(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
المدخل إلى دراسة المدارس والمذاهب الفقهية   (عمر سليمان الأشقر)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: المدخل إلى دراسة المدارس والمذاهب الفقهية

المؤلف: الدكتور عمر سليمان الأشقر

الناشر: دار النفائس للنشر والتوزيع، الأردن

الطبعة: الثانية، 1418 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 227

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 ذو الحجة 1443

ফিকহী মাযহাব ও ধারাসমূহ অধ্যয়নের ভূমিকা   (উমর সুলাইমান আল-আশকার)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ


বই: আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (ফিকহী মাযহাব ও ধারাসমূহ অধ্যয়নের ভূমিকা)

লেখক: ডক্টর উমর সুলাইমান আল-আশকার

প্রকাশক: দারুন নাফায়েস পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, জর্ডান

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৭

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ জিলহজ্জ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
المدخل إلى دراسة المدارس والمذاهب الفقهية

 

تأليف

الدكتور عمر سليمان الأشقر
ফিকহি মাদ্‌রাসাসমূহ ও মাযহাবসমূহ অধ্যয়নের ভূমিকা

 

রচনায়

ডক্টর উমর সুলাইমান আল-আশকার
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
المَدْخَل إلَى دراسةِ المدارِسِ والمذاهِب الفقهيَّة
ফিকহী মাযহাব ও ধারাসমূহ অধ্যয়নের উপক্রমণিকা
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
حُقُوقُ الطَّبع محَفوظَة

الطبعة الثَّانِيَة

1418 هـ - 1998 م

 

دَار النفائس للنشر والتوزيع

 

العبدلي - مُقَابل عمَارَة جَوْهَرَة الْقُدس

هَاتِف: 693940 - فاكس: 693941

ص. ب: 211511 - عمان 11121

الْأُرْدُن

 

[إِن دَار النفائس للنشر والتوزيع - الْأُرْدُن، هِيَ صَاحِبَة الْحق وَحدهَا فِي طباعة مؤلفات الدكتور عمر سُلَيْمَان الْأَشْقَر وَلَا صِحَة لما تزعمه بعض دور النشر من حُصُولهَا على إِذن من الْمُؤلف بطباعة مؤلفاته، وَعَلِيهِ فَلَا يجوز لأي جِهَة أَن تطبع أَو تترجم أَو تصور كتب الْمُؤلف الْمَذْكُور أَو جُزْءًا مِنْهَا، وسوف نقوم بالإجراءات القانونية المتبعة للحفاظ على حقوقنا]
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দ্বিতীয় সংস্করণ

১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুন নাফায়েস প্রকাশনা ও বিতরণী

 

আল-আবদালী - জাওহারাতুল কুদস ভবনের বিপরীতে

টেলিফোন: ৬৯৩৯৪০ - ফ্যাক্স: ৬৯৩৯৪১

পি.ও. বক্স: ২১১৫১১ - আম্মান ১১১২১

জর্ডান

 

[নিশ্চয়ই দারুন নাফায়েস প্রকাশনা ও বিতরণী - জর্ডান, ড. উমর সুলাইমান আল-আশকার-এর রচনাবলী মুদ্রণের একমাত্র স্বত্বাধিকারী। কোনো কোনো প্রকাশনা সংস্থা লেখকের কাছ থেকে তাঁর রচনাবলী মুদ্রণের অনুমতি পাওয়ার যে দাবি করে থাকে, তার কোনো সত্যতা নেই। অতএব, কোনো পক্ষের জন্যই উল্লিখিত লেখকের গ্রন্থাবলী বা এর কোনো অংশ মুদ্রণ, অনুবাদ বা প্রতিলিপি করা বৈধ নয়; এবং আমাদের অধিকার রক্ষায় আমরা প্রচলিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।]
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، الهادي إلى الدين القويم والصراط المستقيم، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحبه أجمعين، وعلى من اهتدى بهديه وسلك سبيله إلى يوم الدين وبعد:

فإن المقصد من وراء هذا المؤلف إعانة طلبة العلم على التعرف إلى المدارس الفقهية والمذاهب الفقهية، بحيث يصبح مدخلاً لدراسة هذين الموضوعين.

وقد دعاني إلى تدوين هذا الكتاب ما رأيته من قصور لدى كثير من الطلبة في كليات الشريعة في المرحلة الجامعية الأولى، وفي المراحل المتقدمة في الدراسات العليا فيما يتعلق بالمدارس الفقهية والمذاهب الفقهية، وهذا القصور يظهر في دراستهم كما يظهر في أبحاثهم، ورسالتهم، وأكثر ما يتبدى هذا القصور في الدائرة التي يشملها المذهب، وطريقة تحقيق المذهب، والكتب التي تحققه، ولذا فإن هذا البحث يعد مدخلاً مفيداً لدراسة المذاهب الفقهية، يعين الدارسين والباحثين على أن يكونوا أكثر علماً بهذه المذاهب، وأكثر دقة في تحديد المذاهب، وأكثر قدرة في الرجوع إلى الكتب المعتمدة في كل مذهب.

وقد تم هذا البحث في ثلاثة أبواب:

الباب الأول يتناول بالدراسة المدارس الفقهية، وقد مهدت لهذا الباب ببيان المراد من هذا المصطلح، كما بينت أن هذه المدارس انقسمت إلى ثلاثة أقسام.

وعقدت فيه ثلاثة فصول للحديث عن كل مدرسة من هذه المدارس التي وجدت عبر التاريخ الإسلامي، وعقدت في كل فصل من الفصول الثلاثة عدة مباحث للتعريف بكل مدرسة، وتحدثت عن الأصول التي تقوم عليها هذه المدارس، والمحاسن التى تتصف بها، والمؤاخذات التي أخذت على كل
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন ও সরল পথের দিশারী। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবী এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর হেদায়েত অনুযায়ী চলবেন ও তাঁর পথ অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। এরপর:

এই গ্রন্থ রচনার মূল উদ্দেশ্য হলো ইলম অন্বেষণকারীদের ফিকহি ধারাসমূহ এবং ফিকহি মাযহাবসমূহের সাথে পরিচিত হতে সহায়তা করা, যাতে এটি এই বিষয়দ্বয় অধ্যয়নের ক্ষেত্রে একটি প্রবেশিকা হিসেবে গণ্য হতে পারে।

এই গ্রন্থটি সংকলনে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে শরিয়াহ অনুষদের স্নাতক পর্যায়ের প্রথম ধাপে এবং উচ্চতর গবেষণার অগ্রসর ধাপসমূহের অনেক শিক্ষার্থীর মাঝে ফিকহি ধারা ও ফিকহি মাযহাব সংক্রান্ত বিষয়ে যে সীমাবদ্ধতা আমি লক্ষ্য করেছি। এই সীমাবদ্ধতা তাদের অধ্যয়ন, গবেষণা ও থিসিসসমূহে প্রকাশ পায়। আর এই সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত পরিধি, মাযহাব যাচাই (تحقيق) করার পদ্ধতি এবং যে সকল কিতাব মাযহাবকে যাচাই (تحقيق) করে সেসবের ক্ষেত্রে। অতএব, এই গবেষণাটি ফিকহি মাযহাবসমূহ অধ্যয়নের জন্য একটি উপকারী প্রবেশিকা হিসেবে গণ্য হবে, যা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের এই মাযহাবসমূহ সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানী হতে, মাযহাবগুলো নির্ধারণে আরও সূক্ষ্ম হতে এবং প্রতিটি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) কিতাবসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করার ক্ষেত্রে অধিক সক্ষম হতে সাহায্য করবে।

এই গবেষণাটি তিনটি অধ্যায়ে সম্পন্ন করা হয়েছে:

প্রথম অধ্যায়ে ফিকহি ধারাসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়ের শুরুতে আমি উক্ত পরিভাষাটির উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার মাধ্যমে ভূমিকা প্রদান করেছি এবং আরও বর্ণনা করেছি যে, এই ধারাগুলো তিনটি ভাগে বিভক্ত।

সেখানে আমি ইসলামি ইতিহাসের পরিক্রমায় বিদ্যমান প্রতিটি ধারা নিয়ে আলোচনার জন্য তিনটি পরিচ্ছেদ বিন্যস্ত করেছি। প্রতিটি পরিচ্ছেদে উক্ত ধারাগুলোর পরিচিতির জন্য বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করেছি। এছাড়াও আমি সেই মূলনীতিসমূহ (الأصول) সম্পর্কে আলোচনা করেছি যার ওপর এই ধারাগুলো প্রতিষ্ঠিত, তাদের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত সৌন্দর্যসমূহ এবং প্রতিটি ধারার ওপর গৃহীত আপত্তি বা সমালোচনাসমূহ সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
منها، وعقدت فصلاً رابعاً للموازنة بين المدراس الثلاثة.

وعقدت الباب الثاني للحديث عن المذاهب الفقهية، وقسمت هذا الباب إلى فصلين، الفصل الأول مخصص للتعريف بالمذاهب الفقهية.

وقد عرضت في المبحث الأول من هذا الفصل للكيفية التي تكونت بها المذاهب الفقهية.

وعرفت فيه المذهب في اللغة والاصطلاح.

كما بينت فيه خطأ الذين نسبوا إلى إمام المذهب كل ما يضمه المذهب من اجتهادات.

وعرضت في المبحث الثاني إلى جهود الأئمة في تصحيح مذاهبهم.

وبينت في المبحث الثالث السبب في صعوبة معرفة الصحيح من المذهب.

وخصصت المبحث الرابع للحديث عن الجهود التي قام بها علماء كل مذهب في تصحيح مذاهبهم وتهذيبها.

وقد عقدت لهذا المبحث خمسة مطالب.

بينت في المطلب الأول جهودهم في فقه أقوال إمام المذهب وتحديد مذهبه.

وذكرت في المطلب الثاني الطرق التي اتبعها علماء كل مذهب في تحقيق المذهب، وبينت في المطلب الثالث الخطأ الذي وقع فيه الذين كانوا يتخيرون من الأقوال بالتشهي والهوى.

وذكرت في المطلب الرابع نموذجاً لجهود مصححي المذهب.

وفي المطلب الخامس عرض لاجتهاد علماء المذهب، وفيه ذكر لبعض ضوابط اجتهاد هؤلاء العلماء، وقد عرضت في المطلب السادس لمسألة مهمة جدًّا، وهي مدى صحة القياس على قول إمام المذهب.

وقد خصصت الفصل الثاني للحديث عن المذاهب الأربعة التي لها أتباع حتى
সেগুলো থেকে আমি তিনটি ধারার মধ্যে তুলনামূলক আলোচনার জন্য চতুর্থ একটি পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছি।

আর আমি দ্বিতীয় অধ্যায়টি ফিকহি মাযহাবসমূহ সম্পর্কে আলোচনার জন্য বিন্যস্ত করেছি এবং এই অধ্যায়টিকে দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি; প্রথম পরিচ্ছেদটি ফিকহি মাযহাবসমূহের পরিচয়ের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

আমি এই পরিচ্ছেদের প্রথম অনুচ্ছেদে ফিকহি মাযহাবসমূহ যেভাবে গঠিত হয়েছে সেই পদ্ধতিটি উপস্থাপন করেছি।

এবং এতে আমি মাযহাবের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদান করেছি।

পাশাপাশি আমি ঐ সকল ব্যক্তির ভুল স্পষ্ট করেছি যারা মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত সকল ইজতিহাদকে (اجتهادات) সংশ্লিষ্ট মাযহাবের ইমামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

আর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে আমি ইমামগণের নিজ নিজ মাযহাবের বিশুদ্ধিকরণ (تصحيح) সংক্রান্ত প্রচেষ্টাসমূহ উপস্থাপন করেছি।

এবং তৃতীয় অনুচ্ছেদে আমি মাযহাবের সঠিক (الصحيح) মতটি জানার ক্ষেত্রে বিদ্যমান অন্তরায় বা কারণসমূহ বর্ণনা করেছি।

আমি চতুর্থ অনুচ্ছেদটি প্রতিটি মাযহাবের আলেমগণ তাঁদের মাযহাবের বিশুদ্ধিকরণ (تصحيح) ও পরিমার্জনে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন সে সম্পর্কে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি।

এই অনুচ্ছেদের জন্য আমি পাঁচটি উপ-বিভাগ বিন্যস্ত করেছি।

প্রথম উপ-বিভাগে আমি মাযহাবের ইমামের বক্তব্যসমূহ অনুধাবন এবং তাঁর মাযহাব নির্ধারণে তাঁদের প্রচেষ্টাসমূহ বর্ণনা করেছি।

দ্বিতীয় উপ-বিভাগে আমি প্রতিটি মাযহাবের আলেমগণ মাযহাবের তাহকিক (تحقيق) বা সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করেছেন তা উল্লেখ করেছি; আর তৃতীয় উপ-বিভাগে ঐসব ব্যক্তির ভুল বর্ণনা করেছি যারা প্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশি অনুযায়ী বক্তব্যসমূহ নির্বাচন করতেন।

চতুর্থ উপ-বিভাগে আমি মাযহাবের সংশোধনকারীদের (مصححي) প্রচেষ্টার একটি নমুনা উল্লেখ করেছি।

আর পঞ্চম উপ-বিভাগে মাযহাবের আলেমদের ইজতিহাদ (اجتهاد) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এবং এতে উক্ত আলেমদের ইজতিহাদের কিছু মূলনীতি (ضوابط) উল্লেখ করা হয়েছে; আর ষষ্ঠ উপ-বিভাগে আমি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করেছি, যা হলো—মাযহাবের ইমামের বক্তব্যের ওপর কিয়াস (القياس) করার বিশুদ্ধতার সীমা।

আমি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি ঐ চারটি মাযহাব সম্পর্কে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি যাদের অনুসারী আজ পর্যন্ত...
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
اليوم، وقد ترجمت فيه لكل واحد من الأئمة الأربعة، موجزا قواعد مذهبه، متحدثاً عن علمه وفضله وشيوخه وتلامذته وتقدير أهل العلم له، مبيناً مدى انتشار مذهبه، متحدثاً عن أهم المصطلحات التي تدور على السنة علماء المذهب، ملقياً الضوء على مدونات المذهب والكتب المعتمدة فيه.

وفي الباب الثالث حديث عن موقف المسلم من الأئمة، وبيان حكم تقليدهم.

وقد عرفت في هذا الباب التقليد، وبينت حكمه، ورددت قول من أوجبه من وجوه كثيرة، وبينت في ختام هذا الباب الحالات التي يجوز التقليد فيها.

أرجو أن أكون قد قدمت في هذا الكتاب لطلاب العلم ما يوسع منهم الآفاق، ويرشد إلى الصواب، ويسدد المسار، ويقوِّم الانحراف، والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.

د. عمر سليمان الأشقر

كلية الشريعة - الجامعة الأردنية

عمان
आज, আমি এতে চার ইমামের প্রত্যেকের জীবনী আলোচনা করেছি, যেখানে তাঁদের মাজহাবের মূলনীতি (قواعد) সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে; তাঁদের জ্ঞান, মর্যাদা, শিক্ষক (شيوخ) ও ছাত্র এবং তাঁদের প্রতি আলেমদের মূল্যায়নের কথা আলোচনা করেছি। এছাড়া তাঁদের মাজহাবের বিস্তৃতির সীমা স্পষ্ট করেছি, ওই মাজহাবের আলেমদের মাঝে প্রচলিত গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা (مصطلحات) সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং মাজহাবের প্রামাণ্য দলিল ও নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) কিতাবসমূহের ওপর আলোকপাত করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদে ইমামগণের প্রতি মুসলিমদের অবস্থান এবং তাঁদের অনুকরণের বিধান সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে।

এই পরিচ্ছেদে আমি তাকলিদের সংজ্ঞা দিয়েছি, এর বিধান স্পষ্ট করেছি এবং যারা একে আবশ্যক বলেছেন তাদের বক্তব্য বিভিন্ন দিক থেকে খণ্ডন করেছি। পরিশেষে এই পরিচ্ছেদের শেষে ওইসব ক্ষেত্র বর্ণনা করেছি যেগুলোতে তাকলিদ করা বৈধ।

আমি আশা করি এই বইটির মাধ্যমে আমি জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য এমন কিছু পেশ করতে পেরেছি যা তাঁদের চিন্তার দিগন্তকে বিস্তৃত করবে, সত্যের দিকে পরিচালিত করবে, তাঁদের পথকে সঠিক করবে এবং বিচ্যুতি সংশোধন করবে। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ পূর্ণতা পায়।

ড. উমর সুলাইমান আল-আশকার

শরিয়াহ অনুষদ - জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়

আম্মান
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الباب الأول

المدارس الفقهية

تمهيد: التعريف بالمدارس الفقهية.

* الفصل الأول: مدرسة أهل الحديث.

* الفصل الثاني: مدرسة أهل الرأي.

* الفصل الثالث: مدرسة أهل الظاهر.

* الفصل الرابع: موازنة بين المدارس الفقهية.
‌‌প্রথম অধ্যায়

ফিকহী মাযহাবসমূহ (المدارس الفقهية)

ভূমিকা: ফিকহী মাযহাবসমূহের (المدارس الفقهية) পরিচয়।

* প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলে হাদিস ধারা।

* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে রায় ধারা (مدرسة أهل الرأي)।

* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে জাহের ধারা (مدرسة أهل الظاهر)।

* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিকহী মাযহাবসমূহের (المدارس الفقهية) মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تمهيد: التعريف بالمدارس الفقهية

تبلورت الاتجاهات الفقهية في عصر التدوين والأئمة المجتهدين في القرن الثاني الهجري، وشكَّل كل منها تيارا في الأمة الإسلامية، له زعماؤه وأتباعه، ووضع علماء كل اتجاه أصولا ومعالم ميزت طريقهم عن غيره، وبذلك تكونت المدارس الفقهية.

ولا يراد بالمدرسة الفقهية بناءٌ يتدارس فيه الفقه، ولكن يقصد بها طريقة ينتهجها الفقيه، فيأخذها عنه غيره، ويتابعونه عليها، وبذلك تصبح تياراً ومسلكاً، يُعْرَفُون بها دون غيرهم.

وقد نسبت المدارس في بداية الأمر إلى المدائن التي نشئت فيها، فالمدينة المنورة هي مهد مدرسة أهل الحديث، والكوفة مهد مدرسة أهل الرأي، ثم خرجت كل واحدة من المدرستين من مهدها، فشكلت تياراً له أتباعه في مختلف ديار الإسلام، فعرفت مدرسة أهل المدينة بمدرسة أهل الحديث، ومدرسة الكوفة باسم مدرسة أهل الرأي، وكل من اطلعنا على قوله من أهل العلم رأيناه يقصر المدارس الفقهية على هاتين المدرستين.

ولكننا نرى الظاهريين أتباع داود الظاهري قد استقلوا ببعض الأصول، مما يجعلنا نعدهم مدرسة مستقلة، وبذلك تصبح المدارس الفقهية في نظرنا ثلاث مدارس:

1 - مدرسة أهل الحديث.

2 - مدرسة أهل الرأي.

3 - مدرسة أهل الظاهر.
‌ভূমিকা: ফিকহী স্কুলসমূহের পরিচয়

হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে সংকলনের যুগ এবং মুজতাহিদ (مجتهد) ইমামগণের সময়ে ফিকহী প্রবণতাগুলো সুসংহত রূপ লাভ করে এবং এর প্রতিটি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এক একটি ধারার সৃষ্টি করে, যার রয়েছে নিজস্ব নেতৃবৃন্দ ও অনুসারী। প্রতিটি ধারার আলেমগণ এমন কিছু মূলনীতি (أصول) ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করেছেন যা তাদের পথকে অন্যদের থেকে পৃথক করেছে, আর এভাবেই ফিকহী স্কুলসমূহ গঠিত হয়েছে।

ফিকহী স্কুল বলতে এমন কোনো ভবন বোঝানো হয় না যেখানে ফিকহ চর্চা করা হয়, বরং এর দ্বারা এমন একটি পদ্ধতি (طريقة) উদ্দেশ্য যা একজন ফকিহ (فقيه) অবলম্বন করেন এবং পরবর্তীতে অন্যরা তাঁর নিকট থেকে তা গ্রহণ করেন ও তাঁর অনুসরণ করেন। এর ফলে এটি একটি স্বতন্ত্র ধারা ও পথে পরিণত হয়, যার মাধ্যমে তাঁরা অন্যদের থেকে স্বতন্ত্রভাবে পরিচিতি লাভ করেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই স্কুলগুলোকে সেই সব শহরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হতো যেখানে এগুলোর উৎপত্তি হয়েছিল। যেমন: মদিনা মুনাওয়ারা হলো আহলে হাদিস স্কুলের সূতিকাগার, আর কুফা হলো আহলে রায় (أهل الرأي) স্কুলের সূতিকাগার। পরবর্তীতে এই স্কুল দুটির প্রতিটিই তাদের উৎপত্তিস্থল থেকে বেরিয়ে পড়ে এবং ইসলামের বিভিন্ন ভূখণ্ডে এমন এক ধারার সৃষ্টি করে যার নিজস্ব অনুসারী রয়েছে। ফলে মদিনার স্কুলটি আহলে হাদিস স্কুল হিসেবে এবং কুফার স্কুলটি আহলে রায় (أهل الرأي) স্কুল হিসেবে পরিচিতি পায়। আমরা আলেমদের যেসব বক্তব্য অবগত হয়েছি, তাতে দেখেছি যে তাঁরা ফিকহী স্কুলগুলোকে এই দুটি স্কুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

তবে আমরা দেখি যে, দাউদ জাহিরির অনুসারী জাহিরিগণ (الظاهريون) কিছু মূলনীতির (أصول) ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যা আমাদের তাদেরকে একটি স্বতন্ত্র স্কুল হিসেবে গণ্য করতে উদ্বুদ্ধ করে। সেই বিবেচনায় আমাদের দৃষ্টিতে ফিকহী স্কুলসমূহ তিনটি:

১ - আহলে হাদিস স্কুল।

২ - আহলে রায় (أهل الرأي) স্কুল।

৩ - আহলে জাহির (أهل الظاهر) স্কুল।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الأول مدرسة أهل الحديث

‌‌المبحث الأول: مهد مدرسة الحديث وامتدادها

كان مهد مدرسة الحديث في أول نشأتها بالحجاز، وفي المدينة المنورة بالذات، وعُرفَت بمدرسة المدينة؛ لأنها مهد السنة، ومأوى الفقهاء، وبها سلالة الصحابة الذين عاصروا الرسول صلى الله عليه وسلم، وحفظوا عنه الحديث وتناقلوه، واقتدوا به في أفعاله وتصرفاته، فكان من الطبيعي أن يتأثر فقهاء هذه المدرسة بفقهاء الصحابة الأوائل، وعلماء التابعين الذين استوطنوا المدينة، ونهجوا نهج الصحابة

وعلماء التابعين الذين كانوا يمثلون مدرسة المدينة كثيرون، وأشهرهم الفقهاء السبعة(1)، وقد كونوا المدرسة الفقهية الأولى، ووضعوا الأسس الأولى للمنهج الفقهي، وعملوا على نفاذ الحياة بأسرها -ومنها الحياة التشريعية- على القواعد الدينية والخلقية، التي استمدوها من القرآن الكريم(2).

وقد انتهت رياسة مدرسة المدينة إلى الإمام مالك رحمه الله تعالى، يقول ابن تيمية: "مالك أقوم الناس بمذهب أهل المدينة رواية ورأيا، فإنه لم يكن في عصره ولا بعده أقوم بذلك منه، كان له من المكانة عند أهل الإسلام -الخاص والعام- ما لا يخفى على من له بالعلم أدنى إلمام"(3).

وقد ضَمَّن الإمام مالك كتابه (الموطأ) ذلك المنهج الذي تلقاه عمن قبله، وقد تلقاه أولئك عن الصحابة.

--------------------------------------------

(1) انظر كتابنا: تاريخ الفقه الإسلامي، ص 85. وسيأتي ذكرهم قريبا.

(2) مناهج الاجتهاد في الإسلام، لمحمد سلام مدكور: 100، نشرته جامعة الكويت.

(3) صحة عمل أهل المدينة، لشيخ الإسلام ابن تيمية.
‌‌প্রথম অধ্যায়: আহলুল হাদিস মাদ্রাসা

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিস মাদ্রাসার সূতিকাগার ও এর বিস্তৃতি

হাদিস মাদ্রাসার সূতিকাগার তার প্রাথমিক উন্মেষকালে হিজাজে ছিল, এবং বিশেষভাবে মদিনা মুনাওয়ারায়; এটি 'মদিনা মাদ্রাসা' নামে পরিচিত ছিল। কারণ, এটি ছিল সুন্নাহর সূতিকাগার এবং ফকিহগণের আশ্রয়স্থল। সেখানে সাহাবিগণের উত্তরসূরিরা বসবাস করতেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে হাদিস সংরক্ষণ করেছেন ও তা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর কর্ম ও আচরণে তাঁর অনুসরণ করেছেন। ফলে এই মাদ্রাসার ফকিহগণ মদিনায় বসতি স্থাপনকারী আদি সাহাবি ও তাবেয়ি আলেমদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক, যারা সাহাবিগণের পথ অনুসরণ করেছিলেন।

তাবেয়ি আলেমদের মধ্যে যারা মদিনা মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্ব করতেন তারা সংখ্যায় অনেক ছিলেন, যাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন 'সাত ফকিহ'(১)। তারা প্রথম ফিকহ শাস্ত্রীয় মাদ্রাসা গঠন করেছিলেন এবং ফিকহী পদ্ধতির প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তারা সমগ্র জীবনকে—যার মধ্যে আইনি জীবনও অন্তর্ভুক্ত—ধর্মীয় ও নৈতিক নিয়মের ওপর পরিচালিত করার জন্য কাজ করেছিলেন, যা তারা পবিত্র কুরআন থেকে গ্রহণ করেছিলেন(২)।

মদিনা মাদ্রাসার নেতৃত্ব ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহির নিকট এসে সমাপ্ত হয়। ইবনে তাইমিয়া বলেন: "মালিক বর্ণনা (رواية) ও রায় (رأي)-এর ক্ষেত্রে মদিনাবাসীদের মাজহাবের (مذهب) ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ় ছিলেন। কেননা তাঁর যুগে বা তাঁর পরে তাঁর চেয়ে অধিক সুদৃঢ় কেউ ছিল না। ইসলাম অনুসারীদের কাছে—সাধারণ ও বিশেষ সবার নিকট—তাঁর যে মর্যাদা ছিল, তা সামান্য জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেও অস্পষ্ট নয়"(৩)।

ইমাম মালিক তাঁর গ্রন্থ মুয়াত্তা-তে সেই পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের কাছ থেকে লাভ করেছিলেন এবং তারা তা সাহাবিগণের কাছ থেকে লাভ করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন আমাদের বই: তারিখুল ফিকহ আল-ইসলামি, পৃষ্ঠা ৮৫। অচিরেই তাদের উল্লেখ আসবে।

(২) মানাহিজুল ইজতিহাদ ফিল ইসলাম, মুহাম্মদ সালাম মাদকর: ১০০, কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত।

(৩) সিহহাতু আমালি আহলিল মদিনা, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ রচিত।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المبحث الثاني: مكانة مدرسة المدينة

لقد كان لمدرسة المدينة مكانة كبيرة عند الحكام والمحكومين، فخلفاء بني أميَّة كانوا يرجِّحون علماءَ الحجاز وقولهم على أهل الشام وقولهم، وكذلك كان المنصور والمهدي والرشيد -وهم سادات خلفاء بني العباس- يرجِّحون علماء الحجاز وقولهم على علماء أهل العراق، وعندما وجد فيهم من عدل إلى الآراء المشرقية كثر الإحداث فيهم وضعفت الخلافة(1).

ويذكر مؤرخ الإسلام الذهبي وغيره أن الرشيد أراده على الخروج معه إلى بغداد فأبى(2).

وذكر الذهبي في ترجمة الإمام مالك أن أبا جعفر المنصور قال للإمام مالك: "قد طلبت هذا الشأن في زمن بني أمية، فقد عرفته، فأمَّا أهل العراق فأهل إفك وباطل، وأما أهل الشام فأهل جهاد، وليس فيهم كبير علم، وأما أهل الحجاز ففيهم بقية علم"(3).

كما يذكر ابن تيمية أن سائر أمصار المسلمين كانوا منقادين لعلم أهل المدينة، لا يعدُّون أنفسهم أكفاءهم في العلم، كأهل الشام ومصر، مثل الأوزاعي ومن قبله ومن بعده من الشاميين، ومثل الليث بن سعد ومَنْ قبله، ومَنْ بعده من المصريين، وتعظيمهم لعمل أهل المدينة، واتباعهم لمذاهبهم القديمة ظاهر بَيِّنٌ، وكذلك علماء أهل البصرة، كأيوب، وحماد بن زيد، وعبد الرحمن بن مهدي وأمثالهم(4). وقد كان كبار العلماء يقدِّمون علماء أهل المدينة على غيرهم، وقد فضل الشافعي الإمامَ مالك على أبى حنفية في مناظرة جرت بينه وبين محمد بن الحسن.

--------------------------------------------

(1) صحة عمل أهل المدينة: 32.

(2) الإكمال في أسماء الرجال. انظر مشكاة المصابيح: 3/ 987. إحياء علوم الدين: 1/ 27.

(3) تاريخ الإسلام للذهبي: حوادث سنة: 171 - 180.

(4) صحة عمل أهل المدينة: 26.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মদিনার ইলমি মারকাজের মর্যাদা

শাসক এবং শাসিত—উভয় শ্রেণির নিকট মদিনার ইলমি মারকাজের একটি সুমহান মর্যাদা ছিল। উমাইয়া খলিফাগণ হিজাজের উলামায়ে কেরাম এবং তাঁদের অভিমতকে শামের অধিবাসী ও তাঁদের মতামতের ওপর প্রাধান্য দিতেন। একইভাবে আল-মনসুর, আল-মাহদি এবং আল-রশিদ—যাঁরা ছিলেন আব্বাসীয় খিলাফতের প্রধান খলিফা—তাঁরা ইরাকের আলেমদের তুলনায় হিজাজের আলেমদের এবং তাঁদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতেন। যখন তাঁদের মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যেত যিনি প্রাচ্যের মতামতের দিকে ঝুঁকে পড়তেন, তখন তাঁদের মধ্যে নব-উদ্ভাবন (إحداث) বৃদ্ধি পেত এবং খিলাফত দুর্বল হয়ে পড়ত।(১)

ইসলামের ইতিহাসবিদ আয-যাহাবি এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, আল-রশিদ ইমাম মালিককে তাঁর সাথে বাগদাদে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।(২)

আয-যাহাবি ইমাম মালিকের জীবনীতে (ترجمة) উল্লেখ করেছেন যে, আবু জাফর আল-মনসুর ইমাম মালিককে বলেছিলেন: "আমি উমাইয়াদের আমলে এই ইলম অন্বেষণ করেছি এবং তা যথাযথভাবে জেনেছি। ইরাকবাসীরা তো মিথ্যা ও বাতিলের অনুসারী; আর শামবাসীরা হলো জিহাদকারী (أهل جهاد), তাঁদের মাঝে গভীর কোনো ইলম নেই। তবে হিজাজবাসীদের কাছে ইলমের অবশিষ্টাংশ রয়েছে।"(৩)

ইবনে তাইমিয়াহ উল্লেখ করেছেন যে, মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য সকল জনপদের অধিবাসীরা মদিনাবাসীদের ইলমের অনুগত ছিল। তাঁরা ইলমের ক্ষেত্রে নিজেদেরকে তাঁদের সমকক্ষ মনে করতেন না; যেমন শাম ও মিসরবাসীরা। ইমাম আওযায়ী এবং তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী শামবাসীগণ, এবং লাইস বিন সাদ ও তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মিসরীয়গণ মদিনাবাসীদের আমলকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তাঁদের প্রাচীন মাযহাবসমূহের অনুসরণ করতেন—যা অত্যন্ত সুস্পষ্ট। একইভাবে বসরার আলেমগণ, যেমন আইয়ুব, হাম্মাদ বিন যাইদ, আবদুর রহমান বিন মাহদি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণও তাই করতেন।(৪) বড় বড় উলামায়ে কেরাম মদিনার আলেমদের অন্য সকলের ওপর প্রাধান্য দিতেন। ইমাম শাফিয়ি এবং মুহাম্মদ বিন হাসানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বিতর্কে তিনি ইমাম মালিককে আবু হানিফার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সিহহাতু আমালি আহলিল মদিনা: ৩২।

(২) আল-ইকমাল ফি আসমায়ির রিজাল। দেখুন মিশকাতুল মাসাবিহ: ৩/৯৮৭। ইহয়াউ উলুমিদ্দিন: ১/২৭।

(৩) আয-যাহাবির তারিখুল ইসলাম: ১৭১ - ১৮০ হিজরির ঘটনাবলি।

(৪) সিহহাতু আমালি আহলিল মদিনা: ২৬।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ففي تاريخ الإسلام للذهبي عن محمد بن عبد الله بن عبد الحكم قال سمعت الشافعي يقول: "قال لي محمد بن الحسن أيما أعلم صاحبنا أو صاحبكم؟ (يريد بصاحبنا الإمام أبي حنيفة، وبصاحبكم الإمام مالك).

قلت: أنشدك الله من أعلم بالقرآن؟ قال: صاحبكم.

قلت: من أعلم بالسنة؟ قال: اللهم صاحبكم.

قلت: فمن أعلم بأقاويل الصحابة والمتقدمين؟ قال: صاحبكم.

قلت: لم يبق إلى القياس، والقياس لا يكون إلا على هذه الأشياء، فمن لم يعرف الأصول فعلى أي شيء يقيس! "(1)

وقد فضَّل الإمام أحمد الإمام مالكا على سفيان الثوري، مع أن سفيان كان أعلمَ أهل العراق بالفقه والحديث.

فقد قالوا للإمام أحمد: من أعلم بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم مالك أم سفيان؟

فقال: بل مالك.

فقيل له: أيما أعلم بآثار أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم مالك أم سفيان؟

فقال: بل مالك.

فقيل له: أيما أزهد مالك أم سفيان؟

فقال: هذه لكم(2).

لقد كان مذهب أهل المدينة في زمن الصحابة والتابعين وتابعيهم كما يقول ابن تيمية "أصح مذاهب أهل المدائن الإسلامية شرقاً وغربا في الأصول والفروع"(3)، ويقول ابن تيمية في موضع آخر: "في القرون التي أثنى

--------------------------------------------

(1) تاريخ الإسلام للذهبي. حوادث سنة 171 - 180. وانظر: سير أعلام النبلاء للذهبي: 8/ 76، 112.

(2) صحة عمل أهل المدينة: 39.

(3) صحة عمل أهل المدينة: ص 17.
যাহাবীর তারিখুল ইসলাম গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন যে, আমি শাফিঈ-কে বলতে শুনেছি: "মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমাকে বললেন: আমাদের সাথী নাকি আপনাদের সাথী—কে অধিক জ্ঞানী? (এখানে আমাদের সাথী দ্বারা ইমাম আবু হানিফা এবং আপনাদের সাথী দ্বারা ইমাম মালিক-কে বুঝিয়েছেন)।

আমি বললাম: আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, কুরআনের জ্ঞানে কে অধিক পারদর্শী? তিনি বললেন: আপনাদের সাথী।

আমি বললাম: সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনাদের সাথী।

আমি বললাম: সাহাবী (صحابة) এবং পূর্বসূরিদের মতামত সম্পর্কে কে অধিক প্রাজ্ঞ? তিনি বললেন: আপনাদের সাথী।

আমি বললাম: তবে তো কেবল কিয়াস (قياس) অবশিষ্ট রইল, আর কিয়াস (قياس) তো কেবল এই বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি মূলনীতি (أصول) সম্পর্কেই অবগত নয়, সে কিসের ভিত্তিতে কিয়াস (قياس) করবে!"(১)

ইমাম আহমদ ইমাম মালিক-কে সুফিয়ান সাওরী-র ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন, যদিও সুফিয়ান ফিকহ ও হাদিসশাস্ত্রে ইরাকবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী ছিলেন।

লোকেরা ইমাম আহমদকে জিজ্ঞেস করল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞানী, মালিক নাকি সুফিয়ান?

তিনি বললেন: বরং মালিক।

তাঁকে পুনরায় বলা হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী (صحابة)-গণের আছার (آثار) সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞানী, মালিক নাকি সুফিয়ান?

তিনি বললেন: বরং মালিক।

তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতার (زهد) ক্ষেত্রে কে অগ্রগামী, মালিক নাকি সুফিয়ান?

তিনি বললেন: এটি তোমাদের জন্য (অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে সুফিয়ান অগ্রগামী)(২)।

সাহাবী (صحابة), তাবিঈ (تابعين) ও তাবি-তাবিঈ (تابعي التابعين) দের যুগে মদিনাবাসীদের মাযহাব ছিল—যেমনটি ইবনে তাইমিয়া বলেন—"মূলনীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখার (فروع) ক্ষেত্রে পূর্ব ও পশ্চিমের সকল ইসলামী জনপদের মাযহাবগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধতম (أصح) মাযহাব"(৩)। ইবনে তাইমিয়া অন্য এক স্থানে বলেন: "যে সকল শতাব্দীতে প্রশংসা করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) যাহাবীর তারিখুল ইসলাম। ১৭১ - ১৮০ হিজরীর ঘটনাবলি। আরও দেখুন: যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৮/ ৭৬, ১১২।

(২) সিহহাতু আমালি আহলিল মদিনাহ: ৩৯।

(৩) সিহহাতু আমালি আহলিল মদিনাহ: পৃষ্ঠা ১৭।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
عليها الرسول صلى الله عليه وسلم كان مذهب أهل المدينة أصح مذاهب أهل المدائن، فإنهم كانوا يتأسون بأثر رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر من سائر الأمصار، وكان غيرهم من أهل الأمصار دونهم في العلم بالسنة النبوية واتباعها، ولهذا لم يذهب أحد من علماء الإسلام إلى أن إجماع أهل مدينة من المدائن حجة يجب اتباعها غير المدينة"(1).

 

‌‌المبحث الثالث: انتشار مذهب أهل المدينة

لم يزل علماء أهل المدينة منذ عهد الخلفاء الراشدين يخرجون إلى مختلف أمصار المسلمين؛ لنشر العلم، وقد كان عمر بن عبد العزيز يرسل إلى علماء المدينة يسألهم، ويستفتيهم.

وطلب أبو جعفر المنصور من علماء الحجاز أن يذهبوا إلى العراق، وينشروا فيه العلم، فقدم عليهم هشام بن عروة، ومحمد بن إسحاق، ويحيى بن سعيد الأنصاري، وربيعة ابن أبى عبد الرحمن، وحنظلة ابن أبى سفيان الجمحي، وعبد العزيز ابن أبي سلمة الماجشون، وغير هؤلاء، وكان أبو يوسف يختلف في مجالس هؤلاء، ويتعلم منهم الحديث، وأكثر عمن قدم من الحجاز(2).

وقد رحل الناس من فجاج الأرض إلى الإمام مالك، فقد أخذ (الموطأ) عن الإمام مالك أهل الحجاز والشام والعراق، ومن أصغر من أخذ عنه الشافعي(3).

وقد رحل تلاميذ الإمام أبى حنيفة إلى الإمام مالك، وأخذوا عنه العلم، وقد ذكر ابن تيمية مسائل سأل عنها أبو يوسف الإمام مالك(4).

--------------------------------------------

(1) صحة عمل أهل المدينة: 20.

(2) صحة عمل أهل المدية: 26.

(3) صحة عمل أهل المدينة: 36.

(4) صحة عمل أهل المدية: 25.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার ওপর ছিলেন, সেই অনুযায়ী মদীনার অধিবাসীদের মাজহাব ছিল সকল শহরের মাজহাবের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح); কেননা তারা অন্যান্য সকল শহরের তুলনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনার (أثر) অধিক অনুসরণ করতেন। আর অন্যান্য শহরের অধিবাসীরা নববী সুন্নাহর জ্ঞান এবং তা অনুসরণের ক্ষেত্রে তাদের তুলনায় নিম্নস্তরের ছিল। এই কারণেই ইসলামের আলেমদের মধ্যে মদীনা ব্যতীত অন্য কোনো শহরের অধিবাসীদের ঐক্যমতকে (إجماع) অনুসরণযোগ্য দলিল (حجة) হিসেবে কেউ গ্রহণ করেননি।(১).

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মদীনার অধিবাসীদের মাজহাবের বিস্তার

খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ থেকে মদীনার আলেমগণ ইলম প্রচারের লক্ষ্যে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন শহরে গমন অব্যাহত রেখেছিলেন; আর উমর বিন আব্দুল আজিজ মদীনার আলেমদের নিকট (বিভিন্ন বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করে এবং ফতোয়া চেয়ে পাঠাতেন।

আবু জাফর আল-মানসুর হিজাজের আলেমদের ইরাকে গিয়ে সেখানে ইলম প্রচার করার অনুরোধ করেন। ফলে হিশাম বিন উরওয়াহ, মুহাম্মদ বিন ইসহাক, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারি, রাবিয়া ইবনে আবি আব্দুর রহমান, হানজালা ইবনে আবি সুফিয়ান আল-জুমাহি, আব্দুল আজিজ ইবনে আবি সালামা আল-মাজিশুন এবং আরও অনেকে সেখানে আগমন করেন। আবু ইউসুফ তাঁদের মজলিসে যাতায়াত করতেন এবং তাঁদের নিকট থেকে হাদিস শিখতেন; আর তিনি হিজাজ থেকে আগতদের নিকট থেকে অধিক (হাদিস গ্রহণ) করেছিলেন।(২).

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ইমাম মালিকের নিকট সফর করে আসতেন। হিজাজ, সিরিয়া ও ইরাকের অধিবাসীরা ইমাম মালিকের নিকট থেকে মুয়াত্তা গ্রহণ করেছেন। আর যারা তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম কনিষ্ঠ ছিলেন আশ-শাফিঈ।(৩).

ইমাম আবু হানিফার ছাত্রগণ ইমাম মালিকের নিকট সফর করেছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন। ইবনে তাইমিয়া এমন কিছু মাসআলা উল্লেখ করেছেন যা আবু ইউসুফ ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।(৪).

--------------------------------------------

(১) সেহহাতু আমালি আহলিল মদিনাহ: ২০।

(২) সেহহাতু আমালি আহলিল মদিনাহ: ২৬।

(৩) সেহহাতু আমালি আহলিল মদিনাহ: ৩৬।

(৪) সেহহাতু আমালি আহলিল মদিনাহ: ২৫।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الرابع: ظهور مدرسة أهل الحديث في بغداد

لم تكن مدرسة أهل الحديث محصورة في إطار المدينة المنورة، ولا في إطار الحجاز، بل كان العلماء المنادون بها، والقائمون عليها منتشرون في كل قطر، ولكن أهل المدينة كانوا إلى عهد الإمام مالك أقوم بها من غيرهم، وبعد موت الإمام مالك وأمثاله من علماء الحجاز برزت بغداد من بين المدائن كأبرز معقل لأهل الحديث، لأنه قد سكن بها من أفشى السنة، وأظهر حقائق الإسلام، مثل أحمد بن حنبل، وأبي عبيد، وأمثالهما من فقهاء أهل الحديث، وظهرت بها السنة في الأصول والفروع منذ ذلك الوقت، وانتشرت السنة منها إلى الأمصار، وظهر في المشرق علماء أعلام، أمثال إسحاق بن إبراهيم بن راهويه وأصحابه، وأصحاب عبد الله بن المبارك، وصار إلى المغرب من عِلم أهل المدينة ما نقل إليهم من علماء الحديث، فصار في بغداد وخراسان والمغرب من العلم ما لا يكون مثله إذ ذاك بالحجاز والبصرة(1).

 

‌‌المبحث الخامس: أشهر علماء أهل الحديث

آلت زعامة مدرسة أهل الحديث إلى الأئمة: مالك، والشافعي، وأحمد، وسفيان الثوري، يقول الشهرستاني: "أصحاب الحديث هم أهل الحجاز، هم أصحاب مالك بن أنس، وأصحاب محمد بن إدريس الشافعى، وأصحاب سفيان الثوري، وأصحاب داود بن علي الأصفهاني"(2).

ونقل البيهقي في كتابه (المدخل) عن يحيى بن محمد العنبري قوله: "طبقات أصحاب الحديث خمسة: (المالكية، والشافعية، والحنبلية، والرهاوية،

--------------------------------------------

(1) راجع صحة عمل أهل المدينة: 32.

(2) الملل والنحل، للشهرستاني: 1/ 206.
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বাগদাদে আহলে হাদিস (أهل الحديث) ঘরানার উদ্ভব

আহলে হাদিস (أهل الحديث) ঘরানা কেবল মদিনা মুনাওয়ারা কিংবা হিজাজ অঞ্চলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এর প্রবক্তা এবং ধারক-বাহক ওলামায়ে কেরাম প্রতিটি জনপদে ছড়িয়ে ছিলেন। তবে ইমাম মালিকের সময় পর্যন্ত মদিনাবাসীগণ অন্যদের তুলনায় এই ধারার অধিক অনুসারী ছিলেন। ইমাম মালিক এবং হিজাজের সমসাময়িক আলেমদের মৃত্যুর পর, শহরগুলোর মধ্যে বাগদাদ আহলে হাদিসের (أهل الحديث) অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। কারণ সেখানে এমন সব মনীষী বসবাস করতেন যারা সুন্নাহর (سنة) প্রসার ঘটিয়েছেন এবং ইসলামের প্রকৃত রূপ উন্মোচন করেছেন; যেমন আহমদ ইবনে হাম্বল, আবু উবাইদ এবং আহলে হাদিসের (أهل الحديث) অনুরূপ অন্যান্য ফকিহগণ (فقهاء)। সেই সময় থেকেই সেখানে উসুল (أصول) ও ফুরু (فروع) বা মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে সুন্নাহর (سنة) প্রভাব প্রকাশ পায় এবং সেখান থেকে সুন্নাহ (سنة) বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। পূর্বাঞ্চলে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে রাহওয়াইহি ও তাঁর অনুসারীগণ এবং আবদুল্লাহ ইবনে মুবারকের অনুসারীদের মতো বরেণ্য আলেমদের আবির্ভাব ঘটে। অন্যদিকে মদিনার আলেমদের জ্ঞান হাদিস বিশারদদের (علماء الحديث) মাধ্যমে মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা ও স্পেন) অঞ্চলে পৌঁছে যায়। ফলে বাগদাদ, খুরাসান ও মাগরিবে এমন ইলমের সমাহার ঘটে, যার নজির সে সময় হিজাজ ও বসরায় ছিল না।(1).

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আহলে হাদিসের (أهل الحديث) প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম

আহলে হাদিস (أهل الحديث) ঘরানার নেতৃত্ব ইমাম মালিক, শাফেয়ী, আহমদ এবং সুফিয়ান সাওরির মতো ইমামদের হাতে ন্যস্ত হয়েছিল। শাহরাস্তানি বলেন: "আসহাবুল হাদিস (أصحاب الحديث) হলেন হিজাজবাসী; তাঁরা হলেন মালিক ইবনে আনাসের অনুসারী, মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ীর অনুসারী, সুফিয়ান সাওরির অনুসারী এবং দাউদ ইবনে আলী আল-আসফাহানির অনুসারী।"(2).

বাইহাকি তাঁর আল-মাদখাল গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-আনবারি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে: "আসহাবুল হাদিসের (أصحاب الحديث) স্তর (طبقات) পাঁচটি: (মালিকি, শাফেয়ী, হাম্বলি, রাহওয়াইহি...

--------------------------------------------

(1) দেখুন, সিহহাতু আমালি আহলিল মদিনা: ৩২।

(2) আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, শাহরাস্তানি: ১/ ২০৬।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
والخزمية)(1)، ومراده بالرهاوية أصحاب الإمام إسحاق بن راهويه، وبالخزمية أتباع محمد بن إسحاق بن خزيمة، وكانا من كبار علماء الحديث.

وليس مراد الشهرستاني ويحيى بن محمد أن أهل الحديث محصورون في هؤلاء، بل مراده أن هؤلاء هم أهل الحديث الذين لهم أتباع في العصور التي كان فيها هذان العالمان، ولا يزال لمالك والشافعي وأحمد أتباع إلى اليوم، وقد انقرض من عداهم.

أمَّا أهل الحديث المشهورون الذين لهم أتباع في هذا القرن الثاني والثالث فهم كثير، وأشهرهم في القرن الثاني الهجري: يحيى بن سعيد القطان، ووكيع بن الجراح، وسفيان الثوري، وسفيان بن عيينة، وشعبة بن الحجاج، وعبد الرحمن بن مهدي، والأوزاعي، والليث بن سعد(2).

ومن مشاهيرهم في القرن الثالث الهجري: علي بن المديني، ويحيى بن معين، وأبو بكر ابن أبي شيبة، وأبو زرعة الرازي، وابن جرير الطبري، والبخاري، ومسلم، والنسائي، وأبو داود، والترمذي، وابن ماجة، وابن قتيبة الدينوري(3).

 

‌‌المبحث السادس: السبب في تسميتهم بأهل الحديث

يقول الشهرستاني: "وإنما سموا بأصحاب الحديث؛ لأن عنايتهم بتحصيل الأحاديث، ونقل الأخبار، وبناء الأحكام على النصوص، ولا يرجعون إلى القياس الجلي والخفي ما وجدوا خبرا أو أثرا"(4) وكانوا يكرهون الخوض بالرأي، ويهابون الفتيا والاستنباط إلا لضرورة لا يجدون منها بدًّا.

--------------------------------------------

(1) إعلام الموقعين: 2/ 284.

(2) الحديث والمحدثون، لأبي زهرة: 387، وانظر مفاتيح الفقه الحنبلي: 1/ 55.

(3) الحديث والمحدثون: 342، وانظر مفاتيح الفقه الحنبلي: 1/ 55.

(4) الملل والنحل، للشهرستاني: 1/ 206.
এবং খুজাইমিয়া)(১); আর 'রাহাউয়্যাহ' দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো ইমাম ইসহাক বিন রাহওয়াই-এর অনুসারীবৃন্দ, এবং 'খুজাইমিয়া' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমার অনুসারীবৃন্দ। তাঁরা উভয়েই হাদিসের প্রথিতযশা আলেম ছিলেন।

শাহরাস্তানি এবং ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ-এর উদ্দেশ্য এটি নয় যে, আহলুল হাদিস কেবল এদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ; বরং তাঁর উদ্দেশ্য হলো এরা হলেন সেই আহলুল হাদিস যাদের অনুসারী সেই যুগে বিদ্যমান ছিল যে যুগে এই দুই আলেম বেঁচে ছিলেন। ইমাম মালিক, শাফিঈ এবং আহমদের অনুসারীগণ আজও বিদ্যমান আছেন, তবে অন্যদের ধারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর প্রসিদ্ধ আহলুল হাদিস যাদের অনুসারী ছিল, তাঁরা সংখ্যায় অনেক। দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, ওয়াকি বিন আল-জাররাহ, সুফিয়ান আল-সাওরি, সুফিয়ান বিন উয়ায়নাহ, শু'বা বিন আল-হাজ্জাজ, আবদুর রহমান বিন মাহদি, আওজায়ি এবং লাইস বিন সাদ(২)।

তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে রয়েছেন: আলি বিন আল-মাদিনি, ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ, আবু জুরাহ আর-রাজি, ইবন জারির আত-তাবারী, বুখারি, মুসলিম, নাসায়ি, আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবন মাজাহ এবং ইবন কুতায়বাহ আদ-দিনাওয়ারি(৩)।

 

‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁদেরকে আহলুল হাদিস নামকরণের কারণ

শাহরাস্তানি বলেন: "তাঁদেরকে আসহাবুল হাদিস (أصحاب الحديث) নামে নামকরণ করা হয়েছে; কারণ তাঁদের মূল মনোযোগ ছিল হাদিস সংগ্রহ, সংবাদ (أخبار) বর্ণনা এবং নস বা পাঠের (نصوص) ওপর ভিত্তি করে বিধান প্রণয়নের প্রতি। যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা কোনো সংবাদ (خبر) বা আসার (أثر) পেতেন, ততক্ষণ তাঁরা স্পষ্ট কিয়াস (قياس جلي) কিংবা প্রচ্ছন্ন কিয়াসের (قياس خفي) দিকে ফিরে যেতেন না।"(৪) তাঁরা রায় (رأي) বা ব্যক্তিগত মতামতের চর্চাকে অপছন্দ করতেন এবং একান্ত অপরিহার্য প্রয়োজন ছাড়া ফতোয়া (فتيا) ও মাসআলা উদ্ভাবন বা ইস্তিনবাত (استنباط) করতে ভয় পেতেন।

--------------------------------------------

(১) ইলামুল মুওয়াক্কিঈন: ২/ ২৮৪।

(২) আল-হাদিস ওয়াল-মুহাদ্দিসুন, আবু জাহরাহ: ৩৮৭, এবং দেখুন মাফাতিহুল ফিকহ আল-হাম্বালি: ১/ ৫৫।

(৩) আল-হাদিস ওয়াল-মুহাদ্দিসুন: ৩৪২, এবং দেখুন মাফাতিহুল ফিকহ আল-হাম্বালি: ১/ ৫৫।

(৪) আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল, শাহরাস্তানি: ১/ ২০৬।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومدرسة أهل الحديث كان لها فضل السبق إلى تدوين السنة، وقد كابد علماء الحديث في سبيل جمع الحديث وتدوينه الشيء الكثير. وقد جمعوا السنة، وخلصوها مما شابها، ودونوها، وجمعوا مع السنة آثار فقهاء كلِّ بلد من الصحابة والتابعين، ودونوا المدونات التي تبحث في رجال الحديث، ووضعوا القواعد والضوابط التي يحكم بها على عدالة الرجال، وبذلك دُوِّنَ فن مصطلح الحديث، والجرح والتعديل.

 

‌‌المبحث السابع: أصول أهل الحديث في بيان الأحكام

لم يكن من طريقة أهل الحديث أن يقلدوا رجلا بعينه في كل ما يذهب إليه، ولذلك نجدهم اتبعوا منهجا واضحا للتوصل إلى الحكم الصحيح، من خلال ما وجدوه من الأحاديث والآثار، وقد بين الدهلوي أصول هذا المنهج ومعالمه(1):

1 - إذا وجدوا في المسألة قرآنا ناطقا، فإنهم لا يجيزون التحول منه إلى غيره، فإذا كان القرآن محتملا لوجوه، فالسنة قاضية عليه.

2 - فإذا لم يجدوا حكم المسألة في كتاب الله، فإنهم يأخذون بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا يفرقون في هذا بين السنة المستفيضة الدائرة بين الفقهاء وغير المستفيضة، ولا يشترطون مجيء الحديث من رواية أهل بلد أو أهل بيت أو بطريقة خاصة، كما أنهم لا يشترطون عمل الصحابة بالحديث، أو عمل التابعين، كل ما يشترطونه هو صحة الحديث.

ومتى صح الحديث فلا يتبعون خلافه، فلا اعتبار للآثار، ولا لآراء المجتهدين، إذا خالفت الحديث.

3 - وإذا أفرغوا جهدهم في تتبع الأحاديث، ولم يجدوا في المسألة حديثا، أخذوا بأقوال جماعة من الصحابة والتابعين، ولا يتقيدون بقوم دون قوم،

--------------------------------------------

(1) الإنصاف في أسباب الاختلاف، للدهلوي: ص 47.
সুন্নাহ সংকলনের ক্ষেত্রে আহলে হাদিস ঘরানার আলেমদের অগ্রগণ্য হওয়ার মর্যাদা রয়েছে। হাদিস সংগ্রহ ও সংকলনের পথে হাদিস বিশারদগণ অশেষ কষ্ট সহ্য করেছেন। তাঁরা সুন্নাহকে একত্রিত করেছেন, একে যাবতীয় সংমিশ্রণ থেকে মুক্ত করেছেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেছেন। সুন্নাহর পাশাপাশি তাঁরা প্রতিটি ভূখণ্ডের সাহাবী ও তাবিঈ ফকিহদের আছার (آثار) সংগ্রহ করেছেন। তাঁরা এমন সব সংকলন তৈরি করেছেন যা হাদিসের রাবিদের সম্পর্কে আলোচনা করে এবং তাঁরা এমন সব নিয়ম ও মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন যার মাধ্যমে রাবিদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বিচার করা যায়। এর মাধ্যমেই হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) এবং জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) বিদ্যা সংকলিত হয়।

 

‌‌সপ্তম পরিচ্ছেদ: বিধান বর্ণনায় আহলে হাদিসের মূলনীতিসমূহ

আহলে হাদিসের কর্মপন্থা এমন ছিল না যে, তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতিটি মতামতের অন্ধ অনুসরণ করবেন। তাই আমরা দেখি যে, হাদিস ও আছার (آثار) থেকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য তাঁরা একটি সুস্পষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী এই পদ্ধতির মূলনীতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করেছেন(১):

১ - যদি তাঁরা কোনো বিষয়ে কোরআনের সুস্পষ্ট বর্ণনা পান, তবে তাঁরা তা ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে ফিরে যাওয়া বৈধ মনে করেন না। যদি কোরআনের আয়াত একাধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখে, তবে সুন্নাহ তার ওপর ফয়সালাকারী হিসেবে গণ্য হয়।

২ - যদি তাঁরা আল্লাহর কিতাবে কোনো বিষয়ের বিধান না পান, তবে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে তাঁরা ফকিহদের মাঝে বহুল প্রচলিত সুপ্রসিদ্ধ (مستفيض) সুন্নাহ এবং যা সুপ্রসিদ্ধ নয়—এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। তাঁরা হাদিসটি কোনো নির্দিষ্ট শহরের বা নির্দিষ্ট পরিবারের বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে হতে হবে অথবা বিশেষ কোনো পদ্ধতিতে আসতে হবে—এমন শর্তারোপ করেন না। তেমনিভাবে তাঁরা হাদিসের ওপর সাহাবী বা তাবিঈদের আমল থাকাও শর্ত করেন না। তাঁদের একমাত্র শর্ত হলো হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحة)।

যখনই কোনো হাদিস সহিহ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়, তখন তাঁরা তার পরিপন্থী কিছুর অনুসরণ করেন না। হাদিসের বিপরীতে আছার (آثار) বা মুজতাহিদদের মতামতের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।

৩ - তাঁরা হাদিস অন্বেষণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করার পর যদি কোনো বিষয়ে হাদিস না পান, তবে সাহাবী ও তাবিঈগণের একটি জামাতের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং তাঁরা নির্দিষ্ট কোনো জনসমষ্টির অনুসরণে সীমাবদ্ধ থাকেন না।

--------------------------------------------

(১) আল-ইনসাফ ফি আসবাবিল ইখতিলাফ, শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী: পৃষ্ঠা ৪৭।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ولا بلد دون بلد، كما كان يفعل من قبلهم. فإن اتفق جمهور الخلفاء والفقهاء على شيء فهو المتبع، وإن اختلفوا أخذوا بحديث أعلمهم علما، أو أورعهم ورعاً، أو أكثرهم ضبطاً، أو ما اشتهر عنهم، فإن وجدوا شيئا يستوي فيه قولان، فهي مسألة ذات قولين.

4 - فإن عجزوا عن ذلك تأملوا في عمومات الكتاب والسنة وإيماءاتهما، واقتضاءاتهما، وحملوا نظير المسألة عليها في الجواب، إذا كانتا متقاربتين بادي الرأي، لا يعتمدون في ذلك على قواعد من الأصول، ولكن على ما يخلص إلى الفهم، ويثلج به الصدر.
এবং কোনো ভূখণ্ড অন্য ভূখণ্ডের চেয়ে আলাদা নয়, যেমনটি তাঁদের পূর্বসূরিরা করতেন। যদি খলিফা ও ফকিহদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ কোনো বিষয়ে একমত হন, তবে সেটিই অনুসরণীয়। আর যদি তাঁরা মতভেদ করেন, তবে তাঁরা তাঁদের মধ্যে অধিক জ্ঞানী, অথবা অধিক মুত্তাকি, অথবা সর্বাধিক প্রখর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন (ضبطاً) ব্যক্তির বর্ণিত হাদিস গ্রহণ করতেন, অথবা তাঁদের পক্ষ থেকে যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে তা গ্রহণ করতেন। যদি তাঁরা এমন কোনো বিষয় পান যাতে দুটি মতই সমান পর্যায়ের, তবে সেটি দুই মত বিশিষ্ট মাসয়ালা হিসেবে গণ্য হবে।

৪ - যদি তাঁরা তাতে অক্ষম হন, তবে তাঁরা কিতাব ও সুন্নাহর সাধারণ ভাষ্যসমূহ (عمومات), সেগুলোর ইঙ্গিত (إيماءات) ও দাবিগুলো (اقتضاءات) নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতেন; এবং কোনো মাসয়ালার সদৃশ বিষয়কে উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে তার ওপরই প্রয়োগ করতেন, যদি প্রাথমিক দৃষ্টিতে বিষয় দুটি কাছাকাছি হতো। এ ক্ষেত্রে তাঁরা উসুলের (أصول) নিয়মাবলির ওপর নির্ভর করতেন না, বরং যা প্রজ্ঞায় উপনীত হতো এবং যাতে অন্তর প্রশান্ত হতো, তার ওপরই নির্ভর করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الفصل الثاني مدرسة أهل الرأي

‌‌المبحث الأول: المراد بأهل الرأي

المراد بالرأي العلم بالشيء على سبيل الظن والاعتقاد، وقد خصَّه الفقهاء بالنظر وإعمال الفكر في الوقائع التي لم يرد بها نص، وكثيرا ما استعمل الصحابة كلمة رأي في اجتهاداتهم، التي ظهر أنها مبنية على اعتبار المصلحة، أو قائمة على أساس من القياس أو الاستحسان ونحوهما، بل شمل الرأي عندهم تفسير النصوص، وبيان وجه الدلالة منها، ومن ذلك تفسير أبى بكر لمعنى الكلالة في قوله تعالى: {قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ}(1).

فإنه قال: أقول فيها برأي "الكلالة: ما عدا الولد والوالد.

والمراد بأهل الرأي الذين أكثروا من استعمال الرأي والقياس في بيان الأحكام الشرعية، وليس المراد أنهم لم يكونوا يعتمدون على الكتاب والسنة.

وأصحاب الرأي كما يقول الشهرستاني: (هم أهل العراق، أصحاب أبي حنيفة النعمان بن ثابت، ومن أصحابه: محمد بن الحسن، وأبو يوسف يعقوب بن إبراهيم بن محمد القاضي، وزفر بن الهذيل، والحسن بن زياد اللؤلؤي، وابن سماعة، وعافية القاضي، وأبو مطيع البلخي، وبشر المريسي"(2)

--------------------------------------------

(1) سورة النساء: 176.

(2) الملل والنحل: 1/ 207.
‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়: আহলে রায় (أهل الرأي) বা রায়পন্থী ঘরানা

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলে রায় (أهل الرأي) এর পরিচয়

রায় (رأي) বলতে ধারণা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো বিষয় সম্পর্কে অবগত হওয়াকে বোঝায়। ফকিহগণ একে এমন সব ঘটনার ক্ষেত্রে গভীর চিন্তা ও গবেষণার প্রয়োগ ঘটানোকে নির্দিষ্ট করেছেন, যেগুলোর ব্যাপারে কোনো অকাট্য প্রমাণ (نص) বিদ্যমান নেই। সাহাবায়ে কিরাম প্রায়শই তাদের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) ক্ষেত্রে ‘রায়’ শব্দটি ব্যবহার করতেন, যা জনকল্যাণ (مصلحة) বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে অথবা অনুমাননির্ভর তুলনা (قياس) কিংবা প্রজ্ঞাভিত্তিক অগ্রাধিকার (استحسان) ও অনুরূপ পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এমনকি তাদের নিকট রায় (رأي) বলতে মূল পাঠের (نص) ব্যাখ্যা প্রদান এবং এর নির্দেশের ধরণ (دلالة) স্পষ্ট করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরই উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে কালালাহ সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন}(১) এর প্রেক্ষিতে ‘কালালাহ’ শব্দের ব্যাখ্যায় আবু বকর (রা.) এর বক্তব্য।

তিনি বলেছিলেন: “আমি এ বিষয়ে আমার নিজস্ব রায় (رأي) প্রদান করছি— কালালাহ হলো সন্তান ও পিতা ব্যতীত অন্য উত্তরাধিকারী।”

আহলে রায় (أهل الرأي) বলতে মূলত তাদের বোঝানো হয়, যারা শরয়ি বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে রায় (رأي) এবং অনুমাননির্ভর তুলনার (قياس) অধিক ব্যবহার করেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, তারা কুরআন ও সুন্নাহর ওপর নির্ভর করতেন না।

শাহরাস্তানি যেমনটি উল্লেখ করেছেন: “তারা হলেন ইরাকবাসী, যারা আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিতের অনুসারী। তাঁর অনুসারীদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনুল হাসান, আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-কাদি, জুফার ইবনুল হুদাইল, আল-হাসান ইবনে জিয়াদ আল-লুলুয়ি, ইবনে সামাআহ, আফিয়া আল-কাদি, আবু মুতি আল-বালখি এবং বিশর আল-মারিসি।”(২)

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা: ১৭৬।

(২) আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল: ১/২০৭।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المبحث الثاني: السبب في تسميتهم بأهل الرأي

يقول الشهرستاني: "وإنما سموا أصحاب الرأي؛ لأن أكثر عنايتهم بتحصيل وجه القياس، والمعنى المستنبط من الأحكام، وبناء الحوادث عليها، وربما يقدمون القياس الجلي على آحاد الأخبار، وقد قال أبو حنيفة: علمنا هذا رأي أحسن ما قدرنا عليه، فمن قدر على غير ذلك، فله ما رأى، ولنا ما رأينا"(1).

ولم تعن هذه المدرسة بالنصوص عناية المدرسة الأولى، وتوسعوا في الرأي، كما توسعوا في النظر في المسائل الفرضية التي لم تقع بعد.

 

‌‌المبحث الثالث: أخطاء أهل الرأي

وقد أحصى ابن القيم أخطاء أهل الرأي فكانت خمسة(2):

 

‌‌الأول: ظنهم قصور النصوص عن بيان جميع الحوادث.

وقد عقد ابن القيم فصلا كبيرا، بين فيه شمول النصوص للأحكام، وأنها مغنية عن الرأي والقياس(3)، وقد ساق فيه مسائل كثيرة اختلف فيها السلف الصالح، وقالوا فيها برأيهم، وأعملوا فيها القياس، مع أن النصوص قد بينتها، والقياس الصحيح شاهد أو تابع، وليس مستقلا في إثبات حكم من الأحكام لم تدل عليه النصوص.

ومن أمثلة ذلك اختلافهم في النباش الذي يسرق أكفان الموتى، هل تقطع يده؟ والصحيح أنه سارق داخل في قوله تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ، فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا}(4)، ومن ذلك الاكتفاء بقوله صلى الله عليه وسلم: (كل مسكر خمر) عن

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق.

(2) إعلام الموقعين: 1/ 390.

(3) إعلام الموقعين: 1/ 392.

(4) سورة المائدة: 38.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁদের আহলে রায় (أهل الرأي) নামকরণের কারণ

শাহরাস্তানি বলেন: "তাঁদেরকে আসহাবুর রায় (أصحاب الرأي) বলা হয়েছে; কারণ তাঁদের অধিকাংশ মনোযোগ ব্যয় হয়েছে কিয়াসের (القياس) রূপরেখা অর্জন, বিধানসমূহ থেকে তাৎপর্য উদ্ভাবন এবং তার ওপর ভিত্তি করে উদ্ভূত ঘটনাবলির সমাধান প্রদানের ক্ষেত্রে। কখনও কখনও তাঁরা একক বর্ণনার (آحاد الأخبار) বিপরীতে সুস্পষ্ট কিয়াসকে (القياس الجلي) প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: আমাদের এই ইলম হলো একটি অভিমত (رأي), এটি আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোত্তম। সুতরাং যে ব্যক্তি এর চেয়ে উত্তম কিছু উপস্থাপন করতে পারবে, তবে তার নিকট তার অভিমত থাকবে এবং আমাদের নিকট আমাদেরটি থাকবে"(১)।

এই বিদ্যাপীঠটি প্রথম বিদ্যাপীঠের মতো নসের (النصوص) প্রতি তদ্রূপ নিবিড় যত্নবান ছিল না। তাঁরা যেমন রায়ের (الرأي) ক্ষেত্রে প্রশস্ততা অবলম্বন করেছেন, তেমনি এখনও ঘটেনি এমন সব কাল্পনিক মাসআলার (المسائل الفرضية) গবেষণার ক্ষেত্রেও ব্যাপকতা এনেছেন।

 

‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে রায়ের (أهل الرأي) ভুলসমূহ

ইবনুল কাইয়্যিম আহলে রায়ের (أهل الرأي) ভুলসমূহ গণনা করেছেন, যা সংখ্যায় ছিল পাঁচটি(২):

 

‌প্রথমত: সমস্ত ঘটনার বর্ণনায় নসের (النصوص) অপর্যাপ্ততা রয়েছে বলে তাঁদের ধারণা করা।

ইবনুল কাইয়্যিম একটি দীর্ঘ অধ্যায় রচনা করেছেন, যেখানে তিনি বিধানের ক্ষেত্রে নসের (النصوص) ব্যাপকতা স্পষ্ট করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে এটি রায় (الرأي) ও কিয়াস (القياس) থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়(৩)। সেখানে তিনি এমন অনেক মাসআলা উল্লেখ করেছেন যাতে সালাফে সালেহীন দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং নিজেদের রায়ের (الرأي) ভিত্তিতে কিয়াস (القياس) প্রয়োগ করেছেন, অথচ নস (النصوص) সেগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছিল। মূলত সঠিক কিয়াস (القياس الصحيح) হচ্ছে নসেরই সাক্ষী বা অনুসারী, এটি এমন কোনো বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র উৎস নয় যা নস (النصوص) দ্বারা নির্দেশিত হয়নি।

এর একটি উদাহরণ হলো—কবর খননকারী (النباش), যে মৃত ব্যক্তির কাফন চুরি করে, তার হাত কাটা হবে কি না সে বিষয়ে তাঁদের মতপার্থক্য। সঠিক মত হলো সে একজন চোর (سارق), যা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {চোর পুরুষ ও চোর নারী, উভয়ের হাত কেটে দাও}(৪)। অনুরূপভাবে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটিই যথেষ্ট: (প্রত্যেক মাদকই (مسكر) মদ (خمر)) যা...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস।

(২) ইলামুল মুয়াক্কিঈন: ১/ ৩৯০।

(৩) ইলামুল মুয়াক্কিঈন: ১/ ৩৯২।

(৪) সূরা আল-মায়িদাহ: ৩৮।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
إثبات التحريم بالقياس في الاسم أو الحكم.

ومن ذلك الاكتفاء بقوله تعالى: {قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ}(1) في تناوله لكل يمين منعقدة يحلف بها المسلمون من غير تخصيص إلا بنص أو إجماع، وقد بين ذلك سبحانه في قوله تعالى: {لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الْأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ}(2)، فهذا صريح في أن كل يمين منعقدة فهذه كفارتها، وقد أدخلت الصحابة في هذا النص الحلف بالتزام الواجبات، والحلف بأحب القربات المالية إلى الله وهو العتق، كما ثبت ذلك عن ستة منهم، ولا مخالف لهم بين بقيتهم(3).

 

‌‌الثاني: معارضة كثير من النصوص بالرأي والقياس.

وقد أورد ابن القيم فيضاً من النصوص ترك فيها القياسيون الأحاديث وأخذوا بالرأي والقياس، فمن ذلك تركهم حديث العرايا، وحديث تغريب الزاني غير المحصن، وحديث عدم إبطال كلام الناسي، والجاهل بالصلاة، وحديث دفع اللقطة إلى من جاء فوصف وعاءها ووكاءها وعفاصها، وحديث المصراة، وغير ذلك من الأحاديث التي تركوها بالرأي والقياس(4).

 

‌‌الثالث: اعتقادهم في كثير من الأحكام الشرعية أنها على خلاف الميزان والقياس، والميزان: هو العدل، فظنوا أن العدل خلاف ما جاءت به من هذه الأحكام.

وقد بين بطلان ما ذهبوا إليه في مبحث طويل، نقل فيه عن شيخه شيخ الإسلام ابن تيمية فصلا كبيرا، ضرب فيه كثيرا من الأمثلة التي قال أهل

--------------------------------------------

(1) سورة التحريم: 2.

(2) سورة المائدة: 89.

(3) انظر هذه الأمثلة في إعلام الموقعين: 1/ 429.

(4) إعلام الموقعين: 1/ 274.
নাম অথবা বিধানের ক্ষেত্রে কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে নিষিদ্ধতা প্রমাণ করা।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর নির্ভর করা: {আল্লাহ তোমাদের কসমসমূহ হতে নিষ্কৃতি লাভের ব্যবস্থা করেছেন}(১) যা মুসলমানদের করা প্রতিটি দৃঢ় শপথের (يمين منعقدة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এর জন্য কোনো সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) নেই, কেবল যদি কোনো নস (نص) বা ইজমা (إجماع) দ্বারা তা নির্ধারিত না হয়। মহান আল্লাহ এই বিষয়টি তাঁর বাণীতে স্পষ্ট করেছেন: {তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদের ধরবেন না, কিন্তু যে শপথ তোমরা দৃঢ়ভাবে (عقدتم الأيمان) করো, তার জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন। এর কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো}(২)। এটি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট যে, প্রতিটি দৃঢ় শপথের কাফফারা হলো এটিই। সাহাবীগণ এই নসের (نص) অন্তর্ভুক্ত করেছেন ওয়াজিব পালনের অঙ্গীকার এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আর্থিক ইবাদত অর্থাৎ দাসমুক্তির শপথকে, যেমনটি তাঁদের ছয়জন থেকে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাঁদের অবশিষ্টদের মধ্যে এর কোনো বিরোধ নেই(৩)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: রায় (رأي) এবং কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে বহু নসের (نص) বিরোধিতা করা।

ইবনুল কাইয়্যিম এমন প্রচুর নস (نص) উল্লেখ করেছেন যেখানে কিয়াসপন্থীগণ হাদিস বর্জন করেছেন এবং রায় (رأي) ও কিয়াসকে (قياس) গ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আরাইয়া সংক্রান্ত হাদিস বর্জন করা, অবিবাহিত ব্যভিচারীকে দেশান্তরের হাদিস বর্জন করা, নামাজের মধ্যে বিস্মৃত ব্যক্তি ও অজ্ঞ ব্যক্তির কথাবার্তা নামাজ বাতিল না হওয়ার হাদিস বর্জন করা, কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু এমন ব্যক্তিকে প্রদান করা যে তার পাত্র ও বন্ধনীর বর্ণনা দেয়—সংক্রান্ত হাদিস বর্জন করা, মুসাররাহ সংক্রান্ত হাদিস বর্জন করা এবং এ জাতীয় আরও অনেক হাদিস যা তাঁরা রায় (رأي) ও কিয়াসের (قياس) ভিত্তিতে বর্জন করেছেন(৪)।

 

‌‌তৃতীয়ত: অনেক শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে তাঁদের এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, তা মীজান (ميزان) ও কিয়াসের (قياس) পরিপন্থী। আর মীজান হলো ইনসাফ; ফলে তাঁরা ধারণা করেছিলেন যে, ইনসাফ সেই বিধানগুলোর বিপরীত যা শরয়ি বিধানে এসেছে।

তিনি দীর্ঘ এক গবেষণামূলক আলোচনায় তাঁদের এই মতামতের অসারতা প্রমাণ করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর শিক্ষক শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে এক বড় পরিচ্ছেদ উদ্ধৃত করেছেন। সেখানে তিনি অনেক উদাহরণ পেশ করেছেন যা উলামায়ে কেরাম বলেছেন

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাহরীম: ২।

(২) সূরা আল-মায়িদাহ: ৮৯।

(৩) দেখুন: ইলামুল মুওয়াক্কিঈন: ১/৪২৯।

(৪) ইলামুল মুওয়াক্কিঈন: ১/২৭৪।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
القياس: إنها مخالفة للقياس، وقد ناقشهم فيها، وبين أنها موافقة للقياس.

ومما ظنوه مخالفاً للقياس: المضاربة، والمساقاة، والمزارعة، لأنها عندهم من جنس الإجارة، لأنها عمل بِعِوض، والإجارة يشترط فيها العلم بالعوض والمعوَّض، فلما رأوا العمل والربح في هذه العقود غير معلومين، قالوا: هي على خلاف القياس، وبيَّن أنهم غلطوا في هذا؛ فإن هذه العقود من جنس المشاركات لا من جنس المعاوضات المحضة، التي يشترط فيها العلم بالعِوَض والمعوَّض، والمشاركات جنس غير جنس المعاوضات، وإن كان فيها شوب المعاوضة(1).

ومما رأوا مخالفته للقياس وناقشهم فيه: الحوالة، والقرض، وإزالة النجاسة، وطهارة الخمر بالاستحالة، والوضوء من لحم الإبل، والتيمم، والسلم، ومكاتبة العبد، والإجارة، وغير ذلك مما أطال فيه القول.

 

‌‌الرابع: اعتبارهم عللا وأوصافا لم يعلم اعتبار الشارع لها، وإلغاؤهم عللا وأوصافا اعتبرها الشارع.

وهذا يظهر من دعواهم أن جملة من الأحكام الشرعية شرعت على خلاف القياس، فهم إنما قالوا هذا لاعتبارهم عللا مخالفة للعلل التي جاءت النصوص بها.

 

‌‌الخامس: تناقضهم في القياس.

وقد مثَّل لتناقضهم بأمثلة كثيرة، فمن ذلك أنهم أجازوا الوضوء بنبيذ التمر، وقاسوا عليه في أحد القولين سائر الأنبذة، وفي القول الآخر لم يقيسوا، ولم يقيسوا عليه الخل، ولا فرق بينهما(2).

وقاسوا الماء الذي وردت عليه النجاسة، فلم تغير له لونا، ولا طعما، ولا

--------------------------------------------

(1) إعلام الموقعين: 1/ 432.

(2) إعلام الموقعين: 1/ 300.
কিয়াস (القياس): এগুলো কিয়াস (القياس) বিরোধী; তিনি তাদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে এগুলো কিয়াস (القياس) সম্মত।

যে বিষয়গুলোকে তারা কিয়াস (القياس) পরিপন্থী মনে করেছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: মুদারাবা, মুসাকাত এবং মুজারাআহ; কারণ তাদের নিকট এগুলো ইজারা (ভাড়া) জাতীয় লেনদেনের অন্তর্ভুক্ত। কেননা এগুলো হলো বিনিময়ের বিনিময়ে শ্রম। আর ইজারার ক্ষেত্রে বিনিময় ও যার বিনিময়ে কাজ করা হচ্ছে—উভয়টি সম্পর্কে অবগত থাকা শর্ত। যখন তারা দেখলেন যে এই চুক্তিগুলোতে শ্রম ও লাভ অজ্ঞাত, তখন তারা বললেন: এগুলো কিয়াস (القياس) পরিপন্থী। তিনি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন যে তারা এখানে ভুল করেছেন; কারণ এই চুক্তিগুলো অংশীদারিত্ব (মুশারাকাত) জাতীয়, এগুলো নিছক বিনিময়মূলক (মুআওয়াদাত) লেনদেন নয় যেখানে বিনিময় ও বিনিময়ের বিষয় সম্পর্কে অবগত থাকা শর্ত। আর অংশীদারিত্বের বিষয়টি নিছক বিনিময়মূলক লেনদেনের চেয়ে ভিন্ন প্রকারের, যদিও এতে বিনিময়ের কিঞ্চিৎ সাদৃশ্য রয়েছে(1)。

যে বিষয়গুলোকে তারা কিয়াস (القياس) বিরোধী মনে করেছেন এবং তিনি তাদের সাথে আলোচনা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে: হাওয়ালাহ (ঋণ স্থানান্তর), কর্জ (ঋণ), নাপাকি দূর করা, রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে মদের পবিত্রতা অর্জন করা, উটের গোশত খাওয়ার পর ওজু করা, তায়াম্মুম, সালাম (অগ্রিম ক্রয়), গোলামের সাথে মুকাতাবাত (মুক্তিপণ নির্ধারণ) চুক্তি, ইজারা এবং এই জাতীয় আরও অনেক বিষয় যা নিয়ে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

 

‌‌চতুর্থত: এমন কিছু কারণ (علل) ও বৈশিষ্ট্যকে ধর্তব্য মনে করা যা শরিয়ত প্রবর্তক কর্তৃক স্বীকৃত হিসেবে জানা যায় না এবং শরিয়ত প্রবর্তক কর্তৃক স্বীকৃত কারণ (علل) ও বৈশিষ্ট্যগুলোকে বর্জন করা।

এটি তাদের এই দাবি থেকে স্পষ্ট হয় যে, বেশ কিছু শরিয়তসম্মত বিধান কিয়াস (القياس) পরিপন্থী উপায়ে বিধিবদ্ধ হয়েছে। তারা মূলত এই কথাটি বলেছেন এমন কিছু কারণকে (علل) ভিত্তি হিসেবে ধরার জন্য যা নস (نصوص) বা দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত কারণগুলোর বিপরীত।

 

‌‌পঞ্চমত: কিয়াস (القياس) প্রয়োগে তাদের পরস্পরবিরোধিতা।

তিনি তাদের এই পরস্পরবিরোধিতার অনেক উদাহরণ দিয়েছেন। যেমন তারা খেজুরের নাবীযের (পানীয়) মাধ্যমে ওজু করা বৈধ করেছেন এবং দুটি মতের মধ্যে একটিতে অন্য সকল নাবীযকে এর ওপর কিয়াস (القياس) করেছেন। আবার অন্য মতে তারা কিয়াস (القياس) করেননি। অথচ তারা সিরকাকে এর ওপর কিয়াস (القياس) করেননি, যদিও এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই(2)。

তারা সেই পানির ওপর কিয়াস (القياس) করেছেন যাতে নাপাকি পতিত হয়েছে কিন্তু তার রঙ, স্বাদ বা... পরিবর্তন হয়নি।

--------------------------------------------

(1) ইলামুল মুওয়াক্কিইন: ১/৪৩২।

(2) ইলামুল মুওয়াক্কিইন: ১/৩০০।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ريحا، على الماء الذي غيرت النجاسة لونه وطعمه وريحه، وهذا من أبعد القياس عن الشرع الحسن. وتركوا قياسا أصح منه، وهو قياس الماء الذي وردت عليه النجاسة فلم تغير لونه وطعمه وريحه على الماء الذي ورد على النجاسة، فقياس الوارد على المورود مع استوائهما في الحد والحقيقة والأوصاف أصح من قياس مائة رطل ماء، وقع فيه شعرة كلب على مائة رطل خالطها مثلها بولا وعذرة حتى غيَّرها(1).

وقاسوا باطن الأنف على ظاهره في غسل الجنابة، فأوجبوا الاستنشاق، ولم يقيسوه عليه في الوضوء الذي أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه بالاستنشاق، ففرقوا بينهما، وأسقطوا الوجوب في محلِّ الأمر به، وأوجبوه في غيره، والأمر بغسل الوجه في الوضوء كالأمر بغسل اليدين في الجنابة سواء(2)، وقد أكثر من ذكر الأمثلة للتدليل على تناقض القياسيين(3).

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق: 1/ 302.

(2) إعلام الموقعين: 1/ 33.

(3) ومن هذه الأقيسة ما قال به الحنفية، ومنها ما قال به المالكية، ومنها ما قال به الشافعية.
গন্ধের ওপর ভিত্তি করে, এমন পানির ক্ষেত্রে যার রঙ, স্বাদ ও গন্ধ নাপাকি পরিবর্তনের মাধ্যমে বদলে দিয়েছে। এটি সুনিপুণ শরিয়ত থেকে কিয়াসের (القياس) সবচেয়ে দূরবর্তী একটি উদাহরণ। তারা এর চেয়ে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) একটি কিয়াস (القيাস) বর্জন করেছে; আর তা হলো সেই পানির কিয়াস (القياس) যার ওপর নাপাকি আপতিত হয়েছে কিন্তু তার রঙ, স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তন করেনি—সেই পানির ওপর যা নাপাকির ওপর আপতিত হয়েছে। সুতরাং 'আপতিত' বস্তুকে 'আধার'-এর ওপর কিয়াস (القيাস) করা—অথচ সংজ্ঞা, প্রকৃত সত্তা ও বৈশিষ্ট্যের বিচারে উভয়ই সমান—এটি একশ রতল পানির ওপর কিয়াস (القياس) করার চেয়ে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح), যাতে কুকুরের একটি পশম পড়েছে, এমন একশ রতল পানির ওপর যার সাথে সমপরিমাণ প্রস্রাব ও বিষ্ঠা মিশ্রিত হয়ে তাকে পরিবর্তিত করে দিয়েছে(১)।

তারা জানাবাতের (جنابة) গোসলের ক্ষেত্রে নাকের অভ্যন্তরীণ অংশকে বাহ্যিক অংশের ওপর কিয়াস (القيাস) করেছে এবং নাক ঝাড়া (استنشاق) আবশ্যক (واجب) সাব্যস্ত করেছে; অথচ ওজুর ক্ষেত্রে তারা এমন কিয়াস (القيাস) করেনি যাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নাক ঝাড়ার (استنشاق) নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে তারা এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করেছে; যেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেখানে ওয়াজিব (واجب) হওয়াকে রহিত করেছে এবং অন্য ক্ষেত্রে তা আবশ্যক (واجب) করেছে। অথচ ওজুতে মুখমণ্ডল ধৌত করার নির্দেশ এবং জানাবাতের (جنابة) গোসলে উভয় হাত ধৌত করার নির্দেশ একই পর্যায়ের(২)। কিয়াসপন্থীদের বৈপরীত্য প্রমাণের জন্য তিনি এজাতীয় প্রচুর উদাহরণ পেশ করেছেন(৩)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস: ১/ ৩০২।

(২) ইলামুল মুওয়াক্কিঈন: ১/ ৩৩।

(৩) আর এসব কিয়াসের (القياس) মধ্যে কোনোটি হানাফিদের বক্তব্য, কোনোটি মালিকিদের এবং কোনোটি শাফেয়িদের।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الفصل الثالث مدرسة أهل الظاهر

‌‌المبحث الأول: المراد بأهل الظاهر

هذه المدرسة تقابل مدرسة أهل الرأي، فأهل الرأي توسعوا في الأخذ بالرأي، وأهل الظاهر غلوا في رفضه وردِّه، وتنسب هذه المدرسة إلى داود ابن علي بن خلف(1) الأصبهاني الأصل، الكوفي المولد، البغدادي الدار، الشهير بداود الظاهري، المولود في سنة 200 هـ، أو بعدها بقليل، المتوفى في سنة 270 هـ.

وقد تفقه داود على أبي ثور تلميذ الإمام الشافعي، وإسحاق بن راهويه، وهو إمام من أئمة أهل الحديث، وأخذ عن الفقهاء الأعلام في وقته، وكان داود معظما للإمام الشافعي، آخذا بأصوله، ثمَّ اختطَّ لنفسه طريقا، خالف فيه غيره من فقهاء الإسلام، وطريقته تتمثل في الاعتماد على ظاهر النصوص والإجماع، ونفي الأصول الأخرى التي اعتمد عليها غيره من العلماء، كالقياس، والمصالح المرسلة، والاستحسان، والسبب الذي جعله ينفي القياس هو دعواه أن الأحكام غير معللة، وأن الله شرع ما شرع من أحكام بمحض المشيئة المجردة عن الحكمة والتعليل.

لقد رأى أهل الظاهر ما جناه الرأي على النصوص الشرعية بحيث لذم الرأي على النص في كثير من الأحكام، بسبب إهمال النصوص حفظا وفقها

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في تاريخ بغداد: 8/ 369 - 375 مطبعة السعادة سنة 1931، وتهذيب الأسماء واللغات للنووي: 1/ 182، دار الطباعة المنيرية - مصر، وطبقات الشافعية الكبرى، لتاج الدين السبكي: 2/ 42 - 48، المطبعة الحسينية - المصرية، وتذكرة الحافظ، للذهبي: 2/ 572 - 573 - دار إحياء التراث العربي - بيروت - الطبعة الرابعة.
তৃতীয় অধ্যায়: আহলে জহির (أهل الظاهر) মতবাদ

প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলে জহির (أهل الظاهر) দ্বারা যা উদ্দেশ্য

এই মতবাদটি আহলে রায় (أهل الرأي) মতবাদের বিপরীত। আহলে রায়গণ রায়ের (ব্যক্তিগত মতামত বা যুক্তি) প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা অবলম্বন করেছেন, আর আহলে জহিরগণ তা প্রত্যাখ্যান ও বর্জনের ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন করেছেন। এই মতবাদটি দাউদ ইবনে আলী বিন খালাফ(১)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, যার আদি নিবাস আসবাহান, জন্ম কুফায় এবং বসবাস ছিল বাগদাদে। তিনি দাউদ জাহেরি নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি ২০০ হিজরি সনে অথবা তার কিছুকাল পরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

দাউদ ইমাম শাফেয়ির ছাত্র আবু সাওর এবং ইসহাক বিন রাহওয়াইহ-এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, যিনি আহলে হাদিস (أهل الحديث)-এর ইমামদের মধ্যে অন্যতম একজন ইমাম ছিলেন। তিনি তাঁর সমসাময়িক প্রখ্যাত ফকিহদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। দাউদ ইমাম শাফেয়িকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁর উসূল (মূলনীতি) অনুসরণ করতেন। পরবর্তীকালে তিনি নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র পথ তৈরি করেন, যেখানে তিনি ইসলামের অন্যান্য ফকিহদের বিরোধিতা করেন। তাঁর কর্মপদ্ধতি ছিল নস বা ভাষ্যের বাহ্যিক রূপ (ظاهر النصوص) এবং ইজমার (الإجماع) ওপর নির্ভরশীলতা এবং অন্যান্য উসূল বা মূলনীতিসমূহ অস্বীকার করা যেগুলোর ওপর অন্যান্য উলামায়ে কেরাম নির্ভর করতেন; যেমন: কিয়াস (القياس), মাসালিহে মুরসালাহ (المصالح المرسلة) এবং ইসতিহসান (الاستحسان)। কিয়াস অস্বীকার করার পেছনে তাঁর কারণ ছিল এই দাবি যে, বিধানসমূহ কারণনির্ভর (معللة) নয় এবং আল্লাহ তাআলা কোনো হিকমত বা কারণ দর্শানো (التعليل) ছাড়াই কেবল তাঁর নিরঙ্কুশ ইচ্ছায় বিধানসমূহ প্রবর্তন করেছেন।

আহলে জহিরগণ লক্ষ্য করেছিলেন যে, শারয়ী নসসমূহের ওপর রায় বা ব্যক্তিগত মতামতের প্রয়োগ কী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে; যেখানে অনেক বিধানের ক্ষেত্রে নসের বিপরীতে রায়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যার মূল কারণ ছিল সংরক্ষণ ও অনুধাবনের (ফিকহ) ক্ষেত্রে নসসমূহকে উপেক্ষা করা।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: তারিখ বাগদাদ: ৮/ ৩৬৯-৩৭৫, মাতবাআতুস সাআদাহ, ১৯৩১ সাল; নববীর তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত: ১/ ১৮২, দারুত তিবায়াতুল মুনিরিয়া - মিশর; তাজউদ্দীন সুবকির তাবাকাতুশ শাফিইয়াতিল কুবরা: ২/ ৪২-৪৮, আল-মাতবাআতুল হুসাইনিয়া - মিশর; এবং জাহাবীর তজকিরাতুল হাফিজ: ২/ ৫৭২-৫৭৩, দারু ইহয়া ইত-তুরাসিল আরাবি - বৈরুত - চতুর্থ সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ودراسة، فكان موقف داود ردَّة فعل للذين تطرفوا بالأخذ بالرأي، فجاء موقفه تطرفا في الجانب الآخر، فمنع الأخذ بالقياس(1)، وقال بعدم تعليل النصوص، وقصر منهجه على الأخذ بظاهر النصوص.

وقد أدى منهجه هذا إلى الاعتناء بالنصوص حفظا ومدارسة وفقها وتعليما إلا أنهم وقفوا عند ظاهرها، ولم يغوصوا في أعماقها.

 

‌‌المبحث الثاني: أخطاء أهل الظاهر

لقد أدى هذا المنهج بأهل الظاهر إلى نتائج خطيرة، فقد جوزوا ورود الشريعة بالفرق بين المتساويين، والجمع بين المختلفين؛ لأنهم -كما عرفت- يقرون أن الشارع ينهى عن الشيء لا لمفسدة، ويأمر به لا لمصلحة(2)(3) وقد خطأهم ابن القيم من أربعة أوجه(4):

 

‌‌أحدها: رد القياس الصحيح (5)، ولا سيما المنصوص على علته، الذي يجري النص عليها مجرى التنصيص على التعميم، فلا يشك عاقل أن قوله صلى الله عليه وسلم: (إن الله ورسوله ينهيانكم عن لحوم الحمر، فإنها رجس) بمنزلة قوله: ينهيانكم عن كل رجس.

--------------------------------------------

(1) سبق إبراهيم بن سيار النظام المعتزلي داود الظاهري إلى هذا القول، وتابعه معتزلة أئمة في الاعتزال على قوله، منهم جعفر بن حرب، وجعفر بن مبشر، ومحمد بن عبد الله الإسكافي، انظر جامع بيان العلم، لابن عبد البر: 2/ 78.

(2) من ظاهرية أصحاب الظاهر أنهم لا يجوزون لمن بال في الماء الدائم الذي لا يجري أن يتوضأ منه عملا بالحديث الذي ينهى عن ذلك، ولكنهم يجوزون لغير البائل أن يتوضأ منه ويغتسل، كما فرقوا بين البول في الماء مباشرة، والبول في إناء ثم صبه في الماء، أو بوله بجانب الماء بحيث يجري البول إلى الماء، فلم يحرموا التوضأ إلا على الماء الذي يتبول فيه مباشرة. انظر المجموع، للنووي.

(3) إعلام الموقعين: 2/ 34، 149.

(4) اعلام الموقعين: 1/ 377.

(5) انظر الأحكام في أصول الأحكام، لابن حزم: 2/ 977
এবং গবেষণা। দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থান ছিল তাদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া যারা রায় (ব্যক্তিগত মতামত) গ্রহণের ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন করেছিলেন। ফলে তার অবস্থানটি অন্য দিকে চরমপন্থায় রূপ নেয়। তিনি কিয়াস (قياس) গ্রহণ নিষিদ্ধ করেন এবং নস (نص)-এর কারণ অনুসন্ধানের (তালিলে) বিরোধিতা করেন। তিনি তার পদ্ধতিকে নস (نص)-এর বাহ্যিক অর্থের (জাহের) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন।

তার এই পদ্ধতিটি নস (نص)সমূহ সংরক্ষণ, অধ্যয়ন, বুঝ এবং শিক্ষার প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, তবে তারা এর বাহ্যিক অর্থের ওপরই থেমে গিয়েছিলেন এবং এর গভীরতায় প্রবেশ করেননি।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে জাহেরদের ভুলসমূহ

এই পদ্ধতিটি আহলে জাহেরদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিণতির দিকে নিয়ে গিয়েছিল। তারা শরিয়তের বিধানে দুটি সমান বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা এবং দুটি ভিন্ন বিষয়কে একত্রিত করা বৈধ মনে করতেন। কারণ আপনি ইতিপূর্বে জেনেছেন যে, তারা স্বীকার করতেন যে শারে’ (বিধানদাতা) কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করেন তা কোনো ক্ষতির কারণে নয়, আবার কোনো বিষয়ের নির্দেশ দেন তা কোনো কল্যাণের কারণে নয়। ইবনুল কাইয়্যিম চারটি দিক থেকে তাদের ভুল সাব্যস্ত করেছেন:

 

‌‌প্রথমটি: সঠিক কিয়াস (قياس صحيح) প্রত্যাখ্যান করা, বিশেষ করে যে বিষয়ের কারণ (ইল্লাত) নস (نص)-এর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। যেখানে কারণ বর্ণনা করা কোনো বিষয়কে সাধারণীকরণের পর্যায়ভুক্ত। কোনো বিবেকবান ব্যক্তি এ ব্যাপারে সন্দেহ করবেন না যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল তোমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করছেন, কারণ তা অপবিত্র) — এটি তাঁর এই বাণীর স্থলাভিষিক্ত যে: তিনি তোমাদের সকল অপবিত্র বস্তু থেকে নিষেধ করছেন।

--------------------------------------------

(1) মুতাজিলা ইব্রাহিম ইবনে সাইয়্যার আন-নাজ্জাম দাউদ জাহেরির পূর্বেই এই মত পোষণ করেছিলেন এবং মুতাজিলা মতবাদের বড় বড় ইমামগণ এ ব্যাপারে তাকে অনুসরণ করেন। তাদের মধ্যে জাফর বিন হারব, জাফর বিন মুবাশশির এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইস্কাফি অন্যতম। দেখুন: ইবনে আব্দুল বার রচিত জামিউ বায়ানিল ইলম: ২/ ৭৮।

(2) আহলে জাহেরদের বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি উদাহরণ হলো, তারা এমন আবদ্ধ পানিতে ওজু করা বৈধ মনে করেন না যাতে কেউ প্রস্রাব করেছে—এমন হাদিসের ওপর আমল করার কারণে যা এটি থেকে নিষেধ করে। কিন্তু তারা প্রস্রাবকারী ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের জন্য সেই পানি থেকে ওজু এবং গোসল করা বৈধ মনে করেন। তেমনিভাবে তারা সরাসরি পানিতে প্রস্রাব করা এবং পাত্রে প্রস্রাব করে তা পানিতে ঢেলে দেওয়া অথবা পানির পাশে প্রস্রাব করা যাতে তা গড়িয়ে পানিতে পড়ে—এসবের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। ফলে তারা সরাসরি প্রস্রাব করা পানি ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে প্রস্রাব মিশ্রিত পানিতে ওজু করা নিষিদ্ধ করেননি। দেখুন: আন-নববী রচিত আল-মাজমু।

(3) ই’লামুল মুওয়াক্কি’ঈন: ২/ ৩৪, ১৪৯।

(4) ই’লামুল মুওয়াক্কি’ঈন: ১/ ৩৭৭।

(5) দেখুন: ইবনে হাজম রচিত আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম: ২/ ৯৭৭
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقوله في الهر: (ليست بنجس؛ إنَّها من الطوافين عليكم والطوافات) بمنزلة قوله: كل ما هو من الطوافين عليكم والطوافات، فإنه ليس بنجس، ولا يستريب عاقل في أن من قال لغيره: لا تأكل هذا الطعام؛ فإنه مسموم، نهي عن كل طعام كذلك، وإذا قال: لا تشرب هذا الشراب؛ فإنه مسكر، نهي له عن كل مسكر، ولا تتزوج هذه المرأة؛ فإنها فاجرة، نهي له عن كل امرأة فاجرة.

 

‌‌الثاني: تقصيرهم في فهم النصوص، فكثير من الأحكام دلت عليها النصوص، ولم يفهموا دلالتها عليها، وسبب هذا أنهم حصروا الدلالة في مجرد ظاهر اللفظ دون إيمائه وإشارته وتنبيهه وعرفه عند المخاطبين، فلم يفهموا من قوله تعالى: {فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا. . .}(1) ضربا ولا سباً ولا إهانة، يقول ابن حزم في الآية: "ما فهم أحد قط في لغة العرب ولا العقل أن قول: "أف" يعبر به عن القتل والضرب، ولو لم يأت إلا هذه الآية ما حَرُم إلا قول "أف" فقط"(2).

وهذه ظاهرية عجيبة، وقد علق الحافظ الذهبي على كلام ابن حزم هذا قائلا: " يا هذا، بهذا الجمود وأمثاله جعلت على عرضك سبيلا، ونصبت نفسك أعجوبة وضحكة، بل يقال لك: ما فهم أحد من عربي ولا نبطي، ولا عاقل ولا واع أن النهي عن قول: "أف" للوالدين، إلا وما فوقها أولى بالنهي منها، وهل يفهم ذو حس سليم إلا هذا؟! وهل هذا إلا من باب التنبيه بالأدنى على الأعلى، وبالأصغر على الأكبر، بل مثل هذا مما أمن فيه حفظ اللسان العربي، بل العجمي، والتركي وجميع خطاب بني آدم، وهل إذا قال "لا تنهر والديك" إلا والنهي عن شتمهما، أو لعنهما، أو ضربهما حتى يستغيثا، أو خنقهما حتى يموتا بطريق الأولى؟! ".

--------------------------------------------

(1) سورة الإسراء: 23.

(2) ملخص إبطال القياس: 9
বিড়ালের ব্যাপারে তাঁর এই বাণী: (এটি অপবিত্র নয়; এটি তোমাদের আশেপাশে অধিক বিচরণকারী ও বিচরণকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত) এটি তাঁর এই বাণীর সমপর্যায়ভুক্ত যে: যা কিছু তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারী ও বিচরণকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত, তা অপবিত্র নয়। কোনো বিবেকবান ব্যক্তিই এতে সন্দেহ পোষণ করবেন না যে, কেউ যদি অন্য কাউকে বলে: ‘এই খাদ্যটি খেও না; কারণ এটি বিষাক্ত’, তবে এর মাধ্যমে অনুরূপ প্রতিটি খাদ্যকেই নিষেধ করা হয়েছে। আর যদি সে বলে: ‘এই পানীয়টি পান করো না; কারণ এটি মাদক’, তবে তাকে প্রতিটি মাদকদ্রব্য থেকেই নিষেধ করা হয়েছে। আর যদি বলা হয়: ‘এই নারীকে বিবাহ করো না; কারণ সে ব্যভিচারিণী’, তবে তাকে প্রতিটি ব্যভিচারিণী নারী থেকেই নিষেধ করা হয়েছে।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: নস (نص) অনুধাবনে তাদের সীমাবদ্ধতা; অনেক বিধানই নস (نص) দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু তারা সেগুলোর ওপর এর নির্দেশনা (دلالة) বুঝতে পারেনি। এর কারণ হলো, তারা নির্দেশনাকে (دلالة) কেবল শব্দের প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে; এর ইঙ্গিত (إيماء), সংকেত (إشارة), সতর্কীকরণ (تنبيه) এবং সম্বোধিত ব্যক্তিদের নিকট প্রচলিত প্রথার (عرف) প্রতি লক্ষ্য করেনি। তাই তারা মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে: {তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না...}(১) কোনো প্রহার, গালি বা অপমান বুঝতে পারেনি। ইবনে হাজম এই আয়াতের প্রসঙ্গে বলেন: "আরবি ভাষা বা যুক্তিতে কেউই কখনো বুঝতে পারেনি যে, ‘উফ’ শব্দটি দ্বারা হত্যা বা প্রহারকে বোঝানো হয়। যদি কেবল এই আয়াতটিই থাকত, তবে কেবল ‘উফ’ বলাই হারাম হতো"(২)。

এটি এক অদ্ভুত বাহ্যিকতাবাদ (ظاهرية)। হাফেজ আজ-জাহাবি ইবনে হাজমের এই উক্তির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "হে ব্যক্তি! আপনার এই স্থবিরতা ও অনুরূপ আচরণের মাধ্যমে আপনি আপনার মর্যাদাকে সমালোচনার মুখে ফেলেছেন এবং নিজেকে এক অদ্ভুত ও হাস্যাস্পদ বিষয়ে পরিণত করেছেন। বরং আপনাকে বলা হবে: কোনো আরব, নাবাতী, বিবেকবান বা সচেতন ব্যক্তিই এমনটি বোঝেননি যে, পিতামাতাকে ‘উফ’ বলতে নিষেধ করার অর্থ—তার চেয়ে গুরুতর বিষয়গুলো আরও বেশি নিষেধাজ্ঞার দাবি রাখে। সুস্থ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি কি এটি ছাড়া অন্য কিছু বুঝতে পারেন?! এটি কি সামান্য দ্বারা অসামান্য এবং ক্ষুদ্রতর দ্বারা বৃহত্তর বিষয়ে সতর্কীকরণের (تنبيه) অন্তর্ভুক্ত নয়? বরং এটি এমন বিষয় যা আরবি এমনকি অনারব, তুর্কি এবং বনি আদমের সকল ভাষার যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত। যখন বলা হয় ‘তোমার পিতামাতাকে ধমক দিও না’, তখন কি তাদের গালি দেওয়া, অভিশাপ দেওয়া, বা আর্তনাদ করা পর্যন্ত প্রহার করা, কিংবা মৃত্যু পর্যন্ত শ্বাসরোধ করা—অধিকতর যুক্তিযুক্তভাবে (بطريق الأولى) নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হয় না?!"

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইসরা: ২৩।

(২) মুলখাস ইবতাল আল-কিয়াস: ৯
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وضرب مثالا يوضح هذا "فإن الرجل إذا قال لزوجته: لا تكلمي الرجال أضربك، فذهبت وزنت مع الرجال ولم تكلمهم كلمة، كانت عاصية له قطعا، بل كانت أشد عصيانا بذلك، وأحق بالضرب وأولى من أن لو كلمت الرجال فقط".

 

‌‌الثالث: تحميل الاستصحاب فوق ما يستحقه وجزمهم بموجبه لعدم علمهم بالناقل، وليس عدم العلم علما بالعدم، والاستصحاب في اللغة: اعتبار المصاحبة، وفي اصطلاح الأصوليين: هو الحكم على الشيء بالحال التي كان عليها من قبل، حتى يقوم دليل على تغير تلك الحال، أو جعل الحكم الذي كان ثابتا في الماضي باقيا في الحال، حتى يقوم دليل على تغيره.

والاستصحاب ثلاثة أقسام: استصحاب البراءة الأصلية، واستصحاب الوصف المثبت للحكم الشرعي، حتى يثبت خلافه، واستصحاب حكم الإجماع في محل النزاع.

فاستصحاب البراءة الأصلية إثبات الإباحة للأشياء التي لم نجد نصا يدلُّ على تحريمها، فالله تعالى خلق كل ما في الأرض لنا، كما قال: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا}(1). فإذا وجدنا في بلد ما حيوانا أو طعاما أو شرابا، ولم نجد دليلا ينص على حكمه، فإننا نحكم بإباحته؛ لأن الأصل في الأشياء الإباحة، ولم نجد نصًّا ينقل حكم الإباحة إلى التحريم أو الكراهة، ومن هنا وضع الفقهاء عدة قواعد متشابهة، فقالوا: "الأصل في الأشياء الإباحة، وما ثبت باليقين لا يزول بالشك، والأصل في الإنسان البراءة".

واستصحاب الوصف الشرعي كاستصحاب حكم الطهارة، أو حكم الحدث، واستصحاب بقاء النكاح، حتى يثبت خلاف ذلك، فالذي جزم بأنه متوضئ، ثم شكَّ في الحدث، فإنَّه يستصحب حكم الطهارة، ولا يلتفت إلى الشك،

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة: 29.
তিনি এটি স্পষ্ট করার জন্য একটি উদাহরণ দিয়েছেন: "যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলে: পুরুষদের সাথে কথা বোলো না নতুবা আমি তোমাকে প্রহার করব। এরপর সে গিয়ে পুরুষদের সাথে ব্যভিচার করল কিন্তু তাদের সাথে একটি কথাও বলল না, তবে সে নিশ্চিতভাবেই তার অবাধ্য হয়েছে। বরং এর মাধ্যমে সে অবাধ্যতার চরম সীমায় পৌঁছেছে এবং কেবল পুরুষদের সাথে কথা বলার তুলনায় সে প্রহারের অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত।"

 

‌‌তৃতীয়ত: পূর্বাবস্থা বজায় রাখা (استصحاب)-কে তার প্রাপ্যতার অধিক গুরুত্বারোপ করা এবং স্থানান্তরকারী (ناقل) দলিল সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের কারণে এর অনিবার্য ফলাফলের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়া; অথচ কোনো বিষয়ে জ্ঞানের অভাব সেই বিষয়টি বিদ্যমান না থাকার প্রমাণ নয়। আর শাব্দিক অর্থে ইস্তিসহাব (استصحاب) হলো: সাহচর্য বিবেচনা করা। আর উসুলবিদদের (أصوليين) পরিভাষায় এটি হলো: কোনো বিষয়কে তার পূর্ববর্তী অবস্থার ওপর বহাল রাখার বিধান দেওয়া, যতক্ষণ না সেই অবস্থার পরিবর্তনের কোনো দলিল পাওয়া যায়; অথবা অতীতে সাব্যস্ত কোনো বিধানকে বর্তমানেও বলবৎ রাখা, যতক্ষণ না তার পরিবর্তনের কোনো দলিল পাওয়া যায়।

ইস্তিসহাব (استصحاب) তিন প্রকার: মৌলিক দায়মুক্তি বজায় রাখা (استصحاب البراءة الأصلية), শরয়ি বিধান সাব্যস্তকারী গুণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা (استصحاب الوصف المثبت للحكم الشرعي) যতক্ষণ না তার বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয় এবং মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ে ইজমার (إجماع) বিধান বজায় রাখা (استصحاب حكم الإجماع)।

মৌলিক দায়মুক্তি বজায় রাখা (استصحاب البراءة الأصلية) হলো সেই সকল বিষয়ের বৈধতা (إباحة) সাব্যস্ত করা যেগুলোর নিষিদ্ধকরণের (تحريم) ব্যাপারে আমরা কোনো নস (نص) পাইনি। কেননা আল্লাহ তাআলা জমিনের সবকিছু আমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি জমিনে যা কিছু আছে সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন}(১)। সুতরাং আমরা যদি কোনো জনপদে এমন কোনো প্রাণী, খাদ্য বা পানীয় খুঁজে পাই যার বিধান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট নস (نص) নেই, তবে আমরা সেটির বৈধতার (إباحة) ফয়সালা দেব; কারণ সকল বস্তুর ক্ষেত্রে মূল হলো বৈধতা (إباحة)। আর আমরা এমন কোনো নস (نص) পাইনি যা বৈধতার (إباحة) বিধানকে নিষিদ্ধকরণ (تحريم) বা অপছন্দনীয়তায় (كراهة) স্থানান্তরিত করে। এই প্রেক্ষাপট থেকেই ফকিহগণ (فقهاء) বেশ কিছু সমজাতীয় মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন; তাঁরা বলেছেন: "সকল বস্তুর মূল হলো বৈধতা (إباحة)", "যা নিশ্চিত জ্ঞান (يقين) দ্বারা প্রমাণিত তা সন্দেহ (شك) দ্বারা দূরীভূত হয় না" এবং "মানুষের ক্ষেত্রে মূল হলো দায়মুক্তি (براءة)"।

শরয়ি গুণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা (استصحاب الوصف الشرعي) যেমন পবিত্রতার (طهارة) বিধান বজায় রাখা, অথবা হাদাস বা অশুচিতার (حدث) বিধান বজায় রাখা এবং বিবাহের স্থায়িত্ব বজায় রাখা যতক্ষণ না তার বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মর্মে নিশ্চিত যে সে ওজু অবস্থায় আছে, অতঃপর সে হাদাস বা অশুচিতার (حدث) ব্যাপারে সন্দেহ করল, তবে সে পবিত্রতার (طهارة) বিধানটিকেই বজায় রাখবে এবং সন্দেহের প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপ করবে না।

--------------------------------------------

(1) সূরা আল-বাকারাহ: ২৯।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وقد نهى الرسول صلى الله عليه وسلم الصائد، إذا وجد صيده غريقا في الماء، عن أكله؛ لأن الأصل في الذبائح التحريم، وكون الصيد مات من السهم مشكوك فيه، لاحتمال أن يكون الماء قد قتله.

واستصحاب حكم الإجماع: هو أن يستصحب حال المجمع عليه حتى يثبت ما يزيله.

والذي قرره طائفة من الفقهاء والأصوليين وبعض الأحناف أن استصحاب البراءة الأصلية حجة للدفع لا للإثبات، ومرادهم أنَّه حجة على إبقاء ما كان على ما كان، ودفع ما يخالفه حتى يقوم دليل يثبت هذا الذي خالفه، وليس حجة لإثبات أمر غير ثابت، كالمفقود يُحكمُ باستصحاب الحال التي عُرِف عليها، وهي الحياة، حتى يقوم دليل على الوفاة، وهذا الاستصحاب حجة يدفع بها دعوى الوفاة، والإرث منه، وفسخ إجارته، وطلاق زوجته، ولكنه ليس حجة لإثبات إرثه من غيره؛ لأن حياته الثابتة بالاستصحاب حياة اعتبارية لا حقيقية.

ولم يتنازع الفقهاء في النوع الثاني وهو استصحاب الوصف المثبت للحكم وإنما تنازعوا في بعض أحكامه، واختلفوا في استصحاب حكم الإجماع والصحيح أنه حجَّة.

وخلاصة ما قرره ابن القيم أن "الاستصحاب لا يجوز الاستدلال به إلا إذا اعتقد انتفاء الناقل"(1).

 

‌‌الرابع: اعتقادهم أن عقود المسلمين وشروطهم ومعاملاتهم كلها على البطلان، حتى يقوم الدليل على الصحة، فإذا لم يقم عندهم دليل على صحة شرط أو عقد أو معاملة استصحبوا بطلانه، فأفسدوا بذلك كثيرا من معاملات الناس، وعقودهم وشروطهم بلا برهان من الله بناء على هذا الأصل، وجمهور الفقهاء على خلاف هذا، وأن الأصل في العقود والشروط الصحة إلا ما

--------------------------------------------

(1) راجع إعلام الموقعين: 1/ 378، وعلم أصول الفقه، لخلاف: 91.
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিকারিকে নিষেধ করেছেন, যখন সে তার শিকারকে পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় পায়, তখন তা খাওয়া থেকে; কারণ যবাইযোগ্য পশুর ক্ষেত্রে মূলনীতি (الأصل) হলো নিষিদ্ধ হওয়া (التحريم), আর শিকারটি তীরের আঘাতে মারা গেছে কি না তা সন্দেহযুক্ত, কেননা সম্ভাবনা রয়েছে যে পানিই তাকে মেরে ফেলেছে।

ইজমার বিধানের পূর্বাবস্থায় বহাল রাখা (استصحاب حكم الإجماع) হলো: ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়ের (المجمع عليه) অবস্থা বজায় রাখা যতক্ষণ না এমন কিছু সাব্যস্ত হয় যা একে অপসারিত করে।

একদল ফকিহ (الفقهاء), উসুলবিদ (الأصوليون) এবং কিছু হানাফি (الأحناف) যা নির্ধারণ করেছেন তা হলো মূলগত দায়মুক্তি বজায় রাখা (استصحاب البراءة الأصلية) প্রতিরোধের (الدفع) জন্য প্রমাণ (حجة), প্রমাণের বা সাব্যস্ত করার (الإثبات) জন্য নয়। তাদের উদ্দেশ্য হলো, যা যেমন ছিল তেমন বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি প্রমাণ (حجة) এবং এর বিপরীত কিছুকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে প্রমাণ, যতক্ষণ না এর বিপরীত কিছু সাব্যস্ত করার মতো দলীল (دليل) পাওয়া যায়। কিন্তু এটি কোনো অ-সাব্যস্ত বিষয়কে সাব্যস্ত করার জন্য প্রমাণ (حجة) নয়; যেমন নিখোঁজ ব্যক্তির (المفقود) ক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার (استصحاب الحال) মাধ্যমে ফয়সালা করা হয় যা সম্পর্কে জানা গেছে, আর তা হলো তার জীবিত থাকা, যতক্ষণ না মৃত্যুর (الوفاة) ওপর কোনো দলীল (دليل) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ইস্তিসহাব (استصحاب) এমন এক প্রমাণ (حجة) যার মাধ্যমে মৃত্যুর (الوفاة) দাবি, তার থেকে উত্তরাধিকার (الإرث) লাভ, তার ইজারা বাতিল (فسخ إجارته) এবং তার স্ত্রীর তালাক হওয়াকে প্রতিহত করা হয়। কিন্তু এটি অন্য কারো থেকে তার উত্তরাধিকার (الإرث) লাভের বিষয়টি সাব্যস্ত করার জন্য প্রমাণ (حجة) নয়; কারণ ইস্তিসহাবের (الاستصحاب) মাধ্যমে সাব্যস্ত তার জীবন হলো ধারণাগত জীবন, প্রকৃত জীবন নয়।

ফকিহগণ (الفقهاء) দ্বিতীয় প্রকার সম্পর্কে কোনো মতভেদ করেননি, যা হলো বিধান সাব্যস্তকারী গুণের পূর্বাবস্থায় বহাল রাখা (استصحاب الوصف المثبت للحكم), তবে তারা এর কিছু বিধিবিধান নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তারা ইজমার বিধানের পূর্বাবস্থায় বহাল রাখার (استصحاب حكم الإجماع) ব্যাপারে মতভেদ করেছেন এবং সঠিক (الصحيح) মত হলো এটি একটি প্রমাণ (حجة)।

ইবনুল কাইয়্যিম যা নির্ধারণ করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো, "ইস্তিসহাব (الاستصحاب) দ্বারা ততক্ষণ পর্যন্ত দলিল পেশ (الاستدلال) করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না পরিবর্তনকারীর (الناقل) অনুপস্থিতি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করা হয়।"(1).

 

‌‌চতুর্থত: তাদের এই বিশ্বাস যে মুসলমানদের সকল চুক্তি (عقود), শর্তাবলি (شروط) এবং লেনদেন (معاملات) বাতিল (البطلان) হওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যতক্ষণ না বৈধতার (الصحة) ওপর কোনো দলীল (دليل) প্রতিষ্ঠিত হয়, ফলে কোনো শর্ত, চুক্তি বা লেনদেনের বৈধতার (الصحة) ওপর তাদের নিকট কোনো দলীল (دليل) না থাকলে তারা সেটিকে বাতিল হওয়ার পূর্বাবস্থায় বহাল (استصحبوا بطلانه) রাখেন। ফলে তারা এই মূলনীতির (الأصل) ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই মানুষের বহু লেনদেন, চুক্তি ও শর্তাবলিকে বাতিল ঘোষণা করেছেন। অথচ জমহুর ফকিহগণ (جمهور الفقهاء) এর বিপরীত মত পোষণ করেন; আর তা হলো চুক্তি ও শর্তাবলির ক্ষেত্রে মূলনীতি (الأصل) হলো বৈধতা (الصحة), কেবল তা ব্যতীত যা...

--------------------------------------------

(1) দেখুন: ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন: ১/৩৭৮, এবং ইলমু উসুলিল ফিকহ, খাল্লাফ: ৯১।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
أبطله الشارع أو نهى عنه، وهذا القول هو الصحيح، فإنه الحكم ببطلانها حكم بالتحريم والتأثيم، ومعلوم أنه لا حرام إلا ما حرَّمه الله ورسوله، ولا تأثيم إلا ما أثَّم الله ورسوله به فاعله، كما أنَّه لا واجب إلا ما أوجبه الله، ولا حرام إلا ما حرمه الله، ولا دين إلا ما شرعه الله.

فالأصل في العبادات البطلان، حتى يقوم دليل على الأمر، والأصل في العقود والمعاملات الصحة، حتى يقوم دليل على البطلان والتحريم.

والفرق بينهما أن الله -سبحانه- لا يعبد إلا بما شرعه على ألسنة رسله، فإن العبادة حَقُّهُ على عباده، وحقه الذي أحقه هو، ورضي به، وشرعه.

وأمَّا العقود والشروط والمعاملات، فهي عفو حتى يحرمها، ولهذا نعى الله سبحانه على المشركين مخالفة هذين الأصلين، وهو تحريم ما لم يحرمه، والتقرب إليه بما لم يشرعه، وهو سبحانه لو سكت عن إباحة ذلك وتحريمه، لكان عفوا لا يجوز الحكم بتحريمه وإبطاله، فإن الحلال ما أحكه الله، والحرام ما حرَّمه، وما سكت عنه، فهو عفو.
শরীয়ত প্রণেতা যেটিকে বাতিল করেছেন বা যা থেকে নিষেধ করেছেন; আর এই বক্তব্যটিই সঠিক (الصحيح)। কেননা কোনো বিষয় বাতিল হওয়ার নির্দেশ মূলত সেটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা এবং পাপ সাব্যস্ত করারই নামান্তর। এটি সুপরিচিত যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু হারাম নয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যার কর্তাকে পাপিষ্ঠ সাব্যস্ত করেছেন তা ছাড়া অন্য কোনো কাজে পাপ নেই। ঠিক যেমন আল্লাহ যা ওয়াজিব করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু ওয়াজিব নয়, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু হারাম নয় এবং আল্লাহ যা শরীয়ত হিসেবে প্রবর্তন করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু দ্বীন নয়।

সুতরাং ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো তা বাতিল হওয়া, যতক্ষণ না সেই নির্দেশনার সপক্ষে কোনো দলিল উপস্থাপিত হয়। আর চুক্তি ও লেনদেনের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো তা সঠিক (الصحة) হওয়া, যতক্ষণ না তা বাতিল বা হারাম হওয়ার পক্ষে কোনো দলিল পাওয়া যায়।

এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কেবল সেভাবেই ইবাদত পাওয়ার যোগ্য যেভাবে তিনি তাঁর রাসূলগণের জবানে বিধিবদ্ধ করেছেন। কেননা ইবাদত হলো বান্দাদের ওপর আল্লাহর প্রাপ্য হক; আর এটি এমন এক হক যা তিনি নিজেই নির্ধারণ করেছেন, যাতে তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং যা তিনি বিধিবদ্ধ করেছেন।

পক্ষান্তরে চুক্তি, শর্তাবলি ও লেনদেনের বিষয়টি হলো মার্জনা বা অনুমোদিত, যতক্ষণ না তিনি তা হারাম করেন। এই কারণেই মহান আল্লাহ মুশরিকদের এই দুটি মূলনীতি লঙ্ঘনের কারণে নিন্দা জানিয়েছেন—আর তা হলো আল্লাহ যা হারাম করেননি তাকে হারাম সাব্যস্ত করা এবং এমন কিছুর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করা যা তিনি বিধিবদ্ধ করেননি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যদি কোনো বিষয়ের বৈধতা বা অবৈধতা সম্পর্কে নীরব থাকেন, তবে তা মার্জনা হিসেবে গণ্য হবে, যার হারাম বা বাতিল হওয়ার বিধান দেওয়া বৈধ নয়। কেননা হালাল হলো তা-ই যা আল্লাহ হালাল করেছেন এবং হারাম হলো তা-ই যা তিনি হারাম করেছেন; আর যে বিষয়ে তিনি নীরব থেকেছেন তা মার্জনা বা ক্ষমাপ্রাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাদারিস ওয়াল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الرابع موازنة بين المدارس الفقهية

‌‌المبحث الأول: النزاع بين المدارس الفقهية

تبادلتا هذه الفرق الثلاث فيما بينها ألفاظ القدح والتجريح، وحاول علماء كل فريق أن يكشف ضعف موقف الآخرين، وقد كان في كل فريق كثير من المعتدلين، وبعض الغلاة الذين لا يرون حسنات الآخرين، وقد دوَّن قادة كل مدرسة وأتباعها كتبا بينوا فيها أصولهم وفروعهم، وردوا على أصحاب الاتجاهات الأخرى.

ومن لطيف العلم الذي تنبه له ابن تيمية أن الإمام مالك في ترتيبه للموطأ، وما عقد فيه من تراجم، وما ساق فيه من آثار، قصد فيه بيان مذهب أهل العراق ببيان السنة، والردَّ على من خالفها، ولذلك قال ابن تيمية: "من كان بمذهب أهل المدينة والعراق أعلم كان أعلم بمقدار (الموطأ) "(1).

ويذكر الحافظ الزيلعي أن: "البخاري كثير التتبع لما يرد على أبى حنيفة من السنة، فيذكر الحديث، ثمَّ يعرض بذكره، فيقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كذا وكذا، وقال بعض الناس: كذا وكذا، يشير ببعض الناس إليه، ويشنع لمخالفة الحديث عليه"(2).

وقد دوَّن أهل الحديث منهجهم كما دونوا انتقاداتهم على أهل الرأي والظاهرية في عدة مؤلفات منها: (تاريخ بغداد) للخطيب البغدادي، (والمصنف) لابن أبى شيبة، و (تأويل مختلف الحديث) لابن قتيبة.

--------------------------------------------

(1) صحة عمل أهل المدينة: 78.

(2) نصب الراية: 1/ 356.
‌‌চতুর্থ অধ্যায়: ফিকহি মাযহাবসমূহের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ফিকহি মাযহাবসমূহের মধ্যে বিরোধ

এই তিনটি দল নিজেদের মধ্যে ত্রুটি বর্ণনা (القدح) এবং তাজরীহ (التجريح)-এর ভাষা বিনিময় করেছে। প্রত্যেক দলের আলেমগণ অন্যদের অবস্থানের দুর্বলতা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। প্রতিটি দলেই অনেক মধ্যপন্থী ব্যক্তি ছিলেন, আবার কিছু চরমপন্থী (الغلاة) ছিলেন যারা অন্যদের গুণাবলী দেখতেন না। প্রতিটি মাযহাবের নেতৃবৃন্দ এবং অনুসারীরা এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যাতে তারা তাদের মূলনীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখা (فروع) বর্ণনা করেছেন এবং অন্য ধারার অনুসারীদের খণ্ডন করেছেন।

ইবনে তাইমিয়া একটি সূক্ষ্ম ইলমি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, ইমাম মালিক তাঁর মুয়াত্তা গ্রন্থ সংকলনে এবং সেখানে তিনি যে শিরোনামসমূহ (تراجم) নির্ধারণ করেছেন এবং যে সব আসার (آثار) বর্ণনা করেছেন, তাতে তিনি সুন্নাহ বর্ণনার মাধ্যমে আহলে ইরাকের মাযহাব স্পষ্ট করা এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের খণ্ডন করার উদ্দেশ্য পোষণ করেছেন। এ কারণেই ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদিনা ও ইরাকবাসীর মাযহাব সম্পর্কে অধিক অবগত, সে মুয়াত্তা-এর মান সম্পর্কেও অধিক অবগত।"(১)।

হাফেজ যাইলয়ী উল্লেখ করেন যে: "বুখারি ইমাম আবু হানিফার বিরুদ্ধে সুন্নাহ থেকে যা পাওয়া যায় তা প্রচুর পরিমাণে অন্বেষণ করতেন। তিনি হাদিস উল্লেখ করতেন, তারপর তা উপস্থাপন করে বলতেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ বলেছেন, আর 'কিছু মানুষ' এরূপ বলেছে। 'কিছু মানুষ' বলতে তিনি তাকেই (আবু হানিফাকে) নির্দেশ করতেন এবং হাদিসের বিরোধিতা করার জন্য তার তীব্র সমালোচনা করতেন।"(২)।

আহলে হাদিসগণ তাদের মানহাজ (منهج) এবং সেই সাথে আহলে রায় ও জাহিরিয়াদের প্রতি তাদের সমালোচনাগুলো বেশ কিছু গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: খতিব বাগদাদীর তারিখে বাগদাদ, ইবনে আবি শায়বাহর আল-মুসান্নাফ এবং ইবনে কুতাইবাহর তাউয়ীলু মুখতালিফিল হাদিস।

--------------------------------------------

(১) সিহহাতু আমালি আহলিল মাদিনাহ: ৭৮।

(২) নাসবুর রায়াহ: ১/ ৩৫৬।