(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: -)
بحث عقدي في لفظ السيد القسم: العقيدة
الكتاب: بحث عقدي في لفظ السيد
المؤلف: يوسف بن محمد السعيد
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السادسة والثلاثون العدد (112) 1424هـ/2004م
عدد الصفحات: 216
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
'আস-সাইয়্যিদ' শব্দের উপর একটি আকিদাহগত গবেষণা বিভাগ: আকিদাহ
বই: 'আস-সাইয়্যিদ' শব্দের উপর একটি আকিদাহগত গবেষণা
লেখক: ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ আস-সাঈদ
প্রকাশক: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ৩৬তম বর্ষ, সংখ্যা (১১২) ১৪২৪ হিজরি/২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
مقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد: فهذا بحث جمعت فيه ماوقفت عليه مما يتعلق بلفظ " السيد " من الأحكام الاعتقادية، والذي حملني على الكتابة في هذا الموضوع: أهميته، وهذه الأهمية يمكن إيجاز بيانها في الآتي:
أولا: تعلقه بمبحث أسماء الله ـ تعالى ـ يعني هل هذا اللفظ من أسماء الله ـ تعالى ـ أو ليس من أسمائه، ولا ريب أن البحث في هذا من أشرف البحوث، إذ شرف العلم بشرف المعلوم.
ثانيا: وجود مسائل كثيرة متعلقة به تحتاج إلى بحث، فهناك ـ على سبيل المثال ـ بعض النصوص جاء فيها ما فهم منه بعض العلماء المنع من إطلاق لفظ السيد على المخلوق، بينما جاءت نصوص صريحة تدل على جواز ذلك، وهذه تحتاج إلى نظر.
ثالثا: لما لهذا الموضوع من ارتباط وثيق بألفاظ الناس، فهذا اللفظ يسمع كثيرا في وسائل الإعلام المختلفة، ويوجد في المكاتبات، وفي المخاطبات وغير ذلك، والناس يحتاجون إلى بيان حكم إطلاق هذا اللفظ.
رابعا: استخدام هذا اللفظ في غير محله من كثير من الناس، كإطلاقه على المنافق والكافر والفاسق والمبتدع ونحو ذلك، وإطلاقه على المخلوق ويقصد به ما يقصد به لفظ الرب والإله، وهذا عند كثير من الغلاة.
خامسا: وجود بعض البدع المتعلقة بهذا الموضوع.
ولكوني لم أقف على بحث يلم شتات هذا الموضوع، فقد استعنت
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর প্রচুর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর: এটি এমন একটি গবেষণা যাতে আমি 'সাইয়্যিদ' শব্দটির আকিদাগত বিধান সংক্রান্ত যে সমস্ত বিষয়ের সন্ধান পেয়েছি তা একত্রিত করেছি। এই বিষয়ে লেখার পেছনে আমাকে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো এর গুরুত্ব। এই গুরুত্ব সংক্ষেপে নিম্নরূপে ব্যক্ত করা যেতে পারে:
প্রথমত: মহান আল্লাহর নামসমূহের আলোচনার সাথে এর সম্পৃক্ততা। অর্থাৎ, এই শব্দটি কি মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নাকি তাঁর নাম নয়? আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিষয়ে গবেষণা করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ, কারণ বিষয়ের গুরুত্ব অনুযায়ীই জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়।
দ্বিতীয়ত: এর সাথে সংশ্লিষ্ট এমন অনেক মাসআলা বা সমস্যা রয়েছে যা গবেষণার দাবি রাখে। উদাহরণস্বরূপ, এমন কিছু উদ্ধৃতি বা বর্ণনা রয়েছে যেখান থেকে কোনো কোনো আলেম সৃষ্টির ক্ষেত্রে 'সাইয়্যিদ' শব্দ ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা বুঝেছেন, আবার এমন কিছু সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যা এর বৈধতা প্রমাণ করে। তাই এই বিষয়গুলো পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
তৃতীয়ত: মানুষের দৈনন্দিন কথাবার্তার সাথে এই বিষয়ের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম, চিঠিপত্র এবং পারস্পরিক কথোপকথনে এই শব্দটি প্রচুর ব্যবহৃত হতে শোনা যায়। তাই এই শব্দ ব্যবহারের বিধান বর্ণনা করা মানুষের জন্য একান্ত প্রয়োজন।
চতুর্থত: অনেক মানুষের পক্ষ থেকে এই শব্দের অপপ্রয়োগ। যেমন: মুনাফিক, কাফের, ফাসেক এবং বিদআতিদের ক্ষেত্রে এই শব্দের ব্যবহার। আবার সৃষ্টির ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করে এমন অর্থ উদ্দেশ্য করা যা মূলত 'রব' বা 'ইলাহ' শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা অনেক চরমপন্থীদের মাঝে লক্ষ্য করা যায়।
পঞ্চমত: এই বিষয় সংক্রান্ত কিছু বিদআতের উপস্থিতি।
যেহেতু এই বিষয়ের বিক্ষিপ্ত আলোচনাগুলোকে একত্রিত করে এমন কোনো স্বতন্ত্র গবেষণার সন্ধান আমি পাইনি, তাই আমি সাহায্য প্রার্থনা করেছি
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৪)
بسيدي ومولاي، وهو خير مستعان به على الكتابة في هذا الموضوع، وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت، وإليه أنيب، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
* خطة البحث:
جاء البحث بعد هذه المقدمة في ثلاثة فصول وخاتمة:
الفصل الأول: التعريف اللغوي.
الفصل الثاني: حكم إطلاقه على الله ـ تعالى ـ ومعناه في حقه، وآثار هذا الاسم، وحكم الدعاء به، ويشتمل على أربعة مباحث:
المبحث الأول: حكم إطلاقه على الله ـ تعالى ـ.
المبحث الثاني: معناه في حق الله ـ جل وعلا ـ.
المبحث الثالث: آثار هذا الاسم.
المبحث الرابع: حكم الدعاء به.
الفصل الثالث: تعلقه بالمخلوقين، ويشتمل على خمسة مباحث:
المبحث الأول: حكم إطلاقه على المخلوقين.
المبحث الثاني: سيادة النبي ـ ? ـ وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: سيادته في الدنيا والآخرة.
المطلب الثاني: في بيان أنه ـ ? ـ لم يخبر بسيادته على وجه الفخر.
المطلب الثالث: في بيان شمولية سيادته لآدم ـ ? ـ وبنيه.
المطلب الرابع: في بيان تحريم إطلاق لفظ (سيد ولد آدم) أو (سيد الناس) أو (سيد الكل) ونحوها على أحد غير النبي ـ ?.
المبحث الثالث: حكم إطلاقه على المرأة.
المبحث الرابع: حكم إطلاقه على المنافق والكافر.
المبحث الخامس: حكم إطلاقه على المبتدع.
الخاتمة.
আমার মালিক ও অভিভাবকের সাহায্যে, আর এই বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে তিনিই সর্বোত্তম সাহায্যকারী। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর মাধ্যমেই, আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমি প্রত্যাবর্তন করি। আর আল্লাহ তাআলার সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
* গবেষণার পরিকল্পনা:
এই ভূমিকার পর গবেষণাটি তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত হয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: ভাষাগত পরিচয়।
দ্বিতীয় অধ্যায়: আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে এর প্রয়োগের বিধান, তাঁর শানে এর অর্থ, এই নামের প্রভাবসমূহ এবং এর মাধ্যমে দোয়ার বিধান; যা চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে এর প্রয়োগের বিধান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার শানে এর অর্থ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই নামের প্রভাবসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এর মাধ্যমে দোয়ার বিধান।
তৃতীয় অধ্যায়: মাখলুক বা সৃষ্টির সাথে এর সম্পৃক্ততা; যা পাঁচটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মাখলুক বা সৃষ্টির ক্ষেত্রে এর প্রয়োগের বিধান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব, এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অহঙ্কারবশত নিজের শ্রেষ্ঠত্বের কথা জানাননি—এর বর্ণনায়।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আদম (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সন্তানদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপকতার বর্ণনায়।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: 'আদম সন্তানদের নেতা' বা 'মানুষের নেতা' বা 'সবার নেতা' এবং এই জাতীয় শব্দাবলি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারো ওপর প্রয়োগ নিষিদ্ধ হওয়ার বর্ণনায়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নারীর ক্ষেত্রে এর প্রয়োগের বিধান।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুনাফিক ও কাফেরের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগের বিধান।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিদআতির ক্ষেত্রে এর প্রয়োগের বিধান।
উপসংহার।
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৫)
الفصل الأول: التعريف اللغويالسيد: من ساد يسود سيادة وسوددا وسيدودة.
وهذه الكلمة على وزن فيعل من فعل واوي: ساد يسود، وهذا قول أهل البصرة (1)، وإنما جمعوه على (سادة) على وزن (فَعَلَة) التي لا يجمع عليها إلا (فاعل) لأنهم قدروا أنهم جمعوا (سائد) كقائد وقادة، وذائد وذادة، والجمع القياسي لـ (فيعل): (فياعل) ولذلك جمعوا (سيد) على (سيائد) وهو قياس؛ لكنه قليل الاستعمال.
وقيل: وزنه على (فعيل) ولذلك جمع على (سادة) قياسا، كما في (سري) و (سراة) ولا نظير لهما، يدل على ذلك أنه يجمع على سيائدة ـ بالهمز ـ مثل: أفيال وأفائلة، وتبيع وتبائعة (2).
والذين قالوا: إن أصله سَيْود ـ على وزن فَيْعِِل ـ قالوا: إن الواو فيه قلبت إلى ياء؛ لأجل الياء الساكنة قبلها، ثم أدغمت (3).
وسيد صفة مشبهة، وفيه معنى أقوى من اسم الفاعل المجرد " سائد "، فقد نقل صاحب القاموس أن السائد دون السيد (4).
كما أنه يمتاز عن صيغة اسم الفاعل بالتحقق والثبوت.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ভাষাগত সংজ্ঞাআস-সাইয়্যিদ: এটি সাদা (সাদ), ইয়াসুদু, সিয়াদাহ্, সুদাদ এবং সাইদুদাহ্ শব্দমূল থেকে আগত।
এই শব্দটি ‘ফায়ইাল’ ওজনে গঠিত এবং এর মূল ক্রিয়াটি ওয়াও-ভিত্তিক (ওয়াউয়ি): ‘সাদা ইয়াসুদু’। এটি বসরাবাসীদের (বসরিয়্যিন) অভিমত (১)। তারা এর বহুবচন হিসেবে ‘সা-দাতুন’ ব্যবহার করে যা ‘ফা’আলাহ্’ ওজনের; সাধারণত ‘ফা-ইল’ ওজন ব্যতীত অন্য কোনো ওজনের বহুবচন এই ওজনে হয় না। তারা এটি এই বিবেচনায় করেছেন যেন তারা ‘সা-ইদ’-এর বহুবচন করেছেন, যেমন ‘কা-ইদ’ থেকে ‘কা-দাহ্’ এবং ‘যা-ইদ’ থেকে ‘যা-দাহ্’। ‘ফায়ইাল’ ওজনের জন্য নিয়মিত (কিয়্যাসি) বহুবচন হলো ‘ফায়া-ইল’, সে কারণেই তারা ‘সাইয়্যিদ’-এর বহুবচন ‘সায়ায়িদ’ করেছেন এবং এটিই ভাষাগত নিয়ম; তবে এর ব্যবহার কম।
আবার বলা হয়েছে: এর ওজন ‘ফায়িল’। তাই নিয়মিত নিয়ম অনুযায়ী এর বহুবচন ‘সা-দাতুন’ হয়েছে, যেমন ‘সারিয়্যুন’ থেকে ‘সারা-তুন’ হয় এবং এ দুটির কোনো উপমা নেই। এর প্রমাণ হলো এটি ‘সায়াইদাহ্’ —হামযাসহ— ওজনেও বহুবচন হয়, যেমন ‘আফয়াল’ থেকে ‘আফায়িলাহ্’ এবং ‘তাবি’ থেকে ‘তাবায়িআহ্’ (২)।
যারা বলেন এর মূল রূপ হলো ‘সাইয়্যুদ’ —যা ‘ফায়ইিল’ ওজনে— তারা বলেন যে, এর পূর্বে ইয়া সাকিন থাকার কারণে ওয়াও-টি ইয়াতে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এরপর তা সন্ধি (ইদগাম) করা হয়েছে (৩)।
‘সাইয়্যিদ’ হলো একটি স্থায়ী গুণবাচক শব্দ (সিফাতে মুশাব্বাহ), এতে মূল কতৃবাচক বিশেষ্য (ইসমে ফায়েল) ‘সা-ইদ’ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী অর্থ বিদ্যমান। ‘আল-কামুস’ অভিধানের রচয়িতা উল্লেখ করেছেন যে, ‘সা-ইদ’-এর মর্যাদা ‘সাইয়্যিদ’-এর তুলনায় কম (৪)।
তদুপরি এটি স্থায়িত্ব ও সাব্যস্ততার দিক থেকে ইসমে ফায়েল থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৬)
قال الفراء (ت 207): ((هذا سيد قومه اليوم، فإذا أخبرت أنه عن قليل يكون سيدهم قلت: هو سائد قومه وسيد)) (1).
وقد ذكر اللغويون معاني عدة لهذا اللفظ، فقد جاء عن عكرمة أنه قال: ((السيد: الذي لا يغلبه غضبه)) (2).
وقال قتادة (ت 117 أو 118): ((هو العابد، الورع، الحليم)) (3).
وقال أبو خيرة نهشل بن زيد ـ رحمه الله تعالى ـ: ((سمي سيدا؛ لأنه يسود سواد الناس، أي: معظمهم)) (4).
وقال الأصمعي (ت 212) ـ رحمه الله تعالى ـ: العرب تقول: السيد: ((كل مقهور مغمور بحلمه)) (5).
وقال النضر بن شميل (ت203) ـ رحمه الله تعالى ـ: ((السيد: الذي فاق غيره، ذو العقل والمال والدفع والنفع، المعطي ماله في حقوقه، المعين بنفسه، فذلك السيد)) (6).
وقال الراغب (ت502) ـ رحمه الله تعالى ـ: ((والسيد: المتولي للسواد، أي: الجماعة الكثيرة، وينسب إلى ذلك، فيقال: سيد القوم، ولا يقال: سيد الثوب وسيد الفرس، ويقال: ساد القوم يسودهم، ولما كان من
--------------------------------------------
আল-ফাররা (মৃত্যু ২০৭) বলেছেন: "সে আজ তার সম্প্রদায়ের সায়্যিদ (নেতা), আর যদি আপনি সংবাদ দেন যে সে শীঘ্রই তাদের নেতা হবে, তবে বলবেন: সে তার সম্প্রদায়ের সায়িদ ও সায়্যিদ।" (১)।
ভাষাবিদগণ এই শব্দটির বেশ কিছু অর্থ উল্লেখ করেছেন। ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সায়্যিদ হলেন সেই ব্যক্তি, যাকে তার ক্রোধ পরাভূত করতে পারে না।" (২)।
কাতাদাহ (মৃত্যু ১১৭ বা ১১৮) বলেছেন: "তিনি হলেন ইবাদতকারী, পরহেযগার ও ধৈর্যশীল।" (৩)।
আবু খাইরাহ নাহশাল বিন যায়েদ—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—বলেছেন: "তাঁকে সায়্যিদ নাম দেওয়া হয়েছে; কারণ তিনি মানুষের সোয়াদ অর্থাৎ তাদের বিশাল জনসমষ্টিকে নেতৃত্ব দেন।" (৪)।
আল-আসমাঈ (মৃত্যু ২১২)—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—বলেছেন: আরবরা বলে: সায়্যিদ হলো: "প্রত্যেক সেই ব্যক্তি যে তার ধৈর্যের দ্বারা (ক্রোধ বা প্রতিকূলতাকে) পরাভূত ও আচ্ছন্ন করে রাখে।" (৫)।
আন-নাদর বিন শুমাইল (মৃত্যু ২০৩)—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—বলেছেন: "সায়্যিদ হলেন সেই ব্যক্তি যিনি অন্যদের ছাড়িয়ে গেছেন; যিনি বুদ্ধি, সম্পদ, প্রতিরক্ষা ও উপকারের অধিকারী; যিনি প্রাপ্য ক্ষেত্রে স্বীয় সম্পদ দান করেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে সাহায্য করেন; তিনিই হলেন সায়্যিদ।" (৬)।
আর-রাগিব (মৃত্যু ৫০২)—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—বলেছেন: "আর সায়্যিদ হলেন তিনি, যিনি সোয়াদ অর্থাৎ বিশাল জনসমষ্টির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে সম্বন্ধ করে বলা হয়: সম্প্রদায়ের সায়্যিদ; কিন্তু কাপড়ের সায়্যিদ বা ঘোড়ার সায়্যিদ বলা হয় না। আর বলা হয়: সে সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দিয়েছে। আর যেহেতু..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৭)
شرط المتولي للجماعة أن يكون مهذب النفس قيل لكل من كان فاضلا في نفسه: سيد، وعلى ذلك قوله: {وَسَيِّداً وَحَصُوراً} ((1)، وقوله: {وَأَلْفَيَا سَيِّدَهَا لَدَى الْبَاب} (2) فسمى الزوج سيدا لسياسة زوجته، وقوله: {رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا} (3) أي: ولاتنا وسائسينا)) (4).
وقال الفراء (ت 207) ـ رحمه الله تعالى ـ: ((السيد: الملك، والسيد: الرئيس، والسيد: الحليم، والسيد: السخي، وسيد العبد: مولاه، والأنثى من كل ذلك بالهاء، وسيد المرأة: زوجها، وسيد كل شيء أشرفه وأرفعه)) (5).
وقال ابن الأثير (ت 606) ـ رحمه الله تعالى ـ: ((والسيد يطلق على الرب، والمالك، والشريف، والفاضل، والكريم، والحليم، ومتحمل أذى قومه، والزوج، والرئيس، والمقدم)) ((6).
والسودد والسؤدد: الشرف.
والمسوَّد ـ بضم الميم، وفتح السين، وفتح الواو المشددة ـ: السيد.
والمسود ـ بفتح الميم، وضم السين ـ: من ساده غيره.
--------------------------------------------
জামায়াত বা দলের দায়িত্বশীলের শর্ত হলো তাকে আত্ম-পরিশীলিত হতে হবে। বলা হয়ে থাকে যে, যার মাঝে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব বা গুণ রয়েছে তাকেই 'সাইয়্যেদ' (নেতা/অধিপতি) বলা হয়। আর সে আলোকেই আল্লাহর বাণী: {একজন সাইয়্যেদ (নেতা) ও সংযমী} (১), এবং তাঁর বাণী: {তারা দরজার কাছে মহিলার স্বামীকে (সাইয়্যেদকে) পেল} (২)। এখানে স্বামীকে তার স্ত্রীর অভিভাবকত্ব বা পরিচালনার কারণে 'সাইয়্যেদ' বলা হয়েছে। এবং তাঁর বাণী: {হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নেতাদের ও বড়দের আনুগত্য করেছিলাম} (৩), অর্থাৎ: আমাদের শাসক ও পরিচালকবৃন্দ (৪)।
আল-ফাররা (মৃত্যু ২০৭ হি.) —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— বলেন: ((সাইয়্যেদ অর্থ: রাজা, সাইয়্যেদ অর্থ: প্রধান, সাইয়্যেদ অর্থ: সহনশীল, সাইয়্যেদ অর্থ: দানশীল; দাসের সাইয়্যেদ হলো তার মালিক, আর এগুলোর প্রত্যেকটির স্ত্রীলিঙ্গ হবে শেষে 'হা' যুক্ত করে; নারীর সাইয়্যেদ হলো তার স্বামী, আর যেকোনো জিনিসের সাইয়্যেদ হলো তার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ অংশ)) (৫)।
ইবনুল আসীর (মৃত্যু ৬০৬ হি.) —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— বলেন: ((সাইয়্যেদ শব্দটি রব, মালিক, উচ্চবংশীয়, গুণী, উদার, সহনশীল, স্বজাতির কষ্ট সহ্যকারী, স্বামী, প্রধান এবং অগ্রগণ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়)) (৬)।
'সুদদ' ও 'সু’দাদ' অর্থ: মর্যাদা বা আভিজাত্য।
'মুসাউওয়াদ' —মীম বর্ণে পেশ, সীন-এ যবর এবং তাশদীদযুক্ত ওয়াও-এ যবর সহকারে— এর অর্থ: সাইয়্যেদ বা নেতা।
'মাসুদ' —মীম বর্ণে যবর এবং সীন-এ পেশ সহকারে— এর অর্থ: যাকে অন্য কেউ পরিচালনা করে বা যার ওপর অন্য কেউ কর্তৃত্ব করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৮)
واستاد القوم بني فلان: قتلوا سيدهم، أو أسروه، أو خطبوا إليه (1).
وتسود الرجل: إذا ساد، وسود: إذا جعله غيره سيدا.
قال عمر ـ ? ـ: ((تفقهوا قبل أن تسودوا)) (2).
قال شمر: معناه: تعلموا العلم قبل أن تزوجوا، فتصيروا أرباب بيوت، فتشغلوا بالزواج عن العلم، من قولهم: استاد الرجل (3).
وقال أبو عبيد: ((يقول: تعلموا العلم ما دمتم صغارا قبل أن تصيروا سادة رؤساء منظورا إليهم)) (4).
وبناء على ما تقدم ظهر أن ثمة معاني لهذا اللفظ، وهذه المعاني لها أثر كبير في توجيه النصوص الواردة، فإنزال النصوص على شيء من هذه المعاني يرفع الإشكال، والله أعلم.
--------------------------------------------
এবং অমুক গোত্রকে 'ইস্তাদ' করা হলো: অর্থাৎ তারা তাদের নেতাকে হত্যা করল, অথবা তাকে বন্দী করল, অথবা তার কাছে বিবাহের প্রস্তাব পাঠাল (১)।
কোনো ব্যক্তি 'তাসাওওয়াদা' হলো: যখন সে নেতৃত্ব লাভ করল। আর 'সুউওয়িদা' হলো: যখন অন্য কেউ তাকে নেতা বানাল।
উমর (রা.) বলেছেন: "তোমরা নেতা হওয়ার আগেই দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করো" (২)।
শাম্মার বলেন: এর অর্থ হলো: তোমরা বিবাহ করার আগে জ্ঞান অর্জন করো, কারণ তখন তোমরা গৃহকর্তা হয়ে যাবে এবং বিবাহ তোমাদেরকে জ্ঞান অর্জন থেকে বিমুখ করে রাখবে। এটি তাদের কথা 'ইস্তাদার রাজুল' (লোকটি বিবাহ করেছে) থেকে এসেছে (৩)।
আবু উবাইদ বলেন: "তিনি বলছেন: তোমরা শৈশব থেকেই জ্ঞান অর্জন করো, তোমরা নেতা, প্রধান ও সবার দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার আগে" (৪)।
পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে স্পষ্ট হলো যে, এই শব্দটির বেশ কিছু অর্থ রয়েছে। আর এই অর্থগুলোর বর্ণিত দলীলসমূহের ব্যাখ্যায় বিশাল প্রভাব রয়েছে। সুতরাং এই অর্থগুলোর আলোকে দলীলসমূহ প্রয়োগ করলে অস্পষ্টতা দূর হয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৯)
الفصل الثاني: حكم إطلاق إسم السيد على الله ـ تعالى ـ ومعناه في حقه، وآثار هذا الاسم، وحكم الدعاء به
المبحث الأول: حكم إطلاق السيد على الله ـ تعالى…الفصل الثاني:
المبحث الأول: إطلاق السيد على الله ـ تعالى
إن اسم (السيد) من أسماء الله ـ جل وعلا ـ الثابتة، ولم يأت لفظه في القرآن الكريم (1)، وهذا الاسم الكريم من الأسماء الدالة على صفات عديدة.
والدليل على أنه من أسماء الله ـ تعالى ـ حديث عبد الله بن الشخير ـ ? ـ حيث قال: ((انطلقت في وفد بني عامر إلى رسول الله ـ ? ـ فقلنا: أنت سيدنا، فقال رسول الله ـ ? ـ: ((السيد الله)) قلنا: فأفضلنا فضلا، وأعظمنا طولا، فقال ـ ? ـ: ((قولوا بقولكم أو ببعض قولكم، ولا يستجرينكم الشيطان)) (2).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: মহান আল্লাহর প্রতি ‘আস-সাইয়্যিদ’ নাম ব্যবহারের বিধান, তাঁর ক্ষেত্রে এর অর্থ, এই নামের প্রভাব এবং এর মাধ্যমে দুআ করার বিধানপ্রথম পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর প্রতি ‘আস-সাইয়্যিদ’ নাম ব্যবহারের বিধান...দ্বিতীয় অধ্যায়:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর প্রতি ‘আস-সাইয়্যিদ’ নাম ব্যবহারের বিধান
নিশ্চয়ই ‘আস-সাইয়্যিদ’ (সর্দার/প্রভু) নামটি মহান আল্লাহর সুসাব্যস্ত নামসমূহের একটি। এই শব্দটির উচ্চারণ পবিত্র কুরআনে আসেনি (১), আর এই সম্মানিত নামটি অনেকগুলো গুণ নির্দেশকারী নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
এটি যে মহান আল্লাহর নামসমূহের একটি, তার প্রমাণ হলো আবদুল্লাহ বিন আশ-শিখখীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস, যেখানে তিনি বলেন: "আমি বনী আমেরের এক প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট গেলাম। আমরা বললাম: আপনি আমাদের সাইয়্যিদ (সর্দার/নেতা)। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((সাইয়্যিদ হলেন আল্লাহ))। আমরা বললাম: তবে আপনি আমাদের মধ্যে মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ এবং দানে সবচেয়ে মহান। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((তোমরা তোমাদের কথা অথবা তোমাদের কথার কিছু অংশ বলো, আর শয়তান যেন তোমাদেরকে প্ররোচিত না করে)) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭০)
وقد أثبت هذا الاسم جماعة من العلماء منهم: الحافظ ابن مندة (1) (310 - 395)، والحليمي (2) (338 - 403)، وأبو بكر البيهقي (3) (384 - 458)، وقوام السنة أبو القاسم إسماعيل التيمي الأصبهاني (4) (457 - 535).
وذهب جماعة من العلماء إلى أنه ليس من أسماء الله ـ تعالى ـ، وذلك لأنهم يرون ضعف الحديث الوارد في هذا الاسم (5)، ولكونه لم يأت في الكتاب ولا في حديث متواتر (6).
قيل للإمام مالك ـ رحمه الله تعالى ـ: ((يقولون: السيد هو الله، قال: أين
--------------------------------------------
একদল আলেম এই নামটি সাব্যস্ত করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: হাফেজ ইবনে মান্দাহ (১) (৩১০ - ৩৯৫), আল-হালীমী (২) (৩৩৮ - ৪০৩), আবু বকর আল-বায়হাকী (৩) (৩৮৪ - ৪৫৮) এবং কিওয়ামুস সুন্নাহ আবুল কাসিম ইসমাইল আত-তাইমী আল-আসবাহানী (৪) (৪৫৭ - ৫৩৫)।
পক্ষান্তরে একদল আলেম মত পোষণ করেছেন যে, এটি মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। এর কারণ হলো তাঁরা এই নামের ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসটিকে দুর্বল মনে করেন (৫) এবং যেহেতু এটি কিতাব (কুরআন) বা কোনো মুতাওয়াতির হাদিসে আসেনি (৬)।
ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-কে বলা হলো: "লোকেরা বলে: আস-সাইয়্যিদ হলেন আল্লাহ।" তিনি বললেন: "কোথায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭১)
هو في كتاب الله ـ تعالى؟)) (1).
ولكن المحققين من أهل الحديث قالوا بثبوته، وممن قال به: الحافظ ابن مفلح (ت 763)، والحافظ ابن حجر (ت 852)، والعظيم آبادي وغيرهم ممن تقدم ذكرهم من المثبتين لهذا الاسم الكريم.
ومن ضعفه فإنه لم يذكر سبب تضعيفه، إلا أن يكون قد وقف على طريق ضعيفة، فإن كان كذلك فإن الروايات الثابتة التي ذكرت في تخريج هذا الحديث كافية عن تلك الطريق؛ لأن أسانيدها صحيحة.
أما كونه لم يأت في الكتاب، فإن عدم مجيئه في الكتاب لا يعني أنه ليس اسما، لأن هناك أسماء ثبتت بالسنة وليست في الكتاب.
والمنهج الحق هو عدم التفرقة بين ما ورد به الكتاب وبين ما جاءت به السنة.
أما كونه ليس في حديث متواتر، فإن أحاديث الآحاد متى ما صحت كانت حجة، والتفريق بينها وبين المتواترة في باب الاعتقاد من جراب أهل الكلام المذموم.
فهذا الاسم الكريم ثابت لله ـ تعالى.
--------------------------------------------
এটা কি মহান আল্লাহর কিতাবে আছে?)) (১)।
কিন্তু আহলে হাদীসগণের মধ্য থেকে গবেষক আলেমগণ এটি সাব্যস্ত হওয়ার কথা বলেছেন। যারা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: হাফেজ ইবনে মুফলিহ (মৃত্যু ৭৬৩ হিজরি), হাফেজ ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি), আল-আজিমাবাদী এবং ইতিপূর্বে সাব্যস্তকারী হিসেবে যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তারা এই সম্মানিত নামটিকে সাব্যস্ত করেছেন।
আর যারা একে দুর্বল বলেছেন, তারা একে দুর্বল বলার কোনো কারণ উল্লেখ করেননি; বড়জোর তারা কোনো দুর্বল সূত্রের ওপর অবগত হয়েছিলেন। যদি বিষয়টি তাই হয়, তবে এই হাদীসের তাখরীজে (উৎস বিশ্লেষণে) যে সকল সাব্যস্ত বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে, তা ওই দুর্বল সূত্রের জন্য যথেষ্ট; কারণ সেগুলোর সনদসমূহ সহীহ।
আর এটি কিতাবে (কুরআনে) না আসার বিষয়টি সম্পর্কে কথা হলো, কিতাবে না থাকা মানেই এটি নাম নয়—এমনটি নয়। কারণ এমন অনেক নাম রয়েছে যা সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত কিন্তু তা কিতাবে নেই।
আর সঠিক মানহাজ হলো—কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে এবং সুন্নাহতে যা এসেছে, এ দুয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য না করা।
আর এটি মুতাওয়াতির হাদীসে না থাকার বিষয়ে কথা হলো, আহাদ হাদীস যখন সহীহ হয় তখন তা দলীল হিসেবে গণ্য হয়। আকিদার ক্ষেত্রে আহাদ ও মুতাওয়াতির হাদীসের মাঝে পার্থক্য করা হলো নিন্দিত কালামশাস্ত্রবিদদের থলে থেকে আসা বিভ্রান্তি।
সুতরাং এই সম্মানিত নামটি মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত ও প্রমাণিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭২)
المبحث الثاني: معنى هذا الاسم الكريمإذا أطلق السيد على الله ـ تعالى ـ فهو بمعنى المالك والمولى والرب (1).
قال الحليمي ـ رحمه الله تعالى ـ: ((ومعناه: المحتاج إليه على الإطلاق، فإن سيد الناس إنما هو رأسهم الذي إليه يرجعون، وبأمره يعملون، وعن رأيه يصدرون، ومن قوته يستمدون.
فإذا كانت الملائكة، والإنس والجن خلقا للباريء ـ جل ثناؤه ـ لم يكن بهم غيبة في بدء أمرهم وهو الموجود، إذ لو لم يوجدهم لم يوجدوا، ولا في الإبقاء بعد الإيجاد، ولا في العوارض أثناء البقاء كان حقا له ـ جل ثناؤه ـ أن يكون سيدا، وكان حقا عليهم أن يدعوه بهذا الاسم)) (2).
فالسؤدد كله حقيقة لله، والخلق كلهم عبيده، إذ إن الله ـ تعالى ـ هو المالك لعبيده، فنواصيهم بيديه، المتولي أمرهم، القائم على كل نفس بما كسبت، فما من معنى من معاني السيادة إلا ولله ـ تعالى ـ أكمله.
قال ابن الأنباري ـ رحمه الله تعالى ـ: ((والسيد هو الله، إذ كان مالك الخلق أجمعين، ولا مالك لهم سواه)) (3).
وقال الأزهري (ت 370) ـ رحمه الله تعالى ـ: ((وأما صفة الله ـ جل ذكره بـ (السيد)، فمعناه أنه مالك الخلق، والخلق كلهم عبيده)) (4).
وقال أبو سليمان الخطابي (ت 388) ـ رحمه الله تعالى ـ: ((قوله: السيد
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই মহিমান্বিত নামের অর্থযখন আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে ‘আস-সায়্যিদ’ (মহান প্রভু) শব্দটি প্রয়োগ করা হয়, তখন এর অর্থ হয় মালিক (অধিপতি), মাওলা (অভিভাবক) ও রব (প্রতিপালক) (১)।
আল-হালীমী —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— বলেছেন: ((এর অর্থ হলো: যাঁর মুখাপেক্ষিতা নিরঙ্কুশ। কারণ মানুষের ‘সায়্যিদ’ (নেতা) হলেন মূলত তাদের প্রধান, যাঁর দিকে তারা প্রত্যাবর্তন করে, যাঁর নির্দেশে তারা কাজ করে, যাঁর মতানুসারে তারা পরিচালিত হয় এবং যাঁর শক্তি থেকে তারা সাহায্য লাভ করে।
সুতরাং ফেরেশতাকুল, মানুষ ও জিন যেহেতু আল-বারী (সৃষ্টিকর্তা) —যাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত— তাঁর সৃষ্টি, তাই তাদের অস্তিত্বের সূচনালগ্নে তাঁর থেকে বিমুখ থাকার কোনো উপায় ছিল না যখন তিনি বিদ্যমান ছিলেন; কেননা তিনি যদি তাদের অস্তিত্ব দান না করতেন তবে তারা বিদ্যমান হতো না। এমনকি অস্তিত্ব লাভের পর টিকে থাকার ক্ষেত্রে কিংবা স্থায়িত্বকালীন কোনো অবস্থায় তাঁর সাহায্য ছাড়া তাদের কোনো উপায় নেই। তাই মহান প্রভু (সায়্যিদ) হওয়া কেবল তাঁরই প্রাপ্য অধিকার, আর সৃষ্টিজগতের জন্য সমীচীন হলো তাঁকে এই নামে ডাকা)) (২)।
অতএব, প্রকৃত সার্বভৌমত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর জন্যই সাব্যস্ত, আর সমস্ত সৃষ্টি তাঁর দাস। কেননা আল্লাহ তাআলাই তাঁর দাসদের প্রকৃত মালিক, তাদের কপালের অগ্রভাগ আল্লাহর হাতে ন্যস্ত, তিনিই তাদের বিষয়াদি পরিচালনাকারী এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করে সে ব্যাপারে তিনি যত্নবান। সার্বভৌমত্বের যতগুলো অর্থ রয়েছে, তার প্রত্যেকটির পূর্ণতম রূপ কেবল আল্লাহ তাআলার জন্যই সাব্যস্ত।
ইবনুল আনবারী —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— বলেছেন: ((সায়্যিদ হলেন আল্লাহ; যেহেতু তিনি সমস্ত সৃষ্টির মালিক এবং তিনি ছাড়া তাদের আর কোনো মালিক নেই)) (৩)।
আল-আযহারী (মৃত্যু ৩৭০ হি.) —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— বলেছেন: ((আর আল্লাহ তাআলার গুণ ‘আস-সায়্যিদ’ (মহান প্রভু) এর অর্থ হলো—তিনি সৃষ্টির মালিক এবং সমস্ত সৃষ্টি তাঁর দাস)) (৪)।
আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবী (মৃত্যু ৩৮৮ হি.) —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— বলেছেন: ((তাঁর উক্তি: আস-সায়্যিদ (মহান প্রভু)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৩)
الله، يريد أن السؤدد حقيقة لله عز وجل وأن الخلق كلهم عبيد له)) (1).
وقال ابن القيم ـ رحمه الله تعالى ـ: ((السيد إذا أطلق عليه ـ تعالى ـ فهو بمعنى المالك والمولى والرب، لا بالمعنى الذي يطلق على المخلوق)) (2).
فهذه بعض معاني السيد في حق الله ـ تعالى ـ إذ إن الإتيان على معاني هذا الاسم كلها مما يكاد يكون من المتعذر.
--------------------------------------------
আল্লাহ; তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে শ্রেষ্ঠত্ব বা কর্তৃত্ব প্রকৃতপক্ষেই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য এবং সকল সৃষ্টিই তাঁর গোলাম বা দাস)) (১)।
এবং ইবনুল কাইয়্যিম —রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা— বলেছেন: ((‘সাইয়্যিদ’ শব্দটি যখন তাঁর —তায়ালা— ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তখন তা মালিক (অধিপতি), মাওলা (অভিভাবক) এবং রব (প্রতিপালক) অর্থে ব্যবহৃত হয়; সৃষ্টির ক্ষেত্রে এটি যে অর্থে ব্যবহৃত হয় সে অর্থে নয়)) (২)।
আল্লাহ তায়ালার শানে ‘সাইয়্যিদ’ নামের এগুলোই হলো কিছু অর্থ; কেননা এই নামের সকল অর্থ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করা প্রায় অসম্ভবপর একটি বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৪)
المبحث الثالث: آثار هذا الاسمإن لهذا الاسم آثارا عظيمة، وذلك لعظمة هذا الاسم وكثرة معانيه، فمن هذه الآثار:
1 - إثبات السيادة لله ـ تعالى ـ من جميع الوجوه.
2 - وجوب إفراده ـ جل وعلا ـ بالربوبية، إذ هو رب كل شيء ومليكه، وخالقه ومدبره، وكل شيء راجع إليه، فمن اعتقد أن مع الله ـ تعالى ـ متصرفا في هذا الكون: ملكا مقربا، أو نبيا مرسلا، أو وليا صالحا.
وقد خالف في هذا الأمر كثير من الغلاة، فقد ذكر كثير من المتصوفة عن بعض من يعتقدون فيهم الولاية أن لهم تصرفا في هذا الكون، حيث ذكروا من يسمونه بالقطب، وزعموا أن له تصرفا في الوجود.
يقول محيي الدين بن عربي الصوفي الأندلسي: ((واعلم أن لكل بلد أو إقليم قطبا غير الغوث، به يحفظ الله ـ تعالى ـ تلك الجهة، سواء كان أهلها مؤمنين أو كفارا، وكذلك القول في الزهاد والعباد والمتوكلين وغيرهم، لا بد لكل صنف منهم من قطب يكون مدارهم عليه)) (1).
ويقول التجاني: ((إن حقيقة القطبانية هي الخلافة العظمى عن الحق مطلقا في جميع الوجود جملة وتفصيلا، حيثما كان الرب إلها، كان هو خليفة في تصريف الحكم وتنفيذه في كل من له عليه ألوهية لله ـ تعالى ـ فلا يصل إلى الخلق شيء كائنا ما كان من الحق إلا بحكم القطب، ثم قيامه في الوجود بروحانيته في كل ذرة من ذرات الوجود، فترى الكون كله أشباحا لا حركة، وإنما هو الروح القائم فيها جملة وتفصيلا، ثم تصرفه في مراتب الأولياء، فلا
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই নামের প্রভাবসমূহনিশ্চয়ই এই নামের সুমহান প্রভাব রয়েছে, আর তা এই নামের মহিমা এবং এর অর্থসমূহের প্রাচুর্যের কারণে। এই প্রভাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
১ - সর্বদিক থেকে আল্লাহ তাআলার সার্বভৌমত্ব সাব্যস্ত করা।
২ - রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বে মহান আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা ওয়াজিব, কারণ তিনি সবকিছুর রব, মালিক, স্রষ্টা ও পরিচালক এবং সবকিছু তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। সুতরাং যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তাআলার সাথে এই মহাবিশ্বে কোনো নিয়ন্ত্রণকারী রয়েছে—হোক সে নিকটবর্তী কোনো ফেরেশতা, প্রেরিত কোনো নবী অথবা কোনো নেককার অলি।
চরমপন্থীদের অনেকেই এই বিষয়ে বিরোধিতা করেছেন। বহু সুফি তাদের সম্পর্কে এমন কথা উল্লেখ করেছেন যাদের ব্যাপারে তারা অলিত্বের বিশ্বাস পোষণ করেন যে, এই মহাবিশ্বে তাদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রয়েছে। তারা এমন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন যাকে তারা কুতুব নামে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে, অস্তিত্বের জগতে তাঁর নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রয়েছে।
আন্দালুসীয় সুফি মুহিউদ্দীন ইবনে আরাবি বলেন: ((জেনে রেখো যে, গাউস ছাড়াও প্রত্যেক দেশ বা অঞ্চলের জন্য একজন কুতুব রয়েছেন, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সেই অঞ্চলকে রক্ষা করেন; চাই সেখানকার অধিবাসীগণ মুমিন হোক বা কাফের। একইভাবে জাহিদ, আবেদ, মুতাওয়াক্কিল এবং অন্যদের সম্পর্কেও বলা হয়; তাদের প্রত্যেক শ্রেণির জন্য অবশ্যই একজন কুতুব থাকা প্রয়োজন যাঁকে কেন্দ্র করে তারা আবর্তিত হবে।)) (১)।
তিজানি বলেন: ((নিশ্চয়ই কুতুবানিয়্যাতের প্রকৃত রূপ হলো সামগ্রিকভাবে এবং বিস্তারিতভাবে সমস্ত অস্তিত্বের জগতে হকের (আল্লাহর) পক্ষ থেকে নিরঙ্কুশ মহান খিলাফত। যেখানেই আল্লাহ ইলাহ হিসেবে আছেন, সেখানে কুতুবই বিধান পরিচালনা ও তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রতিনিধি। যার ওপরই আল্লাহ তাআলার উলুহিয়্যাত বা উপাস্যত্ব রয়েছে, তাদের ওপর এই কুতুবের কর্তৃত্ব চলে। সুতরাং হকের পক্ষ থেকে সৃষ্টির কাছে কোনো কিছুই পৌঁছে না—তা যা-ই হোক না কেন—কুতুবের ফয়সালা ব্যতীত। অতঃপর অস্তিত্বের জগতের প্রতিটি অণু-পরমাণুতে তাঁর আধ্যাত্মিক সত্তা বিদ্যমান থাকে। ফলে তুমি সমগ্র জগতকে প্রাণহীন দেহের মতো দেখতে পাবে যার কোনো নড়াচড়া নেই, বরং তিনি (কুতুব) হচ্ছেন সেই রূহ যা সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে এর মধ্যে বিদ্যমান। অতঃপর অলিদের স্তরে স্তরে তাঁর কর্তৃত্ব বিদ্যমান থাকে, ফলে...))
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৫)
تكون مرتبة في الوجود للعارفين والأولياء خارجة عن ذوقه، فهو المتصرف فيها جميعا، والممد لأربابها، به يرحم الوجود، وبه يبقى الوجود في بقاء الوجود رحمة لكل العباد وجوده في الوجود)) (1).
ومن نظر في كثير مما يزعمه المتصوفة كرامات للأولياء يجدها من هذا الجنس (2).
فاعتقاد ذلك مخالف لاعتقاد السيادة لله ـ تبارك تعالى.
3 - وجوب إفراده ـ جل وعلا ـ بالعبادة، فإنه إذا كان سيد كل شيء وربه ومليكه وخالقه ورازقه، وكل شيء تحت تصرفه وتقديره، فإنه يمتنع حينئذ أن يعبد غيره، أو يسأل غيره، أو يرجى غيره، أو يتوكل على غيره {لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْض} (3).
فمن صرف شيئا من أنواع العبادة من توكل ودعاء واستغاثة واستعانة وذبح ونذر وحلف وغير ذلك، فقد خالف مقتضى هذه السيادة، وجعل السيادة لغير الله ـ تعالى ـ.
وكثير من الناس في هذا العصر قد صرفوا كثيرا من أنواع العبادة لغير الله ـ تعالى ـ وهم ـ بزعمهم ـ يعتقدون أنهم فعلوا ذلك لهذا الأمر، وحال هؤلاء حال من قال الله- تعالى- فيهم {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ
--------------------------------------------
আরিফগণ ও ওলিদের জন্য অস্তিত্বের এমন এক স্তর রয়েছে যা তাঁর অভিজ্ঞতার বাইরে; তিনি এই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক এবং এদের অধিপতিদের সাহায্যদাতা। তাঁর মাধ্যমেই অস্তিত্ব রহমত লাভ করে এবং তাঁর অস্তিত্বের স্থায়িত্বেই অস্তিত্ব টিকে থাকে, যা সকল বান্দার জন্য রহমত স্বরূপ—অস্তিত্বে তাঁর উপস্থিতি)) (১)।
সুফিরা ওলিদের কারামত হিসেবে যা কিছু দাবি করেন, তার অনেক কিছুই যদি কেউ পর্যবেক্ষণ করেন, তবে তিনি সেগুলোকে এই শ্রেণিরই অন্তর্ভুক্ত পাবেন (২)।
সুতরাং এরূপ বিশ্বাস পোষণ করা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার সার্বভৌমত্বের (সিয়াদা) বিশ্বাসের পরিপন্থী।
৩ - একমাত্র মহান আল্লাহকেই ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা ওয়াজিব। কারণ, যেহেতু তিনি সবকিছুর অধিপতি (সায়্যিদ), পালনকর্তা (রব), মালিক, স্রষ্টা ও রিযিকদাতা এবং সবকিছুই তাঁর পরিচালনা ও নির্ধারণের (তাকদীর) অধীন, তাই আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা, অন্য কারো কাছে প্রার্থনা করা, অন্য কারো নিকট আশা করা অথবা অন্য কারো ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করা তখন অসম্ভব ও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। "আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর চাবিকাঠি তাঁরই নিকট" (৩)।
সুতরাং যে ব্যক্তি ইবাদতের কোনো প্রকার—যেমন তাওয়াক্কুল, দুআ, সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা), সাহায্য চাওয়া (ইস্তিয়ানা), জবেহ করা, মানত করা, শপথ করা এবং এই জাতীয় অন্য কিছু—আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে নিবেদন করবে, সে এই সার্বভৌমত্বের (সিয়াদা) দাবি লঙ্ঘন করল এবং আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কাউকে সার্বভৌমত্বের অধিকারী সাব্যস্ত করল।
বর্তমান যুগে অনেক মানুষ বহু প্রকারের ইবাদত আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে নিবেদন করছে, অথচ তারা তাদের ধারণা মতে বিশ্বাস করে যে তারা এই কারণেই তা করেছে। এদের অবস্থা ঠিক তাদেরই মতো যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না এবং তারা বলে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৬)
هَؤُلاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} (1) ومن أخبر الله ـ تعالى ـ عنهم بقوله: {أَلا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} (2).
فالمشركون الأوائل ما عبدوا غير الله إلا لأجل أنهم يعتقدون أنهم ليسوا أهلا لعبادة الله ـ تعالى ـ من غير واسطة.
4 - وجوب إفراده ـ جل وعلا ـ بالأسماء الحسنى والصفات العلى، كما قال ـ تعالى ـ: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِير} (3)، وكما قال ـ تعالىـ: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُون َ} (4)، وقال ـ تعالى ـ: {اللَّهُ لا إِلَهَ إِلاّ هُوَ لَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} (5) (، وقال ـ تعالى ـ: {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الأَعْلَى وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيم} (6)، وقال ـ تعالى ـ: {رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيّاً} (7) إلى غير ذلك من الآيات الدالة على هذا الأمر.
وعليه، فالمعطلة الذين يعطلون الله ـ تعالى ـ عما ثبت له من الأسماء الحسنى والصفات العلى، ماقالوا بسيادة الله ـ تعالى ـ لأن تعطيله عنها إثبات
--------------------------------------------
“এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহকে আসমানসমূহ ও জমিনের এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না? তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।” (১) এবং যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীর মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন: “জেনে রেখো, একনিষ্ঠ আনুগত্য কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য। আর যারা তাঁকে ছাড়া অন্যদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে (তারা বলে), ‘আমরা এদের ইবাদত কেবল এই জন্য করি যে এরা আমাদের আল্লাহর অতি নিকটবর্তী করে দেবে’।” (২)।
কাজেই পূর্ববর্তী মুশরিকরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত কেবল একারণেই করত যে, তারা বিশ্বাস করত যে তারা কোনো মাধ্যম ছাড়া সরাসরি মহান আল্লাহর ইবাদত করার যোগ্য নয়।
৪ - মহান আল্লাহকে তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলি দ্বারা একক সাব্যস্ত করা ওয়াজিব, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা” (৩), এবং যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো। আর যারা তাঁর নামসমূহের ব্যাপারে বিকৃতি ঘটায় তাদের বর্জন করো; তারা যা করত অচিরেই তাদের তার প্রতিদান দেওয়া হবে” (৪), এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, সুন্দরতম নামসমূহ তাঁরই” (৫), এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর সুউচ্চ বৈশিষ্ট্য আল্লাহরই, আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” (৬), এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “তিনি আসমানসমূহ ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, সুতরাং আপনি তাঁরই ইবাদত করুন এবং তাঁর ইবাদতে ধৈর্যশীল থাকুন। আপনি কি তাঁর সমনামের কাউকে জানেন?” (৭) এছাড়াও এই বিষয়ের ওপর প্রমাণস্বরূপ আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
সেই অনুযায়ী, ‘মুআত্তিলা’ (গুণাবলি অস্বীকারকারী) যারা মহান আল্লাহর জন্য প্রমাণিত সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলিকে অস্বীকার করে, তারা মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করেনি; কারণ আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করা মূলত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৭)
للنقص، والنقص ينافي السيادة أو كمالها.
والممثلة الذين مثلوا الله ـ تعالى ـ بخلقه، ما أثبتوا السيادة لله ـ تعالى ـ لأن التمثيل بالخلق نقص، إذ الخلق سمته النقص.
5 - وجوب جعل شرعه هو الحاكم والسيد على كل أمر، فالحكم لله ـ تعالى ـ وحده، فالأمر أمره، والنهي نهيه، وأما التحاكم إلى غيره، فهو قدح في هذه السيادة.
فمن جعل غير شرع الله حاكما يتحاكم إليه، فقد اتخذ سيدا غير الله، فالذين يجعلون العقول حاكمة على شرع الله ـ تعالى ـ ماقدروا هذه السيادة حق قدرها، والذين يتحاكمون إلى القوانين الوضعية الشيطانية، أعطوا هذه القوانين السيادة، والذين يقدمون آراء الرجال، ويقلدون الآباء والشيوخ والأحبار والرهبان، ما جعلوا الله ـ تعالى ـ سيدا، وإنما جعلوا السيادة للمتبوعين.
قال ـ تعالى ـ مخبرا عن أهل النار: {وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلا} ((1)
قال ـ تعالى ـ: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ}.
وقال ـ تعالى ـ: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ الله} (2).
وقال ـ تعالى ـ: {أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْماً لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ}.
إلى غير ذلك من الآثار الجليلة التي دل عليها هذا الاسم.
--------------------------------------------
ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতার জন্য, আর অসম্পূর্ণতা প্রভুত্ব বা এর পূর্ণতার পরিপন্থী।
আর সাদৃশ্য প্রদানকারীরা যারা মহান আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করেছে, তারা মহান আল্লাহর জন্য প্রকৃত প্রভুত্ব সাব্যস্ত করেনি; কারণ সৃষ্টির সাথে তুলনা করা একটি ত্রুটি, যেহেতু সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যই হলো অসম্পূর্ণতা।
৫ - প্রত্যেক বিষয়ে তাঁর শরীয়তকে ফয়সালাকারী ও প্রধান (সাইয়্যিদ) হিসেবে গ্রহণ করা ওয়াজিব। সুতরাং বিধান কেবল মহান আল্লাহরই একক অধিকার। নির্দেশ তাঁরই নির্দেশ এবং নিষেধ তাঁরই নিষেধ। আর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট বিচারপ্রার্থনা করা এই প্রভুত্বের ওপর আঘাত স্বরূপ।
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর শরীয়ত ব্যতীত অন্য কাউকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে যার নিকট বিচারপ্রার্থনা করা হয়, সে আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করল। অতএব, যারা আকল বা বিবেককে মহান আল্লাহর শরীয়তের ওপর ফয়সালাকারী সাব্যস্ত করে, তারা এই প্রভুত্বের (সিয়াদা) যথার্থ মূল্যায়ন করেনি। আর যারা শয়তানি মানব রচিত আইনের নিকট বিচারপ্রার্থনা করে, তারা সেই আইনসমূহকে প্রভুত্ব দান করেছে। আর যারা মানুষের মতবাদকে অগ্রাধিকার দেয় এবং পূর্বপুরুষ, পীর-মাশায়েখ, আলেম ও সন্ন্যাসীদের অন্ধ অনুসরণ করে, তারা মহান আল্লাহকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেনি, বরং তারা যাদের অনুসরণ করা হয় তাদেরকেই প্রভুত্ব দান করেছে।
মহান আল্লাহ জাহান্নামীদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: {এবং তারা বলবে: হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আমাদের নেতৃবর্গ ও আমাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আনুগত্য করেছিলাম, অতঃপর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল।} (১)
মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের আলেম ও সন্ন্যাসীদের রব্ব হিসেবে গ্রহণ করেছে।}
মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের কি এমন সব অংশীদার আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান প্রণয়ন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} (২)।
মহান আল্লাহ বলেন: {তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিচার কামনা করে? আর দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিচারকার্যে আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কে হতে পারে?}
এছাড়াও এই সুমহান নামের নির্দেশিত আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ও তাৎপর্য রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৮)
المبحث الرابع: حكم دعاء الله تعالى بسيدي…المبحث الرابع: حكم دعاء الله ـ تعالى ـ بـ" ياسيدي "
كره الإمام مالك (ت 179) ـ رحمه الله تعالى ـ الدعاء بهذا اللفظ (1)، وقال: ((إنما في القرآن {رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيّ}، ما في القرآن أحبُّ إلي؛ ودعاءُ الأنبياء ـ عليهم الصلاة والسلام ـ)) (2).
وكراهة الإمام مالك ـ رحمه الله تعالى ـ للدعاء بهذا الاسم؛ لكون هذا الاسم مما لم يثبت عنده؛ حيث لم يعده اسما من أسماء الله ـ تعالى ـ.
فالأصل الذي بنى عليه الإمام مالك ـ رحمه الله تعالى ـ كراهته للدعاء بهذا الاسم، أصل صحيح، وهو أنه لا يدعى الله ـ تعالى ـ إلا بأسمائه الحسنى، وأسماؤه ـ جل وعلا ـ توقيفية، غير أن هذا الاسم ـ على الصحيح من أقوال العلماء ـ ثابت، وعليه فيجوز دعاء الله ـ تعالى ـ به، والله ـ تعالى ـ أعلم.
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলাকে 'সাইয়্যিদি' (আমার নেতা) বলে ডাকার বিধান...চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলাকে "হে আমার সাইয়্যিদ" বলে ডাকার বিধান
ইমাম মালিক (মৃত্যু ১৭৯ হিজরি) —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— এই শব্দযোগে দোয়া করাকে অপছন্দ করেছেন (১), এবং বলেছেন: "কুরআনে কেবল {হে আমার রব, আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন} এসেছে, কুরআনে যা আছে তা-ই আমার নিকট অধিক প্রিয়; আর এটিই নবীদের —তাঁদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক— দোয়া" (২)।
ইমাম মালিক —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— কর্তৃক এই নামের মাধ্যমে দোয়া করা অপছন্দ করার কারণ হলো, এই নামটি তাঁর নিকট সাব্যস্ত ছিল না; যেহেতু তিনি এটিকে আল্লাহ তাআলার নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেননি।
সুতরাং ইমাম মালিক —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— এই নামের মাধ্যমে দোয়া করা অপছন্দ করার ক্ষেত্রে যে মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেছেন তা সঠিক। আর তা হলো, আল্লাহ তাআলাকে কেবল তাঁর সুন্দর নামসমূহ দ্বারাই ডাকা হবে, এবং তাঁর —তিনি সুউচ্চ ও মহান— নামসমূহ তাওকিফিয়্যাহ (শরিয়ত নির্ধারিত), তবে আলেমদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী এই নামটি সাব্যস্ত, সুতরাং এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে ডাকা বৈধ। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৯)
الفصل الثالث: تعلقه بالمخلوقين
المبحث الأول: حكم إطلاقه على المخلوقينجاءت نصوص دالة على جواز إطلاق السيد على المخلوقين، وجاءت أحاديث فهم منها بعض العلماء النهي عن ذلك.
وقد تعددت أقوال العلماء في كيفية الجمع بينها، وسأذكر هنا ـ أولا ـ أدلة الجواز، فأدلة المنع، ثم أقوال العلماء في الجمع بينها، والراجح في نظري:
أولا: أدلة الجواز:
1 - قوله ـ تعالى ـ: {وَأَلْفَيَا سَيِّدَهَا لَدَى الْبَاب?} (1).
2 - قوله ـ تعالى ـ: {وَسَيِّداً وَحَصُوراً وَنَبِيّاً مِنَ الصَّالِحِينَ} (2).
فقد احتج الإمام مالك ـ رحمه الله تعالى ـ على الجواز بهاتين الآيتين (3).
وقال الجصاص ـ رحمه الله تعالى ـ: ((وقوله تعالى: {وَسَيِّداً وَحَصُوراً وَنَبِيّاً مِنَ الصَّالِحِينَ} يدل على أن غير الله ـ تعالى ـ يجوز أن يسمى بهذا الاسم؛ لأن الله ـ تعالى ـ سمى يحيى سيدا)) (4).
3 - قوله ـ ? ـ: ((أنا سيد ولد آدم)) (5).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সৃষ্টিজীবের সাথে এর সম্পর্ক
প্রথম পরিচ্ছেদ: সৃষ্টিজীবের ক্ষেত্রে এই শব্দের প্রয়োগের বিধানসৃষ্টিজীবের ক্ষেত্রে 'সাইয়ি্যদ' শব্দ ব্যবহারের বৈধতা নির্দেশক অনেক দলিল বর্ণিত হয়েছে, আবার এমন কিছু হাদিসও এসেছে যা থেকে কোনো কোনো আলেম এটি নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বুঝেছেন।
এগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার পদ্ধতিতে আলেমদের বিভিন্ন মতামত রয়েছে। আমি এখানে প্রথমে বৈধতার দলিলসমূহ, এরপর নিষেধের দলিলসমূহ এবং তারপর এগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ব্যাপারে আলেমদের মতামত ও আমার দৃষ্টিতে যেটি সঠিক তা উল্লেখ করব:
প্রথমত: বৈধতার দলিলসমূহ:
১ - আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তারা উভয়ে দরজার কাছে তার স্বামীকে দেখতে পেল।} (১)।
২ - আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তিনি হবেন একজন নেতা (সাইয়ি্যদ), আত্মসংযমী এবং পুণ্যবানদের মধ্য হতে একজন নবী।} (২)।
ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) এই আয়াত দুটির মাধ্যমে বৈধতার পক্ষে দলিল পেশ করেছেন (৩)।
জাসসাস (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন: ((এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তিনি হবেন একজন নেতা, আত্মসংযমী এবং পুণ্যবানদের মধ্য হতে একজন নবী} এ কথা নির্দেশ করে যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যকেও এই নামে নামকরণ করা বৈধ; কারণ আল্লাহ তাআলা ইয়াহইয়াকে 'সাইয়ি্যদ' (নেতা) হিসেবে অভিহিত করেছেন)) (৪)।
৩ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: ((আমি আদম সন্তানের নেতা)) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮০)
4 - قول النبي ـ ? ـ في حق سعد بن معاذ ـ ? ـ: ((قوموا لسيدكم)) (1).
5 - قوله ـ ? ـ في حق سعد بن عبادة: ((اسمعوا إلى ما يقول سيدكم، إنه لغيور، وأنا أغير منه، والله أغير منى)) (2)
6 - قوله ـ ? ـ في الحسن بن علي رضي الله عنهما: ((إن ابني هذا سيد، وسيصلح الله به بين طائفتين من المسلمين)) (3).
7 - وقوله ـ ? ـ: ((الحسن والحسين سيدا شباب أهل الجنة)) (4).
--------------------------------------------
4 - সাদ ইবনে মুআদ (রা.)-এর ব্যাপারে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উক্তি: "তোমরা তোমাদের নেতার সম্মানে উঠে দাঁড়াও" (১)।
5 - সাদ ইবনে উবাদাহ-এর ব্যাপারে তাঁর উক্তি: "তোমাদের নেতা যা বলছেন তা শোনো; নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন, আর আমি তাঁর চেয়েও বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন এবং আল্লাহ আমার চেয়েও বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন" (২)।
6 - হাসান ইবনে আলী (রা.)-এর ব্যাপারে তাঁর উক্তি: "নিশ্চয়ই আমার এই পুত্র একজন নেতা, আর অচিরেই আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলিমদের দুটি বিশাল দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন" (৩)।
7 - এবং তাঁর উক্তি: "হাসান ও হুসাইন হলো জান্নাতবাসী যুবকদের নেতা" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮১)
8 - قوله ـ ? ـ: ((أبو بكر وعمر سيدا كهول أهل الجنة من الأولين والآخرين، إلا النبيين والمرسلين)) (1).
9 - قوله ـ ? ـ: ((إذا نصح العبد سيده، وأحسن عبادة ربه، كان له أجره مرتين)) (2).
--------------------------------------------
৮ - তাঁর — ﷺ — বাণী: ((আবু বকর ও ওমর নবী এবং রাসূলগণ ব্যতীত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল জান্নাতবাসী বয়স্ক ব্যক্তিদের সর্দার)) (১)।
৯ - তাঁর — ﷺ — বাণী: ((যখন কোনো দাস তার মালিকের কল্যাণ কামনা করে এবং তার রবের ইবাদত সুন্দরভাবে পালন করে, তখন তার জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান রয়েছে)) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮২)
10 - قوله ـ ? ـ: ((المملوك الذي يحسن عبادة ربه، ويؤدي إلى سيده الذي له عليه من الحق والنصيحة والطاعة، له أجران)) (1).
11 - قوله ـ ?: ((نعم ما لأحدهم يحسن عبادة ربه، وينصح لسيده)) (2).
12 - قوله ـ ? ـ: ((لا يقل أحدكم: أطعم ربك، وضئ ربك، اسق ربك، وليقل: سيدي مولاي، ولا يقل أحدكم: عبدي أمتي، وليقل: فتاي وفتاتي وغلامي)) (3).
13 - قوله ـ ? ـ: ((كلكم راع فمسؤول عن رعيته، فالأمير الذي على الناس راع وهو مسؤول عنهم، والرجل راع على أهل بيته وهو مسؤول عنهم، والمرأة راعية على بيت بعلها وولده وهي مسؤولة عنهم، والعبد راع على مال سيده وهو مسؤول عنه، ألا فكلكم راع وكلكم مسؤول عن رعيته)) (4).
ومن الأدلة ـ أيضا ـ ما جاء عن صحابة رسول الله ـ ? ـ ومن ذلك:
1 - قول عمر لأبي بكر رضي الله عنهما يوم السقيفة بمشهد من أبي بكر وغيره من المهاجرين والأنصار: ((بل نبايعك أنت، فأنت سيدنا، وخيرنا، وأحبنا إلى رسول الله ـ ? ـ)) (5) ولم ينكر أحد على عمر. ـ ? ـ.
2 - قول عمرـ ? ـ: ((أبوبكر سيدنا، وأعتق سيدنا)) يعني بلالا (6) ?.
--------------------------------------------
১০ - তাঁর — সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম — বাণী: ((যে দাস তার রবের ইবাদত সুন্দরভাবে সম্পাদন করে এবং তার মনিবের প্রতি তার যে পাওনা, হিতাকাঙ্ক্ষা ও আনুগত্য রয়েছে তা আদায় করে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান)) (১)।
১১ - তাঁর — সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম — বাণী: ((তাদের কারো জন্য এটি কতই না উত্তম যে সে তার রবের ইবাদত সুন্দরভাবে পালন করে এবং তার মনিবের কল্যাণ কামনা করে)) (২)।
১২ - তাঁর — সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম — বাণী: ((তোমাদের কেউ যেন না বলে: 'তোমার রবকে (প্রভুকে) আহার করাও', 'তোমার রবকে অজু করাও', 'তোমার রবকে পানি পান করাও'; বরং সে যেন বলে: 'আমার সায়্যিদ' (নেতা), 'আমার মাওলা' (অভিভাবক)। আর তোমাদের কেউ যেন না বলে: 'আমার দাস', 'আমার দাসী'; বরং সে যেন বলে: 'আমার যুবক', 'আমার যুবতী' এবং 'আমার কিশোর')) (৩)।
১৩ - তাঁর — সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম — বাণী: ((তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সুতরাং মানুষের উপর নিয়োজিত আমির (নেতা) একজন দায়িত্বশীল এবং সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের সদস্যদের উপর দায়িত্বশীল এবং সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর ঘর ও সন্তানের উপর দায়িত্বশীল এবং সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। আর দাস তার মনিবের সম্পদের উপর দায়িত্বশীল এবং সে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে)) (৪)।
দলীলসমূহের মধ্যে রাসূলুল্লাহ — সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম — এর সাহাবীগণ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাও অন্তর্ভুক্ত, যেমন:
১ - সাকীফাহর দিনে আবু বকর ও অন্যান্য মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি: ((বরং আমরা আপনার কাছেই বায়আত গ্রহণ করছি, কেননা আপনি আমাদের সায়্যিদ (নেতা), আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং রাসূলুল্লাহ — সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম — এর নিকট আমাদের সবার চেয়ে অধিক প্রিয়)) (৫)। আর উমরের এই উক্তির প্রতিবাদ কেউ করেননি। — রাদিয়াল্লাহু আনহু।
২ - উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি: ((আবু বকর আমাদের সায়্যিদ এবং তিনি আমাদের সায়্যিদকে মুক্ত করেছেন)) অর্থাৎ বিলাল (৬) রাদিয়াল্লাহু আনহুকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৩)
ثانيا: أدلة المنع:
أولا: حديث عبد الله بن الشخير ـ ? ـ حيث قال: ((انطلقت في وفد بني عامر إلى رسول الله ـ ? ـ فقلنا: أنت سيدنا، فقال رسول الله ـ ? ـ: ((السيد الله)) قلنا: فأفضلنا فضلا، وأعظمنا طولا، فقال ـ ? ـ: ((قولوا بقولكم أو ببعض قولكم، ولا يستجرينكم الشيطان)) (1)
ثانيا: حديث أنس ـ ? ـ وهو أن رجلا قال للنبي: ياخيرنا وابن خيرنا، وياسيدنا وابن سيدنا، فقال رسول الله: ((يا أيها الناس، قولوا بقولكم، ولا يستفزنكم الشيطان، أنا عبد الله ورسوله)) (2)
ثالثا: قوله ـ ? ـ: ((لا تقولوا للمنافق: سيد، فإنه إن يك سيدا، فقد أسخطتم ربكم)) (3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: নিষিদ্ধ হওয়ার সপক্ষে প্রমাণসমূহ:
প্রথমত: আবদুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখীর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীস, যেখানে তিনি বলেন: "আমি বনু আমিরের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট গেলাম। আমরা বললাম: 'আপনি আমাদের সাইয়্যেদ (নেতা/প্রভু)'। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: 'সাইয়্যেদ হলেন আল্লাহ'। আমরা বললাম: 'আপনার মর্যাদা আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং দানশীলতায় আপনি আমাদের মধ্যে মহান'। তিনি (সা.) বললেন: 'তোমরা তোমাদের স্বাভাবিক কথা বলো অথবা তোমাদের কথার কিয়দাংশ বলো, কিন্তু শয়তান যেন তোমাদের প্ররোচিত না করে'।" (১)
দ্বিতীয়ত: আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীস, এক ব্যক্তি নবীজিকে উদ্দেশ্য করে বলল: 'হে আমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং আমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির পুত্র! হে আমাদের সাইয়্যেদ এবং আমাদের সাইয়্যেদের পুত্র!' তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: 'হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের কথা বলো, শয়তান যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে। আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল'।" (২)
তৃতীয়ত: তাঁর (সা.) বাণী: "তোমরা মুনাফিকের ক্ষেত্রে 'সাইয়্যেদ' শব্দটি ব্যবহার করো না; কারণ সে যদি তোমাদের সাইয়্যেদ হয়, তবে তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে রাগান্বিত করলে।" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৪)
أقوال العلماء في هذه الأدلة:
1 - ذهبت طائفة من العلماء إلى القول بمنع إطلاق ذلك على المخلوقين، أخذا بالأدلة الدالة على ذلك، ورأوا أن حديث عبد الله بن الشخير ناسخ لما سواه من الأحاديث؛ لأن هذا الحديث كان عام الوفود في السنة التاسعة من الهجرة.
مناقشة هذا القول:
هذا القول متعقب بأمور:
الأول: أن أحاديث المنع مقابلة بمثلها، وهي الأحاديث الدالة على الجواز.
الثاني: أن دعوى النسخ تحتاج إلى دليل، ولا دليل يدل على ذلك، وأما كون حديث عبد الله بن الشخير يعد هو الناسخ؛ لكونه عام الوفود، فلربما تكون بعض الأحاديث بعد ذلك.
এই দলীলসমূহের ক্ষেত্রে আলেমদের মতামত:
১ - একদল আলেম এ সংক্রান্ত দলীলসমূহ গ্রহণের মাধ্যমে সৃষ্টির ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ নিষিদ্ধ হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা মনে করেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আল-শিখখীরের হাদীসটি অন্যান্য হাদীসসমূহের জন্য রহিতকারী; কারণ এই হাদীসটি হিজরী নবম সনে ‘আমুল উফুদ’ বা প্রতিনিধি দলের আগমনের বছর বর্ণিত হয়েছিল।
এই মতামতের পর্যালোচনা:
এই মতামতের ব্যাপারে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে:
প্রথমত: নিষেধাজ্ঞার হাদীসগুলোর বিপরীতে সমপর্যায়ের হাদীস বিদ্যমান, যা বৈধতা নির্দেশ করে।
দ্বিতীয়ত: রহিতকরণের (নাসখ) দাবির জন্য দলীল প্রয়োজন, অথচ এ বিষয়ে কোনো দলীল নেই। আর আবদুল্লাহ ইবনে আল-শিখখীরের হাদীসটি আমুল উফুদ-এর হওয়ার কারণে সেটিকে রহিতকারী গণ্য করার বিষয়ে বলা যায় যে, সম্ভবত এর পরেও কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৫)
الثالث: أن حديث النهي عن قول ذلك للمنافق، لا يدل على منع قولها لمن ليس كذلك.
2 - النهي عنه في المخاطبات، كقول القائل: ياسيدي، وأما ذكره مع عدم الخطاب فهذا لا ينهى عنه (1).
قال الحافظ ابن حجر ـ رحمه الله تعالى ـ: ((وقد كان بعض أكابر العلماء يأخذ بهذا، ويكره أن يخاطب أحدا بلفظه أو كتابه بالسيد)) (2).
وهذا القول ذكره الحافظ ابن حجر عن الإمام مالك بن أنس (3) ـ رحمه الله تعالى.
وقال الشيخ عبد الرحمن بن حسن (ت 1285): ((وأما استدلالهم بقول النبي ـ ? ـ: ((قوموا إلى سيدكم)) فالظاهر أن النبي ـ ? ـ لم يواجه سعدا به)) (4).
قالوا: لأن المخاطب ربما يكون في نفسه عجب وغلو، ولما يلحق القائل من الذل والخضوع (5).
وهذا القول متعقب بالأحاديث التي فيها الأمر بالمخاطبة بهذا اللفظ، كقوله ـ ? ـ: ((وليقل: سيدي ومولاي)).
3 - حمل النهي على إطلاقه على غير المالك، والإذن بإطلاقه على المالك، وقد اختار هذا القول ابن حجر (6) ـ رحمه الله تعالى.
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: মুনাফিককে এটি বলার নিষেধাজ্ঞার হাদিসটি, অন্য কারও ক্ষেত্রে তা বলার নিষেধাজ্ঞার ওপর প্রমাণ পেশ করে না।
২ - সম্বোধনের ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ, যেমন কারও উক্তি: 'হে আমার সাইয়্যিদ' (হে আমার নেতা/কর্তা); তবে সম্বোধন ব্যতীত এর উল্লেখ করা নিষিদ্ধ নয় (১)।
হাফিজ ইবনে হাজার —রাহিমাহুল্লাহ তাআলা— বলেন: ((উলামায়ে কিরামের কিছু বড় ব্যক্তিত্ব এই মতটি গ্রহণ করেছেন এবং তারা মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে কাউকে 'সাইয়্যিদ' বলে সম্বোধন করা অপছন্দ করতেন)) (২)।
আর এই উক্তিটি হাফিজ ইবনে হাজার ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৩) —রাহিমাহুল্লাহ তাআলা— থেকে উল্লেখ করেছেন।
শায়খ আবদুর রহমান ইবনে হাসান (মৃত্যু: ১২৮৫ হি.) বলেন: ((আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: 'তোমরা তোমাদের সাইয়্যিদের (নেতার) দিকে দাঁড়িয়ে যাও' দ্বারা তাদের দলিল পেশ করার বিষয়টি হলো, প্রকাশ্যত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সা'দকে সরাসরি এটি বলে সম্বোধন করেননি)) (৪)।
তারা বলেন: কারণ যাকে সম্বোধন করা হচ্ছে তার মনে হয়তো আত্মঅহংকার ও সীমালঙ্ঘন সৃষ্টি হতে পারে, আর যে বলছে তার মধ্যে হীনম্মন্যতা ও বশ্যতা প্রকাশ পায় (৫)।
এই উক্তিটি সেই সব হাদিস দ্বারা খণ্ডিত হয়েছে যেগুলোতে এই শব্দ দ্বারা সম্বোধন করার নির্দেশ রয়েছে, যেমন তাঁর —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম— বাণী: ((এবং সে যেন বলে: আমার সাইয়্যিদ এবং আমার মাওলা))।
৩ - মালিক (প্রভু/মালিক) ব্যতীত অন্য কারও ক্ষেত্রে এর নিঃশর্ত প্রয়োগকে নিষেধাজ্ঞার ওপর রাখা এবং মালিকের ক্ষেত্রে এর নিঃশর্ত প্রয়োগের অনুমতি প্রদান করা। ইবনে হাজার (৬) —রাহিমাহুল্লাহ তাআলা— এই মতটি পছন্দ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৬)
وحجة هؤلاء هي النصوص الواردة في توجيه المماليك إلى ذلك.
وهذا القول متعقب بالأحاديث التي فيها توجيه هذا القول من غير المماليك، كحديث سعد بن معاذ، وحديث الحسن والحسين سيدا شباب أهل الجنة، وغيرها من الأحاديث.
4 - حمل النهي على إطلاقه على المالك، وجواز إطلاقه على غيره، فهو عكس القول السابق.
وحجة هؤلاء أنه إذا أطلق على المالك، فلربما انصرف الذهن إلى الله ـ تعالى (1).
وهذا القول متعقب بالأحاديث التي فيها الإذن بذلك للماليك، كقوله: ((وليقل: سيدي ومولاي)).
قيل للإمام مالك ـ رحمه الله تعالى ـ: ((هل كره أحد بالمدينة قوله لسيده: يا سيدي؟ قال: لا)) (2).
5 - حمل النهي عن ذلك على الكراهة التنزيهية على سبيل الأدب، والأدلة الأخرى دالة على الجواز (3).
وهذا القول متعقب بأمرين:
الأول: كثرة الأحاديث الدالة على كثرة الاستعمال، فلو كان الأدب بخلافها، لما كثرت هذه الكثرة، ولما وجه النبي ـ ? ـ المماليك إلى قول ذلك، بل إنه ـ ? ـ عدل بالمماليك إلى قول هذا اللفظ عن قول الألفاظ الأخرى المستبشعة في حق المخلوق نحو: (ربي).
--------------------------------------------
এদের দলীল হলো দাসদের এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে বর্ণিত পাঠসমূহ।
আর এই বক্তব্যটি এমন সব হাদীস দ্বারা খণ্ডনযোগ্য যাতে দাস ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রেও এই শব্দ ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে, যেমন সা’দ ইবনে মু’আযের হাদীস, হাসান ও হুসাইন জান্নাতের যুবকদের সরদার—এই হাদীস এবং অন্যান্য হাদীস।
৪ - নিষেধজ্ঞাকে কেবল মালিকের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা এবং অন্য কারো ক্ষেত্রে তা ব্যবহারের বৈধতা রাখা; এটি পূর্ববর্তী বক্তব্যের বিপরীত।
এদের যুক্তি হলো, যখন এটি মালিকের প্রতি ব্যবহার করা হয়, তখন সম্ভবত মন মহান আল্লাহ তা'আলার দিকে ধাবিত হয় (১)।
এই বক্তব্যটি সেই সকল হাদীস দ্বারা খণ্ডনযোগ্য যাতে দাসদের জন্য এর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যেমন তাঁর বাণী: "এবং সে যেন বলে: আমার সাইয়্যিদ এবং আমার মাওলা"।
ইমাম মালিক (আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি রহম করুন)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "মদীনায় কি কেউ তার মনিবকে 'হে আমার সাইয়্যিদ' বলা অপছন্দ করেছেন? তিনি বললেন: না" (২)।
৫ - শিষ্টাচার স্বরূপ এই নিষেধজ্ঞাকে কারাহাতে তানযিহী (সামান্য অপছন্দনীয়) হিসেবে গণ্য করা, আর অন্যান্য দলীলসমূহ বৈধতার প্রমাণ দেয় (৩)।
এই মতটি দুটি বিষয়ের মাধ্যমে খণ্ডনযোগ্য:
প্রথমত: অধিক ব্যবহারের প্রমাণবাহী হাদীসের প্রাচুর্য। যদি শিষ্টাচার এর বিপরীত হতো, তবে এত অধিক বর্ণনা থাকত না। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাসদের এটি বলার নির্দেশনা দিতেন না; বরং তিনি (সালল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাসদের সৃষ্টির ক্ষেত্রে 'আমার রব'-এর মতো অন্যান্য জঘন্য শব্দের পরিবর্তে এই শব্দ ব্যবহারের পথ নির্দেশ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৭)
الثاني: قال الشيخ سليمان بن حمدان ـ رحمه الله تعالى ـ: ((قال في إبطال التنديد: وهذان الحديثان دليل على الأدب مع الله عز وجل، وقوله: ((أنا سيد ولد آدم)) وشبهه دليل على الجواز، فأقول: إذا كان الحديثان دليلا على الأدب مع الله عز وجل فما الذي أجاز سوء الأدب ومخالفة الأحاديث الصحيحة؟.
أما الاستدلال على جواز سوء الأدب بقوله ـ ? ـ: ((أنا سيد ولد آدم ولا فخر))، فلا يدل على الجواز؛ لأن هذا إخبار منه ـ ? ـ عما فضله الله به على البشر، تحدثا بنعمة الله ـ تعالى ـ عليه، عملا بقوله: {وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ} (1). . .)) (2)
6 - حمل النهي عن اتخاذ ذلك عادة شائعة؛ لأنها ربما أورثت كبرا، وحمل الجواز على استعمال ذلك في النادر (3).
وهذا القول متعقب بتوجيه النبي ـ ? ـ المماليك إلى قول ذلك، ومعلوم أن كون المماليك يقولون ذلك، يعني أنه سيكون عادة شائعة.
المناقشة والترجيح:
بعد النظر في الأقوال السابقة وأدلة كل فريق ظهر لي جواز إطلاق ذلك على المخلوق بشروط:
أحدها: عدم إرادة أي معنى من معاني الربوبية أو الألوهية، فإذا أريد شيء من ذلك فلا.
ومن ذلك: أن يلمح في هذا اللفظ معنى السيادة العامة على جميع الخلق.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: শায়খ সুলাইমান বিন হামদান—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন—বলেছেন: "তিনি 'ইবতালুত তানদীদ' গ্রন্থে বলেছেন: এই হাদীস দুটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শনের প্রমাণ। আর তাঁর বাণী: 'আমি আদম সন্তানের সরদার' এবং এই জাতীয় শব্দ বৈধতার প্রমাণ। আমি বলব: যদি হাদীস দুটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সাথে শিষ্টাচার রক্ষার দলীল হয়, তবে কিসে শিষ্টাচারহীনতা এবং সহীহ হাদীসসমূহের বিরোধিতা করাকে বৈধ করল?
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী—'আমি আদম সন্তানের সরদার এবং এতে কোনো অহংকার নেই'—দ্বারা শিষ্টাচারহীনতা বৈধ হওয়ার পক্ষে দলীল পেশ করা সঠিক নয়; কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ থেকে আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁকে মানবজাতির উপর প্রদত্ত শ্রেষ্ঠত্বের সংবাদ দান মাত্র, যা তাঁর প্রতি আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের বর্ণনাস্বরূপ, তাঁর এই বাণীর ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে: 'আর আপনি আপনার রবের নেয়ামত বর্ণনা করুন' (১)..." (২)
৬ - একে প্রচলিত অভ্যাসে পরিণত করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাকে প্রয়োগ করা হবে; কারণ এটি সম্ভবত অহংকার সৃষ্টি করে। আর কদাচিৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈধতাকে প্রয়োগ করা হবে (৩)।
এই বক্তব্যটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক দাসদের প্রতি এটি বলার নির্দেশনার মাধ্যমে খণ্ডিত হয়। আর এটি জানা কথা যে, দাসদের এটি বলা মানেই হলো এটি একটি প্রচলিত অভ্যাসে পরিণত হওয়া।
পর্যালোচনা ও অগ্রাধিকার প্রদান:
পূর্বোক্ত বক্তব্যসমূহ এবং প্রতিটি পক্ষের দলীলসমূহ পর্যালোচনার পর আমার কাছে মাখলুকের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের বৈধতা কিছু শর্তসাপেক্ষে প্রকাশ পেয়েছে:
প্রথমত: রুবুবিয়্যাত বা উলুহিয়্যাতের কোনো অর্থ উদ্দেশ্য না থাকা। যদি এর কোনো কিছু উদ্দেশ্য করা হয় তবে তা বৈধ নয়।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: এই শব্দের মাধ্যমে সকল সৃষ্টির উপর সাধারণ শ্রেষ্ঠত্বের অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৮)
وبه يوجه قوله ـ ? ـ لما خوطب بالسيادة: ((السيد الله))، فإنه لما كان التعريف بأل يفيد ذلك، منع من ذلك، ووجههم لما هو أحسن.
وأما إذا لم يلمح ذلك فلا مانع من إطلاقه؛ لإطلاق القرآن ذلك في حق يحيى ـ عليه وعلى نبينا الصلاة والسلام ـ ولإطلاقه ـ ? ـ هذا اللفظ على بعض الناس، كما في الأحاديث السابقة.
قال الشيخ حسين (ت1224) وعبد الله (ت 1243) ابنا الشيخ محمد بن عبد الوهاب ـ رحمهم الله تعالى ـ: ((قول: سيدي ونحوه، إن قصد به أن ذلك الرجل معبوده الذي يدعوه عند الشدة لتفريج الكربات، وإغاثة اللهفات، فإن ذلك شرك أكبر، وأما إن كان مراده غير ذلك، كما يقول التلميذ لشيخه: سيدي، أو يقال للأمير والشريف، أو لمن كان من أهل بيت رسول الله ـ ? ـ: هذا سيد، فلا بأس به، ولكن لا يجعل عادة وسنة بحيث لا يتكلم إلا به)) (1).
وقال الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن (ت 1292) ـ رحمه الله تعالى ـ لما سئل عن حكم إطلاقه على المخلوق: ((هذه الألفاظ تستعملها العرب على معان كسيادة الرئاسة والشرف
… فإطلاق هذه الألفاظ على هذا الوجه معروف لا ينكر، وفي السنة من ذلك كثير، وأما إطلاق ذلك في المعاني المحدثة كمن يدعي أن السيد هو الذي يدعى ويعظم
… فهذا لا يجوز، بل هو من أقسام الشرك)) (2).
وقال الشيخ محمد بشير السهسواني (ت 1326) ـ رحمه الله تعالى ـ: ((فالنهي عن إطلاق السيد والمولى على غير الله محمول على السيد والمولى بمعنى الرب، والرخصة محمولة عليهما بمعنى آخر من سائر المعاني)) (3).
--------------------------------------------
এর মাধ্যমেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই উক্তিটি ব্যাখ্যা করা হয়, যখন তাঁকে ‘সায়্যিদ’ (প্রভু বা নেতা) হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছিল: “প্রকৃত সায়্যিদ (প্রভু) হলেন আল্লাহ”। কারণ যখন ‘আল’ (নির্ধারক অব্যয়) যোগ করার মাধ্যমে এটি পরম অর্থ প্রকাশ করে, তখন তিনি তা থেকে নিষেধ করেছিলেন এবং তাদেরকে সর্বোত্তম বিষয়ের দিকে পথনির্দেশ করেছিলেন।
তবে যদি সেই অর্থের (পরম প্রভুত্ব) দিকে ইঙ্গিত না করা হয়, তবে তা ব্যবহারে কোনো বাধা নেই; কারণ কুরআন মাজিদ হযরত ইয়াহিয়া (আলাইহি ও আমাদের নবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করেছে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যেমনটি পূর্ববর্তী হাদিসগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব-এর দুই পুত্র শায়খ হুসাইন (মৃ. ১২২৪ হি.) এবং শায়খ আব্দুল্লাহ (মৃ. ১২৪৩ হি.) —আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন— বলেছেন: “‘সায়্যিদী’ (আমার নেতা) বা এই জাতীয় শব্দ বলার ক্ষেত্রে যদি উদ্দেশ্য হয় যে সেই ব্যক্তিটিই তাঁর উপাস্য যাকে তিনি বিপদের সময় দুঃখ-কষ্ট লাঘব এবং আর্তনাদকারীদের উদ্ধারের জন্য ডাকেন, তবে তা বড় শিরক। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য অন্য কিছু হয়, যেমন ছাত্র তার উস্তাদকে বলে: ‘সায়্যিদী’, অথবা কোনো আমির, উচ্চবংশীয় ব্যক্তি বা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরিবারের (আহলে বাইত) কোনো সদস্যকে যদি বলা হয় ‘ইনি একজন সায়্যিদ’ (নেতা), তবে তাতে কোনো দোষ নেই। তবে একে এমন অভ্যাস বা নিয়মে পরিণত করা উচিত নয় যে, এটি ছাড়া অন্য কোনো কথা বলাই হয় না।” (১)।
শায়খ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান (মৃ. ১২৯২ হি.) —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন— যখন সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই শব্দ ব্যবহারের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: “আরবগণ এই শব্দগুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করে, যেমন নেতৃত্ব এবং সম্মান বুঝাতে
… সুতরাং এই প্রেক্ষাপটে শব্দগুলোর ব্যবহার পরিচিত এবং তা অস্বীকার করা হয় না। সুন্নাহর মধ্যেও এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে। তবে নব্য উদ্ভাবিত অর্থে এর ব্যবহার, যেমন কেউ দাবি করে যে সায়্যিদ তিনিই যাকে বিপদাপদে ডাকা হয় এবং যাকে (ইবাদতের স্তরে) সম্মান করা হয়
… তবে তা বৈধ নয়, বরং তা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।” (২)।
শায়খ মুহাম্মদ বশির আস-সাহসাওয়ানি (মৃ. ১৩২৬ হি.) —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন— বলেছেন: “আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য ‘সায়্যিদ’ এবং ‘মাওলা’ শব্দের প্রয়োগ নিষিদ্ধ হওয়াটা ‘রব’ (প্রতিপালক) অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এর বৈধতা অন্যান্য অর্থের ওপর নির্ভরশীল।” (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮৯)
ويقول صديق حسن خان (ت1307) ـ رحمه الله تعالى ـ: ((ولفظ السيد له معنيان:
أحدهما: أن السيد هو الذي يكون مالكا مختارا بنفسه وحده، ولا يكون محكوما عليه من أحد، بل يكون حاكما مستقلا بذاته كشأن الملوك في الدنيا، فهذا الأمر إنما هو شأن الله ـ تعالى ـ ليس غيره سيدا بهذا المعنى.
وثانيهما: أن السيد رعوي لآخر، ولكن له فضل على عامة الرعايا، ممتاز منهم بالمزايا، ينزل إليه حكم الحاكم أولا، ثم يبلغ إليهم من لسانه وبواسطته
… فالنبي بهذا المعنى سيد لأمته، والإمام سيد أهل عصره
… فإن هؤلاء الكبار يتمسكون بحكم الله ـ تعالى ـ أولا بأنفسهم، ثم يبلغونه إلى أصاغرهم ويعلمونهم.
وهكذا نبينا ـ ? ـ سيد أهل العالم أجمعهم وأكتعهم وأبصعهم، ومرتبته عند الله عز وجل أعلى من الجميع، وأكبر من الكل، وهو ـ ? ـ أقوم الخلق، وأكبرهم في القيام بأحكام الله ـ تعالى ـ وكل الناس محتاجون إليه في تعلم سبل الله وشرائعه.
وعلى هذا يصح أن يقال له: سيد العالم، بل يجب أن يعتقد فيه هذه السيادة العامة الشاملة للجميع.
وأما بناء على الأول، فليس هو ـ ? ـ سيد نملة واحدة، فضلا عن غيرها؛ لأنه عليه السلام لا يقدر على التصرف في نملة من تلقاء نفسه)) (1).
ثانيها: كون الموصوف بذلك أهلا للسيادة، أما إذا لم يكن أهلا لها فلا.
ودليل هذا: حديث النهي عن القول للمنافق ياسيد.
قال العلامة النووي (ت 676) ـ رحمه الله تعالى ـ بعد أن ذكر بعض
--------------------------------------------
সিদ্দিক হাসান খান (মৃত্যু ১৩০৭ হিজরি) —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— বলেন: “সায়্যিদ শব্দটির দুটি অর্থ রয়েছে:
প্রথমত: সায়্যিদ হলেন তিনি, যিনি একাই স্বাধীন মালিক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ ইচ্ছার অধিকারী, যাঁর ওপর অন্য কারও শাসন চলে না; বরং তিনি তাঁর সত্তাগতভাবে একজন স্বাধীন শাসক, যেমনটি দুনিয়ার রাজাবাদশাহদের অবস্থা। এই বিষয়টি কেবল আল্লাহ তাআলারই শান, এই অর্থে অন্য কেউ সায়্যিদ নন।
দ্বিতীয়ত: সায়্যিদ হলেন তিনি, যিনি অন্য কারও অনুগত বা প্রজা, তবে সাধারণ প্রজাদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে এবং বিশেষ গুণাবলির কারণে তিনি তাঁদের মধ্যে বিশিষ্ট। শাসকের নির্দেশ প্রথমে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়, এরপর তাঁর মুখনিঃসৃত বাণী ও তাঁর মাধ্যমে অন্যদের কাছে পৌঁছে
… সুতরাং এই অর্থে নবী তাঁর উম্মতের সায়্যিদ এবং ইমাম তাঁর যুগের লোকদের সায়্যিদ
… কেননা এই মহান ব্যক্তিগণ প্রথমে নিজেরা আল্লাহ তাআলার বিধান আঁকড়ে ধরেন, অতঃপর তা তাঁদের অধীনস্থদের কাছে পৌঁছে দেন এবং তাঁদের শিক্ষা দেন।
একইভাবে আমাদের নবী —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম— সারা বিশ্বের সমস্ত মানুষের সায়্যিদ। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট তাঁর মর্যাদা সবার চেয়ে ঊর্ধ্বে এবং সবার চেয়ে মহান। তিনি —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম— সৃষ্টিজগতের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ় এবং আল্লাহ তাআলার বিধান পালনে তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহর পথ ও তাঁর শরিয়ত শিক্ষার ক্ষেত্রে সমস্ত মানুষ তাঁর মুখাপেক্ষী।
এই ভিত্তিতে তাঁকে ‘বিশ্বের সায়্যিদ’ বলা সঠিক; বরং তাঁর ব্যাপারে এই সাধারণ ও সর্বজনীন শ্রেষ্ঠত্বের বিশ্বাস রাখা আবশ্যক।
আর প্রথম অর্থের ওপর ভিত্তি করে তিনি —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম— একটি পিঁপড়ারও সায়্যিদ নন, অন্য কিছুর তো প্রশ্নই আসে না; কেননা তিনি আলাইহিস সালাম নিজের পক্ষ থেকে একটি পিঁপড়ার ওপরও কোনো ক্ষমতা খাটাতে সক্ষম নন।” (১)।
দ্বিতীয়ত: যাকে এ বিশেষণে বিশেষিত করা হচ্ছে, তাকে নেতৃত্বের যোগ্য হতে হবে। আর যদি সে এর যোগ্য না হয়, তবে তা বলা যাবে না।
এর দলিল হলো: মুনাফিককে ‘হে সায়্যিদ’ বলতে নিষেধ করে বর্ণিত হাদিস।
আল্লামা নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হিজরি) —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— কিছু বিষয় উল্লেখ করার পর বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৯০)
الأحاديث الدالة على الجواز وبعض الأحاديث الدالة على المنع: ((والجمع بين هذه الأحاديث أنه لا بأس بإطلاق: فلان سيد، وياسيدي، وشبه ذلك، إذا كان المسود فاضلا خيرا، إما بعلم، وإما بصلاح، وإما بغير ذلك، وإن كان فاسقا، أو متهما في دينه، أو نحو ذلك، كره أن يقال: سيد)) (1).
وذكر العلامة الشيخ محمد بن عثيمين ـ رحمه الله تعالى ـ أن إطلاق ذلك على المخلوق يجوز بشرط ((أن يكون الموجه إليه السيادة أهلا لذلك، أما إذا لم يكن أهلا، كما لو كان فاسقا أو زنديقا فلا يقال له ذلك، حتى ولو فرض أنه أعلا منه مرتبة أو جاها
… فإذا كان أهلا لذلك، وليس هناك محذور، فلا بأس به، وأما إن خشي المحذور، أو كان غير أهل فلا يجوز)) (2).
3 - انتفاء المفسدة، فإن كانت المفسدة في الخطاب منع من ذلك، وإن كانت المفسدة في قولها وإن لم يكن موجها له الخطاب كأن يكون بضمير الغيبة منع منه، وإن كان يخشى من المفسدة؛ للغلو أو التدرج فيه، منع من ذلك، فالحكم يدور مع علته وجودا وعدما.
ودليل هذا هو إنكار النبي ـ ? ـ ذلك في حديث عبد الله بن الشخير، حيث كان مخاطبا به؛ فإن ذلك العام كان عام وفود، والناس كانوا حديثي عهد بكفر وجاهلية، والغلو فيهم فاش، فلخشيته ـ ? ـ من الغلو فيه أو التدرج في ذلك نهاهم عن ذلك.
--------------------------------------------
বৈধতা নির্দেশক হাদীসসমূহ এবং নিষিদ্ধতা নির্দেশক কিছু হাদীস: ((এই হাদীসগুলোর মধ্যে সমন্বয় হলো এই যে, কাউকে 'অমুক ব্যক্তি সাইয়্যিদ (নেতা)', 'হে আমার সাইয়্যিদ' বা অনুরূপ শব্দ বলাতে কোনো অসুবিধা নেই, যদি সেই ব্যক্তি ফযীলতপূর্ণ ও কল্যাণবান হন—তা ইলমের কারণে হোক, নেক আমলের কারণে হোক কিংবা অন্য কোনো কারণে। আর যদি তিনি ফাসিক হন, কিংবা দ্বীনের ব্যাপারে অভিযুক্ত হন অথবা অনুরূপ কিছু হন, তবে তাকে 'সাইয়্যিদ' বলা মাকরূহ।)) (১)।
আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ বিন উসাইমীন—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—উল্লেখ করেছেন যে, সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই শব্দের প্রয়োগ জায়েয হওয়ার শর্ত হলো: ((যাকে সাইয়্যিদ সম্বোধন করা হচ্ছে তিনি যেন এর উপযুক্ত হন। আর যদি তিনি এর উপযুক্ত না হন, যেমন তিনি যদি ফাসিক বা যিন্দীক (ধর্মদ্রোহী) হন, তবে তাকে এমনটি বলা যাবে না; যদিও ধরে নেওয়া হয় যে তিনি পদমর্যাদা বা সম্মানের দিক থেকে উচ্চতর
… সুতরাং তিনি যদি এর উপযুক্ত হন এবং সেখানে কোনো আশঙ্কার দিক না থাকে, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি আশঙ্কার কারণ থাকে অথবা তিনি এর উপযুক্ত না হন, তবে তা জায়েয হবে না।)) (২)।
৩ - অনিষ্ট বা ফিতনার অনুপস্থিতি। যদি সরাসরি সম্বোধনের মধ্যে কোনো অনিষ্ট থাকে, তবে তা নিষিদ্ধ হবে। আর যদি কথাটি বলাতে অনিষ্ট থাকে যদিও সরাসরি সম্বোধন না করা হয়—যেমন নামপুরুষের সর্বনাম ব্যবহার করার মাধ্যমে—তবে তাও নিষিদ্ধ হবে। আর যদি অতিশয়োক্তি বা পর্যায়ক্রমে সেদিকে ধাবিত হওয়ার কারণে অনিষ্টের আশঙ্কা থাকে, তবে তাও নিষিদ্ধ হবে। সুতরাং বিধান তার কারণের বিদ্যমান থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভর করে।
এর দলীল হলো আবদুল্লাহ বিন শিখখীর-এর হাদীসে নবী করীম—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা, যখন তাঁকে সম্বোধন করা হয়েছিল। মূলত সেই বছরটি ছিল প্রতিনিধিদলের আগমনের বছর, আর মানুষ তখন কুফর ও জাহিলিয়্যাতের যুগ থেকে নব্য ছিল এবং তাদের মধ্যে অতিশয়োক্তির প্রবণতা ব্যাপক ছিল। ফলে তাঁর—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—প্রতি অতিশয়োক্তি অথবা পর্যায়ক্রমে সেদিকে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি তাদের তা থেকে নিষেধ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাহসুন আক্বাদী ফী লাফযিস সাইয়্যিদ
(পৃষ্ঠা: ১৯১)
المبحث الثاني: سيادة النبي صلى الله عليه وسلم
المطلب الأول: سيادته في الدنيا والآخرةلقد جاء في الحديث عن النبي ـ ? ـ أحاديث تدل على سيادته ـ ? ـ ومن هذه الأحاديث:
عن أبي هريرة ? قال: ((أتي رسول الله ? بلحم، فرفع إليه الذراع ـ وكانت تعجبه ـ فنهس منها نهسة، ثم قال: "أنا سيد الناس يوم القيامة، وهل تدرون مم ذلك؟ يجمع الله الناس الأولين والآخرين في صعيد واحد يسمعهم الداعي وينفذهم البصر، وتدنو الشمس، فيبلغ الناس من الغم والكرب مالا يطيقون ولا يحتملون، فيقول الناس: ألا ترون ما قد بلغكم؟ ألا تنظرون من يشفع لكم إلى ربكم؟ فيقول بعض الناس لبعض: عليكم بآدم فيأتون آدم عليه السلام، فيقولون له: أنت أبو البشر، خلقك لله بيده، ونفخ فيك من روحه، وأمر الملائكة فسجدوا لك، اشفع لنا إلى ربك، ألا ترى إلى ما نحن فيه؟ ألا ترى إلى ما قد بلغنا؟ فيقول آدم: إن ربي قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله ولن يغضب بعده مثله، وإنه نهاني عن الشجرة فعصيته، نفسي نفسي نفسي، اذهبوا إلى غيري، اذهبوا إلى نوح، فيأتون نوحا، فيقولون: يا نوح إنك أنت أول الرسل إلى أهل الأرض، وقد سماك الله عبدا شكورا، اشفع لنا إلى ربك، ألا ترى إلى ما نحن فيه؟ فيقول: إن ربي عز وجل قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله ولن يغضب بعده مثله، وإنه قد كانت لي دعوة دعوتها على قومي نفسي نفسي نفسي، اذهبوا إلى غيري، اذهبوا إلى إبراهيم، يأتون إبراهيم فيقولون: يا إبراهيم أنت نبي الله وخليله من أهل الأرض اشفع لنا إلى ربك، ألا ترى إلى ما نحن فيه؟ فيقول لهم: إن ربي قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله ولن
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বপ্রথম অনুচ্ছেদ: দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এমন কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বের প্রমাণ বহন করে। এর মধ্যে কিছু হাদিস হলো:
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কিছু গোশত আনা হলো। তাঁর সামনে (ছাগলের) সামনের পা তুলে ধরা হলো—যা তাঁর কাছে পছন্দনীয় ছিল। তিনি সেখান থেকে এক টুকরো খেলেন, এরপর বললেন: "আমি কিয়ামতের দিন সকল মানুষের নেতা হব। তোমরা কি জানো তা কেন হবে? আল্লাহ প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষকে এক সমতল প্রান্তরে সমবেত করবেন, যেখানে একজন আহ্বানকারীর ডাক সবার কানে পৌঁছাবে এবং একজনের দৃষ্টি সবাইকে দেখতে পাবে। সূর্য মানুষের অতি নিকটে চলে আসবে। তখন মানুষ এমন দুঃখ ও কষ্টে নিপতিত হবে যা সহ্য করার বা বহন করার শক্তি তাদের থাকবে না। তখন মানুষ বলবে: তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না তোমরা কোন অবস্থায় আছ? তোমরা কি এমন কাউকে দেখবে না যে তোমাদের রবের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশ করবে? তখন কিছু লোক অন্যদের বলবে: তোমরা আদমের কাছে যাও। এরপর তারা আদম আলাইহিস সালামের কাছে আসবে এবং বলবে: আপনি মানবজাতির পিতা, আল্লাহ আপনাকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার মধ্যে তাঁর পক্ষ থেকে রুহ ফুঁকে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন ফলে তারা আপনাকে সেজদা করেছে। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কী অবস্থায় আছি? আপনি কি দেখছেন না আমাদের কী দশা হয়েছে? তখন আদম বলবেন: নিশ্চয়ই আজ আমার রব এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে ইতিপূর্বে কখনো এমন রাগান্বিত হননি এবং ভবিষ্যতেও কখনো এমন রাগান্বিত হবেন না। তিনি আমাকে সেই গাছটি থেকে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি তাঁর অবাধ্যতা করেছিলাম। আজ আমার নিজের কী হবে, আমার নিজের কী হবে, আমার নিজের কী হবে! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা নূহের কাছে যাও। এরপর তারা নূহের কাছে আসবে এবং বলবে: হে নূহ, আপনি জমিনবাসীর নিকট প্রেরিত প্রথম রাসূল এবং আল্লাহ আপনার নাম রেখেছেন 'শুকুরগুজার বান্দা' (কৃতজ্ঞ বান্দা)। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কী বিপদের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন: নিশ্চয়ই আজ আমার মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত রব এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে ইতিপূর্বে কখনো এমন রাগান্বিত হননি এবং ভবিষ্যতেও কখনো এমন রাগান্বিত হবেন না। আমার একটি দোয়ার সুযোগ ছিল যা আমি আমার জাতির বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছি। আজ আমার নিজের কী হবে, আমার নিজের কী হবে, আমার নিজের কী হবে! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা ইব্রাহিমের কাছে যাও। তারা ইব্রাহিমের কাছে আসবে এবং বলবে: হে ইব্রাহিম, আপনি আল্লাহর নবী এবং জমিনবাসীদের মধ্যে তাঁর খলিল (অন্তরঙ্গ বন্ধু), আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কী অবস্থায় আছি? তিনি তাদের বলবেন: নিশ্চয়ই আজ আমার রব এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে ইতিপূর্বে কখনো এমন রাগান্বিত হননি এবং ভবিষ্যতেও কখনো এমন রাগান্বিত হবেন না...