(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: -)
كشف الأسرار عن أصول فخر الإسلام البزدوي   (علاء الدين عبد العزيز البخاري - فخر الإسلام البزدوي)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: كشف الأسرار عن أصول فخر الإسلام البزدوي

المؤلف: علاء الدين، عبد العزيز بن أحمد البخاري (ت 730 هـ)

وبهامشه: «أصول البزدوي» [وقد تم وضعها بأعلى الصفحات في هذه النسخة الإلكترونية]

الناشر: شركة الصحافة العثمانية، إسطنبول

الطبعة: الأولى، مطبعة سنده 1308 هـ - 1890 م

عدد الأجزاء: 4

وصَوّرَتها: دار الكتاب الإسلامي، والكتاب العربي، وغيرهما

تنبيهات:

1 - لدار الكتاب العربي طبعة ثانية بصف جديد بتعليق محمد المعتصم البغدادي

2 - لحافظ الدين النسفي كتاب باسم «كشف الأسرار» أيضا شرَح فيه كتابَه «المنار في أصول الفقه»

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উসুলু ফখরুল ইসলাম আল-বাজদাওয়ীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ কাশফুল আসরার   (আলাউদ্দীন আব্দুল আজিজ আল-বুখারী - ফখরুল ইসলাম আল-বাজদাওয়ী)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ

গ্রন্থ: উসুলু ফখরুল ইসলাম আল-বাজদাওয়ীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ কাশফুল আসরার

লেখক: আলাউদ্দীন, আব্দুল আজিজ বিন আহমদ আল-বুখারী (মৃত্যু ৭৩০ হিজরি)

এবং এর পার্শ্বটীকায়: «উসুলুল বাজদাওয়ী» [এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে এটি পৃষ্ঠাগুলোর উপরিভাগে স্থাপন করা হয়েছে]

প্রকাশক: অটোমান প্রেস কোম্পানি, ইস্তাম্বুল

সংস্করণ: প্রথম, সিন্দে প্রেস ১৩০৮ হিজরি - ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

এবং এর প্রতিলিপি করেছে: দারুল কিতাব আল-ইসলামী, দারুল কিতাব আল-আরাবী এবং অন্যান্য

সতর্কীকরণসমূহ:

১ - দারুল কিতাব আল-আরাবীর একটি দ্বিতীয় সংস্করণ রয়েছে যাতে নতুন বিন্যাস এবং মুহাম্মদ আল-মুতাসিম আল-বাগদাদীর টীকা যুক্ত করা হয়েছে

২ - হাফিজুদ্দীন আন-নাসাফীরও «কাশফুল আসরার» নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে যাতে তিনি তাঁর «আল-মানার ফি উসুলিল ফিকহ» গ্রন্থের ব্যাখ্যা করেছেন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

الْحَمْدُ لِلَّهِ مُصَوِّرِ النَّسَمِ فِي شَبَكَاتِ الْأَرْحَامِ بِلَا مُظَاهَرَةٍ وَمَعُونَةٍ، وَمُقَدِّرِ الْقَسَمِ لِطَبَقَاتِ الْأَنَامِ بِلَا كُلْفَةٍ وَمَئُونَةٍ، شَارِعِ مَشَارِعِ الْأَحْكَامِ بِلُطْفِهِ وَأَفْضَالِهِ، نَاهِجِ مَنَاهِجِ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ بِكَرَمِهِ وَنَوَالِهِ، مُبْدِعِ فَرَائِدِ الدُّرَرِ مِنْ خَطَرَاتِ الْفِكْرِ بِسَحَائِبِ فَضْلِهِ وَإِكْرَامِهِ، مُنْشِئِ لَطَائِفِ الْعِبَرِ مِنْ شَوَاهِدِ النَّظَرِ بِرَوَاتِبِ طُولِهِ وَإِنْعَامِهِ، الَّذِي أَكْمَلَ بِعِنَايَتِهِ رَوْنَقَ الدِّينِ وَأُبَّهَةَ الْإِسْلَامِ، وَصَيَّرَ بِرِعَايَتِهِ الْمِلَّةَ الْحَنِيفِيَّةَ مُرْتَفِعَةَ الْأَعْلَامِ، نَحْمَدُهُ حَمْدًا تَاهَ فِي وَصْفِهِ أَفْهَامُ الْعُقَلَاءِ، وَنَشْكُرُهُ شُكْرًا حَارَ فِي قَدْرِهِ أَوْهَامُ الْأَلِبَّاءِ، عَلَى مَا أَوْضَحَ مَنَاهِجَ الشَّرْعِ وَرَفَعَ مَعَالِمَهُ، وَأَحْكَمَ قَوَاعِدَ الدِّينِ وَأَثْبَتَ دَعَائِمَهُ، وَنَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ شَهَادَةً رَسَخَتْ عُرُوقُهَا فِي صَمِيمِ الْجَنَانِ، وَدَعَتْ صَاحِبَهَا إلَى نَعِيمِ الْجِنَانِ.

وَنَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ الَّذِي جَبَلَهُ اللَّهُ مِنْ سُلَالَةِ الْمَجْدِ وَالْكَرَمِ، وَبَعَثَهُ إلَى كَافَّةِ الْخَلْقِ وَالْأُمَمِ، فَأَبَانَ مَعَالِمَ الدِّينِ وَأَثَارَهُ، وَأَضَاءَ سُبُلَ الْيَقِينِ وَمَنَارَهُ، حَتَّى سَطَعَ نُورُ الشَّرْعِ عَنْ ظَلَامِ الْجَفَاءِ بِحُسْنِ عِنَايَتِهِ، وَظَهَرَ نُورُ الدِّينِ عَنْ أَكْمَامِ الْخَفَاءِ بِيُمْنِ كِفَايَتِهِ، - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ - الَّذِينَ لَمْ تُسْتَرْ أَقْمَارُ دِينِهِمْ بِغَمَامِ الشَّكِّ وَالْبَدَاءِ، وَلَمْ تَحْتَجِبْ أَنْوَارُ يَقِينِهِمْ بِأَكْمَامِ الْأَهْوَاءِ، صَلَاةً تَتَجَدَّدُ عَلَى تَعَاقُبِ اللَّيَالِي وَالْأَيَّامِ، وَتَتَزَايَدُ عَلَى انْتِقَاصِ الشُّهُورِ وَالْأَعْوَامِ، وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا.

(وَبَعْدُ) فَإِنَّ عُلُومَ الدِّينِ أَحَقُّ الْمَفَاخِرِ بِالتَّوْقِيرِ وَالتَّبْجِيلِ، وَأَوْلَى الْفَضَائِلِ بِالتَّفْضِيلِ وَالتَّحْصِيلِ، إذْ هِيَ الطَّرِيقَةُ الْمَسْلُوكَةُ لِنَيْلِ السَّعَادَاتِ فِي الدُّنْيَا، وَالْمِرْقَاةُ الْمَنْصُوبَةُ إلَى الْفَوْزِ بِالْكَرَامَاتِ فِي الْعُقْبَى، بِنُورِهَا يُهْتَدَى مِنْ ظُلُمَاتِ الْغَوَايَةِ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো সাহায্য বা সহযোগিতা ছাড়াই জরায়ুর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে প্রাণের রূপদানকারী এবং কোনো কষ্ট ও ব্যয়ভার ছাড়াই সৃষ্টির সকল স্তরের জন্য ভাগ্য ও রিযিক নির্ধারণকারী। যিনি আপন করুণা ও অনুগ্রহে বিধানসমূহের পথ প্রবর্তনকারী এবং আপন দান ও বদান্যতায় হালাল ও হারামের পথসমূহ উন্মোচনকারী। যিনি আপন অনুগ্রহ ও সম্মানের মেঘমালা হতে চিন্তার তরঙ্গরাশি থেকে অনন্য জ্ঞান-মুক্তাসমূহ উদ্ভাবনকারী এবং আপন নিরবচ্ছিন্ন দয়া ও নিয়ামতের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের নিদর্শনসমূহ থেকে সূক্ষ্ম উপদেশাবলীর সৃজনকারী। যিনি আপন তত্তাবধানে দ্বীনের লাবণ্য ও ইসলামের গাম্ভীর্যকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং আপন রক্ষণাবেক্ষণে মিল্লাতে হানিফিয়ার পতাকাকে সুউচ্চ করেছেন। আমরা তাঁর এমন প্রশংসা করি যার বর্ণনায় জ্ঞানীদের বুদ্ধি দিশেহারা হয়ে যায় এবং তাঁর এমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি যার মাহাত্ম্য অনুধাবনে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের কল্পনাও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে; এই জন্য যে, তিনি শরীয়তের পথসমূহ স্পষ্ট করেছেন ও এর নিদর্শনসমূহ সমুন্নত করেছেন এবং দ্বীনের মূলনীতিগুলোকে সুদৃঢ় করেছেন ও এর স্তম্ভগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এমন সাক্ষ্য যার শিকড় অন্তরের অন্তস্তলে সুদৃঢ়ভাবে প্রোথিত এবং যা এর প্রদানকারীকে জান্নাতের নেয়ামতের দিকে আহ্বান করে।

এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁকে আল্লাহ মর্যাদা ও আভিজাত্যের সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে সকল সৃষ্টি ও জাতির প্রতি প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তিনি দ্বীনের নিদর্শন ও চিহ্নসমূহ স্পষ্ট করেছেন এবং ইয়াকীনের পথ ও আলোকবর্তিকাকে প্রজ্জ্বলিত করেছেন। ফলে তাঁর উত্তম তত্তাবধানে শরীয়তের আলো বিমুখতার অন্ধকার ভেদ করে বিচ্ছুরিত হয়েছে এবং তাঁর বরকতময় পূর্ণতায় দ্বীনের নূর গোপনীয়তার আবরণ থেকে প্রকাশিত হয়েছে—আল্লাহর দরুদ ও অঢেল সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর—যাঁদের দ্বীনের চন্দ্রসমূহ সংশয় ও দোদুল্যমানতার মেঘে ঢাকা পড়েনি এবং যাঁদের ইয়াকীনের নূরসমূহ প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশির আবরণে আচ্ছন্ন হয়নি; এমন দরুদ যা দিবা-রাত্রির পরিক্রমায় নবায়িত হতে থাকে এবং মাস ও বছরের আবর্তনে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

(অতঃপর) নিশ্চয়ই দ্বীনি ইলমসমূহ সম্মান ও শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে সকল গৌরবের চেয়ে অধিক হকদার এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও তা হাসিল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত বিষয়। কেননা এটিই দুনিয়াতে সৌভাগ্য অর্জনের অনুসৃত পথ এবং পরকালে সম্মানজনক কামিয়াবিতে আরোহণের জন্য স্থাপিত সিঁড়ি। এর নূরের মাধ্যমেই ভ্রষ্টতার অন্ধকার থেকে পথ খুঁজে পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

إلَى سَبِيلِ الرَّشَادِ، وَبِيُمْنِهَا يُرْتَقَى مِنْ حَضِيضِ الْجَهَالَةِ إلَى ذُرْوَةِ الِاجْتِهَادِ، لَا سِيَّمَا عِلْمُ أُصُولِ الْفِقْهِ الَّذِي هُوَ أَصْعَبُهَا مَدَارِكَ، وَأَدَقُّهَا مَسَالِكَ، وَأَعَمُّهَا عَوَائِدَ، وَأَتَمُّهَا فَوَائِدَ، لَوْلَاهُ لَبَقِيَتْ لَطَائِفُ عُلُومِ الدِّينِ كَامِنَةَ الْآثَارِ، وَنُجُومُ سَمَاءِ الْفِقْهِ وَالْحِكْمَةِ مَطْمُوسَةَ الْأَنْوَارِ، لَا تَدْخُلُ مَيَامِنُهُ تَحْتَ الْإِحْصَاءِ، وَلَا تُدْرَكُ مَحَاسِنُهُ بِالِاسْتِقْصَاءِ.

ثُمَّ إنَّ كِتَابَ أُصُولِ الْفِقْهِ الْمَنْسُوبَ إلَى الشَّيْخِ الْإِمَامِ الْمُعَظَّمِ، وَالْحَبْرِ الْهُمَامِ الْمُكَرَّمِ، الْعَالِمِ الْعَامِلِ الرَّبَّانِيِّ، مُؤَيِّدِ الْمَذْهَبِ النُّعْمَانِيِّ، قُدْوَةِ الْمُحَقِّقِينَ أُسْوَةِ الْمُدَقِّقِينَ صَاحِبِ الْمَقَامَاتِ الْعَلِيَّةِ وَالْكَرَامَاتِ السَّنِيَّةِ مَفْخَرِ الْأَنَامِ فَخْرِ الْإِسْلَامِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْبَزْدَوِيِّ تَغَمَّدَهُ اللَّهُ بِالرَّحْمَةِ وَالرِّضْوَانِ، وَأَسْكَنَهُ أَعْلَى مَنَازِلِ الْجِنَانِ، امْتَازَ مِنْ بَيْنِ الْكُتُبِ الْمُصَنَّفَةِ فِي هَذَا الْفَنِّ شَرَفًا وَسُمُوًّا، وَحَلَّ مَحَلَّهُ مَقَامَ الثُّرَيَّا مَجْدًا وَعُلُوًّا، ضَمَّنَ فِيهِ أُصُولَ الشَّرْعِ وَأَحْكَامَهُ، وَأَدْرَجَ فِيهِ مَا بِهِ نِظَامُ الْفِقْهِ وَقِوَامُهُ، وَهُوَ كِتَابٌ عَجِيبُ الصَّنْعَةِ رَائِعُ التَّرْتِيبِ، صَحِيحُ الْأُسْلُوبِ مَلِيحُ التَّرْكِيبِ، لَيْسَ فِي جَوْدَةِ تَرْكِيبِهِ وَحُسْنِ تَرْتِيبِهِ مِرْيَةٌ، وَلَيْسَ وَرَاءَ عَبَّادَانَ قَرْيَةٌ، لَكِنَّهُ صَعْبُ الْمَرَامِ، أَبِي الزِّمَامِ، لَا سَبِيلَ إلَى الْوُصُولِ إلَى مَعْرِفَةِ لُطْفِهِ وَغَرَائِبِهِ، وَلَا طَرِيقَ إلَى الْإِحَاطَةِ بِطُرَفِهِ وَعَجَائِبِهِ، إلَّا لِمَنْ أَقْبَلَ بِكُلِّيَّتِهِ عَلَى تَحْقِيقِهِ وَتَحْصِيلِهِ، وَشَدَّ حَيَازِيمَهُ لِلْإِحَاطَةِ لِجُمْلَتِهِ وَتَفْصِيلِهِ، بَعْدَ أَنْ رُزِقَ فِي اقْتِبَاسِ الْعِلْمِ ذِهْنًا جَلِيًّا، وَذَرْعًا مَنْ هُوَ أَجَسُّ أَضَالِيلِ الْمُنَى خَلِيًّا، وَقَدْ تَبَحَّرَ مَعَ ذَلِكَ فِي الْأَحْكَامِ وَالْفُرُوعِ، وَأَحَاطَ بِمَا جَاءَ فِيهَا مِنْ الْمَنْقُولِ وَالْمَسْمُوعِ.

وَقَدْ سَأَلَنِي إخْوَانِي فِي الدِّينِ، وَأَعْوَانِي عَلَى طَلَبِ الْيَقِينِ، أَنْ أَكْتُبَ لَهُمْ شَرْحًا يَكْشِفُ عَنْ أَوْجُهِ غَوَامِضِ مَعَانِيهِ نِقَابَهَا، وَيَرْفَعُ عَنْ اللَّطَائِفِ الْمُسْتَتِرَةِ فِي مَبَانِيهِ حِجَابَهَا، وَيُوَضِّحُ مَا أُبْهِمَ مِنْ رُمُوزِهِ وَإِشَارَاتِهِ الْمُعْضِلَةِ، وَيُبَيِّنُ مَا أُجْمِلَ مِنْ أَلْفَاظِهِ وَعِبَارَاتِهِ الْمُشْكِلَةِ، ظَنًّا مِنْهُمْ أَنِّي لَمَّا اسْتَسْعَدْت بِخِدْمَةِ شَيْخِي، وَسَيِّدِي وَسَنَدِي وَأُسْتَاذِي وَعَمِّي، وَهُوَ الْإِمَامُ الْمُحَقِّقُ الرَّبَّانِيُّ، وَالْقَرْمُ الْمُدَقِّقُ الصَّمَدَانِيُّ، نَاصِبُ رَايَاتِ الشَّرِيعَةِ، كَاشِفُ آيَاتِ الْحَقِيقَةِ، فَتَّاحُ أَقْفَالِ الْمُشْكِلَاتِ، كَشَّافُ غَوَامِضِ الْمُعْضِلَاتِ، فَخْرُ الْحَقِّ وَالدِّينِ، مَلَاذُ الْعُلَمَاءِ فِي الْعَالَمِينَ، قُطْبُ الْمُتَهَجِّدِينَ، خَتْمُ الْمُجْتَهِدِينَ، مُحَمَّدُ بْنُ إلْيَاسِ الْمَايَمُرْغِيُّ أَفَاضَ اللَّهُ عَلَيْهِ سِجَالَ إنْعَامِهِ وَغُفْرَانِهِ، وَصَبَّ عَلَيْهِ شَآبِيبَ إكْرَامِهِ وَرِضْوَانِهِ، وَنَشَأْت فِي حِجْرِهِ بِرَوَاتِبِ بِرِّهِ وَأَفْضَالِهِ، وَرُبِّيتُ فِي بَيْتِهِ بِصَنَائِعِ جُودِهِ وَنَوَالِهِ، لَعَلِّي فُزْت بِدُرَرٍ مَنْ غُرَرِ فَرَائِدِهِ.

وَأَخَذْتُ حَظًّا وَافِرًا مِنْ مَوَائِدِ فَوَائِدِهِ، وَإِنَّهُ قَدْ كَانَ مُخْتَصًّا مِنْ بَيْنِ الْعُلَمَاءِ بِاتِّفَاقِ الْأَنَامِ بِتَحْقِيقِ دَقَائِقِ مُصَنَّفَاتِ فَخْرِ الْإِسْلَامِ فَاسْتَعْفَيْتُ عَنْ هَذَا الْأَمْرِ الْخَطِيرِ وَتَشَبَّثْتُ بِأَهْدَابِ الْمَعَاذِيرِ، عِلْمًا مِنِّي بِأَنِّي لَسْت مِنْ فُرْسَانِ هَذَا الْمَيْدَانِ، وَلَا لِي بِالْإِبْلَاءِ فِي مَوَاقِفِهِ يَدَانِ، وَأَيْنَ أَنَا مِنْ ذَلِكَ وَقَدْ تَحَيَّرَتْ الْفُحُولُ فِي حَلِّ مُشْكِلَاتِهِ، بَعْدَ تَهَالُكِهِمْ فِي بَحْثِهِ وَتَنْقِيرِهِ، وَعَجَزَتْ التَّحَارِيرُ عَنْ دَرْكِ مُعْضِلَاتِهِ، مَعَ حِرْصِهِمْ عَلَى تَحْقِيقِهِ وَتَفْكِيرِهِ، فَلَمْ يَزِدْهُمْ ذَلِكَ إلَّا الْمُبَالَغَةَ فِي الْإِلْحَاحِ عَلَيَّ، وَالْإِقَامَةَ فِي مَوَاقِفِ الِاقْتِرَاحِ لَدَيَّ، فَلَمْ أَجِدْ بُدًّا مِنْ إنْجَاحِ مَسْئُولِهِمْ، وَلَا مَنْدُوحَةَ عَنْ تَحْقِيقِ مَأْمُولِهِمْ، فَأَجَبْتهمْ إلَى مُلْتَمَسِهِمْ تَفَادِيًا مِنْ عُقُوقِهِمْ، وَسَعْيًا
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

‌‌[কশফুল আসরার]

সঠিক পথের দিকে, এবং এর বরকতে অজ্ঞতার অতল গহ্বর থেকে ইজতিহাদের শিখরে আরোহণ করা যায়। বিশেষ করে উসূলে ফিকহ শাস্ত্র, যার উপলব্ধিস্থল অত্যন্ত কঠিন, পথসমূহ অত্যন্ত সূক্ষ্ম, যার উপকারিতা ব্যাপক এবং সুফল অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ। যদি এই শাস্ত্র না থাকত, তবে দ্বীনি ইলমের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ সুপ্ত থেকে যেত এবং ফিকহ ও হিকমতের আকাশের নক্ষত্ররাজির আলো নির্বাপিত হয়ে যেত। এর কল্যাণসমূহ গণনার ঊর্ধ্বে এবং এর সৌন্দর্যসমূহ অনুসন্ধানের মাধ্যমে পূর্ণরূপে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

অতঃপর, মহান ইমাম, সম্মানিত ও বিচক্ষণ পণ্ডিত, ইলম অনুযায়ী আমলকারী আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব, নুমানি মাযহাবের সাহায্যকারী, গবেষকগণের আদর্শ এবং সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিতগণের অনুকরণীয়, উচ্চমর্যাদা ও মহৎ কারামতের অধিকারী, মানবজাতির গর্ব, ফখরুল ইসলাম আবু হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হোসাইন আল-বাজদাওয়ী—আল্লাহ তাঁকে রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন এবং জান্নাতের উচ্চ মাকামে স্থান দান করুন—এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত উসূলে ফিকহের কিতাবটি এই শাস্ত্রের অন্যান্য কিতাবসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চতায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এটি মহিমা ও আভিজাত্যের দিক থেকে সুরইয়া নক্ষত্রের স্থান দখল করেছে। তিনি এতে শরীয়তের মূলনীতি ও এর বিধানসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং ফিকহ শাস্ত্রের শৃঙ্খলা ও ভিত্তি যা দিয়ে গঠিত, তা এতে সন্নিবেশিত করেছেন। এটি এক বিস্ময়কর শিল্পকর্ম ও চমৎকার বিন্যাস সমৃদ্ধ কিতাব, যার বর্ণনাশৈলী সঠিক এবং গঠনশৈলী সুনিপুণ। এর গঠনের উৎকর্ষ ও বিন্যাসের সৌন্দর্যে কোনো সন্দেহ নেই; এবং এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো গন্তব্য নেই। কিন্তু এটি অর্জন করা কঠিন এবং এর নিয়ন্ত্রণ আয়ত্ত করা দুষ্কর। এর সূক্ষ্মতা ও বিরল বিষয়াদি অনুধাবনের কোনো পথ নেই এবং এর বিস্ময়কর ও অনন্য দিকগুলো পরিবেষ্টন করার কোনো উপায় নেই, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে পূর্ণ মনোযোগের সাথে এটি অনুসন্ধান ও অর্জনে আত্মনিয়োগ করবে এবং এর সামগ্রিক ও বিস্তারিত বিষয়সমূহ আয়ত্ত করার জন্য দৃঢ় সংকল্প করবে; বিশেষ করে যদি তাকে ইলম আহরণের ক্ষেত্রে প্রখর মেধা এবং এমন এক ধৈর্য দান করা হয় যা অলীক আকাঙ্ক্ষার বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত। সাথে সাথে সে আহকাম ও ফুরুঈ মাসআলাসমূহে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেছে এবং এ বিষয়ে বর্ণিত ও শ্রুত বিষয়সমূহ পরিবেষ্টন করেছে।

আমার দ্বীনি ভাইগণ এবং একিন অন্বেষণে আমার সহযোগীরা আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাদের জন্য এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখি, যা এর অর্থের অস্পষ্টতার মুখ থেকে পর্দা উন্মোচন করবে, এর কাঠামোর ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ থেকে হিজাব সরিয়ে দেবে, এর জটিল প্রতীক ও ইঙ্গিতসমূহ যা অস্পষ্ট রয়ে গেছে তা পরিষ্কার করবে এবং এর কঠিন শব্দ ও বাক্য যা সংক্ষেপে বলা হয়েছে তা বিস্তারিত বর্ণনা করবে। তাদের এই ধারণা হওয়ার কারণ ছিল এই যে, আমি যখন আমার শাইখ, আমার সরদার, আমার আশ্রয়স্থল, আমার শিক্ষক ও আমার চাচা—যিনি হলেন গবেষক ইমাম, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব, সূক্ষ্মদর্শী বীর, মহান প্রতিপালকের প্রিয় বান্দা, শরীয়তের পতাকাবাহী, হাকীকতের নিদর্শনসমূহের উন্মোচনকারী, জটিলতার তালা উন্মুক্তকারী, কঠিন রহস্যসমূহের সমাধানকারী, সত্য ও দ্বীনের গর্ব, বিশ্বজুড়ে আলেমদের আশ্রয়স্থল, তাহাজ্জুদগুজারদের কুতুব, মুজতাহিদদের শেষ উত্তরসূরি মুহাম্মদ ইবনে ইলিয়াস আল-মায়মুরঘী—আল্লাহ তাঁর ওপর তাঁর নেয়ামত ও ক্ষমার বৃষ্টি বর্ষণ করুন এবং তাঁর ওপর সম্মান ও সন্তুষ্টির বারিধারা ঢেলে দিন—তাঁর খিদমতে ধন্য হয়েছি এবং তাঁর স্নেহে তাঁর নিরবচ্ছিন্ন দয়া ও অনুগ্রহে বেড়ে উঠেছি এবং তাঁর দানশীলতা ও বদান্যতায় তাঁর ঘরে লালিত-পালিত হয়েছি; সম্ভবত আমি তাঁর অনন্য জ্ঞান-মুক্তা লাভে সফল হয়েছি।

এবং তাঁর জ্ঞান-ভাণ্ডার থেকে প্রচুর অংশ লাভ করেছি। আর তিনি তো আলেমদের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে ফখরুল ইসলামের রচনাবলির সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উদঘাটনে বিশিষ্ট ছিলেন। ফলে আমি এই কঠিন কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলাম এবং বিভিন্ন ওজরের আশ্রয় নিয়েছিলাম; কারণ আমি জানতাম যে আমি এই ময়দানের ঘোড়সওয়ার নই এবং এর বিভিন্ন পর্যায়ে লড়াই করার সামর্থ্য আমার নেই। আমি কোথায় আর এই কাজ কোথায়! যেখানে বড় বড় পণ্ডিতরা এর জটিলতা নিরসনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন—যদিও তারা এর অনুসন্ধান ও গবেষণায় নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন—এবং বিজ্ঞ লেখকরাও এর দুর্ভেদ্য বিষয়সমূহ অনুধাবনে অক্ষম হয়েছেন, যদিও তারা তা যথাযথভাবে বুঝতে ও চিন্তা করতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু এতে তাদের পিড়াপিড়ি কেবল বৃদ্ধিই পেল এবং আমার কাছে তাদের প্রস্তাবের দাবিতে তারা অটল থাকল। ফলে তাদের অনুরোধ রক্ষা করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকল না এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণ করা ছাড়া অন্য কোনো পথ রইল না। তাই তাদের অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টায় আমি তাদের আহবানে সাড়া দিলাম।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌[مُقَدِّمَة الْكتاب]

أُصُولُ بَزْدَوِيٍّ لِفَخْرِ الْإِسْلَامِ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ خَالِقِ النَّسَمِ وَرَازِقِ الْقَسَمِ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

إلَى أَدَاءِ حُقُوقِهِمْ، وَشَرَعْت فِي هَذَا الْأَمْرِ الْعَظِيمِ الْمُهِمِّ، وَالْخَطْبِ الْجَسِيمِ الْمُدْلَهِمِّ، مُسْتَعِينًا بِاَللَّهِ الْكَرِيمِ الْجَلِيلِ، رَاجِيًا مِنْهُ أَنْ يَهْدِيَنِي سَوَاءَ السَّبِيلِ، مُتَوَكِّلًا عَلَى كَرَمِهِ الشَّامِلِ فِي طَلَبِ التَّوْفِيقِ لِإِتْمَامِهِ، مُعْتَمِدًا عَلَى إنْعَامِهِ الْعَامِّ فِي سُؤَالِ التَّيْسِيرِ لِابْتِدَائِهِ وَاخْتِتَامِهِ.

رَاغِبًا إلَيْهِ فِي أَنْ يَجْعَلَ مَا أُقَاسِيهِ خَالِصًا لِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ، مُتَعَوِّذًا بِهِ مِنْ أَنْ يَتَلَقَّانِي بِسَخَطِهِ وَعِقَابِهِ الْأَلِيمِ، مُبْتَهِلًا إلَيْهِ فِي أَنْ يَحْفَظَنِي عَنْ الْخَطَإِ وَالزَّلَلِ، وَيُلْهِمَنِي طَرِيقَ الصَّوَابِ وَالسَّدَادِ فِي الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ، مُتَضَرِّعًا إلَيْهِ فِي أَنْ يَنْفَعَنِي بِهِ وَأَئِمَّةَ الْإِسْلَامِ، وَيَجْمَعَنِي وَإِيَّاهُمْ بِبَرَكَاتِ جَمْعِهِ فِي دَارِ السَّلَامِ وَلَمَّا كَانَ هَذَا الْكِتَابُ كَاشِفًا عَنْ غَوَامِضَ مُحْتَجِبَةٍ عَنْ الْأَبْصَارِ نَاسَبَ أَنْ سَمَّيْتُهُ كَشْفَ الْأَسْرَارِ، وَأَرْجُو أَنْ يَكُونَ كِتَابًا سَبَقَ عَامَّةَ الشُّرُوحِ تَرْتِيبًا وَجَمَالًا، وَفَاقَ نَظَائِرَهُ تَحْقِيقًا وَكَمَالًا، وَمَنْ نَظَرَ فِيهِ بِعَيْنِ الْإِنْصَافِ، عَرَفَ دَعْوَى الصِّدْقِ مِنْ الْخِلَافِ، ثُمَّ إنِّي، وَإِنْ لَمْ آلُ جُهْدًا فِي تَأْلِيفِ هَذَا الْكِتَابِ وَتَرْتِيبِهِ، وَلَمْ أَدَّخِرْ جِدًّا فِي تَسْدِيدِهِ وَتَهْذِيبِهِ، فَلَا بُدَّ مِنْ أَنْ يَقَعَ فِيهِ عَثْرَةٌ وَزَلَلٌ، وَأَنْ يُوجَدَ فِيهِ خَطَأٌ وَخَطَلٌ، فَلَا يَتَعَجَّبُ الْوَاقِفُ عَلَيْهِ عَنْهُ، فَإِنَّ ذَلِكَ مِمَّا لَا يَنْجُو مِنْهُ أَحَدٌ وَلَا يَسْتَنْكِفُهُ بَشَرٌ وَقَدْ رَوَى الْبُوَيْطِيُّ عَنْ الشَّافِعِيِّ رحمه الله أَنَّهُ قَالَ لَهُ إنِّي صَنَّفْت هَذِهِ الْكُتُبَ فَلَمْ آلُ فِيهَا الصَّوَابَ فَلَا بُدَّ أَنْ يُوجَدَ فِيهَا مَا يُخَالِفُ كِتَابَ اللَّهِ تَعَالَى وَسُنَّةَ رَسُولِهِ عليه السلام قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا} [النساء: 82] فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهَا مِمَّا يُخَالِفُ كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ رَسُولِهِ فَإِنِّي رَاجِعٌ عَنْهُ إلَى كِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ.

وَقَالَ الْمُزَنِيّ قَرَأْت كِتَابَ الرِّسَالَةِ عَلَى الشَّافِعِيِّ ثَمَانِينَ مَرَّةً فَمَا مِنْ مَرَّةٍ إلَّا وَكُنَّا نَقِفُ عَلَى خَطَإٍ فَقَالَ الشَّافِعِيُّ: هِيهِ أَبَى اللَّهُ أَنْ يَكُونَ كِتَابٌ صَحِيحًا غَيْرَ كِتَابِهِ فَالْمَأْمُولُ مِمَّنْ وَقَفَ عَلَيْهِ بَعْدَ أَنْ جَانَبَ التَّعَصُّبَ وَالتَّعَسُّفَ وَنَبَذَ وَرَاءَ ظَهْرِهِ التَّكَلُّفَ وَالتَّصَلُّفَ، أَنْ يَسْعَى فِي إصْلَاحِهِ بِقَدْرِ الْوُسْعِ وَالْإِمْكَانِ، أَدَاءً لِحَقِّ الْأُخُوَّةِ فِي الْإِيمَانِ، وَإِحْرَازًا لِحُسْنِ الْأُحْدُوثَةِ بَيْنَ الْأَنَامِ، وَإِدْخَارًا لِجَزِيلِ الْمَثُوبَةِ فِي دَارِ السَّلَامِ، وَاَللَّهُ الْمُوَفِّقُ وَالْمُثِيبُ عَلَيْهِ أَتَوَكَّلُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ (قَالَ الْعَبْدُ الضَّعِيفُ) عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبُخَارِيُّ سَتَرَ اللَّهُ عُيُوبَهُ وَغَفَرَ ذُنُوبَهُ.

حَدَّثَنِي بِهَذَا الْكِتَابِ شَيْخِي وَأُسْتَاذِي وَعَمِّي الَّذِي تَقَدَّمَ ذِكْرُهُ آنِفًا قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِسَرَخْسَ فِي الْمَدْرَسَةِ الْمَلَكِيَّةِ الْعَبَّاسِيَّةِ قَالَ حَدَّثَنِي بِهِ أُسْتَاذُ أَئِمَّةِ الدُّنْيَا مُظْهِرُ كَلِمَةِ اللَّهِ الْعُلْيَا شَمْسُ الْأَئِمَّةِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ السَّتَّارِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْكَرْدَرِيُّ مِنْ أَوَّلِ الْكِتَابِ إلَى بَابِ أَسْبَابِ الشَّرَائِعِ وَمِنْهُ إلَى آخِرِ الْكِتَابِ الشَّيْخُ الْإِمَامُ وَالْقَرْمُ الْهُمَامُ بَدْرُ الْمِلَّةِ وَالدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ مَحْمُودِ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْكَرْدَرِيُّ الْمَعْرُوفُ بِخُوَاهَرْ زَادَهُ رَاوِيًا عَنْ حَالِهِ هَذَا قَالَ حَدَّثَنَا شَيْخُ شُيُوخِ الْإِسْلَامِ بُرْهَانُ الدِّينِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الْجَلِيلِ الرِّشْدَانِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا إمَامُ الْأَئِمَّةِ وَمُقْتَدَى الْأُمَّةِ نَجْمُ الدِّينِ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ النَّسَفِيُّ عَنْ الشَّيْخِ الْإِمَامِ الْمُصَنِّفِ قَدَّسَ اللَّهُ أَرْوَاحَهُمْ قَالَ الشَّيْخُ رحمه الله (الْحَمْدُ لِلَّهِ خَالِقِ النَّسَمِ وَرَازِقِ الْقَسَمِ) جَرَتْ سُنَّةُ السَّلَفِ وَالْخَلَفِ بِذِكْرِ الْحَمْدِ فِي أَوَائِلِ تَصَانِيفِهِمْ اقْتِدَاءً بِكِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى.

فَإِنَّهُ مُعَنْوَنٌ بِهِ وَعَمَلًا بِقَوْلِهِ عليه السلام «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِالْحَمْدِ لِلَّهِ فَهُوَ أَقْطَعُ» وَالْحَمْدُ هُوَ الثَّنَاءُ عَلَى الْجَمِيلِ مِنْ نِعْمَةٍ وَغَيْرِهَا يُقَالُ حَمِدْته عَلَى إنْعَامِهِ وَحَمِدْته عَلَى شَجَاعَتِهِ وَاللَّامُ فِيهِ لِاسْتِغْرَاقِ
[গ্রন্থের ভূমিকা]

ফখরুল ইসলামের উসুলুল বাজদাওয়ী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রাণের স্রষ্টা এবং রিযিকের বন্টনকারী।

ــ

[কাশফুল আসরার]

তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে, এবং আমি এই মহান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং বিশাল ও জটিল কার্যে ব্রতী হয়েছি মহান ও মর্যাদাবান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে। তাঁর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, তাঁর ব্যাপক করুণার ওপর ভরসা করে এর পূর্ণতার জন্য তাওফিক কামনা করছি, এবং তাঁর সাধারণ নিয়ামতের ওপর নির্ভর করে এর আরম্ভ ও সমাপ্তির জন্য সহজসাধ্যতা প্রার্থনা করছি।

তাঁর নিকট এই প্রত্যাশা করছি যে, আমি যা কষ্ট সহ্য করছি তা যেন কেবলমাত্র তাঁর মহান সত্তার জন্য নিবেদিত হয়। তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে তাঁর অসন্তুষ্টি ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সম্মুখীন না করেন। তাঁর কাছে বিনীত প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে ভুল ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেন এবং কথা ও কাজে সঠিক ও নির্ভুল পথের দিশা প্রদান করেন। তাঁর নিকট আকুল আবেদন করছি যেন তিনি এর মাধ্যমে আমাকে এবং ইসলামের ইমামগণকে উপকৃত করেন এবং তাঁর বরকতের মাধ্যমে জান্নাতে আমাকে ও তাঁদেরকে একত্রে স্থান দান করেন। যেহেতু এই কিতাবটি দৃষ্টির আড়ালে থাকা জটিল বিষয়গুলোকে উন্মোচনকারী, তাই একে 'কাশফুল আসরার' (রহস্যের উন্মোচন) নামে নামকরণ করা সংগত মনে করেছি। আমি আশা করি যে, এটি বিন্যাস ও সৌন্দর্যে অন্যান্য সমস্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থকে ছাড়িয়ে যাবে এবং সূক্ষ্ম বিচার ও পূর্ণতায় এর সমকক্ষ গ্রন্থগুলোকে অতিক্রম করবে। যে ব্যক্তি ইনসাফের দৃষ্টিতে এটি পর্যবেক্ষণ করবেন, তিনি সত্যের দাবি ও বিরোধিতার মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে পারবেন। অতঃপর, যদিও আমি এই কিতাব রচনা ও বিন্যাসে কোনো শ্রম বাকি রাখিনি এবং এর সংশোধন ও পরিমার্জনে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করিনি, তবুও এতে পদস্খলন ও বিচ্যুতি ঘটা এবং ভুল ও ভ্রান্তি থাকা অনিবার্য। সুতরাং পাঠকরা যদি এতে কোনো ভুল দেখেন তবে যেন আশ্চর্য না হন, কারণ এটি এমন বিষয় যা থেকে কেউ রক্ষা পায় না এবং কোনো মানুষই এর ঊর্ধ্বে নয়। বুওয়াইতি ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে বলেছিলেন: আমি এই কিতাবগুলো রচনা করেছি কিন্তু আমি এতে নির্ভুল হওয়ার কোনো দাবি করি না। অবশ্যই এতে এমন কিছু পাওয়া যাবে যা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (আলাইহিস সালাম) সুন্নাহর পরিপন্থী হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা তাতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত} [আন-নিসা: ৮২]। অতএব, তোমরা এতে যা কিছু আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর পরিপন্থী পাবে, তা থেকে আমি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করছি।

মুযানী বলেছেন: আমি ইমাম শাফেয়ীর নিকট 'আর-রিসালাহ' কিতাবটি আশিবার পাঠ করেছি। প্রতিবারই আমরা কোনো না কোনো ভুলের সম্মুখীন হতাম। তখন ইমাম শাফেয়ী বললেন: আহ! আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে সম্পূর্ণ নির্ভুল হতে দিতে অস্বীকার করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি গোঁড়ামি ও হঠকারিতা পরিহার করে এবং কৃত্রিমতা ও অহংকার বিসর্জন দিয়ে এটি পাঠ করবেন, তাঁর নিকট প্রত্যাশা হলো যে, তিনি ঈমানী ভ্রাতৃত্বের হক আদায় করতে, মানুষের মধ্যে সুখ্যাতি অর্জনে এবং জান্নাতে মহান প্রতিদান লাভের আশায় সাধ্যমতো এটি সংশোধনের চেষ্টা করবেন। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং প্রতিদানকারী, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই। (দুর্বল বান্দা বলেন) আব্দুল আজিজ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বুখারী—আল্লাহ তাঁর দোষত্রুটি গোপন রাখুন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করুন।

আমার শায়খ, ওস্তাদ এবং চাচা, যাঁর উল্লেখ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তিনি আমাকে এই কিতাবটি সারাকসে অবস্থিত আল-মাদরাসাতুল মালিকিয়া আল-আব্বাসিয়াতে পাঠ করে শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন: আমাকে এটি শুনিয়েছেন পৃথিবীর ইমামগণের ওস্তাদ, আল্লাহর সুউচ্চ কালিমার প্রকাশকারী শামসুল আইম্মাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল সাত্তার বিন মুহাম্মদ আল-কারদারি কিতাবের শুরু থেকে 'শরীয়তের কারণসমূহ' অধ্যায় পর্যন্ত। এবং সেখান থেকে কিতাবের শেষ পর্যন্ত শুনিয়েছেন শায়খ, ইমাম, মহান নেতা বদরুল মিল্লাত ওয়াদ দীন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন আব্দুল কারিম আল-কারদারি, যিনি 'খাওয়াহের জাদাহ' নামে পরিচিত। তিনি তাঁর অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শায়খু শুয়ুখিল ইসলাম বুরহানুদ্দীন আলী বিন আবি বকর বিন আব্দুল জলিল আর-রিশদানি। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমামগণের ইমাম এবং উম্মাহর পথপ্রদর্শক নাজমুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আহমদ আন-নাসাফি, তিনি শায়খ ইমাম গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে—আল্লাহ তাঁদের রুহগুলোকে পবিত্র করুন। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রাণের স্রষ্টা এবং রিযিকের বন্টনকারী)। আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ করে সালাফ এবং খালাফগণের রীতি হলো তাঁদের রচনার শুরুতে হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) উল্লেখ করা।

কেননা এটি (কুরআন) এর দ্বারাই সূচিত হয়েছে। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম)-এর এই বাণীর ওপর আমল করার লক্ষ্যে: «যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা (হামদ) দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অপূর্ণ ও বরকতহীন।» হামদ হলো কোনো সুন্দর গুণের ওপর প্রশংসা করা, হোক তা নিয়ামতের কারণে বা অন্য কোনো কারণে। বলা হয়: আমি তাঁর দানের জন্য তাঁর প্রশংসা করেছি এবং তাঁর সাহসিকতার জন্য তাঁর প্রশংসা করেছি। আর এখানে (আল-হামদু-তে) 'লাম' অক্ষরটি সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য নিবেদিত হওয়ার (ইস্তিগরাক) অর্থ প্রদানের জন্য।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ৫)
مُبْدِعِ الْبَدَائِعِ وَشَارِعِ الشَّرَائِعِ دِينًا رَضِيًّا وَنُورًا مُضِيًّا

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

الْجِنْسِ عِنْدَ أَهْلِ السُّنَّةِ عَلَى مَا عُرِفَ أَيْ الْحَمْدُ كُلُّهُ لِلَّهِ وَاَللَّهُ اسْمٌ تَفَرَّدَ بِهِ الْبَارِي سُبْحَانَهُ يَجْرِي فِي وَصْفِهِ مَجْرَى الْأَسْمَاءِ الْأَعْلَامِ لَا شَرِكَةَ فِيهِ لِأَحَدٍ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} [مريم: 65] أَيْ هَلْ تَعْلَمُ أَحَدًا يُسَمَّى بِهَذَا الِاسْمِ غَيْرَهُ كَذَا رُوِيَ عَنْ الْخَلِيلِ وَابْنِ كَيْسَانَ وَلِهَذَا اخْتَصَّ الْحَمْدُ بِهَذَا الِاسْمِ؛ لِأَنَّهُ لَمَّا كَانَ كَالْعَلَمِ لِلذَّاتِ كَانَ مُسْتَجْمِعًا لِجَمِيعِ الصِّفَاتِ فَكَانَ إضَافَةُ الْحَمْدِ إلَيْهِ إضَافَةً لَهُ إلَى جَمِيعِ أَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ أَلَا تَرَى أَنَّ الْإِيمَانَ اخْتَصَّ بِهَذَا الِاسْمِ حَيْثُ قَالَ عليه السلام «أُمِرْت أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ» مَعَ أَنَّ الْإِيمَانَ بِجَمِيعِ الْأَسْمَاءِ وَالصِّفَاتِ وَاجِبٌ؛ لِأَنَّهُ مُسْتَجْمِعٌ لِلصِّفَاتِ ثُمَّ لَمَّا كَانَ مِنْ سُنَّةِ التَّأْلِيفِ أَنْ يُوَافِقَ التَّحْمِيدُ مَضْمُونَهُ.

وَغَرَضُ الشَّيْخِ مِنْ هَذَا التَّصْنِيفِ بَيَانُ أُصُولِ الْفِقْهِ وَالْفِقْهِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله مَعْرِفَةُ النَّفْسِ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا قَالَ " خَالِقِ النَّسَمِ " إذْ لَا بُدَّ مِنْ وُجُودِ النَّفْسِ لِتَعْرِفَ مَا شُرِعَ لَهَا مِثْلُ الْعُقُودِ وَمَا شُرِعَ عَلَيْهَا مِثْلُ الْوَاجِبَاتِ وَالْخَالِقُ هَهُنَا بِمَعْنَى الْإِيجَادِ وَالنَّسَمَةُ الْإِنْسَانُ كَذَا فِي الصِّحَاحِ وَالنَّسَمُ جَمْعُ نَسَمَةٍ وَفِي الْمُغْرِبِ النَّسَمَةُ النَّفْسُ مِنْ نَسَمَ الرِّيحُ ثُمَّ سُمِّيَتْ بِهَا النَّفْسُ وَمِنْهَا أَعْتَقَ النَّسَمَةَ وَاَللَّهُ بَارِئُ النَّسَمِ وَلَمَّا كَانَ الْإِنْسَانُ مُحْتَاجًا إلَى الْعَطَاءِ فِي حَالَةِ الْبَقَاءِ أَعْقَبَهُ بِقَوْلِهِ رَازِقِ الْقَسَمِ أَيْ مُعْطِي الْعَطَايَا، وَالرِّزْقُ الْعَطَاءُ، وَهُوَ مَصْدَرُ قَوْلِك رَزَقَهُ اللَّهُ وَالْقَسَمُ جَمْعُ قِسْمَةٍ بِمَعْنَى الْقَسْمِ، وَهُوَ الْحَظُّ وَالنَّصِيبُ مِنْ الْخَيْرِ وَفِي ذِكْرِ الرِّزْقِ دُونَ الْإِعْطَاءِ لُطْفٌ، وَهُوَ أَنَّ الرِّزْقَ مَا يُفْرَضُ لِلْفُقَرَاءِ بِخِلَافِ الْعَطَاءِ، فَإِنَّهُ اسْمٌ لِمَا يُفْرَضُ لِلْعُمَّالِ مِثْلُ الْمُقَاتِلَةِ وَالْإِنْسَانُ فِي أَوَّلِ أَمْرِهِ فَقِيرٌ مُحْتَاجٌ لَا قُوَّةَ لَهُ عَلَى كَسْبٍ وَعَمَلٍ فَكَانَ ذِكْرُ الرِّزْقِ أَشَدَّ مُنَاسَبَةً مِنْ ذِكْرِ الْعَطَاءِ مَعَ أَنَّ فِيهِ رِعَايَةَ صَنْعَةِ التَّرْصِيعِ.

 

قَوْلُهُ (مُبْدِعِ الْبَدَائِعِ وَشَارِعِ الشَّرَائِعِ) الْإِبْدَاعُ الِاخْتِرَاعُ لَا عَلَى مِثَالٍ وَالْبَدَائِعُ جَمْعُ بَدِيعٍ بِمَعْنَى مُبْتَدِعٍ أَيْ مُخْتَرِعِ الْمَوْجُودَاتِ بِلَا مَادَّةٍ وَمِثَالٍ بِقُدْرَتِهِ الْكَامِلَةِ وَحِكْمَتِهِ الشَّامِلَةِ وَفِي ذِكْرِ هَذِهِ الْقَضِيَّةِ بِدُونِ الْوَاوِ بَدَلًا مِنْ قَوْلِهِ خَالِقِ النَّسَمِ إشَارَةٌ إلَى أَنَّ خَلْقَ مِثْلِ هَذَا الْمَوْجُودِ الَّذِي فِيهِ أُنْمُوذَجٌ مِنْ جَمِيعِ مَا فِي هَذَا الْعَالَمِ حَتَّى قِيلَ هُوَ الْعَالَمُ الْأَصْغَرُ مِنْ عَجَائِبِ قُدْرَتِهِ وَغَرَائِبِ حِكْمَتِهِ ثُمَّ هَذَا الْجِنْسُ لَمَّا خُلِقُوا عَلَى هِمَمٍ شَتَّى وَطَبَائِعَ مُخْتَلِفَةٍ وَأَهْوَاءٍ مُتَبَايِنَةٍ لَا يَكَادُونَ يَجْتَمِعُونَ عَلَى شَيْءٍ وَيَبْعَثُ لِكُلِّ وَاحِدٍ هِمَّتَهُ إلَى مَا يَسْتَلِذُّ طَبْعُهُ وَفِيهِ مِنْ الْفَسَادِ مَا لَا يَخْفَى؛ لِأَنَّ ذَلِكَ يُؤَدِّي فِي الْعَاجِلِ إلَى التَّقَاتُلِ وَالتَّفَانِي وَفِي الْآجِلِ إلَى اسْتِحْقَاقِ الْعَذَابِ الْأَلِيمِ، شَرَعَ الشَّرَائِعَ زَاجِرًا لَهُمْ عَنْ ذَلِكَ وَجَامِعًا لَهُمْ عَلَى طَرِيقٍ وَاحِدٍ مُسْتَقِيمٍ فَكَانَ مِنْ أَجَلِّ النِّعَمِ، وَالشَّرْعُ الْإِظْهَارُ وَشَرَعَ لَهُمْ كَذَا أَيْ بَيَّنَ وَالشَّرَائِعُ جَمْعُ شَرِيعَةٍ، وَهِيَ مَا شَرَعَ اللَّهُ تَعَالَى لِعِبَادِهِ مِنْ الدِّينِ ثُمَّ ضَمَّنَ الشَّارِعُ مَعْنَى الْجَعْلِ وَالتَّصْيِيرِ فَانْتَصَبَ دِينًا عَلَى أَنَّهُ مَفْعُولٌ ثَانٍ أَيْ جَاعِلُ الشَّرَائِعِ دِينًا رَضِيًّا أَوْ انْتَصَبَ عَلَى الْحَالِ مِنْ الشَّرَائِعِ مَعَ أَنَّهُ لَيْسَ بِصِفَةٍ لِوُجُودِ مَعْنَى الصِّفَةِ فِيهِ بِاعْتِبَارِ وَصْفِهِ كَمَا انْتَصَبَ قُرْآنًا عَلَى الْحَالِ فِي قَوْلِهِ عَزَّ اسْمُهُ {كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا} [فصلت: 3] مَعَ أَنَّهُ لَيْسَ بِصِفَةٍ لِكَوْنِهِ مَوْصُوفًا بِوَصْفٍ أَيْ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ فِي حَالِ كَوْنِهِ مَوْصُوفًا بِالْعَرَبِيَّةِ.

وَهُوَ مِثْلُ قَوْلِك جَاءَنِي زَيْدٌ رَجُلًا صَالِحًا وَالدِّينُ وَضْعٌ إلَهِيٌّ سَائِقٌ لِذَوِي الْعُقُولِ بِاخْتِيَارِهِمْ الْمَحْمُودِ إلَى الْخَيْرِ بِالذَّاتِ وَالرِّضَى الْمَرْضِيُّ وَوَصَفَهُ بِهِ اقْتِدَاءً بِقَوْلِهِ عز وجل {وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِينًا} [المائدة: 3] أَيْ اخْتَرْته لَكُمْ مِنْ بَيْنِ الْأَدْيَانِ وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ
অপূর্ব সৃষ্টিরাজির উদ্ভাবক এবং শরিয়তের বিধানসমূহের প্রবর্তক, সন্তোষজনক দ্বীন এবং প্রদীপ্ত নূর হিসেবে।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

আহলে সুন্নতের নিকট জাতিবাচক অর্থে যা পরিচিত, অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। 'আল্লাহ' এমন একটি নাম যার মাধ্যমে মহান পবিত্র স্রষ্টা নিজেকে অনন্য করেছেন। তাঁর গুণাবলি বর্ণনায় এটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের ন্যায় ব্যবহৃত হয়, এতে কারও কোনো অংশীদারিত্ব নেই। মহান আল্লাহ বলেন, {তুমি কি তাঁর সমনামের কাউকে জানো?} [মারইয়াম: ৬৫] অর্থাৎ, তুমি কি এমন কাউকে জানো যাকে তিনি ব্যতীত এই নামে ডাকা হয়? খলীল এবং ইবনে কায়সান থেকে এমনই বর্ণিত হয়েছে। এই কারণেই প্রশংসা এই নামের সাথে সুনির্দিষ্ট হয়েছে; কারণ এটি যখন সত্তার জন্য সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য হিসেবে গণ্য হয়, তখন তা সমস্ত গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে তাঁর প্রতি প্রশংসার সম্বন্ধ করা মানেই হলো তাঁর সমস্ত নাম ও গুণাবলির প্রতি প্রশংসা নিবেদন করা। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, ঈমান এই নামের সাথেই বিশিষ্ট হয়েছে? যেখানে রাসুলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বলেছেন, "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।" অথচ সমস্ত নাম ও গুণাবলির ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব; কারণ এই নাম সমস্ত গুণাবলিকে ধারণ করে। অতঃপর, যেহেতু রচনারীতি হলো প্রশংসাবাক্য যেন তার বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

এই গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে শায়খের উদ্দেশ্য হলো উসূলে ফিকহ এবং ফিকহ বর্ণনা করা। ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে ফিকহের যে সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে তা হলো—নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে নফসের জ্ঞান লাভ করা। তিনি বলেছেন, "প্রাণকুলের স্রষ্টা", কারণ নিজের জন্য কী কী বৈধ করা হয়েছে (যেমন চুক্তি) এবং নিজের ওপর কী কী অর্পণ করা হয়েছে (যেমন ওয়াজিবসমূহ) তা জানার জন্য নফসের অস্তিত্ব থাকা অপরিহার্য। এখানে 'স্রষ্টা' অর্থ হলো অস্তিত্ব দানকারী, আর 'নাসামাহ' অর্থ হলো মানুষ—যেমনটি 'সিহাহ' গ্রন্থে রয়েছে। 'নাসাম' হলো 'নাসামাহ' এর বহুবচন। 'মুগরিব' গ্রন্থে আছে, 'নাসামাহ' হলো প্রাণ বা নফস, যা বাতাসের মৃদু প্রবাহ থেকে উদ্ভূত, অতঃপর একে প্রাণ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। এ থেকেই 'ক্রীতদাস মুক্ত করা' শব্দটি এসেছে। আল্লাহ হলেন প্রাণকুলের স্রষ্টা। যেহেতু মানুষ তার স্থায়িত্বের জন্য দানের মুখাপেক্ষী, তাই তিনি এর পরপরই বলেছেন "বণ্টনকৃত রিযিকদাতা", অর্থাৎ দানসমূহ প্রদানকারী। রিযিক অর্থ হলো দান, যা 'আল্লাহ তাকে রিযিক দিয়েছেন' বাক্যের ক্রিয়ামূল। আর 'কাসাম' হলো 'কিসমাহ' এর বহুবচন, যা বণ্টন অর্থে ব্যবহৃত হয়; আর তা হলো কল্যাণ থেকে প্রাপ্ত অংশ ও ভাগ্য। দান শব্দের পরিবর্তে রিযিক শব্দ ব্যবহারের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম সৌন্দর্য রয়েছে; আর তা হলো রিযিক সাধারণত অভাবীদের জন্য বরাদ্দকৃত অংশকে বোঝায়, পক্ষান্তরে দান হলো কর্মীদের জন্য বরাদ্দকৃত অংশ যেমন যোদ্ধাদের ভাতা। মানুষ তার জীবনের শুরুতে অত্যন্ত দরিদ্র ও মুখাপেক্ষী থাকে, উপার্জন বা কাজের কোনো শক্তি তার থাকে না। তাই দান শব্দের চেয়ে রিযিক শব্দের উল্লেখ করা অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে, পাশাপাশি এতে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ভারসাম্যও রক্ষিত হয়েছে।

 

তাঁর উক্তি (অপূর্ব সৃষ্টিরাজির উদ্ভাবক এবং শরিয়তের বিধানসমূহের প্রবর্তক): উদ্ভাবন হলো কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই কোনো কিছু সৃষ্টি করা। 'বাদাই' শব্দটি 'বাদি' এর বহুবচন যা উদ্ভাবক অর্থে ব্যবহৃত, অর্থাৎ কোনো উপাদান বা নমুনা ছাড়াই স্বীয় পূর্ণ কুদরত ও ব্যাপক হিকমতের মাধ্যমে বিদ্যমান বস্তুসমূহের আবিষ্কারক। 'প্রাণকুলের স্রষ্টা' বলার পরিবর্তে 'এবং' অব্যয় ব্যতীত এই বিষয়টি উল্লেখ করার মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, এমন একটি অস্তিত্ব (মানুষ) সৃষ্টি করা যার মধ্যে এই জগতের সমস্ত কিছুর একটি নমুনা বিদ্যমান—এমনকি বলা হয়ে থাকে যে এটি একটি ক্ষুদ্র জগত—তা তাঁর কুদরতের বিস্ময়কর নিদর্শন এবং হিকমতের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। অতঃপর এই মানবজাতিকে যখন ভিন্ন ভিন্ন উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি এবং পৃথক পৃথক প্রবৃত্তির ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে, তখন তারা কোনো একটি বিষয়ের ওপর একমত হতে পারে না। প্রত্যেকের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাকে কেবল তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তির আনন্দের দিকেই ধাবিত করে। আর এর মধ্যে যে বিশৃঙ্খলা নিহিত আছে তা গোপন নয়; কারণ এটি ইহকালে পারস্পরিক লড়াই ও ধ্বংসের দিকে পরিচালিত করে এবং পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির উপযুক্ত করে তোলে। তাই তিনি তাদের এসকল বিষয় থেকে বিরত রাখতে এবং একটি সরল সঠিক পথে ঐক্যবদ্ধ করতে শরিয়ত প্রবর্তন করেছেন। এটি ছিল মহান নেয়ামতসমূহের অন্যতম। 'শরয়' অর্থ হলো প্রকাশ করা, আর তাদের জন্য এমন বিধান দিয়েছেন অর্থ হলো তিনি তা স্পষ্ট করেছেন। 'শারাই' হলো শরিয়তের বহুবচন, আর তা হলো মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য দ্বীনের যে বিধানসমূহ প্রবর্তন করেছেন। এরপর 'প্রবর্তক' শব্দের মধ্যে 'নির্ধারণ করা' এর অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে 'দ্বীন' শব্দটি দ্বিতীয় কর্ম হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়েছে। অর্থাৎ তিনি শরিয়তসমূহকে একটি পছন্দনীয় দ্বীন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অথবা এটি 'শরিয়তসমূহ' থেকে অবস্থা (হাল) হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়েছে; যদিও এটি সরাসরি বিশেষণ নয়, কিন্তু এর বর্ণনার প্রেক্ষিতে এতে বিশেষণের অর্থ বিদ্যমান। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {একটি কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে আরবি কুরআন হিসেবে} [ফুসসিলাত: ৩]-এ 'কুরআন' শব্দটি হাল হিসেবে নসব হয়েছে। যদিও তা সরাসরি বিশেষণ নয়, বরং বিশেষিত শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ এর আয়াতসমূহকে বিশদ বর্ণনা করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে তা আরবি ভাষায় বিশেষিত।

এটি আপনার এই কথার মতো যে: 'যায়েদ একজন সৎ ব্যক্তি হিসেবে আমার কাছে এসেছে'। দ্বীন হলো একটি খোদায়ি বিধান যা বিবেকবানদের তাদের প্রশংসনীয় পছন্দের মাধ্যমে মূল কল্যাণের দিকে পরিচালিত করে। আর একে সন্তোষজনক হিসেবে বিশেষিত করা হয়েছে মহান আল্লাহর বাণীর অনুসরণে: {আর আমি তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছি} [মায়েদাহ: ৩]। অর্থাৎ আমি সমস্ত ধর্মের মাঝ থেকে তোমাদের জন্য একে মনোনীত করেছি। আর এটিও হতে পারে যে উদ্দেশ্য হলো—
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ৬)
وَذِكْرًا لِلْأَنَامِ وَمَطِيَّةً إلَى دَارِ السَّلَامِ أَحْمَدُهُ عَلَى الْوُسْعِ وَالْإِمْكَانِ وَأَسْتَعِينُهُ عَلَى طَلَبِ الرِّضْوَانِ وَنَيْلِ أَسْبَابِ الْغُفْرَانِ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

مِنْ الشَّرَائِعِ مَشْرُوعَاتُ هَذِهِ الْمِلَّةِ خَاصَّةً بِدَلِيلِ قَوْلِهِ دِينًا عَلَى صِيغَةِ الْوَاحِدِ وَلَوْ كَانَ الْمُرَادُ جَمِيعَ الشَّرَائِعِ مِنْ لَدُنْ آدَمَ إلَى عَهْدِ النَّبِيِّ عليهما السلام لَقِيلَ أَدْيَانًا رَضِيَّةً وَأَنْوَارًا مُضِيئَةً وَالنُّورُ لُغَةً اسْمٌ لِلْكَيْفِيَّةِ الْعَارِضَةِ مِنْ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ وَالنَّارِ عَلَى ظَوَاهِرِ الْأَجْسَامِ الْكَثِيفَةِ مِثْلِ الْأَرْضِ وَالْجِدَارِ وَمِنْ خَاصِّيَّتِهِ أَنْ تَصِيرَ الْمَرْئِيَّاتُ بِسَبَبِهِ مُتَجَلِّيَةً مُنْكَشِفَةً وَلِذَا قِيلَ فِي تَعْرِيفِهِ هُوَ الظَّاهِرُ فِي نَفْسِهِ الْمُظْهِرُ لِغَيْرِهِ.

ثُمَّ تَسْمِيَةُ الدِّينِ نُورًا بِطَرِيقِ الِاسْتِعَارَةِ؛ لِأَنَّهُ سَبَبٌ لِظُهُورِ الْحَقِّ لِلْبَصِيرَةِ كَمَا أَنَّ النُّورَ الْجُسْمَانِيَّ سَبَبٌ لِظُهُورِ الْأَشْيَاءِ لِلْبَصَرِ وَالْإِضَاءَةُ مُتَعَدٍّ وَلَازِمٍ قَالَ النَّابِعَةَ الْجَعْدِيِّ:

أَضَاءَتْ لَنَا النَّارُ وَجْهًا أَغَرَّ … مُلْتَبِسًا بِالْفُؤَادِ الْتِبَاسَا

يُضِيءُ كَضَوْءِ سِرَاجِ السَّلِيطِ … لَمْ يَجْعَلْ اللَّهُ فِيهِ نُحَاسَا

، فَاسْتَعْمَلَهُ بِالْمَعْنَيَيْنِ وَاللُّزُومُ هُوَ الْمُخْتَارُ وَالضِّيَاءُ أَقْوَى مِنْ النُّورِ وَأَتَمُّ مِنْهُ؛ لِأَنَّهُ أُضِيفَ إلَى الشَّمْسِ وَالنُّورُ إلَى الْقَمَرِ فِي قَوْله تَعَالَى {هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا} [يونس: 5] ثُمَّ الشَّيْخُ وَصَفَ الدِّينَ بِالنُّورِ أَوَّلًا كَمَا وَصَفَهُ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ فِي قَوْلِهِ {وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا} [الشورى: 52] أَيْ جَعَلْنَا الْإِيمَانَ نُورًا وَفِي قَوْلِهِ عَزَّ اسْمُهُ {وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ} [الصف: 8] أَيْ دِينِهِ ثُمَّ وَصَفَهُ بِالْإِضَاءَةِ ثَانِيًا؛ لِأَنَّهُ فِي أَوَّلِ الْأَمْرِ فِي حَقِّ الْمُتَمَسِّكِ بِهِ بِمَنْزِلَةِ نُورِ الْقَمَرِ ثُمَّ يَتَزَايَدُ بِالتَّأَمُّلِ وَالِاسْتِدْلَالِ إلَى أَنْ يَبْلُغَ ضَوْءَ الشَّمْسِ.

وَلِأَنَّ الْخَلْقَ كَانُوا فِي ظُلْمَةٍ ظَلْمَاءَ قَبْلَ الْبَعْثِ فَكَانَ ظُهُورُ الدِّينِ فِيهَا بِمَنْزِلَةِ ظُهُورِ نُورِ الْقَمَرِ فِي الظُّلْمَةِ الْجُسْمَانِيَّةِ ثُمَّ ازْدَادَ حَتَّى بَلَغَ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ بِمَنْزِلَةِ ضِيَاءِ الشَّمْسِ؛ فَلِهَذَا وَصَفَهُ بِهِمَا؛ وَلِأَنَّ اسْتِنَارَةَ الْعَالَمِ الْجُسْمَانِيِّ بِهَذَيْنِ الْكَوْكَبَيْنِ فَوَصَفَهُ بِالنُّورِ وَالْإِضَاءَةِ فَكَأَنَّهُ قَالَ: هُوَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ فِي الْعَالَمِ الرُّوحَانِيِّ بِطَرِيقِ الِاسْتِعَارَةِ التَّخْيِيلِيَّةِ.

قَوْلُهُ (وَذِكْرًا لِلْأَنَامِ وَمَطِيَّةً إلَى دَارِ السَّلَامِ) الذِّكْرُ هَهُنَا الشَّرَفُ قَالَ تَعَالَى {لَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ} [الأنبياء: 10] أَيْ شَرَفُكُمْ {ص وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ} [ص: 1] قِيلَ ذِي الشَّرَفِ وَالْأَنَامُ الْخَلْقُ، وَهُوَ اسْمُ جَمْعٍ لَا وَاحِدَ لَهُ مِنْ لَفْظِهِ وَالْمَطِيَّةُ الْمَرْكَبُ وَالْمِطَاءُ الظَّهْرُ، وَهَذَا الْكَلَامُ بِطَرِيقِ الِاسْتِعَارَةِ يَعْنِي كَمَا أَنَّ الْمَطِيَّةَ وَسِيلَةٌ إلَى الْوُصُولِ إلَى الْمَقْصِدِ فَكَذَلِكَ الدِّينُ وَسِيلَةٌ إلَى الْوُصُولِ إلَى الْمَقْصِدِ الْأَقْصَى، وَهُوَ دَارُ السَّلَامِ وَسُمِّيَتْ الْجَنَّةُ دَارَ السَّلَامِ لِسَلَامَةِ أَهْلِهَا وَمَا فِيهَا مِنْ النِّعَمِ عَنْ الْآفَاتِ وَالْفِنَاءِ أَوْ لِكَثْرَةِ السَّلَامِ فِيهَا قَالَ تَعَالَى {تَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلامٌ} [إبراهيم: 23] {سَلامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ} [الزمر: 73] {سَلامٌ قَوْلا مِنْ رَبٍّ رَحِيمٍ} [يس: 58] وَالسَّلَامُ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ تَعَالَى فَأُضِيفَتْ الدَّارُ إلَيْهِ تَعْظِيمًا لَهَا.

قَوْلُهُ (أَحْمَدُهُ عَلَى الْوُسْعِ وَالْإِمْكَانِ) وَلَمَّا نَظَرَ الشَّيْخُ رحمه الله فِي جَلَائِلِ نِعَمِ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى عِبَادِهِ وَكَمَالِ قُدْرَتِهِ وَعَظَمَتِهِ وَعَرَفَ أَنَّ الْقُدْرَةَ الْبَشَرِيَّةَ لَا تَفِي بِالْقِيَامِ بِمُوَاجَبِ حَمْدِهِ كَمَا هُوَ يَسْتَحِقُّهُ، وَإِنَّ سُلُوكَ طَرِيقِ النَّجَاةِ لَا يَتَيَسَّرُ إلَّا بِإِعَانَتِهِ وَتَيْسِيرِهِ قَالَ أَحْمَدُهُ عَلَى الْوُسْعِ وَالْإِمْكَانِ وَأَسْتَعِينُهُ عَلَى طَلَبِ الرِّضْوَانِ يَعْنِي أَحْمَدُهُ عَلَى حَسَبِ وُسْعِي وَطَاقَتِي وَبِقَدْرِ مَا يُمْكِنُ الْإِقْدَامُ عَلَيْهِ مِنْ التَّحْمِيدِ لَا عَلَى حَسَبِ النِّعَمِ إذَا لَيْسَ ذَلِكَ وُسْعَ أَحَدٍ قَالَ تَعَالَى {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لا تُحْصُوهَا} [النحل: 18] ثُمَّ الْإِمْكَانُ أَعَمُّ مِنْ الْوُسْعِ؛ لِأَنَّ الْمُمْكِنَ قَدْ يَكُونُ مَقْدُورًا لِلْبَشَرِ وَغَيْرَ مَقْدُورٍ لَهُ أَلَا تَرَى أَنَّ نَسْفَ الْجِبَالِ مُمْكِنٌ فِي نَفْسِهِ.

وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَقْدُورًا لِلْبَشَرِ وَالْوُسْعُ رَاجِعٌ إلَى الْفَاعِلِ وَالْإِمْكَانُ إلَى الْمَحَلِّ وَخَصَّ طَلَبَ الرِّضْوَانِ أَيْ الرِّضَا بِالِاسْتِعَانَةِ فِيهِ؛ لِأَنَّهُ أَعْظَمُ النِّعَمِ وَأَعْلَاهَا قَالَ تَعَالَى {وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ} [التوبة: 72] ثُمَّ ذَكَرَ الشَّهَادَتَيْنِ؛ لِأَنَّ ذَلِكَ مِنْ سُنَّةِ الْخُطْبَةِ قَالَ عليه السلام «كُلُّ خُطْبَةٍ لَيْسَ فِيهَا تَشَهُّدٌ فَهِيَ كَالْيَدِ الْجَذْمَاءِ»
এবং এটি সৃষ্টিজগতের জন্য সম্মান ও দারুস সালামে (শান্তির আবাসে) পৌঁছানোর বাহন। আমি তাঁর সামর্থ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণে ও ক্ষমা লাভের উপায়সমূহ অর্জনে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

শরিয়তসমূহের মধ্য থেকে বিশেষভাবে এই মিল্লাতের (জাতির) বিধানসমূহ উদ্দেশ্য, যার দলিল হলো তাঁর উক্তি 'দীন' (ধর্ম) একবচন শব্দে ব্যবহার করা। যদি আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে শুরু করে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ পর্যন্ত সকল শরিয়ত উদ্দেশ্য হতো, তবে 'অদইয়ানান রাদিয়্যাতান' (সন্তোষজনক ধর্মসমূহ) এবং 'আনোয়ারান মুদিয়াতান' (প্রোজ্জ্বল নূরসমূহ) বলা হতো। আর 'নূর' (আলো) শাব্দিক অর্থে সূর্য, চন্দ্র ও আগুন থেকে বিচ্ছুরিত সেই গুণ বা অবস্থার নাম, যা পৃথিবী বা দেয়ালের মতো ঘন বস্তুর উপরিভাগে আপতিত হয়। এর বৈশিষ্ট্য হলো, এর মাধ্যমে দৃশ্যমান বস্তুসমূহ সুস্পষ্ট ও উন্মোচিত হয়। এজন্য এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: এটি স্বয়ং প্রকাশিত এবং অন্যকে প্রকাশকারী।

অতঃপর ধর্মকে নূর বা আলো হিসেবে নামকরণ করা রূপক অর্থের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি অন্তর্দৃষ্টির কাছে সত্যকে প্রকাশ করার মাধ্যম, যেমন পার্থিব আলো চোখের কাছে বস্তুসমূহ প্রকাশের মাধ্যম। আর 'ইদাআত' (আলোকিত করা) শব্দটি সকর্মক ও অকর্মক উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। নাবিগা আল-জাদি বলেছেন:

আগুন আমাদের জন্য এক উজ্জ্বল চেহারাকে আলোকিত করেছে... যা হৃদয়ের সাথে গভীরভাবে মিশে আছে।

এটি তেলের প্রদীপের আলোর মতো প্রজ্বলিত হয়... যাতে আল্লাহ কোনো ধোঁয়া বা খাদ রাখেননি।

এখানে কবি একে উভয় অর্থে ব্যবহার করেছেন, তবে অকর্মক অর্থটিই পছন্দনীয়। আর 'দিয়া' (তেজস্কর জ্যোতি) হলো 'নূর' (আলো) অপেক্ষা শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ; কারণ মহান আল্লাহর এই বাণীতে—{তিনিই সূর্যকে তেজস্কর জ্যোতি এবং চাঁদকে আলো করেছেন} [ইউনুস: ৫]—সূর্যের ক্ষেত্রে 'দিয়া' এবং চাঁদের ক্ষেত্রে 'নূর' ব্যবহার করা হয়েছে। অতঃপর শায়খ ধর্মকে প্রথমে 'নূর' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে করেছেন: {বরং আমি একে নূর করেছি} [শুরা: ৫২], অর্থাৎ 'আমি ঈমানকে নূর করেছি'। আবার মহান আল্লাহর বাণীতে: {আর আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করবেন} [সাফ: ৮], অর্থাৎ 'তাঁর ধর্মকে'। এরপর তিনি একে দ্বিতীয় পর্যায়ে 'ইদাআত' (প্রোজ্জ্বলতা) দ্বারা গুণান্বিত করেছেন; কারণ ধর্মকে আঁকড়ে ধারণকারীর ক্ষেত্রে এটি শুরুতে চাঁদের আলোর স্তরে থাকে, এরপর চিন্তা ও প্রমাণের মাধ্যমে তা বৃদ্ধি পেতে পেতে সূর্যের আলোর স্তরে পৌঁছায়।

তাছাড়া রাসূল প্রেরণের পূর্বে সৃষ্টিজগৎ ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। সেখানে ধর্মের আবির্ভাব ছিল পার্থিব অন্ধকারে চন্দ্রালোেক উদিত হওয়ার মতো। অতঃপর তা বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়ল, যা সূর্যের জ্যোতির সদৃশ। একারণেই তিনি একে উভয়টি দ্বারা গুণান্বিত করেছেন। আর যেহেতু জাগতিক জগৎ এই দুটি জ্যোতিষ্কের মাধ্যমেই আলোকিত হয়, তাই তিনি একে নূর ও প্রোজ্জ্বলতা দ্বারা বর্ণনা করেছেন। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: এটি আধ্যাত্মিক জগতের সূর্য ও চন্দ্র, যা এক কাল্পনিক রূপক পদ্ধতি।

তাঁর উক্তি (সৃষ্টিজগতের জন্য সম্মান ও শান্তির আবাসের দিকে বাহন)—এখানে 'জিকির' অর্থ হলো মর্যাদা। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি তোমাদের প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমাদের মর্যাদা রয়েছে} [আম্বিয়া: ১০], অর্থাৎ তোমাদের সম্মান। {সোয়াদ, শপথ জিকিরসমৃদ্ধ কুরআনের} [সোয়াদ: ১], বলা হয়েছে—মর্যাদাপূর্ণ কুরআনের। আর 'আনাম' অর্থ সৃষ্টিজগৎ, এটি এমন এক সমষ্টিবাচক বিশেষ্য যার নিজস্ব কোনো একবচন রূপ নেই। 'মাতিয়্যাহ' অর্থ বাহন এবং 'মিতাউ' অর্থ পিঠ। এই কথাটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ বাহন যেমন গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম, ধর্মও তেমনি চূড়ান্ত গন্তব্য তথা 'দারুস সালাম'-এ পৌঁছানোর মাধ্যম। জান্নাতকে 'দারুস সালাম' বলা হয়েছে কারণ এর অধিবাসীগণ এবং এর নেয়ামতসমূহ বিপদাপদ ও ধ্বংস থেকে নিরাপদ, অথবা সেখানে সালামের আধিক্যের কারণে। মহান আল্লাহ বলেন: {সেখানে তাদের অভিবাদন হবে সালাম} [ইব্রাহিম: ২৩]। {তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখী হও} [জুমার: ৭৩]। {পরম দয়ালু রবের পক্ষ থেকে বলা হবে সালাম} [ইয়াসিন: ৫৮]। আর 'আস-সালাম' মহান আল্লাহর নামসমূহের একটি, তাই সম্মানার্থে এই আবাসের নাম তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁর উক্তি (আমি তাঁর সামর্থ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী প্রশংসা করি)—যখন শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর বান্দাদের প্রতি আল্লাহর মহান নেয়ামতরাজি এবং তাঁর পূর্ণ কুদরত ও মহিমা নিয়ে চিন্তা করলেন, তখন তিনি উপলব্ধি করলেন যে, মানবীয় সক্ষমতা তাঁর প্রাপ্য প্রশংসা আদায়ের জন্য যথেষ্ট নয় এবং মুক্তির পথে চলা তাঁর সাহায্য ও সহজ করা ছাড়া সম্ভব নয়। তখন তিনি বললেন: আমি আমার সামর্থ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণে তাঁর সাহায্য চাই। অর্থাৎ, আমি আমার সামর্থ্য ও শক্তি অনুযায়ী এবং প্রশংসার ক্ষেত্রে যতটুকু পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব সেই পরিমাণ প্রশংসা করি; নেয়ামতের পরিমাণ অনুযায়ী নয়, কারণ তা কারো সামর্থ্যের ভেতরে নেই। মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তা শেষ করতে পারবে না} [নাহল: ১৮]। এরপর 'সক্ষমতা' (ইমকান) শব্দটি 'সামর্থ্য' (উসউ) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক; কারণ যা সম্ভব তা মানুষের সাধ্যায়ত্ত হতে পারে আবার সাধ্যাতীতও হতে পারে। আপনি কি দেখেন না যে, পাহাড় উপড়ে ফেলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্ভব।

যদিও তা মানুষের সাধ্যায়ত্ত নয়। আর 'সামর্থ্য' (উসউ) কর্তার সাথে সম্পৃক্ত, আর 'সক্ষমতা' (ইমকান) বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি সন্তুষ্টি অন্বেষণকে সাহায্যের প্রার্থনার জন্য সুনির্দিষ্ট করেছেন; কারণ এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ নেয়ামত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড়} [তাওবা: ৭২]। অতঃপর তিনি শাহাদাতাইন (সাক্ষ্য প্রদান) উল্লেখ করেছেন; কারণ এটি খুতবার সুন্নাত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে খুতবায় সাক্ষ্য প্রদান নেই, তা কর্তিত হাতের মতো।"
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ৭)
وَأُصَلِّي عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَعَلَى الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ وَأَصْحَابِهِمْ أَجْمَعِينَ

 

قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْأَجَلُّ الزَّاهِدُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَزْدَوِيُّ رحمه الله:‌‌ الْعِلْمُ نَوْعَانِ: عِلْمُ التَّوْحِيدِ وَالصِّفَاتِ وَعِلْمُ الشَّرَائِعِ وَالْأَحْكَامِ وَالْأَصْلُ فِي النَّوْعِ الْأَوَّلِ هُوَ التَّمَسُّكُ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَمُجَانَبَةُ الْهَوَى وَالْبِدْعَةِ وَلُزُومُ طَرِيقِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ الصَّحَابَةُ وَالتَّابِعُونَ وَمَضَى عَلَيْهِ الصَّالِحُونَ وَهُوَ الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ أَدْرَكْنَا مَشَايِخَنَا، وَكَانَ عَلَى ذَلِكَ سَلَفُنَا أَعْنِي أَبَا حَنِيفَةَ وَأَبَا يُوسُفَ وَمُحَمَّدًا وَعَامَّةَ أَصْحَابِهِمْ رحمهم الله وَقَدْ صَنَّفَ أَبُو حَنِيفَةَ رضي الله عنه فِي ذَلِكَ كِتَابَ الْفِقْهِ الْأَكْبَرِ وَذَكَرَ فِيهِ إثْبَاتَ الصِّفَاتِ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

قَوْلُهُ (وَأُصَلِّي عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ) أَيْ ذُرِّيَّتِهِ وَأَصْحَابِهِ أَيْ مُتَابِعِيهِ مِنْ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ أَوْ الْمُرَادُ مِنْ الْآلِ الْأَتْقِيَاءُ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى مَا قَالَ عليه السلام «آلِي كُلُّ مُؤْمِنٍ تَقِيٍّ» وَتَخْصِيصُ الْأَصْحَابِ بِالذِّكْرِ بَعْدَ دُخُولِهِمْ فِي ذَلِكَ الْعُمُومِ لِزِيَادَةِ التَّعْظِيمِ وَتَقْدِيمِ الْآلِ وَالْأَصْحَابِ فِي الصَّلَاةِ عَلَى عَامَّةِ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ لِتَكْمِيلِ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ لَا لِتَفْضِيلِهِمْ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ إذْ لَا فَضْلَ لِوَلِيٍّ عَلَى نَبِيٍّ قَطُّ.

 

[الْعِلْم نَوْعَانِ]

‌‌[النَّوْع الْأَوَّل عِلْمُ التَّوْحِيدِ وَالصِّفَاتِ]

قَوْلُهُ (الْعِلْمُ نَوْعَانِ) اُخْتُلِفَ فِي تَفْسِيرِ الْعِلْمِ فَقِيلَ لَا يُمْكِنُ تَعْرِيفُهُ؛ لِأَنَّهُ ضَرُورِيٌّ إذْ كُلُّ أَحَدٍ يَعْلَمُ وُجُودَهُ ضَرُورَةً؛ وَلِأَنَّ غَيْرَ الْعِلْمِ لَا يُعْلَمُ إلَّا بِالْعِلْمِ فَلَوْ عُلِمَ الْعِلْمُ بِغَيْرِهِ كَانَ دَوْرًا وَقِيلَ إنَّهُ صِفَةٌ تُوجِبُ فِي الْأُمُورِ الْمَعْنَوِيَّةِ تَمْيِيزًا لَا يَحْتَمِلُ النَّقِيضَ وَقَوْلُهُ لَا يَحْتَمِلُ النَّقِيضَ احْتِرَازٌ عَنْ الظَّنِّ وَنَحْوِهِ وَقِيلَ هُوَ صِفَةٌ يَنْتَفِي بِهَا عَنْ الْحَيِّ الْجَهْلُ وَالشَّكُّ وَالظَّنُّ وَالسَّهْوُ وَمُخْتَارُ الشَّيْخِ أَبِي مَنْصُورٍ الْمَاتُرِيدِيِّ رحمه الله أَنَّهُ صِفَةٌ يَتَجَلَّى بِهَا الْمَذْكُورُ لِمَنْ قَامَتْ هِيَ بِهِ ثُمَّ أَنَّهُ عَامٌّ يَتَنَاوَلُ عِلْمَ النَّحْوِ وَالطِّبِّ وَالنُّجُومِ وَسَائِرِ عُلُومِ الْفَلْسَفَةِ كَمَا يَتَنَاوَلُ عِلْمَ التَّوْحِيدِ وَالشَّرَائِعِ فَلَا يَسْتَقِيمُ تَقْسِيمُهُ بِالنَّوْعَيْنِ وَاكْتِفَاؤُهُ عَلَيْهِمَا كَمَا لَا يَسْتَقِيمُ تَقْسِيمُ الْحَيَوَانِ بِأَنَّهُ نَوْعَانِ: إنْسَانٌ وَفَرَسٌ مُنْحَصِرًا عَلَيْهِمَا؛ لِأَنَّهُ أَعَمُّ مِنْ ذَلِكَ إلَّا بِتَقْيِيدٍ، وَهُوَ أَنْ يُقَالَ الْمُرَادُ الْعِلْمُ الْمُنْجِي أَوْ الْعِلْمُ الَّذِي اُبْتُلِينَا بِهِ نَوْعَانِ، وَكَانَ الشَّيْخ رحمه الله أَخْرَجَ بِقَوْلِهِ الْعِلْمُ نَوْعَانِ غَيْرَ هَذَيْنِ النَّوْعَيْنِ عَنْ كَوْنِهِ عِلْمًا لِعَدَمِ ظُهُورِ فَائِدَتِهِ فِي الْآخِرَةِ وَانْحِصَارِ الْفَائِدَةِ فِيهَا عَلَى النَّوْعَيْنِ فَكَانَ هَذَا مِنْ قَبِيلِ قَوْلِك الْعَالِمُ فِي الْبَلَدِ زَيْدٌ مَعَ وُجُودِ غَيْرِهِ مِنْ الْعُلَمَاءِ فِيهِ؛ لِأَنَّك لَا تَعُدُّهُمْ عُلَمَاءَ فِي مُقَابَلَتِهِ عِلْمُ التَّوْحِيدِ هُوَ الْعِلْمُ بِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى وَاحِدٌ لَا شَرِيكَ لَهُ وَعِلْمُ الصِّفَاتِ هُوَ الْعِلْمُ بِأَنَّ لِلَّهِ تَعَالَى صِفَاتٍ ثُبُوتِيَّةً قَائِمَةً بِذَاتِهِ قَدِيمَةً غَيْرَ مُحْدَثَةٍ مِثْلُ الْعِلْمِ وَالْحَيَاةِ وَالْقُدْرَةِ وَغَيْرِهَا مِنْ أَوْصَافِ الْكَمَالِ لَا كَمَا زَعَمَتْ الْمُعْتَزِلَةُ مِنْ نَفْيِ الصِّفَاتِ، وَلَا كَمَا زَعَمَتْ الْكَرَّامِيَّةُ مِنْ حُدُوثِ بَعْضِ الصِّفَاتِ وَعِلْمُ الشَّرَائِعِ هُوَ الْعِلْمُ بِالْمَشْرُوعَاتِ مِنْ السَّبَبِ وَالْعِلَّةِ وَالشَّرْطِ وَالْحِلِّ وَالْحُرْمَةِ وَالْجَوَازِ وَالْفَسَادِ وَالْأَحْكَامِ، وَإِنْ دَخَلَتْ فِي الْمَشْرُوعَاتِ لَكِنَّهَا لِكَوْنِهَا مَقْصُودَةً أُفْرِدَتْ بِالذِّكْرِ وَالْأَصْلُ فِي النَّوْعِ الْأَوَّلِ التَّمَسُّكُ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ أَيْ بِمُحْكَمِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ الْمُتَوَاتِرَةِ.

وَهَذَا فِي الْمُبَاحَثَةِ مَعَ النَّفْسِ أَوْ مَعَ أَهْلِ الْقِبْلَةِ الَّذِينَ أَقَرُّوا بِرِسَالَةِ النَّبِيِّ عليه السلام وَبِحَقِّيَّةِ الْقُرْآنِ وَانْتَحَلُوا نِحْلَةَ الْإِسْلَامِ إلَّا أَنَّهُمْ بِسَبَبِ أَهْوَائِهِمْ خَرَجُوا عَنْ حَوْزَةِ الْإِسْلَامِ وَنَبَذُوا التَّوْحِيدَ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ وَأَنْكَرُوا الصِّفَاتِ الَّتِي نَطَقَ بِهَا الْقُرْآنُ وَالسُّنَّةُ زَاعِمِينَ أَنَّ مَا ذَهَبُوا إلَيْهِ هُوَ عَيْنُ الْحَقِّ وَمَحْضُ التَّوْحِيدِ، فَأَمَّا فِي الْمُبَاحَثَةِ مَعَ مَنْ أَنْكَرَ الرِّسَالَةَ وَالْقُرْآنَ مِثْلُ الْمَجُوسِ وَالثَّنَوِيَّةِ وَالْفَلَاسِفَةِ فَلَا يَنْفَعُ التَّمَسُّكُ فِيهَا بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ لِإِنْكَارِ الْخَصْمِ حَقِيَتَهُمَا فَيُتَمَسَّكُ إذَنْ بِالْمَعْقُولِ الصِّرْفِ. وَمُجَانَبَةُ الْهَوَى وَالْبِدْعَةِ الْهَوَى مَيَلَانُ النَّفْسِ إلَى مَا تَسْتَلِذُّهُ مِنْ غَيْرِ دَاعِيَةِ الشَّرْعِ وَالْبِدْعَةُ الْأَمْرُ الْمُحْدَثُ فِي الدِّينِ الَّذِي لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ الصَّحَابَةُ وَالتَّابِعُونَ يَعْنِي يَتَمَسَّكُ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ مُجَانِبًا لِهَوَى نَفْسِهِ وَمُجَانِبًا لِمَا أَحْدَثَهُ غَيْرُهُ فِي الدِّينِ مِمَّا لَمْ يَكُنْ مِنْهُ فَلَا يُحْمَلُ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ عَلَى مَا تَهْوَاهُ نَفْسُهُ وَلَا عَلَى مَا يُوَافِقُ مَا أَبْدَعَهُ غَيْرُهُ مِثْلُ مَا قَالَتْ الرَّافِضَةُ الْمُرَادُ مِنْ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَالْأَنْصَابِ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَمِنْ الظُّلْمِ فِي قَوْله تَعَالَى {وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ} [الفرقان: 27] أَبُو بَكْرٍ وَمِنْ قَوْلِهِ {لَمْ أَتَّخِذْ فُلانًا} [الفرقان: 28] عُمَرَ وَمِثْلُ
আমি তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীগণ (সাহাবীগণ) এবং সকল নবী ও রাসূলগণ এবং তাঁদের সকল সাথীদের ওপর দরুদ পাঠ করছি।

 

মহান ইমাম, জাহিদ শায়খ আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-পাযদাভী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:‌‌ ইলম বা জ্ঞান দুই প্রকার: তাওহীদ ও সিফাত (गुणাবলি) সংক্রান্ত জ্ঞান এবং শরীয়ত ও আহকাম (বিধান) সংক্রান্ত জ্ঞান। আর প্রথম প্রকারের মূল ভিত্তি হলো কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, প্রবৃত্তি ও বিদআত থেকে দূরে থাকা এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পথকে আবশ্যক করে নেওয়া; যে পথের ওপর সাহাবীগণ ও তাবেয়ীগণ ছিলেন এবং সৎকর্মশীল পূর্বসূরিগণ অতিবাহিত হয়েছেন। আর এটাই সেই পথ যার ওপর আমরা আমাদের মাশায়েখদের পেয়েছি এবং আমাদের সালাফগণ এর ওপরই ছিলেন; অর্থাৎ আবু হানিফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং তাঁদের সাধারণ সকল সাথীগণ (রহিমাহুমুল্লাহ)। আর আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এ বিষয়ে 'আল-ফিকহুল আকবার' কিতাবটি রচনা করেছেন এবং তাতে সিফাত বা গুণাবলির সাব্যস্তকরণের কথা উল্লেখ করেছেন।

--

‌‌[কাশফুল আসরার]

তাঁর উক্তি (আমি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ পাঠ করছি) অর্থাৎ তাঁর বংশধর এবং তাঁর সাথীদের ওপর, যারা মুহাজিরিন ও আনসারদের মধ্য থেকে তাঁর অনুসারী। অথবা 'আল' (পরিবার) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুমিনদের মধ্যে যারা মুত্তাকী, যেমন নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "প্রত্যেক মুত্তাকী মুমিনই আমার পরিবার।" আর সাহাবীগণ সেই ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। আর সাধারণ সকল নবী ও রাসূলগণের আগে পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ পাঠ করা হয়েছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি দরুদকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য, তাঁদেরকে নবীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার জন্য নয়; কারণ কোনো ওলী কখনোই কোনো নবীর ওপর শ্রেষ্ঠ হতে পারেন না।

 

[ইলম বা জ্ঞান দুই প্রকার]

‌‌[প্রথম প্রকার: তাওহীদ ও সিফাত সংক্রান্ত জ্ঞান]

তাঁর উক্তি (ইলম দুই প্রকার) ইলমের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন এর সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়; কারণ এটি স্বতঃসিদ্ধ (জরুরি)। যেহেতু প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের অস্তিত্বের কথা স্বতঃসিদ্ধভাবেই জানে। তাছাড়া ইলম ব্যতীত অন্য কিছু ইলম দ্বারা ছাড়া জানা যায় না; সুতরাং যদি ইলমকে অন্য কিছুর মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা হয় তবে তা চক্রাকার (দাওর) হবে। আবার কেউ বলেছেন: এটি এমন একটি গুণ যা আধ্যাত্মিক বা অর্থগত বিষয়সমূহে এমন এক পার্থক্য সৃষ্টি করে যাতে বিপরীত কোনো কিছুর সম্ভাবনা থাকে না। তাঁর কথা "বিপরীত কিছুর সম্ভাবনা থাকে না" দ্বারা ধারণা (যন) ও এই জাতীয় বিষয়সমূহকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন: এটি এমন এক গুণ যার দ্বারা জীবিত ব্যক্তি থেকে অজ্ঞতা, সন্দেহ, ধারণা এবং বিস্মৃতি দূর হয়ে যায়। আর শায়খ আবু মনসুর আল-মাতুরিদী (রহিমাহুল্লাহ)-এর পছন্দনীয় মত হলো: এটি এমন একটি গুণ যার মাধ্যমে উল্লেখ্য বিষয়টি তার কাছে প্রকাশ পায় যার মধ্যে সেই গুণটি বিদ্যমান থাকে। অতঃপর ইলম শব্দটি ব্যাপক, যা ব্যাকরণ (নাহু), চিকিৎসা (তিব্ব), জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং দর্শনের অন্যান্য সকল জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি তা তাওহীদ ও শরীয়তের জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং ইলমকে কেবল এই দুই প্রকারে ভাগ করা এবং এই দুটির ওপর সীমাবদ্ধ রাখা সঠিক হয় না, যেমনটি প্রাণীকে কেবল মানুষ ও ঘোড়া—এই দুই প্রকারে সীমাবদ্ধ করে ভাগ করা সঠিক নয়; কারণ প্রাণী এর চেয়েও ব্যাপক। তবে একে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে এভাবে যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো 'মুক্তিদানকারী ইলম' অথবা 'যে ইলম দ্বারা আমাদের পরীক্ষা করা হয়েছে তা দুই প্রকার'। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) সম্ভবত 'ইলম দুই প্রকার' বলার মাধ্যমে এই দুই প্রকার ব্যতীত অন্য কিছুকে ইলম হওয়া থেকে খারিজ করে দিয়েছেন, যেহেতু আখিরাতে সেগুলোর কোনো উপকারিতা প্রকাশ পাবে না এবং আখিরাতের উপকারিতা কেবল এই দুই প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি আপনার এমন উক্তির মতো যে 'শহরের আলেম হলেন যায়েদ', অথচ শহরে অন্য আলেমও বিদ্যমান; কিন্তু আপনি তাঁদের তুলনায় অন্যদের আলেম হিসেবে গণ্য করেন না। তাওহীদের ইলম হলো এই জ্ঞান যে আল্লাহ তাআলা এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আর সিফাত বা গুণাবলির ইলম হলো এই জ্ঞান যে আল্লাহ তাআলার এমন কিছু সুবুতী (ইতিবাচক) গুণাবলি রয়েছে যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান এবং যা অনাদি (কাদিম), নব্য-সৃষ্ট (মুহদাস) নয়; যেমন ইলম, হায়াত, কুদরত এবং অন্যান্য সকল পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি। মুতাযিলাদের দাবি অনুযায়ী সিফাতকে অস্বীকার করা যাবে না, আবার কাররামিয়াদের দাবি অনুযায়ী কিছু সিফাতকে নব্য-সৃষ্ট বলা যাবে না। আর শরীয়তের ইলম হলো শরীয়তসম্মত বিষয়াদি যেমন কারণ (সবব), ইল্লত (নিমিত্ত), শর্ত, হালাল, হারাম, জায়েজ, ফাসাদ এবং আহকাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। যদিও আহকামসমূহ শরীয়তসম্মত বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত, তবুও উদ্দেশ্যমূলক হওয়ার কারণে একে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর প্রথম প্রকারের মূল ভিত্তি হলো কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহে মুতাওয়াতিরাহ-এর সুস্পষ্ট (মুহকাম) দলীলসমূহকে গ্রহণ করা।

আর এটি নিজের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে অথবা আহলে কিবলার সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে, যারা নবী (আলাইহিস সালাম)-এর রিসালাত এবং কুরআনের সত্যতাকে স্বীকার করেছেন এবং ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন; কিন্তু নিজেদের প্রবৃত্তির কারণে তারা ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে গেছেন এবং তাওহীদকে পেছনে নিক্ষেপ করেছেন। তারা সেইসব গুণাবলিকে (সিফাত) অস্বীকার করেছেন যা কুরআন ও সুন্নাহ বর্ণনা করেছে, অথচ তারা দাবি করে যে তারা যে মতের ওপর আছে তা-ই পরম সত্য এবং খাঁটি তাওহীদ। পক্ষান্তরে যারা রিসালাত ও কুরআনকে অস্বীকার করে যেমন অগ্নিপূজক, দ্বিত্ববাদী এবং দার্শনিকগণ, তাদের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা কোনো কাজে আসবে না; কারণ প্রতিপক্ষ এই দুইটির সত্যতাকে অস্বীকার করে। তখন কেবল নিরেট যৌক্তিক দলীলসমূহ (মাকুলাত) দ্বারা যুক্তি প্রদান করতে হবে। আর প্রবৃত্তি ও বিদআত থেকে দূরে থাকা: প্রবৃত্তি (হাওয়া) হলো শরীয়তের আহ্বান ব্যতীত নফসের এমন কিছুর দিকে ঝুঁকে পড়া যা সে উপভোগ করে। আর বিদআত হলো দ্বীনের মধ্যে এমন নব-উদ্ভাবিত বিষয় যা সাহাবী ও তাবেয়ীগণের যুগে ছিল না। অর্থাৎ সে নিজের প্রবৃত্তি ও অন্যের উদ্ভাবিত বিদআত বর্জন করে কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে। সুতরাং কিতাব ও সুন্নাহকে নিজের খেয়ালখুশি মতো বা অন্যের উদ্ভাবিত বিদআতের অনুকূলে ব্যাখ্যা করা যাবে না; যেমনটি রাফেযীরা বলেছে যে 'মদ', 'জুয়া' এবং 'মূর্তি' দ্বারা আবু বকর, উমর ও উসমানকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে! এবং আল্লাহ তাআলার বাণী "যেদিন যালেম আল্লাহর হাতের ওপর (নিজের হাত) দংশন করবে" [ফুরকান: ২৭]—এখানে যালেম দ্বারা আবু বকরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে! এবং তাঁর বাণী "হায়! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম" [ফুরকান: ২৮]—এখানে অমুক দ্বারা উমরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে! এবং অনুরূপ...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ৮)
وَإِثْبَاتَ تَقْدِيرِ الْخَيْرِ وَالشَّرِّ مِنْ اللَّهِ وَأَنَّ ذَلِكَ كُلَّهُ بِمَشِيئَتِهِ وَأَثْبَتَ الِاسْتِطَاعَةَ مَعَ الْفِعْلِ، وَإِنَّ أَفْعَالَ الْعِبَادِ مَخْلُوقَةٌ بِخَلْقِ اللَّهِ تَعَالَى إيَّاهَا كُلَّهَا وَرَدَّ الْقَوْلَ بِالْأَصْلَحِ وَصَنَّفَ كِتَابَ الْعَالِمِ وَالْمُتَعَلِّمِ وَكِتَابَ الرِّسَالَةِ وَقَالَ فِيهِ لَا يَكْفُرُ أَحَدٌ بِذَنْبٍ وَلَا يَخْرُجُ بِهِ مِنْ الْإِيمَانِ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

مَا قَالَتْ الْمُعْتَزِلَةُ فِي قَوْله تَعَالَى {وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48] أَنَّهُ مَشْرُوطٌ بِشَرْطِ التَّوْبَةِ لِيَسْتَقِيمَ قَوْلُهُمْ بِالتَّخْلِيدِ فِي النَّارِ لِأَصْحَابِ الْكَبَائِرِ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَمِثْلُ حَمْلِهِمْ الْمَشِيئَةَ فِي قَوْله تَعَالَى {يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ} [الرعد: 27] وَنَظَائِرُهُ عَلَى مَشِيئَةِ الْقَسْرِ لِيَسْتَقِيمَ قَوْلُهُمْ بِعَدَمِ دُخُولِ الشُّرُورِ وَالْقَبَائِحِ تَحْتَ مَشِيئَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَإِرَادَتِهِ، وَلُزُومُ طَرِيقِ السُّنَّةِ أَيْ عَقِيدَةِ الرَّسُولِ وَالْجَمَاعَةِ أَيْ عَقِيدَةِ الصَّحَابَةِ، أَدْرَكْنَا مَشَايِخَنَا أَيْ أُسْتَاذِيّنَا وَالسَّلَفُ جَمْعُ سَالِفٍ مِنْ سَلَفَ يَسْلُفُ سَلَفًا إذَا مَضَى وَعَامَّةُ أَصْحَابِهِمْ أَيْ أَكْثَرُهُمْ.

وَإِنَّمَا قُيِّدَ بِهِ؛ لِأَنَّ بَعْضَهُمْ كَانَ مَوْسُومًا بِالْبِدْعَةِ مِثْلُ بِشْرِ بْنِ غِيَاثٍ الْمَرِيسِيِّ وَاعْلَمْ أَنَّ غَرَضَ الشَّيْخِ مِنْ تَقْرِيرِ هَذِهِ الْكَلِمَاتِ فِي أَوَّلِ هَذَا الْكِتَابِ إبْطَالُ دَعْوَى مَنْ زَعَمَ مِنْ الْمُعْتَزِلَةِ أَنَّ أَبَا حَنِيفَةَ رحمه الله كَانَ عَلَى مُعْتَقَدِهِمْ اسْتِدْلَالًا بِمَا نُقِلَ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ كُلُّ مُجْتَهِدٍ مُصِيبٌ وَدَفْعُ طَعْنِ مَنْ طَعَنَ فِيهِ مِنْ الشَّافِعِيَّةِ وَغَيْرِهِمْ مِنْ أَصْحَابِ الظَّوَاهِرِ أَنَّهُ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ الرَّأْيِ وَأَنَّهُ كَانَ يُقَدِّمُ الرَّأْيَ عَلَى السُّنَّةِ فَبَدَأَ أَوَّلًا بِإِبْطَالِ دَعْوَى الْمُعْتَزِلَةِ فَقَالَ وَقَدْ صَنَّفَ أَبُو حَنِيفَةَ فِي ذَلِكَ أَيْ فِي عِلْمِ التَّوْحِيدِ وَالصِّفَاتِ كِتَابَ الْفِقْهِ الْأَكْبَرِ سَمَّاهُ أَكْبَرَ؛ لِأَنَّ شَرَفَ الْعِلْمِ وَعَظَمَتَهُ بِحَسَبِ شَرَفِ الْمَعْلُومِ وَلَا مَعْلُومَ أَكْبَرُ مِنْ ذَاتِ اللَّهِ تَعَالَى وَصِفَاتِهِ فَلِذَلِكَ سَمَّاهُ أَكْبَرَ وَذَكَرَ فِيهِ إثْبَاتَ الصِّفَاتِ فَقَالَ لَمْ يَزَلْ وَلَا يَزَالُ بِصِفَاتِهِ وَأَسْمَائِهِ لَمْ يَحْدُثْ لَهُ صِفَةٌ وَلَا اسْمٌ لَمْ يَزَلْ عَالِمًا بِعِلْمِهِ وَالْعِلْمُ صِفَتُهُ فِي الْأَزَلِ وَقَادِرًا بِقُدْرَتِهِ وَالْقُدْرَةُ صِفَتُهُ فِي الْأَزَلِ وَخَالِقًا بِتَخْلِيقِهِ وَالتَّخْلِيقُ صِفَتُهُ فِي الْأَزَلِ وَفَاعِلًا بِفِعْلِهِ وَفِعْلُهُ صِفَتُهُ فِي الْأَزَلِ فَالْفَاعِلُ هُوَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَفِعْلُهُ صِفَتُهُ فِي الْأَزَلِ وَالْمَفْعُولُ مَخْلُوقٌ وَفِعْلُ اللَّهِ تَعَالَى غَيْرُ مَخْلُوقٍ وَصِفَاتُهُ أَزَلِيَّةٌ غَيْرُ مَخْلُوقَةٍ وَلَا مُحْدَثَةٍ فَمَنْ قَالَ إنَّهَا مَخْلُوقَةٌ أَوْ مُحْدَثَةٌ أَوْ وَقَفَ فِيهَا أَوْ شَكَّ فِيهَا فَهُوَ كَافِرٌ بِاَللَّهِ تَعَالَى وَإِثْبَاتُ تَقْدِيرِ الْخَيْرِ وَالشَّرِّ مِنْ اللَّهِ عز وجل أَيْ ذَكَرَ ذَلِكَ فِيهِ أَيْضًا فَقَالَ يَجِبُ أَنْ يَقُولَ آمَنْت بِاَللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ مِنْ اللَّهِ تَعَالَى، وَإِنَّ ذَلِكَ كُلَّهُ بِمَشِيئَتِهِ أَيْ ذَكَرَ ذَلِكَ أَيْضًا فَقَالَ جَمِيعُ أَفْعَالِ الْعِبَادِ مِنْ الْحَرَكَةِ وَالسُّكُونِ كَسْبُهُمْ عَلَى الْحَقِيقَةِ وَاَللَّهُ تَعَالَى خَالِقُهَا.

وَهِيَ كُلُّهَا بِمَشِيئَتِهِ وَعِلْمِهِ وَقَضَائِهِ وَقَدَرِهِ وَالطَّاعَاتُ كُلُّهَا بِمَحَبَّتِهِ وَرِضَائِهِ وَالْمَعَاصِي كُلُّهَا بِتَقْدِيرِهِ وَعِلْمِهِ وَقَضَائِهِ وَمَشِيئَتِهِ لَا بِمَحَبَّتِهِ وَرِضَاهُ وَأَمَّا مَسْأَلَتَا الِاسْتِطَاعَةِ وَالْأَصْلَحِ فَمَا وَجَدْتُهُمَا فِي النُّسَخِ الَّتِي كَانَتْ عِنْدِي مِنْ الْفِقْهِ الْأَكْبَرِ وَلَيْسَ فِي كَلَامِ الشَّيْخِ أَيْضًا مَا يُوجِبُ أَنَّهُ قَدْ ذَكَرَهُمَا فِيهِ، فَإِنَّهُ لَمْ يَعْطِفْ ذَلِكَ عَلَى مَا تَقَدَّمَ حَيْثُ لَمْ يَقُلْ وَإِثْبَاتُ الِاسْتِطَاعَةِ وَلَمْ يَقُلْ أَيْضًا وَأَثْبَتَ فِيهِ الِاسْتِطَاعَةَ وَرَدَّ فِيهِ الْقَوْلَ بِالْأَصْلَحِ بَلْ اسْتَأْنَفَ الْكَلَامَ وَقَالَ وَأَثْبَتَ الِاسْتِطَاعَةَ وَرَدَّ الْقَوْلَ بِالْأَصْلَحِ مُطْلَقًا فَلَعَلَّهُ أَثْبَتَهُمَا فِي مَوْضِعٍ آخَرَ أَوْ فِي مَبَاحِثِهِ وَنَحْوُ ذَلِكَ.

قَوْلُهُ (وَقَالَ فِيهِ لَا يَكْفُرُ أَحَدٌ بِذَنْبٍ) أَيْ قَالَ فِيهِ فَقَدْ ذَكَرَ فِي كِتَابِ الْعَالِمِ وَالْمُتَعَلِّمِ أَنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يَكُونُ لِلَّهِ عَدُوًّا، وَإِنْ رَكِبَ جَمِيعَ الذُّنُوبِ بَعْدَ أَنْ لَا يَدَعَ التَّوْحِيدَ؛ لِأَنَّهُ حِينَ يَرْتَكِبُ الْعَظِيمَ مِنْ الذَّنْبِ فَاَللَّهُ أَحَبُّ إلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُ، فَإِنَّهُ لَوْ خُيِّرَ بَيْنَ أَنْ يُحْرَقَ بِالنَّارِ وَبَيْنَ أَنْ يَفْتَرِيَ عَلَى اللَّهِ مِنْ قَلْبِهِ لَكَانَ الِاحْتِرَاقُ أَحَبَّ إلَيْهِ مِنْ ذَلِكَ وَلَا يَخْرُجُ بِهِ مِنْ الْإِيمَانِ ذَكَرَ فِيهِ أَيْضًا قَالَ الْمُتَعَلِّمُ رحمه الله فَمَا قَوْلُك فِي أُنَاسِ رَوَوْا أَنَّ الْمُؤْمِنَ إذَا زَنَى يُخْلَعُ عَنْهُ الْإِيمَانُ كَمَا يُخْلَعُ عَنْهُ الْقَمِيصُ ثُمَّ إذَا تَابَ أُعِيدَ إلَيْهِ إيمَانُهُ أَتُكَذِّبُهُمْ فِي قَوْلِهِمْ أَوْ تُصَدِّقُهُمْ
এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ ও অকল্যাণের তাকদীর নির্ধারিত হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করা এবং নিশ্চয়ই এই সবকিছুই তাঁর ইচ্ছায় হয়ে থাকে। তিনি কাজের সাথে সামর্থ্য থাকার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন। আর বান্দাদের সমস্ত কাজই আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির মাধ্যমে সৃষ্ট। তিনি 'আসলহ' (সর্বাধিক কল্যাণকর বিষয় আল্লাহর ওপর ওয়াজিব হওয়া) সংক্রান্ত মতবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি 'আল-আলিম ওয়াল-মুতায়াল্লিম' এবং 'আর-রিসালাহ' কিতাব রচনা করেছেন। তিনি সেখানে বলেছেন, কোনো পাপের কারণে কাউকে কাফের বলা যাবে না এবং এর মাধ্যমে কেউ ঈমান থেকে বের হয়ে যায় না।

--

‌‌[কাশফুল আসরার]

মুতাজিলারা আল্লাহ তাআলার বাণী—"এবং তিনি এর চেয়ে নিম্নপর্যায়ের গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন" [নিসা: ৪৮]—সম্পর্কে যা বলেছে যে, এটি তওবার শর্তের সাথে যুক্ত, যাতে করে মুমিনদের মধ্য থেকে কবিরা গুনাহগারদের জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নামের ব্যাপারে তাদের মতবাদটি সঠিক সাব্যস্ত হয়। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী—"তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন" [রাদ: ২৭]—এবং এর সদৃশ আয়াতগুলোতে 'ইচ্ছা' শব্দটিকে তারা 'জোরপূর্বক বাধ্য করা' অর্থে গ্রহণ করেছে, যাতে করে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের অধীনে মন্দ ও কদর্য বিষয়গুলো প্রবেশ না করার ব্যাপারে তাদের মতবাদটি সঠিক সাব্যস্ত হয়। সুন্নাহর পথ অনুসরণ করা অর্থাৎ রাসূলের আকিদা এবং জামাআত অর্থাৎ সাহাবীগণের আকিদা অনুসরণ করা। 'আমরা আমাদের মাশায়েখদের পেয়েছি' অর্থাৎ আমাদের উস্তাদদের। আর 'সালাফ' শব্দটি 'সালিফ' এর বহুবচন, যা 'সালাফা-ইয়াসলুফু' থেকে এসেছে, যার অর্থ অতিবাহিত হওয়া। 'তাদের অধিকাংশ সাথীবর্গ' অর্থাৎ তাদের অধিকাংশই।

আর একে (অধিকাংশ সাথীবর্গ) দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এ কারণে যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিদআতের বিশেষণে বিশেষায়িত ছিল, যেমন বিশর বিন গিয়াস আল-মারিসি। জেনে রাখুন যে, এই কিতাবের শুরুতে এই কথাগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে শায়খের উদ্দেশ্য হলো—মুতাজিলাদের মধ্য থেকে যারা দাবি করে যে আবু হানিফা (রহ.) তাদের আকিদার ওপর ছিলেন, তাদের সেই দাবি বাতিল করা। তারা দলিল হিসেবে পেশ করে যে, আবু হানিফা থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন—'প্রত্যেক মুজতাহিদ সঠিক পথে আছেন'। এছাড়া শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী এবং আহলে জহিরদের মধ্য থেকে যারা তাঁর সমালোচনা করে এই বলে যে, তিনি 'আহলুর রায়' বা যুক্তিপন্থী ছিলেন এবং তিনি সুন্নাহর ওপর যুক্তিকে প্রাধান্য দিতেন—তাদের সেই সমালোচনা খণ্ডন করাও উদ্দেশ্য। তাই তিনি প্রথমে মুতাজিলাদের দাবি বাতিল করার মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং বলেছেন: আবু হানিফা এ বিষয়ে অর্থাৎ তাওহিদ ও সিফাত (গুণাবলি) সংক্রান্ত জ্ঞানে 'আল-ফিকহুল আকবার' কিতাবটি রচনা করেছেন। তিনি এর নাম রেখেছেন 'আকবার' বা সর্ববৃহৎ; কারণ জ্ঞানের মর্যাদা ও মহত্ব নির্ভর করে যে সত্তা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা হচ্ছে তার মর্যাদার ওপর। আর আল্লাহ তাআলার সত্তা ও তাঁর গুণাবলির চেয়ে বড় বা মহান কোনো জ্ঞাত বিষয় নেই। এ কারণেই তিনি এর নাম রেখেছেন 'আকবার'। তিনি সেখানে সিফাত বা গুণাবলি সাব্যস্ত করার কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি অনাদি কাল থেকে তাঁর গুণাবলি ও নামসমূহ সহ আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন। তাঁর কোনো নতুন গুণ বা নামের উদ্ভব ঘটেনি। তিনি অনাদি কাল থেকেই তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে জ্ঞানী এবং জ্ঞান অনাদি কাল থেকেই তাঁর গুণ। তিনি তাঁর কুদরত বা ক্ষমতার মাধ্যমে অনাদি কাল থেকেই ক্ষমতাবান এবং ক্ষমতা অনাদি কাল থেকেই তাঁর গুণ। তিনি তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে অনাদি কাল থেকেই স্রষ্টা এবং সৃষ্টি করা অনাদি কাল থেকেই তাঁর গুণ। তিনি তাঁর কর্মের মাধ্যমে অনাদি কাল থেকেই কর্তা এবং তাঁর কর্ম অনাদি কাল থেকেই তাঁর গুণ। সুতরাং কর্তা হলেন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এবং তাঁর কর্ম অনাদি কাল থেকে তাঁর গুণ। আর যা করা হয়েছে (মাফউল) তা সৃষ্ট, কিন্তু আল্লাহ তাআলার কর্ম (ফেইল) সৃষ্ট নয়। তাঁর গুণাবলি অনাদি, যা সৃষ্ট নয় এবং নতুনভাবে উদ্ভাবিতও নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি বলবে যে সেগুলো সৃষ্ট বা নতুনভাবে উদ্ভাবিত, কিংবা এই বিষয়ে বিরত থাকবে অথবা সন্দেহ পোষণ করবে, সে আল্লাহ তাআলার সাথে কুফরি করল। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালো ও মন্দের তাকদীর সাব্যস্ত করার বিষয়টিও তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: এ কথা বলা আবশ্যক যে, আমি ঈমান আনলাম আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং তাকদীরের প্রতি—যার ভালো ও মন্দ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই। আর এ সব কিছুই তাঁর ইচ্ছায় হয়ে থাকে। অর্থাৎ তিনি এ কথাটিও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: নড়াচড়া ও স্থির থাকা সহ বান্দাদের সমস্ত কাজই প্রকৃত অর্থে তাদের উপার্জন এবং আল্লাহ তাআলা সেগুলোর স্রষ্টা।

আর এই সমস্ত কিছুই তাঁর ইচ্ছা, জ্ঞান, ফয়সালা ও তাকদীরের মাধ্যমে হয়ে থাকে। সমস্ত আনুগত্য বা নেক আমল তাঁর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে হয়, আর সমস্ত নাফরমানি বা গুনাহ তাঁর তাকদীর, জ্ঞান, ফয়সালা ও ইচ্ছার মাধ্যমে হয়, কিন্তু তাঁর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে নয়। সামর্থ্য (ইস্তিতায়াত) এবং 'আসলহ' (সর্বাধিক কল্যাণকর) সংক্রান্ত মাসআলা দুটি আমি 'আল-ফিকহুল আকবার'-এর সেই পাণ্ডুলিপিগুলোতে পাইনি যা আমার নিকট ছিল। শায়খের কথার মধ্যেও এমন কিছু নেই যা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে তিনি এগুলো সেখানে উল্লেখ করেছেন। কারণ তিনি একে পূর্ববর্তী আলোচনার ওপর আতফ (সংযুক্ত) করেননি; তিনি 'সামর্থ্য সাব্যস্ত করা' বা 'তিনি সেখানে সামর্থ্য সাব্যস্ত করেছেন এবং আসলহ সংক্রান্ত মতবাদ প্রত্যাখ্যান করেছেন' এমনটি বলেননি। বরং তিনি নতুনভাবে কথা শুরু করেছেন এবং বলেছেন যে, 'তিনি সামর্থ্য সাব্যস্ত করেছেন এবং সাধারণভাবে আসলহ সংক্রান্ত মতবাদ প্রত্যাখ্যান করেছেন'। সম্ভবত তিনি এগুলো অন্য কোনো স্থানে বা তাঁর অন্য কোনো আলোচনায় সাব্যস্ত করেছেন।

তাঁর উক্তি (এবং তিনি তাতে বলেছেন যে, কোনো পাপের কারণে কেউ কাফের হয় না) অর্থাৎ তিনি এটি 'আল-আলিম ওয়াল-মুতায়াল্লিম' কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর শত্রু হতে পারে না, যদিও সে তাওহিদ বর্জন না করে সমস্ত গুনাহে লিপ্ত হয়। কারণ যখন সে বড় কোনো গুনাহে লিপ্ত হয়, তখনও আল্লাহ তার নিকট অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় থাকেন। যদি তাকে আগুনে পুড়ে যাওয়া অথবা অন্তরে আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে পুড়ে যাওয়াই তার নিকট অধিক প্রিয় হবে। এবং এর দ্বারা সে ঈমান থেকে বের হয়ে যাবে না। সেখানে আরও উল্লেখ আছে যে, মুতায়াল্লিম (শিক্ষার্থী) রহ. বললেন: সেই সব লোকদের সম্পর্কে আপনার অভিমত কী যারা বর্ণনা করেন যে, মুমিন ব্যক্তি যখন ব্যভিচার করে তখন তার থেকে ঈমান খুলে নেওয়া হয় যেমন করে জামা খুলে নেওয়া হয়, অতঃপর সে তওবা করলে পুনরায় তার ঈমান তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়? আপনি কি তাদের এই কথাকে মিথ্যা মনে করেন না কি সত্য মনে করেন?
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ৯)
وَيَتَرَحَّمُ لَهُ وَكَانَ فِي عِلْمِ الْأُصُولِ إمَامًا صَادِقًا وَقَدْ صَحَّ عَنْ أَبِي يُوسُفَ أَنَّهُ قَالَ نَاظَرْت أَبَا حَنِيفَةَ فِي مَسْأَلَةِ خَلْقِ الْقُرْآنِ سِتَّةَ أَشْهُرٍ فَاتَّفَقَ رَأْيِي وَرَأْيُهُ عَلَى أَنَّ مَنْ قَالَ بِخَلْقِ الْقُرْآنِ فَهُوَ كَافِرٌ وَصَحَّ هَذَا الْقَوْلُ عَنْ مُحَمَّدٍ رحمه الله

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

فَإِنْ صَدَّقْت قَوْلَهُمْ فَقَدْ دَخَلْت فِي قَوْلِ الْخَوَارِجِ، وَإِنْ كَذَّبْت قَوْلَهُمْ قَالُوا أَنْتِ مُكَذِّبٌ لِلنَّبِيِّ عليه السلام، فَإِنَّهُمْ رَوَوْا ذَلِكَ عَنْ رِجَالٍ شَتَّى حَتَّى انْتَهَى إلَى النَّبِيِّ عليه السلام قَالَ الْعَالِمُ رحمه الله أُكَذِّبُ هَؤُلَاءِ وَلَا يَكُونُ تَكْذِيبِي لَهُمْ تَكْذِيبًا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَلْ يَكُونُ تَكْذِيبًا لِلرِّوَايَةِ عَنْهُ، فَإِنَّ الرَّجُلَ إذَا قَالَ أَنَا مُؤْمِنٌ بِكُلِّ شَيْءٍ تَكَلَّمَ بِهِ النَّبِيُّ عَمَّ، غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَتَكَلَّمْ بِالْجَوْرِ وَلَمْ يُخَالِفْ الْقُرْآنَ كَانَ هَذَا الْقَوْلُ مِنْهُ تَصْدِيقًا بِالنَّبِيِّ وَبِالْقُرْآنِ وَتَنْزِيهًا لَهُ مِنْ الْخِلَافِ عَلَى الْقُرْآنِ وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَاللَّذَانِ يَأْتِيَانِهَا مِنْكُمْ} [النساء: 16] فَقَوْلُهُ مِنْكُمْ لَمْ يَعْنِ بِهِ الْيَهُودَ وَلَا النَّصَارَى، وَإِنَّمَا عُنِيَ بِهِ الْمُسْلِمُونَ وَذَكَرَ فِي الْفِقْهِ الْأَكْبَرِ أَيْضًا وَلَا نُكَفِّرُ مُسْلِمًا بِذَنْبٍ مِنْ الذُّنُوبِ.

وَإِنْ كَانَتْ كَبِيرَةً إذَا لَمْ يَسْتَحِلَّهَا وَلَا نُزِيلُ عَنْهُ اسْمَ الْإِيمَانِ وَنُسَمِّيهِ مُؤْمِنًا حَقِيقَةً، وَيُتَرَحَّمُ لَهُ أَيْ يُدْعَى لَهُ بِالرَّحْمَةِ وَيُقَالُ رحمه الله «قَالَ عليه السلام لِعَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ لَوْ كَانَ أَبُوك إسْلَامِيًّا لَتَرَحَّمْنَا عَلَيْهِ» أَيْ لَقُلْنَا لَهُ رحمه الله وَذَكَرَ فِيهِ أَيْضًا قَالَ الْمُتَعَلِّمُ أَخْبِرْنِي عَنْ الِاسْتِغْفَارِ لِصَاحِبِ الْكَبِيرَةِ أَهُوَ أَفْضَلُ أَمْ الدُّعَاءُ عَلَيْهِ بِاللَّعْنَةِ قَالَ الْعَالِمُ رحمه الله الذَّنْبُ عَلَى مَنْزِلَتَيْنِ غَيْرِ الْإِشْرَاكِ بِاَللَّهِ فَأَيُّ الذَّنْبَيْنِ رَكِبَ هَذَا الْعَبْدُ، فَإِنَّ الدُّعَاءَ لَهُ بِالِاسْتِغْفَارِ أَفْضَلُ؛ لِأَنَّهُ مُؤْمِنٌ مِنْ أَهْلِ الشَّهَادَةِ، وَالدُّعَاءُ لِأَهْلِ هَذِهِ الشَّهَادَةِ بِالْمَغْفِرَةِ أَفْضَلُ لِحُرْمَةِ هَذِهِ الشَّهَادَةِ إذَا لَيْسَ شَيْءٌ يُطَاعُ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ أَفْضَلُ مِنْ الْإِقْرَارِ بِهَذِهِ الشَّهَادَةِ وَجَمِيعُ مَا أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ فَرَائِضِهِ فِي جَنْبِ هَذِهِ الشَّهَادَةِ أَصْغَرُ مِنْ بَيْضَةٍ فِي جَنْبِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرَضِينَ وَمَا بَيْنَهُنَّ فَكَمَا أَنَّ ذَنْبَ الْإِشْرَاكِ أَعْظَمُ كَذَلِكَ أَجْرُ هَذِهِ الشَّهَادَةِ أَعْظَمُ، وَكَانَ فِي عِلْمِ الْأُصُولِ إمَامًا صَادِقًا أَيْ إمَامًا عَلَى التَّحْقِيقِ وَالشَّيْءُ إذَا بُولِغَ فِي وَصْفِهِ يُوصَفُ بِالصِّدْقِ يُقَالُ لِلرَّجُلِ الشُّجَاعِ وَلِلْفَرَسِ الْجَوَادِ إنَّهُ لَذُو صِدْقٍ أَيْ صَادِقِ الْحَمْلَةِ وَصَادِقِ الْجَرْيِ كَأَنَّهُ ذُو صِدْقٍ فِيمَا يَعُدُّك مِنْ ذَلِكَ قَالَ صَاحِبُ الْكَشَّافِ: فِي قَوْله تَعَالَى {قَدَمَ صِدْقٍ} [يونس: 2] ، وَفِي إضَافَتِهِ إلَى صِدْقٍ دَلَالَةٌ عَلَى زِيَادَةِ فَضْلٍ، وَإِنَّهُ مِنْ السَّوَابِقِ الْعَظِيمَةِ وَمِمَّا يَدُلُّ عَلَى تَبَحُّرِهِ فِيهِ مَا رَوَى يَحْيَى بْنُ شَيْبَانَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله أَنَّهُ قَالَ كُنْت رَجُلًا أُعْطِيت جَدَلًا فِي الْكَلَامِ فَمَضَى دَهْرٌ فِيهِ أَتَرَدَّدُ وَبِهِ أُخَاصِمُ وَعَنْهُ أُنَاضِلُ.

وَكَانَ أَكْثَرُ أَصْحَابِ الْخُصُومَاتِ بِالْبَصْرَةِ فَدَخَلْتهَا نَيِّفًا وَعِشْرِينَ مَرَّةً أُقِيمُ سَنَةً وَأَقَلَّ وَأَكْثَرَ وَكُنْت قَدْ نَازَعْت طَبَقَاتِ الْخَوَارِجِ مِنْ الْإِبَاضِيَّةِ وَغَيْرِهِمْ وَطَبَقَاتِ الْمُعْتَزِلَةِ وَسَائِرِ طَبَقَاتِ أَهْلِ الْأَهْوَاءِ وَكُنْت بِحَمْدِ اللَّهِ أَغْلِبُهُمْ وَأَقْهَرُهُمْ وَلَمْ يَكُنْ فِي طَبَقَاتِ أَهْلِ الْأَهْوَاءِ أَحَدَّ جَدَلًا مِنْ الْمُعْتَزِلَةِ؛ لِأَنَّ ظَاهِرَ كَلَامِهِمْ مُمَوَّهٌ يَقْبَلُهُ الْقُلُوبُ وَكُنْت أُزِيلُ تَمْوِيهَهُمْ بِمَبْدَأِ الْكَلَامِ وَأَمَّا الرَّوَافِضُ وَأَهْلُ الْإِرْجَاءِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ الْحَقَّ فَكَانُوا بِالْكُوفَةِ أَكْثَرَ وَكُنْت قَهَرْتهمْ بِحَمْدِ اللَّهِ أَيْضًا وَكُنْت أَعُدُّ الْكَلَامَ أَفْضَلَ الْعُلُومِ وَأَرْفَعَهَا فَرَاجَعْت نَفْسِي بَعْدَمَا مَضَى لِي فِيهِ عُمْرٌ وَتَدَبَّرْت فَقُلْت إنَّ الْمُتَقَدِّمِينَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَضِّي اللَّهُ عَنْهُمْ وَالتَّابِعِينَ وَأَتْبَاعِهِمْ لَمْ يَكُنْ يَفُوتُهُمْ شَيْءٌ مِمَّا نُدْرِكُهُ نَحْنُ وَكَانُوا عَلَيْهِ أَقْدَرَ وَبِهِ أَعْرَفَ وَأَعْلَمَ بِحَقَائِقِ الْأُمُورِ ثُمَّ لَمْ يَتَهَايَئُوا فِيهِ مُتَنَازِعِينَ وَلَا مُجَادِلِينَ وَلَمْ يَخُوضُوا فِيهِ بَلْ أَمْسَكُوا عَنْ ذَلِكَ وَنُهُوا أَشَدَّ النَّهْيِ وَرَأَيْت خَوْضَهُمْ فِي الشَّرَائِعِ وَأَبْوَابِ الْفِقْهِ وَكَلَامَهُمْ فِيهِ، عَلَيْهِ تَجَالَسُوا وَإِلَيْهِ دَعَوْا وَكَانُوا يُطْلِقُونَ الْكَلَامَ وَالْمُنَازَعَةَ فِيهِ
এবং তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করা হয়। তিনি উসুল (আকীদা) শাস্ত্রে একজন সত্যনিষ্ঠ ইমাম ছিলেন। আবু ইউসুফ থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: "আমি কুরআন সৃষ্টির মাসআলায় আবু হানিফার সাথে ছয় মাস বিতর্ক করেছি। অতঃপর আমার ও তাঁর রায় একমত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি কুরআন সৃষ্টির কথা বলবে সে কাফির।" এবং এই উক্তিটি মুহাম্মাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকেও সহীহ সূত্রে বর্ণিত।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

সুতরাং যদি আপনি তাদের কথা সত্য বলে মেনে নেন, তবে আপনি খারিজিদের মতবাদে প্রবেশ করলেন। আর যদি তাদের কথা মিথ্যা সাব্যস্ত করেন, তবে তারা বলবে যে আপনি নবী (আলাইহিস সালাম)-কে মিথ্যাবাদী বলছেন। কারণ তারা বিভিন্ন ব্যক্তির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছে যা নবী (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত পৌঁছেছে। আলিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, "আমি এদেরকেই মিথ্যা সাব্যস্ত করছি, আর আমার এই মিথ্যা সাব্যস্ত করা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মিথ্যা সাব্যস্ত করা নয়, বরং তাঁর থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাকেই মিথ্যা সাব্যস্ত করা। কারণ কোনো ব্যক্তি যদি বলে যে, আমি নবী যা কিছু বলেছেন তার সবকিছুর প্রতি ঈমান রাখি, তবে তিনি কখনো অন্যায্য কথা বলেননি এবং কুরআনের বিরোধিতা করেননি—তবে তাঁর এই উক্তি নবী ও কুরআনের প্রতি সত্যয়ন হিসেবে গণ্য হবে এবং নবীকে কুরআনের বিরোধিতার অপবাদ থেকে পবিত্র করা হবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং তোমাদের মধ্য থেকে যে দুইজন তা (ব্যভিচার) করবে} [নিসা: ১৬]। এখানে 'তোমাদের মধ্য থেকে' বলতে তিনি ইহুদি বা খ্রিস্টানদের বোঝাননি, বরং মুসলিমদের বুঝিয়েছেন। ফিকহুল আকবার গ্রন্থে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমরা কোনো মুসলিমকে কোনো পাপের কারণে কাফির বলি না।"

যদিও তা কবিরা গুনাহ হয়, যদি সে সেটাকে বৈধ বা হালাল মনে না করে। আমরা তার থেকে ঈমানের নাম সরিয়ে দিই না এবং তাকে প্রকৃতপক্ষে মুমিন হিসেবেই অভিহিত করি। এবং তার জন্য রহমতের দোয়া করা হবে, অর্থাৎ তার জন্য রহমতের প্রার্থনা করা হবে এবং বলা হবে 'রহিমাহুল্লাহ' (আল্লাহ তাকে দয়া করুন)। নবী (আলাইহিস সালাম) আদি ইবনে হাতিমকে বলেছিলেন: "তোমার পিতা যদি ইসলাম গ্রহণ করতেন তবে আমরা তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করতাম", অর্থাৎ আমরা তাঁর জন্য 'রহিমাহুল্লাহ' বলতাম। এতে আরও উল্লেখ আছে যে, শিক্ষার্থী (মুতাআল্লিম) বলল: "আমাকে কবিরা গুনাহকারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা সম্পর্কে বলুন; সেটি কি উত্তম নাকি তাকে লানত বা অভিশাপ দেওয়া উত্তম?" আলিম (রহিমাহুল্লাহ) বললেন: "আল্লাহর সাথে শিরক করা ছাড়া পাপের স্তর দুটি। বান্দা এই দুই পাপের মধ্যে যেটিই করুক না কেন, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উত্তম; কারণ সে সাক্ষ্য প্রদানকারী (আহলে শাহাদাহ) মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত। আর এই সাক্ষ্যের মর্যাদার কারণে এই সাক্ষ্য প্রদানকারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উত্তম। কারণ আল্লাহর আনুগত্যের জন্য এই সাক্ষ্যের স্বীকৃতির চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। আল্লাহর নির্দেশিত সমস্ত ফরজ বিধান এই সাক্ষ্যের পাশে আসমান ও জমিন এবং এর মধ্যবর্তী সবকিছুর পাশে একটি ডিমের চেয়েও ক্ষুদ্র। শিরকের গুনাহ যেমন সবচেয়ে বড়, ঠিক তেমনি এই সাক্ষ্যের প্রতিদানও সবচেয়ে মহান। আর তিনি উসুল শাস্ত্রে একজন সত্যনিষ্ঠ ইমাম ছিলেন, অর্থাৎ প্রকৃত গবেষণার ভিত্তিতে ইমাম। কোনো জিনিসের গুণ বর্ণনা করতে যখন অতিরঞ্জন করা হয়, তখন তাকে 'সিদক' বা সত্যতা দিয়ে বিশেষায়িত করা হয়। যেমন সাহসী ব্যক্তিকে বা দ্রুতগামী ঘোড়াকে বলা হয় 'সদা সত্যনিষ্ঠ' (জু সিদক), অর্থাৎ তার আক্রমণ সত্য ও তার দৌড় সত্য; যেন সে যা প্রতিশ্রুতি দেয় তাতে সে সত্যনিষ্ঠ। কাশশাফ গ্রন্থের লেখক আল্লাহ তাআলার বাণী {সত্যের পা/অগ্রগামিতা} [ইউনুস: ২] সম্পর্কে বলেন: একে সত্যের (সিদক) সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা এর শ্রেষ্ঠত্বের আধিক্যের প্রমাণ দেয় এবং এটি যে অত্যন্ত মহান একটি অগ্রগামিতা তা নির্দেশ করে। তাঁর এই শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয় যা ইয়াহইয়া ইবনে শাইবান আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: "আমি এমন একজন ব্যক্তি ছিলাম যাকে ইলমুল কালামে বিতর্ক করার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘকাল আমি এতেই নিমগ্ন ছিলাম, এটি দিয়েই বিতর্ক করতাম এবং এর পক্ষেই লড়াই করতাম।"

আর বিতর্কিদের অধিকাংশই ছিল বসরায়। আমি সেখানে বিশ বারেরও বেশি প্রবেশ করেছি, কখনও এক বছর, কখনও কম বা বেশি সময় সেখানে অবস্থান করেছি। আমি ইবাদিয়া ও অন্যান্য খারিজিদের বিভিন্ন স্তর, মুতাজিলাদের বিভিন্ন স্তর এবং অন্যান্য কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের (আহলে আহওয়া) সাথে বিতর্ক করেছি। আল্লাহর প্রশংসায় আমি তাদের ওপর জয়ী হতাম এবং তাদের পরাস্ত করতাম। আহলে আহওয়াদের মধ্যে মুতাজিলাদের চেয়ে তীক্ষ্ণ বিতর্ককারী আর কেউ ছিল না; কারণ তাদের কথার বাহ্যিক দিকটা অলংকৃত ছিল যা অন্তর গ্রহণ করে নিত। আমি ইলমুল কালামের মূলনীতি দিয়ে তাদের সেই অলংকরণ দূর করতাম। আর রাফেজি ও মুরজিয়াপন্থীরা যারা সত্যের বিরোধিতা করত, তারা কুফায় অধিক সংখ্যায় ছিল; আল্লাহর প্রশংসায় আমি তাদেরও পরাস্ত করেছি। আমি ইলমুল কালামকে সবচেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ ইলম মনে করতাম। এতে একটি দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করার পর আমি নিজের মধ্যে ফিরে আসলাম এবং চিন্তা করলাম। আমি বললাম: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), তাবেঈন এবং তাঁদের অনুসারীগণ—আমরা যা অনুধাবন করি তার কিছুই তাঁদের অজানা ছিল না। তাঁরা এ বিষয়ে আমাদের চেয়ে বেশি সক্ষম ছিলেন এবং বিষয়ের হাকিকত সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী ছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁরা এ বিষয়ে বিবাদ বা বিতর্কে লিপ্ত হননি এবং এতে গভীর অনুসন্ধান চালাননি, বরং তাঁরা এ থেকে বিরত থেকেছেন এবং অত্যন্ত কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। পক্ষান্তরে আমি তাঁদেরকে শরঈ বিধান ও ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করতে দেখেছি। এর ওপর ভিত্তি করেই তাঁরা মজলিসে বসতেন এবং এর দিকেই আহ্বান জানাতেন। তাঁরা ইলমুল কালাম ও এ সংক্রান্ত বিতর্ক বর্জন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ১০)
وَدَلَّتْ الْمَسَائِلُ الْمُتَفَرِّقَةُ عَنْ أَصْحَابِنَا فِي الْمَبْسُوطِ وَغَيْرِ الْمَبْسُوطِ عَلَى أَنَّهُمْ لَمْ يَمِيلُوا إلَى شَيْءٍ مِنْ مَذَاهِبِ الِاعْتِزَالِ وَإِلَى سَائِرِ الْأَهْوَاءِ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

وَيَتَنَاظَرُونَ عَلَيْهِ وَعَلَى ذَلِكَ مَضَى الصَّدْرُ الْأَوَّلُ مِنْ السَّابِقِينَ وَتَبِعَهُمْ التَّابِعُونَ فَلَمَّا ظَهَرَ لَنَا مِنْ أُمُورِهِمْ ذَلِكَ تَرَكْنَا الْمُنَازَعَةَ وَالْخَوْضَ فِي الْكَلَامِ وَرَجَعْنَا إلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ السَّلَفُ وَشَرَعْنَا فِيمَا شَرَعُوا وَجَالَسْنَا أَهْلَ الْمَعْرِفَةِ بِذَلِكَ مَعَ أَنِّي رَأَيْت مَنْ يَنْتَحِلُ الْكَلَامَ وَيُجَادِلُ فِيهِ قَوْمًا لَيْسَ سِيمَاهُمْ سِيمَا الْمُتَقَدِّمِينَ وَلَا مِنْهَاجُهُمْ مِنْهَاجَ الصَّالِحِينَ رَأَيْتهمْ قَاسِيَةً قُلُوبُهُمْ غَلِيظَةً أَفْئِدَتُهُمْ لَا يُبَالُونَ مُخَالَفَةَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالسَّلَفِ الصَّالِحِ فَهَجَرْتهمْ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ كَذَا ذَكَرَ الْإِمَامُ ظَهِيرُ الدِّينِ الْمَرْغِينَانِيُّ فِي مَنَاقِبِ الْإِمَامِ الْأَعْظَمِ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ

 

قَوْلَهُ (وَدَلَّتْ الْمَسَائِلُ الْمُتَفَرِّقَةُ إلَى آخِرِهِ) اعْلَمْ أَنَّ أَهْلَ الْأَهْوَاءِ تَفَرَّقُوا أَوَّلًا عَلَى سِتِّ فِرَقٍ الْقَدَرِيَّةِ وَالْجَبْرِيَّةِ وَالرَّافِضَةِ وَالْخَارِجِيَّةِ وَالْمُشَبِّهَةِ وَالْمُرْجِئَةِ ثُمَّ تَفَرَّقَتْ كُلُّ فِرْقَةٍ عَلَى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ فِرْقَةً فَصَارَ الْكُلُّ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً عَلَى مَا عُرِفَ فَفِي الْمَسَائِلِ الْمَذْكُورَةِ فِي الْمَبْسُوطِ وَالْجَامِعِ الصَّغِيرِ وَغَيْرِهِمَا دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُمْ لَمْ يَمِيلُوا إلَى شَيْءٍ مِنْ هَذِهِ الْمَذَاهِبِ فَقَالُوا فِي قَوْمٍ صَلَّوْا بِجَمَاعَةٍ فِي لَيْلَةٍ مُظْلِمَةٍ بِالتَّحَرِّي فَوَقَعَ تَحَرِّي كُلِّ أَحَدٍ إلَى جِهَةٍ إنَّ مَنْ عَلِمَ مِنْهُمْ بِحَالِ إمَامِهِ فَسَدَتْ صَلَاتُهُ؛ لِأَنَّ إمَامَهُ فِي زَعْمِهِ مُخْطِئٌ فَلَوْ كَانَ كُلُّ مُجْتَهِدٍ مُصِيبًا عِنْدَهُمْ كَمَا هُوَ مَذْهَبُ الْمُعْتَزِلَةِ لَمَا صَحَّ الْقَوْلُ مِنْهُمْ بِفَسَادِ الصَّلَاةِ كَمَا لَوْ صَلَّوْا كَذَلِكَ فِي جَوْفِ الْكَعْبَةِ فَإِنْ قِيلَ إنَّمَا حَكَمُوا بِفَسَادِ الصَّلَاةِ؛ لِأَنَّ حَقِّيَّةَ كُلِّ جِهَةٍ مُخْتَصَّةٌ بِمُتَحَرِّيهَا إذْ اجْتِهَادُ كُلِّ مُجْتَهِدٍ حَقٌّ فِي حَقِّ نَفْسِهِ لَا فِي حَقِّ غَيْرِهِ حَتَّى لَمْ يَجُزْ الْعَمَلُ بِاجْتِهَادِهِ لِغَيْرِهِ مِنْ الْمُجْتَهِدِينَ كَحِلِّ الْمَيْتَةِ ثَابِتٌ فِي حَقِّ الْمُضْطَرِّ دُونَ غَيْرِهِ بِخِلَافِ الصَّلَاةِ فِي الْكَعْبَةِ، فَإِنَّ كُلَّ جِهَةٍ فِيهَا حَقٌّ بِالنِّسْبَةِ إلَى جَمِيعِ النَّاسِ قُلْنَا إذَا كَانَ اجْتِهَادُ كُلِّ مُجْتَهِدٍ حَقًّا بِالنِّسْبَةِ إلَيْهِ لَا بُدَّ مِنْ أَنْ يَعْتَقِدَ الْغَيْرُ الْحَقِّيَّةَ بِتِلْكَ النِّسْبَةِ كَحِلِّ الْمَيْتَةِ لِمَا ثَبَتَ فِي حَقِّ الْمُضْطَرِّ لَا بُدَّ مِنْ أَنْ يَعْتَقِدَ غَيْرُ الْمُضْطَرِّ الْحِلَّ فِي حَقِّهِ، وَإِنْ لَمْ يَثْبُتْ ذَلِكَ فِي حَقِّ غَيْرِ الْمُضْطَرِّ وَهَهُنَا اعْتَقَدَهُ مُخْطِئًا مُطْلَقًا فَأَوْجَبَ فَسَادَ الصَّلَاةِ وَلَوْ كَانَ الْأَمْرُ عَلَى مَا قَالُوا لَمَا أَوْجَبَ فَسَادَ الصَّلَاةِ كَالْمُتَوَضِّئِ إذَا اقْتَدَى بِالْمُتَيَمِّمِ صَحَّ صَلَاتُهُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ.

وَإِنْ كَانَ جَوَازُ الْأَدَاءِ بِالتَّيَمُّمِ ثَابِتًا فِي حَقِّ الْإِمَامِ دُونَ الْمُقْتَدِي؛ لِأَنَّهُ لَمْ يَعْتَقِدْ إمَامَهُ عَلَى الْخَطَإِ وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ رحمه الله فِي مِيرَاثٍ قُسِّمَ بَيْنَ الْغُرَمَاءِ أَوْ الْوَرَثَةِ لَا آخُذُ كَفِيلًا مِنْ الْغَرِيمِ وَلَا مِنْ الْوَارِثِ هُوَ شَيْءٌ احْتَاطَ بِهِ بَعْضُ الْقُضَاةِ، وَهُوَ جَوْرٌ سَمَّى اجْتِهَادَ ذَلِكَ الْبَعْضِ جَوْرًا وَلَوْ كَانَ كُلُّ مُجْتَهِدٍ مُصِيبًا عِنْدَهُ لَمَا صَحَّ وَصْفُهُ بِالْجَوْرِ وَقَالُوا فِيمَنْ حَلَفَ إنْ لَمْ آتِك غَدًا إنْ اسْتَطَعْت فَكَذَا إنَّهُ وَاقِعٌ عَلَى سَلَامَةِ الْأَسْبَابِ وَالْآلَاتِ لِلْعُرْفِ فَإِنْ قَالَ عَنَيْت بِهِ اسْتِطَاعَةَ الْقَضَاءِ صُدِّقَ دِيَانَةً حَتَّى لَا يَحْنَث وَإِنْ لَمْ يَأْتِهِ مَعَ عَدَمِ الْمَانِعِ فَدَلَّ أَنَّهُمْ قَائِلُونَ بِالِاسْتِطَاعَةِ مَعَ الْفِعْلِ عَلَى خِلَافِ مَا قَالَهُ الْمُعْتَزِلَةُ وَقَالُوا بِجَوَازِ إمَامَةِ الْفَاسِقِ، وَإِنْ كَانَتْ مَعَ الْكَرَاهِيَةِ وَفِيهِ رَدٌّ لِمَذْهَبِ الْخَوَارِجِ، فَإِنَّهُمْ قَالُوا بِكُفْرِ مَنْ ارْتَكَبَ مَعْصِيَةً وَإِمَامَةُ الْكَافِرِ لَا تَجُوزُ وَلِمَذْهَبِ الرَّافِضَةِ أَيْضًا؛ لِأَنَّهُمْ شَرَطُوا لِصِحَّةِ الْإِمَامَةِ الْإِمَامَ الْمَعْصُومَ وَقَالُوا إذَا قَضَى الْقَاضِي بِشَهَادَةِ الْفَاسِقِ نَفَذَ قَضَاؤُهُ؛ لِأَنَّهُمْ مُسْلِمُونَ وَفِيهِ رَدٌّ لِمَذْهَبِ الْخَوَارِجِ وَالِاعْتِزَالِ وَقَالُوا بِفَرْضِيَّةِ غَسْلِ الرِّجْلَيْنِ وَفِيهِ رَدٌّ لِمَذْهَبِ الرَّوَافِضِ وَاتَّفَقُوا عَلَى عَدَمِ جَوَازِ الدُّعَاءِ بِقَوْلِهِ اللَّهُمَّ إنِّي أَسْأَلُك
আল-মাবসুত এবং মাবসুত ব্যতিত অন্যান্য কিতাবে আমাদের ইমামগণের থেকে বর্ণিত বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলো এ কথার প্রমাণ দেয় যে, তারা মুতাজিলা মাযহাব বা অন্য কোনো ভ্রান্ত মতাদর্শের দিকে মোটেও ঝুঁকে পড়েননি।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

এবং তারা এ বিষয়ে বিতর্ক করতেন। অগ্রবর্তীদের প্রথম প্রজন্ম এরই ওপর অতিবাহিত হয়েছেন এবং তাবেঈগণ তাদের অনুসরণ করেছেন। যখন আমাদের সামনে তাদের কার্যাবলি স্পষ্ট হলো, তখন আমরা কালাম শাস্ত্রীয় ঝগড়া ও তাতে নিমগ্ন হওয়া পরিত্যাগ করলাম এবং সালাফগণ যে পথের ওপর ছিলেন সেদিকে ফিরে আসলাম। তারা যা শুরু করেছিলেন আমরাও তা শুরু করলাম এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মজলিসে বসলাম। অথচ আমি দেখেছি যে, যারা কালাম শাস্ত্রকে নিজেদের দিকে সম্বন্ধ করে এবং তা নিয়ে এমন এক কওমের সাথে বিতর্ক করে যাদের বাহ্যিক রূপ পূর্ববর্তীদের মতো নয় এবং যাদের পথও নেককারদের পথ নয়। আমি দেখেছি যে তাদের অন্তরসমূহ কঠোর ও হৃদয়গুলো কঠিন; তারা কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের বিরোধিতা করতে কোনো পরোয়া করে না। তাই আমি তাদের ত্যাগ করেছি, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য। ইমাম জহিরুদ্দিন আল-মারগিনানি ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ.)-এর গুণাবলি বর্ণনায় এভাবেই উল্লেখ করেছেন।

 

তাঁর কথা (এবং বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলো প্রমাণ দেয়... শেষ পর্যন্ত): জেনে রাখুন যে, প্রবৃত্তি পূজারীরা প্রথমে ছয়টি দলে বিভক্ত হয়েছিল: কদরিয়া, জাবরিয়া, রাফেজি, খারিজি, মুশাব্বিহা এবং মুরজিয়া। এরপর প্রত্যেকটি দল আবার বারোটি উপদলে বিভক্ত হয়েছে, ফলে মোট বাহাত্তরটি দল হয়েছে, যেমনটি জানা যায়। সুতরাং মাবসুত, জামেউস সগির এবং অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত মাসআলাগুলোতে প্রমাণ রয়েছে যে, তারা (আমাদের ইমামগণ) এসব মতাদর্শের কোনোটির দিকেই ঝুঁকে পড়েননি। তারা এমন এক কওমের ব্যাপারে বলেছেন যারা অন্ধকার রাতে অনুমানের ভিত্তিতে জামাতে নামাজ পড়েছে এবং প্রত্যেকের অনুমান একেক দিকে হয়েছে; তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার ইমামের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পেরেছে, তার নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ তার ধারণা অনুযায়ী তার ইমাম ভুলের ওপর আছেন। যদি তাদের মতে প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক হতেন—যেমনটি মুতাজিলাদের মাযহাব—তবে তাদের পক্ষে নামাজ নষ্ট হওয়ার কথা বলা সঠিক হতো না; যেমন তারা যদি কাবার ভেতরে এভাবে নামাজ পড়ত (তবে তা নষ্ট হতো না)। যদি বলা হয় যে, তারা নামাজের ফাসাদ বা নষ্ট হওয়ার হুকুম দিয়েছেন এ কারণে যে, প্রত্যেকটি দিকের সঠিকতা কেবল সেই ব্যক্তির জন্যই নির্দিষ্ট যে তা অনুমান করেছে। কেননা প্রত্যেক মুজতাহিদের ইজতিহাদ কেবল নিজের পক্ষেই সত্য, অন্যের পক্ষে নয়। এমনকি অন্য কোনো মুজতাহিদের জন্য তার ইজতিহাদ অনুযায়ী আমল করা জায়েজ নেই। যেমন মৃত পশুর গোশত হালাল হওয়া কেবল নিরুপায় ব্যক্তির জন্যই নির্দিষ্ট, অন্যদের জন্য নয়। কাবার ভেতরে নামাজ পড়ার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। কেননা সেখানে প্রত্যেকটি দিকই সকল মানুষের জন্য সঠিক। আমরা বলব: যখন প্রত্যেক মুজتাহিদের ইজতিহাদ তার নিজের সাপেক্ষে সত্য হয়, তখন অন্য ব্যক্তির জন্যও সেই সাপেক্ষিক সত্যতাকে বিশ্বাস করা আবশ্যক। যেমন নিরুপায় ব্যক্তির জন্য মৃত পশুর গোশত হালাল হওয়ার বিষয়টি; নিরুপায় নয় এমন ব্যক্তির জন্যও এটা বিশ্বাস করা আবশ্যক যে, নিরুপায় ব্যক্তির জন্য তা হালাল, যদিও নিরুপায়হীন ব্যক্তির জন্য তা হালাল প্রমাণিত নয়। অথচ এখানে (নামাজের মাসআলায়) সে তাকে নিঃশর্তভাবে ভুলকারী বলে বিশ্বাস করেছে, যা নামাজ ফাসাদ হওয়াকে অবধারিত করে। আর বিষয়টি যদি তাদের (মুতাজিলাদের) দাবি অনুযায়ী হতো, তবে তা নামাজ ফাসাদ হওয়াকে অবধারিত করত না; যেমন তায়াম্মুমকারী ইমামের পেছনে অজুকারীর নামাজ পড়া ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম আবু ইউসুফের মতে সহিহ।

যদিও তায়াম্মুমের মাধ্যমে নামাজ আদায় করা কেবল ইমামের জন্যই সাব্যস্ত, মুক্তাদির জন্য নয়; কারণ মুক্তাদি তার ইমামকে ভুলের ওপর বিশ্বাস করেনি। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) পাওনাদার বা ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টনকৃত মিরাসের ব্যাপারে বলেছেন: আমি পাওনাদার বা ওয়ারিশের কাছ থেকে কোনো জামিনদার গ্রহণ করি না। এটি এমন একটি বিষয় যা কোনো কোনো বিচারক সতর্কতা হিসেবে করেছেন, অথচ তা হলো যুলুম (অন্যায়)। তিনি সেই বিচারকের ইজতিহাদকে যুলুম বা অন্যায় নামে অভিহিত করেছেন। যদি তাঁর কাছে প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক হতেন, তবে একে যুলুম হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক হতো না। এবং তারা সেই ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছেন যে কসম করে বলল: 'যদি আমি আগামীকাল তোমার কাছে আসতে সক্ষম হই তবে এরূপ হবে', তবে এটি প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী উপায়-উপকরণ ও শারীরিক সুস্থতা থাকার ওপর বর্তাবে। কিন্তু সে যদি বলে: 'আমি এর দ্বারা আল্লাহর ফয়সালা বা তাওফিক উদ্দেশ্য নিয়েছি', তবে দ্বীনদারির বিচারে তার কথা বিশ্বাস করা হবে যাতে সে গুনাহগার না হয়, যদিও সে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই না আসে। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, তারা কাজের সাথে সামর্থ্য বা কুদরত থাকার প্রবক্তা, যা মুতাজিলাদের মতবাদের বিপরীত। তারা ফাসেক ব্যক্তির ইমামতি জায়েজ হওয়ার কথা বলেছেন, যদিও তা মাকরূহ। এতে খারেজিদের মতবাদের খণ্ডন রয়েছে, কারণ তারা গুনাহগার ব্যক্তিকে কাফের বলে এবং কাফেরের ইমামতি জায়েজ নয়। আবার এতে রাফেজিদের মতবাদেরও খণ্ডন রয়েছে, কারণ তারা ইমামতি সঠিক হওয়ার জন্য ইমামকে মাসুম (নিষ্পাপ) হওয়ার শর্তারোপ করে। তারা বলেছেন, যদি বিচারক ফাসেক ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ফয়সালা করেন, তবে তাঁর ফয়সালা কার্যকর হবে; কারণ তারা মুসলমান। এতে খারেজি ও মুতাজিলাদের মতবাদের খণ্ডন রয়েছে। তারা দুই পা ধোয়া ফরজ হওয়ার কথা বলেছেন, যা রাফেজিদের মতবাদের খণ্ডন। এবং তারা এই বলে দোয়া করা জায়েজ না হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি..."
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ১১)
وَأَنَّهُمْ قَالُوا بِحَقِّيَّةِ رُؤْيَةِ اللَّهِ تَعَالَى بِالْإِبْصَارِ فِي دَارِ الْآخِرَةِ وَحَقِّيَّةِ عَذَابِ الْقَبْرِ لِمَنْ شَاءَ وَحَقِّيَّةِ خَلْقِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ الْيَوْمَ حَتَّى قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ لِجَهْمٍ اُخْرُجْ عَنِّي يَا كَافِرُ وَقَالُوا بِحَقِّيَّةِ سَائِرِ أَحْكَامِ الْآخِرَةِ عَلَى مَا نَطَقَ بِهِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ، وَهَذَا فَصْلٌ يَطُولُ تَعْدَادُهُ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

بِمَقْعَدِ الْعِزِّ مِنْ عَرْشِك مِنْ الْقُعُودِ؛ لِأَنَّهُ يُشِيرُ إلَى التَّمَكُّنِ وَاخْتَلَفُوا فِي جَوَازِهِ بِقَوْلِهِ بِمَعْقِدِ الْعِزِّ مِنْ الْعَقْدِ فَقَالَ أَبُو يُوسُفَ لَا بَأْسَ بِهِ لِلْحَدِيثِ الْوَارِدِ فِيهِ وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٌ رحمهم الله لَا يَجُوزُ؛ لِأَنَّهُ يُوجِبُ تَعَلُّقَ الْعِزِّ بِالْعَرْشِ وَيُوهِمُ حُدُوثَ هَذِهِ الصِّفَةِ وَاَللَّهُ تَعَالَى بِجَمِيعِ أَوْصَافِهِ قَدِيمٌ أَزَلِيٌّ وَالْحَدِيثُ شَاذٌّ لَا يَجُوزُ الْعَمَلُ بِهِ فِي مِثْلِ هَذِهِ الصُّورَةِ وَفِيهِ رَدٌّ لِمَذْهَبِ الْمُشَبِّهَةِ وَاخْتَلَفُوا أَيْضًا فِي الْحَلِفِ بِوَجْهِ اللَّهِ فَقَالَ أَبُو يُوسُفَ يَكُونُ يَمِينًا؛ لِأَنَّ الْوَجْهَ يُذْكَرُ بِمَعْنَى الذَّاتِ قَالَ تَعَالَى {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ} [الرحمن: 27] وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٌ لَا يَكُونُ يَمِينًا وَأَنَّهُ مِنْ إيمَانِ السَّفَلَةِ أَيْ الْجَهَلَةِ الَّذِينَ يَذْكُرُونَهُ بِمَعْنَى الْعُضْوِ الْجَارِحَةِ كَذَا فِي الْمَبْسُوطِ وَفِيهِ رَدٌّ لِمَذْهَبِ الْمُشَبِّهَةِ أَيْضًا.

وَقَالُوا إذَا ارْتَكَبَ الْعَبْدُ ذَنْبًا يُوجِبُ الْحَدَّ فَأُجْرِيَ عَلَيْهِ الْحَدُّ لَا يَحْصُلُ لَهُ التَّطْهِيرُ بِهِ مِنْ غَيْرِ تَوْبَةٍ وَنَدَمٍ لِلْحَدِيثِ الْوَارِدِ فِيهِ إلَيْهِ أُشِيرُ فِي سَرِقَةِ الْمَبْسُوطِ وَفِيهِ رَدٌّ لِمَذْهَبِ الْمُرْجِئَةِ، فَإِنَّ عِنْدَهُمْ لَا يَضُرُّ ذَنْبٌ مَعَ الْإِيمَانِ كَمَا لَا يَنْفَعُ طَاعَةٌ مَعَ الْكُفْرِ وَبَنَوْا مَسَائِلَ لَا تُعَدُّ وَلَا تُحْصَى عَلَى اخْتِيَارِ الْعَبْدِ وَفِيهَا رَدٌّ لِمَذْهَبِ الْمُجْبِرَةِ فَثَبَتَ أَنَّهُمْ لَمْ يَمِيلُوا إلَى شَيْءٍ مِنْ مَذَاهِبِ أَهْلِ الْأَهْوَاءِ وَخَصَّ نَفْيَ الِاعْتِزَالِ عَنْهُمْ بِالذِّكْرِ أَوَّلًا ثُمَّ عَمَّمَ نَفْيَ جَمِيعِ الْأَهْوَاءِ عَنْهُمْ؛ لِأَنَّ الْمُعْتَزِلَةَ هُمْ الْمُدَّعُونَ أَنَّهُمْ كَانُوا عَلَى مَذْهَبِهِمْ لَا غَيْرُهُمْ مِنْ أَهْلِ الْأَهْوَاءِ.

قَوْلُهُ (وَإِنَّهُمْ قَالُوا) بِكَسْرِ الْهَمْزَةِ عَلَى أَنَّهُ كَلَامٌ مُسْتَأْنَفٌ لَا بِفَتْحِهَا عَطْفًا عَلَى أَنَّهُمْ لَمْ يَمِيلُوا؛ لِأَنَّهُ لَمْ يُوجَدْ فِي الْمَسَائِلِ مَا يَدُلُّ عَلَى حَقِّيَّةِ رُؤْيَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَحَقِّيَّةِ مَا ذُكِرَ وَلَكِنَّهُ ذَكَرَ فِي الْفِقْهِ الْأَكْبَرِ وَاَللَّهُ تَعَالَى يُرَى فِي الْآخِرَةِ يَرَاهُ الْمُؤْمِنُونَ وَهُمْ فِي الْجَنَّةِ بِأَعْيُنِ رُءُوسِهِمْ بِلَا شَبِيهٍ وَلَا كَيْفِيَّةٍ وَلَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ خَلْقِهِ مَسَافَةٌ، وَحَقِّيَّةُ عَذَابِ الْقَبْرِ لِمَنْ شَاءَ ذَكَرَ فِي الْفِقْهِ الْأَكْبَرِ وَإِعَادَةُ الرُّوحِ إلَى الْعَبْدِ فِي قَبْرِهِ حَقٌّ وَضَغْطَةُ الْقَبْرِ حَقٌّ كَائِنٌ وَعَذَابُهُ حَقٌّ كَائِنٌ لِلْكُفَّارِ كُلِّهِمْ أَجْمَعِينَ وَلِبَعْضِ الْمُسْلِمِينَ وَعَنْ حَمَّادِ بْنِ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ قَالَ سَأَلْت أَبِي عَنْ عَذَابِ الْقَبْرِ أَحَقُّ هُوَ فَقَالَ هُوَ حَقٌّ أَتَتْ بِهِ السُّنَّةُ وَجَاءَتْ بِهِ الْآثَارُ، وَحَقِّيَّةُ خَلْقِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ يَعْنِي أَقَرُّوا بِخَلْقِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَبِأَنَّهُمَا مَوْجُودَتَانِ الْيَوْمَ كَذَا ذُكِرَ فِي الْفِقْهِ الْأَكْبَرِ أَيْضًا أَنَّ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ مَخْلُوقَتَانِ لَا تَفْنَيَانِ أَبَدًا وَلَا تَمُوتُ الْحُورُ أَبَدًا وَلَا يَفْنَى عَذَابُ اللَّهِ تَعَالَى وَلَا ثَوَابُهُ سَرْمَدًا، حَتَّى قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ لِجَهْمٍ بَعْدَمَا طَالَ مُنَاظَرَتُهُمَا وَظَهَرَ مُكَابَرَتُهُ اُخْرُجْ عَنِّي يَا كَافِرُ، وَهُوَ جَهْمُ بْنُ صَفْوَانَ رَئِيسُ الْجَبْرِيَّةِ، وَكَانَ مِنْ مَذْهَبِهِ أَنَّهُمَا لَيْسَتَا بِمَوْجُودَتَيْنِ الْيَوْمَ.

وَإِنَّمَا تُخْلَقَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَمَا هُوَ مَذْهَبُ الْمُعْتَزِلَةِ كَذَا سَمِعْت مِنْ بَعْضِ الثِّقَاتِ وَعَلَيْهِ يَدُلُّ سِيَاقُ كَلَامِ الشَّيْخِ مِنْ مَذْهَبِهِ أَيْضًا أَنَّهُمَا مَعَ أَهَالِيِهِمَا تَفْنَيَانِ، وَإِنَّ الْإِيمَانَ هُوَ الْمَعْرِفَةُ فَقَطْ دُونَ الْإِقْرَارِ وَأَنَّهُ لَا فِعْلَ لِأَحَدٍ عَلَى الْحَقِيقَةِ إلَّا لِلَّهِ تَعَالَى، وَإِنَّ الْعِبَادَ فِيمَا يُنْسَبُ إلَيْهِمْ مِنْ الْأَفْعَالِ كَالشَّجَرَةِ تُحَرِّكُهَا الرِّيحُ وَالْإِنْسَانُ مُجْبَرٌ فِي أَفْعَالِهِ لَا قُدْرَةَ لَهُ وَلَا إرَادَةَ وَلَا اخْتِيَارَ كَذَا فِي الْمُغْرِبِ وَالْكِفَايَةِ وَتَسْمِيَتُهُ إيَّاهُ كَافِرًا إمَّا بِاعْتِبَارِ غُلُوِّهِ فِي هَوَاهُ أَوْ عَلَى سَبِيلِ الشَّتْمِ، وَقَالُوا بِحَقِّيَّةِ سَائِرِ أَحْكَامِ الْآخِرَةِ مِنْ الْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَقِرَاءَةِ الْكُتُبِ وَوَزْنِ الْأَعْمَالِ وَالصِّرَاطِ وَالشَّفَاعَةِ كُلُّ ذَلِكَ مَذْكُورٌ فِي الْفِقْهِ الْأَكْبَرِ، عَلَى مَا نَطَقَ بِهِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ مِثْلُ قَوْله تَعَالَى {وَأَنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِ} [الحج: 7]
এবং তারা পরকালে চাক্ষুষ দর্শনের মাধ্যমে মহান আল্লাহকে দেখার সত্যতা, যাকে তিনি চান তার জন্য কবরের আজাবের সত্যতা এবং আজই জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি হয়ে থাকার সত্যতার কথা বলেছেন। এমনকি আবু হানিফা জাহমকে বলেছিলেন, "হে কাফির, আমার কাছ থেকে চলে যাও।" তারা কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী পরকালের অন্যান্য সমস্ত বিধানের সত্যতার কথাও বলেছেন। আর এটি এমন এক পরিচ্ছেদ যার বর্ণনা দীর্ঘ হবে।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

আপনার আরশের সম্মানের স্থান দ্বারা, যা বসা থেকে (গৃহীত); কারণ এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে। তারা এর বৈধতা নিয়ে মতভেদ করেছেন, যেমন ‘আকদ’ শব্দ থেকে ‘মাক্বিদ আল-ইয্য’ (সম্মানের গ্রন্থি) বলা। আবু ইউসুফ এটি বলায় কোনো অসুবিধা দেখেননি, কারণ এ বিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা এবং মুহাম্মদ (রহ.) বলেছেন, এটি বৈধ নয়; কারণ এটি আরশের সাথে সম্মানের সম্পৃক্ততাকে আবশ্যক করে এবং এই গুণের নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়ার ভ্রম সৃষ্টি করে। অথচ মহান আল্লাহ তাঁর সকল গুণাবলি সহ চিরন্তন ও অনাদি। আর উক্ত হাদিসটি শায (বিরল), এই ধরণের ক্ষেত্রে তার ওপর আমল করা জায়েজ নয়। এতে মুসাব্বিহা (সাদৃশ্যদানকারী) সম্প্রদায়ের মতবাদের খণ্ডন রয়েছে। তারা আল্লাহর চেহারা দিয়ে কসম করার ব্যাপারেও মতভেদ করেছেন। আবু ইউসুফ বলেছেন, এটি কসম হিসেবে গণ্য হবে; কারণ চেহারা শব্দটি সত্তা অর্থে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং আপনার রবের মহিমান্বিত ও দয়ালু চেহারা অবশিষ্ট থাকবে} [আর-রহমান: ২৭]। আবু হানিফা ও মুহাম্মদ বলেছেন, এটি কসম হবে না এবং এটি নিম্নস্তরের লোকদের তথা মূর্খদের শপথ, যারা একে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অর্থে উল্লেখ করে। ‘মাবসূত’ কিতাবে এমনই রয়েছে এবং এতেও মুসাব্বিহাদের মতবাদের খণ্ডন রয়েছে।

এবং তারা বলেছেন, যখন কোনো বান্দা এমন কোনো গুনাহ করে যা হদ (নির্ধারিত দণ্ড) আবশ্যক করে, তবে তওবা ও অনুশোচনা ছাড়া কেবল হদ প্রয়োগের মাধ্যমে তার পবিত্রতা অর্জিত হয় না। এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসের কারণে মাবসূতের ‘চুরি’ অধ্যায়ে এই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এতে মুরজিয়াদের মতবাদের খণ্ডন রয়েছে, কারণ তাদের মতে ঈমান থাকলে গুনাহ কোনো ক্ষতি করে না, যেমন কুফর থাকলে ইবাদত কোনো উপকারে আসে না। তারা বান্দার পছন্দের ওপর অগণিত মাসআলা ভিত্তি করেছেন, আর এতে মুজবিরাহ (জাবরিয়া) সম্প্রদায়ের মতবাদের খণ্ডন রয়েছে। ফলে এটি প্রমাণিত হলো যে, তারা প্রবৃত্তিপূজারীদের কোনো মতবাদের দিকেই ঝুঁকে পড়েননি। লেখক প্রথমে বিশেষভাবে তাদের থেকে মুতাজিলা মতবাদ অস্বীকার করার কথা উল্লেখ করেছেন, এরপর সাধারণভাবে সকল ভ্রান্ত মতবাদকে অস্বীকার করেছেন; কারণ মুতাজিলারা এটি দাবি করে যে, তারা (ইমামগণ) তাদের মতবাদের ওপর ছিলেন, অন্য কোনো ভ্রান্ত সম্প্রদায় এমন দাবি করে না।

তাঁর উক্তি (এবং তারা বলেছেন) - এখানে হামযাহর নিচে কাসরা দিয়ে নতুন বাক্য শুরু হয়েছে, একে ‘তারা ঝুঁকে পড়েননি’ বাক্যের ওপর আতফ করে ফাতহা দিয়ে পড়া হবে না। কারণ পূর্বোক্ত মাসআলাসমূহে মহান আল্লাহর দর্শন এবং যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সত্যতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ‘ফিকহুল আকবার’-এ তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মহান আল্লাহকে পরকালে দেখা যাবে। মুমিনরা জান্নাতে থাকা অবস্থায় কোনো প্রকার সাদৃশ্য ও ধরণ ছাড়াই নিজেদের চর্মচক্ষু দিয়ে তাঁকে দেখবেন। তাঁর এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে কোনো দূরত্ব থাকবে না। আর যাকে তিনি চান তার জন্য কবরের আজাবের সত্যতা সম্পর্কে ‘ফিকহুল আকবার’-এ বর্ণিত হয়েছে যে, কবরে বান্দার কাছে রুহ ফেরত আসা সত্য, কবরের চাপ সত্য, এবং সমস্ত কাফির ও কিছু পাপিষ্ঠ মুসলমানের জন্য কবরের আজাব সত্য ও বাস্তবতা। হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে কবরের আজাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, এটি কি সত্য? তিনি বললেন: এটি সত্য, সুন্নাহ ও আছার দ্বারা এটি প্রমাণিত। আর জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টির সত্যতা অর্থাৎ তারা স্বীকার করেছেন যে জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আজই তা বিদ্যমান। অনুরূপভাবে ‘ফিকহুল আকবার’-এ আরও উল্লেখ আছে যে, জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়টি সৃষ্টি করা হয়েছে, যা কখনো ধ্বংস হবে না। হুররা কখনো মৃত্যুবরণ করবে না এবং মহান আল্লাহর আজাব ও সওয়াব কখনো শেষ হবে না বরং চিরকাল থাকবে। এমনকি দীর্ঘ মুনাজারার পর যখন জাহমের হঠকারিতা প্রকাশ পেল, তখন আবু হানিফা তাকে বলেছিলেন: "হে কাফির, আমার কাছ থেকে দূর হও।" সে হলো জাহম ইবনে সাফওয়ান, জাবরিয়া সম্প্রদায়ের প্রধান। তার মতবাদ ছিল যে, জান্নাত ও জাহান্নাম আজ বিদ্যমান নেই।

বরং কিয়ামতের দিন সেগুলো সৃষ্টি করা হবে, যেমনটি মুতাজিলাদের মতবাদ; কোনো কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকে আমি এমনই শুনেছি। শায়খের বক্তব্যের ধারাও তার মতবাদ সম্পর্কে একথাই নির্দেশ করে যে, জান্নাত ও জাহান্নাম তাদের অধিবাসীসহ ধ্বংস হয়ে যাবে। আর ঈমান হলো কেবল পরিচয় বা জানা, মৌখিক স্বীকৃতি ছাড়া। এবং প্রকৃত অর্থে আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোনো কাজ নেই। বান্দার দিকে যেসব কাজ সম্পৃক্ত করা হয় সেগুলোর ক্ষেত্রে বান্দার অবস্থা বাতাসের ঝাপটায় দুলতে থাকা গাছের মতো; মানুষ তার কাজে বাধ্য, তার কোনো ক্ষমতা, ইচ্ছা বা পছন্দ নেই—যেমনটি ‘মুগরিব’ ও ‘কিফায়া’ গ্রন্থে রয়েছে। তাকে কাফির বলা হয় তার প্রবৃত্তিপূজায় চরমপন্থা অবলম্বনের কারণে অথবা ভর্ৎসনা স্বরূপ। তারা পরকালের অন্যান্য সমস্ত বিধানের সত্যতার কথা বলেছেন, যেমন মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, আমলনামা পাঠ, আমল ওজন করা, পুলসিরাত এবং শাফায়াত। এই সবই ‘ফিকহুল আকবার’ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, যা কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আল্লাহ কবরে যারা আছে তাদের পুনরুত্থিত করবেন} [হজ: ৭]
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ১২)
وَ‌‌النَّوْعُ الثَّانِي عِلْمُ الْفُرُوعِ وَهُوَ الْفِقْهُ، وَهُوَ ثَلَاثَةُ أَقْسَامٍ: عِلْمُ الْمَشْرُوعِ بِنَفْسِهِ وَالْقِسْمُ الثَّانِي إتْقَانُ الْمَعْرِفَةِ بِهِ وَهُوَ مَعْرِفَةُ النُّصُوصِ بِمَعَانِيهَا وَضَبْطُ الْأُصُولِ بِفُرُوعِهَا وَالْقِسْمُ الثَّالِثُ هُوَ الْعَمَلُ بِهِ حَتَّى لَا يَصِيرَ نَفْسُ الْعِلْمِ مَقْصُودًا فَإِذَا تَمَّتْ هَذِهِ الْأَوْجَهُ كَانَ فَقِيهًا

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

{قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ} [يس: 79] {فَمَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ} [الإسراء: 71] {فَأُولَئِكَ يَقْرَءُونَ كِتَابَهُمْ} [الإسراء: 71] {فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهْ} [الحاقة: 19] {وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ} [الأعراف: 8] {وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ} [الأنبياء: 47] وَقَوْلُهُ عليه السلام «إنَّ الصِّرَاطَ جِسْرٌ مَمْدُودٌ عَلَى وَجْهِ جَهَنَّمَ أَوْ عَلَى مَتْنِ جَهَنَّمَ» «شَفَاعَتِي لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي» ، وَهَذَا أَيْ النَّوْعُ الْأَوَّلُ، وَهُوَ عِلْمُ التَّوْحِيدِ وَالصِّفَاتِ وَمَا يَتَعَلَّقُ بِهِ مِمَّا يَجِبُ الِاعْتِقَادُ بِهِ

 

[النَّوْع الثَّانِي عِلْمُ الْفُرُوعِ وَهُوَ الْفِقْهُ]

قَوْلُهُ (وَالنَّوْعُ الثَّانِي عِلْمُ الْفُرُوعِ) ، وَهُوَ الْفِقْهُ سُمِّيَ هَذَا النَّوْعُ فَرْعًا لِتَوَقُّفِ صِحَّةِ الْأَدِلَّةِ الْكُلِّيَّةِ فِيهِ مِثْلُ كَوْنِ الْكِتَابِ حُجَّةً مَثَلًا عَلَى مَعْرِفَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَصِفَاتِهِ وَعَلَى صِدْقِ الْمُبَلِّغِ وَهُوَ الرَّسُولُ عليه السلام، وَإِنَّمَا يُعْرَفُ ذَلِكَ مِنْ النَّوْعِ الْأَوَّلِ فَكَانَ هَذَا النَّوْعُ فَرْعًا لَهُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ إذْ الْفَرْعُ عَلَى مَا قِيلَ هُوَ الَّذِي يَفْتَقِرُ فِي وُجُودِهِ إلَى الْغَيْرِ، وَهُوَ ثَلَاثَةُ أَقْسَامٍ، أَيْ ثَلَاثَةُ أَجْزَاءٍ بِدَلِيلِ قَوْلِهِ فَإِذَا تَمَّتْ هَذِهِ الْأَوْجُهُ كَانَ فِقْهًا، عِلْمُ الْمَشْرُوعِ بِنَفْسِهِ، أَيْ عِلْمُ الْأَحْكَامِ مِثْلُ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ وَالصَّحِيحِ وَالْفَاسِدِ وَالْوَاجِبِ وَالْمَنْهِيِّ وَالْمَنْدُوبِ وَالْمَكْرُوهِ، إتْقَانُ الْمَعْرِفَةِ بِهِ، أَيْ أَحْكَامُ الْعِرْفَانِ بِذَلِكَ الْمَشْرُوعِ، وَهُوَ أَيْ ذَلِكَ الْإِتْقَانُ هُوَ، مَعْرِفَةُ النُّصُوصِ بِمَعَانِيهَا، أَيْ مَعَ مَعَانِيهَا كَقَوْلِك دَخَلْت عَلَيْهِ بِثِيَابِ السَّفَرِ أَيْ مَعَهَا وَاشْتَرَيْت الْفَرَسَ بِلِجَامِهِ وَسَرْجِهِ أَيْ مَعَهُمَا أَوْ مَعْنَاهُ مُلْتَبِسَةٌ بِمَعَانِيهَا وَكَانَتْ الْجُمْلَةُ وَاقِعَةً مَوْقِعَ الْحَالِ كَمَا فِي قَوْله تَعَالَى {تَنْبُتُ بِالدُّهْنِ} [المؤمنون: 20] أَيْ مُلْتَبِسَةٌ بِالدُّهْنِ وَالْمُرَادُ مِنْ الْمَعَانِي الْمَعَانِي اللُّغَوِيَّةُ وَالْمَعَانِي الشَّرْعِيَّةُ الَّتِي تُسَمَّى عِلَلًا، وَكَانَ السَّلَفُ لَا يَسْتَعْمِلُونَ لَفْظَ الْعِلَّةِ، وَإِنَّمَا يَسْتَعْمِلُونَ لَفْظَ الْمَعْنَى أَخْذًا مِنْ قَوْلِهِ عليه السلام «لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إلَّا بِإِحْدَى مَعَانٍ ثَلَاثٍ» أَيْ عِلَلٍ بِدَلِيلِ قَوْلِهِ إحْدَى بِلَفْظَةِ التَّأْنِيثِ وَثَلَاثٍ بِدُونِ الْهَاءِ، وَضَبْطُ الْأُصُولِ بِفُرُوعِهَا أَيْ الْأُصُولِ الْمُخْتَصَّةِ بِهَذَا النَّوْعِ مَعَ فُرُوعِهَا مِثَالُ مَا ذَكَرْنَا أَنْ يَعْرِفَ أَنَّ قَوْله تَعَالَى {أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ} [النساء: 43] كِنَايَةٌ عَنْ الْحَدَثِ، فَهَذَا مَعْرِفَةُ مَعْنَاهُ اللُّغَوِيِّ وَيَعْرِفَ أَنَّ الْمَعْنَى الشَّرْعِيَّ الْمُؤَثِّرَ فِي الْحُكْمِ خُرُوجُ النَّجَاسَةِ عَنْ بَدَنِ الْإِنْسَانِ الْحَيِّ فَإِذَا أَتْقَنَ الْمَعْرِفَةَ بِهَذَا الطَّرِيقِ عَرَفَ الْحُكْمَ فِي غَيْرِ السَّبِيلَيْنِ وَمِثَالُ ضَبْطِ الْأَصْلِ بِفَرْعِهِ أَنْ يَعْرِفَ أَنَّ الشَّكَّ لَا يُعَارِضُ الْيَقِينَ فَإِذَا شَكَّ فِي طَهَارَتِهِ وَقَدْ تَيَقَّنَ بِالْحَدَثِ وَجَبَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ وَبِالْعَكْسِ لَا يَجِبُ.

وَالْقِسْمُ الثَّالِثُ هُوَ الْعَمَلُ بِهِ؛ لِأَنَّهُ هُوَ الْمَقْصُودُ مِنْ الْعِلْمِ لَا نَفْسُهُ إذْ الِابْتِلَاءُ يَحْصُلُ بِهِ لَا بِالْعِلْمِ نَفْسِهِ وَلَا يُقَالُ إنَّ الشَّيْخَ قَسَّمَ نَفْسَ الْعِلْمِ أَوَّلًا ثُمَّ أَدْخَلَ الْعَمَلَ فِي قِسْمَةِ الْعِلْمِ وَهُوَ مُخَالِفٌ لِحَدِّ الْعِلْمِ وَحَقِيقَتِهِ؛ لِأَنَّا نَقُولُ إنَّمَا أَدْخَلَ الْعَمَلَ فِي التَّقْسِيمِ بِالتَّقْيِيدِ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ، وَهُوَ أَنَّ الْمُرَادَ هُوَ الْعِلْمُ الْمُنْجِي وَالنَّجَاةُ لَيْسَتْ إلَّا فِي انْضِمَامِ الْعَمَلِ إلَيْهِ إلَّا أَنَّ الْعَمَلَ فِي النَّوْعِ الْأَوَّلِ بِالْقَلْبِ، وَهُوَ الِاعْتِقَادُ وَفِي هَذَا النَّوْعِ بِالْجَوَارِحِ مَعَ أَنَّا لَا نُسَلِّمُ أَنَّ دُخُولَ الْعَمَلِ فِي التَّقْسِيمِ يَضُرُّ بِهِ لِأَنَّك إذَا فَسَّرْت الْحَيَوَانَ مَثَلًا بِأَنَّهُ حَسَّاسٌ مُتَحَرِّكٌ بِالْإِرَادَةِ وَقَسَّمْته بِأَنَّهُ أَنْوَاعُ إنْسَانٍ وَفَرَسٍ وَكَذَا وَكَذَا ثُمَّ فَسَّرْت الْإِنْسَانَ بِأَنَّهُ حَيَوَانٌ نَاطِقٌ فَدُخُولُ النُّطْقِ فِي التَّقْسِيمِ لَا يَضُرُّ بِهِ، وَإِنْ كَانَ مُغَايِرًا لِلْحَيَوَانِيَّةِ حَقِيقَةً لِوُجُودِ الْحَيَوَانِيَّةِ بِكَمَالِهَا مَعَ زِيَادَةِ قَيْدٍ فَكَذَا الشَّيْخُ قَسَّمَ الْعِلْمَ بِالنَّوْعَيْنِ ثُمَّ فَسَّرَ أَحَدَ النَّوْعَيْنِ وَهُوَ الْفِقْهُ بِأَنَّهُ الْعِلْمُ الْمُنْضَمُّ إلَيْهِ الْعَمَلُ فَكَانَ صَحِيحًا
এবং দ্বিতীয় প্রকার হলো শাখা-প্রশাখার জ্ঞান, আর তা হলো ফিকহ। এটি তিনটি ভাগে বিভক্ত: শরিয়ত প্রণীত বিধানের মূল জ্ঞান, দ্বিতীয় ভাগ হলো সেই জ্ঞানকে সুদৃঢ়ভাবে আয়ত্ত করা—যা হলো নসসমূহকে (মূল পাঠ) সেগুলোর অর্থসহ অনুধাবন করা এবং শাখা-প্রশাখার সাথে মূলনীতিসমূহকে সুসংবদ্ধ করা; এবং তৃতীয় ভাগ হলো সেই জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা, যাতে করে খোদ জ্ঞানই মূল উদ্দেশ্য হয়ে না দাঁড়ায়। সুতরাং যখন এই দিকগুলো পূর্ণ হয়, তখন সে ফকিহ হিসেবে গণ্য হয়।

—

[কাশফুল আসরার]

{বলুন, যিনি একে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তিনিই একে জীবিত করবেন।} [ইয়াসিন: ৭৯] {অতঃপর যাদের আমলনামা তাদের ডান হাতে দেওয়া হবে।} [বনী ইসরাঈল: ৭১] {তারা তাদের আমলনামা পাঠ করবে।} [বনী ইসরাঈল: ৭১] {সুতরাং যার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, ‘নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ!’} [আল-হাক্কাহ: ১৯] {সেদিন ওজন হবে যথাযথ।} [আল-আরাফ: ৮] {এবং আমি কিয়ামতের দিনে ইনসাফের পাল্লা স্থাপন করব।} [আল-আম্বিয়া: ৪৭] এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: «নিশ্চয়ই সিরাত হলো জাহান্নামের উপরিভাগে বা জাহান্নামের পিঠের ওপর প্রসারিত একটি সেতু।» «আমার শাফাআত আমার উম্মতের কবিরা গুনাহগারদের জন্য।» এটি হলো প্রথম প্রকার, যা হলো তাওহিদ ও গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত জ্ঞান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট এমন বিষয়াবলি যার প্রতি বিশ্বাস রাখা আবশ্যক।

 

[দ্বিতীয় প্রকার: শাখা-প্রশাখার জ্ঞান, আর তা হলো ফিকহ]

গ্রন্থকারের উক্তি (এবং দ্বিতীয় প্রকার হলো শাখা-প্রশাখার জ্ঞান), আর তা হলো ফিকহ। এই প্রকারকে 'শাখা' (ফারউ) বলা হয়েছে কারণ এর অন্তর্ভুক্ত সামষ্টিক দলিলসমূহের বিশুদ্ধতা নির্ভর করে আল্লাহ তাআলার পরিচয় ও তাঁর গুণাবলি এবং দাওয়াত দানকারী অর্থাৎ রাসুল (সা.)-এর সত্যবাদিতা জানার ওপর—যেমন কিতাব (কুরআন) দলিল হওয়া। আর এগুলো তো কেবল প্রথম প্রকার থেকেই জানা সম্ভব। সুতরাং এই দিক থেকে এই প্রকারটি তার শাখা হিসেবে গণ্য হলো; কারণ বলা হয়ে থাকে যে, 'শাখা' হলো তা-ই যা স্বীয় অস্তিত্বের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী। আর তা হলো তিনটি ভাগে বিভক্ত, অর্থাৎ তিনটি অংশে বিভক্ত। এর প্রমাণ হলো গ্রন্থকারের উক্তি: 'যখন এই দিকগুলো পূর্ণ হয়, তখন তা ফিকহ হিসেবে গণ্য হয়।' শরিয়ত প্রণীত বিধানের মূল জ্ঞান অর্থাৎ বিধিবিধানের জ্ঞান, যেমন হালাল, হারাম, শুদ্ধ, অশুদ্ধ, আবশ্যক (ওয়াজিব), নিষিদ্ধ, পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় (মাকরুহ)। সেই জ্ঞানকে সুদৃঢ়ভাবে আয়ত্ত করা অর্থাৎ সেই প্রণীত শরিয়তের বিধানাবলি সম্পর্কে অনুধাবনকে মজবুত করা। আর সেই সুদৃঢ়ভাবে আয়ত্ত করার অর্থ হলো—নসসমূহকে সেগুলোর অর্থসহ জানা। অর্থাৎ অর্থের সাথে; যেমন আপনার উক্তি: 'আমি তার কাছে সফরের পোশাকসহ প্রবেশ করেছি' অর্থাৎ পোশাকের সাথে, এবং 'আমি ঘোড়াটি তার লাগাম ও জিনসহ ক্রয় করেছি' অর্থাৎ ঐগুলোর সাথে। অথবা এর অর্থ হলো সেগুলোর অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা, এমতাবস্থায় বাক্যটি অবস্থা (হাল) হিসেবে গণ্য হবে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তা তৈলসহ উৎপন্ন হয়} অর্থাৎ তৈল সংযুক্ত অবস্থায়। এখানে 'অর্থসমূহ' (মাআনি) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আভিধানিক অর্থ ও শরিয়তি অর্থ, যেগুলোকে 'ইল্লত' (কারণ) বলা হয়। সালাফগণ (পূর্বসূরিগণ) 'ইল্লত' শব্দটি ব্যবহার করতেন না, বরং তারা 'মা'না' (অর্থ) শব্দটি ব্যবহার করতেন। তারা এটি গ্রহণ করেছিলেন রাসুল (সা.)-এর এই বাণী থেকে: «তিনটি কারণ ব্যতীত কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত হালাল নয়» অর্থাৎ তিনটি ইল্লত। এর প্রমাণ হলো 'এক' (ইহদা) শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক হওয়া এবং 'তিন' (সালাস) শব্দটিতে 'হা' বর্ণটি না থাকা। আর শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে মূলনীতিগুলোকে সুসংবদ্ধ করা, অর্থাৎ এই প্রকারের সাথে সুনির্দিষ্ট মূলনীতিসমূহকে সেগুলোর শাখা-প্রশাখার সাথে গেঁথে নেওয়া। আমাদের আলোচনার উদাহরণ হলো—ব্যক্তি জানবে যে আল্লাহ তাআলার বাণী: {অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসলে} এটি অপবিত্রতা (হাদাস) হওয়ার একটি রূপক অর্থ। এটি হলো এর আভিধানিক অর্থ জানা। আর সে জানবে যে, বিধানের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী শরিয়তি অর্থ হলো জীবিত মানুষের শরীর থেকে নাপাকি বের হওয়া। সুতরাং যখন সে এই পদ্ধতিতে জ্ঞানকে সুদৃঢ়ভাবে আয়ত্ত করবে, তখন সে মল-মূত্র ত্যাগের রাস্তা ব্যতীত অন্য স্থান দিয়ে কিছু বের হওয়ার বিধানও জানতে পারবে। আর শাখার সাথে মূলনীতি সুসংবদ্ধ করার উদাহরণ হলো—ব্যক্তি জানবে যে, 'সন্দেহ নিশ্চিত বিশ্বাসের মোকাবিলা করে না'। সুতরাং যদি সে নিজের পবিত্রতার ব্যাপারে সন্দেহ করে কিন্তু অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে, তবে তার ওপর অজু করা ওয়াজিব হবে। এর বিপরীত অবস্থায় অজু ওয়াজিব হবে না।

তৃতীয় ভাগ হলো সেই জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা; কেননা আমলই হলো জ্ঞানের প্রকৃত উদ্দেশ্য, খোদ জ্ঞান নিজে উদ্দেশ্য নয়। কারণ পরীক্ষা তো আমলের মাধ্যমেই হয়, কেবল জ্ঞানের মাধ্যমে নয়। এমনটি বলা যাবে না যে, 'শেখ প্রথমে জ্ঞানের প্রকারভেদ করলেন, আবার জ্ঞানের সংজ্ঞার ভেতরে আমলকেও ঢুকিয়ে দিলেন, অথচ এটি তো জ্ঞানের সংজ্ঞা ও প্রকৃত স্বরূপের পরিপন্থী।' কারণ আমরা বলব: তিনি আমলকে এই বিভাজনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন আমরা পূর্বে যে শর্তের কথা উল্লেখ করেছি সেই অনুযায়ী, আর তা হলো—এখানে উদ্দেশ্য হলো সেই জ্ঞান যা মুক্তিদাতা। আর আমল যুক্ত হওয়া ছাড়া মুক্তি সম্ভব নয়। তবে পার্থক্য হলো, প্রথম প্রকারে আমল হলো অন্তরের কাজ—অর্থাৎ বিশ্বাস (আকিদা); আর এই প্রকারে আমল হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ। তা সত্ত্বেও আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে, বিভাজনের মধ্যে আমলের অন্তর্ভুক্তি কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে। কারণ আপনি যদি 'প্রাণী'র সংজ্ঞায় বলেন যে, এটি অনুভূতিসম্পন্ন ও স্বেচ্ছায় নড়াচড়া করতে সক্ষম এবং একে মানুষ, ঘোড়া ও অন্যান্য প্রকারে বিভক্ত করেন, অতঃপর 'মানুষ' এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, সে হলো বাকশক্তিসম্পন্ন প্রাণী—তবে এই বিভাজনে 'বাকশক্তি'র অন্তর্ভুক্তি কোনো ক্ষতি করবে না, যদিও এটি প্রাণসত্তার প্রকৃত স্বরূপ থেকে ভিন্ন। কারণ এখানে পূর্ণ প্রাণসত্তার সাথে অতিরিক্ত একটি বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়েছে মাত্র। তদ্রূপ শেখ জ্ঞানকে দুই প্রকারে বিভক্ত করেছেন, অতঃপর এক প্রকারের ব্যাখ্যা দিয়েছেন যা হলো ফিকহ—অর্থাৎ এমন জ্ঞান যার সাথে আমল যুক্ত। সুতরাং এটি সঠিক হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَقَدْ دَلَّ عَلَى هَذَا الْمَعْنَى أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى سَمَّى عِلْمَ الشَّرِيعَةِ حِكْمَةً فَقَالَ: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا} [البقرة: 269] وَقَدْ فَسَّرَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما الْحِكْمَةَ فِي الْقُرْآنِ بِعِلْمِ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ وَقَالَ {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} [النحل: 125] أَيْ بِالْفِقْهِ وَالشَّرِيعَةِ وَالْحِكْمَةُ: فِي اللُّغَةِ هُوَ الْعِلْمُ وَالْعَمَلُ فَكَذَلِكَ مَوْضِعُ اشْتِقَاقِ هَذَا الِاسْمِ وَهُوَ الْفِقْهُ دَلِيلٌ عَلَيْهِ، وَهُوَ الْعِلْمُ بِصِفَةِ الْإِتْقَانِ مَعَ اتِّصَالِ الْعَمَلِ بِهِ قَالَ الشَّاعِرُ:

أَرْسَلْت فِيهَا قَرْمًا ذَا إقْحَامِ … طِبًّا فَقِيهًا بِذَوَاتِ الْإِبْلَامِ

سَمَّاهُ فَقِيهًا لِعِلْمِهِ بِمَا يَصْلُحُ وَبِمَا لَا يَصْلُحُ وَالْعَمَلُ بِهِ فَمَنْ حَوَى هَذِهِ الْجُمْلَةَ كَانَ فَقِيهًا مُطْلَقًا وَإِلَّا فَهُوَ فَقِيهٌ مِنْ وَجْهٍ دُونَ وَجْهٍ وَقَدْ نَدَبَ اللَّهُ تَعَالَى إلَيْهِ بِقَوْلِهِ {فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ} [التوبة: 122]

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

مُسْتَقِيمًا ثُمَّ اسْتَدَلَّ عَلَى مَا ادَّعَى فَقَالَ، وَقَدْ دَلَّ عَلَى هَذَا الْمَعْنَى أَيْ عَلَى أَنَّ الْفِقْهَ هُوَ الْوُجُوهُ الثَّلَاثَةُ أَنَّهُ تَعَالَى سَمَّاهُ حِكْمَةً وَالْحِكْمَةُ لُغَةً اسْمٌ لِلْعِلْمِ الْمُتْقَنِ وَالْعَمَلِ بِهِ أَلَا تَرَى أَنَّ ضِدَّهُ السَّفَهُ، وَهُوَ الْعَمَلُ عَلَى خِلَافِ مُوجِبِ الْعَقْلِ وَضِدُّ الْعِلْمِ الْجَهْلُ وَذَكَرَ فِي بَعْضِ النُّسَخِ الْحَكِيمُ هُوَ الَّذِي يَمْنَعُ نَفْسَهُ عَنْ هَوَاهَا وَعَنْ الْقَبَائِحِ مَأْخُوذٌ مِنْ حَكَمَةِ الْفَرَسِ، وَهِيَ الَّتِي تَمْنَعُهُ عَنْ الْحِدَّةِ وَالْجَمُوحَةِ وَذَكَرَ فِي الْكَشَّافِ وَالْحَكِيمُ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى هُوَ الْعَالِمُ الْعَامِلُ وَفِي عَيْنِ الْمَعَانِي كُنْهُهَا مَا يَرُدُّ الْعَقْلَ مِنْ الْخَوْضِ فِي مَعَانِي الرُّبُوبِيَّةِ إلَى الْمُحَافَظَةِ عَلَى مَبَانِي الْعُبُودِيَّةِ فَلَأَنْ يَعُودَ الْعَقْلُ مُعْتَرِفًا بِقُصُورِهِ أَحْمَدُ لَهُ مِنْ أَنْ يُتَّهَمَ بِإِرْبِهِ فِي أُمُورِهِ وَالتَّنْكِيرُ فِي قَوْله تَعَالَى {خَيْرًا كَثِيرًا} [البقرة: 269] تَنْكِيرُ تَعْظِيمٍ كَأَنَّهُ قَالَ فَقَدْ أُوتِيَ أَيَّ خَيْرٍ كَثِيرٍ وَالْمَوْعِظَةُ الْحَسَنَةُ هِيَ الَّتِي لَا تَخْفَى عَلَى مَنْ تَعِظُهُ أَنَّك تُنَاصِحُهُ بِهَا وَتَقْصِدُ نَفْعَهُ فِيهَا وَوَصَفَ الْمَوْعِظَةَ بِالْحُسْنِ دُونَ الْحِكْمَةِ؛ لِأَنَّ الْمَوْعِظَةَ رُبَّمَا آلَتْ إلَى الْقُبْحِ بِأَنْ وَقَعَتْ فِي غَيْرِ مَوْضِعِهَا وَوَقْتِهَا.

قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ رضي الله عنه «كَانَ النَّبِيُّ عليه السلام يَتَخَوَّلُنَا بِالْمَوْعِظَةِ مَخَافَةَ السَّآمَةِ» فَأَمَّا الْحِكْمَةُ فَحَسَنَةٌ أَيْنَمَا وُجِدَتْ إذْ هِيَ عِبَارَةٌ عَنْ الْقَوْلِ الصَّوَابِ وَالْفِعْلِ الصَّوَابِ.

قَوْلُهُ (قَالَ الشَّاعِرُ) ، وَهُوَ رُؤْبَةُ أَرْسَلْت فِيهَا أَيْ فِي النُّوقِ وَكَلِمَةُ فِي لِبَيَانِ مَوْضِعِ الْإِرْسَالِ وَمَحَلُّهَا كَمَا فِي قَوْله تَعَالَى {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا فِيهِمْ مُنْذِرِينَ} [الصافات: 72] لَا لِتَعْدِيَةِ الْإِرْسَالِ إلَى الْمَفْعُولِ الثَّانِي، فَإِنَّهُ تَعَدَّى إلَيْهِ بِإِلَى، وَالْقَرْمُ الْبَعِيرُ الْمُكَرَّمُ الَّذِي لَا يُحْمَلُ عَلَيْهِ وَلَا يُذَلَّلُ وَلَكِنْ يَكُونُ لِلْفَحْلَةِ وَمِنْهُ قِيلَ لِلسَّيِّدِ قَرْمٌ تَشْبِيهًا لَهُ بِهِ، وَالْإِقْحَامُ إلْقَاءُ النَّفْسِ فِي الشِّدَّةِ وَفِي تَاجِ الْمَصَادِرِ الْإِقْحَام در آوردن جيزي در جيزي بِعُنْفٍ وَالطِّبُّ هُوَ الْمَاهِرُ بِالضِّرَابِ وَالْأَبْلَامِ بِفَتْحِ الْهَمْزَةِ جَمْعُ بَلَمَةٍ يُقَالُ نَاقَةٌ بِهَا بَلَمَةٌ شَدِيدَةٌ إذَا اشْتَدَّتْ ضَبْعَتُهَا أَيْ رَغْبَتُهَا إلَى الْفَحْلِ وَبِكَسْرِ الْهَمْزَةِ مَصْدَرُ أَبْلَمَتْ النَّاقَةُ إذَا وَرِمَ حَيَاؤُهَا مِنْ شِدَّةِ الضَّبَعَةِ وَوَجْهُ التَّمَسُّكِ بِالْبَيْتِ هُوَ مَا ذَكَرَ الشَّيْخُ أَنَّهُ لَمَّا وَجَدَ فِيهِ الْعِلْمَ وَالْعَمَلَ أَطْلَقَ عَلَيْهِ اسْمَ الْفَقِيهِ فَثَبَتَ أَنَّ الْفِقْهَ اسْمٌ لِلْجَمِيعِ، فَمَنْ حَوَى أَيْ جَمَعَ.

هَذِهِ الْجُمْلَةَ أَيْ الْوُجُوهَ الثَّلَاثَةَ، كَانَ فَقِيهًا مُطْلَقًا أَيْ كَامِلًا تَامًّا، وَإِلَّا أَيْ، وَإِنْ يَجْمَعُهَا وَاقْتَصَرَ عَلَى وَجْهٍ أَوْ وَجْهَيْنِ، فَهُوَ فَقِيهٌ مِنْ وَجْهٍ دُونَ وَجْهٍ لِوُجُودِ بَعْضِ أَجْزَاءِ الْحَقِيقَةِ دُونَ الْبَعْضِ وَيُسَمِّي الشَّيْخُ هَذَا النَّوْعَ حَقِيقَةً قَاصِرَةً قَوْلُهُ (وَقَدْ نَدَبَ اللَّهُ تَعَالَى إلَيْهِ) أَيْ دَعَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ ابْتِدَاءَ كَلَامٍ فِي بَيَانِ فَضِيلَةِ الْفِقْهِ وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مِنْ تَتِمَّةِ الدَّلِيلِ عَلَى أَنَّ الْفِقْهَ هُوَ الْعِلْمُ وَالْعَمَلُ.

وَبَيَانُهُ أَنَّ الشَّرْعَ قَدْ وَرَدَ بِفَضَائِلِ الْفِقْهِ مُطْلَقًا فِي غَيْرِ آيَةٍ وَحَدِيثٍ، وَمَعْلُومٌ أَنَّ تِلْكَ الْفَضَائِلَ مُنْتَفِيَةٌ عَنْهُ عِنْدَ تَجَرُّدِهِ عَنْ الْعَمَلِ بِدَلِيلِ النُّصُوصِ الْمُطْلَقَةِ الْوَارِدَةِ فِي حَقِّ الْعُلَمَاءِ السُّوءِ مِثْلُ قَوْله تَعَالَى {فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ} [الأعراف: 176] وَقَوْلُهُ عَزَّ اسْمُهُ {كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا} [الجمعة: 5] وَقَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ {لِمَ تَقُولُونَ مَا لا تَفْعَلُونَ} [الصف: 2] وَقَوْلُهُ عليه السلام «وَيْلٌ لِلْجَاهِلِ مَرَّةً وَلِلْعَالِمِ سَبْعِينَ مَرَّةً» وَمَا رُوِيَ «أَنَّهُ عليه السلام سُئِلَ عَنْ شِرَارِ الْخَلْقِ فَقَالَ اللَّهُمَّ غُفْرًا حَتَّى كُرِّرَ عَلَيْهِ فَقَالَ هُمْ الْعُلَمَاءُ السُّوءُ» إلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنْ الْأَحَادِيثِ فَثَبَتَ أَنَّ مُطْلَقَهُ وَاقِعٌ عَلَى الْعِلْمِ وَالْعَمَلِ جَمِيعًا تَوْضِيحُهُ أَنَّ قَوْلَهُ عليه السلام «فَقِيهٌ وَاحِدٌ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ» وَرَدَ فِيمَنْ يَجْمَعُ بَيْنَ
এই অর্থের প্রতি এটি ইঙ্গিত করে যে, আল্লাহ তাআলা শরীয়াহর জ্ঞানকে 'হিকমত' (প্রজ্ঞা) নামে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: {তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত দান করেন; আর যাকে হিকমত দান করা হয়, তাকে মূলত প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়} [আল-বাকারাহ: ২৬৯]। ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) কুরআনের 'হিকমত' শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন হালাল ও হারামের জ্ঞান দ্বারা। আর আল্লাহ বলেছেন: {তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো} [আন-নাহল: ১২৫] অর্থাৎ ফিকহ ও শরীয়াহর মাধ্যমে। অভিধানে 'হিকমত' বলতে জ্ঞান ও কর্ম উভয়কে বোঝায়। একইভাবে এই নামের বুৎপত্তিগত উৎস অর্থাৎ 'ফিকহ' শব্দটিও এর প্রমাণ দেয়; আর তা হলো কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট নিপুণ ও সুসংহত জ্ঞান। কবি বলেছেন:

আমি তাদের মধ্যে প্রেরণ করেছি এক তেজি ও শক্তিশালী উট … যে প্রজনন-ইচ্ছুক উটীদের বিষয়ে অভিজ্ঞ ও বিজ্ঞ।

উপকারী ও অপকারী বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান এবং সে অনুযায়ী কাজ করার কারণে তিনি তাকে 'ফকিহ' (বিজ্ঞ) বলে অভিহিত করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি এই সামগ্রিক গুণাবলি অর্জন করবে, সে নিরঙ্কুশভাবে ফকিহ হিসেবে গণ্য হবে; অন্যথায় সে কোনো এক দিক থেকে ফকিহ হলেও অন্য দিক থেকে নয়। আল্লাহ তাআলা এই বিষয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়ে বলেছেন: {তাদের প্রতিটি দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান (তাফাক্কুহ) অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা নিজ কওমের কাছে ফিরে আসবে তখন যেন তাদের সতর্ক করতে পারে} [আত-তাওবাহ: ১২২]

--

[কাশফুল আসরার]

সঠিকভাবে, এরপর তিনি নিজের দাবির পক্ষে দলিল পেশ করে বললেন: 'এই অর্থের প্রতি এটি ইঙ্গিত করে' অর্থাৎ ফিকহ যে তিনটি বিষয়ের সমষ্টি, তার প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলা একে হিকমত নামে অভিহিত করেছেন। অভিধানে হিকমত হলো সুসংহত জ্ঞান ও সেই অনুযায়ী আমল করার নাম। আপনি কি দেখছেন না যে এর বিপরীত হলো 'সাফাহ' (নির্বুদ্ধিতা)? আর সাফাহ হলো বুদ্ধির দাবির বিপরীতে কাজ করা; যেমন জ্ঞানের বিপরীত হলো অজ্ঞতা। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হয়েছে যে, 'হাকিম' (প্রজ্ঞাবান) সেই ব্যক্তি যে নিজেকে প্রবৃত্তি ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। এটি ঘোড়ার 'হাকামাহ' (লাগাম) থেকে নেওয়া হয়েছে, যা তাকে অবাধ্যতা ও উগ্রতা থেকে বিরত রাখে। 'কাশশাফ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলার নিকট হাকিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি জ্ঞানী এবং স্বীয় জ্ঞান অনুযায়ী আমলকারী। 'আইনুল মাআনি' গ্রন্থে এর সারমর্ম বলা হয়েছে যে, হিকমত হলো এমন বিষয় যা আকল বা বুদ্ধিকে রুবুবিয়াতের রহস্যের গভীরে ডুব দেওয়া থেকে বিরত রেখে উবুদিয়াত বা দাসত্বের বিধানসমূহ সংরক্ষণের দিকে ফিরিয়ে আনে। কেননা বুদ্ধির জন্য নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে ফিরে আসা তার কার্যাবলিতে অহংকারী হওয়ার চেয়ে অধিক প্রশংসনীয়। আল্লাহ তাআলার বাণী {প্রচুর কল্যাণ} [আল-বাকারাহ: ২৬৯] এর মধ্যে শব্দটিকে অনির্দিষ্ট (নাকেরা) রাখা হয়েছে এর মাহাত্ম্য প্রকাশের জন্য; যেন তিনি বললেন: তাকে যে কোনো ধরনের প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়েছে। আর 'উত্তম উপদেশ' (মাউয়িজাতুল হাসানাহ) হলো এমন উপদেশ যা শুনে উপদেশগ্রহীতার কাছে এটি অস্পষ্ট থাকে না যে আপনি তার কল্যাণকামী এবং এর মাধ্যমে তার উপকার করাই আপনার উদ্দেশ্য। তিনি উপদেশের সাথে 'উত্তম' বিশেষণ যুক্ত করেছেন কিন্তু হিকমতের সাথে করেননি; কারণ উপদেশ অনেক সময় অনুত্তম বা মন্দ হতে পারে যদি তা সঠিক স্থান ও সময়ে না দেওয়া হয়।

ইবনে মাসউদ (রাযিআল্লাহু আনহু) বলেন: "নবী (সা.) আমাদের বিরক্তি আসার আশঙ্কায় মাঝেমধ্যে বিরতি দিয়ে নসিহত বা ওয়াজ করতেন।" পক্ষান্তরে হিকমত যেখানেই পাওয়া যাক তা সর্বদা উত্তম, কারণ হিকমত হলো সঠিক কথা ও সঠিক কাজের অভিব্যক্তি।

লেখকের উক্তি (কবি বলেছেন), তিনি হলেন রু'বাহ। 'আমি তাদের মধ্যে প্রেরণ করেছি' অর্থাৎ উটগুলোর মধ্যে; এখানে 'ফি' (মধ্যে) শব্দটি প্রেরণের স্থান বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: {অবশ্যই আমি তাদের মধ্যে সতর্ককারী প্রেরণ করেছিলাম} [আস-সাফফাত: ৭২]। এটি দ্বিতীয় কর্মবাচ্যে রূপান্তরের জন্য আসেনি, কারণ সেটি 'ইলা' অব্যয় দ্বারা হয়। 'কারম' অর্থ এমন সম্মানিত উট যার ওপর পিঠের বোঝা বহন করা হয় না বা যাকে খাটানো হয় না, বরং তা শুধু প্রজননের জন্য রাখা হয়। এ কারণেই নেতাকে উটের সাথে তুলনা করে 'কারম' বলা হয়। 'ইকহাম' অর্থ কোনো কঠিন কাজে নিজেকে নিক্ষেপ করা। 'তাজুল মাসাদির' গ্রন্থে 'ইকহাম' এর অর্থ করা হয়েছে কোনো কিছুর ভেতরে জোরপূর্বক কিছু প্রবেশ করানো। 'তিব' অর্থ প্রজনন কার্যে দক্ষ। 'আবলাম' (হামযাহর যবরসহ) হলো 'বালামাহ' এর বহুবচন; বলা হয় 'উটটি তীব্র বালামাহ-তে আক্রান্ত' যখন প্রজননের জন্য তার আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়। আর হামযাহর যেরসহ এটি 'ইবলাম' ক্রিয়ামূল থেকে আগত, এর অর্থ হলো তীব্র কামোত্তজনার কারণে উটনীর প্রজনন অঙ্গ ফুলে যাওয়া। এই কবিতা থেকে দলিল গ্রহণের দিকটি হলো যা শাইখ উল্লেখ করেছেন যে, যখন উটটির মধ্যে জ্ঞান ও কর্ম পাওয়া গেল, তখন তাকে 'ফকিহ' নামে অভিহিত করা হয়েছে। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, ফিকহ হলো জ্ঞান ও কর্মের সমষ্টির নাম। অতএব যে ব্যক্তি ধারণ করল অর্থাৎ একত্র করল—

এই সামগ্রিক বিষয়কে অর্থাৎ তিনটি দিককে, সে হবে নিরঙ্কুশ ফকিহ অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিমুক্ত ফকিহ। অন্যথায় অর্থাৎ যদি সে সবগুলোকে একত্র না করে কেবল একটি বা দুটি দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সে এক দিক থেকে ফকিহ হলেও অন্য দিক থেকে নয়। কারণ এখানে হাকিকত বা প্রকৃত সংজ্ঞার কিছু অংশ বিদ্যমান থাকলেও অন্য অংশ অনুপস্থিত। শাইখ এই প্রকারকে 'ত্রুটিপূর্ণ বাস্তবতা' (হাকিকাত কাসিরাহ) নামে অভিহিত করেছেন। লেখকের উক্তি (আল্লাহ তাআলা এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন) অর্থাৎ নির্দেশ দিয়েছেন। এটি ফিকহের ফজিলত বর্ণনার নতুন আলোচনা হতে পারে, আবার ফিকহ যে জ্ঞান ও আমলের সমষ্টি—তার দলিলে পরিশিষ্ট হিসেবেও গণ্য হতে পারে।

এর ব্যাখ্যা হলো এই যে, শরীয়াহ বহু আয়াত ও হাদিসে সাধারণভাবে ফিকহের ফজিলত বর্ণনা করেছে। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, আমলহীন জ্ঞানের ক্ষেত্রে এই ফজিলতগুলো প্রযোজ্য নয়। এর প্রমাণ হলো অসৎ আলেমদের (উলামায়ে সূ) ব্যাপারে বর্ণিত সাধারণ কিছু বক্তব্য; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তার উদাহরণ হলো কুকুরের মতো} [আল-আরাফ: ১৭৬], মহান আল্লাহর বাণী: {গাধার মতো যে কিতাব বহন করে} [আল-জুমুআ: ৫], তাঁর বাণী: {তোমরা যা করো না তা কেন বলো?} [আস-সাফ: ২], এবং নবী (সা.)-এর বাণী: "অজ্ঞের জন্য ধ্বংস একবার, আর আলেমের জন্য ধ্বংস সত্তরবার।" আরও বর্ণিত হয়েছে যে, "তাঁকে (সা.) নিকৃষ্ট সৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: 'হে আল্লাহ, ক্ষমা করুন', বারবার জিজ্ঞাসা করার পর তিনি বললেন: 'তারা হলো অসৎ আলেম'।" এই জাতীয় আরও অনেক হাদিস রয়েছে। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, ফিকহের সাধারণ প্রয়োগ জ্ঞান ও আমল উভয়ের ওপরই হয়ে থাকে। এর আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা হলো নবী (সা.)-এর বাণী: "একজন ফকিহ শয়তানের কাছে এক হাজার আবেদের (ইবাদতকারী) চেয়েও বেশি ভয়ংকর।" এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যিনি জ্ঞান ও আমলের সমন্বয় করেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَصَفَهُمْ بِالْإِنْذَارِ وَهُوَ الدَّعْوَةُ إلَى الْعِلْمِ وَالْعَمَلِ بِهِ وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «خِيَارُكُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خِيَارُكُمْ فِي الْإِسْلَامِ إذَا فَقِهُوا» وَقَالَ: «إذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ»

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

الْعِلْمِ وَالْعَمَلِ كَمَا أَشَارَ الشَّيْخُ إلَيْهِ فَأَمَّا مَنْ أَقْبَلَ عَلَى الْعِلْمِ وَتَرَكَ الْعَمَلَ بِهِ فَهُوَ سُخْرَةُ الشَّيْطَانِ وَضَحِكَتُهُ فَكَيْفَ يَكُونُ مِثْلُهُ أَشَدَّ عَلَيْهِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ وَذَكَرَ الْإِمَامُ الْغَزَالِيُّ رحمه الله فِي بَيَانِ تَبْدِيلِ أَسَامِي الْعُلُومِ أَنَّ النَّاسَ تَصَرَّفُوا فِي اسْمِ الْفِقْهِ فَخَصُّوهُ بِعِلْمِ الْفَتَاوَى وَالْوُقُوفِ عَلَى دَقَائِقِهَا وَعِلَلِهَا وَاسْمُ الْفِقْهِ فِي الْعَصْرِ الْأَوَّلِ كَانَ مُنْطَلِقًا عَلَى عِلْمِ الْآخِرَةِ وَمَعْرِفَةِ دَقَائِقِ آفَاتِ النُّفُوسِ وَالِاطِّلَاعِ عَلَى الْآخِرَةِ وَحَقَارَةِ الدُّنْيَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ} [التوبة: 122] وَالْإِنْذَارُ بِهَذَا النَّوْعِ مِنْ الْعِلْمِ دُونَ تَفَارِيعِ السَّلَمِ وَالْإِجَارَةِ وَقَالَ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «لَا يَفْقَهُ الْعَبْدُ كُلَّ الْفِقْهِ حَتَّى يَمْقُتَ النَّاسَ فِي ذَاتِ اللَّهِ» وَرُوِيَ أَيْضًا مَوْقُوفًا عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رضي الله عنه ثُمَّ يُقْبِلُ عَلَى نَفْسِهِ فَيَكُونُ لَهَا أَشَدَّ مَقْتًا وَسَأَلَ فَرْقَدُ السِّنْجِيُّ الْحَسَنَ عَنْ شَيْءٍ فَأَجَابَهُ فَقَالَ إنَّ الْفُقَهَاءَ يُخَالِفُونَك فَقَالَ الْحَسَنُ ثَكِلَتْك أُمُّك فُرَيْقِدُ وَهَلْ رَأَيْت فَقِيهًا بِعَيْنِك إنَّمَا الْفَقِيهُ هُوَ الزَّاهِدُ فِي الدُّنْيَا الرَّاغِبُ فِي الْآخِرَةِ الْبَصِيرُ بِذَنْبِهِ الْمُدَاوِمُ عَلَى عِبَادَةِ رَبِّهِ الْوَرِعُ الْكَافُّ عَنْ أَعْرَاضِ الْمُسْلِمِينَ فَكَانَ اسْمُ الْفِقْهِ مُتَنَاوِلًا لِهَذِهِ الْعُلُومِ وَلِلْفَتَاوَى أَيْضًا فَخُصَّ بِالْفَتَاوَى لَا غَيْرُ فَتَجَرَّدَ النَّاسُ بِهِ لِأَغْرَاضِ الْجَاهِ وَالِاسْتِتْبَاعِ اسْتِرْوَاحًا بِمَا جَاءَ فِي فَضِيلَةِ الْفِقْهِ قَوْله تَعَالَى.

{وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً} [التوبة: 122] اللَّامُ لِتَأْكِيدِ النَّفْيِ وَمَعْنَاهُ أَنَّ نَفِيرَ الْكَافَّةِ عَنْ أَوْطَانِهِمْ لِطَلَبِ الْعِلْمِ غَيْرُ صَحِيحٍ وَلَا مُمْكِنٌ وَفِيهِ أَنَّهُ لَوْ صَحَّ وَأَمْكَنَ وَلَمْ يُؤَدِّ إلَى مَفْسَدَةٍ لَوَجَبَ لِوُجُوبِ التَّفَقُّهِ عَلَى الْكَافَّةِ؛ وَلِأَنَّ طَلَبَ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَمُسْلِمَةٍ فَلَوْلَا نَفَرَ أَيْ فَحِينَ لَمْ يُمْكِنْ نَفِيرُ الْكَافَّةِ وَلَمْ يَكُنْ فِيهِ مَصْلَحَةٌ فَهَلَّا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ طَائِفَةٌ أَيْ مِنْ كُلِّ جَمَاعَةٍ كَثِيرَةٍ جَمَاعَةٌ قَلِيلَةٌ يَكْفُونَهُمْ النَّفِيرَ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ لِيَتَكَلَّفُوا الْفَقَاهَةَ فِيهِ وَيَتَجَشَّمُوا الْمَشَاقَّ فِي أَخْذِهَا وَتَحْصِيلِهَا وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ وَلِيَجْعَلُوا غَرَضَهُمْ وَمَرْمَى هِمَّتِهِمْ فِي التَّفَقُّهِ إنْذَارَ قَوْمِهِمْ وَإِرْشَادَهُمْ وَالنَّصِيحَةَ لَهُمْ لَا مَا يَنْتَحِيهِ الْفُقَهَاءُ مِنْ الْأَغْرَاضِ الْخَسِيسَةِ وَتَؤُمُّونَهُ مِنْ الْمَقَاصِدِ الرَّكِيكَةِ مِنْ التَّصَدُّرِ وَالتَّرَؤُّسِ وَالتَّبَسُّطِ فِي الْبِلَادِ وَالتَّشَبُّهِ بِالظَّلَمَةِ فِي مَلَابِسِهِمْ وَمَرَاكِبِهِمْ وَمُنَافِسَةِ بَعْضِهِمْ بَعْضًا وَفُشُوِّ دَاءِ الضَّرَائِرِ بَيْنَهُمْ وَانْقِلَابِ حَمَالِقَ أَحَدِهِمْ إذَا لَمَحَ بِبَصَرِهِ مَدْرَسَةً لِآخَرَ أَوْ شِرْذِمَةً جَثَوْا بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَهَالُكَهُ عَلَى أَنْ يَكُونَ مَوْطِئَ الْعَقِبِ دُونَ النَّاسِ كُلِّهِمْ فَمَا أَبْعَدَ هَؤُلَاءِ مِنْ قَوْلِهِ عز وجل {لا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الأَرْضِ وَلا فَسَادًا} [القصص: 83] لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ إرَادَةَ أَنْ يَحْذَرُوا اللَّهَ فَيَعْمَلُوا عَمَلًا صَالِحًا وَوَجْهٌ آخَرُ، وَهُوَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - كَانَ إذَا بَعَثَ بَعْثًا بَعْدَ غَزْوَةِ تَبُوكَ وَبَعْدَمَا أُنْزِلَ فِي الْمُتَخَلِّفِينَ مِنْ الْآيَاتِ الشِّدَادِ اسْتَبَقَ الْمُؤْمِنُونَ عَنْ آخِرِهِمْ إلَى النَّفِيرِ وَانْقَطَعُوا جَمِيعًا عَنْ اسْتِمَاعِ الْوَحْيِ وَالتَّفَقُّهِ فِي الدِّينِ فَأُمِرُوا أَنْ يَنْفِرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ إلَى الْجِهَادِ وَيَبْقَى أَعْقَابُهُمْ يَتَفَقَّهُونَ حَتَّى لَا يَنْقَطِعُوا عَنْ التَّفَقُّهِ الَّذِي هُوَ الْجِهَادُ الْأَكْبَرُ لِأَنَّ الْجِدَالَ بِالْحُجَّةِ أَعْظَمُ أَثَرًا مِنْ الْجِهَادِ بِالسَّيْفِ وَقَوْلُهُ لِيَتَفَقَّهُوا الضَّمِيرُ فِيهِ لِلْفِرَقِ الْبَاقِيَةِ بَعْدَ الطَّوَائِفِ النَّافِرَةِ مِنْ بَيْنِهِمْ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ وَلِيُنْذِرَ الْفِرَقُ الْبَاقِيَةُ قَوْمَهُمْ النَّافِرِينَ إذَا رَجَعُوا إلَيْهِمْ بِمَا حَصَّلُوا فِي أَيَّامِ غَيْبَتِهِمْ مِنْ الْعُلُومِ وَعَلَى الْأَوَّلِ الضَّمِيرُ لِلطَّائِفَةِ النَّافِرَةِ
তিনি তাদের সতর্কীকরণের গুনাগুণ দ্বারা বর্ণিত করেছেন, আর তা হলো ইলম (জ্ঞান) এবং সেই অনুযায়ী আমল করার প্রতি আহ্বান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «জাহিলিয়্যাতের যুগে তোমাদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ ছিল, তারা ইসলামের যুগেও শ্রেষ্ঠ যদি তারা দ্বীনি সমঝ (ফিকহ) অর্জন করে।» তিনি আরও বলেছেন: «আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর সমঝ দান করেন।»

--

‌‌[কাশফুল আসরার]

ইলম ও আমল—যেমনটি শাইখ ইঙ্গিত করেছেন। যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করল অথচ আমল বর্জন করল, সে তো শয়তানের ক্রীড়নক ও তার হাসির পাত্র। এমতাবস্থায় সে কীভাবে একজন আবেদের চেয়ে হাজার গুণ শক্তিশালী (শয়তানের জন্য) হতে পারে? ইমাম গাজালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইলমসমূহের নাম পরিবর্তনের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, মানুষ 'ফিকহ' নামটিকে অপব্যবহার করে তাকে কেবল ফতোয়া এবং এর সূক্ষ্ম মারপ্যাঁচ ও কারণসমূহের জ্ঞানের সাথে নির্দিষ্ট করে ফেলেছে। অথচ প্রথম যুগে 'ফিকহ' শব্দটি ব্যবহৃত হতো পরকালের জ্ঞান, নফসের সূক্ষ্ম ত্রুটি-বিচ্যুতি শনাক্তকরণ এবং পরকালের অবস্থা ও দুনিয়ার তুচ্ছতা অনুধাবনের ক্ষেত্রে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যাতে তারা দ্বীনের সমঝ অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে} [আত-তাওবা: ১২২]। আর এই সতর্কীকরণ তো এই প্রকারের ইলমের মাধ্যমেই সম্ভব, অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় (সালাম) বা ভাড়ার (ইজারা) খুঁটিনাটি মাসআলা দ্বারা নয়। নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ফকিহ হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর সন্তুষ্টির খাতিরে মানুষের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয় (তাদের অবাধ্যতার কারণে)»। এটি আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে; অতঃপর সে নিজের নফসের দিকে মনোনিবেশ করবে এবং নিজের প্রতি অধিক বীতশ্রদ্ধ হবে। ফারকাদ আস-সিনজি হাসান বসরীকে কোনো একটি বিষয় জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাব দিলেন। ফারকাদ বললেন, "ফকিহগণ তো আপনার বিরোধিতা করছেন।" হাসান বললেন, "হে ফুরাইকিদ! তোমার মা তোমাকে হারাক! তুমি কি চাক্ষুষ কোনো ফকিহকে দেখেছ? প্রকৃত ফকিহ তো সেই, যে দুনিয়ার প্রতি বিমুখ, পরকালের প্রতি অনুরাগী, নিজের পাপের ব্যাপারে সচেতন, স্বীয় রবের ইবাদতে সদা নিমগ্ন, পরহেজগার এবং মুসলমানদের মান-সম্মানহানি থেকে বিরত থাকে।" সুতরাং 'ফিকহ' নামটি এই ইলমসমূহ এবং ফতোয়া উভয়কেই শামিল করত। কিন্তু পরবর্তীতে একে কেবল ফতোয়ার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। ফলে মানুষ এর মাধ্যমে পার্থিব মর্যাদা ও অনুসারী লাভের হীন উদ্দেশ্যে লিপ্ত হয় এবং ফিকহের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত আল্লাহর বাণীর অপব্যাখ্যা করে প্রশান্তি খুঁজতে থাকে।

{আর মুমিনদের সকলের একসাথে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়} [আত-তাওবা: ১২২]। এখানে 'লাম' বর্ণটি নেতিবাচক অর্থকে সুদৃঢ় করার জন্য এসেছে। এর অর্থ হলো, ইলম তলবের উদ্দেশ্যে সকলের নিজ নিজ আবাসস্থল ত্যাগ করে বের হওয়া সঠিক নয় এবং সম্ভবও নয়। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, এটি যদি সঠিক ও সম্ভব হতো এবং কোনো বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না করত, তবে সকলের ওপর ইলম অর্জন ওয়াজিব হওয়ার কারণে এটিও ওয়াজিব হতো; কারণ ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ। "তবে কেন বের হয় না?" অর্থাৎ যখন সকলের বের হওয়া সম্ভব নয় এবং তাতে কোনো কল্যাণও নেই, তখন কেন প্রতিটি বড় দল থেকে একটি ছোট দল বের হয় না, অর্থাৎ প্রতিটি বিশাল জনসমষ্টি থেকে ক্ষুদ্র একটি দল যারা অন্যদের পক্ষে বের হওয়ার দায়িত্ব পালন করবে। "যাতে তারা দ্বীনের সমঝ অর্জন করতে পারে" অর্থাৎ দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য কষ্ট সহ্য করে এবং তা অর্জনে পাণ্ডিত্য লাভের শ্রম স্বীকার করে। "এবং যাতে তারা তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে" এবং তারা যেন দ্বীন শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে তাদের কওমকে সতর্ক করা, সঠিক পথ দেখানো এবং নসিহত করা। বর্তমান সময়ের ফকিহরা যেমন হীন উদ্দেশ্যে এবং নিচু লক্ষ্যে এটি করে থাকে তেমনটি যেন না হয়; যেমন—বড় আসন লাভ করা, নেতৃত্ব দেওয়া, দেশময় প্রভাব বিস্তার করা, পোশাক-পরিচ্ছদ ও যানবাহনে জালিমদের অনুকরণ করা, একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া, সতীনদের মধ্যকার ঈর্ষার মতো ব্যাধি নিজেদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং অন্যের কোনো মাদরাসা বা অনুসারী দল দেখলে চোখের মণি উল্টে ফেলা এবং মানুষের ভিড় বা অনুসারী লাভের জন্য লালায়িত হওয়া। এই লোকগুলো মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে কতই না দূরে—{তারা পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য ও ফাসাদ চায় না} [আল-কাসাস: LXXXIII]। "যাতে তারা সতর্ক হয়" অর্থাৎ তারা যেন আল্লাহকে ভয় করার ইচ্ছা করে, ফলে তারা সৎ কাজ করে। এর আরেকটি ব্যাখ্যা হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাবুক যুদ্ধের পর কোনো অভিযান পাঠাতেন এবং যারা যুদ্ধে পেছনে থেকে গিয়েছিল তাদের ব্যাপারে কঠোর আয়াতসমূহ নাজিল হয়েছিল, তখন মুমিনরা সকলেই অভিযানে বের হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করলেন এবং ওহি শ্রবণ ও দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন থেকে সকলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন। তখন তাদের নির্দেশ দেওয়া হলো যেন তাদের প্রত্যেক দল থেকে একটি অংশ জিহাদে বের হয় এবং বাকিরা পেছনে থেকে দ্বীনের সমঝ অর্জন করে, যাতে তারা দ্বীন শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে; যা কিনা বড় জিহাদ। কেননা দলিলের মাধ্যমে বিতর্ক ও যুক্তি প্রদর্শন তলোয়ারের মাধ্যমে জিহাদের চেয়েও অধিক প্রভাবশালী। "যাতে তারা সমঝ অর্জন করতে পারে"—এখানে সর্বনামটি জিহাদে গমনকারীদের পেছনে অবস্থানকারী দলের দিকে ফিরেছে। "এবং যাতে তারা তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে"—অর্থাৎ অবস্থানকারী দলটি যখন জিহাদ থেকে ফিরে আসা লোকদের কাছে পৌঁছাবে, তখন তারা তাদের অনুপস্থিতিকালীন অর্জিত ইলম দ্বারা তাদের সতর্ক করবে। আর প্রথম ব্যাখ্যা অনুযায়ী সর্বনামটি অভিযানে গমনকারী ক্ষুদ্র দলটির দিকে ফিরবে।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَأَصْحَابُنَا هُمْ السَّابِقُونَ فِي هَذَا الْبَابِ وَلَهُمْ الرُّتْبَةُ الْعُلْيَا وَالدَّرَجَةُ الْقُصْوَى فِي عِلْمِ الشَّرِيعَةِ وَهُمْ الرَّبَّانِيُّونَ فِي عِلْمِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَمُلَازَمَةِ الْقُدْوَةِ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

إلَى الْمَدِينَةِ لِلتَّفَقُّهِ كَذَا فِي الْكَشَّافِ وَلَا يُقَالُ هَذِهِ الْآيَةُ عَلَى الْوَجْهِ الثَّانِي مُعَارَضَةٌ بِقَوْلِهِ تَعَالَى {انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالا} [التوبة: 41] لِأَنَّا نَقُولُ هَذِهِ الْآيَةُ نَاسِخَةٌ لِلْآيَاتِ الَّتِي تُوجِبُ نَفَرَ الْكُلِّ.

وَهُوَ قَوْلُ الْحَسَنِ وَأَبِي بَكْرٍ الْأَصَمِّ أَوْ هِيَ نَازِلَةٌ حَالَ كَثْرَةِ الْمُؤْمِنِينَ وَتِلْكَ فِي حَالِ قِلَّتِهِمْ أَوْ هِيَ مَحْمُولَةٌ عَلَى غَيْرِ حَالَةِ هُجُومِ الْعَدُوِّ وَتِلْكَ عَلَى حَالَةِ الْهُجُومِ إلَيْهِ أُشِيرَ فِي شَرْحِ التَّأْوِيلَاتِ وَالْإِنْذَارُ هُوَ الدَّعْوَةُ إلَى الْعِلْمِ وَالْعَمَلِ لِأَنَّ الْمُنْذِرَ إذَا لَمْ يَعْمَلْ بِمَا يُنْذَرُ بِهِ لَا يُلْتَفَتُ إلَيْهِ وَلَا إلَى كَلَامِهِ أَصْلًا كَمَنْ أَشَارَ إلَى طَعَامٍ لَذِيذٍ وَقَالَ لَا تَأْكُلُوهُ، فَإِنَّهُ مَسْمُومٌ ثُمَّ أَخَذَ فِي أَكْلِهِ لَا يُلْتَفَتُ إلَى كَلَامِهِ أَصْلًا فَثَبَتَ أَنَّهُ لَا بُدَّ لِلْإِنْذَارِ مِنْ الْعَمَلِ بِهِ وَقَدْ وَصَفَ اللَّهُ تَعَالَى الْفُقَهَاءَ بِالْإِنْذَارِ بِقَوْلِهِ {وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ} [التوبة: 122] فَلَا بُدَّ مِنْ أَنْ يَكُونُوا عَالِمِينَ بِمَا أُنْذِرُوا بِهِ فَثَبَتَ أَنَّ الْفَقِيهَ هُوَ الْعَالِمُ الْعَامِلُ وَالْفِقْهُ هُوَ الْعِلْمُ وَالْعَمَلُ أَلَا تَرَى أَنَّهُ تَعَالَى ذَمَّ أَقْوَامًا عَلَى الْإِنْذَارِ بِدُونِ الْعَمَلِ بِقَوْلِهِ {أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ} [البقرة: 44] وَبِقَوْلِهِ {كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لا تَفْعَلُونَ} [الصف: 3] وَقَدْ حَرَّضَهُمْ هَهُنَا عَلَيْهِ فَثَبَتَ أَنَّهُ هُوَ الدَّعْوَةُ إلَى الْعِلْمِ وَالْعَمَلِ جَمِيعًا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ «سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَيُّ النَّاسِ أَكْرَمُ قَالَ أَكْرَمُهُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاهُمْ قَالُوا لَيْسَ عَنْ هَذَا نَسْأَلُك قَالَ أَكْرَمُ النَّاسِ يُوسُفُ ابْنُ نَبِيِّ اللَّهِ ابْنِ نَبِيِّ اللَّهِ ابْنِ خَلِيلِ اللَّهِ قَالُوا لَيْسَ عَنْ هَذَا نَسْأَلُك قَالَ فَعَنْ مَعَادِنِ الْعَرَبِ تَسْأَلُونَنِي قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَخِيَارُكُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خِيَارُكُمْ فِي الْإِسْلَامِ إذَا فَقِهُوا» فَقِهَ الرَّجُلُ بِالْكَسْرِ فِقْهًا فَهِمَ وَفَقِهَ فَقَاهَةً إذَا صَارَ فَقِيهًا

 

قَوْلُهُ (وَأَصْحَابُنَا) أَيْ أَصْحَابُ مَذْهَبِنَا وَهُمْ أَبُو حَنِيفَةَ رحمه الله وَأَصْحَابُهُ، هُمْ السَّابِقُونَ أَيْ الْمُتَقَدِّمُونَ، فِي هَذَا الْبَابِ أَيْ الْفِقْهِ ذَكَرَ ضَمِيرَ الْفَصْلِ لِيَدُلَّ عَلَى نَوْعِ تَخْصِيصٍ وَحَصْرٍ أَيْ هُمْ الْمُخْتَصُّونَ بِالسَّبْقِ فِيهِ لَا غَيْرُهُمْ؛ لِأَنَّهُ لَمْ يَتَقَدَّمْهُمْ أَحَدٌ فِي تَخْرِيجِ الْمَسَائِلِ وَتَصْحِيحِ الْأَجْوِبَةِ وَلَمْ يَبْلُغْ غَايَتَهُمْ فِي تَرْتِيبِ الْفُرُوعِ عَلَى الْأُصُولِ وَبَذْلِ الْمَجْهُودِ فِي تِلْكَ، وَلَهُمْ الرُّتْبَةُ الْعُلْيَا أَيْ الْمَنْزِلَةُ الَّتِي لَا مَنْزِلَةَ فَوْقَهَا وَالْعُلْيَا وَالْقُصْوَى تَأْنِيثُ الْأَعْلَى وَالْأَقْصَى، وَكَانَ الْقِيَاسُ أَنْ تُقْلَبَ وَاوُ الْقُصْوَى يَاءً كَوَاوِ الْعُلْيَا؛ لِأَنَّهَا مِنْ الصِّفَاتِ الْجَارِيَةِ مَجْرَى الْأَسْمَاءِ وَوَاوُ فُعْلَى تُقْلَبُ يَاءً فِي مِثْلِ هَذَا الْمَوْضِعِ إلَّا أَنَّهَا جَاءَتْ بِالْوَاوِ أَيْضًا فِي بَعْضِ اللُّغَاتِ عَلَى سَبِيلِ الشُّذُوذِ كَمَا جَاءَتْ بِالْيَاءِ قَالَ الْإِمَامُ عَبْدُ الْقَاهِرِ، وَإِذَا كَانَتْ اللَّامُ وَاوًا فِي فُعْلَى، فَإِنَّهَا تُقْلَبُ فِي الصِّفَاتِ الْجَارِيَةِ مَجْرَى الْأَسْمَاءِ إلَى الْيَاءِ مِنْ غَيْرِ عِلَّةٍ مِثْلُ الدُّنْيَا وَالْعُلْيَا وَالْقُصْيَا وَقَدْ قَالُوا الْقُصْوَى فَجَاءَ عَلَى الْأَصْلِ كَمَا جَاءَ قَوِدَ وَاسْتَحْوَذَ وَذَكَرَ فِي الْكَشَّافِ الْقُصْوَى كَالْقَوْدَى فِي مَجِيئِهِ عَلَى الْأَصْلِ وَقَدْ جَاءَ الْقُصْيَا إلَّا أَنَّ اسْتِعْمَالَ الْقُصْوَى أَكْثَرُ كَمَا كَثُرَ اسْتِعْمَالُ اسْتَصْوَبَ مَعَ مَجِيءِ اسْتَصَابَ وَأَغْلَيْت مَعَ غَالَتْ، الرَّبَّانِيُّ فِي الْمُتَأَلِّهِ الْعَارِفُ بِاَللَّهِ تَعَالَى كَذَا فِي الصِّحَاحِ وَفِي الْكَشَّافِ الرَّبَّانِيُّ الشَّدِيدُ التَّمَسُّكِ بِدِينِ اللَّهِ وَطَاعَتِهِ وَقِيلَ هُوَ الَّذِي يَرُبُّ النَّاسَ بِصِغَارِ الْعُلُومِ قَبْلَ كِبَارِهَا وَقِيلَ هُوَ الَّذِي يَرُبُّ النَّاسَ بِعِلْمِهِ وَعَمَلِهِ بِعَمَلِهِ، وَهُوَ مَنْسُوبٌ إلَى الرَّبِّ بِزِيَادَةِ الْأَلِفِ وَالنُّونِ لِلتَّعْظِيمِ كَاللِّحْيَانِيِّ وَالنُّورَانِيِّ وَقَدْ جَاءَ رَبَّى بِفَتْحِ الرَّاءِ وَكَسْرِهَا وَضَمِّهَا وَالْقِيَاسُ هُوَ الْفَتْحُ وَالْبَاقِي مِنْ تَغَيُّرَاتِ النَّسَبِ، وَالْقُدْوَةُ مِنْ الِاقْتِدَاءِ
আমাদের সাথীবৃন্দই এই বিষয়ে অগ্রগামী এবং শরীয়তের জ্ঞানে তাঁদেরই রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা ও সর্বোচ্চ স্তর। তাঁরা কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞানে এবং আদর্শের অনুসরণে রব্বানী বা আল্লাহওয়ালা।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

দ্বীনি গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য শহরের দিকে (সফর করা), যেমনটি 'কাশশাফ' গ্রন্থে রয়েছে। আর এমনটি বলা যাবে না যে, এই আয়াতটি দ্বিতীয় পন্থায় আল্লাহ তাআলার বাণী "তোমরা বের হও হালকা কিংবা ভারী অবস্থায়" [তওবা: ৪১]-এর সাথে সাংঘর্ষিক; কেননা আমরা বলি যে, এই আয়াতটি সেই সকল আয়াতকে রহিতকারী যা সকলের বের হওয়াকে আবশ্যক করে।

আর এটি হাসান এবং আবু বকর আল-আসসামের অভিমত। অথবা এই আয়াতটি মুমিনদের সংখ্যাধিক্যের সময় অবতীর্ণ হয়েছে, আর পূর্বোক্তটি ছিল মুমিনদের সংখ্যা কম থাকার সময়ের। অথবা এটি শত্রুর আক্রমণের অবস্থা ব্যতিরেকে অন্য সময়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর পূর্বোক্তটি শত্রুর আক্রমণের সময়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—এমনটিই ইশারা করা হয়েছে 'শারহুত তাওবিলাত' গ্রন্থে। আর 'ইনযার' বা সতর্ক করা হলো জ্ঞান ও আমলের দিকে দাওয়াত দেওয়া। কারণ, সতর্ককারী যখন নিজে সেই অনুযায়ী আমল করে না যা দিয়ে সে সতর্ক করছে, তখন তার প্রতি এবং তার কথার প্রতি আদতেই ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। যেমন কেউ সুস্বাদু খাবারের দিকে ইশারা করে বলল, "তোমরা এটা খেও না, কারণ এটা বিষাক্ত", অতঃপর সে নিজেই তা খেতে শুরু করল; তবে তার কথার প্রতি একেবারেই ভ্রুক্ষেপ করা হবে না। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, সতর্ক করার জন্য আমল থাকা আবশ্যক। আর আল্লাহ তাআলা ফকীহদেরকে সতর্ক করার গুণ দ্বারা গুণান্বিত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "যাতে তারা তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে" [তওবা: ১২২]। সুতরাং তারা যা দিয়ে সতর্ক করছে, সে বিষয়ে তাদের জ্ঞানী হওয়া আবশ্যক। ফলে এটি প্রমাণিত হলো যে, ফকীহ তিনিই যিনি আলেম এবং আমলকারী, আর ফিকহ হলো জ্ঞান ও আমল। আপনি কি দেখেন না যে, আল্লাহ তাআলা আমলহীন সতর্ক করার কারণে এক সম্প্রদায়ের নিন্দা করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও আর নিজেদের কথা ভুলে যাও?" [বাকারা: ৪৪] এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আল্লাহর কাছে এটি অত্যন্ত অসন্তোষজনক যে, তোমরা যা করো না তা বলো" [সাফ: ৩]। অথচ এখানে তিনি তাদেরকে এর (সতর্ক করার) প্রতি উৎসাহিত করেছেন; ফলে প্রমাণিত হলো যে, এটি জ্ঞান ও আমল—উভয়টির দিকেই দাওয়াত দেওয়া। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত কে? তিনি বললেন: তাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী বা খোদাভীরু। তাঁরা বললেন: আমরা আপনার কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছি না। তিনি বললেন: তবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত হলেন আল্লাহর নবী ইউসুফ, যিনি আল্লাহর নবীর পুত্র, যিনি আল্লাহর নবীর পুত্র, যিনি আল্লাহর খলীল (ইবরাহিম)-এর পুত্র। তাঁরা বললেন: আমরা আপনার কাছে এ বিষয়েও জিজ্ঞাসা করছি না। তিনি বললেন: তবে কি তোমরা আমাকে আরবের খনিসমূহ (বংশমর্যাদা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে যারা জাহেলি যুগে শ্রেষ্ঠ ছিল, তারা ইসলামেও শ্রেষ্ঠ যদি তারা ফিকহ বা দ্বীনি গভীর জ্ঞান অর্জন করে।" 'ফাকিহা' শব্দটি 'কাসরা' (নিচে জের) দিয়ে পড়ার অর্থ হলো সে বুঝতে পেরেছে, আর 'ফাকুহা' অর্থ হলো যখন সে ফকীহ হয়ে গেল।

 

তাঁর উক্তি (আমাদের সাথীবৃন্দ) অর্থাৎ আমাদের মাযহাবের অনুসারীগণ, আর তাঁরা হলেন আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং তাঁর সাথীবৃন্দ। তাঁরাই 'সাবেকুন' অর্থাৎ অগ্রগামী, 'এই বিষয়ে' অর্থাৎ ফিকহ শাস্ত্রে। এখানে 'ফাসল' এর সর্বনাম (হুম) উল্লেখ করা হয়েছে এক প্রকার বিশেষত্ব ও সীমাবদ্ধতা বোঝাতে; অর্থাৎ তাঁরাই এতে অগ্রগামী হওয়ার গুণে গুণান্বিত, অন্য কেউ নয়। কারণ, মাসআলা উদ্ভাবন (তাখরিজ) এবং সঠিক উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের আগে কেউ ছিল না। আর মূলনীতির ভিত্তিতে শাখা-প্রশাখা বিন্যাস করা এবং সে ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা ব্যয় করার ক্ষেত্রে কেউ তাঁদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তাঁদের রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা অর্থাৎ এমন এক স্থান যার উপরে আর কোনো স্থান নেই। 'উলইয়া' এবং 'কুসওয়া' হলো 'আ’লা' এবং 'আকসা' শব্দ দুটির স্ত্রীলিঙ্গ। নিয়মানুযায়ী 'কুসওয়া' শব্দের ওয়াও-কে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করার কথা ছিল যেমনটি 'উলইয়া' এর ওয়াও-কে করা হয়েছে; কারণ এটি এমন সিফাত বা গুণ যা বিশেষ্যের ন্যায় ব্যবহৃত হয়। আর 'ফু'লা' ওজনের ওয়াও এই জাতীয় স্থানে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তিত হয়। তবে এটি কিছু কিছু উপভাষায় ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে ওয়াও দিয়েই ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি ইয়া দিয়েও ব্যবহৃত হয়েছে। ইমাম আব্দুল কাহের বলেন, যখন 'ফু'লা' ওজনে লাম বর্ণটি ওয়াও হয়, তখন বিশেষ্যের ন্যায় ব্যবহৃত গুণবাচক শব্দের ক্ষেত্রে সেটি কোনো কারণ ছাড়াই ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়, যেমন: 'দুনইয়া', 'উলইয়া' এবং 'কুসইয়া'। তবে তাঁরা 'কুসওয়া' বলেছেন, যা মূল রূপ অনুযায়ী এসেছে যেমন এসেছে 'কাবিদা' এবং 'ইস্তাহওয়াযা'। 'কাশশাফ' গ্রন্থে 'কুসওয়া' শব্দটিকে 'কাওদা' এর মতো মূল রূপ অনুযায়ী আসার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও 'কুসইয়া' শব্দটিরও ব্যবহার রয়েছে, তবে 'কুসওয়া' এর ব্যবহারই অধিক। যেমন 'ইস্তাসওয়াযা' শব্দের ব্যবহার 'ইস্তাসাবা' এর চেয়ে বেশি এবং 'আগলাইতু' এর ব্যবহার 'গালাত' এর সাথে বেশি হয়েছে। 'রব্বানী' বলা হয় সেই আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিকে যিনি আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন, যেমনটি 'সিহাহ' গ্রন্থে রয়েছে। আর 'কাশশাফ' গ্রন্থে রয়েছে: রব্বানী হলেন তিনি যিনি আল্লাহর দ্বীন এবং তাঁর আনুগত্যের ওপর সুদৃঢ় থাকেন। আবার কেউ বলেছেন: তিনি সেই ব্যক্তি যিনি মানুষকে বড় বড় জ্ঞানের আগে ছোট ছোট জ্ঞান দিয়ে গড়ে তোলেন। আবার কেউ বলেছেন: তিনি সেই ব্যক্তি যিনি মানুষকে নিজের জ্ঞান ও আমলের মাধ্যমে গড়ে তোলেন। এই শব্দটি 'রব' শব্দের দিকে নিসবত বা সম্বন্ধযুক্ত, যেখানে মহানুভবতা বোঝাতে আলিফ এবং নুন অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছে যেমনটি 'লিহয়ানী' এবং 'নুরানী' শব্দের ক্ষেত্রে হয়। 'রব্বী' শব্দটি রা বর্ণে ফাতহা (যবর), কাসরা (জের) এবং দাম্মা (পেশ) তিনভাবেই পঠিত হয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী ফাতহা হওয়াই সংগত এবং বাকিগুলো সম্বন্ধযুক্ত করার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত। আর 'কুদওয়াহ' শব্দটি 'ইকতিদা' (অনুসরণ) থেকে উদ্ভূত।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَهُمْ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ وَالْمَعَانِي أَمَّا الْمَعَانِي فَقَدْ سَلَّمَ لَهُمْ الْعُلَمَاءُ حَتَّى سَمَّوْهُمْ أَصْحَابَ الرَّأْيِ وَالرَّأْيُ اسْمٌ لِلْفِقْهِ الَّذِي ذَكَرْنَا وَهُمْ أَوْلَى بِالْحَدِيثِ أَيْضًا

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

كَالْأُسْوَةِ مِنْ الْايتِسَاءِ لَفْظًا وَمَعْنًى وَيُقَالُ فُلَانٌ قُدْوَةٌ أَيْ يُقْتَدَى بِهِ يَعْنِي أَنَّهُمْ كَانُوا يُلَازِمُونَ طَرِيقَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ رضي الله عنهم فِي أَخْذِ الْأَحْكَامِ مِنْ الْكِتَابِ ثُمَّ مِنْ السُّنَّةِ ثُمَّ مِنْ الْإِجْمَاعِ ثُمَّ الْقِيَاسِ وَيَسْلُكُونَ نَهْجَهُمْ وَلَا يَخْتَرِعُونَ مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مَا يُخَالِفُ طَرِيقَتَهُمْ فِي اسْتِخْرَاجِ الْأَحْكَامِ وَاسْتِنْبَاطِهَا.

قَوْلُهُ (وَهُمْ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ وَالْمَعَانِي) وَلَمَّا طَعَنَ الْخُصُومُ فِي أَبِي حَنِيفَةَ وَأَصْحَابِهِ رحمهم الله أَنَّهُمْ كَانُوا أَصْحَابَ الرَّأْيِ دُونَ الْحَدِيثِ يَعْنُونَ بِهِ أَنَّهُمْ وَضَعُوا الْأَحْكَامَ بِاقْتِضَاءِ آرَائِهِمْ فَإِنْ وَافَقَ الْحَدِيثُ رَأْيَهُمْ قَبِلُوهُ وَإِلَّا قَدَّمُوا رَأْيَهُمْ عَلَى الْحَدِيثِ وَلَمْ يَلْتَفِتُوا إلَيْهِ رَدَّ عَلَيْهِمْ طَعْنَهُمْ بِقَوْلِهِ وَهُمْ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ.

وَقَدْ حُكِيَ أَنَّ الشَّيْخَ الْمُصَنِّفَ رحمه الله نَاظَرَ إمَامَ الْحَرَمَيْنِ فِي أَلْوَانِ تَحْصِيلِهِ بِبُخَارَى بِإِشَارَةِ أَخِيهِ شَيْخِ الْأَنَامِ صَدْرِ الْإِسْلَامِ أَبِي الْيُسْرِ وَأَفْحَمَهُ فَلَمَّا تَفَرَّقُوا قَالَ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ إنَّ الْمَعَانِيَ قَدْ تَيَسَّرَتْ لِأَصْحَابِ أَبِي حَنِيفَةَ وَلَكِنْ لَا مُمَارَسَةَ لَهُمْ بِالْحَدِيثِ فَبَلَغَ الشَّيْخَ فَرَدَّهُ فِي هَذَا التَّصْنِيفِ وَقَالَ وَهُمْ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ وَالْمَعَانِي أَمَّا الْمَعَانِي فَقَدْ سَلَّمَ لَهُمْ الْعُلَمَاءُ أَيْ سَلَّمُوهَا لَهُمْ إجْمَالًا وَتَفْصِيلًا أَمَّا إجْمَالًا؛ فَلِأَنَّهُمْ سَمَّوْهُمْ أَصْحَابَ الرَّأْيِ تَعْبِيرًا لَهُمْ بِذَلِكَ، وَإِنَّمَا سَمَّوْهُمْ بِذَلِكَ لِإِتْقَانِ مَعْرِفَتِهِمْ بِالْحَلَالِ وَالْحَرَامِ وَاسْتِخْرَاجِهِمْ الْمَعَانِي مِنْ النُّصُوصِ لِبِنَاءِ الْأَحْكَامِ وَدِقَّةِ نَظَرِهِمْ فِيهَا وَكَثْرَةِ تَفْرِيعِهِمْ عَلَيْهَا وَقَدْ عَجَزَ عَنْ ذَلِكَ عَامَّةُ أَهْلِ زَمَانِهِمْ فَنَسَبُوا أَنْفُسَهُمْ إلَى الْحَدِيثِ وَأَبَا حَنِيفَةَ وَأَصْحَابَهُ إلَى الرَّأْيِ وَالرَّأْيُ هُوَ نَظَرٌ الْقَلْبِ يُقَالُ رَأَى رَأْيًا بَدَلُ ديد وَرَأَى رُؤْيَا بِغَيْرِ تَنْوِينٍ بخواب ديد وَرَأَى رُؤْيَةً بجشم ديد وَفِي الْمُغْرِبِ الرَّأْيُ مَا ارْتَأْهُ الْإِنْسَانُ وَاعْتَقَدَهُ وَأَمَّا تَفْصِيلًا فَمَا رُوِيَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ اجْتَمَعْت مَعَ أَبِي حَنِيفَةَ وَجَلَسْنَا أَوْقَاتًا وَكَلَّمْته فِي مَسَائِلَ كَثِيرَةٍ فَمَا رَأَيْت رَجُلًا أَفْقَهَ مِنْهُ وَلَا أَغْوَصَ مِنْهُ فِي مَعْنَى وَحُجَّةٍ وَرُوِيَ أَنَّهُ كَانَ يَنْظُرُ فِي كُتُبِ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ وَتَفَقَّهَ بِهَا وَعَنْ حَرْمَلَةَ أَنَّهُ سَمِعَ الشَّافِعِيَّ رحمه الله يَقُولُ مَنْ أَرَادَ أَنْ يَتَبَحَّرَ فِي الْفِقْهِ فَهُوَ عِيَالٌ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله وَعَنْ أَبِي عُبَيْدٍ الْقَاسِمِ بْنِ سَلَّامٍ عَنْ الشَّافِعِيِّ أَنَّهُ قَالَ مَنْ أَرَادَ الْفِقْهَ فَلْيَلْزَمْ أَصْحَابَ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله وَاَللَّهِ مَا صِرْت فَقِيهًا إلَّا بِاطِّلَاعِي فِي كُتُبِ أَبِي حَنِيفَةَ لَوْ لَحِقْته قَدْ لَازَمْت مَجْلِسَهُ وَبَلَغَ ابْنَ سُرَيْجٍ أَنَّ رَجُلًا وَقَعَ فِي أَبِي حَنِيفَةَ فَدَعَاهُ وَقَالَ يَا هَذَا أَتَقَعُ فِي رَجُلٍ سَلَّمَ لَهُ جَمِيعُ الْأُمَّةِ ثَلَاثَةَ أَرْبَاعِ الْعِلْمِ.

وَهُوَ لَا يُسَلِّمُ لَهُمْ الرُّبْعَ قَالَ كَيْفَ ذَاكَ فَقَالَ الْعِلْمُ قِسْمَانِ سُؤَالٌ وَجَوَابٌ وَأَنَّهُ وَضَعَ الْمَسَائِلَ فَسُلِّمَ لَهُ النِّصْفُ ثُمَّ أَجَابَ فِيهَا وَوَافَقُوهُ فِي النِّصْفِ أَوْ أَكْثَرَ فَسُلِّمَ لَهُ الرُّبْعُ الْآخَرُ، وَإِنَّمَا خَالَفُوهُ فِي الْبَاقِي، وَهُوَ لَا يُسَلِّمُ لَهُمْ ذَلِكَ فَبَقِيَ الرُّبْعُ مُتَنَازَعًا فِيهِ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكُلِّ.

قَوْلُهُ (وَهُمْ أَوْلَى بِالْحَدِيثِ) أَيْ بِأَنْ يَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ أَيْضًا تَفْصِيلًا وَإِجْمَالًا أَمَّا تَفْصِيلًا فَلِمَا رُوِيَ عَنْ حَيِّ بْنِ آدَمَ أَنَّهُ قَالَ إنَّ فِي الْحَدِيثِ نَاسِخًا وَمَنْسُوخًا كَمَا فِي الْقُرْآنِ، وَكَانَ النُّعْمَانُ جَمَعَ حَدِيثَ أَهْلِ بَلَدِهِ كُلِّهِ فَنَظَرَ إلَى آخِرِ مَا قُبِضَ عَلَيْهِ النَّبِيُّ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فَأَخَذَ بِهِ فَكَانَ فَقِيهًا وَعَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ سَمِعْت أَبَا حَنِيفَةَ رحمه الله يَقُولُ: عَجَبًا لِلنَّاسِ يَقُولُونَ إنِّي أَقُولُ بِالرَّأْيِ وَمَا أُفْتِي إلَّا بِالْأَثَرِ وَعَنْ النَّضْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ مَا رَأَيْت أَحَدًا أَكْثَرَ أَخْذًا لِلْآثَارِ
এবং তাঁরাই হাদীস ও মর্মার্থের ধারক। আর মর্মার্থের বিষয়টি তো আলেমগণ তাঁদের জন্য নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়েছেন, এমনকি তাঁরা তাঁদেরকে ‘আসহাবুর রায়’ (গবেষণালব্ধ মতের অনুসারী) নামে অভিহিত করেছেন। আর ‘রায়’ হলো সেই ফিকহ বা গভীর প্রজ্ঞার নাম যা আমরা উল্লেখ করেছি; অধিকন্তু তাঁরা হাদীসের ক্ষেত্রেও অধিক যোগ্য।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

যেমন শব্দগত ও অর্থগতভাবে ‘ইত্তিসা’ থেকে ‘উসওয়াহ’ (আদর্শ) শব্দটি উৎপন্ন। বলা হয়, অমুক ব্যক্তি একজন ‘কুদওয়াহ’ অর্থাৎ তাকে অনুসরণ করা হয়। এর অর্থ হলো, তাঁরা কিতাবুল্লাহ, অতঃপর সুন্নাহ, অতঃপর ইজমা এবং এরপর কিয়াস থেকে আহকাম বা বিধান গ্রহণের ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাবেয়ীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর পথ আঁকড়ে ধরতেন। তাঁরা তাঁদের পথ অনুসরণ করতেন এবং আহকাম উদ্ঘাটন ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতির বিরোধী কোনো কিছু নিজেদের পক্ষ থেকে উদ্ভাবন করতেন না।

তাঁর উক্তি: (এবং তাঁরাই হাদীস ও মর্মার্থের ধারক)। যখন প্রতিপক্ষ ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের (রাহিমাহুল্লাহ) প্রতি এই অপবাদ দেয় যে, তাঁরা ছিলেন কেবল ‘আসহাবুর রায়’ (মতের অনুসারী), হাদীসপন্থী নন; এর দ্বারা তারা বোঝাতে চেয়েছিল যে, তাঁরা নিজেদের মতের চাহিদা অনুযায়ী বিধান তৈরি করতেন, ফলে যদি হাদীস তাঁদের মতের অনুকূলে হতো তবে তা গ্রহণ করতেন, অন্যথায় হাদীসের ওপর নিজেদের মতকে প্রাধান্য দিতেন এবং হাদীসের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না। লেখক তাঁদের এই অপবাদের উত্তর দিয়েছেন এই বলে যে—‘এবং তাঁরাই হাদীসের ধারক’।

বর্ণিত আছে যে, গ্রন্থকার শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ভাই ‘শাইখুল আনাম’ ‘সদরুল ইসলাম’ আবু আল-ইউসরের ইঙ্গিতে বুখারায় ইলম অর্জনের সময় ইমামুল হারামাইনের সাথে মুনাজারা (বিতর্ক) করেছিলেন এবং তাঁকে নিরুত্তর করে দিয়েছিলেন। যখন তাঁরা পৃথক হলেন, তখন ইমামুল হারামাইন বলেছিলেন, ‘আবু হানিফার সাথীদের জন্য মর্মার্থ (উদ্ঘাটন) সহজসাধ্য হয়েছে বটে, কিন্তু হাদীসের চর্চায় তাঁদের কোনো বিচরণ নেই।’ এই খবর শাইখের নিকট পৌঁছালে তিনি এই কিতাবে তার প্রতিবাদ করেন এবং বলেন—‘এবং তাঁরাই হাদীস ও মর্মার্থের ধারক’। ‘মর্মার্থের’ বিষয়ে তো আলেমগণ তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব নির্দ্বিধায় মেনে নিয়েছেন; অর্থাৎ তাঁরা সামগ্রিকভাবে ও বিস্তারিতভাবে তা স্বীকার করেছেন। সামগ্রিক স্বীকৃতির কারণ হলো, তাঁরা তাঁদেরকে ‘আসহাবুর রায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। হালাল-হারাম সম্পর্কে তাঁদের গভীর জ্ঞান, নصوص (কুরআন-সুন্নাহর বাণী) থেকে আহকাম নির্মাণের জন্য গূঢ় অর্থ উদ্ঘাটন, সুক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার ভিত্তিতে প্রচুর শাখা-প্রশাখা উদ্ভাবনে তাঁদের পারদর্শিতার কারণেই তাঁরা এই নামে ভূষিত হয়েছেন। তাঁদের সমসাময়িক সাধারণ আলেমগণ এ কাজে অক্ষম ছিলেন বলে নিজেদের ‘আসহাবুল হাদীস’ এবং ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের ‘আসহাবুর রায়’ বলে অভিহিত করতেন। ‘রায়’ মূলত হৃদয়ের গভীর পর্যবেক্ষণ। বলা হয়—‘সে একটি মত প্রদান করল’ (দিদ এর বদলে), ‘সে স্বপ্ন দেখল’ (তানউইন ছাড়া), ‘সে স্বচক্ষে দেখল’ (জশম দিদ)। ‘আল-মুগরিব’ গ্রন্থে বলা হয়েছে—‘রায়’ হলো মানুষ যা চিন্তা করে ও বিশ্বাস পোষণ করে। আর বিস্তারিত স্বীকৃতির প্রমাণ হলো ইমাম মালিক ইবনে আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন—‘আমি আবু হানিফার সাথে সাক্ষাৎ করেছি, আমরা দীর্ঘ সময় একত্রে বসেছি এবং অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমি তাঁর চেয়ে বড় ফকীহ এবং কোনো বিষয়ের অর্থ ও দলিলের গভীরে প্রবেশ করতে পারে এমন কোনো ব্যক্তি আর দেখিনি।’ বর্ণিত আছে যে, তিনি ইমাম আবু হানিফার কিতাবসমূহ (রাহিমাহুমাল্লাহ) অধ্যায়ন করতেন এবং এর মাধ্যমে ফিকহ অর্জন করতেন। হারমালা থেকে বর্ণিত, তিনি ইমাম শাফিঈকে (রাহিমাহুল্লাহ) বলতে শুনেছেন—‘যে ব্যক্তি ফিকহে গভীরতা অর্জন করতে চায়, সে যেন আবু হানিফার মুখাপেক্ষী।’ আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সাল্লাম ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন—‘যে ব্যক্তি ফিকহ শিখতে চায় সে যেন আবু হানিফার সাথীদের সংস্রব অবলম্বন করে। আল্লাহর কসম! আবু হানিফার কিতাবসমূহ অধ্যায়ন করার মাধ্যমেই আমি ফকীহ হয়েছি; যদি আমি তাঁর সময় পেতাম তবে অবশ্যই তাঁর মজলিসে পড়ে থাকতাম।’ ইবনে সুরাইজের নিকট সংবাদ পৌঁছালো যে, এক ব্যক্তি ইমাম আবু হানিফার নিন্দা করছে। তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন—‘ওহে ব্যক্তি! তুমি কি এমন এক ব্যক্তির নিন্দা করছো যার জন্য সমগ্র উম্মত ইলমের তিন-চতুর্থাংশ মেনে নিয়েছে?’ অথচ তিনি অন্যদের জন্য এক-চতুর্থাংশও মানেন না। লোকটি জিজ্ঞাসা করল—‘তা কীভাবে?’ তিনি বললেন—‘ইলম দুই প্রকার: প্রশ্ন ও উত্তর। তিনি যেহেতু মাসআলাসমূহ সাজিয়েছেন, তাই অর্ধেক তাঁর জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। এরপর তিনি সেগুলোর উত্তর দিয়েছেন এবং অন্যেরা তাঁর উত্তরের অর্ধেক বা তার বেশি বিষয়ের সাথে একমত পোষণ করেছেন, ফলে আরও এক-চতুর্থাংশ তাঁর ভাগে চলে এসেছে। তাঁরা কেবল বাকি অংশে তাঁর বিরোধিতা করেছেন, যা তিনি আবার তাঁদের জন্য স্বীকার করেন না। ফলে সেই এক-চতুর্থাংশ তাঁর ও সবার মাঝে মতপার্থক্যপূর্ণ রয়ে গেছে।’

তাঁর উক্তি: (এবং তাঁরাই হাদীসের অধিকতর যোগ্য দাবিদার)। অর্থাৎ তাঁরা বিস্তারিত ও সামগ্রিকভাবে ‘আসহাবুল হাদীস’ হওয়ারও অধিক যোগ্য। বিস্তারিতভাবে এর কারণ হলো—ইয়াহইয়া ইবনে আদম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—‘কুরআনের মতো হাদীসেও নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) রয়েছে। ইমাম নুমান (আবু হানিফা) তাঁর শহরের সকল হাদীস সংগ্রহ করেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতকালীন সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন; তাই তিনি ছিলেন প্রকৃত ফকীহ।’ নুয়াইম ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—আমি আবু হানিফাকে (রাহিমাহুল্লাহ) বলতে শুনেছি—‘মানুষের কাণ্ড দেখে অবাক হতে হয়! তারা বলে আমি কেবল ‘রায়’ বা মত দিয়ে কথা বলি; অথচ আমি ‘আসার’ বা হাদীস ছাড়া ফতোয়া দেই না।’ নযর ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—‘আমি তাঁর চেয়ে বেশি হাদীস অনুসরণকারী আর কাউকে দেখিনি।’
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ১৭)
أَلَا تَرَى أَنَّهُمْ جَوَّزُوا نَسْخُ الْكِتَابِ بِالسُّنَّةِ لِقُوَّةِ مَنْزِلَةِ السُّنَّةِ عِنْدَهُمْ وَعَمِلُوا بِالْمَرَاسِيلِ تَمَسُّكًا بِالسُّنَّةِ وَالْحَدِيثِ وَرَأَوْا الْعَمَلَ بِهِ مَعَ الْإِرْسَالِ أَوْلَى مِنْ الرَّأْيِ، وَمَنْ رَدَّ الْمَرَاسِيلَ فَقَدْ رَدَّ كَثِيرًا مِنْ السُّنَّةِ وَعَمِلَ بِالْفَرْعِ بِتَعْطِيلِ الْأَصْلِ وَقَدَّمُوا رِوَايَةَ الْمَجْهُولِ عَلَى الْقِيَاسِ وَقَدَّمُوا قَوْلَ الصَّحَابِيِّ عَلَى الْقِيَاسِ وَقَالَ مُحَمَّدٌ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - فِي كِتَابِ أَدَبِ الْقَاضِي: لَا يَسْتَقِيمُ الْحَدِيثُ إلَّا بِالرَّأْيِ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

مِنْ أَبِي حَنِيفَةَ وَعَنْ يَحْيَى بْنِ نَصْرٍ قَالَ سَمِعْت أَبَا حَنِيفَةَ يَقُولُ عِنْدِي صَنَادِيقُ مِنْ الْحَدِيثِ مَا أَخْرَجْت مِنْهَا إلَّا الْيَسِيرَ الَّذِي يُنْتَفَعُ بِهِ.

وَعَنْ أَحْمَدَ بْنِ يُونُسَ قَالَ سَمِعْت أَبِي يَقُولُ كَانَ أَبُو حَنِيفَةَ شَدِيدَ الِاتِّبَاعِ لِلْأَحَادِيثِ الصِّحَاحِ، وَعَنْ الْفُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ قَالَ كَانَ أَبُو حَنِيفَةَ فَقِيهًا مَعْرُوفًا بِالْفِقْهِ مَشْهُورًا بِالْوَرَعِ وَاسِعَ الْمَالِ صَبُورًا عَلَى تَعْلِيمِ الْعِلْمِ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ كَثِيرَ الصَّمْتِ هَارِبًا مِنْ مَالِ السُّلْطَانِ، وَكَانَ إذَا وَرَدَتْ عَلَيْهِ مَسْأَلَةٌ فِيهَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ اتَّبَعَهُ، وَإِنْ كَانَ فِيهَا قَوْلٌ عَنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ أَخَذَ بِهِ وَإِلَّا قَاسَ فَأَحْسَنَ الْقِيَاسَ، وَقِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ الْمُرَادُ مِنْ الْحَدِيثِ الَّذِي جَاءَ (أَصْحَابُ الرَّأْيِ أَعْدَاءُ السُّنَّةِ) أَبُو حَنِيفَةَ وَأَمْثَالُهُ فَقَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ أَبُو حَنِيفَةَ يُجْهِدُ جَهْدَهُ أَنْ يَكُونَ عَمَلُهُ عَلَى السُّنَّةِ فَلَا يُفَارِقُهَا فِي شَيْءٍ مِنْهُ فَكَيْفَ يَكُونُ مِنْ أَعَادِي السُّنَّةِ إنَّمَا هُمْ أَهْلُ الْأَهْوَاءِ وَالْخُصُومَاتِ الَّذِينَ يَتْرُكُونَ الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ وَيَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ.

وَأَمَّا إجْمَالًا فَمَا ذَكَرَ الشَّيْخُ فِي الْكِتَابِ، وَالْمُرْسَلُ الْمُطْلَقُ، وَهُوَ فِي اصْطِلَاحِ الْمُحَدِّثِينَ مَا يَرْوِيهِ التَّابِعِيُّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرْ مَنْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الرَّسُولِ كَمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ وَالنَّخَعِيُّ وَالْحَسَنُ، وَالْمَرَاسِيلُ اسْمُ جَمْعٍ لَهُ كَالْمَنَاكِيرِ لِلْمُنْكَرِ كَذَا فِي الْمُغْرِبِ، تَمَسُّكًا بِالسُّنَّةِ وَالْحَدِيثِ، السُّنَّةُ أَعَمُّ مِنْ الْحَدِيثِ؛ لِأَنَّهَا تَتَنَاوَلُ الْفِعْلَ وَالْقَوْلَ وَالْحَدِيثُ مُخْتَصٌّ بِالْقَوْلِ.

وَقِيلَ إنَّمَا جَمَعَ بَيْنَهُمَا لِئَلَّا يُتَوَهَّمَ أَنَّ ذَلِكَ الْعَامَّ قَدْ خُصَّ مِنْهُ فَأَكَّدَهُ بِذِكْرِ الْحَدِيثِ وَالْأَظْهَرُ أَنَّهُمَا مُتَرَادِفَانِ هَهُنَا، وَرَأَوْا أَيْ اعْتَقَدُوا الْعَمَلَ بِهِ أَيْ بِالْمُرْسَلِ مَعَ صِفَةِ الْإِرْسَالِ، أَوْلَى مِنْ الرَّأْيِ، أَيْ مِنْ الْعَمَلِ بِهِ، كَثِيرًا مِنْ السُّنَّةِ، فَإِنَّهُمْ جَمَعُوا الْمَرَاسِيلَ فَبَلَغَ دَفْتَرًا قَرِيبًا مِنْ خَمْسِينَ جُزْءًا أَوْ أَقَلَّ أَوْ أَكْثَرَ، وَعُمِلَ بِالْفَرْعِ، وَهُوَ الْقِيَاسُ، بِتَعْطِيلِ الْأَصْلِ، أَيْ مُلْتَبِسًا بِهِ يَعْنِي عَمِلَ بِالْقِيَاسِ مُعَطِّلًا لِلْأَصْلِ، وَهُوَ الْحَدِيثُ وَمِنْ شَرْطِ صِحَّةِ الْعَمَلِ بِالْفَرْعِ أَنْ يَكُونَ مُقَرِّرًا لِلْأَصْلِ لَا مُعَطِّلًا لَهُ، وَقَدَّمُوا رِوَايَةَ الْمَجْهُولِ، وَهُوَ الَّذِي لَمْ يَشْتَهِرْ بِرِوَايَةِ الْحَدِيثِ وَلَمْ يُعْرَفْ إلَّا بِرِوَايَةِ حَدِيثٍ أَوْ حَدِيثَيْنِ، عَلَى الْقِيَاسِ، حَتَّى قَدَّمُوا رِوَايَةَ مَعْقِلِ بْنِ سِنَانٍ عَلَى الْقِيَاسِ فِي مَسْأَلَةِ الْمُفَوَّضَةِ وَقَدَّمُوا قَوْلَ الصَّحَابِيِّ لِاحْتِمَالِ السَّمَاعِ مِنْ الرَّسُولِ عَلَى مَا يُعْرَفُ كُلُّ وَاحِدٍ مِمَّا ذَكَرْنَا فِي مَوْضِعِهِ مِنْ أَقْسَامِ السُّنَّةِ وَأَبْوَابِ النَّسْخِ، وَإِذَا أَثْبَتَ مَا ذَكَرْنَا مِنْ مَذْهَبِهِمْ كَيْفَ يُظَنُّ بِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا يُقَدِّمُونَ الرَّأْيَ عَلَى الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ الثَّابِتِ الْمَتْنِ وَمَعَ ذَلِكَ قَدَّمُوا قَوْلَ الصَّحَابِيِّ وَرِوَايَةَ الْمَجْهُولِ عَلَى الْقِيَاسِ فَلَوْ زَعَمَ أَحَدٌ أَنَّهُمْ خَالَفُوا الْحَدِيثَ فِي صُورَةِ كَذَا وَكَذَا فَذَلِكَ لِمُعَارَضَةِ حَدِيثٍ آخَرَ ثَابِتٍ عِنْدَهُمْ يُؤَيِّدُهُ الْقِيَاسُ أَوْ لِدَلَالَةِ آيَةٍ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ عَلَى مَا بُيِّنَ فِي الْكُتُبِ الطِّوَالِ فَأَمَّا أَنْ يَكُونَ الرَّأْيُ عِنْدَهُمْ مُقَدَّمًا عَلَى السُّنَّةِ كَمَا ظَنَّهُ الطَّاعِنُ فَكَلَّا قَوْلُهُ (لَا يَسْتَقِيمُ الْحَدِيثُ إلَّا بِالرَّأْيِ) أَيْ بِاسْتِعْمَالِ الرَّأْيِ فِيهِ بِأَنْ يُدْرِكَ مَعَانِيَهُ الشَّرْعِيَّةَ الَّتِي هِيَ مَنَاطُ الْأَحْكَامِ وَلَا يَسْتَقِيمُ الرَّأْيُ إلَّا بِالْحَدِيثِ أَيْ لَا يَسْتَقِيمُ الْعَمَلُ بِالرَّأْيِ وَالْأَخْذِ بِهِ إلَّا بِانْضِمَامِ الْحَدِيثِ إلَيْهِ، مِثَالُ الْأَوَّلِ أَنَّهُ سُئِلَ وَاحِدٌ مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ عَنْ صَبِيَّيْنِ ارْتَضَعَا لَبَنَ شَاةٍ هَلْ ثَبَتَتْ بَيْنَهُمَا حُرْمَةُ الرَّضَاعِ فَأَجَابَ بِأَنَّهَا ثَبَتَتْ عَمَلًا بِقَوْلِهِ عليه السلام كُلُّ صَبِيَّيْنِ اجْتَمَعَا عَلَى ثَدْيٍ وَاحِدٍ حَرُمَ أَحَدُهُمَا عَلَى الْآخَرِ فَأَخْطَأَ لِفَوَاتِ الرَّأْيِ.

وَهُوَ أَنَّهُ لَمْ يَتَأَمَّلْ أَنَّ الْحُكْمَ مُتَعَلِّقٌ بِالْجُزْئِيَّةِ وَالْبَعْضِيَّةِ، وَذَلِكَ إنَّمَا يَثْبُتُ بَيْنَ الْآدَمِيَّيْنِ لَا بَيْنَ الشَّاةِ وَالْآدَمِيِّ، وَسَمِعْت
আপনি কি দেখছেন না যে, তাঁদের নিকট সুন্নাহর সুউচ্চ মর্যাদার কারণে তাঁরা সুন্নাহ দ্বারা কিতাব (কুরআন)-এর নাসখ (রহিতকরণ) বৈধ মনে করেছেন? এবং তাঁরা সুন্নাহ ও হাদিসকে আঁকড়ে ধরার নিমিত্তে মুরসাল হাদিস অনুযায়ী আমল করেছেন। তাঁরা মুরসাল হওয়া সত্ত্বেও তার ওপর আমল করাকে 'রায়' (বিবেচনা)-এর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। যারা মুরসাল হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন, তারা মূলত সুন্নাহর বিশাল একটি অংশকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মূলনীতিকে (আসল) অকার্যকর করে উপশাখার (ফর') ওপর আমল করেছেন। তাঁরা কিয়াসের ওপর অজ্ঞাত বর্ণনাকারীর (মাজহুল) বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং কিয়াসের ওপর সাহাবীর বক্তব্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ইমাম মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি তাআলা) 'আদাবুল কাজী' গ্রন্থে বলেছেন: রায় (গভীর প্রজ্ঞা ও বিবেচনা) ছাড়া হাদিস সুপ্রতিষ্ঠিত হয় না।

—

‌‌[কাশফুল আসার]

ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত এবং ইয়াহইয়া ইবনে নাসর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি, "আমার নিকট হাদিসের অনেকগুলো সিন্দুক রয়েছে, যেখান থেকে আমি কেবল সামান্য অংশই প্রকাশ করেছি যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে পারে।"

আহমদ ইবনে ইউনুস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, আবু হানিফা সহিহ হাদিসসমূহের কঠোর অনুসারী ছিলেন। ফুদাইল ইবনে ইয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফা ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ ফকিহ, তাকওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ, অঢেল সম্পদের অধিকারী, দিন-রাত ইলম শিক্ষাদানে ধৈর্যশীল, অধিক নীরবতা অবলম্বনকারী এবং সুলতানের সম্পদ থেকে বিমুখ। তাঁর নিকট যখন এমন কোনো মাসআলা আসত যাতে সহিহ হাদিস বিদ্যমান, তিনি সেটির অনুসরণ করতেন। আর যদি তাতে সাহাবী ও তাবেয়ীদের বক্তব্য থাকত, তবে তিনি তা গ্রহণ করতেন। অন্যথায় তিনি কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) করতেন এবং তিনি অতি চমৎকার কিয়াস করতে পারতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, বর্ণিত হাদিসে "রায়ের অনুসারীরা সুন্নাহর শত্রু"—এ কথা দ্বারা কি আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীদের বোঝানো হয়েছে? তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! আবু হানিফা তো আপ্রাণ চেষ্টা করতেন যেন তাঁর আমল সুন্নাহ অনুযায়ী হয় এবং তিনি কোনো বিষয়েই সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হতেন না; তবে তিনি কীভাবে সুন্নাহর শত্রুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন? মূলত তারা হলো প্রবৃত্তি ও ঝগড়া-বিবাদের অনুসারী, যারা কিতাব ও সুন্নাহ বর্জন করে এবং নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে।

সারসংক্ষেপ হলো যা লেখক কিতাবে উল্লেখ করেছেন, এবং মুরসাল মুতলাক (সাধারণ মুরসাল) হলো—মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায়—যা তাবেয়ী সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর ও রাসুলুল্লাহর মাঝখানের বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেন না; যেমনটি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, নাখয়ী এবং হাসান (বসরী) করে থাকেন। 'আল-মুগরিব' গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'মারাসিল' হলো মুরসালের বহুবচন, যেমন 'মুনকার'-এর বহুবচন 'মানাকির'। সুন্নাহ ও হাদিসকে আঁকড়ে ধরার বিষয়ে বলা হয়েছে, সুন্নাহ শব্দটি হাদিস থেকে অধিক ব্যাপক; কারণ এটি কাজ ও কথা উভয়কেই শামিল করে, আর হাদিস কেবল কথার সাথে নির্দিষ্ট।

বলা হয়েছে যে, এই দুটি শব্দ একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যাতে কেউ মনে না করে যে, সাধারণ শব্দটি এখানে বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; তাই হাদিস শব্দটির মাধ্যমে একে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে অধিক স্পষ্ট মত হলো যে, এখানে শব্দ দুটি সমার্থক। "তাঁরা মনে করতেন" অর্থাৎ তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে মুরসাল হওয়ার গুণ থাকা সত্ত্বেও তার ওপর আমল করা রায়ের ওপর আমল করার চেয়ে অধিক উত্তম। সুন্নাহর বিশাল অংশ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁরা মুরসালসমূহ সংগ্রহ করেছিলেন যা প্রায় পঞ্চাশ খণ্ড বা তার চেয়ে কমবেশি একটি বড় দপ্তরে পৌঁছেছিল। মূলনীতিকে (আসল) অকার্যকর করে উপশাখার (ফর') ওপর আমল করার অর্থ হলো—কিয়াসের ওপর আমল করা এমতাবস্থায় যে তা মূলনীতিকে অর্থাৎ হাদিসকে অকার্যকর করে দেয়। অথচ উপশাখার ওপর আমলের শুদ্ধতার শর্ত হলো তা যেন মূলনীতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে, অকার্যকর না করে। তাঁরা অজ্ঞাত বা মাজহুল (যিনি হাদিস বর্ণনায় প্রসিদ্ধ নন এবং যার কেবল একটি বা দুটি হাদিসই জানা আছে) বর্ণনাকারীর বর্ণনাকে কিয়াসের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। এমনকি 'মুফাওয়িযাহ' (যার মোহর নির্ধারিত হয়নি) সংক্রান্ত মাসআলায় তাঁরা কিয়াসের ওপর মাকিল ইবনে সিনানের বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শোনার সম্ভাবনার কারণে সাহাবীর বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সুন্নাহর প্রকারভেদ ও নাসখ (রহিতকরণ) অধ্যায়ে আমরা যা কিছু উল্লেখ করেছি তার প্রতিটি বিষয় নিজ নিজ স্থানে সুপরিচিত। যখন তাঁদের মাযহাব সম্পর্কে আমাদের বর্ণিত বিষয়গুলো প্রমাণিত হলো, তখন তাঁদের সম্পর্কে কীভাবে এমন ধারণা করা যায় যে তাঁরা সহিহ ও সুপ্রমাণিত হাদিসের ওপর রায়কে প্রাধান্য দিতেন? অথচ তাঁরা কিয়াসের ওপর সাহাবীর বক্তব্য এবং মাজহুল বর্ণনাকারীর হাদিসকে প্রাধান্য দিতেন। যদি কেউ দাবি করে যে তাঁরা অমুক অমুক ক্ষেত্রে হাদিসের বিরোধিতা করেছেন, তবে তা করা হয়েছে তাঁদের নিকট সুপ্রমাণিত অন্য কোনো হাদিসের কারণে যা কিয়াস দ্বারা সমর্থিত, অথবা কোনো আয়াতের দলিলের কারণে অথবা অনুরূপ কোনো কারণে যা দীর্ঘ কিতাবসমূহে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু নিন্দাকারীরা যেমনটি ধারণা করে যে তাঁদের নিকট সুন্নাহর ওপর রায় প্রাধান্য পেত—বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। তাঁর উক্তি: "রায় ছাড়া হাদিস সুপ্রতিষ্ঠিত হয় না"—এর অর্থ হলো হাদিসের ক্ষেত্রে রায়ের প্রয়োগ করা, অর্থাৎ এর শরয়ি অর্থসমূহ উপলব্ধি করা যা আহকামের মূল ভিত্তি। আবার হাদিস ছাড়াও রায় সঠিক হয় না, অর্থাৎ হাদিসের সমন্বয় ছাড়া কেবল রায়ের ওপর আমল করা বা তা গ্রহণ করা সঠিক হয় না। প্রথমটির উদাহরণ হলো: একজন হাদিস বিশারদকে এমন দুই শিশু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যারা একটি ছাগলের দুধ পান করেছে, তাদের মধ্যে কি বৈবাহিক হারাম সম্পর্ক (রেজায়াত) সাব্যস্ত হবে? তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর ভিত্তিতে উত্তর দিলেন যে, "যখনই দুই শিশু একই স্তন থেকে দুধ পান করবে, তারা পরস্পর হারাম হয়ে যাবে।" এখানে রায় বা বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ না করার কারণে তিনি ভুল করেছেন।

আর তা হলো, তিনি এই বিষয়টি চিন্তা করেননি যে, এই হুকুমটি (দুধপানের কারণে হারাম হওয়া) মানবদেহের অংশ হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, যা কেবল মানুষের মধ্যেই সম্ভব, ছাগল ও মানুষের মধ্যে নয়। এবং আমি শুনেছি...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَلَا يَسْتَقِيمُ الرَّأْيُ إلَّا بِالْحَدِيثِ حَتَّى أَنَّ مَنْ لَا يُحْسِنُ الْحَدِيثَ أَوْ عِلْمَ الْحَدِيثِ وَلَا يُحْسِنُ الرَّأْيَ فَلَا يَصْلُحُ لِلْقَضَاءِ وَالْفَتْوَى وَقَدْ مَلَأَ كُتُبَهُ مِنْ الْحَدِيثِ، وَمَنْ اسْتَرَاحَ بِظَاهِرِ الْحَدِيثِ عَنْ بَحْثِ الْمَعَانِي وَنَكَلَ عَنْ تَرْتِيبِ الْفُرُوعِ عَلَى الْأُصُولِ انْتَسَبَ إلَى ظَاهِرِ الْحَدِيثِ، وَهَذَا الْكِتَابُ لِبَيَانِ النُّصُوصِ بِمَعَانِيهَا وَتَعْرِيفِ الْأُصُولِ بِفُرُوعِهَا عَلَى شَرْطِ الْإِيجَازِ وَالِاخْتِصَارِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَمَا تَوْفِيقِي إلَّا بِاَللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْت وَإِلَيْهِ أُنِيبُ حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

عَنْ شَيْخِي رحمه الله أَنَّهُ قَالَ كَانَ وَاحِدٌ مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ يُوتِرُ بَعْدَ الِاسْتِنْجَاءِ عَمَلًا بِقَوْلِهِ عليه السلام مَنْ اسْتَنْجَى فَلْيُوتِرْ، وَنَظِيرُ الثَّانِي أَنَّ الرَّأْيَ يَقْتَضِي أَنْ لَا تُنْتَقَضَ الطَّهَارَةُ بِالْقَهْقَهَةِ فِي الصَّلَاةِ؛ لِأَنَّهَا لَيْسَتْ بِخَارِجَةٍ نَجِسَةٍ كَمَا هِيَ لَيْسَتْ بِحَدَثٍ خَارِجَ الصَّلَاةِ لَكِنْ ثَبَتَ بِحَدِيثِ الْأَعْرَابِيِّ أَنَّهَا حَدَثٌ فَوَجَبَ تَرْكُهُ بِهِ، وَكَذَلِكَ الِاسْتِسْقَاءُ فِي الصَّوْمِ لَا يَكُونُ نَاقِضًا لَهُ بِمُقْتَضَى الرَّأْيِ؛ لِأَنَّهُ خَارِجٌ وَلَيْسَ بِدَاخِلٍ وَالصَّوْمُ إنَّمَا يَفْسُدُ مِمَّا يَدْخُلُ لَكِنْ ثَبَتَ بِالْحَدِيثِ أَنَّهُ مُفْسِدٌ لِلصَّوْمِ فَيُتْرَكُ الرَّأْيُ بِهِ فَثَبَتَ أَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ لَا يَسْتَقِيمُ بِدُونِ الْآخَرِ، وَلَا يَتَخَالَجَنَّ فِي وَهْمِك مَا وَقَعَ فِي وَهْمِ بَعْضِ الطَّلَبَةِ أَنَّ قَوْلَهُ لَا يَسْتَقِيم الْحَدِيثُ إلَّا بِالرَّأْيِ وَلَا الرَّأْيُ إلَّا بِالْحَدِيثِ مُقْتَضٍ لِلدَّوْرِ فَيَكُونُ بَاطِلًا؛ لِأَنَّ مَعْنَى الدَّوْرِ أَنْ يُجْعَلَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا فِي وُجُودِهِ مُفْتَقِرًا إلَى الْآخَرِ كَمَا إذَا قِيلَ لَا يُوجَدُ الْخَمْرُ إلَّا بِالْعِنَبِ وَلَا الْعِنَبُ إلَّا بِالْخَمْرِ فَيَبْطُلُ وَلَيْسَ الْأَمْرُ كَذَلِكَ هَهُنَا؛ لِأَنَّ الرَّأْيَ لَيْسَ بِمُفْتَقِرٍ فِي وُجُودِهِ إلَى الْحَدِيثِ وَلَا الْحَدِيثُ إلَى الرَّأْيِ وَلَكِنَّ افْتِقَارَ كُلِّ وَاحِدٍ إلَى الْآخَرِ فِي أَمْرٍ آخَرَ هُوَ إثْبَاتُ الْحُكْمِ الشَّرْعِيِّ فِي الْحَادِثَةِ كَعِلَّةٍ ذَاتِ وَصْفَيْنِ يَفْتَقِرُ كُلُّ وَصْفٍ إلَى الْآخَرِ فِي إثْبَاتِ الْحُكْمِ وَلَيْسَ هَذَا مِنْ الدَّوْرِ فِي شَيْءٍ.

وَهُوَ كَمَا يُقَالُ لَا يَصِيرُ السُّكْرُ سَكَنْجَبِينًا إلَّا بِالْخَلِّ وَلَا يَصِيرُ الْخَلُّ كَذَلِكَ إلَّا بِالسُّكَّرِ فَكَانَ تَوَقُّفُ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى الْآخَرِ فِي صَيْرُورَتِهِ سَكَنْجَبِينًا لَا فِي وُجُودِهِ فَكَذَا هَهُنَا فَصَارَ مَعْنَى الْكَلَامِ لَا يَسْتَقِيمُ الْحَدِيثُ إلَّا بِالرَّأْيِ لِإِثْبَاتِ الْحُكْمِ الشَّرْعِيِّ وَلَا الرَّأْيُ إلَّا بِالْحَدِيثِ لِإِثْبَاتِ الْحُكْمِ أَيْضًا وَلَيْسَ فِيهَا دَوْرٌ كَمَا تَرَى، يُقَالُ اسْتَرَاحَ فُلَانٌ بِزَيْدٍ عَنْ عَمْرٍو أَيْ طَلَبَ رَاحَةَ نَفْسِهِ بِالِاشْتِغَالِ بِزَيْدٍ وَالْإِعْرَاضِ عَنْ عَمْرٍو وَمِنْهُ الْحَدِيثُ «مُسْتَرِيحٌ أَوْ مُسْتَرَاحٌ مِنْهُ» ، فَمَنْ اسْتَرَاحَ بِظَاهِرِ الْحَدِيثِ، أَيْ اكْتَفَى بِهِ وَأَعْرَضَ عَنْ بَحْثِ الْمَعَانِي، وَنَكَلَ عَنْ تَرْتِيبِ الْفُرُوعِ، أَيْ أَعْرَضَ مِنْ نَكَلَ عَنْ الْعَدُوِّ وَعَنْ الْيَمِينِ إذَا جَبُنَ، لِبَيَانِ النُّصُوصِ بِمَعَانِيهَا، أَيْ مَعَ مَعَانِيهَا الدَّالَّةِ عَلَى الْأَحْكَامِ مِثْلُ الْخُصُوصِ وَالْعُمُومِ وَالْحَقِيقَةِ وَالْمَجَازِ إلَى تَمَامِ الْأَقْسَامِ الْمَذْكُورَةِ، وَتَعْرِيفِ الْأُصُولِ بِفُرُوعِهَا، يَعْنِي بَيَّنَ فِيهِ الْأُصُولَ ثُمَّ بَنَى عَلَى كُلِّ أَصْلٍ فُرُوعَهُ مِمَّا يَلِيقُ ذِكْرُهُ فِيهِ، عَلَى شَرْطِ الْإِيجَازِ وَالِاخْتِصَارِ، قَدْ صَنَّفَ الشَّيْخُ فِي أُصُولِ الْفِقْهِ كِتَابًا أَطْوَلَ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ وَبَسَطَ فِيهِ الْكَلَامَ بَسْطًا، وَكَانَ فِي مُطَالَعَةِ شَيْخِي رحمه الله فَوَعَدَ أَنَّ هَذَا التَّصْنِيفَ أَوْجَزَ مِنْهُ، وَمَا تَوْفِيقِي، مِنْ بَابِ إضَافَةِ الصَّدْرِ إلَى الْمَفْعُولِ الْقَائِمِ مَقَامَ الْفَاعِلِ، فَإِنَّ التَّوْفِيقَ هَهُنَا مَصْدَرُ وُفِّقَ الْمَبْنِيُّ لِلْمَفْعُولِ لَا مَصْدَرُ وَفَّقَ أَيْ وَمَا كَوْنِي مُوَفَّقًا لِإِصَابَةِ الْحَقِّ فِيمَا قَصَدْت مِنْ تَصْنِيفِ هَذَا الْكِتَابِ وَوُقُوعِهِ مُوَافِقًا لِرِضَاءِ اللَّهِ إلَّا بِمَعُونَتِهِ وَتَأْيِيدِهِ وَالْمَعْنَى أَنَّهُ اسْتَوْفَقَ رَبَّهُ فِي إمْضَاءِ الْأَمْرِ عَلَى سُنَنِهِ وَطَلَبَ مِنْهُ التَّأْيِيدَ فِي ذَلِكَ، وَالتَّوْفِيقُ جَعْلٌ الشَّيْءِ مُوَافِقًا لِلشَّيْءِ وَتَوْفِيقُ اللَّهِ تَعَالَى لِلْعَبْدِ أَنْ يَجْعَلَ أَفْعَالَهُ الظَّاهِرَةَ مُوَافِقَةً لِأَوَامِرِهِ مَعَ بَقَاءِ اخْتِيَارِهِ فِيهَا وَأَنَّ نِيَّاتِ قَلْبِهِ مُوَافِقَةٌ لِمَا يُحِبُّهُ، إلَيْهِ أُشِيرَ فِي حِصَصِ الْأَتْقِيَاءِ، وَالتَّوَكُّلُ تَفْوِيضُ الْأَمْرِ إلَى اللَّهِ تَعَالَى وَالِاعْتِمَادُ عَلَيْهِ مَعَ رِعَايَةِ الْأَسْبَابِ، وَالْإِنَابَةُ الْإِقْبَالُ إلَيْهِ. وَقِيلَ التَّوْبَةُ الرُّجُوعُ عَنْ الْمَعْصِيَةِ إلَى اللَّهِ وَالْأَوْبَةُ الرُّجُوعُ عَنْ الطَّاعَةِ إلَيْهِ بِأَنْ لَا يَعْتَمِدَ عَلَى طَاعَتِهِ بَلْ عَلَى فَضْلِهِ وَكَرَمِهِ وَالْإِنَابَةُ
হাদিস ছাড়া রায় (যুক্তি-নির্ভর ইজতিহাদ) সঠিক হয় না, এমনকি যে ব্যক্তি হাদিস বা হাদিসশাস্ত্রে দক্ষ নয় এবং রায়েও দক্ষ নয়, সে বিচারকার্য ও ফতোয়া প্রদানের যোগ্য নয়। আর তিনি তাঁর কিতাবসমূহ হাদিস দ্বারা পূর্ণ করেছেন। আর যে ব্যক্তি অর্থের অনুসন্ধান করা ছেড়ে দিয়ে হাদিসের বাহ্যিক রূপ নিয়ে তুষ্ট থাকল এবং মূলনীতিসমূহ থেকে শাখা-প্রশাখা বিন্যস্ত করতে বিমুখ হলো, সে হাদিসের বাহ্যিক রূপের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হলো। এই কিতাবটি হলো নসসমূহকে (মূল পাঠ) তাদের অর্থসহ বর্ণনা করার জন্য এবং সংক্ষেপণ ও সংক্ষিপ্তকরণের শর্তে মূলনীতিসমূহকে তাদের শাখা-প্রশাখাসহ পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য, ইনশাআল্লাহ তায়ালা। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি ফিরে যাই। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

আমার শায়খ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: হাদিসপন্থীদের একজন ইস্তিঞ্জা করার পর বিতর (বিজোড়) আদায় করতেন। এর কারণ ছিল নবিজি (আলাইহিস সালাম)-এর এই বাণীর ওপর আমল করা: "যে ব্যক্তি ইস্তিঞ্জা করে, সে যেন বিজোড় সংখ্যা (কুলুখ) ব্যবহার করে।" দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো, রায় বা যুক্তি দাবি করে যে সালাতের মধ্যে অট্টহাসি দিলে পবিত্রতা (অজু) নষ্ট হবে না; কারণ এটি কোনো অপবিত্র বস্তু নির্গত হওয়া নয়, যেমন সালাতের বাইরে এটি কোনো অজু ভঙ্গকারী বিষয় নয়। কিন্তু গ্রাম্য ব্যক্তির হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে এটি অজু ভঙ্গকারী, ফলে এই হাদিসের কারণে যুক্তি বর্জন করা ওয়াজিব হয়েছে। একইভাবে রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত বমি করা যুক্তির নিরিখে রোজা ভঙ্গকারী হওয়ার কথা নয়; কারণ এটি নির্গত হওয়া, কোনো কিছু প্রবেশ করা নয়। আর রোজা কেবল কোনো কিছু ভেতরে প্রবেশের মাধ্যমেই নষ্ট হয়। কিন্তু হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে এটি রোজা বিনষ্টকারী, ফলে এর মাধ্যমে যুক্তিনির্ভর রায় বর্জন করা হয়েছে। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, একটি অন্যটি ছাড়া সুসংহত হয় না। আর তোমার মনে যেন এমন সংশয় দানা না বাঁধে যা কোনো কোনো ছাত্রের মনে উদয় হয়েছে যে, "রায় ছাড়া হাদিস এবং হাদিস ছাড়া রায় সঠিক হয় না" এই কথাটি একটি বৃত্তাকার নির্ভরশীলতা (দাওর) দাবি করে, ফলে এটি বাতিল। কারণ বৃত্তাকার নির্ভরশীলতার অর্থ হলো একটির অস্তিত্বের জন্য অপরটির ওপর মুখাপেক্ষী হওয়া। যেমন যদি বলা হয়, আঙুর ছাড়া মদ পাওয়া যায় না এবং মদ ছাড়া আঙুর পাওয়া যায় না, তবে তা বাতিল হবে। কিন্তু বিষয়টি এখানে তেমন নয়; কারণ রায় তার অস্তিত্বের জন্য হাদিসের ওপর মুখাপেক্ষী নয়, আর হাদিসও রায়ের ওপর মুখাপেক্ষী নয়। বরং একটি অন্যটির ওপর মুখাপেক্ষী হওয়াটি অন্য একটি বিষয়ে, আর তা হলো কোনো ঘটনায় শরয়ি বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে। যেমন দ্বি-গুণবিশিষ্ট একটি আইনি কারণ (ইল্লত), যেখানে বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে প্রতিটি গুণ অপরটির মুখাপেক্ষী। এটি কোনোভাবেই বৃত্তাকার নির্ভরশীলতার অন্তর্ভুক্ত নয়।

এটি অনেকটা এমন যেমন বলা হয় যে, ভিনেগার ছাড়া চিনি সেকাঞ্জাবিন (এক প্রকার পানীয়) হয় না, আবার চিনি ছাড়াও ভিনেগার তেমন হয় না। সুতরাং একটির ওপর অপরটির নির্ভরশীলতা হলো সেকাঞ্জাবিন হওয়ার ক্ষেত্রে, তাদের অস্তিত্বের ক্ষেত্রে নয়। এখানেও বিষয়টি তেমনই। সুতরাং কথার মর্মার্থ দাঁড়াল: শরয়ি বিধান সাব্যস্ত করার জন্য রায় ছাড়া হাদিস সঠিক হয় না, আবার বিধান সাব্যস্ত করার জন্যও হাদিস ছাড়া রায় সঠিক হয় না। এতে কোনো বৃত্তাকার নির্ভরশীলতা নেই যেমনটা তুমি দেখছ। বলা হয়ে থাকে, অমুক ব্যক্তি আমরের পরিবর্তে জায়েদের মাধ্যমে স্বস্তি লাভ করেছে, অর্থাৎ সে জায়েদের কাজে আত্মনিয়োগ করে এবং আমর থেকে বিমুখ হয়ে নিজের প্রশান্তি খুঁজেছে। এ থেকেই হাদিস এসেছে "স্বস্তি লাভকারী অথবা যার থেকে স্বস্তি পাওয়া গেছে"। সুতরাং যে ব্যক্তি হাদিসের বাহ্যিক রূপ নিয়ে তুষ্ট থাকল, অর্থাৎ এর ওপরই ক্ষান্ত থাকল এবং অর্থের অনুসন্ধান থেকে বিমুখ হলো; আর শাখা-প্রশাখা বিন্যস্ত করা থেকে বিরত থাকল—'নাকলা' শব্দটি শত্রুর মোকাবিলা থেকে বা কসম থেকে বিমুখ হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয় যখন কেউ ভীরুতা প্রদর্শন করে। নসসমূহকে তাদের অর্থসহ বর্ণনা করা অর্থাৎ বিধানের ওপর নির্দেশক অর্থসমূহ যেমন খাস (বিশেষ), আম (সাধারণ), হাকিকত ও মাজাজ সহ উল্লিখিত সকল প্রকারের আলোচনা। এবং মূলনীতিসমূহকে তাদের শাখা-প্রশাখাসহ পরিচয় করিয়ে দেওয়া, অর্থাৎ তিনি এতে মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং এরপর প্রতিটি মূলনীতির ওপর সংগত শাখা-প্রশাখাগুলো ভিত্তি করেছেন। সংক্ষেপণ ও সংক্ষিপ্তকরণের শর্তে; শায়খ উসুলে ফিকহের ওপর এই কিতাবের চেয়ে দীর্ঘ একটি কিতাব সংকলন করেছিলেন এবং তাতে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। আমার শায়খ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সেটি পাঠ করেছিলেন এবং তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে এই সংকলনটি তার চেয়ে সংক্ষিপ্ত হবে। 'আমার তাওফিক নয়' বাক্যটি ফায়িলের স্থলাভিষিক্ত মাফুলের দিকে মাসদারের ইজাফতের অন্তর্ভুক্ত। কেননা এখানে 'তাওফিক' শব্দটি কর্মবাচ্য 'উফফিকা' থেকে আগত মাসদার, 'ওয়াফফাকা' থেকে নয়। অর্থাৎ আমি এই কিতাব রচনার যে সংকল্প করেছি তাতে সত্যে উপনীত হওয়া এবং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুকূলে হওয়া আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থন ছাড়া সম্ভব নয়। এর অর্থ হলো, তিনি আল্লাহর কাছে বিষয়টি সঠিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার জন্য সামর্থ্য প্রার্থনা করেছেন এবং এ ব্যাপারে তাঁর কাছে সাহায্য চেয়েছেন। 'তাওফিক' অর্থ কোনো বিষয়কে অন্য বিষয়ের অনুকূলে করে দেওয়া। আর বান্দার প্রতি আল্লাহর তাওফিকের অর্থ হলো, বান্দার ইচ্ছাশক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও তার বাহ্যিক কাজগুলোকে আল্লাহর নির্দেশের অনুকূলে করে দেওয়া এবং তার অন্তরের নিয়তগুলোকে আল্লাহর প্রিয় বিষয়ের অনুকূলে করে দেওয়া। মুত্তাকিদের আলোচনায় সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর তাওয়াক্কুল হলো আল্লাহর ওপর কাজ সোপর্দ করা এবং উপকরণের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাঁর ওপর ভরসা করা। আর ইনাবত হলো তাঁর দিকে ধাবিত হওয়া। বলা হয়েছে, তওবা হলো গুনাহ থেকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, আর 'আওবা' হলো ইবাদত থেকে তাঁর দিকে ফিরে আসা এভাবে যে, সে নিজের ইবাদতের ওপর ভরসা না করে বরং তাঁর অনুগ্রহ ও মেহেরবানির ওপর ভরসা করবে; আর ইনাবত হলো...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ১৯)
اعْلَمْ أَنَّ‌‌ أُصُولَ الشَّرْعِ ثَلَاثَةٌ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَالْإِجْمَاعُ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

الرُّجُوعُ إلَيْهِ فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ فَكَانَتْ أَعَمَّ مِنْ الْأُولَيَيْنِ، وَفِي تَقْدِيمِ عَلَيْهِ وَإِلَيْهِ عَلَى الْفِعْلِ أَشَارَ إلَى التَّخْصِيصِ كَمَا فِي إيَّاكَ نَعْبُدُ أَيْ أَخُصُّهُ بِتَفْوِيضِ الْأَمْرِ إلَيْهِ وَالِاعْتِمَادِ عَلَيْهِ وَأَخُصُّهُ بِالْإِقْبَالِ إلَيْهِ فِي جَمِيعِ الْأُمُورِ وَالْأَحْوَالِ

 

[أُصُولَ الشَّرْعِ ثَلَاثَةٌ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَالْإِجْمَاعُ]

قَوْلُهُ (اعْلَمْ أَنَّ أُصُولَ الشَّرْعِ ثَلَاثَةٌ إلَى قَوْلِهِ مِنْ هَذِهِ الْأُصُولِ) اعْلَمْ كَلِمَةٌ تُذْكَرُ فِي ابْتِدَاءِ الْكَلَامِ تَنْبِيهًا لِلسَّامِعِ عَلَى أَنَّ مَا يُلْقَى إلَيْهِ مِنْ الْقَوْلِ كَلَامٌ يَلْزَمُ حِفْظُهُ وَيَجِبُ ضَبْطُهُ فَيَتَنَبَّهُ السَّامِعُ لَهُ وَيُصْغِي إلَيْهِ وَيُحْضِرُ قَلْبَهُ وَفَهْمَهُ وَيُقْبِلُ عَلَيْهِ بِكُلِّيَّتِهِ وَلَا يُضَيِّعُ الْكَلَامَ فَحَسُنَ مَوْقِعُهُ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَوْضِعِ كَمَا حَسُنَ مَوْقِعُ وَاسْتَمِعْ فِي قَوْله تَعَالَى {وَاسْتَمِعْ يَوْمَ يُنَادِ الْمُنَادِ} [ق: 41] ، وَهُوَ كَمَا يُرْوَى عَنْ «النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَنَّهُ قَالَ سَبْعَةُ أَيَّامٍ لِمُعَاذٍ رضي الله عنه اسْمَعْ مَا أَقُولُ لَك ثُمَّ حَدَّثَهُ بَعْدَ ذَلِكَ» ، وَالْأُصُولُ هَهُنَا الْأَدِلَّةُ إذْ أَصْلُ كُلِّ عِلْمٍ مَا يَسْتَنِدُ إلَيْهِ تَحَقُّقُ ذَلِكَ الْعِلْمِ وَيُرْجَعُ فِيهِ إلَيْهِ وَمَرْجِعُ الْأَحْكَامِ إلَى هَذِهِ الْأَدِلَّةِ، وَالشَّرْعُ الْإِظْهَارُ فِي اللُّغَةِ، وَهُوَ إمَّا بِمَعْنَى الشَّارِعِ كَالْعَدْلِ وَالزَّوْرِ بِمَعْنَى الْعَادِلِ وَالزَّائِرِ فَيَكُونُ الْمَعْنَى أَدِلَّةُ الشَّارِعِ أَيْ الْأَدِلَّةُ الَّتِي نَصَبَهَا الشَّارِعُ عَلَى الْمَشْرُوعَاتِ أَرْبَعَةٌ وَيَكُونُ اللَّامُ لِلْعَهْدِ وَالْمَقْصُودُ مِنْ الْإِضَافَةِ تَعْظِيمُ الْمُضَافِ كَقَوْلِك بَيْتُ اللَّهِ وَنَاقَةُ اللَّهِ، أَوْ بِمَعْنَى الْمَشْرُوعِ كَالضَّرْبِ بِمَعْنَى الْمَضْرُوبِ وَالْخَلْقِ بِمَعْنَى الْمَخْلُوقِ فَيَكُونُ الْمَعْنَى أَدِلَّةُ الْمَشْرُوعِ أَيْ الْأَدِلَّةُ الَّتِي تُثْبِتُ الْمَشْرُوعَاتِ أَرْبَعَةٌ وَيَكُونُ اللَّامُ لِلْجِنْسِ وَالْمَقْصُودُ مِنْ الْإِضَافَةِ تَعْظِيمُ الْمُضَافِ إلَيْهِ كَقَوْلِك أُسْتَاذِي فُلَانٌ وَكَقَوْلِنَا اللَّهُ إلَهُنَا وَمُحَمَّدٌ نَبِيُّنَا أَيْ الْمَشْرُوعَاتُ الَّتِي تَثْبُتُ بِمِثْلِ هَذِهِ الْأَدِلَّةِ مُعَظَّمَةٌ يَلْزَمُ رِعَايَتُهَا وَيَجِبُ تَلَقِّيهَا بِالْقَبُولِ.

ثُمَّ الْمَشْرُوعُ يَتَنَاوَلُ الْعِلَلَ وَالْأَسْبَابَ وَالشُّرُوطَ كَمَا يَتَنَاوَلُ الْأَحْكَامَ فَإِنْ كَانَ الْمُرَادُ مِنْهُ الْجَمِيعَ وَمِنْ الْمَعْلُومِ أَنَّ الْقِيَاسَ لَا مَدْخَلَ لَهُ فِي إثْبَاتِ مَا سِوَى الْأَحْكَامِ فَالْمَعْنَى مَجْمُوعُ الْأَدِلَّةِ الَّتِي تَثْبُتُ بِهَا الْمَشْرُوعَاتُ أَرْبَعَةٌ مِنْ غَيْرِ نَظَرٍ إلَى أَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ يُثْبِتُ الْجَمِيعَ أَوْ الْبَعْضَ، وَإِنْ كَانَ الْمُرَادُ مِنْهُ الْأَحْكَامَ لَا غَيْرَ، وَهُوَ الظَّاهِرُ فَالْمَعْنَى الْأَدِلَّةُ الَّتِي تَثْبُتُ بِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهَا الْأَحْكَامُ أَرْبَعَةٌ، أَوْ هُوَ اسْمٌ لِهَذَا الدِّينِ الْمُشْتَمِلِ عَلَى الْأُصُولِ وَالْفُرُوعِ وَغَيْرِهِمَا كَالشَّرِيعَةِ يُقَالُ شَرْعُ مُحَمَّدٍ كَمَا يُقَالُ شَرِيعَتُهُ، وَكَأَنَّهُ إنَّمَا عَدَلَ عَنْ لَفْظِ الْفِقْهِ إلَى لَفْظِ الشَّرْعِ مُخَالِفًا لِسَائِرِ الْأُصُولِيِّينَ؛ لِأَنَّ الْإِضَافَةَ تُفِيدُ الِاخْتِصَاصَ، وَهَذِهِ الْأَدِلَّةُ سِوَى الْقِيَاسِ لَا تَخْتَصُّ بِالْفِقْهِ بَلْ هِيَ حُجَّةٌ فِيمَا سِوَاهُ مِنْ أُصُولِ الدِّينِ وَلَفْظَةُ الشَّرْعِ أَعَمُّ وَيُطْلَقُ عَلَى أُصُولِ الدِّينِ كَإِطْلَاقِهِ عَلَى فُرُوعِهِ قَالَ تَعَالَى {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا} [الشورى: 13] الْآيَةَ فَيَكُونُ إضَافَةُ الْأُصُولِ إلَى الشَّرْعِ أَعَمَّ فَائِدَةً وَأَكْثَرَ تَعْظِيمًا لِلْأُصُولِ، ثُمَّ قَدَّمَ الْكِتَابَ عَلَى الْجَمِيعِ؛ لِأَنَّهُ فِي الشَّرْعِ أَصْلٌ مُطْلَقٌ مِنْ كُلِّ وَجْهٍ وَبِكُلِّ اعْتِبَارٍ، وَأَعْقَبَهُ بِالسُّنَّةِ؛ لِأَنَّ كَوْنَهَا حُجَّةً ثَابِتٌ بِالْكِتَابِ كَمَا سَتَعْرِفُ، وَأَخَّرَ الْإِجْمَاعَ عَنْهُمَا لِتَوَقُّفِ مُوجِبِيَّتِهِ عَلَيْهِمَا وَلَكِنَّ الثَّلَاثَةَ مَعَ تَفَاوُتِ دَرَجَاتِهَا حُجَجٌ مُوجِبَةٌ لِلْأَحْكَامِ قَطْعًا وَلَا تَتَوَقَّفُ فِي إثْبَاتِ الْأَحْكَامِ عَلَى شَيْءٍ فَقُدِّمَتْ عَلَى الْقِيَاسِ الَّذِي يَتَوَقَّفُ فِي إثْبَاتِ الْحُكْمِ عَلَى الْمَقِيسِ عَلَيْهِ، وَلِهَذَا أَفْرَدَهُ بِالذِّكْرِ بِقَوْلِهِ وَالْأَصْلُ الرَّابِعُ؛ لِأَنَّهُ لَمَّا تَوَقَّفَ فِي إثْبَاتِ الْحُكْمِ عَلَى الْمَقِيسِ عَلَيْهِ وَلَمْ يُمْكِنْ إثْبَاتُ الْحُكْمِ بِهِ ابْتِدَاءً كَانَ فَرْعًا لَهُ.

وَإِلَى هَذِهِ الْفَرْعِيَّةِ أَشَارَ
জেনে রাখুন যে‌‌ শরিয়তের মূল উৎস তিনটি: কিতাব, সুন্নাহ এবং ইজমা

--

‌[কাশফুল আসরার]

সকল অবস্থায় তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হয়, তাই এটি পূর্ববর্তী দুটির চেয়ে অধিক ব্যাপক। আর ক্রিয়ার পূর্বে 'তাঁর ওপর' এবং 'তাঁর প্রতি' ব্যবহারের মাধ্যমে বিশেষায়নের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যেমনটি 'আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি' বাক্যে রয়েছে। অর্থাৎ, আমি আমার সকল কাজ তাঁর কাছে অর্পণ করার মাধ্যমে এবং তাঁর ওপর নির্ভর করার মাধ্যমে কেবল তাঁকেই নির্দিষ্ট করছি, এবং সকল বিষয় ও অবস্থায় কেবল তাঁর দিকেই মনোনিবেশ করার মাধ্যমে তাঁকে নির্দিষ্ট করছি।

 

[শরিয়তের মূল উৎস তিনটি: কিতাব, সুন্নাহ এবং ইজমা]

গ্রন্থকারের উক্তি: (জেনে রাখুন যে শরিয়তের মূল উৎস তিনটি... এই মূল উৎসসমূহ থেকে কথাটি পর্যন্ত)। 'জেনে রাখুন' শব্দটি আলোচনার শুরুতে শ্রোতাকে সতর্ক করার জন্য উল্লেখ করা হয় যে, তার কাছে যা পেশ করা হচ্ছে তা এমন এক বাণী যা মুখস্থ রাখা অপরিহার্য এবং সঠিকভাবে ধারণ করা ওয়াজিব। ফলে শ্রোতা এ বিষয়ে সতর্ক হয়, মনোযোগ দিয়ে শোনে, অন্তর ও বোধশক্তিকে উপস্থিত করে, পূর্ণাঙ্গরূপে সেদিকে মনোনিবেশ করে এবং কথাটিকে নষ্ট হতে দেয় না। সুতরাং এ জাতীয় স্থানে এর ব্যবহার অত্যন্ত যথার্থ হয়েছে, ঠিক যেমন মহান আল্লাহর বাণী "আর শ্রবণ করো যেদিন আহ্বানকারী আহ্বান করবে" [সূরা ক্বাফ: ৪১] এর ক্ষেত্রে 'শ্রবণ করো' শব্দের ব্যবহার সুন্দর হয়েছে। আর এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সেই ঘটনার মতো যে, তিনি মুয়াজ (রা.)-কে সাত দিন বলেছিলেন, "আমি তোমাকে যা বলছি তা শোনো", তারপর তিনি তাকে হাদিস বর্ণনা করেছিলেন। এখানে 'উসুল' বলতে দলিলসমূহ বোঝানো হয়েছে। কারণ যেকোনো বিদ্যার 'আসল' বা মূল হলো তা-ই, যার ওপর ওই বিদ্যার বাস্তবতা নির্ভর করে এবং যাতে প্রত্যাবর্তন করা হয়। আর শরয়ি বিধানসমূহের প্রত্যাবর্তনস্থল হলো এই দলিলসমূহ। শাব্দিক অর্থে 'শর' অর্থ প্রকাশ করা। এটি হয় 'শরিয়ত প্রণেতা' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন 'ন্যায়পরায়ণ' এবং 'পরিদর্শনকারী' বুঝাতে 'আদল' এবং 'যাওর' শব্দের ব্যবহার। সেক্ষেত্রে অর্থ হবে 'শরিয়ত প্রণেতার দলিলসমূহ', অর্থাৎ শরিয়ত প্রণেতা শরিয়তভুক্ত বিষয়গুলোর জন্য যে দলিলসমূহ নির্ধারণ করেছেন তা চারটি। এখানে আলিফ-লামটি নির্দিষ্টকরণের জন্য এবং সম্বন্ধ করার উদ্দেশ্য হলো সম্বন্ধিত পদের সম্মান প্রদর্শন করা, যেমনটি বলা হয় 'আল্লাহর ঘর' এবং 'আল্লাহর উটনি'। অথবা এটি 'শরিয়তভুক্ত বিধান' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন 'আঘাত' শব্দটি 'আঘাতকৃত' অর্থে এবং 'সৃষ্টি' শব্দটি 'সৃষ্ট বস্তু' অর্থে ব্যবহৃত হয়। সেক্ষেত্রে অর্থ হবে 'শরিয়তভুক্ত বিষয়ের দলিলসমূহ', অর্থাৎ যে দলিলসমূহ শরিয়তভুক্ত বিষয়গুলোকে সাব্যস্ত করে তা চারটি। এখানে আলিফ-লামটি জাতিবাচক এবং সম্বন্ধ করার উদ্দেশ্য হলো যার দিকে সম্বন্ধ করা হচ্ছে তার সম্মান প্রদর্শন করা, যেমন আমাদের কথা 'আমার শিক্ষক অমুক' কিংবা আমাদের উক্তি 'আল্লাহ আমাদের ইলাহ এবং মুহাম্মাদ আমাদের নবী'। অর্থাৎ এই দলিলগুলোর মাধ্যমে যে শরিয়তভুক্ত বিধানগুলো সাব্যস্ত হয় তা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, যেগুলোর অনুসরণ অপরিহার্য এবং যা কবুল করে নেওয়া ওয়াজিব।

অতঃপর, শরিয়তভুক্ত বিষয় যেমন কারণ, হেতু এবং শর্তসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, তেমনি এটি বিধানসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করে। যদি এটি দ্বারা এই সবকিছুই উদ্দেশ্য হয়—আর এটি জানা কথা যে, বিধানসমূহ ছাড়া অন্য কিছু সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কিয়াসের কোনো ভূমিকা নেই—তবে অর্থ দাঁড়াবে: দলিলসমূহের সমষ্টি যার মাধ্যমে শরিয়তভুক্ত বিষয়গুলো সাব্যস্ত হয় তা চারটি; প্রতিটি দলিল সবকটি বিষয়কে সাব্যস্ত করছে কি না তা এখানে বিবেচ্য নয়। আর যদি এটি দ্বারা কেবল বিধানসমূহ উদ্দেশ্য হয়—যা প্রকাশ্য অর্থ—তবে মানে হবে: যে দলিলগুলোর প্রত্যেকটি দ্বারা বিধানসমূহ সাব্যস্ত হয় তা চারটি। অথবা এটি এই দ্বীনের নাম যা উসুল, ফুরু এবং অন্যান্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি 'শরীয়ত' বলা হয়; বলা হয়ে থাকে 'মুহাম্মাদের শর' যেমন বলা হয় 'তাঁর শরীয়ত'। সম্ভবত গ্রন্থকার অন্যান্য উসুলবিদদের বিপরীত করে 'ফিকহ' শব্দের পরিবর্তে 'শর' শব্দ ব্যবহার করেছেন; কারণ সম্বন্ধযুক্তকরণ বিশেষত্ব প্রকাশ করে। আর কিয়াস ছাড়া অন্যান্য দলিলগুলো কেবল ফিকহের সাথে নির্দিষ্ট নয়, বরং দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলির অন্যান্য ক্ষেত্রেও সেগুলো প্রমাণ। 'শর' শব্দটি অধিক ব্যাপক এবং এটি দ্বীনের শাখা-প্রশাখার মতো মৌলিক বিষয়গুলোর ওপরও প্রয়োগ করা হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে" [সূরা আশ-শুরা: ১৩]। সুতরাং 'উসুল'-কে 'শর'-এর দিকে সম্বন্ধ করা অধিক ফায়দাজনক এবং উসুলের জন্য অধিক সম্মানজনক। অতঃপর তিনি সবকিছুর ওপর কিতাবকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন; কারণ এটি শরিয়তে সকল দিক ও বিবেচনায় একটি নিরঙ্কুশ মূল উৎস। এরপর তিনি সুন্নাহকে উল্লেখ করেছেন; কারণ সুন্নাহ দলিল হওয়ার বিষয়টি কিতাব দ্বারাই প্রমাণিত, যা আপনি সামনে জানতে পারবেন। আর ইজমাকে এই দুটির পরে রেখেছেন কারণ এটি দলিল হওয়া ওই দুটির ওপর নির্ভরশীল। তবে এই তিনটি উৎস তাদের মর্যাদার পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও অকাট্যভাবে বিধান প্রদানকারী দলিল এবং বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তারা অন্য কিছুর ওপর নির্ভরশীল নয়। এ কারণেই এগুলোকে কিয়াসের আগে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে 'মাকিস আলাইহি' (যার সাথে তুলনা করা হয়) এর ওপর নির্ভরশীল। আর এই কারণেই তিনি কিয়াসকে 'চতুর্থ মূল উৎস' হিসেবে পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন; যেহেতু কিয়াস বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে মাকিস আলাইহি-এর ওপর নির্ভরশীল এবং এর মাধ্যমে শুরুতেই কোনো বিধান সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়, তাই এটি তার একটি শাখা।

আর এই শাখাগত হওয়ার দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ২০)
وَالْأَصْلُ الرَّابِعُ الْقِيَاسُ بِالْمَعْنَى الْمُسْتَنْبَطِ مِنْ هَذِهِ الْأُصُولِ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

بِقَوْلِهِ الْمُسْتَنْبَطِ مِنْ هَذِهِ الْأُصُولِ، وَإِنْ كَانَ فِيهِ احْتِرَازٌ عَنْ الْقِيَاسِ الْعَقْلِيِّ أَيْضًا، وَلَمَّا لَمْ يَكُنْ الْحُكْمُ ثَابِتًا فِي مَحَلِّ الْقِيَاسِ بِدُونِهِ كَانَ أَصْلًا لِلْحُكْمِ وَإِلَيْهِ أَشَارَ بِقَوْلِهِ وَالْأَصْلُ الرَّابِعُ فَلَمَّا كَانَ أَصْلًا مِنْ وَجْهٍ دُونَ وَجْهٍ لَا يَدْخُلُ تَحْتَ الْمُطْلَقِ؛ لِأَنَّهُ يَتَنَاوَلُ الْكَامِلَ الَّذِي هُوَ مَوْجُودٌ مِنْ كُلِّ وَجْهٍ أَوْ أَفْرَدَهُ بِالذِّكْرِ؛ لِأَنَّهُ ظَنِّيٌّ فِي الْأَصْلِ وَقَطْعِيَّتُهُ بِعَارِضٍ وَمَا سِوَاهُ مِنْ الْأُصُولِ عَلَى الْعَكْسِ مِنْ ذَلِكَ وَبَعْدَ كَوْنِهِ ظَنِّيًّا أَثَرُهُ فِي تَغْيِيرِ وَصْفِ الْحُكْمِ مِنْ الْخُصُوصِ إلَى الْعُمُومِ لَا فِي إثْبَاتِ أَصْلِهِ وَأَثَرُ مَا سِوَاهُ مِنْ الْأُصُولِ فِي إثْبَاتِ أَصْلِ الْحُكْمِ؛ فَلِهَذَا وَجَبَ تَمْيِيزُهُ عَنْهَا، وَالِاسْتِنْبَاطُ اسْتِخْرَاجُ الْمَاءِ مِنْ الْعَيْنِ يُقَالُ نَبَطَ الْمَاءُ مِنْ الْعَيْنِ إذَا خَرَجَ وَالنَّبَطُ الْمَاءُ الَّذِي يَخْرُجُ مِنْ الْبِئْرِ أَوَّلَ مَا تُحْفَرُ وَسُمِّيَ النَّبَطُ بِهَذَا الِاسْمِ لِاسْتِخْرَاجِهِمْ مِيَاهَ الْقِنَى فَاسْتُعِيرَ لِمَا يَسْتَخْرِجُهُ الرَّجُلُ بِفَرْطِ ذِهْنِهِ مِنْ الْمَعَانِي وَالتَّدَابِيرِ فِيمَا يَعْضُلُ وَيُهِمُّ فَكَانَ فِي الْعُدُولِ عَنْ لَفْظِ الِاسْتِخْرَاجِ إلَى لَفْظِ الِاسْتِنْبَاطِ إشَارَةً إلَى الْكُلْفَةِ فِي اسْتِخْرَاجِ الْمَعْنَى مِنْ النُّصُوصِ الَّتِي بِهَا عَظُمَتْ أَقْدَارُ الْعُلَمَاءِ وَارْتَفَعَتْ دَرَجَاتُهُمْ، فَإِنَّهُ،

لَوْلَا الْمَشَقَّةُ سَادَ النَّاسُ كُلُّهُمْ

، وَإِلَى أَنَّ حَيَاةَ الرُّوحِ وَالدِّينِ بِالْعِلْمِ وَالْغَوْصِ فِي بِحَارِهِ كَمَا أَنَّ حَيَاةَ الْجَسَدِ وَالْأَرْضِ بِالْمَاءِ قَالَ تَعَالَى {فَسُقْنَاهُ إِلَى بَلَدٍ مَيِّتٍ} [فاطر: 9] {فَأَحْيَيْنَا بِهِ الأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا} [فاطر: 9] ، {وَأَحْيَيْنَا بِهِ بَلْدَةً مَيْتًا} [ق: 11] .

وَقَالَ جَلَّ ذِكْرُهُ {أَوَمَنْ كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ} [الأنعام: 122] أَيْ كَافِرًا فَهَدَيْنَاهُ، وَإِلَيْهِ وَقَعَتْ الْإِشَارَةُ النَّبَوِيَّةُ فِي قَوْلِهِ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «النَّاسُ كُلُّهُمْ مَوْتَى إلَّا الْعَالِمُونَ» الْحَدِيثَ، ثُمَّ مِثَالُ الِاسْتِنْبَاطِ مِنْ الْكِتَابِ انْتِقَاضُ الطَّهَارَةِ فِي الْخَارِجِ مِنْ غَيْرِ السَّبِيلَيْنِ بِكَوْنِهِ خَارِجًا نَجِسًا قِيَاسًا عَلَى الْخَارِجِ مِنْ السَّبِيلَيْنِ الثَّابِتِ حُكْمُهُ بِقَوْلِهِ تَعَالَى {أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ} [النساء: 43] ، وَمِنْ السُّنَّةِ جَرَيَانُ الرِّبَا فِي الْجِصِّ وَالنُّورَةِ وَالْحَدِيدِ وَالصُّفْرِ بِالْقَدْرِ وَالْجِنْسِ قِيَاسًا عَلَى الْأَشْيَاءِ السِّتَّةِ الْمَنْصُوصِ عَلَيْهَا فِي قَوْلِهِ عليه السلام «الْحِنْطَةُ بِالْحِنْطَةِ مِثْلٌ بِمِثْلٍ» الْحَدِيثَ، وَمِنْ الْإِجْمَاعِ سُقُوطُ تَقَوُّمِ مَنَافِعِ الْمَغْصُوبِ بِعِلَّةِ أَنَّهَا لَيْسَتْ بِمُحَرَّزَةٍ قِيَاسًا عَلَى سُقُوطِ تَقَوُّمِ مَنَافِعِ الْبَدَلِ فِي وَلَدِ الْمَغْرُورِ الثَّابِتِ بِالْإِجْمَاعِ؛ لِأَنَّهُمْ لَمَّا أَوْجَبُوا قِيمَةَ الْوَلَدِ وَسَكَتُوا عَنْ تَقَوُّمِ مَنَافِعِ الْبَدَنِ صَارَ إجْمَاعًا مِنْهُمْ عَلَى سُقُوطِ تَقَوُّمِهَا؛ لِأَنَّ السُّكُوتَ فِي مَوْضِعِ الْحَاجَةِ إلَى الْبَيَانِ بَيَانٌ، قَدْ قِيلَ فِي وَجْهِ انْحِصَارِ الْأُصُولِ عَلَى الْأَرْبَعَةِ أَنَّ الْحُكْمَ إمَّا أَنْ يَثْبُتَ بِالْوَحْيِ أَوْ بِغَيْرِهِ وَالْأَوَّلُ إمَّا أَنْ يَكُونَ مَتْلُوًّا، وَهُوَ الَّذِي تَعَلَّقَ بِنَظْمِهِ الْإِعْجَازُ وَجَوَازُ الصَّلَاةِ وَحُرْمَةُ الْقِرَاءَةِ عَلَى الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ أَوْ لَمْ يَكُنْ وَالْأَوَّلُ هُوَ الْكِتَابُ وَالثَّانِي هُوَ السُّنَّةُ، وَإِنْ ثَبَتَ بِغَيْرِهِ فَإِمَّا أَنْ يَثْبُتَ بِالرَّأْيِ الصَّحِيحِ أَوْ بِغَيْرِهِ وَالْأَوَّلُ إنْ كَانَ رَأْيَ الْجَمِيعِ فَهُوَ الْإِجْمَاعُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَهُوَ الْقِيَاسُ وَالثَّانِي الِاسْتِدْلَالَاتُ الْفَاسِدَةُ.

وَأَفْعَالُ النَّبِيِّ دَاخِلَةٌ فِيهَا، وَبَعْضُ أَصْحَابِ الشَّافِعِيِّ حَصَرَهَا بِوَجْهٍ آخَرَ فَقَالَ الدَّلِيلُ الشَّرْعِيُّ إمَّا أَنْ يَكُونَ وَارِدًا مِنْ جِهَةِ الرَّسُولِ أَوْ لَمْ يَكُنْ وَالْأَوَّلُ إنْ كَانَ مَتْلُوًّا فَهُوَ الْكِتَابُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَهُوَ السُّنَّةُ وَيَدْخُلُ فِيهَا أَقْوَالُ النَّبِيِّ وَأَفْعَالُهُ، وَالثَّانِي إنْ شُرِطَ فِيهِ عِصْمَةُ مَنْ صَدَرَ مِنْهُ فَهُوَ الْإِجْمَاعُ، وَإِنْ لَمْ يُشْتَرَطْ فَهُوَ الْقِيَاسُ، وَلَكِنْ الْأَوْلَى أَنْ يُضَافَ ذَلِكَ إلَى الِاسْتِقْرَاءِ الصَّحِيحِ لِأَنَّ الدَّلَائِلَ الْمُوجِبَةَ لِلْأَصَالَةِ لَمْ تَقُمْ إلَّا عَلَى هَذِهِ الْأَرْبَعَةِ؛ لِأَنَّ الْعَقْلَ يُوجِبُ حَصْرَهَا عَلَى الْأَرْبَعَةِ
চতুর্থ মূলনীতি হলো এই মূলনীতিসমূহ থেকে উদ্ভূত অর্থের ভিত্তিতে কিয়াস (সাদৃশ্য বিধান)।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

তাঁর উক্তি 'এই মূলনীতিসমূহ থেকে উদ্ভূত' - এর মাধ্যমে আকলি কিয়াস (যৌক্তিক সাদৃশ্য) থেকেও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। যেহেতু কিয়াস ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান সাব্যস্ত হয় না, তাই এটি বিধানের জন্য একটি মূলনীতি। আর সেদিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন তাঁর উক্তি: 'চতুর্থ মূলনীতি' দ্বারা। যেহেতু এটি এক দিক থেকে মূলনীতি এবং অন্য দিক থেকে নয়, তাই এটি 'মুতলাক' বা সাধারণ সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয় না; কারণ তা পূর্ণাঙ্গ বিষয়কে শামিল করে যা সব দিক থেকে বিদ্যমান। অথবা তিনি এটিকে পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন কারণ এটি মূলত ধারণাপ্রসূত, আর এর অকাট্যতা আগন্তুক কোনো কারণে ঘটে থাকে। বিপরীতে অন্যান্য মূলনীতিসমূহ এর উল্টো। ধারণাপ্রসূত হওয়া সত্ত্বেও এর প্রভাব বিধানের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে (বিশেষ থেকে সাধারণে রূপান্তর), বিধানের মূল ভিত্তি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে নয়। অন্যান্য মূলনীতির প্রভাব হলো বিধানের মূল ভিত্তি সাব্যস্ত করা। এ কারণেই একে অন্যান্য মূলনীতি থেকে পৃথক করা আবশ্যক হয়েছে। 'ইস্তিনবাত' (উদ্ভূতকরণ) এর শাব্দিক অর্থ হলো ঝরনা থেকে পানি বের করা। বলা হয় 'নাপাতা আল-মাউ মিনাল আইন', যখন পানি ঝরনা থেকে বের হয়। 'নাবাত' হলো সেই পানি যা কূপ খননের শুরুতে বের হয়। নব্যতিদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা খালের পানি বের করত। পরবর্তীতে মানুষের প্রখর মেধা দিয়ে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে যে অর্থ ও কৌশল বের করা হয়, তার জন্য রূপক অর্থে এটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে। 'ইস্তিখরাজ' (বের করা) শব্দের পরিবর্তে 'ইস্তিনবাত' শব্দের ব্যবহার ইঙ্গিত করে যে, নস (দলিল) থেকে অর্থ বের করার ক্ষেত্রে পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়, যার মাধ্যমেই আলেমদের মর্যাদা বিশাল হয়েছে এবং তাঁদের মর্তবা সুউচ্চ হয়েছে। কারণ,

যদি কষ্ট না থাকত, তবে সব মানুষই নেতা হতো

, আর এটিও ইঙ্গিত করে যে, রুহ ও দ্বীনের জীবন হলো ইলমের মাধ্যমে এবং ইলমের সাগরে ডুব দেওয়ার মাধ্যমে, যেমনটি শরীর ও জমিনের জীবন হলো পানির মাধ্যমে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর আমি তা মৃত ভূখণ্ডের দিকে চালিত করি} [ফাতির: ৯], {অতঃপর আমি এর মাধ্যমে জমিনকে তার মৃত্যুর পর জীবিত করি} [ফাতির: ৯], {এবং আমি এর মাধ্যমে মৃত জনপদকে জীবিত করি} [ক্বাফ: ১১]।

মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: {যে ব্যক্তি মৃত ছিল, অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি} [আনআম: ১২২] অর্থাৎ সে কাফের ছিল অতঃপর আমি তাকে হিদায়াত দিয়েছি। আর সেদিকেই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে ইঙ্গিত করা হয়েছে: "আলেমগণ ব্যতীত সব মানুষই মৃত..." (হাদিস)। অতঃপর কিতাবুল্লাহ (কুরআন) থেকে ইস্তিনবাতের উদাহরণ হলো: দুই পথ (মল-মূত্রের পথ) ব্যতীত অন্য স্থান থেকে কিছু বের হলে পবিত্রতা নষ্ট হওয়া। এখানে অপবিত্র বস্তু বের হওয়াকে দুই পথ দিয়ে বের হওয়ার ওপর কিয়াস করা হয়েছে, যার বিধান আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা সাব্যস্ত: {অথবা তোমাদের কেউ যদি পায়খানা থেকে আসে} [নিসা: ৪৩]। সুন্নাহ থেকে উদাহরণ হলো: চুন, জিপসাম, লোহা ও তামা ইত্যাদিতে পরিমাণ ও সমজাতীয়তার কারণে সুদের বিধান প্রযোজ্য হওয়া। একে সেই ছয়টি বস্তুর ওপর কিয়াস করা হয়েছে যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত: "গমের বিনিময়ে গম সমান সমান..." (হাদিস)। ইজমা থেকে উদাহরণ হলো: আত্মসাৎকৃত বস্তুর উপকারিতার মূল্য পরিশোধ আবশ্যক না হওয়া, কারণ তা সংরক্ষিত নয়। একে মোহগ্রস্ত ব্যক্তির সন্তানের ক্ষেত্রে দেহের শ্রমের মূল্য পরিশোধ রহিত হওয়ার ওপর কিয়াস করা হয়েছে, যা ইজমা দ্বারা সাব্যস্ত। কারণ তাঁরা যখন সন্তানের মূল্য আবশ্যক করেছেন এবং শরীরের শ্রমের মূল্যের ব্যাপারে নীরব থেকেছেন, তখন এটি তাঁদের পক্ষ থেকে শ্রমের মূল্য রহিত হওয়ার ব্যাপারে ইজমা হিসেবে গণ্য হয়েছে। কেননা বর্ণনার প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে নীরবতা একটি বর্ণনা হিসেবে বিবেচিত হয়। মূলনীতিসমূহ কেন চারটির মধ্যে সীমাবদ্ধ সে বিষয়ে বলা হয়েছে যে, বিধান হয় ওহির মাধ্যমে সাব্যস্ত হবে নতুবা অন্য কিছুর মাধ্যমে। প্রথমটি হয় পঠিত হবে—যার শব্দের গাঁথুনি মুজিজা হিসেবে গণ্য, যা সালাত বৈধ হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং ঋতুবতী ও নাপাক ব্যক্তির জন্য পাঠ করা হারাম—নতুবা তা হবে না। প্রথমটি হলো কিতাব এবং দ্বিতীয়টি হলো সুন্নাহ। আর যদি ওহি ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, তবে তা সঠিক রায় দিয়ে হবে নতুবা অন্য কিছুর মাধ্যমে। প্রথমটি যদি সবার সম্মিলিত মতামত হয় তবে তা ইজমা, আর যদি তা না হয় তবে তা কিয়াস। দ্বিতীয়টি হলো ত্রুটিপূর্ণ দলীলসমূহ।

নবীজির আমলসমূহ এর অন্তর্ভুক্ত। শাফেয়ি মাযহাবের কেউ কেউ একে ভিন্নভাবে সীমাবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন: শারয়ি দলিল হয় রাসুলের পক্ষ থেকে আসবে নতুবা নয়। প্রথমটি যদি পঠিত হয় তবে তা কিতাব, আর না হলে সুন্নাহ—যার মধ্যে নবীজির কথা ও কাজ অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়টি যদি এমন হয় যেখানে প্রবক্তার নিষ্পাপ হওয়া শর্ত, তবে তা ইজমা। আর যদি তা শর্ত না হয় তবে তা কিয়াস। তবে উত্তম হলো একে সঠিক অনুসন্ধান-এর দিকে সম্বন্ধ করা, কারণ মূলনীতির মর্যাদা প্রদানকারী প্রমাণাদি এই চারটি ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; কারণ বুদ্ধি একে চারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করাকে আবশ্যক করে।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ২১)
أَمَّا الْكِتَابُ فَالْقُرْآنُ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

قَوْلُهُ.

(أَمَّا الْكِتَابُ فَالْقُرْآنُ) اعْلَمْ أَنَّ الْحَدَّ وَنَعْنِي بِهِ الْمُعَرِّفَ لِلشَّيْءِ لَفْظِيٌّ وَرَسْمِيٌّ وَحَقِيقِيٌّ، فَاللَّفْظِيُّ هُوَ مَا أَنْبَأَ عَنْ الشَّيْءِ بِلَفْظٍ أَظْهَرَ عِنْدَ السَّائِلِ مِنْ اللَّفْظِ الْمَسْئُولِ عَنْهُ مُرَادِفٍ لَهُ كَقَوْلِنَا الْعُقَارُ الْخَمْرُ وَالْغَضَنْفَرُ الْأَسَدُ لِمَنْ يَكُونُ الْخَمْرُ وَالْأَسَدُ أَظْهَرَ عِنْدَهُ مِنْ الْعُقَارِ وَالْغَضَنْفَرِ، وَالرَّسْمِيُّ هُوَ مَا أَنْبَأَ عَنْ الشَّيْءِ بِلَازِمٍ لَهُ مُخْتَصٍّ بِهِ كَقَوْلِك الْإِنْسَانُ ضَاحِكٌ مُنْتَصِبُ الْقَامَةِ عَرِيضُ الْأَظْفَارِ بَادِي الْبَشَرَةِ، وَالْحَقِيقِيُّ مَا أَنْبَأَ عَنْ مَاهِيَّةِ تَمَامِ الشَّيْءِ وَحَقِيقَتِهِ كَقَوْلِك فِي جَسَدِ الْإِنْسَانِ هُوَ جِسْمٌ نَامٍ حَسَّاسٌ مُتَحَرِّكٌ بِالْإِرَادَةِ نَاطِقٌ، فَالْأَوَّلَانِ مُؤْنَتُهَا خَفِيفَةٌ إذْ الْمَطْلُوبُ مِنْهُمَا تَبْدِيلُ لَفْظٍ بِلَفْظٍ أَوْ ذِكْرُ وَصْفٍ يَتَمَيَّزُ بِهِ الْمَحْدُودُ عَنْ غَيْرِهِ.

وَأَمَّا الْحَقِيقِيُّ فَمِنْ شَرَائِطِهِ أَنْ يُذْكَرَ جَمِيعُ أَجْزَاءِ الْحَدِّ مِنْ الْجِنْسِ وَالْفُصُولِ وَأَنْ يُذْكَرَ جَمِيعُ ذَاتِيَّاتِهِ بِحَيْثُ لَا يَشِذُّ وَاحِدٌ وَأَنْ يُقَدَّمَ الْأَعَمُّ عَلَى الْأَخَصِّ وَأَنْ لَا يُذْكَرَ الْجِنْسُ الْبَعِيدُ مَعَ وُجُودِ الْجِنْسِ الْقَرِيبِ وَأَنْ يُحْتَرَزَ عَنْ الْأَلْفَاظِ الْوَحْشِيَّةِ الْغَرِيبَةِ وَالْمَجَازِيَّةِ الْبَعِيدَةِ وَالْمُشْتَرَكَةِ الْمُتَرَدِّدَةِ وَأَنْ يَجْتَهِدَ فِي الْإِيجَازِ فَإِنْ أَتَى بِلَفْظٍ مُسْتَعَارٍ أَوْ مُشْتَرَكٍ وَعَرَفَ مُرَادَهُ بِالتَّصْرِيحِ أَوْ بِالْقَرِينَةِ فَلَا يَسْتَعْظِمُ ذَلِكَ إنْ كَانَ قَدْ كَشَفَ عَنْ الْحَقِيقَةِ بِذِكْرِ جَمِيعِ الذَّاتِيَّاتِ إذْ هُوَ الْمَقْصُودُ وَغَيْرُهُ تَزْيِينَاتٌ وَتَحْسِينَاتٌ فَلَا يُبَالِي بِتَرْكِهَا لَكِنْ مِنْ شَرْطِ الْجَمِيعِ الِاطِّرَادُ.

وَهُوَ أَنَّهُ مَتَى وُجِدَ الْحَدُّ وُجِدَ الْمَحْدُودُ وَالِانْعِكَاسُ وَهُوَ أَنَّهُ إذَا عُدِمَ الْحَدُّ عُدِمَ الْمَحْدُودُ؛ لِأَنَّهُ لَوْ لَمْ يَكُنْ مُطَّرِدًا لَمَا كَانَ مَانِعًا لِكَوْنِهِ أَعَمَّ مِنْ الْمَحْدُودِ وَلَوْ لَمْ يَكُنْ مُنْعَكِسًا لَمَا كَانَ جَامِعًا لِكَوْنِهِ أَخَصَّ مِنْ الْمَحْدُودِ وَعَلَى التَّقْدِيرَيْنِ لَا يَحْصُلُ التَّعْرِيفُ، إذَا عُرِفَ هَذَا فَنَقُولُ مَا ذَكَرَ الشَّيْخُ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - لَيْسَ بِحَدٍّ حَقِيقِيٍّ سَوَاءٌ أَرَادَ بِهِ تَعْرِيفَ مَجْمُوعِ الْكِتَابِ مِنْ حَيْثُ هُوَ مَجْمُوعٌ أَوْ تَعْرِيفُ مَا يُطْلَقُ عَلَيْهِ لَفْظُ الْكِتَابِ فِي الشَّرْعِ حَقِيقَةً أَوْ مَجَازًا حَتَّى دَخَلَ فِيهِ الْكُلُّ وَالْبَعْضُ؛ لِأَنَّهُ تَعَرَّضَ فِيهِ لِلْكِتَابَةِ فِي الْمُصْحَفِ وَالنَّقْلِ وَهُمَا مِنْ الْعَوَارِضِ أَلَا تَرَى أَنَّهُ فِي زَمَنِ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - كَانَ قُرْآنًا بِدُونِ هَذَيْنِ الْوَصْفَيْنِ وَلَمْ يَتَعَرَّضْ لِلْإِعْجَازِ وَهُوَ مَعْنًى ذَاتِيٌّ لِهَذَا الْكِتَابِ الْمَحْدُودِ، ثُمَّ قِيلَ هُوَ حَدٌّ رَسْمِيٌّ وَأَحْسَنُ الْحُدُودِ الرَّسْمِيَّةِ مَا وُضِعَ فِيهِ الْجِنْسُ الْأَقْرَبُ وَأُتِمَّ بِاللَّوَازِمِ الْمَشْهُورَةِ فَلَا جَرَمَ قَالَ فَالْقُرْآنُ وَهُوَ مَصْدَرٌ كَالْقِرَاءَةِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} [القيامة: 18] ، أَيْ قِرَاءَتَهُ وَأَنَّهُ بِمَعْنَى الْمَقْرُوءِ هَهُنَا فَيَتَنَاوَلُ جَمِيعَ مَا يُقْرَأُ مِنْ الْكُتُبِ السَّمَاوِيَّةِ وَغَيْرِهَا، فَاحْتُرِزَ بِقَوْلِهِ الْمُنَزَّلِ عَنْ غَيْرِ الْكُتُبِ السَّمَاوِيَّةِ وَعَنْ الْوَحْيِ الَّذِي لَيْسَ بِمَتْلُوٍّ؛ لِأَنَّ الْمُرَادَ مِنْ الْمُنَزَّلِ مَا أُنْزِلَ نَظْمُهُ وَمَعْنَاهُ وَالْوَحْيُ الَّذِي لَيْسَ بِمَتْلُوٍّ لَمْ يُنَزَّلْ إلَّا مَعْنَاهُ، وَبِقَوْلِهِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ عَمَّا أُنْزِلَ عَلَى غَيْرِهِ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ عليهم السلام مِنْ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالزَّبُورِ أَوْ نَحْوِهَا.

وَبِقَوْلِهِ الْمَكْتُوبُ فِي الْمَصَاحِفِ عَمَّا نُسِخَتْ تِلَاوَتُهُ وَبَقِيَتْ أَحْكَامُهُ مِثْلُ الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ إذَا زَنَيَا فَارْجُمُوهُمَا أَلْبَتَّةَ نَكَالًا مِنْ اللَّهِ، وَبِقَوْلِهِ الْمَنْقُولُ عَنْهُ نَقْلًا مُتَوَاتِرًا عَمَّا اخْتَصَّ بِمِثْلِ مُصْحَفِ أُبَيٍّ وَغَيْرِهِ مِمَّا نُقِلَ بِطَرِيقِ الْآحَادِ نَحْوُ قَوْلِهِ: فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ مُتَتَابِعَاتٍ، وَبِقَوْلِهِ بِلَا شُبْهَةٍ عَمَّا اخْتَصَّ بِمِثْلِ مُصْحَفِ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه مِمَّا نُقِلَ بِطَرِيقِ الشُّهْرَةِ، وَهَذَا عَلَى قَوْلِ الْجَصَّاصِ ظَاهِرٌ، فَإِنَّهُ جَعَلَ الْمَشْهُورَ أَحَدَ قِسْمَيْ الْمُتَوَاتِرِ وَعَلَى قَوْلِ غَيْرِهِ يَكُونُ قَوْلُهُ نَقْلًا مُتَوَاتِرًا احْتِرَازًا عَنْهُمَا وَقَوْلُهُ بِلَا شُبْهَةٍ تَأْكِيدًا، وَهَذَا
আর কিতাব হলো কুরআন।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

তাঁর বাণী:

(আর কিতাব হলো কুরআন) জেনে রাখুন যে, 'হাদ্দ' বা সংজ্ঞা বলতে আমরা যা দ্বারা কোনো বস্তুকে সংজ্ঞায়িত করা হয় তাকে বুঝি; আর তা শাব্দিক, চারিত্রিক ও প্রকৃত—এই তিন প্রকারের হয়ে থাকে। শাব্দিক সংজ্ঞা হলো তা, যা জিজ্ঞাসাকারীর নিকট জিজ্ঞাসিত শব্দের চেয়ে অধিক স্পষ্ট কোনো সমার্থক শব্দের মাধ্যমে বস্তুটি সম্পর্কে অবহিত করে। যেমন আমাদের বলা: 'উকার' হলো মদ এবং 'গজানফার' হলো সিংহ; এমন ব্যক্তির জন্য যার কাছে 'খমর' ও 'আসাদ' শব্দ দুটি 'উকার' ও 'গজানফার'-এর তুলনায় অধিক স্পষ্ট। আর চারিত্রিক সংজ্ঞা হলো তা, যা বস্তুটি সম্পর্কে এমন কোনো অবিচ্ছেদ্য বিশেষ গুণের মাধ্যমে অবহিত করে যা কেবল তার সাথেই সুনির্দিষ্ট। যেমন আপনার কথা: মানুষ হলো এমন এক সত্তা যে হাস্যশীল, সোজা হয়ে দাঁড়ানো দীর্ঘ দেহের অধিকারী, চওড়া নখ বিশিষ্ট এবং যার চামড়া দৃশ্যমান। আর প্রকৃত সংজ্ঞা হলো তা, যা বস্তুর পূর্ণ সারসত্তা ও হাকিকত সম্পর্কে অবহিত করে। যেমন মানুষের শরীরের ক্ষেত্রে আপনার কথা: এটি একটি ক্রমবর্ধমান, সংবেদনশীল, ইচ্ছাধীন চলাচলকারী ও বাকশক্তি সম্পন্ন দেহ। প্রথম দুই প্রকারের কষ্ট কম, কারণ সেগুলোর উদ্দেশ্য হলো এক শব্দের বদলে অন্য শব্দ ব্যবহার করা অথবা এমন কোনো গুণের উল্লেখ করা যার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত বস্তুটি অন্য সব কিছু থেকে পৃথক হয়ে যায়।

আর প্রকৃত সংজ্ঞার শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে: সংজ্ঞার সমস্ত অংশ তথা শ্রেণি ও বিভেদকসমূহ উল্লেখ করা; তার সমস্ত সত্তাগত বৈশিষ্ট্য এমনভাবে উল্লেখ করা যাতে একটিও বাদ না পড়ে; সাধারণ বিষয়কে বিশেষ বিষয়ের আগে উল্লেখ করা; নিকটবর্তী শ্রেণি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় দূরবর্তী শ্রেণি উল্লেখ না করা; কর্কশ, অপরিচিত, দূরবর্তী রূপক ও দ্ব্যর্থবোধক শব্দ পরিহার করা এবং সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করা। তবে যদি কেউ কোনো রূপক বা দ্ব্যর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করে এবং স্পষ্ট ঘোষণা বা প্রেক্ষাপটের মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য বুঝে আসে, তবে সেটাকে দোষের মনে করা হবে না যদি সমস্ত সত্তাগত বৈশিষ্ট্য উল্লেখের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি উন্মোচিত হয়ে যায়। কেননা এটাই মূল উদ্দেশ্য, আর অন্য বিষয়গুলো হলো সৌন্দর্য ও অলংকরণ মাত্র, যা বর্জন করলে কোনো ক্ষতি নেই। তবে সব সংজ্ঞার ক্ষেত্রেই 'ইত্তিরাদ' বা যৌক্তিক ব্যাপ্তি বজায় রাখা শর্ত।

আর তা হলো এই যে, যখনই সংজ্ঞা পাওয়া যাবে, তখনই সংজ্ঞায়িত বস্তুটি পাওয়া যাবে; এবং এর বিপরীতটিও প্রযোজ্য (ইনইকাস), অর্থাৎ যখনই সংজ্ঞা পাওয়া যাবে না, তখন সংজ্ঞায়িত বস্তুও পাওয়া যাবে না। কারণ সংজ্ঞাটি যদি 'মুত্তারিদ' না হয়, তবে তা অন্য বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বাধা দিতে পারবে না, যেহেতু তা সংজ্ঞায়িত বস্তুর চেয়ে অধিক ব্যাপক হয়ে যাবে। আর যদি তা 'মুনআকিস' না হয়, তবে তা সংজ্ঞায়িত বস্তুর সমস্ত অংশকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে না, যেহেতু তা সংজ্ঞায়িত বস্তুর চেয়ে অধিক সংকীর্ণ হয়ে যাবে। আর এই উভয় অবস্থায় সঠিক সংজ্ঞা অর্জিত হবে না। এটি যখন জানা হলো, তখন আমরা বলব যে, শাইখ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যা উল্লেখ করেছেন তা 'হাকিকি' বা প্রকৃত সংজ্ঞা নয়—চাই তিনি এর দ্বারা কিতাবের সামগ্রিক রূপের সংজ্ঞা দিতে চান অথবা শরিয়তে 'কিতাব' শব্দটি যার ওপর প্রকৃত বা রূপকভাবে প্রয়োগ হয় তার সংজ্ঞা দিতে চান, যাতে কিতাবের পূর্ণ অংশ বা কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত হয়। কারণ তিনি এখানে মাসহাফে লিপিবদ্ধ হওয়া এবং বর্ণিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, অথচ এ দুটি হলো বাহ্যিক আপতিক বৈশিষ্ট্য। আপনি কি দেখেন না যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এই দুই বৈশিষ্ট্য ছাড়াই এটি কুরআন ছিল? তাছাড়া তিনি এতে অলৌকিকতার (ইজায) বিষয়টি উল্লেখ করেননি, অথচ এটিই এই সংজ্ঞায়িত কিতাবের একটি সত্তাগত বৈশিষ্ট্য। অতঃপর বলা হয়েছে যে, এটি একটি 'রাসমি' বা চারিত্রিক সংজ্ঞা। আর সর্বোত্তম চারিত্রিক সংজ্ঞা হলো যাতে নিকটতম শ্রেণি রাখা হয় এবং প্রসিদ্ধ অবিচ্ছেদ্য গুণাবলী দিয়ে তা পূর্ণ করা হয়। তাই নিঃসন্দেহে তিনি বলেছেন, 'কিতাব হলো কুরআন'। আর 'কুরআন' শব্দটি 'কিরাত' (পাঠ করা)-এর মতো একটি ক্রিয়ামূল। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন} [আল-কিয়ামাহ: ১৮], অর্থাৎ তার পাঠের। আর এখানে শব্দটি 'মাকরূ' বা পঠিত বিষয় অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা আসমানি কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য সব পঠিত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। অতঃপর 'অবতীর্ণ' কথাটি দ্বারা আসমানি কিতাব ব্যতীত অন্য কিছু এবং এমন ওহি যা তিলাওয়াত করা হয় না (ওহিয়ে গাইরে মাতলু) তা থেকে পৃথক করা হয়েছে। কারণ 'অবতীর্ণ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যার শব্দবিন্যাস ও অর্থ উভয়ই অবতীর্ণ হয়েছে, আর যে ওহি তিলাওয়াত করা হয় না তার কেবল অর্থই অবতীর্ণ হয়েছে। আর 'আল্লাহর রাসূলের ওপর' বলার মাধ্যমে অন্যান্য নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) ওপর অবতীর্ণ তাওরাত, ইনজিল, জাবুর বা এ জাতীয় কিতাবসমূহকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

আর 'মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ' বলার মাধ্যমে ওই সমস্ত আয়াতকে বাদ দেওয়া হয়েছে যার তিলাওয়াত রহিত হয়ে গেছে কিন্তু বিধান অবশিষ্ট আছে। যেমন: "বয়স্ক পুরুষ ও বয়স্ক নারী যখন ব্যভিচার করবে, তখন তাদের অবশ্যই পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করো, আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে।" আর 'তাওয়াতুর পদ্ধতিতে বর্ণিত' বলার মাধ্যমে উবাই (রা.) প্রমুখের ব্যক্তিগত মাসহাফের মতো বিষয়গুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে যা একক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যেমন তাঁর কথা: {অন্যান্য দিনে ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখা}। আর 'সন্দেহাতীতভাবে' বলার মাধ্যমে ইবনে মাসউদ (রা.)-এর মাসহাফের মতো বিষয়গুলোকে পৃথক করা হয়েছে যা প্রসিদ্ধি (শহরত) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আল-জাসসাস-এর মতানুসারে এটি স্পষ্ট, কারণ তিনি 'মাশহুর'-কে তাওয়াতুরের একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন। আর অন্যদের মতে, 'তাওয়াতুর পদ্ধতিতে বর্ণিত' কথাটি দ্বারা ওই উভয়টি থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে এবং 'সন্দেহাতীতভাবে' কথাটি দৃঢ়তা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আর এটিই...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ২২)
الْمُنَزَّلُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ الْمَكْتُوبُ فِي الْمَصَاحِفِ الْمَنْقُولُ عَنْ النَّبِيِّ عليه السلام نَقْلًا مُتَوَاتِرًا بِلَا شُبْهَةٍ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

الْمَوْضِعُ صَالِحٌ لِلتَّأْكِيدِ لِقُوَّةِ شَبَهِ الْمَشْهُورِ بِالْمُتَوَاتِرِ، فَعَلَى هَذَا الْقَوْلِ يَكُونُ هَذَا تَعْرِيفَ الْكِتَابِ بِالْمَعْنَى الثَّانِي فَيَدْخُلُ فِيهِ الْكُلُّ وَالْبَعْضُ، وَإِنَّمَا لَمْ يَتَعَرَّضْ لِلْإِعْجَازِ؛ لِأَنَّهُ يَدُلُّ عَلَى صِدْقِ الرَّسُولِ لَا عَلَى كَوْنِهِ كِتَابَ اللَّهِ تَعَالَى إذْ يُتَصَوَّرُ الْإِعْجَازُ بِمَا لَيْسَ بِكَلَامِ اللَّهِ تَعَالَى إلَيْهِ أُشِيرَ فِي التَّقْوِيم؛ وَلِأَنَّ بَعْضَ الْآيَةِ لَيْسَ بِمُعْجِزٍ، وَهُوَ مِنْ الْكِتَابِ كَذَا قِيلَ؛ وَلِأَنَّ أَصَالَتَهُ لِلْأَحْكَامِ وَكَوْنُهُ حُجَّةً فِيهِ لَا يَتَعَلَّقُ بِصِفَةِ الْإِعْجَازِ، وَإِنَّمَا يَتَعَلَّقُ بِمَا ذُكِرَ مِنْ الْأَوْصَافِ، وَقِيلَ هُوَ حَدٌّ لَفْظِيٌّ؛ لِأَنَّ الْقُرْآنَ اسْمٌ عَلَمٌ لِلْمُنَزَّلِ عَلَى الرَّسُولِ - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - مِنْ الْوَحْيِ الْمَتْلُوِّ كَالتَّوْرَاةِ اسْمٌ لِلْمُنَزَّلِ عَلَى مُوسَى وَالْإِنْجِيلِ اسْمٌ لِلْمُنَزَّلِ عَلَى عِيسَى عليهما السلام قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا} [يوسف: 2] ، وَالدَّلِيلُ عَلَيْهِ مَا ذُكِرَ فِي الْمِيزَانِ أَمَّا الْكِتَابُ فَهُوَ الْمُسَمَّى بِالْقُرْآنِ وَأَنَّهُ.

وَإِنْ أُطْلِقَ عَلَى الْمَعْنَى الْقَائِمِ بِذَاتِ اللَّهِ تَعَالَى بِالِاشْتِرَاكِ أَوْ بِطَرِيقِ الْمَجَازِ، وَهُوَ الْمُرَادُ مِنْ قَوْلِنَا الْقُرْآنُ غَيْرُ مَخْلُوقٍ لَكِنَّهُ مِنْ هَذَا الْإِطْلَاقِ أَوْضَحُ مِنْ لَفْظِ الْكِتَابِ؛ لِأَنَّهُ لَا يُطْلَقُ إلَّا عَلَى هَذَيْنِ الْمَعْنَيَيْنِ بِخِلَافِ الْكِتَابِ؛ فَلِهَذَا فَسَّرَهُ بِهِ، ثُمَّ قَيَّدَهُ بِالْمُنَزَّلِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ احْتِرَازًا عَنْ الْمَعْنَى الْقَائِمِ بِالذَّاتِ وَبِالْمَكْتُوبِ احْتِرَازًا عَنْ الْمَنْسُوخِ تِلَاوَتُهُ لَا عَنْ الْوَحْيِ الْغَيْرِ الْمَتْلُوِّ كَمَا ظَنَّهُ الْبَعْضُ؛ لِأَنَّهُ بِدَاخِلٍ لِيَجِبَ الِاحْتِرَازُ عَنْهُ وَالْبَاقِي عَلَى مَا فَسَّرْنَا فَعَلَى هَذَا الطَّرِيقِ الْمُنَزَّلُ عَلَى الرَّسُولِ قَيْدٌ وَاحِدٌ بِخِلَافِ الطَّرِيقِ الْأَوَّلِ وَيَكُونُ هَذَا تَعْرِيفًا لِلْكِتَابِ بِالْمَعْنَى الْأَوَّلِ فَلَا يَدْخُلُ فِيهِ الْبَعْضُ؛ لِأَنَّهُ لَيْسَ الْقُرْآنُ حَقِيقَةً وَعَلَى قَوْلِ مَنْ جَعَلَ اسْمَ الْقُرْآنِ حَقِيقَةً لِلْبَعْضِ كَمَا هُوَ حَقِيقَةٌ لِلْكُلِّ أَنْ يَكُونَ هَذَا تَعْرِيفًا لَفْظِيًّا لِلْكِتَابِ بِالْمَعْنَى الثَّانِي إنْ كَانَ لِلْمُشْتَرَكِ عُمُومٌ عِنْدَهُ، قَالَ ابْنُ الْحَاجِبِ هَذَا تَحْدِيدٌ لِلشَّيْءِ بِمَا يَتَوَقَّفُ تَصَوُّرُهُ عَلَى ذَلِكَ الشَّيْءِ؛ لِأَنَّ الْوُجُودَ الذِّهْنِيَّ لِلْمُصْحَفِ فَرْعُ تَصَوُّرِ الْقُرْآنِ فَيَكُونُ دَوْرٌ أَوْ هُوَ بَاطِلٌ، قُلْت لَيْسَ الْأَمْرُ كَمَا زَعَمَ؛ لِأَنَّ الْأَصْحَافَ لُغَةً جَمْعُ الصَّحَائِفِ فِي شَيْءٍ لَا جَمْعَ صَحَائِفِ الْقُرْآنِ لَا غَيْرَ يُقَالُ أَصْحَفَ أَيْ جُمِعَتْ فِيهِ الصُّحُفُ كَذَا فِي الصِّحَاحِ وَالْمُصْحَفُ حَقِيقَتُهُ مَجْمَعُ الصُّحُفِ وَعَلَى هَذَا لَا يَتَوَقَّفُ مَعْرِفَتُهُ عَلَى تَصَوُّرِ الْقُرْآنِ، فَإِنَّ مَعْرِفَتَهُ كَانَتْ ثَابِتَةً لَهُمْ قَبْلَ كِتَابَةِ الْقُرْآنِ فِي الْمُصْحَفِ بَلْ قَبْلَ إنْزَالِ الْقُرْآنِ؛ وَلِكَوْنِ مَعْنَاهُ مَعْلُومًا سَمَّوْهُ مُصْحَفًا؛ لِأَنَّهُ كَانَ مُتَفَرِّقًا فِي صَحَائِفَ أَوَّلًا فَجَمَعُوهُ بَيْنَ الدَّفَّتَيْنِ وَسَمَّوْهُ بِهِ وَيَجُوزُ أَنْ يُسَمَّى غَيْرُهُ بِهَذَا الِاسْمِ إذَا وُجِدَ هَذَا الْمَعْنَى وَإِنِّي قَدْ رَأَيْت دَفَاتِرَ مِنْ الْجَامِعِ الصَّحِيحِ لِلْبُخَارِيِّ مَكْتُوبًا عَلَيْهَا الْمُصْحَفُ الْأَوَّلُ الْمُصْحَفُ الثَّانِي فَعَلَى هَذَا يَكُونُ قَوْلُهُ الْمَكْتُوبُ فِي الْمَصَاحِفِ احْتِرَازًا عَمَّا لَمْ يُكْتَبْ مِنْ الْقُرْآنِ أَصْلًا إنْ جَازَ الِاحْتِرَازُ عَنْهُ مِثْلُ مَا ارْتَفَعَ بِالنِّسْيَانِ قَبْلَ الْكِتَابَةِ، فَإِنَّهُ رُوِيَ أَنَّ سُورَةَ الْأَحْزَابِ كَانَتْ تَعْدِلُ سُورَةَ الْبَقَرَةِ وَالْأَوْلَى أَنْ يُحْمَلَ الْمُصْحَفُ عَلَى الْمَعْهُودِ وَأَنْ يُمْنَعَ لُزُومُ الدَّوْرِ عَلَى هَذَا الْحَدِّ، فَإِنَّهُ تَعْرِيفٌ لِلْكِتَابِ وَتَوَقُّفُ وُجُودِ الْمُصْحَفِ فِي الذِّهْنِ عَلَى تَصَوُّرِ الْقُرْآنِ لَا يَمْنَعُ صِحَّتَهُ؛ لِأَنَّ الْقُرْآنَ مَعْلُومٌ عِنْدَ السَّامِعِ مُتَصَوَّرٌ فِي ذِهْنِهِ.

وَإِنْ لَمْ يَكُنْ الْكِتَابُ مَعْلُومًا لَهُ وَلَوْ لَمْ يَكُنْ الْقُرْآنُ مَعْلُومًا لَهُ لَمَا صَحَّ جَعْلُ الْقُرْآنِ مَطْلَعَ الْحَدِّ، وَإِنَّمَا يَلْزَمُ الدَّوْرُ الْمَذْكُورُ عَلَى تَعْرِيفِ الْقُرْآنِ بِمِثْلِ هَذَا الْحَدِّ كَمَا نُقِلَ عَنْ بَعْضِ الْأُصُولِيِّينَ أَنَّهُ قَالَ الْقُرْآنُ مَا نُقِلَ إلَيْنَا بَيْنَ دَفَّاتِ الْمَصَاحِفِ مَعَ أَنَّهُ يُمْكِنُهُ التَّخَلُّصُ عَنْهُ أَيْضًا بِأَنْ يَقُولَ الْمُرَادُ مِنْ الْمَصَاحِفِ مَا جَمَعَتْهُ الصَّحَابَةُ مِنْ الْوَحْيِ الْمَتْلُوِّ فِي الْمُصْحَفِ فَيَنْدَفِعُ
যা আল্লাহর রাসূলের ওপর অবতীর্ণ, যা মাসহাফসমূহে লিখিত এবং যা নবী আলাইহিস সালাম থেকে কোনো সন্দেহ ছাড়াই মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণিত।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

স্থানটি তাকীদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য উপযুক্ত, কারণ মাশহুর (বর্ণনা) মুতাওয়াতিরের সাথে প্রবল সাদৃশ্য রাখে। সুতরাং এই বক্তব্য অনুযায়ী, এটি হবে দ্বিতীয় অর্থে কিতাব-এর সংজ্ঞা, যার মধ্যে পূর্ণ কিতাব এবং এর অংশবিশেষ—উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এখানে ই‘জায (অলৌকিকত্ব)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি; কারণ এটি রাসূলের সত্যতার প্রমাণ দেয়, তা আল্লাহর কিতাব হওয়ার ওপর নয়। কেননা আল্লাহর কালাম নয় এমন কিছুর মাধ্যমেও ই‘জায বা অলৌকিকত্ব কল্পনা করা সম্ভব, যা 'তাকউয়ীম'-এ ইঙ্গিত করা হয়েছে। অধিকন্তু, আয়াতের কিয়দাংশ মোজেজা বা অলৌকিক নয়, অথচ তা কিতাবের অংশ, যেমনটি বলা হয়ে থাকে। তাছাড়া বিধানাবলির ক্ষেত্রে এর মৌলিকতা এবং দলিল হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতা ই‘জায বা অলৌকিকত্বের বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পৃক্ত নয়, বরং তা উল্লিখিত গুণাবলির সাথে সম্পৃক্ত। বলা হয়েছে, এটি একটি শাব্দিক সংজ্ঞা; কারণ কুরআন হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ সেই ওহী-এ-মাতলু বা পঠিত ওহীর বিশেষ নাম, যেমন তাওরাত হলো মূসা আলাইহিস সালামের ওপর এবং ইঞ্জিল হলো ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর অবতীর্ণ কিতাবের নাম। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "নিশ্চয় আমি এটি অবতীর্ণ করেছি আরবি কুরআন হিসেবে" [ইউসুফ: ২]। এর স্বপক্ষে দলিল তাই যা 'মিযান'-এ উল্লিখিত হয়েছে। আর কিতাব বলতে সেই সত্তাকেই বোঝানো হয় যাকে কুরআন বলা হয়।

আর যদি এটি আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান চিরন্তন অর্থের (কালামে নাফসি) ক্ষেত্রে শাব্দিক অংশীদারিত্ব বা রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়, তবে 'কুরআন মাখলুক বা সৃষ্ট নয়'—আমাদের এই উক্তির মাধ্যমে সেটাই উদ্দেশ্য হয়। তবে কিতাব শব্দের চেয়ে কুরআন শব্দটির প্রয়োগ এক্ষেত্রে অধিক স্পষ্ট; কারণ কুরআন কেবল এই দুটি অর্থেই ব্যবহৃত হয়, যা কিতাব শব্দের ক্ষেত্রে ভিন্ন। এ কারণেই তিনি এর ব্যাখ্যা কুরআনের মাধ্যমে করেছেন। অতঃপর তিনি 'আল্লাহর রাসূলের ওপর অবতীর্ণ' কথাটি যুক্ত করেছেন আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান চিরন্তন অর্থ (কালামে নাফসি) থেকে পৃথক করার জন্য, এবং 'মাসহাফসমূহে লিখিত' কথাটি যুক্ত করেছেন যার তিলাওয়াত রহিত হয়ে গেছে তা থেকে পৃথক করার জন্য, পঠিত নয় এমন ওহী (ওহী-এ-গয়রে মাতলু) থেকে পৃথক করার জন্য নয়, যেমনটি কেউ কেউ মনে করেছেন। কারণ পঠিত নয় এমন ওহী এর অন্তর্ভুক্তই নয় যে তা থেকে বাঁচানোর প্রয়োজন হবে। অবশিষ্ট অংশ আমাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ীই থাকবে। এই পদ্ধতি অনুসারে, 'রাসূলের ওপর অবতীর্ণ' একটি শর্ত মাত্র, যা প্রথম পদ্ধতির বিপরীত। এটি কিতাবের প্রথম অর্থের সংজ্ঞা হবে, ফলে কিতাবের অংশবিশেষ এর অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ তা প্রকৃতপক্ষে কুরআন নয়। আর যারা কুরআন নামটিকে এর অংশবিশেষের জন্যেও প্রকৃত নাম হিসেবে গণ্য করেন, তাদের মতে এটি হবে দ্বিতীয় অর্থে কিতাবের একটি শাব্দিক সংজ্ঞা, যদি তাদের নিকট মুশতারাক (উভয়ার্থক) শব্দ ব্যাপকতা বোঝায়। ইবনুল হাজিব বলেছেন, এটি কোনো বস্তুকে এমন জিনিসের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা যার উপলব্ধি ওই বস্তুর ওপরই নির্ভরশীল। কেননা মনে মাসহাফের অস্তিত্বের ধারণা কুরআনের ধারণারই একটি শাখা, ফলে এটি হবে চক্রক (দাওর) অথবা এটি বাতিল। আমি (লেখক) বলি, বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তিনি দাবি করেছেন; কারণ আভিধানিক অর্থে আসহাফ হলো কোনো কিছুর মধ্যে পৃষ্ঠা বা পত্রসমূহের সমষ্টি, কেবল কুরআনের পৃষ্ঠাগুলোর সমষ্টি নয়। বলা হয়, 'আসহাফা' অর্থাৎ যাতে পত্রসমূহ একত্রিত করা হয়েছে, যেমনটি 'সিহাহ' গ্রন্থে রয়েছে। আর মাসহাফের প্রকৃত অর্থ হলো পত্রসমূহের আধার বা সংকলন। এই ভিত্তিতে মাসহাফ সম্পর্কে জ্ঞান কুরআনের ধারণার ওপর নির্ভরশীল নয়। কারণ মাসহাফে কুরআন লিপিবদ্ধ করার পূর্বেই, এমনকি কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেই তাদের নিকট মাসহাফ সম্পর্কে জ্ঞান বিদ্যমান ছিল। এর অর্থ সুপরিচিত হওয়ার কারণেই তারা একে মাসহাফ নামকরণ করেছে; কারণ এটি প্রথমে বিভিন্ন পত্রে বিচ্ছিন্ন ছিল, অতঃপর তারা তা দুই মলাটের মাঝে একত্রিত করে এই নামকরণ করেছে। এই অর্থ পাওয়া গেলে অন্য কিছুকেও এই নামে নামকরণ করা বৈধ। আমি ইমাম বুখারীর জামে সহীহ-এর এমন কিছু খাতা দেখেছি যাতে 'প্রথম মাসহাফ', 'দ্বিতীয় মাসহাফ' লেখা ছিল। এই ভিত্তিতে 'মাসহাফসমূহে লিখিত' কথাটি কুরআনের সেই অংশসমূহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য যা মোটেও লিপিবদ্ধ করা হয়নি—যদি তা থেকে বাঁচার সুযোগ থাকে—যেমন যা লিপিবদ্ধ করার পূর্বেই বিস্মৃতির মাধ্যমে তুলে নেয়া হয়েছে। বর্ণিত আছে যে, সূরা আল-আহযাব সূরা আল-বাকারার সমতুল্য ছিল। তবে উত্তম হলো মাসহাফকে প্রচলিত অর্থের ওপর রাখা এবং এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে চক্রক (দাওর) হওয়াকে অস্বীকার করা। কেননা এটি কিতাবের পরিচয় প্রদান করছে, আর মনে মাসহাফের অস্তিত্বের কল্পনা কুরআনের ধারণার ওপর নির্ভর করা এর সঠিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে না; কারণ কুরআন শ্রোতার নিকট পরিচিত এবং তার মনে এর ধারণা বিদ্যমান।

যদিও কিতাব বিষয়টি তার নিকট পরিচিত না হয়। আর যদি কুরআন তার নিকট পরিচিত না হতো, তবে কুরআনের মাধ্যমে সংজ্ঞার সূচনা করা সঠিক হতো না। উল্লিখিত চক্রক (দাওর) কেবল তখনই আবশ্যক হতো যদি কুরআনের সংজ্ঞা এই ধরনের সংজ্ঞার মাধ্যমে দেওয়া হতো, যেমনটি কোনো কোনো উসূলবিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, 'কুরআন হলো তা যা মাসহাফের দুই মলাটের মধ্যবর্তী স্থানে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে'। যদিও তিনি এটি থেকেও নিষ্কৃতি পেতে পারেন এই বলে যে, মাসহাফ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পঠিত ওহীর সেই অংশ যা সাহাবীগণ মাসহাফের মধ্যে একত্রিত করেছেন। ফলে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ২৩)
، وَهُوَ النَّظْمُ وَالْمَعْنَى جَمِيعًا

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

الدَّوْرُ.

فَإِنْ قِيلَ يَلْزَمُ عَلَى اطِّرَادِ هَذَا الْحَدِّ التَّسْمِيَةُ سِوَى الَّتِي فِي سُورَةِ النَّمْلِ، فَإِنَّهَا دَخَلَتْ تَحْتَ الْحَدِّ وَلَيْسَتْ بِقُرْآنٍ وَلَمْ يَتَعَلَّقْ بِهَا جَوَازُ الصَّلَاةِ وَلَا حُرْمَةُ الْقِرَاءَةِ عَلَى الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ، وَمَنْ أَنْكَرَهَا لَا يَكْفُرُ وَانْتِفَاءُ اللَّوَازِمِ يَدُلُّ عَلَى انْتِفَاءِ الْمَلْزُومِ، قُلْنَا الصَّحِيحُ مِنْ الْمَذْهَبِ أَنَّهَا مِنْ الْقُرْآنِ وَلَكِنَّهَا لَيْسَتْ مِنْ كُلِّ سُورَةٍ عِنْدَنَا بَلْ هِيَ آيَةٌ مُنَزَّلَةٌ لِلْفَصْلِ بَيْنَ السُّوَرِ كَذَا ذَكَرَ أَبُو بَكْرٍ الرَّازِيّ وَمِثْلُهُ رُوِيَ عَنْ مُحَمَّدٍ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ أَيْضًا؛ وَلِهَذَا قَالَ عُلَمَاؤُنَا رحمهم الله فِي الْمُصَلِّي يَتَعَوَّذُ بِاَللَّهِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ ثُمَّ يَفْتَتِحُ الْقِرَاءَةَ وَيُخْفِي بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَفَصَلُوهَا عَنْ الثَّنَاءِ وَوَصَلُوهَا بِالْقِرَاءَةِ وَذَلِكَ يَدُلُّ عَلَى أَنَّهَا عِنْدَهُمْ مِنْ الْقُرْآنِ وَالْأَمْرُ بِالْإِخْفَاءِ يَدُلُّ عَلَى أَنَّهَا لَيْسَتْ مِنْ الْفَاتِحَةِ، وَإِنَّهَا تُقْرَأُ تَبَرُّكًا كَالْقِرَاءَةِ فِي الْأُخْرَيَيْنِ وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّهَا مِنْ الْقُرْآنِ أَنَّهَا كُتِبَتْ مَعَ الْقُرْآنِ بِأَمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَدْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَعْرِفُ خَتْمَ سُورَةٍ وَابْتِدَاءَ أُخْرَى حَتَّى يَنْزِلَ عَلَيْهِ جِبْرِيلُ عليه السلام بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي أَوَّلِ كُلِّ سُورَةٍ» وَكَذَا انْتَقَلَتْ إلَيْنَا بَيْنَ دَفَّاتِ الْمَصَاحِفِ مَعَ أَنَّهُمْ كَانُوا يُبَالِغُونَ فِي حِفْظِ الْقُرْآنِ حَتَّى كَانُوا يُمْنَعُونَ مِنْ كِتَابَةِ أَسَامِي السُّوَرِ مَعَ الْقُرْآنِ وَمِنْ التَّعْشِيرِ وَالنَّقْطِ كَيْ لَا يَخْتَلِطَ بِالْقُرْآنِ غَيْرُهُ فَلَوْ أَبْدَعَ لَاسْتَحَالَ فِي الْعَادَةِ سُكُوتُ أَهْلِ الدِّينِ عَنْهُ مَعَ تَصَلُّبِهِمْ فِي الدِّينِ لَا سِيَّمَا وَرَأْسُ السُّوَرِ يُكْتَبُ بِخَطٍّ يَتَمَيَّزُ عَنْ الْقُرْآنِ بِالْحُمْرَةِ أَوْ الصُّفْرَةِ عَادَةً وَالتَّسْمِيَةُ تُكْتَبُ بِخَطِّ الْقُرْآنِ بِحَيْثُ لَا تَتَمَيَّزُ عَنْهُ فَيُحِيلُ الْعَادَةُ السُّكُوتَ عَلَى مَنْ يُبْدِعُهَا لَوْلَا أَنَّهُ بِأَمْرِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وَلَكِنَّ النَّقْلَ الْمُتَوَاتِرَ لَمَّا لَمْ يُثْبِتْ أَنَّهَا مِنْ السُّورَةِ لَمْ يَثْبُتْ ذَلِكَ وَقَدْ اخْتَلَفَ الْفُقَهَاءُ وَأَئِمَّةُ الْقِرَاءَةِ فِي كَوْنِهَا مِنْ السُّورَةِ وَأَدْنَى أَحْوَالِ الِاخْتِلَافِ الْمُعْتَبَرِ إيرَاثُ الشَّبَهِ؛ فَلِهَذَا لَا يَثْبُتُ كَوْنُهَا مِنْ كُلِّ سُورَةٍ وَحَدِيثُ الْقِسْمَةِ، وَهُوَ مَعْرُوفٌ دَلِيلٌ ظَاهِرٌ عَلَى مَا قُلْنَاهُ، وَإِنَّمَا لَمْ يَكْفُرْ مَنْ أَنْكَرَ كَوْنَهَا مِنْ الْقُرْآنِ؛ لِأَنَّهُ زَعَمَ أَنَّهَا أُنْزِلَتْ وَكُتِبَتْ لِلتَّيَمُّنِ بِهَا كَمَا تُكْتَبُ عَلَى صُدُورِ الْكُتُبِ وَتُذْكَرُ عِنْدَ كُلِّ أَمْرٍ ذِي خَطَرٍ لَا لِكَوْنِهَا مِنْ الْقُرْآنِ وَالتَّمَسُّكِ بِمِثْلِهِ يَمْنَعُ الْإِكْفَارَ.

وَأَمَّا عَدَمُ جَوَازِ الصَّلَاةِ فَقَدْ ذَكَرَ التُّمُرْتَاشِيُّ فِي شَرْحِ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ أَنَّهُ لَوْ اكْتَفَى بِهَا يَجُوزُ الصَّلَاةُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله وَلَكِنَّ الصَّحِيحَ أَنَّهَا لَا تَجُوزُ؛ لِأَنَّ فِي كَوْنِهَا آيَةً تَامَّةً شُبْهَةٌ إذْ الصَّحِيحُ مِنْ مَذْهَبِ الشَّافِعِيِّ رحمه الله أَنَّهَا مَعَ مَا بَعْدَهَا إلَى رَأْسِ الْآيَةِ آيَةٌ تَامَّةٌ فَأَوْرَثَ ذَلِكَ شُبْهَةً فِي كَوْنِهَا آيَةً فَلَا يَتَأَدَّى بِهَا الْفَرْضُ الْمَقْطُوعُ بِهِ.

وَأَمَّا جَوَازُ قِرَاءَتِهَا لِلْحَائِضِ وَالْجُنُبِ فَذَلِكَ عِنْدَ قَصْدِ التَّيَمُّنِ كَمَا جَازَ لَهُمَا قِرَاءَةُ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] عَلَى قَصْدِ الشُّكْرِ فَأَمَّا عِنْدَ قَصْدِ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فَلَا؛ لِأَنَّ مِنْ ضَرُورَةِ كَوْنِهَا آيَةً مِنْ الْقُرْآنِ حُرْمَةَ قِرَاءَتِهَا عَلَيْهِمَا.

قَوْلُهُ (وَهُوَ النَّظْمُ وَالْمَعْنَى جَمِيعًا) إلَى قَوْلِهِ عَلَى مَا يُعْرَفُ فِي مَوْضِعِهِ أَيْ الْمَبْسُوطِ، أَرَادَ بِالنَّظْمِ الْعِبَارَاتِ وَبِالْمَعْنَى مَدْلُولَاتِهَا، ثُمَّ فِي الْعُدُولِ عَنْ ذِكْرِ اللَّفْظِ الَّذِي مَعْنَاهُ الرَّمْيُ يُقَالُ لَفَظَ النَّوَى أَيْ رَمَاهُ وَلَفَظَتْ الرَّحَى بِالدَّقِيقِ أَيْ رَمَتْ بِهِ إلَى ذِكْرِ النَّظْمِ الَّذِي يَدُلُّ عَلَى حُسْنِ التَّرْتِيبِ فِي أَنْفَسِ الْجَوَاهِرِ رِعَايَةً لِلْأَدَبِ وَتَعْظِيمٍ لِعِبَارَاتِ الْقُرْآنِ، وَفِي تَعْرِيفِ الْخَاصِّ وَغَيْرِهِ ذَكَرَ اللَّفْظَ؛ لِأَنَّ ذَلِكَ تَعْرِيفٌ لَهُ مِنْ حَيْثُ هُوَ خَاصٌّ لَا مِنْ حَيْثُ، إنَّهُ خَاصُّ الْقُرْآنِ
এবং তা শব্দবিন্যাস ও অর্থ উভয়েরই সমষ্টি।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

চক্রক বা আবর্তন।

যদি বলা হয় যে, এই সংজ্ঞার ব্যাপকতা অনুযায়ী সূরা আন-নামল-এ থাকা তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ) ব্যতীত অন্যান্য তাসমিয়াহগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক হবে; অথচ সেগুলো এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কুরআন হিসেবে গণ্য নয়। কারণ তার মাধ্যমে সালাত বৈধ হয় না এবং ঋতুবতী ও অপবিত্র (জুনুবি) ব্যক্তির জন্য তা পাঠ করা নিষিদ্ধ নয়। আর যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করে সে কাফির হয় না। আর অনুগামী বিষয়গুলোর (লাওয়াযিম) অনুপস্থিতি মূল বিষয়ের (মালযূম) অনুপস্থিতিকে নির্দেশ করে। আমরা বলি, মাযহাবের সঠিক মত হলো—এটি কুরআনের অংশ। তবে আমাদের নিকট এটি প্রতিটি সূরার অংশ নয়, বরং এটি একটি অবতীর্ণ আয়াত যা সূরাগুলোর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। আবু বকর আর-রাযী এভাবেই উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) থেকেও অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে। এ কারণেই আমাদের ওলামায়ে কেরাম (রহ.) বলেছেন যে, সালাত আদায়কারী বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা (তাউয়্যুয) করবে, এরপর তিলাওয়াত শুরু করবে এবং 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম' অনুচ্চ স্বরে পড়বে। তারা একে সানা (তাসবীহ) থেকে পৃথক করেছেন এবং তিলাওয়াতের সাথে যুক্ত করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, তাদের নিকট এটি কুরআনের অংশ। আর এটি অনুচ্চ স্বরে পড়ার নির্দেশ প্রমাণ করে যে, এটি সূরা ফাতিহার অংশ নয়। বরং এটি বরকতের জন্য পাঠ করা হয়, যেমনটি পরবর্তী দুই রাকাতে পাঠ করা হয়। এটি যে কুরআনের অংশ তার দলিল হলো—এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশে কুরআনের সাথে লিখিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেছেন, 'রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি সূরার সমাপ্তি এবং অন্যটির শুরু বুঝতে পারতেন না যতক্ষণ না জিবরাঈল (আ.) তাঁর ওপর প্রতিটি সূরার শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম' নিয়ে অবতরণ করতেন।' অনুরূপভাবে এটি আমাদের নিকট মুসহাফের দুই মলাটের মধ্যবর্তী স্থানে স্থানান্তরিত হয়ে এসেছে। অথচ সাহাবীগণ কুরআন সংরক্ষণের ব্যাপারে এতই কড়াকড়ি করতেন যে, তারা কুরআনের সাথে সূরার নাম লিখতে এবং দশমিক চিহ্ন (তা’শীর) ও নুকতা দিতেও নিষেধ করতেন, যাতে কুরআনের সাথে অন্য কিছু মিশে না যায়। সুতরাং যদি এটি উদ্ভাবিত (নতুন সংযোজিত) বিষয় হতো, তবে দ্বীনের ব্যাপারে তাদের কঠোরতা সত্ত্বেও দ্বীনদার ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে নীরব থাকা স্বাভাবিকভাবে অসম্ভব হতো। বিশেষ করে যেখানে সূরার নাম সাধারণত কুরআন থেকে পৃথক করার জন্য লাল বা হলুদ রঙে লেখা হয়, সেখানে তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ) কুরআনের লিপিতেই লেখা হয়েছে যাতে তা থেকে পৃথক করা না যায়। অতএব, যদি এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশে না হতো, তবে একে উদ্ভাবনকারীর বিরুদ্ধে নীরব থাকা স্বাভাবিক অভ্যাসের পরিপন্থী হতো। কিন্তু মুতাওয়াতির বর্ণনা যেহেতু এটি সূরার অংশ হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করে না, তাই তা (সূরার অংশ হিসেবে) সাব্যস্ত হয়নি। ফকীহগণ এবং কিরাআতের ইমামগণ এটি সূরার অংশ কি না তা নিয়ে মতভেদ করেছেন। আর গ্রহণযোগ্য মতভেদের সর্বনিম্ন পর্যায় হলো তা সন্দেহ (শুবহা) সৃষ্টি করে। এ কারণেই এটি প্রতিটি সূরার অংশ হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি। আর (সূরা ফাতিহা ও বান্দার মাঝে) বণ্টনের হাদীসটি—যা সুবিদিত—তা আমাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে সুস্পষ্ট দলিল। আর যে ব্যক্তি এটি কুরআনের অংশ হওয়াকে অস্বীকার করে তাকে কাফির ঘোষণা করা হয়নি; কারণ সে দাবি করে যে এটি বরকতের জন্য অবতীর্ণ ও লিখিত হয়েছে, যেমনটি কিতাব বা চিঠিপত্রের শুরুতে লেখা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কাজের শুরুতে উল্লেখ করা হয়—কুরআনের অংশ হওয়ার জন্য নয়। এই ধরণের যুক্তির ওপর নির্ভর করা কাফির বলা থেকে বিরত রাখে।

আর সালাত বৈধ না হওয়ার প্রসঙ্গে তুমুরতাশী 'জামে সগির'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে কেউ যদি শুধু এর মাধ্যমেই তিলাওয়াত পূর্ণ করে তবে সালাত জায়েয হবে। তবে সঠিক মত হলো তা জায়েয হবে না; কারণ এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আয়াত হওয়ার ক্ষেত্রে সংশয় রয়েছে। যেহেতু ইমাম শাফেঈ (রহ.)-এর মাযহাবের সঠিক মতানুসারে এটি পরবর্তী অংশের সাথে আয়াতের শেষ পর্যন্ত মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ আয়াত। ফলে এটি (এককভাবে) একটি পূর্ণাঙ্গ আয়াত হওয়ার ক্ষেত্রে সন্দেহ তৈরি করেছে, তাই এর মাধ্যমে অকাট্যভাবে নির্ধারিত ফরজ তিলাওয়াত আদায় হবে না।

আর ঋতুবতী ও অপবিত্র ব্যক্তির জন্য তা পাঠ করা জায়েয হওয়ার বিষয়টি বরকত কামনার উদ্দেশ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন তাদের জন্য শোকর বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন' পাঠ করা জায়েয। তবে কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্যে পাঠ করা জায়েয নয়; কারণ এটি কুরআনের আয়াত হওয়ার অনিবার্য দাবি হলো তাদের ওপর তা পাঠ করা হারাম হওয়া।

তাঁর উক্তি: (এবং তা শব্দবিন্যাস ও অর্থ উভয়েরই সমষ্টি) থেকে শুরু করে তাঁর পরবর্তী কথাগুলো—যা এর যথাযোগ্য স্থানে অর্থাৎ 'মাবসূত' গ্রন্থে বিস্তারিত জানা যাবে। এখানে 'নাযম' (শব্দবিন্যাস) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইবারত বা বাক্যসমূহ এবং 'মা'না' (অর্থ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেগুলোর মর্মার্থ। এরপর, 'লাফজ' (উচ্চারিত শব্দ) শব্দটি বর্জন করা—যার আভিধানিক অর্থ হলো নিক্ষেপ করা; যেমন বলা হয় 'সে আটি নিক্ষেপ করেছে' বা 'ঘানি থেকে আটা বের করে দিয়েছে'—তার পরিবর্তে 'নাযম' (শব্দবিন্যাস) শব্দটির দিকে ফিরে আসা—যা অতি মূল্যবান মণি-মুক্তার চমৎকার বিন্যাসকে নির্দেশ করে—তা মূলত আদব বা শিষ্টাচারের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং কুরআনের শব্দমালার মহিমাকে সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে। আর খাস (সুনির্দিষ্ট) বা অন্যান্য বিষয়ের সংজ্ঞায় তিনি 'লাফজ' শব্দটিই ব্যবহার করেছেন; কারণ সেখানে সংজ্ঞাটি মূলত খাস হওয়ার দিক থেকে দেওয়া হয়েছে, কুরআনের খাস হওয়ার দিক থেকে নয়।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ২৪)
فِي قَوْلِ عَامَّةِ الْعُلَمَاءِ وَهُوَ الصَّحِيحُ مِنْ قَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ عِنْدَنَا إلَّا أَنَّهُ لَمْ يَجْعَلْ النَّظْمَ رُكْنًا لَازِمًا فِي حَقِّ جَوَازِ الصَّلَاةِ خَاصَّةً عَلَى مَا يُعْرَفُ فِي مَوْضِعِهِ.

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

فَلَا يَجِبُ فِيهِ رِعَايَةُ الْأَدَبِ، وَالْمُرَادُ مِنْ عَامَّةِ الْعُلَمَاءِ جُمْهُورُهُمْ وَمُعْظَمُهُمْ، وَمِنْهُمْ مَنْ اعْتَقَدَ أَنَّهُ اسْمٌ لِلْمَعْنَى دُونَ النَّظْمِ، وَزَعَمَ أَنَّ ذَلِكَ مَذْهَبُ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - بِدَلِيلِ جَوَازِ الْقِرَاءَةِ بِالْفَارِسِيَّةِ عِنْدَهُ فِي الصَّلَاةِ بِغَيْرِ عُذْرٍ مَعَ أَنَّ قِرَاءَةَ الْقُرْآنِ فِيهَا فَرْضٌ مَقْطُوعٌ بِهِ فَرَدَّ الشَّيْخُ رحمه الله ذَلِكَ، وَأَشَارَ إلَى فَسَادِهِ بِقَوْلِهِ، وَهُوَ الصَّحِيحُ مِنْ مَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ عِنْدَنَا أَيْ الْمُخْتَارُ عِنْدِي أَنَّ مَذْهَبَهُ مِثْلُ مَذْهَبِ الْعَامَّةِ فِي أَنَّهُ اسْمٌ لِلنَّظْمِ وَالْمَعْنَى جَمِيعًا.

وَأَجَابَ عَمَّا اسْتَدَلَّ بِهِ الزَّاعِمُ بِقَوْلِهِ، إلَّا أَنَّهُ أَيْ لَكِنَّ أَبَا حَنِيفَةَ، لَمْ يَجْعَلْ النَّظْمَ رُكْنًا لَازِمًا؛ لِأَنَّهُ قَالَ مَبْنَى النَّظْمِ عَلَى التَّوْسِعَةِ؛ لِأَنَّهُ غَيْرُ مَقْصُودٍ خُصُوصًا فِي حَالَةِ الصَّلَاةِ إذْ هِيَ حَالَةُ الْمُنَاجَاةِ، وَكَذَا مَبْنَى فَرْضِيَّةِ الْقِرَاءَةِ فِي الصَّلَاةِ عَلَى التَّيْسِيرِ قَالَ تَعَالَى {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} [المزمل: 20] ، وَلِهَذَا تَسْقُطُ عَنْ الْمُقْتَدِي بِتَحَمُّلِ الْإِمَامِ عِنْدَنَا وَبِخَوْفِ فَوْتِ الرَّكْعَةِ عِنْدَ مُخَالِفِنَا بِخِلَافِ سَائِرِ الْأَرْكَانِ فَيَجُوزُ أَنْ يُكْتَفَى فِيهِ بِالرُّكْنِ الْأَصْلِيّ وَهُوَ الْمَعْنَى، يُوَضِّحُهُ أَنَّهُ نَزَلَ أَوَّلًا بِلُغَةِ قُرَيْشٍ؛ لِأَنَّهَا أَفْصَحُ اللُّغَاتِ فَلَمَّا تَعَسَّرَ تِلَاوَتُهُ بِتِلْكَ اللُّغَةِ عَلَى سَائِرِ الْعَرَبِ نَزَلَ التَّخْفِيفُ بِسُؤَالِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وَأَذِنَ فِي تِلَاوَتِهِ بِسَائِرِ لُغَاتِ الْعَرَبِ وَسَقَطَ وُجُوبُ رِعَايَةِ تِلْكَ اللُّغَةِ أَصْلًا وَاتَّسَعَ الْأَمْرُ حَتَّى جَازَ لِكُلِّ فَرِيقٍ مِنْهُمْ أَنْ يَقْرَءُوا بِلُغَتِهِمْ وَلُغَةِ غَيْرِهِمْ وَإِلَيْهِ أَشَارَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَوْلِهِ «أُنْزِلَ الْقُرْآنُ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ كُلُّهَا كَافٍ شَافٍ» فَلَمَّا جَازَ لِلْعَرَبِيِّ تَرْكُ لُغَتِهِ إلَى لُغَةِ غَيْرِهِ مِنْ الْعَرَبِ حَتَّى جَازَ لِلْقُرَشِيِّ أَنْ يَقْرَأَ بِلُغَةِ تَيْمٍ مَثَلًا مَعَ كَمَالِ قُدْرَتِهِ عَلَى لُغَةِ نَفْسِهِ جَازَ لِغَيْرِ الْعَرَبِيِّ أَيْضًا تَرْكُ لُغَةِ الْعَرَبِ مَعَ قُصُورِ قُدْرَتِهِ عَنْهَا وَالِاكْتِفَاءُ بِالْمَعْنَى الَّذِي هُوَ الْمَقْصُودُ، فَصَارَ الْحَاصِلُ أَنَّ سُقُوطَ لُزُومِ النَّظْم عِنْدِهِ رُخْصَةُ إسْقَاطٍ كَمَسْحِ الْخُفِّ وَالسَّلَمِ وَسُقُوطِ شَطْرِ صَلَاةِ الْمُسَافِرِ حَتَّى لَمْ يَبْقَ اللُّزُومُ أَصْلًا فَاسْتَوَى فِيهِ حَالُ الْعَجْزِ وَالْقُدْرَةِ.

وَفِي قَوْلِهِ خَاصَّةً تَنْصِيصٌ عَلَى أَنَّ فِيمَا سِوَاهُ مِنْ الْأَحْكَامِ مِنْ وُجُوبِ الِاعْتِقَادِ حَتَّى يَكْفُرَ كَوْنُ مَنْ أَنْكَرَ النَّظْمَ مُنَزَّلًا

‌‌1 -

وَحُرْمَةَ كِتَابَةِ الْمُصْحَفِ بِالْفَارِسِيَّةِ وَحُرْمَةَ الْمُدَاوَمَةِ وَالِاعْتِيَادِ عَلَى الْقِرَاءَةِ بِالْفَارِسِيَّةِ النَّظْمُ لَازِمٌ كَالْمَعْنَى، وَلَا يَلْزَمُ عَلَيْهِ وُجُوبُ سَجْدَةِ التِّلَاوَةِ بِالْقِرَاءَةِ بِالْفَارِسِيَّةِ وَحُرْمَةُ مَسِّ مُصْحَفٍ كُتِبَ بِالْفَارِسِيَّةِ عَلَى غَيْرِ الْمُتَطَهِّرِ وَحُرْمَةُ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ بِالْفَارِسِيَّةِ عَلَى الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ عَلَى اخْتِيَارِ بَعْضِ الْمَشَايِخِ مِنْهُمْ شَيْخُ الْإِسْلَامِ خُوَاهَرْ زَادَهْ رحمه الله؛ لِأَنَّهُ لَمْ يُرْوَ عَنْ الْمُتَقَدِّمِينَ مِنْ أَصْحَابِنَا فِيهَا رِوَايَةٌ مَنْصُوصَةٌ وَمَا ذَكَرْنَا جَوَابُ الْمُتَأَخِّرِينَ فَالشَّيْخُ رحمه الله بَنَى عَلَى أَصْلِهِمْ لَا عَلَى مُخْتَارِ الْمُتَأَخِّرِينَ، وَإِنَّمَا بَنَوْهُ عَلَى أَنَّ النَّظْمَ إنْ فَاتَ فَالْمَعْنَى الَّذِي هُوَ الْمَقْصُودُ قَائِمٌ فَيَثْبُتُ هَذِهِ الْأَحْكَامُ احْتِيَاطًا لَا عَلَى أَنَّ النَّظْمَ لَيْسَ بِلَازِمٍ لِلْقُرْآنِ، وَالدَّلِيلُ عَلَيْهِ أَنَّهُمْ لَمْ يَذْكُرُوا فِيهَا اخْتِلَافًا بَيْنَ أَصْحَابِنَا وَلَوْ لَمْ يَكُنْ طَرِيقُ ثُبُوتِ هَذِهِ الْأَحْكَامِ مَا ذَكَرْنَا لَمْ يَسْتَقِمْ هَذَا الْجَوَابُ عَلَى قَوْلِهِمَا؛ لِأَنَّ النَّظْمَ عِنْدَهُمَا كَالْمَعْنَى، وَيُؤَيِّدُ مَا ذَكَرَ الْإِمَامُ الْمَحْبُوبِيُّ فِي شَرْحِ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ: جَوَازُ الصَّلَاةِ حُكْمٌ يَخْتَصُّ بِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فَيَتَعَلَّقُ بِالْمُنَزَّلِ عَلَى الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم قِيَاسًا عَلَى قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فِي حَقِّ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ يَعْنِي حُرْمَةَ التِّلَاوَةِ تَتَعَلَّقُ بِالنَّظْمِ وَالْمَعْنَى حَتَّى لَوْ قَرَأَ الْجُنُبُ أَوْ الْحَائِضُ بِالْفَارِسِيَّةِ جَازَ.

وَأُجِيبَ أَيْضًا عَنْ سَجْدَةِ التِّلَاوَةِ بِأَنَّهَا مُلْحَقَةٌ بِالصَّلَاةِ؛ لِأَنَّ السَّجْدَةَ مِنْ أَرْكَانِ
সাধারণ আলেমগণের মতানুসারে এবং এটিই আমাদের নিকট ইমাম আবু হানিফার মতের মধ্যে সঠিক। তবে তিনি শুধুমাত্র সালাত জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে শব্দবিন্যাসকে আবশ্যক রুকন হিসেবে নির্ধারণ করেননি, যা নির্দিষ্ট স্থানে বিস্তারিতভাবে জানা যায়।

--

‌‌[কাশফুল আসরার]

অতএব, এতে আদব রক্ষা করা ওয়াজিব নয়। সাধারণ আলেম বলতে তাঁদের অধিকাংশ ও বড় অংশ উদ্দেশ্য। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিশ্বাস করতেন যে, কুরআন কেবল অর্থের নাম, শব্দবিন্যাসের নয়। তিনি দাবি করেন যে, এটিই ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর মাজহাব। এর দলিল হিসেবে তিনি ইমামের নিকট কোনো ওজর ছাড়াই সালাতে ফারসি ভাষায় কিরাত পাঠ জায়েজ হওয়াকে পেশ করেন, যদিও সালাতে কুরআন পাঠ করা অকাট্য ফরজ। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) সেই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁর বাণীর মাধ্যমে এর অসারতা নির্দেশ করেছেন: 'আমাদের নিকট এটিই আবু হানিফার মাজহাবের সঠিক মত' অর্থাৎ আমার নিকট মনোনীত মত হলো যে, তাঁর মাজহাব সাধারণ আলেমদের মাজহাবের মতোই; আর তা হলো, কুরআন শব্দবিন্যাস এবং অর্থ উভয়ের সমষ্টির নাম।

দাবিদার যে দলিল পেশ করেছিলেন শায়খ তার উত্তর দিয়েছেন এই বলে—'তবে তিনি' অর্থাৎ ইমাম আবু হানিফা শব্দবিন্যাসকে আবশ্যক রুকন করেননি; কারণ তিনি বলেছেন যে, শব্দবিন্যাসের ভিত্তি প্রশস্ততার ওপর, যেহেতু এটি মূল উদ্দেশ্য নয়—বিশেষত সালাতের অবস্থায়, কারণ তা হলো আল্লাহর সাথে সংগোপনে কথোপকথনের সময়। অনুরূপভাবে সালাতে কিরাত পাঠ ফরজ হওয়ার ভিত্তি সহজীকরণের ওপর। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব কুরআন থেকে যতটুকু সহজ হয় ততটুকু পাঠ করো} [মুযযাম্মিল: ২০]। এ কারণেই আমাদের নিকট ইমামের দায়িত্ব গ্রহণের ফলে মুক্তাদির ওপর থেকে কিরাত রহিত হয়ে যায় এবং আমাদের বিরোধীদের নিকট রুকু ছুটে যাওয়ার ভয়ে কিরাত রহিত হয়, যা অন্যান্য রুকনের বিপরীতে। সুতরাং এখানে মূল রুকন অর্থাৎ অর্থের ওপর নির্ভর করা জায়েজ। বিষয়টি স্পষ্ট করে এই যে, কুরআন প্রথমে কুরাইশদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল; কারণ এটি ছিল সর্বাধিক প্রাঞ্জল ভাষা। কিন্তু যখন অন্যান্য আরবদের জন্য সেই ভাষায় তিলাওয়াত করা কঠিন হয়ে পড়ল, তখন রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রার্থনায় সহজীকরণ অবতীর্ণ হলো এবং তিনি সমস্ত আরবীয় ভাষায় তিলাওয়াত করার অনুমতি দিলেন। ফলে মূলগতভাবে সেই নির্দিষ্ট ভাষা রক্ষা করার আবশ্যকতা রহিত হয়ে গেল এবং বিষয়টি প্রশস্ত হলো, এমনকি তাদের প্রতিটি দলের জন্য নিজস্ব ভাষা বা অন্যদের ভাষায় পাঠ করা জায়েজ হয়ে গেল। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাণীর মাধ্যমে এদিকেই ইশারা করেছেন: "কুরআন সাত হারফে অবতীর্ণ হয়েছে, যার প্রতিটিই যথেষ্ট এবং রোগমুক্তকারী।" সুতরাং যখন একজন আরবের জন্য নিজের ভাষা ছেড়ে অন্য আরবদের ভাষায় পাঠ করা জায়েজ হলো—এমনকি একজন কুরাইশির জন্য তায়িম গোত্রের ভাষায় পাঠ করা জায়েজ হলো যদিও সে নিজের ভাষায় পাঠে পূর্ণ সক্ষম ছিল—তখন একজন অনারবের জন্যও আরবীয় ভাষা ছেড়ে দেওয়া জায়েজ হবে যখন তার তাতে সক্ষমতার অভাব থাকে এবং সে কেবল অর্থের ওপর নির্ভর করবে যা উদ্দেশ্য। সারকথা দাঁড়াল এই যে, ইমামের নিকট শব্দবিন্যাসের আবশ্যকতা রহিত হওয়া হলো অব্যাহতি দানকারী সহজীকরণ, যেমন চামড়ার মোজায় মাসাহ করা, সালাম চুক্তি এবং মুসাফিরের সালাতের অর্ধেক অংশ রহিত হওয়া—এমনকি এতে মূল আবশ্যকতা আর অবশিষ্ট থাকে না। ফলে অক্ষমতা এবং সক্ষমতা উভয় অবস্থাই এতে সমান হয়ে গেছে।

আর তাঁর 'বিশেষভাবে' বলাটি একথার সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, এটি ছাড়া অন্যান্য হুকুমের ক্ষেত্রে—যেমন বিশ্বাসের আবশ্যকতা যাতে শব্দবিন্যাস অবতীর্ণ হওয়াকে অস্বীকারকারী কাফির গণ্য হবে—

‌‌১ -

এবং ফারসি ভাষায় মুসহাফ লেখা হারাম হওয়া, আর ফারসি ভাষায় কিরাত পড়ার অভ্যাস করা বা সর্বদা পড়ার নিষিদ্ধতা—এসব ক্ষেত্রে অর্থের মতো শব্দবিন্যাসও আবশ্যক। আর ফারসি ভাষায় কিরাত পাঠ করলে তিলাওয়াতে সিজদা ওয়াজিব হবে না এবং অপবিত্র অবস্থায় ফারসিতে লিখিত মুসহাফ স্পর্শ করা হারাম হবে না এবং জুুনুবি বা ঋতুবতী নারীর জন্য ফারসিতে কুরআন পাঠ হারাম হবে না—এমনটি আবশ্যক হয় না কোনো কোনো মাশায়েখের পছন্দের ভিত্তিতে, যাদের মধ্যে শায়খুল ইসলাম খওয়াহার জাদাহ (রহিমাহুল্লাহ) রয়েছেন। কেননা আমাদের পূর্ববর্তী ইমামদের থেকে এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা বর্ণিত হয়নি। আমরা যা উল্লেখ করেছি তা পরবর্তী আলেমদের উত্তর। সুতরাং শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) ইমামদের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেছেন, পরবর্তী আলেমদের পছন্দের ওপর নয়। মূলত তাঁরা এর ভিত্তি রেখেছেন একথার ওপর যে, যদি শব্দবিন্যাস ছুটেও যায় তবে মূল উদ্দেশ্য যে অর্থ—তা বিদ্যমান থাকে। তাই সাবধানতাবশত এই হুকুমগুলো সাব্যস্ত হয়, এ কারণে নয় যে কুরআনের জন্য শব্দবিন্যাস আবশ্যক নয়। এর দলিল হলো যে, তাঁরা এ বিষয়ে আমাদের ইমামদের মধ্যে কোনো মতভেদ উল্লেখ করেননি। আর যদি এই হুকুমগুলো সাব্যস্ত করার পথ আমাদের উল্লিখিত পথ না হতো, তবে সাহেবাইনের মতানুসারে এই উত্তরটি সঠিক হতো না; কারণ তাঁদের নিকট শব্দবিন্যাস অর্থের মতোই আবশ্যক। ইমাম মাহবুবী শারহুল জামেউস সগির-এ যা উল্লেখ করেছেন তা একে সমর্থন করে: সালাত জায়েজ হওয়া একটি বিধান যা কুরআন পাঠের সাথে খাস, ফলে এটি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে—জুুনুবি এবং ঋতুবতী নারীর ক্ষেত্রে কুরআন পাঠের ওপর কিয়াস করে। অর্থাৎ তিলাওয়াতের হুরমত শব্দবিন্যাস এবং অর্থ উভয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, এমনকি যদি জুুনুবি বা ঋতুবতী নারী ফারসিতে পাঠ করে তবে তা জায়েজ।

তিলাওয়াতে সিজদা সম্পর্কে এই উত্তরও দেওয়া হয়েছে যে, এটি সালাতের সাথে সংযুক্ত; কারণ সিজদা হলো সালাতের অন্যতম রুকন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَجَعْلُ الْمَعْنَى رُكْنًا لَازِمًا وَالنَّظْمِ رُكْنًا يَحْتَمِلُ السُّقُوطَ رُخْصَةٌ بِمَنْزِلَةِ التَّصْدِيقِ فِي الْإِيمَانِ أَنَّهُ رُكْنٌ أَصْلِيٌّ وَالْإِقْرَارُ رُكْنٌ زَائِدٌ عَلَى مَا يُعْرَفُ فِي مَوْضِعِهِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

الصَّلَاةِ وَبَيْنَهَا وَبَيْنَ سَجْدَةِ التِّلَاوَةِ مُشَارَكَةٌ فِي الْمَعْنَى، وَهُوَ مُطْلَقُ السُّجُودِ فَيَجُوزُ أَنْ تُلْحَقَ بِالصَّلَاةِ بِوَاسِطَتِهَا وَرُكْنِيَّةُ النَّظْمِ قَدْ سَقَطَتْ فِي الصَّلَاةِ فَتَسْقُطُ فِيمَا أُلْحِقَ بِهَا، وَعَنْ الْمَسْأَلَتَيْنِ بِأَنَّ الْمَكْتُوبَ أَوْ الْمَقْرُوءَ بِالْفَارِسِيَّةِ كَلَامُ اللَّهِ تَعَالَى، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ قُرْآنًا فَيَحْرُمُ مَسُّهُ لِغَيْرِ الْمُتَطَهِّرِ وَقِرَاءَتُهُ لِلْحَائِضِ وَالْجُنُبِ كَالتَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْأَوَّلُ أَحْسَنُ وَأَشْمَلُ، ثُمَّ الْخِلَافُ فِيمَنْ لَا يُتَّهَمُ بِشَيْءٍ مِنْ الْبِدَعِ وَقَدْ تَكَلَّمَ بِالْفَارِسِيَّةِ فِي الصَّلَاةِ بِكَلِمَةٍ أَوْ أَكْثَرَ غَيْرُ مُؤَوَّلَةٍ وَلَا مُحْتَمَلَةٍ لِلْمَعَانِي وَزَادَ بَعْضُهُمْ وَلَمْ يَخْتَلَّ نَظْمُ الْقُرْآنِ زِيَادَةَ اخْتِلَالٍ بِأَنْ قَرَأَ مَكَانَ قَوْله تَعَالَى {مَعِيشَةً ضَنْكًا} [طه: 124] مَعِيشَةً تَنْكًا أَوْ مَكَانَ {جَزَاءً بِمَا كَسَبَا} [المائدة: 38] سَزَاءً أَمَّا لَوْ قَرَأَ تَفْسِيرَ الْقُرْآنِ فَلَا يَجُوزُ بِالِاتِّفَاقِ، وَعَنْ الْإِمَامِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ أَنَّ الْخِلَافَ فِيمَا إذَا جَرَى عَلَى لِسَانِهِ مِنْ غَيْرِ قَصْدٍ أَمَّا مَنْ تَعَمَّدَ ذَلِكَ فَيَكُونُ مَجْنُونًا أَوْ زِنْدِيقًا وَالْمَجْنُونُ يُدَاوَى وَالزِّنْدِيقُ يُقْتَلُ.

وَقِيلَ الْخِلَافُ فِي الْفَارِسِيَّةِ؛ لِأَنَّهَا قَرُبَتْ مِنْ الْعَرَبِيَّةِ فِي الْفَصَاحَةِ فَأَمَّا الْقِرَاءَةُ بِغَيْرِهَا فَلَا يَجُوزُ بِالِاتِّفَاقِ وَقَدْ صَحَّ رُجُوعُهُ إلَى قَوْلِ الْعَامَّةِ وَرَوَاهُ نُوحُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ عَنْهُ ذَكَرَهُ الْمُصَنِّفُ فِي شَرْحِ الْمَبْسُوطِ، وَهُوَ اخْتِيَارُ الْقَاضِي الْإِمَامِ أَبِي زَيْدٍ وَعَامَّةِ الْمُحَقِّقِينَ وَعَلَيْهِ الْفَتْوَى

 

قَوْلُهُ (وَجَعَلَ الْمَعْنَى رُكْنًا لَازِمًا) إلَى قَوْلِهِ يُعْرَفُ فِي مَوْضِعِهِ أَيْ جَعَلَ أَبُو حَنِيفَةَ رحمه الله الْمَعْنَى لَازِمًا فِي حَالَةِ الْقُدْرَةِ لَا فِي حَالَةِ الْعَجْزِ وَالنَّظْمِ رُكْنًا قَابِلًا لِلسُّقُوطِ رُخْصَةً فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ كَمَا جَعَلَ التَّصْدِيقَ فِي الْإِيمَانِ لَازِمًا فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ وَالْإِقْرَارَ رُكْنًا زَائِدًا يَحْتَمِلُ السُّقُوطَ عِنْدَ الْعُذْرِ فَالْحَاصِلُ أَنَّ الْمَقْصُودَ إظْهَارُ التَّفَاوُتِ بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ فِي إحْدَى الْحَالَتَيْنِ فِي الصُّورَتَيْنِ؛ لِأَنَّهُ لَا يُمْكِنُ إظْهَارُ التَّفَاوُتِ بَيْنَهُمَا فِي الْحَالَةِ الْأُخْرَى فِيهِمَا؛ لِأَنَّ النَّظْمَ وَالْمَعْنَى لَا يَفْتَرِقَانِ فِي السُّقُوطِ حَالَةَ الْعَجْزِ بِالِاتِّفَاقِ كَمَا لَا يَفْتَرِقُ التَّصْدِيقُ وَالْإِقْرَارُ فِي اللُّزُومِ حَالَةَ الِاخْتِيَارِ؛ فَلِهَذَا وَجَبَ إظْهَارُ التَّفَاوُتِ بَيْنَ النَّظْمِ وَالْمَعْنَى حَالَةَ الْقُدْرَةِ كَمَا وَجَبَ فِي الْإِقْرَارِ وَالتَّصْدِيقِ حَالَةَ الِاضْطِرَارِ، ثُمَّ الْغَرَضُ مِنْ إعَادَةِ قَوْلِهِ وَالنَّظْمِ رُكْنًا يَحْتَمِلُ السُّقُوطَ بَعْدَمَا ذُكِرَ أَنَّهُ لَمْ يَجْعَلْ النَّظْمَ رُكْنًا لَازِمًا تَحْقِيقُ كَوْنِهِ زَائِدًا بِإِتْمَامِ تَشْبِيهِ الرُّكْنَيْنِ بِالرُّكْنَيْنِ كَمَا ذَكَرْنَا، وَتَسْمِيَةُ الْإِقْرَارِ رُكْنًا مَذْهَبُ الْفُقَهَاءِ فَأَمَّا عِنْدَ الْمُتَكَلِّمِينَ فَهُوَ شَرْطُ إجْرَاءِ الْأَحْكَامِ عَلَى مَا يُعْرَفُ فِي مَوْضِعِهِ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ، وَلَا يُسْتَبْعَدُ تَسْمِيَةُ النَّظْمِ رُكْنًا مَعَ جَوَازِ تَرْكِهِ حَالَةَ الْقُدْرَةِ كَمَا لَا يُسْتَبْعَدُ تَسْمِيَةُ مَا هُوَ زَائِدٌ عَلَى أَصِلْ الْفَرْضِ فِي أَرْكَانِ الصَّلَاةِ رُكْنًا بَعْدَمَا صَارَ مَوْجُودًا مَعَ جَوَازِ تَرْكِهِ فِي الِابْتِدَاءِ.

فَإِنْ قِيلَ لَمَّا جَازَ الِاكْتِفَاءُ بِالْمَعْنَى عِنْدَهُ فِي الصَّلَاةِ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ لَا بُدَّ مِنْ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ قُرْآنًا إذْ لَا جَوَازَ لِلصَّلَاةِ بِدُونِ الْقُرْآنِ بِالْإِجْمَاعِ وَحِينَئِذٍ لَا يَكُونُ الْحَدُّ الْمَذْكُورُ مُتَنَاوِلًا لَهُ لِعَدَمِ إمْكَانِ كِتَابَةِ الْمَعْنَى الْمُجَرَّدِ فِي الْمُصْحَفِ وَنَقْلِهِ بِالتَّوَاتُرِ وَمَا تَعَلَّقَ الْمَعْنَى بِهِ مِنْ الْعِبَارَةِ الْفَارِسِيَّةِ مَثَلًا لَيْسَ بِمَكْتُوبٍ فِي الْمُصْحَفِ وَلَا مَنْقُولٍ بِالتَّوَاتُرِ أَيْضًا فَلَا يَكُونُ الْحَدُّ جَامِعًا أَوْ لَا يَكُونُ الْمَعْنَى بِدُونِ النَّظْمِ قُرْآنًا فَيَنْبَغِي أَنْ لَا يَجُوزَ الصَّلَاةُ، قُلْنَا إنَّمَا جَازَ الِاكْتِفَاءُ عِنْدَهُ بِالْمَعْنَى إمَّا لِقِيَامِ الْمَعْنَى الْمُجَرَّدِ فِي حَالَةِ الصَّلَاةِ قِيَامَ النَّظْمِ وَالْمَعْنَى أَوْ لِقِيَامِ الْعِبَارَةِ الْفَارِسِيَّةِ الدَّالَّةِ عَلَى مَعْنَى الْقُرْآنِ مَقَامَ النَّظْمِ الْمَنْقُولِ كَمَا
অর্থকে অপরিহার্য রুকন এবং শব্দবিন্যাসকে রহমতস্বরূপ বিলোপযোগ্য রুকন সাব্যস্ত করা ঈমানের ক্ষেত্রে অন্তরের বিশ্বাসকে মৌলিক রুকন এবং মৌখিক স্বীকৃতিকে অতিরিক্ত রুকন সাব্যস্ত করার সমতুল্য, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা তার নিজ স্থানে বিস্তারিত জানা যাবে।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

সালাত এবং তিলাওয়াতে সিজদার মধ্যে অর্থগতভাবে অংশীদারিত্ব রয়েছে, আর তা হলো নিরঙ্কুশ সিজদা। সুতরাং এর মাধ্যমে একে সালাতের সাথে সংযুক্ত করা জায়েজ। সালাতে শব্দবিন্যাসের রুকন হওয়ার বিষয়টি যেহেতু রহিত হয়ে গেছে, তাই যা এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে তার ক্ষেত্রেও তা রহিত হবে। আর এই দুই মাসআলার উত্তর হলো: ফারসি ভাষায় যা লেখা বা পড়া হয় তা আল্লাহ তাআলার কালাম, যদিও তা কুরআন নয়। সুতরাং অপবিত্র ব্যক্তির জন্য তা স্পর্শ করা এবং ঋতুবতী ও জুনুবি (বড় নাপাক) ব্যক্তির জন্য তা পাঠ করা হারাম, যেমনটি তাওরাত ও ইনজিলের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তবে প্রথম মতটি অধিক উত্তম ও ব্যাপক। অতঃপর, এই মতপার্থক্য সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার বিরুদ্ধে কোনো বিদআতের অভিযোগ নেই এবং সে সালাতে ফারসি ভাষায় এমন এক বা একাধিক শব্দ উচ্চারণ করেছে যার ভিন্ন কোনো অপব্যাখ্যা বা অন্য অর্থের অবকাশ নেই। কেউ কেউ আরও যোগ করেছেন যে, এতে কুরআনের শব্দবিন্যাসে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী {মায়িশাতান দনকান} এর স্থলে {মায়িশাতান তানকান} পড়া অথবা {জাযাআন বিমা কাসাবা} এর স্থলে {সাযাআন} পড়া। তবে যদি কেউ কুরআনের তাফসির পাঠ করে, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তা জায়েজ হবে না। ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল ফজল থেকে বর্ণিত যে, এই মতপার্থক্য কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখে তা চলে আসে। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করবে, সে হয় পাগল নয়তো যিনদিক। পাগলকে চিকিৎসা দিতে হবে আর যিনদিককে হত্যা করতে হবে।

বলা হয়েছে যে, এই মতপার্থক্য কেবল ফারসি ভাষার ক্ষেত্রে; কারণ অলঙ্কারশাস্ত্রে এটি আরবির কাছাকাছি। ফারসি ছাড়া অন্য ভাষায় তিলাওয়াত করা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েজ। তবে ইমামের সাধারণ মতের দিকে ফিরে আসা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত এবং নুহ ইবনে আবি মারইয়াম তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকার 'শারহুল মাবসুত'-এ এটি উল্লেখ করেছেন এবং এটিই কাজি ইমাম আবু যায়েদ ও অধিকাংশ গবেষকের পছন্দ এবং এর ওপরই ফতোয়া।

 

তাঁর উক্তি (অর্থকে অপরিহার্য রুকন সাব্যস্ত করা) থেকে 'নিজ স্থানে জানা যাবে' পর্যন্ত অংশের ব্যাখ্যা হলো: ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি অর্থকে সক্ষমতার অবস্থায় অপরিহার্য গণ্য করেছেন, অক্ষমতার অবস্থায় নয়; আর শব্দবিন্যাসকে সকল অবস্থায় রহমতস্বরূপ বিলোপযোগ্য রুকন হিসেবে গণ্য করেছেন। যেমন তিনি ঈমানের ক্ষেত্রে অন্তরের বিশ্বাসকে সকল অবস্থায় অপরিহার্য এবং মৌখিক স্বীকৃতিকে ওজর বা অপারগতার সময় বিলোপযোগ্য অতিরিক্ত রুকন সাব্যস্ত করেছেন। মূলকথা হলো, উভয় উদাহরণের দুই অবস্থার একটিতে দুই রুকনের মধ্যে তফাত প্রকাশ করাই উদ্দেশ্য; কারণ অন্য অবস্থায় তাদের মধ্যে তফাত প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কেননা অক্ষমতার অবস্থায় শব্দবিন্যাস ও অর্থ উভয়ের বিলুপ্তির ক্ষেত্রে সর্বসম্মতভাবে কোনো পার্থক্য নেই, যেমনটি স্বাভাবিক অবস্থায় বিশ্বাস ও স্বীকৃতির আবশ্যিকতার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই। এই কারণেই সক্ষমতার অবস্থায় শব্দবিন্যাস ও অর্থের মধ্যে তফাত প্রকাশ করা আবশ্যক হয়েছে, যেমনটি নিরুপায় অবস্থায় স্বীকৃতি ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আবশ্যক হয়। অতঃপর, "শব্দবিন্যাস একটি বিলোপযোগ্য রুকন" এই কথাটি পুনরায় বলার উদ্দেশ্য—যদিও আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি শব্দবিন্যাসকে অপরিহার্য রুকন করেননি—হলো শব্দবিন্যাস যে অতিরিক্ত রুকন তা সুনিশ্চিত করা এবং আমাদের বর্ণনানুসারে দুই রুকনের সাথে অপর দুই রুকনের সাদৃশ্য পূর্ণ করা। মৌখিক স্বীকৃতিকে রুকন হিসেবে নামকরণ করা ফকিহদের মাযহাব; আর মুতাকাল্লিমদের মতে এটি বিধান জারি করার শর্ত, যা এই কিতাবের সংশ্লিষ্ট স্থানে জানা যাবে। সক্ষমতার অবস্থায় শব্দবিন্যাস পরিত্যাগ করা জায়েজ হওয়া সত্ত্বেও একে রুকন বলা অবাস্তব কিছু নয়; যেমন সালাতের রুকনগুলোর মধ্যে যা মূল ফরজের অতিরিক্ত, তা অস্তিত্ব লাভ করার পর তাকে রুকন বলা অবাস্তব নয়, যদিও শুরুতে তা বর্জন করা জায়েজ ছিল।

যদি প্রশ্ন করা হয় যে, যখন তাঁর নিকট কোনো ওজর ছাড়াই সালাতে কেবল অর্থের ওপর নির্ভর করা জায়েজ হলো, তবে অবশ্যই তাকে কুরআন হতে হবে; কারণ ইজমা অনুযায়ী কুরআন ছাড়া সালাত জায়েজ নয়। এমতাবস্থায় উল্লিখিত সংজ্ঞাটি তাকে অন্তর্ভুক্ত করবে না, কারণ কেবল অর্থকে মুসহাফে লিপিবদ্ধ করা বা মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। আর যে শব্দের সাথে অর্থ সংশ্লিষ্ট, যেমন ফারসি পরিভাষা, তা তো মুসহাফে লিপিবদ্ধ নয় এবং মুতাওয়াতিরও নয়। ফলে সংজ্ঞাটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়, অথবা শব্দবিন্যাস ছাড়া কেবল অর্থ কুরআন হবে না এবং ফলশ্রুতিতে সালাত জায়েজ হবে না। আমরা উত্তরে বলব: তাঁর নিকট কেবল অর্থের ওপর নির্ভর করা জায়েজ হয়েছে—হয় সালাতের অবস্থায় কেবল অর্থ শব্দবিন্যাস ও অর্থের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে, অথবা কুরআনের অর্থের ওপর নির্দেশক ফারসি পরিভাষাটি বর্ণিত শব্দবিন্যাসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে, যেমনটি-
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَإِنَّمَا يُعْرَفُ أَحْكَامُ الشَّرْعِ بِمَعْرِفَةِ أَقْسَامِ النَّظْمِ وَالْمَعْنَى وَذَلِكَ أَرْبَعَةُ أَقْسَامٍ فِيمَا يَرْجِعُ إلَى مَعْرِفَةِ أَحْكَامِ الشَّرْعِ:‌‌ الْقِسْمُ الْأَوَّلُ: فِي وُجُوهِ النَّظْمِ صِيغَةً وَلُغَةً وَالثَّانِي فِي وُجُوهِ الْبَيَانِ بِذَلِكَ النَّظْمِ وَالثَّالِثُ فِي وُجُوهِ اسْتِعْمَالِ ذَلِكَ النَّظْمِ وَجَرَيَانِهِ فِي بَابِ الْبَيَانِ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

قَالَ أَبُو يُوسُفَ وَمُحَمَّدٌ فِي حَالَةِ الْعُذْرِ فَيَكُونُ النَّظْمُ الْمَكْتُوبُ الْمَنْقُولُ مَوْجُودًا تَقْدِيرًا وَحُكْمًا فَيَدْخُلُ تَحْتَ الْحَدِّ وَيَكُونُ الْحَدُّ جَامِعًا وَيُفَسَّرُ قَوْلُهُ الْمَكْتُوبُ فِي الْمَصَاحِفِ الْمَنْقُولُ عَنْهُ نَقْلًا مُتَوَاتِرًا بِالْكِتَابَةِ وَالنَّقْلِ حَقِيقَةً أَوْ تَقْدِيرًا أَوْ نَقُولُ هُوَ يُسَلِّمُ أَنَّ الْمَعْنَى بِدُونِ النَّظْمِ لَيْسَ بِقُرْآنٍ وَلَكِنَّهُ لَا يُسَلِّمُ أَنَّ جَوَازَ الصَّلَاةِ مُتَعَلِّقٌ بِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ الْمَحْدُودِ بَلْ هُوَ مُتَعَلِّقٌ بِمَعْنَاهُ وَيُحْمَلُ قَوْله تَعَالَى {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} [المزمل: 20] عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ وُجُوبُ رِعَايَةِ الْمَعْنَى دُونَ النَّظْمِ لِدَلِيلٍ لَاحَ لَهُ فَلَا يَرِدُ الْإِشْكَالُ.

 

‌‌[مَا يَعْرِف بِهِ أَحْكَامُ الشَّرْعِ أَرْبَعَة أَقْسَام]

[الْقِسْمُ الْأَوَّلُ فِي وُجُوهِ النَّظْمِ صِيغَةً وَلُغَةً]

قَوْلُهُ (وَإِنَّمَا يُعْرَفُ أَحْكَامَ الشَّرْعِ) أَيْ لَا يُعْرَفُ أَحْكَامَ الشَّرْعِ الثَّابِتَةِ بِالْقُرْآنِ أَوْ أَحْكَامِ شَرِيعَةِ مُحَمَّدٍ الثَّابِتَةِ بِالْقُرْآنِ إلَّا بِمَعْرِفَةِ أَقْسَامِ النَّظْمِ وَالْمَعْنَى فَيَجِبُ مَعْرِفَةُ الْأَقْسَامِ لِتَحْصُلَ مَعْرِفَةُ الْأَحْكَامِ، وَذَلِكَ، أَيْ الْمَذْكُورُ، وَهُوَ أَقْسَامُ النَّظْمِ وَالْمَعْنَى، فِيمَا يَرْجِعُ إلَى مَعْرِفَةِ أَحْكَامِ الشَّرْعِ احْتِرَازًا عَمَّا لَمْ يَتَعَلَّقْ بِهِ مَعْرِفَةُ الْأَحْكَامِ مِنْ الْقَصَصِ وَالْأَمْثَالِ وَالْحِكَمِ وَغَيْرِهَا إذْ هُوَ بَحْرٌ عَمِيقٌ لَا تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ وَلَا تَنْتَهِي غَرَائِبُهُ، وَلَا يُقَالُ لَيْسَ شَيْءٌ مِنْ الْقُرْآنِ مِمَّا لَا يَتَعَلَّقُ بِهِ حُكْمٌ مِنْ أَحْكَامِ الشَّرْعِ، فَإِنَّ وُجُوبَ اعْتِقَادِ الْحَقِّيَّةِ وَجَوَازَ الصَّلَاةِ وَحُرْمَةَ الْقِرَاءَةِ عَلَى الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ مِنْ أَحْكَامِ الشَّرْعِ، وَهِيَ مُتَعَلِّقَةٌ بِجَمِيعِ عِبَارَاتِ الْقُرْآنِ فَكَيْفَ يَصِحُّ هَذَا الِاحْتِرَازُ، لِأَنَّا نَقُولُ: هَذِهِ الْأَحْكَامُ، وَإِنْ تَعَلَّقَتْ بِالْجَمِيعِ لَكِنَّهُ لَمْ يَثْبُتْ مَعْرِفَتُهَا بِالْجَمِيعِ بَلْ تَثْبُتُ بِبَعْضِ النُّصُوصِ مِنْ الْكِتَابِ أَوْ السُّنَّةِ فَيَصِحُّ هَذَا الِاحْتِرَازُ قَوْلُهُ (الْأَوَّلُ فِي وُجُوهِ النَّظْمِ) وَجْهُ الشَّيْءِ طَرِيقُهُ يُقَالُ مَا وَجْهُ هَذَا الْأَمْرِ أَيْ مَا طَرِيقُهُ.

وَقَدَّمَ النَّظْمَ؛ لِأَنَّ التَّصَرُّفَ فِي اللَّفْظِ الْمَوْضُوعِ لِلْمَعْنَى مُقَدَّمٌ عَلَى التَّصَرُّفِ فِي الْمَعْنَى طَبْعًا فَيُقَدَّمُ وَضْعًا وَكَذَا قُدِّمَ الْمُفْرَدُ عَلَى الْمُرَكَّبِ لِهَذَا، صِيغَةً وَلُغَةً، قِيلَ لِكُلِّ لَفْظٍ مَعْنًى لُغَوِيٌّ، وَهُوَ مَا يُفْهَمُ مِنْ مَادَّةِ تَرْكِيبِهِ وَمَعْنًى صِيَغِيٌّ، وَهُوَ مَا يُفْهَمُ مِنْ هَيْئَتِهِ أَيْ حَرَكَاتِهِ وَسَكَنَاتِهِ وَتَرْتِيبِ حُرُوفِهِ؛ لِأَنَّ الصِّيغَةَ اسْمٌ مِنْ الصَّوْغِ الَّذِي يَدُلُّ عَلَى التَّصَرُّفِ فِي الْهَيْئَةِ لَا فِي الْمَادَّةِ فَالْمَفْهُومُ مِنْ حُرُوفِ ضَرَبَ اسْتِعْمَالُ آلَةِ التَّأْدِيبِ فِي مَحَلٍّ قَابِلٍ لَهُ وَمِنْ هَيْئَتِهِ وُقُوعُ ذَلِكَ الْفِعْلِ فِي الزَّمَانِ الْمَاضِي وَتَوَحُّدُ الْمُسْنَدِ إلَيْهِ وَتَذْكِيرُهُ وَغَيْرُ ذَلِكَ؛ وَلِهَذَا يَخْتَلِفُ كُلُّ مَعْنًى بِاخْتِلَافِ مَا يَدُلُّ عَلَيْهِ كَفَتَحَ وَيَضْرِبُ إلَّا أَنَّ فِي بَعْضِ الْأَلْفَاظِ يَخْتَصُّ الْهَيْئَةُ بِمَادَّةٍ فَلَا تَدُلُّ عَلَى الْمَعْنَى فِي غَيْرِ تِلْكَ الْمَادَّةِ كَمَا فِي رَجُلٍ مَثَلًا، فَإِنَّ الْمَفْهُومَ مِنْ حُرُوفِهِ ذَكَرٌ مِنْ بَنِي آدَمَ جَاوَزَ حَدَّ الْبُلُوغِ وَمِنْ هَيْئَتِهِ كَوْنُهُ مُكَبَّرًا غَيْرَ مُصَغَّرٍ وَوَاحِدٌ غَيْرُ جَمْعٍ وَغَيْرُ ذَلِكَ وَلَا تَدُلُّ هَذِهِ الْهَيْئَةُ فِي أَسَدٍ وَنِمْرٍ عَلَى شَيْءٍ وَفِي بَعْضِهَا كِلَاهُمَا يَدُلُّ عَلَى مَعْنًى وَاحِدٍ، وَهِيَ الْحُرُوفُ ثُمَّ فِيمَا نَحْنُ فِيهِ دَلَالَةُ اللُّغَةِ وَالصِّيغَةِ فِي الْخَاصِّ دَلَالَةُ حُرُوفِ أَسَدٍ مَثَلًا عَلَى الْهَيْكَلِ الْمَعْرُوفِ وَدَلَالَةُ هَيْئَتِهِ عَلَى تَوَحُّدِهِ وَكَوْنِهِ مُكَبَّرًا وَغَيْرَ ذَلِكَ وَلَا يَخْرُجُ الْخَاصُّ عَنْ الْخُصُوصِ بِالتَّعَرُّضِ لِمِثْلِ هَذِهِ الْعَوَارِضِ فَافْهَمْ، وَفِي الْعَامِّ دَلَالَةُ حُرُوفِ أَسَدٍ عَلَى ذَلِكَ، وَدَلَالَةُ هَيْئَتِهِ عَلَى تَكَثُّرِهِ وَعُمُومِهِ، وَفِي الْمُشْتَرَكِ دَلَالَةُ حُرُوفِ الْقُرْءِ عَلَى الْحَيْضِ أَوْ الطُّهْرِ، وَدَلَالَةُ الْهَيْئَةِ عَلَى التَّوَحُّدِ وَلَكِنَّ الظَّاهِرَ أَنَّهُمَا تَرَادُفٌ وَالْمَقْصُودُ تَقْسِيمُ النَّظْمِ بِاعْتِبَارِ مَعْنَاهُ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ لَا بِاعْتِبَارِ الْمُتَكَلِّمِ وَالسَّامِعِ فَالشَّيْخُ أَجَلُّ قَدْرًا مِنْ أَنْ يَلْتَفِتَ إلَى مِثْلِ هَذِهِ التَّكَلُّفَاتِ الَّتِي لَا تَلِيقُ بِهَذَا الْفَنِّ، الْقِسْمُ الْأَوَّلُ فِي تَقْسِيمِ النَّظْمِ نَفْسِهِ بِحَسَبِ تَوَحُّدِ مَعْنَاهُ وَتَعَدُّدِهِ،

وَالثَّانِي فِي تَقْسِيمِهِ
বস্তুত শরীয়তের বিধানসমূহ শব্দবিন্যাস এবং অর্থের প্রকারভেদ জানার মাধ্যমেই জানা যায়। আর শরীয়তের বিধানাবলি জানার ক্ষেত্রে তা চার প্রকার:‌‌ প্রথম প্রকার: শব্দবিন্যাসের রূপভেদ, গঠন ও ভাষাগত দিক থেকে এবং দ্বিতীয় প্রকার হলো সেই শব্দবিন্যাসের মাধ্যমে স্পষ্টীকরণের পদ্ধতিসমূহ। তৃতীয় প্রকার হলো সেই শব্দবিন্যাসের ব্যবহারের পদ্ধতিসমূহ এবং বর্ণনাশৈলীর ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ সম্পর্কে।

--

‌‌[কাশফুল আসরার]

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) ওজরের অবস্থার কথা বলেছেন। এমতাবস্থায় লিখিত ও বর্ণিত শব্দবিন্যাসটি পরোক্ষভাবে এবং বিধানগতভাবে বিদ্যমান থাকে। ফলে তা সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সংজ্ঞাটি ব্যাপকতা লাভ করে। আর মুসহাফসমূহে যা লিখিত এবং যা থেকে ধারাবাহিকভাবে (মুতাওয়াতির) বর্ণিত—তার ব্যাখ্যা হলো বাস্তবে বা পরোক্ষভাবে লিখন ও বর্ণনার মাধ্যমে হওয়া। অথবা আমরা বলব, তিনি (ইমাম আবু হানিফা) এটি স্বীকার করেন যে, শব্দবিন্যাস ছাড়া কেবল অর্থ কুরআন নয়; কিন্তু তিনি এটি মানেন না যে, সালাত বৈধ হওয়া কুরআন পাঠের সংজ্ঞার সাথে সংশ্লিষ্ট, বরং এটি এর অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর আল্লাহর বাণী—"কুরআন থেকে যা সহজ হয় তা পাঠ করো" [আল-মুয্যাম্মিল: ২০]—একে বহন করা হবে অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখার আবশ্যকতা হিসেবে, শব্দবিন্যাসের প্রতি নয়; তার কাছে স্পষ্ট হওয়া কোনো দলিলের কারণে। সুতরাং এতে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয় না।

 

‌‌[শরীয়তের বিধানাবলি যা দ্বারা জানা যায় তা চার প্রকার]

[প্রথম প্রকার: শব্দবিন্যাসের রূপভেদ, গঠন ও ভাষাগত দিক থেকে]

লেখকের কথা: (বস্তুত শরীয়তের বিধানসমূহ চেনা যায়) অর্থাৎ কুরআন দ্বারা প্রমাণিত শরীয়তের বিধানাবলি অথবা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত মুহাম্মদ (সা.)-এর শরীয়তের বিধানাবলি শব্দবিন্যাস ও অর্থের প্রকারভেদ জানা ছাড়া চেনা সম্ভব নয়। অতএব বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য এই প্রকারগুলো জানা আবশ্যক। আর "তা" অর্থাৎ উল্লিখিত শব্দবিন্যাস ও অর্থের প্রকারভেদসমূহ, যা শরীয়তের বিধানাবলি জানার সাথে সংশ্লিষ্ট; এটি সেই সব বিষয় থেকে সতর্ক থাকার জন্য যা বিধানাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, যেমন কিচ্ছা-কাহিনী, উপমা, প্রবাদ-প্রবচন ইত্যাদি। কেননা কুরআন এক গভীর সমুদ্র যার বিস্ময়কর বিষয়গুলো শেষ হয় না এবং এর অনন্য দিকগুলো ফুরিয়ে যায় না। আর এমনটি বলা যাবে না যে, কুরআনের কোনো কিছুই এমন নেই যার সাথে শরীয়তের কোনো বিধান সংশ্লিষ্ট নয়; কেননা সত্যতায় বিশ্বাস করা ওয়াজিব হওয়া, সালাত বৈধ হওয়া এবং অপবিত্র ও ঋতুমতী নারীর জন্য কুরআন পাঠ হারাম হওয়া শরীয়তের বিধানের অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো কুরআনের সমস্ত বাক্যরীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং এই সতর্কতা কীভাবে সঠিক হতে পারে? উত্তরে আমরা বলব: এই বিধানগুলো যদিও সবকিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট, তবে সবকিছুর মাধ্যমেই যে এগুলো জানা যায় বিষয়টি তেমন নয়; বরং কিতাব বা সুন্নাহর কিছু নির্দিষ্ট অকাট্য দলিলের মাধ্যমেই তা প্রমাণিত হয়। সুতরাং এই সতর্কতা সঠিক। তাঁর কথা: (প্রথম প্রকার: শব্দবিন্যাসের রূপভেদ) কোনো জিনিসের 'ওয়াজহ' (রূপ/দিক) মানে তার পথ। বলা হয়, এই বিষয়ের 'ওয়াজহ' কী? অর্থাৎ এর পথ কী।

তিনি শব্দবিন্যাসকে আগে এনেছেন; কারণ অর্থের জন্য নির্ধারিত শব্দের ক্ষেত্রে কোনো কাজ করা স্বভাবগতভাবেই অর্থের ব্যবহারের আগে হয়ে থাকে। তাই অবস্থানগত দিক থেকেও একে আগে রাখা হয়েছে। ঠিক একইভাবে এই কারণে একবচনকে যৌগিক শব্দের আগে রাখা হয়েছে। গঠন ও ভাষা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, প্রতিটি শব্দের একটি ভাষাগত অর্থ থাকে, যা তার মূল বর্ণ সমষ্টি থেকে বোঝা যায়। আর একটি গাঠনিক অর্থ থাকে, যা তার রূপ অর্থাৎ স্বরচিহ্ন, স্থিতি ও বর্ণের বিন্যাস থেকে বোঝা যায়। কারণ 'সিগাহ' (গঠন) শব্দটি 'সাওগ' থেকে উৎপন্ন যা উপাদানের পরিবর্তে রূপের পরিবর্তনের ওপর নির্দেশ করে। যেমন 'দ্বারাবা' (সে প্রহার করেছে) এর বর্ণগুলো থেকে বোঝা যায় এমন কোনো স্থানে শাসনের মাধ্যম ব্যবহার করা হয়েছে যা তা গ্রহণ করতে সক্ষম। আর এর গঠন থেকে বোঝা যায় সেই কাজটি অতীতকালে সংঘটিত হয়েছে, এর কর্তা একবচন ও পুংলিঙ্গ এবং আরও অনেক কিছু। এই কারণেই প্রতিটি অর্থ তার নির্দেশক শব্দের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন হয় যেমন 'ফাতাহা' (সে খুলেছে) এবং 'ইয়াদ্রিবু' (সে প্রহার করছে)। তবে কিছু শব্দের ক্ষেত্রে কাঠামোটি একটি নির্দিষ্ট উপাদানের সাথে সীমাবদ্ধ থাকে, ফলে সেই রূপটি অন্য কোনো উপাদানের ক্ষেত্রে সেই অর্থ দেয় না; যেমন 'রাজুলুন' (পুরুষ) শব্দে। এর বর্ণগুলো থেকে আদমসন্তানের এমন পুরুষকে বোঝায় যে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে, আর এর রূপ থেকে বোঝা যায় এটি মূল রূপ (মুকাব্বার), ক্ষুদ্রার্থবোধক (মুসাগ্গার) নয় এবং এটি একবচন, বহুবচন নয় ইত্যাদি। কিন্তু 'আসাদুন' (সিংহ) বা 'নিমরুন' (চিতাবাঘ) শব্দের রূপ এই অর্থ প্রদান করে না। আবার কিছু ক্ষেত্রে উভয়টিই একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে, আর তা হলো এর বর্ণগুলো। অতঃপর আমাদের আলোচ্য বিষয়ে 'খাস' (নির্দিষ্ট) শব্দের ক্ষেত্রে ভাষা ও গঠনের নির্দেশ হলো যেমন 'আসাদুন' এর বর্ণগুলো দ্বারা সেই সুপরিচিত দেহাকৃতিকে বোঝানো এবং এর রূপ দ্বারা এর একবচন হওয়া ও মূল রূপে থাকা বোঝানো। আর এই জাতীয় আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো আলোচনা করার কারণে 'খাস' তার নির্দিষ্টতা থেকে বেরিয়ে যায় না, বিষয়টি বুঝে নিন। আর 'আম' (সাধারণ) শব্দের ক্ষেত্রে 'আসাদুন' এর বর্ণগুলো সেই অর্থ দেয় কিন্তু তার রূপ এর আধিক্য ও ব্যাপকতা বোঝায়। আর 'মুশতারাক' (বহুমুখী) শব্দের ক্ষেত্রে 'কুরউন' এর বর্ণগুলো ঋতুস্রাব অথবা পবিত্রতা বোঝায় এবং এর রূপ একবচন হওয়া বোঝায়। তবে বাহ্যত এই দুটি সমার্থক এবং উদ্দেশ্য হলো শব্দবিন্যাসকে তার নিজের অর্থের বিচারে ভাগ করা, বক্তা বা শ্রোতার বিচারে নয়। সুতরাং লেখক এ জাতীয় কৃত্রিম ব্যাখ্যাগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়ার চেয়ে অনেক বড় মর্যাদার অধিকারী যা এই শাস্ত্রের জন্য উপযুক্ত নয়। প্রথম প্রকার হলো শব্দবিন্যাসের প্রকারভেদ এর অর্থের একতা ও বহুত্বের বিচারে।

এবং দ্বিতীয় প্রকার হলো এর প্রকারভেদ সংক্রান্ত...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَالرَّابِعُ فِي مَعْرِفَةِ وُجُوهِ الْوُقُوفِ عَلَى الْمُرَادِ وَالْمَعَانِي عَلَى حَسَبِ الْوُسْعِ وَالْإِمْكَانِ وَإِصَابَةِ التَّوْفِيقِ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

بَعْدَ التَّرْكِيبِ بِحَسَبِ ظُهُورِ الْمَعْنَى لِلسَّامِعِ وَخَفَائِهِ عَلَيْهِ؛ لِأَنَّ الْمُرَادَ مِنْ الْبَيَانِ هَهُنَا إظْهَارُ الْمَعْنَى أَوْ ظُهُورُهُ لِلسَّامِعِ، وَذَلِكَ إنَّمَا يَكُونُ بَعْدَ التَّرْكِيبِ، وَهُوَ الْمُرَادُ مِنْ قَوْلِهِ الْبَيَانُ بِذَلِكَ النَّظْمِ،

وَالثَّالِثُ فِي تَقْسِيمِ النَّظْمِ بِحَسَبِ اسْتِعْمَالِ الْمُتَكَلِّمِ؛ لِأَنَّ اللَّفْظَ بِسَبَبِ الِاسْتِعْمَالِ يَتَّصِفُ بِكَوْنِهِ حَقِيقَةً أَوْ مَجَازًا لَا بِالْوَضْعِ وَأَشَارَ إلَى جَانِبِ الْمُتَكَلِّمِ بِقَوْلِهِ فِي اسْتِعْمَالِ ذَلِكَ النَّظْمِ وَإِلَى جَانِبِ اللَّفْظِ وَاتِّصَافِهِ بِالْحَقِيقَةِ وَالْمَجَازِ بِقَوْلِهِ: وَجَرَيَانِهِ فِي بَابِ الْبَيَانِ،

وَالرَّابِعُ فِي وُجُوهِ الْوُقُوفِ أَيْ وُقُوفِ السَّامِعِ عَلَى مُرَادِ الْمُتَكَلِّمِ وَمَعَانِي الْكَلَامِ، وَقِيلَ الْأَقْسَامُ الثَّلَاثَةُ أَقْسَامُ النَّظْمِ، وَهَذَا قِسْمُ الْمَعْنَى بِدَلِيلِ أَنَّ الشَّيْخَ ذَكَرَ النَّظْمَ فِي الْأَقْسَامِ الثَّلَاثَةِ فَقَالَ: فِي وُجُوهِ النَّظْمِ فِي وُجُوهِ الْبَيَانِ بِذَلِكَ النَّظْمِ فِي اسْتِعْمَالِ ذَلِكَ النَّظْمِ وَذَكَرَ الْمَعَانِي فِي هَذَا الْقِسْمِ وَكَوْنُ الدَّلَالَةِ وَالِاقْتِضَاءِ مِنْ أَقْسَامِ الْمَعْنَى ظَاهِرٌ، وَكَذَا كَوْنُ الْعِبَارَةِ وَالْإِشَارَةِ؛ لِأَنَّ الْعِبَارَةَ، وَإِنْ كَانَتْ نَظْمًا إلَّا أَنَّ نَظَرَ الْمُسْتَدِلِّ إلَى الْمَعْنَى دُونَ النَّظْمِ إذْ الْحُكْمُ إنَّمَا يَثْبُتُ بِالْمَعْنَى دُونَ النَّظْمِ نَفْسِهِ، فَإِنَّ إبَاحَةَ قَتْلِ الْمُشْرِكِينَ مَثَلًا ثَبَتَ بِالْمَعْنَى الثَّابِتِ بِقَوْلِهِ تَعَالَى {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ} [التوبة: 5] لَا بِعَيْنِ النَّظْمِ إلَّا أَنَّ الْمَعْنَى لَمَّا كَانَ مَفْهُومًا مِنْ النَّظْمِ وَالْعِبَارَةِ سُمِّيَ الِاسْتِدْلَال بِهِ اسْتِدْلَالًا بِالْعِبَارَةِ، وَلَكِنَّهُ فِي الْحَقِيقَةِ اسْتِدْلَالٌ بِالْمَعْنَى الثَّابِتِ بِالْعِبَارَةِ فَصَلَحَ أَنْ يَكُونَ مِنْ أَقْسَامِ الْمَعْنَى بِهَذَا الطَّرِيقِ.

وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ جَمِيعُ الْأَقْسَامِ لِلنَّظْمِ وَالْمَعْنَى جَمِيعًا عَلَى أَنْ يَكُونَ بَعْضُ الْأَقْسَامِ لِلنَّظْمِ وَبَعْضُهَا لِلْمَعْنَى مِنْ غَيْرِ أَنْ يُعَيَّنَ الْقِسْمُ الرَّابِعُ لَهُ فَيَكُونُ الدَّلَالَةُ وَالِاقْتِضَاءُ رَاجِعَيْنِ إلَى الْمَعْنَى وَالْبَاقِي أَقْسَامُ النَّظْمِ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ النَّظْمُ، وَالْمَعْنَى دَاخِلَيْنِ فِي كُلِّ قِسْمٍ إذْ هُوَ فِي بَيَانِ أَقْسَامِ الْقُرْآنِ الَّذِي هُوَ النَّظْمُ وَالْمَعْنَى جَمِيعًا فَكَانَ الْخَاصُّ اسْمًا لِلنَّظْمِ بِاعْتِبَارِ مَعْنَاهُ، وَكَذَا الْعَامُّ وَسَائِرُ الْأَقْسَامِ وَعَلَى هَذَا الْوَجْهِ يُمْكِنُ أَنْ يَجْعَلَ الدَّلَالَةَ وَالِاقْتِضَاءَ مِنْ أَقْسَامِ النَّظْمِ وَالْمَعْنَى أَيْضًا؛ لِأَنَّ الْمَعْنَى فِيهِمَا لَا يُفْهَمُ بِدُونِ اللَّفْظِ أَيْضًا، وَهَذِهِ الْأَوْجُهُ كُلُّهَا لَا يَخْلُو عَنْ تَكَلُّفٍ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ بِحَقِيقَةِ مُرَادِ الْمُصَنِّفِ، ثُمَّ إنَّ الشَّيْخَ جَعَلَ مَعْرِفَةَ وُجُوهِ الْوُقُوفِ عَلَى الْمَعَانِي مِنْ جُمْلَةِ أَقْسَامِ الْكِتَابِ وَفِيهِ تَسَاهُلٌ وَتَسَامُحٌ؛ لِأَنَّ الْمَعَانِيَ هِيَ الَّتِي دَخَلَتْ فِي أَقْسَامِ الْكِتَابِ دُونَ مَعْرِفَةِ وُجُوهِ الْوُقُوفِ عَلَيْهَا وَلَكِنْ لَمَّا لَمْ تُعَدَّ الْمَعَانِي بِدُونِ الْوُقُوفِ عَلَيْهَا جَعَلَ مَعْرِفَةَ وُجُوهِ الْوُقُوفِ عَلَيْهَا مِنْ أَقْسَامِ الْكِتَابِ تَسَامُحًا، ثُمَّ ثَبَتَ بِمَا ذَكَرْنَا مِنْ الْأَقْسَامِ الثَّلَاثَةِ أَنَّ لِلْكَلَامِ مَعْنًى بِحَسَبِ الْوَضْعِ وَمَعْنًى بِحَسَبِ التَّرْكِيبِ وَتَقَرُّرًا عَلَى الْمَعْنَى الْوَضْعِيِّ أَوْ تَجَاوُزًا عَنْهُ بِحَسَبِ إرَادَةِ الْمُتَكَلِّمِ وَاسْتِعْمَالِهِ فَإِذَا قُلْت زَيْدٌ مُنْطَلِقٌ مَثَلًا فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مَعْنًى بِحَسَبِ الْوَضْعِ وَلَهُمَا جَمِيعًا مَعْنًى بِحَسَبِ التَّرْكِيبِ، وَهُوَ إسْنَادُ الِانْطِلَاقِ إلَى زَيْدٍ وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا حَقِيقَةٌ بِحَسَبِ إرَادَةِ الْمُتَكَلِّمِ وَتَقْرِيرُهُ إيَّاهُمَا فِي مَوْضُوعِهِمَا فَبِقَوْلِهِ الْمُرَادُ أَشَارَ إلَى هَذَا الْقِسْمِ وَبِقَوْلِهِ وَالْمَعَانِي إلَى الْقِسْمَيْنِ الْأَوَّلَيْنِ، الْوُسْعِ وَالْإِمْكَانِ.

مُتَرَادِفَانِ هَهُنَا أَيْ عَلَى قَدْرِ طَاقَةِ الْعَبْدِ، وَإِصَابَةِ التَّوْفِيقِ، مِنْ اللَّهِ تَعَالَى وَإِلَيْهِ أَشَارَ قَوْلُهُ جل جلاله {أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا} [الرعد: 17] ، قِيلَ الْمَاءُ الْقُرْآنُ، نَزَلَ لِحَيَاةِ الْجَنَانِ، كَالْمَاءِ لِلْأَبْدَانِ، وَالْأَوْدِيَةُ الْقُلُوبُ يَخْتَلِفُ فِي ضِيقِهَا وَسِعَتِهَا وَأَصْلِهَا وَصِفَتِهَا، فَيُقَرُّ فِيهَا بِقَدَرِ إقْرَارِهَا وَالْيَقِينِ، وَتَوْفِيقِ رَبِّهَا وَالتَّلْقِينِ، مَا هُوَ أَصْفَى مِنْ الْمَاءِ الْمُعَيَّنِ، وَمِنْهُ قِيلَ:

جَمِيعُ الْعِلْمِ فِي الْقُرْآنِ لَكِنْ
এবং চতুর্থ প্রকার হলো সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্দেশ্য এবং অর্থসমূহ অবগত হওয়ার পদ্ধতিসমূহ জানা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফীক প্রাপ্ত হওয়া।

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

বাক্যে বিন্যস্ত করার পর শ্রোতার কাছে অর্থের স্পষ্টতা ও অস্পষ্টতার বিচারে; কেননা এখানে 'বর্ণনা' বলতে উদ্দেশ্য হলো শ্রোতার কাছে অর্থ প্রকাশ করা বা স্পষ্ট হওয়া। আর এটি কেবল বাক্যে বিন্যাসের পরই সম্ভব হয়। তাঁর (মূল লেখকের) উক্তি 'সেই বিন্যাসের মাধ্যমে বর্ণনা' দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য।

আর তৃতীয় প্রকার হলো বক্তার ব্যবহারের বিচারে বিন্যাসের প্রকারভেদ; কেননা কোনো শব্দ ব্যবহারের কারণেই 'প্রকৃত অর্থ' (হাকিকত) বা 'রূপক অর্থ' (মাজায) গুণে গুণান্বিত হয়, কেবল আভিধানিক নির্ধারণের কারণে নয়। তিনি 'সেই বিন্যাসের ব্যবহার' উক্তির মাধ্যমে বক্তার দিকটি এবং 'বর্ণনার অধ্যায়ে তার প্রয়োগ' উক্তির মাধ্যমে শব্দের দিকটি ও তার প্রকৃত বা রূপক অর্থ হওয়ার গুণের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

চতুর্থ প্রকার হলো উপলব্ধির পদ্ধতিসমূহ নিয়ে, অর্থাৎ বক্তার উদ্দেশ্য এবং কথার অর্থের ওপর শ্রোতার অবগত হওয়া। কেউ কেউ বলেন, প্রথম তিনটি প্রকার হলো বিন্যাসের প্রকারভেদ, আর এটি হলো অর্থের প্রকারভেদ। এর প্রমাণ হলো, শেখ (মূল লেখক) প্রথম তিনটি প্রকারে বিন্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: বিন্যাসের পদ্ধতিসমূহের ক্ষেত্রে, সেই বিন্যাসের মাধ্যমে বর্ণনার পদ্ধতিসমূহের ক্ষেত্রে, সেই বিন্যাসের ব্যবহারের ক্ষেত্রে; আর এই চতুর্থ প্রকারে তিনি অর্থসমূহ উল্লেখ করেছেন। নির্দেশক অর্থ (দালালাত) এবং অপরিহার্য অর্থ (ইকতিযা) যে অর্থের প্রকারভেদ তা স্পষ্ট। তেমনিভাবে পাঠ্যার্থ (ইবারাত) এবং সংকেতার্থ (ইশারাত) ও অর্থের প্রকারভেদ; কারণ পাঠ্যার্থ যদিও শব্দবিন্যাস, কিন্তু দলীল পেশকারীর দৃষ্টি থাকে অর্থের প্রতি, বিন্যাসের প্রতি নয়। যেহেতু বিধান কেবল অর্থের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়, স্বয়ং বিন্যাসের মাধ্যমে নয়। উদাহরণস্বরূপ, মুশরিকদের হত্যা বৈধ হওয়া আল্লাহ তাআলার বাণী {সুতরাং তোমরা মুশরিকদের হত্যা করো} [আত-তাওবাহ: ৫] থেকে সাব্যস্ত অর্থের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, কেবল হুবহু শব্দবিন্যাসের কারণে নয়। তবে যেহেতু অর্থটি বিন্যাস ও পাঠ্য থেকে বোঝা যায়, তাই একে 'পাঠ্যার্থের মাধ্যমে দলীল গ্রহণ' বলা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি পাঠ্যার্থ দ্বারা সাব্যস্ত অর্থের মাধ্যমেই দলীল গ্রহণ। তাই এই হিসেবে একে অর্থের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক।

আর এটাও সম্ভব যে, সমস্ত প্রকারই বিন্যাস এবং অর্থ উভয়ের জন্য হতে পারে, এভাবে যে কিছু প্রকার বিন্যাসের জন্য এবং কিছু অর্থের জন্য, চতুর্থ প্রকারকে নির্দিষ্টভাবে অর্থের জন্য ঘোষণা করা ছাড়াই। সেক্ষেত্রে নির্দেশক অর্থ এবং অপরিহার্য অর্থ উভয়েই অর্থের দিকে ফিরে যাবে এবং বাকিগুলো বিন্যাসের প্রকার হবে। আবার এটাও হতে পারে যে, বিন্যাস এবং অর্থ প্রতিটি প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত, কেননা এটি কুরআনের প্রকারভেদ বর্ণনার ক্ষেত্রে আলোচনা হচ্ছে যা বিন্যাস ও অর্থ উভয়েরই সমষ্টি। সুতরাং 'সুনির্দিষ্ট' (খাস) শব্দটি বিন্যাসের নাম হবে তার অর্থের বিচারে, তেমনিভাবে 'ব্যাপক' (আম) এবং অন্যান্য প্রকারের ক্ষেত্রেও। এই পদ্ধতিতে নির্দেশক অর্থ এবং অপরিহার্য অর্থকেও বিন্যাস ও অর্থের প্রকারভেদ করা সম্ভব হতে পারে; কারণ এই দুই ক্ষেত্রে শব্দ ছাড়া অর্থ বোঝা যায় না। তবে এই সবগুলি ব্যাখ্যাই কষ্টকল্পনা মুক্ত নয়, আর গ্রন্থকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। এরপর শেখ অর্থসমূহ উপলব্ধির পদ্ধতিসমূহ জানাকে কিতাবের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আর এতে কিছুটা শিথিলতা ও উদারতা রয়েছে; কারণ অর্থসমূহ কিতাবের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত, তা উপলব্ধির পদ্ধতিসমূহ জানা নয়। কিন্তু যেহেতু অর্থসমূহ তা উপলব্ধি করা ছাড়া গণ্য হয় না, তাই উদারতার খাতিরে তিনি তা উপলব্ধি করার পদ্ধতিসমূহকে কিতাবের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর আমাদের উল্লিখিত তিনটি প্রকার দ্বারা এটি প্রমাণিত হলো যে, কথার একটি অর্থ রয়েছে আভিধানিক নির্ধারণের বিচারে, আর একটি অর্থ রয়েছে বাক্যে বিন্যাসের বিচারে, আর বক্তার ইচ্ছা ও ব্যবহারের বিচারে আভিধানিক অর্থের ওপর অটল থাকা বা তা অতিক্রম করা। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যখন বলেন 'যায়েদ প্রস্থানকারী', তখন তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা আভিধানিক অর্থ আছে এবং উভয়ের সম্মিলিত একটি অর্থ আছে বিন্যাসের বিচারে, যা হলো প্রস্থান করাকে যায়েদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা। আর বক্তার ইচ্ছা এবং উভয় শব্দকে তাদের স্বস্থানে বহাল রাখার বিচারে তারা উভয়েই প্রকৃত অর্থ। সুতরাং তিনি 'উদ্দেশ্য' বলে এই প্রকারে ইঙ্গিত করেছেন এবং 'অর্থসমূহ' বলে প্রথম দুই প্রকারের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। 'সাধ্য' ও 'সামর্থ্য'

এখানে সমার্থক, অর্থাৎ বান্দার শক্তি অনুযায়ী; আর তাওফীক প্রাপ্তি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। এদিকেই তাঁর (আল্লাহর) বাণী ইঙ্গিত করে: {তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, ফলে উপত্যকাসমূহ তাদের পরিমাণ অনুযায়ী প্রবাহিত হয়} [আর-রা'দ: ১৭]। বলা হয়েছে, পানি হলো কুরআন, যা অন্তরের জীবনের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে যেমন দেহের জন্য পানি। আর উপত্যকাগুলো হলো অন্তরসমূহ, যা সংকীর্ণতা, প্রশস্ততা, মূল প্রকৃতি ও গুণের দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয়। ফলে তাতে স্থির হয় স্বীয় স্থিরতা ও দৃঢ় বিশ্বাস এবং প্রতিপালকের তাওফীক ও শিক্ষা অনুযায়ী এমন কিছু, যা স্বচ্ছ প্রবাহমান পানির চেয়েও নির্মল। এ থেকেই বলা হয়েছে:

সমস্ত জ্ঞান কুরআনেই বিদ্যমান, কিন্তু...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ২৮)
أَمَّا الْقِسْمُ الْأَوَّلُ، فَأَرْبَعَةُ أَوْجُهٍ الْخَاصُّ وَالْعَامُّ وَالْمُشْتَرَكُ وَالْمُؤَوَّلُ وَالْقِسْمُ الثَّانِي أَرْبَعَةُ أَوْجُهٍ أَيْضًا الظَّاهِرُ وَالنَّصُّ وَالْمُفَسَّرُ وَالْمُحْكَمُ وَإِنَّمَا يَتَحَقَّقُ مَعْرِفَةُ هَذِهِ الْأَقْسَامِ بِأَرْبَعَةٍ أُخْرَى فِي مُقَابَلَتِهَا وَهِيَ الْخَفِيُّ وَالْمُشْكَلُ وَالْمُجْمَلُ وَالْمُتَشَابِهُ وَالْقِسْمُ الثَّالِثُ أَرْبَعَةُ أَوْجُهٍ أَيْضًا الْحَقِيقَةُ وَالْمَجَازُ وَالصَّرِيحُ وَالْكِنَايَةُ، وَالْقِسْمُ الرَّابِعُ أَرْبَعَةُ أَوْجُهٍ أَيْضًا الِاسْتِدْلَال بِعِبَارَتِهِ وَبِإِشَارَتِهِ وَبِدَلَالَتِهِ وَبِاقْتِضَائِهِ وَبَعْدَ مَعْرِفَةِ هَذِهِ الْأَقْسَامِ قِسْمٌ خَامِسٌ، وَهُوَ وُجُوهٌ أَرْبَعَةٌ أَيْضًا مَعْرِفَةُ مَوَاضِعِهَا

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

تَقَاصَرَ عَنْهُ أَفْهَامُ الرِّجَالِ

وَإِنَّمَا يَتَحَقَّقُ قَدْ تَتَأَكَّدُ مَعْرِفَةُ الشَّيْءِ بِذِكْرِ مُقَابِلِهِ وَتَسْتَفِيدُ بِهِ زِيَادَةَ وُضُوحٍ، وَإِنْ كَانَتْ ثَابِتَةً فِي نَفْسِهَا؛ وَلِهَذَا قِيلَ، وَبِضِدِّهَا تَتَبَيَّنُ الْأَشْيَاءُ، ثُمَّ فِي هَذَا الْقِسْمِ لَمَّا لَمْ يُخَالِفْ بَعْضُهُ بَعْضًا؛ لِأَنَّ الْكُلَّ ظُهُورٌ وَلَكِنَّ بَعْضَهُ أَعْلَى مِنْ بَعْضٍ بِخِلَافِ غَيْرِهِ إذْ الْخَاصُّ يُخَالِفُ الْعَامَّ وَالْحَقِيقَةُ تُخَالِفُ الْمَجَازَ اخْتَصَّهُ بِذِكْرِ مَا يُقَابِلُهُ فِي قِسْمٍ آخَرَ عَلَى حِدَةٍ دُونَ غَيْرِهِ، وَاعْلَمْ أَنَّهُ ذُكِرَ فِي عَامَّةِ الشُّرُوحِ فِي انْحِصَارِ هَذِهِ الْأَقْسَامِ وُجُوهٌ وَأَحْسَنُهَا مَا أَذْكُرُهُ وَهُوَ أَنَّ الْمَفْهُومَ مِنْ النَّظْمِ لَا يَخْلُو مِنْ أَنْ يَكُونَ رَاجِعًا إلَى نَفْسِ النَّظْمِ فَقَطْ أَوْ إلَى غَيْرِهِ فَالْأَوَّلُ هُوَ الْقِسْمُ الْأَوَّلُ،

وَالثَّانِي لَا يَخْلُو مِنْ أَنْ يَكُونَ رَاجِعًا إلَى تَصَرُّفِ الْمُتَكَلِّمِ أَوْ إلَى غَيْرِهِ، فَالْأَوَّلُ أَنْ يَكُونَ تَصَرُّفُهُ تَصَرُّفَ بَيَانٍ أَيْ إلْقَاءُ مَعْنًى إلَى السَّامِعِ، وَهُوَ الْقِسْمُ الثَّانِي أَوْ غَيْرُ ذَلِكَ، وَهُوَ الْقِسْمُ الثَّالِثُ وَالثَّانِي هُوَ الْقِسْمُ الرَّابِعُ ثُمَّ الْقِسْمُ الْأَوَّلُ، وَهُوَ نَفْسُ النَّظْمِ لَا يَخْلُو مِنْ أَنْ يَدُلَّ عَلَى مَدْلُولٍ وَاحِدٍ وَهُوَ الْخَاصُّ أَوْ أَكْثَرَ بِطَرِيقِ الشُّمُولِ وَهُوَ الْعَامُّ، أَوْ بِطَرِيقِ الْبَدَلِ مِنْ غَيْرِ تَرَجُّحِ الْبَعْضِ عَلَى الْبَاقِي وَهُوَ الْمُشْتَرَكُ، أَوْ مَعَ تَرَجُّحِهِ وَهُوَ الْمُؤَوَّلُ.

وَلَا يُفِيدُ التَّرَجُّحَ بِالدَّلِيلِ الظَّنِّيِّ احْتِرَازًا عَنْ الْمُفَسَّرِ كَمَا قَيَّدَهُ الْبَعْضُ فَقَالَ مِنْ غَيْرِ تَرَجُّحِ الْبَعْضِ بِدَلِيلٍ ظَنِّيٍّ، وَهُوَ الْمُشْتَرَكُ أَوْ مَعَ تَرَجُّحِهِ بِهِ، وَهُوَ الْمُؤَوَّلُ؛ لِأَنَّهُ يَبْقَى حِينَئِذٍ دَاخِلًا فِي قِسْمِ الْمُشْتَرَكِ بَلْ الْأَوْلَى تَرْكُ التَّقْيِيدِ وَمَنْعُ التَّرَجُّحِ فِي الْمُفَسَّرِ؛ لِأَنَّهُ إنَّمَا يَثْبُتُ فِيمَا يَبْقَى فِيهِ احْتِمَالُ غَيْرِهِ وَفِي الْمُفَسَّرِ بَطَلَ جَانِبُ الْمَرْجُوحِ بِالْكُلِّيَّةِ حَتَّى صَارَ كَالْخَاصِّ بَلْ أَقْوَى فَلَا يَدْخُلُ فِيمَا نَحْنُ فِيهِ، وَالْقِسْمُ الثَّانِي، وَهُوَ أَنْ يَكُونَ رَاجِعًا إلَى بَيَانِ الْمُتَكَلِّمِ لَا يَخْلُو مِنْ أَنْ يَكُونَ ظَاهِرُ الْمُرَادِ لِلسَّامِعِ أَوْ لَمْ يَكُنْ وَالْأَوَّلُ إنْ لَمْ يَكُنْ مَقْرُونًا بِقَصْدِ الْمُتَكَلِّمِ فَهُوَ ظَاهِرٌ، وَإِنْ كَانَ مَقْرُونًا بِهِ فَإِنْ احْتَمَلَ التَّخْصِيصَ وَالتَّأْوِيلَ فَهُوَ النَّصُّ وَإِلَّا، فَإِنَّ قَبِلَ النَّسْخَ فَهُوَ الْمُفَسَّرُ، وَإِنْ لَمْ يَقْبَلْ فَهُوَ الْمُحْكَمُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ ظَاهِرَ الْمُرَادِ فَإِمَّا إنْ كَانَ عَدَمُ ظُهُورِهِ لِغَيْرِ الصِّيغَةِ أَوْ لِنَفْسِهَا وَالْأَوَّلُ هُوَ الْخَفِيُّ وَالثَّانِي فَإِنْ أَمْكَنَ دَرْكُهُ بِالتَّأَمُّلِ فَهُوَ الْمُشْكِلُ وَإِلَّا فَإِنْ كَانَ الْبَيَانُ مَرْجُوًّا فِيهِ فَهُوَ الْمُجْمَلُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَرْجُوًّا فَهُوَ الْمُتَشَابِهُ،

وَالْقِسْمُ الثَّالِثُ، وَهُوَ أَنْ يَكُونَ رَاجِعًا إلَى الِاسْتِعْمَالِ لَا يَخْلُو مِنْ أَنْ يَكُونَ اللَّفْظُ مُسْتَعْمَلًا فِي مَوْضُوعِهِ وَهُوَ الْحَقِيقَةُ أَوْ لَا، وَهُوَ الْمَجَازُ وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا إنْ كَانَ ظَاهِرَ الْمُرَادِ بِسَبَبِ الِاسْتِعْمَالِ فَهُوَ الصَّرِيحُ وَإِلَّا فَهُوَ الْكِنَايَةُ،

وَالْقِسْمُ الرَّابِعُ، وَهُوَ قِسْمُ الِاسْتِثْمَارِ لَا يَخْلُو مِنْ أَنْ يُسْتَدَلَّ فِي إثْبَاتِ الْحُكْمِ بِالنَّظْمِ أَوْ غَيْرِهِ وَالْأَوَّلُ إنْ كَانَ مَسُوقًا لَهُ فَهُوَ الْعِبَارَةُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَهُوَ الْإِشَارَةُ وَالثَّانِي إنْ كَانَ مَفْهُومًا لُغَةً فَهُوَ الدَّلَالَةُ، وَإِنْ كَانَ مَفْهُومًا شَرْعًا فَهُوَ الِاقْتِضَاءُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَفْهُومًا لُغَةً وَلَا شَرْعًا فَهِيَ التَّمَسُّكَاتُ الْفَاسِدَةُ، وَلَكِنَّ الْأَوْلَى أَنْ نَضْرِبَ عَنْ مِثْلِ هَذِهِ التَّكَلُّفَاتِ صَفْحًا؛ لِأَنَّ بَعْضَ هَذِهِ الِانْحِصَارَاتِ غَيْرُ تَامٍّ يَظْهَرُ بِأَدْنَى تَأَمُّلٍ بَلْ يُتَمَسَّكُ فِيهِ بِالِاسْتِقْرَاءِ التَّامِّ الَّذِي هُوَ حُجَّةٌ قَطْعًا؛ لِأَنَّ الْكِتَابَ مَا يُمْكِنُ ضَبْطُهُ فِي حَقِّ هَذِهِ التَّقْسِيمَاتِ وَالِاسْتِقْرَاءُ فِيمَا يُمْكِنُ ضَبْطُهُ حُجَّةٌ قَطْعِيَّةٌ قَوْلُهُ (مَعْرِفَةُ مَوَاضِعِهَا) أَيْ مَآخِذُ اشْتِقَاقِ الْأَلْفَاظِ الَّتِي هِيَ أَسْمَاءٌ لِأَقْسَامِ الْكِتَابِ، فَهَذَا يَرْجِعُ إلَى أَسْمَاءٍ لِلْأَقْسَامِ وَقَوْلُهُ صِيغَةً وَلُغَةً إلَى نَفْسِ ذَلِكَ الْقِسْمِ، فَإِنَّ قَوْلَهُ الْمُؤْمِنُونَ
প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে চারটি দিক রয়েছে: খাস (নির্দিষ্ট), আম (সাধারণ), মুশ্তারাক (উভয়ার্থক) এবং মুআউওয়াল (ব্যাখ্যাকৃত)। দ্বিতীয় প্রকারটিও চারটি দিক সম্বলিত: জাহির (সুস্পষ্ট), নাস (সুনির্ধারিত), মুফাসসার (বিশদকৃত) এবং মুহকাম (সুদৃঢ়)। আর এই প্রকারগুলোর পরিচয় পূর্ণতা পায় এর বিপরীতে থাকা আরও চারটি বিষয়ের মাধ্যমে, সেগুলো হলো: খফি (প্রচ্ছন্ন), মুশকিল (জটিল), মুজমাল (সংক্ষিপ্ত) এবং মুতাশাবিহ (সদৃশ রূপক)। তৃতীয় প্রকারটিও চারটি দিক সম্বলিত: হাকিকত (প্রকৃত), মাজায (রূপক), সারিহ (স্পষ্ট) এবং কিনায়াহ (পরোক্ষ)। চতুর্থ প্রকারটিও চারটি দিক সম্বলিত: ইবারাত (ভাষ্য), ইশারাত (ইঙ্গিত), দালালাত (নির্দেশনা) এবং ইক্তিযা (আবশ্যকতা) দ্বারা দলিল গ্রহণ করা। এই প্রকারগুলো জানার পর পঞ্চম একটি প্রকার রয়েছে, সেটিও চারটি দিক সম্বলিত: সেগুলোর উৎস সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

—

‌[কাশফুল আসরার]

যা অনুধাবন করতে মানুষের জ্ঞান অক্ষম হয়েছে।

আর এই পরিচয় পূর্ণতা পায়—কোনো জিনিসের পরিচয় তার বিপরীত বিষয় উল্লেখ করার মাধ্যমে সুদৃঢ় হয় এবং এর ফলে তা অধিকতর স্পষ্ট হয়, যদিও তা নিজ সত্তায় প্রতিষ্ঠিত; এজন্য বলা হয়েছে, "বিপরীত জিনিসের মাধ্যমেই বিষয়সমূহ সুস্পষ্ট হয়।" অতঃপর এই প্রকারে যেহেতু এর একেকটি অপরটির বিরোধী নয়; কারণ সবগুলোই স্পষ্টতার পর্যায়, তবে একটি অপরটির চেয়ে উচ্চতর—অন্যান্য প্রকারের বিপরীত, যেখানে খাস আমের বিপরীত এবং হাকিকত মাজাযের বিপরীত—তাই লেখক একে অন্য একটি প্রকারে এর বিপরীত বিষয়গুলো পৃথকভাবে উল্লেখ করার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। জেনে রাখুন যে, অধিকাংশ ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই প্রকারগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণ হিসেবে বিভিন্ন দিক উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরটি আমি উল্লেখ করছি: শব্দমালা থেকে যা বুঝা যায় তা হয় কেবল শব্দমালার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে অথবা অন্য কিছুর সাথে। প্রথমটি হলো প্রথম প্রকার।

আর দ্বিতীয়টি হয় বক্তার আচরণের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে অথবা অন্য কিছুর সাথে। প্রথমটি হলো বক্তার আচরণ হবে বর্ণনা করার মতো, অর্থাৎ শ্রোতার কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া; এটি হলো দ্বিতীয় প্রকার। অথবা অন্য কিছু হবে; এটি হলো তৃতীয় প্রকার। আর দ্বিতীয়টি হলো চতুর্থ প্রকার। অতঃপর প্রথম প্রকার, যা খোদ শব্দমালার সাথে সংশ্লিষ্ট, তা হয় একটিমাত্র উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর দালালত করবে—সেটি হলো খাস; অথবা ব্যাপকতার ভিত্তিতে একাধিক অর্থের ওপর দালালত করবে—সেটি হলো আম; অথবা প্রাধান্য না দিয়ে বিকল্প হিসেবে একাধিক অর্থের ওপর দালালত করবে—সেটি হলো মুশ্তারাক; অথবা প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে দালালত করবে—সেটি হলো মুআউওয়াল।

আনুমানিক দলিলের মাধ্যমে প্রাধান্য দেওয়া মুফাসসার থেকে বেঁচে থাকার জন্য শর্ত করা হয়েছে। যেমন কেউ কেউ সীমাবদ্ধ করে বলেছেন—দলিল ব্যতীতই প্রাধান্য পাওয়া হলো মুশ্তারাক, আর দলিলের মাধ্যমে প্রাধান্য পাওয়া হলো মুআউওয়াল; কারণ সেক্ষেত্রে তা মুশ্তারাক প্রকারের অন্তর্ভুক্ত থেকে যায়। বরং উত্তম হলো এই সীমাবদ্ধতা বর্জন করা এবং মুফাসসার-এর ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাওয়াকে অস্বীকার করা। কারণ এটি সেখানেই সাব্যস্ত হয় যেখানে অন্য অর্থের সম্ভাবনা থাকে। অথচ মুফাসসারের ক্ষেত্রে অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত দিকটি সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যায়, এমনকি তা খাসের মতো হয়ে যায়, বরং তার চেয়েও শক্তিশালী। সুতরাং এটি আমাদের আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না। দ্বিতীয় প্রকার হলো যা বক্তার বর্ণনার দিকে ফিরে আসে। তা হয় শ্রোতার নিকট উদ্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট হবে অথবা হবে না। প্রথম ক্ষেত্রে যদি তা বক্তার উদ্দেশ্যের সাথে যুক্ত না হয়, তবে তা জাহির। আর যদি যুক্ত হয়, তবে তাতে যদি খাস বা অপব্যাখ্যার সম্ভাবনা থাকে তবে তা নাস; অন্যথায় যদি রহিতকরণ গ্রহণ করে তবে তা মুফাসসার, আর যদি রহিতকরণ গ্রহণ না করে তবে তা মুহকাম। আর যদি উদ্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট না হয়, তবে সেই অস্পষ্টতা যদি শব্দের গঠন ছাড়া অন্য কারণে হয় তবে তা খফি। আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে (গঠনগত অস্পষ্টতা), যদি চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে তা বুঝা সম্ভব হয় তবে তা মুশকিল। অন্যথায় যদি বর্ণনার আশা থাকে তবে তা মুজমাল, আর যদি বর্ণনার আশা না থাকে তবে তা মুতাশাবিহ।

তৃতীয় প্রকার হলো যা ব্যবহারের সাথে সংশ্লিষ্ট। শব্দটি হয় তার মূল অর্থে ব্যবহৃত হবে—যা হাকিকত, অথবা হবে না—যা মাজায। এগুলোর প্রত্যেকটি ব্যবহারের কারণে যদি উদ্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট হয় তবে তা সারিহ, অন্যথায় তা কিনায়াহ।

চতুর্থ প্রকার হলো ফলাফল অর্জনের প্রকার। হুকুম সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে হয় শব্দমালার দ্বারা দলিল গ্রহণ করা হবে অথবা অন্য কিছুর দ্বারা। প্রথম ক্ষেত্রে যদি সেটির জন্যই কালামটি আনা হয়ে থাকে তবে তা ইবারাত, আর যদি সেটির জন্য না হয় তবে তা ইশারাত। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে যদি তা ভাষাগতভাবে বুঝা যায় তবে তা দালালাত, আর যদি শরয়িভাবে বুঝা যায় তবে তা ইক্তিযা। আর যদি ভাষাগত বা শরয়ি কোনোভাবেই বুঝা না যায় তবে তা বাতিল আঁকড়ে ধরা। কিন্তু এ জাতীয় কৃত্রিম ব্যাখ্যা এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম; কারণ এই সীমাবদ্ধতাগুলোর কিছু অসম্পূর্ণ যা সামান্য চিন্তা করলেই প্রকাশ পায়। বরং এক্ষেত্রে পূর্ণ অনুসন্ধানের ওপর নির্ভর করা হয় যা অকাট্য দলিল; কারণ কিতাবুল্লাহর ক্ষেত্রে এই বিভাজনগুলো সুসংজ্ঞায়িত করা সম্ভব, আর যা সুসংজ্ঞায়িত করা সম্ভব সেখানে 'অনুসন্ধান' অকাট্য দলিল। লেখকের উক্তি (সেগুলোর উৎস সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা): অর্থাৎ সেই শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিগত উৎস যা কিতাবুল্লাহর প্রকারভেদের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি প্রকারগুলোর নামের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর তার উক্তি গঠনগত ও ভাষাগতভাবে—সেই প্রকারগুলোর খোদ সত্তার দিকে প্রত্যাবর্তন করে। যেমন আল্লাহর বাণী: মুমিনগণ...
(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَمَعَانِيهَا وَتَرْتِيبِهَا وَأَحْكَامِهَا

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

مَثَلًا يَدُلُّ عَلَى مُسَمَّيَيْنِ مَوْصُوفَيْنِ بِالْإِيمَانِ صِيغَةً وَلُغَةً ثُمَّ سُمِّيَ هَذَا اللَّفْظُ بِالْعَامِّ فَمَأْخَذُ اشْتِقَاقِ هَذَا الْقِسْمِ الْعُمُومُ وَقِسْ عَلَيْهِ، وَتَرْتِيبِهَا.

أَيْ تَقْدِيمِ بَعْضِهَا عَلَى الْبَعْضِ عِنْدَ التَّعَارُضِ كَمَا فِي النَّصِّ مَعَ الظَّاهِرِ أَوْ فِي الْوُجُودِ كَمَا فِي الْعَامِّ مَعَ الْخَاصِّ، وَمَعَانِيهَا، أَيْ حَقَائِقِهَا وَحُدُودِهَا فِي اصْطِلَاحِ الْأُصُولِيِّينَ، وَأَحْكَامِهَا، أَيْ الْآثَارِ الثَّابِتَةِ بِهَا مِنْ ثُبُوتِ الْحُكْمِ بِهَا قَطْعًا أَوْ ظَنًّا وَوُجُوبِ التَّوَقُّفِ وَغَيْرِ ذَلِكَ، قَالَ عَامَّةُ الشَّارِحِينَ: لَمَّا انْقَسَمَ مَا يَرْجِعُ إلَى مَعْرِفَةِ أَحْكَامِ الشَّرْعِ مِنْ الْكِتَابِ عِشْرِينَ قِسْمًا ثُمَّ انْقَسَمَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهَا بِاعْتِبَارِ هَذَا الْقِسْمِ أَرْبَعَةَ أَقْسَامٍ صَارَ أَقْسَامُ الْكِتَابِ ثَمَانِينَ قِسْمًا، وَلَكِنَّهُ مُشْكِلٌ؛ لِأَنَّ التَّقْسِيمَ عَلَى أَنْوَاعٍ، تَقْسِيمُ الْجِنْسِ إلَى أَنْوَاعِهِ بِأَنْ يُؤْخَذَ بِزِيَادَةِ قَيْدٍ قَيْدٌ، وَهُوَ التَّقْسِيمُ الْمُصْطَلَحُ بَيْنَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَلَا بُدَّ فِيهِ مِنْ أَنْ يَكُونَ مَوْرِدُ التَّقْسِيمِ مُشْتَرَكًا بَيْنَ أَقْسَامٍ، فَإِنَّك إذَا قَسَّمْت الْجِسْمَ إلَى جَمَادٍ وَحَيَوَانٍ كَانَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا جِسْمًا، وَإِذَا قَسَّمْت الْحَيَوَانَ إلَى إنْسَانٍ وَفَرَسٍ وَطَيْرٍ كَانَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا جِسْمًا وَحَيَوَانًا، وَتَقْسِيمُ الْكُلِّ إلَى أَجْزَائِهِ كَتَقْسِيمِ الْإِنْسَانِ إلَى الْحَيَوَانِ وَالنَّاطِقِ.

وَلَا يَسْتَقِيمُ فِيهِ إطْلَاقُ اسْمِ الْكُلِّ عَلَى كُلِّ قِسْمٍ بِطَرِيقِ الْحَقِيقَةِ، فَإِنَّ اسْمَ الْإِنْسَانِ لَا يُطْلَقُ عَلَى الْحَيَوَانِ وَالنَّاطِقِ بَلْ يُطْلَقُ عَلَى الْمَجْمُوعِ، وَتَقْسِيمُ الشَّيْءِ بِاعْتِبَارِ أَوْصَافِهِ كَتَقْسِيمِ الْإِنْسَانِ إلَى عَالِمٍ وَكَاتِبٍ وَأَبْيَضَ وَأَسْوَدَ وَلَا بُدَّ فِيهِ مِنْ اشْتِرَاكِ مَوْرِدِ التَّقْسِيمِ أَيْضًا، وَمِنْ أَنْ يُوجَدَ فِي الْجَمِيعِ مَنْ يُوصَفُ بِالْكِتَابَةِ دُونَ الْعِلْمِ وَبِالْبَيَاضِ دُونَ السَّوَادِ وَبِالْعَكْسِ لِيَتَمَيَّزَ كُلُّ قِسْمٍ عَنْ غَيْرِهِ فِي الْخَارِجِ، وَلَيْسَ مَا نَحْنُ بِصَدَدِهِ مِنْ قَبِيلِ الْأَوَّلِ لِعَدَمِ اشْتِرَاكِ مَوْرِدِ التَّقْسِيمِ فِيهِ بَيْنَ الْأَقْسَامِ إذْ لَا يُمْكِنُ أَنْ يُحْكَمَ عَلَى مَأْخَذِ الْعَامِّ مَثَلًا بِأَنَّهُ عَامٌّ وَلَا عَلَى مَأْخَذِ الْمَجَازِ بِأَنَّهُ مَجَازٌ بَلْ لَا يُمْكِنُ أَنْ يُحْكَمَ عَلَى مَا ذَكَرْنَا أَنَّهُ مِنْ الْكِتَابِ وَأَصْلُ مَوْرِدِ التَّقْسِيمِ الْكِتَابُ، وَلَا مِنْ قَبِيلِ الثَّانِي؛ لِأَنَّ مَعْرِفَةَ مَوْضِعِ الِاشْتِقَاقِ لَيْسَ مِنْ أَجْزَاءِ الْخَاصِّ وَكَذَا مَعْرِفَةُ مَعْنَاهُ وَحُكْمِهِ وَتَرْتِيبِهِ وَقِسْ عَلَيْهِ سَائِرَ الْأَقْسَامِ وَلَا مِنْ قَبِيلِ الثَّالِثِ؛ لِأَنَّ مَوْرِدَ التَّقْسِيمِ لَيْسَ بِمُشْتَرَكٍ؛ وَلِأَنَّ مَعْرِفَةَ مَأْخَذِ اشْتِقَاقِ لَفْظِ الْخَاصِّ لَيْسَ وَصْفًا لِحَقِيقَةِ الْخَاصِّ، وَهُوَ لَفْظُ الطَّوَافِ أَوْ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ مَثَلًا كَمَا أَنَّ مَعْرِفَةَ مَأْخَذِ اشْتِقَاقِ لَفْظِ الْإِنْسَانِ لَا يَكُونُ وَصْفًا لِحَقِيقَةِ الْإِنْسَانِ وَكَذَا مَعْرِفَةُ مَعْنَاهُ وَحُكْمِهِ وَتَرْتِيبِهِ لَيْسَتْ مِنْ أَوْصَافِهِ فَلَا يَسْتَقِيمُ بِهَذَا الِاعْتِبَارِ أَيْضًا كَمَا لَا يَسْتَقِيمُ أَنْ يُقَالَ الْإِنْسَانُ أَقْسَامٌ قِسْمٌ مِنْهُ أَنَّ مَأْخَذَ اسْمِهِ الْإِنْسُ وَقِسْمٌ مِنْهُ أَنَّ مَعْنَاهُ حَيَوَانٌ نَاطِقٌ وَقِسْمٌ مِنْهُ أَنَّهُ مُقَدَّمٌ عَلَى الْفَرَسِ فِي الشَّرَفِ.

وَلَئِنْ سَلَّمْنَا أَنَّ الْمَعَانِيَ الْمَذْكُورَةَ مِنْ أَوْصَافِ كُلِّ فَرْدٍ بِاعْتِبَارِ تَعَلُّقِهَا بِهِ إذْ صَحَّ أَنْ يُقَالَ الْخَاصُّ الَّذِي مَأْخَذُ اشْتِقَاقِ اسْمِهِ كَذَا أَوْ مَعْنَاهُ كَذَا أَوْ حُكْمُهُ كَذَا لَا يَسْتَقِيمُ أَيْضًا إذْ لَا بُدَّ مِنْ أَنْ يَتَمَيَّزَ كُلُّ قِسْمٍ عَنْ غَيْرِهِ بِمَا يَخُصُّهُ لِيَظْهَرَ فَائِدَةُ التَّقْسِيمِ وَيُمْكِنُ الْقَوْلُ بِأَنَّ الْخَاصَّ أَرْبَعَةُ أَقْسَامٍ وَالْعَامَّ كَذَلِكَ إلَى آخِرِ الْأَقْسَامِ وَقَدْ تَعَذَّرَ ذَلِكَ هَهُنَا؛ لِأَنَّ الْمَعَانِيَ الْمَذْكُورَةَ لَازِمَةٌ لِكُلِّ فَرْدٍ مِنْ أَفْرَادِ كُلِّ قِسْمٍ إذْ مَا مِنْ خَاصٍّ إلَّا وَلِاسْمِهِ مَأْخَذٌ وَلَهُ مَعْنًى وَحُكْمٌ وَتَرْتِيبٌ فَكَيْفَ يَتَمَيَّزُ خَاصٌّ عَنْ خَاصٍّ بِاعْتِبَارِ هَذِهِ الْمَعَانِي، وَهَذَا كَمَا يُقَالُ الْإِنْسَانُ قِسْمَانِ قِسْمٌ مِنْهُ عَرِيضُ الْأَظْفَارِ وَقِسْمٌ مِنْهُ مُسْتَوِي الْقَامَةِ وَفَسَادُهُ ظَاهِرٌ؛ لِأَنَّ الْمَعْنَيَيْنِ مِنْ لَوَازِمِ كُلِّ فَرْدٍ فِيمَ
এবং সেগুলোর অর্থসমূহ, সেগুলোর বিন্যাস ও সেগুলোর বিধানসমূহ

—

‌‌[কাশফুল আসরার]

উদাহরণস্বরূপ, এটি রূপগত ও ভাষাগতভাবে ঈমান দ্বারা বিশেষিত দুটি সত্তাকে নির্দেশ করে, অতঃপর এই শব্দটিকে 'আম' (সাধারণ) নামে নামকরণ করা হয়েছে। সুতরাং এই প্রকারের ব্যুৎপত্তিগত উৎস হলো 'উমুম' (সাধারণতা), এবং অন্যান্য বিষয়কে এর ওপর অনুমান করুন; আর সেগুলোর বিন্যাস।

অর্থাৎ বিরোধের সময় একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া, যেমন 'জাহির'-এর বিপরীতে 'নস'-এর ক্ষেত্রে অথবা অস্তিত্বের ক্ষেত্রে যেমন 'খাস'-এর বিপরীতে 'আম'-এর ক্ষেত্রে। এবং সেগুলোর অর্থসমূহ অর্থাৎ উসুলবিদদের পরিভাষায় সেগুলোর হাকিকত বা প্রকৃত রূপ এবং সংজ্ঞা। আর সেগুলোর বিধানসমূহ অর্থাৎ সেগুলোর মাধ্যমে সাব্যস্ত হওয়া প্রভাবসমূহ; যেমন—সুনিশ্চিতভাবে অথবা ধারণাপ্রসূতভাবে বিধান সাব্যস্ত হওয়া এবং স্থগিত রাখা (তাওয়াক্কুফ) ওয়াজিব হওয়া ইত্যাদি। অধিকাংশ ব্যাখ্যাকার বলেন: যখন কিতাবুল্লাহ থেকে শরয়ি বিধানসমূহ জানার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ বিশটি প্রকারে বিভক্ত হলো, অতঃপর এগুলোর প্রত্যেকটি আবার এই পন্থায় চারটি করে উপ-প্রকারে বিভক্ত হলো, তখন কিতাবুল্লাহর প্রকারভেদ আশিটিতে দাঁড়ালো। কিন্তু এটি একটি জটিল বিষয়; কারণ বিভাজন কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন—লিঙ্গ বা শ্রেণিকে তার প্রজাতিসমূহে বিভক্ত করা, যেখানে অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করার মাধ্যমে ভাগ করা হয়। এটিই আলেমদের নিকট প্রচলিত পারিভাষিক বিভাজন এবং এতে বিভাজনের উৎস বা মূল বিষয়টি সকল প্রকারের মধ্যে সাধারণ বা বিদ্যমান থাকা আবশ্যক। যেমন—আপনি যদি 'বস্তু'কে জড় পদার্থ ও প্রাণী হিসেবে বিভক্ত করেন, তবে এদের প্রত্যেকটিই এক একটি 'বস্তু'। আবার যদি আপনি 'প্রাণী'কে মানুষ, ঘোড়া ও পাখিতে বিভক্ত করেন, তবে তাদের প্রত্যেকটিই 'বস্তু' ও 'প্রাণী'। আবার কোনো পূর্ণাঙ্গ সত্তাকে তার অংশসমূহে বিভক্ত করা, যেমন মানুষকে প্রাণী ও বাকশক্তিমান সত্তা হিসেবে বিভক্ত করা।

এক্ষেত্রে প্রতিটি প্রকারের ওপর পূর্ণাঙ্গ সত্তার নাম প্রকৃতপক্ষে প্রয়োগ করা সঠিক নয়। কারণ 'মানুষ' নামটি কেবল 'প্রাণী' বা কেবল 'বাকশক্তিমান'-এর ওপর প্রয়োগ করা হয় না, বরং উভয়ের সমষ্টির ওপর প্রয়োগ করা হয়। এবং কোনো বিষয়কে তার গুণাবলির ভিত্তিতে বিভক্ত করা; যেমন মানুষকে আলেম, লেখক, শ্বেতবর্ণ ও কৃষ্ণবর্ণ হিসেবে বিভক্ত করা। এক্ষেত্রেও বিভাজনের মূল বিষয়টি সকলের মধ্যে বিদ্যমান থাকা আবশ্যক এবং এমন ব্যক্তি পাওয়া যেতে হবে যাকে ইলম ছাড়া কেবল লেখনীর গুণে গুণান্বিত করা যায়, অথবা কৃষ্ণবর্ণ ছাড়া শ্বেতবর্ণের অধিকারী হিসেবে পাওয়া যায় এবং এর বিপরীতও হতে পারে, যাতে বহির্বাস্তবে প্রতিটি প্রকার অন্যটি থেকে আলাদা হতে পারে। আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি তা প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ এতে বিভাজনের মূল বিষয়টি বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে সাধারণ বা অভিন্ন নয়। কেননা উদাহরণস্বরূপ—'আম'-এর ব্যুৎপত্তিগত উৎসের ওপর 'আম' হওয়ার বিধানারোপ করা সম্ভব নয়, কিংবা 'মাজাজ'-এর ব্যুৎপত্তিগত উৎসের ওপর 'মাজাজ' হওয়ার হুকুম দেওয়া যায় না। বরং আমরা যা উল্লেখ করেছি সেটির ওপর 'কিতাবুল্লাহ' হওয়ার হুকুম দেওয়া সম্ভব নয়, অথচ বিভাজনের মূল উৎস হলো 'কিতাবুল্লাহ'। আবার এটি দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্তও নয়; কারণ ব্যুৎপত্তির স্থান জানা 'খাস'-এর কোনো অংশ নয়। তেমনিভাবে এর অর্থ, বিধান ও বিন্যাস সম্পর্কে জানাও 'খাস'-এর অংশ নয়; অন্যান্য প্রকারের ক্ষেত্রেও একই কথা। এটি তৃতীয় প্রকারেরও অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ বিভাজনের মূল উৎস এখানে সাধারণ বা অভিন্ন নয় এবং 'খাস' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত উৎস সম্পর্কে জানা 'খাস'-এর হাকিকত বা প্রকৃত সত্তার কোনো গুণ নয়। যেমন উদাহরণস্বরূপ—'তাওয়াফ', 'রুকু' কিংবা 'সিজদা' শব্দগুলো।

ঠিক যেভাবে 'মানুষ' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত উৎস সম্পর্কে জ্ঞান থাকা মানুষের প্রকৃত সত্তার কোনো গুণ নয় এবং তার অর্থ, বিধান ও মর্যাদা বা বিন্যাস জানাও তার গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং এই বিবেচনায় এটি সঠিক হতে পারে না, যেমনটি বলা সঠিক নয় যে—'মানুষ কয়েক প্রকার: এক প্রকার হলো যার নামের উৎস হলো 'উনস' (আকর্ষণ), অন্য প্রকার হলো যার অর্থ 'বাকশক্তিমান প্রাণী', এবং আরও এক প্রকার হলো যে মর্যাদার দিক থেকে ঘোড়ার অগ্রবর্তী।' আমরা যদি মেনেও নিই যে, উল্লিখিত অর্থগুলো প্রতিটি ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্টতার বিবেচনায় তার গুণাবলি—যেহেতু এটি বলা সঠিক যে, 'খাস' হলো তা যার নামের ব্যুৎপত্তি এই, যার অর্থ এই এবং যার বিধান এই—তবও এটি সঠিক হবে না। কারণ বিভাজনের উপযোগিতা স্পষ্ট করার জন্য প্রতিটি প্রকারকে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে অন্যটি থেকে স্বতন্ত্র হতে হবে এবং তবেই এটি বলা সম্ভব হবে যে—'খাস চার প্রকার এবং আম-ও চার প্রকার', এভাবে শেষ পর্যন্ত। কিন্তু এখানে বিষয়টি অসম্ভব; কারণ উল্লিখিত অর্থগুলো প্রতিটি প্রকারের প্রতিটি ব্যক্তির জন্য অবিচ্ছেদ্য গুণ। কেননা এমন কোনো 'খাস' নেই যার নামের কোনো উৎস নেই এবং যার কোনো অর্থ, বিধান ও বিন্যাস নেই। সুতরাং এই অর্থগুলোর বিবেচনায় এক 'খাস' থেকে অন্য 'খাস'-কে কীভাবে আলাদা করা যাবে? এটি ঠিক সেই কথার মতো—'মানুষ দুই প্রকার: এক প্রকার হলো প্রশস্ত নখবিশিষ্ট এবং অন্য প্রকার হলো সোজা দেহবিশিষ্ট'। এর অসারতা সুস্পষ্ট; কারণ এই উভয় অর্থই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য অবিচ্ছেদ্য গুণ...

(খণ্ড: ১) কাশফুল আসরার আন উসূলি ফাখরিল ইসলামিল বাজদাবী (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَأَصْلُ الشَّرْعِ هُوَ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ فَلَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يُقَصِّرَ فِي هَذَا الْأَصْلِ بَلْ يَلْزَمُهُ مُحَافَظَةُ النَّظْمِ وَمَعْرِفَةُ أَقْسَامِهِ وَمَعَانِيهِ مُفْتَقِرًا إلَى اللَّهِ تَعَالَى مُسْتَعِينًا بِهِ رَاجِيًا أَنْ يُوَفِّقَهُ بِفَضْلِهِ.

 

أَمَّا الْخَاصُّ فَكُلُّ لَفْظٍ وُضِعَ لِمَعْنًى وَاحِدٍ عَلَى الِانْفِرَادِ

ــ

‌‌[كشف الأسرار]

يَتَمَيَّزُ أَحَدُ الْقِسْمَيْنِ عَنْ الْآخَرِ، وَلَا يُقَالُ التَّمْيِيزُ بَيْنَ الْمَعْنَيَيْنِ ثَابِتٌ فِي الْعَقْلِ فَيَكْفِي ذَلِكَ لِصِحَّةِ التَّقْسِيمِ، لِأَنَّا نَقُولُ ذَلِكَ سَاقِطُ الِاعْتِبَارِ فِي التَّقْسِيمِ إذْ التَّكَلُّفُ إلَى هَذَا الْحَدِّ فِي التَّقْسِيمِ لَيْسَ مِنْ عَادَةِ أَهْلِ الْعِلْمِ، وَإِنَّك لَا تَجِدُ تَقْسِيمًا فِي نَوْعٍ مِنْ الْعُلُومِ خُصُوصًا فِي الْعُلُومِ الْإِسْلَامِيَّةِ بِهَذَا الِاعْتِبَارِ فَثَبَتَ أَنَّ تَقْسِيمَ الْكِتَابِ عَلَى ثَمَانِينَ قِسْمًا غَيْرُ مُتَّضِحٍ بَلْ الْأَقْسَامُ عِشْرُونَ كَمَا ذَكَرَهُ الشَّيْخُ وَلَكِنْ لِكُلِّ قِسْمٍ مَعْنًى وَحُكْمٌ وَتَرْتِيبٌ وَلِاسْمِهِ مَأْخَذٌ عَلَى أَنَّ فِي كَوْنِهَا عِشْرِينَ قِسْمًا كَلَامًا أَيْضًا.

وَاعْلَمْ بِأَنَّ الشَّيْخَ رحمه الله لَمْ يُرِدْ بِقَوْلِهِ قِسْمٌ خَامِسٌ أَنَّهُ قَسِيمُ الْأَقْسَامِ الْأَرْبَعَةِ الْمُتَقَدِّمَةِ؛ لِأَنَّهُ لَا يَسْتَقِيمُ لِمَا ذَكَرْنَا بَلْ أَرَادَ أَنَّ مَعْرِفَةَ تِلْكَ الْأَقْسَامِ مُتَوَقِّفَةٌ عَلَى هَذَا الْقِسْمِ فَكَأَنَّهُ قِسْمٌ خَامِسٌ لَهَا، وَهُوَ كَمَا يُقَالُ الْمُفَصَّلُ هُوَ السُّبْعُ الثَّامِنُ مِنْ الْكَشَّافِ لِتَوَقُّفِ مَعْرِفَةِ الْكَشَّافِ عَلَيْهِ لَا أَنَّهُ مِنْهُ حَقِيقَةً.

قَوْلُهُ (وَأَصْلُ الشَّرْعِ هُوَ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ) خَصَّهُمَا بِالذِّكْرِ؛ لِأَنَّ هَذِهِ الْأَقْسَامَ تُوجَدُ فِيهِمَا دُونَ الْإِجْمَاعِ؛ وَلِأَنَّ أَكْثَرَ الْأَحْكَامِ تَثْبُتُ بِهِمَا؛ وَلِأَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا أَصْلٌ لِلْبَاقِي عَلَى مَا قِيلَ؛ لِأَنَّ الْحُكْمَ لِلَّهِ تَعَالَى وَحْدَهُ وَقَوْلُ الرَّسُولِ لَيْسَ بِحُكْمٍ بَلْ هُوَ مُخْبِرٌ عَنْ اللَّهِ جل جلاله وَالْكِتَابُ هُوَ كَلَامُ اللَّهِ تَعَالَى فَيَكُونُ هُوَ أَصْلَ الْكُلِّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ لَكِنَّا لَا نَعْرِفُ كَلَامَ اللَّهِ تَعَالَى إلَّا بِقَوْلِ الرَّسُولِ عليه السلام لِأَنَّا لَا نَسْمَعُ مِنْ اللَّهِ تَعَالَى وَلَا مِنْ جَبْرَائِيلُ عليه السلام فَيَكُونُ مَعْرِفَةُ كَلَامِ اللَّهِ تَعَالَى مُتَوَقِّفَةٌ عَلَى قَوْلِ الرَّسُولِ فَيَكُونُ هُوَ الْأَصْلُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَأَمَّا الْإِجْمَاعُ فَفَرْعٌ لَهُمَا ثُبُوتًا مِنْ كُلِّ وَجْهٍ، وَإِنْ كَانَ فِي إثْبَاتِ الْأَحْكَامِ أَصْلًا مُطْلَقًا، ثُمَّ قَالَ فَلَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يُقَصِّرَ فِي هَذَا الْأَصْلِ، أَيْ الْكِتَابِ وَلَمْ يَقُلْ فِي هَذَيْنِ الْأَصْلَيْنِ مَعَ سَبْقِ ذِكْرِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ؛ لِأَنَّهُ الْآنَ فِي بَيَانِ الْكِتَابِ دُونَ السُّنَّةِ؛ فَلِهَذَا أَفْرَدَهُ بِالذِّكْرِ، وَمُحَافَظَةُ النَّظْمِ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ عِبَارَةً عَنْ الْحِفْظِ الَّذِي هُوَ ضِدُّ النِّسْيَانِ أَيْ يَحْفَظُهُ وَيَضْبِطُ أَقْسَامَهُ وَمَعَانِيَهُ وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ عِبَارَةً عَنْ الْمُحَافَظَةِ الَّتِي هِيَ ضِدُّ التَّرْكِ وَالتَّضْيِيعِ أَيْ بِجَعْلِهِ نُصْبَ عَيْنِهِ وَأَمَامَ نَفْسِهِ جَاهِدًا فِي مَعْرِفَةِ أَقْسَامِهِ وَمَعَانِيهِ غَيْرِ مُجَاوِزٍ عَنْ حُدُودِهِ، وَقَوْلُهُ مُفْتَقِرًا مُسْتَعِينًا رَاجِيًا أَحْوَالٌ عَنْ الضَّمِيرِ الْمَنْصُوبِ فِي يَلْزَمُهُ.

 

‌‌[تَعْرِيف الْخَاصُّ]

قَوْلُهُ (أَمَّا الْخَاصُّ إلَى آخِرِهِ) فَقَوْلُهُ كُلُّ لَفْظٍ عَامٌّ يَتَنَاوَلُ جَمِيعَ الْمُسْتَعْمَلَاتِ وَالْمُهْمَلَاتِ وَمَا يَكُونُ دَلَالَتُهُ بِالطَّبْعِ كَأَخِ عَلَى الْوَجَعِ وَأَحْ عَلَى السُّعَالِ، وَهُوَ جَارٍ مَجْرَى الْجِنْسِ بِالنِّسْبَةِ إلَى مَا ذَكَرْنَا، فَبِقَوْلِهِ وُضِعَ لِمَعْنًى، خَرَجَ غَيْرُ الْمُسْتَعْمَلَاتِ عَنْ الْحَدِّ، وَالْمُرَادُ بِالْوَضْعِ، وَهُوَ تَخْصِيصُ اللَّفْظِ بِإِزَاءِ الْمَعْنَى أَوْ تَعْيِينُ اللَّفْظَةِ بِإِزَاءِ مَعْنًى بِنَفْسِهَا لَازَمَتْهُ، وَهِيَ الدَّلَالَةُ عَلَى الْمَعْنَى النَّاشِئَةِ مِنْ جِهَةِ الْوَضْعِ فَيَدْخُلُ فِيهِ الْحَقِيقَةُ وَالْمَجَازُ، وَبِقَوْلِهِ وَاحِدٍ خَرَجَ، الْمُشْتَرَكُ؛ لِأَنَّهُ مَوْضُوعٌ لِأَكْثَرَ مِنْ وَاحِدٍ عَلَى سَبِيلِ الْبَدَلِ وَخَرَجَ الْمُطْلَقُ أَيْضًا عَلَى قَوْلِ مَنْ لَمْ يَجْعَلْ الْمُطْلَقَ خَاصًّا وَلَا عَامًّا، وَهُوَ قَوْلُ بَعْضِ مَشَايِخِنَا وَبَعْضِ أَصْحَابِ الشَّافِعِيِّ رحمهم الله لِأَنَّ الْمُطْلَقَ لَيْسَ بِمُتَعَرِّضٍ لِلْوَحْدَةِ وَلَا لِلْكَثْرَةِ؛ لِأَنَّهُمَا مِنْ الصِّفَاتِ، وَهُوَ مُتَعَرِّضٌ لِلذَّاتِ دُونَ الصِّفَاتِ، وَبِقَوْلِهِ عَلَى الِانْفِرَادِ، خَرَجَ الْعَامُّ، فَإِنَّهُ وُضِعَ لِمَعْنًى وَاحِدٍ شَامِلٍ لِلْأَفْرَادِ إذْ الْمُرَادُ مِنْ قَوْلِهِ عَلَى الِانْفِرَادِ كَوْنُ اللَّفْظِ مُتَنَاوِلًا لِمَعْنًى وَاحِدٍ مِنْ حَيْثُ إنَّهُ وَاحِدٌ مَعَ قَطْعِ النَّظَرِ عَنْ أَنْ يَكُونَ لَهُ
শরীয়তের মূল উৎস হলো কিতাব ও সুন্নাহ। অতএব, কারো পক্ষে এই মূল উৎসের ব্যাপারে অবহেলা করা বৈধ নয়; বরং তার জন্য আবশ্যক হলো এর বাচনভঙ্গির (নযম) রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং আল্লাহ তাআলার প্রতি মুখাপেক্ষী হয়ে, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তাঁর অনুগ্রহে তাওফীক লাভের আশা রেখে এর প্রকারভেদ ও অর্থসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

 

আর 'খাস' (নির্দিষ্ট) হলো এমন প্রতিটি শব্দ, যা এককভাবে একটি মাত্র অর্থের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ــ

‌‌[কাশফুল আসরার]

এক প্রকার অন্যটি থেকে স্বতন্ত্র হয়। এটি বলা যাবে না যে, দুই অর্থের মধ্যবর্তী পার্থক্য বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুসাব্যস্ত, তাই বিভাজন সঠিক হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট। কেননা আমরা বলি, বিভাজনের ক্ষেত্রে এটি বিবেচনার অযোগ্য। কারণ বিভাজনের ক্ষেত্রে এই পর্যায় পর্যন্ত কষ্টকল্পনা করা আহলে ইলম বা জ্ঞানীদের অভ্যাস নয়। আপনি কোনো প্রকারের জ্ঞানে, বিশেষ করে ইসলামী জ্ঞানসমূহের ক্ষেত্রে এই বিবেচনায় কোনো বিভাজন পাবেন না। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, কিতাবকে আশিটি প্রকারে বিভক্ত করা স্পষ্ট নয়; বরং প্রকারসমূহ হলো বিশটি, যেমনটি শাইখ উল্লেখ করেছেন। তবে প্রতিটি প্রকারের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র অর্থ, বিধান ও বিন্যাস এবং এর নামকরণের ভিত্তিও রয়েছে; যদিও বিশটি প্রকার হওয়ার ব্যাপারেও আলোচনা রয়েছে।

জেনে রাখুন যে, শাইখ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর 'পঞ্চম প্রকার' কথাটি দ্বারা এটি বুঝাতে চাননি যে, এটি পূর্ববর্তী চারটি প্রকারের সমান্তরাল কোনো প্রকার; কারণ আমরা যা উল্লেখ করেছি তার প্রেক্ষিতে এটি সঠিক হয় না। বরং তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, ওই প্রকারগুলোর পরিচয় এই প্রকারটির ওপর নির্ভরশীল, তাই এটি যেন তাদের জন্য একটি পঞ্চম প্রকার। এটি তেমনই যেমন বলা হয়ে থাকে যে, 'মুফাসসাল' হলো 'কাশশাফ' এর অষ্টম সপ্তম অংশ, যেহেতু কাশশাফের পরিচয় এর ওপর নির্ভরশীল, বাস্তবে এটি তার অংশ নয় বলে।

তাঁর কথা: (শরীয়তের মূল উৎস হলো কিতাব ও সুন্নাহ)—তিনি এই দুটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন কারণ এই প্রকারগুলো ইজমা (ঐক্যমত) ব্যতীত এই দুটির মধ্যেই পাওয়া যায়; এবং যেহেতু অধিকাংশ বিধান এই দুটির মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়; এবং যেহেতু বলা হয়ে থাকে যে, এই দুটির প্রতিটিই অবশিষ্টগুলোর জন্য মূল। কেননা বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহ তাআলারই, আর রাসূলের কথা স্বয়ং কোনো বিধান নয়, বরং তিনি আল্লাহ জল্লা জালালুহু-র পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদানকারী। কিতাব হলো আল্লাহ তাআলার কালাম, তাই এই দিক থেকে এটিই সবকিছুর মূল। কিন্তু আমরা আল্লাহ তাআলার কালাম সম্পর্কে রাসূল (আলাইহিস সালাম)-এর কথা ব্যতীত জানতে পারি না, কারণ আমরা সরাসরি আল্লাহ তাআলার থেকে কিংবা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) থেকে শুনি না। ফলে আল্লাহ তাআলার কালামের পরিচয় রাসূলের কথার ওপর নির্ভরশীল হয়, ফলে এই দিক থেকে রাসূলের কথা মূল হিসেবে গণ্য হয়। আর ইজমা হলো সব দিক থেকে এই দুটির একটি শাখা, যদিও বিধান প্রমাণের ক্ষেত্রে এটি একটি নিরঙ্কুশ মূল। অতঃপর তিনি বলেছেন: "অতএব কারো জন্য এই মূল উৎসের ব্যাপারে অবহেলা করা বৈধ নয়।" কিতাব ও সুন্নাহর উল্লেখ আগে থাকলেও তিনি "এই দুটি মূল উৎসের" বলেননি। কারণ তিনি এখন কিতাবের বর্ণনায় আছেন, সুন্নাহর বর্ণনায় নয়; এই কারণেই তিনি একে এককভাবে উল্লেখ করেছেন। আর 'নযম' বা বাচনভঙ্গির রক্ষণাবেক্ষণ বলতে হয়তো মুখস্থ রাখাকে বুঝানো হয়েছে যা বিস্মৃতির বিপরীত; অর্থাৎ এটি মুখস্থ রাখবে এবং এর প্রকারভেদ ও অর্থসমূহ আয়ত্ত করবে। আবার এমন রক্ষণাবেক্ষণও উদ্দেশ্য হতে পারে যা বর্জন ও নষ্ট করার বিপরীত; অর্থাৎ একে নিজের চোখের সামনে এবং নিজের সম্মুখে রাখবে, এর প্রকারভেদ ও অর্থসমূহ জানতে সচেষ্ট হবে এবং এর সীমানা অতিক্রম করবে না। আর তাঁর উক্তি "মুখাপেক্ষী হয়ে, সাহায্য প্রার্থনা করে এবং আশা রেখে"—এগুলো 'ইয়ালযামুহু' ক্রিয়ার কর্মবাচক সর্বনাম থেকে হাল বা অবস্থা হিসেবে এসেছে।

 

‌‌[খাস-এর সংজ্ঞা]

তাঁর উক্তি (আর খাস হলো... শেষ পর্যন্ত): তাঁর উক্তি "প্রতিটি শব্দ" এটি একটি ব্যাপক শব্দ যা সমস্ত ব্যবহৃত, অব্যবহৃত এবং প্রাকৃতিক নির্দেশক শব্দকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন ব্যথার ক্ষেত্রে 'আখ' এবং কাশির ক্ষেত্রে 'আহ' শব্দ। এটি আমাদের উল্লিখিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সাধারণ শ্রেণীর স্থলাভিষিক্ত। এরপর "একটি অর্থের জন্য নির্ধারিত" বলার মাধ্যমে অব্যবহৃত শব্দগুলো সংজ্ঞা থেকে বের হয়ে গেল। আর 'ওয়াদ' বা নির্ধারণ বলতে উদ্দেশ্য হলো অর্থ প্রকাশের জন্য শব্দকে সুনির্দিষ্ট করা অথবা শব্দকে এমন একটি অর্থের জন্য নির্দিষ্ট করা যা শব্দটির সাথেই লেগে থাকে; আর এটিই হলো নির্ধারণের দিক থেকে অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশকতা। এর মধ্যে হাকীকত (প্রকৃত অর্থ) এবং মাজায (রূপক অর্থ) উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হবে। আর "একটি" বলার মাধ্যমে 'মুশতারাক' বের হয়ে গেল; কারণ তা একের অধিক অর্থের জন্য পর্যায়ক্রমে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত। এর মাধ্যমে 'মুতলাক' শব্দও বের হয়ে গেল তাদের মতানুসারে যারা মুতলাককে খাস বা আম কোনোটিই ধরেন না। এটি আমাদের কোনো কোনো মাশায়েখ এবং ইমাম শাফিয়ী (রহমাতুল্লাহি আলাইহিম)-এর কোনো কোনো অনুসারীর অভিমত। কারণ মুতলাক শব্দটি একত্ব বা বহুত্বের কোনোটিকেই স্পর্শ করে না; কেননা এ দুটি হলো গুণ, আর মুতলাক কেবল সত্তাকে স্পর্শ করে, গুণকে নয়। আর "এককভাবে" কথাটি দ্বারা 'আম' বের হয়ে গেল। কারণ আম-কেও এমন একটি অর্থের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে যা তার সকল ব্যক্তিকে শামিল করে। কেননা "এককভাবে" কথাটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—শব্দটি একটি অর্থকে একক হওয়ার দিক থেকেই বুঝাবে, সেখানে অন্য কিছু থাকার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না।