(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: -)
تذييل سلافة العصر القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: تذييل سلافة العصر
المؤلف: عبد الله بن علي نور الدين بن نعمة الله الموسوي الجزائري التستري (ت 1173هـ)
تحقيق: السيد هادي باليل الموسوي
الناشر: المكتبة الأدبية المختصة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 56
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাজয়ীলু সুলাফাতিল আসর বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: তাজয়ীলু সুলাফাতিল আসর
লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে আলী নূরুদ্দীন ইবনে নেয়ামাতুল্লাহ আল-মুসাওয়ী আল-জাযায়েরী আত-তুস্তারি (মৃত্যু ১১৭৩ হিজরি)
সম্পাদনা: আস-সাইয়্যিদ হাদী বালীল আল-মুসাওয়ী
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আদাবিয়্যাহ আল-মুখতাসসাহ
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ১)
تذييل سلافة العصر للسيد عبد الله الجزائري محتويات الكتاب المقدمة ترجمة المؤلف: تذييل سلافة العصر للسيد عبد الله الجزائري
1 - السيد إسماعيل ابن السيد سعد الموسوي الحويزي
2 - السيد شهاب الدين بن معتوق الموسوي الحويزي
3 - السيد معتوق ابن السيد شهاب الدين الموسوي الحويزي
4 - الشيخ فتح الله بن علوان الكعبي الدورقي
5 - السيد قوام الدين الحسني السيفي القزويني
6 - السيد نور الدين بن نعمة الله الجزائري
সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ আল-জাযায়েরী কৃত সুলাফাতুল আসর গ্রন্থের পরিশিষ্ট কিতাবের সূচিপত্র ভূমিকা লেখকের জীবনী: সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ আল-জাযায়েরী কৃত সুলাফাতুল আসর গ্রন্থের পরিশিষ্ট
১ - সাইয়্যেদ ইসমাঈল ইবনে সাইয়্যেদ সাদ আল-মুসাভী আল-হুয়াইযী
২ - সাইয়্যেদ শিহাবুদ্দিন বিন মাতুক আল-মুসাভী আল-হুয়াইযী
৩ - সাইয়্যেদ মাতুক ইবনে সাইয়্যেদ শিহাবুদ্দিন আল-মুসাভী আল-হুয়াইযী
৪ - শায়খ ফাতহুল্লাহ বিন আলওয়ান আল-কাবী আদ-দাওরাকী
৫ - সাইয়্যেদ কাওয়ামুদ্দিন আল-হাসানী আস-সাইফী আল-কাযভিনী
৬ - সাইয়্যেদ নুরুদ্দিন বিন নেয়ামতুল্লাহ আল-জাযায়েরী
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ২)
وفي تذييل على سلافة العصر لبعض الأدباء جاء ما يلي:
7 - العلامة العارف الأديب السيد علي باليل الموسوي الدورقي
8 - العالم الأديب السيد إبراهيم ابن السيد علي باليل الدورقي
এবং কতিপয় সাহিত্যিক কর্তৃক ‘সুলাফাতুল আসর’-এর একটি পরিশিষ্টে নিম্নোক্ত বর্ণনা এসেছে:
৭ - আল্লামা, আরিফ ও সাহিত্যিক আস-সাইয়্যেদ আলী বালীল আল-মুসাওয়ী আদ-দাওরাকী
৮ - আলিম ও সাহিত্যিক আস-সাইয়্যেদ ইবরাহীম ইবনে আস-সাইয়্যেদ আলী বালীল আদ-দাওরাকী
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ৩)
تذييل سلافة العصر
للسيد عبد الله الجزائري
تحقيق: السيد هادي باليل الموسوي
المكتبة الأدبية المختصة
সুলাফাতুল আছর-এর পরিশিষ্ট
সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ আল-জাযায়েরী প্রণীত
সম্পাদনা: সাইয়্যেদ হাদী বালীল আল-মুসাওয়ী
বিশেষায়িত সাহিত্য পাঠাগার
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة
الحمد لله رب العالمين والصلاة على محمد وآله الطاهرين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
يضم التراث الأدبي الشيعي كنوزا وافرة ثرية أفرغ فيها حملة العلم والأدب بصدق ودأب - كل جهودهم الكبيرة التي ما برحت تمتاح من ريها الأجيال مما حفظ لنا - حتى يومنا هذا - كثيرا من الآثار الهامة الذائعة، وتعد سلافة العصر في محاسن الشعراء بكل مصر للسيد علي بن أحمد بن محمد معصوم الحسيني المدني واحدة من الانجازات الكبيرة في مجال حفظ التراث الشعري الأدبي، معتبرة - بحق جهدا هاما مستوعبا محيطا بشكل معجب بكل ما وصلت إليه يراعة المؤلف المشهور بعلمه وفضله وإحاطته الواسعة، سالكا فيه مسلك من سبقه من كبار مؤرخي الأدب، مضيفا ما نتج من فكره الخصب وأسلوبه الفخم وصياغته الآسرة التي ترقى به إلى مصاف كتاب عصور الأدب الأولى رغم انه عاش في النصف الثاني ثم في الربع الأول من القرنين الحادي عشر والثاني عشر الهجريين، ولا حاجة أن نشير إلى أن المؤلف الجليل قد أحيى في غمار تراجمه ذكر شعراء كثيرين من الشيعة خاصة، كاد ان يأتي
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর।
শিয়া সাহিত্য ঐতিহ্যে এমন প্রচুর ও সমৃদ্ধ ভাণ্ডার নিহিত রয়েছে, যেখানে জ্ঞান ও সাহিত্যের বাহকগণ অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে তাদের সকল মহান প্রচেষ্টা বিলিয়ে দিয়েছেন—যে ভাণ্ডারের সুধা থেকে প্রজন্মসমূহ আজও নিরন্তর জ্ঞান আহরণ করছে। এর মাধ্যমেই আমাদের জন্য আজ পর্যন্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ কীর্তি সংরক্ষিত রয়েছে। সাইয়্যেদ আলী বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ মাসুম আল-হুসাইনী আল-মাদানী রচিত 'সুলাফাতুল আসর ফি মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর' কাব্য-সাহিত্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অন্যতম বৃহৎ অর্জন হিসেবে বিবেচিত। এটি লেখক—যিনি তাঁর জ্ঞান, মর্যাদা ও ব্যাপক পাণ্ডিত্যের জন্য সুপ্রসিদ্ধ—তাঁর কলম থেকে নিঃসৃত এক বিস্ময়কর, ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস হিসেবে যথার্থই স্বীকৃত। এই গ্রন্থে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী বরেণ্য সাহিত্য ঐতিহাসিকদের পথ অনুসরণ করেছেন এবং তাতে স্বীয় উর্বর চিন্তা, আভিজাত্যপূর্ণ শৈলী ও চিত্তাকর্ষক ভাষাশৈলী যুক্ত করেছেন, যা তাঁকে সাহিত্যের স্বর্ণযুগের লেখকদের কাতারে উন্নীত করেছে; যদিও তিনি হিজরি একাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ এবং দ্বাদশ শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশে জীবিত ছিলেন। এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই মহান লেখক তাঁর জীবনচরিত আলোচনার ভিড়ে বিশেষত বহু শিয়া কবির আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করেছেন, যা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল।
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ৬)
عليهم النسيان، مما جعل كتابه موسوعة يرجع إليها ويعتمد عليها وهو العالم الفاضل والثقة الجدير. . . ولقد ترك كتاب سلافة العصر وهجا ساطعا ممتدا في القرون اللاحقة فأوحى لغير
واحد من رجال الفضيلة ان يستدركوا عليه ما فات مؤلفه الفاضل - وهو النزر القليل -، من تراجم وأحوال لأدباء عصره. . . وكان ممن ذيل على أصله العلامة الجليل السيد عبد الله ابن السيد نور الدين علي ابن السيد نعمة الله الجزائري ذاكرا بعض أعلام الأدباء في مستدرك صغير سرعان ما ندر وجوده وصعب الحصول عليه حتى عده بعض من الآثار المفقودة ثم قيض الله له من بعثه من رقدته أكثر من مرة في محاولات لم تستوف، مثيل جهد المحقق الكاتب الأديب الفاضل السيد هادي باليل الموسوي الذي عثر على تتمة هامة للتذييل تسقطها من مصدر مخطوط فرتبها وحققها وقدم لها وعلق عليها بصورتها الماثلة هنا، والمكتبة الأدبية المختصة التابعة لمكتب سماحة آية الله العظمى المرجع الديني الاعلى السيد السيستاني - دام ظله إذ تفتح بطبع مثل هذا التذييل المغمور، باب جهودها القابلة لإحياء ما يقع في يديها من آثار وكنوز أدبية شيعية تسأل الباري عز وجل أن يوفقها في مسيرتها ويجعل ذلك خالصا لوجهه الكريم. المكتبة الأدبية المختصة محرم الحرام 1420 هـ
বিস্মৃতি তাদের গ্রাস করে, যার ফলে তার গ্রন্থটি একটি বিশ্বকোষে পরিণত হয়েছে যার নিকট প্রত্যাবর্তন করা হয় এবং যার ওপর নির্ভর করা হয়; আর তিনি একজন গুণী আলেম এবং যোগ্য নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব। . . এবং তিনি 'সুলাফাতুল আসর' গ্রন্থটিকে পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে বিস্তৃত একটি উজ্জ্বল আভা হিসেবে রেখে গিয়েছেন, যা একাধিক
গুণী ব্যক্তিকে তার গুণী লেখকের হাত থেকে যা ছুটে গিয়েছিল—যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য—তার সমকালীন সাহিত্যিকদের জীবনী ও অবস্থার ওপর পরিশিষ্ট সংযোজন করতে অনুপ্রাণিত করেছে। . . এবং যিনি মূল গ্রন্থের ওপর পরিশিষ্ট লিখেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন মহান আল্লামা আস-সাইয়্যিদ আব্দুল্লাহ ইবনে আস-সাইয়্যিদ নূরুদ্দীন আলী ইবনে আস-সাইয়্যিদ নি’মাতুল্লাহ আল-জাযায়েরী; তিনি একটি ছোট পরিশিষ্টে কতিপয় প্রখ্যাত সাহিত্যিকের কথা উল্লেখ করেছেন যা দ্রুতই দুর্লভ হয়ে পড়ে এবং তা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে যায়, এমনকি কেউ কেউ একে হারিয়ে যাওয়া নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেন। অতঃপর আল্লাহ এমন একজনকে নিযুক্ত করেন যিনি একে এর সুপ্তাবস্থা থেকে একাধিকবার পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন—যা পূর্ণাঙ্গ ছিল না—যেমন গবেষক, লেখক, সাহিত্যিক ও গুণী ব্যক্তিত্ব আস-সাইয়্যিদ হাদী বালীল আল-মুসাওয়ীর প্রচেষ্টা, যিনি এই পরিশিষ্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ খুঁজে পান যা একটি পাণ্ডুলিপি উৎস থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল। ফলে তিনি এটিকে বিন্যস্ত করেছেন, এর তাহকীক করেছেন, এর ভূমিকা লিখেছেন এবং বর্তমান রূপে এর ওপর টীকা প্রদান করেছেন। পরম শ্রদ্ধেয় আয়াতুল্লাহিল উজমা, সর্বোচ্চ ধর্মীয় মারজা আস-সাইয়্যিদ সিসতানী—তাঁর ছায়া দীর্ঘস্থায়ী হোক—এর কার্যালয়ের অধীনস্থ বিশেষ সাহিত্য পাঠাগার, এই ধরনের একটি অখ্যাত পরিশিষ্ট মুদ্রণের মাধ্যমে শিয়া সাহিত্যিক নিদর্শন ও সম্পদসমূহ যা তাদের হস্তগত হবে তা পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার দ্বার উন্মোচন করছে। তারা মহান স্রষ্টার নিকট প্রার্থনা করছে যেন তিনি তাদের এই পথচলায় তাওফীক দান করেন এবং একে শুধুমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। বিশেষ সাহিত্য পাঠাগার, মুহাররমুল হারাম ১৪২০ হিজরী।
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمة المؤلف (1) : هو العلامة الجليل المحدث الفاضل النبيل، الرجالي المحقق، والفقيه الأصولي المدقق، السيد عبد الله ابن السيد نور الدين علي ابن السيد نعمة الله الحسيني الموسوي الجزائري التستري. ولد في مدينة تستر في السابع من شعبان سنة 1112 هـ، وهي سنة وفاة جده
المحدث الجزائري الشهير. وكان جده المذكور
--------------------------------------------
লেখকের পরিচিতি (১) : তিনি হলেন মহান আল্লামা, ফাজেল ও সম্ভ্রান্ত মুহাদ্দিস, রিজাল শাস্ত্রের গবেষক মুহাক্কিক এবং সূক্ষ্মদর্শী ফকিহ ও উসুলিবিদ, সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ নূরুদ্দিন আলী ইবনে সাইয়্যেদ নেয়ামতুল্লাহ আল-হুসাইনি আল-মুসাভি আল-জাজায়িরি আত-তুস্তারি। তিনি ১১১২ হিজরি সনের ৭ই শাবান তুস্তারি নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন, যা ছিল তাঁর দাদা
বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল-জাজায়িরির মৃত্যুর বছর। এবং তাঁর উক্ত দাদা ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ৮)
قد تفرس في هذا المولود المبارك مستقبلا زاهرا فأهداه بعض كتبه، فكان كما تفرس فقد تعلم القراءة والكتابة في سن مبكرة (السادسة من عمره) ، وبدأ بقراءة المقدمات كالصرف والنحو والمعاني والبيان على والده فأتمها بسنتين، ثم انصرف إلى دراسة المعقول والمنقول. وما ان بلغ السادسة عشرة من العمر حتى أصبح متفننا في العلوم والمعارف الإسلامية، وكان جل اشتغاله قبل ذهابه إلى إصفهان على علماء تستر والحويزة والدورق كما صرح بذلك في إجازته الكبيرة، منها قوله في ترجمة الشيخ شمس الدين بن صفر البصري: رأيته في الدورق وقرأت عليه أكثر (شرح المطالع) هناك. وقال في ترجمة الشيخ عبد الحسين القاري الحويزي: رأيته في الحويزة كثيرا واستفدت منه. وفي ترجمة الشيخ عبد الله بن ناصر الحويزي الهميلي قال: اجتمعت به في الدورق وكان مدرسا في مدرستها ثم في الحويزة ثم في تستر واستفدت منه. وأقام في أصفهان مدة اشتغل فيها على علمائها ثم رحل إلى شيراز في طلب العلم ومنها إلى خراسان حيث زار مرقد الإمام الرضا عليه السلام واجتمع بأعلام تلك البلاد، ثم رحل إلى آذربيجان والبلاد العثمانية، وكان اهتمامه في هذه الرحلات بتحصيل العلوم وكسب المعارف المتداولة آنذاك أينما حل، لأنه كان حريصا على ذلك منهمكا في طلبها من الخاصة والعامة، وحتى من غير المسلمين. وكانت له مساهمات في تطور الأمور السياسية في البلاد، ومنها حضوره مؤتمر دشت مغان مع جملة من كبار العلماء لتتويج
এই বরকতময় নবজাতকের মাঝে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তাই তাঁকে তাঁর রচিত কিছু গ্রন্থ উপহার দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তেমনই হয়েছিল যেমনটি ধারণা করা হয়েছিল; তিনি শৈশবেই (ছয় বছর বয়সে) পড়তে ও লিখতে শিখেছিলেন। এরপর তিনি তাঁর পিতার নিকট সারফ, নাহু, মাআনি এবং বয়ানের মতো প্রাথমিক বিষয়সমূহ অধ্যয়ন শুরু করেন এবং দুই বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি আকলি (যৌক্তিক) ও নাকলি (বর্ণনামূলক) শাস্ত্রসমূহ অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন। ১৬ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই তিনি ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। ইসফাহানে গমনের পূর্বে তাঁর অধিকাংশ জ্ঞানচর্চা ছিল তুসতার, হুওয়াইজা এবং দাওরাকের আলেমদের নিকট, যা তিনি তাঁর ইজাযাতে কাবিরা (বৃহৎ সনদনামা)-তে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। এর মধ্যে শেখ শামস উদ্দিন বিন সাফার আল-বাসরির জীবনীতে তাঁর উক্তি হলো: "আমি তাঁকে দাওরাকে দেখেছি এবং সেখানে তাঁর নিকট শারহুল মাতালি (গ্রন্থের) অধিকাংশ পাঠ করেছি।" শেখ আব্দুল হুসাইন আল-কারি আল-হুওয়াইজির জীবনীতে তিনি বলেছেন: "আমি তাঁকে হুওয়াইজায় বহুবার দেখেছি এবং তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হয়েছি।" শেখ আব্দুল্লাহ বিন নাসির আল-হুওয়াইজি আল-হুমাইলির জীবনীতে তিনি বলেছেন: "আমি তাঁর সাথে দাওরাকে সাক্ষাৎ করেছি; তিনি সেখানকার মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন, এরপর হুওয়াইজায় এবং পরবর্তীতে তুসতারেও শিক্ষকতা করেছেন; আমি তাঁর থেকে জ্ঞান লাভ করেছি।" তিনি দীর্ঘকাল ইসফাহানে অবস্থান করে সেখানকার আলেমদের নিকট জ্ঞানচর্চা করেন। এরপর ইলম অন্বেষণে তিনি শিরাজ এবং সেখান থেকে খোরাসান সফর করেন, যেখানে তিনি ইমাম রিযা (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং ওই অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাৎ করেন। অতঃপর তিনি আজারবাইজান এবং উসমানীয় ভূখণ্ডসমূহে ভ্রমণ করেন। এই সফরগুলোতে তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল জ্ঞান অর্জন এবং যেখানেই গিয়েছেন সেখানকার তৎকালীন প্রচলিত জ্ঞানসমূহ হাসিল করা। কারণ তিনি জ্ঞানার্জনে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং বিশিষ্ট ও সাধারণ ব্যক্তি, এমনকি অমুসলিমদের কাছ থেকেও তা অন্বেষণে নিমগ্ন থাকতেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়নেও তাঁর অবদান ছিল, যার অন্যতম উদাহরণ হলো রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানের নিমিত্তে বিশিষ্ট একদল আলেমের সাথে দস্ত-ই-মুগান সম্মেলনে তাঁর উপস্থিতি।
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ৯)
الملك الأفشاري نادرشاه الذي أطاح بالحكومة الصفوية وتربع على عرشها سنة 1148 هـ، فأنشأ السيد المترجم له خطبة بليغة بهذه المناسبة، وكان له اتصالات وثيقة وعلاقات طيبة بحكام المنطقة، أعني تستر والحويزة والدورق كما ذكر ذلك في كتابه (تذكرة شوشتر: 165) وكانوا يجلونه ويحترمونه. وفي سنة 1167 هـ ظهرت فتن واضطرابات في البلاد كدرت خاطره فخرج متوجها نحو العتبات المقدسة في العراق، وكان طريقه على الدورق فحل ضيفا على زعيمي كعب الشيخين سلمان وعثمان ابني سلطان بن ناصر الكعبي، وقد أشاد بحسن سياستهما وتدبيرهما للأمور في البلاد. وكان قدس سره قد زار العتبات المقدسة غير مرة، منها في سنة 1153 هـ وحج بيت الله الحرام. وأسندت إليه جميع المناصب الدينية في بلده تستر بعد وفاة والده سنة 1158 هـ. إطراء العلماء بالمدح والثناء عليه: أشاد بفضيلته كل من ذكره من العلماء وأثنوا عليه ثناء بالغا منهم الشيخ محمد حرز الدين، فقد وصفه بقوله (1) : عالم، فاضل، فقيه، محقق في علم الرجال والرواة، وكان شاعرا لامعا وكاتبا أديبا، وعد من مؤلفاته: الذخيرة الباقية، والذخيرة الأحمدية، وشرح مفاتيح الأحكام، وشرحا على النخبة للفاضل الفيض، وأجوبة المسائل النهاوندية، وله ذيل على سلافة
--------------------------------------------
আফশারি সম্রাট নাদির শাহ, যিনি ১১৪৮ হিজরিতে সফবি সরকারকে উৎখাত করে সিংহাসন আরোহণ করেছিলেন; এই উপলক্ষে আলোচ্য ব্যক্তিত্ব (সাঈদ) একটি প্রাঞ্জল ভাষণ রচনা করেন। তুস্তার, আল-হুওয়ায়জাহ ও আদ-দাওরাক অঞ্চলের শাসকদের সাথে তাঁর গভীর যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক ছিল, যেমনটি তিনি তাঁর ‘তাযকিরাহ শুশতার’ (পৃষ্ঠা: ১৬৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; তাঁরা তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন। ১১৬৭ হিজরিতে দেশে অরাজকতা ও গোলযোগ দেখা দিলে তিনি মর্মাহত হন এবং ইরাকের পবিত্র স্থানগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হন। যাত্রাপথে তিনি আদ-দাওরাক হয়ে গমন করেন এবং সেখানে কা’ব গোত্রের দুই নেতা শেখ সালমান ও শেখ উসমান ইবনে সুলতান বিন নাসের আল-কাবির আতিথ্য গ্রহণ করেন। তিনি তাঁদের প্রশাসনিক দক্ষতা ও দেশ পরিচালনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) একাধিকবার পবিত্র স্থানসমূহ জিয়ারত করেছিলেন, যার মধ্যে ১১৫৩ হিজরির সফর অন্যতম, এবং তিনি আল্লাহর পবিত্র ঘর হজ সম্পন্ন করেন। ১১৫৮ হিজরিতে পিতার মৃত্যুর পর তাঁর নিজ শহর তুস্তারের যাবতীয় ধর্মীয় পদের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়। আলেমদের প্রশংসা ও স্তুতি: যে সকল আলেম তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, তাঁরা সকলেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মধ্যে শেখ মুহাম্মদ হিরয উদ্দিন তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন (১): তিনি একজন আলেম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, ফকিহ এবং রিজাল শাস্ত্র ও বর্ণনাকারী বিশ্লেষণে দক্ষ গবেষক ছিলেন। তিনি একাধারে তীক্ষ্ণধী কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো: আয-যাখিরাতুল বাকিয়াহ, আয-যাখিরাতুল আহমাদিয়াহ, শারহু মাফাতিহিল আহকাম, ফাযিল ফাইযের ‘আন-নুখবাহ’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা এবং আজউয়িবাতুল মাসাইল আন-নাহাওয়ান্দিয়া। এছাড়াও ‘সুলাফা’ গ্রন্থের পরিশিষ্ট হিসেবে তাঁর একটি রচনা রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ১০)
العصر، وله التذكرة أخذنا منها في كتابنا (النوادر) ما يتعلق بأحوال جده السيد نعمة الله، وبعض أحوال السادة المرعشيين، ونسب المشعشعيين وبعض أحوالهم، والتحفة السنية في شرح النخبة المحسنية، توفي سنة 1173 هـ. والجدير بالإشارة
هنا ما ذكره الشيخ حرز الدين من تاريخ ولادة المترجم له، فإنه ذكره في (17 شعبان سنة 1114 هـ) ، كما جاء في مصفى المقال أيضا أنه ولد سنة 1114 هـ وفي طبقات الأعلام أرخه بسنة 1104 هـ، ولعله خطأ في الطبع أو الاستنساخ، والصحيح ما مر في صدر المقدمة والعمدة فيه على ما حققه السيد محمد الجزائري في كتابه (الشجرة المباركة) . وقال السيد محمد باقر الموسوي الخوانساري في الروضات (1) : كان من علماء زمان الفترة وطغيان الفتنة، بعد اختلال الدولة الصفوية في مملكة إيران المحمية، ماهرا في علم الحديث والفقه وفنون الأدب العربية، وقد ذكر في إجازته (الإجازة الكبيرة) تفصيل أحواله وأحوال والده، وأشار فيها إلى أحوال جملة من مشايخه المعظمين وأفاضل عصره المكرمين مثل المرحوم السيد صدر الدين الرضوي القمي، والسيد نصر الله الحائري، والمولى أبي الحسن العاملي، وكثير من فضلاء سلسلة المجلسي، وكان وضعها تكملة لكتاب (أمل الآمل) وتداركا لما فاته من أحوال علمائنا
--------------------------------------------
যুগ, এবং তাঁর 'আত-তাযকিরাহ' নামক গ্রন্থ রয়েছে যা থেকে আমরা আমাদের 'আন-নাওয়াদির' গ্রন্থে তাঁর দাদা সাইয়্যেদ নি'মাতুল্লাহর অবস্থা, মার'আশি বংশীয় সাইয়্যেদদের কিছু অবস্থা, মুশা'শা'ঈদের বংশপরম্পরা ও তাঁদের কিছু অবস্থা এবং 'আন-নুখবাতুল মুহসিনিয়্যাহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ' সম্পর্কে বর্ণনা গ্রহণ করেছি; তিনি ১১৭৩ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। এবং উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো
এখানে শেখ হিরযুদ্দিন এই জীবনীকার ব্যক্তির জন্ম তারিখ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা হলো (১৭ই শাবান ১১১৪ হিজরি); যেমনটি 'মুসাফফাল মাকাল' গ্রন্থেও এসেছে যে তিনি ১১১৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। আবার 'তাবাকাতুল আ'লাম' গ্রন্থে একে ১১০৪ হিজরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভবত এটি মুদ্রণ বা অনুলিপিকরণের ভুল। আর সঠিক বিষয়টি হলো যা ভূমিকার শুরুতে আলোচিত হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রধান ভিত্তি হলো সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আল-জাযাইরি তাঁর 'আশ-শাজারাতুল মুবারাকাহ' গ্রন্থে যা তাহকিক করেছেন। এবং সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বাকির আল-মুসাভি আল-খাওয়ানসারি 'আর-রাওদাত' গ্রন্থে (১) বলেছেন: তিনি ছিলেন সুরক্ষিত ইরান রাজ্যে সাফাভী সাম্রাজ্যের পতনের পরবর্তী অরাজকতা ও ফিতনার প্রাদুর্ভাবের সময়ের একজন আলেম। তিনি ইলমে হাদিস, ফিকহ এবং আরবি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি তাঁর ইজাজত নামায় (আল-ইজাজাতুল কাবিরাহ) নিজের এবং তাঁর পিতার অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে তাঁর একদল মহান উস্তাদ ও সমসাময়িক বরেণ্য ব্যক্তিদের অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন—মরহুম সাইয়্যেদ সদরুদ্দিন আর-রাদাওয়ী আল-কুম্মী, সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহ আল-হাইরি, মাওলা আবুল হাসান আল-আমিলি এবং মজলিসি বংশের বহু গুণীজন। আর এটি সংকলন করা হয়েছিল 'আমালুল আমিল' গ্রন্থের পরিশিষ্ট হিসেবে এবং আমাদের আলেমদের জীবনী সংক্রান্ত যা কিছু তাতে বাদ পড়েছিল তা পূরণ করার উদ্দেশ্যে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ১১)
اللاحقين له إلى زمانه رحمه الله. وله أشعار رائقة وأفكار فائقة وكتب متينة وخزائن ثمينة، ثم عد مؤلفاته. وقال المحدث النيسابوري في كتابه (منية المرتاد) الذي صنفه في تفصيل نفاة الاجتهاد، ومنهم السيد السند العارف السيد عبد الله ابن السيد نور الدين ابن السيد نعمة الله الجزائري التستري قدس الله أرواحهم الزكية، وهو كجده وأبيه من أجلة مشايخ المحدثين. . . الخ.
نسبه القصير: ذكر السيد المترجم له نسب جده السيد نعمة الله الجزائري في كتابيه (الإجازة) و (التذكرة) قائلا: رأيت صورة نسبه بخطه في موضعين هكذا: نعمة الله بن عبد الله بن محمد بن حسين بن أحمد بن محمود بن غياث الدين بن مجد الدين بن نور الدين بن سعد الدين بن عيسى بن موسى بن عبد الله بن الإمام موسى الكاظم عليه السلام. واستدرك على هذا النسب بعض النسابين فقال: إن الفترة الزمنية بين وفاة الإمام موسى بن جعفر عليهما السلام ووفاة السيد الجزائري تسعمائة وخمسون سنة تقريبا، أي أكثر من تسعة قرون، وقد جرت العادة عند النسابين أن يعدوا لكل قرن ثلاثة أجيال، وعليه فإن تلك الفترة تحتاج إلى ما يقارب خمسا وعشرين واسطة، وخلص النسابة المذكور إلى أن الصحيح في نسب السيد الجزائري كما يلي: السيد نعمة الله ابن السيد عبد الله ابن محمد ابن الحسين الملقب بشمس الدين بن محمود بن غياث بن أحمد بن علي بن
তাঁর সময় পর্যন্ত তাঁর অনুসারীগণ, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তাঁর ছিল মনোমুগ্ধকর কবিতা, সুউচ্চ চিন্তা, শক্তিশালী গ্রন্থ এবং মূল্যবান জ্ঞানভাণ্ডার। অতঃপর তিনি তাঁর রচনাবলির তালিকা প্রদান করেন। মুহাদ্দিস নাইসাপুরি তাঁর ‘মুনইয়াতুল মুরতাদ’ নামক গ্রন্থে—যা তিনি ইজতিহাদ অস্বীকারকারীদের বর্ণনায় সংকলন করেছেন—লিখেছেন: তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সুমহান আলিম ও আরেফ সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ নূরুদ্দীন ইবনে সাইয়্যেদ নেয়ামতুল্লাহ আল-জাজায়েরি আত-তুসতারি, আল্লাহ তাঁদের পবিত্র আত্মাকে মহিমান্বিত করুন। তিনি তাঁর দাদা ও পিতার ন্যায় মুহাদ্দিসগণের প্রথিতযশা মাশায়েখদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন... ইত্যাদি।
তাঁর সংক্ষিপ্ত বংশপরিচয়: জীবনীকার তাঁর ‘আল-ইজাজাহ’ ও ‘আত-তাজকিরাহ’ গ্রন্থদ্বয়ে তাঁর দাদা সাইয়্যেদ নেয়ামতুল্লাহ আল-জাজায়েরির বংশলতিকা এভাবে উল্লেখ করেছেন: আমি তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে দুই স্থানে বংশলতিকার অনুলিপি এভাবে দেখেছি: নেয়ামতুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বিন আহমাদ বিন মাহমুদ বিন গিয়াসুদ্দীন বিন মাজদুদ্দীন বিন নূরুদ্দীন বিন সাদউদ্দীন বিন ঈসা বিন মূসা বিন আব্দুল্লাহ বিন ইমাম মূসা আল-কাযিম (আলাইহিস সালাম)। জনৈক বংশবিদ এই বংশলতিকার ওপর পর্যবেক্ষণ প্রদান করে বলেছেন: ইমাম মূসা বিন জাফর (আলাইহিস সালাম)-এর ওফাত এবং সাইয়্যেদ জাজায়েরির ওফাতের মধ্যবর্তী সময়কাল প্রায় নয়শত পঞ্চাশ বছর, অর্থাৎ নয় শতাব্দীরও অধিক। বংশবিদদের নিকট এটি স্বীকৃত নিয়ম যে, প্রতি শতাব্দীতে তিনটি প্রজন্ম ধরা হয়; সেই অনুযায়ী উক্ত সময়ের জন্য প্রায় পঁচিশ জন মধ্যবর্তী বংশধরের প্রয়োজন। উক্ত বংশবিদ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, সাইয়্যেদ জাজায়েরির সঠিক বংশলতিকা নিম্নরূপ: সাইয়্যেদ নেয়ামতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন (যাঁর উপাধি ছিল শামসুদ্দীন) ইবনে মাহমুদ ইবনে গিয়াস ইবনে আহমাদ ইবনে আলী ইবনে...
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ১২)
محمد بن أحمد بن الرضا بن إبراهيم بن هبة الله بن الطيب بن أحمد بن محمد بن القاسم بن أبي الفخار محمد بن علي بن معمر الضرير بن عبد الله بن أبي عبد الله جعفر الأسود الملقب ب (زنقاح) بن محمد المعروف بالنصيبيني بن موسى بن عبد الله العولكاني ابن الإمام موسى بن جعفر عليهما السلام (1) . أما في ما يخص كتابه هذا (تذييل سلافة العصر) فقد ذكره المؤلف (السيد الجزائري) في إجازته الكبيرة في عداد مؤلفاته فقال: (وجزء في تذييل سلافة العصر) للسيد علي خان (2) ابن ميرزا
--------------------------------------------
মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-রিদা বিন ইব্রাহিম বিন হিবাতুল্লাহ বিন আল-তাইয়িব বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন আবিল ফাখার মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুয়াম্মার আল-দারির বিন আবদুল্লাহ বিন আবি আবদুল্লাহ জাফর আল-আসওয়াদ (যিনি জানকাহ উপাধিতে পরিচিত) বিন মুহাম্মদ (যিনি আল-নাসিবিনি নামে পরিচিত) বিন মুসা বিন আবদুল্লাহ আল-আউলাকানি, ইমাম মুসা বিন জাফর (তাদের দুজনের উপর শান্তি বর্ষিত হোক) এর বংশধর (১)। আর তার এই গ্রন্থ (তাযয়িল সুলাফাত আল-আসর) এর ব্যাপারে লেখক (সাইয়্যেদ আল-জাযায়েরি) তার 'ইজাযাতুল কাবিরা'য় তার গ্রন্থাবলির তালিকায় উল্লেখ করে বলেছেন: "এবং সাইয়্যেদ আলী খান (২) ইবনে মির্জার 'সুলাফাত আল-আসর' এর একটি পরিশিষ্ট।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أحمد السيد معصوم من أحفاد السيد غياث الدين منصور المشهور ب (أستاذ البشر) صاحب المدرسة المنصورية بشيراز، وهو تأليف بديع جمع فيه أعيان المائة الحادية عشرة، لكن فاته منهم جمع كثير وجم غفير في أعيان هذه الأقطار، لأنه ألفه أيام إقامته بالهند فلم يحط بأحوال من لم يبلغه هناك صيته، وقد تتبعت أحوال بعض من أطلعت عليه منهم وذكرته على سياق كلامه، فأعجب الوالد بذلك. (الإجازة الكبيرة: 55 طبعة قم سنة 1409 هـ) وأشار إلى هذا التذييل العلامة الطهراني في (الذريعة 4 / 54) ، والسيد محمد الجزائري في (شجرة مباركة: 35) . كان هذا التذييل نادر الوجود، صعب الحصول، مغمورا في خبايا المكتبات وبطون المجموعات المنسية، حتى عده بعض المتتبعين من أسرة المؤلف في جملة الكتب المفقودة، عدا عبارات وجيزة نقلها منه المؤلف نفسه في كتابه (الإجازة الكبيرة) . ولعل
আহমদ আস-সাইয়্যেদ মাসুম ছিলেন সাইয়্যেদ গিয়াসুদ্দিন মানসুরের বংশধরদের একজন, যিনি 'উস্তাদুল বাশার' (মানবজাতির শিক্ষক) হিসেবে প্রসিদ্ধ এবং শিরাজে মানসুরিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা। এটি একটি চমৎকার রচনা যাতে তিনি একাদশ হিজরি শতাব্দীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে একত্রিত করেছেন। তবে এই অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একটি বিশাল অংশ তাঁর অগোচরে থেকে গেছে, কারণ তিনি এটি ভারতে অবস্থানকালে রচনা করেছিলেন। ফলে যাদের খ্যাতি সেখানে তাঁর নিকট পৌঁছায়নি, তাদের অবস্থা সম্পর্কে তিনি অবগত হতে পারেননি। আমি তাদের মধ্য থেকে যাদের সম্পর্কে জানতে পেরেছি, তাদের অবস্থা অনুসন্ধান করেছি এবং তাঁর বর্ণনার ধারানুসারে তা উল্লেখ করেছি, যা আমার পিতা পছন্দ করেছেন। (আল-ইজাজাতুল কাবিরা: ৫৫, কোম সংস্করণ, ১৪০৯ হিজরি)। আল্লামা তিহরানি 'আয-যারিয়া' (৪/৫৪) গ্রন্থে এবং সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আল-জাজায়েরি 'শাজারাহ মুবারাকাহ' (৩৫) গ্রন্থে এই পরিশিষ্টের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এই পরিশিষ্টটি ছিল দুষ্প্রাপ্য, সংগ্রহ করা ছিল দুরুহ এবং এটি লাইব্রেরিগুলোর নিভৃত কোণে ও বিস্মৃত পাণ্ডুলিপিগুলোর ভেতরে লুকায়িত ছিল। এমনকি লেখকের পরিবারের কিছু গবেষক এটিকে হারানো বইগুলোর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছিলেন; তবে লেখক নিজে তাঁর 'আল-ইজাজাতুল কাবিরা' গ্রন্থে এর থেকে কিছু সংক্ষিপ্ত উক্তি উদ্ধৃত করেছিলেন। সম্ভবত...
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
سبب خفائه وعدم ظهوره، اختصاره وصغر حجمه، إذ انه لا يتجاوز عشر ورقات من القطع المتوسط. وقد جرت العادة عند الكتاب والنساخ قديما أن يضموا الآثار الوجيزة إلى المجموعات المطولة في الاستنساخ فيصبح المجموع الكبير طافحا بالنفائس المتعددة المختصرة لكنها شبه الضائعة، إذ لا يدل اسم المجموع (إن كان له اسم) على ما فيه من الآثار بالتفصيل، كما أنهم لم يفهرسوا لمحتوياته لا في البداية ولا النهاية، فكم من أثر جليل (كهذا التذييل) أتعب الأدباء والمحققين في سبيل العثور عليه، فلم يسعفهم الحظ في ذلك، بينما هو في مجموع مهمل ليس له نظام ولا لفصوله ومحتوياته خاص من عام، حتى يقيض الله له من يستخرجه فيكون سببا
لإحيائه. وهكذا كان هذا التذييل، حتى ظهرت له نسخة بخط الفاضل المتتبع السيد محمد علي الروضاتي الأصفهاني أدام الله أيام عزه، وكان قد استنسخها وضمها إلى كتاب له شرع في تأليفه سنة 1365 هـ عن نسخة بخط ابن المؤلف السيد بهاء الدين محمد ابن السيد عبد الله الجزائري، الذي كتبها هو عن خط والده سنة 1200 للهجرة. وهي تضم تراجم ستة من الأدباء والعلماء على النحو التالي:
1 - السيد إسماعيل ابن السيد سعد الموسوي الحويزي.
2 - السيد شهاب الدين بن معتوق الموسوي الحويزي.
3 - ابنه السيد معتوق بن شهاب الدين الموسوي الحويزي.
4 - الشيخ فتح الله بن علوان الكعبي الدورقي.
5 - السيد قوام الدين الحسني السيفي القزويني.
এর অপ্রকাশিত থাকা এবং প্রকাশ্যে না আসার কারণ হলো এর সংক্ষিপ্ততা ও ক্ষুদ্র আকার, কারণ এটি মাঝারি আকারের দশ পৃষ্ঠার বেশি নয়। প্রাচীনকালে লেখক ও লিপিকারদের অভ্যাস ছিল যে, তারা অনুলিপি করার সময় সংক্ষিপ্ত রচনাগুলোকে দীর্ঘ সংকলনগুলোর সাথে যুক্ত করে দিতেন। ফলে বৃহৎ সংকলনটি বহুবিধ সংক্ষিপ্ত মূল্যবান রচনায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠত, কিন্তু সেগুলো এক প্রকার হারিয়েই যেত। কারণ, সেই সংকলনের নাম (যদি কোনো নাম থেকে থাকে) তার ভেতরে থাকা বিস্তারিত রচনাগুলোর নির্দেশ করত না। অধিকন্তু, তারা শুরুতে বা শেষে এর বিষয়বস্তুর কোনো সূচিপত্রও তৈরি করতেন না। কতই না মহান রচনা (যেমন এই পরিশিষ্টটি) যা খুঁজে পেতে সাহিত্যিক ও গবেষকগণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, কিন্তু ভাগ্য তাঁদের সহায় হয়নি; অথচ সেটি এমন এক অবহেলিত সংকলনের মধ্যে ছিল যার কোনো সুশৃঙ্খল বিন্যাস ছিল না এবং যার অধ্যায় ও বিষয়বস্তু সাধারণ থেকে বিশেষে বিভক্ত ছিল না। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ এমন কাউকে নির্ধারিত করে দেন যিনি তা উদ্ধার করেন এবং সেটি পুনরায় জীবিত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই পরিশিষ্টটির ক্ষেত্রেও এমনই ঘটেছিল, যতক্ষণ না গুণী ও অনুসন্ধানী সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আলি আর-রাওদাতি আল-ইসফাহানি (আল্লাহ তাঁর সম্মানের দিনগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করুন)-এর হস্তলিখিত একটি পাণ্ডুলিপি প্রকাশিত হলো। তিনি এটি অনুলিপি করেছিলেন এবং ১৩৬৫ হিজরি সালে তাঁর সংকলিত একটি বইয়ের সাথে যুক্ত করেছিলেন। তিনি এটি মূল লেখকের পুত্র সাইয়্যেদ বাহাউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ আল-জাযাইরির হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছিলেন, যিনি এটি ১২০০ হিজরি সালে তাঁর পিতার হস্তলিপি থেকে লিখেছিলেন। এতে নিম্নোক্তভাবে ছয়জন সাহিত্যিক ও আলিমের জীবনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
১ - সাইয়্যেদ ইসমাইল ইবনে সাইয়্যেদ সাদ আল-মুসাভি আল-হুয়াইজি।
২ - সাইয়্যেদ শিহাবুদ্দিন বিন মাতুক আল-মুসাভি আল-হুয়াইজি।
৩ - তাঁর পুত্র সাইয়্যেদ মাতুক বিন শিহাবুদ্দিন আল-মুসাভি আল-হুয়াইজি।
৪ - শায়খ ফাতহুল্লাহ বিন আলওয়ান আল-কাবি আদ-দাওরাকি।
৫ - সাইয়্যেদ কাওয়ামুদ্দিন আল-হাসানি আস-সাইফি আল-কাযভিনি।
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
6 - والد المؤلف السيد نور الدين ابن السيد نعمة الله الجزائري. ثم ظهرت نسخة أخرى ضمن مجموع مرقم ب 7337 في مكتبة آية الله السيد النجفي المرعشي قدس سره في مدينة قم، وهذا المجموع يحتوي على عدة رسائل كلها للمؤلف بخط حفيده السيد نعمة الله ابن السيد محمد هادي ابن السيد عبد الله الجزائري كتبها سنة 1213 هـ، إلا ان هذه النسخة تنقص عن نسخة السيد الروضاتي بسقوط ترجمة الشيخ فتح الله بن علوان الدورقي منها. وأخيرا عثرت على مجموع دورقي يشبه الكشكول في محتوياته، ويبدو أنه ناقص من أوله وآخره ووسطه وفي ضمنه ترجمتان لعالمين أديبين في صفحة واحدة قبلها أوراق ساقطة
وهما:
1 - السيد علي بن باليل الموسوي الدورقي.
2 - ابنه السيد إبراهيم ابن السيد علي بن باليل الدورقي، وهذان العالمان ممن ذكرهما المؤلف (السيد الجزائري) في إجازته الكبيرة وأشاد بفضلهما وأدبهما، والعبارات والإنشاء في هاتين الترجمتين على غرار عبارات السيد الجزائري في التذييل، لا سيما وان هناك قرائن تدل على أن الأوراق الساقطة قبل هاتين الترجمتين هو التذييل نفسه، ومن هنا فاني ألحقتهما بالتذييل المذكور وصدرتهما بالعبارة التالية: (وفي تذييل على سلافة العصر لبعض الأدباء ما يلي) : وكان اعتمادي في إخراجه بهذه الصورة على النسخ المشار إليها، إذ ليس فيها اختلاف كبير عدا بعض التراجم الساقطة كما سبقت الإشارة، وإن بعضها يكمل بعضا.
৬ - লেখকের পিতা আস-সায়্যিদ নুরউদ্দীন ইবন আস-সায়্যিদ নি'মাতুল্লাহ আল-জাযাইরি। অতঃপর কোম শহরের আয়াতুল্লাহ আস-সায়্যিদ আন-নাজাফি আল-মারআশি (তাঁর রহস্য পবিত্র হোক) লাইব্রেরিতে ৭৩৩৭ নম্বর সম্বলিত একটি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত অন্য একটি অনুলিপি প্রকাশ পায়, এবং এই সংগ্রহটিতে লেখকের বেশ কিছু পুস্তিকা রয়েছে যা তাঁর পৌত্র আস-সায়্যিদ নি'মাতুল্লাহ ইবন আস-সায়্যিদ মুহাম্মাদ হাদি ইবন আস-সায়্যিদ আব্দুল্লাহ আল-জাযাইরি ১২১৩ হিজরি সনে নিজ হাতে লিখেছেন, তবে এই অনুলিপিটি সায়্যিদ আর-রওযাতির অনুলিপির চেয়ে অসম্পূর্ণ কারণ এতে শায়খ ফাতহুল্লাহ বিন আলওয়ান আদ-দাওরাকির জীবনী বাদ পড়েছে। পরিশেষে আমি আদ-দাওরাকির একটি সংগ্রহ খুঁজে পেয়েছি যা এর বিষয়বস্তুর দিক থেকে কাশকুলের সদৃশ, এবং মনে হচ্ছে এটি শুরু, শেষ এবং মাঝখান থেকে অসম্পূর্ণ এবং এর মাঝে একটি পৃষ্ঠায় দুজন সাহিত্যিক পণ্ডিতের জীবনী রয়েছে যার পূর্ববর্তী পাতাগুলো হারিয়ে গেছে।
তাঁরা হলেন:
১ - আস-সায়্যিদ আলি বিন বালিল আল-মুসাউয়ি আদ-দাওরাকি।
২ - তাঁর পুত্র আস-সায়্যিদ ইবরাহিম ইবন আস-সায়্যিদ আলি বিন বালিল আদ-দাওরাকি, এই দুই আলেমকে লেখক (সায়্যিদ আল-জাযাইরি) তাঁর বৃহৎ ইজাজাহ বা অনুমতিপত্রে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব ও সাহিত্যের প্রশংসা করেছেন, এবং এই দুটি জীবনীর বাক্য ও লিখনশৈলী সংযোজনীতে সায়্যিদ আল-জাযাইরির বাক্যশৈলীর অনুরূপ, বিশেষ করে যেহেতু এমন কিছু প্রমাণ রয়েছে যা ইঙ্গিত দেয় যে এই দুটি জীবনীর পূর্বে হারিয়ে যাওয়া পাতাগুলো মূলত সেই সংযোজনীটিই, এবং এ কারণে আমি সেগুলোকে উল্লিখিত সংযোজনীর সাথে সংযুক্ত করেছি এবং নিম্নোক্ত বাক্যটি দিয়ে সেগুলোর অবতারণা করেছি: (কিছু সাহিত্যিকের লিখিত 'সুলাফাত আল-আসর'-এর সংযোজনীতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বর্ণিত হয়েছে): এবং এই রূপে এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে আমার নির্ভরতা ছিল নির্দেশিত অনুলিপিগুলোর উপর, কারণ এতে কোনো বড় পার্থক্য নেই কেবল কিছু জীবনী বাদ পড়া ছাড়া যেমনটি পূর্বে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এবং এগুলোর একেকটি অন্যটিকে পরিপূরণ করে।
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
كما أني جعلت العبارات المنقولة منه في (الإجازة الكبيرة) موضع الترجيح فيما إذا اختلفت النسخ المذكورة، وهذا ما تيسر لي حسب الجهد والاستطاعة والله ولي التوفيق. هادي باليل قم المقدسة 17 رمضان المبارك 1419 هـ. * * *
তেমনিভাবে উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে পাঠভেদ বা বৈসাদৃশ্য দেখা দিলে (আল-ইজাজাহ আল-কাবিরাহ) গ্রন্থে উদ্ধৃত অংশসমূহকে আমি অগ্রাধিকারের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমার প্রচেষ্টা ও সামর্থ্য অনুযায়ী এটিই আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে এবং আল্লাহই সফলতাদাতা। হাদি বালিল, পবিত্র কোম, ১৭ রমজানুল মুবারক ১৪১৯ হিজরি। * * *
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تذييل سلافة العصر للسيد عبد الله الجزائري
المتوفى سنة 1173 هـ
সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ আল-জাজায়েরি রচিত সুলাফাতুল আসর-এর পরিশিষ্ট
মৃত্যু ১১৭৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
1 -
السيد اسماعيل ابن السيد سعد الموسوي الحويزي (1) : نسب يضاهي البدر وحَسَب ينشرح به الصدر، وزهد وإخبات وورع، وفضل بلباس التقوى ادّرع، ومجد وشرف ومنقبة، وفطنة عن أسرار اللاّهوت منقّبة، وكرم حاتمي وشمم هاشمي، وطباع ما زاحمه فيها أحد ولا شاركه، وأخلاق تشهد أنّه فرع تلك الشجرة المباركة، وجدّ لا يشوبه هزل، وجود ما جاراه جواد إلاّ وزلّ، ذو نفس أبيّة، لا يداهن في الاُمور الحسبيّة، وله في القلوب وقع ومهابة، ما رأى من أحدٍ منكراً إلاّ مزّق اهابه.
--------------------------------------------
১ -
সাইয়্যিদ ইসমাঈল ইবনে আস-সাইয়্যিদ সা'দ আল-মুসাভী আল-হুয়াইযী (১) : এটি এমন এক বংশধারা যা পূর্ণিমার চাঁদের সাথে তুলনীয় এবং এমন আভিজাত্য যা হৃদয়কে প্রফুল্ল করে; তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখতা, বিনয় ও পরহেযগারীর প্রতিমূর্তি, এবং শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী যিনি তাকওয়ার বর্ম পরিহিত ছিলেন; তিনি ছিলেন গৌরব, মর্যাদা ও সুখ্যাতির অধিকারী এবং লাহুতের (ঈশ্বরীয় জগতের) রহস্যসমূহ উদ্ঘাটনে প্রজ্ঞাবান; তার দানশীলতা ছিল হাতিম তাঈর ন্যায় এবং আভিজাত্য ছিল হাশেমী বংশোচিত; তার স্বভাব ছিল অনন্য যাতে কেউ তার অংশীদার ছিল না, এবং তার চারিত্রিক মাধুর্য সাক্ষ্য দেয় যে তিনি সেই বরকতময় বৃক্ষের একটি শাখা; তার গাম্ভীর্যের মাঝে কোনো লঘুতা ছিল না এবং তার দানশীলতার সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে যেকোনো দানবীরই পদস্খলিত হতো; তিনি ছিলেন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি সম্মান ও আভিজাত্যের বিষয়ে কোনো আপোষ করতেন না; মানুষের হৃদয়ে তার বিশেষ প্রভাব ও গাম্ভীর্য ছিল এবং তিনি যখনই কারো মাঝে কোনো গর্হিত কাজ দেখতেন, তখনই তার কঠোর সমালোচনা করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ২০)
وكان رحمه الله منذ حلّ الشباب تميمته، قد عقد على اقتناء المعارف عزيمته، ففارق سكنه وهجر إلى بلاد العجم وطنه، واشتغل على مَن هناك من الجهابذة الطائر ذكرهم في الآفاق، كالملاّ رجب علي والملاّ شمسا الجيلاني وأمثالهما من حكماء الإشراق، إلى أن نبغ بين الأقران والأتراب، والتقط من فرائد فوائدهم ملء الكمّ والجيب والجراب. ثُمَّ رجع إلى أهله وجيرته محموداً في سريرته وسيرته، وكان في عنفوان أمره وريعان عمره قاصر الطرف على الفلسفة والمنطق، لا يلهج بغيرهما ولا ينطق، ولم يتفرّغ للعلوم السّمعية، إلاّ بعد ان أخلق البُردَ القشيب، وخرج من وراء الشباب إلى ذيول المشيب، فأسف حينئذٍ وندم، على تأخير ما أخّر وتقديم ما قدّم.
وقد بلغني من زهده وكرامته قدّس الله روحه، انّه كان في أوقات مجاورته بالحرمين الشريفين قد قلّ ماله، ورثّ حاله، وكان أحد عظماء العرب قد نذر لله مالاً جزيلاً يصرفه في وجوه القرب، فأتاه النبي صلى الله عليه وآله في الطيف وقال: ائتِ مسجد الخيف، وابغ رجلاً من أولادنا من حليته كذا وكذا فإذا اصبته بالوصف المذكور، فادفع إليه المال المنذور، فانتبه الرجل قرير العين، متأهّباً لقضاء الدين، وتوصّل إلى الموسم، يتخلّل الناس، ويتطلّعهم في الهيئة واللّباس، حتى وقع نظره عليه، فألقى سرّه وصرته إليه، فأنف السيد عن القبول، وقال دعني من هذا الفضول، لعلّك تجد في هذا الجمّ الغفير، أخصّ بهاتيك الصفات، وأحوج إلى هذا المال منّي بكثير، على أنّ
এবং তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—যৌবনের উন্মেষকাল থেকেই জ্ঞান অর্জনে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। ফলে তিনি তাঁর বাসস্থান ত্যাগ করেন এবং মাতৃভূমি ছেড়ে অনারব ভূখণ্ডের দিকে হিজরত করেন। সেখানে তিনি এমন সব বিদগ্ধ পণ্ডিতদের সান্নিধ্যে থেকে জ্ঞানচর্চা করেন যাঁদের সুখ্যাতি দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়েছিল; যেমন মোল্লা রজব আলী, মোল্লা শামসা জিলানি এবং তাঁদের মতো ইশরাকি দার্শনিকগণ। পরিশেষে তিনি তাঁর সমসাময়িক ও সহপাঠীদের মধ্যে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন এবং তাঁদের অমূল্য জ্ঞানরাশি দ্বারা স্বীয় জ্ঞানভাণ্ডার পূর্ণ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে ফিরে আসেন, যাঁর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক জীবন ছিল প্রশংসিত। জীবনের প্রারম্ভে ও যৌবনের পূর্ণতায় তিনি কেবল দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন; এই দুটি বিষয় ছাড়া তিনি অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা করতেন না। তিনি শ্রুতিনির্ভর শাস্ত্রসমূহের (উলুমুস সাময়িয়্যাহ) জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত অবকাশ পাননি যতক্ষণ না তাঁর যৌবনের সজীবতা ফুরিয়ে বার্ধক্যের ছায়া দীর্ঘতর হয়। তখন তিনি যা কিছু বিলম্বিত করেছেন এবং যা কিছু অগ্রগণ্য করেছেন, সে বিষয়ে আক্ষেপ ও অনুতাপ করেন।
তাঁর যুহদ (সংসারবিরাগ) ও কারামত সম্পর্কে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে—আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন—যে, হারামাইন শরীফাইনে অবস্থানকালে তাঁর অর্থকড়ি ফুরিয়ে গিয়েছিল এবং তিনি অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সে সময় জনৈক আরব সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে প্রচুর অর্থ ব্যয় করার মান্নত করেছিলেন। স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাছে এসে বললেন: "তুমি মসজিদে খাইফে যাও এবং আমাদের সন্তানদের (বংশধরদের) মধ্য থেকে এমন একজন ব্যক্তিকে খোঁজো যার শারীরিক বর্ণনা এরূপ এরূপ। যখন তুমি বর্ণিত গুণের সাথে মিলে যায় এমন ব্যক্তিকে পাবে, তখন মান্নতকৃত অর্থ তাঁকে প্রদান করো।" ফলে সেই ব্যক্তি আনন্দিত চিত্তে ও মান্নত পূরণের সংকল্প নিয়ে জাগ্রত হলেন। হজের মৌসুমে তিনি মানুষের ভিড়ের মধ্য দিয়ে পথ চলছিলেন এবং তাঁদের বেশভূষা ও অবয়ব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। অবশেষে তাঁর দৃষ্টি সেই ব্যক্তির ওপর পড়ল। তিনি তাঁর কাছে স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করলেন এবং অর্থের থলেটি অর্পণ করলেন। কিন্তু সেই সাইয়্যিদ তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে বললেন: "আমাকে এই অপ্রয়োজনীয় দান থেকে বিরত রাখুন; সম্ভবত এই বিশাল জনসমাবেশে আপনি এমন কাউকে পাবেন যার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যসমূহ আরও নিখুঁতভাবে রয়েছে এবং যিনি আমার চেয়েও এই অর্থের অনেক বেশি মুখাপেক্ষী। তাছাড়া..."
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ২১)
الرؤيا ليست بحاجّة ولا لي إلى مالك حاجة.
تُوفّي طاب ثراه في عشر المائة بعد الألف الهجرية بالحويزة، وقبره هناك معروف يُتبرّك به ويُزار، ويخفّف عن زائريه الأوزار، ولا يحضرني من شعره النفيس إلاّ قطعتان من التخميس وهما قوله:
وِصالُ سكّان نجدٍ مُنتهى غرضي
… وحبُّهم والهوى نفلي ومُفتَرضي
إِن كان قربُهُمُ وقفاً على حرضي
… يا ممرضي بربى نجدٍ أعد مَرضي
عسى يعودون عُوّداي وزوّاري
وقوله:
خلا الرّبعُ من أهل المودّة والوفا
… وقد كان قِدماً للكواعبِ مألفا
أيا جارتي ما بالُهُ ربعُهُ عفا
… كأنّ لم يَكُنْ بين الحُجُون إِلى الصَّفا
أنيسٌ ولم يسمُرْ بمكّةَ سامرُ
(1) * * *
--------------------------------------------
স্বপ্নটি কোনো প্রমাণ নয় এবং মালিকের কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই।
তিনি হিজরি এক হাজার একশ দশ সালে হুওয়াইজায় ইন্তেকাল করেন—তাঁর মাটি সুগন্ধিময় হোক। সেখানে তাঁর কবর সুপরিচিত, যা থেকে বরকত অন্বেষণ করা হয় এবং যিয়ারত করা হয়, আর যিয়ারতকারীদের পাপের বোঝা এর মাধ্যমে লাঘব করা হয়। তাঁর মূল্যবান কবিতা থেকে আমার কাছে 'তাখমিস' (পঞ্চপদী) এর কেবল দুটি অংশই উপস্থিত আছে, তা হলো তাঁর বাণী:
নজদবাসীদের সান্নিধ্য লাভই আমার চরম লক্ষ্য
… আর তাদের প্রতি মহব্বত ও অনুরাগ আমার নফল ও ফরজ।
যদি তাদের নৈকট্য আমার ধ্বংসের ওপরই স্থগিত থাকে
… হে নজদের টিলায় আমাকে রুগ্নকারী! আমার সেই রোগ পুনরায় ফিরিয়ে দাও।
যেন তারা পুনরায় আমার সেবাশুশ্রুষাকারী ও যিয়ারতকারী হিসেবে ফিরে আসে।
এবং তাঁর বাণী:
ভালোবাসা ও বিশ্বস্ত লোকদের থেকে বসতিটি শূন্য হয়ে গেছে
… অথচ এটি প্রাচীনকাল থেকেই সুন্দরী রমণীদের পরিচিত আবাসস্থল ছিল।
হে আমার প্রতিবেশী! তার বসতির কী হলো যে তা বিলীন হয়ে গেল
… যেন হুজুন থেকে সাফা পর্যন্ত কোনো—
সঙ্গী ছিল না এবং মক্কায় কোনো রাত্রিকালীন গল্পগুজবকারী গল্প বলেনি।
(১) * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ২২)
2 -
السيد شهاب الدين بن أحمد بن زيد بن عبد المحسنابن علي بن محمّد بن فلاح (1) الموسوي الحويزيشهاب الشَّرف الثاقب، ودرّي فلك المناقب، نسب أسنى من شمس الرابعة، وحسب أحيا مراتع الأدب ومرابعه، والمدوّن من شعره يناهز عشرة آلاف بيت، يكاد يحيا به الميت، ويعنو لها الفرزدق والكميْت، فمن محاسنها قوله في مطلع قصيدة يمدح بها النبي صلى الله عليه وآله وقد أنشدها حياله:
هذا العقيقُ وتلكَ شُمُّ رعانهِ
… فامزجْ لُجينَ الدَّمع من عقيانهِ
--------------------------------------------
২ -
আস-সায়্যিদ শিহাবউদ্দীন বিন আহমাদ বিন যায়দ বিন আব্দুল মুহসিনইবনে আলী বিন মুহাম্মদ বিন ফাল্লাহ (১) আল-মুসাভী আল-হুয়াইযীতিনি ছিলেন উজ্জ্বলতম সম্মানের নক্ষত্র এবং গুণাবলির আকাশের ভাস্বর মোতি। তার বংশমর্যাদা দ্বিপ্রহরের সূর্যের চেয়েও দীপ্তিময় এবং তার আভিজাত্য সাহিত্যের চারণভূমি ও আলয়গুলোকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। তার সংকলিত কবিতা প্রায় দশ হাজার পঙক্তির সমান, যা মৃতকেও যেন জীবিত করে তোলে এবং যার সামনে ফারযদাক ও কুমাইতের ন্যায় কবিরাও মাথা নত করে। তার কবিতার সৌন্দর্যের মধ্যে একটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি-এর প্রশংসায় রচিত কাসিদার সূচনাটি, যা তিনি তাঁর সম্মুখে আবৃত্তি করেছিলেন:
এটিই আকীক উপত্যকা এবং ঐগুলো তার সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়া...
… সুতরাং এর স্বর্ণাভ রূপের সাথে তোমার রৌপ্যবর্ণের অশ্রুকে মিশিয়ে দাও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وانزل فثمَّ معرّسٌ أبداً ترى
… فيه قلوبَ العشقِ من رُكبانه
واشمُمْ عبيرَ ترابهِ والثمْ حصىً
… في سفحهِ انتثرتْ عُقودُ جُمانه
واعدِلْ بنا نحَو الُمحصَّبِ من مِنى
… واحذر رُماة الغَنج من غزلانه
وتوقَّ فيه الطّعنَ إمّا من قنا
… فرسانهِ أو من قُدودِ حسانه
أكرِمْ به منْ مربعٍ مِنْ وردهِ ال
… وجناتُ والقاماتُ من أَغصانه
مغنى إذا غنّى حَمامُ أراكهِ
… رقصتْ به طرباً معاطفُ بانه
فلكٌ تنزّلَ فهوَ يُحسب بقعة
… أوَما تَرى الأقمارَ من سُكّانه
خضَب النجيعُ غزالَهُ وهِزَبْره
… هذا بوجنته وذا ببنانه
فلَئِنْ جهلتَ الحتفَ أينَ مَقرُّهُ
… سلني فأنّي عارفٌ بمكانه
هو في الجفون السّود من فتياتِه
… أو في الجفونِ البيض من فتيانه
অবতরণ করো, কারণ সেখানে চিরস্থায়ী বিশ্রামের স্থান; তুমি দেখবে
… সেখানে আরোহীদের ভালোবাসার অন্তরসমূহ
আর তার মাটির সুগন্ধ আঘ্রাণ করো এবং সেই কঙ্করসমূহ চুম্বন করো
… যার পাদদেশে মুক্তার হার বিচ্ছুরিত হয়েছে
আমাদের নিয়ে মিনার আল-মুহাসসাবের দিকে চলো
… আর সেখানকার হরিণদের লাস্যময় কটাক্ষ থেকে সতর্ক থেকো
সেখানে বর্শার আঘাত থেকে বেঁচে থাকো, চাই তা অশ্বারোহীদের বর্শা হোক
… অথবা সুন্দরীদের দেহবল্লরী
কতই না চমৎকার সেই চারণভূমি, যার গোলাপ হলো সুন্দরীদের
… গালসমূহ আর যার শাখা হলো তাদের দেহসৌষ্ঠব
এমন এক আবাস, যখন সেখানকার আরাক বৃক্ষের কপোত গান গায়
… তখন বানের ডালপালাগুলো আনন্দে নেচে ওঠে
এ যেন এক আকাশ যা নিচে নেমে এসেছে, তাই একে একটি ভূখণ্ড মনে করা হয়
… তুমি কি এর অধিবাসীদের মাঝে চাঁদদের দেখছ না?
তাজা রক্ত রঞ্জিত করেছে তার হরিণ ও সিংহকে
… একে তার গাল দিয়ে আর ওকে তার আঙুলের ডগা দিয়ে
যদি তুমি না জানো যে মৃত্যুর আবাস কোথায়
… তবে আমাকে জিজ্ঞেস করো, আমি তার ঠিকানা জানি
তা রয়েছে সেখানকার তরুণীদের কালো চোখের পাতায়
… অথবা তরুণদের সাদা চোখের পাতায়
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مَن لي برؤية أَوجُهٍ في أوجُهٍ
… حجبَ البعادُ شُموسَها بعنانه
بيضٌ إذا لعبت صباً بذيولِها
… حَملَ النسيمُ المسكَ في أَردانه
وقوله في مطلع قصيدة اُخرى يمدح بها النبي صلى الله عليه وآله أيضاً:
لا بَرّ في الحُبّ يا أهل الوَفا قسمي
… ولا وَفتْ للعُلى إنْ خُنتُكُمْ ذِمَمي
وإن صبوتُ إلى الأغيارِ بَعدَكمُ
… فلا ترقَّتْ إلى هاماتها هِممي
وإن خبتْ نارُ وجدي بالسُّلُو فلا
… وَرتْ زنادي ولا أَجرى النُّهى حِكَمي
ولا تعصفر لوني بالهوى كمداً
… إنْ لم يُوَرّده دمعي بعَدكمْ بدَمي
ولا جنت وردَ جنّات الدُّمى حدقِي
… إن لم تزرْكُمْ على شوكِ القَنا قدَمي
ولا رشفتُ الحُميّا من مراشفِها
… إنْ كان يصفو فؤادي بعد بُعدِكُمِ
ولا تلذّذتُ في مرّ العذاب بكم
… إن كان يعذب إلاّ ذكركمْ بفمي
وقوله أيضاً في مطلع قصيدة اُخرى:
কে আমাকে সাহায্য করবে সেই চেহারাগুলোর মাঝে কিছু চেহারা দর্শনে
… যাদের সূর্যকে দূরত্বের লাগাম আড়াল করে ফেলেছে।
তারা শুভ্রবরণা, যখন পুবালি বাতাস তাদের বস্ত্রের আঁচল নিয়ে খেলা করে
… তখন মলয় বাতাস তার আস্তিনে কস্তুরীর সুবাস বহন করে।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি-এর প্রশংসায় রচিত অন্য একটি কাসিদার প্রারম্ভে তাঁর আরও উক্তি:
হে বিশ্বস্তগণ! ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমার শপথ পূর্ণ হবে না
… এবং আমার অঙ্গীকারসমূহ শ্রেষ্ঠত্বের উচ্চতায় পৌঁছাবে না, যদি আমি তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করি।
আর তোমাদের পর যদি আমি অন্যদের প্রতি অনুরাগী হই
… তবে আমার সংকল্প যেন তার শিখরসমূহে উন্নীত না হয়।
যদি বিস্মৃতির ফলে আমার প্রেমের আগুন নির্বাপিত হয়
… তবে যেন আমার চকমকি পাথর অগ্নি স্ফুলিঙ্গ নির্গত না করে এবং আমার বুদ্ধি যেন আমার প্রজ্ঞাসমূহ জারি না করে।
আর প্রেমের বিষাদে আমার বর্ণ যেন রক্তিম না হয়
… যদি না তোমাদের বিরহে আমার অশ্রু রক্তের দ্বারা তাকে গোলাপী আভা দান করে।
আর আমার আঁখিতারা যেন মোহনীয় উদ্যানের গোলাপ চয়ন না করে
… যদি না আমার পা বর্শার কাঁটার উপর দিয়ে তোমাদের সাক্ষাতে অগ্রসর হয়।
আর আমি যেন সুধাপাত্র হতে পানীয় আস্বাদন না করি
… যদি তোমাদের বিরহ-দূরত্বের পর আমার হৃদয় নির্মল হয়ে যায়।
আর তোমাদের প্রেমে তিক্ত যন্ত্রণার মাঝেও আমি যেন তৃপ্তি না পাই
… যদি আমার মুখে তোমাদের স্মরণ ছাড়া অন্য কিছু মিষ্টি লাগে।
অন্য একটি কাসিদার প্রারম্ভে তাঁর আরও উক্তি:
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
حَفَرتْ بسيفِ الغَنجِ ذمِّةَ مِغفري
… وفَرَتْ برُمحِ القدِّ درعَ تصبُّري
وجلَتْ لنا من تحت مسكةِ خالها
… كافورَ فجرٍ شقَّ ليلَ العنبرِ
وغدت تذُبّ عن الرّضاب لحاظها
… فحمتْ علينا الحورُ وردَ الكوثر
ودنت إلى فمها أراقِمُ فرعِها
… فتكفّلت بحفاظ كنزِ الجوهر
يا حاملَ السيف الصّحيح إذا رنَتْ
… إيّاك ضربة جَفْنِها المتكسِّر
وتوقّ يا ربَّ القناة الطعنَ إنْ
… حَملت عليك من القوام بأَسمر
برزت فشِمْنا البرقَ لاحَ ملثّماً
… والبدرَ بين تَقَرْطُقٍ وتخمر
وسَعت فمرّ بنا الغزال مطوَّقاً
… والغصنُ بينَ مُوشَّحٍ ومؤزَّر
بأبي مراشفُها التي قد لُثِّمتْ
… فوقَ الأقاحي بالشقيق الأحمر
وبمهجتي الرَّوضُ المقيمُ بِمُقْلةٍ
… النُّعاس بها ذهابَ تحيُّر
তার লাবণ্যের তরবারিতে সে আমার শিরস্ত্রাণের সুরক্ষা বিদীর্ণ করেছে
… আর তার সুঠাম দেহের বল্লমে আমার ধৈর্যের বর্ম ছিন্নভিন্ন করেছে।
সে তার তিলের কস্তুরীর নিচ থেকে আমাদের সামনে
… ভোরের কর্পূর উদ্ভাসিত করেছে, যা আম্বরের ন্যায় অন্ধকার রাতকে বিদীর্ণ করেছে।
তার চোখের চাহনি তার ওষ্ঠাধরকে রক্ষা করতে শুরু করল,
… ফলে হুরগণ আমাদের জন্য কাউসারের প্রস্রবণে আসার পথ রুদ্ধ করে দিল।
তার অলকগুচ্ছের সর্পগুলো তার মুখের নিকটবর্তী হলো,
… আর তারা তার রত্নভাণ্ডার পাহারার দায়িত্ব গ্রহণ করল।
হে ধারালো তরবারির বাহক! যখন সে আড়চোখে তাকায়,
… তখন তার আনত চোখের পাতার আঘাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখো।
হে বর্শার অধিকারী! বর্শার আঘাত থেকে সাবধান থেকো, যখন সে
… তার শ্যামল তনুর বর্শা নিয়ে তোমার ওপর আক্রমণ করবে।
সে যখন প্রকাশ্যে এলো, তখন আমরা ঘোমটার আড়ালে বিজলি চমকাতে দেখলাম,
… আর তার শিরস্ত্রাণ ও ওড়নার মাঝে পূর্ণিমার চাঁদ উদিত হতে দেখলাম।
সে যখন দ্রুতপদে চলল, তখন এক অলংকারধারী হরিণ আমাদের পাশ দিয়ে গেল,
… আর কারুকার্যময় চাদর ও কটিবাসের মাঝে একটি দোদুল্যমান বৃক্ষশাখা (তার দেহ) আমাদের অতিক্রম করল।
আমার পিতা উৎসর্গ হোক তার সেই ওষ্ঠাধরের প্রতি, যা রক্তিম শাপলা দিয়ে
… শ্বেত চন্দ্রমল্লিকার ওপর আবৃত হয়েছে।
আমার প্রাণের বিনিময়ে সেই কানন যা চোখের মণিকোঠায় বিরাজমান,
… যার তন্দ্রাচ্ছন্নতা সকল কিংকর্তব্যবিমূঢ়তাকে বিদায় করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
تالله ما ذُكِرَ العقيق وأهلُه
… إلاّ وأجراهُ الغرامُ بمحْجَري
لولاه ما ذابت فرائدُ عبرتي
… بعد الجمود بحرّ نار تذكُّري
روحي الفداءُ لظبية الخدرِ التي
… بُنيَ الكَناسُ لها بغابِ القسور
لم انسَ زورتها ووجنات الدُّجى
… تنباع ذفراها بمسكٍ أذفَر
أمّت وقد هزّ السِّماكُ قناتَهُ
… وسطا الضياءُ على الظلام بخنْجر
والقوس معترضٌ أراشت سهمَهُ
… بقوادم النَّسرين أيدي المُشتري
طوراً أرى طوقي الذراعَ وتارةً
… منها أرى الكفَّ الخضيبَ بمُسوَر
حتى بدا كسرى الصباحَ وأدَبرتْ
… قومُ النجاشي عن عساكر قيصر
لمّا رأت روضَ البنفسجِ قد ذوى
… من ليلنا وزهت رياضُ العُصفر
والنجمُ غارَ على جوادٍ أدهمٍ
… والفجرُ أقبلَ فوقَ صهوةِ أشقر
আল্লাহর কসম, যখনই আল-আকিক ও তার অধিবাসীদের কথা স্মরণ করা হয়
… তখনই প্রেম-অনুরাগ আমার অশ্রুদ্বারে তা প্রবাহিত করে দেয়।
যদি তা না হতো, তবে আমার স্মৃতির আগুনের উত্তাপে জমাট বাঁধার পর
… আমার অশ্রুর অনন্য মুক্তোদানাগুলো গলে যেত না।
আমার প্রাণ উৎসর্গিত হোক সেই অন্তপুরবাসিনী হরিণীর জন্য, যার জন্য
… শার্দুল অরণ্যে নিরাপদ আবাস তৈরি করা হয়েছে।
আমি তার সেই আগমনের কথা ভুলিনি যখন নিশীথিনীর গণ্ডদেশ
… তার তীব্র কস্তুরীর ঘ্রাণে সুবাসিত হচ্ছিল।
সে উপস্থিত হয়েছিল যখন সিমাক নক্ষত্র তার বর্শা প্রকম্পিত করছিল
… আর আলো খঞ্জর নিয়ে অন্ধকারের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছিল।
ধনু রাশি তখন আড়াআড়িভাবে বিদ্যমান ছিল, যার তীরে পালক জুড়ে দিয়েছিল
… নসর নক্ষত্রদ্বয়ের অগ্রভাগের পালক দিয়ে বৃহস্পতির হাতসমূহ।
কখনও আমি যিরা (বাহু) নক্ষত্রকে আমার কণ্ঠহার হিসেবে দেখি, আবার কখনও
… তার মাঝে কঙ্কণ পরিহিত রঞ্জিত হস্ত দেখতে পাই।
অবশেষে যখন প্রভাতের কিসরা আবির্ভূত হলো এবং নাজ্জাশীর জাতি
… কায়সারের সেনাদলের সামনে থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল।
যখন সে দেখল যে আমাদের রজনী থেকে বনফশা ফুলের বাগান বিলীন হয়েছে
… আর কুসুম ফুলের বাগানগুলো প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে।
এবং নক্ষত্রটি একটি কৃষ্ণবর্ণের অশ্বে চড়ে বিদায় নিল
… আর উষা এক রক্তিম অশ্বের পিঠে চড়ে এগিয়ে এল।
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فزعتْ فضرّست العقيقَ بلؤلؤٍ
… سكنتْ فرائدهُ غديرَ السُّكّر
وتنهَّدتْ جزعاً فأثّر كفُّها
… في صدرِها فنظرْتُ مالَمْ أنظُر
أقلامَ مرجانٍ كتبنَ بعنبرٍ
… بصحيفة البلُّور خمسةَ أسطُر
وقوله أيضاً في مطلع قصيدة اُخرى:
سلْ ضاحكَ البرق ليلاً عن ثناياها
… فقدْ حكاها فهلْ يروي حكاياها
وهلْ درى كيف ربُّ الحُسن رتَّلها
… والجوهرُ الفردُ منهُ كيف جزّاها؟
وما سُقاة الطِّلا تدري إذا ابتسمت
… أيَّ الحيا بانَ عند الشّرب أشْهاها
وهل رياض الرُّبا تدري شقائقُها
… في خدّها أيَّ خالٍ في سُوَيْداها
وإن رأيتَ بُدور الحيِّ وهي بهمْ
… فحيِّ بالسرِّ عنّي وجهَ أحْياها
واقصد لُباناتِ نعمانٍ وجيرتَها
… واذكُرْ لبانات قلبي عند لُبناها
عرّج عليها عن الألباب ننشُدها
… فإنّنا منذُ أيامٍ فقدْناها
তিনি শংকিত হলেন এবং মুক্তা দ্বারা আকিক দংশন করলেন
… যার অনন্য দানাগুলো চিনির সরোবরে স্থির হয়েছে।
তিনি উদ্বেগে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, ফলে তাঁর হাতের তালু তাঁর বক্ষে দাগ কাটল
… তখন আমি এমন কিছু দেখলাম যা ইতিপূর্বে দেখিনি।
প্রবালের কলমগুলো আম্বর দিয়ে স্ফটিকের পত্রে
… পাঁচটি সারি লিখল।
এবং একটি অন্য কাসিদার প্রারম্ভে তাঁর উক্তিও নিম্নরূপ:
রাতে হাস্যোজ্জ্বল বিদ্যুৎকে তাঁর সম্মুখের দন্তরাজি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো
… সে তো তাঁর অনুকরণ করেছে, কিন্তু সে কি তাঁর কাহিনী বর্ণনা করতে পারে?
আর সে কি জানে সৌন্দর্যের প্রতিপালক কীভাবে সেগুলোকে সুবিন্যস্ত করেছেন
… এবং একক সত্তা তা থেকে কীভাবে অংশ নির্ধারণ করেছেন?
মদ্য পরিবেশনকারীরা জানে না যখন তিনি হাস্য করেন
… পান করার সময় কোন সলিল অধিক তৃপ্তিদায়ক মনে হয়।
উঁচু ভূমির উদ্যানসমূহ কি জানে তাদের রক্তিম পুষ্পরাজি
… তাঁর কপোলে, তাঁর হৃদয়স্থলে কোন তিল রয়েছে?
আর তুমি যদি জনপদের পূর্ণিমাগুলো দেখ যখন তিনি তাদের মাঝে থাকেন
… তবে আমার পক্ষ থেকে সংগোপনে তাদের মাঝে সবচেয়ে লাবণ্যময় মুখমণ্ডলকে অভিবাদন জানাও।
নু’মানের অভিলাষসমূহ ও তার প্রতিবেশীদের দিকে অভীষ্ট হও
… এবং তাঁর লুবনার নিকট আমার হৃদয়ের অভিলাষসমূহ ব্যক্ত করো।
তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করো, আমরা প্রজ্ঞাবানদের নিকট তাঁর সন্ধান করছি
… কেননা কয়েকদিন হলো আমরা তাদের হারিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقف على منزلٍ بالخيف نسأله
… عن أنفُسٍ وقلوبٍ ثَمَّ مثْواها
مَعاهدٌ كلَّما أمسيتُ غامرَها
… ليلاً وأصبحتُ مجنوناً بلَيْلاها
ومنها:
حتَّى نزلنا على الدّار التي شَرُفَتْ
… بمَن بها ولثمْنا دُرَّ حصْباها
فعارضتنا بدورٌ من فوارسها
… تحمي خدورَ شموسٍ منْ عَذاراها
ضِيفَانُهُم غيرَ أنّا لا نُريدُ قرَىً
… إلاّ قلوباً إليهم قد أضفناها
ما كان يجدي ولا يغني السّرى دَنِفاً
… لكنَّ حاجةَ نفسٍ قد قضيْناها
لم نشكُ من محن الدُّنيا إلى أحدٍ
… من البريَّة إلاّ كان إحداها
وقوله أيضاً في مطلع قصيدة اُخرى:
عُجْ بالعقيق وناد اُسد سُراتِهِ
… أسرى قلوبٍ في يَدَي ظَبياتِهِ
وابذِلْ به نقدَ الدُّموع عساهُمُ
… أنْ يُطلقوها رُشوةً لقُضاته
খাইফের একটি আবাসে তিনি অবস্থান করলেন, আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করি
… সেই সকল প্রাণ ও অন্তর সম্পর্কে যাদের আবাসস্থল সেখানে।
পরিচিত চত্বরসমূহ, যখনই আমি সন্ধ্যায় উপনীত হই তখন তার রাত আমাকে আচ্ছন্ন করে
… আর আমি তার লায়লার প্রেমে উন্মত্ত হয়ে ভোর করি।
এর মধ্য হতে:
পরিশেষে আমরা সেই গৃহে অবতরণ করলাম যা মহিমান্বিত হয়েছে
… তথায় অবস্থানকারীদের মাধ্যমে, আর আমরা তার মুক্তাসম কঙ্করাশি চুম্বন করলাম।
অতঃপর তাদের অশ্বারোহীদের মধ্য থেকে পূর্ণিমা চাঁদরা আমাদের সামনে আবির্ভূত হলো
… যারা কুমারীদের সূর্যসম পর্দানশীনদের হেফাযত করছিল।
আমরা তাদের মেহমান, তবে আমরা কোনো আতিথেয়তা কামনা করি না
… কেবল সেই অন্তরগুলো ব্যতীত যা আমরা তাদের কাছে সমর্পণ করেছি।
রুগ্ন প্রেমিকের জন্য নৈশভ্রমণ কোনো কাজে আসে না বা ফলপ্রসূ হয় না
… তবে আমরা আমাদের প্রাণের একটি প্রয়োজন পূরণ করেছি।
আমরা পৃথিবীর কোনো দুঃখ-কষ্টের অভিযোগ সৃষ্টির কারো কাছে করিনি
… তবে সে নিজেও সেই দুঃখ-কষ্টেরই একটি ছিল।
অন্য একটি কবিতার প্রারম্ভে তাঁর বাণীও অনুরূপ:
আকিক উপত্যকার দিকে মোড় নাও এবং তার শ্রেষ্ঠ সিংহদের ডাক দাও
… যারা তার হরিণীদের হাতে বন্দি হওয়া হৃদয়ের কয়েদি।
সেখানে অশ্রুরূপী মুদ্রা ব্যয় করো, হয়তো তারা
… বিচারকদের ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করে দেবে।
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
واسألهُمُ عمّا بهم صنع الهوى
… لشقائهنَّ به وجور وُلاته
هامت بواديه القلوبُ فأصبحت
… منّا النُّفوسُ تصيحُ في ساحاته
إن لم تُذقنا الموتَ أعينُ عِينِه
… كمداً فأصحانا لفي سكراته
تقضي وينشرنا هواهُ كأنّما
… نفسُ المسيح يهبُّ في نفحاته
حَرَمٌ بأجنحة النُّسور صيانةً
… عضّت كواسره على بيْضاته
وحمىً به نصبَ الهوى طاغوتَه
… فاحذر به إن جُزْتَ فتنةَ لاته
لم ندرِ أيُّهما أشدُّ إصابةً
… مُقلُ الغواني أمْ سهامُ رُماته
وقوله أيضاً من قصيدة اُخرى:
هذا الحمى فانزل على جرعائِهِ
… واحذَرْ ظُبا لفتات عِين ظبائِهِ
وانشُدْ به قلباً أضاعتهُ النَّوى
… من أضلعي فعساهُ في وعسائه
وسل الأراكَ الغضَّ عن روحٍ شكت
… حرَّ الجوى فلجتْ إلى أفيائه
তাদের জিজ্ঞেস করুন প্রবৃত্তি তাদের সাথে কী করেছে
… তাদের দুর্দশা এবং তার শাসকদের অন্যায়ের কারণে।
তার উপত্যকায় হৃদয়গুলো ব্যাকুল হয়েছে, ফলে আমাদের আত্মাগুলো তার প্রাঙ্গণে আর্তনাদ করছে।
যদি আয়তলোচনাদের আঁখি আমাদের মৃত্যু আস্বাদন না করায়
… তবে শোকের যন্ত্রণায় আমরা তো তার মরণ-নেশায় বিভোর।
সে বিনাশ করে এবং তার অনুরাগ আমাদের পুনর্জীবিত করে, যেন মসীহের ফুঁৎকার তার সুগন্ধে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ এক পবিত্র ভূমি যা ঈগলের ডানায় সুরক্ষিত
… তার শিকারী পাখিরা স্বীয় ডিম্বসমূহকে সযত্নে আঁকড়ে ধরেছে।
এ এমন এক চারণভূমি যেখানে প্রবৃত্তি তার মূর্তিকে স্থাপন করেছে
… সুতরাং তা অতিক্রম করার সময় এর 'লাত'-এর ফিতনা থেকে সতর্ক থাকুন।
আমরা জানি না কোনটি অধিক লক্ষ্যভেদী
… রূপসীদের আঁখি নাকি তার তীরন্দাজদের বাণ।
এবং অন্য একটি কাসিদা থেকে তাঁর উক্তি:
এই সেই সংরক্ষিত এলাকা, সুতরাং এর বালুকাময় প্রান্তরে অবতরণ করুন
… এবং এর হরিণনয়নাদের চাহনির তীক্ষ্ণতা থেকে সতর্ক থাকুন।
আর সেখানে এমন একটি হৃদয় অন্বেষণ করুন যাকে বিচ্ছেদ আমার পাঁজরের হাড় থেকে হারিয়ে দিয়েছে, হয়তো তা তার বালুময় প্রান্তরেই রয়েছে।
আর সতেজ আরাক বৃক্ষকে সেই প্রাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন যা বিরহ-তাপের অভিযোগ করেছে এবং তার ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
واقصد لُباناتِ الهوى فلعلَّنا
… نقضي لباناتِ الفؤاد التائه
واضمُم إليك خُدودَ أغصان النَّقا
… والثمْ ثغورَ الدرِّ من حَصْبائه
واسفح بذاك السفحِ حول غديرهِ
… دمعاً يُعسجدُ ذوبَ فضّةِ مائه
سقياً له من ملعبٍ بعقولنا
… وقلوبنا لعبتْ يدا أهوائه
مغنىً به تهوى القلوبُ كأنَّما
… يُذكي الهوى في الصبِّ بردُ هوائه
نفحاتهُ تبري الضرير كأنّما
… ريحُ القميصِ تهبّ من تلقائه
عهدي به ونجومُ أطرافِ القنا
… والبيضُ مُشرقةٌ على أحيائه
والاُسدُ تزأرُ في سُروج جياده
… والعِينُ تبغم في حجالِ نسائه
والطيفُ يطرقه فيعثر بالرَّدى
… تحت الدُّجى فيصدُّ عن إسرائه
والظلّ تقصره الصَّبا وتمدُّه
… والطير يُعرِبُ فيه لحنَ غنائه
وقوله أيضاً في مطلع قصيدة:
প্রেমের আকাঙ্ক্ষাগুলো অন্বেষণ করো, হয়তো আমরা এই বিভ্রান্ত হৃদয়ের কামনাগুলো চরিতার্থ করতে পারব।
পবিত্র প্রান্তরের শাখাগুলোর গালকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে নাও, আর তার ক্ষুদ্র কঙ্কর থেকে মুক্তাসদৃশ দন্তপাটিগুলোতে চুম্বন করো।
সেই পাহাড়ের পাদদেশে জলাশয়ের সন্নিকটে অশ্রু বিসর্জন দাও, যা তার রূপালি পানির প্রবাহকে স্বর্ণাভ করে দেবে।
সিক্ত হোক সেই ক্রীড়াভূমি যেখানে আমাদের বুদ্ধি ও হৃদয়ের সাথে তার প্রবৃত্তিগুলোর হাত খেলা করেছে।
এমন এক আবাস যেখানে হৃদয়গুলো অনুরাগী হয়, যেন তার শীতল বাতাস প্রেমিকের হৃদয়ে প্রেমের আগুনকে আরও প্রদীপ্ত করে।
এর সুগন্ধি অন্ধকে আরোগ্য দান করে, যেন সেই জামার ঘ্রাণ তার দিক থেকে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর সাথে আমার সেই সময়ের স্মৃতি জড়িয়ে আছে, যখন বর্শার অগ্রভাগের নক্ষত্ররাজি এবং উজ্জ্বল তলোয়ারসমূহ তার বসতিগুলোর ওপর দীপ্তি ছড়াচ্ছিল।
ক্ষিপ্র ঘোড়াগুলোর জিনের ওপর সিংহরা গর্জন করছিল এবং আয়তলোচনা সুন্দরীরা তাদের পর্দার আড়ালে গুঞ্জন করছিল।
রাতের কাল্পনিক ছায়া সেখানে আসার চেষ্টা করলে অন্ধকারের নিচে ধ্বংসের মুখে পড়ে হোঁচট খায় এবং তার নৈশভ্রমণ রুদ্ধ হয়ে যায়।
পুবালি বাতাস তার ছায়াকে কখনো সংকুচিত আবার কখনো প্রসারিত করে, আর পাখি তাতে তার সংগীতের সুর লহরী প্রকাশ করে।
একটি কাসিদার প্রারম্ভে তাঁর আরও পঙ্ক্তি:
(খণ্ড: ১)
তাযয়ীলু সুলাফাতিল আসর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
روتْ عن تراقيها العقودُ عن النَّحرِ
… محاسنَ ترويها النجومُ عن الفَجرِ
وحدَّثنا عن خالِها مِسْكُ صدْغِها
… حديثاً رواهُ اللَّيل عن كلْفَة البدر
وركَّبَ منها الثَّغرُ أفرادَ جُمْلةٍ
… حكاها فَمُ الإبريق عن حَبَبِ الخمر
ولي مدمعٌ في حُبِّها لو بكى الحَيا
… به نبتَ الياقوت في صدفِ الدُّرّ
لقد غصبت منها القرونُ ليالياً
… من الدَّهر لولا طولُها قلتُ من عُمري
أما وسُيُوفٍ للحُتُوف بجفنها
… تُجرَّدُ عن غمدٍ وتُغْمَدُ في سحْر
وهُدْبٍ تسقَّى نَبْلُه سمَّ كُحلها
… فذبّ بشوك النَّحل عن شَهْدَة الثَّغر
وصِمْنَةُ قُلبٍ غصّ منها بمِعْصَمٍ
… ووسواسُهُ الخنّاس ينفثُ في صدري
وطوْقُ نُضار يستسرُّ هلاله
… مع الفجر تحت الشَّمس في غسقِ الشِّعر
لفي القلب منّي لوعةٌ لو تجنُّها
… حشا المُزْن أمسى قَطْرُها شررَ الجمْر
وهو من صنائع ملوك الحُوَيزة السيد علي خان وبنيه
হারসমূহ তার কণ্ঠাস্থি হতে এবং গলদেশ হতে বর্ণনা করেছে
… এমন সব সৌন্দর্য যা নক্ষত্ররাজি ভোরের নিকট হতে বর্ণনা করে।
তার কানের লতির নিকটস্থ কস্তুরী আমাদের নিকট তার তিল সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে
… এমন এক উপাখ্যান যা রজনী বর্ণনা করেছে পূর্ণিমার চাঁদের কলঙ্ক হতে।
তার মুখমণ্ডল যেন এক পূর্ণাঙ্গ বাক্যের অংশসমূহ বিন্যস্ত করেছে
… যা সুরাপাত্রের মুখ মদের বুদবুদ হতে বর্ণনা করেছে।
তার প্রেমে আমার এমন অশ্রু রয়েছে যে, যদি মেঘমালা তা নিয়ে রোদন করত
… তবে মুক্তার ঝিনুকে ইয়াকুত মণি উৎপন্ন হতো।
মহাকাল তার নিকট হতে অনেক রজনী ছিনিয়ে নিয়েছে
… যদি সেগুলোর দীর্ঘতা না থাকত, তবে আমি বলতাম তা আমার জীবনকাল হতে নেওয়া।
শপথ তার চোখের পাতার সেই মরণ-কৃপাণসমূহের
… যা কোষমুক্ত করা হয় এবং জাদুর মাঝে কোষবদ্ধ করা হয়।
এবং এমন চোখের পাপড়ি যার তীরসমূহ সুরমার বিষে সিক্ত
… যা মৌমাছির হুল দিয়ে ওষ্ঠাধরের মধুভাণ্ডারকে পাহারা দিচ্ছে।
আর হাতের চুড়ির সংবদ্ধতা যা কবজিকে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে
… এবং তার প্ররোচনাকারী কুমন্ত্রণা আমার বক্ষে ফুঁক দিচ্ছে।
আর স্বর্ণালঙ্কার যার অর্ধচন্দ্র আত্মগোপন করে
… ভোরের শুভ্রতায় সূর্যের নিচে চুলের ঘন অন্ধকারে।
আমার হৃদয়ে এমন এক দহন রয়েছে, যদি মেঘমালা তা ধারণ করত
… তবে তার বারিবিন্দুগুলো জ্বলন্ত অঙ্গারের স্ফুলিঙ্গে পরিণত হতো।
এটি হুওয়াইযার নৃপতি সৈয়দ আলী খান ও তাঁর সন্তানদের সাহিত্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত।