(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
القواعد الحسان لتفسير القرآن القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: القواعد الحسان لتفسير القرآن
المؤلف: أبو عبد الله، عبد الرحمن بن ناصر بن عبد الله بن ناصر بن حمد آل سعدي (ت 1376هـ)
الناشر: مكتبة الرشد، الرياض
الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م
عدد الصفحات: 171
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-কাওয়াইদুল হিসান লি-তাফসিরিল কুরআন বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি
গ্রন্থ: আল-কাওয়াইদুল হিসান লি-তাফসিরিল কুরআন
লেখক: আবু আবদুল্লাহ، আবদুর রহমান বিন নাসির বিন আবদুল্লাহ বিন নাসির বিন হামাদ আল সা'দী (মৃ. ১৩৭৬ হি.)
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ، রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হি. - ১৯৯৯ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
القواعد الحسان في تفسير القرآن
تأليف العلامة الشيخ
عبد الرحمن بن ناصر السعدي
আল-কাওয়াইদুল হিসান ফি তাফসিরিল কুরআন (কুরআন তাফসিরের চমৎকার মূলনীতিমালা)
রচনা করেছেন: আল্লামা শায়খ
আবদুর রহমান ইবনে নাসের আস-সা’দী
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة:الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستهديه ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيراً
أما بعد
فهذه أصول وقواعد في تفسير القرآن الكريم، جليلة المقدار، عظيمة النفع، تعين قارئها ومتأملها على فهم كلام الله، والاهتداء به، ومخبرها أجل من وصفها. فإنها تفتح للعبد من طرق التفسير، ومنهاج الفهم عن الله: ما يغني عن كثير من التفاسير الخالية من هذه البحوث النافعة.
أرجو الله وأسأله أن يتم ما قصدنا إيراده، ويفتح لنا من خزائن جوده وكرمه ما يكون سبباً للوصول إلى العلم النافع، والهدى الكامل.
واعلم أن علم التفسير أجل العلوم على الإطلاق، وأفضلها وأوجبها وأحبها إلى الله، لأن الله أمر بتدبر كتابه، والتفكر في معانيه، والاهتداء بآياته، وأثنى على القائمين بذلك، وجعلهم في أعلى المراتب، ووعدهم أسنى المواهب، فلو أنفق العبد جواهر عمره في هذا الفن، لم يكن ذلك كثيراً في جنب ما هو أفضل المطالب، وأعظم المقاصد، وأصل الأصول كلها، وقاعدة أساس السعادة في الدارين، وصلاح أمور الدين والدنيا والآخرة، وبه يتحقق للعبد حياة
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনা:সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা তাঁর কাছেই তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর,
এগুলো কুরআনুল কারিমের তাফসির সংক্রান্ত কতিপয় মূলনীতি (أصول) ও নিয়মাবলি (قواعد), যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং অত্যন্ত উপকারী। এগুলো এর পাঠক ও গভীর চিন্তাকারীকে আল্লাহর কালাম বুঝতে এবং তা থেকে হেদায়েত লাভে সহায়তা করে। এর প্রকৃত স্বরূপ এর বর্ণনার চেয়েও মহত্তর। কারণ এগুলো বান্দার জন্য তাফসিরের এমন সব পথ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুধাবন করার এমন পদ্ধতি উন্মোচন করে, যা এই ধরনের হিতকর গবেষণাবর্জিত বহু তাফসিরের প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত করে দেয়।
আমি আল্লাহর নিকট আশা করি এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমরা যা পেশ করার ইচ্ছা করেছি তা তিনি পূর্ণ করেন এবং তাঁর দান ও মহানুভবতার ভাণ্ডার থেকে আমাদের জন্য এমন সব কিছু উন্মোচন করেন যা উপকারী জ্ঞান এবং পূর্ণ হেদায়েত প্রাপ্তির কারণ হয়।
জেনে রাখুন যে, তাফসির শাস্ত্র হলো নিরঙ্কুশভাবে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান এবং এটি আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম, সর্বাপেক্ষা অপরিহার্য ও অত্যন্ত প্রিয়। কারণ আল্লাহ তাঁর কিতাব নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার, এর মর্মার্থ নিয়ে ভাবনা-গবেষণা করার এবং এর আয়াতসমূহ থেকে হেদায়েত লাভের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এই কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন, তাঁদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছেন এবং তাঁদেরকে সর্বোত্তম পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অতএব, বান্দা যদি এই শাস্ত্রের পেছনে তার জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করে, তবে তা এই শ্রেষ্ঠ অন্বেষা, মহত্তম উদ্দেশ্য, সকল মূলনীতির মূল (أصل الأصول) এবং উভয় জাহানের সৌভাগ্যের ভিত্তি (قاعدة) ও বুনিয়াদ এবং দ্বীন, দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় বিষয় সংশোধনের মূল ভিত্তির তুলনায় মোটেও অধিক হবে না। এর মাধ্যমেই বান্দার প্রকৃত জীবন অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
زاهرة بالهدى والخير والرحمة، ويهيء الله له أطيب الحياة والباقيات الصالحات.
فلنشرع الآن بذكر القواعد والضوابط على وجه الإيجاز الذي يحصل به المقصود، لأنه إذا انفتح للعبد الباب، وتمهدت بفهم القاعدة الأسباب، وتدرب منها بعدة أمثلة توضحها وتبين طريقها ومنهجها، لم يحتج إلى زيادة البسط وكثرة التفاصيل، ونسأله تعالى أن يمدنا بعونه ولطفه وتوفيقه، وأن يجعلنا هادين مهتدين بمنه وكرمه وإحسانه.
হেদায়েত, কল্যাণ ও রহমতে তা প্রস্ফুটিত হবে এবং আল্লাহ তাঁর জন্য সর্বোত্তম জীবন ও চিরস্থায়ী নেক আমলসমূহ সুগম করে দেবেন।
এখন আমরা সংক্ষেপে সেই সকল মূলনীতি (القواعد) ও নিয়মাবলী (الضوابط) আলোচনা শুরু করব যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য হাসিল হবে। কারণ যখন কোনো বান্দার জন্য জ্ঞানের দ্বার উন্মুক্ত হয় এবং মূলনীতি (القاعدة) অনুধাবনের মাধ্যমে পথসমূহ সুগম হয়, আর সে এমন কিছু উদাহরণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ লাভ করে যা এর পথ ও পদ্ধতিকে সুস্পষ্ট করে দেয়, তখন আর দীর্ঘ আলোচনা ও বাহুল্য বিবরণের প্রয়োজন থাকে না। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁর সাহায্য, অনুগ্রহ ও তাওফীক দিয়ে আমাদের ধন্য করেন এবং তাঁর কৃপা, বদান্যতা ও অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাদের হিদায়েতদানকারী ও হিদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
القاعدة الأولى: في كيفية تلقي التفسيركل من سلك طريقاً وعمل عملاً، وأتاه من أبوابه وطرقه الموصلة إليه، فلا بد أن يفلح وينجح ويصل به إلى غايته، كما قال تعالى: {وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا} [البقرة: 189] .
وكلما عظم المطلوب تأكد هذا الأمر، وتعين البحث التام عن أمثل وأقوم الطرق الموصلة إليه، ولا ريب أن ما نحن فيه هو أهم الأمور وأجلها، بل هو أساسها وأصلها.
فاعلم أن هذا القرآن العظيم أنزله الله لهداية الخلق وإرشادهم، وأنه في كل وقت وزمان ومكان يرشد إلى أهدى الأمور وأقومها {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} [الإسراء: 9] .
فعلى الناس أن يتلقوا معني كلام الله كما تلقاه الصحابة رضي الله عنهم فإنهم كانوا إذا قرأوا عشر آيات، أو أقل أو أكثر، لم يتجاوزوها حتى يعرفوا ويحققوا ما دلت عليه من الإيمان والعلم والعمل، فينزلونها على الأحوال الواقعة يؤمنون بما احتوت عليه من العقائد والأخبار، وينقادون لأوامرها ونواهيها، ويطبقونها على جميع ما يشهدون من الحوادث والوقائع الموجودة بهم وبغيرهم، ويحاسبون أنفسهم: هل هم قائمون بها أو مخلون بحقوقها ومطلوبها؟ وكيف الطريق إلى الثبات على الأمور النافعة، وتدارك ما نقص منها؟ وكيف التخلص من الأمور الضارة؟ فيهتدون بعلومه، ويتخلقون بأخلاقه وآدابه، ويعلمون أنه خطاب من عالم الغيب والشهادة موجه إليهم، ومطالبون بمعرفة معانيه، والعمل بما يقتضيه.
فمن سلك هذا الطريق الذي سلكوه، وجَدّ واجتهد في تدبر كلام الله،
প্রথম মূলনীতি: তাফসির গ্রহণের পদ্ধতি প্রসঙ্গেযে ব্যক্তি কোনো পথে চলল এবং কোনো কাজ করল, আর সেটির সঠিক প্রবেশদ্বার ও গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ দিয়ে তাতে প্রবেশ করল, তবে সে অবশ্যই সফল ও কৃতকার্য হবে এবং নিজ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা ঘরে প্রবেশ করো তাদের দরজা দিয়ে} [আল-বাকারা: ১৮৯]।
উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য যত মহান হয়, এই বিষয়টি তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে; তখন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সর্বোত্তম ও সঠিক পথটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান চালানো অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমরা এখন যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি তা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও মহান বিষয়; বরং এটিই হলো সকল বিষয়ের ভিত্তি ও মূল।
জেনে রাখুন যে, আল্লাহ এই মহান কুরআন অবতীর্ণ করেছেন সৃষ্টিজগতকে হিদায়াত ও সঠিক পথপ্রদর্শনের জন্য। এটি প্রতিটি যুগে, সময়ে ও স্থানে সর্বাধিক সঠিক ও সুদৃঢ় বিষয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করে। {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ দেখায় যা সর্বাধিক সুদৃঢ়} [আল-ইসরা: ৯]।
অতএব, মানুষের কর্তব্য হলো আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ সেভাবেই গ্রহণ করা যেভাবে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা যখন দশটি আয়াত অথবা এর কম বা বেশি পাঠ করতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তা অতিক্রম করতেন না যতক্ষণ না সেই আয়াতগুলোর নির্দেশিত ঈমান, জ্ঞান ও আমল সম্পর্কে সম্যক অবগত হতেন এবং তা সুনিশ্চিত করতেন। এরপর তাঁরা সেগুলোকে বাস্তব পরিস্থিতির ওপর প্রয়োগ করতেন; তাঁরা তাতে বিদ্যমান আকিদা ও সংবাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতেন, এর আদেশ ও নিষেধের অনুগামী হতেন এবং তাঁদের নিজেদের ও অন্যদের জীবনে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা ও পরিস্থিতির ওপর তা প্রয়োগ করতেন। তাঁরা নিজেদের নফসকে হিসাবের আওতায় আনতেন: তাঁরা কি এই বিধানগুলো পালন করছেন নাকি এর হক ও দাবিসমূহ আদায়ে ত্রুটি করছেন? কল্যাণকর বিষয়সমূহের ওপর অটল থাকার পথ কী, আর তাতে যেটুকু ঘাটতি রয়েছে তার প্রতিকারই বা কী? ক্ষতিকর বিষয়গুলো থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উপায় কী? এভাবে তাঁরা কুরআনের জ্ঞানের মাধ্যমে হিদায়াত লাভ করতেন এবং এর আদর্শ ও আদব দ্বারা নিজেদের চরিত্র গঠন করতেন। তাঁরা জানতেন যে, এটি অদৃশ্য ও দৃশ্য জগতের পরিজ্ঞাত সত্তার পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি নির্দেশিত একটি সম্বোধন, যার অর্থ অনুধাবন করা এবং দাবি অনুযায়ী আমল করতে তাঁরা আদিষ্ট।
সুতরাং যে ব্যক্তি সাহাবীগণের অনুসৃত এই পথে চলবে এবং আল্লাহর বাণী নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণায় সচেষ্ট ও যত্নবান হবে,
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
انفتح له الباب الأعظم في علم التفسير، وقويت معرفته واستنارت بصيرته، واستغنى بهذه الطريقة عن كثرة التكلفات، وعن البحوث الخارجية، وخصوصاً إذا كان قد أخذ من علوم العربية جانباً قوياً، وكان له إلمام واهتمام بسيرة النبي صلى الله عليه وسلم وأحواله مع أوليائه وأعدائه، فإن ذلك أكبر عون على هذا المطلب.
ومتى علم العبد أن القرآن فيه تبيان كل شيء، وأنه كفيل بجميع المصالح مبين لها، حاث عليها، زاجر عن المضار كلها، وجعل هذه القاعدة نصب عينيه، ونزلها على كل واقع وحادث سابق أو لاحق، ظهر له عظم مواقعها وكثرة فوائدها وثمرتها.
ويلحق بهذه القاعدة:
তাঁর জন্য তাফসির বিজ্ঞানের মহোত্তম দ্বার উন্মোচিত হয়, তাঁর জ্ঞান সুদৃঢ় হয় এবং তাঁর প্রজ্ঞা জ্যোতির্ময় হয়ে ওঠে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি অত্যধিক কৃত্রিমতা এবং বাহ্যিক তাত্ত্বিক আলোচনা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যান; বিশেষ করে যদি তিনি আরবি ভাষাতত্ত্বে শক্তিশালী ব্যুৎপত্তি অর্জন করে থাকেন এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরাত ও তাঁর বন্ধু ও শত্রুদের সাথে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ও গভীর মনোযোগ রাখেন, তবে তা এই লক্ষ্য অর্জনে সর্বাপেক্ষা বড় সহায়ক হবে।
বান্দা যখন জানতে পারে যে, কুরআনে প্রতিটি বিষয়ের বিশদ বর্ণনা রয়েছে এবং এটি সকল প্রকার কল্যাণ নিশ্চিতকারী ও তা সুস্পষ্টকারী, কল্যাণের প্রতি উৎসাহ প্রদানকারী এবং সকল অকল্যাণ থেকে বাধা প্রদানকারী; আর সে যদি এই মূলনীতিকে (قاعدة) নিজের দৃষ্টির সম্মুখে রাখে এবং একে পূর্বাপর সকল বাস্তবতা ও ঘটনার ওপর প্রয়োগ করে, তবে তার নিকট এর গুরুত্বের বিশালতা এবং এর বহুবিধ উপকারিতা ও ফলাফল স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
এই মূলনীতির (قاعدة) সাথে সম্পৃক্ত বিষয় হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
القاعدة الثانية: العبرة بعموم الألفاظ لا بخصوص الأسبابوهذه القاعدة نافعة جداً، بمراعاتها يحصل للعبد خير كثير وعلم غزير، وبإهمالها وعدم ملاحظتها يفوته علم كثير، ويقع الغلط والارتباك الخطير.
وهذا الأصل اتفق عليه المحققون من أهل الأصول وغيرهم، فمتى راعيت القاعدة حق الرعاية وعرفت أن ما قاله المفسرون من أسباب النزول إنما هوعلى سبيل المثال لتوضيح الألفاظ، وليست معاني الألفاظ والآيات مقصورةً عليها. فقولهم: نزلت في كذا وكذا، معناه: أن هذا مما يدخل فيها، ومن جملة ما يراد بها، فإن القرآن ـ كما تقدم ـ إنما نزل لهداية أول الأمة وآخرها، حيث تكون وأنى تكون.
والله تعالى قد أمرنا بالتفكر والتدبر لكتابه، فإذا تدبرنا الألفاظ العامة، وفهمنا أن معناها يتناول أشياء كثيرة، فلأي شيء نخرج بعض هذه المعاني، مع دخول ما هو مثلها ونظيرها فيها (1) ؟ ولهذا قال ابن مسعود رضي الله عنه " إذا سمعت الله يقول: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} فأرعها سمعك، فإنه إما خير تُؤمر به، وإما شر تُنهى عنه ".
فمتى مر بك خبر عن صفات الله وأسمائه، وعما يستحقه من الكمال، وما يتنزه عنه من النقص. فأثبت له جميع ذلك المعنى الكامل الذي أثبته سبحانه لنفسه ونزّهه عن كل ما نزه نفسه عنه، وكذلك إذا مر بك خبر عن رسله وكتبه واليوم الآخر، وعن جميع الأمور السابقة واللاحقة، فاجزم جزماً لا شك فيه أنه حق على حقيقته، بل هو أعلى أنواع الحق
--------------------------------------------
দ্বিতীয় নীতি: শব্দের ব্যাপকতা (عموم الألفاظ) ধর্তব্য, বিশেষ কারণ (خصوص الأسباب) নয়এই নীতিটি অত্যন্ত উপকারী; এটি অনুসরণের মাধ্যমে একজন বান্দা প্রভূত কল্যাণ ও অগাধ জ্ঞান লাভ করে। আর একে উপেক্ষা করলে এবং এর প্রতি লক্ষ্য না রাখলে তার অনেক জ্ঞান ছুটে যায় এবং গুরুতর ভুল ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এই মূলনীতিটির ওপর উসুলবিদ (أصوليون) গবেষকগণ ও অন্যান্যরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন। সুতরাং যখন আপনি এই নীতিটি যথাযথভাবে অনুসরণ করবেন এবং জানবেন যে, মুফাসসিরগণ অবতীর্ণ হওয়ার কারণ (أسباب النزول) সম্পর্কে যা কিছু বলেছেন তা কেবল শব্দার্থ স্পষ্ট করার জন্য উদাহরণস্বরূপ; শব্দ ও আয়াতের অর্থ কেবল সেগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সুতরাং তাদের এই কথা: "এটি অমুক অমুক বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে", এর অর্থ হলো: এটিও এর অন্তর্ভুক্ত এবং এর দ্বারা যা উদ্দেশ্য তার সামগ্রিকতার অন্তর্ভুক্ত। কারণ কুরআন—যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে—উম্মতের প্রথম ও শেষ প্রজন্মের হিদায়াতের জন্যই অবতীর্ণ হয়েছে, তারা যেখানেই এবং যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁর কিতাব নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং আমরা যখন ব্যাপক (عام) শব্দগুলো নিয়ে চিন্তা করি এবং বুঝতে পারি যে এর অর্থ অনেক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে কেন আমরা এর কিছু অর্থকে বাদ দেব, অথচ এর সদৃশ ও সমজাতীয় বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত (১)? এই কারণেই ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "যখন তুমি আল্লাহকে বলতে শুনবে: {হে মুমিনগণ}, তখন সেদিকে কান পাতো; কারণ এটি হয় কোনো কল্যাণ যার নির্দেশ তোমাকে দেওয়া হচ্ছে, অথবা কোনো অকল্যাণ যা থেকে তোমাকে নিষেধ করা হচ্ছে।"
যখনই আপনার সামনে আল্লাহর গুণাবলি ও তাঁর নামসমূহ সম্পর্কে কোনো সংবাদ আসবে এবং তাঁর প্রাপ্য পূর্ণতা ও যেসব দোষ-ত্রুটি থেকে তিনি পবিত্র সে সম্পর্কিত বর্ণনা আসবে, তখন তাঁর জন্য সেই সমস্ত পূর্ণাঙ্গ অর্থ সাব্যস্ত করুন যা তিনি স্বয়ং নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁকে সেই সমস্ত বিষয় থেকে পবিত্র ঘোষণা করুন যা থেকে তিনি নিজেকে পবিত্র করেছেন। একইভাবে যখন আপনার নিকট তাঁর রাসুলগণ, কিতাবসমূহ, পরকাল এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল বিষয় সম্পর্কে কোনো সংবাদ আসবে, তখন সন্দেহাতীতভাবে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন যে এটি এর প্রকৃত অর্থেই সত্য, বরং এটি সত্যের সর্বোচ্চ পর্যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
والصدق، قيلا وحديثا.
وإذا أمر بشيء نظرت إلى معناه، وما يدخل فيه وما لا يدخل، وعلمت أن ذلك الأمر موجه إلى جميع الأمة، وكذلك في النهي.
ولهذا كانت معرفة حدود ما أنزل الله على رسوله أصلَ كل الخير والفلاح، والجهل بذلك أصل كل الشر والخسران.
فمراعاة هذه القاعدة أكبر عون على معرفة حدود ما أنزل الله على رسوله والقيام بها. والقرآن قد جمع أجل المعاني وأنفعها وأصدقها بأوضح الألفاظ وأحسنها كما قال تعالى: {وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيراً} [الفرقان:33] ، يوضح ذلك ويبينه وينهج طريقته:
এবং সত্যবাদিতা (صدق), কথা ও হাদিসের ক্ষেত্রে।
আর যখন তিনি কোনো বিষয়ের নির্দেশ প্রদান করেন, তখন আপনি সেটির অর্থের প্রতি এবং তাতে যা অন্তর্ভুক্ত হয় ও যা অন্তর্ভুক্ত হয় না, সেটির প্রতি লক্ষ্য করবেন। আর আপনি অবগত হবেন যে, সেই নির্দেশটি সমগ্র উম্মতের প্রতি উদ্দেশ্য করা হয়েছে; আর নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।
এই কারণেই, আল্লাহ তাঁর রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তার সীমারেখা অনুধাবন করা সকল কল্যাণ ও সফলতার মূল; আর সে সম্পর্কে অজ্ঞতা সকল অনিষ্ট ও ক্ষতির মূল।
সুতরাং এই নীতিটি অনুসরণ করা আল্লাহ তাঁর রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তার সীমারেখা জানা এবং তা পালনের ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ সহায়ক। আর কুরআন সুমহান, সর্বাধিক উপকারী এবং সত্যতম অর্থসমূহকে অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুন্দরতম শব্দের মাধ্যমে একত্রিত করেছে, যেমনটি মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "তারা আপনার নিকট এমন কোনো উদাহরণ নিয়ে আসে না, যার বিপরীতে আমি আপনাকে সত্য ও সর্বোত্তম ব্যাখ্যা প্রদান করি না।" [আল-ফুরকান: ৩৩]। এটি বিষয়টিকে সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত বর্ণনা করে এবং এর পথকে উন্মোচিত করে:
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
القاعدة الثالثة: الألف واللام الداخلة على الأوصاف وأسماء الأجناس تفيد الاستغراق بحسب ما دخلت عليهوقد نص على ذلك أهل الأصول وأهل العربية، واتفق على اعتبار ذلك أهل العلم والإيمان. فمثلُ قوله تعالى: {إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ـ إلى قوله تعالى ـ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً} [الأحزاب: 35] يدخل في هذه الأوصاف كل ما تناوله من معاني الإسلام والإيمان والقنوت والصدق إلى آخرها. وأن بكمال هذه الأوصاف يكمل لصاحبها ما رتب عليها من المغفرة والأجر العظيم، وبنقصانها ينقص، وبعدمها يفقد، وهكذا كل وصف رتب عليه خير وأجر وثواب، وكذلك ما يقابل ذلك كل وصف نَهى الله عنه ورتب عليه وعلى المتصف به عقوبة وشراً ونقصاً، يكون له من ذلك بحسب ما قام به من الوصف المذكور، وكذلك مثل قوله تعالى: {إِنَّ الْأِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوعاً * إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعاً * وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعاً} [المعارج من 19: 21] ، عام لجنس الإنسان.
فكل إنسان هذا وصفه إلا من استثنى الله بقوله: {إِلَّا الْمُصَلِّين َ} [المعارج:22] إلى آخرها كما أن قوله: {وَالْعَصْرِ * إِنَّ الْأِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ} [العصر 1، 2] دال على أن كل إنسان عاقبته ومآله إلى الخسار {إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} [العصر:3] وأمثال ذلك كثير.
وأعظم ما تعتبر به هذه القاعدة: في
তৃতীয় নিয়ম: বিশেষণ (الأوصاف) এবং শ্রেণিবাচক বিশেষ্যের (أسماء الأجناس) শুরুতে যুক্ত আলিফ-লাম (الألف واللام) যার ওপর তা প্রবেশ করে তার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপকতা (الاستغراق) প্রকাশ করে।উসুলবিদগণ (أهل الأصول) এবং আরবী ভাষাবিদগণ (أهل العربية) বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং ইলম ও ঈমানওয়ালাগণ বিষয়টি গ্রহণ করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আত্মসমর্পণকারী পুরুষ ও আত্মসমর্পণকারী নারী এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী - আয়াতের শেষ পর্যন্ত - আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন} [আল-আহযাব: ৩৫]। এই বিশেষণগুলোর (الأوصاف) মধ্যে ইসলাম, ঈমান, আনুগত্য এবং সত্যবাদিতার যাবতীয় অর্থ—শেষ পর্যন্ত যা যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—সবই এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এই বিশেষণগুলো (الأوصاف) পূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য এর ওপর নির্ধারিত ক্ষমা ও মহাপুরস্কার পূর্ণতা পায়; এগুলোর ঘাটতির কারণে পুরস্কারেও ঘাটতি হয় এবং এগুলো না থাকলে পুরস্কারও বিলুপ্ত হয়। অনুরূপভাবে প্রতিটি গুণ (وصف) যার ওপর কল্যাণ, প্রতিদান ও সওয়াব নির্ধারিত রয়েছে, এবং এর বিপরীত প্রতিটি গুণ (وصف) যা থেকে আল্লাহ নিষেধ করেছেন এবং যার ওপর ও ওই গুণে গুণান্বিত ব্যক্তির ওপর শাস্তি, অকল্যাণ ও ঘাটতি নির্ধারিত করেছেন, সেই গুণের (الوصف) উপস্থিতির মাত্রা অনুযায়ী তার ফলাফল প্রাপ্তি ঘটবে। একইভাবে আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অতিশয় অস্থিরমনা হিসেবে। যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে, তখন সে হা-হুতাশ করে। আর যখন তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে, তখন সে অতি কৃপণ হয়ে যায়} [আল-মাআরিজ: ১৯-২১], এটি সমগ্র মানবজাতির (جنس الإنسان) জন্য সাধারণ (عام)।
অতএব প্রত্যেক মানুষের বৈশিষ্ট্য এটাই, কেবল তারা ব্যতীত যাদের আল্লাহ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ব্যতিক্রম করেছেন: {নামাজ কায়েমকারীগণ ব্যতীত} [আল-মাআরিজ: ২২] - শেষ পর্যন্ত। যেমনটি তাঁর বাণী: {সময়ের শপথ, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত} [আল-আসর: ১, ২] প্রমাণ করে যে, প্রতিটি মানুষের পরিণাম ও গন্তব্য হলো ক্ষতি, {তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে} [আল-আসর: ৩]। এই ধরণের উদাহরণ আরও অনেক রয়েছে।
আর এই নিয়মটি (القاعدة) সবচেয়ে বড় যে ক্ষেত্রে কার্যকর হয়, তা হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الأسماء الحسنى، فإن في القرآن منها شيئاً كثيراً، وهي من أجل علوم القرآن بل هي المقصد الأول للقرآن.
فمثلاً يخبر الله عن نفسه: أنه الرب الحي القيوم، وأنه الملك والعليم والحكيم، والعزيز والرحيم، والقدوس السلام، والحميد المجيد. فالله هو الذي له جميع معاني الربوبية التي يستحق أن يؤله لأجلها وهي صفات الكمال كلها، والمحامد كلها له، والفضل كله، والإحسان كله، وأنه لا يُشارِك اللهَ أحد في معنى من معاني الربوبية {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] لا بشر ولا مَلَك، بل هم جميعاً عبيد مربوبون لربهم بكل أنواع الربوبية، مقهورون خاضعون لجلاله وعظمته، فلا ينبغي أن يكون أحد منهم نداً، ولا شريكا لله في عبادته وإلهيته، فبربوبيته سبحانه يربي الجميع من ملائكة وأنبياء وغيرهم: خلقاً ورزقاً وتدبيراً وإحياء وإماتة، وهم يشكرونه على ذلك بإخلاص العبادة كلها له وحده، فيؤلهونه ولا يتخذون من دونه ولياً ولا شفيعاً، فالإلهية حق له سبحانه على عبادته بصفة ربوبيته، وأنه الملك الذي له جميع معاني الملك، وهو الملك الكامل والتصرف النافذ، وأن الخلق كلهم مماليك لله، عبيد تحت أحكام ملكه القدرية والشرعية والجزائية (1) ، وأنه العليم بكل شيء، الذي لا يخفى عليه شيء في الأرض ولا في السماء، الذي أحاط علمه بالبواطن والظواهر والخفيات والجليات والواجبات والمستحيلات، والجائزات.
والأمور السابقة واللاحقة والعالم العلوي والسفلي والكليات والجزئيات. وما يعلم الخلق وما لا يعلمون {ولا يحيطون بشئ من علمه إلا بما شاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلا يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} [البقرة: 255] وأنه الحكيم الذي له الحكمة التامة الشاملة لجميع ما قضاه وقدره وخلقه، وجميع ما شرعه لا يخرج عن حكمته، لا مخلوق ولا مشروع، وأنه العزيز الذي له جميع معاني العزة على وجه الكمال التام من كل وجه، عزة القوة وعزة الامتناع، وعزة القهر والغلبة، وأن جميع الخلق في غاية الذل ونهاية الفقر، ومنتهى الحاجة والضرورة إلى ربهم، وأنه الرحمن الرحيم الذي له جميع معاني الرحمة الذي وسعت رحمته كل شيء، ولم يخل مخلوق من إحسانه وبره طرفة عين. تبلغ رحمته حيث يبلغ علمه
--------------------------------------------
আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ; কুরআনে এ সম্পর্কে অনেক আলোচনা রয়েছে এবং এগুলো কুরআনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞান, বরং এটিই কুরআনের প্রধান উদ্দেশ্য।
উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ তাঁর নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে: তিনি রব, চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক, এবং তিনি বাদশাহ, সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়, মহাপরাক্রমশালী, দয়াময়, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। সুতরাং আল্লাহ তিনিই, যাঁর জন্য রুবুবিয়াতের সকল অর্থ সাব্যস্ত, যার কারণে তিনি ইলাহ হওয়ার হকদার; আর রুবুবিয়াতের সেই অর্থগুলো হলো পূর্ণতার সকল গুণাবলি। যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই, যাবতীয় শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহ তাঁরই। রুবুবিয়াতের কোনো অর্থেই আল্লাহর সাথে কেউ শরিক নেই— "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" [আশ-শূরা: ১১]। মানুষ কিংবা ফেরেশতা কেউই তাঁর সমতুল্য নয়, বরং তারা সবাই তাদের রবের দাস এবং তাঁর রুবুবিয়াতের সকল প্রকারের অধীন, তাঁর মর্যাদা ও মহানত্বের সামনে পরাভূত ও অনুগত। সুতরাং তাদের কাউকেই আল্লাহর ইবাদত ও উলুহিয়াতে সমকক্ষ বা শরিক করা সমীচীন নয়। মহান আল্লাহ তাঁর রুবুবিয়াতের মাধ্যমে ফেরেশতা, নবী এবং অন্যান্য সকল সৃষ্টিকে লালন-পালন করেন—সৃষ্টির মাধ্যমে, রিজিক প্রদানের মাধ্যমে, পরিচালনা, জীবনদান ও মৃত্যুর মাধ্যমে। তারা এর বিনিময়ে কেবল তাঁরই ইবাদতে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর শুকরিয়া আদায় করে; ফলে তারা কেবল তাঁকেই ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাঁকে ছাড়া আর কোনো অভিভাবক বা সুপারিশকারী গ্রহণ করে না। সুতরাং তাঁর রুবুবিয়াতের গুণাবলির কারণেই উলুহিয়াত তথা ইবাদত কেবল তাঁরই প্রাপ্য অধিকার। তিনিই সেই বাদশাহ যাঁর জন্য রাজত্বের সকল অর্থ সাব্যস্ত। তাঁর রাজত্ব পূর্ণাঙ্গ এবং তাঁর ফয়সালা চূড়ান্তভাবে কার্যকর। সকল সৃষ্টি আল্লাহর মালিকানাধীন এবং তাঁর তাকদিরি, শরয়ি ও জাযায়ি (প্রতিদানমূলক) বিধানের অধীন (১)। তিনি সর্বজ্ঞ, আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন নয়। তাঁর জ্ঞান দৃশ্য-অদৃশ্য, গোপন-প্রকাশ্য, আবশ্যকীয়-অসম্ভব এবং সম্ভাব্য সকল বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে।
অতীত ও ভবিষ্যৎ বিষয়াবলি, ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগত এবং সামগ্রিক ও আংশিক সকল বিষয় তাঁর জ্ঞানের আওতাভুক্ত। সৃষ্টিজগত যা জানে এবং যা তারা জানে না— "তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং এই দুটির হেফাজত তাঁকে ক্লান্ত করে না; আর তিনি সমুন্নত, মহান" [আল-বাকারাহ: ২৫৫]। তিনি প্রজ্ঞাময়, যাঁর রয়েছে পরিপূর্ণ ও ব্যাপক হিকমত যা তাঁর সকল ফয়সালা, তাকদির, সৃষ্টি এবং প্রবর্তিত সকল শরিয়তকে শামিল করে। কোনো সৃষ্টি বা শরিয়ত তাঁর হিকমতের বাইরে নয়। তিনি মহাপরাক্রমশালী, যাঁর জন্য সকল দিক থেকে পূর্ণাঙ্গরূপে সম্মানের সকল অর্থ সাব্যস্ত; যেমন—শক্তির সম্মান, অপরাজেয় হওয়ার সম্মান এবং দমন ও বিজয়ের সম্মান। সকল সৃষ্টি তাদের রবের কাছে চরম হীনতা, চূড়ান্ত অভাব ও পরম মুখাপেক্ষিতার অবস্থায় রয়েছে। তিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু, যাঁর জন্য রহমতের সকল অর্থ সাব্যস্ত এবং যাঁর রহমত প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে। কোনো সৃষ্টিই চোখের পলকের জন্যও তাঁর ইহসান ও অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত নয়। তাঁর রহমত সেখানে পৌঁছে যেখানে তাঁর জ্ঞান পৌঁছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
{رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْماً} [غافر: 7] وأنه القدوس السلام، المعظم المنزه عن كل عيب وآفة ونقص، وعن مماثلة أحد، وعن أن يكون له ند من خلقه.
وهكذا بقية الأسماء الحسنى، اعتبرْها بهذه القاعدة الجليلة ينفتح لك باب عظيم من أبواب معرفة الله، بل أصل معرفة الله تعالى معرفة ما تحتوي عليه أسماؤه الحسنى، وتقتضيه من المعاني العظيمة، بحسب ما يقدر عليه العبد، وإلا فلن يبلغ علم أحد من الخلق بذلك، ولن يحصي أحد ثناء عليه، بل هو كما أثنى على نفسه، وفوق ما يثني عليه عباده.
ومن ذلك قوله تعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلا تَعَاوَنُوا عَلَى الْأِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} [المائدة: 2] ، يشمل جميع أنواع البر والخير، وتشمل التقوى جميع ما يجب اتقاؤه من أنواع المَخُوفات والمعاصي والمحرمات. والإثم: اسم جامع لكل ما يؤثم، ويوقع في المعصية. كما أن العدوان: اسم جامع يدخل فيه جميع أنواع التعدي على الناس في الدماء والأموال والأعراض، والتعدي على مجموع الأمة، وعلى الحكومات والتعدي على حدود الله.
و" المعروف " في القرآن: اسم جامع لكل ما عرف حسنه شرعاً وعقلاً، وعكسه: المنكر والسوء والفاحشة.
وقد نبه النبي صلى الله عليه وسلم أمته إلى هذه القاعدة، وأرشدهم إلى اعتبارها إذ علمهم أن يقولوا في التشهد في الصلاة: (السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين) فقال:
(فإنكم إذا قلتم ذلك سلمتم على كل عبد صالح من أهل السماء والأرض) [رواه البخاري]
وأمثلتها في القرآن كثيرة جداً.
{হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার দয়া ও জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যপ্ত করে রেখেছে} [গাফির: ৭] এবং নিশ্চয়ই তিনি অতি পবিত্র (القدوس), শান্তিদাতা (السلام); এমন মহান সত্তা যিনি সকল দোষ, ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত, আর তিনি কারো সদৃশ হওয়া থেকে এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে তাঁর কোনো সমকক্ষ থাকা থেকে পবিত্র।
এভাবেই আল্লাহর অন্যান্য সুন্দর নামসমূহের (الأسماء الحسنى) ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য; আপনি যদি এই মহান মূলনীতির আলোকে সেগুলোকে বিবেচনা করেন, তবে আপনার জন্য আল্লাহকে চেনার এক বিশাল দ্বার উন্মোচিত হবে। বরং আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে জ্ঞানের মূল ভিত্তিই হলো তাঁর সুন্দর নামসমূহ যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করে এবং যে সকল মহান অর্থের দাবি রাখে তা জানা—বান্দার সাধ্য অনুযায়ী। অন্যথায় সৃষ্টির মধ্য হতে কারো জ্ঞানই সেই পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না এবং কেউই তাঁর গুণগান পূর্ণাঙ্গভাবে গণনা করতে পারবে না। বরং তিনি তেমনই, যেমনটি তিনি স্বয়ং নিজের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর বান্দারা তাঁর যে প্রশংসা করে তার চেয়েও তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির কাজে একে অপরকে সাহায্য করো এবং পাপাচার ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না} [আল-মায়িদাহ: ২]। এটি সকল প্রকার পুণ্য ও কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং আল্লাহভীতি (التقوى) এমন সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক—যেমন ভীতিজনক বিষয়সমূহ, পাপাচার ও নিষিদ্ধ বিষয়াদি। আর পাপ (الإثم) হলো এমন একটি সামষ্টিক শব্দ যা মানুষকে গুনাহগার করে এবং অবাধ্যতায় লিপ্ত করে এমন সবকিছুকে শামিল করে। একইভাবে সীমালঙ্ঘন (العدوان) হলো একটি সামষ্টিক শব্দ যার অধীনে মানুষের রক্ত, সম্পদ ও সম্মানের ওপর সব ধরণের আক্রমণ, মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক স্বার্থের বিরুদ্ধে ও সরকারের ওপর চড়াও হওয়া এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমার অবমাননা অন্তর্ভুক্ত।
আর কুরআনে বর্ণিত 'সৎকাজ' (المعروف) হলো এমন একটি সামষ্টিক পরিভাষা যা শরিয়ত ও বিবেকের দৃষ্টিতে উত্তম বলে স্বীকৃত সকল বিষয়কে বোঝায়। আর এর বিপরীত হলো—মন্দ (المنكر), নিকৃষ্ট (السوء) ও অশ্লীলতা (الفاحشة)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে এই মূলনীতি সম্পর্কে সচেতন করেছেন এবং এটি অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছেন যখন তিনি তাঁদেরকে সালাতের তাশাহহুদে বলতে শিখিয়েছেন: (আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। অতঃপর তিনি বলেছেন:
(কেননা যখন তোমরা এটি বলবে, তখন তোমরা আকাশ ও পৃথিবীর প্রত্যেক নেক (صالح) বান্দার ওপর সালাম প্রদান করলে) [বুখারি]
কুরআনে এর দৃষ্টান্ত অগণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
القاعدة الرابعة: إذا وقعت النكرة في سياق النفي أو النهي أو الشرط أو الاستفهام دلت على العمومكقوله تعالى: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} [النساء: 36] فإنه نهى عن الشرك به في النيات، والأقوال والأفعال، وعن الشرك الأكبر، والأصغر والخفي، والجلي. فلا يجعل العبد لله نداً ومشاركاً في شيء من ذلك.
ونظيرها قوله: {فَلا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَاداً} [البقرة: 22] .
وقوله في وصف يوم القيامة: {يَوْمَ لا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِنَفْسٍ شَيْئاً} [الانفطار: 19] ، يعم كل نفس، وأنها لا تملك شيئاً من الأشياء، لأي نفس أخرى، مهما كانت الصلة، لا إيصال شيء من المنافع، ولا دفع شيء من المضار.
وكقوله تعالى: {وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلا رَادَّ لِفَضْلِهِ} [يونس: 107] ، فكل ضر قدره الله على العبد ليس في استطاعة أحد من الخلق كائنا من كان كشفه بوجه من الوجوه.
ونهاية ما يقدر عليه المخلوق من الأسباب والأدوية: إنما هو جزء من أجزاء كثيرة داخلة في قضاء الله وقدره.
وقوله: {مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكْ فَلا مُرْسِلَ لَهُ مِنْ بَعْدِهِ} [فاطر: 2] وقوله {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ} [النحل: 53] يشمل كل خير في العبد ويصيب العبد، وكل نعمة فيها حصول محبوب، أو دفع مكروه، فإن الله هو المنفرد بذلك وحده.
وقوله {هَلْ مِنْ خَالِقٍ غَيْرُ اللَّهِ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لا إِلَهَ إِلَّا هُو} [فاطر: 3] ،
চতুর্থ নীতি: যখন কোনো অনির্দিষ্ট শব্দ (نكرة) না-বোধক, নিষেধবাচক, শর্তবাচক অথবা প্রশ্নবোধক বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তা ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করে।যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না} [নিসা: ৩৬]। এখানে নিয়ত, কথা ও কাজের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে শিরক করা থেকে এবং বড় শিরক (الشرك الأكبر), ছোট শিরক (الشرك الأصغر), গোপন ও প্রকাশ্য শিরক থেকে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং বান্দা এসবের কোনো কিছুতেই আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ বা অংশীদার নির্ধারণ করবে না।
এর অনুরূপ হলো তাঁর বাণী: {অতএব তোমরা আল্লাহর জন্য সমকক্ষ নির্ধারণ করো না} [বাকারা: ২২]।
কিয়ামত দিবসের বর্ণনায় তাঁর বাণী: {সেদিন কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য কোনো কিছুরই মালিক হবে না} [ইনফিতার: ১৯]। এটি প্রতিটি ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে যে, কোনো ব্যক্তিই অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য কোনো কিছুর মালিক হবে না, তাদের মধ্যে সম্পর্ক যেমনই হোক না কেন; কোনো উপকার পৌঁছানো বা কোনো ক্ষতি প্রতিরোধ করার কোনো ক্ষমতা থাকবে না।
যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো বিপদের মাধ্যমে স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী আর কেউ নেই; আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার মতো কেউ নেই} [ইউনুস: ১০৭]। সুতরাং আল্লাহ বান্দার ওপর যে বিপদই নির্ধারণ করেন না কেন, কোনো সৃষ্টির পক্ষেই তা কোনোভাবে দূর করা সম্ভব নয়, সে যেই হোক না কেন।
সৃষ্টির সক্ষমতার অধীনে থাকা উপায়-উপকরণ ও ঔষধের প্রভাব তো আল্লাহ তাআলার ফয়সালা (قضاء) ও তাকদিরের (قدر) অন্তর্ভুক্ত অসংখ্য উপকরণের একটি অংশ মাত্র।
তাঁর বাণী: {আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করেন, তা আটকানোর কেউ নেই; আর যা তিনি আটকে দেন, এরপর তা ছাড়ানোর কেউ নেই} [ফাতির: ২]। এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের কাছে যে নেয়ামত রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই} [নাহল: ৫৩]। এটি বান্দার মাঝে বিদ্যমান এবং তাকে স্পর্শ করা প্রতিটি কল্যাণকে শামিল করে। আর প্রতিটি নেয়ামত—যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বিষয় লাভ হয় অথবা অপছন্দনীয় বিষয় দূর হয়—তা দানে আল্লাহ তাআলাই একমাত্র সত্তা।
তাঁর বাণী: {আল্লাহ ছাড়া কি এমন কোনো স্রষ্টা আছে যে তোমাদের আকাশ ও জমিন থেকে রিজিক দান করে? তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই} [ফাতির: ৩]।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وإذا دخلت [من] صارت نصاً في العموم كهذه الآية: {فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ} [الحاقة:47] وقوله {مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 59] ، ولها أمثلة كثيرة جداً.
আর যখন [মিন (من)] শব্দটির অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন তা ব্যাপকতার (العموم) ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ভাষ্যে (نصاً) পরিণত হয়; যেমন এই আয়াতটি: {তোমাদের মধ্যে কেউই তাকে এ হতে রক্ষা করার ছিল না} [আল-হাক্কাহ: ৪৭] এবং তাঁর বাণী: {তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই} [আল-আ'রাফ: ৫৯]। এর আরও বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
القاعدة الخامسة: المقرر أن المفرد المضاف يفيد العموم كما يفيد ذلك اسم الجمعفكما أن قوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ} [النساء: 23] إلى آخرها يشمل كل أم انتسبت إليها، وإن علت. وكل بنت انتسبت إليك وإن نزلت ـ إلى آخر المذكورات ـ فكذلك قوله تعالى: {وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ} [الضحى:11] فإنها تشمل النعم الدينية والدنيوية، وقوله: {قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الأنعام:162] فإنها تعم الصلوات كلها، والأنساك كلها، وجميع ما العبد فيه وعليه في حياته ومماته، الجميع من الله فضلاً وإحساناً، وأنك قد أتيت ما أتيت منه وأوقعته وأخلصته لله وحده، لا شريك له.
وقوله: {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلّىً} [البقرة: 125] على أحد القولين: إنه يشمل جميع مقاماته في مشاعر الحج: اتخذوه معبداً.
وأصْرَح من هذا قوله تعالى: {ثُمَّ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفاً} [النحل: 123] ، وهذا شامل لكل ما هو عليه من التوحيد والإخلاص لله تعالى، والقيام بحق العبودية.
وأعم من ذلك وأشمل: قوله تعالى لما ذكر الأنبياء: {أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ} [الأنعام: 90] فأمره الله أن يقتدي بجميع ما عليه المرسلون من الهدى، الذي هو العلوم النافعة والأخلاق الزاكية، والأعمال الصالحة، والهدى المستقيم. وهذه الآية أحد الأدلة على الأصل المعروف: [أن شرع من قبلنا شرع لنا ما لم يرد شرعنا بخلافه] وشرع الأنبياء السابقين هو هداهم في أصول الدين وفروعه،
পঞ্চম নিয়ম: প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি এই যে, সম্বন্ধযুক্ত একবচন (المفرد المضاف) ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করে, যেমনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (اسم الجمع) প্রকাশ করে থাকেযেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমাদের ওপর তোমাদের মাতাদের হারাম করা হয়েছে} [আন-নিসা: ২৩]—এর শেষ পর্যন্ত; এটি এমন প্রত্যেক মাতাকে অন্তর্ভুক্ত করে যাঁর সাথে বংশীয় সম্পর্ক রয়েছে, চাই তিনি স্তরের দিক থেকে উপরে (দাদী-নানী) হোন না কেন। এবং প্রত্যেক কন্যা যে আপনার সাথে সম্পর্কিত, চাই সে নিচের স্তরের (নাতনী) হোক না কেন—উল্লিখিত অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। ঠিক তেমনি আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আপনার রবের নেয়ামত সম্পর্কে বর্ণনা করুন} [আদ-দুহা: ১১]; এটি দ্বীনি ও পার্থিব সকল নেয়ামতকে অন্তর্ভুক্ত করে। এবং তাঁর বাণী: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য} [আল-আনআম: ১৬২]; এটি সকল সালাত ও সকল কোরবানিকে এবং বান্দা তার জীবন ও মরণে যে অবস্থার ওপর থাকে তার সবকিছুকেই ব্যাপৃত (عموم) করে; এ সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও দান। আর আপনি যা কিছু সম্পাদন করেছেন, তা কেবল একক আল্লাহর জন্যই একনিষ্ঠভাবে করেছেন, যাঁর কোনো শরিক নেই।
এবং তাঁর বাণী: {তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো} [আল-বাকারাহ: ১২৫]; দুটি মতের একটি অনুযায়ী এর অর্থ হলো: এটি হজের নিদর্শনসমূহের মধ্যে তাঁর সকল স্থানকেই অন্তর্ভুক্ত করে; অর্থাৎ সেগুলোকে ইবাদতগাহ হিসেবে গ্রহণ করো।
এর চেয়েও স্পষ্টতর হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর আমি আপনার প্রতি ওহি প্রেরণ করেছি যে, আপনি একনিষ্ঠ ইবরাহিমের আদর্শ অনুসরণ করুন} [আন-নাহল: ১২৩]; এটি তাওহিদ, আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা এবং দাসত্বের হক পালনের ক্ষেত্রে তিনি যা কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তার সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে।
এর চেয়েও ব্যাপক এবং অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক হলো আল্লাহ তাআলার বাণী, যখন তিনি নবীগণের কথা উল্লেখ করেছেন: {তারাই সেই সব লোক যাদেরকে আল্লাহ হেদায়েত দান করেছেন, সুতরাং তাঁদের হেদায়েতকেই আপনি অনুসরণ করুন} [আল-আনআম: ৯০]। এখানে আল্লাহ তাঁকে রাসূলগণ যে হেদায়েতের ওপর ছিলেন তার সবটুকুরই অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন; আর সেই হেদায়েত হলো উপকারী জ্ঞান, পবিত্র চরিত্র, নেক আমল ও সঠিক পথ। আর এই আয়াতটি একটি সুপরিচিত মূলনীতির (أصل) অন্যতম দলিল: [আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়ত আমাদের জন্যও শরিয়ত, যতক্ষণ না আমাদের শরিয়তে এর বিপরীত কিছু বর্ণিত হয়]। আর পূর্ববর্তী নবীগণের শরিয়ত হলো দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) এবং শাখা-প্রশাখার (فروع) ক্ষেত্রে তাঁদের প্রদর্শিত হেদায়েত।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وكذلك قوله تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ} [الأنعام: 153] ، وهذا يعم جميع ما شرعه لعباده، فعلاً وتركاً، اعتقاداً وانقياداً، وأضافه إلى نفسه في هذه الآية لكونه هو الذي نصبه لعباده، كما أضافه إلى الذين أنعم عليهم في قوله {صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} [الفاتحة: 7] لكونهم هم السالكين له. فصراط الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين ما اتصفوا به من العلوم والأخلاق والأوصاف والأعمال وكذلك قوله {وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَداً} [الكهف: 110] يدخل في ذلك جميع العبادات الظاهرة والباطنة، العبادات الاعتقادية والعملية، كما أن وصف الله لرسوله صلى الله عليه وسلم بالعبودية المضافة إلى الله كقوله: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ} [الاسراء: 1] وكقوله {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا} [البقرة:23] وقوله {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ} [الفرقان: 1] تدل على أنه وفَّي جميع مقامات العبودية، حيث نال أشرف المقامات بتوفيته لجميع مقامات العبودية، وقوله: {أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُ} [الزمر: 36] فكلما كان العبد أقوم بحقوق العبودية كانت كفاية الله له أكمل وأتم، وما نقص منها نقص من الكفاية بحسبه.
وقوله: {وَمَا أَمْرُنَا إِلَّا وَاحِدَةٌ كَلَمْحٍ بِالْبَصَرِ} [القمر:50]
وقوله: {إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَيْءٍ إِذَا أَرَدْنَاهُ أَنْ نَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} [النحل:40] يشمل جميع أوامره القدرية الكونية. وهذا في القرآن شيء كثير.
একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো} [আল-আন‘আম: ১৫৩]। এটি তাঁর বান্দাদের জন্য তিনি যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন তার সবটুকুকে অন্তর্ভুক্ত করে; চাই তা পালনীয় হোক কিংবা বর্জনীয়, বিশ্বাসগত হোক কিংবা আনুগত্যগত। আর এই আয়াতে তিনি পথটিকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন, কারণ তিনিই এটি তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। ঠিক যেমন তিনি একে তাদের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন যাদেরকে তিনি পুরস্কৃত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {তাদের পথ, যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন} [আল-ফাতিহা: ৭]; কারণ তারাই এতে বিচরণকারী। সুতরাং নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং পুণ্যবানদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন, তাদের পথ বলতে সেই জ্ঞান, চরিত্র, গুণাবলি ও আমলকেই বোঝায় যা তারা অবলম্বন করেছিলেন। একইভাবে তাঁর বাণী: {এবং সে যেন তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে} [আল-কাহাফ: ১১০]-এর মধ্যে সমস্ত প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং বিশ্বাসগত ও কর্মগত ইবাদত শামিল রয়েছে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজের সাথে সম্পর্কিত দাসত্বের গুণে ভূষিত করেছেন; যেমন তাঁর বাণী: {পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন} [আল-ইসরা: ১], এবং তাঁর বাণী: {আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো} [আল-বাকারা: ২৩], এবং তাঁর বাণী: {বরকতময় সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন} [আল-ফুরকান: ১]। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, তিনি দাসত্বের সকল স্তর পূর্ণরূপে সম্পন্ন করেছেন; কেননা দাসত্বের সকল স্তর যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমেই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করেছেন। এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন?} [আজ-জুমার: ৩৬]। সুতরাং বান্দা দাসত্বের হকসমূহ পালনে যতবেশি যত্নশীল হবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য পর্যাপ্ততা ততবেশি পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত হবে। আর এর মধ্যে যতটুকু কমতি থাকবে, সেই অনুপাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ততায়ও ঘাটতি দেখা দেবে।
এবং তাঁর বাণী: {আমার নির্দেশ তো কেবল একটিই, চোখের পলকের ন্যায়} [আল-কামার: ৫০]
এবং তাঁর বাণী: {আমি যখন কোনো কিছুর ইচ্ছা করি, তখন সেটির প্রতি আমার কথা কেবল এই যে, আমি বলি ‘হও’, আর অমনি তা হয়ে যায়} [আন-নাহল: ৪০]। এটি তাঁর সকল তকদিরি ও জাগতিক আদেশকে শামিল করে। আর কুরআনে এ বিষয়টি প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
القاعدة السادسة: في طريقة القرآن في تقرير التوحيد ونفي ضدهالقرآن كله لتقرير التوحيد ونفي ضده، وأكثر الآيات يقرر الله فيها توحيد الألوهية، وإخلاص العبادة لله وحده، لا شريك له، ويخبر أن جميع الرسل إنما أرسلت تدعوا قومها إلى أن يعبدوا الله ولا يشركوا به شيئا، وأن الله تعالى إنما خلق الجن والإنس ليعبدوه، وأن الكتب والرسل بل الفطر والعقول السليمة كلها اتفقت على هذا الأصل، الذي هو أصل الأصول كلها، وأن من لم يَدِنْ بهذا الدين الذي هو إخلاص العبادة والقلب والعمل لله وحده فعمله باطل {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ} [الزمر: 65] {وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأنعام: 88] ، ويدعوا العباد إلى ما تقرر في فطرهم وعقولهم من أن الله المنفرد بالخلق والتدبير والمنفرد بالنعم الظاهرة والباطنة: هو الذي يستحق العبادة وحده، ولا ينبغي أن يكون شيء منها لغيره، وأن سائر الخلق ليس عندهم أي قدرة على خلق، ولا نفع، ولا دفع ضر، عن أنفسهم فضلا عن أن يغنوا عن أحد غيرهم من الله شيئا.
ويدعوهم أيضاً إلى هذا الأصل بما يَتَمَدَّح به، ويُثني على نفسه الكريمة، من تفرده بصفات العظمة والمجد، والجلال والكمال، وأن من له هذا الكمال المطلق الذي لا يشاركه فيه مشارك: أحق من أُخلصت له الأعمال الظاهرة والباطنة.
ويقرر هذا التوحيد بأنه هو الحاكم وحده، فلا يحكم غيره شرعاً ولا جزاء {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} [يوسف: 40] .
وتارة يقرر هذا بذكر محاسن التوحيد، وأنه الدين الوحيد الواجب شرعاً وعقلاً وفطرة، على جميع العبيد، وبذكر مساوئ الشرك وقبحه، واختلال عقول
ষষ্ঠ মূলনীতি: তাওহিদ (التوحيد) প্রতিষ্ঠা এবং এর বিপরীত বিষয়কে নাকচ করার ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতিসম্পূর্ণ কুরআন তাওহিদ (التوحيد) প্রতিষ্ঠা এবং এর বিপরীত বিষয়কে (শিরক) নাকচ করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। অধিকাংশ আয়াতে আল্লাহ তাআলা উলুহিয়্যাতের তাওহিদ (توحيد الألوهية) এবং শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন, যাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, সকল রাসুলকে কেবল একারণেই প্রেরণ করা হয়েছে যাতে তাঁরা নিজ নিজ কওমকে কেবল আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক না করার দাওয়াত দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা জিন ও মানবজাতিকে কেবল তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। কিতাবসমূহ ও রাসুলগণ, বরং স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (الفطرة) এবং সুস্থ বিবেকসমূহ (العقول السليمة) এই মূলনীতির ওপর একমত হয়েছে, যা সকল মূলনীতির মূল। আর যে ব্যক্তি এই দ্বীন—যা কেবল আল্লাহর জন্য ইবাদত, অন্তর ও আমলকে একনিষ্ঠ করার নাম—পালন করবে না, তার আমল বাতিল (باطل) বলে গণ্য হবে। {যদি তুমি শিরক করো, তবে তোমার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হবে} [যুমার: ৬৫] {আর যদি তারা শিরক করত, তবে তারা যা করত তা অবশ্যই নিষ্ফল হতো} [আনআম: ৮৮]। তিনি বান্দাদের সেই বিষয়ের দিকে আহ্বান করেন যা তাদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি ও বিবেকে সুপ্রতিষ্ঠিত যে, আল্লাহ সৃষ্টি (الخلق) ও পরিচালনার (التدبير) ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় এবং প্রকাশ্য ও গোপন নেয়ামত দানে একক; সুতরাং তিনিই এককভাবে ইবাদতের যোগ্য এবং এর কোনো অংশই অন্য কারো জন্য হওয়া সমীচীন নয়। সৃষ্টি জগতের কারো কোনো কিছু সৃষ্টি করার, উপকার করার বা অপকার দূর করার কোনো ক্ষমতা নেই, এমনকি তারা নিজেদের জন্যও তা পারে না, অন্য কারো জন্য আল্লাহর মোকাবিলায় কিছু করা তো দূরের কথা।
তিনি তাদেরকে এই মূলনীতির প্রতি আরও আহ্বান করেন সেই সকল গুণাবলির মাধ্যমে যার দ্বারা তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর সম্মানিত সত্তার গুণকীর্তন করেছেন; যেমন মহিমা, গৌরব, প্রতাপ ও পূর্ণতার গুণাবলিতে তাঁর একত্ব। যাঁর জন্য এই নিরঙ্কুশ পূর্ণতা নির্ধারিত এবং যে ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তিনিই প্রকাশ্য ও গোপন আমলসমূহ একনিষ্ঠভাবে নিবেদিত হওয়ার প্রকৃত হকদার।
তিনি এই তাওহিদকে (التوحيد) এভাবেও প্রতিষ্ঠা করেন যে, তিনিই একমাত্র বিচারক বা বিধানদাতা (الحاكم), শরিয়তের বিধান প্রদান কিংবা প্রতিফল দানের ক্ষেত্রে তিনি ব্যতীত অন্য কারো কোনো কর্তৃত্ব নেই। {বিধান তো কেবল আল্লাহরই; তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না} [ইউসুফ: ৪০]।
কখনো তিনি তাওহিদের (التوحيد) সৌন্দর্যসমূহ আলোচনার মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা শরিয়ত, বিবেক ও স্বভাবজাত প্রবৃত্তির বিচারে সকল বান্দার ওপর একমাত্র ওয়াজিব (واجب) দ্বীন। আবার কখনো শিরকের (الشرك) অপকারিতা ও এর কুৎসিত রূপ এবং বিবেকের বিপর্যয় বর্ণনার মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
أصحابه بعد اختلال أديانهم، وتقليب أفئدتهم، وكونهم أضل من الأنعام سبيلا.
وتارة يدعو إليه بذكر ما رتب عليه من الجزاء الحسن في الدنيا والآخرة، والحياة الطيبة في الدور الثلاث، وما رتب على ضده من العقوبات العاجلة والآجلة، وكيف كانت عواقب المشركين أسوأ العواقب وشرها.
وبالجملة: فكل خير عاجل وآجل، فإنه من ثمرات التوحيد، وكل شر عاجل وآجل، فإنه من ثمرات الشرك والله أعلم.
তাদের দ্বীন বিকৃত হয়ে যাওয়ার পর, তাদের অন্তরসমূহের বিচ্যুতি ঘটার পর এবং তারা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট হওয়ার পর তিনি তাঁর সঙ্গীদের আহ্বান করেন।
আর কখনও তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে এর ওপর নির্ধারিত উত্তম প্রতিদান এবং তিন আবাসের পবিত্র জীবনের কথা উল্লেখ করে এর প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি এর বিপরীত কর্মের জন্য নির্ধারিত ইহকালীন ও পরকালীন শাস্তিসমূহ এবং মুশরিকদের (المشركين) পরিণাম কীভাবে নিকৃষ্টতম ও মন্দ হয়েছিল—তা বর্ণনা করেন।
সংক্ষেপে: ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ একত্ববাদের (التوحيد) ফলশ্রুতি, আর ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় অকল্যাণ শিরকের (الشرك) অশুভ পরিণাম। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
القاعدة السابعة: في طريقة القرآن في تقرير نبوة محمد صلى الله عليه وسلمهذا الأصل الكبير: قرره الله في كتابه بالطرق المتنوعة التي يعرف بها كمال صدقه صلى الله عليه وسلم فأخبر أنه صدق المرسلين، ودعا إلى ما دعوا إليه، وأن جميع المحاسن التي في الأنبياء في نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وما نُزِّهوا عنه من النقائص والعيوب، فرسولنا محمد صلى الله عليه وسلم أولاهم وأحقهم بهذا التنزيه، وأن شريعته مهيمنة على جميع الشرائع، وكتابه مهيمن على كل الكتب. فجميع محاسن الأديان والكتب قد جمعها الله في هذا الكتاب وهذا الدين، وفاق عليها بمحاسن وأوصاف لم توجد في غيره، وقرر نبوته بأنه أمي لا يكتب ولا يقرأ، ولا جالس أحداً من أهل العلم بالكتب السابقة، بل لم يَفْجَأ الناس إلا وقد جاءهم بهذا الكتاب الذي لو اجتمعت الإنس والجن على أن يأتوا بمثله ما أَتوا ولا قَدِروا، ولا هو في استطاعتهم ولو كان بعضهم لبعض ظهيرا، وأنه محال مع هذا أن يكون من تلقاء نفسه، أو أن يكون قد تقوَّله على ربه، أو أن يكون على الغيب ظنيناً.
وأعاد القرآن وأبدى في هذا النوع، وقرر ذلك بأنه يخبر بقصص الأنبياء السابقين مطولة على جميع الواقع، الذي لا يستريب فيه أحد، ثم يخبر تعالى: أنه ليس له طريق ولا وصول إلى هذا إلا بما آتاه الله من الوحي، كمثل قوله تعالى لما ذكر قصة موسى مطولة {وَمَا كُنْتَ بِجَانِبِ الْغَرْبِيِّ إِذْ قَضَيْنَا إِلَى مُوسَى الْأَمْرَ} [القصص: 44] ولما ذكر قصة يوسف وإخوته مطولة قال:
{وَمَا
সপ্তম মূলনীতি (أصل): মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত প্রমাণের ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতি প্রসঙ্গেএই মহান মূলনীতি (أصل): আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বিভিন্ন পন্থায় সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, যার মাধ্যমে তাঁর (সা.) সত্যবাদিতার (صدق) পূর্ণতা পরিজ্ঞাত হওয়া যায়। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি রাসূলগণের সত্যায়ন করেছেন এবং তাঁরা যার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনিও সেই বিষয়ের প্রতিই আহ্বান জানিয়েছেন। নবীদের মধ্যে যে সকল মহত্ত্ব ও গুণাবলি বিদ্যমান ছিল, তা আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মাঝেও পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান রয়েছে। আর তাঁরা যেসব ত্রুটি ও দোষ থেকে পবিত্র ছিলেন, আমাদের রাসূল মুহাম্মদ (সা.) সেই পবিত্রতার অধিক অগ্রগণ্য ও হকদার। তাঁর শরিয়ত সমস্ত শরিয়তের উপর প্রাবল্য বিস্তারকারী এবং তাঁর কিতাব সমস্ত কিতাবের উপর মানদণ্ড ও সংরক্ষক। পূর্ববর্তী সকল ধর্ম ও কিতাবের তাবৎ সৌন্দর্য আল্লাহ এই কিতাব ও এই দ্বীনের মাঝে একত্রিত করেছেন এবং একে এমন সব সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তিনি তাঁর নবুয়তকে এভাবে সাব্যস্ত করেছেন যে, তিনি একজন উম্মি (অক্ষরজ্ঞানহীন), যিনি লিখতে বা পড়তে পারতেন না এবং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের কোনো জ্ঞানীর সাহচর্যও লাভ করেননি। বরং তিনি মানুষের নিকট আকস্মিক এমন এক কিতাব নিয়ে উপস্থিত হলেন যে, যদি সমস্ত জিন ও মানব জাতি এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার জন্য সমবেত হয়, তবুও তারা তা আনতে পারবে না এবং সক্ষমও হবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়। এমতাবস্থায় এটি অসম্ভব যে, এটি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে উদ্ভাবিত, অথবা তিনি তাঁর রবের নামে এটি মিথ্যা রটনা করেছেন, কিংবা তিনি অদৃশ্যের সংবাদের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত (ظنين)।
কুরআন এই বিষয়টি বারবার বিভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণনা করেছে এবং বিষয়টিকে এভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে যে, এটি পূর্ববর্তী নবীদের ঘটনাবলি বাস্তবের সাথে সংগতি রেখে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে, যা নিয়ে কারো মনে কোনো সংশয় থাকে না। অতঃপর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহী ব্যতীত তাঁর কাছে এই জ্ঞান পৌঁছানোর আর কোনো পথ বা মাধ্যম ছিল না। যেমন মহান আল্লাহর বাণী, যখন তিনি মূসা (আ.)-এর কাহিনী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করার পর বলেছেন: {যখন আমি মূসার নিকট নির্দেশ পাঠিয়েছিলাম, তখন তুমি পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলে না} [সূরা কাসাস: ৪৪]। আর যখন তিনি ইউসুফ (আ.) ও তাঁর ভাইদের কাহিনী বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন তখন বলেছেন:
{এবং...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ أَجْمَعُوا أَمْرَهُمْ وَهُمْ يَمْكُرُونَ} [يوسف:102]
فهذه الأمور والإخبارات المفصلة التي يفصلها الرسول صلى الله عليه وسلم بما أوحي إليه تفصيلاً، صحح به أكثر الأخبار والحوادث التي كانت في كتب أهل الكتاب محرفة ومشوهة بما أضافوا إليها من خرافات وأساطير، حتى ما يتعلق منها بعيسى وأمه وولادتهما ونشأتهما، وبموسى وولادته ونشأته، كل ذلك وغيره لم يكن يعرفه أهل الكتاب على حقيقته حتى جاء القرآن، فقص ذلك على ما وقع وحصل، مما أدهش أهل الكتاب وغيرهم، وأخرس ألسنتهم حتى لم يقدر أحد منهم ممن كان في وقته، ولا ممن كانوا بعد ذلك، أن يكذبوا بشيء منها، فكان ذلك من أكبر الأدلة على أنه رسول الله حقاً.
وتارة يقرر نبوته بكمال حكمة الله، وتمام قدرته، وأن تأييده لرسوله ونصره على أعدائه، وتمكينه في الأرض هو مقتضى حكمةِ ورحمةِ العزيز الحكيم، وأن من قدح في رسالته فقد قدح في حكمة الله وفي قدرته. وفي رحمته، بل وفي ربوبيته.
وكذلك نصره وتأييده الباهر لهذا النبي صلى الله عليه وسلم على الأمم الذين هم أقوى أهل الأرض من آيات رسالته، وأدلة توحيده، كما هو ظاهر للمتأملين.
وتارة يقرر نبوته ورسالته بما جمع له وكمله به من أوصاف الكمال، وما هو عليه من الأخلاق الجميلة، وأن كل خلق عال سام فلرسول الله صلى الله عليه وسلم منه أعلاه وأكمله.
فمن عظمت صفاته، وفاقت نعوته جميع الخلق التي أعلاها: الصدق والأمانة، أليس هذا أكبرَ الأدلة على أنه رسول رب العالمين، والمصطفى المختار من الخلق أجمعين؟
وتارة يقررها بما هو موجود في كتب الأولين، وبشارات الأنبياء والمرسلين السابقين، إما باسمه العلم أو بأوصافه الجليلة، وأوصاف أمته وأوصاف دينه، كما في قوله تعالى
{وَمُبَشِّراً بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} الصف: 6] .
وتارة يقرر رسالته بما أخبر به من الغيوب الماضية والغيوب المستقبلة،
“আপনি তাদের নিকট ছিলেন না যখন তারা তাদের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল এবং তারা ষড়যন্ত্র করছিল।” [ইউসুফ: ১০২]
এই সকল বিস্তারিত বিষয় ও সংবাদ যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট প্রেরিত ওহীর (وحي) মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন, তার দ্বারা তিনি আহলে কিতাবদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান অধিকাংশ সংবাদ ও ঘটনাবলী সংশোধন করেছেন। সেই সংবাদগুলো তারা যে সকল উপকথা ও রূপকথা যোগ করেছিল তার মাধ্যমে বিকৃত (محرفة) ও কলঙ্কিত হয়ে গিয়েছিল। এমনকি ঈসা (আ.), তাঁর মাতা এবং তাঁদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কিত বিষয়াবলী, এবং মূসা (আ.)-এর জন্ম ও বেড়ে ওঠা সংক্রান্ত বিষয়াবলী—এই সবই আহলে কিতাবগণ তাদের প্রকৃত রূপে জানত না যতক্ষণ না কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর কুরআন সেই ঘটনাবলী যেভাবে সংঘটিত হয়েছিল ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করেছে। যা আহলে কিতাব ও অন্যদের বিস্মিত করেছে এবং তাদের জিহ্বাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে তাঁর সমসাময়িক বা পরবর্তীকালের কেউ এগুলোর কোনো কিছুকে অস্বীকার করতে সক্ষম হয়নি। আর এটিই তিনি যে প্রকৃতপক্ষেই আল্লাহর রাসূল তার অন্যতম বড় দলীল।
কখনও তিনি তাঁর নবুওয়াতকে (نبوة) আল্লাহর পরিপূর্ণ হিকমত (حكمة) ও পূর্ণ ক্ষমতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেন। আর তাঁর রাসূলকে সাহায্য করা, শত্রুদের ওপর বিজয় দান এবং পৃথিবীতে তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর হিকমত ও রহমতেরই (رحمة) দাবি। যে ব্যক্তি তাঁর রিসালাতের (رسالة) ওপর কটাক্ষ করল, সে মূলত আল্লাহর হিকমত, তাঁর কুদরত (قدرة), রহমত বরং তাঁর রুবুবিয়াতের (ربوبية) ওপরই কটাক্ষ করল।
অনুরূপভাবে, এই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৃথিবীর তৎকালীন শক্তিশালী জাতিসমূহের বিরুদ্ধে সাহায্য ও অভূতপূর্ব বিজয় দান তাঁর রিসালাতের (رسالة) নিদর্শন এবং তাঁর তাওহীদের (توحيد) প্রমাণসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা চিন্তাশীলদের নিকট সুস্পষ্ট।
আবার কখনও তিনি তাঁর নবুওয়াত (نبوة) ও রিসালাতকে (رسالة) তাঁর মধ্যে যে সকল পরিপূর্ণ গুণাবলির সমাবেশ ঘটিয়েছেন এবং তাঁকে পূর্ণতা দান করেছেন তার মাধ্যমে প্রমাণ করেন। এছাড়া তাঁর সেই সুন্দর চারিত্রিক গুণাবলির মাধ্যমেও এটি প্রমাণিত হয় যে, প্রতিটি উচ্চমার্গীয় মহৎ চরিত্রের সর্বোচ্চ ও পূর্ণতম পর্যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যেই বিদ্যমান ছিল।
যাঁর গুণাবলি এতো সুমহান এবং যাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ সমগ্র সৃষ্টিজগতকে ছাড়িয়ে গেছে, যার শীর্ষে রয়েছে সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতা (أمانة)—এটি কি তিনি যে রব্বুল আলামীনের রাসূল এবং সকল সৃষ্টির মধ্য হতে মনোনীত ও নির্বাচিত (المصطفى المختار) তার সবচেয়ে বড় দলীল নয়?
এবং কখনও তিনি এটিকে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বিদ্যমান তথ্য এবং পূর্ববর্তী নবী ও রাসূলদের (المرسلين) সুসংবাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেন। এটি কখনও তাঁর নাম উল্লেখ করে, আবার কখনও তাঁর মহান গুণাবলি, তাঁর উম্মতের বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর দ্বীনের (دين) বৈশিষ্ট্যের বর্ণনার মাধ্যমে হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে রয়েছে:
“এবং আমি এমন একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আসবেন, যাঁর নাম আহমদ।” [আস-সাফ: ৬] ।
আর কখনও তিনি তাঁর রিসালাতকে (رسالة) তাঁর প্রদানকৃত অতীত ও ভবিষ্যতের গায়েব (الغيوب) বা অদৃশ্যের সংবাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
التي وقعت في زمان مضى على زمانه، أو وقعت في زمانه والتي لا تزال تقع في كل وقت، فلولا الوحي ما وصل إليه شيء من هذا، ولا كان له ولا لغيره طريق إلى العلم به.
وتارة يقررها بحفظه إياه، وعصمته له من الخلق، مع تكالب الأعداء وضغطهم عليه، وجِدِّهم التام في الإيقاع به بكل ما في وسعهم، والله يعصمه ويمنعه منهم وينصره عليهم، وما ذاك إلا لأنه رسوله حقا، وأمينه على وحيه والمبلغ ما أمر به.
وتارة يقرر رسالته بذكر عظمة ما جاء به وهو القرآن الذي {لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت:42] ويتحدى أعداءه، ومن كفر به أن يأتوا بمثله أو بعشر سور مثله أو بسورة واحدة، فعجزوا ونكصوا وباءوا بالخيبة والفشل، وهم أهل اللسان المُبَرِّزون في ميدان القول والفصاحة، ومع ذلك ما استطاعوا ـ مع شدة حرصهم
ومحاولتِهم ـ أن يأتوا بسورة منه وما استطاعوا ولا قدروا ـ مع شدة حرصهم ومحاولتِهم ـ أن يجدوا فيه نقصاً أو عيباً ينزل به عن أعلى درجات الفصاحة التي ملكت أزمة قلوبهم، فلجأوا إلى السيف وإراقة دمائهم، وما كانوا يعمدون إلى هذا لولا أنهم لم يجدوا سبيلاً إلى محاربته بالقول، وما كانوا يزعمونه عندهم علوماً وحكماً، فكان عدولهم إلى السيف وإراقة الدماء أكبر الأدلة على صدق الرسول صلى الله عليه وسلم وأنه لا ينطق عن الهوى، إن هو إلا وحي يوحى، وأقطع البراهين على أنه الحق والهدى من عند الله الذي جمع الله فيه لرسوله وللمؤمنين به كل ما يكفل لهم سعادة الدنيا والآخرة في كل شئونهم. وأن هذا القرآن لأكبرُ أدلة رسالته وأجلُّها وأعمُّها.
والله تعالى يقرر أن القرآن كاف جداً أن يكون هو الدليل الوحيد على صدق رسوله صلى الله عليه وسلم في مواضع عدة، منها قوله: {أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ يُتْلَى عَلَيْهِمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَرَحْمَةً وَذِكْرَى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [العنكبوت:51] .
وتارة يقرر رسالته بما أظهر على يديه من المعجزات، وما أجرى له من الخوارق والكرامات، الدالِّ كل واحد منها بمفرده ـ فكيف إذا اجتمعت ـ على أنه رسول الله صلى الله عليه وسلم الصادق المصدوق، الذي لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى.
وتارة يقررها بعظيم شفقته على الخلق، وحُنوِّه الكامل على أمته، وأنه بالمؤمنين رؤوف رحيم، وأنه لم يوجد ولن يوجد أحد من الخلق أعظم شفقة ولا براً وإحساناً إلى الخلق منه، وآثار ذلك ظاهرة للناظرين.
فهذه الأمور والطرق قد أكثر الله من ذكرها في كتابه وقررها بعبارات متنوعة، ومعاني مفصلة وأساليب عجيبة، وأمثلتها تفوق العد والإحصاء. والله أعلم.
যা তাঁর সময়ের পূর্বের সময়ে ঘটেছিল, অথবা তাঁর সময়ে ঘটেছে এবং যা এখনও প্রতি মুহূর্তে ঘটছে, ওহি (وحي) না থাকলে এগুলোর কোনো কিছুই তাঁর নিকট পৌঁছাত না এবং তাঁর বা অন্য কারো পক্ষে তা জানার কোনো পথ থাকত না।
আবার কখনো আল্লাহ তাঁর সংরক্ষণের মাধ্যমে তাঁর রিসালাতকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং সৃষ্টিজগত থেকে তাঁকে সুরক্ষা (عصمة) প্রদান করেন। শত্রুদের আক্রমণ এবং তাদের প্রচণ্ড চাপ সত্ত্বেও, যখন তারা তাঁকে বিপদে ফেলার জন্য তাদের সাধ্যমতো সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, তখন আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেন, তাদের থেকে নিরাপদ রাখেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করেন। এটি কেবল এজন্যই যে, তিনি প্রকৃতপক্ষেই আল্লাহর রাসুল, তাঁর ওহির (وحي) আমানতদার এবং যা তাঁকে আদেশ করা হয়েছে তার প্রচারক।
কখনো তাঁর রিসালাতকে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার মাহাত্ম্য বর্ণনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেন, আর তা হলো কুরআন; যার সম্পর্কে বলা হয়েছে: {মিথ্যা এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না সম্মুখ থেকেও নয়, পশ্চাৎ থেকেও নয়; এটি প্রজ্ঞাময়, চির প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} [ফুসসিলাত: ৪২]। এবং তিনি তাঁর শত্রুদের ও যারা তাঁকে অস্বীকার করেছে তাদের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার জন্য, অথবা এর অনুরূপ দশটি সুরা, কিংবা একটি মাত্র সুরা নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু তারা অক্ষম হলো, পিছিয়ে গেল এবং ব্যর্থতা ও নিরাশার সম্মুখীন হলো। অথচ তারা ছিল ভাষার পণ্ডিত এবং বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের ময়দানে পারদর্শী। তা সত্ত্বেও তারা সক্ষম হয়নি—তাদের তীব্র আকাঙ্ক্ষা সত্ত্বেও—
এবং তাদের বহু চেষ্টার ফলেও তারা এর একটি সুরা আনতে সক্ষম হয়নি। তারা তাদের তীব্র বাসনা ও প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এতে এমন কোনো ত্রুটি বা খুত খুঁজে পায়নি যা একে অলঙ্কারশাস্ত্রের সর্বোচ্চ শিখর থেকে নিচে নামিয়ে দিতে পারে, যা তাদের হৃদয়ের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছিল। ফলে তারা তরবারি ও রক্তপাতের আশ্রয় নিল। তারা এ পথে হাঁটত না যদি তারা কথার মাধ্যমে এবং তাদের ধারণাকৃত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে একে মোকাবিলা করার কোনো পথ পেত। সুতরাং তাদের তরবারি ও রক্তপাতের দিকে ধাবিত হওয়া ছিল রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ এবং এই সাক্ষ্য যে, তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না, বরং এটি হলো ওহি (وحي) যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। আর এটি এই বিষয়ের চূড়ান্ত দলিল যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সত্য ও হেদায়েত, যাতে আল্লাহ তাঁর রাসুলের জন্য এবং মুমিনদের জন্য তাদের পার্থিব ও পরকালীন জীবনের সকল বিষয়ে সৌভাগ্যের নিশ্চয়তা দানকারী সব কিছু একত্রিত করেছেন। আর এই কুরআনই হলো তাঁর রিসালাতের সবচেয়ে বড়, মহান এবং ব্যাপকতম প্রমাণ।
আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন স্থানে ঘোষণা করেছেন যে, কুরআনই তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যতার একমাত্র দলিল হিসেবে যথেষ্ট। এর মধ্যে আল্লাহর এই বাণী অন্যতম: {তাদের জন্য কি এটি যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়? নিশ্চয়ই এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য রহমত ও উপদেশ রয়েছে।} [আল-আনকাবুত: ৫১]।
আবার কখনো তাঁর রিসালাতকে তাঁর হাতে প্রকাশিত মুজিযা (معجزات) এবং তাঁর জন্য সংঘটিত অলৌকিক ঘটনাবলী ও কারামাতের (كرامات) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেন। এগুলোর প্রতিটি স্বতন্ত্রভাবে—আর যদি সবগুলোকে একত্রে দেখা হয় তবে তো আরও স্পষ্টভাবে—প্রমাণ করে যে তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যিনি সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ (صادق مصدوق), যিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না, বরং এটি কেবল ওহি (وحي) যা অবতীর্ণ হয়।
কখনো তিনি তাঁর রিসালাতকে সৃষ্টির প্রতি তাঁর অগাধ মমতা এবং তাঁর উম্মতের প্রতি তাঁর পূর্ণ অনুরাগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেন; এবং তিনি মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত কোমল ও দয়ালু। সৃষ্টির মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যায়নি এবং পাওয়া যাবেও না, যিনি সৃষ্টির প্রতি তাঁর চেয়ে বেশি মমতাশীল কিংবা অধিক পুণ্যবান ও ইহসানকারী। পর্যবেক্ষণকারীদের নিকট এর নিদর্শনসমূহ অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
আল্লাহ তাঁর কিতাবে এই বিষয়গুলো ও পথসমূহ সম্পর্কে প্রচুর উল্লেখ করেছেন এবং বিভিন্ন অভিব্যক্তি, বিস্তারিত অর্থ ও বিস্ময়কর শৈলীর মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এর উদাহরণসমূহ গণনা ও পরিসংখ্যানের ঊর্ধ্বে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
القاعدة الثامنة: طريقة القرآن في تقرير المعادوهذا الأصل الثالث من الأصول التي اتفقت عليها الرسل والشرائع كلها وهي: التوحيد، والرسالة، وأمر المعاد وحشر العباد.
وهذا قد أكثر الله من ذكره في كتابه الكريم، وقرره بطرق متنوعة:
منها: إخباره وهو أصدق القائلين عنه وعما يكون فيه من الجزاء الأوفى، مع إكثار الله من ذكره، فقد أقسم عليه في ثلاثة مواضع من كتابه، كقوله: {لا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ} [القيامة:1] .
ومنها الإخبار بكمال قدرة الله تعالى، ونفوذ مشيئته، وأنه لا يعجزه شيء، فإعادة العباد بعد موتهم فرد من أفراد آثار قدرته.
ومنها تذكيره العباد بالنشأة الأولى، وأن الذي أوجدهم ولم يكونوا شيئاً مذكوراً، لابد أن يعيدهم كما بدأهم، وأن الإعادة أهون عليه، وأعاد هذا المعنى في مواضع كثيرة بأساليب متنوعة.
ومنها: إحياؤه الأرضَ الهامدة الميتة بعد موتها، وأن الذي أحياها سيحي الموتى، وقرر ذلك بقدرته على ما هو أكبر من ذلك، وهو خلق السماوات والأرض، والمخلوقات العظيمة، فمتى أثبت المنكرون ذلك، ولن يقدروا على إنكاره، فلأي شيء يستبعدون إحياء الموتى؟ وقرر ذلك بسعة علمه، وكمال حكمته، وأنه لا يليق به، ولا يحسن أن يترك خلقه سدى مهملين، لا يُؤمرون ولا ينهون، ولا يثابون ولا يعاقبون. وهذا طريق قرر به النبوة وأمر المعاد.
ومما قرر به البعث ومجازاة المحسنين بإحسانهم، والمسيئين بإسائتهم: ما أخبر به من أيامه وسننه سبحانه في الأمم الماضية والقرون الغابرة. وكيف نجى الأنبياء
অষ্টম নীতি: পরকাল (المعاد) প্রমাণে কুরআনের পদ্ধতিএটি সেই তিনটি মূলনীতির তৃতীয়টি, যার ওপর সকল রাসূল এবং সকল শরয়ি বিধান একমত হয়েছে। সেগুলো হলো: তাওহিদ (التوحيد), রিসালাত (الرسالة), এবং পরকাল (المعاد) ও বান্দাদের হাশরের (حشر) বিষয়টি।
আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এর উল্লেখ প্রচুর পরিমাণে করেছেন এবং একে বিভিন্ন পদ্ধতিতে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন:
তার মধ্যে একটি হলো: তাঁর পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদান—আর তিনি সকল সত্যবাদীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ সত্যবাদী—পরকাল এবং তাতে যে পরিপূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে সে সম্পর্কে। আল্লাহ এর উল্লেখ আধিক্য করার পাশাপাশি তাঁর কিতাবের তিনটি স্থানে এর শপথ করেছেন। যেমন তাঁর বাণী: {আমি কিয়ামত দিবসের কসম করছি} [কিয়ামাহ: ১]।
অন্যতম হলো: মহান আল্লাহর পূর্ণ কুদরত (قدرة) ও তাঁর ইচ্ছার কার্যকারিতার সংবাদ প্রদান, এবং এটি যে কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না। সুতরাং মৃত্যুর পর বান্দাদের পুনরায় ফিরিয়ে আনা তাঁর কুদরতের (قدرة) প্রভাবসমূহের একটি সাধারণ দৃষ্টান্ত মাত্র।
অন্যতম হলো: বান্দাদেরকে প্রথম সৃষ্টি (النشأة الأولى) সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া; আর যিনি তাদেরকে অস্তিত্ব দান করেছেন যখন তারা উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পুনরায় ফিরিয়ে আনবেন যেভাবে তাদের সূচনা করেছিলেন। আর পুনরায় সৃষ্টি করা তাঁর জন্য অধিকতর সহজ। তিনি এই বিষয়টি বহু স্থানে বিভিন্ন পদ্ধতিতে পুনরাবৃত্তি করেছেন।
অন্যতম হলো: মৃত ও শুষ্ক জমিনকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করা; আর যিনি একে জীবিত করেছেন, তিনিই মৃতদের জীবিত করবেন। তিনি একে এমন বিষয়ের কুদরত দ্বারা প্রমাণ করেছেন যা এর চেয়েও বড়, আর তা হলো আসমান ও জমিন এবং অন্যান্য বিশাল সৃষ্টিরাজ্য সৃজন করা। যখন অস্বীকারকারীরা তা স্বীকার করে নেয়—আর তারা তা অস্বীকার করতে সক্ষমও হবে না—তখন তারা মৃতদের পুনর্জীবিত করাকে কেন অসম্ভব মনে করে? তিনি একে তাঁর জ্ঞানের ব্যাপকতা ও হিকমতের (حكمة) পূর্ণতার মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন; এটি তাঁর জন্য সমীচীন নয় যে, তিনি তাঁর সৃষ্টিজগতকে উদ্দেশ্যহীনভাবে (سدى) পরিত্যক্ত অবস্থায় ছেড়ে দেবেন, যেখানে তাদের কোনো আদেশ দেওয়া হবে না, নিষেধ করা হবে না, এবং পুরস্কার বা দণ্ড প্রদান করা হবে না। এটি এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে নবুয়ত (النبوة) ও পরকালের (المعاد) বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
আর পুনরুত্থান এবং সৎকর্মশীলদের তাদের নেক আমলের প্রতিদান ও পাপাচারীদের তাদের পাপের দণ্ড প্রদানের বিষয়টি তিনি যা দিয়ে সাব্যস্ত করেছেন তা হলো: বিগত উম্মত ও গত হওয়া শতাব্দীগুলোতে মহান আল্লাহর দিনসমূহ এবং রীতিনীতি (سنن) সম্পর্কে প্রদত্ত সংবাদসমূহ। কীভাবে তিনি নবিদের রক্ষা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأتباعهم، وأهلك المكذبين لهم المنكرين للبعث، ونوَّعَ عليهم العقوبات، وأحل بهم المَثُلات، فهذا جزاء معجل ونموذج من جزاء الآخرة أراه الله عباده، ليهلك من هلك عن بينة، ويحي من حي عن بينة.
ومن ذلك: ما أرى الله عباده من إحيائه الأموات في الدنيا كما ذكره الله عن صاحب البقرة والألوف من بني إسرائيل، والذي مر على قرية وهي خاوية على عروشها، وقصة إبراهيم الخليل والطيور، وإحياء عيسى بن مريم للأموات وغيرها مما أراه الله عباده في هذه الدار، ليعلموا أنه قوي ذو اقتدار، وأن العباد لابد أن يَرِدوا دار القرار، إما الجنة أو النار.
وهذه المعاني أبداها الله وأعادها في محال كثيرة. والله أعلم.
بالإيمان، قوموا بشكر هذه النعمة، بفعل كذا وترك كذا.
...এবং তাদের অনুসারীদের। তিনি তাঁদের মিথ্যা প্রতিপন্নকারী ও পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের ধ্বংস করেছেন, তাদের ওপর বিবিধ দণ্ডারোপ করেছেন এবং তাদের ওপর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করেছেন। এটি হলো পার্থিব জীবনের ত্বরান্বিত প্রতিফল এবং পরকালীন প্রতিফলের একটি নমুনা যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রদর্শন করেছেন, যাতে যে ধ্বংস হওয়ার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয়, আর যে জীবিত থাকার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ এই দুনিয়াতে মৃতদের পুনর্জীবিত করার যে নিদর্শনাদি তাঁর বান্দাদের দেখিয়েছেন; যেমন আল্লাহ গাভী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বনী ইসরাঈলের সেই হাজার হাজার মানুষের ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন, আর সেই ব্যক্তি যে এমন এক জনপদ দিয়ে অতিক্রম করছিল যা তার ছাদের ওপর বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল, ইবরাহীম খলীল ও পাখির ঘটনা, ঈসা ইবনে মারইয়াম কর্তৃক মৃতদের পুনর্জীবিত করার ঘটনা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের এই নশ্বর আবাসে দেখিয়েছেন। যাতে তারা উপলব্ধি করতে পারে যে, তিনি পরাক্রমশালী ও মহা ক্ষমতার অধিকারী, এবং বান্দাদের অবশ্যই পরকালীন চিরস্থায়ী আবাসে প্রত্যাবর্তন করতে হবে—হয় জান্নাতে, না হয় জাহান্নামে।
এই বিষয়গুলো আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন স্থানে স্পষ্টভাবে ও বারংবার বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
ঈমানের দাবিতে, তোমরা অমুক কাজ সম্পাদন এবং অমুক কাজ বর্জনের মাধ্যমে এই নিআমতের শুকরিয়া আদায়ে ব্রতী হও।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
القاعدة التاسعة: في طريقة القرآن في أمر المؤمنين وخطابهم بالأحكام الشرعيةقد أمر الله تعالى بالدعاء إلى سبيله بالتي هي أحسن، أي بأقرب طريق موصل للمقصود، محصل للمطلوب، ولا شك أن الطرق التي سلكها الله في خطاب عباده المؤمنين بالأحكام الشرعية هي أحسنها وأقربها.
فأكثر ما يدعوهم إلى الخير وينهاهم عن الشر بالوصف الذي من عليهم به وهو الإيمان، فيقول: يا أيها الذين آمنوا افعلوا كذا واتركوا كذا لأن في ذلك دعوة لهم من وجهين:
أحدهما من جهة الحث على القيام بلوازم الإيمان، وشروطه ومكملاته، فكأنه يقول: يا أيها الذين آمنوا قوموا بما يقتضيه إيمانكم من امتثال الأوامر، واجتناب النواهي، والتخلق بكل خلق حميد والتجنب لكل خلق رذيل.
فإن الإيمان الحقيقي هكذا يقتضي، ولهذا أجمع السلف أن الإيمان يزيد وينقص، وأن جميع شرائع الدين الظاهرة والباطنة من الإيمان ولوازمه، كما دلت على هذا الأصل الأدلة الكثيرة، من الكتاب والسنة ـ وهذا أحدها ـ حيث يصدر الله أمر المؤمنين بقوله:
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} أو يعلق فعل ذلك على الإيمان وأنه لا يتم الإيمان إلا بذلك المذكور.
والوجه الثاني أن يدعوهم بقوله {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} افعلوا كذا، أو اتركوا كذا، أو يعلق ذلك بالإيمان، يدعوهم بمنته عليهم بهذه المنة، التي هي
নবম নীতি: মুমিনদের আদেশ প্রদান এবং শরয়ী বিধানের মাধ্যমে তাদের সম্বোধন করার ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতি প্রসঙ্গেআল্লাহ তাআলা তাঁর পথের দিকে সর্বোত্তম পন্থায় আহ্বান করার নির্দেশ দিয়েছেন; অর্থাৎ এমন নিকটতম পথ যা উদ্দেশের দিকে পৌঁছে দেয় এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করায়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের শরয়ী বিধানের মাধ্যমে সম্বোধন করার জন্য যে পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করেছেন, তা-ই সর্বোত্তম এবং নিকটতম পথ।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি তাদের কল্যাণের দিকে আহ্বান করেন এবং অকল্যাণ থেকে নিষেধ করেন সেই গুণের মাধ্যমে যার দ্বারা তিনি তাদের ধন্য করেছেন, আর তা হলো ঈমান। ফলে তিনি বলেন: হে মুমিনগণ! তোমরা এটি করো এবং এটি বর্জন করো; কারণ এর মধ্যে দুই দিক থেকে তাদের প্রতি আহ্বান রয়েছে:
প্রথমত: ঈমানের দাবি, শর্তাবলি এবং পরিপূরকসমূহ পালনের প্রতি উৎসাহিত করার দিক থেকে। যেন তিনি বলছেন: হে মুমিনগণ! তোমাদের ঈমানের দাবি অনুযায়ী তোমরা আদেশসমূহ পালন করো, নিষেধসমূহ বর্জন করো, সকল প্রশংসনীয় চরিত্রে ভূষিত হও এবং সকল মন্দ চরিত্র পরিহার করো।
কেননা প্রকৃত ঈমান এমনই দাবি করে। আর এ কারণেই পূর্বসূরিগণ (সালাফ) ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়। আর দ্বীনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল বিধানই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত এবং এর অপরিহার্য দাবি। যেমনটি কিতাব ও সুন্নাহর বহু দলিল এই মূলনীতির ওপর প্রমাণ পেশ করেছে—আর এটিও তার অন্যতম একটি—যেখানে আল্লাহ মুমিনদের প্রতি তাঁর আদেশ শুরু করেছেন এই বলে:
{হে মুমিনগণ} অথবা কোনো কাজ করাকে ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন এবং এটি স্পষ্ট করেছেন যে, উল্লিখিত বিষয়টি পালন করা ব্যতীত ঈমান পূর্ণতা পায় না।
দ্বিতীয় দিকটি হলো, তিনি তাদের {হে মুমিনগণ} তোমরা এটি করো, অথবা ওটি বর্জন করো বলে আহ্বান জানান, অথবা বিষয়টিকে ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত করেন; তিনি তাদের প্রতি তাঁর এই মহান অনুগ্রহের দোহাই দিয়ে আহ্বান জানান, যা হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أجل المنن، أي: يا من مَنَّ الله عليهم
فالوجه الأول: دعوة لهم أن يتمموا إيمانهم، ويكملوه بالشرائع الظاهرة والباطن.
والوجه الثاني: دعوة لهم إلى شكر نعمة الإيمان، ببيان تفصيل هذا الشكر، وهو الانقياد التام لأمره ونهيه، وتارة يدعوا المؤمنين إلى الخير، وينهاهم عن الشر، بذكر آثار الخير، وعواقبه الحميدة العاجلة والآجلة، وبذكر آثار الشر، وعواقبه الوخيمة في الدنيا والآخرة.
وتارة يدعوهم إلى ذلك بذكر نعمه المتنوعة، وآلائه الجزيلة، وإن النعم تقتضي فهم القيام بشكرها، وشكرها هو القيام بحقوق الإيمان.
وتارة يدعوهم إلى ذلك بالترغيب والترهيب، ويذكر ما أعد الله للمؤمنين الطائعين من الثواب وما للعصاة من العقاب.
وتارة يدعوهم إلى ذلك بذكر ما له من الأسماء الحسنى، وما له من الحق العظيم على عباده، وأن حقه عليهم أن يقوموا بعبوديته ظاهراً وباطناً، ويتعبدوا له وحده، ويدعوه بأسمائه الحسنى وصفاته المقدسة.
فالعبادات كلها شكر لله وتعظيم وتكبير، وإجلال وإكرام، وتودد إليه، وتقرب منه.
وتارة يدعوهم إلى ذلك، لأجل أن يتخذوه وحده ولياً وملجأ، وملاذا ومَعاذا، ومفزعا إليه في الأمور كلها، وينيبوا إليه في كل حال، ويخبرهم أن هذا هو أصل سعادة العبد وصلاحه وفلاحه، وأنه إن لم يدخل في ولاية الله وتوليه الخاص تولاه عدوه الذي يريد له الشر والشقاء، ويمنيه ويغره، حتى يفوِّته المنافع والمصالح ويوقعه في المهالك.
وهذا كله مبسوط في القرآن بعبارات متنوعة.
সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহসমূহ, অর্থাৎ: হে ঐ সকল ব্যক্তি যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন।
প্রথম দিকটি হলো: তাদের প্রতি এক আহ্বান যাতে তারা তাদের ঈমান পূর্ণ করে এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বিধানাবলির মাধ্যমে তা পূর্ণতা দান করে।
দ্বিতীয় দিকটি হলো: ঈমানের নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের প্রতি তাদের আহ্বান জানানো, সেই শুকরিয়ার বিস্তারিত বিবরণ প্রদানের মাধ্যমে; আর তা হলো তাঁর আদেশ ও নিষেধের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। কখনো তিনি মুমিনদের কল্যাণের দিকে আহ্বান করেন এবং অকল্যাণ থেকে নিষেধ করেন; কল্যাণের প্রভাব এবং এর ইহকালীন ও পরকালীন প্রশংসনীয় পরিণামসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে, আর অকল্যাণের প্রভাব এবং দুনিয়া ও আখিরাতে এর অশুভ পরিণামসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে।
কখনো তিনি তাদের সেই দিকে আহ্বান করেন তাঁর বৈচিত্র্যময় নেয়ামত ও সুমহান অনুগ্রহরাজি স্মরণের মাধ্যমে। আর নিশ্চয়ই নেয়ামতসমূহ তার হক আদায়ের দাবি রাখে, আর তার শুকরিয়া হলো ঈমানের দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালন করা।
কখনো তিনি তাদের সেই দিকে আহ্বান করেন উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এবং অনুগত মুমিনদের জন্য আল্লাহ যে প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন ও অবাধ্যদের জন্য যে শাস্তি রেখেছেন তা উল্লেখ করার মাধ্যমে।
কখনো তিনি তাদের সেই দিকে আহ্বান করেন তাঁর সুন্দর নামসমূহ এবং বান্দাদের ওপর তাঁর যে মহান অধিকার রয়েছে তা উল্লেখ করার মাধ্যমে। আর তাদের ওপর তাঁর অধিকার হলো তারা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে তাঁর দাসত্ব পালন করবে, কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সুন্দর নামসমূহ ও পবিত্র গুণাবলির মাধ্যমে তাঁকে ডাকবে।
বস্তুত সকল ইবাদতই হলো আল্লাহর শুকরিয়া, তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা, তাঁর সম্মান ও মর্যাদা জ্ঞাপন এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ ও তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম।
কখনো তিনি তাদের সেই দিকে আহ্বান করেন যাতে তারা একমাত্র তাঁকেই অভিভাবক, আশ্রয়স্থল, নিরাপদ ঠিকানা ও পনাহগাহ এবং সকল বিষয়ে ফরিয়াদ করার স্থান হিসেবে গ্রহণ করে এবং প্রতিটি অবস্থায় তাঁরই অভিমুখী হয়। তিনি তাদের সংবাদ দেন যে, এটিই হলো বান্দার সৌভাগ্য, সংশোধন ও সফলতার মূল ভিত্তি। আর বান্দা যদি আল্লাহর বিশেষ অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধানে প্রবেশ না করে, তবে তার শত্রু তাকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেয়, যে তার অমঙ্গল ও দুর্ভাগ্য চায়, তাকে মিথ্যা আশা দেয় ও প্রতারিত করে, এমনকি তার সকল কল্যাণ ও স্বার্থ নস্যাৎ করে তাকে ধ্বংসের গহ্বরে নিপতিত করে।
আর এই সব কিছুই কুরআনে বিভিন্ন অভিব্যক্তির মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وتارة يحثهم على ذلك ويحذرهم من التشبه بأهل الغفلة والإعراض، والأديان المُبَدَّلة، لئلا يلحقهم من اللوم ما لحق أولئك الأقوام. كقوله {وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [الزمر: 65] {فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِين} [البقرة: ة35] {وَلا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ} [لأعراف: 205] {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ} [الحديد:16] ، إلى غير ذلك من الآيات.
এবং কখনো তিনি তাঁদেরকে এর প্রতি উৎসাহিত করেন এবং উদাসীনতা (غفلة) ও বিমুখতা প্রদর্শনকারী ব্যক্তি এবং বিকৃত ধর্মাবলম্বীদের সদৃশ হওয়া থেকে সতর্ক করেন, যাতে ওই সকল সম্প্রদায়ের ওপর যে তিরস্কার আপতিত হয়েছিল, তা তাঁদের ওপরও আপতিত না হয়। যেমন তাঁর বাণী: {তবে তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আজ-জুমার: ৬৫], {তবে তোমরা উভয়ই জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আল-বাকারাহ: ৩৫], {এবং তুমি উদাসীনদের (غافلين) অন্তর্ভুক্ত হয়ো না} [আল-আ'রাফ: ২০৫], {মুমিনদের জন্য কি সেই সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের হৃদয় বিগলিত হবে? আর তারা যেন তাদের মতো না হয় যাদেরকে ইতিপূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তাদের ওপর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হলো এবং তাদের অন্তরসমূহ কঠোর হয়ে গেল; আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী (فاسقون)} [আল-হাদীদ: ১৬]—অনুরূপ আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
القاعدة العاشرة: في طرق القرآن إلى دعوة الكفار على اختلاف مللهميدعوهم إلى الإسلام، والإيمان بمحمد صلى الله عليه وسلم بما يصفه من محاسن شرعه ودينه، وما يذكره من براهين رسالة محمد صلى الله عليه وسلم ليهتدي منْ قصد الحق والإنصاف، وتقوم الحجة على المعاند.
وهذه أعظم طريق يدعى بها جميع المخالفين لدين الإسلام.
فإن محاسن دين الإسلام ومحاسن النبي صلى الله عليه وسلم وآياته وبراهينه فيها كفاية تامة للدعوة، بقطع النظر عن إبطال شبههم، وما يحتجون به، فإن الحق إذا اتضح علم أن كل ما خالفه فهو باطل وضلال.
ويدعوهم بما يخوفهم من أحداث الأمم وعقوبات الدنيا والآخرة، وبما في الأديان الباطلة من أنواع الشرور، والعواقب الخبيثة، وأنها إنما تقوم على الغفلة والتكذيب لآيات الله الكونية والعلمية بالوقوع تحت سلطان الجهل والتقليد الأعمى للآباء والشيوخ والسادة، ويحذرهم من طاعة هؤلاء الرؤساء، فإنهم رؤساء الشر، ودعاة النار، وأنهم لابد أن تتقطع نفوسهم على ما عملوه وقدموه حسرات، وأنهم يتمنون أن لو أطاعوا الرسول صلى الله عليه وسلم ولم يطيعوا السادة والرؤساء، وأن مودتهم وصداقتهم وموالاتهم ستتبدل بغضا وعداوة.
ويدعوهم أيضاً بنحو ما يدعوا المؤمنين بذكر آلائه ونعمه، وأن المنفرد بالخلق والتدبير والنعم الظاهرة والباطنة هو الذي يجب على العباد طاعته، وامتثال أمره واجتناب نهيه.
ويدعوهم أيضاً بشرح ما في أديانهم الباطلة، وما احتوت عليه من القبح، ويقارن بينها وبين دين الإسلام، ليتبين ويتضح ما يجب إيثاره، وما يتعين اختياره،
দশম নীতি: বিবিধ ধর্মাবলম্বী কাফেরদের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতিসমূহ প্রসঙ্গেএটি তাদেরকে ইসলামের প্রতি এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানায় তাঁর শরিয়ত ও দ্বীনের সৌন্দর্য বর্ণনার মাধ্যমে, এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালতের (رسالة) প্রমাণাদি (براهين) উল্লেখ করার মাধ্যমে; যাতে সত্য ও ন্যায়পরায়ণতা অন্বেষণকারী ব্যক্তি হেদায়েত লাভ করতে পারে এবং জেদ পোষণকারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইসলাম ধর্মের বিরোধিতাকারী সকলকেই দাওয়াত দেওয়ার এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ পদ্ধতি।
কেননা ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্য, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সৌন্দর্য এবং তাঁর নিদর্শন ও প্রমাণাদি (براهين) দাওয়াতের জন্য পূর্ণরূপে যথেষ্ট; তাদের সংশয়সমূহ (شبهات) বাতিল করা এবং তারা যে সকল যুক্তি পেশ করে সেগুলোর দিকে ভ্রূক্ষেপ না করেই। কারণ সত্য যখন সুস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন এটি জানা যায় যে এর বিপরীত যা কিছু আছে তা বাতিল ও ভ্রষ্টতা (ضلال)।
এটি তাদেরকে দাওয়াত দেয় পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ঘটনাবলি এবং দুনিয়া ও আখেরাতের শাস্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে সতর্ক করার দ্বারা। আরও দাওয়াত দেয় বাতিল ধর্মসমূহের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রকার মন্দ ও অশুভ পরিণতির কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে। এবং এ কথার মাধ্যমে যে, এগুলো মূলত গাফিলতি এবং আল্লাহর মহাজাগতিক ও ইলমী নিদর্শনসমূহের প্রতি মিথ্যারোপের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত; যা অজ্ঞতার বশবর্তী হওয়া এবং পিতৃপুরুষ, ধর্মগুরু ও নেতাদের অন্ধ অনুকরণের (تقليد) ফলে সৃষ্টি হয়। এটি তাদেরকে এসকল নেতাদের আনুগত্য করার ব্যাপারে সতর্ক করে, কেননা তারা মন্দের নায়ক এবং জাহান্নামের দিকে আহ্বানকারী। আর (এটি জানায় যে) তারা যা কিছু করেছে এবং অগ্রিম পাঠিয়েছে তার জন্য তাদের প্রাণ অবশ্যই আক্ষেপে ফেটে পড়বে; এবং তারা কামনা করবে যদি তারা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য করত এবং তাদের নেতা ও সর্দারদের আনুগত্য না করত। আরও জানায় যে, তাদের ভালোবাসা, বন্ধুত্ব এবং মিত্রতা (موالاة) ঘৃণা ও শত্রুতায় রূপান্তরিত হবে।
এটি তাদেরকে সেভাবেই দাওয়াত দেয় যেভাবে মুমিনদের দাওয়াত দেওয়া হয়—অর্থাৎ আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেয়ামতসমূহ আলোচনার মাধ্যমে। এবং এ কথার মাধ্যমে যে, সৃষ্টিজগত তৈরি করা, সবকিছুর ব্যবস্থাপনা এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামত দান করার ক্ষেত্রে যিনি একক (منفرد), তাঁরই আনুগত্য করা, তাঁর আদেশ পালন করা এবং তাঁর নিষেধ বর্জন করা বান্দাদের ওপর আবশ্যক (واجب)।
এটি তাদেরকে দাওয়াত দেয় তাদের বাতিল ধর্মসমূহের স্বরূপ এবং তাতে বিদ্যমান কুৎসিত বিষয়াবলি ব্যাখ্যার মাধ্যমে। আর সেসবের সাথে ইসলাম ধর্মের তুলনা করার মাধ্যমে, যাতে কোনটি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য এবং কোনটি গ্রহণ করা আবশ্যক তা স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ويدعوهم بالتي هي أحسن. فإذا وصلت بهم الحال إلى العناد والمكابرة الظاهرة توعدهم بالعقوبات الصوارم، وبين للناس طريقتهم التي كانوا عليها، وأنهم لم يخالفوا الدين جهلاً وضلالاً أو لقيام شبهة أوجبت لهم التوقف، وإنما ذلك جحود ومكابرة وعناد.
ويبين مع ذلك الأسباب التي منعتهم من متابعة الهدى، وأنها رياسات وأغراض نفسية، وأنهم لما آثروا الباطل على الحق طبع على قلوبهم وختم عليها، وسد عليهم طريق الهدى عقوبة لهم على إعراضهم وتوليهم الشيطان، وإعراضهم عن الرحمن، وأنه ولاهم ما تولوا لأنفسهم.
وهذه المعاني الجزيلة مبسوطة في القرآن في مواضع كثيرة، فتأمل وتدبر القرآن تجدها واضحة جلية، والله أعلم.
رحمته.
তিনি তাঁদের উত্তম পন্থায় আহ্বান জানান। অতঃপর যখন তাঁদের অবস্থা প্রকাশ্য হঠকারিতা ও অহংকারে উপনীত হয়, তখন তিনি তাঁদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন এবং মানুষের সামনে তাঁদের সেই পদ্ধতি ও কর্মপন্থা স্পষ্ট করেন যা তাঁরা অবলম্বন করেছিল। তিনি বর্ণনা করেন যে, তাঁরা অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতা কিংবা এমন কোনো সংশয়ের (شبهة) কারণে দ্বীনের বিরোধিতা করেনি যা তাঁদের সত্য গ্রহণে বিরত থাকতে বাধ্য করত; বরং তা ছিল স্রেফ সত্য প্রত্যাখ্যান, অহংকার ও হঠকারিতা।
এর পাশাপাশি তিনি সেই কারণগুলোও ব্যক্ত করেন যা তাঁদের হিদায়াত অনুসরণে বাধা প্রদান করেছিল; আর তা হলো নেতৃত্বলোভ ও কুপ্রবৃত্তি। যেহেতু তাঁরা সত্যের (الحق) পরিবর্তে মিথ্যাকে (الباطل) অগ্রাধিকার দিয়েছে, তাই তাঁদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের বিমুখতা, শয়তানের অনুসরণ ও রহমানের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শনের শাস্তি হিসেবে হিদায়াতের পথ তাঁদের জন্য রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজেদের জন্য যা পছন্দ করেছে, তিনি তাঁদের সেই পথেই ছেড়ে দিয়েছেন।
এই মহান বিষয়গুলো কুরআনের বহু স্থানে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং আপনি যদি কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করেন, তবে তা আপনার কাছে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও প্রোজ্জ্বল হয়ে ধরা দেবে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তাঁর রহমত।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
القاعدة الحادية عشرة: مراعاة دلالة التضمن والمطابقة والالتزامكما أن المفسر للقرآن يراعي ما دلت عليه ألفاظه مطابقة، وما دخل في ضمنها، فعليه أن يراعي لوازم تلك المعاني، وما تستدعيه من المعاني التي لم يعرج في اللفظ على ذكرها.
وهذه القاعدة: من أجل قواعد التفسير وأنفعها، وتستدعي قوة فكر، وحسن تدبر، وصحة قصد. فإن الذي أنزله للهدى والرحمة هو العالم بكل شيء، الذي أحاط علمه بما تكن الصدور، وبما تضمنه القرآن من المعاني، وما يتبعها وما يتقدمها، وتتوقف هي عليه.
ولهذا أجمع العلماء على الاستدلال باللوازم في كلام الله لهذا السبب.
والطريق إلى سلوك هذا الأصل النافع: أن تفهم ما دل عليه اللفظ من المعاني فإذا فهمتها فهماً جيداً، ففكر في الأمور التي تتوقف عليها، ولا تحصل بدونها، وما يشترط لها. وكذلك فكر فيما يترتب عليها، وما يتفرع عنها، وينبني عليها، وأكثر من هذا التفكير وداوم عليه، حتى تصير لك ملكة جيدة في الغوص على المعاني الدقيقة. فإن القرآن حق، ولازم الحق حق،
وما يتوقف على الحق حق، وما يتفرع عن الحق حق، ذلك كله حق ولابد.
فمن وفق لهذه الطريقة وأعطاه الله توفيقاً ونوراً، انفتحت له في القرآن العلوم النافعة، والمعارف الجليلة، والأخلاق السامية، والآداب الكريمة العالية.
ولنمثل لهذا الأصل أمثلة توضحه:
منها: في أسماء الله الحسنى [الرحمن الرحيم] فإنها تدل بلفظها على وصفه بالرحمة، وسعة
فإذا فهمت أن الرحمة التي لا يشبهها رحمة: هي وصفه الثابت، وأنه أوصل رحمته إلى كل مخلوق، ولم يخل أحد من رحمته طرفة عين: عرفت أن هذا الوصف يدل على كمال حياته، وكمال قدرته، وإحاطة علمه، ونفوذ مشيئته، وكمال حكمته، لتوقف
একাদশ নীতি: আক্ষরিক (مطابقة), অন্তর্ভুক্তিমূলক (تضمن) এবং আবশ্যিক (التزام) অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখাকোরআনের একজন মুফাসসির যেভাবে এর শব্দমালার আক্ষরিক (مطابقة) অর্থ এবং এর অন্তর্ভুক্ত (تضمن) অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখেন, তেমনি তাঁর উচিত সেই অর্থগুলোর আবশ্যিক (التزام) দিকগুলো এবং শব্দে সরাসরি উল্লেখ নেই এমন আনুষঙ্গিক অর্থগুলোর প্রতিও লক্ষ্য রাখা।
এই নীতিটি তাফসিরের অন্যতম মহান ও উপকারী একটি নীতি, যার জন্য প্রয়োজন গভীর চিন্তাশক্তি, উত্তম অনুধাবন এবং সঠিক উদ্দেশ্য। কারণ, যিনি একে হিদায়াত ও রহমত হিসেবে নাযিল করেছেন, তিনি সর্বজ্ঞ। তাঁর জ্ঞান অন্তরের লুকায়িত বিষয়সমূহ এবং কোরআন যে সকল অর্থ অন্তর্ভুক্ত (تضمن) করেছে এবং যা কিছু তার অনুগামী বা পূর্ববর্তী বিষয় যার ওপর তা নির্ভরশীল—সবকিছুকেই পরিবেষ্টন করে আছে।
একারণেই আলেমগণ আল্লাহর কালাম থেকে আবশ্যিক (التزام) অর্থগুলোর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
এই উপকারী মূলনীতি অনুসরণের পথ হলো: শব্দের দ্বারা প্রকাশিত অর্থগুলো অনুধাবন করা। যখন আপনি তা ভালোভাবে বুঝবেন, তখন সেই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করুন যার ওপর ওই অর্থগুলো নির্ভরশীল এবং যা ব্যতীত তা সঙ্ঘটিত হওয়া সম্ভব নয় এবং যা এর জন্য শর্ত। একইভাবে এর ফলাফল, এর থেকে উৎসারিত শাখা-প্রশাখা এবং এর ওপর ভিত্তি করে যা গড়ে ওঠে তা নিয়ে চিন্তা করুন। এই চিন্তাধারাকে আরও গভীর ও নিয়মিত করুন, যাতে সূক্ষ্ম অর্থ উদ্ধার করার ক্ষেত্রে আপনার মাঝে একটি বিশেষ দক্ষতা তৈরি হয়। নিশ্চয়ই কোরআন সত্য, আর সত্যের আবশ্যিক (التزام) অনুষঙ্গও সত্য।
যা সত্যের ওপর নির্ভরশীল তাও সত্য, এবং যা সত্য থেকে উৎসারিত তাও সত্য; এ সবই নিশ্চিতভাবে সত্য।
যাকে এই পদ্ধতির তাওফিক দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ যাকে হিদায়াত ও নূর দান করেছেন, তার জন্য কোরআনের উপকারী জ্ঞান, মহান মারিফাত, সুউচ্চ নৈতিকতা এবং শ্রেষ্ঠ শিষ্টাচারের দ্বার উন্মোচিত হয়।
এই মূলনীতিটি স্পষ্ট করার জন্য আমরা কিছু উদাহরণ পেশ করছি:
তার মধ্যে একটি হলো: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের (আসমাউল হুসনা) ক্ষেত্রে [আর-রাহমান আর-রাহিম]। এই নামগুলো এর আক্ষরিক (مطابقة) শব্দ দ্বারা তাঁর রহমতের গুণ এবং এর ব্যাপকতাকে নির্দেশ করে।
যখন আপনি বুঝতে পারবেন যে, এই রহমত—যার সদৃশ কোনো রহমত নেই—তা তাঁর একটি চিরস্থায়ী গুণ, এবং তিনি তাঁর রহমত প্রতিটি সৃষ্টির নিকট পৌঁছে দিয়েছেন এবং চোখের পলকের জন্যও কেউ তাঁর রহমত থেকে বিচ্যুত নয়, তখন আপনি জানতে পারবেন যে, এই গুণটি তাঁর জীবনের পূর্ণতা, ক্ষমতার পূর্ণতা, জ্ঞানের ব্যাপকতা, ইচ্ছার কার্যকারিতা এবং হিকমতের পূর্ণতাকে নির্দেশ করে; কারণ এগুলো এর ওপরই নির্ভরশীল...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الرحمة على ذلك كله، ثم استدللت بسعة رحمته على أن شرعه نور ورحمة. ولهذا يعلل الله تعالى كثيراً من الأحكام الشرعية برحمته وإحسانه لأنها من مقتضاها وأثرها.
ومنها قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ} [النساء: 58] فإذا فهمت أن الله أمر بأداء الأمانات إلى أهلها: استدللت بذلك على وجوب حفظ الأمانات، وعدم إضاعتها والتفريط والتعدي فيها، وأنه لا يتم الأداء لأهلها إلا بذلك.
وإذا فهمت أن الله أمر بالحكم بين الناس بالعدل، استدللت بذلك على أن كل حاكم بين الناس في الأمور الكبار والصغار، لابد أن يكون عالماً بما يحكم به: فإن كان حاكماً عاماً، فلابد أن يحصل من العلم ما يؤهله إلى ذلك، وإن كان حاكماً ببعض الأمور الجزئية كالشقاق بين الزوجين، حيث أمر الله أن نبعث حكماً من أهله وحكماً من أهلها، فلا بد أن يكون عارفاً بهذا الأمور التي يريد أن يحكم فيها، ويعرف الطريق التي توصله إلى الصواب منها.
وبهذا بعينه نستدل على وجوب طلب العلم، وأنه فرض عين في كل أمر يحتاجه العبد، فإن الله أمرنا بأوامر كثيرة ونهانا عن أمور كثيرة.
ومن المعلوم أن امتثال أمره واجتناب نهيه يتوقف على معرفة المأمور به والمنهي عنه وعلمه، فكيف يتصور أن يمتثل الجاهل الأمرَ الذي لا يعرفه، أو يتجنب النهي الذي لا يعرفه؟
وكذلك أمره لعباده أن يأمروا بالمعروف وينهوا عن المنكر، يتوقف ذلك على العلم بالمعروف والمنكر، ليأمروا بهذا وينهَوْا عن هذا، فما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب، وما لا يحصل ترك المنهي عنه إلا به فهو واجب.
فالعلم بالإيمان والعمل الصالح متقدم على القيام به، والعلم بضد ذلك متقدم
এই সবকিছুর ওপর তাঁর রহমত পরিব্যাপ্ত, অতঃপর আমি তাঁর রহমতের প্রশস্ততা দ্বারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, তাঁর শরিয়ত হলো নূর ও রহমত। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা অনেক শরয়ি বিধানকে (الأحكام الشرعية) তাঁর রহমত ও ইহসানের সাথে সম্পৃক্ত করেন, কারণ সেগুলো তাঁর রহমতেরই দাবি ও প্রভাব।
এগুলোর মধ্যে আল্লাহ তাআলার এই বাণীটিও রয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও এবং যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করবে তখন ইনসাফের সাথে বিচার করো" [সূরা নিসা: ৫৮]। যখন আপনি বুঝতে পারলেন যে আল্লাহ আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, তখন এর মাধ্যমে আপনি আমানত সংরক্ষণ করা এবং তা বিনষ্ট না করা, অবহেলা না করা ও সীমালঙ্ঘন না করার আবশ্যকতা (وجوب) প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করলেন। কেননা এগুলি ছাড়া হকদারদের নিকট আমানত আদায় করা সম্ভব নয়।
আর যখন আপনি বুঝতে পারলেন যে আল্লাহ মানুষের মধ্যে ইনসাফের সাথে বিচার করার আদেশ দিয়েছেন, তখন এর মাধ্যমে আপনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, ছোট-বড় সকল বিষয়ে মানুষের মধ্যে বিচারকারী প্রত্যেক বিচারকের জন্য আবশ্যিক হলো যে বিষয়ে তিনি বিচার করছেন সে সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। যদি তিনি সাধারণ বিচারক হন, তবে তাকে অবশ্যই সেই পরিমাণ ইলম অর্জন করতে হবে যা তাকে এই পদের যোগ্য করে তুলবে। আর যদি তিনি আংশিক (الجزئية) কোনো বিষয়ে বিচারক হন, যেমন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার কলহ নিরসনের ক্ষেত্রে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে—স্বামীর পক্ষ থেকে একজন সালিস এবং স্ত্রীর পক্ষ থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করতে—সেক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই সেইসব বিষয়ে অবগত হতে হবে যে বিষয়ে তিনি বিচার করতে চাচ্ছেন এবং তাকে সেই পথও জানতে হবে যা তাকে সঠিক সিদ্ধান্তে (الصواب) পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
ঠিক এই বিষয়টির মাধ্যমেই আমরা ইলম অন্বেষণ করার আবশ্যকতা (وجوب) প্রমাণ করি, এবং এটি প্রত্যেক বান্দার জন্য তার প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়ে ব্যক্তিগত ফরজ (فرض عين)। কেননা আল্লাহ আমাদের অনেক বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন এবং অনেক বিষয়ে নিষেধ করেছেন।
আর এটি সবার জানা যে, তাঁর আদেশ পালন করা এবং তাঁর নিষেধ বর্জন করা নির্ভর করে আদিষ্ট ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলো চেনা এবং সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপর। সুতরাং একজন অজ্ঞ (الجاهل) ব্যক্তি কীভাবে সেই আদেশ পালন করবে যা সে জানেই না, অথবা কীভাবে সেই নিষেধ থেকে দূরে থাকবে যা সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই?
একইভাবে তাঁর বান্দাদের প্রতি সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ (المنكر) থেকে নিষেধ করার যে নির্দেশ রয়েছে, তা নির্ভর করে সৎ কাজ ও অসৎ কাজ (المنكر) সম্পর্কে ইলম থাকার ওপর, যাতে করে তারা এগুলোর নির্দেশ দিতে পারে এবং ওগুলো থেকে বিরত রাখতে পারে। সুতরাং "যা ছাড়া ওয়াজিব (الواجب) সম্পন্ন হয় না তাও ওয়াজিব (الواجب)", আর "যা ছাড়া নিষিদ্ধ বিষয় বর্জন করা সম্ভব হয় না তাও ওয়াজিব (الواجب)"।
সুতরাং ঈমান এবং নেক আমল সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা তা পালন করার পূর্বশর্ত, এবং এর বিপরীত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও অগ্রবর্তী বিষয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি তাফসীরিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
على تركه؛ لاستحالة ترك ما لا يعرفه العبد قصداً وتقرباً وتعبداً حتى يعرفه ويميزه عن غيره.
ومن ذلك الأمر بالجهاد، والحث عليه، من لازم ذلك الأمر بكل ما لا يتم الجهاد إلا به، من تعلم الرمي بكل ما يرمى به، والركوب لكل ما يُركب، وعمل آلاته وصناعاته، مع أن ذلك كله داخل دخولَ مطابقة في قوله تعالى: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ} [لأنفال: 60] فإنها تتناول كل قوة عقلية وبدنية، وسياسية وصناعية ومالية ونحوها.
ومن ذلك أن الله استشهد بأهل العلم على توحيده، وقرن شهادتهم بشهادته، وشهادة ملائكته. وهذا يدل على عدالتهم وأنهم حجة من الله تعالى على من كذب بمنزلة آياته وأدلته.
ومن ذلك سؤال عباد الرحمن ربهم أن يجعلهم للمتقين إماما، يقتضي سؤالهم اللهَ جميع ما تتم به الإمامة في الدين، من علوم ومعارف جليلة وأعمال صالحة وأخلاق فاضلة؛ لأن سؤال العبد لربه شيئا سؤال له ولما لا يتم إلا به، كما إذا سأل العبد اللهَ الجنة، واستعاذ به من النار، فإنه يقتضي سؤاله كل ما يقرب إلى هذه ويبعِّد من هذه.
ومن ذلك: أن الله أمر بالصلاح والإصلاح، وأثنى على المصلحين، وأخبر أنه لا يُصلح عمل المفسدين، فيُسْتدل بذلك على أن كل أمر فيه صلاح للعباد في أمر دينهم ودنياهم، وكل أمر يعين على ذلك فإنه داخل في أمر الله وترغيبه، وأن كل فساد وضرر وشر، فإنه داخل في نهيه والتحذير عنه، وأنه يجب تحصيل كل ما يعود إلى الصلاح والإصلاح، بحسب استطاعة العبد، كما قال شعيب عليه السلام {إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْأِصْلاحَ مَا اسْتَطَعْتُ}
[هود: 88] .
ومن ذلك قوله تعالى {وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} [الأحزاب: 47] {حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ} [لأنفال:65] يقتضي الأمر بكل ما لا تتم
তা বর্জন করার ক্ষেত্রে; কারণ কোনো বান্দার পক্ষে এমন কিছু উদ্দেশ্যমূলকভাবে, নৈকট্য লাভের আশায় এবং ইবাদত হিসেবে বর্জন করা অসম্ভব যা সে জানেই না, যতক্ষণ না সে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয় এবং অন্য বিষয় থেকে তাকে পৃথক করে চিনতে পারে।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো জিহাদের নির্দেশ এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান; যা অবধারিতভাবে এমন সব বিষয়ের নির্দেশের দাবি রাখে যা ছাড়া জিহাদ সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়। যেমন নিক্ষেপযোগ্য সরঞ্জামের মাধ্যমে লক্ষ্যভেদে পারদর্শিতা অর্জন করা, সকল প্রকার যানে আরোহণ শিখা এবং এর প্রয়োজনীয় উপকরণ ও শিল্পকারখানা তৈরি করা। অথচ এ সবই মহান আল্লাহর বাণীর হুবহু অনুকূলে দাখিল: {তোমরা তাদের (মোকাবেলার) জন্য তোমাদের সাধ্যমতো শক্তি প্রস্তুত করো} [আনফাল: ৬০]। কারণ এটি বুদ্ধিবৃত্তিক, শারীরিক, রাজনৈতিক, কারিগরি, আর্থিক এবং এই জাতীয় সকল শক্তিকেই অন্তর্ভুক্ত করে।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর একত্ববাদের সাক্ষ্য হিসেবে জ্ঞানীদের সাক্ষী করেছেন এবং তাঁদের সাক্ষ্যকে তাঁর নিজের ও ফেরেশতাদের সাক্ষ্যের সাথে যুক্ত করেছেন। এটি তাঁদের ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) এবং তাঁরা যে মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অকাট্য দলিল (حجة) — যা তাঁর নিদর্শন ও প্রমাণাদির স্থলাভিষিক্ত — তারই প্রমাণ বহন করে।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ‘রহমানের বান্দাদের’ পক্ষ থেকে তাঁদের রবের কাছে প্রার্থনা করা যেন তিনি তাঁদের মুত্তাকীদের জন্য ইমাম বা নেতা বানান। এটি আল্লাহর কাছে এমন সব কিছু প্রার্থনা করার দাবি রাখে যার মাধ্যমে দ্বীনের নেতৃত্ব (إمامة) পূর্ণতা পায়; যেমন মহান জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, নেক আমল এবং মহৎ চরিত্র। কারণ বান্দা যখন তাঁর রবের কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করে, তখন মূলত সে সেটি এবং যা ছাড়া তা পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়, তারও প্রার্থনা করে। যেমন বান্দা যখন আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করে এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায়, তখন এটি জান্নাতের নিকটবর্তীকারী এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এমন সকল কাজ প্রার্থনা করার দাবি রাখে।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ তাআলা কল্যাণ ও সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সংস্কারকদের প্রশংসা করেছেন। আর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ফাসাদকারীদের কর্ম সংশোধন করেন না। এর দ্বারা এ কথা প্রমাণিত হয় যে, যে সকল বিষয়ে বান্দাদের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ নিহিত রয়েছে এবং যা কিছু এই কাজে সহায়তা করে, তা সবই আল্লাহর নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি সে ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। আর সকল ফাসাদ, ক্ষতি ও অনিষ্ট আল্লাহর নিষেধ এবং এ ব্যাপারে সতর্কীকরণের অন্তর্ভুক্ত। বান্দার সামর্থ্য অনুযায়ী কল্যাণ ও সংস্কার বয়ে আনে এমন সব কিছু অর্জন করা ওয়াজিব। যেমনটি শুয়াইব (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: {আমি কেবল আমার সাধ্যমতো সংস্কার করতে চাই}
[হুদ: 88] ।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী {আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও} [আহজাব: ৪৭] {মুমিনদের যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করো} [আনফাল: ৬৫]। এটি এমন সব বিষয়ের নির্দেশ প্রদানের দাবি রাখে যা ব্যতীত সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়...