(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: -)
إسعاف اللبيث بفتاوى الحديث   (أبو إسحق الحويني)

القسم: التخريج والأطراف

الكتاب: إسعاف اللبيث بفتاوى الحديث (الفتاوى الحديثية)

المؤلف: أبو إسحاق الحويني

الناشر: دار التقوى - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الأجزاء: 4 (الأخير فهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 ذو الحجة 1443

ইসআফুল লাবিস বি-ফাতাওয়াল হাদিস   (আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনি)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ

গ্রন্থ: ইসআফুল লাবিস বি-ফাতাওয়াল হাদিস (হাদিস বিষয়ক ফতোয়াসমূহ)

লেখক: আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনি

প্রকাশক: দারুত তাকওয়া - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪ (শেষ খণ্ডটি নির্ঘণ্টের জন্য নির্ধারিত)

[গ্রন্থটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ই যিলহজ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

إنَّ الحمدَ لله نحمدهُ ونستَعين به ونستَغفره، ونعوذُ بالله من شرور أنفُسِنا وسيئاتِ أعمَالِنَا. من يَهِدِ الله فلا مُضلَّ لَهُ، ومن يُضلِل فلا هَادىَ له، وأشهَدُ أن لا إلهَ إلَّا الله، وأشهَدُ أن محمَّدًا عبده ورسولُهُ.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا

كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 73 - 71].

 

أمَّا بعدُ

فإنهُ لم يَدُرْ بِخَلَدي، ولم يُحَوِّم طائرُ فكرى يومًا على فكرة هذا الكتابَ، ولكن كما قيل: إذا أرادَ اللهُ عز وجل شيئًا هيَّأَ أسبَابَهُ.

فقد كنتُ في جلسةٍ مع فَضيلة الشَّيخ مُحَمَّد صفوَت نور الدِّين رحمه الله، وكان الرَّئيسَ العامَّ لجماعة أنصار السُّنَّة بمصرَ، وكان ذلك عقب درسٍ عِلميٍّ ألقَاهُ في مسجدي الكائنِ بمدينةِ كفر الشَّيخ وتكَلَّمنا في أمورٍ شتَّى، فكان ممَّا قلتهُ لهُ: "إنَّني لا أستطيعُ أن أفهَمُ حتَّى الآن أن تكون جماعة دَعَويَّةٌ سَلَفيَّةٌ كهذه التي ترأَسُهَا، وليسَ لها مجلَّةٌ علميَّةٌ تُطبَع مرَّتَينِ في العام على الأقَلِّ، تُعلِّمونَ النَّاسَ من خلالها عقيدَةَ السَّلَف الصَّالح، ويَكتُبُ فيها أهلُ العلم عن مسائل النَّوازلِ التي تقَع بالمسلِمِين، ممَّا لم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের দুজন থেকে বহু পুরুষ

ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন নিসা: ১]।

{হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল।} [আল আহযাব: ৭১ - ৭৩]।

 

অতঃপর,

নিশ্চয়ই এই বইটির চিন্তা কখনো আমার মনে আসেনি এবং আমার ভাবনার পাখি কখনো একদিনের জন্যও এই ধারণার ওপর উড়েনি। তবে যেমন বলা হয়: যখন মহামহিম আল্লাহ কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তার উপকরণ প্রস্তুত করে দেন।

আমি শায়খ মুহাম্মদ সাফওয়াত নূরুদ্দিন (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে এক মজলিসে ছিলাম, যিনি মিশরে জামায়াতে আনসারুস সুন্নাহর জেনারেল প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এটি ছিল কাফরুশ শায়খ শহরে অবস্থিত আমার মসজিদে তাঁর প্রদানকৃত একটি ইলমি দরসের পরের ঘটনা। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলাম। আমি তাঁকে যা বলেছিলাম তার মধ্যে ছিল: "আমি এখনও এটি বুঝতে পারছি না যে, আপনার নেতৃত্বাধীন এ রকম একটি সালাফি দাওয়াতি জামায়াত হবে অথচ তাদের কোনো ইলমি ম্যাগাজিন থাকবে না যা বছরে অন্তত দুইবার প্রকাশিত হবে, যার মাধ্যমে আপনারা মানুষকে সালাফে সালেহীনের আকিদাহ শিক্ষা দেবেন এবং যেখানে আলেমরা মুসলমানদের ওপর আপতিত সমসাময়িক বিষয়সমূহ সম্পর্কে লিখবেন, যা..."
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৬)
يَكُن مثلُهُ في الأزمان السَّالِفَة. فأينَ الأرشيفُ العِلمِيُّ للجماعة؟! "، فقال: "عندنا مَجَلَّةُ التَّوحيد"، فقُلتُ لهُ: "هذه مجلَّةٌ سيَّارةٌ لعَامَّةِ النَّاس، وأنا أتكَلَّمُ عن مَجَلَّة يغلُبُ عليها طَابعُ البَحث العِلمِي"، فقال: "لمَ لا تَأتينَا في المَركز العامِّ لِنَطرَحَ هذه القَضِيَّة للمُناقَشَة؟ "، واتَّفَقنَا، وذَهَبتُ إليهم، والتَقَينا بالشَّيخ صفوَت الشَّوادفي رحمه الله وطالَ الكلامُ، فقال لي الشَّيخُ الشَّوادفي: "أنتَ تُريد أن تحلِّق في الفَضاءِ البَعيد، ونَحنُ نَطلُبُ منكَ شيئًا يسيرا لا يُكَلِّفُ كثيرًا، ويكونُ نُواةً لهذه الأُمنيَّة التي ترجُوها"، قُلتُ لَهُ: "وما هي؟ "، فقال: "أن تُشارِكَنا في رَفعِ سَقف مجلَّة التَّوحيد التي أرأَسُ تَحريرَها، بأن تُجيبَ عن أسئِلَةِ القُرَّاءِ الذينَ يُتَابعُونَ المَجَلَّة بِشَغَفٍ بالغ، وينتَظرونَ كَلِمَتَك في الحُكمِ على الأحاديثِ التي يسمعونَها من خُطباءِ المساجدِ أو يقرؤونَهَا في الكُتُب"، ثُمَّ أخرَجَ لي كيسًا كَبيرًا، وقال: "هذه رسائلُ تحتوى على مئات الأحاديث التي تنتظر الجوابَ عنها".

ولَم يُعطِني فُرصَةً لأُبدِي رَأيي في الموضُوع، ولكنَّهُ طلَب منِّى ألَّا أُطِيلَ الكلامَ حولَ أسانيد الأحاديث، فضلًا عن الخَوضِ في المُناقَشات العِلمِيَّة، التي لا يفهمها مُعظَمُ القُرَّاء، واضعًا في اعتباري الإجابةَ عن أكبر قدرٍ من الأسئلَة، بأن أذكُرَ الحديثَ المسؤُولَ عنه، ثُمَّ أجيبَ عنهُ في سَطرَين أو ثلاثةٍ، حتَّى نُجيبَ عن أكبرِ قَدرٍ من الأسئلةِ.

ولم أُوَافِقهُ على هذا، وقُلتُ لهُ: "هناكَ جانبٌ تعليمِيٌّ في الإجابة عن هذه الأحاديث، لا يقِلّ أهميَّةً عن الجوابِ نَفسِه، ذلك أنَّنا نُريدُ أن
অতীতের দিনগুলোতেও এর কোনো উদাহরণ ছিল না। তাহলে জামাআতের ইলমি আর্কাইভ কোথায়?!" তিনি বললেন: "আমাদের 'মাজাল্লাতুত তাওহীদ' (তাওহীদ সাময়িকী) রয়েছে।" আমি তাকে বললাম: "এটি সাধারণ মানুষের জন্য একটি চলতি সাময়িকী, আর আমি এমন এক সাময়িকীর কথা বলছি যাতে ইলমি গবেষণার ছাপ প্রবল থাকবে।" তিনি বললেন: "আপনি আমাদের প্রধান কার্যালয়ে কেন আসছেন না যাতে আমরা আলোচনার জন্য এই বিষয়টি উত্থাপন করতে পারি?" আমরা একমত হলাম এবং আমি তাদের কাছে গেলাম। আমরা শেখ সাফওয়াত আল-শাওয়াদফি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং দীর্ঘ আলোচনা হলো। শেখ শাওয়াদফি আমাকে বললেন: "আপনি সুদূর আকাশে উড়তে চান, অথচ আমরা আপনার কাছে এমন সামান্য কিছু চাই যা খুব একটা পরিশ্রমসাধ্য নয় এবং এটি আপনার প্রত্যাশিত এই আকাঙ্ক্ষার বীজ হিসেবে গণ্য হবে।" আমি তাকে বললাম: "সেটা কী?" তিনি বললেন: "আপনি 'মাজাল্লাতুত তাওহীদ'-এর মান বৃদ্ধিতে আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করবেন, যার সম্পাদনার দায়িত্বে আমি আছি। আপনি সেইসব পাঠকদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন যারা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এই সাময়িকী অনুসরণ করে এবং তারা মসজিদের খতিবদের কাছ থেকে শোনা বা বইপত্রে পড়া হাদিসগুলোর মান নির্ণয় সম্পর্কে আপনার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকে।" এরপর তিনি আমার সামনে একটি বড় থলে বের করলেন এবং বললেন: "এগুলো এমন সব চিঠি যাতে শত শত হাদিস রয়েছে যা উত্তরের অপেক্ষায় আছে।"

তিনি আমাকে বিষয়টি নিয়ে মতামত দেওয়ার কোনো সুযোগ দিলেন না, বরং তিনি আমার কাছে অনুরোধ করলেন যেন আমি হাদিসের সনদগুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা না করি এবং গভীর ইলমি তর্কে না জড়াই, যা অধিকাংশ পাঠক বোঝেন না। তিনি আমাকে মাথায় রাখতে বললেন যেন আমি সর্বাধিক সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দিই—অর্থাৎ প্রশ্নকৃত হাদিসটি উল্লেখ করব এবং তারপর দুই বা তিন লাইনে সেটির উত্তর দেব, যাতে আমরা সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রশ্নের জবাব দিতে পারি।

আমি এতে একমত হলাম না এবং তাকে বললাম: "এই হাদিসগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি শিক্ষামূলক দিক রয়েছে, যার গুরুত্ব খোদ উত্তরের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। তা এই যে, আমরা চাই যে... "
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৭)
يَعرفَ النَّاسُ: كيفَ نَحكُمُ على الحديث، وأنَّ المسألةَ ليسَت بالتَّشَهِّي واتِّبَاعِ الهَوَى، بل وِفْقَ ضَوابطَ عِلميَّةٍ دقيقَةٍ، وهذا لا يكُونُ إلَّا إذا أبرَزنَا هذا المعنَى من خلال تخريجِ الأحاديث، أمَّا أن أكتَفِي بأن أُجيبَ عن الحديث بأنَّهُ صحيحٌ أو ضَعِيفٌ أو منكرٌ إلى آخرِ هذه الألقابِ، فلا أَرَى فيه فائدةً".

فقال لي: "افعل ما تراهُ مُناسِبًا، واضعًا في اعتبارِك أنَّهُ يَصِلُنِي عشراتُ الخِطاباتِ، التي تحتَوِى هي بدَورِهَا على أسئلَةٍ كثيرةٍ".

وبَدأتُ في الجوابِ عن هذه الأسئلَة، واضطُرِرتُ أمامَ كَثرَتِهَا أن أختَصرَ الجَوابَ عنها اختصارًا مُجحِفًا في الغالب، لكنَّني خَالَفتُ شرطي في أحيان قليلَةٍ، وظَلَلتُ عدَّةَ سنَواتٍ أكتُبُ هذا الباب، ثُمَّ اقتَرَحَ عليَّ بعضُ إخواني أن أجمعَ هذه الأجوبَةَ في كتابٍ، فلَم أتحَمَّس لذلك؛ لأنَّهَا مختَصَرَةٌ، فاقتَرَحَ أن أُعيدَ النَّظرَ فيها مَرَّةً أخرى، وأزيدَ فيهَا ما كنتُ أرجوهُ لها، فوَعَدتُهُ خيرًا.

ومرَّت سنواتٌ، ولم أتمَكَّن من النّظرِ فيها، حتَّى أوائل هذا العام (1431 هـ)، بدأتُ في جمعِ الأحاديثِ من المَجَلَّةِ، ثُمَّ زدتُ عليها ما قَدرتُ عليه آنذاكَ، إذ دَاهَمَنِي مَرَضٌ - والحمدُ لله - اضطُرِرتُ معه إلى السَّفر إلى ألمانيا لمدَّة ثلاثةِ أشهُرٍ من يومِ 28/ 4/ 2010 م، واصطَحَبتُ معي هذا الكتاب للنَّظرِ فيه، فوَجَدتُهُ يحتاج إلى تأليفٍ من جديدٍ، وهذا ممَّا قد يُوقِفُ الشروعَ كلِّيًّا، فالممتَعَنتُ بالله تعالى في كِتَابَةِ ما أقدِرُ عليه.

ورأيتُ كتابًا صَدَرَ حديثًا وهو كتاب "المُداوِي لعِلَل الجامع الصَّغير
মানুষ যেন জানতে পারে আমরা কীভাবে হাদিসের ওপর হুকুম আরোপ করি, এবং বিষয়টি যেন কেবল খেয়ালখুশি বা প্রবৃত্তির অনুসরণ না হয়, বরং তা যেন সূক্ষ্ম ইলমি নীতিমালার আলোকে হয়। আর এটি তখনই সম্ভব যখন আমরা হাদিসের তাখরিজের (উৎস নির্দেশনার) মাধ্যমে এই বিষয়টি ফুটিয়ে তুলব। আর কেবল এইটুকু বলেই ক্ষান্ত হওয়া যে, হাদিসটি সহিহ, যয়িফ বা মুনকার ইত্যাদি—এতে আমি কোনো ফায়দা দেখি না।"

তখন তিনি আমাকে বললেন: "আপনার কাছে যা উপযুক্ত মনে হয় তাই করুন, তবে মাথায় রাখবেন যে আমার কাছে কয়েক ডজন চিঠি আসে, যেগুলোতে আবার অনেক প্রশ্ন থাকে।"

অতঃপর আমি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে শুরু করি। প্রশ্নের আধিক্যের কারণে আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে উত্তরগুলোকে সংক্ষেপে লিখতে বাধ্য হয়েছি যা অনেক সময় অনেকটা অপূর্ণাঙ্গ মনে হতো। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে আমি আমার এই নিয়মের ব্যতিক্রমও করেছি। বেশ কয়েক বছর যাবৎ আমি এই বিভাগটি লিখেছি। এরপর আমার কিছু ভাই আমাকে প্রস্তাব দিলেন যেন আমি এই উত্তরগুলো একটি কিতাব আকারে সংকলন করি। কিন্তু আমি এতে তেমন আগ্রহ দেখাইনি, কারণ সেগুলো ছিল সংক্ষিপ্ত। তখন তিনি প্রস্তাব দিলেন যে, আমি যেন এগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করি এবং এতে সেসব বিষয় যোগ করি যা আমি আগে সংযোজন করতে চেয়েছিলাম। তখন আমি তাকে মঙ্গলের প্রতিশ্রুতি দিলাম।

কয়েক বছর পার হয়ে গেল কিন্তু আমি সেগুলো পুনরায় দেখার সুযোগ পাইনি। অবশেষে এই বছরের শুরুর দিকে (১৪৩১ হিজরী), আমি ম্যাগাজিন থেকে হাদিসগুলো সংগ্রহ করা শুরু করলাম। এরপর যতটুকু সম্ভব হলো তাতে আরও কিছু সংযোজন করলাম। ঠিক তখনই আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি—আলহামদুলিল্লাহ—যার ফলে ২৮/০৪/২০১০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তিন মাসের জন্য আমাকে জার্মানি সফরে যেতে হয়। আমি পর্যালোচনার জন্য কিতাবটি সাথে নিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলাম এটি পুনরায় নতুন করে রচনা করা প্রয়োজন। আর এটি এমন এক বিষয় ছিল যা এই কাজ শুরু করার পথেই পুরোপুরি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারত। অতঃপর আমি আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে যতটুকু সম্ভব তা লিখতে শুরু করলাম।

আর আমি সম্প্রতি প্রকাশিত একটি কিতাব দেখলাম, যা হলো "আল-মুদাবি লি ইলালিল জামিউস সাগির"
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৮)
وشَرحَي المُناوِي" لأبي الفَيض أحمد بن مُحمَّد بن الصِّديق الغُمارِيِّ، ونظرتُ في عمَلِه، فإذا بي أَقِفُ على طَوَامَّ ممَّا خَالَفَ فيه أهلَ العِلمِ، مع تجريحٍ وسبٍّ للمُناوِيِّ، وتحقير لأئمَّة السَّلَفِ، فَرَددتُ عليه في بعضِ الأحاديثِ التي سَمَحَ وقتي أن أُعَلِّقَ عليهِ فيهَا، ورأيتُ أن تَعَقُّبَهُ في كلِّ ما أخطأَ فيه يحتاجُ إلى تصنيفٍ مُستَقِل، فقلتُ: "ما لا يُدرَكُ كلُّه، لا يُترَك جُلُّه"، فناقشتُهُ في بعض ما ذهبَ إليه، وترَكتُ كثيرًا ممَّا قال لأنَّ تَتَبُّعَهُ يحتاجُ إلى فراغٍ لا أجِدُهُ عندي.

وسأُحَاولُ - إن شاء اللهُ - أن أزيدَ الكتابَ فوائدَ كُلَّما عنَّ لي ذلك، فلَم يَعُد عندَي من الجَلَدِ القَديمِ ما أستَطيعُ به أن أقُومَ بواجبِي كُلِّه. والحمدُ لله على كلِّ حالٍ.

وكان بوُدِّي أن أكتُبَ مُقَدِّمَةً ضَافِيَةً أَذكُرُ فيها فوائدَ وأُصولَ، غيرَ أنَّهُ حالَ دونَ ذلك ما ذكَرتُهُ آنفًا عن مَرَضِي.

فأَسألُ الله تعالى أن يجعَلَهُ كفَّارةً وأجرًا، ورفعًا للدَّرجات إنَّهُ وَلِيُّ ذلكَ والقادرُ عليه.

وآخرُ دعوَانَا أن الحمدُ لله ربِّ العَالمَين.

 

وكتبَهُ

أبو إسحاقَ الحُوَينِيُّ

حامدًا الله تعالى، ومصلِّيًا على نبيِّنا صلى الله عليه وسلم وآله وصحبه

13 من المحرَّم 1432 هـ
আবু ফায়েজ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-সিদ্দিক আল-গুমারি-এর 'শরহে আল-মুনাবি' (মুনাবির দুই ভাষ্য)। আমি তার কাজ পর্যবেক্ষণ করেছি এবং এমন কিছু গুরুতর বিপর্যয় দেখতে পেয়েছি যেখানে তিনি আহলে ইলমের (বিদ্বানদের) বিরোধিতা করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি মুনাবির প্রতি কটূক্তি ও গালিগালাজ করেছেন এবং সালাফের ইমামদের তুচ্ছজ্ঞান করেছেন। তাই আমি এমন কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে তার প্রতিবাদ করেছি যেগুলোতে মন্তব্য করার মতো সময় আমার হাতে ছিল। আমি দেখলাম যে, তার প্রতিটি ভুল চিহ্নিত করার জন্য একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থের প্রয়োজন। তাই আমি বললাম: "যা সবটুকু অর্জন করা সম্ভব নয়, তার অধিকাংশটুকুও বর্জন করা উচিত নয়।" ফলে আমি তার গৃহীত কিছু মতামতের ওপর আলোচনা করেছি এবং তার অনেক কথা ছেড়ে দিয়েছি, কারণ সেগুলোর পিছু নেওয়া বা বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য যে পরিমাণ অবসরের প্রয়োজন তা আমার কাছে নেই।

ইনশাআল্লাহ, আমি এই কিতাবে যখনই কোনো নতুন ফায়দা বা উপকারিতা আমার মনে আসবে তখনই তা সংযোজন করার চেষ্টা করব। তবে আমার কাছে আগের মতো সেই মানসিক ও শারীরিক শক্তি নেই যা দিয়ে আমি আমার পূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারি। সর্বাবস্থায় আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা।

আমার ইচ্ছা ছিল একটি বিস্তারিত ভূমিকা লেখার, যেখানে আমি বিভিন্ন ফায়দা এবং মূলনীতি উল্লেখ করব; তবে আমার অসুস্থতা সম্পর্কে যা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি তা এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে গুনাহর কাফফারা, প্রতিদান এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

এটি লিখেছেন

আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনি

মহান আল্লাহর প্রশংসা এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর দরুদ পাঠ করে।

১৩ মহররম ১৪৩২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: -)
إسعاف اللبيث بفتاوى الحديث   (أبو إسحق الحويني)

القسم: التخريج والأطراف

الكتاب: إسعاف اللبيث بفتاوى الحديث (الفتاوى الحديثية)

المؤلف: أبو إسحاق الحويني

الناشر: دار التقوى - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الأجزاء: 4 (الأخير فهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 ذو الحجة 1443

ইসআফুল লাবিস বি-ফাতাওয়াল হাদিস   (আবু ইসহাক আল-হুয়াইনী)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ

বই: ইসআফুল লাবিস বি-ফাতাওয়াল হাদিস (হাদিস বিষয়ক ফতোয়াসমূহ)

লেখক: আবু ইসহাক আল-হুয়াইনী

প্রকাশক: দারুত তাকওয়া - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪ (শেষটি নির্ঘণ্টসমূহ)

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ জিলহজ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌1 - سُئلتُ عن حديثِ: "أَحبِب حَبِيبَكَ هَونًا مَا؛ عَسَى أَن يَكُونَ بَغِيضَكَ يَومًا مَا، وَأَبغِض بَغِيضَكَ هَونًا مَا، عَسَى أَن يَكُونَ حَبِيبَكَ يَومًا مَا".

 

• قلتُ: هذا حديثٌ صحيحٌ موقوفٌ.

أخرجَهُ ابنُ عدي في "الكاملِ" (2/ 711 - 712)، والخطيبُ في "تاريخِهِ" (11/ 427)، ومن طريقه ابنُ الجوزيِّ في "الواهياتِ" (2/ 248) مِن طريقِ الحسنِ بن دينارٍ، عن محمَّدِ بن سيرينَ، عن أبِي هريرةَ، مرفوعًا … فذكرَهُ.

وهذَا سندٌ ضعيفٌ جدًّا؛ وآفتُهُ: الحسنُ بنُ دينارٍ؛ فإنَّهُ واهٍ.

لكنَّهُ لَم يتفرَّد به، فتابعَهُ أيُّوبُ السَّختيانيُّ، فروَاهُ عن محمَّدِ بن سيرينَ، عن أبِي هُريرةَ - قالَ: أُراهُ رفعَهُ -، ثمَّ ذَكرَ الحديثَ.

أخرجَهُ التِّرمذيُّ (1997)، والبزَّارُ في "مسند" (ج 2/ ق 267/ 1)، وابنُ حبَّانَ في "المجروحين" (1/ 351)، وابنُ عدي في "الكاملِ" (2/ 712)، وأبُو الشَّيخِ في "الأمثالِ" (رقم 114)، والبيهقيُّ في "الشُّعَبِ" (ج 11/ رقم 6171) مِن طريقِ سُويدِ بن عمرٍو، عن حمَّادِ بن سلمةَ، عن أيُّوبَ السَّختيانيِّ به.

قال التِّرمذيُّ: "هذا حديث غريبٌ، لا نعرفُهُ بهذا الإسنادِ إلَّا مِن هذا الوجهِ".
১ - আমাকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে: "তোমার প্রিয়জনকে পরিমিতভাবে ভালোবাসো; হতে পারে কোনো একদিন সে তোমার অপছন্দের পাত্র হয়ে যাবে। আর তোমার অপছন্দের ব্যক্তিকে পরিমিতভাবে ঘৃণা করো; হতে পারে কোনো একদিন সে তোমার প্রিয়জন হয়ে যাবে।"

 

• আমি বলেছি: এটি একটি সহিহ মাওকুফ হাদিস।

এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আদি তাঁর "আল-কামিল" (২/ ৭১১ - ৭১২) গ্রন্থে, খতিব তাঁর "তারিখ" (১১/ ৪২৭) গ্রন্থে এবং তাঁর সূত্রে ইবনুল জাওজি "আল-ওয়াহিয়াত" (২/ ২৪৮) গ্রন্থে। তাঁরা এটি হাসান বিন দিনার-এর সূত্রে, তিনি মুহাম্মদ বিন সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন … অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

আর এই সনদটি অত্যন্ত দুর্বল; এর ত্রুটি হলো: হাসান বিন দিনার; কারণ সে অত্যন্ত দুর্বল বর্ণনাকারী।

তবে তিনি (হাসান) এটি বর্ণনায় একক নন, বরং আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি তাঁর অনুসরণ করেছেন। তিনি এটি মুহাম্মদ বিন সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন - তিনি (আইয়ুব) বলেছেন: আমি মনে করি তিনি এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন - অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি (১৯৯৭), বাজ্জার তাঁর "মুসনাদ" (২য় খণ্ড/ ২৬৭/ ১) গ্রন্থে, ইবনে হিব্বান "আল-মাজরুহিন" (১/ ৩৫১) গ্রন্থে, ইবনে আদি "আল-কামিল" (২/ ৭১২) গ্রন্থে, আবুশ শেখ "আল-আমসাল" (নং ১১৪) গ্রন্থে এবং বায়হাকি "আশ-শুআব" (১১শ খণ্ড/ নং ৬১৭১) গ্রন্থে সুওয়াইদ বিন আমর-এর সূত্রে, তিনি হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইমাম তিরমিজি বলেন: "এই হাদিসটি গরিব, আমরা এই সনদ ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে এটি জানি না।"
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৪)
قال المُناويُّ في "فيضِ القديرِ" (1/ 177): "وقد استَدركَ الحافظُ العراقيُّ على التِّرمذيِّ دعوَاهُ غرابتَهُ وضعْفَهُ، فقالَ: قلتُ: رجالُهُ رجالُ مُسلم، لكنَّ الرَّاوِي تردَّدَ في رفعِهِ".

 

• قلت: استِغرابُ التِّرمذيِّ إنّما هو في رفعِهِ، وقد صحَّحَ وقفَهُ على أميرِ المؤمنينَ عليِّ بن أبِي طالبٍ رضي الله عنه، ووافقَهُ علَى هذا الحُكمِ جماعة منَ الحفَّاظِ، مِنهُم: ابنُ حبَّانَ، والَدَّارقُطنيُّ في "العلل" (ج 3/ ق 27/ 2)، والبزَّارُ، وابنُ عديٍّ، والبيهقيُّ، وغيرُهُم.

واعلَم! أنَّ للحديثِ المرفوعِ شواهدَ عن بعضِ الصَّحابةِ، لكِنَّهَا شديدةُ الضَّعفِ، فلا يُعَوَّلُ على شيءٍ مِنهَا. واللهُ أعلمُ.

أمَّا أثرُ عليِّ بن أبِي طالبٍ الموقوفُ عليهِ:

فأخرجَهُ البخاريُّ في "الأدبِ المفرَدِ" (1321)، وابنُ أبِي شيبةَ في "المصنَّفِ" (14/ 102)، ومُسدَّدُ في "مسندِه" - كما في "المطالبِ العاليةِ" (3/ 9) للحافظِ -، والبيهقيُّ في "الشُّعَبِ" (6168 - 6170)، بسندٍ حسنٍ.

وأخرجَ عبدُ الرَّزَّاقِ في "المصنَّفِ" (ج 11/ رقم 20269) عن مَعمَرٍ.

والبخاريُّ في "الأدب المفرَدِ" (1322) عن محمَّدِ بن جعفرٍ.

كلاهُمَا، عن زيدِ بن أَسلمَ، عن أبِيهِ، قال: قال لي عُمرُ بنُ الخطَّابِ: "يا أسلمُ! لا يَكُن حُبُّكَ كَلَفًا، ولا يكُن بغضُكَ تلَفًا"، قلتُ: وكيفَ ذلكَ؟ قال: "إذا أحبَبتَ فلا تكلِف كما يَكلِفُ الصبيُّ بالشَّيءِ يُحبُّهُ، وإذا أبغَضت، فلا تبغض بُغضًا تحبُّ أن يَتلَفَ صاحبُكَ ويهلِكَ".

وسندُهُ صحيحٌ، ورضيَ اللهُ عن عُمرَ.
আল-মুনাবি 'ফায়দুল কাদির' (১/ ১৭৭) গ্রন্থে বলেছেন: "হাফেজ ইরাকি ইমাম তিরমিজির হাদিসটিকে গরীব ও যয়ীফ বলার দাবির ওপর আপত্তি তুলেছেন। তিনি বলেছেন: আমি বলছি: এর বর্ণনাকারীগণ ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী, তবে বর্ণনাকারী এটি মারফূ হিসেবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রকাশ করেছেন।"

 

• আমি বলছি: তিরমিজির এই হাদিসটিকে গরীব বলা কেবল এর মারফূ হওয়ার দিক থেকে, অথচ তিনি আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর মাওকূফ হওয়াকে সহীহ বলেছেন। একদল হাফেজ এই রায়ের সাথে একমত পোষণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে হিব্বান, আদ-দারা কুতনি 'আল-ইলাল' (৩য় খণ্ড/ ২৭ পৃষ্ঠা/ ২) গ্রন্থে, আল-বাযযার, ইবনে আদি, আল-বাইহাকি এবং অন্যান্যরা।

জেনে রাখুন! মারফূ হাদিসটির জন্য কিছু সাহাবীর পক্ষ থেকে শাওয়াহিদ (সাক্ষী) রয়েছে, কিন্তু সেগুলো অত্যন্ত দুর্বল, তাই সেগুলোর কোনোটির ওপরই নির্ভর করা যায় না। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর মাওকূফ আছরের ক্ষেত্রে:

এটি ইমাম বুখারি 'আল-আদাবুল মুফরাদ' (১৩২১), ইবনে আবি শায়বা 'আল-মুসান্নাফ' (১৪/ ১০২) এবং মুসাদ্দাদ তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে—যেমনটি হাফেজের 'আল-মাতালিবুল আলিয়া' (৩/ ৯) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে—এবং আল-বাইহাকি 'আশ-শুআব' (৬১৬৮ - ৬১৭০) গ্রন্থে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।

এবং আব্দুর রাজ্জাক 'আল-মুসান্নাফ' (১১শ খণ্ড/ নং ২০২৬৯) গ্রন্থে মা'মার থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং ইমাম বুখারি 'আল-আদাবুল মুফরাদ' (১৩২২) গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁরা উভয়ই যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব আমাকে বলেছেন: "হে আসলাম! তোমার ভালোবাসা যেন মোহগ্রস্ততা না হয় এবং তোমার ঘৃণা যেন ধ্বংসাত্মক না হয়।" আমি বললাম: সেটা কীভাবে? তিনি বললেন: "যখন তুমি ভালোবাসবে, তখন শিশুর মতো কোনো জিনিসের প্রতি অন্ধভাবে মোহগ্রস্ত হবে না যা সে ভালোবাসে। আর যখন তুমি ঘৃণা করবে, তখন এমন চরম ঘৃণা করবে না যাতে তুমি তোমার প্রতিপক্ষের ধ্বংস ও বিনাশ কামনা করো।"

এর সনদ সহীহ এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌2 - سئلتُ عن حديثِ: "إِنَّ الله يبغضُ كلَّ جَعظَرِيٍّ، جَوَّاظٍ، سَخَّابِ فِي الأَسوَاقِ، جِيفَةٍ بِاللَّيلِ، حِمَارٍ بِالنَّهَارِ، عَالمٍ بِأَمرِ الدُّنيَا، جَاهِلٍ بِأَمرِ الآخِرَةِ".

 

• قلتُ: هذا حديث ضعيفٌ.

أخرجَهُ ابنُ حبَّانَ في "صحيحِهِ" (1975)، وأبُو القاسمِ الأصبهانيُّ في "التَّرغيبِ" (1926)، والبيهقيُّ (10/ 194) من طريقِ عبدِ الله بن سعيدِ بن أبِي هندٍ، عن أبِيهِ، عن أبِي هُريرةَ، مرفُوعًا … فذكرَهُ.

وهذا سندٌ ضعيف، وعبدُ الله بنُ سعيدٍ صدوق، وثَّقهُ أحمدُ، وابنُ معينٍ، وغيرُهمَا، وضعَّفهُ أبُو حاتمٍ الرَّازيُّ. وأبوه فلَم يسمَع من أبي هُريرَة. وكنتُ حسَّنتُ هذا الحديثَ، ثُمَّ تراجعتُ عنه بعد عدَّة أشهُرٍ، ونبَّهتُ على ذلك في المجلَّة نفسِها. والحمدُ لله.

أمَّا معنَى الحديثِ ..

فـ "الجَعظَرِيُّ": هو الشَّديدُ الغليظُ.

و "الجَوَّاظُ": هو الأكولُ.

و "السَّخَّابُ": هو الصَّخَّابُ، كثيرُ الصِّياحِ، عالِي الصَّوتِ.

ومقصودُ الحديثِ ..

ذمُّ أهلِ الدُّنيَا، المتكالِبِينَ عليهَا، بحيثُ إنهم يَكدَحونَ فِيهَا طُوالَ
২ - আমাকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন যে উদ্ধত, কর্কশ, অধিক ভোজনকারী, বাজারে উচ্চস্বরে হট্টগোলকারী, রাতে লাশের ন্যায় (নিশ্চল) এবং দিনে গাধার ন্যায় (পরিশ্রমী), যে পার্থিব বিষয়ে বিজ্ঞ অথচ আখিরাত সম্পর্কে অজ্ঞ।"

 

• আমি বলেছি: এটি একটি যঈফ (দুর্বল) হাদীস।

এটি ইবনে হিব্বান তাঁর "সহীহ" (১৯৭৫)-এ, আবুল কাসিম আল-আসবাহানী "আত-তারগীব" (১৯২৬)-এ এবং আল-বায়হাকী (১০/১৯৪) আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আবি হিন্দের সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণনা করেছেন... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

এই সনদটি যঈফ; আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ 'সদুক' (সত্যবাদী), ইমাম আহমাদ, ইবনে মাঈন এবং অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তবে আবু হাতিম আল-রাযী তাঁকে যঈফ বলেছেন। আর তাঁর পিতা আবু হুরায়রা থেকে হাদীস শ্রবণ করেননি। আমি পূর্বে এই হাদীসটিকে 'হাসান' (উত্তম) বলেছিলাম, অতঃপর কয়েক মাস পর আমি তা থেকে ফিরে আসি এবং সেই একই সাময়িকীতে এ বিষয়ে অবহিত করি। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

হাদীসের অর্থের ব্যাপারে...

অতঃপর "আল-জা'ছারী": সে হলো ঐ ব্যক্তি যে অত্যন্ত কঠোর ও কর্কশ স্বভাবের।

এবং "আল-জাওওয়ায": সে হলো অধিক ভোজনকারী।

এবং "আস-সাখখাব": সে হলো অধিক হট্টগোলকারী, যে প্রচুর চিৎকার করে এবং উচ্চকণ্ঠ বিশিষ্ট।

হাদীসের উদ্দেশ্য হলো...

দুনিয়াদারদের নিন্দা করা, যারা দুনিয়ার মোহে এমনভাবে মত্ত যে তারা দিনভর এর পেছনে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে...
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৬)
حياتهم كالأنعامِ، ليسَ لهُم همٌّ إلَّا جمعُهَا، والاستكثَارُ مِنهَا، فإذَا جَنَّ عليهِم اللَّيلُ نامُوا كالأمواتِ بلَا حِراكٍ، ولا يذكُرونَ الله تبارك وتعالى.

واللهُ أعلمُ.
তাদের জীবন চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়; তা সংগ্রহ করা এবং এর প্রাচুর্য বৃদ্ধি করা ব্যতীত তাদের অন্য কোনো চিন্তা নেই। অতঃপর যখন তাদের উপর রাত্রি নেমে আসে, তখন তারা মৃতদেহের ন্যায় নিথর হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে এবং তারা বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহকে স্মরণ করে না।

আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌3 - سُئلتُ عن حديثِ: "اليَمِينُ الكَاذبَةُ تَذَرُ الدِّيَارَ بَلَاقِعَ".

 

• قلتُ: هذا حديثٌ حسنٌ.

أخرجَهُ ابنُ حبَّانَ في "الثقاتِ" (8/ 400)، والدُّولابيُّ في "الكُنَى" (2/ 165)، والكِلَابَاذِيُّ في "مفتاحِ المعانِي" (ق 223/ 1 - 2)، والخطيبُ في "التَّلخيصِ" (2/ 702 - 703) من طريقِ سُليمانَ بن عبدِ الحميدِ بن عبدِ العزيزِ، عن أبِيهِ، عن عمرِو بن قيسٍ، عن واثِلةَ بن الأسقعِ، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، قال: "اليمينُ الغَموسُ الكاذبةُ، تَذرُ الدِّيارَ بلاقعَ"، وهذَا لفظُ الخطيبِ.

وسندُهُ ضعيفٌ؛ وسليمانُ بنُ عبدِ الحميدِ، ذكرَهُ في "التَّهذيبِ" تمييزًا، ولَم يذكُرهُ بأكثرَ مِن روايةِ الحسنِ بن سُليمانَ الفزاريِّ عنهُ.

وأبُوهُ، ذكرَهُ ابنُ حبَّانَ في "الثِّقاتِ" بروايةِ ابنِهِ فقط، فهُمَا مجهُولانِ.

ولكِن للحديثِ شاهدٌ عن عبدِ الرَّحمنِ بن عوفٍ، مرفوعًا بلفظِ: "اليمينُ الفاجرةُ تُذهِبُ المالَ - أو: تَذهَبُ بالمالِ - ".

أخرجَهُ البزَّارُ (ج 2/ رقم 1345)، من طريقِ ابن عُلاثَةَ، عن هشامِ بن حسَّانَ، عن يحيَى بن أبِي كثير، عن أبِي سلمةَ، عن عبدِ الرَّحمنِ بنِ عوفٍ.

قال البزَّارُ: "لا نعلَمُهُ عن عبدِ الرَّحمنِ بن عوفٍ إلا من هذَا الوجهِ، ولا أسندَ هشامٌ عن يحيَى غيرَ هذا، ولا رواهُ عن هشامٍ إلَّا ابنُ عُلاثةَ، وهو ليِّنُ الحديث".
৩ - আমাকে "মিথ্যা শপথ ঘরবাড়িকে জনশূন্য ও বিরান করে দেয়" হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।

 

• আমি বলেছি: এটি একটি হাসান হাদিস।

ইবনে হিব্বান "আস-সিকাত" (৮/৪০০), আদ-দুলাবি "আল-কুনা" (২/১৬৫), আল-কিলাবাদি "মিফতাহুল মাআনি" (পৃ. ২২৩/ ১-২) এবং আল-খতিব "আত-তালখিস" (২/৭০২-৭০৩) গ্রন্থে সুলায়মান বিন আব্দুল হামিদ বিন আব্দুল আজিজ-এর সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আমর বিন কায়স থেকে, তিনি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "মিথ্যা গামুস শপথ ঘরবাড়িকে জনশূন্য ও বিরান করে দেয়।" এটি আল-খতিবের শব্দবিন্যাস।

এর সনদটি যঈফ; সুলায়মান বিন আব্দুল হামিদকে "আত-তাহজিব" গ্রন্থে কেবল পার্থক্য করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে এবং হাসান বিন সুলায়মান আল-ফাজারির বর্ণনা ছাড়া অন্য কোনো বর্ণনায় তাঁকে উল্লেখ করা হয়নি।

আর তাঁর পিতা— ইবনে হিব্বান তাঁকে কেবল তাঁর ছেলের বর্ণনার ভিত্তিতে "আস-সিকাত" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ফলে তাঁরা উভয়ই মাজহুল (অপরিচিত)।

কিন্তু এই হাদিসটির জন্য আব্দুর রহমান বিন আউফ থেকে একটি শাহিদ (সমর্থক বর্ণনা) মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যার শব্দ হলো: "পাপপূর্ণ শপথ সম্পদ বিনষ্ট করে দেয়—অথবা: সম্পদ নিয়ে যায়।"

আল-বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন (খণ্ড ২/ নং ১৩৪৫), ইবনে উলাসাহ-এর সূত্রে, তিনি হিশাম বিন হাসসান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আউফ থেকে।

আল-বাযযার বলেন: "আব্দুর রহমান বিন আউফ থেকে এই সূত্র ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে এটি আমাদের জানা নেই, এবং হিশাম ইয়াহইয়া থেকে এটি ছাড়া আর কোনো মুসনাদ হাদিস বর্ণনা করেননি। আর হিশাম থেকে ইবনে উলাসাহ ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি, অথচ তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল।"
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৮)
وقال المُنذِرِيُّ في "التَّرغيبِ" (3/ 47): "إسنادُهُ صحيحٌ، لو صحَّ سماعُ أبِي سَلَمةَ من أبِيهِ عبدِ الرَّحمنِ بن عوفٍ".

وجزَمَ الهيثميُّ في "المَجمعِ" (4/ 179) بأنَّهُ لَم يَسمَع مِن أبِيهِ، ولكنَّهُ وَهِمَ، فقالَ: "رجالُهُ رجالُ الصَّحيحِ"!

ومحمَّدُ بنُ عبدِ الله بن عُلاثَةَ لَم يُخرِّج لهُ أحدُ الشَّيخينِ شيئًا، وهو صدوقٌ، في حفظِهِ مقالٌ يسيرٌ، أفرَطَ الأزديُّ وابنُ حبَّانَ فِيهِ، وإنَّما وقَعَت المناكيرُ في روايتهِ مِن قِبَلِ عموِو بن الحُصينِ، كما قال الخطيبُ.

وعمرُو بنُ الحُصينِ تالفٌ البتّة.

وخُولفَ هشامُ بنُ حسَّانَ فِيهِ.

خالَفَهُ أبو حنيفةَ، فروَاهُ عن يحيَى بن أبِي كثيرٍ، عن مُجاهدٍ، وعِكرمةَ، عن أبِي هُريرةَ مرفُوعًا: "ليس شيءٌ أُطِيعَ اللهُ فيه أعجلَ ثوابًا من صلة الرَّحِمِ، وليس شيءٌ أعجَلَ عقابًا من البَغيِ وقطيعةِ الرَّحِمِ، واليمينُ الفاجرةُ تَدَع الدِّيارَ بلاقِعَ".

أخرجَهُ البيهقيُّ (10/ 35) من طريقِ عبدِ اللهِ بن يزيدَ المُقرِئِ، عن أبِي حنيفَة، به، وقال: "كذا رواهُ عبدُ اللهِ بنُ يزيدَ المقرِئ، عن أبِي حنيفَةَ. وخالفَهُ إبراهيمُ بنُ طَهمانَ، وعليُّ بنُ ظَبيانَ، والقاسمُ بنُ الحَكَمِ، فرَوَوهُ عن أبِي حنيفَةَ، عن ناصحِ بن عبدِ الله، عن يحيَى بن أبِي كثيرٍ، عن أبِي سلَمةَ، عن أيِي هُريرةَ، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم. وقِيلَ: عن يحيَى، عن أبِي سلَمةَ، عن أبِيهِ. والحديثُ مشهور بالإِرسالِ" اهـ.
আল-মুনযিরি "আত-তারগীব" (৩/৪৭) গ্রন্থে বলেছেন: "এর সানাদ সহীহ, যদি আবু সালামাহর তাঁর পিতা আবদুর রহমান ইবনে আউফ থেকে শোনা প্রমাণিত হতো।"

এবং আল-হাইসামি "আল-মাজমা" (৪/১৭৯) গ্রন্থে দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, তিনি তাঁর পিতা থেকে শুনেননি, তবে তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন, তাই তিনি বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ (বুখারি ও মুসলিম) এর বর্ণনাকারী!"

আর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন উলাসাহ-এর পক্ষ থেকে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি, তিনি সদুক (সত্যবাদী), তবে তাঁর স্মৃতিশক্তিতে সামান্য ত্রুটি রয়েছে, আল-আযদি এবং ইবনে হিব্বান তাঁর ব্যাপারে অতিরঞ্জন করেছেন, আর মূলত তাঁর বর্ণনায় অসমর্থিত বিষয়গুলো প্রবেশ করেছে আমর বিন আল-হুসাইনের পক্ষ থেকে, যেমনটি আল-খতিব বলেছেন।

আর আমর বিন আল-হুসাইন একেবারেই অযোগ্য ও পরিত্যক্ত।

এবং এতে হিশাম বিন হাসসানের বিরোধিতা করা হয়েছে।

আবু হানিফা তাঁর বিরোধিতা করেছেন, তিনি এটি বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির থেকে, তিনি মুজাহিদ ও ইকরিমা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে: "আল্লাহর আনুগত্যের কাজে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার চেয়ে দ্রুততর সওয়াব আর কিছুতে নেই, আর বিদ্রোহ ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার চেয়ে দ্রুততর শাস্তি আর কিছুতে নেই, আর মিথ্যা শপথ ঘরবাড়িকে জনশূন্য ও উষর করে দেয়।"

এটি বর্ণনা করেছেন আল-বাইহাকি (১০/৩৫) আবদুল্লাহ বিন ইয়াযিদ আল-মুকরি-এর সূত্রে, আবু হানিফা থেকে এবং তিনি বলেছেন: "আবদুল্লাহ বিন ইয়াযিদ আল-মুকরি আবু হানিফা থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর ইব্রাহিম বিন তাহমান, আলী বিন যাবইয়ান এবং আল-কাসিম বিন আল-হাকাম তাঁর বিরোধিতা করেছেন, তাঁরা এটি আবু হানিফা থেকে, তিনি নাসিহ বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন: ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে। আর হাদিসটি মুরসাল হিসেবেই প্রসিদ্ধ।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৯)
ثُمَّ روَى البيهقيُّ الحديثَ مِن طريقَينِ مُرسلينِ بسندٍ صحيحٍ.

ولَهُ طريقٌ آخرُ، عن أبِي سلَمةَ، عن أبِي هُريرةَ مرفوعًا: "إن أعجَلَ الطَّاعات ثوابًا صلةُ الرَّحِم، وإنَّ أهل البيت لَيَكُونون فُجَّارًا، فتَنموا أموالهُم، ويَكثر عددُهُم إذا وَصَلُوا أرحامَهُم. وإنَّ أعجَلَ المعصية عُقوُبَةً البغيُ، والخِيانةُ. ويَمينُ الغَموسُ: تُذهِبُ المالَ، وتذَرُ الدِّيارَ بلاقِعَ". وزاد الطَّبرانِيُّ: "وتُقِل في الرَّحمِ".

أخرجَهُ ابنُ حبَّانَ في "المجرُوحِينَ" (3/ 149 - 150) مُعلَّقًا، ووصلَهُ الطَّبرانيُّ في "الأوسطِ" (ج 1/ ق 61/ 1) من طريقِ أبِي جعفرٍ النُّفيليِّ، ثنا أبُو الدَّهماءِ البصريُّ - شيخُ صدقٍ -، عن محمَّدِ بن عمرٍو، عن أبِي سلَمةَ به.

قال الطَّبرانيُّ: "لَم يَروِ هذا الحديثَ عن محمَّدِ بن عمرٍو إلَّا أبُو الدَّهماءِ، تفرَّدَ به النُّفيليُّ".

 

• قلتُ: والنُّفيليُّ ثقةٌ مأمونٌ، ولكِنْ أبُو الدَّهماءِ قال فيه ابنُ حبَّانَ: "كانَ مِمَّن يروِي المقلوباتِ، ويأتِي عن الثِّقاتِ بمَا لَا يُشبهُ حديث الأثباتِ، فبطُلَ الاحتجاجُ به إذَا انفَرَدَ".

واعتَمَدَ كلامَهُ الهيثميُّ في "المَجمعِ" (8/ 152) فضعَّفهُ جدًّا، ولكنَّهُ خالفَ فِي موضعٍ آخرَ من "كتابِهِ" (8/ 185) فقال: "فيه أبو الدَّهماءِ البصريُّ، وثَّقهُ النُّفيليُّ، وضعَّفهُ ابنُ حبَّانَ". وفي عبارتهِ نظرٌ؛ فإنَّ النُّفيليَّ لَم يُوثِّقهُ، بل قالَ: "شيخُ صدقٍ"، وهذا لا يَدلُّ علَى ضبطٍ، بل غايتُهُ إثباتُ صدقِهِ فحَسبُ.
এরপর বায়হাকি সহিহ সনদে দুটি মুরসাল সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

এর আরেকটি সূত্র রয়েছে, যা আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয় আনুগত্যের কাজগুলোর মধ্যে যার সওয়াব সবচেয়ে দ্রুত পাওয়া যায় তা হলো আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা। এমনকি কোনো একটি পরিবারের সদস্যরা পাপাচারী হওয়া সত্ত্বেও তাদের সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং তাদের সংখ্যা বেড়ে যায় যদি তারা আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখে। আর পাপাচারের মধ্যে যেটির শাস্তি সবচেয়ে দ্রুত আসে তা হলো বিদ্রোহ ও খেয়ানত। আর মিথ্যা শপথ (ইয়ামিনুল গামুস) সম্পদ ধ্বংস করে দেয় এবং বসতবাড়ি জনশূন্য করে ফেলে।" তাবারানি আরও যোগ করেছেন: "এবং তা বংশধরের সংখ্যা কমিয়ে দেয়।"

এটি ইবনে হিব্বান তার 'আল-মাজরুহিন' গ্রন্থে (৩/ ১৪৯-১৫০) মুআল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে (১ম খণ্ড/ ৬১ পৃষ্ঠা/ ১) আবু জাফর আন-নুফাইলি-এর সূত্রে মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আদ-দাহমা আল-বাসরি -যিনি একজন সত্যবাদী শায়খ-, তিনি মুহাম্মাদ বিন আমর থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

তাবারানি বলেছেন: "মুহাম্মাদ বিন আমর থেকে আবু আদ-দাহমা ছাড়া আর কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি, আর নুফাইলি এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন।"

 

• আমি বলছি: নুফাইলি একজন নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত রাবি, কিন্তু আবু আদ-দাহমা সম্পর্কে ইবনে হিব্বান বলেছেন: "তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা উল্টাপাল্টা হাদিস বর্ণনা করতেন এবং নির্ভরযোগ্য রাবিদের সূত্রে এমন হাদিস নিয়ে আসতেন যা সুপ্রতিষ্ঠিত রাবিদের হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সুতরাং যখন তিনি এককভাবে কোনো হাদিস বর্ণনা করবেন, তখন তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বাতিল বলে গণ্য হবে।"

হাইসামি তার 'আল-মাজমা' গ্রন্থে (৮/ ১৫২) ইবনে হিব্বানের কথার ওপর ভিত্তি করে তাকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। কিন্তু তিনি তার কিতাবের অন্য স্থানে (৮/ ১৮৫) এর বিপরীত কথা বলেছেন এবং বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে আবু আদ-দাহমা আল-বাসরি রয়েছেন, যাকে নুফাইলি নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান দুর্বল বলেছেন।" তার এই বক্তব্যে আপত্তির অবকাশ রয়েছে; কারণ নুফাইলি তাকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেননি, বরং বলেছেন: "তিনি একজন সত্যবাদী শায়খ", আর এটি রাবির স্মৃতিশক্তির প্রখরতা বা নির্ভুলতা (দাবত) প্রমাণ করে না, বরং এর সর্বোচ্চ অর্থ হলো কেবল তার সততাটুকুই প্রমাণ করা।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ১০)
وخُلاصةُ البحثِ، أن الحديث حسنٌ بالطَّريقِ الأوَّلِ مع المرسَلَينِ الصَّحيحَينِ اللَّذَينِ أشرتُ إليهِمَا.

واللهُ تعالَى أعلَمُ.
গবেষণার সারসংক্ষেপ এই যে, আমি যে দুটি সহিহ মুরসাল বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করেছি, সেই দুটির সমন্বয়ে প্রথম সূত্রের ভিত্তিতে হাদিসটি হাসান।

আর আল্লাহ তাআলাই অধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌4 - سئلتُ عن حديثِ: "مَن قَلَّ مَالُهُ، وَكثُرَ عِيَالُه، وَحَسُنَت صَلَاتُهُ، وَلَم يَغتَب أَحَدًا مِنَ المُسلِمِينَ، كانَ مَعِي يَومَ القِيَامَةِ كأُصبُعَيَّ هَاتَينِ".

 

• قلتُ: هذا حديثٌ ضعيفٌ جدًّا.

أخرجَهُ أبو يعلَى (ج 2/ رقم 990)، والأصبهانيُّ في "التَّرغيب" (2226)، والخطيبُ في "تاريخه"، ومن طريقه ابنُ الجوزيِّ في "الواهيات" (2/ 319) من طريق مَسلَمَةَ بن عَليٍّ، عن عبد الرَّحمن بن يزيدَ، عن الزُّهريِّ، عن سعيد بن المسيَّب، عن أبي سعيدٍ الخُدريِّ، عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم، فذكره.

قال ابن الجوزيِّ: "هذا حديثٌ لا يصحُّ. قال أحمد: عبد الرَّحمن بن يزيدَ ضعيفٌ. وقال النَّسائيُّ: متروكٌ".

كذا قال ابن الجوزيِّ! وفي إعلاله نظرٌ، فإنَّه لا يَتِمُّ له ..

وبيان ذلك، أن مَسلَمَةَ بن عليٍّ يَروِى عن عبد الرَّحمن بن يزيدَ بن تميمٍ، وكذا عن عبد الرَّحمن بن يزيدَ بن جابرٍ، كما أن كليهما يَروِي عن الزُّهريِّ. والأوَّل ضعيفٌ أو متروكٌ، والثَّاني ثقةٌ ثبتٌ، فلا يَتمُّ له الإعلال إلَّا إذا أَثبَت أن الواقع في السند هو المتروكُ دون الثِّقة، ولا يُقطَع بهذا إلَّا إذا جاء منسوبًا.
৪ - আমাকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে: "যার সম্পদ কম, পরিবার বড়, নামাজ সুন্দর এবং কোনো মুসলিমের গীবত করেনি, সে কিয়ামতের দিন আমার সাথে এই দুই আঙ্গুলের মতো থাকবে।"

 

• আমি বলেছি: এটি একটি অত্যন্ত দুর্বল হাদিস।

এটি আবু ইয়ালা (খণ্ড ২/ নম্বর ৯৯০), 'আত-তারগিব' (২২২৬) গ্রন্থে আল-আসবাহানি, আল-খাতিব তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে এবং তাঁর মাধ্যম হয়ে ইবনুল জাওজি 'আল-ওয়াহিয়াত' (২/ ৩১৯) গ্রন্থে মাসলামাহ বিন আলী-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ বিন মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনুল জাওজি বলেন: "এই হাদিসটি সহিহ নয়। ইমাম আহমাদ বলেছেন: আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ দুর্বল। আর নাসায়ি বলেছেন: মাতরুক (পরিত্যাজ্য)।"

ইবনুল জাওজি এমনটিই বলেছেন! তবে তাঁর ত্রুটি (ইল্লাত) নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনার অবকাশ আছে, কারণ এটি তাঁর জন্য পূর্ণতা পায় না...

এর ব্যাখ্যা হলো, মাসলামাহ বিন আলী আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন তামিম থেকে বর্ণনা করেন, আবার আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির থেকেও বর্ণনা করেন; তেমনিভাবে তারা উভয়েই যুহরি থেকে বর্ণনা করেন। প্রথমজন দুর্বল বা মাতরুক, আর দ্বিতীয়জন নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী (সিকাহ সাবাত)। সুতরাং, সনদে যে ব্যক্তিটি আছেন তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী নন বরং মাতরুক বর্ণনাকারী—এটি প্রমাণ না করা পর্যন্ত তাঁর ওই ত্রুটি নির্ধারণ পূর্ণাঙ্গ হয় না; আর এটি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় যতক্ষণ না তাঁর বংশপরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ১২)
أمَّا علَّة الحديث الَّتي أغفَلَها ابنُ الجوزيِّ، فهي مَسلَمَةُ بنُ عليٍّ، وهو أبو سعيدٍ الخشُنيُّ، وهو متروكٌ كما قال النَّسائيُّ، والدَّارقُطنيُّ، والبَرقانيُّ، وغيرُهُم.

وقالَ أبو داوُد: "ليس بثقةٍ ولا مأمونٌ".

وقال البُخاريُّ، وأبُو زُرعةَ، وغيرُهما: "منكَر الحديث".

والله أعلم.
আর হাদীসটির যে ত্রুটির কথা ইবনুল জাওযী উপেক্ষা করেছেন, সেটি হলো মাসলামাহ ইবনে আলী। তিনি হলেন আবু সাঈদ আল-খুশানী; আর তিনি ‘মাতরূক’ (পরিত্যক্ত), যেমনটি নাসাঈ, দারা কুতনী, বারকানী এবং অন্যরা বলেছেন।

আবু দাউদ বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য নন এবং আস্থাভাজনও নন।"

ইমাম বুখারী, আবু যুরআহ এবং অন্যরা বলেছেন: "তিনি মুনকারুল হাদীস।"

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌5 - سُئلتُ عن حديث: "مَا قَلَّ وَكفَى، خيرٌ مِمَّا كثُرَ وَأَلهَى".

 

• قلتُ: هذا الحديث صحيحٌ.

أخرجه أحمدُ في "المسند" (5/ 197)، وفي "الزُّهد" (ص 19)، وابنُ أبي شَيبةَ في "المسند" (36)، والطَّيالسيُّ (979)، وعبدُ بن حُميدٍ في "المنتخَب" (257)، وابنُ جَريرٍ في "تفسيره" (11/ 104، و 30/ 221)، وفي "تهذيب الآثار" (443، 444، 447 - مُسنَد ابن عبَّاسٍ)، وابنُ أبي حاتِمٍ في "تَفسِيره" (10326)، وابنُ حِبَّانَ (814، 2476)، وأبو مُحمَّدٍ الفَاكِهِيُّ في "حدِيثه" (ج 1/ ق 14/ 1 - رقم 64 بتحقيقي)، وابنُ السُّنِّيِّ في "القناعة" (30، 31، 32)، والمَحَامِليُّ في "الأمالي" (ق 49/ 2 - 50/ 1)، والطَّبَرَانِيُّ في "الأوسط" (2891)، وابنُ بِشرَانَ في "الأمالي" (ق 98/ 2)، والحاكمُ (2/ 444 - 445)، وأبو الشَّيخِ في "الأمثال" (188)، وابنُ أبي الدُّنيَا في "كَلَام الأيَّام واللَّيَالِي" (رقم 1، 2)، وأبُو نُعيم في "الحِلية" (1/ 226، و 2/ 232 - 233، و 9/ 60)، والأصبهانيُّ في "التَّرغيب" (516، 2048)، والبيهقيُّ في "الشُّعَب" (ج 7/ رقم 3139)، والقُضَاعِيُّ في "مُسنَد الشِّهاب" (810)، والبَغَوِيُّ في "شرح السُّنَّة" (14/ 247) من طُرُقٍ عن قتادة، عن خُلَيد بن عبد الله العَصَريِّ، عن أبي الدَّرداءِ، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: "ما طلعت الشمسُ قطُّ، إلَّا وبِجَنبَتَيهَا ملَكان يناديان، يُسمعَان مَن علَى
৫ - আমাকে হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে: "যা অল্প এবং যথেষ্ট, তা সেই প্রাচুর্য অপেক্ষা উত্তম যা উদাসীন করে দেয়।"

 

• আমি বলেছি: এই হাদীসটি সহীহ।

এটি উদ্ধৃত করেছেন আহমাদ তাঁর "আল-মুসনাদ" (৫/ ১৯৭) ও "আয-যুহদ" (পৃ. ১৯) গ্রন্থে, ইবনে আবি শাইবাহ "আল-মুসনাদ" (৩৬) গ্রন্থে, আত-তায়ালিসি (৯৭৯), আবদ বিন হুমাইদ "আল-মুন্তাখাব" (২৫৭) গ্রন্থে, ইবনে জারীর তাঁর "আত-তাফসীর" (১১/ ১০৪ এবং ৩০/ ২২১) ও "তাহযীবুল আসার" (৪৪৩, ৪৪৪, ৪৪৭ - মুসনাদ ইবনে আব্বাস) গ্রন্থে, ইবনে আবি হাতিম তাঁর "আত-তাফসীর" (১০৩২৬) গ্রন্থে, ইবনে হিব্বান (৮১৪, ২৪৭৬), আবু মুহাম্মাদ আল-ফাকিহী তাঁর "হাদীস" (১ম খণ্ড/ ১৪পৃ/ ১ - আমার সম্পাদনায় ৬৪ নম্বর) গ্রন্থে, ইবনে আস-সুন্নী "আল-কানাআত" (৩০, ৩১, ৩২) গ্রন্থে, আল-মাহামিলি "আল-আমালি" (৪৯/ ২ - ৫০/ ১) গ্রন্থে, আত-তাবারানি "আল-আওসাত" (২৮৯১) গ্রন্থে, ইবনে বিশরান "আল-আমালি" (৯৮/ ২) গ্রন্থে, আল-হাকিম (২/ ৪৪৪ - ৪৪৫), আবুশ শাইখ "আল-আমসাল" (১৮৮) গ্রন্থে, ইবনে আবিদ দুনিয়া "কালামুল আইয়্যাম ওয়াল লায়ালি" (১, ২ নম্বর) গ্রন্থে, আবু নুয়াইম "আল-হিলইয়াহ" (১/ ২২৬, ২/ ২৩২ - ২৩৩ এবং ৯/ ৬০) গ্রন্থে, আল-আসবাহানি "আত-তারগীব" (৫১৬, ২০৪৮) গ্রন্থে, আল-বাইহাকী "আশ-শুআব" (৭ম খণ্ড/ ৩১৩৯ নম্বর) গ্রন্থে, আল-কুদায়ী "মুসনাদুশ শিহাব" (৮১০) গ্রন্থে এবং আল-বাগাবী "শারহুস সুন্নাহ" (১৪/ ২৪৭) গ্রন্থে; তাঁরা সকলেই বিভিন্ন সূত্রে কাতাদাহ থেকে, তিনি খুলরিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসরি থেকে, তিনি আবু আদ-দারদা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "সূর্য কখনো উদিত হয় না এমন অবস্থা ব্যতীত যে, তার দুই পার্শ্বে দুইজন ফেরেশতা থাকেন যারা ঘোষণা করতে থাকেন, তারা শুনিয়ে থাকেন তাদেরকে যারা উপরে..."
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ১৪)
الأرض، غيرَ الثَّقلينِ: أيُّها النَّاسُ! هلُمُّوا إلَى ربِّكُم، ما قلَّ وكفَى خيرٌ ممَّا كثُرَ وألهَى. ولا آبت شَمسٌ قَطُّ، إلَّا بُعِثَ بجَنبَتَيهَا مَلَكَان يُنادِيان، يُسمِعان أهلَ الأرضِ، إلَّا الثَّقَلَين: اللَّهُمَّ! أَعط مُنفِقًا خَلَفًا، وأَعط مُمسِكًا مَالًا تَلَفًا"، لفظُ أحمدَ.

وفي حدِيثِ عبَّادِ بن راشدٍ، عن قَتادَةَ - عِند ابن جَرِيرٍ، وابنِ أبي حاتِم، والفَاكِهِيِّ، وابنِ بِشرَانَ، والبَيهَقِيِّ -، زادَ: " … وأنزَلَ اللّهُ تعالَى في ذلك قُرآنًا - في قول الملكين: يا أيُّها النَّاسُ! هَلُمُّوا إلى رَبِّكُم -، في سُورَة يُونُس: {وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [يونس: 25]. وَأنزلَ في قولهِمَا: اللَّهُمَّ! أَعطِ مُنفِقًا خَلَفًا، وأَعطِ مُمسِكًا تَلَفًا: {وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى (1) وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى (2) وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى (3)} … إلى قَولِه: … {لِلْعُسْرَى} [الليل: 1 - 10] ".

 

• قلتُ: وقد تَفَرَّد عبَّادُ بن راشدٍ دُونَ سائِرِ رُواتِه عن قتادةَ، بِجَعلِ هذا الحديثَ سبَبًا لنُزُول هذه الآياتِ.

وعبَّادُ بن راشدٍ لا يُحتَمَلُ لمِثلِه أن يَنفَرِد عن قَتادَةَ بهذا.

وقد رَوَاهُ عن قَتَادَةَ دُون سَبَب النزول: سَعِيدُ بن أبي عَرُوبَةَ - مِن رواية عَبدِ الأَعلى بن عبد الأَعلَى -، وهمَّامُ بنُ يَحيَى، وشيبَانُ بن عبد الرَّحمَن، وهِشَامٌ الدَّستوائِيُّ، وسُليمانُ التَّيمِيُّ، وأبو عَوَانَةَ، وسَلَّام بن مِسكِين، فلَم يَذكُر واحدٌ مِنهُم ما ذَكَرَهُ عبّادُ بن راشدٍ.

نعم! وَقَع في رواية هِشَامٍ الدَّستوائِيِّ، قال: ثنا قتادَةُ، وتلا قَولَ الله عز وجل: {وَلَوْ بَسَطَ اللَّهُ الرِّزْقَ لِعِبَادِهِ لَبَغَوْا فِي الْأَرْضِ وَلَكِنْ يُنَزِّلُ بِقَدَرٍ مَا يَشَاءُ}
পৃথিবী, জিন ও মানুষ ব্যতীত। (তারা বলে:) "হে লোকসকল! তোমাদের রবের দিকে এসো। যা অল্প এবং পর্যাপ্ত, তা সেই জিনিসের চেয়ে উত্তম যা অধিক এবং উদাসীন করে দেয়।" আর সূর্য কখনোই অস্ত যায় না কিন্তু তার দুই পাশে দুইজন ফেরেশতা পাঠানো হয় যারা ডাকতে থাকে এবং জিন ও মানুষ ব্যতীত পৃথিবীর সকল অধিবাসীকে শোনায়: "হে আল্লাহ! দানকারীকে বিনিময় দান করুন এবং কৃপণকে ধ্বংস দিন।" - এটি আহমদের শব্দাবলী।

এবং আব্বাদ ইবনে রশিদের হাদীসে, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত - যা ইবনে জারীর, ইবনে আবি হাতিম, আল-ফাকিহী, ইবনে বিশরান এবং আল-বায়হাকীর নিকট রয়েছে - তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: " … এবং মহান আল্লাহ এ বিষয়ে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন - ফেরেশতাদ্বয়ের এই কথা সম্পর্কে: হে লোকসকল! তোমাদের রবের দিকে এসো - সূরা ইউনুসে: {আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন} [ইউনুস: ২৫]। আর তাদের এই কথার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ করেছেন: হে আল্লাহ! দানকারীকে বিনিময় দিন এবং কৃপণকে ধ্বংস দিন: {শপথ রাতের যখন তা আচ্ছন্ন হয় (১) শপথ দিনের যখন তা উদ্ভাসিত হয় (২) এবং শপথ তাঁর যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন (৩)} … তাঁর বাণী: … {কঠোর পরিণতির জন্য (সহজ করে দেবেন)} [লাইল: ১-১০] পর্যন্ত।"

 

• আমি বলছি: এই হাদীসটিকে এই আয়াতগুলো নাযিলের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আব্বাদ ইবনে রশিদ কাতাদাহর অন্যান্য সকল রাবীর বিপরীতে একক হয়ে পড়েছেন।

আর আব্বাদ ইবনে রশিদ এমন পর্যায়ের নন যে, কাতাদাহ থেকে তার এমন একক বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হবে।

অথচ নাযিলের কারণ উল্লেখ ছাড়াই এটি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ - আব্দুল আ’লা ইবনে আব্দুল আ’লার বর্ণনা থেকে -, হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া, শাইবান ইবনে আব্দুর রহমান, হিশাম আদ-দস্তাওয়ায়ী, সুলাইমান আত-তাইমী, আবু আওয়ানাহ এবং সাল্লাম ইবনে মিসকীন। তাদের কেউই আব্বাদ ইবনে রশিদ যা উল্লেখ করেছেন তা উল্লেখ করেননি।

হ্যাঁ! হিশাম আদ-দস্তাওয়ায়ীর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট কাতাদাহ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করেছেন: {আর আল্লাহ যদি তাঁর বান্দাদের জন্য রিযিক প্রশস্ত করে দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে বিদ্রোহ করত। কিন্তু তিনি যা ইচ্ছা করেন একটি নির্দিষ্ট মাপে নাযিল করেন।}
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ১৫)
[الشُّورَى: 27]، فقال: ثنا خُلَيدُ بن عبدِ الله العَصَرِيُّ، عن أبي الدَّردَاءِ، مرفُوعًا، … إلى قوله: "وعجِّلْ لممسِكٍ تَلَفًا".

أخرَجَهُ الحاكمُ (2/ 444 - 445) قال: أخبَرَنَا أبو الحُسَين أحمدُ بن عُثمانَ بن يَحيَى المُقرِئُ ببغدادَ، ثنا أبو قِلَابَةَ الرَّقَاشِيُّ، ثنا عبدُ الصَّمَد بن عبد الوَارِثِ، ثنا هِشَامٌ الدَّستوائِيُّ، بهذا.

وشَيخُ الحاكِمِ ثقةٌ.

وأبو قِلَابَةَ الرَّقَاشِيُّ هو عبدُ المَلِك بنُ مُحَمَّدٍ. وهو من الحُفَّاظِ. إلَّا أن الدَّارَقُطنِيَّ رَمَاهُ بكثرةِ الخَطَإِ في المَتنِ والإِسناد.

وقد رواه الطَّيَالِسِيُّ، ومُعاذُ بن هِشَامٍ كلاهُمَا، عن هِشامٍ الدَّستوائِيِّ، دُون ذِكرِ الحِكاية التي وَرَدَت في حديث عبدِ الصَّمَد، عِند الحَاكِم.

وعبدُ الصَّمَد من الأَثبَاتِ، فَهَل وَهِمَ عليه أبو قِلَابَةَ الرَّقَاشِيُّ؟! ولكن، يُمكِن أن يُقالَ: ذَكَرَ الإمامُ أحمدُ أنَّهُ إذَا وَرَدَت حكايَةٌ في الحديث دَلَّ علَى أنَّهُ محفُوظٌ. وهذا مِنهَا.

ووَقَعَ تصريحُ قتَادَةَ بالسَّمَاع مِن خُلَيدٍ عند الطَبَرِيِّ، والحاكِمِ مِن رواية عبَّادِ بن راشِدٍ، وهِشامٍ الدَّستوائِيِّ، عن قَتادَةَ.

وخُلَيدُ بنُ عبد الله العَصَرِيُّ رَوَى له مُسلِمٌ حديثًا واحِدًا، مُتابَعةً، في "كتاب الزَّكَاة" (992/ 35) عنه، عن الأَحنَف بن قَيسٍ، قال: كُنتُ في نَفَرٍ من قُرَيشٍ، فمَرَّ أبُو ذَرٍّ، وهو يَقُولُ: "بشِّر الكَانِزِين بِكَيٍّ في ظُهُورِهم، يَخرُج من جُنُوبِهم. وبِكَي مِن قِبَل أَقفَائِهِم، يَخرُج مِن جِبَاهِهِم"، - قال: - ثمَّ تَنَحَّى، فقَعَد، - قال. - قُلتُ: "مَن هَذَا؟ "،
[আশ-শুরা: ২৭], অতঃপর তিনি বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খুলাইদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসারি, আবু আদ-দারদা থেকে মারফু সূত্রে, ... তাঁর এই কথা পর্যন্ত: "এবং কৃপণ ব্যক্তিকে ধ্বংস দান করুন।"

হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন (২/৪৪৪ - ৪৪৫), তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমাদ ইবনে উসমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুকরি বাগদাদে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কিলাবা আর-রাকাশি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ি, এই বর্ণনার মাধ্যমে।

এবং হাকেমের উস্তাদ নির্ভরযোগ্য।

আর আবু কিলাবা আর-রাকাশি হলেন আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মাদ। তিনি হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত। তবে দারা কুতনি তাকে মতন এবং ইসনাদে অধিক ভুল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।

এবং তায়ালিসি এবং মুয়াজ ইবনে হিশাম—উভয়ই হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে হাকেমের নিকট আবদুস সামাদের হাদিসে বর্ণিত সেই ঘটনাটি তারা উল্লেখ করেননি।

আর আবদুস সামাদ অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, তবে কি আবু কিলাবা আর-রাকাশি তাঁর বর্ণনায় বিভ্রান্ত হয়েছেন?! কিন্তু এটি বলা সম্ভব যে: ইমাম আহমাদ উল্লেখ করেছেন যে, যখন কোনো হাদিসে কোনো প্রাসঙ্গিক ঘটনা বর্ণিত হয়, তখন তা প্রমাণ করে যে হাদিসটি সংরক্ষিত। আর এটি সেই সব হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।

তাবারী এবং হাকেমের বর্ণনায় আব্বাদ ইবনে রাশিদ এবং হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ি কর্তৃক কাতাদাহর সূত্রে খুলাইদ থেকে সরাসরি শোনার স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়।

খুলাইদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসারি—তার থেকে ইমাম মুসলিম একটি মাত্র হাদিস ‘সহায়ক বর্ণনা’ হিসেবে ‘কিতাবুয যাকাত’-এ (৯৯২/৩৫) বর্ণনা করেছেন; তিনি আহনাফ ইবনে কাইস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি কুরাইশদের একটি দলের মাঝে ছিলাম, এমতাবস্থায় আবু যার সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: “সম্পদ পুঞ্জীভূতকারীদের সুসংবাদ দাও তাদের পিঠে উত্তপ্ত লোহার ছেঁকা দেওয়ার, যা তাদের পার্শ্বদেশ দিয়ে বের হবে; এবং তাদের ঘাড়ের দিক থেকে ছেঁকা দেওয়ার, যা তাদের কপাল দিয়ে বের হবে।”—তিনি বললেন:—অতঃপর তিনি সরে গিয়ে এক জায়গায় বসলেন।—তিনি বললেন:—আমি জিজ্ঞেস করলাম: “উনি কে?”
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ১৬)
قالُوا: "هذا أبو ذَرٍّ"، - قال: - فقُمتُ إليه، فقُلتُ: "ما شَيءٌ سَمِعتُك تقولُ قُبَيلَ؟ "، قال: "ما قُلتُ إلَّا شيئًا قد سمِعته مِن نَبِيِّهم صلى الله عليه وسلم"، - قال: - قُلتُ: "ما تقُولُ في هذا العَطَاءِ؟ "، قال: "خُذهُ؛ فإنَّ فيه اليومَ مَعُونَةً. فإن كان ثَمَنًا لدِينِكَ فادفَعهُ".

هذا ما لِخُلَيدٍ في "صحيح مُسلِمٍ".

وخُلَيدٌ ذَكَرَهُ ابنُ حِبَّان في "الثِّقات". ونَصَّ ابنُ مَعِينٍ في "تَارِيخِه" (2/ 224) على صِحَّة سمَاعِهِ مِن أبي الدَّردَاءِ.

وصَحَّحَ إسنادَهُ الحاكمُ، كما مَرَّ ذِكرُه.

وقولُهُ: "اللَّهُمَّ! أعطِ مُنفِقًا خَلَفًا … " أخرَجَهُ الشَّيخَانِ، مِن حديثٌ أبي هُريرَة رضي الله عنه، مرفُوعًا.

وصحَّح إسنادَهُ المنذريُّ في "التَّرغيب" (2/ 537)، وشيخُنَا الألبانيُّ في "الصَّحيحة" (رقم 947).

وقال الهَيثميُّ في "المجمَع" (3/ 122، و 10/ 255): "رجاله رجال الصَّحيحِ".

وله شاهدٌ عن أبي أُمامَة الباهليِّ مرفوعًا: "هلُمُّوا إلى ربِّكُم عز وجل، ما قلَّ وكفَى خيرٌ ممَّا كثُر وألهَى".

أخرجَهُ ابنُ السُّنِّيِّ في "القَناعة" (35)، والطَّبرانيُّ في "الكبير" (8/ 314)، والقُضاعيُّ في "مُسنَد الشِّهاب" (1263).

وفي إسناده فَضَّالُ بنُ جُبيرٍ، وهو ضعيفٌ.

وأخرجه أبُو يَعلَى (ج 2/ رقم 1053) قال: حدَّثَنا مُحمَّدُ بنُ عبَّادٍ،
তারা বললেন: "ইনি আবু যার।" - তিনি বললেন: - আমি তাঁর কাছে গেলাম এবং বললাম: "একটু আগে আমি আপনাকে যা বলতে শুনলাম তা কী ছিল?" তিনি বললেন: "আমি কেবল তা-ই বলেছি যা তাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছি।" - তিনি বললেন: - আমি বললাম: "এই অনুদানের ব্যাপারে আপনার মত কী?" তিনি বললেন: "এটি গ্রহণ করো; কারণ আজকের দিনে এতে সাহায্য রয়েছে। কিন্তু যদি এটি তোমার দ্বীনের বিনিময় হয়, তবে তা বর্জন করো।"

সহিহ মুসলিমে খুলাইদ-এর বর্ণনা এতটুকুই।

আর খুলাইদ-কে ইবনে হিব্বান "আত-সিকাত" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইবনে মায়ীন তাঁর "তারিখ" (২/২২৪) গ্রন্থে আবু দারদা থেকে তাঁর শ্রুতির বিশুদ্ধতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাকিম এর সনদকে সহিহ বলেছেন, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর তাঁর উক্তি: "হে আল্লাহ! দানকারীকে বিনিময় দান করুন … " এটি শায়খাইন আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মুনজিরি "আত-তারগিব" (২/৫৩৭) গ্রন্থে এবং আমাদের শায়খ আলবানি "আস-সহিহা" (নং ৯৪৭) গ্রন্থে এর সনদকে সহিহ বলেছেন।

হাইসামি "আল-মাজমা" (৩/১২২ এবং ১০/২৫৫) গ্রন্থে বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ-এর বর্ণনাকারী।"

এর একটি শাহেদ (সমর্থক বর্ণনা) আবু উমামা আল-বাহিলি থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত রয়েছে: "তোমরা তোমাদের মহান রবের দিকে এসো; যা অল্প এবং যথেষ্ট, তা সেই প্রাচুর্য থেকে উত্তম যা (আল্লাহর স্মরণ হতে) গাফেল করে দেয়।"

এটি ইবনুস সুন্নি "আল-কানাআহ" (৩৫), তাবারানি "আল-কাবীর" (৮/৩১৪) এবং কুদায়ী "মুসনাদুশ শিহাব" (১২৬৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

এর সনদে ফায্যাল ইবনে জুবায়ের রয়েছেন, আর তিনি দুর্বল।

আবু ইয়ালা এটি বর্ণনা করেছেন (খণ্ড ২/ নং ১০৫৩), তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ১৭)
حدَّثَنا أبو سعِيدٍ، عن صَدقةَ بن الرَّبيع، عن عُمارَةَ بن غَزِيَّةَ، عن عبد الرَّحمن بن أبي سعيدٍ - أُراه عن أبيه، شكَّ أبو عبد الله -، قال: سمعتُ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم وهو على الأعواد، وهو يقولُ: "ما قلَّ وكفَى خيرٌ مما كثُر وألهَى".

وصحَّحَهُ الضِّياءُ في "المُختارَة".

 

• قلتُ: والذي شك هو شيخ أبي يعلى، ويكنى: أبا عبد الله، وأبو سعيدٍ هو مَولَى بني هاشمٍ، من ثقات مشايخ الإمام أحمد.

وفي إسناده صَدَقَةُ بن الرَّبيع، قال الهيثميُّ في "المجمع" (10/ 255 - 256): "وهو ثقةٌ"!! كذا قالَ!

وصدَقةُ ترجَمَهُ ابنُ أبي حاتِمٍ في "الجرح والتَّعديل" (2/ 1/ 433)، ولم يذكر فيه شيئًا، وذَكَره ابنُ حِبَّان في "الثِّقات" (8/ 319). فمِثلُهُ لا يُقال فيه: "ثقةٌ".

وأخرجه ابن عديٍّ في "الكامل" (1/ 276) قال: حدَّثَنا الحَسنُ بنُ شعبةَ الأنصاريُّ، ثنا محمَّدُ بن أحمدَ بن سعيدٍ، ثنا القاسمُ بنُ الحَكَم، ثنا إسماعيلُ بنُ سَلمَانَ، عن أنسِ بنِ مالكٍ، مرفوعًا: "ما قلَّ وكفَى خيرٌ مما كثُر وألهَى".

وفيه إسماعيل بن سلمان الأزرق، وهو متروكٌ، كما قال النَّسائِيُّ. وخَتَمَ ابنُ عَدِيٍّ ترجَمَته بقوله: "وقد رَوَى - يعني: إسماعيلَ - عن أنسٍ أيضًا حديثَ الطَّير في فضائِلِ عليّ بن أبي طالبٍ".

وهو بهذا يُشير إلى وهائِهِ؛ لأنَّ حديث الطَّير - وإن تعدَّدت طُرُقه - فهو باطلٌ واللهُ أعلمُ.
আবু সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাদাকা বিন রাবী' থেকে, তিনি উমারা বিন গাযিয়্যাহ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবি সাঈদ থেকে—আমার ধারণা তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল্লাহ এতে সন্দেহ পোষণ করেছেন—তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মিম্বারের কাষ্ঠখণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: "যা পরিমাণে কম কিন্তু যথেষ্ট, তা ঐ জিনিসের চেয়ে উত্তম যা পরিমাণে বেশি কিন্তু (আল্লাহর স্মরণ থেকে) উদাসীন করে রাখে।"

এবং দিয়া (আল-মাকদিসি) 'আল-মুখতারা' গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলেছেন।

 

• আমি (গ্রন্থকার) বলছি: যিনি সন্দেহ পোষণ করেছেন তিনি আবু ইয়া'লার উস্তাদ, তাঁর উপনাম হলো আবু আব্দুল্লাহ। আর আবু সাঈদ হলেন বনী হাশেমের মুক্তদাস, তিনি ইমাম আহমাদের নির্ভরযোগ্য উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত।

আর এর সনদে সাদাকা বিন রাবী' রয়েছেন, আল-হাইসামী 'আল-মাজমা' (১০/ ২৫৫ - ২৫৬) গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য"!! তিনি এমনই বলেছেন!

ইবনে আবি হাতিম 'আল-জারহ ওয়াত তা'দীল' (২/ ১/ ৪৩৩) গ্রন্থে সাদাকার জীবনী উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তাঁর ব্যাপারে (ভালো-মন্দ) কিছুই উল্লেখ করেননি। আর ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' (৮/ ৩১৯) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তাঁর মতো ব্যক্তির ক্ষেত্রে "নির্ভরযোগ্য" বলা চলে না।

ইবনে আদী 'আল-কামিল' (১/ ২৭৬) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: হাসান বিন শু'বা আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাসেম বিন আল-হাকাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন সালমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস বিন মালিক থেকে মারফূ' সূত্রে: "যা পরিমাণে কম কিন্তু যথেষ্ট, তা ঐ জিনিসের চেয়ে উত্তম যা পরিমাণে বেশি কিন্তু (আল্লাহর স্মরণ থেকে) উদাসীন করে রাখে।"

আর এর সনদে ইসমাঈল বিন সালমান আল-আযরাক রয়েছেন, তিনি পরিত্যক্ত (মাতরূক), যেমনটি ইমাম নাসাঈ বলেছেন। ইবনে আদী তাঁর জীবনী এই বলে শেষ করেছেন যে: "তিনি—অর্থাৎ ইসমাঈল—আনাস থেকে আলী বিন আবি তালিবের ফযীলত সম্পর্কে 'পাখির হাদীসটিও' (হাদীসুত তায়র) বর্ণনা করেছেন।"

এর মাধ্যমে তিনি তাঁর চরম দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন; কারণ পাখির হাদীসটি—যদিও এর বহু সূত্র রয়েছে—তা বাতিল। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌6 - سُئلتُ عن الحديث القدسيِّ: "إِنَّ مِن عِبَادي مَن لَا يَصلُحُ إِيمَانهُ إِلَّا بِالغِنَى، وَلَو أَفقَرتُهُ لَكَفَرَ … الخ".

 

• قلتُ: هذا حديثٌ مُنكَرٌ.

أخرَجَه الخطيبُ في "التَّاريخ" (6/ 15) من طريق يحيى بن عيسى الرَّمليِّ، حدَّثنا سفيانُ بنُ سعيدٍ الثَّوريُّ، حدَّثنا حمَّادُ بنُ زيدٍ، عن أبي قِلابةَ، عن كَثر بن أَفلَحَ، عن عُمَر بن الخطَّاب مرفُوعًا: "أتاني جبريلُ، فقال: يا مُحمَّدُ! ربُّك يقرأُ عليكَ السَّلامَ، ويقولُ: إنَّ مِن عبادي مَن لا يَصلُح إيمانُهُ إلَّا بالغِنى، ولو أفقرته لكفرَ، وإنَّ مِن عبادي مَن لا يَصلُح إيمانُهُ إلَّا بالفقر، ولو أغنيته لكَفَرَ، وإنَّ مِن عبادي مَن لا يَصلُح إيمانُهُ إلَّا بالسَّقَم، ولو أصحَحته لكفر، وإنَّ مِن عبادي مَن لا يَصلُح إيمانُهُ إلَّا بالصِّحَّة، ولو أسقمته لكفر".

وهذا سندٌ ضعيفٌ أو واهٍ، وعلَّتُهُ: يحيى بنُ عيسى الرَّمليُّ، ضعَّفه ابن مَعِينٍ، وقال النَّسائيُّ: "ليس بالقويِّ"، وقال ابن عدِيٍّ: "عامَّة ما يروِيهِ ممَّا لا يُتابَع عليه".

وله شاهدٌ من حديث أنسٍ رضي الله عنه ..

أخرَجَهُ ابنُ أبي الدُّنيَا في "الأولياء" (1)، وأبو بَكرٍ الكِلَابَاذِيُّ في "معاني الأَخبَار" (ق 133/ 1 - 2)، وأبو نُعيمٍ في "الحِليَةِ" (8/ 318 - 319)، والأَصبَهَانِيُّ فِي "التَّرغيب" (204)، وابنُ عساكر في "تاريخ دِمَشقَ"
৬ - আমাকে এই হাদিসে কুদসি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "নিশ্চয় আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান সচ্ছলতা ছাড়া সঠিক হবে না, আর যদি আমি তাকে দরিদ্র করি তবে সে কুফরি করবে... ইত্যাদি"৷

 

• আমি বলেছি: এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস।

খতিব এটি "তারিখ" (৬/ ১৫) গ্রন্থে ইয়াহইয়া বিন ঈসা আল-রামলির সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান বিন সাঈদ আল-সাওরি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন যায়েদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু কিলাবা থেকে, তিনি কাসীর বিন আফলাহ থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "জিবরাঈল আমার কাছে এসে বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনার রব আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং বলছেন: নিশ্চয় আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান সচ্ছলতা ছাড়া সঠিক হবে না, আর যদি তাকে আমি দরিদ্র করি তবে সে কুফরি করবে; নিশ্চয় আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান দারিদ্র্য ছাড়া সঠিক হবে না, আর যদি তাকে আমি সচ্ছল করি তবে সে কুফরি করবে; নিশ্চয় আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান অসুস্থতা ছাড়া সঠিক হবে না, আর যদি তাকে আমি সুস্থ করি তবে সে কুফরি করবে; এবং নিশ্চয় আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান সুস্থতা ছাড়া সঠিক হবে না, আর যদি তাকে আমি অসুস্থ করি তবে সে কুফরি করবে"৷

আর এই সনদটি দুর্বল বা অত্যন্ত দুর্বল, এর ত্রুটি হলো: ইয়াহইয়া বিন ঈসা আল-রামলি, ইবনে মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন, নাসায়ি বলেছেন: "তিনি শক্তিশালী নন", এবং ইবনে আদি বলেছেন: "তিনি যা বর্ণনা করেন তার অধিকাংশের ক্ষেত্রেই তার অনুসরণ করা হয় না"৷

আনাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে এর একটি শাহেদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে...

এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবিদ দুনিয়া "আল-আউলিয়া" (১) গ্রন্থে, আবু বকর আল-কিলাবাদি "মাআনী আল-আখবার" (পৃষ্ঠা ১৩৩/ ১ - ২) গ্রন্থে, আবু নুয়াইম "আল-হিলইয়া" (৮/ ৩১৮ - ৩১৯) গ্রন্থে, আল-আসবাহানি "আত-তারগিব" (২০৪) গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির "তারিখ দিমাশক" গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ১৯)
(7/ 68)، وابنُ الجَوزِيِّ في "الواهيات" (27)، وفي "صفة الصَّفوة" (رقم 3 - بتحقيقي)، والشَّجَرِيُّ في "الأَمالِي" (2/ 204) من طُرُقٍ عن الحَسَن بن يحيى الخُشَنِيِّ أبي عبد المَلِك، ثنا صَدَقةُ بن عبد الله، عن هِشامٍ الكِنَانِيِّ، عن أنسٍ، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، قال: "قال اللهُ تعالَى: مَن أهانَ لِي وليًّا فقد بَارَزَنِي بالمُحارَبة، وما تَردَّدتُ عَن شيءٍ أنا فَاعِلُهُ ما تَرَدَّدتُ في قَبضِ نفسِ عَبدِي المُؤمِنِ؛ لأنَّهُ يَكرَهُ المَوتَ، وأنا أَكرَهُ مَسَاءَتَهُ، ولابُدَّ لَهُ مِنهُ. وإن مِن عِبادِي المُؤمِنين مَن يُرِيدُ بَابًا مِنَ العِلمِ فأكُفُّهُ عَنهُ؛ لا يَدخُلُه عُجبٌ فيَفسَدُ لذلك. وما تَقرَبَ إليَّ عَبدِي بمِثلِ أداءِ ما افتَرَضتُ عليه. وما يَزَالُ عَبدِي يَتنَفَّلُ لي حَتَّى أُحِبَّه، فإذا أَحبَبتُه كنتُ له سَمعًا، وبَصَرًا، ويَدًا، ومُؤَيِّدًا، دَعَانِي فأجَبتُه، وسَألنِي فأعطَيتُه، ونَصَح لي فنَصَحتُ له. وإن مِن عِبادِي المُؤمِنين مَن لا يُصلِحُ إيمانَهُ إلَّا الفَقرُ، ولو بَسَطتُ لَهُ لأَفسَدَهُ ذلك. وإنَّ مِن عِبادِي المُؤمِنين مَن لَا يُصلِحُ لَهُ إيمانَهُ إلَّا الصِّحَّةُ، ولو أَسقَمته لأفسَدَهُ ذلك. وإن مِن عِبادِي المُؤمِنين مَن لا يُصلِحُ إيمانَهُ إلا السَّقَمُ، ولو أَصحَحتُهُ لأفسَدَهُ ذلك. إنِّي أُدَبِّرُ أَمرَ عِبادِي بِعِلمِي، إنِّي بقلُوبِهِم عَلِيمٌ خَبِيرٌ".

وعزاهُ شيخُنا في "الصَّحيحة" (4/ 189) إلى مُحمَّدِ بن سُليمان الرَّبعِيِّ في "جُزءٍ من حديثه" (ق 216/ 2).

قال أبو نُعيمٍ: "غَرِيبٌ من حديث أنسٍ. لم يَروِهِ عنه بهذه السِّيَاقَةِ إلَّا هشَامٌ الكِنَانِيُّ، وعنه صَدَقَةُ بن عبد الله أبو مُعاوِيَةَ الدِّمَشقِيُّ. تفرَّدَ به الحَسَنُ بن يحيى الخُشَنِيُّ".
(৭/ ৬৮), এবং ইবনুল জাওজি "আল-ওয়াহিয়াত" (২৭) ও "সিফাতুস সাফওয়াহ" (নং ৩ - আমার তাহকীকসহ) গ্রন্থে, এবং আশ-শাজারি "আল-আমালি" (২/ ২০৪) গ্রন্থে হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-খুশানি আবু আবদিল মালিকের সূত্রে একাধিক পথে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাদাকাহ বিন আবদুল্লাহ, তিনি হিশাম আল-কিনানি থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর (বন্ধুর) অবমাননা করল, সে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো। আমি যে কাজ করতে চাই, তা করতে আমি কখনও এমন দ্বিধাবোধ করি না যেমনটি করি আমার মুমিন বান্দার জান কবজ করার ক্ষেত্রে; কারণ সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে, আর আমি তাকে কষ্ট দেওয়া অপছন্দ করি, অথচ মৃত্যু তার জন্য অনিবার্য। আমার মুমিন বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে ইলমের কোনো একটি অধ্যায় অর্জন করতে চায়, কিন্তু আমি তাকে তা থেকে নিবৃত্ত রাখি; যাতে তার মধ্যে অহংকার প্রবেশ না করে এবং সে কারণে সে ধ্বংস না হয়ে যায়। আমার বান্দা আমার ওপর যা ফরজ করেছি তা পালন করার মাধ্যমে আমার যতটা নৈকট্য লাভ করে, অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে তা পায় না। আর আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য চাইতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই, তার চোখ হয়ে যাই, তার হাত হয়ে যাই এবং তার সাহায্যকারী হয়ে যাই; সে আমাকে ডাকলে আমি তার ডাকে সাড়া দিই, আমার কাছে চাইলে আমি তাকে দান করি এবং সে আমার জন্য হিতাকাঙ্ক্ষী হলে আমি তার হিতাকাঙ্ক্ষী হই। আমার মুমিন বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান দারিদ্র্য ছাড়া ঠিক থাকে না, আমি যদি তার জন্য রিযিক প্রশস্ত করে দিতাম তবে তা তাকে ধ্বংস করে দিত। আবার মুমিন বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান সুস্থতা ছাড়া ঠিক থাকে না, আমি যদি তাকে অসুস্থ করে দিতাম তবে তা তাকে ধ্বংস করে দিত। আবার মুমিন বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান অসুস্থতা ছাড়া ঠিক থাকে না, আমি যদি তাকে সুস্থ করে দিতাম তবে তা তাকে ধ্বংস করে দিত। নিশ্চয়ই আমি আমার জ্ঞান অনুযায়ী বান্দাদের বিষয়াদি পরিচালনা করি; আমি তাদের অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত ও খবরদার।"

আমাদের শাইখ "আস-সহিহা" (৪/ ১৮৯) গ্রন্থে একে মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আর-রাবিঈ-এর "জুযউন মিন হাদিসিহি" (পৃ. ২১৬/ ২) গ্রন্থের দিকে নিসবত করেছেন।

আবু নুয়াইম বলেন: "আনাসের হাদিস হিসেবে এটি গরিব। হিশাম আল-কিনানি ছাড়া অন্য কেউ এটি এই ধারাবাহিকতায় বর্ণনা করেননি। আর তার থেকে বর্ণনা করেছেন সাদাকাহ বিন আবদুল্লাহ আবু মুয়াবিয়া আদ-দিমাশকি। হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-খুশানি এই বর্ণনায় একাকী হয়ে গেছেন।"
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ২০)
قال شيخُنا: "هشامٌ الكنانِيُّ لم أعرفه، وقد ذَكَره ابنُ حِبّان في كلامه الذي سبق نقلُهُ عنه بواسطةِ الحافظِ ابن حَجَرٍ، فالمفروضُ أن يُورِدِهُ ابنُ حبَّان في "ثقات التَّابعين"، ولكنَّه لم يَفعَل، وإنَّما ذَكَر فيهم هشامَ بن زيدِ بن أنسٍ البَصريَّ، يروي عن أَنسٍ، وهو من رجال الشَّيخَين. فلعلَّه هو".

 

• قلتُ: وهو بعيدٌ أن يكون هو.

والخُشَنِيُّ صَدُوق في نَفسِه، ولكنَّه صاحِبُ مَنَاكِير.

وخالَفَهُ سَلامَةُ بن بِشرٍ، قال: نا صَدَقَةُ، عن إبراهيمَ بن أبي كَرِيمَةَ، عن هِشامٍ الكِنَانِيِّ، عن أنسٍ، عن رسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، عن جِبرِيلَ، عن رَبِّه تبارك وتعالى، … فذَكَرَه.

فجَعَلَ بين صدقةَ وهِشامٍ: "إبراهيمَ بنَ أبي كَرِيمَة".

أخرَجَهُ ابنُ عَسَاكِر (7/ 67)، من طرِيقٍ تمامٍ الرَّازِيِّ، أنا أبو الحَسَن أَحمَدُ بن سُليمَان بن حَذْلَمٍ، نا يزيدُ بن مُحمَّد بن عبد الصَّمَد، نا سَلَامةُ بن بِشرٍ بهذا.

وسَلَامةُ هو ابن بِشرِ بن بُدَيلٍ، قال أبو حاتِمٍ: "صَدُوقٌ"، وذَكَرَهُ ابن حِبَّانَ في "الثِّقات" وقال: "يُغرِبُ". وهو أحسَنُ حالًا من الخُشَنِيِّ.

والرَّاوِي عنه يَزِيدُ بن مُحَمَّدٍ أحَدُ الثِّقاتِ، مِن مشَايخ أبِي دَاوُد، والنَّسائِيِّ.

وإبراهيمُ بنُ أبي كَرِيمَةَ تَرجَمَهُ ابنُ عسَاكِر في مَوضِع الحديثِ، ولم يَذكُر فيه شَيئًا.
আমাদের শায়খ বলেছেন: "হিশাম আল-কিনানীকে আমি চিনি না। হাফেজ ইবনে হাজার কর্তৃক ইতিপূর্বে উদ্ধৃত বক্তব্যে ইবনে হিব্বান তার কথা উল্লেখ করেছেন। তাই প্রত্যাশিত ছিল যে ইবনে হিব্বান তাকে 'সিকাতুত তাবিয়ীন'-এ অন্তর্ভুক্ত করবেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং তিনি তাদের মধ্যে হিশাম ইবনে যাইদ ইবনে আনাস আল-বাসরীর কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন এবং তিনি শায়খাইনের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। সম্ভবত তিনিই সেই ব্যক্তি।"

 

• আমি বলছি: তিনি সেই ব্যক্তি হওয়াটা সুদূরপরাহত।

আর আল-খুশানী ব্যক্তিগতভাবে সত্যবাদী, তবে তিনি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনা উপস্থাপনকারী।

সালামাহ ইবনে বিশর তার বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন: সাদাকা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আবি কারীমা থেকে, তিনি হিশাম আল-কিনানী থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, তিনি জিবরাঈল (আ.) থেকে, তিনি তাঁর বরকতময় ও সুউচ্চ রবের নিকট থেকে, … এরপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

সুতরাং তিনি সাদাকা এবং হিশামের মাঝখানে "ইব্রাহিম ইবনে আবি কারীমা"-কে যুক্ত করেছেন।

ইবনে আসাকির (৭/৬৭) এটি তাম্মাম আর-রাজীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আবুল হাসান আহমদ ইবনে সুলায়মান ইবনে হাজলাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াযীদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল সামাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবনে বিশর আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।

আর সালামাহ হলেন বিশর ইবনে বুদাইলের পুত্র। আবু হাতিম বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী", এবং ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি অপরিচিত বর্ণনা নিয়ে আসেন"। তিনি খুশানীর চেয়ে উত্তম অবস্থায় রয়েছেন।

আর তার থেকে বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইবনে মুহাম্মদ হলেন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের একজন, যিনি আবু দাউদ ও নাসাঈর অন্যতম উস্তাদ।

আর ইব্রাহিম ইবনে আবি কারীমার জীবনী ইবনে আসাকির এই হাদিসের স্থানে আলোচনা করেছেন এবং সেখানে তার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ২১)
بَقِيَ الكلامُ عن صَدَقَةَ بن عبد الله السَّمِينِ، والذي اختَلَفَ الرُّواةُ عَنهُ.

فالذي يَتَحَصَّلُ مِن كلام العُلَماء فيه أنَّهُ ضَعِيفٌ. وقد مَرَّ وَجهَانِ مِن الاختلاف عليه ..

ووَجهٌ ثالِثٌ ..

وهو ما رَوَاهُ عُمَرُ بن سعيدٍ الدِّمَشقِي، عنه، قال: حدَّثَني عبدُ الكَرِيم الجَزَرِيُّ، عن أنس بن مالِكٍ، عن رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، عن جِبرِيلَ عليه السلام، عن الله تبارك وتعالى، أنَّهُ قال: "مَن أَهَانَ لِي وليًّا فقد بَارَزَنِي بالمُحارَبَة، وإِنِّي لأَسرَعُ شَيءٍ إلى نُصرَةِ أوليَائِي؛ لأنِّي لأَغضَبُ لَهُم كما يَغضَبُ اللَّيثُ الحَرِبُ. وما تَردَّدتُ عن شَيءٍ أنا فَاعِلُهُ ترددي عن قَبضِ رُوح عَبدِي المُؤمِنِ؛ وهو يَكرَهُ الموتَ وأَكرَهُ مَساءَتَهُ، ولابدَّ له مِنهُ. وما تَعَبَّدَ لي عَبدِي المُؤمِنُ بمِثلِ الزُّهدِ في الدُّنيَا. ولا تَقَرَّبَ إليَّ عَبدِي المُؤمِنُ بِمِثلِ أداءِ ما افَترَضتُ عليه. وما يَزَالُ عَبدِي يتقَرَّبُ إليَّ بالنَّوَافِل حتى أُحِبَّهُ، فإذا أحبَبتُه كنتُ له سَمعًا، وبَصَرًا، ويَدًا، ومُؤَيِّدًا، إن سَألني أعطيته، وإن دَعَانِي أجَبتُ لَهُ. وإِنّ مِن عِبادِي المؤمِنِين لمَن يَسألُني البابَ مِن العِبَادَة، ولو أَعطَيته إيَّاهُ لدَخَلَهُ العُجبُ فأَفسَدَهُ. ذَلِكَ؛ أن مِن عِبادِي مَن لا يُصلِحُهُ إلَّا الغِنَي، ولو أَفقَرتُهُ لأفسَدَهُ ذلك. وإنَّ مِن عِبادِي المُؤمِنين مَن لا يُصلِحُهُ إلَّا الفَقرُ، ولو أَغنَيتُه لأفسَدَهُ ذلك. وإنَّ مِن عِبادِي المُؤمِنين مَن لا يُصلِحُهُ إلَّا الصِّحَّةُ، ولو أَسقَمته لأَفسَدَهُ ذلك. وإن مِن عِبادِي المُؤمِنين مَن لا يُصلِحُهُ إلا السَّقَمُ، ولو أصَحَحته لأَفسَدَهُ ذلك. إنِّي أُدَبِّرُ عِبَادِي بِعِلمِي بِقُلُوبِهم، إنِّي عَلِيمٌ خَبِيرٌ".
সাদাক্বাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সামিন সম্পর্কে আলোচনা বাকি রয়ে গেছে, যার ব্যাপারে বর্ণনাকারীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

তার সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য থেকে যা অর্জিত হয় তা হলো তিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। তার ব্যাপারে মতভেদের দুটি দিক ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে...

এবং তৃতীয় একটি দিক হলো...

আর তা হলো যা উমর ইবনে সাঈদ আদ-দিমাশকী তার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে আব্দুল কারীম আল-জাজারী বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, তিনি জিবরাঈল আলাইহিস সালাম থেকে, তিনি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার কোনো অলির অবমাননা করল, সে যেন আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো। আর আমি আমার অলিদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে সবকিছুর চেয়ে বেশি দ্রুত; কেননা আমি তাদের জন্য এমন রাগান্বিত হই যেমন ক্রুদ্ধ সিংহ রাগান্বিত হয়। আমি কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে ততটা দ্বিধা করি না যতটা দ্বিধা করি আমার মুমিন বান্দার জান কবজ করার ক্ষেত্রে; সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমিও তাকে কষ্ট দেওয়া অপছন্দ করি, অথচ তাকে এর সম্মুখীন হতেই হবে। আমার মুমিন বান্দা দুনিয়াবিমুখতার মতো অন্য কিছু দিয়ে আমার ইবাদত করেনি। আর আমার মুমিন বান্দা আমার ওপর যা ফরজ করেছি তা আদায়ের চেয়ে উত্তম কোনো কিছু দিয়ে আমার নৈকট্য লাভ করতে পারেনি। আর আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান, তার চোখ, তার হাত এবং তার সাহায্যকারী হয়ে যাই; সে যদি আমার কাছে চায় আমি তাকে প্রদান করি, আর যদি সে আমাকে ডাকে আমি তাতে সাড়া দেই। আমার মুমিন বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে আমার কাছে ইবাদতের কোনো একটি দরজা প্রার্থনা করে, কিন্তু আমি যদি তাকে তা দান করি তবে তার মধ্যে আত্মঅহংকার প্রবেশ করত এবং তাকে ধ্বংস করে দিত। এর কারণ হলো আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যাকে সচ্ছলতা ছাড়া অন্য কিছু সংশোধন করতে পারে না, আর আমি যদি তাকে দরিদ্র করে দিতাম তবে তা তাকে ধ্বংস করে দিত। আর আমার মুমিন বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যাকে দারিদ্র্য ছাড়া অন্য কিছু সংশোধন করতে পারে না, আর আমি যদি তাকে সচ্ছল করে দিতাম তবে তা তাকে ধ্বংস করে দিত। আর আমার মুমিন বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যাকে সুস্থতা ছাড়া অন্য কিছু সংশোধন করতে পারে না, আর আমি যদি তাকে অসুস্থ করে দিতাম তবে তা তাকে ধ্বংস করে দিত। আর আমার মুমিন বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যাকে অসুস্থতা ছাড়া অন্য কিছু সংশোধন করতে পারে না, আর আমি যদি তাকে সুস্থ করে দিতাম তবে তা তাকে ধ্বংস করে দিত। আমি তাদের অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থেকে আমার বান্দাদের বিষয়াদি পরিচালনা করি, নিশ্চয়ই আমি সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবগত।"
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ২২)
قال صَدَقَةُ: سمعتُ أبانَ بنَ أبي عيَّاش يحدِّثُ هذا، عن أنَسَ بن مالِكٍ رضي الله عنه، ثُمَّ يقُولُ أنَسٌ: "اللَّهُمَّ! إنِّي مِن عِبَادِك الذين لا يُصلِحُهُم إلا الغِنَى، فلا تُفقِرْنِي".

أخرَجَهُ الحكيمُ التِّرمِذِيُّ في "نَوادِر الأُصُول" (ج 1/ ق 259/ 1 - 2)، قال: حدَّثَنا داوُد بنُ حمَّادٍ القَيسِيُّ، قال: حدَّثَنَا عُمَرُ بن سعيدٍ الدِّمَشقِيُّ بهذا.

 

• قلتُ: وعُمَرُ بن سَعِيدٍ هذا هو عِندِي ابنُ سُليمانَ أبو حَفصٍ الأَعوَرُ. تَرجَمَهُ ابن عَساكِر (48/ 41 - 45)، وذَكَرَهُ الحافِظُ في "التَّهذِيب" (7/ 453 - 454)، تميِيزًا. وهو ضَعِيفٌ جِدًّا. قال النَّسَائِيُّ: "ليس بِثِقَةٍ"، وضَعَّفَهُ ابنُ المَدِينِيِّ جِدًّا، وقال أبو حَاتِمٍ: "كَتَبتُ عَنهُ، وطَرَحتُ حدِيثَهُ".

وعبدُ الكَرِيم بن مالِكٍ الجَزَرِيُّ أحَدُ الأَثبَات، لكِنَّهُ لم يُدرِك أَحَدًا مِن الصَّحَابَة؛ فالإِسنادُ مُنقَطِعٌ أيضًا.

وأَشبَهُ الوُجُوه ما رَوَاهُ سَلَامة بن بِشرٍ، عن صَدَقَة، عن إبرَاهِيمَ بن أبي كَرِيمَةَ، عن هِشامٍ الكِنَانِيِّ، عن أنَسٍ. وقد بَيَّنتُ لك قَبلَ ذلك أن هذا الوجهَ لا يَصِحُّ أيضًا.

أمَّا حدِيثُ: "مَن عَادَى لي وَليًّا فقد آذَنته بالحرب … "، فهو حديثٌ صحِيحٌ، مِن مَفَارِيد البُخارِيِّ. ولِشَيخِنَا الأَلبَانِيِّ حَفِظَهُ اللهُ تحقِيقٌ مُمتِعٌ عليه، أَودَعَهُ في "الصَّحِيحَة" (4/ 183 - 193).

والله أعلَمُ.
সাদাকাহ বলেন: আমি আবান ইবনে আবি আইয়াশকে আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটি বর্ণনা করতে শুনেছি। অতঃপর আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার ঐ সকল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সচ্ছলতা ব্যতীত অন্য কিছু সংশোধন করে না, সুতরাং আপনি আমাকে দরিদ্র করবেন না।"

হাকিম তিরমিযী এটি "নাওয়াদিরুল উসুল" (খণ্ড ১/ পৃষ্ঠা ২৫৯/ ১-২) গ্রন্থে সংকলন করেছেন। তিনি বলেন: দাউদ ইবনে হাম্মাদ আল-কায়সী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে সাঈদ আদ-দিমাশকী আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• আমি বলছি: এই উমর ইবনে সাঈদ আমার নিকট ইবনে সুলাইমান আবু হাফস আল-আওয়ার। ইবনে আসাকির (৪৮/ ৪১-৪৫) তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং হাফিয (ইবনে হাজার) পার্থক্য করার জন্য "আত-তাহযীব" (৭/ ৪৫৩-৪৫৪) গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন। তিনি অত্যন্ত দুর্বল। নাসায়ী বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য নন", ইবনে মাদিনী তাঁকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন এবং আবু হাতিম বলেন: "আমি তাঁর থেকে হাদীস লিখেছি, কিন্তু তাঁর হাদীস বর্জন করেছি।"

আর আব্দুল কারীম ইবনে মালিক আল-জাযারি বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের একজন, তবে তিনি কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ পাননি; তাই এই সনদটিও বিচ্ছিন্ন।

আর সবচেয়ে সম্ভাব্য বর্ণনা হলো যা সালামাহ ইবনে বিশর সাদাকাহ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আবি কারীমা থেকে, তিনি হিশাম আল-কিনানী থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি ইতিপূর্বেই আপনার নিকট স্পষ্ট করেছি যে, এই বর্ণনাটিও বিশুদ্ধ নয়।

পক্ষান্তরে: "যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুর সাথে শত্রুতা করল, আমি তাকে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম … "—এই হাদীসটি সহীহ এবং এটি ইমাম বুখারীর একক বর্ণনাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের শাইখ আলবানী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) এর ওপর একটি চমৎকার গবেষণা করেছেন, যা তিনি "আস-সাহীহা" (৪/ ১৮৩-১৯৩) গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌7 - سُئلتُ عن حديث: "العَمَلُ عِبَادَةٌ".

 

• قلتُ: هذا الحديثُ لا أصلَ له.

ولعلَّ مستنَدَ هذا القول هو ما يتداوله العوامُّ، مِن أن رجلًا كان يَتعبَّد في المسجد ليلَ نهارٍ، وله أخٌ يُنفِقُ عليه، فرآه النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم، فقال له: "مَن يُنفِق عليك؟ "، قالَ: "أخي"، قال: "أخوك أَعبَدُ منك".

وهذا باطلٌ، لا أصل له في شيءٍ مِن كُتب السُّنَّة المعتبَرة.

بل يُبطِله ما: أخرجه التِّرمذيُّ (2345)، والحاكمُ (10/ 93 - 94)، والسَّهميُّ في "تاريخ جُرجَان" (542)، وابنُ عبدِ البَرِّ في "جامع العلم" (1/ 59) من طريقِ حمَّاد بن سَلَمة، عن ثابتٍ، عن أنسٍ، قال: كان أَخَوان على عهد النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، فكان أحدُهما يأتِي النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم، والآخَر يحتَرِفُ - يَعنِي: يَعملُ -، فشكَى المحترفُ أخاه إلى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، فقال له: "لعلَّك تُرزَقُ به".

قال التِّرمذيُّ: "حسنٌ صحيحُ".

وقال الحاكمُ: "صحيحٌ على شرط مُسلِم، ورواتُهُ عن آخرِهِم أثباتٌ ثقاتٌ"، ووافقَهُ الذَّهبيُّ، وهو كما قالوا.

وليس في هذا الحديث أيضًا ما يتَّكئُ عليه العاطلون، فقد تتابعت الأحاديث في الحضِّ على العمل، والنَّهيِ عن السُّؤال.

وبيانُ عدم التَّعارض بين الأحاديث يحتاجُ إلى مَقامٍ آخرَ.
৭ - আমাকে "পরিশ্রমই ইবাদত" হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।

 

• আমি বলেছি: এই হাদীসটির কোনো ভিত্তি নেই।

সম্ভবত এই কথাটির উৎস হলো সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত সেই বর্ণনা, যেখানে বলা হয় যে, এক ব্যক্তি দিনরাত মসজিদে ইবাদত করত এবং তার এক ভাই তার খরচ বহন করত। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমার খরচ কে বহন করে?" সে বলল: "আমার ভাই।" তিনি বললেন: "তোমার ভাই তোমার চেয়ে বড় ইবাদতকারী।"

এটি বাতিল বা অসার কথা, সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের কোনোটিতেই এর কোনো ভিত্তি নেই।

বরং একে বাতিল প্রমাণ করে সেই বর্ণনাটি যা: তিরমিযী (২৩৪৫), হাকেম (১০/ ৯৩ - ৯৪), আস-সাহমি 'তারিখে জুরজান' (৫৪২) এবং ইবনে আব্দুল বার 'জামেউল ইলম' (১/ ৫৯) গ্রন্থে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর সূত্রে, সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে দুই ভাই ছিল; তাদের একজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসত এবং অন্যজন পেশা অবলম্বন করত—অর্থাৎ কাজ করত—। অতঃপর কর্মজীবী ভাইটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। তখন তিনি তাকে বললেন: "হয়তো তার কারণেই তোমাকে রিজিক দেওয়া হচ্ছে।"

তিরমিযী বলেছেন: "হাসান সহীহ।"

হাকেম বলেছেন: "এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ এবং এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল বর্ণনাকারীই সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য", এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন; বিষয়টি তেমনই যেমনটি তাঁরা বলেছেন।

এই হাদীসেও অলস ব্যক্তিদের জন্য নির্ভর করার মতো কিছু নেই; কারণ কর্মের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং মানুষের কাছে হাত পাতার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে একের পর এক অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

আর হাদীসসমূহের মধ্যকার বাহ্যিক বৈপরীত্য নিরসনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করার জন্য ভিন্ন একটি আলোচনার প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأخرجَ البُخاريُّ في "التاريخ الكبير" (4/ 1/ 181)، ويعقوبُ بن سفيانَ في "المعرفة" (1/ 311)، والطَّبرانيُّ في "الكبير" (ج 19/ رقم 63، وأبو نُعيمٍ في "الحلية" (3/ 125)، والبيهقيُّ (10/ 194 - 195) من طريق بكر بن بشرٍ العسقلانيِّ، ثنا عبدُ الحميد بنُ سَوَّارٍ، عن إياسِ بن مُعاوية، عن أبيه، عن جَدِّه، وساق حديثًا، فيه: "والعمل من الإيمان".

لكنَّه ضعيفٌ؛ بكرُ بنُ بشر مجهولٍ كما قال الذَّهبيُّ في "الميزان".

وعبدُ الحميد بنُ سَوَّارٍ ضعيفٌ، وبه أعلَّه الهيثميُّ في "المجمَع" (8/ 27).

ولو صحَّ، لم يكُن فيه دليلٌ للحديث المسئول عنه؛ لأنَّ المقصودَ منه أن الأعمال الَّتي هي كالصَّلاة والزَّكاةِ وغيرِها مِن تمامِ الإيمانِ. وفيه ردٌّ علَى المُرجئةِ، الَّذين لا يَعتبِرون الأعمالَ داخلةً في الإيمانِ.

 

(وهناك تنبيه)

وهو أن المُسلمَ لو عَمِلَ أيَّ عملٍ مُباحٍ، واقترَنَت به نيَّةُ الزُّلفَى إلى الله تعالَى، فإنَّهُ يَدخل في جنس العبادة، فلو ذهب لِعَمَله وفي نيَّته أنَّهُ يَستعِفُّ به، ويُؤدِّي ما أوجبه اللهُ عليه مِنَ النَّفقة على زوجته وأولاده، كان بذلك عابدًا لله؛ لأنَّهُ لو قَصَّر في ذلك حتَّى ضيَّعَهُم، أَثِمَ به، وقد صحَّ عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم، أنَّهُ قال: "كفى بالمرء إثمًا أن يَحبِس عمَّن يملِكُ قوتَهُ"، أخرجهُ مُسلمٌ وغيرُهُ.

واللهُ أعلمُ.
এবং ইমাম বুখারী তার "আত-তারীখুল কাবীর" (৪/ ১/ ১৮১) গ্রন্থে, ইয়াকুব বিন সুফিয়ান "আল-মা'রিফাহ" (১/ ৩১১) গ্রন্থে, তাবারানি "আল-কাবীর" (১৯তম খণ্ড/ নম্বর ৬৩) গ্রন্থে, আবু নুয়াইম "আল-হিলইয়াহ" (৩/ ১২৫) গ্রন্থে এবং বায়হাকী (১০/ ১৯৪ - ১৯৫) বকর বিন বিশর আল-আসকালানির সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল হামিদ বিন সাওয়ার, তিনি ইয়াস বিন মুয়াবিয়া থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে: "আর আমল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।"

তবে এটি দুর্বল; বকর বিন বিশর একজন অপরিচিত ব্যক্তি যেমনটি ইমাম যাহাবী "আল-মিজান" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আর আব্দুল হামিদ বিন সাওয়ারও দুর্বল, এবং এই কারণেই হাইসামি "আল-মাজমা" (৮/ ২৭) গ্রন্থে একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন।

আর যদি এটি বিশুদ্ধও হতো, তবুও এটি জিজ্ঞাসিত হাদিসটির সপক্ষে কোনো দলিল হতো না; কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, সালাত, জাকাত এবং অন্যান্য আমলসমূহ ঈমানের পূর্ণতার অংশ। আর এর মাঝে মুরজিয়াদের খণ্ডন রয়েছে, যারা আমলকে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করে না।

 

(এখানে একটি বিশেষ দ্রষ্টব্য রয়েছে)

তা হলো, একজন মুসলিম যদি কোনো বৈধ কাজ করেন এবং তার সাথে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত যুক্ত হয়, তবে তা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। সুতরাং তিনি যদি তার কাজে বের হন এবং তার নিয়ত থাকে যে, এর মাধ্যমে তিনি পবিত্রতা অর্জন করবেন (হারাম থেকে বেঁচে থাকবেন) এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বাধ্যতামূলক ভরণপোষণ প্রদান করবেন, তবে এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর ইবাদতকারী হিসেবে গণ্য হবেন; কারণ তিনি যদি এতে অবহেলা করেন যার ফলে তাদের জীবন সংকটাপন্ন হয়, তবে তিনি পাপিষ্ঠ হবেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির পাপী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যাদের আহার যোগানোর দায়িত্বশীল তাদের আহার আটকে রাখে।" এটি ইমাম মুসলিম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌8 - سُئلتُ عن حديث: "إِنّ لِكُلِّ شيءٍ شَيخًا، وَشَيح الجِهَادِ الرِّبَاطُ فِي سبِيلِ اللهِ".

 

• قلتُ: هذا حديثٌ منكَرٌ.

أخرجه العُقيليُّ في "الضُّعفاء" (80/ 2)، ومن طريقِهِ ابنُ الجَوزِيِّ في "الواهيات" (2/ 90 - 91) من طريق سُليمانَ بن الحجَّاج الطَّائفيِّ، عن خالد بن سعيدٍ، عن أبي حازمٍ، عن سهل بن سعدٍ السَّاعديِّ، مرفُوعًا فذكره.

قال العُقيليُّ: "سُليمان بن الحجَّاج: الغالبُ على حديثه الوَهَمُ. وهذا الحديثُ لا أصل له".

وقال ابنُ الجوزيِّ: "لا يصحُّ".
৮ - আমাকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে: "নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের একজন প্রধান রয়েছে, আর জিহাদের প্রধান হলো আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারা দেওয়া (রিবাত)।"

 

• আমি বলেছি: এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস।

আল-উকাইলি এটি 'আদ-দুয়াফা' (২/৮০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্র ধরে ইবনুল জাওজি 'আল-ওয়াহিয়াত' (২/৯০-৯১) গ্রন্থে সুলাইমান ইবনুল হাজ্জাজ আত-তায়েফি থেকে, তিনি খালিদ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি আবু হাযেম থেকে, তিনি সাহল ইবনে সাদ আস-সা’দি থেকে মারফূ হিসেবে এটি উল্লেখ করেছেন।

উকাইলি বলেছেন: "সুলাইমান ইবনুল হাজ্জাজ: তার বর্ণিত হাদিসে সাধারণত ভ্রম বা ভুল প্রবল থাকে। আর এই হাদিসটির কোনো ভিত্তি নেই।"

এবং ইবনুল জাওজি বলেছেন: "এটি বিশুদ্ধ নয়।"
(খণ্ড: ১) ইসআফুল লাবিস বি ফাতাওয়াল হাদিস (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌9 - سُئلتُ عن حديث: "يَخرُجُ في آخِرِ الزَّمانِ رِجَالٌ، يَختِلُونَ الدُّنيَا بِالدِّينِ، يَلبَسُونَ لِلنَّاسِ جُلُودَ الضَّأنِ مِنَ اللِّينِ، أَلسِنَتُهُم أَحلَى مِنَ العَسَلِ، وَقُلُوُبهُم قُلُوبُ الذِّئَابِ، يَقُولُ اللهُ عز وجل: أَبِي يَغتَرُّونَ؟! أَم عَليّ يَجترئُونَ؟! فَبِي حَلَفتُ! لأَبعَثَنَّ عَلَى أُولَئِكَ مِنهُم فِتنَةً، تَدَع الحَلِيمَ مِنهُم حَيرَانَ".

 

• قلتُ: هذا الحديثُ ضعيفٌ جدًّا.

أخرجه التِّرمذيُّ (2404)، وابنُ المبارَك (50)، وهنَّادُ بنُ السَّريِّ (860) كلاهما في "الزُّهد"، وابنُ عبد البرِّ في "الجامع" (1/ 189)، والخطيبُ في "الفقيه والمتفقِّه" (2/ 162)، والبغَويُّ في "شرح السُّنَّة" (14/ 394) من طريق يحيى بن عُبيد الله، عن أبيه، عن أبي هُريرة، مرفوعًا به.

وهذا سندٌ ضعيفٌ جدًّا؛ ويحيى بن عُبيد الله: قال أحمد: "أحاديثه مناكيرُ"، وضعَّفه ابنُ مَعِين، وابنُ عديٍّ،. وتركه يحيى القَطَّانُ آخرَ أمرِهِ. وأبوه عُبيد الله بن عبد الله بن مَوهَبٍ: قال أحمد، والجُوزجانيُّ، والشَّافعيُّ: "لا يُعرَف"، وقال ابنُ القطَّان الفاسيُّ: "مجهول الحال"، أمَّا ابنُ حِبَّانَ، فوثَّقه (5/ 72)!

وله شاهدٌ من حديث ابن عُمَر رضي الله عنه.
৯ - আমাকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে: "শেষ জামানায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা ধর্মের বিনিময়ে দুনিয়া অন্বেষণ করবে। তারা মানুষের কাছে নিজেদের কোমলতা প্রকাশের জন্য মেষের চামড়া পরিধান করবে, তাদের জিহ্বা মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে, কিন্তু তাদের অন্তর হবে নেকড়ে বাঘের অন্তরের মতো। মহান আল্লাহ বলবেন: 'তারা কি আমার ব্যাপারে ধোঁকায় পড়ে আছে?! নাকি তারা আমার বিরুদ্ধে ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে?! আমি আমার নিজের নামে শপথ করছি! আমি অবশ্যই তাদের ওপর তাদের মধ্য থেকেই এমন এক ফিতনা (বিপর্যয়) প্রেরণ করব, যা তাদের মধ্যকার ধৈর্যশীল ও বিচক্ষণ ব্যক্তিকেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেবে।'"

 

• আমি বললাম: এই হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল।

এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী (২৪০৪), ইবনুল মুবারক (৫০), এবং হান্নাদ ইবনুস সারী (৮৬০) উভয়েই তাদের "আয-যুহদ" গ্রন্থে, ইবনু আব্দুল বার "আল-জামি" (১/১৮৯) গ্রন্থে, খতীব "আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ" (২/১৬২) গ্রন্থে এবং বাগাভী "শারহুস সুন্নাহ" (১৪/৩৯৪) গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে উবাইদুল্লাহর সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর এই সনদটি অত্যন্ত দুর্বল; ইয়াহইয়া ইবনে উবাইদুল্লাহ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেছেন: "তার বর্ণিত হাদিসসমূহ মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)", এবং ইবনে মাঈন ও ইবনে আদী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান তাঁর শেষ জীবনে তাকে বর্জন করেছিলেন। আর তার পিতা উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহাব সম্পর্কে ইমাম আহমাদ, জাওযাজানী এবং শাফিঈ বলেছেন: "তিনি পরিচিত নন", ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি বলেছেন: "তার অবস্থা অজ্ঞাত", তবে ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (৫/৭২)!

ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এর একটি সমর্থনকারী বর্ণনা (শাহেদ) রয়েছে।