(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام القرآن للشافعي - جمع البيهقي ت الشوامي القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: أحكام القرآن
المؤلف: أبو بكر أحمد بن الحسين الخسروجردي البيهقي (ت 458 هـ)
ميزه وجمعه من كلام: الإمام أبي عبد الله المطلبي محمد بن إدريس الشافعي (ت 204 هـ)
حققه وعلق عليه: أبو عاصم الشوامي
الناشر: دار الذخائر
الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م
عدد الصفحات: 427
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الآخر 1442
শাফেয়ীর আহকামুল কুরআন - বায়হাকী কর্তৃক সংকলিত এবং শাওয়ামী কর্তৃক সম্পাদিত বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান এবং তাফসিরের মূলনীতি
বই: আহকামুল কুরআন
লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-খুসরাজারদী আল-বায়হাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি)
যাঁর বক্তব্য থেকে চয়ন ও সংকলন করা হয়েছে: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-মুত্তালিবী মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আল-শাফেয়ী (মৃত্যু ২০৪ হিজরি)
গবেষণা ও টীকা প্রদান করেছেন: আবু আসিম আল-শাওয়ামী
প্রকাশক: দারুল জাখায়ের
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৭
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউস সানি ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة
الحمدُ للهِ وَاهِبِ النِّعَم، بَارِئ النَّسَم، خَالِقِ كُلِّ شَيءٍ مِن عَدَم، أَرسَل رُسَلَه وأَنزلَ كُتبَه لهداية الأُمَم، فَأنزَل التَّوراةَ والإنْجِيل تَمامًا عَلى الذِي أَحْسنَ وتَفْصِيلًا لكُل شَيءٍ وأَتَم، ووَكَل حِفْظَهُما إلى أهْلِ الكِتابَين، فَكتَمُوه وحَرَّفُوه وأَفْسَدُوا في الأرض؛ فَاسْتَوْجَبُوا العَذَاب والنِّقَم، فَمَقَت اللهُ أَهلَ الأَرضِ، العَربَ مِنهم والعَجَم، ثم أَرْسَل رَسُولَه الخَاتَم، ونِبيَّه المُعَظَّم، مُحَمَّدَ بنَ عبد الله بن عَبد المُطَّلِب بن هَاشِم، الصَّادِقَ المُصْدُوقَ الذي لا يُتَّهَم، وأَنزَل عَليه كتابًا لا يَغْسِله المَاءُ، فيه نَبَأُ مَن قَبْلَكُم وخَبَرُ ما بَعْدَكُم وحُكْمُ ما بَيْنَكُم، تَكَفَّل هو سُبحَانَه بِحفْظِه، فَأخْرَج به النَّاسَ إلى الهُدَى والنُّور بَعْد الضَّلَال والظُّلَم، فَاللهُم صَلِّ وبَارِك عَلى نَبيِّنا الأَكْرَم، خَيرِ مَن قَال ومَن عَلَّم، أَفْصَحِ مَن نَطَقَ وتَكَلَّم، أَصْدَقِ مَن كَبَّر أو عظَّم، وعَلى آلِه وصَحْبِه وسَلِّم، صَلاةً وسَلامًا دَائِمَين أبدًا، كُلَّما أَشْرَق نَهارٌ وأَعْتَم.
أما بعد،
فإن الله عز وجل أنزل كتَابَه المُعْجِز، ووَحْيَه المُنْقِذ، وتَكَفَّل بحفظه وصِيانته فقال جل جلاله: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9]. ولم يكن هذا الحفظ للكتاب قاصرًا على حفظ حروفه ومبانيه، بل كان الحِفظُ في المَقَام الأول لأحكامه ومعانيه، فالقرآن لم يُنزِلْهُ اللهُ عز وجل ليُتَعبَّد بتلاوته والتَّغَني به
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল নিয়ামত দানকারী, প্রাণসমূহের স্রষ্টা, শূন্য থেকে প্রতিটি বস্তুর সৃষ্টিকর্তা। তিনি উম্মতদের হেদায়েতের জন্য তাঁর রসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন। তিনি তাওরাত ও ইঞ্জিল নাযিল করেছিলেন সৎকর্মশীলদের প্রতি নিয়ামত পূর্ণ করার জন্য এবং প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও পূর্ণতা হিসেবে। তিনি এই কিতাব দুটির সংরক্ষণের দায়িত্ব আহলে কিতাবদের ওপর অর্পণ করেছিলেন, কিন্তু তারা তা গোপন করেছে, বিকৃত করেছে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে; ফলে তারা শাস্তি ও আল্লাহর গজবের উপযুক্ত হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ পৃথিবীবাসীর প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন—তাদের আরব ও অনারব উভয়ের প্রতি। এরপর তিনি তাঁর সর্বশেষ রসূল এবং মহান নবীকে পাঠালেন, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিমকে, যিনি ছিলেন এমন সত্যবাদী ও সত্যয়নকারী যার ওপর কোনো সন্দেহ করা যায় না। তিনি তাঁর ওপর এমন এক কিতাব নাযিল করেছেন যা পানি ধুয়ে মুছে ফেলতে পারে না। এতে রয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিবাদসমূহের মীমাংসা। আল্লাহ সুবহানাহু নিজেই এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি মানুষকে পথভ্রষ্টতা ও অন্ধকারের পর হেদায়েত ও আলোর পথে বের করে এনেছেন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সম্মানিত নবীর ওপর দরূদ ও বরকত নাযিল করুন, যিনি প্রবক্তা ও শিক্ষকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, যিনি কথা ও বাকপটুতায় সর্বাধিক প্রাঞ্জল এবং যিনি আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমা বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বাধিক সত্যবাদী। তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপরও চিরন্তন সালাত ও সালাম নাযিল হোক, যতক্ষণ দিন আলোকিত হবে এবং রাত অন্ধকার হবে।
অতঃপর,
নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল তাঁর মুজিযাপূর্ণ কিতাব এবং উদ্ধারকারী ওহী নাযিল করেছেন এবং তিনি নিজেই এর সংরক্ষণ ও পাহারাদারির দায়িত্ব নিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমিই এই যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক} [সূরা হিজর: ৯]। কিতাবের এই সংরক্ষণ কেবল তার হরফ বা বাহ্যিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এই সংরক্ষণ সর্বাগ্রে ছিল তার বিধান ও অর্থসমূহের ক্ষেত্রে। কেননা কুরআনকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল কেবল তিলাওয়াত এবং তা সুর করে পড়ার মাধ্যমে ইবাদত করার জন্য নাযিল করেননি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ৬)
وحَسْب، وإنما أنزله مِنهاجًا للحياة، وصِراطًا مُستقيمًا، وطريقًا لَاحِبًا للوصول إليه تبارك وتعالى، قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ} [الأنفال: 24].فجعل اللهُ عز وجل الاستجابةَ له ولرسولِه الكريم صلى الله عليه وسلم: سَبيلًا للنجاة وللحياة الحقيقية.
فكان لِزامًا لذلك: أن تكون معاني القرآنِ واضِحةً جِليَّةً، كي تَقومَ الحجةُ على العباد بذلك، فَأبَان اللهُ عز وجل على لِسان رَسُولِه صلى الله عليه وسلم معاني القُرآن لأصحابه، وأوضح لهم ما خَفِي عليهم منه، قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل: 44].
فحفظ أصحابُه رضي الله عنهم هذا البيان النبوي، وبلَّغوه مَن بعدهم، وهكذا لتكون الحجة قائمة إلى أن تقوم الساعة.
وما لم يأت فيه خَبَرٌ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا عن أصحابه: قام له أساطِينُ العِلم وحَمَلةُ لِواءِ الشَّريعة، وحُفَّاظ الوَحي -الذين حَفِظَ اللهُ تعالى بهم هذا الدين-؛ ليفسروه ويَستَنبِطوا منه أحكامه التي خَفِيت، أو أُشْكِلَت.
فقام العلماءُ الذين لا يَتَّسِع هذا المقام لذكرهم وذِكْر مَناهجهم المختلفة في التفسير والبيان على نحو يَبهر الألباب = بتفسير كتاب الله عز وجل
(1)، ومعرفة عامِّه وخاصِّه، ومُحْكَمِه ومتشابهه، ومُطْلَقِه ومُقَيَّدِه، وناسِخِه ومَنسُوخِه، وما كان منه مَكيًا وما كان مدنيًا، إلى آخر تلك القواعد المُحكمة
--------------------------------------------
বরং তিনি একে জীবনবিধান, সরল পথ এবং বরকতময় ও মহান আল্লাহর নিকট পৌঁছানোর একটি সুস্পষ্ট পথ হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহবানে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহবান করেন যা তোমাদের জীবন দান করে।" [আল-আনফাল: ২৪]। সুতরাং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর এবং তাঁর সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সাড়া দেওয়াকে মুক্তি ও প্রকৃত জীবনের পথ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
এ কারণে কুরআনের অর্থসমূহ স্পষ্ট ও সুপ্রকাশিত হওয়া আবশ্যক ছিল, যাতে এর মাধ্যমে বান্দাদের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে তাঁর সাহাবীগণের নিকট কুরআনের অর্থসমূহ ব্যক্ত করেছেন এবং কুরআনের যা কিছু তাঁদের কাছে অস্পষ্ট ছিল তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের নিকট স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।" [আন-নাহল: ৪৪]।
অতঃপর তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই নববী ব্যাখ্যা সংরক্ষণ করেছেন এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন, যাতে কিয়ামত পর্যন্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত থাকে।
আর যে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের থেকে কোনো বর্ণনা আসেনি, সে ক্ষেত্রে ইলমের স্তম্ভসমূহ, শরীয়তের পতাকাবাহী এবং ওহীর হেফাজতকারীগণ—যাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা এই দ্বীনকে রক্ষা করেছেন—এগিয়ে এসেছেন; যাতে তাঁরা এর তাফসীর করেন এবং তা থেকে এমন সব বিধিবিধান উদ্ভাবন করেন যা অস্পষ্ট বা জটিল ছিল।
ফলে সেই ওলামায়ে কেরাম আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কিতাবের তাফসীর করেছেন
(১)—যাঁদের নাম এবং তাঁদের তাফসীর ও ব্যাখ্যার বিস্ময়কর বিভিন্ন পদ্ধতি এখানে উল্লেখ করার অবকাশ নেই। তাঁরা কুরআনের সাধারণ ও বিশেষ, সুষ্পষ্ট ও অস্পষ্ট, শর্তহীন ও শর্তযুক্ত, রহিতকারী ও রহিতকৃত, এবং মক্কী ও মাদানী আয়াত সম্পর্কে অবগত করেছেন এবং সেই সাথে সুদৃঢ় মূলনীতিগুলোও স্পষ্ট করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ৭)
التي قام عليها تفسير كتاب الله تعالى، وما ذاك منهم إلا بتسديد الله لهم، وتوفيقه، وتصديقًا لقوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9].
وكان من بين هؤلاء: الإمام العلم الكبير محمد بن إدريس الشافعي رضي الله عنه والذي سَنُفردُ له ترجمةً في هذه المقدمة- فإنه قد أَوْلى آياتِ الكتاب عِنايَتَه، وصَرَف لها هِمَّتَه، فكان له فيها من الفَتح ما ليس لغيره، وكان ذلك مُفَرَّقًا في تصانيفه، وأماليه. فجاء الإمام المبارك أبو بكر البيهقي رحمه الله بعده بنحو قرنين ونصف مِن الزمان، فجمع ما تناثر مِمَّا جَادَت به قَريحَةُ الإمام الشافعي في تفسير كتاب الله تعالى في هذا الكتاب الذي بين يديك: «أحكام القرآن».
وهذا الكتابُ المُبَارك نُقدِّمه للقارئ الكريم، في صورة قَشِيبَة؛ إذ قد مَرَّ على طبعه أول مرة زُهَاء سَبعين عامًا، وبعد أن اطَّلَعتُ على منهج مُحَقِّقه الشيخ عبد الغني عبد الخالق رحمه الله في إخراج الكتاب، تبين لي أمورًا سَوَّغَت لي إعادة تحقيقه مَرَّةً أخرى، وسأذكر ذلك في مبحث مستقل في هذه المقدمة إن شاء الله تعالى.
* * *
যার ওপর মহান আল্লাহর কিতাবের তাফসীর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এটি তাঁদের পক্ষ থেকে কেবল আল্লাহর সঠিক পথনির্দেশ ও তাঁর তাওফীকের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যয়নস্বরূপ: "নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষণকারী।" [আল-হিজর: ৯]।
আর তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন: সুমহান ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদরীস আশ-শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—যাঁর সম্পর্কে আমরা এই ভূমিকায় একটি স্বতন্ত্র জীবনী পেশ করব—কেননা তিনি কিতাবুল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন এবং সেদিকেই স্বীয় একাগ্রতা ব্যয় করেছেন। ফলে এতে তাঁর জন্য জ্ঞানের এমন দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল যা অন্যদের জন্য হয়নি। আর তা তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থ ও শ্রুতিলিপি (আমালী)-তে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল। অতঃপর বরকতময় ইমাম আবু বকর আল-বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রায় আড়াই শতাব্দী পরে আগমন করেন এবং মহান আল্লাহর কিতাবের তাফসীর বিষয়ে ইমাম শাফিঈর প্রজ্ঞা থেকে যা কিছু উৎসারিত হয়েছিল, তা বর্তমান আপনার হাতে থাকা এই কিতাব—'আহকামুল কুরআন'-এ সংকলন করেন।
এই বরকতময় কিতাবটি আমরা সম্মানিত পাঠকের সামনে এক নতুন ও পরিমার্জিত রূপে উপস্থাপন করছি; যেহেতু এর প্রথম মুদ্রণের পর প্রায় সত্তর বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই কিতাবটি প্রকাশে এর মুহাক্কিক শায়খ আব্দুল গনী আব্দুল খালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মানহাজ পর্যালোচনার পর আমার নিকট এমন কিছু বিষয় প্রতীয়মান হয়েছে যা আমাকে কিতাবটি পুনরায় সম্পাদনা করার যৌক্তিকতা প্রদান করেছে। মহান আল্লাহ চাহেন তো, আমি এই ভূমিকার একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে তা উল্লেখ করব।
* * *
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ৮)
هذا وقد صنف غير واحد من العلماء في أحكام القرآن، ووسموا كتبهم بنفس الاسم، منهم على سبيل المثال:
1 - الإمام القاضي أبو إسحاق إسماعيل بن إسحاق بن إسماعيل بن حماد بن زيد الأَزْدِي البصري الجَهْضَمِي المتوفى: سنة 282 هـ. حفيد الإمام حماد بن زيد.
وكتابه «أحكام القرآن» كتاب مسند يروي فيه الإمام الجهضمي ما وقع له من روايات في التفسير، وقد رتبه على السور.
وقد طبع الكتاب عن دار ابن حزم سنة 1426 هـ - 2005 م بتحقيق الدكتور: عامر حسن صبري.
2 - الإمام أبو جعفر أحمد بن محمد بن سَلامة المصري الطَّحَاوي المتوفى: سنة 321 هـ. صاحب كتاب «بيان مشكل الآثار»، و «شرح معاني الآثار».
وكتابه أيضًا مُسْنَد، لكنه مرتب على الأبواب، وقد طبع الكتاب في مركز البحوث الإسلامية التابع لوقف الديانة التركي، استانبول، بتحقيق الدكتور: سعد الدين أونال.
3 - الإمام أحمد بن علي أبو بكر الرازي الجَصَّاص الحنفي المتوفى: 370 هـ.
وكتابه مرتب على السور، وقد طبع الكتاب عن دار إحياء التراث العربي- بيروت 1405 هـ. بتحقيق: محمد صادق القمحاوي.
অনেক আলেম 'আহকামুল কুরআন' (কুরআনের বিধানসমূহ) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাঁরা তাঁদের বইগুলোর নামও একই রেখেছেন। উদাহরণস্বরূপ তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - ইমাম কাজী আবু ইসহাক ইসমাইল বিন ইসহাক বিন ইসমাইল বিন হাম্মাদ বিন যায়েদ আল-আজদি আল-বসরি আল-জাহদামি, মৃত্যু: ২৮২ হিজরি। তিনি ইমাম হাম্মাদ বিন যায়েদের পৌত্র।
তাঁর 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থটি একটি মুসনাদ গ্রন্থ, যেখানে ইমাম জাহদামি তাফসির সংক্রান্ত তাঁর কাছে পৌঁছানো বর্ণনাগুলো সংকলন করেছেন এবং তিনি এটি সূরার ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন।
বইটি ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে দার ইবনে হাজম থেকে ডক্টর আমের হাসান সাবরির সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।
২ - ইমাম আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালামাহ আল-মিসরি আত-তহাবি, মৃত্যু: ৩২১ হিজরি। তিনি 'বায়ান মুশকিলাল আসার' এবং 'শারহু মাআনিল আসার' গ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা।
তাঁর বইটিও একটি মুসনাদ গ্রন্থ, তবে এটি বিভিন্ন অধ্যায়ের ভিত্তিতে বিন্যস্ত। বইটি তুরস্কের দিয়ানত ওয়াকফের অধীনস্থ ইসলামি গবেষণা কেন্দ্র, ইস্তাম্বুল থেকে ডক্টর সাদউদ্দীন উনালের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।
৩ - ইমাম আহমদ বিন আলি আবু বকর আর-রাজি আল-জাসসাস আল-হানাফি, মৃত্যু: ৩৭০ হিজরি।
তাঁর বইটি সূরার ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত এবং এটি ১৪০৫ হিজরিতে বৈরুতের দার ইহয়াউত তুরাসিল আরাবি থেকে মুহাম্মদ সাদিক আল-কামহাওয়ির সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ৯)
4 - الإمام علي بن محمد بن علي، أبو الحسن الطَّبري، الملقب بعماد الدين، المعروف بالكيا الهراسي الشافعي المتوفى: 504 هـ.
وكتابه مرتب على السور، وقد طبع الكتاب عن دار الكتب العلمية- بيروت 1405 هـ. بتحقيق: جماعة من العلماء بإشراف الناشر.
5 - القاضي محمد بن عبد الله أبو بكر بن العربي المَعَافِري الاشبيلي المالكي المتوفى: 543 هـ.
وكتابه مرتب على السور، وقد طبع عن دار إحياء التراث العربي. بتحقيق علي محمد البجاوي.
وغير ذلك مما هو مطبوع، ومما لم ير النور إلى الآن، وينظر كتاب «كشف الظنون عن أسامي الكتب والفنون» للحاج خليفة (1/ 20).
ومن الجدير بالذكر أَنَّ أَوَّل مَن صَنَّف في ذلك هو الإمام الشافعي نفسه رضي الله عنه، وقد أشارت فهارس المكتبة الظاهرية أن نسخة مِن هذا الكتاب محفوظة عندهم برقم (3855) جاء في وصفهم لها ما يأتي:
أوله: هذا كتاب أحكام القرآن العظيم للإمام الشافعي رضي الله عنه مما أخبر عنه الربيعُ بن سليمان فقال:
أخبرنا محمد بن إدريس الشافعيُّ رضي الله عنه قال: قال الله تبارك وتعالى:
… {قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ فِي أَزْوَاجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ} [الأحزاب: 50] وقال تعالى: {وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا} [النساء: 19].
৪ - ইমাম আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী, আবুল হাসান আল-তাবারী, যাকে ইমাদ উদ্দিন উপাধি দেওয়া হয়েছে এবং যিনি ইলকিয়া আল-হাররাসী আল-শাফেয়ী নামে পরিচিত, মৃত্যু: ৫০৪ হিজরি।
তাঁর কিতাবটি সূরা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে এবং কিতাবটি দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত হতে ১৪০৫ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে। এটি সম্পাদনা করেছেন একদল আলেম এবং তা হয়েছে প্রকাশকের তত্ত্বাবধানে।
৫ - কাযী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আবু বকর বিন আল-আরাবী আল-মা’আফিরী আল-ইশবিলি আল-মালিকি, মৃত্যু: ৫৪৩ হিজরি।
তাঁর কিতাবটি সূরা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে এবং এটি দারু ইহ্ইয়া আত-তুরাস আল-আরাবী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এটি আলী মুহাম্মদ আল-বিজাভী কর্তৃক সম্পাদিত।
এছাড়াও আরও অনেক মুদ্রিত বই রয়েছে এবং এমনও অনেক রয়েছে যা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। এ বিষয়ে হাজ্বী খলিফার 'কাশফুয যুনুন আন আসামিল কুতুবি ওয়াল ফুনুন' (১/ ২০) দেখা যেতে পারে।
এটি উল্লেখ করা জরুরি যে, এ বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি কিতাব রচনা করেছেন তিনি স্বয়ং ইমাম শাফেয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। জাহিরিয়া লাইব্রেরির সূচীপত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে এই কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপি তাদের কাছে ৩৮৫৫ নম্বরে সংরক্ষিত আছে এবং সেটির বর্ণনায় যা এসেছে তা হলো:
শুরুর অংশ: এটি ইমাম শাফেয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কিতাব 'আহকামুল কুরআন আল-আযীম' যা রবী বিন সুলাইমান তাঁর থেকে বর্ণনা করে বলেছেন:
মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফেয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেছেন:
… {আমি অবশ্যই জানি আমি তাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে তাদের উপর কী ফরয করেছি এবং তাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রেও} [আল-আহযাব: ৫০] এবং আল্লাহ তা'আলা আরও বলেছেন: {এবং তাদের সাথে উত্তমভাবে জীবনযাপন করো; আর যদি তোমরা তাদের অপছন্দ করো তবে হয়তো তোমরা এমন কিছুকে অপছন্দ করছো যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন} [আন-নিসা: ১৯]।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ১০)
آخره: قال الشافعي: والحرائر المسلمات والذميات، إذا اجتمعن عند الرجل في القسم سواء، والقسم هو الليل، يبيت عند كل واحدة منهن ليلتها، ويجب لو آوى عندها نهاره. قال الشافعي: فإن كان عنده أمة مع حرة قسم للحرة ليلتين وللأمة ليلة.
أوصاف المخطوط: نسخة من القرن الثامن الهجري كتبت بخط معتاد. الأبواب مكتوبة بالأحمر وبخط أكبر. وهي مخرومة من أولها وينتهي الموجود منها: أول باب القسم للنساء.
أصيبت بالرطوبة وبالأرضة في مواضع متعددة منها، وقد رُمِّمَت في مواضع منها. توجد هذه النسخة في مجموع يحوي عددًا مِن الرسائل في الحديث الشريف، والعَروض، والفقه وغيرها. المجموع مصاب بالرطوبة وبالأرضة التي أثرت على مواضع منه. ينظر: «فهارس علوم القرآن الكريم لمخطوطات دار الكتب الظاهرية» (2/ 19).
وفيما يلي سأذكر مجموعة من المباحث المهمة المتعلقة بالكتاب.
* * *
সমাপ্তি: ইমাম শাফিঈ বলেন: স্বাধীন মুসলিম নারী ও জিম্মি নারীগণ যখন কোনো পুরুষের অধীনে একত্রিত হয়, তখন তারা পালা বণ্টনের ক্ষেত্রে সমান। আর পালা হলো রাত; সে তাদের প্রত্যেকের নিকট তার নির্ধারিত রাত যাপন করবে এবং দিনের বেলাও তার নিকট অবস্থান করা আবশ্যক। ইমাম শাফিঈ বলেন: যদি তার নিকট স্বাধীন মহিলার সাথে দাসী থাকে, তবে সে স্বাধীন মহিলার জন্য দুই রাত এবং দাসীর জন্য এক রাত বরাদ্দ করবে।
পাণ্ডুলিপির বিবরণ: এটি হিজরি অষ্টম শতাব্দীর একটি অনুলিপি যা সাধারণ লিপিতে লিখিত। অধ্যায়গুলোর শিরোনাম লাল রঙে এবং বড় হরফে লেখা। পাণ্ডুলিপিটি এর প্রথমাংশ থেকে খণ্ডিত এবং বিদ্যমান অংশটি 'নারীদের পালা বণ্টন' অধ্যায়ের শুরুতে সমাপ্ত হয়েছে।
এটি বিভিন্ন স্থানে আর্দ্রতা ও উইপোকা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু স্থানে এটি মেরামত করা হয়েছে। এই অনুলিপিটি এমন একটি সংকলনের (মাজমু') মধ্যে রয়েছে যা হাদিস শরিফ, ছন্দশাস্ত্র, ফিকহ এবং অন্যান্য বিষয়ের বেশ কিছু পুস্তিকা ধারণ করে। এই সংকলনটিও আর্দ্রতা ও উইপোকা দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে যা এর বিভিন্ন স্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দ্রষ্টব্য: 'ফাহারিসু উলুমিল কুরআনিল কারিম লি-মাখতুতাত দারিত কুতুবিত জাহিরিয়্যাহ' (২/১৯)।
নিম্নে আমি এই গ্রন্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনার অবতারণা করছি।
* * *
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ১১)
أولًا: التعريف بالكتاب.
- هو كتابٌ، جَمَع فيه الإمام البيهقي رحمه الله أقاويل الإمام الشافعي رحمه الله في «أحكام القرآن وتفسيره»
(1) في جزءين، كما ذكر ذلك البيهقيُّ نفسُه في كتاب «مناقب الشافعي» له (2/ 268).
وكذلك ذكر الكتابَ: الإمامُ السبكيُّ في «طبقات الشافعية الكُبرى» (4/ 10) ضمن مجموعة مِن كتب البيهقي الأخرى، وقال: «وكلها مُصَنَّفات نِظَاف، مَليحَةُ الترتِيبِ والتهذيب، كَثيرةُ الفَائِدة، يَشهَدُ مَن يَراها مِن العارفين: بأنها لم تَتهَيأ لأحَدٍ مِن السابقين».
وقال أيضًا في (2/ 97): «قال البيهقي في كتاب «أحكام القرآن» الذي جمعه من كلام الشافعي، وهو كتابٌ نَفِيسٌ مِن ظَريف مُصَنَّفَاتِ البيهقي
… ».
وكذلك ذكر الكتابَ منسوبًا للبيهقي: الإمامُ العِراقيُّ رحمه الله في «طَرْح التَّثريب» (1/ 28).
وذكره الحاج خليفة في «كشف الظنون» (1/ 20).
- وقد بيَّن البيهقي رحمه الله منهجه في مقدمة الكتاب فقال:
«وقد صَنَّف غَيرُ واحدٍ من المُتَقَدِّمينَ، والمُتَأخِّرين في تفسير القرآن
--------------------------------------------
প্রথমত: গ্রন্থ পরিচিতি.
- এটি এমন একটি গ্রন্থ, যাতে ইমাম বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তিগুলোকে «আহকামুল কুরআন ওয়া তাফসিরুহু» (কুরআনের বিধান ও এর ব্যাখ্যা)
(১) বিষয়ে দুই খণ্ডে সংকলন করেছেন, যেমনটি বায়হাকী নিজেই তাঁর ‘মানাকিবুল শাফিঈ’ গ্রন্থে (২/ ২৬৮) উল্লেখ করেছেন।
অনুরূপভাবে ইমাম সুবকী তাঁর ‘তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা’ (৪/ ১০) গ্রন্থে বায়হাকীর অন্যান্য গ্রন্থের সাথে এই গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «এগুলো সবই পরিচ্ছন্ন রচনা, বিন্যাস ও পরিমার্জন অত্যন্ত চমৎকার এবং অত্যন্ত উপকারী। অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মধ্যে যারা এগুলো দেখেন তারা সাক্ষ্য দেন যে: পূর্ববর্তীদের মধ্যে কারোর পক্ষেই এর অনুরূপ কিছু প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি»।
তিনি (২/ ৯৭)-এ আরও বলেন: «ইমাম বায়হাকী তাঁর ‘আহকামুল কুরআন’ গ্রন্থে বলেছেন—যা তিনি ইমাম শাফিঈর কালাম থেকে সংকলন করেছেন—এবং এটি বায়হাকীর চমৎকার রচনাগুলোর মধ্যে একটি অতি মূল্যবান গ্রন্থ... »।
একইভাবে ইমাম ইরাকী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘তারহুত তাসরিব’ (১/ ২৮) গ্রন্থে কিতাবটিকে বায়হাকীর দিকে সম্বন্ধ করে উল্লেখ করেছেন।
হাজি খলিফা তাঁর ‘কাশফুয যুনুন’ (১/ ২০) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
- ইমাম বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ) গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর পদ্ধতি বর্ণনা করে বলেছেন:
«নিশ্চয়ই পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি কুরআনের তাফসির বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومَعَانِيه، وإعْرَابه ومَبَانِيه، وذَكَر كُلُّ واحدٍ منهم في أحكامه ما بَلَغه عِلْمُه، وربما يُوافِقُ قَوْلُه قَوْلَنا، وربما يُخَالِفُه؛ فَرأيتُ مَن دَلَّت الدلالة على صِحَّة قوله، أبا عبدِ اللهِ محمدَ بنَ إدرِيس الشَّافِعيَّ
… قد أتى على بيان ما يجبُ علينا مَعرِفَتَه
… وكان ذلك مُفَرَّقًا في كُتُبِه المُصَنَّفة في الأُصُول والأَحْكَام، فَمَيَّزتُه وجَمَعْتُه في هذه الأجزاء على ترتيب المُخْتَصَر، ليكونَ طلبُ ذلك منه على مَن أراد أَيْسَر، واقْتَصَرتُ في حكاية كلامِهِ على ما يَتَبَيَّن منه المُراد دونَ الإطْنَاب، ونَقَلْتُ مِن كَلامِه في أصولِ الفِقْه، واسْتِشْهَادِه بالآياتِ التي احتاج إليها مِنَ الكِتَاب، على غَاية الاخْتِصَار، ما يليق بهذا الكتاب».
ويظهر مِن كلام الإمام البيهقي رحمه الله أنه رَتَّب الكتاب على الموضوعات، وليس على السُّوَر، ملتزمًا بذلك ترتيب الإمام المُزني في مختصره، كما أشار إلى ذلك في المقدمة.
- وقد حفظ لنا الإمامُ البيهقي رحمه الله بعضَ نُصوصِ الإمام الشافعي، التي رواها عنه بعضُ تلامذته في كتب لهم لم تَصِلْنا، كالإمام أبي يعقوب البُوَيْطِي، والإمام حَرْمَلَة ابن يحيى التُّجِيْبي، والإمام أبي ثَوْر الكلبي، والإمام أحمد بن عبد الرحمن ابن وهب، وغَيرِهِم من كبار تلامذة الإمام، وهي في موضعها من هذا الكتاب.
- هذا والإمامُ البيهقي يروي كلامَ الإمامِ الشافعي، عن شيوخه: (أبي عبد الله الحاكم، وأبي سعيد ابن أبي عمرو، وأبي زكريا ابن أبي إسحاق، وأبي عبد الرحمن السُّلَمي).
...এবং এর অর্থসমূহ, এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ ও গঠনশৈলী। তাঁদের প্রত্যেকেই বিধিবিধানের ক্ষেত্রে তাঁদের অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী যা পেয়েছেন তা উল্লেখ করেছেন। কখনো তাঁদের বক্তব্য আমাদের বক্তব্যের সাথে মিলে যায়, আবার কখনো তা ভিন্ন হয়। এমতাবস্থায় আমি এমন একজনকে খুঁজে পেলাম যাঁর বক্তব্যের বিশুদ্ধতার পক্ষে প্রমাণাদি বিদ্যমান, তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈ
... তিনি আমাদের জন্য যা জানা আবশ্যক তার বর্ণনা প্রদান করেছেন
... আর তা উসুল (মূলনীতি) ও আহকাম (বিধিবিধান) বিষয়ক তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। আমি সেগুলোকে পৃথক করেছি এবং এই খণ্ডগুলোতে 'মুখতাসার'-এর বিন্যাস অনুযায়ী সংকলন করেছি, যাতে তা অনুসন্ধানকারীর জন্য সহজতর হয়। আমি তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে কেবল উদ্দেশ্য স্পষ্ট হওয়ার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করেছি। আমি উসুলুল ফিকহ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এবং কুরআন থেকে যে আয়াতগুলো তাঁর প্রয়োজন ছিল সেগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে উদ্ধৃত করেছি, যা এই গ্রন্থের জন্য উপযুক্ত।
ইমাম বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি কিতাবটি বিষয়ভিত্তিক বিন্যাসে সাজিয়েছেন, সূরা অনুযায়ী নয়; এক্ষেত্রে তিনি ইমাম মুযানি-এর 'মুখতাসার'-এর বিন্যাস অনুসরণ করেছেন, যেমনটি তিনি ভূমিকায় ইঙ্গিত করেছেন।
- ইমাম বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের জন্য ইমাম শাফিঈর এমন কিছু উদ্ধৃতি সংরক্ষণ করেছেন, যা তাঁর কিছু ছাত্র তাঁদের এমন সব কিতাবে বর্ণনা করেছিলেন যা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি। যেমন ইমাম আবু ইয়াকুব আল-বুওয়াইতি, ইমাম হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া আত-তুজিবি, ইমাম আবু সাওর আল-কালবি, ইমাম আহমদ বিন আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াহাব এবং ইমামের অন্যান্য প্রখ্যাত ছাত্রগণ। এই উদ্ধৃতিগুলো এই কিতাবের স্ব স্ব স্থানে বর্ণিত হয়েছে।
- এছাড়া ইমাম বায়হাকী ইমাম শাফিঈর বক্তব্যসমূহ তাঁর উস্তাদদের মাধ্যমে বর্ণনা করেন: (আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম, আবু সাঈদ ইবনে আবি আমর, আবু যাকারিয়া ইবনে আবি ইসহাক এবং আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী)।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فأما الأولان: فَجُل رواية كلام الشافعي، عنهما، عن أبي العباس الأصم، عن الربيع بن سليمان المرادي المؤذن صاحب الشافعي، عن الشافعي.
وأما الآخران: فلم يكثر عنهما، ويروي عنهما، عن الأصم، وغيره، وما رواه الربيع وما روى غيره، عن الشافعي.
وقد أفردت للأولين ترجمة في هذه المقدمة.
* * *
প্রথম দু’জনের ক্ষেত্রে: ইমাম শাফিঈর বাণীর অধিকাংশ বর্ণনা তাঁদের থেকে, তাঁরা আবু আল-আব্বাস আল-আসাম থেকে, তিনি ইমাম শাফিঈর সহচর আর-রাবি ইবনে সুলায়মান আল-মুরাদি আল-মুয়াযযিন থেকে, আর তিনি শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর পরবর্তী দু’জনের ক্ষেত্রে: তাঁদের থেকে খুব বেশি বর্ণিত হয়নি; তাঁদের থেকে আল-আসাম ও অন্যদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, যা আর-রাবি এবং অন্যান্যেরা ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন।
আমি এই ভূমিকায় প্রথম দু’জনের জন্য স্বতন্ত্র জীবনবৃত্তান্ত উল্লেখ করেছি।
* * *
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ثانيًا: منهجي في تحقيق الكتاب، والعِلَّة مِن إعادة تحقيقه.
إن الأساس الذي ينبغي أن يكون واضحًا لكل مُشتَغِل بالتحقيق: هو أن عَمَله يُشْبهُ في المَقَام الأول عَملَ الورَّاقِين والنُّسَّاخ، والذي كان قاصرًا على نَسْخ ما أُسْنِد إليهم نَسْخُه، إلى أقرب صورة للأصل الذي ينسخون منه، بل كانوا يُطَابقون ما نسخوه على الأصل؛ لاستدراك ما فاتهم ونَدَّ عنهم أثناء النسخ، وأَيُّ تَدَخُّلٍ منهم، بالحذف أو الزيادة أو التغيير، يُعد تدخلًا قبيحًا، وعملًا مستبشعًا؛ إذ ذلك ينافي الأمانة التي ينبغي أن يتحلى بها الوراق.
حتى إنهم وضعوا علامات واصطلحوا على إشارات تجنبهم التدخل في الأصل الذي ينسخون منه، وتمكنهم من التنبيه على ما يظنونه خطأً، ومثال ذلك: اصطلاحهم على علامة التَّضْبِيب، وهي رسم حرف «صـ» ممدودة هكذا فوق الكلمة التي يظنون فسادها؛ لعدم جرأتهم على تغييرها إلى ما يظنون صوابَه.
آثرت أن أذكر هذا الكلام هنا في هذا المقام، لأن كثيرًا ممن يعالجون التحقيق قد نَصَبُوا أنفسهم وُصَاة على التراث، فيحق لهم تغيير ما يرونه خطأ، وزيادة ما يحسبونه حسنًا، وحذف ما يظنونه قبيحًا.
ولَيْتهم سطَّروا ذلك في حواشي الكتاب، ففي الحاشية متسع لكل رأي، لكنهم -وللأسف- جعلوا استحسانهم واستقباحهم في صلب الكتاب، فأساءوا من حيث أرادوا أن يصلحوا.
والذي حداني لكتابة هذه الأسطر: هو كلمة الختام التي خَتَم بها فضيلة
দ্বিতীয়ত: গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি এবং এটি পুনরায় সম্পাদনার কারণ.
নিশ্চয়ই সেই ভিত্তিটি যা প্রত্যেক পাণ্ডুলিপি সম্পাদকের নিকট স্পষ্ট থাকা উচিত তা হলো: তার কাজ মূলত লিপিকার ও অনুলিপিকারদের কাজের সাথে সদৃশ। তাদের কাজ কেবল তাদের কাছে যা অর্পণ করা হয়েছে তার অনুলিপি তৈরি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যাতে মূল পাণ্ডুলিপির নিকটতম রূপ ফুটিয়ে তোলা যায়। বরং তারা তাদের অনুলিপিকে মূল কপির সাথে মিলিয়ে নিতেন; যাতে অনুলিপি তৈরির সময় যা বাদ পড়েছে বা বিচ্যুত হয়েছে তা সংশোধন করে নেওয়া যায়। এমতাবস্থায় তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ—হোক তা বিয়োজন, সংযোজন কিংবা পরিবর্তন—একটি নিকৃষ্ট হস্তক্ষেপ এবং ঘৃণ্য কাজ হিসেবে গণ্য হয়; কেননা তা সেই আমানতদারিতার পরিপন্থী যা একজন লিপিকারের থাকা বাঞ্ছনীয়।
এমনকি তারা এমন কিছু চিহ্ন এবং সংকেত নির্ধারণ করেছেন যা তাদের মূল পাণ্ডুলিপিতে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত রাখে এবং যা তারা ভুল মনে করেন সে সম্পর্কে সতর্ক করার সুযোগ করে দেয়। উদাহরণস্বরূপ: 'তাদবিব' চিহ্নের পরিভাষা। এটি হলো কোনো শব্দের উপরে একটি প্রলম্বিত ‘সোয়াদ’ বর্ণ অঙ্কন করা যা তারা ত্রুটিযুক্ত মনে করেন; কারণ তাদের নিকট যা সঠিক মনে হয় সেই অনুযায়ী তা পরিবর্তন করার দুঃসাহস তারা দেখাতেন না।
আমি এই স্থানে কথাটি উল্লেখ করা শ্রেয় মনে করেছি, কারণ পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার কাজ করেন এমন অনেকের অনেকেই নিজেদেরকে ঐতিহ্যের অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন; ফলে তারা যা ভুল মনে করেন তা পরিবর্তন করা, যা উত্তম মনে করেন তা যোগ করা এবং যা মন্দ মনে করেন তা বাদ দেওয়াকে নিজেদের অধিকার মনে করেন।
হায়! তারা যদি এগুলো গ্রন্থের টীকা বা পাদটীকায় লিখতেন, তবে টীকায় প্রতিটি মতামতের জন্যই প্রশস্ত স্থান ছিল। কিন্তু তারা—দুর্ভাগ্যবশত—তাদের ভালোলাগা এবং মন্দলাগাকে গ্রন্থের মূল পাঠের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ফলে তারা সংস্কার করতে গিয়ে অনিষ্ট করেছেন।
আমাকে এই পঙক্তিগুলো লিখতে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো সেই সমাপনী বক্তব্য যার মাধ্যমে মাননীয়
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الشيخ عبد الغني عبد الخالق -رحمة الله تعالى عليه- تحقيقه لهذا الكتاب الذي نحن بصدد تحقيقه، فإنه قال رحمه الله: «وَقد يُؤْخَذ علينا: أننا قد أثبتنا -في بعض المواضِع- عبارَة غير الأَصل وزدنا -كذلِك- ما لا تتحتم زيادته، ولا تتَعَيَّن إِضَافَته. وأننا لم نلتزم تَخْرِيج أَحَادِيثه، وَلَا التَّعرِيف بأعلامه.
فنقُول: إِن هذا لا ضرورة له، وذاك مما يتسامح فيه. على أَن لنا في زيادة ما زدنا، وترك ما تركنا-: من الأعذار البينة العديدة، والأسناد القوية السديدة- ما سندلي به ونشرحه: عند الحاجة الملحة، والضرورة الملجئة إِن شاء الله.
ويكفي الآن، أن نقول -في صراحة تامة-: إن هذا أول عمل، من نوعه، قمنا به فلم يسبق لنا تصحيح كتاب غيره
… إلخ».
قلت: وقد أصاب الشيخ رحمه الله في قوله -عن تخريج الأحاديث والتعريف بالأعلام-: إن هذا لا ضرورة له.
لكنه لم يُصب في قوله -بشأن الزيادة والتغيير في الأصل-: وذاك مما يُتَسامح فيه.
بل إن هذا الأخير مما لا يُتَسامَح فيه مطلقًا، ولو تُرك هذا البابُ مفتوحًا لكل أحد، لضاع تراث هذه الأمة، وتُقُوِّل على أئمتها ما لم يقولوا.
لا شك عندي أن سماحة الشيخ عبد الغني عبد الخالق قد قام بجهد عظيم، أشهد له بذلك والله حسيبه، يكفي أنه قرأ النص قراءة جيدة جدًا، ووصله بنص كتاب «الأم»، على الرغم من تَشَتُّت مادة الكتاب -أعني «أحكام القرآن» - في كتاب «الأم»، فإن الإمام البيهقي رحمه الله كان يضم كل
শায়খ আব্দুল গনি আব্দুল খালিক —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— এই কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে, যা আমরা বর্তমানে সম্পাদনা করছি, তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «আমাদের সমালোচনা করা হতে পারে যে: আমরা কিছু কিছু স্থানে মূল পাঠের বাইরে অন্য শব্দ ব্যবহার করেছি এবং তদ্রূপ এমন কিছু বৃদ্ধি করেছি যা যোগ করা অনিবার্য ছিল না এবং যার সংযোজন অপরিহার্য ছিল না। আর আমরা হাদীসসমূহের তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) এবং ব্যক্তিবর্গের পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকিনি।
আমরা বলি: এর কোনো প্রয়োজন নেই, আর ওটি এমন বিষয় যা ক্ষমার যোগ্য। উপরন্তু যা আমরা বৃদ্ধি করেছি এবং যা আমরা বর্জন করেছি, সে ক্ষেত্রে আমাদের কাছে অসংখ্য সুস্পষ্ট ওযর এবং শক্তিশালী ও সঠিক ভিত্তি রয়েছে; যা আমরা জরুরি প্রয়োজনে এবং নিরুপায় অবস্থায় পেশ করব ও ব্যাখ্যা করব, ইনশাআল্লাহ।
আর বর্তমানে এইটুকু বলাই যথেষ্ট যে —পূর্ণ স্পষ্টতার সাথে— এটি এ জাতীয় প্রথম কাজ যা আমরা সম্পাদন করেছি, এর আগে আমাদের অন্য কোনো কিতাব সম্পাদনার অভিজ্ঞতা ছিল না
… ইত্যাদি।»
আমি বলছি: শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) হাদীসসমূহের তাখরীজ এবং ব্যক্তিবর্গের পরিচিতি প্রদানের ব্যাপারে তাঁর এই বক্তব্যে সঠিক ছিলেন যে: এর কোনো প্রয়োজন নেই।
কিন্তু মূল পাঠে কোনো কিছু বৃদ্ধি এবং পরিবর্তনের ব্যাপারে তাঁর এই বক্তব্য সঠিক নয় যে: ওটি এমন বিষয় যা ক্ষমার যোগ্য।
বরং শেষের বিষয়টি এমন যা কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য নয়। যদি এই দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়, তবে এই উম্মাহর ঐতিহ্য বিলীন হয়ে যাবে এবং ইমামগণের ওপর এমন কথা চাপিয়ে দেওয়া হবে যা তাঁরা বলেননি।
আমার কাছে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে, শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল গনি আব্দুল খালিক এক মহান পরিশ্রম করেছেন, আমি তাঁর জন্য এর সাক্ষ্য দিচ্ছি এবং আল্লাহই তাঁর হিসাব গ্রহণকারী। এইটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি মূল পাঠটি অত্যন্ত নিপুণভাবে পাঠ করেছেন এবং একে 'আল-উম্ম' কিতাবের মূল পাঠের সাথে সংযুক্ত করেছেন; যদিও এই কিতাবের বিষয়বস্তু —অর্থাৎ 'আহকামুল কুরআন'— 'আল-উম্ম' কিতাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। কেননা ইমাম বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ) প্রতিটি বিষয়কে একত্রিত করতেন...
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
نظير إلى نظيره من طول الكتاب وعرضه، فاستطاع الشيخ عبد الغني
… عبد الخالق رحمه الله أن يتتبع ذلك في الكتاب، في وقت لم تُتَح فيه هذه الوسائل الإلكترونية، ولا الفهارس، ولا الرفاهية الموجودة الآن، ونفس الكلام بشأن كتاب «الرسالة» للشافعي.
وكذلك تتبع كتب البيهقي الأخرى المطبوعة في زمانه رحمه الله كـ «السنن الكبير».
بل تتبع الكلام في الشروح والمطولات، ككتاب «فتح الباري» لابن حجر العسقلاني.
لكن الذي عِبْته على هذا العمل، وسَوَّغ لي إعادة تحقيقه: هو ما ذكرته أولا، بل ما ذكره الشيخ نفسه في كلمته التي ختم بها عمله.
وأمر آخر: وهو أن الشيخ اعتبر أن الكتاب -أعني «أحكام القرآن» - نسخة أخرى من كتاب «الأم» فحاكم ما جاء في الكتاب إلى ما جاء في كتاب «الأم»، وغَيَّر وزاد وحذف على هذا الأساس.
ولم يفطن رحمه الله إلى أن كتاب «الأم» المطبوع: من رواية أبي علي الحسن بن حَبِيب بن عبد الملك الدمشقي الحصائري، عن الربيع بن سليمان، عن الشافعي.
أما الإمام البيهقي رحمه الله فإنه يروي كتب الشافعي، من طريق أبي العباس محمد بن يعقوب الأصم، عن الربيع بن سليمان، عن الشافعي.
وهنا وقع الاختلاف في الرواية، بين ما يرويه البيهقي، وبين ما جاء في كتاب «الأم».
বইটির আদ্যোপান্ত সমরূপ বিষয়গুলো খুঁজে বের করতে শেখ আব্দুল গণি
… আব্দুল খালিক (রহিমাহুল্লাহ) সক্ষম হয়েছিলেন এমন এক সময়ে যখন বর্তমান সময়ের মতো এই ইলেকট্রনিক মাধ্যম, নির্ঘণ্ট কিংবা বিলাসিতা সহজলভ্য ছিল না; আর একই কথা ইমাম শাফেয়ীর ‘আর-রিসালাহ’ বইটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
অনুরূপভাবে তিনি তাঁর সময়ে মুদ্রিত ইমাম বায়হাকীর অন্যান্য কিতাব যেমন— ‘আস-সুনানুল কাবীর’ থেকেও অনুসন্ধান চালিয়েছেন।
এমনকি তিনি ভাষ্যগ্রন্থ ও বিস্তারিত দীর্ঘ রচনাসমূহ যেমন— ইবনে হাজার আল-আসকালানীর ‘ফাতহুল বারী’ থেকেও আলোচনা অনুসন্ধান করেছেন।
কিন্তু এই কাজের যে বিষয়টি আমি ত্রুটিযুক্ত মনে করেছি এবং যা আমাকে এটি পুনঃসম্পাদনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, তা হলো সেই বিষয় যা আমি শুরুতে উল্লেখ করেছি, বরং যা খোদ শেখ নিজেই তাঁর সমাপনী বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন।
আরেকটি বিষয় হলো: শেখ কিতাবটিকে—অর্থাৎ ‘আহকামুল কুরআন’-কে—‘কিতাবুল উম্ম’-এরই অন্য একটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য করেছেন। ফলে তিনি এই কিতাবের বিষয়বস্তুকে ‘কিতাবুল উম্ম’-এর সাথে মিলিয়ে বিচার করেছেন এবং সেই ভিত্তিতে পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করেছেন।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এই বিষয়টি খেয়াল করেননি যে, বর্তমানে মুদ্রিত ‘কিতাবুল উম্ম’ হলো আবু আলী আল-হাসান বিন হাবীব বিন আব্দুল মালিক আদ-দিমাশকী আল-হাসাইরীর বর্ণনায়, যা তিনি রাবী বিন সুলায়মান থেকে এবং তিনি শাফেয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন।
পক্ষান্তরে ইমাম বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) ইমাম শাফেয়ীর কিতাবসমূহ আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম্ম-এর সূত্রে, রাবী বিন সুলায়মান থেকে এবং তিনি শাফেয়ী থেকে বর্ণনা করেন।
এখানেই বায়হাকীর বর্ণিত বয়ান এবং ‘কিতাবুল উম্ম’-এ যা এসেছে, এই দুই বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بل إنه -رحمة الله عليه- أحيانًا لا يعجبه ما جاء في الأصل ولا ما جاء في «الأم»، ويضع مِن عنده ما يراه مناسبًا، ينظر على سبيل المثال حاشيته رقم (9) (ص 86).
وكذلك: فإن الشيخ قد أثقل حواشي الكتاب بمباحث لو أراد البيهقي رحمه الله أن يذكرها لذكرها، ولكن البيهقي أبان في مقدمته أنه اختصر الكلام، والبيهقي مَن هو؟ ! ناصر مذهب الشافعي وصاحب المطولات في نُصرة مذهبه وما كتاب «معرفة السنن والآثار»، و «السنن الكبير»، و «الخلافيات»، وغيرها عنك ببعيد.
بل إن من المفارقات في هذا العمل أن الشيخ رحمه الله عاب على الشيخ أبي الأشبال أحمد شاكر رحمه الله إطنابه في حاشية من حواشي كتاب «الرسالة» (ص 365) حول الفعل (غزّى)، فقد ذهب الشيخ أحمد شاكر إلى أنه من الرباعي، وليس من الثلاثي (غزا)، وسطر الشيخ شاكر ثمانية أسطر؛ ليؤيد ما ذهب إليه، فعاب الشيخ عبد الغني رحمه الله عليه ذلك، وقال: «هو تحكم غريب وزعم جريء لا نعقل له معنى، ولا نجد له مبررًا؛ إلا الرغبة في إظهار المعرفة بالفرق بين الثلاثي والرباعي
… » ثم قال رحمه الله: «ثم نقول إن الإطالة في مثل هذه الأبحاث اللفظية التافهة، عمل لا يليق بالتعليق على كتاب كالرسالة».
قلت: فسطر الشيخ عبد الغني رحمه الله ستة عشر سطرًا، لينقض إطالة الشيخ شاكر رحمه الله في حاشيته ذات الثمانية أسطر!
وقد كفاني الشيخ عبد الغني عبد الخالق رحمه الله ذكر أمثلة على الزيادة في الأصل، والعدول عنه إلى غيره، بما ذكره هو من أن هذا كان منهجه، لكن لا
প্রকৃতপক্ষে তিনি -তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক- মাঝেমধ্যে মূল পাণ্ডুলিপিতে যা এসেছে অথবা ‘আল-উম্ম’ গ্রন্থে যা এসেছে তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি, এবং তিনি নিজের পক্ষ থেকে যা উপযুক্ত মনে করেছেন তা বসিয়েছেন; উদাহরণস্বরূপ তাঁর ৮৬ পৃষ্ঠার ৯ নম্বর টীকাটি দেখা যেতে পারে।
অনুরূপভাবে: শায়খ কিতাবটির টীকাগুলোকে এমন সব আলোচনা দ্বারা ভারাক্রান্ত করেছেন যে, যদি আল-বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) সেগুলো উল্লেখ করতে চাইতেন তবে তিনি নিজেই তা উল্লেখ করতেন। কিন্তু আল-বায়হাকী তাঁর ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন যে তিনি কথা সংক্ষেপ করেছেন। আর আল-বায়হাকী কে?! তিনি শাফেয়ী মাযহাবের সাহায্যকারী এবং নিজ মাযহাবের সমর্থনে বিশদ গ্রন্থসমূহের রচয়িতা; আর ‘মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার’, ‘আস-সুনানুল কাবীর’, ‘আল-খিলাফিয়্যাত’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ আপনার অজানা নয়।
বরং এই কাজের একটি পরিহাসের বিষয় হলো, শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) ‘আর-রিসালা’ গ্রন্থের একটি টীকায় (পৃষ্ঠা ৩৬৫) ‘গাজ্জা’ ক্রিয়াটি সম্পর্কে শায়খ আবু আশবাল আহমাদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ)-এর দীর্ঘ আলোচনার সমালোচনা করেছেন। শায়খ আহমাদ শাকির মনে করেছিলেন যে এটি চার অক্ষরবিশিষ্ট (রুবায়ি) ক্রিয়া, তিন অক্ষরবিশিষ্ট (শুলাশি) ‘গাজা’ নয়। শায়খ শাকির নিজের মতের সপক্ষে আটটি লাইন লিখেছিলেন। শায়খ আব্দুল গনী (রহিমাহুল্লাহ) এর সমালোচনা করে বললেন: “এটি এক অদ্ভুত জবরদস্তি এবং সাহসী দাবি যার কোনো অর্থ আমরা বুঝতে পারছি না এবং এর কোনো যৌক্তিকতাও খুঁজে পাচ্ছি না; কেবল তিন অক্ষর ও চার অক্ষরের পার্থক্য বিষয়ক জ্ঞান জাহির করার ইচ্ছা ছাড়া
… ” অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এরপর আমরা বলব যে, এই ধরনের তুচ্ছ শাব্দিক গবেষণায় দীর্ঘ আলোচনা করা ‘আর-রিসালা’-র মতো কোনো গ্রন্থের টীকা রচনার জন্য উপযুক্ত কাজ নয়।”
আমি বলব: এরপর শায়খ আব্দুল গনী (রহিমাহুল্লাহ) শায়খ শাকির (রহিমাহুল্লাহ)-এর আট লাইনের টীকার দীর্ঘ আলোচনা খণ্ডন করার জন্য ষোলটি লাইন লিখেছেন!
মূল পাঠে অতিরিক্ত সংযোজন এবং মূল পাঠ পরিহার করে অন্য কিছু গ্রহণ করার উদাহরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে শায়খ আব্দুল গনী আব্দুল খালিক (রহিমাহুল্লাহ) নিজেই আমাকে যথেষ্ট করেছেন, কারণ তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন যে এটিই ছিল তাঁর মানহাজ (পদ্ধতি), তবে না...
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بأس بذكر مثال أو مثالين:
- جاء في (1/ 299) السطر السادس: (وقلوبهم على الطمأنينة). ثم قال في الحاشية: كذا بالأم وفي الأصل «الإطمأنينة» وهو تحريف.
قلت: هي كذلك في الثلاثة الأصول التي اعتمدتها «الإطمأنينة» قال القاضي عياض في «مشارق الأنوار» (1/ 325): «وفي تراجم البخاري: بَابُ الإطْمَأْنِينَةِ بكسر الهمزة وضمها، وكذا ذكره في حديث أبي حميد قبله، ومعناه السكون، كذا لجمهورهم، وعند القابسي: الطُّمَأْنِينَةِ، وهو الصواب، قال الحربي: هو الاسم. قال غيره: ويصح أن يكون الإطمأنينة بكسر الهمزة والميم مصدر اطْمأن، ويقال اطمئنانًا أتى بغير هاء
… ».
فالكلمة لها توجيه حسن، واتفقت عليه الأصول، فلم العدول عنها؟ !
- جاء في (1/ 282) السطر التاسع بين معكوفين هكذا: [وبه نأخذ؛ ففي المسلم يقتل خطأ: مائة من الإبل] ثم قال في الحاشية زيادة مفيدة عن الأم
…قلت: هذه الزيادة ليست في الأصول الثلاثة التي اعتمدتها.
والكتاب من أوله على آخره محشو بمثل ذلك، ولو تعرضت لذكر كل ما ينافي منهج التحقيق القويم، لخرجت المقدمة عن مقصودها.
أليس هذا تحكم لا معنى له، وتَعَدٍّ على مقام صاحب الكتاب، فَأيُّ أعذار بَيِّنة يُعتذر بها عن مثل ذلك.
وكذلك: تركت التنبيه على التصحيفات والتحريفات التي وقعت في الكتاب، والتي أظنها من الطابع، فقد صنع الشيخ عبد الغني رحمه الله قائمة
এক বা দুটি উদাহরণ উল্লেখ করতে কোনো অসুবিধা নেই:
- (১/ ২৯৯) এর ষষ্ঠ লাইনে এসেছে: (এবং তাদের অন্তর প্রশান্তির ওপর)। এরপর পাদটীকায় বলা হয়েছে: 'আল-উম্ম' গ্রন্থে এভাবেই আছে, কিন্তু মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে 'আল-ইতমাইনানাহ', যা একটি বিকৃতি।
আমি বলছি: আমি যে তিনটি মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, তাতেও শব্দটি 'আল-ইতমাইনানাহ' রূপেই রয়েছে। কাজি ইয়াদ 'মাশারিকুল আনওয়ার' (১/ ৩২৫) গ্রন্থে বলেছেন: "বুখারীর শিরোনামগুলোতে রয়েছে: 'বাবুল ইতমাইনানাহ' হামজা-তে কাসরা (জের) ও যম্মা (পেশ) উভয় যোগে। অনুরূপভাবে এর আগের আবু হুমাইদের হাদিসেও এটি উল্লেখ করা হয়েছে, যার অর্থ স্থিরতা। অধিকাংশ বর্ণনাকারীর নিকট এভাবেই এসেছে, তবে কাবিসীর নিকট শব্দাট হলো 'আত-তুমানিনাহ', যা সঠিক। হারবি বলেছেন: এটি একটি বিশেষ্য। অন্যরা বলেছেন: হামজা ও মিম-এ কাসরা দিয়ে 'আল-ইতমাইনানাহ' শব্দটি 'ইতমায়ান্না' ক্রিয়ার মাসদার হওয়া সঠিক হতে পারে, আর একে 'হা' বর্ণ ছাড়াই 'ইতমাউনানান' বলা হয়
… "।
সুতরাং শব্দটির একটি উত্তম ব্যাখ্যা রয়েছে এবং মূল পাণ্ডুলিপিগুলো এ ব্যাপারে একমত, তবে তা থেকে কেন বিচ্যুতি ঘটানো হলো?!
- (১/ ২৮২) এর নবম লাইনে ব্রাকেটের মধ্যে এভাবে এসেছে: [এবং আমরা এটিই গ্রহণ করি; কেননা ভুলক্রমে কোনো মুসলিম নিহত হলে: একশটি উট প্রদান করতে হয়] এরপর পাদটীকায় বলা হয়েছে যে এটি 'আল-উম্ম' থেকে একটি উপকারী সংযোজন
…আমি বলছি: আমি যে তিনটি মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, এই সংযোজনটি তাতে নেই।
গ্রন্থটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ জাতীয় বিষয়ে ভরপুর। আমি যদি সঠিক পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা পদ্ধতির পরিপন্থী প্রতিটি বিষয় উল্লেখ করতে যেতাম, তবে ভূমিকাটি তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে যেত।
এটি কি একটি অর্থহীন স্বেচ্ছাচারিতা এবং গ্রন্থের লেখকের মর্যাদার ওপর এক প্রকার সীমা লঙ্ঘন নয়? এ ধরণের কাজের স্বপক্ষে আর কী সুস্পষ্ট ওযর পেশ করা যেতে পারে!
তদ্রূপ: আমি বইটিতে ঘটে যাওয়া বর্ণগত ও শব্দগত বিকৃতিগুলো সম্পর্কে সতর্ক করা বাদ দিয়েছি, যা আমার ধারণা মুদ্রণজনিত। কারণ শেখ আব্দুল গনি (রহিমাহুল্লাহ) একটি তালিকা তৈরি করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بتصويبات الأخطاء التي وقعت منه في الكتاب.
ولا بأس بذكر بعض ما فات الشيخ من هذه الأخطاء:
- جاء في (ص 19) السطر التاسع: (البر الرحيم).
والصواب كما في النسخ: (البار الرحيم). وقال الشيخ في تصويباته: في الأصل (البار) وهو تحريف
(1)!
- جاء في (ص 19) السطر العاشر: (أن يجزينا).
والصواب كما في النسخ الخطية: (أن يحسن).
- جاء في (ص 19) السطر الحادي عشر (التقدير والبيان).
والصواب: (التقريب والبيان).
- جاء في (ص 20) السطر الثالث: (أنا أبو بكر حمدون).
والصواب: (أنا أبو بكر ابن حمدون).
- جاء في (ص 21) السطر الثاني عشر: (المديم بها).
والصواب: (المديمها).
- جاء في (ص 32) السطر الخامس عشر: بعد قوله: (طاعة رسوله صلى الله عليه وسلم[ثم قال: وكان فرضه على من غاب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم]) سقط ما بين المعقوفين، وهو ثابت في جميع النسخ.
--------------------------------------------
বইটিতে তাঁর থেকে ঘটে যাওয়া ভুলগুলোর সংশোধনীসহ।
শাইখ যেসব ভুল এড়িয়ে গেছেন, তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করতে কোনো অসুবিধা নেই:
- (পৃষ্ঠা ১৯) নবম লাইনে এসেছে: (আল-বার্রুর রাহিম)।
অথচ পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী সঠিক পাঠ হলো: (আল-বারুর রাহিম)। শাইখ তাঁর সংশোধনীতে বলেছেন: মূল কপিতে (আল-বারু) রয়েছে এবং এটি বিকৃতি
(১)!
- (পৃষ্ঠা ১৯) দশম লাইনে এসেছে: (যেন তিনি আমাদের প্রতিদান দেন)।
অথচ হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী সঠিক পাঠ হলো: (যেন তিনি অনুগ্রহ করেন)।
- (পৃষ্ঠা ১৯) একাদশ লাইনে এসেছে (আত-তাকদির ওয়াল বায়ান)।
সঠিক হলো: (আত-তাকরিব ওয়াল বায়ান)।
- (পৃষ্ঠা ২০) তৃতীয় লাইনে এসেছে: (আমি আবু বকর হামদুন)।
সঠিক হলো: (আমি আবু বকর ইবন হামদুন)।
- (পৃষ্ঠা ২১) দ্বাদশ লাইনে এসেছে: (তার দ্বারা চিরস্থায়ীকারী)।
সঠিক হলো: (আল-মুদাইমুহা)।
- (পৃষ্ঠা ৩২) পঞ্চদশ লাইনে এসেছে: তাঁর উক্তি: (তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য [অতঃপর তিনি বললেন: এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যা ফরজ ছিল]) এরপর তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু বাদ পড়ে গেছে, অথচ এটি সকল পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ২০)
- جاء في (ص 40) السطر العاشر: (أنا أبو عبد الله محمد بن حيان القاضي).
والصواب (أنا أبو عبد الله الحافظ، أنا عبد الله بن محمد بن حيان القاضي).
وإني كنت في بداية عملي في الكتاب أذكر أخطاء المطبوعة في الحاشية، ثم تراجعت عن ذلك؛ لأني وجدت ذلك سيثقل حواشي الكتاب بما لا طائل تحته، واكتفيت بذكر أمثلة في المقدمة، وفي الإشارة كفاية لكل مسترشد.
وأخيرًا: فإن أهم مسوغات إعادة التحقيق لهذا الكتاب القيم مرة أخرى: هو عثوري بفضل الله تعالى على نسختين أخرتين للكتاب غير التي اعتمدها الشيخ رحمه الله، وسيأتي وصفهما إن شاء الله تعالى.
غير أني في نهاية كلمتي هذه أحب أن أعيد إشادتي بعمل الشيخ
… عبد الغني عبد الخالق رحمه الله الذي يدل على علمه وسعة اطلاعه، وإني أعتذر عنه في هذا المقام إذ كان كما ذكر أول عمل يقوم بتحقيقه، ولم تكن مناهج التحقيق قبل سبعين عامًا قد نضجت واستقرت كما هي الآن.
لكني بَيَّنتُ ما بينت؛ غَيرةً على التراث، وعلى مقام أئمة هذه الأمة من أن يُعبَث بتراثهم.
هذا وليس للكتاب فيما نعلم أي طبعة أخرى سوى التي حققها الشيخ عبد الغني عبد الخالق رحمه الله وقدم لها الشيخ محمد زاهد الكوثري رحمه الله سنة 1371 هـ.
اللهم إلا أن طبعت مرة أخرى بدار إحياء العلوم ببيروت سنة 1410 هـ
(৪০ নং পৃষ্ঠার) দশম লাইনে এসেছে: (আমি আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন হাইয়ান আল-কাদি)।
আর সঠিক পাঠ হলো: (আমি আবু আবদিল্লাহ আল-হাফিজ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবদিল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাইয়ান আল-কাদি)।
আমি কিতাবটির কাজ শুরু করার সময় মুদ্রিত কপির ভুলগুলো টীকায় উল্লেখ করছিলাম, কিন্তু পরে আমি তা থেকে বিরত হই; কারণ আমি দেখলাম যে, এতে কোনো বিশেষ ফায়দা ছাড়াই কিতাবের টীকাগুলো কেবল ভারাক্রান্ত হবে। আমি ভূমিকায় কিছু উদাহরণ পেশ করেই ক্ষান্ত হয়েছি, আর সত্যপিপাসুদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।
পরিশেষে: এই মূল্যবান কিতাবটি পুনরায় সম্পাদনা করার অন্যতম কারণ হলো—আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে আমি এই কিতাবটির আরও দুটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছি যা শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) যে কপির ওপর ভিত্তি করেছিলেন তা থেকে আলাদা। ইনশাআল্লাহ অচিরেই সেগুলোর বর্ণনা আসবে।
তবে আমার বক্তব্যের শেষে আমি পুনরায় শায়খ
… আবদুল গনি আবদুল খালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর কাজের প্রশংসা করতে চাই, যা তাঁর জ্ঞান এবং গভীর পাণ্ডিত্যের পরিচয় দেয়। এক্ষেত্রে আমি তাঁর পক্ষ থেকে ওজর পেশ করছি কারণ তিনি যেমনটি উল্লেখ করেছেন—এটিই ছিল তাঁর সম্পাদিত প্রথম কাজ; তাছাড়া সত্তর বছর আগে সম্পাদনার পদ্ধতি বর্তমান সময়ের মতো এতটা পরিপক্ক ও সুবিন্যস্ত ছিল না।
আমি যা কিছু স্পষ্ট করেছি তা ঐতিহ্যের প্রতি অনুরাগ এবং এই উম্মাহর ইমামগণের মর্যাদার সংরক্ষণার্থে করেছি, যাতে তাঁদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্যের কোনো বিকৃতি না ঘটে।
আমাদের জানামতে, শায়খ আবদুল গনি আবদুল খালিক (রহিমাহুল্লাহ) সম্পাদিত এবং শায়খ মুহাম্মাদ জাহিদ আল-কাওসারি (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক ভূমিকা সংবলিত ১৩৭১ হিজরির সংস্করণটি ব্যতীত কিতাবটির আর কোনো মুদ্রিত সংস্করণ নেই।
তবে ১৪১০ হিজরিতে বৈরুতের দারু ইহয়ায়িল উলুম থেকে এটি পুনরায় মুদ্রিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ২১)
باعتناء محمد شريف سكر، والذي صور طبعة الشيخ عبد الغني عبد الخالق، كما هي، وكان اعتنائه بها: أن زاد الطين بلة، فقد وضع عناوين جانبية على النص من عند نفسه، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
أما عن منهجي في تحقيق هذا النص:فقد اتضح من خلال نعيي على منهج مَن سبقني، أن مقصدي الأول:
- هو إخراج النص في أقرب صورة تركها عليه مصنفه، وذلك لا يكون إلا بتبجيل الأصول الخطية، وعدم العدول عما جاء فيها إلا في الضرورة القصوى، وهذا ما فعلته حسب طاقتي.
- ثم إني خرجت الآيات الواردة في النص، وكذلك الأحاديث والآثار.
- وترجمت لأكثر الأعلام الذين وردوا في الكتاب.
- وبينت غريب الألفاظ التي ألفيتها غير واضحة.
- وضبطت أغلب كلمات الكتاب بالشكل، وكذلك ضبطت أسماء أعلامه.
- كما ترجمت في مقدمة الكتاب لرواته، بدءًا من الإمام الشافعي رحمه الله صاحب الكلام، ونزولًا حتى الإمام البيهقي، الذي جمع الكلام ورتبه على ترتيب المختصر.
- كذلك قمت بتحويل اختصارات صيغ التحديث المستخدمة في الأسانيد إلى أصلها، وفق ما هو مقرر في علم مصطلح الحديث، فإن العلماء كانوا يختصرون صيغ التحديث في الكتابة فقط توفيرًا لجهد الكتابة، فكانوا يختصرون «حدثنا»: إلى «نا»، و «ثنا»، و «دثنا».
ويختصرون «أخبرنا»: إلى «أنا»، و «أبنا»، و «أرنا».
মুহম্মদ শরীফ সুক্কারের তত্ত্বাবধানে, যিনি শায়খ আব্দুল গনী আব্দুল খালেকের সংস্করণটি হুবহু নকল করেছিলেন। আর তার সম্পাদনা পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলেছিল; কারণ তিনি পাঠ্যের উপর নিজের পক্ষ থেকে কিছু পার্শ্ব-শিরোনাম যুক্ত করেছিলেন। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
এই পাঠ্যটির তাহকীক বা সম্পাদনায় আমার পদ্ধতি সম্পর্কে:আমার পূর্ববর্তীদের কর্মপদ্ধতির উপর সমালোচনার মাধ্যমেই এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আমার প্রধান লক্ষ্য হলো:
- পাঠ্যটিকে লেখক যে রূপে রেখে গেছেন তার নিকটতম রূপে প্রকাশ করা। আর এটি মূল পাণ্ডুলিপিকে শ্রদ্ধা করা এবং একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত তা থেকে বিচ্যুত না হওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সেটিই করেছি।
- অতঃপর আমি পাঠ্যের অন্তর্গত আয়াতসমূহের পাশাপাশি হাদীস ও আছারসমূহের তাখরীজ করেছি।
- এবং কিতাবে উল্লেখিত অধিকাংশ ব্যক্তিত্বের জীবনী উল্লেখ করেছি।
- এবং যে সকল অপ্রচলিত শব্দ আমার কাছে অস্পষ্ট মনে হয়েছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।
- আমি কিতাবের অধিকাংশ শব্দের হরকত প্রদান করেছি এবং একইভাবে ব্যক্তিত্বগণের নামের হরকতও নির্ধারণ করেছি।
- এছাড়া আমি কিতাবের ভূমিকায় এর বর্ণনাকারীদের জীবনীও লিখেছি; যা এই বাণীর মূল প্রবক্তা ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে শুরু করে ইমাম বায়হাকী পর্যন্ত বিস্তৃত, যিনি এই বাণীসমূহ সংগ্রহ করেছেন এবং 'আল-মুখতাসার'-এর বিন্যাস অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন।
- একইভাবে আমি সনদসমূহে ব্যবহৃত হাদীস বর্ণনার শব্দগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপকে ইলমে মুসতালাহুল হাদীসের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণরূপে রূপান্তরিত করেছি। উলামায়ে কেরাম লিখনীর পরিশ্রম লাঘব করার জন্য শুধুমাত্র লেখার সময় বর্ণনার শব্দগুলোকে সংক্ষিপ্ত করতেন। যেমন তারা 'হাদ্দাসানা' (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন)-কে সংক্ষেপে 'না', 'সানা' এবং 'দাছানা' লিখতেন।
এবং তারা 'আখবারানা' (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন)-কে সংক্ষেপে 'আনা', 'আবনা' এবং 'আরনা' লিখতেন।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ২২)
إلى غير ذلك مما هو مبسوط في كتب علوم الحديث.
- وقمت بصناعة مجموعة من الفهارس العلمية تعين الباحث على الوصول لمراده من الكتاب.
ولا يفوتني هنا أن أتقدم بالشكر لكل من ساهم في إخراج هذا الكتاب، وعلى رأسهم أخي وصديقي الحبيب المحقق الأستاذ هشام الجَوْجَري حفظه الله.
وأخي الحبيب الكريم الشيخ أبا عمر خالد بن محمد زكي صاحب «دار الذخائر» العامرة؛ فله علي يد يجزيه الله بها.
وإني في الختام لا أَدَّعي لنفسي عِصمة، ولا أُسَلِّم قولي عن وَصْمة، فالمعصوم السالم هو كتاب الله المجيد الذي لا ريب فيه، وكل كتاب سواه عرضة للريب والتحريف.
فأسأل الله تعالى أن يقبل مني صوابه، ويتجاوز لي عن خطئه؛ إنه بكل جميل كفيل وهو حسبنا ونعم الوكيل، والحمد لله أولا وآخرًا ظاهرًا وباطنًا.
وكَتبهُ
أبو عاصم الشَّوَامِي محمد بن محمود بن إبراهيم
في التاسع عشر من شهر ربيع الأول سنة أربعين وأربعمائة وألف
من هجرة النبي صلى الله عليه وسلم
* * *
হাদিসশাস্ত্রের গ্রন্থাবলিতে যা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে এ ছাড়া আরও অন্যান্য বিষয়।
- এবং আমি একগুচ্ছ জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি যা গবেষককে এই গ্রন্থ থেকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
এই গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন তাদের প্রত্যেককে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা আমি আবশ্যক মনে করি, যাদের শীর্ষে রয়েছেন আমার ভাই ও পরম বন্ধু মুহাক্কিক উস্তাদ হিশাম আল-জাওজারি (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন)।
এবং আমার প্রিয় ও সম্মানিত ভাই শাইখ আবু উমর খালিদ বিন মুহাম্মাদ জাকি, সমৃদ্ধ 'দারুল জাখায়ের'-এর স্বত্বাধিকারী; আমার ওপর তাঁর অনুগ্রহ রয়েছে যার জন্য আল্লাহ তাঁকে প্রতিদান দান করুন।
পরিশেষে আমি নিজের জন্য কোনো নির্ভুলতার দাবি করি না, আর না আমার বক্তব্যকে ত্রুটিমুক্ত ঘোষণা করি; কেননা নির্ভুল ও ত্রুটিমুক্ত তো কেবল আল্লাহর মহিমান্বিত কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর এটি ব্যতীত অন্য প্রতিটি গ্রন্থই সন্দেহ ও বিকৃতির সম্মুখীন হতে পারে।
অতএব আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার এই কাজের সঠিক অংশটুকু কবুল করেন এবং ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন; নিশ্চয়ই তিনি সকল কল্যাণের জিম্মাদার এবং তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।
এটি লিখেছেন
আবু আসিম আশ-শাওয়ামি মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ বিন ইবরাহিম
চৌদ্দশত চল্লিশ হিজরি সনের উনিশে রবিউল আউয়াল তারিখে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরত হতে
* * *
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثالثًا: ترجمة مختصرة للإمام الشافعي رضي الله عنه -
(1).
هو الإمام: محمد بن إدريس بن العباس بن عثمان بن شافع بن السائب ابن عبيد بن عبد يزيد بن هشام بن المطلب بن عبد مناف بن قصي بن كلاب ابن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب، الإمام، عالم العصر، ناصر الحديث، فقيه الملة، أبو عبد الله القرشي، ثم المطلبي، الشافعي، المكي، الغزي المولد، نسيب رسول الله صلى الله عليه وسلم وابن عمه، فالمطلب هو أخو هاشم والد عبد المطلب.
اتفق مولد الإمام بغزة، ومات أبوه إدريس شابًّا، فنشأ محمد يتيمًا في حجر أمه، فخافت عليه الضيعة، فتحولت به إلى مَحْتِده وهو ابن عامين، فنشأ بمكة، وأقبل على الرَّمْي، حتى فاق فيه الأقران، وصار يُصيب مِن عشرة أسهم تسعة، ثم أقبل على العربية والشرع، فبرع في ذلك، وتقدم.
ثم حُبِّب إليه الفقه، فساد أهل زمانه.
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী-
(১).
তিনি হলেন ইমাম: মুহাম্মাদ বিন ইদরিস বিন আল-আব্বাস বিন উসমান বিন শাফি’ বিন আস-সাইব বিন উবাইদ বিন আবদ ইয়াযিদ বিন হিশাম বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদ মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব। তিনি একজন ইমাম, যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম, হাদিসের সাহায্যকারী, উম্মতের ফকিহ, আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরাশি, অতঃপর আল-মুত্তালিবি, আশ-শাফিঈ, আল-মাক্কি। গাজায় তাঁর জন্ম, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয় এবং তাঁর চাচাতো ভাই; কেননা আল-মুত্তালিব হলেন হাশেমের ভাই এবং আব্দুল মুত্তালিবের পিতা।
গাজায় ইমামের জন্ম হওয়া বিষয়ে সকলে একমত, তাঁর পিতা ইদরিস অল্প বয়সেই মারা যান, ফলে মুহাম্মাদ তাঁর মায়ের কোলে এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তাঁর মা তাঁর ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করলেন, তাই তাঁর বয়স যখন দুই বছর তখন তাঁকে তাঁর পৈত্রিক ভিটায় নিয়ে আসেন। ফলে তিনি মক্কায় বেড়ে ওঠেন এবং তীরন্দাজিতে মনোনিবেশ করেন, এমনকি এই ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান এবং দশটি তীরের মধ্যে নয়টিই লক্ষ্যে আঘাত করতে সক্ষম হন। এরপর তিনি আরবি ভাষা এবং শরীয়তের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং এতে পারদর্শিতা অর্জন করেন ও অগ্রগামী হন।
এরপর ফিকহ শাস্ত্র তাঁর নিকট প্রিয় হয়ে ওঠে এবং তিনি তাঁর সময়ের লোকদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ذكر بعض شيوخه:أخذ العلم ببلده عن: مسلم بن خالد الزنجي-مفتي مكة- وداود بن عبد الرحمن العطار، وعمه؛ محمد بن علي بن شافع - فهو ابن عم العباس جد الشافعي- وسفيان بن عيينة، وعبد الرحمن بن أبي بكر المليكي، وسعيد بن سالم، وفضيل بن عياض، وعدة.
وحمل عن الإمام مالك بن أنس «الموطأ»، عرضه من حفظه.
وأخذ عن محمد بن الحسن؛ فقيه العراق، ولازمه، وحمل عنه وقر بعير.
وعن: إسماعيل ابن علية، وعبد الوهاب الثقفي، وخلق.
أشهر من تلمذ له:الحميدي، وأبو عبيد القاسم بن سلام، وأحمد بن حنبل، وسليمان بن داود الهاشمي، وأبو يعقوب يوسف البويطي، وأبو ثور إبراهيم بن خالد الكلبي، وحرملة بن يحيى، وموسى بن أبي الجارود المكي، وحسين بن علي الكرابيسي، وإبراهيم بن المنذر الحزامي، والحسن بن محمد الزعفراني، وإسحاق بن راهويه، وإسحاق بن بهلول، وأبو عبد الرحمن أحمد بن يحيى الشافعي المتكلم، والحارث بن سريج النقال، وحامد بن يحيى البلخي، وسليمان بن داود المهري، وهارون بن سعيد الأيلي، وأحمد بن سنان القطان، وأبو الطاهر أحمد بن عمرو بن السرح، ويونس بن عبد الأعلى، والربيع بن سليمان المرادي، والربيع بن سليمان الجيزي، ومحمد بن عبد الله بن عبد الحكم، وبحر بن نصر الخولاني، وخلق سواهم.
তাঁর কয়েকজন উস্তাদের বর্ণনা:তিনি নিজ শহরে ইলম অর্জন করেছেন: মক্কার মুফতি মুসলিম বিন খালিদ আজ-জানজি, দাউদ বিন আবদুর রহমান আল-আত্তার, এবং তাঁর চাচা মুহাম্মদ বিন আলী বিন শাফি’—যিনি শাফি’ঈর দাদা আব্বাসের চাচাতো ভাই ছিলেন—সুফিয়ান বিন উয়াইনা, আবদুর রহমান বিন আবু বকর আল-মুলিকি, সাঈদ বিন সালিম, ফুদাইল বিন ইয়াদ এবং আরও অনেকের নিকট থেকে।
তিনি ইমাম মালিক বিন আনাসের নিকট থেকে ‘আল-মুয়াত্তা’ গ্রহণ করেছেন এবং তা নিজের স্মৃতি থেকে তাঁর নিকট পাঠ করে শুনিয়েছেন।
তিনি ইরাকের ফকিহ মুহাম্মদ বিন হাসান (আশ-শায়বানী) থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাঁর সান্নিধ্যে থেকেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে উটের এক বোঝা সমপরিমাণ কিতাবাদি লাভ করেছেন।
আরও গ্রহণ করেছেন: ইসমাঈল ইবনে উলাইয়্যাহ, আবদুল ওয়াহহাব আস-সাকাফি এবং আরও বহু জনের নিকট থেকে।
তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:হুমাইদি, আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম, আহমাদ বিন হাম্বল, সুলাইমান বিন দাউদ আল-হাশিমি, আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-বুয়াইতি, আবু সাওর ইব্রাহিম বিন খালিদ আল-কালবি, হারমালা বিন ইয়াহইয়া, মুসা বিন আবু জারুদ আল-মাক্কি, হুসাইন বিন আলী আল-কারাবিসি, ইব্রাহিম বিন মুনজির আল-হিজামি, হাসান বিন মুহাম্মদ আজ-জা’ফরানি, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, ইসহাক বিন বাহলুল, আবু আবদুর রহমান আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আশ-শাফি’ঈ আল-মুতাকাল্লিম, হারিস বিন সুরিদ আন-নাক্কাল, হামিদ বিন ইয়াহইয়া আল-বালখি, সুলাইমান বিন দাউদ আল-মাহরি, হারুন বিন সাঈদ আল-আইলি, আহমাদ বিন সিনান আল-কাত্তান, আবু তাহির আহমাদ বিন আমর বিন আস-সারাহ, ইউনুস বিন আবদুল আ'লা, রাবি’ বিন সুলাইমান আল-মুরাদি, রাবি’ বিন সুলাইমান আল-জিজি, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল হাকাম, বাহর বিন নাসর আল-খাওলানি এবং তাঁদের ছাড়া আরও অসংখ্য ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد أفرد الدارقطني كتاب «من له رواية عن الشافعي» في جزأين، وصنف الكبار في مناقب هذا الإمام
(1).
فأما جدهم السائب المطلبي، فكان من كبراء من حضر بدرا مع الجاهلية، فأسر يومئذ، وكان يشبه بالنبي صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
ইমাম দারাকুতনি 'যাঁরা শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন' শিরোনামে দুই খণ্ডে একটি পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং বড় বড় আলিমগণ এই ইমামের মর্যাদা ও গুণাবলি সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন
(১)।
আর তাঁদের পূর্বপুরুষ সায়িব আল-মুত্তালিবী সম্পর্কে বলা যায় যে, তিনি জাহিলিয়াত যুগের লোকেদের সাথে বদর যুদ্ধে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সেদিন তিনি বন্দী হন এবং তিনি নবী (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সদৃশ ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ووالدته: هي الشفاء بنت أرقم بن نضلة.
ونضلة: هو أخو عبد المطلب؛ جد النبي صلى الله عليه وسلم فيقال: إنه بعد أن فدى نفسه، أسلم.
وابنه شافع: له رؤية، وهو معدود في صغار الصحابة، وولده عثمان: تابعي.
قال ابن عبد الحكم: قال لي الشافعي: ولدت بغزة، سنة خمسين ومائة، وحملت إلى مكة ابن سنتين.
قال المزني: ما رأيت أحسن وجها من الشافعي رحمه الله وكان ربما قبض على لحيته، فلا يفضل عن قبضته.
قال الربيع المؤذن: سمعت الشافعي يقول: كنت ألزم الرمي، حتى كان الطبيب يقول لي: أخاف أن يصيبك السُّل من كثرة وقوفك في الحر.
قال: وكنت أصيب من العشرة تسعة.
قال الحميدي: سمعت الشافعي يقول: كنت يتيما في حجر أمي، ولم يكن لها ما تعطيني للمعلم، وكان المعلم قد رضي مني أن أقوم على الصبيان إذا غاب، وأخفف عنه.
وعن الشافعي، قال: كنت أكتب في الأكتاف والعظام، وكنت أذهب إلى الديوان، فأستوهب الظهور، فأكتب فيها.
وقال عمرو بن سواد: قال لي الشافعي: كانت نهمتي في الرمي، وطلب العلم، فنلت من الرمي حتى كنت أصيب من عشرة عشرة، وسكت عن
ও তাঁর মাতা: তিনি হলেন আশ-শিফা বিনতে আরকাম বিন নাদলাহ।
আর নাদলাহ: তিনি হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দাদা আবদুল মুত্তালিবের ভাই; তাই বলা হয় যে, তিনি মুক্তিপণ প্রদানের মাধ্যমে নিজেকে মুক্ত করার পর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
এবং তাঁর পুত্র শাফে‘: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দর্শন করেছেন এবং তাঁকে কনিষ্ঠ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়; আর তাঁর পুত্র উসমান হলেন একজন তাবেয়ি।
ইবনে আবদিল হাকাম বলেন: শাফেয়ি আমাকে বলেছেন: আমি একশত পঞ্চাশ হিজরি সনে গাজায় জন্মগ্রহণ করেছি এবং দুই বছর বয়সে আমাকে মক্কায় নিয়ে আসা হয়।
মুজানি বলেন: আমি শাফেয়ি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর চেহারার চেয়ে সুন্দর আর কোনো চেহারা দেখিনি। তিনি কখনো কখনো তাঁর দাড়ি মুঠো করে ধরতেন, আর তা তাঁর মুষ্টির অতিরিক্ত হতো না।
রাবি আল-মুয়াযযিন বলেন: আমি শাফেয়িকে বলতে শুনেছি: আমি তীর নিক্ষেপের অনুশীলনে নিমগ্ন থাকতাম, এমনকি চিকিৎসক আমাকে বলতেন: আমি আশঙ্কা করছি যে অত্যধিক রোদে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আপনি যক্ষ্মায় আক্রান্ত হতে পারেন।
তিনি বলেন: আমি দশটির মধ্যে নয়টিই লক্ষ্যভেদ করতাম।
হুমায়দি বলেন: আমি শাফেয়িকে বলতে শুনেছি: আমি আমার মায়ের আশ্রয়ে এতিম হিসেবে লালিত হয়েছি; শিক্ষককে দেওয়ার মতো কোনো সম্পদ তাঁর কাছে ছিল না। শিক্ষক আমার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন এই শর্তে যে, তিনি অনুপস্থিত থাকলে আমি শিশুদের দেখাশোনা করব এবং তাঁর পরিশ্রম লাঘব করব।
শাফেয়ি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি পশুর কাঁধের হাড় ও সাধারণ হাঁড়ের ওপর লিখতাম। আমি সরকারি দপ্তরে যেতাম এবং ব্যবহৃত কাগজের পেছনের খালি অংশগুলো চেয়ে নিতাম, অতঃপর সেগুলোতে লিখতাম।
আমর বিন সাওয়াদ বলেন: শাফেয়ি আমাকে বলেছেন: আমার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল তীর নিক্ষেপ এবং জ্ঞান অন্বেষণের প্রতি। আমি তীর নিক্ষেপে এমন পারদর্শিতা লাভ করেছিলাম যে দশটির মধ্যে দশটিই লক্ষ্যভেদ করতাম। আর তিনি (জ্ঞানের বিষয়টি নিয়ে) নীরবতা অবলম্বন করলেন...
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
العلم. فقلت: أنت -والله- في العلم أكبر منك في الرمي.
قال أبو عبيد: ما رأيت أعقل من الشافعي، وكذا قال يونس بن
… عبد الأعلى، حتى إنه، قال: لو جمعت أمة لوسعهم عقله.
وقال يونس الصدفي: ما رأيت أعقل من الشافعي، ناظرته يوما في مسألة، ثم افترقنا، ولقيني، فأخذ بيدي، ثم قال: يا أبا موسى، ألا يستقيم أن نكون إخوانا وإن لم نتفق في مسألة
(1).
قال أحمد: «إذا سئلت عن مسألة لا أعْرِفُ فيها خبَرًا، قلت فيها بقول الشافعي، لأنه إمام عالم من قريش.
ورُوَى عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «عالم قريش يملأ الأرض علمًا».
وذُكِرَ في الخبر: «أنّ الله تعالى، يُقَيِّضُ في رأس كل مائة سنة رجلا يعلِّم الناس دينهم».
ورَوَى أحمد ذلك عن النبي، صلى الله عليه وسلم.
قال أحمد بن حنبل: فكان في المائة الأولى: عمر بن عبد العزيز، وفي المائة الثانية: الشافعي.
قال أبو عبد الله: وإني لأدْعُو للشافعي منذ أربعين سنة في صلاتي»
(2).
قال عبد الله بن أحمد بن حنبل: قلت لأبي: يا أبة، أي رجل كان الشافعي؟ فإني أسمعك تكثر الدعاء له، فقال: يا بني، كان الشافعي رحمه الله
--------------------------------------------
জ্ঞান। আমি বললাম: আল্লাহর কসম—তীরন্দাজির চেয়ে জ্ঞানে আপনি অধিক বড়।
আবু উবাইদ বলেন: আমি শাফিঈর চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান কাউকে দেখিনি। ইউনুস ইবনে
… আবদুল আলাও অনুরূপ বলেছেন; এমনকি তিনি বলেছেন: যদি সমগ্র উম্মতকেও একত্রিত করা হতো, তবে তাঁর বুদ্ধি তাদের সবার জন্য যথেষ্ট হতো।
ইউনুস আস-সাদাফি বলেন: আমি শাফিঈর চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান কাউকে দেখিনি। একদিন একটি বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আমার বিতর্ক হলো, এরপর আমরা বিচ্ছিন্ন হলাম। পরে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হলো, তিনি আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: হে আবু মুসা, একটি বিষয়ে আমাদের মতের মিল না হলেও কি আমরা ভাই ভাই হয়ে থাকতে পারি না?
(১)আহমাদ বলেন: “যখন আমাকে এমন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয় যে বিষয়ে আমার কোনো হাদিস জানা নেই, তখন আমি শাফিঈর বক্তব্য অনুযায়ী মত দিই। কারণ তিনি কুরাইশ বংশের একজন বিজ্ঞ ইমাম।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “কুরাইশ বংশের একজন আলেম পৃথিবীকে জ্ঞানে পরিপূর্ণ করে দেবেন।”
হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ প্রতি একশ বছরের শুরুতে এমন একজন ব্যক্তিকে পাঠাবেন, যিনি মানুষকে তাদের দ্বীন শিক্ষা দেবেন।”
ইমাম আহমাদ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: প্রথম শতকে ছিলেন উমর ইবনে আবদুল আজিজ এবং দ্বিতীয় শতকে শাফিঈ।
আবু আবদুল্লাহ বলেন: “আমি চল্লিশ বছর ধরে আমার সালাতে শাফিঈর জন্য দোয়া করছি।”
(২)আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: আমি আমার পিতাকে বললাম: হে আব্বাজান, শাফিঈ কেমন লোক ছিলেন? আমি তো আপনাকে তাঁর জন্য প্রচুর দোয়া করতে শুনি। তিনি বললেন: হে বৎস, শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كالشمس للدنيا وكالعافية للناس فانظر هل لهذين من عوض أو خلف
(1).
وروى البيهقي بسنده في «مناقب الشافعي» (1/ 58) إلى أبي بكر أحمد بن عمرو بن أبي عاصم النبيل أنه قال: «لا أُحب أن يَحضُر مَجلسي مبتدعٌ، ولا طعّان، ولا لعّان، ولا فاحش، ولا بذئ، ولا منحرف عن الشافعي، ولا عن أصحاب الحديث».
روى البيهقي في «مناقب الشافعي» (2/ 295) بسنده إلى المزني قال:
دخلت على الشافعي في بعض علله قلت له: كيف أصبحت؟ فقال: أصبحت بين أمر ونهي، أصبحت آكل رزقي وأنتظر أجلي.
فقلت: ألا أُدْخِلُ عليك طبيباً؟ فقال: افعل. فأدخلت عليه طبيبًا نصرانيًا، فجسّ يده فحسّ الشافعي بالعلّة في يد الطبيب، فجعل الشافعي يقول:
جاء الطَّبيبُ يَجُسُّني فَجَسَسْتُه
… فإذا الطَبِيبُ لِمَا بِهِ مِن حَالِ
وغَدَا يُعَالِجُني بِطُولِ سقَامِه
… ومِن العَجَائِب أَعْمَش كَحَّالِ
قال المزني: فما مضت الأيام والليالي حتى مات المُتَطَبِّبُ، فقيل للشافعي: قد مات المتطبب، فجعل يقول:
إنّ الطبيب بطبِّه ودوائِه
… لا يستطيعُ دِفَاعَ مَقْدُورِ القَضَا
ما للطبيب يَمُوتُ بالدَّاءِ الذِي
… قَد كان يُبرئُ مِثلَه فِيمَا مَضَى
--------------------------------------------
তিনি পৃথিবীর জন্য সূর্যের মতো এবং মানুষের জন্য সুস্বাস্থ্যের মতো; সুতরাং লক্ষ্য করুন, এই দুটির কি কোনো বিকল্প বা স্থলাভিষিক্ত আছে?
(১).
আল-বায়হাকী তার সনদে 'মানাকিব আশ-শাফিঈ' (১/৫৮) গ্রন্থে আবু বকর আহমাদ ইবনে আমর ইবনে আবি আসিম আন-নাবীল থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমি পছন্দ করি না যে আমার মজলিসে কোনো বিদআতী, কোনো কটুক্তিকারী, কোনো অভিশাপকারী, কোনো অশ্লীল ভাষী, কোনো মন্দভাষী কিংবা ইমাম শাফিঈ ও আসহাবুল হাদীস থেকে বিচ্যুত কেউ উপস্থিত হোক।"
আল-বায়হাকী 'মানাকিব আশ-শাফিঈ' (২/২৯৫) গ্রন্থে তার সনদে আল-মুযানী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:
আমি ইমাম শাফিঈর কোনো এক অসুস্থতার সময় তার কাছে প্রবেশ করলাম এবং তাকে বললাম: আপনি কেমন বোধ করছেন? তিনি বললেন: আমি আদেশ ও নিষেধের মধ্যে সকাল করেছি, আমি আমার রিজিক খাচ্ছি এবং আমার মৃত্যুর প্রতীক্ষা করছি।
আমি বললাম: আমি কি আপনার কাছে কোনো চিকিৎসক ডেকে আনব না? তিনি বললেন: নিয়ে আসো। অতঃপর আমি তার কাছে একজন খ্রিস্টান চিকিৎসক নিয়ে আসলাম। সে তার হাত পরীক্ষা করল, কিন্তু ইমাম শাফিঈ চিকিৎসকের হাতেই অসুস্থতা অনুভব করলেন। তখন ইমাম শাফিঈ বলতে লাগলেন:
চিকিৎসক আসলেন আমাকে পরীক্ষা করতে, অতঃপর আমিই তাকে পরীক্ষা করলাম
… তখন চিকিৎসকের অবস্থাই ছিল শোচনীয়।
তিনি তার নিজের দীর্ঘ অসুস্থতা নিয়েই আমাকে চিকিৎসা করতে আসলেন
… আর আশ্চর্যের বিষয় হলো ঝাপসা চোখের অধিকারী ব্যক্তি কি না চোখের সুরমা লাগাতে এসেছে!
আল-মুযানী বলেন: বেশি দিন অতিবাহিত হয়নি এর মধ্যেই চিকিৎসক মারা গেলেন। ইমাম শাফিঈকে বলা হলো: সেই চিকিৎসক তো মারা গেছেন। তখন তিনি বলতে লাগলেন:
নিশ্চয়ই চিকিৎসক তার চিকিৎসা ও ঔষধের মাধ্যমে
… আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত তকদীরের ফয়সালা ঠেকাতে পারে না।
চিকিৎসকের কী হলো যে সে এমন রোগে মারা গেল
… যা অতীতে সে নিজেই ভালো করত!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هَلَكَ المدَاوِي والمُدَاوَى والذي
… جَلَبَ الدواءَ وبَاعَه ومَن اشْتَرَى
وروى بسنده إلى الربيع أن الشافعي مات سنة أربع ومائتين، في آخر يوم من رجب يوم الجمعة، وهو ابن نيف وخمسين سنة.
وترجمة هذا الإمام العلم والجبل الأشم رضي الله تعالى عنه وطَيَّب ثَراه وسَقَى جَدَثَهُ = مما يُعجِز الكُتَّاب؛ لسعة فضله، وتعدد شمائله، وقد اكتفيت بهذه النبذة كي لا تطول مقدمة الكتاب وتخرج عن قصدها، واكتفيت بذكر المصادر المطولة لمن أراد أن ينهل من سيرة هذا الحبر الكبير، علمًا وأدبًا.
* * *
চিকিৎসাকারী ধ্বংস হয়েছে, চিকিৎসাপ্রাপ্তও ধ্বংস হয়েছে এবং যে ব্যক্তি
… ঔষধ নিয়ে এসেছিল, তা বিক্রি করেছিল এবং যে তা ক্রয় করেছিল (সকলেই ধ্বংস হয়েছে)।
তিনি তাঁর সনদসহ রবী' থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম শাফি'ঈ দুইশত চার হিজরী সনের রজব মাসের শেষ দিন জুমু'আর দিনে মৃত্যুবরণ করেন, আর তখন তাঁর বয়স ছিল পঞ্চাশের কিছু বেশি বছর।
এই প্রখ্যাত ইমাম ও সুউচ্চ পর্বতসম ব্যক্তিত্বের (আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর কবরকে সুগন্ধিময় ও সিক্ত করুন) জীবনী বর্ণনা করা লেখকদের জন্য এক অসাধ্য কাজ; কারণ তাঁর ফযীলতের ব্যাপকতা এবং তাঁর চারিত্রিক গুণাবলীর বহুবিধতা। আমি কেবল এই সংক্ষিপ্ত সারটুকুই যথেষ্ট মনে করেছি যাতে কিতাবের ভূমিকা দীর্ঘ হয়ে মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত না হয়। আর যারা জ্ঞান ও শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে এই মহান মনীষীর জীবনী থেকে জ্ঞান আহরণ করতে চান, তাঁদের জন্য আমি বিস্তারিত উৎসসমূহের উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।
* * *
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
رابعًا: ترجمة الإمام الربيع بن سليمان الراوي عن الشافعي (1).
هو الإمام، المحدث، الفقيه الكبير، بقية الأعلام، أبو محمد المرادي مولاهم، المصري، المؤذن، صاحب الإمام الشافعي، وناقل علمه، وشيخ المؤذنين بجامع الفسطاط، ومستملي مشايخ وقته.
مولده: في سنة أربع وسبعين ومائة، أو قبلها بعام.
سمع: محمد بن إدريس المطلبي الشافعي، وعبد الله بن وهب، وبشر بن بكر التنيسي، وأيوب بن سويد الرملي، ، ويحيى بن حسان، وأسد السنة، وسعيد بن أبي مريم، وأبا صالح، وعددًا كثيرا.
وهو الذي روى أكثر كتب الشافعي، وقال الشافعي في حقه: الربيع راويتي، وقال: ما خَدَمَني أحد ما خدمني الربيع، وكان يقول له: يا ربيع، لو أمكنني أن أُطْعِمَك العِلمَ لأَطْعَمْتُك. ويُحكى عنه أنه قال: دَخلتُ على الشافعي رضي الله عنه عند وفاته، وعنده البُوَيْطي والمُزَني وابنُ عبد الحَكَم، فنظر إلينا ثم قال: أما أنت يا أبا يعقوب -يعني البويطي- فتموت في حَدِيدِك، وأما أنت يا مُزَنِيُّ فستكون لك في مصر هنات وهنات، ولَتُدرِكَنَّ زَماناً تكون فيه أَقْيَس أَهلِ زَمانِك، وأما أنت يا محمدُ -يعني ابن عبد الحكم- فترجع إلى مذهب مَالِك، وأما أنت يا ربيعُ، فأنت أَنفَعُهُم لي في نَشْر الكُتب، قم يا أبا يعقوب فَتَسلَّم الحَلْقَة. قال الربيعُ: فلمَّا ماتَ الشافعيُّ رضي الله عنه صار كُلُّ واحدٍ منهم إلى ما قاله، حتى كأنه ينظر إلى الغَيْب مِن سِتر رقيق.
--------------------------------------------
চতুর্থত: ইমাম শাফিঈর নিকট থেকে বর্ণনাকারী ইমাম রাবী বিন সুলাইমানের জীবনী(১).
তিনি হলেন ইমাম, মুহাদ্দিস, মহান ফকিহ, বিজ্ঞ ব্যক্তিদের উত্তরসূরি, আবু মুহাম্মদ আল-মুরাদি (তাদের মুক্ত করা গোলাম), মিশরীয়, মুয়াজ্জিন, ইমাম শাফিঈর সহচর ও তাঁর ইলমের বাহক, ফুসতাতের জামে মসজিদের মুয়াজ্জিনদের শাইখ এবং তাঁর সমসাময়িক মাশায়েখদের মুস্তামলি (শ্রুতিলিখক)।
তাঁর জন্ম: ১৭৪ হিজরি সালে অথবা তার এক বছর পূর্বে।
তিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন: মুহাম্মদ বিন ইদরিস আল-মুত্তালিবি আশ-শাফিঈ, আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব, বিশর বিন বকর আত-তিন্নিসি, আইয়ুব বিন সুয়াইদ আর-রামলি, ইয়াহইয়া বিন হাসসান, আসাদ আস-সুন্নাহ, সাঈদ বিন আবি মারিয়াম, আবু সালেহ এবং আরও অনেকের নিকট থেকে।
তিনিই ইমাম শাফিঈর অধিকাংশ কিতাব বর্ণনা করেছেন। ইমাম শাফিঈ তাঁর সম্পর্কে বলতেন: "রাবী হলো আমার বর্ণনাকারী।" তিনি আরও বলতেন: "রাবী আমার যে পরিমাণ সেবা করেছে, অন্য কেউ তা করেনি।" তিনি তাঁকে বলতেন: "হে রাবী, আমি যদি তোমাকে ইলম খাইয়ে দিতে পারতাম, তবে অবশ্যই খাইয়ে দিতাম।" তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: আমি ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইন্তেকালের সময় তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তাঁর পাশে বুয়াইতি, মুজানি এবং ইবনে আব্দুল হাকাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন: "হে আবু ইয়াকুব (অর্থাৎ বুয়াইতি)! তুমি লোহার শিকলবদ্ধ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে। আর হে মুজানি! অচিরেই মিশরে তোমার জন্য নানাবিধ ঝক্কি-ঝামেলা আসবে এবং তুমি এমন এক সময় পাবে যখন তুমি হবে তোমার যুগের সবচেয়ে দক্ষ কিয়াসকারী। আর হে মুহাম্মদ (অর্থাৎ ইবনে আব্দুল হাকাম)! তুমি মালিকের মাজহাবে ফিরে যাবে। আর হে রাবী! কিতাবসমূহ প্রসারের ক্ষেত্রে তুমিই আমার জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী হবে। হে আবু ইয়াকুব, ওঠো এবং পাঠদানের হালকার দায়িত্ব গ্রহণ করো।" রাবী বলেন: ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন ইন্তেকাল করলেন, তখন তাদের প্রত্যেকেই ঠিক সেই পরিণতির দিকে ধাবিত হলেন যা তিনি বলেছিলেন; যেন তিনি এক পাতলা পর্দার আড়াল থেকে অদৃশ্যের সংবাদ দেখছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
حدث عنه: أبو داود، وابنُ مَاجهْ، والنَّسائيُّ، وأبو عِيسَى بواسطة في كتبهم، والواسطة الذي في (الجامع) هو محمد بن إسماعيل السلمي، ومنهم: أبو زُرعَة، وأبو حاتم، وزكريا السَّاجي، وصالح بن محمد، وابن أبي دواد، وابن صاعد، وأبو جعفر الطحاوي، وعبد الرحمن ابن أبي حاتم، ومحمد بن هارون الرُّويَاني، وأبو عَوَانَة الإسفراييني، وأبو علي بن حبيب الحصائري، وأبو العباس الأصم، وخلق كثير من المشارقة والمغاربة.
وطال عمره، واشتهر اسمه، وازدحم عليه أصحاب الحديث، ونِعم الشيخ كان، أفنى عمره في العلم ونشره.
قال أبو جعفر الطحاوي: مات الربيع مؤذن جامع الفسطاط في يوم الاثنين، ودفن يوم الثلاثاء لإحدى وعشرين ليلة خلت من شوال، سنة سبعين ومائتين، وصلى عليه الأمير خمارويه -يعني: صاحب مصر- وابن صاحبها أحمد بن طولون.
* * *
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, নাসায়ি এবং আবু ঈসা তাঁদের কিতাবসমূহে মধ্যস্থতার মাধ্যমে; আর 'জামি'-তে সেই মধ্যস্থতাকারী হলেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আস-সুলামি। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন: আবু যুরআহ, আবু হাতিম, যাকারিয়া আস-সাজি, সালেহ ইবনে মুহাম্মদ, ইবনে আবি দাউদ, ইবনে সায়েদ, আবু জাফর আত-তাহাবি, আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম, মুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুয়ানি, আবু আওয়ানাহ আল-ইসফারায়িনি, আবু আলি ইবনে হাবিব আল-হাসাইরি, আবু আব্বাস আল-আসাম এবং মাশরিক ও মাগরিবের অসংখ্য সৃষ্টি (মানুষ)।
তাঁর দীর্ঘ জীবন ছিল, তাঁর নাম প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল এবং হাদিস অন্বেষণকারীরা তাঁর কাছে ভিড় জমাতেন। তিনি কতই না চমৎকার শায়খ ছিলেন, যিনি ইলম অর্জন ও তার প্রচার-প্রসারে নিজের জীবন অতিবাহিত করেছেন।
আবু জাফর আত-তাহাবি বলেন: ফুসতাত জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন রাবি’ সোমবার ইন্তেকাল করেন এবং মঙ্গলবার তাঁকে দাফন করা হয়; সেটি ছিল দুইশত সত্তর হিজরির শাওয়াল মাসের একুশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর। তাঁর জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন আমির খুমারওয়াইহ—অর্থাৎ মিসরের অধিপতি—যিনি এর অধিপতি আহমদ ইবনে তুলুনের পুত্র।
* * *
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
خامسًا: ترجمة الإمام أبي العباس محمد بن يعقوب الأصم (1).
هو: الإمام محمد بن يعقوب بن يوسف بن معقل بن سنان، أبو العباس الأصم مولى بني أمية النيسابوري.
راوي المذهب، كان إمامًا، ثقةً، حافظًا، ضابطًا، صدوقًا، دَيِّنًا، حَدَّث في الإسلام سِتًّا وسبعين سنة، ورحل إليه الناس من الأقطار، وألحق الأحفاد بالأجداد، روى الكثير، وطوف في البلاد، ودخل مصر، فسمع من إبراهيم بن منقذ، وبحر بن نصر، وبكار بن قتيبة، والربيع بن سليمان، سمع منه كتب الشافعي رضي الله عنه، المبسوط، وغيره، ومحمد بن عبد الله بن عبد الحكم، وسمع من بيروت: من العباس ابن الوليد مسائل الأوزاعي، وسمع ببلدان شتى، مِن خلق وأُمَم.
حدث عنه: الحسين بن محمد بن زياد القباني، وأبو حامد الأعمشي
… -وهما أكبر منه- وحسان بن محمد الفقيه، وأبو أحمد ابن عدي، وأبو عمرو ابن حمدان، والحافظ أبو علي النيسابوري، والإمام أبو بكر الإسماعيلي، وأبو زكريا يحيى بن محمد العنبري، وأبو عبد الله بن منده، وأبو عبد الله الحاكم، وأبو عبد الرحمن السلمي، وعبد الله بن يوسف الأصبهاني، وأبو طاهر بن محمِش، ويحيى بن إبراهيم المزكي، وأبو القاسم عبد الرحمن بن محمد السراج، وأبو صادق محمد بن أحمد بن أبي الفوارس العطار، والفقيه أبو نصر محمد بن علي الشيرازي، وغيرهم.
قال الحاكم: كان يكره أن يقال له: الأصم، فكان أمامنا أبو بكر بن
--------------------------------------------
পঞ্চম: ইমাম আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আল-আসাম-এর জীবনী (১).
তিনি হলেন: ইমাম মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব ইবন ইউসুফ ইবন মাকিল ইবন সিনান, আবুল আব্বাস আল-আসাম, বনু উমাইয়্যার আজাদকৃত দাস, আন-নিশাপুরী।
মাযহাবের বর্ণনাকারী; তিনি ছিলেন একজন ইমাম, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), হাফেজ (হাদিস বিশারদ), প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, সত্যবাদী ও দ্বীনদার। তিনি ইসলামে ছিয়াত্তর বছর হাদিস বর্ণনা করেছেন। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তাঁর কাছে আসতেন এবং তিনি নাতিদের দাদাদের স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি প্রচুর বর্ণনা করেছেন এবং বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি মিশরে প্রবেশ করেন এবং ইব্রাহিম ইবন মুনকিজ, বাহর ইবন নাসর, বাক্কার ইবন কুতাইবা এবং রাবি ইবন সুলাইমান থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর নিকট থেকে তিনি ইমাম শাফিয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কিতাবসমূহ যেমন আল-মাবসুত ও অন্যান্য গ্রন্থ শুনেছেন। এছাড়া মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল হাকাম থেকেও শুনেছেন। তিনি বৈরুতে আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ থেকে ইমাম আওযাঈর মাসয়ালাসমূহ শুনেছেন। তিনি বিভিন্ন দেশে বহু সংখ্যক মানুষ ও জনগোষ্ঠীর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: হুসাইন ইবন মুহাম্মদ ইবন যিয়াদ আল-কাব্বানি এবং আবু হামিদ আল-আমাসি
… -তাঁরা উভয়েই তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন- এবং হাসসান ইবন মুহাম্মদ আল-ফকিহ, আবু আহমদ ইবন আদি, আবু আমর ইবন হামদান, হাফেজ আবু আলি আন-নিশাপুরী, ইমাম আবু বকর আল-ইসমাঈলি, আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ আল-আম্বারি, আবু আব্দুল্লাহ ইবন মানদাহ, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম, আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি, আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ আল-আসবাহানি, আবু তাহের ইবন মুহমিশ, ইয়াহইয়া ইবন ইব্রাহিম আল-মুযাক্কি, আবু কাসেম আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মদ আস-সাররাজ, আবু সাদিক মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আবিল ফাওয়ারিস আল-আত্তার, ফকিহ আবু নাসর মুহাম্মদ ইবন আলি আশ-শিরাজি এবং আরও অনেকে।
হাকিম বলেন: তাঁকে 'আল-আসাম' (বধির) বলা তিনি অপছন্দ করতেন, ফলে আমাদের সামনে আবু বকর ইবন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লিশ শাফেয়ী - জামাউল বায়হাকী ত আশ-শাওয়ামী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
إسحاق الصبغي، يقول: المعقلي
(1) قال:
وإنما حدث به الصمم بعد انصرافه من الرحلة، وكان محدث عصره، ولم يختلف أحد في صدقه وصحة سماعاته، وضبط أبيه يعقوب الوراق لها، وكان يرجع إلى حسن مذهب وتدين.
وبلغني أنه أذن سبعين سنة في مسجده.
قال: وكان حسن الخلق، سخي النفس، وربما كان يحتاج إلى الشيء لمعاشه، فيورق، ويأكل من كسب يده، وهذا الذي يعاب به، من أنه كان يأخذ على الحديث، إنما كان يعيبه به من لا يعرفه، فإنه كان يكره ذلك أشد الكراهة ولا يناقش أحدًا فيه، إنما كان وراقه وابنه يطلبان الناس بذلك، فيكره هو ذلك، ولا يقدر على مخالفتهما.
سمع منه: الآباء والأبناء والأحفاد، وكفاه شرفًا أن يحدث طول تلك السنين، ولا يجد أحد فيه مَغمزًا بحجة، وما رأينا الرحلة في بلاد من بلاد الإسلام أكثر منها إليه، فقد رأيت جماعة من أهل الأندلس، وجماعة من أهل طراز، وإسبيجاب على بابه، وكذا جماعة من أهل فارس، وجماعة من أهل الشرق.
سمعته غير مرة يقول: ولدت سنة سبع وأربعين ومائتين.
ومناقب هذا الإمام جمة، وقد توفي رحمه الله في الثالث والعشرين من ربيع الآخر سنة ست وأربعين وثلاث مائة.
--------------------------------------------
ইসহাক আস-সিবগি বলেন: আল-মাকিলি
(১) বলেছেন:
সফর থেকে ফেরার পরই তার বধিরতা প্রকাশ পায়। তিনি ছিলেন নিজ যুগের মুহাদ্দিস। তার সত্যবাদিতা, তার শ্রুতির বিশুদ্ধতা এবং তার পিতা ইয়াকুব আল-ওয়াররাকের তা সংরক্ষণের নির্ভুলতা সম্পর্কে কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি। তিনি উত্তম মাযহাব ও ধার্মিকতার অনুসারী ছিলেন।
আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি তার মসজিদে সত্তর বছর যাবত আজান দিয়েছেন।
তিনি বলেন: তিনি সচ্চরিত্রবান ও উদারমনা ছিলেন। জীবনধারণের প্রয়োজনে কখনো কখনো তিনি পাণ্ডুলিপি লিখতেন এবং নিজ হাতের উপার্জিত অর্থ দিয়ে আহার করতেন। তার প্রতি যে দোষারোপ করা হয় যে তিনি হাদিস বর্ণনার জন্য পারিশ্রমিক নিতেন—মূলত যারা তাকে চিনত না তারাই এমন অপবাদ দিত। তিনি একে চরমভাবে অপছন্দ করতেন এবং এ নিয়ে কারো সাথে কোনো কথা বলতেন না। মূলত তার লেখক ও তার পুত্রই মানুষের কাছে তা দাবি করত, যা তিনি অপছন্দ করলেও তাদের বিরোধিতা করতে পারতেন না।
তার নিকট থেকে পিতা, পুত্র এবং পৌত্ররা হাদিস শুনেছেন। তার মর্যাদার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তিনি এত দীর্ঘ বছর যাবৎ হাদিস বর্ণনা করেছেন অথচ কেউ প্রমাণের ভিত্তিতে তার মধ্যে কোনো খুঁত পায়নি। আমরা মুসলিম বিশ্বের কোনো জনপদেই তার কাছে আগত কাফেলার চেয়ে অধিক সংখ্যক কাফেলা দেখিনি। আমি তার দরজায় আন্দালুসের একদল মানুষ এবং তারাজ ও ইজফিজাবের একদল মানুষকে দেখেছি। তেমনিভাবে পারস্যের একদল এবং প্রাচ্যের একদল মানুষকেও দেখেছি।
আমি তাকে একাধিকবার বলতে শুনেছি যে: আমি দুইশ সাতচল্লিশ সালে জন্মগ্রহণ করেছি।
এই ইমামের মহিমা ও গুণাবলি অনেক। তিনি—আল্লাহ তার ওপর রহম করুন—তিনশ ছেচল্লিশ হিজরি সালের তেইশে রবিউল আখির ইন্তেকাল করেন।
--------------------------------------------