(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: -)
الثقات للعجلي ت قلعجي   (العجلي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: تاريخ الثقات

المؤلف: أبو الحسن أحمد بن عبد الله بن صالح العجلى الكوفى (ت 261هـ)

الناشر: دار الباز

الطبعة: الطبعة الأولى 1405هـ-1984م

عدد الصفحات: 555

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইজলি রচিত আস-সিকাত, তাহকিক: কালাআজি   (আল-ইজলি)

বিভাগ: জীবনী এবং স্তরসমূহ


গ্রন্থ: তারিখুস সিকাত

লেখক: আবুল হাসান আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহ আল-ইজলি আল-কুফি (মৃত্যু ২৬১ হি.)

প্রকাশক: দার আল-বাজ

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪০৫ হি.-১৯৮৪ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫৫

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌التقدمة وترجمة المؤلف:

النهي عن الرواية عن الضعفاء والاحتياط في تحملها. بيان أن الإسناد من الدين، وأن الرواية لا تكون إلا عن الثقات. درجات التوثيق في ميزان الذهبي. رأي ابن أبي حاتم الرازي، وابن الصلاح في درجات التوثيق. ألفاظ التعديل ومراتبه عن السخاوي. اهتمام الحفاظ بالجرح والتعديل. الكتب المؤلفة في الجرح والتعديل ومسالكها. الكتب الجامعة بين الثقات والضعفاء. كتب الثقات. كتب الضعفاء. كتب المدلسين. المصنفات في رجال كتب مخصوصة. كتاب "الثقات" للعجلي. ترجمة العجلي وبيان أن منزلته تعادل منزلة الإمام أحمد، ويحيى بن معين. لِمَ لَمْ يرو الأحاديث. المحنة بخلق القرآن وموقفه منها. روايته أخبار الصالحين وحكايات الزهاد فقط. شهادة العلماء الثقات له. تحريه ودقته في توثيقه. درجة توثيقه. نسخة الكتاب الخطية. نسخة الحافظ ابن حجر. الفرق بين النسختين. خطة المقابلة بينهما. المقابلة على التاريح الكبير للبخاري، وتاريخ يحيى بن معين، وثقات ابن حبان. طريقة العجلي وترتيب الهيثمي. هل استوعب العجلي كل الثقات. والد العجلي وترجمته. اعتماد الحافظ الهيثمي على أصلين لدى ترتيبه ثقات العجلي. نبذة عن الحافظ الهيثمي مرتب الثقات.

النهي عن الرواية عن الضعفاء والاحتياط في تحملها:

أخرج الإمام مسلم في صحيحه عن أبي هريرة، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، أنه قال: "سيكون في آخر أمتي أناس يحدثونكم ما لم تسمعوا أنتم ولا آباؤكم. فإياكم وإياهم".

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يكون في آخر الزمان دجالون كذابون. يأتونكم من الأحاديث بما لم تسمعوا أنتم ولا آباؤكم. فإياكم وإياهم. لا يضلونكم ولا يفتنونكم".
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা ও লেখকের জীবনী:

দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করতে নিষেধ করা এবং তা গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা। সনদ যে দ্বীনের অংশ এবং কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকেই যে বর্ণনা গ্রহণ করতে হবে তার বর্ণনা। যাহাবীর মানদণ্ডে নির্ভরযোগ্যতার স্তরসমূহ। নির্ভরযোগ্যতার স্তর সম্পর্কে ইবনে আবু হাতিম আর-রাযী এবং ইবনুস সালাহ-এর অভিমত। সাখাবীর বর্ণনায় তা'দীল বা নির্ভরযোগ্যতা প্রকাশক শব্দসমূহ ও তার স্তরসমূহ। জারহ এবং তা'দীল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা) বিষয়ে হাফেজদের গুরুত্ব প্রদান। জারহ ও তা'দীল বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ এবং সেগুলোর কর্মপদ্ধতি। নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল উভয় ধরণের বর্ণনাকারীদের একত্রে সংবলিত গ্রন্থসমূহ। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থসমূহ। দুর্বল বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থসমূহ। মুদাল্লিস বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থসমূহ। নির্দিষ্ট গ্রন্থসমূহের বর্ণনাকারীদের জীবনী নিয়ে রচিত গ্রন্থাবলী। ইজলী রচিত "আস-সিকাত" গ্রন্থ। ইজলীর জীবনী এবং তাঁর মর্যাদা যে ইমাম আহমাদ ও ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের সমপর্যায়ের তার বর্ণনা। কেন তিনি হাদীস বর্ণনা করেননি। কুরআন সৃষ্টির ফিতনা এবং এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান। তাঁর কেবল নেককারদের সংবাদ এবং সংসারবিরাগীদের কাহিনী বর্ণনা করা। তাঁর ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য ওলামাদের সাক্ষ্য। বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা নির্ণয়ে তাঁর সতর্কতা ও সূক্ষ্মতা। তাঁর দেওয়া নির্ভরযোগ্যতার স্তরের মান। গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি। হাফেজ ইবনে হাজার-এর পাণ্ডুলিপি। উভয় কপির মধ্যে পার্থক্য। উভয় কপির মধ্যে সমন্বয়ের পরিকল্পনা। বুখারীর তারীখুল কাবীর, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের তারীখ এবং ইবনে হিব্বানের আস-সিকাত গ্রন্থের সাথে তুলনা। ইজলীর পদ্ধতি এবং হাইসামীর বিন্যাস। ইজলী কি সকল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন? ইজলীর পিতা ও তাঁর জীবনী। ইজলীর 'আস-সিকাত' বিন্যাস করার ক্ষেত্রে হাফেজ হাইসামীর দুটি মূল কপির উপর নির্ভর করা। 'আস-সিকাত' বিন্যাসকারী হাফেজ হাইসামী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা।

দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করতে নিষেধ করা এবং তা গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা:

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের শেষ যুগে এমন কিছু লোক আসবে যারা তোমাদের কাছে এমন সব কথা বলবে যা তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষগণ শোনেননি। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে বেঁচে থেকো এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রেখো।"

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "শেষ যামানায় অনেক বড় প্রতারক ও মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে। তারা তোমাদের কাছে এমন সব হাদীস নিয়ে আসবে যা তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষগণ শোনেননি। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থেকো এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রেখো। তারা যেন তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে না পারে এবং তোমাদের ফিতনায় ফেলতে না পারে।"
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٤)
وقال عبد الله بن عمرو بن العاص في الخبر الذي رواه مسلم في أول صحيحه "1: 12": إن الشيطان ليتمثل في صورة الرجل، فيأتي القوم فيحدثهم بالحديث من الكذب، فيتفرقون، فيقول الرجل منهم: سمعت رجلًا أعرف وجهه، ولا أدري ما اسمه، يحدث. ثم أردف قائلًا: إن في البحر شياطين مسجونة أوثقها سليمان، يوشك أن تخرج فتقرأ على الناس قرآنًا.

وجاء بشير بن كعب إلى ابن عباس رضي الله عنه فجعل يحدثه. فقال له ابن عباس: عد لحديث كذا وكذا، فعاد له، ثم حدثه، فقال له: عد لحديث كذا وكذا، فعاد له، فقال له: ما أدري، أعرفت حديثي كله وأنكرت هذا؟ أم أنكرت حديثي كله وعرفت هذا؟ فقال له ابن عباس: إنا كنا نحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ لم يكن يُكذب عليه، فلما ركب الناس الصعب والذلول، تركنا الحديث عنه.

وقال عبد الله بن عباس رضي الله عنه إنما كنا نحفظ الحديث. والحديث يُحفظ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأما إذ ركبتم كل صعب وذلول فهيهات.

وقال مجاهد: جاء بشير العدوي إلى ابن عباس، فجعل يحدث ويقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجعل ابن عباس لا يأذن لحديثه ولا ينظر إليه. فقال: يابن عباس! ما لي لا أراك تسمع لحديثي؟ أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تسمع. فقال ابن عباس: إنا كنا مرة إذا سمعنا رجلًا يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ابتدرته أبصارنا، وأصغينا إليه بآذاننا، فلما ركب الناس الصعب والذلول، لم نأخذ من الناس إلا ما نعرف.
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস সেই বর্ণনায় বলেছেন যা মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থের শুরুতে (১: ১২) বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রূপ ধারণ করে, এরপর সে লোকদের কাছে আসে এবং তাদের কাছে মিথ্যা কথা বলে। তারপর তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি বলে: আমি এমন একজন লোককে কথা বলতে শুনেছি যার চেহারা আমি চিনি, কিন্তু তার নাম জানি না।" এরপর তিনি আরও বলেন: "নিশ্চয়ই সমুদ্রে বন্দি শয়তানরা রয়েছে যাদেরকে সুলায়মান শিকলবদ্ধ করে রেখেছিলেন, অচিরেই তারা বের হয়ে আসবে এবং মানুষের কাছে কুরআন পাঠ করবে।"

বশীর ইবনে কা'ব ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে এসে তাকে হাদিস শুনাতে লাগলেন। তখন ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: "অমুক অমুক হাদিসটি পুনরায় বলো।" তিনি তা পুনরায় বললেন। এরপর তিনি আবার হাদিস শুনালেন, তখন ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: "অমুক অমুক হাদিসটি পুনরায় বলো।" তিনি তা পুনরায় বললেন। এরপর বশীর তাকে বললেন: "আমি বুঝতে পারছি না, আপনি কি আমার সব হাদিস চিনেছেন এবং কেবল এগুলো অস্বীকার করছেন? নাকি আমার সব হাদিস অস্বীকার করছেন এবং কেবল এগুলো চিনেছেন?" তখন ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: "আমরা একদা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করতাম যখন তাঁর নামে মিথ্যা বলা হতো না। কিন্তু যখন মানুষ ভালো-মন্দ বাছবিচারহীন সব পথে চলতে শুরু করল, তখন আমরা তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করা ছেড়ে দিলাম।"

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "আমরা কেবল হাদিস মুখস্থ করতাম। আর হাদিস রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকেই সংরক্ষিত করা হতো। কিন্তু যখন তোমরা ভালো-মন্দ সব পথে চলতে শুরু করলে, তখন তা আর সম্ভব রইল না।"

মুজাহিদ বলেন: বশীর আল-আদাবী ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে আসলেন এবং হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করলেন এবং বলতে লাগলেন: 'রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন'। কিন্তু ইবনে আব্বাস তাঁর হাদিসের প্রতি কর্ণপাত করছিলেন না এবং তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেনও না। তখন তিনি বললেন: "হে ইবনে আব্বাস! কী হলো যে আমি আপনাকে আমার হাদিস শুনতে দেখছি না? আমি আপনাকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে হাদিস শুনাচ্ছি অথচ আপনি শুনছেন না।" তখন ইবনে আব্বাস বললেন: "আমরা এক সময় এমন ছিলাম যে, যখন কোনো ব্যক্তিকে বলতে শুনতাম 'রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন', অমনি আমাদের দৃষ্টি তার দিকে নিবদ্ধ হতো এবং আমরা অত্যন্ত কান পেতে তা শুনতাম। কিন্তু যখন মানুষ ভালো-মন্দ সব পথে চলতে শুরু করল, তখন আমরা মানুষের কাছ থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করি যা আমরা চিনি।"
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٥)
وقال الإمام مسلم في صحيحه "1: 13-14": حدثنا داود بن عمرو الضبي، حدثنا نافع بن عمر، عن ابن أبي مليكة؛ قال: كتبت إلى ابن عباس أسأله أن يكتب لي كتابًا ويخفي عني، فقال: ولد ناصح. أنا أختار له الأمور اختيارًا وأخفي عنه، قال فدعا بقضاء عليٍّ. فجعل يكتب منه أشياء، ويمر به الشيء فيقول: والله ما قضى بهذا عليٌّ إلا أن يكون ضل.

حدثنا عمرو الناقد، حدثنا سفيان بن عيينة، عن هشام بن حجير، عن طاوس؛ قال: أُتي ابن عباس بكتاب فيه قضاء علي رضي الله عنه فمحاه إلا قدر1. وأشار سفيان بن عيينة بذراعه.

حدثنا حسن بن علي الحلواني، حدثنا يحيى بن آدم عن ابن إدريس، عن الأعمش، عن أبي إسحاق؛ قال: لما أحدثوا تلك الأشياء بعد علي رضي الله عنه؛ قال رجل من أصحاب علي: قاتلهم الله أي علم أفسدوا.

حدثنا علي بن خشرم، أخبرنا أبو بكر، يعني ابن عياش. قال: سمعت المغيرة يقول: لم يكن يصدق2 على علي رضي الله عنه في الحديث عنه إلا من أصحاب عبد الله بن مسعود.

--------------------------------------------

1 "إلا قدر": منصوب غير منون، معناه: محاه إلا قدر ذراع.

2 "يصدق" ضبط على وجهين: "أحدهما": بفتح الياء وإسكان الصاد وضم الدال. "والثاني": بضم الياء، وفتح الصاد، والدال المشددة.
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (১: ১৩-১৪) বলেন: আমাদের নিকট দাঊদ ইবনে আমর আদ-দাব্বী হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট নাফি ইবনে উমর হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবী মুলাইকাহ থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এই মর্মে লিখে পাঠালাম যে, তিনি যেন আমার জন্য একটি কিতাব লিখে দেন এবং কিছু বিষয় আমার নিকট থেকে গোপন রাখেন। তখন তিনি বললেন: "এক উপদেশপ্রদানকারী সন্তান। আমি তার জন্য বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করব এবং কিছু বিষয় তার নিকট থেকে গোপন রাখব।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিচার সংক্রান্ত একটি কিতাব তলব করলেন। তিনি সেখান থেকে বিভিন্ন বিষয় লিখতে শুরু করলেন এবং যখনই কোনো (সন্দেহজনক) বিষয়ের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতেন, বলতেন: "আল্লাহর কসম, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এমন ফয়সালা করেননি, যদি না তিনি পথভ্রষ্ট হতেন (অর্থাৎ এটি আলীর ফয়সালা হতেই পারে না)।"

আমাদের নিকট আমর আন-নাকিদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে হুজাইর থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট একটি কিতাব আনা হলো যাতে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিচারিক ফয়সালাসমূহ ছিল। তখন তিনি সামান্য এক হাত পরিমাণ জায়গা ব্যতিরেকে বাকি সব মুছে দিলেন। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ তাঁর নিজের হাত প্রসারিত করে সেই পরিমাণের দিকে ইঙ্গিত করলেন।

আমাদের নিকট হাসান ইবনে আলী আল-হুলওয়ানী হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আদম হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে ইদরিস থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর তিরোধানের পর যখন মানুষ নতুন সব ভ্রান্ত বিষয় উদ্ভাবন করল, তখন আলীর সাথীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: "আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কী মহান জ্ঞানকেই না কলুষিত করল!"

আমাদের নিকট আলী ইবনে খাশরাম হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর—অর্থাৎ ইবনে আইয়াশ। তিনি বলেন: আমি মুগীরাকে বলতে শুনেছি: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথীবর্গ ব্যতীত অন্য কাউকে সত্যবাদী মনে করা হতো না।

--------------------------------------------

১ "এক পরিমাণ ছাড়া": শব্দটি মানসুব এবং তানউইন বিহীন, এর অর্থ হলো: তিনি এক হাত পরিমাণ জায়গা ছাড়া বাকি অংশটুকু মুছে ফেলেছিলেন।

২ "ইউসাদ্দাকু/ইয়াসদুক্কু" শব্দটি দুইভাবে স্বরচিহ্ন যুক্ত করা হয়েছে: প্রথমত: 'ইয়া' বর্ণে ফাতহা (যবর), 'সোয়াদ' বর্ণে সুকুন (জযম) এবং 'দাল' বর্ণে দম্মা (পেশ) সহযোগে। দ্বিতীয়ত: 'ইয়া' বর্ণে দম্মা (পেশ), 'সোয়াদ' বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং 'দাল' বর্ণে তাশদীদ সহযোগে।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٦)
بيان أن الإسناد من الدين، وأن الرواية لا تكون إلا عن الثقات، وأن جرح الرواة بما هو فيهم جائز، بل واجب، وأنه ليس من الغيبة المحرمة، بل من الذب عن الشريعة المكرمة:

قال الإمام مسلم في صحيحه "1: 14":

حدثنا حسن بن الربيع، حدثنا حماد بن زيد، عن أيوب وهشام، عن محمد، وحدثنا فضيل، عن هشام. قال: وحدثنا مخلد بن حسين، عن هشام، عن محمد بن سيرين؛ قال: إن هذا العلم دين. فانظروا عمن تأخذون دينكم.

حدثنا أبو جعفر محمد بن الصباح، حدثنا إسماعيل بن زكريا، عن عاصم الأحول، عن ابن سيرين؛ قال: لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة، قالوا: سموا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم.

حدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، أخبرنا عيسى، وهو ابن يونس، حدثنا الأوزاعي، عن سليمان بن موسى؛ قال: لقيت طاوسًا فقلت: حدثني فلان كيت وكيت1. قال: إن كان صاحبك مليًا2 فخذ عنه.

حدثنا محمد بن أبي عمر المكي، حدثنا سفيان. ح وحدثني أبو بكر بن خلاد الباهلي، واللفظ له؛ قال: سمعت سفيان بن عيينة، عن مسعر. قال:

--------------------------------------------

1 "كيتَِ وكيتَِ" هما بفتح التاء وكسرها. لغتان نقلهما الجوهري في صحاحه عن أبي عبيدة.

2 "مليا" يعني ثقة ضابطًا متقنًا يوثق بدينه ومعرفته، يعتمد عليه كما يعتمد على الملي بالمال ثقة بذمته.
বর্ণনা যে সনদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ ব্যতীত কারও কাছ থেকে বর্ণনা গ্রহণ করা যাবে না, আর বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি—যা তাদের মধ্যে বিদ্যমান—তা উল্লেখ করা বৈধ, বরং ওয়াজিব; এটি কোনো নিষিদ্ধ গীবত নয়, বরং এটি সম্মানিত শরীয়তকে রক্ষা করার অন্তর্ভুক্ত:

ইমাম মুসলিম তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে (১: ১৪) বলেছেন:

হাসান ইবনুর রবী' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন যায়েদ আইয়ুব ও হিশাম থেকে এবং তাঁরা মুহাম্মাদ থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। ফুযাইল হিশাম থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মাখলাদ ইবনুল হুসাইন হিশাম থেকে এবং তিনি মুহাম্মাদ বিন সিরীন থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: নিশ্চয়ই এই ইলম (জ্ঞান) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো, কাদের কাছ থেকে তোমরা তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ।

আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন যাকারিয়া আসিম আল-আহওয়াল থেকে এবং তিনি ইবনে সিরীন থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: পূর্বে তাঁরা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না। কিন্তু যখন ফিতনা দেখা দিল, তখন তাঁরা বললেন: আমাদের নিকট তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করো। তখন আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতীদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো না।

ইসহাক বিন ইবরাহীম আল-হানযালী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনু ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আওযায়ী সুলাইমান বিন মুসা থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি তাউসের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: অমুক ব্যক্তি আমার নিকট এই এই বিষয় বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: যদি তোমার সেই সাথী নির্ভরযোগ্য হন, তবে তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করো।

মুহাম্মাদ বিন আবু উমর আল-মাক্কী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। (হ্) আবু বকর বিন খাল্লাদ আল-বাহিলী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসের শব্দসমূহ তাঁরই; তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান বিন উয়াইনাকে মিসআর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন:

--------------------------------------------

১. "কায়তা ওয়া কায়তা" শব্দদ্বয় 'তা' বর্ণে ফাতহাহ (যবর) ও কাসরাহ (যের) উভয় যোগে পঠিত হয়। এ দুটি ভাষাতাত্ত্বিক রূপ আল-জাওহারী তাঁর 'সিহাহ' গ্রন্থে আবু উবাইদাহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

২. "মালিয়া" অর্থ হলো এমন নির্ভরযোগ্য ও তুখোড় স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী, যাঁর দ্বীনদারী ও জ্ঞানের ওপর আস্থা রাখা যায়। যাঁর ওপর এমনভাবে নির্ভর করা হয়, যেমনটি কোনো সম্পদশালী ব্যক্তির আর্থিক সততার ওপর নির্ভর করা হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٧)
سمعت سعد بن إبراهيم يقول: لا يحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا الثقات1.

وحدثني محمد بن عبد الله بن قهراذ من أهل مرو. قال: سمعت عبدان بن عثمان يقول: سمعت عبد الله بن المبارك يقول: الإسناد من الدين ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء.

وقال محمد بن عبد الله: حدثني العباس بن أبي رزمة؛ قال: سمعت عبد الله يقول: بيننا وبين القوم القوائم2. يعني الإسناد.

وقال محمد: سمعت أبا إسحاق إبراهيم بن عيسى الطالقاني؛ قال: قلت لعبد الله بن المبارك: يا أبا عبد الرحمن! الحديث الذي جاء "إن من البر بعد البر: أن تصلي لأبويك مع صلاتك، وتصوم لهما مع صومك"، قال: فقال عبد الله: يا أبا إسحاق عمن هذا؟ قال: قلت له: هذا من حديث شهاب بن خراش. فقال: ثقة، عمن؟ قال: قلت: عن الحجاج بن دينار. قال: ثقة، عمن؟ قال: قلت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال: يا أبا إسحاق! إن بين الحجاج بن دينار وبين النبي صلى الله عليه وسلم مفاوز3، تنقطع فيها أعناق المطي، ولكن ليس في الصدقة اختلاف4.

--------------------------------------------

1 "لا يحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا الثقات" معناه لا يقبل إلا من الثقات.

2 "بيننا وبين القوم القوائم" معنى هذا الكلام: إن جاء بإسناد صحيح قبلنا حديثه، وإلا تركناه. فجعل الحديث كالحيوان لا يقوم بغير إسناد. كما لا يقوم الحيوان بغير قوائم.

3 "مفاوز" جمع مفازة. وهي الأرض القفر البعيدة عن العمارة وعن الماء، التي يخاف الهلاك فيها.

4 "ليس في الصدقة اختلاف" معناه أن هذا الحديث لا يحتج به. ولكن من أراد بر والديه فليتصدق عنهما، فإن الصدقة تصل إلى الميت وينتفع بها، بلا خلاف بين المسلمين.
আমি সাদ বিন ইবরাহীমকে বলতে শুনেছি: বিশ্বস্ত ব্যক্তিগণ ছাড়া অন্য কেউ যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা না করে।১

আর আমার কাছে মার্ভের অধিবাসী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন কুহজাদ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আবদান বিন উসমানকে বলতে শুনেছি: আমি আবদুল্লাহ বিন মুবারককে বলতে শুনেছি: সনদ (সূত্রপরম্পরা) দ্বীনের অংশ, যদি সনদ না থাকত তবে যে কেউ যা ইচ্ছা তা-ই বলত।

এবং মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বলেন: আমার কাছে আব্বাস বিন আবি রিজমাহ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি: আমাদের এবং ওই কওমের মাঝে রয়েছে পা-সমূহ (ভিত্তি)।২ অর্থাৎ সনদ।

মুহাম্মদ বলেন: আমি আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন ঈসা আত-তালিকানিকে বলতে শুনেছি; তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন মুবারককে বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! এই যে হাদীসটি এসেছে যে, "পিতা-মাতার প্রতি সদাচারের পর আরও সদাচার হলো: তোমার নামাযের সাথে তাদের জন্য নামায পড়া এবং তোমার রোযার সাথে তাদের জন্যও রোযা রাখা", তিনি বলেন: তখন আবদুল্লাহ বললেন: হে আবু ইসহাক! এটি কার থেকে বর্ণিত? তিনি বলেন: আমি তাকে বললাম: এটি শিহাব বিন খিরাশের হাদীস। তিনি বললেন: তিনি বিশ্বস্ত, কিন্তু কার থেকে? তিনি বলেন: আমি বললাম: হাজ্জাজ বিন দীনার থেকে। তিনি বললেন: তিনিও বিশ্বস্ত, তবে কার থেকে? তিনি বলেন: আমি বললাম: তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। তিনি বললেন: হে আবু ইসহাক! নিশ্চয়ই হাজ্জাজ বিন দীনার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে এমন মরুপথ রয়েছে৩, যেখানে বাহনের গর্দানও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; তবে দান-সদকার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।৪

--------------------------------------------

১. "বিশ্বস্ত ব্যক্তিগণ ছাড়া অন্য কেউ যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা না করে" এর অর্থ হলো—বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না।

২. "আমাদের এবং ওই কওমের মাঝে রয়েছে পা-সমূহ"—এই কথার অর্থ হলো: যদি কেউ সহীহ সনদ নিয়ে আসে তবে আমরা তার হাদীস গ্রহণ করি, নতুবা আমরা তা বর্জন করি। তিনি হাদীসকে চতুষ্পদ জন্তুর মতো সাব্যস্ত করেছেন যা পা ছাড়া দাঁড়াতে পারে না। যেমন পা ছাড়া পশু দাঁড়াতে পারে না।

৩. "মাফাউয" হলো 'মাফাযাহ' শব্দের বহুবচন। এটি এমন নির্জন মরুভূমি যা জনবসতি ও পানি থেকে অনেক দূরে, যেখানে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।

৪. "দান-সদকার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই"—এর অর্থ হলো এই হাদীসটি দলীল হিসেবে পেশ করার যোগ্য নয়। তবে কেউ যদি তার পিতা-মাতার সাথে সদাচার করতে চায় তবে সে যেন তাদের পক্ষ থেকে দান-সদকা করে, কারণ দান-সদকা মৃতের কাছে পৌঁছায় এবং তারা এর মাধ্যমে উপকৃত হয়। এ ব্যাপারে মুসলিমদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٨)
وقال محمد: سمعت علي بن شفيق يقول: سمعت عبد الله بن المبارك يقول على رؤوس الناس: دعوا حديث عمرو بن ثابت فإنه كان يسب السلف.

وحدثني أبو بكر بن النضر بن أبي النضر، قال: حدثني أبو النضر هاشم بن القاسم، حدثنا أبو عقيل صاحب بهية. قال: كنت جالسًا عند القاسم بن عبيد الله ويحيى بن سعيد. فقال يحيى للقاسم: يا أبا محمد! إنه قبيح على مثلك، عظيم أن تُسأل عن شيء من أمر هذا الدين، فلا يوجد عندك منه علم، ولا فرج. أو علم ولا مخرج، فقال له القاسم: وعم ذاك؟ قال: لإنك ابن إمامي هدى: ابن أبي بكر وعمر. قال يقول له القاسم: أقبح من ذاك عند من عقل عن الله، أن أقول بغير علم أو آخذ عن غير ثقة. قال فسكت فما أجابه.

وحدثني بشر بن الحكم العبدي، قال: سمعت سفيان بن عيينة يقول: أخبروني عن أبي عقيل صاحب بهية أن أبناء لعبد الله بن عمر سألوه عن شيء لم يكن عنده فيه علم فقال له يحيى بن سعيد: والله إني لأعظم أن يكون مثلك، وأنت ابن إمامي الهدى -يعني عمرَ وابن عمرَ- تُسأل عن أمر ليس عندك فيه علم. فقال: أعظم من ذلك، والله، عند الله، وعند من عقل من الله، أن أقول بغير علم أو أخبر عن غير ثقة. قال: وشهدهما أبو عقيل يحيى بن المتوكل حين قالا ذلك.

وحدثنا عمرو بن علي، أبو حفص. قال: سمعت يحيى بن سعيد. قال: سألت سفيان الثوري وشعبة ومالكًا وابن عيينة، عن الرجل لا يكون ثبتًا في الحديث فيأتيني الرجل فيسألني عنه. قالوا: أخبر عنه أنه ليس بثبت.
এবং মুহাম্মদ বলেছেন: আমি আলি বিন শফিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারককে লোকসমক্ষে বলতে শুনেছি: তোমরা আমর বিন সাবিতের হাদিস বর্জন করো, কেননা সে পূর্বসূরিদের গালি দিত।

এবং আবু বকর বিন আন-নাদর বিন আবি আন-নাদর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আন-নাদর হাশিম বিন আল-কাসিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আকিল সাহিবে বাহিয়্যাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আল-কাসিম বিন উবায়দুল্লাহ এবং ইয়াহইয়া বিন সাঈদের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন ইয়াহইয়া আল-কাসিমকে বললেন: হে আবু মুহাম্মদ! আপনার মতো ব্যক্তির জন্য এটি অত্যন্ত কদর্য এবং বড় বিষয় যে, দ্বীনের কোনো বিষয়ে আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হবে আর আপনার নিকট তার কোনো জ্ঞান বা সমাধান পাওয়া যাবে না। অথবা জ্ঞান ও নিষ্কৃতির পথ পাওয়া যাবে না। তখন আল-কাসিম তাকে বললেন: আর সেটা কেন? তিনি বললেন: কারণ আপনি হেদায়েতের দুই ইমামের বংশধর: আবু বকর ও উমরের বংশধর। বর্ণনাকারী বলেন, আল-কাসিম তাকে বললেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুধাবন করেছে, তার নিকট এর চেয়েও বেশি কদর্য বিষয় হলো আমার জ্ঞানহীন কথা বলা অথবা অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তির নিকট থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি চুপ হয়ে গেলেন এবং তাকে কোনো উত্তর দিলেন না।

এবং বিশর বিন আল-হাকাম আল-আবদি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান বিন উয়াইনাহকে বলতে শুনেছি: তারা আমাকে আবু আকিল সাহিবে বাহিয়্যাহ থেকে জানিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ বিন উমরের কতিপয় বংশধর তাঁকে এমন কিছু জিজ্ঞাসা করেছিলেন যা সম্পর্কে তাঁর নিকট কোনো জ্ঞান ছিল না। তখন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ তাঁকে বললেন: আল্লাহর কসম, আমি এটাকে অত্যন্ত বড় বিষয় মনে করি যে আপনার মতো ব্যক্তি—অথচ আপনি হেদায়েতের দুই ইমামের অর্থাৎ উমর ও ইবনে উমরের বংশধর—আপনাকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে যা সম্পর্কে আপনার নিকট জ্ঞান নেই। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আল্লাহর নিকট এবং যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুধাবন করে তাদের নিকট এর চেয়েও বড় (অন্যায়) বিষয় হলো আমার জ্ঞান ছাড়া কথা বলা অথবা অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদান করা। বর্ণনাকারী বলেন: আবু আকিল ইয়াহইয়া বিন আল-মুতাওয়াক্কিল তাঁদের দুজনকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন যখন তাঁরা এ কথা বলছিলেন।

এবং আমর বিন আলি, আবু হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরি, শু'বাহ, মালিক এবং ইবনে উয়াইনাহকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়, আর কোনো ব্যক্তি এসে আমার নিকট তার সম্পর্কে জানতে চায়। তাঁরা বললেন: তার সম্পর্কে সংবাদ দাও যে সে নির্ভরযোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٩)
وحدثنا عبيد الله بن سعيد قال: سمعت النضر يقول: سئل ابن عون عن حديث لشهر وهو قائم على أسكفة الباب1. فقال: إن شهرًا نزكوه إن شهرًا نزكوه2.

قال مسلم رحمه الله: يقول: أخذته ألسنة الناس. تكلموا فيه.

وقال مسلم: حدثني الفضل بن سهل. قال: حدثنا يزيد بن هارون قال: أخبرني خليفة بن موسى قال: دخلت على غالب بن عبيد الله. فجعل يملي عليّ: حدثني مكحول. حدثني مكحول فأخذه البول3 فقام فنظرت في الكراسة4 فإذا فيها حدثني أبان، عن أنس، وأبان عن فلان، فتركته وقمت.

قال: وسمعت الحسن بن علي الحلواني يقول: رأيت في كتاب عفان حديث هشام أبي المقدام، حديث عمر بن عبد العزيز. قال هشام: حدثني رجل يقال له يحيى بن فلان، عن محمد بن كعب، قال: قلت لعفان: إنهم يقولون: هشام سمعه من محمد بن كعب فقال: إنما ابتلي من قبل هذا الحديث. كان يقول: حدثني يحيى عن محمد، ثم ادعى بعد، أنه سمعه من محمد.

حدثني محمد بن عبد الله بن قهزاذ. قال: سمعت عبد الله بن عثمان بن جبلة يقول: قلت لعبد الله بن المبارك: من هذا الرجل الذي رويت عنه

--------------------------------------------

1 "أسكفة الباب" هي العتبة السفلى التي توطأ.

2 "نزكوه" معناه طعنوا فيه وتكلموا بجرحه. فكأنه يقول: طعنوه بالنيزك، وهو رمح قصير.

3 "أخذه البول" معناه ضغطه وأزعجه واحتاج إلى إخراجه.

4 "الكراسة" قال أبو جعفر النحاس في كتاب "صناعة الكتاب": الكراسة معناه الكتبة المضموم بعضها إلى بعض. والورق الذي قد ألصق بعضه إلى بعض، مشتق من قولهم: رسم مكرس، إذا ألصقت الريح التراب به. وقال أقضى القضاة الماوردي: أصل الكرسي العلم، ومنه قيل للصحيفة يكون فيها علم مكتوب: كراسة.
উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নাদরকে বলতে শুনেছি, ইবনে আউনকে শাহর (ইবনে হাওশাব)-এর একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যখন তিনি দরজার চৌকাঠে১ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই লোকেরা শাহরকে বিদ্ধ করেছে, নিশ্চয়ই লোকেরা শাহরকে বিদ্ধ করেছে২।

ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, মানুষের জিহ্বা তাকে আক্রমণ করেছে; অর্থাৎ তারা তার সমালোচনা করেছে।

ইমাম মুসলিম বলেন: ফাদল ইবনে সাহল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইয়াযীদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খলিফা ইবনে মুসা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি গালিব ইবনে উবাইদুল্লাহর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে হাদিস লিখে নিতে বলতে লাগলেন: 'মাকহুল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মাকহুল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন'। এমন সময় তার প্রস্রাবের বেগ হলো৩ এবং তিনি উঠে গেলেন। তখন আমি তার নোটবুকের৪ দিকে তাকালাম এবং দেখলাম তাতে লেখা আছে: 'আবান আমার নিকট আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন' এবং 'আবান অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন'। তখন আমি তাকে বর্জন করলাম এবং উঠে চলে এলাম।

তিনি বলেন: আমি হাসান ইবনে আলী আল-হুলওয়ানিকে বলতে শুনেছি: আমি আফফানের কিতাবে হিশাম আবু আল-মিকদামের একটি হাদিস দেখেছি, যা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ সম্পর্কিত। হিশাম বলেছিলেন: ইয়াহইয়া ইবনে অমুক নামক এক ব্যক্তি আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি (হাসান) আফফানকে বললাম: লোকেরা বলে যে হিশাম এটি সরাসরি মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে শুনেছেন। তখন তিনি (আফফান) বললেন: মূলত এই হাদিসের কারণেই তিনি বিপদগ্রস্ত (সমালোচিত) হয়েছেন। তিনি প্রথমে বলতেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন যে তিনি এটি সরাসরি মুহাম্মদের নিকট থেকে শুনেছেন।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুহজাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে জাবালাকে বলতে শুনেছি: আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বললাম: আপনি কার কাছ থেকে এই হাদিস বর্ণনা করেছেন?

--------------------------------------------

১. 'আসকুফাতুল বাব' হলো দরজার নিচের চৌকাঠ যার ওপর পা রাখা হয়।

২. 'নাযাকুহু' অর্থ হলো তারা তার সমালোচনা করেছে এবং তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কথা বলেছে। যেন তিনি বলছেন: তারা তাকে 'নাইযাক' (একটি ছোট বর্শা) দিয়ে আঘাত করেছে।

৩. 'আখাযাহুল বাওল' অর্থ হলো প্রস্রাবের বেগ তাকে পীড়া দিয়েছে এবং তা নির্গত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

৪. 'আল-কুরাসাহ': আবু জাফর আন-নাহহাস 'সিনাআতুল কিতাব' গ্রন্থে বলেছেন: কুরাসাহ অর্থ হলো লিখিত বিষয় যা একটির সাথে আরেকটি যুক্ত করা হয়েছে; এবং এমন কাগজ যা একে অপরের সাথে সংলগ্ন করা হয়েছে। এটি তাদের প্রবাদ 'রাসমুন মুকাররাস' থেকে উদ্ভূত, যখন বাতাস ধুলোবালিকে মাটির সাথে লেপে দেয়। আর প্রধান বিচারপতি আল-মাওয়ার্দি বলেছেন: কুরসি-এর মূল অর্থ হলো জ্ঞান, আর এ কারণেই যে পৃষ্ঠায় জ্ঞান লিখিত থাকে তাকে কুরাসাহ বলা হয়।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ١٠)
حديث عبد الله بن عمرو "يوم الفطر يوم الجوائز" قال: سليمان بن الحجاج. انظر ما وضعت في يدك منه.

قال ابن قهزاذ: وسمعت وهب بن زمعة يذكر عن سفيان بن عبد الملك، قال: قال عبد الله، يعني ابن المبارك: رأيت روح بن غطيف، صاحب الدم قدر الدرهم1، وجلست إليه مجلسًا، فجعلت أستحيي من أصحابي أن يروني جالسًا معه. كُره حديثه2.

حدثني ابن قهزاذ قال: سمعت وهبًا يقول عن سفيان، عن ابن المبارك؛ قال: بقية صدوق اللسان ولكنه يأخذ عمن أقبل وأدبر3.

حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا جرير، عن مغيرة، عن الشعبي؛ قال: حدثني الحارث الأعور الهمداني، وكان كذابًا.

حدثنا أبو عامر عبد الله بن براد الأشعري، حدثنا أبو أسامة، عن مفضل، عن مغيرة؛ قال: سمعت الشعبي يقول: حدثني الحارث الأعور، وهو يشهد أنه أحد الكاذبين.

حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا جرير، عن مغيرة، عن إبراهيم؛ قال: قال علقمة: قرأت القرآن في سنتين فقال الحارث: القرآن هين. الوحي أشد.

وحدثني حجاج بن الشاعر، حدثنا أحمد، يعني ابن يونس، حدثنا زائدة، عن الأعمش، عن إبراهيم؛ أن الحارث قال: تعلمت القرآن في ثلاث سنين والوحي في سنتين. أو قال: الوحي في ثلاث سنين. والقرآن في سنتين.

--------------------------------------------

1 "صاحب الدم قدر الدرهم" يريد وصفه وتعريفه بالحديث الذي رواه روح هذا عن الزهري، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة يرفعه "تعاد الصلاة من قدر الدرهم" يعني من الدم.

2 "كره حديثه" أي كراهية له.

3 "ولكنه يأخذ عمن أقبل وأدبر" يعني عن الثقات والضعفاء.
আবদুল্লাহ ইবনে আমর-এর হাদীস "ঈদুল ফিতরের দিন হলো পুরস্কারের দিন।" তিনি (ইবনুল মুবারক) বললেন: সুলাইমান ইবনুল হাজ্জাজ। তোমার হাতে যা এসেছে তা দেখো।

ইবনে কাহজায বলেন: আমি ওয়াহাব ইবনে জামআকে সুফিয়ান ইবনে আবদুল মালিকের সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনুল মুবারক বলেছেন: আমি রূহ ইবনে গুতাঈফকে দেখেছি, যাকে 'দিরহাম পরিমাণ রক্ত' সংক্রান্ত হাদীসের বর্ণনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়১। আমি তার মজলিসে একবার বসেছিলাম, তখন আমি আমার সাথীদের থেকে লজ্জা পাচ্ছিলাম যে তারা আমাকে তার সাথে বসা অবস্থায় দেখে ফেলবে। তার হাদীস অপছন্দনীয় গণ্য করা হয়েছে২।

ইবনে কাহজায আমার নিকট বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াহাবকে সুফিয়ানের সূত্রে ইবনুল মুবারক থেকে বলতে শুনেছি; তিনি বলেন: বাকিয়্যাহ সত্যবাদী, কিন্তু তিনি সামনে আসা এবং পিছে যাওয়া (অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য ও অনির্ভরযোগ্য) সবার কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করেন৩।

কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেন মুগীরাহ থেকে, তিনি শা’বী থেকে; তিনি (শা’বী) বলেন: হারিস আল-আওয়ার আল-হামদানী আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি ছিলেন একজন মিথ্যাবাদী।

আবু আমির আবদুল্লাহ ইবনে বাররাদ আল-আশআরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, আবু উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেন মুফাদদাল থেকে, তিনি মুগীরাহ থেকে; তিনি বলেন: আমি শা’বীকে বলতে শুনেছি: হারিস আল-আওয়ার আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি (শা’বী) সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে সে (হারিস) মিথ্যাবাদীদের একজন।

কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেন মুগীরাহ থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে; তিনি বলেন: আলকামা বলেছিলেন: আমি দুই বছরে কুরআন পড়ে শেষ করেছি। তখন হারিস বলেছিল: কুরআন তো সহজ, ওহী এর চেয়েও কঠিন।

হাজ্জাজ ইবনে শায়ির আমার নিকট বর্ণনা করেন, আহমদ অর্থাৎ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, যায়িদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেন আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে; হারিস বলেছিল: আমি তিন বছরে কুরআন শিখেছি এবং দুই বছরে ওহী শিখেছি। অথবা বলেছিল: ওহী তিন বছরে এবং কুরআন দুই বছরে।

--------------------------------------------

১. "দিরহাম পরিমাণ রক্তের বর্ণনাকারী" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাকে সেই হাদীসটির মাধ্যমে পরিচিত করা যা এই রূহ, যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, "দিরহাম পরিমাণ রক্ত (কাপড়ে লাগলে) সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে।" অর্থাৎ রক্ত থেকে পবিত্রতা অর্জন প্রসঙ্গে।

২. "তার হাদীস অপছন্দনীয় গণ্য করা হয়েছে" অর্থাৎ তার প্রতি অনীহা প্রকাশ করা হয়েছে।

৩. "কিন্তু তিনি যার তার কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করেন" অর্থাৎ তিনি নির্ভরযোগ্য এবং দুর্বল উভয় ধরণের বর্ণনাকারীদের থেকে হাদীস গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ١١)
وحدثني حجاج قال: حدثني أحمد، وهو ابن يونس، حدثنا زائدة، عن منصور والمغيرة، عن إبراهيم؛ أن الحارث اتهم.

وحدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا جرير، عن حمزة الزيات. قال: سمع مرة الهمداني من الحارث شيئًا. فقال له: اقعد بالباب. قال، فدخل مرة وأخذ سيفه. قال، وأحس الحارث بالشر، فذهب.

وحدثني عبيد الله بن سعيد، حدثنا عبد الرحمن، يعني ابن مهدي، حدثنا حماد بن زيد، عن ابن عون؛ قال: قال لنا إبراهيم: إياكم والمغيرة بن سعيد، وأبا عبد الرحمن فإنهما كذابان.

حدثنا أبو كامل الجحدري، حدثنا حماد، وهو ابن زيد، قال: حدثنا عاصم، قال: كنا نأتي أبا عبد الرحمن السلمي ونحن غلمة أيفاع، فكان يقول لنا: لا تجالسوا القصاص غير أبي الأحوص، وإياكم وشقيقًا، قال وكان شقيق هذا يرى رأي الخوارج، وليس بأبي وائل.

حدثنا أبو غسان، محمد بن عمر والرازي، قال: سمعت جريرًا يقول: لقيت جابر بن يزيد الجعفي فلم أكتب عنه. كان يؤمن بالرجعة1.

حدثنا الحسن الحلواني، حدثنا يحيى بن آدم، حدثنا مسعر. قال: حدثنا جابر بن يزيد، قبل أن يحدث ما أحدث.

--------------------------------------------

1 "كان يؤمن بالرجعة" معنى إيمانه بالرجعة هو ما تقوله الرافضة وتعتقده بزعمها الباطل أن عليًّا كرم الله وجهه في السحاب. فلا نخرج، يعني مع من يخرج من ولده حتى ينادى من السماء أن اخرجوا معه.
হাজ্জাজ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ—যিনি ইবনু ইউনুস—আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, যাইদাহ আমাদের নিকট মানসুর ও মুগিরাহ হতে, তারা ইবরাহিম হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল-হারিস অভিযুক্ত ছিল।

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারির আমাদের নিকট হামজাহ আয-যাইয়্যাত হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুররাহ আল-হামদানি আল-হারিসের নিকট থেকে কিছু (ভ্রান্ত কথা) শুনেছিলেন। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: দরজার নিকট বসো। তিনি বলেন, অতঃপর মুররাহ ভেতরে ঢুকলেন এবং নিজের তলোয়ার নিলেন। তিনি বলেন, আল-হারিস অমঙ্গলের আভাস পেলেন এবং চলে গেলেন।

উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান—অর্থাৎ ইবনু মাহদি—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনু যাইদ আমাদের নিকট ইবনু আউন হতে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইবরাহিম আমাদের বলেছিলেন: তোমরা মুগিরাহ ইবনু সাঈদ এবং আবু আবদুর রহমান থেকে সতর্ক থাকো, কেননা তারা দুজনেই চরম মিথ্যাবাদী।

আবু কামিল আল-জাহদারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ—যিনি ইবনু যাইদ—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা যখন কিশোর বয়সের ছিলাম তখন আবু আবদুর রহমান আস-সুলামির নিকট আসতাম। তিনি আমাদের বলতেন: আবু আল-আহওয়াস ব্যতীত অন্য কোনো কিচ্ছাকারীদের সাথে বসবে না এবং শাকিক থেকে সাবধান থেকো। তিনি বলেন, এই শাকিক খারিজিদের মতাদর্শ পোষণ করত এবং সে আবু ওয়াইল ছিল না।

আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনু আমর আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জারিরকে বলতে শুনেছি: আমি জাবির ইবনু ইয়াজিদ আল-জুফির সাথে সাক্ষাৎ করেছি কিন্তু তার থেকে কোনো হাদিস লিখে নিইনি। সে রাজআতে (পুনরাবর্তন) বিশ্বাস করত।১

হাসান আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনু আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মিসআর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: জাবির ইবনু ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছিলেন তার সেই নব উদ্ভাবিত (ভ্রান্ত) মত প্রকাশের আগে।

--------------------------------------------

১ "সে রাজআতে বিশ্বাস করত"—তার রাজআতে বিশ্বাসের অর্থ হলো রাফেজিরা যা বলে এবং তাদের বাতিল ধারণা অনুযায়ী বিশ্বাস করে যে, আলী (আল্লাহ তার চেহারাকে সম্মানিত করুন) মেঘমালার মাঝে অবস্থান করছেন। তাই আমরা বের হব না—অর্থাৎ তার সন্তানদের মধ্য থেকে যারা বিদ্রোহে বের হয় তাদের সাথে—যতক্ষণ না আসমান থেকে ঘোষণা করা হয় যে, তোমরা তার সাথে বের হও।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ١٢)
وحدثني سلمة بن شبيب، حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان. قال: كان الناس يحملون عن جابر قبل أن يظهر ما أظهر، فلما أظهر ما أظهر اتهمه الناس في حديثه، وتركه بعض الناس. فقيل له: وما أظهر؟ قال: الإيمان بالرجعة.

وحدثنا حسن الحلواني، حدثنا أبو يحيى الحماني، حدثنا قبيصة وأخوه، أنهما سمعًا الجراح بن مليح يقول: سمعت جابرًا يقول: عندي سبعون ألف حديث عن أبي جعفر، عن النبي صلى الله عليه وسلم، كلها.

وحدثني حجاج بن الشاعر، حدثنا أحمد بن يونس. قال: سمعت زهيرًا يقول: قال جابرٌ، أو سمعت جابرًا يقول: إن عندي لخمسين ألف حديث، ما حدثت منها بشيء، قال ثم حدث يومًا بحديث فقال: هذا من الخمسين ألفًا.

وحدثني إبراهيم بن خالد اليشكري قال: سمعت أبا الوليد يقول: سمعت سلام بن أبي مطيع يقول: سمعت جابرًا الجعفي يقول: عندي خمسون ألف حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وحدثني سلمة بن شبيب، حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان. قال: سمعت رجلًا سأل جابرًا عن قوله عز وجل: {فَلَنْ أَبْرَحَ الْأَرْضَ حَتَّى يَأْذَنَ لِي أَبِي أَوْ يَحْكُمَ اللَّهُ لِي وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِينَ} . فقال جابر: لم يجئ تأويل هذه. قال سفيان: وكذب، فقلنا لسفيان: وما أراد بهذا؟ فقال: إن الرافضة تقول: إن عليا في السحاب فلا تخرج مع من خرج من ولده، حتى ينادي مناد من السماء يريد عليًّا أنه ينادي: اخرجوا مع فلان. يقول جابر: فذا تأويل هذه الآية وكذب. كانت في إخوة يوسف صلى الله عليه وسلم.
সালামাহ ইবনে শাবিব আমাকে বর্ণনা করেছেন, আল-হুমাইদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: জাবির যা প্রকাশ করার তা প্রকাশ করার আগে মানুষ তার থেকে বর্ণনা গ্রহণ করত, কিন্তু যখন সে যা প্রকাশ করার তা প্রকাশ করল, তখন মানুষ তার হাদিসের ব্যাপারে তাকে অভিযুক্ত করল এবং কিছু লোক তাকে ত্যাগ করল। তাকে জিজ্ঞেস করা হল: সে কী প্রকাশ করেছিল? তিনি বললেন: ‘রাজআ’ (পুনরাবর্তন)-এর প্রতি বিশ্বাস।

হাসান আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াহইয়া আল-হিমানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাবিদাহ এবং তার ভাই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তারা উভয়েই আল-জাররাহ ইবনে মালিহকে বলতে শুনেছেন: আমি জাবিরকে বলতে শুনেছি যে, আবু জাফর থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তর হাজার হাদিস আমার কাছে আছে, যার সবই তাঁর সূত্রে।

হাজ্জাজ ইবনে আশ-শায়ির আমাকে বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি জুহাইরকে বলতে শুনেছি: জাবির বলেছিল, অথবা আমি জাবিরকে বলতে শুনেছি: আমার কাছে অবশ্যই পঞ্চাশ হাজার হাদিস রয়েছে যা থেকে আমি কিছুই বর্ণনা করিনি। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর একদিন সে একটি হাদিস বর্ণনা করল এবং বলল: এটি সেই পঞ্চাশ হাজারের অন্তর্ভুক্ত।

ইব্রাহিম ইবনে খালিদ আল-ইয়াশকারি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল ওয়ালিদকে বলতে শুনেছি: আমি সালাম ইবনে আবু মুতি’কে বলতে শুনেছি: আমি জাবির আল-জু’ফিকে বলতে শুনেছি: আমার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পঞ্চাশ হাজার হাদিস রয়েছে।

সালামাহ ইবনে শাবিব আমাকে বর্ণনা করেছেন, আল-হুমাইদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তিকে জাবিরকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি: {সুতরাং আমি এই স্থান ত্যাগ করব না যতক্ষণ না আমার পিতা আমাকে অনুমতি দেন অথবা আল্লাহ আমার জন্য কোনো ফয়সালা করেন, আর তিনি সর্বোত্তম ফয়সালাকারী}। তখন জাবির বলল: এর ব্যাখ্যা এখনো আসেনি। সুফিয়ান বলেন: সে মিথ্যা বলেছে। আমরা সুফিয়ানকে বললাম: সে এর দ্বারা কী বুঝাতে চেয়েছে? তিনি বললেন: রাফেজিরা বলে যে, আলী মেঘমালার মধ্যে আছেন, তাই তাঁর বংশধরদের মধ্যে যারা বিদ্রোহ করে বের হয় তাদের সাথে বের হয়ো না, যতক্ষণ না আকাশ থেকে কোনো ঘোষণাকারী—অর্থাৎ আলী—এই ঘোষণা দেন যে: অমুকের সাথে বের হও। জাবির বলে যে, এটিই এই আয়াতের ব্যাখ্যা, অথচ সে মিথ্যা বলছে। এটি তো ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ١٣)
وحدثني سلمة، حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان. قال: سمعت جابرًا يحدث بنحو من ثلاثين ألف حديث. ما أستحل أن أذكر منها شيئًا، وأن لي كذا وكذا.

قال مسلم: وسمعت أبا غسان، محمد بن عمرٍو الرازي قال: سألت جرير بن عبد الحميد، فقلت: الحارث بن حصيرة لقيته؟ قال: نعم. شيخٌ طويلُ السكوتِ، يُصر على أمر عظيم.

حدثني أحمد بن إبراهيم الدورقي. قال: حدثني عبد الرحمن بن مهدي، عن حماد بن زيد، قال: ذكر أيوب رجلًا يومًا فقال: لم يكن بمستقيم اللسان، وذكر آخر فقال: هو يزيد في الرقم.

حدثني حجاج بن الشاعر، حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد بن زيد، قال: قال أيوب: إن لي جارًا، ثم ذكر من فضله ولو شهد عندي على تمرتين ما رأيت شهادته جائزة.

وحدثني محمد بن رافع، وحجاج بن الشاعر. قالا: حدثنا عبد الرزاق قال: قال معمر: ما رأيت أيوب اغتاب أحدا قط إلا عبد الكريم. يعني أبا أمية. فإنه ذكره فقال: رحمه الله كان غير ثقة، لقد سألني عن حديث لعكرمة، ثم قال: سمعت عكرمة.

حدثني الفضل بن سهل، قال: حدثنا عفان بن مسلم، حدثنا همام، قال: قدم علينا أبو داود الأعمى فجعل يقول: حدثنا البراء. قال: وحدثنا زيد بن أرقم
সালামা আমাকে বর্ণনা করেছেন, আল-হুমাইদী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি জাবিরকে প্রায় ত্রিশ হাজার হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি। আমার কাছে অমুক অমুক পার্থিব সম্পদ থাকলেও আমি তার মধ্য থেকে কোনো কিছুই বর্ণনা করা বৈধ মনে করি না।

মুসলিম বলেন: আমি আবু গাসসান মুহাম্মাদ ইবনে আমর আর-রাযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি জারীর ইবনে আব্দুল হামীদকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি আল-হারিস ইবনে হাসীরার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকা এক বৃদ্ধ ছিলেন, তবে তিনি এক গুরুতর বিষয়ে (ভ্রান্ত আকিদায়) অটল ছিলেন।

আহমাদ ইবনে ইবরাহীম আদ-দাওরাকী আমাকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আমাকে হাম্মাদ ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আইয়ুব (আস-সাখতিয়ানী) একদিন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বললেন: তার জিহ্বা সঠিক (সত্যবাদী) ছিল না। তিনি অন্য আরেকজন সম্পর্কে বললেন: সে সংখ্যা বাড়িয়ে বলে (বর্ণনায় কমবেশি করে)।

হাজ্জাজ ইবনে আশ-শা’ইর আমাকে বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আইয়ুব বলেছেন: আমার এক প্রতিবেশী আছে—এরপর তিনি তার ফযীলত বা গুণাবলি উল্লেখ করলেন—কিন্তু সে যদি আমার কাছে দুটি খেজুরের বিনিময়েও সাক্ষ্য দেয়, তবে আমি তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য মনে করব না।

মুহাম্মাদ ইবনে রাফে’ এবং হাজ্জাজ ইবনে আশ-শা’ইর আমাকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন: আব্দুর রাযযাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা’মার বলেছেন: আমি আইয়ুবকে আব্দুল কারীম—অর্থাৎ আবু উমাইয়াহ—ব্যতীত আর কখনো কারো গীবত (সমালোচনা) করতে দেখিনি। তিনি তার সম্পর্কে বলেছিলেন: আল্লাহ তাকে রহম করুন, সে নির্ভরযোগ্য ছিল না। সে আমাকে ইকরিমার একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, তারপর সে নিজেই বলল: "আমি ইকরিমা থেকে শুনেছি।"

ফাদল ইবনে সাহল আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আফফান ইবনে মুসলিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু দাউদ আল-আ’মা আসল এবং বলতে লাগল: আল-বারা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন এবং যায়িদ ইবনে আরকাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ١٤)
فذكرنا ذلك لقتادة، فقال: كذب ما سمع منهم1 إنما كان ذلك سائلا يتكفف الناس2 زمن طاعون الجارف3.

وحدثني حسن بن علي الحلواني قال: حدثنا يزيد بن هارون، أخبرنا همام، قال: دخل أبو داود الأعمى على قتادة فلما قام قالوا: إن هذا يزعم أنه لقي ثمانية عشر بدريًّا، فقال قتادة: هذا كان سائلا قبل الجارف لا يعرض في شيء من هذا4، ولا يتكلم فيه، فوالله ما حدثنا الحسن عن بدري مشافهة. ولا حدثنا سعيد بن المسيب عن بدري مشافهة، إلا عن سعد بن مالك.

حدثنا عثمان بن أبي شيبة، حدثنا جرير، عن رقبة؛ أن أبا جعفر الهاشمي المدني كان يضع أحاديث كلام حق5، وليست من أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم، وكان يرويها عن النبي صلى الله عليه وسلم.

حدثنا الحسن الحلواني قال: حدثنا نعيم بن حماد، قال أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن سفيان، وحدثنا محمد بن يحيى، قال: حدثنا نعيم بن حماد، حدثنا أبو داود الطيالسي، عن شعبة، عن يونس بن عبيد قال: كان عمرو بن عبيد يكذب في الحديث.

--------------------------------------------

1 "ما سمع منهم" يعني البراء وزيدًا وغيرهما ممن زعم أنه روى عنهم. فإنه زعم أنه رأى ثمانية عشر بدريًّا.

2 "يتكفف الناس" معناه يسألهم في كفه أو بكفه.

3 "طاعون الجارف" سمي بذلك لكثرة من مات فيه من الناس وسمي الموت جارفًا لاجترافه الناس، وسمي السيل جارفًا لاجترافه ما على الأرض، والجرف الغرف من فوق الأرض وكسح ما عليها، وأما الطاعون فوباء معروف، وهو بثر وورم مؤلم جدًا يخرج مع لهب ويسود ما حوله أو يخضر أو يحمر حمرة بنفسجية كدرة، ويحصل معه خفقان القلب والقيء.

4 "لا يعرض لشيء من هذا" أي لا يعتني بالحديث.

5 "كلام حق" بنصب كلام، وهو بدل من أحاديث، ومعناه كلام صحيح المعنى وحكمة من الحكم ولكنه كذب. فنسبه إلى النبي صلى الله عليه وسلم وليس هو من كلامه صلى الله عليه وسلم.
আমরা কাতাদাহর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: সে মিথ্যা বলেছে, সে তাদের থেকে কিছুই শোনেনি। সে তো ছিল কেবল একজন যাঞ্চাকারী, যে 'জারিফ' মহামারীর সময় মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করত।

হাসান বিন আলী আল-হুলওয়ানী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াযীদ বিন হারুন হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আল-আ’মা কাতাদাহর নিকট আসলেন। তিনি যখন চলে গেলেন, তখন তারা বললেন: এই ব্যক্তি দাবি করে যে, সে আঠারোজন বদরী সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করেছে। তখন কাতাদাহ বললেন: এই ব্যক্তি জারিফ মহামারীর আগে একজন ভিক্ষুক ছিল, সে এসবের কোনো কিছুর সাথেই সম্পৃক্ত ছিল না এবং এ বিষয়ে কোনো কথাও বলত না। আল্লাহর কসম! হাসান আমাদের নিকট সরাসরি কোনো বদরী সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণনা করেননি। সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িবও আমাদের নিকট সা’দ বিন মালিক ব্যতীত অন্য কোনো বদরী সাহাবী থেকে সরাসরি হাদীস বর্ণনা করেননি।

উসমান বিন আবী শাইবাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, জারীর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন রকবাহ থেকে; তিনি বলেন যে, আবু জাফর আল-হাশিমী আল-মাদানী এমন সব হাদীস জাল করতেন যার বক্তব্য ছিল সত্য, কিন্তু সেগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস ছিল না; অথচ সে সেগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে বর্ণনা করত।

হাসান আল-হুলওয়ানী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নুয়াইম বিন হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান বলেন, এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নুয়াইম বিন হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আত-তায়ালিসী আমাদের নিকট শু’বাহ থেকে, তিনি ইউনুস বিন উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর বিন উবাইদ হাদীসের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলত।

--------------------------------------------

১. "সে তাদের থেকে কিছুই শোনেনি" অর্থাৎ বারা, যায়েদ এবং অন্যান্যের থেকে, যাদের থেকে সে হাদীস বর্ণনা করার দাবি করেছিল। কারণ সে দাবি করেছিল যে, সে আঠারোজন বদরী সাহাবীকে দেখেছে।

২. "মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করা" এর অর্থ হলো নিজ হাতের তালু পেতে বা তালুর সাহায্যে তাদের নিকট যাচ্ঞা করা।

৩. "জারিফ মহামারী" - এর নামকরণ এমন করা হয়েছে কারণ এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। মৃত্যুকে 'জারিফ' বলা হয় কারণ এটি মানুষকে সমূলে নির্মূল করে দেয়। যেমন প্লাবনকে 'জারিফ' বলা হয় কারণ এটি ভূপৃষ্ঠের সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। 'আল-জারফ' মানে মাটির উপর থেকে কোনো কিছু তুলে নেওয়া এবং তার ওপরের সবকিছু পরিষ্কার করে ফেলা। আর 'তাউন' (মহামারী) হলো একটি সুপরিচিত ব্যাধি; এটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক একটি ফোঁড়া ও টিউমার যা তীব্র দাহনসহ প্রকাশ পায় এবং এর চারপাশ কালো, সবুজ অথবা কালচে বেগুনি লাল বর্ণ ধারণ করে। এর সাথে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া এবং বমি হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়।

৪. "সে এসবের কোনো কিছুর সাথেই সম্পৃক্ত ছিল না" অর্থাৎ সে হাদীসের প্রতি যত্নবান ছিল না।

৫. "সত্য কথা" - এটি হাদীস শব্দের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ হলো এমন কথা যার মর্ম সঠিক এবং যা প্রজ্ঞাপূর্ণ বা হিকমতপূর্ণ কথার অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তা মূলত মিথ্যা। কারণ সে এগুলোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করত অথচ এগুলো তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ছিল না।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ١٥)
حدثني عمرو بن علي، أبو حفص. قال: سمعت معاذ بن معاذ يقول: قلت لعوف بن أبي جميلة: إن عمرو بن عبيد حدثنا عن الحسن؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من حمل علينا السلاح فليس منا" 1 قال: كذب، والله! عمرو ولكنه أراد أن يحوزها إلى قوله الخبيث2.

وحدثنا عبيد الله بن عمرو القواريري. حدثنا حماد بن زيد. قال: كان رجل قد لزم أيوب وسمع منه ففقده أيوب، فقالوا: يا أبا بكر إنه قد لزم عمرو بن عبيد. قال: حماد: فبينا أنا يومًا مع أيوب وقد بكرنا إلى السوق فاستقبله الرجل فسلم عليه أيوب وسأله ثم قال له أيوب: بلغني أنك لزمت ذاك الرجل. قال حماد: سماه، يعني عمرًا. قال: نعم يا أبا بكر إنه يجيئنا بأشياء غرائب. قال: يقول له أيوب: إنما نفر أو نفرق3 من تلك الغرائب.

وحدثني حجاج بن الشاعر، حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا ابن زيد، يعني حمادًا، قال: قيل لأيوب: إن عمرو بن عبيد روى عن الحسن قال: لا يجلد السكران من النبيذ، فقال: كذب. أنا سمعت الحسن يقول: يجلد السكران من النبيذ.

--------------------------------------------

1 "من حمل علينا السلام فليس منا" ، صحيح مروي من طرق، وقد ذكرها مسلم رحمه الله، ومعناه عند أهل العلم أنه ليس ممن اهتدى بهدينا واقتدى بعلمنا وعملنا وحسن طريقتنا؛ كما يقول الرجل لولده، إذ لم يرض فعله: لست مني.

ومراد مسلم رحمه الله بإدخال هذا الحديث هنا بيان أن عوفًا جرح عمرو بن عبيد وقال: كذاب. وإنما كذبه، مع أن الحديث صحيح لكونه نسبه إلى الحسن. وكان عوف من كبار أصحاب الحسن والعارفين بأحاديثه. فقال: كذب في نسبته إلى الحسن، فلم يرو الحسن هذا، أو لم يسمعه هذا من الحسن.

2 "أراد أن يحوزها إلى قوله الخبيث" معناه كذب بهذه الرواية ليعضد بها مذهبه الباطل الرديء، وهو الاعتزال، فإنهم يزعمون أن ارتكاب المعاصي يخرج صاحبه عن الإيمان ويخلده في النار، ولا يسمونه كافرًا، بل فاسقًا مخلدًا في النار.

3 "نفرّ أو نفرَق" شك من الراوي في إحداهما، معناه: إنما نهرب أو نخاف من هذه الغرائب.
আমর ইবনে আলী আবু হাফস আমাকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি মুয়ায ইবনে মুয়াযকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আউফ ইবনে আবি জামিলাকে বললাম, আমর ইবনে উবাইদ হাসান (বসরী) থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" ১ তিনি (আউফ) বললেন: আল্লাহর কসম, আমর মিথ্যা বলেছে! সে কেবল এই বর্ণনাটিকে তার নিকৃষ্ট মতবাদের পক্ষে ব্যবহার করতে চেয়েছে। ২

উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর আল-কাওয়ারীরী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আইয়ুব (আস-সাখতিয়ানী)-এর সাথে সংলগ্ন থাকতেন এবং তাঁর থেকে হাদিস শুনতেন। একদা আইয়ুব তাকে অনুপস্থিত পেলেন। লোকেরা বলল: হে আবু বকর, সে তো আমর ইবনে উবাইদের সাথে থাকতে শুরু করেছে। হাম্মাদ বলেন: একদিন আমি আইয়ুবের সাথে ছিলাম এবং আমরা ভোরে বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন সেই লোকটির সাথে তাঁর দেখা হলো। আইয়ুব তাকে সালাম দিলেন এবং তার খোঁজখবর নিলেন। এরপর আইয়ুব তাকে বললেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তুমি সেই লোকটির সাথে থাকছ। হাম্মাদ বলেন: তিনি তার নাম উল্লেখ করেছিলেন, অর্থাৎ আমরকে বুঝিয়েছেন। লোকটি বলল: হ্যাঁ হে আবু বকর, সে আমাদের কাছে এমন কিছু অদ্ভুত ও অপরিচিত বিষয় নিয়ে আসে। আইয়ুব তাকে বললেন: আমরা তো সেই সব অদ্ভুত বিষয় থেকেই পালিয়ে বেড়াই অথবা সেগুলোকে ভয় পাই। ৩

হাজ্জাজ ইবনে শায়ের আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের বর্ণনা করেছেন। ইবনে যায়েদ অর্থাৎ হাম্মাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আইয়ুবকে বলা হলো যে, আমর ইবনে উবাইদ হাসান (বসরী) থেকে বর্ণনা করেছে যে তিনি বলেছেন: নবীজ (খেজুরের পানীয়) পান করে মাতাল হওয়া ব্যক্তিকে দোররা মারা হবে না। তখন আইয়ুব বললেন: সে মিথ্যা বলেছে। আমি হাসানকে বলতে শুনেছি: নবীজ পান করে মাতাল হওয়া ব্যক্তিকে দোররা মারা হবে।

--------------------------------------------

১ "যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়"—এটি একটি সহীহ হাদিস যা বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) এটি উল্লেখ করেছেন। বিদ্বানদের মতে এর অর্থ হলো: সে এমন ব্যক্তি নয় যে আমাদের হেদায়েত দ্বারা পরিচালিত হয়েছে এবং আমাদের জ্ঞান, আমল ও উত্তম আদর্শ অনুসরণ করেছে; যেমন একজন ব্যক্তি তার সন্তানকে বলে যখন সে তার কাজে সন্তুষ্ট হয় না: "তুমি আমার নও।"

ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) এই হাদিসটি এখানে উল্লেখ করার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, আউফ (ইবনে আবি জামিলা) আমর ইবনে উবাইদকে অভিযুক্ত করেছেন এবং তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। যদিও হাদিসটি সহীহ, কিন্তু তিনি তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন কারণ সে একে হাসানের দিকে সম্বন্ধ করেছে। আউফ ছিলেন হাসানের বিশিষ্ট সাহচর্যপ্রাপ্তদের একজন এবং তার হাদিস সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত। তাই তিনি বলেছেন: হাসানের দিকে এর সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে সে মিথ্যা বলেছে; হয় হাসান এটি বর্ণনা করেননি, অথবা সে এটি হাসানের থেকে শুনেনি।

২ "সে একে তার নিকৃষ্ট মতবাদের পক্ষে ব্যবহার করতে চেয়েছে" এর অর্থ হলো সে এই বর্ণনার মাধ্যমে মিথ্যাচার করেছে যাতে সে তার বাতিল ও মন্দ মতবাদকে শক্তিশালী করতে পারে, আর তা হলো ইতিযাল (মুতাযিলাবাদ)। কারণ তারা দাবি করে যে, গুনাহে কবিরা বা মহাপাপ করা ব্যক্তিকে ঈমান থেকে বের করে দেয় এবং সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে; তবে তারা তাকে কাফের বলে না, বরং ফাসেক বলে যে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।

৩ "পালিয়ে বেড়াই বা ভয় পাই"—এখানে বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে একটি শব্দের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো: আমরা এই সব অদ্ভুত ও অপরিচিত বিষয় থেকে পলায়ন করি অথবা সেগুলোকে ভয় পাই।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ١٦)
وحدثني حجاج، حدثنا سليمان بن حرب قال: سمعت سلام بن أبي مطيع يقول: بلغ أيوب أني آتي عمرًا فأقبل عليّ يومًا فقال: أرأيت رجلًا لا تأمنه على دينه، كيف تأمنه على الحديث؟

وحدثني سلمة بن شبيب، حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان، قال: سمعت أبا موسى يقول: حدثنا عمرو بن عبيد قبل أن يحدث1.

حدثني عبيد الله بن معاذ العنبري، حدثنا أبي. قال: كتبت إلى شعبة أسأله عن أبي شيبة قاضي واسط، فكتب إليّ: لا تكتب عنه شيئًا ومزق كتابي.

وحدثنا الحلواني قال: سمعت عفان قال: حدثت حماد بن سلمة عن صالح المري بحديث عن ثابت. فقال: كذب. وحدثت همامًا عن صالح المري بحديث، فقال: كذب.

وحدثنا محمود بن غيلان، حدثنا أبو داود. قال: قال لي شعبة: ايْتِ جرير بن حازم فقل له: لا يحل لك أن تروي عن الحسن بن عمارة؛ فإنه يكذب. قال أبو داود: قلت لشعبة: وكيف ذاك؟ فقال: حدثنا عن الحكم بأشياء لم أجد لها أصلًا. قال: قلت له: بأي شيء؟ قال: قلت للحكم: أصلى النبي صلى الله عليه وسلم على قتلى أحد؟ فقال: لم يصل عليهم. فقال الحسن بن عمارة عن الحكم عن مقسم عن ابن عباس؛ إن النبي صلى الله عليه وسلم صلى عليهم ودفنهم. قلت للحكم: ما تقول في أولاد الزنا؟ قال: يصلى عليهم. قلت: من حديث مَن يُروى؟ قال: يُروى عن الحسن البصري. فقال الحسن بن عمارة: حدثنا الحكم عن يحيى بن الجزار عن علي.

--------------------------------------------

1 "يحدث" يعني قبل أن يصير معتزلا قدريًّا.
হাজ্জাজ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবন হারব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালাম ইবন আবি মুতী‘-কে বলতে শুনেছি: আইয়ুবের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে আমি আমরের কাছে যাতায়াত করি। একদিন তিনি আমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন: "তুমি কি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে ভেবে দেখেছ যার দ্বীনের ব্যাপারে তুমি তাকে বিশ্বস্ত মনে করো না, তবে কীভাবে তার হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে তাকে বিশ্বাস করো?"

সালামাহ ইবন শাবীব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-হুমাইদী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু মুসাকে বলতে শুনেছি: আমর ইবন উবাইদ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছিলেন তিনি নতুন মতবাদ (বিদআত) শুরু করার আগে।১

উবাইদুল্লাহ ইবন মুয়ায আল-আনবারী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি শু'বাকে ওয়াসিতের বিচারক আবু শাইবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে চিঠি লিখলাম। তিনি আমাকে উত্তরে লিখলেন: "তার থেকে কোনো কিছু লিখো না এবং আমার এই চিঠিটি ছিঁড়ে ফেলো।"

আল-হুলওয়ানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আফফানকে বলতে শুনেছি: আমি হাম্মাদ ইবন সালামার কাছে ছালিহ আল-মুররী থেকে বর্ণিত সাবিতের একটি হাদীস উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন: "সে মিথ্যা বলেছে।" এরপর আমি হাম্মামকে ছালিহ আল-মুররী থেকে বর্ণিত একটি হাদীস শুনালাম, তখন তিনিও বললেন: "সে মিথ্যা বলেছে।"

মাহমুদ ইবন গাইলান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: শু'বা আমাকে বললেন: "তুমি জারীর ইবন হাযিমের কাছে যাও এবং তাকে বলো: হাসান ইবন উমারাহ থেকে বর্ণনা করা তোমার জন্য বৈধ নয়; কারণ সে মিথ্যা বলে।" আবু দাউদ বলেন: আমি শু'বাকে বললাম: "তা কীভাবে?" তিনি বললেন: "সে আমাদের কাছে হাকাম থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছে যার কোনো ভিত্তি আমি পাইনি।" আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: "সেগুলো কী?" তিনি বললেন: "আমি হাকামকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি উহুদের শহীদদের জানাযার সালাত আদায় করেছিলেন? তিনি বললেন: তিনি তাদের ওপর জানাযার সালাত আদায় করেননি। অথচ হাসান ইবন উমারাহ, হাকাম থেকে, তিনি মিকসাম থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ওপর সালাত আদায় করেছেন এবং তাদের দাফন করেছেন। আমি হাকামকে বললাম: অবৈধ সন্তানদের ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: তাদের ওপর জানাযার সালাত আদায় করা হবে। আমি বললাম: এটি কার সূত্রে বর্ণিত হয়েছে? তিনি বললেন: এটি হাসান বসরী থেকে বর্ণিত হয়েছে। অথচ হাসান ইবন উমারাহ বললেন: হাকাম আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবন আল-জাযযার থেকে এবং তিনি আলী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।"

--------------------------------------------

১. "নতুন কিছু শুরু করা" বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে মুতাযিলা ও কাদারী মতাদর্শ গ্রহণ করার পূর্বের কথা।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ١٧)
وحدثنا الحسن الحلواني. قال: سمعت يزيد بن هارون، وذكر زياد بن ميمون، فقال: حلفت ألا أروي عنه شيئًا، ولا عن خالد بن محدوج. وقال: لقيت زياد بن ميمون، فسألته عن حديث، فحدثني به عن بكر المزني، ثم عدت إليه، فحدثني به عن مورق، ثم عدت إليه، فحدثني به عن الحسن وكان ينسبهما إلى الكذب.

قال الحلواني: سمعت عبد الصمد، وذكرت عنده زياد بن ميمون، فنسبة إلى الكذب.

وحدثنا محمود بن غيلان. قال قلت لأبي داود الطيالسي: قد أكثرت عن عباد بن منصور. فمالك لم تسمع منه حديث العطارة1 الذي روى لنا النضر بن شميل؟ قال لي: اسكت فأنا لقيت زياد بن ميمون، وعبد الرحمن بن مهدي2 فسألناه فقلنا له: هذه الأحاديث التي ترويها عن أنس؟ فقال: أرأيتما رجل يذنب فيتوب أليس يتوب الله عليه؟ قال قلنا: نعم. قال: ما سمعت من أنس، من ذا قليلا ولا كثيرًا إن كان لا يعلم الناس فأنتما لا تعلمان3 أني لم ألق أنسًا.

قال أبو داود: فبلغنا، بعد، أنه يروي. فأتيناه أنا وعبد الرحمن فقال: أتوب ثم كان بعدُ يحدث، فتركناه.

--------------------------------------------

1 "حديث العطارة" قال القاضي عياض رحمه الله: هو حديث رواه زياد بن ميمون هذا عن أنس: أن امرأة يقال لها: الحولاء، عطارة كانت بالمدينة، فدخلت على عائشة رضي الله عنها وذكرت خبرها مع زوجها، وأن النبي صلى الله عليه وسلم ذكر لها فضل الزوج، وهو حديث طويل غير صحيح.

2 "وعبد الرحمن بن مهدي" مرفوع معطوف على الضمير في قوله لقيت.

3 "فأنتما لا تعلمان" هكذا وقع في الأصول، ومعناه: فأنتما تعلمان. فيجوز أن تكون لا زائدة، معناه: أفأنتما لا تعلمان؟ ويكون استفهام تقرير، وحذف همزة الاستفهام.
হাসান আল-হুলওয়ানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি ইয়াজিদ বিন হারুনকে বলতে শুনেছি, তিনি যিয়াদ বিন মাইমুন সম্পর্কে আলোচনা করলেন এবং বললেন: আমি শপথ করেছি যে আমি তার থেকে এবং খালিদ বিন মাহদুজ থেকে কিছুই বর্ণনা করব না। তিনি আরও বলেন: আমি যিয়াদ বিন মাইমুনের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বকর আল-মুযানী থেকে সেটি বর্ণনা করেন। এরপর আমি পুনরায় তার কাছে গেলে তিনি সেটি মুররিক থেকে বর্ণনা করেন। পুনরায় ফিরে আসলে তিনি সেটি হাসান থেকে বর্ণনা করেন। তিনি তাদের উভয়কে মিথ্যার দিকে সম্বন্ধ করতেন (অর্থাৎ মিথ্যাবাদী বলতেন)।

আল-হুলওয়ানী বলেন: আমি আবদুস সামাদকে বলতে শুনেছি—তার কাছে যিয়াদ বিন মাইমুনের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি তাকে মিথ্যার দিকে সম্বন্ধ করেন।

মাহমুদ বিন গাইলান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আবু দাউদ আত-তায়ালিসিকে বললাম: আপনি আব্বাদ বিন মনসুর থেকে অনেক বর্ণনা করেছেন। তবে আপনি তার থেকে সেই সুগন্ধি বিক্রেতা নারীর হাদিসটি১ কেন শুনলেন না যা নাদর বিন শুমাইল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি আমাকে বললেন: চুপ করো! আমি এবং আবদুর রহমান বিন মাহদী২ যিয়াদ বিন মাইমুনের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: এই যে হাদিসগুলো আপনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন (তার হাকিকত কী)? সে বলল: আপনারা কি এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জানেন না যে পাপ করে এবং পরে তাওবা করে, তবে কি আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন না? আমরা বললাম: হ্যাঁ। সে বলল: আমি আনাস থেকে এর অল্প-বিস্তর কিছুই শুনিনি। মানুষ যদি না-ও জানে, তবে আপনারা দুজনে কি জানেন না৩ যে আমি আনাসের সাথে সাক্ষাৎই করিনি?

আবু দাউদ বলেন: এরপর আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে সে পুনরায় বর্ণনা করছে। আমি এবং আবদুর রহমান তার কাছে গেলাম। সে বলল: আমি তাওবা করছি। এরপরও সে পুনরায় বর্ণনা করে যাচ্ছিল, তাই আমরা তাকে বর্জন করলাম।

--------------------------------------------

১ "সুগন্ধি বিক্রেতার হাদিস": কাজী আইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটি সেই হাদিস যা এই যিয়াদ বিন মাইমুন আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে—আল-হাওলা নাম্নী জনৈক নারী মদীনায় সুগন্ধি বিক্রি করতেন। তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর নিকট এসে তার স্বামীর বিষয়ে আলোচনা করেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কাছে স্বামীর মর্যাদা বর্ণনা করেন। এটি একটি দীর্ঘ এবং অশুদ্ধ হাদিস।

২ "এবং আবদুর রহমান বিন মাহদী": এটি মারফু (পেশযুক্ত), যা 'সাক্ষাৎ করেছি' ক্রিয়ার সর্বনামের সাথে সংযুক্ত।

৩ "তবে তোমরা কি জান না": মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে এভাবেই এসেছে, এর অর্থ হলো: "তবে তোমরা তো জানোই"। এখানে 'না' শব্দটি অতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যার অর্থ হবে: "তবে কি তোমরা জানো না?" এবং এটি স্বীকৃতিমূলক প্রশ্নবোধক হবে, যেখানে প্রশ্নের হামজাটি উহ্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ١٨)
حدثنا حسن الحلواني قال: سمعت شبابة1 قال: كان عبد القدوس يحدثنا فيقول: سويد بن عقلة. قال شبابة: وسمعت عبد القدوس يقول: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يتخذ الروح عرضًا. قال: فقيل له: أي شيء هذا؟ قال: يعني تتخذ كوة في حائط ليدخل عليه الروح2.

قال مسلم: وسمعت عبيد الله بن عمر القواريري يقول: سمعت حماد بن زيد يقول لرجل، بعدما جلس مهدي بن هلال بأيام: ما هذه العين المالحة3 التي نبعت قِبَلكم؟ قال: نعم يا أبا إسماعيل.

وحدثنا الحسن الحلواني، قال: سمعت عفان، قال: سمعت أبا عوانة، قال: ما بلغني عن الحسن حديث4، إلا أتيت به أبان بن أبي عياش، فقرأه عليَّ.

وحدثنا سويد بن سعيد. حدثنا علي بن مسهر، قال: سمعت أنا، وحمزة الزيات من أبان بن أبي عياش نحوًا من ألف حديث.

قال عليٌّ: فلقيت حمزة فأخبرني أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم في المنام، فعرض عليه ما سمع من أبان، فما عرف منها إلا شيئًا يسيرًا خمسة أو ستة.

--------------------------------------------

1 "سمعت شبابة … إلخ" المراد بهذا المذكور بيان تصحيف عبد القدوس وغباوته واختلال ضبطه وحصول الوهم في إسناده ومتنه. فأما الإسناد فإنه قال: سويد بن عقلة، وهو تصحيف ظاهر وخطأ بيّن، وإنما هو غفلة، وأما المتن، فقال: الروح وعرضًا، وهو تصحيف قبيح وخطأ صريح، وصوابه الروح، وغرضًا، ومعناه نهى أن يتخذ الحيوان الذي فيه الروح غرضًا، أي هدفًا للرمي، فيرمى إليه بالنشاب وشبهه.

2 "الروح" أي النسيم.

3 "العين المالحة" كناية عن ضعفه وجرحه.

4 "ما بلغني عن الحسن حديث" معنى هذا الكلام أنه كان يحدث عن الحسين بكل ما يسأل عنه، وهو كاذب في ذلك.
হাসান আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাবাবাহকে১ বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবদুল কুদ্দুস আমাদের নিকট বর্ণনা করতেন এবং বলতেন: সুওয়াইদ ইবন উকলাহ। শাবাবাহ বলেন: আমি আবদুল কুদ্দুসকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রাণকে (রুহ) লক্ষ্যবস্তু (আরদ) বানাতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, এর অর্থ কী? তিনি বললেন: এর অর্থ হলো দেওয়ালে ছিদ্র রাখা যাতে বাতাস (রুহ) প্রবেশ করতে পারে।২

ইমাম মুসলিম বলেন: আমি উবাইদুল্লাহ ইবন উমর আল-কাওয়ারিরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাম্মাদ ইবন যাইদকে এক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি—মাহদি ইবন হিলাল (হাদিসের মজলিসে) বসার কয়েক দিন পর—তোমাদের দিক থেকে এই লোনা পানির ঝরনাটি৩ কী, যা প্রবাহিত হতে শুরু করেছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আবু ইসমাইল।

আল-হাসান আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আফ্ফানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আওয়ানাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হাসান (বসরি) থেকে আমার কাছে কোনো হাদিস৪ পৌঁছলে আমি তা আবান ইবন আবি আইয়াশের কাছে নিয়ে আসতাম, অতঃপর সে তা আমাকে পড়ে শোনাত।

সুওয়াইদ ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আলি ইবন মুশহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এবং হামযাহ আয-যাইয়্যাত আবান ইবন আবি আইয়াশ থেকে প্রায় এক হাজার হাদিস শুনেছি।

আলি বলেন: অতঃপর আমি হামযাহর সাথে দেখা করলাম, তখন তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি স্বপ্নে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন এবং আবান থেকে যা শুনেছেন তা তাঁর সামনে পেশ করেছেন। কিন্তু তিনি (নবী) তার মধ্য থেকে সামান্য কিছু তথা পাঁচটি বা ছয়টি হাদিস ছাড়া অন্য কিছু চিনতে পারলেন না।

--------------------------------------------

১ "আমি শাবাবাহকে শুনেছি..." ইত্যাদি। এখানে এটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো আবদুল কুদ্দুসের শব্দের পরিবর্তন (তাসহিফ), তার অজ্ঞতা, বর্ণনায় ত্রুটি এবং তার সনদে ও পাঠে ভুলের বিষয়টি স্পষ্ট করা। সনদের ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: 'সুওয়াইদ ইবন উকলাহ', যা একটি প্রকাশ্য ভুল এবং সুস্পষ্ট ত্রুটি, কারণ শব্দটি মূলত হবে 'গাফালাহ'। আর পাঠের (মতন) ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: 'আর-রুহ' এবং 'আরদ', যা একটি কুৎসিত বিকৃতি এবং প্রকাশ্য ভুল। এর সঠিক পাঠ হলো 'আর-রুহ' এবং 'গারায'। এর অর্থ হলো প্রাণ আছে এমন কোনো প্রাণীকে লক্ষ্যবস্তু (গারায) বানাতে নিষেধ করা হয়েছে, অর্থাৎ তীরের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করে তাতে তির বা এ জাতীয় কিছু নিক্ষেপ করা।

২ "রুহ" অর্থাৎ মন্দ বাতাস বা হাওয়া।

৩ "লোনা পানির ঝরনা" এটি তার দুর্বলতা এবং দোষত্রুটির প্রতি একটি রূপক ইঙ্গিত।

৪ "হাসান থেকে আমার কাছে কোনো হাদিস পৌঁছলে"—এই কথার অর্থ হলো, তাকে যা কিছুই জিজ্ঞাসা করা হতো সে আল-হাসানের সূত্রে বর্ণনা করে দিত, অথচ সে এ বিষয়ে মিথ্যাবাদী ছিল।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ١٩)
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، أخبرنا زكرياء بن عدي. قال: قال لي أبو إسحاق الفزاري: اكتب عن بقية ما روى عن المعروفين، ولا تكتب عنه ما روى عن غير المعروفين، ولا تكتب عن إسماعيل بن عياش ما روى عن المعروفين، ولا عن غيرهم.

وحدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي قال: سمعت بعض أصحاب عبد الله قال: قال ابن المبارك: نعم الرجل بقية، لولا أنه كان يكني الأسامي ويسمي الكنى1. كان دهرًا يحدثنا عن أبي سعيد الوحاظي، فنظرنا فإذا هو عبد القدوس.

وحدثني أحمد بن يوسف الأزدي قال: سمعت عبد الرزاق يقول: ما رأيت ابن المبارك يفصح بقوله: كذاب إلا لعبد القدوس، فإني سمعته يقول له: كذاب.

وحدثني عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي قال: سمعت أبا نعيم، وذكر المعلى بن عرفان، فقال: قال: حدثنا أبو وائل قال: خرج علينا ابن مسعود بصفين. فقال أبو نعيم: أتراه بعث بعد الموت؟ 2.

حدثني عمرو بن علي وحسن الحلواني؛ كلاهما عن عفان بن مسلم قال: كنا عند إسماعيل بن علية، فحدث رجل عن رجل، فقلت: إن هذا ليس بثبت. قال: فقال الرجل: اغتبته. قال إسماعيل: ما اغتابه ولكنه حكم: أنه ليس بثبت.

--------------------------------------------

1 "كان يكني الأسامي ويسمي الكنى"، معناه: أنه إذا روى عن إنسان معروف باسمه كناه ولم يسمه، وإذا روى عن إنسان معروف بكنيته سماه ولم يكنه، وهذا نوع من التدليس، وهو قبيح مذموم.

2 "أتُراه"، معناه: أتظنه.
আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দারিমি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাকারিয়া ইবনে আদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু ইসহাক আল-ফাযারি আমাকে বলেছেন: বাকিয়্যাহ (ইবনে ওয়ালিদ) পরিচিত বর্ণনাকারীদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা লিখে নাও, কিন্তু তিনি অপরিচিতদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা লিখো না। আর ইসমাইল ইবনে আইয়াশ থেকে কিছুই লিখো না, চাই তিনি পরিচিতদের থেকে বর্ণনা করুন কিংবা অন্যদের থেকে।

ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহর (ইবনে আল-মুবারাক) জনৈক সাথীকে বলতে শুনেছি: ইবনুল মুবারাক বলেছেন: বাকিয়্যাহ কতই না চমৎকার ব্যক্তি হতেন যদি না তিনি নামসমূহকে উপনামে আর উপনামসমূহকে নামে রূপান্তরিত না করতেন১। তিনি দীর্ঘকাল আমাদের নিকট আবু সাইদ আল-উহাযি থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন, পরে আমরা অনুসন্ধান করে দেখলাম যে তিনি মূলত আবদুল কুদ্দুস।

আহমদ ইবনে ইউসুফ আল-আযদি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুর রাজ্জাককে বলতে শুনেছি: আমি ইবনুল মুবারাককে আবদুল কুদ্দুস ছাড়া আর কারো ব্যাপারে স্পষ্টভাবে 'মিথ্যাবাদী' বলতে দেখিনি; আমি তাকে তাকে 'মিথ্যাবাদী' বলতে শুনেছি।

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দারিমি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু নুআইমকে মুআল্লা ইবনে ইরফানের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি। তিনি (আবু নুআইম) বললেন: মুআল্লা বলেছে: আবু ওয়াইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে মাসউদ সিফফিনে আমাদের সামনে বের হয়ে আসলেন। তখন আবু নুআইম বললেন: তুমি কি মনে করো তাকে মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত করা হয়েছিল? ২।

আমর ইবনে আলি এবং হাসান আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়ে আফফান ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহর নিকট ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি জনৈক ব্যক্তি থেকে হাদীস বর্ণনা করল, আমি বললাম: এই ব্যক্তি সুদৃঢ় (নির্ভরযোগ্য) নয়। তখন ওই ব্যক্তি বললেন: আপনি তার গিবত (পরনিন্দা) করলেন। ইসমাইল বললেন: তিনি তার গিবত করেননি, বরং তিনি কেবল এই সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেছেন যে, সে সুদৃঢ় (নির্ভরযোগ্য) নয়।

--------------------------------------------

১ "তিনি নামসমূহকে উপনামে আর উপনামসমূহকে নামে রূপান্তরিত করতেন" - এর অর্থ হলো: তিনি যখন এমন কোনো ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করতেন যিনি তার নামে পরিচিত, তখন তিনি তার নাম উল্লেখ না করে তাকে উপনামে অভিহিত করতেন। আর যখন এমন কোনো ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করতেন যিনি তার উপনামে পরিচিত, তখন তিনি তাকে নামে অভিহিত করতেন। এটি এক প্রকারের 'তাদলিস' (পরিচয় গোপন করা), যা অত্যন্ত কদর্য ও নিন্দনীয়।

২ "তুমি কি তাকে মনে করো" - এর অর্থ হলো: তুমি কি ধারণা করো।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وحدثنا أبو جعفر الدارمي. حدثنا بشر بن عمر قال: سألت مالك بن أنس، عن محمد بن عبد الرحمن الذي يروي عن سعيد بن المسيب. فقال: ليس بثقة، وسألته عن صالح مولى التوأمة. فقال: ليس بثقة. وسألته عن أبي الحويرث. فقال: ليس بثقة. وسألته عن شعبة الذي روى عنه ابن أبي ذئب. فقال: ليس بثقة. وسألته عن حرام بن عثمان. فقال: ليس بثقة. وسألت مالكًا عن هؤلاء الخمسة. فقال: ليسوا بثقة في حديثهم. وسألته عن رجل آخر نسيت اسمه. فقال: هل رأيته في كتبي. قلت: لا. قال: لو كان ثقة لرأيته في كتبي.

وحدثني الفضل بن سهل، قال: حدثني يحيى بن معين، حدثنا حجاج، حدثنا ابن أبي ذئب عن شرحبيل بن سعد، وكان متهمًا.

وحدثني محمد بن عبد الله بن قهزاذ. قال: سمعت أبا إسحاق الطالقاني يقول: سمعت ابن المبارك يقول: لو خيرت بين أن أدخل الجنة وبين أن ألقى عبد الله بن محرر، لاخترت أن ألقاه ثم أدخل الجنة. فلما رأيته، كانت بعره أحب إليّ منه.

وحدثني الفضل بن سهل، حدثنا وليد بن صالح قال: قال عبيد الله بن عمرو: قال زيد، يعني ابن أبي أنيسة: لا تأخذوا عن أخي.

حدثني أحمد بن إبراهيم الدورقي قال: حدثني عبد السلام الوابصي. قال: حدثني عبد الله بن جعفر الرقي، عن عبيد الله بن عمرو؛ قال: كان يحيى بن أبي أنيسة كذابًا.

حدثني أحمد بن إبراهيم قال: حدثني سليمان بن حرب، عن حماد بن زيد قال: ذكر فرقد عند أيوب. فقال: إن فرقدًا ليس صاحب حديث.
আবু জাফর আদ-দারিমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। বিশর ইবনে উমর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বললেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়। আমি তাঁকে সালিহ মাওলা আত-তাওআমাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়। আমি তাঁকে আবুল হুওয়াইরিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়। আমি তাঁকে শু'বাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যাঁর থেকে ইবনে আবি দি'ব বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়। আমি তাঁকে হারাম ইবনে উসমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়। আমি মালিককে এই পাঁচজন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তারা তাদের হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। আমি তাঁকে অন্য একজন লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার নাম আমি ভুলে গেছি। তিনি বললেন: তুমি কি তাকে আমার কিতাবসমূহে দেখেছ? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: যদি সে নির্ভরযোগ্য হতো, তবে তাকে অবশ্যই আমার কিতাবসমূহে দেখতে পেতে।

আল-ফাদল ইবনে সাহল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি দি'ব শুরাহবিল ইবনে সা'দ থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আর সে অভিযুক্ত ছিল।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কাহজাদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আবু ইসহাক আত-তালকানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি যে, যদি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করা এবং আবদুল্লাহ ইবনে মুহররিরের সাথে সাক্ষাৎ করার মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে বলা হতো, তবে আমি প্রথমে তার সাথে সাক্ষাৎ করা এবং এরপর জান্নাতে প্রবেশ করাকেই বেছে নিতাম। কিন্তু যখন আমি তাকে দেখলাম, তখন পশুর মলও আমার কাছে তার চেয়ে অধিক প্রিয় মনে হলো।

আল-ফাদল ইবনে সাহল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ ইবনে সালিহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর বলেছেন: যাইদ—অর্থাৎ ইবনে আবি আনাইসাহ—বলেছেন: তোমরা আমার ভাইয়ের থেকে হাদিস গ্রহণ করো না।

আহমদ ইবনে ইবরাহিম আদ-দাওরাকি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সালাম আল-ওয়াবিসি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আর-রাক্কি উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি আনাইসাহ একজন চরম মিথ্যাবাদী ছিল।

আহমদ ইবনে ইবরাহিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে হারব হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আইয়ুবের সামনে ফারকাদের কথা উল্লেখ করা হলো। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই ফারকাদ হাদিসের লোক নয়।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٢١)
وحدثني عبد الرحمن بن بشر العبدي قال: سمعت يحيى بن سعيد القطان، ذكر عنده محمد بن عبد الله بن عبيد بن عمير الليثي، فضعفه جدًّا1، فقيل ليحيى: أضعف من يعقوب بن عطاء؟ قال: نعم. ثم قال: ما كنت أرى أن أحدًا يروي عن محمد بن عبد الله بن عبيد بن عمير.

حدثني بشر بن الحكم، قال: سمعت يحيى بن سعيد القطان، ضعف حكيم بن جبير وعبد الأعلى، وضعف يحيى بن موسى بن دينار، قال: حديثه ريح، وضعف موسى بن دهقان، وعيسى بن أبي عيسى المدني، قال: وسمعت الحسن بن عيسى يقول: قال لي ابن المبارك: إذا قدمت على جرير فاكتب علمه كله إلا حديث ثلاثة، لا تكتب حديث عبيدة بن معتب، والسري بن إسماعيل، ومحمد بن سالم.

قال مسلم: وأشباه ما ذكرنا من كلام أهل العلم في متهمي رواة الحديث وإخبارهم عن معايبهم كثير، يطول الكتاب بذكره على استقصائه، وفيما ذكرنا كفاية لمن تفهم وعقل مذهب القوم فيما قالوا من ذلك وبينوا.

وإنما ألزموا أنفسهم الكشف عن معايب رواة الحديث، وناقلي الأخبار، وأفتوا بذلك حين سئلوا، لما فيه من عظيم الخطر، إذ الأخبار في أمر الدين إنما تأتي بتحليل، أو تحريم، أو أمر، أو نهي، أو ترغيب، أو ترهيب، فإذا كان الراوي لها ليس بمعدن للصدق والأمانة، ثم أقدم على الرواية عنه من قد عرفه ولم يبين ما فيه لغيره، ممن جهل معرفته، كان آثمًا بفعله ذلك، غاشًّا لعوام المسلمين، إذ لا يؤمن على بعض من سمع تلك الأخبار أن يستعملها، أو يستعمل بعضها، ولعلها أو أكثرها أكاذيب لا أصل لها مع أن الأخبار الصحاح من رواية

--------------------------------------------

1 "جدًّا" هو بكسر الجيم. وهو مصدر جدّ يجدّ جدًّا. ومعناه تضعيفًا بليغًا.
আব্দুর রহমান ইবনে বিশর আল-আবদি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানকে বলতে শুনেছি, তাঁর কাছে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উবায়দ ইবনে উমায়ের আল-লায়সি সম্পর্কে আলোচনা করা হলে তিনি তাকে অত্যন্ত দুর্বল সাব্যস্ত করলেন১। তখন ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞাসা করা হলো: তিনি কি ইয়াকুব ইবনে আতা’র চেয়েও দুর্বল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। এরপর তিনি বললেন: আমি মনে করতাম না যে কেউ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উবায়দ ইবনে উমায়ের থেকে বর্ণনা করবে।

বিশর ইবনে হাকাম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানকে হাকিম ইবনে জুবায়ের ও আব্দুল আ’লাকে দুর্বল বলতে শুনেছি। ইয়াহইয়া ইবনে মুসা ইবনে দীনারকেও তিনি দুর্বল বলেছেন এবং বলেছেন: তার হাদিস বাতাসের মতো (অসার)। তিনি মুসা ইবনে দিহকান এবং ঈসা ইবনে আবু ঈসা আল-মাদানিকেও দুর্বল বলেছেন। তিনি (বিশর) আরও বলেন: আমি হাসান ইবনে ঈসাকে বলতে শুনেছি যে, ইবনুল মুবারক আমাকে বলেছেন: যখন তুমি জারীরের কাছে যাবে, তখন তিন ব্যক্তি ছাড়া তার সমস্ত ইলম লিখে নেবে। উবায়দাহ ইবনে মু’াত্তিব, সাররি ইবনে ইসমাইল এবং মুহাম্মদ ইবনে সালেমের হাদিস লিখবে না।

ইমাম মুসলিম বলেন: অভিযুক্ত হাদিস বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে এবং তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনায় আহলে ইলমদের (বিদ্বানদের) কাছ থেকে আমরা যা উল্লেখ করেছি, এই জাতীয় কথা আরও অনেক রয়েছে। পূর্ণাঙ্গরূপে সেগুলোর উল্লেখ করলে কিতাব অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। যারা সে বিষয়গুলো অনুধাবন করেছে এবং তারা (বিদ্বানরা) এই বিষয়ে যা বলেছেন ও স্পষ্ট করেছেন তাদের পদ্ধতি বুঝতে পেরেছে, তাদের জন্য আমরা যা উল্লেখ করেছি তাই যথেষ্ট।

তারা (বিদ্বানরা) হাদিস বর্ণনাকারী এবং খবর বাহকদের দোষ-ত্রুটি উন্মোচন করা নিজেদের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছিলেন এবং যখন এ সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তখন তারা ফতোয়া প্রদান করেছেন। এর কারণ হলো এতে মহাবিপদ নিহিত রয়েছে। কেননা দ্বীনের বিষয়ের খবরগুলো মূলত কোনো কিছু হালাল করা বা হারাম করা, আদেশ করা বা নিষেধ করা এবং উৎসাহ প্রদান বা ভীতি প্রদর্শনের জন্যই এসে থাকে। এমতাবস্থায় যদি বর্ণনাকারী সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার আধার না হয়, আর যে ব্যক্তি তার অবস্থা সম্পর্কে জানেন তিনি যদি তার বর্ণনা গ্রহণ করেন এবং অন্য কেউ যে তার সম্পর্কে অবগত নয় তার কাছে দোষ-ত্রুটি বর্ণনা না করেন, তবে তিনি তার এই কাজের কারণে পাপী হবেন এবং সাধারণ মুসলিমদের সাথে প্রতারণা করবেন। কারণ যারা এই খবরগুলো শুনবে, তাদের মধ্যে কেউ তা আমল করবে বা তার কিছু অংশ আমল করবে—এমনটি হওয়া বিচিত্র নয়। অথচ সম্ভবত সেই খবরের অধিকাংশ বা সবটুকুই মিথ্যা যার কোনো ভিত্তি নেই। অন্যদিকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে প্রাপ্ত সহিহ খবরগুলো...

--------------------------------------------

১ "জিদ্দান" শব্দটি 'জিম' বর্ণের নিচে কাসরা (জের) দিয়ে গঠিত। এটি 'জাদ্দা ইয়াজিদ্দু জিদ্দান' এর মাসদার। এর অর্থ হলো অত্যন্ত জোরালোভাবে দুর্বল সাব্যস্ত করা।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
الثقات وأهل القناعة1 أكثر من أن يضطر إلى نقل من ليس بثقة ولا مقنع2.

ولا أحسب كثيرًا ممن يعرج من الناس على ما وصفنا من هذه الأحاديث الضعاف والأسانيد المجهولة، ويعتد بروايتها بعد معرفته بما فيها، من التوهن والضعف، إلا أن الذي يحمله على روايتها، والاعتداد بها، إرادة التكثر بذلك عند العوام، ولأن يقال: ما أكثر ما جمع فلان من الحديث، وألف من العدد.

ومن ذهب في العلم هذا المذهب، وسلك هذا الطريق فلا نصيب له فيه، وكان بأن يسمى جاهلا، أولى من أن ينسب إلى علم.

وقد تكلم بعض منتحلي الحديث من أهل عصرنا في تصحيح الأسانيد وتقسيمها بقول، لو ضربنا3 عن حكايته وذكر فساده صفحًا لكان رأيًا متينًا، ومذهبًا صحيحًا.

إذ الإعراض عن القول المطرح، أحرى لإماتته وإخمال ذكر قائله4 وأجدر أن لا يكون ذلك تنبيهًا للجهال عليه، غير أنا لما تخوفنا من شرور العواقب واغترار الجهلة بمحدثات الأمور، وإسراعهم إلى اعتقاد خطا المخطئين، والأقوال الساقطة عند العلماء، رأينا الكشف عن فساد قوله، ورد مقالته بقدر ما يليق بها من الرد أجدى5 على الأنام، وأحمد للعاقبة إن شاء الله.

--------------------------------------------

1 "أهل القناعة" أي الذين يقنع بحديثهم لكمال حفظهم وعدالتهم.

2 "مقنع" مثل جعفر، أي يقنع به، ويستعمل بلفظ واحد مطلقًا.

3 "لو ضربنا … إلخ" أي لو أعرضنا عن ذلك إعراضًا. فصفحا مصدر من غير لفظه، وفي التنزيل الجليل: {أَفَنَضْرِبُ عَنْكُمُ الذِّكْرَ صَفْحًا} .

4 "إخمال ذكر قائله" أي إسقاطه.

5 "أجدى" أنفع.
নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং পরিতৃপ্তিদায়ক ব্যক্তিবর্গ সংখ্যায় এতোই অধিক যে, এমন কোনো ব্যক্তির থেকে বর্ণনা গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না যে নির্ভরযোগ্য নয় বা সন্তোষজনক নয়।

আমি মনে করি না যে, মানুষ যখন আমাদের বর্ণিত এসকল দুর্বল হাদীস ও অজ্ঞাত সূত্রসমূহের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং এর অন্তর্নিহিত দুর্বলতা ও ত্রুটি জানার পরেও সেগুলোকে প্রামাণ্য হিসেবে গণ্য করে—তখন তার এই বর্ণনা ও প্রামাণ্য ধরার মূল চালিকাশক্তি সাধারণ মানুষের কাছে হাদীসের আধিক্য প্রদর্শন করার ইচ্ছা ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে। যাতে করে লোকে বলে: "অমুক ব্যক্তি কতই না হাদীস সংগ্রহ করেছেন এবং কত সংখ্যায় তা সংকলন করেছেন!"

আর জ্ঞানের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি এই মত অবলম্বন করে এবং এই পথ অনুসরণ করে, তার ইলম বা জ্ঞানে কোনো অংশ নেই। তাকে আলেম হিসেবে গণ্য করার চেয়ে অজ্ঞ হিসেবে নামকরণ করাই অধিকতর সমীচীন।

আমাদের যুগের কতিপয় হাদীসের দাবিদার ব্যক্তি সনদ বা সূত্রসমূহের বিশুদ্ধকরণ ও বিভাজন সম্পর্কে এমন কথা বলেছেন যে, যদি আমরা তা বর্ণনা করা এবং তার অসারতা উল্লেখ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুখ ফিরিয়ে নিতাম, তবে সেটাই হতো একটি সুদৃঢ় রায় এবং সঠিক কর্মপন্থা।

কেননা বর্জনীয় কথা থেকে বিমুখ থাকাই সেটি নির্মূল করার এবং তার প্রবক্তার নাম বিস্মৃত করার জন্য অধিক কার্যকর, এবং তা মূর্খদেরকে সেদিকে সজাগ না করার জন্য অধিক উপযোগী। কিন্তু যেহেতু আমরা এর অশুভ পরিণতির ভয় করছি এবং নব্য আবিষ্কৃত বিষয়াবলি দ্বারা অজ্ঞদের প্রতারিত হওয়া, ভুলকারীদের ভুলগুলোকে সত্য বলে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাদের দ্রুততা এবং আলেমদের নিকট অসার হিসেবে গণ্য কথাগুলোর প্রতি তাদের ধাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছি; তাই আমরা মনে করি যে, তার কথার অসারতা উন্মোচন করা এবং তার বক্তব্যের যথাযথ খণ্ডন করা মানুষের জন্য অধিক কল্যাণকর এবং পরিণামের বিচারে উত্তম হবে, ইনশাআল্লাহ।

--------------------------------------------

১ "পরিতৃপ্তিদায়ক ব্যক্তিবর্গ" অর্থাৎ যাদের মুখস্থশক্তি ও ন্যায়পরায়ণতা পূর্ণাঙ্গ হওয়ার কারণে তাদের হাদীসের ওপর নির্ভর করা যায়।

২ "মুক্বনা" অর্থাৎ যার ওপর তুষ্ট হওয়া যায়; এটি একবচন হিসেবে সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়।

৩ "যদি আমরা বিমুখ হই... ইত্যাদি" অর্থাৎ যদি আমরা বিষয়টি থেকে সম্পূর্ণরূপে মুখ ফিরিয়ে নেই। এখানে 'সাফহা' শব্দটি ভিন্ন শব্দমূল থেকে আগত ক্রিয়ামূল। মহান আল্লাহর কিতাবে এসেছে: "তবে কি আমি তোমাদের থেকে উপদেশবাণী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নেব?"

৪ "তার প্রবক্তার নাম বিস্মৃত করা" অর্থাৎ তাকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া।

৫ "অধিক কল্যাণকর" অর্থাৎ অধিক উপকারী।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وزعم القائل الذي افتتحنا الكلام على الحكاية عن قوله، والإخبار عن سوء رويَّته1، أن كل إسناد لحديث فيه فلان عن فلان، وقد أحاط العلم بأنهما قد كانا في عصر واحد، وجائز أن يكون الحديث الذي روى الراوي عمن روى عنه قد سمعه منه وشافهه به، غير أنه لا نعلم له منه سماعًا ولم نجد في شيء من الروايات أنهما التقيا قط، أو تشافها بحديث. أن الحجة لا تقوم عنده بكل خبر جاء هذا المجيء، حتى يكون عنده العلم بأنهما قد اجتمعا من دهرهما مرة فصاعدًا، أو تشافها بالحديث بينهما، أو يرد خبر فيه بيان اجتماعهما، وتلاقيهما، مرة من دهرهما فما فوقها، فإن لم يكن عنده علم ذلك، ولم تأت رواية صحيحة تخبر أن هذا الراوي عن صاحبه قد لقيه مرة، وسمع منه شيئًا لم يكن في نقله الخبر عمن روى عنه ذلك، والأمر كما وصفنا، حجة وكان الخبر عنده موقوفًا حتى يرد عليه سماعه منه لشيء من الحديث قل أو كثر في رواية مثل ما ورد. ا. هـ.

من هذه المقتطفات التي توسعت في نقلها من مقدمة الإمام مسلم يتبين كيف أن موضوع التوثيق والثقات قد شغل حيزًا واسعًا في دائرة الأبحاث الحديثية، إذ عليها العمدة في أخذ الرواية أو تركها، وقد وضع العلماء -تبعًا لذلك- درجات للتوثيق نجعلها فيما يلي:

درجات التوثيق:

قال الذهبي في الميزان "1: 4":

إن أعلى العبارات في الرواة: ثبت حجة، وثبت حافظ، وثقة متقن، وثقة ثقة، ثم: صدوق، ولا بأس به، وليس به بأس.

--------------------------------------------

1 "رويته": فكره.
সেই বক্তা, যার বক্তব্য উদ্ধৃত করার মাধ্যমে আমরা আলোচনা শুরু করেছি এবং যার ভুল চিন্তাধারা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেছি, সে দাবি করেছে যে: এমন প্রতিটি হাদিসের সনদ যাতে 'অমুক হতে অমুক বর্ণনা করেছেন' (আনআনা) রয়েছে, এবং এটি নিশ্চিতভাবে জানা গেছে যে তারা উভয়ে সমসাময়িক ছিলেন এবং এটি সম্ভব যে বর্ণনাকারী যার থেকে বর্ণনা করছেন তার থেকে তিনি সরাসরি শুনেছেন ও মুখোমুখি কথা বলেছেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের কাছে তাদের সরাসরি শ্রবণের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই এবং কোনো বর্ণনায় এটি পাওয়া যায়নি যে তারা কখনো সাক্ষাৎ করেছেন বা সরাসরি কথোপকথন করেছেন—এমন প্রতিটি বর্ণনা তার নিকট দলিল হিসেবে গণ্য হবে না। যতক্ষণ না তার নিকট নিশ্চিতভাবে এই জ্ঞান পৌঁছাবে যে, তারা তাদের জীবদ্দশায় অন্তত একবার বা তার বেশি একত্রিত হয়েছেন অথবা তাদের মধ্যে সরাসরি কথা হয়েছে, কিংবা এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় যাতে তাদের অন্তত একবার বা তার বেশি সময় একত্রিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। যদি তার নিকট এই বিষয়ে কোনো জ্ঞান না থাকে এবং এমন কোনো সহিহ বর্ণনা না আসে যা সংবাদ দেয় যে এই বর্ণনাকারী তার উস্তাদের সাথে একবার হলেও সাক্ষাৎ করেছেন এবং তার নিকট থেকে কিছু শুনেছেন, তবে বর্ণিত বিষয়টি তার নিকট দলিল বা প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না। বরং বিষয়টি তার নিকট স্থগিত বলে বিবেচিত হবে যতক্ষণ না ছোট বা বড় কোনো হাদিসের বর্ণনায় তার নিকট থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। [সমাপ্ত]

ইমাম মুসলিমের মুকাদ্দিমাহ থেকে বিস্তারিতভাবে উদ্ধৃত এই অংশগুলো থেকে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, নির্ভরযোগ্যতা নিরূপণ এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিষয়টি হাদিস গবেষণার পরিমণ্ডলে একটি বিশাল স্থান দখল করে আছে। কেননা, বর্ণনা গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে এর ওপরই মূল নির্ভরতা। এই প্রেক্ষিতে উলামায়ে কেরাম নির্ভরযোগ্যতার বিভিন্ন স্তর নির্ধারণ করেছেন, যা নিচে উল্লেখ করা হলো:

নির্ভরযোগ্যতার স্তরসমূহ:

জাহাবি ‘আল-মিজান’ (১: ৪) গ্রন্থে বলেছেন:

বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শব্দাবলি হলো: সুদৃঢ় প্রমাণ, সুদৃঢ় মুখস্থকারী, সুনিপুণ নির্ভরযোগ্য, অতিশয় নির্ভরযোগ্য। এরপর: সত্যবাদী, তাতে কোনো সমস্যা নেই, তার দ্বারা কোনো সমস্যা নেই।

--------------------------------------------

১. ‘রুইয়াহ’: তার চিন্তা বা ভাবনা।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
ثم: محله الصدق، وجيد الحديث، وصالح الحديث، وشيخ وسط، وشيخ حسن الحديث، وصدوق إن شاء الله، وصُوَيْلحٌ، ونحو ذلك.

أما العراقي في شرح الألفية فقد قال "2: 3":

مراتب التعديل على أربع أو خمس طبقات:

فالمرتبة الأولى: العليا من ألفاظ التعديل -ولم يذكرها ابن أبي حاتم، ولا ابن الصلاح- هي: إذا كرر لفظ التوثيق، إما مع تباين اللفظين كقولهم: ثبت حجة، أو ثبت حافظ، أو ثقة ثبت، أو ثقة متقن، أو نحو ذلك. وإما مع إعادة اللفظ الأول، كقولهم: ثقة ثقة، ونحوها.

المرتبة الثانية: هي التي جعلها ابن أبي حاتم، وابن الصلاح الأولى، فقال ابن أبي حاتم "1: 37": وجدت الألفاظ في الجرح والتعديل على مراتب شتى، فإذا قيل للواحد: إنه ثقة، أو متقن، فهو ممن يحتج بحديثه، وقال ابن الصلاح في "مقدمته": وكذا إذا قيل في العدل: إنه ضابط أو حافظ، فهو ممن يحتج به.

وقال الخطيب: أرفع العبارات أن يقال: حجة أو ثقة.

المرتبة الثالثة: قولهم: ليس به بأس، أو لا بأس به أو صدوق، أو مأمون، أو خيار، وجعل ابن أبي حاتم، وابن الصلاح هذه ثانية. وأدخلا فيها قولهم: محله الصدق، وصدوق.

المرتبة الرابعة: قولهم: محله الصدق، أو: رووا عنه، أو: إلى الصدق ما هو، أو شيخ وسط، أو وسط، أو شيخ، أو صالح الحديث، أو مقارب الحديث "بفتح الراء وكسرها" أو جيد الحديث، أو حسن الحديث، أو صويلح، أو صدوق إن شاء الله، أو أرجو أنه ليس به بأس.
এরপর: তার স্থান সত্যবাদিতা, উত্তম হাদিস বর্ণনাকারী, সৎ হাদিস বর্ণনাকারী, মধ্যম স্তরের শায়খ, সুন্দর হাদিস বর্ণনাকারী শায়খ, ইনশাআল্লাহ সত্যবাদী, কিঞ্চিৎ সৎ এবং এই জাতীয়।

আর ইরাকি তার 'শারহুল আলফিয়্যাহ' গ্রন্থে (২: ৩) বলেছেন:

তাদিল বা প্রশংসার স্তরসমূহ চার বা পাঁচটি:

প্রথম স্তর: প্রশংসাসূচক শব্দাবলির মধ্যে এটি সর্বোচ্চ স্তর - যা ইবনু আবি হাতিম এবং ইবনুস সালাহ উল্লেখ করেননি - আর তা হলো: যখন নির্ভরযোগ্যতাবাচক শব্দের পুনরাবৃত্তি করা হয়, চাই তা ভিন্ন ভিন্ন দুটি শব্দের মাধ্যমে হোক যেমন তাদের উক্তি: অকাট্য দলিল ও সুদৃঢ়, অথবা সুদৃঢ় ও মুখস্থকারী, অথবা নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়, অথবা নির্ভরযোগ্য ও সুনিপুণ এবং এই জাতীয়। অথবা তা প্রথম শব্দটির পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে হতে পারে, যেমন তাদের উক্তি: নির্ভরযোগ্য নির্ভরযোগ্য এবং এই জাতীয়।

দ্বিতীয় স্তর: এটি সেই স্তর যেটিকে ইবনু আবি হাতিম এবং ইবনুস সালাহ প্রথম স্তর হিসেবে গণ্য করেছেন। ইবনু আবি হাতিম (১: ৩৭) বলেছেন: আমি জারহ ও তাদিলের শব্দসমূহকে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত পেয়েছি। সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি 'নির্ভরযোগ্য' বা 'সুনিপুণ', তবে তিনি এমন ব্যক্তি যার হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে। ইবনুস সালাহ তার 'মুকাদ্দিমাহ' গ্রন্থে বলেছেন: অনুরূপভাবে যখন কোনো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি 'সংরক্ষণকারী' বা 'মুখস্থকারী', তবে তিনিও এমন ব্যক্তি যার মাধ্যমে দলিল পেশ করা যাবে।

খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন: সর্বোচ্চ অভিব্যক্তি হলো যখন বলা হয়: দলিল অথবা নির্ভরযোগ্য।

তৃতীয় স্তর: তাদের উক্তি: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, অথবা এতে কোনো দোষ নেই, অথবা সত্যবাদী, অথবা বিশ্বস্ত, অথবা পছন্দনীয়। ইবনু আবি হাতিম এবং ইবনুস সালাহ এই স্তরটিকে দ্বিতীয় স্তর হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর মধ্যে 'তার স্থান সত্যবাদিতা' এবং 'সত্যবাদী' শব্দ দুটিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

চতুর্থ স্তর: তাদের উক্তি: তার স্থান সত্যবাদিতা, অথবা: তারা তার থেকে বর্ণনা করেছেন, অথবা: সে সত্যবাদিতার কাছাকাছি, অথবা মধ্যম স্তরের শায়খ, অথবা মধ্যম, অথবা শায়খ, অথবা সৎ হাদিস বর্ণনাকারী, অথবা কাছাকাছি হাদিস বর্ণনাকারী (রা বর্ণের ফাতহাহ ও কাসরাহ উভয় যোগে), অথবা উত্তম হাদিস বর্ণনাকারী, অথবা সুন্দর হাদিস বর্ণনাকারী, অথবা কিঞ্চিৎ সৎ, অথবা ইনশাআল্লাহ সত্যবাদী, অথবা আমি আশা করি যে তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
واقتصر ابن أبي حاتم في الثالثة على قولهم: شيخ، وقال: هو بالمنزلة التي قبلها، يكتب حديثه، وينظر فيه إلا أنه دونهما. واقتصر في الرابعة على قولهم: صالح الحديث.

ثم ذكر ابن الصلاح من ألفاظهم على غير ترتيب قولهم: فلان روى عنه الناس، فلان وسط، فلان مقارب الحديث، فلان ما أعلم به بأسًا. قال: وهو دون قولهم: لا بأس به. ا. هـ.

وذكر السخاوي في "شرح الألفية" "156-160"، والسندي في "شرح النخبة" في هذا المقام تفصيلًا حسنًا، وجعلا لألفاظ التزكية ست مراتب، وبيناها بيانًا مستحسنًا، ومحصله أن ألفاظ التعديل على ست مراتب:

1- أرفعها عند المحدثين الوصف بما دل على المبالغة، أو عبر عنه بأفعل كأوثق الناس، وأضبط الناس، وإليه المنتهى في التثبت، ويلحق به: لا أعرف له نظيرًا في الدنيا.

2- ثم ما يليه، كقولهم: فلان لا يسأل عنه.

3- ثم ما تأكد بصفة من الصفات الدالة على التوثيق، كثقة ثقة، وثبت ثبت. وأكثر ما وجد فيه قول ابن عيينة: حدثنا عمرو بن دينار، وكان ثقة ثقة ثقة … إلى أن قاله تسع مرات، ومن هذه المرتبة قول ابن سعد في شعبة: ثقة مأمون ثبت حجة صاحب حديث.

4- ثم ما انفرد فيه بصيغة دالة على التوثيق، كثقة، أو ثبت، أو كأنه مصحف، أو حجة، أو إمام، أو ضابط، أو حافظ، والحجة أقوى من الثقة.

5- ثم قولهم: ليس به بأس، أو لا بأس به، عند غير ابن معين، أو صدوق، أو مأمون، أو خيار الخلق.
ইবনে আবি হাতেম তৃতীয় স্তরের ক্ষেত্রে কেবল তাদের এই উক্তিটির ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন: 'শাইখ'; এবং তিনি বলেছেন: এটি পূর্ববর্তী স্তরের সমপর্যায়ের; তার হাদিস লিখে রাখা হবে এবং তা পর্যালোচনা করা হবে, তবে তিনি ওই দুটির চেয়ে নিম্নমানের। চতুর্থ স্তরের ক্ষেত্রে তিনি কেবল তাদের এই উক্তিটির ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন: 'সালিহুল হাদিস'।

অতঃপর ইবনে আস-সালাহ তাদের পরিভাষাগুলো থেকে কোনো নির্দিষ্ট ক্রম বিন্যাস ছাড়াই এই শব্দগুলো উল্লেখ করেছেন: 'অমুক ব্যক্তি, তার থেকে মানুষ হাদিস বর্ণনা করেছেন', 'অমুক ব্যক্তি মধ্যম মানের', 'অমুক ব্যক্তি মুকারিবুল হাদিস', 'অমুক ব্যক্তির মধ্যে কোনো সমস্যা আছে বলে আমি জানি না'। তিনি বলেছেন: এটি তাদের 'লা বা’সা বিহি' (তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই) উক্তির চেয়ে নিম্নমানের। (সমাপ্ত)।

সাখাভী 'শারহুল আলফিয়্যাহ' (১৫৬-১৬০) গ্রন্থে এবং সিন্ধি 'শারহুন নুখবাহ' গ্রন্থে এই বিষয়ে চমৎকার বিশদ আলোচনা করেছেন। তারা প্রশংসাসূচক পরিভাষাগুলোর জন্য ছয়টি স্তর নির্ধারণ করেছেন এবং তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এর সারমর্ম হলো এই যে, ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণের শব্দগুলো ছয়টি স্তরের:

১- মুহাদ্দিসগণের নিকট এগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর হলো এমন গুণ দ্বারা বর্ণনা করা যা অতিশয়োক্তি প্রকাশ করে, অথবা যেটিকে 'আফ’আলু' ছাঁচে ব্যক্ত করা হয়; যেমন: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, এবং নির্ভুলতার ক্ষেত্রে তিনি শেষ সীমানায় পৌঁছেছেন। এর সাথে যুক্ত হবে: দুনিয়াতে আমি তার কোনো নজির জানি না।

২- এরপর পরবর্তী স্তর, যেমন তাদের উক্তি: অমুক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই।

৩- এরপর এমন শব্দ যা নির্ভরযোগ্যতা প্রকাশক কোনো গুণের মাধ্যমে তাকিদ বা জোর দেওয়া হয়েছে; যেমন: সিকাহ সিকাহ (নির্ভরযোগ্য নির্ভরযোগ্য), সাবত সাবত (সুদৃঢ় সুদৃঢ়)। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যা পাওয়া গেছে তা হলো ইবনে উয়াইনার উক্তি: 'আমর বিন দীনার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ছিলেন সিকাহ সিকাহ সিকাহ...' এভাবে তিনি নয় বার বলেছেন। এই স্তরের অন্তর্ভুক্ত হলো শু’বাহ সম্পর্কে ইবনে সা’দের উক্তি: সিকাহ, মামুন (আমানতদার), সাবত, হুজ্জাহ (দলিল), সাহিবুল হাদিস।

৪- এরপর এমন শব্দ যাতে এককভাবে নির্ভরযোগ্যতা প্রকাশক পরিভাষা ব্যবহৃত হয়েছে; যেমন: সিকাহ, অথবা সাবত, অথবা যেন তিনি একটি পাণ্ডুলিপি, অথবা হুজ্জাহ, অথবা ইমাম, অথবা দাবিত (স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন), অথবা হাফিজ। আর 'হুজ্জাহ' শব্দটি 'সিকাহ' এর চেয়ে অধিক শক্তিশালী।

৫- এরপর তাদের উক্তি: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ইবনে মাঈন ব্যতীত অন্যদের নিকট), অথবা সাদুক (সত্যবাদী), অথবা মামুন, অথবা সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
6- ثم ما أشعر بالقرب من التجريح وهو أدنى المراتب كقولهم: ليس ببعيد من الصواب، أو شيخ، أو يروى حديثه، أو يعتبر به، أو شيخ وسط، أو روى الناس عنه، أو صالح الحديث، أو يكتب حديثه، أو مقارب الحديث، أو صويلح، أو صدوق إن شاء الله، وأرجو أن لا بأس به، ونحو ذلك.

ثم إن الحكم في أهل هذه المراتب: الاحتجاج بالأربعة الأولى منها، وأما التي بعدها فإنه لا يحتج بأحد من أهلها، لكون ألفاظها لا تشعر بشريطة الضبط، بل يكتب حديثهم ويختبر، وأما السادسة فالحكم في أهلها دون أهل التي قبلها، وفي بعضهم من يكتب حديثه للاعتبار دون اختيار ضبطهم لوضوح أمرهم فيه. ا. هـ.

وقد اهتم الحفاظ في الجرح والتعديل فألفوا فيه مصنفات جمة ما بين اختصار وتطويل، وكان أول من جمع كلامه في ذلك الإمام الذي قال فيه أحمد بن حنبل: ما رأيت بعيني مثل: يحيى بن سعد القطان، وتكلم في ذلك بعد تلامذته: يحيى بن معين، وعلي بن المديني، وأحمد بن حنبل، وعمرو بن علي الفلاس، وأبو خيثمة، وتلامذتهم كأبي زرعة، وأبي حاتم، والبخاري، ومسلم، وأبي إسحاق الجوزجاني، وخلق من بعدهم مثل: النسائي، وابن خزيمة، والترمذي، والدولابي، والعقيلي، وابن حبان، وابن عدي، والأزدي، والدارقطني، والحاكم.

وتفصيل كتب الجرح والتعديل كما يلي:

الكتب المؤلفة في الجرح والتعديل ذات مسالك مختلفة فمنها خاص بالثقات أو الضعفاء أو المدلسين، ومنها جامع لكل أولئك، ثم منها ما لا يتقيد برجال كتاب معين أو كتب مخصوصة ومنها ما يتقيد بذلك ونحن ذاكرون من كل نوع كتبه المشهورة بتوفيق الله وإرشاده.
৬- অতঃপর সেই শব্দাবলী যা জারহ (সমালোচনা)-এর নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত দেয় এবং এটি (তাদিল বা প্রশংসার) সর্বনিম্ন স্তর। যেমন তাদের উক্তি: "সত্যের খুব একটা দূরে নয়", অথবা "শায়খ", অথবা "তার হাদিস বর্ণনা করা হয়", অথবা "তার মাধ্যমে হাদিস বিবেচনা করা হয়", অথবা "মধ্যম মানের শায়খ", অথবা "লোকেরা তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছে", অথবা "হাদিসের ক্ষেত্রে নেককার", অথবা "তার হাদিস লিখে রাখা হয়", অথবা "হাদিসের মান কাছাকাছি", অথবা "সামান্য নেককার", অথবা "ইনশাআল্লাহ সত্যবাদী", এবং "আমি আশা করি তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই" এবং এই জাতীয় শব্দ।

অতঃপর এই স্তরের অন্তর্ভুক্ত বর্ণনাকারীদের বিধান হলো: তাদের প্রথম চারটি স্তরের বর্ণনাকারীদের দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে। আর এরপর যারা রয়েছে, তাদের কারো মাধ্যমেই দলিল পেশ করা যাবে না; কারণ এই শব্দগুলো মুখস্থ বা সংরক্ষণের (যাবত) শর্ত বিদ্যমান থাকার ইঙ্গিত দেয় না। বরং তাদের হাদিস লিখে রাখা হবে এবং যাচাই করা হবে। আর ষষ্ঠ স্তরের বর্ণনাকারীদের বিধান হলো তারা পূর্ববর্তী স্তরের চেয়ে নিম্নমানের। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যার হাদিস কেবল তুলনামূলক পর্যালোচনার (ইতবার) জন্য লিখে রাখা হয়, তাদের স্মৃতিশক্তির প্রখরতার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই ছাড়াই, কারণ এ বিষয়ে তাদের অবস্থা স্পষ্ট। (সমাপ্ত)।

হাফিজগণ জারহ ও তাদিল বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ বিষয়ে যার বক্তব্য প্রথম সংকলিত হয়েছে তিনি হলেন সেই ইমাম যার সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেছিলেন: "আমি নিজের চোখে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তানের মতো কাউকে দেখিনি"। তার পরে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন তার ছাত্রগণ: ইয়াহইয়া বিন মায়ীন, আলী ইবনুল মাদিনী, আহমাদ বিন হাম্বল, আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস, আবু খাইসামাহ এবং তাদের ছাত্রগণ যেমন আবু জুরআহ, আবু হাতিম, বুখারি, মুসলিম, আবু ইসহাক আল-জুজাজানি এবং তাদের পরবর্তী অসংখ্য আলেম যেমন নাসাঈ, ইবনে খুযাইমাহ, তিরমিযি, আদ-দুলাবি, আল-উকায়লি, ইবনে হিব্বান, ইবনে আদি, আল-আযদি, আদ-দারা কুতনি এবং আল-হাকিম।

জারহ ও তাদিল বিষয়ক গ্রন্থসমূহের বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:

জারহ ও তাদিল বিষয়ক রচিত গ্রন্থসমূহ বিভিন্ন পদ্ধতির অনুসারী। কোনোটি কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট, কোনোটি দুর্বলদের জন্য, আবার কোনোটি মুদাল্লিসদের জন্য। আবার কোনো কোনোটি এই সবারই সংকলন। অতঃপর কোনোটি নির্দিষ্ট কোনো কিতাব বা কিতাবসমূহের বর্ণনাকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আবার কোনোটি নির্দিষ্ট কিতাবের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। আল্লাহর তাওফিক ও নির্দেশনায় আমরা প্রত্যেক প্রকারের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
1- الكتب الجامعة بين الثقات والضعفاء: من الكتب المشتملة على الثقات والضعفاء جميعًا: طبقات محمد بن سعد الزهري البصري "320" وهو من أعظم ما صنف، يقع في خمسة عشر مجلدًا، جمع فيه الصحابة والتابعين فمن بعدهم، وقد اختصره السيوطي في كتابه: إنجاز الوعد المنتقى من طبقات ابن سعد، وكذلك طبقات خليفة بن خياط "240"، ومسلم بن الحجاج "261"، وتاريخ ابن أبي خيثمة "279"، وهو كثير الفوائد، وتواريخ البخاري "251"، وهي ثلاثة: كبير وهو على حروف المعجم وابتدأه بمن اسمه محمد، وأوسط وهو على السنين، وصغير، ولمسلمة بن قاسم ذيل على الكبير وهو في مجلد، ولابن أبي حاتم "327" جزء كبير انتقد فيه على البخاري، وله الجرح والتعديل مشى فيه خلف البخاري، وللحسين بن إدريس الأنصاري الهروي "301" -ويعرف بابن خرّم- تاريخ على نحو التاريخ الكبير للبخاري، ولعلي بن المديني "234" تاريخ في عشرة أجزاء حديثية، ولابن حبان "354" كتاب في أوهام أصحاب التواريخ في عشرة أجزاء أيضًا.

ولأبي محمد بن عبد الله بن علي بن الجارود كتاب في الجرح والتعديل، ولمسلم رواه الاعتبار، وللنسائي التمييز، ولأبي يعلى الخليلي "446" الإرشاد، وللعماد ابن كثير "التكميل في معرفة الثقات والضعفاء والمجاهيل" جمع فيه بين تهذيب المزي وميزان الذهبي مع زيادات وتحرير في العبارات، وهو أنفع شيء للمحدث والفقيه التالي لأثره، ومنها تاريخ الذهبي، وطبقات المحدثين لعمر بن علي بن الملقن "804" ذكر فيها المحدثين إلى زمنه، والكمال في معرفة الرجال له.

2- كتب الثقات: منها كتاب الثقات للعجلي "261" وهو هذا الكتاب، وكتاب الثقات لخليل بن شاهين، والثقات لأبي حاتم بن حبان البستي،
১- নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল বর্ণনাকারীদের একত্রে সংকলনকারী গ্রন্থসমূহ: নির্ভরযোগ্য এবং দুর্বল উভয় ধরণের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্তকারী গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: মুহাম্মাদ বিন সাদ আল-জুহরী আল-বাশরী (৩২০ হি.)-এর 'তাবাক্বাত', যা রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর অন্যতম। এটি ১৫ খণ্ডে বিন্যস্ত, যেখানে তিনি সাহাবী, তাবিঈ এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের বর্ণনাকারীদের সংকলন করেছেন। সুয়ূতী এটি তার 'ইনজাযুল ওয়াদ আল-মুনতাক্বা মিন তাবাক্বাত ইবনু সাদ' গ্রন্থে সংক্ষেপ করেছেন। একইভাবে খলিফা বিন খাইয়্যাত (২৪০ হি.)-এর 'তাবাক্বাত', মুসলিম বিন হাজ্জাজ (২৬১ হি.)-এর 'তাবাক্বাত', ইবনু আবি খায়সামা (২৭৯ হি.)-এর 'তারিখ', যা অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ ও উপকারী এবং ইমাম বুখারী (২৫১ হি.)-এর 'তারিখ'সমূহ। এগুলো সংখ্যায় তিনটি: 'কাবীর' (বড়), যা বর্ণানুক্রমিক এবং তিনি 'মুহাম্মাদ' নামের ব্যক্তিদের দিয়ে শুরু করেছেন; 'আওসাত' (মাঝারি), যা সন ভিত্তিক; এবং 'সাগীর' (ছোট)। মাসলামা বিন কাসিম 'তারিখুল কাবীর'-এর ওপর একটি সংযোজন (যাইল) লিখেছেন যা এক খণ্ডে সমাপ্ত। ইবনু আবি হাতিম (৩২৭ হি.)-এর একটি বড় অংশ রয়েছে যেখানে তিনি বুখারীর সমালোচনা করেছেন এবং তার 'আল-জারহ ওয়াত তা'দীল' গ্রন্থে তিনি বুখারীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। হুসাইন বিন ইদ্রিস আল-আনসারী আল-হারাভী (৩০১ হি.)—যিনি ইবনু খুররাম নামে পরিচিত—তার একটি 'তারিখ' রয়েছে যা বুখারীর 'তারিখুল কাবীর'-এর আদলে রচিত। আলী বিন আল-মাদীনী (২৩৪ হি.)-এর দশটি হাদিসীয় খণ্ডে একটি 'তারিখ' রয়েছে। ইবনু হিব্বান (৩৫৪ হি.)-এরও ইতিহাস রচয়িতাদের বিভ্রান্তি সম্পর্কে দশ খণ্ডের একটি গ্রন্থ রয়েছে।

আবু মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আল-জারুদের জারহ ওয়াত তা'দীল বিষয়ক একটি গ্রন্থ রয়েছে। ইমাম মুসলিমের রয়েছে 'রুওয়াতুল ইতিবার', নাসায়ীর রয়েছে 'আত-তাময়ীয', আবু ইয়ালা আল-খালীলী (৪৪৬ হি.)-এর রয়েছে 'আল-ইরশাদ'। ইমাদুদ্দীন ইবনু কাসীরের রয়েছে 'আত-তাকমীল ফী মা'রিফাতিস সিক্বাত ওয়াদ দুয়াফা ওয়াল মাজাহীল', যেখানে তিনি মিযযীর 'তাহযীব' এবং যাহাবীর 'মীযান'কে একত্রিত করেছেন এবং সাথে অতিরিক্ত তথ্য ও ভাষাগত পরিমার্জন যুক্ত করেছেন। হাদিস বিশারদ এবং পরবর্তী প্রজন্মের ফকীহদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। এর মধ্যে আরও রয়েছে যাহাবীর 'তারিখ' এবং উমর বিন আলী ইবনুল মুলাক্কিন (৮০৪ হি.)-এর 'তাবাক্বাতুল মুহাদ্দিসীন', যেখানে তিনি তার সময় পর্যন্ত মুহাদ্দিসদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের পরিচিতি বিষয়ে তার 'আল-কামাল' গ্রন্থটিও রয়েছে।

২- নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (সিক্বাহ) গ্রন্থসমূহ: এগুলোর মধ্যে রয়েছে আল-ইজলী (২৬১ হি.)-এর 'কিতাবুথ সিক্বাত' যা বর্তমান এই গ্রন্থটি, খলীল বিন শাহীনের 'কিতাবুথ সিক্বাত' এবং আবু হাতিম বিন হিব্বান আল-বুস্তীর 'আস-সিক্বাত'।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وكتاب الثقات الذين لم تذكر أسماؤهم في الكتب الستة لزين الدين قاسم بن قطلوبغا "879"، وهو كبير في أربعة مجلدات.

ومن هذا النوع الكتب المبينة لطبقات الحفاظ وقد ألف فيها جمع فمنهم الذهبي وابن الدباغ "546"، وابن المفضل وابن حجر العسقلاني والسيوطي -ذيل على تأليف الذهبي- وتقي الدين بن فهد، وذيل مؤلفه محمد بن محمد الهاشمي "890".

3- كتب الضعفاء، منها: كتاب الضعفاء للبخاري، والضعفاء والمتروكين للنسائي، ولأبي الفرج عبد الرحمن بن علي الجوزي "597" وكتابه كبير وقد اختصره الذهبي ثم ذيله كما ذيله علاء الدين مغلطاي "762"، والضعفاء لمحمد بن عمرو العقيلي "322" وكتابه مفيد، وللإمام حسن بن محمد الصنعاني ومحمد بن حبان البستي وكتابه كبير.

ولأبي أحمد بن عدي كتاب الكامل، وهو أكمل الكتب في ذلك وأجلها وعليه اعتماد الأئمة وله ذيل يقال له: الحافل لأبي العباس أحمد بن محمد الأشبيلي المعروف بابن الرومية "637"، والضعفاء للدارقطني وللحاكم ولعلاء الدين المارديني "750"، وميزان الاعتدال للحافظ الذهبي وهو أجمع ما جمع، طبع في الهند ثم بمصر، وقد ذيل عليه الحافظ زين الدين العراقي في مجلدين، وقد التقط منه الحافظ ابن حجر مَن ليس في تهذيب الكمال، وضم إليه ما فاته في الرواة وتراجم مستقلة في كتابه المسمى لسان الميزان وله كتابان آخران وهما تقويم اللسان وتحرير الميزان ويوجد عدا ذلك كتب كثيرة.

4- كتب المدلسين: أول من أفرد المدلسين بالتصنيف الإمام حسين بن علي الكرابيسي "248" صاحب الشافعي، ثم صنف فيه النسائي، ثم الدارقطني
এবং জয়নুদ্দীন কাসিম ইবনে কুতলুবুগা (৮৭৯ হি.) রচিত ‘কিতাবুস সিকাত আল্লাযিনা লাম তুযকার আসমাউহুম ফিল কুতুবুস সিত্তা’ (সিকাত বর্ণনাকারীদের গ্রন্থ যাদের নাম কুতুবুস সিত্তাহতে উল্লেখ নেই), এটি চার খণ্ডে বিন্যস্ত একটি বৃহৎ গ্রন্থ।

এবং এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল গ্রন্থ যা হাফেজগণের স্তর (তাবাকাতুল হুফফাজ) বর্ণনা করে। এ বিষয়ে একদল আলেম গ্রন্থ রচনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আয-যাহাবী, ইবনুদ দাব্বাগ (৫৪৬ হি.), ইবনুল মুফাদদাল, ইবনে হাজার আল-আসকালানী এবং আস-সুয়ূতী (যিনি যাহাবীর রচনার পরিশিষ্ট লিখেছেন)। আরও আছেন তাকিউদ্দীন ইবনে ফাহাদ, এবং তার রচনার পরিশিষ্ট লিখেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হাশিমী (৮৯০ হি.)।

৩- দুর্বল বর্ণনাকারীদের (দুয়াফা) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ: এর মধ্যে রয়েছে ইমাম বুখারীর ‘কিতাবুয যুয়াফা’, নাসায়ীর ‘আয-যুয়াফা ওয়াল মাতরুকিন’, আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে আলী ইবনুল জাওযীর (৫৯৭ হি.) গ্রন্থ যা একটি বৃহৎ সংকলন; আয-যাহাবী এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং পরবর্তীতে এর পরিশিষ্ট লিখেছেন, ঠিক যেমন আলাউদ্দীন মুগলতাই (৭৬২ হি.) এর পরিশিষ্ট লিখেছেন। আরও রয়েছে মুহাম্মদ ইবনে আমর আল-উকাইলীর (৩২২ হি.) ‘আয-যুয়াফা’ যা একটি উপকারী গ্রন্থ, এবং ইমাম হাসান ইবনে মুহাম্মদ আস-সানআনী ও মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান আল-বুস্তীর গ্রন্থ, যার গ্রন্থটি বেশ বড়।

আবু আহমাদ ইবনে আদী রচিত ‘কিতাবুল কামিল’ এ বিষয়ে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও মহান গ্রন্থ এবং এর ওপরই ইমামগণ নির্ভর করেন। এর একটি পরিশিষ্ট রয়েছে যা ‘আল-হাফিল’ নামে পরিচিত, এটি ইবনুর রুমিয়া নামে প্রসিদ্ধ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ইশবিলী (৬৩৭ হি.) রচনা করেছেন। এছাড়া রয়েছে আদ-দারা কুতনী, আল-হাকিম এবং আলাউদ্দীন আল-মারদিনীর (৭৫০ হি.) ‘আয-যুয়াফা’। হাফেজ আয-যাহাবীর ‘মিযানুল ইতিদাল’ হলো এ বিষয়ের সর্বাধিক তথ্যসমৃদ্ধ সংকলন, যা ভারতে এবং পরবর্তীতে মিশরে মুদ্রিত হয়েছে। হাফেজ জয়নুদ্দীন আল-ইরাকী এর ওপর দুই খণ্ডে একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার এই গ্রন্থ থেকে এমন বর্ণনাকারীদের নির্বাচন করেছেন যারা ‘তহযীবুল কামাল’-এ নেই এবং এর সাথে বাদ পড়া বর্ণনাকারীদের যোগ করে তার ‘লিসানুল মিযান’ নামক গ্রন্থে স্বতন্ত্র জীবনী সংকলন করেছেন। তার আরও দুটি গ্রন্থ রয়েছে, সেগুলো হলো ‘তাকউয়ীমুল লিসান’ এবং ‘তাহরীরুল মিযান’। এ ছাড়া আরও অনেক গ্রন্থ বিদ্যমান।

৪- মুদাল্লিস বর্ণনাকারীদের (যারা ত্রুটি গোপন করে বর্ণনা করেন) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ: মুদাল্লিসদের নিয়ে সর্বপ্রথম পৃথক গ্রন্থ রচনা করেন ইমাম শাফেয়ীর সাথী হুসাইন ইবনে আলী আল-কারাবিসী (২৪৮ হি.), এরপর এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন ইমাম নাসায়ী এবং পরবর্তীতে ইমাম আদ-দারা কুতনী।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
ونظم الذهبي في ذلك أرجوزة، وتبعه تلميذه أحمد بن إبراهيم المقدسي، فزاد عليه من جامع التحصيل للعلائي شيئًا كثيرًا مما فاته، ثم ذيل الحافظ زين الدين العراقي "806"، في هوامش كتاب العلائي أسماء وقعت له زائدة، ثم ضمها ولده ولي الدين إلى من ذكره العلائي وجعله تصنيفًا مستقلا، وزاد فيه من تتبعه شيئًا يسيرًا، وصنف إبراهيم بن محمد الحلبي "841" كتابه التبيين في أسماء المدلسين زاد فيه عليهم قليلا، وجميع ما في كتاب العلائي ثمان وستون نفسًا زاد عليهم ابن العراقي ثلاثة عشر نفسًا، وزاد عليه الحلبي اثنتين وثلاثين نفسًا، وابن حجر العسقلاني تسعًا وثلاثين نفسًا، فجملة ما فيه اثنتان وخمسون نفسًا ومائة. وللسيوطي رسالة في أسماء المدلسين.

5- المصنفات في رجال كتب مخصوصة: منها رجال البخاري لأحمد بن محمد الكلاباذي "398"، ورجاله أيضًا لمحمد بن داود الكردي "925"، ورجال مسلم لأحمد بن علي المعروف بابن منجويه "428"، ورجاله أيضًا لأحمد بن علي الأصبهاني "269"، وممن جمع بين رجالهما محمد بن طاهر المقدسي "507" جمع بين كتابي ابن منجويه والكلاباذي، وأحسن في ترتيبه على الحروف، واستدرك عليهما، وكذلك جمع بينهما هبة الله المعروف باللالكائي "418"، وممن أفرد رجال السنن لأبي داود حسين بن محمد الحباني "498"، وجمع رجال الموطأ السيوطي، ورجال المشكاة لصاحبها محمد بن عبد الله الخطيب، ورجال الأربعة: موطأ مالك ومسند الشافعي ومسند أحمد ومسند أبي حنيفة لابن حجر العسقلاني، ورجال السنن الأربع: سنن الترمذي والنسائي وأبي داود وابن ماجه لأحمد بن أحمد الكردي "743". وممن جمع رجال الكتب الستة أبو محمد عبد الغني بن عبد الواحد بن سرور المقدسي "600" في كتاب الكمال في معرفة الرجال وتهذيبه لجمال الدين يوسف بن الزكي المزي "742"، وهو كتاب كبير يقع في ثلاثة عشر مجلدًا لم يؤلف مثله، وإكمال التهذيب لعمر بن علي الملقن "804"، وزوائد الرجال
আয-যাহাবি এই বিষয়ে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাঁর ছাত্র আহমাদ ইবনে ইব্রাহিম আল-মাকদিসি তাঁর অনুসরণ করেছেন। তিনি আল-আলাইয়ির ‘জামি আত-তাহসিল’ থেকে এমন অনেক কিছু যোগ করেছেন যা তিনি (যাহাবি) বাদ দিয়েছিলেন। অতঃপর হাফিজ যায়নুদ্দিন আল-ইরাকি (৮০৬ হি.) আল-আলাইয়ির কিতাবের টীকায় এমন কিছু অতিরিক্ত নাম উল্লেখ করেছেন যা তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন। এরপর তাঁর পুত্র ওয়ালিউদ্দীন সেই নামগুলোকে আল-আলাইয়ি উল্লিখিত নামগুলোর সাথে যুক্ত করে একে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে রূপ দেন এবং নিজের গবেষণার মাধ্যমে তাতে সামান্য কিছু বৃদ্ধি করেন। ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-হালাবি (৮৪১ হি.) ‘আত-তাবিইন ফি আসমাউল মুদাল্লিসিন’ নামক তাঁর গ্রন্থটি রচনা করেন, যেখানে তিনি তাদের সংকলনের ওপর সামান্য কিছু সংযোজন করেছেন। আল-আলাইয়ির গ্রন্থে মোট আটষট্টি জন ব্যক্তির নাম ছিল, ইবনুল ইরাকি তাদের ওপর তেরো জন যোগ করেছেন, আল-হালাবি আরও বত্রিশ জন এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানি ঊনচল্লিশ জন যোগ করেছেন। ফলে এতে মোট একশত বায়ান্ন জন ব্যক্তির নাম সংকলিত হয়েছে। আর আস-সুয়ুতির মুদাল্লিসদের নামের ওপর একটি পুস্তিকা রয়েছে।

৫- বিশেষ কিতাবসমূহের বর্ণনাকারীদের (রিজাল) ওপর রচিত গ্রন্থাবলী: এগুলোর মধ্যে রয়েছে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কালাবাদি (৩৯৮ হি.) রচিত বুখারির বর্ণনাকারী বিষয়ক গ্রন্থ এবং মুহাম্মদ ইবনে দাউদ আল-কুর্দি (৯২৫ হি.) রচিত গ্রন্থ। মুসলিমের বর্ণনাকারীদের নিয়ে রচিত গ্রন্থটি আহমাদ ইবনে আলি ইবনে মানজুয়াইহ (৪২৮ হি.)-এর এবং অন্যটি আহমাদ ইবনে আলি আল-আসবাহানি (২৬৯ হি.)-এর। আর যারা উভয়ের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনাকারীদের একত্রে সংকলন করেছেন তাদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে তাহির আল-মাকদিসি (৫০৭ হি.) অন্যতম, যিনি ইবনে মানজুয়াইহ ও আল-কালাবাদির কিতাব দুটিকে একত্রিত করেছেন। তিনি বর্ণানুক্রমে সাজিয়ে এর চমৎকার বিন্যাস করেছেন এবং তাতে পরিমার্জন ও সংযোজন করেছেন। একইভাবে হিবাতুল্লাহ আল-লালকাই (৪১৮ হি.) উভয়ের বর্ণনাকারীদের একত্রিত করেছেন। যারা আবু দাউদের সুনান-এর বর্ণনাকারীদের ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ লিখেছেন, তাদের মধ্যে হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-হাব্বানি (৪৯৮ হি.) অন্যতম। মুওয়াত্তার বর্ণনাকারীদের একত্রে সংকলন করেছেন আস-সুয়ুতি। মিশকাতের বর্ণনাকারীদের সংকলন করেছেন এর রচয়িতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খাতিব। আর চার ইমামের কিতাব—মুওয়াত্তা মালিক, মুসনাদে শাফিই, মুসনাদে আহমাদ এবং মুসনাদে আবু হানিফা—এর বর্ণনাকারীদের নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন ইবনে হাজার আল-আসকালানি। চার সুনান গ্রন্থ—তিরমিজি, নাসায়ি, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ—এর বর্ণনাকারীদের নিয়ে লিখেছেন আহমাদ ইবনে আহমাদ আল-কুর্দি (৭৪৩ হি.)। আর যারা কুতুবে সিত্তা বা ছয়টি প্রসিদ্ধ কিতাবের বর্ণনাকারীদের একত্রে সংকলন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল গণি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে সুরুর আল-মাকদিসি (৬০০ হি.) তাঁর ‘আল-কামাল ফি মা'রিফাতির রিজাল’ গ্রন্থে। এর পরিমার্জিত রূপ (তাহজিব) তৈরি করেছেন জামালুদ্দিন ইউসুফ ইবনে আয-যাকি আল-মিজ্জি (৭৪২ হি.); এটি একটি বিশাল গ্রন্থ যা তেরো খণ্ডে সমাপ্ত এবং এর সমতুল্য কোনো গ্রন্থ আজ পর্যন্ত রচিত হয়নি। এছাড়া উমর ইবনে আলি আল-মুলাক্কিন (৮০৪ হি.) কর্তৃক রচিত ‘ইকমালুত তাহজিব’ এবং ‘যাওয়ায়েদুর রিজাল’ উল্লেখযোগ্য।
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
على تهذيب الكمال للسيوطي، وللتهذيب مختصرات كثيرة منها الكاشف للحافظ الذهبي قال فيه: هذا مختصر في رجال الكتب الستة الصحيحين والسنن الأربع مقتضب من تهذيب الكمال للمزي، اقتصر فيه على ذكر من له رواية في الكتب الستة دون من عداهم مما في كتاب المزي، ومنها تهذيب التهذيب لابن حجر وهو أكمل من كاشف الذهبي، وقد أضاف إليه ابن حجر بعض التراجم التي عثر عليها كما اختصره في كتابه تقريب التهذيب وتهذيب التهذيب وتقريبه وكلاهما مطبوع في الهند، وقد جمع الحافظ أبو المحاسن الدمشقي "765" في كتابه التذكرة رجال العشرة.

عودة إلى كتاب ترتيب ثقات العجلي:

هذا الكتاب يقع في "67" لوحة من نسخة وحيدة بمكتبة شهيد علي، وهو ضمن مجموعة في أسمال الرجال، وغيره، حيث شملت هذه المجموعة كما هو واضح في أول صفحاتها:

1- ترتيب ثقات العجلي لعلي الهيثمي.

2- كتاب الإشارات إلى بيان أسماء المبهمات للنووي.

3- كتاب الإشارة إلى سيرة المصطفى ومن بعده من الخلفاء لعلاء الدين مغلطاي.

4- نظم الدرر السنية في السيرة الزكية لعبد الرحيم العراقي.

5- الكشف الحثيث عمن رمي بوضع الحديث لإبراهيم بن محمد الشهير بسبط ابن العجمي الحلبي، وهو كاتب هذه المجموعة، كما هو ثابت في اللوحة الأولى من المخطوطة.

ويرجع تاريخ نسخها إلى سنة "809"، وعدد أوراقها "67" كما قلنا، وقياسها "19×14" سم، وعدد سطور كل صفحة "22" سطرًا تقريبًا، وقد
সূয়ূতী কর্তৃক তাহযীবুল কামাল-এর ওপর পরিমার্জন; আর তাহযীব-এর অনেক সংক্ষিপ্তসার রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো হাফিজ যাহাবীর ‘আল-কাশিফ’। তিনি এতে বলেছেন: এটি সিহাহ সিত্তা (বুখারী, মুসলিম ও চার সুনান) গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্তসার যা আল-মিযযীর ‘তাহযীবুল কামাল’ থেকে সংকলিত। এতে তিনি কেবল তাদের কথা উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন যাদের বর্ণনা কুতুবে সিত্তায় রয়েছে, মিযযীর কিতাবে থাকা অন্যদের এতে অন্তর্ভুক্ত করেননি। আর এর মধ্যে ইবনে হাজারের ‘তাহযীবুত তাহযীব’ও রয়েছে, যা যাহাবীর কাশিফ অপেক্ষা অধিক পূর্ণাঙ্গ। ইবনে হাজার এতে আরও কিছু জীবনী যোগ করেছেন যা তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন, যেমনটি তিনি তাঁর ‘তাকরীবুত তাহযীব’ গ্রন্থেও সংক্ষেপ করেছেন। তাহযীবুত তাহযীব ও তাকরীবুত তাহযীব উভয়ই ভারতে মুদ্রিত হয়েছে। আর হাফিজ আবু আল-মাহাসিন আদ-দিমাশকী (৭৬৫ হি.) তাঁর ‘আত-তাযকিরাহ’ গ্রন্থে দশটি কিতাবের বর্ণনাকারীদের জীবনী সংকলন করেছেন।

‘তারতীবু সিকাতিল ইজলী’ গ্রন্থের আলোচনায় ফিরে আসা যাক:

এই গ্রন্থটি শহীদ আলী লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একমাত্র পাণ্ডুলিপির ৬৭টি পাতায় বিস্তৃত। এটি আসমাউর রিজাল বা বর্ণনাকারীদের নাম বিষয়ক একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। এই সংকলনে যা যা রয়েছে তা এর প্রথম পৃষ্ঠাগুলো থেকে স্পষ্ট হয়:

১- আলী আল-হাইসামীর ‘তারতীবু সিকাতিল ইজলী’।

২- ইমাম নববীর ‘কিতাবুল ইশারাত ইলা বায়ানি আসমায়িল মুবহামাত’।

৩- আলাউদ্দীন মুগলতায়ীর ‘কিতাবুল ইশারাতি ইলা সিরাতিল মুস্তাফা ওয়া মান বাদাহু মিনাল খুলাফা’।

৪- আব্দুর রহীম আল-ইরাকীর ‘নাযমুত দুরারিস সানিয়্যাহ ফিস সিরাতিয যাকিয়্যাহ’।

৫- ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ, যিনি সিবত ইবনুল আজমী আল-হালাবী নামে পরিচিত, তাঁর ‘আল-কাশফুল হাসীস আম্মান রুমিয়া বি-ওয়াদয়িল হাদীস’। তিনিই এই সংকলনটির লেখক, যেমনটি পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠায় প্রমাণিত হয়েছে।

এটি অনুলিপি করার তারিখ হলো ৮০৯ হিজরী। এর পাতার সংখ্যা আমরা যেমনটি বলেছি ৬৭টি। এর মাপ হলো ১৯×১৪ সে.মি. এবং প্রতি পৃষ্ঠার লাইন সংখ্যা প্রায় ২২টি। এবং তিনি...
(খণ্ড: ১) আশ-সিকাত লিল ইজলী তাহকীক কালাজী (পৃষ্ঠা: ٣١)
مُيِّزَت أسماء الأعلام فيها بخط كبير مميز، أما الشرح فهو بخط نسخي سريع غير واضح المعالم في بعض الأحيان مع ضبط جد بسيط، وتصحيحات على الهامش بين الفَينَة والأخرى، وثابت أن النسخة وقف الوزير الشهيد علي باشا -رحمه الله تعالى- بشرط ألا تخرج من خزانته، بختم واضح كبير، وقد أضاف الهيثمي في مقدمة الكتاب ترجمة عن حياة مصنفة: العجلي، وقد سجل الناسخ في آخره الجملة التالية:

"تم الكتاب، علقه إبراهيم بن محمد بن خليل سبط ابن العجمي الحلبي في مدة آخرها سلخ جمادى الآخرة من سنة تسع وثمانمائة بالمدرسة الشرقية بحلب، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم".

كتاب العجلي ودرجة توثيقه:

مصنف الكتاب هو أحمد بن عبد الله بن صالح بن مسلم أبو الحسن العجلي الإمام الحافظ القدوة، من أئمة أصحاب الحديث الحفاظ المتقنين، ومن ذوي الورع والزهد والذي لم يكن له شبيه ولا نظير في زمانه، في معرفته بالحديث وإتقانه وزهده، وكان يعد مثل الإمام أحمد بن حنبل، والناقد يحيى بن معين، لا بل كانا كلاهما يأخذان عنه، ذكره الخطيب في "تاريخه" "4: 215".

كان مولده بالكوفة سنة "182"، وقال عن نفسه: طلبت الحديث سنة "197"، فغادر بلد مولده الكوفة إلى البصرة وبغداد، وحدث عن: والده، وشبابة بن سوار، ومحمد بن جعفر "غندر"، والحسين بن علي الجعفي، وأبي داود الحفري، وأبي عامر العقدي، ومحمد بن عبيد الطنافسي، وأخيه يعلى بن عبيد الطنافسي، ومحمد بن يوسف الفريابي.
এতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম বড় ও স্বতন্ত্র হরফে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর ব্যাখ্যাগুলো দ্রুত হস্তলিপিতে লেখা যা কখনো কখনো অস্পষ্ট, যেখানে হরকত বা যতিচিহ্ন ছিল অত্যন্ত সামান্য। সময়ে সময়ে পার্শ্বটীকায় কিছু সংশোধন দেখা যায়। এটি প্রমাণিত যে, পাণ্ডুলিপিটি শহীদ উজির আলি পাশা—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—ওয়াকফ করেছিলেন এই শর্তে যে এটি তাঁর গ্রন্থাগার থেকে বের করা হবে না, এবং এতে একটি বড় ও স্পষ্ট সিল বিদ্যমান। আল-হাইসামি গ্রন্থের ভূমিকায় এর লেখক আল-ইজলির জীবনী যুক্ত করেছেন। আর অনুলিপিকারক এর শেষে নিম্নোক্ত বাক্যটি লিখেছেন:

"গ্রন্থটি সমাপ্ত হলো। এটি অনুলিপি করেছেন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খলিল, যিনি সিবত ইবনুল আজামি আল-হালাবি নামে পরিচিত। তিনি এটি আটশ নয় হিজরির জামাদিউল আখিরা মাসের শেষ দিকে আলেপ্পোর মাদরাসাতুশ শারকিয়াহ-তে সম্পন্ন করেছেন। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।"

আল-ইজলির গ্রন্থ এবং এর নির্ভরযোগ্যতার মান:

গ্রন্থের লেখক হলেন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ ইবনে মুসলিম আবুল হাসান আল-ইজলি; তিনি একজন ইমাম, হাফেজ এবং আদর্শ পুরুষ। তিনি হাদিস বিশারদ ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা অত্যন্ত নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য হাফেজ হিসেবে সুপরিচিত। তিনি এমন পরহেজগার ও দুনিয়াবিমুখ ছিলেন যে, হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান, এর নির্ভুলতা এবং জোহদ বা কৃচ্ছ্রসাধনের ক্ষেত্রে সে সময়ে তাঁর কোনো সমকক্ষ বা নজির ছিল না। তাঁকে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এবং বিখ্যাত সমালোচক ইয়াহইয়া বিন মায়িনের সমতুল্য গণ্য করা হতো; বরং তাঁরা উভয়েই তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করতেন। আল-খাতিব তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থের ৪:২১৫ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন।

তাঁর জন্ম ১৮২ হিজরিতে কুফায়। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: "আমি ১৯৭ হিজরিতে হাদিস অন্বেষণ শুরু করি।" এরপর তিনি তাঁর জন্মভূমি কুফা ত্যাগ করে বসরা ও বাগদাদে গমন করেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন: তাঁর পিতা, শাবাবাহ বিন সাওয়ার, মুহাম্মদ বিন জাফর 'গুনদার', হুসাইন বিন আলি আল-জুফি, আবু দাউদ আল-হাফারি, আবু আমির আল-আকদি, মুহাম্মদ বিন উবাইদ আত-তানাফিসি, তাঁর ভাই ইয়ালা বিন উবাইদ আত-তানাফিসি এবং মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরিয়াবি-র নিকট থেকে।