(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: -)
بلوغ المرام من أدلة الأحكام ت الزهيري   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: بلوغ المرام من أدلة الأحكام

المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852هـ)

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهري

الناشر: دار الفلق - الرياض

الطبعة: السابعة، 1424 هـ

عدد الصفحات: 470

أعده للشاملة: واسم كان الإندونيسي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 محرم 1433

বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম (যুহাইরী সংস্করণ)   (ইবনে হাজার আল-আসকালানী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম

লেখক: আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হিজরী)

তাহকীক, তাখরীজ ও তালীক: সমীর বিন আমীন আল-যুহাইরী

প্রকাশক: দারুল ফালাক - রিয়াদ

সংস্করণ: সপ্তম، ১৪২৪ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭০

শামেলা সংস্করণ প্রস্তুতকারী: ওয়াসিম কান আল-ইন্দোনেশী

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ মুহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: -)
ـ[بلوغ المرام من أدلة الأحكام]ـ

المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (المتوفى: 852هـ)

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهري

الناشر: دار الفلق - الرياض

الطبعة: السابعة، 1424 هـ

عدد الأجزاء: 1

أعده للشاملة/ واسم كان الإندونيسي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম]

রচয়িতা: আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি)

তাহকিক, তাখরিজ ও টীকা: সামির বিন আমিন আল-জুহরি

প্রকাশক: দারুল ফালাক - রিয়াদ

সংস্করণ: সপ্তম, ১৪২৪ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ওয়াসিম কান আল-ইন্দোনেশীয়

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এতে টীকা সংযোজন করা হয়েছে]
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله على نعمه الظاهرة والباطنة، قديما وحديثا. والصلاة والسلام على نبيه ورسوله محمد وآله وصحبه الذين ساروا في نصرة دينه سيرا حثيثا، وعلى أتباعهم الذين ورثوا علمهم، والعلماء ورثة الأنبياء أكرم بهم وارثا وموروثا. أما بعد.

فهذا مختصر يشمل على أصول الأدلة الحديثية للأحكام، حررته تحريرا بالغا ليصير من يحفظه من بين أقرانه نابغًا، ويستعين به الطالب المبتدئ، ولا يستغني عنه الراغب المنتهي.

وقد بينت عقب كل حديث من أخرجه من الأئمة لإرادة نصح الأمة.

فالمراد بالسبعة: أحمد والبخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجة، وبالستة مَن عدا أحمد، وبالخمسة من عدا البخاري ومسلم. وقد أقول الأربعة وأحمد، وبالأربعة من عدا الثلاثة الأول، وبالثلاثة من عداهم وعدا الأخير، وبالمتفق: البخاري ومسلم، وقد لا أذكر معهما، وما عدا ذلك فهو مبين.

وسميته «بُلُوغُ الْمَرَامِ مِنْ أَدِلَّةِ الْأَحْكَامِ»، والله أسأله أن لا يجعل ما علمناه علينا وبالًا، وأن يرزقنا العمل بما يرضيه سبحانه وتعالى.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

আল্লাহর সকল প্রকাশ্য ও গোপন এবং পূর্বের ও বর্তমানের নিআমতের ওপর তাঁরই প্রশংসা। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী ও রাসূল মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, যারা তাঁর দ্বীনের সাহায্যে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়েছিলেন এবং তাঁদের অনুসারীদের ওপর যারা তাঁদের ইলমের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। আর আলিমগণ হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী—উত্তরাধিকারী এবং যাঁদের থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া গেছে তাঁরা কতই না সম্মানিত! অতঃপর।

এটি একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন যা শরীয়তের বিধানসমূহের হাদীস ভিত্তিক মূল দলীলসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমি এটি অত্যন্ত নিপুণভাবে পরিমার্জন করেছি, যাতে এটি মুখস্থকারী ব্যক্তি তার সমসাময়িকদের মাঝে অনন্য ও মেধাবী হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এটি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হয়, আর উচ্চতর শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি অপরিহার্য হয়ে থাকে।

উম্মাহর কল্যাণ কামনায় আমি প্রতিটি হাদীসের পর তা সংকলনকারী ইমামগণের নাম উল্লেখ করেছি।

'সাতজন' বলতে উদ্দেশ্য হলো: আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ। আর 'ছয়জন' বলতে আহমাদ ব্যতীত বাকিদের এবং 'পাঁচজন' বলতে বুখারী ও মুসলিম ব্যতীত বাকিদের বোঝানো হয়েছে। আমি কখনো বলি 'চারজন ও আহমাদ', আর 'চারজন' বলতে প্রথম তিনজন ব্যতীত বাকিদের এবং 'তিনজন' বলতে তাঁদের ও শেষোক্ত জন ব্যতীত বাকিদের বোঝানো হয়েছে। আর 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' বলতে বুখারী ও মুসলিমকে বোঝানো হয়েছে এবং অনেক সময় আমি তাঁদের দুজনের সাথে অন্য কারো নাম উল্লেখ করি না। এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

আমি গ্রন্থটির নামকরণ করেছি 'বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম', আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের জানাশোনা বিষয়কে আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ না করেন এবং আমাদেরকে এমন আমল করার তাওফীক দান করেন যাতে তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সন্তুষ্ট হন।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌كِتَابُ الطَّهَارَةِ

‌‌بَابُ الْمِيَاهِ

1 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْبَحْرِ: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ». أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ، وَابْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَاللَّفْظُ لَهُ، وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ وَالتِّرْمِذِيُّ، وَرَوَاهُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه أبو داود (83)، والنسائي (1/ 50 و 176 و 707)، والترمذي (69)، وابن ماجه (386) وابن أبي شيبة (131)، وابن خزيمة (111) من طريق صفوان بن سليم، عن سعيد بن سلمة من آل بني الأزرق، عن المغيرة بن أبي بردة - وهو من بني عبد الدار- أنه سمع أبي هريرة يقول: جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: يا رسول الله! إنا نركب البحر، ونحمل معنا القليل من الماء، فإن توضأنا به عطشنا، أفنتوضأ به؟ فقال صلى الله عليه وسلم: فذكره. وقال الترمذي: «حسن صحيح». قلت: وهذا إسناد صحيح، وقد أعله بعضهم بما لا يقدح، كما أن للحديث شواهد، وتفصيل ذلك في «الأصل».
পবিত্রতা অধ্যায়

‌পানি বিষয়ক পরিচ্ছেদ

১ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সমুদ্র সম্পর্কে বলেছেন: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।" এটি চার সুনান গ্রন্থকার (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ) এবং ইবনে আবি শায়বা বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস ইবনে আবি শায়বার; ইবনে খুযাইমা ও তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন। ইমাম মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদও এটি বর্ণনা করেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৮৩), নাসাঈ (১/ ৫০, ১৭৬ ও ৭০৭), তিরমিযী (৬৯), ইবনে মাজাহ (৩৮৬), ইবনে আবি শায়বা (১৩১) এবং ইবনে খুযাইমা (১১১); সাফওয়ান বিন সুলাইমের সূত্রে, তিনি বনী আযরাক পরিবারের সাঈদ বিন সালামাহ হতে, তিনি মুগীরা বিন আবি বুরদাহ হতে—যিনি বনী আবদুদ দার গোত্রের—যে তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সমুদ্রে আরোহণ করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি বহন করি, যদি আমরা তা দিয়ে উযু করি তবে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব, এমতাবস্থায় আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে উযু করতে পারি? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উক্ত হাদীসটি বললেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: "হাসান সহীহ"। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এর সনদ সহীহ, কেউ কেউ এর ওপর এমন ত্রুটি বর্ণনা করেছেন যা একে ক্ষুণ্ণ করে না; তদুপরি এই হাদীসের স্বপক্ষে আরও অনেক সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (শাওয়াাহিদ) রয়েছে, যার বিস্তারিত আলোচনা 'মূল গ্রন্থে' করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٥)
2 - وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ الْمَاءَ طَهُورٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ». أَخْرَجَهُ الثَّلَاثَةُ (1) ⦗ص: 6⦘ وَصَحَّحَهُ أَحْمَدُ. (2)

--------------------------------------------

(1) - صحيح: رواه أبو داود (66)، والنسائي (174)، والترمذي (66) عن أبي سعيد الخدري، قال: قيل: يا رسول الله (!) أنتوضأ (رواية: أتتوضأ) من بئر بضاعة، وهي بئر يلقى فيها الحيض، ولحوم الكلاب، والنتن؟! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: .. الحديث. قلت: وهو حديث صحيح، وإن أعل بجهالة أحد رواته، لكن له طرق وشواهد أخرى يصح بها الحديث، كما تجد ذلك مفصلا «بالأصل». فائدة: قوله في الحديث: «وهي بئر يلقى فيها الحيض، ولحوم الكلاب، والنتن». قال الخطابي عن ذلك في «معالم السنن» (1/ 37): «يتوهم كثير من الناس إذا سمع هذا الحديث أن هذا كان منهم عادة، وأنهم كانوا يأتون هذا الفعل قصدا وعمدا، وهذا لا يجوز أن يظن بذمي، بل بوثني، فضلا عن مسلم! ولم يزل من عادة الناس قديما وحديثا؛ مسلمهم وكافرهم: تنزيه المياه، وصونها عن النجاسات، فكيف يظن بأهل ذلك الزمان، وهم أعلى طبقات أهل الدين، وأفضل جماعة المسلمين، والماء في بلادهم أعز، والحاجة إليه أمس، أن يكون هذا صنيعهم بالماء، امتهانهم له؟!. وقد لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم من تغوط في موارد الماء ومشارعه، فكيف من اتخذ عيون الماء ومنابعه رصدا للأنجاس، ومطرحا للأقذار؟ هذا ما لا يليق بحالهم. وإنما كان هذا من أجل أن هذه البئر في صدور من الأرض، وأن السيول كانت تكسح هذه الأقذار من الطرق والأفنية، وتحملها فتلقيها فيها، وكان الماء لكثرته لا تؤثر فيه وقوع هذه الأشياء ولا يغيره».

(2) - نقله المنذري في «المختصر».
২ - আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।» এটি তিনজন (ইমাম আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী) বর্ণনা করেছেন (১) ⦗পৃষ্ঠা: ৬⦘ এবং ইমাম আহমাদ একে সহীহ বলেছেন। (২)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ: এটি আবু দাউদ (৬৬), নাসাঈ (১৭৪) এবং তিরমিযী (৬৬) আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল (!) আমরা কি বুযাআহ কূয়া থেকে ওযু করব? (বর্ণনাভেদে: আপনি কি ওযু করবেন?) অথচ তা এমন এক কূয়া যাতে ঋতুস্রাবের কাপড়, কুকুরের গোশত এবং দুর্গন্ধময় বস্তু নিক্ষেপ করা হয়?! তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: .. (হাদীসের অবশিষ্টাংশ)। আমি বলি: এটি একটি সহীহ হাদীস, যদিও এর একজন বর্ণনাকারী অজ্ঞাত হওয়ার কারণে হাদীসটিকে ত্রুটিযুক্ত বলা হয়েছে, তবে এর অন্যান্য সূত্র ও সাক্ষী বর্ণনা রয়েছে যার মাধ্যমে হাদীসটি সহীহ সাব্যস্ত হয়; যেমনটি আপনি মূল গ্রন্থে বিস্তারিত পাবেন। জ্ঞাতব্য বিষয়: হাদীসে তাঁর উক্তি: «আর তা এমন এক কূয়া যাতে ঋতুস্রাবের কাপড়, কুকুরের গোশত এবং দুর্গন্ধময় বস্তু নিক্ষেপ করা হয়।» এ সম্পর্কে খাত্তাবী ‘মাআলিমুস সুনান’ (১/৩৭) গ্রন্থে বলেছেন: «অনেক মানুষ এই হাদীসটি শুনে ধারণা করতে পারে যে, এটি তাদের অভ্যাস ছিল এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ও সজ্ঞানে এমনটি করত। অথচ কোনো যিম্মি (অমুসলিম নাগরিক), বরং কোনো মূর্তিপূজারী সম্পর্কেও এমন ধারণা করা বৈধ নয়, কোনো মুসলিম সম্পর্কে তো পরের কথা! প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মানুষের এটিই অভ্যাস—চাই তারা মুসলিম হোক বা কাফির—পানিকে পবিত্র রাখা এবং একে নাপাকি থেকে রক্ষা করা। তাহলে সেই যুগের মানুষদের সম্পর্কে কীভাবে এমন ধারণা করা যেতে পারে, অথচ তারা ছিলেন দ্বীনদারদের মাঝে সর্বোচ্চ স্তরের এবং মুসলিমদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জামাত? আর তাদের ভূখণ্ডে পানি ছিল অত্যন্ত দুর্লভ এবং এর প্রয়োজনীয়তা ছিল তীব্র; এমতাবস্থায় তারা পানির সাথে এমন তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ করবে?! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো পানির ঘাট ও উৎসস্থলে মলত্যাগকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন, তাহলে কীভাবে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে ভাবা যায় যে পানির উৎস ও ঝরনাধারাকে নাপাকির আধার ও আবর্জনা ফেলার স্থান হিসেবে গ্রহণ করবে? এটি তাদের শানের সাথে মোটেই মানানসই নয়। মূলত বিষয়টি ছিল এই যে, এই কূয়াটি ছিল নিচু ভূমিতে অবস্থিত, আর বৃষ্টির ঢল রাস্তা ও আঙিনা থেকে এসব আবর্জনা ঝেঁটিয়ে নিয়ে আসত এবং তা বহন করে কূয়ার মধ্যে নিক্ষেপ করত। আর পানি অধিক হওয়ার কারণে এসব পড়ার ফলে পানির ওপর কোনো প্রভাব পড়ত না এবং এর কোনো পরিবর্তন হতো না।»

(২) - মুনযিরী এটি ‘আল-মুখতাসার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٦)
3 - وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْمَاءَ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ، إِلَّا مَا غَلَبَ عَلَى رِيحِهِ وَطَعْمِهِ، وَلَوْنِهِ». أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ (1) وَضَعَّفَهُ أَبُو حَاتِمٍ. (2)

--------------------------------------------

(1) - ضعيف. رواه ابن ماجه (521) من طريق رشدين بن سعد، حدثنا معاوية بن صالح، عن راشد بن سعد، عن أبي إمامة به. وهو ضعيف؛ لضعف رشدين، وقد اضطرب أيضا في إسناده.

(2) - نقله ولده في «العلل» (1/ 44) فقال: «قال أبي يوصله رشدين بن سعد، يقول: عند أبي إمامة، عن النبي صلى الله عليه وسلم، ورشدين ليس بقوي، والصحيح مرسل».
৩ - আবু উমামা আল-বাহিলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই পানিকে কোনো কিছু নাপাক করে না, কেবল তা ব্যতীত যা এর ঘ্রাণ, স্বাদ ও বর্ণের ওপর প্রবল হয়ে তা পরিবর্তন করে দেয়।» এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং আবু হাতিম একে যঈফ (দুর্বল) বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) - যঈফ। ইবনে মাজাহ (৫২১) এটি রিশদিন বিন সা'দ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুয়াবিয়া বিন সালিহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন রাশিদ বিন সা'দ থেকে, তিনি আবু উমামা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এটি যঈফ; কারণ রিশদিন দুর্বল এবং এর সনদেও অস্থিরতা (ইযতিরাব) রয়েছে।

(২) - তাঁর পুত্র এটি ‘আল-ইলাল’ (১/৪৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন; তিনি বলেন: «আমার পিতা বলেছেন, রিশদিন বিন সা'দ একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেন: আবু উমামা থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত। তবে রিশদিন শক্তিশালী বর্ণনাকারী নন এবং বিশুদ্ধ মত হলো এটি মুরসাল।»
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٦)
4 - وَلِلْبَيْهَقِيِّ: «الْمَاءُ طَاهِرٌ إِلَّا إِنْ تَغَيَّرَ رِيحُهُ، أَوْ طَعْمُهُ، أَوْ لَوْنُهُ; بِنَجَاسَةٍ تَحْدُثُ فِيهِ». (1)

--------------------------------------------

(1) - ضعيف. رواه البيهقي في «الكبرى» (159 - 260) من حديث أبي إمامة أيضا، وفي إسناده بقية بن الوليد، وهو مدلس وقد عنعن. وله طريق آخر ولكنه ضعيف أيضا.
৪ - বায়হাক্বীর বর্ণনায় রয়েছে: «পানি পবিত্র, যদি না তাতে উৎপন্ন হওয়া কোনো নাপাকির কারণে তার ঘ্রাণ, স্বাদ অথবা বর্ণ পরিবর্তিত হয়।’ (১)

--------------------------------------------

(১) - দুর্বল। ইমাম বায়হাক্বী এটি তাঁর ‘আল-কুবরা’ (১৫৯ - ২৬০) গ্রন্থে আবু উমামাহ-এর হাদীস থেকেও বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্রে বাক্বিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ রয়েছেন; তিনি একজন মুদাল্লিস এবং তিনি 'আন' (عن) শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন। এর অন্য একটি সূত্র থাকলেও সেটিও দুর্বল।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٧)
5 - وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِذَا كَانَ الْمَاءَ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلْ الْخَبَثَ». وَفِي لَفْظٍ: «لَمْ يَنْجُسْ». أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ، وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ. وَابْنُ حِبَّانَ وَالحَاكِمُ (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه أبو داود (63 و 64 و 65)، والنسائي (1/ 46 و175)، والترمذي (67)، وابن ماجه (517)، وهو حديث صحيح، وقد أعل بما لا يقدح. وصححه ابن خزيمة (92)، والحاكم (132)، وابن حبان (1249)
৫ - আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন পানির পরিমাণ দুই কুল্লা হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না।» এবং অন্য শব্দে এসেছে: «তা অপবিত্র হয় না।» এটি চার ইমাম (সুনান গ্রন্থকারগণ) বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ বলেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৬৩, ৬৪ ও ৬৫), নাসায়ী (১/ ৪৬ ও ১৭৫), তিরমিযী (৬৭) ও ইবনে মাজাহ (৫১৭)। এটি একটি সহীহ হাদীস, যদিও এর ব্যাপারে এমন কিছু ত্রুটি উল্লেখ করা হয়েছে যা এর গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করে না। ইবনে খুযাইমাহ (৯২), হাকিম (১৩২) এবং ইবনে হিব্বান (১২৪৯) একে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٧)
6 - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَغْتَسِلُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ. (1)

وَلِلْبُخَارِيِّ: «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لَا يَجْرِي، ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ». (2)

وَلِمُسْلِمٍ: «مِنْهُ». (3)

وَلِأَبِي دَاوُدَ: «وَلَا يَغْتَسِلُ فِيهِ مِنَ الْجَنَابَةِ». (4)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه مسلم (283)

(2) - البخاري رقم (239)

(3) - مسلم رقم (282)

(4) - سنن أبي داود (70)
৬ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র (জুনুব) অবস্থায় আবদ্ধ পানিতে গোসল না করে।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। (১)

এবং বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে: «তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই এমন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর সে তাতে গোসল করে।» (২)

এবং মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: «তা থেকে (অর্থাৎ পানি নিয়ে গোসল করা)।’» (৩)

এবং আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছে: «এবং তাতে যেন জানাবাত (অপবিত্রতা) হতে গোসল না করে।» (৪)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (২৮৩)

(২) - বুখারী নম্বর (২৩৯)

(৩) - মুসলিম নম্বর (২৮২)

(৪) - সুনানে আবু দাউদ (৭০)
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٧)
7 - وَعَنْ رَجُلٍ صَحِبَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَغْتَسِلَ الْمَرْأَةُ بِفَضْلِ الرَّجُلِ، أَوْ الرَّجُلُ بِفَضْلِ الْمَرْأَةِ، وَلْيَغْتَرِفَا جَمِيعًا. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ. وَالنَّسَائِيُّ، وَإِسْنَادُهُ صَحِيحٌ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه أبو داود (81)، والنسائي (1/ 130) من طريق داود بن عبد الله الأودي، عن حميد الحميري، عن رجل صحب النبي صلى الله عليه وسلم، به. قلت: وهذا سند صحيح، كما قال الحافظ.
৭ - জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছিলেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো নারী পুরুষের অবশিষ্ট পানি দ্বারা অথবা কোনো পুরুষ নারীর অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করতে নিষেধ করেছেন; বরং তারা যেন উভয়ে একত্রে পানি তুলে নেয়। এটি আবু দাউদ ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৮১) এবং নাসায়ী (১/১৩০), দাউদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আওদির সূত্রে, তিনি হুমাইদ আল-হিময়ারি থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভকারী জনৈক ব্যক্তি থেকে। আমি বলি: হাফেজ (ইবনে হাজার) যেমনটি বলেছেন, এই সনদটি সহীহ।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٧)
8 - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ بِفَضْلِ مَيْمُونَةَ ⦗ص: 8⦘ رضي الله عنها. أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه مسلم (323)
৮ - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমুনা ⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘ রাদিয়াল্লাহু আনহার গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করতেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩২৩)।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٦)
9 - وَلِأَصْحَابِ السُّنَنِ: اغْتَسَلَ بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي جَفْنَةٍ، فَجَاءَ لِيَغْتَسِلَ مِنْهَا، فَقَالَتْ لَهُ: إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا؟ فَقَالَ: «إِنَّ الْمَاءَ لَا يُجْنِبُ». وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ، وَابْنُ خُزَيْمَةَ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه أبو داود (68)، والترمذي (65)، وابن ماجه (370) من طريق سماك بن حرب، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال: … الحديث. قال الترمذي: «هذا حديث حسن صحيح». قلت: وهو كذلك وإن كان من رواية سماك، عن عكرمة، وهي معلولة. «تنبيه»: وهم الحافظ في عزوة لأصحاب «السنن» إذ لم يخرجه النسائي، وأيضا تصحيح ابن خزيمة لغير هذا اللفظ.
৯ - এবং সুনান গ্রন্থকারগণের নিকট বর্ণিত হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো এক স্ত্রী একটি বড় পাত্র থেকে গোসল করেছিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পাত্রের অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করতে আসলেন। তখন তিনি (স্ত্রী) তাকে বললেন: আমি অপবিত্র (জুনুব) ছিলাম। তিনি বললেন: «নিশ্চয় পানি অপবিত্র হয় না।» এবং ইমাম তিরমিজি ও ইবনে খুজাইমাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহিহ। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৬৮), তিরমিজি (৬৫) এবং ইবনে মাজাহ (৩৭০); সিমাক বিন হারব-এর সূত্র থেকে, তিনি ইকরামা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ... হাদিসটি। তিরমিজি বলেছেন: «এই হাদিসটি হাসান সহিহ।» আমি (গ্রন্থকার) বলছি: হাদিসটি এমনই (সহিহ), যদিও এটি ইকরামা থেকে সিমাকের বর্ণনা এবং তা ত্রুটিপূর্ণ (মালুল)। «সতর্কবার্তা»: হাফেজ (ইবনে হাজার) একে «সুনান গ্রন্থকারগণের» (আসحابুস সুনান) দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন, যেহেতু ইমাম নাসাঈ এটি বর্ণনা করেননি। এছাড়া ইবনে খুজাইমাহর সহিহ বলাটি এই শব্দ ব্যতীত অন্য শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٨)
10 - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طَهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ أَنْ يَغْسِلَهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ، أُولَاهُنَّ بِالتُّرَابِ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ. (1)

وَفِي لَفْظٍ لَهُ: «فَلْيُرِقْهُ». (2)

وَلِلتِّرْمِذِيِّ: «أُخْرَاهُنَّ، أَوْ أُولَاهُنَّ بِالتُّرَابِ». (3)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه مسلم (279) (91)

(2) - مسلم (279) (89)

(3) - سنن الترمذي (91)، وعنده زيادة أخرى، وهي: «وإذا ولغت فيه الهرة، غسل مرة». قلت: وهي زيادة صحيحة كما بينت ذلك في «ناسخ الحديث ومنسوخه» لابن شاهين رقم (140)
১০ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কারও পাত্রে যখন কুকুর মুখ দেয় (চেটে দেয়), তখন তার পবিত্রতা অর্জনের উপায় হলো তা সাতবার ধৌত করা, যার প্রথমবার হতে হবে মাটি দিয়ে»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। (১)

তার (মুসলিমের) অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: «সে যেন তা (পাত্রের তরল) ঢেলে ফেলে দেয়»। (২)

আর তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছে: «শেষের বার অথবা প্রথমবার মাটি দিয়ে»। (৩)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২৭৯) (৯১)

(২) - মুসলিম (২৭৯) (৮৯)

(৩) - সুনান আত-তিরমিযী (৯১), আর তার কাছে অন্য একটি অতিরিক্ত অংশ রয়েছে, তা হলো: «আর যখন বিড়াল তাতে মুখ দেয়, তবে একবার ধৌত করবে»। আমি বলি: এটি একটি সহীহ অতিরিক্ত অংশ, যেমনটি আমি ইবনু শাহীনের 'নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসুখুহু' গ্রন্থে (নম্বর ১৪০) বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٨)
11 - وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الْهِرَّةِ: «إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ، إِنَّمَا هِيَ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ». أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ، وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ. وَابْنُ خُزَيْمَةَ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه أبو داود (75)، والنسائي (1/ 55 و 178)، والترمذي (92)، وابن ماجه (367) وابن خزيمة (104) من طريق كبشة بنت كعب بن مالك -وكانت تحت ابن أبي قتادة- أن أبا قتادة دخل عليها، فسكبت له وضوءا. قالت: فجاءت هرة تشرب، فأصغى لها الإناء حتى شربت، قالت كبشة: فرآني أنظر إليه! فقال: أتعجبين يا بنت أخي؟ فقلت: نعم. قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فذكره. وقال الترمذي: «حديث حسن صحيح».
১১ - আবু কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিড়ালের ব্যাপারে বলেছেন: «নিশ্চয়ই এটি অপবিত্র নয়, বরং এটি তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।» চারজন ইমাম (আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী ও ইবনে খুযায়মাহ একে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৭৫), নাসায়ী (১/ ৫৫ ও ১৭৮), তিরমিযী (৯২), ইবনে মাজাহ (৩৬৭) এবং ইবনে খুযায়মাহ (১০৪) কাবশাহ বিনতে কাব বিন মালিকের সূত্র থেকে — যিনি আবু কাতাদার পুত্র (আব্দুল্লাহ)-এর স্ত্রী ছিলেন — একদা আবু কাতাদা তার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি তার ওযুর জন্য পানি ঢেলে দিলেন। তিনি (কাবশাহ) বললেন: অতঃপর একটি বিড়াল এসে পান করতে লাগল, তখন তিনি তার জন্য পাত্রটি কাত করে ধরলেন যাতে সে পান করতে পারে। কাবশাহ বলেন: তখন তিনি আমাকে তার দিকে তাকাতে দেখলেন এবং বললেন: 'হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্রী, তুমি কি অবাক হচ্ছো?' আমি বললাম: 'হ্যাঁ'। তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন...' অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করলেন। আর তিরমিযী বলেছেন: «হাদীসটি হাসান সহীহ»।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٩)
12 - وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَبَالَ فِي طَائِفَةِ الْمَسْجِدِ، فَزَجَرَهُ النَّاسُ، فَنَهَاهُمْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا قَضَى بَوْلَهُ أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِذَنُوبٍ مِنْ مَاءٍ; فَأُهْرِيقَ عَلَيْهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه البخاري (219)، ومسلم (284)، وله طرق عن أنس، وجاء أيضا من رواية بعض الصحابة غير أنس.
১২ - আনাস ইবনে মালেক (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি (বেদুইন) এসে মসজিদের এক প্রান্তে প্রস্রাব করতে শুরু করল। তখন লোকজন তাকে ধমক দিতে লাগল, কিন্তু নবী (সা.) তাদের নিষেধ করলেন। অতঃপর যখন সে প্রস্রাব শেষ করল, তখন নবী (সা.) এক বালতি পানি আনতে নির্দেশ দিলেন এবং তা তার উপর ঢেলে দেওয়া হলো। মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম)। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি বুখারি (২১৯) ও মুসলিম (২৮৪) বর্ণনা করেছেন। আনাস (রা.) থেকে এর একাধিক সূত্র রয়েছে এবং আনাস (রা.) ছাড়াও আরও কয়েকজন সাহাবী থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٩)
13 - وَعَن ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُحِلَّتْ لَنَا مَيْتَتَانِ وَدَمَانِ، فَأَمَّا الْمَيْتَتَانِ: فَالْجَرَادُ وَالْحُوتُ، وَأَمَّا الدَّمَانُ: فَالطِّحَالُ وَالْكَبِدُ». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ، وَابْنُ مَاجَهْ، وَفِيهِ ضَعْفٌ (1)

--------------------------------------------

(1) - رواه أحمد (2/ 97)، وابن ماجه (3314)، وسنده ضعيف كما أشار إلى ذلك الحافظ. ولكنه يصح عن ابن عمر موقوفا، والموقوف له حكم الرفع كما قاله البيهقي رحمه الله.
১৩ - এবং ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমাদের জন্য দুই প্রকার মৃত প্রাণী এবং দুই প্রকার রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃত প্রাণী দু'টি হলো: পঙ্গপাল ও মাছ; আর রক্ত দু'টি হলো: প্লীহা ও কলিজা।» এটি আহমাদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাসূত্রে দুর্বলতা রয়েছে (১)

--------------------------------------------

(১) - এটি আহমাদ (২/ ৯৭) এবং ইবনে মাজাহ (৩৩১৪) বর্ণনা করেছেন। এর সনদ দুর্বল যেমনটি হাফেজ (ইবনে হাজার) ইঙ্গিত করেছেন। তবে এটি ইবনে উমর থেকে মাওকুফ হিসেবে সহীহভাবে বর্ণিত, আর এই মাওকুফ বর্ণনাটি মারফূ-এর হুকুম রাখে যেমনটি ইমাম বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٩)
14 - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا وَقَعَ الذُّبَابُ فِي شَرَابِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْمِسْهُ، ثُمَّ لِيَنْزِعْهُ، فَإِنَّ فِي أَحَدِ جَنَاحَيْهِ دَاءً، وَفِي الْآخَرِ شِفَاءً». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ (1)

وَأَبُو دَاوُدَ، وَزَادَ: «وَإِنَّهُ يَتَّقِي بِجَنَاحِهِ الَّذِي فِيهِ الدَّاءُ» (2)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه البخاري (3320)، (5782)

(2) - سنن أبي داود (3844) وإسنادها حسن.
১৪ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন তোমাদের কারো পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়ে, তখন সে যেন তাকে (পানীয়তে) ডুবিয়ে দেয়, অতঃপর তাকে তুলে ফেলে দেয়। কারণ তার এক ডানায় রোগ রয়েছে এবং অন্যটিতে রয়েছে নিরাময়»। এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন (১)

এবং আবু দাউদ (এটি বর্ণনা করেছেন), আর তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: «আর নিশ্চয় সে (মাছি) তার ওই ডানাটি দিয়ে আত্মরক্ষা করে যাতে রোগ রয়েছে» (২)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (৩৩২০), (৫৭৮২)

(২) - সুনানে আবু দাউদ (৩৮৪৪) এবং এর সনদ হাসান।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٩)
15 - وَعَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَا قُطِعَ مِنَ الْبَهِيمَةِ - وَهِيَ حَيَّةٌ - فَهُوَ مَيِّتٌ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ، وَالتِّرْمِذِيُّ وَحَسَّنَهُ، وَاللَّفْظُ لَهُ. (1)

--------------------------------------------

(1) - حسن. رواه أبو داود (2858)، الترمذي (1480)، من طريق عطاء بن يسار، عن أبي واقد الليثي قال: قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة، والناس يجبون أسنمة الإبل، ويقطعون أليات الغنم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكر الحديث.
১৫ - আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জীবিত থাকা অবস্থায় পশু থেকে যা কিছু কেটে নেওয়া হয়, তা মৃত (অর্থাৎ মৃত প্রাণীর মাংসের মতো অপবিত্র)।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিজী বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজী একে হাসান বলেছেন; আর শব্দবিন্যাস তিরমিজীর। (১)

--------------------------------------------

(১) - হাসান। এটি আবু দাউদ (২৮৫৮) ও তিরমিজী (১৪৮০) বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে ইয়াসারের সূত্রে, তিনি আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন দেখলেন মানুষ উটের কুঁজ কেটে নিচ্ছে এবং ভেড়ার লেজ কেটে ফেলছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌بَابُ الْآنِيَةِ

16 - عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ رضي الله عنهما، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ والْفِضَّةِ، وَلَا تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا، فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا، وَلَكُمْ فِي الْآخِرَةِ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه البخاري (5426)، ومسلم (2067) عن عبد الرحمن بن أبي ليلى، قال: إنهم كانوا عند حذيفة، فاستسقى، فسقاه مجوسي، فلما وضع القدح في يده، رماه به، وقال: لولا أني نهيته غير مرة ولا مرتين! -كأنه يقول: لم أفعل هذا- لكني سمعت النبي صلى الله عليه وسلم، يقول: «لا تلبس الحرير ولا الديباج، ولا تشربوا» .. الحديث. واللفظ للبخاري، وعنده «ولنا في الآخرة». وهذه الجملة ليست عند مسلم.
পাত্রের পরিচ্ছেদ

১৬ - হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর থালায় আহার করো না; কেননা এগুলো দুনিয়াতে তাদের জন্য এবং আখিরাতে তোমাদের জন্য।" (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত্যপূর্ণ)। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (৫৪২৬) এবং মুসলিম (২০৬৭) আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে। তিনি বলেন: তারা হুজায়ফার নিকট উপস্থিত ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি পানি চাইলেন। তখন জনৈক অগ্নিউপাসক তাকে পানি পান করাল। যখন সে তার হাতে পেয়ালাটি রাখল, তিনি সেটি তার দিকে ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেন: "যদি আমি তাকে বারবার নিষেধ না করতাম (তবে এমনটি করতাম না)!" - তিনি যেন বলতে চাচ্ছিলেন: আমি (এমনিতে) এটি করতাম না। "কিন্তু আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'তোমরা রেশম বা দীবায (এক প্রকার রেশমি বস্ত্র) পরিধান করো না এবং তোমরা পান করো না...'" - হাদিস। শব্দগুলো বুখারির, এবং তার বর্ণনায় রয়েছে: "এবং আখিরাতে আমাদের জন্য।" এই বাক্যটি মুসলিমের বর্ণনায় নেই।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٠)
17 - وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الَّذِي يَشْرَبُ فِي إِنَاءِ الْفِضَّةِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه البخاري (5634)، ومسلم (2065)
১৭ - উম্মু সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি রুপার পাত্রে পান করে, সে মূলত তার পেটে জাহান্নামের আগুনই গড়গড় শব্দে প্রবেশ করায়»। এটি বুখারী ও মুসলিম যৌথভাবে বর্ণনা করেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৫৬৩৪) এবং মুসলিম (২০৬৫)।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١١)
18 - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا دُبِغَ الْإِهَابُ فَقَدْ طَهُرَ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ. (1) وَعِنْدَ الْأَرْبَعَةِ: «أَيُّمَا إِهَابٍ دُبِغَ». (2)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه مسلم (366)

(2) - رواه النسائي (773)، والترمذي (1728)، وابن ماجه (3609) عن ابن عباس أيضا، وهو صحيح كسابقه. «تنبيه»: وهم الحافظ رحمه الله في قوله: «وعند الأربعة» وذلك لأن أبا داود لم يروا الحديث بهذا اللفظ، وإنما لفظه كلفظ مسلم.
১৮ - ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন পশুর কাঁচা চামড়া পাকা (ট্যান) করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। (১) আর সুনানের চার কিতাবে রয়েছে: "যে কোনো কাঁচা চামড়া পাকা করা হলে [তা পবিত্র হয়]।" (২)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (৩৬৬)।

(২) - এটি নাসাঈ (৭৭৩), তিরমিযী (১৭২৮) এবং ইবনে মাজাহ (৩৬০৯) ইবনে আব্বাস থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং এটি পূর্বেরটির ন্যায় সহীহ। «সতর্কবার্তা»: হাফেজ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর উক্তি "চারটি গ্রন্থে রয়েছে" এর ক্ষেত্রে ভ্রমে পতিত হয়েছেন; কারণ আবু দাউদ এই শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেননি, বরং তাঁর বর্ণিত শব্দ মুসলিমের শব্দের অনুরূপ।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١١)
19 - وَعَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «دِبَاغُ جُلُودِ الْمَيْتَةِ طُهُورُهاَ». صَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. وإن وهم فيه الحافظ، إذ عزو هذا اللفظ لابن حبان من رواية ابن المحبق ليس بصواب، وإنما هو لفظ حديث عائشة. وبيان ذلك «بالأصل».
১৯ - সালামাহ ইবনুল মুহাব্বিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মৃত পশুর চামড়া পাকা করাই হলো তার পবিত্রতা।» ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। যদিও হাফেজ (ইবনে হাজার) এতে ভ্রমের শিকার হয়েছেন, কারণ ইবনে মুহাব্বিকের বর্ণনা হতে এই শব্দগুলো ইবনে হিব্বানের দিকে সম্বন্ধ করা সঠিক নয়, বরং এটি আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদীসের শব্দ। এর বিস্তারিত বর্ণনা ‘মূল গ্রন্থে’ (আল-আসল) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١١)
20 - وَعَنْ مَيْمُونَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ يَجُرُّونَهَا، فَقَالَ: «لَوْ أَخَذْتُمْ إِهَابَهَا؟» فَقَالُوا: إِنَّهَا مَيْتَةٌ، فَقَالَ: «يُطَهِّرُهَا الْمَاءُ وَالْقَرَظُ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ، وَالنَّسَائِيُّ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه أبو داود (4126)، والنسائي (774 - 175)، وله ما يشهد له.
২০ - মাইমুনা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি ছাগলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যা কিছু লোক টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি বললেন: "তোমরা যদি এর চামড়াটা গ্রহণ করতে?" তারা বলল: "এটি তো মৃত।" তিনি বললেন: "পানি এবং কারাজ (বাবলা জাতীয় গাছের পাতা) একে পবিত্র করে।" এটি আবু দাউদ এবং নাসায়ী বর্ণনা করেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহিহ। এটি আবু দাউদ (৪১২৬) এবং নাসায়ী (৭৭৪ - ১৭৫) বর্ণনা করেছেন এবং এর সমর্থনে অন্যান্য বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٢)
21 - وعَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الخُشَنِيِّ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ - قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّا بِأَرْضِ قَومٍ أَهْلِ كِتَابٍ، أَفَنَأْكُلُ فِي آنِيَتِهِمْ؟ قَالَ: «لَا تَأكُلُوا فِيهَا إِلَاّ أَنْ لَا تَجِدُوا غَيْرَهَا، فَاغْسِلُوهَا، وَكُلُوا فِيهَا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه البخاري (5478) و (5488)، (5496)، ومسلم (1930)، وله طرق وألفاظ، عن أبي ثعلبة.
২১ - আবু সা’লাবা আল-খুশানি - রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু - থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আহলে কিতাব (ইহুদি ও খ্রিস্টান) সম্প্রদায়ের ভূখণ্ডে বসবাস করি, আমরা কি তাদের পাত্রে আহার করতে পারি? তিনি বললেন: «তোমরা তাতে আহার করো না, তবে যদি অন্য কোনো পাত্র না পাও, তবে তা ধুয়ে নাও এবং তাতে আহার করো।» এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম উভয়ই এটি বর্ণনা করেছেন)। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (৫৪৭৮), (৫৪৮৮), (৫৪৯৬) এবং মুসলিম (১৯৩০)। আবু সা’লাবা থেকে এর একাধিক সূত্র ও পাঠ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٢)
22 - وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ تَوَضَّئُوا مِنْ مَزَادَةِ امْرَأَةٍ مُشْرِكَةٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، فِي حَدِيثٍ طَوِيلٍ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه البخاري: 1/ 76 (344)، ومسلم: 2/ 140 (1595)
২২ - ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ একজন মুশরিক মহিলার বড় চামড়ার মশক (পানির পাত্র) থেকে অজু করেছিলেন। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থেই বর্ণিত), যা একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশ। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। বর্ণনা করেছেন বুখারী: ১/ ৭৬ (৩৪৪), এবং মুসলিম: ২/ ১৪০ (১৫৯৫)
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٢)
23 - وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه: أَنَّ قَدَحَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم انْكَسَرَ، فَاتَّخَذَ مَكَانَ الشَّعْبِ سِلْسِلَةً مِنْ فِضَّةٍ. أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه البخاري (3109)
২৩ - আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি পানপাত্র ভেঙে গিয়েছিল, তখন তিনি ফাটল ধরার স্থানে রুপার একটি শিকল লাগিয়ে নিয়েছিলেন। এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন (৩১০৯)
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌بَابُ إِزَالَةِ النَّجَاسَةِ وَبَيَانِهَا

24 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الْخَمْرِ تُتَّخَذُ خَلًّا? قَالَ: «لَا». أَخْرَجَهُ مُسْلِم. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه مسلم (1983)
নাপাকি দূরীকরণ ও তার বর্ণনা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

২৪ - আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তা সিরকায় রূপান্তর করা যাবে কি না? তিনি বললেন: "না।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১৯৮৩)।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٢)
25 - وَعَنْهُ قَالَ: لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ، أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَا طَلْحَةَ، فَنَادَى: ⦗ص: 13⦘ «إِنَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يَنْهَيَانِكُمْ عَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ [الْأَهْلِيَّةِ] ، فَإِنَّهَا رِجْسٌ». مُتَّفَقٌ عَلَيْه. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه البخاري (2991)، ومسلم (1940) من طريق محمد بن سيرين، عن أنس به. وزاد مسلم: «من عمل الشيطان».
২৫ - তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন খায়বারের দিন উপস্থিত হলো, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালহা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নির্দেশ প্রদান করলেন, অতঃপর তিনি ঘোষণা করলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ «নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদেরকে [গৃহপালিত] গাধার গোশত ভক্ষণ করতে নিষেধ করছেন, কেননা তা অপবিত্র (নাপাক)»। বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (২৯৯১) এবং মুসলিম (১৯৪০); মুহাম্মাদ ইবনে সীরীনের সূত্রে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। আর মুসলিম অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: «শয়তানের কাজ থেকে»।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٣)
26 - وَعَنْ عَمْرِو بْنِ خَارِجَةَ رضي الله عنه قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى، وَهُوَ عَلَى رَاحِلَتِهِ، وَلُعَابُهَا يَسِيلُ عَلَى كَتِفَيَّ. أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ، وَالتِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَه. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه أحمد (487)، والترمذي (2121)، وهو وإن كان في سنده ضعف إلا أن له ما يشهد له، وللحديث تتمة، وقد فصلت ذلك في «الأصل». وقال الترمذي: «حديث حسن صحيح».
২৬ - আমর ইবনু খারি জাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিনায় আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর বাহনের ওপর আরোহী ছিলেন এবং সেটির লালা আমার দুই কাঁধের ওপর ঝরছিল। এটি আহমাদ এবং তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৪৮৭) এবং তিরমিযী (২১২১)। যদিও এর সনদে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে, তবে এর সমর্থনে শক্তিশালী সাক্ষ্য (শাহিদ) বিদ্যমান। হাদীসটির একটি পরিশিষ্ট রয়েছে এবং আমি ‘মূল গ্রন্থে’ (আল-আসল) তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: ‘হাদীসটি হাসান সহীহ’।
(খণ্ড: ১) বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম তা. আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٣)
27 - وَعَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْسِلُ الْمَنِيَّ، ثُمَّ يَخْرُجُ إِلَى الصَّلَاةِ فِي ذَلِكَ الثَّوْبِ، وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَى أَثَرِ الْغُسْلِ فِيهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْه. (1)

--------------------------------------------

(1) - صحيح. رواه البخاري (229)، ومسلم (289) من طريق سليمان بن يسار، عن عائشة، به. واللفظ المذكور لمسلم.
২৭ - আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বীর্য ধুয়ে ফেলতেন, অতঃপর তিনি সেই কাপড় পরেই সালাতের জন্য বের হতেন, এমতাবস্থায় আমি তাতে ধৌত করার চিহ্ন দেখতে পেতাম। বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) - সহীহ। এটি ইমাম বুখারী (২২৯) এবং মুসলিম (২৮৯) সুলাইমান ইবন ইয়াসারের সূত্রে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং উল্লিখিত শব্দগুলো ইমাম মুসলিমের।