(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: -)
جمهرة النسب - ابن الكلبي - ت ناجي   (ابن الكلبي)

القسم: الأنساب


سم الكتاب: جمهرة النسب

المؤلف: أبو المنذر هشام بن محمد بن السائب الكلبي (ت 204 هـ)

رواية: السكري عن ابن حبيب

تحقيق: د حسن ناجي

الناشر: عالم الكتب - بيروت

الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1986 م

عدد الصفحات: 654

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 ذو الحجة 1443

জামহারাতুন নাসাব - ইবনে আল-কালবি - তাহকিক নাজি   (ইবনে আল-কালবি)

বিভাগ: বংশলতিকা


বইয়ের নাম: জামহারাতুন নাসাব

লেখক: আবু আল-মুনজির হিশাম বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাইব আল-কালবি (মৃত ২০৪ হিজরি)

বর্ণনা: ইবনে হাবিব থেকে আস-সুক্কারি

তাহকিক (সম্পাদনা): ড. হাসান নাজি

প্রকাশক: আলামুল কুতুব - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৫৪

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ জিলহজ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

صلتي بكتاب جمهرة النّسب لابن الكلبيّ قديمة، قدم معرفتي به، وهي ترجع لسنين خلت، وكم هممت بتحقيقه ونشره بعد أن ظلّ محتجبا عن الأعين، إلّا أنّ عوائق حالت دون ذلك، لعل أميزها ذلك السقط الذي وقع في ثنايا الكتاب، وفي أماكن متعددة منه، وزاد الأمر صعوبة أنّ نسخة الكتاب فريدة لا ثانية لها.

وحين عثرت على كتاب «المقتضب من كتاب جمهرة النّسب» لياقوت الحمويّ المتوفى سنة 626 هـ، أيقنت أنّ الأمر أصبح أيسر من ذي قبل؛ لما بين الكتابين من وشائج عميقة، وصلات وثيقة، حيث يكمّل الأوّل منهما الآخر، ويسد خلله الحاصل، على حين يفصّل الثاني ما أوجز الأوّل وحذف وقصّر.

ونسخة الجمهرة- وهو كتابنا هذا- هي النسخة الوحيدة المحفوظة بمكتبة المتحف البريطاني(1) تحت رقم، Add 23297 وتقع في تسع

--------------------------------------------

(1) وهي تشمل الجزء الأول من كتاب «جمهرة النّسب»؛ أما الجزء الثاني وهو الذي يتناول نسب القحطانيين، فمفقود، ولا نعلم عنه شيئا. غير أن هنالك مخطوطة محفوظة في مكتبة الاسكوريال تحمل عنوان «نسب معدّ واليمن الكبير» لابن الكلبيّ، وهي تتناول أنساب القحطانيين مما يمكن اتخاذها كجزء متمّم لما فقد من الجمهرة، وتسلسل النّسب فيها لا يختلف عما ورد في المقتضب.

ভূমিকা

ইবনুল কালবীর ‘জামহারাতুন নাসাব’ গ্রন্থের সাথে আমার পাণ্ডিত্যপূর্ণ যোগাযোগ দীর্ঘদিনের, যা এই গ্রন্থটি সম্পর্কে আমার জানাশোনার মতোই প্রাচীন। এটি বহু বছর আগের কথা। গ্রন্থটি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর আমি বহুবার এটি সম্পাদনা ও প্রকাশের সংকল্প করেছি, কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্ভবত সেগুলোর মধ্যে প্রধান হলো গ্রন্থের পরতে পরতে বিভিন্ন স্থানে থাকা পাঠচ্যুতি। তাছাড়া গ্রন্থটির এই কপিটি অনন্য এবং এর কোনো দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি না থাকা বিষয়টি আরও কঠিন করে তুলেছিল।

যখন আমি ৬২৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইয়াকুত আল-হামাভীর ‘আল-মুকতাদাব মিন কিতাবি জামহারাতিন নাসাব’ গ্রন্থটির সন্ধান পেলাম, তখন আমি নিশ্চিত হলাম যে বিষয়টি আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে; কারণ এই দুটি গ্রন্থের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। এক্ষেত্রে প্রথমটি অন্যটির পরিপূরক এবং তার বিদ্যমান ত্রুটিগুলো দূর করে, যেখানে দ্বিতীয় গ্রন্থটি প্রথম গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত, বাদ পড়া ও অসম্পূর্ণ রাখা বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

‘জামহারাহ’-এর পাণ্ডুলিপিটি—যা আমাদের এই বর্তমান গ্রন্থ—ব্রিটিশ মিউজিয়াম লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একমাত্র কপি(১) যার নম্বর Add 23297 এবং এটি নয়টি...

--------------------------------------------

(১) এটি ‘জামহারাতুন নাসাব’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে; আর দ্বিতীয় খণ্ডটি, যা কাহত্বানিদের বংশপরম্পরা নিয়ে আলোচনা করে, তা নিখোঁজ এবং সে সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। তবে এস্কোরিয়াল লাইব্রেরিতে ইবনুল কালবীর একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে যার শিরোনাম ‘নাসাবু মাআদ্দ ওয়া আল-ইয়ামান আল-কাবীর’। এটি কাহত্বানিদের বংশপরম্পরা নিয়ে আলোচনা করে বিধায় ‘জামহারাহ’-এর হারিয়ে যাওয়া অংশের পরিপূরক হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে বর্ণিত বংশপরম্পরার ধারা ‘আল-মুকতাদাব’-এ যা বর্ণিত হয়েছে তার চেয়ে ভিন্ন নয়।

(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৬)
وخمسين ومائتين ورقة، وفي كل ورقة صفحتان متقابلتان، وفي كل صفحة 15 سطرا؛ وهي نسخة مشكولة، يعود تاريخ نسخها إلى سنة ثلاث وخمسين وست مائة من الهجرة.

والمخطوطة بخط عليّ بن حسن بن معالي، المعروف والده بابن الباقلاويّ الحليّ النّحويّ، من علماء النّحو واللغة، ومن الشعراء المعروفين، وفيه يقول ابن الفوطيّ: «أحد مشايخنا الذين أدركناهم بمدينة السلام، كان عالما بالنّحو واللغة، ومعاني الشعر، ولغة الحديث؛ رأيته، وكتبت عنه، وكان حسن الأخلاق، كتب الكثير بخطّه، ولد سنة إحدى وستمائة، وتوفي سنة ثلاث وثمانين وستمائة»(1).

صاحب الجمهرة ورواتها.

أما صاحب كتاب «جمهرة النّسب» فهو هشام بن محمّد بن السائب الكلبيّ، من الأعلام المشاهير، بل «هو ركن من أركان النّهضة الشّرقيّة، وأساطين العلم، وصناديد العرفان، أيام كانت الحضارة الإسلاميّة بالغة ذلك الشأو البعيد وذلك الصيت الباقي على توالي الأيام»(2).

يقول ابن النّديم: «إنّه عالم بالنّسب وأخبار العرب وايامها ومثالبها ووقائعها»(3).

ويشير الجاحظ إلى أنّه «كان علّامة نسّابة، وراوية للمثالب عيّابة»(4).

ويذكر ابن خلّكان «انّ هشاما يعد في الحفّاظ المشاهير، وأنّه أعلم

--------------------------------------------

(1) ابن الفوطي: مجمع الآداب في معجم الالقاب و 4 ق 2 ص 243.

(2) أحمد زكي: مقدمة كتاب الأصنام ص 15.

(3) الفهرست ص 108.

(4) البيان والتبيين 1/ 131.

২৫০টি পাতা, এবং প্রতিটি পাতায় দুটি করে বিপরীতমুখী পৃষ্ঠা রয়েছে, আর প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৫টি করে লাইন আছে; এটি একটি হরকতযুক্ত অনুলিপি, যার অনুলিপি করার তারিখ হিজরি ৬৫৩ সালে গিয়ে পৌঁছেছে।

পাণ্ডুলিপিটি আলী ইবনে হাসান ইবনে মায়ালীর হস্তাক্ষরে লিখিত, যাঁর পিতা ইবনুল বাকলাওয়ী আল-হিল্লি আন-নাহবি নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ব্যাকরণ ও ভাষাবিজ্ঞানের অন্যতম আলেম এবং প্রসিদ্ধ কবিদের একজন ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে ইবনুল ফুওয়াতি বলেন: «আমাদের শায়খদের অন্যতম যাঁদের সান্নিধ্য আমরা মদিনাতুস সালামে (বাগদাদ) পেয়েছি। তিনি ব্যাকরণ, ভাষা, কবিতার নিহিতার্থ এবং হাদিসের ভাষা সম্পর্কে পণ্ডিত ছিলেন; আমি তাঁকে দেখেছি এবং তাঁর থেকে লিখেছি। তিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং স্বহস্তে প্রচুর কিতাব লিখেছেন। তিনি হিজরি ৬০১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৮৩ সালে ইন্তেকাল করেন»(১)।

‘জামহিরা’র রচয়িতা এবং এর বর্ণনাকারীগণ।

আর ‘জামহিরাতুন নাসাব’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন হিশাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সাইব আল-কালবি, যিনি প্রখ্যাত মনীষীদের অন্যতম। বরং «তিনি প্রাচ্যের নবজাগরণের অন্যতম স্তম্ভ, ইলমের সুউচ্চ মিনার এবং প্রজ্ঞার দিকপাল ছিলেন, যখন ইসলামি সভ্যতা সেই সুদূরপ্রসারী উচ্চতায় এবং দিনাতীত চিরস্থায়ী খ্যাতিতে পৌঁছেছিল»(২)।

ইবুনন নাদিম বলেন: «নিশ্চয়ই তিনি বংশতত্ত্ব এবং আরবদের সংবাদ, তাদের ঐতিহাসিক দিবসসমূহ, তাদের দোষত্রুটি এবং ঘটনাবলি সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন»(৩)।

আল-জাহিজ ইঙ্গিত করেন যে, «তিনি ছিলেন একজন মহাজ্ঞানী বংশতত্ত্ববিদ এবং দোষত্রুটি ও ছিদ্রান্বেষী বর্ণনাকারী»(৪)।

ইবনে খাল্লিকান উল্লেখ করেন যে, «হিশাম প্রখ্যাত হাফিজদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি অধিকতর জ্ঞানী...

--------------------------------------------

(১) ইবনুল ফুওয়াতি: মাজমাউল আদাব ফি মুজামিল আলকাব, খণ্ড ৪, অনুচ্ছেদ ২, পৃষ্ঠা ২৪৩।

(২) আহমদ জাকি: কিতাবুল আসনাম গ্রন্থের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১৫।

(৩) আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা ১০৮।

(৪) আল-বায়ান ওয়াত তাবিইয়িন, ১/১৩১।

(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৭)
النّاس بعلم الأنساب»(1).

وجعله الذهبيّ: «إخباريّا علّامة»(2).

هذا هو هشام بن محمّد بن السائب الكلبيّ، مدرسة علميّة واسعة الأبواب، مشرّعة المداخل؛ فهو الحجّة في كلّ فن، وهو الصّدر لكل وارد.

فهو العالم والمؤرخ والنّسابة واللّغويّ. فما من كتاب في تاريخ العرب والإسلام إلّا ولهشام فيه قدح معلّى، وما من علم من علوم عصره إلّا ولهفيه باع طويل، فالطبريّ والبلاذريّ والمسعوديّ وأضرابهم، يعتمدون عليه، وينقلون عنه.

وحسبك أنّ كتابا كتاريخ الأمم والملوك للطبريّ لا يلتقط أخبار هشام ابن الكلبيّ ورواياته حسب، بل أنّ تاريخ العرب قبل الاسلام فيه اكثره من أقوال هشام بن الكلبيّ، وفي الأخص القسم العراقيّ منه حيث ينفرد فيه ابن الكلبي بالرّواية(3).

ومن يمعن النظر في كتب الأنساب يجدها عيّالة عليه، آخذة منه، حتّى أن بعضها لا يعدو أن يكون نسخة مقتضبة لجمهرة النّسب.

فهذا كتاب جمهرة أنساب العرب لابن حزم الأندلسيّ المتوفى سنة 456 هـ، وهو على جلال قدره، وبيان شأنه، وعلو مكانه، ليس سوى جمهرة النّسب مع حذف وإضافة.

--------------------------------------------

(1) وفيات الأعيان 6/ 82.

(2) تذكرة الحفاظ 1/ 343.

(3) جواد علي: موارد تاريخ الطبري (مقالة في مجلة المجمع العلمي العراقي) الجزء الأول، مجلد 3 صفحة 21 (بغداد 1954).

মানুষদের মধ্যে বংশপরম্পরা বিদ্যায় [সবচেয়ে পারদর্শী](১)।

আয-যাহাবী তাকে "বিদ্বান ইতিহাসবেত্তা" হিসেবে অভিহিত করেছেন(২)।

ইনি হলেন হিশাম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আস-সাইব আল-কালবি; তিনি এক প্রশস্ত দ্বারবিশিষ্ট ও উন্মুক্ত প্রবেশপথ সম্পন্ন ইলমি বিদ্যাপীঠ। তিনি প্রতিটি শিল্পে (বিষয়ে) নির্ভরযোগ্য দলিল এবং প্রতিটি জ্ঞান-অন্বেষীর প্রধান আশ্রয়স্থল।

তিনি একাধারে আলিম, ইতিহাসবিদ, বংশপরম্পরা বিশেষজ্ঞ এবং ভাষাবিদ। আরব ও ইসলামের ইতিহাসের এমন কোনো কিতাব নেই যেখানে হিশামের অনন্য অবদান বিদ্যমান নেই; আর তার যুগের এমন কোনো জ্ঞানশাখা নেই যাতে তার গভীর দখল নেই। আত-তাবারী, আল-বালাযুরি, আল-মাসউদি এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ তার ওপর নির্ভর করেন এবং তার থেকে বর্ণনা উদ্ধৃত করেন।

আপনার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তাবারীর 'তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক'-এর মতো কিতাব কেবল হিশাম ইবনুল কালবির সংবাদ ও বর্ণনাগুলোই সংকলন করেনি, বরং এতে ইসলাম-পূর্ব আরব ইতিহাসের অধিকাংশ বর্ণনা হিশাম ইবনুল কালবির বক্তব্য থেকে নেওয়া হয়েছে; বিশেষ করে ইরাক সংক্রান্ত অংশটি, যেখানে ইবনুল কালবি এককভাবে বর্ণনা প্রদান করেছেন(৩)।

যে ব্যক্তি বংশপরম্পরা বিষয়ক কিতাবসমূহে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করবে, সে দেখতে পাবে যে সেগুলো তার ওপর নির্ভরশীল এবং তার থেকেই গৃহীত; এমনকি সেগুলোর কোনো কোনটি 'জামহারাতুন নাসাব'-এর একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ ছাড়া আর কিছুই নয়।

৪৫৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনে হাযম আল-আন্দালুসির 'জামহারাতু আনসাবিল আরব' কিতাবটি তার সুউচ্চ মর্যাদা, সুস্পষ্ট গুরুত্ব এবং উচ্চস্থান সত্ত্বেও মূলত কিছু বিয়োজন ও সংযোজনসহ 'জামহারাতুন নাসাব'-ই।

--------------------------------------------

(১) ওফায়াতুল আ'য়ান ৬/ ৮২।

(২) তাযকিরাতুল হুফফায ১/ ৩৪৩।

(৩) জাওয়াদ আলী: মাওয়ারিদু তারিখিত তাবারী (আল-মাজমাউল ইলমি আল-ইরাকি সাময়িকীর প্রবন্ধ) প্রথম অংশ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১ (বাগদাদ ১৯৫৪)।

(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৮)
أمّا كتب الطبقات فلا تختلف هي الأخرى عمّا ألفناه في كتب النّسب، فخليفة بن خيّاط(1) المتوفى سنة 240 هـ ضمّن طبقاته وتاريخه معلومات قيّمة كان هشام بن الكلبيّ صاحب السبق فيها.

وما كتب الأمثال إلا شاهد آخر على منزلة الرجل وعلو مقامه؛ فنظرة عجلى إلى مجمع الأمثال للميدانيّ، وجمهرة الأمثال للعسكريّ وغيرها(2)، توضّح مدى الاعتماد عليه من ناحية، وتدلّ على غزارة علمه وتشعّب دراساته من ناحية ثانية.

 

‌‌محمّد بن حبيب:

هو أبو جعفر محمّد بن حبيب بن أميّة بن عمرو، ويقال: إنّ حبيبا اسم أمّه، وقيل بل اسم أبيه(3).

كان من علماء بغداد بالأنساب والأخبار واللّغة والشعر والقبائل(4).

يقول الخطيب البغدادي: «محمّد بن حبيب، صاحب كتاب المحبّر، كان عالما بالنّسب وأخبار العرب موثّقا في روايته»(5).

ويذكر السيوطيّ أنه «كان حافظا للأنساب صدوقا»(6).

وقد حدّث محمّد بن حبيب عن هشام بن الكلبيّ وروى كتبه، وروى

--------------------------------------------

(1) انظر تاريخ خليفة بن خياط 1/ 117، 244.

(2) مجمع الأمثال 1/ 45؛ جمهرة الامثال 1/ 573، 2/ 261؛ وانظر كتاب الأمثال للقاسم بن سلام ص 131، 133، 300.

(3) تاريخ بغداد 2/ 277.

(4) ابن النديم: الفهرست ص 119.

(5) تاريخ بغداد 2/ 277.

(6) بغية الوعاة 2/ 74.

তবাকাত (জীবনী) বিষয়ক গ্রন্থগুলোর ক্ষেত্রেও বিষয়টি বংশলতিকা বিষয়ক গ্রন্থসমূহে আমাদের পরিচিত বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন নয়। হিজরি ২৪০ সনে মৃত্যুবরণকারী খলিফা বিন খইয়াত(১) তার ‘তবাকাত’ ও ‘তারিখ’ গ্রন্থে অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যাতে হিশাম বিন আল-কালবী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

প্রবাদ-প্রবচন বিষয়ক গ্রন্থগুলোও এই ব্যক্তির মর্যাদা ও উচ্চ অবস্থানের আরেকটি প্রমাণ। আল-মাইদানীর ‘মাজমাউল আমসাল’, আল-আসকারীর ‘জামহারাতুল আমসাল’ এবং অন্যান্য গ্রন্থের(২) ওপর দ্রুত নজর দিলে একদিকে যেমন তার ওপর নির্ভরতার মাত্রা স্পষ্ট হয়, অন্যদিকে তেমনি তা তার জ্ঞানের গভীরতা ও গবেষণার বহুমুখিতা প্রমাণ করে।

 

‌‌মুহাম্মদ বিন হাবিব:

তিনি হলেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন হাবিব বিন উমাইয়া বিন আমর। বলা হয়ে থাকে যে, হাবিব ছিল তার মায়ের নাম; আবার কেউ কেউ বলেছেন বরং এটি ছিল তার পিতার নাম(৩)।

তিনি বংশলতিকা, ইতিহাস, ভাষা, কাব্য ও গোত্র বিষয়ক জ্ঞানে বাগদাদের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন(৪)।

আল-খতিব আল-বাগদাদী বলেন: «মুহাম্মদ বিন হাবিব, 'কিতাবুল মুহাব্বার'-এর লেখক, তিনি বংশবিদ্যা ও আরবদের ইতিহাসে পারদর্শী ছিলেন এবং নিজ বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য ছিলেন»(৫)।

আস-সুয়ূতী উল্লেখ করেন যে, «তিনি বংশবিদ্যার হাফেজ (বিশেষজ্ঞ) ও সত্যবাদী ছিলেন»(৬)।

মুহাম্মদ বিন হাবিব হিশাম বিন আল-কালবী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার গ্রন্থসমূহও বর্ণনা করেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখ খলিফা বিন খইয়াত ১/ ১১৭, ২৪৪।

(২) মাজমাউল আমসাল ১/ ৪৫; জামহারাতুল আমসাল ১/ ৫৭৩, ২/ ২৬১; আরও দেখুন: কিতাবুল আমসাল- আল-কাসিম বিন সাল্লাম, পৃষ্ঠা ১৩১, ১৩৩, ৩০০।

(৩) তারিখ বাগদাদ ২/ ২৭৭।

(৪) ইবনুন নাদিম: আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা ১১৯।

(৫) তারিখ বাগদাদ ২/ ২৭৭।

(৬) বুগইয়াতুল উয়াত ২/ ৭৪।

(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৯)
عنه أبو سعيد السكّريّ؛ توفي بسامراء سنة 245 هـ(1).

 

‌‌أبو سعيد السّكّريّ:

هو الحسن بن الحسين بن عبيد الله بن عبد الرّحمن بن العلاء بن أبي صفرة المعروف بالسّكّريّ، المولود سنة 212 هـ، والمتوفى سنة 275 هـ، وقيل سنة 290 هـ.

يقول ابن النديم: «كان حسن المعرفة باللّغة والأنساب والأيام»(2).

ويصفه ياقوت بأنّه «كان ثقة صادقا، يقرأ القرآن، وانتشر عنه من كتب الأدب ما لم ينتشر عن أحد من نظرائه، وكان إذا جمع جمعا فهو الغاية في الاستيعاب والكثرة»(3).

ويورد ابن النّديم في الفهرست، وياقوت في معجمه بعضا ممّا صنّف السّكّريّ من التصانيف والكتب، مثل: كتاب النقائض؛ والنّبات؛ وكتاب المناهل والقرى؛ وكتاب الأبيات السائرة؛ وكتاب الوحوش. وعمل السّكّريّ أشعار جماعة من الشعراء وقطعة من القبائل؛ فمن عمل من الشعراء: امرأ القيس، والنّابغتين، وقيس بن الخطيم، وأشعار اللّصوص، وأشعار هذيل وغيرها(4).

سمع أبو سعيد السّكّريّ يحيى بن معين، وابا حاتم السّجستانيّ، ومحمّد بن حبيب، ويعد السّكّريّ من رواة ابن حبيب، وروى عنه أكثر كتبه(5).

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد 2/ 277.

(2) الفهرست ص 86؛ معجم الأدباء 8/ 94، بغية الوعاة 1/ 502.

(3) معجم الأدباء 8/ 94.

(4) الفهرست ص 86؛ معجم الأدباء 8/ 98.

(5) معجم الأدباء 8/ 94؛ بغية الوعاة 1/ 502.

তাঁর থেকে আবু সাঈদ আল-সুক্কারি [বর্ণনা করেছেন]; তিনি ২৪৫ হিজরিতে সামাররায় মৃত্যুবরণ করেন(১).

 

‌‌আবু সাঈদ আল-সুক্কারি:

তিনি হলেন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আল-আলা বিন আবি সুফরা, যিনি আল-সুক্কারি নামে পরিচিত। তিনি ২১২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ২৯০ হিজরিতে।

ইবনুন নাদিম বলেন: «তিনি ভাষা, বংশতালিকা এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সম্পর্কে উত্তম জ্ঞান রাখতেন»(২)।

ইয়াকুত তাঁর বর্ণনা দিয়ে বলেন যে, «তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী ছিলেন, কুরআন পাঠ করতেন। তাঁর কাছ থেকে সাহিত্যের এমন সব কিতাব প্রসার লাভ করেছে যা তাঁর সমসাময়িক অন্য কারো থেকে হয়নি। যখন তিনি কোনো সংকলন করতেন, তখন তা পূর্ণাঙ্গতা ও প্রাচুর্যের দিক থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাত»(৩)।

ইবনুন নাদিম তাঁর 'আল-ফিহরিস্ত' গ্রন্থে এবং ইয়াকুত তাঁর 'মুজাম' গ্রন্থে সুক্কারি রচিত কিছু গ্রন্থ ও সংকলনের কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন: কিতাব আল-নাকায়েদ; আল-নাবাত; কিতাব আল-মানাহিল ওয়াল কুরা; কিতাব আল-আবইয়াত আল-সাইরাহ; এবং কিতাব আল-উহুশ। সুক্কারি একদল কবির কাব্য এবং বিভিন্ন গোত্রের কবিতার ওপর কাজ করেছেন। যেসব কবির ওপর তিনি কাজ করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইমরুল কায়েস, দুই নাবগাহ, কায়েস বিন আল-খাতীম, আশআর আল-লুসাস (চোর-ডাকাত কবিদের কবিতা), আশআর হুযাইল এবং অন্যান্য(৪)।

আবু সাঈদ আল-সুক্কারি ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আবু হাতিম আল-সিজিস্তানি এবং মুহাম্মদ বিন হাবিবের কাছ থেকে শ্রবণ করেছেন। সুক্কারিকে ইবনে হাবিবের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয় এবং তিনি তাঁর অধিকাংশ কিতাব তাঁর থেকেই বর্ণনা করেছেন(৫)।

--------------------------------------------

(১) তারিখ বাগদাদ ২/২৭৭।

(২) আল-ফিহরিস্ত পৃ. ৮৬; মুজামুল উদাবা ৮/৯৪, বুগয়াতুল উয়াত ১/৫০২।

(৩) মুজামুল উদাবা ৮/৯৪।

(৪) আল-ফিহরিস্ত পৃ. ৮৬; মুজামুল উদাবা ৮/৯৮।

(৫) মুজামুল উদাবা ৮/৯৪; বুগয়াতুল উয়াত ১/৫০২।

(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌«كتاب جمهرة النّسب»:

يعد كتاب «جمهرة النّسب» لابن الكلبيّ أوسع كتاب ألّف في الأنساب العربية، وهو لم يؤلّف في بابه مثله؛ وقد اعتمده جميع الذين كتبوا في تاريخ العرب والإسلام، لما تضمّنه من معلومات هي غاية في الدّقة والضبط والاستيعاب.

وفي الكتاب عرض مفصّل، ومعلومات وافية للجماعات والأفراد الذين لعبوا دورا متميزا في الأحداث العامة والخطيرة التي كان يزخر بها تاريخ العرب والإسلام.

وسلسلة النّسب في الجمهرة مطابقة تطابقا تاما لما ورد في كتاب «المقتضب من كتاب جمهرة النّسب» لياقوت الحمويّ، ممّا لا يدع مجالا للشك من أنها لم تحرّف أو يضاف إليها شيء رغم مرور حقبة طويلة من الزمن عليها، وكثرة تداولها بيد النسّاخ. كذلك فإنّ سلسلة النّسب فيها لا تتباين في قليل أو كثير عمّا ورد في كتاب الفهرست لابن النديم(1).

لقد وصلتنا «جمهرة النّسب» لابن الكلبيّ برواية أبي سعيد السّكّريّ عن محمّد بن حبيب عن ابن الكلبيّ، ومع ذلك فقد ظهرت فيها إضافات واضحة، وزيادات وتعليقات بيّنة لم ترد في أصل الجمهرة، بل أضافها الرواة والنسّاخ.

ولا يستبعد أن يكون أبو سعيد السّكّريّ هو نفسه الذي قام بهذا العمل حين وجد لديه فيضا من الأخبار ذات الصلة بالانساب، فضمّها للأصل استحسانا منه لزيادة الفائدة، ورغبة منه في حفظ تلك المعلومات وعدم ضياعها، وكان ثبتا دقيقا حين نبّه إلى تلك المواضع بدقة وامانة،

--------------------------------------------

(1) الفهرست ص 98

«কিতাব জামহারাতুন নাসাব»:

ইবনে আল-কালবীর «জামহারাতুন নাসাব» গ্রন্থটি আরবীয় বংশলতিকার ওপর রচিত সবচেয়ে বিস্তৃত গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত এবং এই বিষয়ে এর সমতুল্য কোনো গ্রন্থ আর রচিত হয়নি। যারা আরব এবং ইসলামের ইতিহাস লিখেছেন, তাদের সকলেই এই গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন; কারণ এতে অন্তর্ভুক্ত তথ্যাবলি অত্যন্ত নির্ভুল, সুশৃঙ্খল এবং ব্যাপক।

এই গ্রন্থে সেই সকল গোষ্ঠী এবং ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা ও পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে, যারা আরব ও ইসলামের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ ঘটনাবলিতে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন।

‘জামহারাত’-এ বর্ণিত বংশলতিকার ধারাটি ইয়াকুত আল-হামাভীর «আল-মুকতাদাব মিন কিতাব জামহারাতুন নাসাব» গ্রন্থে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না যে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া এবং পাণ্ডুলিপি লেখকদের হাতে বারবার হস্তান্তরিত হওয়া সত্ত্বেও এতে কোনো বিকৃতি ঘটানো হয়নি বা নতুন কিছু যোগ করা হয়নি। একইভাবে, এতে বিদ্যমান বংশলতিকার ধারাটি ইবনুুন নাদীমের «আল-ফিহরিস্ত» গ্রন্থে বর্ণিত তথ্যের সাথেও সামান্যতম ভিন্নতা পোষণ করে না(১)।

ইবনে আল-কালবীর «জামহারাতুন নাসাব» গ্রন্থটি আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে হাবীবের সূত্রে আবু সাঈদ আস-সুক্কারীর বর্ণনায় পৌঁছেছে। তা সত্ত্বেও এতে এমন কিছু সুস্পষ্ট সংযোজন, বাড়তি অংশ এবং টীকা পরিলক্ষিত হয় যা মূল ‘জামহারাত’-এ ছিল না; বরং এগুলো বর্ণনাকারী ও পাণ্ডুলিপি লেখকরা যুক্ত করেছেন।

এটা অসম্ভব নয় যে, আবু সাঈদ আস-সুককারী নিজেই এই কাজটি করেছিলেন, যখন তিনি বংশলতিকা সংক্রান্ত প্রচুর সংবাদ ও তথ্য লাভ করেছিলেন। তিনি উপযোগিতা বৃদ্ধি এবং এই মূল্যবান তথ্যগুলো সংরক্ষিত রাখা ও হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করার মানসে মূল গ্রন্থের সাথে এগুলো যুক্ত করেছিলেন। তিনি যখন অত্যন্ত সূক্ষ্মতা ও বিশ্বস্ততার সাথে সেই স্থানগুলো চিহ্নিত করেছিলেন, তখন তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল বর্ণনাকারীর পরিচয় দিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা ৯৮

(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ১১)
فقدّم بذلك خدمة لا تعوّض بإدخاله تلك المعلومات القيّمة إلى «جمهرة النّسب» والتنبيه إلى مواضعها.

ومع هذا فهنالك إضافات وتعليقات غير منسجمة مع الأصل، كالذي نجده في الورقة 243 أما ما نصّه: «هؤلاء بنو إياد بن نزار بن معدّ، كان في النسخة التي نقلت منها آخر الجزء الخامس من اجزاء أبي سعيد السّكّريّ التي بخطه وتصحيحه. وبخطه: أحمد بن أبي دواد؛ وبخطه مسجد بني غبر».

وفي الورقة 244 ب: تذكر حروف المسند واشكالها منقولة عن ابن خرداذبة. وهي لا شك إضافات وتعليقات لا يستبعد أن يكون السّكّريّ دوّنها على أصل المخطوط فادخلها النّسّاخ في المتن على غير معرفة أو دراية منهم.

 

بغداد/ 1986

الدكتور ناجي حسن
এর মাধ্যমে তিনি সেই মূল্যবান তথ্যসমূহ 'জামহারাতুন নাসাব' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সেগুলোর স্থানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক অপূরণীয় খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন।

এতদসত্ত্বেও, সেখানে মূল পাঠের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু সংযোজন ও টীকা রয়েছে, যেমনটি আমরা ২৪৩ নম্বর পৃষ্ঠায় পাই; যার পাঠ্য হলো: "এরা হলো ইয়াদ ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ-এর বংশধর। আমি যে পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছি, তাতে এটি ছিল আবু সাঈদ আস-সুক্কারীর নিজ হাতে লেখা ও সংশোধিত পাঁচ খণ্ডের পঞ্চম খণ্ডের শেষে। আর তার হস্তাক্ষরে ছিল: আহমাদ ইবনে আবি দুয়াদ; এবং তার হস্তাক্ষরে: মাসজিদু বনি গুবর।"

এবং ২৪৪-বি পৃষ্ঠায় ইবনে খুরদাদবিহ থেকে বর্ণিত মুসনাদ লিপির বর্ণমালা ও সেগুলোর আকৃতি উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো নিঃসন্দেহে এমন কিছু সংযোজন ও টীকা, যা সম্ভবত আস-সুক্কারী মূল পাণ্ডুলিপিতে টুকে রেখেছিলেন, অতঃপর অনুলিপিকারকগণ তাদের অজ্ঞতা বা অসতর্কতাবশত সেগুলো মূল পাঠ্যের অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন।

 

বাগদাদ/ ১৯৮৬

ডক্টর নাজি হাসান
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ১৫)
الجزء الأول
প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرّحمن الرّحيم وبه التوفيق

 

أخبرنا محمّد بن حبيب عن هشام بن محمّد بن السائب عن أبيه عن أبي صالح عن ابن عبّاس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا انتهى في النّسب إلى معدّ بن عدنان أمسك ثمّ قال: كذب النّسّابون، قال الله جلّ ثناؤه وَقُرُوناً بَيْنَ ذلِكَ كَثِيراً(1). قال ابن عبّاس: ولو شاء رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يعلّمه لعلّمه؛ وقال: بين معدّ بن عدنان وبين إسماعيل ثلاثون أبا.

وحدّث هشام عن أبيه محمّد بن السائب قال: ولد أدد بن زيد:

عدنان، ونبتا؛ ونبت هو الأشعر أبو الأشعريين، وعمرا، درج(2). فولد نبت: شقرة، وهم في مهرة(3) بالشّحر(4)؛ وشقحبا، وهم في وحاظة(5) من ذي الكلاع(6).

--------------------------------------------

(1) الفرقان- الآية 38.

(2) درج: مات ولم يخلّف نسلا، وليس كل من مات درج لسان العرب «درج».

(3) في الأصل: ضبطت مهرة بفتح الهاء، والتصحيح عن الاشتقاق ص 553؛ وجمهرة أنساب العرب ص 440؛ وهو مهرة بن حيدان بن عمرو بن الحاف بن قضاعة، تنسب إليه الإبل المهرية، وباليمن لهم مخلاف.

ياقوت: معجم البلدان 5/ 234.

(4) الشّحر: بكسر أوله، وسكون ثانيه، صقع على ساحل بحر الهند من ناحية اليمن.

معجم البلدان 3/ 327.

(5) وحاظة: بضم الواو، والظاء معجمة، ويقال احاظة، اسم قبيلة.

(6) ذو الكلاع: قبيلة يمانية كبيرة. انظر الاشتقاق ص 533.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি।

 

মুহাম্মদ ইবন হাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবন মুহাম্মদ ইবন সায়েব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর বংশপরম্পরা বর্ণনায় মা'দ ইবন আদনান পর্যন্ত পৌঁছাতেন, তখন তিনি থেমে যেতেন এবং বলতেন: "বংশবিশারদরা মিথ্যা বলেছে।" আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "এবং এর অন্তরালে বহু প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে"(১)। ইবন আব্বাস বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তা শিখাতে চাইতেন, তবে অবশ্যই তিনি তা শিখাতেন। এবং তিনি আরও বলেছেন: মা'দ ইবন আদনান এবং ইসমাঈলের মাঝে ত্রিশজন পিতা (পূর্বপুরুষ) রয়েছেন।

হিশাম তাঁর পিতা মুহাম্মদ ইবন সায়েব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আদাদ ইবন যায়িদ-এর সন্তানরা হলো:

আদনান এবং নাবত; এই নাবত-ই হলো 'আশআর' যে আশআরী গোত্রের আদি পিতা, এবং উমর, যে নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেছে(২)। অতঃপর নাবতের বংশে জন্ম নিয়েছে: শাকরাহ, তারা মাহরাহ গোত্রের(৩) অন্তর্ভুক্ত আশ-শিহরে(৪) বসবাস করে; এবং শাকহাব, তারা যুল কিলা'র(৬) অন্তর্ভুক্ত ওহাজাহ(৫) শাখায় বসবাস করে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৩৮।

(২) দরাজ: সে মারা গেছে এবং কোনো বংশধর রেখে যায়নি। তবে যে ব্যক্তিই মারা যায় তাকেই 'দরাজ' বলা হয় না। লিসানুল আরব, 'দরাজ' অনুচ্ছেদ।

(৩) মূল পাঠে 'মাহরাহ' শব্দটির 'হা' বর্ণে জবর দেওয়া হয়েছে। এর সংশোধন গৃহীত হয়েছে আল-ইশতিকাক পৃষ্ঠা ৫৫৩ এবং জামহারাতু আনসাবিল আরব পৃষ্ঠা ৪৪০ থেকে। সে হলো মাহরাহ ইবন হায়দান ইবন আমর ইবন হাফ ইবন কুদা'আহ। মাহরী উটসমূহ তারই নামানুসারে পরিচিত। ইয়ামেনে তাদের একটি মিখলাফ (জনপদ) রয়েছে।

ইয়াকুত: মু'জামুল বুলদান ৫/২৩৪।

(৪) আশ-শিহর: প্রথম বর্ণে যের এবং দ্বিতীয় বর্ণে সাকিন। এটি ইয়ামেনের নিকটবর্তী ভারত মহাসাগরের উপকূলীয় একটি অঞ্চল।

মু'জামুল বুলদান ৩/৩২৭।

(৫) ওহাজাহ: ওয়াও বর্ণে পেশ এবং য বর্ণে নুকতা। এটাকে 'আহাজাহ'ও বলা হয়। এটি একটি গোত্রের নাম।

(৬) যুল কিলা': এটি ইয়ামেনের একটি বড় গোত্র। দেখুন: আল-ইশতিকাক পৃষ্ঠা ৫৩৩।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ১৮)
فولد عدنان: معدّا، والدّيث، وأبيّا، والعيّ، درجا، وعدينا، درج، وأمّهم مهدد بنت اللهم بن جلحب بن جديس. فولد الدّيث بن عدنان: الحارث، وهو عكّ، فولد عكّ بن الدّيث: الشّاهد، وصحارا، وهو غالب، وسبيعا درج، وقرنا، وهم في الأزد بنو عكّ.

فولد الشّاهد بن عكّ: غافقا، وساعدة؛ فولد غافق بن الشّاهد:

لعسان، ومالكا، والقياتة؛ وولد مالك بن غافق: رهنة، وصحارا؛ فولد رهنة: كعبا، وطريفا، ومالكا. فولد صحار بن مالك: عبدا، ومعاوية، وربيعة؛ وولد لعسان بن غافق: الحوثة، وأسلم، ووائلا، وزبّان، وخضران(1)، وولد القياتة بن غافل: أحدب، وأوفى، وأسلم، وخدران، وكان من غافق أوّل من جزّ النّواصي: سملقه بن مريّ بن الفجّاع صاحب أمر عكّ يوم قاتلوا غسّان، ورئيس غسّان زوبعة بن عمرو(2). وولد صحار بن عكّ: عنسا، وبولان، وهما عدد عكّ؛ وكان من بني بولان: مقاتل بن حكيم بن عبد الرّحمن الخراسانيّ.

فولد معدّ بن عدنان: نزارا، وقنصا، وقناصة، وسناما، والعرف، درج، وقضاعة؛ قال رجل من مهرة:

إنّ أخوالي من شقرة قد … لبسوا لي عمسا جلد النّمر

نحتوا أثلتنا ظلما ولم … يرهبوا غبّ الوبال المستمرّ(3)

--------------------------------------------

(1) في أنساب الأشراف 1/ 14: فولد لعسان بن غافق: الحوته، واسلم، وأكرم؛ فولد أكرم:

وائلا وريّان، وخضران.

(2) في أنساب الأشراف 1/ 15 ربيعة بن عمرو.

(3) في أنساب الأشراف 1/ 13 - 14، قال الشاعر وهو الحارث بن نمر التنوخيّ:

أيّ يوميّ من الموت أفر … يوم لم يقدر أم يوم قدر

إنّ أخوالي من شقرة قد … لبسوا لي عمسا جلد نمر

نختوا أثلتنا ظلما ولم … يرهبوا لفت الوبال المستمر
আদনানের সন্তানরা হলেন: মাআদ, আদ-দাইস, আবিয়্যা এবং আল-আই, যিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান, এবং আদিনা, যিনিও নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান। তাঁদের মা হলেন মাহদাদ বিনতে আল-লাহুম বিন জালহাব বিন জুদাইস। আদনানের পুত্র আদ-দাইসের সন্তান হলেন: আল-হারিস, আর তিনিই হলেন আক্ক। আক্ক ইবনে আদ-দাইসের সন্তানরা হলেন: আশ-শাহিদ, সাহার (যিনি গালিব নামে পরিচিত), সুবাই (যিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান) এবং কারণ। তাঁরা আল-আদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বনু আক্ক নামে পরিচিত।

আক্কের পুত্র আশ-শাহিদের সন্তানরা হলেন: গাফিক এবং সা’ইদাহ। গাফিক ইবনে আশ-শাহিদের সন্তানরা হলেন:

লা’সান, মালিক এবং আল-কায়াতাহ। মালিক ইবনে গাফিকের সন্তানরা হলেন: রাহনাহ এবং সাহার। রাহনার সন্তানরা হলেন: কা’ব, তরীফ এবং মালিক। মালিকের পুত্র সাহারের সন্তানরা হলেন: আবদ, মুয়াবিয়া এবং রাবিআ। গাফিকের পুত্র লা’সানের সন্তানরা হলেন: আল-হাওসাহ, আসলাম, ওয়াইল, যাব্বান এবং খাজরান(১)। গাফিলের (গাফিকের) পুত্র আল-কায়াতাহর সন্তানরা হলেন: আহদাব, আওফা, আসলাম এবং খাদরান। গাফিকের বংশধরদের মধ্যে যিনি সর্বপ্রথম কপালের চুল (নাওয়াসি) কেটেছিলেন তিনি হলেন সামলাকাহ ইবনে মুরইয়্যাহ ইবনে আল-ফাজ্জা, যিনি গাসসানের সাথে যুদ্ধের দিন আক্ক গোত্রের অধিনায়ক ছিলেন। আর গাসসানের প্রধান ছিলেন জাওবায়াহ ইবনে আমর(২)। আক্কের পুত্র সাহারের সন্তানরা হলেন: আনাস এবং বুলান, আর এই দুজনই আক্কের প্রধান জনবল। বনু বুলান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন মুকাতিল ইবনে হাকিম ইবনে আবদুর রহমান আল-খুরাসানি।

আদনানের পুত্র মাআদের সন্তানরা হলেন: নিযার, কুনুস, কুনাসাহ, সিনাম, আল-উরুফ (যিনি নিঃসন্তান ছিলেন) এবং কুযাআ। মাহরাহ গোত্রের এক ব্যক্তি বলেছিলেন:

নিশ্চয়ই শাকারাহ থেকে আসা আমার মামারা আমার প্রতি ... কঠোরতা দেখিয়েছে যেন তারা চিতার চামড়া পরিহিত।

তারা অন্যায়ভাবে আমাদের বংশের মূল উপড়ে ফেলেছে এবং ... অবিরত ধ্বংসের ভয়াবহ পরিণামকে তারা ভয় পায়নি।(৩)

--------------------------------------------

(১) আনসাবুল আশরাফ ১/১৪-তে আছে: গাফিকের পুত্র লা’সানের সন্তানরা হলেন: আল-হাওসাহ, আসলাম এবং আকরাম। আকরামের সন্তানরা হলেন:

ওয়াইল, রাইয়ান এবং খাজরান।

(২) আনসাবুল আশরাফ ১/১৫-তে রাবিআ ইবনে আমর।

(৩) আনসাবুল আশরাফ ১/১৩-১৪-তে আছে, কবি আল-হারিস ইবনে নামির আত-তানুখি বলেছেন:

মৃত্যুর দুই দিনের কোন দিনটি থেকে আমি পালাবো? যেদিন তা নির্ধারিত নয়, নাকি যেদিন তা নির্ধারিত?

নিশ্চয়ই শাকারাহ থেকে আসা আমার মামারা আমার প্রতি কঠোরতা দেখিয়েছে যেন তারা চিতার চামড়া পরিহিত।

তারা অন্যায়ভাবে আমাদের বংশের মূল উপড়ে ফেলেছে এবং অবিরত ধ্বংসের পরিণামকে তারা ভয় পায়নি।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد انتسبوا في حمير، وعوفا درج، وشكّا، درج؛ وبجيدان درج، وحيدة، وعبيد الرّماح، وهم في كنانة، رهط إبراهيم بن عربيّ الذي كان عبد الملك بن مروان يولّيه اليمامة؛ وأمّ إبراهيم ابن عربيّ فاطمة بنت شريك بن سحماء الذي لا عنه عاصم بن عديّ في امرأته، فلما كان يوم الدار يوم قتل عثمان بن عفّان ضرب مروان بن الحكم، وسعيد بن العاص فسقطا، فوثبت فاطمة بنت شريك على مروان فأدخلته بيت القراطيس فأفلت، وكانوا يحفظون إبراهيم بن عربيّ ويكرمونه(1)، وجنيدا(2)، وهم في عك، وأودا، وجنادة، وهو أبو كندة، وقال أبو اليقظان(3): حيادة، وهو باطل، والقحم؛ وأمّهم معانة بنت جوشم بن جلهة بن عمرو بن هلينية بن دوّة من جرهم.

فولد سنام بن معدّ: جشم، وجأ، وهما حليفان لحكم بن سعد العشيرة من مذحج.

وولد حيدة بن معدّ: مجيدا، بطن عظيم دخلوا في الأشعريّين، فينسبون منهم؛ وأفلح، وقزح، درجا.

وولد القحم بن معدّ: أفيان؛ فولد أفيان: غنثا، وروا(4)، وغتتا، وهم حيّ في بني مالك بن كنانة بن خزيمة؛ حكوا غتتا عن الكلبيّ أنّه قاله، ولا يعرفه ابن حبيب.

وولد نزار بن معدّ: مضر، وإيادا، وأمّهما سودة بنت عكّ بن الدّيث بن عدنان؛ وربيعة، وأنمارا، وأمّهما الجدالة بنت وعلان بن

--------------------------------------------

(1) انظر المحبر.

(2) في أنساب الأشراف 1/ 15: جتيد.

(3) في الطبقات لابن سعد 1/ 58: معانة بنت جوشم بن جلهمة بن عمرو بن دوّة بن جرهم؛ وفي أنساب الأشراف 1/ 15: معانة بنت جشم بن جهلة، وبعضهم يقول جلهمة.

(4) في الأصل: رو.
তারা হিমইয়ার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; আর আওফ নির্বংশ হয়েছে, এবং শাক্কও নির্বংশ হয়েছে; বুজাইদানও নির্বংশ হয়েছে। আর হায়দাহ ও উবাইদ আল-রিমাহ—তারা কিনানা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, তারা ইব্রাহিম ইবনে আরাবীর দলভুক্ত যাকে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ইয়ামামার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। ইব্রাহিম ইবনে আরাবীর মা ছিলেন ফাতিমা বিনতে শারিক ইবনে সাহমা, যাঁর স্ত্রীর ব্যাপারে আসিম ইবনে আদি লা'আন করেছিলেন। অতঃপর যখন 'ইয়াওমুদ দার' (গৃহের দিন) তথা উসমান ইবনে আফফানের হত্যাকাণ্ডের দিন এলো, তখন মারওয়ান ইবনে হাকাম ও সাঈদ ইবনুল আসকে আঘাত করা হলে তারা পড়ে গেলেন; তখন ফাতিমা বিনতে শারিক মারওয়ানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তাঁকে 'বায়তুল কারাতীস' (কাগজপত্র রাখার ঘর)-এ প্রবেশ করালেন, ফলে তিনি রক্ষা পেলেন। আর তারা ইব্রাহিম ইবনে আরাবীকে দেখাশোনা করত এবং তাঁকে সম্মান করত(১); এবং জুনাইদ(২)—তারা আক্ক গোত্রের অন্তর্ভুক্ত; এবং আওদ ও জুনাহদাহ, যিনি আবু কিনদাহ; আর আবু আল-ইয়াকজান(৩) বলেছেন: 'হায়াদাহ', তবে এটি ভুল; এবং আল-কাহম। তাদের মা ছিলেন মুআনা বিনতে জউশাম ইবনে জালহাহ ইবনে আমর ইবনে হুলাইনিয়া ইবনে দাওয়াহ, যিনি জুরহুম গোত্রের বংশোদ্ভূত।

সানাম ইবনে মা'আদ-এর সন্তানরা হলো: জুশাম ও জা; তারা উভয়েই মাজহিজ গোত্রের হাকাম ইবনে সাদ আল-আশিরাহ-এর মিত্র ছিল।

হায়দাহ ইবনে মা'আদ-এর সন্তানরা হলো: মাজিদ—এটি একটি বিশাল শাখা যারা আশআরী গোত্রের সাথে মিশে গেছে, ফলে তারা তাদের বংশধারার সাথেই পরিচিত হয়; এবং আফলাহ ও কুজাহ—তারা নির্বংশ হয়েছে।

কাহম ইবনে মা'আদ-এর সন্তান হলো: আফইয়ান; আর আফইয়ানের সন্তানরা হলো: গুনস, রুওয়া(৪) ও গাতত; তারা বনু মালিক ইবনে কিনানা ইবনে খুজাইমাহ গোত্রের একটি উপজাতি। তারা কালবী থেকে 'গাতত' নামটির বর্ণনা দিয়েছেন যে তিনি এটি বলেছেন, তবে ইবনে হাবিব এটি সম্পর্কে অবগত নন।

নিযার ইবনে মা'আদ-এর সন্তানরা হলো: মুদার ও ইয়াদ; তাদের মা ছিলেন সাওদাহ বিনতে আক্ক ইবনুল দাইস ইবনে আদনান; এবং রাবিয়াহ ও আনমার, তাদের মা ছিলেন আল-জাদালা বিনতে ওয়া'লান ইবনে...

--------------------------------------------

(১) আল-মুহাব্বার দেখুন।

(২) আনসাব আল-আশরাফ ১/১৫-তে রয়েছে: জুতাইদ।

(৩) ইবনে সা'দ-এর আত-তাবাকাত ১/৫৮-তে রয়েছে: মুআনা বিনতে জউশাম ইবনে জুলহুমা ইবনে আমর ইবনে দাওয়াহ ইবনে জুরহুম; এবং আনসাব আল-আশরাফ ১/১৫-তে রয়েছে: মুআনা বিনতে জাশম ইবনে জাহলাহ, এবং কেউ কেউ বলেন জুলহুমা।

(৪) মূলে রয়েছে: রু।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ২০)
جوشم بن جلهة بن عمرو بن هلينية بن دوّة.

فولد مضر بن نزار: الياس بن مضر، والنّاس، وهو عيلان؛ وأمّهما الرّباب بنت حيدة بن معدّ بن عدنان؛ فولد الياس بن مضر:

عمرا، وهو مدركة؛ وعامرا، وهو طابخة؛ وعميرا وهو قمعة؛ وأمّهم خندف، وهي ليلى بنت حلوان بن عمران بن الحاف بن قضاعة. وكان الياس خرج في نجعة له فنفرت إبله من أرنب فخرج إليها عمرو فأدركها فسمّي مدركة؛ وخرج عامر فتصيّد فطبخه فسمّي طابخة، وانقمع عمير في الخباء فسمّي قمعة، وخرجت أمّهم ليلى تمشي فقال لها الياس: أين تخندفين؟ فسمّيت خندف، والخندفة: ضرب من المشي(1).

قال: ولمّا انصرفوا وقد صنعوا ما سمّي، قال لعمر: وأنت قد أدركت ما طلبنا، وقال لعامر: وأنت قد أنضجت ما طبختا، وقال لعمير: وأنت قد أسأت وانقمعتا(2).

فولد مدركة بن الياس: خزيمة، وهذيلا، وأمّهما سلمى بنت أسلم بن الحاف بن قضاعة؛ وغالبا، وسعدا وقيسا، درجوا لا أعقاب لهم، وأمّهم ليلى بنت السيّد بن الحاف بن قضاعة.

--------------------------------------------

(1) والخندفة هي المشي في سرعة. الاشتقاق ص 42.

(2) في هامش الأصل: والتاء فيها للمبالغة كالعلّامة؛ وفي البلاذري 1/ 34: قال هشام، وذكروا أن الياس بن مضر قال لولده:

يا عمرو قد أدركت ما طلبتا … وأنت قد أنضجت ما طبختا

وأنت قد أسأت فانقمعتا

وفي الطبري 2/ 266:

إنّك قد أدركت ما طلبتا
জুষাম বিন জালহাহ বিন আমর বিন হুলয়িনিয়্যাহ বিন দুওয়াহ।

মুদার বিন নিজার-এর সন্তানগণ হলেন: ইলিয়াস বিন মুদার এবং আন-নাস, যার নাম আয়লান; তাঁদের মা ছিলেন আর-রাবাব বিনতে হাইদাহ বিন মা'দ বিন আদনান। এরপর ইলিয়াস বিন মুদারের সন্তানগণ হলেন:

আমর, যার উপাধি মুদরিকা; আমির, যার উপাধি তাবিখা; এবং উমাইর, যার উপাধি কামআ। তাঁদের মা ছিলেন খানদাফ, যিনি হলেন লাইলা বিনতে হুলওয়ান বিন ইমরান বিন আল-হাফ বিন কুদাআ। একদা ইলিয়াস চারণভূমির সন্ধানে বের হলেন, তখন একটি খরগোশ দেখে তাঁর উটগুলো ভড়কে গিয়ে ছুটতে শুরু করল। তখন আমর সেগুলোর পিছু নিয়ে ধরে ফেললেন, তাই তাঁর নাম হলো মুদরিকা; আমির শিকার করে তা রান্না করলেন, তাই তাঁর নাম হলো তাবিখা; আর উমাইর তাঁবুর ভেতর লুকিয়ে রইলেন, তাই তাঁর নাম হলো কামআ। তাঁদের মা লাইলা যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন, ইলিয়াস তাঁকে বললেন: "তুমি কোথায় খানদাফা করছ?" তাই তাঁর নাম হলো খানদাফ। আর খানদাফা হলো এক বিশেষ ধরনের হাঁটা(১)।

বর্ণনাকারী বলেন: তাঁরা যখন ফিরে এলেন এবং যে কাজের কারণে তাঁদের নামকরণ হয়েছে তা সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি আমরকে বললেন: "তুমি যা আমরা চেয়েছিলাম তা ধরে ফেলেছ (অর্জন করেছ)।" তিনি আমিরকে বললেন: "তুমি যা রান্না করেছ তা সুসিদ্ধ করেছ।" আর উমাইরকে বললেন: "তুমি মন্দ করেছ এবং তুমি লুকিয়ে পড়েছ।"(২)

মুদরিকা বিন ইলিয়াস-এর সন্তানগণ হলেন: খুজাইমাহ এবং হুযাইল, তাঁদের মা সালমা বিনতে আসলাম বিন আল-হাফ বিন কুদাআ; এবং গালিব, সা'দ ও কাইস, তাঁরা নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেছেন, তাঁদের মা ছিলেন লাইলা বিনতে আস-সাইয়িদ বিন আল-হাফ বিন কুদাআ।

--------------------------------------------

(১) খানদাফা হলো দ্রুতগতিতে হাঁটা। আল-ইশতিকাক, পৃষ্ঠা ৪২।

(২) মূল পাণ্ডুলিপির হাশিয়ায় (পার্শ্বটীকা) রয়েছে: এখানে 'তা' অক্ষরটি আধিক্য বোঝানোর জন্য যুক্ত হয়েছে যেমন 'আল্লামাহ' শব্দে হয়; আল-বালাযুরি ১/৩৪-এ হিশাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে ইলিয়াস বিন মুদার তাঁর পুত্রদের বলেছিলেন:

হে আমর, তুমি যা চেয়েছিলে তা অর্জন করেছ... আর তুমি যা রান্না করেছ তা সুসিদ্ধ করেছ...

আর তুমি মন্দ করেছ ফলে তুমি লুকিয়ে পড়েছ...

আত-তাবারী ২/২৬৬-এ রয়েছে:

নিশ্চয়ই তুমি যা চেয়েছিলে তা অর্জন করেছ।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ২১)
فولد خزيمة بن مدركة: كنانة، وأمّه: عوانه بنت سعد بن قيس، ويقال: بل هند بنت عمرو بن قيس بن عيلان؛ وأسدا، وأسدة؛ فجذام تنسب إلى أسدة؛ وعبد الله، والهون؛ وأمّهما برّة بنت مرّ أخت تميم ابن مرّ.

فولد كنانة: النّضر؛ وهو قيس(1)؛ ونضيرا، ومالكا، وملكان، وعامرا، وعمرا، والحارث، وعروان(2)، وسعدا، وعوفا، وغنما، ومخرمة، وجرولا، بني كنانة(3)؛ وأمّهم برّة بنت مرّ أخت تميم بن مرّ خلف عليها بعد أبيه خزيمة(4)، وعبد مناة، وأمّه الذّفراء، وهي فكهة بنت هنيّ بن بليّ بن عمرو بن الحاف بن قضاعة، وأخوه لأمّه عليّ بن مسعود الغسّانيّ، فحضن عليّ بن مسعود بن مازن بن ذئب أولاد عبد مناة فنسبوا إليه.

فولد النّضر بن كنانة: مالكا، ويخلد، وهم في بني عمرو بن الحارث بن مالك بن كنانة، والصّلت درج، وخزاعة، ينسب إلى الصّلت، وأمّهم عكرشة بنت عدوان، وهو الحارث بن عمرو بن قيس عيلان.

فولد مالك بن النّضر: فهرا واليه جماع قريش، والحارث درج،

--------------------------------------------

(1) بهامش الأصل: قريش؛ وفي الطبري 2/ 265: قيس؛ وقيل، إن النّضر بن كنانة كان اسمه قريشا؛ وفي المقتضب ص 18: قريش.

(2) في الطبري 2/ 265: غزوان، وكذلك في المقتضب ص 18.

(3) في جمهرة أنساب العرب ص 11: فولد كنانة: النّضر، وملك وملكان، وعبد مناة، لم يعقب لكنانة ولد غير هؤلاء، وليس في العرب ملك (باسكان اللام) غير ملك بن كنانة فقط.

(4) وهو زواج المقت الذي حرمه الإسلام بقوله تعالى: وَلا تَنْكِحُوا ما نَكَحَ آباؤُكُمْ مِنَ النِّساءِ إِلَّا ما قَدْ سَلَفَ، إِنَّهُ كانَ فاحِشَةً وَمَقْتاً وَساءَ سَبِيلًا النساء آية.
খুযাইমাহ ইবনে মুদরিকার সন্তানরা হলেন: কিনানা; তার মা ছিলেন আওয়ানা বিনতে সাদ ইবনে কাইস, আর বলা হয়: বরং হিন্দ বিনতে আমর ইবনে কাইস ইবনে আইলান; এবং আসাদ ও আসাদা; জুধাম গোত্রকে আসাদা-র দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; এবং আবদুল্লাহ ও আল-হুন; তাদের উভয়ের মা ছিলেন বাররাহ বিনতে মুরর, যিনি তামীম ইবনে মুররের বোন।

কিনানার সন্তানরা হলেন: আন-নাদর—তিনিই হলেন কাইস(১); এবং নাদীর, মালিক, মালকান, আমির, আমর, আল-হারিস, উরওয়ান(২), সাদ, আউফ, গানাম, মাখরামা ও জারওয়াল—এরা কিনানার সন্তানগণ(৩); তাদের মা ছিলেন বাররাহ বিনতে মুরর, তামীম ইবনে মুররের বোন, যাকে তিনি তার পিতা খুযাইমাহর পর বিবাহ করেছিলেন(৪); এবং আবদ মানাত, যার মা ছিলেন আদ-দাফরা—তিনি হলেন ফাকিহা বিনতে হানি ইবনে বালি ইবনে আমর ইবনে আল-হাফ ইবনে কুদাআ; এবং তার (আবদ মানাত) বৈমাত্রেয় ভাই আলী ইবনে মাসউদ আল-গাসসানি; অতঃপর আলী ইবনে মাসউদ ইবনে মাযিন ইবনে যিব আবদ মানাতের সন্তানদের লালন-পালন করেছিলেন, ফলে তারা তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে।

আন-নাদর ইবনে কিনানার সন্তানরা হলেন: মালিক এবং ইয়াখলুদ—যারা আমর ইবনে আল-হারিস ইবনে মালিক ইবনে কিনানা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত; এবং আস-সালত, যার বংশধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে; এবং খুযাআ, যাকে আস-সালতের দিকে সম্বন্ধ করা হয়; আর তাদের মা ছিলেন ইকরাশা বিনতে আদওয়ান, যিনি হলেন হারিস ইবনে আমর ইবনে কাইস আইলান।

মালিক ইবনে আন-নাদরের সন্তানরা হলেন: ফিহর, যার কাছে কুরাইশদের সমষ্টি মিলিত হয়েছে; এবং আল-হারিস, যার বংশধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকাতে: কুরাইশ; আর আত-তাবারিতে ২/২৬৫: কাইস; এবং বলা হয়েছে যে, আন-নাদর ইবনে কিনানার নাম ছিল কুরাইশ; আল-মুকতাদাবে পৃষ্ঠা ১৮: কুরাইশ।

(২) আত-তাবারিতে ২/২৬৫: গাযওয়ান, অনুরূপভাবে আল-মুকতাদাবে পৃষ্ঠা ১৮।

(৩) জামহারাতু আনসাবিল আরবে পৃষ্ঠা ১১: কিনানার সন্তানরা হলেন: আন-নাদর, মালিক, মালকান এবং আবদ মানাত; এদের বাইরে কিনানার আর কোনো সন্তান বংশপরম্পরা রেখে যায়নি। আর আরবদের মধ্যে 'মালক' (লাম-এর সুকুনসহ) নাম কিনানা ইবনে মালক ব্যতীত আর কারো নেই।

(৪) এটি ছিল 'নিকাহুল মাকত' (ঘৃণ্য বিবাহ), যা ইসলাম আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে হারাম করেছে: "তোমাদের পিতারা নারীদের মধ্যে যাদের বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না, তবে যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় এটি অশ্লীলতা, ঘৃণ্য কাজ এবং মন্দ পথ।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২২)।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ২২)
وأمّهما جندلة بنت عامر بن الحارث بن مضاض الجرهمي(1).

فولد فهر، وهو قريش: غالبا، وأسدا، وعوفا، وذئبا، وجونا، درجوا، والحارث، بطن، ومحاربا بطن، وهما من قريش الظّواهر(2)، وأمّهم ليلى بنت الحارث بن تميم بن سعد بن هذيل بن مدركة.

فولد أسد بن فهر: مالكا؛ فولد مالك بن أسد: جملا فادّعى إليه عبد شمس، وهم بطن من العباد نصارى بالحيرة(3)، فقالوا: عبد شمس بن جمل، وهذا باطل.

فولد عوف بن فهر: زهرة بن عوف، وصفيّة؛ قال: درج أولاد فهر كلّهم إلّا غالبا، والحارث، ومحاربا.

وولد غالب بن فهر: لؤيّا، وتيما، وهو الأدرم(4)، بطن، وكان تيم كاهنا، وكان ناقص الذّقن، وهم من قريش الظواهر، وقيسا،

--------------------------------------------

(1) في الاشتقاق ص 41: جندلة بنت الحارث بن مضاض.

(2) قريش الظواهر: وهم الذين نزلوا بظهور جبال مكة، وقريش البطاح، اكرم وأشرف من قريش الظواهر، وقريش البطاح الذين نزلوا بطاح مكة (البطاح بطن مكة).

لسان العرب «ظهر».

(3) العباد: وهم قوم من النصارى، ومن قبائل شتى، استوطنوا ظاهر الحيرة، ويذكر القفطي:

أنهم قالوا: نريد أن نتسمى بعيد الله، ثم قالوا: العبيد اسم يشارك فيه المخلوق الخالق في التسمية، لأنه يقال عبيد الله وعبيد فلان، والعباد اسم اختص الله به، فيقال عباد الله ولايقال عباد فلان، فتسموا بالعباد.

القفطي: أخبار الحكماء ص 119.

(4) بهامش الأصل: ليس هذا تيم الذي من ولده أبو بكر الصديق، رضي الله عنه.

والادرم: كل ما غطّاه اللحم والشحم، خفي حجمه فهو أدرم.

لسان «درم».
এবং তাদের মাতা হলেন জানদলা বিনতে আমির বিন আল-হারিস বিন মুদাদ আল-জুরহুমি(১)।

অতঃপর ফিহর—যিনি কুরাইশ—জন্মদান করেন: গালিব, আসাদ, আউফ, জিব এবং জুনকে—যাঁদের বংশধারা বিলুপ্ত হয়েছে—এবং হারিস—একটি উপগোত্র—ও মুহারিব—একটি উপগোত্র—এবং তাঁরা উভয়ে কুরাইশ আল-জাওয়াহিরের(২) অন্তর্ভুক্ত; আর তাঁদের মাতা হলেন লায়লা বিনতে হারিস বিন তামিম বিন সাদ বিন হুযায়েল বিন মুদরিকাহ।

অতঃপর আসাদ বিন ফিহর জন্মদান করেন: মালিককে; এবং মালিক বিন আসাদ জন্মদান করেন: জামালকে; অতঃপর আবদু শামস নিজেকে তাঁর দিকে সম্পর্কিত করেন, তাঁরা হলেন হিরার নাসারা ইবাদদের(৩) অন্তর্ভুক্ত একটি উপগোত্র। তারা বলেছিল: আবদু শামস বিন জামাল, অথচ এটি বাতিল।

অতঃপর আউফ বিন ফিহর জন্মদান করেন: জুহরাহ বিন আউফ এবং সাফিয়্যাহকে; তিনি বলেন: গালিব, হারিস এবং মুহারিব ব্যতীত ফিহরের সমস্ত সন্তানের বংশধারা বিলুপ্ত হয়েছে।

আর গালিব বিন ফিহর জন্মদান করেন: লুওয়াই, তাইম—যিনি আল-আদরাম(৪) নামে পরিচিত—তিনি একটি উপগোত্র, এবং তাইম একজন গণক ছিলেন, তাঁর চিবুক ছিল মাংসল ও অপূর্ণাঙ্গ, তাঁরা কুরাইশ আল-জাওয়াহিরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, এবং কায়সকেও (জন্মদান করেন),

--------------------------------------------

(১) আল-ইশতিকাক পৃষ্ঠা ৪১-এ রয়েছে: জানদলা বিনতে হারিস বিন মুদাদ।

(২) কুরাইশ আল-জাওয়াহির: তাঁরা হলেন ঐ সকল লোক যারা মক্কার পাহাড়ের উপরিভাগে বসবাস করত। আর কুরাইশ আল-বিতাহ, কুরাইশ আল-জাওয়াহিরের চেয়ে অধিক সম্মানিত ও মর্যাদাবান ছিল। কুরাইশ আল-বিতাহ হলেন তাঁরা যারা মক্কার নিচু সমতল ভূমিতে (বাতাহ) বসবাস করত (আল-বাতাহ হলো মক্কার কেন্দ্রস্থল)।

লিসানুল আরব, 'জাহারা'।

(৩) আল-ইবাদ: তাঁরা নাসারাদের (খ্রিস্টান) একটি সম্প্রদায় যারা বিভিন্ন গোত্র থেকে উদ্ভূত এবং হিরার বহির্ভাগে বসতি স্থাপন করেছিল। আল-কিফতি উল্লেখ করেছেন:

তারা বলেছিল: আমরা 'আবদুল্লাহ' নামে নামধারণ করতে চাই, তারপর তারা বলেছিল: 'আল-উবায়দ' এমন একটি নাম যেখানে নামকরণের ক্ষেত্রে সৃষ্টি ও স্রষ্টা অংশীদার হয়, কারণ 'উবায়দুল্লাহ' যেমন বলা হয়, তেমনি 'অমুকের উবায়দ'ও বলা হয়। কিন্তু 'আল-ইবাদ' এমন একটি নাম যা আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট, তাই 'ইবাদুল্লাহ' (আল্লাহর বান্দাগণ) বলা হয়, কিন্তু 'অমুকের ইবাদ' বলা হয় না। অতঃপর তারা নিজেদের নামকরণ করে 'আল-ইবাদ'।

আল-কিফতি: আখবারুল হুকামা, পৃষ্ঠা ১১৯।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকাতে: এই তাইম সেই ব্যক্তি নন যার বংশধর থেকে আবু বকর আল-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এসেছেন।

আল-আদরাম: মাংস এবং চর্বি দ্বারা যা কিছু আবৃত থাকে এবং যার আকার অপ্রকাশিত থাকে, তাকেই আদরাম বলা হয়।

লিসানুল আরব, 'দারামা'।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ২৩)
درجوا، وكان آخر من بقيّ من بنيّ قيس بن غالب رجل هلك بالعراق أيام خالد بن عبد الله في خلافة هشام(1)، فبقيّ ميراثه لا يدرى من أحقّ به؛ وأمّ بني غالب عاتكة بنت يخلد بن النّضر، وهي إحدى العواتك اللّواتي ولدن رسول الله صلى الله عليه وسلم(2)؛ ويقال بل أمّهم سلمى بنت عمرو بن ربيعة بن حارثة من خزاعة.

فولد لؤيّ بن غالب: كعبا، بطن، وعامرا، بطن، وسامة بطن؛ وأمّهم ماويّة بنت كعب بن القين بن جسر بن شيع الله بن أسد بن وبرة؛ وعوف بن لؤيّ، بطن، وأمّه: الباردة بنت عوف بن تميم بن عبد الله بن عفّان بن عوف(3) بن غنم بن عبد الله، لم يلد أبو الباردة غيرها(4)، وخزيمة بن لؤيّ بطن، وهم عائذة قريش(5)؛ وسعد ابن لؤيّ، بطن، وهم بنو جشم، وجشم كان عبدا حبشيّا حضن الحارث فغلب عليه؛ وجشم حلفاء لبني هزّان بن عنزة بن أسد بن ربيعة بن نزار؛ فأمّا عوف بن لؤيّ فإنّه لحق بغطفان فنزل في منزل، وأرتحل النّاس فمرّ به فزارة فقال:

--------------------------------------------

(1) هو خالد بن عبد الله القسري: من عمّال بني أمية المعدودين، ولّاه هشام بن عبد الملك العراقين سنة 106 هـ وعزله سنة 120 هـ.

الطبري 7/ 37.

(2) العواتك: جمع عاتكة، وهي المتضمّخة بالطيب، والعواتك جدات النبي، كل منهن تسمى عاتكة.

وانظر المحبر لابن حبيب ص 47.

(3) في الحاشية: الباردة بنت عوف بن غنم بن عبد الله.

(4) في الطبري 2/ 261: الباردة بنت عوف بن غنم بن عبد الله بن غطفان.

(5) سمّوا بذلك، لأنهم يعرفون بأمّهم عائذة بنت الخمس بن قحافة الخثعمي.

الاشتقاق ص 107.
তারা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলেন এবং কায়স ইবনে গালিবের সন্তানদের মধ্যে অবশিষ্ট সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন জনৈক ব্যক্তি যিনি হিশামের খিলাফতকালে খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহর সময়ে ইরাকে মারা যান(১), ফলে তার উত্তরাধিকার রয়ে যায় এবং এর সবচেয়ে বড় হকদার কে তা জানা যায়নি; আর গালিবের সন্তানদের মা ছিলেন আতিকা বিনতে ইখলুদ ইবনুন নাদর, তিনি সেই আতিকাদের একজন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদাত্রী ছিলেন(২); বলা হয়ে থাকে যে, বরং তাদের মা ছিলেন খুযাআ গোত্রের সালমা বিনতে আমর ইবনে রাবিআ ইবনে হারিসা।

লুআই ইবনে গালিবের সন্তানগণ হলেন: কা’ব (একটি শাখা), আমির (একটি শাখা) এবং সামাহ (একটি শাখা); এবং তাদের মা ছিলেন মাউইয়্যাহ বিনতে কা’ব ইবনুল কাইন ইবনে জাসর ইবনে শিউল্লাহ ইবনে আসাদ ইবনে ওবারাহ; এবং আওফ ইবনে লুআই (একটি শাখা), তার মা হলেন: আল-বারিদাহ বিনতে আওফ ইবনে তামীম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আফফান ইবনে আওফ(৩) ইবনে গানাম ইবনে আব্দুল্লাহ; আল-বারিদাহর পিতা তিনি ছাড়া অন্য কোনো সন্তান জন্ম দেননি(৪), এবং খুযাইমাহ ইবনে লুআই (একটি শাখা), তারা কুরাইশের ‘আইজাহ’ নামে পরিচিত(৫); এবং সা’দ ইবনে লুআই (একটি শাখা), তারা হলো বানু জুশাম, আর জুশাম ছিল একজন হাবশী ক্রীতদাস যে হারিসকে লালন-পালন করেছিল, ফলে তার নামই তার ওপর প্রভাবশালী হয়ে যায়; এবং জুশাম হলো হাযযান ইবনে আনাযাহ ইবনে আসাদ ইবনে রাবিআ ইবনে নিযারের সন্তানদের মিত্র; আর আওফ ইবনে লুআইয়ের ক্ষেত্রে কথা হলো, সে গাতাফানের সাথে মিলিত হয়েছিল এবং এক স্থানে অবতরণ করেছিল, অতঃপর লোকজন চলে যাওয়ার সময় ফাযারা তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলল:

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাসরী: উমাইয়া আমলদারদের মধ্যে অন্যতম প্রধান, হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক তাকে ১০৬ হিজরিতে ইরাকদ্বয়ের গভর্নর নিযুক্ত করেন এবং ১২০ হিজরিতে তাকে পদচ্যুত করেন।

আত-তাবারী ৭/ ৩৭।

(২) আল-আওয়াতীক: আতিকা-এর বহুবচন, যার অর্থ সুগন্ধি মাখা নারী। আওয়াতীক হলো নবীজির দাদী-নানীগণ, যাদের প্রত্যেকের নাম ছিল আতিকা।

দেখুন: ইবনে হাবিব রচিত আল-মুহাব্বার, পৃষ্ঠা ৪৭।

(৩) টীকায় রয়েছে: আল-বারিদাহ বিনতে আওফ ইবনে গানাম ইবনে আব্দুল্লাহ।

(৪) আত-তাবারীতে ২/ ২৬১: আল-বারিদাহ বিনতে আওফ ইবনে গানাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে গাতাফান।

(৫) তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা তাদের মা আইজাহ বিনতে আল-খুমাস ইবনে কুহাফা আল-খাশআমীর পরিচয়ে পরিচিত।

আল-ইশতিকাক পৃষ্ঠা ১০৭।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ২৪)
عرّج عليّ ابن لؤيّ جملك … تركك القوم ولا منزل لك(1)

فولد عوف: مرّة؛ فهم في غطفان؛ يقولون: مرّة بن عوف بن سعد بن ذبيان بن بغيض، ومنهم: الحارث بن ظالم(2) وقد جعل ينتسب في شعره الى قريش فقال:

رفعت الرّمح إذ قالوا قريش(3) … وشبّهت الشّمائل(4) والقبابا

فما قومي بثعلبة بن سعد … ولا بفزارة الشّعر الرّقابا

وكان عمر بن الخطّاب يقول: «لو ادّعيت حيّا من أحياء العرب لادّعيتهم».

وأما الحارث بن لؤيّ، وكانوا في بني هزّان من عنزة فقال جرير الخطفيّ ينسبهم الى قريش:

بني جشم لستم لهزّان فانتموا … لفرع الرّوابي من لؤيّ بن غالب

ولا تنكحوا في آل ضور بناتكم … ولا في شكيس بئس حيّ الغرائب

 

ضور، وشكس من عنزة، وإنما قال شكيس للشّعر، وكانت عائذة، وبنانة في شيبان.

--------------------------------------------

(1) في أنساب الأشراف 1/ 42: خلّفك القوم؛ وفي الطبري 2/ 261؛ يتركك القوم.

(2) الحارث بن ظالم: ويكنى أبا الأعور، صحابي شهد بدرا، مختلف في اسمه.

انظر: ابن سعد: الطبقات 3/ 70؛ ابن الأثير:

أسد الغابة 1/ 336.

(3) في المقتضب ص 19: قريشا.

(4) في الأصل: السمائل بالسين المهملة، والتصحيح عن المقتضب ص 19، والمحبر ص 169؛ وأنساب الأشراف 1/ 42.
লুইয়ের পুত্র, আমার দিকে তোমার উটটিকে ঘুরিয়ে দাও … সম্প্রদায় তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে আর তোমার কোনো আশ্রয়স্থল নেই(১)

অতঃপর আওফ জন্ম দিয়েছেন: মুররাহকে; তারা গাতফান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত; তারা বলে: মুররাহ বিন আওফ বিন সাদ বিন জুবইয়ান বিন বাগিজ। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: আল-হারিস বিন জালিম(২)। তিনি তাঁর কবিতায় নিজের বংশকে কুরাইশের দিকে সম্পৃক্ত করতেন, তিনি বলতেন:

আমি বল্লম উঠিয়েছিলাম যখন তারা বলেছিল কুরাইশ(৩) … আর স্বভাব-চরিত্র(৪) ও গম্বুজসমূহের সাথে সাদৃশ্য দেয়া হয়েছিল

আমার গোত্র সা’লাবা বিন সাদ নয় … আর ঘাড়ের লম্বা পশমবিশিষ্ট ফাযারা গোত্রও নয়

আর উমর ইবনুল খাত্তাব বলতেন: "আমি যদি আরবদের কোনো গোত্রের সাথে বংশীয় দাবি করতাম, তবে তাদের সাথেই করতাম।"

আর হারিস বিন লুই-এর কথা, তারা আনযা গোত্রের বনু হাযযানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। জারীর আল-খাতাফী তাদের কুরাইশ বংশের দিকে সম্পৃক্ত করে বলেছেন:

হে বনু জুশাম, তোমরা হাযযানের নও, বরং তোমরা লুই বিন গালিবের উচ্চতর শাখার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করো

আর তোমরা সূর বংশে তোমাদের কন্যাদের বিয়ে দিও না … আর শুকাইস বংশেও নয়, বহিরাগতদের জন্য তা কতই না নিকৃষ্ট বসতি

 

সূর এবং শুকস আনযা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, মূলত কাব্যের ছন্দের প্রয়োজনে তিনি শুকাইস বলেছিলেন। আর আয়িযাহ ও বানানা ছিল শাইবান গোত্রে।

--------------------------------------------

(১) আনসাবুল আশরাফ ১/ ৪২ এ আছে: সম্প্রদায় তোমাকে পিছনে ফেলে গেছে; এবং তাবারী ২/ ২৬১ তে আছে: সম্প্রদায় তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছে।

(২) আল-হারিস বিন জালিম: তাকে আবু আল-আওয়ার উপনামে ডাকা হয়, তিনি একজন সাহাবী যিনি বদরে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাঁর নাম নিয়ে মতভেদ আছে।

দেখুন: ইবনে সাদ: আত-তবাকাত ৩/ ৭০; ইবনুল আসীর:

আসাদুল গাবাহ ১/ ৩৩৬।

(৩) আল-মুকতাদাব ১৯ পৃষ্ঠায় আছে: কুরাইশ (মানসুব)।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে: 'আস-সামাইল' (السمائل) সীন বর্ণ দিয়ে ছিল, সংশোধন করা হয়েছে আল-মুকতাদাব ১৯ পৃষ্ঠা, আল-মুহাব্বার ১৬৯ পৃষ্ঠা এবং আনসাবুল আশরাফ ১/ ৪২ থেকে।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ২৫)
وولد كعب بن لؤيّ: مرّة، وهصيصا وأمّهما مخشيّة(1) بنت شيبان بن محارب بن فهر؛ وعديّ(2) بن كعب، بطن وأمّه رقاش بنت ركبة بن بلبلة بن كعب بن حرب، بن تيم بن سعد بن فهم(3) بن عمرو ابن قيس بن عيلان.

فولد مرّة بن كعب: كلابا، وأمّه هند بنت سرير بن ثعلبة بن الحارث بن مالك بن كنانة؛ وتيم بن مرّة(4)، بطن، ويقظة، وأمّهما أسماء بنت سعد بن عديّ بن حارثة بن بارق من الأزد.

فولد كلاب بن مرّة: قصيّا، واسمه زيد، وهو مجمّع، وزهرة، ونعم؛ وأمّهم فاطمة بنت سعد بن سيل، وهو خير بن حمالة(5) بن عوف من الأزد(6)، وأمّ فاطمة طريفة(7) بنت قيس بن ذي الرّأسين، من فهم بن عمرو، وكان يقال لقريش بنو النّضر فلمّا جمعهم قصيّ كان يدعى مجمّعا، وذلك قول حذافة بن غانم لأبي لهب:

أبوكم قصيّ كان يدعى مجمّعا … به جمع الله القبائل من فهر(8)

--------------------------------------------

(1) في المعارف ص 130: وحشية؛ وكذلك في الطبري 2/ 261.

(2) في هامش الأصل: عدي، من ولده عمر بن الخطّاب، رضي الله عنه، يجتمع مع النبيّ، صلى الله عليه وسلم.

(3) في الأصل: فهر، وفي الهامش: فهم صوابه.

(4) في هامش الأصل: هذا تيم بن مرة الذي ينتسب إليه أبو بكر الصديق، رضي الله عنه، ينتهي مع النبيّ، صلى الله عليه وسلم في مرّة.

(5) انظر أنساب الأشراف 1/ 47؛ الطبقات لابن سعد 1/ 66.

(6) في المحبر ص 52: من الجددة من أزد شنوءة؛ وانظر المنمق لابن حبيب ص 15.

(7) في الاشتقاق ص 40: سودة.

(8) المنمق ص 13؛ وفي نسب قريش للزبيري ص 375.

أبو عتبة الملقي إليّ حباءة … أغرّ هجان اللّون من نفر زهر

أبوهم قصيّ كان يدعى مجمّعا … به جمع الله القبائل من فهر

-
কাব ইবনে লুয়াই-এর সন্তানরা হলেন: মুররাহ এবং হুসাইস, তাদের মাতা হলেন মাখশিয়া(১) বিনতে শায়বান ইবনে মুহারিব ইবনে ফিহর; এবং আদী(২) ইবনে কাব, তিনি একটি উপগোত্র (বাতন) এবং তার মাতা হলেন রাকাশ বিনতে রুকবা ইবনে বুলবুলা ইবনে কাব ইবনে হারব ইবনে তাইম ইবনে সাদ ইবনে ফাহম(৩) ইবনে আমর ইবনে কায়স ইবনে আয়লান।

মুররাহ ইবনে কাব-এর সন্তান হলেন: কিলাব, তার মাতা হলেন হিন্দ বিনতে সারীর ইবনে সা'লাবা ইবনে হারিস ইবনে মালিক ইবনে কিনানা; এবং তাইম ইবনে মুররাহ(৪), যিনি একটি উপগোত্র (বাতন), এবং ইয়াকাজা। তাদের মাতা হলেন আসমা বিনতে সাদ ইবনে আদী ইবনে হারিসা ইবনে বারিক (আজদ গোত্রের)।

কিলাব ইবনে মুররাহ-এর সন্তান হলেন: কুসাই—যার নাম যায়েদ এবং তাকে মুজাম্মি' বলা হতো—আর জুহরাহ এবং নু'আম। তাদের মাতা হলেন ফাতিমা বিনতে সাদ ইবনে সায়ল, যিনি খায়র ইবনে হামালা(৫) ইবনে আউফ (আজদ গোত্রের)(৬)। আর ফাতিমার মাতা হলেন তুরিফা(৭) বিনতে কায়স ইবনে জির রা'সাইন (ফাহম ইবনে আমর বংশের)। কুরাইশদের বনু নযর বলা হতো, কিন্তু যখন কুসাই তাদের একত্রিত করলেন, তখন তাকে মুজাম্মি' (একত্রকারী) বলা হতে থাকে। এটিই হুজাফা ইবনে গানিম আবু লাহাবকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন:

তোমাদের পিতা কুসাইকে মুজাম্মি' ডাকা হতো … তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ ফিহর-এর গোত্রসমূহকে একত্রিত করেছিলেন।(৮)

--------------------------------------------

(১) আল-মাআরিফ পৃষ্ঠা ১৩০-এ আছে: ওয়াহশিয়া; এবং তদ্রূপ আত-তবারী ২/২৬১-এ।

(২) মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায়: আদী, তাঁর বংশধরদের মধ্যে রয়েছেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে (বংশধারায়) মিলিত হন।

(৩) মূলে আছে: ফিহর; পার্শ্বটীকায় আছে: ফাহম সঠিক।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায়: ইনিই সেই তাইম ইবনে মুররাহ যাঁর সাথে আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশ সম্পৃক্ত, যা মুররাহ-তে গিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মিলিত হয়েছে।

(৫) দেখুন আনসাবুল আশরাফ ১/৪৭; আত-তাবাকাত লি-ইবনে সাদ ১/৬৬।

(৬) আল-মুহাব্বার পৃষ্ঠা ৫২-এ আছে: আজদ শানুয়াহ-র জুদাদাহ শাখা থেকে; দেখুন আল-মুনাম্মাক লি-ইবনে হাবিব পৃষ্ঠা ১৫।

(৭) আল-ইশতিকাক পৃষ্ঠা ৪০-এ আছে: সাওদা।

(৮) আল-মুনাম্মাক পৃষ্ঠা ১৩; এবং নাসাব কুরাইশ লি-যুবায়রী পৃষ্ঠা ৩৭৫।

আবু উতবা যিনি আমাকে অনুগ্রহ দান করেছেন … উজ্জ্বল ও শুভ্র বর্ণের সেই ব্যক্তি জুহরাহ দলের অন্তর্ভুক্ত।

তোমাদের পিতা কুসাইকে মুজাম্মি' ডাকা হতো … তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ ফিহর-এর গোত্রসমূহকে একত্রিত করেছিলেন।

-
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ২৬)
فولد قصيّ بن كلاب: عبد مناف، وهو المغيرة، وعبد الله، وهو عبد الدار، وعبد العزّى، وعبدا، وبرّة، امرأة، وتخمر، وأمّهم حبّي بنت حليل بن حبشيّة(1) بن سلول بن كعب بن عمرو من خزاعة.

فولد عبد مناف بن قصيّ: هاشما، وهو عمرو، وسمّي هاشما لأنّه هشم الثّريد، وله يقول الشاعر(2):

عمرو العلى هشم الثّريد لقومه … ورجال مكّة مسنتون عجاف

والمطّلب، وعبد شمس، وتماضر، وقلابة، وأمّهم عاتكة بنت مرّة(3) بن هلال بن فالج بن ذكوان بن ثعلبة بن الحارث بن بهثه بن سليم بن منصور بن عكرمة بن خصفة بن قيس بن عيلان بن مضر، وهي أوّل العواتك اللّائي ولدن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأمّها ماوية بنت حوزة بنعمرو بن مرّة بن صعصعة؛ ونوفل بن عبد مناف، وأبا عمرو بن ابن عبد مناف، واسمه عبيد، درج، وأميمة، وأمّهم واقدة بنت أبي عديّ بن عبد نهم، من بني مازن بن صعصعة، وريطة بنت عبد مناف، ولدت في بني هلال بن معيط من كنانة، وأمّها من ثقيف.

--------------------------------------------

- أخارج إمّا إن هلكت فلا تزل … لهم شاكرا حتّى تغيّب في القبر

(1) في الاشتقاق ص 37: حبشيّة، وكذلك في الطبري 2/ 254.

(2) في المنمق لابن حبيب ص 12: هو مطرود بن كعب الخزاعيّ؛ وانظر الاشتقاق ص 13.

وفي أمالي المرتضى 2/ 268.

والمطعمون إذا الرّياح تناوحت … ورجال مكّة مسنتون عجاف

وفي رواية أخرى أنها لابن الزّبعري. أمالي المرتضى 2/ 269.

(3) في الاشتقاق ص 37: عاتكة بنت مرّ؛ وانظر المحبر ص 48.
কুসাই ইবনে কিলাবের সন্তানগণ হলেন: আবদে মানাফ, যিনি আল-মুগীরা; এবং আবদুল্লাহ, যিনি আবদুদ দার; এবং আবদিল উজ্জা, আবদ, এবং বাররাহ নামক এক কন্যা ও তাখমুর। তাদের মা হলেন খুজাআ গোত্রের হুলাইল ইবনে হাবাশিয়া ইবনে সুলুল ইবনে কাব ইবনে আমরের কন্যা হুব্বি।(১)

কুসাইয়ের পুত্র আবদে মানাফের সন্তানগণ হলেন: হাশিম, যার নাম আমর। তাকে হাশিম বলা হতো কারণ তিনি সরিদ (মাংস ও রুটির ঝোল) চূর্ণ করতেন। তার সম্পর্কে কবি বলেছেন(২):

উচ্চমর্যাদাবান আমর তার কওমের জন্য সরিদ চূর্ণ করেছেন … যখন মক্কার লোকেরা ছিল দুর্ভিক্ষপীড়িত ও কৃশকায়।

আরও সন্তান হলেন মুত্তালিব, আবদে শামস, তমাযুর ও কিলাবাহ। তাদের মা ছিলেন আতিকা বিনতে মুররা(৩) ইবনে হিলাল ইবনে ফালিজ ইবনে যাকওয়ান ইবনে সা'লাবা ইবনে হারিস ইবনে বাহসা ইবনে সুলাইম ইবনে মানসুর ইবনে ইকরিমা ইবনে খাসাফা ইবনে কায়স ইবনে আয়লান ইবনে মুদার। তিনি হলেন সেই আতিকাদের মধ্যে প্রথম জন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জন্ম দিয়েছেন (তাঁর পূর্বসূরি ছিলেন)। তাঁর মা ছিলেন মাওয়িয়া বিনতে হাওযা ইবনে আমর ইবনে মুররা ইবনে সা'সাআ। এবং নওফেল ইবনে আবদে মানাফ এবং আবু আমর ইবনে আবদে মানাফ, যার নাম ছিল উবায়েদ এবং তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন; এবং উমাইমা। তাদের মা হলেন বনী মাজিন বিন সা'সাআর ওয়াকিদা বিনতে আবি আদি ইবনে আবদে নাহম। এবং রাইতা বিনতে আবদে মানাফ, তিনি কিনানা গোত্রের বনী হিলাল ইবনে মুয়াইতের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার মা ছিলেন সাকিফ গোত্রের।

--------------------------------------------

- হে খারেজ! আমি যদি মারা যাই, তবুও তুমি কবরে বিলীন হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা থেকে বিরত হয়ো না।

(১) আল-ইশতিকাক, পৃষ্ঠা ৩৭: হাবাশিয়া; তদ্রূপ আত-তাবারী ২/২৫৪।

(২) ইবনে হাবীবের আল-মুনাম্মাক পৃষ্ঠা ১২-তে বলা হয়েছে: তিনি হলেন মাত্রুদ ইবনে কাব আল-খুজায়ি; আরও দেখুন আল-ইশতিকাক পৃষ্ঠা ১৩।

এবং আমালি আল-মুরতাদা ২/২৬৮ তে রয়েছে:

তারা আহার দানকারী যখন ঝোড়ো বাতাস বইত … আর মক্কার লোকেরা ছিল দুর্ভিক্ষপীড়িত ও কৃশকায়।

অন্য এক বর্ণনামতে এটি ইবনুয যিবা'রা এর কবিতা। আমালি আল-মুরতাদা ২/২৬৯।

(৩) আল-ইশতিকাক পৃষ্ঠা ৩৭: আতিকা বিনতে মুর; এবং দেখুন আল-মুহাব্বার পৃষ্ঠা ৪৮।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ২৭)
فولد هاشم بن عبد مناف: عبد المطّلب، وهو شيبة الحمد، وكان سيّد قريش حتى هلك، وأمّه سلمى بنت عمرو بن زيد بن لبيد بن خداش بن عامر بن غنم بن عديّ بن النجّار، وهو تيم الله ابن ثعلبة بن عمرو بن الخزرج؛ وأخواه لأمّه: عمرو، ومعبدا، أبنا أحيحة بن الجلاح.

قال هشام وحدّثني أبو مسكين قال: قالت أمّ عبد المطّلب حين أقبل عمّه فحمله من المدينة الى مكّة.

كنا ذويب ثمّة ورمّه … حتّى إذا قام على أتمّه

انتزعوه عنوة من أمّه … وغلب الأخوال حقّ عمه(1)

ونضلة بن هاشم، والشّفاء، وأمّهما بنت عديّ بن عبد الله من قضاعة(2)، من بني سلامان؛ وأخواهما لأمّهما: نفيل بن عبد العزّى بن رياح بن عبد الله بن قرط بن رزاح(3) بن عديّ بن كعب، وعمرو بن ربيعة بن حبيب بن جذيمة بن مالك بن حسل بن عامر بن لؤيّ(4)؛ وأسد بن هاشم، وأمّه قيلة، وهي الحرور بنت عامر بن مالك بن جذيمة، وهو المصطلق من خزاعة، وأبا صيفيّ بن هاشم، واسمه عمرو، وصيفيّا؛ وأمّهما هند بنت عمرو بن ثعلبة من بني عوف بن

--------------------------------------------

(1) في أنساب الأشراف 1/ 65.

كنا ولاة حمه ورمّه … حتى إذا قام على أتمّه

انتزعوه غيلة من أمّه … وغلب الأخوال حقّ عمّه

(2) في الطبقات لابن سعد 1/ 80: ونضلة بن هاشم، والشفاء ورقية، وأمهم أميمة بنت عدي.

(3) في الاشتقاق ص 50: رزاح، وكذلك في نسب قريش ص 430.

(4) وفي نسب قريش ص 430: وولد جذيمة بن مالك بن حسل بن عامر بن لؤيّ: حبيّبا، يقال له شحام.
হাশিম বিন আব্দ মানাফের সন্তানরা হলেন: আব্দুল মুত্তালিব, যিনি শায়বাতুল হামদ নামে পরিচিত। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কুরাইশদের নেতা ছিলেন। তার মা ছিলেন সালমা বিনতে আমর বিন যায়েদ বিন লাবীদ বিন খিদাস বিন আমির বিন গানাম বিন আদি বিন আন-নাজ্জার, আর তিনি (নাজ্জার) হলেন তাইমুল্লাহ ইবনে সা'লাবা বিন আমর বিন আল-খাযরাজ। এবং তার মাতৃকুলের দুই ভাই হলেন: আমর এবং মা'বাদ, যারা উহায়হা বিন আল-জুলাহ-এর পুত্র।

হিশাম বলেন, আবু মিসকিন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মুত্তালিবের মা এই কবিতাটি বলেছিলেন যখন তার চাচা আসলেন এবং তাকে মদিনা থেকে মক্কায় নিয়ে গেলেন:

আমরা তার শৈশবে তার পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্নে ছিলাম … যতক্ষণ না সে পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করল

তারা তাকে তার মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিল … এবং মামারা চাচার হকের ওপর বিজয়ী হলো(১)

এবং নাদলা বিন হাশিম ও আশ-শিফা; তাদের মা ছিলেন কুদাআহ গোত্রের বনু সালামানের আদি বিন আব্দুল্লাহর কন্যা(২); আর তাদের মাতৃকুলের দুই ভাই হলেন: নুফাইল বিন আব্দুল উযযা বিন রিয়াহ বিন আব্দুল্লাহ বিন কুরত বিন রিযাহ(৩) বিন আদি বিন কাব, এবং আমর বিন রাবিয়া বিন হাবিব বিন জাযিমা বিন মালিক বিন হুসল বিন আমির বিন লুআই(৪); এবং আসাদ বিন হাশিম, তার মা কাইলা—যিনি আল-হারুর বিনতে আমির বিন মালিক বিন জাযিমা এবং তিনি খুযাআহ গোত্রের আল-মুস্তালিকের অন্তর্ভুক্ত—এবং আবু সাইফি বিন হাশিম, যার নাম ছিল আমর, ও সাইফি; তাদের মা ছিলেন বনু আউফ বিন...-এর হিন্দ বিনতে আমর বিন সা'লাবা।

--------------------------------------------

(১) আনসাবুল আশরাফ ১/৬৫-এ।

আমরা তার অভিভাবক হিসেবে তার পূর্ণ দেখাশোনা ও যত্নে ছিলাম … যতক্ষণ না সে পূর্ণতায় উপনীত হলো

তারা তাকে তার মায়ের কাছ থেকে গোপনে ছিনিয়ে নিল … এবং মামারা চাচার হকের ওপর বিজয়ী হলো

(২) ইবনে সা’দের আত-তাবাকাত ১/৮০-তে: নাদলা বিন হাশিম, আশ-শিফা এবং রুকাইয়া; তাদের মা ছিলেন উমাইমা বিনতে আদি।

(৩) আল-ইশতিকাক পৃষ্ঠা ৫০-এ: রিযাহ, এবং একইভাবে নাসাবু কুরাইশ পৃষ্ঠা ৪৩০-এ।

(৪) এবং নাসাবু কুরাইশ পৃষ্ঠা ৪৩০-এ: জাযিমা বিন মালিক বিন হুসল বিন আমির বিন লুআই-এর সন্তান: হাবিব, তাকে শাহহাম বলা হতো।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ২৮)
الخزرج، وأخوهما لأمّهما: مخرمة بن المطّلب بن عبد مناف ابن قصيّ.

فولد عبد المطّلب بن هاشم: عبد الله، وعبد مناف، وهو أبو طالب، والزّبير، كان شريفا شاعرا، وعبد الكعبة؛ وأمّهم فاطمة بنت عمرو بن عائذ بن عمران بن مخزوم؛ وأمّها صخرة بنت عبد بن عمران بن مخزوم؛ وأمّ صخرة تخمر بنت عبد بن قصيّ بن كلاب؛ والعبّاس، وضرارا؛ وأمّهما نتيلة، وهي أمّ سليمان، بنت جناب بن كليب بن مالك بن عمرو بن عامر، وهو الضّحيان بن سعد بن الخزرج ابن تيم الله بن النّمر بن قاسط بن هنب(1)، وإنّما سمّي الضّحيان لأنّه كان يحكم بينهم، يجلس لهم وقت الضّحى؛ وأمّ نتيلة(2) أمّ حجر بنت الأزبّ بن الحارث بن بكيل من همدان؛ وحمزة، أسد الله وأسد رسوله، استشهد يوم أحد، والمقوّم، وحجلا، واسمه المغيرة، والعوّام؛ وأمّهم هالة بنت أهيب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب، وأبا لهب، واسمه عبد العزّى، وكان جوادا، وكنّاه عبد المطّلب أبا لهب لحسن وجهه؛ وأمّه لبنى بنت هاجر بن عبد مناف بن ضاطر بن حبشيّة منخزاعة، والحارث بن عبد المطّلب، وكان أكبر ولده، وبه كان يكنّى؛ وقثم درج صغيرا، وأمّهما صفيّة أو أسماء بنت جنيدب بن جحير بن حبيب بن سواءة بن عامر بن صعصعة(3). النّوفليون يقولون: صفيّة؛ وأخو الحارث لأمّه الأسود بن حذيفة بن أقيش بن

--------------------------------------------

(1) في أنساب الأشراف 1/ 88: نتيلة بنت جناب بن كليب بن مالك بن عامر بن زيد مناة بن عامر الضحيان؛ وفي جمهرة أنساب العرب ص 15؛ نتيلة بنت جناب بن كليب بن مالك ابن عمرو بن عامر بن النمر بن قاسط.

(2) في أنساب الأشراف 1/ 88: وأمّ نتيلة سعدى بنت الحارث بن زيد.

(3) في أنساب الأشراف 1/ 90: صفيّة بنت جنيدب بن حجير بن رئاب بن حبيب بن سواءة.
খাযরাজ এবং তাঁদের বৈমাত্রেয় ভাই হলেন: মাখরামা ইবনে আল-মুত্তালিব ইবনে আবদ মানাফ ইবনে কুসাই।

আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিমের সন্তানগণ হলেন: আবদুল্লাহ, আবদ মানাফ—যিনি আবু তালিব, যুবায়ের—যিনি একজন মর্যাদাবান কবি ছিলেন, এবং আবদ আল-কাবা; তাঁদের মাতা ফাতিমা বিনতে আমর ইবনে আইজ ইবনে ইমরান ইবনে মাখজুম; এবং তাঁর মাতা সাখরা বিনতে আবদ ইবনে ইমরান ইবনে মাখজুম; আর সাখরার মাতা তাখমুর বিনতে আবদ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব; এবং আব্বাস ও দিরার; তাঁদের মাতা নুতাইলা—যিনি উম্মে সুলাইমান নামে পরিচিত—তিনি জুনাব ইবনে কুলাইব ইবনে মালিক ইবনে আমর ইবনে আমির-এর কন্যা, আর এই আমিরই হলেন আদ-দাহইয়ান ইবনে সাদ ইবনে খাযরাজ ইবনে তাইমুল্লাহ ইবনে আন-নামির ইবনে কাসিত ইবনে হিনব(১)। তাঁকে আদ-দাহইয়ান বলা হতো কারণ তিনি তাঁদের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন এবং চাশতের (দোহা) সময় তাঁদের জন্য বসতেন; আর নুতাইলার মাতা উম্মে হুজর বিনতে আল-আযাব ইবনে আল-হারিস ইবনে বাকিল, যিনি হামদান গোত্রের ছিলেন; এবং হামজা—যিনি আল্লাহর সিংহ ও তাঁর রাসূলের সিংহ এবং উহুদের যুদ্ধের দিন শহীদ হন, আল-মুকাব্বিম, হাজল—যার নাম ছিল আল-মুগীরা, এবং আল-আওয়াম; তাঁদের মাতা হালা বিনতে উহাইব ইবনে আবদ মানাফ ইবনে যুহরা ইবনে কিলাব; এবং আবু লাহাব—যার নাম ছিল আবদ আল-উযযা, তিনি দানশীল ছিলেন এবং চেহারার সৌন্দর্যের কারণে আবদুল মুত্তালিব তাঁকে ‘আবু লাহাব’ উপনাম দিয়েছিলেন; তাঁর মাতা লুবনা বিনতে হাজার ইবনে আবদ মানাফ ইবনে দাতীর ইবনে হাবশিয়া, যিনি খুযাআ গোত্রের; এবং আল-হারিস ইবনে আবদুল মুত্তালিব—তিনি ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং তাঁর নামানুসারেই তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) রাখা হয়েছিল; আর কুসাম—যিনি শৈশবেই মারা যান; তাঁদের মাতা সাফিয়্যাহ অথবা আসমা বিনতে জুনাইদীব ইবনে জুহাইর ইবনে হাবিব ইবনে সাওয়াআ ইবনে আমির ইবনে সা’সা’আ(৩)। নাওফালী বংশীয়রা বলেন: সাফিয়্যাহ; এবং আল-হারিসের বৈমাত্রেয় ভাই আল-আসওয়াদ ইবনে হুযাইফা ইবনে আকীশ ইবনে

--------------------------------------------

(১) আনসাব আল-আশরাফ ১/৮৮-এ রয়েছে: নুতাইলা বিনতে জুনাব ইবনে কুলাইব ইবনে মালিক ইবনে আমির ইবনে যাইদ মানাত ইবনে আমির আদ-দাহইয়ান; এবং জামহারাত আনসাব আল-আরাব পৃষ্ঠা ১৫-তে রয়েছে: নুতাইলা বিনতে জুনাব ইবনে কুলাইব ইবনে মালিক ইবনে আমর ইবনে আমির ইবনে আন-নামির ইবনে কাসিত।

(২) আনসাব আল-আশরাফ ১/৮৮-এ রয়েছে: এবং নুতাইলার মাতা হলেন সু’দা বিনতে আল-হারিস ইবনে যাইদ।

(৩) আনসাব আল-আশরাফ ১/৯০-এ রয়েছে: সাফিয়্যাহ বিনতে জুনাইদীব ইবনে হুজাইর ইবনে রিয়াব ইবনে হাবিব ইবনে সাওয়াআ।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ২৯)
عامر بن بياضة بن سبيع بن جعثمة، قال الكلبيّ: جهيمة بن سعد بن مليح الخزاعي، وهو جدّ كثيّر عزّة؛ والغيداق(1)، واسمه نوفل؛ وأمّه ممنّعة بنت عمرو بن مالك بن مؤمّل بن سويد بن أسعد بن مشنوء بن عبد بن حبتر من خزاعة؛ وأخوه لأمّه عوف بن عبد عوف بن عبد بن الحارث بن زهرة، أبو عبد الرحمن بن عوف.

فولد عبد الله بن عبد المطّلب: سيّد ولد آدم محمّدا صلى الله عليه وسلم، وأمّه آمنة بنت وهب بن عبد مناف، بن زهرة بن كلاب، وأمّها: برّة بنت عبد العزّى بن عثمان بن عبد الدّار، وأمّها: أمّ حبيب بنت أسد بن عبد العزّى، وأمّها برّة بنت عوف بن عبيد بن عويج(2) بن عديّ بن كعب، وأمّها قلابة بنت الحارث من هذيل بن مدركة، وأمّها آمنة بنت غنم بن مالك من بني لحيان من هذيل.

وأمّ أبي النّبيّ صلى الله عليه وسلم: فاطمة بنت عمرو بن عائذ ابن عمران بن مخزوم، وأمّها تخمر بنت عبد بن قصيّ بن كلاب، وأمّها سلمى بنت عامر بن عميرة بن وديعة بن الحارث من فهر؛ وأمّ وهب جدّ النّبيّ صلى الله عليه وسلم: قيلة بنت أبي قيلة، وهو وجز بن غالب بن الحارث بن عمرو بن لؤيّ بن ملكان بن أفصى ابن حارثة من خزاعة(3)؛ تقول خزاعة: أبو قيلة هو أبو كبشة؛ وقال

--------------------------------------------

(1) في نسب قريش ص 18: الغيداق، واسمه مصعب.

(2) في نسب قريش ص 21: عويج.

(3) في الطبقات لابن سعد 1/ 60: وأمّ وهب بن عبد مناف بن زهرة جد رسول الله، صلى الله عليه وسلم: قيلة، ويقال: هند بنت أبي قيلة، وهو وجز بن غالب بن الحارث بن عمرو بن ملكان بن افصى بن حارثة، من خزاعة؛ وفي أنساب الأشراف 1/ 91: أمّ وهب هند بنت أبي قيلة، وهو وجز بن غالب من خزاعة.
আমির বিন বায়াদা বিন সুবাই বিন জা'সামাহ, আল-কালবি বলেন: জুহাইমা বিন সাদ বিন মালিহ আল-খুযায়ি, এবং তিনি হলেন কুসাইয়্যির আযযার দাদা; এবং আল-গাইদাক(১), আর তার নাম নওফাল; তার মা মুমাননাআ বিনতে আমর বিন মালিক বিন মুআম্মিল বিন সুওয়াইদ বিন আসআদ বিন মাশনু বিন আবদ বিন হিবতার খুযাআ গোত্রের; এবং তার বৈমাত্রেয় ভাই আওফ বিন আবদ আওফ বিন আবদ বিন আল-হারিস বিন যুহরাহ, যিনি আবু আবদুর রহমান বিন আওফ।

অতঃপর আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিবের ঔরসে আদম সন্তানদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেন, তার মা আমিনা বিনতে ওয়াহাব বিন আবদ মানাফ বিন যুহরাহ বিন কিলাব, এবং তার (আমিনার) মা: বাররা বিনতে আবদ আল-উযযা বিন উসমান বিন আবদ আদ-দার, এবং তার (বাররার) মা: উম্মু হাবিব বিনতে আসাদ বিন আবদ আল-উযযা, এবং তার (উম্মু হাবিবের) মা বাররা বিনতে আওফ বিন উবাইদ বিন উইজ(২) বিন আদি বিন কাব, এবং তার (বাররার) মা কিলাবাহ বিনতে আল-হারিস হুযাইল বিন মুদরিকাহ গোত্রের, এবং তার (কিলাবার) মা আমিনা বিনতে গানাম বিন মালিক হুযাইলের বনু লিহয়ান শাখা থেকে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিতার মা: ফাতিমা বিনতে আমর বিন আইয ইবনে ইমরান বিন মাখযুম, এবং তার মা তাখমুর বিনতে আবদ বিন কুসাই বিন কিলাব, এবং তার মা সালমা বিনতে আমির বিন উমাইরা বিন ওয়াদিয়া বিন আল-হারিস ফিহর গোত্রের; এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নানা ওয়াহাবের মা: কায়লা বিনতে আবি কায়লা, আর তিনি হলেন খুযাআ গোত্রের ওয়াজায বিন গালিব বিন আল-হারিস বিন আমর বিন লুয়াই বিন মালকান বিন আফসা ইবনে হারিসা(৩); খুযাআ গোত্র বলে: আবু কায়লা হলেন আবু কাবশাহ; এবং তিনি বলেন

--------------------------------------------

(১) নাসাব কুরাইশ, পৃষ্ঠা ১৮-এ রয়েছে: আল-গাইদাক, এবং তার নাম মুসআব।

(২) নাসাব কুরাইশ, পৃষ্ঠা ২১-এ রয়েছে: উইজ।

(৩) ইবনে সা’দের আত-তাবাকাত ১/৬০-এ রয়েছে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নানা ওয়াহাব বিন আবদ মানাফ বিন যুহরার মা হলেন: কায়লা, এবং বলা হয়: হিন্দ বিনতে আবি কায়লা, তিনি হলেন খুযাআ গোত্রের ওয়াজায বিন গালিব বিন আল-হারিস বিন আমর বিন মালকান বিন আফসা বিন হারিসা; এবং আনসাবুল আশরাফ ১/৯১-এ রয়েছে: ওয়াহাবের মা হিন্দ বিনতে আবি কায়লা, তিনি হলেন খুযাআ গোত্রের ওয়াজায বিন গালিব।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৩০)
هشام: قال أبي: هو عمرو بن زيد بن لبيد بن خداش جدّ عبد المطّلب الأنصاريّ.

فولد النّبيّ صلى الله عليه وسلم: القاسم، وعبد الله وهو الطيّب، وهو الطّاهر، اسم واحد، لأنّه ولد بعد ما أحي [إليه](1) صلى الله عليه وسلم؛ وكلّ ولده ولد قبل الوحي غير عبد الله، وفاطمة، وزينب، وأمّ كلثوم، ورقيّة؛ وأمّهم خديجة بنت خويلد بن أسد بن عبد العزّى بن قصيّ؛ وأمّ خديجة: فاطمة بنت زائدة بن الأصمّ من بني معيص بن عامر بن لؤيّ؛ وابراهيم وأمّه مارية(2) القبطيّة.

وولد أبو طالب بن عبد المطّلب: طالبا(3)، لا عقب له، وجعفرا، ذا الجناحين، قتل يوم مؤتة(4)، وعقيلا، وعليّا، عليهم السلام؛ وأمّهم فاطمة بنت أسد بن هاشم بن عبد مناف، كان بين طالب وعقيل عشر سنين؛ وبين عقيل وجعفر عشر سنين؛ وبين جعفر وعليّ عشر سنين.

فولد عليّ، عليه السلام: الحسن، والحسين عليهما السلام وأمّهما فاطمة صلوات الله عليها، بنت رسول الله صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم، سيّدة النّساء، ومحمّدا، وأمّه الحنفيّة، واسمها

--------------------------------------------

(1) في الأصل: ساقطة، وما أثبتناه يدل عليه السياق.

(2) في نسب قريش 21: مارية بنت شمعون بن إبراهيم وهي القبطية.

(3) قال الطبري 2/ 439: وأما ابن الكلبي فإنه قال فيما حدّثت عنه: شخص طالب بن أبي طالب إلى بدر مع المشركين، أخرج كرها فلم يوجد في الأسرى ولا في القتلى، ولم يرجع إلى أهله.

وفي رواية محمد بن إسحاق «رجع طالب إلى مكة فيمن رجع»

الطبري 2/ 439.

(4) مؤتة: موضع من أرض الشام من عمل البلقاء 4/ 1172.
হিশাম: আমার পিতা বলেছেন: তিনি হলেন আমর ইবনে যাইদ ইবনে লাবিদ ইবনে খাদাশ, যিনি আব্দুল মুত্তালিব আল-আনসারীর দাদা।

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তানরা হলেন: কাসিম এবং আব্দুল্লাহ; আর এই আব্দুল্লাহই হলেন আত-তয়্যিব এবং আত-তহির। এটি মূলত একই ব্যক্তির নাম, কারণ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ওহী আসার পর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সকল সন্তানই ওহী নাযিল হওয়ার পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কেবল আব্দুল্লাহ, ফাতিমা, যাইনাব, উম্মে কুলসুম এবং রুকাইয়া ব্যতীত। তাঁদের মাতা হলেন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দিল উযযা ইবনে কুসাই। খাদিজার মাতা হলেন ফাতিমা বিনতে যাইদাহ ইবনুল আসম্ম, যিনি বনু মায়ীস ইবনে আমির ইবনে লুয়াই গোত্রের সদস্য। আর ইব্রাহিম, যার মাতা হলেন মারিয়া(২) আল-কিবতিয়্যাহ।

আবু তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানরা হলেন: তালিব(৩), যাঁর কোনো বংশধর ছিল না; এবং জাফর যুল-জানাহাইন (দুই পাখা বিশিষ্ট), যিনি মুতার যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন(৪); এবং আকিল ও আলী, তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তাঁদের মাতা হলেন ফাতিমা বিনতে আসাদ ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ। তালিব এবং আকিলের মধ্যে বয়সের ব্যবধান ছিল দশ বছর; আকিল এবং জাফরের মধ্যে দশ বছর; এবং জাফর ও আলীর মধ্যে দশ বছর।

অতঃপর আলী আলাইহিস সালামের সন্তানরা হলেন: হাসান এবং হুসাইন আলাইহিমাস সালাম, তাঁদের মাতা হলেন ফাতিমা সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহা, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কন্যা এবং নারীকুলের নেত্রী; এবং মুহাম্মদ, যাঁর মাতা হলেন আল-হানাফিয়্যাহ, তাঁর নাম হলো

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে: এটি বাদ পড়েছে, আমরা যা সাব্যস্ত করেছি তা প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করে।

(২) নাসাব কুরাইশ ২১-এ রয়েছে: মারিয়া বিনতে শামউন ইবনে ইব্রাহিম এবং তিনি কিবতি বংশোদ্ভূত।

(৩) তাবারী ২/৪৩৯-এ বলেছেন: ইবনে কালবী সম্পর্কে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: তালিব ইবনে আবি তালিব মুশরিকদের সাথে বদরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন, তাঁকে জোরপূর্বক বের করা হয়েছিল, এরপর বন্দীদের মধ্যে বা নিহতদের মধ্যে তাঁকে পাওয়া যায়নি এবং তিনি তাঁর পরিবারের কাছেও ফিরে যাননি।

আর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় আছে: "যারা মক্কায় ফিরে গিয়েছিল, তালিবও তাদের সাথে ফিরে গিয়েছিল।"

তাবারী ২/৪৩৯।

(৪) মুতা: সিরিয়ার ভূখণ্ডের বালকা অঞ্চলের অন্তর্গত একটি স্থান ৪/১১৭২।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৩১)
خولة بنت جعفر بن قيس بن مسلمة، من بني حنيفة بن لجيم؛ والعبّاس، وعثمان، وجعفرا، وعبد الله، قتلوا مع الحسين، عليهم السلام؛ وأمّهم أمّ البنين بنت حزام بن خالد بن ربيعة بن الوحيد من بني كلاب، وعبد الله، وأبا بكر درجا؛ وأمّهما: ليلى بنت مسعود بن خالد بن مالك بن ربعيّ النّهشليّ؛ ويحيى، وعونا درجا، وأمّهما:

أسماء بنت عميس الخثعميّ، ومحمّدا لأمّ [ولد](1) قتل مع الحسين عليه السلام؛ وعمر بن عليّ، وأمّه سبيّة من بني تغلب يقال لها:

الصّهباء، سبيت أيام خالد بن الوليد في ولاية أبي بكر بعين التّمر(2).

فهولاء ولد عليّ، والعقب منهم للحسن والحسين ومحمّد بن الحنفيّة وعمر عليهم السلام.

وولد العبّاس بن عبد المطّلب: الفضل، أردفه رسول الله، صلى الله عليه وسلم بمنى، مات بطاعون عمواس(3) زمن عمر، وكان من أجمل النّاس؛ وعبد الله بن عبّاس(4)، دعا له النّبيّ، صلى الله عليه وسلم، فقال: «اللهمّ فقّهه في الدّين، وعلّمه التأويل، واجعله من عبادك الصّالحين». وكان كما ذكر صلى الله عليه وسلم، مات بالطّائف، وصلّى عليه محمّد بن الحنفيّة، وكبّر عليه أربعا، وضرب

--------------------------------------------

(1) في الأصل: ساقطة، والزيادة عن المقتضب ص 22.

(2) عين التمر: بلدة قريبة من الأنبار غربي الكوفة بقربها موضع يقال له شفاثا منها يجلب القسب والتمر إلى سائر البلاد، وهو بها كثير جدا، وهي على طرف البادية.

معجم البلدان 4/ 176.

(3) عمواس: كورة من فلسطين بالقرب من بيت المقدس، ومنها كان ابتداء الطاعون زمن عمر ابن الخطاب.

معجم البلدان 4/ 157.

(4) في المقتضب ص 22: وعبد الله الحبر.
খাওলা বিনতে জাফর ইবনে কায়স ইবনে মাসলামা, বনু হানিফা ইবনে লুজাইম গোত্রের; এবং আব্বাস, উসমান, জাফর এবং আবদুল্লাহ, তাঁরা হুসাইনের সাথে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; তাঁদের মাতা হলেন উম্মুল বানিন বিনতে হিজাম ইবনে খালিদ ইবনে রাবিয়া ইবনে আল-ওয়াহিদ, যিনি বনু কিলাব গোত্রের; এবং আবদুল্লাহ ও আবু বকর, যাঁরা শৈশবে মারা গেছেন; তাঁদের মাতা হলেন: লায়লা বিনতে মাসউদ ইবনে খালিদ ইবনে মালিক ইবনে রাবাঈ আন-নাহশালি; এবং ইয়াহইয়া ও আউন, যাঁরা শৈশবে মারা গেছেন, তাঁদের মাতা হলেন:

আসমা বিনতে উমাইস আল-খাসআমি; এবং মুহাম্মদ, যিনি এক দাসী মাতার [গর্ভজাত](১) সন্তান, তিনি হুসাইনের (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সাথে শহীদ হয়েছেন; এবং উমর ইবনে আলী, যাঁর মাতা ছিলেন বনু তাগলিব গোত্রের একজন যুদ্ধবন্দিনী, তাঁকে বলা হতো:

আস-সাহবা, তাঁকে আবু বকরের শাসনামলে আইন আত-তামর অভিযানে খালিদ ইবনে ওয়ালিদের দিনগুলোতে বন্দি করা হয়েছিল(২)।

এঁরাই হলেন আলীর সন্তানাদি, এবং তাঁদের মধ্যে বংশধারা হাসান, হুসাইন, মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ এবং উমরের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে।

এবং আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের সন্তানগণ: আল-ফাদল, যাঁকে আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক) মিনা প্রান্তরে উটের পেছনে বসিয়েছিলেন, তিনি উমরের শাসনামলে আমওয়াস মহামারীতে(৩) মারা যান, তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অন্যতম সুদর্শন ব্যক্তি; এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(৪), নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন এবং বলেছিলেন: «হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন, তাকে ব্যাখ্যা (তাওয়িল) শিক্ষা দিন এবং তাকে আপনার নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।» নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক) যেমনটি উল্লেখ করেছিলেন তিনি তেমনই ছিলেন। তিনি তায়েফে মারা যান এবং মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান, তিনি তাঁর ওপর চার তাকবীর দেন এবং [সেখানে তাবু] স্থাপন করেন...

--------------------------------------------

(১) মূলে: বাদ পড়েছে, অতিরিক্ত অংশটি আল-মুকতাদাব, পৃষ্ঠা ২২ থেকে নেওয়া হয়েছে।

(২) আইন আত-তামর: কুফার পশ্চিমে আনবারের নিকটবর্তী একটি শহর। এর কাছে শাফাসা নামক একটি স্থান রয়েছে, যেখান থেকে শুকনো খেজুর ও সাধারণ খেজুর অন্যান্য দেশে আমদানি করা হয়। সেখানে এটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং এটি মরুভূমির প্রান্তে অবস্থিত।

মুজামুল বুলদান ৪/১৭৬।

(৩) আমওয়াস: ফিলিস্তিনের একটি জেলা যা বাইতুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী, যেখান থেকে উমর ইবনে খাত্তাবের শাসনামলে মহামারীর সূত্রপাত হয়েছিল।

মুজামুল বুলদান ৪/১৫৭।

(৪) আল-মুকতাদাব, পৃষ্ঠা ২২-এ রয়েছে: এবং আবদুল্লাহ আল-হাবর (পণ্ডিত)।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৩২)
على قبره فسطاطا؛ وعبيد الله بن العبّاس، كان أجود العرب(1)، مات بالمدينة، وقثم، مات بسمرقند(2) زمن معاوية، وكان يشبّه برسول الله صلى الله عليه وسلم، وعبد الرّحمن، قتل بالشّام زمن عمر؛ ومعبدا، قتل بأفريقية زمن عثمان، شهيدا(3)؛ وأمّهم: لبابة بنت الحارث بن حزن بن بجير بن الهزم بن رويبة بن عبد الله بن هلال بن عامر بن صعصعة، وكانت أوّل امرأة أسلمت بمكّة بعد خديجة [وهي أم الفضل](4) كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقيل(5) في بيتها؛ وتمّام بن العبّاس، وكثيرا، وكان فقيها صالحا، وهما لأمّ ولد؛ والحارث بن العبّاس، وأمّه: من هذيل.

فولد عبد الله بن العبّاس: العبّاس، وبه كان يكنّى، لا عقب له، وعليّا، وهو السجّاد(6)، وكان أفضل أهل زمانه، وعبيد الله، والفضل، ومحمّدا، وأمّهم: زرعة بنت مشرح بن معد يكرب بن وليعة بن شرحبيل بن معاوية، من كندة.

--------------------------------------------

(1) وكان يقول لعبيدة: «من أتاني منكم بضيف فهو حر»؛ وكان عامل عليّ على اليمن.

المعارف ص 121.

(2) سمرقند: بفتح أوله وثانيه، بلد معروف بما وراء النّهر، وهو قصبة الصّغد.

معجم البلدان 3/ 246.

(3) في رواية أبي صالح: ما رأينا بني أمّ أبعد قبورا من بني العبّاس لأم الفضل، مات الفضل بالشام، ومات عبد الله بالطائف، ومات عبيد الله بالمدينة، ومات قثم بسمرقند، وقتلمعبد بافريقية.

المعارف ص 122.

(4) في الأصل: ساقطة، والزيادة عن المقتضب ص 22.

(5) يقيل: ينام القيلولة، وهي النوم في الظهيرة، أو نومة نصف النهار.

لسان العرب «قول».

(6) كان من أعبد الناس وأحلمهم وأكثرهم صلاة، كان يصلي كل يوم وليلة ألف ركعة.

المعارف 122.
তার কবরের উপর একটি তাঁবু (স্থাপন করা হয়েছিল); এবং উবায়দুল্লাহ বিন আব্বাস, তিনি ছিলেন আরবদের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল(১), তিনি মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন; এবং কুসাম, তিনি মুয়াবিয়ার যুগে সমরকন্দে(২) মৃত্যুবরণ করেন, তিনি দেখতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সদৃশ ছিলেন; এবং আবদুর রহমান, তিনি উমরের যুগে শামে নিহত হন; এবং মাবাদ, তিনি উসমানের যুগে আফ্রিকায় শহীদ হিসেবে নিহত হন(৩); এবং তাঁদের মাতা: লুবাবা বিনতে হারিস বিন হাযন বিন বুজাইর বিন আল-হাযম বিন রুওয়াইবা বিন আবদুল্লাহ বিন হিলাল বিন আমির বিন সা’সাআ। তিনি ছিলেন খাদিজার পর মক্কায় ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম নারী [তিনি হলেন উম্মুল ফদল](৪); আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে দ্বিপ্রহরের বিশ্রাম (কায়লুলা) নিতেন(৫); এবং তাম্মাম বিন আব্বাস ও কাসির, যিনি একজন সৎ ফকিহ ছিলেন—তাঁরা দুজন ছিলেন এক উম্মে ওয়ালাদ (ক্রীতদাসী মাতা)-এর গর্ভজাত; এবং হারিস বিন আব্বাস, যাঁর মাতা ছিলেন হুযাইল গোত্রের।

অতঃপর আবদুল্লাহ বিন আব্বাসের সন্তানরা হলেন: আব্বাস—যাঁর নামানুসারে তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম রাখা হয়েছিল, তাঁর কোনো বংশধর ছিল না; এবং আলি—যিনি আস-সাজ্জাদ (অধিক সিজদাকারী) হিসেবে পরিচিত ছিলেন(৬) এবং তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি; এবং উবায়দুল্লাহ, ফদল ও মুহাম্মদ। তাঁদের মাতা ছিলেন কিন্দা গোত্রের জুরআ বিনতে মিশরাহ বিন মা’দিকারিব বিন ওয়ালিআ বিন শুরাহবিল বিন মুয়াবিয়া।

--------------------------------------------

(১) তিনি তাঁর দাসদের বলতেন: «তোমাদের মধ্যে যে আমার কাছে কোনো মেহমান নিয়ে আসবে, সে স্বাধীন»; তিনি ইয়েমেনে আলির নিয়োজিত গভর্নর ছিলেন।

আল-মাআরিফ, পৃষ্ঠা ১২১।

(২) সমরকন্দ: প্রথম ও দ্বিতীয় অক্ষরে ফাতহা (যবর) সহকারে; এটি মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলের একটি সুপরিচিত শহর এবং সুগদ অঞ্চলের কেন্দ্র।

মুজামুল বুলদান ৩/২৪৬।

(৩) আবু সালিহের বর্ণনায় এসেছে: উম্মুল ফদলের গর্ভজাত আব্বাসের সন্তানদের চেয়ে অধিক দূরে কবরের ব্যবধান আমরা আর কোনো মায়ের সন্তানদের ক্ষেত্রে দেখিনি। ফদল শামে মৃত্যুবরণ করেন, আবদুল্লাহ তায়েফে, উবায়দুল্লাহ মদিনায়, কুসাম সমরকন্দে এবং মাবাদ আফ্রিকায় নিহত হন।

আল-মাআরিফ, পৃষ্ঠা ১২২।

(৪) মূল পাঠে এটি নেই, আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা ২২) থেকে এটি সংযোজন করা হয়েছে।

(৫) ইয়াকিল (yakil): কায়লুলা করা, আর তা হলো দুপুরে ঘুমানো অথবা দিনের মধ্যভাগে বিশ্রাম নেওয়া।

লিসানুল আরব, ‘কা-ওয়া-লা’ (qawl) অধ্যায়।

(৬) তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী, সর্বাধিক ধৈর্যশীল এবং অধিক সালাত আদায়কারী; তিনি প্রতিদিন ও রাতে এক হাজার রাকাত সালাত আদায় করতেন।

আল-মাআরিফ, ১২২।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فولد محمّد بن عبد الله: العبّاس، وهو المذهب، وكان أحسن النّاس وأسخاهم، وهو الذي مدخه الأخطل(1) فقضى عن الأخطل ألف دينار؛ ركب فرسا فصرعه فمات، لا عقب له، وأمّه أمّ إبراهيم بنت المسور بن مخرمة الزّهريّ.

ومن بني عبيد الله بن العبّاس: حسن بن عبد الله بن عبيد الله ابن العبّاس، كان فقيها، وأمّه أسماء بنت عبد الله بن العبّاس؛ وقثم ابن العبّاس بن عبيد الله بن العبّاس، ولّاه أبو جعفر المنصور اليمامة، وكان جوادا وله يقول ابن المولى:

عتقت من حلّي ومن رحلتي … يا ناق إن أدنيتني من قثم(2)

في وجهه نور وفي باعه … طول، وفي العرنين منه شمم

وابنه عبيد الله بن قثم ولي مكّة لهارون؛ ومحمّد بن جعفر بن عبيد الله، كان سخيّا.

ومن بني معبد بن العبّاس: محمّد بن إبراهيم بن عبد الله بن

--------------------------------------------

(1) بقوله:

بان الشباب وربّما علّلته … بالغانيات وبالشّراب الأصهب

لبّاس أردية الملوك يروقه … من كل مرتقب عيون الرّبرب

ديوان الأخطل ص 328.

(2) في الكامل للمبرد 2/ 229: قال أحد الشعراء يمدح قثم بن العباس

نجوت من جلّ ومن رحلة … يا ناق إن قربتني من قثم

إنّك إن قرّبتنيه غدا … عاش لنا اليسر ومات العدم

في باعه طول وفي وجهه … نور وفي العرنين منه شمم

وقيل هي لسليمان قتّة.
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর সন্তান হলেন: আল-আব্বাস, তাকে 'আল-মাযহাব' বলা হতো। তিনি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর ও দানশীল ছিলেন। তিনিই সেই ব্যক্তি যার প্রশংসা কবি আল-আখতাল করেছিলেন(১), ফলে তিনি আল-আখতালের পক্ষ থেকে এক হাজার দিনার ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছিলেন। তিনি একটি ঘোড়ায় আরোহণ করেছিলেন, এরপর ঘোড়াটি তাকে ফেলে দিলে তিনি মারা যান। তাঁর কোনো উত্তরসূরি ছিল না। তাঁর মাতা ছিলেন উম্মে ইব্রাহিম বিনতে আল-মিসওয়ার বিন মাখরামা আল-জুহরি।

উবায়দুল্লাহ বিন আল-আব্বাসের সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন: হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন উবায়দুল্লাহ বিন আল-আব্বাস, তিনি ফকিহ ছিলেন এবং তাঁর মাতা ছিলেন আসমা বিনতে আব্দুল্লাহ বিন আল-আব্বাস; এবং কুসাম বিন আল-আব্বাস বিন উবায়দুল্লাহ বিন আল-আব্বাস, আবু জাফর আল-মনসুর তাকে ইয়ামামার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত দানশীল ছিলেন এবং তাঁর সম্পর্কে ইবনুল মাওলা বলেন:

হে উষ্ট্রী! তুমি আমার আসবাবপত্র ও সফর থেকে মুক্তি পেলে … যদি তুমি আমাকে কুসামের নিকটবর্তী করে দাও(২)

তাঁর চেহারায় রয়েছে জ্যোতি এবং তাঁর বাহুতে … প্রশস্ততা (দানশীলতা), আর তাঁর নাসিকা উন্নত ও সুশ্রী।

এবং তাঁর পুত্র উবায়দুল্লাহ বিন কুসাম হারুনুর রশিদের পক্ষে মক্কার গভর্নর ছিলেন; এবং মুহাম্মদ বিন জাফর বিন উবায়দুল্লাহ, তিনি অত্যন্ত দানশীল ছিলেন।

মাবাদ বিন আল-আব্বাসের সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন

--------------------------------------------

(১) কবির এই উক্তির মাধ্যমে:

যৌবন বিদায় নিয়েছে, অথচ অনেক সময় আমি তাকে আমোদ-প্রমোদে অতিবাহিত করেছি … সুন্দরী নারী ও লাল বর্ণের সুরা পানে।

তিনি রাজকীয় চাদর পরিধানকারী, যাকে বিমোহিত করে … প্রতিটি পর্যবেক্ষণ স্থল থেকে হরিণ পালের হরিণচক্ষু।

দিওয়ানে আখতাল, পৃষ্ঠা ৩২৮।

(২) মুবররাদের আল-কামিল গ্রন্থে (২/২২৯): জনৈক কবি কুসাম বিন আল-আব্বাসের প্রশংসা করে বলেন:

তুমি জিনের গদি ও সফর থেকে মুক্তি পেয়েছো … হে উষ্ট্রী! যদি তুমি আমাকে কুসামের নিকটবর্তী করো।

নিশ্চয়ই যদি তুমি আগামীকাল আমাকে তাঁর কাছে পৌঁছে দাও … তবে আমাদের জন্য সচ্ছলতা বেঁচে থাকবে এবং অভাব বিদায় নেবে।

তাঁর বাহুতে প্রশস্ততা রয়েছে, তাঁর চেহারায় রয়েছে … জ্যোতি এবং তাঁর নাসিকা উন্নত ও সুশ্রী।

বলা হয় যে, এটি সুলাইমান কাত্তাহর কবিতা।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
معبد بن العبّاس؛ والعبّاس بن عبد الله بن معبد، ولّاه أبو العبّاس مكّة والمدينة والطائف(1).

ومن بني الحارث بن العبّاس: السّريّ بن عبد الله بن الحارث ولّاه المنصور اليمامة ومكّة(2).

وولد تمّام بن العبّاس بن عبد المطّلب(3): جعفرا، وقثم، وكانت لأبي جعفر ابنة عند قثم بن تمّام، وكان آخر من بقي منهم، يحيى بن جعفر بن تمّام.

وكان لحمزة بن عبد المطّلب: يعلى به كان يكنّى، درج وعامر درج؛ وأمّهما من الأنصار، وعمارة، درج، وأمّه: خولة بنت قيس بن قهد الأنصاريّ؛ وأمامة، وأمّها: سلمى بنت عميس من خثعم، وهي التي زوّجها رسول الله صلى الله عليه وسلم، سلمة بن أبي سلمة المخزوميّ، فهلك قبل أن يجتمعا؛ وأخواها لأمّها: عبد الله، وعبد الرّحمن أبنا شدّاد بن الهاد اللّيثيّ.

وكان للمقوّم بن عبد المطّلب: بكر، وبه كان يكنى، درج، لأمّ ولد.

وكان للزّبير بن عبد المطّلب: الطّاهر، وحجل، وقرّة، وعبد الله، قتل يوم أجنادين(4)؛ وأمّهم عاتكة بنت أبي وهب بن عمرو بن

--------------------------------------------

(1) وليها سنة 136 هـ.

(2) وليها سنة 143 هـ.

(3) في نسب قريش ص 38: وولد تمّام بن العبّاس بن عبد المطلب: جعفر بن تمّام، وعبّاسا، وقثم.

(4) أجنادين: بالفتح ثم السكون، ونون وألف، وتفتح الدال، موضع بالشام من نواحي فلسطين.

معجم البلدان 1/ 103.
মা'বাদ ইবনুল আব্বাস; এবং আব্বাস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মা'বাদ, আবুল আব্বাস তাকে মক্কা, মদীনা ও তায়েফের দায়িত্ব প্রদান করেন(১)।

আর আল-হারিস ইবনুল আব্বাসের সন্তানদের মধ্যে: আস-সারী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস, আল-মনসুর তাকে ইয়ামামা ও মক্কার দায়িত্ব প্রদান করেন(২)।

তাম্মাম ইবনুল আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানগণ হলেন(৩): জাফর ও কুসাম। আর আবু জাফরের এক কন্যা কুসাম ইবনে তাম্মামের নিকট (বিবাহ বন্ধনে) ছিলেন। তাদের মধ্যে সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি ছিলেন ইয়াহইয়া ইবনে জাফর ইবনে তাম্মাম।

হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানগণ ছিলেন: ইয়ালা—যার নামে তিনি উপনাম গ্রহণ করতেন—তিনি শৈশবে মারা যান এবং আমির—তিনিও শৈশবে মারা যান; তাঁদের মাতা ছিলেন আনসারী। এবং উমারা—যিনি শৈশবে মারা যান—তাঁর মাতা হলেন খাওলা বিনতে কায়েস ইবনে কাহত আল-আনসারী। আর উমামা, তাঁর মাতা হলেন খাস'আম গোত্রের সালমা বিনতে উমাইস। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে সালামা ইবনে আবি সালামা আল-মাখজুমীর সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন, তবে তাঁদের মিলনের পূর্বেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আর উমামার বৈমাত্রেয় দুই ভাই হলেন শাদ্দাদ ইবনুল হাদ আল-লাইসীর দুই পুত্র—আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান।

আল-মুক্বাওওয়িম ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান ছিলেন: বকর—যার নামে তিনি উপনাম গ্রহণ করতেন—তিনি শৈশবে মারা যান; তাঁর মাতা ছিলেন একজন দাসী মাতা (উম্মু ওয়ালাদ)।

যুবাইর ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানগণ হলেন: আত-তাহির, হাজল, কুররা এবং আব্দুল্লাহ, যিনি আজনাদাইনের যুদ্ধে নিহত হন(৪); তাঁদের মাতা হলেন আতিকা বিনতে আবি ওয়াহাব ইবনে আমর ইবনে...

--------------------------------------------

(১) তিনি ১৩৬ হিজরিতে এ দায়িত্ব লাভ করেন।

(২) তিনি ১৪৩ হিজরিতে এ দায়িত্ব লাভ করেন।

(৩) 'নাসাব কুরাইশ' (পৃষ্ঠা ৩৮) গ্রন্থে রয়েছে: তাম্মাম ইবনুল আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানগণ হলেন: জাফর ইবনে তাম্মাম, আব্বাস ও কুসাম।

(৪) আজনাদাইন: হামজার উপরে ফাতহা (যবর), এরপর সুকুন (জযম), অতঃপর নুন ও আলিফ এবং দাল বর্ণের উপরে ফাতহা; এটি ফিলিস্তিন সংলগ্ন সিরিয়ার একটি এলাকা।

মু'জামুল বুলদান ১/১০৩।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
عائذ بن عمران بن مخزوم.

وولد الحارث بن عبد المطّلب: المغيرة، وهو أبو سفيان بن الحارث، الشاعر(1)، كان شريفا خيّرا، وكان يشبّه بالنّبيّ، صلى الله عليه وسلم؛ ونوفل بن الحارث، أسر يوم بدر؛ وربيعة، أسر يوم بدر، وعبد شمس، وعبد الله، وأميّة، وأمّهم: غزيّة بنت قيس بن طريف ابن عبد العزّى بن عامرة بن عميرة بن وديعة بن الحارث بن فهر.

منهم: عبد الله بن الحارث بن نوفل بن الحارث بن عبد المطّلب يقال له: ببّة، ولّاه ابن الزّبير البصرة(2)؛ والمغيرة بن نوفل، ولّاه الحسن الكوفة حين سار الى معاوية؛ وسعيد بن نوفل، كان فقيها(3)؛ والصّلت بن عبد الله بن نوفل، كان فقيها؛ وجعفر بن أبي سفيان بن الحارث؛ ومحمّد بن عبد المطّلب بن ربيعة بن الحارث، كان ناسكا فاضلا، من ولده: عبد الله بن سليمان بن محمّد، وليّ اليمن والبلقاء(4) لأبي جعفر؛ وعمرو بن محمّد، وليّ دمشق؛ ومحمّد ابن عبد الله بن سليمان بن محمّد، ولّاه هارون المدينة؛ والحارث بن عون بن عبد الله بن الحارث بن نوفل، كان جوادا، وعبد الله بن

--------------------------------------------

(1) أبو سفيان، المغيرة بن الحارث، كان شاعرا، أسلم يوم الفتح، وتوفي سنة 20 هـ.

المرزباني: معجم الشعراء ص 271.

(2) ببّة لقب لقبته به أمّه. الاشتقاق ص 70؛ تولى البصرة في فترة الاضطراب التي أعقبت هروب عبيد الله بن زياد منها، وكان عبد الله بن الحارث واليا ضعيفا إذ سرعان ما تركها ولحق بأهله.

الطبري 5/ 529.

(3) انظر الزبيري: نسب قريش ص 86.

(4) البلقاء: كورة من أعمال دمشق بين الشام ووادي القرى، فيها قرى ومزارع واسعة، وبجودة حنطتها يضرب المثل.

معجم البلدان 1/ 489.
আইজ ইবনে উমরান ইবনে মাখযুম।

আল-হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানগণ হলেন: আল-মুগিরা, তিনি হলেন কবি আবু সুফিয়ান ইবনে আল-হারিস(১), তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ও নেককার ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সদৃশ মনে করা হতো; এবং নওফাল ইবনে আল-হারিস, তিনি বদরের যুদ্ধে বন্দী হয়েছিলেন; এবং রাবিয়াহ, তিনি বদরের যুদ্ধে বন্দী হয়েছিলেন; এবং আবদ শামস, আব্দুল্লাহ ও উমাইয়া। তাঁদের মাতা হলেন গাযিয়্যা বিনতে কায়স ইবনে তারিফ ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে আমিরা ইবনে উমায়রা ইবনে ওয়াদিয়া ইবনে আল-হারিস ইবনে ফিহর।

তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে নওফাল ইবনে আল-হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, যাঁকে 'বাব্বা' বলা হতো। ইবনে আয-যুবাইর তাঁকে বসরার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন(২); এবং আল-মুগিরা ইবনে নওফাল, হাসান যখন মুয়াবিয়ার কাছে রওনা হলেন তখন তাঁকে কুফার দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন; এবং সাঈদ ইবনে নওফাল, তিনি ফকিহ ছিলেন(৩); এবং আস-সালত ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নওফাল, তিনিও ফকিহ ছিলেন; এবং জাফর ইবনে আবু সুফিয়ান ইবনে আল-হারিস; এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবিয়াহ ইবনে আল-হারিস, তিনি একজন অত্যন্ত ইবাদতগুজার ও গুণী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে মুহাম্মদ, তিনি আবু জাফরের আমলে ইয়েমেন ও বালকার(৪) গভর্নর ছিলেন; এবং আমর ইবনে মুহাম্মদ, তিনি দামেস্কের গভর্নর ছিলেন; এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে মুহাম্মদ, হারুন তাঁকে মদিনার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন; এবং আল-হারিস ইবনে আউন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে নওফাল, তিনি অত্যন্ত দানশীল ছিলেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনে...

--------------------------------------------

(১) আবু সুফিয়ান, আল-মুগিরা ইবনে আল-হারিস, একজন কবি ছিলেন, মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ২০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-মারযুবানি: মু'জামুশ শুয়ারা, পৃষ্ঠা ২৭১।

(২) 'বাব্বা' ছিল একটি উপাধি যা তাঁর মা তাঁকে দিয়েছিলেন। আল-ইশতিকাক, পৃষ্ঠা ৭০; উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদের পলায়নের পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তিনি বসরার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস একজন দুর্বল গভর্নর ছিলেন, কারণ তিনি দ্রুতই শহর ছেড়ে তাঁর পরিবারের সাথে যোগ দিয়েছিলেন।

আত-তাবারী ৫/৫২৯।

(৩) দেখুন আয-যুবাইরি: নাসাবু কুরাইশ, পৃষ্ঠা ৮৬।

(৪) বালকা: দামেস্কের প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত একটি এলাকা যা সিরিয়া ও ওয়াদিউল কুরার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে অনেক গ্রাম ও বিশাল কৃষিজমি রয়েছে এবং এখানকার গমের গুণগত মানের জন্য এটি প্রবাদস্বরূপ।

মু'জামুল বুলদান ১/৪৮৯।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أبي سفيان، كان شاعرا، وآدم بن ربيعة الذي وضع رسول الله صلى الله عليه وسلم، دمه يوم الفتح(1)؛ والفضل بن الفضل بن العبّاس ابن ربيعة، كان فاضلا محدّثا(2)؛ وعبد الرّحمن بن العبّاس بن ربيعة ابن الحارث، كان مع ابن الأشعث(3) حين خلع.

وولد أبو لهب(4): عتبة، ومعتّبا، وعتيبة، وهو الذي أكله الأسد(5) بحوران(6)؛ وأمّهم أمّ جميل بنت حرب بن أميّة وهي حمّالة الحطب؛ من ولده: الفضل بن العبّاس بن عتبة بن العبّاس بن عتبة ابن أبي لهب الشاعر(7).

--------------------------------------------

(1) كان آدم بن ربيعة مسترضعا في هذيل فقتله بنو ليث بن بكر في حرب كانت بينهم وبين هذيل: كان الصبيّ يحبو أمام البيوت؛ فأصابه حجر فرضخ رأسه، وهو الذي يقول له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ألا إنّ كلّ دم كان في الجاهليّة، فهو تحت قدميّ، وأوّل دم أضعه دم ابن ربيعة بن الحارث.

الطبقات لابن سعد ق 1 وج 324؛

نسب قريش 87 - 88.

(2) كان في عسكر ابن الأشعث زهاء ثمانية آلاف رجل من القراء والزهاد والعباد ممن يرى قتل الحجاج جهادا.

فتوح ابن أعثم 2/ 142؛ مروج الذهب 3/ 152.

(3) هو عبد الرحمن بن محمد بن الأشعث، الثائر على عبد الملك بن مروان سنة 82 هـ.

الطبري 6/ 329؛ البدء والتاريخ 6/ 35.

(4) أبو لهب، واسمه عبد العزّى بن عبد المطلب.

نسب قريش ص 89.

(5) دعا عليه النبيّ صلى الله عليه وسلم أن يبعث الله كلبا فيقتله، فبعث الله عليه أسدا فأكله.

انظر القصة في الأغاني 16/ 119.

(6) حوران: كورة واسعة من أعمال دمشق ذات قرى كثيرة ومزارع.

معجم البلدان 2/ 317.

(7) الفضل بن العباس كان أحد شعراء بني هاشم وفصحائهم.

نسب قريش ص 90؛ الأغاني 19/ 119.
আবু সুফিয়ান, তিনি ছিলেন একজন কবি; এবং আদম বিন রাবী'আহ, মক্কা বিজয়ের দিন যাঁর রক্তের দাবি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রহিত করেছিলেন(১); এবং আল-ফাদল বিন আল-ফাদল বিন আল-আব্বাস ইবনে রাবী'আহ, তিনি ছিলেন একজন সদ্বংশজাত হাদিস বর্ণনাকারী(২); এবং আবদুর রহমান বিন আল-আব্বাস বিন রাবী'আহ ইবনুল হারিস, তিনি যখন আনুগত্য ত্যাগ করে বিদ্রোহ করেন তখন ইবনুল আশ'আসের সাথে ছিলেন(৩)।

আর আবু লাহাবের(৪) সন্তানরা হলো: উতবাহ, মু'াত্তিব এবং উতাইবাহ; সে-ই ওই ব্যক্তি যাকে হাওরানে(৬) সিংহ ভক্ষণ করেছিল(৫); তাদের মা ছিলেন উম্মে জামিল বিনতে হারব বিন উমাইয়্যাহ, যিনি ছিলেন ‘কাঠ বহনকারী’; তার সন্তানদের মধ্যে রয়েছে: আল-ফাদল বিন আল-আব্বাস বিন উতবাহ বিন আল-আব্বাস বিন উতবাহ ইবনে আবি লাহাব, যিনি একজন কবি ছিলেন(৭)।

--------------------------------------------

(১) আদম বিন রাবী'আহ হুযাইল গোত্রে দুগ্ধপানের জন্য লালিত-পালিত হচ্ছিলেন। হুযাইল ও বনু লাইস বিন বকরের মধ্যকার এক যুদ্ধে বনু লাইস তাকে হত্যা করে। শিশুটি ঘরের সামনে হামাগুড়ি দিচ্ছিল, এমন সময় একটি পাথর তাকে আঘাত করে এবং তার মাথা থেঁতলে দেয়। তার ব্যাপারেই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: «সাবধান! জাহেলিয়াতের যুগের সমস্ত রক্তের দাবি আমার দুই পায়ের নিচে রাখা হলো (বাতিল করা হলো), আর আমি প্রথম যে রক্ত রহিত করছি তা হলো ইবনে রাবী'আহ ইবনুল হারিসের রক্ত।»

ইবনে সা’দের আত-তাবাকাত, ১ম অংশ, ৩২৪ পৃষ্ঠা;

নাসাব কুরাইশ ৮৭ - ৮৮।

(২) ইবনুল আশ'আসের সেনাবাহিনীতে আল-কুরআনের কারী, দুনিয়াবিমুখ যাহিদ এবং ইবাদতগুজারদের মধ্য থেকে প্রায় আট হাজার লোক ছিল, যারা হাজ্জাজকে হত্যা করা জিহাদ বলে মনে করত।

ফুতুহ ইবনে আ’সাম ২/ ১৪২; মুরুজ আয-যাহাব ৩/ ১৫২।

(৩) তিনি হলেন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-আশ'আথ, যিনি ৮২ হিজরি সালে আবদুল মালিক বিন মারওয়ানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।

আত-তাবারী ৬/ ৩২৯; আল-বাদ’ ওয়াত তারিখ ৬/ ৩৫।

(৪) আবু লাহাব, যার নাম ছিল আবদুল উযযা বিন আবদুল মুত্তালিব।

নাসাব কুরাইশ পৃষ্ঠা ৮৯।

(৫) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন যেন আল্লাহ কোনো হিংস্র পশু (কুকুর) পাঠিয়ে তাকে হত্যা করেন। অতঃপর আল্লাহ তার ওপর একটি সিংহ লেলিয়ে দেন এবং সেটি তাকে খেয়ে ফেলে।

ঘটনাটি দেখুন আল-আঘানি ১৬/ ১১৯-এ।

(৬) হাওরান: দামেস্কের অন্তর্গত একটি বিশাল অঞ্চল যেখানে অনেক গ্রাম ও কৃষি খামার রয়েছে।

মু’জামুল বুলদান ২/ ৩১৭।

(৭) আল-ফাদল বিন আল-আব্বাস বনু হাশিমের অন্যতম কবি ও বাগ্মী ছিলেন।

নাসাব কুরাইশ পৃষ্ঠা ৯০; আল-আঘানি ১৯/ ১১৯।
(খণ্ড: ১) জামহারাতুন নাসাব - ইবনুল কালবি - ত নাজি (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وولد نضلة بن هاشم: الأرقم، وكان من رجال قريش، لا عقب له.

وأسد بن هاشم، لا عقب له. … فهؤلاء بنو هاشم بن عبد مناف.

 

‌‌[وهؤلاء بنو عبد شمس بن عبد مناف]

وولد عبد شمس بن عبد مناف: أميّة الأكبر، وحبيبا، وأمّهما:

تعجز بنت عبيد بن رؤاس بن كلاب، وهي عاتكة؛ وإيّاها يعني عبد الله بن همّام السّلوليّ:

فجالت بنا ثمّ قلت اعطفي … به(1) يا صفيّ ويا عاتكا

فأطّت لنا رحم برّة(2) … ولن نعدم النّسب الشّابكا

يعني صفيّة بنت حزن بن بجير، وهي أمّ أبي سفيان بن حرب، وأميّة الأصغر، وعبد أميّة، ونوفلا؛ وأمّهم: عبلة بنت عبيد بن جاذل ابن قيس بن حنظلة بن مالك بن زيد مناة بن تميم، من البراجم، يقال لهم: العبلات، بها يعرفون.

فبنوا أميّة الأصغر بمكّة، وبنو عبد أميّة ونوفل بالشّام.

وربيعة بن عبد شمس، وأمّه فاطمة(3)، وهي: دعد من الأزد، من بطن يقال لهم: مدجنة؛ وعبد الله، وهو الأعرج، وأمّه: أمامة من كندة.

--------------------------------------------

(1) في أنساب الأشراف ق 4 ج 1 ص 1: بنا يا صفي ويا عاتكا.

(2) في الاشتقاق ص 59: فأطّت لنا رحم عوذة.

(3) في نسب قريش ص 98: آمنة بنت وهب بن عمير.
নাদলা ইবনে হাশিমের সন্তান হলো আরকাম, সে কুরাইশদের অন্যতম পুরুষ ছিল, তার কোনো বংশধর নেই।

এবং আসাদ ইবনে হাশিম, তারও কোনো বংশধর নেই। … এরাই হলো হাশিম ইবনে আবদ মান্নাফের বংশধর।

 

‌‌[এরা হলো আবদ শামস ইবনে আবদ মান্নাফের বংশধর]

আবদ শামস ইবনে আবদ মান্নাফের সন্তানরা হলো: উমাইয়্যাহ আল-আকবার এবং হাবিব, তাদের মা ছিল তা'জাজ বিনতে উবাইদ ইবনে রুয়াস ইবনে কিলাব, যার নাম ছিল আতিকা; আর আবদুল্লাহ ইবনে হাম্মাম আস-সালুলি তাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছিলেন:

সে আমাদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়াল, তারপর আমি বললাম ফিরে তাকাও … এর দ্বারা হে সাফিয়্যাহ এবং হে আতিকা

আমাদের জন্য এক দয়ালু আত্মীয়তার সম্পর্ক বিনম্র হলো … আর আমরা কস্মিনকালেও এই গভীর বংশীয় সম্পর্ক হারাবো না

অর্থাৎ সাফিয়্যাহ বিনতে হাযন ইবনে বুজাইর, সে ছিল আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের মা, এবং উমাইয়্যাহ আল-আসগার, আবদ উমাইয়্যাহ ও নাওফাল; আর তাদের মা ছিল আবলা বিনতে উবাইদ ইবনে জাযিল ইবনে কাইস ইবনে হানজালা ইবনে মালিক ইবনে যাইদ মানাত ইবনে তামীম, বারাজিম বংশের অন্তর্ভুক্ত, তাদেরকে 'আবলাত' বলা হয়, তার নামেই তারা পরিচিত।

উমাইয়্যাহ আল-আসগারের বংশধররা মক্কায় ছিল, আর আবদ উমাইয়্যাহ ও নাওফালের বংশধররা সিরিয়ায় ছিল।

এবং রাবিয়াহ ইবনে আবদ শামস, তার মা ফাতিমা, যে ছিল আযদ গোত্রের দা'দ, তাদের একটি শাখা থেকে যাকে 'মুদজিনা' বলা হয়; এবং আবদুল্লাহ, যে লেংড়া নামে পরিচিত ছিল, তার মা উমামাহ ছিলেন কিনদাহ গোত্রের।

--------------------------------------------

(১) আনসাব আল-আশরাফ খণ্ড ৪, অংশ ১, পৃষ্ঠা ১-এ আছে: আমাদের নিয়ে হে সাফিয়্যাহ এবং হে আতিকা।

(২) আল-ইশতিকাক পৃষ্ঠা ৫৯-এ আছে: আমাদের জন্য এক আশ্রয়দানকারী আত্মীয়তার সম্পর্ক বিনম্র হলো।

(৩) নাসাব কুরাইশ পৃষ্ঠা ৯৮-এ আছে: আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইবনে উমাইর।