(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: -)
الإبانة عن أصول الديانة - ت العصيمي القسم: العقيدة
الكتاب: الإبانة عن أصول الديانة
المؤلف: أبو الحسن علي بن إسماعيل الأشعري
المحقق: صالح بن مقبل بن عبد الله العصيمي التميمي
أصل التحقيق: أطروحة دكتوراة، قسم العقيدة بكلية الدعوة وأصول الدين - جامعة أم القرى، بإشراف د عبد الله بن محمد الغنيمان 1428 هـ
الناشر: دار الفضيلة - الرياض
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 898
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ذو القعدة 1443
আল-ইবানা আন উসুল আদ-দিয়ানা - উসাইমি-এর তাহকিক বিভাগ: আকিদা
গ্রন্থ: আল-ইবানা আন উসুল আদ-দিয়ানা
লেখক: আবুল হাসান আলী বিন ইসমাইল আল-আশআরি
তাহকিককারী: সালেহ বিন মুকবিল বিন আব্দুল্লাহ আল-উসাইমি আত-তামিমি
তাহকিকের মূল উৎস: পিএইচডি থিসিস, দাওয়াহ ও উসুল আদ-দ্বীন অনুষদের আকিদা বিভাগ - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, ড. আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-গুনাইমানের তত্ত্বাবধানে ১৪২৮ হিজরি
প্রকাশক: দারুল ফাদিলাহ - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৯৮
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ জিলকদ ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمة إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم. {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران (102)] {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا
… وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ
… عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} النساء (1) {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71].
أما بعد:
فقد ألف الإمام الأشعري رحمه الله مجموعة من الكتب والرسائل التي تعالج قضايا العقيدة، بعضها قد كتب في الفترة التي سبقت تحوله عن الاعتزال، وبعضها قد كتب في الفترة التي أعقبت انتقاله رحمه الله إلى منهج أهل السنة والجماعة، ومن بين هذه الكتب الأخيرة كتاب (الإبانة عن أصول الديانة). وقد كانت
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ প্রদর্শন করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)} [আল ইমরান (১০২)] {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রব্বকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ
… ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনের ব্যাপারেও (সতর্ক থাকো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ
… তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক। (১)} নিসা (১) {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করবে। (৭১)} [আল আহযাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই ইমাম আশআরী (রাহিমাহুল্লাহ) আকীদার বিষয়াবলী নিয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ ও পুস্তিকা রচনা করেছেন। এর মধ্যে কিছু তিনি মুতাজিলা মতবাদ ত্যাগের পূর্ববর্তী সময়ে লিখেছিলেন, আর কিছু তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজে ফিরে আসার পরবর্তী সময়ে লিখেছিলেন। এই শেষোক্ত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ’। আর এটি ছিল...
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ৪)
هذه الكتب - ولا زالت - موضع دراسة الباحثين المهتمين بالأشعري ومذهب الأشاعرة، وقد أثارت - ولا تزال - تثير الجدل حول نسبتها إلى الأشعري وظهورها التاريخي عما استقر عليه حاله. ومنشأ ذلك الكذب عليه من جهة محبيه، ومن جهة مبغضيه، قال شيخ الإسلام ابن تيمية (فالأشعري ابتلي بطائفتين: طائفة تبغضه، وطائفه تحبه، كل منهما يكذب عليه ويقول: إنما صنف هذه الكتب تقية، وإظهاراً لموافقة أهل الحديث والسنة، من الحنابلة وغيرهم. وهذا كذب على الرجل، فإنه لم يوجد له قول باطن يخالف الأقوال التي أظهرها، ولا نقل أحد من خواص أصحابه، ولا غيرهم عنه ما يناقض هذه الأقوال الموجودة في مصنفاته، فدعوى المدعي بأنه كان يبطن خلاف ما يظهر دعوى مردودة شرعًا وعقلاً. بل من تدبر كلامه في هذا الباب - في مواضع - تبين له قطعًا أنه كان ينصر ما أظهره، ولكن الذين يحبونه ويخالفون في إثبات الصفات الخبرية يقصدون نفي ذلك عنه، لئلا يقال: إنهم خالفوه مع كون ما ذهبوا إليه من السنة، قد اقتدوا بحجته التي على ذكرها يعولون، وعليها يعتمدون. والفريق الآخر: دافعوا عنه لكونهم رأوا المنتسبين إليه لا يظهرون إلا خلاف هذا القول ولكونهم اتهموه بالتقية
(1). ولهذا
--------------------------------------------
এই কিতাবগুলো—এবং এখনও রয়েছে—আশআরি এবং আশআরি মাযহাবের প্রতি আগ্রহী গবেষকদের নিকট অধ্যয়নের বিষয়বস্তু হিসেবে। এবং এগুলো—পূর্বের ন্যায় এখনও—আশআরির প্রতি এর সম্পৃক্ততা এবং তাঁর চূড়ান্ত অবস্থানের সাথে এগুলোর ঐতিহাসিক আবির্ভাব নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করছে। আর তাঁর নামে এই মিথ্যার উৎস হলো একদিকে তাঁর ভক্তরা এবং অন্যদিকে তাঁর বিদ্বেষ পোষণকারীরা। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: (আশআরি দুই শ্রেণির মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়েছেন: এক শ্রেণি যারা তাঁকে ঘৃণা করে এবং অন্য শ্রেণি যারা তাঁকে ভালোবাসে; উভয় পক্ষই তাঁর নামে মিথ্যাচার করে এবং বলে: তিনি মূলত এই কিতাবগুলো তাক্বিয়া (কৌশলগত আত্মগোপন) হিসেবে এবং হাম্বলি ও অন্যান্য আহলে হাদীস ও সুন্নাহর সাথে ঐকমত্য প্রকাশের জন্য রচনা করেছেন। আর এটি এই ব্যক্তির নামে একটি মিথ্যাচার; কেননা তাঁর এমন কোনো অভ্যন্তরীণ বক্তব্য পাওয়া যায়নি যা তাঁর প্রকাশিত বক্তব্যের বিরোধী, এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ সাথীবর্গ বা অন্য কেউ তাঁর থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেননি যা তাঁর এই কিতাবসমূহে বিদ্যমান বক্তব্যগুলোর পরিপন্থী। সুতরাং তিনি যা প্রকাশ করতেন তার বিপরীতে ভিন্ন কিছু গোপন রাখতেন—দাবিকারীর এই দাবি শরীয়ত ও বিবেক উভয় দিক থেকেই প্রত্যাখ্যাত। বরং বিভিন্ন স্থানে এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য যে গভীর মনোযোগ দিয়ে অনুধাবন করবে, তার কাছে এটি অকাট্যভাবে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তিনি যা প্রকাশ করেছেন তারই সমর্থন করতেন। কিন্তু যারা তাঁকে ভালোবাসে অথচ সিফাতে খবরিয়া (সংবাদনির্ভর গুণাবলি) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর বিরোধিতা করে, তারা তাঁর থেকে সেই বিষয়গুলো নাকচ করার উদ্দেশ্য পোষণ করে, যাতে এটি বলা না হয় যে, তাঁরা তাঁরই বিরোধিতা করেছেন; যদিও সুন্নাহর যে পথে তাঁরা গিয়েছেন সেখানে তাঁরা তাঁরই পেশকৃত দলিলের অনুসরণ করেছেন—যার বর্ণনার ওপর তাঁরা নির্ভর করেন ও ভরসা করেন। আর অপর পক্ষ: তারা তাঁর পক্ষাবলম্বন করেছেন কারণ তাঁরা দেখেছেন যে, তাঁর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা এই বক্তব্যের বিপরীত বিষয় ছাড়া আর কিছু প্রকাশ করে না এবং যেহেতু তাঁরা তাঁকে তাক্বিয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলেন। এবং একারণেই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ৫)
اخترت بعد استخارة الله - جل وعلا - واستشارة عدد من العلماء وطلبة العلم الكتابة عن الأشعري رحمه الله من خلال تحقيق كتابه الإبانة الذي انتسب من خلاله إلى أهل السنة والجماعة وترك الاعتزال وعلم الكلام، وظل الإمام الأشعري _ رحمه الله بعد رجوعه إلى الحق يدافع عن دين الله، ويؤلف في الرد على أهل الأهواء والبدع المخالفين لمذهب السلف إلى أن توفاه الله تعالى، فانتشرت كتبه في الآفاق، وتوزع تلامذته بين الأمصار ـ ولكن بعض متأخري الأشاعرة للأسف ـ خالفوا إمامهم في كثير من الأمور، وسلكوا طريقة بن كلاب، والتي بين الأشعري في المقالات أنها ليست على طريقة أهل الحديث
(1)، بل سار بعض أتباعه المتأخرين وهم قلة ولله الحمد، على منهج التجهم والاعتزال، والذي نسبوه ظلماً وجوراً لأهل السنة والجماعة، ولكن الحق يرفض ذلك، وكان الأحرى بهم والأولى أن يرجعوا إلى نصوص الوحيين وفهم السلف الصالح لهما، والذي تنبه له إمامهم رحمه الله في طوره الأخير، فكان الأحرى بهم إن كانوا حقاً منتسبين إليه أن يقفوا على منهجه، ويستفيدوا من كتبه وخاصة الإبانة، ورسالته إلى أهل الثغر، والمقالات وألا ينسبوا له زوراً وبهتاناً ما لم يقل به، ولتوضيح هذه
--------------------------------------------
আমি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার কাছে ইস্তিখারা করার পর এবং বেশ কিছু আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীর সাথে পরামর্শ করার পর, ইমাম আশআরী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব 'আল-ইবানাহ' সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর সম্পর্কে লিখতে পছন্দ করেছি। যার মাধ্যমে তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলেন এবং মুতাজিলা মতবাদ ও ইলমুল কালাম পরিত্যাগ করেছিলেন। সত্যের পথে ফিরে আসার পর ইমাম আশআরী (রাহিমাহুল্লাহ) মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর দ্বীনের প্রতিরক্ষা এবং সালাফদের মাযহাবের বিরুদ্ধাচরণকারী প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতিদের খণ্ডন করে গ্রন্থ রচনায় রত ছিলেন। ফলে দিগন্তজুড়ে তাঁর কিতাবসমূহ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন জনপদে তাঁর ছাত্ররা ছড়িয়ে যায়। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, কিছু পরবর্তী আশআরী অনেক বিষয়ে তাদের ইমামের বিরোধিতা করেছেন এবং ইবনে কুল্লাবের পথ অনুসরণ করেছেন, যার সম্পর্কে আশআরী 'আল-মাকালাত' গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন যে এটি আহলে হাদীসদের পথ নয়
(১)। বরং তাঁর কিছু পরবর্তী অনুসারী—যাঁরা সংখ্যায় অল্প, সকল প্রশংসা আল্লাহর—জাহমীবাদ ও মুতাজিলাবাদের মানহাজের উপর চলেছেন, যাকে তারা অন্যায় ও অবিচার করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সাথে সম্পর্কিত করেছেন। কিন্তু সত্য একে প্রত্যাখ্যান করে। তাদের জন্য এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত ও শ্রেষ্ঠ ছিল যে, তারা ওহীর দুই উৎস (কুরআন ও সুন্নাহ) এবং সে বিষয়ে সালাফে সালেহীনের বুঝের দিকে ফিরে আসতেন, যে বিষয়ে তাঁদের ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর শেষ জীবনে সচেতন হয়েছিলেন। যদি তাঁরা প্রকৃতপক্ষেই তাঁর সাথে সম্পৃক্ত হতেন, তবে তাঁদের জন্য এটাই সমীচীন ছিল যে তাঁরা তাঁর মানহাজের ওপর অটল থাকতেন এবং তাঁর কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হতেন—বিশেষ করে 'আল-ইবানাহ', 'রিসালা ইলা আহলিছ ছাগার' এবং 'আল-মাকালাত' থেকে। আর তিনি যা বলেননি, তা যেন মিথ্যা ও অপবাদ দিয়ে তাঁর নামে চালিয়ে না দেন। আর এগুলো স্পষ্ট করার জন্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ৬)
الحقيقة اخترت هذا الكتاب القيم من كتب الإمام الأشعري ليكون موضوعاً لرسالتي وإني أسأل الله أن أكون قد وفقت فيما كتبته، وأن يكتب لهذه الرسالة القبول وأن يجعلها ذخراً لي ولجميع من وقفوا معي، أو استفادوا منها في {يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ (88) إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ
… سَلِيمٍ (89)} [الشعراء].
أهمية البحث:1 - انتشار المذهب الأشعري قديماً وحديثاً، حتى أصبحت تتبناه بعض الجامعات والمعاهد المنتشرة في العالم الإسلامي.
2 - أن كتاب الإبانة وثيقة مهمة في تاريخ المذاهب الإسلامية العقدية.
3 - يمثل كتاب الإبانة العرض النهائي لمذهب الأشعري رحمه الله وقد وافق فيه السلف ـ ولله الحمد والمنة ـ فيكون مرجعاً سلفياً.
4 - إبراز أقوال أهل السنة والجماعة على لسان الإمام الأشعري رحمه الله أدعى لقبوله لدى المنتسبين إليه.
5 - أن كتاب الإبانة فيه رد على متأخري الأشاعرة الذين خالفوا إمامهم مع انتسابهم إليه.
প্রকৃতপক্ষে আমি ইমাম আশআরীর গ্রন্থসমূহ থেকে এই মূল্যবান কিতাবটিকে আমার গবেষণাপত্রের বিষয় হিসেবে নির্বাচন করেছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আমি যা লিখেছি তাতে তিনি যেন আমাকে তাওফিক দান করেন, এই গবেষণাপত্রটিকে কবুল করেন এবং এটিকে আমার জন্য ও যারা আমার সাথে ছিলেন অথবা যারা এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন তাদের সবার জন্য সেই দিনের পাথেয় হিসেবে জমা রাখেন— {যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না (৮৮); কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া, যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ
… অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে (৮৯)} [আশ-শুআরা]।
গবেষণার গুরুত্ব:১ - অতীতে এবং বর্তমানে আশআরী মাযহাবের ব্যাপক প্রসার, এমনকি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একে গ্রহণ করেছে।
২ - 'আল-ইবানাহ' কিতাবটি ইসলামি আকিদাগত মাযহাবসমূহের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
৩ - 'আল-ইবানাহ' কিতাবটি ইমাম আশআরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবের চূড়ান্ত উপস্থাপনা এবং এতে তিনি সালাফদের সাথে একমত হয়েছেন—আল্লাহরই সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ—ফলে এটি একটি সালাফি রেফারেন্স বা উৎস হিসেবে গণ্য।
৪ - ইমাম আশআরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর জবানিতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বক্তব্য ফুটিয়ে তোলা তাঁর অনুসারীদের নিকট এটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য হওয়ার কারণ।
৫ - 'আল-ইবানাহ' কিতাবে পরবর্তী যুগের সেই সব আশআরীদের খণ্ডন রয়েছে যারা নিজেদের ইমামের অনুসারী দাবি করা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ৭)
6 - تحقيق النسخة تحت إشراف جامعة لهامكانتها في العالم الإسلامي ـ وهي جامعة أم القرى بمكة المكرمة ـ يجعل لها انتشاراً وقبولاً بإذن الله، كيف وقد أضيف لها شرف بأن المشرف عليها العلامة عبد الله بن محمد الغنيمان؛ فلا شك بأن القبول لها أكثر بحول الله وقوته.
موضوع البحث:موضوع البحث له علاقة وطيدة بالعقيدة؛ حيث إنّ كتاب الإبانة مصنف عقدي يتناول مؤلفه من خلاله مسائل الصفات، والقدر، واليوم الآخر وما يتعلق فيه من رؤيا الرب ـ جلا وعلا ـ وإثبات الحوض، والصراط، والميزان، وعذاب القبر واختتم كتابه كما هو في غالب كتب أئمة أهل السنة بالإمامة واثبات صحة خلافة الخلفاء الراشدين الأربعة رضي الله عنهم وغيرها من مسائل العقيدة، ويستدل لهذه المسائل بأدلة من الكتاب والسنة والعقل
مشكلة البحث:يعتبر كتاب الإبانة للأشعري رحمه الله من أكثر كتبه مثاراً للجدل في قضايا عديدة منها:
৬ - ইসলামী বিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের—যা হলো মক্কাতুল মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়—তত্ত্বাবধানে এই পাণ্ডুলিপির সম্পাদনা আল্লাহর ইচ্ছায় একে ব্যাপক প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা দান করবে। আর এতে বিশেষ মর্যাদা যুক্ত হয়েছে এই কারণে যে, এর তত্ত্বাবধায়ক হলেন আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-গুনাইমান; সুতরাং আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
গবেষণার বিষয়বস্তু:গবেষণার বিষয়বস্তুর সাথে আকিদার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে; কেননা ‘আল-ইবানাহ’ একটি আকিদা বিষয়ক গ্রন্থ যেখানে লেখক সিফাত (গুণাবলি), কদর (তাকদির), পরকাল এবং পরকাল সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ যেমন মহান রবের দর্শন সাব্যস্ত করা, হাওজ, সিরাত, মিযান ও কবরের আজাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি তাঁর গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছেন আহলুস সুন্নাহর ইমামগণের অধিকাংশ গ্রন্থের ন্যায় ইমামত এবং চারজন খুলাফায়ে রাশিদীনের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) খিলাফতের বৈধতা প্রমাণের মাধ্যমে ও আকিদার অন্যান্য বিষয়াবলির আলোচনার মধ্য দিয়ে। তিনি এসব বিষয়ের স্বপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ এবং যৌক্তিক দলিলসমূহ উপস্থাপন করেছেন।
গবেষণার সমস্যা:ইমাম আশআরী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর ‘আল-ইবানাহ’ গ্রন্থটি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সর্বাধিক বিতর্কিত গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত, যার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ৮)
1 - إثبات صحة نسبة الكتاب للأشعري؛ حيث إنه لم يرد ذكر اسم هذا الكتاب في قائمة الأشعري عند بعض المؤرخين. وأثبته البعض الآخر
2 - إثبات أيهما اللاحق، أهو الإبانة أم اللمع؟
3 - إثبات آخر الأطوار العقدية عند الأشعري.
أهداف الدراسة:1 - إعادة تحقيق نص كتاب الإبانة، مع تخريج الأحاديث والآثار، وضبط النص وإخراجه كما أراد مؤلفه رحمه الله والتعليق عليه.
2 - بيان آراء أبي الحسن الأشعري التي توافق أهل السنة في هذا الكتاب، وتخالف ما عليه متأخرو الأشاعرة، وخاصة في مسائل الصفات الخبرية، والعلو، والاستواء.
3 - إبراز وجوه الارتباط في الاستدلال عند الأشعري بين النقل والعقل.
حدود الدراسة:الدراسة في هذا البحث ستكون إن شاء الله على النحو التالي:
أولاً: دراسة كتاب الإمام الأشعري رحمه الله الإبانة وبيان منهجه ومن قبل بكتابه الإبانة ومن رده.
1 - আশআরীর প্রতি এই বইটির সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিশুদ্ধতা প্রমাণ করা; কেননা কিছু ঐতিহাসিকের নিকট আশআরীর কিতাবের তালিকায় এই বইটির নামের উল্লেখ আসেনি। তবে অন্যরা এটি সাব্যস্ত করেছেন।
2 - এই দুটির মধ্যে কোনটি পরবর্তী রচনা তা প্রমাণ করা, সেটি কি আল-ইবানা নাকি আল-লুমা?
3 - আশআরীর নিকট আকিদাহগত সর্বশেষ পর্যায়টি সাব্যস্ত করা।
গবেষণার লক্ষ্যসমূহ:1 - আল-ইবানা কিতাবের মূল পাঠ্যের পুনরায় সম্পাদনা করা, সাথে হাদিস ও আছারসমূহের উৎস নির্দেশ করা, এবং পাঠ্যটিকে সুবিন্যস্ত করা ও লেখক (রহিমাহুল্লাহ) যেভাবে চেয়েছিলেন সেভাবে তা উপস্থাপন করা ও এর ওপর টীকা প্রদান করা।
2 - এই কিতাবে আবুল হাসান আল-আশআরীর সেই সকল মতামত বর্ণনা করা যা আহলুস সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং পরবর্তী যুগের আশআরিদের অবস্থানের পরিপন্থী, বিশেষ করে সংবাদমূলক গুণাবলি, উচ্চতা এবং উপরে উঠা সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহে।
3 - আশআরীর নিকট দলীল প্রয়োগের ক্ষেত্রে শ্রুতি ও বুদ্ধির মধ্যকার সম্পর্কের দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা।
গবেষণার পরিধি:এই গবেষণার কাজ ইনশাআল্লাহ নিম্নোক্তভাবে সম্পন্ন হবে:
প্রথমত: ইমাম আশআরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর আল-ইবানা কিতাব নিয়ে গবেষণা এবং তাঁর পদ্ধতি বর্ণনা করা, আর কারা তাঁর ইবানা কিতাবটি গ্রহণ করেছেন এবং কারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তা বর্ণনা করা।
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ৯)
ثانياً: التحقيق والتعليق على كتاب الإبانة.
الصعوبات التي واجهت الباحث:لابد أن تواجه الباحث إذا أراد إن يكون بحثه بحثاً علمياً جاداً بعض الصعوبات، ومن أهم الصعوبات التي واجهتها في البحث:
1 - صعوبة الحصول على المخطوطات من أماكن وجودها عن طريق المراسلة، فكان لابد من الحضور الشخصي، فسافرت إلى حيدر أباد في الهند، وتمكنت من الحصول على المخطوطة الوحيدة هناك بيسر وسهولة ـ ولله الحمد ـ ووجدت كُل تعاون، وسافرت إلى بيروت ثلاث مرات بقصد الحصول على المخطوطة ولم أتمكن من الدخول إلى الجامعة الأمريكية هناك، مع أنني كررت السفر بنية الحصول عليها، ولكنني لم أوفق لعدم وجود متعاونين في تلك الجامعة، وكانوا يطلبون مني أن أراسلهم ـ وإذا راسلتهم ـ قالوا هو مطبوع ولا حاجة لك بالمخطوطة! وقد أنعم الله عليّ بعد جهد وعناء بأحد الأساتذة هناك، والذي قام بتصوير جزء منها غير يسير يعادل أكثر من النصف، ولم يتمكن من تصوير الباقي وواجهت قريباً من ذلك في مصر، ولكن وفقني الله بتعاون الملحق الثقافي السعودي بمصر الأستاذ محمد العقيل ـ وفقه الله ـ
দ্বিতীয়ত: কিতাবুল ইবানাহ-এর তাহকীক (সম্পাদনা) ও তালীক (টীকাভাষ্য)।
গবেষক যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন:গবেষক যদি তার গবেষণাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বস্তুনিষ্ঠ ইলমী গবেষণা হিসেবে গড়ে তুলতে চান, তবে তাকে অবশ্যই কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই গবেষণার ক্ষেত্রে আমি যেসব প্রধান সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি তা হলো:
১ - পত্রালাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানসমূহ থেকে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করার জটিলতা। ফলে সশরীরে উপস্থিতি আবশ্যক হয়ে পড়ে। তাই আমি ভারতের হায়দ্রাবাদে সফর করি এবং সেখানে থাকা একমাত্র পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত সহজে সংগ্রহ করতে সক্ষম হই —সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য— এবং সেখানে আমি পূর্ণ সহযোগিতা লাভ করি। পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আমি তিনবার বৈরুত সফর করি, কিন্তু সেখানকার আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে প্রবেশের সুযোগ পাইনি। যদিও আমি এটি সংগ্রহের নিয়তে বারবার সফর করেছি, কিন্তু উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সহযোগী না থাকায় আমি সফল হতে পারিনি। তারা আমাকে পত্র যোগাযোগ করতে বলত; আর যখনই আমি যোগাযোগ করতাম, তারা বলত যে এটি তো মুদ্রিত আকারে আছে, তাই আপনার পাণ্ডুলিপির কোনো প্রয়োজন নেই! অনেক প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের পর আল্লাহ আমাকে সেখানকার একজন অধ্যাপকের মাধ্যমে অনুগ্রহ দান করেন, যিনি পাণ্ডুলিপিটির একটি বিশাল অংশ ফটোকপি করে দিয়েছিলেন যা অর্ধেকেরও বেশি। তবে তিনি অবশিষ্ট অংশটি ফটোকপি করতে সক্ষম হননি। মিশরেও আমি প্রায় একই ধরণের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলাম, কিন্তু মিশরে অবস্থিত সৌদি কালচারাল অ্যাটাশে উস্তাদ মুহাম্মদ আল-আকীল —আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন— এর সহযোগিতায় আল্লাহ আমাকে সফল করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ১০)
بإحضار المخطوط من مكتبة جامعة الدول العربية، أما بقية المخطوطات فلم أجد صعوبة في الحصول عليها ولله الحمد والمنة.
2 - كما أن من الصعوبات التي واجهتها صعوبة قراءة بعض الألفاظ من المخطوطات والتي كانت تستغرق مني جهداً ووقتاً طويلاً.
3 - صعوبة الحصول على تراجم لبعض من أوردهم المؤلف، وخاصة المعتزلة الذين رد عليهم في كتبه، حيث يورد الإسم بالكنية أو باللقب فقط، وقد عانيت مشقة ووجدت صعوبة في معرفة هؤلاء الأشخاص، واستطعت بحمد الله الترجمة لغالبهم إلا للخالدي الذي لم أستطع تمييزه عن غيره.
4 - ومن الصعوبات أيضاً تخريج الآثار، حيث إن المؤلف رحمه الله لم يعتمد على الكتب المعروفة، ناهيك على أنه يورد في بعض الأحيان الحديث أو الأثر بالمعني، بل قد يعزو أثراً بالمعني للعشرات من الأعلام، دون أن يذكر مصدراً واحداً، وقد أهمل جميع من حققوا الإبانة تخريج هذه الآثار، وقد وفقني الله ـ ولله الحمد ـ بتخريجها جميعاً، ومن أمثلة ذلك: الأعلام الذين قالوا: من قال أن القرآن مخلوق فهو كافر، ولعل هذه أبرز الصعوبات التي واجهتني في تحقيق هذا الكتاب.
আরব রাষ্ট্রপুঞ্জের গ্রন্থাগার থেকে পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহের মাধ্যমে; আর বাকি পাণ্ডুলিপিগুলো পাওয়ার ক্ষেত্রে আমি কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হইনি, সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই।
২ - এছাড়া যে সকল সমস্যার আমি সম্মুখীন হয়েছি, তার মধ্যে একটি হলো পাণ্ডুলিপির কিছু শব্দ পাঠ করার জটিলতা, যা আমার থেকে প্রচুর শ্রম ও দীর্ঘ সময় কেড়ে নিয়েছে।
৩ - লেখক যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের জীবনী খুঁজে পাওয়ার জটিলতা, বিশেষ করে সেই মুতাজিলাদের যাদের তিনি তাঁর বইগুলোতে খণ্ডন করেছেন। কারণ তিনি কেবল তাদের উপনাম বা উপাধি উল্লেখ করেছেন। এই ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আমি বেশ কষ্ট ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি। আল্লাহর অনুগ্রহে আমি তাদের অধিকাংশের জীবনী তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি, কেবল আল-খালিদি ব্যতীত, যাকে আমি অন্যদের থেকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারিনি।
৪ - অন্যান্য সমস্যার মধ্যে আরও একটি ছিল আছারগুলোর উৎস নির্দেশ করা, কারণ লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) সুপরিচিত গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেননি; তদুপরি তিনি কখনো কখনো হাদিস বা আছারগুলো কেবল মর্মগতভাবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি তিনি একটি মর্মগত বর্ণনাকে কোনো একটি উৎসের উল্লেখ ছাড়াই দশ জন বিশিষ্ট ইমামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থের পূর্ববর্তী সকল সম্পাদক এই আছারগুলোর উৎস নির্দেশের বিষয়টি উপেক্ষা করে গেছেন। তবে আল্লাহ আমাকে তাওফিক দিয়েছেন—সকল প্রশংসা আল্লাহরই—সেগুলোর সবকটির উৎস বের করার। এর একটি উদাহরণ হলো: সেই সকল ইমাম যারা বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি বলে কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট), সে কাফির।" সম্ভবত এই বিষয়গুলোই এই কিতাবটির সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার সম্মুখীন হওয়া সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সমস্যা।
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ১১)
إجراءات الدراسة:الإجراءات التي سوف أسير عليها بإذنه تعالى في هذه الدراسة تتلخص فيما يلي:
1 - ذكر مقدمة تبين أهمية الموضوع وخطة البحث ومنهجي فيه.
2 - الاعتناء بعزو الآيات القرآنية بذكر اسم السورة ورقم الآية.
3 - وأما الأحاديث والآثار فخرجتها من مصادرها الأصلية مضيفًا إلى ذلك الحكم عليهما حسب ما وقفت عليه من أقوال أهل العلم بشيء من الاختصار، وإن كان في ا لصحيحين أو أحدهما. اكتفيت بعزوه إليهما.
4 - نسبة الأقوال إلى قائليها، وذلك بأخذ الحكم والكلام من مصادره الأصلية المعتمدة تفاديًا لحصول الخطأ وتمسكًا بمنهج البحث السليم فإذا كان الكلام المنقول بعينه وضع بين قوسين وكتب في الهامش المرجع مباشرة، وإذا كان المقصود الإحالة أو مع شيء من الاختصار كتب في الهامش انظر.
5 - إيضاح الألفاظ الغامضة بالرجوع إلى القواميس التي تعتني بذلك.
6 - التعريف بالأعلام وعرفت بالبلدان الواردة في أصل الدراسة والمخطوط.
7 - وكان عملي بالمخطوط يقوم على ما يلي:
গবেষণার পদ্ধতিসমূহ:এই গবেষণায় মহান আল্লাহর অনুমতিক্রমে আমি যে সকল পদ্ধতি অনুসরণ করব, তার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
১ - একটি ভূমিকা প্রদান করা, যেখানে বিষয়ের গুরুত্ব, গবেষণার পরিকল্পনা এবং এতে আমার অনুসৃত কর্মপদ্ধতি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হবে।
২ - কুরআনের আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে সেগুলোর উৎসের দিকে সম্বন্ধ করার প্রতি যত্নশীল হওয়া।
৩ - হাদিস ও আসারগুলোর (বর্ণনা) ক্ষেত্রে আমি সেগুলোকে তাদের মূল উৎসসমূহ থেকে চয়ন করেছি। এর সাথে বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্য অনুযায়ী সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতার হুকুম বা মান সংক্ষেপে যোগ করেছি। আর হাদিসটি যদি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা এই দুটির কোনো একটিতে বিদ্যমান থাকে, তবে কেবল সেগুলোর দিকে সম্বন্ধ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।
৪ - উক্তিগুলোকে তাদের প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধ করা; আর ভুল এড়াতে এবং সঠিক গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করতে নির্ভরযোগ্য মূল উৎসসমূহ থেকেই বক্তব্য ও সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। যদি উদ্ধৃত বক্তব্যটি হুবহু হয়, তবে তা ব্র্যাকেটের মাঝে রাখা হয়েছে এবং পাদটীকায় সরাসরি মূল রেফারেন্সটি লিখে দেওয়া হয়েছে। আর যদি উদ্দেশ্য কেবল তথ্য নির্দেশ করা হয় অথবা সংক্ষেপণ করা হয়, তবে পাদটীকায় ‘দেখুন’ লেখা হয়েছে।
৫ - সংশ্লিষ্ট অভিধানসমূহের সহায়তায় অস্পষ্ট শব্দাবলির ব্যাখ্যা প্রদান করা।
৬ - গবেষণার মূল পাঠ এবং পাণ্ডুলিপিতে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ ও স্থানসমূহের পরিচয় প্রদান করা।
৭ - পাণ্ডুলিপি নিয়ে আমার কাজ নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ১২)
أ) اعتماد نسخة خطية ظهر لي أنها أصح النسخ فقمت بنسخها، ومقابلة النسخ الأخرى عليها.
ب) عند وجود سقط في النسخة الأصلية فإنني أجعل الزيادة بين معقوفتين [] ثم أشير في الهامش إلى مصدر الزيادة من النسخ الأخرى، كما أنني أفعل ذلك عند جود تصحيف واضح أو خطأٍ بين مع التنبيه إلى ذلك في الهامش.
ج) عندما يكون السقط من نسخة أخرى فإنني أسلك مسلكين:
المسلك الأول: إذا كان السقط من النسخ الأخرى طويلاً فإنني أضعه بين قوسين هلاليين () مع الإشارة في الهامش إلى المخطوطة التي سقط منها.
المسلك الثاني: إذا كان السقط أو اختلاف اللفظ بين النسخة المعتمدة والنسخ الأخرى يسيراً لا يتجاوز كلمة أو كلمتين، فإنني أضع رقماً على اللفظة في الأصل، ثم أشير في الهامش إلى أنها سقطت من نسخة كذا وكذا، أو أنَّ في نسخة كذا وكذا عبارة كذا وكذا، دون الحاجة إلى أقواس.
د) حرصت على أن أثبت الآيات القرآنية بالرسم العثماني كما أوردها المؤلف وأكتفي بالجزء الذي ذكره من الآية دون إتمامها متابعة للمؤلف في ذلك ـ مع العزو للسورة ورقم الآية في الهامش.
ক) এমন একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করা যা আমার নিকট অধিকতর শুদ্ধ বলে প্রতীয়মান হয়েছে; অতঃপর আমি সেটি প্রতিলিপি করেছি এবং অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তার তুলনা করেছি।
খ) মূল পাণ্ডুলিপিতে কোনো অংশ বিচ্যুত বা বাদ পড়ে থাকলে অতিরিক্ত অংশটুকুকে আমি তৃতীয় বন্ধনী বা ব্র্যাকেটের [ ] মধ্যে স্থাপন করেছি, অতঃপর টীকায় অন্যান্য পাণ্ডুলিপি থেকে গৃহীত সেই অতিরিক্ত অংশের উৎসের কথা উল্লেখ করেছি। একইভাবে সুস্পষ্ট লিখন বিভ্রাট বা ভুল পরিলক্ষিত হলে আমি টীকায় সতর্ক করে দিয়ে তা সংশোধন করেছি।
গ) যখন অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে কোনো অংশ বিচ্যুত হয়েছে, তখন আমি দুটি পন্থা অবলম্বন করেছি:
প্রথম পন্থা: যদি অন্য পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে বাদ পড়া অংশটি দীর্ঘ হয়, তবে আমি সেটিকে প্রথম বন্ধনী বা প্রথম ব্র্যাকেটের ( ) মধ্যে রেখেছি এবং টীকায় সেই পাণ্ডুলিপির প্রতি ইঙ্গিত করেছি যেখান থেকে এটি বাদ পড়েছে।
দ্বিতীয় পন্থা: যদি নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি এবং অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে শব্দের বিচ্যুতি বা পার্থক্য সামান্য হয়, যা এক বা দুটি শব্দের বেশি নয়, তবে আমি মূল শব্দের উপর একটি নম্বর প্রদান করেছি, অতঃপর টীকায় উল্লেখ করেছি যে এটি অমুক অমুক পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে, অথবা অমুক অমুক পাণ্ডুলিপিতে অমুক অমুক পাঠ রয়েছে; এক্ষেত্রে বন্ধনী ব্যবহারের প্রয়োজন মনে করিনি।
ঘ) আমি কুরআন মাজিদের আয়াতসমূহকে লেখক যেভাবে উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী রসম উসমানিতে বহাল রাখতে সচেষ্ট হয়েছি এবং লেখকের অনুসরণে আয়াতের যে অংশটুকু তিনি উল্লেখ করেছেন সেটুকুর ওপরেই ক্ষান্ত হয়েছি, পুরো আয়াতটি পূর্ণ করিনি—এর পাশাপাশি টীকায় সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
هـ) حرصت على ذكر جميع الفروق بين جميع النسخ حتى ولو كان الفرق ليس جوهرياً، ولا مهماً، ولا أثر له على الكتاب، وفعلت ذلك من باب الأمانة العلمية، كنحو رسول الله، ونبي الله، وعز وجل، وتعالى، ورضي الله عنه، ورضي الله عنهم، والرواية، والروايات، وكالزيادة في اسم العلم كما في بعض النسخ عمر، وبعضها عمر بن الخطاب. وكبعض اصطلاحات المحدثين كلفظة حدثنا، نا، ثنا، كذلك لم أهمل مسألة التقديم والتأخير من باب الأمانة العلمية، ما استطعت إلى ذلك سبيلاً، وحرصت ألا يفوتني شيئاً من هذه الفروق إلا ما ند عن البصر، أو شرد عنه الخاطر.
و) قمت بالتعليق على جميع المسائل التي تحتاج إلى تعليق من وجهة نظري.
ز) قمت بنقل الإجماع من مصادر أخرى تؤكد ما ذهب إليه الأشعري في المسائل التي نقل فيها الإجماع.
ط) نقلت تعليقات شيخ الإسلام ابن تيمية على الإبانة من جميع كتبه، فما تركت موطناً علق فيه على الإبانة إلا ونقلته ووجدت ـ
هـ) আমি সকল পাণ্ডুলিপির মধ্যকার সমস্ত পার্থক্য উল্লেখ করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি, এমনকি সেই পার্থক্য যদি মৌলিক বা গুরুত্বপূর্ণ না হয় এবং গ্রন্থের ওপর তার কোনো প্রভাব না থাকে তবুও। আমি এটি করেছি বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার খাতিরে; যেমন: আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর নবী, মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত, সুউচ্চ, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন, আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন, বর্ণনা, বর্ণনাগুলো এবং কোনো নির্দিষ্ট নামে অতিরিক্ত অংশ যুক্ত থাকার ন্যায় বিষয়গুলো, যেমন কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'উমর' এবং কোনোটিতে 'উমর ইবনুল খাত্তাব'। আবার মুহাদ্দিসগণের কিছু পরিভাষা যেমন: 'হাদ্দাসানা', 'না', 'সানা'। তেমনিভাবে আমি সাধ্যমতো বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার খাতিরে শব্দ ও বাক্যের আগে-পিছে হওয়ার বিষয়টিও উপেক্ষা করিনি। আমি সচেষ্ট ছিলাম যেন এই পার্থক্যগুলোর কোনো কিছুই আমার নজর এড়িয়ে না যায়, কেবল যা দৃষ্টির অগোচরে রয়ে গেছে বা স্মৃতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে তা ছাড়া।
و) আমি আমার দৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়ের ওপর টীকা প্রদান করেছি।
ز) ইমাম আশআরী যেসব মাসআলায় ইজমা বর্ণনা করেছেন, সেসব ক্ষেত্রে আমি অন্যান্য উৎস থেকে ইজমা উদ্ধৃত করেছি যা তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে।
ط) আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সকল কিতাব থেকে 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থের ওপর তাঁর মন্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছি। এমন কোনো স্থান আমি বাদ দিইনি যেখানে তিনি 'আল-ইবানাহ' সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, বরং তা উদ্ধৃত করেছি এবং আমি পেয়েছি—
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولله الحمد ـ أنه مؤيدٌ لجميع ما ذكره الأشعري فحليت به الكتاب وطرزته.
ظ) عندما يكون الفرق بين النسخ بسبب اختلاف الرسم الإملائي فإنني لا أعتد بهذا الفرق وإنما اعتمدت الإملائية الحديثة في كتابة المخطوط.
ي) وضعت أرقاماً وحروفاً أبجدية في المخطوط للتفريق بين المسائل، وجميع الأرقام والرموز التي في المخطوط من صنعي من اجل تسهيل قراءة الكتاب على القارئ.
تقسيم هذه الرسالة إلى قسمين:
القسم الأول: قسم الدراسة، ويشمل المقدمة والتمهيد وستة فصول.
المقدمة:
التمهيد ويشمل:
1 - أهمية البحث.
2 - موضوع البحث.
3 - مشكلة البحث.
4 - أهداف الدراسة.
5 - حدود الدراسة.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—এটি আশআরি যা কিছু উল্লেখ করেছেন তার সবকিছুর সমর্থক, তাই আমি এর মাধ্যমে কিতাবটিকে অলংকৃত ও সুশোভিত করেছি।
য) যখন পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে পার্থক্য বানানরীতির কারণে হয়, তখন আমি এই পার্থক্যকে ধর্তব্য মনে করিনি, বরং পাণ্ডুলিপিটি লেখার ক্ষেত্রে আধুনিক বানানরীতি গ্রহণ করেছি।
ইয়) মাসআলাগুলোর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য আমি পাণ্ডুলিপিতে সংখ্যা এবং বর্ণমালা ব্যবহার করেছি; পাণ্ডুলিপিতে থাকা সমস্ত সংখ্যা এবং প্রতীকগুলো আমার নিজের তৈরি, যাতে পাঠকের জন্য কিতাবটি পাঠ করা সহজ হয়।
এই রিসালাহ বা প্রবন্ধটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে:
প্রথম অংশ: গবেষণা অংশ, এতে রয়েছে ভূমিকা, উপক্রমনিকা এবং ছয়টি অধ্যায়।
ভূমিকা:
উপক্রমনিকা এবং এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
১ - গবেষণার গুরুত্ব।
২ - গবেষণার বিষয়বস্তু।
৩ - গবেষণার সমস্যা।
৪ - গবেষণার লক্ষ্যসমূহ।
৫ - গবেষণার পরিধি।
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
6 - الصعوبات التي واجهها الباحث.
7 - إجراءات الدراسة.
قسم الدراسة، ويحتوي على ستة فصول:
الفصل الأول: حياة أبي الحسن الأشعري وفيه مباحث:
المبحث الأول: اسمه ونسبه.
المبحث الثاني: كنيته ولقبه.
المبحث الثالث: ولادته تاريخها ومكانها.
المبحث الرابع: ثناء العلماء عليه.
المبحث الخامس: مذهبه الفقهي.
المبحث السادس: شيوخه.
المبحث السابع: تلاميذه.
المبحث الثامن: وفاته.
الفصل الثاني: عصره، وفيه مباحث:
المبحث الأول: الحالة السياسية.
المبحث الثاني: الحالة الاجتماعية.
المبحث الثالث: الناحية العلمية.
الفصل الثالث: تطوّر حياته العقدية والفكرية، وفيه مباحث:
المبحث الأول: طور الاعتزال.
المبحث الثاني: أسباب رجوعه عن الاعتزال.
المبحث الثالث: ما بعد مرحلة الاعتزال.
الفصل الرابع: مؤلفاته، وفيه مباحث:
المبحث الأول: المصنفات التي وصلت إلينا وبعضها مطبوع الآن.
المبحث الثاني: النسخ المخطوطه.
المبحث الثالث: المؤلفات التي لم تصل إلينا ونسبها بعض الباحثين للأشعري.
المبحث الرابع: الكتب التي ألفها من سنة 320 إلى وفاته سنة 324.
الفصل الخامس: كتاب الإبانة عن أصول الديانة وفيه مباحث:
المبحث الأول: عنوان الكتاب.
المبحث الثاني: توثيق نسبته لمؤلفه.
المبحث الثالث: تاريخ تأليفه.
المبحث الرابع: منهجه في الكتاب.
المبحث الخامس: مصادره في الكتاب.
المبحث السادس: منزلة الكتاب.
المبحث السابع: نقد الكتاب.
الفصل السادس: أثر الإبانة على الأشاعرة، وفيه مباحث:
المبحث الأول: من لم تؤثر عليهم الإبانة.
المبحث الثاني: من أثرت فيهم الإبانة.
القسم الثاني: التحقيق، ويشمل:
1 ـ الطبعات السابقة للكتاب.
৬ - গবেষক যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
৭ - গবেষণার পদ্ধতিসমূহ।
গবেষণা অংশ, যা ছয়টি অধ্যায় সম্বলিত:
প্রথম অধ্যায়: আবুল হাসান আল-আশআরীর জীবন এবং এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর উপনাম ও উপাধি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম তারিখ ও জন্মস্থান।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রশংসায় আলেমগণের বাণী।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ফিকহি মাযহাব।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর যুগ এবং এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক।
তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর আকিদাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের বিবর্তন এবং এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুতাজিলা পর্যায়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাজিলা মতবাদ ত্যাগের কারণসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাজিলা পরবর্তী পর্যায়।
চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর রচনাবলী এবং এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: যে সকল রচনাবলী আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং যার কিছু বর্তমানে মুদ্রিত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপিসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যে সকল গ্রন্থ আমাদের নিকট পৌঁছায়নি অথচ কিছু গবেষক সেগুলোকে আল-আশআরীর দিকে সম্বন্ধ করেছেন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ৩২০ হিজরি থেকে ৩২৪ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত যে সকল কিতাব তিনি রচনা করেছেন।
পঞ্চম অধ্যায়: আল-ইবানা আন উসুলিদ দিয়ানা গ্রন্থ এবং এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: বইয়ের শিরোনাম।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের দিকে কিতাবটির সম্বন্ধের প্রামাণ্যতা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রচনার ইতিহাস।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কিতাবটিতে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কিতাবটির উৎসসমূহ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কিতাবটির মর্যাদা।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: কিতাবটির পর্যালোচনা।
ষষ্ঠ অধ্যায়: আশআরিগণের ওপর ইবানা-র প্রভাব এবং এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: যাদের ওপর ইবানা প্রভাব ফেলেনি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যাদের ওপর ইবানা প্রভাব ফেলেছে।
দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদনা (তাহকীক), যা অন্তর্ভুক্ত করে:
১ ـ কিতাবটির পূর্ববর্তী সংস্করণসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
2 ـ وصف النسخ الخطية للكتاب.
3 ـ النص المحقّق.
تم تذييل البحث بالفهارس التالية:
- فهرس الآيات القرآنية.
- فهرس الأحاديث النبوية.
- فهرس الآثار.
- فهرس الأعلام المترجم لهم في الحاشية.
فهرس الفرق والطوائف والملل.
فهرس الأماكن والبلدان.
- فهرس المراجع.
- فهرس محتويات البحث.
الفصل الأول: حياة أبي الحسن الاشعري وفيه ثمان مباحث
المبحث الأول: اسمه ونسبه.
المبحث الثاني: كنيته ولقبه.
المبحث الثالث: ولادته تاريخها ومكانها.
المبحث الرابع: ثناء العلماء عليه.
المبحث الخامس: مذهبه الفقهي.
المبحث السادس: شيوخه.
المبحث السابع: تلاميذه.
المبحث الثامن: وفاته.
الفصل الأول: حياة أبي الحسن الأشعري، وفيه مباحث:
২- গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি সমূহের বর্ণনা।
৩- সম্পাদিত মূল পাঠ।
গবেষণাটির শেষে নিম্নোক্ত নির্ঘণ্টসমূহ সংযোজন করা হয়েছে:
- কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
- নববী হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট।
- আছার (সাহাবী ও তাবেয়ীদের বাণী) সমূহের নির্ঘণ্ট।
- টীকায় যাদের জীবনী আলোচনা করা হয়েছে, সেই সকল ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।
ফিরকা, উপদল এবং ধর্ম ও মতাদর্শের নির্ঘণ্ট।
স্থান ও দেশসমূহের নির্ঘণ্ট।
- তথ্যসূত্র সমূহের নির্ঘণ্ট।
- গবেষণার বিষয়বস্তুর সূচিপত্র।
প্রথম অধ্যায়: আবুল হাসান আল-আশআরীর জীবন, এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর কুনিয়াত (ডাকনাম) ও উপাধি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, তারিখ ও স্থান।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ফিকহী মাযহাব।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।
প্রথম অধ্যায়: আবুল হাসান আল-আশআরীর জীবন, এতে পরিচ্ছেদসমূহ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
شكر وتقدير
وأخيرًا فإنني أحمد الله حمدًا كثيرًا على ما أنعم به عليّ من إتمام هذه الرسالة، ومن باب قوله صلى الله عليه وسلم: "من لا يشكر الناس، لا يشكر الله عز وجل" (1)، ومن هذا التوجيه النبوي الكريم أشكر جامعة أم القرى بمكة المكرمة التي وافقت مشكورة على أن أنال شرف الدراسة بها في كلية الدعوة وأصول الدين (قسم العقيدة)، كما أشكر كل من وقف معي أو قدم لي مساعدة في بحثي هذا، وأخص بالشكر والدعاء فضيلة شيخي ووالدي شيخنا العلامة عبدالله بن محمد الغنيمان، الذي شرفني بموافقته على الإشراف على هذه الرسالة، فكان نعم الشيخ والمشرف والوالد والمربي، فلقد أفدت منه - ولله الحمد - كثيرًا من علمه وخلقه وتواضعه، وقد فتح لي - أنزله الله الفردوس الأعلى - قلبه وبيته ومكتبته، بل كنت إذا احتجت كتابًا أو مصدرًا، بحث عنه بنفسه بكل تواضع، وكان هذا يحرجني كثيرًا، وكان - حفظه الله - لا يتضجر من زياراتي والتي قد أفاجأه بها؛ لأنني في الرياض وهو في القصيم، فكان يستقبلني في كل وقت، يصبر علي الساعات الطوال،
--------------------------------------------
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি
সবশেষে, এই থিসিস সম্পন্ন করার মাধ্যমে আল্লাহ আমার উপর যে নিয়ামত বর্ষণ করেছেন, তার জন্য আমি আল্লাহর অশেষ প্রশংসা করছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর প্রেক্ষিতে: "যে মানুষের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না, সে মহান আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা আদায় করে না" (১), এই মহান নববী নির্দেশনার আলোকে আমি মক্কা মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানাই, যারা অনুগ্রহপূর্বক আমাকে এর দাওয়া ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদে (আক্বীদাহ বিভাগ) অধ্যয়নের সুযোগ দিয়ে ধন্য করেছেন। সেই সাথে আমি তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন অথবা আমার এই গবেষণায় আমাকে সহায়তা করেছেন। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা ও দুআর সাথে স্মরণ করছি আমার সম্মানিত শায়খ ও পিতা, আমাদের শায়খ আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-গুনাইমানকে, যিনি এই থিসিস তত্ত্বাবধানের সম্মতি দিয়ে আমাকে ধন্য করেছেন। তিনি ছিলেন একজন উত্তম শায়খ, তত্ত্বাবধায়ক, পিতা ও শিক্ষক। আল্লাহর অনুগ্রহে, আমি তাঁর ইলম, চরিত্র ও বিনয় থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি। তিনি—আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন—আমার জন্য তাঁর হৃদয়, তাঁর ঘর এবং তাঁর লাইব্রেরি উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। এমনকি যখনই আমার কোনো বই বা উৎসের প্রয়োজন হতো, তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে নিজেই তা খুঁজতেন, যা আমাকে অনেক সময় লজ্জিত করত। তিনি—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—আমার সাক্ষাতে কখনো বিরক্ত হতেন না, যদিও আমি কখনো কখনো হঠাৎ উপস্থিত হতাম; কারণ আমি রিয়াদে থাকতাম আর তিনি কাসিমে, তাই তিনি যেকোনো সময় আমাকে গ্রহণ করতেন এবং দীর্ঘ সময় আমার জন্য ধৈর্য ধরতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فينفعني بعلمه ويسددني بنصحه، ويصحح لي ما جهلته، ويصوب لي ما أخطأت به، فجزاه الله عني خير ما جزي به عالمًا عن تلميذه، ووالدًا عن ولده، كما أشكر جميع أساتذتي ومشايخي الذين درسوني في مرحلة دراسة الدكتوراة، وأخص بالذكر منهم شيخي الكريم فضيلة الشيخ الدكتور/ على بن نفيع العلياني، فكان يحثني على سرعة إنهاء الرسالة، كما أشكر شيخيَّ الكريمين الدكتورين الفاضلين المناقشين لهذه الرسالة، فضيلة الشيخ الدكتور / محمود مزروعة، وفضيلة الشيخ الدكتور / محمد الوهيبي، على ما بذلا من جهد في قراءتها، وعلى ما أسدياه من نصح عند مناقشتها، كما أشكر جميع من وقف معي من أهلي وزملائي وأصدقائي ومشايخي.
قاله وكتبه د/ صالح بن مقبل العصيمي التيمي
المملكة العربية السعودية الرياض - ص. ب 120969 الرمز 11689
فاكس وهاتف: 2414080 الجوال 0555549291
@ gmail.com 555049291 S
তিনি তাঁর ইলম দ্বারা আমাকে উপকৃত করেছেন এবং তাঁর নসিহতের মাধ্যমে আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন। আমার অজানা বিষয়গুলো তিনি সংশোধন করেছেন এবং আমার ভুলগুলো শুধরে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, যা একজন আলেমকে তাঁর ছাত্রের পক্ষ থেকে এবং একজন পিতাকে তাঁর সন্তানের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়। সেই সাথে আমি আমার সকল উস্তাদ ও মাশায়েখদের শুকরিয়া আদায় করছি যারা আমাকে ডক্টরেট পর্যায়ে পাঠদান করেছেন। তাঁদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি আমার সম্মানিত শায়খ ফজিলাতুশ শায়খ ডক্টর আলী বিন নুফাই আল-উলইয়ানির কথা; তিনি আমাকে দ্রুত থিসিসটি শেষ করতে উৎসাহিত করতেন। আমি আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এই থিসিসের পরীক্ষক আমার দুই সম্মানিত শায়খ ও ডক্টর ফজিলাতুশ শায়খ ডক্টর মাহমুদ মাজরুআ এবং ফজিলাতুশ শায়খ ডক্টর মুহাম্মদ আল-উহাইবির প্রতি, তাঁরা এটি পাঠ করার ক্ষেত্রে যে শ্রম দিয়েছেন এবং আলোচনার সময় যে উপদেশ দিয়েছেন তার জন্য। এছাড়া আমার পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব এবং মাশায়েখদের মধ্যে যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের সকলের শুকরিয়া আদায় করছি।
এটি বলেছেন এবং লিখেছেন ডক্টর সালিহ বিন মুকবিল আল-উসাইমি আত-তামিমি
সৌদি আরব রাজ্য, রিয়াদ - পোস্ট বক্স ১২০৯৬৯, কোড ১১৬৮৯
ফ্যাক্স ও ফোন: ২৪১৪০৮০, মোবাইল ০৫৫৫৫৪৯২৯১
@ জিমেইল ডট কম ৫৫৫০৪৯২৯১ এস
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الأول: حياة أبي الحسن الأشعريوفيه مبحثان
المبحث الأول: اسمه ونسبه
المبحث الثاني: ولادته ووفاته
প্রথম পরিচ্ছেদ: আবুল হাসান আল-আশআরীর জীবনীএবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও মৃত্যু
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الأول: اسمه ونسبههو أبو الحسن علي بن إسماعيل بن أبي بشر إسحاق بن سالم بن إسماعيل بن عبد الله بن موسى بن بلال بن أبي بردة بن صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم، أبو موسى عبد الله بن قيس بن حضار الأشعري اليماني الأصل البصري المولد. أما والده، فهو أبو إسماعيل بن إسحاق كان من أهل السنة والجماعة، كما كان محدثاً، ويدل على ذلك أن والده لما حضرته الوفاة، وكان ابنه علي صغيراً، أوصى به إلى أحد أئمة الحديث، وهو الإمام زكريا بن يحيى الساجي
(1). ولاشك بأن هذا يؤكد أن والده كان من أهل السنة والجماعة حيث قال ابن عساكر
(2): ذكر الإمام أبو بكر بن فورك
(3): أن أباه أبو بشر
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়তিনি হলেন আবুল হাসান আলী বিন ইসমাঈল বিন আবি বিশর ইসহাক বিন সালিম বিন ইসমাঈল বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসা বিন বিলাল বিন আবি বুরদাহ বিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী আবু মুসা আব্দুল্লাহ বিন কায়স বিন হাদার আল-আশআরী। তিনি বংশগতভাবে ইয়ামানী এবং জন্মগতভাবে বসরী। তাঁর পিতার কথা বলতে গেলে, তিনি ছিলেন আবু ইসমাঈল বিন ইসহাক, যিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং একজন মুহাদ্দিস ছিলেন। এর প্রমাণ হলো, যখন তাঁর পিতার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে এবং তাঁর পুত্র আলী ছোট ছিলেন, তখন তিনি তাঁকে হাদীসের অন্যতম ইমাম যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী
(১)-এর নিকট সোপর্দ করার অসিয়ত করেন। নিঃসন্দেহে এটি নিশ্চিত করে যে, তাঁর পিতা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইবনে আসাকির
(২) বলেন: ইমাম আবু বকর বিন ফুরাক
(৩) উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পিতা আবু বিশর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ২১)
إسماعيل بن إسحاق، كان سنيًا، جماعيًا، حديثيًا حيث أوصى به أبو الحسن عند وفاته إلى زكريا بن يحيى الساجي رحمه الله وهو إمام في الفقه والحديث، وله كتب منها: كتاب اختلاف الفقهاء، وكان يذهب مذهب الشافعي، وقد روى عنه الشيخ أبو الحسن الأشعري في كتاب التفسير أحاديث كثيرة ـ يعني الساجي ـ
(1) ونسبه ينتهي إلى الصحابي الجليل أبي موسى الأشعري رضي الله عنه
(2).
--------------------------------------------
ইসমাইল বিন ইসহাক ছিলেন একজন সুন্নী, জামাআতী ও হাদীসপন্থী ব্যক্তি। আবুল হাসান তার মৃত্যুর সময় যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আস-সাজি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন)-এর নিকট তার বিষয়ে অসিয়ত করেছিলেন। তিনি (সাজি) ফিকহ ও হাদীসের একজন ইমাম ছিলেন এবং তার বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো: ‘কিতাবু ইখতিলাফিল ফুকাহা’। তিনি শাফিয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। শায়খ আবুল হাসান আল-আশআরী তার তাফসীর গ্রন্থে তার (অর্থাৎ সাজির) থেকে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তার বংশধারা মহান সাহাবী আবু মুসা আল-আশআরী (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর সাথে মিলিত হয়েছে।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الثاني ولادته ووفاتهاختلف المترجمون للأشعري في تحديد سنة ولادته، فقيل ولد سنة [260] هـ وقد انتصر لهذا القول ابن عساكر حتى قال: لا أعلم لقائل هذا القول في تاريخ مولده مخالفاً
(16). في حين ذكر ابن خلكان بأن هناك قولاً بأن ولادته سنة [270] هـ
(17). وأما المقريزي
(18) فقد ذكر بأن ولادته سنة [266] هـ
(19). ولعل الأقرب في تاريخ ولادته هو ما ذكره ابن عساكر، بل وعليه أغلب المصادر القديمة. وقال الزبيدي
(20): قيل: ولد
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও মৃত্যুআশআরীর জীবনীকারগণ তাঁর জন্মসাল নির্ধারণে মতভেদ করেছেন। বলা হয়েছে যে, তিনি ২৬০ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইবনে আসাকির এই মতটিকে সমর্থন করেছেন, এমনকি তিনি বলেছেন: তাঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে এই মতের প্রবক্তার কোনো বিরোধী আছে বলে আমার জানা নেই।
(১৬) পক্ষান্তরে ইবনে খাল্লিকান উল্লেখ করেছেন যে, একটি মত অনুসারে তাঁর জন্ম ২৭০ হিজরি সনে।
(১৭) আর মাকরিজি
(১৮) উল্লেখ করেছেন যে তাঁর জন্ম ২৬৬ হিজরি সনে।
(১৯) সম্ভবত তাঁর জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে ইবনে আসাকির যা উল্লেখ করেছেন সেটিই অধিকতর সঠিক, বরং অধিকাংশ প্রাচীন উৎস এরই ওপর ভিত্তি করে। আর যুবাইদি
(২০) বলেছেন: বলা হয়েছে যে, তিনি জন্মগ্রহণ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
سنة ستين ومائتين. وقيل: سنة سبعين، والأول أشهر (1). أما مكان ولادته ففي مدينة البصرة (2) ولم أجد في ذلك مخالفاً بأنها كانت في البصرة.
أما وفاته فهي محل خلاف من حيث التاريخ، والراجح أنها سنة أربع وعشرين وثلاثمائة، وأما مكانها فكان في بغداد بلا خلاف (3) (4).
--------------------------------------------
দুইশত ষাট হিজরি সাল। বলা হয়েছে: সত্তর সাল, তবে প্রথমটিই অধিক প্রসিদ্ধ (১)। তার জন্মস্থানের ব্যাপারে বলা যায় যে, তা ছিল বসরা নগরীতে (২) এবং আমি এর বিপরীতে কোনো মত খুঁজে পাইনি যে এটি বসরা ব্যতীত অন্য কোথাও ছিল।
তার মৃত্যুর তারিখের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে, তবে অগ্রগণ্য মত হলো এটি তিনশত চব্বিশ হিজরি সাল। আর তার মৃত্যুর স্থান ছিল বাগদাদে, এতে কোনো মতভেদ নেই (৩) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفصل الثاني كتاب الإبانة عن أصول الديانة
وفيه سبعة مباحث:
المبحث الأول: عنوان الكتاب.
المبحث الثاني: توثيق نسبته للمؤلف.
المبحث الثالث: تاريخ تأليفه.
المبحث الرابع: مصادره في الكتاب.
المبحث الخامس: منهجه في الكتاب.
المبحث السادس: منزلة الكتاب.
المبحث السابع: نقد الكتاب.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিতাবুল ইবানা আন উসুলিদ দিয়ানা
এতে রয়েছে সাতটি আলোচনা:
প্রথম আলোচনা: গ্রন্থের শিরোনাম।
দ্বিতীয় আলোচনা: লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততার প্রামাণিকতা।
তৃতীয় আলোচনা: এর রচনার ইতিহাস।
চতুর্থ আলোচনা: গ্রন্থে ব্যবহৃত উৎসসমূহ।
পঞ্চম আলোচনা: গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি।
ষষ্ঠ আলোচনা: গ্রন্থের মর্যাদা।
সপ্তম আলোচনা: গ্রন্থের পর্যালোচনা।
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الفصل الثانيكتاب الإبانة عن أصول الديانةلقد أحدث كتاب الإبانة صراعاً قوياً حول معرفة منهج الإمام الأشعري، لأن كتاب الإبانة علامة فاصلة، تضفي بظلالها على شخصية الإمام الأشعري، فمن أثبته وجعله آخر مؤلفاته سلم بانتماء الأشعري لمنهج أهل الحديث، ومن سلم به ولكنه جعله من بواكير مؤلفاته بعد الاعتزال حكم بأن الأشعري تَخَلَّى عن مذهب السلف بعد أن عرفه، وسوف أحاول بحول الله ـ تعالى ـ أن أتوصل إلى ما يزيل هذه الإيهامات من خلال المباحث الآتية:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদকিতাবুল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহইমাম আশআরীর মানহাজ বা কর্মপন্থা জানার ক্ষেত্রে ‘কিতাবুল ইবানাহ’ একটি শক্তিশালী বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কেননা কিতাবুল ইবানাহ হলো একটি নির্ণায়ক মাইলফলক, যা ইমাম আশআরীর ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। সুতরাং যারা এটি সাব্যস্ত করেন এবং একে তাঁর জীবনের সর্বশেষ রচনা হিসেবে গণ্য করেন, তারা আশআরীর আহলে হাদীস মানহাজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি মেনে নেন। আর যারা একে স্বীকার করেন কিন্তু একে মুতাযিলা মতবাদ ত্যাগের পর তাঁর প্রাথমিক জীবনের রচনা হিসেবে গণ্য করেন, তারা এই রায় প্রদান করেন যে, আশআরী সালাফদের মাযহাব চেনার পর তা বর্জন করেছিলেন। আমি আল্লাহ তাআলার শক্তিতে নিম্নোক্ত আলোচনাগুলোর মাধ্যমে এই সংশয়গুলো নিরসন করার মতো একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করব:
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الأولعنوان الكتابوجدت أن لهذا الكتاب ـ الإبانة ـ ثلاثة عناوين:
الأول: التوحيد، حيث وضع على بعض النسخ الخطية عنوان التوحيد، وهذا موجود في مخطوطة في بلدية الأسكندرية ونفس المخطوطة موجودة في الجامعة الأمريكية في بيروت. وفي جامعة الدول العربية بمصر.
الثاني: الإبانة في أصول الديانة.
الثالث: الإبانة عن أصول الديانة.
والعنوانان الثاني والثالث متشابهان. ولا يُوَجدُ بينهما تَغَايُرٌ إلا من جهة حرف الجر. وهذا لا يقتضي أن يكون هناك خلافٌ في مُسِمَّى الكتاب، وعنوانه واضح على المخطوطات بأنه الإبانة عن أصول الديانة. لكن يظل هناك خلاف في العنوان، والخلاف محصور بين عنوانين:
الأول: كتاب التوحيد. فهذا العنوان كأنه من وضع أحد النُّسَّاخ بعد الشيخ رحمه الله وكأنه أراد اختصار عبارة: «عن أصول الديانة» في أصلها الأصيل، وهو: «التوحيد» وبذلك يكون قد اختصر العنوان من جهة، وجعله مباشراً أو أكثر تحديداً من جهة أخرى.
الثاني: كتاب الإبانة عن أصول الديانة: فليس من شك ـ عندي ـ أنه من وضع الشيخ رحمه الله فبصمة الشيخ وطريقته في اختيار العناوين
প্রথম পরিচ্ছেদগ্রন্থের শিরোনামআমি দেখতে পেয়েছি যে, এই কিতাব—আল-ইবানাহ—এর তিনটি শিরোনাম রয়েছে:
প্রথম: আত-তাওহিদ। যেহেতু কিছু পাণ্ডুলিপিতে ‘আত-তাওহিদ’ শিরোনামটি দেওয়া হয়েছে; এটি আলেকজান্দ্রিয়া পৌরসভার একটি পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান এবং একই পাণ্ডুলিপি বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে এবং মিশরের আরব লিগে রয়েছে।
দ্বিতীয়: আল-ইবানাহ ফি উসুলিদ দিয়ানাহ।
তৃতীয়: আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ।
দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শিরোনাম দুটি সদৃশ। এ দুটির মধ্যে অব্যয় ব্যতীত অন্য কোনো পার্থক্য নেই। এর দ্বারা কিতাবের নামকরণে কোনো ভিন্নতা তৈরি হয় না; আর পাণ্ডুলিপিগুলোতে কিতাবটির শিরোনাম ‘আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ’ হিসেবেই সুস্পষ্ট। তবুও শিরোনাম নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে এবং সেই মতপার্থক্য মূলত দুটি শিরোনামের মধ্যে সীমাবদ্ধ:
প্রথম: কিতাবুত তাওহিদ। মনে হচ্ছে, এই শিরোনামটি শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পরবর্তী কোনো অনুলিপিকারক যুক্ত করেছেন। যেন তিনি ‘আন উসুলিদ দিয়ানাহ’ (দ্বীনের মূলনীতি সম্পর্কে) বাক্যটিকে এর মূল উৎস অর্থাৎ ‘তাওহিদ’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত করতে চেয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন শিরোনামটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন, তেমনি অন্যদিকে এটিকে আরও সরাসরি ও সুনির্দিষ্ট করেছেন।
দ্বিতীয়: কিতাবুল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ। আমার নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) নিজেই নির্ধারণ করেছেন। কারণ শিরোনাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে শাইখের বিশেষ ছাপ ও পদ্ধতি...
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لمؤلفاته ـ وبخاصة المهم منها ـ واضحة على العنوان. ثم إن في العنوان الثاني تعريضاً بالمخالفين من معتزلة وغيرهم، حيث يفيد العنوان بأنهم قد انحرفوا عن أصول الديانة، فجاء الكتاب يُبين لهم عن هذه الأصول، كما أن تواتر أقوال العلماء على تسميته بهذا العنوان شاهد إثبات أكيد.
তাঁর গ্রন্থাবলির ক্ষেত্রে—বিশেষত সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণগুলোর জন্য—শিরোনামটি সুস্পষ্ট। তদুপরি দ্বিতীয় শিরোনামটিতে মুতাজিলা ও অন্যান্য বিরোধীদের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে; যেহেতু শিরোনামটি এই অর্থ প্রদান করে যে তারা দীনের মূলনীতিসমূহ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে, তাই এই কিতাবটি তাদের নিকট এই মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করার জন্য এসেছে। পাশাপাশি, আলেমগণের এই শিরোনামে নামকরণের ব্যাপারে উক্তির পরম্পরা একটি সুনিশ্চিত প্রমাণ।
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الثانيتوثيق نسبته لمؤلفه رحمه الله ـ
المطلب الأول: من أثبتوا الكتاب.لم أجد كتاباً تضافرت الأقوال على نسبته لمؤلفه كما تضافرت الأقوال على نسبة كتاب الإبانة، فلقد شهد العشرات من العلماء على أن الإمام الأشعري قد ألف كتابه الإبانة. وإنما تساءل بعض الناس: لماذا خلت منه قائمة ابن فورك؟! وسوف أجيب على هذا بإذن الله، كما تساءل البعض: لماذا لم يذكره ابن عساكر. فيما استدركه على ابن فورك؟! وهؤلاء إما جهلوا وإما تناسوا أن ابن عساكر لم يستدركه على ابن فورك فقط، بل فعل ما هو أعظم، وهو أنه نقل عبارات منه، وهذا أعظم من الذكر المجرد والسرد المجمل، بل ولم يجد عندما أراد مدح الأشعري أفضل من كتابه الإبانة. وقد تواتر الأئمة الأعلام على نسبة كتاب الإبانة للأشعري. فنسبته إليه مشهورة، فضلاً عن نسخه الخطية، وسوف أورد هنا نماذج من العلماء الذين أثبتوا صحة نسبة الكتاب.
1 - الحافظ ابن عساكر: وابتدأت بذكره، لأنه لا يشك في معرفته الكاملة للأشعري وانتمائه له، بل ألف كتاباً في بيان مناقبه والذب عنه،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদলেখকের (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণـ
প্রথম অনুচ্ছেদ: যারা কিতাবটি সাব্যস্ত করেছেন।আমি এমন কোনো কিতাব পাইনি যার লেখকের প্রতি সম্বন্ধ করার ব্যাপারে এতো অধিক বক্তব্য একমত হয়েছে, যেমনটি আল-ইবানাহ কিতাবটির ক্ষেত্রে হয়েছে। বহু সংখ্যক আলেম সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, ইমাম আশআরী তাঁর আল-ইবানাহ কিতাবটি রচনা করেছেন। তবে কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন: ইবনে ফুরাকের তালিকায় কেন এটি বাদ পড়েছে?! আল্লাহর ইচ্ছায় আমি এর উত্তর প্রদান করব। যেমন কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন: ইবনে আসাকির ইবনে ফুরাকের তালিকার ওপর যা সংযোজন করেছেন, সেখানে কেন এটি উল্লেখ করেননি?! এরা হয় অজ্ঞ অথবা ভুলে গেছে যে, ইবনে আসাকির কেবল ইবনে ফুরাকের তালিকায় এটি সংযোজনই করেননি, বরং তিনি এর চেয়ে বড় কাজ করেছেন; আর তা হলো তিনি এই কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। এটি কেবল নাম উল্লেখ বা সংক্ষিপ্ত তালিকার চেয়ে অনেক বড় বিষয়। এমনকি তিনি যখন ইমাম আশআরীর প্রশংসা করতে চাইলেন, তখন তিনি আল-ইবানাহ কিতাবটির চেয়ে উত্তম কিছু পাননি। বরণীয় ইমামগণ ইমাম আশআরীর প্রতি আল-ইবানাহ কিতাবটির সম্বন্ধের ব্যাপারে অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (তাওয়াতুর) করেছেন। সুতরাং তাঁর প্রতি এর সম্বন্ধ প্রসিদ্ধ, এছাড়া এর হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি তো রয়েছেই। আমি এখানে ঐসব আলেমদের কিছু উদাহরণ পেশ করব যারা কিতাবটির সম্বন্ধের সঠিকতা সাব্যস্ত করেছেন।
১ - হাফেজ ইবনে আসাকির: আমি তাঁকে দিয়ে শুরু করছি, কারণ ইমাম আশআরী সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ জ্ঞান এবং তাঁর প্রতি তাঁর অনুসারী হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। বরং তিনি ইমামের মর্যাদা বর্ণনা এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করার বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন,
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فقد ذكر في كتابه التبيين كتاب الإبانة في أكثر من موضع، فمرة ذكر منظومة لأحد الأشاعرة جاء فيها:
لو لم يصنف عمره
… غير الإبانة واللمع
(1)وقال في موضع آخر مثنياً على هذا الكتاب فقال: فليعلم حقيقة حاله في صحة عقيدته في أصول الديانة فاسمع ما ذكره في أول كتابه الذي سماه بالإبانة. ثم بدأ سرد نص من الإبانة
(2). فهنا نسب الحافظ ابن عساكر في كتابه التبيين الذي يعول عليه في معرفة كتب الأشعري كتاب الإبانة لأبي الحسن، بل وجعل هذا الكتاب من دلالة حسن عقيدته، وأما عدم ذكره له فيما استدركه على ابن فورك، فلعل السبب أنه ذكره ضمن كتابه هذا، فاكتفى بأنه ذكره ونقل منه، فلم يرَ فائدة من تكرار ذكره.
2 - نصر الدين السجزي حيث ذكر شيخ الإسلام أن نصر الدين المقدسي، له تآليف في الأصول، نقل منه فصولاً من كتاب الإبانة. هذا وكان في وقفه به نسخة
(3).
3 - شيخ الإسلام ابن تيمية، وذكره في مواضع عدة من كتبه، حيث
--------------------------------------------
তিনি তাঁর 'আত-তাবয়ীন' গ্রন্থে 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থটির কথা একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন। একবার তিনি জনৈক আশআরী ব্যক্তির একটি কাব্য পঙ্ক্তি উল্লেখ করেছেন যেখানে এসেছে:
যদি তিনি তাঁর সারা জীবনে
… 'আল-ইবানাহ' এবং 'আল-লুমা' ব্যতীত অন্য কিছু রচনা না করতেন
(১)তিনি অন্য এক স্থানে এই কিতাবটির প্রশংসা করে বলেছেন: "দীনের মূলনীতিসমূহে তাঁর আকীদার বিশুদ্ধতা ও তাঁর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য শুনুন তিনি কী উল্লেখ করেছেন তাঁর সেই কিতাবের শুরুতে যার নামকরণ তিনি করেছেন 'আল-ইবানাহ'।" এরপর তিনি 'আল-ইবানাহ' থেকে মূল পাঠ বর্ণনা করতে শুরু করেন
(২)। এখানে হাফেয ইবনে আসাকির তাঁর 'আত-তাবয়ীন' গ্রন্থে (যা আল-আশআরীর গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে জানার নির্ভরযোগ্য উৎস) 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থটিকে আবুল হাসানের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন; বরং তিনি এই গ্রন্থটিকে তাঁর আকীদার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেছেন। আর ইবনে ফাওরাকের ওপর তিনি যে তদারকি বা সংযোজন করেছেন তাতে এর উল্লেখ না করার কারণ সম্ভবত এই যে, তিনি এটি তাঁর এই কিতাবের মধ্যেই উল্লেখ করেছেন। তাই তিনি এটিকে উল্লেখ করা এবং তা থেকে উদ্ধৃতি প্রদানকেই যথেষ্ট মনে করেছেন, ফলে পুনরায় এর উল্লেখ করার কোনো সার্থকতা দেখেননি।
২ - নাসরুদ্দীন আস-সিজযী: যেখানে শায়খুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন যে, নাসরুদ্দীন আল-মাকদিসীর উসুলের ওপর কিছু রচনা রয়েছে, যেখান থেকে তিনি 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থের কয়েকটি পরিচ্ছেদ উদ্ধৃত করেছেন। আর তাঁর ওয়াকফকৃত কিতাবগুলোর মধ্যে এটির একটি পাণ্ডুলিপি ছিল
(৩)।
৩ - শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ: তিনি তাঁর কিতাবসমূহের একাধিক স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال: وهو من أشهر تآليف الأشعري وآخرها
(1).
4 - الإمام ابن القيم، حيث ذكر في مواطن عدة من كتبه الإبانة. فمثلاً ذكر في اجتماع الجيوش أن الأشعري، قد انتسب إلى الإمام أحمد، وذكر ذلك في الإبانة
(2)، وذكر في النونية:
وكذا على الأشعري فإنه
… في كتبه قد جاء بالتبيان
من موجز وإبانة ومقالة
… ورسائل للثغر ذات بيان
(3)5 - أبو بكر البيهقي
(4)، حيث قال في كتابه الاعتقاد بعدما ذكر قول الشافعي: وبمعناه ذكره أيضاً علي بن إسماعيل في كتابه الإبانة
(5).
6 - الإمام الصابوني
(6)، الذي ذكر عنه ابن عساكر أنه ما كان يخرج
--------------------------------------------
তিনি বলেন: এটি আল-আশআরীর অন্যতম প্রসিদ্ধ এবং সর্বশেষ রচনা
(১)।
৪ - ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম, তিনি তাঁর কিতাবসমূহের একাধিক স্থানে 'আল-ইবানা'র কথা উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি 'ইজতিমাউল জুয়ুশ'-এ উল্লেখ করেছেন যে, আল-আশআরী নিজেকে ইমাম আহমদের অনুসারী হিসেবে সম্বন্ধ করেছেন এবং তিনি তা 'আল-ইবানা' কিতাবে উল্লেখ করেছেন
(২)। আর তিনি তাঁর 'নুনিয়াহ' কাব্যে উল্লেখ করেছেন:
তদ্রূপ আল-আশআরীর ব্যাপারেও, নিশ্চয়ই তিনি
… তাঁর কিতাবসমূহে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নিয়ে এসেছেন
'মুজায', 'ইবানা' ও 'মাকালাহ' থেকে
… এবং সীমান্তবর্তী লোকজনের প্রতি প্রেরিত বার্তাসমূহ, যা সুস্পষ্ট বর্ণনাসমৃদ্ধ
(৩)৫ - আবু বকর আল-বায়হাকী
(৪), তিনি তাঁর 'আল-ইতিকাদ' কিতাবে ইমাম শাফিঈর উক্তি উল্লেখ করার পর বলেছেন: এবং আলী ইবনে ইসমাঈলও তাঁর 'আল-ইবানা' কিতাবে অনুরূপ অর্থ উল্লেখ করেছেন
(৫)।
৬ - ইমাম আস-সাবুনী
(৬), যাঁর সম্পর্কে ইবনে আসাকির উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বের হতেন না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা আল উসাইমি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
إلى مجلس درسه إلا وبيده كتاب الإبانة
(1). كما نقل عنه أيضاً ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله
(2).
7 - أبو بكر السمعاني،
(3) حيث نقل شيخ الإسلام أن الحافظ أبو بكر السمعاني قد اعتمد كتاب الإبانة، بل ونقل عنه، ولم يذكر من تأليفه سواه
(4).
8 - أحمد بن ثابت الطرقي
(5)، حيث ذكر ابن تيمية أن الحافظ
--------------------------------------------
তাঁর পাঠদান মজলিসে আসতেন না তাঁর হাতে আল-ইবানা কিতাবটি থাকা ছাড়া
(১)। অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন
(২)।
৭ - আবু বকর আস-সামআনি,
(৩) যেখানে শাইখুল ইসলাম বর্ণনা করেছেন যে, হাফিজ আবু বকর আস-সামআনি আল-ইবানা কিতাবটির ওপর নির্ভর করেছেন, বরং তিনি তা থেকে উদ্ধৃতিও প্রদান করেছেন, এবং তিনি তাঁর (ইমাম আল-আশআরির) রচনার মধ্যে এটি ছাড়া অন্য কোনো কিতাবের কথা উল্লেখ করেননি
(৪)।
৮ - আহমদ বিন সাবিত আত-তুরকি
(৫), যেখানে ইবনে তাইমিয়্যাহ উল্লেখ করেছেন যে, হাফিজ
--------------------------------------------