অধিকার পালনে বাধ্য নন, বরং তাঁরই রয়েছে বান্দাদের ওপর পালনীয় অধিকার ও আবশ্যকীয় কর্তব্যসমূহ; আর তিনিই আপন অনুগ্রহ ও ইহসানের মাধ্যমে তাদের প্রতি দয়াকারী।

যদি সে বিষয়গুলোকে তাঁরই দিকে অর্পণ করত এবং সেগুলোর নির্ধারণ তাঁরই পক্ষ থেকে বলে মনে করত, আর তাঁর রাজত্ব ও কর্তৃত্বে তাঁরই ইচ্ছাকে মেনে নিত এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে স্রষ্টা সাব্যস্ত না করে তাঁর প্রতি অনুগত হতো, তবে সে শিরক এবং আল্লাহর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা থেকে নিরাপদ থাকত।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
فَهُوَ رَاكِضٌ لَيْلَهُ وَنَهَارَهُ فِي الرَّدِّ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَسُنَّةِ - رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم وَالطَّعْنِ عَلَيْهِمَا، أَوْ مُخَاصِمًا بِالتَّأْوِيلَاتِ الْبَعِيدَةِ فِيهِمَا، أَوْ مُسَلِّطًا رَأْيَهُ عَلَى مَا لَا يُوَافِقُ مَذْهَبَهُ بِالشُّبُهَاتِ الْمُخْتَرَعَةِ الرَّكِيكَةِ، حَتَّى يَتَّفِقَ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ عَلَى مَذْهَبِهِ، وَهَيْهَاتَ أَنْ يَتَّفِقَ.

وَلَوْ أَخَذَ سَبِيلَ الْمُؤْمِنِينَ، وَسَلَكَ مَسْلَكَ الْمُتَّبِعِينَ، لَبَنَى مَذْهَبَهُ عَلَيْهِمَا وَاقْتَدَى بِهِمَا، وَلَكِنَّهُ مَصْدُودٌ عَنِ الْخَيْرِ مَصْرُوفٌ. فَهَذِهِ حَالَتُهُ إِذَا نَشِطَ لِلْمُحَاوَرَةِ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ.

فَأَمَّا إِذَا رَجَعَ إِلَى أَصْلِهِ وَمَا بَنَى بِدْعَتَهُ عَلَيْهِ، اعْتَرَضَ عَلَيْهِمَا بِالْجُحُودِ وَالْإِنْكِارِ، وَضَرَبَ بَعْضَهَا بِبَعْضٍ مِنْ غَيْرِ اسْتِبْصَارٍ، وَاسْتَقْبَلَ أَصْلَهُمَا بِبُهْتِ الْجَدَلِ وَالنَّظَرِ مِنْ غَيْرِ افْتِكَارٍ، وَأَخَذَ فِي الْهَزْوِ وَالتَّعَجُّبِ مِنْ غَيْرِ اعْتِبَارٍ، اسْتِهْزَاءً بِآيَاتِ اللَّهِ وَحِكْمَتِهِ، وَاجْتِرَاءً عَلَى دِينِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسُنَّتِهِ، وَقَابَلَهُمَا بِرَأْيِ النَّظَّامِ وَالْعَلَّافِ
ফলে সে দিন-রাত মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর খণ্ডন এবং সেগুলোর প্রতি অপবাদ আরোপে তৎপর থাকে; অথবা সে এগুলোর ক্ষেত্রে দূরবর্তী ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়, কিংবা নিজের উদ্ভাবিত দুর্বল সংশয়গুলোর মাধ্যমে নিজের মতাদর্শের সাথে অমিল বিষয়ের ওপর স্বীয় অভিমতকে চাপিয়ে দেয়, যাতে কিতাব ও সুন্নাহ তার মতাদর্শের অনুগামী হয়ে যায়। অথচ তা হওয়া কতই না অসম্ভব!

সে যদি মুমিনদের পথ গ্রহণ করত এবং অনুসরণকারীদের পথ অবলম্বন করত, তবে সে তার মাযহাবকে এই দুটির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলত এবং এ দুটিরই অনুসরণ করত। কিন্তু সে কল্যাণ থেকে রুদ্ধ ও বিমুখ। কিতাব ও সুন্নাহ নিয়ে আলোচনার সময় এটিই তার অবস্থা।

আর যখন সে তার মূল উৎস এবং যার ওপর সে তার বিদআত প্রতিষ্ঠা করেছে সেদিকে ফিরে যায়, তখন সে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে এ দুটির ওপর আপত্তি উত্থাপন করে এবং কোনো প্রকার অন্তর্দৃষ্টি ছাড়াই সে এগুলোর এক অংশকে অন্য অংশের সাথে সাংঘর্ষিক হিসেবে দাঁড় করায়। কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই কেবল কূটতর্ক ও কুযুক্তির মাধ্যমে সে এ দুটির মূলনীতির মোকাবিলা করে এবং কোনো শিক্ষা গ্রহণ ছাড়াই উপহাস ও বিস্ময় প্রকাশ করতে থাকে; আর এটি আল্লাহর আয়াত ও তাঁর হিকমতকে উপহাস করার জন্য এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীন ও তাঁর সুন্নাহর ওপর ধৃষ্টতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে। সে এ দুটির বিপরীতে নাজ্জাম ও আল্লাফের মতবাদকে পেশ করে।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وَالْجُبَّائِيِّ وَابْنِهِ الَّذِينَ هُمْ قَلَدَةُ دِينِهِ.

 

‌‌[جَهْلُ الْمُعْتَزِلَةِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ]

(جَهْلُ الْمُعْتَزِلَةِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ) قَوْمٌ لَمْ يَتَدَيَّنُوا بِمَعْرِفَةِ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فِي تِلَاوَةٍ أَوْ دِرَايَةٍ، وَلَمْ يَتَفَكَّرُوا فِي مَعْنَى آيَةٍ فَفَسَّرُوهَا أَوْ تَأَوَّلُوهَا عَلَى مَعْنَى اتِّبَاعِ مَنْ سَلَفَ مِنْ صَالِحِ عُلَمَاءِ الْأُمَّةِ إِلَّا عَلَى مَا أَحْدَثُوا مِنْ آرَائِهِمُ الْحَدِيثَةِ، وَلَا اغْبَرَّتْ أَقْدَامُهُمْ فِي طَلَبِ سُنَّةٍ، أَوْ عَرَفُوا مِنْ شَرَائِعِ الْإِسْلَامِ مَسْأَلَةً.

فَيَعُدُّ رَأْيَ هَؤُلَاءِ حِكْمَةً وَعِلْمًا وَحُجَجًا وَبَرَاهِينَ، وَيَعُدُّ كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ رَسُولِهِ حَشْوًا وَتَقْلِيدًا، وَحَمَلَتُهَا
এবং আল-জুব্বায়ী ও তার পুত্র, যারা ছিল তার দ্বীনের অনুসারী।

 

‌‌[কিতাব ও সুন্নাহ সম্পর্কে মুতাজিলাদের মূর্খতা]

(কিতাব ও সুন্নাহ সম্পর্কে মুতাজিলাদের মূর্খতা) এরা এমন এক কওম যারা তিলাওয়াত কিংবা অনুধাবনের মাধ্যমে আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াত জানার দ্বারা দ্বীনদারী অবলম্বন করেনি। তারা কোনো আয়াতের অর্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেনি যে তারা তা ব্যাখ্যা করবে কিংবা উম্মাহর সৎকর্মশীল পূর্বসূরি আলেমদের অনুসরণে তার মর্মোদ্ধার করবে, বরং তারা কেবল তাদের উদ্ভাবিত নতুন মতামতসমূহ অনুসরণ করেছে। সুন্নাহ সন্ধানে তাদের পদযুগল কখনো ধূলিমলিন হয়নি, এবং তারা ইসলামের শরীয়ত থেকে কোনো মাসআলা সম্পর্কেও অবগত হয়নি।

ফলে সে এদের মতামতকে প্রজ্ঞা, জ্ঞান, প্রমাণ ও দলিল হিসেবে গণ্য করে, আর আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ এবং এর বাহকদের অনর্থক ও অন্ধ অনুকরণ মনে করে।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
جُهَّالًا وَبُلْهًا - ذَلِكَ - ظُلْمًا وَعُدْوَانًا وَتَحَكُّمًا وَطُغْيَانًا.

ثُمَّ تَكْفِيرُهُ للْمُسْلِمِينَ بِقَوْلِ هَؤُلَاءِ، إِذْ لَا حُجَّةَ عِنْدَهُمْ بِتَكْفِيرِ الْأُمَّةِ إِلَّا مُخَالَفَتُهُمْ قَوْلَهُمْ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَتَبَيَّنَ لَهُمْ خَطَؤُهُمْ فِي كِتَابٍ أَوْ سُنَّةٍ، وَإِنَّمَا وَجْهُ خَطَئِهِمْ عِنْدَهُمْ إِعْرَاضُهُمْ عَمَّا نَصَبُوا مِنْ آرَائِهِمْ لِنُصْرَةِ جَدَلِهِمْ، وَتَرْكِ اتِّبَاعِهِمْ لِمَقَالَتِهِمْ، وَاسْتِحْسَانِهِمْ لِمَذَاهِبِهِمْ، فَهُوَ كَمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُنِيرٍ ثَانِيَ عِطْفِهِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَنُذِيقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَذَابَ الْحَرِيقِ} [الحج: 8] .

 

‌‌[مَوْقِفُ الْمُعْتَزِلَةِ مِنَ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ]

(مَوْقِفُ الْمُعْتَزِلَةِ مِنَ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ) ثُمَّ مَا قَذَفُوا بِهِ الْمُسْلِمِينَ مِنَ التَّقْلِيدِ وَالْحَشْوِ.

وَلَوْ كُشِفَ لَهُمْ عَنْ حَقِيقَةِ مَذَاهِبِهِمْ كَانَتْ أُصُولُهُمُ الْمُظْلِمَةُ، وَآرَاؤُهُمُ الْمُحْدَثَةُ، وَأَقَاوِيلُهُمُ الْمُنْكَرَةُ، كَانَتْ بِالتَّقْلِيدِ أَلْيَقَ، وَبِمَا انْتَحَلُوهَا مِنَ الْحَشْوِ أَخْلَقَ، إِذْ لَا إِسْنَادَ لَهُ فِي تَمَذْهُبِهِ إِلَى شَرْعٍ سَابِقٍ، وَلَا اسْتِنَادَ لِمَا يَزْعُمُهُ إِلَى قَوْلِ سَلَفِ الْأُمَّةِ بِاتِّفَاقِ مُخَالِفٍ أَوْ مُوَافِقٍ.

إِذْ فَخْرُهُ عَلَى مُخَالِفِيهِ بِحِذْقِهِ، وَاسْتِخْرَاجُ مَذَاهِبِهِ بِعَقْلِهِ وَفِكْرِهِ مِنَ الدَّقَائِقِ، وَأَنَّهُ لَمْ يَسْبِقْهُ إِلَى بِدْعَتِهِ إِلَّا مُنَافِقٌ مَارِقٌ أَوْ مُعَانِدٌ لِلشَّرِيعَةِ مُشَاقِقٌ، فَلَيْسَ بِحَقِيقٍ مَنْ هَذِهِ أُصُولُهُ أَنْ يَعِيبَ عَلَى مَنْ تَقَلَّدَ كِتَابَ اللَّهِ
অজ্ঞ ও নির্বোধ হিসেবে - তা হলো - জুলুম, শত্রুতা, যথেচ্ছাচার ও সীমালঙ্ঘন।

এরপর এই ব্যক্তিদের বক্তব্যের মাধ্যমে মুসলিমদের কাফির সাব্যস্ত করা, যেহেতু তাদের কাছে উম্মতকে কাফির ডাকার কোনো দলিল নেই—কেবলমাত্র তাদের (মুসলিমদের) এই ব্যক্তিদের মতের বিরোধিতা করা ছাড়া। অথচ কুরআন বা সুন্নাহর কোথাও তাদের (উম্মতের) ভুল স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি। বরং তাদের কাছে উম্মতের ভুলের ভিত্তি হলো তারা তাদের বিতর্ককে জয়যুক্ত করার জন্য যে মতামত দাঁড় করিয়েছে তা থেকে বিমুখ হওয়া এবং তাদের কথা অনুসরণ না করা এবং তাদের মাযহাব বা মতাদর্শকে গ্রহণ না করা। এটি ঠিক তেমন যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে কোনো জ্ঞান, কোনো হেদায়াত এবং কোনো জ্যোতির্ময় কিতাব ছাড়াই। সে সগর্বে ঘাড় বাঁকিয়ে চলে যাতে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে; তার জন্য দুনিয়ায় রয়েছে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন আমরা তাকে দহন যন্ত্রণার স্বাদ আস্বাদন করাব।} [হাজ্জ: ৮-৯] ।

 

‌‌[সুন্নাহ ও জামাআতের ব্যাপারে মুতাযিলাদের অবস্থান]

(সুন্নাহ ও জামাআতের ব্যাপারে মুতাযিলাদের অবস্থান) এরপর তারা মুসলিমদের ওপর তাকলিদ (অন্ধ অনুসরণ) এবং হাশউ (সারবত্তাহীনতা) এর যে অপবাদ দিয়েছে।

যদি তাদের কাছে তাদের মতাদর্শের প্রকৃত রূপ উন্মোচিত হতো, তবে দেখা যেত যে তাদের অন্ধকারাচ্ছন্ন মূলনীতিগুলো, তাদের উদ্ভাবিত নতুন মতামতগুলো এবং তাদের আপত্তিকর বক্তব্যগুলোই ছিল তাকলিদ বা অন্ধ অনুসরণের অধিক যোগ্য এবং তারা অন্যের প্রতি যে হাশউ বা অসারতার অভিযোগ আরোপ করেছে তার জন্য তারা নিজেরাই ছিল বেশি উপযুক্ত। কারণ তাদের মাযহাবের সপক্ষে পূর্ববর্তী কোনো শরীয়তের কোনো সূত্র নেই এবং তারা যা দাবি করে তার সপক্ষে উম্মতের সালাফদের কোনো বক্তব্য নেই—তা বিরোধী হোক বা অনুকূল হোক, সকলেই এ ব্যাপারে একমত।

যেহেতু বিরোধীদের ওপর তার গর্বের ভিত্তি হলো তার চাতুর্য এবং তার জ্ঞান ও চিন্তার মাধ্যমে সূক্ষ্ম বিষয়াদি থেকে নিজের মতাদর্শ বের করে আনা। আর তার এই বিদআতের পথে তার আগে কোনো ধর্মত্যাগী মুনাফিক অথবা শরীয়তের ঘোর বিরোধী শত্রু ছাড়া আর কেউ অগ্রসর হয়নি। সুতরাং যার মূলনীতি এমন, তার জন্য শোভা পায় না এমন ব্যক্তিকে দোষারোপ করা যে আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করেছে।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَسُنَّةَ رَسُولِهِ، وَاقْتَدَى بِهِمَا، وَأَذْعَنَ لَهُمَا، وَاسْتَسْلَمَ لِأَحْكَامِهِمَا، وَلَمْ يَعْتَرِضْ عَلَيْهِمَا بِظَنٍّ أَوْ تَخَرُّصٍ، وَاسْتِحَالَةٍ: أَنْ يَطْعَنَ عَلَيْهِ؛ لِأَنَّ بِإِجْمَاعِ الْمُسْلِمِينَ أَنَّهُ عَلَى طَرِيقِ الْحَقِّ أَقْوَمُ، وَإِلَى سُبُلِ الرَّشَادِ أَهْدَى وَأَعْلَمُ، وَبِنُورِ الِاتِّبَاعِ أَسْعَدُ، وَمِنْ ظُلْمَةِ الِابْتِدَاعِ وَتَكَلُّفِ الِاخْتِرَاعِ أَبْعَدُ وَأَسْلَمُ مِنَ الَّذِي لَا يُمْكِنُهُ التَّمَسُّكُ بِكِتَابِ اللَّهِ إِلَّا مُتَأَوِّلًا، وَلَا الِاعْتِصَامُ بِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا مُنْكِرًا أَوْ مُتَعَجِّبًا، وَلَا الِانْتِسَابُ إِلَى الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَالسَّلَفِ الصَّالِحِينَ إِلَّا مُتَمَسْخِرًا مُسْتَهْزِيًا، لَا شَيْءَ عِنْدَهُ إِلَّا مَضْغُ الْبَاطِلِ وَالتَّكَذُّبُ عَلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِهِ.

وَإِنَّمَا دِينُهُ الضَّجَاجُ وَالْبَقْبَاقُ وَالصِّيَاحُ وَاللَّقْلَاقُ، قَدْ نَبَذَ قِنَاعَ الْحَيَاءِ وَرَاءَهُ، وَأَدْرَعَ سِرْبَالَ السَّفَهِ فَاجْتَابَهُ، وَكَشَفَ بِالْخَلَاعَةِ رَأْسَهُ، وَتَحَمَّلَ أَوْزَارَهُ وَأَوْزَارَ مَنْ أَضَلَّهُ بِغَيْرِ عِلْمٍ أَلَا سَاءَ مَا يَزِرُونَ، فَهُوَ كَمَا قَالَ اللَّهُ - تَعَالَى: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا اتَّبِعُوا سَبِيلَنَا وَلْنَحْمِلْ خَطَايَاكُمْ وَمَا هُمْ بِحَامِلِينَ مِنْ خَطَايَاهُمْ مِنْ شَيْءٍ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ وَلَيَحْمِلُنَّ أَثْقَالَهُمْ وَأَثْقَالًا مَعَ أَثْقَالِهِمْ وَلَيُسْأَلُنَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَمَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ} [العنكبوت: 12] .
এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহকে (গ্রহণ করেছে), এবং এই দুটিরই ইক্তেদা করেছে, এই দুটির আনুগত্য করেছে, এই দুটির বিধানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং কোনো প্রকার ধারণা, অনুমান বা অসম্ভবতার অজুহাতে এই দুটির ওপর কোনো আপত্তি উত্থাপন করেনি। তাঁর প্রতি দোষারোপ করা অসম্ভব; কারণ মুসলমানদের ঐকমত্য অনুযায়ী তিনি সত্যের পথে সবচেয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত, সঠিক পথের দিশা পেতে অধিকতর হিদায়েতপ্রাপ্ত ও জ্ঞানী, অনুসরণের নূরের মাধ্যমে অধিকতর সৌভাগ্যবান, এবং বিদআতের অন্ধকার ও কৃত্রিম উদ্ভাবনের ক্লেশ থেকে অনেক দূরে এবং অধিক নিরাপদ ওই ব্যক্তির তুলনায়, যে আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরতে পারে না অপব্যাখ্যা করা ছাড়া, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে পারে না অস্বীকারকারী কিংবা বিস্ময় প্রকাশকারী হওয়া ছাড়া, আর সাহাবী, তাবেয়ী ও সালাফে সালেহীনের প্রতি নিজের নিসবত বা সম্বন্ধ প্রকাশ করতে পারে না বিদ্রূপ ও উপহাস করা ছাড়া। তার নিকট বাতিল বা মিথ্যার চর্বিতচর্বণ এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর নেক বান্দাদের ওপর মিথ্যা আরোপ করা ছাড়া আর কিছুই নেই।

তার ধর্ম তো কেবল হট্টগোল, অর্থহীন প্রলাপ, চিৎকার এবং বাচালতা মাত্র। সে লজ্জার আবরণকে পেছনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে, নির্বুদ্ধিতার পোশাককে নিজের আবরণে পরিণত করেছে, নির্লজ্জতার মাধ্যমে আপন মস্তক উন্মোচিত করেছে, এবং নিজের পাপের বোঝা ও যাদেরকে সে জ্ঞান ছাড়াই পথভ্রষ্ট করেছে তাদের পাপের বোঝাও সে বহন করেছে। সাবধান! তারা যা বহন করছে তা কতই না মন্দ! সে তো তেমনই যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং কাফিররা মুমিনদের বলে, তোমরা আমাদের পথ অনুসরণ করো, আমরা তোমাদের পাপভার বহন করব। অথচ তারা তাদের পাপের কিছুই বহনকারী নয়। নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। তারা অবশ্যই তাদের নিজেদের বোঝা বহন করবে এবং নিজেদের বোঝার সাথে আরও অনেক বোঝা বহন করবে। আর তারা যা মিথ্যা উদ্ভাবন করত সে সম্পর্কে কিয়ামতের দিন অবশ্যই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।} [আনকাবুত: ১২]।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
فَهُوَ فِي كَيْدِ الْإِسْلَامِ وَصَدِّ أَهْلِهِ عَنْ سَبِيلِهِ، وَنَبْذِ أَهْلِ الْحَقِّ بِالْأَلْقَابِ أَنَّهُمْ مُجَبِّرَةٌ، وَرَمْيِ أُولِي الْفَضْلِ مِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ بِقِلَّةِ بَصِيرَةٍ، وَالتَّشْنِيعِ عِنْدَ الْجُهَّالِ بِالْبَاطِلِ، وَالتَّعَدِّي عَلَى الْقُوَّامِ بِحُقُوقِ اللَّهِ وَالذَّابِّينَ عَنْ سُنَّتِهِ وَدِينِهِ، فَهُمْ كُلَّمَا أَوْقَدُوا نَارًا لِحَرْبِ أَوْلِيَائِهِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ، وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا، وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ.

 

‌‌[فَشَلُ الْعَقَائِدِ الْمُبْتَدَعَةِ أَمَامَ عَقِيدَةِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ]

(فَشَلُ الْعَقَائِدِ الْمُبْتَدَعَةِ أَمَامَ عَقِيدَةِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ) ثُمَّ إِنَّهُ مِنْ حِينِ حَدَثَتْ هَذِهِ الْآرَاءُ الْمُخْتَلِفَةُ فِي الْإِسْلَامِ، وَظَهَرَتْ هَذِهِ الْبِدَعُ مِنْ قَدِيمِ الْأَيَّامِ، وَفَشَتْ فِي خَاصَّةِ النَّاسِ وَالْعَوَامِّ، وَأُشْرِبَتْ قُلُوبُهُمْ حُبَّهَا، حَتَّى خَاصَمُوا فِيهَا بِزَعْمِهِمْ تَدَيُّنًا أَوْ تَحَرُّجًا مِنَ الْآثَارِ، لَمْ تَرَ دَعْوَتَهُمُ انْتَشَرَتْ فِي عَشَرَةٍ مِنْ مَنَابِرِ الْإِسْلَامِ مُتَوَالِيَةٍ، وَلَا أَمْكَنَ أَنْ تَكُونَ كَلِمَتُهُمْ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ عَالِيَةً، أَوْ مَقَالَتُهُمْ فِي الْإِسْلَامِ ظَاهِرَةً، بَلْ كَانَتْ دَاحِضَةً وَضِيعَةً مَهْجُورَةً، وَكَلِمَةُ أَهْلِ السُّنَّةِ ظَاهِرَةٌ، وَمَذَاهِبُهُمْ كَالشَّمْسِ نَائِرَةٌ، وَنُصُبُ الْحَقِّ زَاهِرَةٌ، وَأَعْلَامُهَا بِالنَّصْرِ مَشْهُورَةٌ، وَأَعْدَاؤُهَا بِالْقَمْعِ مَقْهُورَةٌ، يُنْطَقُ بِمَفَاخِرِهَا عَلَى أَعْوَادِ الْمَنَابِرِ، وَتُدَوَّنُ مَنَاقِبُهَا فِي الْكُتُبِ وَالدَّفَاتِرِ، وَتُسْتَفْتَحُ بِهَا الْخُطَبُ وَتُخْتَمُ، وَيُفْصَلُ بِهَا بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ وَيُحْكَمُ، وَتُعْقَدُ عَلَيْهَا الْمَجَالِسُ وَتُبْرَمُ، وَتَظْهَرُ عَلَى الْكَرَاسِيِّ وَتُدَرَّسُ وَتُعَلَّمُ. وَمَقَالَةُ أَهْلِ الْبِدَعِ لَمْ تَظْهَرْ إِلَّا بِسُلْطَانٍ قَاهِرٍ، أَوْ بِشَيْطَانٍ مُعَانِدٍ فَاجِرٍ، يُضِلُّ النَّاسَ خَفِيًّا بِبِدْعَتِهِ، أَوْ
তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং এর অনুসারীদের আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার কাজে লিপ্ত। তিনি সত্যপন্থীদের 'মুজাব্বিরা' উপাধি দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন এবং আহলুস সুন্নাহর মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অল্পজ্ঞানী বা অন্তর্দৃষ্টিহীন বলে অপবাদ দেন। তিনি মূর্খদের নিকট বাতিলের সাহায্যে কুৎসা রটনা করেন এবং যারা আল্লাহর হক প্রতিষ্ঠাকারী এবং তাঁর সুন্নাহ ও দ্বীনের প্রতিরক্ষা করেন, তাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেন। তারা যখনই আল্লাহর বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করে, আল্লাহ তা নির্বাপিত করে দেন। তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করে, আর আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না।

 

‌‌[আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদার সামনে বিদআতি আকীদাগুলোর ব্যর্থতা]

(আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদার সামনে বিদআতি আকীদাগুলোর ব্যর্থতা) অতঃপর, ইসলামে যখন থেকে এই ভিন্ন ভিন্ন মতামতের উদ্ভব হয়েছে এবং সুপ্রাচীন কাল থেকে এসব বিদআত প্রকাশিত হয়েছে, যা বিশেষ ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিস্তার লাভ করেছে এবং তাদের অন্তর এগুলোর প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে, এমনকি তারা এ নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে—তাদের ধারণা মতে দ্বীনদারির খাতিরে অথবা আসার (বর্ণনা) থেকে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য; তখন থেকে দেখা যায়নি যে তাদের দাওয়াত ইসলামের টানা দশটি মিম্বরেও ছড়িয়ে পড়েছে। মুসলমানদের মাঝে তাদের কথা উচ্চকিত হওয়া বা ইসলামে তাদের মতবাদ প্রকাশ পাওয়া সম্ভব হয়নি। বরং তা ছিল অন্তঃসারশূন্য, হীন এবং বর্জিত। বিপরীতে আহলুস সুন্নাহর কথা ছিল বিজয়ী এবং তাদের মাযহাবসমূহ সূর্যের মতো জ্যোতির্ময়। সত্যের মিনারসমূহ ছিল উজ্জ্বল, এর ঝাণ্ডা বিজয়ের জন্য সুপরিচিত এবং এর শত্রুরা অবদমিত ও পরাজিত। মিম্বরের কাষ্ঠাসনে তাদের গৌরবগাঁথা উচ্চারিত হয়, গ্রন্থ ও দপ্তরে তাদের গুণাবলি লিপিবদ্ধ হয়। খুতবাসমূহ তাদের মাধ্যমেই শুরু ও শেষ করা হয় এবং সত্য ও মিথ্যার মাঝে ফয়সালা ও বিচার তাদের মাধ্যমেই করা হয়। তাদের ওপর ভিত্তি করেই মজলিসসমূহ অনুষ্ঠিত ও সুদৃঢ় করা হয় এবং শিক্ষকতার আসনে তা প্রকাশ পায় এবং তা পড়ানো ও শেখানো হয়। আর বিদআতিদের বক্তব্য কেবল তখনই প্রকাশ পেয়েছে যখন কোনো প্রতাপশালী শাসক অথবা কোনো হঠকারী পাপাচারী শয়তান বিদ্যমান ছিল, যে তার বিদআতের মাধ্যমে গোপনে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে, অথবা...
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
يَقْهَرُ ذَاكَ بِسَيْفِهِ وَسَوْطِهِ، أَوْ يَسْتَمِيلُ قَلْبَهُ بِمَالِهِ لِيُضِلَّهُ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ؛ حَمِيَّةً لِبِدْعَتِهِ، وَذَبًّا عَنْ ضَلَالَتِهِ؛ لِيَرُدَّ الْمُسْلِمِينَ عَلَى أَعْقَابِهِمْ، وَيَفْتِنَهُمْ عَنْ أَدْيَانِهِمْ بَعْدَ أَنِ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ طَوْعًا وَكَرْهًا، وَدَخَلُوا فِي دِينِهِمَا رغْبَةً أَوْ قَهْرًا، حَتَّى كَمُلَتِ الدَّعْوَةُ، وَاسْتَقَرَّتِ الشَّرِيعَةُ.

 

‌‌[بِدَايَةُ ظُهُورِ الْبِدَعِ]

فَلَمْ تَزَلِ الْكَلِمَةُ مُجْتَمِعَةً وَالْجَمَاعَةُ مُتَوَافِرَةً عَلَى عَهْدِ الصَّحَابَةِ الْأُوَلِ، وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ السَّلَفِ الصَّالِحِينَ، حَتَّى نَبَغَتْ نَابِغَةٌ بِصَوْتٍ
তিনি তাকে তার তরবারি ও চাবুক দ্বারা পরাভূত করেন, অথবা তার ধন-সম্পদ দ্বারা তার অন্তরকে প্রলুব্ধ করেন যাতে তাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেন; এটি তার বিদআতের প্রতি গোঁড়ামিবশত এবং তার ভ্রষ্টতাকে রক্ষার নিমিত্তে; যাতে তিনি মুসলিমদের তাদের পশ্চাৎপদে ফিরিয়ে দিতে পারেন এবং তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে ফিতনায় ফেলতে পারেন, অথচ তারা স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি সাড়া দিয়েছিলেন এবং অনুরাগে বা চাপে পড়ে তাঁদের দ্বীনে প্রবেশ করেছিলেন, যতক্ষণ না দাওয়াত পূর্ণ হলো এবং শরীয়ত সুপ্রতিষ্ঠিত হলো।

 

‌‌[বিদআতের আত্মপ্রকাশের সূচনা]

প্রথম যুগের সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী সালাফে সালেহীনের যুগে ঐক্য সর্বদা বজায় ছিল এবং জামাআত সুসংহত ছিল, যতক্ষণ না এক উদীয়মান গোষ্ঠী আওয়াজ তুলে আবির্ভূত হলো
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
غَيْرِ مَعْرُوفٍ، وَكَلَامٍ غَيْرِ مَأْلُوفٍ فِي أَوَّلِ إِمَارَةِ الْمَرْوَانِيَّةِ فِي الْقَدَرِ وَتَتَكَلَّمُ فِيهِ، حَتَّى سُئِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، فَرَوَى لَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْخَبَرَ بِإِثْبَاتِ الْقَدَرِ وَالْإِيمَانِ بِهِ، وَحَذَّرَ مِنْ خِلَافِهِ، وَأَنَّ ابْنَ عُمَرَ مِمَّنْ تَكَلَّمَ بِهَذَا أَوِ اعْتَقَدَهُ بَرِيءٌ مِنْهُ وَهُمْ بُرَءَاءُ مِنْهُ، وَكَذَلِكَ عُرِضَ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَغَيْرِهِمَا، فَقَالَا لَهُ مِثْلَ مَقَالَتِهِ، وَسَنَذْكُرُ هَذِهِ الْأَقَاوِيلَ بِأَسَانِيدِهَا وَأَلْفَاظِهَا فِي الْمَوَاضِعِ الَّتِي تَقْتَضِيهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ.

 

‌‌[مَا تَعَرَّضَتْ لَهُ الْقَدَرِيَّةُ مِنَ الْعُلَمَاءِ وَالْحُكَّامِ]

ثُمَّ انْطَمَرَتْ هَذِهِ الْمَقَالَةُ، وَانْجَحَرَ مَنْ أَظْهَرَهَا فِي جُحْرِهِ، وَصَارَ مَنِ اعْتَقَدَهَا جَلِيسَ مَنْزِلِهِ، وَخَبَّأَ نَفْسَهُ فِي السِّرْدَابِ كَالْمَيِّتِ فِي قَبْرِهِ؛ خَوْفًا مِنَ الْقَتْلِ وَالصَّلْبِ وَالنَّكَالِ وَالسَّلْبِ مِنْ طَلَبِ الْأَئِمَّةِ لَهُمْ؛ لِإِقَامَةِ حُدُودِ اللَّهِ عز وجل فِيهِمْ، وَقَدْ أَقَامُوا فِي كَثِيرٍ مِنْهُمْ، وَنَذْكُرُ فِي مَوَاضِعِهِ أَسَامِيَهُمْ، وَحَثَّ الْعُلَمَاءِ عَلَى طَلَبِهِمْ، وَأَمَرُوا الْمُسْلِمِينَ بِمُجَانَبَتِهِمْ، وَنَهَوْهُمْ عَنْ مُكَالَمَتِهِمْ وَالِاسْتِمَاعِ إِلَيْهِمْ وَالِاخْتِلَاطِ بِهِمْ؛ لِسَلَامَةِ أَدْيَانِهِمْ، وَشَهَّرُوهُمْ عِنْدَهُمْ بِمَا انْتَحَلُوا مِنْ آرَائِهِمُ الْحَدِيثَةِ، وَمَذَاهِبِهِمُ الْخَبِيثَةِ؛ خَوْفًا مِنْ مَكْرِهِمْ أَنْ يُضِلُّوا مُسْلِمًا عَنْ دِينِهِ بِشُبْهَةٍ وَامْتِحَانٍ، أَوْ بِزُخْرُفِ قَوْلٍ مِنْ لِسَانٍ، وَكَانَتْ حَيَاتُهُمْ كَوَفَاةٍ،
মারওয়ানি শাসনের শুরুতে তাকদীর সম্পর্কে এক অপরিচিত এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা প্রকাশ পায় এবং এ বিষয়ে আলোচনা হতে থাকে। এমনকি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে তাকদীর সাব্যস্তকরণ এবং এর ওপর ঈমান আনার সংবাদ বর্ণনা করেন। তিনি এর বিরোধিতার ব্যাপারে সতর্ক করেন এবং ঘোষণা দেন যে, ইবনে উমর এই কথা বা বিশ্বাসের ধারকদের থেকে মুক্ত এবং তারাও তার থেকে মুক্ত। অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস (রা.), আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) এবং অন্যান্যদের কাছেও বিষয়টি পেশ করা হলে তাঁরাও তাঁর (ইবনে উমর) মতো একই কথা বলেন। আমরা এই উক্তিগুলো অচিরেই তাদের সনদ এবং মূল শব্দসহ যথাস্থানে উল্লেখ করব, ইনশাআল্লাহ।

 

‌‌[কাদারিয়া সম্প্রদায় উলামা এবং শাসকদের পক্ষ থেকে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল]

অতঃপর এই মতবাদটি বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং যারা এটি প্রকাশ করেছিল তারা আত্মগোপন করে। যারা এটি বিশ্বাস করত তারা গৃহবন্দী হয়ে পড়ে এবং হত্যার ভয়, ক্রুশবিদ্ধ হওয়া, কঠোর শাস্তি এবং সম্পদ ছিনিয়ে নেয়ার ভয়ে ভূগর্ভস্থ কক্ষে মৃত ব্যক্তির মতো নিজেকে লুকিয়ে রাখে। কারণ ইমামগণ (শাসকগণ) তাদের ওপর আল্লাহর বিধান কার্যকর করার জন্য তাদের অনুসন্ধান করছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা তাদের অনেকের ওপরই দণ্ডবিধি কার্যকর করেছিলেন। আমরা যথাস্থানে তাদের নামসমূহ উল্লেখ করব। উলামাগণ তাদের খুঁজে বের করার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন এবং মুসলমানদের তাদের এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। দ্বীনকে নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে তাদের সাথে কথা বলতে, তাদের কথা শুনতে এবং তাদের সাথে মেলামেশা করতে নিষেধ করেছেন। তারা যে সমস্ত নতুন মতামত ও নিকৃষ্ট মতাদর্শ গ্রহণ করেছিল, সেগুলোর মাধ্যমে উলামাগণ তাদের সর্বসাধারণের নিকট পরিচিত করে দিয়েছিলেন। এটি করা হয়েছিল তাদের প্রতারণার আশঙ্কায়, যাতে তারা কোনো সংশয় ও প্ররোচনা অথবা বাকচাতুর্যের মাধ্যমে কোনো মুসলমানকে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে না পারে। তাদের জীবন ছিল অনেকটা মৃত্যুর মতো,
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وَأَحْيَاؤُهُمْ عِنْدَ النَّاسِ كَالْأَمْوَاتِ، الْمُسْلِمُونَ مِنْهُمْ فِي رَاحَةٍ، وَأَدْيَانُهُمْ فِي سَلَامَةٍ، وَقُلُوبُهُمْ سَاكِنَةٌ، وَجَوَارِحُهُمْ هَادِيَةٌ، وَهَذَا حِينَ كَانَ الْإِسْلَامُ فِي نَضَارَةٍ، وَأُمُورُ الْمُسْلِمِينَ فِي زِيَادَةٍ.

 

‌‌[ظُهُورُ الِاتِّجَاهِ الْعَقْلِيِّ]

فَمَضَتْ عَلَى هَذِهِ الْقُرُونِ مَاضُونَ، الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ، حَتَّى ضَرَبَ الدَّهْرُ ضَرَبَاتِهِ، وَأَبْدَى مِنْ نَفْسِهِ حَدَثَاتِهِ، وَظَهَرَ قَوْمٌ أَجْلَافٌ زَعَمُوا أَنَّهُمْ لِمَنْ قَبْلَهُمْ أَخْلَافٌ، وَادَّعَوْا أَنَّهُمْ أَكْبَرُ مِنْهُمْ فِي الْمَحْصُولِ، وَفِي حَقَائِقِ الْمَعْقُولِ، وَأَهْدَى إِلَى التَّحْقِيقِ، وَأَحْسَنُ نَظَرًا مِنْهُمْ فِي التَّدْقِيقِ، وَأَنَّ الْمُتَقَدِّمِينَ تَفَادَوْا مِنَ النَّظَرِ لِعَجْزِهِمْ، وَرَغِبُوا عَنْ مُكَالَمَتِهِمْ لِقِلَّةِ فَهْمِهِمْ، وَأَنَّ نُصْرَةَ مَذْهَبِهِمْ فِي الْجِدَالِ مَعَهُمْ، حَتَّى أَبْدَلُوا مِنَ الطَّيِّبِ خَبِيثًا، وَمِنَ الْقَدِيمِ حَدِيثًا، وَعَدَلُوا عَمَّا كَانَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَعَثَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَأَوْجَبَ عَلَيْهِ دَعْوَةَ الْخَلْقِ إِلَيْهِ، وَامْتَنَّ عَلَى عِبَادِهِ إِتْمَامَ نِعْمَتِهِ عَلَيْهِمْ بِالْهِدَايَةِ إِلَى سَبِيلِهِ، فَقَالَ تَعَالَى: {وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُمْ بِهِ} [البقرة: 231] فَوَعَظَ اللَّهُ عز وجل عِبَادَهُ بِكِتَابِهِ، وَحَثَّهُمْ عَلَى اتِّبَاعِ سُنَّةِ رَسُولِهِ، وَقَالَ فِي آيَةٍ أُخْرَى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} [النحل: 125] لَا بِالْجِدَالِ وَالْخُصُومَةِ، فَرَغِبُوا عَنْهُمَا وَعَوَّلُوا عَلَى غَيْرِهِمَا، وَسَلَكُوا بِأَنْفُسِهِمْ مَسْلَكَ الْمُضِلِّينَ،
এবং মানুষের নিকট তাদের জীবিতরা ছিল মৃতদের ন্যায়; তাদের মধ্য হতে মুসলিমরা ছিল শান্তিতে, তাদের ধর্মবিশ্বাস ছিল নিরাপত্তায়, তাদের অন্তরসমূহ ছিল প্রশান্ত এবং তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিল শান্ত। আর এটি ছিল সেই সময়ের কথা যখন ইসলাম ছিল সতেজতায় এবং মুসলিমদের বিষয়াদি ছিল ক্রমবর্ধমান।

 

‌‌[যৌক্তিক ধারার উদ্ভব]

অতঃপর এই শতাব্দীগুলোর ওপর দিয়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ অতিক্রান্ত হলেন, এমনকি কাল তার আঘাতগুলো হানল এবং তার নতুন নতুন আপদ প্রকাশ করল। এমন এক স্থূল স্বভাবের এক দলের আবির্ভাব ঘটল যারা দাবি করল যে তারা তাদের পূর্ববর্তীদের উত্তরসূরি। তারা দাবি করল যে তারা লব্ধ জ্ঞানে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বাস্তবতায় তাদের চেয়ে অগ্রগণ্য, এবং সঠিক তত্ত্বানুসন্ধানে অধিক পথপ্রাপ্ত এবং সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে তাদের চেয়ে উত্তম। তারা আরও দাবি করল যে, পূর্ববর্তীরা তাদের অক্ষমতার কারণে তাত্ত্বিক আলোচনা হতে বিরত থেকেছেন এবং তাদের বোধশক্তির স্বল্পতার কারণে তারা তাদের সাথে আলোচনা করতে অনাগ্রহী ছিলেন, আর তাদের সাথে বিতর্কের মাধ্যমেই কেবল তাদের মতাদর্শকে বিজয়ী করা সম্ভব। এমনকি তারা পবিত্রকে অপবিত্র দিয়ে এবং পুরাতনকে নতুনের সাথে পরিবর্তন করল। তারা তা থেকে বিচ্যুত হলো যার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং আল্লাহ তাঁকে যার ওপর প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর ওপর সৃষ্টির মানুষকে সেই দিকে আহ্বান করা আবশ্যক করেছিলেন। তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর পথের দিকে হিদায়াত প্রদানের মাধ্যমে স্বীয় নিয়ামত পূর্ণ করার অনুগ্রহ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করো এবং তোমাদের ওপর তিনি যে কিতাব ও প্রজ্ঞা নাযিল করেছেন তা স্মরণ করো, যার মাধ্যমে তিনি তোমাদের উপদেশ দেন।" [আল-বাকারা: ২৩১]। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের উপদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাত অনুসরণে উৎসাহিত করেছেন। তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: "তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো।" [আন-নাহল: ১২৫], বিতর্ক ও বিবাদের মাধ্যমে নয়। কিন্তু তারা এই দুই পদ্ধতি থেকে বিমুখ হলো এবং অন্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করল, আর তারা নিজেদের পথভ্রষ্টদের পথে পরিচালিত করল।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَخَاضُوا مَعَ الْخَايِضِينَ، وَدَخَلُوا فِي مَيْدَانِ الْمُتَحَيِّرِينَ، وَابْتَدَعُوا مِنَ الْأَدِلَّةِ مَا هُوَ خِلَافُ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ؛ رَغْبَةً لِلْغَلَبَةِ وَقَهْرِ الْمُخَالِفِينَ لِلْمَقَالَةِ.

ثُمَّ اتَّخَذُوهَا دِينًا وَاعْتِقَادًا بَعْدَ مَا كَانَتْ دَلَايِلَ الْخُصُومَاتِ وَالْمُعَارَضَاتِ، وَضَلَّلُوا مَنْ لَا يَعْتَقِدُ ذَلِكَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَتَسَمَّوْا بِالسُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ، وَمَنْ خَالَفَهُمْ وَسَمُوهُ بِالْجَهْلِ وَالْغَبَاوَةِ، فَأَجَابَهُمْ إِلَى ذَلِكَ مَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ قَدَمٌ فِي مَعْرِفَةِ السُّنَّةِ، وَلَمْ يَسْعَ فِي طَلَبِهَا؛ لِمَا يَلْحَقُهُ فِيهَا مِنَ الْمَشَقَّةِ، وَطَلَبَ لِنَفْسِهِ الدَّعَةَ وَالرَّاحَةَ، وَاقْتَصَرَ عَلَى اسْمِهِ دُونَ رَسْمِهِ لِاسْتِعْجَالِ الرِّيَاسَةِ، وَمَحَبَّةِ اشْتِهَارِ الذِّكْرِ عِنْدَ الْعَامَّةِ، وَالتَّلَقُّبِ بِإِمَامَةِ أَهْلِ السُّنَّةِ، وَجَعَلَ دَأْبَهُ الِاسْتِخْفَافَ بِنَقَلَةِ الْأَخْبَارِ، وَتَزْهِيدَ النَّاسِ أَنْ يَتَدَيَّنُوا بِالْآثَارِ؛ لِجَهْلِهِ بِطُرُقِهَا، وَصُعُوبَةِ الْمَرَامِ بِمَعْرِفَةِ مَعَانِيهَا، وَقُصُورِ فَهْمِهِ عَنْ مَوَاقِعِ الشَّرِيعَةِ مِنْهَا، وَرُسُومِ التَّدَيُّنِ بِهَا، حَتَّى عَفَتْ رُسُومُ الشَّرَائِعِ الشَّرِيفَةِ، وَمَعَانِي الْإِسْلَامِ الْقَدِيمَةُ، وَفُتِحَتْ دَوَاوِينُ الْأَمْثَالِ وَالشُّبَهِ، وَطُوِيَتْ دَلَايِلُ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، وَانْقَرَضَ مَنْ كَانَ يَتَدَيَّنُ بِحُجَجِهَا؛ لِلْأَخْذِ بِالثِّقَةِ، وَيتَّمَسَّكُ بِهِمَا لِلضِّنَّةِ، وَيَصُونُ سَمْعَهُ عَنْ هَذِهِ الْبِدَعِ
তারা অনর্থক চর্চাকারীদের সাথে লিপ্ত হয়েছে এবং বিভ্রান্তদের ময়দানে প্রবেশ করেছে। তারা এমন সব দলিল উদ্ভাবন করেছে যা কিতাব ও সুন্নাহর পরিপন্থী; কেবল বিজয়ী হওয়া এবং তাদের মতের বিরোধীদের পরাভূত করার আকাঙ্ক্ষায়।

অতঃপর তারা এগুলোকে দ্বীন ও আকিদা হিসেবে গ্রহণ করেছে, অথচ পূর্বে এগুলো ছিল কেবল বিবাদ ও তর্কের উপাদান। তারা সেসব মুসলিমকে পথভ্রষ্ট আখ্যায়িত করেছে যারা এতে বিশ্বাস করে না। তারা নিজেদের ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত’ বলে নামকরণ করেছে এবং যারা তাদের বিরোধিতা করেছে তাদের অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতার অপবাদ দিয়েছে। ফলে তাদের এই আহ্বানে এমন ব্যক্তিরাই সাড়া দিয়েছে যাদের সুন্নাহর জ্ঞানে কোনো সুদৃঢ় ভিত্তি নেই এবং যারা তা অন্বেষণে কোনো শ্রম ব্যয় করেনি; কারণ সুন্নাহ অন্বেষণে যে কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় তা থেকে বাঁচতে এবং নিজের জন্য আরাম ও প্রশান্তি নিশ্চিত করতে গিয়ে তারা এমনটি করেছে। তারা নেতৃত্বের তাড়াহুড়ো, সাধারণ মানুষের মধ্যে সুখ্যাতি অর্জনের লালসা এবং ‘আহলুস সুন্নাহর ইমামতি’র উপাধি লাভের আশায় সুন্নাহর প্রকৃত অনুসরণের পরিবর্তে কেবল তার নাম নিয়ে সন্তুষ্ট থেকেছে। সে হাদিস বর্ণনাকারীদের তুচ্ছজ্ঞান করাকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করেছে এবং মানুষকে আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) অনুযায়ী দ্বীন পালন করা থেকে বিমুখ করেছে; কারণ সে এগুলোর সূত্রাবলি সম্পর্কে অজ্ঞ, এগুলোর অর্থ উপলব্ধির কঠিন লক্ষ্য সম্পর্কে অনবহিত এবং এগুলোর মধ্যে বিদ্যমান শরীয়তের নিগূঢ় রহস্য ও দ্বীনদারির পদ্ধতি অনুধাবনে তার বোধশক্তি অপর্যাপ্ত। এমনকি এর ফলে শরীয়তের মহান পদ্ধতিসমূহ এবং ইসলামের প্রাচীন ও চিরন্তন অর্থসমূহ মুছে গেছে। আর রূপক ও সংশয়ের দপ্তরসমূহ উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং কিতাব ও সুন্নাহর দলীলসমূহকে গুটিয়ে রাখা হয়েছে। আর যারা নির্ভরযোগ্যতার সাথে এগুলোর প্রমাণের ভিত্তিতে দ্বীন পালন করত, এ দুটিকে সযত্নে আঁকড়ে ধরত এবং এসকল বিদআত থেকে নিজের কানকে রক্ষা করত, তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الْمُحْدَثَةِ، وَصَارَ كُلُّ مَنْ أَرَادَ صَاحِبَ مَقَالَةٍ وَجَدَ عَلَى ذَلِكَ الْأَصْحَابَ وَالْأَتْبَاعَ، وَتَوَهَّمَ أَنَّهُ ذَاقَ حَلَاوَةَ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ بِنِفَاقِ بِدْعَتِهِ، وَكَلَّا أَنَّهُ كَمَا ظَنَّهُ أَوْ خَطَرَ بِبَالِهِ، إِذْ أَهْلُ السُّنَّةِ لَا يَرْغَبُونَ عَنْ طَرَايِقِهِمْ مِنَ الِاتِّبَاعِ وَإِنْ نُشِرُوا بِالْمَنَاشِيرِ، وَلَا يَسْتَوْحِشُونَ لِمُخَالَفَةِ أَحَدٍ بِزُخْرُفِ قَوْلٍ مِنْ غُرُورٍ، أَوْ بِضَرْبِ أَمْثَالٍ زُورٍ.

 

‌‌[نَتَائِجُ مُنَاظَرَةِ الْمُبْتَدِعَةِ]

فَمَا جُنِيَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ جِنَايَةٌ أَعْظَمُ مِنْ مُنَاظَرَةِ الْمُبْتَدِعَةِ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ قَهْرٌ وَلَا ذُلٌّ أَعْظَمَ مِمَّا تَرَكَهُمُ السَّلَفُ عَلَى تِلْكَ الْجُمْلَةِ يَمُوتُونَ مِنَ الْغَيْظِ كَمَدًا وَدَرَدًا، وَلَا يَجِدُونَ إِلَى إِظْهَارِ بِدْعَتِهِمْ سَبِيلًا، حَتَّى جَاءَ الْمَغْرُورُونَ فَفَتَحُوا لَهُمْ إِلَيْهَا طَرِيقًا، وَصَارُوا لَهُمْ إِلَى هَلَاكِ الْإِسْلَامِ دَلِيلًا، حَتَّى كَثُرَتْ بَيْنَهُمُ الْمُشَاجَرَةُ، وَظَهَرَتْ دَعْوَتُهُمْ بِالْمُنَاظَرَةِ، وَطَرَقَتْ أَسْمَاعَ مَنْ لَمْ يَكُنْ عَرَفَهَا مِنَ الْخَاصَّةِ وَالْعَامَّةِ، حَتَّى تَقَابَلَتِ الشُّبَهُ فِي الْحُجَجِ، وَبَلَغُوا مِنَ التَّدْقِيقِ فِي اللُّجَجِ، فَصَارُوا أَقْرَانًا وَأَخْدَانًا، وَعَلَى الْمُدَاهَنَةِ خِلَّانًا وَإِخْوَانًا، بَعْدَ أَنْ كَانُوا فِي اللَّهِ أَعْدَاءً وَأَضْدَادًا، وَفِي الْهِجْرَةِ فِي اللَّهِ أَعْوَانًا، يُكَفِّرُونَهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ عِيَانًا، وَيَلْعَنُونَهُمْ جِهَارًا، وَشَتَّانَ مَا بَيْنَ الْمَنْزِلَتَيْنِ، وَهَيْهَاتَ مَا بَيْنَ الْمَقَامَيْنِ.

نَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَحْفَظَنَا مِنَ الْفِتْنَةِ فِي أَدْيَانِنَا، وَأَنْ يُمَسِّكَنَا بِالْإِسْلَامِ وَالسُّنَّةِ، وَيَعْصِمَنَا بِهِمَا بِفَضْلِهِ وَرَحْمَتِهِ.
উদ্ভাবিত (বিদআত); এবং প্রতিটি মতবাদের প্রবক্তা যখনই চেয়েছে, তার জন্য সে সঙ্গী ও অনুসারী পেয়ে গেছে। সে ধারণা করে নিয়েছে যে, তার বিদআতী কপটতার মাধ্যমেই সে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মিষ্টতা আস্বাদন করেছে। অথচ বিষয়টি মোটেও তেমন নয় যেমনটা সে ভেবেছে বা তার মনে উদয় হয়েছে; কেননা আহলুস সুন্নাহর অনুসারীগণ তাদের অনুসরণের পথ থেকে বিমুখ হন না, এমনকি যদি তাদের করাত দিয়ে চিরে ফেলা হয় তবুও। আর তারা কোনো প্রবঞ্চনামূলক সুশোভিত বাক্য বা মিথ্যা উপমা উপস্থাপনের মাধ্যমে কারো বিরোধিতায় বিচলিত হন না।

 

‌‌[বিদআতীপন্থীদের সাথে বিতর্কের পরিণাম]

মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদআতীদের সাথে বিতর্ক করার চেয়ে বড় কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি। বিদআতীদের জন্য এর চেয়ে বড় কোনো পরাজয় বা লাঞ্ছনা ছিল না, যা সালাফে সালেহীন তাদের জন্য ছেড়ে গিয়েছিলেন—অর্থাৎ তারা রাগে-ক্ষোভে ও নিদারুণ যন্ত্রণায় ধুঁকে ধুঁকে মরতেন এবং তাদের বিদআত প্রচারের কোনো পথ খুঁজে পেতেন না। শেষ পর্যন্ত সেই প্রবঞ্চিতরা এল যারা তাদের জন্য এই পথ উন্মুক্ত করে দিল এবং ইসলামের ধ্বংসের পথে তাদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে দাঁড়াল। ফলে তাদের মধ্যে বাদানুবাদ বেড়ে গেল এবং বিতর্কের মাধ্যমে তাদের দাওয়াত প্রকাশ্য রূপ পেল। এমনকি সাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে যারা এ সম্পর্কে জানত না, তাদের কানেও তা পৌঁছে গেল। শেষ পর্যন্ত যুক্তি-তর্কের আড়ালে সংশয়গুলো পরস্পর মুখোমুখি হলো এবং তারা গভীর কূটতর্কে লিপ্ত হলো। ফলে তারা একে অপরের সমকক্ষ ও সহচর হয়ে গেল এবং আপসকামিতার ভিত্তিতে তারা বন্ধু ও ভ্রাতায় পরিণত হলো; অথচ ইতিপূর্বে তারা আল্লাহর ওয়াস্তে একে অপরের শত্রু ও বিরোধী ছিল এবং আল্লাহর জন্য সম্পর্কচ্ছেদে তারা একে অপরের সহযোগী ছিল; তারা সরাসরি তাদের সামনে তাদের কাফির বলত এবং প্রকাশ্যে তাদের অভিশাপ দিত। এই দুই অবস্থার মধ্যে কতই না ব্যবধান! আর এই দুই অবস্থানের মধ্যে কতই না তফাত!

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের দ্বীনের ফিতনা থেকে রক্ষা করেন, এবং আমাদের ইসলাম ও সুন্নাহর ওপর অবিচল রাখেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে এই দুটির মাধ্যমে আমাদের হেফাজত করেন।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌[مَا كَانَ عَلَيْهِ السَّلَفُ الصَّالِحُ]

فَهَلُمَّ الْآنَ إِلَى تَدَيُّنِ الْمُتَّبِعِينَ، وَسِيرَةِ الْمُتَمَسِّكِينَ، وَسَبِيلِ الْمُتَقَدِّمِينَ بِكِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّتِهِ، وَالْمُنَادِينَ بِشَرَايِعِهِ وَحِكْمَتِهِ، الَّذِينَ قَالُوا: {آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ} [آل عمران: 53] ، وَتَنَكَّبُوا سَبِيلَ الْمُكَذِّبِينَ بِصِفَاتِ اللَّهِ، وَتَوْحِيدِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، فَاتَّخَذُوا كِتَابَ اللَّهِ إِمَامًا، وَآيَاتِهِ فُرْقَانًا، وَنَصَبُوا الْحَقَّ بَيْنَ أَعْيُنِهِمْ عِيَانًا، وَسُنَنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جُنَّةً وَسِلَاحًا، وَاتَّخَذُوا طُرُقَهَا مِنْهَاجًا، وَجَعَلُوهَا بُرْهَانًا، فَلَقَوُا الْحِكْمَةَ، وَوُقُوا مِنْ شَرِّ الْهَوَى وَالْبِدْعَةِ؛ لِامْتِثَالِهِمْ أَمْرَ اللَّهِ فِي اتِّبَاعِ الرَّسُولِ، وَتَرْكِهِمُ الْجِدَالَ بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ.

 

‌‌[الْحَثُّ عَلَى الِاتِّبَاعِ وَالِاقْتِدَاءِ]

يَقُولُ اللَّهُ عز وجل فِيمَا يَحُثُّ عَلَى اتِّبَاعِ دِينِهِ، وَالِاعْتِصَامِ بِحَبْلِهِ، وَالِاقْتِدَاءِ بِرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [آل عمران: 103] ، وَقَالَ تبارك وتعالى: {وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ} [الزمر: 55] ، وَقَالَ تَعَالَى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [الأنعام: 153] ،
[সালাফে সালেহীন যে আদর্শের ওপর ছিলেন]

অতএব এখন আসা যাক সেই সব অনুসারীদের ধর্মনিষ্ঠা, (কুরআন-সুন্নাহকে) দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ব্যক্তিদের জীবনধারা এবং আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী পূর্বসূরিদের পথের দিকে, যারা আল্লাহর শরিয়ত ও হিকমতের দিকে আহ্বান জানান। যারা বলেছিলেন: "আমরা ঈমান এনেছি আপনি যা নাজিল করেছেন তার ওপর এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি, অতএব আপনি আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিখে নিন।" [আলে ইমরান: ৫৩]। তারা আল্লাহর গুণাবলি এবং রাব্বুল আলামীনের তাওহীদ অস্বীকারকারীদের পথ পরিহার করেছেন। ফলে তারা আল্লাহর কিতাবকে ইমাম (নেতা) এবং তাঁর আয়াতসমূহকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তারা সত্যকে নিজেদের চোখের সামনে চাক্ষুষভাবে স্থাপন করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহসমূহকে ঢাল ও অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তারা সুন্নাহর পথসমূহকে নিজেদের কর্মপন্থা হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং সেগুলোকে দলিল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ফলে তারা প্রজ্ঞা লাভ করেছেন এবং কুপ্রবৃত্তি ও বিদআতের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেয়েছেন; কারণ তারা রাসূলের অনুসরণের ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ পালন করেছিলেন এবং বাতিল দ্বারা সত্যকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে অসার বিতর্ক বর্জন করেছিলেন।

 

‌[অনুসরণ ও অনুকরণের প্রতি উৎসাহ প্রদান]

মহান আল্লাহ তাঁর দ্বীন অনুসরণ করার, তাঁর রশিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলেন: "তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমাদের ওপর আল্লাহর সেই নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতি দান করলেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের কিনারায়, অতঃপর তিনি তোমাদের সেখান থেকে উদ্ধার করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা হেদায়াত লাভ করতে পারো।" [আলে ইমরান: ১০৩]। এবং তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: "তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাজিল করা হয়েছে, তার মধ্যে যা সর্বোত্তম তোমরা তা অনুসরণ করো।" [আয-যুমার: ৫৫]। এবং তিনি তাআলা আরও বলেছেন: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, কারণ তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।" [আল-আনআম: ১৫৩]।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وَقَالَ: {فَبَشِّرْ عِبَادِي الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ} [الزمر: 17] ، وَقَالَ تَعَالَى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [آل عمران: 31] ، وَقَالَ تَعَالَى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108] .

ثُمَّ أَوْجَبَ اللَّهُ طَاعَتَهُ وَطَاعَةَ رَسُولِهِ، فَقَالَ: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ} [الأنفال: 20] ، وَقَالَ تَعَالَى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80] ، وَقَالَ تَعَالَى: {وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا} [النور: 54] ، وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 71] ، وَقَالَ: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ} [النور: 52] ، وَقَالَ تَعَالَى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: 59] ، قِيلَ فِي تَفْسِيرِهَا: إِلَى الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ.

ثُمَّ حَذَّرَ مِنْ خِلَافِهِ وَالِاعْتِرَاضِ عَلَيْهِ، فَقَالَ:
এবং তিনি বলেছেন: {সুতরাং আমার বান্দাদের সুসংবাদ দিন যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে; এদেরকেই আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং এরাই বুদ্ধিমান।} [যুমার: ১৭], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [আল ইমরান: ৩১], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, এটিই আমার পথ; আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা জেনে-বুঝে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [ইউসুফ: ১০৮]।

অতঃপর আল্লাহ তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্যকে অপরিহার্য করেছেন। তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং শোনার পর তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।} [আনফাল: ২০], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।} [নিসা: ৮০], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবে তোমরা সঠিক পথ পাবে।} [নূর: ৫৪], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আহযাব: ৭১], এবং তিনি বলেছেন: {আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকে, তারাই সফলকাম।} [নূর: ৫২], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {যদি কোনো বিষয়ে তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।} [নিসা: ৫৯]; এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: অর্থাৎ কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহর দিকে।

অতঃপর তিনি তাঁর বিরোধিতা করা এবং তাঁর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
{فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65] ، وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} [الأحزاب: 36] ، وَقَالَ تَعَالَى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] .

وَرَوَى الْعِرْبَاضُ بْنُ سَارِيَةَ قَالَ: «وَعَظَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَوْعِظَةً دَمَعَتْ مِنْهَا الْأَعْيُنُ، وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَأَنَّهَا مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ، فَبِمَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا؟ فَقَالَ: " قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ، لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا، لَا يَزِيغُ عَنْهَا بَعْدِي إِلَّا هَالِكٌ، وَمَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِمَا عَرَفْتُمْ مِنْ سُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ ضَلَالَةٌ» .

وَرَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ قَالَ: «خَطَّ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطًّا، ثُمَّ خَطَّ خُطُوطًا يَمِينًا وَشِمَالًا، ثُمَّ قَالَ: " هَذِهِ سُبُلٌ، عَلَى كُلِّ سَبِيلٍ مِنْهَا شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ. ثُمَّ يَقْرَأُ: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153] .»

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ: " اتَّبِعُوا وَلَا تَبْتَدِعُوا فَقَدْ كُفِيتُمْ.
{অতএব না, আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক নিযুক্ত করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} [আন-নিসা: ৬৫] , এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর সে বিষয়ে নিজেদের কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়।} [আল-আহযাব: ৩৬] , এবং মহান আল্লাহ বলেন: {কাজেই যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।} [আন-নূর: ৬৩] ।

ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এমন এক উপদেশ দিলেন যাতে চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এটি যেন বিদায়ী উপদেশ, তাই আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: 'আমি তোমাদেরকে এক পরিষ্কার উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো (পরিষ্কার)। আমার পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে, যা তোমরা জানো। তোমরা তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা দ্বীনের নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই ভ্রষ্টতা'।"

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জন্য একটি রেখা টানলেন, অতঃপর তার ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন। এরপর তিনি বললেন: 'এগুলো বিভিন্ন পথ, যার প্রতিটি পথে একটি করে শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করছে।' অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।} [আল-আনআম: ১৫৩] ।"

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত: "তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না, কেননা তোমাদের জন্য যা দেওয়া হয়েছে তা-ই যথেষ্ট।"
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[أَصْحَابُ الْحَدِيثِ أَوْلَى النَّاسِ بِالِاتِّبَاعِ]

فَلَمْ نَجِدْ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَسُنَّةِ رَسُولِهِ وَآثَارِ صَحَابَتِهِ إِلَّا الْحَثَّ عَلَى الِاتِّبَاعِ، وَذَمَّ التَّكَلُّفِ وَالِاخْتِرَاعِ، فَمَنِ اقْتَصَرَ عَلَى هَذِهِ الْآثَارِ كَانَ مِنَ الْمُتَّبِعِينَ، وَكَانَ أَوْلَاهُمْ بِهَذَا الِاسْمِ، وَأَحَقَّهُمْ بِهَذَا الْوَسْمِ، وَأَخَصَّهُمْ بِهَذَا الرَّسْمِ ((أَصْحَابُ الْحَدِيثِ)) ؛ لِاخْتِصَاصِهِمْ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاتِّبَاعِهِمْ لِقَوْلِهِ، وَطُولِ مُلَازَمَتِهِمْ لَهُ، وَتَحَمُّلِهِمْ عِلْمَهُ، وَحِفْظِهِمْ أَنْفَاسَهُ وَأَفْعَالَهُ، فَأَخَذُوا الْإِسْلَامَ عَنْهُ مُبَاشَرَةً، وَشَرَايِعَهُ مُشَاهَدَةً، وَأَحْكَامَهُ مُعَايَنَةً، مِنْ غَيْرِ وَاسِطَةٍ وَلَا سَفِيرٍ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ وَاصِلَةٍ. فَجَاوَلُوهَا عِيَانًا، وَحَفِظُوا عَنْهُ شِفَاهًا، وَتَلَقَّنُوهُ مِنْ فِيهِ رَطْبًا، وَتَلَقَّنُوهُ مِنْ لِسَانِهِ عَذْبًا، وَاعْتَقَدُوا جَمِيعَ ذَلِكَ حَقًّا، وَأَخْلَصُوا بِذَلِكَ مِنْ قُلُوبِهِمْ يَقِينًا، فَهَذَا دِينٌ أُخِذَ أَوَّلُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُشَافَهَةً، لَمْ يَشُبْهُ لَبْسٌ وَلَا شُبْهَةٌ، ثُمَّ نَقَلَهَا الْعُدُولُ عَنِ الْعُدُولِ مِنْ غَيْرِ تَجَامُلٍ وَلَا مَيْلٍ، ثُمَّ الْكَافَّةُ عَنِ الْكَافَّةِ، وَالصَّافَّةُ عَنِ الصَّافَّةِ، وَالْجَمَاعَةُ عَنِ الْجَمَاعَةِ، أَخْذَ كَفٍّ بِكَفٍّ، وَتَمَسُّكَ خَلَفٍ بِسَلَفٍ، كَالْحُرُوفِ يَتْلُو بَعْضُهَا بَعْضًا، وَيَتَّسِقُ أُخْرَاهَا عَلَى أُولَاهَا رَصْفًا وَنَظْمًا.
‌[অনুসরণের ক্ষেত্রে আসহাবে হাদীসগণই মানুষের মধ্যে অধিক অগ্রগণ্য]

সুতরাং আমরা মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ এবং তাঁর সাহাবীদের আসার (বর্ণনা)-এর মধ্যে কেবল (শরীয়তের) অনুসরণের প্রতি উৎসাহ এবং কৃত্রিমতা ও নব-উদ্ভাবনের নিন্দা ছাড়া আর কিছুই পাইনি। অতএব, যারা এই আসারগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকল, তারাই হলো প্রকৃত অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর এই নামের জন্য সবচেয়ে বেশি যোগ্য, এই পরিচয়ের জন্য সর্বাধিক হকদার এবং এই বৈশিষ্ট্যের জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট ব্যক্তিগণ হলেন ‘আসহাবে হাদীস’ (হাদীসের অনুসারীগণ); কেননা তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাঁর বাণীর একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন, দীর্ঘকাল তাঁর সাহচর্যে ছিলেন, তাঁর ইলম ধারণ করেছিলেন এবং তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজ সংরক্ষণ করেছিলেন। ফলে তারা সরাসরি তাঁর কাছ থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, প্রত্যক্ষভাবে তাঁর শরীয়ত লাভ করেছেন এবং সচক্ষে তাঁর বিধানাবলী প্রত্যক্ষ করেছেন; তাদের ও তাঁর মাঝে কোনো মাধ্যম বা মধ্যস্থতাকারীর কোনো যোগসূত্র ছিল না। সুতরাং তারা তা চাক্ষুষভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন, তাঁর নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণ করে মুখস্থ করেছেন, তাঁর মুখ নিঃসৃত সজীব বাণী গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর সুমিষ্ট জিহ্বা থেকে তা লাভ করেছেন। তারা এ সমস্ত কিছুকেই সত্য বলে বিশ্বাস করেছেন এবং তাদের অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে তা বিশুদ্ধভাবে গ্রহণ করেছেন। অতএব, এটি এমন এক দ্বীন যার সূচনা সরাসরি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে মৌখিকভাবে গৃহীত হয়েছে, যেখানে কোনো অস্পষ্টতা বা সংশয়ের সংমিশ্রণ ঘটেনি। অতঃপর ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ অন্য ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের থেকে তা বর্ণনা করেছেন, কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব বা বিচ্যুতি ছাড়াই। এরপর এক বিশাল জনগোষ্ঠী অন্য বিশাল জনগোষ্ঠী থেকে, এক সারির লোক অন্য সারির লোক থেকে এবং এক জামাত অন্য জামাত থেকে এটি গ্রহণ করেছেন; এক হাতের তালুর সাথে অন্য তালু মিলিয়ে গ্রহণ করার মতো এবং পূর্বসূরিদের থেকে উত্তরসূরিদের মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার মতো। এটি ঠিক বর্ণমালার অক্ষরের মতো, যার একটির পর আরেকটি আসে এবং তার শেষ অংশ প্রথম অংশের সাথে সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধভাবে বিন্যস্ত থাকে।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌[فَضْلُ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ عَلَى الْأُمَّةِ]

فَهَؤُلَاءِ الَّذِينَ تُعُهِّدَتْ بِنَقْلِهِمُ الشَّرِيعَةُ، وَانْحَفَظَتْ بِهِمْ أُصُولُ السُّنَّةِ، فَوَجَبَتْ لَهُمْ بِذَلِكَ الْمِنَّةُ عَلَى جَمِيعِ الْأُمَّةِ، وَالدَّعْوَةُ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ بِالْمَغْفِرَةِ؛ فَهُمْ حَمَلَةُ عِلْمِهِ، وَنَقَلَةُ دِينِهِ، وَسَفَرَتُهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أُمَّتِهِ، وَأُمَنَاؤُهُ فِي تَبْلِيغِ الْوَحْيِ عَنْهُ، فَحَرِيٌّ أَنْ يَكُونُوا أَوْلَى النَّاسِ بِهِ فِي حَيَاتِهِ وَوَفَاتِهِ.

وَكُلُّ طَائِفَةٍ مِنَ الْأُمَمِ مَرْجِعُهَا إِلَيْهِمْ فِي صِحَّةِ حَدِيثِهِ وَسَقِيمِهِ، وَمُعَوَّلُهَا عَلَيْهِمْ فِيمَا يُخْتَلَفُ فِيهِ مِنْ أُمُورِهِ.

 

‌‌[انْتِسَابُ أَهْلِ الْحَدِيثِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم]

ثُمَّ كُلُّ مَنِ اعْتَقَدَ مَذْهَبًا فَإِلَى صَاحِبِ مَقَالَتِهِ الَّتِي أَحْدَثَهَا يُنْسَبُ، وَإِلَى رَأْيِهِ يَسْتَنِدُ، إِلَّا أَصْحَابَ الْحَدِيثِ، فَإِنَّ صَاحِبَ مَقَالَتِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهُمْ إِلَيْهِ يَنْتَسِبُونَ، وَإِلَى عِلْمِهِ يَسْتَنِدُونَ، وَبِهِ يَسْتَدِلُّونَ، وَإِلَيْهِ يَفْزَعُونَ، وَبِرَأْيِهِ يَقْتَدُونَ، وَبِذَلِكَ يَفْتَخِرُونَ، وَعَلَى أَعْدَاءِ سُنَّتِهِ بِقُرْبِهِمْ مِنْهُ يَصُولُونَ، فَمَنْ يُوَازِيهِمْ فِي شَرَفِ الذِّكْرِ، وَيُبَاهِيهِمْ فِي سَاحَةِ الْفَخْرِ وَعُلُوِّ الِاسْمِ؟ .

 

‌‌[وَجْهُ تَسْمِيَتِهِمْ بِأَهْلِ الْحَدِيثِ]

إِذِ اسْمُهُمْ مَأْخُودٌ مِنْ مَعَانِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ يَشْتَمِلُ عَلَيْهِمَا؛ لِتَحَقُّقِهِمْ بِهِمَا أَوْ لِاخْتِصَاصِهِمْ بِأَخْذِهِمَا، فَهُمْ مُتَرَدِّدُونَ فِي انْتِسَابِهِمْ
‌[উম্মতের ওপর আসহাবুল হাদিসের শ্রেষ্ঠত্ব]

এঁরাই হলেন সেই ব্যক্তিবর্গ যাদের বর্ণনার মাধ্যমে শরীয়তের হেফাজত নিশ্চিত হয়েছে এবং যাদের মাধ্যমে সুন্নাহর মূলনীতিসমূহ সংরক্ষিত হয়েছে। সুতরাং তাঁদের এই অবদানের কারণে সমগ্র উম্মতের ওপর তাঁদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা এবং আল্লাহর কাছে তাঁদের জন্য মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করা আবশ্যক। কারণ তাঁরাই হলেন তাঁর ইলমের বাহক, তাঁর দ্বীনের বর্ণনাকারী এবং তাঁর ও তাঁর উম্মতের মধ্যবর্তী দূত। ওহী পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরাই তাঁর বিশ্বস্ত আমানতদার। তাই সংগতভাবেই তাঁরা তাঁর জীবন ও মরণ উভয় অবস্থায় তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি।

আর উম্মতের প্রতিটি দল তাঁর হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নিরূপণের ক্ষেত্রে তাঁদেরই মুখাপেক্ষী এবং তাঁর বিষয়াবলীর মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়ে তাঁদের ওপরই নির্ভরশীল।

 

‌‌[রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আহলে হাদিসের সম্বন্ধ]

অতঃপর যে ব্যক্তিই কোনো মাযহাব বা মতাদর্শের বিশ্বাস পোষণ করে, তাকে সেই মতবাদের প্রবর্তকের দিকেই সম্বন্ধ করা হয় এবং সে তার মতের ওপরই নির্ভর করে। কিন্তু আসহাবুল হাদিস বা হাদিসপন্থীরা এর ব্যতিক্রম। কেননা তাঁদের মতাদর্শের প্রবক্তা হলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাই তাঁরা তাঁর দিকেই নিজেদের সম্বন্ধ করেন, তাঁর ইলমের ওপরই নির্ভর করেন, তাঁর মাধ্যমেই দলিল পেশ করেন, তাঁরই শরণাপন্ন হন এবং তাঁর আদর্শেরই অনুসরণ করেন। তাঁরা এটি নিয়ে গর্ববোধ করেন এবং তাঁর প্রতি নিজেদের এই নৈকট্যের মাধ্যমে তাঁর সুন্নাহর শত্রুদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। সুতরাং সম্মানের আলোচনায় কে তাঁদের সমকক্ষ হতে পারে এবং গৌরবের ময়দানে ও সুউচ্চ নামের ক্ষেত্রে কে তাঁদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে?

 

‌‌[তাঁদের 'আহলে হাদিস' নামকরণের কারণ]

যেহেতু তাঁদের এই নাম কিতাব ও সুন্নাহর অর্থ থেকে গৃহীত যা এই উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ তাঁরা এই দুটির যথাযথ বাস্তবায়নকারী অথবা এই দুটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাঁরাই বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। ফলে তাঁদের সম্বন্ধের ক্ষেত্রে তাঁরা আবর্তিত হন...
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
إِلَى الْحَدِيثِ بَيْنَ مَا ذَكَرَ اللَّهُ سبحانه وتعالى فِي كِتَابِهِ، فَقَالَ تَعَالَى ذِكْرُهُ: {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ} [الزمر: 23] فَهُوَ الْقُرْآنُ، فَهُمْ حَمَلَةُ الْقُرْآنِ وَأَهْلُهُ وَقُرَّاؤُهُ وَحَفَظَتُهُ، وَبَيِّنٌ أَنْ يَنْتَمُوا إِلَى حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهُمْ نَقَلَتُهُ وَحَمَلَتُهُ، فَلَا شَكَّ أَنَّهُمْ يَسْتَحِقُونَ هَذَا الِاسْمَ لِوُجُودِ الْمَعْنَيَيْنِ فِيهِمْ لِمُشَاهَدَتِنَا أَنَّ اقْتِبَاسَ النَّاسِ الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ مِنْهُمْ، وَاعْتِمَادَ الْبَرِيَّةِ فِي تَصْحِيحِهِمَا عَلَيْهِمْ، لِأَنَّا مَا سَمِعْنَا عَنِ الْقُرُونِ الَّتِي قَبْلَنَا، وَلَا رَأَيْنَا نَحْنُ فِي زَمَانِنَا مُبْتَدِعًا رَأْسًا فِي إِقْرَاءِ الْقُرْآنِ، وَأَخَذَ النَّاسُ عَنْهُ فِي زَمَنٍ مِنَ الْأَزْمَانِ، وَلَا ارْتَفَعَتْ لِأَحَدٍ مِنْهُمْ رَايَةٌ فِي رِوَايَةِ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا خَلَتْ مِنَ الْأَيَّامِ، وَلَا اقْتَدَى بِهِمْ أَحَدٌ فِي دِينٍ وَلَا شَرِيعَةٍ مِنْ شَرَائِعِ الْإِسْلَامِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَمَّلَ لِهَذِهِ الطَّايِفَةِ سِهَامَ الْإِسْلَامِ، وَشَرَّفَهُمْ بِجَوَامِعِ هَذِهِ الْأَقْسَامِ، وَمَيَّزَهُمْ مِنْ جَمِيعِ الْأَنَامِ، حَيْثُ أَعَزَّهُمُ اللَّهُ بِدِينِهِ، وَرَفَعَهُمْ بِكِتَابِهِ، وَأَعْلَى ذِكْرَهُمْ بِسُنَّتِهِ، وَهَدَاهُمْ إِلَى طَرِيقَتِهِ وَطَرِيقَةِ رَسُولِهِ، فَهِيَ الطَّايِفَةُ الْمَنْصُورَةُ، وَالْفِرْقَةُ النَّاجِيَةُ، وَالْعُصْبَةُ الْهَادِيَةُ، وَالْجَمَاعَةُ الْعَادِلَةُ الْمُتَمَسِّكَةُ بِالسُّنَّةِ، الَّتِي لَا تُرِيدُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَدِيلًا، وَلَا عَنْ قَوْلِهِ تَبْدِيلًا، وَلَا عَنْ سُنَّتِهِ تَحْوِيلًا، وَلَا يُثْنِيهِمْ عَنْهَا تَقَلُّبُ الْأَعْصَارِ وَالزَّمَانِ، وَلَا يَلْوِيهِمْ عَنْ سَمْتِهَا تَغَيُّرُ الْحَدَثَانِ، وَلَا يَصْرِفُهُمْ عَنْ سَمْتِهَا ابْتِدَاعُ مَنْ كَادَ الْإِسْلَامَ لِيَصُدَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغِيَهَا عِوَجًا، وَيَصْرِفَ عَنْ طُرُقِهَا

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন তার মাঝে 'হাদিস' শব্দের দিকে; মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন সর্বোত্তম বাণী (হাদিস)" [আয-যুমার: ২৩]। আর তা হলো কুরআন। সুতরাং তাঁরাই হলেন কুরআনের বাহক, এর অনুসারী, এর তিলাওয়াতকারী এবং এর হাফেজ। এবং এটি স্পষ্ট যে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের সাথে সম্পৃক্ত, কারণ তাঁরাই এর বর্ণনাকারী ও বাহক। তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাঁরা এই নামের যোগ্য, কারণ তাঁদের মধ্যে উভয় অর্থই বিদ্যমান। কেননা আমরা প্রত্যক্ষ করি যে, মানুষ কুরআন ও সুন্নাহ তাঁদের থেকেই গ্রহণ করে এবং এই দুইটির বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সৃষ্টির সকল মানুষ তাঁদের ওপরই নির্ভর করে। কারণ আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলোর ইতিহাস থেকে আমরা এমন কিছু শুনিনি এবং আমাদের যুগেও দেখিনি যে, কোনো বিদআতি ব্যক্তি কুরআন পাঠদানের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় হয়েছে এবং কোনো এক সময়ে মানুষ তার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছে। আর গত হয়ে যাওয়া দিনগুলোতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের কারও কোনো ঝাণ্ডা উন্নত হয়নি এবং দ্বীন বা ইসলামের শরীয়তের কোনো বিধানেই কেউ তাদের অনুসরণ করেনি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই দলের জন্য ইসলামের অংশসমূহ পূর্ণ করেছেন, তাঁদেরকে এই সকল প্রকারের মর্যাদায় ভূষিত করেছেন এবং তাঁদেরকে সমস্ত সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক করেছেন। যেখানে আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর দ্বীনের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, তাঁর কিতাবের মাধ্যমে উচ্চমর্যাদা দান করেছেন, তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে তাঁদের খ্যাতি সুউচ্চ করেছেন এবং তাঁদেরকে তাঁর পথ ও তাঁর রাসূলের পথে পরিচালিত করেছেন। সুতরাং এটিই হলো সাহায্যপ্রাপ্ত দল, মুক্তিপ্রাপ্ত দল, হিদায়াতপ্রাপ্ত গোষ্ঠী এবং সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ন্যায়পরায়ণ জামাত; যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো বিকল্প চায় না, তাঁর বাণীর কোনো পরিবর্তন চায় না এবং তাঁর সুন্নাহর কোনো বিচ্যুতি চায় না। যুগের পরিবর্তন ও আবর্তন তাঁদেরকে এ থেকে বিমুখ করতে পারে না এবং সময়ের বিপর্যয় তাঁদেরকে এর সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে না। আর সেই বিদআতিদের উদ্ভাবনও তাঁদেরকে এর সঠিক পথ থেকে সরিয়ে দিতে পারে না, যারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাতে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দেওয়া যায় এবং একে বক্র করতে চায় ও এর পথসমূহ থেকে মানুষকে বিমুখ করতে চায়।

(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
جَدَلًا وَلَجَاجًا، ظَنًّا مِنْهُ كَاذِبًا، وَتَمَنِيًّا بَاطِلًا أَنَّهُ يُطْفِئُ نُورَ اللَّهِ، وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ.

 

‌‌[مَكَانَةُ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَصِفَاتُهُمْ]

وَاغْتَاظَ بِهِمُ الْجَاحِدُونَ، فَإِنَّهُمُ السَّوَادُ الْأَعْظَمُ، وَالْجُمْهُورُ الْأَضْخَمُ، فِيهِمُ الْعِلْمُ وَالْحُكْمُ، وَالْعَقْلُ وَالْحِلْمُ، وَالْخِلَافَةُ وَالسِّيَادَةُ، وَالْمُلْكُ وَالسِّيَاسَةُ، وَهُمْ أَصْحَابُ الْجُمُعَاتِ وَالْمَشَاهِدِ، وَالْجَمَاعَاتِ وَالْمَسَاجِدِ، وَالْمَنَاسِكِ وَالْأَعْيَادِ، وَالْحَجِّ وَالْجِهَادِ، وَبَاذِلُو الْمَعْرُوفِ لِلصَّادِرِ وَالْوَارِدِ، وَحُمَاةُ الثُّغُورِ وَالْقَنَاطِرِ، الَّذِينَ جَاهَدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ، وَاتَّبَعُوا رَسُولَهُ عَلَى مِنْهَاجِهِ، الَّذِينَ أَذْكَارُهُمْ فِي الزُّهْدِ مَشْهُورَةٌ، وَأَنْفَاسُهُمْ عَلَى الْأَوْقَاتِ مَحْفُوظَةٌ، وَآثَارُهُمْ عَلَى الزَّمَانِ مَتْبُوعَةٌ، وَمَوَاعِظُهُمْ لِلْخَلْقِ زَاجِرَةٌ، وَإِلَى طُرُقِ الْآخِرَةِ دَاعِيَةٌ، فَحَيَاتُهُمْ لِلْخَلْقِ مَنْبَهَةٌ، وَمَسِيرُهُمْ إِلَى مَصِيرِهِمْ لِمَنْ بَعْدَهُمْ عِبْرَةٌ، وَقُبُورُهُمْ مُزَارَةٌ، وَرُسُومُهُمْ عَلَى الدَّهْرِ غَيْرُ دَارِسَةٍ، وَعَلَى تَطَاوُلِ الْأَيَّامِ غَيْرُ
তর্করত এবং জেদবশত, তার মিথ্যা ধারণা এবং বাতিল আকাঙ্ক্ষা ছিল যে সে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করে দেবে, অথচ আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতাদানকারী, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।

 

‌‌[আহলে হাদীসের মর্যাদা ও তাঁদের গুণাবলি]

আর অস্বীকারকারীরা তাঁদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছে; অথচ তাঁরাই হলেন ‘সওয়াদে আজম’ (বিশাল জনসমষ্টি) এবং বৃহত্তম সংখ্যাগুরু দল। তাঁদের মধ্যেই রয়েছে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, বুদ্ধি ও সহিষ্ণুতা, খিলাফত ও নেতৃত্ব এবং রাজত্ব ও রাজনীতি। তাঁরাই জুমুআ এবং বৃহৎ সমাবেশের অধিকারী, জামাত ও মসজিদের লোক, হজের নিয়মাবলি ও ঈদোৎসবের ধারক এবং হজ ও জিহাদের অগ্রসেনানী। তাঁরাই আগন্তুক ও প্রস্থানকারীদের জন্য কল্যাণ বিস্তারকারী এবং সীমান্ত ও সংযোগস্থলের রক্ষক। তাঁরা আল্লাহর পথে জিহাদের প্রকৃত হক আদায় করেছেন এবং তাঁর রাসূলের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর মানহাজ (পথ) অনুযায়ী চলেছেন। দুনিয়াবিমুখতার (জুহদ) বর্ণনায় তাঁদের আলোচনা সুপ্রসিদ্ধ, সময়ের প্রতিটি মুহূর্তের শ্বাস-প্রশ্বাস তাঁদের সংরক্ষিত, যুগ যুগ ধরে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা হয়, তাঁদের উপদেশাবলি সৃষ্টির জন্য পাপ থেকে নিবৃত্তকারী এবং আখিরাতের পথের দিকে আহ্বানকারী। তাঁদের জীবন সৃষ্টির জন্য সতর্কবার্তা, তাঁদের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাত্রার পথ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়, তাঁদের কবরসমূহ যিয়ারত করা হয় এবং কালের আবর্তে তাঁদের স্মৃতিসমূহ মুছে যায় না, আর সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায় তা বিলীন হয় না...
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
نَاسِيَةٍ، يُعَرِّفُ اللَّهُ إِلَى الْقُلُوبِ مَحَبَّتَهُمْ، وَيَبْعَثُهُمْ عَلَى حِفْظِ مَوَدَّتِهِمْ، يُزَارُونَ فِي قُبُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ أَحْيَاءٌ فِي بُيُوتِهِمْ، لِيَنْشُرَ اللَّهُ لَهُمْ بَعْدَ مَوْتِهِمُ الْأَعْلَامَ حَتَّى لَا تَنْدَرِسَ أَذْكَارُهُمْ عَلَى الْأَعْوَامِ، وَلَا تَبْلَى أَسَامِيهِمْ عَلَى مَرِّ الْأَيَّامِ. فَرَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ وَرِضْوَانُهُ، وَجَمَعَنَا وَإِيَّاهُمْ فِي دَارِ السَّلَامِ.

 

‌‌[حِفْظُ عَقِيدَةِ أَهْلِ الْحَدِيثِ]

ثُمَّ إِنَّهُ لَمْ يَزَلْ فِي كُلِّ عَصْرٍ مِنَ الْأَعْصَارِ إِمَامٌ مِنْ سَلَفٍ، أَوْ عَالِمٌ مِنْ خَلَفٍ، قَايِمٌ لِلَّهِ بِحَقِّهِ، وَنَاصِحٌ لِدِينِهِ فِيهَا، يَصْرِفُ هِمَّتَهُ إِلَى جَمْعِ اعْتِقَادِ أَهْلِ الْحَدِيثِ عَلَى سُنَنِ كِتَابِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَآثَارِ صَحَابَتِهِ، وَيَجْتَهِدُ فِي تَصْنِيفِهِ، وَيُتْعِبُ نَفْسَهُ فِي تَهْذِيبِهِ؛ رَغْبَةً مِنْهُ فِي إِحْيَاءِ سُنَّتِهِ، وَتَجْدِيدِ شَرِيعَتِهِ، وَتَطْرِيَةِ ذِكْرِهِمَا عَلَى أَسْمَاعِ الْمُتَمَسِّكِينَ بِهِمَا مِنْ أَهْلِ مِلَّتِهِ، أَوْ لِزَجْرِ غَالٍ فِي بِدْعَتِهِ، أَوْ مُسْتَغْرِقٍ يَدْعُو إِلَى ضَلَالَتِهِ، أَوْ مُفْتَتِنٍ بِجَهَالَتِهِ لِقِلَّةِ بَصِيرَتِهِ.

(بَذْلُ الْمُؤَلِّفِ جَهْدَهُ لِلتَّصْنِيفِ)

فَأَفْرَغْتُ فِي ذَلِكَ جَهْدِي، وَأَتْعَبْتُ فِيهِ نَفْسِي؛ رَجَاءَ ثَوَابِ اللَّهِ وَاسْتِنْجَازِ مَوْعُودِهِ فِي اسْتِبْصَارِ جَاهِلٍ، وَاسْتِنْقَاذِ ضَالٍّ، وَتَقْوِيمِ عَادِلٍ، وَهِدَايَةِ حَائِرٍ، وَأَسْأَلُ اللَّهَ التَّوْفِيقَ فِيمَا أَرْوِيهِ، وَالْإِقَالَةَ مِنَ الْخَطَأِ فِيمَا أَنْحُوهُ وَأَقْصِدُهُ.
বিস্মৃত; আল্লাহ মানুষের হৃদয়ে তাঁদের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন এবং তাঁদের প্রতি সৌহার্দ্য বজায় রাখতে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁদের কবরে তাঁদের এমনভাবে যিয়ারত করা হয় যেন তাঁরা তাঁদের নিজ গৃহে জীবিত আছেন। আল্লাহ যেন তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে দেন, যাতে বছরের পর বছর ধরে তাঁদের স্মরণ বিলুপ্ত না হয় এবং দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে তাঁদের নামসমূহ মুছে না যায়। সুতরাং তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক এবং তিনি আমাদের ও তাঁদেরকে শান্তির আলয়ে (দারুস সালাম) একত্রিত করুন।

 

‌‌[আহলুল হাদিসের আকিদা সংরক্ষণ]

অতঃপর, প্রতিটি যুগেই সালাফদের মধ্য থেকে এমন কোনো ইমাম অথবা খালাফদের মধ্য থেকে এমন কোনো আলেম বিদ্যমান ছিলেন, যিনি আল্লাহর হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে একনিষ্ঠ উপদেশদাতা ছিলেন। তিনি আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের আসার (বর্ণনা) অনুযায়ী আহলুল হাদিসের আকিদা সংকলনের দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি তা প্রণয়নে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং তা সুবিন্যস্ত করতে নিজেকে নিয়োজিত করেন। এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য হলো—সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করা, শরীয়তকে নবায়ন করা এবং উম্মতের মধ্যে যারা এ দুটিকে আঁকড়ে ধরে আছেন, তাঁদের কানে এ দুটির আলোচনাকে সজীব রাখা। অথবা কোনো বিদআতিকে তার বিদআত থেকে বিরত রাখা, কিংবা কোনো পথভ্রষ্টকে—যে নিজের গোমরাহির দিকে ডাকছে—প্রতিহত করা, অথবা এমন কোনো ব্যক্তি যে তার অজ্ঞতার কারণে এবং দূরদর্শিতার অভাবে বিভ্রান্তিতে লিপ্ত, তাকে সতর্ক করা।

(গ্রন্থ সংকলনে লেখকের প্রচেষ্টা)

সুতরাং আমি এ কাজে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং এতে নিজেকে পরিশ্রান্ত করেছি; আল্লাহর নিকট সওয়াবের আশায় এবং তাঁর সেই ওয়াদা পূরণের প্রত্যাশায়—যা মূর্খকে জ্ঞানদান, পথভ্রষ্টকে উদ্ধার, বিচ্যুতকে সংশোধন এবং বিভ্রান্তকে হেদায়েত দান করার বিষয়ে রয়েছে। আমি যা বর্ণনা করছি তাতে আল্লাহর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং আমি যা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্থির করেছি তাতে ভুল-ত্রুটি থেকে মুক্তি ও ক্ষমা ভিক্ষা করছি।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
(سَبَبُ التَّأْلِيفِ)

وَقَدْ كَانَ تَكَرَّرَتْ مَسْأَلَةُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِيَّايَ عَوْدًا وَبَدْءًا فِي (شَرْحِ اعْتِقَادِ مَذَاهِبِ أَهْلِ الْحَدِيثِ) قَدَّسَ اللَّهُ أَرْوَاحَهُمْ، وَجَعَلَ ذِكْرَنَا لَهُمْ رَحْمَةً وَمَغْفِرَةً، فَأَجَبْتُهُمْ إِلَى مَسْأَلَتِهِمْ لِمَا رَأَيْتُ فِيهِ مِنَ الْفَايِدَةِ الْحَاصِلَةِ، وَالْمَنْفَعَةِ السُّنِّيَّةِ التَّامَّةِ، وَخَاصَّةً فِي هَذِهِ الْأَزْمِنَةِ الَّتِي تَنَاسَى عُلَمَاؤُهَا رُسُومَ (مَذَاهِبِ أَهْلِ السُّنَّةِ) ، وَاشْتَغَلُوا عَنْهَا بِمَا أَحْدَثُوا مِنَ الْعُلُومِ الْحَدِيثَةِ، حَتَّى ضَاعَتِ الْأُصُولُ الْقَدِيمَةُ الَّتِي أُسِّسَتْ عَلَيْهَا الشَّرِيعَةُ، وَكَانَ عُلَمَاءُ السَّلَفِ إِلَيْهَا يَدْعُونَ، وَإَلَى طَرِيقِهَا يَهْدُونَ، وَعَلَيْهَا يُعَوِّلُونَ، فَجَدَّدْتُ هَذِهِ الطَّرِيقَةَ لِتُعْرَفَ مَعَانِيهَا وَحُجَجُهَا، وَلَا يُقْتَصَرَ عَلَى سَمَاعِ اسْمِهَا دُونَ رَسْمِهَا. (مَنْهَجُ الْمُؤَلِّفِ وَشَرْطُهُ)

فَابْتَدَأْتُ بِشَرْحِ هَذَا الْكِتَابِ بَعْدَ أَنْ تَصَفَّحْتُ عَامَّةَ كُتُبِ الْأَئِمَّةِ الْمَاضِينَ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ - وَعَرَفْتُ مَذَاهِبَهُمْ وَمَا سَلَكُوا مِنَ الطُّرُقِ فِي تَصَانِيفِهِمْ لِيُعَرِّفُوا بِهِ الْمُسْلِمِينَ، وَمَا نَقَلُوا مِنَ الْحُجَجِ فِي هَذِهِ الْمَسَائِلِ الَّتِي حَدَثَ الْخِلَافُ فِيهَا بَيْنَ أَهْلِ السُّنَّةِ وَبَيْنَ مَنِ انْتَسَبَ إِلَى الْمُسْلِمِينَ، فَفَصَّلْتُ هَذِهِ الْمَسَائِلَ، وَبَيَّنْتُ فِي تَرَاجِمِهَا أَنَّ تِلْكَ الْمَسْأَلَةَ مَتَى حَدَثَ فِي الْإِسْلَامِ الِاخْتِلَافُ فِيهَا، وَمَنِ الَّذِي أَحْدَثَهَا
(রচনার কারণ)

বারবার আহলে ইলমদের পক্ষ থেকে আমার নিকট (আহলে হাদীসগণের মাযহাবের আকীদার ব্যাখ্যা) প্রদানের অনুরোধ আসতে থাকে—আল্লাহ তাঁদের রুহসমূহকে পবিত্র করুন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁদের আলোচনাকে রহমত ও মাগফিরাতের অসিলা বানান। অতঃপর আমি তাঁদের আহবানে সাড়া দিলাম, যেহেতু এতে বিদ্যমান উপকারিতা এবং সুন্নাহর পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ আমি উপলব্ধি করেছি। বিশেষ করে এই বর্তমান সময়ে, যখন এর আলিমগণ (আহলে সুন্নাহর মাযহাবসমূহের) রীতিনীতি বিস্মৃত হয়েছেন এবং তাঁরা এগুলোর পরিবর্তে নতুন উদ্ভাবিত জ্ঞান-বিজ্ঞানে লিপ্ত হয়েছেন। এমনকি সেই প্রাচীন মূলনীতিগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে যার ওপর শরীয়ত প্রতিষ্ঠিত এবং যার প্রতি সালাফ আলিমগণ দাওয়াত দিতেন, যার পথের দিকে তাঁরা পথপ্রদর্শন করতেন এবং যার ওপর তাঁরা নির্ভর করতেন। তাই আমি এই পদ্ধতিটিকে পুনরুজ্জীবিত করলাম যাতে এর অর্থ ও দলিলসমূহ জানা যায় এবং কেবল নাম শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে এর প্রকৃত রূপটি পরিচিতি লাভ করে। (লেখকের পদ্ধতি ও শর্তাবলী)

অতঃপর আমি এই কিতাবটির ব্যাখ্যা শুরু করেছি পূর্ববর্তী ইমামগণের—আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন—সাধারণ কিতাবসমূহ পর্যালোচনার পর। আমি তাঁদের মাযহাব বা মতবাদগুলো চিনেছি এবং মুসলমানদেরকে তা জানানোর জন্য তাঁদের রচনাবলীতে তাঁরা যে পথ অবলম্বন করেছেন তা জেনেছি। সেই সাথে আহলে সুন্নাহ ও যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে তাদের মাঝে যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোতে তাঁরা যেসব দলিল বর্ণনা করেছেন তাও অবগত হয়েছি। সুতরাং আমি এই মাসয়ালাগুলোকে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেছি এবং শিরোনামসমূহের অধীনে স্পষ্ট করেছি যে, ইসলামে সেই মাসয়ালা সম্পর্কে কখন মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে এবং কে তা প্রবর্তন করেছে।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَتَقَوَّلَهَا؛ لِيُعْرَفَ حُدُوثُهَا، وَأَنَّهُ لَا أَصْلَ لِتِلْكَ الْمَقَالَةِ فِي الصَّدْرِ الْأَوَّلِ مِنَ الصَّحَابَةِ، ثُمَّ أَسْتَدِلُّ عَلَى صِحَّةِ مَذَاهِبِ أَهْلِ السُّنَّةِ بِمَا وَرَدَ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى فِيهَا، وَبِمَا رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنْ وَجَدْتُ فِيهِمَا جَمِيعًا ذَكَرْتُهُمَا، وَإِنْ وَجَدْتُ فِي أَحَدِهِمَا دُونَ الْآخَرِ ذَكَرْتُهُ، وَإِنْ لَمْ أَجِدْ فِيهِمَا إِلَّا عَنِ الصَّحَابَةِ الَّذِينَ أَمَرَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَنْ يُقْتَدَى بِهِمْ، وَيُهْتَدَى بِأَقْوَالِهِمْ، وَيُسْتَضَاءَ بِأَنْوَارِهِمْ؛ لِمُشَاهَدَتِهِمُ الْوَحْيَ وَالتَّنْزِيلَ، وَمَعْرِفَتِهِمْ مَعَانِيَ التَّأْوِيلِ، احْتَجَجْتُ بِهَا، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهَا أَثَرٌ عَنْ صَحَابِيٍّ فَعَنِ التَّابِعِينَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ، الَّذِينَ فِي قَوْلِهِمُ الشِّفَاءُ وَالْهُدَى، وَالتَّدَيُّنُ بِقَوْلِهِمُ الْقُرْبَةُ إِلَى اللَّهِ وَالزُّلْفَى، فَإِذَا رَأَيْنَاهُمْ قَدْ أَجْمَعُوا عَلَى شَيْءٍ عَوَّلْنَا عَلَيْهِ، وَمَنْ أَنْكَرُوا قَوْلَهُ أَوْ رَدُّوا عَلَيْهِ بِدْعَتَهُ أَوْ كَفَّرُوهُ حَكَمْنَا بِهِ وَاعْتَقَدْنَاهُ.

وَلَمْ يَزَلْ مِنْ لَدُنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى يَوْمِنَا هَذَا قَوْمٌ يَحْفَظُونَ هَذِهِ الطَّرِيقَةَ وَيَتَدَيَّنُونَ بِهَا، وَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ حَادَ عَنْ هَذِهِ الطَّرِيقَةِ لِجَهْلِهِ طُرُقَ الِاتِّبَاعِ.

وَكَانَ فِي الْإِسْلَامِ مَنْ يُؤْخَذُ عَنْهُ هَذِهِ الطَّرِيقَةُ قَوْمٌ مَعْدُودُونَ، أَذْكُرُ أَسَامِيَهُمْ فِي ابْتِدَاءِ هَذَا الْكِتَابِ لِتُعْرَفَ أَسَامِيهِمْ، وَيُكْثَرَ التَّرَحُّمُ عَلَيْهِمْ وَالدُّعَاءُ لَهُمْ؛ لِمَا حَفِظُوا عَلَيْنَا هَذِهِ الطَّرِيقَةَ، وَأَرْشَدُونَا إِلَى سُنَنِ هَذِهِ الشَّرِيعَةِ، وَلَمْ آلُ جَهْدًا فِي تَصْنِيفِ هَذَا الْكِتَابِ وَنَظْمِهِ عَلَى سَبِيلِ " السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ " وَلَمْ أَسْلُكْ فِيهِ طَرِيقَ التَّعَصُّبِ عَلَى أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ؛ لِأَنَّ مَنْ سَلَكَ طَرِيقَ الْأَخْيَارِ فَمِنَ الْمَيْلِ بَعِيدٌ؛ لِأَنَّ مَا يَتَدَيَّنُ بِهِ شَرْعٌ
এবং তিনি তা মিথ্যাভাবে আরোপ করেছেন; যেন তাদের সেই নবউদ্ভাবন সম্পর্কে জানা যায় এবং এটিও স্পষ্ট হয় যে, সাহাবীদের প্রথম যুগে সেই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি ছিল না। অতঃপর আমি আহলে সুন্নাহর মাযহাবসমূহের সঠিকতা সম্পর্কে দলিল পেশ করব যা মহান আল্লাহর কিতাবে এ বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে এবং যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। যদি আমি উভয়টির মধ্যেই তা পাই তবে উভয়টিই উল্লেখ করব, আর যদি কোনো একটিতে পাই তবে কেবল সেটিই উল্লেখ করব। আর যদি আমি সেগুলোতে কোনো বর্ণনা না পাই কেবল সেই সকল সাহাবীগণ ব্যতীত যাদেরকে অনুসরণ করার, যাদের বক্তব্যের মাধ্যমে হেদায়েত পাওয়ার এবং যাদের নূরের মাধ্যমে আলোকবর্তিকা গ্রহণের নির্দেশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দিয়েছেন—কেননা তারা ওহী ও প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ব্যাখ্যার অর্থ সম্পর্কে জ্ঞান রাখতেন—তবে আমি তাদের সেই বক্তব্যগুলো দ্বারাই দলিল পেশ করব। অতঃপর যদি কোনো সাহাবীর কোনো বর্ণনা না থাকে, তবে তাদের উত্তম অনুসারী তাবেয়ীদের থেকে বর্ণনা পেশ করব, যাদের বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে আরোগ্য ও হেদায়েত এবং যাদের কথাকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করা আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম। অতঃপর আমরা যখন দেখি যে তারা কোনো বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তখন আমরা তার ওপরই নির্ভর করি। আর তারা যার বক্তব্যকে অস্বীকার করেছেন অথবা যার বিদআতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন কিংবা যাকে কাফের বলেছেন, আমরাও তদ্রূপ ফয়সালা করি এবং তা বিশ্বাস করি।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত এমন একদল মানুষ সর্বদা বিদ্যমান রয়েছেন যারা এই পথকে হিফাযত করেছেন এবং একেই দ্বীন হিসেবে পালন করে আসছেন। প্রকৃতপক্ষে তারাই ধ্বংস হয়েছে যারা অনুসরণের পদ্ধতি না জানার কারণে এই পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

ইসলামে এমন কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন যাদের থেকে এই পথ গ্রহণ করা হয়। আমি এই কিতাবের শুরুতে তাদের নাম উল্লেখ করব যেন তাদের নাম জানা যায় এবং তাদের জন্য অধিকতর রহমত ও দুআ করা হয়; কারণ তারা আমাদের জন্য এই পথ হিফাযত করেছেন এবং এই শরীয়তের সুন্নাহসমূহের দিকে আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমি "আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের" পদ্ধতিতে এই কিতাবটি সংকলন ও বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে কোনো প্রচেষ্টাই ত্রুটি করিনি। এতে আমি কোনো মানুষের প্রতি কোনো প্রকার গোঁড়ামির পথ অবলম্বন করিনি; কারণ যারা নেককারদের পথ অবলম্বন করেন তারা বিচ্যুতি থেকে অনেক দূরে থাকেন; কেননা যা দ্বীন হিসেবে পালন করা হয় তা হলো শরীয়ত।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
مَقْبُولٌ، وَأَثَرٌ مَنْقُولٌ، أَوْ حِكَايَةٌ عَنْ إِمَامٍ مَقْبُولٍ، وَإِنَّمَا الْحَيْفُ يَقَعُ فِي كَلَامِ مَنْ تَكَلَّفَ الِاخْتِرَاعَ وَنَصَرَ الِابْتِدَاعَ، وَأَمَّا مَنْ سَلَكَ بِنَفْسِهِ مَسْلَكَ الِاتِّبَاعِ فَالْهَوَى وَالْإِحَادَةُ عَنْهُ بَعِيدَةٌ، وَمِنَ الْعَصَبِيَّةِ سَلِيمٌ، وَعَلَى طَرِيقِ الْحَقِّ مُسْتَقِيمٌ.

وَنَسْأَلُ اللَّهَ دَوَامَ مَا أَنْعَمَ بِهِ عَلَيْنَا مِنِ اتِّبَاعِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ وَإِتْمَامِهَا عَلَيْنَا فِي دِينِنَا وَدُنْيَانَا وَآخِرَتِنَا بِفَضْلِهِ وَرَحْمَتِهِ، إِنَّهُ عَلَى مَا يَشَاءُ قَدِيرٌ، وَبِعِبَادِهِ لَطِيفٌ خَبِيرٌ.
এটি একটি গ্রহণযোগ্য বিষয়, বর্ণিত একটি বর্ণনা (আছার), অথবা কোনো গ্রহণযোগ্য ইমাম থেকে বর্ণিত একটি কাহিনী। পক্ষান্তরে অবিচার কেবল সেই ব্যক্তির কথায় পরিলক্ষিত হয়, যে কৃত্রিমভাবে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে এবং বিদআতকে সাহায্য করে। আর যে ব্যক্তি নিজে অনুসরণের (ইত্তিবা) পথ অবলম্বন করেছে, প্রবৃত্তি ও সত্যচ্যুতি তার থেকে অনেক দূরে, সে গোঁড়ামি থেকে মুক্ত এবং সত্যের পথে সুপ্রতিষ্ঠিত।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসরণের যে নিআমত আমাদের দান করেছেন তা যেন স্থায়ী করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে আমাদের দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতে তা পূর্ণতা দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম এবং তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও সম্যক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌[بَابُ سِيَاقِ ذِكْرِ مَنْ رُسِمَ بِالْإِمَامَةِ فِي السُّنَّةِ]

بَابُ سِيَاقِ ذِكْرِ مَنْ رُسِمَ بِالْإِمَامَةِ فِي السُّنَّةِ وَالدَّعْوَةِ وَالْهِدَايَةِ إِلَى طَرِيقِ الِاسْتِقَامَةِ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِمَامِ الْأَئِمَّةِ

فَمِنَ الصَّحَابَةِ: أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ،
[সুন্নাহর ক্ষেত্রে ইমামতের বৈশিষ্ট্যে ভূষিত ব্যক্তিবর্গের বর্ণনার অনুচ্ছেদ]

ইমামদের ইমাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সুন্নাহ, দাওয়াত এবং সরল পথের দিশার ক্ষেত্রে ইমামত বা নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যে ভূষিত ব্যক্তিবর্গের বর্ণনার অনুচ্ছেদ

সাহাবীদের মধ্য থেকে: আবু বকর সিদ্দিক, ওমর ইবনুল খাত্তাব, ওসমান ও আলী,
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَالزُّبَيْرُ، وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، وَسَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ، وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، وَأُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، وَابْنُ عَبَّاسٍ، وَابْنُ عُمَرَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ
এবং যুবায়ের, সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, সাঈদ ইবনে যায়েদ, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, মু'আয ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কা'ব, ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে
(খণ্ড: ١) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الْعَاصِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ، وَأَبُو الدَّرْدَاءِ، وَعُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ، وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ، وَعِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ، وَعَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ، وَأَبُو هُرَيْرَةَ، وَحُذَيْفَةُ بْنُ
আল-আস, এবং আবদুল্লাহ ইবনুল যুবাইর, এবং যায়দ ইবনে সাবিত, এবং আবু আদ-দারদা, এবং উবাদাহ ইবনুস সামিত, এবং আবু মুসা আল-আশআরি, এবং ইমরান ইবনে হুসাইন, এবং আম্মার ইবনে ইয়াসির, এবং আবু হুরাইরাহ, এবং হুযায়ফাহ ইবনে