(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: -)
مبادئ الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: مبادئ الأصول
إملاء: عبد الحميد محمد بن باديس الصنهاجي (ت 1359 هـ)
المحقق: الدكتور عمار الطالبي
الناشر: الشركة الوطنية للكتاب
الطبعة: الثانية، 1988
عدد الصفحات: 61
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাবাদিউল উসুল বিভাগ: ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)
কিতাব: মাবাদিউল উসুল
শ্রুতিলিখন: আব্দুল হামিদ মুহাম্মদ বিন বাদিস আস-সানহাজি (মৃত্যু ১৩৫৯ হিজরি)
সম্পাদক: ডক্টর আম্মার আল-তালবি
প্রকাশক: আশ-শারিকাহ আল-ওয়াতানিইয়াহ লিল-কিতাব
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৯৮৮
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাযায়েরি
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১)
مبادئ الأصول
إملاء الإمام عبد الحميد بن باديس
تحقيق
الدكتور عمّار الطالبي
الشركة الوطنية للكتاب
ENTREPRISE NATIONALE DU LIVRE
মাবাদিউল উসুল
ইমাম আব্দুল হামিদ বিন বাদিস-এর শ্রুতিলিখন (إملاء)
সম্পাদনা ও গবেষণা (تحقيق)
ডক্টর আম্মার আল-তালিবি
ন্যাশনাল বুক কোম্পানি
এন্টারপ্রাইজ ন্যাশনাল ডু লিভ্রে
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩)
مبادئ الأصول
إملاء الإمام عبد الحميد بن باديس
تحقيق
الدكتور عمّار الطالبي
الطبعة الثانية
المؤسسة الوطنية للكتاب
3، شارع زيروت يوسف
الجزائر
উসুলের মূলনীতিসমূহ
ইমাম আব্দুল হামিদ বিন বাদিস-এর শ্রুতলিপি (إملاء)
সম্পাদনা (تحقيق)
ডক্টর আম্মার আল-তালিবী
দ্বিতীয় সংস্করণ
আল-মুয়াসসাসাতুল ওয়াতানিয়্যা লিল কিতাব
৩, যিরুত ইউসুফ সড়ক
আলজেরিয়া
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৪)
رقم النشر: 2306/ 86
المؤسسة الوطنية للكتاب
الجزائر، 1988
প্রকাশনা নম্বর: ২৩০৬/ ৮৬
আল-মুয়াসসাসাহ আল-ওয়াতানিয়্যাহ লিল-কিতাব (জাতীয় গ্রন্থ সংস্থা)
আলজেরিয়া, ১৯৮৮
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانيةيسعدني أن أقدم للقراء الطبعة الثانية من كتاب مبادئ الأصول لابن باديس.
وقد حققت هذا النص على نسخة أخرى للشيخ صالح بالغريي تلميذ لابن باديس كتبها من إملاء الشيخ.
سلمها لي الأستاذ الشيخ عبد القادر الأشهب الذي لاحظ مشكورا بعض الأخطاء المطبعية في الطبعة الأولى. وبهذا أصبح النص مصححا على نسختين:
الأولى للشيخ محمد العربي ورمزها (أ).
والثانية للشيخ صالح بالغربي ورمزها (ب).
نرجو أن ينتفع بها طلاب العلوم الإسلامية في الجزائر وغيرها من البلدان الإسلامية.
الجزائر في 26 ربيع الأول 1405 هـ
19/ 12/ 1984 م
عمار الطالبي.
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাইবনে বাদিস রচিত মাবাদি আল-উসুল গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণটি পাঠকদের নিকট উপস্থাপন করতে পেরে আমি আনন্দিত।
আমি এই পাঠটি ইবনে বাদিসের ছাত্র শায়খ সালেহ আল-বালগিরবির অন্য একটি পাণ্ডুলিপির (نسخة) ভিত্তিতে সম্পাদনা (تحقيق) করেছি, যা তিনি শায়খের শ্রুতিলিখনের (إملاء) মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
অধ্যাপক শায়খ আব্দুল কাদির আল-আশহাব আমাকে এটি হস্তান্তর করেছেন, যিনি অত্যন্ত অনুগ্রহের সাথে প্রথম সংস্করণের কিছু মুদ্রণজনিত ত্রুটি চিহ্নিত করেছেন। এর ফলে বর্তমান পাঠটি দুইটি পাণ্ডুলিপির (نسخة) ভিত্তিতে সংশোধিত হয়েছে:
প্রথমটি শায়খ মুহাম্মদ আল-আরবির পাণ্ডুলিপি, যার প্রতীক (আলিফ)।
দ্বিতীয়টি শায়খ সালেহ আল-বালগিরবির পাণ্ডুলিপি, যার প্রতীক (বা)।
আমরা আশা করি আলজেরিয়া এবং অন্যান্য মুসলিম দেশের ইসলামি শাস্ত্রের শিক্ষার্থীরা এর দ্বারা উপকৃত হবে।
আলজেরিয়া, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪০৫ হিজরি
১৯/ ১২/ ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ
আম্মার আত-তালবি।
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৭)
تصديريمثل علم الأصول في الثقافة الإسلامية منطق الاستدلال، ومنهج البحث والاستنباط في الشريعة، ولهذا العلم جوانب لغوية فلسفية في لسان العرب وأوضاعه ودلالاته، مما جعله بحق فلسفة للفقه الإسلامي ومنطقا له.
ولا غرو بعد هذا أن يأتي الشيخ مصطفي عبد الرازق (ت 1366 هـ - 1947 م) فيعتبر (الأصول) من أهم مجالات الفكر الفلسفي الإسلامي، الذي بدت فيه أصالة هذا الفكر وإبداعه واستقلاله.
هذا، وقد ألف فيه الإمام الشافعي (ت 204 هـ) رسالته المشهورة، ثم تتابع فيه التصنيف إلى يومنا هذا.
ومن أمهات هذا العلم ما ألفه فيه الإمام أحمد بن علي أبو بكر الجصاص (305/ 370 هـ) وما صنفه أبو زيد الدبوسي عبيد الله بن عمر، (ت 430 هـ)، وكتاب (البرهان) لإمام الحرمين الجويني (ت 478 هـ) الذي نُعْنى منذ عدة سنوات بتحقيقه، وسيصدر قريبا للناس بإذن الله، وكتاب فخر الإسلام علي بن محمد بن الحسين البزدوي (ت 482 هـ)، وكتاب (المستصفي) للغزالي (ت 555 هـ) وكتاب الآمدي (ت 631 هـ)، و (منهاج الوصول إلى علم الأصول) للقاضي البيضاوي (ت 685 هـ) وكتاب (الموافقات) للشاطبي (ت 790 هـ) الذي نحا فيه مؤلفه نحوا من الإبداع
ভূমিকাইসলামি সংস্কৃতিতে উসুল শাস্ত্র (علم الأصول) হচ্ছে দলীল-প্রমাণের যৌক্তিক ভিত্তি এবং শরিয়তের ক্ষেত্রে গবেষণা ও মাসয়ালা উদ্ভাবনের (الاستنباط) একটি পদ্ধতি। আরবি ভাষার গঠনরীতি, এর প্রয়োগ ও অর্থজ্ঞাপক দিকের সাথে এই শাস্ত্রের ভাষাগত ও দার্শনিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে একে ইসলামি ফিকহের (الفقه) দর্শন ও যুক্তিবিদ্যায় রূপান্তর করেছে।
এমতাবস্থায় শায়খ মুস্তফা আবদ আল-রাজিক (মৃত্যু ১৩۶৬ হিজরি - ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দ) যদি উসুলকে (الأصول) ইসলামি দার্শনিক চিন্তার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করেন, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কেননা এতে এই চিন্তাধারার মৌলিকত্ব, সৃজনশীলতা ও স্বকীয়তা ফুটে উঠেছে।
এ বিষয়ে ইমাম শাফেয়ী (মৃত্যু ২০৪ হিজরি) তাঁর বিখ্যাত ‘রিসালাহ’ গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এরপর থেকে আজ অবধি এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার (تصنيف) ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এই শাস্ত্রের আকর গ্রন্থগুলোর মধ্যে ইমাম আহমদ বিন আলী আবু বকর আল-জাসসাস (৩০৫-৩৭০ হিজরি) রচিত গ্রন্থ, আবু জায়েদ আদ-দাব্বুসি উবায়দুল্লাহ বিন ওমর (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি) কর্তৃক সংকলিত গ্রন্থ এবং ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনি (মৃত্যু ৪৭৮ হিজরি) রচিত ‘আল-বুরহান’ উল্লেখযোগ্য, যার সম্পাদনার (تحقيق) কাজে আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে নিয়োজিত আছি এবং ইনশাআল্লাহ অচিরেই তা জনসমক্ষে প্রকাশিত হবে। এছাড়াও ফখরুল ইসলাম আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-বাযদাওয়ি (মৃত্যু ৪৮২ হিজরি) রচিত গ্রন্থ, গাজালির (মৃত্যু ৫৫৫ হিজরি) ‘আল-মুস্তাসফা’, আল-আমিদি (মৃত্যু ৬৩১ হিজরি) রচিত গ্রন্থ, কাজী বায়দাওয়ি (মৃত্যু ৬৮৫ হিজরি) রচিত ‘মিনহাজুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল’ এবং শাতবি (মৃত্যু ৭৯০ হিজরি) রচিত ‘আল-মুওয়াফাকাত’ অন্যতম, যেখানে লেখক এক অনন্য সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৮)
لم يسبق إليه، وسلك فيه منهجا بين فيه حكمة الشريعة، ومقاصدها الجليلة.
ومن الذين ألفوا في هذا العلم من الجزائريين الإمام الأصولي الشريف محمد بن أحمد التلمساني (710 - 771 هـ) الذي وصلنا كتابه (مفتاح الأصول في ابتناء الفروع على الأصول (1)) الذي اشتهر بين علماء إفريقيا الشمالية، وإفريقيا الغربية وفقهائها إلى يومنا هذا.
وكان زعيم الإصلاح في بلادنا الإمام ابن باديس يتولى تدريس هذا العلم خلال نصوص هذا الكتاب ويعلق (2) عليه، ويناقشه مع تلامذه.
وأمام القارئ الكريم رسالة هامة من رسائل الإمام ابن باديس في علم الأصول، إتصل نشاطه العلمي فيها بنشاط أسلافه من القدماء، فأحيا بها البحث العلمي، والنظر في الأصول، وفي المنهج، ولم يكتفي بالفروع كما هو ديدن الفقهاء المتأخرين الذين اقتصروا على الجزئيات، ولم يلتفتوا إلى الكليات التي تنبني عليها إلا قليلا.
عثرت على هذه الرسالة عند أحد تلاميذ الإمام في مدينة قسنطينة ألا وهو الأستاذ محمد العربي بن صالح الحركاتي البنعيسي كان قد أملاها (3) ابن باديس على تلاميذه سنة 1356 هـ (1938 م).
أحاط فيها صاحبها على وجازتها بأهم مطالب هذا العلم ومسائله.
--------------------------------------------
এটি এমন এক কাজ যাতে আগে কেউ অগ্রসর হননি, এবং তিনি এতে এমন এক পদ্ধতি (منهج) অবলম্বন করেছেন যাতে শরীয়তের প্রজ্ঞা এবং এর সুমহান উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) সুস্পষ্ট হয়েছে।
আলজেরীয়দের মধ্যে যারা এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন উসূলবিদ (الأصولي) ইমাম শরীফ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-তিলিমসানি (৭১০ - ৭৭১ হিজরি)। তাঁর 'মিফতাহুল উসূল ফি ইবতিনাইল ফুরু' আলাল উসূল' (১) গ্রন্থটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে, যা উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার আলেম ও ফকীহগণের নিকট আজ অবধি সুপরিচিত।
আমাদের দেশের সংস্কার আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ইমাম ইবনে বাদিস এই গ্রন্থের পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে এই শাস্ত্র পাঠদান করতেন এবং এর ওপর টীকা (تعليق) প্রদান করতেন ও ছাত্রদের সাথে তা নিয়ে আলোচনা করতেন।
সম্মানিত পাঠকের সামনে উসূল (الأصول) শাস্ত্র বিষয়ে ইমাম ইবনে বাদিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ রিসালাহ (رسالة) উপস্থাপিত হচ্ছে। এতে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতা পূর্বসূরি প্রাচীন মনীষীদের সাথে যুক্ত হয়েছে; এর মাধ্যমে তিনি শাস্ত্রীয় গবেষণা, উসূল (الأصول) ও পদ্ধতির (المنهজ) পর্যালোচনা পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তিনি কেবল শাখা-প্রশাখার (الفروع) ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি, যেমনটি ছিল পরবর্তী যুগের ফকীহদের রীতি, যারা কেবল খুঁটিনাটি বিষয়ের (الجزئيات) ওপর সীমাবদ্ধ ছিলেন এবং মৌলিক নীতিমালাসমূহের (الكليات) প্রতি খুব সামান্যই ভ্রুক্ষেপ করতেন।
আমি কুসনতিনা শহরে ইমামের জনৈক ছাত্র উস্তাদ মুহাম্মদ আল-আরাবি বিন সালেহ আল-হারকাতি আল-বানয়িসির নিকট এই রিসালাহটি পেয়েছি; ইমাম ইবনে বাদিস ১৩৫৬ হিজরি (১৯৩৮ খ্রি.) সালে এটি তাঁর ছাত্রদের নিকট শ্রুতিলিখন (إملاء) করিয়েছিলেন (৩)।
লেখক এতে সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এই শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অন্বেষা ও মাসয়ালাসমূহ (مسائل) বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৯)
وأردنا بنشر هذه المخطوطة النادرة أن نحيي بها ذكرى ابن باديس الأربعين لعل همما تبعث في هذا السبيل لنشر أصول الثقافة الإسلامية، والإهتمام بهذا العلم الجوهوي من علوم المسلمين، الذي كاد ينقطع درسه في هذا القطر المجاهد من أقطار الإسلام.
ولعل الله ييسر لنا فيما يستقبل من أيامنا تحليل هذه الرسالة، وبيان مجمل ما اشتملت عليه من
مسائل هذا العلم، الذي هو أداة المجتهد في حركة التجديد، وسلاحه في تأصيل ما يعرض للمسلمين في عصرنا هذا من مشكلات تدعو للاجتهاد والجهاد.
نسأل الله أن يهييء لنا من أمرنا رشدا وأن ينير سبيلنا في كل عمل ينال رضاه.
الجزائر: الخميس 3 جمادي الاولى عام 1400 هـ
د. عمار طالبي.
এই বিরল পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশের মাধ্যমে আমরা ইবনে বাদিসের চল্লিশতম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণের সংকল্প করেছি, যেন ইসলামি সংস্কৃতির মূলনীতি (أصول) প্রসারে এই পথে নতুন উদ্যম জাগ্রত হয় এবং মুসলিমদের জ্ঞানবিজ্ঞানের এই মৌলিক শাখাটির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়, যার চর্চা ইসলামের এই সংগ্রামী জনপদে প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছিল।
হয়তো আল্লাহ ভবিষ্যতে আমাদের জন্য এই রিসালাহটির বিশ্লেষণ এবং এই শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত মাসয়ালাসমূহের সারসংক্ষেপ বর্ণনা করা সহজ করে দেবেন, যা সংস্কার (تجديد) আন্দোলনে মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য একটি উপকরণ এবং বর্তমান যুগে মুসলিমদের সামনে উপস্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা—যা ইজতিহাদ (اجتهاد) ও জিহাদের দাবি রাখে—সেগুলোর মৌলিক ভিত্তি (تأصيل) নির্ধারণে তার প্রধান হাতিয়ার।
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকল কাজে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভ হয় এমন প্রতিটি কাজে আমাদের পথকে আলোকিত করেন।
আলজেরিয়া: বৃহস্পতিবার ৩ জুমাদাল উলা, ১৪০০ হিজরি
ড. আম্মার তালবি।
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১১)
كِتَابُ مَبَادِئِ الأُصُولِ
إِمْلَاءُ الْأُسْتَاذِ الْعَلَاّمَةِ الْجَلِيلِ الشَّيْخُ عَبْدُ الْحَمِيدَ
بْنُ بَادِيسَ أَبْقَاهُ اللَّهُ لِنَفْعِ الْأَنَامِ (1)
* * *
1 -
عِلْمُ الْأُصُولِ:مَعْرِفَةُ الْقَوَاعِدِ الَّتِي يُعْرَفُ بِهَا كَيْفَ تُسْتَفَادُ أَحْكَامُ الْأَفْعَالِ مِنْ أَدِلَّةِ الْأَحْكَامِ فَلْنَحْصِرِ (2) الْكَلَامَ فِي أَرْبَعَةِ أَبْوَابٍ.
--------------------------------------------
উসুল শাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ক কিতাব
শ্রদ্ধেয় ও মহান আল্লামা শায়খ আব্দুল হামীদের শ্রুতিলিপি
ইবনে বাদিস, আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টির কল্যাণে দীর্ঘজীবী করুন (১)
* * *
১ -
উসুল শাস্ত্র (علم الأصول):এমন কিছু মূলনীতি (القواعد) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যার মাধ্যমে জানা যায় কীভাবে বিধিবদ্ধ দলিলসমূহ (أدلة الأحكام) থেকে কার্যাবলির বিধানসমূহ (أحكام الأفعال) আহরণ করতে হয়। অতএব, আমরা আলোচনাকে চারটি অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ করব (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الْبَابُ الْأَوَّلُفِي أَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ (3)
2 - مِنْ مُقْتَضَى عُبُودِيَّةِ الْعَبْدِ لِرَبِّهِ أَن يَّكُونَ مُطِيعًا لَهُ فِي جَمِيعِ أَفْعَالِهِ (4) مِمَّا يَفْعَلُهُ بِجَوَارِحِهِ الظَّاهِرَةِ أَوْ بِجَوَارِحِهِ الْبَاطِنَةِ، وَذَلِكَ بِأَن يَّجْرِيَ عَلَى مُقْتَضَى طَلَبِ اللَّهِ وَإِذْنِهِ فَيَفْعَلُ مَا طُلِبَ مِنْهُ فِعْلَهُ، وَيَتْرُكُ مَا طُلِبَ مِنْهُ تَرْكَهُ، وَيَخْتَارُ (5) فِيمَا أُذِنَ لَهُ فِي فِعْلِهِ وَتَرْكِهِ، إِذْ كُلُّ فِعْلٍ مِنْ أَفْعَالِهِ لَا بُدَّ أَن يَّكُونَ مَطْلُوبَ الْفِعْلِ أَوْ مَطْلُوبَ التَّرْكِ أَوْ مَأْذُوناً فِي فِعْلِهِ وَتَرْكِهِ.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়মুকাল্লাফ (المكلفين) ব্যক্তিদের কার্যাবলি প্রসঙ্গে (৩)
২ - স্বীয় রবের প্রতি বান্দার দাসত্বের দাবি হলো—সে তার সকল কার্যাবলিতে (৪) তাঁর অনুগত থাকবে; যা সে তার বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অথবা তার অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা সম্পাদন করে। আর তা হলো আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতির দাবি অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া। সুতরাং সে তা-ই পালন করবে যা তাকে করার জন্য তলব (طلب) করা হয়েছে, এবং তা বর্জন করবে যা তাকে বর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যে বিষয়ে তাকে করা বা বর্জন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাতে সে পছন্দ (৫) করার অধিকার রাখবে। কেননা তার প্রতিটি কাজ অবশ্যই করণীয় হিসেবে তলবকৃত (مطلوب الفعل), অথবা বর্জনীয় হিসেবে তলবকৃত (مطلوب الترك), অথবা তা করা বা বর্জন করার ক্ষেত্রে অনুমতিপ্রাপ্ত (مأذون) হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الْبَابُ الثَّانِيفِي أَحْكَامِ اللَّهِ تَعَالَى3 - كُلُّ فِعْلٍ مِنْ أَفْعَالِ الْمُكَلَّفِ الظَّاهِرَةِ وَالْبَاطِنَةِ لَابُدَّ أَن يَّكُونَ قَدْ تَعَلَّقَ بِهِ حُكْمٌ مِنْ أَحْكَامِ اللَّهِ تَعَالَى (1) لِأَنَّ الاِنْسَانَ لَمْ يُخْلَقْ عَبَثًا وَلَمْ يُتْرَكْ سُدًى، وَحُكْمُ اللَّهِ تَعَالَى هُوَ طَلَبُهُ أَوْ إِذْنُهُ أَو وَّضْعُهُ (2).
وَالطَّلَبُ إِمَّا لِلْفِعْلِ وَإِمَّا لِلتَّرْكِ، وَهُوَ فِي كِلَيْهِمَا إِمَّا عَلَى سَبِيلِ التَّحْتِيمِ وَإِمَّا عَلَى سَبِيلِ التَّرْجِيحِ.
فَمَا كَانَ طَلَبًا لِلْفِعْلِ (3) عَلَى سَبِيلِ التَّحْتِيمِ فَهُوَ الِإيجَابُ.
وَمَا كَانَ طَلَبًا لِلْفِعْلِ عَلَى سَبِيلِ التَّرْجِيحِ فَهُوَ النَّدْبُ أَوْ (4) الِاسْتِحْبَابُ.
وَمَا كَانَ طَلَبًا لِلتَّرْكِ (5) عَلَى سَبِيلِ التَّحْرِيمِ فَهُوَ الْحَظْرُ وَالتَّحْرِيمُ.
وَمَا كَانَ طَلَبًا (6) عَلَى سَبِيلِ التَّرْجِيحِ فَهُوَ الْكَرَاهِيَّةُ (7). وَإِذْنُهُ فِي الْفِعْلِ وَالتَّرْكِ هُوَ (8) الْإِبَاحَةُ، وَإِنَّمَا سُمِّيَ الطَّلَبُ وَالْإِذْنُ حُكْمًا، وَالْحُكْمُ
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়আল্লাহ তাআলার বিধানসমূহ (أحكام) প্রসঙ্গে৩ - মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য প্রতিটি কাজের সাথেই আল্লাহ তাআলার কোনো না কোনো বিধান (حكم) সংশ্লিষ্ট থাকা আবশ্যক (১); কেননা মানুষকে অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি এবং তাকে লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। আর আল্লাহ তাআলার বিধান (حكم) হলো তাঁর তলব (طلب - দাবি), অনুমতি (إذن) অথবা কোনো বিষয় নির্ধারণ (وضع) (২)।
আর তলব (طلب) হয় কাজ করার জন্য অথবা কাজ বর্জন করার জন্য। এই উভয়টিই আবার হয় অপরিহার্য করার (تحتيم) ভিত্তিতে অথবা অগ্রাধিকার প্রদানের (ترجيح) ভিত্তিতে হবে।
সুতরাং যা কাজ করার জন্য (৩) অপরিহার্য করার ভিত্তিতে তলব (طلب) করা হয়, তা হলো ওয়াজিব সাব্যস্ত করা (إيجاب)।
আর যা কাজ করার জন্য অগ্রাধিকার প্রদানের ভিত্তিতে তলব (طلب) করা হয়, তা হলো মুস্তাহাব হওয়া (ندب/استحباب) (৪)।
আর যা কাজ বর্জন করার জন্য (৫) হাররাম সাব্যস্ত করার ভিত্তিতে তলব (طلب) করা হয়, তা হলো নিষিদ্ধতা (حظر) ও হারাম সাব্যস্ত করা (تحريم)।
আর যা তলব (طلب) (৬) অগ্রাধিকার প্রদানের ভিত্তিতে করা হয়, তা হলো মাকরূহ হওয়া (كراهية) (৭)। আর কাজ করা বা বর্জন করার ক্ষেত্রে তাঁর অনুমতি প্রদান হলো বৈধতা (إباحة) (৮)। বস্তুত তলব (طلب) এবং অনুমতিকে (إذن) বিধান (حكم) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে, আর বিধান হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إِثْبَاتُ شَيْءٍ لِشَيْءٍ أَوْ نَفْيِهِ عَنْهُ.
لِأَنَّ الْإِيجَابَ إِذَا تَعَلَّقَ بِالْفِعْلِ ثَبَتَ لَهُ هَذَا الْوَصْفُ وَهُوَ الْوُجُوبُ، فَيُقَالُ فِيهِ: وَاجِبٌ.
وَلِأَنَّ الاِسْتِحْبَابَ وَالنَّدْبَ إِذَا تَعَلَّقَ بِالْفِعْلِ ثَبَتَ لَهُ هَذَا الْوَصْفُ وَهُوَ الاِسْتِحْبَابِيَةُ وَالْمَنْدُوبِيَةُ (1) فَيُقَالُ فِيهِ: مُسْتَحَبٌّ وَمَنْدُوبٌ.
وَلِأَنَّ التَّحْرِيمَ وَالْحَظْرَ (2) إِذَا تَعَلَّقَ بِالْفِعْلِ ثَبَتَ لَهُ هَذَا الْوَصْفُ وَهُوَ الْحِرْمَةُ وَالْمَحْظُورِيَةُ، فَيُقَالُ فِيهِ: حَرَامٌ وَمَحْظُورٌ.
وَلِأَنَّ الْكَرَاهِيَةَ (3) إِذَا تَعَلَّقَ بِالْفِعْلِ ثَبَتَ لَهُ هَذَا الْوَصْفُ وَهُوَ الْمَكْرُوهِيَةُ فَيُقَالُ فِيهِ: مَكْرُوهٌ.
وَلِأَنَّ الإِذْنَ وَالْإِبَاحَةَ إِذَا تَعَلَّقَ بِالْفِعْلِ ثَبَتَ لَهُ هَذَا الْوَصْفُ وَهُوَ الْمَأْذُونِيَةُ وَالْإِبَاحَةُ فَيُقَالُ فِيهِ: مَأْذُونٌ فِيهِ وَمُبَاحٌ.
وَتُسَمَّى هَذِهِ الْأَحْكَامُ الْخَمْسَةِ (4) أَحْكَامًا تَكْلِيفِيَّةً لِمَا فِي تَحْصِيلِ الْمَطْلُوبِ مِنَ الْكُلْفَةِ (5).
কোনো বস্তুর জন্য কোনো কিছু সাব্যস্ত করা অথবা তা থেকে কোনো কিছু অস্বীকার করা।
কেননা যখন অপরিহার্যতা (الإيجاب) কোনো কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন সেই কাজের জন্য এই বৈশিষ্ট্যটি সাব্যস্ত হয় আর তা হলো আবশ্যকতা (الوجوب), তখন একে বলা হয়: অপরিহার্য (واجب)।
এবং যখন পছন্দনীয়তা (الاستحباب) ও সুপারিশযোগ্যতা (الندب) কোনো কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন সেই কাজের জন্য এই বৈশিষ্ট্যটি সাব্যস্ত হয় আর তা হলো পছন্দনীয়তা (الاستحبابية) ও সুপারিশযোগ্যতা (المندوبية) (১), তখন একে বলা হয়: পছন্দনীয় (مستحب) ও সুপারিশকৃত (مندوب)।
এবং যখন নিষিদ্ধকরণ (التحريم) ও বর্জনীয়তা (الحظر) (২) কোনো কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন সেই কাজের জন্য এই বৈশিষ্ট্যটি সাব্যস্ত হয় আর তা হলো নিষিদ্ধতা (الحرمة) ও বর্জনীয়তা (المحظورية), তখন একে বলা হয়: নিষিদ্ধ (حرام) ও বর্জনীয় (محظور)।
এবং যখন অপছন্দনীয়তা (الكراهية) (৩) কোনো কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন সেই কাজের জন্য এই বৈশিষ্ট্যটি সাব্যস্ত হয় আর তা হলো অপছন্দনীয়তা (المكروهية), তখন একে বলা হয়: অপছন্দনীয় (مكروه)।
এবং যখন অনুমতি (الإذن) ও বৈধতা (الإباحة) কোনো কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন সেই কাজের জন্য এই বৈশিষ্ট্যটি সাব্যস্ত হয় আর তা হলো অনুমোদিত হওয়া (المأذونية) ও বৈধতা (الإباحة), তখন একে বলা হয়: অনুমোদিত (مأذون فيه) ও বৈধ (مباح)।
এবং এই পাঁচটি বিধানকে (৪) অর্পিত বিধান (أحكام تكليفية) বলা হয়, কারণ উদ্দিষ্ট বিষয় অর্জনে এতে শ্রম বা কষ্ট (الكلفة) (৫) বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الْوَضْعُ (1)
4 - وَأَمَّا وَضْعُهُ تَعَالَى:
فَهُوَ جَعْلُهُ الشَّيْءَ سَبَبًا يَلْزَمُ مِنْ وُجُودِهِ الْوُجُودُ، وَمِنْ عَدَمِهِ الْعَدَمُ لِذَاتِهِ، كَدُخُولِ الْوَقْتِ لِوُجُوبِ الصَّلَاةِ وَصِحَّتَهَا.
أَوْ شَرْطًا يَلْزَمُ مِنْ عَدَمِهِ (2) العَدَمُ (3)، وَلَا يَلْزَمُ مِن وُّجُودِهِ وُجُودٌ وَلَا عَدَمٌ لِذَاتِهِ، كَالْوُضُوءِ لِصِحَّتِهَا.
أَوْ مَانِعًا يَلْزَمُ مِن وُّجُودِهِ الْعَدَمُ، وَلَا يَلْزَمُ مِنْ عَدَمِهِ وُجُودٌ وَلَا عَدَمٌ لِذَاتِهِ، كَالْحَيْضِ لِوُجُوبِهَا وَصِحَّتِهَا.
وَإِنَّمَا سُمِّيَ هَذَا الْوَضْعُ حُكْمًا لِأَنَّ مَا وَضَعَهُ اللَّهُ سَبَبًا ثَبَتَتْ (4) لَهُ السَّبَبِيَّةُ.
وَمَا وَضَعَهُ (5) شَرْطًا ثَبَتَتْ (6) لَهُ الشَّرْطِيَّةُ.
وَمَا وَضَعَهُ (7) مَانِعًا ثَبَتَتْ (8) لَهُ الْمَانِعِيَّةُ.
وَتُسَمَّى هَذِهِ الْأَحْكَامُ الثَّلَاثَةِ وَضْعِيَّةٌ نِسْبَةً لِلْوَضْعِ وَالْجَعْلِ.
--------------------------------------------
বিধিবদ্ধ বিধান (الوضع) (১)
৪ - আর মহান আল্লাহর বিধিবদ্ধ বিধান (الوضع) সম্পর্কে:
তা হলো কোনো বিষয়কে এমনভাবে কারণ (سبب) হিসেবে নির্ধারণ করা, যার অস্তিত্ব স্বয়ং অস্তিত্বকে এবং যার অনুপস্থিতি স্বয়ং অনুপস্থিতিকে অপরিহার্য করে; যেমন সালাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য এবং তা শুদ্ধ হওয়ার জন্য ওয়াক্ত বা সময় প্রবেশ করা।
অথবা শর্ত (شرط) হিসেবে নির্ধারণ করা, যার অনুপস্থিতি অনুপস্থিতিকে অপরিহার্য করে, কিন্তু তার অস্তিত্ব স্বয়ং অস্তিত্ব বা অনুপস্থিতি কোনোটিকেই অপরিহার্য করে না; যেমন সালাত শুদ্ধ হওয়ার জন্য অজু।
অথবা প্রতিবন্ধক (مانع) হিসেবে নির্ধারণ করা, যার অস্তিত্ব অনুপস্থিতিকে অপরিহার্য করে, কিন্তু তার অনুপস্থিতি স্বয়ং অস্তিত্ব বা অনুপস্থিতি কোনোটিকেই অপরিহার্য করে না; যেমন সালাত ওয়াজিব হওয়া এবং তা শুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব।
মূলত এই নির্ধারণ বা স্থাপনকে হুকুম বা বিধান (حكم) বলা হয়, কারণ আল্লাহ যাকে কারণ (سبب) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তার জন্য কারণত্ব (السببية) সাব্যস্ত হয়েছে।
আর যাকে তিনি শর্ত (شرط) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তার জন্য শর্তাধীনতা (الشرطية) সাব্যস্ত হয়েছে।
আর যাকে তিনি প্রতিবন্ধক (مانع) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তার জন্য প্রতিবন্ধকতা (المانعية) সাব্যস্ত হয়েছে।
আর এই তিনটি হুকুম বা বিধানকে (الأحكام) বিধিবদ্ধ (وضعية) বলা হয়, যা নির্ধারণ (الوضع) ও স্থাপনের (الجعل) সাথে সম্পর্কিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تَفْريِقُ مَا بَيْنَهُمَا5 - مِمَّا يَفْتَرِقَانِ فِيهِ أَنَّ الْحُكْمَ التَّكْلِيفِيَّ (1) مُتَعَلِّقُهُ فِعْلَ الْمُكَلَّفِ مِنْ حَيْثُ طَلَبِهِ (2) وَالْإِذْنِ فِيهِ.
وَإِنَّ الْحُكْمَ الْوَضْعِيَّ مُتَعَلِّقُهُ الْأَشْيَاءَ الَّتِي تُجْعَلُ شُرُوطًا وَأَسْبَابًا وَمَوَانِعَ، سَوَاءً كَانَتْ مِنْ فِعْلِ (3) الْمُكَلَّفِ كَالْوُضُوءِ شَرْطًا فِي الصَّلَاةِ، أَوْ (4) لَمْ تَكُنْ كَدُخُولِ الْوَقْتِ سَبَبًا فِي وُجُوبِهَا (5)، وَأَنَّ مُتَعَلِّقَ الْحُكْمَ التَّكْلِيفِيَّ يُطَالَبُ الْمُكَلَّفِ بِتَحْصِيلِهِ لِأَنَّهُ فَعَلَهُ.
وَأَنَّ مُتَعَلِّقَ الْحُكْمَ الْوَضْعِيَّ لَا يُطَالَبُ الْمُكَلَّفِ بِتَحْصِيلِهِ إِذَا لَمْ يَكُن مِّنْ فِعْلِهِ كَدُخُولِ الْوَقْتِ وَمُرُورِ الْحَوْلِ، وَيُطَالَبُ بِتَحْصِيلِهِ إِذَا كَانَ مِنْ فِعْلِهِ كَالطَّهَارَةِ وَاسْتِقْبَالِ الْقِبْلَةِ، وَيَكُونُ الْفِعْلُ حِينَئِذٍ مُتَعَلِّقًا لِلْحُكْمَيْنِ بِاعْتِبَارَيْنِ مُخْتَلِفَيْنِ (6).
--------------------------------------------
উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য৫ - যে সকল বিষয়ে এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, তার একটি হলো: বিধানমূলক হুকুম (الحكم التكليفي) (১) এর সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো মুকাল্লাফের কর্ম—তার কাছে সেই কাজের দাবি (طلب) বা তাতে অনুমতির প্রেক্ষিতে।
পক্ষান্তরে নিরূপক হুকুম (الحكم الوضعي) এর সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো ঐ সকল বস্তু যেগুলোকে শর্ত (شروط), কারণ (أسباب) ও প্রতিবন্ধক (موانع) হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে; চাই তা মুকাল্লাফের কর্মের (৩) অন্তর্ভুক্ত হোক—যেমন সালাতের জন্য অযু শর্ত (شرط) হওয়া—অথবা (৪) কর্মের অন্তর্ভুক্ত না হোক—যেমন সালাত আবশ্যক (وجوب) হওয়ার জন্য সময় প্রবেশ করা কারণ (سبب) (৫) হওয়া। আর বিধানমূলক হুকুম (الحكم التكليفي) এর সংশ্লিষ্ট বিষয়টি মুকাল্লাফের নিকট সম্পাদনের দাবি জানানো হয়, যেহেতু তা তার কর্ম।
আর নিরূপক হুকুম (الحكم الوضعي) এর সংশ্লিষ্ট বিষয়টি যদি মুকাল্লাফের কর্ম না হয়—যেমন সময় প্রবেশ করা বা বছরের আবর্তন (حول)—তবে তা সম্পাদনের দাবি জানানো হয় না। আর যদি তা মুকাল্লাফের কর্ম হয়—যেমন পবিত্রতা অর্জন ও কিবলামুখী হওয়া—তবে তা সম্পাদনের দাবি জানানো হয়। তখন একই কর্ম ভিন্ন ভিন্ন দুটি বিবেচনায় উভয় হুকুমের সাথেই সংশ্লিষ্ট হয় (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الْأَحْكَامُ الشَّرْعِيَّةُ فِي الْخِطَابَاتِ الْإِلَهِيَّةِ6 - كُلُّ حُكْمٍ مِنْ أَحْكَامِ اللَّهِ تَعَالَى فَهُوَ مُسْتَفَادٌ مِّنَ الْخِطَابَاتِ الْمُوَجَّهَةِ إِلَيْنَا.
وَمَا تَضَمَّنَ مِنْهَا حُكْمًا تَكْلِيفِيًّا فَهُوَ خِطَابُ تَكْلِيفٍ.
وَمَا تَضَمَّنَ (1) حُكْمًا وَضْعِيًّا فَهُوَ خِطَابُ وَضْعٍ، وَقَدْ يَتَضَمَّنُ الْخِطَابُ الْحُكْمَيْنِ مَعًا.
أَمْثِلَةُ ذَلِكَ:
فَمِنْ (2) قَوْلِهِ تَعَالَى: {أَقِيمُوا الصَّلَاةَ} (3) عَرَفْنَا الْحُكْمَ الذَّي هُوَ الْإِيجَابُ لِلصلَّاَةِ.
وَمِنْ قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا} (4) عَرَفْنَا الْحُكْمَ الذَّي هُوَ التَّحْرِيمُ لِلزِّنَا.
وَمِنْ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْعَامِدِ لِلصَّلَاةِ أَنَّهُ: «تُكْتَبُ لَهُ (5) بِكُلِّ خُطْوَةٍ حَسَنَةٌ وَتُمْحَى عَنْهُ بِالْأُخْرَى سَيِّئَةٌ» (6) عَرَفْنَا الْحُكْمَ الذَّي هُوَ اسْتِحْبَابُ كَثْرَةِ الْخُطَى إِلَى الْمَسَاجِدِ (7).
وَمِنْ قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَلَا يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا
--------------------------------------------
ঐশী সম্বোধনে শরয়ী বিধানসমূহ6 - মহান আল্লাহ তাআলার প্রতিটি বিধান আমাদের প্রতি নির্দেশিত সম্বোধনসমূহ থেকেই আহরিত।
সেগুলোর মধ্যে যা কোনো অর্পণমূলক বিধান (حكما تكليفيا) অন্তর্ভুক্ত করে, তা হলো অর্পণমূলক সম্বোধন (خطاب تكليف)।
আর যা (1) কোনো নিরূপক বিধান (حكما وضعيا) অন্তর্ভুক্ত করে, তা হলো নিরূপণমূলক সম্বোধন (خطاب وضع)। কখনো কখনো একটি সম্বোধন উভয় প্রকার বিধানকেই একত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
এর উদাহরণসমূহ:
সুতরাং মহান আল্লাহর (2) বাণী: {তোমরা সালাত কায়েম করো} (3) থেকে আমরা সেই বিধানটি জানতে পেরেছি যা হলো সালাতের আবশ্যকতা (الإيجاب)।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না} (4) থেকে আমরা সেই বিধানটি জানতে পেরেছি যা হলো ব্যভিচারের নিষিদ্ধতা (التَّحْرِيمُ)।
আর সালাতের উদ্দেশ্যে গমনকারীর বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী থেকে: «তার জন্য (5) প্রতি পদক্ষেপে একটি নেকি লেখা হয় এবং অন্য পদক্ষেপে একটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয়» (6) আমরা সেই বিধানটি জানতে পেরেছি যা হলো মসজিদে অধিক পদচারণা করার পছন্দনীয়তা (اسْتِحْبَابُ) (7)।
আর মহান আল্লাহর বাণী থেকে: {আর তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদাবান ও বিত্তবান তারা যেন শপথ না করে যে তারা দান করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২০)
أُولِي الْقُرْبَى وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ} (1) عَرَفْنَا الْحُكْمَ الذَّي هُوَ كَرَاهَةُ الْحَلْفِ عَلَى الاِمْتِنَاعِ مِنَ الصَّدَقَةِ.
وَمِنْ قَوْلِهِ تَعَالَى: {فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ} (2) عَرَفْنَا الْحُكْمَ الذَّي هُوَ الْإِذْنُ فِي الاِنْتِشَارِ.
وَمِنْ قَوْلِهِ تَعَالَى: {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ} (3) عَرَفْنَا الْحُكْمَ الذَّي هُوَ وَضْعُهُ تَعَالَى دُخُولُ الْوَقْتِ سَبَبًا لِإِقَامَةِ (4) الصَّلَاةِ.
وَمِنْ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «لَا يَقْبَلُ اللهُ صَلاةَ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ» (5) عَرَفْنَا الْحُكْمَ الذَّي هُوَ وَضْعُهُ تَعَالَى الْوُضُوءُ شَرْطًا فِي الصَّلَاةِ.
وَمِنْ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتِ الْمَرْأَةُ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ» (6) عَرَفْنَا الْحُكْمَ الذَّي هُوَ وَضْعُهُ تَعَالَى الْحَيْضُ مَانِعًا مِنَ الصَّلَاةِ وَالصَّوْمِ.
وَمِنْ قَوْلِهِ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ} (7) الآية، عَرَفْنَا الْحُكْمَ الذَّي هُوَ إِيجَابُ الْوُضُوءِ، وَعَرَفْنَا الْحُكْمَ الذَّي هُوَ وَضْعُهُ تَعَالَى
--------------------------------------------
{নিকটাত্মীয়, অভাবগ্রস্ত ও আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের...} (১) এই অংশ হতে আমরা বিধান (حكم) সম্পর্কে জানতে পেরেছি, যা হলো দান-সদকা থেকে বিরত থাকার জন্য শপথ করার অপছন্দনীয়তা (كراهة)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো} (২) থেকে আমরা বিধান (حكم) সম্পর্কে জানতে পেরেছি, যা হলো ছড়িয়ে পড়ার অনুমতি (إذن)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সূর্য ঢলে পড়ার সময় সালাত কায়েম করো} (৩) থেকে আমরা বিধান (حكم) সম্পর্কে জানতে পেরেছি, যা হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক সালাত আদায়ের (৪) জন্য সময়ের প্রবেশকে কারণ (سبب) হিসেবে নির্ধারণ করা।
এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমাদের কেউ অপবিত্র হলে অজু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন না" (৫) থেকে আমরা বিধান (حكم) সম্পর্কে জানতে পেরেছি, যা হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক সালাতের জন্য অজুর শর্ত (شرط) হওয়া।
এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নারীদের যখন ঋতুস্রাব হয়, তখন কি তারা সালাত ও সিয়াম পালন করা থেকে বিরত থাকে না?" (৬) থেকে আমরা বিধান (حكم) সম্পর্কে জানতে পেরেছি, যা হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক ঋতুস্রাবকে সালাত ও সিয়ামের জন্য প্রতিবন্ধক (مانع) হিসেবে নির্ধারণ করা।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল এবং হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও এবং তোমাদের মাথা মাসাহ করো} (৭) আয়াত পর্যন্ত; এখান থেকে আমরা বিধান (حكم) সম্পর্কে জানতে পেরেছি যা হলো অজুর আবশ্যকতা (إيجاب), এবং আমরা সেই বিধান (حكم) সম্পর্কে জানতে পেরেছি যা মহান আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২১)
الْوُضُوءُ شَرْطًا فِي الصَّلَاةِ فَاشْتَمَلَ هَذَا (1) الْخِطَابُ عَلَى الْحُكْمِ التَّكْلِيفِيِّ وَالْوَضْعِيِّ مَعًا.
تَتْمِيمٌ وَتَقْسِيمٌ7 - يَنْقَسِمُ الْحُكْمُ أَيْضًا إِلَى: عَزْمٍ وَتَرْخِيصٍ.
فَمَا كَانَ حُكْمًا ابْتِدَائِيًّا عَامًّا فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ فَهُوَ عَزْمٌ، وَالْفِعْلُ الَّذِي تَعَلَّقَ (2) بِهِ يُسَمَّى عَزِيمَةٌ كَإِيجَابِ الصَّلَاةِ وَالصَّوْمِ وَتَحْرِيمِ الْخَمْرِ.
وَمَا كَانَ حُكْمًا سَهْلًا شُرِعَ بَعْدَ حُكْمٍ صَعْبٍ فِي حَالَةٍ خَاصَّةٍ لِأَجْلِ الْعُذْرِ مَعَ قِيَامِ السَّبَبِ لِلْحُكْمِ الْأَصْلِيِّ فَهُوَ تَرْخِيصٌ، وَالْفِعْلُ الَّذِي تَعَلَّقَ بِهِ يُسَمَّى رُخْصَةً، كَقَصْرِ الصَّلَاةِ وَالْفِطْرِ فِي السَّفَرِ (3)، وَالْمَسْحِ عَلَى الْخُفِّ، وَإِسَاغَةِ الْغُصَّةِ بِالْخَمْرِ.
تَصْحِيحٌ وَإِبْطَالٌ:8 - وَيَنقَسِمُ (4) أَيْضًا إِلَى: تَصْحِيحٍ وَإِبْطَالٍ:
فَالتَّصْحِيحُ (5): الْحُكْمُ بِالصِّحَّةِ فِي الْعِبَادَاتِ، وَعُقُودِ الْمُعَامَلَاتِ
--------------------------------------------
ওযু নামাজের জন্য একটি শর্ত (شرط), ফলে এই সম্বোধনটি একই সাথে বিধানমূলক হুকুম (الحكم التكليفي) এবং অবস্থানগত হুকুম (الحكم الوضعي) উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
পরিপূরণ ও বিভাজন (تقسيم)7 - বিধানটি আরও দুই ভাগে বিভক্ত: আযম (عزم) এবং তারখিস (ترخيص)।
যা সকল অবস্থায় একটি সাধারণ প্রাথমিক বিধান তা হলো আযম (عزم), এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কাজকে আযিমাত (عزيمة) বলা হয়; যেমন নামাজ ও রোজা ফরজ হওয়া এবং মদ হারাম হওয়া।
আর যে সহজ বিধান কোনো ওজরের কারণে বিশেষ অবস্থায় কোনো কঠিন বিধানের পর প্রবর্তিত হয়েছে—অথচ মূল বিধানের কারণ (سبب) বিদ্যমান আছে—তাকে তারখিস (ترخيص) বলা হয়, আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট কাজকে রুখসত (رخصة) বলা হয়; যেমন সফরে নামাজ কসর করা ও রোজা ভঙ্গ করা (৩), মোজার ওপর মাসাহ করা এবং গলায় খাবার আটকে গেলে মদ পানের অনুমতি পাওয়া।
শুদ্ধকরণ (تصحيح) ও বাতিলকরণ (إبطال):8 - এটি আরও দুই ভাগে বিভক্ত: শুদ্ধকরণ (تصحيح) ও বাতিলকরণ (إبطال):
শুদ্ধকরণ (تصحيح) হলো: ইবাদত এবং লেনদেনের চুক্তিসমূহে শুদ্ধতার (صحة) হুকুম প্রদান করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَهِيَ (1) اسْتِيفَاءُ الْعَقْدِ، وَالْعِبَادَاتِ (2) بِالشُّرُوطِ (3) الْمُعْتَبَرَةِ فِيهِ (4) شَرْعًا، وَسَلَامَتِهِ مِنَ الْمَوَانِعِ بِحَيْثُ يَقَعُ عَلَى الْوَجْهِ الْمَشْرُوعِ، وَمَا تَعَلَّقَتْ بِهِ الصِّحَةُ مِنْهُمَا (5) صَحِيحٌ، وَإِبْطَالُ (6) الْحُكْمِ لِإِبْطَالِ (7) الْعَقْدِ أَوْ الْعِبَادَةِ.
وَالبُطْلَانُ وَالفَسَادُ هُوَ: اخْتِلَالُ العِبَادَةِ أَوِ الْعَقْدِ لِتَخَلُّفِ شَرْطٍ أَوْ وُجُودِ مَانِعٍ، بِحَيْثُ تَكُونُ الْعِبَادَةُ أَوِ الْعَقْدُ وَقَعَتْ عَلَى غَيْرِ الْوَجْهِ الْمَشْرُوعِ (8)، وَمَا تَعَلَّقَ بِهِ الإِبْطَالُ مِنْهُمَا فَهُوَ بَاطِلٌ، لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ» (9) رَوَاهُ الشَّيْخَانِ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها.
مُقْتَضَيَاتُ الْحُكْمِ (10)
9 -
الْحَاكِمُ هُوَ اللهُ تَعَالَى.
وَكُلُّ حَاكِمٍ مِنَ الخَلْقِ فَإِنَّمَا (11) يَكُونُ حَاكِمًا شَرْعًا إِذَا كَانَ يَحْكُمُ
--------------------------------------------
আর তা (১) হলো শরীয়ত মোতাবেক স্বীকৃত শর্তাবলি (شروط) (৩) সাপেক্ষে চুক্তি ও ইবাদতসমূহ (২) পূর্ণ করা (৪) এবং প্রতিবন্ধকসমূহ (مانع) থেকে মুক্ত থাকা, যাতে তা শরীয়তসম্মত পন্থায় সম্পাদিত হয়। আর এতদুভয়ের মধ্যে যার সাথে বৈধতা সংশ্লিষ্ট হয়, তা সহিহ (صحيح) (৫)। আর হুকুম বাতিল (৬) করা হলো চুক্তি অথবা ইবাদত বাতিল হওয়ার (৭) কারণে।
বাতিল (بطلان) ও ফাসাদ (فسাদ) হলো: কোনো শর্ত (شرط) অনুপস্থিত থাকা অথবা কোনো প্রতিবন্ধক (مانع) বিদ্যমান থাকার কারণে ইবাদত বা চুক্তিতে ত্রুটি দেখা দেওয়া, যাতে ইবাদত বা চুক্তিটি শরীয়তসম্মত পন্থার (৮) বাইরে সম্পাদিত হয়। আর এই দুটির মধ্যে যার সাথে বাতিল হওয়া সংশ্লিষ্ট হয়, তা বাতিল (باطل)। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)" (৯)। এটি বুখারি ও মুসলিম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন।
হুকুমের দাবি বা অপরিহার্য বিষয়সমূহ (১০)
৯ -
বিধানদাতা (حاكم) হলেন আল্লাহ তাআলা.
আর মাখলুকের মধ্য থেকে যে কেউ কেবলমাত্র (১১) তখনই শরীয়ত মোতাবেক বিধানদাতা (حاكم) হিসেবে গণ্য হবে যখন সে বিধান প্রদান করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بِحُكْمِ اللهِ: يَتَحَرَّاهُ وَيَقْصِدُهُ (1)؛ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ} (2) {وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ} (3) {إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ .. إلى .. اللَّهُ} (4) {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} (5) {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} (6) {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (7).
الْمَحْكُومُ فِيهِ10 - هُوَ فِعْلُ الْمُكَلَّفِ: الظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ، وَلَمْ يُكَلِّفِ اللهُ الْعِبَادَ إِلَّا بِمَا فِي مَقْدُورِهِمْ وَلَا حَرَجَ عَلَيْهِمْ فِيهِ؛ فَلَا تَكْلِيفَ بِغَيْرِ الْمَقْدُورِ كَقِيَامِ الْمُقْعَدِ لِلصَّلَاةِ، وَلَا بِمَا فِيهِ حَرَجٌ كَقِيَامِ الْمَرِيضِ لَهَا (8)؛ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {
… رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ..} (9)، {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} (10)، {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} (11).
--------------------------------------------
আল্লাহর বিধানের (بحكم الله) ক্ষেত্রে: তিনি তা অনুসন্ধান করেন এবং তা অর্জনের সংকল্প করেন (১); কেননা মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহরই} (২) {এবং আপনি তাদের মধ্যে সেই বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করুন যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন} (৩) {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি... পর্যন্ত... আল্লাহ} (৪) {যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে ফয়সালা করে না, তারাই কাফির (كافرون)} (৫) {যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে ফয়সালা করে না, তারাই জালিম (ظالمون)} (৬) {যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে ফয়সালা করে না, তারাই ফাসিক (فاسقون)} (৭)।
বিধিবদ্ধ বিষয় (المحكوم فيه)১০ - এটি হলো দায়বদ্ধ ব্যক্তির (المكلف) কাজ: প্রকাশ্য এবং গোপন। আর আল্লাহ বান্দাদেরকে তাদের সাধ্যের অতিরিক্ত কোনো বিষয়ের দায়িত্ব প্রদান করেননি এবং তাতে তাদের জন্য কোনো সংকীর্ণতা (حرج) রাখা হয়নি; সুতরাং অসাধ্য কোনো বিষয়ের ওপর দায়ভার অর্পণ (تكليف) নেই, যেমন নামাজে পঙ্গু ব্যক্তির দণ্ডায়মান হওয়া, আর না এমন কোনো বিষয়ে যাতে সংকীর্ণতা (حرج) রয়েছে, যেমন অসুস্থ ব্যক্তির দণ্ডায়মান হওয়া (৮); কেননা মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {…হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের ওপর এমন কোনো বোঝা চাপিয়ে দেবেন না যা বহনের শক্তি আমাদের নেই..} (৯), {আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত ভার অর্পণ করেন না} (১০), {এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা (حرج) রাখেননি} (১১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الْمَحْكُومُ عَلَيهِ (1)
11 - وَهُوَ الْمُكَلَّفُ الْبَالِغُ الْعَاقِلُ الْمُخْتَارُ دُونَ الصَّبِيِّ وَالْمَجْنُونِ وَالْمَعْتُوهِ وَالْمُكْرَهِ.
الْمُخَاطَبُ بِالْأَحْكَامِ12 - إِذَا كَانَ الْخِطَابُ بِحُكْمٍ وَضْعِيٍّ فَهُوَ عَلَى عُمُومِهِ لِلْمُكَلَّفِ وَغَيْرِهِ؛ وَلِهَذَا لَزِمَ (2) الصَّبِيَّ وَالْمَجْنُونَ أَرْشُ جِنَايَتِهِمَا، وَوَجَبَتِ الزَّكَاةُ بِمِلْكِ النِّصَابِ فِي مَالِهِمَا. وَإِنْ كَانَ الْخِطَابُ بِحُكْمٍ تَكْلِيفِيٍّ فَهُوَ لِخُصُوصِ الْمُكَلَّفِينَ.
ثُمَّ الْخِطَابُ التَّكْلِيفِيُّ إِنْ كَانَ بِمَّا (3) تَتَوَقَّفُ عَلَيْهِ مَصْلَحَةُ كُلِّ فَرْدٍ تَوَقُّفًا مُبَاشِرًا تَوَجَّهَ لِكُلِّ فَرْدٍ، وَسُمِّيَ الْخِطَابُ: خِطَابًا عَيْنِيًّا، وَيُسَمَّى الْمَطْلُوبُ بِهِ مَطْلُوبًا عَيْنِيًّا ـ وَاجِبًا كَانَ أَوْ مَنْدُوبًا ـ كَالصَّلَاةِ وَالصَّوْمِ وَالْحَجِّ وَالصَّدَقَةِ (4) فَرْضِهَا وَنَفْلِهَا، وَلَا يَسْقُطُ الطَّلَبُ فِيهِ (5) عَنْ أَحَدٍ بِقِيَامِ غَيْرِهِ بِهِ.
وَإِنْ كَانَ بِمَّا (6) تَتَوَقَّفُ عَلَيْهِ مَصْلَحَةُ الْمَجْمُوعِ وَمَصْلَحَةُ الْفَرْدِ مِنْ
--------------------------------------------
বিধিবদ্ধ বিধানের বিষয় (المحكوم عليه) (১)
১১ - তিনি হলেন সেই শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি (المكلف), যিনি প্রাপ্তবয়স্ক (البالغ), বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন (العاقল) এবং স্বেচ্ছাধীন (المختار); শিশু (الصبي), পাগল (المجنون), বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী (المعتوه) এবং বাধ্য হওয়া ব্যক্তি (المكره) এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
বিধানের লক্ষ্যবস্তু বা সম্বোধিত ব্যক্তি১২ - যদি সম্বোধনটি কোনো বিধিবদ্ধ বিধান (حكم وضعي) সংক্রান্ত হয়, তবে তা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তি (المكلف) এবং অন্য সবার জন্য সাধারণভাবে প্রযোজ্য হবে। এই কারণেই শিশু (الصبي) ও পাগলের (المجنون) ওপর তাদের কৃত অপরাধের জরিমানা প্রদান করা আবশ্যক হয়েছে এবং তাদের মালিকানাধীন সম্পদ নিসাব পরিমাণ হলে তার ওপর জাকাত প্রদান ওয়াজিব হয়েছে। আর যদি সম্বোধনটি কোনো অর্পিত বিধান (حكم تكليفي) সংক্রান্ত হয়, তবে তা বিশেষভাবে কেবল শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) জন্য প্রযোজ্য।
অতঃপর, অর্পিত বিধান (التكليفي) সংক্রান্ত সম্বোধনটি যদি এমন বিষয় হয় যার ওপর প্রতিটি ব্যক্তির কল্যাণ সরাসরি নির্ভর করে, তবে তা প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি নির্দেশিত হয় এবং সেই সম্বোধনকে 'ব্যক্তিগত সম্বোধন' (خطابا عينيا) বলা হয়। এর মাধ্যমে যা চাওয়া হয় তাকে 'ব্যক্তিগত কাম্য বিষয়' (مطلوبا عينيا) বলা হয়—তা আবশ্যিক (واجبا) হোক বা পছন্দনীয় (مندوبا) হোক—যেমন নামাজ, রোজা, হজ এবং দান-সদকা, চাই তা ফরজ (فرضا) হোক বা নফল (نفلا) হোক। অন্য কেউ তা পালন করলে কারো ওপর থেকে এর দাবি রহিত হয় না।
আর যদি তা এমন বিষয় হয় যার ওপর সামষ্টিক কল্যাণ এবং ব্যক্তির কল্যাণ নির্ভর করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
حَيْثُ إِنَّهُ جُزْءٌ مِنَ الْمَجْمُوعِ ـ تَوَجَّهَ لِلْمَجْمُوعِ، وَسُمِّيَ الْخِطَابُ (1) خِطَابًا كِفَائِيًّا، وَيُسَمَّى الْمَطْلُوبُ بِهِ مَطْلُوبًا (2) كِفَائِيًّا، وَاجِبًا كَانَ الْطَّلَبُ (3) كَطَلَبِ الْعِلْمِ وَالأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيِ عَنِ الْمُنْكَرِ، أَوْ مَنْدُوبًا: كَإِفْشَاءِ السَّلَامِ وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ، وَيَسْقُطُ الطَّلَبُ عَنِ الْمَجْمُوعِ إِذَا قَامَ بِهِ بَعْضُهُمْ، وَيَكْفِي فِيهِ عَنْ كُلِّ أَحَدٍ غَيْرُهُ، وَمِنْ هَذَا الْقِسْمِ جَاءَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (4)، {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} (5).
--------------------------------------------
যেহেতু এটি সমষ্টির একটি অংশ—তাই এটি সমষ্টির দিকেই নির্দেশিত হয়েছে। আর এই সম্বোধন (১) (الخطاب)-কে সামষ্টিক সম্বোধন (خطاب كفائي) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে উদ্দিষ্ট বিষয়কে সামষ্টিক কাম্য (২) (مطلوبا كفائيا) বলা হয়; চাই সেই দাবি (৩) (الطلب) বাধ্যতামূলক (واجب) হোক—যেমন জ্ঞান অর্জন করা, সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করা, অথবা তা পছন্দনীয় (مندوب) হোক—যেমন সালামের প্রসার ঘটানো এবং হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া। যদি তাদের মধ্য থেকে কেউ এটি পালন করে তবে পুরো সমষ্টির ওপর থেকে সেই দাবি রহিত হয়ে যায় এবং এক্ষেত্রে একজনের কাজই অন্যদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়। এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দেবে এবং অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করবে; আর তারাই সফলকাম} (৪), {তবে তাদের প্রত্যেক বড় দলের একটি অংশ কেন বের হয় না যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান (تفقه في الدين) অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন যেন তারা তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সাবধানতা অবলম্বন করতে পারে} (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الْبَابُ الثَّالِثُ (1)
أَدِلَّةُ الْأَحْكَامِ مِنَ
الْكِتَابِ وَ
السُّنَّةِوَالْإِجْمَاعِ وَالْقِيَاسِ
13 - الْكِتَابُ: هُوَ القُرْآنُ الْعَظِيمُ، وَهُوَ الْكِتَابُ (2) الْمُنَزَّلُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، الْمَكْتُوبُ فِي الْمَصَاحِفِ، الْمَنْقُولَةِ (3) إِلَيْنَا بِالتَّوَاتُرِ، الْمَحْفُوظُ بِحِفْظِ اللهِ مِنَ التَّبْدِيلِ وَالتَّغْيِيرِ.
وَهُوَ أَصْلُ الْأَدِلَّةِ؛ إِذْ كُلُّهَا يَرْجِعُ إِلَيْهِ، وَاسْتَدَلَّ (4) عَلَى حُجِّيَّتِهَا بِهِ: فَالسُّنَّةُ بَيَانُهُ، وَالْإِجْمَاعُ لَا يَكُونُ إِلَّا عَنْ دَلِيلٍ مِنْهُ أَوْ مِنَ السُّنَّةِ، وَالْقِيَاسُ لَا يَكُونُ إِلَّا عَلَى أَصْلٍ ثَبَتَ حُكْمُهُ بِالْكِتَابِ أَوِ السُّنَّةِ أَوِ الْإِجْمَاعِ.
14 - السُّنَّةُ: هِيَ مَا ثَبَتَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَوْلٍ أَوْ فِعْلٍ أَوْ تَقْرِيرٍ، وَهِيَ حُجَّةٌ فِي دِينِ اللهِ بِالْإِجْمَاعِ؛ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (5)، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ
… إلى: تَأْوِيلًا} (6)، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَمَا
--------------------------------------------
তৃতীয় অধ্যায় (১)
কিতাব,
সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস হতে বিধানের (আহকাম) দলিলসমূহ
১৩ - কিতাব: এটি হলো সুমহান কুরআন, এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ কিতাব (২), যা মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ, যা আমাদের নিকট নিরবচ্ছিন্ন (بالتواتر) (৩) বর্ণনার মাধ্যমে পৌঁছেছে এবং যা আল্লাহর সংরক্ষণে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন থেকে সংরক্ষিত।
এটিই দলিলসমূহের মূল; কারণ সমস্ত দলিল এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং এর মাধ্যমেই সেগুলোর প্রামাণিকতার (৪) স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়: সুতরাং সুন্নাহ হলো এর ব্যাখ্যা, ইজমা কেবল এর কোনো দলিল অথবা সুন্নাহর কোনো দলিল থেকেই হতে পারে, আর কিয়াস কেবল এমন একটি মূল বিষয়ের ওপর হতে পারে যার বিধান কিতাব, সুন্নাহ অথবা ইজমা দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে।
১৪ - সুন্নাহ: এটি হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, এবং ইজমা অনুযায়ী এটি আল্লাহর দ্বীনের একটি প্রমাণ (হুজ্জাত); মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (৫), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো … আয়াত: (পরিণামে) উৎকৃষ্টতর পর্যন্ত} (৬), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ
… إلى: مُبِينًا} (1)، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ} (2) الآية، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَيَقُولُونَ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ - إِلَى قَوْلِهِ: وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ} (3) وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنْكَ صُدُودًا} (4).
وَتَجِيءُ السُّنَّةُ لِبَيَانِ الْكِتَابِ؛ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} (5)، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ} (6).
وَتَسْتَقِلُّ بِالتَّشْرِيعِ (7) لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ} (8) الآية. وَقَدْ رَوَى الشَّيْخَانِ: أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: (لَعَنَ اللهُ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُسْتَوْشِمَاتِ، وَالنَّامِصَاتِ وَالْمُتَنَمِّصَاتِ، وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللهِ). قَالَ: فَبَلَغَ ذَلِكَ امْرَأَةً مِنْ بَنِي أَسَدٍ يُقَالُ لَهَا: أُمُّ يَعْقُوبَ، وَكَانَتْ تَقْرَأُ القُرْآنَ ـ فَأَتَتْهُ فَقَالَتْ: مَا حَدِيثٌ بَلَغَنِي عَنْكَ أَنَّكَ لَعَنْتَ الْوَاشِمَاتِ (9)؟ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ: وَمَا لِي لَا أَلْعَنُ مَنْ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ
--------------------------------------------
{কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য
… হতে: সুস্পষ্ট পর্যন্ত} (১), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয়} (২) - এই আয়াত, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা বলে: আমরা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি ইমান এনেছি এবং আমরা আনুগত্য করি, অতঃপর তাদের একদল এরপরে মুখ ফিরিয়ে নেয় - তাঁর এই কথা পর্যন্ত: আর রাসুলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া} (৩), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তাদের বলা হয়: আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসুলের দিকে এসো, তখন তুমি মুনাফিকদের দেখবে তোমার থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিতে} (৪)।
আর সুন্নাহ কিতাবের (কুরআনের) ব্যাখ্যার জন্য আসে; কারণ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আমি আপনার প্রতি এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} (৫), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি আপনার প্রতি কিতাব কেবল এজন্যই অবতীর্ণ করেছি যেন তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে আপনি তা তাদের নিকট সুস্পষ্ট করে দেন} (৬)।
আর এটি (সুন্নাহ) স্বতন্ত্রভাবে বিধান প্রণয়ন (৭) করে, কারণ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন} (৮) - এই আয়াত। আর শাইখান বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: (আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন ওই সমস্ত নারীদের যারা উল্কি অঙ্কন করে এবং যারা উল্কি গ্রহণ করে, আর ওই সমস্ত নারীদের যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং যারা ভ্রু উপড়িয়ে নেয়, আর যারা সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে)। বর্ণনাকারী বলেন: বনু আসাদ গোত্রের উম্মু ইয়াকুব নাম্নী এক মহিলার কাছে এই সংবাদ পৌঁছালো—তিনি কুরআন পাঠ করতেন—অতঃপর তিনি তাঁর কাছে এসে বললেন: আপনার পক্ষ থেকে আমার কাছে কী এক হাদিস পৌঁছালো যে, আপনি নাকি উল্কি অঙ্কনকারিণী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন (৯)? তখন আব্দুল্লাহ বললেন: আমি কেন তাকে অভিশাপ দেব না যাকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي كِتَابِ اللهِ، فَقَالَتِ المَرْأَةُ: لَقَدْ قَرَأْتُ مَا (1) بَيْنَ لَوْحَيِ الْمُصْحَفِ فَمَا وَجَدْتُهُ. فَقَالَ لَهَا (2): إِنْ كُنْتِ قَرَأْتِيهِ لَقَدْ وَجَدْتِيهِ (3)، فَقَالَ اللهُ تَعَالَى (4): {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ} (5) الآية. فَقَالَتْ (6): إِنِّي (7) أَرَى شَيْئًا مِنْ هَذا عَلَى امْرَأَتِكَ الْآنَ، قَالَ: اذْهَبِي فَانْظُرِي، قَالَ: فَدَخَلَتْ عَلَى امْرَأَةِ عَبْدِ اللهِ فَلَمْ تَرَ شَيْئًا، فَجَاءَتْ إِلَيْهِ فَقَالَتْ: مَا رَأَيْتُ شَيْئًا، فَقَالَ: أَمَا (8) لَوْ كَانَ ذَلِكَ لَمْ أُجَامِعْهَا (9).
الْإِجْمَاعُ15 - هُوَ اتِّفَاقُ مُجْتَهِدِي هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْدَ وَفَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي عَصْرٍ مِنَ الْأَعْصَارِ عَلَى حُكْمٍ شَرْعِيٍّ. وَهُوَ حُجَّةٌ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} (10). وَهُوَ قِسْمَانِ:
عَمَلِيٌّ: نَقَلَتْهُ الْأُمَّةُ كُلُّهَا كَالْصَّلَاةِ وَالْصِّيَامِ.
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং এটি আল্লাহর কিতাবে রয়েছে। তখন মহিলাটি বলল: আমি মুসহাফের দুই মলাটের মধ্যবর্তী সবকিছু পড়েছি কিন্তু তাতে এটি খুঁজে পাইনি। তিনি তাকে বললেন: তুমি যদি তা পড়তে তবে অবশ্যই তা পেতে; কারণ মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো} (৫) আয়াত। সে বলল: আমি তো আপনার স্ত্রীর মাঝে এখন এর কিছু আলামত দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন: যাও এবং দেখে এসো। বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে আবদুল্লাহর স্ত্রীর নিকট প্রবেশ করল কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। এরপর সে তাঁর নিকট ফিরে এসে বলল: আমি কিছুই দেখিনি। তখন তিনি বললেন: শোনো (৮), যদি বিষয়টি তেমন হতো তবে আমি তাকে আমার সাথে রাখতাম না (৯)।
ইজমা (الإجماع)১৫ - এটি হলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর কোনো এক যুগে এই উম্মতের মুজতাহিদগণের (مجتهدي) কোনো শারয়ী বিধানের ওপর ঐক্যমত হওয়া। আর এটি একটি অকাট্য দলিল (حجة), মহান আল্লাহ তায়ালার বাণীর কারণে: {আর যে ব্যক্তি তার কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই পরিচালিত করব যেদিকে সে মুখ ফিরিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব; আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য} (১০)। এটি দুই প্রকার:
ব্যবহারিক (عملي): সমগ্র উম্মত এটি বর্ণনা ও অনুসরণ করে আসছে, যেমন সালাত ও সিয়াম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وَنَظَرِيٌّ: وَهُوَ إِمَّا أَنْ يَكُونَ مَبْنِيًّا عَلَى النَّظَرِ وَالْاِجْتِهَادِ (1) عَنْ أَدِلَّةٍ قَطْعِيَّةٍ أَوْ عَنْ أَدِلَّةٍ ظَنِّيَّةٍ، وَهَذَا وُقُوعُهُ مُمْكِنٌ، وَلَكِنَّ مَعْرِفَتَهُ مُتَعَذِّرَةٌ لِانْتِشَارِ الْمُجْتَهِدِينَ فِي الْآفَاقِ وَكَثْرَةِ عَدَدِهِمْ، إِلَّا إِجْمَاعَ الصَّحَابَةِ قَبْلَ انْتِشَارِهِمْ؛ فَمُنْحَصِرٌ (2) عَدَدُ المُجْتَهِدِينَ مِنْهُمْ.
الْقِيَاسُ16 - هُوَ إِلْحَاقُ فَرْعٍ مَجْهُولِ الْحُكْمِ بِأَصْلٍ مَعْلُومِ الْحُكْمِ فِي ذَلِكَ الْحُكْمِ لِوَصْفٍ جَامِعٍ مَا بَيْنَهُمَا يَكُونُ هُوَ سَبَبَ الْحُكْمِ الثَّابِتِ بِالْأَصْلِ، مَعَ انْتِفَاءِ الْفَارِقِ بَيْنَ الْأَصْلِ وَالْفَرْعِ، كَإِلْحَاقِ النَّبِيذِ بِالْخَمْرِ فِي التَّحْرِيمِ لِلْإِسْكَارِ الْجَامِعِ مَا بَيْنَهُمَا الَّذِي هُوَ عِلَّةُ تَحْرِيمِهِ (3).
--------------------------------------------
এবং তাত্ত্বিক (نظري): এটি হয় গভীর পর্যবেক্ষণ ও ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর ওপর ভিত্তি করে (১) নিশ্চিত প্রমাণাদি (أدلة قطعية) অথবা প্রবল ধারণাপ্রসূত প্রমাণাদি (أدلة ظنية) থেকে প্রাপ্ত; এটি হওয়া সম্ভবপর, কিন্তু দিগন্তজুড়ে মুজতাহিদগণের (مجتهدين) ছড়িয়ে পড়া এবং তাঁদের সংখ্যাধিক্যের কারণে তা নিরূপণ করা দুঃসাধ্য, তবে তাঁদের ছড়িয়ে পড়ার পূর্বের সাহাবীদের ঐকমত্য (إجماع الصحابة) এর ব্যতিক্রম; কারণ সেক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে মুজতাহিদগণের (مجتهدين) সংখ্যা সীমাবদ্ধ (منحصر) (২) ছিল।
কিয়াস (القياس)১৬ - এটি হলো কোনো বিধানহীন শাখাকে (فرع) বিধান জানা আছে এমন একটি মূল (أصل) বিষয়ের সাথে সেই একই বিধানে অন্তর্ভুক্ত করা; আর তা উভয়ের মধ্যে বিদ্যমান এমন একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যের (وصف جامع) কারণে যা মূলত মূল (أصل) বিষয়ের বিধানটি সাব্যস্ত হওয়ার কারণ (سبب), সাথে মূল (أصل) ও শাখার (فرع) মধ্যে কোনো পার্থক্যের অনুপস্থিতি থাকা জরুরি। যেমন হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে নবীযকে মদের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা, যেহেতু উভয়ের মধ্যে মাদকতা বিদ্যমান যা এর হারাম হওয়ার কারণ (علة) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الْبَابُ الرَّابِعُفِي الْقَوَاعِدِ الْأُصُولِيَّةِ17 -
تَمْهِيدٌ: الْأَدِلَّةُ قِسْمَانِ:
أَدِلَّةٌ تَفْصِيلِيَّةٌ وَأَدِلَّةٌ إِجْمَالِيَّةٌ:فَالْأَوَّلُ (1) هِيَ آيَاتُ الْأَحْكَامِ، وَأَحَادِيثُ الْأَحْكَامِ. وَسُمِّيَتْ تَفْصِيلِيَّةً لِدَلَالَةِ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهَا عَلَى حُكْمٍ مَخْصُوصٍ لِفِعْلٍ مَخْصُوصٍ.
وَالثَّانِيَةُ: هِيَ الْقَوَاعِدُ الْأُصُولِيَّةُ، وَسُمِّيَتْ إِجْمَالِيَّةً لِدُخُولِ جُمْلَةٍ كَثِيرَةٍ مِنَ الْأَدِلَّةِ التَّفْصِيلِيَّةِ تَحْتَ كُلِّ وَاحِدَةٍ (2) مِنْهَا: فَقَوْلُهُ (3) تَعَالَى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} دَلِيلٌ تَفْصِيلِيٌّ فِي حُكْمِ الصَّلَاةِ، وَقَاعِدَةُ الْأَمْرُ لِلْوُجُوبِ دَلِيلٌ إِجْمَالِيٌّ لِشُمُولِهِ الْأَمْرَ الَّذِي فِي الْآيَةِ وَغَيْرَهُ.
وَبِمَعْرِفَةِ الدَّلِيلِ التَّفْصِيلِيِّ وَمَا يَنْطَبِقُ عَلَيْهِ مِنَ الدَّلِيلِ الْإِجْمَالِيِّ يُسْتَفَادُ الْحُكْمُ؛ فَيُقَالُ مَثَلًا: {أَقِيمُوا الصَّلَاةَ} أَمْرٌ بِالصَّلَاةِ، وَالْأَمْرُ لِلْوُجُوبِ؛ فَـ {أَقِيمُوا الصَّلَاةَ} أَمْرٌ بِوُجُوبِ الصَّلَاةِ؛ فَالصَّلَاةُ (4) وَاجِبَةٌ، وَمَرْجِعُ الْأَدِلَّةِ التَّفْصِيلِيَّةِ: الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ، وَمَا ذَكَرَهُ الْأَئِمَّةُ مِنَ الْإِجْمَاعَاتِ وَالْأَقْيِسَةِ.
وَمَرْجِعُ الْأَدِلَّةِ الْإِجْمَالِيَّةِ: كُتُبُ الْأُصُولِ.
--------------------------------------------
চতুর্থ অধ্যায়মৌলিক নীতিমালা (القواعد الأصولية) প্রসঙ্গে17 -
উপক্রমনিকা: প্রমাণসমূহ দুই প্রকার:
বিস্তারিত প্রমাণ (أدلة تفصيلية) এবং সাধারণ প্রমাণ (أدلة إجمالية):প্রথম প্রকারটি (১) হলো বিধি-বিধান সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ এবং বিধি-বিধান সংশ্লিষ্ট হাদিসসমূহ। একে বিস্তারিত (تفصيلية) বলা হয়, কারণ এগুলোর প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট কোনো কার্যের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিধানের ওপর নির্দেশ প্রদান করে।
দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: মৌলিক নীতিমালা (القواعد الأصولية); আর একে সাধারণ (إجمالية) বলা হয় কারণ এগুলোর প্রত্যেকটির (২) অধীনে প্রচুর পরিমাণে বিস্তারিত প্রমাণ (الأدلة التفصيلية) অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন মহান আল্লাহ্র বাণী (৩): {তোমরা সালাত কায়েম করো} এটি সালাতের বিধানের ক্ষেত্রে একটি বিস্তারিত প্রমাণ (دليل تفصيلي), আর ‘আদেশ আবশ্যকতার পরিচায়ক’ (الأمر للوجوب) এই মূলনীতিটি একটি সাধারণ প্রমাণ (دليل إجمالي), কারণ এটি উক্ত আয়াতের নির্দেশ এবং অন্যান্য সকল নির্দেশকেও শামিল করে।
বিস্তারিত প্রমাণ (الدليل التفصيلي) এবং তার ওপর সাধারণ প্রমাণের (الدليل الإجمالي) প্রয়োগ সম্পর্কে অবগত হওয়ার মাধ্যমে বিধান আহরণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: {তোমরা সালাত কায়েম করো} এটি সালাত আদায়ের একটি নির্দেশ, আর নির্দেশ মূলত আবশ্যকতার (الوجوب) পরিচায়ক; সুতরাং {তোমরা সালাত কায়েম করো} আয়াতটি সালাত ওয়াজিব হওয়ার আদেশ; অতএব সালাত (৪) হলো ওয়াজিব (واجب)। আর বিস্তারিত প্রমাণসমূহের উৎস হলো: কুরআন ও সুন্নাহ এবং ইমামগণ কর্তৃক বর্ণিত ইজমা (إجماعات) ও কিয়াসসমূহ (أقيسة)।
এবং সাধারণ প্রমাণসমূহের উৎস হলো: উসূল বা মূলনীতির গ্রন্থসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قَاعِدَةٌ فِي حَمْلِ اللَّفْظِ18 - يُحْمَلُ اللَّفْظُ عَلَى حَقِيقَتِهِ دُونَ مَجَازٍ إِلَّا لِقَرِينَةٍ أَوْ دَلِيلٍ، وَيُحْمَلُ اللَّفْظُ عَلَى الْمَعْنَى العُرْفِيِّ لِلْمُتَكَلِّمِ دُونَ الْمَعْنَى اللُّغَوِيِّ أَوِ الْعُرْفِيِّ لِغَيْرِهِ، وَتُحْمَلُ أَلْفَاظُ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ عَلَى الْمَعَانِي الشَّرْعِيَّةِ دُونَ اللُّغَوِيَّةِ أَوِ الْعُرْفِيَّةِ غَيْرِ الشَّرْعِيَّةِ.
قَاعِدَةٌ فِي الْأَمْرِ (1)
19 - صِيغَةُ الْأَمْرِ إِذَا جَاءَتْ لِلطَّلَبِ مَحْمُولَةٌ عَلَى الْوُجُوبِ إِلَّا لِقَرِينَةٍ أَوْ دَلِيلٍ، وَلَا تَقْتَضِي فَوْرًا وَلَا تَكْرَارًا؛ فَلَا يُعْلَمَانِ إِلَّا بِقَرِينَةٍ أَوْ دَلِيلٍ، وَالْمَرَّةُ ضَرُورِيَّةٌ لِلاِمْتِثَالِ (2)، وَتَقْتَضِي النَّهْيَ عَنْ أَضْدَادِ الْمَأْمُورِ بِهِ وَقْتَ الاِمْتِثَالِ (3)، وَتَقْتَضِي طَلَبَ مَا لَا يَحْصُلُ الْمَطْلُوبُ إِلَّا بِهِ.
قَاعِدَةٌ فِي النَّهْيِ20 - صِيغَةُ النَّهْيِ لِلتَّحْرِيمِ إِلَّا لِقَرِينَةٍ أَوْ دَلِيلٍ، وَتَقْتَضِي الْفَوْرَ وَدَوَامَ التَّرْكِ، وَتَقْتَضِي فِعْلَ ضِدٍّ مِنْ أَضْدَادِ الْمَنْهِيِّ عَنْهُ.
قَاعِدَةٌ فِي الْأَخْذِ بِالْمَأْمُورِ (4) بِهِ
21 - يُفْعَلُ مِنَ الْمَأْمُورِ بِهِ الْمُسْتَطَاعُ (5)، وَيُتْرَكُ الْمَنْهِيُّ عَنْهُ جُمْلَةً؛ لِقَوْلِهِ
--------------------------------------------
শব্দ ব্যবহারের মূলনীতি (قاعدة في حمل اللفظ)18 - শব্দকে তার প্রকৃত অর্থের (حقيقة) ওপর প্রয়োগ করা হবে, রূপক অর্থের (مجاز) ওপর নয়, যতক্ষণ না কোনো প্রাসঙ্গিক লক্ষণ (قرينة) বা প্রমাণ (دليل) পাওয়া যায়। শব্দকে বক্তার প্রচলিত অর্থ (عرفي) অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে, তার আভিধানিক অর্থ (لغوي) বা অন্য কোনো প্রচলিত অর্থ অনুযায়ী নয়। আর কুরআন ও সুন্নাহর শব্দসমূহকে শরয়ি অর্থের (شرعية) ওপর প্রয়োগ করা হবে, কোনো আভিধানিক (لغوية) বা অ-শরয়ি প্রচলিত (عرفية غير شرعية) অর্থের ওপর নয়।
আদেশ (أمر) সংক্রান্ত মূলনীতি (1)
19 - আদেশের শব্দ (صيغة الأمر) যখন কোনো তলব বা দাবির জন্য আসে, তখন তা আবশ্যকতা (وجوب) বোঝাবে, যতক্ষণ না কোনো প্রাসঙ্গিক লক্ষণ (قرينة) বা প্রমাণ (دليل) পাওয়া যায়। এটি অবিলম্বে পালন করা (فوراً) কিংবা বারবার পালন করার (تكراراً) দাবি রাখে না; সুতরাং এই দুটি বিষয় কোনো প্রাসঙ্গিক লক্ষণ (قرينة) বা প্রমাণ (دليل) ছাড়া সাব্যস্ত হবে না। আর নির্দেশ পালনের (امتثال) জন্য একবার (مرة) সম্পাদন করা অপরিহার্য (2), এবং এটি পালনের সময় আদিষ্ট বিষয়ের বিপরীত কাজগুলো থেকে নিষেধ (نهي) করার দাবি রাখে (3)। এছাড়া এটি এমন সব বিষয়ের তলব বা দাবি রাখে, যা ব্যতীত উদ্দিষ্ট বিষয়টি অর্জন করা সম্ভব নয়।
নিষেধ (نهي) সংক্রান্ত মূলনীতি20 - নিষেধের শব্দ (صيغة النهي) হারাম বা নিষিদ্ধকরণের (تحريم) অর্থ প্রদান করে, যতক্ষণ না কোনো প্রাসঙ্গিক লক্ষণ (قرينة) বা প্রমাণ (دليل) পাওয়া যায়। এটি অবিলম্বে বর্জন (فور) এবং স্থায়ীভাবে বর্জন করার (دوام الترك) দাবি রাখে এবং এটি নিষিদ্ধ কাজের বিপরীত কোনো একটি কাজ সম্পাদন করার দাবি রাখে।
আদিষ্ট বিষয় (مأمور به) পালনের মূলনীতি (4)
21 - আদিষ্ট বিষয়ের মধ্য থেকে যতটুকু সামর্থ্যের (مستطاع) (5) মধ্যে আছে তা পালন করা হবে, আর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ পুরোপুরিভাবে বর্জন করা হবে; কেননা তিনি বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ فَخُذُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ، وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَالنَّسَائِيُّ (1).
قَوَاعِدُ الْمَفْهُومِ وَالْمَنْطُوقِ22 - كُلُّ مَعْنًى اسْتُفِيدَ مِنْ جَوْهَرِ اللَّفْظِ لِأَنَّهُ هُوَ الْمَعْنَى الَّذِي وُضِعَ لَهُ الْلَّفْظُ فَهُوَ الْمَنْطُوقُ: كَالشَّخْصِ الْمَوْصُوفِ بِالْعِلْمِ مِنْ لَفْظَةِ «عَالِمٌ» فِي قَوْلِكَ: «إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ العَالِمَ».
وَكُلُّ مَعْنًى اسْتُفِيدَ مِنْ ذِكْرِ اللَّفْظِ وَلَيْسَ الْلَّفْظُ مَوْضُوعًا لَهُ فَهُوَ الْمَفْهُومُ: كَالشَّخْصِ الْمَوْصُوفِ بِالْجَهْلِ فِي الْمِثَالِ الْمَذْكُورِ؛ فَإِنَّهُ يَخْطُرُ فِي الذِّهْنِ عِنْدَ ذِكْرِ الْعَالِمِ لِأَنَّهُ ضِدُّ مَعْنَاهُ، وَالضِّدُّ يَخْطُرُ بِالْبَالِ عِنْدَ خُطُورِ ضِدِّهِ.
كُلُّ مَعْنًى اسْتُفِيدَ مِنْ ذِكْرِ اللَّفْظِ وَهُوَ ضِدُّ الْمَعْنَى الَّذِي وُضِعَ لَهُ الْلَّفْظُ فَإِنَّهُ يُعْطَى نَقِيضَ حُكْمِ الْمَنْطُوقِ وَيُسَمَّى: مَفْهُومَ مُخَالَفَةٍ؛ لِمُخَالَفَتِهِ لِلْمَنْطُوقِ فِي الْحُكْمِ كَمَا فِي الْمِثَالِ السَّابِقِ، وَيُسَمَّى: دَلِيلَ الْخِطَابِ.
وَكُلُّ مَعْنًى اسْتُفِيدَ مِنْ ذِكْرِ اللَّفْظِ وَلَيْسَ ضِدًّا لِلْمَنْطُوقِ فَإِنَّهُ يُعْطَى حُكْمَ الْمَنْطُوقِ، وَيُسَمَّى: مَفْهُومَ مُوَافَقَةٍ.
ثُمَّ إِنْ كَانَ مُمَاثِلًا لِلْمَنْطُوقِ فِي الْوَصْفِ الَّذِي اسْتَحَقَّ بِهِ الْحُكْمَ كَانَ مَفْهُومًا بِالْمُسَاوَاةِ (2)، وَيُسَمَّى: لَحْنَ الْخِطَابِ: كَتَحْرِيمِ إِتْلَافِ مَالِ الْيَتِيمِ مِنْ
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: "আমি যখন তোমাদের কোনো কিছুর আদেশ দেই, তখন তোমরা তা সাধ্যানুযায়ী পালন করো; আর যখন আমি তোমাদের কোনো কিছু থেকে নিষেধ করি, তখন তোমরা তা পরিহার করো।" এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ও নাসাঈ (১)।
মাফহুম (المفهوم) ও মানতুক (المنطوق) সংক্রান্ত মূলনীতিসমূহ২২ - শব্দের মূল সত্তা বা নির্যাস থেকে যে অর্থ গ্রহণ করা হয়, যেহেতু শব্দটি সেই অর্থের জন্যই নির্ধারিত হয়েছে, তাকে মানতুক (المنطوق) বলা হয়: যেমন আপনার উক্তি "যখন তুমি জিজ্ঞাসা করবে, তখন আলেমকে জিজ্ঞাসা করো"-এর মধ্যে 'আলেম' শব্দ থেকে জ্ঞানগুণে গুণান্বিত ব্যক্তি।
আর শব্দের উল্লেখ থেকে যে অর্থ গ্রহণ করা হয় কিন্তু শব্দটি সেই অর্থের জন্য নির্ধারিত নয়, তাকে মাফহুম (المفهوم) বলা হয়: যেমন উল্লিখিত উদাহরণে মূর্খতাগুণে গুণান্বিত ব্যক্তি; কেননা আলেমের উল্লেখ করলে মনের মধ্যে তার বিপরীত বিষয়টি উদিত হয়, আর কোনো কিছুর বিপরীত দিকটি স্মরণে আসলে তার উল্টো দিকটিও স্মৃতিতে ভেসে ওঠে।
শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত প্রতিটি অর্থ যা শব্দের জন্য নির্ধারিত অর্থের বিপরীত, তাকে মানতুক (المنطوق)-এর হুকুম বা বিধানের বিপরীত বিধান দেওয়া হয় এবং একে মাফহুম আল-মুখালাফাহ (مفهوم مخالفة) বলা হয়; হুকুমের ক্ষেত্রে মানতুক (المنطوق)-এর সাথে বৈপরীত্য থাকার কারণে, যেমনটি পূর্বের উদাহরণে দেখা গেছে। একে দালিল আল-খিতাব (دليل الخطاب)-ও বলা হয়।
আর শব্দের উল্লেখ থেকে অর্জিত প্রতিটি অর্থ যা মানতুক (المنطوق)-এর বিপরীত নয়, তাকে মানতুক (المنطوق)-এর হুকুমই প্রদান করা হয় এবং একে মাফহুম আল-মুওয়াফাকাহ (مفهوم موافقة) বলা হয়।
অতঃপর, যদি তা সেই গুণের ক্ষেত্রে মানতুক (المنطوق)-এর সদৃশ হয় যার কারণে তা বিধানের যোগ্য হয়েছে, তবে তাকে সমতাভিত্তিক মাফহুম (مفهوم بالمساواة) (২) বলা হয় এবং একে লাহনুল খিতাব (لحن الخطاب) বলা হয়: যেমন এতিমের সম্পদ বিনষ্ট করা হারাম হওয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
تَحْرِيمِ أَكْلِهِ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَلَا تَأكُلُواْ أَموَلَهُم إِلَى أَموَلِكُم} (1)؛ لِتَسَاوِيهِمَا فِي التَّعَدِّي وَالظُّلْمِ وَالتَّضْيِيعِ عَلَى الْيَتِيمِ.
وَإِنْ كَانَ أَقْوَى مِنْهُ فِي الْوَصْفِ الَّذِي اسْتَحَقَّ بِهِ الْحُكْمَ كَانَ مَفْهُومَ مُوَافَقَةٍ بِالْأَحْرَوِيَّةِ وَيُسَمَّى: فَحْوَى خِطَابٍ: كَتَحْرِيمِ الضَّرْبِ مِنْ تَحْرِيمِ قَوْلِ {أُفٍّ} فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {فَلَا تَقُل لَّهُمَآ أُفّ} (2)؛ لِأَنَّ الْفِعْلَ أَشَدُّ مِنَ الْقَوْلِ فِي الْإِسَاءَةِ.
أَنْوَاعُ دَلِيلِ الْخِطَابِ23 -
مَفْهُومُ الصِّفَةِ: كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَمِنْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ} (3)
مَفْهُومُ الشَّرْطِ: كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِنْ كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنْفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} (4).
مَفْهُومُ الْغَايَةِ: كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ} (5).
مَفْهُومُ الْعَدَدِ: كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً} (6).
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা তাদের ধন-সম্পদ তোমাদের ধন-সম্পদের সাথে মিশিয়ে গ্রাস করো না} (১) - এর মাধ্যমে তা ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়; কারণ সীমা লঙ্ঘন, জুলুম এবং এতিমের সম্পদ বিনষ্ট করার ক্ষেত্রে উভয়টি সমান।
আর যদি তা এমন গুণের ক্ষেত্রে মূল বিষয়ের চেয়ে অধিক শক্তিশালী হয় যার কারণে বিধানটি প্রযোজ্য হয়েছে, তবে তাকে অগ্রাধিকারমূলক সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ (مفهوم موافقة بالأحروية) বলা হয় এবং একে সংলাপে নিহিত মর্ম (فحوى خطاب) হিসেবেও অভিহিত করা হয়। যেমন: মহান আল্লাহর বাণী: {তাদেরকে 'উফ' বলো না} (২) - এই বাণীর প্রেক্ষিতে প্রহার করা নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়া; কারণ কষ্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে বাচনিক অপব্যবহারের চেয়ে শারীরিক আঘাত অধিকতর কঠোর।
প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতের প্রকারভেদ (أنواع دليل الخطاب)23 -
গুণের অর্থগত ইঙ্গিত (مفهوم الصفة): যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের অধিকারভুক্ত মুমিন দাসীদের মধ্য হতে} (৩)।
শর্তের অর্থগত ইঙ্গিত (مفهوم الشرط): যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা যদি গর্ভবতী হয়, তবে সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত তাদের জন্য ব্যয় করবে} (৪)।
সীমার অর্থগত ইঙ্গিত (مفهوم الغاية): যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যে পর্যন্ত না সে অন্য কোনো স্বামীকে বিবাহ করে} (৫)।
সংখ্যার অর্থগত ইঙ্গিত (مفهوم العدد): যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে তাদের আশিটি বেত্রাঘাত করো} (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাদিউল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
مَفْهُومُ الْحَصْرِ: كَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا الْوَلاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» (1).
مَفْهُومُ الزَّمَانِ: كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ} (2).
مَفْهُومُ الْمَكَانِ: كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا} (3).
تَقْيِيدٌ24 - لَا يُحْتَجُّ بِالْمَفْهُومِ إِذَا خَرَجَ الْكَلَامُ مَخْرَجَ الْغَالِبِ: كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ} (4).
أَوْ جَاءَ الْكَلَامُ لِتَصْوِيرِ الْوَاقِعِ: كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً} (5).
أَوْ جَاءَ حَسَبَ مَا هُوَ الْشَّأْنُ: كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ} (6).
أَوْ جَاءَ لِلتَّفْخِيمِ وَالتَّأْكِيدِ: كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِينَ} (7).
--------------------------------------------
সীমাবদ্ধকরণের অর্থবোধকতা (مفهوم الحصر): যেমন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «নিশ্চয়ই আল-ওয়ালা (উত্তরাধিকার লাভের অধিকার) তার জন্য যে মুক্ত করেছে» (১)।
সময়ের অর্থবোধকতা (مفهوم الزمان): যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন} (২)।
স্থানের অর্থবোধকতা (مفهوم المكان): যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার জন্য আবশ্যক} (৩)।
সীমাবদ্ধকরণ (تقييد)২৪ - অর্থবোধকতা (مفهوم) দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না (لا يحتج) যখন কথাটি সাধারণ বা প্রচলিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে (مخرج الغالب) বলা হয়: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমাদের সেই পালিতা কন্যারা যারা তোমাদের কোলে (লালিত-পালিত হচ্ছে)} (৪)।
অথবা যখন কথাটি বাস্তব অবস্থা চিত্রায়নের (تصوير الواقع) জন্য আসে: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না} (৫)।
অথবা যখন বিষয়টি স্বাভাবিক রীতিনীতি বা স্বভাবজাত বিষয় অনুযায়ী আসে: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তোমরা মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় থাকো} (৬)।
অথবা যখন মহিমা প্রকাশ ও গুরুত্ব প্রদানের (التفخيم والتأكيد) জন্য আসে: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সদাচারীদের উপর এটি একটি বিশেষ কর্তব্য} (৭)।
--------------------------------------------