(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: -)
غاية الوصول في شرح لب الأصول   (زكريا الأنصاري)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: غاية الوصول في شرح لب الأصول

المؤلف: زكريا بن محمد بن أحمد بن زكريا الأنصاري، زين الدين أبو يحيى السنيكي (ت 926هـ)

الناشر: دار الكتب العربية الكبرى، مصر (أصحابها: مصطفى البابي الحلبي وأخويه)

عدد الصفحات: 176

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

গয়িতুল উসুল ফি শারহি লুব্বিল উসুল   (যাকারিয়া আল-আনসারী)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


গ্রন্থ: গয়িতুল উসুল ফি শারহি লুব্বিল উসুল

লেখক: যাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে যাকারিয়া আল-আনসারী, জাইনুল দ্বীন আবু ইয়াহইয়া আস-সুনাইকি (মৃত্যু ৯২৬ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ আল-কুবরা, মিশর (স্বত্বাধিকারী: মোস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি ও তাঁর দুই ভাই)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: -)
غاية الوصول في شرح لب الأصول

لشيخ الإسلام زكريا الأنصارى

 

الكتاب شرح لمختصرالمؤلف المسمى بـ (لب الأصول) الذي اختصر فيه جمع الجوامع
লুব্বুল উসূল-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ গায়াতুল উসূল

শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারী কৃত

 

গ্রন্থটি লেখকের নিজস্ব সংক্ষিপ্তসার 'লুব্বুল উসূল'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যাতে তিনি 'জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي أظهر بدائع مصنوعاته على أحسن نظام، وخص من بينها من شاء بمزيد الطول والإنعام، ووفقه وهداه إلى دين الإسلام، وأرشده إلى طريق معرفة الاستنباط لقواعد الأحكام، لمباشرة الحلال وتجنب الحرام، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ذو الجلال والإكرام، وأشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله المفضل على جميع الأنام، صلى الله وسلم عليه وعلى آله وصحبه الغرّ الكرام.

وبعد، فهذا شرح لمختصري المسمى بـ (لب الأصول) الذي اختصرت فيه جمع الجوامع يبين حقائقه، ويوضح دقائقه، ويذلل من اللفظ صعابه، ويكشف عن وجه المعاني نقابه، سالكا فيه غالبا عبارة شيخنا العلامة، المحقق الفهامة الجلال المحلي لسلاستها وحسن تأليفها، وروما لحصول بركة مؤلفها، وسميته «غاية الوصول إلى شرح لب الأصول» . والله أسأل أن ينفع به وهو حسبي ونعم الوكيل.

(بسم الله الرحمن الرحيم) أي أؤلف أو أبتدىء تأليفي، والباء للمصاحبة ليكون ابتداء التأليف مصاحبا لاسم الله تعالى المتبرّك بذكره، وقيل للاستعانة نحو كتبت بالقلم، والاسم من السموّ وهو العلوّ. وقيل من الوسم وهو العلامة، والله علم للذات الواجب الوجود المستحق لجميع الصفات الجميلة، والرحمن الرحيم صفتان بنيتا للمبالغة من رحم، والرحمن أبلغ من الرحيم، لأن زيادة البناء تدل على زيادة المعنى كما في قطع وقطع.

(الحمد لله الذي وفقنا) أي خلق فينا قدرة. (للوصول إلى معرفة الأصول) فيه براعة الاستهلال، والحمد لغة الثناء باللسان على الجميل
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সৃষ্টির অপূর্ব নিদর্শনসমূহকে সর্বোত্তম শৃঙ্খলার সাথে প্রকাশ করেছেন; এবং এসবের মধ্য হতে যাকে চেয়েছেন অধিক অনুগ্রহ ও নেয়ামতের জন্য বিশিষ্ট করেছেন; এবং তাকে ইসলাম ধর্মের দিকে তাওফিক ও হিদায়াত দিয়েছেন; এবং হালাল পালন ও হারাম বর্জনের উদ্দেশ্যে বিধানের মূলনীতিসমূহ থেকে মাসআলা উদ্ভাবনের জ্ঞান অর্জনের পথের দিশা দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি মহানুভবতা ও সম্মানের অধিকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি সমগ্র সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্বপ্রাপ্ত। তাঁর ওপর এবং তাঁর সম্মানিত ও মহান বংশধর ও সাথীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর, এটি আমার সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ ‘লুব্বুল উসুল’-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যাতে আমি ‘জামউল জাওয়ামি’কে সংক্ষিপ্ত করেছি। এটি তার গূঢ় সত্যসমূহকে উন্মোচন করে, তার সূক্ষ্ম বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে, শব্দের কাঠিন্যকে সহজ করে এবং অর্থের অবগুন্ঠন উন্মোচন করে। এতে আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের শায়খ, আল্লামা, গভীর গবেষক ও অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান জালালুদ্দীন আল-মহল্লীর ইবারত বা প্রকাশভঙ্গি অনুসরণ করেছি, তার সাবলীলতা ও সুন্দর বিন্যাসের কারণে এবং এর লেখকের বরকত হাসিলের আশায়। আমি এর নাম দিয়েছি ‘গয়াতুল উসুল ইলা শারহি লুব্বিল উসুল’। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার করেন; তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে) অর্থাৎ: আমি রচনা করছি অথবা আমার রচনা শুরু করছি। আর ‘বা’ বর্ণটি এখানে সাহচর্যের জন্য, যাতে রচনার সূচনা আল্লাহ তাআলার নামের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, যা তাঁর স্মরণের মাধ্যমে বরকতময়। আবার বলা হয়ে থাকে, এটি সাহায্যের জন্য, যেমন: ‘আমি কলম দিয়ে লিখেছি’। ‘ইসম’ শব্দটি ‘সুমুও’ থেকে আগত, যার অর্থ উচ্চতা। আবার বলা হয়, এটি ‘ওয়াসম’ থেকে আগত, যার অর্থ চিহ্ন। ‘আল্লাহ’ হচ্ছে এমন এক সত্তার নাম যাঁর অস্তিত্ব অনিবার্য এবং যিনি সমস্ত সুন্দর গুণাবলির অধিকারী। ‘আর-রহমান’ ও ‘আর-রহিম’ হলো ‘রাহিমা’ (দয়া করা) ধাতু থেকে আধিক্য বুঝানোর জন্য গঠিত দুটি গুণবাচক নাম। আর ‘আর-রহমান’ শব্দটি ‘আর-রহিম’ অপেক্ষা অধিক অর্থবোধক; কারণ শব্দকাঠামোর বৃদ্ধি অর্থের আধিক্যের ওপর প্রমাণ পেশ করে, যেমনটি ‘কতাআ’ ও ‘কত্তাআ’ শব্দের ক্ষেত্রে হয়।

(যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের তাওফিক দিয়েছেন) অর্থাৎ: আমাদের মাঝে সক্ষমতা সৃষ্টি করেছেন। (উসুলের জ্ঞান অর্জনে পৌঁছানোর জন্য) এতে ‘বারাআতুল ইস্তিহলাল’ (সূচনাতেই বিষয়বস্তুর ইঙ্গিত প্রদানের চমৎকারিত্ব) রয়েছে। আর আভিধানিক পরিভাষায় ‘হামদ’ হলো সুন্দর বিষয়ের ওপর জিহ্বার মাধ্যমে করা প্রশংসা।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৩)
الاختياري على جهة التبجيل والتعظيم، وعرفا فعل ينبىء عن تعظيم المنعم من حيث إنه منعم على الحامد أو غيره، وابتدأت بالبسملة والحمدلة اقتداء بالكتاب العزيز وعملاً بخبر أبي داود وغيره «كُلُّ أمرٍ ذي بَالٍ لَا يبدأ فيه ببسْمِ الله الرَّحمن الرَّحيم» وفي رواية «بالحمد لله فَهُو أجْذَمُ» أي مقطوع البركة، وقدَّمت البسملة عملاً بالكتاب والإجماع، والحمد مختص بالله، كما أفادته الجملة سواء جعلت أل فيه للاستغراق أم للجنس أم للعهد، كما بينت ذلك في شرح البهجة وغيره. (ويسَّر لنا سلوك) أي دخول. (مناهج) جمع منهج أي طرق حسنة. (بـ) سبب (قوّة أودعها في العقول) جمع عقل وهو غريزة يتبعها العلم بالضروريات عند سلامة الآلات، وقد بسطت الكلام عليه في شرح لآداب البحث. (والصلاة) وهي من الله رحمة ومن الملائكة استغفار، ومن الآدمي تضرّع ودعاء. (والسلام) بمعنى التسليم. (على محمد) نبينا، ومحمد علم منقول من اسم مفعول المضعف تسمَّى به نبينا بإلهام من الله تعالى تفاؤلاً بأنه يكثر حمد الخلق له لكثرة صفاته الجميلة. (وآله) هم مؤمنوا بني هاشم وبني المطلب. (وصحبه) هو عند سيبويه إسم جمع لصحابة بمعنى الصحابي، وهو كما سيأتي من اجتمع مؤمنا بنبينا صلى الله عليه وسلم، وعطف الصحب على الآل الشامل لبعضهم لتشمل الصلاة والسلام باقيهم، وجملتا الحمد والصلاة والسلام على من ذكر خبريتان لفظا إنشائيتان معنى، إذ القصد بالأولى الثناء على الله بأنه مالك لجميع الحمد من الخلق، وبالثانية إيجاد الصلاة والسلام لا الاعلام بذلك، وإن كان هو القصد بهما في الأصل. (الفائزين) أي الناجين والظافرين (من الله) متعلق بقولي (بالقبول) قدّم عليه هنا وفيما يأتي رعاية للسجع، ويجوز تعلقه بما قبله.

(وبعد) يؤتى بها للانتقال من أسلوب إلى أسلوب آخر، وأصلها أما بعد بدليل لزوم الفاء في حيزها غالبا لتضمن أما معنى الشرط والأصل مهما يكن من شيء بعد البسملة والحمدلة والصلاة والسلام على من ذكر. (فهذا) المؤلف الحاضر ذهنا (مختصر) من الاختصار، وهو تقليل اللفظ وتكثير المعنى. (في الأصلين) عبر به دون الأصولين أي أصول الفقه وأصول الدين، إيثارا للتخفيف والاختصار. (وما معهما) من المقدمات والتقليد وآداب الفتيا وخاتمة التصوّف. (احتضرت فيه جمع الجوامع للعلامة) شيخ الإسلام عبد الوهاب. (التاج)
সম্মান ও মর্যাদার সাথে ইচ্ছাধীন প্রশংসা করা। পারিভাষিক অর্থে এটি এমন এক কাজ যা নিআমতদাতার মহিমা প্রকাশ করে, এ বিবেচনায় যে তিনি প্রশংসাকারী বা অন্য কারও ওপর নিআমত দান করেছেন। আমি মহিমান্বিত কিতাবের অনুসরণ করে এবং আবু দাউদ ও অন্যদের বর্ণিত হাদীসের ওপর আমল করে বিসমিল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু করেছি— "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ছাড়া শুরু করা প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজই কর্তিত", অন্য বর্ণনায় রয়েছে— "আলহামদুলিল্লাহ ছাড়া (শুরু করলে) তা লেজকাটা", অর্থাৎ বরকতশূন্য। কুরআন ও ইজমার ওপর আমল করে আমি বিসমিল্লাহকে অগ্রবর্তী করেছি। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট, যেমনটি বাক্যটি বুঝিয়েছে; চাই এতে 'আলিফ লাম' (ال) দ্বারা ব্যাপকতা (ইস্তিগ্রাক), প্রকৃতি (জিনস) কিংবা পরিচিতি (আহদ) উদ্দেশ্য হোক না কেন, যেমনটি আমি 'শারহুল বাহজাহ' ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণনা করেছি। (আর তিনি আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন অনুসরণ করা) অর্থাৎ প্রবেশ করা। (পথসমূহ) এটি মানহাজ-এর বহুবচন, অর্থাৎ সুন্দর পথসমূহ। (মাধ্যমে) কারণে (এমন এক শক্তির যা তিনি আকলসমূহের মধ্যে গচ্ছিত রেখেছেন) আকল-এর বহুবচন; আর তা হলো একটি সহজাত প্রবৃত্তি, যার অনুগামী হয় স্বতঃসিদ্ধ বিষয়াবলির জ্ঞান—যখন ইন্দ্রিয়সমূহ সুস্থ থাকে। আমি এ বিষয়ে 'শারহু আদাবিল বাহাস'-এ বিস্তারিত আলোচনা করেছি। (এবং দরুদ) যা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং মানুষের পক্ষ থেকে বিনয় ও দোয়া। (ও সালাম) অর্থাৎ অভিবাদন বা শান্তি। (মুহাম্মাদের ওপর) যিনি আমাদের নবী; আর মুহাম্মদ হলো এমন এক বিশেষায়িত নাম যা 'মুদাআফ' বা দ্বিত্বযুক্ত 'ইসমুল মাফউল' থেকে গৃহীত। আমাদের নবীকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে আল্লাহ তাআলার ইলহাম বা প্রেরণা অনুযায়ী—এই আশাবাদ ব্যক্ত করে যে, তাঁর সুন্দর গুণাবলির আধিক্যের কারণে সৃষ্টির পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসা অনেক বেশি হবে। (এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর) তারা হলেন বনু হাশেম ও বনু মুত্তালিবের মুমিনগণ। (এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর) সীবওয়াই-এর মতে এটি সাহাবীর অর্থে 'সাহাবাহ'-এর সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। আর সাহাবী হলেন তিনি—যেমনটি সামনে আসবে—যিনি ঈমানদার অবস্থায় আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাত লাভ করেছেন। আর 'আলে'র ওপর 'সাহবে'র সংযোজন করা হয়েছে—যদিও 'আল' শব্দটির মধ্যে তাদের কেউ কেউ শামিল রয়েছেন—যাতে দরুদ ও সালাম তাদের বাকিদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। আর উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের ওপর হামদ, দরুদ ও সালামের বাক্য দুটি শব্দগত দিক থেকে বর্ণনাধর্মী হলেও অর্থগত দিক থেকে কামনামূলক। কেননা প্রথমটির উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রশংসা করা যে তিনি সৃষ্টির পক্ষ থেকে সমস্ত প্রশংসার মালিক, আর দ্বিতীয়টির উদ্দেশ্য হলো দরুদ ও সালাম পেশ করা—এটি কেবল সংবাদ প্রদান নয়, যদিও মূলত এ দুটির মাধ্যমে এটিই উদ্দেশ্য থাকে। (সফলকামগণ) অর্থাৎ মুক্তিপ্রাপ্ত ও বিজয় লাভকারীগণ। (আল্লাহর পক্ষ থেকে) এটি আমার কথা ‘কবুলিয়ত বা গ্রহণের মাধ্যমে’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এখানে এবং সামনে যা আসবে সেখানে ছন্দ বজায় রাখার খাতিরে একে আগে আনা হয়েছে, তবে এর পূর্ববর্তী শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়াও জায়েয আছে।

(অতঃপর) এটি এক প্রসঙ্গের আলোচনা থেকে অন্য প্রসঙ্গের আলোচনায় যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মূল হলো ‘আম্মা বা’দু’, যার প্রমাণ হলো এর পরবর্তী অংশে সাধারণত ‘ফা’ যুক্ত হওয়া আবশ্যক; কারণ ‘আম্মা’ শব্দের মধ্যে শর্তের অর্থ নিহিত রয়েছে। আর এর মূল বক্তব্য হলো—বিসমিল্লাহ, হামদ এবং উল্লিখিত ব্যক্তিদের ওপর দরুদ ও সালামের পর অন্য যা কিছু থাকে। (তবে এটি) যা মস্তিষ্কে উপস্থিত একটি সংকলন (সংক্ষিপ্তসার) এটি ‘ইখতিসার’ থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো শব্দ কমিয়ে অর্থকে ব্যাপক করা। (দুই মূলনীতির বিষয়ে) ‘উসুলুন’ (মূলনীতিসমূহ) না বলে তিনি দ্বিবচন শব্দ ব্যবহার করেছেন, অর্থাৎ উসূলুল ফিকহ ও উসূলুদ্দীন; সংক্ষেপণ ও সহজীকরণের উদ্দেশ্যে তিনি একে প্রাধান্য দিয়েছেন। (এবং তাদের সাথে যা আছে) যেমন ভূমিকাংশ, তাকলীদ, ফতোয়া প্রদানের আদব এবং তাসাউফ বিষয়ক সমাপ্তি। (এতে আমি আল্লামা শাইখুল ইসলাম আবদুল ওয়াহহাব-এর জামউল জাওয়ামি কিতাবটিকে সারসংক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করেছি।) (যিনি আত-তাজ উপাধিতে ভূষিত)।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৪)
ابن الإمام شيخ الإسلام تقي الدين. (السبكي رحمه الله وتغمده بغفرانه، وكساه حُلِي رضوانه. (وأبدلت منه) أي من جمع الجوامع. (غير المعتمد والواضح بهما) أي بالمعتمد والواضح. (مع زيادات حسنة) ستقف عليها إن شاء الله تعالى. (ونبهت على خلاف المعتزلة) ولو مع غيرهم. (بعندنا و) على خلاف (غيرهم) وحده. (بالأصح غالبا) فيهما. (وسميته لب الأصول راجيا) أي مؤملاً. (من الله) تعالى. (القبول وأسأله النفع به) لمؤلفه وقارئه ومستمعه وسائر المؤمنين. (فإنه خير مأمول) أي مرجوّ. (وينحصر مقصوده) أي لب الأصول. (في مقدمات) بكسر الدال كمقدمة الجيش من قدم اللازم بمعنى تقدم، وبفتحها على قلة كمقدمة الرجل في لغة من قدم المتعدي أي في أمور متقدمة أو مقدمة على المقصود بالذات للانتفاع بها فيه مع توقفه على بعضها، كتعريف الحكم وأقسامه، إذ يثبتها الأصولي تارة وينفيها أخرى كما سيجيء. (وسبعة كتب) في المقصود بالذات، خمسة في مباحث أدلة الفقه الكتاب والسنة والإجماع والقياس والاستدلال. والسادس في التعادل والتراجيح. والسابع في الاجتهاد، وما يتبعه من التقليد وأدب الفتيا وما ضم إليه من علم الكلام المفتتح بمسألة التقليد في أصول الدين المختتم بما يناسبه من خاتمة التصوف، وهذا الحصر من حصر الكلي جزائه لا الكلي في جزئياته.

 

‌‌المقدمات

أي مبحثها. افتتحهتا كالأصل بتعريف أصول الفقه ليتصوّره طالبه بما يضبط مسائله الكثيرة، ليكون على بصيرة في تطلبها، إذ لو تطلبها قبل بطلها لم يأمن فوات ما يرجيه وصرف الهمة إلى ما لا يعنيه فقلت (أصول الفقه) أي الفنّ المسمى بهذا اللقب المشعر بمدحه بابتغاء الفقه عليه، إذ الأصل ما يبنى عليه غيره. (أدلة الفقه الإجمالية) أي غير المعينة كمطلق الأمر والإجماع من حيث إنه يبحث عن أوّلهما، بأنه الوجوب حقيقة، وعن ثانيهما بأنه حجة. (وطرق استفادة جزئياتها) التي هي أدلة الفقه التفصيلية المستفاد هو منها، والمراد بالطرق المرجحات الآتي أكثرها في الكتاب السادس. (وحال مستفيدها) أي وصفات مستفيد جزئيات أدلة الفقه الإجمالية، وهو المجتهد لأنه الذي يستفيدها بالمرجحات عند تعارضها دون المقلد، والمراد بصفاته شرائطه الآتية في الكتاب السابع،
ইমামের পুত্র, শায়খুল ইসলাম তাকীউদ্দীন (আস-সুবকী, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁকে তাঁর ক্ষমায় আচ্ছাদিত করুন এবং তাঁর সন্তুষ্টির অলঙ্কারে ভূষিত করুন)। (এবং আমি তা থেকে পরিবর্তন করেছি) অর্থাৎ জামউল জাওয়ামি হতে। (অনির্ভরযোগ্য ও অস্পষ্ট বিষয়সমূহকে নির্ভরযোগ্য ও স্পষ্ট বিষয় দ্বারা)। (উত্তম কিছু সংযোজনী সহ) যা আপনি অচিরেই পাবেন ইনশাআল্লাহ তাআলা। (এবং আমি মুতাযিলাদের বিরোধিতার প্রতি সতর্ক করেছি) এমনকি যদি তা অন্যদের সাথেও হয়। ('আমাদের নিকট' শব্দ দ্বারা এবং) অন্যদের (বিরোধিতার প্রতি সতর্ক করেছি) এককভাবে। (অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'অধিকতর সঠিক' শব্দ দ্বারা) উভয়ের ক্ষেত্রে। (এবং আমি এর নামকরণ করেছি লুব্বুল উসূল, এই প্রত্যাশায়) অর্থাৎ আশা রেখে। (আল্লাহ তাআলার নিকট) কবুল হওয়ার। (এবং আমি এর মাধ্যমে উপকার প্রার্থনা করি) এর লেখক, পাঠক, শ্রোতা এবং সকল মুমিনের জন্য। (নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রত্যাশিত)। (এবং এর মূল বিষয়বস্তু সীমাবদ্ধ) অর্থাৎ লুব্বুল উসূলের মূল বক্তব্য। (কতকগুলো ভূমিকার মধ্যে) 'দাল' বর্ণে কাসরা বা যের যোগে, যেমন বাহিনীর অগ্রবর্তী দল (মুকাদ্দিমাতুল জায়শ), যা 'কাদামা' অকর্মক ক্রিয়া হতে নিষ্পন্ন যার অর্থ অগ্রবর্তী হওয়া; আবার অল্প ক্ষেত্রে 'দাল' বর্ণে ফাতহা বা যবর যোগেও পঠিত হয়, যেমন 'মুকাদ্দিমাতুর রাজুল', সেই ভাষা অনুযায়ী যারা একে 'কাদামা' সকর্মক ক্রিয়া হতে গ্রহণ করেন। অর্থাৎ এমন কিছু বিষয় যা মূল উদ্দেশ্যের পূর্বে আসে অথবা মূল উদ্দেশ্যের আগে উপস্থাপন করা হয়, যাতে এর মাধ্যমে মূল বিষয়ে উপকৃত হওয়া যায়, যদিও মূল বিষয়গুলোর কিছু অংশ এর ওপর নির্ভরশীল। যেমন হুকুমের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ, কেননা উসূলবিদ কখনো এগুলোকে সাব্যস্ত করেন আবার কখনো নাকচ করেন, যেমন সামনে আসবে। (এবং সাতটি কিতাব বা অধ্যায়ে) যা মূল উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত। পাঁচটি হলো ফিকহ্-এর দলীলসমূহের আলোচনায়: কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস এবং ইসতিদলাল। ষষ্ঠটি হলো দলীলসমূহের সমতা ও প্রাধান্যদান (তাআদুল ও তারজীহ) বিষয়ে। সপ্তমটি হলো ইজতিহাদ এবং এর অনুগামী তাকলীদ, ফতোয়া প্রদানের আদব এবং এর সাথে ইলমে কালামের যা কিছু সংযুক্ত হয়েছে সে বিষয়ে; যা দ্বীনের মূলনীতিতে তাকলীদের মাসআলা দ্বারা শুরু হয়েছে এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তাসাউফের পরিশিষ্ট দ্বারা সমাপ্ত হয়েছে। আর এই সীমাবদ্ধকরণ হলো একটি সামগ্রিক সত্তাকে তার অংশসমূহে বিভক্ত করার মতো, কোনো সামগ্রিক সত্তাকে তার ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার মতো নয়।

 

‌‌ভূমিকা

অর্থাৎ এর আলোচনা। তিনি মূল গ্রন্থের ন্যায় এটিও উসূলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা দ্বারা শুরু করেছেন, যাতে এর শিক্ষার্থী বিষয়টি কল্পনা করতে পারে এমন সংজ্ঞার মাধ্যমে যা এর অসংখ্য মাসআলাকে সুসংহত করে, যাতে সে তা অনুসন্ধানে দূরদৃষ্টির অধিকারী হতে পারে। কারণ, যদি সে তা যথাযথ উপলব্ধির পূর্বে অনুসন্ধান করে, তবে সে যা আশা করে তা হাতছাড়া হওয়ার এবং গুরুত্বহীন বিষয়ে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ হতে পারবে না। তাই আমি বলেছি (উসূলুল ফিকহ) অর্থাৎ এই উপাধিতে নামাঙ্কিত শাস্ত্র, যা এর মাধ্যমে ফিকহ অর্জনের প্রশংসা নির্দেশ করে। কারণ 'আসল' বা মূল হলো তা-ই যার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হয়। (ফিকহ্-এর সামগ্রিক দলীলসমূহ) অর্থাৎ অনির্ধারিত দলীলসমূহ, যেমন নিঃশর্ত আদেশ এবং ইজমা; এই দিক থেকে যে, প্রথমটি সম্পর্কে আলোচনা করা হয় যে এটি প্রকৃতপক্ষে ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়, আর দ্বিতীয়টি সম্পর্কে যে এটি একটি প্রমাণ। (এবং এগুলোর শাখা-প্রশাখা আহরণের পদ্ধতিসমূহ) যা ফিকহ্-এর বিস্তারিত দলীল, যা থেকে তা আহরণ করা হয়। আর পদ্ধতিসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রাধান্যদানের মানদণ্ডসমূহ, যার অধিকাংশ ষষ্ঠ কিতাবে আসবে। (এবং এর থেকে আহরণকারীর অবস্থা) অর্থাৎ ফিকহ্-এর সামগ্রিক দলীলের শাখা-প্রশাখা থেকে আহরণকারীর গুণাবলী; আর তিনি হলেন মুজতাহিদ। কারণ দলীলের বিরোধের সময় তিনিই প্রাধান্যদানের মানদণ্ডসমূহের মাধ্যমে তা আহরণ করেন, অনুসারী বা মুকাল্লিদ নয়। আর তাঁর গুণাবলী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর শর্তাবলী, যা সপ্তম কিতাবে আসবে।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৫)
ويعبر عنها بشروط الاجتهاد، وخرج بأدلة الفقه غير الأدلة كالفقه، وأدلة غير الفقه كأدلة الكلام وبعض أدلة الفقه وبالإجمالية التفصيلية وإن لم يتغاير إلا بالاعتبار كأقيموا الصلاة ولا تقربوا الزنا، وصلاته صلى الله عليه وسلم في الكعبة، فليست أصول الفقه، وإنما يذكر بعضها في كتبه للتمثيل.

(وقيل) أصول الفقه (معرفتها) أي عرفة أدلة الفقه وما عطف عليها، ورجح الأول لأن الأدلة وما عطف عليها إذا لم تعرف لم تخرج عن كونها أصولاً، والأصل قال أصول الفقه دلائل الفقه الإجمالية، وقيل معرفتها، ثم قال والأصولي العارف بها وبطرق استفادتها ومستفيدها مخالفا في ذلك الأصوليين باعترافه، وقرره في منع الموانع بما لا يشفي، وقرره شيخنا العلامة الجلال المحلي بما لا مزيد عليه، واستبعده أيضا شيخه العلامة الشمس البرماوي، وقال لا يعرف في المنسوب زيادة قيد من حيث النسبة على المنسوب إليه، وعدلت عن قوله دلائل إلى قولي أدلة، لأن الموجود هنا جمع قلة لا جمع كثرة، ولما قيل إن فعائل لم يأت جمعا لإسم جنس بوزن فعيل، وإن ردّ بأنه أتى نادرا كوصائد جمع وصيد.

واعلم أن لكل علم مبادىء وموضوعا ومسائل، فمبادئه ما يتوقف عليه المقصود بالذات من تعريفه وتعريف أقسامه، وفائدته وهي هنا العلم بأحكام لله وما يستمد منه، وهو هنا علم الكلام والعربية والأحكام أي تصوّرها. وموضوعه أي ما يبحث في ذلك العلم عن عوارضه الذاتية كأدلة الفقه هنا. ومسائله ما يطلب نسبة محموله إلى موضوعه في ذلك العلم، كعلمنا هنا بأن الأمر للوجوب حقيقة والنهي للتحريم كذلك.

(والفقه علم بحكم) أي نسبة تامة، فالعلم بها تصديق بتعلقها لا تصوّرها، لأنه من مبادىء أصول الفقه، ولا تصديق بثبوتها لأنه من علم الكلام. (شرعي) أي مأخوذ من الشرع المبعوث به النبي الكريم. (عملي) أي متعلق بكيفية عمل قلبي أو غيره، كالعلم بوجوب النية في الوضوء وبندب الوتر. (مكتسب) ذلك العلم لمكتسبه. (من دليل تفصيلي) للحكم. فالعلم كالجنس، وخرج بالحكم العلم بالذات والصفة والفعل كتصوّر الإنسان والبياض والقيام، وبالشرعي العلم بالحكم العقلي والحسي واللغوي والوضعي، كالعلم بأن الواحد نصف الاثنين، وأن النار محرقة، وأن النور الضياء، وأن الفاعل
একে ইজতিহাদের শর্তাবলি দ্বারাও ব্যক্ত করা হয়। ‘ফিকহের দলিলসমূহ’ বলার মাধ্যমে ফিকহের মতো অ-দলিলসমূহ এবং কালামশাস্ত্রের দলিলের মতো ফিকহ-বহির্ভূত দলিলসমূহ ও ফিকহের কিছু দলিল বাদ পড়ে গেছে। আর ‘সামগ্রিক’ বলার মাধ্যমে ‘বিস্তারিত’ দলিলসমূহ বাদ পড়েছে, যদিও এগুলোর মধ্যে পার্থক্যের ভিত্তি কেবল দৃষ্টিভঙ্গি; যেমন—‘তোমরা সালাত কায়েম করো’ এবং ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না’, কিংবা কাবাগৃহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়। এগুলো উসুলুল ফিকহ নয়; বরং উদাহরণ হিসেবে এগুলোর কিছু বিষয় উসুলুল ফিকহের কিতাবে উল্লেখ করা হয়।

(বলা হয়েছে) উসুলুল ফিকহ হলো (তা জানা), অর্থাৎ ফিকহের দলিলসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানা। তবে প্রথম মতটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, কারণ দলিল এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানা না থাকলেও সেগুলো ‘উসুল’ বা মূল হওয়া থেকে বিচ্যুত হয় না। মূল গ্রন্থের লেখক (তাজউদ্দীন আস-সুবকি) বলেছেন, উসুলুল ফিকহ হলো ফিকহের সামগ্রিক প্রমাণাদি। কেউ কেউ একে ‘তা জানা’ বলে অভিহিত করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন, ‘উসুলি’ হলেন তিনি, যিনি এগুলো সম্পর্কে এবং এগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি ও বিধান আহরণকারী সম্পর্কে অবগত। এর মাধ্যমে তিনি নিজের স্বীকারোক্তি অনুসারেই অধিকাংশ উসুলবিদদের মতের বিরোধিতা করেছেন। তিনি ‘মানউল মাওয়ানি’ গ্রন্থে এর সপক্ষে এমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন যা পর্যাপ্ত নয়। আমাদের উস্তাদ আল্লামা জালাল আল-মাহাল্লি এর এমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন যার ওপর আর কোনো ব্যাখ্যা হতে পারে না। তাঁর উস্তাদ আল্লামা শামস আল-বারমাওয়িও একে দূরবর্তী মনে করেছেন এবং বলেছেন, সম্বন্ধযুক্ত কোনো পদে এমন কোনো অতিরিক্ত শর্ত জানা নেই যা মূল পদের মধ্যে নেই। আমি ‘দালাইল’ শব্দের পরিবর্তে ‘আদিল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করেছি, কারণ এখানে ‘অল্পবাচক বহুবচন’ (জামে কিল্লাত) বিদ্যমান, ‘অধিকবাচক বহুবচন’ (জামে কাসরাত) নয়। এছাড়া বলা হয়ে থাকে যে, ‘ফাইল’ ওজনের শব্দটি ‘ফাইল’ ওজনের কোনো সাধারণ বিশেষ্যের বহুবচন হিসেবে আসে না। যদিও এর বিপরীতে বলা হয় যে, এটি বিরল ক্ষেত্রে এসে থাকে, যেমন ‘ওয়াসাইদ’ শব্দটি ‘ওয়াসিদ’ এর বহুবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

জেনে রাখুন যে, প্রতিটি শাস্ত্রের কিছু মূলনীতি, আলোচ্য বিষয় ও মাসআলা থাকে। মূলনীতি হলো সেসব বিষয় যার ওপর ওই শাস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য—যেমন এর সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ এবং এর উপকারিতা—নির্ভরশীল। আর এখানে এর উপকারিতা হলো আল্লাহর বিধানসমূহ এবং যেখান থেকে বিধান গৃহীত হয় সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। এখানে তা হলো কালামশাস্ত্র, আরবি ভাষা এবং বিধানসমূহের কল্পনা বা ধারণা। শাস্ত্রটির আলোচ্য বিষয় হলো সেই বিষয় যার মৌলিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে ওই শাস্ত্রে আলোচনা করা হয়, যেমন এখানে ফিকহের দলিলসমূহ। আর মাসআলা হলো সেসব বিষয় যাতে ওই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়ের সাথে এর বিধেয় বা উদ্দেশ্যের সম্পৃক্ততা অন্বেষণ করা হয়; যেমন আমাদের এই শাস্ত্রের জ্ঞান যে, ‘আদেশ’ প্রকৃতপক্ষে আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার জন্য এবং ‘নিষেধ’ একইভাবে অবৈধ বা হারাম হওয়ার জন্য।

(ফিকহ হলো বিধান সংক্রান্ত জ্ঞান) অর্থাৎ একটি পূর্ণাঙ্গ সম্পৃক্ততা। সুতরাং এই জ্ঞান হলো সেই সম্পৃক্ততার সত্যতা স্বীকার করা, শুধু তার কল্পনা বা ধারণা নয়। কারণ ধারণা হলো উসুলুল ফিকহের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। আবার এটি সেই বিধান সাব্যস্ত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করাও নয়, কারণ তা কালামশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। (শরয়ি) অর্থাৎ যা মহান নবীর মাধ্যমে প্রেরিত শরিয়ত থেকে গৃহীত। (ব্যবহারিক) অর্থাৎ যা অন্তরের আমল বা অন্য কোনো আমলের পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন ওজুতে নিয়ত করা ওয়াজিব হওয়া এবং বিতরের সালাত মুস্তাহাব হওয়া সংক্রান্ত জ্ঞান। (অর্জিত) অর্থাৎ সেই জ্ঞান যা অর্জনকারীর মাধ্যমে অর্জিত। (বিস্তারিত দলিল হতে) যা বিধানের জন্য নির্দিষ্ট। এখানে ‘জ্ঞান’ শব্দটি সাধারণ শ্রেণি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘বিধান’ বলার মাধ্যমে সত্তা, গুণ এবং কাজ সংক্রান্ত জ্ঞান বাদ পড়ে গেছে; যেমন মানুষের ধারণা, শুভ্রতা এবং দণ্ডায়মান হওয়া। আর ‘শরয়ি’ বলার মাধ্যমে যৌক্তিক, ইন্দ্রিয়জাত, ভাষাগত এবং পারিভাষিক বিধান সংক্রান্ত জ্ঞান বাদ পড়ে গেছে; যেমন এক হলো দুইয়ের অর্ধেক—এ জ্ঞান, আগুন দহনকারী—এ জ্ঞান, ‘নূর’ মানে আলো—এ জ্ঞান এবং কর্তা বা ফায়েল...
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৬)
مرفوع، وبالعملي العلم بالحكم الشرعي العلمي أي الاعتقادي، كالعلم في أصول الفقه بأن الإجماع حجة، والعلم في أصول الدين بأن الله واحد، وبالمكتسب علم الله وجبريل بما ذكر، وكذا علم النبي به الحاصل بوحي، وعلمنا به بالضرورة بأن علم من الدين بالضرورة كإيجاب الصلاة والزكاة والحج وتحريم الزنا والسرقة، وبالدليل التفصيلي العلم بذلك للمقلد، فإنه من المجتهد بواسطة دليل إجمالي، وهو أن هذا الحكم أفتاه به المفتي، وكل ما أفتاه به المفتي، فهو حكم الله في حقه فعلمه مثلاً بوجوب النية في الوضوء كذلك ليس من الفقه، وعبروا عن الفقه هنا بالعلم وإن كان لظنية أدلته ظنا كما عبروا به في كتاب الاجتهاد، لأنه ظن المجتهد الذي هو لقوّته قريب من العلم، ونكرت العلم والحكم وأفردتهما تبعا للعلامة البرماوي، لأن التحديد إنما هو للماهية من غير اعتبار كمية أفرادها، ولأن في تعبيري بحكم لا بالأحكام الذي عبر به الأصل كغيره سلامة من ورود أن العلم بجميع الأحكام ينافي قول كل من أكابر الفقهاء في مسائل سئلوا عنها لا أدري، وإن أجيب عنه بأنهم متهيئون للعلم بأحكامها بمعاودة النظر وإطلاق العلم على مثل هذا التهيوء شائع عرفا. يقال فلان يعلم النحو ولا يراد أن جميع مسائله حاضرة عنده مفصلة، بل إنه متهيىء لذلك.

(والحكم خطاب الله) تعالى أي كلامه النفسي الأزلي المسمى في الأزل خطابا على الأصح كما سيأتي. (المتعلق) إما (بفعل المكلف) أي البالغ العاقل الذي لم يمتنع تكليفه تعلقا معنويا قبل وجوده أو بعد وجوده قبل البعثة، وتنجيزيا بعد وجوده بعد البعثة، إذ لا حكم قبلها كما سيأتي ذلك. (اقتضاء) أي طلبا للفعل وجوبا أو ندبا أو حرمة أو كراهة أو خلاف الأولى. (أو تخييرا) بين الفعل وتركه أي إباحة فيشمل ذلك الفعل القلبي الاعتقادي وغيره. والقولي وغيره والكف والمكلف الواحد كالنبي صلى الله عليه وسلم في خصائصه، والأكثر من الواحد، (و) إما (بأعم) من فعل المكلف (وضعا وهو) الخطاب (الوارد) بكون الشيء (سببا وشرطا ومانعا وصحيحا وفاسدا) وسيأتي بيانها، فيشمل ذلك فعل المكلف كالزنا سببا لوجوب الحد، وغير فعله كالزوال
মারফু, এবং ব্যবহারিক হওয়ার মাধ্যমে শারঈ বিধানের তাত্ত্বিক তথা বিশ্বাসগত জ্ঞানকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যেমন উসুলুল ফিকহ-এর এই জ্ঞান যে 'ইজমা' বা ঐকমত্য একটি দলিল, এবং উসুলুদ দ্বীন বা আকীদার এই জ্ঞান যে আল্লাহ এক। আর অর্জিত হওয়ার শর্তারোপের মাধ্যমে আল্লাহ এবং জিবরাঈলের সেই জ্ঞানকে বাদ দেওয়া হয়েছে যা উল্লেখ করা হলো, তদ্রূপ ওহীর মাধ্যমে অর্জিত নবীর জ্ঞানকেও। একইভাবে আমাদের সেই জ্ঞানও এর অন্তর্ভুক্ত নয় যা দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলি থেকে অপরিহার্যভাবে অর্জিত হয়েছে, যেমন সালাত, জাকাত ও হজ ফরজ হওয়া এবং জিনা ও চুরি হারাম হওয়া। আর বিস্তারিত দলিলের শর্তারোপের মাধ্যমে মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারীর জ্ঞানকেও বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ তার জ্ঞান মূলত মুজতাহিদের মাধ্যমে একটি সামগ্রিক বা সংক্ষিপ্ত দলিলের ওপর ভিত্তি করে হয়। আর তা হলো—এই বিধানটি মুফতি ফতোয়া দিয়েছেন, আর মুফতি যা ফতোয়া দেন তা-ই তার জন্য আল্লাহর বিধান। সুতরাং ওজুতে নিয়ত ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে তার অনুরূপ জ্ঞান ফিকহের অন্তর্ভুক্ত নয়। এখানে ফিকহকে 'ইলম' বা জ্ঞান হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছে যদিও এর দলিলসমূহ ধারণাপ্রসূত বা জন্নি হওয়ার কারণে তা একপ্রকার ধারণা বা 'জন্ন' মাত্র—যেমনটি তারা ইজতিহাদ অধ্যায়ে ব্যক্ত করেছেন। কারণ এটি মুজতাহিদের এমন এক ধারণা যা প্রবল হওয়ার কারণে ইলম বা নিশ্চিত জ্ঞানের অতি নিকটবর্তী। আমি আল্লামা বারমাওয়ীর অনুসরণ করে 'ইলম' (জ্ঞান) ও 'হুকুম' (বিধান) শব্দ দুটিকে নাকেরা বা অনির্দিষ্ট এবং একবচন হিসেবে ব্যবহার করেছি; কারণ কোনো কিছুর সংজ্ঞা প্রদান করা হয় তার মূল সত্তাকে চিহ্নিত করার জন্য, তার ব্যক্তির সংখ্যার আধিক্য বিবেচনার জন্য নয়। তাছাড়া আমি 'হুকুম' (একবচন) শব্দটি ব্যবহার করেছি, 'আহকাম' (বহুবচন) নয়—যা মূল গ্রন্থকার ও অন্যরা ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে সেই আপত্তি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে যে, সব বিধানের ইলম থাকা বড় বড় ফকিহদের সেই উক্তির পরিপন্থী যখন তাদের কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হতো আর তারা বলতেন 'আমি জানি না'। যদিও এর উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে, তারা পুনরায় পর্যালোচনার মাধ্যমে সেই বিধানগুলো জানার জন্য প্রস্তুত থাকেন। আর এই ধরণের প্রস্তুতিকে জ্ঞান বা ইলম বলা প্রচলিত রীতিতে প্রসিদ্ধ। যেমন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি নাহু (ব্যাকরণ) জানেন; এর অর্থ এই নয় যে এর প্রতিটি মাসআলা তার কাছে বিস্তারিতভাবে উপস্থিত রয়েছে, বরং তিনি তা জানার যোগ্যতা রাখেন।

(আর হুকুম হলো আল্লাহর সম্বোধন) অর্থাৎ আল্লাহর সত্তাগত অনাদি বাণী যা অনাদিকাল থেকেই বিশুদ্ধতম মতানুসারে সম্বোধন নামে অভিহিত, যেমনটি সামনে আসবে। (যা সংশ্লিষ্ট) হয় (মুকাল্লাফের কার্যের সাথে), অর্থাৎ সেই বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি যার ওপর শরয়ি দায়িত্ব অর্পণ অসম্ভব নয়। এই সংশ্লিষ্টতা তার অস্তিত্বের পূর্বে কিংবা নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বে অস্তিত্ব লাভের পর তাৎপর্যগত সংশ্লিষ্টতা হিসেবে থাকে, আর নবুওয়াত প্রকাশের পর অস্তিত্ব লাভ করলে তা কার্যকর সংশ্লিষ্টতা হিসেবে গণ্য হয়; কেননা নবুওয়াতের পূর্বে কোনো বিধান নেই, যা সামনে আলোচিত হবে। (তাহিদি বা দাবি হিসেবে) অর্থাৎ কাজ করার তলব বা দাবি জানানো, যা ওয়াজিব, মুস্তাহাব, হারাম, মাকরূহ কিংবা খেলাফে আওলা হতে পারে। (অথবা এখতিয়ার হিসেবে) অর্থাৎ কাজ করা বা না করার মধ্যে স্বাধীনতা প্রদান করা, যার নাম ইবাহাত বা বৈধতা। এটি অন্তরের বিশ্বাসগত কাজ এবং অন্যান্য কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে। তদ্রূপ মৌখিক কাজ ও কর্মবিরতিকেও শামিল করে। এটি একক মুকাল্লাফকে অন্তর্ভুক্ত করে—যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহের ক্ষেত্রে; আবার একাধিক ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। (এবং) কখনো (আরও ব্যাপক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়) যা মুকাল্লাফের কাজের চেয়েও বিস্তৃত, (যাকে প্রবর্তিত বা ওয়াদয়ী বিধান বলা হয়। আর এটি হলো সেই সম্বোধন যা) কোনো কিছুকে (সাবাব বা কারণ, শর্ত, প্রতিবন্ধক, সহিহ এবং ফাসেদ হওয়ার জন্য আগত হয়েছে)। এগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসবে। সুতরাং এটি মুকাল্লাফের কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন জিনা করাকে হদ ওয়াজিব হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করা; আবার মানুষের কাজের বাইরে অন্য কিছুকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন সূর্য ঢলে পড়া।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৭)
سببا لوجوب الظهر، وإتلاف غير المكلف كالسكران سببا لوجوب الضمان، وخطاب كالجنس وخرج بإضافته إلى الله خطاب غيره، وإنما وجبت طاعة الرسول والسيد مثلاً بإيجاب الله تعالى أياها، وبفعل المكلف خطاب الله تعالى المتعلق بذاته وصفاته وذوات المكلفين والجمادات، كمدلول الله لا إله إلا هو خالق كل شيء ولقد خلقناكم ويوم نسير الجبال، وبالاقتضاء والتخيير والوضع مدلول وما تعملون من قوله {والله خلقكم وما تعملون} فإنه متعلق بفعل المكلف لا باقتضاء ولا تخيير، ولا وضع بل من حيث الإخبار بأنه مخلوق لله، ولا يتعلق الخطاب التكليفي بفعل غير المكلف ووليه مخاطب بأداء ما وجب في ماله منه، كما يخاطب صاحب البهيمة بضمان ما أتلفته حيث فرط في حفظها لتنزل فعلها حينئذ منزلة فعله، وصحة عبادة الصبيّ كصلاته المثاب عليها ليس لأنه مأمور بها كما في البالغ، بل ليعتادها فلا يتركها، وبما تقرر علم أن خطاب الوضع حكم شرعي متعارف، وهو ما اختاره ابن الحاجب خلافا لما جرى عليه الأصل، وذلك لأنه لا يعلم إلا بوضع الشرع كالخطاب التكليفي، بل قيل إنه لا حاجة لذكره لأنه داخل في الاقتضاء والتخيير، إذ لا معنى لكون الزوال مثلاً سببا لوجوب الظهر إلا إيجابها عنده، ولا لكون الطهارة شرطا للاقدام على البيع إلا إباحة الاقدام عندها وتحريمه عند فقدها. وقيل إنه ليس بحكم حقيقة لأنه ليس بإنشاء بل خبر عن ترتب آثار هذه الأمور عليها. قال البرماوي وليس لهذا الخلاف كبير فائدة، بل هو خلاف لفظي وإذا ثبت أن الحكم خطاب الله. (فلا يدرك حكم إلا من الله) فلا يدرك العقل شيئا مما يأتي عن المعتزلة المعبر عن بعضه بالحسن والقبح بالمعنى الآتي على الأثر. (وعندنا) أيها الأشاعرة (أن الحسن والقبح) لشيء (بمعنى ترتب) المدح و (الذم حالاً) والثواب (والعقاب مآلاً) كحسن الطاعة وقبح المعصية. (شرعيان) أي لا يحكم بهما إلا الشرع المبعوث به الرسل. أي لا يدرك إلا به ولا يؤخذ إلا منه، أما عند المعتزلة فعقليان. أي يحكم بهما العقل بمعنى أنه طريق إلى العلم بهما يمكن إدراكه به من غير ورود سمع لما في الفعل من مصلحة أو مفسدة يتبعها حسنه أو قبحه عند الله. أي يدرك العقل ذلك إما بالضرورة كحسن الصدق النافع وقبح الكذب الضار، أو بالنظر كحسن الكذب النافع وقبح الصدق الضار، وقيل العكس. والشرع يؤكذ ذلك أو بإعانة الشرع فيما خفي على العقل كحسن صوم آخر يوم من رمضان، وقبح صوم أوّل يوم من شوّال وتركت كالأصل المدح والثواب للعلم بهما من ذكر مقابلهما الأنسب بأصول المعتزلة، إذ العقاب عندهم لا يتخلف ولا يقبل الزيادة والثواب يقبلهما، وإن لم يتخلف أيضا، وخرج بمعنى ترتب ما ذكر الحسن والقبح بمعنى ملاءمة الطبع ومنافرته كحسن الحلو وقبح المر، وبمعنى صفة الكمال والنقص كحسن العلم وقبح الجهل فعقليان، أي يحكم بهما العقل اتفاقا. (و) عندنا (أن شكر المنعم) وهو صرف العبد جميع ما أنعم الله به عليه من السمع وغيره إلى ما خلق له (واجب بالشرع) لا

بالعقل فمن لم يبلغه دعوة نبي لا يأثم بتركه خلافا للمعتزلة. (و) عندنا (أنه لا حكم) متعلق بفعل تعلقا تنجيزيا

যোহরের ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে, এবং গায়রে মুকাল্লাফ (যাদের উপর শরীয়তের বিধান অর্পিত হয়নি) যেমন মাতালের মাল নষ্ট করাকে জরিমানা ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে ধরা হয়। 'খিতাব' (সম্বোধন) শব্দটি এখানে লিঙ্গ বা প্রকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করার কারণে অন্যের সম্বোধন এর থেকে বাদ পড়েছে। আর রাসূল এবং মুনিবের আনুগত্য ওয়াজিব হয়েছে মূলত আল্লাহ তাআলা তা ওয়াজিব করার কারণে। আর 'মুকাল্লাফের কাজ' শর্ত যুক্ত করার ফলে আল্লাহ তাআলার ঐ সম্বোধনগুলো বাদ পড়েছে যা তাঁর সত্তা, গুণাবলি, মুকাল্লাফদের সত্তা এবং জড় পদার্থের সাথে সম্পর্কিত। যেমন 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই', 'সব কিছুর স্রষ্টা', 'আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি' এবং 'যেদিন আমি পাহাড়সমূহকে চালিত করব' - এগুলোর অর্থ। 'ইকতিযা' (দাবি), 'তাখয়ীর' (ইখতিয়ার প্রদান) এবং 'ওয়াদ' (নির্ধারণ) শব্দগুলো দ্বারা 'আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং যা তোমরা আমল করো' আয়াতের 'যা তোমরা আমল করো' অংশের অর্থও অন্তর্ভুক্ত। কারণ এটি মুকাল্লাফের কাজের সাথে সম্পর্কিত, তবে তা দাবি, ইখতিয়ার বা নির্ধারণ হিসেবে নয়; বরং তা আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে সংবাদ প্রদানের দিক থেকে। তাকলিফি সম্বোধন গায়রে মুকাল্লাফের কাজের সাথে যুক্ত হয় না, তবে তার অভিভাবক তার সম্পদের উপর যা ওয়াজিব হয়েছে তা আদায় করতে আদিষ্ট হন। যেমন পশুর মালিক তার পশুর নষ্ট করা জিনিসের জরিমানা দিতে আদিষ্ট হন যদি তিনি তা হেফাজতে অবহেলা করেন, কারণ তখন পশুর কাজকে মালিকের কাজের স্থলাভিষিক্ত ধরা হয়। শিশুর ইবাদত যেমন নামাজের শুদ্ধ হওয়া যার জন্য সে সওয়াব পাবে—তা একারণে নয় যে সে বালেগের মতো আদিষ্ট, বরং এজন্য যাতে সে অভ্যস্ত হয় এবং তা ত্যাগ না করে। বর্ণিত বিষয়গুলো থেকে বোঝা গেল যে 'খিতাবুল ওয়াদ' (নির্ধারণমূলক সম্বোধন) একটি সুপরিচিত শরয়ী বিধান। ইমাম ইবনুল হাজিব এটিই গ্রহণ করেছেন যা মূল কিতাবের বিপরীত। কারণ শরীয়তের নির্ধারণ ছাড়া এটি জানা যায় না, যেমনটা তাকলিফি সম্বোধনের ক্ষেত্রে হয়। এমনকি বলা হয়েছে যে এটি আলাদাভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই কারণ তা ইকতিযা ও তাখয়ীরের অন্তর্ভুক্ত। কেননা যোহরের ওয়াজিব হওয়ার জন্য সূর্য ঢলে পড়াকে কারণ হওয়ার অর্থ মূলত এর উপস্থিতিতে এটি ওয়াজিব করা ছাড়া আর কিছু নয়। এবং কেনাবেচার বৈধতার জন্য পবিত্রতা শর্ত হওয়ার অর্থ মূলত এর উপস্থিতিতে কাজটির বৈধতা এবং অনুপস্থিতিতে হারাম হওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। আর বলা হয়েছে যে, এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো বিধান নয় কারণ এটি কোনো কিছু প্রবর্তন করে না, বরং এগুলোর ওপর যে প্রভাব সৃষ্টি হবে তার সংবাদ মাত্র। বারমাভী বলেন, এই মতভেদের বড় কোনো ফায়দা নেই, বরং এটি একটি শাব্দিক মতভেদ মাত্র। আর যখন সাব্যস্ত হলো যে বিধান হলো আল্লাহর সম্বোধন, তবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো থেকে কোনো বিধান গ্রহণ করা যাবে না। সুতরাং মুতাজিলাদের থেকে বর্ণিত কোনো বিধান বুদ্ধি দ্বারা অনুধাবন করা যাবে না, যার কিছু অংশকে ভালো ও মন্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয় যা পরে আলোচিত হবে। আমাদের নিকট অর্থাৎ আশআরিদের নিকট কোনো জিনিসের 'ভালো ও মন্দ' হওয়া - যার অর্থ দুনিয়াতে প্রশংসা ও নিন্দা এবং আখিরাতে সওয়াব ও আজাব নির্ধারিত হওয়া, যেমন আনুগত্যের ভালো গুণ এবং নাফরমানির মন্দ গুণ - তা শরীয়ত নির্ভর। অর্থাৎ রাসূলদের প্রেরিত শরীয়ত ছাড়া এগুলোর ফয়সালা হয় না। অর্থাৎ তা শরীয়ত ছাড়া অনুধাবন করা যায় না এবং তা থেকে ছাড়া গ্রহণ করা যায় না। পক্ষান্তরে মুতাজিলাদের নিকট এগুলো বুদ্ধিভিত্তিক। অর্থাৎ বুদ্ধি এগুলোর ফয়সালা দেয় এই অর্থে যে, এটি জানার পথ হলো বুদ্ধি, যার মাধ্যমে ওহি আসার আগেই তা অনুধাবন করা সম্ভব; যেহেতু কাজের মধ্যে কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ নিহিত থাকে যার ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর নিকট তা ভালো বা মন্দ সাব্যস্ত হয়। অর্থাৎ বুদ্ধি তা অনুধাবন করে হয়তো আবশ্যিকভাবে, যেমন উপকারী সত্যের ভালো হওয়া এবং ক্ষতিকারক মিথ্যার মন্দ হওয়া; অথবা চিন্তাগবেষণার মাধ্যমে, যেমন উপকারী মিথ্যার ভালো হওয়া এবং ক্ষতিকারক সত্যের মন্দ হওয়া (এর বিপরীত মতও আছে)। আর শরীয়ত একে কেবল সুদৃঢ় করে কিংবা বুদ্ধির নিকট যা অস্পষ্ট তাতে সহায়তা করে, যেমন রমজানের শেষ দিনের রোজার ভালো হওয়া এবং শাওয়ালের প্রথম দিনের রোজার মন্দ হওয়া। আর মূল কিতাবের মতো প্রশংসা ও সওয়াবের কথা এখানে বাদ রাখা হয়েছে, কারণ এদের বিপরীতগুলো (নিন্দা ও আজাব) উল্লেখ করার মাধ্যমেই এগুলো জানা যায় যা মুতাজিলাদের মূলনীতির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ তাদের নিকট আজাবের নড়চড় হয় না এবং এতে বৃদ্ধিও ঘটে না, কিন্তু সওয়াবের ক্ষেত্রে তা সম্ভব, যদিও সওয়াব দানেও নড়চড় হয় না। উল্লিখিত পরিণাম নির্ধারিত হওয়ার সংজ্ঞার বাইরে ভালো ও মন্দের অন্যান্য অর্থ যেমন- স্বভাবজাত পছন্দ বা অপছন্দ (যেমন মিষ্টির ভালো লাগা এবং তিতার মন্দ লাগা) এবং পূর্ণতা বা অপূর্ণতার গুণ (যেমন জ্ঞানের ভালো গুণ এবং অজ্ঞতার মন্দ গুণ) সর্বসম্মতিক্রমে বুদ্ধিভিত্তিক; অর্থাৎ বুদ্ধি এগুলোর ফয়সালা দেয়। আর আমাদের নিকট নেয়ামতদাতার শোকর আদায় করা - যা হলো বান্দা কর্তৃক তার শ্রবণশক্তি ও অন্যান্য যা কিছু আল্লাহ তাকে দান করেছেন তা সেই কাজে ব্যয় করা যার জন্য তা সৃষ্টি করা হয়েছে - শরীয়তের মাধ্যমে ওয়াজিব, বুদ্ধি দ্বারা নয়। সুতরাং যার নিকট কোনো নবীর দাওয়াত পৌঁছেনি, সে তা ত্যাগ করার কারণে গুনাহগার হবে না; এতে মুতাজিলাদের দ্বিমত রয়েছে। আর আমাদের নিকট কোনো কাজ কার্যকরী হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিধান নেই।

(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৮)
(قبله) أي الشرع أي بعثة أحد من الرسل لانتفاء لازمه حينئذ من ترتب الثواب والعقاب بقوله تعالى {وما كنا معذبين حتى نبعث رسولاً} ف) أي ولا مثيبين فاغتنى عن ذكر الثواب بذكر مقابله الأظهر في تحقق معنى التكليف، والقول بأن الرسول في الآية العقل وتخصيص العذاب فيها بالدنيوي خلاف الظاهر. (بل) انتقالية لا إبطالية. (الأمر) أي الشأن في وجوب الحكم (موقوف إلى وروده) أي الشرع فلا مخالفة بين من عبر منا في الأفعال قبل البعثة بالوقف، ومن نفى منا الحكم فيها. أما عند المعتزلة فالحكم متعلق به تعلقا تنجيزيا قبل البعثة، فإنهم جعلوا العقل حاكما في الأفعال قبل البعثة فما قضى به في شيء منها ضروري كالتنفس في الهواء أو اختياري لخصوصه بأن أدرك فيه مصلحة أو مفسدة، أو انتفاءهما، فأمر قضائه فيه ظاهر، وهو أن الضروري مقطوع بإباحته، والاختياري لخصوصه ينقسم إلى الأقسام الخمسة الحرام وغيره، لأنه إن اشتمل على مفسدة فعله فحرام كالظلم، أو تركه فواجب كالعدل، وإلا فإن اشتمل على مصلحة فعله فمندوب كالإحسان، أو تركه فمكروه،. وإن لم يشتمل على مفسدة ولا مصلحة فمباح، فإن لم يقض العقل في شيء منها لخصوصه بأن لم يدرك فيه شيئا مما مر كأكل الفاكهة فاختلف في قضائه فيه لعموم دليله على ثلاثة أقوال أحدها أنه محظور لأن الفعل تصرف في ملك الله تعالى بغير إذنه إذ العالم كله ملك له تعالى. وثانيها أنه مباح لأن الله تعالى خلق العبد وما ينتفع به، فلو لم يبح له كان خلقهما عبثا أي خاليا عن الحكمة. وثالثها الوقف عنهما أي لا يدري أنه محظور أو مباح مع أنه لا يخلو عن واحد منهما، إما ممنوع منه فمحظور أو لا فمباح، وذلك لتعارض دليلهما، وقد علم بطلان الثلاثة مما مر من قوله تعالى {وما كنا معذبين حتى نبعث رسولاً} .

تتمة:

لو وقع بعد البعثة صورة لا حكم فيها فثلاثة أقوال الحظر لآية {يسألونك ماذا أحلّ لهم} فإنها تدل على سبق التحريم والإباحة لقوله تعالى {خلق لكم ما في الأرض جميعا} والوقف لتعارض الدليلين.

(والأصح امتناع تكليف الغافل) وهو من لا يدري كالنائم والساهي، لأن مقتضى التكليف بشيء الإتيان به امتثالاً وذلك يتوقف على العلم بالمكلف به والغافل لا يعلم ذلك، ومنه السكران وإن أجرى عليه حكم المكلف تغليظا عليه كما أوضحته في حاشية شرح الأصل وغيرها. (و) امتناع تكليف (الملجأ) وهو من يدري ولا مندوحة له عما ألجىء إليه كالساقط من شاهق على شخص يقتله لا مندوحة له عن الوقوع عليه القاتل له، فيمتنع تكليفه بالملجأ إليه وبنقيضه لعدم قدرته على ذلك، لأن الأوّل واجب الوقوع، والثاني ممتنعه ولا قدرة له على واحد منهما. وقيل يجوز تكليف الغافل والملجأ بناء على جواز التكليف بما لا يطاق كحمل الواحد الصحرة العظيمة، وردّ بأن الفائدة في التكليف بذلك من الاختبار هل يأخذ في المقدمات منتفية في تكليف من ذكر، وظاهر أن من ذكر يمتنع أن يتعلق به خطاب غير وضعي بغير الواجب والحرام أيضا، وإن أوهم التعبير بالتكليف قصوره عليهما. (لا المكره) وهو من لا مندوحة له عما أكره عليه إلا بالصبر على ما أكره به، فلا يمتنع تكليفه بالمكره عليه، وإن خالف داعي الإكراه داعي الشرع ولا بنقيضه، وإن وافقه على الأصح فيهما لإمكان الفعل، لكن لم يقع الأوّل مع المخالفة لخبر «رُفِعَ عَنْ أمَّتي الخَطَأَ والنِّسيانَ وما اسْتُكْرِهُوا عَلَيهِ» . ولا الثاني مع الموافقة قياسا على الأوّل، وإنما وقعا مع غير ذلك لقدرته على امتثال ذلك بأن يأتي بالمكره عليه لداعي الشرع كمن أكره على أداء الزكاة فنواها عند أخذها منه، أو بنقيضه صابرا على ما أكره

(তার আগে) অর্থাৎ শরিয়ত আসার আগে বা কোনো রাসূল প্রেরণের আগে। কারণ তখন সওয়াব বা শাস্তি প্রাপ্তি রূপ অনিবার্য অনুষঙ্গটি বিদ্যমান থাকে না; যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, "আমি রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত কাউকে শাস্তি প্রদান করি না।" (অতঃপর) অর্থাৎ এবং সওয়াব দানকারীও হই না। এখানে সওয়াবের কথা উল্লেখ না করে তার বিপরীত শাস্তির কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে সারসংক্ষেপ করা হয়েছে, যা শরয়ি দায়িত্ব (তাকলিফ) সাব্যস্ত হওয়ার প্রকৃত অর্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্ট। আর এই আয়াতে 'রাসূল' বলতে 'বিবেক'কে বোঝানো এবং আয়াতে উল্লিখিত 'শাস্তি'কে কেবল পার্থিব শাস্তির সাথে সুনির্দিষ্ট করা বাহ্যিক অর্থের পরিপন্থী। (বরং) এটি একটি অবস্থান্তরসূচক অব্যয়, পূর্ববর্তী মতকে বাতিলকারী নয়। (বিষয়টি) অর্থাৎ বিধান ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি (শরিয়ত আসা পর্যন্ত স্থগিত)। সুতরাং আমাদের মধ্যে যারা রাসূল প্রেরণের পূর্ববর্তী কার্যাবলীর ক্ষেত্রে 'ওয়াকফ' বা স্থগিতের কথা বলেছেন এবং যারা তাতে বিধান থাকার কথা অস্বীকার করেছেন, তাদের মাঝে কোনো বিরোধ নেই। পক্ষান্তরে মুতাজিলাদের মতে, রাসূল প্রেরণের আগেই বিধান কার্যকরভাবে এর সাথে সম্পৃক্ত হয়। কেননা তারা রাসূল প্রেরণের আগেই বিবেককে কার্যাবলীর ক্ষেত্রে বিচারক সাব্যস্ত করেছেন। বিবেক কোনো কার্যের ব্যাপারে যে ফয়সালা দেয়, তা কখনো অপরিহার্য হয়—যেমন বাতাসে শ্বাস নেওয়া, আবার কখনো এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে ঐচ্ছিক হয়—যদি বিবেক তাতে কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ অথবা এ দুটির অনুপস্থিতি উপলব্ধি করে। অতএব বিবেকের ফয়সালার বিষয়টি সুস্পষ্ট। আর তা হলো: অপরিহার্য কার্যাবলীর বৈধতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। আর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে ঐচ্ছিক কাজগুলো হারামসহ পাঁচ প্রকারে বিভক্ত হয়। কারণ, যদি কোনো কাজ করার মধ্যে অকল্যাণ থাকে তবে তা হারাম, যেমন জুলুম; আর যদি তা বর্জন করার মধ্যে অকল্যাণ থাকে তবে তা ওয়াজিব, যেমন ন্যায়বিচার। অন্যথায়, যদি কোনো কাজ করার মধ্যে কল্যাণ থাকে তবে তা মানদুব (উত্তম), যেমন ইহসান বা অনুগ্রহ করা; আর যদি তা বর্জন করার মধ্যে কল্যাণ থাকে তবে তা মাকরূহ। আর যদি তাতে অকল্যাণ বা কল্যাণ কোনটিই না থাকে তবে তা মুবাহ (বৈধ)। কিন্তু যদি বিবেক কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে কার্যাবলীর কোনো ক্ষেত্রে ফয়সালা না দেয়—অর্থাৎ পূর্বে উল্লিখিত বিষয়গুলোর কোনোটিই উপলব্ধি না করে (যেমন ফল খাওয়া), তবে সাধারণ দলীলের ভিত্তিতে সেই বিষয়ের ফয়সালার ক্ষেত্রে তিনটি মত রয়েছে। প্রথমত: তা নিষিদ্ধ; কারণ কোনো কাজ করা মানে আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে তাঁর মালিকানাধীন বস্তুতে হস্তক্ষেপ করা, কেননা সমগ্র জগৎ মহান আল্লাহর মালিকানাধীন। দ্বিতীয়ত: তা মুবাহ; কারণ মহান আল্লাহ বান্দাকে এবং তার জন্য উপকারী বস্তুসমূহ সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যদি তার জন্য তা বৈধ না করা হতো, তবে সেগুলোর সৃষ্টি নিরর্থক হতো অর্থাৎ হিকমত বা প্রজ্ঞাশূন্য হতো। তৃতীয়ত: এ ব্যাপারে স্থগিতাদেশ; অর্থাৎ এটি নিষিদ্ধ নাকি বৈধ তা জানা যায় না, যদিও এটি এ দুটির বাইরে হতে পারে না—হয়তো এটি থেকে বারণ করা হয়েছে তাই নিষিদ্ধ, অথবা বারণ করা হয়নি তাই মুবাহ। আর এটি হয়েছে উভয় পক্ষের দলীল সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে। তবে পূর্বোল্লিখিত আল্লাহর বাণী: "আমি রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দিই না" এর মাধ্যমে এই তিনটি মতেরই অসারতা প্রমাণিত হয়েছে।

পরিশিষ্ট:

যদি রাসূল প্রেরণের পর এমন কোনো পরিস্থিতি উদ্ভূত হয় যার কোনো বিধান নেই, তবে সেক্ষেত্রে তিনটি মত রয়েছে। (১) নিষিদ্ধ হওয়া; যার দলীল আল্লাহর বাণী: "তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তাদের জন্য কী হালাল করা হয়েছে।" এটি পূর্ববর্তী সময় থেকে হারাম হওয়ার প্রমাণ বহন করে। (২) মুবাহ হওয়া; যার দলীল আল্লাহর বাণী: "তিনিই সেই সত্তা যিনি জমিনে যা কিছু আছে সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।" এবং (৩) স্থগিতাদেশ; দলীলসমূহের পারস্পরিক বিরোধের কারণে।

(আর অধিকতর সঠিক মত হলো—বিস্মৃত বা অসতর্ক ব্যক্তিকে কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান অসম্ভব।) আর সে হলো এমন ব্যক্তি যে জানে না, যেমন—নিদ্রিত বা ভুলোমনা ব্যক্তি। কারণ কোনো বিষয়ে দায়িত্ব অর্পণের দাবি হলো আনুগত্যের সাথে তা পালন করা, আর এটি অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল; অথচ অসতর্ক ব্যক্তি তা জানে না। মাতাল ব্যক্তিও এর অন্তর্ভুক্ত, যদিও তার ওপর কঠোরতা আরোপের উদ্দেশ্যে তাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা আমি 'শরহুল আসল'-এর টীকা ও অন্যান্য স্থানে স্পষ্ট করেছি। (এবং) বাধ্য বা নিরুপায় ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান অসম্ভব। সে এমন ব্যক্তি যে জানে, কিন্তু যে কাজের জন্য সে নিরুপায় হয়েছে তা থেকে ফেরার কোনো উপায় তার নেই। যেমন উঁচু স্থান থেকে কোনো ব্যক্তির ওপর পতিত হওয়া যার ফলে সে নিহত হয়; এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তির ওপর পতিত হওয়া থেকে বাঁচার কোনো উপায় তার নেই। সুতরাং যার জন্য সে নিরুপায় হয়েছে সেই কাজটির বা তার বিপরীত কাজের দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করা অসম্ভব; কারণ সে বিষয়ে তার কোনো ক্ষমতা নেই। যেহেতু প্রথমটি ঘটা অনিবার্য এবং দ্বিতীয়টি ঘটা অসম্ভব, আর কোনোটির ওপরই তার নিয়ন্ত্রণ নেই। বলা হয়ে থাকে যে, অসতর্ক ও নিরুপায় ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান জায়েজ; আর এটি অসাধ্য সাধনের দায়িত্ব অর্পণ জায়েজ হওয়ার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়—যেমন একজন ব্যক্তির পক্ষে বিশাল পাথর বহনের দায়িত্ব। তবে এর প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, এই ধরনের দায়িত্ব অর্পণের উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষা করা যে সে প্রাথমিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে কি না; কিন্তু উল্লিখিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সেই উদ্দেশ্য অনুপস্থিত। আর এটি স্পষ্ট যে, উল্লিখিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ওয়াজিব এবং হারাম ব্যতীত অন্য কোনো শরয়ি সম্বোধন যা প্রাসঙ্গিক বিধান নয়, তা প্রযোজ্য হওয়া অসম্ভব; যদিও 'তাকলিফ' শব্দটির ব্যবহার কেবল এ দুটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হওয়ার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। (জোরজবরদস্তিকৃত ব্যক্তি এমন নয়) মুকরাহ হলো সে, যার ওপর যে বিষয়ের জন্য জোর প্রয়োগ করা হয়েছে তা থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই, কেবল সেই জুলুম সহ্য করা ছাড়া। সুতরাং যে কাজের জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে সেই কাজের দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করা অসম্ভব নয়; যদিও বাধ্য করার প্রেক্ষাপট শরিয়তের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হয়। তেমনিভাবে তার বিপরীত বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়াও অসম্ভব নয়, যদিও তা শরিয়তের অনুকূলে হয়—উভয় ক্ষেত্রে এটিই অধিকতর সঠিক মত; কারণ কাজটি করা সম্ভব। কিন্তু প্রথমটি (অর্থাৎ বাধ্য হওয়া কাজটির বিধান) শরিয়তের নির্দেশের পরিপন্থী হলে তা কার্যকর হয় না, কারণ হাদীসে এসেছে: "আমার উম্মতের ভুলভ্রান্তি, বিস্মৃতি এবং যে বিষয়ে তারা বাধ্য হয়েছে তা ক্ষমা করা হয়েছে।" আর দ্বিতীয়টিও (অর্থাৎ শরিয়তের অনুকূল হওয়া) কার্যকর হয় না প্রথমটির ওপর কিয়াস করে। তবে এগুলো এছাড়া অন্যভাবে কার্যকর হয় যখন তার পালনের সামর্থ্য থাকে; যেমন কেউ যদি শরিয়তের নির্দেশের কারণে বাধ্য করা কাজটিকে আদায় করে—যেমন কাউকে জাকাত দিতে বাধ্য করা হলো এবং সে তা দেওয়ার সময় নিয়ত করল, অথবা সে জোরজবরদস্তি সহ্য করে তার বিপরীতটি করল।

(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৯)
به، وإن لم يكلف الصبر عليه كمن أكره على شرب خمر فامتنع منه صابرا على العقوبة،

وقيل يمتنع تكليفه بذلك لعدم قدرته على امتثاله، إذ الفعل للإكراه لا يحصل الامتثال به، ولا يمكن الإتيان معه بنقيضه والقول الأوّل للأشاعرة والثاني للمعتزلة وصححه الأصل ورجع عنه إلى الأوّل آخرا وأدرج فيما صححه امتناع تكليف المكره على القتل، فاحتاج إلى الجواب عن إثم القاتل المجمع عليه بأنه ليس
এর দ্বারা, যদিও তার ওপর ধৈর্য ধারণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়নি, যেমন কাউকে মদ পান করতে বাধ্য করা হলে সে শাস্তির ওপর ধৈর্য ধারণ করে তা থেকে বিরত থাকল।

আর বলা হয়েছে যে, এ ক্ষেত্রে তাকে দায়িত্ব প্রদান করা অসম্ভব, যেহেতু তা পালনের সামর্থ্য তার নেই; কেননা বাধ্য হয়ে করা কাজের দ্বারা আনুগত্য সিদ্ধ হয় না এবং সেই অবস্থায় এর বিপরীতটি করাও সম্ভব নয়। প্রথম মতটি আশআরিগণের এবং দ্বিতীয়টি মুতাজিলাগণের। মূল লেখক একেই সঠিক সাব্যস্ত করেছিলেন, তবে পরিশেষে তিনি প্রথম মতটির দিকেই প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি যা সঠিক সাব্যস্ত করেছিলেন তার মধ্যে হত্যার জন্য বাধ্যকৃত ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদানের অসম্ভাব্যতাকেও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ফলে হত্যাকারীর পাপের বিষয়ে যে সর্বসম্মত ঐক্যমত্য রয়েছে, তার উত্তর প্রদানের প্রয়োজন দেখা দিল যে, এটি নয়
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১০)
للإكراه، بل لإيثاره نفسه بالبقاء على قتيله، وعلى ما رجحناه لا يحتاج إلى الجواب، ثم ما ذكر في تكليف المكره هو كلام الأصوليين، أما الفقهاء فاضطربت

أجوبتهم فيه بحسب قوة الدليل، فمرة قطعوا بما يوافق عدم تكليفه كعدم صحة عقوده وحلها وكالتلفظ بكلمة الكفر وقلبه مطمئن بالإيمان، ومرة قطعوا بما يوافق تكليفه كإكراه الحربي والمرتد على الإسلام ونحوه مما هو إكراه بحق، ومرة رجحوا ما يوافق الأوّل كإكراه الصائم على الفطر وإكراه من حلف على شيء فإنه لا يفطر ولا يحنث بفعل ذلك على الراجح، ومرة رجحوا ما يوافق الثاني كالاكراه على القتل فإه يأثم بالقتل إجماعا ويلزمه الضمان قودا أو مالاً على الراجح. لا يقال التعبير بالتكليف قاصر على الوجوب والحرمة بناء على أن التكليف إلزام ما فيه كلفة لأنا نمنع ذلك، فإن ما عداهما لازم للتكليف، إذ لولا وجوده لم يوجد ما عداهما ألا ترى إلى انتفائه قبل البعثة كانتفاء التكليف. (ويتعلق الخطاب) من أمر أو غيره فهو أعم من قوله ويتعلق الأمر (عندنا) أيها الأشاعرة (بالمعدوم تعلقا معنويا) بمعنى أنه إذا وجد بصفة التكليف يكون مخاطبا بذلك الخطاب النفسي الأزلي لا تعلقا تنجيزيا بأن يكون حال عدمه مخاطبا، أما المعتزلة فنفوا التعلق المعنوي أيضا لنفيهم الكلام النفسي، (فإن اقتضى) أي طلب الخطاب الذي هو كلام الله النفسي (فعلاً غير كف) من المكلف (اقتضاء جازما) بأن لم يجز تركه (فإيجاب) أي فهذا الخطاب يسمى أيجابا (أو) اقتضاء (غير جازم) بأن جوّز تركه (فندب أو) اقتضى (كفا) اقتضاء (جازما) بأن لم يجز فعله. (فتحريم أو) اقتضاء (غير جازم بنهي مقصود) لشيء كالنهي في خير الصحيحين «إذا دخل أحدكم المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين (فكراهة) . أي فالخطاب المدلول عليه بالمقصود يسمى كراهة ولا يخرج عن المقصود دليل المكروه إجماعا أو قياسا، لأنه في الحقيقة مستند الإجماع أو دليل المقيس عليه، وذلك من المقصود وقد يعبرون عن الإيجاب والتحريم بالوجوب والحرمة لأنهما أثرهما، وقد يعبرون عن الخمسة بمتعلقاتها من الأفعال كالعكس تجوُّزا فيقولون في الأول الحكم إما واجب أو مندوب الخ. وفي الثاني الفعل إما إيجاب أو ندب الخ. (أو بغير مقصود) وهو النهي عن ترك المندوبات المستفاد من أوامرها، إذ الأمر بشيء يفيد النهي عن تركه. (فخلاف الأولى) أي فالخطاب المدلول عليه بغير المقصود يسمى خلاف الأولى كما يسماه متعلقه فعلاً غير كف كان كفطر مسافر لا يتضرر بالصوم كما
জবরদস্তির কারণে নয়, বরং নিহত ব্যক্তির জীবনের বিনিময়ে নিজের জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে। আর আমরা যা অগ্রাধিকার দিয়েছি সেই অনুযায়ী উত্তরের প্রয়োজন নেই। অতঃপর জবরদস্তিকৃত ব্যক্তির দায়বদ্ধতা (তাকলিফ) সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো উসূলবিদগণের কথা। পক্ষান্তরে ফকীহগণের উত্তরসমূহ দলিলের শক্তির তারতম্য অনুযায়ী এক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে।

কখনও কখনও তাঁরা তার দায়বদ্ধতা না থাকার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ের ব্যাপারে অকাট্য মত দিয়েছেন; যেমন তার চুক্তিসমূহ এবং তা বাতিল করার অসারতা, এবং ঈমানের ওপর অন্তর অবিচল থাকা অবস্থায় কুফরি বাক্য উচ্চারণ করা। আবার কখনও কখনও তাঁরা তার দায়বদ্ধ থাকার অনুকূলে অকাট্য মত দিয়েছেন; যেমন যুদ্ধরত কাফির বা মুরতাদকে ইসলামের জন্য বাধ্য করা এবং এ জাতীয় বিষয় যা ন্যায়ের ভিত্তিতে বাধ্য করা হিসেবে গণ্য। কখনও কখনও তাঁরা প্রথমটির (দায়বদ্ধ না থাকার) অনুকূল মতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন; যেমন রোযাদারকে রোযা ভাঙতে বাধ্য করা এবং কোনো বিষয়ে শপথকারীকে তা ভঙ্গ করতে বাধ্য করা। কেননা অগ্রগণ্য মতানুসারে এর ফলে রোযা নষ্ট হবে না এবং সে শপথ ভঙ্গকারীও হবে না। আবার কখনও তাঁরা দ্বিতীয়টির (দায়বদ্ধ থাকার) অনুকূল মতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন; যেমন হত্যার জন্য বাধ্য করা। কারণ ঐকমত্য (ইজমা) অনুযায়ী হত্যার কারণে সে গুনাহগার হবে এবং অগ্রগণ্য মতানুসারে তার ওপর কিসাস বা মালের মাধ্যমে জরিমানা প্রদান আবশ্যক হবে। একথা বলা যাবে না যে, 'তাকলিফ' শব্দটির প্রয়োগ কেবল ওয়াজিব ও হারামের মাঝেই সীমাবদ্ধ—এই ভিত্তির ওপর যে তাকলিফ হলো কষ্টসাধ্য বিষয়কে আবশ্যক করা; কারণ আমরা তা অস্বীকার করি। কেননা এই দুটি (ওয়াজিব ও হারাম) ব্যতীত বাকিগুলোও তাকলিফের জন্য আবশ্যক। কারণ যদি তাকলিফের অস্তিত্ব না থাকত, তবে এগুলোও থাকত না। আপনি কি দেখেন না যে, রিসালাত আসার পূর্বে যেভাবে তাকলিফ অনুপস্থিত ছিল, তেমনি এগুলোও অনুপস্থিত ছিল? (আর আল্লাহর বাণী বা সম্বোধন সংশ্লিষ্ট হয়) তা আদেশ হোক বা অন্য কিছু, তাই এটি তাঁর "আদেশ সংশ্লিষ্ট হয়" বলার চেয়ে অধিক ব্যাপক। (আমাদের মতে) অর্থাৎ হে আশআরীগণ! (অস্তিত্বহীন বিষয়ের সাথে অর্থগতভাবে সংশ্লিষ্ট হয়)। এর অর্থ হলো, যখন সে তাকলিফের যোগ্য অবস্থায় অস্তিত্ব লাভ করবে, তখন সে আল্লাহর সেই অনাদি ও আত্মিক বাণীর মাধ্যমে সম্বোধিত হবে। এটি কোনো কার্যকর সংশ্লিষ্টতা নয় যে, সে অস্তিত্বহীন থাকা অবস্থাতেই সম্বোধিত হবে। পক্ষান্তরে মুতাযিলাগণ অর্থগত সংশ্লিষ্টতাকেও অস্বীকার করেছে, যেহেতু তারা আল্লাহর আত্মিক বাণীকে অস্বীকার করে। (অতঃপর যদি দাবি করে) অর্থাৎ আল্লাহর সম্বোধন—যা তাঁর আত্মিক বাণী—যদি দাবি করে (বিরত থাকা ব্যতীত অন্য কোনো কাজ) দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষ থেকে (দৃঢ়ভাবে), যার ফলে তা বর্জন করা জায়েয থাকে না, (তবে তা ঈজাব বা আবশ্যককরণ)। অর্থাৎ এই সম্বোধনকে ঈজাব বলা হয়। (অথবা) যদি দাবিটি (দৃঢ় না হয়), অর্থাৎ যদি তা বর্জন করার অনুমতি থাকে, (তবে তা নদব বা পছন্দনীয়)। (অথবা) যদি (বিরত থাকার) দাবি করে (দৃঢ়ভাবে), অর্থাৎ যদি সেই কাজটি করা জায়েয না হয়, (তবে তা তাহরিম বা নিষিদ্ধকরণ)। (অথবা) যদি কোনো বিষয় থেকে (উদ্দেশ্যমূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে অদৃঢ়ভাবে) দাবি করা হয়, যেমন দুই বিশুদ্ধতম গ্রন্থ (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, সে যেন দুই রাকাত নামায না পড়ে না বসে।" (তবে তা কারাহাত বা অপছন্দনীয়)। অর্থাৎ, উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্দেশিত সম্বোধনকে কারাহাত বলা হয়। ইজমা বা কিয়াসের মাধ্যমে সাব্যস্ত মাকরুহ বা অপصন্দনীয় বিষয়ের দলিল সরাসরি নির্দেশের বাইরে নয়। কারণ প্রকৃতপক্ষে সেটি ইজমার ভিত্তি অথবা যার ওপর কিয়াস করা হয়েছে তার দলিল, আর সেটি মূল উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত। তারা কখনও কখনও 'ঈজাব' ও 'তাহরিম'-কে 'ওজুব' ও 'হুরমত' দ্বারা প্রকাশ করেন; কারণ এই দুটি হলো ঐ দুটির প্রভাব। আবার অনেক সময় রূপকভাবে ঐ পাঁচটি বিধানকে সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যাবলীর মাধ্যমে প্রকাশ করেন, যেমনটি এর বিপরীত ক্ষেত্রেও করা হয়। ফলে তাঁরা প্রথম ক্ষেত্রে বলেন যে: হুকুম বা বিধান হলো ওয়াজিব অথবা মানদুব ইত্যাদি। আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বলেন যে: কাজটি হলো ঈজাব অথবা নদব ইত্যাদি। (অথবা অ-উদ্দেশ্যমূলকভাবে)। এটি হলো পছন্দনীয় কাজসমূহ বর্জন করা থেকে নিষেধ করা, যা সেগুলোর আদেশ থেকে বোঝা যায়। কারণ কোনো কাজের আদেশ দেওয়া তার বর্জন থেকে নিষেধ করারই নামান্তর। (তবে তা খিলাফে আওলা বা অনুত্তম)। অর্থাৎ, অ-উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্দেশিত সম্বোধনকে খিলাফে আওলা বলা হয়; যেমন এর সংশ্লিষ্ট বিষয়কে বিরত থাকা ব্যতীত অন্য কোনো কাজ বলা হয়। এর উদাহরণ হলো সেই মুসাফিরের রোযা ভঙ্গ করা যার রোযার কারণে কোনো ক্ষতি হয় না, যেমনটি...
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১১)
سيأتي، أو كفا كترك صلاة الضحى، والفرق بين قسمي المقصود وغيره أن الطلب في المقصود أشدّ منه في غيره، والقسم الثاني وهو واسطة بين الكراهة والإباحة زاده جماعة من متأخري الفقهاء منهم إمام الحرمين على الأصوليين، وأما المتقدمون فيطلقون المكروه على القسمين، وقد يقولون في الأول مكروه كراهة شديدة، كما يقال في قسم المندوب سنة مؤكدة، وعلى ما عليه الأصوليون يقال أو غير جازم فكراهة. (أو خير) الخطاب بين الفعل المذكور والكف عنه (فإباحة) وتعبيري بخير سالم مما يرد على تعبيره بالتخيير من أنه يقتضي أن في الإباحة اقتضاء وليس كذلك، وإن كان عن الإيراد جواب وزدت غير كف لأسلم من مقابلة الفعل بالكف الذي عبر عنه الأصل بالترك هو لا يقابل به، إذ الكف فعل والترك فعل هو كف كما سيأتي. (و) بما ذكر (عرفت حدودها) أي حدود المذكورات من أقسام خطاب التكليف، فحد الإيجاب مثلاً الخطاب المقتضي لفعل غير كف اقتضاء جازما، وأما حدود أقسام خطاب الوضع فتعرف من حده المشهور الذي قدمته وهو الخطاب الوارد بكون الشيء سببا الخ. فحدّ السببي منه مثلاً الخطاب الوارد بكون الشيء سببا لحكم شيء، وأما حدود السبب وغيره من أقسام متعلق خطاب الوضع فسيأتي، وكذا حد الحد بالجامع المانع الدافع للاعتراض بأنّ ما عرف رسوم لا حدود، لأن المميز فيها خارج عن الماهية. (والأصح ترادف) لفظي (الفرض والواجب) أي مسماهما واحد وهو كما علم من حدّ الإيجاب الفعل غير الكف المطلوب طلبا جازما، ولا ينافي هذا ما ذكره أئمتنا من الفرق بينهما في مسائل، كما قالوا فيمن قال الطلاق واجب عليّ تطلق أو فرض عليّ لا تطلق، إذ ذاك ليس للفرق بين حقيقتيهما، بل لجريان العرف بذلك أو لاصطلاح آخر كما بينته مع زيادة تحقيق في الحاشية. ونفت الحنفية ترادفهما فقالوا هذا الفعل إن ثبت بدليل قطعي كالقرآن فهو الفرض كقراءة القرآن في الصلاة الثابتة بقوله تعالى {فاقرأوا ما تيسر من القرآن} أو بدليل ظني كخبر الواحد فهو الواجب كقراءة الفاتحة في الصلاة الثابتة بخبر الصحيحين «لا صَلَاةَ لمنْ لَم يقرأ

بفاتِحَةِ الكِتابِ» فيأثم بتركها ولا تفسد به صلاته بخلاف ترك القراءة. (كالمندوب) أي كما أن الأصح ترادف ألفاظ المندوب (والمستحب والتطوّع والسنّة) والحسن والنفل والمرغب فيه أي مسماها واحد وهو كما علم من حد الندب الفعل غير الكف المطلوب طلبا غير جازم، ونفى القاضي حسين وغيره ترادفها فقالوا هذا الفعل إن واظب عليه النبي صلى الله عليه وسلم فهو السنّة، إلا كأن فعله مرة أو مرتين فهو المستحب، أو لم يفعله وهو ما ينشئه الإنسان باختياره من الأوراد فهو التطوّع، ولم يتعرضوا للبقية لعمومها للأقسام الثلاثة. (والخلف) في المسألتين (لفظي) أي عائد إلى اللفظ والتسمية،
এটি সামনে আসবে, অথবা বিরত থাকা (কাফ্) যেমন চাশতের সালাত পরিত্যাগ করা। উদ্দিষ্ট (মাকসুদ) এবং অ-উদ্দিষ্টের মধ্যে পার্থক্য হলো, উদ্দিষ্টের ক্ষেত্রে তলব (চাহিদা) অ-উদ্দিষ্টের চেয়ে অধিক জোরালো। দ্বিতীয় প্রকারটি—যা অপছন্দনীয়তা (কারাহাত) এবং বৈধতা (ইবাহাত)-এর মধ্যবর্তী একটি স্তর—উসূলবিদদের মতের ওপর ভিত্তি করে ইমামুল হারামাইনসহ পরবর্তী ফকীহগণের একটি দল এটি বৃদ্ধি করেছেন। পক্ষান্তরে পূর্ববর্তীগণ উভয় প্রকারের ক্ষেত্রেই 'মাকরুহ' শব্দটি প্রয়োগ করতেন। তবে তারা প্রথম প্রকারকে 'তীব্র অপছন্দনীয়' (মাকরুহে শাদীদ) বলতেন, যেমনটি মানদুবের ক্ষেত্রে 'সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ' বলা হয়। আর উসূলবিদগণ যা অনুসরণ করেন তা হলো, যদি দাবি অ-দৃঢ় হয় তবে তা কারাহাত। (অথবা পছন্দ দেওয়া হয়) অর্থাৎ উল্লিখিত কাজ করা এবং তা থেকে বিরত থাকার মধ্যে সম্বোধন করা হলে, (তবে তা বৈধতা)। আমার ব্যবহৃত 'পছন্দ দেওয়া' (খয়্যারা) শব্দটি মূল লেখকের 'তাখয়ীর' শব্দ অপেক্ষা ত্রুটিমুক্ত; কারণ 'তাখয়ীর' দ্বারা মনে হতে পারে যে বৈধতার মধ্যে একটি দাবি রয়েছে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়—যদিও সেই আপত্তির উত্তর রয়েছে। আমি 'বিরত থাকা ব্যতীত' শব্দটি যোগ করেছি যাতে কাজের বিপরীতে 'বিরত থাকা'র বিষয়টি সুরক্ষিত থাকে, যা মূল লেখক 'পরিত্যাগ' শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন। অথচ এটি তার বিপরীত নয়, কারণ বিরত থাকা নিজেই একটি কাজ, আর পরিত্যাগ করাও একটি কাজ যা মূলত বিরত থাকা, যেমনটি সামনে আসবে। (এবং) যা উল্লেখ করা হয়েছে তার মাধ্যমে (তুমি এগুলোর সংজ্ঞা জানতে পেরেছ), অর্থাৎ খিতাবে তাকলিফের উল্লিখিত প্রকারসমূহের সংজ্ঞাসমূহ। উদাহরণস্বরূপ, ইজাব (ওয়াজিব করা)-এর সংজ্ঞা হলো: এমন সম্বোধন যা বিরত থাকা ব্যতীত কোনো কাজের অটল বা দৃঢ় দাবি জানায়। আর খিতাবে ওয়াদই-এর প্রকারসমূহের সংজ্ঞা ইতিপূর্বে আমার প্রদত্ত প্রসিদ্ধ সংজ্ঞা থেকে জানা যাবে, যা হলো: কোনো বিষয়কে কারণ সাব্যস্ত করা সংক্রান্ত সম্বোধন ইত্যাদি। যেমন কারণ হওয়ার (সাবাবিয়্যাহ) সংজ্ঞা হলো: কোনো বিষয়কে অন্য কোনো বিষয়ের বিধানের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার সম্বোধন। আর কারণ (সাবাব) এবং খিতাবে ওয়াদই-এর অন্যান্য প্রকারের সংজ্ঞা সামনে আসবে। অনুরূপভাবে, 'জামে' (ব্যাপক) এবং 'মানে' (বর্জনকারী) সংজ্ঞার মাধ্যমে আপত্তি নিরসন করা হয়েছে যে, যা পরিচিত হয়েছে তা মূলত লক্ষণ (রুসূম), প্রকৃত সংজ্ঞা (হুদূদ) নয়; কারণ এতে যা দিয়ে পার্থক্য করা হয়েছে তা সত্তার বহির্ভূত। (এবং বিশুদ্ধতর মত হলো) আভিধানিকভাবে (ফরজ এবং ওয়াজিব সমার্থক)। অর্থাৎ এ দুটির নামী বা উদ্দেশ্য এক। আর তা হলো—যেমনটি ইজাব-এর সংজ্ঞা থেকে জানা গেছে—বিরত থাকা ব্যতীত এমন কাজ যার দাবি অটল বা দৃঢ়। আমাদের ইমামগণ বিভিন্ন মাসআলায় এ দুটির মধ্যে যে পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন, তা এর পরিপন্থী নয়। যেমন তারা বলেছেন: যে ব্যক্তি বলবে 'আমার ওপর তালাক ওয়াজিব', তার তালাক পতিত হবে; কিন্তু যদি বলে 'আমার ওপর তালাক ফরজ', তবে তা হবে না। কারণ এটি তাদের মূল প্রকৃতির পার্থক্যের কারণে নয়, বরং প্রচলিত প্রথা বা অন্য কোনো পরিভাষার কারণে, যা আমি টীকায় অধিকতর বিশ্লেষণের সাথে বর্ণনা করেছি। হানাফীগণ এ দুটির সমার্থকতা অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন: যদি কাজটি কুরআন মাজীদের মতো কোনো অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত হয়, তবে তা 'ফরজ', যেমন সালাতে কুরআন পাঠ করা যা আল্লাহর বাণী 'কুরআন থেকে যা সহজ তা পাঠ করো' দ্বারা প্রমাণিত। আর যদি কাজটি কোনো সংশয়পূর্ণ দলীল যেমন খবরে ওয়াহিদ দ্বারা প্রমাণিত হয়, তবে তা 'ওয়াজিব', যেমন সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা যা সহীহ হাদীস 'যে ব্যক্তি কিতাবের মূল অংশ পাঠ করে না তার সালাত হয় না' দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং এটি ত্যাগ করলে সে গুনাহগার হবে কিন্তু তার সালাত বাতিল হবে না, যা সাধারণ কিরাত ত্যাগের হুকুমের বিপরীত। (মানদুবের ন্যায়) অর্থাৎ যেমনটি বিশুদ্ধতর মত হলো মানদুব (এবং মুস্তাহাব, তাতাউ ও সুন্নাহ), হাসান, নফল এবং মুরাগগাব ফীহি শব্দগুলো সমার্থক। অর্থাৎ এগুলোর নামী বা উদ্দেশ্য এক। আর তা হলো—যেমনটি নাদব-এর সংজ্ঞা থেকে জানা গেছে—বিরত থাকা ব্যতীত এমন কাজ যার দাবি অটল বা দৃঢ় নয়। কাজী হুসাইন এবং অন্যান্যরা এগুলোর সমার্থকতা অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন: এই কাজটি যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়মিত পালন করে থাকেন, তবে তা 'সুন্নাহ'। যদি তিনি তা মাত্র একবার বা দুবার করে থাকেন, তবে তা 'মুস্তাহাব'। আর যদি তিনি তা না করে থাকেন বরং মানুষ নিজে থেকে নিজের ইচ্ছায় পালনীয় হিসেবে শুরু করে থাকে, তবে তা 'তাতাউ'। তারা বাকি শব্দগুলো নিয়ে আলোচনা করেননি কারণ সেগুলো এই তিন প্রকারের জন্যই প্রযোজ্য। (এবং) এই দুই মাসআলার (বিরোধ) হলো (আভিধানিক), অর্থাৎ এটি শব্দ এবং নামকরণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১২)
إذ حاصله في الثانية أن كلاًّ من الأقسام الثلاثة كما يسمى باسم من الأسماء الثلاثة كما ذكر هل يسمى بغيره منها. فقال القاضي وغيره لا إذ السنة الطريقة والعادة والمستحب المحبوب والتطوّع الزيادة، والأكثر يعم ويصدق على كل من الأقسام أنه طريقة وعادة في الدين ومحبوب للشارع وزائد على الواجب. وفي الأولى أن ما ثبت بقطعي كما يسمى فرضا هل يسمى واجبا، وما ثبت بظني كما يسمى واجبا هل يسمى فرضا؟ فعند الحنفية لا أخذا للفرض من فرض الشيء حزه أي قطعُ بعضه، وللواجب من وجب الشيء وجبة سقط وما ثبت بظني ساقط من قسم المعلوم، وعندنا نعم أخذا من فرض الشي قدّره ووجب الشيء وجوبا ثبت وكلّ من المقدر والثابت أعم من أن يثبت بقطعي أو ظني ومأخذنا أكثر استعمالاً مع أنهم نقضوا أصلهم في أشياء منها جعلهم مسح ربع الرأس والقعدة في آخر الصلاة والوضوء من الفصد فرضا مع أنها لم تثبت بدليل قطعي، وما مر من أن ترك الفاتحة من الصلاة لا يفسدها عندهم أي دوننا لا يضر في أن الخلف لفظي، لأنه كم فقهي لا دخل له في التسمية.

(و) الأصح (أنه) أي المندوب (لا يجب) بالشروع فيه (إتمامه) لأن المندوب يجوز تركه وترك إتمامه المبطل لما فعل منه ترك له. وقالت الحنفية يجب إتمامه لقوله تعالى {ولا تبطلوا أعمالكم} حتى يجب بترك الصلاة والصوم منه إعادتهما وعورض في الصوم بخبر «الصائمُ المتطوِّعُ أميرُ نَفْسِه إن شاءَ صامَ وإنْ شَاءَ أفْطَرَ» رواه الترمذي وغيره، وصحح الحاكم إسناده، ويقاس بالصوم الصلاة فلا تشملهما الآية جمعا بين الأدلة.
কেননা দ্বিতীয় বিষয়ের সারকথা হলো এই যে, উল্লিখিত তিনটি নামের প্রত্যেকটি নাম দ্বারা যেভাবে তিনটি প্রকারের নামকরণ করা হয়েছে, সেভাবে কি একটিকে অন্য নাম দ্বারাও অভিহিত করা যাবে? কাযী এবং অন্যান্যগণ বলেছেন, না। কারণ 'সুন্নাত' অর্থ হলো পথ ও অভ্যাস, 'মুস্তাহাব' অর্থ হলো পছন্দনীয় এবং 'তাতাব্বু' অর্থ হলো অতিরিক্ত। তবে অধিকাংশের মতে এটি ব্যাপক এবং প্রতিটি প্রকারের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য হয় যে, সেটি দ্বীনের একটি পথ ও অভ্যাস, শরীয়ত প্রণেতার নিকট পছন্দনীয় এবং ওয়াজিবের অতিরিক্ত। আর প্রথম বিষয়ের ক্ষেত্রে কথা হলো, যা অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত, তাকে যেভাবে 'ফরজ' বলা হয়, তাকে কি 'ওয়াজিব'ও বলা যাবে? আর যা ধারণাপ্রসূত দলীল দ্বারা প্রমাণিত, তাকে যেভাবে 'ওয়াজিব' বলা হয়, তাকে কি 'ফরজ'ও বলা যাবে? হানাফীগণের মতে, না। তারা 'ফরজ' শব্দটি গ্রহণ করেছেন 'ফারদুন' থেকে যার অর্থ কোনো কিছু কাটা বা কোনো অংশ পৃথক করা। আর 'ওয়াজিব' শব্দটি গ্রহণ করেছেন 'ওয়াজাবা' থেকে যার অর্থ কোনো কিছু পড়ে যাওয়া। আর যা ধারণাপ্রসূত দলীল দ্বারা প্রমাণিত তা নিশ্চিত জ্ঞানের পর্যায় থেকে চ্যুত। আমাদের মতে, হ্যাঁ। কারণ 'ফরজ' গ্রহণ করা হয়েছে কোনো কিছু নির্ধারণ করা অর্থে এবং 'ওয়াজিব' গ্রহণ করা হয়েছে কোনো কিছু সাব্যস্ত হওয়া অর্থে। আর নির্ধারিত ও সাব্যস্ত হওয়া—এই উভয় বিষয়ই অকাট্য বা ধারণাপ্রসূত দলীলের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার চেয়ে অধিক ব্যাপক। আমাদের গৃহীত অর্থটি অধিক ব্যবহৃত। তা সত্ত্বেও তারা কয়েকটি বিষয়ে তাদের মূলনীতির লঙ্ঘন করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে: মাথার এক চতুর্থাংশ মাসেহ করা, নামাজের শেষ বৈঠক এবং রক্তমোক্ষণের কারণে ওযু করাকে তারা ফরজ গণ্য করেছেন, যদিও এগুলো অকাট্য দলীলের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। আর ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে যে, তাদের মতে নামাজে ফাতিহা বর্জন করা নামাজকে বাতিল করে না—যা আমাদের মতের বিপরীত—তা এই বিরোধকে শাব্দিক হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি করে না। কারণ এটি একটি ফিকহী বিধান, যার সাথে নামকরণের কোনো সম্পর্ক নেই।

(এবং) অধিকতর সঠিক মত হলো এই যে, (তা অর্থাৎ) মানদুব বা নফল ইবাদত শুরু করার মাধ্যমে তা (পূর্ণ করা ওয়াজিব হয় না)। কারণ মানদুব বর্জন করা বৈধ, আর তা পূর্ণ করা বর্জন করা—যা ইতোপূর্বে কৃত অংশকে বাতিল করে দেয়—তাও মূলত বর্জন করারই অন্তর্ভুক্ত। হানাফীগণ বলেন, এটি পূর্ণ করা ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বাতিল করো না"-এর কারণে। এমনকি তাদের মতে নফল নামাজ ও রোজা শুরু করে ছেড়ে দিলে তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব হয়। আর রোজার ক্ষেত্রে এর বিরোধিতা করা হয়েছে এই হাদীস দ্বারা: "নফল রোজা পালনকারী নিজের সিদ্ধান্তের মালিক; চাইলে সে রোজা রাখতে পারে আর চাইলে রোজা ভাঙতে পারে।" তিরমিযী ও অন্যান্যগণ এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম এর সনদকে সহীহ বলেছেন। আর রোজার ওপর নামাজকে কিয়াস বা তুলনা করা হবে। ফলে দলীলসমূহের মাঝে সমন্বয় সাধনের খাতিরে এই দুটি বিষয় আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৩)
(ووجب) إتمامه (في النسك) من حج أو عمرة (لأنه كفرضه نية) فإنها في كل منهما قصد الدخول في النسك أي التلبس به (وغيرها) ككفارة فإنها تجب في كل منهما بالوطء المفسد له وكانتفاء الخروج بالفساد، فإن كلاًّ منهما لا يحصل الخروج منه بفساده، بل يجب المضيّ في فاسده وغير النسك ليس نفله كفرضه فيما ذكر، فالنية في نفل الصلاة والصوم غيرهما في فرضهما، والكفارة في فرض الصوم دون نفله ودون الصلاة مطلقا وبفسادهما يحصل الخروج منهما مطلقا، ففارق النسك المندوب غيره من باقي المندوب في وجوب إتمامه، وتعبيري بالنسك أعم من تعبيره بالحج، ثم أخذت في بيان متعلق خطاب الوضع من سبب وغيره فقلت (والسبب) الشرعي هنا (وصف) وجودي أو عدمي (ظاهر منضبط معرف للحكم) الشرعي لا مؤثر فيه بذاته، أو بإذن الله أو باعث عليه كما قال بكل قائل كما سيأتي بيانها في معنى العلة، وهذا التعريف مبين لمفهوم السبب، وبه عرف المصنف في شرح المختصر كالآمدي وعرفه في الأصل بما يبين خاصته، ولذلك عدلت عنه إلى الأوّل والمعبر عنه هنا بالسبب هو المعبر عنه في القياس بالعلة، كالزنا لوجوب الجلد، والزوال لوجوب الظهر، والإسكار لحرمة الخمر، ومن قال لا يسمى الوقت السببي كالزوال علة نظر إلى اشتراط المناسبة في العلة. وسيأتي أنها لا يشترط فيها بناء على أنها المعرّف وهو الحق وخرج بمعرف الحكم المانع وسيأتي.

(والشرط ما يلزم من عدمه العدم) للمشروط (ولا يلزم من وجوده وجود ولا عدم) له خرج القيد الأوّل المانعَ إذ لا يلزم من عدمه شيء، وبالثاني السبب، إذ يلزم من وجوده الوجود وزاد الأصل ككثير في تعريفه لذاته ليدخل الشرط المقارن للسبب، فيلزم الوجود كوجود الحول الذي هو شرط لوجوب الزكاة مع النصاب الذي هو سبب للوجوب، والمقارن للمانع كالدين على القول بأنه مانع من وجوب الزكاة فيلزم العدم فلزوم الوجود والعدم في ذلك لوجود السبب والمانع لا لذات الشرط وحذفه لعدم الاحتياج إليه فيما ذكر، إذ المقتضي للزوم الوجود والعدم إنما هو السبب والمانع لا الشرط، ثم هو عقلي كالحياة للعلم، وشرعي كالطهارة للصلاة، وعادي كنصب السلم لصعود السطح، ولغوي كما في أكرم فلانا إن جاء أي الجائي، وسيأتي في مبحث التخصيص، وتعريفي هنا للشرط بما ذكر وإن شمل اللغوي أنسب من تأخير الأصل له إلى مبحث المخصص (والمانع) المراد عند الاطلاق كما هنا وهو مانع الحكم. (وصف وجودي) لا عدمي (ظاهر) لا خفي (منضبط) لا مضطرب (معرف نقيض الحكم) أي حكم السب (كالقتل في) باب (الإرث) فإنه مانع من وجود الإرث المسبب عن القرابة أو غيرها لحكمة، وهي عدم استعجال الوارث موت مورثه بقتله أما مانع السبب والعلة ولا يذكر إلا مقيدا

(এবং হজ বা উমরা স্বরূপ ইবাদতে) এটি পূর্ণ করা (ওয়াজিব), (কেননা এর নফল ইবাদতটি নিয়তের ক্ষেত্রে এর ফরজের মতোই)। কারণ হজ ও উমরা উভয়ের ক্ষেত্রেই নিয়ত হলো ইবাদতে প্রবেশের সংকল্প করা অর্থাৎ তাতে লিপ্ত হওয়া। (এবং অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও) এটি ফরজের ন্যায়, যেমন কাফফারা; কারণ হজ ও উমরা উভয়ের ক্ষেত্রেই সহবাসের মাধ্যমে তা নষ্ট করলে কাফফারা ওয়াজিব হয়। তদ্রূপ নষ্ট হওয়ার কারণে ইবাদত থেকে বের হতে না পারার ক্ষেত্রেও তা ফরজের ন্যায়। কেননা হজ ও উমরা নষ্ট হয়ে গেলেও তা থেকে বের হওয়া যায় না, বরং নষ্ট অবস্থাতেই তা সম্পন্ন করা ওয়াজিব। অথচ ইবাদত (নাসাক) ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ের নফল উল্লিখিত বিষয়গুলোতে ফরজের মতো নয়। সুতরাং নফল সালাত ও সওমের নিয়ত এদের ফরজের নিয়ত থেকে ভিন্ন। আর কাফফারা সওমের ফরজের ক্ষেত্রে আছে, নফলের ক্ষেত্রে নেই এবং সালাতের ক্ষেত্রে তো একেবারেই নেই। আর সালাত ও সওম নষ্ট হয়ে গেলে তা থেকে সরাসরি বের হওয়া যায়। সুতরাং নফল ইবাদত (নাসাক) পূর্ণ করার ওয়াজিব হওয়ার দিক থেকে অন্যান্য নফল কাজ থেকে ভিন্ন। আর আমার ‘নাসাক’ শব্দ ব্যবহার করা মূল লেখকের ‘হজ’ শব্দ ব্যবহার অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। এরপর আমি ‘খিতাবে ওয়াদই’ এর সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ যেমন ‘সবব’ ও অন্যান্য বিষয় বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়েছি এবং বলেছি— (এবং সবব) এখানে শরয়ি পরিভাষায় সবব হলো এমন একটি (অস্তিত্বশীল বা অস্তিত্বহীন গুণ), (যা স্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল এবং যা শরয়ি বিধানের পরিচয় প্রদানকারী)। সবব মূলত বিধানের ওপর নিজস্ব সত্তায় কোনো প্রভাব বিস্তার করে না, আল্লাহর অনুমতিতেও নয় এবং বিধানের প্রবর্তক হিসেবেও নয়—যেমনটি প্রত্যেক মতাবলম্বী নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী বলেছেন, যা সামনে ‘ইল্লত’ এর তাৎপর্য বর্ণনায় আসবে। এই সংজ্ঞাটি সববের ধারণাকে সুস্পষ্ট করে। মূল লেখক তাঁর ‘শরহুল মুখতাসার’ এ আমেদি প্রমুখের ন্যায় এভাবেই সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তবে তিনি ‘আসল’ (মূল কিতাব) এ সববের বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে সংজ্ঞা দিয়েছেন, বিধায় আমি সেটি পরিবর্তন করে প্রথমটি গ্রহণ করেছি। এখানে যাকে ‘সবব’ বলা হচ্ছে, কিয়াসের পরিভাষায় তাকেই ‘ইল্লত’ বলা হয়। যেমন—কোড়া মারা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ব্যভিচার, যোহরের সালাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য সূর্য ঢলে পড়া এবং শরাব হারাম হওয়ার জন্য মাদকতা। যারা সময়ের মতো সববগুলোকে (যেমন সূর্য ঢলে পড়া) ইল্লত বলতে চান না, তারা ইল্লতের ক্ষেত্রে ‘মুনাসাবাত’ (উপযোগিতা) শর্ত হওয়ার প্রতি লক্ষ্য করেছেন। সামনে আসবে যে, ইল্লত কেবল ‘পরিচয় প্রদানকারী’ হওয়ার ভিত্তিতে তাতে এই উপযোগিতার শর্তারোপ করা হয় না, আর এটিই সঠিক মত। ‘বিধানের পরিচয় প্রদানকারী’ বলার মাধ্যমে ‘মানি’ (প্রতিবন্ধক) সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে, যার আলোচনা সামনে আসবে।

(আর শর্ত হলো এমন বিষয় যার অনুপস্থিতি) মাশরুত বা শর্তযুক্ত বিষয়ের (অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে), (কিন্তু যার উপস্থিতি উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি কোনোটিকেই আবশ্যক করে না)। প্রথম অংশ দ্বারা ‘মানি’ (প্রতিবন্ধক) বাদ পড়ে গেল, কারণ মানি-এর অনুপস্থিতি কোনো কিছুকে আবশ্যক করে না। আর দ্বিতীয় অংশ দ্বারা ‘সবব’ বাদ পড়ে গেল, কারণ সববের উপস্থিতি বিধানের উপস্থিতিকে আবশ্যক করে। মূল কিতাবে অনেকের মতো সংজ্ঞায় ‘নিজ সত্তার কারণে’ কথাটি যুক্ত করা হয়েছে যাতে সববের সাথে যুক্ত শর্তটি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তখন উপস্থিতি উপস্থিতিকে আবশ্যক করে, যেমন—‘হওল’ বা এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া, যা নিসাবের সাথে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্ত, অথচ নিসাব হলো ওয়াজিব হওয়ার সবব। তদ্রূপ মানি বা প্রতিবন্ধকের সাথে যুক্ত বিষয়, যেমন—এক মতানুসারে ঋণ জাকাত ওয়াজিব হওয়ার প্রতিবন্ধক, তখন শর্তের উপস্থিতি অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে। সুতরাং এক্ষেত্রে উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি আবশ্যক হওয়া মূলত সবব ও মানি উপস্থিত থাকার কারণে, শর্তের নিজ সত্তার কারণে নয়। আমি এই অংশটি প্রয়োজন না থাকায় বর্জন করেছি। কেননা উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি আবশ্যক হওয়ার দাবিদার হলো সবব ও মানি, শর্ত নয়। অতঃপর শর্ত হলো আকলি বা বুদ্ধিবৃত্তিক, যেমন—জ্ঞানের জন্য জীবন; শরয়ি, যেমন—সালাতের জন্য পবিত্রতা; আদি বা প্রথাগত, যেমন—ছাদে উঠার জন্য সিঁড়ি স্থাপন; এবং লুগাউয়ি বা ভাষাগত, যেমন—‘অমুককে সম্মান করো যদি সে আসে’ অর্থাৎ কেবল আগন্তুককে। এর আলোচনা সামনে ‘তাখসিস’ পরিচ্ছেদে আসবে। শর্তের ক্ষেত্রে আমার এই সংজ্ঞা ভাষাগত শর্তকে অন্তর্ভুক্ত করলেও তা মূল লেখকের মতো একে ‘মুখাসসিস’ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত বিলম্বিত করার চেয়ে অধিক উপযুক্ত। (আর মানি) বা প্রতিবন্ধক দ্বারা সাধারণভাবে এখানে ‘বিধানের প্রতিবন্ধক’ উদ্দেশ্য। এটি হলো (একটি অস্তিত্বশীল গুণ) যা অস্তিত্বহীন নয়, (যা স্পষ্ট), (সুশৃঙ্খল) (এবং যা বিধানের বিপরীত অবস্থার পরিচয় প্রদানকারী) অর্থাৎ সববের বিধানের বিপরীত অবস্থা। (যেমন মিরাসের ক্ষেত্রে হত্যা); কেননা এটি আত্মীয়তা বা অন্য কোনো কারণে সাব্যস্ত মিরাস প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। এর পেছনে হিকমত বা রহস্য হলো, ওয়ারিশ যেন হত্যা করার মাধ্যমে তার মুওয়াররিসের মৃত্যু ত্বরান্বিত করতে না পারে। আর ‘সবব ও ইল্লতের প্রতিবন্ধক’ কেবল বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া উল্লেখ করা হয় না।

(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৪)
بأحدهما، فسيأتي في مبحث العلة (والصحة) الشاملة لصحة العبادة وصحة غيرها من عقد وغيره (موافقة) الفعل (ذي الوجهين) وقوعا (الشرع في الأصح) . والوجهان موافقة الشرع ومخالفته أي الفعل الذي يقع تارة موافقا للشرع، وتارة مخالفا له عبادة كان كصلاة أو غيرها كبيع صحته موافقته الشرع، بخلاف ما لا يقع إلا موافقا له كمعرفة الله تعالى، إذ لو وقعت مخالفة له أيضا لكان الواقع جهلاً لا معرفة فلا يسمى الموافق له صحيحا فصحة العبادة أخذا مما ذكر موافقة العبادة ذات الوجهين وقوعا الشرع، وإن لم يسقط قضاؤها، وهذا منسوب للمتكلمين، وقيل صحتها سقوط قضائها وهذا منسوب للفقهاء فما وافق منها الشرع ولم يسقط القضاء كصلاة من ظن أنه متطهر ثم تبين له حدثه يسمى صحيحا على الأوّل نظرا إلى ظن المكلف دون الثاني نظرا إلى ما في نفس الأمر.

قال ابن دقيق العيد
এগুলোর একটির মাধ্যমে; আর এটি অচিরেই ইল্লত (কারণ) এবং সিহহাত (বৈধতা) এর আলোচনায় আসবে যা ইবাদত এবং ইবাদত ব্যতীত অন্যান্য বিষয় যেমন চুক্তি ইত্যাদির সিহহাতকে শামিল করে; তা হলো (বিশুদ্ধতর মতানুসারে) বাস্তবে (দ্বিমুখী বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন) কর্মের (শরীয়তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ) হওয়া। আর দুই দিক বা বৈশিষ্ট্য হলো শরীয়তের অনুগামী হওয়া এবং শরীয়তের পরিপন্থী হওয়া; অর্থাৎ এমন কর্ম যা কখনো শরীয়ত মোতাবেক সংঘটিত হয় এবং কখনো তার বিপরীত হয়, চাই তা সালাতের মতো ইবাদত হোক অথবা কেনাবেচার মতো অন্য কিছু হোক—এর সিহহাত (বৈধতা) হলো শরীয়তের সাথে এর সামঞ্জস্যতা। এর ব্যতিক্রম হলো সেই বিষয় যা কেবল শরীয়তের অনুগামী হিসেবেই সংঘটিত হয়, যেমন মহান আল্লাহ তাআলার পরিচয় (মা'রিফাত)। কেননা যদি তা শরীয়তের পরিপন্থীভাবে ঘটে, তবে যা অর্জিত হলো তা অজ্ঞতা (জাহালত), মা'রিফাত নয়। ফলে এর অনুগামী হওয়াকে (পারিভাষিক অর্থে) 'সহিহ' বা বৈধ বলা হয় না। সুতরাং উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে ইবাদতের সিহহাত (বৈধতা) হলো: বাস্তবে দ্বিমুখী বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ইবাদতটি শরীয়ত অনুযায়ী হওয়া, যদিও তা দ্বারা কাজা করার বাধ্যবাধকতা রহিত না হয়। এই মতটি মুতাকাল্লিমদের (ইলমে কালাম শাস্ত্রবিদদের) প্রতি নিসবত করা হয়। আর বলা হয়েছে যে, এর সিহহাত হলো কাজা করার বাধ্যবাধকতা রহিত হওয়া; আর এই মতটি ফুকাহাদের (ফকিহগণের) প্রতি নিসবত করা হয়। অতএব, ইবাদতের মধ্যে যা শরীয়ত অনুযায়ী হয়েছে কিন্তু কাজা করার বাধ্যবাধকতা রহিত হয়নি—যেমন এমন ব্যক্তির সালাত যে নিজেকে পবিত্র মনে করেছিল কিন্তু পরে তার অপবিত্রতা (হাদাস) প্রকাশ পেল—তা প্রথম মতানুসারে মুকাল্লাফের ধারণার প্রেক্ষিতে 'সহিহ' বা বৈধ হিসেবে গণ্য হবে; তবে দ্বিতীয় মতানুসারে বিষয়টির প্রকৃত স্বরূপের (নফসুল আমর) বিচারে তা সহিহ নয়।

ইবন দাকীক আল-ঈদ বলেন
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৫)
وفي هذا البناء نظر لأنه إن أريد بموافقة الأمر الأمر الأصلي فلم يسقط، أو الأمر بالعمل بالظن، فقد بان فساد الظن، فيلزم أن لا يكون صحيحا بالتقديرين، واستظهره البرماوي ويجاب بأن تبين فساد الظن وإن اقتضى عدم تسمية ذلك صحيحا بالنظر إلى نفس الأمر لا يمنع تسميته صحيحا بالنظر إلى الظنّ، وللسبكي وغيره هنا كلام ذكرته في الحاشية. (وبصحة العبادة) خبر لقولي (إجزاؤها أي
আর এই যুক্তি বিন্যাসের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ যদি আদেশের অনুকূলে হওয়া দ্বারা মূল আদেশটিই উদ্দেশ্য হয়, তবে তো তা রহিত হয়নি। আর যদি প্রবল ধারণার ভিত্তিতে আমল করার নির্দেশ উদ্দেশ্য হয়, তবে সেই ধারণার অসারতা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উভয় বিবেচনাতেই তা সঠিক (সহিহ) না হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। আল-বারমাভি এই মতটিকেই স্পষ্ট করেছেন। এর উত্তরে বলা হয় যে, ধারণার অসারতা প্রকাশ পাওয়া যদিও মূল বিষয়ের নিরিখে তাকে সঠিক (সহিহ) না বলার দাবি রাখে, তবে ধারণার নিরিখে তাকে সঠিক (সহিহ) অভিহিত করতে কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে ইমাম সুবকি ও অন্যদের কিছু বক্তব্য রয়েছে যা আমি পাদটীকায় উল্লেখ করেছি। (আর ইবাদত সঠিক হওয়া) এটি আমার উক্তি (এর ইজজা তথা যথেষ্ট হওয়া) এর খবর (বিধেয়); অর্থাৎ—
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৬)
كفايتها في سقوط التعبد) أي الطلب وإن لم يسقط القضاء (في الأصح) وقيل إجزاؤها سقوط قضائها كصحتها على القول المرجوح، فالصحة منشأ الاجزاء على القول الراجح فيهما ومرادفة له على المرجوح فيهما. (و) بصحة (غيرها) التي هي أخذا مما مر موافقته الشرع (ترتب أثره) أي أثر غيرها وهو ما شرع الغير له كحل الانتفاع في البيع والتمتع في النكاح، فالصحة منشأ الترتب لا نفس الترتب، كما زعمه الآمدي وغيره بمعنى أنه حيثما وجدت فهو ناشىء عنها لا بمعنى أنها حيثما وجدت نشأ عنها حتى يرد البيع قبل انقضاء الخيار، فإنه صحيح ولم يترتب عليه أثره وتعبيري بغيرها أعم من تعبيره بالعقد. (ويختصّ الإجزاء بالمطلوب) من واجب ومندوب لا يتجاوزهما إلى غيرهما من عقد وغيره (في الأصحّ) وقيل يختص بالواجب لا يتجاوزه إلى غيره من المندوب وغيره، ومنشأ الخلاف خبر ابن ماجة وغيره أربع لا تجزىء في الأضحى فاستعمل الأجزاء في الأضحية وهي مندوبة عندنا واجبة عند غيرنا كأبي حنيفة. (ويقابلها) أي الصحة (البطلان) فهو مخالفة الفعل ذي الوجهين الشرع. وقيل في العبادة عدم إسقاطها القضاء (وهو) أي البطلان (الفساد في الأصح) فكل منهما مخالفة ما ذكر الشرع وإن اختلفا في بعض

أبواب الفقه كالخلع والكتابة لاصطلاح آخر، وقالت الحنفية مخالفته الشرع بأن كان منهيا عنه إن كانت لكون النهي عنه لأصله فهي البطلان كما في الصلاة الفاقدة شرط أو ركنا، وكما في بيع الملاقيح لفقد ركن من البيع أو لوصفه فهي الفساد كما في صوم يوم النحر للاعراض بصومه عن ضيافة الله للناس بلحوم الأضاحي التي شرعها فيه، وكما في بيع الدرهم بدرهمين لاشتماله على الزيادة فيأثم به ويفيد بالقبض ملكا خبيثا أي ضعيفا ولو نذر صوم يوم النحر صح نذره، لأن الإثم في فعله دون نذره ويؤمر بفطره وقضائه ليتخلص عن الإثم ويفي بالنذر، ولو صامه وفي بنذره لأنه أدّى الصوم كما التزمه، فقد اعتدّ بالفاسد، أما الباطل فلا يعتد به وضعف ذلك بأن التفرقة إن كانت شرعية فأين دليلها بل يبطلها قوله تعالى {لو كان فيهما آلهة إلا الله لفسدتا} حيث سمى الله تعالى ما لم يثبت أصلاً فاسدا وإن كانت عقلية، فالعقل لا يحتج به في مثل ذلك (والخلف لفظي) من زيادتي أي عائد إلى اللفظ والتسمية، إذ حاصله أن مخالفة ما ذكر الشرع

(এটির [ইবাদতের] পর্যাপ্ত হওয়া আনুগত্যের দাবি রহিত করার ক্ষেত্রে) অর্থাৎ طلب (চাহিদা বা নির্দেশ) রহিত হয়ে যাবে, যদিও القضاء (পুনঃপালন) রহিত না হয় (সবচেয়ে বিশুদ্ধ মতানুসারে)। আর বলা হয়েছে যে, এর পর্যাপ্ত হওয়া (ইজযা) হলো পুনঃপালন রহিত হওয়া, যেমনটি অপ্রসিদ্ধ মতানুসারে এর শুদ্ধতার (সিহহাত) ক্ষেত্রেও বলা হয়। সুতরাং এই দুই বিষয়ের বিশুদ্ধতম মতানুসারে 'সিহহাত' বা শুদ্ধতা হলো 'ইজযা' বা পর্যাপ্ত হওয়ার মূল উৎস, আর উভয়টির অপ্রসিদ্ধ মতানুসারে তা একে অপরের সমার্থক। (এবং) ইবাদত ব্যতীত অন্য জিনিসের শুদ্ধতা (সিহহাত) বলতে বোঝায়—যা পূর্বের আলোচনা থেকে গৃহীত—শরীয়তের অনুকূলে হওয়া (এর ফলে এর প্রভাব বা ফলাফল বাস্তবায়িত হওয়া)। অর্থাৎ ইবাদত ব্যতীত অন্য জিনিসের ফলাফল, যা শরীয়ত যে উদ্দেশ্যে বিধিবদ্ধ করেছে তা অর্জিত হওয়া; যেমন কেনাবেচায় উপকারের বৈধতা এবং বিবাহে উপভোগের বৈধতা। সুতরাং শুদ্ধতা হলো এই ফলাফল অর্জিত হওয়ার উৎস, ফলাফল নিজেই শুদ্ধতা নয়—যেমনটি আল-আমিদী এবং অন্যরা ধারণা করেছেন। এর অর্থ হলো, যেখানেই শুদ্ধতা পাওয়া যাবে, ফলাফল সেখান থেকেই উৎসারিত হবে। এর অর্থ এটি নয় যে, যেখানেই শুদ্ধতা পাওয়া যাবে সেখানেই সাথে সাথে ফলাফল দেখা দিতে হবে; ফলে 'খিয়ার' বা পছন্দের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে কেনাবেচার বিষয়টি এর পরিপন্থী হবে না। কারণ সেটি শুদ্ধ (সহীহ) হলেও তখনো তার পূর্ণ ফলাফল বাস্তবায়িত হয় না। আর আমার ব্যবহৃত 'অন্যান্য বিষয়' শব্দটি মূল লেখকের 'চুক্তি' শব্দের চেয়ে বেশি ব্যাপক। (এবং 'ইজযা' বা পর্যাপ্ত হওয়া বিষয়টি কেবল আদিষ্ট বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট), তা ওয়াজিব হোক বা মানদুব (মুস্তাহাব)। এই দুটি বিষয় ছাড়া চুক্তি বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয় (সবচেয়ে বিশুদ্ধ মতানুসারে)। আর বলা হয়েছে যে, এটি কেবল ওয়াজিবের সাথে নির্দিষ্ট, যা মানদুব বা অন্য কিছুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই মতভেদের উৎস হলো ইবনে মাজাহ ও অন্যান্যদের বর্ণিত হাদীস: "চারটি পশু কুরবানিতে পর্যাপ্ত (ইজযা) হবে না।" এখানে কুরবানির ক্ষেত্রে 'ইজযা' শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, অথচ কুরবানি আমাদের (শাফেঈদের) নিকট মানদুব, কিন্তু অন্যদের নিকট—যেমন ইমাম আবু হানিফার নিকট—তা ওয়াজিব। (আর এর—অর্থাৎ সিহহাতের—বিপরীত হলো বাতিল)। তা হলো দ্বি-মুখী কাজের শরীয়তের পরিপন্থী হওয়া। আর ইবাদতের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, পুনঃপালন রহিত না হওয়া। (এবং তা)—অর্থাৎ বাতিল হওয়া—(সবচেয়ে বিশুদ্ধ মতানুসারে 'ফাসাদ' বা ত্রুটিযুক্ত হওয়ার সমার্থক)। সুতরাং এই দুটির প্রতিটিই শরীয়তের উল্লিখিত বিষয়ের পরিপন্থী হওয়া, যদিও ফিকহের কিছু অধ্যায়ে—যেমন খুলা তালাক এবং কিতাবাত চুক্তিতে—ভিন্ন পরিভাষার কারণে তাদের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে।

আর হানাফিগণ বলেন, শরীয়তের পরিপন্থী হওয়া অর্থাৎ নিষিদ্ধ হওয়া যদি তার মূলের (আসল) কারণে হয়, তবে তা হলো 'বুতলান' বা বাতিল; যেমন শর্ত বা রোকন বিহীন সালাত এবং ভ্রূণ বিক্রয়, কারণ এখানে বিক্রয়ের রোকন অনুপস্থিত। আর যদি তা গুণের (ওয়াসফ) কারণে হয়, তবে তা হলো 'ফাসাদ'; যেমন কুরবানির দিনে রোজা রাখা, কারণ এই দিনে রোজা রাখা মানে কুরবানির গোশতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য যে মেহমানদারির বিধান দিয়েছেন তা থেকে বিমুখ হওয়া। একইভাবে এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম বিক্রয় করা; কারণ এটি অতিরিক্ত সাব্যস্ত হওয়ার অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে ব্যক্তি গুনাহগার হবে এবং হস্তান্তরের মাধ্যমে তা 'খবীস' বা দুর্বল মালিকানা সাব্যস্ত করবে। যদি কেউ কুরবানির দিনে রোজা রাখার মান্নত করে, তবে তার মান্নত সঠিক হবে। কারণ গুনাহ রোজা রাখার কাজে, মান্নতে নয়। তাকে রোজা ভাঙার এবং তা পুনঃপালন করার নির্দেশ দেওয়া হবে যাতে সে গুনাহ থেকে মুক্তি পায় এবং মান্নত পূর্ণ করে। আর যদি সে রোজাটি রেখেই দেয়, তবে তার মান্নত পূর্ণ হবে; কারণ সে যেভাবে অঙ্গীকার করেছিল সেভাবেই রোজা আদায় করেছে। এখানে 'ফাসিদ' বা ত্রুটিযুক্ত বিষয়টিকে গণ্য করা হয়েছে। পক্ষান্তরে 'বাতিল' বিষয়কে গণ্য করা হয় না। এই মতকে দুর্বল বলা হয়েছে এই যুক্তিতে যে, এই পার্থক্য যদি শরয়ী হয় তবে এর দলিল কোথায়? বরং আল্লাহ তাআলার বাণী একে বাতিল করে দেয়: "যদি আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত আরও ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস (ফাসাদ) হয়ে যেত।" এখানে আল্লাহ তাআলা যা আদতেই সাব্যস্ত নয় তাকে 'ফাসিদ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর যদি এই পার্থক্য যৌক্তিক হয়, তবে এই ধরণের বিষয়ে যুক্তি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণীয় নয়। (এবং এই বিরোধটি শাব্দিক)—এটি আমার সংযোজন—অর্থাৎ এটি কেবল শব্দ এবং নামকরণের ক্ষেত্রে। কারণ এর সারকথা হলো, শরীয়তের উল্লিখিত বিষয়ের পরিপন্থী হওয়া...

(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৭)
بالنهي عنه لأصله كما تسمى بطلانا هل تسمى فسادا أو لوصفه. كما يسمى فسادا هل تسمى بطلانا، فعندهم لا وعندنا نعم. (والأصح أن الأداء فعل العبادة) صوما أو صلاة أو غيرهما (أو) فعل (ركعة) من الصلاة (في وقتها) مع فعل البقية بعده واجبة كانت أو مندوبة، وتعبيري بالركعة هنا وبدونها في القضاء أولى ن تعبيره بالبعض لما لا يخفى، ولخبر الصحيحين «من أدرك ركعة من الصلاة فقد أدرك الصلاة» أي مؤداة، وقيل الأداء فعل العبادة في وقتها ففعل بعضها فيه ولو ركعة وبعضها بعده لا يكون أداء حقيقة كما لا يكون قضاء، كذلك، بل يسمى بأحدهما مجازا بتبعية ما في الوقت لما بعده أو بالعكس، وهذا ما عليه الأصوليون، واعتبار الركعة في الأداء ودونها في القضاء كما سيأتي ذكره الفقهاء، وإنما ذكرته هنا تبعا للأصل، والخبر المذكور قد لا يدل على ما ذكروه لاحتمال أنه فيمن زال عذره كجنون وقد بقي من الوقت ما يسع ركعة فيجب عليه الصلاة. (وهو) أي وقت العبادات المؤدّاة (زمن مقدر لها شرعا) موسعا كان كزمن الصلوات المكتوبة وسننها أو مضيقا كزمن صوم رمضان أو الأيام البيض، فما لم يقدر له زمن شرعا كنذر ونفل مطلقين وغيرهما وإن كان فوريا كالإيمان لا يسمى فعله أداء ولا قضاء اصطلاحا، وإن كان الزمن ضروريا لفعله، ومن ذلك ما وقته العمر كالحج وتسمية بعضهم لوقته موسعا مجاز، إذ الموسع ما يعلم المكلف آخره وآخر العمر لا يعلمه فلا يسمى فعله أداء ولا قضاء اصطلاحا، بل يسماهما مجازا أو لغة كأداء الدين وقضائه نبه على ذلك العلامة البرماوي.

(و) الأصح (أن القضاء فعلها) أي العبادة (أو) فعلها (إلا دون ركعة بعد وقتها) والفرق بين ذي الركعة وما دونها أنها تشتمل على معظم أفعال الصلاة، إذ معظم الباقي كالتكرير لها فجعل ما بعد الوقت تابعا لها، بخلاف ما دونها، وقيل القضاء فعل العبادة أو بعضها ولو دون ركعة بعد وقتها، وبعض الفقهاء حقق فسمى ما في الوقت أداء وما بعده قضاء. (تداركا) بذلك الفعل (لما سبق لفعله مقتض) وجوبا أو ندبا سواء كان المقتضي من المتدارك كما في قضاء الصلاة المتروكة بلا عذر أم من غيره، كما في قضاء النائم الصلاة والحائض الصوم، فإنه سبق لفعلهما مقتض من غير النائم والحائض لا منهما، وإن انعقد سبب الوجوب أو الندب في حقهما وخرج بالتدارك إعادة الصلاة المؤداة في الوقت بعده. (و) الأصح (أن الإعادة فعلها) أي العبادة (وقتها ثانيا مطلقا) سواء
যে বিষয়কে তার মূলের কারণে নিষেধ করা হয়েছে, তাকে যেমন বাতিল বলা হয়, তাকে কি ফাসাদ বলা হবে? অথবা যা তার গুণগত বৈশিষ্ট্যের কারণে নিষিদ্ধ এবং ফাসাদ বলা হয়, তাকে কি বাতিল বলা হবে? তাদের (হানাফী) নিকট না, কিন্তু আমাদের (শাফেয়ী) নিকট হ্যাঁ। (আর অধিকতর সঠিক মত হলো, আদা হলো ইবাদত সম্পাদন করা) চাই তা রোজা হোক বা নামাজ বা অন্য কিছু (অথবা) নামাজের (এক রাকাত) (তার সময়ের মধ্যে) আদায় করা, সাথে অবশিষ্ট অংশ সময়ের পরে আদায় করা, তা ওয়াজিব হোক বা নফল। এখানে আমার 'রাকাত' শব্দ ব্যবহার করা এবং কাযা-এর বর্ণনায় তা ব্যবহার না করা, মূল লেখকের 'কিছু অংশ' শব্দ ব্যবহার করার চেয়ে উত্তম; যা সুস্পষ্ট। আর বুখারি ও মুসলিমের হাদিসের কারণে: "যে ব্যক্তি নামাজের এক রাকাত পেল, সে যেন নামাজ পেল", অর্থাৎ তা আদা হিসেবে গণ্য হবে। এবং বলা হয়েছে যে, আদা হলো পুরো ইবাদতটি তার সময়ের মধ্যে সম্পাদন করা। সুতরাং ইবাদতের কিছু অংশ সময়ের মধ্যে আদায় করা—যদিও তা এক রাকাত হয়—এবং কিছু অংশ সময়ের পরে আদায় করা হলে তা প্রকৃত অর্থে আদা হবে না, যেমন তা প্রকৃত অর্থে কাযাও হবে না। বরং রূপকার্থে এর যেকোনো একটি নামে অভিহিত করা হবে—হয় সময়ের মধ্যবর্তী অংশকে পরবর্তী অংশের অনুগামী ধরে, অথবা এর বিপরীত করে। উসুলবিদগণ এই মতের ওপরই আছেন। আর আদা-এর ক্ষেত্রে এক রাকাতের ধর্তব্য হওয়া এবং কাযা-এর ক্ষেত্রে তার চেয়ে কম হওয়া—যেমনটি সামনে আসবে—ফকিহগণ উল্লেখ করেছেন। আমি এখানে মূল গ্রন্থের অনুসরণে এটি উল্লেখ করেছি। আর উল্লিখিত হাদিসটি সম্ভবত তারা যা উল্লেখ করেছেন তার ওপর দলিল নয়, কারণ সম্ভাবনা আছে যে এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার ওজর দূর হয়েছে—যেমন পাগল—এবং সময়ের এমন অংশ বাকি আছে যা এক রাকাতের জন্য যথেষ্ট, ফলে তার ওপর নামাজ ওয়াজিব হয়। (আর এটি) অর্থাৎ আদায়যোগ্য ইবাদতের সময় হলো (শরিয়ত কর্তৃক এর জন্য নির্ধারিত সময়) চাই তা প্রশস্ত হোক যেমন ফরজ নামাজ ও এর সুন্নতের সময়, অথবা সংকীর্ণ হোক যেমন রমজানের রোজা বা আইয়ামে বিযের সময়। সুতরাং শরিয়ত কর্তৃক যার কোনো সময় নির্ধারিত হয়নি—যেমন সাধারণ মানত বা নফল এবং অন্যান্য—যদিও তা ঈমানের মতো তাৎক্ষণিক পালনীয় হয়, পারিভাষিক অর্থে তার সম্পাদনকে আদা বা কাযা বলা হয় না, যদিও কর্মটি সম্পাদনের জন্য সময়ের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। এর অন্তর্ভুক্ত হলো যার সময় হলো পুরো জীবন, যেমন হজ। কেউ কেউ এর সময়কে প্রশস্ত বলে অভিহিত করাকে রূপকার্থে করেছেন; কারণ প্রশস্ত সময় তা-ই যার শেষ সীমা মুকাল্লাফ জানে, কিন্তু জীবনের শেষ সীমা সে জানে না। তাই এর সম্পাদনকে পারিভাষিক অর্থে আদা বা কাযা বলা হয় না। বরং একে রূপকার্থে বা আভিধানিক অর্থে এই নামে ডাকা হয়, যেমন ঋণ পরিশোধ (আদা) বা মেটানো (কাযা)। আল্লামা বারমাওয়ী এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

(এবং) অধিকতর সঠিক মত হলো (কাযা হলো সেটি সম্পাদন করা) অর্থাৎ ইবাদত সম্পাদন করা (অথবা) তা সম্পাদন করা (এক রাকাতের কম অংশ বাদে যা সময়ের পরে সম্পন্ন হয়)। এক রাকাত এবং তার চেয়ে কমের মধ্যে পার্থক্য হলো, এক রাকাত নামাজের অধিকাংশ কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে; কেননা অবশিষ্ট অধিকাংশ কাজ এর পুনরাবৃত্তি মাত্র। তাই সময়ের পরের অংশকে এর অনুগামী ধরা হয়েছে, যা এক রাকাতের কম অংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এবং বলা হয়েছে যে, কাযা হলো সময়ের পরে পুরো ইবাদত বা এর কিছু অংশ—যদিও তা এক রাকাতের কম হয়—সম্পাদন করা। কোনো কোনো ফকিহ সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করে বলেছেন যে, সময়ের ভেতরের অংশকে আদা এবং পরের অংশকে কাযা বলা হবে। (পূরণ করা হিসেবে) সেই কাজের মাধ্যমে (যা পূর্বে পালনের দাবি রাখে এমন কারণ বিদ্যমান ছিল) ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হিসেবে; সেই কারণ সম্পাদনকারীর পক্ষ থেকে হোক—যেমন বিনা ওজরে ছেড়ে দেওয়া নামাজের কাযা—অথবা অন্য কারো পক্ষ থেকে হোক। যেমন ঘুমন্ত ব্যক্তির নামাজের কাযা এবং ঋতুবতী মহিলার রোজার কাযা; কেননা ঘুমন্ত ব্যক্তি ও ঋতুবতী মহিলা ছাড়া অন্যের পক্ষ থেকে এটি আদায়ের দাবি বা কারণ সাব্যস্ত হয়েছিল, যদিও তাদের ক্ষেত্রে ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হওয়ার কারণ বিদ্যমান ছিল। 'পূরণ করা' বা তدارুক শর্তের মাধ্যমে সময়ের পরে আদা করা নামাজের পুনরায় আদায় (ই'আদাহ) সংজ্ঞা থেকে বের হয়ে গেল। (এবং) সঠিক মত হলো (ই'আদাহ হলো ইবাদত সম্পাদন করা) (তার সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বার সাধারণভাবে), চাই তা...
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৮)
أكان لعذر من خلل في فعلها أولاً أو حصول فضيلة لم تكن في فعلها أولاً لكون الإمام أعلم أو أورع أو الجمع أكثر أو المكان أشرف، أم لغير عذر ظاهر بأن استوت الجماعتان أو زادت الأولى بفضيلة، وقيل الإعادة مختصة بخلل في الأوّل وعليه الأكثر، وقيل بالعذر الشامل للخلل ولحصول فضيلة لم تكن في الأوّل، وذكر الأول أن زيادتي وهو ما اختاره الأصل في شرح المختصر، ويمكن حمل أول كلامه هنا عليه كما بينته في الحاشية، وبما ذكر علم تعريف المؤدي والمقضي والمعاد بأن يقال على الأصح المؤدي مثلاً ما فعل مما مر في الأداء في وقته، وقس به الآخرين وأن الإعادة قسم من الأداء فهي أخص منه وعليه الأكثر، وقيل قسيم له وعليه مشى البيضاوي حيث قال العبادة إن وقعت في وقتها المعين ولم تسبق بأداء مختلّ فأداء، وإلا فإعادة لكن كلامه في المرصاد يخالفه، وقد ذكرته في الحاشية مع زيادة.

সেটি কি প্রথমবার আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটির ওজরের কারণে ছিল, নাকি এমন কোনো ফযিলত হাসিলের জন্য যা প্রথমবার আদায়ের ক্ষেত্রে ছিল না—ইমাম অধিক জ্ঞানী বা অধিক পরহেযগার হওয়া, কিংবা জামাত বড় হওয়া, অথবা স্থানটি অধিক মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার কারণে; নাকি কোনো প্রকাশ্য ওজর ছাড়াই—যেমন উভয় জামাত সমান হওয়া অথবা প্রথমটি কোনো ফযিলতে অগ্রগণ্য হওয়া। বলা হয়েছে যে, পুনরায় আদায় (ইআদাহ) কেবল প্রথমবারে কোনো ত্রুটি থাকার সাথেই নির্দিষ্ট, এবং অধিকাংশ আলিম এই মতের ওপর রয়েছেন। আবার বলা হয়েছে যে, এটি (ইআদাহ) এমন ওজরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যা ত্রুটি এবং এমন ফযিলত অর্জন—যা প্রথমটিতে ছিল না—উভয়কেই শামিল করে। প্রথমোক্ত ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন যে, আমার এই সংযোজনটিই মূল লেখক 'শারহুল মুখতাসার'-এর ব্যাখ্যায় গ্রহণ করেছেন। এবং এখানে তার কথার প্রথমাংশকে এর ওপরই প্রয়োগ করা সম্ভব, যেমনটি আমি হাশিয়াতে বর্ণনা করেছি। আর যা আলোচনা করা হয়েছে তা থেকে 'মুআদ্দা' (আদায়কৃত), 'মাকযি' (কাযা) এবং 'মুআদ' (পুনরায় আদায়কৃত)-এর সংজ্ঞা জানা যায়। বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী বলা হয়: উদাহরণস্বরূপ 'মুআদ্দা' হলো যা সময়ের মধ্যে আদায়ে বর্ণিত নিয়মে পালন করা হয়েছে; এর ওপর ভিত্তি করে অন্য দুটির সংজ্ঞা অনুমান করে নিতে হবে। আর 'ইআদাহ' হলো আদায়েরই একটি প্রকার, ফলে এটি আদায়ের চেয়ে আরও বিশিষ্ট (খাস); অধিকাংশ আলিম এই মত পোষণ করেন। আবার বলা হয়েছে যে, এটি (ইআদাহ) আদায়ের সমান্তরাল বা প্রতিপক্ষ একটি বিষয়। ইমাম বায়যাবি এই পথেই চলেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: ইবাদত যদি তার নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয় এবং ইতিপূর্বে কোনো ত্রুটিযুক্ত আদায়ের মাধ্যমে সম্পাদিত না হয়ে থাকে, তবে তা 'আদা'; অন্যথায় তা 'ইআদাহ'। তবে 'মিরসাদ' গ্রন্থে তার বক্তব্য এর বিপরীত। আমি হাশিয়াতে অতিরিক্ত অংশসহ তা উল্লেখ করেছি।

(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৯)
(والحكم) أي الشرعي إذ الكلام فيه (إن تغير) من حيث تعلقه من صعوبة له على المكلف (إلى سهولة) كأن تغير من حرمة شيء إلى حله (لعذر مع قيام السبب للحكم الأصلي) المتخلف عنه للعذر، (فرخصة) أي فالحكم السهل المذكور يسمى رخصة وهي بإسكان الخاء أكثر من ضمها لغة السهولة. (واجبة ومندوبة ومباحة. وخلاف الأولى) هذه الصفات اللازمة بيان لأقسام الرخصة الممثل لها على هذا الترتيب بقولي (كأكل ميتة لمضطر (وقصر) من مسافر بقيد زدته بقولي (بشرطه) بأن كره القصر أو شك في جوازه، وكان سفره يبلغ ثلاث مراحل فأكثر ولم يختلف في جواز قصره كما هو معلوم من محله، (وسلم) وهو بيع موصوف في الذمة بلفظ سلم (وفطر مسافر) في زمن صوم واجب أصالة أو بنذر أو قضاء ما فات بلا تعدّ (لا يضره الصوم) فإن ضره فالفطر أولى، والمعنى أن الرخصة كحل المذكورات من وجوب وندب وإباحة وخلاف الأولى وحكمها الأصلي الحرمة وأسبابها الخبث في الميتة، ودخول وقتي الصلاة والصوم في القصر والنظر لأنه سبب لوجوب الصلاة تامة والصوم والغرر في السلم، وهي قائمة حال الحل وأعذار الحل الاضطرار ومشقة السفر، والحاجة إلى ثمن الغلات قبل إدراكها، وسهولة الوجوب في أكل الميتة لموافقته غرض النفس في بقائها، وقيل إنه عزيمة لصعوبته ومن الرخصة المباحة إباحة ترك الجماعة في الصلاة لمرض أو نحوه، وحكمه الأصلي الكراهة وسببها قائم حال الإباحة، وهو الانفراد فيما يطلب فيه الاجتماع من شعائر الإسلام، وقد بينت في الحاشية كمية أقسام الرخصة الحاصلة بالانتقال من حكم إلى آخر، وقضية ما ذكر أن الرخصة لا تكون محرمة ولا مكروهة، وهو كما قال العراقي ظاهره، خبر «إنَّ اللَّهُ يُحِبُّ أَنْ تُؤْتَى رُخصه» . وما قيل من أنها تكون كذلك حيث قيل إن الاستنجاء بذهب أو فضة يجزىء مع أنه حرام، وأن القصر لدون ثلاث مراحل جائز مع أنه مكروه كما قاله الماوردي. أجيب عن أولهما بأن الاستنجاء بما ذكر جائز على

الصحيح أي في غير ما طبع أو هيىء لذلك، أما فيه فيجاب بأن هذه الحرمة ليست لخصوص الاستنجاء حتى تكون رخصة، بل لعموم الاستعمال. وعن ثانيهما بأن الماوردي أراد أنه مكروه كراهة غير شديدة وهي بمعنى خلاف الأولى، ولك أن تقول الرخصة إنما لم توصف بالحرمة لصعوبتها مطلقا، وهذا منتف في الكراهة كخلاف الأولى لأنهما سهلان بالنسبة إلى الحرمة.

(وإلا) أي وإن لم يتغير الحكم كما ذكر بأن لم يتغير كوجوب المكتوبات أو تغير إلى صعوبة كحرمة الاصطياد بالإحرام بعد إباحته قبله، أو إلى سهولة لا لعذر كحل ترك الوضوء لصلاة ثانية مثلاً لمن لم يحدث

(বিধান) অর্থাৎ শারয়ী বিধান, যেহেতু আলোচনা তা নিয়েই (যদি পরিবর্তিত হয়) মুকাল্লাফের উপর তা পালনের কাঠিন্যের দিক থেকে (সহজসাধ্যতার দিকে) যেমন কোনো কিছুর হারাম হওয়া থেকে হালাল হওয়ার দিকে পরিবর্তিত হওয়া (এমন ওজরের কারণে যা থাকা সত্ত্বেও মূল বিধানের সবব বিদ্যমান থাকে) যা ওজরের কারণে মূল বিধান থেকে বিচ্যুত হয়েছে, (তবে তা রূখসত)। অর্থাৎ, উল্লেখিত সহজ বিধানকে রূখসত বলা হয়। শাব্দিক অর্থে 'খা' বর্ণে সুকুন যোগে 'রূখসত' শব্দটি পেশ যোগের তুলনায় অধিক ব্যবহৃত, যার অর্থ হলো সহজসাধ্যতা। (ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ এবং খিলাফে আওলা) এই আবশ্যিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো রূখসতের প্রকারভেদের বর্ণনা, যা আমার পরবর্তী বক্তব্যের ক্রমানুসারে উদাহরণস্বরূপ পেশ করা হয়েছে (যেমন নিরুপায় ব্যক্তির জন্য মৃত প্রাণী ভক্ষণ করা, (এবং কসর করা) মুসাফিরের জন্য এমন এক শর্তের সাথে যা আমি অতিরিক্ত যোগ করেছি আমার এই কথার মাধ্যমে (তার শর্তসাপেক্ষে) যেমন কসর করা অপছন্দনীয় হওয়া কিংবা এর বৈধতায় সন্দেহ থাকা এবং তার সফর তিন মনজিল বা তার বেশি হওয়া এবং কসর বৈধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত না থাকা, যেমনটি এ সংক্রান্ত অধ্যায়ে সুবিদিত। (এবং সালাম) যা হলো সালাম শব্দের মাধ্যমে জিম্মায় থাকা গুণাবলি সমৃদ্ধ বস্তুর ক্রয়-বিক্রয়, (এবং মুসাফিরের রোজা ভঙ্গ করা) মূলগতভাবে ওয়াজিব রোজার সময়ে অথবা মান্নত কিংবা কোনো সীমালঙ্ঘন ছাড়া ছুটে যাওয়া রোজার কাজার ক্ষেত্রে (যদি রোজা রাখা তার ক্ষতি না করে)। যদি রোজা রাখা তার ক্ষতি করে, তবে রোজা ভঙ্গ করাই উত্তম। এর অর্থ হলো রূখসত হলো ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ এবং খিলাফে আওলা হিসেবে উল্লেখিত বিষয়গুলোর বৈধতা, অথচ এগুলোর মূল বিধান হলো হারাম হওয়া। আর এগুলোর সবব বা কারণসমূহ হলো: মৃত প্রাণীর ক্ষেত্রে অপবিত্রতা; কসর এবং রোজা ভঙ্গের ক্ষেত্রে নামাজের ওয়াক্ত এবং রোজার মাসের প্রবেশ, কারণ তা হলো পূর্ণ নামাজ এবং রোজা ওয়াজিব হওয়ার সবব; আর সালামের ক্ষেত্রে ধোঁকা বা অনিশ্চয়তা। এই সববগুলো হালাল হওয়ার অবস্থাতেও বিদ্যমান থাকে। আর হালাল হওয়ার ওজরগুলো হলো নিরুপায় হওয়া, সফরের কষ্ট এবং শস্য পাকার আগেই তার মূল্যের প্রয়োজন হওয়া। মৃত প্রাণী ভক্ষণের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হওয়া সহজসাধ্য হওয়ার কারণ হলো এটি জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে মানুষের স্বভাবজাত উদ্দেশ্যের অনুকূল। কেউ কেউ বলেছেন এটি আযীমত, কারণ এটি পালন করা কঠিন। মুবাহ রূখসতের অন্তর্ভুক্ত হলো অসুস্থতা বা এই জাতীয় কারণে জামাতে নামাজ ত্যাগ করার বৈধতা। এর মূল বিধান হলো মাকরূহ হওয়া এবং এর সবব মুবাহ হওয়ার অবস্থায়ও বিদ্যমান থাকে, আর তা হলো ইসলামের নিদর্শনসমূহের মধ্যে যে বিষয়গুলোতে জামাতবদ্ধ হওয়া কাম্য সেখানে একাকী থাকা। বিধানের এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় স্থানান্তরের ফলে রূখসতের যে কয়টি প্রকার অর্জিত হয় তা আমি টীকায় বর্ণনা করেছি। উল্লেখিত আলোচনার দাবি হলো রূখসত হারাম বা মাকরূহ হবে না। যেমনটি ইরাকি বলেছেন, এটিই হাদিসের প্রকাশ্য অর্থ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন যে তাঁর রূখসতগুলো গ্রহণ করা হোক।" আর যে বলা হয়ে থাকে রূখসত হারাম বা মাকরূহ হতে পারে—যেহেতু বলা হয়েছে যে সোনা বা রুপা দিয়ে ইস্তিঞ্জা করা জায়েজ কিন্তু তা হারাম, এবং তিন মনজিলের কম দূরত্বে কসর করা জায়েজ যদিও তা মাকরূহ, যেমনটি মাওয়ারদী বলেছেন—এর উত্তর হলো প্রথমটির ক্ষেত্রে যে, বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী উল্লেখিত বস্তু দিয়ে ইস্তিঞ্জা করা জায়েজ অর্থাৎ যদি তা মুদ্রা হিসেবে মুদ্রিত না হয় বা এ কাজের জন্য তৈরি না হয়। আর যদি তা মুদ্রিত হয়, তবে উত্তর হলো এই হারামের কারণ বিশেষ করে ইস্তিঞ্জা নয় যে তা রূখসত হবে, বরং এটি ব্যবহারের সাধারণ হারামের অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়টির উত্তর হলো মাওয়ারদী মাকরূহ বলতে মাকরূহে তানযীহি বুঝিয়েছেন যা খিলাফে আওলার অর্থে ব্যবহৃত। আপনি চাইলে বলতে পারেন যে, রূখসতকে হারাম বলে বিশেষায়িত করা হয় না কারণ রূখসত শর্তহীনভাবে সহজসাধ্য, আর হারামের ক্ষেত্রে কাঠিন্য বিদ্যমান থাকে যা রূখসতে নেই। মাকরূহ এবং খিলাফে আওলার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়, কারণ হারামের তুলনায় এ দুটি সহজসাধ্য।

(অন্যথায়) অর্থাৎ যদি বিধান পূর্বোল্লেখিত নিয়মে পরিবর্তিত না হয়, যেমনটি পরিবর্তিত না হওয়া—উদাহরণস্বরূপ ফরজ নামাজসমূহ—কিংবা কাঠিন্যের দিকে পরিবর্তিত হওয়া—যেমন ইহরাম বাঁধার আগে শিকার করা মুবাহ থাকলেও পরে হারাম হওয়া—কিংবা ওজর ব্যতীত সহজসাধ্যতার দিকে পরিবর্তিত হওয়া—যেমন যার ওজু নষ্ট হয়নি তার জন্য দ্বিতীয় নামাজের জন্য নতুন করে ওজু না করার বৈধতা।

(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২০)
بعد حرمته بمعنى أنه خلاف الأولى، أو لعذر لا مع قيام السبب للحكم الأصلي كإباحة ترك ثبات واحد منا لعشرة من الكفار في القتال بعد حرمته، وسببها قلتنا ولم يبق حال الإباحة لكثرتنا حينئذ، وعذر الإباحة مشقة الثبات المذكور لما كثرنا. (فعزيمة) أي فالحكم غر المتغير أو المتغير إليه الصعب أو السهل المذكور آنفا يسمى عزيمة، وهي لغة القصد المصمم من عزمت على الشيء جزمت به وصممت عليه عزما وعزما وعزيما وعزيمة لأنه عزم أمره أي قطع وحتم وصعب على المكلف أو سهل، وظاهر كلام كثير انقسامها إلى الأحكام الستة، وبه صرح الشمس البرماوي، لكن الإمام الرازي خصها بغير الحرمة، والغزالي والآمدي وغيرهما بالوجوب، والقرافي بالوجوب والندب، واعترض تعريفا الرخصة والعزيمة بوجوب ترك الصلاة والصوم على الحائض، فإنه عزيمة ويصدق به تعريف الرخصة. وأجيب بمنع الصدق فإن الحيض وإن كان عذرا في الترك مانع من الفعل، ومن مانعيته نشأ وجوب الترك وتقسيم الحكم إلى الرخصة والعزيمة كما ذكر أقرب إلى اللغة من تقسيم الإمام الرازي وغيره الفعل الذي هو متعلق الحكم إليهما. (والدليل) لغة المرشد وما به الإرشاد واصطلاحا (ما) أي شيء (يمكن التوصل) أي الوصول بكلفة (بصحيح النظر فيه إلى مطلوب خبري)

بأن يكون النظر فيه من الجهة التي من شأنها أن ينتقل الذهن بها إلى ذلك المطلوب المسماة وجه الدلالة بفتح الدال أفصح من كسرها، والخبري ما يخبر به، ومعنى الوصول إليه بما ذكر علمه أو اعتقاده أو ظنه فالنظر هنا الفكر
এটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর, যার অর্থ হলো এটি 'খিলাফুল আওলা' (উত্তম কাজের পরিপন্থী) হওয়ার কারণে; অথবা কোনো ওজরের (অজুহাত/অক্ষমতা) কারণে যেখানে মূল বিধানের কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তা পরিহার করা হয়। যেমন জিহাদের ক্ষেত্রে আমাদের একজনের জন্য দশজন কাফিরের বিপরীতে অটল থাকা ছেড়ে দেয়া বৈধ হওয়া, যখন ইতিপূর্বে তা নিষিদ্ধ ছিল। এর কারণ ছিল আমাদের সংখ্যার স্বল্পতা, কিন্তু যখন আমরা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেলাম তখন সেই বৈধতার অবস্থা আর থাকল না। আর এই বৈধতার ওজর ছিল উল্লিখিত অটল থাকার কষ্টসাধ্যতা, যখন আমাদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। (অতঃপর আজীমাহ) অর্থাৎ যে বিধান পরিবর্তিত হয়নি, অথবা যা কঠিন কিংবা সহজ কোনো বিধানের দিকে পরিবর্তিত হয়েছে এবং যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে আজীমাহ বলা হয়। আভিধানিকভাবে এর অর্থ হলো দৃঢ় সংকল্প; যেমন বলা হয় 'আমি অমুক বিষয়ে সংকল্প করেছি' অর্থাৎ আমি সে বিষয়ে অটল ও দৃঢ় হয়েছি। এর মূল শব্দ 'আযম', 'আযমান', 'আযীমান' ও 'আযীমাতুন' থেকে এসেছে। কারণ এর অর্থ হলো কাজ সম্পাদন করা, অর্থাৎ অটল হওয়া ও অবধারিত হওয়া; চাই তা দায়বদ্ধ ব্যক্তির জন্য কঠিন হোক কিংবা সহজ। অনেক আলিমের বক্তব্যের প্রকাশ্য দিক হলো, এটি ছয়টি আহকামে (বিধানে) বিভক্ত। শামস আল-বারমাভী স্পষ্টভাবে এটিই উল্লেখ করেছেন। তবে ইমাম রাযী একে হারাম বা নিষিদ্ধ হওয়া ব্যতীত অন্যান্য আহকামের সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। ইমাম গাযালী, আমেদী ও অন্যান্যরা একে ওয়াজিবের সাথে এবং কারাফী ওয়াজিব ও মানদুবের (মুস্তাহাব) সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। রুকসাত এবং আজীমাহর সংজ্ঞার ওপর ঋতুবতী মহিলার সালাত ও সিয়াম পরিত্যাগ করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে; কেননা এটি আজীমাহ, অথচ এতে রুকসাতের সংজ্ঞাও প্রযোজ্য হয়। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, (রুকসাতের সংজ্ঞা এখানে) প্রযোজ্য হওয়া অসিদ্ধ। কারণ ঋতুস্রাব যদিও (ইবাদত) বর্জনের ক্ষেত্রে একটি ওজর, কিন্তু এটি মূলত ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধক। আর এই প্রতিবন্ধকতা থেকেই বর্জনের আবশ্যকতা তৈরি হয়েছে। বিধানকে রুকসাত ও আজীমাহতে বিভক্ত করা—যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে—ইমাম রাযী ও অন্যদের বিভক্তির তুলনায় ভাষার অধিক নিকটবর্তী, যারা বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজকে এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। (আর দলিল) আভিধানিকভাবে এর অর্থ পথপ্রদর্শক এবং যার মাধ্যমে পথ প্রদর্শন করা হয়। আর পারিভাষিক অর্থে (তা হলো এমন বিষয়) অর্থাৎ এমন কিছু (যাতে পৌঁছানো সম্ভব) অর্থাৎ কষ্ট সাধনার মাধ্যমে পৌঁছানো সম্ভব (তাতে সঠিক চিন্তাগবেষণার মাধ্যমে একটি সংবাদমূলক কাম্য বিষয়ের দিকে)।

সেটি এমনভাবে যে, তাতে এমন দিক থেকে চিন্তা করা হবে যার বৈশিষ্ট্য হলো মেধা বা মনকে সেই কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের দিকে ধাবিত করা, যাকে 'ওয়াজহু আদ-দালালাহ' (প্রমাণের দিক) বলা হয়—এখানে 'দালালাহ' শব্দের 'দাল' বর্ণে যবর দেয়া যের দেয়ার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ। আর সংবাদমূলক বিষয় হলো যা সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হয়। উল্লিখিত পন্থায় সেখানে পৌঁছানোর অর্থ হলো তা জানা, বিশ্বাস করা বা প্রবল ধারণা লাভ করা। সুতরাং এখানে 'চিন্তা' বলতে গবেষণামূলক চিন্তাকে বোঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২১)
لا بقيد المؤدّي إلى علم أو ظن كما سيأتي حذرا من التكرار، والفكر حركة النفس في المعقولات بخلافها في المحسوسات، فإنها تخييل لا فكر، وكأنهم ضمنوا الحركة اعتبار قصدها فيخرج الحدس وما يتوارد على النفس في المعقولات بلا قصد كما في النوم والنسيان، ويطلق الفكر أيضا على حركة النفس من المطالب إلى المبادىء، ثم الرجوع منها إليها، وشمل التعريف الدليل القطعي كالعالم لوجود الصانع والظني كالنار لوجود الدخان، وأقيموا الصلاة لوجوبها بناء على طريقة الأصوليين والفقهاء من أن مطلوبهم العمل وهو لا يتوقف على العلم، بخلاف طريقة المتكلمين والحكماء، فإن مطلوبهم العلم ولهذا زادوا لفظة في التعريف، فقالوا إلى العلم بمطلوب خبري فبالنظر الصحيح في الأدلة المذكورة أي بحركة النفس فيما تعقله منها مما من شأنه أن ينتقل به إلى تلك المطلوبات، كالحدوث في الأول، والإحراق في الثاني، والأمر بالصلاة في الثالث يصل إلى تلك المطلوبات بأن ترتب هكذا العالم حادث وكل حادث له صانع فالعالم له صانع. النار شيء محرق وكل محرق له دخان فالنار لها دخان. أقيموا الصلاة أمر بها وكل أمر بشيء لوجوبه حقيقة فأقيموا الصلاة لوجوبها حقيقة، وقالوا يمكن التوصل دون يتوصل لأن الشيء يكون دليلاً، وإن لم يوجد النظر المتوصل به فالدليل مفرد، ويقال له المادة والإمكان يكون قبل الفكر فيه، أما بعده فلا بد من قضيتين صغرى مشتملة على موضوع المطلوب كما رأيت.

وأما الدليل عند المناطقة فقضيتان فأكثر تكون عنهما قضية أخرى فهو عندهم مركب، ويقال له المادة والصورة، وخرج بصحيح النظر فاسده فلا يمكن التوصل به إلى المطلوب لانتفاء وجه الدلالة عنه، وإن أدى إليه بواسطة اعتقاد أو ظن كما إذا نظر في العالم والنار من حيث البساطة، فإنهما ليسا من شأنهما أن ينتقل بهما إلى وجود الصانع والدخان، لكن يؤدّي إلى وجودهما هذان النظران ممن اعتقد أن العالم بسيط وكل بسيط له صانع، وممن ظنّ أن كل مسخن له دخان كذا قيل، وهو ظاهر في المطلوب الاعتقادي والظني لا العلمي لما سيأتي أن العلم لا يقبل النقض، وظاهر أن الحاصل بذلك يقبله إذا تبين فساد النظر. وبالخبري المطلوب التصوري، فيتوصل إليه بالحد بأن يتصور بتصوره كالحيوان الناطق حدا للإنسان، وسيأتي حد الحد الشامل لذلك ولغيره.

(والعلم) بالمطلوب الحاصل (عندنا) أيها الأشاعرة (عقبه) أي عقب صحيح النظر عادة عند الأشعري وغيره فلا يتخلف إلا خرقا للعادة كتخلف الإحراق عن مماسة النار، أو لزوما عند الإمام الرازي وغيره، فلا ينفك أصلاً كوجود الجوهر لوجود العرض. (مكتسب) للناظر (في الأصح) لأن حصوله عن نظره المكتسب له، وقيل لا لأن حصوله اضطراري لا قدرة على دفعه فلا خلاف إلا في التسمية وهي بالمكتسب أنسب والتصحيح من زيادتي، وكالعلم فيما ذكر الظن وإن لم يكن بينه وبين أمر ما ارتباط بحيث يمتنع تخلفه عنه عقلاً أو عادة، لأن النتيجة لازمة للقضيتين وإن كانتا ظنيتين، وزواله بعد حصوله لا يمنع حصوله لزوما أو عادة وخرج بعندنا العتزلة فقالوا النظر يولد العلم كتوليد حركة اليد لحركة المفتاح عندهم، وعلى وزانه يقال الظن الحاصل متولد عن النظر عندهم. (والحد) لغة المنع واصطلاحا عند الأصوليين. (ما يميز الشيء عن غيره) ولا يميز كذلك إلا ما لا يخرج عنه شيء من أفراد المحدود، ولا يدخل فيه شيء من غيرها، والأول وهو من زيادتي مبين لمفهوم الحدّ ولهذا زدته، والثاني لخاصته وهو بمعنى قول القاضي أبي بكر الباقلاني المذكور بقولي (ويقال) الحد (الجامع) أي لأفراد المحدود (المانع) أي من دخول غيرها فيه (و) يقال أيضا الحد (المطرد) أي الذي كلما وجد وجد لمحدود فلا يدخل فيه شيء من غير أفراد المحدود فيكون مانعا. (المنعكس) أي الذي كلما وجد المحدود وجد هو فلا
জ্ঞান বা ধারণার দিকে ধাবিত হওয়ার শর্ত ছাড়াই—যেমনটি পুনরাবৃত্তি এড়াতে সামনে আলোচনা করা হবে। চিন্তা বা ফিক্‌র হলো বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াবলীতে মনের গতিশীলতা, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়াবলী থেকে ভিন্ন; কারণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়াবলীতে মনের সেই কাজ কেবল কল্পনা, চিন্তা নয়। মনে হয় তারা এই গতিশীলতার মধ্যে 'ইচ্ছা' বা সংকল্পের বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, ফলে এর মাধ্যমে তড়িৎ উপলব্ধি (হাদ্স) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে মনে যা উদয় হয় তা সংজ্ঞার বাইরে চলে যাবে, যেমনটি ঘুম ও বিস্মৃতির অবস্থায় ঘটে থাকে। 'ফিক্‌র' শব্দটি উদ্দেশ্যসমূহ থেকে মূলনীতির দিকে মনের ধাবিত হওয়া এবং পুনরায় সেখান থেকে উদ্দেশ্যসমূহের দিকে ফিরে আসার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এই সংজ্ঞাটি অকাট্য দলিলকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য বিশ্বজগৎ; আবার ধারণাপ্রসূত দলিলকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন ধোঁয়ার উপস্থিতির মাধ্যমে আগুনের অস্তিত্ব নির্ণয়। উসূলে ফিকহবিদ ও ফকীহগণের পদ্ধতি অনুযায়ী 'তোমরা নামাজ কায়েম করো'—এটি নামাজের আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার দলিল। কারণ তাদের মূল লক্ষ্য হলো আমল বা কর্ম, যা নিশ্চিত জ্ঞানের (ইলম) ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি কালামশাস্ত্রবিদ ও দার্শনিকদের পদ্ধতির বিপরীত, কারণ তাদের মূল লক্ষ্য হলো নিশ্চিত জ্ঞান বা ইলম। এই কারণেই তারা সংজ্ঞায় একটি শব্দ বৃদ্ধি করে বলেছেন: 'সংবাদমূলক উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞানের দিকে ধাবিত হওয়া'। সুতরাং উল্লিখিত দলিলসমূহের মধ্যে সঠিক চিন্তার মাধ্যমে অর্থাৎ মনের সেই সব বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের গতিশীলতার মাধ্যমে যার বৈশিষ্ট্য হলো সেই সব উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত হওয়া; যেমন প্রথম উদাহরণের ক্ষেত্রে বিশ্বজগতের নশ্বরতা বা নতুন সৃষ্টি হওয়া (হুদূস), দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে দহন ক্ষমতা এবং তৃতীয়টির ক্ষেত্রে নামাজের নির্দেশ প্রদান। এভাবে বিন্যস্ত করার মাধ্যমে সেই সব সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়: বিশ্বজগৎ নশ্বর, আর প্রতিটি নশ্বর বিষয়ের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন, সুতরাং বিশ্বজগতের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। আগুন একটি দহনকারী বস্তু, আর প্রতিটি দহনকারী বস্তুর ধোঁয়া থাকে, সুতরাং আগুনের ধোঁয়া আছে। 'তোমরা নামাজ কায়েম করো' এটি একটি নির্দেশ, আর কোনো বিষয়ের প্রতিটি নির্দেশ প্রকৃতপক্ষে তার ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ, সুতরাং 'তোমরা নামাজ কায়েম করো' প্রকৃতপক্ষে তার ওয়াজিব হওয়ার জন্য। তারা বলেছেন 'পৌঁছানো সম্ভব' (ইউমকিনুত তাওয়াসসুল), 'পৌঁছায়' (ইয়াতাওয়াসসালু) বলেননি; কারণ কোনো বস্তু দলিল হতে পারে যদিও তাকে নিয়ে কোনো সঠিক চিন্তার প্রয়োগ না ঘটে। দলিল হলো একটি একক বিষয়, যাকে 'উপাদান' বা 'মাদ্দা' বলা হয়। চিন্তার পূর্বে এর সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকে, কিন্তু চিন্তার পরে অবশ্যই দুটি বুনিয়াদী বাক্য (কাজিইয়াহ) থাকতে হয়, যার মধ্যে ছোট বাক্যটি (সুগরা) উদ্দিষ্ট বিষয়ের উদ্দেশ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে যেমনটি আপনি দেখেছেন।

পক্ষান্তরে যুক্তিবিদদের নিকট দলিল হলো দুই বা ততোধিক বুনিয়াদী বাক্য যা থেকে অন্য একটি বাক্য নিষ্পন্ন হয়। সুতরাং তাদের নিকট এটি একটি যৌগিক বিষয় এবং একে 'উপাদান ও রূপ' (মাদ্দা ও সূরাত) বলা হয়। 'সঠিক চিন্তা' বলার মাধ্যমে ভ্রান্ত চিন্তা সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে, কারণ ভ্রান্ত চিন্তার মাধ্যমে উদ্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় যেহেতু সেখানে নির্দেশনার দিকটি (ওয়াজহুদ্ দালালাহ) অনুপস্থিত থাকে। যদিও কোনো ভ্রান্ত বিশ্বাস বা ধারণার মাধ্যমে তা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে, যেমন কেউ যদি বিশ্বজগৎ ও আগুনকে অবিভাজ্য মৌলিকত্বের দিক থেকে বিবেচনা করে; কারণ সেগুলোর বৈশিষ্ট্য এমন নয় যে তা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ও ধোঁয়ার দিকে ধাবিত করবে। কিন্তু এই দুই প্রকার চিন্তা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফলাফলের দিকে নিয়ে যায় যে বিশ্বাস করে যে বিশ্বজগৎ অবিভাজ্য এবং প্রতিটি অবিভাজ্য বস্তুর একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন, অথবা যে ধারণা করে যে প্রতিটি উত্তপ্ত বস্তুর ধোঁয়া আছে—যেমনটি বলা হয়েছে। এটি বিশ্বাসগত ও ধারণাগত উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে স্পষ্ট, কিন্তু নিশ্চিত জ্ঞান বা ইলমের ক্ষেত্রে নয়; কারণ সামনে আসবে যে, নিশ্চিত জ্ঞান বা ইলম কখনো খণ্ডনযোগ্য হয় না। আর এটি স্পষ্ট যে, ভ্রান্ত চিন্তার মাধ্যমে যা অর্জিত হয় তা খণ্ডনযোগ্য যখন চিন্তার ভ্রান্তি প্রকাশ পায়। আর 'সংবাদমূলক' শব্দটির মাধ্যমে ধারণাগত উদ্দেশ্য (তাসাউউরী) বের হয়ে গেছে। আর সেখানে সংজ্ঞার (হাদ্দ) মাধ্যমে পৌঁছানো যায়, যেমন মানুষের সংজ্ঞা হিসেবে 'বাকশক্তি সম্পন্ন জীব' কল্পনা করার মাধ্যমে সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। সামনে সংজ্ঞার এমন একটি সংজ্ঞা আসবে যা একে এবং অন্যসব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে।

আর উদ্দিষ্ট বিষয়ের (জ্ঞান) যা অর্জিত হয়, (আমাদের নিকট) অর্থাৎ হে আশআরীগণ! তা (তার পরপরই) অর্থাৎ ইমাম আশআরী ও অন্যদের মতে সাধারণত সঠিক চিন্তার পরপরই অভ্যাসবশত অর্জিত হয়। সুতরাং অলৌকিক ঘটনা ছাড়া তা কখনো ব্যাহত হয় না, যেমন আগুনের সংস্পর্শে দহনক্রিয়া ব্যাহত হওয়া। অথবা ইমাম রাযী ও অন্যদের মতে এটি অনিবার্য (লুযূম), ফলে গুণের অস্তিত্বের জন্য সত্তার অস্তিত্বের মতো এটি চিন্তার প্রক্রিয়া থেকে মোটেও বিচ্ছিন্ন হয় না। চিন্তাকারীর জন্য এই জ্ঞান (অর্জিত) অর্থাৎ (অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী)। কারণ এটি তার অর্জিত চিন্তার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। কেউ কেউ বলেছেন এটি অর্জিত নয়, কারণ এর অর্জন অনিবার্য এবং তা প্রতিহত করার ক্ষমতা মানুষের নেই। সুতরাং নামকরণ ছাড়া এখানে অন্য কোনো মৌলিক মতভেদ নেই এবং 'অর্জিত' বলাই অধিকতর উপযুক্ত। এই সঠিককরণের বিষয়টি আমার পক্ষ থেকে সংযোজিত। আর যে বিষয়ের উল্লেখ করা হলো তার মধ্যে ইলমের মতো ধারণা বা যন-ও অন্তর্ভুক্ত, যদিও ধারণা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে এমন কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই যার বিচ্যুতি বুদ্ধিগতভাবে বা অভ্যাসগতভাবে অসম্ভব হয়। কারণ ফলাফল দুটি বাক্যের জন্য অপরিহার্য, যদিও বাক্য দুটি ধারণাপ্রসূত হয়। আর ফলাফল অর্জিত হওয়ার পর তা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া একে অপরিহার্যভাবে বা অভ্যাসগতভাবে অর্জিত হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে না। 'আমাদের নিকট' বলার মাধ্যমে মুতাযিলাগণ সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছেন, কারণ তারা বলেন: চিন্তা জ্ঞানকে 'উৎপন্ন' (তাওয়াল্লুদ) করে, যেমন তাদের মতে হাতের গতিশীলতা চাবির গতিশীলতাকে উৎপন্ন করে। সেই ধারাবাহিকতায় তাদের মতে অর্জিত ধারণাও চিন্তা থেকে উৎপন্ন হয়। (সংজ্ঞা বা হাদ্দ) আভিধানিক অর্থে হলো বাধা প্রদান করা। আর উসূলে ফিকহবিদদের পরিভাষায় হলো: (যা কোনো বস্তুকে অন্য বস্তু থেকে পৃথক করে)। আর কোনো কিছুই সেভাবে পৃথক করতে পারে না যতক্ষণ না তাতে সংজ্ঞায়িত বিষয়ের কোনো একক সদস্য বাদ না পড়ে এবং অন্য কোনো বিষয় তাতে প্রবেশ না করে। প্রথম অংশটি আমার পক্ষ থেকে সংযোজিত যা সংজ্ঞার মূল ধারণাকে স্পষ্ট করে, এজন্যই আমি এটি বৃদ্ধি করেছি। আর দ্বিতীয় অংশটি তার বিশেষত্বের জন্য, যা কাজী আবু বকর বাকিল্লানীর উক্তির সমার্থক যা আমি আমার এই কথার মাধ্যমে উল্লেখ করেছি: (এবং বলা হয়) সংজ্ঞা হলো (জামে) অর্থাৎ সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সকল একক সদস্যকে একত্রকারী, (মানে) অর্থাৎ অন্য কোনো বিজাতীয় বিষয়কে তাতে প্রবেশ করতে বাধা প্রদানকারী। (এবং) সংজ্ঞাকে আরও বলা হয় (মুত্তারিদ) অর্থাৎ যা যখনই পাওয়া যাবে তখনই সংজ্ঞায়িত বিষয়কে পাওয়া যাবে, ফলে সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সদস্য ছাড়া অন্য কিছু তাতে প্রবেশ করবে না, ফলে তা 'প্রতিবন্ধক' বা বাধা প্রদানকারী হবে। (মুনআকিস) অর্থাৎ যখনই সংজ্ঞায়িত বিষয় পাওয়া যাবে তখনই সেই সংজ্ঞাকে পাওয়া যাবে, ফলে...
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২২)
يخرج عنه شيء من أفراد المحدود فيكون جامعا، فمؤدى العبارتين واحد والأولى أوضح فيصدقان بالحيوان الناطق حدا للإنسان بخلاف حدّه بالحيوان الكاتب بالفعل، فإنه غير جامع وغير منعكس، وبالحيوان الماشي فإنه غير مانع وغير مطرد وتفسير المنعكس، بما ذكر الموافق للعرف واللغة حيث يقال كل إنسان ناطق، وبالعكس وكل إنسان حيوان، ولا عكس أظهر في معنى الجامع من تفسير ابن الحاجب وغيره له، بأنه كلما انتفى الحدّ انتفى

المحدود اللازم لذلك التفسير، وبما ذكر علم أنه قد يكون للشيء حدّان فأكثر، كقولهم الحركة نقلة وزوال وذهاب في جهة وهو المختار، كما نقله الزركشي عن القاضي عبد الوهاب بعد نقله عن غيره خلافه.

(والكلام) النفسي (في الأزل يسمى خطابا) حقيقة في الأصح بتنزيل المعدوم الذي سيوجد منزلة الوجود، وقيل لا يسماه حقيقة لعدم من يخاطب به إذ ذاك، وإنما يسماه حقيقة فيما لا يزال عند وجود من يفهم وإسماعه إياه ما بلفظ كالقرآن، أو بلا لفظ كما وقع لموسى عليه الصلاة والسلام خرقا للعادة، وقيل سمعه بلفظ من جميع الجهات لذلك. (و) الكلام النفسي في الأزل (يتنوّع) إلى أمر ونهي وخبر وغيرها. (في الأصح) بالتنزيل السابق، وقيل لا يتنوّع إليها لعدم من تتعلق به هذه الأشياء إذ ذاك، وإنما يتنوّع إليها فيما لا يزال عند وجود من يتعلق به فتكون الأنواع حادثة مع قدم المشترك بينها، وهذا يلزمه محال وهو وجود الجنس مجردا عن أنواعه إلا أن يراد أنها أنواع اعتبارية أي عوارض له يجوز خلوّه عنها تحدث بحسب التعلقات كما أن تنوّعه إليها على الأول بحسب التعلقات أيضا لكونه صفة واحدة كالعلم وغيره من الصفات، فمن حيث تعلقه في الأزل أو فيما لا يزال بشيء على وجه الاقتضاء لفعله يسمى أمرا أو لتركه يسمى نهيا، وعلى هذا القياس، وأخرت كالأصل هاتين المسألتين عن الدليل لأن موضوعهما مدلوله في الجملة والمدلول متأخر عن الدليل، وإنما قدمتا على النظر المتعلق بالدليل أيضا لأن موضوعهما أشدّ ارتباطا منه بالدليل لأنه مقصود من الدليل والنظر من آلات تحصيله. ((والنظر) لغة يقال لمعان منها الاعتبار والرؤية واصطلاحا (فكر) . وتقدم تفسيره (يؤدّي) أي يوصل (إلى علم أو اعتقاد) والتصريح به من زيادتي، (أو ظنّ) بمطلوب خبري فيها أو تصوّري في العلم والاعتقاد، فخرج الفكر غير المؤدّي إلى ذلك كأكثر حديث النفس فليس بنظر وشمل التعريف النظر

الصحيح من قطعي وظني، والفاسد فإنه يؤدّي إلى ذلك بواسطة اعتقاد أو ظن كما مر بيانه، وإن لم يستعمل بعضهم التأدية إلا فيما يؤدّي بنفسه كذا قيل، وظاهر أنه خاص بتأديته إلى الاعتقاد أو الظنّ لا إلى العلم لما مر في تعريف الدليل. (والإدراك) لغة الوصول واصطلاحا وصول النفس إلى تمام المعنى من نسبة أو غيرها (بلا حكم) معه من إدراك وقوع النسبة أو لا وقوعها (تصور) ساذج، ويسمى علما أيضا كما علم مما مر، أما وصول النفس إلى المعنى لا بتمامه فيسمى شعورا. (وبه) أي بالحكم أي والإدراك للنسبة وطرفيها مع الحكم المسبوق بذلك. (تصوّر بتصديق) أي معه كإدراك الإنسان والكاتب وثبوت الكتابة له، وأن النسبة واقعة أولاً في التصديق بأن الإنسان كاتب أو أنه ليس بكاتب الصادقين في الجملة. (وهو) أي التصديق (الحكم) وهذا من زيادتي وهو رأي المحققين، وقيل التصديق التصور مع الحكم، وعليه جرى الأصل، فالتصورات السابقة على الحكم على هذا شطر منه، وعلى الأول شرط له، وتفسيري له بأنه إدراك وقوع النسبة أو لا وقوعها هو رأي متقدمي المناطقة. قال القطب الرازي وغيره من المحققين وهو التحقيق، وأما متأخروهم ففسروه بإيقاع النسبة أو انتزاعها، وقدماؤهم قالوا الإيقاع والانتزاع ونحوهما عبارات وألفاظ أي توهم أن للنفس بعد تصور النسبة وطرفيها فعلاً وليس كذلك، فالحكم عندهم من مقولة الانفعال، وعند متأخريهم من مقولة الفعل.
সংজ্ঞায়িত বস্তুর কোনো অংশই যেন সংজ্ঞার বাইরে না থাকে, ফলে তা হবে সংকলক (جامع বা জামে)। সুতরাং উভয় অভিব্যক্তির মূল অর্থ অভিন্ন, তবে প্রথমটি অধিকতর স্পষ্ট। তাই মানুষের সংজ্ঞা হিসেবে 'বাকশক্তি সম্পন্ন জীব' বলা সঠিক হবে; কিন্তু 'বর্তমানে কর্মক্ষম লেখক জীব' বলা সঠিক হবে না। কারণ, এটি সংকলকও নয় এবং প্রত্যাবর্তকও (منعكس বা মুনআকিস) নয়। আবার 'চলাচলকারী জীব' বলাও সঠিক হবে না; কারণ এটি বাধাদানকারী (مانع বা মানে') এবং পরিব্যাপ্তকারী (مطرد বা মুত্তারিদ) নয়। 'মুনআকিস' (প্রত্যাবর্তক)-এর যে ব্যাখ্যা এখানে প্রদান করা হয়েছে, তা লৈখিক ও ভাষাগত ঐতিহ্যের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেখানে বলা হয়: প্রত্যেক মানুষই বাকশক্তি সম্পন্ন এবং এর বিপরীতটিও সত্য (অর্থাৎ প্রত্যেক বাকশক্তি সম্পন্ন সত্তাই মানুষ)। কিন্তু 'প্রত্যেক মানুষই জীব' বলা গেলেও এর বিপরীতটি সত্য নয় (অর্থাৎ প্রত্যেক জীবই মানুষ নয়)। 'জামে' (সংকলক) অর্থের ক্ষেত্রে ইবনুল হাজিব ও অন্যদের ব্যাখ্যার চেয়ে এটি অধিকতর স্পষ্ট। তাদের মতে, সংজ্ঞার অনুপস্থিতিতে যখন সংজ্ঞায়িত বস্তুর অনুপস্থিতি অনিবার্য হয়, তখনই তাকে জামে বলা হয়। বর্ণিত আলোচনা থেকে এটিও স্পষ্ট হলো যে, একটি জিনিসের একাধিক সংজ্ঞা হতে পারে। যেমন তারা বলে থাকেন: গতি হলো স্থান পরিবর্তন করা, অথবা এক স্থান থেকে বিচ্যুত হওয়া, অথবা কোনো নির্দিষ্ট দিকে গমন করা। এটিই পছন্দনীয় মত, যেমনটি জারকাশী কাজী আবদুল ওয়াহহাব থেকে এবং তিনি অন্যদের বিপরীত মতের পরে এটি নকল করেছেন।

অনাদিকালের মানস-কথাকে (সত্তাগত বাণী) বিশুদ্ধতম অভিমত অনুযায়ী প্রকৃত অর্থেই 'সম্বোধন' বলা হয়। এটি এমন এক সত্তাকে সম্বোধন করার পর্যায়ভুক্ত, যে বর্তমানে অনুপস্থিত থাকলেও ভবিষ্যতে অস্তিত্বশীল হবে। কেউ কেউ বলেছেন, তখন সম্বোধন করার মতো কেউ বিদ্যমান না থাকায় একে প্রকৃত অর্থে সম্বোধন বলা যাবে না। বরং এটি প্রকৃত অর্থে সম্বোধন তখনই হবে, যখন সেই সম্বোধনটি বোঝার মতো কেউ বিদ্যমান থাকবে এবং তাকে কোনো শব্দের মাধ্যমে শোনানো হবে, যেমনটি কোরআনের ক্ষেত্রে হয়েছে। অথবা শব্দ ছাড়াই শোনানো হবে, যেমনটি অলৌকিকভাবে মুসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। কেউ কেউ বলেছেন, মুসা (আ.) এটি সব দিক থেকে আসা শব্দের মাধ্যমে শুনেছিলেন। (এবং) অনাদিকালের সেই মানস-কথা আদেশ, নিষেধ, সংবাদ ও অন্যান্য প্রকারে (বিভক্ত হয়)। বিশুদ্ধতম অভিমত অনুযায়ী পূর্ববর্তী ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই এই বিভক্তি ঘটে। কেউ কেউ বলেছেন, তখন এসকল বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার মতো কেউ না থাকায় তখন এটি বিভক্ত হয় না। বরং এটি কেবল তখনই বিভক্ত হয় যখন এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার মতো কেউ বিদ্যমান থাকে। ফলে মূল সত্তাগত বাণী অনাদি হলেও এর প্রকারগুলো হবে নতুন বা নশ্বর। কিন্তু এতে একটি অসম্ভব বিষয় অনিবার্য হয়ে পড়ে, আর তা হলো প্রকারহীন সাধারণ সত্তার অস্তিত্ব থাকা। তবে যদি এর অর্থ এমন হয় যে, এগুলো কেবল বিবেচনামূলক প্রকার অর্থাৎ এমন কিছু আপতিক বিষয় যা থেকে মূল সত্তা মুক্ত থাকতে পারে এবং যা সম্পর্কের ভিত্তিতে সৃষ্টি হয়, তবে তা ভিন্ন কথা। ঠিক যেমন প্রথম মতানুসারেও সম্পর্কের ভিত্তিতেই এই প্রকারভেদ হয়ে থাকে; কারণ এটি আল্লাহর ইলম (জ্ঞান) বা অন্যান্য গুণের মতো একটি একক গুণ। সুতরাং অনাদিকালে বা পরবর্তী সময়ে কোনো কাজ করার দাবির প্রেক্ষিতে একে 'আদেশ' বলা হয়, আর কোনো কাজ বর্জন করার দাবির প্রেক্ষিতে একে 'নিষেধ' বলা হয়। এই নিয়মেই অন্যান্য প্রকারগুলোও নির্ধারিত হয়। মূল গ্রন্থের অনুসরণে আমি এই দুটি মাসআলাকে দলিলের আলোচনার পরে এনেছি; কারণ এই দুটির আলোচ্য বিষয় মূলত দলিলের অর্থের সাথে সম্পৃক্ত, আর অর্থ সর্বদা দলিলের পরেই আসে। তবে দলিলের সাথে সম্পৃক্ত গবেষণার আগে এদেরকে উপস্থাপনের কারণ হলো, দলিলের সাথে এদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কারণ এ দুটি হলো দলিলের উদ্দেশ্য, আর গবেষণা বা নজর হলো তা অর্জনের মাধ্যম। (আর নজর বা চিন্তা-গবেষণা) আভিধানিক অর্থে কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে শিক্ষা গ্রহণ এবং দেখা অন্যতম। আর পারিভাষিক অর্থে এটি হলো 'ফিকর' বা চিন্তা। এর ব্যাখ্যা পূর্বে গত হয়েছে। (যা ধাবিত করে) অর্থাৎ পৌঁছে দেয় (জ্ঞান বা বিশ্বাসের দিকে)। এই বিষয়টি স্পষ্ট করা আমার সংযোজন। (অথবা প্রবল ধারণার দিকে), যা কোনো সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে হতে পারে, অথবা জ্ঞান ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে কোনো ধারণা সংক্রান্ত বিষয়ে হতে পারে। ফলে যে চিন্তা এসকল বিষয়ের দিকে ধাবিত করে না, যেমন মনের অধিকাংশ জল্পনা-কল্পনা, তা 'নজর' বা গবেষণার অন্তর্ভুক্ত নয়। এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হলো সঠিক নজর—তা নিশ্চিত হোক বা ধারণাপ্রসূত হোক; এবং ভুল নজরও এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ সেটিও কোনো ভ্রান্ত বিশ্বাস বা ধারণার মাধ্যমেই সেদিকে ধাবিত করে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। যদিও কেউ কেউ 'পৌঁছে দেয়া' বা 'ধাবিত করা' শব্দটিকে কেবল সঠিক নজরের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। তবে এটি স্পষ্ট যে, তা বিশ্বাস বা ধারণার দিকে ধাবিত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সরাসরি জ্ঞানের দিকে নয়, যা দলিলের সংজ্ঞায় অতিবাহিত হয়েছে। (আর ইদরাক বা উপলব্ধি) আভিধানিক অর্থে হলো পৌঁছানো। আর পারিভাষিক অর্থে এটি হলো কোনো সম্পর্কের বা অন্য কোনো বিষয়ের পূর্ণ অর্থে মনের পৌঁছানো (বিচার ব্যতিরেকে)। অর্থাৎ সেই সম্পর্কটি সংঘটিত হওয়া বা না হওয়ার কোনো অবধারণ বা হুকুম ছাড়া যে উপলব্ধি, তাকে কেবল 'তাসাউয়ুর' (ধারণা) বলা হয়। একে 'ইলম' বা জ্ঞানও বলা হয়, যা পূর্বের আলোচনা থেকে জানা গেছে। তবে মনের কোনো অর্থের অপূর্ণ উপলব্ধি হলে তাকে 'শু'উর' বা সংবেদন বলা হয়। (আর এর মাধ্যমে) অর্থাৎ হুকুম বা বিচারের মাধ্যমে, যা সম্পর্ক ও এর উভয় প্রান্তের উপলব্ধির পরবর্তী পর্যায়। (তাকে সত্যায়নসহ ধারণা বলা হয়)। অর্থাৎ যে উপলব্ধির সাথে হুকুম যুক্ত থাকে, যেমন মানুষ এবং লেখককে উপলব্ধি করা এবং মানুষের জন্য লেখার গুণ সাব্যস্ত হওয়া। আর সম্পর্কটি সংঘটিত হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি মূলত সত্যায়ন বা তাসদিকের ক্ষেত্রে প্রথমত আসে—যেমন মানুষ লেখক, অথবা মানুষ লেখক নয়—এসকল সত্য সংবাদের ক্ষেত্রে। (আর এটিই) অর্থাৎ তাসদিকই হলো (হুকুম বা বিচার)। এটি আমার সংযোজন এবং এটিই গবেষক আলেমদের অভিমত। কেউ কেউ বলেছেন, তাসদিক হলো হুকুমসহ ধারণা। মূল গ্রন্থে এই মতটিই অনুসরণ করা হয়েছে। এই মতানুসারে হুকুমের পূর্ববর্তী ধারণাগুলো তাসদিকের অংশ, আর প্রথম মতানুসারে সেগুলো তাসদিকের শর্ত। আমার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সম্পর্কের ইতিবাচক বা নেতিবাচক হওয়া উপলব্ধি করাই হলো তাসদিক—এটিই প্রাচীন যুক্তিবিদদের অভিমত। কুতুবুদ্দিন রাজি এবং অন্যান্য গবেষকগণ বলেছেন যে এটিই সঠিক বিশ্লেষণ। তবে পরবর্তী যুগের যুক্তিবিদগণ একে সম্পর্কের প্রয়োগ বা বিযুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রাচীন যুক্তিবিদগণ বলেছেন, প্রয়োগ বা বিযুক্তি হলো নিছক অভিব্যক্তি ও শব্দ মাত্র। অর্থাৎ এটি একটি ধারণা মাত্র যে, সম্পর্কের উভয় প্রান্ত ও খোদ সম্পর্ককে উপলব্ধি করার পর মনের নতুন কোনো কাজ থাকে; আসলে বিষয়টি তেমন নয়। তাই তাদের মতে, হুকুম হলো এক ধরণের প্রভাব গ্রহণ (ইনফিয়াল), আর পরবর্তী যুগের যুক্তিবিদদের মতে এটি একটি কর্ম (ফেইল)।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৩)
(وجازمه) أي الحكم أي والحكم الجازم (إن لم يقبل تغيرا) بأن كان لموجب من حس ولو باطنا أو عقل أو عادة، فيكون مطابقا للواقع. (فعلم) كالحكم بأن به جوعا أو عطشا أو بأن زيدا متحرك ممن رآه متحركا أو بأن العالم حادث، أو بأن الجبل من حجر. (وإلا) أي وإن قبل التغير بأن لم يكن لموجب مما ذكر طابق الواقع أو لا. إذ يتغير الأول بالتشكيك والثاني به أو بالاطلاع على ما في نفس الأمر. (فاعتقاد) وهو اعتقاد (صحيح إن طابق) الواقع كاعتقاد المقلد سنية الضحى، (وإلا) أي وإن لم يطابق الواقع (ففاسد) كاعتقاد الفلسفي قدم العالم، (و) الحكم (غير الجازم ظن ووهم وشك لأنه) أي غير الجازم إما (راجح) لرجحان المحكوم به على نقيضه فالظن، أو مرجوح) لمرجوحية المحكوم به لنقيضه فالوهم، أو مساو) لمساواة المحكوم به من كل من النقيضين على البدل للآخر فالشك فهو بخلاف ما قبله حكمان، كما قال إمام الحرمين والغزالي وغيرهما الشك اعتقادان يتقاوم سببهما. وقال بعض المحققين ليس الوهم والشك من التصديق أي بل من التصور، إذ الوهم ملاحظة الطرف المرجوح والشك التردّد في الوقوع واللاوقوع، فما أريد مما مر من أن العقل يحكم بالمرجوح أو المساوي عنده ممنوع على هذا، وقد أوضحت ذلك في الحاشية، وقد يطلق العلم على الظن كعكسه مجازا، فالأول كقوله تعالى {فإن علمتموهنّ مؤمنات} أي ظننتموهن والثاني كقوله تعالى {الذين يظنون أنهم ملاقو ربهم} أي يعلمون ويطلق الشك مجازا كما يطلق لغة على مطلق التردّد الشامل للظن والوهم، ومن ذلك قول الفقهاء من تيقن طهرا أو حدثا وشك في ضدّه عمل بيقينه.

(فالعلم) أي القسم المسمى بالعلم التصديقي من حيث تصوره بحقيقته بقرينة السياق (حكم جازم لا يقبل تغيرا فهو نظري يحد في الأصح) . واختار الإمام الرازي أنه ضروري أي يحصل بمجرد التفات النفس إليه من غير نظر واكتساب، لأن علم كل أحد بأنه عالم بأنه موجود مثلاً ضروري بجميع أجزائه، ومنها تصور العلم بأنه موجود بالحقيقة وهو علم تصديقي خاص، فيكون تصور مطلق العلم التصديقي بالحقيقة ضروريا وهو المدعي. وأجيب بمنع أنه يتعين أن يكون من أجزاء ذلك تصور العلم المذكور بالحقيقة، بل يكفي تصوره بوجه، فالضروري تصور مطلق العلم التصديقي بالوجه لا بالحقيقة الذي النزاع فيه، وعلى ما اختاره فلا يحدّ، إذ لا فائدة، في حدّ الضروري لحصوله بغير حدّ قال نعم قد يحدّ الضروري لإفادة العبارة عنه أي فيكون حدّه حينئذ حدّا لفظيا لا حقيقيا. وقال إمام الحرمين هو نظري لكنه عسر أي لا يحصل إلا بنظر دقيق لخفائه ومال إليه الأصل حيث قال فالرأي الإمساك عن تعريفه أي المسبوق بذلك التصور العسر صونا للنفس عن مشقة الخوض في العسر. قال الإمام ويميز عن غيره من أقسام الاعتقاد بأنه اعتقاد جازم مطابق ثابت فليس هذا حقيقته عنده، والترجيح من زيادتي.

(قال المحققون ولا يتفاوت) العلم (إلا بكثرة المتعلقات) أي لا يتفاوت في جزئياته فليس بعضها ولو ضروريا أقوى من بعضها ولو نظريا، وإنما يتفاوت بكثرة المتعلقات في بعض جزئياته دون بعض فيتفاوت فيها كما في العلم بثلاثة أشياء والعلم بشيئين، بناء على اتحاد العلم مع تعدّد المعلوم، كما هو قول بعض الأشاعرة قياسا على علم الله تعالى، والأشعري وكثير من المعتزلة على تعدد العلم بتعدد المعلوم، وأجابوا عن القياس بأنه خال عن الجامع، وعلى هذا لا يقال يتفاوت بما ذكر، وقيل يتفاوت العلم في جزئياته، إذ العلم مثلاً بأن الواحد نصف الاثنين أقوى في الجزم من العلم بأن العالم حادث. وأجيب بأن التفاوت في ذلك
(এবং এর দৃঢ় অংশটি) অর্থাৎ বিধান, অর্থাৎ দৃঢ় বিধানটি (যদি তা পরিবর্তন গ্রহণ না করে) ইন্দ্রিয় (তা অভ্যন্তরীণ হোক বা বাহ্যিক), বুদ্ধি কিংবা অভ্যাসের কোনো কারণবশত হওয়ার মাধ্যমে, ফলে তা বাস্তবসম্মত হয়। (অতএব তা হলো জ্ঞান বা ইলম), যেমন কেউ ক্ষুধার্ত বা তৃষ্ণার্ত হওয়ার বিধান দেওয়া, অথবা যে ব্যক্তি যায়েদকে গতিশীল দেখেছে তার পক্ষ হতে সে গতিশীল হওয়ার বিধান দেওয়া, অথবা জগৎ সৃষ্টি হওয়া বা পাহাড় পাথর দ্বারা গঠিত হওয়ার বিধান দেওয়া। (অন্যথায়) অর্থাৎ যদি তা পরিবর্তন গ্রহণ করে; আর তা হলো উল্লিখিত কারণসমূহের ভিত্তিতে না হওয়ার মাধ্যমে, চাই তা বাস্তবের সাথে মিলুক বা না মিলুক। কেননা প্রথমটি (সঠিক বিশ্বাস) সংশয় সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবর্তিত হয় এবং দ্বিতীয়টি (ভুল বিশ্বাস) সংশয় সৃষ্টি বা প্রকৃত অবস্থা অবগত হওয়ার মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়। (তা হলো বিশ্বাস বা ইতিকাদ) আর তা হলো (সঠিক বিশ্বাস যদি তা বাস্তবের সাথে মিলে), যেমন একজন মুকাল্লিদ বা অনুসারীর চাশতের সালাত সুন্নত হওয়ার বিশ্বাস। (আর যদি না হয়) অর্থাৎ যদি তা বাস্তবের সাথে না মিলে (তবে তা ভ্রান্ত), যেমন দার্শনিকের এই বিশ্বাস যে জগৎ অনাদি। (এবং) অ-দৃঢ় (বিধান হলো ধারণা, বিভ্রম এবং সংশয়; কারণ তা) অর্থাৎ অ-দৃঢ় বিষয়টি হয় (প্রবল), অর্থাৎ যা বিধান দেওয়া হয়েছে তার বিপরীত দিকের তুলনায় প্রবল হওয়া—যা ধারণা (জান্ন); অথবা (দুর্বল), অর্থাৎ যা বিধান দেওয়া হয়েছে তার বিপরীত দিকের তুলনায় দুর্বল হওয়া—যা বিভ্রম (ওয়াহম); অথবা (সমান), অর্থাৎ বিকল্পভাবে উভয় বিপরীত দিক থেকে বিধানকৃত বিষয়টির সমান হওয়া—যা সংশয় (শাক্ক)। এটি পূর্বেরগুলোর বিপরীত দুটি বিধান, যেমনটি ইমামুল হারামাইন, ইমাম গাযালী এবং অন্যান্যরা বলেছেন যে, সংশয় হলো দুটি বিশ্বাস যাদের কারণসমূহ একে অপরের সমকক্ষ। কোনো কোনো গবেষক বলেছেন, বিভ্রম (ওয়াহম) এবং সংশয় (শাক্ক) تصديق বা প্রত্যয়নভুক্ত নয়, বরং এগুলো تصور বা উপলব্ধিজাত। কারণ বিভ্রম হলো দুর্বল দিকটি পর্যবেক্ষণ করা এবং সংশয় হলো হওয়া বা না হওয়ার মাঝে দোদুল্যমানতা। অতএব পূর্বে যা বলা হয়েছে যে, বুদ্ধি দুর্বল বা সমান বিষয়ের ক্ষেত্রে বিধান দেয়, এই মতানুসারে তা প্রত্যাখ্যাত। আমি টীকাগ্রন্থে এটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি। কখনো কখনো রূপকভাবে জ্ঞানকে ধারণার অর্থে এবং ধারণাকে জ্ঞানের অর্থে ব্যবহার করা হয়। প্রথমটির উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "যদি তোমরা তাদের মুমিন বলে জানতে পার (অর্থাৎ ধারণা কর)", আর দ্বিতীয়টির উদাহরণ আল্লাহর বাণী: "যারা ধারণা করে যে তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে (অর্থাৎ যারা দৃঢ়ভাবে জানে)"। রূপকভাবে এবং আভিধানিক অর্থে সংশয় শব্দটিকে যেকোনো দোদুল্যমানতার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয় যা ধারণা ও বিভ্রমকেও অন্তর্ভুক্ত করে। ফকীহগণের এই উক্তিটি সেই অর্থেই: "যে ব্যক্তি পবিত্রতা বা অপবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত কিন্তু এর বিপরীত অবস্থা সম্পর্কে সংশয় পোষণ করে, সে তার নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর আমল করবে।"

(অতএব জ্ঞান) অর্থাৎ প্রসঙ্গের ইঙ্গিত অনুযায়ী তার প্রকৃত সত্তার উপলব্ধির বিচারে ইলম তাসদীকী বা প্রত্যয়নমূলক জ্ঞানের যে প্রকার রয়েছে (তা হলো এমন এক দৃঢ় বিধান যা পরিবর্তন গ্রহণ করে না; বিশুদ্ধতম মতানুযায়ী এটি চিন্তানির্ভর বা নজরী এবং এর সংজ্ঞা প্রদান সম্ভব)। ইমাম রাযী একে জরুরি বা আবশ্যিক হিসেবে বেছে নিয়েছেন, অর্থাৎ যা কোনো চিন্তা বা অর্জন ছাড়াই নিছক মনের নিবিষ্টতার মাধ্যমে অর্জিত হয়। কেননা প্রত্যেকেরই এই জ্ঞান যে—সে জানে যে সে বিদ্যমান, উদাহরণস্বরূপ এটি তার সকল অংশসহ আবশ্যিক। এর একটি অংশ হলো প্রকৃত সত্তার মাধ্যমে সে বিদ্যমান—এই জ্ঞানটি উপলব্ধি করা, যা একটি বিশেষ প্রত্যয়নমূলক জ্ঞান। সুতরাং প্রকৃত সত্তার মাধ্যমে সাধারণ প্রত্যয়নমূলক জ্ঞানের উপলব্ধিও আবশ্যিক হবে, আর এটিই দাবি। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, উক্ত বিষয়টির অংশ হিসেবে প্রকৃত সত্তার মাধ্যমে উল্লিখিত জ্ঞানের উপলব্ধি হওয়া অনিবার্য নয়, বরং যেকোনোভাবে তার উপলব্ধি হওয়াই যথেষ্ট। সুতরাং আবশ্যিক হলো যেকোনোভাবে সাধারণ প্রত্যয়নমূলক জ্ঞানের উপলব্ধি হওয়া, তার প্রকৃত সত্তার মাধ্যমে নয়—যা নিয়ে বিবাদ রয়েছে। আর ইমাম রাযীর মনোনীত মতানুসারে এর কোনো সংজ্ঞা দেওয়া হবে না, কেননা আবশ্যিক বিষয় সংজ্ঞা ছাড়াই অর্জিত হয় বলে এর সংজ্ঞায়নের কোনো ফায়দা নেই। তিনি বলেন: হ্যাঁ, কখনো কখনো আবশ্যিক বিষয়ের সংজ্ঞা দেওয়া হয় তার শব্দার্থ প্রকাশের জন্য, অর্থাৎ সেক্ষেত্রে তার সংজ্ঞা হবে শাব্দিক, প্রকৃত বা হাকীকী নয়। ইমামুল হারামাইন বলেছেন: এটি চিন্তানির্ভর (নজরী), তবে এটি কঠিন; অর্থাৎ এর অস্পষ্টতার কারণে সূক্ষ্ম চিন্তা ছাড়া তা অর্জিত হয় না। মূল গ্রন্থের লেখক (তাজউদ্দীন সুবকী) সেদিকেই ঝুঁকেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: তার অভিমত হলো এর সংজ্ঞা প্রদান থেকে বিরত থাকা; অর্থাৎ উল্লিখিত কঠিন উপলব্ধি-পূর্ববর্তী এই ইলমের সংজ্ঞায়ন থেকে বিরত থাকা যাতে কঠিন বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার কষ্ট থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। ইমাম (হারামাইন) বলেছেন: জ্ঞানের অন্যান্য প্রকার থেকে একে এই বলে আলাদা করা যায় যে, এটি হলো দৃঢ়, বাস্তবসম্মত এবং স্থির বিশ্বাস। সুতরাং এটি তাঁর মতে জ্ঞানের হাকীকত বা প্রকৃত সত্তা নয়। আর প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি আমার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সংযোজন।

(গবেষকগণ বলেছেন যে, জ্ঞান বা ইলম কেবল সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আধিক্য ব্যতীত ভিন্নতর হয় না) অর্থাৎ জ্ঞানের অংশসমূহের মধ্যে কোনো তারতম্য হয় না। সুতরাং এদের কিছু অংশ (চাই তা আবশ্যিক হোক) অন্য কোনো অংশের (চাই তা চিন্তানির্ভর হোক) চেয়ে অধিক শক্তিশালী নয়। বরং জ্ঞান কেবল তার কিছু অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আধিক্যের কারণে ভিন্নতর হয়, যেমন তিনটি বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান এবং দুটি বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান। এটি এই মতের ওপর ভিত্তি করে যে, জ্ঞাত বিষয় একাধিক হলেও জ্ঞান একটিই থাকে; যেমনটি কোনো কোনো আশআরীগণ আল্লাহর ইলমের ওপর কিয়াস করে বলেছেন। আর ইমাম আশআরী এবং মুতাযিলাদের অধিকাংশের মতে জ্ঞাত বিষয় একাধিক হলে জ্ঞানও একাধিক হয়। তাঁরা কিয়াসের উত্তরে বলেছেন যে, এটি সাদৃশ্যহীন কিয়াস। এই মতানুসারে বলা যাবে না যে জ্ঞান উল্লিখিত কারণে ভিন্নতর হয়। কেউ কেউ বলেছেন: জ্ঞানের অংশসমূহের মধ্যে তারতম্য হয়; কেননা উদাহরণস্বরূপ, এক হলো দুইয়ের অর্ধেক—এই বিষয়ে জ্ঞানের দৃঢ়তা, জগত নশ্বর—এই বিষয়ের জ্ঞানের চেয়ে শক্তিশালী। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এক্ষেত্রে তারতম্য হলো...
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৪)
ونحوه ليس من حيث الجزم، بل من حيث غيره كإلف النفس بأحد المعلومين دون الآخر.

(والجهل انتفاء العلم بالمقصود في الأصح) أي بما من شأنه أن يقصد ليعلم بأن لم يدرك ويسمى الجهل البسيط أو أدرك على خلاف هيئته في الواقع، ويسمى الجهل المركب لتركبه من جهلين جهل المدرك بما في الواقع، وجهله بأنه جاهل به كاعتقاد الفلسفي أن العالم قديم، وقيل الجهل إدراك العلوم على خلاف هيئته، فالجهل البسيط على الأول ليس جهلاً على هذا، واستغنى بانتفاء العلم عن التقييد في قول بعضهم عدم العلم عما من شأنه العلم لإخراج الجماد والبهيمة عن الاتصاف بالجهل لأن انتفاء العلم إنما يقال فيما من شأنه العلم بخلاف عدم العلم، وخرج بالمقصود غيره كأسفل الأرض وما فيه فلا يسمى انتفاء العلم به جهلاً اصطلاحا، والتعبير به أحسن كما قال البرماوي من تعبير بعضهم بالشيء، لأن الشيء لا يطلق على المعدوم بخلاف المقصود، ولأنه يشمل غير المقصود.

(والسهو الغفلة عن المعلوم) الحاصل فيتنبه له بأدنى تنبيه بخلاف النسيان، فهو زوال المعلوم فيستأنف تحصيله، وعرّفه الكرماني وغيره بزوال المعلوم عن القوّة الحافظة والمدركة والسهو بزواله عن الحافظة فقط، وذلك قريب مما ذكر، وجعلهما البرماوي من أقسام الجهل البسيط حيث قسمه إليهما وإلى غيرهما، ثم فرق بينهما بأنه إن قصر زمن الزوال سمي سهوا وإلا فنسيانا. قال وهذا أحسن ما فرق بيه بينهما.

 

‌‌مسألة هي إثبات عرض ذاتي للموضوع. (الأصح أن الحسن ما) أي فعل (يمدح) أي يؤمر بالمدح (عليه) . وهو الواجب والمندوب وفعل الله تعالى. (والقبيح ما يذم عليه) وهو الحرام. (فما لا) يمدح (ولا) يذم عليه من المكروه الشامل لخلاف الأولى والمباح. (واسطة) بين الحسن والقبيح، وهذا ما قاله
এবং অনুরূপ বিষয়টি দৃঢ় বিশ্বাসের দিক থেকে নয়, বরং অন্য দিক থেকে, যেমন দু’টি জ্ঞাত বিষয়ের মধ্যে একটির প্রতি মনের বিশেষ আসক্তি থাকা।

(অধিকতর বিশুদ্ধ মতানুসারে জাহল বা অজ্ঞতা হলো উদ্দেশ্য সম্পর্কে জ্ঞানের অনুপস্থিতি) অর্থাৎ যা জানার জন্য অন্বেষণ করা হয় তা উপলব্ধি না করা এবং একে সরল অজ্ঞতা বলা হয়। অথবা বাস্তব অবস্থার বিপরীতে কোনো কিছু উপলব্ধি করা এবং একে জটিল অজ্ঞতা বলা হয়; কারণ এটি দু’টি অজ্ঞতার সমন্বয়ে গঠিত—বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে উপলব্ধি না থাকা এবং নিজে যে এই বিষয়ে অজ্ঞ সে সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা, যেমন দার্শনিকদের এই বিশ্বাস করা যে জগত অনাদি। কেউ কেউ বলেছেন যে, জাহল হলো কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে উপলব্ধি করা; এমতাবস্থায় প্রথম মতানুযায়ী যাকে সরল অজ্ঞতা বলা হয়েছে, তা এই সংজ্ঞায় জাহল বলে গণ্য হবে না। কেউ কেউ 'জ্ঞানের অভাব' কথাটি ব্যবহার করে তার সাথে 'যার জ্ঞান অর্জনের যোগ্যতা আছে' এমন শর্ত যুক্ত করেছেন যাতে জড় পদার্থ ও পশু-পাখিকে অজ্ঞতার বিশেষণে বিশেষিত করা না হয়। তবে এখানে 'জ্ঞানের অনুপস্থিতি' শব্দটি সেই শর্তের প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে দিয়েছে, কারণ 'জ্ঞানের অনুপস্থিতি' কেবল তার ক্ষেত্রেই বলা হয় যার মধ্যে জ্ঞান থাকার যোগ্যতা রয়েছে, যা 'জ্ঞানের অভাব' শব্দের চেয়ে ভিন্ন। আর 'উদ্দেশ্য' শব্দটির মাধ্যমে অনর্থক বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়েছে, যেমন ভূগর্ভের নিম্নদেশ ও তার অভ্যন্তরীণ বস্তুসমূহ; সুতরাং পারিভাষিক অর্থে এগুলোর জ্ঞান না থাকাকে জাহল বলা হয় না। আল-বারমাওয়ী যেমনটি বলেছেন, কারো কারো ব্যবহৃত 'বস্তু' শব্দের চেয়ে 'উদ্দেশ্য' শব্দটি ব্যবহার করা অধিকতর উত্তম। কারণ 'বস্তু' শব্দটি অবাস্তব বা অনস্তিত্বশীল বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না, যা 'উদ্দেশ্য' শব্দের ক্ষেত্রে ভিন্ন। তাছাড়া 'বস্তু' শব্দটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে।

(সাহ্উ বা অসতর্কতা হলো অর্জিত জ্ঞান থেকে বিচ্যুত হওয়া) ফলে সামান্য সচেতন করাতেই সে সচেতন হয়ে যায়। এটি নিসইয়ান বা বিস্মৃতির চেয়ে ভিন্ন; কারণ নিসইয়ান হলো জ্ঞান অর্জিত হওয়ার পর তা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া, ফলে পুনরায় তা অর্জন করতে হয়। আল-কিরমানী ও অন্যান্যরা নিসইয়ানের সংজ্ঞা দিয়েছেন স্মৃতিশক্তি ও উপলব্ধি উভয়টি থেকে জ্ঞানের অন্তর্ধান হওয়া হিসেবে, আর সাহ্উ হলো কেবল স্মৃতিশক্তি থেকে জ্ঞানের বিচ্যুতি। এটি ইতিপূর্বে বর্ণিত সংজ্ঞার কাছাকাছি। আল-বারমাওয়ী এ দু’টিকে সরল অজ্ঞতার প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং একে এ দু’টি ও অন্যান্য ভাগে বিভক্ত করেছেন। অতঃপর তিনি এ দু’টির মধ্যে পার্থক্য করে বলেছেন যে, যদি বিস্মৃতির সময়কাল সংক্ষিপ্ত হয় তবে তাকে সাহ্উ বলা হয়, অন্যথায় তা নিসইয়ান। তিনি বলেন, এ দু’টির মধ্যকার পার্থক্যের ক্ষেত্রে এটিই সর্বাপেক্ষা সুন্দর ব্যাখ্যা।

 

‌‌মাসআলা: এটি হলো বিষয়ের জন্য তার সত্তাগত বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করা। (অধিকতর বিশুদ্ধ মতানুসারে 'হাসান' বা ভালো হলো সেই কর্ম যার জন্য প্রশংসা করা হয়)। অর্থাৎ, যার প্রশংসার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর তা হলো ওয়াজিব, মানদুব এবং মহান আল্লাহর কর্মসমূহ। (আর মন্দ বা 'কাবীহ' হলো সেই কর্ম যার জন্য নিন্দা করা হয়)। তা হলো হারাম। (অতঃপর যা) প্রশংসাও করা হয় না (এবং) নিন্দাও করা হয় না—যেমন মাকরূহ (যা উত্তমের পরিপন্থী বা খিলাফে আওলাকেও অন্তর্ভুক্ত করে) এবং মুবাহ—তা হলো ভালো ও মন্দের মধ্যবর্তী স্তর। আর এটিই সেই কথা যা তিনি বলেছেন।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৫)
إمام الحرمين في المكروه صريحا وفي المباح، وفعل غير المكلف لزوما، ورجحه الأصل في شرح المختصر في المكروه، وتبعه البرماوي فيه، وألحق به المباح بحثا، وقيل الحسن فعل المكلف المأذون فيه من واجب ومندوب ومباح، والقبيح ما نهى عنه شرعا ولو كان منهيا عنه بعموم النهي المستفاد من أوامر الندب كما مرّ، فيشمل الحرام والمكروه، وخلاف الأولى وهذا ما رجحه الأصل هنا فيهما ولأصحابنا فيهما عبارات أخرى. وللمعتزلة فيهما بناء على تحكيمهم العقل عبارات أيضا منها أن الحسن ما للقادر عليه العالم بحاله أن يفعله والقبيح بخلافه فيدخل فيه الحرام فقط، وفي الحسن ما سواه. ومنها أن الحسن هو الواقع على صفة توجب المدح والقبيح هو الواقع على صفة توجب الذم، فيدخل فيه الحرام فقط أيضا. وفي الحسن الواجب والمندوب، فالمكروه والمباح واسطة بين الحسن والقبيح.

(و) والأصح (أن جائز الترك) سواء كان جائز الفعل أيضا أم لا. (ليس بواجب) وإلا لامتنع تركه والفرض أنه جائز. وقال بعض الفقهاء يجب الصوم على الحائض والمريض والمسافر مع جواز تركهم له لقوله تعالى {فمن شهد منكم الشهر فليصمه} وهم شهدوه ولوجوب القضاء عليهم بقدر ما فاتهم فكان المأتيّ به بدلاً عن الفائت. وأجيب بأن شهود الشهر موجب عند انتفاء العذر لا مطلقا، وبأن وجوب القضاء إنما يتوقف على سبب الوجوب هو هنا شهود الشهر، وقد وجد لا على وجوب الأداء وإلا لما وجب قضاء الظهر مثلاً على من نام جميع وقتها. وقيل يجب الصوم على المسافر دون الحائض والمريض لقدرته عليه دونهما. وقيل يجب عليه دونهما أحد الشهرين الحاضر أو آخر بعده. (والخلف لفظي) أي راجع إلى اللفظ دون المعنى لأن ترك الصوم حال العذر جائز اتفاقا والقضاء بعد زواله واجب اتفاقا. (و) الأصح (أن المندوب مأمور به) أي مسمى به حقيقة كما نص عليه الشافعي وغيره، وقيل لا. والخلاف مبني على أن أم ر حقيقة في الإيجاب كصيغة افعل أو في القدر المشترك بينه وبين الندب أي طلب الفعل، والترجيح من زيادته، وعليه جرى الآمدي، أما إنه مأمور به بمعنى أنه متعلق الأمر أي صيغة افعل فلا نزاع فيه، سواء أقلنا إنها مجاز في الندب أم حقيقة فيه كالإيجاب خلاف يأتي. (و) الأصح (أنه) أي المندوب (ليس مكلفا به كالمكروه) فالأصح أنه ليس مكلفا به، وقيل مكلف بهما كالواجب والحرام ورجحوا الأول. (بناء على أن التكليف) اصطلاحا (إلزام ما فيه كلفة) أي مشقة من فعل أو ترك. (لا طلبه) وبه فسر القاضي أبو بكر الباقلاني أي لا طلب ما فيه كلفة على وجه الإلزام أو لا. فعلى تفسير التكليف بالأوّل يدخل الواجب والحرام فقط، وعلى تفسيره بالثاني يدخل جميع الأحكام إلا المباح، لكن أدخله الأستاذ أبو إسحاق الاسفرايني من حيث وجوب اعتقاد إباحته تتميما للأقسام، وإلا فغيره مثله في ذلك وإلحاقي المكروه بالمندوب هو

الوجه لا إلحاق المباح به كما سلكه الأصل، إذ لا إلزام فيه ولا طلب فلا يتأتى فيه القول بأنه مكلف به إلا على ما سلكه الأستاذ. (و) الأصح (أن المباح ليس بجنس للواجب) بل هما نوعان لجنس وهو فعل المكلف الذي تعلق به حكم شرعي، وقيل إنه جنس له لأنه مأذون في فعله وتحته أنواع الواجب والمندوب والمخير فيه والمكروه الشامل لخلاف الأولى، واختص الواجب بفصل المنع من الترك، قلنا واختص المباح أيضا بفصل الإذن في الترك على السواء والخلف لفظي، إذ المباح بالمعنى الأول أي المأذون فيه جنس للواجب اتفاقا وبالمعنى الثاني أي المخير فيه وهو المشهور غير جنس له اتفاقا. (و) الأصح (أنه) أي المباح (في ذاته غير مأمور به) فليس بواجب ولا مندوب. وقال الكعبي إنه مأمور به أي واجب إذ ما من مباح إلا ويتحقق به ترك حرام ما، فيتحقق بالسكوت ترك القذف، وبالسكون ترك القتل، وما يتحقق بالشيء لا يتم إلا به وترك الحرام واجب، وما لا يتم الواجب إلا به واجب كما سيجيء، فالمباح واجب ويأتي ذلك في غيره
ইমামুল হারামাইন মাকরূহের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে এবং মুবাহের ক্ষেত্রে হাসান হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আর মুকাল্লাফ নয় এমন ব্যক্তির কাজ আবশ্যিকভাবে হাসানের অন্তর্ভুক্ত। মূল লেখক (তাজউদ্দীন আল-সুবকী) 'শরহুল মুখতাসার'-এ মাকরূহের ক্ষেত্রে এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং আল-বারমাভীও এক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন। তিনি গবেষণার মাধ্যমে মুবাহকেও এর সাথে যুক্ত করেছেন। কেউ কেউ বলেন, হাসান হলো মুকাল্লাফের এমন কাজ যার অনুমতি শরীয়তে দেওয়া হয়েছে, চাই তা ওয়াজিব, মানদুব বা মুবাহ হোক। আর কাবিহ (মন্দ) হলো যা থেকে শরীয়তে নিষেধ করা হয়েছে, যদিও সেই নিষেধটি মুস্তাহাব নির্দেশের বিপরীতে সাধারণভাবে উপলব্ধ হয় যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং এটি হারাম, মাকরূহ এবং খিলাফে আওলা (উত্তম বর্জন)-কে অন্তর্ভুক্ত করে। মূল লেখক এখানে উভয় ক্ষেত্রে (হাসান ও কাবিহ) একেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমাদের সাথীদের (শাফেয়ীদের) আরও কিছু পরিভাষা রয়েছে। আকল বা বিবেককে প্রধান্য দেওয়ার ভিত্তিতে মুতাযিলাদেরও এ বিষয়ে কিছু বক্তব্য রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো, হাসান হলো এমন কাজ যা করার ক্ষমতা সম্পন্ন ও তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তির পক্ষে করা সম্ভব; আর কাবিহ হলো এর বিপরীত। এমতাবস্থায় হাসানের সংজ্ঞায় হারাম ব্যতীত বাকি সবকিছু দাখিল হবে। তাদের অন্য একটি মত হলো, হাসান হলো এমন কাজ যা প্রশংসার উদ্রেককারী গুণের ওপর সংঘটিত হয়, আর কাবিহ হলো এমন কাজ যা নিন্দার উদ্রেককারী গুণের ওপর সংঘটিত হয়। এমতাবস্থায়ও শুধু হারাম কাবিহ-এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর ওয়াজিব ও মানদুব হাসানের অন্তর্ভুক্ত হবে। ফলে মাকরূহ ও মুবাহ হাসান ও কাবিহ-এর মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে গণ্য হবে।

(এবং) অধিকতর সঠিক মত হলো (যা বর্জন করা বৈধ) চাই তা করাও বৈধ হোক বা না হোক (তা ওয়াজিব নয়)। অন্যথায় তা বর্জন করা অসম্ভব হতো, অথচ শর্তানুসারে তা বৈধ। কতিপয় ফকীহ বলেন, ঋতুবতী নারী, অসুস্থ ব্যক্তি ও মুসাফিরের ওপর রোজা ওয়াজিব, যদিও তা বর্জন করা তাদের জন্য বৈধ। এর সপক্ষে তারা আল্লাহর বাণী উপস্থাপন করেন: "তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে সে যেন তাতে রোজা রাখে।" আর তারা এই মাসটি প্রত্যক্ষ করেছে। তা ছাড়া তাদের ওপর রোজা কাজা করা ওয়াজিব হওয়াও এর প্রমাণ, ফলে আদায়কৃত আমলটি বর্জিত আমলের স্থলাভিষিক্ত হবে। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, মাসের উপস্থিতি ওয়াজিব হওয়ার কারণ তখনই হবে যখন ওযর বা ওজর থাকবে না, নিরঙ্কুশভাবে নয়। আর কাজা ওয়াজিব হওয়া মূলত ওয়াজিব হওয়ার কারণের (সববুল উজুব) ওপর নির্ভর করে, যা এখানে মাস পাওয়া; এবং তা পাওয়া গেছে। এটি আদায়ের আবশ্যিকতার (উজুবুল আদা) ওপর নির্ভর করে না; অন্যথায় যে ব্যক্তি যোহরের পুরো সময় ঘুমিয়ে কাটিয়েছে তার ওপর কাজা ওয়াজিব হতো না। কেউ কেউ বলেন, মুসাফিরের ওপর রোজা ওয়াজিব, কিন্তু ঋতুবতী ও অসুস্থ ব্যক্তির ওপর নয়; কারণ মুসাফিরের রোজা রাখার সক্ষমতা রয়েছে যা অন্য দুজনের নেই। আবার কেউ কেউ বলেন, বর্তমান মাস অথবা তার পরবর্তী অন্য কোনো মাসে তাদের ওপর রোজা রাখা ওয়াজিব। (এই মতভেদটি শাব্দিক) অর্থাৎ এটি শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থের সাথে নয়। কারণ ওযর থাকা অবস্থায় রোজা বর্জন করা যে বৈধ তা সর্বসম্মত, এবং ওযর দূর হওয়ার পর কাজা করা যে ওয়াজিব তাও সর্বসম্মত। (এবং) অধিকতর সঠিক মত হলো (মানদুব বা পছন্দনীয় কাজ আদিষ্ট বা নির্দেশিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত)। অর্থাৎ মানদুবকে প্রকৃত অর্থেই আদিষ্ট বলা হয়, যেমনটি ইমাম শাফেয়ী ও অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ বলেন, তা আদিষ্ট নয়। এই মতভেদটি এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে, 'আমর' বা নির্দেশ কি প্রকৃত অর্থে কেবল ওয়াজিব করার জন্য (যেমন 'ইফআল' বা 'তুমি করো' ক্রিয়া রূপটি), নাকি এটি ওয়াজিব ও মানদুবের মাঝে সাধারণ কোনো অর্থ অর্থাৎ 'কাজটি করার তলব বা দাবি' অর্থে ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতটি অতিরিক্ত অংশ হতে নেওয়া হয়েছে এবং আল-আমিদী এই পথই অনুসরণ করেছেন। তবে মানদুব যে আদিষ্ট বিষয়—এই অর্থে যে তা 'আমর' বা নির্দেশের সাথে সংশ্লিষ্ট—এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই। আমরা নির্দেশের শব্দরূপকে মানদুবের ক্ষেত্রে রূপক বলি বা ওয়াজিবের মতো প্রকৃত অর্থেই বলি, এ সংক্রান্ত মতভেদ সামনে আসবে। (এবং) অধিকতর সঠিক মত হলো (মানদুব 'মুকাল্লাফ বিহি' বা অর্পিত দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমনটি মাকরূহ)। অর্থাৎ সঠিক মত অনুযায়ী মানদুব ও মাকরূহ শরয়ী দায়বদ্ধতার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেউ কেউ বলেন, ওয়াজিব ও হারামের মতো এই দুটিও মুকাল্লাফ বিহি-এর অন্তর্ভুক্ত; তবে প্রথম মতটিকেই তারা প্রাধান্য দিয়েছেন। (এর ভিত্তি হলো যে, তাকলীফ) পরিভাষায় (এমন বিষয়কে আবশ্যক করা যার মধ্যে ক্লেশ রয়েছে) অর্থাৎ কাজ করা বা বর্জনের ক্ষেত্রে কষ্টসাধ্য কিছুকে বাধ্যতামূলক করা। (কেবল কোনো কিছুর তলব বা দাবি করাকে তাকলীফ বলে না)। কাজী আবু বকর আল-বাকিলানী এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ কোনো ক্লেশকর বিষয়কে বাধ্যতামূলকভাবে তলব করা হোক বা না হোক, কেবল তলব করলেই তাকে তাকলীফ বলা হবে না। সুতরাং তাকলীফ-এর প্রথম ব্যাখ্যা অনুযায়ী কেবল ওয়াজিব ও হারাম এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী মুবাহ ব্যতীত সকল আহকাম এর অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী মুবাহকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন এই দিক থেকে যে, পূর্ণাঙ্গতা দানের উদ্দেশ্যে মুবাহকে মুবাহ হিসেবে বিশ্বাস করা ওয়াজিব। অন্যথায় অন্যান্য আহকামও এ ক্ষেত্রে একই রকম। আর মাকরূহকে মানদুবের সাথে যুক্ত করাই

যৌক্তিক, মুবাহকে এর সাথে যুক্ত করা নয় যেমনটি মূল লেখক করেছেন। কারণ মুবাহের মধ্যে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং কোনো দাবিও নেই। ফলে উস্তাদ আল-ইসফারায়িনীর মত ছাড়া অন্য কোনোভাবে মুবাহকে তাকলীফ-এর অন্তর্ভুক্ত বলার অবকাশ নেই। (এবং) অধিকতর সঠিক মত হলো (মুবাহ ওয়াজিবের কোনো লিঙ্গ বা জেনাস নয়)। বরং এই দুটিই এক প্রকারের জেনাসের অন্তর্ভুক্ত দুটি ভিন্ন প্রজাতি, আর সেই জেনাসটি হলো 'মুকাল্লাফের কাজ যার সাথে শরয়ী বিধান সংশ্লিষ্ট'। কেউ কেউ বলেন, মুবাহ হলো ওয়াজিবের জন্য জেনাস স্বরূপ; কারণ এটি এমন কাজ যার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এর অধীনে ওয়াজিব, মানদুব, ঐচ্ছিক কাজ এবং মাকরূহ (যা খিলাফে আওলাকেও অন্তর্ভুক্ত করে) দাখিল হয়। আর ওয়াজিব 'বর্জন নিষিদ্ধ হওয়া' নামক বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র হয়েছে। আমরা বলি, মুবাহও 'বর্জন করা বৈধ হওয়া' নামক বৈশিষ্ট্যের কারণে সমভাবে স্বতন্ত্র হয়েছে। আসলে এই মতভেদটি শাব্দিক; কারণ মুবাহ যদি প্রথম অর্থে অর্থাৎ 'অনুমোদিত কাজ' হিসেবে ধরা হয়, তবে তা সর্বসম্মতভাবে ওয়াজিবের জেনাস। আর যদি দ্বিতীয় অর্থে অর্থাৎ 'ঐচ্ছিক কাজ' হিসেবে ধরা হয়, তবে এটিই প্রসিদ্ধ এবং তা সর্বসম্মতভাবে ওয়াজিবের জেনাস নয়। (এবং) অধিকতর সঠিক মত হলো (মুবাহ স্বীয় সত্তার দিক থেকে আদিষ্ট বিষয় নয়)। সুতরাং এটি ওয়াজিবও নয়, মানদুবও নয়। তবে আল-কাব্বী বলেছেন যে, মুবাহ হলো আদিষ্ট অর্থাৎ ওয়াজিব। কেননা এমন কোনো মুবাহ কাজ নেই যার মাধ্যমে কোনো না কোনো হারাম বর্জন করা বাস্তবায়িত হয় না। যেমন চুপ থাকার মাধ্যমে অপবাদ প্রদান বর্জন করা হয়, আর স্থির থাকার মাধ্যমে হত্যা বর্জন করা হয়। আর যা দ্বারা কোনো উদ্দেশ্য সফল হয়, তা ব্যতিরেকে সেই উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় না। যেহেতু হারাম বর্জন করা ওয়াজিব, এবং যা ছাড়া ওয়াজিব পূর্ণ হয় না তাও ওয়াজিব (যেমনটি সামনে আসবে), তাই মুবাহ কাজও ওয়াজিব। এই বিষয়টি অন্যান্য ক্ষেত্রেও আসবে।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৬)
كالمكروه والخلف لفظي، فإن الكعبي قائل بأنه غير مأمور به من حيث ذاته ومأمور به من حيث ما عرض له من تحقق ترك الحرام به وغيره لا يخالفه فيهما، فقولي في ذاته قيد للقول بأن المباح غير مأمور به لا لمحل الخلاف، وسيأتي ماله بذلك تعلق. (و) الأصح (أن الإباحة حكم شرعي) لأنها التخيير بين الفعل والترك المتوقف وجوده كبقية الأحكام على الشرع كما مر. وقال بعض المعتزلة لا لأنها انتفاء الحرج عن الفعل والترك وهو ثابت قبل ورود الشرع مستمر بعده. (والخلف) في المسائل الثلاث (لفظي) أي راجع إلى اللفظ دون المعنى. أما في الأوليين فلما مر، وأما في الثالثة فلأن الدليلين لم يتواردا على محل واحد، فتأخيري لهذا عن الثلاث أولى من تقديم الأصل له على الأخيرة.

واعلم أن ما سلكته في مسألة الكعبي تبعت فيه هنا الأكثر، وأولى منه ما ملكته في الحاشية أخذا من كلام بعض المحققين من تحريم الكلام فيها بوجه آخر، ومن رد دليل الكعبي بما يقتضي أن الخلاف معنوي وإن خالف ذلك ظاهر كلام الكعبي. (و) الأصحّ (أن الوجوب) لشيء (إذا نسخ) كأن قال الشارع نسخت وجوبه أو حرمة تركه (بقي الجواز) له الذي كان في ضمن وجوبه من الإذن في الفعل بما يقوّمه من الإذن في الترك. وقال الغزالي لا يبقى لأن نسخ الوجوب يجعله كأن لم يكن ويرجع الأمر إلى ما كان قبله من تحريم أو إباحة أو براءة أصلية فالخلف معنوي. (وهو) أي الجواز المذكور (عدم الحرج) في الفعل والترك من الإباحة أو الندب أو الكراهة بالمعنى الشامل لخلاف الأولى. (في الأصح) إذ لا دليل على تعيين أحدها، وقيل هو الإباحة فقط، إذ بارتفاع الوجوب ينتفي الطلب فيثبت التخيير، وقيل هو الندب فقط، إذ المتحقق بارتفاع الوجوب انتفاء الطلب الجازم فيثبت الطلب غير الجازم. والحاصل أنه يعتبر في الجواز المذكور رفع الحرج عن الفعل والترك في الأقوال الثلاثة، لكنه مطلق في الأول منها ومقيد باستواء الطرفين في الثاني، وبترجح الفعل في الثالث فالخلف معنويّ هكذا أفهم.

 

‌‌مسألة في الواجب الحرام المخيرين (الأمر بأحد أشياء) معينة كما في كفارة اليمين. (يوجبه) أي الأحد (مبهما عندنا) وهو القدر المشترك بينها في ضمن أيّ معين منها لأنه المأمور به، وقيل يوجبه معينا عند الله تعالى، فإن فعل المكلف المعين فذاك أو فعل غيره منها سقط بفعله الواجب، وقيل يوجبه كذلك، وهو ما يختاره المكلف بأن علم الله منه أنه لا يختار سواه، وإن اختلف باختيار المكلفين. وقيل يوجب الكل فيثاب بفعلها ثواب واجبات، ويعاقب بتركها عقاب ترك واجبات، ويسقط الكل الواجب بواحد منها، لأن الأمر تعلق بكل منها بخصوصه على وجه الاكتفاء بواحد منها. قلنا إن سلم ذلك لا يلزم منه وجوب الكل المرتب عليه ذلك والقول الأخير والثاني للمعتزلة، فهم متفقون على نفي أيجاب واحد منهم كنفيهم تحريمه كما سيجيء لما قالوا من أن إيجاب الشيء أو تحريمه لما في تركه، أو فعله من المفسدة التي يدركها العقل، وإنما يدركها في المعين، والثالث يسمى قول التراجم، لأن كلاًّ من الأشاعرة والمعتزلة تنسبه إلى الأخرى فاتفق الفريقان على بطلانه. (فـ) ـعلى الأصح (إن فعلها) كلها (فالمختار) أنه (إن فعلها مرتبة فالواجب) أي
মাকরূহের মতোই এবং এ মতভেদটি শাব্দিক; কারণ আল-কাবী বলেন যে, মুবাহ তার স্বীয় সত্তার দিক থেকে নির্দেশিত নয়, তবে হারাম ত্যাগ করা এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তা নির্দেশিত। অন্যরাও এই উভয় বিষয়ে তার সাথে দ্বিমত পোষণ করেন না। সুতরাং আমার উক্তি "তার স্বীয় সত্তার দিক থেকে" এটি মুবাহ নির্দেশিত নয়—এই কথার জন্য একটি শর্ত, মতভেদের স্থলের জন্য নয়। এ সংক্রান্ত আলোচনা সামনে আসবে। (এবং) বিশুদ্ধতম মত হলো যে, (মুবাহ হওয়া একটি শরয়ী বিধান), কারণ এটি কাজ করা বা না করার মধ্যে পছন্দ করার স্বাধীনতা দেওয়া, যার অস্তিত্ব অন্যান্য বিধানের মতো শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। কিছু মুতাযিলা বলেছেন, "না", কারণ এটি কাজ করা বা বর্জনের ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা না থাকা মাত্র, যা শরীয়ত আসার আগেও সাব্যস্ত ছিল এবং পরেও অব্যাহত রয়েছে। (আর এই তিনটি মাসআলায় মতভেদটি শাব্দিক), অর্থাৎ তা শব্দের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, অর্থের দিকে নয়। প্রথম দুটির কারণ পূর্বে গত হয়েছে। আর তৃতীয়টির কারণ হলো, দুটি দলিল একই বিষয়ের ওপর আপতিত হয়নি। সুতরাং এই তিনটি বিষয়কে শেষে আনা মূলনীতির আলোচনার পরে আনার চেয়ে উত্তম।

জেনে রাখুন যে, আল-কাবীর মাসআলায় আমি এখানে অধিকাংশের অনুসরণ করেছি। এর চেয়ে উত্তম হলো যা আমি টীকায় কিছু গবেষকের বক্তব্য থেকে গ্রহণ করে উল্লেখ করেছি যে, অন্যভাবে এতে কথা বলা নিষিদ্ধ। আর আল-কাবীর দলিলকে এমনভাবে খণ্ডন করা হয়েছে যা দাবি করে যে মতভেদটি অর্থগত, যদিও তা আল-কাবীর বক্তব্যের প্রকাশ্য রূপের বিপরীত। (এবং) বিশুদ্ধতম মত হলো, কোনো বিষয়ের (ওয়াজিব হওয়া) যখন (রহিত করা হয়), যেমন শরীয়ত দাতা বললেন: "আমি এর ওয়াজিব হওয়া বা এটি বর্জনের হারাম হওয়াকে রহিত করলাম", তখন তার (বৈধতা অবশিষ্ট থাকে), যা তার ওয়াজিব হওয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল—অর্থাৎ কাজ করার অনুমতি এবং বর্জন করার অনুমতির সমন্বয়ে যা গঠিত। ইমাম গাযালী বলেছেন, বৈধতা অবশিষ্ট থাকে না; কারণ ওয়াজিব রহিত হওয়া একে এমন করে দেয় যেন তার অস্তিত্বই ছিল না, ফলে বিষয়টি তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়—তা হারাম হোক, মুবাহ হোক বা মৌলিক দায়মুক্তি হোক। সুতরাং মতভেদটি অর্থগত। (আর সেটি) অর্থাৎ উল্লিখিত বৈধতা হলো কাজ ও বর্জনের ক্ষেত্রে (সংকীর্ণতা বা গুনাহ না থাকা), যা মুবাহ, মুস্তাহাব বা মাকরূহ (উত্তম বর্জনের অর্থসহ) সব অর্থকেই শামিল করে। (এটিই বিশুদ্ধতম মত); যেহেতু এর কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করার কোনো দলিল নেই। কেউ বলেছেন এটি কেবল মুবাহ হওয়া; কারণ ওয়াজিব চলে যাওয়ার মাধ্যমে তলব বা দাবি দূর হয়ে যায়, ফলে পছন্দ করার স্বাধীনতা সাব্যস্ত হয়। কেউ বলেছেন এটি কেবল মুস্তাহাব হওয়া; কারণ ওয়াজিব বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে সুনিশ্চিত দাবি দূর হয় কিন্তু অনিশ্চিত দাবি সাব্যস্ত থাকে। সারকথা হলো, উল্লিখিত বৈধতার ক্ষেত্রে তিনটি মতেই কাজ ও বর্জনের ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা দূর হওয়া বিবেচিত, তবে প্রথম মতে তা নিঃশর্ত, দ্বিতীয় মতে তা দুই দিকের সমতার শর্তযুক্ত, এবং তৃতীয় মতে কাজের দিকটি প্রাধান্য পাওয়ার শর্তযুক্ত। সুতরাং মতভেদটি অর্থগত—এভাবেই আমি বুঝেছি।

 

‌‌ঐচ্ছিক ওয়াজিব ও হারামের মাসআলা (নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের কোনো একটির নির্দেশ দেওয়া) যেমন কসমের কাফফারার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। (তা ওয়াজিব করে) অর্থাৎ সেই একটি বিষয়কে (আমাদের নিকট অস্পষ্টভাবে ওয়াজিব করে)। আর তা হলো এগুলোর মধ্য থেকে যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ পরিমাণ; কেননা সেটিই নির্দেশিত। কেউ বলেছেন, এটি আল্লাহর নিকট নির্দিষ্টভাবেই ওয়াজিব হয়। যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সেই নির্দিষ্ট বিষয়টি সম্পাদন করে তবে তো হলোই, আর যদি অন্যটি সম্পাদন করে তবে তার কর্মের দ্বারা ওয়াজিব রহিত হয়ে যাবে। কেউ বলেছেন, তা ঐভাবেই ওয়াজিব হয় যা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি পছন্দ করে নেবে—এভাবে যে আল্লাহ আগে থেকেই জানেন সে এটি ছাড়া অন্য কিছু পছন্দ করবে না, যদিও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পছন্দের ভিন্নতায় তা ভিন্ন ভিন্ন হয়। কেউ বলেছেন, সবগুলোই ওয়াজিব হয়, ফলে সেগুলো সম্পাদনের মাধ্যমে একাধিক ওয়াজিবের সওয়াব পাওয়া যাবে এবং সবগুলো বর্জনের কারণে একাধিক ওয়াজিব ত্যাগের শাস্তি হবে, তবে এগুলোর যেকোনো একটির মাধ্যমে ওয়াজিবের জিম্মাদারি রহিত হয়ে যাবে। কারণ নির্দেশটি এগুলোর প্রত্যেকটির সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট হয়েছে এই শর্তে যে একটি করলেই যথেষ্ট হবে। আমরা বলি: যদি তা মেনেও নেওয়া হয়, তবুও এর দ্বারা সবগুলোর ওয়াজিব হওয়া আবশ্যক হয় না। শেষোক্ত এবং দ্বিতীয় মতটি মুতাযিলাদের। তারা এগুলোর কোনো একটির ওয়াজিব হওয়াকে অস্বীকার করার ব্যাপারে একমত, যেমনটি তারা এগুলোর হারাম হওয়াকেও অস্বীকার করে যা সামনে আসবে। কারণ তারা বলে যে, কোনো বিষয় ওয়াজিব বা হারাম হওয়া নির্ভর করে তা বর্জন বা সম্পাদনের মাঝে বিদ্যমান এমন কোনো অনিষ্টের ওপর যা বুদ্ধি দ্বারা উপলব্ধি করা যায়; আর তা কেবল নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রেই উপলব্ধি করা সম্ভব। তৃতীয় মতটিকে 'তরাজুম' বলা হয়; কারণ আশআরী ও মুতাযিলা উভয় দলই একে অপরের দিকে এটি নিসবত করে। ফলে উভয় দলই এর অসারতার ওপর একমত হয়েছে। (অতঃপর) বিশুদ্ধতম মতানুযায়ী (যদি সে সবগুলোই সম্পাদন করে), তবে পছন্দনীয় মত হলো (যদি সে ক্রমান্বয়ে সেগুলো সম্পাদন করে তবে ওয়াজিব হলো)...
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৭)
المثاب عليه ثواب الواجب الذي هو كثواب سبعين مندوبا (أولها) وإن تفاوتت لتأدّى الواجب به من حيث إنه مبهم. (أو) فعلها كلها (معا فأعلاها) ثوابا الواجب لأنه لو اقتصر لأثيب عليه ثواب الواجب الأكمل فضمّ غيره إليه لا ينقصه عن ذلك. (وإن تركها) كلها (عوقب بأدناها) عقابا إن عوقب، لأنه لو فعله فقط من حيث إنه مبهم لم يعاقب، فإن تساوت وفعلت معا أو تركت فثواب الواجب والعقاب على واحد منها. وقيل الواجب فيما إذا تفاوتت أعلاها ثوابا، وفيما إذا تساوت أحدها وإن فعلت مرتبة فيهما لما مر، فإن تركت فحكمه موافق للمختار ويثاب ثواب المندوب في كل قول على غير ما ذكر لثواب الواجب، وذكر حكم التساوي في المرتبة مع الترجيح في البقية من زيادتي المقتضية من حيث الترجيح لإبدال قوله في المرتبة أعلاها بقولي أولها، وبما قررته علم أن محل ثواب الواجب والعقاب أحدها مبهما لا من حيث خصوصه، حتى إن الواجب ثوابا في المرتبة أولها من حيث إنه مبهم لا من حيث خصوصه، وكذا يقال في كل من الزائد على ما يتأدّى به الواجب، منها أنه يثاب عليه ثواب المندوب من حيث إنه مبهم لا من حيث خصوصه. (ويجوز تحريم واحد مبهم) من أشياء معينة (عندنا) نحو لا تتناول السمك أو اللبن أو البيض، فعلى المكلف تركه في أي معين منها، وله فعله في غيره، إذ لا مانع من ذلك ومنعه المعتزلة كمنعهم إيجابه لما مر عنهم فيهما. وزعمت طائفة منهم أنه لم ترد به اللغة، وهذا (كـ) ـالواجب (المخير) فيما مر فيه فالنهي عن واحد مبهم مما ذكر يحرّمه مبهما. وقيل يحرمه معينا عند الله تعالى ويسقط تركه الواجب بتركه أو ترك غيره منها. فالتارك لبعضها إن صادف المحرم فذاك، وإلا فقد ترك بدله، وقيل يحرمه كذلك وهو ما يختاره المكلف، وقيل يحرمها كلها فيعاقب بفعلها عقاب فعل محرمات ويثاب بتركها امتثالاً ثواب ترك محرمات، ويسقط تركها الواجب بترك واحد منها، فعلى الأول إن تركها كلها امتثالاً وتفاوتت، فالمختار أنه يثاب على ترك أشدها عقابا وإن فعلها مرتبة عوقب على آخرها، وإن تفاوتت لارتكابه المحرم به أو فعلها معا عوقب على أخفها عقابا،

যার ওপর ওয়াজিবের সওয়াব প্রদান করা হয়—যা সত্তরটি নফলের সওয়াবের সমতুল্য—তা হলো (প্রথমটি), যদিও সেগুলোর মাঝে সওয়াবের তারতম্য থাকে; কারণ ওয়াজিব এর মাধ্যমে আদায় হয়ে যায় এ দিক থেকে যে এটি অনির্দিষ্ট। (অথবা) যদি সে সবকটি (একসাথে) সম্পাদন করে, তবে সওয়াবের দিক থেকে যা (সর্বোচ্চ), সেটিই ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ সে যদি কেবল সেটিই সম্পাদন করত, তবে সে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ওয়াজিবের সওয়াব পেত। সুতরাং অন্য কিছুকে এর সাথে যুক্ত করা তাকে সেই সওয়াব থেকে কমিয়ে দেবে না। (আর যদি সে সেগুলো) সবকটি (বর্জন করে), তবে তাকে (সবচেয়ে নিম্নস্তরের) শাস্তি প্রদান করা হবে—যদি তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। কারণ সে যদি কেবল সেই একটিই সম্পাদন করত এ দিক থেকে যে এটি অনির্দিষ্ট, তবে তাকে শাস্তি দেওয়া হতো না। আর যদি সেগুলো সমান হয় এবং একসাথে সম্পাদন করা হয় বা বর্জন করা হয়, তবে ওয়াজিবের সওয়াব এবং শাস্তি সেগুলোর একটির ওপর বর্তাবে। একটি মতে বলা হয়েছে যে, যদি এগুলোর মাঝে সওয়াবের তারতম্য থাকে তবে যা সর্বোচ্চ সেটিই ওয়াজিব, আর যদি সমান হয় তবে সেগুলোর যেকোনো একটি; যদিও উভয় ক্ষেত্রে সেগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পাদন করা হয় যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি বর্জন করা হয়, তবে তার বিধান পছন্দনীয় মতের (মুখতার) অনুরূপ হবে। আর ওয়াজিবের সওয়াবের জন্য যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ব্যতীত অন্য সব ক্ষেত্রে প্রতিটি মত অনুযায়ী নফলের সওয়াব প্রদান করা হবে। পর্যায়ক্রমিক হওয়ার ক্ষেত্রে সমতার বিধান এবং বাকিগুলোর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের বিষয়টি আমার নিজস্ব সংযোজন; যা অগ্রাধিকার প্রদানের দিক থেকে মূল লেখকের উক্তি 'পর্যায়ক্রমিক হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চটি' কে আমার উক্তি 'প্রথমটি' দ্বারা পরিবর্তন করাকে আবশ্যক করে। আমি যা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি তা থেকে জানা গেল যে, ওয়াজিবের সওয়াব এবং শাস্তির প্রকৃত স্থল হলো সেগুলোর অনির্দিষ্ট কোনো একটি, তার সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে নয়। এমনকি পর্যায়ক্রমিক হওয়ার ক্ষেত্রে সওয়াবের দিক থেকে প্রথমটি ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো এটি অনির্দিষ্ট হওয়া, এর সুনির্দিষ্ট সত্তার কারণে নয়। অনুরূপভাবে ওয়াজিব আদায় হওয়ার অতিরিক্ত যা কিছু রয়েছে তার প্রতিটি সম্পর্কেও বলা হবে যে, সেগুলোর ওপর নফলের সওয়াব প্রদান করা হবে এ দিক থেকে যে এটি অনির্দিষ্ট, এর সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে নয়। (এবং আমাদের মতে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের মধ্য থেকে কোনো একটি অনির্দিষ্ট বিষয় হারাম করা বৈধ), যেমন: তুমি মাছ অথবা দুধ অথবা ডিম গ্রহণ করো না। এমতাবস্থায় মুকাল্লাফের ওপর কর্তব্য হলো সেগুলোর যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় বর্জন করা, আর অন্যগুলো গ্রহণ করার অধিকার তার রয়েছে; যেহেতু এতে কোনো বাধা নেই। তবে মুতাযিলারা এটি নিষিদ্ধ করেছে, যেমন তারা ইতিপূর্বে উল্লিখিত কারণে ওয়াজিব করার বিষয়টিকেও অস্বীকার করেছিল। তাদের একদল দাবি করেছে যে, ভাষাগতভাবে এর কোনো প্রয়োগ নেই। আর এটি ইতিপূর্বে আলোচিত (ঐচ্ছিক) ওয়াজিবের বিধানের মতোই। সুতরাং উল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি অনির্দিষ্ট বিষয়কে নিষিদ্ধ করা তাকে অনির্দিষ্টভাবেই হারামে পরিণত করে। কেউ কেউ বলেছেন, এটি আল্লাহ তাআলার নিকট নির্দিষ্টভাবেই হারাম এবং তার ওয়াজিব বর্জনের দায়িত্ব সেই সুনির্দিষ্টটি বর্জন করার মাধ্যমে অথবা অন্য কোনোটি বর্জনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি সেগুলোর কিছু বর্জন করল, সে যদি হারামের সাথে মিলে যায় তবে তো হলোই, অন্যথায় সে তার বিকল্প বর্জন করল। আবার বলা হয়েছে যে, সেটি একইভাবে হারাম হবে এবং সেটি হবে তাই যা মুকাল্লাফ নিজে চয়ন করবে। আরও বলা হয়েছে যে, সেগুলো সবকটিই হারাম হবে। এমতাবস্থায় সেগুলো সম্পাদন করলে একাধিক হারাম লিপ্ত হওয়ার শাস্তি হবে এবং আনুগত্যের উদ্দেশ্যে সেগুলো বর্জন করলে একাধিক হারাম বর্জনের সওয়াব পাওয়া যাবে। তবে সেগুলোর যেকোনো একটি বর্জন করলেই ওয়াজিব বর্জনের দায়িত্ব পালন হয়ে যাবে। প্রথম মতানুসারে, যদি সে আনুগত্যের উদ্দেশ্যে সবকটি বর্জন করে এবং সেগুলোর শাস্তির মাত্রায় তারতম্য থাকে, তবে পছন্দনীয় মত হলো যে, তাকে সবচেয়ে কঠোর শাস্তির বিষয়টি বর্জন করার সওয়াব দেওয়া হবে। আর যদি সে সেগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পাদন করে, তবে তাকে সর্বশেষটির জন্য শাস্তি দেওয়া হবে। আর যদি হারামে লিপ্ত হওয়ার কারণে শাস্তির তারতম্য হয় অথবা সে সবকটি একসাথে সম্পাদন করে, তবে তাকে সবচেয়ে লঘু শাস্তির অপরাধের জন্য শাস্তি প্রদান করা হবে।

(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৮)
فإن تساوت وفعلت معا أو تركت فالمعتبر أحدها. وقيل المحرم فيما إذا فعلت ولو مرتبة أخفها عقابا.

تنبيه:

المندوب كالواجب والمكروه كالحرام فيما ذكر.

‌‌(مسألة فرض الكفاية) المنقسم إليه وإلى فرض العين مطلق الفرض السابق حده (مهم يقصد) شرعا (جزما) من زيادتي (حصوله من غير نظر بالذات لفاعله) وإنما ينظر إليه بالتبع للفعل ضرورة أنه لا يحصل بدون فاعل وشمل الحد الديني كصلاة الجنازة والأمر بالمعروف والدنيوي كالحرف والصنائع، وخرج عنه السنة إذ لم يجزم بقصد حصولها، وفرض العين فإنه منظور بالذات لفاعله حيث قصد حصوله من كل عين أي واحد من المكلفين أو من عين مخصوصة كالنبي صلى الله عليه وسلم فيما خص به. (والأصح أنه دون فرض العين) أي فرض العين أفضل منه كما نقله الشهاب ابن العماد عن الشافعي رضي الله عنه. قال ونقله عنه القاضي أبو الطيب، وذلك لشدة اعتناء الشارع به بقصد حصوله من كل مكلف في الأغلب، ويدل له تعليل الأصحاب تبعا للإمام الشافعي كراهة قطع طواف الفرض لصلاة الجنازة بأنه لا يحسن ترك فرض العين لفرض الكفاية. وقال إمام الحرمين وغيره فرض الكفاية أفضل لأنه يصان بقيام البعض به جميع المكلفين عن إثمهم المترتب على تركهم له، وفرض العين إنما يصان بالقيام به عن الإثم الفاعل فقط وترجيح الأول من زيادتي. (و) الأصح (أنه) أي فرض الكفاية (على الكل) لإثمهم بتركه كما في فرض العين، ولقوله تعالى {قاتلوا الذين لا يؤمنون بالله} وهذا ما عليه الجمهور ونص عليه الشافعي في الأم. (ويسقط) الفرض (بفعل البعض) لأن المقصود كما مر حصول الفعل لا ابتلاء كل مكلف به ولا بعد في سقوط الفرض عن الشخص بفعل غيره كسقوط الدّين عنه بأداء غيره عنه، وقيل فرض الكفاية على البعض لا الكل ورجحه الأصل وفاقا بزعمه للإمام الرازي للاكتفاء بحصوله
যদি সেগুলো সমান হয় এবং একত্রে সম্পাদন করা হয় অথবা বর্জন করা হয়, তবে সেগুলোর একটিই বিবেচ্য হবে। আর বলা হয়েছে যে, যদি সেগুলো পর্যায়ক্রমেও করা হয়, তবে যার শাস্তি সবচেয়ে হালকা তা-ই নিষিদ্ধ হিসেবে গণ্য হবে।

সতর্কীকরণ:

উল্লিখিত বিষয়ে মুস্তাহাব ওয়াজিবের ন্যায় এবং মাকরুহ হারামের ন্যায়।

‌‌(ফরজে কিফায়া প্রসঙ্গ) যা ফরজে কিফায়া এবং ফরজে আইন—এই দুই ভাগে বিভক্ত, তা হলো সাধারণ ফরজ যার সংজ্ঞা পূর্বে প্রদান করা হয়েছে। (গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা উদ্দেশ্য) শরয়িভাবে (অনিবার্যভাবে) - এটি আমার সংযোজন - (তা অর্জিত হওয়া, স্বয়ং কর্তার দিকে মৌলিকভাবে লক্ষ্য না করে)। বরং কর্মের অনুগামী হিসেবেই কর্তার দিকে লক্ষ্য করা হয়, কারণ আবশ্যিকভাবেই কোনো কর্তা ব্যতীত কর্ম সম্পাদিত হয় না। এই সংজ্ঞা দ্বীনি বিষয় যেমন জানাজার নামাজ ও সৎ কাজের আদেশ, এবং পার্থিব বিষয় যেমন বিভিন্ন পেশা ও শিল্পকর্মকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর সুন্নাত এর বাইরে থেকে গেছে, কারণ সুন্নাত অর্জনের উদ্দেশ্য অনিবার্য নয়। অনুরূপভাবে ফরজে আইনও এর বাইরে, কারণ এতে মৌলিকভাবে কর্তার দিকে লক্ষ্য রাখা হয়; যেহেতু প্রত্যেক ব্যক্তি অর্থাৎ প্রত্যেক মুকাল্লাফ থেকে তা অর্জিত হওয়া উদ্দেশ্য থাকে, অথবা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি থেকে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য যা নির্দিষ্ট ছিল। (এবং বিশুদ্ধতর মত হলো, এটি ফরজে আইনের চেয়ে নিম্নতর) অর্থাৎ ফরজে আইন এর চেয়ে উত্তম, যেমনটি শিহাব ইবনুল ইমাদ ইমাম শাফেয়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি তাঁর থেকে কাজি আবু তাইয়িবও বর্ণনা করেছেন। আর তা একারণে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শারিয়াত প্রণেতা প্রতিটি মুকাল্লাফ থেকে এটি অর্জিত হওয়ার ব্যাপারে অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো ইমাম শাফেয়ির অনুসরণে ফকিহগণের এই যুক্তি প্রদান যে—জানাজার নামাজের জন্য ফরজ তাওয়াফ বন্ধ করা মাকরুহ; কারণ ফরজে কিফায়ার জন্য ফরজে আইন বর্জন করা সংগত নয়। ইমামুল হারামাইন এবং অন্যান্যরা বলেছেন, ফরজে কিফায়া অধিক উত্তম; কারণ কতিপয় লোক তা পালন করার মাধ্যমে সকল মুকাল্লাফকে সেই গুনাহ থেকে রক্ষা করে যা তা বর্জন করলে সবার ওপর বর্তাত। পক্ষান্তরে ফরজে আইন পালনের মাধ্যমে কেবল পালনকারীর গুনাহই মাফ হয়। তবে প্রথম মতটিকে প্রধান্য দেওয়া আমার সংযোজন। (এবং) বিশুদ্ধতর মত হলো (যে এটি) অর্থাৎ ফরজে কিফায়া (সবার ওপর অর্পিত) কেননা তা বর্জন করলে ফরজে আইনের মতোই সবাই গুনাহগার হবে। আর মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না।" জমহুর ওলামায়ে কেরাম এই মতেরই অনুসারী এবং ইমাম শাফেয়ি 'কিতাবুল উম্ম'-এ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। (এবং এই ফরজ রহিত হয়ে যায়) (কতিপয় লোকের আদায়ের মাধ্যমে), কারণ যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে—উদ্দেশ্য হলো কাজটি সম্পন্ন হওয়া, প্রত্যেক মুকাল্লাফকে এর মাধ্যমে পরীক্ষা করা নয়। অন্যের কাজের মাধ্যমে নিজের ওপর থেকে ফরজ রহিত হওয়া কোনো সুদূরপরাহত বিষয় নয়, যেমন অন্যের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে তার দায়মুক্তি ঘটে। আর বলা হয়েছে যে, ফরজে কিফায়া কতিপয় লোকের ওপর অর্পিত, সবার ওপর নয়। আর মূল লেখক তাঁর ধারণামতে ইমাম রাজির সাথে একমত হয়ে এটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, যেহেতু কাজটি অর্জিত হওয়াই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) গায়াতুল উসূল ফী শারহি লুব্বিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৯)
من البعض ولآية ولتكن منكم أمة يدعون إلى الخير} وأجيب عن الأول بما مر من أن المقصود حصول الفعل لا ابتلاء كل مكلف به، وعن الثاني بأنه في السقوط بفعل البعض جمعا بين الأدلة، وعلى القول الثاني فالمختار كما في الأصل البعض مبهم فمن قام به سقط الفرض بفعله،

وقيل معين عند الله تعالى يسقط الفرض بفعله وبفعل غيره كسقوط الدين فيما مر، وقيل معين كذلك وهو من قام به لسقوطه بفعله ثم مداره على الظن، فعلى قول الكل من ظن أن غيره فعله أو يفعله سقط عنه، ومن لا فلا، وعلى قول البعض من ظن أن غيره لم يفعله ولا يفعله وجب عليه ومن لا فلا.

واعلم أن الكل لو فعلوه معا وقع فعل كل منهم فرضا أو مرتبا، فكذلك، وإن سقط الحرج بالأولين. نعم إن حصل المقصود بتمامه كغسل الميت لم يقع غير الأوّل فرضا. (و) الأصح (أنه) أي فرض الكفاية (لا يتعين بالشروع) فيه لأن القصد به حصوله في الجملة فلا يتعين حصوله ممن شرع فيه. (إلا جهادا وصلاة جنازة وحجا وعمرة) فتتعين بالشروع فيها لشدة شبهها بالعيني، ولما في عدم التعيين في الأول من كسر قلوب الجند، وفي الثاني من هتك حرمة الميت، وهذا تبعت فيه الغزالي وغيره، وقيل يتعين فرض الكفاية بالشروع فيه أي يصير به كفرض العين في وجوب إتمامه بجامع الفرضية، وهذا ما صححه الأصل تبعا لابن الرفعة وهو بعيد، إذ أكثر فروض الكفايات لا تتعين بالشروع فيها كالحرف والصنائع وصلاة الجماعة. (وسنتها) أي سنة الكفاية المنقسم إليها وإلى سنة العين مطلق السنة السابق حده. (كفرضها) فيما مر لكن (بإبدال جزما بضده) فيصدق ذلك بأنها مهمّ يقصد بلا جزم حصوله من غير نظر بالذات لفاعله كابتداء السلام والتسمية للأكل من جهة جماعة، وبأنها دون سنة العين، وبأنها مطلوبة من الكل، وبأنها لا تتعين بالشروع فيها أي لا تصير به كسنة العين في تأكد طلب إتمامها على الأصح في الثلاث الأخيرة.

‌‌(مسألة: الأصح أن وقت) الصلاة (المكتوبة) كالظهر (جوازا وقت لأدائها) ففي أي جزء منه أوقعت، فقد أوقعت في وقت أدائها الذي يسعها وغيرها، ولهذا يعرف بالواجب الموسع، وقولي جوازا راجع إلى الوقت لبيان أن الكلام في وقت الجواز لا في الزائد عليه أيضا من وقتي الضرورة والحرمة، وإن كان الفعل فيهما أداء بشرطه. وقيل وقت أدائها أول الوقت فإن أخرت عنه فقضاء وإن فعل في الوقت حتى يأثم بالتأخير عن أوله، وقيل هو آخر الوقت فإن قدمت عليه فتقديمها تعجيل، وقيل هو الجزء الذي وقعت فيه من الوقت وإن لم تقع فيه فوقت أدائها الجزء الأخير من الوقت، وقيل إن قدمت على آخر الوقت وقعت واجبة بشرط بقاء الفاعل مكلفا إلى آخر الوقت فإن لم يبق كذلك وقعت نفلاً. وهذه الأقوال الأربعة منكرة للواجب الموسع. (و) الأصح (أنه) أي الشأن (يجب على المؤخر) أي مريد التأخير عن أول الوقت الذي هو سبب الوجوب (العزم) فيه على الفعل في الوقت كما صححه النووي في مجموعه، ونقله غيره عن أصحابنا ليتميز به التأخير الجائز عن غيره وتأخير الواجب الموسع عن المندوب في جواز التأخير عن أول الوقت، وقيل لا يجب اكتفاء بالفعل، ورجحه الأصل وزعم أن الأول لا يعرف إلا عن القاضي أبي بكر الباقلاني ومن تبعه، وأنه من هفوات القاضي ومن العظائم في الدين.

فإن قلت يلزم على الأول تعدد البدل والمبدل واحد. قلنا ممنوع إذ لا يجب إعادة العزم، بل ينسحب على آخر الوقت كانسحاب النية على أجزاء العبادة
কিছু ব্যক্তির দ্বারা পালিত হওয়া এবং "তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে" এই আয়াতের ভিত্তিতে। প্রথমটির উত্তর ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে যে, এর উদ্দেশ্য হলো কাজটি সম্পন্ন হওয়া, প্রত্যেক মুকাল্লাফকে (বিধানের অনুসারী) এর দ্বারা পরীক্ষা করা নয়। দ্বিতীয়টির উত্তর হলো—প্রমাণসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে এটি কিছু ব্যক্তির পালনের মাধ্যমে দায়িত্ব মোচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দ্বিতীয় মত অনুযায়ী—যেটি 'আসল' গ্রন্থে পছন্দ করা হয়েছে—সেই 'কিছু ব্যক্তি' অস্পষ্ট; সুতরাং যারা এটি পালন করবে, তাদের কর্মের মাধ্যমেই ফরজটি রহিত বা আদায় হয়ে যাবে।

বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলার নিকট তারা নির্ধারিত, এবং তাদের কাজের মাধ্যমে অথবা অন্যদের কাজের মাধ্যমে ফরজটি রহিত হয়ে যায়, যেমনটি ইতিপূর্বে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত হয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে, তারা একইভাবে নির্ধারিত এবং তারাই হলো তারা যারা এটি পালন করেছে, কারণ তাদের কাজের মাধ্যমেই এটি রহিত হয়েছে। অতঃপর এর ভিত্তি হলো ধারণার (জন্ন) ওপর। সুতরাং, 'সকলের ওপর অর্পিত' হওয়ার মতানুসারে—যে ব্যক্তি ধারণা করবে যে অন্য কেউ তা পালন করেছে বা করবে, তার ওপর থেকে দায়িত্ব রহিত হয়ে যাবে; আর যে তা করবে না, তার ক্ষেত্রে রহিত হবে না। আর 'কিছু ব্যক্তির ওপর অর্পিত' হওয়ার মতানুসারে—যে ধারণা করবে যে অন্য কেউ তা পালন করেনি এবং করবেও না, তার ওপর তা ওয়াজিব হবে; আর যে তা করবে না, তার ওপর হবে না।

জেনে রাখা উচিত যে, যদি সকলে একত্রে তা পালন করে, তবে প্রত্যেকের কাজই ফরজ হিসেবে গণ্য হবে; আর যদি পর্যায়ক্রমে হয়, তবে সেক্ষেত্রেও তাই, যদিও প্রথম ব্যক্তিদের মাধ্যমে গুনাহ বা দায়মুক্তি ঘটে গেছে। তবে হ্যাঁ, যদি উদ্দেশ্যটি পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জিত হয়ে যায়, যেমন মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো, তবে প্রথমজন ব্যতিরেকে অন্যদের কাজ ফরজ হিসেবে গণ্য হবেনা। (এবং) অধিকতর সঠিক মত এই যে, তা অর্থাৎ ফরজে কিফায়া (আরম্ভ করার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না) যেহেতু এর উদ্দেশ্য হলো সামগ্রিকভাবে তা অর্জিত হওয়া; সুতরাং যে ব্যক্তি তা শুরু করেছে, তার মাধ্যমেই তা অর্জিত হওয়া আবশ্যক হয়ে যায় না। (তবে জিহাদ, জানাজার নামাজ, হজ ও উমরাহ এর ব্যতিক্রম) এগুলো আরম্ভ করার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে যায়, কারণ এগুলোর সাথে ফরজে আইনের প্রবল সাদৃশ্য রয়েছে। আর প্রথমটির (জিহাদ) ক্ষেত্রে তা নির্ধারিত না হলে সৈন্যদের মনে ভাঙন ধরার আশঙ্কা থাকে, এবং দ্বিতীয়টির (জানাজা) ক্ষেত্রে মৃতের মর্যাদাহানির সম্ভাবনা থাকে। এ ব্যাপারে আমি ইমাম গাজালি ও অন্যদের অনুসরণ করেছি। কেউ কেউ বলেছেন যে, ফরজে কিফায়া আরম্ভ করার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়ে যায়, অর্থাৎ তা পূর্ণ করা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে ফরজে আইনের ন্যায় হয়ে যায়—উভয়টিই ফরজ হওয়ার সাধারণ গুণের কারণে। ইবনুর রিফআ-এর অনুসরণে 'আসল' গ্রন্থে এটিকে সঠিক বলা হয়েছে, তবে এটি একটি দূরবর্তী বা দুর্বল মত। কেননা অধিকাংশ ফরজে কিফায়া আরম্ভ করার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না, যেমন বিভিন্ন পেশা, শিল্পকর্ম এবং জামাতে নামাজ। (আর এর সুন্নত) অর্থাৎ সুন্নতে কিফায়া—যা সুন্নতে আইন ও সুন্নতে কিফায়া এই দুই ভাগে বিভক্ত এবং যার সংজ্ঞা ইতিপূর্বে বর্ণিত সুন্নতের সাধারণ সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত—তা (এর ফরজের ন্যায়) যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে (দৃঢ়তার বিপরীতে শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমে) এর সংজ্ঞা দিতে হবে। ফলে এটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে সাব্যস্ত হবে যা কোনো নির্দিষ্ট কর্তার দিকে লক্ষ্য না করে দৃঢ়তা ছাড়াই সম্পাদন করার সংকল্প করা হয়; যেমন কোনো দলের পক্ষ থেকে প্রথমে সালাম দেওয়া এবং আহারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা। এটি সুন্নতে আইনের তুলনায় নিম্নস্তরের এবং সকলের নিকট কাম্য। আর এটি আরম্ভ করার মাধ্যমে নির্ধারিত বা অবধারিত হয়ে যায় না, অর্থাৎ সর্বশেষ তিনটি মতের মধ্যে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী—এটি পূর্ণ করার গুরুত্বের ক্ষেত্রে সুন্নতে আইনের ন্যায় হয়ে যায় না।

(মাসআলা: অধিকতর সঠিক মত এই যে, ফরজ নামাজের সময়)—যেমন জোহর—(বৈধতার ভিত্তিতে আদায়ের সময় হিসেবে গণ্য)। সুতরাং সময়ের যেকোনো অংশে তা আদায় করা হলে, তা আদায়ের নির্ধারিত সময়েই আদায় হয়েছে বলে গণ্য হবে, যা সেই নামাজ এবং অন্য কাজের জন্যও প্রশস্ত। এই কারণেই একে 'ওয়াজিব মুওয়াসসা' বা প্রশস্ত ওয়াজিব বলা হয়। আমার 'বৈধতার ভিত্তিতে' কথাটি সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা এটি স্পষ্ট করার জন্য যে, আলোচনাটি বৈধ সময়ের ব্যাপারে, এর অতিরিক্ত জরুরি (জরুরত) বা নিষিদ্ধ (হুরমত) সময়ের ব্যাপারে নয়; যদিও সেই সময়গুলোতে আদায় করা শর্তসাপেক্ষে 'আদা' হিসেবেই গণ্য হয়। কেউ কেউ বলেছেন, আদায়ের সময় হলো ওয়াক্তের শুরুর অংশ; সুতরাং যদি তা থেকে বিলম্ব করা হয় তবে তা কাজা হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তা ওয়াক্তের ভেতরই সম্পন্ন করা হয় এবং শুরুর সময় থেকে বিলম্ব করার কারণে গুনাহগার হতে হয়। আবার বলা হয়েছে, আদায়ের সময় হলো ওয়াক্তের শেষ অংশ; সুতরাং এর আগে আদায় করা হলো সময়ের আগে আদায় করার নামান্তর। কেউ বলেছেন, এটি হলো সময়ের সেই অংশ যাতে তা আদায় করা হয়েছে; আর যদি আদায় না করা হয়, তবে আদায়ের সময় হলো ওয়াক্তের শেষ অংশ। আরও বলা হয়েছে, যদি শেষ সময়ের আগে আদায় করা হয়, তবে তা ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হওয়ার শর্ত হলো কর্তা ওয়াক্তের শেষ পর্যন্ত মুকাল্লাফ (বিধান পালনে সক্ষম) থাকা; যদি সে তা না থাকে, তবে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। এই চারটি মতই 'ওয়াজিব মুওয়াসসা' বা প্রশস্ত ওয়াজিবের ধারণাকে অস্বীকার করে। (এবং) অধিকতর সঠিক মত এই যে, (বিলম্বকারী ব্যক্তির জন্য)—অর্থাৎ যে ব্যক্তি ওয়াক্তের শুরু থেকে বিলম্ব করতে চায়, যা ওয়াজিব হওয়ার সবব বা কারণ—ওয়াক্তের মধ্যেই তা আদায়ের (দৃঢ় সংকল্প) করা ওয়াজিব। যেমনটি ইমাম নববী তাঁর 'মাজমু' গ্রন্থে সঠিক বলেছেন এবং অন্যরা আমাদের শাফেয়ি মাযহাবের ইমামদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; যাতে করে বৈধ বিলম্ব এবং অবৈধ বিলম্বের মধ্যে পার্থক্য করা যায় এবং প্রথম ওয়াক্ত থেকে বিলম্ব করা বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াজিব মুওয়াসসা ও মানদুবের (মুস্তাহাব) মধ্যে পার্থক্য করা যায়। কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি ওয়াজিব নয়, বরং কর্মটি সম্পন্ন করাই যথেষ্ট। 'আসল' গ্রন্থে এই মতটিকেই প্রধান্য দেওয়া হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে, প্রথম মতটি কেবল কাজী আবু বকর আল-বাকিল্লানি এবং তাঁর অনুসারীদের পক্ষ থেকেই পরিচিত, এবং এটি কাজীর একটি বড় বিচ্যুতি ও দ্বীনের বড় ভুলসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

যদি আপনি বলেন: প্রথম মত অনুযায়ী একই বিষয়ের বিপরীতে একাধিক বিকল্প অবধারিত হয়ে পড়ে। আমরা বলব: এটি অগ্রহণযোগ্য; কারণ দৃঢ় সংকল্প (আজম) বারবার করা ওয়াজিব নয়, বরং এটি ওয়াক্তের শেষ পর্যন্ত প্রসারিত থাকে, যেমনটি ইবাদতের বিভিন্ন অংশে নিয়ত কার্যকর থাকে।