(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
علل الدارقطني = العلل الواردة في الأحاديث النبوية القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: العلل الواردة في الأحاديث النبوية.
المؤلف: أبو الحسن علي بن عمر بن أحمد بن مهدي بن مسعود بن النعمان بن دينار البغدادي الدارقطني (ت 385 هـ)
المجلدات من الأول، إلى الحادي عشر
تحقيق وتخريج: محفوظ الرحمن زين الله السلفي [ت 1418 هـ]
الناشر: دار طيبة - الرياض.
الطبعة: الأولى 1405 هـ - 1985 م.
والمجلدات من الثاني عشر، إلى الخامس عشر
علق عليه: محمد بن صالح بن محمد الدباسي
الناشر: دار ابن الجوزي - الدمام
الطبعة: الأولى، 1427 هـ
كتب الحواشي السفلية (عدا مقدمة التحقيق): محمود خليل.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইলাল আদ-দারাকুতনী = আল-ইলাল আল-ওয়ারিদাহ ফিল আহাদিস আন-নববীইয়াহ বিভাগ: ইলাল ও হাদিস বিষয়ক প্রশ্নাবলি
কিতাব: আল-ইলাল আল-ওয়ারিদাহ ফিল আহাদিস আন-নববীইয়াহ।
লেখক: আবুল হাসান আলী বিন উমর বিন আহমদ বিন মাহদী বিন মাসউদ বিন নুমান বিন দীনার আল-বাগদাদী আদ-দারাকুতনী (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি)
প্রথম থেকে একাদশ খণ্ড পর্যন্ত
তাহকিক ও তাখরিজ: মাহফুজুর রহমান জাইনুল্লাহ আস-সালাফি [মৃত্যু ১৪১৮ হিজরি]
প্রকাশক: দারু তয়্যেবা - রিয়াদ।
সংস্করণ: প্রথম ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ।
এবং দ্বাদশ থেকে পঞ্চদশ খণ্ড পর্যন্ত
টীকা সংযোজন: মুহাম্মদ বিন সালেহ বিন মুহাম্মদ আদ-দাব্বাসী
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি - দাম্মাম
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি
পাদটীকা লিখেছেন (তাহকিকের ভূমিকা ব্যতীত): মাহমুদ খলিল।
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى 1405 هـ - 1985 م دار طيبة الرياض - شارع عسير - ص. ب. 7612
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ দার তাইবা রিয়াদ - আসির রোড - পো. বক্স: ৭৬১২
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
العلل الواردة في الاحاديث النبوية تَأْلِيفُ الشَّيْخِ الْإِمَامِ الْحَافِظِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بن عمر ابن أَحْمَدَ بْنِ مَهْدِيٍّ الدَّارَقُطْنِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى (306 - 385 هـ) " هو أجل كتاب، بل أجل ما رأيناه وضع في هذا الفن لم يسبق إليه مثله، وقد أعجز من يريد أن يأتي بعده ".
(ابن كثير) تحقيق وتخريج د.
محفوظ الرحمن زين الله السلفي الجزء الاول
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীসসমূহে বিদ্যমান ত্রুটিসমূহ; রচনায়: শায়খ ইমাম হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে আহমাদ ইবনে মাহদী আদ-দারা কুতনী রাহিমাহুল্লাহু তাআলা (৩০৬ - ৩৮৫ হিজরী)। "এটি সবচেয়ে মহান কিতাব, বরং এই শিল্পে আমাদের দেখা শ্রেষ্ঠতম রচনা যার অনুরূপ ইতিপূর্বে কেউ রচনা করতে পারেনি, এবং এটি তার পরবর্তী লেখকদের জন্য এক প্রকার চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
(ইবনে কাসীর) সম্পাদনা ও তথ্যসূত্র যাচাইকরণে: ডক্টর
মাহফুজুর রহমান জয়নুল্লাহ আস-সালাফী, প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، ومن يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أَنَّ لَا إِلَهَ إلَاّ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَريك له، وأشهد أن مُحمدا عبده ورسوله.
أما بعد فان أحسن الكتاب كِتَابُ اللَّهِ وَأَحْسَنُ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحمد صلى الله عليه وسلم، وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلُّ محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار.
وبعد، فقد لفت نظري أثناء عملي في " تلخيص العلل المتناهية " الجودة التي حواها كتاب العلل الدارقطني مع ما كنت قد علمته أثناء دراستي من الثناء والمدح اللذين أضفاهما العلماء على هذا الكتاب، وتأكد لدي هذا عندما دققت النظر في الكتاب بعد مناقشة رسالتي لاختيار موضوع للدكتوراة فترجع لدي أن الكتاب يجب أن يخرج للناس لاسد به حاجة وأبرز درة ثمينة أرى المكتبة الاسلامية بحاجة إليها فهو يجلي العلة ويبرزها، وقد تحققت في هذا الكتاب، هذا وقد تكاتفت جهود الدارقطني مع البرقاني وابن الكرخي على إنجاز هذا العمل، وزادت الرغبة عند ما سبرت الكتاب فعلمت أَنه يمتاز عن بَقيَّة عن بَقيَّة الكتب المطبوعة في هذا الفن ويزيد عليها سعة (1) وشمولا واستيعابا وتنظيما.
فرأيت العمل في هذا القسم وسأقوم مستقبلا - إِن شاء الله - بإتمامه وإبرازه سائلا المولى أن يوفق ويسدد فبيده الامر، وإليه المرجع والمال.
--------------------------------------------
ভূমিকাপরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ; আর প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর, "তালখিসুল ইলালিল মুতানাহিয়াহ" সংক্ষেপন করার কাজ চলাকালে ইমাম দারাকুতনীর "আল-ইলাল" কিতাবটিতে যে অনন্য বৈশিষ্ট্য ও মান বিদ্যমান তা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এর পাশাপাশি আমার ছাত্রাবস্থায় আলেমদের নিকট থেকে এই কিতাবটি সম্পর্কে যে ভূয়সী প্রশংসা শুনেছিলাম তাও আমার জানা ছিল। আমার ডক্টরেট গবেষণার বিষয় নির্বাচনের জন্য কিতাবটি গভীরভাবে পর্যালোচনার পর আমার মাঝে এই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে যে, এই কিতাবটি জনসম্মুখে আসা আবশ্যক। এর মাধ্যমে আমি যেমন একটি প্রয়োজন পূরণ করতে পারব, তেমনি ইসলামি পাঠাগারের জন্য একটি অত্যন্ত মূল্যবান রত্নও উপহার দিতে পারব যা বর্তমান সময়ের দাবি। কেননা এই কিতাবটি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বা ইল্লাতসমূহকে অত্যন্ত নিপুণভাবে উন্মোচন করে। আমি এই কিতাবটি যথাযথভাবে তাহকিক বা সম্পাদনা করেছি। ইমাম দারাকুতনীর এই কর্মটি সম্পন্ন করতে আল-বারকানী এবং ইবনুল কারখীর প্রচেষ্টাও সক্রিয় ছিল। যখন আমি কিতাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম, তখন আমার আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেল। আমি উপলব্ধি করলাম যে, ইলমুল ইলাল বা হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক শাস্ত্রের অন্যান্য মুদ্রিত কিতাবসমূহের তুলনায় এই কিতাবটি অধিকতর প্রশস্ত, ব্যাপক, সুবিন্যস্ত এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ।
তাই আমি এই খণ্ডটির কাজ শুরু করেছি এবং ভবিষ্যতে - ইনশাআল্লাহ - এটি সম্পন্ন ও প্রকাশ করব। আমি মহান রবের নিকট তৌফিক ও সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করছি; কারণ সকল কর্তৃত্ব তাঁরই হাতে এবং প্রত্যাবর্তন ও শেষ গন্তব্য তাঁরই নিকট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وختاما أقدم شكري وامتناني إلى كل من قدم لي عونا من الاساتذة والاخوة في إخراج هذا الكتاب الجليل، وأخص بالذكر:
1 - فضيلة الدكتور محمود أَحمد ميرة - حفظه الله - (المشرف على رسالتي الماجستير والدكتوراهـ) .
2 - فضيلة الشيخ حماد مُحمد الأَنصاري - حفظه الله -.
3 - فضيلة الدكتور أكرم ضياء العُمَريّ - حفظه الله -.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
পরিশেষে, এই মহিমান্বিত কিতাবটি প্রকাশের ক্ষেত্রে যেসব শিক্ষক ও ভাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন, আমি তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি; বিশেষভাবে উল্লেখ করছি:
১ - পরম শ্রদ্ধেয় ডক্টর মাহমুদ আহমাদ মীরা - আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন - (আমার মাস্টার্স ও ডক্টরেট গবেষণাপত্রের তত্ত্বাবধায়ক)।
২ - পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ হাম্মাদ মুহাম্মদ আল-আনসারী - আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন।
৩ - পরম শ্রদ্ধেয় ডক্টর আকরাম জিয়া আল-উমারী - আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন।
এবং আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
تراجم لكل من:
1 - الدارقطني 2 - البرقاني 3 - ابن الكرخي
নিম্নোক্ত প্রত্যেকের জীবনীসমূহ:
১ - আদ-দারাকুতনী ২ - আল-বারকানী ৩ - ইবনুল কারখী
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ترجمة الدارقطني
اسمه ونسبه:هو الإمام، حافظ الزمان، أمير المؤمنين في الحديث، علي بن عمر بن أحمد ابن مهدي بن مسعود بن النعمان بن دينار بن عَبد الله، أَبو الحسن الدارقطني (2) الشافعي (3) مولده: ولد لخمس خلون من ذي القعدة سنة ست (4) وثلاثمائة (5) في دار قطن ببغداد.
نشأته: اعتني بطلب العلم منذ نعومة أظفاره، واهتم بالحديث وعلومه، وبالغ في اهتمامه، فبدأ يتردد على مجالس العلماء وعمره لم يتجاوز العشرة، فهو يمشي خلف المتعطشين إلى العلم وبيده رغيف وعليه إدام، وعندما يمنع من الدخول يقعد على
--------------------------------------------
আদ-দারাকুতনীর জীবনীতাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন ইমাম, সমকালের হাফিজ, হাদীসশাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন, আলী ইবনে উমর ইবনে আহমাদ ইবনে মাহদী ইবনে মাসউদ ইবনে নুমান ইবনে দীনার ইবনে আবদুল্লাহ, আবুল হাসান আদ-দারাকুতনী আশ-শাফিঈ। তাঁর জন্ম: তিনি তিনশত ছয় হিজরী সনের যিলকদ মাসের পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বাগদাদের দার আল-কুতন নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
বেড়ে ওঠা: তিনি শৈশব থেকেই জ্ঞান অন্বেষণে মনোনিবেশ করেন এবং হাদীস ও এর সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন। এ বিষয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল অপরিসীম। ফলে তাঁর বয়স দশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি উলামায়ে কিরামের মজলিসে যাতায়াত শুরু করেন। তিনি জ্ঞানপিপাসুদের পেছনে পেছনে হাঁটতেন, এমতাবস্থায় তাঁর হাতে থাকতো এক টুকরো রুটি ও তরকারি। যখন তাঁকে মজলিসে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হতো, তখন তিনি বসে পড়তেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الباب ويبكي.
فهو كما حكى لنا يوسف القواس (6) " كنا نمر إلى البغوي (7) والدارقطني صبي يمشي خلفنا، بيده رغيف وعليه كامخ (8) ، فدخلنا إلى ابن منيع (9) ومنعناه، فقد فقعد على الباب ويبكي (10) ".
وكان من صغره موصوفا بالحفظ الباهر والفهم الثاقب، والبحر الزاخر (11) حضر في حداثته مجلس إسماعيل الصفار، فجلس ينسخ جزءا كان معه وإسماعيل يملي، فقال له بعض الحاضرين: لا يصح سماعك وأنت تنسخ، فقال الدارقطني: فهمي للاملاء أحسن من فهمك وأحضر، ثم قال له ذلك الرجل: أتحفظ كم أملى حديثا؟ فقال: إنه أملى ثمانية عشر حديثا إلى الان، والحديث الاول منها عن فلان، ثم ساقها كلها بأسانيدها وألفاظها لم يخرم منها شيئا، فتعجب الناس منه (12) .
ودأب على طلب العلم حتى صار فريد عصره، وقريع دهره، ونسيج
وحده، وإمام وقته في أسماء الرجال وأحوال الرواة وصناعة التعليل والجرح والتعديل وحسن التصنيف والتأليف، واتساع الرواية والاطلاع التام في الدراية، مع الصدق والامانة، والفقه والعدالة، وقبول الشهادة، وصحة الاعتقاد وسلامة المذهب (13) .
ورسخ في معرفة الحديث وعلله حتى صار من أحسن من تكلم في الحديث وعلله (14)
--------------------------------------------
দরজা এবং সে কাঁদছে।
তিনি তেমনই ছিলেন যেমনটি ইউসুফ আল-কাওয়াস (৬) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: "আমরা আল-বাগাওয়ীর (৭) নিকট যেতাম আর আদ-দারাকুতনী আমাদের পেছনে পেছনে আসতেন এক বালক হিসেবে, তাঁর হাতে থাকত একটি রুটি যার ওপর কামাখ (এক ধরণের ব্যঞ্জন) (৮) মাখানো থাকত। আমরা ইবনে মানী’র (৯) নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে (প্রবেশ করতে) বাধা দিলাম, ফলে তিনি দরজায় বসে কাঁদতে লাগলেন (১০)।"
তিনি শৈশব থেকেই বিস্ময়কর মুখস্থশক্তি, প্রখর ধীশক্তি এবং প্রগাঢ় জ্ঞানসমুদ্র (১১) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি তাঁর কিশোর বয়সে ইসমাঈল আস-সাফফারের মজলিসে উপস্থিত হন এবং সেখানে বসে তাঁর সাথে থাকা একটি পাণ্ডুলিপি নকল করতে থাকেন, অন্যদিকে ইসমাঈল তখন হাদীস পাঠ করে শোনাচ্ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে কেউ একজন তাঁকে বললেন: "তুমি যখন নকলের কাজে ব্যস্ত, তখন তোমার শ্রবণ (হাদীস গ্রহণ) শুদ্ধ হবে না।" তখন আদ-দারাকুতনী বললেন: "হাদীস শ্রবণের ব্যাপারে আমার বুঝ ও মনোযোগ আপনার চেয়ে অনেক বেশি ও প্রখর।" এরপর সেই ব্যক্তি তাঁকে বললেন: "তিনি এ পর্যন্ত কতটি হাদীস পাঠ করেছেন তা কি তোমার মুখস্থ আছে?" তিনি বললেন: "তিনি এখন পর্যন্ত আঠারোটি হাদীস পাঠ করেছেন, যার মধ্যে প্রথম হাদীসটি অমুক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত..." এরপর তিনি সবগুলো হাদীস তাদের সনদ ও মূল পাঠসহ ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করে গেলেন এবং এর কোনো কিছুই তিনি বাদ দেননি। এতে উপস্থিত লোকজন তাঁর ওপর বিস্মিত হলো (১২)।
তিনি ইলম অর্জনে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, এমনকি তিনি তাঁর যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব, সময়ের শ্রেষ্ঠ পুরুষ, স্বীয় সত্তায় অতুলনীয় এবং বর্ণনাকারীদের নাম ও তাঁদের অবস্থা, হাদীসের ত্রুটি নিরূপণ বিদ্যা, জরাহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও যাচাই), সুন্দর গ্রন্থ সংকলন ও রচনা, বর্ণনার ব্যাপকতা এবং হাদীসের মর্ম উদ্ধারে পূর্ণ পারদর্শিতার ক্ষেত্রে স্বীয় সময়ের ইমামে পরিণত হয়েছিলেন। এর সাথে যুক্ত ছিল তাঁর সততা ও আমানতদারিতা, ফিকহ ও ন্যায়পরায়ণতা, সাক্ষ্য প্রদানের গ্রহণযোগ্যতা, আকিদার বিশুদ্ধতা এবং সঠিক মানহাজ (১৩)।
তিনি হাদীস এবং এর ত্রুটিসমূহ (ইলমুল ইলাল) সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, এমনকি তিনি হাদীস ও এর ত্রুটিসমূহ নিয়ে আলোচনাকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিতে পরিণত হন (১৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وفي الوقت نفسه اهتم بدراسة علم القراءآت، فأخذ القراءة عرضا وسماعا عن مُحمد بن النقاش (15) وعلي بن سَعيد القزاز (16) ، ومن في طبقتهما، وأصبح على معرفة جيدة بالقراءات وأصولها ومسائلها وبرع فيها براعة بالغة جعلت الناس يقولون: إِن الدارقطني يخرج مقرئ البلاد.
فقد حَدَّثَنا عن نفسه فقال: " كنت أنا والكتاني (17) نسمع الحديث، فكانوا يقولون: يخرج الكتاني محدث البلاد، ويخرج الدارقطني مقرئ البلاد، فخرجت أنا
محدثا والكتاني مقرئا " (18) .
وكان الدارقطني مضطلعا بعلم القراءات فصنف فيها كتابا موجزا جمع الاصول في أبواب عقدها أول الكتاب، حتى قيل فيه: لم يسبق أَبو الحسن إلى طريقته التي سلكها في عقد الابواب المقدمة في أول القراءات، وصار القراء بعده يسلكون طريقته في تصانيفهم ويحذون حذوه (19) .
كما أَنه كان مضطلعا بالفقه، فإنه كان فقيها على مذهب الإمام الشافعي، تفقه على أَبي سَعيد الاصطخري (20) الفقيه الشافعي، وقيل: بل أخذه عن صاحب لابي سعيد (21) .
وكان عارفا باختلاف العلماء ومذاهبهم، فهو كما قال الخطيب (22) : " فان كتاب السنن الذي صنفه يدل على أَنه كان ممن اعتنى بالفقه، لانه لا يقدر على جمع
--------------------------------------------
একই সময়ে তিনি কিরাআত শাস্ত্রের অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন। তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আন-নাককাশ (১৫) এবং আলি ইবনে সাঈদ আল-কাযযায (১৬) ও তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের নিকট থেকে পাঠদান (আরদ) ও শ্রবণের (সামা) মাধ্যমে কিরাআত গ্রহণ করেন। তিনি কিরাআত, এর মূলনীতি ও মাসায়েল সম্পর্কে সুগভীর জ্ঞান অর্জন করেন এবং এতে এমন পারদর্শিতা লাভ করেন যে লোকেরা বলতে শুরু করে: নিশ্চয়ই দারাকুতনী দেশের শ্রেষ্ঠ ক্বারী হিসেবে আবির্ভূত হবেন।
তিনি নিজের সম্পর্কে আমাদের কাছে বর্ণনা করে বলেন: "আমি এবং আল-কাত্তানী (১৭) হাদিস শ্রবণ করতাম। তখন লোকেরা বলত: কাত্তানী দেশের মুহাদ্দিস হিসেবে এবং দারাকুতনী দেশের ক্বারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি মুহাদ্দিস হিসেবে এবং কাত্তানী ক্বারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলাম।" (১৮)।
দারাকুতনী কিরাআত শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন এবং তিনি এই বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেন। সেখানে তিনি গ্রন্থের শুরুতে বিন্যস্ত পরিচ্ছেদগুলোতে এর মূলনীতিগুলো একত্রিত করেছেন। এমনকি তার সম্পর্কে বলা হয়েছে: আবুল হাসান (দারাকুতনী) কিরাআতের শুরুতে ভূমিকার পরিচ্ছেদসমূহ বিন্যাসের যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, তাতে ইতিপূর্বে কেউ তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। তার পরবর্তী ক্বারীগণ তাদের রচনায় তার পদ্ধতি অনুসরণ করেন এবং তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন (১৯)।
তেমনিভাবে তিনি ফিকহ শাস্ত্রেও পারদর্শী ছিলেন। তিনি ইমাম শাফেয়ীর মাযহাবের ফকীহ ছিলেন। তিনি শাফেয়ী ফকীহ আবু সাঈদ আল-ইসতাখরী (২০) এর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি আবু সাঈদের জনৈক ছাত্রের কাছ থেকেও ফিকহ গ্রহণ করেছেন (২১)।
তিনি আলেমদের মতভেদ ও মাযহাবসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। যেমনটি খতীব (২২) বলেছেন: "নিশ্চয়ই তার সংকলিত সুনান গ্রন্থটি প্রমাণ করে যে, তিনি ফিকহের প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান ছিলেন; কেননা এটি সংগ্রহ করা সম্ভব নয়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ما تضمن ذلك الكتاب إلَاّ من تقدمت معرفته بالاختلاف في الاحكام (23) ".
وبجانب هذه العلوم فقد اعتنى بدراسة النحو وكتب اللغة والشعر، فإنه كان يحفظ دواوين جماعة من الشعراء.
(24) قال الخطيب: حَدَّثني الازهري (25) : " أَن أبا الحسن لما دخل مصر كان بها شيخ علوي من أَهل مدينة رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ له: مسلم بن عُبَيد الله وكان عنده كتاب النسب عن الخضر بن داؤد عن الزبير بن بكار (26) وكان مسلم أحد الموصوفين بالفصاحة، المطبوعين على العربية، فسأَل الناس أبا الحسن أن يقرأ عليه كتاب النسب، ورغبوا في سماعه بقراءته.
فأجابهم إلى ذلك واجتمع في مجلس من كان بمصر من أَهل العلم والادب والفضل، فحرصوا على أن يحفظوا على أَبي الحسن لحنة، أَو يظفروا منه بسقطة، فلم يقدروا على ذلك، حتى جعل مسلم يعجب ويقول له: وعربية أَيضًا (27) ".
وكان الدارقطني مدرسة قائمة خرجت العديد من الحفاظ والعلماء، وقد أتاحت له معرفته العظيمة الواسعة بعلوم الحديث وغيره مكانة مرموقة بين أساتيذ العصر، فأمه طلبة العلم من كل حدب وصوب.
وتصدر في آخر أيامه للاقراء ببغداد (28) .
--------------------------------------------
সেই কিতাব কেবল তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করেছিল যাদের বিধানের মতপার্থক্য সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান ছিল (২৩)।
এই সকল ইলমের পাশাপাশি তিনি নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (ভাষা) ও কবিতার কিতাব অধ্যয়নের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন; কেননা তিনি একদল কবির কাব্যগ্রন্থ (দেওয়ান) মুখস্থ রাখতেন।
(২৪) খতিব বলেন: আজহারী (২৫) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: "আবুল হাসান যখন মিসরে প্রবেশ করেন, তখন সেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহরের অধিবাসী জনৈক আলভী শায়খ ছিলেন, যাকে মুসলিম বিন উবাইদুল্লাহ বলা হতো। তার নিকট খিজর বিন দাউদ থেকে জুবাইর বিন বাক্কারের (২৬) বর্ণিত কিতাবুন নাসাব (বংশপরিচয় সংক্রান্ত গ্রন্থ) ছিল। মুসলিম ছিলেন বিশুদ্ধভাষী এবং আরবি ভাষার স্বভাবজাত পারদর্শীদের অন্যতম। তখন লোকেরা আবুল হাসানকে তার সামনে কিতাবুন নাসাব পাঠ করার অনুরোধ করলেন এবং তারা তার পাঠের মাধ্যমে তা শুনতে চাইলেন।
তিনি তাদের অনুরোধে সাড়া দিলেন এবং মিসরের ইলম, আদব ও ফযিলতের অধিকারী ব্যক্তিগণ সেই মজলিসে সমবেত হলেন। তারা আবুল হাসানের কোনো ভাষাগত ভুল ধরার অথবা তার কোনো বিচ্যুতি খুঁজে পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করলেন, কিন্তু তারা তাতে সক্ষম হলেন না। এমনকি মুসলিম বিস্মিত হয়ে তাকে বলতে লাগলেন: আর আপনি আরবিতেও পারদর্শী! (২৭)"।
দারা কুতনী ছিলেন এক জীবন্ত প্রতিষ্ঠান, যা থেকে বহু হাফেজ ও আলেম তৈরি হয়েছে। হাদিস শাস্ত্র ও অন্যান্য ইলমের বিষয়ে তার বিশাল ও গভীর জ্ঞান তাকে সমসাময়িক উস্তাদদের মাঝে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত করেছিল, ফলে ইলম অন্বেষণকারীরা চারদিক থেকে তার কাছে ছুটে আসতেন।
তিনি তার জীবনের শেষভাগে বাগদাদে পাঠদানের জন্য আসীন হয়েছিলেন (২৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
رحلاته:ارتحل الإمام الدارقطني إلى الكوفة (29) والبصرة (30) وواسط (31) وتنيس (32) ، كما ارتحل في كهولته إلى الشام ومصر (33) وخوزستان (34) وجاء إلى مكة حاجا فاستفاد وأفاد (35) .
شيوخه:سمع أَبو الحسن الدارقطني من خلق كثير لا يحصون، والمشايخ الذين روى عنهم في كتاب العلل يربو عددهم على مائتين، منهم:
1 - ابراهيم بن أَحمد بن الحسن القرميسيني (ت: 358 هـ) (36) .
2 - ابراهيم بن حماد بن إِسحاق، أَبو إِسحاق الازدي (ت 323 هـ) (37) .
3 - أَحمد بن إِسحاق بن البهلول، أَبو جعفر القاضي (ت 318 هـ) (38) .
4 - أَحمد بن العباس بن أَحمد، أَبو الحسن البغوي (ت: 322 هـ) (39) .
5 - أَحمد بن عَبد الله بن مُحمد، أَبو بكر وكيل أبي الصخرة (ت: 325 هـ) .
--------------------------------------------
তাঁর সফরসমূহ:ইমাম দারা কুতনী কুফা (২৯), বসরা (৩০), ওয়াসিত (৩১) এবং তিন্নীসে (৩২) সফর করেছেন। এছাড়াও তিনি প্রৌঢ়াবস্থায় শাম ও মিশরে (৩৩) এবং খুজিস্তানে (৩৪) সফর করেন। তিনি হাজি হিসেবে মক্কায় আসেন এবং সেখানে জ্ঞান অর্জন করেন ও জ্ঞান দান করেন (৩৫)।
তাঁর উস্তাদগণ:আবুল হাসান দারা কুতনী অসংখ্য মানুষের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন যাদের গণনা করা সম্ভব নয়। ‘কিতাবুল ইলাল’-এ তিনি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন এমন উস্তাদদের সংখ্যা দুই শরও বেশি। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - ইবরাহিম বিন আহমদ বিন আল-হাসান আল-কারমিসিনি (মৃত্যু: ৩৫৮ হি.) (৩৬)।
২ - ইবরাহিম বিন হাম্মাদ বিন ইসহাক, আবু ইসহাক আল-আজদি (মৃত্যু: ৩২৩ হি.) (৩৭)।
৩ - আহমদ বিন ইসহাক বিন আল-বাহলুল, আবু জাফর আল-কাদি (মৃত্যু: ৩১৮ হি.) (৩৮)।
৪ - আহমদ বিন আল-আব্বাস বিন আহমদ, আবু হাসান আল-বাগাওয়ি (মৃত্যু: ৩২২ হি.) (৩৯)।
৫ - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, আবু বকর ওয়াকিল আবি আস-সাখরা (মৃত্যু: ৩২৫ হি.)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
6 - أَحمد بن عيسى بن السكين بن فيروز، أَبو العباس الشيباني (ت: 323 هـ) (41) .
7 - أَحمد بن مُحمد بن سَعيد، أَبو العباس، ابن عقدة (ت: 323 هـ) (42) .
8 - أَحمد بْنُ مُحمد بْنِ عَبد اللَّهِ بْنِ زياد، أَبو سهل القَطَّان (ت: 350 هـ) (43) .
9 - أَحمد بْنُ نَصْرِ بْنِ طَالِبٍ، أَبو طَالِبٍ الحافظ (ت: 323 هـ) (44) .
10 - إسماعيل بن مُحمد بن إسماعيل الصفار (ت: 341 هـ) (45) .
11 - حسين بن إسماعيل، أَبو عَبد الله القاضي المحاملي (ت: 330 هـ) (46) .
12 - الحسين بن مُحمد بن سَعيد، أَبو عَبد الله البزار المعروف بابن المطبقي (ت: 328 هـ) (47) .
13 - دعلج بن أَحمد بن دعلج، أَبو إِسحاق المعدل (ت: 351 هـ) (48) .
14 - عَبد الله بن مُحمد بن زياد، أَبو بكر النيسابوري (ت: 324 هـ) (49) .
15 - عَبد اللَّهِ بْنُ مُحمد بْنِ سَعيد بْنِ زياد، أَبو مُحمد المقري (ت: 323 هـ) (50) .
16 - عَبد اللَّهِ بْنُ مُحمد بْنِ عَبد الْعَزِيزِ، أَبو القاسم البغوي (ت 317 هـ) (51) .
17 - علي بن عَبد الله بن مبشر، أَبو الحسن الواسطي (ت: 324 هـ) (52) .
--------------------------------------------
৬ - আহমদ ইবনে ঈসা ইবনুল সুক্কাইন ইবনে ফিরোজ, আবু আল-আব্বাস আশ-শাইবানি (মৃত্যু: ৩২৩ হিজরি) (৪১)।
৭ - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ, আবু আল-আব্বাস, ইবনে উকদাহ (মৃত্যু: ৩২৩ হিজরি) (৪২)।
৮ - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ, আবু সাহল আল-কাত্তান (মৃত্যু: ৩৫০ হিজরি) (৪৩)।
৯ - আহমদ ইবনে নাসর ইবনে তালিব, আবু তালিব আল-হাফিয (মৃত্যু: ৩২৩ হিজরি) (৪৪)।
১০ - ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আস-সাফফার (মৃত্যু: ৩৪১ হিজরি) (৪৫)।
১১ - হুসাইন ইবনে ইসমাইল, আবু আব্দুল্লাহ আল-কাদি আল-মাহামিলি (মৃত্যু: ৩৩০ হিজরি) (৪৬)।
১২ - আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ, আবু আব্দুল্লাহ আল-বাযযার, যিনি ইবনুল মাতবাকি নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৩২৮ হিজরি) (৪৭)।
১৩ - দা'লাজ ইবনে আহমদ ইবনে দা'লাজ, আবু ইসহাক আল-মুআদ্দিল (মৃত্যু: ৩৫১ হিজরি) (৪৮)।
১৪ - আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ, আবু বকর আন-নিসাবুরি (মৃত্যু: ৩২৪ হিজরি) (৪৯)।
১৫ - আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে জিয়াদ, আবু মুহাম্মদ আল-মুকরি (মৃত্যু: ৩২৩ হিজরি) (৫০)।
১৬ - আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ, আবু আল-কাসিম আল-বাগাওয়ি (মৃত্যু: ৩১৭ হিজরি) (৫১)।
১৭ - আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবাশির, আবু আল-হাসান আল-ওয়াসিতি (মৃত্যু: ৩২৪ হিজরি) (৫২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
18 - القاسم بن إسماعيل، أَبو عُبَيد المحاملي (ت 323 هـ) (53) .
19 - مُحمد بن عَبد الله بن إِبراهيم، أَبو بكر الشافعي (ت: 354 هـ) (54) .
20 - مُحمد بن مخلد بن حفص، أَبو عَبد الله الدوري العطار (ت: 331 هـ) (55) .
21 - يَحيَى بن مُحمد بن صاعد، أَبو مُحمد الهاشمي (ت: 318 هـ) (56) .
22 - يعقوب بن إِبراهيم بن أَحمد، أَبو بكر البزاز (*) (ت: 322 هـ) (57) .
تلامذته:سمع من الدارقطني عدد كثير من الحفاظ والفقهاء وغيرهم، أكتفي بذكر نماذج منهم:
1 - أَحمد بن عَبد الله بن أَحمد، أَبو نُعَيم الأصبهاني (ت 430 هـ) (58) .
2 - أَحمد بن مُحمد بن غالب، أَبو بكر البرقاني (ت: 425 هـ) .
3 - تمام بن مُحمد بن عُبَيد الله بن جعفر الرازي (ت: 414 هـ) (59) .
4 - حمزة بن مُحمد بن طاهر بن يُونُس، أَبو طاهر الدقاق (ت: 424 هـ) (60) .
5 - حمزة بن يوسف بن موسى، أَبو القاسم السهمي (ت: 427 هـ) (61) .
6 - الحسن بن علي بن مُحمد بن الحسن بن عَبد الله، أبو محمد الجوهري.
(ت: 454 هـ) (62) .
--------------------------------------------
১৮ - আল-কাসিম বিন ইসমাইল, আবু উবাইদ আল-মাহামিলি (মৃত্যু ৩২৩ হিজরি) (৫৩)।
১৯ - মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম, আবু বকর আশ-শাফিঈ (মৃত্যু: ৩৫৪ হিজরি) (৫৪)।
২০ - মুহাম্মদ বিন মাখলাদ বিন হাফস, আবু আবদুল্লাহ আদ-দুরি আল-আত্তার (মৃত্যু: ৩৩১ হিজরি) (৫৫)।
২১ - ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ, আবু মুহাম্মদ আল-হাশিমী (মৃত্যু: ৩১৮ হিজরি) (৫৬)।
২২ - ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম বিন আহমদ, আবু বকর আল-বাযযায (*) (মৃত্যু: ৩২২ হিজরি) (৫৭)।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:আদ-দারাকুতনীর নিকট থেকে অসংখ্য হাফেজ, ফকিহ এবং অন্যান্যরা হাদীস শ্রবণ করেছেন, আমি তাঁদের মধ্য থেকে কিছু দৃষ্টান্ত উল্লেখ করার ওপর ক্ষান্ত হচ্ছি:
১ - আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ, আবু নুআইম আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি) (৫৮)।
২ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন গালিব, আবু বকর আল-বারকানি (মৃত্যু: ৪২৫ হিজরি)।
৩ - তাম্মাম বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন জাফর আর-রাজি (মৃত্যু: ৪১৪ হিজরি) (৫৯)।
৪ - হামযা বিন মুহাম্মদ বিন তাহির বিন ইউনুস, আবু তাহির আদ-দাক্কাক (মৃত্যু: ৪২৪ হিজরি) (৬০)।
৫ - হামযা বিন ইউসুফ বিন মুসা, আবু আল-কাসিম আস-সাহমি (মৃত্যু: ৪২৭ হিজরি) (৬১)।
৬ - আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আবদুল্লাহ, আবু মুহাম্মদ আল-জাওহারি।
(মৃত্যু: ৪৫৪ হিজরি) (৬২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
7 - عَبد الغني بن سَعيد الازدي الحافظ (ت: 409 هـ) (63) .
8 - عَبد بن أَحمد بن مُحمد، أَبو ذر الهَرَوي (ت: 434 هـ) (64) .
9 - عُبَيد الله بن أَحمد بن عُثمان، أَبو القاسم الازهري (ت: 435 هـ) (65) .
10 - مُحمد بن الحسين بن مُحمد، أَبو عَبد الرَّحمَن السلمي (ت: 412 هـ) (66) .
11 - مُحمد بن عَبد الله بن مُحمد، أَبو عَبد الله الحاكم (ت: 405 هـ) (67) .
12 - مُحمد بن عَبد الملك بن بِشران، أَبو بكر القرشي (ت: 448 هـ) (68) .
ثناء العلماء عليه: قال الحاكم: " صار الدارقطني أوحد عصره في الحفظ والورع، وإماما في القراء والنحويين، وأقمت في سنة سبع وستين ببغداد أَربعة أشهر، وكثر اجتماعنا فصادفته
فوق ما وصف لي، وسأَلته عن العلل والشيوخ، وله مصنفات يطول ذكرها، فأشهد أَنه لم يخلف على أديم الارض مثله " (69) .
وقال أيضا: " لم ير الدارقطني مثل نفسه " (70) .
وقال عَبد الغني الازدي: " ما تكلم أحد على الحديث وعلله أحسن من كلام ثلاثة: علي بن المديني وموسى بن هارون (71) وعلي بن عُمَر الدارقطني " (72) .
وقال الازهري: " كان الدارقطني ذكيا إذا ذوكر شيئا من العلم - أي نوع
--------------------------------------------
৭ - আবদুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আজদি আল-হাফিজ (মৃত্যু: ৪০৯ হিজরি) (৬৩) ।
৮ - আবদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, আবু যার আল-হারাউয়ি (মৃত্যু: ৪৩৪ হিজরি) (৬৪) ।
৯ - উবাইদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান, আবুল কাসিম আল-আজহারি (মৃত্যু: ৪৩৫ হিজরি) (৬৫) ।
১০ - মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ, আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি (মৃত্যু: ৪১২ হিজরি) (৬৬) ।
১১ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম (মৃত্যু: ৪০৫ হিজরি) (৬৭) ।
১২ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক ইবনে বিশরান, আবু বকর আল-কুরাশি (মৃত্যু: ৪৪৮ হিজরি) (৬৮) ।
আলেমদের নিকট তাঁর প্রশংসা: আল-হাকিম বলেছেন: "দারাকুতনি হিফজ (স্মৃতিশক্তি) ও পরহেজগারিতে তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন এবং তিনি কিরাত বিশেষজ্ঞ ও ব্যাকরণবিদদের ইমাম ছিলেন। আমি (হিজরি) সাতষট্টি সালে বাগদাদে চার মাস অবস্থান করেছি। আমাদের মধ্যে প্রচুর সাক্ষাৎ হতো, ফলে আমি তাঁকে আমার নিকট যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছিল তার চেয়েও ঊর্ধ্বে পেয়েছি। আমি তাঁকে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) এবং শায়খদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তাঁর অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে যা বর্ণনা করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ভূপৃষ্ঠে তিনি তাঁর মতো আর কাউকে উত্তরসূরি রেখে যাননি।" (৬৯) ।
তিনি আরও বলেছেন: "দারাকুতনি তাঁর নিজের মতো আর কাউকে দেখেননি।" (৭০) ।
আবদুল গনি আল-আজদি বলেছেন: "হাদিস এবং এর সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) সম্পর্কে তিন ব্যক্তির চেয়ে উত্তম আলোচনা আর কেউ করেনি: আলী ইবনে আল-মাদিনি, মুসা ইবনে হারুন (৭১) এবং আলী ইবনে উমর আদ-দারাকুতনি।" (৭২) ।
আল-আজহারি বলেছেন: "দারাকুতনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন যখনই জ্ঞানের কোনো বিষয় নিয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করা হতো - যেকোনো প্রকারেরই হোক না কেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
كان - وجد عنده منه نصيب وافر " (73) .
قال السلمي: " شهدت بالله أن شيخنا الدارقطني لم يخلف على أديم الارض مثله في معرفة حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَذَلِكَ الصحابة والتابعين وأتباعهم " (74) .
قال الخطيب: " كان فريد عصره، وقريع دهره، ونسيج وحده، وإمام وقته، انتهى إليه علم الاثر والمعرفة بعلل الحديث، وأسماء الرجال وأحوال الرواة، مع الصدق
والامانة، والفقه والعدالة، وقبول الشهادة، وصحة الاعتقاد وسلامة المذهب، والاضطلاع بعلوم سوى علم الحديث " (75) .
قال ابن عساكر (76) : " الحافظ، أوحد وقته في الحفظ " (77) .
وقال ابن الجوزي (78) : " كان فريد عصره وإمام وقته، انتهى إليه علم الاثر والمعرفة بأسماء الرجال وعلل الحديث " (79) .
وقال أيضا: " اجتمع له مع علم الحديث المعرفة بالقراءات والنحو والفقه والشعر مع الامانة والعدالة وصحة العقيدة " (80) .
وقال ابن خلكان (81) : " الحافظ المشهور، كان عالما حافظا فقيها ".
وقال أيضا: " انفرد بالامامة في علم الحديث في دهره، ولم ينازعه في ذلك أحد
--------------------------------------------
ছিল - তাঁর কাছে এর পর্যাপ্ত অংশ পাওয়া যেত (৭৩)।
আস-সুলামী বলেন: "আমি আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের শায়খ আদ-দারা কুতনী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস এবং তদ্রূপ সাহাবী, তাবিঈ ও তাঁদের অনুসারীদের আছার বা বর্ণনা বিষয়ক জ্ঞানে পৃথিবীর বুকে তাঁর মতো আর কাউকে উত্তরসূরী হিসেবে রেখে যাননি" (৭৪)।
আল-খাতীব বলেন: "তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী, তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি, অনন্যসাধারণ এবং তাঁর সময়ের ইমাম। আছার বিষয়ক ইলম, হাদীসের ত্রুটিসমূহ (ইলল) চিহ্নিতকরণ, বর্ণনাকারীদের নাম ও তাঁদের অবস্থা বিষয়ক জ্ঞান তাঁর কাছে এসে সমাপ্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি সত্যবাদিতা,
আমানতদারিতা, ফিকহ ও ন্যায়পরায়ণতা, সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্যতা, আকিদার বিশুদ্ধতা, মাযহাবের সঠিকতা এবং হাদীস শাস্ত্র ছাড়াও অন্যান্য জ্ঞানে পারদর্শিতার অধিকারী ছিলেন" (৭৫)।
ইবনে আসাকির (৭৬) বলেন: "তিনি ছিলেন হাফেয, হিফয বা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তাঁর সময়ের একক ব্যক্তিত্ব" (৭৭)।
ইবনুল জাওযী (৭৮) বলেন: "তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অদ্বিতীয় এবং সময়ের ইমাম। আছার বিষয়ক ইলম, বর্ণনাকারীদের নাম ও হাদীসের ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান তাঁর কাছে এসে পৌঁছে শেষ হয়েছিল" (৭৯)।
তিনি আরও বলেন: "হাদীস শাস্ত্রের পাশাপাশি তাঁর মধ্যে কিরাআত, নাহু (ব্যাকরণ), ফিকহ ও কবিতা বিষয়ক জ্ঞান একত্রিত হয়েছিল, সাথে ছিল আমানতদারিতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আকিদার বিশুদ্ধতা" (৮০)।
ইবনে খাল্লিকান (৮১) বলেন: "সুপ্রসিদ্ধ হাফেয, তিনি ছিলেন একজন আলিম, হাফেয ও ফকীহ।"
তিনি আরও বলেন: "তিনি তাঁর যুগে হাদীস শাস্ত্রে ইমামতির ক্ষেত্রে একক ছিলেন এবং এ বিষয়ে কেউ তাঁর সাথে দ্বিমত করেনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
من نظرائه " (82) .
قال الذهبي (83) : " الإمام، شيخ الاسلام، حافظ الزمان " (84) .
وقال أيضا: " كان من بحور العلم ومن أئمة الدنيا، انتهى إليه الحفظ ومعرفة علل الحديث ورجاله مع التقدم في القراءات وطرقها وقوة المشاركة في الفقه
والاختلاف والمغازي وأيام الناس وغير ذلك " (85) .
وقال ابن كثير (86) : " الحافظ الكبير، أستاذ هذه الصناعة، وقبله بمدة وبعده إلى زماننا هذا، سمع الكثير، وجمع وصنف وألف وأجاد وأفاد، وأحسن النظر والتعليل والانتقاد والاعتقاد، وكان فريد عصره، ونسيج وحده، وإمام دهره في أسماء الرجال وصناعة التعليل، والجرح والتعديل، وحسن التصنيف والتأليف، واتساع الرواية والاطلاع التام في الدراية " (87) .
وقال السخاوي (88) : " وبه ختم معرفة العلل " (89) .
مؤلفاته: إن الإمام الدارقطني صنف وألف في فنون عديدة في الحديث وعلومه وأسماء الرجال والقراءآت، وكان حسن التصنيف والتأليف (90) ، وله مؤلفات عديدة أكتفي
--------------------------------------------
তাঁর সমসাময়িকদের মধ্য থেকে।" (৮২) ।
যাহাবী (৮৩) বলেন: "তিনি ইমাম, শায়খুল ইসলাম এবং জামানার হাফেজ।" (৮৪) ।
তিনি আরও বলেন: "তিনি ইলমের সমুদ্রসমূহের মধ্য থেকে এবং দুনিয়ার ইমামদের অন্যতম ছিলেন। হিফজ (স্মৃতিশক্তি), হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি এবং বর্ণনাকারীদের জ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি চরম শিখরে পৌঁছেছিলেন। সেই সাথে তিনি কিরাত ও তার পদ্ধতিসমূহে অগ্রগামী ছিলেন এবং ফিকহ, মতপার্থক্য, মাগাজি (যুদ্ধাভিযান), ইতিহাসের ঘটনাবলী এবং অন্যান্য বিষয়েও তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল।"
(৮৫) ।
ইবনে কাসির (৮৬) বলেন: "তিনি মহান হাফেজ, এই শাস্ত্রের ওস্তাদ—তাঁর পূর্বের এক দীর্ঘ সময় হতে আমাদের এই সময় পর্যন্ত। তিনি প্রচুর হাদিস শুনেছেন, সংকলন করেছেন, গ্রন্থনা করেছেন, রচনা করেছেন এবং তাতে উৎকর্ষ সাধন করেছেন ও উপকৃত করেছেন। তিনি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, কারণ অনুসন্ধান (তালীলে হাদিস), সমালোচনা এবং আকিদার ক্ষেত্রে উত্তম ছিলেন। তিনি তাঁর যুগের অদ্বিতীয় এবং অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আসমাউর রিজাল (বর্ণনাকারীদের পরিচয়), হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিশ্লেষণ, জারহ ওয়া তাদীল (বর্ণনাকারীদের দোষ-গুণ বিচার) এবং সুন্দর গ্রন্থনা ও রচনার ক্ষেত্রে তিনি তাঁর জামানার ইমাম ছিলেন। সেই সাথে তাঁর বর্ণনার ব্যাপকতা এবং শাস্ত্রীয় জ্ঞানে পূর্ণ অবগতি ছিল।" (৮৭) ।
সাখাভী (৮৮) বলেন: "তাঁর মাধ্যমেই হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞানের সমাপ্তি ঘটেছে।" (৮৯) ।
তাঁর রচনাবলী: ইমাম দারাকুতনী হাদিস, হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা, আসমাউর রিজাল এবং কিরাত শাস্ত্রের বহু বিষয়ে গ্রন্থনা ও রচনা করেছেন। তাঁর গ্রন্থনা ও রচনার শৈলী ছিল অত্যন্ত চমৎকার (৯০), এবং তাঁর অসংখ্য রচনাবলী রয়েছে, আমি শুধু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بذكر نماذج منها (91) :
1 - أحاديث الصفات (92) .
2 - أحاديث النزول (93) .
3 - الافراد (94) .
4 - الالزامات (95) .
5 - التتبع (96) .
6 - الروية (97) .
7 - سؤالات البرقاني للدارقطني (98) .
8 - سؤالات الحاكم له (99) .
9 - سؤالات السلمي له (100) .
10 - سؤالات السهمي له (101) .
11 - السنن (102) .
--------------------------------------------
সেগুলোর কিছু নমুনার উল্লেখ (৯১):
১ - গুণাবলি সংক্রান্ত হাদিসসমূহ (৯২)।
২ - (আল্লাহর) অবতরণ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ (৯৩)।
৩ - আল-আফরাদ (৯৪)।
৪ - আল-ইলযামাত (৯৫)।
৫ - আত-তাতাব্বু (৯৬)।
৬ - আর-রুইয়াহ (আল্লাহর দিদার সংক্রান্ত) (৯৭)।
৭ - আদ-দারাকুতনীর নিকট আল-বারকানীর প্রশ্নসমূহ (৯৮)।
৮ - তাঁর নিকট আল-হাকিমের প্রশ্নসমূহ (৯৯)।
৯ - তাঁর নিকট আস-সুলামীর প্রশ্নসমূহ (১০০)।
১০ - তাঁর নিকট আস-সাহমীর প্রশ্নসমূহ (১০১)।
১১ - আস-সুনান (১০২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
12 - الضعفاء والمتركون (4) .
13 - العلل الواردة في الأَحاديث النبوية (5) .
14 - غرائب مالك (6) .
15 - المؤتلف والمختلف في أسماء الرجال (7) .
وفاته: توفي الإمام الدارقطني في شهر ذي القعدة سنة خمس وثمانين وثلاثمائة (8) وصلى عليه أَبو حامد الاسفرائيني الفقيه (9) ، ودفن في مقبرة باب الدير، قريب من معروف الكرخي (10) رحمهما الله وجعل الجنة مثواهما.
* * *
--------------------------------------------
১২ - আদ-দুয়াফা ওয়াল-মাতরুকুন (৪)।
১৩ - আল-ইলাল আল-ওয়ারিদাহ ফিল আহাদিস আন-নাবাবিয়্যাহ (৫)।
১৪ - গরাইব মালিক (৬)।
১৫ - আল-মু তালিফ ওয়াল মুখতালিফ ফী আসমাইল রিজাল (৭)।
তাঁর মৃত্যু: ইমাম দারাকুতনী ৩৮৫ হিজরীর জিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন (৮) এবং ফকীহ আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনী তাঁর জানাজা পড়ান (৯)। তাঁকে বাবুল দাইর কবরস্থানে মারুফ আল-কারখীর (১০) কবরের নিকটে দাফন করা হয়; আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং জান্নাতকে তাঁদের আবাসস্থল করুন।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ترجمة البرقاني
اسمه ونسبه:هو: أَحمد بن مُحمد بن أَحمد بن غالب، أَبو بكر الخوارزمي (11) ، المعروف بالبرقاني (12) ، الشافعي (13) .
مولده: ولد بخوارزم في آخر سنة ست (14) وثلاثين وثلاثمائة (15) .
نشأته: وجه اهتمام منذ صغره لعلم الفقه، فتفقه في حداثته، وتقدم في هذا الفن وبرع حتى صنف فيه (16) .
--------------------------------------------
আল-বারকানির জীবনীতাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন: আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন গালিব, আবু বকর আল-খাওয়ারিজমি (১১), যিনি আল-বারকানি (১২) নামে পরিচিত, শাফেয়ি (১৩)।
জন্ম: তিনি তিনশত ছত্রিশ হিজরি সনের শেষভাগে (১৪) (১৫) খাওয়ারিজমে জন্মগ্রহণ করেন।
বেড়ে ওঠা: শৈশব থেকেই তিনি ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেন, ফলে তিনি তাঁর যৌবনেই ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। এই বিদ্যায় তিনি অনেক অগ্রসর হন এবং পারদর্শিতা লাভ করেন, এমনকি তিনি এই বিষয়ে গ্রন্থও রচনা করেন (১৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
سمع ببلده خوارزم من أَبي العباس مُحمد بن أَحمد بن حمدان النيسابوري (17) في سنة خمسين وثلاثمائة (18) عندما كان عمره يربو على أَربعة عشر عاما.
ثم اشتغل بالحديث (19) وعلومه، واعتنى بها عناية فائقة، فسمع أولا في بلده ثم سافر إلى بغداد وبلدان أخرى، وسمع الحديث من جماعة من الشيوخ ببغداد وجرجان واسفرائين ونيسابور وهراة ومرو، ودمشق ومصر وغيرها (20) حتى صار في الحديث إماما (21) .
وكان شغوفا بعلم الحديث، حريصا عليه، حتى أصبع شغله الشاغل، وخشي أن يصرفه عن بَقيَّة العلوم فقال لبعض الفقهاء: ادع الله أن ينزع شهوة الحديث من قلبي، فإن حبه قد غلب علي فليس لي اهتمام بالليل والنهار إلَاّ به " أَو نحو هذا القول (22) .
ودأب في طلب الحديث وتحمل المشاق في سبيله، فهو كما يقول: " دخلت اسفرائين ومعي ثلاثة دنانير ودرهم واحد، فضاعت الدنانير مني وبقي معي الدرهم حسب، فدفعته الى بقال، وكنت آخذ منه في كل يوم رغيفين، وآخذ من بشر بن أَحمد (23) جزءا من حديثه، وأدخل مسجد الجامع فأكتبه وأنصرف بالعشي، وقد فرغت منه، فكتبت في مدة شهر ثلاثين جزءا، ثم نفد ما كان لي عند البقال فخرجت عن البلد " (24) .
وقد اعتنى بعلوم أخرى فكان حافظا للقرآن، وكان له حظ من علم
--------------------------------------------
তিনি তাঁর নিজ শহর খোয়ারেজমে আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন হামদান আন-নাইসাবুরি (১৭) থেকে ৩৫০ হিজরি সনে (১৮) হাদীস শ্রবণ করেন, যখন তাঁর বয়স চৌদ্দ বছরেরও বেশি ছিল।
অতঃপর তিনি হাদীস (১৯) ও এর ইলমসমূহ নিয়ে ব্যস্ত হন এবং এর প্রতি অত্যন্ত যত্নবান হন। তিনি প্রথমে তাঁর নিজ শহরে হাদীস শ্রবণ করেন, তারপর বাগদাদ ও অন্যান্য শহরে ভ্রমণ করেন। তিনি বাগদাদ, জুরজান, ইসফারায়িন, নাইসাবুর, হেরাত, মার্ভ, দামেস্ক, মিশর এবং অন্যান্য স্থানের একদল শায়খের কাছ থেকে হাদীস শ্রবণ করেন (২০), এমনকি তিনি হাদীস শাস্ত্রে একজন ইমামে (২১) পরিণত হন।
তিনি হাদীস শাস্ত্রের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ও আগ্রহী ছিলেন, এমনকি এটিই তাঁর প্রধান ব্যস্ততায় পরিণত হয়। তিনি এটি তাঁকে অন্যান্য জ্ঞানচর্চা থেকে বিমুখ করবে বলে আশঙ্কা করেছিলেন, তাই তিনি জনৈক ফকীহকে বলেছিলেন: "আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমার অন্তর থেকে হাদীসের প্রতি এই আসক্তি দূর করে দেন, কারণ এর ভালোবাসা আমার ওপর এমনভাবে প্রবল হয়েছে যে, দিন-রাত এটি ছাড়া আমার আর কোনো চিন্তা নেই" অথবা এই জাতীয় কোনো কথা (২২)।
তিনি হাদীস অন্বেষণে নিরলস পরিশ্রম করেন এবং এর পথে অনেক কষ্ট সহ্য করেন। তিনি যেমনটি বলেন: "আমি ইসফারায়িনে প্রবেশ করি এবং আমার সাথে ছিল মাত্র তিনটি দিনার ও একটি দিরহাম। পরে দিনারগুলো আমার কাছ থেকে হারিয়ে যায় এবং শুধু দিরহামটি আমার কাছে অবশিষ্ট থাকে। আমি সেটি একজন মুদির দোকানদারকে দিয়ে দিই এবং তার কাছ থেকে প্রতিদিন দুটি করে রুটি নিতাম। আর বিশর বিন আহমাদ (২৩) থেকে তাঁর হাদীস সংকলনের অংশ গ্রহণ করতাম। আমি মসজিদে জামেতে প্রবেশ করে সেগুলো লিখতাম এবং সন্ধ্যায় লেখা শেষ করে ফিরে আসতাম। এক মাসে আমি ত্রিশটি সংকলন (জুয) লিখেছিলাম। এরপর দোকানদারের কাছে আমার যা পাওনা ছিল তা শেষ হয়ে গেলে আমি শহর ত্যাগ করি" (২৪)।
তিনি অন্যান্য জ্ঞানের প্রতিও যত্নবান ছিলেন, ফলে তিনি কুরআনের হাফেজ ছিলেন এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অংশ ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
العربية (25) واستوطن بغداد، وحدث بها وصنف وألف، ولم ينقطع عن التصنيف إلى حين وفاته، ومات وهو يجمع حديث مسعر (26) .
وكانت عنده مكتبة عامرة، نقل الخطيب عن أَحمد بن غانم الحمامي قوله: " انتقل أَبو بكر البرقاني من الكرخ إلى قرب باب الشعير فسأَلني أن أشرف على حمالي كتبه، وقال: إِن سئلت عنها في الكرخ فعرفهم أنها دفاتر لئلا يظن أنها ابريسم وكانت ثلاثة وستين سفطا، وصندوقين، كل ذلك مملوء كتبا " (27) .
وأنشد البرقاني لنفسه:
أعلل نفسي بكتب الحدي
… ث وأحمل فيه لها الموعدا
وأشغل نفسي بتصنيفه
… وتخريجه دائما سرمدا
فطورا أصنفه في الشيو
… خ وطورا أصنفه مسندا
وأقفو البخاري فيما نحا
… هـ وصنفه جاهدا مجهدا
ومسلما، إذ كان زين الأنا
… م بتصنيفه مسلما مرشدا
ومالي فيه سوى أنني
… أراه هوى صادف المقصدا
وأرجو الثواب بكتب الصلا
… ة على السيد المصطفى أَحمدا
وأسأَل ربي إله العبا
… د جريا على ما به عودا (28)
رحلاته:لما استوعب البرقاني السماع من شيوخ بلده، وجمع ما عندهم ارتحل إلى بلدان أخرى منها:
--------------------------------------------
আল-আরাবিয়্যাহ (২৫) এবং তিনি বাগদাদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি হাদিস বর্ণনা করেন এবং গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেন। মৃত্যু অবধি তিনি গ্রন্থ রচনা থেকে বিরত হননি এবং মিস'আরের হাদিসসমূহ সংকলনরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন (২৬)।
তাঁর একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার ছিল। আল-খতিব আহমদ বিন গানিম আল-হামমামি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে তিনি বলেন: "আবু বকর আল-বারকানি কারখ থেকে বাব আল-শা'ইরের নিকটবর্তী স্থানে স্থানান্তরিত হন। তখন তিনি আমাকে তাঁর কিতাব বহনকারীদের তদারকি করতে অনুরোধ করেন এবং বলেন: 'কারখে যদি এই মালপত্র সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তাদের জানিও যে এগুলো খাতা বা নোটবই, যাতে তারা মনে না করে যে এগুলো রেশম।' সেখানে তেষট্টিটি ঝুড়ি এবং দুটি সিন্দুক ছিল, যার সবগুলোই কিতাবে পূর্ণ ছিল" (২৭)।
আল-বারকানি নিজের সম্পর্কে কবিতা আবৃত্তি করেছেন:
আমি হাদিসের কিতাবসমূহ দিয়ে আমার মনকে প্রবোধ দেই
… এবং এতেই আমি আমার মনের জন্য প্রতিশ্রুতির আশ্বাস বহন করি
আমি সর্বদা নিরন্তরভাবে এর সংকলন
… এবং এর তাখরিজ বা সূত্র বিশ্লেষণ নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখি
কখনও আমি একে শায়খদের ক্রমে সংকলন করি
… আবার কখনও একে মুসনাদ হিসেবে সংকলন করি
এবং ইমাম বুখারি যে পথ অনুসরণ করেছেন
… এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে যা সংকলন করেছেন, আমি তারই অনুসরণ করি
এবং ইমাম মুসলিমকেও অনুসরণ করি, যেহেতু তিনি তাঁর সংকলনের মাধ্যমে
… মানবজাতির অলঙ্কার এবং একজন পথপ্রদর্শক মুসলিম ছিলেন
আর এতে আমার আর কোনো উদ্দেশ্য নেই কেবল এটি ছাড়া যে
… আমি একে এমন এক ভালোবাসা হিসেবে দেখি যা সঠিক লক্ষ্যের দেখা পেয়েছে
আর আমি সাইয়্যেদ আল-মুস্তফা আহমদের ওপর
… দরুদ লেখার মাধ্যমে সওয়াবের আশা রাখি
এবং আমি আমার প্রতিপালক, বান্দাদের ইলাহের কাছে প্রার্থনা করি
… তিনি আমাকে যেভাবে অভ্যস্ত করেছেন সেই ধারা বজায় রাখার জন্য (২৮)
তাঁর সফরসমূহ:যখন আল-বারকানি তাঁর নিজ শহরের শায়খদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ সম্পন্ন করলেন এবং তাঁদের নিকট যা ছিল তা সংগ্রহ করলেন, তখন তিনি অন্য দেশসমূহের উদ্দেশ্যে সফর করেন, যার মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بغداد، وجرجان، ونيسابور، وهراة، ومرو، واسفرائين، ودمشق وومصر (29) .
وسمع فيها من مشايخ عدة، وفي الاخير رجع إلى بغداد، واستوطنها، وسكن أولا في الكرخ ثم انتقل إلى قرب باب الشعير (30) .
مشايخه: قد سمع أَبو بكر البرقاني من خلق كثير لا يمكن حصرهم، فكما قال الخطيب: " سمع من خلق يطول ذكرهم " (31) .
وأذكر بعض من سمع البرقاني منه مرتبا على حروف المعجم، فمنهم:
1 - إِبراهيم بن الحسين بن حمكان، أَبو منصور ابن الكرخي.
وقد لازمه، وكان يورق له (32) ، وصحبه نحوا من عشيرين سنة (33) .
2 - أَحمد بن إِبراهيم بن إسماعيل، أَبو بكر الاسماعيلي (ت: 371 هـ) (34) .
3 - بشر بن أَحمد، أَبو سهل الاسفرائيني (ت: 370 هـ) (35) .
4 - الحسن بن أَحمد بن صالح الهمداني، أَبو مُحمد السَّبيعي (ت: 371 هـ) (36) .
5 - الحسين بن علي بن مُحمد بن يَحيَى التميمي، أَبو أَحمد النيسابوري (ت: 375 هـ) (37) .
6 - عَبد الغني بن سَعيد الازدي (ت 409 هـ) .
--------------------------------------------
বাগদাদ, জুরজান, নিশাপুর, হেরাত, মার্ভ, ইসফারাইন, দামেস্ক এবং মিশর (২৯) ।
সেখানে তিনি বহু শায়খের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। পরিশেষে তিনি বাগদাদে ফিরে আসেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি প্রথমে কারখ এলাকায় বসবাস করতেন, এরপর বাবুল শাঈরের নিকটবর্তী স্থানে স্থানান্তরিত হন (৩০) ।
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ: আবু বকর আল-বারকানি এত অধিক সংখ্যক লোকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন যে তাঁদের গণনা করা সম্ভব নয়। যেমনটি খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন: "তিনি এমন এক বিশাল সংখ্যক লোকের নিকট থেকে শুনেছেন যাদের নাম উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে" (৩১) ।
আল-বারকানি যাদের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন, বর্ণানুক্রমিকভাবে আমি তাদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - ইব্রাহিম বিন আল-হুসাইন বিন হামকান, আবু মানসুর ইবনুল কারখি।
তিনি দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর জন্য পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করতেন (৩২), এবং প্রায় বিশ বছর তাঁর সংশ্রবে ছিলেন (৩৩) ।
২ - আহমাদ বিন ইব্রাহিম বিন ইসমাঈল, আবু বকর আল-ইসমাঈলি (মৃত্যু: ৩৭১ হি.) (৩৪) ।
৩ - বিশর বিন আহমাদ, আবু সাহল আল-ইসফারাইনি (মৃত্যু: ৩৭০ হি.) (৩৫) ।
৪ - হাসান বিন আহমাদ বিন সালিহ আল-হামদানি, আবু মুহাম্মদ আস-সাবিঈ (মৃত্যু: ৩৭১ হি.) (৩৬) ।
৫ - হুসাইন বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আত-তামিমি, আবু আহমাদ আন-নিশাপুরি (মৃত্যু: ৩৭৫ হি.) (৩৭) ।
৬ - আব্দুল গনি বিন সাঈদ আল-আজদি (মৃত্যু: ৪০৯ হি.) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
7 - عَبد الله بن إِبراهيم بن أَيوب بن ماسي،، أَبو مُحمد البزار (ت: 369 هـ) (38) .
8 - عَبد الله بن عُمَر بن أَحمد بن علك المَرْوَزيّ، أَبو عَبد الرَّحمَن الجوهري (ت: بعد 360 هـ) (39) .
9 - علي بن عُمَر، أَبو الحسن الدارقطني، وقد لازمه، وأكثر عنه.
10 - عُمَر بن أَحمد بن عُثمان المعروف بابن شاهين (ت: 385 هـ) (40) .
11 - عُمَر بن بِشران بن مُحمد بن بِشر بن مهران، أَبو حفص السكري (ت بعد 367 هـ) (41) .
12 - عمر بن محمد بن علي بنيحيى البغدادي، أَبو حفص ابن الزيات الناقد (ت: 375 هـ) (42) .
13 - مُحمد بن جعفر بن مُحمد بن الهيثم، أَبو بكر البندار (ت: 360 هـ) (43) .
14 - مُحمد بن العباس بن مُحمد بن زكريا، البغدادي، ابن حيوية (ت: 382 هـ) (44) .
15 - مُحمد بن مُحمد بن يعقوب بن إسماعيل بن حجاج، أَبو الحسين الحجاجي النيسابوري (ت: 368 هـ) (45) .
تلامذته:تخرج بالبرقاني عدد كبير من الطلاب فنهلوا من علمه وغذوا بلبانه ونبغ منهم
--------------------------------------------
৭ - আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আইয়ুব ইবনে মাসি, আবু মুহাম্মদ আল-বাজ্জার (মৃত্যু: ৩৬৯ হি.) (৩৮) ।
৮ - আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আহমদ ইবনে আলাক আল-মারওয়াযি, আবু আবদুর রহমান আল-জাওহারি (মৃত্যু: ৩৬০ হিজরির পর) (৩৯) ।
৯ - আলী ইবনে উমর, আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি; তিনি তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর (ইলম) গ্রহণ করেছেন।
১০ - উমর ইবনে আহমদ ইবনে উসমান, যিনি ইবনে শাহীন নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৩৮৫ হি.) (৪০) ।
১১ - উমর ইবনে বিশরান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিশর ইবনে মিহরান, আবু হাফস আস-সুক্কারি (মৃত্যু: ৩৬৭ হিজরির পর) (৪১) ।
১২ - উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইয়াহইয়া আল-বাগদাদি, আবু হাফস ইবনুল যায়্যাত আন-নাক্বিদ (মৃত্যু: ৩৭৫ হি.) (৪২) ।
১৩ - মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাইসাম, আবু বকর আল-বুন্দার (মৃত্যু: ৩৬০ হি.) (৪৩) ।
১৪ - মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যাকারিয়া, আল-বাগদাদি, ইবনে হাইয়ুওয়াইহ (মৃত্যু: ৩৮২ হি.) (৪৪) ।
১৫ - মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসমাইল ইবনে হাজ্জাজ, আবু আল-হুসাইন আল-হাজ্জাজি আন-নাইসাবুরি (মৃত্যু: ৩৬৮ হি.) (৪৫) ।
তাঁর ছাত্রগণ:আল-বারকানির নিকট বিপুল সংখ্যক ছাত্র শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন। তারা তাঁর জ্ঞান থেকে আকণ্ঠ পান করেছেন এবং তাঁর পাণ্ডিত্য দ্বারা পুষ্ট হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে যারা প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عدد منهم:
1 - إِبراهيم بن علي بن يوسف، أَبو إِسحاق الشيرازي (ت: 476 هـ) (46) .
2 - أَحمد بن الحسن بن أَحمد بن خيرون، أَبو الفضل البغدادي (ت 488 هـ) (47) .
3 - أَحمد بن الحسن، أَبو طاهر الباقلاني الكرخي (ت: 489 هـ) (48) .
4 - أَحمد بن الحسين بن علي، أَبو بكر البيهقي (ت: 458 هـ) (49) .
5 - أَحمد بن علي بن ثابت، أَبو بكر الخطيب البغدادي (ت: 463 هـ) .
6 - سُليمان بن إِبراهيم بن مُحمد بن سُليمان، أَبو مسعود الأصبهاني (ت: 486 هـ) (50) .
7 - عَبد العزيز بن أَحمد بن مُحمد بن علي، أَبو مُحمد الدمشقي الكتاني (ت: 466 هـ) (51) .
8 - مُحمد بن عَبد السلام الشريف، أَبو الفضل الأَنصاري (ت: 498 هـ) (52) .
9 - مُحمد بن عَبد الله بن علي بن عَبد الله، أَبو عَبد الله الصوري، (ت: 441 هـ) (53) .
10 - مُحمد بن مُحمد بن بن زيد بن علي العلوي، أَبو المعالي الحسيني، (ت بعد 476 هـ) (54) .
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন:
১ - ইব্রাহিম বিন আলি বিন ইউসুফ, আবু ইসহাক আল-শিরাজি (মৃত্যু: ৪৭৬ হি.) (৪৬)।
২ - আহমদ বিন আল-হাসান বিন আহমদ বিন খাইরুন, আবুল ফজল আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ৪৮৮ হি.) (৪৭)।
৩ - আহমদ বিন আল-হাসান, আবু তাহের আল-বাকিলানি আল-কারখি (মৃত্যু: ৪৮৯ হি.) (৪৮)।
৪ - আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলি, আবু বকর আল-বায়হাকি (মৃত্যু: ৪৫৮ হি.) (৪৯)।
৫ - আহমদ বিন আলি বিন সাবিত, আবু বকর আল-খাতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ৪৬৩ হি.)।
৬ - সুলাইমান বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান, আবু মাসউদ আল-আসবাহানি (মৃত্যু: ৪৮৬ হি.) (৫০)।
৭ - আব্দুল আজিজ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি, আবু মুহাম্মদ আদ-দামিশকি আল-কাত্তানি (মৃত্যু: ৪৬৬ হি.) (৫১)।
৮ - মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম আশ-শরিফ, আবুল ফজল আল-আনসারি (মৃত্যু: ৪৯৮ হি.) (৫২)।
৯ - মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলি বিন আব্দুল্লাহ, আবু আব্দুল্লাহ আস-সুরি (মৃত্যু: ৪৪১ হি.) (৫৩)।
১০ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন যায়েদ বিন আলি আল-আলাভি, আবু আল-মাআলি আল-হুসাইনি (মৃত্যু ৪৭৬ হিজরির পর) (৫৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ثناء العلماء عليه: قال الخطيب: " كان ثقة ورعا، متقنا ثبتا فهما، لم ير في شيوخنا أثبت
منه، حافظا للقرآن، عارفا بالفقه، له حظ من علم العربية، كثير الحديث، حسن الفهم له والبصيرة فيه " (55) .
وقال الاسماعيلي: " إنما أفضله عليكم لانه فقيه " (56) .
وقال أَبو القاسم الازهري: " البرقاني إمام، إذا مات ذهب هذا الشأن - يَعني الحديث - " (57) .
وقال أيضا عندما سأَله الخطيب: " هل رأيت في الشيوخ أتقن من البرقاني؟ فقال: لا " (58) .
قال أَبو الوليد الباجي (59) : " هو ثقة حافظ " (60) .
قال ابن الصلاح: " كان حريصا على العلم، منصرف الهمة إليه " (61) .
قال الذهبي: الإمام العلامة الفقيه الحافظ الثبت شيخ الفقهاء والمحدثين " (62) .
قال السبكي (63) : " الحافظ الكبير، كان إماما حافظا، ذا عبادة وفضائل جمة " (64) .
--------------------------------------------
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা: আল-খতিব বলেন: "তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, পরহেযগার, অত্যন্ত নিপুণ, সুদৃঢ় ও বিজ্ঞ। আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে তাঁর চেয়ে বেশি সুদৃঢ় কাউকে দেখা যায়নি। তিনি ছিলেন কুরআনের হাফেজ, ফিকহ শাস্ত্রে দক্ষ, আরবি ভাষাতত্ত্বে তাঁর বিশেষ বুৎপত্তি ছিল, প্রচুর হাদীস বর্ণনাকারী এবং হাদীসের প্রতি তাঁর উত্তম উপলব্ধি ও প্রজ্ঞা ছিল।" (৫৫)।
আল-ইসমাঈলি বলেন: "আমি তাঁকে তোমাদের ওপর অগ্রাধিকার দেই কারণ তিনি একজন ফকীহ।" (৫৬)।
আবু আল-কাসিম আল-আযহারী বলেন: "বারকানী একজন ইমাম, তিনি মারা গেলে এই ইলম—অর্থাৎ হাদীস—বিদায় নেবে।" (৫৭)।
খতিব যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তিনি আরও বলেন: "আপনি কি শিক্ষকদের মধ্যে বারকানীর চেয়ে বেশি নিপুণ কাউকে দেখেছেন? তখন তিনি উত্তরে বললেন: না।" (৫৮)।
আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি (৫৯) বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য ও হাফেজ।" (৬০)।
ইবনে আস-সালাহ বলেন: "তিনি ইলম অর্জনে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং তাঁর সমস্ত মনোযোগ ইলমের প্রতি নিবদ্ধ ছিল।" (৬১)।
আয-যাহাবি বলেন: "ইমাম, আল্লামা, ফকীহ, হাফেজ, সুদৃঢ় বর্ণনাকারী এবং ফকীহ ও মুহাদ্দিসগণের শায়খ।" (৬২)।
আস-সুবকি (৬৩) বলেন: "বিখ্যাত হাফেজ, তিনি ছিলেন একজন ইমাম ও হাফেজ এবং বহু ইবাদত ও ফযিলতের অধিকারী।" (৬৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال الاسنوي (65) : " كان إماما حافظا ورعا مجتهدا في العبادة، حافظا للقرآن " (66) .
قال ابن كثير: " كان عالما بالقرآن والحديث والفقه والنحو، وله مصنفات في الحديث حسنة نافعة " (67) .
مؤلفاته: كان له اهتمام بالحديث وجمعه وتصنيفه، ملا عليه وقته واستغرق حياته فلا ينتهي من سماع إلَاّ ويتبعه بتصنيف وجمع وترتيب، وعندما يجد الفرصة سانحة له يحاول استغلال لقائه الشيوخ بتوجيه السؤالات العلمية الحديثية الدقيقة التي تدل على فهمه وشدة عنايته.
وقد سجل لنا نمطا عاليا يثبت فيه كثرة لقائه للشيوخ واستفادته من توجيهاتهم وملاحظاتهم وإجاباتهم، فهو يعتني بها ويقدمها للناس مسهلا لهم الاستفادة منها وإبراز جوانب الفائدة فيها.
ولا شك أن البرقاني كانت له تصانيف كثيرة، فهو كما قال الخطيب: " لم يقطع التصنيف إلى حين وفاته " (68) .
وقال ياقوت الحموي (69) : " صنف تصانيف كثيرة " (70) .
ولكن مع الاسف لم نعثر من آثاره الكثيرة إلا على شئ يسير هو: 1 - المسند (71) .
--------------------------------------------
আল-ইসনবী (৬৫) বলেন: "তিনি ছিলেন একজন ইমাম, হাফেজ, পরহেজগার, ইবাদতে কঠোর পরিশ্রমী এবং কুরআনের হাফেজ" (৬৬)।
ইবনে কাসীর বলেন: "তিনি কুরআন, হাদিস, ফিকহ ও ব্যাকরণশাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর চমৎকার ও উপকারী কিছু সংকলন রয়েছে" (৬৭)।
তাঁর রচনাবলি: হাদিসের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল এবং এটি সংগ্রহ ও বিন্যাসে তিনি তাঁর সময় ও জীবন অতিবাহিত করেছেন। কোনো শ্রবণের (সামা') কাজ শেষ হওয়ামাত্রই তিনি সেটির সংকলন, একত্রীকরণ ও বিন্যাসে আত্মনিয়োগ করতেন। যখনই সুযোগ পেতেন, তিনি শায়খদের সাথে সাক্ষাতের সদ্ব্যবহার করতেন এবং সূক্ষ্ম হাদিসতত্ত্ব বিষয়ক বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন উত্থাপন করতেন, যা তাঁর প্রজ্ঞা ও গভীর মনোযোগের প্রমাণ দেয়।
তিনি আমাদের জন্য এক উচ্চতর মানদণ্ড উপস্থাপন করেছেন, যা থেকে শায়খদের সাথে তাঁর অধিক সাক্ষাত এবং তাঁদের দিকনির্দেশনা, পর্যবেক্ষণ ও উত্তরগুলো থেকে তাঁর উপকৃত হওয়ার প্রমাণ মেলে। তিনি এসবের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন এবং মানুষের জন্য তা সহজলভ্য করে উপস্থাপন করতেন যাতে তারা এর অন্তর্নিহিত কল্যাণসমূহ সহজেই অনুধাবন করতে পারে।
নিঃসন্দেহে আল-বারকানীর বহু সংকলন ছিল। আল-খাতিব যেমনটি বলেছেন: "তিনি মৃত্যু অবধি তাঁর রচনা ও সংকলন কাজ বন্ধ করেননি" (৬৮)।
ইয়াকুত আল-হামাভী (৬৯) বলেন: "তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন" (৭০)।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, তাঁর বিপুল রচনার মধ্যে আমরা কেবল সামান্য কিছুই পেয়েছি, আর তা হলো: ১ - আল-মুসনাদ (৭১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
2 - التخريج لصحيح الحديث (72) .
3 - سؤالات البرقاني للدارقطني (73) .
وفاته: انتقل الحافظ الكبير أَبو بكر البرقاني إلى رحمة الله ببغداد في يوم الاربعاء أول يوم من رجب سنة خمس وعشرين وأربعمائة، ودفن بكرة غد - وهو يوم الخميس - وصلى عليه في المنصور الإمام القاضي أَبو علي بن أَبي موسى الهاشمي.
ودفن في مقبرة الجامع مما يلي باب سكة الخرقي (74) .
رحمه الله وجعل الجنة مثواه.
* * *
--------------------------------------------
২ - সহীহুল হাদিসের তাখরীজ (৭২)।
৩ - আদ-দারাকুতনীর প্রতি আল-বারকানির প্রশ্নমালা (৭৩)।
তাঁর মৃত্যু: মহান হাফেজ আবু বকর আল-বারকানি ৪২৫ হিজরী সনের পহেলা রজব বুধবার বাগদাদে আল্লাহর রহমতের দিকে পাড়ি জমান। তাঁকে পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে দাফন করা হয় এবং আল-মানসুর মসজিদে তাঁর জানাযার সালাত পড়ান ইমাম কাজী আবু আলী বিন আবি মুসা আল-হাশিমী।
তাঁকে জামে মসজিদের কবরস্থানে সিক্কাতুল খিরকি দরজার পার্শ্ববর্তী স্থানে দাফন করা হয় (৭৪)।
আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন এবং জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল করুন।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ترجمة أَبي منصور ابن الكرخي (75)
اسمه ونسبه:هو: إِبراهيم بن الحسين بن حمكان، أَبو منصور الصيرفي، المعروف بابن الكرخي (76) .
مولده: ولد في بداية القرن الرابع، لانه عاصر الدارقطني وقد روى الدارقطني عنه في كتاب المديح كما سيأتي.
نشأته: كان الإمام أَبو منصور يهتم بالحديث وعلومه اهتماما بالغا، وبرع فيهما حتى أراد أن يصنف في علم عويض لا يهتدي إليه إلَاّ الجهابذة النقاد، ألا وهو علم العلل.
فقد حكى لنا الخطيب البغدادي بأنه " أراد أن يصنف مسندا معللا، فكان أَبو الحسن الدارقطني يحضر عنده في كل أسبوع يوما، ويعلم على الأَحاديث في أصوله، وينقلها شيخنا أَبو بكر البرقاني - وكان إذ ذاك يورق له - (77) .
ولكنه اخترمته المنية قبل أن ينجح في غايته السنية (78) .
كما أَنه كان يشترك مع البرقاني في الحوار مع الدارقطني لتثبيت أسماء المتروكين
--------------------------------------------
আবু মানসুর ইবনুল কারখির জীবনী (৭৫)
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন: ইব্রাহিম ইবনে আল-হুসাইন ইবনে হামকান, আবু মানসুর আস-সাইরাফি, যিনি ইবনুল কারখি নামে পরিচিত (৭৬)।
জন্ম: তিনি চতুর্থ শতাব্দীর শুরুর দিকে জন্মগ্রহণ করেন, কারণ তিনি আদ-দারাকুতনির সমসাময়িক ছিলেন এবং আদ-দারাকুতনি তাঁর থেকে 'কিতাবুল মাদিহ'-এ বর্ণনা করেছেন, যা সামনে আসবে।
তাঁর বেড়ে ওঠা: ইমাম আবু মানসুর হাদিস এবং এর জ্ঞানসমূহের প্রতি অত্যন্ত গভীর গুরুত্ব প্রদান করতেন এবং এতে এতটাই পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন যে, তিনি এমন এক কঠিন ও জটিল বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করতে চেয়েছিলেন যা কেবল দক্ষ ও অভিজ্ঞ সমালোচক পণ্ডিতরাই আয়ত্ত করতে পারেন, আর তা হলো 'ইলমুল ইলাল' (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান)।
খতিব আল-বাগদাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, "তিনি একটি 'মুসনাদে মুআল্লাল' (ত্রুটি চিহ্নিত সংকলন) রচনা করতে চেয়েছিলেন। তাই আবু আল-হাসান আদ-দারাকুতনি প্রতি সপ্তাহে একদিন তাঁর নিকট উপস্থিত হতেন এবং তাঁর মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে হাদিসগুলোর ওপর চিহ্ন প্রদান করতেন, আর আমাদের শায়খ আবু বকর আল-বারকানি সেগুলো নকল করতেন—সে সময় তিনি তাঁর অনুলিপিকারক হিসেবে কাজ করতেন (৭৭)।
কিন্তু তাঁর এই সুমহান লক্ষ্য সফল হওয়ার পূর্বেই মৃত্যু তাঁকে পাকড়াও করে (৭৮)।
এছাড়াও তিনি পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীদের (মাতরুকিন) নাম নিশ্চিত করার জন্য আদ-দারাকুতনির সাথে আলোচনায় আল-বারকানির সাথে অংশগ্রহণ করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
من أَصحاب الحديث باتفاق الثلاثة (79) .
كان أَبو منصور إماما من أئمة الحديث الذين ذاع صيتهم في وقتهم، فكان يورق ويكتب له الائمة الثقات المعروفون، منهم: أَبو بكر البرقاني (80) ومُحمَّد بن عُبَيد الله بن (81) مُحمد الكاتب الكرخي (82) .
كان ابن الكرخي من أقران أَبي الحسن الدارقطني، وكانت بينه وبين أَبي الحسن صلة قوية حتى كان الدارقطني يحضر عنده كل أسبوع يوما، وقد روى عنه في كتاب المديح (83) حديثا (84) .
وبجانب هذا كان أَبو منصور من العباد الذين يقومون الليل ويصومون النهار فقد حكى لنا أَبو بكر البرقاني فقال: " لم أر مثل أَبي منصور، صحبته عشرين سنة أدام فيها الصيام، وكان وقت العتمة كل ليلة يصلي أربع ركعات يقرأ فيها سبع القرآن، كل ركعة جزءا (85) .
شيوخه: قد سمع أَبو منصور ابن الكرخي من مشايخ كثيرين منهم:
1 - أَحمد بن عُبَيد بن إسماعيل الصفار (86) .
2 - إِسحاق بن مُحمد النعالي (ت 364 هـ) (87) .
--------------------------------------------
তিনজনের ঐক্যমতে তিনি হাদিসবেত্তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (৭৯) ।
আবু মনসুর ছিলেন হাদিসের ইমামদের মধ্যে এমন একজন ইমাম যাঁদের খ্যাতি তাঁদের সময়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করতেন এবং নির্ভরযোগ্য ও সুপরিচিত ইমামগণ তাঁর জন্য লিখতেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন: আবু বকর আল-বারকানি (৮০) এবং মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে (৮১) মুহাম্মদ আল-কাতিব আল-কারখি (৮২) ।
ইবনুল কারখি ছিলেন আবুল হাসান আদ-দারা কুতনির সমসাময়িক। আবুল হাসানের সাথে তাঁর অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক ছিল, এমনকি দারা কুতনি প্রতি সপ্তাহে একদিন তাঁর নিকট উপস্থিত হতেন। তিনি তাঁর থেকে ‘কিতাবুল মাদিহ’ (৮৩) গ্রন্থে হাদিস (৮৪) বর্ণনা করেছেন ।
এর পাশাপাশি আবু মনসুর ছিলেন এমন ইবাদতগুজারদের অন্তর্ভুক্ত যারা রাত জেগে নামাজ পড়তেন এবং দিনে রোজা রাখতেন। আবু বকর আল-বারকানি আমাদের কাছে বর্ণনা করে বলেন: "আমি আবু মনসুরের মতো কাউকে দেখিনি, বিশ বছর তাঁর সাহচর্যে ছিলাম এবং তিনি সর্বদা রোজা রাখতেন। প্রতি রাতে এশার নামাজের সময় তিনি চার রাকাত নামাজ পড়তেন যাতে কুরআনের সাত ভাগের এক ভাগ তিলাওয়াত করতেন, প্রতি রাকাতে এক জুজ করে (৮৫) ।
তাঁর শিক্ষকগণ: আবু মনসুর ইবনুল কারখি অনেক শায়খের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - আহমদ ইবনে উবাইদ ইবনে ইসমাইল আস-সাফফার (৮৬) ।
২ - ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আন-নাআলি (মৃত্যু ৩৬৪ হিজরি) (৮৭) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলালুদ দারাকুতনী = আল-ইলালুল ওয়ারিদাতু ফিল আহাদিসিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
3 - مُحمد بن أَحمد بن الحسن، أَبو علي ابن الصَّواف (ت: 359 هـ) (88) .
4 - مُحمد بن عَبد الله بن إِبراهيم، أَبو بكر الشافعي (ت: 354 هـ) (89) .
ومن في هذه الطبقة (90) .
تلامذته: قد أخذ عنه كثيرون منهم:
1 - أَبو بكر أَحمد بن مُحمد البرقاني.
2 - مُحمد بن عُبَيد الله بن مُحمد الكاتب الكرخي.
مصنفاته: لم يذكر له الخطيب شيئا من مؤلفاته، وإِنما اقتصر فقط على قوله: " كان قد أكثر الكتاب، وأورد أن يصنف مسندا معللا " (91) .
وفاته: قال الخطيب: " مات قبل الدارقطني بسنين كثيرة " (92) .
رحمه الله وجعل الجنة مثواه.
* * *
--------------------------------------------
৩ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাসান, আবু আলী ইবনুস সাওয়াফ (মৃ: ৩৫৯ হি.) (৮৮)।
৪ - মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম, আবু বকর আশ-শাফিঈ (মৃ: ৩৫৪ হি.) (৮৯)।
এবং যারা এই স্তরের অন্তর্ভুক্ত (৯০)।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ: অনেকেই তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বারকানি।
২ - মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-কাতিব আল-কারখি।
তাঁর রচনাবলি: আল-খাতিব তাঁর কোনো গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেননি, বরং তিনি কেবল এই কথাটুকুই বলেছেন: "তিনি প্রচুর পরিমাণে লিখেছিলেন এবং একটি মুসনাদ মুআল্লাল সংকলন করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন" (৯১)।
তাঁর মৃত্যু: আল-খাতিব বলেছেন: "তিনি আদ-দারা কুতনির বহু বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন" (৯২)।
আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন এবং জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল করুন।
* * *
--------------------------------------------