(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: -)
كتاب الولاة وكتاب القضاة - ت رفن   (أبو عمر الكندي - أحمد بن عبد الرحمن بن برد)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: كتاب الولاة [إلى ص 298]

المؤلف: أبو عمر محمد بن يوسف الكندي المصري [ت 350 هـ]

ويليه له: «كتاب القضاة» [انتهى فيه إلى سنة 246 هـ بنهاية ص 476

ويليه: «ذيل» لأبي الحسن أحمد بن عبد الرحمن بن برد (ت 379 هـ) بلغ به سنة 366 هـ، من ص 476 إلى 494

ويليه: «ذيل تالٍ» لمجهول، ابتدأه من سنة 347 حتى 424 هـ، من ص 494 إلى ص 500

ويليه: «ملحق» لاستيفاء أخبار قضاة مصر بين سنة 237 وسنة 419 هـ، من ص 501 إلى 614 مجموعٌ من كلام ابن حجر وابن تغري بردي وسبط ابن حجر والذهبي، كأنه مِن جَمْعِ المحقق]

مهذبا ومصححا بقلم: رفن كست

الناشر: مطبعة الآباء اليسوعيين - بيروت

عام النشر: 1908 م

عدد الصفحات: 614

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 ذو الحجة 1443

কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - সম্পাদনায় রুভন গেস্ট   (আবু উমর আল-কিন্দি - আহমদ বিন আবদুর রহমান বিন বুরদ)

বিভাগ: জীবনী ও বংশানুক্রম


গ্রন্থ: কিতাবুল উলাত [২৯৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত]

লেখক: আবু উমর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-কিন্দি আল-মিসরি [মৃত্যু ৩৫০ হিজরি]

এবং এরপর রয়েছে তাঁরই: «কিতাবুল কুদাত» [এতে ২৪৬ হিজরি পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে, ৪৭৬ পৃষ্ঠার শেষে

এবং এরপর রয়েছে: «পরিশিষ্ট» আবু আল-হাসান আহমদ বিন আবদুর রহমান বিন বুরদ (মৃত্যু ৩৭৯ হিজরি) কৃত, যা ৩৬৬ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত, ৪৭৬ থেকে ৪৯৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত

এবং এরপর রয়েছে: «পরবর্তী পরিশিষ্ট» জনৈক অজ্ঞাত লেখকের, যা ৩৪৭ থেকে ৪২৪ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত, ৪৯৪ থেকে ৫০০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত

এবং এরপর রয়েছে: «সংযোজনী» ২৩৭ হিজরি থেকে ৪১৯ হিজরির মধ্যবর্তী মিশরের বিচারকদের সংবাদ সম্পন্ন করার জন্য, ৫০১ থেকে ৬১৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত; যা ইবনে হাজার, ইবনে তাগরি বারদি, সিবত ইবনে হাজার এবং আয-যাহাবির বক্তব্য থেকে সংকলিত, যা মূলত সম্পাদকেরই সংকলন বলে প্রতীয়মান]

পরিমার্জিত ও সংশোধিত করেছেন: রুভন গেস্ট

প্রকাশক: মাতবাআতুল আবা আল-ইয়াসুয়্যিন (জেসুইট ফাদার্স প্রেস) - বৈরুত

প্রকাশকাল: ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৬ জিলহজ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ١)
كتاب الولاة وكتاب القضاة

 

تأليف: أبي عمر محمّد بن يوسف الكنديّ المصريّ

 

مهذّبا ومصحّحا بقلم: رفن كست
গভর্নরদের ইতিহাস এবং বিচারকদের ইতিহাস গ্রন্থ

 

রচনায়: আবু উমর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-কিন্দি আল-মিসরি

 

পরিমার্জন ও সংশোধনে: রিভন গেস্ট
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٣)
صورة العنوان الذي في النسخة المنقول منها:

 

كتاب

فيه تاريخ مصر وولاتها

تأليف أبي عمر محمد بن يوسف بن يعقوب الكندي رحمة الله عليه

 

وفيه أيضا القضاة الذين تولوا قضاء مصر

تأليف أبي عمر المذكور

 

برسم العلاّمة الأمير الأجل الاسفهسلار الكبير المجاهد المرابط الأخص المجتبى المختار ثقة الملوك ومشيرهم ومعتمد السلاطين وأمينهم سيد الأتراب ورئيس الأصحاب سعد الدين أبي عبد الله محمد بن الأمير حسام الدين سنقر ابن عبد الله الملكي المعظّمي أدام الله أيامه وحرس إنعامه ورحم الله أسلافه بمحمد وآله
যে পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে তাতে বিদ্যমান শিরোনামের অনুলিপি:

 

একটি গ্রন্থ

যাতে মিসরের ইতিহাস ও তার গভর্নরদের বিবরণ রয়েছে

আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আল-কিন্দির রচনা, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক

 

এবং এতে আরও রয়েছে মিসরের বিচারকার্যে নিয়োজিত বিচারকগণের বিবরণ

উল্লিখিত আবু উমরের রচনা

 

বিদ্বান, অতিশয় সম্মানিত আমির, মহান সেনাপতি, মুজাহিদ, মুরবিত, বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত, মনোনীত, নির্বাচিত, রাজন্যবর্গের বিশ্বস্ত ও তাঁদের পরামর্শদাতা, সুলতানদের নির্ভরযোগ্য ও তাঁদের আমানতদার, সমসাময়িকদের নেতা ও সহচরদের প্রধান সা’দ উদ-দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল আমির হুসাম উদ-দিন সুনকুর ইবনে আবদুল্লাহ আল-মালিকি আল-মুয়াযযমি-এর সম্মানার্থে উৎসর্গকৃত; আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘায়িত করুন, তাঁর প্রতি তাঁর নেয়ামতরাজি রক্ষা করুন এবং মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরদের মাধ্যমে তাঁর পূর্বপুরুষদের ওপর দয়া করুন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌ترجمة المصنف

منقولة من حاشية وجدت على صفحة 134 من النسخة الاصلية وهي النسخة الفريدة المحفوظة في المتحف البريتاني موسومة بنمرة 324،23. ا. د. وجاءت على صفحة 2 من هذه النسخة حاشية أخرى بعضها مطموس يطابق ما بان منها الحاشية الاولى تقريبا مع بعض الاختلاف في ترتيب الجمل

أبو عمر محمد بن يوسف بن يعقوب بن حفص بن يوسف بن نصر بن ابي عامر ابن معاوية بن زيد بن عبد الله بن قيس بن الحارث بن قيس بن ضبيع بن عبد العزّى بن عامر (وأمّ عامر زميلة(1) وهو عامر بن مالك بن مدلك(2) بن عديّ (وامّه تجيب) بن شبيب بن السكر(3) بن الاشرس بن كندة المعروف بالكنديّ المصريّ المؤرّخ: له مصنّفات كثيرة في تاريخ مصر وأحوالها ككتاب الخطط و [كتاب] الموالي وكتاب الأجناد العربيّة(4) وسيرة مروان بن الجعد(5) وأخبار قضاة مصر و(6) غير ذلك ولابي الحسن بن زولاق عليه ذيل: كان عارفا باحوال الناس وسير الملوك ومولده سنة 283 وتوفّي في 8 رمضان سنة 350 رحمة الله عليه. هكذا ذكر ابن ميسّر في تاريخه وفيه نظر فإنّه قطع كتابه هذا في مصر وولاتها على دخول المعزّ القاهرة سنة 362 فكيف يكون وفاته كما ذكر: قال ابو محمد عبد الله بن احمد الفرغانيّ في ذيل تاريخ شيخه محمد بن جرير الطبريّ في ترجمة أبي عمر

--------------------------------------------

(1) يكون صوابه زميلة كما قيّدناه وهو بالراء في الاصل وقد ذكر في القاموس ان زميلة من بطون تحيب

(2) يشتبه فيه لانه من الاسماء المعدومة

(3) هو في النويري السكون بن اشرس

(4) في موضع من الاصل الغرابا: وفي الموضع الآخر العربي: وهو الكتاب الذي عبر عنه المقريزي بالجند العربي في الخطط (ج 2 ص 143)

(5) يكون الخليفة مروان بن محمد الجعدي خاله الجعد بن درهم ونسب اليه

(6) في الاصل: الى

গ্রন্থকারের জীবনী

মূল পাণ্ডুলিপির ১৩৪ নম্বর পৃষ্ঠায় প্রাপ্ত একটি টীকা থেকে এটি অনুলিপি করা হয়েছে, যা ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত একমাত্র অনুলিপি এবং এটি ৩২৪,২৩ এ. ডি. নম্বরে চিহ্নিত। এই পাণ্ডুলিপির ২ নম্বর পৃষ্ঠায় আরেকটি টীকা পাওয়া গেছে যার কিছু অংশ অস্পষ্ট, তবে বাক্যের বিন্যাসে সামান্য পার্থক্য থাকলেও তা দৃশ্যত প্রথম টীকার সাথে প্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে হাফস ইবনে ইউসুফ ইবনে নাসর ইবনে আবি আমির ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে যাইদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস ইবনে হারিস ইবনে কাইস ইবনে দুবাই ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে আমির (আমিরের মা যামিলা(১) এবং তিনি হলেন আমির ইবনে মালিক ইবনে মুদলিক(২) ইবনে আদি (তার মা তুজিব) ইবনে শাবিব ইবনে আস-সাকার(৩) ইবনে আল-আশরাস ইবনে কিনদাহ, যিনি আল-কিন্দি আল-মিসরি ঐতিহাসিক হিসেবে পরিচিত: মিসরের ইতিহাস ও এর অবস্থা সম্পর্কে তার বহু গ্রন্থ রয়েছে যেমন কিতাবুল খিতাত, [কিতাবুল] মাওয়ালি, কিতাবুল আজনাদ আল-আরাবিয়্যাহ(৪), সিরাত মারওয়ান ইবনে আল-জাদ(৫) এবং আখবার কুদাত মিসর(৬) ও অন্যান্য। আবুল হাসান ইবনে যূলাক এর উপর একটি পরিশিষ্ট (যাইল) লিখেছেন। তিনি মানুষের অবস্থা এবং রাজাদের জীবনী সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত ছিলেন। তার জন্ম ২৮৩ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৩৫০ হিজরির ৮ই রমজান, আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন। ইবনে মুয়াসসার তার ইতিহাসে এভাবেই উল্লেখ করেছেন, তবে এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কেননা তিনি মিসর ও তার শাসকদের বিষয়ে তার এই গ্রন্থটি ৩৬২ হিজরিতে কায়রোতে মুয়িজের প্রবেশের সময় পর্যন্ত সমাপ্ত করেছেন, সুতরাং তার মৃত্যু বর্ণিত সময়ে কীভাবে হতে পারে? আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-ফারগানি তার উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে জারির আল-তাবারির ইতিহাসের পরিশিষ্টে (যাইল) আবু উমরের জীবনীতে বলেছেন—

--------------------------------------------

(১) এটি সঠিক রূপে ‘যামিলা’ হবে যেমনটি আমরা নির্ধারণ করেছি, যদিও মূল কপিতে এটি ‘রা’ দিয়ে (রামিলা) ছিল। কামুস গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, যামিলা হলো তুজিব গোত্রের একটি শাখা।

(২) এটি সন্দেহজনক নাম, কারণ এটি বিরল নামগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

(৩) নুওয়াইরির কিতাবে এটি ‘আস-সাকুন ইবনে আশরাস’ হিসেবে এসেছে।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপির এক স্থানে ‘আল-গুরাবা’ এবং অন্য স্থানে ‘আল-আরাবি’ রয়েছে: এটি সেই কিতাব যাকে মাকরিজি তার খিতাত গ্রন্থে (২য় খণ্ড, ১৪৩ পৃষ্ঠা) ‘আল-জুন্দ আল-আরাবি’ বলে অভিহিত করেছেন।

(৫) তিনি হলেন খলিফা মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ আল-জাদি; তার মামা ছিলেন জাদ ইবনে দিরহাম এবং তার দিকেই তাকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।

(৬) মূল কপিতে এখানে ‘ইলা’ শব্দ রয়েছে।

(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٥)
الكنديّ كان من أعلم الناس بالبلد وأهله وأعماله وثغوره وله مصنّفات فيه وفي غيره من صنوف الاخبار والانساب وكان من جملة أهل العلم بالحديث والنسب عالما بكتب الحديث صحيح الكتابة نسّابة عالما بعلوم العرب وسمع من النسائيّ وغيره وحدّث في آخر عمره وسمع منه وكان يتفقّه على مذهب العراقيين ومولده بعالجة(1) سنة 283 روى [عن] ابن قديد والسنوي(2) روى عنه ابو محمد عبد الرحمن بن عمر ابن محمد بن الحسن البزّار(3) المعروف بابن النحّاس المصري. قال القراب عن ابي سعيد الماليني سمعت ابراهيم بن نصر يقول ولد ابو عمر الكنديّ سنة 283 وتوفي في رمضان يعني سنة خمسين وثلاثمائة: وذكر ابن ميسّر ان ذلك في 2 رمضان. وذكر الفرغانيّ انه توفي في يوم الثلاثاء لثلاث خلون من شهر رمضان من السنة. وصلّي عليه في مصلّى عبسون ودفن بمقابر غافق وكندة وسوّي قبره لاطئا بالارض وذيّل ابن زولاق على كتابه امراء مصر وذكر في اوّله انه قطع على ما تقدّم

--------------------------------------------

(1) كذا في الاصل لا يقرأ

(2) كذا في الاصل والارجح للصواب بالنسويّ ثم ان المقصود النسويّ والنسائيّ شخص واحد لانهما نسبتان الى بلد واحد

(3) في الاصل البزاز وهو تصحيف

আল-কিন্দি ছিলেন দেশের মানুষ, এর অধিবাসী, এর কার্যাবলি ও সীমান্ত সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তিদের অন্যতম। এ বিষয়ে এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক সংবাদ ও বংশলতিকা বিষয়ে তাঁর সংকলন রয়েছে। তিনি হাদিস ও বংশলতিকা বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, হাদিসের কিতাবসমূহে প্রাজ্ঞ, নির্ভুল লেখক, বংশলতিকাবিদ এবং আরবদের বিবিধ বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি নাসায়ি ও অন্যদের থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর জীবনের শেষভাগে হাদিস বর্ণনা করেছেন ও তাঁর থেকে শ্রবণ করা হয়েছে। তিনি ইরাকিদের মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ চর্চা করতেন। তাঁর জন্ম ২৮৩ হিজরি সনে 'আলাজাহ'(১) নামক স্থানে। তিনি ইবনে কুদাইদ ও আস-সানাওয়ি(২) থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-বাজার(৩) বর্ণনা করেছেন, যিনি ইবনুন নাহহাস আল-মিসরি নামে পরিচিত। আল-কাররাব আবু সাঈদ আল-মালিনি থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি ইবরাহিম ইবনে নাসরকে বলতে শুনেছি, আবু উমর আল-কিন্দি ২৮৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং রমজান মাসে অর্থাৎ ৩৫০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ইবনে মুয়াসসার উল্লেখ করেছেন যে, সেটি ছিল ২রা রমজান। আল-ফারগানি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি উক্ত বছরের রমজান মাসের তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মঙ্গলবার ইন্তেকাল করেন। আবসুন ঈদগাহে তাঁর জানাজা পড়া হয় এবং তাঁকে গাফিক ও কিনদাহর কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর কবর মাটির সাথে লেপে সমান করে দেয়া হয়েছিল। ইবনে জুলাইক তাঁর 'উমারাউ মিসর' গ্রন্থের একটি পরিশিষ্ট রচনা করেছেন এবং এর শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি পূর্ববর্তী বর্ণনার সমাপ্তি থেকে শুরু করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই আছে, যা পাঠযোগ্য নয়।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই আছে, তবে সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে 'নাসাউয়ি' হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উল্লেখ্য যে, নাসাউয়ি এবং নাসায়ি মূলত একই ব্যক্তি, কারণ এই উভয় নিসবত বা সম্বন্ধ একই শহরের দিকে।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'আল-বাজজাজ' রয়েছে, যা একটি অনুলিপি বিভ্রাট।

(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٦)
بسم الله الرحمن الرحيم

[2 ب] وبه العون والعصمة

 

قال أبو عمر هذا كتاب تسمية ولاة مصر ومن ولي الصلاة ومن ولي الحرب والشرطة منذ فتحت إلى زماننا هذا ومن جمع له الصلاة والخراج على اسم الله وعونه وصلى الله على محمد وآله

 

‌‌أبو عبد الله عمرو بن العاص بن وائل بن هشام(1) بن سعيد(2)

ابن سهم بن عمرو بن هُصيص(3) بن كعب بن لؤي بن غالب

بن فهر بن مالك وأمّه النابغة بنت خزيمة من عنزة

حدثني السكن بن محمد بن السكن التجيبي قال: حدثنا محمد بن داود بن أبي ناجية المهري [قال]: حدثني زياد بن يونس الحضرمي قال:

حدثني يحيى بن أيوب أن خالد بن يزيد وعبيد الله بن أبي جعفر حدثاه عمن أدركا من مشايخهما وربما قال خالد كان حنش بن عبد الله يقول كان عمرو

--------------------------------------------

(1) هكذا في الاصل وفي نسختين من النجوم (ج 1 ص 70) اما في التهذيب (ص 478) وفي كتاب المعارف (ص 145) فاسمه هاشم

(2) ضبطه سُعَيد في التهذيب (ص 478)

(3) في الاصل هَصيص وليس بصواب
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

[২ খ] এবং তাঁর মাধ্যমেই সাহায্য ও সুরক্ষা।

 

আবু উমর বলেন: এটি মিসরের গভর্নরদের এবং যারা বিজয়ের সময় থেকে আমাদের এই সময় পর্যন্ত সালাত (নামাজ) পরিচালনা করেছেন এবং যারা যুদ্ধ ও পুলিশের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তাদের নাম সংবলিত গ্রন্থ; এবং আল্লাহর নামে ও তাঁর সাহায্যে যাদের জন্য সালাত ও রাজস্বের (খরাজ) দায়িত্ব একত্রে অর্পণ করা হয়েছে তাদেরও বর্ণনা। আল্লাহ মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন।

 

‌‌আবু আবদুল্লাহ আমর ইবনুল আস ইবনে ওয়ায়েল ইবনে হিশাম(১) ইবনে সাঈদ(২)

ইবনে সাহম ইবনে আমর ইবনে হুসাইস(৩) ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব

ইবনে ফিহর ইবনে মালিক এবং তাঁর মাতা ছিলেন আনযা গোত্রের খুজাইমার কন্যা আন-নাবিগাহ।

আস-সাকান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সাকান আত-তুজিবি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে দাউদ ইবনে আবি নাজিয়া আল-মাহরি আমাদের বর্ণনা করেছেন [তিনি বলেছেন]: যিয়াদ ইবনে ইউনুস আল-হাদরামি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, খালিদ ইবনে ইয়াযিদ এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি জাফর তাঁকে তাঁদের সেই সব শাইখদের থেকে বর্ণনা করেছেন যাঁদের তাঁরা পেয়েছেন; এবং সম্ভবত খালিদ বলেছিলেন যে, হানাশ ইবনে আবদুল্লাহ বলতেন, আমর ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে এবং 'আন-নুজুম' এর দুটি পাণ্ডুলিপিতেও (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭০); তবে 'আত-তাহজিব' (পৃষ্ঠা ৪৭৮) এবং 'কিতাবুল মাআরিফ' (পৃষ্ঠা ১৪৫)-এ তাঁর নাম হাশিম।

(২) 'আত-তাহজিব' (পৃষ্ঠা ৪৭৮)-এ এটি 'সুআইদ' হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে এটি 'হাসিস' আছে, যা সঠিক নয়।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٧)
بن العاص تاجرا في الجاهلية وكان يختلف بتجارته إلى مصر وهي الأدم والعطر فقدم مرة من ذلك فأتى الإسكندرية فوافق عيدا لهم يجتمعون فيه ويلعبون فإذا هموا بالانصراف اجتمع أبناء الملوك وأحضروا كرة(1) لهم مما عملها حكماؤهم فتراموا بها بينهم وكان من شأنها المتعارف عندهم من وقعت في حجره ملك الإسكندرية أو قالوا ملك مصر فجعلوا يترامون بها وعمرو في النظارة فسقطت الكرة في حجره فعجبوا لذلك وقالوا ما كذبتنا هذه الكرة [3] قط إلا هذه المرة وأنى لهذا الأعرابي يملك الإسكندرية هذا والله لا يكون. ثم ضرب الدهر حتى فتح المسلمون الشام فخلا عمرو بأمير المؤمنين عمر بن الخطاب فاستأذنه في المضي إلى مصر وقال: إني عالم بها وبطرقها وهي أقل شيء منعة وأكثر أموالا. فكره أمير المؤمنين الإقدام على من فيها من جموع الروم وجعل عمرو يهون أمرها وقد أمر أصحابه أن يتسللوا بالليل ثم أتبعهم فبعث إليه أمير المؤمنين:

كن قريبا مني حتى أستخير الله. وذلك في سنة تسع عشرة

وأخبرني أبو سلمة أسامة التجيبي قال: كتب إلي محمد داود بن أبي ناجية بذلك. وحدثني علي بن الحسن بن خلف بن قديد الأزدي عن عبيد الله بن سعيد الأنصاري عن أبيه قال: أخبرني ابن لهيعة(2) عن يزيد بن أبي حبيب أن عمرو بن العاص كان بفلسطين على ربع من أرباعها

--------------------------------------------

(1) في الاصل: كوره في هذا الموضع فقط

(2) لهيعة هكذا في التهذيب وفي القاموس وفي الوفيات والنسخة القديمة من تاريخ ابن عبد الحكم المحفوظة بالمتحف البريتاني رجّحناه لما عرف به من الضبط الصريح وطريقة الاصل فيه التصغير ابدا كما في عدّة كتب غيره كفضائل مصر وفتوح البلدان للبلاذري
আমর ইবনুল আস জাহিলিয়্যাতের যুগে একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তিনি চামড়া ও সুগন্ধি নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে মিশরে যাতায়াত করতেন। একবার তিনি সেই উদ্দেশ্যে গমন করে আলেকজান্দ্রিয়ায় আসলেন এবং তাদের একটি উৎসবের সময় উপস্থিত হলেন, যাতে তারা সমবেত হতো ও খেলাধুলা করত। যখন তারা প্রস্থান করার উপক্রম করল, তখন রাজপুত্ররা সমবেত হলো এবং তাদের জ্ঞানীদের তৈরি একটি বল(১) নিয়ে আসলো। তারা সেটি নিজেদের মধ্যে একে অপরের দিকে ছুড়ছিল। তাদের মাঝে এটি স্বীকৃত ছিল যে, বলটি যার কোলে পড়বে সে আলেকজান্দ্রিয়ার অধিপতি হবে—অথবা তারা বলেছিল মিশরের অধিপতি হবে। তারা সেটি ছুড়তে লাগল আর আমর দর্শকদের মধ্যে ছিলেন। তখন বলটি তার কোলে গিয়ে পড়ল। তারা এতে বিস্মিত হলো এবং বলল, "এই বলটি এইবার ছাড়া আমাদের কাছে কখনো মিথ্যা বলেনি। এই গ্রাম্য আরব কীভাবে আলেকজান্দ্রিয়ার মালিক হবে? আল্লাহর কসম, এটি হতে পারে না।" এরপর দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হলো, এমনকি মুসলিমরা শাম (সিরিয়া) জয় করল। তখন আমর আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে একান্তে মিলিত হলেন এবং মিশরের দিকে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন: "আমি মিশর এবং এর পথঘাট সম্পর্কে অবগত; এটি প্রতিরক্ষায় অত্যন্ত দুর্বল কিন্তু সম্পদে অনেক সমৃদ্ধ।" আমিরুল মুমিনীন সেখানে অবস্থানরত রোমানদের বিশাল বাহিনীর মোকাবিলা করা অপছন্দ করলেন, কিন্তু আমর বিষয়টিকে সহজ করে উপস্থাপন করতে লাগলেন। তিনি ইতিমধ্যে তার সঙ্গীদের রাতে গোপনে বেরিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং পরে নিজেও তাদের অনুসরণ করলেন। তখন আমিরুল মুমিনীন তার কাছে পাঠালেন:

আমার নিকটবর্তী থাকো যতক্ষণ না আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করি। আর এটি ছিল উনিশ হিজরি সালের ঘটনা।

আবু সালামাহ উসামাহ আত-তুজীবী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ দাউদ ইবনে আবি নাজিয়াহ আমাকে এই মর্মে লিখেছেন। আলী ইবনুল হাসান ইবনে খালাফ ইবনে কাদিদ আল-আজদি উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-আনসারী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: ইবনে লাহিয়াহ(২) ইয়াযিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আমর ইবনুল আস ফিলিস্তিনের চার ভাগের এক ভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) মূলে: কেবল এই স্থানে 'কূরাহ' (كوره) শব্দে রয়েছে।

(২) লাহিয়াহ: এভাবেই আত-তাহযীব, আল-কামূস এবং আল-ওয়াফায়াত গ্রন্থে এবং ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ইবনে আবদিল হাকামের ইতিহাসের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে; এর সুস্পষ্ট নির্ভুলতার কারণে আমরা একেই প্রাধান্য দিয়েছি। মূলে একে সর্বদা 'তাসগীর' (ক্ষুদ্রতাবাচক) হিসেবে ব্যবহারের রীতি অনুসরণ করা হয়েছে, যেমনটি ফাদায়েলে মিশর এবং বালাযুরীর ফুতুহুল বুলদান সহ আরও কয়েকটি কিতাবে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٨)
فتقدم بأصحابه إلى مصر فكتب إلى عمر فيه وكان سار بغير إذن فكتب إليه عمر بن الخطاب بكتاب أتاه وهو أمام العريش فحبس الكتاب ولم يقرأه حتى بلغ العريش فقرأه فإذا فيه «من عمر بن الخطاب إلى العاص بن العاص أما بعد فإنه بلغني أنك سرت ومن معك إلى مصر وبها جموع الروم وإنما معك نفر يسير ولعمري لو كانوا ثكل أمك ما تقدمت فإذا جاءك كتابي هذا فإن لم تكن بلغت مصر فارجع» فقال عمرو: الحمد لله أية أرض هذه قالوا: من مصر. فتقدم إلى الفرما وبها جموع الرّوم فقاتلهم [3 ب] فهزمهم

وذكر ابن لهيعة والليث وابن عفير أن عمرا سار من الفرما فلقيه الروم ببلبيس(1) فقاتلوه فهزمهم ومضى حتى بلغ أم دنين فقاتلوه بها قتالا شديدا وكتب إلى عمر يستمده ثم أتى إلى الحصن فنزل عليه فحاصره وأمير الحصن يومئذ المندقور الذي يقال له الأعرج ....(2) عليه من قبل المقوقس بن قرقب اليوناني والمقوقس إذ ذاك في طاعة هرقل(3) ثم قدم عليه الزبير بن العوام في المدد

حدثنا محمد بن زبان بن حبيب الحضرمي [قال]: أخبرنا الحارث بن مسكين قال: أخبرنا ابن وهب قال: أخبرنا ابن لهيعة عن يزيد بن أبي حبيب أن عمرو بن العاص قدم مصر بثلاثة آلاف وخمسمائة ثلثهم غافق ثم مد بالزبير بن العوّام في اثني عشر الفا

--------------------------------------------

(1) هو من الاسماء المختلف فيها وضبط القاموس يوافق نسختنا وذكر في القاموس فتح الباء ايضا قال البكريّ يفتح اوله

(2) بياض بالاصل

(3) المشهور هرقل وقد جوز القاموس هرقل
অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে মিসরের দিকে অগ্রসর হলেন। তিনি উমর (রা.)-কে এই বিষয়ে পত্র লিখলেন, কারণ তিনি অনুমতি ছাড়াই যাত্রা করেছিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর কাছে একটি পত্র লিখলেন যা তাঁর নিকট পৌঁছাল যখন তিনি আল-আরীশের সম্মুখে ছিলেন। তিনি পত্রটি আটকে রাখলেন এবং আল-আরীশে না পৌঁছানো পর্যন্ত তা পড়লেন না। সেখানে পৌঁছে তিনি তা পড়লেন, তাতে লেখা ছিল: «উমর ইবনুল খাত্তাবের পক্ষ থেকে আস ইবনে আসের প্রতি। অতঃপর, আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি এবং আপনার সঙ্গীরা মিসরের দিকে যাত্রা করেছেন, অথচ সেখানে রোমানদের বিশাল সমাবেশ রয়েছে এবং আপনার সাথে রয়েছে মাত্র সামান্য কিছু লোক। আমার জীবনের শপথ! যদি তারা আপনার মায়ের বিয়োগব্যথা হতো (অর্থাৎ আপনি যদি তাদের মায়া করতেন), তবে আপনি অগ্রসর হতেন না। যখন আমার এই পত্র আপনার কাছে পৌঁছাবে, তখন যদি আপনি মিসরে পৌঁছে না থাকেন তবে ফিরে আসুন»। আমর (রা.) বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর! এটি কোন ভূমি? তারা বলল: মিসরের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর তিনি আল-ফারামার দিকে অগ্রসর হলেন যেখানে রোমানদের সমাবেশ ছিল এবং তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন [৩ খ] এবং তাদের পরাজিত করলেন।

ইবনে লাহিয়াহ, আল-লাইস এবং ইবনে উফাইর উল্লেখ করেছেন যে, আমর আল-ফারামা থেকে যাত্রা করলেন এবং বিলবাইসে(১) রোমানরা তাঁর মুখোমুখি হলো। তারা তাঁর সাথে যুদ্ধ করল এবং তিনি তাদের পরাজিত করলেন। তিনি অগ্রসর হয়ে উম্মে দুনাইনে পৌঁছালেন এবং সেখানে তারা তাঁর সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধ করল। তিনি উমরের নিকট সাহায্য চেয়ে পত্র লিখলেন। অতঃপর তিনি দুর্গের নিকট এসে সেখানে অবস্থান নিলেন এবং তা অবরোধ করলেন। তৎকালীন দুর্গের অধিপতি ছিল আল-মান্দাকুর, যাকে আল-আ’রাজ (খোঁড়া) বলা হতো... গ্রীক মুকাউকিস ইবনে কারকবের পক্ষ থেকে তার ওপর নিয়োজিত ছিল। মুকাউকিস তখন হিরাক্লিয়াসের(৩) আনুগত্যে ছিল। এরপর জুবাইর ইবনুল আওয়াম সাহায্যকারী বাহিনী নিয়ে তাঁর নিকট পৌঁছালেন।

মুহাম্মাদ ইবনে জাব্বান ইবনে হাবিব আল-হাদরামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন [তিনি বলেন]: আল-হারিস ইবনে মিসকিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়াহ ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আমর ইবনুল আস তিন হাজার পাঁচশ সৈন্য নিয়ে মিসরে এসেছিলেন যাদের এক-তৃতীয়াংশ ছিল গাফিক গোত্রের, এরপর বারো হাজার সৈন্যসহ জুবাইর ইবনুল আওয়ামের মাধ্যমে তাঁকে সাহায্য করা হয়।

--------------------------------------------

(১) এটি এমন সব নামের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর উচ্চারণে মতভেদ রয়েছে। আল-কামুস গ্রন্থের শব্দবিন্যাস আমাদের পাণ্ডুলিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আল-কামুস-এ 'বা' বর্ণে ফাতহা (যবর) হওয়ার কথাও উল্লেখ আছে; আল-বাকরি বলেছেন এর প্রথম বর্ণে ফাতহা হবে।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান রয়েছে।

(৩) হিরাক্ল নামেই এটি প্রসিদ্ধ, তবে আল-কামুস গ্রন্থে হিরাক্ল (ভিন্ন স্বরচিহ্নসহ) উচ্চারণেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٩)
حدثنا عبد الملك بن يحيى بن عبد الله بن بكير قال: حدثني أبي عن الليث بن سعد قال: أقام عمرو بن العاص محاصر الحصن إلى أن فتحه سبعة أشهر

وحدثني يحيى بن أبي معاوية التجيبي قال: حدثني خلف بن ربيعة الحضرمي عن أبيه عن ابن لهيعة عن يزيد بن أبي حبيب قال: فتحت مصر في يوم الجمعة مستهل المحرم سنة عشرين

وحدثنا علي بن الحسن بن قديد وأبو سلمة قالا: حدثنا يحيى بن عثمان بن صالح عن أبيه عن ابن لهيعة(1) عن يزيد بن أبي حبيب قال كان عدة الجيش الذي مع عمرو الذين افتتحوا مصر خمسة عشر ألفا وخمسمائة

وقال عبد الرحمن بن سعيد بن مقلاص كان الذين جرت سهامهم في الحصن من المسلمين اثني عشر الفا [4] وثلاثمائة بعد من أصيب منهم في الحصار بالقتل والموت

وقال سعيد بن عفير عن أشياخه لما حاز المسلمون الحصن بما فيه أجمع عمرو على المسير إلى الإسكندرية فسار إليها في ربيع الأول سنة عشرين وأمر بفسطاطه أن يقوض فإذا بيمامة قد باضت في أعلاه فقال:

لقد تحرمت بجوارنا أقروا الفسطاط حتى تنقف وتطير فراخها. فأقروا الفسطاط ووكل به أن لا يهاج حتى تستقل فراخها فلذلك سميت الفسطاط فسطاطا. وحاصر عمرو الإسكندرية ثلاثة أشهر ثم فتحها عنوة وهو الفتح الأول ويقال بل فتحها مستهل سنة إحدى وعشرين ثم سار عمرو إلى أنطابلس(2) وهي برقة فافتتحها بصلح في آخر سنة إحدى

--------------------------------------------

(1) في الاصل: ابي لهيعة

(2) في الاصل: افطابلس وهو غلط
আব্দুল মালিক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা লায়স ইবনে সা'দ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনুল আস দুর্গটি জয় করা পর্যন্ত সাত মাস অবরোধ করে রাখেন।

ইয়াহইয়া ইবনে আবি মুআবিয়া আত-তুজিবি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালাফ ইবনে রাবিআ আল-হাদরামি তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশ হিজরি সনের মহরম মাসের শুরুতে জুমাবার মিসর বিজিত হয়।

আলী ইবনুল হাসান ইবনে কুদাইদ এবং আবু সালামাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সালিহ তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া(১) থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর (রা.)-এর সাথে থাকা যে বাহিনী মিসর জয় করেছিল, তাদের সংখ্যা ছিল পনের হাজার পাঁচশ জন।

আব্দুর রহমান ইবনে সাঈদ ইবনে মিকলাস বলেন: অবরোধ চলাকালে যারা নিহত বা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের বাদ দিয়ে মুসলিমদের মধ্যে যারা দুর্গের গনীমতের অংশ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন তাদের সংখ্যা ছিল বারো হাজার তিনশ জন।

সাঈদ ইবনে উফাইর তার উস্তাদদের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, যখন মুসলিমরা দুর্গ এবং এর মধ্যকার সবকিছু আয়ত্তে আনল, তখন আমর (রা.) আলেকজান্ট্রিয়ার দিকে যাত্রার সংকল্প করলেন। তিনি বিশ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে সেখানে যাত্রা করেন এবং তার তাবু (ফুসতাত) গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তখন দেখা গেল একটি কবুতর তাবুর উপরিভাগে ডিম পেড়েছে। তখন তিনি বললেন: "এটি আমাদের আশ্রয়ে নিরাপত্তা লাভ করেছে; তাবুটিকে এভাবেই রেখে দাও যতক্ষণ না ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় এবং বাচ্চাগুলো উড়ে যায়।" ফলে তারা তাবুটিকে সেভাবেই রেখে দিলেন এবং সেখানে একজন পাহারাদার নিযুক্ত করলেন যাতে বাচ্চাগুলো স্বাবলম্বী হওয়া পর্যন্ত কেউ সেটিকে বিরক্ত না করে। এই কারণেই ফুসতাতকে 'ফুসতাত' (তাবু) নামকরণ করা হয়। আমর (রা.) আলেকজান্ট্রিয়া তিন মাস অবরোধ করে রাখেন, অতঃপর তা যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করেন—আর এটিই ছিল প্রথম বিজয়। আবার বলা হয় যে, এটি একুশ হিজরি সনের শুরুতে বিজিত হয়। এরপর আমর (রা.) আনতাবুলুস(২) অর্থাৎ বারকার দিকে যাত্রা করেন এবং একুশ হিজরি সনের শেষ দিকে সন্ধির মাধ্যমে তা জয় করেন।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে রয়েছে: আবি লাহিয়া

(২) মূল পাঠে রয়েছে: আফতাবুলুস, যা ভুল।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ١٠)
وعشرين ثم مضى منها إلى أطرابلس فافتتحها عنوة سنة اثنتين وعشرين وقال الليث بن سعد في تاريخه: فتحها سنة ثلاث وعشرين

قال وقدم عمرو بن العاص على عمر بن الخطاب قدمتين

قال ابن عفير استخلف في إحداهما زكرياء بن جهم العبدري(1) وفي القدمة الثانية ابنه عبد الله بن عمرو وتوفي أمير المؤمنين عمر في ذي الحجة سنة ثلاث وعشرين وبايع المسلمون أمير المؤمنين عثمان بن عفان رضي الله عنه فوفد عليه عمرو بن العاص فسأله عزل عبد الله بن سعد بن أبي سرح العامري عن صعيد مصر وكان عمر ولاه الصعيد قبل موته فامتنع عثمان من ذلك وعقد لعبد الله بن سعد [4 ب] بن أبي سرح على مصر كلها فكانت ولاية عمرو على مصر صلاتها وخراجها منذ افتتحها إلى أن صرف عنها أربع سنين وأشهر فكان على شرطه في ولايته هذه كلها خارجة بن حذافة بن غانم(2) بن عامر بن عبد الله بن عبيد بن عويج(3) ابن عدي بن كعب في قول الأشياخ إلا أن سعيد بن عفير قال: دخل عمرو مصر وعلى شرطته زكرياء بن جهم بن قيس بن عبد بن شرحبيل(4) بن هاشم بن عبد مناف بن عبد الدار قال ثم عزله وجعل مكانه خارجة بن حذافة

--------------------------------------------

(1) نسبة الى عبد الدار كما يأتي وفي الاصل هنا: العبدويّ

(2) في الاصل غابر هنا وغانم فيما بعد وهو الصواب

(3) في التهذيب (ص 570) عبيد بن عويج وذكر ايضا في الجداول عبيد بن عويح كما في الاصل

(4) في الاصل: شرحبيل ولم يذكر القاموس الا شرحبيل
...এবং বিশ, অতঃপর তিনি সেখান থেকে ত্রিপোলির অভিমুখে যাত্রা করেন এবং বাইশ হিজরিতে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তা জয় করেন। লাইস ইবনে সাদ তার ইতিহাসে বলেছেন: তিনি এটি তেইশ হিজরিতে জয় করেন।

তিনি বলেন, আমর ইবনুল আস উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট দুইবার আগমন করেছিলেন।

ইবনে উফায়র বলেন, তিনি তার এক সফরে জাকারিয়া ইবনে জাহম আল-আবদারিকে(১) এবং দ্বিতীয় সফরে তার পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে স্থলাভিষিক্ত করেন। আমিরুল মুমিনীন উমর তেইশ হিজরির জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন এবং মুসলমানগণ আমিরুল মুমিনীন উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) গ্রহণ করেন। অতঃপর আমর ইবনুল আস তার নিকট প্রতিনিধি হয়ে আসেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারহ আল-আমিরিকে মিশরের উচ্চভূমি (সাঈদ) থেকে অপসারণ করার অনুরোধ করেন; অথচ উমর তার মৃত্যুর পূর্বে তাকে উচ্চভূমির গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। উসমান তা করতে অস্বীকার করেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে সাদ [৪ খ] ইবনে আবি সারহকে সমগ্র মিশরের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন। মিশর বিজয়ের পর থেকে তাকে অপসারণ করা পর্যন্ত মিশরের সালাত (ইমামত) এবং খারাজের (রাজস্ব) ওপর আমরের শাসনকাল ছিল চার বছর এবং কয়েক মাস। প্রবীণদের বক্তব্য অনুযায়ী, তার সমগ্র শাসনকালে তার পুলিশ বাহিনীর প্রধান ছিলেন খারিযা ইবনে হুযাফা ইবনে গানিম(২) ইবনে আমির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উইয়াজ(৩) ইবনে আদি ইবনে কাব। তবে সাঈদ ইবনে উফায়র বলেন: আমর যখন মিশরে প্রবেশ করেন, তখন তার পুলিশ বাহিনীর প্রধান ছিলেন জাকারিয়া ইবনে জাহম ইবনে কায়স ইবনে আবদ ইবনে শারহাবিল(৪) ইবনে হাশিম ইবনে আবদ মানাফ ইবনে আবদিল দার। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি তাকে অপসারণ করেন এবং খারিযা ইবনে হুযাফাকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন।

--------------------------------------------

(১) এটি আবদুদ দারের সাথে সম্বন্ধযুক্ত যেমনটি সামনে আসবে। মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে রয়েছে: আল-আবদাবি।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে 'গাবির' রয়েছে এবং পরবর্তীতে 'গানিম' রয়েছে, আর এটিই সঠিক।

(৩) আত-তাহযীব গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৫৭০) উবাইদ ইবনে উইয়াজ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও সারণিগুলোতে উবাইদ ইবনে উইয়াহ উল্লেখ করা হয়েছে যেমনটি মূল পাণ্ডুলিপিতে আছে।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: শারহাবিল। আল-কামুস গ্রন্থেও কেবল শারহাবিল নামই উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌ولاية عبد الله بن سعد بن أبي سرح الحسام بن الحارث بن

حبيب بن جذيمة(1) بن نصر بن مالك بن حسل بن عامر بن

لؤي بن غالب وأمه مهانة بنت جابر من الأشعريين

ثم وليها عبد الله بن سعد من قبل أمير المؤمنين عثمان. حدثنا الحسن بن محمد المديني(2) قال: حدثنا يحيى بن عبد الله بن بكير عن الليث بن سعد أن عثمان لما ولي أمر هذه الأمة وعمرو بن العاص على مصر كلها إلا الصعيد فإن عمر بن الخطاب ولى الصعيد عبد الله بن سعد فطمع

عمرو … لما رأى من لين عثمان(3) أن يرد عمرو بن العاص لمحاربة منويل ومعرفته بحربهم وطول ممارسته له فردّه واليا على الاسكندريّة فحارب الروم بها حتى افتتحها وعبد الله بن سعد مقيم بالفسطاط على ولايته حتى فتحت الإسكندرية الفتح الثاني عنوة سنة خمس وعشرين ثم جمع لعبد الله ابن سعد أمر مصر كله صلاتها وخراجها فجعل على شرطته [5] هشام ابن كنانة بن عمر بن الحصين بن ربيعة بن الحارث بن حبيب بن جذيمة(4) ابن نصر بن مالك بن حسل بن عامر بن لؤي ومكث عبد الله بن سعد

--------------------------------------------

(1) في الاصل: حبيب بن خزيمة وورد خزيمة في النجوم ايضا ج (1 ص 88) فاتّبعنا التهذيب (ص 345)

(2) في الاصل: المدني

(3) ليس الفصل الذي علمناه في الاصل ومع ذلك لا يستبعد سقوط البعض من قول المصنف والانحراف بيّن ايضا ونتيجة المعنى تفهم من الخطط وهي ان الروم طمعوا في مصر وسار منويل الخصيّ الى الاسكندرية فسأل اهل مصر عثمان ان يرد عمرا (ج 1 ص 199)

(4) في الاصل: حبيب بن خزيمة. وقد تقدّم القول فيه
আবদুল্লাহ ইবন সা’দ ইবন আবি সারহ আল-হুসাম ইবন আল-হারিস ইবন

হাবীব ইবন জাযিমা(১) ইবন নাসর ইবন মালিক ইবন হুসল ইবন আমির ইবন

লুআই ইবন গালিবের শাসনকাল এবং তাঁর মাতা হলেন আশআরী গোত্রের মাহানা বিনত জাবির

অতঃপর আমীরুল মুমিনীন উসমানের পক্ষ থেকে আবদুল্লাহ ইবন সা’দ মিশরের শাসনভার গ্রহণ করেন। হাসান ইবন মুহাম্মদ আল-মাদীনী(২) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন বুকাইর আমাদের নিকট আল-লাইস ইবন সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উসমান যখন এই উম্মতের শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন আমর ইবনুল আস উচ্চ মিশর (সা’ঈদ) ব্যতীত সমগ্র মিশরের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। কারণ উমর ইবনুল খাত্তাব উচ্চ মিশরের দায়িত্ব আবদুল্লাহ ইবন সা’দকে দিয়েছিলেন। ফলে আমর লালসা পোষণ করলেন... যখন তিনি উসমানের নম্রতা লক্ষ্য করলেন(৩) যে, মানউইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য এবং তাদের সাথে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ অনুশীলনের কারণে আমর ইবনুল আসকে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন, তখন তিনি তাঁকে আলেকজান্দ্রিয়ার গভর্নর হিসেবে পুনরায় নিযুক্ত করলেন। সেখানে তিনি রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং তা জয় করেন। আর আবদুল্লাহ ইবন সা’দ তাঁর শাসনাধীনে ফুসতাতে অবস্থান করছিলেন যতক্ষণ না পঁচিশ হিজরি সনে দ্বিতীয়বার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আলেকজান্দ্রিয়া বিজিত হয়। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন সা’দ-এর অধীনে মিশরের নামায এবং রাজস্বসহ সকল বিষয় ন্যস্ত করা হলো। তিনি তাঁর পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিলেন [৫] হিশাম ইবন কিনানা ইবন উমর ইবনুল হুসাইন ইবন রাবিআ ইবন আল-হারিস ইবন হাবীব ইবন জাযিমা(৪) ইবন নাসর ইবন মালিক ইবন হুসল ইবন আমির ইবন লুআইকে। আর আবদুল্লাহ ইবন সা’দ সেখানে অবস্থান করতে থাকলেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: হাবীব ইবন খুজাইমা। ‘আল-নুজুম’ গ্রন্থেরও (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৮) ‘খুজাইমা’ এসেছে। আমরা ‘আত-তাহযীব’ (পৃষ্ঠা ৩৪৫)-কে অনুসরণ করেছি।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: আল-মাদানী।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে আমরা যে অংশটি চিহ্নিত করেছি তা নেই। তবুও গ্রন্থকারের বক্তব্য থেকে কিছু অংশ বাদ পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না এবং বিচ্যুতিটিও স্পষ্ট। বক্তব্যের মূল অর্থ ‘আল-খিতাত’ থেকে বোঝা যায়, আর তা হলো—রোমানরা মিশরের ওপর লালসা পোষণ করেছিল এবং নপুংসক মানউইল আলেকজান্দ্রিয়ার দিকে অগ্রসর হয়েছিল। তখন মিশরের অধিবাসীরা উসমানের নিকট আমরকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানায় (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯৯)।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: হাবীব ইবন খুজাইমা। এ সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ١٢)
عليها أميرا ولاية عثمان كلها محمودا في ولايته وغزا ثلاث غزوات كلها لها شأن وذكر فغزا إفريقية سنة سبع وعشرين وقتل ملكهم جرجير(1) فيقال أن الذي قتله معاوية بن حديج(2) وصار سلبه إليه

وحدثني ابن قديد عن عبد الله بن سعيد عن أبيه قال: حدثني ابن لهيعة قال: حدثني أبو الأسود عن أبي أويس مولاهم قال: غزونا مع عبد الله ابن سعد إفريقية في خلافة عثمان سنة سبع وعشرين فبلغ سهم الفارس ثلاثة آلاف دينار والراجل ألف دينار. وغزا عبد الله بن سعد غزوة الأساود حتى بلغ دمقلة وذلك في سنة إحدى وثلاثين فقاتلهم قتالا شديدا وأصيب يومئذ عين معاوية بن حديج وعين أبي سهم بن أبرهة(3) بن الصباح [وعين؟] حيويل بن ناشرة(4) فهادنهم عبد الله ابن سعد فقال شاعرهم لم تر عيني مثل يوم دمقله … والخيل تعدو بالدروع مثقله(5)

فحدثني ابن قديد عن عبيد الله بن سعيد عن أبيه عن ابن لهيعة عن يزيد بن أبي حبيب أنه قال: ليس بين أهل مصر والأساود عهد إنما كانت هدنة أمان بعضنا من بعض نعطيهم شيئا من قمح وعدس

--------------------------------------------

(1) في الاصل: حرحير ضبطناه من تاريخ الطبري (ج 1 ص 2818)

(2) في الاصل: جريج هنا ثم في العبارة التالية حديح عليها تعليقة بيان خديج صح وقد وجدت حاشية اخرى في صفحة 11 من الاصل بان حديج بضم الحاء وجاء في الآتي حديج مرارا فليراجع ما تقرر في البيان المغرب (ج 1 ص 9 ح) عن حقيقة هذا الاسم

(3) في تاريخ الطبري كذا وفي الاصل أبرهة

(4) يقتضى ادخال الواو للتفريق بين الصباح وحيوبل وهما شخصان والاقرب انه اختلط بما قبله

(5) في الاصل مثقلة وهو بعيد
তিনি উসমানের খিলাফতের পুরো সময়কাল সেখানে আমির নিযুক্ত ছিলেন এবং তাঁর শাসনকাল ছিল প্রশংসিত। তিনি তিনটি যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন যার প্রতিটিই ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। তিনি সাতাশ হিজরি সনে আফ্রিকা অভিযান করেন এবং তাদের রাজা জর্জিরকে(১) হত্যা করেন। বলা হয় যে, তাঁকে মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ(২) হত্যা করেছিলেন এবং তাঁর অর্জিত সম্পদ তাঁরই হস্তগত হয়েছিল।

ইবনে কুদাইদ আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আসওয়াদ তাঁদের মুক্তদাস আবু উওয়াইস থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা উসমানের খিলাফতকালে সাতাশ হিজরি সনে আবদুল্লাহ ইবনে সা’দ-এর সাথে আফ্রিকা অভিযানে গিয়েছিলাম। তখন অশ্বারোহী যোদ্ধার গনীমতের অংশ তিন হাজার দিনার এবং পদাতিক যোদ্ধার অংশ এক হাজার দিনার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আবদুল্লাহ ইবনে সা’দ ‘আসাউয়িদ’ (নুবিয়ান) অভিযান পরিচালনা করেন এবং দিমকালা পর্যন্ত পৌঁছে যান; এটি ছিল একত্রিশ হিজরি সনের ঘটনা। তিনি তাঁদের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধ করেন। সেদিন মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ, আবু সাহম ইবনে আবরাহা(৩) ইবনে সাব্বাহ এবং [সম্ভবত] হাইউইল ইবনে নাশিরার(৪) চোখ জখম হয়েছিল। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে সা’দ তাঁদের সাথে সন্ধি করেন। তাঁদের কবি বলেছিলেন: ‘আমার চোখ দিমকালার দিনের মতো দৃশ্য আর দেখেনি... যেখানে ঘোড়াগুলো বর্মের ভারে ভারাক্রান্ত হয়েও দ্রুত ধাবিত হচ্ছিল।’(৫)

ইবনে কুদাইদ উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে এবং তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: মিসরবাসী এবং ‘আসাউয়িদ’দের (নুবিয়ানদের) মধ্যে কোনো স্থায়ী চুক্তি ছিল না; বরং এটি ছিল একে অপরের থেকে নিরাপদ থাকার একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি মাত্র, যার বিনিময়ে আমরা তাদের কিছু গম ও মসুর ডাল প্রদান করতাম।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে: 'হারহির', আমরা এটি তারিখুত তবারী (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮১৮) থেকে সংশোধন করেছি।

(২) মূল পাঠে এখানে 'জুরাইজ', অতঃপর পরবর্তী বাক্যে 'হাদিহ' রয়েছে যার ওপর টীকা দেওয়া আছে যে 'খাদিজ' সঠিক। মূল পাণ্ডুলিপির ১১ নম্বর পৃষ্ঠায় আমি অন্য একটি টীকা পেয়েছি যে 'হুদাইজ' শব্দটি 'হা' বর্ণে পেশ দিয়ে পড়তে হবে। পরবর্তীতে বারবার 'হুদাইজ' শব্দটি এসেছে। আল-বায়ানুল মাগরিব (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯) গ্রন্থে এই নামের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা দেখে নেওয়া উচিত।

(৩) তারিখুত তবারীতে এভাবেই আছে, তবে মূল পাঠে 'আবরাহা' রয়েছে।

(৪) সাব্বাহ এবং হাইউইল নামক দুই ব্যক্তিকে পৃথক করার জন্য এখানে 'ওয়াও' (এবং) যুক্ত করা প্রয়োজন। সম্ভবত এটি পূর্ববর্তী শব্দের সাথে মিশে গেছে।

(৫) মূল পাঠে 'মুসকালাহ' (ভারাক্রান্ত) রয়েছে, যা অর্থগতভাবে কিছুটা দূরবর্তী মনে হয়।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ١٣)
ويعطونا رقيقا. قال ابن لهيعة: لا بأس بما يشترى من رقيقهم منهم ومن غيرهم.

قال ابن لهيعة: وسمعت يزيد بن أبي حبيب يقول كان ابي من سبي دمقلة

وغزا عبد الله بن سعد أيضا ذا [5 ب] الصواري في سنة أربع وثلاثين فلقيهم قسطنطين بن هرقل في ألف مركب ويقال في سبع مائة والمسلمون في مائتي مركب أو نحوها فهزم الله الروم وإنما سميت غزوة ذي الصواري لكثرة صواري المراكب واجتماعها

وأمر عبد الله بن سعد في إمرته بتحويل مصلى عمرو بن العاص:

كان يقابل اليحموم فحوله إلى موضعه اليوم المعروف بالمصلى القديم

حدثنا ابن قديد قال: حدثنا عبد الرحمن بن عبد الله بن عبد الحكم قال: حدثنا هانئ بن المتوكل عن ابن لهيعة وراشد بن سعد عن الحسن ابن ثوبان عن حسين بن سقي(1) عن أبيه أنه لما قدم مصر وأهل مصر قد اتخذوا مصلى بحذاء ساقية أبي عون التي عند المعسكر(2) فقال: ما لهم وضعوا مصلاهم في الجبل المقروف(3) الملعون وتركوا الجبل المقدس. قال الحسن بن ثوبان: فقدموا مصلاهم إلى موضعه الذي هو به اليوم

ووفد عبد الله بن سعد إلى أمير المؤمنين عثمان حين تكلم الناس بالطعن على عثمان واستخلف على مصر عقبة بن عامر الجهني في قول الليث وغيره وقال يزيد بن أبي حبيب: استخلف عليها السائب بن هشام بن

--------------------------------------------

(1) في الخطط (ج 2 ص 454): شقي

(2) في الخطط (ج 2 ص 454): العسكر

(3) يقرأ المقروف وفي الاصل: المعروف
তারা আমাদের দাস প্রদান করত। ইবনে লাহিয়া বলেছেন: তাদের নিজেদের কাছ থেকে বা অন্যদের কাছ থেকে তাদের দাস কেনাতে কোনো দোষ নেই।

ইবনে লাহিয়া বলেছেন: আমি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিবকে বলতে শুনেছি যে, তাঁর পিতা দুমকুলা অঞ্চলের যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ ৩৪ হিজরিতে যাতুস সাওয়ারী-র [৫ খ] যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেন। কন্সট্যান্টাইন বিন হারাক্ল এক হাজার জাহাজের বহর নিয়ে তাঁদের সম্মুখীন হন, মতান্তরে সাতশ জাহাজ ছিল। আর মুসলিমদের ছিল দুইশ বা এর কাছাকাছি সংখ্যক জাহাজ। অতঃপর আল্লাহ রোমানদের পরাজিত করেন। জাহাজের মাস্তুলের (সওয়ারী) আধিক্য ও সমাবেশের কারণে এই যুদ্ধকে 'যাতুস সাওয়ারী'র যুদ্ধ নামকরণ করা হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ তাঁর শাসনকালে আমর ইবনুল আস-এর নামাযের স্থান পরিবর্তনের নির্দেশ দেন:

এটি আল-ইয়াহমুম-এর বিপরীতে ছিল, তিনি তা পরিবর্তন করে বর্তমান স্থানে স্থানান্তর করেন যা এখন 'পুরাতন মুসাল্লা' (নামাযের স্থান) নামে পরিচিত।

ইবনে কুদাইদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল হাকাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হানি ইবনুল মুতাওয়াক্কিল ইবনে লাহিয়া ও রাশিদ ইবনে সা'দ থেকে, তাঁরা হাসান ইবনে সাওবান থেকে, তিনি হুসাইন ইবনে সাকি(১) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন মিশরে আগমন করেন তখন মিশরের অধিবাসীরা আল-আসকার(২) নামক স্থানের সন্নিকটে সাকিয়াহ আবি আউন-এর পাশে একটি নামাযের স্থান তৈরি করেছিল।

তিনি বললেন: তাঁদের কী হলো যে তাঁরা নিন্দিত(৩) ও অভিশপ্ত পাহাড়ে তাঁদের নামাযের স্থান স্থাপন করল এবং পবিত্র পাহাড়টি ত্যাগ করল? হাসান ইবনে সাওবান বলেন: অতঃপর তাঁরা তাঁদের নামাযের স্থান বর্তমান স্থানে সরিয়ে আনেন।

যখন লোকেরা আমীরুল মুমিনীন উসমানের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও দোষারোপ শুরু করল, তখন আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ তাঁর নিকট প্রতিনিধি হয়ে গমন করেন। লাইস এবং অন্যদের মতে, তিনি উকবা ইবনে আমির আল-জুহানিকে মিশরের স্থলাভিষিক্ত করে যান। আর ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব বলেন: তিনি আস-সাইব ইবনে হিশাম ইবনে... কে স্থলাভিষিক্ত করেন।

--------------------------------------------

(১) আল-খিতাত গ্রন্থে (২য় খণ্ড, ৪৫৪ পৃষ্ঠা): শাকি

(২) আল-খিতাত গ্রন্থে (২য় খণ্ড, ৪৫৪ পৃষ্ঠা): আল-আসকার

(৩) পাঠটি হবে 'আল-মাকরূফ' (নিন্দিত), তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: 'আল-মা'রূফ' (পরিচিত)
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ١٤)
كنانة العامري وجعل على خراجها سليمان بن عمر(1) التجيبي وكانت وفادته في وجوه الجند في رجب سنة خمس وثلاثين

 

‌‌انتزاء محمد بن أبي حذيفة بن عتبة بن ربيعة بن عبد شمس

بن عبد مناف

ثم انتزى محمد بن أبي حذيفة في شوال سنة خمس وثلاثين على عقبة بن عامر خليفة عبد الله بن سعد فأخرجه من الفسطاط ودعا إلى خلع عثمان وحرض عليه بكل [6] شيء يقدر عليه وأسعر البلاد

حدثنا الحسن بن محمد المديني قال: حدثنا يحيى بن عبد الله بن بكير.

قال: حدثني الليث عن عبد الكريم بن الحارث الحضرمي أن ابن أبي حذيفة كان يكتب الكتب على ألسنة أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ثم يأخذ الرواحل فيضمرها ثم يأخذ الرجال الذين يريد أن يبعث لذلك معهم فيجعلهم على ظهور البيوت فيستقبلون بوجوههم الشمس لتلوحهم تلويح المسافر ثم يأمرهم أن يخرجوا إلى طريق المدينة بمصر ثم [يرسلون(2)] رسلا يخبرون بهم الناس ليلقوهم وقد أمرهم إذا لقيهم الناس أن يقولوا: ليس عندنا خبر الخبر في الكتب. ثم يخرج محمد بن أبي حذيفة [والناس] كأنه يتلقى رسل أزواج النبي عليه السلام فإذا لقوهم قالوا: لا خبر عندنا عليكم بالمسجد.

فيقرأ عليهم كتب أزواج النبي فيجتمع الناس في المسجد اجتماعا ليس فيه

--------------------------------------------

(1) في الخطط (ج 1 ص 300) سليمان بن عتر وفي النجوم (ج 1 ص 103) سليم بن عمير فلا يبعد ان يكون هو سليم بن عثر التجيبي المذكور في كتاب القضاة

(2) زيد لإتمام المعنى اخذا بما في الخطط (ج 2 ص 335) مع ان الانسب بالمقام ان يرسلوا
কেনানা আল-আমেরী এবং তিনি এর খাজনা আদায়ের দায়িত্বে সুলাইমান বিন উমর(১) আল-তুজিবীকে নিযুক্ত করেন। আর সেনাবাহিনীর নেতৃবৃন্দের সাথে তাঁর প্রতিনিধিদলের আগমন ঘটেছিল পঁয়ত্রিশ হিজরীর রজব মাসে।

 

‌‌মুহাম্মদ বিন আবী হুযাইফা বিন উতবা বিন রাবীআ বিন আবদ শামস বিন আবদ মানাফের বিদ্রোহ

অতঃপর মুহাম্মদ বিন আবী হুযাইফা পঁয়ত্রিশ হিজরীর শাওয়াল মাসে আবদুল্লাহ বিন সা’দ-এর স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধি উকবা বিন আমেরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং তাকে ফুসতাত থেকে বহিষ্কার করেন। তিনি উসমানকে পদচ্যুত করার আহ্বান জানান এবং তাঁর বিরুদ্ধে সাধ্যমতো সর্বাত্মক প্ররোচনা দান করেন ও দেশে অস্থিরতা ছড়িয়ে দেন।

হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মাদীনী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ বিন বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন: লাইস আমার কাছে আব্দুল কারীম বিন আল-হারিস আল-হাদরামী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আবী হুযাইফা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে চিঠি জাল করতেন। এরপর তিনি উট সংগ্রহ করে সেগুলোকে রোগা ও ক্লান্ত করতেন। তারপর যে ব্যক্তিদের তিনি পাঠাতে চাইতেন, তাদের বাড়ির ছাদে বসিয়ে রাখতেন যাতে রোদে তাদের চেহারা পুড়ে মুসাফিরদের মতো তামাটে হয়ে যায়। এরপর তিনি তাদের মিশরে মদিনার রাস্তায় গিয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর [তারা বার্তাবাহক] পাঠাতেন যারা লোকজনকে তাদের খবর দিত যেন তারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে। আর তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, মানুষ যখন তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তারা যেন বলে: ‘আমাদের কাছে কোনো খবর নেই, সব খবর চিঠিতে আছে।’ এরপর মুহাম্মদ বিন আবী হুযাইফা [এবং লোকজন] বের হতেন যেন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের বার্তাবাহকদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। যখন তারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করত, তখন তারা বলত: ‘আমাদের কাছে কোনো খবর নেই, আপনারা মসজিদে যান।’

এরপর তিনি তাদের সামনে নবীর স্ত্রীদের সেই চিঠিগুলো পাঠ করতেন, ফলে মসজিদে এমন এক জনসমাবেশ হতো যা সাধারণ ছিল না।

--------------------------------------------

(১) আল-খিতাত গ্রন্থে (১ম খণ্ড, ৩০০ পৃষ্ঠা) রয়েছে সুলাইমান বিন ইতর, এবং আন-নুজুম গ্রন্থে (১ম খণ্ড, ১০৩ পৃষ্ঠা) রয়েছে সালীম বিন উমাইর। সুতরাং এটি অসম্ভব নয় যে, তিনিই কিতাবুল কুদাত-এ উল্লিখিত সালীম বিন ইতর আল-তুজিবী।

(২) অর্থ পূর্ণ করার জন্য ‘আল-খিতাত’ (২য় খণ্ড, ৩৩৫ পৃষ্ঠা) থেকে এটি সংযোজন করা হয়েছে, যদিও প্রসঙ্গের বিচারে ‘তারা পাঠাবে’ শব্দটিই অধিক মানানসই।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ١٥)
تقصير ثم يقوم القارئ بالكتاب فيقول: إنا لنشكو إلى الله وإليكم ما عمل في الإسلام وما صنع في الإسلام فيقوم(1) أولئك الشيوخ من نواحي المسجد بالبكاء ثم يقول ثم ينزل عن المنبر وينفر(2) الناس بما قرئ عليهم.

فلما رأت ذلك شيعة عثمان اعتزلوا محمد بن أبي حذيفة وبارزوه وهم معاوية ابن حديج وخارجة بن حذافة وبسر(3) بن أبي أرطاة ومسلمة بن مخلد الأنصاري وعمرو بن قحزم(4) الخولانيّ ومقسم بن [بجرة و] سعد بن مالك الأزدي(5) وخالد بن ثابت الفهمي(6) في جمع كثير ليس لهم من الذكر ما لهؤلاء وبعثوا سلمة بن مخزمة التجيبي ثم أحد بني زميلة(7) إلى عثمان ليخبره بامرهم وبصنيع ابن ابي حذيفة

[6 ب] حدثنا العباس بن محمد قال: حدثنا عمرو بن سواد قال:

أخبرنا ابن وهب قال: حدثني ابن لهيعة عن يزيد بن أبي حبيب عن ربيعة ابن لقيط قال: سمعت سلمة بن مخزمة قال: لمّا انتزى ابن ابي حذيفة بمصر

--------------------------------------------

(1) في الاصل: فيقول فاتبعنا الخطط (ج 2 ص 335)

(2) في الموضع المشار اليه من الخطط: فيتفرّق

(3) في الاصل: بشر وقد ضبطه السيوطي (ج 1 ص 103) بضم الاول وسكون المهملة ويراجع فيه ايضا تاريخ الطبري (ج 1 ص 2109)

(4) في الاصل فحزم وفي الخطط محزم باهمال اوله وفي النجوم مخرّم

(5) اورد المقريزي في الخطط هذه العبارة: ومقسم بن بجرة وحمزة بن سرح بن كلال وابو الكنود سعد بن مالك الازدي. ومن ثم يستدلّ على حذف في الاصل وان مقسم بن سعد اسم غير حقيقي

(6) في الاصل: الفهري اتبعنا الخطط لانه انما يكون خالد هذا المذكور في السيوطي (ج 1 ص 113) منسوبا الى فهم

(7) في الاصل: اخذ بني رميلة وهو لا يخلو من تحريف وبنو زميلة بطن من تجيب ذكرها القاموس
সংক্ষিপ্ততা, অতঃপর কিতাব নিয়ে পাঠক দাঁড়িয়ে পড়েন এবং বলেন: "আমরা আল্লাহর কাছে এবং আপনাদের কাছে ইসলামে যা করা হয়েছে এবং ইসলামের সাথে যা আচরণ করা হয়েছে তা নিয়ে অভিযোগ করছি।" তখন মসজিদের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেই প্রবীণ ব্যক্তিগণ কান্নারত অবস্থায় দাঁড়িয়ে পড়েন(১)। অতঃপর তিনি বলেন, তারপর তিনি মিম্বর থেকে নামেন এবং যা তাদের সামনে পাঠ করা হয়েছে তা দিয়ে লোকদের প্ররোচিত করেন(২)।

যখন উসমানের অনুসারীরা তা দেখল, তারা মুহাম্মদ বিন আবি হুজাইফাকে বর্জন করল এবং তার মোকাবেলা করল। তারা ছিলেন মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ, খারিজা বিন হুজাফা, বুসর(৩) বিন আবি আরতাহ, মুসলিমা বিন মুখাল্লাদ আল-আনসারি, আমর বিন কাহজাম(৪) আল-খাওলানি, মিকসাম বিন [বাজরাহ এবং] সাদ বিন মালিক আল-আজদি(৫) এবং খালিদ বিন সাবিত আল-ফাহমি(৬) এক বিশাল জনসমাবেশে, যাদের খ্যাতি অন্যদের মতো ছিল না। তারা সালামাহ বিন মাখজামা আত-তুজিবি এবং বানু যামিলাহর(৭) একজনকে উসমানের কাছে পাঠালেন যাতে তাকে তাদের বিষয় এবং ইবনে আবি হুজাইফার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করা যায়।

[৬ খ] আব্বাস বিন মুহাম্মদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমর বিন সাওয়াদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইবনে লাহিয়া আমাকে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, তিনি রাবিয়া বিন লাকিত থেকে, তিনি বলেছেন: আমি সালামাহ বিন মাখজামা-কে বলতে শুনেছি: যখন ইবনে আবি হুজাইফা মিসরে বিদ্রোহ করল...

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে আছে: "তিনি বলেন", তাই আমরা আল-খিতাত (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৩৫) অনুসরণ করেছি।

(২) আল-খিতাত-এর নির্দেশিত স্থানে আছে: "বিক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়া"।

(৩) মূল পাঠে আছে 'বিশর', তবে সুয়ুতি (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৩) একে প্রথম অক্ষরে পেশ এবং দ্বিতীয় অক্ষরে সুকুন (বুসর) দিয়ে নির্ধারণ করেছেন; এ বিষয়ে তাবারি-র ইতিহাস গ্রন্থেও (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২১০৯) দেখা যেতে পারে।

(৪) মূল পাঠে 'ফাহজাম', আল-খিতাত-এ 'মুহজাম' (প্রথম অক্ষরে নুকতা ছাড়া) এবং আন-নুজুম-এ 'মুখাররাম'।

(৫) আল-মাকরিজি আল-খিতাত গ্রন্থে এই বাক্যটি উল্লেখ করেছেন: "এবং মিকসাম বিন বাজরাহ, হামজাহ বিন সারাহ বিন কিলাল এবং আবুল কানুদ সাদ বিন মালিক আল-আজদি।" এখান থেকে অনুমিত হয় যে মূল পাঠে কিছু অংশ বাদ পড়েছে এবং মিকসাম বিন সাদ কোনো প্রকৃত নাম নয়।

(৬) মূল পাঠে আছে 'আল-ফিহরি', তবে আমরা আল-খিতাত অনুসরণ করেছি কারণ সুয়ুতি-তে (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৩) উল্লেখিত এই খালিদ মূলত 'ফাহম' গোত্রের সাথে সম্পর্কিত।

(৭) মূল পাঠে 'আখাযা বানু রুমিলাহ' আছে যা বিকৃতিমুক্ত নয়; আর বানু যামিলাহ হলো তুজিব গোত্রের একটি শাখা যা আল-কামুস গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ١٦)
بخلع عثمان دعا الناس إلى أعطياتهم قال: فأبيت أن آخذ منه فقدر لي أني ركبت إلى عثمان فقلت: يا أمير المؤمنين إن ابن أبي حذيفة إمام ضلالة كما قد علمت وأنه انتزى عليه بمصر فدعانا إلى أعطياتنا فأبيت أن آخذ منه. قال: قد عجزت إنما هو حقك

وبعث أمير المؤمنين عثمان سعد بن أبي وقاص إليهم ليصلح أمرهم. فحدثني محمد بن عبد الوارث بن جرير قال: حدثنا ياسين بن عبد الأحد بن الليث قال: حدثني أبي عن يحيى بن ايّوب عن يزيد ابن أبي حبيب أن محمد بن أبي حذيفة لما انتزى على عثمان بعث سعد بن أبي وقاص إلى أهل مصر يعطيهم ما سألوا فبلغ ذلك ابن أبي حذيفة فخطبهم ثم قال: ألا إن الكذاب كذا وكذا قد بعث إليكم سعد بن مالك ليقل جماعتكم ويشتت كلمتكم ويوقع التخاذل فيكم فانفروا إليه فخرج إليه منهم بمائة(1) أو نحوها فلقوه بمرحلة بني سعد وقد ضرب فسطاطه وهو قائل فقلبوا(2) عليه فسطاطه وشجوه وسبوه فركب راحلته وعاد راحلا من حيث جاء وقال لهم: ضربكم الله بالذل والفرقة وشتت امركم وجعل بأسكم بينكم ولا أرضاكم بامير(3) ولا أرضاه عنكم

حدثني محمد بن موسى الحضرمي(4) قال: حدثني أحمد بن يحيى بن عميرة الجذامي قال: حدثنا عبد الله بن يوسف عن ابن لهيعة عن يزيد بن أبي

--------------------------------------------

(1) يقرب ان الصواب مائة

(2) في الاصل: فليقلبوا (راجع الخطط ج 2 ص 335)

(3) في الاصل: بأمر

(4) في الاصل: الخضري
উসমানের পদচ্যুতির পর তিনি (ইবনে আবু হুযাইফা) মানুষকে তাদের ভাতার জন্য ডাকলেন। তিনি বললেন: আমি তার থেকে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলাম। এরপর আমার জন্য নির্ধারিত হলো যে আমি উসমানের কাছে সওয়ার হয়ে গেলাম এবং বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন! ইবনে আবু হুযাইফা একজন গোমরাহির ইমাম, যেমনটি আপনি জানেন। সে মিশরে তার (গভর্নরের) ওপর চড়াও হয়েছে এবং আমাদের ভাতার জন্য ডেকেছে, কিন্তু আমি তার থেকে তা নিতে অস্বীকার করেছি। তিনি বললেন: তুমি অপারগতা প্রকাশ করেছ, অথচ এটি তোমারই প্রাপ্য।

আমিরুল মুমিনীন উসমান তাদের বিষয়াদি সংশোধন করার জন্য তাদের কাছে সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসকে পাঠালেন। মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়ারিস বিন জারীর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াসিন বিন আব্দুল আহাদ বিন লাইস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা ইয়াহিয়া বিন আইয়ুব থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ বিন আবু হুযাইফা যখন উসমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মিশরে চড়াও হলো, তখন উসমান সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসকে মিশরবাসীদের কাছে পাঠালেন যেন তাদের চাওয়া অনুযায়ী তিনি তা প্রদান করেন। এ খবর ইবনে আবু হুযাইফার কাছে পৌঁছালে সে তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিল এবং বলল: সাবধান! সেই চরম মিথ্যাবাদী তোমাদের কাছে সাদ বিন মালিককে পাঠিয়েছে তোমাদের জামাতকে সংকুচিত করতে, তোমাদের ঐক্য নষ্ট করতে এবং তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে। সুতরাং তোমরা তার বিরুদ্ধে বের হও। ফলে তাদের মধ্য থেকে একশ’(১) বা তার কাছাকাছি লোক তার বিরুদ্ধে বের হলো। বনী সাদের মনজিলে তারা তার সাক্ষাৎ পেল, তখন তিনি তার তাবু গেড়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তারা তার তাবু উল্টে দিল(২), তাকে আহত করল এবং গালি দিল। তখন তিনি তার সওয়ারিতে চড়ে যেখান থেকে এসেছিলেন সেদিকে ফিরে গেলেন এবং তাদের বললেন: আল্লাহ তোমাদের ওপর অপমান ও বিভেদ চাপিয়ে দিন, তোমাদের ঐক্য ছিন্নভিন্ন করে দিন এবং তোমাদের লড়াই তোমাদের নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন; তিনি তোমাদের জন্য কোনো আমিরের(৩) প্রতি তোমাদের সন্তুষ্ট করবেন না এবং তাকেও তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট করবেন না।

মুহাম্মদ বিন মুসা আল-হাদরামি(৪) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন ইয়াহিয়া বিন উমাইরা আল-জুযামি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন আবি... থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত সঠিক শব্দ হলো ‘একশ’

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘তারা যেন উল্টে দেয়’ (দেখুন: আল-খিতাত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৩৫)

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘কোনো বিষয়ের মাধ্যমে’

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘আল-খুদরি’
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ١٧)
حبيب قال: انتزى محمد بن أبي حذيفة على الإمارة [7] فأمر على مصر وتابعه أهل مصر طرا إلا أن يكون عصابة منهم معاوية بن حديج وبسر بن أبي أرطاة

وحدثني ابن قديد عن عبيد الله بن سعيد عن أبيه عن ابن لهيعة عن يزيد بن ابي حبيب قال: وأقبل عبد الله بن سعد حتى إذا بلغ جسر القلزم وجد به خيلا لابن أبي حذيفة فمنعوه أن يدخل فقال: ويلكم دعوني أدخل على جندي فأعلمهم بما جئت به فإني قد جئتهم بخير. فأبوا أن يدعوه فقال: والله لوددت أني دخلت عليهم فأعلمتهم بما جئت به ثم مت. فانصرف إلى عسقلان وكره أن يرجع إلى عثمان فقتل عثمان وهو بعسقلان ثم مات بها. وأجمع محمد بن أبي حذيفة على بعث جيش إلى عثمان. فحدثني محمد بن موسى قال: حدثنا أحمد بن يحيى بن عميرة قال: حدثنا عبد الله بن يوسف عن ابن لهيعة عن يزيد بن أبي حبيب أن محمد بن أبي حذيفة قال: من يشترط(1) في هذا البعث. فكثر عليه من يشترط فقال: إنما يكفينا منكم ستمائة رجل. فاشترط من أهل مصر ستمائة رجل على كل مائة منهم رئيس وعلى جماعتهم عبد الرحمن بن عديس البلوي وهم كنانة بن بشر بن سلمان(2) التجيبي وعروة بن شتيم(3) الليثي وأبو عمرو بن(4) بذيل بن ورقاء الخزاعي وسودان بن أبي رومان الأصبحيّ(5) ودرع بن يشكر

--------------------------------------------

(1) في الخطط: (ج 2 ص 335) يتشرط

(2) في الموضع المشار اليه من الخطط: سليمان

(3) في الخطط: سليم

(4) اخذنا هذا الاسم من الخطط لان الكتابة في الاصل مبهمة لا تقرأ

(5) في الخطط: سودان بن ريان الاصبحي
হাবিব বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি হুজাইফা ইমারত (শাসনভার) দখল করে নিলেন [৭] এবং মিসরের উপর কর্তৃত্ব করলেন। একদল লোক ছাড়া সমগ্র মিসরবাসী তাঁর আনুগত্য করল, যাদের মধ্যে মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইিজ এবং বুসর ইবনে আবি আরতাহ ছিলেন।

এবং ইবনে কাদিদ আমার কাছে উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে সাদ এগিয়ে এলেন, যখন তিনি কুলজুমের পুলে (সেতু) পৌঁছালেন, সেখানে তিনি ইবনে আবি হুজাইফার অশ্বারোহী বাহিনী দেখতে পেলেন। তারা তাঁকে প্রবেশ করতে বাধা দিল। তখন তিনি বললেন: "তোমাদের ধ্বংস হোক! আমাকে আমার বাহিনীর কাছে যেতে দাও যাতে আমি যা নিয়ে এসেছি সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করতে পারি, কারণ আমি তাদের জন্য কল্যাণ নিয়ে এসেছি।" তারা তাঁকে প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকার করল। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি যদি তাদের নিকট প্রবেশ করতে পারতাম এবং যা নিয়ে এসেছি তা জানাতে পারতাম, অতঃপর মৃত্যুবরণ করতাম (তবে তাই আমি পছন্দ করতাম)।" এরপর তিনি আসকালানের দিকে ফিরে গেলেন এবং উসমানের কাছে ফিরে যাওয়া অপছন্দ করলেন। তিনি আসকালানে থাকা অবস্থাতেই উসমান শহীদ হলেন এবং পরে তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। মুহাম্মদ ইবনে আবি হুজাইফা উসমানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে একমত হলেন। মুহাম্মদ ইবনে মুসা আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমাইরা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে আবি হুজাইফা বললেন: "এই অভিযানে কে শর্ত সাপেক্ষে(১) যোগ দেবে?" তখন শর্ত সাপেক্ষে যোগ দিতে ইচ্ছুক অনেক লোক তাঁর কাছে সমবেত হলো। তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্য থেকে আমাদের জন্য মাত্র ছয়শ জন লোকই যথেষ্ট।" এরপর মিসরবাসীদের মধ্য থেকে ছয়শ জন লোক শর্তসাপেক্ষে যুক্ত হলো, যাদের প্রতি একশ জনের জন্য একজন করে নেতা ছিল এবং তাদের পুরো দলের নেতৃত্বে ছিলেন আবদুর রহমান ইবনে উদাইস আল-বালাউয়ি। তারা হলেন কিনানা ইবনে বিশর ইবনে সালমান(২) আত-তুজিবি, উরওয়া ইবনে শুতাইম(৩) আল-লাইসি, আবু আমর ইবনে(৪) বুজাইল ইবনে ওয়ারকা আল-খুজাই এবং সুদান ইবনে আবি রুমান আল-আসবাহি(৫) ও দির’ ইবনে ইয়াশকর।

--------------------------------------------

(১) আল-খিতাত গ্রন্থে: (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৩৫) 'ইয়াতাশাররাতু' শব্দে বর্ণিত হয়েছে।

(২) আল-খিতাত-এর উল্লিখিত স্থানে রয়েছে: সুলাইমান।

(৩) আল-খিতাত গ্রন্থে রয়েছে: সুলাইম।

(৪) আমরা এই নামটি আল-খিতাত থেকে গ্রহণ করেছি কারণ মূল পাণ্ডুলিপির লেখা অস্পষ্ট হওয়ায় পড়া যাচ্ছিল না।

(৫) আল-খিতাত গ্রন্থে রয়েছে: সুদান ইবনে রাইয়ান আল-আসবাহি।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ١٨)
اليافعي(1) قال يزيد بن أبي حبيب: وسجن رجال من أهل مصر في دورهم منهم بسر بن أبي أرطاة ومعاوية بن حديج فبعث ابن أبي حذيفة إلى معاوية بن حديج وهو أرمل(2) ليكرهه على البيعة فلما رأى ذلك كنانة بن بشر وكان [7 ب] رأس الشيعة الأولى دفع عن معاوية بن حديج ما كره ثم قتل عثمان رحمه الله وكان قتله في ذي الحجة سنة خمس وثلاثين ثم أن الركب انصرفوا إلى مصر فلمّا دخلوا الفسطاط ارتجز مرتجزهم

خذها إليك واحذرن(3) … أبا حسن

إنا(4) نمر الحرب إمرار الرسن

بالسيف كي نخمد نيران الفتن(5) …

قال يزيد بن أبي حبيب: فلما دخلوا المسجد صاحوا إنا لسنا قتلة عثمان ولكن الله قتله فلما رأى ذلك شيعة عثمان قاموا وعقدوا لمعاوية بن حديج عليهم وبايعوه فكان أول من بايع على الطلب بدم عثمان وفيهم يحيى بن يعمر الرعيني ثم العبلي فسار بهم معاوية بن حديج إلى الصعيد فبعث إليهم بن أبي حذيفة خيلا فالتقوا بدقناش(6) من كورة البهنسي(7) فهزم أصحاب ابن ابي

--------------------------------------------

(1) في الخطط: ذرع بن يشكر النافعيّ

(2) في الخطط: ارمد. وهو الصحيح على الظاهر

(3) في الاصل: احذروا ويكون تحريف احذرا

(4) في الاصل: انما

(5) في الاصل: كلمة مغلطة لا يعرف المقصود بها وقبلها نحمد نيران مع علامة اهمال الحاء وورد هذا الشعر في الخطط (ج 1 ص 335)

(6) في الاصل: بدقياس وفي التحفة السنية (ص 166،170) وفي الانتصار (ج 5 ص 7) دقناش

(7) في الاصل: المبهنسا
আল-ইয়াফেয়ী(১) বলেন, ইয়াযীদ ইবনে আবি হাবীব বলেছেন: মিসরের অধিবাসীদের মধ্য থেকে কিছু লোককে তাদের ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ছিলেন বুসর ইবনে আবি আরতাহ এবং মুআবিয়া ইবনে হুদাইজ। অতঃপর ইবনে আবি হুযাইফা মুআবিয়া ইবনে হুদাইজের কাছে লোক পাঠালেন—তিনি তখন অসুস্থ(২) ছিলেন—যাতে তাকে আনুগত্যের শপথ নিতে বাধ্য করা যায়। যখন কিনানা ইবনে বিশর এটি দেখলেন—তিনি ছিলেন [৭ খ] প্রাথমিক শিয়াদের প্রধান—তখন তিনি মুআবিয়া ইবনে হুদাইজ থেকে সেই অপছন্দনীয় বিষয়টি প্রতিহত করলেন। অতঃপর উসমান (রহ.) শহীদ হলেন, আর তাঁর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল পঁয়ত্রিশ হিজরি সনের যিলহজ মাসে। এরপর কাফেলাটি মিসরের দিকে ফিরে গেল। যখন তারা ফুস্তাতে প্রবেশ করল, তখন তাদের রাজায (ছন্দ) পাঠক আবৃত্তি করল:

এটি তোমার জন্য গ্রহণ করো এবং সতর্ক হও(৩) … হে আবু হাসান

নিশ্চয়ই(৪) আমরা যুদ্ধের রশিকে দৃঢ়ভাবে পাক দিই

তলোয়ারের মাধ্যমে, যাতে আমরা ফিতনার আগুন নির্বাপিত করতে পারি(৫) …

ইয়াযীদ ইবনে আবি হাবীব বলেন: যখন তারা মসজিদে প্রবেশ করল, তখন তারা চিৎকার করে বলতে লাগল, "আমরা উসমানের হত্যাকারী নই, বরং আল্লাহ তাকে হত্যা করেছেন।" উসমানের অনুসারীরা যখন এটি দেখল, তখন তারা উঠে দাঁড়াল এবং মুআবিয়া ইবনে হুদাইজকে তাদের নেতা নিযুক্ত করল ও তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করল। উসমানের রক্তপণ দাবির ওপর তিনিই ছিলেন বায়আত গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি। তাদের মধ্যে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর আর-রুআইনি এবং আল-আবালি ছিলেন। অতঃপর মুআবিয়া ইবনে হুদাইজ তাদেরকে নিয়ে আস-সাঈদের দিকে যাত্রা করলেন। ইবনে আবি হুযাইফা তাদের বিরুদ্ধে অশ্বারোহী বাহিনী পাঠালেন। তারা বাহনাসা অঞ্চলের(৭) দাকনাশে(৬) মিলিত হলো। অতঃপর ইবনে আবির সঙ্গীরা পরাজিত হলো।

--------------------------------------------

(১) আল-খিতাত-এ আছে: যার' ইবনে ইয়াশাকুর আন-নাফেয়ী।

(২) আল-খিতাত-এ আছে: আরমাদ (চোখের ব্যথাতুর)। দৃশ্যত এটিই সঠিক।

(৩) মূলে আছে: 'ইহযারু' (সতর্ক হও - বহুবচন), যা সম্ভবত 'ইহযারা' (সতর্ক হও - দ্বিবচন) এর বিকৃত রূপ।

(৪) মূলে আছে: 'ইন্নামা'।

(৫) মূলে এখানে একটি অস্পষ্ট শব্দ আছে যার অর্থ জানা যায়নি, আর এর আগে 'নাহমাদু নায়রান' আছে যাতে 'হা' অক্ষরের নুকতাহীনতার চিহ্ন রয়েছে। এই কবিতাটি আল-খিতাত (১ম খণ্ড, পৃ. ৩৩৫) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(৬) মূলে আছে: 'দাকইয়াস'। তবে আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ (পৃ. ১৬৬, ১৭০) এবং আল-ইনতিসার (৫ম খণ্ড, পৃ. ৭) গ্রন্থে আছে: 'দাকনাশ'।

(৭) মূলে আছে: 'আল-মাবহনাসা'।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ١٩)
حذيفة ومضى معاوية بن حديج حتى بلغ برقة ثم رجع إلى الإسكندرية ثم إن ابن أبي حذيفة أمر بجيش آخر عليهم قيس بن حرمل اللخمي وفيهم ابن الجثما البلوي فاقتتلوا بخربتا أول يوم من شهر رمضان سنة ست وثلاثين فقتل قيس بن حرمل وابن جثما واصحابهما وسار معاوية ابن أبي سفيان إلى مصر فنزل سلمنت من كورة عين شمس في شوال سنة ست وثلاثين فخرج إليه ابن أبي حذيفة وأهل مصر ليمنعوا معاوية وأصحابه أن يدخلوها فبعث إليه معاوية: إنا لا نريد قتال أحد إنما(1) جئنا نسأل القود بدم عثمان ادفعوا الينا قاتليه عبد الرحمن ابن عديس وكنانة بن بشر وهما رأسا القوم. فامتنع ابن أبي حذيفة وقال: لو طلبت منا [8] جديا رطب السرة بعثمان(2) ما دفعناه إليك. فقال معاوية بن أبي سفيان لابن أبي حذيفة: اجعل بيننا وبينكم رهنا فلا يكون بيننا وبينكم حرب.

فقال ابن أبي حذيفة: فإني أرضى بذلك. فاستخلف ابن أبي حذيفة على مصر الحكم بن الصلت بن مخزمة بن المطلب بن عبد مناف وخرج في الرهن هو وابن عديس وكنانة بن بشر وأبو شمس(3) بن أبرهة الصباح وغيرهم من قتلة عثمان فلما بلغوا لد سجنهم معاوية بها وسار إلى دمشق فهربوا من السجن إلا أبو شمس بن أبرهة فقال: لا أدخله أسيرا وأخرج منه آبقا(4). وتبعهم صاحب فلسطين فقتلهم فأتبع عبد الرحمن بن عديس رجل من الفرس فقال له عبد الرحمن: اتق الله في دمي فإني بايعت النبيّ

--------------------------------------------

(1) في الاصل: انا

(2) في الخطط: ارطب السرة بعثمان (ج 2 ص 336) وفي الاصل: رطبا بسره لعثمن

(3) في الخطط: ابو شمر وهو الاقرب للظن

(4) كذا في الخطط: وفي الاصل: ايضا. اعتبرنا الثاني تصحيف الاول
হুযাইফা এবং মুআবিয়া বিন হুদাইজ অগ্রসর হলেন যতক্ষণ না তিনি বারকায় পৌঁছালেন, তারপর তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় ফিরে আসলেন। এরপর ইবনে আবি হুযাইফা কাইস বিন হারমাল আল-লাখমির নেতৃত্বে আরেকটি বাহিনী প্রেরণের নির্দেশ দেন, তাদের মধ্যে ইবনুল জাসামা আল-বালাউয়িও ছিলেন। তারা ছত্রিশ হিজরির রমজান মাসের প্রথম দিনে খারিবিতায় যুদ্ধে লিপ্ত হন। এতে কাইস বিন হারমাল এবং ইবনুল জাসামা ও তাদের সঙ্গীরা নিহত হন। মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান মিশরের অভিমুখে যাত্রা করেন এবং ছত্রিশ হিজরির শাওয়াল মাসে আইন শামস অঞ্চলের সালমানতে অবস্থান নেন। ইবনে আবি হুযাইফা ও মিশরের অধিবাসীরা মুআবিয়া ও তার সঙ্গীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য তার মোকাবিলায় বেরিয়ে আসেন। তখন মুআবিয়া তার কাছে বার্তা পাঠান: "আমরা কারো সাথে যুদ্ধ করতে চাই না, আমরা কেবল উসমানের রক্তের বিনিময়ে কিসাস (প্রতিশোধ) চাইতে এসেছি। তার হত্যাকারী আব্দুর রহমান ইবনে উদাইস এবং কিনানা বিন বিশরকে আমাদের হাতে তুলে দাও, কারণ তারা এই দলের প্রধান ব্যক্তি।" ইবনে আবি হুযাইফা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন: "তুমি যদি উসমানের বিনিময়ে আমাদের কাছে সদ্যজাত (নাভি ভেজা) একটি ছাগলছানাও চাইতে, তবুও আমরা তা তোমার কাছে সোপর্দ করতাম না।" তখন মুআবিয়া বিন আবি সুফিয়ান ইবনে আবি হুযাইফাকে বললেন: "আমাদের ও তোমাদের মাঝে কিছু লোককে জামিন (বন্ধক) হিসেবে রাখো, যেন আমাদের ও তোমাদের মাঝে যুদ্ধ না হয়।"

ইবনে আবি হুযাইফা বললেন: "আমি এতে সম্মত।" এরপর ইবনে আবি হুযাইফা আল-হাকাম বিন আস-সালত বিন মাখরামা বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদে মানাফকে মিশরের স্থলাভিষিক্ত করেন এবং তিনি নিজে, ইবনে উদাইস, কিনানা বিন বিশর, আবু শামস বিন আবরাহা আস-সাব্বাহ এবং উসমানের হত্যাকারীদের মধ্যে আরও যারা ছিল তারা জামিন হিসেবে বের হয়ে আসলেন। যখন তারা লুদ্দ পৌঁছালেন, মুআবিয়া তাদেরকে সেখানে বন্দী করেন এবং দামেস্কের দিকে যাত্রা করেন। তখন তারা কারাগার থেকে পালিয়ে যান, কেবল আবু শামস বিন আবরাহা ছাড়া; তিনি বললেন: "আমি এখানে বন্দী হিসেবে প্রবেশ করব আর পলাতক হিসেবে বের হব—এমনটি হতে পারে না।" ফিলিস্তিনের শাসনকর্তা তাদের পিছু নিয়ে তাদের হত্যা করেন। জনৈক পারস্য বংশোদ্ভূত ব্যক্তি আব্দুর রহমান ইবনে উদাইসের পশ্চাদ্ধাবন করলে আব্দুর রহমান তাকে বললেন: "আমার রক্তের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, কারণ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেছি..."

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: ইন্না (আমরা)।

(২) আল-খুতাত গ্রন্থে: আরতাবুস সুররা বি-উসমান (২য় খণ্ড, ৩৩৬ পৃষ্ঠা) এবং মূলে রয়েছে: রতবান বি-সুররা লি-উসমান।

(৩) আল-খুতাত গ্রন্থে: আবু শাম্মার, আর এটিই সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

(৪) আল-খুতাত গ্রন্থে এভাবেই আছে; আর মূলে রয়েছে: 'আইদান' (ও)। আমরা দ্বিতীয়টিকে প্রথমটির লিপিক্রমের ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
صلى الله عليه وسلم تحت الشجرة. فقال له: الشجر في الصحراء كثير وقتله

وأخبرني ابن قديد عن يحيى بن عثمان بن صالح عن ابن عفير عن الليث قال: قال محمد بن أبي حذيفة في الليلة التي قتل في صباحها. هذه الليلة التي قتل في صباحها عثمان فإن يكن القصاص لعثمان فسنقتل في غد.

فقتل في الغد وكان قتل ابن أبي حذيفة وابن عديس وكنانة بن بشر ومن كان معهم في الرهن في ذي الحجة سنة ست وثلاثين

 

‌‌ولاية قيس بن سعد بن عبادة بن دليم بن حارثة بن ابي حزيمة(1)

ابن ثعلبة بن طريف بن الخزرج بن ساعده بن كعب بن الخزرج

ثم وليها قيس بن سعد بن عبادة الأنصاري من قبل امير المؤمنين عليّ بن ابي طالب [8 ب] رضي الله عنه لما بلغه مصاب ابن أبي حذيفة بعثه عليها وجمع له الصلوة والخراج فدخلها مستهل شهر ربيع الأول سنة سبع وثلاثين فجعل على شرطته السائب بن هشام بن كنانة فاستمال قيس بن سعد الخارجية بخربتا وبعث إليهم أعطياتهم ووفد عليه(2) وفدهم فأكرمهم وأحسن إليهم

فحدثني محمد موسى الحضرمي قال: حدثنا أحمد بن يحيى بن عميرة قال: حدثنا عبد الله بن يوسف عن ابن لهيعة عن يونس بن يزيد عن ابن شهاب(3) قال: كانت مصر من جيش علي فأمر عليها قيس بن سعد وكان

--------------------------------------------

(1) في الاصل: خزيمة وقد صرح التهذيب (ص 274) عن ضبطه بفتح الحاء المهملة

(2) في الاصل: عليهم

(3) ورد مثال هذه الرواية في تاريخ الطبري (ج 1 ص 3241) عن يونس عن الزهري وهو ابن شهاب
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের নিচে। তখন তিনি তাকে বললেন: মরুভূমিতে গাছের সংখ্যা অনেক এবং তিনি তাকে হত্যা করলেন।

ইবনে কুদাইদ আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সালিহ থেকে, তিনি ইবনে উফায়র থেকে এবং তিনি লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি হুজাইফা যে রাতের সকালে নিহত হয়েছিলেন, সেই রাতে তিনি বলেছিলেন: এটি সেই রাত যার সকালে উসমান নিহত হয়েছিলেন; সুতরাং যদি উসমানের রক্তের বদলা (কিসাস) নেওয়া হয়, তবে কাল আমরা নিহত হব।

অতঃপর পরদিন তিনি নিহত হন। ইবনে আবি হুজাইফা, ইবনে উদাইস, কিনানা ইবনে বিশর এবং বন্দি অবস্থায় তাদের সাথে যারা ছিলেন, তাদের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল ছত্রিশ হিজরি সনের জিলহজ মাসে।

 

‌‌কায়স ইবনে সাদ ইবনে উবাদা ইবনে দুলাইম ইবনে হারিসা ইবনে আবি হুযাইমা(১)

ইবনে সা’লাবা ইবনে তুরিফ ইবনে খাযরাজ ইবনে সায়িদা ইবনে কাব ইবনে খাযরাজ-এর শাসনকাল

অতঃপর আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব [৮ খ] রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পক্ষ থেকে কায়স ইবনে সাদ ইবনে উবাদা আল-আনসারি এর শাসনভার গ্রহণ করেন। যখন তাঁর নিকট ইবনে আবি হুজাইফার শাহাদাতের সংবাদ পৌঁছাল, তিনি তাকে এর ওপর নিযুক্ত করে পাঠালেন এবং তার জন্য নামাজ পরিচালনা ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ন্যস্ত করলেন। তিনি সাঁইত্রিশ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে সেখানে প্রবেশ করেন। তিনি সায়েব ইবনে হিশাম ইবনে কিনানাকে তাঁর পুলিশ বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করেন। কায়স ইবনে সাদ খিরবিত্তা নামক স্থানে খারিজিদেরকে প্রভাবিত করতে থাকেন এবং তাদের প্রাপ্য ভাতাগুলো তাদের কাছে পাঠিয়ে দেন। তাদের প্রতিনিধি দল তাঁর কাছে এলে তিনি তাদেরকে সম্মান জানান এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করেন।

মুহাম্মদ মুসা আল-হাদরামি আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমাইরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে এবং তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন।(৩) তিনি বলেন: মিসর আলী (রা.)-এর বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাই তিনি কায়স ইবনে সাদকে সেখানকার গভর্নর নিযুক্ত করেন এবং তিনি ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে: খুজাইমা (خزيمة) রয়েছে। তবে আত-তাহজিব গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২৭৪) একে নোকতাহীন ‘হা’ (ح) বর্ণে যবর দিয়ে (হুযাইমা - حزيمة) পড়ার ব্যাপারে স্পষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে।

(২) মূল পাঠে: আলাইহিম (عليهم) রয়েছে।

(৩) এই বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা তারিখুত তাবারিতে (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২৪১) ইউনুস থেকে যুহরি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আর তিনিই হলেন ইবনে শিহাব।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٢١)
من ذوي الرأي والبأس(1) إلا ما غلب عليه من أمر الفتنة فكان معاوية وعمرو جاهدين أن يخرجاه(2) من مصر فتغلب على أمرها وكان قد امتنع منهما بالدهاء والمكايدة فلم يقدرا على أن يلجا مصر حتى كاد معاوية قيسا من قبل علي فكان معاوية يحدث رجالا من ذوي الرأي من قريش فيقول: ما ابتدعت(3) من مكايدة قط أعجب إلي من مكايدة كدت بها قيس بن سعد حين(4) امتنع مني قيس قلت لأهل الشام: لا تسبوا قيسا ولا تدعوا إلى غزوه فإن قيسا لنا شيعة تأتينا كتبه ونصيحته ألا ترون ماذا يفعل بإخوانكم النازلين عنده بخربتا يجري عليهم أعطياتهم وأرزاقهم ويؤمن سربهم ويحسن إلى كل راكب يأتيه منهم قال معاوية: وطفقت اكتب بذلك إلى شيعتي من أهل العراق فسمع بذلك جواسيس علي بالعراق فانهاه إليه محمد بن أبي بكر الصديق وعبد الله بن جعفر فأتهم [9] قيسا فبعث إليه يأمره بقتال أهل خربتا وبخربتا يومئذ عشرة آلاف فأبى قيس أن يقاتلهم وكتب إلى علي أنهم وجوه أهل مصر واشرافهم واهل الحفاظ وقد رضوا منّي بان أؤمّن سربهم وأجري عليهم أعطياتهم وأرزاقهم وقد علمت أن هواهم مع معاوية فلست مكايدهم بأمر أهون من الذي أفعل بهم وهم أسود العرب منهم بسر بن أبي أرطاة ومسلمة بن مخلد ومعاوية بن حديج فأبى عليه إلا قتالهم فأبى قيس أن يقاتلهم وكتب إلى علي:

إن كنت تتهمني فاعزلني وابعث غيري. فبعث الاشتر

--------------------------------------------

(1) في الاصل: من الناس والتصحيح من تاريخ الطبري

(2) في الاصل: يخرجا

(3) في الاصل: ابتدعته

(4) في الاصل: حتى والتصحيح من الخطط (ج 1 ص 336)
বিচক্ষণ ও সাহসী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন(১), তবে ফিতনার বিষয়টি তাঁর ওপর প্রবল হয়েছিল। মুয়াবিয়া ও আমর বিন আস তাকে মিশর থেকে বের করে দেওয়ার জন্য(২) আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি মিশরের শাসনভারের ওপর বিজয়ী ছিলেন। তিনি চাতুর্য ও কূটকৌশলের মাধ্যমে তাদের প্রতিহত করেছিলেন, ফলে মুয়াবিয়া আলীর পক্ষ থেকে কায়সের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র না করা পর্যন্ত তারা মিশরে প্রবেশ করতে সক্ষম হননি। মুয়াবিয়া কুরাইশদের বিচক্ষণ ব্যক্তিদের কাছে বলতেন: "আমি কায়স বিন সা'দের বিরুদ্ধে যে কূটকৌশল অবলম্বন করেছি, তার চেয়ে বিস্ময়কর কোনো কৌশল আমি কখনো উদ্ভাবন(৩) করিনি। যখন কায়স আমার নাগাল বহির্ভূত হলেন(৪), তখন আমি সিরিয়াবাসীদের বললাম: তোমরা কায়সকে গালি দিও না এবং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান জানিও না; কারণ কায়স আমাদেরই লোক, তার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে পত্র ও সদুপদেশ আসে। তোমরা কি দেখছ না যে, খারিবতায় তার সান্নিধ্যে অবস্থানরত তোমাদের ভাইদের সাথে সে কী আচরণ করছে? সে তাদের ভাতা ও জীবিকা প্রদান করছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে এবং তাদের মধ্য থেকে আগত প্রত্যেক আরোহীর সাথে সদ্ব্যবহার করছে।" মুয়াবিয়া বললেন: "আমি ইরাকের আমার সমর্থকদের কাছে এই মর্মে লিখতে শুরু করলাম। ইরাকে আলীর গোয়েন্দারা তা শুনতে পেল এবং মুহাম্মদ বিন আবু বকর সিদ্দিক ও আবদুল্লাহ বিন জাফর তা আলীর কাছে পৌঁছে দিলেন। ফলে আলী কায়সকে সন্দেহ করলেন [৯] এবং তাকে খারিবতাবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন। তখন খারিবতায় দশ হাজার লোক ছিল। কায়স তাদের সাথে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করলেন এবং আলীর কাছে লিখলেন যে, তারা মিশরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, অভিজাত এবং মর্যাদাবান। তারা আমার কাছ থেকে নিরাপত্তা লাভ এবং নিয়মিত ভাতা ও জীবিকা পাওয়ার শর্তে সন্তুষ্ট হয়েছে। আমি জানি যে তাদের আনুগত্য মুয়াবিয়ার প্রতি, কিন্তু তাদের সাথে আমি এখন যে নমনীয় আচরণ করছি তার চেয়ে উত্তম কোনো কৌশলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তারা আরবের সিংহতুল্য; তাদের মধ্যে বুসর বিন আবি আরতাহ, মাসলামাহ বিন মুখাল্লাদ এবং মুয়াবিয়া বিন হুদাইজ রয়েছেন। কিন্তু আলী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশেই অটল থাকলেন। কায়স তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করলেন এবং আলীর কাছে লিখলেন:

যদি আপনি আমাকে সন্দেহ করেন তবে আমাকে পদচ্যুত করুন এবং অন্য কাউকে পাঠান। তখন তিনি আশতারকে পাঠালেন।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে: মানুষের মধ্য থেকে; সংশোধন তাবারীর ইতিহাস থেকে।

(২) মূল পাঠে: তারা দুজন বের করে দেয়।

(৩) মূল পাঠে: আমি তা উদ্ভাবন করেছি।

(৪) মূল পাঠে: 'পর্যন্ত', সংশোধন আল-খিতাত (১ম খণ্ড, ৩৩৬ পৃষ্ঠা) থেকে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
حدثنا حسن المديني قال: حدثنا يحيى بن بكير عن الليث عن عبد الكريم بن الحارث قال: لما ثقل مكان قيس على معاوية كتب إلى بعض بني أمية بالمدينة أن جزى الله قيس بن سعد(1) خيرا فإنه قد كف عن إخواننا من أهل مصر الذين قاتلوا في دم عثمان واكتموا ذلك فإني أخاف أن يعزله علي إن بلغه ما بينه وبين شيعتنا حتى بلغ عليّ فقال من معه من رؤساء أهل العراق وأهل(2) المدينة: بدل قيس وتحول. فقال علي:

ويحكم إنه لم يفعل فدعوني. قالوا: لتعزلنه فإنه قد بدل. فلم يزالوا به حتى كتب إليه إني قد احتجت إلى قربك فاستخلف على عملك واقدم فلما قرأ الكتاب قال: هذا من مكر معاوية ولولا الكذب لكدت بمعاوية مكرا يدخل عليه بيته

حدثنا أبو العلى قال: حدثنا هشام بن عمار قال: حدثنا الجراح بن مليح قال: حدثنا ابو رافع عن قيس بن سعد [9 ب] قال: لولا أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: المكر والخديعة(3) في النار لكنت من أمكر الناس. فوليها قيس بن سعد إلى أن عزل عنها أربعة أشهر وخمسة أيام صرف لخمس خلون من رجب سنة سبع وثلاثين

--------------------------------------------

(1) في الاصل: سعيد

(2) في الاصل: واقبل صحّحناه عن الخطط

(3) في بعض نسخ النجوم الخدعة يراجع (ج 1 ص 107)
আমাদের নিকট হাসান আল-মাদিনী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল কারীম ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন মুআবিয়ার নিকট কাইসের অবস্থান অসহনীয় হয়ে উঠল, তখন তিনি মদিনার বনু উমাইয়ার কিছু লোকের নিকট পত্র লিখলেন যে, আল্লাহ কাইস ইবনে সাদ(১)-কে উত্তম প্রতিদান দিন, কেননা তিনি মিশরের অধিবাসীদের মধ্য থেকে আমাদের সেই ভাইদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে বিরত থেকেছেন যারা উসমানের রক্তের (প্রতিশোধের) প্রশ্নে লড়াই করেছিল। তোমরা বিষয়টি গোপন রেখো, কারণ আমি আশঙ্কা করি যে, কাইস ও আমাদের সমর্থকদের মধ্যে যা চলছে তা যদি আলীর নিকট পৌঁছে যায় তবে তিনি তাকে বরখাস্ত করবেন। অবশেষে সংবাদটি আলীর নিকট পৌঁছাল। তখন তাঁর সাথে থাকা ইরাক ও মদিনার(২) নেতৃবৃন্দ বললেন: কাইস বদলে গেছে এবং বিচ্যুত হয়েছে। আলী বললেন:

তোমাদের দুর্ভোগ হোক! সে এমনটি করেনি, সুতরাং আমাকে ছেড়ে দাও। তারা বলল: আপনি অবশ্যই তাকে বরখাস্ত করবেন, কারণ সে বদলে গেছে। তারা তাঁর কাছে এই দাবি করতেই থাকল যতক্ষণ না তিনি তার নিকট পত্র লিখলেন যে: আমার তোমার সান্নিধ্যের প্রয়োজন হয়েছে, সুতরাং তোমার কাজের জন্য একজন স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করো এবং চলে এসো। যখন তিনি (কাইস) পত্রটি পড়লেন, তখন বললেন: এটি মুআবিয়ার চক্রান্তের অংশ। যদি মিথ্যা (অন্যায়) না হতো তবে আমি মুআবিয়ার বিরুদ্ধে এমন চক্রান্ত করতাম যা তার ঘরের ভেতরে গিয়ে তাকে আঘাত করত।

আমাদের নিকট আবুল আলা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিশাম ইবনে আম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-জাররাহ ইবনে মালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু রাফে কাইস ইবনে সাদ [৯ খ] থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যদি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক)-কে বলতে না শুনতাম যে: "ষড়যন্ত্র ও প্রতারণা জাহান্নামে", তবে আমি হতাম মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় কৌশলী। কাইস ইবনে সাদ চার মাস পাঁচ দিন এই পদে আসীন ছিলেন যতক্ষণ না তাকে বরখাস্ত করা হয়। সাঁইত্রিশ হিজরীর রজব মাসের পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে: সাঈদ।

(২) মূল পাঠে: 'ওয়া আকবালা' (এবং তিনি এগিয়ে এলেন), আমরা আল-খিতাত অনুসারে এটি সংশোধন করেছি।

(৩) আল-নুজুম-এর কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'আল-খিদআহ' রয়েছে, দ্রষ্টব্য: (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৭)।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌الأشتر مالك بن الحارث بن عبد يغوث(1) بن مسلمة بن ربيعة بن

الحارث بن جذيمة(2) بن سعد بن مالك بن النخع بن عمرو بن

علة بن جلد(3) بن مذحج

ثم وليها الأشتر مالك بن الحارث النخعي من قبل أمير المؤمنين علي فسار إليها حتى نزل القلزم مستهل رجب سنة سبع وثلاثين فحدثني علي بن الحسن بن قديد قال: حدثنا هارون بن سعيد بن الهيثم قال: حدثني خالد ابن نزار عن سفيان بن عيينة عن مجالد عن الشعبي(4) عن عبد الله بن جعفر قال: كنت إذا أردت أن لا يمنعني علي شيئا قلت: بحق جعفر. فقلت له:

أسألك بحق جعفر ألا بعثت الأشتر إلى مصر فإن ظفرت فهو الذي تحب وإلا استرحت منه. قال سفيان: وكان قد ثقل عليه وأبغضه وقلاه. قال: فولاه وبعثه وبعث معه طيرين لي من العرب فلما قدم قلزم مصر لقي بها بما يلقى به العمال هنالك فشرب شربة عسل فمات فلما قدم طيراي(5) اخبراني.

فدخلت على علي فأخبرته فقال: لليدين وللفم

قال سفيان عن عمرو بن دينار أن عمرو بن العاص قال لما بلغه موته: إن لله جنودا من(6) العسل

حدثنا حسن بن محمد المديني قال: حدثنا يحيى بن عبد الله بن بكير قال:

--------------------------------------------

(1) في الاصل: نغوث

(2) في الاصل: حزيمة

(3) في الاصل: خلد وذكر في التهذيب انه جلد بالجيم (ص 539)

(4) في الاصل: الشعبي واعتمدنا على كتاب المعارف حيث ذكر (ص 229) ان عداد الشعبي في همدان وقال القاموس عن الشعب بطن من همدان

(5) في الاصل: طيراني

(6) هكذا في الخطط (ج 1 ص 336) وفي الاصل: في
আল-আশতার মালিক বিন আল-হারিস বিন আবদ ইয়াগুস(১) বিন মাসলামা বিন রাবিআ বিন

আল-হারিস বিন জুযাইমা(২) বিন সাদ বিন মালিক বিন আন-নাখা বিন আমর বিন

ইল্লাহ বিন জালদ(৩) বিন মাযহিজ

অতঃপর আমিরুল মুমিনীন আলীর পক্ষ থেকে আল-আশতার মালিক বিন আল-হারিস আন-নাখাঈ সেখানকার শাসক নিযুক্ত হলেন। তিনি সেখানে যাত্রা করলেন এবং সাইত্রিশ হিজরি সনের রজব মাসের শুরুতে কুলজুম নামক স্থানে অবতরণ করলেন। আলী বিন আল-হাসান বিন কুদাইদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: হারুন বিন সাঈদ বিন আল-হাইসাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: খালিদ ইবনে নিযার সুফিয়ান বিন উয়াইনা থেকে, তিনি মুজালিদ থেকে, তিনি আশ-শা'বী(৪) থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ বিন জাফর থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন: যখন আমি চাইতাম যে আলী আমাকে কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত না করুক, তখন আমি বলতাম: জাফরের হকের উসিলায়। অতঃপর আমি তাঁকে বললাম:

আমি আপনার কাছে জাফরের হকের উসিলায় আবেদন করছি যে, আপনি আল-আশতারকে মিসরে পাঠান। যদি সে জয়ী হয় তবে সে আপনার প্রিয় পাত্র হিসেবেই থাকবে, নতুবা আপনি তার থেকে স্বস্তি পাবেন। সুফিয়ান বলেন: সে (আল-আশতার) তাঁর ওপর ভারী হয়ে পড়েছিল এবং তিনি তাকে অপছন্দ ও তুচ্ছজ্ঞান করতে শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাকে শাসক নিযুক্ত করলেন এবং তাকে পাঠালেন, আর তার সাথে আরবদের মধ্য থেকে আমার দুইজন বার্তাবাহককে পাঠালেন। যখন তিনি মিসরের কুলজুমে পৌঁছালেন, সেখানে শাসকদের সাথে যা ঘটে থাকে (ষড়যন্ত্র) তার সম্মুখীন হলেন। তিনি মধু পান করলেন এবং মৃত্যুবরণ করলেন। যখন আমার দুই বার্তাবাহক(৫) ফিরে এল, তখন তারা আমাকে সংবাদ দিল।

অতঃপর আমি আলীর কাছে প্রবেশ করে তাঁকে সংবাদ দিলাম। তখন তিনি বললেন: হাতদ্বয়ের জন্য এবং মুখের জন্য (বিপর্যয় নেমে এসেছে)।

সুফিয়ান আমর বিন দিনার থেকে বর্ণনা করেন যে, আমর বিন আল-আস যখন তাঁর মৃত্যুর খবর পেলেন তখন বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর কিছু বাহিনী মধুর(৬) মধ্যে নিহিত।

হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মাদীনী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ বিন বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে: নাগাউস (نغوث)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে: হাযাইমা (حزيمة)।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে: খালদ (خلد) এবং 'আত-তাহযীব' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি জিম (ج) বর্ণ যোগে জালদ (جلد) (পৃষ্ঠা ৫৩৯)।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে: আশ-শা'বী (الشعبي) এবং আমরা 'আল-মা'আরিফ' কিতাবের ওপর নির্ভর করেছি যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে (পৃষ্ঠা ২২৯) যে আশ-শা'বীর বংশ গণনা হামদান গোত্রে হয়, এবং 'আল-قاموس' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে 'শা'ব' হলো হামদানের একটি শাখা।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে: ত্বায়রানী (طيراني)।

(৬) 'আল-খিতাত' গ্রন্থে এভাবেই আছে (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৬); তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে: 'মধ্যে' (في) শব্দ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
[10] حدثني الليث عن عبد الكريم بن الحارث قال: وبعث عليّ مالك الأشتر على مصر فلما قدم القلزم شرب شربة من عسل فمات.

فبلغ ذلك معاوية وعمرا فقال عمرو: إن لله جنودا من عسل

حدثني محمد بن موسى الحضرمي قال: حدثنا أحمد بن يحيى بن عميرة عن عبد الله بن يوسف عن ابن لهيعة عن يزيد بن أبي حبيب قال: بعث علي مالك الأشتر أميرا على مصر فسار يريد مصر حتى نزل جسر القلزم فصلى حين نزل من راحلته ودعا الله إن كان في دخوله مصر خيرا أن يدخله إياها وإلا لم يقض له بدخولها. فشرب شربة من عسل فمات فبلغ عمرو بن العاص موته فقال: إن لله جنودا من العسل

حدثنا علي بن سعيد قال: حدثنا سالم بن جنادة قال: حدثنا أحمد بن بشير عن مالك بن مجالد عن الشعبي قال: لما بلغ عليا رضي الله عنه موت الأشتر قال: لليدين وللفم

حدثنا موسى بن حسن بن موسى قال: حدثنا ابن أبي بردة قال: حدثنا نصر بن مزاحم قال: وفي حديث عمر بن سعيد(1) عن فضيل بن حديج(2) عن إبراهيم بن يزيد عن علقمة بن قيس قال: دخلت على علي في نفر من النخع حين هلك الأشتر فلما رآني قال: لله مالك لو كان جبلا لكان من جبل فندا ولو كان من حجر لكان صلدا مثل مالك فلتبك البواكي فهل موجود كمالك. فو الله ما زال متلهفا عليه ومتأسفا حتى رأينا انه المصاب دوننا

--------------------------------------------

(1) لعله الذي يسمى في ما يأتي عمرو بن سعيد

(2) يقرب انه الراوي الذي تكرّر ذكره في تاريخ الطبري يسمّى فيه فضيل بن خديج
[১০] লাইস আমার কাছে আব্দুল কারীম ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী মালিক আল-আশতারকে মিসরের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে পাঠিয়েছিলেন। যখন তিনি কুলজুমে পৌঁছালেন, তখন তিনি মধু পান করলেন এবং মারা গেলেন।

এই সংবাদ মুয়াবিয়া ও আমরের কাছে পৌঁছালে আমর বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর মধুর তৈরি কিছু সৈন্য রয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-হাদরামি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমাইরা আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী মালিক আল-আশতারকে মিসরের আমির হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি মিসরের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন এবং কুলজুম ব্রিজে অবতরণ করলেন। সওয়ারি থেকে নামার পর তিনি সালাত আদায় করলেন এবং আল্লাহর কাছে দুআ করলেন যে, যদি মিসরে তার প্রবেশে কল্যাণ থাকে তবে যেন তিনি তাকে সেখানে প্রবেশ করান, অন্যথায় যেন সেখানে তার প্রবেশের ফয়সালা না করেন। এরপর তিনি মধু পান করলেন এবং মারা গেলেন। যখন আমর ইবনুল আস তার মৃত্যুর খবর পেলেন, তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর মধুর তৈরি কিছু সৈন্য রয়েছে।

আলী ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিম ইবনে জুনাদা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে বশির আমাদের কাছে মালিক ইবনে মুজালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কাছে আশতারের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: আক্ষেপ! হস্তদ্বয় ও মুখের জন্য।

মুসা ইবনে হাসান ইবনে মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি বুরদা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাসর ইবনে মুজাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে সাঈদের(১) হাদীসে ফুযাইল ইবনে হুদাইজ(২) থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আলকামা ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আশতারের মৃত্যু হলো, তখন আমি নাখআ গোত্রের একদল লোকের সাথে আলীর কাছে গেলাম। তিনি যখন আমাকে দেখলেন, তখন বললেন: আল্লাহর জন্য নিবেদিত হোক মালিক! তিনি যদি পাহাড় হতেন তবে এক বিশাল সুউচ্চ পাহাড় হতেন, আর যদি পাথর হতেন তবে অতি কঠিন শিলা হতেন; যেমন ছিলেন মালিক। মালিকের মতো মানুষের জন্য ক্রন্দনকারিণীরা কাঁদুক। মালিকের মতো কি আর কাউকে পাওয়া যাবে? আল্লাহর কসম! তিনি তার জন্য অনবরত অনুশোচনা ও দুঃখ করতে থাকলেন, এমনকি আমরা দেখলাম যে আমাদের চেয়ে তিনিই সবচেয়ে বেশি শোকাহত হয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত তিনি সেই ব্যক্তি যাকে পরবর্তীতে আমর ইবনে সাঈদ বলা হয়েছে।

(২) ধারণা করা হয় যে, ইনি সেই বর্ণনাকারী যার নাম তারিখুত তাবারিতে বারবার এসেছে এবং সেখানে তাকে ফুযাইল ইবনে খাদিজ বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وقالت سلمى ام الأسود بن الاسود [10 ب] النخعي ترثي مالكا:

نبا بي مضجعي ونبا وسادي … وعيني ما تهم إلي رقادي

كأن الليل أوثق جانباه … وأوسطه بأمراس شداد

أبعد الأشتر النّخعيّ نرجو … مكاثرة ويقطع(1) بطن واد

أكرّ إذا الفوارس محجمات … وأضرب حين تختلف الهوادي

فقال المثنى يرثيه:

ألا ما لضوء الصبح أسود حالك … وما للرواسي(2)

زعزعتها الدكادك

وما لهموم النفس شتى شئونها … تظل تناجيها النجوم الشوابك

على مالك فليبك ذو الليث معولا … إذا ذكرت في الفيلقين المعارك

إذا ابتدر الخطى وانتدب الملا … وكان غياث القوم نصر مواشك

إذا ابتدرت يوما قبائل مذحج … ونودي بها أين المظفر مالك

فلهفي عليه حين تختلف القنا … ويرعش للموت الرّجال الصّعالك

--------------------------------------------

(1) في الاصل: نقطع

(2) في الاصل: مال الرواسي
আসওয়াদ ইবনুল আসওয়াদ আল-নাখা’য়ীর মাতা সালমা মালিকের শোকগাথা গেয়ে বলেছেন [১০ খ]:

আমার শয্যা আমার নিকট কণ্টকাকীর্ণ হয়েছে এবং আমার বালিশ বিস্বাদ হয়েছে … আর আমার চোখ ঘুমের প্রতি অনুরাগী হচ্ছে না

মনে হয় যেন রজনীর দুই প্রান্ত … এবং এর মধ্যভাগ শক্তিশালী রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়েছে

আল-আশতার আল-নাখা’য়ীর পর কি আমরা আধিক্যের আশা করি? … যখন তিনি উপত্যকার অভ্যন্তরে সমাহিত হয়েছেন(১)

অশ্বারোহীরা যখন পিছু হটত তখন তিনি পুনরায় আক্রমণ করতেন … আর যখন নেতৃবৃন্দ দ্বিধাগ্রস্ত হতো তখন তিনি আঘাত হানতেন

অতঃপর আল-মুসান্না তার শোকগাথা বর্ণনা করে বলেছেন:

হায়! ভোরের আলো কেন আজ এমন কুচকুচে কালো? … আর সুউচ্চ পর্বতগুলোরই বা কী হলো(২)

প্রকম্পন সেগুলোকে প্রকম্পিত করে দিয়েছে

প্রাণের দুশ্চিন্তাসমূহ কেন আজ নানা বিষয়ে বিভক্ত? … ঘননিবদ্ধ নক্ষত্ররাজি যেন সারাক্ষণ তাদের সাথে নিভৃতে কথা বলছে

মালিকের বিয়োগে যেন সিংহবিক্রম ব্যক্তি উচ্চস্বরে বিলাপ করে … যখন দুই বাহিনীর মাঝে ঘোর যুদ্ধের কথা স্মরণ করা হয়

যখন দ্রুতপদে অগ্রযাত্রা শুরু হতো এবং জনতাকে আহ্বান করা হতো … তখন তিনি ছিলেন জাতির ত্রাণকর্তা এবং আসন্ন বিজয়

যদি কোনোদিন মাজহিজ গোত্রসমূহ একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব পেতে চায় … এবং সেখানে চিৎকার করে ডাকা হয়—বিজয়ী মালিক কোথায়?

তার জন্য আমার গভীর আক্ষেপ হয় যখন বর্শাগুলো পরস্পর বিদ্ধ হয় … আর সাধারণ মানুষগুলো মৃত্যুর ভয়ে কম্পমান থাকে

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: আমরা বিচ্ছিন্ন করি

(২) মূলে রয়েছে: পাহাড়সমূহের সম্পদ
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
ولهفى عليه يوم دب له الردى … وذيف له سم من الموت حانك

فلو بارزوه يوم يبغون هلكه … لكانوا بإذن الله ميت وهالك

ولو مارسوه مارسوا ليث غابة … له كالتي(1)

لا ترقد الليل فاتك

فقل لابن هند لو منيت بمالك … وفي كفه ماضي الضريبة باتك

لألفيت هندا تشتكي علن الردى … تنوح وتحبوها النساء العواتك

[11] واستخلف الأشتر على مصر حمام بن عامر اللخمي أبا الأكدر بن حمام وكان الأكدر وابوه من شيعة عليّ وحضرا الدار(2) جميعا

 

‌‌محمد بن أبي بكر الصديق ابن(3) عبد الله بن عثمان بن

عامر بن عمرو بن كعب بن سعد بن تيم بن مرة

بن كعب بن لؤي بن غالب

ثم وليها محمد بن أبي بكر الصديق من قبل أمير المؤمنين علي وجمع

--------------------------------------------

(1) لعل صوابه كلأة

(2) في الاصل: حضر الدار

(3) ابو بكر هو بنفسه عبد الله بن عثمان ذكر ذلك في النجوم (ج 1 ص 120) فان لم يكن قوله ابن عبد الله خطأ في الاصل يكون معطوفا على محمد في الاول
তার জন্য আমার আক্ষেপ সেই দিনের, যেদিন মৃত্যু তার দিকে ধাবিত হয়েছিল … এবং তার জন্য মৃত্যুর এক তীব্র বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

যদি তারা সেদিন তার বিনাশ কামনায় তার সাথে দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হতো … তবে আল্লাহর ইচ্ছায় তারাই হতো মৃত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত।

যদি তারা তাকে মোকাবিলা করত, তবে যেন এক অরণ্যের সিংহের মোকাবিলা করত … তার জন্য রয়েছে এমন এক (সুরক্ষা)(১)

যা রাতে ঘুমায় না, এক অসমসাহসী অকুতোভয়।

হিন্দের পুত্রকে (মুয়াবিয়াকে) বলো, যদি তুমি মালিকের মুখোমুখি হতে … আর তার হাতে থাকত এক তীক্ষ্ণ ও ধারালো তরবারি।

তবে তুমি দেখতে পেতে হিন্দ প্রকাশ্যে মৃত্যুর শোকে বিলাপ করছে … সে আর্তনাদ করত এবং সম্ভ্রান্ত মহিলারা তাকে ঘিরে সান্ত্বনা দিত।

[১১] আল-আশতার মিসরে হাম্মাম বিন আমির আল-লাখমি আবু আল-আকদার বিন হাম্মামকে তার স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেন। আল-আকদার এবং তার পিতা আলীর অনুসারী ছিলেন এবং তারা উভয়েই দারের ঘটনায়(২) উপস্থিত ছিলেন।

 

‌‌মুহাম্মদ বিন আবু বকর আস-সিদ্দিক ইবনে(৩) আব্দুল্লাহ বিন উসমান বিন

আমির বিন আমর বিন কাব বিন সাদ বিন তাইম বিন মুররা

বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব

অতঃপর আমিরুল মুমিনীন আলীর পক্ষ থেকে মুহাম্মদ বিন আবু বকর আস-সিদ্দিক এর শাসনভার গ্রহণ করেন এবং সংগ্রহ করেন

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত এর সঠিক পাঠ 'কালাআহ' (সুরক্ষা বা রক্ষণাবেক্ষণ)।

(২) মূলে রয়েছে: 'হাযারা আদ-দার' (একবচনে)।

(৩) আবু বকর নিজেই হলেন আব্দুল্লাহ বিন উসমান; এ কথাটি 'আন-নূজুম' (১ম খণ্ড, ১২০ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে। সুতরাং যদি মূলে 'ইবনে আব্দুল্লাহ' কথাটি ভুল না হয়ে থাকে, তবে তা প্রারম্ভে উল্লিখিত মুহাম্মদের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
له صلاتها وخراجها فدخلها للنصف من شهر رمضان سنة سبع وثلاثين فجعل على شرطته عبد الله بن أبي حرملة البلوي فذكر بعض أشياخ مصر أن قيسا لقي محمد بن أبي بكر فقال له: إنه لا يمنعني نصحي لك ولأمير المؤمنين عزله إياي ولقد عزلني من غير وهن ولا عجز فاحفظ عني ما أوصيك به يدم(1) صلاح حالك: دع معاوية بن حديج ومسلمة بن مخلد وبسر بن أبي أرطاة ومن ضوى إليهم على ما هم عليه تكشفهم(2) عن رأيهم فإن أتوك ولم يفعلوا فاقبلهم وإن تخلفوا(3) عليك فلا تطلبهم: وانظر هذا الحي من مضر(4) فأنت أولى بهم مني فألن لهم جناحك وقرب عليهم مكانك وارفع عنهم حجابك وانظر هذا الحي من مدلج فدعهم وما غلبوا عليه يكفوا عنك شأنهم وأنزل الناس من بعد على قدر منازلهم وإن استطعت أن تعود المرضى(5) وتشهد الجنائز فافعل فإنّ هذا لا ينقصك ولن تفعل إنك والله ما علمت لتظهر الخيلاء وتحبّ الرّئاسة وتسارع إلى ما هو ساقط عنك والله [11 ب] موفقك. فعمل محمد بخلاف ما أوصاه قيس فكتب إلى ابن حديج والخارجة معه يدعوهم الى بيعته فلم يجيبوه فبعث بأبي عمرو بن بذيل بن ورقاء الخزاعي إلى دور الخارجة فهدمها ونهب أموالهم وسجن ذراريهم فبلغهم ذلك فنصبوا له الحرب وهموا بالنهوض إليه فلما علم أنه لا قوّة له بهم امسك عنهم

--------------------------------------------

(1) في الاصل: يدوم والاصح الذي في الخطط (ج 2 ص 337) حيث وردت هذه الرواية

(2) في الخطط: لا تكفهم عن رأيهم

(3) في الاصل: تختلفوا

(4) في الاصل: مصر واتبعنا الخطط

(5) في الاصل: المرض
তার জন্য এর সালাত ও খাজনা নির্ধারিত ছিল। তিনি সেখানে সায়ত্রিশ হিজরি সনের রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রবেশ করেন এবং আব্দুল্লাহ ইবন আবি হারমালা আল-বালাউয়ীকে তাঁর পুলিশ বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করেন। মিসরের কিছু প্রবীণ আলেম উল্লেখ করেছেন যে, কায়েস মুহাম্মদ ইবন আবি বকরের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে বলেন: "আমীরুল মুমিনীন আমাকে পদচ্যুত করেছেন বলে আপনার এবং আমীরুল মুমিনীনের জন্য আমার সদুপদেশ প্রদানে কোনো বাধা নেই। তিনি আমাকে কোনো দুর্বলতা বা অক্ষমতার কারণে পদচ্যুত করেননি। সুতরাং আমি আপনাকে যা অসিয়ত করছি তা মনে রাখুন, যা আপনার অবস্থার সংশোধনকে স্থায়ী করবে:(১) মুয়াবিয়া ইবন হুদাইজ, মাসলামা ইবন মুখাল্লাদ, বুসর ইবন আবি আরতাহ এবং যারা তাদের সাথে যোগ দিয়েছে, তাদের তারা যে অবস্থায় আছে সেভাবেই থাকতে দিন, যাতে তাদের মনোভাব আপনার কাছে প্রকাশ পায়।(২) তারা যদি আপনার কাছে আসে অথচ আপনার নির্দেশ পালন না করে, তবুও তাদের গ্রহণ করুন। আর যদি তারা আপনার বিরুদ্ধাচরণ করে(৩) তবে আপনি তাদের পিছু নেবেন না। আর মুদার গোত্রের এই জনপদের দিকে লক্ষ্য রাখুন,(৪) আপনি আমার চেয়ে তাদের অধিক প্রিয়পাত্র হয়ে উঠুন। তাদের প্রতি আপনি বিনয়ী হোন, তাদের জন্য আপনার সান্নিধ্য সহজ করুন এবং আপনার ও তাদের মাঝের পর্দা সরিয়ে নিন। আর মুদলাজ গোত্রের এই জনপদের দিকে লক্ষ্য রাখুন, তারা যা দখল করে আছে তা তাদের কাছেই থাকতে দিন, এতে তারা আপনার বিষয়ে নিবৃত্ত থাকবে। এরপর মানুষকে তাদের সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী মূল্যায়ন করুন। আপনি যদি অসুস্থদের দেখতে যেতে পারেন(৫) এবং জানাজায় উপস্থিত হতে পারেন তবে তাই করুন। কারণ এতে আপনার মর্যাদা কমবে না। কিন্তু আল্লাহর কসম, আমি যতদূর জানি আপনি এটি করবেন না, বরং আপনি অহংকার প্রকাশ করবেন, নেতৃত্ব পছন্দ করবেন এবং যা আপনার জন্য জরুরি নয় তার দিকে দ্রুত ধাবিত হবেন। আর আল্লাহই [১১ খ] আপনাকে তাওফিক দানকারী।" মুহাম্মদ, কায়েস তাকে যা অসিয়ত করেছিলেন তার বিপরীতে কাজ করলেন। তিনি ইবন হুদাইজ এবং তার সাথে যারা বিদ্রোহী হয়েছিল তাদের কাছে পত্র লিখে তাদের বায়আতের আহ্বান জানালেন। তারা তাতে সাড়া দিল না। তখন তিনি আবু আমর ইবন বুজাইল ইবন ওয়ারাকা আল-খুজায়ীকে বিদ্রোহীদের জনপদে পাঠালেন। তিনি তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করলেন, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করলেন এবং তাদের পরিবার-পরিজনকে বন্দি করলেন। এ খবর তাদের কাছে পৌঁছালে তারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিল এবং তার বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়ার উদ্যোগ নিল। যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে তাদের মোকাবিলা করার মতো শক্তি তার নেই, তখন তিনি তাদের থেকে বিরত রইলেন।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে আছে: ‘ইয়াদুমু’, আর সঠিক হলো যা ‘খিতাত’ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৩৭)-এ রয়েছে যেখানে এই বর্ণনাটি এসেছে।

(২) ‘খিতাত’-এ আছে: তাদের মতাদর্শ থেকে তাদের বিরত রাখবেন না।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে আছে: ‘তাখতালিফু’।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে আছে: ‘মিসর’, তবে আমরা ‘খিতাত’-এর অনুসরণ করেছি।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে আছে: ‘আল-মারদ্ব’ (অসুস্থতা)।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
حدثنا الحسن بن محمد المديني قال: حدثنا يحيى بن عبد الله بن بكير عن الليث عن عبد الكريم بن الحارث قال: فصالحهم محمد على أن يسيرهم إلى معاوية وأن ينصب لهم جسرا بنقيوس يجوزون عليه ولا يدخلوا الفسطاط ففعلوا ولحقوا بمعاوية

وحدثني محمد بن موسى الحضرمي قال: حدثنا أحمد بن يحيى بن عميرة قال: حدثنا عبد الله بن يوسف قال: حدثنا عبد الله بن لهيعة عن يزيد بن أبي حبيب قال: فبعث إلى ابن حديج حجر بن عدي الكندي بأمانة وبعث محمد بن أبي بكر قيس بن سلامة التجيبي من بني فهم بن اذاه(1) فصنع لهم جسرا بنقيوس فجاز منه ابن حديج وأصحابه فلحقوا بمعاوية

وحدثنا حسن المديني قال: حدثنا يحيى بن عبد الله بن بكير قال:

حدثني الليث عن عبد الكريم بن الحارث قال: ولما أجمع علي ومعاوية على الحكمين أغفل علي أن يشترط على معاوية أن لا يقاتل أهل مصر فلما انصرف علي إلى العراق بعث معاوية عمرو بن العاص في جيوش إلى أهل الشام وإلى مصر فاقتتلوا قتالا شديدا فقال عمرو: وشهدت ثمانية عشر زحفا براكاء فلم أر يوما مثل [12] المسناة.(2) ثم انهزم أهل مصر فدخل عمرو(3) بأهل الشام الفسطاط وتغيب محمد بن أبي بكر في غافق فأواه رجل منهم فأقبل معاوية بن حديج في رهط ممّن يعينه على من

--------------------------------------------

(1) غير واضح الكتابة في هذا الموضع اثبتناه على ما وجدناه متكررا فيما يأتي ولعل اذاه هذا ابو البطن المسمّى ببني اندا بن عدي بن تجيب ذكر مرتين في هذا الكتاب

(2) في الأصل هنا: المستاه وفيما بعد المسناه ضبطناه كما ورد في تاريخ الطبري (ج 1 ص 3406)

(3) في الاصل: عمر
হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-মাদিনী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-লাইস থেকে, তিনি আবদুল কারীম ইবনে আল-হারিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ তাদের সাথে এই শর্তে সন্ধি করেছিলেন যে, তিনি তাদের মুয়াবিয়ার কাছে পাঠিয়ে দেবেন এবং তাদের জন্য নাকিউসে একটি সেতু নির্মাণ করে দেবেন যার ওপর দিয়ে তারা পার হয়ে যাবে এবং তারা ফুসতাতে প্রবেশ করবে না। তারা তাই করল এবং মুয়াবিয়ার সাথে গিয়ে যোগ দিল।

মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-হাদরামী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমাইরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়াহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি বলেন: হুজর ইবনে আদি আল-কিন্দি নিরাপত্তার সাথে ইবনে হুদাইজের কাছে লোক পাঠালেন এবং মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর বনু ফাহম ইবনে আদাহ(১) গোত্রের কায়স ইবনে সালামাহ আত-তুজাইবিকে পাঠালেন। তিনি তাদের জন্য নাকিউসে একটি সেতু তৈরি করলেন, ফলে ইবনে হুদাইজ ও তার সঙ্গীরা সেটি পার হলেন এবং মুয়াবিয়ার সাথে গিয়ে মিলিত হলেন।

হাসান আল-মাদিনী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আল-লাইস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল কারীম ইবনে আল-হারিস থেকে, তিনি বলেন: আলী ও মুয়াবিয়া যখন দুই সালিসের বিষয়ে একমত হলেন, তখন আলী মুয়াবিয়ার ওপর এই শর্তারোপ করতে ভুলে গেলেন যে তিনি মিসরবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন না। আলী যখন ইরাকে ফিরে গেলেন, তখন মুয়াবিয়া সিরীয় বাহিনীর সাথে আমর ইবনুল আসকে মিসরবাসীদের কাছে পাঠালেন। তারা প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হলো। আমর বলেন: আমি আঠারোটি প্রচণ্ড সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছি, কিন্তু আমি [১২] মুসান্নাহর দিনের মতো আর কোনো দিন দেখিনি।(২) অতঃপর মিসরবাসীরা পরাজিত হলো এবং আমর(৩) সিরীয়দের নিয়ে ফুসতাতে প্রবেশ করলেন। মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর গাফিকের মধ্যে আত্মগোপন করলেন এবং তাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি তাকে আশ্রয় দিলেন। অতঃপর মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ একদল লোক নিয়ে এগিয়ে এলেন যারা তাকে সাহায্য করছিল...

--------------------------------------------

(১) এই স্থানে লেখাটি অস্পষ্ট, পরবর্তীতে যা বারবার পাওয়া গেছে তার ওপর ভিত্তি করে আমরা এটি স্থির করেছি। সম্ভবত এই 'আদাহ' হলো বনু আন্দা ইবনে আদি ইবনে তুজাইব নামক গোত্র-পিতার নাম, যা এই কিতাবে দুইবার উল্লিখিত হয়েছে।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে রয়েছে: 'আল-মুস্তাহ' এবং পরবর্তীতে 'আল-মুসান্নাহ'; আমরা এটি তারিখুত তাবারিতে (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪০৬) যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবে স্থির করেছি।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: উমর।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
كان مشى في عثمان فطلب ابن أبي بكر فوجدت أخت الرجل الغافقي الذي كان أواه كانت ضعيفة العقل فقالت: أي شيء تلتمسون ابن أبي بكر أدلكم عليه ولا تقتلون أخي. فدلتهم عليه فقال: احفظوني في أبي بكر.

فقال معاوية بن حديج: قتلت من قومي ثمانين رجلا في عثمان وأتركك وأنت صاحبه. فقتله ثم جعله في جيفة حمار ميت فأحرقه بالنار

حدثني محمد بن موسى الحضرمي قال: حدثنا أحمد بن يحيى بن عميرة قال: حدثنا عبد الله بن يوسف عن ابن لهيعة عن يزيد بن أبي حبيب قال:

بعث معاوية عمرو بن العاص في سنة ثمان وثلاثين إلى مصر ومعه أهل دمشق عليهم يزيد بن أسد البجلي وعلى أهل فلسطين رجل من خثعم ومعاوية ابن حديج على الخارجة وأبو الأعور السلمي على أهل الأردن فساروا حتى قدموا مصر فاقتتلوا بالمسناة وعلى أهل مصر محمد بن أبي بكر فهزم أهل مصر بعد قتل شديد في الفريقين جميعا قال عمرو: وشهدت أربعة وعشرين زحفا فلم أر يوما كيوم المسناة ولم أر الأبطال إلا يومئذ. فلما هزم اهل مصر تغيّب محمد ابن أبي بكر فأخبر معاوية بن حديج بمكانه فمشى إليه فقتله وقال: يقتل كنانة بن بشر ويترك محمد بن أبي بكر وإنما أمرهما واحد. ثم أمر به معاوية بن حديج فجرّ [12 ب] فمر به على دار عمرو بن العاص لما يعلم من كراهيته لقتله ثم أمر به بجاد(1) التجيبي فأحرقه في جيفة حمار

وحدثنا ابن قديد عن عبيد الله بن سعيد عن ابيه قال: كان صاحب

--------------------------------------------

(1) بلا نقط في الاصل فنقطناه كما عرفناه
উসমান (রা.)-এর হত্যাকাণ্ডের পর যখন তাঁকে খোঁজা হচ্ছিল, তখন ইবনে আবু বকরকে তালাশ করা হলো। যে ব্যক্তি তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই আল-গাফিকীর বোনকে পাওয়া গেল; সে ছিল কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ। সে বলল: "আপনারা ইবনে আবু বকরকে কেন খুঁজছেন? আমি আপনাদের তাঁর সন্ধান দিচ্ছি, তবে আমার ভাইকে হত্যা করবেন না।" অতঃপর সে তাঁদের তাঁর সন্ধান দিল। তখন ইবনে আবু বকর বললেন: "আবু বকরের খাতিরে আমাকে রক্ষা করো।"

মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ বললেন: "উসমানের কারণে আমি আমার গোত্রের আশিজন লোককে হত্যা করেছি, আর তোমাকে ছেড়ে দেব অথচ তুমিই ছিলে তাঁর সহযোগী?" অতঃপর তিনি তাঁকে হত্যা করলেন এবং একটি মৃত গাধার লাশের ভেতর ঢুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দিলেন।

মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-হাদরামি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমাইরা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে লাহিয়া থেকে আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবু হাবিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

মুয়াবিয়া হিজরি আটত্রিশ সনে আমর ইবনে আল-আসকে মিশরে প্রেরণ করেন। তাঁর সাথে ছিল দামেস্কবাসী সৈন্যদল, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন ইয়াজিদ ইবনে আসাদ আল-বাজালি। ফিলিস্তিনবাসীদের নেতৃত্বে ছিল খাশআম গোত্রের এক ব্যক্তি। মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ ছিলেন বহিরাগত বাহিনীর নেতৃত্বে এবং আবু আল-আওয়ার আস-সুলামি ছিলেন জর্ডানবাসীদের নেতৃত্বে। তাঁরা অগ্রসর হয়ে মিশরে উপনীত হলেন এবং আল-মুসান্নাহ নামক স্থানে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। মিশরবাসীদের নেতৃত্বে ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর। উভয় পক্ষে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর মিশরবাসীরা পরাজিত হলো। আমর ইবনে আল-আস বললেন: "আমি চব্বিশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি, কিন্তু আল-মুসান্নাহর দিনের মতো কোনো দিন দেখিনি এবং সেদিনকার মতো বীরপুরুষও দেখিনি।" যখন মিশরবাসীরা পরাজিত হলো, তখন মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আত্মগোপন করলেন। মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজকে তাঁর অবস্থানের সংবাদ দেওয়া হলে তিনি তাঁর দিকে অগ্রসর হয়ে তাঁকে হত্যা করলেন এবং বললেন: "কিনানা ইবনে বিশরকে হত্যা করা হবে আর মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরকে ছেড়ে দেওয়া হবে? অথচ তাদের উভয়ের ভূমিকা তো অভিন্ন।" এরপর মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তাঁকে আমর ইবনে আল-আসের ঘরের পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো, কারণ তিনি জানতেন যে আমর তাঁকে হত্যা করা অপছন্দ করেন। এরপর বিজাদ(১) আত-তুজিবিকে নির্দেশ দেওয়া হলো এবং তিনি তাঁকে একটি গাধার লাশের ভেতর ঢুকিয়ে পুড়িয়ে দিলেন।

ইবনে কুদাইদ আমাদের উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনি ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে কোনো নুকতা বা বিন্দু ছিল না, তাই আমরা যেমনটি অবগত হয়েছি সে অনুযায়ী নুকতা প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ত রাফিন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
أمر الناس يوم المسناة قيس بن عدي بن خيمة اللخمي من راشدة فلما انهزم أهل مصر عادوا بالحصن فدخلوا فيه وجعلوا أمرهم إلى قيس وأغلقوا الحصن فقيل لهم(1) إن هؤلاء قد استقتلوا ولن تصل إليهم حتى ينكوا من معك. فأعطاهم عمرو ما أحبوا فخرجوا على صلح

حدثني أبو سلمة أسامة التجيبي قال: حدثني زيد بن أبي زيد عن أحمد بن يحيى بن وزير عن إسحاق بن الفرات عن يحيى بن أيوب عن يزيد بن أبي حبيب قال: بعث معاوية بن حديج بسليم مولاه إلى المدينة بشيرا بقتل محمد بن أبي بكر ومعه قميص ابن أبي بكر فدخل به دار عثمان واجتمع آل عثمان من رجال ونساء وأظهروا السرور بقتله وأمرت أم حبيبة ابنة أبي سفيان بكبش فشوي وبعثت به إلى عائشة فقالت: هكذا شوي أخوك. قال: فلم تأكل عائشة شواء حتى لحقت بالله

حدثني موسى بن حسن بن موسى قال: حدثنا هارون بن أبي بردة قال: حدثني نصر بن مزاحم عن أبي مخنف(2) قال: حدّثني عبد الملك ابن نوفل عن أبيه قال: ما أكلت عائشة شواء بعد محمد حتى لحقت بالله

حدثني موسى بن حسن قال: حدثنا حرملة بن يحيى قال: حدثني أبي عن رشدين قال: حدثني سعيد بن يزيد القتباني عن الحارث بن [13] يزيد الحضرميّ قال: حدّثني أمي هند بنت شمس الحضرمية أنها رأت نائلة امرأة عثمان تقبل رجل معاوية بن حديج وتقول: بك أدركت ثأري من ابن الخثعميّة تعني محمد بن ابي بكر

--------------------------------------------

(1) كذا مع ان القرينة توجب وقيل لعمرو

(2) وفي الاصل: ابن محنف
মুসন্নাহর যুদ্ধের দিন জনগণের সেনাপতি ছিলেন রাশিদাহ গোত্রের কায়স বিন আদি বিন খাইমাহ আল-লাখমি। অতঃপর যখন মিশরের অধিবাসীরা পরাজিত হলো, তারা দুর্গে ফিরে গেল এবং তাতে প্রবেশ করল। তারা তাদের নেতৃত্ব কায়সের ওপর অর্পণ করল এবং দুর্গের ফটক রুদ্ধ করে দিল। তখন তাদের বলা হলো(১) যে, তারা আমরণ যুদ্ধের সংকল্প করেছে এবং আপনি তাদের নিকট পৌঁছাতে পারবেন না যতক্ষণ না তারা আপনার সঙ্গীদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করে। ফলে আমর তাদের কাঙ্ক্ষিত শর্তাবলি মেনে নিলেন এবং তারা সন্ধির ভিত্তিতে বের হয়ে এল।

আবু সালামাহ উসামাহ আত-তুজিবি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যাইদ বিন আবি যাইদ আমাকে আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন ওয়াযির থেকে, তিনি ইসহাক বিন আল-ফুরাত থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব থেকে, তিনি ইয়াযিদ বিন আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া বিন হুদাইজ তার মুক্তদাস সুলিমকে মুহাম্মাদ বিন আবি বকরের হত্যার সুসংবাদ দিয়ে মদিনায় পাঠালেন এবং তার সাথে ইবনে আবি বকরের জামাটি ছিল। সে তা নিয়ে উসমানের গৃহে প্রবেশ করল এবং সেখানে উসমানের পরিবারের নারী ও পুরুষগণ একত্রিত হলেন। তারা তার মৃত্যুতে আনন্দ প্রকাশ করলেন। আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবিবা একটি ভেড়া জবাই করে তা দগ্ধ করার (পোড়ানোর) নির্দেশ দিলেন এবং সেটি আয়েশার নিকট পাঠিয়ে বার্তা দিলেন: "তোমার ভাইকে এভাবেই দগ্ধ করা হয়েছে।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর থেকে আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া (মৃত্যু) পর্যন্ত আয়েশা আর কখনো পোড়া মাংস ভক্ষণ করেননি।

মুসা বিন হাসান বিন মুসা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন বিন আবি বুরদাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: নাসর বিন মুযাহিম আমাকে আবু মিখনাফ(২) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক ইবনে নাওফাল তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদের ঘটনার পর আয়েশা আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত আর কখনো পোড়া মাংস আহার করেননি।

মুসা বিন হাসান আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারমালা বিন ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা রুশদিন থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ বিন ইয়াযিদ আল-কুতবানি থেকে, তিনি হারিস বিন [১৩] ইয়াযিদ আল-হাদরামি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার মাতা হিন্দ বিনতে শামস আল-হাদরামিয়্যাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উসমানের স্ত্রী নায়িলাকে মুয়াবিয়া বিন হুদাইজের পায়ে চুমু খেতে দেখেছেন এবং বলতে শুনেছেন: "তোমার মাধ্যমেই আমি খাসআমিয়্যার পুত্রের নিকট হতে আমার প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পেরেছি," এর দ্বারা তিনি মুহাম্মাদ বিন আবি বকরকে উদ্দেশ্য করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে এভাবেই আছে, যদিও প্রেক্ষাপট দাবি করে যে পাঠটি হবে 'এবং আমরকে বলা হলো' (وقيل لعمرو)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ইবনে মুখনাফ।