(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
نصائح منهجية لطالب علم السنة النبوية   (حاتم العوني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: نصائح منهجية لطالب علم السنة النبوية

المؤلف: حاتم بن عارف بن ناصر الشريف العوني

الناشر: دار عالم الفوائد - مكة المكرمة

الطبعة: الأولى 1418 هـ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

إعداد: أبو عبد الرحمن حاتم بن حسن الحسيني

«ملتقى أهل الحديث»

عدد الصفحات: 51

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর জন্য পদ্ধতিগত উপদেশাবলি   (হাতেম আল-আওনি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


গ্রন্থ: সুন্নাহ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর জন্য পদ্ধতিগত উপদেশাবলি

লেখক: হাতেম বিন আরিফ বিন নাসির আশ-শরিফ আল-আওনি

প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ - মক্কা আল-মুকাররামা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

প্রস্তুতি: আবু আবদুর রহমান হাতেম বিন হাসান আল-হুসাইনি

«মুলতাকা আহলুল হাদিস»

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
نصائح منهجية

لطالب علم السنة النبوية

تأليف

الشريف حاتم بن عارف العوني

الناشر: دار عالم الفوائد - مكة المكرمة

الطبعة: الأولى - سنة الطبع: 1418هـ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

إعداد: أبو عبد الرحمن حاتم بن حسن الحسيني - ملتقى أهل الحديث
পদ্ধতিগত (منهجية) উপদেশাবলি

সুন্নাহ (سنة) নববীর ইলম (علم) অন্বেষণকারীর জন্য

রচনা

আশ-শরীফ হাতিম বিন আরিফ আল-আওনি

প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়াইদ - মক্কা আল-মুকাররামা

প্রথম সংস্করণ - প্রকাশকাল: ১৪১৮ হিজরি

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রণের অনুরূপ]

প্রস্তুতি: আবু আবদুর রহমান হাতিম বিন হাসান আল-হুসাইনি - মুলতাকা আহলে হাদিস
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

وصلى الله أفضل صلاة وأكمل تسليم على سيد ولد آدم المبعوث رحمة للعالمين محمد عبد الله ورسوله، وعلى آله وأصحابه والتابعين:

أما بعد: فإن طلب العلم من أعظم العبادات، وثوابه يفضل ثواب أكثر القربات، وسبل تحصيله سبل الجنات، تظله الملائكة فيها بأجنحتها خاضعات، وتنزل على مجالسه السكينة والرحمات.

فرضي الله عن سهر تلك الليالي في الجد والتحصيل، وأنعم بتلك الخطى في طلب علوم التنزيل، وأعظم بالزاهدين إلا في ميراث النبوة، الهاجرين المضاجع والأوطان الآخذين الكتاب بقوة.

فإن عجب أحد من هذا الثناء القليل، في طالب العلم الجليل؛ سألته بالله:
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

আর আল্লাহ সর্বোত্তম রহমত ও পূর্ণতম শান্তি বর্ষণ করুন আদমসন্তানদের সরদার, বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও তাবেয়ীদের ওপর।

অতপর: ইলম অন্বেষণ করা মহান ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এর সওয়াব অধিকাংশ নফল ইবাদতের সওয়াবের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। ইলম অর্জনের পথসমূহ জান্নাতেরই পথ, ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীদের ওপর বিনম্রভাবে তাদের ডানা মেলে ছায়া দান করেন এবং ইলমের মজলিসগুলোতে প্রশান্তি ও রহমত অবতীর্ণ হয়।

আল্লাহ সন্তুষ্ট হন সেই রাতগুলোর জাগরণের ওপর যা কঠোর পরিশ্রম ও ইলম অর্জনে অতিবাহিত হয়; আর ওহীর ইলম অন্বেষণে পরিচালিত সেই পদক্ষেপগুলো কতই না নেয়ামতপূর্ণ! এবং নবুওয়াতের মিরাস (উত্তরাধিকার) ব্যতীত অন্য সবকিছুর ব্যাপারে বিরাগভাজন সেই জাহিদদের মর্যাদা কতই না মহান, যারা শয্যা ও স্বদেশ ত্যাগ করে দৃঢ়তার সাথে কিতাবকে আঁকড়ে ধরেছেন।

যদি কেউ এই মহান ইলম অন্বেষণকারীর প্রশংসায় এই সামান্য স্তুতিতে আশ্চর্যান্বিত হয়, তবে আমি তাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি:
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
هل دبت على وجه الأرض خطى أشرف من خطى طالب علم؟!

وهل حوت الأسحار والأبكار أجد منه في طلبه؟! وهل مر على الأسماع ألذ من دندنة المتحفظين وزجل القارئين؟! وهل امتلأت القلوب هيبة لمثل منكب على كتاب؟! وهل انشرحت الصدور إلا في مجالس الذكر؟! وهل انعقدت الآمال جميعها إلا على حلق التعليم؟! وهل نزلت السكينة والرحمة على مثل الدارسين لكتاب الله العظيم؟! وهل تضاءلت عروش الملوك إلا عند منابر العلماء؟! وهل عمرت المساجد في غير أوقات الصلوات بمثل مجالس التعليم؟!

أخبروني؟ بالله عليكم!!!

ثم أسألكم بالله: هل تعلمون خيراً من شاب في هذا العصر، هجر الدنيا وزهد ملذاتها، ونأى بعيداً عن شهواتها، وانعزل عن فتنها التي تستفز الحليم، وانقطع عن إغواءاتها التي تستخف بالرزين، وترك الناس على دنياهم يتكالبون، وهجر من أهله وإخوانه
পৃথিবীর বুকে ইলম অন্বেষণকারীর (طالب علم) পদচারণার চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ কোনো পদচিহ্ন কি পড়েছে?!

শেষ রাত এবং সুবহে সাদিকের সময়গুলো কি তার জ্ঞান অন্বেষণের চেয়ে অধিক একনিষ্ঠ কাউকে প্রত্যক্ষ করেছে?! মুখস্থকারীদের (المتحفظين) গুঞ্জন এবং পাঠকদের সুরের গুঞ্জরণের চেয়ে অধিক শ্রুতিমধুর কিছু কি কান অবধি পৌঁছেছে?! কিতাবের ওপর নিবিষ্ট কোনো ব্যক্তির মতো আর কারোর জন্য কি অন্তরসমূহ শ্রদ্ধায় পূর্ণ হয়েছে?! যিকিরের মজলিসসমূহ ব্যতীত কি অন্য কোথাও বক্ষসমূহ প্রশান্ত হয়েছে?! ইলমের আসর (حلق التعليم) ব্যতীত কি আর কোথাও সকল আশা নিবদ্ধ হয়েছে?! মহান আল্লাহর কিতাব অধ্যয়নকারীদের মতো আর কারোর ওপর কি প্রশান্তি ও রহমত অবতীর্ণ হয়েছে?! উলামায়ে কিরামের মিম্বরসমূহের সামনে রাজসিংহাসনগুলো কি তুচ্ছ হয়ে যায়নি?! নামাযের ওয়াক্ত ছাড়া অন্য সময়ে কি শিক্ষা মজলিসসমূহের মতো আর কোনো কিছু দিয়ে মসজিদসমূহ আবাদ হয়েছে?

বলুন দেখি আমাকে? আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি!!!

অতঃপর আমি আপনাদের আল্লাহর দোহাই দিয়ে জিজ্ঞেস করছি: এই যুগে আপনারা কি এমন কোনো যুবকের চেয়ে উত্তম কাউকে জানেন, যে দুনিয়াকে পরিত্যাগ করেছে এবং এর ভোগবিলাস বিসর্জন দিয়েছে, এর লালসা থেকে দূরে সরে গিয়েছে, নিজেকে এমন সব ফিতনা (فتن) থেকে সরিয়ে নিয়েছে যা ধৈর্যশীলকেও বিচলিত করে, এবং এমন সব প্রলোভন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে যা গম্ভীর মানুষকেও চপল করে তোলে; যে মানুষকে তাদের দুনিয়া নিয়ে কামড়াকামড়ি করার জন্য ছেড়ে দিয়েছে এবং নিজের পরিবার ও ভ্রাতৃবর্গকে ত্যাগ করেছে...
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
تنافسهم على القصور والأموال والمناصب، فإن مر على اللغو مر مر الكرام، وإن تعرض له الجاهلون أعرض وقال: سلام؛ وهو مع ذلك شاب في عنفوان الشباب، أمامه مستقبل عريض، وعليه مسئولية بناء جديد، وينظر إلى الأفق البعيد نظرة ملؤها الآمال والأحلام، تفور فيه غرائز الشهوات، ويجيش فؤاده بالعواطف، وتتفجر دماؤه حماساً؛ ثم هو هو ذلك الذي تجاوز هذا كله!! وجعله وراءه ظهرياً!! وأقبل على العلم.. على مرارته، وانكب على الكتاب.. على ملالته، وإذا حن إلى عناق كاعب..خالفته يدا كاتب، وإذا اشتهت شفتاه أن يرتشف الرضاب.. تمتم ملتذاً بقراءة كتاب؛ قطع الأيام في التحصيل، وسهر الليالي على الدرس والترتيل؛ يقرأ حتى تزوغ عينه، ويكتب حتى تكل يده، ويدرس حتى يكد ذهنه!!!

أخبروني.. من أفضل من هذا؟!!

مع ذلك فإنه يرى أن الذي هو فيه: هو الحياة حقاً، وجنة دار الفناء صدقاً، يرحم أهل الدنيا، ويحنو على أبناء الملذات؛ لأنه يعرف أنه على برنامج العلماء، ومنهج الأولياء، وخطة الفقهاء، وغاية الكبراء، ومعارج الأتقياء.

فيترنم بقول القائل:

لمحبرة تجالسني نهاري … أحب إلي من أنس الصديق

ورزمة كاغد في البيت عندي … أحب إلي من عدل الدقيق

ولطمة عالم في الخد مني … ألذ لدي من شرب الرحيق

ولست أنا بالذي يذكر فضل طالب العلم، إذ قد رددت ذلك المحاريب وأصداؤها، وضجت به أروقة المساجد وقبابها، وتعبد بترتيله المتهجدون، وتقرب بتدبره أهل العلم الراسخون؛ وقبل ذلك نزل به الروح الأمين، على قلب سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم؛ وقبل ذلك تكلم به الله الذي لا إله إلا هو الرحمن الرحيم؛ فقال تعالى: في الحث على سؤال التعلم - الذي هو أول درجاته - (فسئلوا أهل الذكر إن كنتم لا

প্রাসাদ, ধন-সম্পদ এবং পদের জন্য মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক প্রতিযোগিতাকে তিনি উপেক্ষা করেন। যদি তিনি অনর্থক (لغو) বিষয়ের সম্মুখীন হন, তবে তিনি মর্যাদা ও আভিজাত্যের সাথে তা এড়িয়ে যান। আর যদি অজ্ঞরা তাকে সম্বোধন করে কিছু বলে, তবে তিনি বিমুখ হন এবং বলেন: ‘সালাম’। অথচ তিনি টগবগে যৌবনে পদার্পণ করা এক যুবক, যাঁর সামনে রয়েছে সুপ্রশস্ত ভবিষ্যৎ এবং নতুন কিছু বিনির্মাণের গুরুদায়িত্ব। তিনি সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যতের পানে তাকিয়ে আছেন আশা ও স্বপ্নে ভরা এক দৃষ্টি নিয়ে। তাঁর ভেতর প্রবৃত্তির কামনা উথলে ওঠে, তাঁর হৃদয় আবেগে প্লাবিত হয় এবং রক্তে তেজদীপ্ত উদ্দীপনা ফেটে পড়ে। তবুও তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি এসব কিছু অতিক্রম করেছেন!! এবং এই সবকিছুকে নিজের পেছনে ফেলে দিয়েছেন!! তিনি জ্ঞান অর্জনের পথে অগ্রসর হয়েছেন—তার সকল তিক্ততা সত্ত্বেও; কিতাবের ওপর নিবিষ্ট হয়েছেন—তার একঘেয়েমি সত্ত্বেও। যদি তাঁর মন কোনো রূপসীর আলিঙ্গন কামনা করে, তবে লেখকের হাত তাকে বাধা দেয়। যদি তাঁর ঠোঁট প্রিয়তমার ওষ্ঠাধর পানের তৃষ্ণা অনুভব করে, তবে তিনি কিতাব পাঠের স্বাদ আস্বাদন করে বিড়বিড় করে ওঠেন। তিনি জ্ঞান অন্বেষণে দিন অতিবাহিত করেন এবং পাঠ ও পঠনে রাত জাগরণ করেন। তিনি পড়তে থাকেন যতক্ষণ না তাঁর চোখ ক্লান্তিতে ঝাপসা হয়ে আসে, লিখতে থাকেন যতক্ষণ না তাঁর হাত অবসন্ন হয়ে পড়ে, এবং অধ্যয়ন করতে থাকেন যতক্ষণ না তাঁর মস্তিষ্ক পরিশ্রান্ত হয়ে যায়!!!

আমাকে বলুন তো... এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কে হতে পারে?!!

তা সত্ত্বেও তিনি মনে করেন, তিনি যে অবস্থার মধ্যে রয়েছেন সেটিই প্রকৃত জীবন এবং নশ্বর জগতের মাঝে এটিই প্রকৃত জান্নাত। তিনি দুনিয়াদারদের প্রতি দয়া করেন এবং ভোগবিলাসে মত্তদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করেন; কারণ তিনি জানেন যে, তিনি ওলামায়ে কেরামের কর্মসূচি, আউলিয়াগণের আদর্শ, ফকিহ (فقهاء) বা আইনবিদগণের কর্মপন্থা, মহান ব্যক্তিদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং মুত্তাকীদের উন্নতির সোপানে আরোহণ করছেন।

তাই তিনি কবির ভাষায় আবৃত্তি করেন:

একটি দোয়াত যা দিনের বেলা আমার সঙ্গী হয় … তা বন্ধুর সাহচর্যের চেয়েও আমার কাছে অধিক প্রিয়

ঘরের কোণে রাখা এক তাড়া কাগজ … এক বস্তা আটার চেয়েও আমার কাছে অধিক প্রিয়

আমার গালে একজন আলেমের চপেটাঘাত … পবিত্র শরাব পান করার চেয়েও আমার কাছে অধিক সুস্বাদু

আর আমি এমন কেউ নই যে ইলম অন্বেষণকারীর মর্যাদা বর্ণনা করবে; কেননা মিহরাবসমূহ এবং তার প্রতিধ্বনি তা বারবার ঘোষণা করেছে, মসজিদের বারান্দা এবং গম্বুজসমূহ সেই গুঞ্জনে মুখরিত হয়েছে, তাহাজ্জুদগুজাররা তার আবৃত্তি দ্বারা ইবাদত করেছে এবং প্রাজ্ঞ (راسخون) ওলামায়ে কেরাম তার গভীর চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেছেন। তারও আগে রূহুল আমিন তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন সাইয়্যিদুল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হৃদয়ে। আর তারও আগে স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা এ বিষয়ে কথা বলেছেন, যিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, যিনি পরম করুণাময় ও দয়ালু। তিনি শিক্ষা লাভের জন্য প্রশ্ন করার প্রতি উৎসাহিত করতে গিয়ে—যা জ্ঞানের প্রথম স্তর—বলেন: (অতঃপর তোমরা স্মরণকারী বা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো যদি তোমরা না...)

(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
تعلمون) [النحل: 43] ، وقال عز وجل في الأمر بالرحلة لطلب العلم: (وما كان المؤمنون لينفروا كافة فلولا نفر من كل فرقة منهم طائفة ليتفقهوا في الدين ولينذروا قومهم إذا رجعوا إليهم لعلهم يحذرون) [التوبة:122] ، وما أمر سبحانه نبيه صلى الله عليه وسلم بطلب الزيادة في شيء في الدنيا، إلا من العلم، فقال تعالى: (وقل رب زدني علماً) [طه:114] ؛ وأشاد سبحانه - أيما إشادة! - بفضل أهل العلم، ورفع من شأنهم، وأعلى من قدرهم، بما يعجز عن بيانه إلا البيان المبين، من كلام رب العالمين، فقال عز من قائل (شهد الله أنه لا إله إلا هو والملائكة وأولوا العلم قائماً بالقسط لا إله إلا هو العزيز الحكيم) [آل عمران: 18] ، وقال سبحانه وتعالى: (إنما يخشى الله من عباده العلماء) [فاطر: 28] ، وقال سبحانه (يرفع الله الذين ءامنوا والذين أوتوا العلم درجات) [المجادلة: 11] ، وقال عز شانه (قل هل يستوى الذين يعلمون والذين لا يعلمون) [الزمر: 9] .

فلما كانت لطالب العلم مكانته التي نوهنا ببعضها، تبين أنه على صغر سنة طالب جليل، وعلى قلة عمله بسلوكه مسالك الطلب استحق التبجيل.

ومن حق هذا الذي يقفو آثار العظماء، ويلوث على رأسه عمامة العلماء؛ أن يكون له نصيب من التوجيه كبير، وحظ من النصح وفير. ولما طلب مني مكتب التوعية بمكة المكرمة أن ألقي كلمة على منهج القراءة في كتب الحديث والمصطلح، ورأيت أن الرفض لا يسعني، أجبتهم إلى رغبتهم، على ضعف وعجز. لكني من حين أجبت، عزمت على أن أجعل المنهج المطروح منهجاً مستقى من مناهج العلماء، ودرباً نص الأئمة على أنهم قد ساروا عليه، أو دلت سيرهم وأخبارهم وعلومهم على أنهم قد طرقوه. وإنما عزمت على هذا العزم، لأن منهج تعلم أي علم يجب أن يؤخذ عن العلماء بذلك العلم، الذين عرفوا دروبه، وأحاطوا بسبله، وملأتهم الخبرة به بصيرة بالأسلوب الصحيح في تلقيه، وأشبعتهم فنونه بالوسائل المبلغة إليه.

وتم ما أعددته لتلك الكلمة في الشهر الأول من عام (1418هـ) ، وألقيتها في هذا التاريخ.
(তোমরা না জানো) [আন-নাহল: ৪৩]। এবং আল্লাহ তায়ালা জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে সফরের নির্দেশ দিয়ে বলেন: (আর মুমিনদের সকলের পক্ষে একযোগে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। তবে তাদের প্রত্যেক বড় দল থেকে একটি ছোট দল কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যাবে তখন যেন তাদের সতর্ক করতে পারে? যাতে তারা সতর্ক হতে পারে) [আত-তাওবা: ১২২]। আর মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পার্থিব কোনো কিছুর আধিক্য প্রার্থনার নির্দেশ দেননি জ্ঞান ব্যতীত। তাই মহান আল্লাহ বলেন: (আর বলো, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন) [ত্বহা: ১১৪]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জ্ঞানীদের মর্যাদার অসামান্য প্রশংসা করেছেন এবং তাদের শান ও মানকে এমনভাবে উচ্চকিত করেছেন, যা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সুস্পষ্ট কালাম ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণনার মাধ্যমে প্রকাশ করা অসম্ভব। আল্লাহ তায়ালা বলেন: (আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে (এই সাক্ষ্য দিয়েছেন)। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়) [আলে ইমরান: ১৮]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও বলেন: (আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে) [ফাতির: ২৮]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও বলেন: (তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে বহু স্তরে উন্নত করবেন) [আল-মুজাদিলা: ১১]। তিনি আরও বলেন: (বলো, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?) [আয-যুমার: ৯]।

যখন জ্ঞানান্বেষীর মর্যাদা এমন, যার কিয়দাংশ আমরা উল্লেখ করেছি, তখন এটি স্পষ্ট যে একজন জ্ঞানান্বেষী বয়সে নবীন হওয়া সত্ত্বেও সে একজন মহান ছাত্র, এবং জ্ঞানার্জনের পথে চলার কারণে তার আমল অল্প হলেও সে বিশেষ সম্মানের যোগ্য।

আর যে ব্যক্তি মহৎ ব্যক্তিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং নিজ মস্তকে আলেমদের উষ্ণীষ ধারণ করে, তার জন্য দিকনির্দেশনার এক বড় অংশ এবং উপদেশের এক বিশাল ভাণ্ডার থাকা আবশ্যক। যখন মক্কা মুকাররমাহর সচেতনতা বিষয়ক কার্যালয় থেকে আমাকে হাদিস এবং পরিভাষা (مصطلح) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ পাঠের পদ্ধতির ওপর একটি বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ করা হলো, তখন আমি দেখলাম যে এটি প্রত্যাখ্যান করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই নিজের দুর্বলতা ও অক্ষমতা সত্ত্বেও আমি তাদের আহ্বানে সাড়া দিলাম। তবে যখন থেকে আমি সম্মতি দিয়েছি, তখন থেকেই আমি সংকল্প করেছি যে, প্রস্তাবিত পদ্ধতিটি হবে ওলামাদের অনুসৃত পদ্ধতি থেকে সংগৃহীত এবং এমন এক পথ যার ওপর ইমামগণ চলার ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন অথবা তাদের জীবনী ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা একথাই প্রমাণ করে যে তারা এই পথেই চলেছেন। আমি এই দৃঢ় সংকল্প এই কারণে করেছি যে, যেকোনো শাস্ত্র শেখার পদ্ধতি অবশ্যই সেই শাস্ত্রের অভিজ্ঞ আলেমদের কাছ থেকে গ্রহণ করা উচিত, যারা সেই শাস্ত্রের অলিগলি সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তার পথসমূহ আয়ত্ত করেছেন। তাদের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা সেই জ্ঞান অর্জনের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের প্রজ্ঞালব্ধ অন্তর্দৃষ্টি দান করেছে এবং সেই শাস্ত্রের নানাবিধ বিষয়সমূহ তাদেরকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পর্যাপ্ত উপকরণ যুগিয়েছে।

সেই বক্তব্যের জন্য আমার প্রস্তুতি ১৪১৮ হিজরি সনের প্রথম মাসে সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেই তারিখেই আমি তা উপস্থাপন করেছিলাম।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
ثم تكرر إلى الطلب بنشرها مكتوبة، حسن ظن من الطالبين، فرأيت أن إجابة سؤالهم فيه تحقيق فائدة وإن صغرت، وتوجيه نصيحة لطلبة العلم لا تخلو من نفع.

وعلى هذا فهذه الرسالة في أصلها كلمة ملقاة، ضمن سلسة من الكلمات نظمتها إدارة مكتب التوعية بمكة المكرمة مشكورة مأجورة إن شاء الله تعالى. وقد سبقت هذا الكلمة كلمات حول آداب العلم وطلبه ومناهجه عموماً، ثم خصصت علوم الحديث بالدرس الذي أقوم بنشره اليوم. وعلى هذا فرسالتنا هذه مسبوقة بما يغني عن تكراره هنا، ولذلك فقد جاءت مقتصرة على الوسائل المبلغة لطالب العلم إلى أن يصبح محدثاً عارفاً بسنة النبي صلى الله عليه وسلم، دون التطرق إلى أبواب العلم الأخرى على جلالتها وفضلها.

فأسأل الله عز وجل أن ينفع بهذه الورقات وأن يستخرج بها من قلب مؤمن بظهر الغيب دعوات صالحات، وأن يجعلها في موازين الحسنات.. آمين.

والحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وعلى آله وأصحابه أجمعين، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.

وكتب

الشريف حاتم بن عارف بن ناصر العبدلي العوني
এরপর এটি লিখিত আকারে প্রকাশের জন্য শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ আসতে থাকে, যা মূলত তাদের সুধারণার বহিঃপ্রকাশ। তাই আমি অনুভব করলাম যে, তাদের এই অনুরোধ রক্ষা করার মাঝে সামান্য হলেও উপকার নিহিত রয়েছে এবং ইলম অন্বেষণকারীদের প্রতি এমন নসিহত পেশ করা হবে যা উপকারের ঊর্ধ্বে নয়।

সেই সুবাদে, এই পুস্তিকাটি মূলত একটি প্রদত্ত বক্তব্য, যা মক্কা মুকাররমার মাকতাব আত-তাউয়িয়াহ প্রশাসনের আয়োজিত এক ধারাবাহিক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত ছিল; আল্লাহ চাহেন তো তারা এর জন্য কৃতজ্ঞতা ও সওয়াবের অধিকারী হবেন। এই বক্তব্যের পূর্বে ইলমের আদব, জ্ঞান অন্বেষণ এবং এর সাধারণ পদ্ধতিসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল, অতঃপর আমি আজ যে পাঠটি প্রকাশ করছি তাতে হাদিস শাস্ত্রকে সুনির্দিষ্ট করেছি। ফলে আমাদের এই পুস্তিকাটি এমন কিছু প্রসঙ্গের পরে এসেছে যা এখানে পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। একারণেই এটি কেবল সেই মাধ্যমগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে যা একজন ইলম অন্বেষীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে বিজ্ঞ মুহাদ্দিস (محدث) হিসেবে গড়ে তুলবে; ইলমের অন্যান্য অধ্যায়গুলোর মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও এখানে তা আলোচিত হয়নি।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই পৃষ্ঠাগুলোর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং এর উসিলায় কোনো মুমিনের অন্তরের অন্তস্তল থেকে অগোচরে আমার জন্য নেক দোয়া উৎসারিত করেন, আর একে নেক আমলের পাল্লায় ভারী করেন.. আমিন।

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার প্রতি যার পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর প্রতি, আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করবেন তাদের সবার প্রতি।

লেখক

আশ-শরিফ হাতিম বিন আরিফ বিন নাসির আল-আবদালি আল-আওনি
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌تمهيد

هناك مبادئ عامة ينصح بها كل طالب علم، ليضعها أمام عينيه عند أول ما ينوي السير في طريق العلم الطويل. وبعض هذه المبادئ العامة سوف تكون مدخلنا إلى الجواب عن السؤال الذي يسأل عنه قارئ هذه الورقات، وهو: كيف أصبح محدثاً عارفاً بسنة النبي صلى الله عليه وسلم؟

فلا شك أن أول ما يلزم من أراد أن يكون طالب علم (أي علم من العلوم) ، أن يتعرف على العلوم من جهة موضوعاتها وغاياتها والثمرة الناتجة عنها. لأنه بذلك يعرف شرف كل علم وفضله، ومنقبة حملة ذلك العلم ورفعة قدرهم. وهذا يجعله قادراً على ترتيب العلوم على حسب أهميتها، ووضعها في مراتبها من أولوية التعليم.

فإذا ما ابتدأ طلب علم من العلوم بعد ذلك، وقد عرف أنه فضائله ومناقب حملته، وعرف إنما ابتدأ به لأنه أحق من غيره ببداية التعلم، وأولى مما سواه بأن يكون باكورة الطلب؛ زاده ذلك إقبالاً على العلم، وحرصاً عليه، وصبراً في تحصيله، وثقة بصواب خطواته، واطمئناناً على صحة منهجه. فلا يزيده بعد ذلك طول الطريق إلا جلداً، ولا وعورته إلا جداً، ولا صعوبته إلا مثابرةً، ولا تعب جسده فيه إلا راحة نفسه، ولا اغترابه من أجله إلا أنساً به، ولا قلة ذات يده إلا فرحاً بالاستكثار منه. حتى يبلغ المنى، ويحصد الجنى.

لذلك حرصت أن لا تخلو هذه الورقات من إلماحات عن شرف علم الحديث وبيان فضل المحدثين؛ وهذا هو العنوان الأول بعد هذا التمهيد.

وبعد أن تعرف طالب العلم على ما سبق، ينبغي عليه أن يستنصح أهل العلم الذي رأى أن يبدأ به، ويطلب منهم أن يوقفوه على خصائص ذلك العلم التي تميزه عن غيره من العلوم، وأن يقرأ بعض ما ألف في التعريف بذلك العلم وفي بيان مميزاته التي تختص به. حيث إن لكل علم ملامح كبرى تفارقه عن غيره من العلوم، وقسمات خاصة به كالتي تباين بين الأشخاص المختلفين. وهذه الملامح والقسمات هي في الحقيقة سر كل علم، وكاشف لغز كل
উপক্রমণিকা

এমন কিছু সাধারণ মূলনীতি রয়েছে যা প্রত্যেক ইলম অন্বেষীকে অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে তিনি জ্ঞান-অন্বেষণের এই দীর্ঘ পথে চলার সংকল্প করার সময় তা নিজের চোখের সামনে রাখতে পারেন। এই সাধারণ মূলনীতিগুলোর কয়েকটি আমাদের সেই প্রশ্নের উত্তর প্রদানের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে, যা এই রচনার পাঠক জানতে চান; আর তা হলো: আমি কীভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ সম্পর্কে একজন বিজ্ঞ মুহাদ্দিস (محدث) হয়ে উঠব?

নিঃসন্দেহে, যে ব্যক্তি কোনো শাস্ত্রের তালিবে ইলম হতে চায়, তার জন্য সর্বপ্রথম করণীয় হলো সেই শাস্ত্রকে এর আলোচ্য বিষয়, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং এর সুফল বা ফলাফলের দিক থেকে চিনে নেওয়া। কেননা এর মাধ্যমে সে প্রতিটি ইলমের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং সেই ইলমের ধারকদের মহিমা ও সুউচ্চ অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবে। এটি তাকে জ্ঞানের গুরুত্ব অনুযায়ী ইলমসমূহকে ক্রমানুসারে সাজাতে এবং জ্ঞানার্জনের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলোকে নিজ নিজ স্তরে বিন্যস্ত করতে সক্ষম করে তুলবে।

অতঃপর যখন সে কোনো একটি শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন শুরু করবে—ইতিমধ্যেই সেটির শ্রেষ্ঠত্ব ও এর ধারকদের মর্যাদা সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়ে এবং এটি অনুধাবন করে যে, অন্য সবকিছুর তুলনায় এই বিষয়টি দিয়েই শিক্ষা শুরু করা অধিক সংগত এবং জ্ঞান অন্বেষণের সূচনা হিসেবে এটিই সর্বাধিক উপযুক্ত; তখন এটি ইলমের প্রতি তার আগ্রহ ও একাগ্রতাকে বাড়িয়ে দেবে, তা অর্জনে ধৈর্যশীল করবে, নিজের পদক্ষেপের সঠিকতার প্রতি আস্থা জোগাবে এবং তার অনুসৃত পদ্ধতির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে তাকে আশ্বস্ত করবে। এরপর পথের দীর্ঘতা তার সহিষ্ণুতাকেই বৃদ্ধি করবে, পথের বন্ধুরতা তার প্রচেষ্টাকে করবে আরও জোরদার, এর কাঠিন্য তাকে করবে আরও অধ্যবসায়ী এবং এই পথে শরীরের ক্লান্তিই হবে তার আত্মার প্রশান্তি। এই ইলমের জন্য প্রবাস জীবন হবে তার কাছে আনন্দের বিষয় এবং সহায়-সম্বলের স্বল্পতা সত্ত্বেও সে জ্ঞান বৃদ্ধিতেই আনন্দিত হবে; যতক্ষণ না সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায় এবং তার পরিশ্রমের ফল লাভ করে।

তাই আমি সচেষ্ট হয়েছি যেন এই সংক্ষিপ্ত রচনাটি ইলমুল হাদিস (علم الحديث)-এর মর্যাদা এবং মুহাদ্দিসগণের (محدثين) শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক আলোচনা বর্জিত না হয়; আর এই উপক্রমণিকার পর এটিই হবে প্রথম শিরোনাম।

তালিবে ইলম যখন ওপরের বিষয়গুলো জানতে পারবে, তখন তার উচিত হবে যে শাস্ত্র দিয়ে সে যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই শাস্ত্রের বিজ্ঞজনদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করা এবং তাদের কাছে অনুরোধ করা যেন তারা তাকে সেই শাস্ত্রের এমন সব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত করেন যা একে অন্যান্য শাস্ত্র থেকে পৃথক করে। এছাড়া সেই শাস্ত্রের পরিচিতি এবং এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে রচিত গ্রন্থাবলি পাঠ করাও তার জন্য আবশ্যক। কেননা প্রতিটি ইলমেরই কিছু সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকে যা একে অন্য সব ইলম থেকে পৃথক করে এবং এর এমন কিছু নিজস্ব অবয়ব থাকে যা বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যকার পার্থক্যের ন্যায় স্বতন্ত্র। প্রকৃতপক্ষে এই রূপরেখা ও অবয়বগুলোই হলো প্রতিটি ইলমের মূল রহস্য এবং প্রতিটি রহস্য উন্মোচনের চাবিকাঠি।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
فن، ومفتاح كنوز دقائق العلوم. وتظهر آثار العلم بهذه الملامح (أو عدم العلم بها) على كل مسألة جزئية منه، لأن بصماتها لا تخلوا منها جميع جزئياته.

وتعرف أهمية الابتداء بإدراك خصائص علم ما، وضرورة فهم مزاياه من أول الإقبال عليه؛ من جهتين اثنتين:

الأولى: أن تلك المزايا والخصائص تمكن طالب العلم من أن يقدر إن كان باستطاعته استيعاب ذلك العلم وأن يبرع فيه، أولا يستطيع؛ على حسب مواهبه الفطرية وميوله العلمية. وذلك فيما إذا وازن طالب العلم - بصدق وموضوعية - بين تلك المميزات وقدرته على التعلم. فكم من طالب علم تعثر في حياته العلمية بسبب عدم قيامه بهذه الموازنة، وكم من طالب علم لو حاول إدراك تلك المميزات للعلوم لوضع قدمه في أول الطريق الصحيح لعلم منها، ثم برع وأبدع فيه بعد ذلك.

الثانية: أن تلك الخصائص والمميزات الكبرى لأي علم من العلوم تستلزم أسلوباً خاصاً في طلبه؛ ولكل خصيصة منها منهج معين في التحصيل بمواجهتها. فإدراك طالب ذلك العلم، يجعله واعياً للأسلوب الصحيح في طلب ذلك العلم، عارفاً بعقبات علمه وبوسائل تجاوزها بسرعة؛ فهو بهذا الوعي والمعرفة محيط بالغاية التي يريد، حتى كأنه بلغها (وإن لم يبلغها) ، لشدة وضوح طريقها أمامه، ولعدم خوفه من حواجز تحول بينه وبينها. وهذا ما جعلني أثني (بعد ذكر شرف علم الحديث وشرف أهله) بأربع مميزات لعلم الحديث، هي في ظني أهم خصائصه، وأوضح ملامحه، تستوجب تجاهها طريقة خاصة في الطلب ومنهجاً معيناً في تعلم علم الحديث.

ثم ختمت هذه الورقات بذكر خطة دراسية منهجية مختصرة للحديث النبوي الشريف ولعلومه، حاولت خلالها وضع مستويات دراسية مرتبة على نظرية التدرج في طلب العلم، من البداية بالمجملات إلى الوصول إلى المفصلات الموسعات من كتب العلم.

ومن خلال هذه العناصر أحسب أني قد ساهمت في الإجابة على سؤال يقول: كيف أصبح محدثاً عارفاً بسنة النبي صلى الله عليه وسلم.

وإليك الإجابة (بعون الله تعالى) .
এটি একটি শিল্প এবং বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম রহস্যভাণ্ডারের চাবিকাঠি। এই শাস্ত্রীয় বৈশিষ্ট্যের জ্ঞান (বা তার অভাবের) প্রভাব বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা-প্রশাখার ওপর প্রতিফলিত হয়, কারণ এর প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশই সেই বৈশিষ্ট্যের ছাপ বহন করে।

কোনো বিশেষ শাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করার গুরুত্ব এবং তার প্রতি মনোনিবেশের শুরু থেকেই তার বিশেষত্বগুলো অনুধাবন করার প্রয়োজনীয়তা দুটি দিক থেকে স্পষ্ট হয়:

প্রথমত: এই বিশেষত্ব ও বৈশিষ্ট্যসমূহ একজন জ্ঞানান্বেষীকে এটি মূল্যায়ন করতে সক্ষম করে যে, তার সহজাত প্রতিভা ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ঝোঁক অনুযায়ী সেই শাস্ত্রটি আয়ত্ত করা এবং তাতে পারদর্শী হওয়া তার পক্ষে সম্ভব কি না। এটি তখনই সম্ভব যখন একজন শিক্ষার্থী সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে সেই শাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য এবং নিজের শেখার ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। কত জ্ঞানান্বেষী তাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনে হোঁচট খেয়েছে এই ভারসাম্য রক্ষা না করার কারণে, আবার কত শিক্ষার্থী যদি শাস্ত্রীয় এই বৈশিষ্ট্যগুলো অনুধাবন করার চেষ্টা করত, তবে তারা সঠিক পথে পা রাখতে পারত এবং পরবর্তীতে তাতে পারদর্শিতা ও সৃজনশীলতা অর্জন করতে পারত।

দ্বিতীয়ত: যেকোনো শাস্ত্রের সেই প্রধান বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্বসমূহ তা অর্জনের জন্য একটি বিশেষ পদ্ধতি দাবি করে; আর প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের স্বরূপ অনুযায়ী তা অর্জনের জন্য একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি (منهج) রয়েছে। ফলে সেই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর এই উপলব্ধি তাকে ইলম অর্জনের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করে তোলে এবং তার পথের প্রতিবন্ধকতা ও সেগুলো দ্রুত অতিক্রম করার উপায় সম্পর্কে জ্ঞান দান করে। এই সচেতনতা ও জ্ঞানের মাধ্যমে সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের ব্যাপারে পূর্ণ অবগত হয়, এমনকি পথের স্বচ্ছতা এবং কোনো প্রতিবন্ধকতার ভয় না থাকার কারণে মনে হয় সে যেন লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে (যদিও বাস্তবে সে এখনও পৌঁছেনি)। আর একারণেই আমি (হাদিস শাস্ত্রের মর্যাদা এবং এর ধারকদের শ্রেষ্ঠত্ব উল্লেখ করার পর) হাদিস শাস্ত্রের চারটি বৈশিষ্ট্যের ওপর আলোকপাত করেছি, যা আমার মতে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং স্পষ্ট নিদর্শন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো হাদিস অর্জনের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ তরীকা এবং হাদিস শেখার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি (منهج) দাবি করে।

অতঃপর আমি এই প্রবন্ধটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হাদিস এবং এর শাস্ত্রসমূহের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিগত (منهجي) শিক্ষা পরিকল্পনা উল্লেখ করার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি। এতে আমি ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে ক্রমানুসারে (تدرج) বিন্যস্ত বিভিন্ন স্তর নির্ধারণ করার চেষ্টা করেছি, যা সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ থেকে শুরু করে জ্ঞানতাত্ত্বিক কিতাবসমূহের বিস্তারিত ও বিস্তৃত ব্যাখ্যা পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত।

এই উপাদানগুলোর মাধ্যমে আমি মনে করি যে, আমি একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছি, আর তা হলো: কীভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন একজন মুহাদ্দিস (محدث) হওয়া যায়।

আর আপনার সামনে সেই উত্তরটি পেশ করা হলো (আল্লাহ তাআলার সাহায্যে)।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌شرف علم الحديث وشرف حملته

لا يشك مسلم من المسلمين أن القرآن الكريم وعلومه أشرف العلوم على الإطلاق، وأنه أنفع العلوم وأجلها وأعظمها بلا استثناء.

وأهم علوم القرآن الكريم وأعظمها، وما من أجله أنزل، هو تدبر آياته، وفهم معانيه؛ لأن الغاية العظمى من إنزال القرآن هي العمل به، والاعتبار بمواعظه، والاستضاءة بحكمه؛ وذلك لا يحصل أبداً قبل فهم معانيه وتدبر آياته؛ وإلا فكيف يعمل بالقرآن من لم يفهم القرآن؟!

ولا يتم فهم كلام الله تعالى، ولا يمكن أن ندرك معاني كتاب الله المجيد، وإلا بسنة النبي صلى الله عليه وسلم وعلومها، لأن السنة هي الشرح النظري والعملي للقرآن الكريم.

ومن هنا ندخل إلى أعظم ما يبين مكانه السنة وعلومها، وإلى منزلتها بين العلوم على الإطلاق؛ وهو أنه لا سبيل إلى فهم القرآن الكريم، وإلى معرفة دين الإسلام الذي لا يقبل الله تعالى سواه، إلا بسنة النبي صلى الله عليه وسلم وعلومها!!

أو بعبارة أخرى: بما أن القرآن الكريم أشرف العلوم، وأشرف علومه فهم معانيه لا يكون إلا بالسنة؛ فالسنة إذا أشرف علوم القرآن، أو قل: أشرف العلوم!!

قال الله تعالى: (وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم ولعلهم يتفكرون) [النحل:44] ، فمنطوق هذه الآية الكريمة يخبر أن إنزال القرآن الكريم كان من أجل بيان النبي صلى الله عليه وسلم له؛ بسنته القولية والفعلية والتقريرية!! وهذا المنطوق غريب جداً لمن تأمله، لأنه يخالف المتبادر إلى الذهن، من أن سنة النبي صلى الله عليه وسلم إنما كانت من أجل أن تبين القرآن الكريم، أي أن القرآن هو الغاية التي من أجلها جاءت السنة، أما الآية فقد قالت بضد ذلك، حيث جعلت السنة وبيانها غاية من أجلها انزل القرآن!!!

وهذا من إعجاز القرآن في الإشادة بمكانة السنة من القرآن، وفي التأكيد على عدم استغناء القرآن عنها، بل وعلى بطلان مثل ذلك الاستغناء.. إن زعم!!
হাদিস শাস্ত্রের মর্যাদা এবং এর বাহকদের সম্মান

কোনো মুসলিমই এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন না যে, পবিত্র কুরআন ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ নিঃসন্দেহে সকল বিজ্ঞানের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই এটি সবচেয়ে উপকারী, মহান ও শ্রেষ্ঠ ইলম।

পবিত্র কুরআনের জ্ঞানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মহান বিষয়—যার উদ্দেশ্যে এটি নাজিল হয়েছে—তা হলো এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও অনুধাবন (تدبر) করা এবং এর অর্থ অনুধাবন করা। কারণ কুরআন নাজিল করার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এর ওপর আমল করা, এর উপদেশগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং এর হিকমত বা প্রজ্ঞা দ্বারা আলোকিত হওয়া। আর এর অর্থ অনুধাবন এবং আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা (تدبر) করার আগে এটি কখনোই অর্জিত হতে পারে না; অন্যথায়, যে কুরআন বোঝেনি সে কীভাবে কুরআনের ওপর আমল করবে?!

মহান আল্লাহর কালামের সঠিক বুঝ পূর্ণতা পায় না এবং আল্লাহর মহান কিতাবের অর্থ অনুধাবন করা সম্ভব নয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ ও এর জ্ঞানসমূহ ব্যতীত। কারণ সুন্নাহ হলো পবিত্র কুরআনের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ব্যাখ্যা।

এখান থেকেই আমরা সুন্নাহ ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহের সুউচ্চ মর্যাদা এবং সকল বিজ্ঞানের মধ্যে এর অবস্থানের প্রকৃত রূপটি উপলব্ধি করতে পারি; আর তা হলো—পবিত্র কুরআন বোঝা এবং ইসলাম ধর্মকে জানার কোনো পথ নেই (যে ধর্ম ছাড়া অন্য কিছু মহান আল্লাহ কবুল করবেন না) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ ও এর জ্ঞানসমূহ ব্যতীত!!

অথবা অন্য কথায়: যেহেতু পবিত্র কুরআন শ্রেষ্ঠতম ইলম, আর এর শ্রেষ্ঠতম দিক তথা অর্থ অনুধাবন করা সুন্নাহ ব্যতীত সম্ভব নয়; সেহেতু সুন্নাহ হলো কুরআনের শ্রেষ্ঠতম জ্ঞান, অথবা বলা যায়: এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম!!

মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি তোমার প্রতি 'জিকর' (কুরআন) নাজিল করেছি, যাতে তুমি মানুষের কাছে সুস্পষ্ট করে বুঝিয়ে দাও যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।" [সূরা আন-নাহল: ৪৪]। এই সম্মানিত আয়াতের শাব্দিক নির্দেশ (منطوق) সংবাদ দিচ্ছে যে, পবিত্র কুরআন নাজিল করাই হয়েছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর মৌখিক (قولية), কর্মগত (فعلية) এবং মৌন সম্মতিমূলক (تقريرية) সুন্নাহর মাধ্যমে তা ব্যাখ্যা করার জন্য!! যারা এটি নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন, তাদের কাছে এই শাব্দিক নির্দেশটি (منطوق) অত্যন্ত বিস্ময়কর মনে হতে পারে; কারণ এটি সাধারণ ধারণার বিপরীত—সাধারণত মনে করা হয় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর লক্ষ্য ছিল পবিত্র কুরআনকে ব্যাখ্যা করা, অর্থাৎ কুরআনই হলো সেই মূল লক্ষ্য যার জন্য সুন্নাহর আগমন ঘটেছে। কিন্তু এই আয়াতটি তার উল্টো কথা বলছে, যেখানে সুন্নাহ ও এর ব্যাখ্যাকেই সেই লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে যার জন্য কুরআন নাজিল করা হয়েছে!!!

এটি কুরআনের অলৌকিকত্বের একটি দিক যা কুরআনের আলোকে সুন্নাহর মর্যাদাকে তুলে ধরে এবং কুরআনের জন্য সুন্নাহর অপরিহার্যতা নিশ্চিত করে; বরং সুন্নাহ ছাড়াই কুরআন যথেষ্ট—এমন দাবির অসারতা প্রমাণ করে... যদি কেউ তা দাবি করে থাকে!!
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ولهذه المنزلة العليا للسنة، ولعلاقتها القوية الوشائج والصلات بالقرآن الكريم، كان يقول غير واحد من السلف، منهم مكحول الشامي (ت 118 هـ) : (القرآن أحوج للسنة من السنة للقرآن) (1) . وذلك لأن إجمال القرآن يحتاج إلى تفصيل السنة، ومتشابه القرآن تفسره السنة؛ في حين أن السنة - غالباً - مفصلة مبينة واضحة.

ولهذا يصح أن يقال عمن يتعلم السنة: إنه يتعلم القرآن، ولمن يقرأ السنة: إنه يقرأ تفسير القرآن!!

وقد كان ذلك واضحاً تمام الوضوح عند السلف، ولهذا لما قيل لمطرف بن عبد الله بن الشخير (ت 95 هـ) : (لا تحدثونا إلا بالقرآن، قال مطرف: والله ما نريد بالقرآن بدلاً، ولكن نريد من هو أعلم بالقرآن منا) (2) .

ويجب التنبه إلى أن تفسير السنة للقرآن ليس هو وحده التفسير الصريح لمعانيه من النبي صلى الله عليه وسلم، كأن يذكر النبي صلى الله عليه وسلم آية ثم يشرحها شرحاً مباشراً. نعم هذا من تفسير السنة للقرآن، لكن الخضم الأعظم منه هو جميع سنة النبي صلى الله عليه وسلم القولية والفعلية والتقريرية وسيرته ومغازيه وحياته. ولهذا لما سئلت عائشة رضي الله عنها عن خلق النبي صلى الله عليه وسلم، أرشدت السائل إلى النظر في القرآن، عندما قالت: (كان خلقه القرآن) (1) وعلى هذا يحق لمن سأل عن القرآن أن يحال إلى سنة النبي صلى الله عليه وسلم، كما أحالت عائشة السائل عن السنة إلى القرآن!

وهذا أكبر ما يبين مكانة السنة، وعظم أهميتها، وأولويتها على غيرها من العلوم.

ولقد بين الله عز وجل مكانة السنة وشرفها في القرآن العظيم، في آيات كثيرات؛ منها آيات كثيرة في الأمر بطاعة النبي صلى الله عليه وسلم والتحذير من مخالفته عليه أفضل الصلاة وأتم التسليم. كقوله تعالى: (وأطيعوا الله والرسول لعلكم ترحمون) [آل عمران: 132 [، وكقوله عز وجل: (من يطع الرسول فقد أطاع الله) [النساء: 80] ، وكقوله سبحانه: (فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في

--------------------------------------------

(1) جامع بيان العلم وفضله: لابن عبد البر. بتحقيق أبي الأشبال الزهيري. دار ابن الجوزي: الدمام، الطبعة الأولى (1414 هـ) = (رقم 2352، وانظر رقم 2351 - 2354) .

(2) جامع بيان العلم وفضله لابن عبد البر (رقم 2349) .

 

(3) أخرجه مسلم في صحيحه.
সুন্নাহর এই সুউচ্চ মর্যাদা এবং আল-কুরআনের সাথে এর সুদৃঢ় ও গভীর সম্পর্কের কারণে সালাফদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি বলতেন, যাদের মধ্যে মাকহুল আশ-শামি (মৃত্যু ১১৮ হিজরি) অন্যতম: (সুন্নাহর প্রতি কুরআনের মুখাপেক্ষিতা কুরআনের প্রতি সুন্নাহর মুখাপেক্ষিতার চেয়েও বেশি) (১)। আর এটি এ কারণে যে, কুরআনের সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়াবলির জন্য সুন্নাহর বিস্তারিত (تفصيل) বর্ণনার প্রয়োজন হয় এবং কুরআনের অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়াবলিকে সুন্নাহ ব্যাখ্যা করে; অথচ সুন্নাহ সাধারণত বিস্তারিত (مفصل), বর্ণনামূলক ও সুস্পষ্ট।

এই কারণেই যারা সুন্নাহ শিক্ষা করেন তাদের সম্পর্কে এ কথা বলা সঠিক যে: তিনি মূলত কুরআনই শিখছেন, আর যারা সুন্নাহ পাঠ করেন তাদের ক্ষেত্রে বলা যায়: তারা কুরআনের তাফসিরই পাঠ করছেন!!

সালাফদের নিকট এই বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ছিল। এ কারণেই যখন মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখির (মৃত্যু ৯৫ হিজরি)-কে বলা হয়েছিল: (আমাদের কাছে কেবল কুরআন থেকেই হাদিস বর্ণনা করুন), তখন মুতাররিফ বললেন: আল্লাহর কসম, আমরা কুরআনের কোনো বিকল্প চাই না, বরং আমরা এমন কাউকে চাই যিনি আমাদের চেয়ে কুরআন সম্পর্কে অধিক অবগত (২)।

এই বিষয়ে মনোযোগী হওয়া আবশ্যক যে, সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের তাফসির কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক এর অর্থের সরাসরি ব্যাখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি আয়াত উল্লেখ করলেন এবং সরাসরি তার ব্যাখ্যা প্রদান করলেন। হ্যাঁ, এটিও সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত, তবে এর একটি বিশাল অংশ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল বাচনিক (قولية), কর্মগত (فعلية) ও মৌন সম্মতিমূলক (تقريرية) সুন্নাহ এবং তাঁর সিরাত, যুদ্ধাভিযান ও সামগ্রিক জীবন। একারণেই যখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি প্রশ্নকারীকে কুরআনের দিকে দৃষ্টিপাত করার নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন: (তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন) (১)। এমতাবস্থায় কেউ কুরআন সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া যথার্থ হবে, ঠিক যেমন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সুন্নাহ সম্পর্কে প্রশ্নকারীকে কুরআনের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন!

সুন্নাহর মর্যাদা, এর গুরুত্বের বিশালত্ব এবং অন্যান্য ইলমের ওপর এর অগ্রাধিকার বর্ণনায় এটিই সবচেয়ে বড় দলিল।

মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ কুরআনের বহু আয়াতে সুন্নাহর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে অনেক আয়াত রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করার নির্দেশ এবং তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করার ব্যাপারে সতর্কবাণী সম্বলিত (তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক)। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হতে পারো) [আলি ইমরান: ১৩২], এবং মহান আল্লাহর বাণী: (যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল) [নিসা: ৮০], এবং মহান পবিত্র সত্তার বাণী: (না, আপনার প্রতিপালকের শপথ, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করবে, অতঃপর আপনি যা ফয়সালা করবেন সে বিষয়ে তাদের অন্তরে কোনো

--------------------------------------------

(1) জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি: ইবনুল বার। আবু আশবাল আল-জুহাইরি সম্পাদিত। দার ইবনুল জাওজি: দাম্মাম, প্রথম সংস্করণ (১৪১৪ হিজরি) = (নম্বর ২৩৫২, এবং দেখুন নম্বর ২৩৫১ - ২৩৫৪)।

(2) ইবনুল বার রচিত জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি (নম্বর ২৩৪৯)।

 

(3) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أنفسهم حرجاً مما قضيت ويسلموا تسليماً) [النساء:65] ، وكقوله عز شأنه: (قل إن كنتم تحبون الله فاتبعونى يحببكم الله ويغفر لكم ذنوبكم والله غفور رحيم) [آل عمران: 31] ، وكقوله عز من قائل: (فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم) [النور: 63] ، وكقوله عز حكمه: (وما ءاتكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا) [الحشر:7] ، وكقوله لا رب سواه: (لقد كان لكم فى رسول الله أسوة حسنة لمن كان يرجوا الله واليوم الآخر وذكر الله كثيراً) [الأحزاب:21] ، في غيرها من آيات مباركات كثيرات.

ففي هذه الآيات حث على تعلم سنة النبي صلى الله عليه وسلم، بتعلم أصولها ومصطلحها، من العلوم التي يميز بها صحيح السنة من سقيمها. لأن الأمر بطاعة النبي صلى الله عليه وسلم والترغيب في الاقتداء به لا يمكن امتثاله (بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم إلا بالنقل والإسناد اللذين اجتمعت فيهما شروط القبول، وشروط القبول (تحققها أو عدم تحققها) في النقل عن النبي صلى الله عليه وسلم لا يمكن أن يتوصل إلى إدراكه إلا بالعلوم التي تخدم ذلك، وهي علوم الحديث: أصوله ومصطلحه. إذن فالأمر الإلهي بطاعة النبي صلى الله عليه وسلم والاقتداء به متضمن أمراً إلهياً بتعلم علم الحديث، لأنه لا سبيل إلى امتثال الأمر الأول إلا بعد امتثال الأمر الثاني، وما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب.

وإذا كان فهم القرآن الكريم، وطاعة الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم، والعلم بأحكام هذا الدين (دين الإسلام) وشرائعه وآدابه = لا يكون إلا بعلوم الحديث؛ علمت ما هي مكانة هذه العلوم!! وفي أي قمة من مراتب العلوم تكون!! ثم علمت شرف أهل الحديث!! وعظيم فضلهم وكبير أثرهم في الأمة!!!

وقد جاءت السنة نفسها ببيان فضل أهل الحديث وشرفهم، في أحاديث كثيرة وآثار ذوات عدد؛ حتى صنف الخطيب البغدادي (ت 463هـ) كتاباً في ذلك بعنوان (شرف أصحاب الحديث) .

ومن هذه الأحاديث قول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرين، لا يضرهم من خذلهم، حتى تقوم الساعة) (1) .

--------------------------------------------

(1) حديث صحيح متفق عليه، صح عن جمع من الصحابة رضي الله عنهم.
...তাদের অন্তরে আপনার ফয়সালার ব্যাপারে কোনো দ্বিধা অনুভব না করে এবং তা পূর্ণভাবে মেনে নেয়।) [আন-নিসা: ৬৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।) [আল-ইমরান: ৩১], এবং আল্লাহর বাণী: (অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা যন্ত্রণাদায়ক আজাব নেমে আসতে পারে।) [আন-নূর: ৬৩], এবং তাঁর বাণী: (রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।) [আল-হাশর: ৭], এবং তাঁর বাণী, যাঁর কোনো শরিক নেই: (তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।) [আল-আহজাব: ২১], এছাড়াও আরও অনেক বরকতময় আয়াতে সুন্নাহর গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।

এই আয়াতসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অর্জনের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে; মূলত সুন্নাহর মূলনীতি (أصول) ও পরিভাষা (مصطلح) শিক্ষার মাধ্যমে, যা এমন এক ইলম যার দ্বারা সুন্নাহর সঠিক (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনাকে পৃথক করা যায়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের নির্দেশ এবং তাঁর অনুসরণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে—যা তাঁর ইন্তেকালের পর কেবল বর্ণনা (النقل) এবং সনদ (الإسناد) ছাড়া বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আর এই বর্ণনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতার (القبول) শর্তসমূহ বিদ্যমান থাকা আবশ্যক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আসা বর্ণনায় গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলি (তা পাওয়া যাওয়া বা না পাওয়া) অনুধাবন করা কেবল সেই ইলমের মাধ্যমেই সম্ভব যা একে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়; আর তা হলো হাদিস শাস্ত্র: এর মূলনীতি (أصول) ও পরিভাষা (مصطلح)। সুতরাং, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও অনুসরণের ঐশ্বরিক নির্দেশ মূলত হাদিস শাস্ত্র শিক্ষারই একটি ঐশ্বরিক নির্দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ প্রথম নির্দেশটি (আনুগত্য) পালন করা দ্বিতীয়টি (হাদিস শাস্ত্র শিক্ষা) পালন করা ব্যতীত সম্ভব নয়। আর যে মাধ্যম ছাড়া কোনো ওয়াজিব বা আবশ্যক কাজ পূর্ণ হয় না, সেই মাধ্যমটিও ওয়াজিব হিসেবে গণ্য।

যদি পবিত্র কুরআন অনুধাবন করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা এবং এই দ্বীনের (ইসলামের) বিধিবিধান, শরিয়ত ও আদব সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা হাদিস শাস্ত্র ব্যতীত সম্ভব না হয়; তবে আপনি সহজেই বুঝতে পারছেন এই শাস্ত্রের মর্যাদা কতখানি! এবং এটি জ্ঞানের স্তরের ঠিক কত উচ্চ শিখরে অবস্থান করছে!! অতঃপর আপনি হাদিসবিদগণের মর্যাদা এবং উম্মতের ওপর তাঁদের মহান অনুগ্রহ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কেও সম্যক অবগত হলেন!!!

স্বয়ং সুন্নাহতেও হাদিসবিদগণের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অনেক হাদিস ও অসংখ্য বর্ণনা (آثار) বর্ণিত হয়েছে; এমনকি খতিব আল-বাগদাদী (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি) এ বিষয়ে "শরফ আসহাবিল হাদিস" শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এই হাদিসসমূহের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি অন্যতম: (আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না কিয়ামত কায়েম হয়।) (১) ।

--------------------------------------------

(১) এটি একটি সঠিক (صحيح) হাদিস যা সর্বসম্মত (متفق عليه), সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) একটি বড় জামাত থেকে এটি বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
قال عبد الله بن المبارك (ت 181 هـ) ، ويزيد بن هارون (ت 206هـ) ، وعلي ابن المديني (ت234 هـ) ، وأحمد بن حنبل (ت 241هـ) ، والبخاري (ت 256 هـ) ؛ قال هؤلاء الأئمة كلهم في بيان الطائفة المنصورة: (هم أصحاب الحديث) (1) . بل عبارة الإمام أحمد، وقبله يزيد بن هارون: (إن لم يكونوا أصحاب الحديث فلا أدري من هم) .

وأي طائفة أحق بأن يكونوا هم تلك الطائفة الظاهرة المنصورة، من الذين حفظوا الدين، ونقلوا الملة، ونشروا السنة، وقمعوا البدعة؛ وهم أصحاب حديث النبي صلى الله عليه وسلم، وحراسه، أهدى الناس بالسنة، وأتبعهم للأسوة الحسنة، بقية الأصحاب، ومرآة الرسول صلى الله عليه وسلم!! فلولا هم لما كان هناك فقيه ولا مفسر، ولا عالم ولا فاضل!! بل لولاهم لما كان هناك مسلم موحد!!!

ولما قال النبي صلى الله عليه وسلم: (إن أولى الناس بي يوم القيامة أكثرهم علي صلاة) (2) ، وذكر أهل العلم أن أسعد الناس بهذا الحديث هم المحدثون!

قال ابن حبان (ت 354هـ) بعد إخراجه هذا الحديث في صحيحه: (في هذا الخبر دليل على أن أولى الناس برسوله صلى الله عليه وسلم في القيامة أصحاب الحديث، إذ ليس من هذه الأمة قوم أكثر صلاة عليه صلى الله عليه وسلم منهم) (3) .

وقال أبو نعيم الأصبهاني (ت 430هـ) : (وهذه منقبة شريفة يختص بها رواة الآثار ونقلتها، لأنه لا يعرف لعصابة من العلماء من الصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر مما يعرف لهذه العصابة نسخاً وذكراً) (4) .

ومن تردد في هذا الذي ذكراه (عليهما رحمة الله) ، فليوازن بين صفحة أو صفحات من صحيح البخاري مثلاً وصفحة أو صفحات من أي كتاب في أحد العلوم الفاضلة (مما سوى الحديث) ، كالتفسير والفقه وأصوله والعقيدة، لتظهر مصداقية قول

--------------------------------------------

(1) انظر: شرف أصحاب الحديث، للخطيب. تحقيق محمد سعيد خطيب أو غلي، الطبعة الأولى، نشر دار إحياء السنة النبوية (رقم 46 - 51) .

(2) أخرجه الترميذي وحسنه (رقم 484) ، وابن حبان في صحيحه (رقم 911) ؛ وحسنه وصححه غير ما واحد من الأئمة، كما تراه في تخريج الإحسان، والمعجم الكبير للطبراني (10/21 رقم 9800)

(3) الإحسان بترتيب صحيح ابن حبان (رقم 911)

(4) شرف أصحاب الحديث للخطيب (35) .
عبد الله بن المبارক (মৃ. ১৮১ হি.), ইয়াজিদ বিন হারুন (মৃ. ২০৬ হি.), আলী ইবনুল মাদিনী (মৃ. ২৩৪ হি.), আহমাদ বিন হাম্বল (মৃ. ২৪১ হি.) এবং বুখারি (মৃ. ২৫৬ হি.) — এই সকল ইমামগণ সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) এর বর্ণনায় বলেছেন: "তারা হলেন হাদিস বিশেষজ্ঞগণ (أصحاب الحديث)" (১)। বরং ইমাম আহমাদ এবং তার পূর্বে ইয়াজিদ বিন হারুনের বক্তব্য হলো: "যদি তারা হাদিস বিশেষজ্ঞগণ (أصحاب الحديث) না হন, তবে আমি জানি না তারা আর কারা।"

আর কোন দলটি সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী দল (الطائفة الظاهرة المنصورة) হওয়ার অধিক যোগ্য হতে পারে তাদের চেয়ে—যারা দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন, মিল্লাতকে পৌঁছে দিয়েছেন, সুন্নাহ (سنة)-কে প্রচার করেছেন এবং বিদআত (بدعة)-কে অবদমিত করেছেন? তারাই তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের সাথী এবং তাঁর পাহারাদার। তারা সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সঠিক পথের দিশারী এবং উত্তম আদর্শের সর্বাধিক অনুসারী, তারা যেন অবশিষ্ট সাহাবী এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিচ্ছবি!! তারা না থাকলে না থাকতো কোনো ফকিহ, না থাকতো কোনো মুফাসসির, না কোনো আলেম, না কোনো গুণীজন!! বরং তারা না থাকলে পৃথিবীতে কোনো তাওহীদপন্থী মুসলিমই থাকতো না!!!

যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে আমার সর্বাধিক নিকটবর্তী হবে তারা, যারা আমার ওপর সর্বাধিক দরুদ পাঠ করে" (২), তখন ইলম অন্বেষীগণ উল্লেখ করেছেন যে, এই হাদিসের মাধ্যমে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরা হলেন মুহাদ্দিসগণ!

ইবনে হিব্বান (মৃ. ৩৫৪ হি.) তার সহিহ গ্রন্থে এই হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: "এই সংবাদ (خبر)-এর মধ্যে এই মর্মে দলিল রয়েছে যে, কিয়ামতের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বাধিক নিকটবর্তী মানুষ হবে হাদিস বিশেষজ্ঞগণ (أصحاب الحديث), কেননা এই উম্মতের মধ্যে তাদের চেয়ে বেশি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠকারী আর কোনো দল নেই" (৩)।

আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি (মৃ. ৪৩০ হি.) বলেছেন: "এটি একটি মহান মর্যাদা যা কেবল হাদিসের বর্ণনাকারী (رواة) ও বাহকদের জন্যই নির্ধারিত। কারণ আলেমদের কোনো দলের মধ্যেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর এত অধিক দরুদ পাঠ করার বিষয়টি জানা নেই, যা এই জামাতের মধ্যে পাণ্ডুলিপি লিখন ও আলোচনার সময় পরিলক্ষিত হয়" (৪)।

তারা যা উল্লেখ করেছেন (আল্লাহ তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন), সে বিষয়ে যার মনে সংশয় রয়েছে, সে যেন উদাহরণস্বরূপ সহিহ বুখারি-র এক বা একাধিক পৃষ্ঠার সাথে হাদিস ব্যতীত অন্য কোনো উচ্চতর শাস্ত্রের (যেমন: তাফসির, ফিকহ, উসুল এবং আকাইদ) এক বা একাধিক পৃষ্ঠার তুলনা করে দেখে। তবেই এই কথার সত্যতা ফুটে উঠবে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: খতিব বাগদাদি রচিত 'শারাফু আসহাবিল হাদিস'। তাহকিক: মুহাম্মদ সাঈদ খতিব ওগলু, প্রথম সংস্করণ, দারু ইহয়ায়িস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ কর্তৃক প্রকাশিত (নম্বর ৪৬ - ৫১)।

(২) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাসান (حسن) বলেছেন (নম্বর ৪৮৪), এবং ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (নম্বর ৯১১); একাধিক ইমাম একে হাসান (حسن) ও সহিহ (صحيح) বলেছেন, যেমনটি আপনি আল-ইহসান-এর তাখরিজে এবং তাবারানির আল-মু'জাম আল-কবির (১০/২১, নম্বর ৯৮০০)-এ দেখতে পাবেন।

(৩) আল-ইহসান বিতরতিবি সহিহ ইবনে হিব্বান (নম্বর ৯১১)।

(৪) খতিব বাগদাদি রচিত শারাফু আসহাবিল হাদিস (৩৫)।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ذينك الإمامين (عليهما رحمة الله) ، ليعرف حقاً أن أهل الحديث هم أولى الناس بالنبي صلى الله عليه وسلم يوم القيامة!!

و (الجزاء من جنس العمل) ، فكما كان أهل الحديث أهل حديث النبي صلى الله عليه وسلم في الدنيا، وأولى الناس به صلى الله عليه وسلم فيها؛ كانوا أيضاً أولى الناس به يوم القيامة!!

وياله من شرف ومكانة وفضل!! لا يدانيه شيء أبداً!!!

ولله در القائل:

دين النبي محمد أخبار … نعم المطية للفتى الآثار

لا تخدعن عن الحديث وأهله … فالرأي ليل والحديث نهار

ولربما غلط الفتى سبل الهدى … والشمس بازغة لها أنوار (1)

ورحم الله القائل:

دين الرسول وشرعه أخباره … وأجل علم يقتنى آثاره

من كان مشتعلاً بها وبنشرها … بين البرية لا عفت آثاره

ثم إن مكانة السنة تزداد أهمية فوق ما سبق كله، وتشتد حاجة الأمة لها زيادة على ما تقدم، عند ظهور الفتن وكثرة البدع والمحدثات.

ولذلك لما أوصى النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه، ووعظهم موعظة بليغة، وجلت منها القلوب وذرفت لها العيون؛ قال في وصيته تلك عليه الصلاة والسلام:

--------------------------------------------

(1) شرف أصحاب الحديث للخطيب (رقم 163) .
এই দুই ইমামের (তাঁদের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষেই জানা যায় যে, কিয়ামতের দিন আহলে হাদিসগণই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষ হবেন!!

আর (প্রতিদান কর্মের অনুরূপ হয়ে থাকে), সুতরাং আহলে হাদিসগণ দুনিয়াতে যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের অনুসারী ছিলেন এবং দুনিয়ায় তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষ ছিলেন; তেমনই তাঁরা কিয়ামতের দিনও তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষ হবেন!!

আর এটি কতই না বড় মর্যাদা, সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব!! কোনো কিছুই এর সমকক্ষ হতে পারে না!!!

কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:

নবী মুহাম্মদের ধর্ম হলো সংবাদ (أخبار) … যুবকের জন্য উত্তম বাহন হলো আসার (آثار)

হাদিস ও আহলে হাদিস থেকে কক্ষনো বিমুখ হয়ো না … কেননা ব্যক্তিগত রায় (رأي) হলো অন্ধকার রাত আর হাদিস হলো উজ্জ্বল দিন

হয়তো কোনো যুবক হিদায়াতের পথ হারিয়ে ফেলে … অথচ সূর্য তখন উজ্জ্বল আলো নিয়ে দেদীপ্যমান থাকে (১)

আর আল্লাহ সেই প্রবক্তার প্রতি রহম করুন যিনি বলেছেন:

রাসূলের ধর্ম ও তাঁর শরিয়ত হলো তাঁর সংবাদ (أخبار) … আর অর্জিত হওয়া সবচেয়ে মহান জ্ঞান হলো তাঁর আসার (آثار)

যে ব্যক্তি তা নিয়ে এবং সৃষ্টির মাঝে তার প্রচারে নিবেদিত থাকে … তার নাম ও কীর্তি কখনো মুছে যায় না

অতঃপর সুন্নাহর মর্যাদা পূর্বোক্ত সবকিছুর চেয়ে আরও বৃদ্ধি পায় এবং ফিতনা ও বিদআত (بدعة) ও নব উদ্ভাবিত বিষয়ের (محدثات) প্রাদুর্ভাবের সময় এর প্রতি উম্মাহর প্রয়োজনীয়তা পূর্বের চেয়ে আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

আর এই কারণেই যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের অসিয়ত করলেন এবং তাঁদেরকে এমন এক হৃদয়স্পর্শী নসিহত করলেন যাতে অন্তরসমূহ কেঁপে উঠল এবং চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হলো; তখন তিনি সেই অসিয়তে বলেছিলেন আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম:

--------------------------------------------

(১) খতিব বাগদাদী রচিত শারাফু আসহাবিল হাদিস (নম্বর ১৬৩)।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
(فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهدبين، تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة) (1) .

ويقول أحد أتباع التابعين، وهو يحيى بن يمان (ت 189هـ) : (ما كان طلب الحديث خيراً منه اليوم. قيل له: يا أبا عبد الله، إنهم يطلبونه وليس لهم نية؟ قال: طلبهم إياه نية) (2) .

فينبه هذا الإمام رحمه الله على ازدياد فضل طلب الحديث في زمانه، عن الأزمان التي سبقته؛ وهو من أتباع التابعين!! وفي القرون الفاضلة!! فكيف بزماننا!! وقد عمت الفتن، وكثرت، وتتابعت، واستحكمت الأهواء والبدع وطمت، واحلولكت ليالي الأمة.. وإلى الله الملتجأ وهو المستعان!

وأما قوله رحمه الله لمن قال له عن أهل الحديث: (إنهم يطلبونه وليس لهم نية، فقال: طلبهم إياه نية) ، فهو ينبه إلى فقه دقيق، إذ يجيب ذاك الذي اتهم طلبة الحديث بقلة الإخلاص في طلبهم، بأن مجرد طلبهم للحديث عمل فاضل يؤجرون عليه بإذن الله تعالى. لأن الأعمال الفاضلة، وخاصة التي يتعدى نفعها نفس العامل، إذا لم يكن الدافع للقيام بها نية سيئة، كالرياء والسمعة ومطامع الدنيا، فإن صاحبها مأجور بالعمل نفسه إذا كان الدافع للقيام به محبة العمل والتعلق به (وهو عند أهل الحديث شهوة الحديث ومحبته) ، مثاب وإن غفل العامل عن الإخلاص لله تعالى وابتغاء ثوابه!! وذلك لأن العمل ذاته فاضل مصلح، لا يخلو من أن ينتفع به غيره، وتتعدى فائدته إلى من سواه.

أو لعله يقصد أن طلب الحديث يوصل إلى حسن النية ويلجئ صاحبة إلى الإخلاص، كما كان يقول غير واحد من السلف: (طلبنا العلم لغير الله، فأبى أن يكون إلا لله) (3) .

وأي المعنيين قبلت - وكلاهما مقبول - فهو وجه آخر لشرف أهل الحديث!!

والنصوص في هذا المعنى كثيرة، أكتفي منها بما سبق.

--------------------------------------------

(1) حديث أخرجه أصحاب السنن، وصححه الترمذي وغيره. وهو من أصول الدين، ومن قواعد السنة.

(2) الجامع للخطيب (رقم779) .

(3) انظر الجامع الخطيب (رقم 780-782) ، والمدخل إلى السنن للبيهقي (رقم520 - 522) ، والموقظة للذهبي (65) .
(তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে। তোমরা তা শক্তভাবে ধারণ করবে এবং কষদাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকবে; কেননা প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা) (১)।

আতবাউত তাবিয়ীনের একজন, ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান (মৃত্যু ১৮৯ হি.) বলেন: (হাদিস অন্বেষণ আজকের দিনের চেয়ে উত্তম আর কখনো ছিল না। তাঁকে বলা হলো: হে আবু আব্দুল্লাহ, তারা তো হাদিস অন্বেষণ করছে অথচ তাদের তো কোনো (সঠিক) নিয়ত নেই? তিনি বললেন: তাদের এই অন্বেষণ করাই একটি নিয়ত) (২)।

এই ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সময়ে হাদিস অন্বেষণের মর্যাদা পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন; অথচ তিনি ছিলেন আতবাউত তাবিয়ীনের অন্তর্ভুক্ত এবং বরকতময় শতাব্দীগুলোর সময়ের লোক!! তাহলে আমাদের সময়ের অবস্থা কী হতে পারে!! যখন ফিতনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, বৃদ্ধি পেয়েছে, একের পর এক আসছে এবং প্রবৃত্তি ও বিদআত জেঁকে বসেছে ও ছড়িয়ে পড়েছে, আর উম্মাহর রাতগুলো ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে.. আল্লাহর কাছেই আশ্রয় এবং তিনিই সাহায্যকারী!

আর যারা আহলুল হাদিস সম্পর্কে তাকে বলেছিল: (তারা তো হাদিস অন্বেষণ করছে অথচ তাদের কোনো নিয়ত নেই, উত্তরে তাঁর এই উক্তি: তাদের এই অন্বেষণ করাই একটি নিয়ত), এটি এক সূক্ষ্ম জ্ঞানের (ফিকহ) দিকে ইঙ্গিত করে। তিনি সেই ব্যক্তির জবাব দিয়েছেন যে হাদিসের শিক্ষার্থীদের ইখলাসের অভাবের অভিযোগ করেছিল; তিনি বুঝিয়েছেন যে শুধু হাদিস অন্বেষণ করা নিজেই একটি ফজিলতপূর্ণ আমল যার জন্য তারা আল্লাহর ইচ্ছায় সওয়াব লাভ করবে। কারণ ফজিলতপূর্ণ আমলসমূহ, বিশেষ করে যেগুলোর উপকারিতা আমলকারীর গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যের কাছে পৌঁছায়, যদি তা করার পেছনে কোনো মন্দ উদ্দেশ্য না থাকে—যেমন রিয়া, সুমআ বা পার্থিব স্বার্থ—তবে আমলকারী সেই কাজের মাধ্যমেই সওয়াবপ্রাপ্ত হন যদি তা করার প্রেরণা হয় কাজটির প্রতি ভালোবাসা ও আসক্তি (যাকে আহলুল হাদিসের পরিভাষায় হাদিসের প্রতি প্রবল আকর্ষণ ও ভালোবাসা বলা হয়)। তিনি পুরস্কারপ্রাপ্ত হবেন যদিও আমলকারী আল্লাহর জন্য ইখলাস এবং সওয়াব অর্জনের লক্ষ্য থেকে গাফেল থাকে!! এর কারণ হলো আমলটি নিজেই ফজিলতপূর্ণ ও সংশোধনমূলক, যার দ্বারা অন্যরা উপকৃত হওয়া অনিবার্য এবং এর ফায়দা অন্যের কাছেও পৌঁছে যায়।

অথবা সম্ভবত তিনি বুঝিয়েছেন যে, হাদিস অন্বেষণ মানুষকে সুন্দর নিয়তের দিকে নিয়ে যায় এবং অন্বেষণকারীকে ইখলাসের প্রতি ধাবিত করে। যেমন একাধিক সালাফ বলতেন: (আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে ইলম অন্বেষণ করেছিলাম, কিন্তু ইলম আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য হতে অস্বীকৃতি জানাল) (৩)।

আপনি এই দুই অর্থের যে কোনোটি গ্রহণ করুন না কেন—আর উভয়টিই গ্রহণযোগ্য—তা আহলুল হাদিসের মর্যাদারই একটি অন্য দিক!!

এই অর্থে আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে, আমি উপরের বর্ণনাগুলোর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকছি।

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি ও অন্যরা একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। এটি দীনের অন্যতম মূলনীতি এবং সুন্নাহর ভিত্তিগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

(২) খতিব বাগদাদীর আল-জামে (৭৭৯ নম্বর)।

(৩) দ্রষ্টব্য: খতিব বাগদাদীর আল-জামে (৭৮০-৭৮২ নম্বর), বায়হাকির আল-মাদখাল ইলাস সুনান (৫২০-৫২২ নম্বর) এবং জাহাবীর আল-মুকিজাহ (৬৫)।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌أهم مميزات علم الحديث

وأوضح خصائصه

تقدم في (التمهيد) أن لكل علم خصائص، وأن للعلم بهذه الخصائص فائدتين، ذكرناهما هناك. ويهمنا هنا إحدى الفائدتين، وهي: أن العلم بخصائص علم ما يوقفنا على الأسلوب الصحيح في تحصيله، وعلى العوائق الحائلة دون بلوغ غايتنا منه، وعلى وسائل تجاوزها؛ لأن كل ميزة لذلك العلم ينبه إدراكها إلى سبيل احتوائها، في حين أن عدم إدراكها أكبر عقبة (أو يكاد يكون كذلك) دون فهم ذلك العلم والوصول إلى مرادنا منه.

وقد تنبهت إلى أربع خصائص لعلم الحديث، أحسبها أهم خصائصه، فأحببت لفت نظر طلاب العلم إليها، ليبتدئوا طلب علم الحديث بالأسلوب والمنهج الصحيح اللائق بهذا العلم، ولكي لا تتعثر خطاهم ويضيعوا أزماناً (لا تقدر بثمن) قبل إدراك ذلك المنهج الصحيح.

وإليك هذه المميزات الأربعة، تحت عناوين أربعة فيما يلي؛ متبعاً كل ميزة منها بالمنهج الذي تستلزمه في الطلب، وبأسلوب التحصيل الصحيح في مواجهتها، وما هي وسائل احتوائها دون أن تصبح عقبة كأداء في طريق علم الحديث.

الميزة الأولى:

من أهم مميزات علم الحديث أنه علم شديد المأخذ، صعب المرتقى، دقيق المسالك، بعيد الغور. ولذلك فليس من السهل فهمه، ولا من اليسير تعلمه، ولا يقدر على فقهه كل أحد، ولا يستطيعه كثير أناس.

ولهذا كان الإمام الزهري (ت124 هـ) يقول: (الحديث ذكر، يحبه ذكور الرجال، ويكرهه مؤنثوهم) (1) . ومعنى هذا أن الحديث يحتاج إلى عقل فحل في عزم

--------------------------------------------

(1) انظر: تأويل مختلف الحديث لابن قتيبة (64) ، والمحدث الفاصل للرامهرمزي (179 رقم 31 - 32) ، والمجروحين لابن حبان (1/62) ، والكامل لابن عدي (1/58 -59) ، والمدخل إلى الإكليل للحاكم (27) ، وحلية الأولياء لأبي نعيم (3/365) ، وشرف أصحاب الحديث للخطيب (رقم150، 151) ، ومسألة العلو والنزول لابن طاهر (رقم 9) ، وترجمة الزهري من تاريخ دمشق - الترجمة المطبوعة المفردة - (150)
‌‌হাদিস শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহ

এবং এর অতি স্পষ্ট বিশেষত্বসমূহ

‘ভূমিকা’ (التمهيد) অংশে অতিবাহিত হয়েছে যে, প্রতিটি শাস্ত্রেরই কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এই বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের দুটি উপকারিতা রয়েছে, যা আমরা সেখানে বর্ণনা করেছি। এখানে আমাদের নিকট সেই দুটির মধ্যে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, আর তা হলো: কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন আমাদেরকে সেই শাস্ত্র আয়ত্ত করার সঠিক পদ্ধতি এবং এর লক্ষ্য অর্জনের পথে অন্তরায়গুলো সম্পর্কে অবগত করে, সেই সাথে সেসব বাধা অতিক্রম করার উপায়সমূহও বাতলে দেয়। কেননা, শাস্ত্রের প্রতিটি বিশেষত্বের উপলব্ধি সেটি আয়ত্ত করার পথকে নির্দেশ করে; পক্ষান্তরে, এই উপলব্ধি না থাকা সেই শাস্ত্র অনুধাবন এবং তা থেকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক (বা প্রায় তেমনই) হয়ে দাঁড়ায়।

আমি হাদিস শাস্ত্রের চারটি বৈশিষ্ট্যের প্রতি লক্ষ্য করেছি, যেগুলোকে আমি এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বলে মনে করি। তাই আমি ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি এই বিষয়গুলোর দিকে আকর্ষণ করতে চেয়েছি, যাতে তারা হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন এমন সঠিক পদ্ধতি ও মানহাজ (منهج) এর মাধ্যমে শুরু করতে পারে যা এই শাস্ত্রের জন্য উপযুক্ত; এবং যাতে তারা হোঁচট না খায় এবং সঠিক মানহাজ (منهج) বুঝে ওঠার আগেই তাদের অমূল্য সময় (যা কোনো মূল্যে অপূরণীয়) নষ্ট না করে ফেলে।

নিচে আমি চারটি শিরোনামের অধীনে এই চারটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছি; প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের সাথে সেটি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় মানহাজ (منهج), সঠিক শিক্ষা পদ্ধতি এবং হাদিস শাস্ত্রের পথে কোনো দুর্গম বাধা না হয়ে ওঠার জন্য সেগুলো আয়ত্ত করার উপায়সমূহ বর্ণনা করছি।

প্রথম বৈশিষ্ট্য:

হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি অত্যন্ত গভীর ও সূক্ষ্ম উৎসবিশিষ্ট (شديد المأخذ), এর শিখরে আরোহণ করা কঠিন (صعب المرتقى), এর পথসমূহ অত্যন্ত সুনিপুণ এবং এর গভীরতা অনেক বেশি। এই কারণে এটি অনুধাবন করা যেমন সহজ নয়, তেমনি এটি শিক্ষা করাও সহজসাধ্য নয়। প্রত্যেকের পক্ষে এর সঠিক বোধ (فقه) অর্জন করা সম্ভব নয় এবং অনেকেই এর সামর্থ্য রাখে না।

এই কারণেই ইমাম জুহরি (মৃত্যু ১২৪ হিজরি) বলতেন: "হাদিস হলো এক পৌরুষদীপ্ত বিষয় (ذكر), যা কেবল পুরুষোচিত ব্যক্তিরাই ভালোবাসে এবং নারীসুলভ ব্যক্তিরা তা অপছন্দ করে।" (১) এর অর্থ হলো হাদিসের জন্য সংকল্পবদ্ধ প্রখর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা প্রয়োজন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কুতাইবার তাউয়িলু মুখতালিফিল হাদিস (৬৪), রামাহুরমুজির আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল (১৭৯ নং ৩১-৩২), ইবনে হিব্বানের আল-মাজরুহিন (১/৬২), ইবনে আদির আল-কামিল (১/৫৮-৫৯), হাকিমের আল-মাদখাল ইলাল ইকলিল (২৭), আবু নুয়াইমের হিলয়াতুল আউলিয়া (৩/৩৬৫), খতিবের শারাফু আসহাবিল হাদিস (নং ১৫০, ১৫১), ইবনে তাহিরের মাসআলাতুল উলুও ওয়াল নুজুল (নং ৯), এবং তারিখে দামেস্ক-এর জুহরির জীবনী - স্বতন্ত্র মুদ্রিত জীবনী - (১৫০)।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وحزمه وإصراره وقوته، ولا ينفع معه العقل الضعيف المتردد المتحير الملول؛ وهذا غير الذكاء وسرعة الفهم، فربما كان العقل ذكياً لكنه ليس ذكراً!!

ولذلك فقد قل من ينجب في علم الحديث ويتميز، يوم أن كان طالبو الحديث ألوفاً! ويوم كانت ألوفهم من الطراز الأول من طلبة العلم!!

يقول شعيب بن حرب (ت197 هـ) : (كنا نطلب الحديث أربعة آلاف، فما أنجب منا إلا أربعة) (1) .

ولما كثر من يطلب الحديث في زمن الأعمش، قيل له: (يا أبا محمد، ما ترى؟! ما أكثرهم!! قال: لا تنظروا إلى كثرتهم،، ثلثهم يموتون، وثلثهم يلحقون بالأعمال (يعنى الوظائف الحكومية) ، وثلثهم من كل مائة يفلح واحد) (2)

ولهذا العمق في علم الحديث نهى نقاد الحديث عن شرح كثر من علل الروايات إلا عند أهل الحديث، لما يخشى من شرح ذلك على غير أهل الحديث أن يكون سبباً في أن يفتتنوا أو يفتنوا!! من باب: (حدثوا الناس بما يعقلون، أتريدون أن يكذب الله ورسوله) (3) ، وباب: (إنك لست محدثاً قوماً بحديث لا تبلغه عقولهم، إلا كان لبعضهم فتنة) (4) !!

يقول الإمام أبو داود السجستاني (ت 275هـ) في (رسالته إلى أهل مكة) : (وربما أتوقف عن مثل هذه (يعني: إبراز العلل) ، لإنه ضرر على العامة لهم كل ما كان من هذا الباب فيما مضى من عيوب الحديث، لأن علم العامة يقصر عن ذلك (5) .

ويقول الخطيب البغدادي (ت 463هـ) : (أشبه الأشياء بعلم الحديث معرفة الصرف ونقد الدنانير والدراهم، فإنه لا تعرف جودة الدينار والدرهم بلون ولا مس، ولا طراوة ولا يبس، ولا نقش، ولا صفة تعود إلى صغر أو كبر، ولا إلى ضيق أو سعة؛ وإنما

--------------------------------------------

(1) الجامع للخطيب (رقم93) .

(2) الجامع للخطيب (رقم 96)

(3) أثر صحيح عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه: أخرجه البخاري (رقم 127) ، والبيهقي في المدخل إلى السنن (رقم 610) ، والخطيب في الجامع (رقم 1355) .

(4) أثر صحيح عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: أخرجه مسلم في مقدمة صحيحة (1/11) ، والبيهقي في المدخل إلى السنن (رقم 611) وابن عبد البر في جامع بيان العلم (رقم 888) ، والخطيب في الجامع (رقم 1358) .

(5) رسالة أبي داود إلى أهل مكة (31-32)
এবং তার দৃঢ়তা, সংকল্প ও শক্তি; এবং এর সাথে দুর্বল (ضعيف), দ্বিধাগ্রস্ত, বিভ্রান্ত ও ধৈর্যহীন মস্তিষ্ক কোনো কাজে আসে না। এটি মেধা ও দ্রুত অনুধাবন ক্ষমতা থেকে ভিন্ন; কেননা কখনও মস্তিষ্ক মেধাবী হতে পারে কিন্তু তা তীক্ষ্ণস্মৃতিসম্পন্ন (ذكراً) নয়!!

আর এ কারণেই হাদিসশাস্ত্রে সফল ও অনন্য প্রতিভার অধিকারী হওয়া মানুষের সংখ্যা খুবই সামান্য ছিল, যখন হাদিস অন্বেষণকারীদের সংখ্যা ছিল হাজারে হাজার! আর যখন তাদের সেই হাজার হাজার ছাত্র ছিল প্রথম সারির জ্ঞান অন্বেষণকারী!!

শুআইব বিন হারব (মৃ. ১৯৭ হি.) বলেন: (আমরা চার হাজার লোক হাদিস অন্বেষণ করতাম, অথচ আমাদের মধ্যে মাত্র চারজন সফল হতে পেরেছে) (১)।

যখন আমাশ-এর যুগে হাদিস অন্বেষণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তাকে বলা হলো: (হে আবু মুহাম্মদ, আপনি কী দেখছেন?! তাদের সংখ্যা কতই না বেশি!! তিনি বললেন: তাদের আধিক্যের দিকে তাকিও না, তাদের এক-তৃতীয়াংশ মারা যাবে, এক-তৃতীয়াংশ কর্মজীবনে (অর্থাৎ সরকারি চাকরিতে) যোগ দেবে, আর অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশের প্রতি একশ জনের মধ্যে মাত্র একজন সফল হবে) (২)।

হাদিসশাস্ত্রের এই গভীরতার কারণেই হাদিস বিশারদগণ (نقاد الحديث) বর্ণনার সূক্ষ্ম দোষ (علل) সম্পর্কে পারদর্শী ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্যদের নিকট বিস্তারিত আলোচনা করতে নিষেধ করেছেন। কারণ যারা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ নন, তাদের নিকট এর ব্যাখ্যা প্রদানের ফলে তারা বিভ্রান্তিতে পড়ার বা ফিতনার কারণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে!! এটি এই নীতির অন্তর্ভুক্ত: (মানুষের নিকট তাদের বোধগম্য বিষয়গুলোই বর্ণনা করো; তোমরা কি চাও যে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করুক) (৩), এবং এই মূলনীতি: (তুমি যদি কোনো সম্প্রদায়ের নিকট এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করো যা তাদের বুদ্ধির নাগালে পৌঁছায় না, তবে তা তাদের কারোর জন্য ফিতনার কারণ হবে) (৪)!!

ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি (মৃ. ২৭৫ হি.) তার (রিসালাতু ইলা আহলি মাক্কাহ)-তে বলেন: (কখনও কখনও আমি এই জাতীয় বিষয়গুলো (অর্থাৎ বর্ণনার সূক্ষ্ম দোষ প্রকাশ করা) থেকে বিরত থাকি; কারণ সাধারণ মানুষের জন্য হাদিসের ত্রুটি (عيوب) বিষয়ক আলোচনার এ জাতীয় সবকিছুই ক্ষতিকর। কেননা সাধারণ মানুষের জ্ঞান তা অনুধাবন করতে অক্ষম) (৫)।

খাতিব আল-বাগদাদি (মৃ. ৪৬৩ হি.) বলেন: (হাদিসশাস্ত্রের সাথে সর্বাধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় হলো মুদ্রা বিনিময় বা স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার মান যাচাই করা। কেননা দিনার ও দিরহামের গুণমান কেবল রঙ, স্পর্শ, কোমলতা বা কঠোরতা, খোদাই করা নকশা অথবা ছোট বা বড় হওয়া কিংবা প্রশস্ততা বা সংকীর্ণতার কোনো বৈশিষ্ট্য দ্বারা চেনা যায় না; বরং...

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-খাতিব (নং ৯৩)।

(২) আল-জামি লি-খাতিব (নং ৯৬)

(৩) এটি আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি বিশুদ্ধ (صحيح) আসার: যা বুখারি (নং ১২৭), বাইহাকি আল-মাদখাল ইলাস সুনান (নং ৬১০) এবং খাতিব আল-জামি (নং ১৩৫৫)-তে বর্ণনা করেছেন।

(৪) এটি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি বিশুদ্ধ (صحيح) আসার: যা মুসলিম তার সহিহ-এর মুকাদ্দিমায় (১/১১), বাইহাকি আল-মাদখাল ইলাস সুনান (নং ৬১১), ইবনে আবদিল বার জামিউ বায়ানি ইলমি (নং ৮৮৮) এবং খাতিব আল-জামি (নং ১৩৫৮)-তে বর্ণনা করেছেন।

(৫) রিসালাতু আবি দাউদ ইলা আহলি মাক্কাহ (৩১-৩২)
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
يعرفه الناقد عند المعاينة، فيعرف البهرج الزائف والخالص والمغشوش. وكذلك تمييز الحديث، فإنه علم يخلقه الله تعالى في القلوب، بعد طول الممارسة له، والاعتناء به) (1) .

وقلبهما يقول عبد الرحمن بن مهدي (ت 198هـ) : (معرفة الحديث إلهام) (2) ، ويقول أيضاً: (إنكارنا الحديث عند الجهال كهانة) (3) . ولما أنكر ابن مهدي حديثاً رواه رجل، غضب للرجل جماعة، وقالوا لابن مهدي: (من أين قلت هذا في صاحبنا؟!) فلم يبين لهم العلة الحديثية التي جعلته ينكر على ذلك الرجل، وإنما قال لهم: (أرأيت لو أن رجلاً أتى بدينار إلى صيرفي، فقال: انتقد لي هذا، فقال الصيرفي: هو بهرج، يقول له: من أين قلت لي إنه بهرج؟ (فأجاب ابن مهدي على لسان الصيرفي) : الزم عملي هذا عشرين سنة حتى تعلم منه ما أعلم) (4) .

ويؤكد أيضاً أحمد بن صالح المصري (ت 248هـ) أن علم الحديث لا يفهمه إلا أهله، عندما قال: (معرفة الحديث بمنزلة معرفة الذهب، إنما يبصره أهله) (5) .

وبذلك يقرر هؤلاء العلماء وغيرهم من أئمة السنة أن علم الحديث علم تخصصي، لا يفهمه إلا من وفقه الله تعالى إلى صرف الهمة كلها له، ووقف الجهد جميعه عليه، وقصر الحياة على تعلمه وتحصيله؛ وما ذلك إلا لأنه علم شديد العمق بعيد الغور، كما سبق.

ومع ذلك:

لا يؤيسنك من مجد تباعده … فإن للمجد تدريجاً وترتيباً

إن القناة التي شاهدت رفعتها … تسمو فتنبت أنبوباً فأنبوبا

وقال آخر

--------------------------------------------

(1) الجامع للخطيب (رقم 1835) .

(2) علل الحديث لابن أبي حاتم (1/9) ، ومعرفة علوم الحديث للحاكم (113) ، والجامع للخطيب (رقم 1837) .

(3) علل الحديث لابن أبي حاتم (1/9)

(4) الجامع للخطيب (رقم 1838) .

(5) الجامع للخطيب (رقم 1839)
একজন সমালোচক (الناقد) এটি পর্যবেক্ষণের সময় চিনতে পারেন; ফলে তিনি নকল কৃত্রিমতা (البهرج الزائف), খাঁটি (الخالص) এবং ভেজালযুক্ত (المغشوش) বিষয় শনাক্ত করতে পারেন। তেমনিভাবে হাদিসকে পৃথক করাও (تمييز الحديث) এমন একটি ইলম যা আল্লাহ তাআলা দীর্ঘ অনুশীলন ও বিশেষ যত্নের পর মানুষের অন্তরে সৃষ্টি করে দেন।

আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী (মৃত্যু ১৯৮ হিজরি) বলেন: (হাদিসের পরিচিতি হলো অন্তপ্রেরণা (إلهام))। তিনি আরও বলেন: (মূর্খদের নিকট আমাদের হাদিস প্রত্যাখ্যান (إنكارنا الحديث) করা হলো গণকগিরির মতো)। যখন ইবনে মাহদী এক ব্যক্তির বর্ণিত একটি হাদিস প্রত্যাখ্যান (أنكر) করলেন, তখন একদল লোক সেই ব্যক্তির পক্ষ নিয়ে রাগান্বিত হলো এবং ইবনে মাহদীকে বলল: (আপনি আমাদের সাথীর ব্যাপারে এই কথা কেন বলছেন?!) তিনি তাদের কাছে সেই হাদিসগত ত্রুটি (العلة الحديثية) বর্ণনা করেননি যা তাকে ওই ব্যক্তির হাদিস প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য করেছিল; বরং তিনি তাদের বললেন: (মনে করুন, এক ব্যক্তি মুদ্রা পরীক্ষকের (صيرفي) কাছে একটি দিনার নিয়ে এসে বলল: এটি যাচাই করে দিন। পরীক্ষক বলল: এটি নকল (بهرج)। তখন লোকটি তাকে বলল: আপনি কিসের ভিত্তিতে আমাকে বললেন যে এটি নকল (بهرج)? (তখন ইবনে মাহদী মুদ্রা পরীক্ষকের জবানীতে উত্তর দিলেন): ২০ বছর আমার এই কাজ করতে থাকো, তবেই তুমি তা বুঝতে পারবে যা আমি জানি)।

আহমাদ ইবনে সালিহ আল-মিসরি (মৃত্যু ২৪৮ হিজরি) এ কথার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন যে, হাদিস শাস্ত্র কেবল এর বিশেষজ্ঞরাই বোঝেন, যখন তিনি বলেন: (হাদিসের পরিচিতি হলো স্বর্ণ চেনার মতো, কেবল এর বিশেষজ্ঞরাই তা দেখতে পান)।

এভাবেই এই আলেমগণ এবং সুন্নাহর অন্যান্য ইমামগণ সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, হাদিস শাস্ত্র একটি বিশেষায়িত বিজ্ঞান (علم تخصصي); এটি কেবল তারাই বোঝেন যাদেরকে আল্লাহ তাআলা এর জন্য পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার তৌফিক দিয়েছেন, যারা এর পেছনে তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং এর শিক্ষা ও অর্জনে জীবন উৎসর্গ করেছেন। এটি কেবল একারণেই যে, এই ইলম অত্যন্ত গভীর এবং সূক্ষ্ম, যা আগে আলোচনা করা হয়েছে।

তদুপরি:

মর্যাদার দূরত্ব যেন তোমাকে হতাশ না করে … কেননা মর্যাদার জন্য রয়েছে পর্যায়ক্রম ও বিন্যাস

যে বর্শার উচ্চতা তুমি প্রত্যক্ষ করেছ … তা ক্রমেই বেড়ে ওঠে এবং একটির পর একটি পর্ব উৎপন্ন হয়

অন্য একজন কবি বলেছেন

--------------------------------------------

(১) খতিব বাগদাদীর আল-জামি (নম্বর ১৮৩৫)।

(২) ইবনে আবি হাতিমের ইলালুল হাদিস (১/৯), আল-হাকিমের মারিফাতু উলুমিল হাদিস (১১৩) এবং খতিব বাগদাদীর আল-জামি (নম্বর ১৮৩৭)।

(৩) ইবনে আবি হাতিমের ইলালুল হাদিস (১/৯)

(৪) খতিব বাগদাদীর আল-জামি (নম্বর ১৮৩৮)।

(৫) খতিব বাগদাদীর আল-জামি (নম্বর ১৮৩৯)
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
اصبر على مضض الإدلاج بالسحر … وبالرواح على الحاجات والبكر

لا تعجزن ولا يضجرك مطلبها … فالنجح يتلف بين العجز والضجر

إني رأيت - وفي الأيام تجربة - … للصبر عاقبة محمودة الأثر

وقل من جد في أمر يطالبه … واستصحب الصبر إلا فاز بالظفر

ومن رحمة الله تعالى ولطفه بعباده أن قرن بصعوبة علم الحديث وشدته لذة وشهوة ومتعة عارمة، تملك فؤاد طالبه، وتجعله ينسى الدنيا بما فيها، وتتركه بين رياض السنة جذلان هيمان. إنها (شهوة الحديث) ، تلك الشهوة التي صنعت المستحيلات، وتضاءلت أمامها كل العقبات. ولولا هذه الشهوة لمات علم الحديث قبل أن يولد، ولتفتت همم الرجال على سفوح جباله، ولساحت العزائم العظام في صحاريه، ولغرقت عقول العباقرة في لجج بحاره. لقد بلغت هذه الشهوة الحديثية إلى درجة أن خاف بعض الأئمة على أنفسهم من أن تتجاوز بهم إلى طرف مذموم من الغلو في التعمق، إلى درجة التقصير في حقوق الخالق أو المخلوقين أو حق النفس، حيث إنها شهوة تفوق وله العاشقين (وهي أطهر) ، وقد فعلت بأصحابها من عجائب الأفاعيل، ما قيدته حقائق التاريخ؛ فلئن هام العاشقون على وجوههم في الصحاري، فلقد كانت الصحارى بعض ما قطعه المحدثون في طلب الحديث، ولئن تعرض الولهون لغيرة أهل المحبوبة من أجل نظرة عابرة منها، فلقد ركب المحدثون الأهوال وعاشوا مع الأخطار من أجل كتابة حديث بإسناد عال كانوا قد كتبوه نازلاً، ولئن تغرب المدنفون وراء مرابع الأحباب، فلقد هجر المحدثون الأهل والأولاد والأوطان إلى غير رجعة، ولئن كان (مجنون ليلى) وأضرابه بالعشرات، فإن أهل الحديث بعشرات الألوف!!

إنها شهوة الحديث: التي حفظ الله تعالى بها الدين، وحمى بها السنة!!
শেষ রাতের সফরের কষ্ট ধৈর্যের (صبر) সাথে সহ্য করো … এবং সকাল-সন্ধ্যায় প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকো।

তুমি অক্ষম হয়ো না এবং উদ্দেশ্য লাভের পথ তোমাকে যেন বিরক্ত না করে … কারণ অক্ষমতা ও বিরক্তির ভিড়ে সফলতা নষ্ট হয়ে যায়।

আমি দেখেছি—আর সময়ের আবর্তনে অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে— … যে ধৈর্য ধারণের (صبر) পরিণাম অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

খুব অল্পই এমন হয়েছে যে, কেউ নিজ লক্ষ্যপানে প্রচেষ্টায় ব্রতী হয়েছে … এবং ধৈর্যকে (صبر) সঙ্গী বানিয়েছে, অথচ সে বিজয় লাভ করতে পারেনি।

আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত এবং বান্দাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের একটি দিক হলো যে, তিনি হাদিস শাস্ত্রের (علم الحديث) কাঠিন্য ও জটিলতার সাথে এমন এক তীব্র স্বাদ, আকর্ষণ ও প্রবল আনন্দ যুক্ত করে দিয়েছেন, যা জ্ঞানান্বেষীর হৃদয় জয় করে নেয়, তাকে জাগতিক সব কিছু ভুলিয়ে দেয় এবং সুন্নাহর কাননে তাকে আনন্দিত ও আত্মহারা করে রাখে। এটি হলো হাদিসের প্রতি অনুরাগ (شهوة الحديث); এমন এক অনুরাগ যা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে এবং যার সামনে সকল বাধা তুচ্ছ হয়ে গিয়েছে। যদি এই অনুরাগ না থাকতো, তবে হাদিস শাস্ত্র (علم الحديث) জন্মের পূর্বেই বিলুপ্ত হয়ে যেত, এর সুউচ্চ পর্বতমালায় পুরুষদের সংকল্প চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেত, এর মরুভূমিতে মহৎ হিম্মতসমূহ হারিয়ে যেত এবং এর গভীর সমুদ্রতলে প্রতিভাধরদের বুদ্ধি ডুবে যেত। হাদিসের এই অনুরাগ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, কোনো কোনো ইমাম (إمام) নিজেদের ব্যাপারে ভয় পেতেন যে, এটি তাদের গভীর নিমগ্নতার ক্ষেত্রে কোনো নিন্দনীয় বাড়াবাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না—যা স্রষ্টা, সৃষ্টি বা নিজের হকের ক্ষেত্রে ত্রুটির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ এটি এমন এক অনুরাগ যা সাধারণ প্রেমিকদের উন্মাদনাকেও ছাড়িয়ে যায় (এবং এটি অধিক পবিত্র); এটি তার অনুসারীদের জীবনে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটিয়েছে যা ইতিহাসের বাস্তব সত্য দ্বারা প্রমাণিত। সাধারণ প্রেমিকরা যদি বিরহে মরুভূমিতে দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ায়, তবে হাদিস অন্বেষণে মুহাদ্দিসগণ (محدث) তার চেয়েও দুর্গম মরুভূমি পাড়ি দিয়েছেন। প্রেমিকরা যদি প্রিয়ার এক পলক দর্শনের জন্য ঈর্ষার শিকার হয়, তবে মুহাদ্দিসগণ (محدث) একটি হাদিসকে উচ্চ সনদ (إسناد عال) সহকারে অর্জনের জন্য ভয়াবহ সব বিপদের মুখোমুখি হয়েছেন এবং ঝুঁকির সাথে বসবাস করেছেন, অথচ সেই হাদিসটিই হয়তো তাদের কাছে অপেক্ষাকৃত নিম্ন সনদ (نازل) সহকারে পূর্বে থেকেই সংরক্ষিত ছিল। বিরহকাতর প্রেমিকরা যদি প্রিয়জনের বসতভিটার টানে ঘরছাড়া হয়, তবে মুহাদ্দিসগণ (محدث) পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি ও স্বদেশ ত্যাগ করে এমনভাবে হিজরত করেছেন যে আর কখনো ফিরে আসেননি। যদি 'লায়লা-মজনু' ও তার সমগোত্রীয়দের সংখ্যা গুটি কয়েক হয়, তবে হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) সংখ্যা দশ দশ হাজার!!

এটিই হলো হাদিসের প্রতি অনুরাগ (شهوة الحديث): যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন এবং সুন্নাহকে সুরক্ষা দিয়েছেন!!
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
يقول سفيان الثوري (ت 161هـ) : (فتنة الحديث أشد من فتنة الذهب والفضة) (1) .

فأنعم بهذه الفتنة التي يحتقر معها الدينار والدرهم!!!

ولصعوبة علم الحديث قل أهله العارفون به كما سبق!

يقول الإمام البخاري (ت 256هـ) : (أفضل المسلمين رجل أحيى سنة من سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أميتت؛ فاصبروا يا أصحاب السنن (رحمكم الله) ، فإنكم أقل الناس) .

فقال الخطيب عقبه: (قول البخاري: إن أصحاب السنن أقل الناس عنى به الحفاظ للحديث، العالمين بطرقه، المميزين لصحيحه من سقيمه، وقد صدق رحمه الله في قوله؛ لأنك إذا اعتبرت لم تجد بلداً من بلدان الإسلام يخلو من فقيه أو متفقه يرجع أهل مصره إليه، ويعولون فتاواهم عليه، وتجد الأمصار الكثيرة خالية من صاحب حديث عارف به، مجتهد فيه، وما ذاك إلا لصعوبة علمه وعزته، وقلة من ينجب فيه من سامعيه وكتبته. وقد كان العلم في وقت البخاري غضاً طرياً، والارتسام به محبوباً شهياً، والدواعي إليه أكبر، والرغبة فيه أكثر، وقال هذا القول الذي حكيناه عنه!!! فكيف نقول في هذا الزمان؟!! مع عدم الطالب، وقلة الراغب!! وكأن الشاعر وصف قلة المتخصصين من أهل زماننا في قوله:

وقد كنا نعدهم قليلاً … فقد صاروا أقل من القليل (1)

وأقول: رحم الله الخطيب! فقد قامت المناحة على أهل الحديث من قرون!!! وما عادوا قليلاً ولا أقل من القليل، بل هم عدم من دهور، تكاد - والله - آثارهم تنمحي، وأخبارهم تنسى: (والله غالب على أمره ولكن أكثر الناس لا يعلمون) [يوسف: 21] .

لكننا ننتزع من كلمة الخطيب السابقة الروح التي قد تبعث موتى أهل الحديث، وتنشرهم من القبور؛ إنه التخصص الدقيق العميق في علم الحديث. إذ إن صعوبة علم

--------------------------------------------

(1) شرف أصحاب الحديث للخطيب (رقم 277) .

(2) الجامع للخطيب (1/168 رقم 91) .
সুফিয়ান আস-সাওরী (মৃ. ১৬১ হিজরী) বলেন: (হাদিসের ফিতনা সোনা ও রুপার ফিতনা অপেক্ষা কঠিনতর) (১) .

কতই না মহিমান্বিত এই ফিতনা, যার সামনে দিনার ও দিরহাম তুচ্ছ বলে গণ্য হয়!!!

আর হাদিস শাস্ত্রের কাঠিন্যের কারণে এ বিষয়ে প্রাজ্ঞজনদের সংখ্যা কমে গিয়েছে, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে!

ইমাম বুখারি (মৃ. ২৫৬ হিজরী) বলেন: (সর্বোত্তম মুসলিম সেই ব্যক্তি, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো একটি মৃতপ্রায় সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করে; অতএব হে সুন্নাহর অনুসারীগণ (আল্লাহ আপনাদের ওপর দয়া করুন), আপনারা ধৈর্য ধারণ করুন, কেননা আপনারা মানুষের মধ্যে সংখ্যায় অতি অল্প) .

আল-খতিব এর পরিপ্রেক্ষিতে বলেন: (বুখারির উক্তি: ‘নিশ্চয়ই সুন্নাহর অনুসারীগণ সংখ্যায় অতি অল্প’—এর দ্বারা তিনি হাদিসের হাফেজগণকে (الحفاظ) বুঝিয়েছেন, যারা হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق) সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং এর বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসকে ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) হাদিস থেকে পৃথক করতে সক্ষম। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর বক্তব্যে সত্যই বলেছেন; কারণ আপনি যদি বিবেচনা করেন তবে মুসলিম দেশগুলোর এমন কোনো জনপদ পাবেন না যেখানে কোনো ফকিহ (فقيه) বা জ্ঞানান্বেষী নেই যার কাছে সেই অঞ্চলের মানুষ প্রত্যাবর্তন করে এবং তাদের ফতোয়ার জন্য তাঁর ওপর নির্ভর করে। অথচ আপনি অনেক জনপদ পাবেন যা হাদিস বিশারদ (صاحب حديث) শূন্য, যারা এই শাস্ত্রে পারদর্শী এবং গবেষণায় (مجتهد) সক্ষম। আর এটি কেবল এই শাস্ত্রের কাঠিন্য ও দুর্লভতার কারণেই, এবং এর শ্রবণকারী ও সংকলনকারীদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই এতে বুৎপত্তি লাভ করতে পারে। ইমাম বুখারির যুগে ইলম ছিল সজীব ও প্রাণবন্ত, এর চর্চা ছিল অত্যন্ত প্রিয় ও কাঙ্ক্ষিত, এর প্রতি আকর্ষণ ছিল প্রবল এবং আগ্রহ ছিল অধিক; সেই সময়েই তিনি এই কথাটি বলেছিলেন যা আমরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছি!!! তাহলে এই যুগে আমরা কী বলব?!! যখন ইলম অন্বেষণকারীর অভাব এবং আগ্রহীর সংখ্যাও অতি নগণ্য!! যেন কবি আমাদের যুগের বিশেষজ্ঞদের স্বল্পতার বর্ণনায় এই পঙ্‌ক্তিটিই বলেছিলেন:

আমরা তাঁদের সংখ্যায় অল্পই মনে করতাম … এখন তাঁরা অল্প থেকেও অল্প হয়ে গেছেন (১)

আমি বলব: আল্লাহ খতিব আল-বাগদাদির ওপর রহমত বর্ষণ করুন! কয়েক শতাব্দী ধরে তো হাদিস বিশেষজ্ঞদের ওপর শোকগাথা শুরু হয়েছে!!! তাঁরা এখন কেবল অল্প বা অল্প থেকেও অল্প নন, বরং তাঁরা যুগ যুগ ধরে প্রায় অস্তিত্বহীন। আল্লাহর শপথ, তাঁদের নিদর্শনসমূহ যেন মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং তাঁদের সংবাদসমূহ বিস্মৃত হওয়ার পথে: (আল্লাহ তাঁর কাজে বিজয়ী, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না) [ইউসুফ: ২১] .

তবে আমরা খতিব আল-বাগদাদির পূর্বোক্ত কথা থেকে সেই প্রাণশক্তি গ্রহণ করি যা মৃতপ্রায় হাদিস বিশারদদের পুনর্জীবিত করতে পারে এবং তাঁদের কবর থেকে পুনরুত্থিত করতে পারে; আর তা হলো হাদিস শাস্ত্রে সূক্ষ্ম ও গভীর বিশেষায়ন। যেহেতু হাদিস শাস্ত্রের কাঠিন্য

--------------------------------------------

(১) খতিব আল-বাগদাদির শারাফু আসহাবিল হাদিস (নং ২৭৭) .

(২) খতিব আল-বাগদাদির আল-জামি (১/১৬৮ নং ৯১) .
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الحديث وشدة مأخذه، لا يواجهها إلا التخصص، ولا يجاوزنا عقبتها إلا جمع الهمة كلها في تحصيله والتفرغ الكامل له.

وقبل الحديث عن حاجة علم الحديث إلى التخصص فيه، وأنه علم يستعصي على من قرن به غيره، ولا يقبل له عند طالبه ضرة، كالليل والنهار والدنيا والآخرة؛ قبل ذلك أتكلم عن أهمية التخصص في جميع العلوم، وبيان أن التخصص منهج ضروري لا حياة ولا بقاء للعلوم إلا به.

وقد نبه العلماء قديماً على أهمية التخصص في العلوم، فقال الخليل ابن أحمد الفراهيدي (ت 170هـ) : (إذا أردت أن تكون عالماً فاقصد لفن من العلم، وإذا أردت أن تكون أديباً فخذ من كل شيء أحسنه) (1) .

وقال أبو عبيد القاسم بن سلام (ت 224هـ) : (ما ناظرني رجل قط وكان مفنناً في العلوم إلا غلبته، ولا ناظرني رجل ذو فن واحد إلا غلبني في علمه ذلك) (2) .

إن هذه العبارات وأمثالها من الأئمة الدالة على فضل المتخصص في علم واحد على الجامع لأطراف العلوم (أو على رأي الخليل بن أحمد: الدالة على فضل العالم على الأديب المتفنن) ، جاءت لتؤكد أن كل علم من العلوم بحر من البحور، لا يعرفه ويصل إلى كنوزه وخفاياه إلا من غاص أعماقه، وقصر حياته على الغوص فيه. أما من اكتفى بالسباحة على ظهر كل بحر من بحور العلم، فإنه إنما عرف ظواهر تلك البحور، وما عرف من كنوزها شيئاً.

وأخص بالذكر أهل عصرنا، فإن العلوم قد ازدادت تشعباً، وعظم كل علم عما كان، بمؤلفات أهله فيه على امتداد العصور السابقة، وبزيادة اختلافهم وأدلة كل صاحب قول منهم؛ ومع ذلك فقد ضعفت الهمم، ونقصت القدرات عما علمناه من أئمتنا السالفين؛ وذلك بين واضح لمن عرف سيرهم وأخبارهم ووازن بينهما وبين حالنا؛ أولئك كانوا بما تعلموا وعلموا وألفوا وجاهدوا وأمروا بالمعروف ونهوا عن المنكر كأن أعمارهم ليست بين الستين والسبعين وإنما بين مائة وستين ومائة وسبعين!! بل والله

--------------------------------------------

(1) جامع بيان العلم لابن عبد البر (رقم 850)

(2) جامع بيان العلم لابن عبد البر (رقم 852) .
হাদিস এবং এর সূক্ষ্ম পদ্ধতিগত কঠোরতা—এর মোকাবিলা কেবল বিশেষায়ন (تخصص) দ্বারাই সম্ভব। এর দুর্গম পথ অতিক্রম করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না কেউ এটি অর্জনে পূর্ণ সংকল্প এবং সম্পূর্ণ আত্মনিয়োগ করে।

হাদিস বিজ্ঞানে বিশেষায়নের (تخصص) প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনার পূর্বে—যা এমন এক জ্ঞান যা অন্য কোনো বিষয়কে সাথে মেলালে আয়ত্ত করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে এবং যা এর অন্বেষণকারীর নিকট সতীন গ্রহণ করে না, যেমন দিন ও রাত অথবা দুনিয়া ও আখিরাত; তার আগে আমি সকল বিজ্ঞানে বিশেষায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করব এবং এটি স্পষ্ট করব যে বিশেষায়ন (تخصص) এমন এক অপরিহার্য পদ্ধতি, যা ছাড়া জ্ঞানের কোনো জীবন বা স্থায়িত্ব নেই।

প্রাচীনকালেই ওলামায়ে কেরাম জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিশেষায়নের গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। খলিল ইবনে আহমদ আল-ফারাহিদি (মৃত্যু ১৭০ হিজরি) বলেছেন: (তুমি যদি আলেম হতে চাও তবে জ্ঞানের কোনো একটি শাখার প্রতি মনোনিবেশ করো, আর যদি তুমি সাহিত্যিক হতে চাও তবে প্রতিটি বিষয় থেকে যা শ্রেষ্ঠ তা গ্রহণ করো) (১)।

আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সাল্লাম (মৃত্যু ২২৪ হিজরি) বলেছেন: (আমার সাথে যখনই কোনো বহুবিদ্যায় পারদর্শী ব্যক্তি বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে আমি তাকে পরাজিত করেছি, কিন্তু যখনই কোনো একটি নির্দিষ্ট বিদ্যায় পারদর্শী ব্যক্তি আমার সাথে বিতর্ক করেছে সে আমাকে সেই বিদ্যায় পরাজিত করেছে) (২)।

ইমামগণের এই সকল বাণী, যা বহু বিদ্যার সংগ্রাহকের তুলনায় কোনো একটি সুনির্দিষ্ট বিদ্যায় বিশেষত্ব অর্জনকারীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে (অথবা খলিল ইবনে আহমদের মতে: বহু শাস্ত্রে পারদর্শী সাহিত্যিকের ওপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব নির্দেশ করে), তা এটিই নিশ্চিত করতে এসেছে যে জ্ঞানের প্রতিটি শাখা একেকটি মহাসাগর। এর রহস্য ও গুপ্তধনের নাগাল কেবল তারাই পায় যারা এর গভীরে ডুব দেয় এবং এতে নিমজ্জিত থাকার জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে। আর যে ব্যক্তি জ্ঞানের প্রতিটি সাগরের উপরিভাগে সাঁতার কেটেই সন্তুষ্ট থাকে, সে কেবল সেই সাগরের উপরিভাগই জেনেছে, এর গুপ্তধনের কিছুই সে জানতে পারেনি।

আমি বিশেষভাবে আমাদের যুগের মানুষের কথা উল্লেখ করছি, কারণ বর্তমান সময়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখা-প্রশাখা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত যুগগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পণ্ডিতদের রচনাবলি, মতভেদের আধিক্য এবং প্রতিটি মতের পক্ষে উপস্থাপিত দলিলের কারণে প্রতিটি শাস্ত্র এখন পূর্বের তুলনায় বিশাল আকার ধারণ করেছে; তা সত্ত্বেও মানুষের সংকল্প দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পূর্বসূরি ইমামগণের তুলনায় সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। যারা তাঁদের জীবনী ও ঘটনাবলি জানেন এবং আমাদের বর্তমান অবস্থার সাথে তা তুলনা করেন, তাদের কাছে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট; তাঁরা যা শিখেছেন, শিখিয়েছেন, রচনা করেছেন, জিহাদ করেছেন এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করেছেন, তাতে মনে হয় যেন তাঁদের বয়স ষাট থেকে সত্তর বছরের মধ্যে ছিল না, বরং ছিল একশ ষাট থেকে একশ সত্তর বছরের মধ্যে!! বরং আল্লাহর কসম—

--------------------------------------------

(১) জামি বয়ানিল ইলম, ইবনে আবদিল বার (নং ৮৫০)

(২) জামি বয়ানিল ইলম, ইবনে আবদিল বার (নং ৮৫২) ।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أكثر!!! أولئك كانت حياتهم كرامة، ووجهدهم معجزة خارقة للعادات!!! فأين نحن من أن نحوي علومهم؟! وأنى لنا أن نستوعب علم ما خلفوه لنا؟! ومع ذلك فقد تكلم هؤلاء أنفسهم عن فضل التخصص في العلم، فما أجهلنا إن حسبنا أننا بغير التخصص سنفهم علماً من العلوم!!!

ولقد سبرت بعض أحوال المتعلمين، فوجدت أكثرهم علماً وإنصافاً وتواضعاً، وأدقهم نظراً وفهماً، وأحسنهم تأليفاً وإبداعاً: هم أصحاب التخصصات. في حين وجدت أقلهم علماً وإنصافاً، وأكثرهم كبراً وتعالياً وتعالماً، وأبعدهم عن الفهم والتدقيق وعن الإبداع والإحسان في التأليف: المتفننين أصحاب العلوم، أو سمهم بالمثقفين؛ إلا من رحم ربك.

ومن فضل صاحب التخصص الفضل الظاهر، الذي يقرني عليه المنصف، أن صاحب التخصص لا يثرب على المتفنن، بل يراه أكثر أهلية منه في أمور كإلقاء المحاضرات والدعوة ومواجهة العامة، ويعتبره بذلك على ثغرة من ثغرات الإسلام، ويرى أن الأمة في حاجة إلى أمثاله. وأما أصحاب الفنون، فعلى الضد من ذلك، فهم أكثر الناس تثريباً وعيباً على المتخصصين، ولا يرون لهم فضلاً عليهم ولا في العلم الذي تخصصوا فيه، وينازعونهم مسائلة (وهم بها جهلاء) ، ويشنعون عليهم لعدم معرفتهم ببعض ما لم يتخصصوا فيه.

ولك بعد هذا أن تحكم، أي الفريقين أدخل الله في قوله تعالى (إن الله يحب المقسطين) (1) .

ولله ما يلاقيه أصحاب التخصصات من إخوانهم المتفننين!! من عدم فهم الأخيرين لتخصصاتهم، مع كلامهم فيها ومنازعتهم أهلها، بل قد يصل الأمر إلى استغلال أصحاب الفنون علاقتهم بالعامة والغوغاء، وانبهار هؤلاء بهم، فيتطاولون على أصحاب التخصصات وعلى علومهم، بما لا يؤلم العالم شيء مثله، وهو الكلام بجهل، وتشويه العلوم.

--------------------------------------------

(1) المائدة (42) ، والحجرات (9) ، والممتحنة (8)
আরও কত বেশি!!! তাঁদের জীবন ছিল এক অলৌকিক সম্মান (كرامة), আর তাঁদের প্রচেষ্টা ছিল জাগতিক অভ্যাসের অতীত এক বিস্ময়কর মুজিযা!!! জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাঁদের সমকক্ষ হওয়া তো দূরের কথা, আমরা কোথায় আর তাঁরা কোথায়?! তাঁরা আমাদের জন্য যে জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন, তা অনুধাবন করার সাধ্যই বা আমাদের কোথায়?! তা সত্ত্বেও, তাঁরা স্বয়ং ইলমের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হওয়ার (التخصص) ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। সুতরাং আমরা যদি মনে করি যে বিশেষজ্ঞ হওয়া (التخصص) ছাড়াই আমরা কোনো একটি শাস্ত্র বুঝতে পারব, তবে আমাদের চেয়ে মূর্খ আর কেউ নেই!!!

আমি শিক্ষার্থীদের কিছু অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ (سبرت) করেছি। আমি দেখেছি যে, যারা সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, ন্যায়পরায়ণ (إنصافاً) ও বিনয়ী এবং যাদের দৃষ্টি ও উপলব্ধি সবচেয়ে সূক্ষ্ম এবং যাদের রচনা ও সৃজনশীলতা সবচেয়ে চমৎকার: তাঁরা হলেন বিশেষজ্ঞগণ (أصحاب التخصصات)। অন্যদিকে আমি দেখেছি যে, যাদের ইলম ও ইনসাফ সবচেয়ে কম, যাদের অহংকার ও দম্ভ সবচেয়ে বেশি এবং যারা জ্ঞান জাহির করতে ভালোবাসে, আর যারা সঠিক অনুধাবন, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা এবং উৎকৃষ্ট রচনাশৈলী থেকে সবচেয়ে দূরে: তারা হলো বহুমুখী বিদ্যায় বিচরণকারী (المتفننين) বা তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ; তবে আপনার প্রতিপালক যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ব্যতীত।

বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির এক প্রকাশ্য মর্যাদা রয়েছে—যা একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিও স্বীকার করবেন—তা হলো এই যে, বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি কোনো বহুমুখী জ্ঞানপিপাসুকে (المتفنن) তিরস্কার করেন না। বরং তিনি তাকে বক্তৃতা প্রদান, দাওয়াত এবং জনসাধারণের মুখোমুখি হওয়ার মতো বিষয়গুলোতে নিজের চেয়ে বেশি যোগ্য মনে করেন। এর মাধ্যমে তিনি তাকে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রহরী-ঘাটিতে (ثغرة) নিয়োজিত মনে করেন এবং বিশ্বাস করেন যে উম্মাহর তার মতো লোকের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু বিবিধ শাস্ত্রের অধিকারীদের (أصحاب الفنون) অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বেশি সমালোচনা ও দোষারোপ করে। তারা বিশেষজ্ঞদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে না, এমনকি তারা যে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ (تخصصوا) হয়েছেন সেই শাস্ত্রেও নয়। তারা তাদের সাথে এমন সব বিষয়ে বিতর্ক করে যাতে তারা নিজেরা অজ্ঞ (جهلاء), এবং বিশেষজ্ঞরা অন্য যেসব বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান রাখেন না সেই বিষয়গুলো না জানার কারণে তারা তাদের হেয় প্রতিপন্ন করে।

এখন আপনিই বিচার করুন, আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে কোন দলটিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের (المقسطين) ভালোবাসেন।” (১)

বিশেষজ্ঞদের জন্য আল্লাহরই সাহায্য প্রার্থনা করি সেই পরিস্থিতির কারণে, যার সম্মুখীন তাঁরা তাঁদের বহুমুখী বিদ্যায় বিচরণকারী ভাইদের পক্ষ থেকে হন!! কারণ এই ভাইদের বিশেষজ্ঞের শাস্ত্র সম্পর্কে কোনো সম্যক ধারণা নেই, অথচ তাঁরা সেই বিষয়েই কথা বলেন এবং এর বিশেষজ্ঞদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হন। বরং বিষয়টি কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, এই বিবিধ শাস্ত্রের অধিকারীরা সাধারণ মানুষ ও জনরোষের সাথে তাদের সুসম্পর্ক এবং তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের মোহকে কাজে লাগান। ফলে তাঁরা বিশেষজ্ঞ এবং তাঁদের অর্জিত ইলমের ওপর এমনভাবে চড়াও হন, যা একজন আলেমের জন্য অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক; আর তা হলো অজ্ঞতা নিয়ে কথা বলা এবং ইলমকে বিকৃত করা।

--------------------------------------------

(১) আল-মায়িদাহ (৪২), আল-হুজুরাত (৯), এবং আল-মুমতাহিনাহ (৮)
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ومن فضل صاحب التخصص إذا وفقه الله تعالى، أنه من أكثر الناس لقالة (لا أدري) ، إذا سئل عن غير تخصصه. ولهذه القالة بركة لا يعرفها إلا قليل، فهي باب التواضع الكبير، وباب للعلم أكبر. وأما صاحب الفنون، فهو عن (لا أدري) أبعد؛ لأنه يضرب في كل علم بسهم، وبكثير جوابه على أسئلة العامة وأنصاف المتعلمين، التي هي - في الغالب - سؤالات عن الواضحات وعن ظواهر العلوم؛ فينسى مع طول المدة (لا أدري) ، ولا يعتاد لسانه عليها، ولا تنقهر نفسه لها؛ لذلك فهو عن بركاتها ليس بقريب!!

ثم إن للعلم دقائق لا يعرف المتفننون عنها شيئاً، أما المتخصصون فقد خبروها، وقادتهم إلى دقائق الدقائق. فهم فقهاء العلوم حقاً، وأطباء الفنون صدقاً.

يقول الحسن بن محمد بن الصباح الزعفراني تلميذ الشافعي (ت 260هـ) : (سمعت الشافعي يقول: من تعلم علماً فليدقق، لكيلا يضيع دقيق العلم) (1) .

كذا نصائح الأئمة، نور على نور!!

وأما الشافعي فقد كان آمناً من ضياع جليل العلم وعظمه، خائفاً من ضياع دقيقة. أما نحن الآن فنقول: (من تعلم علماً فليدقق، لكيلا يضيع جليل العلم) ؛ فدققوا يا بني إخوتي ما شئتم من التدقيق، فنحن مع تدقيقكم هذا لعلى جليل العلم وجلون!!!

وهنا أنبه على أن مطالبتنا بالتخصص لا يعني أن نطالب بذلك على حساب فروض الأعيان من العلوم، كتصحيح العقيدة وعلم التوحيد الجملي، وما يحتاج إليه من فقه العبادات، وما شابهها من الفروض العينية من العلوم؛ فهذا ما لا يجوز على مسلم جهله، فضلاً عن طالب العلم؛ بل نحن نطالب طالب العلم بما فوق ذلك، وهو أن لا يكون جاهلاً بنفع كل علم نافع (ولا أقول أن يكون عالماً بكل علم نافع، فهذا ضد ما أحث عليه) ؛ لأن الجهل بنفع علم ذي علم فائدة دنيوية أو أخروية يدعو إلى معاداة ذلك العلم، على قاعدة: من جهل شيئاً عاداه؛ ويقبح بطالب العلم أن يعادي علماً نافعاً، مهما قل نفعه في رأيه، فإنه لا ينقص على أن يكون فرضاً كفائياً.

--------------------------------------------

(1) الأنساب المتفقة لابن طاهر المقدسي (3) .
বিশেষায়ন (التخصص) অর্জনের একটি ফযিলত হলো—যদি মহান আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে এর তাওফিক দান করেন—তবে তিনি স্বীয় বিষয়ের বাইরে কোনো জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হলে সর্বাধিক ‘আমি জানি না’ (لا أدري) বাক্যটি উচ্চারণ করেন। এই বাণীর এমন এক বরকত রয়েছে যা খুব অল্প সংখ্যক মানুষই অনুধাবন করতে পারে; এটি যেমন বিনয়ের এক বিশাল দ্বার, তেমনি জ্ঞানের এক মহত্তর পথ। পক্ষান্তরে, যিনি নানা বিষয়ে ভাসা-ভাসা জ্ঞান রাখেন (صاحب الفنون), তিনি ‘আমি জানি না’ (لا أدري) বলা থেকে অনেক দূরে থাকেন। কারণ তিনি প্রতিটি জ্ঞানশাখার সামান্য অংশ স্পর্শ করেন এবং সাধারণ মানুষ ও স্বল্পশিক্ষিতদের প্রশ্নের উত্তর দিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন, যা সাধারণত কেবল সুস্পষ্ট বিষয় ও বাহ্যিক জ্ঞান সংক্রান্ত হয়ে থাকে। দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি ‘আমি জানি না’ (لا أدري) বলতে ভুলে যান, তার জিহ্বা এতে অভ্যস্ত থাকে না এবং তার নফসও এর কাছে নতি স্বীকার করে না। ফলে তিনি এর বরকত থেকে মোটেও নিকটবর্তী থাকেন না!!

তদুপরি, জ্ঞানের এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয় (دقائق) রয়েছে যা বহুবিদ্যায় পারদর্শীরা জানেন না; কিন্তু বিশেষজ্ঞগণ তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তা তাদের সূক্ষ্মাতিলসূক্ষ্ম তত্ত্বের দিকে নিয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে তারাই হলো জ্ঞানের প্রকৃত ফকিহ (فقهاء) এবং বিদ্যার সার্থক চিকিৎসক।

ইমাম শাফেয়ির ছাত্র হাসান বিন মুহাম্মদ বিন সাবাহ আজ-জাফরানি (মৃত্যু: ২৬০ হিজরি) বলেন: "আমি ইমাম শাফেয়িকে বলতে শুনেছি— যে ব্যক্তি কোনো ইলম অর্জন করে, সে যেন তাতে সূক্ষ্মতা (التدقيق) বজায় রাখে, যাতে জ্ঞানের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ হারিয়ে না যায়।" (১)

ইমামদের নসিহত এমনই হয়, নূরের ওপর নূর!!

ইমাম শাফেয়ি জ্ঞানের বৃহৎ ও মহান অংশগুলো হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কে নিশ্চিন্ত ছিলেন, কিন্তু তিনি সূক্ষ্ম বিষয়গুলো হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলেন। অথচ বর্তমানে আমাদের বলতে হয়: "যে ব্যক্তি কোনো ইলম অর্জন করে, সে যেন তাতে গভীর মনোনিবেশ করে যাতে ইলমের মৌলিক বা বৃহৎ অংশটিই (جليل العلم) হারিয়ে না যায়।" হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্রগণ! তোমরা যতটুকু ইচ্ছা সূক্ষ্ম গবেষণা (التدقيق) করো, তবে তোমাদের সেই সূক্ষ্ম গবেষণার ভিড়ে আমরা যেন ইলমের মৌলিক বিষয়গুলো থেকেই বিচ্যুত না হই!!!

এখানে আমি সতর্ক করছি যে, বিশেষায়ন (التخصص) অর্জনের আমাদের এই দাবি যেন মৌলিক ব্যক্তিগত আবশ্যকতা (فرض العين) হিসেবে গণ্য ইলমসমূহের বিনিময়ে না হয়— যেমন আকিদাহ (عقيدة) সংশোধন, তাওহিদ (توحيد)-এর সামগ্রিক জ্ঞান এবং ইবাদতের ফিকহ যা একজন মুমিনের দৈনন্দিন প্রয়োজনে লাগে। এ জাতীয় ইলম সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয়, জ্ঞান অন্বেষণকারীর (طالب العلم) কথা তো বলাই বাহুল্য। বরং আমরা জ্ঞান অন্বেষণকারীর (طالب العلم) কাছে এর চেয়েও বেশি কিছু প্রত্যাশা করি। তা হলো, সে যেন প্রতিটি উপকারী জ্ঞানের উপকারিতা সম্পর্কে অজ্ঞ না থাকে (আমি বলছি না যে তাকে সকল উপকারী জ্ঞানে পণ্ডিত হতে হবে, কারণ এটি হবে আমার মূল আহ্বানের পরিপন্থী)। কেননা কোনো উপকারী ইলম সম্পর্কে অজ্ঞতা সেই ইলমের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী: মানুষ যা জানে না, তার শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। একজন জ্ঞান অন্বেষণকারীর (طالب العلم) জন্য অত্যন্ত শোভনহীন বিষয় হলো কোনো উপকারী ইলমের বিরোধিতা করা, তার দৃষ্টিতে সেই ইলমের উপকারিতা যত সামান্যই হোক না কেন। কারণ সেই ইলমটি কমপক্ষে একটি যৌথ আবশ্যকতা (فرض كفاية) হওয়ার মর্যাদা তো অবশ্যই রাখে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাহির আল-মাকদিসি রচিত আল-আনসাবুল মুত্তাফিকাহ (৩)।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وما أجمل وصية خالد بن يحيى بن برمك (ت 165هـ) لابنه، عندما قال له: (يا بني، خذ من كل علم بحظ، فإنك إن لم تفعل جهلت، وإن جهلت شيئاً من العلم عاديته، وعزيز علي أن تعادي شيئاً من العلم) (1) .

وأخص من العلوم مما يقبح بطالب العلم جهله العلوم الإسلامية جميعاً، كعلم الفقه وأصوله والتفسير وأصوله والعقيدة وعلوم الآلة من نحو وصرف وبلاغة وأدب، مما ينبغي على طالب علم الحديث المتخصص أن يحصل شيئاً منها. وضابط تحصيله لهذه العلوم (حتى لا يناقض ذلك مطالبتي له بالتخصص) أن يجعل مقصوده من طلبه لهذه العلوم تكميل استفادته لتخصصه وعميق فهمه له؛ حيث إن العلوم الإسلامية بينها ترابط كبير، لا يمكن من أراد التخصص في علم منها أن يكون جاهلاً تمام الجهل بما سواه. بل ربما قادته مسألة دقيقة في علم الحديث (مثلاً) إلى التدقيق في مسألة من مسائل أصول الفقه أو غيره، حتى يخرج بنتيجة في مسألته الحديثية. وليس ذلك بغريب على من عرف العلوم الإسلامية، وقوة ما بينها من أواصر القربى العلمية.

ولأزيد الأمر إيضاحاً أقول: كيف يتسنى لطالب الحديث أن يعرف الصواب في إحدى مشاهير مسائله؟ وهي مسألة الرواية عن أهل البدع وحكمها، إذا لم يكن عارفاً بالسنة والبدعة، وبصنوف البدع وأقسام المبتدعة، وبالغالي منهم ومن بدعته غليظة ومن يكفر ببدعته ممن هو بخلاف ذلك؛ وهذا كله باب من أبواب العقيدة عظيم.

وكيف يمكن لطالب الحديث أن يميز بين الروايات المختلفة، مثل زيادات الثقات: مقبولها ومردودها، والشاذة منها والمنكرة، والناسخة والمنسوخة، والراجحة والمرجوحة، إذا لم يكن عنده أصول الفقه والقدرة على الاستنباط والفهم للنصوص ما يتيح له الحكم في ذلك كله؟!

المهم أن يأخذ من العلوم التي لم يتخصص فيها، بقدر ما يخدم العلم الذي تخصص فيه، ولا يزيد على ذلك، وإلا لم يصبح متخصصاً، وإنما يكون متفنناً.

وطريقة تحصيله لتلك العلوم التي لا ينوي التخصص في واحد منها، مما لا يخرجه عن حد التخصص إلى حد التفنن، هي أن يدرس مختصراً من مختصرات تلك العلوم، تمكنه

--------------------------------------------

(1) جامع بيان العلم لابن عبد البر (رقم 853) .
খালিদ বিন ইয়াহইয়া বিন বারমাক (ওফাত ১৬৫ হিজরি) তাঁর পুত্রের প্রতি যে অসিয়ত করেছেন তা কতই না চমৎকার! তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "হে বৎস, প্রত্যেক ইলম বা জ্ঞান থেকে একটি অংশ গ্রহণ করো। কেননা তুমি যদি তা না করো, তবে তুমি অজ্ঞ থেকে যাবে। আর যদি তুমি কোনো ইলম সম্পর্কে অজ্ঞ থাকো, তবে তুমি তার শত্রু হয়ে পড়বে। আর তুমি কোনো ইলমের শত্রু হও—এটি আমার কাছে অত্যন্ত পীড়াদায়ক।" (১)

বিশেষভাবে সেসব ইলমের কথা বলছি যা একজন তালিবে ইলমের (জ্ঞান অন্বেষী) জন্য না জানাটা কদর্য বিষয়; আর তা হলো সমস্ত ইসলামি উলুম (জ্ঞান-শাখা)। যেমন: ফিকহ ও উসূলে ফিকহ, তাফসির ও উসূলে তাফসির, আকিদাহ এবং সহযোগী জ্ঞানসমূহ (উলুমুল আলা) যেমন নাহু, সরফ, বালাগাত ও আদব। হাদিস শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ হতে আগ্রহী একজন শিক্ষার্থীর জন্য এসব বিষয়ের কিঞ্চিৎ অর্জন করা আবশ্যক। এসব শাস্ত্র অর্জনের মূলনীতি হলো (যাতে এটি আমার বিশেষায়নের দাবির পরিপন্থী না হয়) এই ইলমগুলো শেখার ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য হবে নিজের বিশেষায়িত বিষয়ের উপকারিতাকে পূর্ণতা দান করা এবং সে বিষয়ে গভীর বুঝ অর্জন করা। কেননা ইসলামি জ্ঞান-শাখাগুলোর মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে। তাই কেউ যদি কোনো একটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে চায়, তবে তার পক্ষে অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞ থাকা সম্ভব নয়। বরং অনেক সময় হাদিস শাস্ত্রের কোনো সূক্ষ্ম মাসআলা তাকে উসূলে ফিকহ বা অন্য কোনো শাস্ত্রের কোনো মাসআলায় চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে বাধ্য করে, যাতে সে তার হাদিস বিষয়ক মাসআলাটিতে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। যারা ইসলামি ইলমসমূহ এবং এদের মধ্যকার ইলমি আত্মীয়তার সুদৃঢ় বন্ধন সম্পর্কে অবগত, তাদের কাছে বিষয়টি মোটেও বিস্ময়কর নয়।

বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য আমি বলব: একজন হাদিসের শিক্ষার্থীর পক্ষে এর কোনো একটি প্রসিদ্ধ মাসআলায় সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কীভাবে সম্ভব? যেমন: বিদআতিদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ (الرواية عن أهل البدع) এবং এর বিধানের মাসআলাটি; যদি সে সুন্নাহ ও বিদআত, বিদআতের বিভিন্ন প্রকার ও বিদআতিদের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে এবং তাদের মধ্যে কারা চরমপন্থী, কার বিদআত গুরুতর আর কার বিদআতের কারণে তাকে কাফির বলা হয় এবং কে তার ব্যতিক্রম—এইসব বিষয়ে অবগত না হয়? আর এসবই তো আকিদাহ শাস্ত্রের এক বিশাল অধ্যায়।

এছাড়া একজন হাদিসের শিক্ষার্থীর পক্ষে বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করা কীভাবে সম্ভব? যেমন: নির্ভরযোগ্য রাবিদের অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادات الثقات): এর মধ্যে কোনটি গ্রহণযোগ্য (مقبول) আর কোনটি বর্জনীয় (مردود), কোনটি শায বা বিরল (شاذة) আর কোনটি মুনকার বা অগ্রহণযোগ্য (منكرة), কোনটি রহিতকারী (ناسخة) আর কোনটি রহিত (منسوخة), কোনটি অগ্রগণ্য (راجحة) আর কোনটি অনগ্রগণ্য (مرجوحة)—যদি তার উসূলে ফিকহ এবং নস বা মূলপাঠ থেকে মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) ও অনুধাবনের সক্ষমতা না থাকে, যা তাকে এসব বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করার সুযোগ করে দেবে?!

মূল কথা হলো, সে যে বিষয়গুলোতে বিশেষজ্ঞ নয়, সেগুলো থেকে ততটুকুই গ্রহণ করবে যতটুকু তার বিশেষায়িত বিষয়ের জন্য সহায়ক হয়। এর অতিরিক্ত করবে না। অন্যথায় সে আর বিশেষজ্ঞ (متخصص) থাকবে না, বরং বহুবিদ্যায় পারদর্শী (متفنن) হয়ে পড়বে।

আর যেসব ইলম অর্জনের পদ্ধতি—যাতে সে বিশেষজ্ঞ হওয়ার সীমা অতিক্রম করে সাধারণ পারদর্শিতার পর্যায়ে চলে না যায়—হলো সেই ইলমগুলোর কোনো একটি সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থ (مختصر) অধ্যয়ন করা, যা তাকে সক্ষম করে তুলবে...

--------------------------------------------

(১) জামেউ বয়ানিল ইলম, ইবনুল বার (হাদিস নং ৮৫৩)।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
من مراجعة مطولات تلك الفنون، فيما إذ أحوجه علمه الذي تخصص فيه إلى ذلك، كما سبق التمثيل له. وعليه أيضاً أن لا يقطع صلته بعلماء تلك العلوم المتخصصين فيها، وأن يصوب فهمه من علومهم عليهم، وأن لا يستبد بشيء من علمهم دون الرجوع إليهم.

وأما التخصص في علم الحديث، فقد سبق أنه من أحوج العلوم إلى التخصص فيه، لشدة عمقه وسعة بحور وامتداد آفاقه. مع ذلك فعندي في مشروعية التخصص فيه (ولو على حساب الفقه!) سنة ثابتة وحديث صحيح مشهور! وهو قول النبي صلى الله عليه وسلم: (نضر الله امرأً سمع منا مقالة فحفظها، فأداها كما سمعها، فرب حامل فقه لا فقه له، ورب حامل فقه إلى من هو أفقه منه) (1) .

و (نضر) بتخفيف الضاد وتشديدها: من النضارة، وهي الحسن والرونق والبهاء. فالنبي صلى الله عليه وسلم يدعو لراوي الحديث بالحسن والبهاء مطلقاً، في الدنيا والآخرة. وقيل إن المعنى: أبلغه الله تعالى نضارة الجنة.

وراوي الحديث الذي دعا له النبي صلى الله عليه وسلم بالنضارة: هو رواية باللفظ، ولو كان لا يفهم كل معاني الحديث (ورب حامل فقه إلى من هو أفقه منه) ولو كان لا فهم له في الحديث أبداً (رب حامل فقه لا فقه له) !!

وهذا يدل على مشروعية رواية الحديث دون فقه، بل يدل على استحباب ذلك؛ ويدل على أن رواي الحديث دون علمه بفقهه محمود غير مذموم، وأنه مستحق بفعله هذا دعوة النبي صلى الله عليه وسلم له.

وقد تعقب الرامهرمزي (ت 360هـ) هذا الحديث في كتابه (المحدث الفاصل بين الراوي والواعي) بقوله: (ففرق النبي صلى الله عليه وسلم بين ناقل السنة وواعيها، ودل على فضل الواعي بقوله: (فرب حامل فقه إلى من هو أفقه منه، ورب حامل فقه غير فقه) . وبوجوب الفضل لأحدهما يثبت الفضل للآخر (2) ؛ ومثال ذلك أن تمثل بين مالك

--------------------------------------------

(1) حديث صحيح مشهور، أخرجه أصحاب السنن، وصححه ابن حبان والحاكم وغيرهما. وروي من حديث نحو ثلاثين صحابياً. ولأبي عمرو أحمد بن محمد بن إبراهيم بن حكيم المديني (ت333هـ) جزء حديثي عنون به. وللشيخ عبد المحسن العباد (دراسة حديث (نضر الله أمرأ سمع مقالتي) رواية ودراية) .

(2) ما أحسن قوله: (وبوجوب الفضل لأحدهما يثبت الفضل للآخر) ! فإنك إن ذكرت فضل الفقيه، قلنا لك: وهل تفقه الفقيه إلا بما رواه له المحدث وميز له صحيحه من سقيمه؟! وإن ذكرت فضل المحدث، قلنا لك: وهل يكون للرواية فائدة إلا بفقهها للعمل بما فيها؟!
সেই সমস্ত শাস্ত্রের বিস্তারিত গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করা, যখন তাঁর বিশেষায়িত জ্ঞানের প্রয়োজনে এর দরকার হয়, যেমনটি ইতিপূর্বে উদাহরণসহ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও তাঁর উচিত ঐ সকল শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ আলিমদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করা, বরং তাঁদের মাধ্যমে সেই শাস্ত্রসমূহের বিষয়ে নিজের বুঝকে সঠিক করে নেওয়া এবং তাঁদের নিকট প্রত্যাবর্তিত হওয়া ব্যতীত সেই শাস্ত্রীয় বিষয়ে কোনো একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা।

আর হাদিস শাস্ত্রে বিশেষায়ন (তখাসসুস) অর্জনের বিষয়টি ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, এটি এমন একটি শাস্ত্র যাতে বিশেষায়ন অর্জন করা সর্বাধিক জরুরি; এর গভীরতা, এর জ্ঞানসমুদ্রের বিশালতা এবং এর দিগন্তের বিস্তৃতির কারণে। তা সত্ত্বেও, এতে বিশেষায়ন অর্জনের বৈধতার বিষয়ে (এমনকি তা ফিকহ শাস্ত্রের বিনিময়ে হলেও!) আমার নিকট একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ এবং একটি বিশুদ্ধ (صحيح) প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস রয়েছে! তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও সতেজ রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো কথা শুনল, অতঃপর তা সংরক্ষণ করল এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিল। কেননা অনেক ফিকহ (তথা হাদিসের প্রজ্ঞা) বহনকারী রয়েছে যার নিজস্ব কোনো সমঝ বা প্রজ্ঞা নেই, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও অধিক প্রজ্ঞাবান।" (১)

আর ‘নাদারা’ (نضر) শব্দটি ‘দাদ’ বর্ণে তাশদিদসহ বা তাশদিদহীন উভয়ভাবেই পড়া যায়; এটি ‘নাদারাহ’ থেকে আগত, যার অর্থ সৌন্দর্য, উজ্জ্বলতা ও লাবণ্য। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস বর্ণনাকারীর জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সাধারণভাবে শ্রী ও উজ্জ্বলতার দোয়া করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের সজীবতায় সিক্ত করুন।

আর যে হাদিস বর্ণনাকারীর জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সজীবতার দোয়া করেছেন, তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি শব্দে শব্দে বর্ণনা (رواية باللفظ) করেন, যদিও তিনি হাদিসের সকল অর্থ না বোঝেন— যেমনটি বলা হয়েছে: "অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও অধিক প্রজ্ঞাবান"; এমনকি যদি হাদিসের বিষয়ে তাঁর কোনো প্রকার বুঝ বা প্রজ্ঞা না-ও থাকে— যেমনটি বলা হয়েছে: "অনেক ফিকহ বহনকারী রয়েছে যার নিজস্ব কোনো সমঝ নেই"!!

এটি ফিকহ বা গভীর প্রজ্ঞা ব্যতীত হাদিস বর্ণনার বৈধতার প্রমাণ দেয়, বরং এটি এর মুস্তাহাব হওয়ার প্রতিও ইঙ্গিত করে। এটি আরও প্রমাণ করে যে, হাদিসের ফিকহ বা অন্তর্নিহিত জ্ঞান না জেনেও কেবল হাদিস বর্ণনাকারী ব্যক্তি প্রশংসিত, নিন্দিত নন; এবং তিনি তাঁর এই কর্মের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়ার হকদার।

ইমাম রামাহুরমুজি (মৃ. ৩৬০ হি.) তাঁর ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবি ওয়াল ওয়ায়ি’ কিতাবে এই হাদিসের ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহর বাহক এবং এর সংরক্ষণকারীর (গভীর অনুধাবনকারী) মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি তাঁর নিম্নোক্ত বাণীর মাধ্যমে সংরক্ষণকারীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন: ‘অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও অধিক প্রজ্ঞাবান, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে প্রজ্ঞাবান নয়।’ আর তাঁদের একজনের শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হওয়ার মাধ্যমে অন্যজনেরও শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হয় (২); এর উদাহরণ হলো যেমন আপনি ইমাম মালিকের সামনে উপস্থাপন করলেন..."

--------------------------------------------

(১) এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস। সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান, হাকিম ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন। হাদিসটি প্রায় ত্রিশজন সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে। আবু আমর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে হাকিম আল-মাদিনি (মৃ. ৩৩৩ হি.) এই হাদিসের শিরোনামে একটি পৃথক ‘জুয’ (হাদিস সংকলন) রচনা করেছেন। শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদও এই হাদিসটি নিয়ে একটি গবেষণাগ্রন্থ ‘দিরাসাতু হাদিসি নাদ্দারাল্লাহু আমরাআন সামিয়া মাক্বলাতি রিওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান’ রচনা করেছেন।

(২) তাঁর এই উক্তিটি কতই না চমৎকার: "তাঁদের একজনের শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হওয়ার মাধ্যমে অন্যজনেরও শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হয়"! কেননা আপনি যদি ফকিহর (আইনজ্ঞ) শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করেন, তবে আমরা আপনাকে বলব: একজন ফকিহ কি প্রজ্ঞা অর্জন করতে পারতেন যদি না মুহাদ্দিস তাঁর কাছে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং তাঁর জন্য দুর্বল (سقيم) থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসকে পৃথক করে দিতেন? আবার আপনি যদি মুহাদ্দিসের শ্রেষ্ঠত্ব উল্লেখ করেন, তবে আমরা আপনাকে বলব: হাদিস বর্ণনার ফায়দাই বা কী যদি না তাতে আমল করার জন্য এর প্রজ্ঞা বা ফিকহ অর্জন করা হয়?
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
بن أنس وعبيد الله العمري، وبين الشافعي وعبد الرحمن بن مهدي، وبين أبي ثور وابن أبي شيبة (1) ، فإن الحق يقودك إلى أن تقضي لكل واحد منهم بالفضل.

وهذا طريق الإنصاف لمن سلكه، وعلم الحق لمن أمه ولم يتعده) (2) .

ورحم الله السلف! فقد كانوا أسبق إلى كل خير وعلم وإنصاف؛ ولهذا لما روى مطر بن طهمان الوراق (ت 125هـ فيما يقال) حديثاً، وسئل عن معناه، قال: (لا أدري، إنما أنا زاملة) ، فقال له السائل - وكان عاقلاً منصفاً - (جزاك الله خيراً، فإن عليك من كل: حلو وحامض) (3) .

وانظر إلى إجلال السلف لرواة الحديث، في العبارة التالية: يقول محمد بن المنكدر (ت 130هـ) : (ما كنا ندعو الراوية إلا رواية الشعر، وما كنا نقول للذي يروي أحاديث الحكمة إلا: عالم) (4) .

ومما سبق إليه السلف من العلم والخير والحق، التنبيه إلى أن علم الحديث علم لا يقبل الشركة ولا توزيع الهمة على غيره معه.

يقول الربيع بن سليمان المرادي (ت 270هـ) تلميذ الشافعي: (مر الشافعي بيوسف بن عمرو بن يزيد (وكان من كبار فقهاء المالكية: (ت 250هـ) ، وهو يذكر شيئاً من الحديث، فقال: يا يوسف، تريد أن تحفظ الحديث وتحفظ الفقه؟!! هيهات!!! " (5) .

وقد قدم الخطيب هذه الكلام من الشافعي، وهو يصف الذي يبرع في علم الحديث بقوله: "أن يعاني علم الحديث دونما سواه لأنه علم لا يعلق إلا بمن وقف نفسه عليه، ولم يضم غيره من العلوم إليه" (6) .

ثم أخرج الخطيب عقب ذلك العبارتين التاليتين:

--------------------------------------------

(1) هذه الأمثلة الثلاثة، ذكر في كل واحد منها قرينين، الأول منهما إمام في الفقه والثاني =إمام في الحديث؛ فمن ينتقص أحد الإمامين؟!! أمن يستطيع ذلك؟!!!

(2) المحدث الفاصل للرامهرمزي (169 - 170) .

(3) جامع بيان العلم لابن عبد البر (رقم 1944) ، والجامع لأخلاق الراوي للخطيب (رقم 1371) .

(4) جامع بيان العلم لابن عبد البر (رقم 1533) .

(5) الجامع للخطيب (2/251 رقم 1569) .

(6) الجامع للخطيب (رقم 1569) .
...বিন আনাস এবং উবাইদুল্লাহ আল-উমারী, এবং শাফিঈ ও আব্দুর রহমান বিন মাহদী, এবং আবু সাওর ও ইবনে আবু শায়বাহ (১) এর মাঝে; কেননা সত্য আপনাকে এই সিদ্ধান্তের দিকেই নিয়ে যাবে যে, আপনি তাদের প্রত্যেকের শ্রেষ্ঠত্বের ফয়সালা করবেন।

যারা ন্যায়নিষ্ঠার পথে চলেন এটি তাদের পথ, আর যারা সত্যকে অন্বেষণ করেন এবং তা লঙ্ঘন করেন না এটি তাদের জন্য সত্যের জ্ঞান (২)।

আল্লাহ তাআলা সালাফগণের প্রতি রহম করুন! তাঁরা প্রতিটি কল্যাণ, জ্ঞান ও ন্যায়পরায়ণতার দিকে সবার অগ্রগামী ছিলেন। এই কারণেই, যখন মাতার বিন তাহমান আল-ওয়াররাক (মৃত্যু ১২৫ হিজরী, জনশ্রুতি অনুযায়ী) একটি হাদিস বর্ণনা করলেন এবং তাকে এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেন: "আমি জানি না, আমি তো কেবল একজন বাহক (زاملة) মাত্র।" তখন প্রশ্নকারী—যিনি ছিলেন বুদ্ধিমান ও ন্যায়নিষ্ঠ—তাকে বললেন: "আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন, কেননা আপনার কাছে তো মিষ্টি ও টক (সব প্রকারেরই জ্ঞান) রয়েছে" (৩)।

নিম্নোক্ত উক্তিটিতে হাদিস বর্ণনাকারীদের (رواة الحديث) প্রতি সালাফগণের সম্মান প্রদর্শন লক্ষ্য করুন: মুহাম্মাদ বিন আল-মুনকাদির (মৃত্যু ১৩০ হিজরী) বলেন: "আমরা কবিতা বর্ণনাকারী (راوية) ছাড়া অন্য কাউকে বর্ণনাকারী (راوية) বলে সম্বোধন করতাম না; আর যিনি হিকমতের হাদিস বর্ণনা করতেন, তাকে আমরা আলেম (عالم) ছাড়া অন্য কিছু বলতাম না" (৪)।

সালাফগণ জ্ঞান, কল্যাণ ও সত্যের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোতে অগ্রগামী ছিলেন, তার মধ্যে একটি হলো এই সতর্কতা প্রদান করা যে, হাদিস শাস্ত্র এমন এক বিদ্যা যা অংশীদারিত্ব গ্রহণ করে না এবং এর সাথে অন্য বিষয়ের পেছনে মনোযোগ ভাগ করে দেওয়া পছন্দ করে না।

ইমাম শাফিঈর ছাত্র রাবী বিন সুলাইমান আল-মুরাদী (মৃত্যু ২৭০ হিজরী) বলেন: "শাফিঈ ইউসুফ বিন আমর বিন ইয়াযীদের (যিনি মালেকী মাযহাবের বড় ফকিহদের (فقهاء) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন: মৃত্যু ২৫০ হিজরী) পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যখন তিনি হাদিস থেকে কিছু বর্ণনা করছিলেন। তখন তিনি (শাফিঈ) বললেন: 'হে ইউসুফ! তুমি হাদিসও মুখস্থ করতে চাও আবার ফিকহও মুখস্থ করতে চাও?!! অসম্ভব!!!'" (৫)।

খতিব আল-বাগদাদী ইমাম শাফিঈর এই উক্তিটি উপস্থাপন করেছেন এমন ব্যক্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে, যিনি হাদিস শাস্ত্রে পারদর্শী হতে চান; তিনি বলেছেন: "সে অন্য কিছু বাদ দিয়ে কেবল হাদিস শাস্ত্র নিয়েই সাধনা করবে, কারণ এই জ্ঞান কেবল সেই ব্যক্তির সাথেই লেপ্টে থাকে যে নিজেকে এর জন্য উৎসর্গ করে দেয় এবং এর সাথে অন্য কোনো জ্ঞানকে যুক্ত করে না" (৬)।

তারপর খতিব আল-বাগদাদী এর পরপরই নিম্নোক্ত দুটি উক্তি উল্লেখ করেছেন:

--------------------------------------------

(১) এই তিনটি উদাহরণের প্রতিটিতে এক জোড়া সমসাময়িক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের প্রথমজন ফিকহ শাস্ত্রের ইমাম (إمام) এবং দ্বিতীয়জন হাদিস শাস্ত্রের ইমাম (إمام); এমতাবস্থায় কে এই দুই ইমামের কোনো একজনকে খাটো করবে?!! কার সেই সাধ্য আছে?!!!

(২) রামাহুরমুযী রচিত আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল (১৬৯ - ১৭০)।

(৩) ইবনে আব্দুল বার রচিত জামিউ বায়ানিল ইলম (হাদিস নং ১৯৪৪), এবং খতিব আল-বাগদাদী রচিত আল-জামিউ লি-আখলাকির রাবী (হাদিস নং ১৩৭১)।

(৪) ইবনে আব্দুল বার রচিত জামিউ বায়ানিল ইলম (হাদিস নং ১৫৩৩)।

(৫) খতিব আল-বাগদাদী রচিত আল-জামিউ (২/২৫১ হাদিস নং ১৫৬৯)।

(৬) খতিব আল-বাগদাদী রচিত আল-জামিউ (হাদিস নং ১৫৬৯)।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
يقول أبو يوسف القاضي (ت182هـ) : "العلم شيء لا يعطيك بعضه حتى تعطيه كلك وأنت إذا أعطيته كلك من إعطائه البعض على غرر" (1) .

ويقول أبو أحمد نصر بن أحمد العياضي الفقيه السمرقندي: "لا ينال هذا العلم إلا من عطل دكانه، وخرب بستانه، وهجر إخوانه، ومات أقرب أهله إليه فلم يشهد جنازته" (2) .فإن كانت هاتان العبارتان حقاً في العلوم جميعها، فهي في علم الحديث أولى أن تقال وأحق. وهذا هو ما قصده الخطيب، عندما ساقها في ذلك السياق.

وللتخصص في كل العلوم معناه، وفي علم الحديث له معناه الخاص به؛ فهو تخصص لا يقبل الانقطاع إلى غيره، مهما طال زمن التفرغ في تحصيله، ومهما ظن طالبه أنه تملا منه وتضلع. لأنه خبرة دقيقة وحاسة لطيفة، لا تدوم إلا مع بقاء الالتصاق بالعلم. وسرعان ما تفسد تلك الخبرة، وتتعطل تلك الحاسة، إذا انقطع الطالب عن العلم فترة يسيرة.

يقول في بيان ذلك عبد الرحمن بن مهدي (ت 198هـ) : "إنما مثل صاحب الحديث بمنزلة السمسار، إذا غاب عن السوق خمسة أيام تغير بصرة (3) .

وبلسان أهل عصرنا: إنما مثل صاحب الحديث بمنزلة تاجر العملات، لا يستطيع أن يستفيد ويربح، إلا إذا كان متابعاً لأسواق العملات، دون انقطاع؛ فإذا انقطع يوماً واحداً، أصبح كالجاهل بهذا السوق تماماً، وكأنه لم يكن عليماً به يوماً من الأيام! لأنه لا يستطيع أن يشتري أو يبيع، لعدم علمه باختلاف أسعار العملات الذي يتبدل كل ساعة.

ولذلك لم يجعل الإمام أحمد (ت241هـ) لطلب الحديث زمنا ينتهي عنده، ولم يوقت له فترة يجعلها حده؛ عندما سئل: "إلى متى يكتب الرجل الحديث؟ قال: حتى يموت (4) .

فإن قيل: قد جاءت عبارات كثيرة في كتب العلم، تدل على ذم من لم يجمع مع الحديث فقهاً، أو على ذم إفناء العمر في جمع طرق الأحاديث وتتبع الأسانيد.

--------------------------------------------

(1) الجامع للخطيب (رقم 1570) .

(2) الجامع للخطيب (رقم 1571) .

(3) الجامع للخطيب (رقم 1909) .

(4) شرف أصحاب الحديث (رقم 145) .
আবু ইউসুফ আল-কাজি (মৃত্যু ১৮২ হিজরি) বলেন: "ইলম এমন এক জিনিস যা তোমাকে তার সামান্য অংশও দেবে না যতক্ষণ না তুমি তাকে তোমার সর্বস্ব দিয়ে দাও; আর তুমি যখন তাকে তোমার সর্বস্ব দেবে, তখনো তার সামান্য অংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে তুমি ঝুঁকির (غرر) মধ্যেই থাকবে।" (১)।

ফকিহ আবু আহমদ নাসর ইবনে আহমদ আল-আইয়াজি আস-সামারকান্দি বলেন: "এই ইলম কেবল সেই ব্যক্তিই অর্জন করতে পারে, যে তার দোকান বন্ধ রেখেছে, বাগান উজাড় করেছে, ভাই-বন্ধুদের ত্যাগ করেছে এবং তার নিকটতম আত্মীয় মারা গেলেও তার জানাজায় শরিক হতে পারেনি।" (২)। এই দুটি উক্তি যদি সমস্ত ইলমের ক্ষেত্রে সত্য হয়, তবে হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তা বলা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত ও অধিকতর প্রাসঙ্গিক। আর আল-খাতিব যখন এই প্রেক্ষাপটে উক্তিগুলো উল্লেখ করেছেন, তখন এটাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।

প্রতিটি বিদ্যায় বিশেষজ্ঞ হওয়ার নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে, তবে হাদিস শাস্ত্রে এর বিশেষ তাৎপর্য বিদ্যমান। এটি এমন একটি বিশেষায়ন (تخصص) যা অন্য কোনো কিছুর জন্য বিরতি গ্রহণ করা গ্রহণ করে না; চাই জ্ঞান অন্বেষণের সময়কাল যত দীর্ঘই হোক না কেন এবং এর ছাত্র নিজের সম্পর্কে তা অর্জনে যতই পরিপূর্ণতা ও পারদর্শিতার ধারণা পোষণ করুক না কেন। কারণ এটি একটি সূক্ষ্ম অভিজ্ঞতা এবং গভীর অনুভূতি, যা ইলমের সাথে অবিরাম লেগে থাকা ব্যতীত স্থায়ী হয় না। আর শিক্ষার্থী যদি সামান্য সময়ের জন্যও এই ইলম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তবে দ্রুতই সেই অভিজ্ঞতা নষ্ট হয়ে যায় এবং সেই অনুভূতি অকেজো হয়ে পড়ে।

এই বিষয়টি বর্ণনা করতে গিয়ে আবদুর রহমান ইবনে মাহদি (মৃত্যু ১৯৮ হিজরি) বলেন: "হাদিস বিশারদের উদাহরণ হলো দালালের (سمسار) মতো; সে যদি বাজার থেকে পাঁচ দিন অনুপস্থিত থাকে তবে তার অন্তর্দৃষ্টি (بصر) বদলে যায়।" (৩)।

আমাদের বর্তমান সময়ের পরিভাষায়: হাদিস বিশারদের উদাহরণ হলো মুদ্রা ব্যবসায়ীর মতো; সে ততক্ষণ পর্যন্ত লাভবান হতে পারে না যতক্ষণ না সে বিরতিহীনভাবে মুদ্রা বাজারের খোঁজখবর রাখে। যদি সে একদিনের জন্যও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তবে সে এই বাজার সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ হয়ে যায়, যেন সে কোনোদিনই এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিল না! কারণ মুদ্রার দাম যেহেতু প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তিত হয়, তাই সে সম্পর্কে অবগত না থাকায় সে আর ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে না।

একারণেই ইমাম আহমদ (মৃত্যু ২৪১ হিজরি) হাদিস অন্বেষণের জন্য কোনো সমাপ্তি রেখা টানেননি এবং এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমাও বেঁধে দেননি। যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "একজন মানুষ কতদিন পর্যন্ত হাদিস লিখবে?" তিনি বলেছিলেন: "মৃত্যু পর্যন্ত।" (৪)।

যদি বলা হয়: ইলমের গ্রন্থগুলোতে এমন অনেক উক্তি এসেছে যা ওই ব্যক্তির নিন্দাসূচক যে হাদিসের সাথে ফিকহ বা গভীর প্রজ্ঞা (فقه) অর্জন করেনি, অথবা যারা হাদিসের সূত্রগুলো (طرق) একত্রিত করতে এবং সনদসমূহ (أسانيد) অন্বেষণ করতে আয়ু শেষ করে দেয় তাদের নিন্দা করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি আল-খাতিব (নং ১৫৭০)।

(২) আল-জামি লি আল-খাতিব (নং ১৫৭১)।

(৩) আল-জামি লি আল-খাতিব (নং ১৯০৯)।

(৪) শারাফু আসহাবিল হাদিস (নং ১৪৫)।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فمن الأول، قول القائل:

زوامل للأسفار لا علم عندهم … بجيدها إلا كعلم الأباعر

لعمرك ما يدري البعير إذا غدا … بأحماله أو راح ما في الغرائر

ومن الثاني: قصة حمزة بن محمد الكناني الحافظ (ت357هـ) ، قال: "خرجت حديثاً واحداً عن النبي صلى الله عليه وسلم من مائتي طريق، أو من نحو مائتي طريق، فداخلني من ذلك الفرح غير قليل، وأعجبت بذلك. قال: فرأيت ليلة من الليالي يحيى بن معين في المنام، فقلت له: يا أبا زكريا، خرجت حديثاً واحداً عن النبي صلى الله عليه وسلم من مائتي طريق! قال: فسكت عني ساعة، ثم قال: أخشى أن يدخل هذا تحت (ألهكم التكاثر) (1) " (2) .

فما هو معنى تلك العبارات؟ مع ما ندعو إليه من التخصص في علم الحديث.

فأقول: أما ما جاء في ذم من لم يجمع مع الحديث فقهاً، فلا يعارض كلام من كان من الناس بقوله النبي صلى الله عليه وسلم الذي سبق ذكره، مما يدل على مشروعية بل استحباب ما عابه ذلك العائب.

ثم إن الذي صدر منه ذلك الذم أحد رجلين: إما أنه من أهل العلم والفضل، وحينها يحمل كلامه على ذم من قصر فيما لا يجوز التقصير فيه من الفقه بالفروض العينية ونحوها، مما تقدم ذكره. وإما أن هذا الذام من أهل الرأي وأصحاب البدع، الذين يعادون السنة وأهلها، وينفرون من علومها؛ وهؤلاء لا وزن لمدحهم وذمهم، بل ربما كان ذمهم مرجحاً كفة المذموم على الممدوح منهم!!

وأما ما ورد من عيب إفناء العمر في تتبع طرق الأحاديث وجمع الأسانيد، فليس الأمر على إطلاقه.

--------------------------------------------

(1) التكاثر (1) .

(2) جامع بيان العلم لابن عبد البر (رقم 1988) .
প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো এই কবির উক্তি:

তারা সফরের মালবাহী বাহন মাত্র, তাদের নিকট এর উৎকর্ষ (جيد) সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, যেমন উটের কোনো জ্ঞান নেই।

তোমার জীবনের শপথ! উট যখন সকালে তার পিঠে বোঝা নিয়ে বের হয় বা বিকেলে ফিরে আসে, সে জানে না তার ঝোলাগুলোর ভেতরে কী আছে।

আর দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো: হাফিজ (الحافظ) হামযাহ বিন মুহাম্মদ আল-কিনানী (ওফাত ৩৫৭ হিজরি)-এর ঘটনা। তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি হাদিস দুইশত সনদ (طريق) বা প্রায় দুইশত সনদ (طريق) থেকে সংগ্রহ করেছিলাম। এতে আমার মধ্যে বেশ আনন্দ কাজ করছিল এবং আমি এতে আত্মতৃপ্ত বোধ করছিলাম। তিনি বলেন: এক রাতে আমি স্বপ্নে ইয়াহইয়া বিন মাইনকে দেখলাম এবং তাঁকে বললাম: হে আবু যাকারিয়া! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি হাদিস দুইশত সনদ (طريق) থেকে বের করেছি! তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন, তারপর বললেন: আমার ভয় হয় যে এটি হয়তো 'প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে' (১) -এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।" (২)।

তবে এই বক্তব্যগুলোর মর্মার্থ কী? অথচ আমরা হাদিস শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি বলব: হাদিসের পাশাপাশি ফিকহ বা সমঝ অর্জন না করা ব্যক্তিদের সম্পর্কে যে নিন্দা বর্ণিত হয়েছে, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বাণীর বিরোধী নয় যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে; যা ওই নিন্দাকারীর আপত্তিকৃত বিষয়টিকে বৈধ এমনকি মুস্তাহাব (مستحب) হিসেবে প্রমাণ করে।

তদুপরি, যারা এ ধরনের নিন্দা করেন তারা দুই শ্রেণির মানুষের কোনো এক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত: হয় তিনি ইলম ও ফযিলতের অধিকারী কোনো ব্যক্তি, সেক্ষেত্রে তার কথাকে ঐ ব্যক্তির নিন্দা হিসেবে গণ্য করা হবে যে অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞান (ফরযে আইন) ও অনুরূপ বিষয়গুলোতে অবহেলা করেছে যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। অথবা এই নিন্দাকারী এমন কোনো রায় (رأي) বা যুক্তিনির্ভর মতবাদের অনুসারী অথবা বিদআতী (أهل البدع), যারা সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের শত্রু এবং এর জ্ঞানসমূহ থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। এদের প্রশংসা বা নিন্দার কোনো মূল্য নেই, বরং এদের করা নিন্দাই হয়তো নিন্দিত ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে প্রশংসিতদের তুলনায় বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়!!

আর হাদিসের বিভিন্ন সনদ (طريق) অনুসন্ধান এবং সনদসমূহ (أسانيد) সংগ্রহের পেছনে জীবন উৎসর্গ করার যে ত্রুটির কথা বলা হয়েছে, তা ঢালাওভাবে প্রযোজ্য নয়।

--------------------------------------------

(১) আত-তাকাসুর (১)।

(২) ইবনে আব্দুল বার রচিত জামি' বয়ানিল ইলম (হাদিস নং ১৯৮৮)।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
فهذا يحيى بن معين الذي رآه حمزة الكناني يذم فعله في ذلك، يقول يحيى بن معين هذا: "لو لم نكتب الحديث من ثلاثين وجها ما عقلناه" (1) .

ويقول الإمام أحمد: "الحديث إذا لم تجمع طرقه لم تفهمه، والحديث يفسر بعضه بعضاً" (2) .

وقال علي بن المديني: "الباب إذا لم تجمع طرقه، لم يتبين خطؤه" (3) .

إذن ما هو الأمر المعيب في تتبع الطرق وجمع الأسانيد؟

أجاب عن ذلك الخطيب البغدادي في كتبه، وحصر سبب عيب ذلك في أمرين:

الأول: جمع الأحاديث وقطع الأعمار في كتابتها، صحيحها وضعيفها وموضوعها، دون تمييز الصحيح بمزيد اعتناء، ولا معرفة الضعيف بعلته، ولا التنبيه على المكذوب والباطل؛ فهو جمع وتصنيف على الإهمال والإغفال، يضر أكثر مما ينفع.

يقول الخطيب في (الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع) : "ينبغي للمنتخب أن يقصد تخير الأسانيد العالية، والطرق الواضحة، والأحاديث الصحيحة، والروايات المستقيمة. ولا يذهب وقته في الترهات، من تتبع الأباطيل والموضوعات، وتطلب الغرائب والمنكرات … (ثم قال) والغرائب التي كره العلماء الاشتغال بها، وقطع الأوقات في طلبها، إنما هي ما حكم أهل المعرفة ببطلانه، لكون رواته ممن يضع الحديث، أو يدعي السماع. أما ما استغرب لتفرد رواية به، وهو من أهل الصدق والأمانة، فذلك يلزم كتبه، ويجب سماعه وحفظه" (4) .

وقال الخطيب أيضاً: "ولو لم يكن في الاقتصار على سماع الحديث وتخليده الصحف، دون التمييز بمعرفة صحيحة من فاسده، والوقوف على اختلاف وجوهه، والتصرف في أنواع علومه، إلا تلقيب المعتزلة القدرية من سلك تلك الطريقة بالحشوية؛ لوجب على الطالب الأنفة لنفسه، ودفع ذلك عنه وعن أبناء جنسه" (5) .

--------------------------------------------

(1) التاريخ لابن معين (رقم 4330) ، والجامع للخطيب (رقم 1699) .

(2) الجامع للخطيب (رقم 1700) .

(3) الجامع للخطيب (رقم 1701) .

(4) الجامع للخطيب (126 - 227 رقم 1523، 1528) .

(5) الجامع للخطيب (رقم 1599) .
এই সেই ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, যাকে হামযাহ আল-কিনানি এই কাজে নিন্দা করতে দেখেছিলেন; সেই ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: "যদি আমরা একটি হাদিস তিরিশটি দিক (وجها) থেকে না লিখতাম, তবে আমরা তা অনুধাবন করতে পারতাম না।" (১) .

এবং ইমাম আহমাদ বলেন: "হাদিসের সনদসমূহ (طرق) যদি একত্র না করা হয় তবে তুমি তা বুঝতে পারবে না; আর হাদিসের একাংশ অপর অংশকে ব্যাখ্যা করে।" (২) .

এবং আলি ইবনুল মাদিনি বলেছেন: "কোনো বিষয়ের হাদিসসমূহের সনদসমূহ (طرق) যদি একত্র করা না হয়, তবে তার ভুল পরিস্ফুট হয় না।" (৩) .

তাহলে হাদিসের বিভিন্ন সূত্র (طرق) অনুসন্ধান এবং সনদসমূহ (الأسانيد) সংগ্রহের ক্ষেত্রে দোষণীয় বিষয়টি কী?

খতিব আল-বাগদাদি তাঁর গ্রন্থসমূহে এর উত্তর দিয়েছেন এবং এর দোষণীয় হওয়ার কারণকে দুটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ করেছেন:

প্রথমত: হাদিসসমূহ সংগ্রহ করা এবং তা লিখার পেছনে জীবন অতিবাহিত করে দেওয়া—তা সহিহ (صحيح), জইফ (ضعيف) কিংবা জাল (موضوع) যাই হোক না কেন—অধিক সতর্কতার সাথে সহিহ (صحيح) হাদিসকে পৃথক না করা, জইফ (ضعيف) হাদিসকে তার ত্রুটির (علة) মাধ্যমে না চেনা এবং বানোয়াট (المكذوب) ও বাতিল (الباطل) বিষয়গুলোর ব্যাপারে সতর্ক না করা; এটি অবহেলা ও উদাসীনতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যাস করা, যা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে।

খতিব আল-জামিউ লি-আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি গ্রন্থে বলেন: "নির্বাচনকারীর উচিত উচ্চমানের সনদ (الأسانيد العالية), স্পষ্ট সূত্রসমূহ (الطرق الواضحة), সহিহ (الصحيحة) হাদিস এবং সঠিক বর্ণনাগুলো (الروايات المستقيمة) বেছে নেওয়ার সংকল্প করা। বাতিল (الأباطيل) ও জাল (الموضوعات) বিষয়সমূহ অনুসন্ধান করে এবং বিরল (الغرائب) ও মুনকার (المنكرات) বর্ণনাসমূহ খুঁজে বেড়িয়ে অসার কাজে সময় নষ্ট না করা... (অতঃপর তিনি বলেন) আর সেই সকল বিরল (الغرائب) বর্ণনা—যা নিয়ে ব্যস্ত থাকা এবং তা অন্বেষণে সময় ব্যয় করাকে উলামায়ে কেরাম অপছন্দ করেছেন—তা হলো সেগুলোই যেগুলোর বাতিল হওয়ার ব্যাপারে অভিজ্ঞগণ রায় দিয়েছেন; কারণ এর বর্ণনাকারীদের (رواته) মধ্যে এমন কেউ থাকে যে হাদিস জাল (يضع) করে অথবা শ্রবণের (السماع) মিথ্যা দাবি করে। তবে যে বর্ণনাটি কেবল একক বর্ণনার কারণে বিরল (استغرب) হয়েছে, অথচ বর্ণনাকারী সত্যবাদী ও আমানতদার, তবে তা লিখে রাখা আবশ্যক এবং তা শোনা ও মুখস্থ করা ওয়াজিব।" (৪) .

খতিব আরও বলেন: "হাদিসের সহিহ (صحيحة) ও ফাসিদ (فاسدة) বা ত্রুটিযুক্তের মধ্যে পার্থক্য না করে এবং এর বিভিন্ন দিক ও এর জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রকারভেদগুলো সম্পর্কে অবগত না হয়ে কেবল হাদিস শোনা এবং তা খাতায় লিপিবদ্ধ করার মধ্যে যদি মুতাজিলা ক্বাদারিয়াদের পক্ষ থেকে এই পথের অনুসারীদের 'হাশুবিয়াহ' উপাধি দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো দোষ নাও থাকত, তবুও জ্ঞানান্বেষীর জন্য নিজের সম্মান রক্ষার্থে এবং নিজের ও নিজ শ্রেণির ওপর থেকে এই অপবাদ দূর করার জন্য এই পদ্ধতি বর্জন করা উচিত ছিল।" (৫) .

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখ লি-ইবনি মাঈন (নং ৪৩৩০), এবং আল-জামিউ লিল খতিব (নং ১৬৯৯) ।

(২) আল-জামিউ লিল খতিব (নং ১৭০০) ।

(৩) আল-জামিউ লিল খতিব (নং ১৭০১) ।

(৪) আল-জামিউ লিল খতিব (১২৬ - ২২৭ নং ১৫২৩, ১৫২৮) ।

(৫) আল-জামিউ লিল খতিব (নং ১৫৯৯) ।
(খণ্ড: ১) নাসায়িহ মানহাজিয়্যা লি তালিবি ইলমিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الثاني: يقول في بيانه الخطيب في (شرف أصحاب الحديث) : "إنما كره مالك وابن إدريس وغيرهما الإكثار من طلب الأسانيد الغريبة والطرق المستنكرة، كأسانيد: (حديث الطائر، وطرق حديث المغفر، وغسل الجمعة، وقبض العلم، وإن أهل الدرجات، ومن كذب علي، ولا نكاح إلا بولي.. وغير ذلك، مما يتتبع أصحاب الحديث طرقه، ويعنون بجمعة؛ والصحيح من طرقه أقلها. وأكثر من يجمع ذلك: الأحداث منهم، فيتحفظونها ويذاكرون بها. ولعل أحدهم لا يعرف من الصحاح حديثاً وتراه يذكر من الطرق الغريبة والأسانيد العجيبة التي أكثرها موضوع وجلها مصنوع، ما لا ينتفع به، وقد أذهب من عمره جزءاً في طلبه. وهذه العلة هي التي اقتطعت أكثر من في عصرنا من طلبه الحديث عن التفقه به، واستنباط ما فيه من الأحكام. وقد فعل متفقهة زماننا كفعلهم، وسلكوا في ذلك سبيلهم، ورغبوا عن سماع السنن من المحدثين، وشغلوا أنفسهم بتصانيف المتكلمين. فكلا الطائفتين ضيع ما يعنيه، وأقبل على مالا فائدة فيه" (1) .

فبين الخطيب أن سبب كراهة مالك وغيره لتتبع الطرق وجمع الأسانيد من طلبة الحديث، لا لأنه تتبع وجمع وحسب، ولكنه جمع لطرق أحاديث صحيحة أصلاً، وليس هناك أي فائدة زائدة من تتبع أسانيدها الأخرى التي قد يكون أغلبها ضعيفاً أو باطلاً. ومثال ذلك في عصرنا: ذاك الذي سود صفحات طويلات في تخريج حديث واحد، متوسعاً غاية التوسع في ذكر مصادر العزو، من مسانيد ومعاجم ومشيخات وأجزاء وتواريخ، مع أن الحديث صححه الشيخان من قبل، ولعله وافقهما على تصحيحه أئمة آخرون، ولا مخالف لهم في تصحيحه؛ فيخرج أخونا هذا، دون أي فائدة زائدة على ما كان قد بدأ به، عندما عزا الحديث للصحيحين، وهو أن الحديث صحيح!!

ثم إنه لا تتحقق كراهية ذلك الجمع للأسانيد إلا بشرط، وهو إذا ما كان الجامع لها من أحداث طلبة العلم وصغارهم، ممن لم يصلوا إلى درجة معرفة قدر جيد من صحيح السنة، فتنقطع أعمارهم في جمع تلك الأسانيد، ولعل أحدهم لا يعرف حديثاً صحيحاً (كما يقول الخطيب) ، فذهب عمره فيما لا ينتفع به. فمثل هذا لا تخصص في الحديث،

--------------------------------------------

(1) شرف أصحاب الحديث للخطيب (رقم 304) .
দ্বিতীয়ত: খতিব [আল-বাগদাদি] তার (শরফু আসহাবিল হাদিস) গ্রন্থে বর্ণনায় বলেন: "মালিক, ইবনে ইদ্রিস এবং আরও অনেকেই অদ্ভুত সনদ (الأسانيد الغريبة) এবং অগ্রহণযোগ্য সূত্র (الطرق المستنكرة) অধিকমাত্রায় অন্বেষণ করা অপছন্দ করতেন। যেমন: (হাদিসে তায়ের, হাদিসে মিগফার, জুমার গোসল, ইলম উঠিয়ে নেওয়া, জান্নাতের উচ্চ মাকামধারীরা, 'যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে', এবং 'অভিভাবক ছাড়া বিবাহ হয় না'... ও অন্যান্য) এমন সব হাদিসের সূত্র, যেগুলোর পেছনে হাদিস অন্বেষণকারীরা ছুটে বেড়ান এবং সেগুলো সংগ্রহে যত্নবান হন; অথচ এর সূত্রগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ (الصحيح) সূত্রের সংখ্যা খুবই নগণ্য। আর যারা এগুলো বেশি সংগ্রহ করেন তারা হলেন তাদের মধ্যে নবীন বা অল্পবয়সীরা; তারা এগুলো মুখস্থ করেন এবং তা নিয়ে পরস্পর আলোচনা করেন। সম্ভবত তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে সহিহ হাদিসগুলোর মধ্য থেকে একটিও জানে না, অথচ আপনি তাকে অদ্ভুত সূত্র (الطرق الغريبة) এবং বিস্ময়কর সনদ (الأسانيد العجيبة) বর্ণনা করতে দেখবেন যেগুলোর অধিকাংশই বানোয়াট (موضوع) এবং যার প্রায় সবই জাল (مصنوع), যার কোনো উপকারিতা নেই; অথচ সে তার জীবনের একটি অংশ এগুলো অন্বেষণে ব্যয় করে ফেলেছে। আর এই কারণটিই আমাদের যুগের অধিকাংশ হাদিস অন্বেষণকারীকে হাদিসের প্রজ্ঞা (ফিকহ) অর্জন এবং তা থেকে বিধানসমূহ আহরণ করা থেকে বিচ্যুত করেছে। আমাদের সময়ের ফিকহ চর্চাকারীরাও তাদের মতোই কাজ করেছে, তারা তাদের পথ অনুসরণ করেছে এবং মুহাদ্দিসগণের কাছ থেকে সুনান শোনা থেকে বিমুখ হয়েছে, আর নিজেদের কালামশাস্ত্রবিদদের রচনায় ব্যস্ত রেখেছে। ফলে উভয় দলই তাদের জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ তা হারিয়েছে এবং যাতে কোনো ফায়দা নেই তার দিকে ঝুঁকেছে।" (১)

সুতরাং খতিব স্পষ্ট করেছেন যে, মালিক এবং অন্যদের পক্ষ থেকে হাদিসের ছাত্রদের বিভিন্ন সূত্র অনুসন্ধান এবং সনদসমূহ সংগ্রহের প্রতি অপছন্দ করার কারণ কেবল অন্বেষণ বা সংগ্রহ করার জন্য নয়; বরং এটি এমন হাদিসের সূত্র সংগ্রহ করার কারণে যা মূলত সহিহ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত, এবং এর অন্যান্য সনদগুলো তালাশ করার মধ্যে বাড়তি কোনো ফায়দা নেই যেগুলোর অধিকাংশ সম্ভবত দুর্বল (ضعيفاً) অথবা ভিত্তিহীন (باطلاً)। আমাদের যুগে এর উদাহরণ হলো: সেই ব্যক্তি যে একটি মাত্র হাদিসের তাখরিজ করতে গিয়ে দীর্ঘ অনেকগুলো পৃষ্ঠা কালো করে ফেলেছে, যেখানে হাওয়ালার উৎস বর্ণনায় সে চরম বিস্তারিত আলোচনা করেছে—যেমন মুসনাদ, মু'জাম, মাশায়াখাত, আজজা এবং তারিখ থেকে; অথচ হাদিসটি পূর্বেই শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) সহিহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং হয়তো অন্য ইমামগণও তাদের সাথে একমত হয়েছেন এবং এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে তাদের কোনো বিরোধী নেই। এমতাবস্থায় আমাদের এই ভাই হাদিসটিকে সহিহাইন-এর দিকে সম্বন্ধ করার পর হাদিসটি যে সহিহ—এই শুরুর কথাটির অতিরিক্ত কোনো নতুন ফায়দা ছাড়াই তাখরিজ শেষ করেন!!

এরপর কথা হলো, সনদ সংগ্রহের এই অপছন্দনীয়তা কেবল একটি শর্তেই প্রযোজ্য হয়, আর তা হলো যদি সংগ্রহকারী ইলম অন্বেষণকারী নবীন বা ছোটদের অন্তর্ভুক্ত হয়, যারা সুন্নাহর সহিহ অংশ সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখার স্তরে পৌঁছায়নি; ফলে তাদের জীবন এই সনদগুলো সংগ্রহ করতেই শেষ হয়ে যায়, অথচ তাদের কেউ হয়তো একটি সহিহ (صحيحاً) হাদিসও জানে না (যেমনটি খতিব বলেছেন)। এভাবে তার জীবন এমন কাজে অতিবাহিত হয় যাতে কোনো উপকার নেই। সুতরাং এমন ব্যক্তি হাদিস শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ নয়,

--------------------------------------------

(১) খতিব বাগদাদির শরফু আসহাবিল হাদিস (নং ৩০৪)।