(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: -)
شريعة القرآن من دلائل إعجازه القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: شريعة القرآن من دلائل إعجازه
المؤلف: محمد بن أحمد بن مصطفى بن أحمد المعروف بأبي زهرة (ت 1394هـ)
الناشر: دار العروبة - القاهرة
عام النشر: 1381 هـ - 1961 م
عدد الصفحات: 94
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআনের শরীয়ত: এর অলৌকিকত্বের অন্যতম নিদর্শন বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান এবং তাফসিরের মূলনীতি
গ্রন্থ: কুরআনের শরীয়ত: এর অলৌকিকত্বের অন্যতম নিদর্শন
লেখক: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুস্তফা বিন আহমদ, যিনি আবু জাহরা নামে পরিচিত (মৃত্যু ১৩৯৪ হি.)
প্রকাশক: দারুল উরুবাহ - কায়রো
প্রকাশের বছর: ১৩৮১ হি. - ১৯৬১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
আল্লাহ এর লেখক এবং এর লিখনীর ব্যয়ভার বহনকারীকে সর্বোত্তম ও পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করুন.
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الكتاب: شريعة القرآن من دلائل إعجازه
المؤلف: الإمام / محمد أبو زهرة رحمه الله
الناشر: دار العروبة - القاهرة
عام النشر: 1381 هـ - 1961 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
গ্রন্থ: কুরআনের শরীয়ত: এর অলৌকিকত্বের নিদর্শনসমূহ
লেখক: ইমাম মুহাম্মদ আবু জাহরা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)
প্রকাশক: দারুল উরুবাহ - কায়রো
প্রকাশকাল: ১৩৮১ হিজরি - ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
আল্লাহ এই গ্রন্থের লেখক এবং যিনি এর মুদ্রণ ব্যয় বহন করেছেন তাঁদেরকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
تمهيد1 - بعث الله كل نبي من الأنبياء بمعجزة تشده لها العقول. وتقف عندها القدرة البشرية، فتعجز عن الإتيان بمثلها، وتحمل من أنار الله بصيرته على الإذعان والتسليم والإيمان والاطمئنان.
وكل معجزة تناسب العصر الذي بعث فيه النبي، وتتفق مع ما تدركه عقولهم، من حدود القدرة البشرية في موضوع المعجزة وذاتها، وقد تكون علاجاً لحالهم.
فمعجزة موسى كانت في بلد أتقن السحر، فجاءت من جنسه
…ومعجزة عيسى عليه السلام كانت في قوم خضعوا لحكم المادة، ولم يعترفوا بغيرها، فجاءت معجزته عليه السلام متجهة كلها لإثبات ما وراء المادة. بل إن ولادته عليه السلام نفسها كانت من هذا النوع، فهي وحدها برهان على سلطان الروح وتفكك الأسباب المادية وتراخيها عن مسبباتها، ووجود تلك المسببات من غير قيام الأسباب.
2 - ولقد كانت كل المعجزات التي حكيت عن النبيين السابقين
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা (تمهيد)১ - আল্লাহ প্রত্যেক নবীকে এমন একটি মুজিজা (معجزة) দিয়ে পাঠিয়েছেন যা মানুষের বিবেককে সেদিকে নিবিষ্ট করে। আর মানুষের সক্ষমতা এর সামনে থমকে দাঁড়ায়, ফলে তারা এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম হয় এবং যাদের অন্তর্দৃষ্টিকে আল্লাহ আলোকিত করেছেন তাদের এটি বশ্যতা স্বীকার, আত্মসমর্পণ, ঈমান ও প্রশান্তির দিকে ধাবিত করে।
প্রতিটি মুজিজা (معجزة) সেই যুগের উপযোগী ছিল যে যুগে নবী প্রেরিত হয়েছিলেন এবং তা মুজিজার বিষয়বস্তু ও সত্তার ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি ও মানবিক ক্ষমতার সীমার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল; এমনকি তা অনেক সময় তাদের অবস্থার প্রতিকার স্বরূপও হতো।
মূসা (আ.)-এর মুজিজা (معجزة) এমন এক দেশে ছিল যেখানে জাদুবিদ্যায় পারদর্শিতা ছিল তুঙ্গে, তাই তা ছিল সেই জাতীয়...
…আর ঈসা আলাইহিস সালামের মুজিজা (معجزة) এমন এক সম্প্রদায়ের মাঝে ছিল যারা বস্তুবাদের শাসনের বশীভূত ছিল এবং বস্তু ছাড়া অন্য কিছুকে স্বীকার করত না। ফলে তাঁর মুজিজা (معجزة) সম্পূর্ণরূপে বস্তুাতীত বিষয়সমূহ প্রমাণের লক্ষ্যে প্রকাশ পেয়েছিল। বরং তাঁর জন্ম নিজেই ছিল এই প্রকৃতির; যা এককভাবে রূহের আধিপত্য এবং বস্তুগত কারণসমূহের বিচ্ছিন্নতা ও কার্যকারণ সম্পর্কের শিথিলতা এবং কোনো জাগতিক মাধ্যম ছাড়াই ফলাফলের অস্তিত্বের প্রমাণ ছিল।
২ - আর পূর্ববর্তী নবীদের সম্পর্কে বর্ণিত সকল মুজিজা (معجزة) ছিল...
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
معجزات مادية حسية، تكشف عن معنى روحي، وعن تنزيل سماوي؛ فقد كانت تقر الحس فيخضع، وتبده العقول فتخنع، فيذعن من أزال الله عن قلبه الغشاوة، وينكر من غلبت عليه شقوته وعمّت كل نواحي نفسه ضلالته.
ولكن معجزة محمد - صلوات الله عليه - لم تكن مادة تقرع، ولا أمراً حسياً ترى العيون إعجازه رأي العيان، بل كانت أمراً معنوياً تتأمله العقول والأفهام، وتتعرفه المدارك البشرية في كل الأزمان، ولم يفقد حجيته، ولم يزل إعجازه كر الغداة ومر العشى.
3 - وهنا يثور بادى الرأي ويلمح النظر سؤال:
ولماذا كانت معجزة محمد - صلوات الله عليه - أمراً معنوياً، والمعجزات السابقة أموراً حسية، أو لماذا كانت معجزة محمد كلاماًَ متلوا ومعجزات غيره وقائع مادية؟
إن الجواب عن ذلك السؤال مشتق من شريعة محمد ذاتها، ومن حقيقة القرآن الكريم، فشريعة محمد خالدة باقية، خوطبت بها الأجيال من مبعثه إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، وقد خوطب بها الناس جميعاً في كل الأرض، مهما اختلفت أجناسهم وتباينت أقاليمهم، وتضاربت عاداتهم.
فكان لابد أن تكون معجزة النبي متفقة مع هذا العموم،
বস্তুগত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অলৌকিক নিদর্শনসমূহ (معجزة), যা একটি আধ্যাত্মিক তাৎপর্য এবং আসমানি প্রত্যাদেশের বহিঃপ্রকাশ ঘটাত; এগুলো ইন্দ্রিয়কে এমনভাবে অভিভূত করত যে সে নতি স্বীকার করত এবং জ্ঞানবুদ্ধিকে এমনভাবে চমকে দিত যে তা বিনীত হয়ে যেত। ফলে যার অন্তর থেকে আল্লাহ তায়ালা আবরণ সরিয়ে দিয়েছেন সে তা মেনে নিত, আর যার ওপর দুর্ভাগ্য প্রবল হয়েছে এবং যার সত্তার প্রতিটি দিক ভ্রষ্টতায় আচ্ছন্ন হয়েছে সে তা অস্বীকার করত।
কিন্তু মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) কোনো আঘাতকারী বস্তু ছিল না, কিংবা এমন কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ও ছিল না যার অলৌকিকত্ব চোখ দিয়ে সরাসরি প্রত্যক্ষ করা যায়; বরং তা ছিল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় যা জ্ঞান ও বোধশক্তি দিয়ে অনুধাবন করতে হয় এবং সকল যুগের মানবীয় প্রজ্ঞা যা চিহ্নিত করতে পারে। এটি তার প্রামাণিকতা (حجية) হারায়নি এবং সময়ের আবর্তনে দিন-রাত্রির বিবর্তনের সাথে সাথে এর অলৌকিকত্ব কখনো ম্লান হয়নি।
৩ - এখানে প্রাথমিক চিন্তায় এবং দৃষ্টিপাতে একটি প্রশ্ন উদয় হয়:
কেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় হলো, যেখানে পূর্ববর্তী অলৌকিক নিদর্শনসমূহ ছিল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য? অথবা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অলৌকিক নিদর্শন কেন পঠিত বাণী হলো এবং অন্যদের অলৌকিক নিদর্শন ছিল বস্তুগত ঘটনা?
নিশ্চয়ই সেই প্রশ্নের উত্তর স্বয়ং মুহাম্মাদি শরিয়তের প্রকৃতি এবং পবিত্র কুরআনের প্রকৃত রহস্যের মধ্যেই নিহিত। মুহাম্মাদি শরিয়ত চিরন্তন ও শাশ্বত; তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তি থেকে শুরু করে আল্লাহ তায়ালা এই পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের উত্তরাধিকারী হওয়া পর্যন্ত সকল প্রজন্মের প্রতি এই শরিয়ত সম্বোধিত হয়েছে। পৃথিবীর সকল প্রান্তের সকল মানুষকে এর মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়েছে, তাদের জাতিগত বৈচিত্র্য, ভৌগোলিক ভিন্নতা এবং রীতিনীতির বৈপরীত্য থাকা সত্ত্বেও।
তাই নবীর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) এই ব্যাপকতার (عموم) সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া ছিল অনিবার্য।
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ومتلائمة مع هذا الخلود، ولا يمكن أن تكون كذلك إذا كانت وقائع مادية تقتضي بإنقضاء وقتها، ولا يعلم بها علم اليقين إلا من عاينها، فالنار التي ألقى فيها خليل الله إبراهيم ولم تحرقه، لم يعلمها علم اليقين إلا الذين رأوها، وعصا موسى التي انقلبت حية تسعى، تلقف ما يأفكون، لم يعلمها علماً جازماً إلا الذين شاهدوها، وإبراء عيسى للأكمة والأبرص لم يعلم به إلآ الذين لمسوه.
أما معجزة محمد فهي ذلك القرآن المتلو المشتمل على الشريعة المحكمة، وهو باق يرى ويتلوى إلى يوم القيامة فيعلم حقيقته من ألتقى بالنبي صلوات الله عليخ وعاينه وخاطبه، ومن جاء بعد عذر الرسول بعشرة قرون. بل بعشرات القرون إن أمتد عمر الإنسان في هذه الأرض عشرات القرون، ولقد حفظه منزله الأجيال كما نزل على محمد {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} .
فالناس في كل الأجيال بعد محمد يرون معجزته رأي العيان، كمن شاهدوا محمداً وخاطبوه، وإن كان لهؤلاء الصحب الكرام فضل علم، فهم مشتق من مشافهة النبي خطابه والتحدث عليه، وهو مشرق الحق ومصدر العرفان وروح الهدى ونور الوجود.
وإذا كانت الأجيال كلها ترى تلك المعجزة وتفهمها، فهي حجة الله الفاتحة عليها، فإن ضلت لا تضل عن جهالة ولا عن
এবং এই শাশ্বত হওয়ার সাথে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি এমন হতে পারে না যদি তা এমন বস্তুগত ঘটনা হয় যা সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে শেষ হয়ে যায় এবং যারা তা স্বচক্ষে দেখেছে তারা ছাড়া অন্য কেউ তা নিশ্চিত জ্ঞান (علم اليقين) লাভ করতে পারে না। অতএব, যে অগ্নিতে আল্লাহর বন্ধু ইবরাহিমকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং যা তাঁকে দগ্ধ করেনি, তা যারা স্বচক্ষে দেখেছিল তারা ছাড়া অন্য কেউ নিশ্চিত জ্ঞান (علم اليقين) লাভ করতে পারেনি। মুসার লাঠি যা জীবন্ত সাপে রূপান্তরিত হয়ে দ্রুত চলছিল এবং তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করছিল, যারা তা সচক্ষে দেখেছিল তারা ছাড়া অন্য কেউ সে সম্পর্কে চূড়ান্ত জ্ঞান (علماً جازماً) অর্জন করতে পারেনি। আর ঈসা কর্তৃক জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করার বিষয়টিও তারা ছাড়া কেউ জানতে পারেনি যারা তা স্পর্শ করেছিল।
পক্ষান্তরে মুহাম্মাদ (সা.)-এর মুজিজা (معجزة) হলো সেই পঠিত কুরআন যা সুদৃঢ় শরিয়তকে (الشريعة المحكمة) অন্তর্ভুক্ত করে। এটি কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে, যা দেখা যাবে এবং তিলাওয়াত করা হবে। ফলে এর হাকিকত বা বাস্তবতা তারা জানতে পারবে যারা নবীর (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক) সাক্ষাৎ লাভ করেছে, তাঁকে দেখেছে এবং তাঁর সাথে কথা বলেছে, এবং যারা রাসুলের যুগের দশ শতাব্দী পর এসেছে তারাও তা জানতে পারবে। বরং দশকের পর দশক শতাব্দী অতিবাহিত হলেও, যদি পৃথিবীতে মানুষের আয়ু দশ শতাব্দীকাল দীর্ঘ হয়। আর এর অবতীর্ণকারী একে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেভাবেই সংরক্ষণ করেছেন যেভাবে তা মুহাম্মাদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল: "নিশ্চয়ই আমি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।"
সুতরাং মুহাম্মাদ (সা.)-এর পরবর্তী সকল প্রজন্মের মানুষ তাঁর মুজিজাকে (معجزة) স্বচক্ষে দেখার মতোই দেখতে পায়, যেমনটি যারা মুহাম্মাদ (সা.)-কে দেখেছিলেন এবং তাঁর সাথে কথা বলেছিলেন তারা দেখেছিলেন। যদিও সেই সকল সম্মানিত সাহাবীর (الصحب الكرام) ইলম বা জ্ঞানের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, কারণ তা সরাসরি নবীর জবান মোবারক থেকে শোনা এবং তাঁর সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে আহরিত। আর তিনি হলেন সত্যের উদয়স্থল, তত্ত্বজ্ঞানের উৎস, হিদায়াতের রুহ এবং অস্তিত্বের নূর।
আর যেহেতু সকল প্রজন্মই সেই মুজিজাকে (معجزة) দেখতে পাচ্ছে এবং বুঝতে পারছে, তাই এটি তাদের ওপর আল্লাহর অকাট্য দলিল (حجة الله)। সুতরাং যদি তারা পথভ্রষ্ট হয়, তবে তা অজ্ঞতার কারণে নয় এবং...
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
نقص في البينات، ولا عن شك في الأمر، بل عن عمى في البصيرة وتحكم الهوى وسيطرة الأوهام،
4 - ولقد تكلم العلماء قديماً وحديثاً في موضع الإعجاز في القرآن - معجزة النبي صلوات الله عليه وسلم الكبرى، فمن قائل: إنه ما اشتمل عليه من قصص صادقة لم يعلمها النبي الأمين عن غير طريق الوحي، أو لم يجلس إلى معلم ولم يتعلم، ولم يكن كثير الرحلة حتى ينال علم التجربة بالأسفار، بل لم يتجاوز بطحاء مكة إلا مرتين: إحداهما في الثانية عشرة، والأخرى في نحو الخامسة والعشرين، فصدقها مع هذه الأمية دليل على أنها من عند الله".
ومن قائل: "إن الإعجاز في اشتماله على حقائق علمية كونبة، لم يصل إليها العقل البشري إلا بعد قرون، وقد جاءت في القرآن على لسان نبي أمي لم يتعلم، ولم يجلس إلى معلم كما بينا".
ومن قائل: "إن ذلك الإعجاز في أسلوب القرآن ونغمه ونسقه، وعلى ذلك الأكثرون".
وهو ما تومئ إليه عبارات القرآن الكريم، فقد تحداهم أن يأتوا بعشر سور من مثله ولو مفتريات فعجزوا، فكان أسلوب القرآن معجزاً لا ريب في ذلك.
5 - ونحن نرى إن كل ما ذكره العلماء سبباً لإعجاز القرآن هو
প্রমাণের অভাব থেকে নয়, কিংবা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের কারণেও নয়; বরং তা ছিল অন্তর্দৃষ্টির অন্ধত্ব, প্রবৃত্তির তাড়না এবং অলীক কল্পনার আধিপত্যের ফলে।
৪ - আর প্রাচীন ও আধুনিক কালের আলেমগণ পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন—যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা। কেউ বলেন: এটি কুরআনে বিদ্যমান সেই সত্য কাহিনিসমূহ যা আমানতদার নবী ওহির মাধ্যম ব্যতীত জানতেন না, অথবা তিনি কোনো শিক্ষকের কাছে বসেননি এবং কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেননি। তিনি অত্যধিক ভ্রমণকারীও ছিলেন না যে সফরের মাধ্যমে লব্ধ অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন, বরং তিনি মক্কার উপত্যকা থেকে মাত্র দুইবার বের হয়েছিলেন: একবার বারো বছর বয়সে এবং অন্যবার প্রায় পঁচিশ বছর বয়সে। সুতরাং তাঁর এই নিরক্ষরতা সত্ত্বেও এগুলোর সত্যতা প্রমাণ করে যে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে।
আবার কেউ বলেন: "কুরআনের অলৌকিকত্ব হলো এর ভেতর বিশ্বজগৎ সম্পর্কিত এমন বৈজ্ঞানিক সত্যের উপস্থিতির মধ্যে, যেখানে মানব বুদ্ধি কয়েক শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে পৌঁছাতে পারেনি। অথচ এটি কুরআনে এসেছে একজন নিরক্ষর নবীর জবানিতে যিনি শিক্ষা লাভ করেননি এবং কোনো শিক্ষকের নিকট উপবেশন করেননি, যেমনটি আমরা স্পষ্ট করেছি।"
আবার কেউ বলেন: "নিশ্চয়ই সেই অলৌকিকত্ব কুরআনের শব্দশৈলী, ধ্বনিমাধুর্য এবং ছন্দের বিন্যাসে নিহিত, আর অধিকাংশ আলেম এই মতই পোষণ করেন।"
আর পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ এই বিষয়ের দিকেই ইঙ্গিত করে। কেননা তিনি তাদেরকে এর মতো দশটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ প্রদান করেছিলেন—যদি সেগুলো বানোয়াট (مفتريات) হয় তবুও—কিন্তু তারা অক্ষম হয়েছিল। সুতরাং কুরআনের শব্দশৈলী যে অলৌকিক, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
৫ - আর আমরা মনে করি যে, আলেমগণ কুরআনের অলৌকিকত্বের কারণ হিসেবে যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তা হলো
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
بلا ريب من أسبابه، غير أن سبباً واحداً لم نر العلماء قد ذكروه، ونراه من أقوى الأسباب أو يعدل أقراها إن لم يكن أقواها جميعاً، وبه القرآن يكون معجزاًَ لكل الناس، لا للعرب وحدهم، ولا لجيل من الأجيال، بل يكون معجزاً للأجيال كلها، ألا وهو شريعة القرآن، فما اشتمل عليه القرآن من أحكام سواء ما كان منها يتعلق بالأسرة أو ما يتعلق بالمجتمع، وما يتعلق بالعلاقة الدولية، فريد في بابه لم يسبقه شرع سابق، ولم يلحق بما وصل إليه شرع لاحق، وإذا ما كان ذلك كله قد جاء على لسان أمي لا يقرأ ولا يكتب، لم يتعلم قط لا بالقلم والقرطاس، ولا بالتلقين والتوقيف، ولا بالتجربة والأسفار، إن ذلك هو الإعجاز الذي تتيه العقول في تعرف سببه، إلا أن يكون ذلك من عند الله العلي الحكيم، وكذلك قال الرسول صلوات الله وسلامه عليه.
6 - هذا كلام إجمالي وهو يحتاج إلى بعض من البيان، ولأجل أن نتبين قيمة ذلك الشرع في ذاته ونظر الناس يجدر بنا أن نرجع إلى الماضي السحيق ونتطلع إلى المستقبل البعيد.
أما في الماضي فنجد أن الشرع الذي أقترن بظهور محمد الرسول الأمين، هو قانون الرومان، فقد كان الشرع المسيطر في التطبيقات العملية والقضائية في مصر والشام وغيرها من البلدان التي تصاقب البلاد العربية وتحيط بها من الغرب والشمال، ويقول علماء
নিঃসন্দেহে এটি এর অন্যতম কারণ, তবে এমন একটি কারণ রয়েছে যা আমরা আলেমদের (علماء) উল্লেখ করতে দেখিনি। আমাদের দৃষ্টিতে এটি শক্তিশালী কারণসমূহের অন্তর্ভুক্ত অথবা এটি শক্তিশালী কারণগুলোর সমতুল্য, যদি সবচাইতে শক্তিশালী নাও হয়। এর মাধ্যমেই কুরআন সকল মানুষের জন্য অলৌকিক (معجز) হিসেবে গণ্য হয়, যা শুধু আরবদের জন্য কিংবা কোনো বিশেষ প্রজন্মের জন্য নয়, বরং সকল প্রজন্মের জন্য অলৌকিক (معجز)। আর তা হলো কুরআনের শরীয়াহ। কুরআন যেসব বিধিবিধান (أحكام) ধারণ করে আছে—তা চাই পরিবার সংক্রান্ত হোক, সমাজ সংক্রান্ত হোক কিংবা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক হোক—তা আপন বৈশিষ্ট্যে অনন্য। এর পূর্বেকার কোনো শরীয়াহ একে অতিক্রম করতে পারেনি এবং পরবর্তী কোনো শরীয়াহ এর মানে পৌঁছাতে পারেনি। আর এই সমস্ত কিছু যখন এমন এক নিরক্ষর (أمي) মানুষের মুখনিঃসৃত হয়, যিনি পড়তে বা লিখতে জানতেন না, কলম ও কাগজের মাধ্যমে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেননি, এমনকি কারো মুখে শুনে (تلقين) বা নির্দিষ্ট কারো নির্দেশে (توقيف) কিংবা অভিজ্ঞতা ও ভ্রমণের মাধ্যমেও কোনো জ্ঞান অর্জন করেননি, তখন এটিই সেই অলৌকিকত্ব (إعجاز) যা দেখে মানুষের বুদ্ধি দিশেহারা হয়ে পড়ে। এর কারণ এটাই হতে পারে যে, এটি সুউচ্চ প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনই বলেছেন।
6 - এটি একটি সারসংক্ষেপ কথা যা কিছুটা ব্যাখ্যার দাবি রাখে। সেই শরীয়াহর নিজস্ব মূল্য এবং মানুষের দৃষ্টিতে এর গুরুত্ব অনুধাবনের জন্য আমাদের সুদূর অতীতে ফিরে যাওয়া এবং সুদূর ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন।
অতীতের দিকে তাকালে আমরা দেখি যে, বিশ্বস্ত রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আবির্ভাবের সময় যে আইনটির প্রচলন ছিল, তা হলো রোমান আইন। মিসর, শাম এবং আরব ভূখণ্ডের পার্শ্ববর্তী পশ্চিম ও উত্তর দিকে বেষ্টিত দেশগুলোতে বাস্তব প্রয়োগ ও বিচারিক ক্ষেত্রে এটিই ছিল প্রভাবশালী আইন। আলেমগণ (علماء) বলেন—
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
القانون اليوم إنه من أكمل الشرائع التي تفتق عنها العقل البشري، ولا زال يعتبر اصلاً لكثير من الشرائع القائمة، انفرعت من أصوله وقامت على دعائمه.
وإن من يريد أن يعرف منزلة الشريعة الإسلامية وأنها في درجة فوق مستوى العقل البشري، فليوازن بينها وبين القانون الروماني، لأن قانون الرومان قد استوى على سوقه، وبلغ نهاية كماله في عهد جوستنيان سنة 533 بعد ميلاد المسيح عليه السلام، وهو في هذا الوقت كان صفوة القوانين السابقة، وفيه علاج لعيوبها وسد لخللها من يوم أن أنشئت روما سنة 744 قبل الميلاد، إلى سنة 533 بعده، أي أنه ثمرة تجارب قانونية لنحو ثلاثة عشر قرناً ظهرت فيها الفلسفة اليونانية. وبلغت أوجها، وقد أستعانوا في تلك التجارب القانونية بقوانين سولون لأثينا، وقوانين ليكورغ لإسبارظة والنظم اليونانية عامة، والمناهج النظامية والفلسفية التي فكر فيها الفلاسفة اليونان، لبيان أمثل النظم التي يقوم عليها المجتمع الفاضل. كالذي جاء في كتاب القانون وكتاب الجمهورية لأفلاطون، وكتاب السياسة لأرسطو، وغيرها من ثمرات عقول الفلاسفة والعلماء في عهد اليوناان والرومان.
وإن شئت فقل: إن القانون الروماني هو خلاصة ما وصل
বর্তমান আইন হলো মানব মেধার উদ্ভাবিত নিখুঁততম বিধানসমূহের অন্যতম এবং এটি এখনও বিদ্যমান বহু আইনি ব্যবস্থার মূল উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, যা এর মূলনীতিসমূহ থেকে উদ্ভূত এবং এর স্তম্ভগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত।
যে ব্যক্তি ইসলামী শরীয়তের মর্যাদা এবং তা যে মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির স্তরের ঊর্ধ্বে তা উপলব্ধি করতে চায়, সে যেন ইসলামী শরীয়ত ও রোমান আইনের মধ্যে তুলনা করে। কারণ রোমান আইন পূর্ণতা লাভ করেছিল এবং ৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে জাস্টিনিয়ানের রাজত্বকালে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছিল। সেই সময়ে এটি ছিল পূর্ববর্তী আইনসমূহের সারসংক্ষেপ এবং এতে খ্রিস্টপূর্ব ৭৪৪ সালে রোম প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৫৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিদ্যমান ত্রুটিসমূহের সংশোধন ও অসংগতি দূর করার ব্যবস্থা ছিল। অর্থাৎ এটি ছিল গ্রিক দর্শনের বিকাশকালসহ প্রায় তেরো শতাব্দীর আইনি অভিজ্ঞতার ফসল। আর যখন তা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছিল, তখন তারা সেই আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এথেন্সের সলোনের আইন, স্পার্টার লাইকারগাসের আইন এবং সামগ্রিকভাবে গ্রিক ব্যবস্থা ও সেই সব পদ্ধতিগত ও দার্শনিক চিন্তাধারা থেকে সাহায্য নিয়েছিল যা গ্রিক দার্শনিকগণ একটি আদর্শ সমাজ পরিচালনার সর্বোত্তম ব্যবস্থার বিবরণে পেশ করেছিলেন। যেমনটি প্লেটোর 'আইন' ও 'প্রজাতন্ত্র' এবং অ্যারিস্টটলের 'রাজনীতি' গ্রন্থে এবং গ্রিক ও রোমান যুগের অন্যান্য দার্শনিক ও পণ্ডিতদের মেধা-প্রসূত চিন্তায় ফুটে উঠেছে।
আপনি চাইলে বলতে পারেন: রোমান আইন হলো সেই সব কিছুর নির্যাস যা পৌঁছেছে
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
إليه العقل البشري في مدى ثلاثة عشر قرناً في تنظيم الحقوق والواجبات، فإذا وازنا بينه وبين ما جاء على لسان محمد النبي النبي الأمي وأنتجت الموازنة أن العدل فيما قاله محمد ليس من صنع بشر، إنه العليم الحكيم اللطيف الخبير سبحانه.
7 - وفي أي جانب أخترت الموازنة بين ما اشتمل عليه القرآن وما اشتملت عليه الشرائع التي سبقته أو عاصرته بدا لك الفرق ما بين السمو الروح0ي، والأخلاق الأرضية. فمن ناحية المساواة القانونية نجد الشريعة قد وصلت إلى أعلا درجاتها، بينما القوانين التي عاصرتها لم تعترف بأصلها.
فالقرآن يقول: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ} والشرائع التي سبقته وعاصرته لم تعرف تلك المساواة بين الأجناس والألوان، بل لم تعرف المساواة بين آحاد الأمة الواحدة.
وبينما شريعة القرآن تخفف عقوبة الأرقاء فتجعل عقوبتهم نصف عقوبة الحر، نجد قانون الرومان يضاعف عقوبة الضعفاء فالقرآن يقول في الإماء: {فَإِذَا أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ} وكذلك العبد إن أتى بفاحشة فعقوبته نصف الحر.
ولكن قانون الرومان يقول: "ومن يستهوي أرملة مستقيمة
অধিকার ও কর্তব্য বিন্যাসের ক্ষেত্রে দীর্ঘ তেরো শতাব্দী ধরে মানব মস্তিষ্ক যেখানে পৌঁছেছে, তার সাথে যদি উম্মী নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণীর তুলনা করি এবং সেই তুলনার ফলাফল যদি এই হয় যে, মুহাম্মাদ (সা.) যা বলেছেন তার মধ্যকার ন্যায়বিচার কোনো মানুষের সৃষ্টি নয়; তবে নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়, সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক অবহিত, তিনি পবিত্র ও মহান।
7 - কুরআন যা অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এর পূর্ববর্তী বা সমসাময়িক শরিয়তসমূহ যা ধারণ করেছে, আপনি যে কোনো দিক থেকেই এই দুইয়ের মধ্যে তুলনা করতে পছন্দ করুন না কেন, আপনার কাছে আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং পার্থিব নৈতিকতার মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আইনি সমতার দিক থেকে আমরা দেখতে পাই যে, শরিয়ত তার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে, অথচ তার সমসাময়িক আইনগুলো এর মৌলিকত্বকেই স্বীকার করেনি।
কেননা কুরআন বলছে: {হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, আর তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই সর্বাধিক মর্যাদাবান (যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি)}। অথচ এর পূর্ববর্তী ও সমসাময়িক শরিয়তগুলো বিভিন্ন বংশ ও বর্ণের মধ্যে এই সমতা সম্পর্কে জানত না, এমনকি তারা একই জাতির ব্যক্তিবর্গের মধ্যেও সমতা সম্পর্কে অবগত ছিল না।
যেখানে কুরআনের শরিয়ত দাসদের দণ্ড লাঘব করে তাদের দণ্ডকে স্বাধীন ব্যক্তির দণ্ডের অর্ধেক নির্ধারণ করেছে, সেখানে আমরা দেখি রোমান আইন দুর্বলদের দণ্ড দ্বিগুণ করে দেয়। দাসীদের ক্ষেত্রে কুরআন বলছে: {অতঃপর যখন তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়, এরপর যদি তারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তবে তাদের জন্য স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি প্রযোজ্য হবে}। একইভাবে দাসের ক্ষেত্রেও যদি সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তবে তার দণ্ড স্বাধীন ব্যক্তির অর্ধেক।
কিন্তু রোমান আইন বলে: "আর যে ব্যক্তি কোনো সচ্চরিত্রা বিধবাকে প্রলুব্ধ করে..."
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أو عذراء فعقوبته إن كان من بيئة كريمة مصادرة نصف ماله، وإن كان من بيئة ذميمة فعقوبته الجلد والنفي من الأرض.
وإن النظر العادل يقر بالبداهة نظر شريعة القرآن لأن العقوبات يجب أن تشير بنسبة تصاعدية مع الأشخاص لا بنسبة عكسية، فتكبر جريمة الكبير وتصغر عقوبة الصغير.. لأنه إذا هانت النفس على صاحبها سهل عليه الوقوع في الجرائم، فكان التخفيف، وإذا كبرت قيمة الرجل في أعين الناس كانت عليه تبعات بمقدار عظمته، وكانت صغائره كبائر، وتضاعفت العقوبة، فالجاه والثروة وغيرها ليست متعاً خالصة خالية من تبعات بل عليها تبعات بقدرها.
وإن القوانين التي تسير عكساً لا طرداً، كالقانون الروماني، قوانين ظالمة، كيف؟ لأنها تستمد منطقها من القوة الغالبة، فكلما كان الشخص من ذوي الجاه ضعفت عقوبته، وكلما كان نم الضعفاء زادت من عقوبته، فهو يحمي الشريف ولا يحمي الضعيف، وقد سمي القرآن ذلك حكم الجاهلية، ولذا قال الله في حق اليهود عندما طلبوا أن يحكم النبي على الشريف الزاني بغير العقوبة المقررة: {أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} ؟
ولقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إنما أهلك الذين من قبلكم كانوا إذا سرق الشريف تركوه. وإذا سرق الضعيف
অথবা কুমারী নারী; তবে অপরাধী যদি কোনো সম্ভ্রান্ত পরিবেশের হয়, তবে তার শাস্তি হলো তার অর্ধেক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা। আর যদি সে নিচ বা হীন পরিবেশের হয়, তবে তার শাস্তি হলো বেত্রাঘাত এবং দেশান্তর করা।
বস্তুত ন্যায়নিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি স্বাভাবিকভাবেই কুরআনের শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বীকার করে নেয়; কারণ শাস্তির বিধান ব্যক্তিদের মর্যাদার সাথে ক্রমবর্ধমান হারে হওয়া উচিত, বিপরীত অনুপাতে নয়। ফলে উচ্চপদস্থ ব্যক্তির অপরাধ বড় হিসেবে গণ্য হয় এবং সাধারণ ব্যক্তির শাস্তি হয় লঘু। কারণ, যখন কোনো ব্যক্তির কাছে নিজের নফস তুচ্ছ হয়ে যায়, তখন তার পক্ষে অপরাধে লিপ্ত হওয়া সহজ হয়ে পড়ে, তাই সেখানে শাস্তির লাঘব করা হয়। অন্যদিকে মানুষের চোখে যখন কোনো ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, তখন তার মহত্ব অনুযায়ী তার ওপর দায়বদ্ধতাও বৃদ্ধি পায়। তখন তার ছোট ভুলগুলোও বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং শাস্তি দ্বিগুণ হয়ে যায়। সুতরাং পদমর্যাদা ও সম্পদ কেবল দায়বদ্ধতাহীন নিছক ভোগবিলাস নয়, বরং এগুলোর পরিমাপ অনুযায়ী দায়বদ্ধতাও রয়েছে।
যেসব আইন সমানুপাতিক না হয়ে বিপরীতমুখী হয়—যেমন রোমান আইন—তা হলো জুলুমপূর্ণ আইন। কেন? কারণ এ জাতীয় আইন তার যৌক্তিকতা আহরণ করে প্রভাবশালী শক্তির কাছ থেকে। ফলে কোনো ব্যক্তি যখনই উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হয়, তখন তার শাস্তি কমে যায়; আর যখনই সে দুর্বলদের (الضعفاء) অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন তার শাস্তি বেড়ে যায়। এটি মূলত সম্ভ্রান্তদের সুরক্ষা দেয় কিন্তু দুর্বলদের (الضعيف) রক্ষা করে না। কুরআন একেই জাহেলি হুকুম হিসেবে অভিহিত করেছে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের ব্যাপারে বলেছেন, যখন তারা সম্ভ্রান্ত ব্যভিচারীর জন্য নির্ধারিত শাস্তির বাইরে অন্য কোনো বিধান দিতে নবীকে অনুরোধ করেছিল: {তবে কি তারা জাহেলি যুগের ফয়সালাই কামনা করে? আর দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী আর কে হতে পারে?} ?
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো ধ্বংস হওয়ার কারণ কেবল এটাই যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত; আর যখন কোনো দুর্বল (الضعيف) ব্যক্তি চুরি করত...
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قطعوه، وأيم الله، لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطعت يدها.
8 - ولقد كان الضعيف مأكولاً ضائعاً والفقير يائساً جائعاًَ، حتى جاء الإسلام فشرع قانون الزكاة. وجعلها حقاً معلوماً في مال الغني، لا يخلص له إلا بعد إعطائها، حتى لقد قال الشافعي رضي الله عنه: "إن الغني إذا وجبت الزكاة في مال معين له، كان غير مالك للجزء الذي يقابلها، ولذلك إذا تصرف فيه من غير إخراجها يكون تصرفه باطلاً، وإذا مات من غير أن يؤدي ما وجب عليه من زكاة أخذت من تركته، وقدمت على سائر الديون عند الشافعي رضي الله عنه!
* * *
ولم يعتبر الإسلام الزكاة إحساناً مُذلًّا، بل أوجبها على الأغنياء يقبضها ولي الأمر بالنيابة على الفقراء، ويوزعها عليهم بمقدار حاجته، ولقد هم عمر رضي الله عنه عام وفاته أن يمر على الأقاليم بنفسه ليوزع على الفقراء حقوقهم في بيت المال غير الزكاة كل له عطاء بمقدار بلائه وعنائه في الإسلام.
9 - وبينما كان قانون الرومان في بعض أدواره يجعل الدائن يسترق المدين إن عجز عن الوفاء، كان القرآن الذي نطق به النبي
তারা সেটি কেটে ফেলল। আল্লাহর কসম, যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম।
৮ - একসময় দুর্বল (الضعيف) ব্যক্তিরা ছিল শোষিত ও অবহেলিত এবং দরিদ্ররা ছিল হতাশ ও ক্ষুধার্ত; যতক্ষণ না ইসলাম এল এবং জাকাত আইন প্রবর্তন করল। এবং তিনি একে ধনীর সম্পদে একটি সুনির্দিষ্ট অধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা প্রদান করা ব্যতীত তার অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র হয় না। এমনকি ইমাম শাফিঈ (রা.) বলেছেন: "যখন কোনো ধনীর নির্দিষ্ট সম্পদে জাকাত ওয়াজিব হয়, তখন সে ওই অংশের মালিক থাকে না যা জাকাত হিসেবে প্রদেয়। তাই সে যদি জাকাত আদায় না করে সেই সম্পদে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে তার সেই পদক্ষেপ বাতিল (باطل) হবে। আর যদি সে তার ওপর অর্পিত জাকাত আদায় না করেই মৃত্যুবরণ করে, তবে তা তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে নেওয়া হবে এবং ইমাম শাফিঈ (রা.)-এর নিকট তা অন্য সকল ঋণের চেয়ে অগ্রগণ্য হবে!"
* * *
আর ইসলাম জাকাতকে হীনকর কোনো দান হিসেবে গণ্য করেনি, বরং তা ধনীদের ওপর আবশ্যক করেছে যা রাষ্ট্রপ্রধান দরিদ্রদের পক্ষে উসুল করবেন এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তা বণ্টন করবেন। উমর (রা.) তাঁর ইন্তেকালের বছর ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন যে, তিনি নিজেই বিভিন্ন প্রদেশ ঘুরে দেখবেন যাতে জাকাত ব্যতীত বায়তুল মালে দরিদ্রদের যে অধিকার রয়েছে তা বণ্টন করে দিতে পারেন, যেখানে ইসলামের জন্য প্রত্যেকের ত্যাগ ও কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।
৯ - রোমান আইন যখন তার ইতিহাসের কোনো কোনো পর্যায়ে পাওনাদারকে সুযোগ দিচ্ছিল ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে দাসে পরিণত করার—যদি সে ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়—তখন নবী (সা.)-এর জবানিতে উচ্চারিত কুরআন...
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الأمي وقد نزل عليه من عند الله يقرر: أن الحكومة تسدد ديون المدينين الذين يعجزون عن الوفاء بديونهم، إذ لم تكن الاستدانة سرفا، بل يكون على ولي الأمر سداد الديون التي يستدنيها ذوو المروءات للمقاصد الاجتماعية كالصلح بين الناس، فتسدد من بيت المال، ولو كان المدينون غير عاجزين عجزاً كلياً عن سدادها.
ويؤدي هذا كله من مال الزكاة كما نص القرآن الكريم.
إني أحسب أن هذه مثل عليا لم يصل إليها بعد قانون من قوانين البشر، فإذا كان الذي جاء بهذا رجلاً أمياً لا يقرأ ولا يكتب ولم يتعلم قط، ألا يكون هذا دليلاً على أن ما جاء به من عند الله العلي القدير؟.
10 - ولقد كان الرق حقيقة مقررة ثابتة أقر فلاسفة اليونان نظامه، واعتبروه نظاماً عاماً عادلاً، لا ظلم فيه، ولم تستنكره شريعة من الشرائع قط، وقرر أرسطو أن الرق نظام الفطرة لأن من الناس ناساً لا يمكن أن يعيشوا إلا أرقاء، وآخرين لا يكونونٍ إلا أحراراً
… !
فجاء النبي الأمي وقال: "الناس سواسية كأسنان المشط" وقال: "كلكم لآدم وآدم من تراب" ولم يسجل القرآن الرق في محكم آياته بل سجل العتق، فلم يرد في القرآن نص قط يبيح الرق، بل نصوصه كلها توجب العتق، حتى إنه في حرب الإسلام العادلة
সেই নিরক্ষর নবী, যাঁর নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি অবতীর্ণ হয়েছে যা সাব্যস্ত করে যে: রাষ্ট্র সেই সকল ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঋণ পরিশোধ করে দেবে যারা তা পরিশোধে অক্ষম, যদি সেই ঋণ গ্রহণ বিলাসিতার উদ্দেশ্যে না হয়; বরং অভিভাবক বা শাসক (ولي الأمر)-এর ওপর সেই সকল ঋণ পরিশোধ করা আবশ্যক যা সচ্চরিত্রবান ব্যক্তিগণ সামাজিক উদ্দেশ্যে যেমন মানুষের মধ্যে মীমাংসার জন্য গ্রহণ করেছেন। সুতরাং তা বাইতুল মাল থেকে পরিশোধ করা হবে, যদিও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিরা তা পরিশোধে পুরোপুরি অক্ষম না-ও হন।
আর এই সবকিছুই জাকাত (زكاة)-এর সম্পদ থেকে প্রদান করা হবে, যেমনটি আল-কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত (نص) হয়েছে।
আমি মনে করি যে, এগুলো হলো সুউচ্চ আদর্শ যেখানে মানব রচিত কোনো আইন আজ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। সুতরাং যদি এমন এক ব্যক্তি এগুলো নিয়ে আসেন যিনি নিরক্ষর, পড়তে বা লিখতে জানেন না এবং কখনো শিক্ষা গ্রহণ করেননি, তবে এটি কি এই বিষয়ের প্রমাণ নয় যে, তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে?
10 - আর দাসপ্রথা (الرق) ছিল একটি প্রতিষ্ঠিত ও ধ্রুব বাস্তবতা, গ্রিক দার্শনিকরা যার ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এবং একে একটি সাধারণ ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করতেন যাতে কোনো জুলুম নেই। কোনো ধর্মই কখনো এর নিন্দা জানায়নি। এমনকি অ্যারিস্টটল সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যে, দাসপ্রথা (الرق) হলো একটি প্রাকৃতিক নিয়ম (نظام الفطرة); কারণ মানুষের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে যারা দাস হিসেবে থাকা ছাড়া বাঁচতে পারে না, আবার কিছু মানুষ এমন যারা স্বাধীন হওয়া ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না... !
অতঃপর নিরক্ষর নবী আগমন করলেন এবং বললেন: "মানুষ চিরুনির দাঁতের মতো সমান" এবং বললেন: "তোমরা সবাই আদমের সন্তান এবং আদম মাটি থেকে তৈরি।" কুরআন তার সুস্পষ্ট (محكم) আয়াতসমূহে দাসত্বকে (الرق) স্থান দেয়নি, বরং মুক্তি (عتق)-কে স্থান দিয়েছে। কুরআনে এমন কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) আসেনি যা দাসত্বকে (الرق) বৈধ করে, বরং এর সকল বর্ণনা (نصوص) মুক্তি প্রদানকে আবশ্যক করে। এমনকি ইসলামের ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধের ক্ষেত্রেও...
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لم يذكر القرآن رق الأسرى، بل قال: {حَتَّى إِذَا أَثْخَنْتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا} فلم يذكر في الأسرى إلا المن عليهم بإطلاقهم أو فدائهم بالمال، إن كان في قومهم قدره على الفداء، ولقد وسع القرآن في أسباب العتق وفتح باب الحرية الإنسانية على مصراعيه، اعتبروه قربة ولو كان الرقيق غير مسلم، فقال: {فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ (11) وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ (12) فَكُّ رَقَبَةٍ} وأوجب على من يفطر في رمضان عامداً من غير عذر عتق رقبة، ومن يحلف ويحنث عتق رقبة، ومن يجري على لسانه عبارة لامرأته يشبهها بأمه عليه عتق رقبة، ومن يقتل مؤمناً خطأ عليه عتق رقبة، وإذا طلب العبد عتقه في نظير أن يؤدي ثمنه مثلاً - كاتبه مولاه على ذلك، وتركه ليكسب ثمنه، ومن ملك بعض محارمه عتق عليه، ومن ضرب عبده ظلماً فكفارته عتقه. وهكذا تعددت أسباب العتق حتى أنها لو نفذت كلها لا يبقى رقيق في دار الإسلام أكثر من سنة واحدة.
كل هذا في زمن أهملت فيه حقوق الإنسان، فإذا كان هذا بعض ما اشتمل عليه القرآن، ألا يكون دليلاً على أنه من عند الرحمن؟
* * *
পবিত্র কুরআনে যুদ্ধবন্দীদের দাসত্বের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই, বরং বলা হয়েছে: {অতঃপর যখন তোমরা তাদেরকে যুদ্ধে পূর্ণরূপে পরাভূত করবে, তখন তাদের বন্ধন দৃঢ় করবে; এরপর হয় অনুগ্রহ, না হয় মুক্তিপণ, যতক্ষণ না যুদ্ধ তার অস্ত্রসমূহ নামিয়ে রাখে}। সুতরাং যুদ্ধবন্দীদের ক্ষেত্রে তাদের অনুগ্রহপূর্বক মুক্তিদান অথবা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া ব্যতীত অন্য কিছুর উল্লেখ নেই, যদি তাদের সম্প্রদায়ের মুক্তিপণ প্রদানের সামর্থ্য থাকে। পবিত্র কুরআন দাসমুক্তির কারণসমূহকে অত্যন্ত প্রশস্ত করেছে এবং মানবিক স্বাধীনতার দ্বারকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। একে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, এমনকি সেই দাস অমুসলিম হলেও। মহান আল্লাহ বলেন: {কিন্তু সে তো দুর্গম গিরিপথে প্রবেশ করেনি। আপনি কি জানেন সেই দুর্গম গিরিপথ কী? তা হলো দাসমুক্ত করা।} এছাড়া যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো ওজর ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করে, তার ওপর একজন দাসমুক্ত করা ওয়াজিব করা হয়েছে। যে ব্যক্তি শপথ করে তা ভঙ্গ করে, তার জন্য একজন দাসমুক্ত করা; যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে যিহার করে, তার ওপর একজন দাসমুক্ত করা; এবং যে ব্যক্তি ভুলবশত কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার ওপরও একজন দাসমুক্ত করা আবশ্যক করা হয়েছে। যদি কোনো দাস তার মূল্যের বিনিময়ে মুক্তির আবেদন করে, তবে তার মালিক যেন তার সাথে মুকাতাবা (মুক্তির চুক্তিনামা) সম্পাদন করে এবং তাকে সেই অর্থ উপার্জনের জন্য ছেড়ে দেয়। কেউ যদি তার কোনো মাহরাম আত্মীয়ের মালিক হয়, তবে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্ত হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি তার দাসকে অন্যায়ভাবে প্রহার করে, তার কাফফারা হলো তাকে মুক্তি দেওয়া। এভাবেই দাসমুক্তির বহুবিধ কারণ নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সবগুলো বাস্তবায়িত হলে ইসলামি ভূখণ্ডে এক বছরের বেশি সময় কোনো দাস অবশিষ্ট থাকত না।
এই সবকিছুই ছিল এমন এক সময়ে যখন মানবাধিকার চরমভাবে অবহেলিত ছিল। সুতরাং কুরআনে বর্ণিত এই বিষয়গুলো কি এটি পরম করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার প্রমাণ বহন করে না?
* * *
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
موازنةإن ما اشتمل القرآن عليه من أحكام إذا ووزن بما كان عليه الناس وقت نزول القرآن، كان وحده دليلاً على أن القرآن من عند الله، بل إن أحكامه لا تزال جديدة إذا ووزنت بما عليه الناس اليوم، إذ بالموازنة يتبين أنها سبقت بعيداً، وأن الناس مهما تتفتق عقولهم عن شرائع قد وصلوا إليها بتجارب قضائية، وتجارب عملية، وبالاستعانة بثمرات العقول وما أنتجته الفلسفة والعلم، فلن يصلوا إلى ما جاء على لسان النبي الأمي محمد صلى الله عليه وسلم لأن عمل الإنسان مهما تكن قدرته ناقص، وفي أي جانب اخترت للموازنة تنتهي بالحكم الجازم بسبق النبي، وعدم بلوغ أحد ما قرهه وثبته منذ ثلاثة عشر قرناً إلا أن يقبسوا من نوره، ويأخذوا من هديه، وينهلوا من معينه، ففقه الحكمة وفصل الخطاب. ولنختر الموازنة في بعض أحكام الأسرة، فإن أحكام الأسرة التي اشتمل عليها القرآن وبينها النبي موضع هجوم المهاجمين، وهدف لسهام النقد وسنبين أن تلك السهام مردودة في نحورهم، وسنلوي مقدم الدليل الذي ساقوه على نتيجتهم ونبين منه للباحث المنصف أن أحكام الأسرة في القرآن دليل إعجازه، وأن العقل البشري لم يصل إلى ما يقاربها.
একটি তুলনাআল-কুরআনে যে সকল বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোকে যদি কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময়কার মানুষের অবস্থার সাথে তুলনা করা হয়, তবে তা একাই এই কথার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট হবে যে কুরআন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বরং আজকের মানুষের অবস্থার সাথে তুলনা করলেও এর বিধানসমূহ চিরনতুনের মতো মনে হবে। কারণ, তুলনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই বিধানগুলো অনেক অগ্রগামী; এবং মানুষের বুদ্ধি ও বিচার-বুদ্ধি থেকে নির্গত আইনগুলো—যা তারা বিচারিক ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এবং মেধার ফসল ও দর্শন ও বিজ্ঞানের ফলশ্রুতিতে অর্জন করেছে—তা কখনও উম্মি নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পবিত্র জবানে যা এসেছে, তার সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। কেননা মানুষের কাজ তার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বদা অপূর্ণাঙ্গ। আপনি তুলনার জন্য যে দিকটিই বেছে নিন না কেন, আপনি এই অকাট্য সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন যে নবী (সা.) ছিলেন সবার অগ্রগামী, এবং তেরোশত বছর আগে তিনি যা প্রতিষ্ঠা ও সুসাব্যস্ত করেছেন, কেউ সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি; কেবল তখনই সম্ভব যদি তারা তাঁর জ্যোতি থেকে আলো গ্রহণ করে, তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করে এবং তাঁর ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান লাভ করে। কারণ এতেই রয়েছে প্রজ্ঞার গভীর জ্ঞান ও চূড়ান্ত ফয়সালা। আসুন আমরা পারিবারিক জীবনের কিছু বিধানের ক্ষেত্রে এই তুলনাটি করি; কেননা কুরআনে বর্ণিত এবং নবী (সা.) কর্তৃক বিশদভাবে ব্যাখ্যায়িত পারিবারিক বিধানগুলোই আক্রমণকারীদের আক্রমণের মূল লক্ষ্যবস্তু এবং সমালোচনার তিরের নিশানায় পরিণত হয়েছে। আমরা অচিরেই স্পষ্ট করে দেব যে, সেই সমালোচনার তিরগুলো তাদের নিজেদের দিকেই ধাবিত হবে। তারা তাদের সিদ্ধান্তের সপক্ষে যে যুক্তির অবতারণা করেছে, আমরা সেটিকে খণ্ডন করব এবং একজন ন্যায়পরায়ণ গবেষকের সামনে এটি প্রমাণ করব যে, কুরআনের পারিবারিক বিধানসমূহ এর অলৌকিকত্বের প্রমাণ এবং মানব বুদ্ধি এর সমকক্ষ কিছু অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
لقد عابوا على شريعة القرآن. إباحتها الطلاق.. وإباحتها تعدد الزوجات
… وشنعوا وهو ليس من القرآن في شيء. وقد ثارت عجاجة هذه المسائل في آخر القرن الماضي، وصدر هذا القرن، وخاضت فيها الأقلام، وأخذ الذين يحاولون تقريب الإسلام من شرائع الغرب يقترحون وضع القيود أمام التعدد، بل أسترسلوا فأرادوا وضع القيود أمام الطلاق، وعقوبة المطلقين بالزج في غياهب السجن.
إن التاريخ كتاب العبر وسفر المعتبر، يرينا أن الهجوم على الإسلام من ناحية الطلاق وتعدد الزوجات وما يتصل بذلك، ليس وليد ذلك العصر، بل إنه يتغلغل في القدم إلى العصر الأموي، وإذا رجعنا إلى الوراء نتعرف المصدر الذي كان يبث ذلك، وجدنا رجلاً أسمه يوحنا الدمشقي، كان في خدمة الأمويين هو وأبوه، واستمر في خدمتهم إلى عهد هشام بن عبد الملك - كان يؤلمه أن يدخل النصاري في الإسلام أفواجاً أفواجاً، فكان يجتهد في أن يسلح النصارى باعتراضات يعترضون بها على الإسلام. ليشككوا العربي المسلم في دينه، وليقووا حجة النصراني، فيستطيع التغلب على العربي.
وقد جاء في كتاب "تراث الإسلام" عن يوحنا هذا أنه كان
তারা কুরআনের শরীয়তের সমালোচনা করেছেন—তালাক এবং বহুবিবাহের বৈধতা প্রদানের কারণে
… এবং তারা একে কদর্যভাবে উপস্থাপন করেছেন, অথচ এর কোনো কিছুই কুরআনের অংশ নয়। গত শতাব্দীর শেষাংশে এবং এই শতাব্দীর প্রারম্ভে এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল এবং বহু লেখনী এতে নিবিষ্ট হয়েছিল। যারা ইসলামকে পশ্চিমা আইনের নিকটবর্তী করতে সচেষ্ট, তারা বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নানাবিধ বিধি-নিষেধ আরোপের প্রস্তাব দিতে শুরু করেন; এমনকি তারা আরও অগ্রসর হয়ে তালাকের ওপরও বিধি-নিষেধ আরোপ এবং তালাক প্রদানকারীদের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ করে কারাদণ্ড প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
প্রকৃতপক্ষে ইতিহাস হলো শিক্ষা গ্রহণের আকর গ্রন্থ এবং সচেতন ব্যক্তির জন্য পাথেয়। এটি আমাদের দেখায় যে, তালাক, বহুবিবাহ এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে ইসলামের ওপর আক্রমণ কেবল এই সমসাময়িক যুগের উদ্ভাবন নয়; বরং তা সুদূর উমাইয়া যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। আমরা যদি এর উৎস সন্ধানে অতীতে ফিরে যাই, তবে আমরা ইউহানা আদ-দিমাশকি নামক এক ব্যক্তিকে দেখতে পাই। সে এবং তার পিতা উমাইয়াদের অধীনে কর্মরত ছিল এবং হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের শাসনামল পর্যন্ত সে তাদের সেবায় নিয়োজিত ছিল। খ্রিস্টানদের দলে দলে ইসলামে দীক্ষিত হওয়া তাকে ব্যথিত করত; তাই সে খ্রিস্টানদের এমন কিছু আপত্তি দ্বারা সুসজ্জিত করার চেষ্টা করত যার মাধ্যমে তারা ইসলামের বিরোধিতা করতে পারে। তার উদ্দেশ্য ছিল আরব মুসলিমদের মনে তাদের দ্বীন সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করা এবং খ্রিস্টানদের যুক্তিকে শক্তিশালী করা, যাতে তারা আরবদের ওপর বিজয়ী হতে পারে।
এবং 'তুরাতুল ইসলাম' গ্রন্থে এই ইউহানা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, সে ছিল
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يقول: "إذا سألك العربي في المسيح؟ فقل: إنه كلمة الله، ثم ليسأل النصراني المسلم بم سمي المسيح في القرآن. وليرفض أن يتكلم في شيء حتى يجيب المسلم فإنه سيضطر إلى أن يقول: {إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ} فإذا أجاب بذلك فاسأله عن لكمة الله وروحه: أمخلوقة أم غير مخلوقة؟ فإن قال مخلوقة، فليرد عليه بأنه كان ولم تكن له كلمة، ولا روح، فإن قلت ذلك، فسيقحم العربي، لأن من يرى هذا الرأي زنديق في نظر المسلمين.
ومع ذلك التلقين الذي يحاول به التشكيك في العقيدة، كان يلقنهم أيضاً أن يتكلموا في تعدد الزوجات، وفي إباحة الطلاق، ثم يثير فيهم أكاذيب حول النبي صلى الله عليه وسلم، فيخترح قصة عشق النبي لزينب بنت جحش، التي كانت وليدة عقل ذلك الكاذب الأفاق.
ولقد كان جزاء ذلك الصنيع عن النصارى أن اعتبروا صاحبه قديساً، وإذا كان الاعتراض على الإسلام متحدا بين يوحنا وأهل ذلك العصر، فلابد أن يكون المصدر واحدا، ولكننا لا نتبع الأصول لنعرف الفروع، ولا نتبع الجذور لنعرف نوع الثمار، بل إننا اعترانا نوع من الضعف النفسي عند بعض الذين يسمون الخاصة، فحسبوا أن كل ما عند
তিনি বলেন: "যদি কোনো আরব ব্যক্তি তোমাকে মসীহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তবে বলো: তিনি আল্লাহর কালিমা (বাণী)। অতঃপর সেই খ্রিস্টানের উচিত মুসলিম ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা যে, কুরআনে মসীহকে কী নামে অভিহিত করা হয়েছে। আর সে যেন অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকার করে যতক্ষণ না সেই মুসলিম উত্তর দেয়; কারণ সে বলতে বাধ্য হবে: {নিশ্চয়ই মারয়াম-পুত্র ঈসা মসীহ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর কালিমা (বাণী), যা তিনি মারয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ (আত্মা)}। যখন সে এই উত্তর দিবে, তখন তাকে আল্লাহর কালিমা ও রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো: তা কি সৃজিত নাকি অসৃজিত? যদি সে বলে সৃজিত, তবে তাকে এই বলে নিরস্ত করো যে, এমন এক সময় ছিল যখন আল্লাহর কোনো কালিমা বা রূহ ছিল না। তুমি যদি এটি বলো, তবে সেই আরব ব্যক্তিটি নিরুত্তর হয়ে পড়বে; কারণ মুসলিমদের দৃষ্টিতে যে ব্যক্তি এই মত পোষণ করে সে একজন ধর্মত্যাগী (زنديق)।"
আকীদার (বিশ্বাসের) ক্ষেত্রে সংশয় সৃষ্টির এই প্ররোচনার পাশাপাশি সে তাদেরকে বহুবিবাহ এবং তালাকের বৈধতা নিয়ে কথা বলতেও প্ররোচিত করত। অতঃপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ব্যাপারে তাদের মাঝে মিথ্যাচার ছড়িয়ে দিত এবং যয়নব বিনতে জাহাশের প্রতি নবীর অনুরাগের এক কাল্পনিক কাহিনী উদ্ভাবন করত, যা ছিল সেই চরম মিথ্যাবাদী (كاذب) ও প্রতারকের মস্তিষ্কপ্রসূত।
খ্রিস্টানদের নিকট এই আচরণের প্রতিদান ছিল এই যে, তারা এর হোতাকে 'পবিত্র সাধু' হিসেবে গণ্য করেছিল। ইসলাম সম্পর্কে ইউহান্না এবং সেই যুগের অধিবাসীদের আপত্তিগুলো যদি অভিন্ন হয়ে থাকে, তবে এর উৎসও অবশ্যই এক। কিন্তু আমরা শাখা সম্পর্কে জানার জন্য মূলনীতি (أصول) অনুসরণ করি না এবং ফলের ধরন জানতে শিকড়ের সন্ধান করি না। বরং আমাদের মধ্য থেকে যারা 'বিশিষ্ট' বলে পরিচিত, তাদের কারো কারো মধ্যে এক ধরনের মানসিক দুর্বলতা দেখা দিয়েছে; ফলে তারা মনে করেছে যে, তাদের কাছে যা আছে তার সবই...
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأوربين سائغ فرات، وكل ما عندنا ملح أجاج، وليسوا في حاجة إلي دس أمثال يوحنا الدمشقي، بل إنه يكفي أن يكون الأوربيون لا تسيغ شريعنهم التعدد حتى يكون ذلك المنه سائغاً مقبولاً، وحتى يكون ما عند المسلمين مقيتاً مرذولاً
…وهكذا يفعل الاستخذاء في نفوس الضعفاء يستقبحون كل ما بأيديهم ويستحسنون كل ما بأيدي الأقوياء.
* * *
ونحن وإذا حاولنا أن نبين فضل الشريعة في الزواج والطلاق، فإنا لا نرد على المسلمين الذين رددوا تلك الأقوال عن غير بينة، بل إنا نرد على الذين اثاروها بين المسلمين، ولم يجدوا مرتعاً خصيباً من اقدم العصور إلا في أذهان رجال في عصرنا، ونحن نتكلم في هذه الأمور الثلاثة: قصة زيد وزينب ونظام التبني والنسب، وتعدد الزوجات، والطلاق.
ونبدأ بقصة زيد وزينب والتبني لأن كثيرين خدعوا بالكذب الذي أثير حولها، ووجدنا في مصر كاتباً كبيراً كتب في السيرة، وجعل لها عنواناً قائماً بذاته، سماع عشق النبي، وبعض كتب التفسير رأج فيها ذلك العرس الخبيث، ولأن إثارة القول في هذه القصة بحرنا إلى الكلام في خاصة اختصت بها الشريعة
ইউরোপীয়দের সবকিছুই উপাদেয় ও সুপেয়, আর আমাদের কাছে যা আছে তার সবই লোনা ও তিক্ত। জন অব ডেমাস্কাসের মতো ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ ঘটানোর তাদের কোনো প্রয়োজন নেই; বরং ইউরোপীয়দের জীবনবিধিতে বহুবিবাহের অবকাশ নেই—এটাই সেই পথকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য যথেষ্ট এবং মুসলিমদের কাছে যা আছে তা ঘৃণ্য ও বর্জনীয় হিসেবে গণ্য করার জন্য যথেষ্ট
…এভাবেই হীনম্মন্যতা দুর্বলদের মনে প্রভাব ফেলে; তারা নিজেদের কাছে যা আছে তার সবকিছুকে মন্দ মনে করে এবং শক্তিশালী বা বিজয়ীদের কাছে যা আছে তাকেই উত্তম বলে গণ্য করে।
* * *
আমরা যখন বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে শরীয়তের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করার চেষ্টা করি, তখন আমরা সেই সব মুসলিমদের জবাব দিচ্ছি না যারা কোনো বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই ঐ কথাগুলোর পুনরাবৃত্তি করে; বরং আমরা তাদের জবাব দিচ্ছি যারা মুসলিমদের মধ্যে এই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সুপ্রাচীনকাল থেকে বর্তমান যুগের কিছু মানুষের মস্তিষ্ক ব্যতীত তারা এর জন্য কোনো উর্বর ক্ষেত্র খুঁজে পায়নি। আমরা এই তিনটি বিষয়ে আলোচনা করব: যায়েদ ও যয়নবের কাহিনী, পালক সন্তান গ্রহণ ও বংশপরিচয় পদ্ধতি, বহুবিবাহ এবং তালাক।
আমরা যায়েদ ও যয়নবের কাহিনী এবং পালক সন্তান গ্রহণের বিষয় দিয়ে শুরু করব, কারণ একে কেন্দ্র করে যে মিথ্যার (كذب) জাল বোনা হয়েছে তাতে অনেকেই প্রতারিত হয়েছেন। আমরা মিশরে এমন একজন বড় লেখককে দেখেছি যিনি সীরাত বিষয়ে লিখেছেন এবং এই প্রসঙ্গের জন্য ‘নবীর প্রেমাসক্তি’ নামক একটি স্বতন্ত্র শিরোনাম নির্ধারণ করেছেন। এমনকি কিছু তাফসীর গ্রন্থেও এই জঘন্য কথাটি ছড়িয়ে পড়েছে। যেহেতু এই কাহিনীর অবতারণা আমাদের শরীয়তের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনার দিকে নিয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الإسلامية في النسب، وهي أن التبني لا يوجد نسباً ولا يثبت حقوقاً ولا يلزم بواجبات، وذلك غير ما كان عند الرومان، ولأن تلك القصة تكشف عن خلق النبي الكريم،
كان لمحمد مولى هو زيد بن حارثة، وقد اختطف من قبيلته وبيه بيع العبيد وآل أمره إلى سيد الخلق محمد صلى الله عليه وسلم، فحدب علبه وأكرمه وجعله منه بمنزلة الولد، يرفق به رفق الأب بولده، فلما عثر عليه أهله وأرادوا ان يفتدوا بثمنه أو بأكثر رضى المقام مع النبي فأعتقه وألحقه بنسبه وتبناه، وكان ذلك شرعاً مقرراً عند العرب، وعرف بين الناس: إنه زيد بن محمد، فكام قرشياً هاشمياً بهاذ الإلحاق، وتزوج بنت جحش على أنه زيد ابن محمد، لأنه كفء لها بهذا النسب القانوني عندهم، ولكن الإسلام منع التبني وقال الله سبحانه وتعالى في أول سورة الأحزاب: {وَمَا جَعَلَ أَزْوَاجَكُمُ اللَّائِي تُظَاهِرُونَ مِنْهُنَّ أُمَّهَاتِكُمْ وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ ذَلِكُمْ قَوْلُكُمْ بِأَفْوَاهِكُمْ وَاللَّهُ يَقُولُ الْحَقَّ وَهُوَ يَهْدِي السَّبِيلَ (4) ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ
… }
ثم أردف هذا بقوله تعالى {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} عندئذ بدا الصريح عن الرغوة، وتبين أن وزيداً ليس ابن محمد، ولكنه ابن حارثة، وتبين أنه ليس قرشياً، ثم تبين أنه ليس كفئاً لهذه الزوجة المعتزة بنسبها،
বংশপরম্পরার (نسب) ক্ষেত্রে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি হলো, দত্তক গ্রহণ কোনো বংশীয় ধারা সৃষ্টি করে না, কোনো অধিকার সাব্যস্ত করে না এবং কোনো বাধ্যবাধকতাও আরোপ করে না। এটি রোমানদের প্রথার চেয়ে ভিন্ন ছিল। উপরন্তু এই ঘটনাটি নবী কারীমের উন্নত চরিত্রের মহিমা প্রকাশ করে।
মুহাম্মাদ (সা.)-এর একজন মুক্তদাস (مولى) ছিলেন যায়িদ বিন হারিসাহ। তাঁকে তাঁর গোত্র থেকে অপহরণ করা হয়েছিল এবং দাস হিসেবে বিক্রি করা হয়েছিল। অবশেষে তাঁর বিষয়টি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ (সা.)-এর নিকট এসে পৌঁছে। তিনি তাঁর প্রতি অত্যন্ত মমতা প্রদর্শন করলেন, তাঁকে সম্মানিত করলেন এবং নিজের সন্তানের মর্যাদায় আসীন করলেন। একজন পিতা যেমন তাঁর সন্তানের প্রতি সদয় হন, তিনিও তাঁর প্রতি তেমন সদয় হতেন। অতঃপর যখন তাঁর পরিবার তাঁর সন্ধান পেল এবং তারা তাঁর বিনিময়ে অর্থ বা তার চেয়ে বেশি দিয়ে তাঁকে মুক্ত করে নিতে চাইল, তখন তিনি নবীর সঙ্গেই অবস্থান করা পছন্দ করলেন। ফলে তিনি তাঁকে মুক্ত করে দিলেন এবং নিজের বংশের (نسب) সাথে যুক্ত করে তাঁকে দত্তক নিলেন। এটি আরবদের মাঝে একটি প্রতিষ্ঠিত বিধান (شرع) ছিল। মানুষের মাঝে তিনি 'যায়িদ বিন মুহাম্মাদ' হিসেবে পরিচিত হলেন এবং এই অন্তর্ভুক্তির (إلحاق) কারণে তিনি কুরাইশী ও হাশেমী হিসেবে গণ্য হলেন। তিনি বিনতে জাহাশকে 'যায়িদ বিন মুহাম্মাদ' পরিচয়েই বিবাহ করেন, কারণ তাদের তৎকালীন আইনি বংশমর্যাদার বিচারে তিনি তাঁর সমকক্ষ (كفء) ছিলেন। কিন্তু ইসলাম দত্তক প্রথাকে নিষিদ্ধ করেছে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা আল-আহযাব-এর শুরুতে বলেন: {আর তিনি তোমাদের স্ত্রীদেরকে তোমাদের মাতা করেননি যাদের সাথে তোমরা যিহার করো এবং তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি; এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ সত্য কথা বলেন এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো; আল্লাহর নিকট এটিই অধিক ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃপরিচয় না জানো, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই ও বন্ধু (موالي)
… }
অতঃপর মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে এর অনুবর্তন করা হয়েছে: {মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী।} তখন সত্য বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠল এবং প্রতীয়মান হলো যে, যায়িদ মুহাম্মাদ (সা.)-এর পুত্র নন, বরং হারিসাহর পুত্র। এটিও স্পষ্ট হলো যে, তিনি কুরাইশী নন এবং তিনি সেই স্ত্রীর সমকক্ষ (كفء) নন, যিনি তাঁর বংশমর্যাদা নিয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفخورة بقومها، فتململت به وتململ بها لكبريائها واعتزازها بنسبها، فكان لابد أن يفترقا لتعذر العشرة الحسنة بينهما.
ولقد كان التبني نظاماً مقرراً ثابتاً في النفص العربية مشهوراً متغلغلة فكرته في نفوس العرب كما كان الشأن عند مجاوريهم الرومان، الذين كانوا ينظمون أحكامه ويرتبون حقوقه وواجباته، وكان لابد لاقتلاعه من النفس العربية - من قارعة مشهورة تقرع حسهم، فابتلى الله محمداً بأن يكون المتولى لهذه القارعة تتميما لرسالته وقياماً بحق التبليغ، ابتلاه بأن يتزوج زينب عندما تطلق من زوجها وصدر إليه أمر السماء بأن يكون على أهبة لذلك. ولكنه لم يعلن ذلك الأمر، وأعلم أن زيداً مطلق زينب لا محالة لاستحكام الثغرة، وأخفى النبي أيضاً ذلك على الزوجين ما علم، وفي هذه الأثناء كان زيد لا ينى عن شكوى زوجته إلى الرسول، واستئذانه في طلاقها، وقد حكى الله سبحانه قول النبي له، فقال: {وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ} أي تخفي في نفسك أنه لابد مطلقها، وأن الله أمرك بتزوجها {مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ} وهو أمر الزواج والطلاق وليس أمر العشق والهوى لأن الله سبحانه ما أبدى عشقاً للنبي وهوى له {وَتَخْشَى النَّاسَ} تستحي من مفأجاتعم بغير ما يألفون {وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ
তিনি স্বীয় বংশমর্যাদা নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত ছিলেন; ফলে তাঁর আভিজাত্য ও আভিজাত্যবোধের কারণে তিনি যায়িদের প্রতি এবং যায়িদও তাঁর প্রতি অস্বস্তি অনুভব করতেন। তাই তাঁদের মধ্যে সুন্দর দাম্পত্য বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।
আরবদের মানসপটে পালকপুত্র গ্রহণ (تبني) প্রথাটি ছিল একটি স্বীকৃত ও সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম এবং এর ধারণা তাদের মনে গভীরভাবে প্রোথিত ছিল, যেমনটি ছিল তাদের প্রতিবেশী রোমানদের মাঝে; যারা এর বিধানসমূহ প্রণয়ন করত এবং এর অধিকার ও দায়িত্বসমূহ সুবিন্যস্ত করত। আর আরবদের মন থেকে একে সমূলে উৎপাটন করার জন্য তাদের অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো একটি জোরালো ও প্রসিদ্ধ ঘটনার প্রয়োজন ছিল। তাই আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.)-কে তাঁর রিসালাত পূর্ণ করার লক্ষ্যে এবং প্রচারের (تبليغ) হক আদায়ের জিম্মাদার হিসেবে এই পরীক্ষার সম্মুখীন করলেন। তিনি তাঁকে এই পরীক্ষার সম্মুখীন করলেন যে, যয়নব যখন তাঁর স্বামীর কাছ থেকে তালাকপ্রাপ্ত হবেন তখন তিনি তাঁকে বিবাহ করবেন এবং আসমানি ফয়সালা অনুযায়ী তাঁকে এজন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেননি এবং তিনি জানতেন যে, দূরত্বের গভীরতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় যায়িদ অবশ্যই যয়নবকে তালাক দেবেন। নবী (সা.) প্রাপ্ত তথ্যটি ঐ দম্পতির কাছে গোপন রেখেছিলেন। ইতিমধ্যে যায়িদ তাঁর স্ত্রীর ব্যাপারে রাসূলের কাছে বারবার অভিযোগ করতেন এবং তাঁকে তালাক দেওয়ার অনুমতি চাইতেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নবীর সেই উক্তিটি বর্ণনা করে বলেন: "স্মরণ করুন, আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তাকে যখন আপনি বলছিলেন: তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রেখে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো; আর আপনি আপনার অন্তরে এমন কিছু গোপন করছিলেন যা আল্লাহ প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন।" অর্থাৎ আপনি আপনার মনে এই কথা গোপন করছিলেন যে, তিনি (যায়িদ) অবশ্যই তাঁকে তালাক দেবেন এবং আল্লাহ আপনাকে তাঁকে বিবাহের আদেশ দিয়েছেন। "যা আল্লাহ প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন" তা হলো বিবাহ ও তালাকের বিষয়টি, কোনো প্রেম বা মোহের বিষয় নয়; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নবীর জন্য কোনো প্রেম বা মোহ প্রকাশ করেননি। "আর আপনি লোকভয় করছিলেন" অর্থাৎ আপনি মানুষের প্রচলিত অভ্যাসের পরিপন্থী কোনো বিষয়ের আকস্মিকতায় দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছিলেন, "অথচ আল্লাহই অধিকতর হকের অধিকারী যে..."
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تَخْشَاهُ} وقد أمرك فلا مناص من الإجابة: "فلما قضى زيد منها وطرأ زوجناكها لكيلا يكون على المؤمنين حرج في أزواج أدعيائهم إذا قضوا منهن وطرأ، وكان أمر الله مفعولاً. ما كان على النبي من حرج فيما فرص الله له، {سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَقْدُورًا} .
هذه الآيات الكريمة صريحة في أن الأمر قد قصد به قارعة تقرع حس العرب لكي تقتلع من نفوسهم فكرة التبني، وقد صرح الله سبحانه بذلك إذ قال: {لِكَيْ لَا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْ} .
ولقد تعلق الدساسون ومن تبعهم من الجهلاء بقوله تعالى: {وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ} فزعموا أن الذي أخفاه الحب والهيام، وفات الجهلاء أن الله ما أبدى شيئاً من ذلك، وإن الذي فسرنا به الآية ليس بدعاً ابتدعناه ولا بديئاً سبقنا به، بل هو التفسير الأثري الصحيح - لا سيما تفسير ابن كثير.
ومن الغريب أن دس يوحنا الدمشقي في هذا المقام كان عظيم الأثر حتى راجت عن التابعين الروايات التي تدل على التأثر بذلك التفكير البعيد عن حقيقة النبي، بل إن "جرير" شيخ مفسري السلف وقع في تأثير تلك الروايات فقبلها تفسيراً ورأياً، مع أنها كلها روايات باطلة، وقد قالق ابن كثير في ذلك:
{তুমি তাকে ভয় করছিলে} অথচ তিনি তোমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, তাই পালন করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই: "অতঃপর জায়েদ যখন তার (জয়নবের) সাথে বিয়ে বিচ্ছেদ সম্পন্ন করল, তখন আমি তাকে তোমার সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ করলাম, যাতে মুমিনদের জন্য তাদের পালকপুত্রদের স্ত্রীদের বিয়ে করার ব্যাপারে কোনো বাধা না থাকে, যখন তারা তাদের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন করে। আল্লাহর আদেশ কার্যকরী হয়েই থাকে। আল্লাহ নবীর জন্য যা নির্ধারিত করেছেন, তাতে তাঁর কোনো সংকোচ ছিল না। {আগে যারা অতিক্রান্ত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও আল্লাহর এই বিধান কার্যকর ছিল এবং আল্লাহর নির্দেশ সুনির্ধারিত।}।
এই মহান আয়াতগুলো সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এই নির্দেশের উদ্দেশ্য ছিল আরবদের মজ্জাগত চেতনায় এমন এক প্রচণ্ড আঘাত হানা, যাতে তাদের অন্তর থেকে পালকপুত্র গ্রহণের ধারণাটি সমূলে উৎপাটন করা যায়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যখন তিনি বলেন: {যাতে মুমিনদের জন্য তাদের পালকপুত্রদের স্ত্রীদের ব্যাপারে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে}।
ষড়যন্ত্রকারী এবং তাদের অনুসারী অজ্ঞ ব্যক্তিরা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অপব্যাখ্যায় লিপ্ত হয়েছে: {এবং তুমি তোমার অন্তরে তা গোপন করছিলে যা আল্লাহ প্রকাশ করে দেবেন}। তারা দাবি করেছে যে, যা গোপন করা হয়েছিল তা ছিল প্রেম ও অনুরাগ। অথচ এই মূর্খরা এটা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যে, আল্লাহ এ জাতীয় কিছুই প্রকাশ করেননি। আমরা এই আয়াতের যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছি তা কোনো অভিনব উদ্ভাবন নয় এবং আমিই প্রথম এটি বলছি না, বরং এটিই হলো সহিহ (صحيح) বর্ণনাভিত্তিক (أثري) তাফসির—বিশেষ করে ইবনে কাসীরের তাফসির।
এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, এই ক্ষেত্রে ইউহানা আদ-দিমাশকির প্রক্ষিপ্ত বর্ণনার প্রভাব এতটাই প্রবল ছিল যে, তাবেয়িদের থেকেও এমন সব বর্ণনা (روايات) প্রচলিত হয়ে গিয়েছিল যা নবীর প্রকৃত সত্তা থেকে বহু দূরের এক ভ্রান্ত চিন্তাধারার প্রভাবকে তুলে ধরে। এমনকি সালাফদের মুফাসসিরদের প্রধান 'জারির' এই বর্ণনাগুলোর (روايات) প্রভাবে পড়ে সেগুলোকে তাফসির ও মত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, যদিও সেগুলো সবই বাতিল (باطلة) বর্ণনা (روايات)। ইবনে কাসীর এ বিষয়ে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
"ذكر ابن أبي حاتم وابن جرير ههنا آثاراً عن بعض السلف رضي الله عنهم أحببنا أن نضرب عنها صفحاً لعدم صحتها فلا نوردها".
هذه حقيقة الأمر في ذلك الأمر الذي روّجه المفسدون من أقدم العصور إلى اليوم، وإنما سقنا ذلك القول لا لبيان ذلك فقط، بل لننفذ منه إلى ما اتجهت إليه الشريعة في تحري الأنساب والمحافظة عليها والصيانة للفضيلة والحرص عليها. ولقد أغلقت الشريعة باب التبني: {ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ} فما أعدل حكم اللح يحث على أن يُدعى الناس لآبائهم لأن التبني كذب في ذاته، واعتداء على الآباء الحقيقيين، فكان القسط عند الله أن يكون كل امرئ لأبيه، فإن لم يكن لهم أب فلن يكسبوا شرفاً بذلك الإدعاء الباطل الذي هو كذب في ذاته، بل الشرف كل الشرف لهم في أن يكونوا إخواناً لكم ونصراء، ولا تعتبروهم أدنياء أذلاء لأن الشرف لا يكتسب بالكذب، والشرف الحقيقي هو في الأخوة الإسلامية العامة"
…هذا ما يقرره محمد بين عبد الله الأمي الذي كان من أمة تعتبر من أسباب ثبوت النسب: الإلحاق والتبني، كما كان ذلك مقرراً عند الرومان، ولقد ادعي بعض المستشرقين ولم ينف ادعاءه جهداً، أن محمد أتى بالعادات العربية فجعل منها أحكاماً واجبة التطبيق،
ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে জারির এখানে সালাফদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণনা (أثر) উল্লেখ করেছেন, যেগুলোকে আমরা তাদের বিশুদ্ধতার (صحة) অভাবের কারণে বর্জন করা পছন্দ করেছি, তাই আমরা সেগুলো উদ্ধৃত করছি না।
প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি বিপর্যয় সৃষ্টিকারীরা যে বিষয়টি প্রচার করে আসছে, এটাই তার প্রকৃত রহস্য। আমরা এই উক্তিটি কেবল তা বর্ণনা করার জন্য নিয়ে আসিনি, বরং এর মাধ্যমে শরিয়ত বংশপরিচয় যাচাই করা, তা সংরক্ষণ এবং নৈতিকতা রক্ষার যে পথ প্রদর্শন করেছে তা অনুধাবন করাই আমাদের উদ্দেশ্য। শরিয়ত পালকপুত্র গ্রহণের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে: {তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো, আল্লাহর নিকট এটাই অধিক ইনসাফপূর্ণ; আর যদি তোমরা তাদের পিতাদের না জানো, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই ও বন্ধু।} আল্লাহর বিধান কতই না ইনসাফপূর্ণ যা মানুষকে তাদের পিতার পরিচয়ে ডাকতে উদ্বুদ্ধ করে। কারণ পালকপুত্র গ্রহণ মূলত একটি মিথ্যা এবং প্রকৃত পিতাদের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ। তাই আল্লাহর নিকট ইনসাফ হলো প্রতিটি ব্যক্তি যেন তার পিতার পরিচয়েই পরিচিত হয়। যদি তাদের কোনো পিতা (পরিচিত) না থাকে, তবে সেই মিথ্যা দাবির মাধ্যমে তারা কোনো মর্যাদা লাভ করবে না যা মূলত একটি প্রতারণা। বরং তাদের জন্য পূর্ণ মর্যাদা হলো তোমাদের দ্বীনি ভাই ও সাহায্যকারী হওয়া। তোমরা তাদেরকে তুচ্ছ বা হীন মনে করো না, কারণ মিথ্যার মাধ্যমে মর্যাদা অর্জিত হয় না; বরং প্রকৃত মর্যাদা নিহিত রয়েছে সামগ্রিক ইসলামি ভ্রাতৃত্বের মাঝে।
…আব্দুল্লাহর পুত্র উম্মি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই সত্যই প্রতিষ্ঠিত করেছেন, অথচ তিনি এমন এক জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা বংশপরিচয় সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে 'সংযুক্তকরণ' এবং 'পালকপুত্র গ্রহণ'-কে অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গণ্য করত, যেমনটি রোমানদের নিকটও স্বীকৃত ছিল। জনৈক প্রাচ্যবিদ দাবি করেছেন এবং তার দাবি প্রতিষ্ঠায় কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মূলত আরবীয় প্রথাগুলোকেই নিয়ে এসেছেন এবং সেগুলোকে অবশ্যপালনীয় বিধানে পরিণত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وهذا كلام لا يقف على أصل ثابت ولا يعتمد على دعامة قائمة، بل فرية لا شك فيها، ولو كان محمد كذلك فيما أنزل عليه من شرع لأقر نظام التبني كما كان عند العرب، ولا أستمر زيدٌ ابناً له، وقد كان صفيه وحبه حتى أنه كان يلي ابنته فاطمة من المحبة، ولكن شرع الله أتى بالعدل الذي لم ينطق به ولم يقله أحد، ولم يجر على لسان أحد قبل محمد في البلاد العربية وما حولها.
وإن أردت أن تعرف فضل الإسلام فأقرنه يقانون الرومان الذي كان يعتبر القانون الأمثل في ذلك الزمن الغابر، بل إنه لازال يعتبر من أمثل القوانين في عصرنا الحاضر.
كان القانون الروماني يجيز التبني للأولاد المجهولي النسب وغير المجهولي النسب، ومجهولو النسب ومعلومو النسب تبنيهم يجوز بالاتفاق معهم وتصديق الإمبرطور إن لم يكونوا من ولاية أحد، وإن كانوا في ولاية آبائهم فبالاتفاق مع آبائهم، وكأن النسب شيء يمكن الاتفاق بالتراضي عليه، ولعل الأمر المعقول في هذا التبني غير المعقول أنهم اشترطوا أن يولد مثل الدعي لمدعيه، فقد جاء في مدونة جوستنيان ما نصه: "ومن المقرر أنه ليس لأحد قط أن يتبنى من هو أكبر منه سناً لأن التبني محاكاه للطبيعة، ومما يخالف الطبيعة أن يكون الإبن أكبر سناً من أبيه، وعليه فمن يريد أن يتبنى أحداًَ أو يستلحقه يجب أن يكون أسن منه،
এটি এমন এক কথা যা কোনো সুদৃঢ় মূলভিত্তির (أصل ثابت) ওপর দণ্ডায়মান নয় এবং কোনো প্রতিষ্ঠিত স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি একটি নিঃসন্দিগ্ধ মিথ্যা অপবাদ (فرية)। মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ শরিয়তের বিধানে যদি বিষয়টি তেমনই হতো, তবে তিনি আরবদের মাঝে প্রচলিত পালকপুত্র গ্রহণের প্রথাকেই অনুমোদন দিতেন এবং যায়েদ তাঁর পুত্র হিসেবেই থেকে যেতেন। অথচ যায়েদ ছিলেন তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রিয়ভাজন, এমনকি ভালোবাসার আধিক্যের কারণে তিনি তাঁর কন্যা ফাতিমার পরবর্তী স্তরেই ছিলেন। কিন্তু আল্লাহর বিধান এমন এক ন্যায়বিচার নিয়ে এসেছে যা আগে কেউ ব্যক্ত করেনি, কেউ বলেনি এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর আগে আরব ভূখণ্ড ও তার আশপাশে কারো মুখে তা উচ্চারিত হয়নি।
আপনি যদি ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জানতে চান, তবে একে রোমান আইনের সাথে তুলনা করে দেখুন, যা সেই অতীত কালে শ্রেষ্ঠ আইন হিসেবে বিবেচিত হতো; এমনকি বর্তমান যুগেও একে অন্যতম আদর্শ আইন হিসেবে গণ্য করা হয়।
রোমান আইন অজ্ঞাত বংশপরিচয় (مجهولي النسب) এবং জ্ঞাত বংশপরিচয় (معلومو النسب) উভয় প্রকার শিশুদের পালকপুত্র হিসেবে গ্রহণের অনুমতি দিত। অজ্ঞাত ও জ্ঞাত উভয় প্রকার বংশপরিচয় সম্পন্নদের পালক হিসেবে গ্রহণ করা তাদের সাথে সমঝোতা এবং সম্রাটের অনুমোদনের মাধ্যমে বৈধ ছিল যদি তারা কারো অভিভাবকত্বে না থাকত; আর যদি তারা তাদের পিতাদের অভিভাবকত্বে থাকত তবে তাদের পিতাদের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে তা সম্পন্ন হতো। যেন বংশপরিচয় (نسب) এমন এক বস্তু যা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারণযোগ্য। এই অযৌক্তিক পালকপ্রথার মধ্যে সম্ভবত একমাত্র যুক্তিসঙ্গত বিষয় ছিল এই যে, তারা শর্ত দিয়েছিল যেন পালকপুত্রটি গ্রহণকারীর সন্তানের বয়সী হয়। জাস্টিনিয়ান কোড-এ বর্ণিত হয়েছে: "এটি সুনির্ধারিত যে, কেউ তার চেয়ে বয়সে বড় কাউকে পালকপুত্র হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে না; কারণ পালকপ্রথা হলো প্রকৃতির অনুকরণ। আর প্রকৃতির পরিপন্থী হলো পুত্রের বয়স পিতার চেয়ে বেশি হওয়া। অতএব, যে ব্যক্তি কাউকে পালকপুত্র হিসেবে গ্রহণ করতে চায় বা নিজের বংশভুক্ত (يستلحقه) করতে চায়, তাকে অবশ্যই উক্ত ব্যক্তির চেয়ে বয়সে বড় হতে হবে,"
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بقدر مدة البلوغ التام أي بمقدار ثماني عشرة سنة".
وقد كان الذين يتبنون ولهم آباء معروفون يجردون من أسرهم تماماً ويصيرون من أسرة من تبناهم.
وإذا كان النبي الأمي قد قرر تلك الحقائق التي جاءت على غير المألوف عندهم، بل إنه هو نفسه قد خضع له وقتاً ما، وقال إن تلك الحقائق هي من عند الله، فمن الذي يكذبه معتمداً على حق أو على أمر معقول؟ إنه كان أمياً لم يقرأ ولم يكتب قط، ولم يتعلم قط، ولم يكن في عصره علم على هذا النوع، حتى يكون قد لقنَّه أو تعلمه
… إنه بلا ريب من عند الله العليم الحكيم.
هذا شأن ثبوت النسب في الإسلام جعلوا أساسه الفطرة مع الفضيلة، فجعل النسب لا يثبت إلا في ظل زوجة شرعية ولا يثبت من إثم فاجر. فقال عليه السلام: "الولد للفراش وللعاهر الحَجَرُ" لأن ثبوت النسب نعمة تساق إلى المنتسب والمنسوب إليه، بل هو أعظم نعمة تساق في هذا الوجود الإنساني، وإنه لو فتح الباب فيه للرزيلة كما هو مفتوح للفضيلة لكانت الأنساب فوضى ليس لها حدود، ولا ضوابط، وكان يسوغ للبغىَّ أن تلحق ولداً برجل لمجرد مسافحة عارضة، كما كان يجرى في بعض بغايا العرب، فقد كانت البغي تلحق أولادها بمن تشاء ممن بقوا معها، ولا شك أنها ستختار الأملأ والأشرف، وإن لم يكن الولد منه
পূর্ণ সাবাল্যতা বা বয়ঃপ্রাপ্তির মেয়াদ অনুযায়ী, অর্থাৎ আঠারো বছর পরিমাণ পর্যন্ত।"
আর যাদেরকে পালক গ্রহণ করা হতো অথচ তাদের পরিচিত পিতা ছিল, তাদেরকে তাদের মূল পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হতো এবং তারা যারা তাদের দত্তক নিত তাদের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত।
এবং যখন নিরক্ষর (أمي) নবী এমন সব সত্য প্রতিষ্ঠিত করলেন যা তাদের কাছে অপরিচিত ছিল, বরং তিনি নিজেও একটি সময় পর্যন্ত এর অনুবর্তী ছিলেন, এবং তিনি বললেন যে এই সত্যসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত, তখন কে আছে যে কোনো সত্য বা যুক্তিসঙ্গত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে? তিনি ছিলেন নিরক্ষর (أمي), তিনি কখনো পড়েননি বা লেখেননি, কখনো শিক্ষা গ্রহণ করেননি এবং তাঁর যুগে এই ধরনের কোনো জ্ঞানও ছিল না যা কেউ তাঁকে শিখিয়ে দেবে বা তিনি তা শিখে নেবেন
… নিঃসন্দেহে এটি সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে।
ইসলামে বংশপরিচয় সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এমনই যে, এর ভিত্তি হিসেবে সচ্চরিত্রের পাশাপাশি স্বভাবজাত প্রবৃত্তি বা ফিতরাতকে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বংশপরিচয় কেবল বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয় এবং পাপাচারীর পাপ থেকে তা সাব্যস্ত হয় না। তাই তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "সন্তান বৈধ বিছানার (বিবাহিত দম্পতির) জন্য এবং ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর (বঞ্চনা)।" কারণ বংশপরিচয় সাব্যস্ত হওয়া একটি নিয়ামত যা যার বংশ সাব্যস্ত হচ্ছে এবং যার দিকে সম্বন্ধ করা হচ্ছে—উভয়ের জন্যই কল্যাণকর; বরং মানব অস্তিত্বে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। আর যদি সচ্চরিত্রের মতো দুশ্চরিত্রের জন্যও এর দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হতো, তবে বংশপরম্পরায় এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো যার কোনো সীমা বা নিয়ম-নীতি থাকত না। তখন একজন ব্যভিচারিণী নারীর জন্য স্রেফ আকস্মিক কোনো ব্যভিচারের কারণে কোনো পুরুষের সাথে সন্তানকে জুড়ে দেওয়া সম্ভব হতো, যেমনটি আরবের কিছু ব্যভিচারিণীদের ক্ষেত্রে ঘটত। সেই ব্যভিচারিণী তার সন্তানদের তার সাথে সংসর্গকারীদের মধ্যে থেকে যার সাথে ইচ্ছা জুড়ে দিত, এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সে সবচেয়ে সম্পদশালী ও অভিজাত ব্যক্তিকেই বেছে নিত, যদিও সন্তানটি তার থেকে জন্মলাভ করত না।
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لذلك كان لابد من وضع حدود حاجزة، ولابد أن يكون الحد الراسم للحقوق في ثبوت النسب أمراً ظاهراً لكي يمكن الاحتكام إليه، ثم لابد أن يكون ذلك الأمر فاضلاً ولا يكون آثماً إذ أن الطرق الآثمة في هذا الباب وغيرهة مثارات للشيطان؛ ولا يمكن الاهتداء إلى حق في وسطها ولا معرفة حقيقة مستقرة في طلامها، لأنها ظلام معتم يؤدي إلى الفوضى في الأنساب.
* * *
أما تعدد الزوجات فهو الأمر الذي يتخذه يوحنا الدمشقي سبيلاً لتشكيك المسلمين في دينهم، ومنع النصارى من الانتقال إليه
… إذ قد يتبين لهم الهدى فيه.
إن شريعة محمد في تعدد الزوجات تدل على أن محمداً ما كان ينطق عن الهوى، بل هو وحي يوحى، وأن القرآن الذي نظم أمرها ليس من عند محمد، بل هو من عند اللطيف الخبير، لقد كان التعدد في الزوجات قبل الإسلام مطلقاً من غير قيد يقيده، فلم تقيده الشريعة الموسوية بأي قيد من العدد، وفي بعض عهوده قيدوه بثماني عشرة لأنها أقصى ما يمكن أن تصل إليه الطاقة في الإنفاق، ولم تكن أمة توحد في الزوجة إلا مصر، وسرى إلى الرومان عن طريقهم منع التعدد وبهذا أخذ النصارى، وليس في الأناجيل ولا في رسائل الرسل عندهم أي عبارة تفيد منع التعدد.
ولقد كان العرب يعددون من غير قيد يقيدهم، لأن المرأة
অতএব, সুরক্ষামূলক সীমা নির্ধারণ করা অপরিহার্য ছিল; আর বংশপরিচয় (نسب) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অধিকারের সীমারেখা নির্ধারণকারী বিষয়টি প্রকাশ্য হওয়া আবশ্যক, যাতে তা বিচারের মাপকাঠি হতে পারে। অতঃপর সেই বিষয়টি পুণ্যময় হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং পাপপূর্ণ না হওয়া জরুরি; কেননা এই বিষয়ে বা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে পাপের পথগুলো শয়তানের প্ররোচনার ক্ষেত্র। এসবের মাঝে কোনো সত্যের দিশা পাওয়া সম্ভব নয়, আর এদের অন্ধকারের মধ্যে কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত হাকিকত বা বাস্তবতা জানাও সম্ভব নয়; কারণ এটি এমন এক ঘনীভূত অন্ধকার যা বংশপরিচয়ের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
* * *
বহুবিবাহ (تعدد الزوجات) প্রসঙ্গে: এটি সেই বিষয় যা ইউহান্না আদ-দিমাশকি মুসলমানদের মনে তাদের দ্বীন সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টির পথ হিসেবে এবং খ্রিস্টানদের ইসলামে দীক্ষিত হওয়া থেকে বিরত রাখতে গ্রহণ করেছেন
… পাছে তাদের কাছে এর সঠিক পথ ও হেদায়াত (الهدى) স্পষ্ট হয়ে যায়।
বহুবিবাহ (تعدد الزوجات) বিষয়ে মুহাম্মাদ (সা.)-এর শরিয়ত (شريعة) একথাই প্রমাণ করে যে, মুহাম্মাদ (সা.) নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলতেন না; বরং এটি এক ওহি (وحي) যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ করা হয়। আর কুরআন যা এই বিষয়টি সুশৃঙ্খল করেছে, তা মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে নয়; বরং তা সুক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞাত সত্তার পক্ষ থেকে। ইসলামের পূর্বে বহুবিবাহ (تعدد الزوجات) কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই নিঃশর্ত ছিল। মুসা (আ.)-এর শরিয়ত (شريعة) একে সংখ্যার কোনো সীমা দিয়ে আবদ্ধ করেনি। কোনো কোনো যুগে তারা একে আঠারোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছিল, কারণ এটি ছিল ভরণপোষণের সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমা। মিশর ছাড়া অন্য কোনো জাতি একবিবাহে সীমাবদ্ধ ছিল না; অতঃপর তাদের মাধ্যমেই রোমানদের কাছে বহুবিবাহ (تعدد الزوجات) নিষিদ্ধের বিষয়টি পৌঁছায় এবং খ্রিস্টানরা তা গ্রহণ করে। অথচ তাদের ইঞ্জিলসমূহ কিংবা প্রেরিতদের পত্রাবলির কোথাও বহুবিবাহ (تعدد الزوجات) নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো বক্তব্য নেই।
আর আরবরাও কোনো প্রকার সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বহুবিবাহ (تعدد الزوجات) করত, কারণ নারী
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كانت عندهم كالمتاع، بل إن الزوجة كانت تورث كما تورث التركة، فجاء محمد ووقف حاجزاً دون ذلك الإفراط، ودون ذلك الظلم، ورد للمرأة كرامتها، فمنع التعدد لأكثر من أربع، واشترط القرآن الكريم لإباحة التعدد إقامة العدل والقدرة على الإنفاق ولذلك قال سبحانه: {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ذَلِكَ أَدْنَى أَلَّا تَعُولُوا}
وقد اتفق علماء المسلمين على أمرين:
أولهما: أن المراد بالعدل، هو العدل الظاهر، الذي يستطيع كل إنسان، وليس المراد العدل في المحبة القلبية، الذي نفى الله استطاعته نفياً مؤبداً في قوله تعالى: {وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ}
ثانيهما: أن الزواج مع تحقق العدالة زواج صحيح، وليس بباطل لاستيفاء أركانه وشروطه، ولأن العقود تناط صحتها وفسادها بأمور متحققة، واقعة عند العدل، لا بأمور متوقعة، فالشخص عند الزواج، لا يتحقق ظلمه إنما يتحقق بعد ذلك، وربما لا يتحقق فيجئ ما ليس في الحسبان، ويعدل، ولكنه يكون آثماًَ إذا ظلم، كما يتحقق الإثم في كل ظلم، بل آثمه هنا مضاعف. لأنه ظلم أولاً، وتزوج وهو يعتقد أنه يظلم، فكان عاصياً من هذه الناحية ثانياً.
তাদের কাছে নারীরা ছিল ভোগ্যপণ্যের ন্যায়, বরং স্ত্রীকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের ন্যায় বণ্টন করা হতো। অতঃপর মুহাম্মদ (সা.) আগমন করলেন এবং সেই বাড়াবাড়ি ও অবিচারের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালেন এবং নারীর মর্যাদা পুনরুদ্ধার করলেন। তিনি চারজনের অধিক বিবাহ নিষিদ্ধ করলেন এবং পবিত্র কুরআন বহুবিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ভরণপোষণের সক্ষমতাকে শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এ কারণেই মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে তোমরা ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের দক্ষিণহস্ত যার মালিক হয়েছে (দাসী) তাকেই যথেষ্ট মনে করো; এটাই অবিচার না করার নিকটতর পথ।"
মুসলিম উলামাগণ দুটি বিষয়ে একমত হয়েছেন:
প্রথমত: এখানে ন্যায়বিচার বলতে বাহ্যিক ন্যায়বিচার উদ্দেশ্য, যা পালন করা প্রত্যেক মানুষের সাধ্যায়ত্ত। এর দ্বারা হৃদয়ের ভালোবাসার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার উদ্দেশ্য নয়, যার সক্ষমতা আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে চিরতরে নাকচ করে দিয়েছেন: "তোমরা কখনো নারীদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, যদিও তোমরা তা প্রবলভাবে আকাঙ্ক্ষা করো। অতএব তোমরা (একজনের দিকে) পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না এবং অপরকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখো না।"
দ্বিতীয়ত: ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে সম্পাদিত বিবাহ একটি বৈধ (صحيح) বিবাহ, এটি অকার্যকর (باطل) নয়; কারণ এতে বিবাহের স্তম্ভসমূহ (أركان) ও শর্তসমূহ (شروط) পূর্ণ হয়েছে। এছাড়া চুক্তিসমূহের শুদ্ধতা বা অসারতা উপস্থিত বাস্তব বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, সম্ভাব্য বিষয়ের ওপর নয়। সুতরাং বিবাহের প্রাক্কালে ব্যক্তির পক্ষ থেকে জুলুম সংঘটিত হওয়া নিশ্চিত নয়, বরং তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ পায়। আবার অনেক সময় জুলুম নাও হতে পারে এবং সে অপ্রত্যাশিতভাবে ন্যায়বিচার করতে পারে। তবে যদি সে জুলুম করে তবে সে পাপী হবে, যেমনটি সকল জুলুমের ক্ষেত্রেই পাপ সাব্যস্ত হয়; বরং এক্ষেত্রে তার গুনাহ হবে দ্বিগুণ। কেননা সে প্রথমত জুলুম করেছে, আর দ্বিতীয়ত সে জুলুম করার সম্ভাবনা জেনেও বিবাহ করেছে, ফলে এই দিক থেকেও সে নাফরমান হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وإن المسلك الذي سلكته شريعة القرآن هو المسلك المستقيم، فلم تبحه بإطلاق، ولم تمنعه بإطلاق، وإن ذلك هو الذي يتفق مع عموم الرسالة للناس فس كل الأجيال وكل الأجناس، وكل الطبقات، فهي قد جاءت للجنس الأبيض، والجنس الأحمر، والجنس الأصفر، والجنس الأسود، ومن يسكن في البلاد الحارة، ومن يسكن في البلاد الباردة وأن الشريعة التي يكون لها ذلك العموم يكون فيها من المرونة والسعة ما يوافق كل الأمزجة، ولا يشق عليها، وما تعالج به كل الأدواء، ويجب أن تكون قيودها قابلة للسعة والضيق.
وإن ذلك المعنى واضح كل الوضوح في تعدد الزوجات، لقد أبيح عدد يجد فيه الزواج القادر على إقامة العدل رغبته، وقيّد في الإباحة بقيد لو شدد فيه لكان قريباً من المنع المطلق، ولو أرخى فيه لكان بين ذلك قواماً، ولو كانت الشريعة لأهل أوربا فقط - وهم الذين تمرست نفوس بعضهم بالزوجة الواحدة، لاستساغت نفوسهم في ظاهر الأمر المنع، ولوجدوا في شدة القيد ما ألفوه من أحكام الزواج، ولكن الإسلام خاطب الجميع ولا يزال في الدنيا ناس لا يعرفون إلا التعدد، وفي الدنيا نساء يفرحن عند دخول ضرة جديدة عليهن، لأنها تخفف عنهن أثقال
কুরআনের শরীয়ত যে পথ অবলম্বন করেছে তা-ই সরল পথ; এটি একে (বহুবিবাহকে) ঢালাওভাবে বৈধ করেনি, আবার ঢালাওভাবে নিষিদ্ধও করেনি। আর এটিই সব প্রজন্মের, সব বর্ণের এবং সব স্তরের মানুষের ক্ষেত্রে এই রিসালাতের সার্বজনীনতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা তা শ্বেতবর্ণ, লোহিতবর্ণ, পীতবর্ণ এবং কৃষ্ণবর্ণ—সবার জন্যই অবতীর্ণ হয়েছে; যারা উষ্ণ অঞ্চলে বাস করে এবং যারা শীতল অঞ্চলে বাস করে তাদের সবার জন্য। যে শরীয়তের এমন সার্বজনীনতা থাকে, তাতে এমন নমনীয়তা ও প্রশস্ততা থাকা আবশ্যক যা সব ধরণের স্বভাবের সাথে মানানসই হয় এবং তাদের জন্য কষ্টসাধ্য না হয়, আর যা দ্বারা সকল ব্যাধির প্রতিকার করা যায়। এর বিধি-নিষেধগুলো প্রশস্ততা ও সংকীর্ণতা (উভয় অবস্থা) গ্রহণের উপযোগী হওয়া উচিত।
বহুবিবাহের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এখানে এমন সংখ্যার অনুমতি দেওয়া হয়েছে যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সক্ষম ব্যক্তি তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। তবে এই বৈধতার ক্ষেত্রে এমন শর্তারোপ করা হয়েছে যে, যদি তাতে কড়াকড়ি করা হয় তবে তা প্রায় ঢালাও নিষেধাজ্ঞার পর্যায়ে চলে যায়, আর যদি শিথিল করা হয় তবে তা একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে। যদি এই শরীয়ত কেবল ইউরোপবাসীদের জন্য হতো—যাদের অনেকের মনস্তত্ত্ব একপত্নী গ্রহণে অভ্যস্ত—তবে বাহ্যত তাদের কাছে এই নিষেধাজ্ঞাই গ্রহণযোগ্য মনে হতো এবং তারা এই কঠোর বিধিনিষেধের মাঝে তাদের পরিচিত বিয়ের নিয়মই খুঁজে পেত। কিন্তু ইসলাম জগতের সকল মানুষকে সম্বোধন করেছে। আজও পৃথিবীতে এমন মানুষ আছে যারা বহুবিবাহ ছাড়া অন্য কিছু চেনে না; পৃথিবীতে এমন নারীও আছেন যারা নতুন সতীনের আগমনে আনন্দিত হন, কারণ সে তাদের ওপর থেকে (সংসারের) গুরুভার লাঘব করে।
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الخدمة، وتكون لهن الرياسة عليها، فهل يستسيع هؤلاء المنع المطلق.؟
إنه إن أغلق باب التعدد وأحكم إغلاقه بالمنع المطلق، اقتحم الرجال الذين لا يصعب عليهم ذلك المنع أبواب الفسق، فهتكت الأعراض، وكثر الأولاد الذين لا آباء لهم، وكثرت الأمراض الخبيثة التي تنتقل إلى الذرية.
لقد حرم الأوربيون تعدد الزوجات واستمسكوا به وارتضوه ديناً، ولكنهم فتحوا لأنفسهم باب الحرام على مصراعيه، فكان التضييق في الحلال سبباً في التوسع في الحرام فانسابوا فيه انسياباً، وكان الوباء على النسل في البلاد عظيماً، وإن العاقل لو خيّر بين حلا معيب وحرام لا شك فيه، لاختار الحلال المعيب، ولو خير بين تعدد فيه رعايو الأولاد وحفظ الأنساب، وبين فسق فيه إهمال الأولاد وضياع الأنساب لاختار الأول بلا شك.
وإن التعدد قد يكون علاجاً اجتماعياً لنقص يوجد للأمة ونسلها، فقد يقل عدد الرجال الصالحين للزواج عن عدد الأناث، وقد بدأ ذلك في ألمانيا بعد الحرب الأخيرة، فقد صار عدد النساء الصالحات للزواج أضعاف عدد الرجال الصالحين، وخيف على النسل، ولذلك أباحت حكومة "بون" عاصمة ألمانيا الغربية التعدد لأنها وجدت فيه علاجاً لهذا الداء الإجتماعي، وسبيلاً لتكثير نسلها، وإلا أوشكت على الفناء.
পরিষেবা প্রদান করা এবং তাদের ওপর কর্তৃত্ব বজায় থাকা; তবে কি তারা এই নিরঙ্কুশ নিষেধাজ্ঞা (المنع المطلق) সমর্থন করতে পারে?
বস্তুত যদি বহুবিবাহের (التعدد) পথ রুদ্ধ করা হয় এবং নিরঙ্কুশ নিষেধাজ্ঞার (المنع المطلق) মাধ্যমে তা কঠোরভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে যে সকল পুরুষদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা মানা কঠিন নয়, তারা পাপাচারের (الفسق) দ্বারে প্রবেশ করবে। ফলে শ্লীলতাহানি ঘটবে, পিতৃপরিচয়হীন সন্তানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং বংশধরের মধ্যে সংক্রমিত হয় এমন মারাত্মক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়বে।
ইউরোপীয়রা বহুবিবাহকে (تعدد الزوجات) নিষিদ্ধ করেছে এবং একে আঁকড়ে ধরেছে ও নিজেদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে; কিন্তু তারা নিজেদের জন্য হারামের (الحرام) পথ অবারিত করে দিয়েছে। ফলে হালালের (الحلال) ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা হারামের প্রসারের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তারা তাতে ব্যাপকভাবে নিমজ্জিত হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বংশধরদের ওপর বিপর্যয় ছিল ভয়াবহ। একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে যদি ত্রুটিযুক্ত হালাল (حلال معيب) এবং সুনিশ্চিত হারামের (حرام لا شك فيه) মধ্যে বেছে নিতে বলা হয়, তবে সে ত্রুটিযুক্ত হালালকেই বেছে নেবে। আর যদি তাকে এমন বহুবিবাহ (تعدد)—যাতে সন্তানদের লালন-পালন ও বংশধারা সংরক্ষণ (حفظ الأنساب) নিশ্চিত হয়—এবং এমন পাপাচারের (فسق) মধ্যে বেছে নিতে বলা হয় যাতে সন্তানদের অবহেলা ও বংশপরিচয় বিলুপ্তি (ضياع الأنساب) ঘটে, তবে সে নিঃসন্দেহে প্রথমটিকেই বেছে নেবে।
বহুবিবাহ (التعدد) কোনো জাতি ও তার বংশধরদের মধ্যে বিদ্যমান ঘাটতির সামাজিক প্রতিকার হতে পারে। কখনো বিবাহের যোগ্য পুরুষের সংখ্যা নারীদের তুলনায় কমে যেতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল; সেখানে বিবাহের উপযুক্ত নারীর সংখ্যা উপযুক্ত পুরুষের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল এবং বংশধারা রক্ষার বিষয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এই কারণে পশ্চিম জার্মানির তৎকালীন রাজধানী 'বন' সরকার বহুবিবাহকে (التعدد) বৈধ করেছিল, কারণ তারা একে এই সামাজিক ব্যাধির প্রতিকার এবং বংশবৃদ্ধির পথ হিসেবে বিবেচনা করেছিল; অন্যথায় তারা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যেত।
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وفوق ذلك ففيه تحفظ المرأة من الدنس ولا يهون شأنها، وأي الأمرين يكون أهون بالمرأة وأحط لدرجتها في الاجتماع: أن تكون زوجاً لها بيت ترعاه وزوج يرعاها وأولاد شرعيون تقوم على شئونهم، أم أن تكون خليلة أو بغياً ليس لها زوج تتادى باسمه، ولا بيت تأوى إليه، وأولادها ليس لهم أب كافل يحميهم، إن الهوان بلا شك في الثاني
…وإن التعجج ليس في مصلحة الرجل دائماً، وليس ضرراً على المرأة دائماً، فقد يكون لها ضرورة لابد منها ليحفظ لها اعتبارها، فإن التعدد العادل طريق سوي، وإن النظر الفاحص ينتهي لا محالة إلى أن التعدد في مصلحة المرأة، فإن أي امرأة لا تقدم على التزوج بمتزوج، إلا إذا كانت على ثقة كاملة بأن ذلك من مصلحتها أو الضرورة ألزمتها بذلك.
هذا منطق الحياة وتلك شريعة الله فإذا كانت قد جاءت على لسان أمي لم يؤتَ علماً، وقال: إن ذلك من عند الله
… ألا يكون قوله مع حاله، فيه الدليل الساطع والبرهان القاطع؟.
* * *
إن دراسة الطلاق الذي جاء به الإسلام ينتهي إلى أن ذلك النظام لا يمكن أن يصل إليه عقل محمد الأمي، إذ لم تتفتق عنه العقول من قبله، فلا يمكن أن يكون إلا من عند الله.
তদুপরি, এর মাধ্যমে নারী কলুষতা থেকে সংরক্ষিত থাকে এবং তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় না। সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীর জন্য এই দুই অবস্থার মধ্যে কোনটি অধিকতর সহজ এবং তার পদমর্যাদাকে কম অবনমিত করে: তিনি একজন স্ত্রী হিসেবে এমন একটি গৃহের কর্ত্রী হবেন যা তিনি পরিচালনা করবেন এবং তার এমন একজন স্বামী থাকবে যে তার দেখাশোনা করবে, আর তার থাকবে এমন বৈধ সন্তানসন্ততি যাদের সকল বিষয় তিনি দেখাশোনা করবেন; নাকি তিনি একজন উপপত্নী বা বারবনিতা হবেন যার এমন কোনো স্বামী থাকবে না যার নামে তিনি পরিচিত হতে পারেন, না থাকবে কোনো ঘর যেখানে তিনি আশ্রয় নিতে পারেন, আর তার সন্তানদেরও কোনো অভিভাবক পিতা থাকবে না যে তাদের সুরক্ষা প্রদান করবে? নিঃসন্দেহে হীনম্মন্যতা ও লাঞ্ছনা দ্বিতীয় অবস্থার মধ্যেই নিহিত
…আর বহুবিবাহ সর্বদাই পুরুষের স্বার্থে নয়, আর এটি নারীর জন্য সর্বদা ক্ষতিকরও নয়। বরং কখনো কখনো নারীর জন্য এর অপরিহার্য প্রয়োজন থাকতে পারে যাতে তার সামাজিক মর্যাদা রক্ষা পায়। কেননা ন্যায়সঙ্গত বহুবিবাহ হলো একটি সঠিক পথ। সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ অনিবার্যভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করে যে, বহুবিবাহ নারীর স্বার্থেই হয়ে থাকে। কারণ কোনো নারীই একজন বিবাহিত পুরুষকে বিবাহ করতে অগ্রসর হয় না, যতক্ষণ না সে এ বিষয়ে পূর্ণ আস্থাশীল হয় যে, এটি তার নিজের স্বার্থে অথবা কোনো বিশেষ প্রয়োজন তাকে এতে বাধ্য করে।
এটিই জীবনের যুক্তি এবং এটিই আল্লাহর শরিয়ত। এখন এই বিধান যদি এমন একজন নিরক্ষর মানুষের মুখে আসে যাকে কোনো জাগতিক জ্ঞান দান করা হয়নি এবং তিনি বলেন যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে
… তবে তার এই অবস্থার সাথে তার এই বাণী কি উজ্জ্বল দলিল এবং অকাট্য প্রমাণের দাবি রাখে না?
* * *
ইসলাম কর্তৃক প্রবর্তিত তালাক ব্যবস্থার অধ্যয়ন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয় যে, এই ব্যবস্থার স্বরূপ নিরক্ষর মুহাম্মাদের বুদ্ধিবৃত্তি দ্বারা অনুধাবন করা সম্ভব ছিল না, যেহেতু ইতিপূর্বে অন্য কোনো মস্তিস্ক থেকে এর উদয় হয়নি। তাই এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ছাড়া অন্য কিছু হওয়া অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وكان الطلاق مطلقاً في الجاهلية وكان بابه مفتوحاً في الشريعة اليهودية، لا يقيده إلا قيد رقيق واه ضعيف، وهو كتابة الطلاق أمام القاضي، فلما جاء محمد بالقرآن من عند الله جاء بجديد على الفكر في هذه المسألة، لم يقيد الطلاق بذلك القيد الواهي الضعيف الذي لا يحاجز دون الهوى، ولم يمنعه منعاً مطلقاً كما توارث المسيحيون، وإن كانت بعض فرقهم قد أخذت تتحلل من المنع شيئاً فشيئاً، ففتحوا الباب بزاوية ضيقة، ولكنها قد توجد متنفساً من التحلل من زوجية فاسدة، ولم يجزه إجازة مطلقة كما كان يفعل الجاهليون ويتخذونه للمضارة والمكايدة: يطلقون النساء ثم يعضلونهن بالمنع من الزواج.
والمسألة في الطلاق أن الزواج لابد أن يقوم على أساس من الود الدائم المستمر {هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ} وإذا كان الود المستمر أساس العلاقة الزوجية المستمرة لكي تكون صالحة للبقاء، فإنه إذا تقطع حبل القلوب وتنافر ودها واستحكمت النفرة ولم يمكن علاجها، فالعلاقة الزوجية تكون غير صالحة للبقاء، وإن من المصلحة فصمها، ومن الخير إنهاؤها، ولكن كيف يكون الإنهاء، وكيف يتبين أن السبب المسوغ للطلاق قد وجد، وهو استحكام النفرة وتقطع أوصال المودة، ما السبيل إلى ذلك؟ وكيف يعرف؟
জাহেলী যুগে তালাক ছিল অবাধ এবং ইহুদি শরিয়তেও এর দুয়ার উন্মুক্ত ছিল। এটি কেবল একটি সূক্ষ্ম, অসার ও দুর্বল (ضعيف) বিধি দ্বারা সীমাবদ্ধ ছিল, যা হলো বিচারকের সামনে তালাকনামা লিপিবদ্ধ করা। অতঃপর মুহাম্মদ (সা.) যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআন নিয়ে আগমন করলেন, তিনি এই বিষয়ে চিন্তাধারায় এক নতুনত্ব প্রদান করলেন। তিনি তালাককে সেই অসার ও দুর্বল (ضعيف) বিধি দ্বারা সীমাবদ্ধ করেননি যা প্রবৃত্তির পথে বাধা হতে পারে না, আবার তিনি একে খ্রিস্টানদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত প্রথার মতো নিরঙ্কুশভাবে নিষিদ্ধও করেননি—যদিও তাদের কিছু উপদল ধীরে ধীরে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে বিমুক্ত হতে শুরু করেছে এবং সংকীর্ণভাবে একটি পথ উন্মুক্ত করেছে, যা সম্ভবত কোনো কলুষিত দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে নিষ্কৃতির অবকাশ তৈরি করে। আবার তিনি একে জাহেলী যুগের লোকদের মতো অবাধ অনুমতিও দেননি, যারা একে ক্ষতিসাধন ও চক্রান্তের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করত: তারা নারীদের তালাক দিত এবং এরপর বিবাহে বাধা প্রদানের মাধ্যমে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখত।
তালাকের মূল বিষয়টি হলো, বিবাহ অবশ্যই স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন হৃদ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে—{তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক}। আর যখন নিরবচ্ছিন্ন হৃদ্যতাই টিকে থাকার উপযোগী হওয়ার জন্য দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তি হয়, তখন যদি হৃদয়ের বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়, একে অপরের প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হয় এবং ঘৃণা বদ্ধমূল হয়ে পড়ে যা আর নিরাময়যোগ্য নয়, তখন সেই দাম্পত্য সম্পর্ক আর টিকে থাকার যোগ্য থাকে না। এমতাবস্থায় তা ছিন্ন করাই কল্যাণকর এবং তা সমাপ্ত করাই উত্তম। তবে এই সমাপ্তি কীভাবে হবে? এবং তালাকের বৈধ কারণ—অর্থাৎ ঘৃণা বদ্ধমূল হওয়া এবং ভালোবাসার বন্ধন ছিন্ন হওয়া—উপস্থিত হয়েছে কি না তা কীভাবে স্পষ্ট হবে? এর উপায় কী? এবং তা কীভাবে নির্ণয় করা যাবে?
(খণ্ড: ১)
শারীআতুল কুরআন মিন দালায়েলি ইজাযিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
هنا نجد القرآن قد عالج الأمر علاجاً نفسياً قلبياً فيه هداية المضالين، وإرشاد وتقويم، ذلك أنه عند الشقاق بين الزوجين أو خوفه، أملا بتحكيم حكمين {وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا} .
ودعا إلى محاولة الإصلاح ما أمكن، وأمر بالتدخل للصلح عند وجود ما يدعو إليه: {وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا وَالصُّلْحُ خَيْرٌ وَأُحْضِرَتِ الْأَنْفُسُ الشُّحَّ وَإِنْ تُحْسِنُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا}
حتى إذا تعذر الصلح ورأب القلم ورتق الفتق لم يبق إلا التفريق بينهما: {وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ وَكَانَ اللَّهُ وَاسِعًا حَكِيمًا}
لابد من التفريق ولكن ما طرائقه وما مسالكه؟ أيكون بيد الزوجين متفقين بحيث ينهيان ذلك العقد كما أنشآه؟ إنه بلا شك إذا تلاقت الإرادتان واتفقت الكلمتان بينهما على الافتراق كان الافتراق منطقياً والطلاق أمراً مستقيماً، وكل محاولة لعرقلة ذلك تكون ضد الفكر المستقيم، واعوجاجاً في الأمر، بيد أنه لابد من تحقق أن ذلك كان لاستحكام النفرة من كل الوجوه بتحكيم
এখানে আমরা দেখতে পাই যে কুরআন এ বিষয়টিকে একটি মনস্তাত্ত্বিক ও আত্মিক চিকিৎসায় রূপ দিয়েছে যাতে রয়েছে পথভ্রষ্টদের জন্য হেদায়েত, দিকনির্দেশনা ও সংশোধন। তা এই যে, যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় অথবা তার আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন দুজন সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার আশা করা হয়: "আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করো, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন সালিশ এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত করো; যদি তারা উভয়েই নিষ্পত্তি চায়, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে মিল করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।"
এবং এটি সম্ভবপর মীমাংসার প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছে এবং সন্ধি স্থাপনের পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলে তাতে হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে: "আর যদি কোনো নারী তার স্বামীর পক্ষ থেকে অবজ্ঞা বা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে তারা যদি নিজেদের মধ্যে কোনো মীমাংসা করে নেয়, তাতে তাদের কোনো গুনাহ নেই; আর মীমাংসাই উত্তম। মানুষের অন্তরে সংকীর্ণতা বিদ্যমান। আর যদি তোমরা সৎকর্ম করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে আল্লাহ তোমাদের আমল সম্পর্কে সম্যক অবহিত।"
অবশেষে যদি মীমাংসা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং ফাটল জোড়া লাগানো না যায়, তবে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না: "আর তারা যদি পৃথক হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাঁর প্রাচুর্য থেকে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময়।"
বিচ্ছেদ অনিবার্য, তবে এর পদ্ধতি ও পথ কী? এটি কি স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের সম্মতির ভিত্তিতে হবে যাতে তারা যেভাবে এই চুক্তি শুরু করেছিল সেভাবেই তা শেষ করতে পারে? নিঃসন্দেহে যদি উভয়ের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্ত বিচ্ছেদের বিষয়ে একমত হয়, তবে সেই বিচ্ছেদ যৌক্তিক এবং তালাক একটি সঠিক বিষয় হিসেবে গণ্য হবে। আর এটি বাধাগ্রস্ত করার প্রতিটি প্রচেষ্টা সঠিক চিন্তাধারার পরিপন্থী এবং বিষয়ের বক্রতা হিসেবে বিবেচিত। তবে এটি নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক যে, সব দিক থেকে অনীহা দৃঢ় হওয়ার ফলেই সালিশের মাধ্যমে...