(খণ্ড: ১) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: -)
موطأ ابن وهب الصغير   (ابن وهب)

القسم: كتب السنة


الكتاب: موطأ ابن وهب الصغير

المحقق: جـ 1 (أحمد بن محمد الأمين بن الحسين الشنقيطي)، جـ 2 (محمد الأمين بن الحسين الشنقيطي)

تنبيه: [ألف الإمام ابن وهب -رحمه الله- موطئا كبيرا وصغيرا. وهذا هو ما وُجد من موطئه الصغير]

الناشر: مكتية جامع العلوم والحكم - المدينة المنورة

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2002 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو الحجة 1443

ইবনে ওয়াহবের ছোট মুয়াত্তা   (ইবনে ওয়াহব)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: ইবনে ওয়াহবের ছোট মুয়াত্তা

গবেষক/সম্পাদক: ১ম খণ্ড (আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আমিন বিন আল-হুসাইন আল-শানকিতী), ২য় খণ্ড (মুহাম্মদ আল-আমিন বিন আল-হুসাইন আল-শানকিতী)

সতর্কবার্তা: [ইমাম ইবনে ওয়াহব -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- একটি বড় এবং একটি ছোট মুয়াত্তা রচনা করেছেন। এটি তাঁর ছোট মুয়াত্তার সেই অংশ যা খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।]

প্রকাশক: মাকতাবাত জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - মদিনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩২ হিজরী - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যিলহজ ১৪৪৩

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ١)
بسم الله الرحمن الرحيم

[المقدمة]

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، وبعد، يقول الله عز وجل: {وَالنَّجْمِ إِذا هَوى ما ضَلَّ صاحِبُكُمْ وَما غَوى وَما يَنْطِقُ عَنِ الْهَوى إِنْ هُوَ إِلاّ وَحْيٌ يُوحى}(1)، فالحديث وحي من الله عز وجل، بدليل هذه الآية، ولذا قال الله عز وجل عن نبيه: {وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنا بَعْضَ الْأَقاوِيلِ لَأَخَذْنا مِنْهُ بِالْيَمِينِ ثُمَّ لَقَطَعْنا مِنْهُ الْوَتِينَ فَما مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حاجِزِينَ}(2).

لذا كان من واجب الأمة الإسلامية أن تتكفل بحفظ الحديث الثابت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، لأنه يشتمل على ما في القرآن من أحكام.

ولذا قال الله عز وجل لرسوله صلى الله عليه وسلم {وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ}(3)، فالرسول بين القرآن بالسنة، وكما قال الخطيب البغدادي واصفا لعلم الحديث وأهله.

انه يشتمل على أصول. التوحيد، وبيان ما جاء من وجوه الوعد والوعيد، وصفات رب العالمين تعالى عن مقالات الملحدين، والأخبار من صفات الجنة والنار، وما أعد الله تعالى فيهما للمتقين والفجار، وما خلق

--------------------------------------------

(1) سورة النجم، الآية 1 - 4.

(2) سورة الحاقة الآية 44 - 47.

(3) سورة النحل الآية 44.

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

[ভূমিকা]

সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম জনের উপর। অতঃপর, মহান আল্লাহ বলেন: {শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়, তোমাদের সঙ্গী (মুহাম্মাদ) পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।}(১)। সুতরাং এই আয়াতের প্রমাণ অনুযায়ী হাদিস মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহী। এই কারণেই মহান আল্লাহ তাঁর নবী সম্পর্কে বলেছেন: {আর তিনি যদি আমার নামে কোনো কথা রচনা করে চালিয়ে দিতেন, তবে আমি অবশ্যই তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম, অতঃপর অবশ্যই তাঁর ঘাড়ের রগ কেটে দিতাম। তখন তোমাদের মধ্যে এমন কেউ থাকত না, যে তাঁকে রক্ষা করতে পারত।}(২)।

তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হাদিসসমূহ সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করা মুসলিম উম্মাহর জন্য আবশ্যকীয় কর্তব্য। কারণ এতে কুরআনে বর্ণিত বিধিবিধানসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ কারণেই মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন, {আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে।}(৩)। সুতরাং রাসূল সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। যেমনটি খতিব আল-বাগদাদী ইলমে হাদিস এবং এর ধারক-বাহকদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:

নিশ্চয়ই এটি তাওহীদের মূলনীতিসমূহকে শামিল করে; আরও বর্ণনা করে পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারি সংক্রান্ত বিষয়সমূহ এবং সৃষ্টিকুলের রব-এর গুণাবলি—যা নাস্তিকদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য থেকে ঊর্ধ্বে। এছাড়াও এতে রয়েছে জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ এবং সেখানে মুত্তাকী ও পাপিষ্ঠদের জন্য আল্লাহ তাআলা যা প্রস্তুত রেখেছেন তার সংবাদ, আর যা তিনি সৃষ্টি করেছেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাজম, আয়াত ১ - ৪।

(২) সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত ৪৪ - ৪৭।

(৩) সূরা আন-নাহল, আয়াত ৪৪।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٢)
الله في الأرضين والسماوات من صنوف العجائب، وعظيم الآيات، وذكر الملائكة المقربين، ونعت الصادقين من المؤمنين، وقصص الأنبياء، وأخبار الزهاد والأولياء، ومواعظ. البلغاء، وكلام الفقهاء، وأخبار العرب والعجم، وأقاصيص المتقدمين من الأمم، وشرح مغازي الرسول صلى الله عليه وسلم وسراياه، ومجمل أحكامه وقضاياه، وخطب الرسول صلى الله عليه وسلم ومواعظه، وأوصافه، ومعجزاته، وعدة أزواجه، وأولاده، وأصهاره، وأصحابه، وذكر فضائلهم، وشرح أخبارهم، ومناقبهم، ومبلغ أعمارهم، وبيان أنسابهم، وفيه تفسير القرآن العظيم، وما فيه من النبأ والذكر الحكيم، وأقاويل الصحابة في الأحكام المحفوظة عنهم.

وقد جعل الله تعالى أهل الحديث أركان الشريعة، وهدم بهم كل بدعة شنيعة، فهم أمناء الله من خلقه، والواسطة بين النبي وأمته، والمجتهدون في حفظ ملته.

وكل فئة تتحيز الى هوى ترجع اليه، أو تستحسن رأيا تعطف عليه، سوى أصحاب الحديث، فان الكتاب عدتهم، والسنة حجتهم، والرسول موفي مرجعهم، واليه نسبتهم، لا يعرجون على الأهواء، ولا يلتفتون الى الاراء، يقبل منهم ما رووا عن الرسول صلى الله عليه وسلم، وهم المأمونون على حفظ الدين وخزنته، وأوعية العلم وحملته، اذا اختلف في حديث كان اليهم الرجوع، فما حكموا به فهو المقبول المسموع.

ومنهم كل عالم فقيه، وامام رفيع، وقاض عادل، وزاهد متبع وهم الطائفة المنصورة، حراس الدين، وصرف عنهم صرف الله عنهم كيد المعاندين، لتمسكهم بالشرع المتين، واقتفائهم آثار الصحابة والتابعين، فشأنهم حفظ الآثار، وقطع المفاوز والقفار، وركوب البراري والبحار، في اقتباس ما شرع الرسول المصطفي صلى الله عليه وسلم، لا يعرجون عنه الى رأي ولا هوى، قبلوا شريعته قولا وفعلا، وحرسوا سنته حفظا ونقلا، حتى ثبتوا
আল্লাহ পৃথিবীতে ও আসমানসমূহে যে বিচিত্র বিস্ময়াবলি ও মহান নিদর্শনসমূহ রেখেছেন তার বর্ণনা, নিকটবর্তী ফেরেশতাদের আলোচনা, মুমিনদের মধ্যে যারা সত্যবাদী তাদের গুণাবলি, নবীদের কাহিনীসমূহ, সংসারবিরাগী ও আল্লাহর বন্ধুদের সংবাদ, সুবক্তাদের উপদেশ, ফকিহদের বক্তব্য, আরব ও আজমদের সংবাদ, পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ঘটনাবলি, রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর যুদ্ধ ও অভিযানসমূহের বিবরণ, তাঁর সামগ্রিক বিধান ও বিচারকার্যসমূহ, রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর ভাষণ ও উপদেশাবলি, তাঁর বৈশিষ্ট্য ও মুজিজাসমূহ, তাঁর পত্নীগণ, সন্তান-সন্ততি, জামাতা ও সাহাবীদের সংখ্যা ও বর্ণনা, তাঁদের ফজিলত, তাঁদের খবরাখবর ও গুণাবলির ব্যাখ্যা, তাঁদের জীবনকাল এবং তাঁদের বংশপরিচয়। এতে আরও রয়েছে মহান কুরআনের তাফসির এবং তাতে বিদ্যমান সংবাদ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী এবং সাহাবীদের থেকে সংরক্ষিত বিধিবিধান সংক্রান্ত তাঁদের মতামত।

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আহলে হাদিসদের শরীয়তের স্তম্ভ বানিয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে প্রতিটি জঘন্য বিদআতকে ধ্বংস করেছেন। তাঁরা সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর আমানতদার, নবী ও তাঁর উম্মতের মাঝে মাধ্যম এবং তাঁর দ্বীন সংরক্ষণে কঠোর পরিশ্রমী।

প্রত্যেক দলই কোনো না কোনো খেয়াল-খুশির দিকে ঝুঁকে পড়ে যা তারা অনুসরণ করে, অথবা কোনো মতবাদকে পছন্দ করে যার প্রতি তারা অনুরাগী হয়, কিন্তু আহলে হাদিসগণ এর ব্যতিক্রম। কারণ কিতাব (কুরআন) তাঁদের পাথেয়, সুন্নাহ তাঁদের দলিল এবং রাসূলই তাঁদের আশ্রয় ও প্রত্যাবর্তনস্থল। তাঁর দিকেই তাঁদের সম্বন্ধ। তাঁরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন না এবং ব্যক্তিগত মতামতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন না। রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে তাঁরা যা বর্ণনা করেন তা কবুল করা হয়। তাঁরা দ্বীন সংরক্ষণ ও তাঁর ভাণ্ডারের বিশ্বস্ত পাহারাদার এবং ইলমের আধার ও বাহক। যখন কোনো হাদিস নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়, তখন তাঁদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হয়। তাঁরা যে ফয়সালা দেন, তাই গ্রহণযোগ্য ও শ্রুত।

তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন প্রত্যেক ফকিহ আলেম, সুউচ্চ ইমাম, ন্যায়বিচারক কাজী এবং সুন্নাহর অনুসারী দুনিয়াত্যাগী আবিদ। তাঁরাই সেই সাহায্যপ্রাপ্ত দল, দ্বীনের অতন্দ্র প্রহরী। আল্লাহ তাঁদের থেকে বিরোধীদের ষড়যন্ত্র দূর করে দিয়েছেন, কারণ তাঁরা সুদৃঢ় শরীয়তকে আঁকড়ে ধরেছেন এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তাঁদের কাজই হলো পূর্বসূরিদের নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণ করা, এজন্য তাঁরা মরুভূমি ও প্রান্তর পাড়ি দেন এবং স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করেন—রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা আহরণ করার জন্য। তাঁরা সুন্নাহ ছেড়ে কোনো মতামত বা প্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়েন না। তাঁরা রাসূলের শরীয়তকে কথা ও কাজে গ্রহণ করেছেন এবং মুখস্থ ও বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর সুন্নাহকে পাহারা দিয়েছেন, এমনকি তাঁরা তা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।
(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٣)
بذلك أصلها، وكانوا أحق بها وأهلها(1).

وكم من ملحد يروم أن يخلط بالشريعة ما ليس منها، والله تعالى ندب بأصحاب الحديث الذب عنها، فهم الحفاظ لأركانها، والقوامون بأمرها وشأنها، {أُولئِكَ حِزْبُ اللهِ أَلا إِنَّ حِزْبَ اللهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ}(2).

وان كان أحد من هؤلاء فعلى رأسهم امامنا عبد الله بن وهب، رحمه الله رحمة واسعة، فهو امام المحدثين، والفقهاء، والزهاد، والعباد، الذي قسم دهره بين العلم، والحج، والرباط، حتى لقي الله وهو يدرس الحديث ..

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين ..

****

--------------------------------------------

(1) انظر كتاب شرف اصحاب الحديث للخطيب البغدادى، ص 10/ 8 بتصرف.

(2) سورة المجادله، الايه 22.

এর মাধ্যমেই এর মূল ভিত্তি, আর তারা ছিল এর জন্য অধিক হকদার ও এর উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গ(১).

কত না নাস্তিক শরীয়তের মধ্যে এমন কিছু মিশ্রিত করার ইচ্ছা পোষণ করে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, অথচ মহান আল্লাহ হাদীসবিশারদদের (আসহাবুল হাদীস) এর প্রতিরক্ষার জন্য মনোনীত করেছেন; তারাই এর স্তম্ভসমূহের রক্ষক এবং এর যাবতীয় বিষয় ও মর্যাদার ব্যবস্থাপক, "তারাই আল্লাহর দল; জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম"(২).

আর যদি তাদের মধ্যে কেউ থেকে থাকেন তবে তাদের শীর্ষে রয়েছেন আমাদের ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, আল্লাহ তাকে প্রশস্ত রহমত দান করুন। তিনি মুহাদ্দিস, ফকীহ, জাহিদ এবং আবিদদের ইমাম, যিনি তার জীবনকে ইলম, হজ এবং পাহারাদারির (রিবাত) মাঝে অতিবাহিত করেছিলেন, এমনকি হাদীস পাঠদানরত অবস্থায় তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন...

আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য...

****

--------------------------------------------

(১) দেখুন খতীব আল-বাগদাদী রচিত ‘শরাফু আসহাবিল হাদীস’ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৮/১০ (পরিমার্জিত)।

(২) সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত ২২।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌خطة البحث

أما الخطة التي سلكتها في انجاز هذه البحث، فهي كما يلي:

قسمت البحث الى قسمين:

القسم الأول: هو قسم الدراسة.

القسم الثاني: هو قسم التحقيق.

وجعلت القسم الدراسي في مقدمة وبابين،

* أما المقدمة، فتكلمت فيها عن شرف علم أهل الحديث، وأهله

. وخطتي في البحث.

* أما الباب الأول: فو خاص بدراسة حياة الامام عبد الله بن وهب،

ويقع في تسعة فصول:

1 - الفصل الأول: الحالة العلمية في عصره.

2 - الفصل الثاني: اسمه وكنيته ونسبه وولادته وأسرته.

3 - الفصل الثالث: نشأته ورحلته في طلب العلم.

4 - الفصل الرابع: شيوخه.

5 - الفصل الخامس: تلاميذه والرواة عنه.

6 - الفصل السادس: مؤلفات.

7 - الفصل السابع: مكانته العلمية وثناء العلماء عليه.

8 - الفصل الثامن: منهجه في السماع والأداء.

9 - الفصل التاسع: عبادته وورعه وزهده ووفاته.

الباب الثاني: وهو خاص بالتعريف بالكتاب، ويحتوي على فصلين:
গবেষণা পরিকল্পনা

এই গবেষণা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আমি যে পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি, তা নিম্নরূপ:

আমি গবেষণাকে দুই ভাগে ভাগ করেছি:

প্রথম অংশ: এটি তাত্ত্বিক আলোচনা বা গবেষণা অংশ।

দ্বিতীয় অংশ: এটি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা বা তাহকীক অংশ।

আর আমি তাত্ত্বিক আলোচনার অংশটিকে একটি ভূমিকা ও দুটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি,

* ভূমিকা: এতে আমি আহলে হাদিসের ইলম ও তাঁদের মর্যাদা এবং আমার গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

* প্রথম অধ্যায়: এটি বিশেষত ইমাম আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাবের জীবনবৃত্তান্ত আলোচনার জন্য নির্ধারিত,

যা নয়টি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত:

১ - প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর সমসাময়িক যুগের ইলমী অবস্থা।

২ - দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, উপনাম, বংশপরিচয়, জন্ম ও পরিবার।

৩ - তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে তাঁর সফর।

৪ - চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।

৫ - পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁর থেকে বর্ণনাকারীগণ।

৬ - ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী।

৭ - সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমী মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা।

৮ - অষ্টম পরিচ্ছেদ: হাদীস শ্রবণ এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি।

৯ - নবম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইবাদত, খোদাভীতি, দুনিয়াবিমুখতা এবং তাঁর মৃত্যু।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি বিশেষভাবে গ্রন্থটির পরিচিতি সংক্রান্ত, যা দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٥)
الفصل الأول: وفيه مباحث:

المبحث الأول: توثيق نسبة الكتاب الى المؤلف.

المبحث الثاني: وصف النسخة.

المبحث الثالث: التعريف بالكتاب وأهميته ومصادره ومنهجه.

الفصل الثاني: في بيان منهج التحقيق، وعملي في الكتاب ..

أما القسم الثاني:

فهو في تحقيق نص الكتاب، وقد حققت النص بالطريقة التي ذكرتها في الفصل الثاني من الباب الثاني، في بيان منهج التحقيق ..

وبعد الانتهاء من التحقيق، ذكرت خاتمة ضمنتها بعض النتائج التي توصلت اليها.
প্রথম পরিচ্ছেদ: এবং এতে রয়েছে কয়েকটি অনুচ্ছেদ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণিকতা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি, এর গুরুত্ব, উৎসসমূহ এবং পদ্ধতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সম্পাদনা পদ্ধতির বর্ণনা এবং গ্রন্থে আমার কাজের বিবরণ প্রসঙ্গে...

আর দ্বিতীয় অংশ:

এটি হলো গ্রন্থের মূল পাঠ সম্পাদনা বিষয়ক। আমি পাঠটি সেই পদ্ধতিতে সম্পাদন করেছি যা আমি দ্বিতীয় অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সম্পাদনা পদ্ধতির বর্ণনায় উল্লেখ করেছি...

সম্পাদনার কাজ সমাপ্ত করার পর আমি একটি উপসংহার উল্লেখ করেছি, যাতে আমি প্রাপ্ত কিছু ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌الرموز المستخدمة للدلالة على الكتب التي خرجت أحاديث الرواة الذين ورد ذكرهم، على النحو التالي

[عه] الستة سوى الشيخين

[ع] الجماعة أصحاب السنن الستة.

[خ] للبخاري في صحيحه

[م] مسلم في صحيحه

[د] لأبي داود

[ت] للترمذي

[س]

للنسائي

[ق] لابن ماجة

[خت] للبخاري في التعليق

[بخ] للبخاري في الأدب المفرد

[ي] للبخاري في جزء رفع اليدين

[عخ] للبخاري في خلق أفعال العباد

[ز] للبخاري في جزء القراءة خلف الامام

[مد] لأبي داود في المراسيل له

[قد] لأبي داود في القدر

[خد] لأبي داود في التاريخ للناسخ والمنسوخ

[ف] لأبي داود في كتاب التفرد

[صد] لأبي داود في فضائل الأنصار

[ل] لأبي داود في المسائل

[كد] لأبي داود في مسند مالك

[ت] للترمذي في الشمائل

[سي] للنسائي في اليوم والليلة

[كن] للنسائي

في مسند مالك

[عس] للنسائي في منشد علي

[فق] لابن ماجة في التفسير له
উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের হাদিসসমূহ যে গ্রন্থগুলো থেকে সংকলিত হয়েছে, তা নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত সংকেতসমূহ নিম্নরূপ:

[আহ] শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) ব্যতীত বাকি ছয়জন হাদিস বিশারদ।

[আ] জামাত বা ছয়টি সুনান গ্রন্থের রচয়িতাগণ।

[খ] বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে।

[ম] মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে।

[দ] আবু দাউদের জন্য।

[ত] তিরমিযীর জন্য।

[স]

নাসাঈর জন্য।

[ক] ইবনে মাজাহর জন্য।

[খত] বুখারির ‘তালিক’ (ঝুলন্ত বর্ণনা) এর জন্য।

[বখ] বুখারির ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ এর জন্য।

[ই] বুখারির ‘জুযউ রাফইল ইয়াদাইন’ এর জন্য।

[আখ] বুখারির ‘খালকু আফআলিল ইবাদ’ এর জন্য।

[য] বুখারির ‘জুযউল কিরাআতি খালফাল ইমাম’ এর জন্য।

[মদ] আবু দাউদের ‘আল-মারাসিল’ এর জন্য।

[কদ] আবু দাউদের ‘আল-কদর’ এর জন্য।

[খদ] আবু দাউদের ‘আত-তারিখ লিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ’ এর জন্য।

[ফ] আবু দাউদের ‘কিতাবুত তাফাররুদ’ এর জন্য।

[সদ] আবু দাউদের ‘ফাদায়িলুল আনসার’ এর জন্য।

[ল] আবু দাউদের ‘আল-মাসায়িল’ এর জন্য।

[কদ] আবু দাউদের ‘মুসনাদে মালিক’ এর জন্য।

[ত] তিরমিযীর ‘আশ-শামায়িল’ এর জন্য।

[সি] নাসাঈর ‘আল-ইয়াওমু ওয়াল লাইলাহ’ এর জন্য।

[কন] নাসাঈর

‘মুসনাদে মালিক’ এর জন্য।

[আস] নাসাঈর ‘মুসনাদে আলী’ এর জন্য।

[ফক] ইবনে মাজাহর ‘আত-তাফসির’ এর জন্য।
(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٧)
الباب الأول

الدراسة لحياة الامام عبد الله بن وهب

الفصل الأول: الحالة العلمية في عصره

الفصل الثاني: اسمه وكنيته ونسبه وولادته وأسرته

الفصل الثالث: نشأته ورحلته في طلب العلم

الفصل الرابع: شيوخه

الفصل الخامس: تلاميذه والرواة عنه

الفصل السادس: مؤلفاته

الفصل السابع: مكانته العلمية وثناء العلماء عليه

الفصل الثامن: منهجه في السماع والأداء

الفصل التاسع: عبادته وورعه وزهده ووفاته
প্রথম পরিচ্ছেদ

ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব-এর জীবন সংক্রান্ত গবেষণা

প্রথম অধ্যায়: তাঁর সমসাময়িক যুগের জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট

দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর নাম, উপনাম, বংশপরিচয়, জন্ম ও পরিবার

তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর শৈশব ও জ্ঞান অন্বেষণে সফর

চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ

পঞ্চম অধ্যায়: তাঁর ছাত্রবৃন্দ ও তাঁর থেকে বর্ণনাকারীগণ

ষষ্ঠ অধ্যায়: তাঁর রচনাবলি

সপ্তম অধ্যায়: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা ও তাঁর প্রশংসায় আলেমদের উক্তি

অষ্টম অধ্যায়: শ্রবণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি

নবম অধ্যায়: তাঁর ইবাদত, খোদাভীতি, দুনিয়াবিমুখতা ও মৃত্যু
(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌الباب الأول ويشتمل على تسعة فصول

‌‌الفصل الأول:

[الحالة العلمية في عمره]:

يعتبر العصر العباسي الأول، الذي عاش فيه [عبدالله بن وهب - رحمه الله تعالى -] عصر أوج الثقافة الإسلامية، ونهضة العلم والأدب.

وسماه بعضهم بعصر الأئمة المجتهدين، وذلك لأنه ظهر فيه عدد كبير من أجلاء العلماء، الذين اعتبروا أئمة للفقه، وقادة الفكر الإسلامي، لأنهم ألقوا ودونوا وجمعوا كل العلوم.

فظهرت آثارهم في تآليفهم، وتلاميذهم، فكثر الإنتاج العلمي، وتكونت المذاهب الفقهية، والمدارس العلمية.

يقول الذهبي في حوادث سنة ثلاث وأربعين ومائة: «وفي هذا العصر شرع علماء الإسلام في تدوين الحديث والفقه والتفسير.

فصنف ابن جريج التصانيف بمكة، وصنف سعيد بن أبي عروبة، وحماد بن سلمة، وغيرهما بالبصرة، وصنف الأوزاعي بالشام، وصنف مالك بالمدينة، وصنف ابن إسحاق المغازي، ومعمر باليمن، وأبو حنيفة، وغيره الفقه بالكوفة، وصنف سفيان الثوري كتاب الجامع، والليث، وابن لهيعة، وابن
প্রথম অধ্যায়: যাতে নয়টি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ:

[তাঁর জীবনকালের ইলমি অবস্থা]:

প্রথম আব্বাসীয় যুগকে, যাতে [আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন -] বসবাস করেছেন, ইসলামি সংস্কৃতির চরম শিখর এবং জ্ঞান ও সাহিত্যের নবজাগরণের যুগ হিসেবে গণ্য করা হয়।

কেউ কেউ একে মুজতাহিদ ইমামগণের যুগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর কারণ হলো, এই যুগে বিপুল সংখ্যক মহান আলেম আবির্ভূত হয়েছিলেন, যাদেরকে ফিকহের ইমাম এবং ইসলামি চিন্তাধারার কর্ণধার হিসেবে গণ্য করা হতো; কারণ তাঁরা সকল শাস্ত্র প্রদান করেছেন, লিপিবদ্ধ করেছেন এবং সংকলন করেছেন।

ফলে তাঁদের রচনারাজি ও ছাত্রদের মাঝে তাঁদের কর্মতৎপরতার প্রভাব প্রকাশ পায়, যার ফলে জ্ঞানতাত্ত্বিক উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং ফিকহি মাযহাব ও ইলমি শিক্ষাঘরানাগুলো গড়ে ওঠে।

ইমাম যাহাবী ১৪৩ হিজরি সালের ঘটনাবলি বর্ণনায় বলেন: «এই যুগেই ইসলামি পণ্ডিতগণ হাদিস, ফিকহ এবং তাফসির সংকলন ও লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেন।

অতঃপর ইবনে জুরাইজ মক্কায় বিভিন্ন গ্রন্থ সংকলন করেন, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ও অন্যরা বসরায় সংকলন করেন, আওযায়ী শামে সংকলন করেন, মালেক মদিনায় সংকলন করেন, ইবনে ইসহাক মাগাযি সংকলন করেন, মা'মার ইয়েমেনে এবং আবু হানিফা ও অন্যরা কুফায় ফিকহ সংকলন করেন; সুফিয়ান সাওরি কিতাবুল জামি সংকলন করেন, আর লাইস, ইবনে লাহিয়াহ এবং ইবনে
(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ١٠)
المبارك، وأبو يوسف، وابن وهب في مصر ..

وكثر تدوين العلم من العربية واللغة، والتاريخ، وأيام الناس، وقبل هذا العصر كان سائر الأمة يتكلمون من حفظهم، أو من صحف غير مرتبة»(1).

ولعل أكبر الأسباب في نشاط العلم والتعليم في هذا العصر، هو الاستقرار السياسي، واتساع رقعة بلاد الإسلام، وارتباط المدن والبلدان بقيادة واحدة، وكثرة القضايا، ولكل قضية حكمها، وما يجري فيها فاتسعت دائرة الفقه والرأي نحو تلك القضايا، وكما قيل: «تحدث للناس أقصية بقدر ما أحدثوا من الفجور»(2).

ومن أسباب تلك الحركة العلمية وازدهارها، اعتناء الخلفاء العباسيين في هذا العصر بالعلم وأهله، وتشجيعهم على الجمع والتأليف، وتكريم العلماء، وإعطاء الجوائز على تأليف الكتب.

وأدل دليل على ذلك ما قيل عن المنصور: أنه قيل له ذات يوم، هل بقي من لذات الدنيا شيئا لم تنله؟ قال: بقيت خصلة، أن أقعد في مصطبة وحولي أصحاب الحديث(3).

--------------------------------------------

(1) انظر تاريخ الإسلام ووفيات المشاهير الأعلام، للإمام الذهبي، حوادث الوفيات: 141 - 160.

(2) انظر تاريخ الخلفاء للسيوطي: 313.

(3) المرجع السابق.

...মুবারক, আবু ইউসুফ এবং মিশরে ইবন ওহাব...

আরবি জ্ঞান, ভাষা, ইতিহাস এবং প্রাচীন জাতিসমূহের বীরত্বগাথা ও ঘটনাবলি লিপিবদ্ধকরণ বৃদ্ধি পায়। এই যুগের পূর্বে উম্মতের সাধারণ মানুষ তাদের মুখস্থ স্মৃতি থেকে অথবা অবিন্যস্ত পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনা করতেন।(১)

সম্ভবত এই যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা কার্যক্রমের সক্রিয়তার সবচেয়ে বড় কারণ ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ইসলামি ভূখণ্ডের বিস্তৃতি, বিভিন্ন শহর ও জনপদসমূহের একক নেতৃত্বের অধীনে থাকা এবং বিচারিক বিষয়ের আধিক্য। আর প্রতিটি বিষয়ের জন্য স্বতন্ত্র বিধান ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি থাকার ফলে সেই সকল বিষয়ে ফিকহ ও ইজতিহাদের পরিধি বিস্তৃত হয়। যেমনটি বলা হয়েছে: “মানুষ যতটুকু পাপাচার উদ্ভাবন করবে, তাদের জন্য সেই পরিমাণ বিচারিক ফয়সালাও নতুনভাবে তৈরি হবে।”(২)

সেই জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন ও এর সমৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল এই যুগে আব্বাসীয় খলিফাদের জ্ঞান ও জ্ঞানীদের প্রতি বিশেষ যত্ন, সংকলন ও গ্রন্থ রচনায় উৎসাহ প্রদান, ওলামায়ে কেরামের সম্মাননা প্রদান এবং গ্রন্থ রচনার জন্য পুরস্কার প্রদান।

এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো যা মনসুর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: একদা তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, দুনিয়ার আনন্দ-আহ্লাদের মধ্যে কি এমন কিছু বাকি আছে যা আপনি লাভ করেননি? তিনি বললেন: একটি বৈশিষ্ট্য বাকি আছে, আর তা হলো—আমি একটি উঁচু বেদিতে বসব এবং আমার চারপাশে হাদিস বিশারদগণ অবস্থান করবেন।(৩)

--------------------------------------------

(১) দেখুন ইমাম যাহাবীর ‘তারিখুল ইসলাম ওয়া ওয়াফায়াতুল মাশাহীরিল আ’লাম’, মৃত্যুর ঘটনাবলি: ১৪১ - ১৬০।

(২) দেখুন সুয়ূতী রচিত ‘তারিখুল খুলাফা’: ৩১৩।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ١١)
وكان من العلماء بالحديث والأنساب مشهورا بطلب العلم، جيد المشاركة في العلم والأدب(1).

وكان المهدي محمد بن المنصور، هو أول من أمر بتصنيف كتب الجدل، في. الرد على الزنادقة، والملحدين(2) ولم يجتمع على باب خليفة من العلماء والفقهاء، والأدباء، والشعراء، والقراء، والقضاة، والكتاب ما اجتمع على باب الرشيد(3).

وكان يحب العلم وأهله، ويعظم حرمات الإسلام، ويبغض المراء في الدين، والكلام في معارضة النص.

ولعا بلغه عن بشر المريسي القول بخلق القرآن، فقال: لئن ظفرت به لأضربن عنقه.

وحدته يوما أبو معاوية الضرير، بقول النبي صلى الله عليه وسلم [احتج آدم وموسى] وعنده رجل من وجوه قريش، فقال القرشي: فأين لقيه؟ فغضب الرشيد، وقال: النطع والسيف، زنديق يطعن في حديث النبي صلى الله عليه وسلم(4) وكان للرحلة في طلب العلم أثر كبير في نشر العلم، ولا سيما رحلة الحج، التي يجتمع فيها أكبر عدد من الناس، {وَأَذِّنْ فِي النّاسِ بِالْحَجِّ. يَأْتُوكَ رِجالاً وَعَلى كُلِّ ضامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ لِيَشْهَدُوا مَنافِعَ لَهُمْ}(5) الآية ..

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق: 251، 241.

(2) المرجع نفسه: 252.

(3) انظر: الفخر في الآداب السلطانية لابن طباطبا ص 195.

(4) انظر تاريخ الخلفاء للسيوطي ص 264 - 265.

(5) سورة الحج، الآية 28.

তিনি হাদিস এবং বংশবিদ্যা বিষয়ের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, ইলম অন্বেষণে তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ এবং ইলম ও সাহিত্যে তাঁর উত্তম পদচারণা ছিল(১)।

আর মাহদী মুহাম্মদ ইবনুল মনসুরই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ধর্মদ্রোহী ও নাস্তিকদের খণ্ডনে বিতর্ক বিষয়ক গ্রন্থ রচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন(২)। আর কোনো খলিফার দরবারে আলেম, ফকিহ, সাহিত্যিক, কবি, ক্বারী, বিচারক ও লেখকদের এমন সমাবেশ ঘটেনি, যা রশিদের দরবারে ঘটেছিল(৩)।

তিনি ইলম ও ইলমের ধারকদের ভালোবাসতেন, ইসলামের পবিত্র বিষয়গুলোকে সম্মান করতেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে অহেতুক ঝগড়া ও নস-এর (ধর্মীয় পাঠ) বিরোধিতামূলক আলোচনা অপছন্দ করতেন।

যখন বিশর আল-মারিসির পক্ষ থেকে কুরআন সৃষ্টির মতবাদের কথা তাঁর কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: "আমি যদি তাকে ধরতে পারি, তবে অবশ্যই তার শিরশ্ছেদ করব।"

একদিন আবু মুয়াবিয়া আদ-দারির তাঁর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী বর্ণনা করলেন: [আদম ও মুসা পরস্পর বিতর্ক করলেন]। তখন তাঁর নিকট কুরাইশদের একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সেই কুরাইশ ব্যক্তি বলে বসল: "তাঁদের দুজনের দেখা কোথায় হলো?" এতে রশিদ ক্ষিপ্ত হলেন এবং বললেন: "জল্লাদের চামড়া ও তলোয়ার নিয়ে এসো! এ তো এক জিনদিক যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে"(৪)। ইলম অন্বেষণে সফরের এক ব্যাপক প্রভাব ছিল ইলম প্রসারের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে হজের সফর; যেখানে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সমাবেশ ঘটে। {আর মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের কৃশকায় উটের পিঠে চড়ে, যারা আসবে দূর-দূরান্তের গভীর গিরিপথ থেকে। যাতে তারা তাদের উপকারের স্থানসমূহে উপস্থিত হতে পারে}(৫) আয়াতাংশ...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস: ২৫১, ২৪১।

(২) একই উৎস: ২৫২।

(৩) দেখুন: ইবনে তিবাতাবা রচিত আল-ফাখরি ফিল আদাব আস-সুলতানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৯৫।

(৪) দেখুন: সুয়ূতী রচিত তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা ২৬৪ - ২৬৫।

(৫) সূরাহ আল-হজ, আয়াত ২৮।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ١٢)
ومن كبرى المنافع لقاء العلماء لبحث صعاب العلوم، والمسائل، ما جد منها وما خفي على الناس، مما لا يقدر على فهمه، وتحقيقه، الا جهابذة العلماء الأذكياء.

ومما هو مشجع للحركة العلمية في هذا العصر، وجود مدارس العلم في المدن والأمصار، وأشهر هذه المدارس: مدرسة المدينة المنورة، حيث إنها دار نزول الوحي، وعاصمة الإسلام الأولى، ومنطلق الرسالة، وفيها كملت الرسالة، وتلقى أهلها الحديث من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومن صحابته، وتابعيهم، وهكذا .. وأشهر علمائها في هذا العصر، مالك بن أنس رحمه الله.

والتي تليها مدرسة العراق، وهي المعروفة بمدرسة الرأي، والقياس، وحامل رايتها، هو الامام أبو حنيفة، رحمه الله تعالى، وأصحابه.

أما مدرسة مصر، فليس لها ذكر يساوي أو يقارب هاتين المدرستين، مع أن بها في ذلك العصر الليث بن سعد، وعمرو بن الحارث، وبكير بن الأشج، وهؤلاء لا يقلون عن درجة أولئك في العلم والحفظ، وعلى رأسهم ابن وهب.

قال أبو إسحاق الشيرازي: (كان ابن وهب تقرأ عليه مسائل الليث، فمرت به مسألة فقال رجل من الغرباء: أحسن والله الليث، كأنه كان يسمع مالكا يجيب، فقال ابن وهب للرجل: بل كان مالك يسمع الليث، والله الذي لا اله الاهو: ما رأينا أحدا قط أفقه من الليث.

وقال الشافعي: الليث أفقه من مالك، الا أن أصحابه لم يقوموا به.

وقال ابن وهب: كان ربيعة يقول: لا يزال بذلك المغرب فقه، ما دام فيه
বিজ্ঞানের কঠিন বিষয় ও মাসআলাসমূহ—যার মধ্যে নতুন উদ্ভূত ও মানুষের নিকট অস্পষ্ট বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত—সেসব আলোচনার জন্য বিজ্ঞ আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করা এক মহৎ কল্যাণ। প্রখর মেধা ও ধীমান আলেমগণ ব্যতিরেকে এই বিষয়গুলো অনুধাবন ও যথাযথভাবে যাচাই করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

এই যুগে জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনকে যা উৎসাহিত করছে তা হলো বিভিন্ন শহর ও জনপদে ইলমি মাদ্রাসাসমূহের উপস্থিতি। এই মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো মদিনা মুনাওয়ারার মাদ্রাসা; কেননা এটি ওহী অবতীর্ণ হওয়ার স্থান, ইসলামের প্রথম রাজধানী এবং রিসালাতের সূতিকাগার। এখানেই রিসালাত পূর্ণতা লাভ করেছে এবং এর অধিবাসীগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবী ও তাবেয়ীদের নিকট থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন, এবং এভাবেই ধারাটি এগিয়েছে... এই যুগে সেখানকার আলেমদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন মালিক বিন আনাস রহিমাহুল্লাহ।

এর পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে ইরাকের মাদ্রাসা, যা ‘মাদরাসাতুর রায়’ (অভিমত নির্ভর) এবং কিয়াস (অনুমান) এর মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত। এর ঝাণ্ডাবাহী ছিলেন ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহু তাআলা ও তাঁর সঙ্গীগণ।

মিসরের মাদ্রাসার কথা যদি বলি, তবে এই দুই মাদ্রাসার সমতুল্য বা কাছাকাছি পর্যায়ের কোনো উল্লেখ সেখানে পাওয়া যায় না, যদিও সেই যুগে সেখানে লাইস বিন সাদ, আমর বিন হারিস এবং বুকাইর বিন আশাজ্জের মতো মনীষীগণ ছিলেন। জ্ঞান ও হেফজের স্তরে তারা অন্যদের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিলেন না এবং তাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন ইবনে ওয়াহাব।

আবু ইসহাক আশ-শিরাজী বলেন: ইবনে ওয়াহাবের নিকট লাইসের মাসআলাগুলো পাঠ করা হতো। একবার একটি মাসআলা পাঠকালে জনৈক আগন্তুক ব্যক্তি বলে উঠল: "আল্লাহর কসম, লাইস কতই না চমৎকার বলেছেন! মনে হচ্ছে যেন তিনি মালিককে উত্তর দিতে শুনছিলেন।" তখন ইবনে ওয়াহাব সেই লোকটিকে বললেন: "বরং মালিকই লাইসকে শুনতেন। সেই আল্লাহর কসম, যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই: আমরা লাইসের চেয়ে অধিক বড় ফকীহ কাউকেই কখনো দেখিনি।"

ইমাম শাফেয়ী বলেন: লাইস ইমাম মালিকের চেয়েও বড় ফকীহ ছিলেন, কিন্তু তাঁর অনুসারী বা ছাত্ররা তাঁর ইলমকে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত বা প্রচার করেনি।

ইবনে ওয়াহাব বলেন: রাবীআ বলতেন: সেই পশ্চিমে ততক্ষণ পর্যন্ত ফিকহ বিদ্যমান থাকবে, যতক্ষণ সেখানে
(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ١٣)
ذلك القصير، يعني: عمرو بن الحارث(1).

وقال ابن وهب: لو عاش لنا عمرو بن الحارث، ما احتجنا معه الى مالك، ولا الى غيره(2).

وقد كان عبد الله بن وهب، أحد أئمة هذا العصر، حيث تلقى العلم في بداية طلبه على علماء بلده، بمدينة الفسطاط بمصر، وكانت هذه المدينة من أكبر صروح العلم، وفيها أكبر المدارس والمراكز العلمية، وقد استمدت هذه المدرسة علمها ممن نوطنها من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، وعلى رأسهم: عبد الله بن عمرو بن العاص، ومن جاء بعده من الصحابة، مثل:

الزبير بن العوام، وعبادة بن الصامت، وشمة بن مخلد، والمقداد بن الأسود، كما كان معه ابنه عبد الله بن عمرو بن العاص، أحد الحفاظ المكثرين عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، والذي كان يدون الحديث بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم، فقد مكث في مصر الى ما بعد وفاة والده، وعنه رويكثير من محدثيها.

وممن نزل مصر من الصحابة رضوان الله عليهم: عقبة بن عامر الجهني، وخارجة بن حذافة، وعبد الله بن سعد أبو سرح، وعبد الله بن الحارث بن جزء، وأبو بصرة الغفاري، وأبو سعد الخير، ومعاذ بن أنس الجهني، ومعاوية بن خديج، وزياد بن الحارث الصدائي، وغيرهم(3).

وتخرج على أيدي هؤلاء خلق كثير من أهل مصر، مثل يزيد بن أبي حبيب محدث مصر، وعمرو بن الحارث، وخير بن نعيم الحضرمي، وعبد الله بن سليمان الطويل، وعبد الرحمن بن شريح الغافقي، وحيوة بن

--------------------------------------------

(1) انظر طبقات الفقهاء. للشيرازي 78

(2) أعلام الموقعين. لابن القيم: 1/ 27.

(3) انظر معرفة علوم الحديث، ص 193. وانظر: فتوح مصر لابن عبدالحكم: 248.

সেই খাটো ব্যক্তি, অর্থাৎ: আমর ইবনে আল-হারিস(১)।

ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমর ইবনে আল-হারিস যদি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতেন, তবে তাঁর উপস্থিতিতে আমাদের মালেকের প্রয়োজন হতো না, এবং অন্য কারোও প্রয়োজন হতো না(২)।

আর আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব ছিলেন এই যুগের অন্যতম ইমাম, তিনি তাঁর জ্ঞান অর্জনের শুরুতে তাঁর নিজ শহর মিশরের ফুসতাত নগরীর আলেমদের নিকট ইলম অর্জন করেন। এই শহরটি ছিল ইলমের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র এবং এতে ছিল সর্ববৃহৎ মাদরাসা ও শিক্ষা কেন্দ্রসমূহ। এই শিক্ষা ধারাটি তাদের ইলম গ্রহণ করেছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সকল সাহাবীদের থেকে যারা সেখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন, যাদের শীর্ষে ছিলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস এবং তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ, যেমন:

যুবায়ের ইবনুল আওয়াম, উবাদাহ ইবনুস সামিত, শাম্মাহ ইবনে মুখাল্লাদ এবং আল-মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ। তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অধিক হাদিস বর্ণনাকারী হাফেজদের একজন ছিলেন, এবং যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাদিস লিপিবদ্ধ করতেন। তিনি তাঁর পিতার মৃত্যুর পর পর্যন্ত মিশরে অবস্থান করেন এবং তাঁর কাছ থেকে মিশরের অনেক মুহাদ্দিস বর্ণনা করেছেন।

সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্যে যারা মিশরে এসেছিলেন: উকবাহ ইবনে আমির আল-জুহানি, খারি জাহ ইবনে হুজাফাহ, আবদুল্লাহ ইবনে সাদ আবু সারাহ, আবদুল্লাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে জায, আবু বাসরাহ আল-গিফারি, আবু সাদ আল-খাইর, মুয়াজ ইবনে আনাস আল-জুহানি, মুয়াবিয়া ইবনে খুদাইজ, যিয়াদ ইবনে আল-হারিস আস-সুদায়ী এবং অন্যান্যগণ(৩)।

তাঁদের নিকট থেকে মিশরের অসংখ্য লোক শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন, যেমন মিশরের মুহাদ্দিস ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব, আমর ইবনে আল-হারিস, খাইর ইবনে নুয়াইম আল-হাদরামি, আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আত-তবিল, আবদুর রহমান ইবনে শুরাইহ আল-গাফেকি এবং হাইওয়াহ ইবনে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবাকাতুল ফুকাহা, আশ-শিরাজি ৭৮।

(২) আলামুল মুয়াক্কিঈন, ইবনুল কাইয়্যিম: ১/২৭।

(৩) দেখুন: মা’রিফাতু উলূমিল হাদিস, পৃষ্ঠা ১৯৩। এবং দেখুন: ফুতুহু মিসর, ইবনে আব্দুল হাকাম: ২৪৮।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ١٤)
شريح الغافقي، وحيوة بن شريح التجيبي، وغيرهم(1).

ومن استوطن فيها من التابعين، وتابعيهم، فكان منهم المحدثون، والفقهاء، وغيرهم من القضاة، والقراء، والأدباء، والشعراء.

ولما أخذ ابن وهب علم مشايخ بلده، وكانت رغبته في الزيادة من العلم شديدة، رحل إلى المدينة المنورة، موطن النبي صلى الله عليه وسلم، وصحابته وخلفائه، وتابعيهم، من أبناء المهاجرين والأنصار، وصحب الامام مالكا إمام دار الهجرة، فكان من أكبر أصحاب مالك من المصريين.

ونقل ابن وهب هو وابن القاسم علم الامام مالك الى مصر، حتى جاء الامام الشافعي، وسكن مصر، واتخذها مقرّا لمدرسته(2) ومن المعلوم أن قدوم الشافعي على مصر سنة 198 هـ ومات بها سنة 204 هـ وسنة قدومه الى مصر، هي السنة التي بعد وفاة ابن وهب.

وتوفي ابن القاسم سنة 191 هـ، قبل موت ابن وهب بست سنوات، وعلى هذا فقد قام ابن وهب بأمر هذه المدرسة، بعد موت ابن القاسم، وقبل مجيء الشافعي، فأصحاب الشافعي، اذا هم أصحاب ابن وهب، مثل محمد بن عبد الله بن عبد الحكم، الذي يعتبر هو الراوي الأول لموطأ ابن وهب، وكذلك بحر بن نصر.

قال أبو يعلى بن خليل الخليلي: وآخر من روى عن ابن وهب، من الثقات، يونس بن عبد الأعلى، والربيع بن سليمان، ومحمد بن عبد الله بن عبد الحكم.

وقال أيضا: نظر الشافعي رحمه الله تعالى في كتب ابن وهب، ونسخ

--------------------------------------------

(1) انظر معرفة علوم الحديث: 241.

(2) انظر المنتخب في الإرشاد 1/ 255.

শুরাইহ আল-গাফেকি, হাইওয়াহ বিন শুরাইহ আত-তুজিবি এবং অন্যান্যগণ(১)।

এবং তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের মধ্যে যারা সেখানে বসবাস করতেন, তাদের মধ্যে ছিলেন মুহাদ্দিসগণ, ফকিহগণ এবং বিচারক, ক্বারি, সাহিত্যিক ও কবিগণের মধ্য হতে অন্যান্যরা।

যখন ইবনুল ওয়াহাব তাঁর অঞ্চলের শায়েখদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করলেন এবং ইলম বৃদ্ধির প্রতি তাঁর আগ্রহ তীব্র হলো, তখন তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় সফর করেন—যা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ, তাঁর খলিফাগণ এবং মুহাজির ও আনসার সন্তানদের মধ্য হতে তাঁদের অনুসারীদের (তাবেয়ীদের) আবাসস্থল। সেখানে তিনি দারুল হিজরতের ইমাম, ইমাম মালিকের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তিনি মিশরীয়দের মধ্যে ইমাম মালিকের অন্যতম প্রধান ছাত্রে পরিণত হন।

ইবনুল ওয়াহাব এবং ইবনুল কাসিম ইমাম মালিকের ইলমকে মিশরে স্থানান্তরিত করেন, যে পর্যন্ত না ইমাম শাফেয়ী মিশরে আগমন করেন এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন ও একে তাঁর ইলমি মারকাজ হিসেবে গ্রহণ করেন(২)। এটি সুবিদিত যে, মিশরে শাফেয়ীর আগমন ঘটেছিল ১৯৮ হিজরিতে এবং তিনি সেখানে ২০৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; আর মিশরে তাঁর আগমনের বছরটি ছিল ইবনুল ওয়াহাবের মৃত্যুর পরের বছর।

ইবনুল কাসিম ১৯১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, যা ছিল ইবনুল ওয়াহাবের মৃত্যুর ছয় বছর পূর্বে। সে অনুযায়ী ইবনুল কাসিমের মৃত্যুর পর এবং শাফেয়ীর আগমনের পূর্বে ইবনুল ওয়াহাবই এই ইলমি ধারার নেতৃত্ব প্রদান করেন। ফলে শাফেয়ীর ছাত্রগণ মূলত ইবনুল ওয়াহাবেরই ছাত্র ছিলেন; যেমন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম, যাকে ইবনুল ওয়াহাবের মুয়াত্তার প্রথম বর্ণনাকারী হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং অনুরূপভাবে বাহর বিন নাসর।

আবু ইয়ালা বিন খলীল আল-খলীলী বলেন: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা ইবনুল ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে সর্বশেষ হলেন ইউনুস বিন আব্দুল আলা, রাবী বিন সুলাইমান এবং মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম।

তিনি আরও বলেন: ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ তাআলা ইবনুল ওয়াহাবের কিতাবসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রতিলিপি করেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন মারেফাতু উলূমিল হাদীস: ২৪১।

(২) দেখুন আল-মুনতাখাব ফিল ইরশাদ ১/ ২৫৫।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ١٥)
أكثرها(1).

وعلى هذا فتعتبر مصر من معاقل العلم، في حياة ابن وهب، حيث جمعت علم المدينة، والعراق، وغيرهما ..

فهذه نبذة قصيرة عن الحركة العلمية في مصر، موطن الامام عبد الله. بن وهب، رحمه الله تعالى، وأسكنه فسيح جناته.

***

--------------------------------------------

(1) انظر: المنتخب في الإرشاد: 1/ 255.

তার অধিকাংশই(১).

সেই ভিত্তিতে, ইবনে ওয়াহবের জীবদ্দশায় মিশরকে ইলমের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে মদিনা, ইরাক এবং অন্যান্য স্থানের ইলম একত্রিত হয়েছিল...

এটি ছিল ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহব (রহিমাহুল্লাহ)-এর আবাসভূমি মিশরের ইলমি তৎপরতা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে তাঁর প্রশস্ত জান্নাতে স্থান দান করুন।

***

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুনতাখাব ফিল ইরশাদ: ১/ ২৫৫।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌الفصل الثاني:

[اسمه كنيته نسبه ولادته أسرته]

‌‌أولا: اسمه وكنيته:

هو عبد الله بن وهب(1) بن مسلم، القرشي بالولاء، المصري، صاحب

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته مرتبة حسب التسلسل الزمني:

* الطبقات الكبرى لابن سعد، المتوفى سنة 230 هـ 7/ 518.

* تاريخ يحيي بن معين، المتوفى سنة 232 هـ 2/ 236.

* التاريخ الكبير للبخاري، المتوفى سنة 356 هـ 50/ 218.

* كتاب المعرفة والتاريخ، لأبي يوسف يعقوب به سفيان، المتوفى سنة 277 هـ 2/ 183.

* تاريخ الثقات للعجلي، المتوفى سنة 261 هـ ص: 283.

* تاريخ أبي زرعة الدمشقي، عبد الرحمن بن عمرو، المتوفى سنة 281 هـ 2/ 146.

* الجرح والتعديل لعبد الرحمن بن أبي حاتم الرازي، المتوفى سنة 327 هـ 5/ 189.

* كتاب الثقات، لابن حبان، المتوفى سنة 354، 8/ 346 * الكامل في ضعفاء الرجال، لأبي أحمد عبد الله بن عدي الجرجاني، المتوفى سنة 365 هـ 4/ 1518.

* كتاب الفهرست، لابن النديم، المتوفى سنة 380 هـ ص: 252.

* طبقات الفقهاء، لأبي إسحاق الشيرازي، المتوفى سنة 393 هـ ص: 297.

* رجال صحيح البخاري، الهداية والإرشاد، لأبي نصر أحمد بن محمد الكلاباذي المتوفى سنة 398 هـ 1/ 432.

* الانتقاء في فضائل الثلاثة الفقهاء، لابن عبد البر، المتوفى سنة 463 هـ ص 48 - 50.

* رجال صحيح مسلم، لأحمد بن علي بن منجويه الأصبهاني، المتوفى سنة 428 هـ 1/ 396.

* ترتيب المداركللقاضي عياض المتوفى سنة 421544 - 432.

* الأنساب لمحمد بن منصور التميمي السمعاني، المتوفى سنة 563 هـ 13/ 369.

* وفيات الأعيان لابن خلكان، المتوفى سنة 681 هـ 3/ 36.

* تهذيب الكمال في أسماء الرجال. لجمال الدين بن يوسف المزي، المتوفى سنة 742 هـ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

[তাঁর নাম, উপনাম, বংশপরিচয়, জন্ম ও পরিবার]

প্রথমত: তাঁর নাম ও উপনাম:

তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব(১) বিন মুসলিম, আনুগত্যের সূত্রে কুরাইশী, মিসরীয়, প্রণেতা...

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ কালানুক্রমিকভাবে সাজানো:

* ইবনে সা'দ রচিত আত-তবাকাতুল কুবরা, মৃত্যু ২৩০ হিজরি, ৭/ ৫১৮।

* ইয়াহইয়া বিন মাঈনের তারিখ, মৃত্যু ২৩২ হিজরি, ২/ ২৩৬।

* ইমাম বুখারী রচিত আত-তারিখুল কাবীর, মৃত্যু ৩৫৬ হিজরি, ৫০/ ২১৮।

* আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন সুফিয়ান রচিত কিতাবুল মা'রিফাত ওয়াত তারিখ, মৃত্যু ২৭৭ হিজরি, ২/ ১৮৩।

* আল-ইজলী রচিত তারিখুস সিকাত, মৃত্যু ২৬১ হিজরি, পৃষ্ঠা: ২৮৩।

* আবু জুরআ আদ-দিমাশকী আবদুর রহমান বিন আমরের তারিখ, মৃত্যু ২৮১ হিজরি, ২/ ১৪৬।

* আবদুর রহমান বিন আবি হাতেম আর-রাজি রচিত আল-জারহু ওয়াত তা'দীল, মৃত্যু ৩২৭ হিজরি, ৫/ ১৮৯।

* ইবনে হিব্বান রচিত কিতাবুস সিকাত, মৃত্যু ৩৫৪ হিজরি, ৮/ ৩৪৬ * আবু আহমদ আবদুল্লাহ বিন আদি আল-জুরজানী রচিত আল-কামিল ফি দুয়াফাউর রিজাল, মৃত্যু ৩৬৫ হিজরি, ৪/ ১৫১৮।

* ইবনুন নাদীম রচিত কিতাবুল ফিহরিস্ট, মৃত্যু ৩৮০ হিজরি, পৃষ্ঠা: ২৫২।

* আবু ইসহাক আশ-শিরাজী রচিত তাবাকাতুল ফুকাহা, মৃত্যু ৩৯৩ হিজরি, পৃষ্ঠা: ২৯৭।

* আবু নাসর আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কালাবাযী রচিত রিজালু সহীহিল বুখারী (আল-হিদায়াহ ওয়াল ইরশাদ), মৃত্যু ৩৯৮ হিজরি, ১/ ৪৩২।

* ইবনে আবদিল বার রচিত আল-ইনতিকা ফি ফাদায়িলিস সালাসা আল-ফুকাহা, মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি, পৃষ্ঠা ৪৮ - ৫০।

* আহমদ বিন আলী বিন মানজুওয়াইহ আল-আসবাহানি রচিত রিজালু সহীহি মুসলিম, মৃত্যু ৪২৮ হিজরি, ১/ ৩৯৬।

* কাযী ইয়ায রচিত তারতীবুল মাদারিক, মৃত্যু ৪২১৫৪৪ হিজরি - ৪৩২।

* মুহাম্মদ বিন মনসুর আত-তামিমী আস-সামআনী রচিত আল-আনসাব, মৃত্যু ৫৬৩ হিজরি, ১৩/ ৩৬৯।

* ইবনে খাল্লিকান রচিত ওয়াফায়াতুল আইয়ান, মৃত্যু ৬৮১ হিজরি, ৩/ ৩৬।

* জামালুদ্দীন বিন ইউসুফ আল-মিযযী রচিত তাহযীবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল, মৃত্যু ৭৪২ হিজরি।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ١٧)
الامام مالك بن أنس، امام دار الهجرة، رحمه الله تعالى، يكنى أبا محمد(1).

--------------------------------------------

(1) * كتاب الديباج المذهب في معرفة علماء أعيان المذهب، لابن فرحون ص 133.

* شجرة النور الزكية في طبقات المالكية، لمحمد محمد مخلوف.

* سير أعلام النبلاء للذهبي، المتوفي سنة 748 هـ 9/ 223 - 234.

* وكتابه أيضا العبر في أخبار من غبر 1/ 251.

* وأيضا تذكرة الحفاظ 1/ 304 - 306.

* وكتابه أيضا دولالإسلام 1/ 124.

* وأيضا كتابه ميزان الاعتدال في نقد الرجال: 2/ 521 - 523.

* وكتاب أيضا كتاب المعين في طبقات المحدثين ص 66 * وأيضا الأمصار ذوات الآثار: 168.

* غاية النهاية في طبقات القراء، لأبي الخير محمدبن محمد الجزري، المتوفى سنة 833 هـ، 1/ 463.

* تهذيب التهذيب، للحافظ ابن حجر العسقلاني، المتوفى سنة 852 هـ، 1/ 421 - 432.

* وكتابه أيضا تقريب التهذيب 328.

* النجوم الزاهرة في ملوك مصر والقاهرة، لجمال الدين يوسف بن ثغري بردى، المتوفى سنة 874 هـ 2/ 155.

* طبقات الحفاظ للسيوطي. المتوفى سنة 911 هـ ص: 132.

* وكتابه أيضا حسن المحاضرة في تاريخ مصر والقاهرة، 1/ 302.

* خلاصة تهذيب الكمال في أسماء الرجال، لأحمد بن عبدالله الخزرجي، المتوفى سنة 923 هـ، ص 218.

* شذرات الذهب في أخبار من ذهب لابن العماد الحنبلي. المتوفى سنة 1089 هـ 1/ 327.

* كشف الظنون عن أسامي الكتب والفنون، لحاجي خليفة، المتوفى سنة 1067 هـ 2/ 1907.

ইমাম মালিক বিন আনাস, ইমাম দারে হিজরাহ, আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মাদ(১)।

--------------------------------------------

(১) * ইবনে ফারহুন রচিত কিতাব আদ-দিবাজ আল-মুজাহহাব ফি মারিফাতি উলামায়ি আয়ানিল মাজহাব, পৃষ্ঠা ১৩৩।

* মুহাম্মদ মুহাম্মদ মাখলুফ রচিত শাজারাতুন নূর আজ-জাকিয়্যাহ ফি তবাকাতিল মালিকিয়্যাহ।

* আয-যাহাবি রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা, মৃত্যু সন ৭৪৮ হিজরি, ৯/ ২২৩ - ২৩৪।

* এবং তাঁরই রচিত কিতাব আল-ইবার ফি আখবারি মান গাবার ১/ ২৫১।

* এবং আরও তাজকিরাতুল হুফফাজ ১/ ৩০৪ - ৩০৬।

* এবং তাঁরই রচিত কিতাব দুওয়ালুল ইসলাম ১/ ১২৪।

* এবং তাঁরই রচিত কিতাব মিজানুল ইতিদাল ফি নাকদির রিজাল: ২/ ৫২১ - ৫২৩।

* এবং তাঁরই রচিত কিতাব আল-মুঈন ফি তবাকাতিল মুহাদ্দিসিন পৃষ্ঠা ৬৬ * এবং আরও আল-আমসার যাওয়াতুল আসার: ১৬৮।

* আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-জাজারি রচিত গায়াতুন নিহায়াহ ফি তবাকাতিল কুররা, মৃত্যু সন ৮৩৩ হিজরি, ১/ ৪৬৩।

* হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি রচিত তাহযীবুত তাহযীব, মৃত্যু সন ৮৫২ হিজরি, ১/ ৪২১ - ৪৩২।

* এবং তাঁরই রচিত কিতাব তাকরীবুত তাহযীব ৩২৮।

* জামালুদ্দিন ইউসুফ বিন তাগরি বারদি রচিত আন-নুজুমুজ জাহিরাহ ফি মুলুকি মিসর ওয়াল কাহিরাহ, মৃত্যু সন ৮৭৪ হিজরি ২/ ১৫৫।

* আস-সুয়ুতি রচিত তবাকাতুল হুফফাজ, মৃত্যু সন ৯১১ হিজরি পৃষ্ঠা: ১৩২।

* এবং তাঁরই রচিত কিতাব হুসনুল মুহাদারা ফি তারিখি মিসর ওয়াল কাহিরাহ, ১/ ৩০২।

* আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-খাজরাজি রচিত খুলাসাতু তাহযীবিল কামাল ফি আসমায়ির রিজাল, মৃত্যু সন ৯২৩ হিজরি, পৃষ্ঠা ২১৮।

* ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বালি রচিত শাযারাতুজ জাহাব ফি আখবারি মান জাহাব, মৃত্যু সন ১০৮৯ হিজরি ১/ ৩২৭।

* হাজ্জি খলিফা রচিত কাশফুজ জুনুন আন আসামিল কুতুবি ওয়াল ফুনুন, মৃত্যু সন ১০৬৭ হিজরি ২/ ১৯০৭।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌[ثانيا: نسبه]

هو الامام عبد الله بن وهب بن مسلم، هكذا اقتصر أصحاب المصادر المذكورة سابقا، على جده (مسلم).

إلا أن القاضي عياض قال: قال أبو الطاهر: كان جده (مسلم) بربريا(1) ولم تختلف مصادر ترجمة ابن وهب في اسمه، ولا في محل ولادته، وكنيته، وانما اختلفوا في ولاء جده (مسلم):

فقيل: جده مسلم، مولى يزيد(2) بن رمانة.

ويقال: مولى بني فهر، قاله الباجي(3) وقال الدارقطني: مولى يزيد بن ربابة، مولى يزيد بن أنس الفهري.

وقال أبو عمر: مولى يزيد بن رمانة، مولى آل شيبان بن محارب بن فهر.

وقيل: ان ابن رمانة مولى امرأة من الأنصار، من بني بياضة، كان زوجها فهريا، فرجع ولاؤه الى بنيه بسببها.

وقال البخاري: مولى رمانة.

وقال ابن أبي حاتم: مولى ابن رمانة، مولى فهر.

وقال ابن شعبان، وابن عبد البر: مولى ريحانة، مولاة لأبي عبد الرحمن، يزيد بن أنس الفهري.

--------------------------------------------

(1) انظر ترتيب المدارك للقاضي عياض 1/ 421.

(2) انظر ترتيب المدارك، للقاضي عياض 1/ 421.

(3) في كتابه التعديل والتجريح لمن خرج له البخاري في الجامع الصحيح 2/ 150.

[দ্বিতীয়: তাঁর বংশপরিচয়]

তিনি হলেন ইমাম আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব বিন মুসলিম। ইতিপূর্বে উল্লিখিত সূত্রসমূহের লেখকগণ তাঁর দাদা (মুসলিম) পর্যন্তই তাঁর বংশপরিচয় সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

তবে কাজী আইয়াজ বলেন: আবু তাহের বলেছেন: তাঁর দাদা (মুসলিম) ছিলেন বারবারি বংশোদ্ভূত।(১) ইবনে ওয়াহাবের জীবনী গ্রন্থসমূহের উৎসগুলো তাঁর নাম, জন্মস্থান বা উপনামের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত করেনি; বরং তারা কেবল তাঁর দাদা (মুসলিম)-এর মাওলা হওয়া বা আনুগত্যের (ওয়ালা) সম্পর্কের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন:

বলা হয়েছে: তাঁর দাদা মুসলিম ছিলেন ইয়াজিদ(২) বিন রুমানার মাওলা।

আরও বলা হয়: তিনি বনু ফিহরের মাওলা, এটি বাজি(৩) বলেছেন। আর দারা কুতনি বলেছেন: তিনি ইয়াজিদ বিন রাবাবাহ-এর মাওলা, যিনি ইয়াজিদ বিন আনাস আল-ফিহরির মাওলা ছিলেন।

আবু উমর বলেন: তিনি ইয়াজিদ বিন রুমানার মাওলা, যিনি শায়বান বিন মুহারিব বিন ফিহর পরিবারের মাওলা ছিলেন।

আবার বলা হয়েছে: ইবনে রুমানা আনসারদের বনু বায়াদাহ গোত্রের একজন মহিলার মাওলা ছিলেন; তাঁর স্বামী ছিলেন ফিহরি বংশীয়, ফলে সেই মহিলার কারণে তাঁর সন্তানদের প্রতি তাঁর আনুগত্যের সম্পর্ক (ওয়ালা) ফিরে যায়।

আল-বুখারি বলেন: রুমানার মাওলা।

ইবনে আবি হাতিম বলেন: ইবনে রুমানার মাওলা, ফিহরের মাওলা।

ইবনে শাবান এবং ইবনে আবদিল বার বলেন: রায়হানার মাওলা, যিনি আবু আবদুর রহমান ইয়াজিদ বিন আনাস আল-ফিহরির মুক্তদাসী (মাওলাহ) ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: কাজী আইয়াজ রচিত তারতিবুল মাদারিক ১/৪২১।

(২) দেখুন: তারতিবুল মাদারিক, কাজী আইয়াজ ১/৪২১।

(৩) তাঁর কিতাব 'আত-তাদিল ওয়াত-তাজরিহ লিমান খাররাজা লাহু আল-বুখারি ফিল জামিইস সহিহ' ২/১৫০-এ।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ١٩)
وقال الكندي: وكان ابن وهب فيما زعموا: ربما قال: الأنصاري، وربما قال: القرشي، ثم ثبت على القرشي.

وقال ابن بكير: وجدت شهادته في صك (الأنصاري)(1) فهذه الأقوال الثلاثة تدور على أنه ما قرشي. بالولاء، أو فهري، أو أنصاري بالولاء.

ولا يخفى أن القرشي، والفهري، لا تعارض بينهما، لأن قريشا لقب لفهر، أو هو اسمه الأصلي.

قال السهيلي(2): فهر بن مالك، هو قريش، فمن كان من ولده قرشي، ومن لم يكن من ولده فليس بقرشي.

وقال حماد المجلسي في تحفة الألباب(3):

قريش النضر وقيل فهر … وبالبطاح كعب استقروا

وقال غيره:

أما قريش فالأصح فهر … جميعها والأكثرون النضر

وعلى هذا، فيبقى الخلاف في ولائه بين القرشي والأنصاري ..

ويمكن ترجيح القرشي على الأنصاري، بعده مرجحات، منها: ما رجحه هو بنفسه فما ذكره الكندي حيث قال: كان ابن وهب فيما زعموا: ربما قال:

الأنصاري، وربما قال: القرشي، ثم ثبت على القرشي.

ومنها: أن نسبته للقرشي أكثر من نسبته للأنصاري في سائر المصادر.

ومنها أن المرأة الأنصارية التي كان ولاؤه لها، كان زوجها فهريا، فرجع ولاؤه الى بنيه بسببها، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) هذه الأقوال كلها في ترتيب المدارك، للقاضي عياض 1/ 431.

(2) انظر الروض الآنف للسهيلي 1/ 115 - 116.

(3) تحفة الألباب شرح الأنساب لحماد المجلسي الموريتاني 2/ 63.

আল-কিন্দি বলেন: তাদের ভাষ্যমতে ইবনে ওয়াহাব মাঝে মাঝে বলতেন: আনসারি, আবার মাঝে মাঝে বলতেন: কুরাশি; এরপর তিনি কুরাশি পরিচয়ের ওপরই অটল থাকেন।

ইবনে বুকাইর বলেন: আমি একটি দলিলে তাঁর সাক্ষ্য খুঁজে পেয়েছি যেখানে (আল-আনসারি) লেখা ছিল।(১) সুতরাং এই তিনটি বর্ণনা এই বিষয়ের ওপর আবর্তিত হয় যে, তিনি কুরাশি (বন্ধুত্বের সূত্রে), অথবা ফিহরি, অথবা আনসারি (বন্ধুত্বের সূত্রে)।

এটি অস্পষ্ট নয় যে, কুরাশি এবং ফিহরি পরিচয়ের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ 'কুরাইশ' হলো ফিহরের উপাধি, অথবা এটিই তাঁর আসল নাম।

আস-সুহাইলি বলেন(২): ফিহর বিন মালিক-ই হলেন কুরাইশ। সুতরাং যে তাঁর বংশধর সে কুরাশি, আর যে তাঁর বংশধর নয় সে কুরাশি নয়।

হাম্মাদ আল-মজলিসি 'তুহফাতুল আলবাব'-এ বলেন(৩):

কুরাইশ হলো নাদর, আবার বলা হয় ফিহর … এবং বাতহা উপত্যকায় কাব (বংশীয়রা) বসতি স্থাপন করেছিল।

অন্য একজন বলেন:

কুরাইশ হওয়ার ব্যাপারে অধিকতর সঠিক মত হলো ফিহর … এর সকলেই, তবে অধিকাংশের মতে নাদর।

এর ওপর ভিত্তি করে, তাঁর বন্ধুত্বের (বিলা-এর) ক্ষেত্রে কুরাশি ও আনসারি হওয়ার মাঝে মতপার্থক্য থেকে যায়...

কয়েকটি প্রমাণের ভিত্তিতে আনসারির ওপর কুরাশি হওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব, যার মধ্যে রয়েছে: যা তিনি নিজেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং যা আল-কিন্দি উল্লেখ করেছেন যে: তাদের ভাষ্যমতে ইবনে ওয়াহাব মাঝে মাঝে বলতেন:

আনসারি, আবার মাঝে মাঝে বলতেন: কুরাশি; এরপর তিনি কুরাশি পরিচয়ের ওপরই অটল থাকেন।

আরও একটি কারণ হলো: অন্যান্য সকল উৎসে তাঁর কুরাশি হওয়ার সম্পৃক্ততা আনসারি হওয়ার তুলনায় অধিক পরিমাণে দেখা যায়।

আরেকটি কারণ হলো, যে আনসারি মহিলার সাথে তাঁর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল, তাঁর স্বামী ছিলেন ফিহরি। ফলে ওই মহিলার মাধ্যমে তাঁর বন্ধুত্বের সম্পর্ক তাঁর (স্বামীর) সন্তানদের দিকে স্থানান্তরিত হয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) এই সকল বক্তব্যই কাযী ইয়াযের 'তারতীবুল মাদারিক', ১/৪৩১-এ রয়েছে।

(২) সুহাইলির 'আর-রাওদুল উনুফ' দেখুন, ১/১১৫ - ১১৬।

(৩) হাম্মাদ আল-মজলিসি আল-মরিতানির 'তুহফাতুল আলবাব শারহুল আনসাব', ২/৬৩।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٢٠)
والقرشي الذي صار ولاؤه له، يزيد بن أنس بن عبد الرحمن الفهري. أبو عبد الرحمن الفهري، القرشي، من بني فهر بن مالك بن النضر بن كنانة، له صحبة، ورواية.

قال الو اقدي: اسمه عبد، وقال غيره: اسمه يزيد بن أنيس، وقيل: اسمه كرز بن ثعلبة، شهد مع النبي صلى الله عليه وسلم حنينا، ووصف الحرب يومئذ، فقال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا عباد الله، انا عبد الله ورسوله، ثم قال: يا معشر المهاجرين: أنا عبد الله ورسوله .. الخ(1) وقال السيوطي في كتابه: در السحابة فيمن دخل مصر من الصحابة: يزيد بن أنيس بن عبدالله أبو عبد الرحمن الفهري، قال ابن الربيع: شهد فتح مصر،، ولم يرو الا حديثا واحدا في غزوة حنين، ورواه عنه غير أهل مصر(2) وقال ابن عبد الحكم: واسم أبى عبد الرحمن: يزيد بن أنيس بن عبد الله بن عمرو بن حبيب بن عمرو بن شيبان بن محارب بن فهر(3) وعلى هذا، فمرد الروايات كلها في ولاء (مسلم) والد عبد الله بن وهب، الى فهر، وهو قريش، والله أعلم.

 

‌‌[ثالثا: ميلاده]

:

لقد اختلف في تاريخ ميلاد عبد الله بن وهب:

قال ابن عبد البر: ولد سنة أربع وعشرين ومائة، في ذي القعدة(4).

وقال مرة أخرى: ولد ابن وهب بمصر، سنة خمس وعشرين ومائة، في ذي

--------------------------------------------

(1) الاستيعاب 4/ 137، والاصابة 4/ 128.

(2) انظر حسن المحاضرة في تاريخ مصر والقاهرة، 1/ 242، للسيوطي.

(3) انظر فتوح مصر وأخبارها لأبي القاسم عبد الرحمن بن عبد الحكم ص: 136.

(4) الانتنقاء لابن عبدالبر: 48.

এবং সেই কুরাইশী ব্যক্তি যার প্রতি তাঁর আনুগত্য (ওয়ালা) বর্তায়, তিনি হলেন ইয়াযিদ ইবনে আনাস ইবনে আবদুর রহমান আল-ফিহরি। আবু আবদুর রহমান আল-ফিহরি, কুরাইশী, বনু ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নদর ইবনে কিনানা বংশের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সাহচর্য লাভ করেছেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন।

ওয়াকিদি বলেছেন: তাঁর নাম ‘আবদ’। অন্যরা বলেছেন: তাঁর নাম ইয়াযিদ ইবনে আনিস। আবার বলা হয়েছে: তাঁর নাম কুরয ইবনে সা’লাবা। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হুনাইন যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং সেদিনের যুদ্ধের বর্ণনা দিয়ে বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "হে আল্লাহর বান্দারা, আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।" অতঃপর তিনি বললেন: "হে মুহাজির সম্প্রদায়, আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল..." ইত্যাদি।(১) সুয়ূতি তাঁর গ্রন্থে (দুররুস সাহাবাহ ফীমান দাখালা মিসরা মিনাস সাহাবাহ) বলেছেন: ইয়াযিদ ইবনে আনিস ইবনে আবদুল্লাহ আবু আবদুর রহমান আল-ফিহরি। ইবনুর রাবি’ বলেছেন: তিনি মিসর বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং হুনাইন যুদ্ধ সম্পর্কে মাত্র একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা মিসরের অধিবাসী নয় এমন ব্যক্তিরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।(২) ইবনে আবদিল হাকাম বলেছেন: আবু আবদুর রহমানের নাম হলো ইয়াযিদ ইবনে আনিস ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হাবিব ইবনে আমর ইবনে শাইবান ইবনে মুহারিব ইবনে ফিহর।(৩) এই ভিত্তিতে আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহবের পিতা (মুসলিম)-এর আনুগত্য (ওয়ালা) সম্পর্কিত সকল বর্ণনার উৎস হলো ফিহর, যা কুরাইশ বংশের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[তৃতীয়ত: তাঁর জন্ম]

:

আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহবের জন্মের তারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে:

ইবনে আবদিল বার বলেছেন: তিনি একশত চব্বিশ হিজরির জিলকদ মাসে জন্মগ্রহণ করেন।(৪)।

তিনি পুনরায় বলেছেন: ইবনে ওয়াহব একশত পঁচিশ হিজরিতে মিসরে জন্মগ্রহণ করেন...

--------------------------------------------

(১) আল-ইসতিয়াব ৪/১৩৭, এবং আল-ইসাবাহ ৪/১২৮।

(২) দেখুন সুয়ূতির হুসনুল মুহাদারা ফী তারিখি মিসরা ওয়াল কাহিরা, ১/২৪২।

(৩) দেখুন আবু কাসিম আবদুর রহমান ইবনে আবদিল হাকাম রচিত ফুতুহু মিসরা ওয়া আখবারুহা, পৃষ্ঠা: ১৩৬।

(৪) ইবনে আবদিল বারের আল-ইনতিকা: ৪৮।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٢١)
القعدة(1) وقال الذهبي: ولد سنة 125 هـ(2) وقال ابن عدي في كامله: حدثنا أحمد بن علي المدائني، ثنا يونس بن عبد الأعلى، قال: قال لي عبد الله بن وهب: ولدت سنة خمس وعشرين رمانة(3) وقال القاضي عياض: ولد عبد الله بن وهب بمصر، سنة خمس وعشرين ومائة، وقيل: سنة أربع وعشرين ومائة(4) وفال ابن حجر: قال ابن يونس، حدثني أبي، عن جدي، قال:

سمعت ابن وهب يقول: ولدت سنة مائة وخمس وعشرين(5) وأرجح الأقوال أنه ولد سنة خمس وعشرين ومائة، وذلك لأنه أخبر هو بذلك، وأكثر المصادر المترجمة له تصدر بذلك، ويأتون بقيل في الروايات الأخرى، والله. أعلم.

 

‌‌[رابعا: أسرته]

أسرة ابن وهب، أسرة علم، فيما اطلعت عليه من أخباره، وان كانت كتب التاريخ والتر التراجم لم يتوفر فيها كثير من أخبار أسرته.

يقول صاحب اللباب في تهذيب الأنساب (الوهبي): بفتح الواو وسكون الهاء، وفي آخرها ياء موحدة: هذه النسبة الى وهب البصري، واشتهر بالنسبة اليه أبو عبيدالله أحمد بن عبدالرحمن بن وهب الوهبي،

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق.

(2) سير أعلام النبلاء، للذهبي 9/ 223.

(3) الكامل لابن عدي 4/ 125.

(4) ترتيب المدارك للقاضي عياض 1/ 432.

(5) تقريب التهذيب 6/ 73، للحافظ ابن حجر.

আল-ক্বাদা(১) এবং আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি ১২৫ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন।(২) ইবনে আদি তাঁর 'কামিল' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আলি আল-মাদায়িনি, তিনি ইউনুস বিন আবদুল আ'লা থেকে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাকে বলেছেন: আমি একশত পঁচিশ (রুম্মানাহ) সালে জন্মগ্রহণ করেছি।(৩) কাযি ইয়াদ বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব মিশরে ১২৫ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়ে থাকে: ১২৪ হিজরি সালে।(৪) ইবনে হাজার বলেছেন: ইবনে ইউনুস বলেছেন, আমার পিতা আমার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমি ইবনে ওয়াহাবকে বলতে শুনেছি: আমি ১২৫ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেছি।(৫) আর অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো তিনি ১২৫ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেছেন; কেননা তিনি নিজেই এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর জীবনী বিষয়ক অধিকাংশ উৎসগ্রন্থ এটিকেই প্রারম্ভে উল্লেখ করেছে এবং অন্যান্য বর্ণনাগুলোকে 'বলা হয়ে থাকে' হিসেবে পেশ করেছে। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।

 

‌‌[চতুর্থত: তাঁর পরিবার]

আমি তাঁর সম্পর্কে যে সংবাদ অবগত হয়েছি সে অনুযায়ী ইবনে ওয়াহাবের পরিবার ছিল একটি ইলমি পরিবার, যদিও ইতিহাস এবং জীবনীগ্রন্থগুলোতে তাঁর পরিবারের খুব বেশি সংবাদ পাওয়া যায় না।

'আল-লুবাব ফি তাহযিবিল আনসাব' গ্রন্থের লেখক বলেন (আল-ওয়াহাবি): ওয়াও বর্ণের উপরে যবর এবং হা বর্ণের উপরে সুকুন যোগে, এবং এর শেষে একটি একক 'ইয়া' রয়েছে: এই নিসবত বা সম্বন্ধটি বসরি ওয়াহাবের দিকে। আর তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে আবু উবাইদুল্লাহ আহমাদ বিন আবদুর রহমান বিন ওয়াহাব আল-ওয়াহাবি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস।

(২) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, আয-যাহাবি ৯/ ২২৩।

(৩) আল-কামিল, ইবনে আদি ৪/ ১২৫।

(৪) তারতিবুল মাদারিক, কাযি ইয়াদ ১/ ৪৩২।

(৫) তাকরিবুত তাহযিব ৬/ ৭৩, হাফিজ ইবনে হাজার।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٢٢)
المصري، يروى عن عمه عبد الله بن وهب(1) ويقول ابن عدي الجرجاني في كامله: وسمعت محمد بن محمد بن الأشعث، يقول: كنا عند أبي عبيد الله بن أخي ابن وهب، فمر عليه هارون بن سعيد الأيلي، وهو راكب، فسلم عليه، ثم قال: ألا أطرفك بشيء؟ فقال له: أبو عبيد الله، وما ذاك؟ قال:

جاءني أصحاب الحديث، فسألوني عنك، فقلت لهم: انما يسأل أبو عبيد الله عنا، وليس نحن نسأل عنه، وهو الذي كان يستملي لنا عند عمه، وهو الذي كان يقرأ لنا على عمه(2) روى أحد بن عبد الرحمن بن وهب عن عمه، عبد الله بن وهب، فأكثر عنه، وعن الشافعي، وإسحاق بن الفرات، وغيرهم(3) وروى عنه مسلم بن الحجاج، وابن خزيمة، وأبو حاتم، وابن جرير، والساجي، وغيرهم.

وأحمد هذا له أخ اسمه عبد العفيفي بن عبد الرحمن بن وهب، يكنى السري، روى عن أسد بن الفرات وغيره(4) ثم ذكر خبر ابن عدي.

ولابن وهب أخ آخر اسمه عمر بن وهب، قيل: له حديث.

وقال ابن يونس: وكان لعبد الله بن وهب ابن اسمه حميد، ذكر الكندي أنه كان مقبولا عند قضاة مصر.

وقال الطحاوي: كانت فيه بطالة(5) ولعل عنده ابن آخر ولم يعش اسمه محمد، وهو الذي كنى به، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) انظر اللباب في تهذيب الأنساب لابن الأثير 3/ 375 - 376، والأنساب للسمعاني 13/ 369، وسير أعلام النبلاء 9/ 224.

(2) الكامل في ضعفاء الرجال، لابن عدي 1/ 188، وتهذيب التهذيب 1/ 54.

(3) انظر ترتيب المدارك للقاضي عياض 1/ 428 - 432، وتهذيب التهذيب 1

(4) انظر ترتيب المدارك، للقاضي عياض 1/ 428 - 432، وتهذيب التهذيب 1/ 54.

(5) المدارك. للقاضي عياض 1/ 433.

আল-মিসরি, তিনি তাঁর চাচা আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেন(১) এবং ইবনে আদি আল-জুরজানি তাঁর 'আল-কামিল' গ্রন্থে বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আশ'আসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা ইবনে ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র আবু উবাইদুল্লাহর নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় হারুন ইবনে সাঈদ আল-আইলি আরোহী অবস্থায় তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁকে সালাম দিলেন, তারপর বললেন: আমি কি আপনাকে একটি চমৎকার সংবাদ দেব না? আবু উবাইদুল্লাহ তাঁকে বললেন: সেটা কী? তিনি বললেন:

আমার কাছে হাদীস অন্বেষণকারীরা এসেছিল এবং তারা আমাকে আপনার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল। তখন আমি তাদের বললাম: মূলত আবু উবাইদুল্লাহই আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হওয়ার যোগ্য, আমরা তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হওয়ার মতো (যোগ্য) নই। তিনিই তাঁর চাচার মজলিসে আমাদের জন্য হাদীস লিখে নিতেন এবং তিনিই আমাদের জন্য তাঁর চাচার নিকট হাদীস পাঠ করতেন(২) আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াহাব তাঁর চাচা আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি শাফেয়ী, ইসহাক ইবনুল ফুরাত এবং অন্যদের থেকেও বর্ণনা করেছেন(৩) এবং তাঁর থেকে মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, ইবনে খুযাইমাহ, আবু হাতিম, ইবনে জারির, আস-সাজি এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

এবং এই আহমদের এক ভাই ছিলেন যার নাম ছিল আব্দুল আফিফি ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াহাব, তাঁর উপনাম ছিল আস-সাররি। তিনি আসাদ ইবনুল ফুরাত ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন(৪) এরপর তিনি ইবনে আদির বর্ণনাটি উল্লেখ করেন।

এবং ইবনে ওয়াহাবের অন্য একজন ভাই ছিলেন যার নাম ছিল উমর ইবনে ওয়াহাব; বলা হয় যে, তাঁর বর্ণিত হাদীস রয়েছে।

ইবনে ইউনুস বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাবের হুমাইদ নামে এক পুত্র ছিল। আল-কিন্দি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মিশরের বিচারকদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন।

আর তহাবি বলেন: তাঁর মধ্যে অলসতা ছিল(৫) সম্ভবত তাঁর মুহাম্মদ নামে অন্য একজন পুত্র ছিল যে শৈশবেই মারা গিয়েছিল, যার নামানুসারে তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) রাখা হয়েছিল। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল আসিরের ‘আল-লুবাব ফি তাহযিবিল আনসাব’ ৩/৩৭৫-৩৭৬, সাম'আনির ‘আল-আনসাব’ ১৩/৩৬৯ এবং ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ ৯/২২৪।

(২) ইবনে আদির ‘আল-কামিল ফি দুয়াফাউর রিজাল’ ১/১৮৮ এবং ‘তাহযিবুত তাহযিব’ ১/৫৪।

(৩) দেখুন: কাযি ইয়াযের ‘তারতিবুল মাদারিক’ ১/৪২৮-৪৩২ এবং ‘তাহযিবুত তাহযিব’ ১।

(৪) দেখুন: কাযি ইয়াযের ‘তারতিবুল মাদারিক’ ১/৪২৮-৪৩২ এবং ‘তাহযিবুত তাহযিব’ ১/৫৪।

(৫) ‘আল-মাদারিক’, কাযি ইয়ায ১/৪৩৩।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وقال القاضي عياض: قال محمد بن عبد الحكم: بيعت كتب ابن وهب بعد وفاته، فبلغت قيمتها خمسمائة دينار، وفي رواية ثلاثمائة دينار وستين، وأصحابنا متوافرون، وكان أبي وصيه، فلم ينكر ذلك أحد، ولولا أنه أوصى بعضهم الا يزيد، لبلغت أكثر.

وروى أنه دفع لاحدى زوجتيه من ثمنها ثمانون دينارا، ولم يورث بولد(1) ولعل ولده الذي ذكره ابن يونس، أن اسمه حميد، مات قبله.

لأن القاضي عياض ذكر نقلا عن المبسوطة، أن ابن وهب لم يورث بولد.

--------------------------------------------

(1) المدارك للقاضي عياض 1/ 428 - 432.

এবং কাযী আইয়ায বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদিল হাকাম বলেছেন: ইবনে ওয়াহাবের ইন্তেকালের পর তাঁর কিতাবসমূহ বিক্রি করা হয়েছিল, যার মূল্য পাঁচশত দিনারে পৌঁছেছিল; আর অন্য এক বর্ণনায় তিনশত ষাট দিনার। আমাদের সাথীরা বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন এবং আমার পিতা তাঁর অসি (উত্তরাধিকার নির্বাহক) ছিলেন। বিষয়টি কেউ অস্বীকার করেনি। আর যদি তিনি (আমার পিতা) তাদের কাউকে কাউকে দাম না বাড়াতে অনুরোধ না করতেন, তবে এর মূল্য আরও বেশি হতো।

বর্ণিত আছে যে, তিনি সেই বিক্রয়মূল্য থেকে তাঁর এক স্ত্রীকে আশি দিনার প্রদান করেছিলেন। তিনি কোনো সন্তানকে উত্তরাধিকারী রেখে যাননি(১)। সম্ভবত তাঁর যে সন্তানের কথা ইবনে ইউনুস উল্লেখ করেছেন এবং যার নাম হুমাইদ ছিল, সে তাঁর পূর্বেই ইন্তেকাল করেছিল।

কারণ কাযী আইয়ায 'আল-মাবসুত' থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে ওয়াহাব কোনো সন্তানকে উত্তরাধিকারী রেখে যাননি।

--------------------------------------------

(১) কাযী আইয়াযের আল-মাদারিক ১/ ৪২৮ - ৪৩২।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌الفصل الثالث نشأته ورحلته في طلب العلم

‌‌[الرحلة في طلب العلم]

كانت الرحلة في طلب الحديث قائمة في عهد الصحابة رضي الله عنهم، فقد ارتحل بعض الصحابة لطلب حديث واحد، فيقطعون المسافة الطويلة لهذا الغرض النبيل، لأن الصحابة تفرقوا في الأمصار.

ومما يروى في رحلة الصحابة، ما حدث به عطاء بن أبي رباح، قال: خرج أبو أيوب الأنصاري الى عقبة بن عامر، ليسأله عن حديث سمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يبق أحد سمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم غيره، وغير عقبة.

والغرض من ذلك، التأكيد في سماع هذا الحديث، فلما قدم أبو أيوب الى منزل مسلمة بن مخلد الأنصاري، وهو أمير مصر، فأخبره، فعجل عليه، فخرج اليه فعانقه، ثم قال له: ما جاء بك يا أبا أيوب؟ فقال: حديث سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يبق أحد سمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم غيري وغير عقبة، فابعث من يدلني على منزله .. الخ(1) وهكذا صنع جابر بن عبد الله، سافر شهرا من المدينة الى الشام(2) وكثرة الرحلات عن التابعين لا تحصى، من ذلك ما يروى عن أبي العالية: كنا نسمع الرواية من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بالبصرة، فلم نرض حتى نركب الى المدينة، فنسمعها من أفواههم(3).

وهكذا عن الشعبي، وسعيد بن المسيب، وأبي قلابة، ومسروقا ..

--------------------------------------------

(1) انظر معرفة علوم الحديث، للحاكم، 8. وجامع بيان العلم وفضله لابن عبدالبر 93 - 94.

(2) انظر المرجع السابق 93.

(3) الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع 168.

তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর সফর

[জ্ঞান অন্বেষণে সফর]

সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগেই হাদীস অন্বেষণে সফরের প্রচলন ছিল। কতিপয় সাহাবী মাত্র একটি হাদীস অন্বেষণের জন্য সফর করতেন; তাঁরা এই মহৎ উদ্দেশ্যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতেন, কারণ সাহাবীগণ বিভিন্ন শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিলেন।

সাহাবীদের সফরের বিষয়ে আতা ইবনে আবি রাবাহ যা বর্ণনা করেছেন তা হলো: আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) উকবা ইবনে আমিরের উদ্দেশ্যে বের হলেন, যেন তাঁকে এমন একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন যা তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছিলেন এবং তখন উকবা ও তিনি ছাড়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি শুনেছেন এমন কেউ অবশিষ্ট ছিল না।

আর এর উদ্দেশ্য ছিল সেই হাদীসটি সরাসরি শোনার বিষয়টি নিশ্চিত করা। যখন আবু আইয়ুব (রা.) মিশরের আমীর মাসলামা ইবনে মুখাল্লাদ আনসারীর বাসভবনে পৌঁছালেন, তখন মাসলামা (রা.) তাঁর আসার সংবাদ পেয়ে দ্রুত তাঁর কাছে বেরিয়ে এলেন এবং তাঁকে আলিঙ্গন করলেন। তারপর তাঁকে বললেন: হে আবু আইয়ুব! আপনাকে কিসে নিয়ে এসেছে? তিনি বললেন: একটি হাদীস যা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি; আমি ও উকবা ছাড়া এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন এমন কেউ আর বেঁচে নেই। সুতরাং এমন একজনকে পাঠান যে আমাকে তাঁর বাড়ির পথ দেখিয়ে দেবে... ইত্যাদি।(১) এভাবেই জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) মদীনা থেকে সিরিয়া পর্যন্ত এক মাস সফর করেছিলেন।(২) তাবেয়ীদের থেকে বর্ণিত এ জাতীয় সফরের আধিক্য তো অগণিত। তন্মধ্যে আবু আল-আলিয়া থেকে বর্ণিত: আমরা বসরায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের থেকে হাদীস শুনতাম, কিন্তু যতক্ষণ না সওয়ারিতে চড়ে মদীনায় গিয়ে সরাসরি তাঁদের মুখ থেকে তা শুনতাম, ততক্ষণ আমরা সন্তুষ্ট হতাম না।(৩)।

শা'বী, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আবু কিলাবা এবং মাসরূক থেকেও অনুরূপ বর্ণনা পাওয়া যায়...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মা'রিফাতু উলূমিল হাদীস, আল-হাকিম, পৃষ্ঠা ৮; এবং জামেউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, ইবনুল বার, পৃষ্ঠা ৯৩-৯৪।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৯৩।

(৩) আল-জামে' লি-আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি', পৃষ্ঠা ১৬৮।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وأخبار العلماء ورحلاتهم كثيرة، يضيق المقام بذكرها.

ويقول الخطيب البغدادي: المقصود من الرحلة في الحديث أمران ان:

أحدهما تحصيل علو الاسناد، وقدم السماع، والثاني: لقاء الحفاظ، والمذاكرة لهم، والاستفادة منهم، فاذا كان الامران موجودان في بلد الطالب ومعدومان في غيره، فلا فائدة في الرحلة، فالاقتصار على ما في البلد أولى(1).

 

‌‌[نشاته رحلته في طلب العلم]

بالنظر الى سيرة الامام عبد الله بن وهب، نجد أنه نشأ في طاعة الله، وقدم أولا النسك والعبادة على طلب العلم ..

يقول ابن وهب في وصف حاله: وكان أول أمري في العبادة قبل طلب العلم، فولع مني الشيطان في ذكر عيسيكيف خلقه الله عز وجل؟ ونحو هذا، فشكوت ذلكالى شيخ، فقال لي: يا ابن وهب؟ قلت: نعم، قال: اطلب العلم، فكان ذلك سبب طلبي للعلم(2) فكانت هذه النصيحة حافزا له على النهل من العلم وطلبه، فطلبه في سنّ مبكرة، واختلفت المصادر في تحديد سنه عند طلبه للعلم، وان تقاربت في ذلك.

قال ابن وضاح: وسمع العلم صغيرا، ابن ست عشرة سنة.

قال سحنون عنه: طلبت العلم وأنا ابن سبع عشرة سنة(3) وقال أحمد بن عبد الله بن يونس: حدثني أبي، عن جدي، قال: سمعت ابن وهب يقول:

طلبت العلم وأنا ابن سبع عشرة سنة(4) ورواية طلبه للعلم في سن سبع

--------------------------------------------

(1) انظر الرحلة في طلب الحديث ص 472، والجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع، الخطيب البغدادي، 178 - 179.

(2) جامع بيان العلم وفضله. لابن عبدالبر، 1/ 26 - 27، ترتيب المدارك للقاضي عياض 1/ 428.

(3) ترتيب المدارك لعياض 1/ 422.

(4) تهذيب الكمال للمزي 2/ 754. وتهذيب التهذيب لابن حجر 6/ 73.

আলেমদের সংবাদ এবং তাঁদের সফরসমূহ অনেক, যা বর্ণনা করার জন্য এই স্থান সংকীর্ণ।

খতীব আল-বাগদাদী বলেন: হাদীস অন্বেষণে সফরের উদ্দেশ্য হলো দুটি বিষয়:

একটি হলো উচ্চমানের সনদ অর্জন করা এবং প্রাচীন শ্রুতি লাভ করা; দ্বিতীয়টি হলো হাফেজদের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাঁদের সাথে আলোচনা করা এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হওয়া। যদি এই দুটি বিষয় শিক্ষার্থীর নিজ শহরেই বিদ্যমান থাকে এবং অন্য কোথাও না থাকে, তবে সফরের কোনো ফায়দা নেই। সেক্ষেত্রে নিজ শহরে যা আছে তার ওপর সীমাবদ্ধ থাকাই উত্তম(১)।

 

‌‌[তাঁর বেড়ে ওঠা এবং ইলম অন্বেষণে তাঁর সফর]

ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহবের জীবনী লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি আল্লাহর আনুগত্যের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন এবং শুরুতে ইলম অন্বেষণের চেয়ে ইবাদত ও বন্দেগিকে প্রাধান্য দিয়েছেন...

ইবনে ওয়াহাব নিজের অবস্থা বর্ণনা করে বলেন: ইলম অন্বেষণের আগে শুরুতে আমার অবস্থা ছিল ইবাদতে মগ্ন থাকা। তখন শয়তান আমার মনে ঈসা সম্পর্কে কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করল যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাঁকে কীভাবে সৃষ্টি করেছেন? এবং এই জাতীয় বিষয়। আমি এ ব্যাপারে একজন শায়খের কাছে অভিযোগ করলাম। তিনি আমাকে বললেন: হে ইবনে ওয়াহাব! আমি বললাম: জ্বি। তিনি বললেন: ইলম অর্জন করো। আর এটাই ছিল আমার ইলম অন্বেষণের কারণ(২)। এই নসিহতটি তাঁর জন্য ইলম আহরণ ও অন্বেষণে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছিল। ফলে তিনি অল্প বয়সেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন। ইলম অন্বেষণের সময় তাঁর বয়স কত ছিল তা নির্ধারণে উৎসগুলোতে মতভেদ থাকলেও সেগুলো কাছাকাছি।

ইবনে ওয়াদদাহ বলেন: তিনি ছোটবেলায় ইলম শ্রবণ করেছেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর।

সুহনুন তাঁর থেকে বর্ণনা করেন: আমি ইলম অন্বেষণ শুরু করেছি যখন আমার বয়স ১৭ বছর(৩)। আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউনুস বলেন: আমার পিতা আমার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে ওয়াহাবকে বলতে শুনেছি:

আমি ইলম অন্বেষণ শুরু করেছি যখন আমার বয়স ১৭ বছর(৪)। আর সাত বছর বয়সে ইলম অন্বেষণের বর্ণনাটি...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আর-রিহলা ফী তলাবিল হাদীস, পৃষ্ঠা ৪৭২; এবং আল-জামে লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামি, খতীব আল-বাগদাদী, ১৭৮ - ১৭৯।

(২) জামে বয়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি, ইবনে আবদিল বারর, ১/২৬ - ২৭; তারতীবুল মাদারিক, কাজী আয়ায, ১/৪২৮।

(৩) তারতীবুল মাদারিক, আয়ায, ১/৪২২।

(৪) তাহযীবুল কামাল, মিযযী, ২/৭৫৪; এবং তাহযীবুত তাহযীব, ইবনে হাজার, ৬/৭৩।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٢٦)
عشرة سنة هي الأظهر، حيث رواها عدد من تلاميذه عنه، ورجحها الذهبي(1) والرواية الأخرى تقاربها من حيث الفترة الزمنية، فأقبل على طلب العم بنهم، وسمع أولا من شيوخ بلده في مدينة الفسطاط(2) التي ولد بها، وتوفي، وعلى رأسهم الليث بن سعد، وعمرو بن الحارث، وحميد بن هانيء، وحيوة بن شريح، وحسين بن عبد الله المعافري، وسعيد بن أبي أيوب، وعياض بن عبد الله الفهري، وعبد الرحمن بن شريح، وعبد الله بن لهيعة، وغيرهم من أهل مصر.

قال السيوطي: كان ابن وهب راوية عمرو بن الحارث(3) وذلك لشدة ملازمته له، وأخذه عنه، ولسعة علم شيخه عمرو بن الحارث، حتى أن ابن وهب قال: سمعت من ثلاثمائة وسبعين شيخا، فما رأيت أحدا أحفظ من عمرو بن الحارث .. قال: ولو بقي لنا عمرو بن الحارث ما احتجنا الى مالك ولا الى غيره(4) وظل عبد الله بن وهب ملازما لشيخه هذا، حتى توفي سنة 148 هـ.

وفي هذه السنة، ارتحل ابن وهب الى الحجاز للحج، وطلب العلم، بعد أن تعلم على مشائخ بلده.

ومن المعلوم أن طالب العلم قبل أن يبتديء بالرحلة في طلب العلم، يحفظ ويدون علوم شيوخ بلده، ثم يرتحل بعد ذلك لطلب العلم في بلد آخر.

ثم خرج وعمره ثلاث وعشرون سنة، بعد أن مكث بطلب العلم في بلده ست سنوات، وقد التقى في رحلته لمكة والمدينة، بعدد كثير من المحدثين من أهل العراق، والحجاز، وغيرهم، وأكثر الأخذ عن علماء هذه الأقطار،

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء. للذهبي 9/ 223، وتاريخ الإسلام له أيضا. وفيات 267.

(2) اسم لمصر التي بناها مصرام بن حام بن نوح، ولما فتحها عمرو بن العاص بنى بها فسطاطا، فسميت بذلك، الروض المعطار، لمحمد بن عبد المنعم الحميري، المتوفى سنة 749 هـ ص: 441.

(3) حسن المحاضرة في تاريخ مصر والقاهرة، للسيوطي 1/ 300.

(4) وفيات الأعيان. لابن خلكان 3/ 324، وتهذيب التهذيب 6/ 15.

সতের বছর বয়স হওয়াই সবচেয়ে স্পষ্ট মত, কারণ এটি তাঁর একদল ছাত্র তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং যাহাবী(১) এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অন্য বর্ণনাটিও সময়ের ব্যাপ্তির দিক থেকে এর কাছাকাছি। তিনি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ করেন এবং প্রথমে তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর শহর ফুসতাতের(২) শায়খদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেন। তাঁদের শীর্ষে ছিলেন লাইস ইবন সা'দ, আমর ইবনুল হারিস, হুমাইদ ইবনে হানি, হাইওয়া ইবনে শুরাইহ, হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুয়াফিরি, সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব, ইয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ফিহরি, আব্দুর রহমান ইবনে শুরাইহ, আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া এবং মিশরের অন্যান্য অধিবাসীগণ।

সুয়ূতী বলেন: ইবনে ওয়াহাব ছিলেন আমর ইবনুল হারিসের(৩) প্রধান বর্ণনাকারী, কারণ তিনি তাঁর সাথে নিবিড়ভাবে লেগে থাকতেন এবং তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করতেন। এছাড়া তাঁর শায়খ আমর ইবনুল হারিসের ইলমের ব্যাপকতার কারণে ইবনে ওয়াহাব বলেছেন: আমি তিনশ সত্তরজন শায়খের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেছি, কিন্তু আমর ইবনুল হারিসের চেয়ে বড় হাফেজ আর কাউকে দেখিনি... তিনি আরও বলেন: যদি আমর ইবনুল হারিস আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতেন, তবে আমাদের মালিক কিংবা অন্য কারো মুখাপেক্ষী হতে হতো না।(৪) আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব তাঁর এই শায়খের সাথেই লেগে ছিলেন, এমনকি তিনি ১৪৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

এই বছরেই ইবনে ওয়াহাব হজ্জ পালন এবং ইলম অন্বেষণের জন্য হিজাজের উদ্দেশ্যে সফর করেন, নিজ শহরের শায়খদের নিকট শিক্ষা গ্রহণের পর।

এটি সর্বজনবিদিত যে, একজন ইলম অন্বেষী জ্ঞান অন্বেষণে সফরে বের হওয়ার আগে নিজ শহরের শায়খদের ইলম মুখস্থ ও লিপিবদ্ধ করেন, এরপর তিনি অন্য দেশে ইলম অর্জনের জন্য সফর করেন।

এরপর তিনি তেইশ বছর বয়সে সফরে বের হন, নিজ শহরে ছয় বছর ইলম অন্বেষণে অতিবাহিত করার পর। মক্কা ও মদীনার সফরে তিনি ইরাক, হিজাজ ও অন্যান্য অঞ্চলের অসংখ্য মুহাদ্দিসের সাথে সাক্ষাত করেন এবং এই অঞ্চলসমূহের আলেমদের নিকট থেকে প্রচুর পরিমাণে ইলম গ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা। যাহাবী ৯/ ২২৩ এবং তাঁর রচিত তারিখুল ইসলাম। ওফিয়াত ২৬৭।

(২) এটি মিশরের একটি নাম যা মিসরাম ইবনে হাম ইবনে নূহ নির্মাণ করেছিলেন। যখন আমর ইবনুল আস এটি জয় করেন, তখন সেখানে একটি তাবু (ফুসতাত) স্থাপন করেন, তাই এর এই নামকরণ করা হয়েছে। আর-রওদুল মিতার, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুনইম আল-হিময়ারি, মৃত্যু ৭৪৯ হিজরী, পৃষ্ঠা: ৪৪১।

(৩) হুসনুল মুহাদারা ফি তারিখি মিসরা ওয়াল কাহিরা, সুয়ূতী ১/ ৩০০।

(৪) ওফিয়াতুল আইয়ান। ইবনে খাল্লিকান ৩/ ৩২৪ এবং তাহযীবুত তাহযীব ৬/ ১৫।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٢٧)
فأصبح جامعا لعلمهم.

قال ابن وضاح: كان أهل الحجاز يحتاجون لابن وهب في علم الحجاز، وأهل العراق في علم العراق(1) ويقول ابن وهب: أدركت من أصحاب ابن شهاب أكثر من عشرين رجلا، فقد أكثر من الحديث، ولذا قال: لولا مالك، والليث، لضللت، فيقولان له: خذ هذا، واترك هذا(2).

قال القاضي عياض: وله نحو أربعمائة شيخ من المصريين، والحجازيين، والعراقيين، حتى عاب عليه شيخه مالك ذلك، فقال له: أي فتى لولا الاكثار.

وسبب هذه الكثرة هو اقباله على طلب العلم، بنهم وحرص شديدين(3).

ولقد أتاح له سكنه في المدينة مع ما جبلت عليه نفسه في أول أمره، من طلب العبادة والتنسك، حتى. إنه حج ستا وثلاثين، مرة، مما يتيح له اللقاء بالعلماء، وكما قال تعالى: {لِيَشْهَدُوا مَنافِعَ لَهُمْ}(4) قال سحنون: قسم ابن وهب دهره أثلاثا: ثلثا في الحج، وثلثا يعلم الناس بمصر، وثلثا في الرباط، وذكر أنه حج ستا وثلاثين حجة(5) وكان تكراره للحج يتيح له لقاء المحدثين، والأخذ عنهم، وكذلك عند عودته للمدينة لا يترك وقته يضيع سدى، بل يستقل كل فرصة، فيقول عن نفسه: رأيت هشام بن عروة جالسا في مسجد النبي صلى الله عليه وسلم فقلت: آخذ عن ابن سمعان، وأصير الى ابن هشام، فلما فرغت، قمت الى منزل هشام، فقالوا: قد نام، فقلت: أحج وأرجع، فرجعت، فوجدته قد مات(6) ولكنه لزم عالم ومفتي المدينة الذي وثق في علمه وورعه، فلازمه حتى وفاته سنة 179 هـ.

قال أبو طاهر بن السرح: لم يزل ابن وهب يسمع من مالك، من سنة 148 هـ

--------------------------------------------

(1) ترتيب المدارك، 1/ 422.

(2) شجرة النور الزكية لابن فرحون ص: 133.

(3) المرجع السابق 1/ 422، 423.

(4) سورة الحج الآية 28.

(5) سيرأعلام النبلاء. للذهبي 9/ 226.

(6) تاريخ الإسلام للذهبي، وفيات 91 - 200، ص 265، وترتيب المدارك 1/ 427.

ফলে তিনি তাঁদের ইলমের সংগ্রাহক হয়ে উঠলেন।

ইবনে ওয়াদদাহ বলেন: হিজাজবাসীরা হিজাজের ইলমের জন্য এবং ইরাকবাসীরা ইরাকের ইলমের জন্য ইবনে ওয়াহবের মুখাপেক্ষী ছিল(১) আর ইবনে ওয়াহব বলতেন: আমি ইবনে শিহাবের বিশজনেরও বেশি ছাত্রকে পেয়েছি; তিনি প্রচুর হাদীস বর্ণনা করতেন। এই কারণেই তিনি বলতেন: যদি মালিক এবং লাইস না থাকতেন, তবে আমি পথভ্রষ্ট হতাম। তাঁরা তাঁকে বলতেন: এটি গ্রহণ করো আর ওটি বর্জন করো(২)।

কাজী আয়াজ বলেন: মিশরীয়, হিজাজী এবং ইরাকীদের মধ্য থেকে তাঁর প্রায় চারশ শায়খ ছিলেন। এমনকি তাঁর শায়খ ইমাম মালিক তাঁর এই আধিক্যের জন্য সমালোচনা করে তাঁকে বলেছিলেন: হে যুবক! যদি হাদীসের এই আধিক্য না থাকতো।

আর এই আধিক্যের কারণ ছিল ইলম অন্বেষণে তাঁর তীব্র ক্ষুধা ও প্রবল আগ্রহ(৩)।

মদীনায় তাঁর বসবাস এবং তাঁর শুরুর দিকের স্বভাবজাত ইবাদত ও পরহেজগারির প্রতি ঝোঁক তাঁকে এই সুযোগ করে দিয়েছিল। এমনকি তিনি ছত্রিশবার হজ সম্পাদন করেন, যা তাঁকে আলেমদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ করে দিত। যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানসমূহে উপস্থিত হতে পারে}(৪) সাহনুন বলেন: ইবনে ওয়াহব তাঁর জীবনকে তিন ভাগে ভাগ করেছিলেন: এক-তৃতীয়াংশ হজে, এক-তৃতীয়াংশ মিশরে মানুষকে শিক্ষা প্রদানে এবং এক-তৃতীয়াংশ রিবাতের (সীমান্ত পাহারা) কাজে। এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ছত্রিশবার হজ করেছেন(৫)। তাঁর বারবার হজ করার ফলে মুহাদ্দিসদের সাথে দেখা করার এবং তাঁদের কাছ থেকে ইলম গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হতো। একইভাবে মদীনায় ফিরে আসার পর তিনি তাঁর সময় বৃথা নষ্ট হতে দিতেন না, বরং প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতেন। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন: আমি হিশাম ইবনে উরওয়াহকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে বসে থাকতে দেখলাম। আমি ভাবলাম: আগে ইবনে সামআনের কাছ থেকে শুনে নিই, তারপর হিশামের কাছে যাব। যখন আমি অবসর হলাম এবং হিশামের বাড়ির দিকে গেলাম, তখন তারা বলল: তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি ভাবলাম: আমি হজ করে ফিরে আসি। কিন্তু ফিরে আসার পর তাঁকে মৃত অবস্থায় পেলাম(৬)। তবে তিনি মদীনার সেই আলেম ও মুফতির সান্নিধ্যে ছিলেন, যাঁর ইলম ও তাকওয়ার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা ছিল। ১৭৯ হিজরিতে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তাঁর সাথেই ছিলেন।

আবু তাহের ইবনুল সারাহ বলেন: ইবনে ওয়াহব ১৪৮ হিজরি থেকে ক্রমাগত ইমাম মালিকের নিকট হতে ইলম শ্রবণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তারতীবুল মাদারিক, ১/৪২২।

(২) ইবনে ফারহুন রচিত শাজারাতুন নূর আজ-জাকিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ১৩৩।

(৩) পূর্বোক্ত সূত্র, ১/৪২২, ৪২৩।

(৪) সূরা আল-হজ, আয়াত ২৮।

(৫) আয-যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৯/২২৬।

(৬) আয-যাহাবীর তারিখুল ইসলাম, ওফাত ৯১-২০০, পৃষ্ঠা ২৬৫ এবং তারতীবুল মাদারিক ১/৪২৭।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الى أن مات مالك.

فكانت مدة سماعه من شيخه مالك 31 سنة.

وحدد الشيرازي فترة ملازمته لشيخه مالك بعشرين سنة، حيث قال: صحب ابن وهب مالكا عشرين سنة.

ولكن بالنظر الى تاريخ قدومه المدينة عند وفاة شيخه عمرو بن الحارث سنة 148، وملازمته لمالك حتى وفاته سنة 179 يتبين أن مدة أخذه عنه ومصاحبته له 31 سنة، وان كان قبل ملازمته له في المدينة يلقاه في الحج، ثم يعود الى مصر.

قال ابن وضاح: حج ابن وهب سنة 144، وفيها لقي مالكا، ولم يسمع منه الا مسألة واحدة ة، سمع فيها المثنى بن الصباح بمكة، والمسألة التي سمع من مالك في الجمع بين المغرب والعشاء في المطر(1).

فمكثه الطويل، مع حرصه على سماع العلم منه، واجتهاده، جعلت بينه وبين شيخه مودة ومحبة، فقربه اليه، وخصه بأمور منعها عن غيره.

ومن ذلك قوله: سألت مالكا أن يخليني في شيء يعرضه لي ففعل، فأنا عنده أقرأ عليه، إذ استأذن عليه عبدالصمد الهاشمي، والي المدينة فسأل مثل ما سألته، فأبى، وقال: قد أرادني الخليفة على هذا، فلم أجبه فقلت في نفسي، كيف لم يحتج عليه بي(2).

وكان مالك يسأل عنه يتفقده، اذا غاب، ويهاديه ويدنيه منه، ويعظمه، ويدل على ذلك قول ابن وهب: قال لي مالك: ما خلفك عنا منذ ليال؟ قال:

كنت أرمد .. قال مالك: أحسب من كتب الليل؟ قلت: أجل، فصاح مالك بالجارية، فهاتي من ذلك الكحل لصديقي المصري ابن وهبا(3) وكانت هذه المودة معروفة عند تلاميذ مالك، قال إسماعيل بن قعنب: كنت مع ابن وهب عند مالك، فكانت الهدية تأتي مالكا بالنهار، فيهديها لابن وهب في

--------------------------------------------

(1) ترتيب المدارك للقاضي عياض 1/ 422.

(2) المرجع السابق 1/ 426 - 427.

(3) المرجع السابق 1/ 427.

মালিকের মৃত্যু পর্যন্ত।

ফলে তার শায়খ মালিকের নিকট থেকে শ্রবণের (শিক্ষার) সময়কাল ছিল ৩১ বছর।

শীরাজী তার শায়খ মালিকের সাথে সাহচর্যের সময়কালকে বিশ বছর হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: ইবনে ওয়াহাব বিশ বছর মালিকের সংস্পর্শে ছিলেন।

তবে ১৪৮ হিজরীতে তার শায়খ আমর বিন আল-হারিসের মৃত্যুর সময় মদীনায় তার আগমনের তারিখ এবং ১৭৯ হিজরীতে মালিকের মৃত্যু পর্যন্ত তার সাথে সাহচর্যের প্রতি লক্ষ্য করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, তার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং সাহচর্যের সময়কাল ছিল ৩১ বছর। যদিও মদীনায় নিয়মিত থাকার পূর্বে হজের সময় তিনি তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং পরে মিশরে ফিরে যেতেন।

ইবনে ওয়াদদাহ বলেন: ইবনে ওয়াহাব ১৪৪ হিজরীতে হজ করেন এবং সেখানে মালিকের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। তখন তিনি তার নিকট থেকে মাত্র একটি মাসআলা শ্রবণ করেছিলেন। তিনি সেখানে মক্কায় মুসান্না বিন আস-সাব্বাহর নিকট থেকেও শুনেছিলেন। আর মালিকের নিকট থেকে তিনি যে মাসআলাটি শুনেছিলেন তা হলো বৃষ্টির সময় মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করা সম্পর্কে।(১)

তার দীর্ঘ অবস্থান, ইলম শ্রবণের প্রতি গভীর আগ্রহ এবং পরিশ্রম তার ও তার শায়খের মধ্যে এক প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করেছিল। ফলে তিনি (মালিক) তাকে নিজের কাছে টেনে নেন এবং তাকে এমন কিছু বিষয়ে বিশেষ সুযোগ দেন যা অন্যদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল।

এরই একটি উদাহরণ হলো তার এই কথা: আমি মালিকের নিকট আবেদন জানালাম যেন তিনি আমার জন্য কিছু সময় একান্তে বরাদ্দ করেন যেখানে তিনি আমাকে (ইলম) পেশ করবেন, তিনি তাই করলেন। আমি তার কাছে বসে তাকে পড়ে শুনাচ্ছিলাম, এমন সময় মদীনার গভর্নর আবদুস সামাদ আল-হাশেমী তার কাছে আসার অনুমতি চাইলেন। তিনিও আমার মতো একই আবেদন জানালেন, কিন্তু তিনি (মালিক) তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন: খলিফাও আমার কাছে এমনটি চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি তাকে ইতিবাচক সাড়া দেইনি। তখন আমি মনে মনে বললাম, তিনি কেন আমার কথা তার কাছে প্রমাণ হিসেবে পেশ করলেন না।(২)

মালিক তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেন এবং অনুপস্থিত থাকলে তালাশ করতেন। তাকে উপহার দিতেন, নিজের কাছে টেনে নিতেন এবং তাকে সম্মান করতেন। ইবনে ওয়াহাবের এই উক্তিটি এর প্রমাণ দেয়: মালিক আমাকে বললেন: গত কয়েক রাত কেন আমাদের থেকে দূরে ছিলে? তিনি বললেন:

আমার চোখের রোগ হয়েছিল... মালিক বললেন: আমার মনে হয় রাতে কিতাব লেখার কারণে এমন হয়েছে? আমি বললাম: হ্যাঁ। তখন মালিক তার দাসীকে ডেকে বললেন, আমার এই মিশরীয় বন্ধু ইবনে ওয়াহাবের জন্য সেই সুরমা নিয়ে এসো।(৩) এই প্রীতি ও ভালোবাসা মালিকের ছাত্রদের মাঝে সুবিদিত ছিল। ইসমাইল বিন কা'নাব বলেন: আমি ইবনে ওয়াহাবের সাথে মালিকের কাছে ছিলাম। দিনের বেলা মালিকের কাছে কোনো উপহার আসলে তিনি তা ইবনে ওয়াহাবকে উপহার দিতেন

--------------------------------------------

(১) কাযী ইয়াজের তারতীবুল মাদারিক ১/ ৪২২।

(২) পূর্বোক্ত উৎস ১/ ৪২৬ - ৪২৭।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস ১/ ৪২৭।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٢٩)
الليل، وكان من محبته له يحيطه بالنصح والتوجيه، فيقول له: اتق الله واقتصر على علمك، فانه لا يقتصر أحد على علمه الا نفع وانتفع، فان كنت تريد لما طلبت ما عند الله، فقد أصبت ما تنفع به، وان كنت تريد بما تعلمت الدنيا، فليس في يدك شيء(1) وكان يجله ويحترمه، قال القاضي عياض: ما من أحد الا زجره مالك، الا ابن وهب، فانه كان يحبه ويعظمه، وكان ابن وهب حريصا على ألا يفوته شيء من علم مالك.

قال أحمد بن صالح: لم يكن مالك يتكلم بشيء الا كتبه ابن وهب، وكانت العلاقة بينهما متينة، حتى أنه يعرض عليه ما كتب، فيقر الصواب، ويمحو الخطأ.

قال ابن وهب: كنت آتي مالكا، وهو شاب، قوي، يأخذ كتابي فيقرأ منه، وربما وجد الخط فيأخذ خرقة، فيبلها في الماء فيمحوه، ويكتب لي الصواب(2) ولذلك برع في علم مالك، وتفوق على قرنائه، ويقرون له بالتقدم والتفوق في علم شيخهم الامام مالك.

قال هارون القاضي الزهري: كان أصحاب مالك بالمدينة يختلفون في قول مالك بعد وفاته، فينتظرون قدوم ابن وهب، فيصيرون عن رأيه، وشهد له عدد من العلماء بصحة ما أخذ عن مالك.

قال علي بن الجنيد: سمعت أبا مصعب يعظم ابن وهب، وقال ابن وهب:

كنت بين يدي مالك أكتب، فأقيمت الصلاة وبين يديه كتب منشورة، فبادرت لأجمعها، فقال لي: على رسلك، فليس ما تقدم عليه بأفضل مما أنت فيه، اذا صحت فيه النية.

وقال ابن وهب: ما تعلمت من أدب مالك أكثر مما تعلمت من علمه(3) ومن توجيهات مالك لابن وهب قوله له: خير الأمور ما كان واضحا بينا أمره، وان كنت في أمرين، أنت منهما في شك، فخذ بالذي هو أوفق.

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق 1/ 190.

(2) ترتيب المدارك، للقاضي عياض 1/ 426.

(3) سير أعلام النبلاء 8/ 113.

রাত; আর তাঁর প্রতি তাঁর ভালোবাসার কারণে তিনি তাঁকে নসিহত ও দিকনির্দেশনা দিয়ে আগলে রাখতেন এবং বলতেন: আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার অর্জিত ইলমের ওপর সীমাবদ্ধ থাকো। কেননা, যে ব্যক্তিই নিজের ইলমের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, সে নিজে উপকৃত হয় এবং অন্যদের উপকৃত করে। যদি তুমি তোমার অন্বেষণের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে যা আছে তা লাভ করতে চাও, তবে তুমি এমন কিছু অর্জন করেছ যা দিয়ে তুমি উপকৃত হতে পারবে। আর যদি তুমি যা শিখেছ তার মাধ্যমে দুনিয়া চাও, তবে তোমার হাতে কিছুই নেই।(১) তিনি তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন। কাজী আয়াজ বলেন: ইমাম মালিক ইবনুল ওয়াহাব ব্যতীত এমন কাউকে পাননি যাকে তিনি ধমক দেননি; কারণ তিনি তাঁকে ভালোবাসতেন এবং সম্মান করতেন। আর ইবনুল ওয়াহাব ইমাম মালিকের ইলমের কোনো কিছুই যাতে তাঁর হাতছাড়া না হয়, সে ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।

আহমাদ বিন সালেহ বলেন: ইমাম মালিক যা-ই বলতেন, ইবনুল ওয়াহাব তা লিখে নিতেন। তাঁদের মধ্যাকার সম্পর্ক এতটাই দৃঢ় ছিল যে, এমনকি তিনি যা লিখেছেন তা ইমামের কাছে পেশ করতেন; অতঃপর ইমাম সঠিক অংশটি বহাল রাখতেন এবং ভুলটুকু মুছে দিতেন।

ইবনুল ওয়াহাব বলেন: আমি মালিকের কাছে আসতাম যখন তিনি যুবক ও শক্তিশালী ছিলেন। তিনি আমার খাতাটি নিতেন এবং তা থেকে পাঠ করতেন। কখনো কখনো তিনি ভুল লেখা দেখতে পেতেন, তখন তিনি একটি কাপড়ের টুকরো নিতেন এবং তা পানিতে ভিজিয়ে লেখাটি মুছে দিতেন এবং আমার জন্য সঠিকটি লিখে দিতেন।(২) এই কারণেই তিনি ইমাম মালিকের ইলমে পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান; আর তাঁরাও তাঁদের উস্তাদ ইমাম মালিকের ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রগামিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দিতেন।

হারুন আল-কাজী আজ-জুহরি বলেন: মদিনায় ইমাম মালিকের ছাত্ররা তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কোনো বক্তব্যের ব্যাপারে মতভেদ করলে তাঁরা ইবনুল ওয়াহাবের আগমনের অপেক্ষা করতেন এবং তাঁর মতের দিকেই ফিরে আসতেন। অনেক আলেম ইমাম মালিকের কাছ থেকে তাঁর গ্রহণকৃত ইলমের বিশুদ্ধতার সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আলী বিন আল-জুনায়েদ বলেন: আমি আবু মুসআবকে ইবনুল ওয়াহাবকে সম্মান করতে শুনেছি। ইবনুল ওয়াহাব বলেন:

আমি মালিকের সামনে বসে লিখছিলাম, এমতাবস্থায় সালাতের একামত হয়ে গেল। তাঁর সামনে তখন অনেকগুলো কিতাব খোলা ছিল। আমি সেগুলো দ্রুত গুছিয়ে নিতে উদ্যত হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: "ধীরস্থির হও। তুমি যে কাজের (সালাতের) দিকে অগ্রসর হচ্ছ তা তুমি যে কাজে (ইলম অন্বেষণে) নিযুক্ত আছ তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়, যদি এতে নিয়ত সহীহ থাকে।"

ইবনুল ওয়াহাব বলেন: আমি ইমাম মালিকের ইলম থেকে যা শিখেছি, তাঁর আদব (শিষ্টাচার) থেকে তার চেয়ে বেশি শিখেছি।(৩) ইবনুল ওয়াহাবের প্রতি ইমাম মালিকের দিকনির্দেশনাগুলোর মধ্যে একটি হলো তাঁর এই উক্তি: "সর্বোত্তম কাজ হলো যা সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার। আর যদি তুমি দুটি বিষয়ের মধ্যে পড়ো এবং তা নিয়ে সন্দেহে থাকো, তবে যেটি অধিকতর সংগতিপূর্ণ সেটি গ্রহণ করো।"

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস ১/ ১৯০।

(২) তারতীবুল মাদারিক, কাজী আয়াজ ১/ ৪২৬।

(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা ৮/ ১১৩।

(খণ্ড: ١) মুয়াত্তা ইবনে ওয়াহাব আস-সাগীর (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وقوله له: أد ما سمعت وحسبك، ولا تجعل لأحد على ظهرك، فانه يقال:

أخسر الناس من باع آخرته بدنياه، وأخسر منه من باع اّخرته بدنيا غيره(1) وقوله له: انه لم يكن يسلم رجل حدث بكل ما سمع.

ومما قال له: ان حقا على من طلب العلم أن يكون له وقار، وسكينة، وخشية، وأن يكون متبعا لآثار من مضى قبله، وأن يورث جلساءه قول: لا أدري، حتى يكون ذلك أصلا يفزعون اليه.

وقال ابن وهب: لو شئت أن أملا الواحي من قول مالك بن أنس، لا أدري لفعلت(2).

وبقي في المدينة يتلقى العلم عن شيوخها بعد وفاة شيخه مالك - قال ابو محمد عون بن يوسف الخزاعي -: قدمت المدينة سنة ثمانين ومائة، وتركت فيها أربعين رجلا من معلمي ابن وهب، رحمه الله تعالى(3).

ثم بعد ذلك عاد الى بلد 5 مصر، ناشرا علمه .. قال الربيع - صاحب الشافعي -: جننا عبد الله للسماع، واجتمع على بابه خلق كثير، قام ليفتح، فلما فتح ازدحمنا للدخول، فسقط، وشج وجهه، فقال: ما هذا الا الخفة وقلة الوقار، ونحو هذا، والله لا أسمعتكم اليوم حرفا، ثم قعد وقعدنا، فلما رأى ما بنا من الهدوء، قال: أين سكينة العلم، انما أنا أكفر عن يميني، وأسمعكم، فكفر وأسمعنا(4).

--------------------------------------------

(1) ترتيب المدارك 1/ 190.

(2) ترتيب المدارك 1/ 421 - 423.

(3) رياض النفوس، في طبقات علماء القيروان وأفريقية، لأبي عبد الله محمد المالكي، توفي بعد 460 هـ، 1/ 385.

(4) ترتيب المدارك، القاضي عياض، ج 1، 427 - 428.

এবং তাঁকে তাঁর (মালিকের) বলা কথা: "তুমি যা শুনেছ তা পৌঁছে দাও এবং এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট, আর কারো দায়ভার তোমার পিঠের ওপর নিয়ো না। কারণ বলা হয়ে থাকে: সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত যে নিজের আখেরাতকে দুনিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়, আর তার চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সে যে অন্যের দুনিয়ার বিনিময়ে নিজের আখেরাত বিক্রি করে দেয়।"(১) এবং তাঁকে তাঁর বলা কথা: "যে ব্যক্তি যা শোনে তার সবই বর্ণনা করে, সে নিরাপদ থাকে না।"

এবং তিনি তাঁকে যা বলেছিলেন তার মধ্যে রয়েছে: "যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণ করে তার ওপর কর্তব্য হলো তার মধ্যে গাম্ভীর্য, প্রশান্তি ও আল্লাহভীতি থাকা; আর তার উচিত তার পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা এবং তার সঙ্গীদের মাঝে 'আমি জানি না' বলার অভ্যাস গড়ে তোলা, যেন এটি এমন একটি মূলে পরিণত হয় যার দিকে তারা (সংশয়ের সময়) ফিরে আসে।"

ইবনে ওয়াহাব বলেন: "আমি যদি মালিক ইবনে আনাসের 'আমি জানি না' উক্তিটি দিয়ে আমার তখতিগুলো পূর্ণ করতে চাইতাম, তবে অবশ্যই আমি তা করতে পারতাম"(২)।

এবং তিনি তাঁর উস্তাদ মালিকের মৃত্যুর পর মদিনার শায়খদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করার জন্য সেখানে অবস্থান করেন। আবু মুহাম্মাদ আওন ইবনে ইউসুফ আল-খুজাই বলেন: "আমি একশত আশি হিজরি সনে মদিনায় আসি এবং সেখানে ইবনে ওয়াহাবের শিক্ষকদের মধ্য থেকে চল্লিশজন ব্যক্তিকে পাই, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন"(৩)।

অতঃপর এরপরে তিনি মিশর দেশে ফিরে আসেন তাঁর ইলম প্রচার করার জন্য। শাফেয়ীর সাথী রাবি' বলেন: "আমরা আব্দুল্লাহর কাছে হাদীস শোনার জন্য ব্যাকুল হয়েছিলাম এবং তাঁর দরজায় প্রচুর লোক সমবেত হয়েছিল। তিনি দরজা খোলার জন্য দাঁড়ালেন, অতঃপর যখন দরজা খুললেন, তখন প্রবেশের জন্য আমাদের ভিড় বেড়ে গেল, ফলে তিনি পড়ে গেলেন এবং তাঁর চেহারায় চোট লাগল। তখন তিনি বললেন: 'এ তো চপলতা ও গাম্ভীর্যের অভাব ছাড়া আর কিছু নয়', অথবা এই জাতীয় কথা। 'আল্লাহর কসম, আজ আমি তোমাদের একটি অক্ষরও শোনাব না।' এরপর তিনি বসলেন এবং আমরাও বসলাম। যখন তিনি আমাদের মাঝে স্থিরতা লক্ষ্য করলেন, তখন বললেন: 'ইলমের প্রশান্তি কোথায়? আমি কেবল আমার কসমের কাফফারা দেব এবং তোমাদের শোনাব।' এরপর তিনি কাফফারা আদায় করলেন এবং আমাদের হাদীস শোনালেন"(৪)।

--------------------------------------------

(১) তারতিবুল মাদারিক ১/ ১৯০।

(২) তারতিবুল মাদারিক ১/ ৪২১ - ৪২৩।

(৩) রিয়াদুন্ নুফুস, ফি তাবাকতি উলামায়ি কাইরাওয়ান ওয়া ইফরিকিয়্যাহ, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ আল-মালিকি রচিত, মৃত্যু ৪৬০ হিজরির পর, ১/ ৩৮৫।

(৪) তারতিবুল মাদারিক, কাজি আইয়াজ, খণ্ড ১, ৪২৭ - ৪২৮।